(খণ্ড: ১) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
أسد الغابة في معرفة الصحابة - المطبعة الوهبية   (عز الدين ابن الأثير)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أسد الغابة في معرفة الصحابة

المؤلف: عز الدين أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الكريم الجزري المعروف بابن الأثير (ت 630 هـ)

الناشر: جمعية المعارف المصرية

طبع في: المطبعة الوهبية بالقاهرة، 1285 - 1286 هـ

ثم صَوّرتْه بالأوفست: (بعد 92 عامًا) المكتبة الإسلامية بطهران

تنبيه: هذه الطبعة هي التي يعزو إليها د «بشار عواد معروف» في تحقيق تهذيب الكمال

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو القعدة 1445

উসুদুল গাবাহ ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ   (ইযযুদ্দীন ইবনুল আসীর)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


কিতাব: উসুদুল গাবাহ ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ

লেখক: ইযযুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আল-জাযারি, যিনি ইবনুল আসীর নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৩০ হিজরী)

প্রকাশক: জমিয়াতুল মাআরিফ আল-মিসরিয়্যাহ

মুদ্রিত হয়েছে: আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ, কায়রো, ১২৮৫ - ১২৮৬ হিজরী

পরবর্তীতে অফসেটে পুনর্মুদ্রিত হয়েছে: (৯২ বছর পর) আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ, তেহরান

সতর্কবার্তা: এই সংস্করণটিই ডক্টর «বাশার আওয়াদ মারুফ» তাহযীবুল কামালের তাহকীকে ব্যবহার করেছেন

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[কিতাবটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ যুল-ক্বাদাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ الإمام العالم الحافظ البارع الأوحد بقية السلف عز الدين أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الكريم الجزري المعروف بابن الأثير رضي الله عنه

 

(الحمد لله) الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله والحمد لله المنزه عن أن يكون له نظراء وأشباه المقدس فلا تقرب الحوادث حماه الذي اختار الإسلام دينا وارتضاه فأرسل به محمدا صلى الله عليه وسلم واصطفاه وجعل له أصحابا فاختار كلا منهم لصحبته واجتباه وجعلهم كالنجوم بأيهم اقتدى الإنسان اهتدى إلى الحق واقتفاه فصلى الله عليه وعلى آله وأصحابه صلاة توجب لهم رضاه أحمده على نعمه كلها حمدا يقتضي الزيادة من نعمه ويجزل لنا النصيب من قسمه

 

(أما بعد) فلا علم أشرف من علم الشريعة فإنه يحصل به شرف الدنيا والآخرة فمن تحلى به فقد فاز بالصفقة الرابحة والمنزلة الرفيعة الفاخرة ومن عري منه فقد حظي بالكرة الخاسرة * والأصل في هذا العلم كتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فأما الكتاب العزيز فهو متواتر مجمع عليه غير محتاج إلى ذكر أحوال ناقليه وأما سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فهي التي تحتاج إلى شرح أحوال رواتها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শায়খ, ইমাম, আলেম, হাফেজ, পারদর্শী, অনন্য, সালাফদের উত্তরসূরি ইজ্জুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আল-জাজারী, যিনি ইবনুল আসীর নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তিনি বলেছেন:

 

(সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদের হেদায়েত না দিলে আমরা পথ পেতাম না। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি সমকক্ষ ও সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র এবং তিনি অতিশয় পবিত্র, তাই কোনো নশ্বরতা তাঁর সান্নিধ্য স্পর্শ করতে পারে না। তিনি ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন এবং এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন; অতঃপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা দিয়ে প্রেরণ করেছেন ও তাঁকে মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁর জন্য একদল সাহাবী নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেককে তাঁর সাহচর্যের জন্য নির্বাচিত ও মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁদেরকে নক্ষত্রতুল্য করেছেন—মানুষ তাঁদের মধ্যে যাকেই অনুসরণ করবে, সে সত্যের দিশা পাবে ও তা অনুধাবন করবে। অতএব আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যা তাঁদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি সাব্যস্ত করে। আমি তাঁর সকল নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি—এমন প্রশংসা যা তাঁর নিআমত বৃদ্ধি দাবি করে এবং তাঁর বণ্টন থেকে আমাদের জন্য বড় অংশ বরাদ্দ করে।

 

(অতঃপর) শরীয়তের ইলমের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ আর কোনো ইলম নেই; কেননা এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখেরাতের মর্যাদা অর্জিত হয়। অতএব যে ব্যক্তি একে ভূষণ হিসেবে গ্রহণ করল, সে লাভজনক সওদা ও সুউচ্চ গৌরবময় মর্যাদা লাভে সফল হলো। আর যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত রইল, সে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এই ইলমের মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন তো মুতাওয়াতির এবং সর্বসম্মতভাবে গৃহীত, যার বর্ণনাকারীদের অবস্থা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ক্ষেত্রে এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
وأخبارهم

(وأول رواتها) أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يضبطوا ولا حفظوا في عصرهم كما فعل بمن بعدهم من علماء التابعين وغيرهم إلى زماننا هذا لأنهم كانوا مقبلين على نصرة الدين وجهاد الكافرين إذ كان المهم الأعظم فإن الإسلام كان ضعيفا وأهله قليلون فكان أحدهم يشغله جهاده ومجاهدة نفسه في عباداته عن النظر في معيشته والتفرغ لمهم ولم يكن فيهم أيضا من يعرف الخط إلا النفر اليسير ولو حفظوا ذلك الزمان لكانوا أضعاف من ذكره العلماء ولهذا اختلف العلماء في كثير منهم

 

(فمنهم) من جعله بعض العلماء من الصحابة ومنهم من لم يجعله فيهم ومعرفتهم ومعرفة أمورهم وأحوالهم وأنسابهم وسيرتهم مهم في الدين ولا خفاء على من كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد أن من تبوأ الدار والإيمان من المهاجرين والأنصار والسابقين إلى الإسلام والتابعين لهم بإحسان الذين شهدوا الرسول صلى الله عليه وسلم وسمعوا كلامه وشاهدوا أحواله ونقلوا ذلك إلى من بعدهم من الرجال والنساء من الأحرار والعبيد والإماء أولى بالضبط والحفظ وهم الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم أولئك لهم الأمن وهم مهتدون بتزكية الله سبحانه وتعالى لهم وثنائه عليهم ولأن السنن التي عليها مدار تفصيل الأحكام ومعرفة الحلال والحرام إلى غير ذلك من أمور الدين إنما ثبتت بعد معرفة رجال أسانيدها ورواتها وأولهم والمقدم عليهم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا جهلهم الإنسان كان بغيرهم أشد جهلا وأعظم إنكارا فينبغي أن يعرفوا بأنسابهم وأحوالهم هم وغيرهم من الرواة حتى يصح العمل بما رواه الثقات منهم وتقوم به الحجة فإن المجهول لا تصح روايته ولا ينبغي العمل بما رواه والصحابة يشاركون سائر الرواة في جميع ذلك إلا في الجرح والتعديل فإنهم كلهم عدول لا يتطرق إليهم الجرح لأن الله عز وجل ورسوله زكياهم وعدلاهم وذلك مشهور لا نحتاج لذكره ويجئ كثير منه في كتابنا هذا فلا نطول به ههنا

 

(وقد جمع الناس) في أسمائهم كتبا كثيرة ومنهم من ذكر كثيرا من أسمائهم في كتب الأنساب والمغازي وغير ذلك واختلفت مقاصدهم فيها إلا أن الذي انتهى إليه جمع أسمائهم الحافظان أبو عبد الله بن منده وأبو نعيم أحمد بن عبد الله الأصفهانيان والإمام أبو عمر بن عبد البر القرطبي رضي الله عنهم وأجزل ثوابهم وحمد سعيهم وعظم أجرهم وأكرم مآبهم فلقد أحسنوا فيما جمعوا وبذلوا جهدهم وأبقوا بعدهم ذكرا جميلا فالله
এবং তাঁদের সংবাদসমূহ

(আর তাঁদের প্রথম বর্ণনাকারীগণ) হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। তাঁরা তাঁদের যুগে সেভাবে নথিবদ্ধ বা সংরক্ষণ করেননি, যেভাবে তাঁদের পরবর্তী তাবিঈ উলামাগণ এবং আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত অন্যরা করেছেন। কারণ তাঁরা দ্বীনের সাহায্য ও কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদে মগ্ন ছিলেন, যা ছিল সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা তখন ইসলাম ছিল দুর্বল এবং এর অনুসারী ছিল অল্প। ফলে তাঁদের প্রত্যেকেই নিজেদের জিহাদ, ইবাদতে নফসের সাথে সংগ্রাম, জীবিকা নির্বাহের চিন্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ততার কারণে অবসর পেতেন না। তদুপরি তাঁদের মধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া লিখন পদ্ধতি জানতেন এমন কেউ ছিলেন না। যদি তাঁরা সেই সময়ে সবকিছু সংরক্ষণ করতেন, তবে উলামাগণ যা উল্লেখ করেছেন তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হতো। আর এই কারণেই উলামাগণ তাঁদের অনেকের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন।

 

(ফলে তাঁদের মধ্যে) কাউকে কোনো কোনো আলেম সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আবার কাউকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেননি। তাঁদের পরিচয়, তাঁদের বিষয়াদি, অবস্থা, বংশপরিচয় এবং জীবনী জানা দ্বীনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যার অন্তর আছে অথবা যে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে, তার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে—যাঁরা আবাসভূমি ও ঈমান গ্রহণ করেছেন সেই মুহাজির, আনসার, ইসলামের অগ্রপথিকগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ; যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, তাঁর কথা শুনেছেন, তাঁর অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং সেসব বিষয় পরবর্তী পুরুষ, মহিলা, স্বাধীন ও দাস-দাসীদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরাই যথাযথ সংরক্ষণ ও হেফাজতের অধিক যোগ্য। তাঁরাই সেই সকল লোক যাঁরা ঈমান এনেছেন এবং তাঁদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেননি; তাঁদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তাঁরাই সুপথপ্রাপ্ত—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দেওয়া তাঁদের পবিত্রতা ঘোষণা এবং তাঁদের প্রশংসার কারণে। এছাড়া যে সকল সুন্নাহর উপর আহকামের বিস্তারিত বিবরণ, হালাল-হারামের পরিচয় এবং দ্বীনের অন্যান্য বিষয়সমূহ আবর্তিত হয়, তা কেবল তার সনদের ব্যক্তিবর্গ এবং বর্ণনাকারীদের পরিচয়ের মাধ্যমেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। আর তাঁদের মধ্যে প্রথম ও অগ্রগণ্য হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। সুতরাং মানুষ যদি তাঁদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তবে অন্যদের সম্পর্কে সে আরও বেশি অজ্ঞ হবে এবং আরও দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করবে। অতএব, সাহাবীগণ এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বংশপরিচয় ও অবস্থা জানা আবশ্যক, যাতে তাঁদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্যদের বর্ণিত হাদিসের উপর আমল করা সঠিক হয় এবং তার মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা অজ্ঞাত ব্যক্তির বর্ণনা সঠিক হয় না এবং তার বর্ণিত বিষয়ের উপর আমল করাও উচিত নয়। এ সকল বিষয়ে সাহাবীগণ অন্যান্য বর্ণনাকারীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও 'জারহ ও তাদীল' (দোষ ও গুণের বিচার)-এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম; কারণ তাঁরা সকলেই ন্যায়পরায়ণ, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সমালোচনা বা দোষারোপের অবকাশ নেই। কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল তাঁদের পবিত্রতা ও ন্যায়পরায়ণতা ঘোষণা করেছেন। এটি সুবিদিত, যা এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই এবং আমাদের এই কিতাবে এর অনেক বর্ণনা আসবে, তাই এখানে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করব না।

 

(মানুষ তাঁদের নামের ব্যাপারে) অনেক কিতাব সংকলন করেছেন। কেউ কেউ তাঁদের অনেক নাম বংশপরিচয়, যুদ্ধবিগ্রহ এবং অন্যান্য বিষয়ের কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তাঁদের উদ্দেশ্যও ছিল নানামুখী। তবে তাঁদের নাম সংকলনের বিষয়টি যে পর্যায়ে সমাপ্ত হয়েছে, তাতে দুই হাফেজ—আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ ও আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানি এবং ইমাম আবু উমর বিন আব্দুল বার আল-কুরতুবি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, তাঁদের পুরস্কার মহান করুন এবং তাঁদের প্রত্যাবর্তনস্থলকে সম্মানিত করুন) অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁরা যা সংকলন করেছেন তাতে তাঁরা অত্যন্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং তাঁদের পরে উত্তম স্মৃতি রেখে গেছেন। সুতরাং আল্লাহ...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
تعالى يثيبهم أجرا جزيلا فإنهم جمعوا ما تفرق منه

 

(فلما نظرت) فيها رأيت كلا منهم قد سلك في جمعه طريقا غير طريق الآخر وقد ذكر بعضهم أسماء لم يذكرها صاحبه وقد أتى بعدهم الحافظ أبو موسى محمد بن أبي بكر بن أبي عيسى الأصفهاني فاستدرك على ابن منده ما فاته في كتابه فجاء تصنيفه كبيرا نحو ثلثي كتاب ابن منده فرأيت أن أجمع بين هذه الكتب وأضيف إليها ما شذ عنها مما استدركه أبو علي الغساني على أبي عمر بن عبد البر وكذلك أيضا ما استدركه عليه آخرون وغير من ذكرنا فلا نطول بتعداد أسمائهم ههنا ورأيت ابن منده وأبا نعيم وأبا موسى عندهم أسماء ليست عند ابن عبد البر وعند ابن عبد البر أسماء ليست عندهم

 

(فعزمت) أن أجمع بين كتبهم الأربعة وكانت العوائق تمنع والأعذار تصد عنه وكنت حينئذ ببلدي وفي وطني وعندي كتبي وما أراجعه من أصول سماعاتي وما أنقل منه فلم يتيسر ذلك لصداع الدنيا وشواغلها فاتفق أني سافرت إلى البلاد الشامية عازما على زيارة البيت المقدس جعله الله سبحانه وتعالى دارا للإسلام أبدا فلما دخلتها اجتمع بي جماعة من أعيان المحدثين وممن يعتني بالحفظ والإتقان فكان فيما قالوه إننا نرى كثيرا من العلماء الذين جمعوا أسماء الصحابة يختلفون في النسب والصحبة والمشاهد التي شهدها الصاحب إلى غير ذلك من أحوال الشخص ولا نعرف الحق فيه وحثوا عزمي على جمع كتاب لهم في أسماء الصحابة رضي الله عنهم أستقصي فيه ما وصل إلي من أسمائهم وأبين فيه الحق فيما اختلفوا فيه والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم مع الإتيان بما ذكروه واستدراك ما فاتهم فاعتذرت إليهم بتعذر وصولي إلى كتبي وأصولي وأنني بعيد الدار عنها ولا أرى النقل إلا منها فألحوا في الطلب فثار العزم الأول وتجدد عندي ما كنت أحدث به نفسي وشرعت في جمعه والمبادرة إليه وسألت الله تعالى أن يوفقني إلى الصواب في القول والعمل وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم بمنه وكرمه واتفق أن جماعة كانوا قد سمعوا علي أشياء بالموصل وساروا إلى الشام فنقلت منها أحاديث مسندة وغير ذلك ثم إنني عدت إلى الوطن بعد الفراغ منه وأردت أن أكثر الأسانيد وأخرج الأحاديث التي فيه بأسانيدها فرأيت ذلك متعبا أحتاج أن أنقض كل ما جمعت فحملني الكسل وحب الدعة والميل إلى الراحة إلى أن نقلت ما تدعو الضرورة إليه مما لا يخل بترتيب ولا يكثر إلى حد الإضجار والإملال

 

‌‌(وأنا أذكر كيفية وضع هذا الكتاب)
আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মহা পুরস্কারে ভূষিত করুন, কারণ তারা এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো সংকলন করেছেন।

 

(যখন আমি সেগুলোর দিকে তাকালাম) তখন দেখলাম যে, তাদের প্রত্যেকেই সংকলনের ক্ষেত্রে অন্যের থেকে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। তাদের কেউ কেউ এমন সব নাম উল্লেখ করেছেন যা অন্যজন করেননি। তাদের পরে হাফেজ আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আবি ঈসা আল-ইসফাহানি আসলেন এবং ইবনে মান্দাহর কিতাবে যা বাদ পড়েছিল তার পরিশিষ্ট (ইস্তিদরাক) লিখলেন। ফলে তার সংকলনটি ইবনে মান্দাহর কিতাবের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান বিশাল হয়ে দাঁড়ালো। তাই আমি এই কিতাবগুলোকে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং সেগুলোর সাথে এমন সব বিষয় যোগ করার কথা ভাবলাম যা সেখানে আসেনি—যেমন আবু আলি আল-গাসসানি আবু উমর বিন আবদিল বার-এর ওপর যা পরিশিষ্ট লিখেছিলেন, এবং একইভাবে অন্য যারা তার ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন এবং যাদের নাম আমি উল্লেখ করিনি যাতে নামগুলো এখানে দীর্ঘ না হয়ে যায়। আমি আরও দেখলাম যে ইবনে মান্দাহ, আবু নুআইম এবং আবু মুসার কাছে এমন কিছু নাম আছে যা ইবনে আবদিল বার-এর কাছে নেই, আবার ইবনে আবদিল বার-এর কাছে এমন কিছু নাম আছে যা তাদের কাছে নেই।

 

(অতঃপর আমি সংকল্প করলাম) যে আমি তাদের এই চারটি কিতাবকে একত্রিত করব, কিন্তু নানা বাধা-বিপত্তি ও অজুহাত আমাকে তা থেকে বিরত রাখছিল। সেই সময়ে আমি আমার নিজের দেশে ও স্বভূমিতে ছিলাম এবং আমার কাছে আমার কিতাবসমূহ ছিল যেখান থেকে আমি আমার শ্রবণকৃত মূল পাণ্ডুলিপিগুলো যাচাই করতাম এবং উদ্ধৃতি নিতাম। কিন্তু দুনিয়াবি দুশ্চিন্তা ও ব্যস্ততার কারণে তা সহজসাধ্য হয়নি। ঘটনাক্রমে আমি সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা করলাম বাইতুল মুকাদ্দাস জিয়ারতের সংকল্প নিয়ে; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে চিরকাল ইসলামের আবাসভূমি করে রাখুন। যখন আমি সেখানে প্রবেশ করলাম, তখন একদল বিশিষ্ট মুহাদ্দিস এবং যারা মুখস্থ ও নিখুঁতকরণের প্রতি যত্নশীল ছিলেন, তারা আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তারা যা বলেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল যে, আমরা দেখছি অনেক আলেম যারা সাহাবিদের নাম সংকলন করেছেন, তারা বংশপরিচয়, সাহাবি হওয়া এবং সেই সাহাবি যে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন—এসব বিষয়সহ ব্যক্তির বিভিন্ন অবস্থা নিয়ে মতভেদ করছেন এবং আমরা এক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি জানি না। তারা আমাকে সাহাবিদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নামের ওপর তাদের জন্য একটি কিতাব সংকলন করার ব্যাপারে উৎসাহিত করলেন, যেখানে আমি আমার কাছে পৌঁছানো নামগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব এবং তারা যে সকল বিষয়ে মতভেদ করেছেন তাতে সত্য প্রকাশ করব—আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন—পাশাপাশি তারা যা উল্লেখ করেছেন তাও নিয়ে আসব এবং তাদের কাছে যা বাদ পড়েছে তার পরিশিষ্ট যুক্ত করব। আমি তাদের কাছে আমার কিতাব ও মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে পৌঁছানোর অক্ষমতার অজুহাত পেশ করলাম এবং জানালাম যে আমি সেগুলো থেকে অনেক দূরে আছি, আর আমি সেগুলো ছাড়া উদ্ধৃতি নেওয়া সমীচীন মনে করি না। কিন্তু তারা অনুরোধে পিড়াপিড়ি করতে লাগলেন, ফলে আমার আগের সেই সংকল্প জাগ্রত হলো এবং আমি নিজের মনে যা ভাবতাম তা পুনরায় নতুন হয়ে দেখা দিল। ফলে আমি এটি সংকলন করার কাজে হাত দিলাম এবং তৎপর হলাম। আর আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমাকে কথা ও কাজে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং তাঁর মেহেরবানি ও দয়ায় একে শুধুমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন। ঘটনাক্রমে একদল লোক যারা মুসেলে আমার কাছ থেকে কিছু কিতাব শুনেছিলেন এবং পরে সিরিয়ায় চলে গিয়েছিলেন; আমি সেখান থেকে কিছু মুসনাদ হাদিস ও অন্যান্য বিষয় উদ্ধৃত করলাম। এরপর কিতাবটি শেষ করার পর আমি নিজ দেশে ফিরে আসলাম এবং সানাদ বৃদ্ধি করার ও কিতাবে বিদ্যমান হাদিসগুলোর পূর্ণ সানাদ বের করার ইচ্ছা পোষণ করলাম। কিন্তু দেখলাম যে সেটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং আমার সংকলিত সবকিছুই হয়তো পাল্টে ফেলার প্রয়োজন হবে। ফলে আলস্য, আয়েশপ্রিয়তা এবং আরামের প্রতি ঝোঁক আমাকে বাধ্য করল শুধুমাত্র অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোই উদ্ধৃত করতে, যা এর বিন্যাস নষ্ট করবে না এবং বিরক্তি ও একঘেয়েমি সৃষ্টি করার মতো দীর্ঘও হবে না।

 

‌‌(এবং আমি এই কিতাবটি বিন্যাসের পদ্ধতি উল্লেখ করছি)
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
ليعلم من يراه شرطنا وكيفيته والله المستعان

 

(فأقول) إني جمعت بين هذه الكتب كما ذكرته قبل وعلمت على الاسم علامة ابن منده صورة د وعلامة أبي نعيم صورة ع وعلامة ابن عبد البر صورة ب وعلامة أبي موسى صورة س فإن كان الاسم عند الجميع علمت عليه جميع العلائم وإن كان عند بعضهم علمت عليه علامته وأذكر في آخر كل ترجمة اسم من أخرجه وإن قلت أخرجه الثلاثة فأعني ابن منده وأبا نعيم وأبا عمر بن عبد البر فإن العلائم ربما تسقط من الكتابة وتنسى ولا أعني بقولي أخرجه فلان وفلان أو الثلاثة أنهم أخرجوا جميع ما قلته في ترجمته فلو نقلت كل ما قالوه لجاء الكتاب طويلا لأن كلامهم يتداخل ويخالف بعضهم البعض في الشئ بعد الشئ وإنما أعني أنهم أخرجوا الاسم ثم إني لا أقتصر على ما قالوه إنما أذكر ما قاله غيرهم من أهل العلم وإذا ذكرت اسما ليس عليه علامة أحدهم فهو ليس في كتبهم ورأيت ابن منده وأبا نعيم قد أكثرا من الأحاديث والكلام عليها وذكرا عللها ولم يكثرا من ذكر نسب الشخص ولا ذكر شئ من أخباره وأحواله وما يعرف به ورأيت أبا عمر قد استقصى ذكر الأنساب وأحوال الشخص ومناقبه وكل ما يعرفه به حتى إنه يقول هو ابن أخي فلان وابن عم فلان وصاحب الحادثة الفلانية وكان هذا هو المطلوب من التعريف أما ذكر الأحاديث وعللها وطرقها فهو بكتب الحديث أشبه إلا أني نقلت من كلام كل واحد منهم أجوده وما تدعو الحاجة إليه طلبا للاختصار ولم أخل بترجمة واحدة من كتبهم جميعها بل أذكر الجميع حتى إنني أخرج الغلط كما ذكره المخرج له وأبين الحق والصواب فيه إن علمته إلا أن يكون أحدهم قد أعاد الترجمة بعينها فأتركها وأذكر ترجمة واحدة وأقول قد أخرجها فلان في موضعين من كتابه

 

(وأما ترتيبه) ووضعه فإنني جعلته على حروف أ ب ت ث ولزمت في الاسم الحرف الأول والثاني والثالث وكذلك إلى آخر الاسم وكذلك أيضا في اسم الأب والجد ومن بعدهما والقبائل أيضا

(مثاله) أنني أقدم أبانا على إبراهيم لأن ما بعد الباء في أبان ألف وما بعدها في إبراهيم راء وأقدم إبراهيم بن الحارث علي إبراهيم بن خلاد لأن الحارث بحاء مهملة وخلاد بخاء معجمة وأقدم أبانا العبدي على أبان المحاربي وكذلك أيضا فعلت في التعبيد فإني ألزم الحرف الأول بعد عبد وكذلك في الكنى فإنني ألزم الترتيب في الاسم الذي بعد أبو فإني أقدم أبا داود على أبي رافع وكذلك في الولاء فإنني أقدم أسود مولى زيد على أسود
যাতে এটি যে দেখবে সে আমাদের শর্ত ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হচ্ছে।

 

(আমি বলছি) ইতিপূর্বে আমি যেমনটি উল্লেখ করেছি, আমি এই বইগুলোকে একত্রিত করেছি এবং ইবনে মানদাহর নামের জন্য ‘দ’ প্রতীক, আবু নুয়াইমের জন্য ‘আইন’ প্রতীক, ইবনে আব্দুল বাররের জন্য ‘বা’ প্রতীক এবং আবু মুসার জন্য ‘সিন’ প্রতীক নির্ধারণ করেছি। যদি নামটি সবার কাছে থাকে তবে আমি তার ওপর সকল প্রতীক ব্যবহার করেছি, আর যদি তাদের কয়েকজনের কাছে থাকে তবে তাদের নির্ধারিত প্রতীক দিয়েছি। প্রতিটি জীবনীর শেষে আমি এটি সংকলনকারীর নাম উল্লেখ করব। আর যদি আমি বলি ‘তিনজন এটি সংকলন করেছেন’, তবে তার দ্বারা আমি ইবনে মানদাহ, আবু নুয়াইম এবং আবু উমর ইবনে আব্দুল বাররকে বুঝাব। কারণ অনেক সময় লেখা থেকে প্রতীকগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে বা বিস্মৃত হতে পারে। আর আমি যখন বলি ‘অমুক অমুক এটি সংকলন করেছেন’ বা ‘তিনজন এটি সংকলন করেছেন’, তার অর্থ এই নয় যে তারা জীবনীর বর্ণনায় আমার উল্লিখিত সবটুকু বর্ণনা করেছেন। আমি যদি তাদের বলা সব কথা উদ্ধৃত করতাম তবে বইটি দীর্ঘ হয়ে যেত, কারণ তাদের কথাগুলো একে অপরের সাথে মিলে যায় এবং মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে একে অপরের বিরোধীও হয়। বরং আমার উদ্দেশ্য হলো তারা কেবল নামটিকে সংকলন করেছেন। এরপর আমি কেবল তাদের কথার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং অন্যান্য আলেমদের কথাও উল্লেখ করেছি। আর যদি আমি এমন কোনো নাম উল্লেখ করি যার ওপর তাদের কারো কোনো প্রতীক নেই, তবে বুঝতে হবে সেটি তাদের বইসমূহে নেই। আমি দেখেছি যে ইবনে মানদাহ এবং আবু নুয়াইম প্রচুর হাদিস এবং সেসবের ওপর আলোচনা করেছেন ও হাদিসের ত্রুটিগুলো উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তারা ব্যক্তির বংশপরিচয়, সংবাদ, অবস্থা বা পরিচয়মূলক তথ্যাদি খুব বেশি উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে আমি আবু উমরকে দেখেছি যে তিনি বংশপরিচয়, ব্যক্তির অবস্থা, গুণাবলি এবং তাকে জানার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উল্লেখ করেছেন, এমনকি তিনি বলেন: ‘তিনি অমুকের ভাতিজা, অমুকের চাচাতো ভাই এবং অমুক ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট’। পরিচিতির ক্ষেত্রে এটিই ছিল কাঙ্ক্ষিত। হাদিস, সেগুলোর ত্রুটি এবং সনদ বর্ণনার বিষয়টি হাদিস শাস্ত্রের বইগুলোর জন্য বেশি উপযোগী। তবে আমি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তাদের প্রত্যেকের কথা থেকে সবচেয়ে উত্তম এবং যা প্রয়োজন তা গ্রহণ করেছি। আমি তাদের বইগুলোর কোনো জীবনীই বাদ দিইনি, বরং সব উল্লেখ করেছি। এমনকি তারা কোনো ভুল উল্লেখ করলে সেটিও তাদের বর্ণনা অনুযায়ী উল্লেখ করেছি এবং আমি জানলে তার সত্য ও সঠিক রূপটি স্পষ্ট করে দিয়েছি। তবে তাদের কেউ যদি হুবহু একই জীবনী পুনরায় উল্লেখ করে থাকেন তবে আমি তা বাদ দিয়ে একবারই উল্লেখ করেছি এবং বলে দিয়েছি যে অমুক তার বইয়ের দুই স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

(আর এর বিন্যাস) ও রচনার ক্ষেত্রে আমি একে বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছি। নামের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং একইভাবে শেষ পর্যন্ত এবং পিতা, দাদা ও পরবর্তী বংশধর এবং গোত্রের নামের ক্ষেত্রেও বর্ণানুক্রম বজায় রেখেছি।

(উদাহরণস্বরূপ) আমি ইব্রাহিমের আগে আবান নামটিকে রেখেছি, কারণ আবান শব্দে বা-এর পরে আলিফ আছে এবং ইব্রাহিম শব্দে বা-এর পরে রা আছে। আমি ইব্রাহিম বিন খাল্লাদের আগে ইব্রাহিম বিন হারিসকে রেখেছি, কারণ হারিস শব্দটি ‘হা’ দিয়ে এবং খাল্লাদ শব্দটি ‘খা’ দিয়ে শুরু হয়েছে। আমি আবান আল-মুহারিবির আগে আবান আল-আবদিকে রেখেছি। একইভাবে আমি ‘আব্দ’ দিয়ে শুরু নামের ক্ষেত্রে ‘আব্দ’ শব্দের পরের প্রথম বর্ণটি অনুসরণ করেছি। উপনামের ক্ষেত্রেও আমি ‘আবু’ শব্দের পরের নামের বর্ণানুক্রম অনুসরণ করেছি, তাই আবু রাফের আগে আবু দাউদকে রেখেছি। একইভাবে আনুগত্যের সম্পর্কের (ওয়ালা) ক্ষেত্রে আমি কেবল আসওয়াদের চেয়ে আসওয়াদ মাওলা জায়েদকে আগে রেখেছি।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
مولى عمرو

(وإذا ذكر) الصحابي ولم ينسب إلى أب بل نسب إلى قبيلة فإنني أجعل القبيلة بمنزلة الأب

(مثاله) زيد الأنصاري أقدمه على زيد القرشي ولزمت الحروف في جميع أسماء القبائل * وقد ذكروا جماعة بأسمائهم ولم ينسبوهم إلى شئ فجعلت كل واحد منهم في آخر ترجمة الاسم الذي سمى به مثاله زيد غير منسوب جعلته في آخر من اسمه زيد وأقدم ما قلت حروفه على ما كثرت مثاله أقدم الحارث على حارثه * وقد ذكر ابن منده وأبو نعيم وأبو موسى في آخر الرجال والنساء جماعة من الصحابة والصحابيات لم تعرف أسماؤهم فنسبوهم إلى آبائهم فقالوا ابن فلان وإلى قبائلهم وإلى أبنائهم وقالوا فلان عن عمه وفلان عن جده وعن خاله وروى فلان عن رجل من الصحابة

(فرتبتهم) أولا بأن ابتدأت بابن فلان ثم بمن روى عن أبيه لأن ما بعد الباء في ابن نون وما بعدها في أبيه ياء ثم بمن روى عن جده ثم عن خاله ثم عن عمه لأن الجيم قبل الخاء وهما قبل العين ثم بمن نسب إلى قبيلة ثم بمن روى عن رجل من الصحابة

(ثم رتبت) هؤلاء أيضا ترتيبا ثانيا فجعلت من روى عن ابن فلان مرتبين على الآباء مثاله ابن الأدرع أقدمه على ابن الأسقع وأقدمهما على ابن ثعلبة وأرتب من روى عن أبيه على أسماء الآباء مثاله إبراهيم عن أبيه أجعله قبل الأسود عن أبيه وجعلت من روى عن جده علي أسماء الأحفاد مثاله أقدم جد الصلت على جد طلحة وجعلت من روى عن خاله على أسماء أولاد الأخوات مثاله أقدم خال البراء على خال الحارث ومن روى عن عمه جعلتهم على أسماء أولاد الإخوة مثاله عم أنس مقدم على عم جبر ومن نسب إلى قبيلته ولم يعرف اسمه جعلتهم مرتبين على أسماء القبائل فإنني أقدم الأزدي على الخثعمي

(وقد ذكروا) أيضا جماعة لم يعرفوا إلا بصحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم

(فرتبتهم) على أسماء الراوين عنهم مثاله أنس بن مالك عن رجل من الصحابة أقدمه على ثابت بن السمط عن رجل من الصحابة وإن عرفت في هذا جميعه اسم الصحابي ذكرت اسمه ليعرف ويطلب من موضعه

(ورأيت جماعة) من المحدثين إذا وضعوا كتابا على الحروف يجعلون الاسم الذي أوله لا مثل لا حق ولا شر في باب مفرد عن حرف اللام وجعلوه قبل الياء

(فجعلتها) أنا من حرف اللام في باب اللام مع الألف فهو أصح وأجود وكذلك أفعل في النساء سواء وإذا كان أحد من الصحابة مشهورا بالنسبة إلى غير أبيه ذكرته بذلك النسب كشرحبيل بن حسنة أذكره فيمن أول اسم أبيه حاء ثم أبين اسم أبيه ومثل شريك بن السحماء وهي أمه أيضا أذكره فيمن أول اسم أبيه
আমরের মুক্তদাস

(যখন কোনো) সাহাবীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং তাঁকে তাঁর পিতার দিকে সম্বন্ধ না করে বরং কোনো গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন আমি সেই গোত্রকে পিতার স্থলাভিষিক্ত করি।

(যেমন) যায়েদ আল-আনসারী; তাঁকে আমি যায়েদ আল-কুরাশীর আগে এনেছি। আর আমি সকল গোত্রের নামের ক্ষেত্রে বর্ণক্রম অনুসরণ করেছি। মুহাদ্দিসগণ একদল সাহাবীর নাম উল্লেখ করেছেন যাদের তাঁরা কোনো কিছুর দিকে সম্বন্ধ করেননি। তাই আমি তাঁদের প্রত্যেককে সেই নামের আলোচনার শেষে স্থান দিয়েছি। যেমন কোনো সম্বন্ধহীন 'যায়েদ' নামকে আমি যায়েদ নামীয়দের তালিকার শেষে রেখেছি। আর আমি কম বর্ণবিশিষ্ট নামকে বেশি বর্ণবিশিষ্ট নামের আগে রেখেছি; যেমন 'আল-হারিস'-কে 'হারিসাহ'-এর আগে স্থান দিয়েছি। ইবনে মানদাহ, আবু নুআইম এবং আবু মুসা পুরুষ ও নারীদের বর্ণনার শেষে এমন একদল সাহাবী ও নারী সাহাবীর কথা উল্লেখ করেছেন যাঁদের নাম জানা যায়নি। তাই তাঁরা তাঁদেরকে তাঁদের পিতার দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং বলেছেন অমুকের পুত্র (ইবনে ফুলান); আবার গোত্রের দিকে বা তাঁদের সন্তানদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। তাঁরা আরও বলেছেন—অমুক তাঁর চাচা থেকে, অমুক তাঁর দাদা থেকে, অমুক তাঁর মামা থেকে এবং অমুক জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন।

(আমি তাঁদেরকে বিন্যস্ত করেছি) এভাবে যে, প্রথমে 'অমুকের পুত্র' (ইবনে ফুলান) দিয়ে শুরু করেছি, এরপর যিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁকে এনেছি; কারণ 'ইবনে' শব্দের 'বা'-এর পরের বর্ণ হলো 'নুন' এবং 'আবিহি'-তে 'বা'-এর পরের বর্ণ হলো 'ইয়া'। এরপর যিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, এরপর যিনি তাঁর মামা থেকে, এরপর যিনি তাঁর চাচা থেকে; কারণ 'জিম' বর্ণটি 'খা'-এর আগে এবং এ দুটি বর্ণ 'আইন'-এর আগে। এরপর যাঁকে গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে এবং সবশেষে যিনি জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন।

(অতঃপর আমি) এদের পুনরায় দ্বিতীয় পর্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। যাঁরা 'অমুকের পুত্র' (ইবনে ফুলান) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের আমি তাঁদের পিতাদের নামের বর্ণনানুসারে সাজিয়েছি; যেমন—ইবনুল আদরা-কে ইবনুল আসকার আগে এবং এ দুজনকে ইবনে সা’লাবার আগে রেখেছি। আর যিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদেরকে পিতাদের নামের ভিত্তিতে সাজিয়েছি; যেমন—'ইব্রাহিম তাঁর পিতা থেকে'—এটিকে 'আসওয়াদ তাঁর পিতা থেকে'-এর আগে রেখেছি। আর যিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের পৌত্রদের নামের ভিত্তিতে সাজিয়েছি; যেমন—সালতের দাদাকে তালহার দাদার আগে রেখেছি। আর যিনি তাঁর মামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের ভাগিনাদের নামের ভিত্তিতে সাজিয়েছি; যেমন—বারা-র মামাকে হারিসের মামার আগে রেখেছি। আর যাঁরা তাঁদের চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের ভাইপোদের নামের ভিত্তিতে সাজিয়েছি; যেমন—আনাসের চাচাকে জাবরের চাচার আগে রেখেছি। আর যাঁর নাম জানা যায়নি এবং গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তাঁদের গোত্রের নামের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছি; যেমন—আমি আল-আযদিকে আল-খাশআ’মির আগে রেখেছি।

(তাঁরা এমন) একদল লোকের কথাও উল্লেখ করেছেন যাঁদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য ছাড়া আর কিছু জানা যায়নি।

(তাই আমি তাঁদেরকে) তাঁদের থেকে বর্ণনাকারীদের নামের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছি। যেমন—'আনাস ইবনে মালিক জনৈক সাহাবী থেকে'—এটিকে আমি 'সাবিত ইবনে সামত জনৈক সাহাবী থেকে'-এর আগে রেখেছি। যদি এসকল ক্ষেত্রে কোনো সাহাবীর নাম আমার জানা থাকে, তবে আমি তাঁর নাম উল্লেখ করে দিয়েছি যাতে তাঁকে চেনা যায় এবং তাঁর নিজ স্থান থেকে তাঁকে খুঁজে নেওয়া যায়।

(আমি একদল) মুহাদ্দিসকে দেখেছি যে, যখন তাঁরা বর্ণানুক্রমিক কোনো কিতাব সংকলন করেন, তখন 'লা' (لا) দিয়ে শুরু হওয়া নামগুলোকে—যেমন লাহিক বা লাশারি—'লাম' বর্ণের অধীনে একটি পৃথক পরিচ্ছেদে রাখেন এবং সেটিকে 'ইয়া' বর্ণের আগে স্থান দেন।

(কিন্তু আমি সেগুলোকে) 'লাম' বর্ণের অধীনে 'আলিফ যুক্ত লাম' (লাম-আলিফ) পরিচ্ছেদে রেখেছি, যা অধিকতর সঠিক ও উত্তম। একইভাবে আমি নারীদের ক্ষেত্রেও বিন্যাস করেছি। আর কোনো সাহাবী যদি তাঁর পিতা ছাড়া অন্য কারো সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে প্রসিদ্ধ হন, তবে আমি তাঁকে সেই সম্বন্ধ অনুসারেই উল্লেখ করেছি; যেমন—শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ—তাঁকে আমি তাঁদের মধ্যে উল্লেখ করেছি যাঁদের পিতার নামের প্রথম বর্ণ 'হা'। এরপর আমি তাঁর পিতার নাম স্পষ্ট করে দিয়েছি। একইভাবে শারিক ইবনে সাহমা—যিনি তাঁর মায়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত—তাঁকেও আমি তাঁর পিতার নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
سين ثم أذكر اسم أبيه أفعل هذا قصدا للتقريب وتسهيل طلب الاسم واذكر الأسماء على صورها التي ينطق بها لا على أصولها مثل أحمر أذكره في الهمزة ولا أذكره في الحاء ومثل أسود في الهمزة أيضا ومثل عمار أذكره في عما ولا أذكره في عمم لأن الحرف المشدد حرفان الأول منهما ساكن فعلته طلبا للتسهيل

(وأقدم الاسم) في النسب على الكنية إذا اتفقا مثاله أقدم عبد الله بن ربيعة على عبد الله بن أبي ربيعة وأذكر الأسماء المشتبهة في الخط وأضبطها بالكلام لئلا تلتبس فإن كثيرا من الناس يغلطون فيها وإن كانت النعتية التي ضبطها تعرف الاسم وتبينه ولكني أزيده تسهيلا ووضوحا مثال ذلك سلمة في الأنصار بكسر اللام والنسبة إليه سلمي بالفتح في اللام والسين وأما سليم فهو ابن منصور من قيس عيلان وأشرح الألفاظ الغريبة التي ترد في حديث بعض المذكورين في آخر ترجمته وأذكر في الكتاب فصلا يتضمن ذكر الحوادث المشهورة للنبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه كالهجرة إلى الحبشة وإلى المدينة وبيعة العقبة وكل حادثة قتل فيها أحد من الصحابة فإن الحاجة تدعو إلى ذلك لأنه يقال أسلم فلان قبل دخول رسول الله صلى الله عليه وسلم دار الأرقم أو وهو فيها وهاجر فلان إلى الحبشة وإلى المدينة وشهد بدرا وشهد بيعة العقبة وبيعة الرضوان وقتل فلان في غزوة كذا أذكر ذلك مختصرا فليس كل الناس يعرفون ذلك ففيه زيادة كشف

(وأذكر أيضا) فصلا أضمنه أسانيد الكتب التي كثر تخريجي منها لئلا أكرر الأسانيد في الأحاديث طلبا للاختصار

(وقد ذكر) بعض مصنفي معارف الصحابة جماعة ممن كان في زمن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يره ولم يصحبه ساعة من نهار كالأحنف بن قيس وغيره ولا شبهة في أن الأحنف كان رجلا في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يره رد ليل أنه كان رجلا في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم قدومه على عمر بن الخطاب رضي الله عنه في وفد أهل البصرة وهو رجل من أعيانهم والقصة مشهورة إلا أنه لم يفد إلى النبي صلى الله عليه وسلم ولم يصحبه فلا أعلم لم ذكروه وغيره ممن هذه حاله فإن كانوا ذكروهم لأنهم كانوا موجودين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم مسلمين فكان ينبغي أن يذكروا كل من أسلم في حياته ووصل إليهم اسمه لأن الوفود في سنة تسع وسنة عشر قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم من سائر العرب بإسلام قومهم فكان ينبغي أن يذكروا الجميع قياسا على من ذكروه وأذكر فيه في فصل جميع ما في هذا الكتاب من
সীন বর্ণ, এরপর আমি তার পিতার নাম উল্লেখ করি। আমি এটি নিকটবর্তী করা এবং নাম অনুসন্ধানের কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে করি। আমি নামগুলো তাদের উচ্চারিত রূপ অনুযায়ী উল্লেখ করি, তাদের মূল ধাতুর ভিত্তিতে নয়। যেমন ‘আহমার’, আমি একে ‘হামযা’ বর্ণের অধ্যায়ে উল্লেখ করি, ‘হা’ বর্ণের অধ্যায়ে নয়। তদ্রূপ ‘আসওয়াদ’-কেও ‘হামযা’ বর্ণের অধ্যায়ে উল্লেখ করি। আর ‘আম্মার’-কে আমি ‘আইন-মীম’ এ উল্লেখ করি, ‘আইন-মীম-মীম’ এ নয়; কারণ তাশদীদযুক্ত বর্ণ হলো দুটি বর্ণ যার প্রথমটি স্থির। সহজ করার লক্ষ্যেই আমি এরূপ করেছি।

(এবং আমি নামকে) বংশপরম্পরায় উপনামের ওপর অগ্রাধিকার দিই যদি উভয়টি মিলে যায়। উদাহরণস্বরূপ, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনে রাবিয়াহ’কে ‘আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবিয়াহ’র পূর্বে উল্লেখ করি। আমি এমন নামগুলো উল্লেখ করি যা লৈখিকভাবে দেখতে একই রকম এবং সেগুলো বর্ণনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করে দিই যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়। কারণ অনেক মানুষ এগুলোতে ভুল করে থাকে, যদিও এর বর্ণনামূলক পরিচয় যা একে সুনির্দিষ্ট করে তা নামটিকে পরিচিত ও স্পষ্ট করে তোলে। তবুও আমি অধিকতর সহজসাধ্য ও স্পষ্ট করার জন্য তা বৃদ্ধি করি। এর উদাহরণ হলো আনসারদের মধ্যে ‘সালামাহ’, যা ‘লাম’ বর্ণের যের যোগে উচ্চারিত হয় এবং এর সাথে সম্পৃক্ত সম্বন্ধসূচক নাম হলো ‘সালামী’, যা ‘লাম’ ও ‘সীন’ বর্ণে যবর যোগে গঠিত। পক্ষান্তরে ‘সুলাইম’ হলেন কায়স আয়লান গোত্রের মানসুরের পুত্র। আমি সেই সকল অপরিচিত শব্দাবলি ব্যাখ্যা করি যা উল্লেখিত কোনো কোনো ব্যক্তির বর্ণিত হাদীসে পাওয়া যায় এবং তা তাদের জীবনীর শেষে উল্লেখ করি। আমি এই কিতাবে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ যুক্ত করব যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের প্রসিদ্ধ ঘটনাবলি অন্তর্ভুক্ত করবে; যেমন হাবশায় হিজরত, মদিনায় হিজরত, বায়আতে আকাবা এবং এমন প্রতিটি যুদ্ধ বা ঘটনা যাতে কোনো সাহাবী শহীদ হয়েছেন। কেননা এর প্রয়োজন অনস্বীকার্য, কারণ বলা হয়ে থাকে যে, অমুক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দারুল আরকামে প্রবেশের পূর্বে বা সেখানে অবস্থানকালীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন, অমুক ব্যক্তি হাবশায় ও মদিনায় হিজরত করেছেন, বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং বায়আতে আকাবা ও বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি এসব বিষয় সংক্ষেপে বর্ণনা করব, যেহেতু সকল মানুষ এ সম্পর্কে অবগত নয়; ফলে এতে অধিকতর স্পষ্টতা অর্জিত হবে।

(আমি আরও উল্লেখ করব) একটি পরিচ্ছেদ যেখানে আমি সেই সকল কিতাবের সনদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করব যেখান থেকে আমি অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি, যাতে সংক্ষেপ করার নিমিত্তে হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে সনদের পুনরাবৃত্তি করতে না হয়।

(ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছেন) সাহাবীদের জীবনী বিষয়ক কোনো কোনো রচয়িতা এমন একদল লোক সম্পর্কে যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি এবং দিনের এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর সাহচর্য লাভ করেননি, যেমন আহনাফ ইবনে কায়স ও অন্যান্যরা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহনাফ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছিলেন কিন্তু তিনি তাঁকে দেখেননি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হওয়ার প্রমাণ হলো বসরার প্রতিনিধি দলের সাথে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট তাঁর উপস্থিতি, এবং তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি; আর এই ঘটনাটি সুপ্রসিদ্ধ। তবে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রতিনিধি হিসেবে আসেননি এবং তাঁর সাহচর্য লাভ করেননি। তাই আমি জানি না কেন তাঁরা তাঁর নাম এবং তাঁর মতো যাদের অবস্থা, তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। যদি তাঁরা তাঁদের এই কারণে উল্লেখ করে থাকেন যে তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মুসলিম হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন, তবে তাঁদের উচিত ছিল তাঁর জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণকারী এমন প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করা যাঁদের নাম তাঁদের নিকট পৌঁছেছে। কারণ নবম ও দশম হিজরী সনে সমগ্র আরব ভূখণ্ড থেকে প্রতিনিধি দলগুলো তাদের সম্প্রদায়ের ইসলাম গ্রহণের বার্তা নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করেছিলেন। সুতরাং যাদের নাম তাঁরা উল্লেখ করেছেন, তাদের সাথে তুলনা করে সবার নামই উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল। আর আমি এই গ্রন্থের একটি পরিচ্ছেদে এর অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
الأنساب وجعلتها على حروف المعجم ولم أذكر من الأنساب إلا ما في هذا الكتاب لئلا يطول ذلك وإنما فعلت ذلك لأن بعض من وقف عليه من أهل العلم والمعرفة أشار به ففعلته وليكون هذا الكتاب أيضا جامعا لما يحتاج إليه الناظر فيه غير مفتقر إلى غيره وما يشاهده الناظر في كتابي هذا من خطأ ووهم فليعلم أني لم أقله من نفسي وإنما نقلته من كلام العلماء وأهل الحفظ والإتقان ويكون الخطأ يسيرا إلى ما فيه من الفوائد والصواب ومن الله سبحانه استمد الصواب في القول والعمل فرحم الله امرأ أصلح فاسده ودعا لي بالمغفرة والعفو عن السيئات وأن يحسن منقلبنا إلى دار السلام عند مجاورة الأموات والسلام

 

‌‌(فصل) * يذكر فيه أسانيد الكتب الكبار

التي خرجت منها الأحاديث وغيرها وقد تكرر ذكرها في الكتاب لئلا يطول الإسناد ولا أذكر في أثناء الكتاب إلا اسم المصنف وما بعده فليعلم ذلك

 

‌‌(تفسير القرآن المجيد لأبي إسحاق الثعلبي) * أخبرنا به أبو العباس أحمد بن عثمان بن أبي علي بن مهدي الزرزاري الشيخ الصالح رحمة الله تعالى قال أخبرنا الرئيس مسعود بن الحسن بن القاسم الأصبهاني وأبو عبد الله الحسن ابن العباس الرستمي قالا أخبرنا أحمد بن خلف الشيرازي قال أنبأنا أبو إسحاق أحمد ابن محمد بن إبراهيم الثعلبي بجميع كتاب الكشف والبيان في تفسير القرآن سمعت عليه من أول الكتاب إلى آخر سورة النساء وأما من أول سورة المائدة إلى آخر الكتاب فإنه حصل لي بعضه سماعا وبعضه إجازة واختلط السماع بالإجازة فأنا أقول فيه أخبرنا به إجازة إن لم يكن سماعا فإذا قلت أخبرنا أحمد بإسناده إلى الثعلبي فهو بهذا الإسناد

 

‌‌(الوسيط في التفسير أيضا للواحدي) أخبرنا بجميع كتاب الوسيط في تفسير القرآن المجيد أبو محمد عبد الله بن علي بن سويدة التكريتي قال أنبأنا أبو عبد الله محمد بن الحسين بن الفزخان السمناني وعبد الرحمن بن أبي الخير بن سعيد الميهني كلاهما إجازة قالا أنبأنا أبو الحسن علي بن أحمد بن متويه الواحدي ح قال أبو محمد وأخبرنا أبو الفضل أحمد بن أبي الخير بن سعيد قراءة عليه وأنا أسمع قال أنبأنا الواحدي فإذا قلت أخبرنا أبو محمد بن سويد فهو إلى الواحدي بهذا الإسناد

 

‌‌(صحيح محمد بن إسماعيل البخاري) أخبرنا بجميع الجامع الصحيح تأليف الإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري رضي الله عنه أبو عبد الله محمد بن محمد بن سرايا بن علي وأبو الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز
বংশপরম্পরা এবং আমি সেগুলোকে অভিধানের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে সাজিয়েছি। আমি এই কিতাবে বর্ণিত বংশগুলো ছাড়া অন্য কিছুর উল্লেখ করিনি যাতে এটি দীর্ঘ না হয়। আমি এটি একারণেই করেছি যে, ইলম ও মারিফাতওয়ালাদের মধ্য থেকে যারা এটি দেখেছেন তারা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তাই আমি তা করেছি। আর যাতে এই কিতাবটি এমন একটি সংকলন হয় যার পাঠকের অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হতে না হয়। আর পাঠক আমার এই কিতাবে যে ভুল বা ভ্রান্তি দেখবেন, তিনি যেন জেনে রাখেন যে আমি তা নিজের পক্ষ থেকে বলিনি, বরং উলামায়ে কেরাম এবং হিফজ ও পারদর্শিতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের কথা থেকে তা উদ্ধৃত করেছি। এতে যে পরিমাণ উপকার ও সঠিক বিষয় রয়েছে তার তুলনায় ভুল খুবই সামান্য। মহান আল্লাহর কাছেই আমি কথা ও কাজে সঠিকতার সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি এর ভুল সংশোধন করে দেন এবং আমার জন্য মাগফিরাত ও পাপমোচনের দোয়া করেন এবং মৃতদের সান্নিধ্যে যাওয়ার সময় যেন তিনি শান্তিনিকেতনে আমাদের প্রত্যাবর্তনকে সুন্দর করেন। আস-সালাম।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ) * এতে বড় বড় কিতাবসমূহের সনদসমূহ উল্লেখ করা হবে

যা থেকে হাদিসসমূহ ও অন্যান্য বিষয় উদ্ধৃত হয়েছে। কিতাবে এগুলো বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যাতে সনদ দীর্ঘ না হয়। আমি কিতাবের মাঝখানে কেবল গ্রন্থকারের নাম এবং তার পরবর্তী অংশ উল্লেখ করব, এটি যেন জানা থাকে।

 

‌‌(আবু ইসহাক আস-সা'লাবী রচিত তাফসীরুল কুরআনিল মাজীদ) * আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস আহমাদ বিন উসমান বিন আবু আলী বিন মাহদী আল-জারজারি, যিনি একজন নেককার শায়খ, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাইস মাসউদ বিন হাসান বিন কাসিম আল-আসবাহানি এবং আবু আব্দুল্লাহ হাসান ইবনুল আব্বাস আল-রুস্তামি। তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন খালাফ আশ-শিরাজি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আস-সা'লাবী—কুরআনের তাফসির বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ 'আল-কাশফ ওয়াল বায়ান' কিতাবটির। আমি তাঁর নিকট কিতাবের শুরু থেকে সূরা নিসা-এর শেষ পর্যন্ত শ্রবণ করেছি। আর সূরা মায়িদার শুরু থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত কিছু অংশ শ্রবণ এবং কিছু অংশ অনুমতি সূত্রে প্রাপ্ত। শ্রবণ ও অনুমতি পরষ্পর মিশে গেছে, তাই আমি এর ক্ষেত্রে বলব যে, যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে তবে তা অনুমতি সূত্রে প্রাপ্ত। সুতরাং আমি যখন বলব 'আহমাদ আস-সা'লাবী পর্যন্ত তাঁর সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন', তখন তা এই সনদকেই বোঝাবে।

 

‌‌(আল-ওয়াহিদীর তাফসির গ্রন্থ 'আল-ওয়াসিত'ও) কুরআনে মাজীদের তাফসির বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ 'আল-ওয়াসিত' কিতাবটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন সুয়াইদাহ আত-তিকরিতি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন ফাযখান আস-সামনানি এবং আব্দুর রহমান বিন আবু খাইর বিন সাঈদ আল-মিহানি—উভয়ে অনুমতি সূত্রে। তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আলী বিন আহমাদ বিন মাতওয়াইহ আল-ওয়াহিদী। (হাওলা) আবু মুহাম্মাদ বলেন, আমাদের নিকট আরও বর্ণনা করেছেন আবু ফাদল আহমাদ বিন আবু খাইর বিন সাঈদ, তাঁর সামনে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ওয়াহিদী। সুতরাং আমি যখন বলব 'আবু মুহাম্মাদ বিন সুয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন', তবে তা আল-ওয়াহিদী পর্যন্ত এই সনদেই হবে।

 

‌‌(মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর সহীহ গ্রন্থ) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) রচিত পূর্ণাঙ্গ 'আল-জামি আস-সহীহ' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সারায়া বিন আলী এবং আবু আল-ফারাজ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবিল ইয।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
الواسطي وأبو بكر مسمار بن عمر بن العويس النيار البغدادي وأبو عبد الله الحسين ابن أبي صالح بن فتا خسرو الديلمي التكريتي الضرير قالوا أخبرنا أبو الوقت عبد الأول ابن عيسى بن شعيب السجزي قال أخبرنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد الداودي أخبرنا أبو محمد عبد الله بن أحمد الحموي السرخسي قال أخبرنا محمد بن يوسف الفربري أخبرنا محمد بن إسماعيل فإذا قلت أخبرنا أحد هؤلاء أو كلهم بإسنادهم عن البخاري وذكرت إسناده إلى النبي صلى الله عليه وسلم فهو بهذا الإسناد

 

‌‌(صحيح مسلم بن الحجاج) أخبرنا بجميع الصحيح تأليف أبي الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري رضي الله عنه أبو الفرج يحيى بن محمود بن سعد الأصفهاني الثقفي قراءة عليه وأنا أسمع قال أخبرنا عم جدي أبو الفضل جعفر بن عبد الواحد بن محمد الثقفي قراءة عليه وأنا أسمع وأبو عبد الله محمد بن الفضل الفراوي إجازة قال جعفر أجاز لنا وقال الفراوي أخبرنا سماعا أبو الحسين عبد الغافر بن محمد الفارسي أخبرنا أبو أحمد محمد بن عيسى بن عمرويه الجلودي أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان الفقيه أخبرنا أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري

 

(فإذا قلت) أخبرنا يحيى وأبو ياسر بإسنادهما عن مسلم فهو بهذا الإسناد

 

‌‌(الموطأ لمالك بن أنس رواية يحيى بن يحيى) * أخبرنا به الشيخ أبو الحرم مكي بن زيان بن شبه المقري النحوي الماكسيني رحمه الله أخبرنا أبو بكر يحيى بن سعدون بن تمام الأزدي القرطبي أخبرنا الفقيه أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن عتاب أخبرنا القاضي أبو الوليد يونس بن عبد الله بن مغيث أخبرنا أبو عيسى يحيى بن عبيد الله أخبرنا عم أبي عبيد الله بن يحيى أخبرنا أبو يحيى بن يحيى أخبرنا الإمام مالك بن أنس رضي الله عنه فإذا قلت أخبرنا أبو الحرم بإسناده عن يحيى بن يحيى عن مالك فهو بهذا الإسناد

 

‌‌(الموطأ لمالك أيضا رواية القعنبي) أخبرنا به أبو المكارم فتيان ابن أحمد بن محمد بن سمنية الجوهري أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن محمد بن نصر بن خميس الفقيه أخبرنا أبو الحسين أحمد بن عبد القادر بن يوسف أنبأنا أبو عمر وعثمان بن محمد بن يوسف العلاف أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن إبراهيم الشافعي أخبرنا أبو يعقوب إسحاق بن الحسن بن ميمون بن سعد الحراني أخبرنا القعنبي عن مالك رضي الله عنه

 

‌‌(مسند أحمد بن حنبل) أخبرنا به أبو ياسر عبد الوهاب بن هبة الله بن أبي حبة قال أخبرنا أبو القاسم هبة الله ابن محمد بن عبد الواحد بن الحصين أخبرنا أبو علي الحسن بن على بن المذهب
আল-ওয়াসিতি, আবু বকর মিসমার বিন উমর বিন আল-উওয়াইস আন-নায়্যার আল-বাগদাদি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আবি সালিহ বিন ফাতা খুসরো আদ-দাইলামি আত-তিকরিতি আল-দারির; তারা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াকত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা বিন শুআইব আস-সিজজি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আদ-দাউদি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-হামুই আস-সারখাসি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল। সুতরাং আমি যখন বলি 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এদের একজন বা সকলে তাদের সনদে বুখারি থেকে' এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত তার সনদ উল্লেখ করি, তবে তা এই সনদে।

 

‌‌(সহিহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ) আবুল হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংকলিত পূর্ণ 'সহিহ' গ্রন্থটির সংবাদ আমাদের দিয়েছেন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া বিন মাহমুদ বিন সাদ আল-আসফাহানি আস-সাকাফি, তার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার প্রপিতামহের ভ্রাতা আবুল ফাদল জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আস-সাকাফি, তার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; আর আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আল-ফারাবি অনুমতিসূত্রে (ইজাজাতান); জাফর বলেছেন: তিনি আমাদের অনুমতি দিয়েছেন, আর আল-ফারাবি বলেছেন: আমাদের শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আমরওয়াইহ আল-জুলুদি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আল-ফকিহ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরি।

 

(সুতরাং যখন আমি বলি) ইয়াহইয়া এবং আবু ইয়াসির তাদের সনদে মুসলিম থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তবে তা এই সনদে।

 

‌‌(মালিক বিন আনাস-এর মুয়াত্তা, ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়ার বর্ণনা) * এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হারাম মক্কি বিন যিয়ান বিন শিবহ আল-মুকরি আন-নাহবি আল-মাকসিনি (রাহিমাহুল্লাহ); আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইয়াহইয়া bin সাদুন বিন তামাম আল-আজদি আল-কুরতুবি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আত্তাব; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবুল ওয়ালিদ ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ বিন মুগিস; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন উবাইদুল্লাহ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতার চাচা উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম মালিক বিন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। সুতরাং যখন আমি বলি আবুল হারাম তার সনদে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মালিক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তবে তা এই সনদে।

 

‌‌(মালিকের মুয়াত্তা, আল-কা'নাবির বর্ণনাও) এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাকারিম ফিতয়ান ইবনে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সামানিয়াহ আল-জাওহারি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন নাসর বিন খামিস আল-ফকিহ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমদ বিন আব্দুল কাদির বিন ইউসুফ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর উসমান বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-আল্লাফ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফিয়ি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন আল-হাসান বিন মাইমুন বিন সাদ আল-হাররানি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কা'নাবি, মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।

 

‌‌(আহমদ বিন হাম্বলের মুসনাদ) এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াসির আব্দুল ওয়াহহাব বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবি হাব্বাহ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-حصين; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাসান বিন আলি বিন আল-মুযহিব।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
الواعظ أخبرنا أبو بكر بن مالك القطيعي أخبرنا عبد الله ابن أحمد بن حنبل حدثني أبي رضي الله عنه فكل ما فيه أخبرنا أبو ياسر أو عبد الوهاب بإسناده عن عبد الله حدثني أبي فهو بهذا الإسناد

 

‌‌(مسند أبي داود الطيالسي) أخبرنا به الخطيب أبو الفضل عبد الله بن أحمد بن عبد القاهر الطوسي أخبرنا أبو سعد محمد بن محمد المطرز الفقيه إذنا أخبرنا أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن إسحاق الأصفهاني وأبو عبد الله الحسين ابن إبراهيم الجمال قالا أخبرنا أبو محمد عبد الله بن جعفر بن فارس أخبرنا يونس بن حبيب أخبرنا أبو داود الطيالسي رضي الله عنه فإذا قلت قال أبو داود الطيالسي فهو بهذا الإسناد

 

‌‌(الجامع الكبير للترمذي) أخبرنا به أجمع أبو الفداء إسماعيل بن علي بن عبيد الواعظ الموصلي وأبو جعفر عبيد الله بن أحمد بن علي بن السمين وأخبرنا به ما عدا أبواب الطهارة الفقيه أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن مهران الشافعي قالوا أخبرنا أبو الفتح عبد الملك بن أبي القاسم بن أبي سهل الكروخي قال أخبرنا القاضي أبو عامر محمود بن القاسم بن محمد بن محمد الأزدي وأبو نصر عبد العزيز بن محمد بن علي الترياقي وأبو بكر عبد الصمد بن أبي الفضل الفورجي قالوا أخبرنا أبو محمد بن أبي الجراح الجراحي المروزي أخبرنا أبو العباس المحبوبي أخبرنا أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي رضي الله عنه

 

‌‌(سنن أبي داود السجستاني) أخبرنا به أبو أحمد عبد الوهاب بن علي بن علي بن الأمين الصوفي الشيخ الصالح المعروف بابن سكينة رضي الله عنه أخبرنا أبو غالب محمد بن الحسن الماوردي أخبرنا أبو علي علي بن أحمد التستري أخبرنا أبو عمر القاسم بن جعفر الهاشمي أخبرنا أبو علي محمد بن أحمد اللؤلؤي أخبرنا أبو داود سليمان بن الأشعث السجستاني فإذا قلت أخبرنا أبو أحمد بإسناده عن أبي داود فهو بهذا الإسناد

 

‌‌(سنن أبي عبد الرحمن النسائي) أخبرنا به أبو القاسم يعيش بن صدقة بن علي الفقيه الشافعي الضرير رضي الله عنه قال أخبرنا أبو الحسن علي بن أحمد بن محمويه اليزدي أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن الحسن الدوني أخبرنا أبو نصر أحمد بن الحسين الكسار أخبرنا أبو بكر أحمد بن محمد السبتي أخبرنا أبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي رضي الله عنه فإذا قلت أخبرنا أبو القاسم أو يعيش بإسناده إلى أبي عبد الرحمن أو أحمد بن شعيب فهو بهذا الإسناد

 

‌‌(مسند أبي يعلى الموصلي) أخبرنا به أبو الفضل المنصور بن أبي الحسن بن أبي عبد الله الطبري الفقيه المخزومي المعروف
ওয়ায়েজ (উপদেশক) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন মালিক আল-কুতাইয়ি, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ বিন হাম্বল থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এতে যা কিছু আছে যে, আবু ইয়াসির বা আব্দুল ওয়াহাব তাঁর সনদে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তা এই সনদের মাধ্যমেই।

 

‌‌(মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি) আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন খতিব আবুল ফজল আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আব্দুল কাহের আত-তুসি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মুতাররিজ আল-ফকিহ্ (অনুমতিক্রমে), তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক আল-আসফাহানি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইবরাহিম আল-জাম্মাল। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন ফারিস, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন হাবিব, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)। সুতরাং যখন আমি বলব "আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বলেছেন", তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।

 

‌‌(আত-তিরমিযীর আল-জামি আল-কাবির) আমাদের কাছে এই কিতাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন আবুল ফিদা ইসমাইল বিন আলী বিন উবাইদ আল-ওয়ায়েজ আল-মাওসিলি এবং আবু জাফর উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলী বিন আস-সামিন। আর পবিত্রতা অধ্যায়গুলো ব্যতীত বাকি অংশ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ফকিহ্ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন মিহরান আশ-শাফিয়ি। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক বিন আবিল কাসিম বিন আবি সাহল আল-কুরুখি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু আমির মাহমুদ বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আযদি, আবু নাসর আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আত-তিরইয়াকি এবং আবু বকর আব্দুস সামাদ বিন আবিল ফজল আল-ফাওরাজি। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন আবিল জাররাহ আল-জাররাহি আল-মারওয়াযি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-মাহবুবি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আত-তিরমিযী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)।

 

‌‌(সুনানে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি) আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ আব্দুল ওয়াহাব বিন আলী বিন আলী বিন আল-আমিন আস-সুফি, যিনি ইবনে সাকিনাহ নামে পরিচিত নেককার শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)। তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-মাওয়ারদি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আলী বিন আহমাদ আত-তুস্তারি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আল-কাসিম বিন জাফর আল-হাশেমি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-লুলুয়ি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি। সুতরাং যখন আমি বলব "আবু আহমাদ তাঁর সনদে আবু দাউদ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন", তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।

 

‌‌(সুনানে আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী) আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম ইয়ায়িশ বিন সাদাকাহ বিন আলী আল-ফকিহ্ আশ-শাফিয়ি আদ-দারির (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আলী বিন আহমাদ বিন মাহমুয়াহ আল-ইয়াযদি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন আল-হাসান আদ-দুনি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-কাসসার, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সাবতি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আহমাদ বিন শুআইব আন-নাসায়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)। সুতরাং যখন আমি বলব "আবুল কাসিম অথবা ইয়ায়িশ তাঁর সনদে আবু আব্দুর রহমান বা আহমাদ বিন শুআইব থেকে সংবাদ দিয়েছেন", তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।

 

‌‌(মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি) আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবুল ফজল আল-মনসুর বিন আবিল হাসান বিন আবি আব্দুল্লাহ আত-তাবারী আল-ফকিহ্ আল-মাখযূমী, যিনি পরিচিত...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
بالديني أخبرنا أبو القاسم زاهر بن طاهر الشحامي أخبرنا أبو سعيد محمد بن عبد الرحمن الكنجرودي أخبرنا أبو عمرو بن حمدان أخبرنا أبو يعلى أحمد بن علي بن المثنى الموصلي رضي الله عنه

 

‌‌(مغازي ابن إسحاق) أخبرنا به أبو جعفر عبيد الله ابن أحمد بن علي أخبرنا أبو الفضل محمد بن ناصر بن علي قال أخبرنا أبو الحسين أحمد بن محمد بن النقور إجازة ح قال أبو جعفر وأخبرنا أبو الحسن علي بن عساكر البطائحي أخبرنا أبو بكر محمد بن الحسين بن علي المرزوقي أخبرنا أبو الحسين ابن النقور أخبرنا أبو طاهر محمد بن عبد الرحمن المخلص أخبرنا أبو الحسين رضوان ابن أحمد الصيدلاني أخبرنا أبو عمر أحمد بن عبد الجبار العطاردي حدثنا يونس ابن بكير عن ابن إسحاق فإذا قلت في الكتاب بهذا الإسناد فهو معروف

 

‌‌(الآحاد والمثاني لابن أبي عاصم) أخبرنا به أبو الفرج يحيى بن محمود الثقفي إجازة أخبرنا عم جدي الرئيس أبو الفضل جعفر بن عبد الواحد بن محمد الثقفي قال أخبرنا أبو القاسم عبد الرحمن الأصبهاني أخبرنا أبو القاسم عبد الرحمن بن أبي بكر ابن محمد بن أبي علي أحمد بن عبد الرحمن الذكواني أخبرنا أبو بكر عبد الله بن محمد بن العتاب أخبرنا القاضي أبو بكر أحمد بن عمرو بن أبي عاصم المصنف فكل ما في هذا الكتاب عن ابن أبي عاصم فهو بهذا الإسناد وإذا كان بغيره ذكرته

 

‌‌(طبقات محدثي الموصل) أخبرنا به أبو منصور بن مكارم بن أحمد بن سعد المؤدب الموصلي أخبرنا أبو القاسم نصر بن محمد بن صفوان أخبرنا أبو البركات سعد بن محمد بن إدريس والخطيب أبو الفضائل الحسن بن هبة الله قالا أخبرنا أبو الفرج محمد بن إدريس بن محمد بن إدريس قال أخبرنا أبو منصور المظفر بن محمد الطوسي أخبرنا أبو زكرياء يزيد بن محمد بن إياس بن القاسم الأزدي المصنف

 

‌‌(مسند المعافى بن عمران) * أخبرنا به أبو منصور بن مكارم أيضا أخبرنا به أبو القاسم بن صفوان أخبرنا الخطيب أبو الحسن علي بن إبراهيم السراج أخبرنا أبو طاهر هبة الله بن إبراهيم بن أنس أخبرنا أبو الحسن علي بن عبيد الله بن طوق أخبرنا أبو جابر زيد بن عبد العزيز بن حبان حدثنا محمد بن عبد الله بن عمار أخبرنا المعافى بن عمران الأزدي رضي الله عنه فهذه الكتب التي كثر النقل منها وما عداها فإنني أذكر إسنادي إليها لأنها لا تتكرر كثيرا والله ولي التوفيق

 

‌‌(فصل نذكر فيه من يطلق عليه اسم الصحبة) قال الإمام أبو بكر أحمد بن علي
দ্বীনী সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম জাহির ইবনে তাহির আশ-শাহহামী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কানজারুদী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে হামদান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আহমাদ ইবনে আলি ইবনুল মুসান্না আল-মাওসেলি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

 

‌‌(ইবনে ইসহাকের মাগাজি) এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আলি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফজল মুহাম্মদ ইবনে নাসির ইবনে আলি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নাক্কুর ইজাজতক্রমে। (পরিবর্তিত সনদ) আবু জাফর বলেন, এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলি ইবনে আসাকির আল-বাতাইহি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলি আল-মারজুকি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইবনুন নাক্কুর, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মুখলিস, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন রিদওয়ান ইবনে আহমাদ আস-সাইদালানি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-আতারিদি, তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে। সুতরাং আমি যখন কিতাবে এই সনদের কথা বলব, তখন তা এই পরিচিত সূত্রেই গণ্য হবে।

 

‌‌(ইবনুল আবি আসিমের আল-আহাদ ওয়াল-মাসানি) এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফি ইজাজতক্রমে, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদার চাচা রঈস আবু আল-ফজল জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাকাফি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসেম আব্দুর রহমান আল-আসবেহানি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসেম আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি আলি আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দাকওয়ানি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আত্তাব, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন গ্রন্থকার কাজী আবু বকর আহমাদ ইবনে আমর ইবনে আবি আসিম। সুতরাং এই কিতাবে ইবনুল আবি আসিম থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা এই সনদের মাধ্যমেই। আর যদি অন্য কোনো সনদে হয়, তবে আমি তা উল্লেখ করব।

 

‌‌(মসুলের মুহাদ্দিসগণের তবকাত) এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর ইবনে মাকারিম ইবনে আহমাদ ইবনে সাদ আল-মুয়াদ্দিব আল-মাওসেলি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসেম নাসর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাফওয়ান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-বারাকাত সাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস এবং খতিব আবু আল-ফাদায়িল আল-হাসান ইবনে হেবাতুল্লাহ। তাঁরা উভয়ই বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর আল-মুজাফফর ইবনে মুহাম্মদ আত-তুসি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন গ্রন্থকার আবু জাকারিয়া ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াস ইবনুল কাসেম আল-আজদি।

 

‌‌(মুআফা ইবনে ইমরানের মুসনাদ) এটিও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর ইবনে মাকারিম, তিনি বলেন, আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসেম ইবনে সাফওয়ান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খতিব আবু আল-হাসান আলি ইবনে ইব্রাহিম আস-সাররাজ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের হেবাতুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আনাস, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলি ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে তওক, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাবের জাইদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে হাব্বান, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুআফা ইবনে ইমরান আল-আজদি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। এগুলো সেই সকল কিতাব যা থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর বাইরে অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে আমি আমার সনদ উল্লেখ করব, কারণ সেগুলো বারবার আসেনি। আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

 

‌‌(একটি পরিচ্ছেদ, যাতে আমরা তাদের কথা উল্লেখ করব যাদের ওপর সাহাবী নাম প্রয়োগ করা হয়) ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবনে আলি বলেছেন:
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
الحافظ بإسناده عن سعيد بن المسيب أنه قال الصحابة لا نعدهم إلا من أقام مع رسول الله صلى الله عليه وسلم سنة أو سنتين وغزا معه غزوة أو غزوتين قال الواقدي ورأينا أهل العلم يقولون كل من رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أدرك الحلم فأسلم وعقل أمر الدين ورضيه فهو عندنا ممن صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو ساعة من نهار ولكن أصحابه على طبقاتهم وتقدمهم في الإسلام وقال أحمد بن حنبل أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كل من صحبه شهرا أو يوما أو ساعة أو رآه وقال محمد بن إسماعيل البخاري من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم أو رآه من المسلمين فهو من أصحابه وقال القاضي أبو بكر محمد بن الطيب لا خلاف بين أهل اللغة في أن الصحابي مشتق من الصحبة وأنه ليس مشتقا على قدر مخصوص منها بل هو جار على كل من صحب قليلا كان أو كثيرا وكذلك جميع الأسماء المشتقة من الأفعال ولذلك يقال صحبت فلانا حولا وشهرا ويوما وساعة فيوقع اسم الصحبة لقليل ما يقع عليه منها وكثيره قال ومع هذا فقد تقرر للأمة عرف أنهم لا يستعملون هذه التسمية إلا فيمن كثرت صحبته ولا يجيزون ذلك إلا فيمن كثرت صحبته لا على من لقيه ساعة أو مشى معه خطا أو سمع منه حديثا فوجب لذلك أن لا يجري هذا الاسم إلا على من هذه حاله ومع هذا فإن خبر الثقة الأمين عنه مقبول ومعمول به وإن لم تطل صحبته ولا سمع منه إلا حديثا واحدا ولو رد قوله أنه صحابي لرد خبره عن الرسول وقال الإمام أبو حامد الغزالي لا ينطلق اسم الصحبة إلا على من صحبه ثم يكفي في الاسم من حيث الوضع الصحبة ولو ساعة ولكن العرف يخصصه بمن كثرت صحبته قلت وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم على ما شرطوه كثيرون فإن رسول الله شهد حنينا ومعه اثنا عشر ألفا سوى الأتباع والنساء وجاء إليه هوازن مسلمين فاستنقذوا حريمهم وأولادهم وترك مكة مملوءة ناسا وكذلك المدينة أيضا وكل من اجتاز به من قبائل العرب كانوا مسلمين فهؤلاء كلهم لهم صحبة وقد شهد معه تبوك من الخلق الكثير مالا يحصيهم ديوان وكذلك حجة الوداع وكلهم له صحبة ولم يذكروا إلا هذا القدر مع أن كثيرا منهم ليست له صحبة وقد ذكر الشخص الواحد في عدة تراجم ولكنهم معذورون فإن من لم يرو ولا يأتي ذكره في رواية كيف السبيل إلى معرفته وهذا حين فراغنا من الفصول المقدمة علي الكتاب ثم نخوض غمرته فنقول

 

‌‌(نبدأ بذكر سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم تبركا باسمه وتشريفا للكتاب
হাফেজ তার সনদে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, "আমরা সাহাবী কেবল তাদেরকেই গণ্য করি যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক বা দুই বছর অবস্থান করেছেন এবং তাঁর সাথে এক বা দুইবার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।" ওয়াকিদী বলেন, "আমরা বিদগ্ধ আলেমগণকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, বালেগ হয়েছেন, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করেছেন, দ্বীনের বিষয়াবলি উপলব্ধি করেছেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হয়েছেন, তিনি আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা দিনের সামান্য সময়ের জন্য হয়। তবে তাঁর সাহাবীগণ তাদের স্তর এবং ইসলামে অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদার অধিকারী।" ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হলেন তারা, যারা তাঁর সাথে এক মাস, এক দিন বা এক ঘণ্টা সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন।" মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী বলেন, "মুসলিমদের মধ্যে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তারা তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত।" কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে তৈয়ব বলেন, "ভাষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, 'সাহাবী' শব্দটি 'সাহচর্য' (সুহবাত) থেকে উদ্ভূত এবং এটি সাহচর্যের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত নয়; বরং এটি অল্প হোক বা অধিক—যে কোনো সাহচর্য লাভকারীর ওপরই প্রযোজ্য। ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত সমস্ত বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। এজন্যই বলা হয়, 'আমি অমুকের সাথে এক বছর, এক মাস, এক দিন বা এক ঘণ্টা সঙ্গ দিয়েছি'। ফলে সাহচর্য নামটি অল্প বা অধিক—উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয়।" তিনি আরও বলেন, "এতদসত্ত্বেও উম্মতের মাঝে একটি প্রথা বা পরিভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তারা এই নাম (সাহাবী) কেবল তাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করে যাদের সাহচর্য দীর্ঘ ছিল। তারা এটি কেবল দীর্ঘকাল সাহচর্যে থাকাদের ক্ষেত্রেই অনুমোদন করেন; যারা মাত্র এক ঘণ্টা সাক্ষাৎ করেছেন, সাথে কয়েক কদম হেঁটেছেন বা কেবল একটি হাদীস শুনেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নয়। তাই এ নাম কেবল তাদের ওপরই প্রয়োগ করা উচিত যাদের অবস্থা এমন (দীর্ঘ সাহচর্য)। তবে এর পাশাপাশি, বিশ্বস্ত ও আমানতদার ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণযোগ্য এবং আমলযোগ্য, যদিও তার সাহচর্য দীর্ঘ না হয় এবং তিনি কেবল একটি হাদীসই শ্রবণ করে থাকেন। যদি তার সাহাবী হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে রাসূলের পক্ষ থেকে তার বর্ণিত সংবাদও প্রত্যাখ্যাত হবে।" ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালী বলেন, "সাহচর্য শব্দ কেবল তার ওপরই প্রযুক্ত হয় যে সঙ্গ দিয়েছে। শাব্দিক গঠনের দিক থেকে সামান্য সময়ের সাহচর্যই যথেষ্ট, তবে প্রচলিত পরিভাষা একে দীর্ঘ সাহচর্য লাভকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করে।" আমি (গ্রন্থকার) বলি, তাদের প্রদত্ত শর্ত অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী সংখ্যা অনেক। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের যুদ্ধে উপস্থিত হয়েছিলেন এমতাবস্থাস যে, অনুসারী ও নারী ব্যতীত তাঁর সাথে বারো হাজার লোক ছিল। হাওয়াযিন গোত্র মুসলিম হয়ে তাঁর কাছে এসেছিল এবং তাদের নারী ও সন্তানদের মুক্ত করে নিয়েছিল। তিনি মক্কাকে জনপূর্ণ অবস্থায় রেখে এসেছিলেন এবং মদীনার অবস্থাও অনুরূপ ছিল। আর আরব গোত্রসমূহের মধ্য থেকে যারা তাঁর নিকট দিয়ে যাতায়াত করত তারা সকলেই ছিল মুসলিম। এই সকলেরই সাহচর্য রয়েছে। তাঁর সাথে তাবুক যুদ্ধে এত বিপুল সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করেছিল যাদের কোনো দাপ্তরিক তালিকা বা রেজিস্টার গণনা করতে পারবে না। বিদায় হজের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাদের প্রত্যেকেরই সাহচর্য রয়েছে। তবে জীবনীকারগণ কেবল এই নির্দিষ্ট সংখ্যক সাহাবীর কথাই উল্লেখ করেছেন, যদিও তাদের অনেকেরই সাহচর্য ছিল। কখনও একজন ব্যক্তিকে একাধিক জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তারা (জীবনীকারগণ) এক্ষেত্রে অপারগ, কারণ যার থেকে কোনো বর্ণনা নেই এবং বর্ণনায় যার উল্লেখ আসেনি, তাকে জানার কোনো উপায় নেই। প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদসমূহ থেকে আমাদের অবসর হওয়ার এটিই সময়; এখন আমরা মূল বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করব এবং বলব:

 

‌‌(আমরা আমাদের সর্দার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মরণের মাধ্যমে শুরু করছি তাঁর নামের বরকত হাসিল করতে এবং কিতাবকে সম্মানিত করতে।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
بذكره المبارك ولأن معرفة المصحوب ينبغي أن تقدم على معرفة الصاحب وإن كان أظهر من أن يعرف

لقد ظهرت فما تخفى على أحد … إلا على أحد لا يعرف القمرا

لكن الأكثر يعرفونه جملة فارغة عن معرفة شئ من أحواله ونحن نذكر جملا من تفاصيل أموره على سبيل الاختصار فنقول وبالله التوفيق وهو حسبنا ونعم الوكيل

 

‌‌(محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم *

هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة ابن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان أبو القاسم سيد ولد آدم صلى الله عليه وسلم فأما ما بعد عدنان من آبائه إلى إسماعيل بن إبراهيم الخليل صلى الله عليهما وسلم ففيه اختلاف كثير في العدد والأسماء لا ينضبط ولا يحصل منه غرض فتركناه لذلك ومضر وربيعة هم صريح ولد إسماعيل باتفاق جميع أهل النسب وما سوى ذلك فقد اختلفوا فيه اختلافا كثيرا وأم رسول الله صلى عليه وسلم آمنة بنت وهب بن عبد مناف ابن زهرة بن كلاب بن مرة القرشية الزهرية تجتمع هي وعبد الله في كلاب خرج عبد المطلب بابنه عبد الله إلى وهب بن عبد مناف فزوجه ابنته آمنة وقيل كانت آمنة في حجر عمها وهيب بن عبد مناف فأتاه عبد المطلب فخطب إليه ابنته هالة بنت وهيب لنفسه وخطب على ابنه عبد الله ابنة أخيه آمنة بنت وهب فتزوجا في مجلس واحد فولدت هالة لعبد المطلب حمزة أخبرنا عبيد الله بن أحمد بن علي بن جعفر بإسناده عن يونس بن بكير عن ابن إسحاق قال وكانت آمنة بنت وهب تحدث أنها أتيت حين حملت برسول الله صلى الله عليه وسلم فقيل لها إنك حملت بسيد هذه الأمة فسميه محمدا فلما وضعته أرسلت إلى جده عبد المطلب تقول قد ولد لك الليلة ولد فانظر إليه فلما جاءها أخبرته بالذي رأت وكان أبوه عبد الله قد توفي وأمه حامل به وقيل توفي وللنبي صلى الله عليه وسلم ثمانية وعشرون شهرا وقيل كان له سبعة أشهر والأول أثبت وكانت وفاته بالمدينة عند أخواله بني عدي بن النجار وكان أبوه عبد المطلب بعثه إلى المدينة يمتار تمرا فمات وقيل بل أرسله إلى الشام في تجارة فعاد من غزة مريضا فتوفي بالمدينة وكان عمره خمسا وعشرين سنة ويقال كان عمره ثمانيا وعشرين سنة وإنما قيل لبني عدي أخواله لأن أم عبد المطلب سلمى بنت زيد وقيل بنت عمرو بن
তাঁর বরকতময় আলোচনার মাধ্যমে। আর যেহেতু সঙ্গী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সঙ্গদাতার পরিচয় জানার পূর্বে হওয়া বাঞ্ছনীয়, যদিও তিনি পরিচিত হওয়ার চেয়েও অধিক প্রকাশ্য।

আপনি প্রকাশিত হয়েছেন, ফলে কারো কাছেই আপনি গোপন নন … কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে চাঁদকে চেনে না।

কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁকে কেবল ভাসাভাসাভাবে চেনে, যা তাঁর জীবনের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞানহীন। আমরা সংক্ষেপে তাঁর জীবনের কিছু বিস্তারিত বিষয় উল্লেখ করছি। আমরা বলছি—আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

‌‌(মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) *

তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান। তিনি আবুল কাসিম, আদম-সন্তানদের সরদার, আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক। আদনান থেকে তাঁর পূর্বপুরুষদের ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম খলীল (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) পর্যন্ত বংশপরম্পরার সংখ্যা এবং নামের ব্যাপারে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে, যা সুনির্দিষ্ট নয় এবং তা থেকে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যও অর্জিত হয় না; তাই আমরা তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম। তবে মুদার ও রাবিআহ যে ইসমাইলের বিশুদ্ধ বংশধর, এ ব্যাপারে সকল বংশবিশারদ একমত। এর বাইরে অন্য সকল বিষয়ে তারা অনেক মতভেদ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে জুহরাহ ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ আল-কুরাইশিয়া আজ-জুহরিয়া। তিনি এবং আব্দুল্লাহ 'কিলাব'-এ গিয়ে মিলিত হন। আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহকে নিয়ে ওয়াহাব ইবনে আব্দে মানাফের কাছে যান এবং তাঁর কন্যা আমিনাকে আব্দুল্লাহর সাথে বিবাহ দেন। বলা হয়ে থাকে যে, আমিনা তাঁর চাচা উহাইব ইবনে আব্দে মানাফের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তখন আব্দুল মুত্তালিব তাঁর কাছে গিয়ে নিজের জন্য তাঁর কন্যা হালা বিনতে উহাইবকে এবং পুত্র আব্দুল্লাহর জন্য তাঁর ভাতিজী আমিনা বিনতে ওয়াহাবকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ফলে একই মজলিসে তাঁদের উভয়ের বিবাহ সম্পন্ন হয়। হালা আব্দুল মুত্তালিবের ঔরসে হামজাকে জন্ম দেন। উবায়দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে জাফর তাঁর সনদে ইউনুস ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমিনা বিনতে ওয়াহাব বলতেন যে, যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গর্ভে ধারণ করেন, তখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনি এই উম্মতের সরদারকে গর্ভে ধারণ করেছেন, তাই তাঁর নাম রাখবেন মুহাম্মাদ। যখন তিনি ভূমিষ্ঠ হলেন, তখন তিনি তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, আজ রাতে আপনার একটি নাতি জন্মেছে, তাকে এসে দেখে যান। যখন তিনি আসলেন, আমিনা তাঁকে যা দেখেছিলেন তা জানালেন। তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেছিলেন যখন আমিনা গর্ভবতী ছিলেন। কেউ কেউ বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স যখন আটাশ মাস তখন তিনি ইন্তেকাল করেন। আবার বলা হয় তখন তাঁর বয়স ছিল সাত মাস। তবে প্রথমটিই অধিকতর সঠিক। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল মদিনায় তাঁর মামার বংশ বনু আদি ইবনে আন-নাজ্জারের কাছে। তাঁর পিতা আব্দুল মুত্তালিব তাঁকে খেজুর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মদিনায় পাঠিয়েছিলেন, আর সেখানেই তিনি মারা যান। আবার বলা হয়, তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় পাঠিয়েছিলেন, অতঃপর সিরিয়ার গাজা থেকে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর। কেউ বলেন তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর। বনু আদি-কে তাঁর মামাদের বংশ বলা হয় কারণ আব্দুল মুত্তালিবের মা ছিলেন সালমা বিনতে যায়েদ, মতান্তরে বিনতে আমর ইবনে...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
زيد من بني عدي بن النجار وكان عبد المطلب قد أرسل ابنه الزبير بن عبد المطلب إلى أخيه عبد الله بالمدينة فشهد وفاته ودفن في دار النابغة وكان عبد الله والزبير وأبو طالب إخوة لأب وأم أمهم فاطمة بنت عمرو بن عائذ بن عمران بن مخزوم وورث النبي صلى الله عليه وسلم من أبيه أم أيمن وخمسة أجمال وقطيع غنم وسيفا مأثورا وورقا وكانت أم أيمن تحضنه قال أخبرنا ابن إسحاق قال حدثني المطلب بن عبد الله بن قيس عن أبيه عن جده قيس بن مخرمة قال ولدت أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل كنا لدتين قيل وكان مولد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين لعشر ليال خلون من ربيع الأول ويقال لليلتين خلتا منه وقيل لثمان خلون منه عام الفيل وذلك لأربعين سنة مضت من ملك كسرى أنوشروان بن قباذ وكان ملك أنوشروان سبعا وأربعين سنة وثمانية أشهر ولما ولد ختنه جده عبد المطلب اليوم السابع وقيل ولد مختونا مسرورا وقد استقصينا ذكر آبائه وأسمائهم وأحوالهم في الكامل في التاريخ فلا نطول بذكره ههنا فإننا نقصد ذكر الجمل لا التفصيل ولما ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم التمسوا له الرضعاء فاسترضع له امرأة من بني سعد بن بكر بن هوازن بن منصور يقال لها حليمة بنت أبي ذؤيب واسمه الحارث فليطلب خبرها من ترجمتها ومن ترجمة أخته من الرضاعة الشيماء فقد ذكرناهما * قال ابن إسحاق قالت حليمة فلم نزل يرينا الله البركة ونتعرفها تعني برسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بلغ سنتين فقد منا به على أمه ونحن أضن شئ به مما رأينا فيه من البركة فلما رأته قلنا لها دعينا نرجع به هذه السنة الأخرى فإنا نخشى عليه وباء مكة فسرحته معنا فأقمنا به شهرين أو ثلاثة فبينا هو خلف بيوتنا مع أخ له إذ جاء أخوه يشتد فقال أخي القرشي قد جاءه رجلان فأضجعاه وشقا بطنه فخرجت أنا وأبوه نشتد نحوه فنجده قائما ممتقعا لونه فاعتنقه أبوه وقال أي بني ما شأنك فقال جاءني رجلان عليهما ثياب بياض فشقا بطني فاستخرجا منه شيئا ثم رداه فقال أبوه لقد خشيت أن يكون قد أصيب فلنرده إلى أهله قبل أن يظهر به ما نتخوف قالت فاحتملناه فقالت أمه مارد كما به فقد كنتما عليه حريصين فقلنا إن الله قد أدى عنا وقضينا الذي علينا وإنا نخشى عليه الأحداث فقالت أصدقاني شأنكما فأخبرناها خبره فقالت أخشيتما عليه الشيطان كلا والله إني رأيت حين حملت به أنه خرج مني نور أضاءت له قصور الشام فدعاه عنكما وأرضعته أيضا ثويبة مولاة أبي لهب أياما

যায়েদ বনী আদী ইবনে নাজ্জার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র জুবাইর ইবনে আব্দুল মুত্তালিবকে মদীনায় তাঁর ভাই আব্দুল্লাহর নিকট পাঠিয়েছিলেন। ফলে তিনি তাঁর মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁকে দারুন নাবিখায় দাফন করা হয়। আব্দুল্লাহ, জুবাইর এবং আবু তালিব ছিলেন সহোদর ভাই (একই পিতা-মাতার সন্তান); তাঁদের মা ছিলেন ফাতিমা বিনতে আমর ইবনে আইজ ইবনে ইমরান ইবনে মাখযুম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে উম্মে আয়মান, পাঁচটি উট, এক পাল ছাগল, 'মাছুর' নামক একটি তরবারি এবং কিছু রৌপ্য মুদ্রা লাভ করেন। উম্মে আয়মান তাঁকে লালন-পালন করতেন। ইবনে ইসহাক বলেন, মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা কাইস ইবনে মাখরামা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতির বছরে জন্মগ্রহণ করেছি এবং আমরা সমবয়সী ছিলাম। বলা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ছিল হাতির বছরের রবিউল আউয়াল মাসের দশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে। আবার বলা হয় যে, মাসের দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এবং কেউ বলেন আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। এটি ছিল কিসরা আনুশিরওয়ান ইবনে কুবাজের রাজত্বের চল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার সময়। আনুশিরওয়ানের রাজত্বকাল ছিল সাতচল্লিশ বছর আট মাস। যখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন, সপ্তম দিনে তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর খতনা করান। আবার বলা হয় যে, তিনি জন্মগতভাবে খতনাকৃত ও নাভি কাটা অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। আমরা তাঁর পিতৃপুরুষগণের নাম ও অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ 'আল-কামিল ফিত তারিখ' গ্রন্থে সবিস্তারে উল্লেখ করেছি, তাই এখানে তাঁর দীর্ঘ বর্ণনা দেব না; কারণ আমাদের উদ্দেশ্য হলো সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা, বিস্তারিত নয়। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তাঁরা তাঁর জন্য দুগ্ধদানকারী ধাত্রী অনুসন্ধান করলেন। ফলে বনী সা’দ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন ইবনে মনসুর গোত্রের এক মহিলাকে তাঁর দুগ্ধপানের জন্য নিযুক্ত করা হলো, যাঁকে হালিমা বিনতে আবি জুয়াইব বলা হতো এবং তাঁর পিতার নাম ছিল হারিস। তাঁর এবং তাঁর দুধ-বোন শায়মার সংবাদ তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত থেকে জেনে নেওয়া উচিত, আমরা তাঁদের কথা সেখানে উল্লেখ করেছি। ইবনে ইসহাক বলেন, হালিমা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উসিলায় আল্লাহ আমাদের ক্রমাগত বরকত দেখাতে থাকলেন এবং আমরা তা উপলব্ধি করতে পারলাম, এমনকি তিনি দুই বছরে পদার্পণ করলেন। অতঃপর আমরা তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে আসলাম, অথচ আমরা তাঁর মধ্যে বরকত প্রত্যক্ষ করার কারণে তাঁকে আমাদের কাছে রাখার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। যখন তাঁর মা তাঁকে দেখলেন, আমরা তাঁকে বললাম: "আমাদেরকে তাঁকে আরও এক বছরের জন্য ফিরিয়ে নিয়ে যেতে দিন, কারণ আমরা তাঁর ব্যাপারে মক্কার মহামারীর আশঙ্কা করছি।" অতঃপর তিনি তাঁকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিলেন এবং আমরা তাঁকে নিয়ে দুই বা তিন মাস অবস্থান করলাম। এমতাবস্থায় যে তিনি আমাদের ঘরের পেছনে তাঁর এক ভাইয়ের সাথে ছিলেন, হঠাৎ তাঁর ভাই দৌড়ে আসল এবং বলল: "আমার কুরাইশ ভাইয়ের কাছে দুইজন লোক এসেছে, তারা তাঁকে শুইয়ে দিয়েছে এবং তাঁর পেট চিরে ফেলেছে।" তখন আমি এবং তাঁর পিতা তাঁর দিকে দ্রুত গেলাম এবং তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পেলাম, তবে তাঁর চেহারার রং বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর পিতা তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: "হে বৎস, তোমার কী হয়েছে?" তিনি বললেন: "সাদা পোশাক পরিহিত দুইজন লোক আমার কাছে এসেছে, তারা আমার পেট চিরে ফেলেছে এবং সেখান থেকে কিছু একটা বের করে নিয়েছে, তারপর তা আবার যথাস্থানে ফিরিয়ে দিয়েছে।" তখন তাঁর পিতা বললেন: "আমি আশঙ্কা করছি যে তাঁর কোনো ক্ষতি হয়েছে, সুতরাং আমরা যার আশঙ্কা করছি তা প্রকাশ পাওয়ার আগেই তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিই।" হালিমা বলেন: অতঃপর আমরা তাঁকে বহন করে নিয়ে আসলাম। তাঁর মা বললেন: "তোমরা কেন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আসলে, অথচ তোমরা তো তাঁকে সাথে রাখার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলে?" আমরা বললাম: "আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন এবং আমরা আমাদের কর্তব্য পালন করেছি, আর আমরা তাঁর ব্যাপারে অশুভ ঘটনার আশঙ্কা করছি।" তিনি বললেন: "আমাকে সত্য করে বলো তোমাদের আসল বিষয়টি কী?" তখন আমরা তাঁকে তাঁর সংবাদটি জানালাম। তিনি বললেন: "তোমরা কি তাঁর ব্যাপারে শয়তানের ভয় পাচ্ছ? কখনোই না, আল্লাহর শপথ! আমি যখন গর্ভবতী হয়েছিলাম তখন দেখেছিলাম যে আমার থেকে এমন এক নূর নির্গত হয়েছে যাতে সিরিয়ার (শাম) রাজপ্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং তোমরা তাঁর চিন্তা ছেড়ে দাও।" আর আবু লাহাবের মুক্তদাসী সুওয়াইবিয়াও তাঁকে কিছুদিন দুধ পান করিয়েছেন।

(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
قبل حليمة بلبن ابن لها يقال له مسروح وأرضعت قبله حمزة عمه وأرضعت بعده أبا سلمة بن عبد الأسد ولما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يبعث إلى ثويبة بصلة وكسوة حتى توفيت منصرفه من خيبر سنة سبع فسأل عن ابنها مسروح فقيل توفي قبلها فقال هل ترك من قرابة فقيل لم يبق له أحد

 

‌‌(ذكر وفاة أمه وجده وكفالة عمه أبي طالب له) * وبالإسناد عن ابن إسحاق قال حدثني عبد الله بن أبي بكر بن عمرو بن حزم قال قدمت آمنة بنت وهب أم رسول الله صلى الله عليه وسلم برسول الله صلى الله عليه وسلم على أخواله بني عدي بن النجار المدينة ثم رجعت فماتت بالأبواء ورسول الله صلى الله عليه وسلم ابن ست سنين وقيل ماتت بمكة ودفنت في شعب أبي رب والأول أصح قال ابن إسحاق وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم مع جده عبد المطلب قال فحدثني العباس بن عبد الله بن معبد عن بعض أهله قال كان يوضع لعبد المطلب فراش في ظل الكعبة وكان لا يجلس عليه أحد من بنيه إجلالا له وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتي حتى يجلس عليه فيذهب أعمامه يؤخرونه فيقول عبد المطلب دعوا ابني ويمسح على ظهره ويقول أن لابني هذا لشأنا فتوفي عبد المطلب والنبي ابن ثمان سنين وكان قد كف بصره قبل موته وكان عبد المطلب أول من خضب بالوسمة ولما حضره الموت جمع بنيه وأوصاهم برسول الله صلى الله عليه وسلم فاقترع الزبير وأبو طالب أيهما يكفل رسول الله صلى الله عليه وسلم فأصابت القرعة أبا طالب فأخذه إليه وقيل بل اختاره رسول الله صلى الله عليه وسلم على الزبير وكان ألطف عميه به وقيل أوصى عبد المطلب أبا طالب به وقيل بل كفله الزبير حتى مات ثم كفله أبو طالب بعده وهذا غلط لأن الزبير شهد حلف الفضول بعد موت عبد المطلب ولرسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ نيف وعشرون سنة وأجمع العلماء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم شخص مع عمه أبي طالب إلى الشام بعد موت عبد المطلب بأقل من خمس سنين فهذا يدل على أن أبا طالب كفله ثم إن أبا طالب سار إلى الشام وأخذ معه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان عمره اثنتي عشرة سنة وقيل تسع سنين والأول أكثر فرآه بحيرا الراهب ورأى علائم النبوة وكانوا يتوقعون ظهور نبي من قريش فقال لعمه ما هذا منك قال ابني قال لا ينبغي أن يكون أبوه حيا قال هو ابن أخي قال انى لأحسبه الذي بشر به عيسى فإن زمانه قد قرب فاحتفظ به فرده إلى مكة ثم
হালিমার পূর্বে তিনি তাঁর মাসরুহ নামক এক পুত্রের দুধ পান করিয়েছেন। তিনি তাঁর (রাসূলুল্লাহর) আগে তাঁর চাচা হামজাকে এবং তাঁর পরে আবু সালামাহ ইবনে আবদিল আসাদকে দুধ পান করিয়েছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করেন, তখন তিনি সপ্তম হিজরিতে খায়বার থেকে ফেরার সময় পর্যন্ত সুওয়াইবার নিকট উপহার ও পোশাক পাঠাতেন। সুওয়াইবা তখন মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর পুত্র মাসরুহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে জানানো হলো যে, সে তাঁর আগেই মারা গেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তার কোনো আত্মীয় অবশিষ্ট আছে কি? বলা হলো, কেউ অবশিষ্ট নেই।

 

‌‌(তাঁর মাতা ও দাদার মৃত্যু এবং তাঁর চাচা আবু তালিবের তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণের বর্ণনা) * এবং ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত সনদে তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে আমর ইবনে হাযম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে মদিনায় তাঁর মামাদের বংশ বনু আদি ইবনে নাজ্জারের নিকট আসেন। অতঃপর ফিরে আসার পথে তিনি আবওয়া নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল ছয় বছর। কেউ কেউ বলেন, তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন এবং শু'আব আবি রাব্ব-এ তাঁকে দাফন করা হয়েছে, তবে প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ তাঁর পরিবারের জনৈক সদস্যের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাবার ছায়ায় আবদুল মুত্তালিবের জন্য একটি বিছানা পাতা হতো। তাঁর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাঁর সন্তানদের কেউ সেখানে বসত না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে সেখানে বসে পড়তেন। তখন তাঁর চাচারা তাঁকে সরিয়ে দিতে চাইলে আবদুল মুত্তালিব বলতেন, 'আমার সন্তানকে ছেড়ে দাও'। এরপর তিনি তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেন এবং বলতেন, 'নিশ্চয়ই আমার এই সন্তানের এক বিশেষ মহিমা রয়েছে'। যখন নবীজির বয়স আট বছর, তখন আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। আবদুল মুত্তালিবই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি ওয়াসমাহ (এক প্রকার নীল রঞ্জক) দিয়ে খেজাব লাগিয়েছিলেন। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তিনি তাঁর সন্তানদের একত্রিত করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে তাঁদের নির্দেশ দিলেন। যুবাইর ও আবু তালিবের মধ্যে লটারি হলো যে, কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। লটারিতে আবু তালিবের নাম আসল এবং তিনি তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে নিলেন। কেউ কেউ বলেন, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই যুবাইরের পরিবর্তে আবু তালিবকে পছন্দ করেছিলেন, কারণ তাঁর চাচাদের মধ্যে তিনিই তাঁর প্রতি বেশি দয়ালু ছিলেন। আবার কেউ বলেন, আবদুল মুত্তালিবই আবু তালিবকে এ ব্যাপারে অসিয়ত করেছিলেন। কেউ কেউ এও বলেন যে, যুবাইর তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর দেখাশোনা করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর আবু তালিব তাঁর দায়িত্ব নেন। তবে এই শেষোক্ত কথাটি ভুল, কারণ আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর যুবাইর 'হিলফুল ফুজুল'-এ উপস্থিত ছিলেন এবং তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল বিশ বছরের কিছু বেশি। ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, আবু তালিবই তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এরপর আবু তালিব সিরিয়ার পথে রওয়ানা হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাথে নিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর, কেউ বলেন নয় বছর, তবে প্রথম মতটিই অধিক প্রসিদ্ধ। সেখানে বুহাইরা নামক পাদ্রি তাঁকে দেখলেন এবং নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ করলেন। তারা কুরাইশদের মধ্য থেকে একজন নবীর আবির্ভাবের প্রতীক্ষা করছিল। সে তাঁর চাচাকে জিজ্ঞাসা করল, 'এই বালকটি আপনার কে হয়?' তিনি বললেন, 'আমার ছেলে'। সে বলল, 'তাঁর পিতা জীবিত থাকা বাঞ্ছনীয় নয়'। তিনি বললেন, 'সে আমার ভাতিজা'। সে বলল, 'নিশ্চয়ই আমি মনে করি তিনিই সেই ব্যক্তি, যাঁর সুসংবাদ ঈসা (আলাইহিস সালাম) দিয়েছিলেন। কেননা তাঁর সময় নিকটবর্তী। সুতরাং আপনি তাঁকে সাবধানে রাখুন'। অতঃপর তিনি তাঁকে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। এরপর...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم شهد مع عمومته حرب الفجار يوم نخلة وهو من أعظم أيام الفجار والفجار حرب كانت بين قريش ومعها كنانة وبين قيس وقد ذكرناه في الكامل وهو من أعظم أيام العرب وكان يناولهم النبل ويحفظ متاعهم وكان عمره يومئذ نحو عشرين سنة أو ما يقاربها وقيل إنه شهد يوم شمطة أيضا وهو من أعظم أيام الفجار وكانت الهزيمة فيه على قريش وكنانة قال الزهري لم يشهد رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا اليوم ولو شهده لم تنهزم قريش وهذا ليس بشئ فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد انهزم أصحابه عنه يوم أحد وكثر القتل فيهم

 

‌‌(ذكر تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم خديجة وذكر أولاده) *

قال وأخبرنا يونس عن ابن إسحاق قال وكانت خديجة بنت خويلد امرأة ذات شرف ومال تستأجر له الرجال أو تضاربهم بشئ تجعله لهم منه فلما بلغها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بلغها من صدق حديثه وعظم أمانته وكرم أخلاقه بعثت إليه فعرضت عليه أن يخرج في مالها إلى الشام مع غلام لها يقال له ميسرة فقبله منها رسول الله صلى الله عليه وسلم وخرج في مالها إلى الشام فرآه راهب اسمه نسطور فأخبر ميسرة أنه نبي هذه الأمة ثم باع رسول الله صلى الله عليه وسلم واشترى ما أراد ثم أقبل قابلا فلما قدم مكة على خديجة بمالها باعته فأضعف أو قريبا وحدثها ميسرة عن قول الراهب فأرسلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم إني قد رغبت فيك لقرابتك مني وشرفك وأمانتك وحسن خلقك وصدق حديثك وعرضت عليه نفسها فخطبها وتزوجها على اثنتي عشرة أوقية ونش والأوقية أربعون درهما وقد ذكرنا ذلك في ترجمة خديجة رضي الله عنها وولد له من الولد بناته كلهن وأولاده الذكور كلهم من خديجة إلا إبراهيم

 

‌‌(فأما البنات) فزينب ورقية وأم كلثوم وفاطمة رضي الله عنهن

 

‌‌(وأما الذكور) فالقاسم وبه كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكنى والطاهر والطيب وقيل القاسم والطاهر وعبد الله وهو الطيب لأنه ولد في الإسلام وقيل القاسم وعبد الله وهو الطاهر والطيب فمات القاسم بمكة وهو أول من مات من ولده ثم عبد الله قاله الزبير بن بكار وقد ذكرت في خديجة وفي بناته رضي الله عنهن أكثر من هذا ولما تزوج خديجة كان عمره خمسا وعشرين سنة وكانت هي ابنة أربعين سنة وقيل غير ذلك

 

‌‌(ذكر بناء الكعبة ووضع رسول الله صلى الله عليه وسلم الحجر الأسود) *
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চাচাদের সাথে নাখলার যুদ্ধে ফিজার যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যা ফিজার যুদ্ধের অন্যতম বড় দিন ছিল। ফিজার হলো কুরাইশ ও তাদের সাথে কেনানা এবং কায়েস গোত্রের মধ্যকার যুদ্ধ। আমরা এটি আল-কামিল গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। এটি আরবদের অন্যতম বড় যুদ্ধের দিন ছিল। তিনি তাদের তীর সরবরাহ করতেন এবং তাদের মালপত্র পাহারা দিতেন। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় বিশ বছর বা এর কাছাকাছি। বলা হয়ে থাকে তিনি শামতা দিবসেও উপস্থিত ছিলেন, যা ফিজার যুদ্ধের অন্যতম বড় দিন ছিল। সেই যুদ্ধে কুরাইশ ও কেনানা পরাজিত হয়েছিল। যুহরি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেদিন উপস্থিত ছিলেন না, যদি তিনি উপস্থিত থাকতেন তবে কুরাইশরা পরাজিত হতো না। তবে এটি সঠিক নয়, কেননা ওহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর সাহাবীরা তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রচুর হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।

 

‌‌(আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খাদিজাকে বিবাহ এবং তাঁর সন্তানদের বিবরণ) *

তিনি বলেন, ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ছিলেন একজন মহীয়সী ও সম্পদশালী নারী। তিনি পুরুষদের ব্যবসায়ে নিয়োগ করতেন অথবা মুনাফার নির্দিষ্ট অংশের বিনিময়ে তাদের সাথে অংশীদারিত্বে ব্যবসা করতেন। যখন তাঁর কাছে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যবাদিতা, আমানতদারি এবং উন্নত চরিত্রের খবর পৌঁছালো, তখন তিনি তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠালেন যাতে তিনি তাঁর মাল নিয়ে তাঁর মায়সারা নামক দাসের সাথে সিরিয়ায় যান। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং তাঁর মাল নিয়ে সিরিয়ায় গেলেন। সেখানে নাসতুর নামক এক পাদ্রি তাঁকে দেখেন এবং মায়সারাকে জানান যে, তিনি এই উম্মতের নবী। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পণ্য বিক্রয় করলেন এবং যা কেনার ছিল তা কিনলেন। তারপর ফিরে আসলেন। যখন তিনি মক্কায় খাদিজার কাছে তাঁর মাল নিয়ে ফিরলেন, তখন তিনি তা দ্বিগুণ বা প্রায় দ্বিগুণ লাভে বিক্রয় করলেন। মায়সারা তাঁকে পাদ্রির কথা জানালেন। তখন খাদিজা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, 'আপনার সাথে আমার আত্মীয়তা, আপনার মর্যাদা, আমানতদারি, সচ্চরিত্র এবং সত্যবাদিতার কারণে আমি আপনাকে পছন্দ করেছি'। তিনি তাঁর কাছে নিজেকে পেশ করলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন এবং বারো উকিয়া ও এক নাশ মোহরের বিনিময়ে তাঁকে বিবাহ করলেন। এক উকিয়া হলো চল্লিশ দিরহাম। আমরা খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর জীবনীতে তা উল্লেখ করেছি। ইব্রাহিম ব্যতীত তাঁর সকল কন্যা এবং সকল পুত্র সন্তান খাদিজার গর্ভেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

 

‌‌(কন্যারা হলেন) জয়নাব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহুন)।

 

‌‌(পুত্ররা হলেন) কাসিম—যাঁর নামানুসারে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কুনিয়াত (উপনাম) ছিল, এবং তাহির ও তাইয়িব। মতান্তরে কাসিম, তাহির এবং আব্দুল্লাহ; আর তিনিই হলেন তাইয়িব কারণ তিনি ইসলাম আসার পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আবার কেউ বলেন কাসিম এবং আব্দুল্লাহ; আর তিনিই হলেন তাহির ও তাইয়িব। কাসিম মক্কায় মারা যান এবং তিনিই তাঁর সন্তানদের মধ্যে প্রথম ইন্তেকাল করেন। এরপর আব্দুল্লাহ মারা যান—এ কথা জুবাইর ইবনে বাক্কার বলেছেন। খাদিজা এবং তাঁর কন্যাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন) বর্ণনায় আমি এর চেয়েও বেশি বিস্তারিত উল্লেখ করেছি। যখন তিনি খাদিজাকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। তবে এ বিষয়ে অন্য মতও রয়েছে।

 

‌‌(কাবা নির্মাণ এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের বিবরণ) *
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
قال ابن إسحاق كانت الكعبة رضما فوق القامة فأرادت قريش أن يهدموها ويرفعوها ويسقفوها وكانوا يهابون هدمها فاتفق أن نفرا من قريش سرقوا كنز الكعبة وكان يكون في جوف الكعبة وكان البحر قد ألقى سفينة إلى جدة لرجل من الروم فتحطمت فأخذوا خشبها فأعدوه لسقفها فاجتمعت قريش على هدمها وذلك بعد الفجار بخمس عشرة سنة ورسول الله صلى الله عليه وسلم إذ ذاك ابن خمس وثلاثين سنة فلما أجمعوا على هدمها قام أبو وهب بن عمرو بن عائد بن عمران بن مخزوم وهو جد سعيد بن المسيب بن حزن بن أبي وهب فتناول حجرا من الكعبة فوثب من يده فرجع إلى موضعه فقال يا معشر قريش لا تدخلن في بنيانها من كسبكم إلا طيبا ولا تدخلوا فيها مهر بغي ولا ربا ولا مظلمة وقيل أن الوليد بن المغيرة قال هذا فهدموها واقتسمت قريش عمارة البيت فكان الباب لبني عبد مناف وبني زهرة وكان ما بين الركن الأسود واليماني لبني مخزوم وتيم وقبائل من قريش وكان ظهرها لسهم وحج وكان شق لحجر لبني عبد الدار وبني أسد وبني عدي بن كعب فبنوا حتى بلغ البناء موضع الركن فكانت كل قبيلة تريد أن ترفعه حتى تجاذبوا وتخالفوا وأعدوا للقتال فبقوا أربع ليال أو خمس ليال فقال أبو أمية المخزومي يا معشر قريش اجعلوا بينكم أول من يدخل من باب المسجد فلما توافقوا على ذلك ورضوا به دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا هذا الأمين قد رضينا به فلما انتهى إليهم أخبروه الخبر فقال هلموا ثوبا فأتوه به فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم الركن فيه بيده ثم قال لتأخذ كل قبيلة بناحية من الثوب ثم ارفعوا جميعا فرفعوه حتى إذا بلغوا به موضعه وضعه رسول الله بيده ثم بنى عليه وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمى في الجاهلية الأمين قبل أن يوحى إليه وقيل كان سبب بنائها أن السيل ملأ الوادي ودخل الكعبة فتصدعت فبنتها قريش وقيل إن الذي أشار بأول من يدخل أبو حذيفة بن المغيرة وكانت هذه فضيلة لرسول الله صلى الله عليه وسلم على سائر قريش ومما قدمه الله له قبل المبعث من الكرامة

 

‌‌(ذكر المبعث)

قالوا بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم وله أربعون سنة وذلك في ملك أبرويز بن هرمز بن كسرى أنوشروان ملك الفرس وقال ابن المسيب بعثه الله عز وجل وله ثلاث وأربعون سنة فأقام بمكة عشرا وبالمدينة عشرا وقال ابن إسحاق بعثه الله وله أربعون سنة فأقام بمكة ثلاث عشرة سنة وبالمدينة عشرا
ইবনে ইসহাক বলেন, কাবাগৃহ ছিল মানুষের উচ্চতার সামান্য বেশি উচ্চতার স্তূপীকৃত পাথরের ন্যায়। কুরাইশগণ তা ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে, এর উচ্চতা বৃদ্ধি করতে এবং ছাদ দিয়ে তা আবৃত করতে চাইল। কিন্তু তারা এটি ভাঙতে ভয় পাচ্ছিল। এরই মধ্যে কুরাইশদের একটি দল কাবার অভ্যন্তরে রক্ষিত কাবার সম্পদ চুরি করল। অন্যদিকে, সমুদ্রের ঢেউ একজন রোমক ব্যক্তির একটি জাহাজ জেদ্দা উপকূলে ভিড়িয়ে দিয়েছিল, যা পরে বিধ্বস্ত হয়। তারা সেই জাহাজের কাঠ সংগ্রহ করে কাবার ছাদ নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করল। অতঃপর কুরাইশগণ কাবা ভেঙে পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে একমত হলো। এটি ছিল ফিজার যুদ্ধের পনের বছর পরের ঘটনা, আর তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর। যখন তারা এটি ভাঙার জন্য সমবেত হলো, তখন আবু ওয়াহাব ইবনে আমর ইবনে আয়িদ ইবনে ইমরান ইবনে মাখযুম—যিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব ইবনে হাযন ইবনে আবু ওয়াহাবের দাদা ছিলেন—দাঁড়ালেন। তিনি কাবার একটি পাথর ধরলেন, কিন্তু সেটি তাঁর হাত থেকে লাফিয়ে আবার স্বস্থানে ফিরে গেল। তখন তিনি বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা এই গৃহের নির্মাণকাজে তোমাদের উপার্জনের কেবল পবিত্র অংশই ব্যয় করো। এতে কোনো ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক, সুদ কিংবা কারো প্রতি জুলুমের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করো না। বলা হয়ে থাকে যে, ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা এই কথা বলেছিলেন। অতঃপর তারা তা ভেঙে ফেলল এবং কুরাইশগণ গৃহটি নির্মাণের দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল। দরজা নির্মাণের দায়িত্ব ছিল বনু আবদ মানাফ ও বনু যুহরার ওপর। হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানির মধ্যবর্তী অংশের দায়িত্ব ছিল বনু মাখযুম, তায়িম এবং কুরাইশের অন্যান্য গোত্রসমূহের। কাবার পেছনের দিক ছিল বনু সাহম ও বনু জুমাহর জন্য। আর হাতিম বা হিজর সংলগ্ন পাশের দায়িত্ব ছিল বনু আবদুদ দার, বনু আসাদ ও বনু আদি ইবনে কাবের। তারা নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না তা হাজরে আসওয়াদের স্থান পর্যন্ত পৌঁছাল। তখন প্রতিটি গোত্রই পাথরটি স্থাপনের মর্যাদা পেতে চাইল, এমনকি তারা বিবাদে লিপ্ত হলো এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল। এভাবে চার বা পাঁচ রাত অতিবাহিত হলো। তখন আবু উমাইয়া আল-মাখযূমী বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! এই মসজিদের দরজা দিয়ে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তাকেই তোমরা তোমাদের মধ্যকার বিবাদের ফয়সালাকারী মেনে নাও। তারা যখন এতে একমত হলো, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তারা তাঁকে দেখে বলে উঠল: ইনি ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত), আমরা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট। তিনি যখন তাদের কাছে পৌঁছালেন, তারা তাঁকে বিষয়টি জানাল। তখন তিনি বললেন: আমার কাছে একটি চাদর নিয়ে এসো। চাদর আনা হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে হাজরে আসওয়াদটি তার ওপর রাখলেন। তারপর বললেন: প্রত্যেক গোত্রের প্রতিনিধি চাদরের এক একটি প্রান্ত ধরুক, তারপর সকলে মিলে এটি উপরে ওঠাও। তারা সকলে মিলে তা উপরে ওঠাল, অতঃপর যখন তা যথাস্থানে পৌঁছাল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে পাথরটি তার নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করলেন এবং তার ওপর নির্মাণ সম্পন্ন হলো। নবুওয়াত লাভের পূর্বে জাহেলি যুগেও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আল-আমিন’ নামে অভিহিত হতেন। আরও বলা হয়ে থাকে যে, এই নির্মাণকাজের কারণ ছিল পাহাড়ি ঢল উপত্যকা প্লাবিত করে কাবাগৃহে প্রবেশ করেছিল, ফলে তাতে ফাটল দেখা দিয়েছিল; তাই কুরাইশগণ তা পুনর্নির্মাণ করেছিল। এটাও বলা হয় যে, সর্বপ্রথম প্রবেশকারীকে ফয়সালাকারী মানার পরামর্শ দিয়েছিলেন আবু হুজাইফা ইবনুল মুগিরা। এটি ছিল সমস্ত কুরাইশদের ওপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব এবং নবুওয়াত লাভের পূর্বে আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ মর্যাদা।

 

‌‌(রাসূল প্রেরণের বর্ণনা)

ঐতিহাসিকগণ বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রেরিত হন তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। এটি ছিল পারস্য সম্রাট হরমুজের পুত্র খসরু পারভেজের শাসনামলে। ইবনে আল-মুসাইয়িব বলেন, মহান আল্লাহ তাঁকে যখন রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল তেতাল্লিশ বছর; অতঃপর তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেন। ইবনে ইসহাক বলেন, আল্লাহ যখন তাঁকে প্রেরণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর; অতঃপর তিনি মক্কায় তেরো বছর এবং মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেন।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
وقيل إنه كتم أمره ثلاث سنين فكان يدعو مستخفيا إلى أن أنزل الله تعالى وأنذر عشيرتك الأقربين فأظهر الدعوة قال أبو عمر بعثه الله عز وجل نبيا يوم الاثنين لثمان من ربيع الأول سنة إحدى وأربعين من عام الفيل أخبرنا أبو جعفر عبيد الله بن أحمد بإسناده عن يونس عن ابن إسحاق حدثني عبد الملك بن عبد الله بن أبي سفيان بن جارية الثقفي وكان واعية عن بعض أهل العلم أن رسول الله حين أراد الله كرامته وابتدأه بالنبوة فكان لا يمر بحجر ولا شجر إلا سلم عليه وسمع منه فيلتفت رسول الله صلى الله عليه وسلم خلفه وعن يمينه وشماله فلا يرى إلا الشجر وما حوله من الحجارة وهي تقول السلام عليك يا رسول الله وأخبرنا غير واحد بإسنادهم عن محمد بن إسماعيل أخبرنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير عن عائشة أنها قالت أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم كان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح ثم حبب إليه الخلاء فكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه وهو التعبد الليالي ذوات العدد حتى جاءه الحق وهو في غار حراء فجاءه الملك فقال اقرأ فقال ما أنا بقارئ قال فأخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد ثم أرسلني فقال اقرأ فقلت ما أنا بقارئ قال فأخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد ثم أرسلني فقال اقرأ قلت ما أنا بقارئ فأخذني فغطني الثالثة ثم أرسلني فقال اقرأ باسم ربك الذي خلق خلق الإنسان من علق اقرأ وربك الأكرم فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده دخل على خديجة وذكر الحديث في ذهابها إلى ورقة بن نوفل وروى عن جابر بإسناد صحيح إن أول ما نزل من القرآن يا أيها المدثر أخبرنا أبو جعفر بإسناده عن يونس عن ابن إسحاق قال فابتدئ رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتنزيل يوم الجمعة في رمضان بقول الله عز وجل شهر رمضان الذي أنزل فيه القرآن إلى آخر الآية وقال تعالى وما أنزلنا على عبدنا يوم الفرقان يوم التقى الجمعان وذلك ملتقى رسول الله صلى الله عليه وسلم والمشركين يوم بدر صبيحة الجمعة لسبع عشرة مضت من رمضان وقال يونس عن بشر بن أبي حفص الكندي الدمشقي قال حدثني مكحول أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لبلال لا يغادرنك صيام يوم الاثنين فإني ولدت يوم الاثنين وأوحي إلي يوم الاثنين وهاجرت يوم الاثنين ثم أن جبريل عليه السلام علم رسول الله صلى الله عليه وسلم الوضوء والصلاة ركعتين فأتى خديجة

বলা হয়েছে যে, তিনি তিন বছর তাঁর বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন এবং গোপনে দাওয়াত দিচ্ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: "এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।" তখন তিনি প্রকাশ্যে দাওয়াত প্রচার শুরু করেন। আবু উমর বলেন, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁকে হস্তীবর্ষের একচল্লিশতম বছরের রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখে সোমবার নবি হিসেবে প্রেরণ করেন। আবু জাফর উবায়দুল্লাহ বিন আহমদ তাঁর সনদে ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু সুফিয়ান বিন জারিয়া আস-সাকাফি—যিনি একজন প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন—তিনি জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তির সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহর সম্মান বৃদ্ধি এবং নবুওয়াতের মাধ্যমে তাঁর সূচনা করতে চাইলেন, তখন তিনি কোনো পাথর বা গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেটি তাঁকে সালাম দিত এবং তিনি তা শুনতে পেতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পিছনে, ডানে ও বামে তাকাতেন কিন্তু গাছ এবং চারপাশের পাথর ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেতেন না, আর সেগুলো বলত: "আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূল!" এবং একাধিক বর্ণনাকারী তাঁদের সনদে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইয়াহইয়া বিন বুকাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়া বিন যুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা সুবহে সাদিকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে ধরা দিত না। অতঃপর নির্জনতা তাঁর নিকট প্রিয় করে দেওয়া হলো। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে "তাহান্নুস" অর্থাৎ বেশ কয়েক রাত ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন, যতক্ষণ না তাঁর নিকট সত্য (ওহী) আসলো। তিনি তখন হেরা গুহায় ছিলেন। অতঃপর ফেরেশতা তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন, "পড়ুন।" তিনি বললেন, "আমি তো পাঠকারী নই।" তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেন: "অতঃপর তিনি আমাকে ধরে সজোরে জাপটে ধরলেন, এমনকি আমি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পাঠকারী নই।" তিনি বলেন: "অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে ধরে সজোরে জাপটে ধরলেন, এমনকি আমি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পাঠকারী নই।" অতঃপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে সজোরে জাপটে ধরলেন, তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: "পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাট রক্তপিণ্ড) থেকে। পড়ুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কম্পিত হৃদয়ে তা নিয়ে ফিরে আসলেন এবং খাদিজার নিকট প্রবেশ করলেন। এরপর তাঁর ওরাকা বিন নওফালের নিকট যাওয়ার ঘটনাটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। জাবির থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, কুরআনের সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো "হে চাদরাবৃত!"। আবু জাফর তাঁর সনদে ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: রমজান মাসের এক জুমুআর দিনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয় আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর এই বাণীর মাধ্যমে: "রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে"—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যা আমি আমার বান্দার ওপর ফয়সালার দিনে অবতীর্ণ করেছি, যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল।" আর তা ছিল বদরের দিনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুশরিকদের মুখোমুখি হওয়ার দিন, রমজানের সতেরো তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর জুমুআর সকালে। ইউনুস বিশর বিন আবু হাফস আল-কিন্দি আদ-দিমাশকি থেকে বর্ণনা করেন: মাকহুল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে বলেছিলেন: "সোমবারের রোজা যেন তোমাকে ছেড়ে না যায়, কারণ আমি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছি, সোমবার আমার ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়েছে এবং সোমবার আমি হিজরত করেছি।" অতঃপর জিবরীল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অজু এবং দুই রাকাত সালাত শিক্ষা দিলেন, তারপর তিনি খাদিজার নিকট আসলেন।

(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
فأخبرها فتوضأت وصلت ركعتين معه وقيل كانت الصلاة الضحى والعصر ثم دعا الناس إلى الإسلام وقد ذكرنا أول من أسلم في أبي بكر وعلي وزيد بن حارثة واستجاب له نفر من الناس سرا حتى كثروا فظهر أمرهم والوجوه من كفار قريش غير منكرين لما يقول وكان إذا مر بهم يقولون إن محمدا يكلم من السماء فلم يزالوا كذلك حتى أظهر عيب آلهتهم وأخبرهم أن آباءهم ماتوا على الكفر والضلال وأنهم في النار فعادوه وأبغضوه وآذوه وكان أصحابه إذا صلوا انطلقوا إلى الأودية وصلوا سرا ولما أظهرت قريش عداوته حدب عليه أبو طالب عمه ونصره ومنعه ثم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما خاف كفار قريش اختفى هو ومن معه في دار الأرقم بن أبي الأرقم المخزومي إلى أن أسلم عمر فخرجوا ووثبت قريش على من فيها من المستضعفين فعذبوهم وذكرنا ذلك في أسمائهم مثل بلال وعمار وصهيب وغيرهم ثم إن المسلمين هاجروا إلى الحبشة هجرتين على ما نذكره إن شاء الله تعالى وأرادت قريش قتل رسول الله صلى الله عليه وسلم وأن يترك أبو طالب بينهم وبينه فلم يفعل فكتبوا صحيفة على أن يقاطعوا بني هاشم وبني المطلب ومن أسلم معهم ولا يناكحوهم ولا يبايعوهم ولا يكلموهم ولا يجلسوا إليهم على ما نذكره إن شاء الله تعالى

 

‌‌(ذكر وفاة خديجة وأبي طالب وذهاب رسول الله إلى الطائف وعوده)

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما زالت قريش كاعة عني حتى مات عمي أبو طالب وفي السنة العاشرة أول ذي القعدة وقيل النصف من شوال توفي أبو طالب وكان عمره بضعا وثمانين سنة ثم توفيت بعده خديجة بثلاثة أيام وقيل بشهر وقيل كان بينهما شهر وخمسة أيام وقيل خمسون يوما ودفنها رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحجون ولم تكن الصلاة على الجنائز يومئذ وقيل إنها ماتت قبل أبي طالب وكان عمرها خمسا وستين سنة وكان مقامها مع رسول الله صلى عليه وسلم بعد ما تزوجها أربعا وعشرين سنة وستة أشهر وكان موتها قبل الهجرة بثلاث سنين وثلاثة أشهر ونصف وقيل قبل الهجرة بسنة والله أعلم قال عروة ما ماتت خديجة إلا بعد الإسراء وبعد أن صلت الفريضة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولما اشتد بأبي طالب مرضه دعا بني عبد المطلب فقال إنكم لن تزالوا بخير ما سمعتم قول محمد واتبعتم أمره فاتبعوه وصدقوه ترشدوا أخبرنا عبيد الله بن أحمد بإسناده عن
তিনি তাঁকে বিষয়টি জানালেন, ফলে তিনি ওজু করলেন এবং তাঁর সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। বলা হয়ে থাকে যে, সেই নামাজ ছিল চাশত ও আসরের। তারপর তিনি মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন। আবু বকর, আলী এবং জায়েদ বিন হারিসার মধ্যে কারা প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তা আমরা উল্লেখ করেছি। একদল লোক গোপনে তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন, এমনকি তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং তাঁদের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল। কুরাইশ কাফেরদের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তিনি যা বলতেন তা অস্বীকার করত না। তিনি যখন তাঁদের পাশ দিয়ে যেতেন, তখন তারা বলত, 'নিশ্চয়ই মুহাম্মদকে আকাশ থেকে সম্বোধন করা হয় (ওহি আসে)।' তারা এভাবেই ছিল যতক্ষণ না তিনি তাদের দেব-দেবীদের ত্রুটি প্রকাশ করলেন এবং তাদের জানালেন যে তাদের পূর্বপুরুষেরা কুফর ও পথভ্রষ্টতার ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তারা জাহান্নামী। তখন তারা তাঁর সাথে শত্রুতা শুরু করল, তাঁকে ঘৃণা করল এবং কষ্ট দিতে লাগল। তাঁর সাহাবীগণ যখন নামাজ পড়তেন, তখন তারা উপত্যকাগুলোতে চলে যেতেন এবং গোপনে নামাজ পড়তেন। কুরাইশরা যখন তাঁর প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করল, তখন তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর প্রতি সদয় হলেন, তাঁকে সাহায্য করলেন এবং রক্ষা করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরাইশ কাফেরদের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করলেন, তখন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা আরকাম বিন আবিল আরকাম মাখজুমির বাড়িতে আত্মগোপন করলেন, যতক্ষণ না ওমর ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁরা বের হলেন। কুরাইশরা সেখানকার দুর্বলদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাদের নির্যাতন করল। আমরা তাদের নামের অধীনে এ কথা উল্লেখ করেছি, যেমন বিলাল, আম্মার, সুহাইব ও অন্যান্যরা। এরপর মুসলমানরা আবিসিনিয়ায় দুইবার হিজরত করলেন, যা আমরা ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব। কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার এবং আবু তালিব যাতে তাদের ও তাঁর মাঝখান থেকে সরে দাঁড়ান সেই ইচ্ছা পোষণ করল, কিন্তু তিনি তা করলেন না। অতঃপর তারা একটি অঙ্গীকারনামা লিখল এই মর্মে যে, তারা বনু হাশিম, বনু মুত্তালিব এবং যারা তাদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের বয়কট করবে; তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখবে না, ক্রয়-বিক্রয় করবে না, কথা বলবে না এবং তাদের সাথে বসবে না—যা আমরা ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব।

 

‌‌(খাদীজা ও আবু তালিবের মৃত্যু এবং রাসূলুল্লাহর তায়েফ গমন ও প্রত্যাবর্তনের বর্ণনা)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "যতক্ষণ না আমার চাচা আবু তালিব ইন্তেকাল করলেন, কুরাইশরা আমার ক্ষতি করতে বিরত ছিল।" দশম হিজরি সনের যিলকদ মাসের শুরুতে, মতান্তরে শাওয়ালের মাঝামাঝি সময়ে আবু তালিব ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল আশির সামান্য বেশি। তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পর খাদীজা ইন্তেকাল করেন। মতান্তরে এক মাস পর, আবার বলা হয় তাদের দুজনের মৃত্যুর মাঝে ব্যবধান ছিল এক মাস পাঁচ দিন, মতান্তরে পঞ্চাশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হুজুন নামক স্থানে দাফন করেন। সে সময় জানাজার নামাজ চালু হয়নি। কেউ কেউ বলেন, তিনি আবু তালিবের আগে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল পঁয়ষট্টি বছর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিয়ের পর তাঁর অবস্থানকাল ছিল চব্বিশ বছর ছয় মাস। তাঁর মৃত্যু হিজরতের তিন বছর তিন মাস পনের দিন আগে হয়েছিল। মতান্তরে হিজরতের এক বছর আগে। আল্লাহই ভালো জানেন। উরওয়াহ বলেন, ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের পরেই খাদীজা ইন্তেকাল করেছেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফরজ নামাজ আদায় করেছেন। যখন আবু তালিবের রোগ কঠিন আকার ধারণ করল, তিনি বনু আব্দুল মুত্তালিবকে ডাকলেন এবং বললেন, "যতক্ষণ তোমরা মুহাম্মদের কথা শুনবে এবং তাঁর আদেশ অনুসরণ করবে, ততক্ষণ তোমরা কল্যাণের ওপর থাকবে। অতএব তোমরা তাঁর অনুসরণ করো এবং তাঁকে সত্য বলে গ্রহণ করো, তবেই তোমরা সুপথ পাবে।" উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ তাঁর সনদে আমাদের জানিয়েছেন যে...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
يونس بن بكير عن ابن إسحاق قال ثم إن خديجة وأبا طالب ماتا في عام واحد فتتابعت على رسول الله صلى الله عليه وسلم المصائب وكانت خديجة وزير صدق على الإسلام وكان يسكن إليها ولم يتزوج عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ماتت ولما توفيا خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الطائف لثلاث بقين من شوال سنة عشر من المبعث ومعه مولاه زيد بن حارثة يدعوهم إلى الإسلام فآذته ثقيف وسمع منهم ما يكره وأغروا به سفهاءهم وذكرنا القصة في عداس وغيره ولما عاد من الطائف أرسل إلى المطعم بن عدي يطلب منه أن يجيره فأجاره فدخل المسجد معه وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يشكرها له وكان دخوله من الطائف لثلاث وعشرين ليلة خلت من ذي القعدة

 

‌‌(ذكر الإسراء)

أسري برسول الله صلى الله عليه وسلم من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى وقد اختلفوا في المكان الذي أسري به منه فقيل المسجد وقيل كان في بيته وقيل كان في بيت أم هانئ ومن قال هذين قال المدينة كلها مسجد واختلفوا في الوقت الذي أسري به فيه فروى عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أنه أسري به ليلة سبع من ربيع الأول قبل الهجرة بسنة وقال ابن عباس وأنس أسري به قبل الهجرة بسنة وقال السدي قبل الهجرة بستة أشهر وقال الواقدي أسري به لسبع عشرة من رمضان قبل الهجرة بثمانية عشر شهرا وقيل أسري به في رجب أخبرنا أبو الفرج محمد بن عبد الرحمن ابن أبي العز الواسطي والحسين بن صالح بن فتى خسرو التكريتي وغيرهما قالوا بإسنادهم عن محمد بن إسماعيل قال حدثنا هدبة بن خالد حدثنا همام بن يحيى حدثنا قتادة عن أنس بن مالك عن مالك بن صعصعة أن نبي الله صلى الله عليه وسلم حدثهم عن ليلة أسري به قال بينما أنا في الحطيم وربما قال في الحجر مضطجعا إذ أتاني آت فقد قال وسمعت يقول فشق ما بين هذه إلى هذه فقلت للجارود وهو إلى جنبي ما يعني قال من ثغرة نحره إلى شعرته فاستخرج قلبي ثم أتيت بطست من ذهب مملوءة إيمانا فغسل قلبي ثم حشي ثم أعيد ثم أتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار أبيض فقال له الجارود هو البراق يا أبا حمزة قال نعم يضع خطوه عند أقصى طرفه فحملت عليه فانطلق بي جبريل حتى أتى السماء الدنيا فاستفتح قيل من هذا قال جبريل قيل ومن معك قال محمد قيل أوقد أرسل إليه قال نعم قيل مرحبا فنعم المجئ جاء وذكر الحديث في صعوده إلى السماء السابعة والى سدرة المنتهى قال فمررت على موسى
ইউনুস ইবনে বুকায়র ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, এরপর খাদিজা ও আবু তালিব একই বছরে ইন্তেকাল করেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর একের পর এক বিপদ আসতে থাকে। খাদিজা ছিলেন ইসলামের এক সত্যনিষ্ঠ সহযোগী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে প্রশান্তি লাভ করতেন। খাদিজার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোনো বিবাহ করেননি। যখন তাঁরা উভয়ে ইন্তেকাল করলেন, তখন নবুওয়াতের দশম বর্ষের শাওয়াল মাসের তিন দিন অবশিষ্ট থাকতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তাঁর সাথে তাঁর মুক্তদাস যায়েদ ইবনে হারিসাহ ছিলেন, যিনি তাঁদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করছিলেন। কিন্তু সাকীফ গোত্র তাঁকে কষ্ট দিল এবং তিনি তাঁদের কাছ থেকে অপ্রীতিকর কথাবার্তা শুনলেন। তারা তাদের নির্বোধদের তাঁর বিরুদ্ধে উস্কে দিল। আমরা আদদাস ও অন্যদের বর্ণনায় এই কাহিনী উল্লেখ করেছি। যখন তিনি তায়েফ থেকে ফিরলেন, তখন তিনি মুতয়িম ইবনে আদীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে লোক পাঠালেন। তিনি তাঁকে আশ্রয় দিলেন, ফলে তিনি তাঁর সাথে মসজিদে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই কাজের জন্য কৃতজ্ঞ ছিলেন। তায়েফ থেকে তাঁর মক্কায় প্রবেশ ছিল যিলকদ মাসের তেইশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর।

 

‌‌(ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের বিবরণ)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নৈশ ভ্রমণ করানো হয়েছিল। যে স্থান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে সম্পর্কে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন মসজিদ থেকে, কেউ বলেছেন তাঁর ঘর থেকে, আবার কেউ বলেছেন উম্মে হানির ঘর থেকে। আর যারা এই শেষোক্ত দুটি মত পোষণ করেন তারা বলেন যে, পুরো শহরটিই মসজিদ। যে সময়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে সম্পর্কেও তাঁরা মতভেদ করেছেন। আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, হিজরতের এক বছর আগে রবিউল আউয়াল মাসের সতেরো তারিখে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইবনে আব্বাস ও আনাস বলেছেন, হিজরতের এক বছর আগে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সুদ্দী বলেছেন, হিজরতের ছয় মাস আগে। ওয়াকিদী বলেছেন, হিজরতের আঠারো মাস আগে রমজানের সতেরো তারিখে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আবার বলা হয়েছে যে, রজব মাসে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আবুল ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল আবিল ইজ্জ আল-ওয়াসিতী এবং হুসাইন ইবনে সালিহ ইবনে ফাতা খুসরো আত-তিকরিতী এবং অন্যান্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের সনদের মাধ্যমে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হুদবা ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদা আনাস ইবনে মালিক থেকে এবং তিনি মালিক ইবনে সা’সা’আ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে সেই রাতের কথা বর্ণনা করেছেন যে রাতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেছেন, যখন আমি হাতিমে—কখনো তিনি বলেছেন হিজরে—শায়িত ছিলাম, তখন এক আগন্তুক আমার কাছে এলেন। তিনি কিছু বললেন এবং আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, এরপর তিনি এখান থেকে এখান পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। আমি আমার পাশে থাকা জারুদকে জিজ্ঞাসা করলাম, এর অর্থ কী? তিনি বললেন, কণ্ঠনালীর নিম্নদেশ থেকে নাভির নিচের পশম পর্যন্ত। এরপর তিনি আমার হৃদপিণ্ড বের করলেন। এরপর আমার কাছে ঈমানে পরিপূর্ণ একটি সোনার তশতরি আনা হলো। এরপর আমার হৃদপিণ্ড ধৌত করা হলো এবং পুনরায় তা ঈমান দিয়ে পূর্ণ করে যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এরপর আমার কাছে খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় একটি সাদা রঙের পশু আনা হলো। জারুদ তাঁকে বললেন, হে আবু হামযা, এটিই কি বুরাক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এটি তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় পা ফেলে। এরপর আমাকে তার ওপর সওয়ার করানো হলো। জিবরাঈল আমাকে নিয়ে চলতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি দুনিয়ার আসমানে পৌঁছালেন এবং দরজা খোলার আবেদন করলেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। জিজ্ঞাসা করা হলো, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, স্বাগতম, কতই না উত্তম তাঁর আগমন। এরপর সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত তাঁর আরোহণের হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি বললেন, এরপর আমি মূসার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
فقال لي بم أمرت قلت أمرت بخمسين صلاة كل يوم قال إن أمتك لا تستطيع ذلك قد جربت بني إسرائيل قبلك فارجع إلى ربك فسله لتخفيف لأمتك فرجعت فوضع عني عشرا فرجعت إلى موسى فقال مثله فرجعت فوضع عني عشرا فرجعت إلى موسى فأخبرته فقال إن أمتك لا تطيق ذلك فلم أزل بين ربي وموسى حتى جعلها خمسا فقال موسى إن أمتك لا تطيق ذلك فسله التخفيف قال قلت قد سألت ربي حتى استحييت فلما جاوزت نادى مناد قد أمضيت فريضتي وخففت عن عبادي قال أحمد بن يحيى بن جابر البلاذري قالوا فرض على رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاة ركعتين ركعتين ثم أتمت صلاة المقيم أربعا وبقيت صلاة المسافر على حالها وذلك قبل قدوم رسول الله المدينة مهاجرا بشهر

 

‌‌(الهجرة إلى المدينة)

لما بايعت الأنصار رسول الله صلى الله عليه وسلم على ما نذكره إن شاء الله تعالى أمر أصحابه فهاجروا إلى المدينة وبقي هو وأبو بكر وعلي فخرج هو وأبو بكر مستخفيين من قريش فقصدا غارا بجبل ثور فأقاما به ثلاثا وقيل أكثر من ذلك ثم سارا إلى المدينة ومعهما عامر بن فهيرة مولى أبي بكر ودليلهم عبد الله بن اريقط وكان مقامه بمكة عشر سنين وقيل ثلاث عشرة سنة وقيل خمس عشرة سنة والأكثر ثلاث عشرة سنة وكان قدوم رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المدينة في قول ابن إسحاق يوم الإثنين لاثنتي عشرة خلت من ربيع الأول وقال الكلبي خرج من الغار أول ربيع الأول وقدم المدينة لاثنتي عشرة خلت منه يوم الجمعة والله تعالى أعلم

 

‌‌(ذكر الحوادث بعد الهجرة)

أخبرنا أبو الفرج بن أبي الرجاء الأصبهاني أخبرنا الأديب أبو الطيب طلحة بن أبي منصور الحسين بن أبي ذر الصالحاني أخبرنا جدي أبو ذر محمد بن إبراهيم سبط الصالحاني أخبرنا أبو الشيخ الحافظ حدثنا ابن أبي حاتم حدثنا الفضل بن شاذان حدثنا محمد بن عمرو زنيج حدثنا أبو زهير حدثنا الحجاج ابن أبي عثمان الصواف عن أبي الزبير عن جابر قال غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم إحدى وعشرين غزوة بنفسه شهدت منها تسع عشرة غزوة وغبت عن اثنتين أخبرنا عبيد الله بن أحمد بن علي بإسناده عن يونس عن ابن إسحاق قال فجميع ما غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه ستا وعشرين غزوة

 

(وأول غزوة غزاها ودان)

وهي الأبواء قال ابن إسحاق وكان آخر غزوة غزاها رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قبضه الله تعالى تبوك وبالإسناد عن ابن إسحاق قال وكانت سرايا
তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনাকে কীসের আদেশ দেওয়া হয়েছে?" আমি বললাম, "আমাকে প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের আদেশ দেওয়া হয়েছে।" তিনি বললেন, "আপনার উম্মত এতে সক্ষম হবে না। আমি আপনার পূর্বে বনী ইসরাঈলদের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছি। সুতরাং আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য সহজ করার আবেদন করুন।" অতঃপর আমি ফিরে গেলাম এবং আমার থেকে দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দেওয়া হলো। আমি পুনরায় মূসার কাছে ফিরে এলাম, তিনি একই কথা বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম এবং আরও দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দেওয়া হলো। আমি মূসার কাছে ফিরে এসে তাকে জানালাম, তিনি বললেন, "আপনার উম্মত এটি সহ্য করতে পারবে না।" এভাবে আমি আমার রব এবং মূসার মধ্যে যাতায়াত করতে থাকলাম যতক্ষণ না তা পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত হলো। মূসা বললেন, "আপনার উম্মত এটিও সহ্য করতে পারবে না, তাই সহজ করার জন্য আবেদন করুন।" আমি বললাম, "আমি আমার রবের কাছে এতবার আবেদন করেছি যে, এখন আমি লজ্জিত।" যখন আমি অতিক্রম করলাম, তখন এক ঘোষক ঘোষণা করলেন, "আমি আমার ফরজ বিধান জারি করে দিয়েছি এবং আমার বান্দাদের জন্য তা সহজ করে দিয়েছি।" আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির আল-বালাজুরি বলেন, তারা বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত করে ফরজ করা হয়েছিল। অতঃপর মুকিম ব্যক্তির সালাত চার রাকাত পূর্ণ করা হলো এবং মুসাফিরের সালাত আগের মতোই বহাল থাকল। আর এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরত করে মদিনায় পৌঁছানোর এক মাস পূর্বের ঘটনা।

 

‌‌(মদিনায় হিজরত)

আনসাররা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বায়াত গ্রহণ করল—যা আমরা ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব—তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের আদেশ দিলেন এবং তারা মদিনায় হিজরত করলেন। তিনি নিজে এবং আবু বকর ও আলী থেকে গেলেন। অতঃপর তিনি এবং আবু বকর কুরাইশদের থেকে আত্মগোপন করে বের হলেন এবং জাবালে সাওর (সাওর পাহাড়ের) একটি গুহার উদ্দেশ্য রওনা হলেন। সেখানে তারা তিন দিন অবস্থান করলেন, মতান্তরে তার চেয়ে বেশি। তারপর তারা মদিনার পথে রওয়ানা হলেন এবং তাদের সাথে আবু বকরের মুক্তদাস আমির বিন ফুহাইরা এবং তাদের পথপ্রদর্শক আব্দুল্লাহ বিন আরিকত ছিল। মক্কায় তাঁর অবস্থানের সময়কাল ছিল দশ বছর, মতান্তরে তেরো বছর, আবার মতান্তরে পনেরো বছর; তবে তেরো বছরওয়াই অধিক বিশুদ্ধ। ইবনে ইসহাকের মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় আগমন ছিল রবিউল আউয়াল মাসের বারো দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার দিনে। কালবী বলেন, তিনি রবিউল আউয়ালের শুরুতে গুহা থেকে বের হন এবং রবিউল আউয়ালের বারো তারিখ শুক্রবার মদিনায় পৌঁছান। আর আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।

 

‌‌(হিজরত পরবর্তী ঘটনাবলির বর্ণনা)

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ বিন আবি আল-রাজা আল-আসবাহানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আদীব আবু আল-তাইয়িব তালহা বিন আবি মানসুর আল-হুসাইন বিন আবি যর আল-সালিহানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা আবু যর মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম সিবত আল-সালিহানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-শেখ আল-হাফিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি হাতিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-ফজল বিন শাদান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর যানিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জুহাইর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনে আবি উসমান আল-সাওয়ায়াফ আবু জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে একুশটি যুদ্ধে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন। আমি তার মধ্যে উনিশটিতে উপস্থিত ছিলাম এবং দুইটিতে অনুপস্থিত ছিলাম। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলী তাঁর সনদে ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সর্বমোট ছাব্বিশটি যুদ্ধে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন।

 

(আর তাঁর প্রথম যুদ্ধ ছিল ওয়াদান)

যা আল-আবওয়া নামে পরিচিত। ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বশেষ যুদ্ধ ছিল তাবুক, যার পর আল্লাহ তায়ালা তাঁর জান কবজ করেন। ইবনে ইসহাকের সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে যুদ্ধাভিযানগুলো ছিল...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعوثه فيما بين أن قدم المدينة إلى أن قبضه الله خمسة وثلاثين من بعث وسرية

 

‌‌(وفي السنة الأولى)

من الهجرة بعد شهر من مقدمة المدينة جعلت الصلاة أربع ركعات وكانت ركعتين

 

(وفيها) صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الجمعة لما ارتحل من قباء إلى المدينة صلاها في طريقه في بني سالم وهي أول جمعة صليت وخطبهم وهي أول خطبة في الإسلام

 

(وفيها) بنى رسول الله صلى الله عليه وسلم مسجده ومساكنه ومسجد قباء

 

(وفيها) أري عبد الله بن زيد الأذان فعلمه بلالا المؤذن

 

(وفيها) آخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بين المهاجرين والأنصار بعد ثمانية أشهر

 

‌‌(وفي السنة الثانية)

كانت غزوة بدر العظمى في شهر رمضان

 

(وفيها) في شعبان فرض صوم رمضان وأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بزكاة الفطر

 

(وفيها) في شعبان أيضا صرفت القبلة عن البيت المقدس إلى الكعبة وقيل في رجب

 

(وفيها) فرضت زكاة الفطر قبل العيد بيومين

 

(وفيها) ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة وخرج بالناس إلى المصلى وذبح بيده شاتين وقيل شاة

 

‌‌(وفي السنة الثالثة)

كانت غزوة أحد في شوال

 

(وفيها) وقيل سنة أربع حرمت الخمر في ربيع الأول

 

‌‌(وفي سنة أربع)

صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف في غزوة ذات الرقاع وقيل إن فيها قصرت الصلاة

 

(وفيها) رجم رسول الله صلى الله عليه وسلم اليهودي واليهودية والقصة معروفة

 

(وفيها) نزلت آية التيمم

 

‌‌(وفي سنة خمس)

نزلت آية الحجاب في ذي القعدة

 

(وفيها) زلزلت المدينة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله عز وجل يستعتبكم فأعتبوه

 

(وفيها) كانت غزوة الخندق

 

‌‌(وفي سنة ست)

قال أهل الإفك ما قالوا في غزوة بني المصطلق

 

(وفيها) قال عبد الله بن أبي بن سلول رأس المنافقين لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل

 

(وفيها) كسفت الشمس فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الكسوف وهي أول ما صليت

 

(وفيها) في ذي القعدة اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم عمرة الحديبية وبايع بيعة الرضوان تحت الشجرة

 

(وفيها) قحط الناس فاستسقى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتاهم المطر ودام فقال له رجل يا رسول الله انقطعت الطرق وتهدمت المنازل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم حوالينا ولا علينا فانقشع السحاب عن المدينة

 

(وفيها) سابق رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الرواحل فسبق قعود لرجل من العرب القصواء
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পাঠানো বাহিনীগুলো মদীনায় আগমনের পর থেকে তাঁর ওফাত পর্যন্ত পঁয়ত্রিশটি ছোট ও বড় যুদ্ধাভিযান ছিল।

 

‌‌(এবং প্রথম হিজরী সনে)

হিজরতের পর মদীনায় আগমনের এক মাস পর সালাত চার রাকাত করা হয়, অথচ তা ছিল দুই রাকাত।

 

(এই বছরেই) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার সালাত আদায় করেন যখন তিনি কুবা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি বনু সালিম গোত্রের এলাকায় যাত্রাপথে এই সালাত আদায় করেন এবং এটিই ছিল প্রথম জুমার সালাত। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করেন যা ছিল ইসলামের প্রথম খুতবা।

 

(এই বছরেই) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মসজিদ, তাঁর বাসস্থানসমূহ এবং কুবা মসজিদ নির্মাণ করেন।

 

(এই বছরেই) আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদকে স্বপ্নে আযান দেখানো হয়, অতঃপর তিনি তা মুয়াজ্জিন বিলালকে শিখিয়ে দেন।

 

(এই বছরেই) আট মাস পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন।

 

‌‌(এবং দ্বিতীয় হিজরী সনে)

রমজান মাসে মহা বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 

(এই বছরেই) শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ করা হয় এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দেন।

 

(এই বছরেই) শাবান মাসে কিবলা বাইতুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তন করা হয়, আর বলা হয়ে থাকে যে এটি রজব মাসে হয়েছিল।

 

(এই বছরেই) ঈদের দুই দিন আগে সদকাতুল ফিতর ফরজ করা হয়।

 

(এই বছরেই) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় কুরবানী করেন এবং লোকদের নিয়ে ঈদগাহে যান। তিনি নিজ হাতে দুটি বকরী জবেহ করেন, মতান্তরে একটি বকরী।

 

‌‌(এবং তৃতীয় হিজরী সনে)

শাওয়াল মাসে উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 

(এই বছরেই), মতান্তরে চতুর্থ হিজরী সনে, রবিউল আউয়াল মাসে মদ হারাম করা হয়।

 

‌‌(এবং চতুর্থ হিজরী সনে)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাতুর রিকা'র যুদ্ধে সালাতুল খওফ (ভয়কালীন সালাত) আদায় করেন। বলা হয়ে থাকে যে এই বছরেই সালাত কসর (সংক্ষিপ্ত) করার বিধান আসে।

 

(এই বছরেই) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইহুদী পুরুষ ও নারীকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদ্বণ্ড) করেন এবং এ ঘটনাটি সুপরিচিত।

 

(এই বছরেই) তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল হয়।

 

‌‌(এবং পঞ্চম হিজরী সনে)

জিলকদ মাসে পর্দার আয়াত নাজিল হয়।

 

(এই বছরেই) মদীনায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান তোমাদের নিকট তওবা কামনা করছেন, অতএব তোমরা তাঁর নিকট তওবা করো।

 

(এই বছরেই) খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 

‌‌(এবং ষষ্ঠ হিজরী সনে)

অপবাদ রটনাকারীরা বনু মুস্তালিকের যুদ্ধে যা বলার তা বলেছিল।

 

(এই বছরেই) মুনাফিকদের সর্দার আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল বলেছিল, "যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই সেখান থেকে সম্মানিত ব্যক্তিরা লাঞ্ছিতদের বের করে দেবে।"

 

(এই বছরেই) সূর্যগ্রহণ হয়, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেন। এটিই ছিল প্রথম আদায়কৃত সূর্যগ্রহণের সালাত।

 

(এই বছরেই) জিলকদ মাসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার ওমরাহ করেন এবং গাছের নিচে বাইয়াতে রিদওয়ান সম্পন্ন করেন।

 

(এই বছরেই) দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন। তখন তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং তা অব্যাহত থাকে। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের উপরে নয়।" অতঃপর মদীনার আকাশ থেকে মেঘ সরে গেল।

 

(এই বছরেই) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারী উটগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। তাতে একজন আরব ব্যক্তির একটি উট কাসওয়াকে ছাড়িয়ে অগ্রগামী হয়।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم تكن تسبق قبلها فاشتد ذلك على المسلمين فقال رسول الله حق على الله أن لا يرفع شيئا من الدنيا إلا وضعه

 

(وفيها) أيضا سابق بين الخيل فسبق فرس لأبي بكر فأخذ السبق وهذان أول مسابقة كانت في الإسلام

 

‌‌(وفي سنة سبع)

اعتمر رسول الله عمرة القضاء قضاء عن عمرة الحديبية حيث صده المشركون فاضطبع فيها رسول الله والمسلمون ورملوا وهو أول اضطباع ورمل كان في الإسلام

 

(وفيها) كانت غزوة خيبر

 

(وفيها) سم رسول الله صلى الله عليه وسلم سمته امرأة اسمها زينب امرأة سلام بن مشكم أهدت له شاة مسمومة فأكل منها

 

(وفيها) بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الرسل إلى الملوك كسرى وقيصر والنجاشي وملك غسان وهوذة بن علي واتخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم الخاتم وختم به الكتب التي سيرها إلى الملوك

 

(وفيها) حرم رسول الله لحوم الحمر الأهلية ومتعة النساء يوم خيبر

 

‌‌(وفي سنة ثمان)

عمل منبر رسول الله فخطب عليه وكان يخطب إلى جذع فحن الجذع حتى سمع الناس صوته فنزل إليه فوضع يده عليه فسكن وهو أول منبر عمل في الإسلام

 

(وفيها) أقاد رسول الله رجلا من هذيل برجل من بني ليث وهو أول قود كان في الإسلام

 

(وفيها) فتح رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة وحصر الطائف ونصب عليه المنجنيق وهو أول منجنيق نصب في الإسلام

 

‌‌(وفي سنة تسع)

آلى رسول الله من نسائه وأقسم أن لا يدخل عليهن شهرا والقصة مشهورة

 

(وفيها) هدم رسول الله مسجد الضرار بالمدينة وكان المنافقون بنوه وكان هدمه بعد عود رسول الله صلى الله عليه وسلم من تبوك

 

(وفيها) قدمت الوفود على رسول الله من كل النواحي وكانت تسمى سنة الوفود

 

(وفيها) لاعن رسول الله بين عويمر العجلاني وبين امرأته في مسجده بعد العصر في شعبان وكان عويمر قدم من تبوك فوجدها حبلى

 

(وفيها) في شوال مات عبد الله بن أبي ابن سلول المنافق فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يصل بعدها على منافق لأن الله أنزل ولا تصل على أحد منهم مات أبدا

 

(وفيها) أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أبا بكر على الحج فحج بالناس وأمر علي بن أبي طالب أن يقرأ سورة براءة على المشركين وينبذ إليهم عهدهم وأن لا يحج بعد العام مشرك ولا يطوف بالبيت عريان وهي آخر حجة حجها المشركون

 

‌‌(وفي سنة عشر)

نزلت يا أيها الذين آمنوا ليستأذنكم الذين ملكت أيمانكم والذين لم يبلغوا الحلم منكم ثلاث مرات وكانوا لا يفعلونه قبل
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি উটনী ছিল যা ইতিপূর্বে দৌড়ে কখনো পিছিয়ে পড়েনি। বিষয়টি মুসলিমদের নিকট অত্যন্ত কষ্টদায়ক মনে হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহর উপর এটি একটি হক যে, দুনিয়ার কোনো কিছুকে তিনি যখনই সমুন্নত করেন, তখনই তাকে নামিয়ে দেন।"

 

(এই বছরেই) ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে আবু বকরের ঘোড়া বিজয়ী হয়েছিল এবং তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। ইসলামে অনুষ্ঠিত এটিই ছিল প্রথম ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

 

‌‌(সপ্তম হিজরি সনে)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতুল কাযা পালন করেছিলেন, যা ছিল হুদায়বিয়ার উমরার কাযা হিসেবে, যেখানে মুশরিকরা তাঁকে বাধা দিয়েছিল। সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমরা ইজতিবা (ডান কাঁধ খোলা রাখা) এবং রমল (বীরদর্পে দ্রুত হাঁটা) করেছিলেন। ইসলামে এটিই ছিল প্রথম ইজতিবা ও রমল।

 

(এই বছরেই) খায়বারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

 

(এই বছরেই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। যয়নাব নাম্নী জনৈক নারী তাঁকে বিষপ্রয়োগ করেছিল, যে ছিল সাল্লাম ইবনে মিশকামের স্ত্রী। সে তাঁকে একটি বিষযুক্ত ছাগল উপহার দিয়েছিল এবং তিনি তা থেকে আহার করেছিলেন।

 

(এই বছরেই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পারস্য সম্রাট কিসরা, রোম সম্রাট কায়সার, হাবশার নাজ্জাশী, গাসসানের রাজা এবং হাওযা ইবনে আলীর মতো রাজন্যবর্গের নিকট দূত পাঠিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি আংটি তৈরি করেছিলেন এবং রাজাদের কাছে পাঠানো চিঠিগুলোতে সেটি দিয়ে মোহর মেরেছিলেন।

 

(এই বছরেই) খায়বারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত এবং মুতআ বিবাহ নিষিদ্ধ করেছিলেন।

 

‌‌(অষ্টম হিজরি সনে)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বর তৈরি করা হয়েছিল এবং তিনি তার ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি একটি খেজুর গাছের কাণ্ডে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন; ফলে সেই কাণ্ডটি বিলাপ করে কেঁদে উঠেছিল, এমনকি উপস্থিত মানুষজন তার শব্দ শুনতে পাচ্ছিল। তখন তিনি মিম্বর থেকে নেমে নিজের হাত তার ওপর রাখলেন এবং সেটি শান্ত হলো। ইসলামে এটিই ছিল প্রথম নির্মিত মিম্বর।

 

(এই বছরেই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী লাইস গোত্রের এক ব্যক্তির হত্যার বিনিময়ে হুযায়ল গোত্রের এক ব্যক্তির কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণ করেছিলেন। ইসলামে এটিই ছিল প্রথম কিসাস।

 

(এই বছরেই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় করেন এবং তায়েফ অবরোধ করেন। সেখানে তিনি মিনজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) স্থাপন করেছিলেন। ইসলামে এটিই ছিল প্রথম স্থাপিত মিনজানিক।

 

‌‌(নবম হিজরি সনে)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে 'ঈলা' করেছিলেন এবং শপথ করেছিলেন যে, এক মাস তাঁদের নিকট প্রবেশ করবেন না। এ ঘটনাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।

 

(এই বছরেই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় অবস্থিত মসজিদে দিরার ধ্বংস করেছিলেন, যা মুনাফিকরা নির্মাণ করেছিল। তাবুক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যাবর্তনের পর এটি ধ্বংস করা হয়।

 

(এই বছরেই) সব দিক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি দল আসতে শুরু করে এবং এ বছরটিকে 'প্রতিনিধি দলের বছর' (আমুল উফুদ) বলা হয়।

 

(এই বছরেই) শাবান মাসে আসরের নামাজের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মসজিদে উওয়াইমির আল-আজলানী এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে লিয়ান করিয়েছিলেন। উওয়াইমির তাবুক থেকে ফিরে এসে তাকে গর্ভবতী পেয়েছিলেন।

 

(এই বছরেই) শাওয়াল মাসে মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল মারা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজার নামাজ পড়িয়েছিলেন; কিন্তু এরপর তিনি আর কোনো মুনাফিকের জানাজা পড়েননি। কেননা আল্লাহ তাআলা নাজিল করেছিলেন: "তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার ওপর জানাজার সালাত আদায় করবেন না।"

 

(এই বছরেই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে হজের আমির নিযুক্ত করেন এবং তিনি লোকদের নিয়ে হজ পালন করেন। তিনি আলী ইবনে আবি তালিবকে নির্দেশ দেন যেন তিনি মুশরিকদের সামনে সূরা বারাআত পাঠ করেন এবং তাদের সাথে কৃত চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। আরও ঘোষণা দেন যে, এই বছরের পর কোনো মুশরিক হজ করতে পারবে না এবং কোনো উলঙ্গ ব্যক্তি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না। মুশরিকদের হজের এটিই ছিল শেষ বছর।

 

‌‌(দশম হিজরি সনে)

এই আয়াতটি নাজিল হয়: "হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনো সাবালকত্ব লাভ করেনি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে..."। ইতিপূর্বে তারা এমনটি করত না।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ذلك

 

(وفيها) حج رسول الله صلى الله عليه وسلم حجة الوداع وقيل إنه اعتمر معها ولم يحج رسول الله بعد الهجرة غيرها

 

‌‌(ذكر صفته وشئ من أخلاقه صلى الله عليه وسلم

أخبرنا الحسين بن توحن بن أبويه بن النعمان بن الباوري وأحمد بن عثمان بن أبي علي قالا أخبرنا أبو الفضل محمد بن عبد الواحد بن محمد النيلي الأصفهاني أخبرنا أبو القاسم أحمد بن منصور الخليلي البلخي أخبرنا أبو القاسم علي بن أحمد بن محمد الخزاعي أخبرنا أبو سعيد الهيثم بن كليب الشاشي حدثنا محمد بن عيسى بن سورة الترمذي حدثنا سفيان بن وكيع حدثنا جميع بن عمر بن عبد الرحمن العجلي حدثني رجل من ولد أبي هالة زوج خديجة يكنى أبا عبد الله عن ابن أبي هالة عن الحسن بن علي رضي الله عنهما قال سألت خالي هند بن أبي هالة وكان وصافا عن حلية رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أشتهي أن يصف لي منها شيئا أتعلق به فقال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم فخما مفخما يتلألأ وجهه تلألؤ القمر ليلة البدر أطول من المربوع وأقصر من المشذب عظيم الهامة رجل الشعران انفرقت عقيصته فرق وإلا فلا يجاوز شعره شحمة أذنيه إذا هو وفره أزهر اللون واسع الجبين أزج الحواجب سوابغ في غير قرن بينهما عرق يدره الغضب أقنى العرنين له نور يعلوه يحسبه من لم يتأمله أشم كث اللحية سهل الخدين ضليع الفم مفلج الأسنان دقيق المسربة كأن عنقه جيد دمية في صفاء الفضة معتدل الخلق بادن متماسك سواء البطن والصدر بعيد ما بين المنكبين ضخم الكراديس أنور المتجرد موصول ما بين السرة واللبة بشعر يجري كالخط عاري الثديين والبطن مما سوا ذلك أشعر الذراعين والمنكبين وأعالي الصدر رحب الراحة شثن الكفين والقدمين سائل الأطراف أو سائن الأطراف خمصان الأخمصين مسيح القدمين ينبوعهما الماء إذا زال زال قلعا يخطو تكفيا ويمشي هونا ذريع المشية إذا مشى كأنما ينحط من صبب وإذا التفت التفت جميعا خافض الطرف نظره إلى الأرض أطول من نظره إلى السماء جل نظره الملاحظة يسوق أصحابه يبدر من لقي بالسلام قال وحدثنا محمد بن عيسى حدثنا أحمد بن عبدة الضبي وعلي بن حجر وأبو جعفر محمد بن الحسين وهو ابن أبي حليمة المعنى واحد قالوا حدثنا عيسى بن يونس عن عمر بن عبد الله مولى غفرة
সেই

 

(এবং এতেই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ পালন করেছেন। বলা হয় যে, তিনি এর সাথে উমরাও করেছিলেন এবং হিজরতের পর এটি ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোনো হজ করেননি।

 

‌‌(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর কিছু চারিত্রিক গুণাবলির বর্ণনা)

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনে তুহান ইবনে আবুওয়াইহি ইবনে আন-নুমান ইবনুল বাওয়ারি এবং আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি আলী। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ আন-নাইলি আল-আসফাহানি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আহমাদ ইবনে মানসুর আল-খলিলি আল-বালখি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খুজায়ি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হাইসাম ইবনে কুলাইব আশ-শাশি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিজি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জুমি ইবনে উমর ইবনে আব্দুর রহমান আল-ইজলি। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন খাদিজার স্বামী আবু হালার বংশধরদের একজন ব্যক্তি, যাঁর উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ, তিনি ইবনে আবু হালা থেকে বর্ণনা করেন—তিনি আল-হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবু হালাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক অবয়ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম—তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণনা করতে পারতেন—আমি আকাঙ্ক্ষা করছিলাম যে তিনি আমাকে তাঁর অবয়ব থেকে এমন কিছু বর্ণনা করবেন যা আমি হৃদয়ে ধারণ করতে পারব। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং মহিমান্বিত এবং অন্যের দৃষ্টিতেও অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহানুভব ছিলেন। তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বলতা ছড়াত। তিনি মধ্যমাকৃতি অপেক্ষা কিছুটা লম্বা ছিলেন কিন্তু কৃশ ও অস্বাভাবিক দীর্ঘ ছিলেন না। তাঁর মস্তক ছিল সুসংহত ও বড়। তাঁর চুল ছিল ঈষৎ কোঁকড়ানো; যদি তাঁর চুল নিজে থেকে দুভাগে বিভক্ত হয়ে যেত তবে তিনি সিঁথি কাটতেন, অন্যথায় তাঁর চুল কানের লতি অতিক্রম করত না যখন তিনি তা প্রচুর রাখতেন। তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল শ্বেত-রক্তিম। তাঁর কপাল ছিল প্রশস্ত। তাঁর ভ্রুযুগল ছিল সরু, ঘন এবং দীর্ঘ, তবে তা একে অপরের সাথে মিলিত ছিল না। ভ্রুদ্বয়ের মাঝে একটি রগ ছিল যা রাগের সময় ফুলে উঠত। তাঁর নাক ছিল দীর্ঘ ও খাড়া এবং এর মাঝের অংশটি কিছুটা উঁচু ছিল; তাঁর নাকে একটি বিশেষ নূর বা আভা ছিল, ফলে যে ব্যক্তি গভীরভাবে লক্ষ্য করত না সে তাঁকে লম্বা নাকবিশিষ্ট মনে করত। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন। তাঁর গাল দুটি ছিল মসৃণ ও সমতল। তাঁর মুখগহ্বর ছিল প্রশস্ত। তাঁর দাঁতগুলো ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও সামনের দাঁতগুলো কিছুটা ফাঁকা ছিল। তাঁর গলা থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি চিকন রেখা ছিল। তাঁর ঘাড় ছিল রূপার শুভ্রতার ন্যায় স্বচ্ছ কোনো মূর্তির গ্রীবার মতো সুন্দর। তাঁর শারীরিক গঠন ছিল সুষম, শরীর ছিল সুঠাম ও মাংসল। তাঁর পেট ও বুক ছিল সমান। দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। তাঁর হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড়। তাঁর শরীরের অনাবৃত অংশগুলো ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাঁর বুকের উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি চিকন রেখা ছিল। তাঁর স্তনদ্বয় ও পেটের অন্যান্য অংশ ছিল পশমহীন। তাঁর দুই হাত, দুই কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগ ছিল পশমযুক্ত। তাঁর হাতের তালু ছিল প্রশস্ত। তাঁর কবজি ও পায়ের পাতা ছিল মাংসল। তাঁর হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলো ছিল দীর্ঘ। তাঁর পায়ের তলদেশ ছিল কিছুটা গর্তযুক্ত (বেশি চ্যাপ্টা নয়)। তাঁর পা দুটি ছিল মসৃণ, যার ওপর পানি ঢাললে তা গড়িয়ে পড়ে যেত। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন পা সজোরে ফেলে সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও বিনম্রভাবে চলতেন। তাঁর হাঁটার গতি ছিল দ্রুত; মনে হতো তিনি যেন কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে নামছেন। তিনি যখন কারো দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে শরীর ঘুরিয়ে ফিরতেন। তাঁর দৃষ্টি ছিল অবনত; আকাশের দিকে তাকানোর চেয়ে জমিনের দিকে তাকানোই ছিল তাঁর দীর্ঘতর অভ্যাস। অধিকাংশ সময় তিনি আড়চোখে দেখতেন (লজ্জাশীলতার কারণে)। তিনি তাঁর সাহাবীদের আগে আগে চলতেন এবং যাঁর সাথেই দেখা হতো তাঁকে আগে সালাম দিতেন। তিনি (তিরমিজি) বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবদাহ আদ-দব্বি, আলী ইবনে হুজর এবং আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন—যিনি ইবনে আবি হালিমা নামে পরিচিত—তাঁদের সবার বর্ণিত বিষয়ের অর্থ একই। তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, উমর ইবনে আব্দুল্লাহ মাওলা গুফরাহ থেকে।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
حدثنا إبراهيم بن محمد من ولد علي بن أبي طالب قال كان على رضي الله عنه إذا وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لم يكن بالطويل الممغط ولا بالقصير المتردد كان ربعة من القوم لم يكن بالجعد القطط ولا بالسبط كان جعدا رجلا ولم يكن بالمطهم ولا بالمكلثم كان في وجهه تدوير أبيض مشرب أدعج العينين أهدب الأشفار جليل المشاش والكتد أجرد ذو مسربة شثن الكفين والقدمين إذا مشى تقلع كأنما ينحط في صبب إذا التفت التفت معا بين كتفيه خاتم النبوة وهو خاتم النبيين أجرأ الناس صدرا وأصدق الناس لهجة وألينهم عريكة وأكرمهم عشرة من رآه بديهة هابه ومن خالطه معرفة أحبه يقول ناعته لم أر قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم أخبرنا يحيى بن محمود بن سعد الأصفهاني أخبرنا أبو الطيب طلحة بن أبي منصور الحسين بن أبي ذر الصالحاني أخبرنا جدي أبو ذر محمد بن إبراهيم سبط الصالحاني الواعظ أخبرنا أبو محمد عبد الله بن محمد بن جعفر أبو الشيخ حدثنا محمد بن العباس ابن أيوب حدثنا عبيد بن إسماعيل الهباري من كتابه ح قال أبو الشيخ وحدثنا إسحاق ابن جميل حدثنا سفيان بن وكيع قالا حدثنا جميع بن عمر العجلي حدثني رجل من بني تميم من ولد آبي هالة زوج خديجة عن ابن أبي هالة عن الحسن بن علي قال سألت خالي عن دخول النبي صلى الله عليه وسلم فقال كان دخوله لنفسه مأذون له في ذلك فكان إذا أوى إلى منزله جزأ دخوله ثلاثة أجزاء جزءا لله عز وجل وجزءا لأهله وجزءا لنفسه ثم يجعل جزءه بينه وبين الناس فيرد ذلك على العامة بالخاصة ولا يدخر عنهم شيئا فكان من سيرته في جزء الأمة إيثار أهل الفضل على قدر فضائلهم في الدين فمنهم ذو الحاجة ومنهم ذو الحاجتين ومنهم ذو الحوائج فيتشاغل بهم ويشغلهم فيما يصلحهم والأمة عن مسألتهم وإخبارهم بالذي ينبغي لهم ويقول ليبلغ الشاهد الغائب وأبلغوني حاجة من لا يقدر على إبلاغي حاجته فإنه من أبلغ سلطانا حاجة من لا يستطيع إبلاغها إياه ثبت الله قدميه يوم القيامة لا يذكر عنده إلا ذلك ولا يقبل من أحد غيره يدخلون روادا ولا يتفرقون إلا عن ذواق ويخرجون أدلة قال فسألته عن مخرجه كيف كان يصنع فيه فقال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخزن لسانه إلا فيما يعنيه أو يعنيهم ويؤلفهم ولا ينفرهم ويكرم كريم كل قوم ويوليه عليهم ويحذر الناس ويحترس منهم من غير أن يطوي عن أحد منهم بشره ولا خلقه ويتفقد أصحابه ويسأل عما في الناس يحسن الحسن ويقويه ويقبح القبيح

আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, যিনি আলী ইবনে আবি তালিবের বংশধরদের একজন ছিলেন, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখনই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দৈহিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: তিনি অত্যধিক দীর্ঘদেহী ছিলেন না এবং অতিশয় খাটোও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন লোকদের মধ্যে মধ্যমাকৃতির। তাঁর চুল অত্যধিক কোঁকড়ানো ছিল না এবং একেবারে সোজাও ছিল না, বরং তা ছিল মধ্যম ধরনের কুঞ্চিত। তিনি অত্যন্ত স্থূলকায় ছিলেন না এবং তাঁর চেহারা একেবারে গোল ছিল না, বরং তাতে কিছুটা গোলাকৃতি ভাব ছিল। তাঁর গায়ের রঙ ছিল লালাভ সাদা। তাঁর চোখ দুটি ছিল ঘন কালো এবং চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ। তাঁর হাড়ের জোড়সমূহ এবং কাঁধের হাড় ছিল বড়। তাঁর শরীর (অতিরিক্ত) লোমযুক্ত ছিল না, তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত একটি চিকন লোমশ রেখা ছিল। তাঁর হাতের তালু এবং পায়ের পাতা ছিল মাংসল। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন পা সজোরে উঠিয়ে হাঁটতেন যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা দিয়ে নিচের দিকে নামছেন। তিনি যখন কারো দিকে মনোযোগ দিতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে শরীর ঘুরিয়ে মনোযোগ দিতেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুয়তের মোহর ছিল এবং তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী, সবচেয়ে সত্যবাদী, সবচেয়ে কোমল স্বভাবের এবং মেলামেশার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সম্মানজনক। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত, সে তাঁকে ভয় পেত; আর যে ব্যক্তি পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁর সাথে মেলামেশা করত, সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত। তাঁর গুণাবলী বর্ণনাকারী বলতেন: 'আমি তাঁর আগে ও পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ ইবনে সাদ আল-আসবাহানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-তৈয়্যব তালহা ইবনে আবি মনসুর আল-হুসাইন ইবনে আবি যর আস-সালিহানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা আবু যর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম সিবত আস-সালিহানি আল-ওয়ায়েজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আবু আশ-শাইখ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-আব্বাস ইবনে আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে ইসমাইল আল-হাব্বারি তাঁর কিতাব থেকে (হ), এবং আবু আশ-শাইখ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে জামিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি, তাঁরা উভয়েই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুমি' ইবনে উমর আল-ইজলি, তিনি বলেন: বনু তামিমে বংশোদ্ভূত খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর স্বামী আবি হালার এক বংশধর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি হালা থেকে, তিনি হাসান ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি আমার মামার নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরে প্রবেশের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: তাঁর ঘরে প্রবেশ করা ছিল তাঁর নিজের প্রয়োজনে এবং এর অনুমতি তাঁর ছিল। তিনি যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর অবস্থানকে তিন ভাগে ভাগ করতেন: এক ভাগ মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য, এক ভাগ তাঁর পরিবারের জন্য এবং এক ভাগ নিজের জন্য। অতঃপর তিনি নিজের ভাগের অংশটুকু তাঁর ও মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিতেন। অর্থাৎ তিনি বিশিষ্ট সাহাবীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ফায়দা পৌঁছে দিতেন এবং তাঁদের থেকে কোনো কিছু গোপন রাখতেন না। উম্মতের কল্যাণে বরাদ্দকৃত অংশে তাঁর রীতি ছিল যে, তিনি দ্বীনের মর্যাদার ভিত্তিতে মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন এক হাজতধারী, কেউ দুই হাজতধারী এবং কেউ বা অনেক হাজতধারী। তিনি তাঁদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং তাঁদের কল্যাণে এবং উম্মতের কল্যাণে তাঁদের এমন কাজে নিয়োজিত রাখতেন যা তাঁদের জন্য উপযুক্ত হয়। তিনি তাঁদের প্রয়োজনীয় বিষয়ে সংবাদ দিতেন এবং বলতেন: 'উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (জ্ঞান) পৌঁছে দেয়। আর তোমরা আমার কাছে ওই ব্যক্তির হাজত বা প্রয়োজনের কথা পৌঁছে দাও যে নিজে তা আমার কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম নয়। কারণ, যে ব্যক্তি কোনো সামর্থ্যহীন ব্যক্তির প্রয়োজন শাসকের কাছে পৌঁছে দেয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার পা দুটিকে অটল রাখবেন।' তাঁর মজলিসে কেবল এ জাতীয় কল্যাণকর বিষয়ই আলোচনা হতো এবং এ ছাড়া অন্য কিছু তিনি কারো কাছ থেকে গ্রহণ করতেন না। তাঁরা (সাহাবীরা) তাঁর কাছে জ্ঞান অন্বেষণকারী হিসেবে প্রবেশ করতেন এবং জ্ঞান আস্বাদন না করে বের হতেন না, আর তাঁরা হিদায়াতের পথপ্রদর্শক হয়ে বের হতেন। হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি তাঁকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাইরে বের হওয়ার সময়কার আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখতেন এবং কেবল এমন কথাই বলতেন যা মানুষের মাঝে হৃদ্যতা সৃষ্টি করে এবং তাদের দূরে সরিয়ে দেয় না। তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করতেন এবং তাঁদেরই তাদের ওপর নেতা নিযুক্ত করতেন। তিনি মানুষকে (বিপথগামিতা থেকে) সতর্ক করতেন এবং তাঁদের থেকে নিজেও সতর্ক থাকতেন, তবে কারো প্রতি হাসিমুখে থাকতে বা সদাচরণ করতে কার্পণ্য করতেন না। তিনি তাঁর সাহাবীদের খোঁজখবর নিতেন এবং মানুষের মধ্যে কী ঘটছে তা নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি উত্তম কাজকে ভালো বলতেন এবং তার শক্তি বৃদ্ধি করতেন, আর মন্দ কাজকে নিকৃষ্ট বলতেন এবং তা পরিহার করতে বলতেন।

(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ويوهيه معتدل الأمر غير مختلف لا يميل مخافة أن يغفلوا ويميلوا لا يقصر عن الحق ولا يتجاوزه الذين يلونه من الناس خيارهم وأفضلهم عنده أعمهم نصيحة وأعظمهم عنده منزلة أحسنهم مواساة وموازرة فسألته عن مجلسه فقال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يجلس ولا يقوم إلا على ذكر الله عز وجل ولا يوطن الأماكن وينهي عن إيطانها وإذا انتهى إلى قوم جلس حيث ينتهي به المجلس ويأمر بذلك ويعطي كل جلسائه نصيبه لا يحسب أحد من جلسائه أن أحدا أكرم عليه منه من جالسه أو قاومه لحاجة ضابره حتى يكون هو المنصرف ومن سأله حاجة لم ينصرف إلا بها أو بميسور من القول قد وسع الناس خلقه فصار لهم أبا وصاروا عنده في الحق سواء مجلسه مجلس حلم وحياء وصبر وأمانة وصدق لا ترفع فيه الأصوات ولا تؤبن فيه الحرم ولا تنثى فلتاته معتدلين يتواصون فيه بالتقوى متواضعين يوقرون فيه الكبير ويرحمون فيه الصغير ويؤثرون ذا الحاجة ويحفظون الغريب

(قلت) كيف كانت سيرته في جلسائه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم دائم البشر سهل الخلق لين الجانب ليس بفظ ولا غليظ ولا سخاب في الأسواق ولا فاحش ولا عياب ولا مداح يتغافل عما لا يشتهي ولا يؤيس منه ولا يحبب فيه قد ترك نفسه من ثلاث المراء والاكثار ومالا يعنيه وترك الناس من ثلاث كان لا يذم أحدا ولا يعيره ولا يطلب عورته ولا يتكلم إلا فيما يرجو ثوابه إذا تكلم أطرق جلساؤه كأنما على رؤسهم الطير وإذا سكت تكلموا ولا يتنازعون عنده الحديث من تكلم أنصتوا له حتى يفرغ حديثهم عنده حديث أولهم يضحك مما يضحكون منه ويتعجب مما يتعجبون منه ويصبر للغريب على الجفوة في منطقه ومسألته حتى كان أصحابه يستجلبونهم فيقول إذا رأيتم طالب حاجة يطلبها فأرفدوه ولا يقبل الثناء لا من مكافئ ولا يقطع على أحد حديثه حتى يجوز فيقطعه بنهي أو قيام

(قال) فسألته كيف كان سكوته فقال كان سكوت رسول الله صلى الله عليه وسلم على أربع على الحلم والحذر والتقدير والتفكير فأما تقديره ففي تسوية النظر والاستماع من الناس وأما تفكيره ففيما يبقى ويفنى وجمع له الحلم والصبر فكان لا يغضبه شئ ولا يستفزه وجمع له الحذر في أربعة أخذه بالحسن ليقتدى به وتركه القبيح ليتناهى عنه واجتهاده الرأي فيما أصلح أمته والقيام فيما هو خير لهم وفيما جمع لهم خير الدنيا والآخرة

(تفسير غريبه) كان فخما مفخما أي كان جميلا مهيبا

তিনি সকল বিষয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতেন, তাতে কোনো বৈপরীত্য ছিল না। অনুসারীদের গাফিলতি বা বিচ্যুতির আশঙ্কায় তিনি বিচ্যুত হতেন না। তিনি সত্য পালনে কোনো ত্রুটি করতেন না এবং সত্যের সীমা অতিক্রমও করতেন না। মানুষের মধ্যে তাঁর নিকটতম ব্যক্তিরাই ছিলেন সর্বোত্তম। তাঁর নিকট সেই ব্যক্তিই ছিলেন শ্রেষ্ঠতম মর্যাদাশালী, যাঁর নসিহত বা সদুপদেশ ছিল সর্বাধিক ব্যাপক। আর তাঁর নিকট সেই ব্যক্তির মর্যাদা ছিল সর্বাপেক্ষা মহান, যিনি মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন। অতঃপর আমি তাঁর মজলিস বা বৈঠক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর যিকির ব্যতিরেকে বসা বা দাঁড়ানো—উভয়ই পরিহার করতেন। তিনি নির্দিষ্ট কোনো স্থানকে নিজের জন্য নির্ধারিত করতেন না এবং অন্যকে এরূপ করতেও নিষেধ করতেন। তিনি যখন কোনো সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছাতেন, মজলিস যেখানে শেষ হয়েছে সেখানেই বসে পড়তেন এবং অন্যদেরও অনুরূপ নির্দেশ দিতেন। তিনি তাঁর মজলিসের প্রত্যেক সঙ্গীকে তাঁর মনোযোগের প্রাপ্য অংশ প্রদান করতেন, ফলে তাঁর কোনো সঙ্গীই মনে করতেন না যে তাঁর নিকট অন্য কেউ তাঁর অপেক্ষা অধিক সম্মানিত। যে কেউ কোনো প্রয়োজনে তাঁর সাথে বসত কিংবা তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে থাকত, তিনি ধৈর্য ধারণ করতেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই প্রস্থান করত। যে ব্যক্তিই তাঁর নিকট কোনো কিছু প্রার্থনা করত, তিনি তাকে তা প্রদান না করে অথবা নিদেনপক্ষে কোনো সহজ বা কোমল বচনে তাকে বিদায় না দিয়ে বিরত হতেন না। তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য সকল মানুষের জন্য প্রশস্ত ছিল, ফলে তিনি তাঁদের জন্য পিতার ন্যায় অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন এবং সত্য ও ন্যায়ের বিচারে তাঁরা সকলেই তাঁর নিকট সমান ছিলেন। তাঁর মজলিস ছিল ধৈর্য, লজ্জা, স্থৈর্য, বিশ্বস্ততা ও সত্যবাদিতার কেন্দ্রস্থল। সেখানে উচ্চবাচ্য করা হতো না, কারও মর্যাদাহানি করা হতো না এবং কারও কোনো স্খলন বা ত্রুটি বাইরে প্রচার করা হতো না। তাঁরা ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাবের ছিলেন, সেখানে একে অপরকে তাকওয়ার উপদেশ দিতেন। তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী; তাঁরা বড়দের সম্মান করতেন, ছোটদের স্নেহ করতেন, অভাবগ্রস্তকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং আগন্তুক বা মুসাফিরের দেখাশোনা করতেন।

(আমি বললাম) সঙ্গীদের মাঝে তাঁর আচরণ কেমন ছিল? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা প্রফুল্লচিত্ত ও হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন, উন্নত চরিত্রের অধিকারী এবং অত্যন্ত কোমল স্বভাবের ছিলেন। তিনি রূঢ় বা কঠোর মেজাজের ছিলেন না, জনপদে উচ্চৈঃস্বরে চিৎকারকারী ছিলেন না, কটুভাষী ছিলেন না, দোষ অন্বেষণকারী ছিলেন না এবং অতিশয় প্রশংসাকারীও ছিলেন না। যা তিনি অপছন্দ করতেন সে ব্যাপারে তিনি বিমুখতা অবলম্বন করতেন, ফলে সে বিষয়ে কেউ নিরাশ হতো না, আবার তিনি তাতে অনাগ্রহও দেখাতেন না। তিনি তিনটি বিষয় থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছিলেন: বিবাদ-তর্ক, বাকবাহুল্য এবং অনর্থক বিষয়। আর মানুষের ক্ষেত্রেও তিনি তিনটি বিষয় পরিহার করতেন: তিনি কারও নিন্দা করতেন না, কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন না এবং কারও দোষ অন্বেষণ করতেন না। তিনি কেবল সেই কথাই বলতেন যাতে তিনি সওয়াব ও প্রতিদানের আশা রাখতেন। তিনি যখন কথা বলতেন, তাঁর উপস্থিত সঙ্গীরা এমনভাবে মাথা অবনত করতেন যেন তাঁদের মাথায় পাখি বসে আছে। তিনি নীরব হলে কেবল তখনই তাঁরা কথা বলতেন। তাঁর সামনে তাঁরা কথোপকথনে কোনো বিবাদে লিপ্ত হতেন না। কেউ কথা বললে তাঁরা তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত গভীর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করতেন। তাঁর নিকট শেষ ব্যক্তির বক্তব্য প্রথম ব্যক্তির বক্তব্যের ন্যায়ই গুরুত্ববহ ছিল। তাঁরা যে বিষয়ে হাসতেন, তিনিও তাতে হাস্য করতেন এবং তাঁরা যাতে বিস্ময় প্রকাশ করতেন, তিনিও তাতে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। মুসাফির বা আগন্তুকের রূঢ় আচরণ ও প্রশ্নের ক্ষেত্রে তিনি ধৈর্য ধারণ করতেন, এমনকি তাঁর সাহাবীগণ তাঁদেরকে ডেকে নিয়ে আসতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমরা কোনো অভাবী মানুষকে সাহায্য প্রার্থনা করতে দেখবে, তখন তাকে সাহায্য করবে। তিনি কেবল উপযুক্ত প্রশংসাকারীর নিকট থেকেই প্রশংসা গ্রহণ করতেন। তিনি কারও কথা মাঝপথে ছিন্ন করতেন না যতক্ষণ না সে সীমা অতিক্রম করত; সীমা অতিক্রম করলে তিনি নিষেধ করার মাধ্যমে অথবা মজলিস থেকে উঠে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তা থামিয়ে দিতেন।

(বর্ণনাকারী বলেন) অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁর নীরবতা কেমন ছিল? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নীরবতা ছিল চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে: সহনশীলতা, সতর্কতা, পরিমিতিবোধ ও গভীর চিন্তা। তাঁর পরিমিতিবোধ প্রকাশ পেত সকল মানুষের প্রতি সমানভাবে দৃষ্টি ও মনোযোগ প্রদানের মাধ্যমে। আর তাঁর চিন্তা নিহিত ছিল যা অবশিষ্ট থাকবে এবং যা অবিনাশী তার বর্ণনায়। তাঁর মাঝে ধৈর্য ও সহনশীলতার পূর্ণতা ছিল, কোনো কিছুই তাঁকে রাগান্বিত কিংবা বিচলিত করত না। তাঁর সতর্কতা নিহিত ছিল চারটি বিষয়ে: উত্তম কাজ গ্রহণ করা যাতে অন্যেরা তা অনুসরণ করে, মন্দ কাজ বর্জন করা যাতে মানুষ তা থেকে বিরত থাকে, স্বীয় উম্মতের সংশোধনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সচেষ্ট থাকা এবং এমন কাজ সম্পাদন করা যাতে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নিহিত থাকে।

(কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা): 'তিনি ছিলেন ফখমুন মুফাখখাম' অর্থাৎ তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর, মর্যাদাবান ও গাম্ভীর্যপূর্ণ।

(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
مع تمام كل ما في الوجه من غير ضخامة ولا نقصان والمشذب المفرط في الطول ولا عرض له وأصله النخلة إذا جردت عن سعفها كان أفحش في الطول يعني أن طوله يناسب عرضه

(وقوله) عظيم الهامة أي تام الرأس في تدويره

(والرجل) بين القطط والسبط

(والعقيصة) فعيلة بمعنى مفعولة وهي الشعر المجموع في القفا من الرأس يريد إن تفرق شعره بعد ما جمعه وعقصه فرق بتخفيف الراء وترك كل شئ في منبته وقال ابن قتيبة كان هذا أول الإسلام ثم فرق شعره بعد

(والأزهر) هو الأنور الأبيض المشرق وجاء في الحديث الآخر أبيض مشربا حمرة ولا تناقض يعني ما ظهر منه للشمس مشرب حمرة وما لم يظهر فهو أزهر وقوله

(أزج الحواجب في غير قرن) يعني أن حاجبيه طويلة سابغة غير مقترنة أي ملتصقة في وسط أعلى الأنف بل هو أبلج والبلج بياض بين الحاجبين وإنما جمع الحواجب لأن كل اثنين فما فوقهما جمع قال الله تعالى وكنا لحكمهم شاهدين يعني داود وسليمان وأمثاله كثيرة وقوله

(بينهما عرق يدره الغضب) أي إذا غضب النبي امتلأ العرق دما فيرتفع وقوله

(أقنى العرنين) فالعرنين الأنف والقنا طول في الأنف مع دقة الأرنبة

(والأشم) الدقيق الأنف المرتفعه يعني أن القنا الذي فيه ليس بمفرط

(سهل الخدين) يريد ليس فيهما نتوء وارتفاع وقال بعضهم يريد أسيل الخدين

(والضليع الفم) أي الواسع وكانت العرب تستحسنه

(والأسنان المفلجة) أي المتفرقة

(والمسربة) الشعر ما بين اللبة إلى السرة

(والجيد) العنق

(والدمية) الصورة وقوله

(معتدل الخلق) أي كل شئ من بدنه يناسب ما يليه في الحسن والتمام

(والبادن) التام اللحم

(والمتماسك) الممتلئ لحما غير مسترخ وقوله

(سواء البطن والصدر) أي ليس بطنه مرتفعا ولكنه مسا ولصدره

(والكراديس) رؤس العظام مثل الركبتين والمرفقين وغيرها

(والمتجرد) أي ما يستره الثياب من البدن فيتجرد عنها في بعض الأحيان يصفها بشدة البياض وقوله

(رحب الراحة) يكنون به عن السخاء والكرم

(والشثن) الغليظ وقوله

(خمصان الأخمصين) فالأخمص وسط القدم من أسفل يعني أن أخمصه مرتفع من الأرض تشبيها بالخمصان وهو ضامر البطن وقوله

(مسيح القدمين) أي ظهر قدميه ممسوح أملس لا يقف عليه الماء وقوله

(زال قلعا) إن روي بفتح القاف كان مصدرا بمعنى الفاعل أي يزول قالعا لرجله من الأرض وقال بعض أهل اللغة بضم القاف وحكى أبو عبيد الهروي أنه رأى بخط الأزهري بفتح القاف
মুখের প্রতিটি অবয়বের পূর্ণতাপ্রাপ্তির সাথে সাথে তাতে কোনো প্রকার অতিকায় স্থূলতা কিংবা কোনো ঘাটতি ছিল না। তিনি 'মুশাজজাব' অর্থাৎ অতিরিক্ত দীর্ঘ ও কৃশকায় ছিলেন না, যার কোনো প্রশস্ততা নেই। এর মূল উৎস হলো খেজুর গাছ, যখন তার পাতাগুলো সরিয়ে ফেলা হয় তখন সেটি দৈর্ঘ্যে দৃষ্টিকটু দেখায়; অর্থাৎ তাঁর উচ্চতা ছিল তাঁর শারীরিক প্রশস্ততার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(এবং তাঁর উক্তি) 'আযীমুল হামাহ' অর্থাৎ মাথাটি গোলাকৃতিতে পূর্ণাঙ্গ।

(চুল ছিল) অধিক কোঁকড়া এবং একদম সোজা চুলের মাঝামাঝি।

(আল-আক্বীসাহ) এটি 'মাফউলাহ' অর্থে 'ফাইলাহ' ওজনের শব্দ; যার অর্থ হলো মাথার পেছনের দিকে জমাকৃত চুল। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যদি তিনি চুল জমা করার এবং বাঁধার পর তা বিভক্ত করতেন; এখানে 'রা' বর্ণে তাখফীফ (হালকা উচ্চারণ) হবে। তিনি প্রতিটি চুলকে তার উৎপত্তিস্থলে ছেড়ে দিতেন। ইবনে কুতাইবা বলেন, এটি ইসলামের শুরুর দিকে ছিল, পরবর্তীতে তিনি তাঁর চুলে সিঁথি কাটতেন।

(আল-আযহার) অর্থ হলো উজ্জ্বল, অত্যন্ত সাদা ও দীপ্তিময়। অন্য হাদীসে এসেছে—লালিমা মিশ্রিত সাদা। এ দুটির মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই; এর অর্থ হলো সূর্যের সংস্পর্শে আসা শরীরের উন্মুক্ত অংশটি ছিল লালিমা মিশ্রিত, আর শরীরের যে অংশটি উন্মুক্ত থাকত না তা ছিল উজ্জ্বল সাদা। এবং তাঁর উক্তি—

(ভ্রূদ্বয় দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম, তবে তা জোড়া লাগানো নয়) এর অর্থ হলো তাঁর ভ্রূযুগল ছিল দীর্ঘ ও ঘন, যা নাসিকার উপরের অংশে মিলিত বা জোড়া লাগানো ছিল না। বরং তা ছিল 'আবলাজ' (পৃথক)। আর 'বালাজ' হলো দুই ভ্রূর মধ্যবর্তী শুভ্র স্থান। এখানে 'হাওয়াজিব' (বহুবচন) ব্যবহার করা হয়েছে কারণ দুই বা ততোধিক বস্তু সমষ্টি হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং আমরা তাদের বিচারের সাক্ষী ছিলাম", অর্থাৎ দাউদ ও সুলাইমানের; এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। এবং তাঁর উক্তি—

(দুই ভ্রূর মাঝে একটি রগ ছিল যা রাগের সময় ফুলে উঠত) অর্থাৎ নবী যখন রাগান্বিত হতেন, তখন সেই রগটি রক্তে পূর্ণ হয়ে উঁচু হয়ে যেত। এবং তাঁর উক্তি—

(আক্বনাল আরনীন) 'আরনীন' হলো নাক। আর 'ক্বানা' বলতে বোঝায় নাকের দৈর্ঘ্য এবং নাকের অগ্রভাগ সূক্ষ্ম হওয়া।

(আল-اشাম্ম) সূক্ষ্ম ও উন্নত নাসিকা; অর্থাৎ নাকের সেই উচ্চতা বা বাঁকটি অতিমাত্রায় ছিল না।

(মসৃণ গাল) এর অর্থ হলো গালে কোনো উঁচু হাড় বা প্রবৃদ্ধি ছিল না। কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হলো দীর্ঘ ও মসৃণ গাল।

(প্রশস্ত মুখগহ্বর) অর্থাৎ মুখটি চওড়া ছিল, যা আরবরা পছন্দ করত।

(ফাঁক বিশিষ্ট দাঁত) অর্থাৎ দাঁতগুলো পৃথক ও বিরল ছিল।

(আল-মাসরুবাহ) বুক থেকে নাভি পর্যন্ত চুলের দীর্ঘ রেখা।

(আল-জীদ) অর্থ ঘাড়।

(আদ-দুমইয়াহ) অর্থ ছবি বা প্রতিকৃতি। এবং তাঁর উক্তি—

(শারীরিক গঠনে সামঞ্জস্যপূর্ণ) অর্থাৎ তাঁর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ তার পার্শ্ববর্তী অঙ্গের সাথে সৌন্দর্য ও পূর্ণতার দিক থেকে মানানসই ছিল।

(আল-বাদিন) অর্থ সুগঠিত ও মাংসল দেহ।

(আল-মুতামাসিক) মাংসপূর্ণ শরীর যা শিথিল বা ঝুলে পড়া নয়। এবং তাঁর উক্তি—

(পেট ও বুক সমান) অর্থাৎ তাঁর পেট উঁচু ছিল না, বরং তা বুকের সাথে সমান্তরাল ছিল।

(আল-কারাদিস) হাড়ের জোড়া বা প্রান্তভাগ, যেমন হাঁটু ও কনুই এবং অন্যান্য অঙ্গ।

(আল-মুতাজাররাদ) শরীরের যে অংশগুলো সাধারণত পোশাকে আবৃত থাকে এবং কখনো কখনো উন্মোচিত হয়; সেই অংশগুলোকে অত্যন্ত শুভ্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এবং তাঁর উক্তি—

(প্রশস্ত হাতের তালু) এটি দিয়ে তাঁর মহানুভবতা ও দানশীলতাকে রূপকভাবে বোঝানো হয়েছে।

(আশ-শাছন) অর্থ স্থূল বা মজবুত। এবং তাঁর উক্তি—

(পায়ের তালুর মধ্যভাগ অধিক খাঁজযুক্ত) 'আখমাস' হলো পায়ের তলার মধ্যবর্তী অংশ; অর্থাৎ তাঁর পায়ের সেই অংশটি মাটি থেকে বেশ উপরে থাকত। এটি 'খামাসান' শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার অর্থ ক্ষীণ উদর। এবং তাঁর উক্তি—

(মসৃণ পদযুগল) অর্থাৎ তাঁর পায়ের উপরিভাগ ছিল অত্যন্ত মসৃণ ও মোলায়েম, যার ওপর পানি স্থির হয়ে থাকত না। এবং তাঁর উক্তি—

(দৃঢ়ভাবে পা ফেলতেন) যদি এটি 'ক্বাফ' বর্ণে জবর দিয়ে বর্ণিত হয়, তবে তা 'ফা-ইল' অর্থে মাসদার হবে; অর্থাৎ তিনি জমিন থেকে পা দৃঢ়ভাবে তুলে হাঁটতেন। ভাষাবিদদের কেউ কেউ 'ক্বাফ' বর্ণে পেশ দিয়েও পড়েছেন। আবু উবাইদ আল-হারাউই বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল-আযহারীর হস্তলিপিতে এটি 'ক্বাফ' বর্ণে জবর দিয়েই দেখেছেন।
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وكسر اللام غير أن المعنى فيه ما ذكرناه وأنه عليه السلام كان لا يخط الأرض برجليه وقوله

 

(تكفيا) أي يميد في مشيته

 

(والذريع) السريع المشي وقد كان يتثبت في مشيته ويتابع الخطو ويسبق غيره وورد في حديث آخر كان يمشي على هينة وأصحابه يسرعون فلا يدركونه

 

(والصبب) الحدور وقوله

 

(يسوق أصحابه) أي يقدمهم بين يديه وقوله

 

(يفتتح الكلام ويختمه بأشداقه) قيل إنه كان لا يتشدق في كلامه بأن يفتح فاه كله ويتقعر في الكلام

 

(وأشاح) أي أعرض وتردد بمعنى جد وانكمش وقوله

 

(فيرد ذلك على العامة بالخاصة) يعني أن الخاصة تصل إليه فتستفيد منه ثم يردون ذلك إلى العامة ولهذا كان يقول ليليني منكم أولو الأحلام والنهي

 

(يحذر الناس) أكثر الرواة على فتح الياء والذال والتخفيف يعني يحترس منهم وإن روي بضم الياء وتشديد الذال وكسرها فله معنى أي إنه يحذر بعض الناس من بعض وقوله

 

(لا يوطن الأماكن) يعني لا يتخذ لنفسه مجلسا لا يجلس إلا فيه وقد فسره ما بعده وقوله

 

(قاومه) أي قام معه

 

(وقوله لا تؤبن فيه الحرم) أي لا يذكرن بسوء وقوله

 

(ولا تنثى فلتاته) أي لا تذكر والفلتات هو ما يبدر من الرجل والهاء عائدة إلى المجلس وقوله

 

(لا يتفرقون إلا عن ذواق) الأصل فيه الطعام إلا أن المفسرين حملوه على العلم والخير لان الذوق قد يستعار قال الله تعالى فأذاقها الله لباس الجوع والخوف أي لا يقومون من عنده الا وقد استفادوا علما وخيرا

 

(والممغط) الذاهب طولا يقال تمغط في نشابته مدها مدا شديدا فعلى هذا هو فعل وقيل هو انفعل فأدغم يقال مغطه فانمغط وامتغط أي امتد

 

(والمطهم) البادن الكثير اللحم

 

(والمكلثم) المدور الوجه وقيل المكلثم من الوجه القصير الحنك الداني الجبهة المستدير الوجه والجمع بين هذا وبين قوله في وجهه تدوير وقوله سهل الخدين أنه لم يكن بالأسيل جدا ولا المدور مع إفراط التدوير بل كان بينهما وهو أحسن ما يكون

 

‌‌(ذكر جمل من أخلاقه ومعجزاته صلى الله عليه وسلم

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أعبد الناس قام في الصلاة حتى تفطرت قدماه وكان أزهد الناس لا يجد في أكثر الأوقات ما يأكل وكان فراشه محشوا ليفا وربما كان كساء من شعر وكان أحلم الناس يحب العفو والستر ويأمر بهما وكان أجود الناس قالت عائشة كان عند النبي صلى الله عليه وسلم ستة دنانير فأخرج أربعة وبقي
এবং 'লাম' এর কাসরা হওয়া সত্ত্বেও এর অর্থ তাই যা আমরা উল্লেখ করেছি; আর তা হলো তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর দুই পা দিয়ে মাটি ঘষতেন না। আর তাঁর উক্তি (তাকাফফুয়ান) অর্থ হলো তাঁর হাঁটার সময় হেলে চলা।

 

(আয-যারীয়ু) অর্থ দ্রুত হাঁটা। তিনি তাঁর হাঁটায় স্থিরতা বজায় রাখতেন, পদক্ষেপগুলো দ্রুত ফেলতেন এবং অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী হতেন। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, তিনি ধীরস্থিরভাবে হাঁটতেন অথচ তাঁর সাহাবীগণ দ্রুত হেঁটেও তাঁর নাগাল পেতেন না।

 

(আস-সাবাব) অর্থ ঢালু জায়গা। আর তাঁর উক্তি (তিনি তাঁর সাহাবীদের এগিয়ে দিতেন) অর্থ হলো তিনি তাঁদেরকে তাঁর সামনে রাখতেন। তাঁর উক্তি (তিনি তাঁর মুখগহ্বর দিয়ে কথা শুরু ও শেষ করতেন): বলা হয়েছে যে, তিনি কথা বলার সময় মুখ পুরোপুরি হাঁ করে কিংবা কথাকে কৃত্রিমভাবে গভীর করে বাড়িয়ে বলতেন না।

 

(আশাহা) অর্থাৎ বিমুখ হতেন এবং দ্বিধাগ্রস্ত হতেন, যা গুরুত্ব প্রদান এবং সংকুচিত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত। তাঁর উক্তি (তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিকট তা পৌঁছে দিতেন) এর অর্থ হলো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর নিকট পৌঁছাতেন এবং তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হতেন, অতঃপর তাঁরা তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই কারণেই তিনি বলতেন: "তোমাদের মধ্যে যারা বিবেকবান ও বুদ্ধিমান তারা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে।"

 

(তিনি মানুষকে সতর্ক করতেন/মানুষ থেকে সতর্ক থাকতেন): অধিকাংশ বর্ণনাকারী 'ইয়া' এবং 'যাল' বর্ণের ফাতহা ও তাশদীদহীনভাবে পড়েছেন, যার অর্থ তিনি তাঁদের থেকে সতর্ক থাকতেন। আর যদি 'ইয়া' বর্ণের পেশ এবং 'যাল' বর্ণের তাশদীদ ও কাসরা সহকারে বর্ণিত হয়, তবে তার অর্থ হবে তিনি এক মানুষকে অন্য মানুষ থেকে সতর্ক করতেন। তাঁর উক্তি (তিনি জায়গা নির্দিষ্ট করতেন না) অর্থাৎ তিনি নিজের জন্য এমন কোনো মজলিস বা বসার স্থান গ্রহণ করতেন না যেখানে কেবল তিনি একাই বসতেন; এর পরবর্তী অংশেই এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর তাঁর উক্তি (তিনি তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলতেন) অর্থ হলো তিনি তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে থাকতেন।

 

(আর তাঁর উক্তি: সেখানে নারীদের সম্মানহানি করা হতো না) অর্থাৎ তাঁদের সম্পর্কে কোনো মন্দ আলোচনা করা হতো না। তাঁর উক্তি (তার ভুল-ভ্রান্তি প্রকাশ করা হতো না) অর্থাৎ তা উল্লেখ করা হতো না। 'ফালতাত' বলতে মানুষের পক্ষ থেকে যা অকস্মাৎ ঘটে যায় তাকে বোঝায়, আর এখানে সর্বনামটি মজলিসের দিকে নির্দেশ করছে। তাঁর উক্তি (তারা কোনো আস্বাদ গ্রহণ করা ব্যতীত বিচ্ছিন্ন হতো না): এর মূল অর্থ খাবার গ্রহণ করা, তবে ব্যাখ্যাকারগণ একে ইলম ও কল্যাণের অর্থে গ্রহণ করেছেন। কারণ 'আস্বাদ' শব্দটি রূপক অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষুধা ও ভীতির পোশাক আস্বাদন করালেন।" অর্থাৎ তারা তাঁর নিকট থেকে ইলম ও কল্যাণ লাভ না করে প্রস্থান করত না।

 

(আল-মুম্মাগাত) অর্থ অত্যধিক লম্বা; বলা হয় 'তিনি তাঁর ধনুকে তীর বসিয়ে পূর্ণরূপে টেনেছেন', এই অর্থে এটি একটি ক্রিয়া। আবার বলা হয়েছে এটি 'ইনফায়ালা' ওজনে ছিল অতঃপর সন্ধি হয়েছে; বলা হয় 'সেটি টেনেছে ফলে তা দীর্ঘ হয়েছে', অর্থাৎ প্রসারিত হওয়া।

 

(আল-মুতাহহাম) অর্থ স্থূলকায় ও মাংসল দেহবিশিষ্ট।

 

(আল-মুকালসাম) অর্থ গোলাকার মুখমণ্ডল; আবার বলা হয়েছে মুকালসাম হলো সেই মুখ যার চিবুক ছোট, কপাল নিকটবর্তী এবং মুখমণ্ডল গোলাকার। তাঁর মুখমণ্ডলে গোলাকার ভাব ছিল এবং তিনি মসৃণ গণ্ডদেশ বিশিষ্ট ছিলেন—এই বর্ণনাসমূহের মধ্যে সমন্বয় হলো তিনি অতিশয় লম্বাটে মুখাবয়বের ছিলেন না, আবার অত্যধিক গোলাকারও ছিলেন না; বরং এই দুইয়ের মাঝামাঝি ছিলেন, আর এটিই হলো সৌন্দর্যের সর্বোত্তম রূপ।

 

‌‌(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মুজিযাসমূহের বর্ণনা)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী। তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন এমনকি তাঁর দুই পা ফেটে যেত। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ); অধিকাংশ সময় তিনি খাওয়ার মতো কিছু খুঁজে পেতেন না। তাঁর বিছানা ছিল খেজুরের আঁশ দিয়ে ভর্তি করা, আর কখনো সেটি পশমের চাদর হতো। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল ও সহনশীল, তিনি ক্ষমা করা ও দোষ গোপন করা পছন্দ করতেন এবং এগুলোর আদেশ দিতেন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছয়টি দিনার ছিল, অতঃপর তিনি চারটি দান করে দিলেন এবং অবশিষ্ট রইল...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
ديناران فامتنع منه النوم فسألته فأخبرها فقالت إذا أصبحت فضعها في مواضعها فقال ومن لي بالصبح وما سئل شيئا قط فقال لا وكان أشجع الناس قال علي كنا إذا احمر البأس اتقينا برسول الله صلى الله عليه وسلم فكان أقربنا إلى العدو وكان متواضعا في شرفه وعلو محله كانت الوليدة من ولائد المدينة تأخذ بيده في حاجتها فلا يفارقها حتى تكون هي التي تنصرف وما دعاه أحد إلا قال لبيك وكان طويل الصمت ضحكه التبسم وكان يخوض مع أصحابه إذا تحدثوا فيذكرون الدنيا فيذكرها معهم ويذكرون الآخرة فيذكرها معهم ولم يكن فاحشا ولا يجزى بالسيئة السيئة ولكن يعفو ويصفح قالت عائشة ما خير رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أمرين إلا اختار أيسرهما ما لم يكن إثما أو قطيعة رحم فإن كان إثما كان أبعد الناس منه وما ضرب امرأة قط ولا خادما ولا ضرب شيئا قط إلا أن يجاهد وقال أنس خدمت رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين فما سبني قط ولا ضربني ولا انتهرني ولا عبس في وجهي ولا أمرني بأمر فتوانيت فيه فعاتبني فإن عتب أحد من أهله قال دعوه فلو قدر لكان وكان أشد الناس لطفا وقالت عائشة رضي الله عنها كان يرقع الثوب ويقم البيت ويخصف النعل ويطحن عن خادمه إذا أعيا هذا القدر كاف وتركنا أسانيدها اختصارا

 

‌‌(وأما معجزاته صلى الله عليه وسلم فهي أكثر من أن تحصى)

 

(فمنها) إخباره عن عير قريش ليلة أسري به أنها تقدم وقت كذا فكان كما قال

 

(ومنها) ما أخبر به من قتل كفار قريش ببدر وموضع كل واحد منهم فكان كذلك ولما اتخذ المنبر حن الجذع الذي كان يخطب عنده حتى التزمه فسكن

 

(ومنها) أن الماء نبع من بين أصابعه غير مرة وبورك في الطعام القليل حتى كان يأكل منه الكثير من الناس فعل ذلك كثيرا وأمر شجرة بالمجئ إليه فجاءت وأمرها بالعود فعادت وسبح الحصى بيده

 

(ومنها) ما أخبر به من الغيوب فوقع بعده كما قال مثل إخباره عن انتشار دعوته وفتح الشام ومصر وبلاد الفرس وعدد الخلفاء وأن بعدهم يكون ملك وإخباره أن بعده أبا بكر وعمر

 

(وقوله) عن عثمان يدخل الجنة على بلوى تصيبه

 

(وقوله) له إن الله مقمصك قميصا فإن أرادوك على خلعه فلا تخلعه لهم يعني الخلافة

 

(وقوله) لعلى تضرب على هذه فتختضب هذه يعني جانب رأسه ولحيته فكان كذلك

 

(وقوله) عن ابنه الحسن يصلح الله به بين فئتين عظيمتين

 

(وقوله) عن عمار تقتلك الفئة الباغية

 

(وإشارته) بالوصف إلى المختار والحجاج إلى غير ذلك مما لا يحصى وما ظهر بمولده من
দুইটি দিনার (থাকার কারণে) তাঁর ঘুম আসছিল না। আমি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে জানালেন। তখন আমি বললাম, "সকাল হলে সেগুলো যথাস্থানে বিলিয়ে দেবেন।" তিনি বললেন, "সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা আমার কে দেবে?" তাঁর কাছে কোনো কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো "না" বলতেন না। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সাহসী। আলী (রা.) বলেন, যুদ্ধ যখন চরম রূপ ধারণ করত, তখন আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আত্মরক্ষা করতাম। শত্রুর সবচেয়ে কাছাকাছি তিনিই থাকতেন। স্বীয় মর্যাদা ও উচ্চস্থান সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। মদীনার কোনো দাসী তার প্রয়োজনে তাঁর হাত ধরে নিয়ে গেলে, সে নিজ থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি তার হাত ছাড়তেন না। কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি বলতেন, "আমি হাজির (লাব্বাইক)"। তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকতেন এবং তাঁর হাসি ছিল কেবল মুচকি হাসি। তাঁর সাহাবীগণ যখন কোনো বিষয়ে আলোচনা করতেন, তখন তিনি তাঁদের সাথে তাতে অংশগ্রহণ করতেন; তাঁরা দুনিয়াবী কথা বললে তিনি তাঁদের সাথে তাতে শামিল হতেন এবং তাঁরা পরকালের কথা বললে তিনি তাঁদের সাথে তাতেও শামিল হতেন। তিনি কটুভাষী ছিলেন না এবং মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দিতেন না; বরং ক্ষমা ও মার্জনা করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন, যদি না তা পাপের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো কিছু হতো। যদি তা পাপের কাজ হতো, তবে তিনি তা থেকে সবচাইতে দূরে থাকতেন। তিনি কখনো কোনো নারী বা খাদেমকে প্রহার করেননি; বরং আল্লাহর পথে জিহাদ করা ছাড়া কখনো কোনো কিছুকেই আঘাত করেননি। আনাস (রা.) বলেন, আমি দশ বছর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খেদমত করেছি। তিনি কখনো আমাকে গালি দেননি, প্রহার করেননি, ধমক দেননি এবং আমার দিকে ভ্রুকুটি করেননি। তিনি আমাকে কোনো কাজের আদেশ দিলে আমি যদি তা করতে বিলম্ব করতাম, তবে তিনি আমাকে তিরস্কার করতেন না। তাঁর পরিবারের কেউ যদি আমাকে ভর্ৎসনা করত, তবে তিনি বলতেন, "ওকে ছেড়ে দাও; যদি তকদিরে থাকত তবে তা হতো।" তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোমল হৃদয়ের অধিকারী। আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি নিজ কাপড় তালি দিতেন, ঘর ঝাড়ু দিতেন, জুতো মেরামত করতেন এবং খাদেম ক্লান্ত হয়ে পড়লে তার সাথে আটা পিষতেন। (রাসূলের গুণাবলি সম্পর্কে) এই পরিমাণই যথেষ্ট; সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে আমরা এগুলোর সনদ বর্জন করেছি।

 

‌‌(আর তাঁর মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনাবলি গণনার অতীত)

 

(সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো) মে’রাজের রাতে কুরাইশদের কাফেলা সম্পর্কে তাঁর এই সংবাদ প্রদান করা যে, তা অমুক সময়ে পৌঁছাবে; এবং সেটি তাঁর কথা অনুযায়ীই ঘটেছিল।

 

(আরেকটি হলো) বদর যুদ্ধে কুরাইশ কাফেরদের নিহত হওয়া এবং প্রত্যেকের পড়ে থাকার নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে তাঁর দেওয়া আগাম তথ্য, যা অবিকল তেমনই ঘটেছিল। আর যখন মিম্বর তৈরি করা হলো, তখন সেই খেজুর বৃক্ষের কাণ্ডটি (যাতে হেলান দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন) বিরহ-বেদনায় উচ্চস্বরে কেঁদে উঠেছিল, যতক্ষণ না তিনি সেটিকে জড়িয়ে ধরলেন এবং সেটি শান্ত হলো।

 

(আরেকটি হলো) একাধিকবার তাঁর আঙুলের ফাঁক দিয়ে পানি নির্গত হওয়া। অল্প খাবারে বরকত হওয়া, ফলে সেই সামান্য খাবার থেকে অনেক মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়েছিল এবং এমনটি বহুবার ঘটেছে। তাঁর নির্দেশে একটি গাছের তাঁর কাছে চলে আসা এবং পুনরায় নির্দেশে স্বস্থানে ফিরে যাওয়া। তাঁর পবিত্র হাতে কঙ্করসমূহের তসবীহ পাঠ করা।

 

(আরেকটি হলো) তাঁর দেওয়া গায়েবি বা অদৃশ্য সংবাদসমূহ, যা তাঁর পরে হুবহু বাস্তবে পরিণত হয়েছে। যেমন: তাঁর দাওয়াতের প্রসার লাভ, সিরিয়া, মিশর ও পারস্য বিজয়, খলীফাদের সংখ্যা এবং তাঁদের পর রাজতন্ত্রের সূচনা হওয়ার সংবাদ। তাঁর পরে আবু বকর ও উমরের (খিলাফতের) সংবাদ।

 

(এবং উসমান (রা.) সম্পর্কে তাঁর এই বাণী) যে, তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন তাঁর ওপর আপতিত এক কঠোর পরীক্ষার পর।

 

(এবং তাঁকে লক্ষ্য করে তাঁর এই বাণী) যে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে একটি জামা (খিলাফত) পরাবেন; যদি তারা সেটি তোমাকে খুলে ফেলতে বলে, তবে তুমি তা তাদের জন্য খুলবে না।" অর্থাৎ খিলাফত।

 

(এবং আলী (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে তাঁর এই বাণী) যে, "তোমার এখানে আঘাত করা হবে, ফলে এটি রঞ্জিত হবে।" অর্থাৎ তাঁর মাথার এক পাশ এবং তাঁর দাড়ি; এবং তা তেমনই ঘটেছিল।

 

(এবং তাঁর সন্তান হাসানের ব্যাপারে তাঁর বাণী) যে, আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে (মুসলমানদের) দুটি বিশাল দলের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দেবেন।

 

(এবং আম্মার (রা.) সম্পর্কে তাঁর বাণী) যে, তোমাকে একটি বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।

 

(এবং তাঁর ইঙ্গিত প্রদান) গুণাবলি বর্ণনার মাধ্যমে মুখতার ও হাজ্জাজের প্রতি এবং এই জাতীয় আরও অসংখ্য বিষয় যা গণনা করা সম্ভব নয়। এছাড়া তাঁর জন্মের সময় যা কিছু প্রকাশ পেয়েছিল...
(খণ্ড: ١) আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - আল-মাতবাআতুল ওয়াহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
المعجزات

 

(منها الفيل) وهو الأمر المجمع عليه

 

(وارتجاس) إيوان كسرى

 

(وإخبار) أهل الكتاب بنبوته قبل ظهوره إلى غير ذلك مما لا نطول به ففي هذا كفاية

 

‌‌(ذكر لباسه وسلاحه ودوابه صلى الله عليه وسلم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمى كل شئ له فكان لرسول الله صلى الله عليه وسلم عمامة تسمى السحاب وكان يلبس تحت العمامة القلانس اللاطية وكان له رداء اسمه الفتح

 

(وكان له سيوف) منها سيف ورثه من أبيه ومنها ذو الفقار والمخذم والرسوب والقضيب

 

(وكان له دروع) ذات الفضول وذات الوشاح والبتراء وذات الحواشي والخرنق وكان له منطقة من أدم مبشور فيها ثلاث حلق من فضة

 

(واسم رمحه) المثوى

 

(واسم حربته) العنزة وهي حربة صغيرة شبه العكاز وكانت تحمل معه في العيد تجعل بين يديه يصلي إليها

 

(وله حربة كبيرة) اسمها البيضاء

 

(وكان له محجن) قدر ذراع

 

(وكان له مخصرة) تسمى العرجون

 

(وكان اسم قوسه) الكتوم واسم كنانته الكافور

 

(واسم نبله الموتصلة) واسم

 

(ترسه) الزلوق

 

(ومغفره) ذو السبوع

 

(وكان له أفراس) المرتجز كان أبيض وهو الذي اشتراه من الأعرابي وشهد به خزيمة بن ثابت وقيل هو غير هذا والله أعلم وذو العقال والسكب وهو أدهم والشحاء والبحر وهو كميت واللحيف أهداه له ربيعة بن ملاعب الأسنة واللزاز أهداه له المقوقس والظرب أهداه له فروة الجذامى وقيل إن فروة أهدى له بغلة وكان له فرس اسمه سبحة راهن عليه رسول الله عليه السلام فجاء سابقا فهش لذلك

 

(وكانت له بغلة شهباء) اسمها دلدل أخذها علي بعد النبي صلى الله عليه وسلم فكان يركبها ثم الحسن ثم الحسين ثم محمد بن الحنفية فكبرت وعميت فدخلت مبطخة فرماها رجل بسهم فقتلها

 

(وبغلة) يقال لها الإيلية وكانت محذوفة طويلة فكانت تعجبه فقال له علي نحن نصنع لك مثلها فإن أباها حمار وأمها فرس فنهاه أن ينزى الحمير على الخيل

 

(وكان له حمار) أخضر اسمه عفير وقيل يعفور

 

(وكان له ناقة) تسمى العضباء وأخرى تسمى القصواء وقيل هما صفتان لناقة واحدة وقيل كان له غيرها

 

(وله شاة) تسمى غوثة وقيل غيثة

 

(وعنز) تسمى اليمن

 

(وله قدحان) اسم أحدهما الريان والآخر المضبب

 

(وله تور) من حجارة يقال له المخضب يتوضأ منه

 

(وله مخضب) من شبه 2

 

(وله ركوة) تسمى الصادر

 

(وله فسطاط) يسمى الركى

 

(وله مرآة) تسمى المدلة

 

(ومقراض) يسمى الجامع

 

(وقضيب)
অলৌকিক নিদর্শনাদি

 

(তার মধ্যে হস্তীবাহিনীর ঘটনা অন্যতম) যা একটি সর্বসম্মত বিষয়

 

(এবং কিসরার প্রাসাদের কম্পন)

 

(এবং তাঁর আবির্ভাবের পূর্বে আহলে কিতাবদের তাঁর নবুওয়াত সম্পর্কে সংবাদ প্রদান) এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা এখানে দীর্ঘ করছি না, এতটুকুই যথেষ্ট।

 

‌‌(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোশাক, অস্ত্রশস্ত্র ও পশুপালনের বর্ণনা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মালিকানাধীন প্রতিটি জিনিসের একটি নাম রাখতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পাগড়ি ছিল যার নাম ছিল ‘আস-সাহাব’। তিনি পাগড়ির নিচে মাথার সাথে লেপটে থাকা টুপি পরিধান করতেন। তাঁর একটি চাদর ছিল যার নাম ছিল ‘আল-ফাতহ’।

 

(তাঁর কয়েকটি তলোয়ার ছিল) তার মধ্যে একটি তলোয়ার তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। অন্যগুলোর নাম ছিল ‘যুল-ফিকার’, ‘আল-মিখযাম’, ‘আর-রাসুব’ এবং ‘আল-কাদীব’।

 

(তাঁর কয়েকটি বর্ম ছিল) ‘যাতুল ফুদুল’, ‘যাতুল উইশাহ’, ‘আল-বাতরা’, ‘যাতুল হাওয়াশি’ এবং ‘আল-খিরনাক’। তাঁর পাকা চামড়ার তৈরি একটি কোমরবন্ধ ছিল যাতে রূপার তিনটি আংটা ছিল।

 

(তাঁর বল্লমের নাম ছিল) ‘আল-মুসওয়া’।

 

(তাঁর ছোট বর্শার নাম ছিল) ‘আল-আনযা’, এটি লাঠির ন্যায় একটি ছোট বর্শা যা দুই ঈদের দিন তাঁর সামনে বহন করা হতো এবং তিনি সেটির দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন।

 

(তাঁর একটি বড় বর্শা ছিল) যার নাম ছিল ‘আল-বায়যা’।

 

(তাঁর এক হাত লম্বা একটি লাঠি ছিল)।

 

(তাঁর একটি ছড়ি ছিল) যাকে ‘আল-আরজুন’ বলা হতো।

 

(তাঁর ধনুকের নাম ছিল) ‘আল-কাতুম’ এবং তূণীরের নাম ছিল ‘আল-কাফুর’।

 

(তাঁর তীরের নাম ছিল ‘আল-মুত্তাসিলা’) এবং তাঁর

 

(ঢালের নাম ছিল) ‘আয-যালুক’।

 

(তাঁর শিরস্ত্রাণের নাম ছিল) ‘যুস সাবু’।

 

(তাঁর কয়েকটি ঘোড়া ছিল) ‘আল-মুরতাজায’, এটি ছিল সাদা রঙের এবং এটিই তিনি সেই বেদুইনের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন যার পক্ষে খুযায়মা ইবনে সাবিত সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কারও মতে এটি অন্য একটি ঘোড়া ছিল, তবে আল্লাহই ভালো জানেন। আরও ছিল ‘যুল-উক্বাল’, ‘আস-সাকাব’ (এটি ছিল কালো রঙের), ‘আশ-শাহা’, ‘আল-বাহর’ (এটি ছিল লালচে-বাদামী রঙের), ‘আল-লাহীফ’ (এটি রাবিয়া ইবনে মুলায়িবুল আসিন্না তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন), ‘আল-লাযায’ (এটি মুকাউকিস তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন), ‘আয-যারব’ (এটি ফারওয়া আল-জুযামী তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন)। কথিত আছে যে, ফারওয়া তাঁকে একটি খচ্চরও উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর ‘সুবহা’ নামক একটি ঘোড়া ছিল যা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৌড় প্রতিযোগিতায় বাজি ধরেছিলেন এবং সেটি প্রথম হয়েছিল, যাতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন।

 

(তাঁর একটি সাদাটে-ধূসর খচ্চর ছিল) যার নাম ছিল ‘দুলদুল’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে আলী সেটি গ্রহণ করেন এবং তাতে আরোহণ করতেন। এরপর হাসান, এরপর হুসাইন, এরপর মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ সেটি ব্যবহার করেন। সেটি অনেক বয়স্ক ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একদা সেটি তরমুজ ক্ষেতে ঢুকে পড়লে জনৈক ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ করে সেটিকে মেরে ফেলে।

 

(আরেকটি খচ্চর) যাকে ‘আল-আইলিয়া’ বলা হতো। সেটি ছিল লেজকাটা ও লম্বা ধরনের, যা তাঁর খুব পছন্দ ছিল। আলী তাঁকে বললেন, আমরা কি আপনার জন্য এর মত আরও উৎপাদন করব? কেননা এর বাবা ছিল গাধা এবং মা ছিল ঘোড়া। তখন তিনি ঘোড়ীর সাথে গাধার মিলন ঘটাতে নিষেধ করলেন।

 

(তাঁর একটি গাধা ছিল) সবুজাব-ধূসর রঙের যার নাম ছিল ‘উফায়ের’, মতান্তরে ‘ইয়াফুর’।

 

(তাঁর একটি উটনী ছিল) যার নাম ‘আল-আদবা’, অন্য একটির নাম ‘আল-কাসওয়া’। কারও মতে এ দুটি একই উটনীর দুটি গুণবাচক নাম, আবার কারও মতে তাঁর আরও উটনী ছিল।

 

(তাঁর একটি ছাগী ছিল) যার নাম ছিল ‘গাওসা’, মতান্তরে ‘গায়সা’।

 

(একটি মাদী ছাগল ছিল) যার নাম ‘আল-ইয়ামান’।

 

(তাঁর দুটি পেয়ালা ছিল) একটির নাম ‘আর-রাইয়ান’ এবং অন্যটির নাম ‘আল-মুদাব্বাব’।

 

(তাঁর পাথরের একটি গামলা ছিল) যাকে ‘আল-মিখদাব’ বলা হতো, যা থেকে তিনি ওযু করতেন।

 

(তাঁর পিতলের একটি গামলা ছিল)।

 

(তাঁর একটি পানির পাত্র ছিল) যার নাম ‘আস-সাদির’।

 

(তাঁর একটি তাবু ছিল) যার নাম ‘আর-রাকী’।

 

(তাঁর একটি আয়না ছিল) যার নাম ‘আল-মুদিল্লাহ’।

 

(একটি কাঁচি ছিল) যার নাম ‘আল-জামি’।

 

(এবং একটি লাঠি ছিল)।