(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: -)
الجرح والتعديل - اللاحم القسم: علوم الحديث
الكتاب: الجرح والتعديل - سلسلة نقد المرويات (1)
المؤلف: إبراهيم بن عبد الله اللاحم
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 554
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الأولى 1442
জরাহ ও তা'দিল - আল-লাহিম বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: জরাহ ও তা'দিল - বর্ণনা পর্যালোচনা সিরিজ (سلسلة نقد المرويات) (১)
লেখক: ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল উলা ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
الجرح والتعديل
بقلم
إبراهيم بن عبد الله اللاحم
বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার (الجرح والتعديل)
লিখেছেন
ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فإنجازًا لوعد الله سبحانه وتعالى بحفظ كتابه وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم بقوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} فقد هيأ الله لسنة نبيه صلى الله عليه وسلم رجالا أفذاذا، أفنوا أعمارهم وبذلوا أوقاتهم وأموالهم في جمعها، ونقد رواتها وأسانيدها، لتمييز صحيحها من سقيمها، فخلفوا للأمة بعدهم ثروة عظيمة جليلة، تتمثل في المؤلفات الكثيرة في جميع جوانب علم السنة.
وسار أولئك الأئمة في نقد السنة على قواعد وضوابط تواصوا بها وتوارثوها، مأخوذة في جملتها من نصوص الشرع وعموماته.
وغلب على علمهم في هذه القواعد الجانب التطبيقي، فلم تدون وتحرر في مؤلفات مستقلة.
وقد يقع بينهم اختلاف في بعض هذه القواعد على ندرة ذلك، وأكثر منه أن يقع بينهم اختلاف في تطبيق هذه القواعد، لأسباب كثيرة.
وبعد انقراض عصر أولئك الأئمة -عصر الرواية- احتاج الناس بعدهم إلى معرفة هذه القواعد وتحريرها، لإدراك عملهم، وفهم مصطلحاتهم، وتطبيق قواعدهم، للموازنة بين آرائهم حين يختلفون، أو للحكم على أحاديث لم يحكموا عليها، أو لم يبلغ من بعدهم حكمهم عليها.
ونظرا لاتساع رقعة العالم الإسلامي، وتفرق أولئك الأئمة فيه، وكثرة مؤلفاتهم في نقد السنة ورواتها- أصبح تحرير هذه القواعد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতপর:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সা.) সুন্নাহ সংরক্ষণের যে প্রতিশ্রুতি এই বাণীর মাধ্যমে দিয়েছেন: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী", তা পূর্ণ করার লক্ষে আল্লাহ তাঁর নবীর (সা.) সুন্নাহর জন্য এমন কিছু অনন্য ব্যক্তিত্বকে নিয়োজিত করেছেন, যাঁরা সুন্নাহ সংগ্রহ করতে এবং এর বর্ণনাকারীদের (راو) ও সনদসমূহের (إسناد) সমালোচনা (نقد) করতে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁদের সময় ও সম্পদ ব্যয় করেছেন; যাতে সহিহ (صحيح) হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (سقيم) থেকে পৃথক করা যায়। ফলে তাঁরা উম্মাহর জন্য সুন্নাহ শাস্ত্রের সকল দিকের ওপর অসংখ্য রচনার মাধ্যমে এক মহান ও বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন।
সেই ইমামগণ সুন্নাহর সমালোচনার (نقد) ক্ষেত্রে এমন কিছু মূলনীতি (قاعدة) ও বিধিনিষেধের (ضابط) অনুসরণ করেছেন যা তাঁরা একে অপরকে অসিয়ত করেছেন এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন, যা সামগ্রিকভাবে শরীয়তের পাঠ্য এবং সাধারণ বিধানাবলী থেকে গৃহীত।
এই মূলনীতিগুলোর (قاعدة) ক্ষেত্রে তাঁদের জ্ঞানে প্রায়োগিক দিকটিই প্রাধান্য পেয়েছিল, ফলে তা স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহে সংকলিত ও সম্পাদিত হয়নি।
যদিও তা বিরল, তবুও এই মূলনীতিগুলোর (قاعدة) কোনো কোনোটিতে তাঁদের মধ্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। তবে বিভিন্ন কারণে এই মূলনীতিগুলোর (قاعدة) প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে আরও বেশি মতভেদ দেখা যায়।
সেই ইমামগণের যুগের—অর্থাৎ বর্ণনার (رواية) যুগের—অবসানের পর তাঁদের পরবর্তী মানুষের জন্য এই মূলনীতিগুলো (قاعدة) জানা ও বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে; যাতে তাঁদের কর্মপদ্ধতি উপলব্ধি করা যায়, তাঁদের পরিভাষাগুলো (اصطلاح) বোঝা যায় এবং তাঁদের মূলনীতিগুলো (قاعدة) প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের মধ্যে মতভেদের সময় মতামতগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা, অথবা এমন সব হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান করা যেগুলোর ব্যাপারে তাঁরা কোনো সিদ্ধান্ত দেননি কিংবা তাঁদের দেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তীদের কাছে পৌঁছেনি।
মুসলিম বিশ্বের ব্যাপক বিস্তৃতি, সেখানে সেই ইমামদের ছড়িয়ে পড়া এবং সুন্নাহ ও এর বর্ণনাকারীদের (راو) সমালোচনার (نقد) বিষয়ে তাঁদের প্রচুর রচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই মূলনীতিগুলোর (قاعدة) বিশ্লেষণ ও সম্পাদনা...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
بالنسبة لمن جاء بعدهم ليس بالأمر اليسير، فبذلت جهود كبيرة لهذا الغرض، وتسابق الأئمة للتأليف في هذه القواعد، وحصرها وتقريبها لطلبة العلم.
وليس من المستغرب أن يقع اختلاف في سبر وتحرير قواعد أولئك الأئمة، لأسباب كثيرة، منها درجة تمكن المتصدي لهذا الشيء في علم نقد السنة، وما تهيأ له من مؤلفات الأولين، وتأثره بفنون أخرى غير نقد السنة، لها صلة بهذا الفن.
ثم إن هذه القواعد بحاجة إلى أن تكتب بلغة العصر، ليسهل فهمها وتطبيقها على طلبة العلم.
لهذا كله فإنني أرى -ونحن نشهد بحمد الله تعالى نهضة علمية مباركة، لاسيما في هذا العلم- أن يقوم أهله بالكتابة والتأليف في قواعد نقد السنة، كتابة تترك أثرها الطيب في الدراسات النقدية للسنة النبوية، تساعد على أن تكون هذه النهضة مبنية على أسس متينة، متصفة بالجدية والابتكار.
ولتحقيق هذا الغرض يمكن وضع معالم عامة للمنهج الذي يحسن أن يسير عليه من رأى من نفسه القدرة على الكتابة والتأليف، وهي باختصار:
1 - ممارسة التطبيق العملي بكثرة وقوة، بحيث يمكنه إدراك وجه الحاجة إلى تحرير القواعد والكتابة فيها، ويمكنه تصور صعوبة هذا الفن وخطورة التعرض لمسائله، وكلما كان الباحث بمعزل عن التطبيق العملي كان احتمال وقوعه في الخطأ أكبر.
2 - القراءة الواسعة في كتب أئمة هذا العلم، في عصر النقد عصر
যারা তাদের পরে এসেছেন, তাদের জন্য বিষয়টি সহজসাধ্য নয়। তাই এই উদ্দেশ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে এবং ইমামগণ এই নিয়মাবলি (قواعد) সংকলন করতে, সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করতে এবং ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট সহজবোধ্য করতে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
আর সেই ইমামদের নিয়মাবলি (قواعد) বিশ্লেষণ ও সম্পাদনা করার ক্ষেত্রে মতভেদ হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়। এর অনেক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো সুন্নাহ সমালোচনা বিদ্যায় (علم نقد السنة) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পারদর্শিতার স্তর, পূর্বসূরিদের রচনাবলির মধ্য থেকে যা কিছু তার কাছে হস্তগত হয়েছে এবং সুন্নাহ সমালোচনার বাইরে অন্যান্য শাস্ত্র দ্বারা তার প্রভাবিত হওয়া, যার সাথে এই শাস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে।
অধিকন্তু, এই নিয়মাবলি (قواعد) সমকালীন ভাষায় লেখা প্রয়োজন, যাতে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তা বোঝা এবং প্রয়োগ করা সহজ হয়।
এসব কারণে আমি মনে করি—এবং আল্লাহর প্রশংসায় আমরা এক বরকতময় ইলমি জাগরণ প্রত্যক্ষ করছি, বিশেষ করে এই বিদ্যায়—এই শাস্ত্রের বিজ্ঞজনদের উচিত সুন্নাহ সমালোচনার নিয়মাবলি (قواعد نقد السنة) নিয়ে লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনা করা; এমন রচনা যা সুন্নাহর গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং এই জাগরণকে এক সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে, যা হবে গুরুত্ববহ ও উদ্ভাবনী।
এই উদ্দেশ্য সাধনে সেই পদ্ধতির (المنهج) কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা অনুসরণ করা এমন ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর যে নিজের মধ্যে লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনার সক্ষমতা অনুভব করে। সংক্ষেপে সেগুলো হলো:
1 - অধিক পরিমাণে ও জোরালোভাবে ব্যবহারিক প্রয়োগের (التطبيق العملي) অনুশীলন করা, যাতে করে সে নিয়মাবলি (قواعد) সম্পাদনা ও এ বিষয়ে লেখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারে এবং এই শিল্পের জটিলতা ও এর মাসআলাসমূহ (مسائل) নিয়ে কাজ করার ঝুঁকির বিষয়ে ধারণা লাভ করতে পারে। একজন গবেষক ব্যবহারিক প্রয়োগ (التطبيق العملي) থেকে যত দূরে থাকবেন, তার ভুল করার সম্ভাবনা তত বেশি হবে।
2 - এই ইলমের ইমামদের কিতাবসমূহ ব্যাপকভাবে পাঠ করা, সমালোচনার যুগে (عصر النقد) অর্থাৎ...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
الرواية، ليتمكن بذلك من الوقوف على قدر كافٍ من النصوص التي تستخلص القواعد منها، فإن أكثر ما يتطرق الخلل إلى القاعدة إذا كان السَبْر ناقصا، والاعتماد في تحريرها على قدر يسير من نصوص الأئمة.
3 - الفحص الشديد للنصوص التي يعتمد الباحث عليها، وإعمال الروية فيها، للتأكد من دلالتها على المراد، وقد رأيت خللاً ظاهرا في بعض الدراسات النقدية يتعلق بهذا الجانب، فيورد الباحث النص، ويستخلص منه ما يريد، أو يحكيه للاستدلال على شيء قد ذكره، وواقع الحال أن النص عند التأمل ليس فيه مراد الباحث، أو هو مقيد بقيد، أو في غير محل النزاع إذا كانت المسألة موضع خلاف، ونحو ذلك.
4 - الإكثار من ضرب الأمثلة؛ لإيضاح القاعدة، وكيفية تطبيقها، والابتعاد -ما أمكن- عن تحويل قواعد هذا العلم إلى نظريات جامدة، يتلقنها الطلاب ويحفظونها.
5 - الكتابة بأسلوب علمي هادئ، يبتعد فيه الباحث -ما أمكنه- عن أسلوب التقريع والتوبيخ عند مناقشته لآراء غيره، أو إشارته إلى ما وقعوا فيه من أخطاء، وتجنب التعرض للأشخاص أنفسهم، والتشكيك في نياتهم، فإن هذه الأساليب كثيرًا ما تحول دون تقبل القارئ لما يكتب، وتثير في نفسه العصبية والحمية، إلى جانب كونها تغذي بذور الشقاق والافتراق.
6 - تتميز قواعد هذا الفن بأن مجال الاجتهاد فيها محدود جدا، فما على الباحث سوى أن يثبت أن أئمة هذا الفن يطبقون تلك القاعدة، أو
বর্ণনা (رواية), যাতে এর মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমাণ মূল পাঠ্য (نصوص) এর ওপর ভিত্তি করে নীতিমালাগুলো বের করা সম্ভব হয়। কারণ কোনো নীতিমালার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ত্রুটি দেখা দেয় তখনই, যখন এর অনুসন্ধান বা যাচাই-বাছাই (سبر) অপরিপূর্ণ থাকে এবং ইমামদের (الأئمة) অল্প কিছু মূল পাঠ্যের ওপর ভিত্তি করে তা সংকলন করা হয়।
3 - গবেষক যে সকল মূল পাঠ্য বা বর্ণনা (نصوص) এর ওপর নির্ভর করবেন তা সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা এবং সেগুলোর ওপর গভীর চিন্তাভাবনা প্রয়োগ করা, যাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থের ব্যাপারে সেগুলোর নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। আমি কিছু গবেষণামূলক আলোচনায় (دراسات نقدية) এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ত্রুটি লক্ষ্য করেছি; যেখানে গবেষক মূল পাঠটি (النص) উদ্ধৃত করেন এবং তা থেকে নিজের ইচ্ছামতো সারমর্ম বের করেন, অথবা নিজের কোনো বক্তব্যের প্রমাণ হিসেবে সেটি বর্ণনা করেন। অথচ গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, সেই মূল পাঠে গবেষকের উদ্দেশ্য বিদ্যমান নেই, অথবা সেটি কোনো বিশেষ শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ (مقيد), কিংবা বিষয়টি যখন মতবিরোধপূর্ণ তখন সেটি বিতর্কের মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়, অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু।
4 - নীতিমালা এবং এর প্রয়োগ পদ্ধতি সুস্পষ্ট করার জন্য প্রচুর পরিমাণে উদাহরণ পেশ করা; এবং যথাসম্ভব এই ইলমের নীতিমালাগুলোকে নিছক জড় তত্ত্বে রূপান্তর করা থেকে দূরে থাকা, যা শিক্ষার্থীরা কেবল গ্রহণ করে এবং মুখস্থ করে।
5 - একটি শান্ত ও বৈজ্ঞানিক শৈলীতে লেখা, যেখানে গবেষক অন্যের মতামতের পর্যালোচনার সময় বা তাদের ভুলগুলো নির্দেশ করার সময় যথাসম্ভব তিরস্কার ও ভর্ৎসনার পদ্ধতি থেকে দূরে থাকবেন। একইসাথে কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করা এবং তাদের নিয়ত বা উদ্দেশ্যের ওপর সন্দেহ পোষণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এই ধরনের পদ্ধতিগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাঠকের কাছে তার লেখাকে গ্রহণযোগ্য হতে বাধা দেয় এবং পাঠকের মনে গোঁড়ামি ও উগ্রতার সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এটি বিবাদ ও বিভেদের বীজ বপন করে।
6 - এই শাস্ত্রের নীতিমালাগুলো এমন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ যে এতে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তাই গবেষকের কাজ হলো কেবল এটি প্রমাণ করা যে, এই শাস্ত্রের ইমামগণ (الأئمة) সেই নীতিমালাটি প্রয়োগ করছেন, অথবা...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
يقدمون عليها القاعدة الفلانية، ونحو ذلك، بغض النظر عن إقامة الدلائل على صحة القاعدة، أو صحة الرأي المطروح، فالباحث حينئذٍ ملزم بإقامة الدليل على أنهم يفعلون كذا، لا أن دليل ما يفعلونه هو كذا، وهناك فرق جوهري بين الأمرين.
ولما تقدم فإن المسئولية الملقاة على عاتق الباحث الذي يتصدى للكتابة في قواعد النقد تعظم، وهو بعد مراعاته للأمور السابقة يلزمه أن يتوج ذلك بأن يتحلى بالأدب العلمي، فيضع في ذهنه دائمًا أن الرأي الذي يطرحه محتمل للخطأ كما هو محتمل للصواب، فلا يجزع إذا وجه غيره إليه انتقادًا، ولا يأنف من الرجوع عن الخطأ متى تبين له الصواب.
هذه إلمامة سريعة بمعالم هذا المنهج، وهو محتاج إلى كتابة خاصة فيه، توضحه وترسخه، وفوق ذلك هو بحاجة أيضا إلى تطبيق عملي، بحيث يتم تنزيله على أرض الواقع، فالدعوى تظل دعوى حتى تقام عليها البينة.
وقد رأيت مستعينا بالله سبحانه وتعالى أن أساهم بقدر استطاعتي بالكتابة في قواعد هذا الفن ومسائله، ملتزما ما استطعت إلى ذلك سبيلا بالمنهج الذي اقترحته، مدركا أن هناك جما غفيرا من المشايخ والباحثين هم أحق مني بالكتابة، ولكن هذا جهد مقل، فعسى أن أتحف القارئ بفائدة علمية من هنا أو هناك.
وما أكتبه سيكون -بإذن الله- في أجزاء متسلسلة، الأول في (الجرح والتعديل)، والثاني في (اتصال الإسناد وانقطاعه)، والثالث في (مقارنة المرويات)، والرابع في (أئمة النقد وكتبهم) والخامس في (مباحث متفرقة في نقد السنة).
তারা সেটির ওপর অমুক নীতিমালাকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো, সেই নীতিমালার সঠিকতা (صحة) কিংবা উপস্থাপিত মতামতের সঠিকতার (صحة) দলিল উপস্থাপনের তোয়াক্কা না করেই। এমতাবস্থায় গবেষক এটি প্রমাণ করতে বাধ্য যে তারা এমনটি করেন, এটি নয় যে তারা যা করেন তার দলিল হলো এটি। আর এই উভয় বিষয়ের মধ্যে এক মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
উপরিউক্ত কারণে, হাদিস সমালোচনার মূলনীতি (قواعد النقد) নিয়ে লেখনি ধারণকারী গবেষকের কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। পূর্বোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ রাখার পাশাপাশি তার জন্য অপরিহার্য হলো একে বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক শিষ্টাচারের মাধ্যমে পূর্ণতা দান করা। তাকে সর্বদা এই মানসিকতা পোষণ করতে হবে যে, তার উপস্থাপিত মতামতে ভুলের সম্ভাবনা রয়েছে ঠিক যেমন সঠিক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সুতরাং অন্য কেউ তার প্রতি সমালোচনা (انتقاد) ছুঁড়ে দিলে তিনি যেন বিচলিত না হন এবং সঠিক বিষয়টি যখন তার সামনে স্পষ্ট হবে তখন ভুল থেকে ফিরে আসতে যেন তিনি কুণ্ঠাবোধ না করেন।
এটি এই কর্মপদ্ধতির বৈশিষ্ট্যের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত মাত্র। এটি নিয়ে স্বতন্ত্র লেখনীর প্রয়োজন যা একে আরও স্পষ্ট ও সুদৃঢ় করবে। এর চেয়েও বড় কথা হলো, এটি একটি প্রায়োগিক অনুশীলনের মুখাপেক্ষী যাতে একে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। কারণ, প্রমাণ (بينة) উপস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো দাবি স্রেফ দাবি হিসেবেই গণ্য হয়।
আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে আমার সাধ্যমতো এই বিষয়ের মূলনীতি ও মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে লেখার মাধ্যমে অবদান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই ক্ষেত্রে আমি আমার প্রস্তাবিত কর্মপদ্ধতি যথাসম্ভব অনুসরণের চেষ্টা করেছি। আমি অবগত আছি যে, বহু সংখ্যক শায়খ এবং গবেষক আমার চেয়ে এই বিষয়ে লেখার অধিকতর যোগ্য। তবে এটি সামান্য এক প্রচেষ্টা মাত্র; আশা করা যায় এর মাধ্যমে আমি পাঠককে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা কোনো তাত্ত্বিক উপকার উপহার দিতে পারব।
আমার এই লেখনী—আল্লাহর ইচ্ছায়—ধারাবাহিক কয়েকটি খণ্ডে হবে: প্রথমটি জেরা ও নমনীয়তা (الجرح والتعديل) প্রসঙ্গে, দ্বিতীয়টি সনদের অবিচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد وانقطاعه) প্রসঙ্গে, তৃতীয়টি বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ (مقارنة المرويات) প্রসঙ্গে, চতুর্থটি সমালোচক ইমামগণ ও তাঁদের গ্রন্থসমূহ (أئمة النقد وكتبهم) প্রসঙ্গে এবং পঞ্চমটি সুন্নাহর সমালোচনার বিবিধ তাত্ত্বিক আলোচনা (مباحث متفرقة في نقد السنة) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقبل الشروع في المقصود أقدم الحديث عن بعض الأمور التي يحسن بالقارئ أن يتأملها قبل قراءته لهذه الأبحاث:
الأمر الأول: قد يقع في ذهن القارئ أن هذه الأبحاث طويلة، فالحديث عن (قواعد نقد السنة) في عدة أجزاء، ولو تم اختصارها في جزء واحد لسهل فهمها وأمكن متابعتها، خاصة للمبتدئ.
وهذا الكلام فيه شيء من الصحة، غير أن هذا التطويل له ما يبرره، فهو أولاً تطويل نسبي، وأعني بذلك أن بعض موضوعات هذه السلسلة يمكن أن تكتب بنفس أطول، فهي تحتمل أن تكون في جزء خاص، أو في رسالة خاصة.
فلو أخذنا مثلاً مبحثا من مباحث الفصل الأول من القسم الأول (الجرح والتعديل) مثل (الوسائل التي استخدمها الأئمة للحكم على الرواة) لرأيناه يحتمل رسالة مستقلة، بل بعضه يحتمل ذلك، مثل (التلقين)، فقد اختصرته جدًا، وأحلت إلى المصادر في باقيه.
ومثله يقال في مبحث (اختلاف حال الراوي)، أو (مقارنة الراوي بغيره).
وهكذا في الفصول الأخرى، ففصل (ضوابط النظر في أقوال النقاد في أحكامهم على الرواة) كتبته في نحو مئة صفحة، وهو يحتمل أن يفرد برسالة خاصة، بل قد كتب فيه رسالة علمية في مجلدين، في ضوابط ذلك عند الذهبي في كتابه "سير أعلام النبلاء".
ومثل هذا يقال في باقي أجزاء السلسلة، فالاتصال والانقطاع بعض فصوله تحتمل البسط أيضًا، وكذلك مقارنة المرويات.
মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে, আমি এমন কিছু বিষয় উপস্থাপন করছি যা এই গবেষণাপত্রগুলো পাঠ করার আগে পাঠকের জন্য গভীরভাবে চিন্তা করা সমীচীন:
প্রথম বিষয়: পাঠকের মনে হতে পারে যে এই গবেষণাগুলো দীর্ঘ, কারণ (সুন্নাহর সমালোচনার নীতিমালা) নিয়ে আলোচনাটি বেশ কয়েকটি খণ্ডে বিন্যস্ত। যদি এটি একটি খণ্ডে সংক্ষিপ্ত করা হতো, তবে তা বোঝা সহজ হতো এবং এর ধারা অনুসরণ করা সম্ভব হতো, বিশেষ করে নতুনদের জন্য।
এই মন্তব্যে কিছুটা সত্যতা থাকলেও এই দীর্ঘায়নের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি একটি আপেক্ষিক দীর্ঘায়ন; এর মাধ্যমে আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে, এই সিরিজের কিছু বিষয় আরও দীর্ঘ পরিসরে লেখা সম্ভব ছিল এবং সেগুলো পৃথক খণ্ড বা স্বতন্ত্র প্রবন্ধ হিসেবে হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা প্রথম ভাগের প্রথম অধ্যায়ের জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত একটি পরিচ্ছেদ গ্রহণ করি—যেমন (বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য ইমামগণের ব্যবহৃত মাধ্যমসমূহ)—তবে আমরা দেখতে পাব যে এটি একটি স্বতন্ত্র প্রবন্ধ হওয়ার দাবি রাখে। বরং এর কিছু অংশও স্বতন্ত্র প্রবন্ধ হতে পারে, যেমন তালকিন (التلقين)। আমি এটিকে অত্যন্ত সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছি এবং অবশিষ্টাংশের জন্য মূল উৎসসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
অনুরূপ কথা (বর্ণনাকারীর অবস্থার পরিবর্তন) অথবা (অন্যের সাথে বর্ণনাকারীর তুলনা) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অন্যান্য অধ্যায়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই। যেমন (বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সমালোচকদের মন্তব্যের পর্যালোচনার নীতিমালা) অধ্যায়টি আমি প্রায় একশ পৃষ্ঠায় লিখেছি, অথচ এটি স্বতন্ত্র প্রবন্ধ হিসেবে থাকার যোগ্য। এমনকি ইমাম যাহাবীর "সিয়ারু আলামিন নুবালা" গ্রন্থে বিদ্যমান এ সংক্রান্ত নীতিমালার ওপর দুই খণ্ডে একটি গবেষণাপত্র লেখা হয়েছে।
সিরিজের বাকি অংশগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়; যেমন সূত্র নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) এবং সূত্র বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) সংক্রান্ত কিছু অধ্যায়ও বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। একইভাবে বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রটিও তাই।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولهذا فإنني آمل أن يكون في هذه الأبحاث ما يفتح أعين الباحثين المتخصصين إلى موضوعات (نقد السنة)، وما يصلح أن يخص برسالة علمية.
وسيرى القارئ الكريم في هذه الأبحاث ازدحام المعلومات، وتشعبها، فقد أجهدني كثيرا التفكير في كيفية عرضها واختصارها دون الإخلال بشيء منها، وأرجو أن أكون قد وفقت لذلك.
ومن أجل إفادة القارئ التزمت أن أذكر في كل موضوع من هذه الأبحاث ما كتب فيه قبلي، وأختار لذلك المكان المناسب للحديث عنه.
فالسبب إذن فيما يظن أنه تطويل جاء من حصر موضوعات (نقد السنة) في سلسلة واحدة، والحرص على البحث فيها كلها، دقيقها وجليلها، ما أمكن ذلك.
وكان بالإمكان أن تخرج هذه الأبحاث متفرقة، فأحد فصول (الجرح والتعديل)، أو مباحثه يخرج ببحث مستقل، يعقبه آخر في (مقارنة المرويات) مثلاً، وهكذا بصورة عشوائية، غير أنني آثرت إخراجها متكاملة متسلسلة لأمر أقصده، وهو علاج ما رأيته من خلل ظاهر في نقد السنة عند الباحثين، سببه الصورة الجزئية التي يكون بها الباحث نفسه، فظهر لدينا من الباحثين من هو متخصص في الجرح والتعديل، ومن هو متخصص في الاتصال والانقطاع، ومن هو متخصص في العلل، وأثر هذا بدوره على ممارسة الباحث للتطبيق العملي، واشتغاله بنقد الأسانيد.
نعم، قد يكون في إكثاري من سرد نصوص النقاد شيء من
এজন্য আমি আশা করি যে, এই গবেষণাগুলোতে এমন কিছু উপাদান থাকবে যা বিশেষজ্ঞ গবেষকদের দৃষ্টি সুন্নাহ সমালোচনা (نقد السنة) সংক্রান্ত বিষয়গুলোর প্রতি উন্মোচিত করবে এবং যা স্বতন্ত্র কোনো বৈজ্ঞানিক থিসিসের বিষয়বস্তু হওয়ার উপযোগী হবে।
সম্মানিত পাঠক এই গবেষণাগুলোতে তথ্যের নিবিড়তা ও এর শাখা-প্রশাখা লক্ষ্য করবেন। কোনো তথ্যগত ত্রুটি ছাড়াই এগুলোকে উপস্থাপন ও সংক্ষেপ করার পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে আমাকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে; আমি আশা করি যে, আমি এই কাজে সফল হতে পেরেছি।
পাঠকদের উপকারের সুবিধার্থে আমি প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে আমার পূর্বে যা কিছু রচিত হয়েছে তা উল্লেখ করার নীতি অনুসরণ করেছি এবং আলোচনার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করেছি।
সুতরাং, যাকে দীর্ঘসূত্রিতা বলে মনে হতে পারে, তার মূল কারণ হলো সুন্নাহ সমালোচনা (نقد السنة) সংক্রান্ত সকল বিষয়কে একটিমাত্র ধারাবাহিকে বিন্যস্ত করা এবং সাধ্যানুযায়ী সেগুলোর সূক্ষ্ম ও বৃহৎ সকল দিক নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া।
এই গবেষণাগুলো পৃথক পৃথকভাবে প্রকাশিত হওয়া সম্ভব ছিল; সেক্ষেত্রে জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل)-এর কোনো একটি অধ্যায় বা এর কোনো একটি আলোচনা স্বতন্ত্র গবেষণা হিসেবে প্রকাশ পেত, যার পর উদাহরণস্বরূপ বর্ণনাসমূহের তুলনা (مقارنة المرويات) সংক্রান্ত বিষয় আসত—এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে চলতে পারত। তবে আমি এগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ধারাবাহিক রূপে প্রকাশ করাকে প্রাধান্য দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে। আর তা হলো গবেষকদের মাঝে সুন্নাহ সমালোচনা (نقد السنة) বা হাদিস পর্যালোচনার ক্ষেত্রে যে স্পষ্ট বিচ্যুতি আমি লক্ষ্য করেছি তার প্রতিকার করা। এই বিচ্যুতির কারণ হলো গবেষকের অর্জিত আংশিক জ্ঞান বা খণ্ডচিত্র; ফলে আমাদের মাঝে এমন অনেক গবেষক দৃষ্টিগোচর হয়েছেন যারা কেবল জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعدিল)-এ বিশেষজ্ঞ, কেউ কেবল সূত্রের সংযোগ (الاتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, আবার কেউ কেবল হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। এটি গবেষকের প্রায়োগিক অনুশীলন এবং সনদ সমালোচনা (نقد الأسانيد) বা সূত্রের পর্যালোচনায় তাঁর নিরন্তর কর্মতৎপরতার ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলেছে।
হ্যাঁ, সমালোচকদের উদ্ধৃতি ও ভাষ্য অধিক হারে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে হয়তো কিছুটা...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
التطويل، وكان بالإمكان الاكتفاء ببعضها، مع أنني قد فعلت ذلك، كما سيلاحظه القارئ في كثرة الإحالة إلى نصوص لم أذكرها، لكن ما ذكرته قد يكون فيه شيء من التطويل، فلا مناص من التسليم بهذا.
ولي غرض أيضا من الإكثار من سرد النصوص، غرض خفي أرجو أن يوليه القارئ اهتمامه، ذلك أن من متطلبات الباحث الجيد في (نقد السنة) أن يعيش في عصر الأئمة عصر النقد، يعيش فيه بروحه وفكره، فكأنه يعيش معهم، ولا سبيل إلى ذلك إلا بالإكثار من قراءة نصوصهم والتشبع بها، ولهذا فقد سرت في بعض الموضوعات بطريقة الاكتفاء بالعرض التاريخي لها، دون استنتاج قواعد يطبقها الباحث، فالغرض إذن وضع الباحث في صورة تقريبية لما يحدث في عصر النقد.
ولهذا السبب أيضًا سرت في نقل النصوص على مبدأ شمول النقل في القضية الواحدة لكافة طبقات النقاد في عصر النقد، ما أمكنني ذلك، مرتبا لهذه النصوص حسب زمن قائليها في الغالب.
الأمر الثاني: سيلاحظ القارئ في هذه السلسلة كثرة الإحالة على ما مضى، وما سيأتي، وأيضا تناول بعض القضايا والتنبيه عليها في أكثر من موضع.
وهذا العمل له ما يبرره، فهو أولاً يغني عن التكرار المؤدي إلى الإطالة، وثانيا -وهو المهم- يبرز شدة الترابط بين موضوعات (نقد السنة)، وأن بعضها مترتب على البعض الآخر، فلا يمكن تناول (الجرح والتعديل)، أو البحث في (الاتصال والانقطاع) بمعزل عن إتقان الموضوعات المتعلقة بـ (مقارنة المرويات) مثلا.
وكمثال على ذلك: البحث في سماع راو من آخر، يتطلب في كثير
দীর্ঘায়ন; এর কিছু অংশেই সন্তুষ্ট থাকা সম্ভব ছিল, যদিও আমি তা-ই করেছি, যা পাঠক লক্ষ করবেন এমন সব পাঠ্যের প্রতি অধিক হাওয়ালার (রেফারেন্সের) মাধ্যমে যা আমি উল্লেখ করিনি। তবে আমি যা উল্লেখ করেছি তাতে হয়তো কিছুটা দীর্ঘায়ন হয়ে থাকতে পারে, তাই এটি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
উদ্ধৃতিগুলো অধিক মাত্রায় বর্ণনার পেছনে আমার আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে; এটি একটি নিগূঢ় উদ্দেশ্য যার প্রতি পাঠক গুরুত্ব দেবেন বলে আমি আশা করি। বিষয়টি হলো, সুন্নাহর সমালোচনা (نقد السنة) এর ক্ষেত্রে একজন দক্ষ গবেষকের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো তিনি যেন ইমামদের যুগে তথা সমালোচনার যুগে (عصر النقد) তাঁর রুহ ও চিন্তা দিয়ে বাস করেন, যেন তিনি তাঁদের সাথেই অবস্থান করছেন। আর তাঁদের উদ্ধৃতিগুলো অধিক পরিমাণে পাঠ করা এবং তাতে নিমগ্ন হওয়া ছাড়া এর কোনো পথ নেই। এ কারণেই আমি কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে কেবল সেগুলোর ঐতিহাসিক উপস্থাপনার পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, কোনো নিয়ম-কানুন উদ্ভাবন না করেই যা একজন গবেষক প্রয়োগ করবেন। সুতরাং উদ্দেশ্য হলো, সমালোচনার যুগে (عصر النقد) কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে গবেষককে একটি আনুমানিক চিত্রের মধ্যে স্থাপন করা।
এই কারণে আমি উদ্ধৃতিগুলো স্থানান্তরের ক্ষেত্রে একটি বিষয়ের ওপর সমালোচনার যুগের সকল স্তরের সমালোচক (نقاد) এর বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করার নীতি অনুসরণ করেছি, যতটুকু আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। আর আমি এই উদ্ধৃতিগুলো সাধারণত বর্ণনাকারীদের কালানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।
দ্বিতীয় বিষয়: পাঠক এই ধারাবাহিকে যা অতিবাহিত হয়েছে এবং যা সামনে আসবে তার ওপর অধিক পরিমাণে হাওয়ালা লক্ষ করবেন, সেই সাথে কিছু বিষয় একাধিক স্থানে আলোচনা ও সেগুলোর ওপর সতর্কীকরণও দেখতে পাবেন।
এই কাজের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে; প্রথমত, এটি দীর্ঘায়নকারী পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা করে এবং দ্বিতীয়ত—যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ—এটি সুন্নাহর সমালোচনা (نقد السنة) এর বিষয়বস্তুসমূহের মধ্যকার গভীর আন্তঃসম্পর্ককে ফুটিয়ে তোলে। এছাড়া এটি প্রকাশ করে যে, একটি বিষয় অন্যটির ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ, ত্রুটি ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (الجرح والتعديل) নিয়ে আলোচনা করা কিংবা সনদের নিরবচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা (الاتصال والانقطاع) বিষয়ে গবেষণা করা সম্ভব নয় বর্ণনাগুলোর পারস্পরিক তুলনা (مقارنة المرويات) সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে পারদর্শিতা অর্জন করা ব্যতিরেকে।
এর উদাহরণ হিসেবে: একজন বর্ণনাকারী (راو) কর্তৃক অন্যজনের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করার বিষয়টি অনুসন্ধানে অনেক ক্ষেত্রেই...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
من الأحيان دراسة مروياته عنه، ودراستها تتطلب النظر في الطرق إليه، من جهة درجة الرواة، ومن جهة المقارنة بينهم فيما لو وقع اختلاف في تصريح بالتحديث، فاحتجنا حينئذٍ إلى (الجرح والتعديل) واحتجنا إلى (مقارنة المرويات).
واتضح من هذا المثال أن مباحث (الاتصال والانقطاع) لا تعتمد فقط على علم التاريخ كالولادة والوفاة، والسن، والبلد، والرحلات فقط، بل تعتمد أيضًا على (مقارنة المرويات)، وهذا الأخير هو المحك في قدرة الباحث على تناولها، فقد رأيت أحد الباحثين خصص رسالته لأحد الرواة، وسماعه من مشايخه، وأطال فيها جدا، وفي بعضها خالف جماهير النقاد في إثبات سماعه من بعض مشايخه، فلما تأملته وجدت الخلل جاءه من ضعفه في تسخير (علم مقارنة المرويات) أو (علم العلل) لهذا الغرض.
وهنا أمر هام أيضا، وهو أن الباحثين ظلوا زمانا يعتقدون أن (علم العلل) يعتمد على (علم الجرح والتعديل)، فإذا أردنا أن نوازن بين راويين أو أكثر نظرنا في درجة كل راو للموازنة بينهم، وهذا وإن كان فيه شيء من الصحة بالنسبة لنا، لكنه بالنسبة للناقد الأول ليس كذلك، فـ (علم الجرح والتعديل) متولد في غالبه من (مقارنة المرويات)، والصورة المقلوبة في أذهان الباحثين أدت إلى خلل في النقد، فاحتجت في مواضع متعددة إلى شرح هذه القضية، والتنبيه عليها، وبيان مالها من آثار.
الأمر الثالث: تعمدت أن أضيف إلى ما أكتبه أمرا قد يرى غيري أن تركه أولى، وهو ضرب الأمثلة على ما يقع من الباحثين من
মাঝেমধ্যে তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন হয়, আর সেগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁর পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ বা সূত্রগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করা জরুরি। এটি বর্ণনাকারীদের (رواة) মর্তবা এবং যদি সরাসরি শ্রবণের (তহাদ্দিস) বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক তুলনামূলক বিশ্লেষণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করতে হয়। এমতাবস্থায় আমাদের প্রয়োজন পড়ে জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) এবং বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণের (مقارنة المرويات)।
এই উদাহরণ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, সনদের অবিচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা (الاتصال والانقطاع) সংক্রান্ত গবেষণাসমূহ কেবল জন্ম-মৃত্যু, বয়স, দেশ ও সফরের মতো ইতিহাসবিদ্যার ওপর নির্ভর করে না; বরং তা বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণের (مقارنة المرويات) ওপরও নির্ভর করে। গবেষকের এই বিষয়গুলো পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের মাপকাঠি হলো এই শেষোক্ত বিষয়টি। আমি একজন গবেষককে দেখেছি যিনি তাঁর অভিসন্দর্ভটি একজন বর্ণনাকারী (راو) এবং তাঁর উস্তাদদের থেকে তাঁর শ্রবণের (সামা) বিষয়ে নির্দিষ্ট করেছেন এবং এতে তিনি অতি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি তাঁর কতিপয় উস্তাদের থেকে শ্রবণ প্রমাণের বিষয়ে জমহুর সমালোচকগণের (النقاد) বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। আমি যখন এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম, তখন দেখলাম যে এই ত্রুটিটি সৃষ্টি হয়েছে এই উদ্দেশ্যে বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ (مقارنة المرويات) অথবা ইলমুল ইলাল (علم العلل) প্রয়োগে তাঁর দুর্বলতার কারণে।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, আর তা হলো—গবেষকরা দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বাস করে আসছিলেন যে, ইলমুল ইলাল (علم العلل) মূলত জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর ওপর নির্ভরশীল। তাই আমরা যখন দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারীর (رواة) মধ্যে তুলনা করতে চাই, তখন তাদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য আমরা প্রতিটি বর্ণনাকারীর (راو) মর্তবা বিবেচনা করি। যদিও আমাদের ক্ষেত্রে এতে কিছুটা সত্যতা থাকতে পারে, তবে প্রাথমিক যুগের সমালোচকগণের (النقاد) নিকট বিষয়টি এমন ছিল না। কারণ জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ (مقارنة المرويات) থেকেই উদ্ভূত। গবেষকদের মনে এই বিপরীত ধারণাটি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ত্রুটি সৃষ্টি করেছে। তাই বিভিন্ন স্থানে আমার এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করার, এ ব্যাপারে সতর্ক করার এবং এর প্রভাবগুলো বর্ণনা করার প্রয়োজন হয়েছে।
তৃতীয় বিষয়: আমি যা লিখছি তাতে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি বিষয় যুক্ত করেছি যা অন্য কেউ হয়তো বাদ দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করতে পারেন। আর তা হলো গবেষকদের থেকে যা ঘটে থাকে তার উদাহরণ পেশ করা...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أخطاء، جراء إغفال تطبيق القاعدة موضع الحديث، وأقدم عذري عن ذلك هنا، فليس غرضي -بحمد الله تعالى- التشهير بأحد، أو التجني عليه، بل تعمدت إغفال ذكر أسماء المشايخ والباحثين المعاصرين، والابتعاد ما أمكن عن الدلالة عليهم.
وغرضي من ضرب الأمثلة الإسهام في علاج أمر بالغ الخطورة، ألا وهو ضعف نقد السنة النبوية في العصور المتأخرة، خاصة في عصرنا هذا، إذ يمكن القول بأن جهود أئمة النقد الأولين في تنقية المرويات وتصفيتها كادت تذهب سدى، فالأحاديث الموضوعة والمنكرة خرجت من الباب الأمامي، ورجع الكثير منها من الباب الخلفي، ولكن بثوب جديد، ثوب الصحة أو الحسن، فاستقرت في البيت، وانتشرت في الأمة بثوبها الجديد، بحكم تداول الأحكام الجديدة عليها، لسهولة الوصول إليها، وانتشار كتب أصحابها بين الناس، فأصبح إخراجها مرة أخرى يحتاج إلى جهد مضاعف.
وقد سمعت -أثناء كتابتي لهذه المقدمة- أحد المشايخ الفضلاء يتحدث في ندوة عن (العين)، فقدم لكلامه بمقدمة أوضح فيها أنهم لا يقصدون بسرد النصوص في إثبات العين، وأنها حق، تخويف السامع، وإثارة الرعب في نفسه، وهذا كلام جميل، لكن الشيخ الفاضل أورد من ضمن الأحاديث التي فيها إثبات العين حديث جابر: "أكثر من يموت من أمتي -بعد قضاء الله وقدره- من العين"، وأردفه بذكر تصحيح وتحسين بعض الأئمة المتأخرين، وكذا بعض المشايخ المعاصرين.
والسؤال الآن: أي رعب يبث في نفس السامع أعظم مما يبثه هذا
আলোচিত মূলনীতিটি প্রয়োগে অবহেলার কারণে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে, আর আমি সে জন্য এখানে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কেননা—আল্লাহ তাআলার প্রশংসাসহ—আমার উদ্দেশ্য কাউকে হেয় করা বা কারও প্রতি অবিচার করা নয়। বরং আমি সমসাময়িক শাইখ ও গবেষকদের নাম উল্লেখ না করার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি এবং যতটা সম্ভব তাঁদের পরিচয় নির্দেশ করা থেকে বিরত থেকেছি।
উদাহরণসমূহ উপস্থাপনের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়ের সমাধানে সার্থকতা অর্জন করা; আর তা হলো পরবর্তী যুগগুলোতে, বিশেষ করে আমাদের বর্তমান যুগে সুন্নাহর সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের দুর্বলতা। কেননা এটি বলা সম্ভব যে, বর্ণনাগুলো পরিশোধন ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আদি যুগের সমালোচক ইমামগণের প্রচেষ্টা প্রায় বৃথা যেতে বসেছে। কারণ বানোয়াট (الموضوعة) এবং অস্বীকৃত (المنكرة) হাদিসগুলো সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলেও সেগুলোর অনেকগুলোই পেছনের দরজা দিয়ে নতুন পোশাকে ফিরে এসেছে; অর্থাৎ সহিহ (الصحة) কিংবা হাসান (الحسن) হওয়ার পোশাক পরে। অতঃপর সেগুলো উম্মাহর মধ্যে স্থায়ী আসন গেড়েছে এবং নতুন রূপে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণ হলো সেগুলোর ওপর প্রদত্ত নতুন সিদ্ধান্তগুলোর প্রচার, সেগুলোর সহজলভ্যতা এবং জনসাধারণের মধ্যে সেগুলোর লেখকদের কিতাবসমূহের ব্যাপক বিস্তৃতি। তাই এখন সেগুলোকে পুনরায় বর্জন করা দ্বিগুণ পরিশ্রমের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এই ভূমিকাটি লেখার সময় আমি একজন বিশিষ্ট শাইখকে একটি সেমিনারে বদনজর সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছিলাম। তিনি তাঁর আলোচনার প্রারম্ভে একটি ভূমিকা পেশ করে স্পষ্ট করেছিলেন যে, বদনজর সত্য—এটি প্রমাণে বিভিন্ন পাঠ বর্ণনা করার মাধ্যমে তাঁদের উদ্দেশ্য শ্রোতাকে ভীত করা বা তাঁর অন্তরে আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়। এটি একটি চমৎকার বক্তব্য। কিন্তু সেই গুণী শাইখ বদনজর প্রমাণের স্বপক্ষে জাবির (রা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন: "আল্লাহর ফয়সালা ও তকদিরের পর আমার উম্মতের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে, তাদের অধিকাংশই বদনজরের কারণে।" এরপর তিনি পরবর্তী যুগের কিছু ইমাম এবং সেই সাথে কিছু সমসাময়িক শাইখ কর্তৃক হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্ত করা (تصحيح) ও হাসান সাব্যস্ত করা (تحسين)-এর বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
এখন প্রশ্ন হলো: এই বক্তব্যের মাধ্যমে শ্রোতার মনে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, তার চেয়ে বড় আতঙ্ক আর কী হতে পারে?
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحديث؟ مع أنه حديث باطل المتن، منكر الإسناد، لا يصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
(1).
وترى هذا الحديث المنكر يتصدر رسائل عديدة صدرت في هذا الموضوع.
وقد رأيت بعض من تصدى لهذه القضية يذكر أن السبب هو مخالفة المتأخرين لمنهج المتقدمين، واستحداث قواعد لنقد السنة لم تكن معروفة من قبل، فأدى هذا إلى مخالفتهم في الأحكام على الأحاديث، ثم يتعرضون في بيان ذلك لبعض المسائل البارزة، مثل مخالفة الثقة لمن هو أوثق منه، والتفرد، والشد بالطرق.
وتصور كثير من الباحثين أن مجرد تحرير قواعد أئمة النقد في هذه المسائل كفيل بالعودة إلى المنهج الصحيح.
وما يذهب إليه هؤلاء بعض الحقيقة وليس كلها، إذ لا شك أن الابتعاد عن منهج النقاد في هذه المسائل أحد الأسباب الرئيسة لضعف النقد، غير أن هناك مسائل كثيرة سار فيها العمل وفق قواعد وضوابط مخالفة لما عليه أئمة النقد لم يتم إبرازها والحديث عنها، ولها أثر كبير في واقع النقد الآن، منها في الجرح والتعديل، ومنها في الاتصال والانقطاع، وغير ذلك، وقد رأيت بعض من يكثر من الانتساب لمنهج الأوائل في النقد، والعودة إليه، يتخبط في هذه القضايا، وربما ناقض نفسه.
وأهم من ذلك أن الحديث انصب بصورة كاملة على المنهج الذي
--------------------------------------------
...হাদিস? অথচ এটি একটি ভিত্তিহীন মূলপাঠ (باطل المتن) বিশিষ্ট এবং অগ্রহণযোগ্য সনদ (منكر الإسناد) সংবলিত হাদিস, যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ (يصح) নয়
(১)。
আপনি দেখতে পাবেন যে, এই অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিসটি এই বিষয়ে প্রকাশিত বহু পুস্তিকার শুরুতে স্থান পেয়েছে।
আমি দেখেছি, যারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এর কারণ হলো পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের (المتقدمين) পদ্ধতির বিরোধিতা করা এবং সুন্নাহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এমন কিছু নিয়ম উদ্ভাবন করা যা পূর্বে পরিচিত ছিল না। এর ফলে হাদিসের হুকুম বা রায়ের ক্ষেত্রে তাদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। অতঃপর তারা বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা উল্লেখ করেন, যেমন—অধিকতর নির্ভরযোগ্য রাবির বিপরীতে একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) রাবির বিরোধিতা করা, একক বর্ণনা (التفرد), এবং বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী করা (الشد بالطرق)।
অনেক গবেষক মনে করেন যে, এই মাসআলাগুলোতে পর্যালোচক ইমামদের (أئمة النقد) নীতিগুলো কেবল স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করাই সঠিক পদ্ধতিতে ফিরে আসার জন্য যথেষ্ট।
তারা যা মনে করেন তা আংশিক সত্য, পূর্ণাঙ্গ নয়; কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মাসআলাগুলোতে সমালোচকদের পদ্ধতি থেকে দূরে সরে যাওয়া পর্যালোচনার দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ। তবে এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যেখানে পর্যালোচক ইমামদের অনুসৃত নিয়ম ও পদ্ধতির পরিপন্থী পন্থায় কাজ করা হয়েছে, অথচ সেগুলো তুলে ধরা বা আলোচনা করা হয়নি। বর্তমান পর্যালোচনার বাস্তবতায় সেগুলোর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এর মধ্যে কিছু রয়েছে জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) বিষয়ক, আর কিছু রয়েছে সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) বিষয়ক, এছাড়াও আরও অনেক কিছু। আমি দেখেছি, যারা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের পদ্ধতির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা অনেক বেশি জাহির করেন এবং সেই পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন, তাদের কেউ কেউ এই বিষয়গুলোতে বিভ্রান্তিতে পড়েন এবং সম্ভবত নিজের কথারই বিরোধিতা করেন।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আলোচনাটি সম্পূর্ণভাবে সেই পদ্ধতির উপর নিবদ্ধ হয়েছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يطبق في النقد، ولم يتم التعرض للمطبق للمنهج، وقد تبين لي أن مخالفة أحكام أئمة النقد الأولين على الأحاديث ليس السبب في كثير منها مخالفتهم في المنهج، وإنما السبب في الباحث نفسه، ومنهج المتأخرين -حسب قواعده- لو تم تطبيقه بصورة جيدة لضاقت الفجوة في المحصلة النهائية، وهي الحكم على الأحاديث.
فما ذنب منهج المتأخرين في حكم باحث لم يستطع تمييز رواة إسناده أو بعضهم؟ وما ذنب منهج المتأخرين في جمع غفير من الباحثين يصححون ويضعفون دون أن ينظروا أصلا في اتصال الإسناد وانقطاعه؟ .
فالذي أريد التأكيد عليه هنا أننا بحاجة ماسة جدا إلى إعداد باحث متمكن يجيد تطبيق قواعد البحث العلمي ومتطلباته بصفة عامة، والبحث العلمي المتعلق بنقد السنة بصفة خاصة، قد قرأ كثيرا في كتب أئمة النقد، وأعمل نظره وفكره في منهجهم وطريقتهم، ثم تدرب كثيرا أيضا على ممارسة النقد والاشتغال به، يتحلى بالصبر والأناة، يعيش بفكره وعقله دائمًا في قضايا نقد السنة، متابع لما يصدر من أبحاث وكتب تتعلق بفنه الذي يشتغل به، قد أقبل على هذا العلم بنفس تواقة إلى إتقانه، محبة له، يدرك أن المشوار طويل، لا يستطيع المضي فيه من يتعجل قطف الثمرة، قد تكونت لديه -بعد ممارسة طويلة- هيئة نفسية، تمكنه من مشاركة أهل هذا العلم أحكامهم.
وإعداد مثل هذا الباحث يقع العبء الأكبر منه على أساتذة هذا الفن، فيحتاج منهم إلى جهد مضاعف؛ إذ هو قائم على التطبيق والممارسة، وهذا يقتضي الأخذ بيد الباحث، والسير معه برفق وأناة،
এটি সমালোচনার (نقد) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, কিন্তু পদ্ধতি প্রয়োগকারীর বিষয়টি আলোচনা করা হয়নি। আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, হাদিসের ওপর প্রথম যুগের সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামগণের (أئمة النقد) সিদ্ধান্তের সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে বৈপরীত্য দেখা যায়, তার কারণ পদ্ধতিগত পার্থক্য নয়; বরং এর কারণ স্বয়ং গবেষক। আর পরবর্তী যুগের আলেমদের পদ্ধতি (منهج المتأخرين) -এর নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী- যদি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হতো, তবে চূড়ান্ত ফলাফলের ক্ষেত্রে অর্থাৎ হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের (الحكم على الأحاديث) ক্ষেত্রে ব্যবধান সংকুচিত হয়ে আসত।
সুতরাং এমন গবেষকের হুকুম বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের আলেমদের পদ্ধতির (منهج المتأخرين) কী অপরাধ, যে তার সনদের (إسناد) বর্ণনাকারীদের (رواة) বা তাদের আংশিক অংশকে পৃথকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি? আর পরবর্তী যুগের আলেমদের পদ্ধতিরই বা কী দোষ, যখন এক বিশাল সংখ্যক গবেষক সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد) এবং এর বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) সম্পর্কে আদৌ কোনো দৃষ্টিপাত না করেই হাদিসকে সহিহ (تصحيح) ও জঈফ (تضعيف) সাব্যস্ত করেন?
আমি এখানে যে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বলতে চাই তা হলো, আমাদের এমন একজন সুদক্ষ গবেষক তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজন যিনি সাধারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়ম ও এর প্রয়োগে পারদর্শী হবেন, এবং বিশেষভাবে সুন্নাহর সমালোচনার (نقد السنة) সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দক্ষ হবেন। তিনি সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামগণের (أئمة النقد) কিতাবসমূহ প্রচুর পাঠ করেছেন এবং তাঁদের পদ্ধতি ও কর্মপন্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করেছেন। অতঃপর তিনি সমালোচনা (نقد) চর্চা ও এর প্রয়োগে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার গুণে গুণান্বিত হবেন, সুন্নাহর সমালোচনা (نقد السنة) সংক্রান্ত বিষয়াবলীতে সর্বদা স্বীয় চিন্তা ও মেধাকে নিয়োজিত রাখবেন। তিনি তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নতুন নতুন গবেষণা ও প্রকাশিত কিতাবসমূহ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আগ্রহের সাথে এই জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করবেন এবং এটি উপলব্ধি করবেন যে, এই পথ অত্যন্ত দীর্ঘ; ফল পাওয়ার জন্য যারা তাড়াহুড়ো করে তারা এই পথে এগিয়ে যেতে পারে না। দীর্ঘ অনুশীলনের পর তার মাঝে এমন এক চারিত্রিক ও মানসিক সক্ষমতা (هيئة نفسية) তৈরি হবে, যা তাকে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সিদ্ধান্তের সাথে অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা দান করবে।
আর এই ধরনের গবেষক তৈরির মূল দায়িত্ব এই শাস্ত্রের শিক্ষকদের ওপরই ন্যস্ত। এর জন্য তাঁদের পক্ষ থেকে দ্বিগুণ প্রচেষ্টার প্রয়োজন; যেহেতু এই বিষয়টি প্রয়োগ ও অনুশীলনের ওপর নির্ভরশীল। আর এটি দাবি করে গবেষকের হাত ধরে তাকে অত্যন্ত কোমলতা ও ধৈর্য সহকারে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وترويض النفس على تحمّل المشاق والعناء.
وقد رأيت أن الإسهام في تكوين مثل هذا الباحث عن طريق هذه السلسلة في مسائل النقد يمكن أن يتم بدق ناقوس الخطر في ذهنه، وأن الخوض في هذا الفن مزلة قدم، فتعمدت الإكثار من عرض أخطاء الباحثين والمتكلمين على الأحاديث تصحيحا وتضعيفا، ليأخذ الباحث حذره، فيستعد جيدًا لما هو مقبل عليه، ويكون دائم الوجل والخوف وهو يمارس التطبيق العملي.
وأما إذا استمر وضع الباحثين على ما هو عليه فالأمر خطير جدا؛ ذلك أن تطبيق قواعد المتأخرين أسهل بكثير من تطبيق قواعد أئمة النقد الأولين، فقواعد المتأخرين مطردة، يسهل تطبيقها، لا تحتاج إلى إعمال نظر كبير، فإذا كان حال الباحثين الآن الضعف الشديد في تطبيق هذه القواعد فماذا ستكون الحال إذا أراد هذا الباحث -وهو هو لم يتغير- تطبيق قواعد أئمة النقد؟ لا شك أن التخبط سيكون أكبر، والخلل أعظم.
وقد رأيت من خلال رصدي لبعض أعمال الباحثين بوادر ذلك، وأخشى ما أخشاه أن يأتي يوم نتمنى فيه أننا لم نحرك ساكنا، وأننا أبقينا ما كان على ما كان.
الأمر الرابع: من أكبر الأخطاء التي يقع فيها المنتسبون للسنة النبوية، المشتغلون بالنقد وقضاياه: ما استقر في أذهانهم من أن كل دارس لقواعد التصحيح والتضعيف يصبح لديه القدرة على ممارسة النقد، بل سارت الأقسام العلمية المتخصصة في السنة النبوية في الجامعات على إلزام الباحثين -كل الباحثين- بإصدار أحكامهم على ما
এবং কষ্ট ও পরিশ্রম সহ্য করার জন্য নফসের প্রশিক্ষণ প্রদান।
আমি দেখেছি যে, এই সিরিজের মাধ্যমে সমালোচনা (نقد) বিষয়ক মাসআলাগুলোতে এমন একজন গবেষক গঠনে অবদান রাখা তখনই সম্ভব হতে পারে, যখন তার মনে বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে সতর্ক করা হবে। আর এই শাস্ত্রে গভীর প্রবেশ যে পদস্খলনের কারণ হতে পারে তা স্পষ্ট করা হবে। তাই আমি গবেষক এবং হাদিসকে সহিহ (تصحيح) ও জয়িফ (تضعيف) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলোচকদের ভুলগুলো অধিক পরিমাণে উপস্থাপনের ইচ্ছা করেছি, যাতে গবেষক সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন এবং তিনি যে বিষয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন তার জন্য উত্তম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন। আর ব্যবহারিক প্রয়োগের সময় তিনি যেন সর্বদা শঙ্কিত ও ভীত থাকেন।
আর যদি গবেষকদের অবস্থা বর্তমানের ন্যায় চলতে থাকে, তবে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ পরবর্তী যুগের (متأخرين) আলেমদের মূলনীতিসমূহ প্রয়োগ করা প্রথম যুগের সমালোচনা (نقد) শাস্ত্রের ইমামদের মূলনীতি প্রয়োগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। কেননা পরবর্তী যুগের আলেমদের মূলনীতিগুলো সুসংগত, এগুলো প্রয়োগ করা সহজ এবং এতে খুব বেশি চিন্তা-গবেষণার প্রয়োজন হয় না। সুতরাং এই মূলনীতিগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি বর্তমান গবেষকদের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف) হয়, তবে এই গবেষকই—যখন তার মাঝে কোনো পরিবর্তন আসেনি—যখন সমালোচনা (نقد) শাস্ত্রের ইমামদের মূলনীতিগুলো প্রয়োগ করতে চাইবেন, তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে? নিঃসন্দেহে তখন বিভ্রান্তি আরও বড় হবে এবং ত্রুটি হবে আরও ভয়াবহ।
গবেষকদের কিছু কাজ পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে আমি এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখেছি। আমার সবচেয়ে বড় ভয় হয় যে, এমন একদিন আসবে যখন আমরা আফসোস করে বলব যে, আমরা যদি কোনো পদক্ষেপ না নিতাম এবং যা যেমন ছিল তেমনই রেখে দিতাম।
চতুর্থ বিষয়: সুন্নাহর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সমালোচনা (نقد) ও এর তাত্ত্বিক বিষয়াবলি নিয়ে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বড় ভুলগুলোর মধ্যে একটি হলো—তাদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হওয়া যে, সহিহ (تصحيح) ও জয়িফ (تضعيف) সাব্যস্ত করার মূলনীতিসমূহ অধ্যয়নকারী প্রত্যেকেই সমালোচনা (نقد) চর্চা করার সক্ষমতা লাভ করেছেন। বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুন্নাহ বিষয়ক বিশেষায়িত বিভাগগুলো সকল গবেষককেই কোনো বিষয়ের ওপর রায় প্রদানের বাধ্যবাধকতার দিকে পরিচালিত করছে—
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يمر بهم من أحاديث وآثار، لا فرق بين باحث مبتدئ، وباحث متمرس، ونرى من مزايا البحث عن فاحصه ظهور شخصية الباحث في بحثه، ويعنون بذلك نصه على حكم كل رواية تمر به، على حين يوجه نقد لاذع إلى باحث أحجم عن التصريح بأحكامه، أو بعضها، وتعدى هذا إلى المنتسبين لفنون أخرى غير السنة النبوية، كالفقه، والتفسير، والعقيدة.
وأصبح هذا هو العرف السائد في الأوساط العلمية، فما من باحث يتصدى لتحقيق كتاب، أو للكتابة في موضوع ما إلا وتراه يتعاطى نقد الأسانيد، على تفاوت بينهم.
وغير خاف أن مرد ذلك في أغلبه إلى تصور كثير من المشايخ والباحثين سهولة تعاطي نقد السنة، فما هو إلا دراسة كتيب مختصر في المصطلح، ثم العمل بعد ذلك.
ولو كنا في سبيل تعداد المداخل التي ضعف بسببها نقد السنة -وما أكثرها- لكان هذا المدخل في مقدمتها، ولا أتردد لحظة واحدة في وصف هذا التصور بأنه خاطئ تمامًا، وأن من المهم جدا صرف كثير من الجهد في سبيل اطلاع الباحثين من متخصصين وغيرهم على حقيقة الأمر.
وإذا كنا نبذل جهودًا للعودة بالنقد إلى منهجه الصحيح، وشرح هذا المنهج للناس، فإن من المتحتم أن يكون هذا الشرح وهذا البيان يقود إلى علاج الداء الذي وصفته، وإلا فهو شرح وبيان غير واف، وهذه النقطة لم تنفك عن مخيلتي أبدا، منذ مدة طويلة، فقد وضعت في ذهني وأنا أسبر عمل الباحثين وكلماتهم، أن أساهم بقدر المستطاع
তাদের নিকট যে সকল হাদিস ও আসার (آثار) আসে, সে ক্ষেত্রে একজন শিক্ষানবিশ গবেষক এবং একজন অভিজ্ঞ গবেষকের মধ্যে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। আমরা কোনো গবেষণার গুণাবলি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গবেষকের ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশকে একটি মানদণ্ড হিসেবে দেখি; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর নিকট আসা প্রতিটি বর্ণনা (رواية) এর ওপর হুকুম (حكم) প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য। এর বিপরীতে, এমন গবেষকের প্রতি তীব্র সমালোচনা করা হয় যিনি তাঁর সিদ্ধান্ত বা হুকুম (حكم) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে সংকোচ বোধ করেন কিংবা আংশিক ব্যক্ত করেন। এই প্রবণতা সুন্নাহর বাইরের অন্যান্য শাস্ত্র যেমন ফিকহ, তাফসির ও আকীদার অনুসারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে এটিই ইলমি অঙ্গনে প্রচলিত রীতিতে পরিণত হয়েছে। কোনো গবেষকই এখন কোনো গ্রন্থ সম্পাদনা বা কোনো বিষয়ে লেখালেখি করতে গেলে সনদ সমালোচনা (نقد الأسانيد) এর চর্চায় লিপ্ত না হয়ে থাকেন না, যদিও তাদের মধ্যে যোগ্যতার তারতম্য রয়েছে।
এটি অস্পষ্ট নয় যে, এর মূল কারণ হলো অনেক শাইখ ও গবেষকের এমন এক ধারণা যে, সুন্নাহর সমালোচনা করা অত্যন্ত সহজ কাজ। তাদের মতে, এটি কেবল পরিভাষা (المصطلح) শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা পাঠ করা এবং এরপরই কাজ শুরু করে দেওয়া।
সুন্নাহর সমালোচনা দুর্বল হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ রয়েছে—আর তার সংখ্যা অনেক—তা যদি আমরা গণনা করতে চাই, তবে এই ধারণাটিই সবার অগ্রভাগে থাকবে। আমি এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করি না। বিশেষজ্ঞ কিংবা সাধারণ গবেষক—সকলকে এই বিষয়ের প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত করার জন্য প্রচুর প্রচেষ্টা ব্যয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যদি সমালোচনাকে এর সঠিক মানহাজ (منهج) এ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাই এবং মানুষের কাছে এই মানহাজ (منهج) ব্যাখ্যা করি, তবে অনিবার্যভাবে এই ব্যাখ্যা ও বর্ণনাকে আমার উল্লিখিত রোগের নিরাময়ের দিকে নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায়, এই ব্যাখ্যা ও বর্ণনা হবে অপর্যাপ্ত। এই বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে আমার চিন্তার জগৎ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। গবেষকদের কর্মপদ্ধতি ও তাদের বক্তব্যসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সময় আমি মনে মনে সংকল্প করেছি যে, আমি সাধ্যমতো এই বিষয়ে অবদান রাখব।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في العلاج، إن قدر لي الكتابة في قواعد وضوابط النقد.
وعلى هذا فإنني أقول إن من أغراض هذه السلسلة -بالإضافة إلى مساعدة الباحثين في السير على المنهج الصحيح للنقد- أن تسهم في كبح جماح هذا الاندفاع المحموم نحو ممارسة النقد، وأن تصرف قدرا كبيرا من الباحثين عما كانوا يقومون به، أو ما كانوا ينوون القيام به، بعد معرفتهم بصعوبة الأمر، وطول الطريق، وكثرة العقبات، فتبعد من كل مئة باحث تسعا وتسعين، وتبقي واحدا.
ولو قدر لهذه السلسلة أن تفي بهذا الغرض وتؤديه، لكان هذا مكسبا عظيما، أفتخر به، وإن لم يتحقق غيره، ونحن إلى قليل نافع أحوج منا إلى كثير لا فائدة منه.
وتحقيق هذا الغرض أحد الأسباب التي دفعتني إلى الإكثار من ضرب الأمثلة على الأخطاء التي يقع فيها المشتغلون بنقد السنة، وسيرى القارئ الكريم إذا رآها أو شيئا منها أنني غير مبالغ فيما قلته آنفًا.
وتحقيقا لهذا الغرض أيضا سيجد القارئ -وإن كان باحثا متخصصا- أنني ربما تعمقت في بحث بعض القضايا، وأبنت عن الدقة فيها وفي تطبيقها، وأنني عرضت بعض القضايا على طريقة الاختلاف، فهناك أقوال وأدلة ومناقشات، والمقصود بيان أن تحرير قواعد أئمة النقد قد لا يكون متيسرًا دائمًا، فالباحث قبل التطبيق بحاجة إلى أن يكون له اجتهاد في القاعدة التي يطبقها.
الأمر الخامس: قد يقول قائل: إذا كنت تأمل من قراء هذه السلسلة أن يكفوا أو يكف الكثير منهم عن ممارسة النقد فماذا بقي
প্রতিকারের ক্ষেত্রে, যদি আমার পক্ষে সমালোচনার (النقد) নীতিমালা ও নিয়মাবলি বিষয়ে লেখা সম্ভব হয়।
আর এই প্রেক্ষিতে আমি বলছি যে, এই সিরিজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো—গবেষকদের সমালোচনার (النقد) সঠিক পদ্ধতিতে চলতে সহায়তা করার পাশাপাশি—সমালোচনা (النقد) চর্চার এই উন্মত্ত প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা রাখা এবং বহুসংখ্যক গবেষককে তারা যা করছিলেন বা যা করার পরিকল্পনা করছিলেন তা থেকে ফিরিয়ে রাখা—যখন তারা এই বিষয়ের কঠিন দিক, দীর্ঘ পথ এবং অসংখ্য অন্তরায় সম্পর্কে জানতে পারবেন; ফলে এটি প্রতি একশ জন গবেষকের মধ্যে নিরানব্বই জনকেই সরিয়ে দেবে এবং একজনকে অবশিষ্ট রাখবে।
যদি এই সিরিজটি এই উদ্দেশ্য পূর্ণরূপে পালন করতে সক্ষম হয়, তবে এটি হবে এক বিরাট অর্জন যা নিয়ে আমি গর্ববোধ করব, যদিও অন্য কোনো লক্ষ্য অর্জিত না হয়। আমরা উপযোগহীন আধিক্যের চেয়ে স্বল্প পরিমাণ উপকারী বিষয়ের প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী।
এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নই আমাকে সুন্নাহর সমালোচনার (نقد السنة) ক্ষেত্রে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভুলভ্রান্তিগুলোর প্রচুর উদাহরণ দেওয়ার দিকে ধাবিত করেছে। সম্মানিত পাঠক যখন সেগুলো বা তার কোনো অংশ দেখবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে আমি ইতিপূর্বে যা বলেছি তাতে কোনো অতিরঞ্জন করিনি।
এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই পাঠক—এমনকি তিনি বিশেষজ্ঞ গবেষক হলেও—দেখতে পাবেন যে, আমি হয়তো কিছু বিষয়ের আলোচনায় গভীরে প্রবেশ করেছি এবং সেগুলোর সূক্ষ্মতা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা ফুটিয়ে তুলেছি। আমি কিছু বিষয় মতভেদের পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছি, যেখানে রয়েছে বিভিন্ন মতামত, দলিল ও আলোচনা। এর উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, সমালোচক ইমামদের (أئمة النقد) মূলনীতি নির্ধারণ সবসময় সহজসাধ্য নাও হতে পারে। তাই গবেষকের কোনো মূলনীতি প্রয়োগ করার আগে সেই মূলনীতিটি সম্পর্কে নিজস্ব গবেষণালব্ধ বিচারবুদ্ধি (اجتهاد) থাকা প্রয়োজন।
পঞ্চম বিষয়: কেউ হয়তো বলতে পারেন: যদি আপনি এই সিরিজের পাঠকদের নিকট এই আশা করেন যে তারা বা তাদের অনেকেই সমালোচনা (النقد) চর্চা থেকে বিরত থাকবে, তবে আর কী অবশিষ্ট রইল?
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
للمتخصص من عمل يقوم به يميزه عن غيره؟ وأيضا ألا يستفيد القارئ شيئا إيجابيا يطبقه في عمله، فإن ترك النقد أمر سلبي؟.
والجواب عن السؤال الأول ليس هذا موضعه؛ إذ هو يحتاج إلى تفصيل، فقد جمعت -من أجل مساعدة الباحثين- ما يقرب من أربعين عملا منوطة بالباحث غير إصداره الأحكام على الأحاديث، وربما تزيد على ذلك، وفي النية الكتابة فيها في الجزء الأخير من هذه السلسلة.
وأما الجواب عن السؤال الثاني فهو الذي نحتاجه هنا، وسأوضح للقارئ الكريم
ماذا يمكن أن يستفيده الباحث المتخصص من هذه السلسلة وأمثالها غير الحكم على الأحاديث.
ورغبة في عدم تشعب الكلام ألخص هذه الاستفادة في ثلاثة أشياء:
الأول: فهم كلام الأئمة.
نعم، فهم كلام الأئمة، فإذا استطاع الباحث أن يفهم كلام الأئمة فقد فارق الباحث بهذا غير المتخصص، وبيان ذلك أن (علم نقد السنة) كغيره من العلوم، له مصطلحاته، وله لغته، وفهم هذه المصطلحات، وإدراك مراد قائلها بها في النص المعين، مرتبة عالية، لا يبلغها الباحث إلا بعد عناء ومشقة، وصبر وأناة، وإعمال ذهن.
وكلنا نعرف أن الأئمة في عصر النقد يستخدمون المصطلح الواحد في أكثر من معنى، ويستخدمون للمعنى الواحد أكثر من مصطلح، والسياق يوضح المراد.
ثم هؤلاء النقاد كلماتهم في الغالب مختصرة جدًا، يعتمدون في فهمها على أن السائل أو المتلقي واحد منهم، يفهم المراد بأدنى
একজন বিশেষজ্ঞের কি এমন কোনো কাজ রয়েছে যা তাকে অন্যের থেকে আলাদা করে? এবং পাঠক কি এমন কোনো ইতিবাচক দিক থেকে উপকৃত হবেন না যা তিনি তার কাজে প্রয়োগ করবেন? কারণ সমালোচনা (النقد) বর্জন করা একটি নেতিবাচক বিষয়।
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার স্থান এটি নয়; কারণ এটি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। আমি গবেষকদের সহায়তার জন্য হাদিসের ওপর সিদ্ধান্ত (الأحكام) প্রদান ছাড়াও একজন গবেষকের ওপর অর্পিত প্রায় চল্লিশটি কাজ একত্রিত করেছি এবং সম্ভবত এর সংখ্যা আরও বাড়বে। এই সিরিজের শেষ খণ্ডে এ বিষয়ে লেখার নিয়ত রয়েছে।
আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটিই আমাদের এখানে প্রয়োজন। আমি সম্মানিত পাঠকের নিকট স্পষ্ট করব যে, হাদিসের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান ছাড়াও এই সিরিজ ও এর সদৃশ বিষয়গুলো থেকে একজন বিশেষজ্ঞ গবেষক
কী কী উপকার পেতে পারেন।
আলোচনা যাতে দীর্ঘ না হয় সেজন্য আমি এই উপকারিতাসমূহকে তিনটি বিষয়ে সংক্ষেপ করছি:
প্রথম: ইমামগণের বক্তব্য অনুধাবন করা।
হ্যাঁ, ইমামগণের বক্তব্য অনুধাবন করা। যদি একজন গবেষক ইমামগণের বক্তব্য বুঝতে সক্ষম হন, তবে এর মাধ্যমেই তিনি একজন অ-বিশেষজ্ঞ থেকে আলাদা হয়ে যান। এর ব্যাখ্যা হলো, ‘সুন্নাহর সমালোচনা বিদ্যা (علم نقد السنة)’ অন্যান্য বিজ্ঞানের মতোই নিজস্ব পরিভাষা (مصطلحات) ও ভাষা রয়েছে। এই পরিভাষাগুলো (مصطلحات) অনুধাবন করা এবং নির্দিষ্ট পাঠের ক্ষেত্রে বক্তার উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা একটি উচ্চতর স্তর, যা একজন গবেষক অক্লান্ত পরিশ্রম, কষ্ট, ধৈর্য, স্থৈর্য ও মেধার প্রয়োগ ছাড়া অর্জন করতে পারেন না।
আমরা সবাই জানি যে, সমালোচনার যুগের (عصر النقد) ইমামগণ একটি পরিভাষাকে (المصطلح) একাধিক অর্থে ব্যবহার করেন এবং একটি অর্থের জন্য একাধিক পরিভাষা (مصطلح) ব্যবহার করেন; আর প্রেক্ষাপটই উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়।
তদুপরি, এই সমালোচকগণের (النقاد) কথাগুলো সাধারণত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হয়। তারা এগুলো অনুধাবনের ক্ষেত্রে এই বিষয়ের ওপর নির্ভর করেন যে, প্রশ্নকারী বা শ্রোতা তাদেরই একজন, যে সামান্যতম ইশারায় উদ্দেশ্য বুঝে নেবে।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
إشارة، وقد يحتاج النص بالنسبة لغيرهم إلى البحث عنه في مصادر متعددة، والبحث كذلك في روايات أخرى عن الإمام، لعل فيها ما يعين على فهمه، وربما بقي النص محتملاً.
وأهم من ذلك أن كثيرًا من مصطلحاتهم وألفاظهم التي يتداولونها لم تذكر في كتب المصطلح، ولم يوضح معناها، وقد سجلت منها ما يمر بي فبلغت قدرًا لا بأس به، ولا شك أن هناك المزيد.
والذي رأيته أن هناك قصورا واضحا عند كثير من الباحثين في فهم عبارات الأئمة، فهذا باحث ينقل عن إمام أنه يصحح الحديث أو يضعفه، وكلامه ليس كما فهمه الباحث، وأتى الباحث من عدم فهمه للعبارة التي استخدمها الإمام، وماذا يريد بها؟ .
وباحث آخر يمر به حكم إمام على إسناد، ثم يكلف نفسه بتفسير كلام الإمام، فيقول: وهذا هو الذي يعرف في علوم الحديث بكذا، وليس الأمر كما قال.
وأشد ما يكون الخطر في عدم فهم كلام الأئمة إذا أخذ الباحث منه قاعدة للعمل، أو قرر مصطلحًا.
مر أحد الأساتذة الفضلاء بقول يحيى بن سعيد القطان: "ينبغي في صاحب الحديث خصال: يكون ثبت الأخذ، ويفهم ما يقال له، ويبصر الرجال، ثم يتعاهد ذلك"، فعلق الأستاذ على جملة: "ويبصر الرجال" بقوله: "في الجرح والتعديل: ويبصر الرجل، وفسره بقوله: -يعني المحدث-، وهذا يعني أنه ينبغي للسامع أن يرى شيخه وقت السماع، ولعله يقصد الأفضلية فقط، فقد قال ابن الصلاح: يصج السماع ممن هو وراء حجاب
… ".
এটি একটি ইঙ্গিতমাত্র; অন্যদের ক্ষেত্রে এই পাঠ্যটি বোঝার জন্য একাধিক উৎসে অনুসন্ধানের প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে ইমামের অন্যান্য বর্ণনাগুলোও (روايات) অনুসন্ধান করা প্রয়োজন, যাতে সম্ভবত এমন কিছু পাওয়া যায় যা এটি বুঝতে সহায়ক হয়। অন্যথায় পাঠ্যটির অর্থ অস্পষ্ট বা একাধিক সম্ভাবনাময় (محتمل) থেকে যেতে পারে।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁরা যেসব পরিভাষা ও শব্দ ব্যবহার করতেন তার অনেকগুলোই পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত হয়নি এবং সেগুলোর অর্থও স্পষ্ট করা হয়নি। আমার সামনে এ ধরনের যা কিছু এসেছে আমি সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছি এবং তার পরিমাণও বেশ ভালো; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আরও অনেক কিছু বাকি রয়ে গেছে।
আমি যা দেখেছি তা হলো, ইমামদের বক্তব্য বোঝার ক্ষেত্রে অনেক গবেষকের মধ্যেই স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেখা যায়, একজন গবেষক কোনো ইমামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন যে তিনি হাদিসটিকে সঠিক (صحيح) বলছেন অথবা সেটিকে দুর্বল (ضعيف) বলছেন; অথচ ইমামের বক্তব্যটি গবেষক যেমন বুঝেছেন তেমনটি নয়। গবেষক মূলত ইমামের ব্যবহৃত বাক্যটি এবং তিনি তার মাধ্যমে কী বুঝাতে চেয়েছেন তা উপলব্ধি করতে না পারার কারণেই এমনটি ঘটেছে।
আবার অন্য একজন গবেষক কোনো একটি সূত্রের (إسناد) ওপর ইমামের দেওয়া কোনো হুকুম বা সিদ্ধান্তের (حكم) সম্মুখীন হন, এরপর তিনি নিজে থেকে ইমামের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং বলেন: 'হাদিস বিজ্ঞানে (علوم الحديث) এটি অমুক নামে পরিচিত', অথচ বিষয়টি তিনি যা বলেছেন তেমন নয়।
ইমামদের কথা বুঝতে না পারার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ তখন দেখা দেয়, যখন গবেষক সেখান থেকে কোনো কর্মপদ্ধতির মূলনীতি (قاعدة) গ্রহণ করেন অথবা কোনো পরিভাষা (مصطلح) নির্ধারণ করেন।
জনৈক শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানের একটি উক্তি লক্ষ্য করেছেন: "হাদিস বর্ণনাকারীর মধ্যে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত: শ্রবণের ক্ষেত্রে সে হবে সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য (ثبت), তাকে যা বলা হয় তা সে বুঝবে, সে রাবিদের সম্পর্কে পারদর্শী (يبصر الرجال) হবে এবং নিয়মিত তার চর্চা বজায় রাখবে।" এরপর উস্তাদ 'রাবিদের সম্পর্কে পারদর্শী হওয়া' বাক্যটির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রে বাক্যটি হলো 'ব্যক্তিকে দেখা', এবং তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন এই বলে যে—অর্থাৎ মুহাদ্দিস। এর অর্থ হলো, হাদিস শ্রবণকারীর জন্য শ্রবণের সময় তার উস্তাদকে দেখা উচিত; সম্ভবত তিনি এখানে কেবল উত্তম হওয়ার বিষয়টি বুঝিয়েছেন। কেননা ইবনে সালাহ বলেছেন: পর্দার আড়াল থেকে হাদিস শ্রবণ (سماع) করাও সঠিক
… "।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وتفسير الأستاذ لمراد يحيى القطان بعيد جدا، وإنما المقصود بالبصر بالرجال: أي يكون خبيرا بالرواة، ناقدا، يميز بين من يصلح للأخذ عنه، وبين من يترك حديثه.
ونقل أحد الباحثين عن ابن عدي قوله في ثابت البناني: "له حديث كثير، وهو من ثقات المسلمين، وما وقع من حديثه من النكرة فليس ذاك منه، إنما هو من الراوي عنه، لأنه قد روى عنه جماعة ضعفاء ومجهولون، وإنما هو في نفسه إذا روى عمن هو فوقه من مشايخه فهو مستقيم الحديث ثقة"
(1).
علق عليه الباحث بقوله: "
… وهل هذا اللفظ إذا قيل في أحد الرواة يدل على أن الراوي يدلس؟ ليس ذلك ببعيد، لقوله: إذا روى عمن هو فوقه من مشايخه
… ، فإن هذا يدل على أنه يسقط شيخه القريب، ويعنعن عن شيخ بعيد
… ".
وما قاله الباحث فغير سديد، وليس في هذا النص رمي بالتدليس البتة.
وساق أحد الباحثين عدة نصوص عن الأئمة يريد بها إثبات أن الأئمة يكتفون بالمعاصرة وإمكان اللقي لإثبات السماع بين راويين، وكان مما ذكره قول ابن الجُنَيْد: "قلت ليحيى بن معين: حماد بن سلمة دخل الكوفة؟ قال: لا أعلمه دخل الكوفة، قلت: فمن أين لقي هؤلاء؟ قال: قدم عليهم عاصم، وحماد بن أبي سليمان، والحجاج بن أرطاة، قلت: فأين لقي سماك بن حرب؟ قال: عسى لقيه في بعض المواضع،
--------------------------------------------
ইয়াহিয়া আল-কাত্তানের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে উস্তাদের ব্যাখ্যা অত্যন্ত দূরবর্তী। বরং 'রিজাল (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের দূরদৃষ্টি' বলতে উদ্দেশ্য হলো: বর্ণনাকারীদের (الرواة) ব্যাপারে অভিজ্ঞ ও সমালোচক (ناقد) হওয়া, যিনি কার থেকে হাদিস গ্রহণ করা যাবে এবং কাকে বর্জন করতে হবে তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন।
জনৈক গবেষক সাবিত আল-বুনানি সম্পর্কে ইবনে আদির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: "তার প্রচুর হাদিস রয়েছে এবং তিনি মুসলিমদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের (ثقات) অন্তর্ভুক্ত। তার হাদিসের মধ্যে যে অস্বাভাবিকতা (النكرة) পাওয়া যায়, তা তার পক্ষ থেকে নয়, বরং তার থেকে বর্ণনাকারীদের কারণে। কেননা তার থেকে একদল দুর্বল (ضعفاء) এবং অজ্ঞাত (مجهولون) লোক বর্ণনা করেছে। তিনি যখন তার ঊর্ধ্বতন শিক্ষকদের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তিনি নিজে সঠিক হাদিস বর্ণনাকারী (مستقيم الحديث) এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে গণ্য হন"
(১)।
গবেষক এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "
… কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে এই শব্দগুলো বলা হলে তা কি প্রমাণ করে যে ওই বর্ণনাকারী তাদলিস (يدلس) করেন? এটি অসম্ভব নয়, কারণ তার বক্তব্য: 'যখন তিনি তার ঊর্ধ্বতন শিক্ষকদের থেকে বর্ণনা করেন...', এটি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি তার নিকটবর্তী শিক্ষককে বাদ দেন (يسقط) এবং দূরবর্তী শিক্ষকের থেকে আন-আন শব্দে বর্ণনা (يعنعن) করেন
… "।
গবেষক যা বলেছেন তা সঠিক নয় এবং এই পাঠ্যাংশে তাদলিসের (التدليس) কোনো অভিযোগই নেই।
একজন গবেষক ইমামদের থেকে বেশ কিছু উদ্ধৃতি পেশ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, ইমামগণ দুইজন বর্ণনাকারীর মধ্যে হাদিস শ্রবণ (السماع) সাব্যস্ত করার জন্য সমসাময়িকতা (المعاصرة) এবং সাক্ষাতের সম্ভাবনাকেই (إمكان اللقي) যথেষ্ট মনে করেন। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে ইবনুল জুনাইদের একটি বক্তব্য ছিল: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে জিজ্ঞেস করলাম: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ কি কুফায় প্রবেশ করেছিলেন? তিনি বললেন: আমার জানা মতে তিনি কুফায় প্রবেশ করেননি। আমি বললাম: তাহলে তিনি এদের সাথে কোথায় সাক্ষাৎ করলেন? তিনি বললেন: আসিম, হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান এবং হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ তাদের কাছে এসেছিলেন। আমি বললাম: তাহলে সিমাক ইবনে হারবের সাথে কোথায় সাক্ষাৎ হয়েছে? তিনি বললেন: হয়তো কোনো এক স্থানে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولو كان دخل الكوفة لأجاد عنهم"
(1).
كذا استدل الباحث بهذا النص، ونقض هذا الاستدلال لا يحتاج إلى عناء، فالنص بنفسه يدل على أن اللقاء ثابت معروف عند السائل والمجيب، ثم تصريحه بالتحديث عن هؤلاء قد ملأ كتب السنة.
ولست هنا بحاجة إلى التنبيه على أن الخطأ وارد من أي باحث، ولاسيما في النصوص المحتملة، وإنما الذي لا يغتفر أن يكثر من الباحث، أو يكون في نص ظاهر لا يحتاج فهمه إلى عناء.
ومن أجل التدرب على فهم نصوص الأئمة ومصطلحاتهم أكثرت في هذه السلسلة من نقل نصوصهم في كل قضية أتحدث عنها، فالغرض إذن إلى جانب تأكيد المراد، أن يتعود القارئ على قراءة هذه النصوص وفهمها، وتنزيلها موضعها اللائق بها، وربما أحلت القارئ إلى نصوص أخرى متى شعرت بأن في سردها إطالة.
وسيرى القارئ أيضا نماذج من أخطاء الباحثين في فهم كلام الأئمة، سواء في الكلام على حديث معين، أو في تفسير مصطلح، أو في سياق تقرير قاعدة، والغرض منها تنبيه الباحث إلى ضرورة أخذ أهبة الاستعداد حين يقحم نفسه في هذا الأمر، ويراجع النص مرات عديدة قبل أن يجزم بمراد الإمام.
الثاني: تفهم كلام الأئمة.
وتفهم كلامهم غير فهمه، فربما يفهم الباحث كلام الناقد، لكن ذهنه لا يستوعبه، فهو يبدي استغرابه منه، وربما اعتراضه.
--------------------------------------------
"আর তিনি যদি কুফায় প্রবেশ করতেন, তবে তাদের থেকে উত্তমরূপে বর্ণনা করতেন"
(১).
গবেষক এই উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে এভাবেই দলিল পেশ করেছেন। তবে এই দলিলের খণ্ডন করতে কোনো বিশেষ পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই; কেননা উদ্ধৃতিটি নিজেই প্রমাণ করে যে, সাক্ষাৎ সপ্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি প্রশ্নকারী এবং উত্তরদাতার নিকট সুসাব্যস্ত (ثابت) ও সুবিদিত। তাছাড়া, তাঁদের পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা (تحديث) করার ব্যাপারে তাঁর সুস্পষ্ট ঘোষণা সুন্নাহর কিতাবসমূহকে পূর্ণ করে রেখেছে।
কোনো গবেষকের পক্ষ থেকে ভুল হওয়া সম্ভব—বিশেষ করে যে সকল উদ্ধৃতিতে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা (محتمل) থাকে—সে বিষয়ে এখানে সতর্ক করার প্রয়োজন আমি বোধ করছি না। বরং যা অমার্জনীয় তা হলো, গবেষকের পক্ষ থেকে ভুলের আধিক্য ঘটা অথবা এমন কোনো সুস্পষ্ট (ظاهر) উদ্ধৃতিতে ভুল করা যার অর্থ অনুধাবন করতে কোনো কষ্ট হওয়ার কথা নয়।
ইমামগণের মূল বক্তব্য ও তাঁদের পরিভাষাসমূহ (مصطلحات) বোঝার ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে, আমি এই সিরিজে যে বিষয়েই আলোচনা করেছি, সেখানে তাঁদের বক্তব্যসমূহ প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃত করেছি। সুতরাং এর উদ্দেশ্য হলো—কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি—পাঠক যেন এই সকল বক্তব্য পাঠ করা, তা অনুধাবন করা এবং যথোপযুক্ত স্থানে তা প্রয়োগ করার বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। আর যখনই আমি অনুভব করেছি যে বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে, তখন পাঠককে অন্য বক্তব্যের দিকে নির্দেশ করেছি।
পাঠক এখানে ইমামগণের বক্তব্য বোঝার ক্ষেত্রে গবেষকদের ভুলের কিছু নমুনাও দেখতে পাবেন, চাই তা নির্দিষ্ট কোনো হাদিস সম্পর্কে হোক, কিংবা কোনো পরিভাষার (مصطلح) ব্যাখ্যায় হোক, অথবা কোনো মূলনীতি (قاعدة) নির্ধারণের প্রেক্ষাপটে হোক। এর উদ্দেশ্য হলো গবেষককে এই বিষয়ে সতর্ক করা যে, যখন তিনি নিজেকে এই কাজে নিয়োজিত করবেন, তখন যেন প্রয়োজনীয় পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং ইমামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে মূল পাঠটি বারবার পর্যালোচনা করেন।
দ্বিতীয়: ইমামগণের বক্তব্য গভীরভাবে অনুধাবন করা.
আর তাঁদের বক্তব্য গভীরভাবে অনুধাবন করা (تفهم) এবং শুধু সাধারণভাবে বোঝার (فهم) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হতে পারে একজন গবেষক একজন সমালোচকের (ناقد) কথা বুঝতে পেরেছেন, কিন্তু তাঁর মেধা তা পুরোপুরি ধারণ করতে পারছে না; ফলে তিনি এর প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং সম্ভবত আপত্তিও উত্থাপন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا -بكل أسف- كثر جدًا عند الباحثين الذين يتكلمون في التصحيح والتضعيف، وسببه ظاهر، وهو عدم تشبع الباحث بالمنهج الذي ينطلق منه الناقد الأول، وبعد الباحث عن ممارسة النقد وفق ذلك المنهج، فهو ينقل عن النقاد الأوائل -إذا نقل- بغرض رفضه ومناقشته.
وليس المقصود بهذا أن النقاد الأوائل معصومون من الخطأ، فلا يناقشون، وإنما المقصود أن الباحث المتأخر لا يستوعب كلامهم ويناقشه وفق منهجهم، وإنما يقف موقف المستغرب، لعدم التوافق بينهما في قواعد المنهج.
فهذه السلسلة وأمثالها من أغراضها تكوين باحث ذي عقلية نقدية وفق منهج النقاد الأوائل، يستطيع السير معهم، ويهضم كلماتهم، ويستسيغها، وهذا ما يعبر عنه بعض الأئمة بـ (ذوق أهل الفن)، ويعبر عنه بعضهم بـ (القدرة على مشاركة أهل الفن)، كما قال السخاوي في الفرق بين الصنفين، المقتدر، وغير المقتدر: "وهو (أي التعليل) أمر يهجم على قلوبهم لا يمكنهم رده، وهيئة نفسانية لا معدل لهم عنها، ولهذا ترى الجامع بين الفقه والحديث -كابن خزيمة، والإسماعيلي، والبيهقي، وابن عبد البر- لا ينكر عليهم، بل يشاركهم ويحذو حذوهم، وربما يطالبهم الفقيه أو الأصولي العاري عن الحديث بالأدلة
… "
(1).
ومن المهم جدا هنا أن يدرك الباحث معنى (مشاركة أهل الفن)،
--------------------------------------------
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) এবং দুর্বল সাব্যস্তকরণ (تضعيف) নিয়ে আলোচনা করেন এমন গবেষকদের মাঝে এটি ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। এর কারণও স্পষ্ট, আর তা হলো—পূর্ববর্তী সমালোচকগণ যে পদ্ধতি বা মানহাজ অনুযায়ী অগ্রসর হতেন, সে সম্পর্কে গবেষকের পূর্ণ ব্যুৎপত্তি না থাকা এবং সেই মানহাজ অনুযায়ী সমালোচনা চর্চা থেকে গবেষকের দূরে থাকা। ফলে তিনি যখন পূর্ববর্তী সমালোচকদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন—যদি করেন—তবে তা কেবল প্রত্যাখ্যান ও পর্যালোচনার উদ্দেশ্যেই করে থাকেন।
এর অর্থ এই নয় যে, পূর্ববর্তী সমালোচকগণ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে (معصوم), তাই তাদের নিয়ে আলোচনা করা যাবে না; বরং উদ্দেশ্য হলো, পরবর্তী যুগের গবেষকগণ তাদের বক্তব্য অনুধাবন করেন না এবং তাদের মানহাজ অনুযায়ী তা পর্যালোচনা করেন না। বরং পদ্ধতিগত নিয়মনীতির অমিলের কারণে তিনি কেবল বিস্মিত হওয়ার মতো অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকেন।
সুতরাং এই ধারাবাহিক এবং এই জাতীয় প্রচেষ্টার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো—পূর্ববর্তী সমালোচকদের মানহাজ অনুযায়ী সমালোচনামূলক মননসম্পন্ন এমন একজন গবেষক তৈরি করা, যিনি তাদের সাথে পথ চলতে পারবেন এবং তাদের কথাগুলো হৃদয়ঙ্গম ও গ্রহণ করতে পারবেন। একেই কোনো কোনো ইমাম ‘বিশারদদের রুচিবোধ’ (ذوق أهل الفن) হিসেবে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ কেউ একে ‘বিশারদদের সাথে অংশীদারিত্বের সক্ষমতা’ (القدرة على مشاركة أهل الفن) বলে উল্লেখ করেছেন। যেমনটি সাখাভি দুই শ্রেণির—সক্ষম ও অক্ষমের—মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে ইল্লত বা ত্রুটি নিরূপণ (التعليل) সম্পর্কে বলেছেন: "আর এটি (অর্থাৎ التعليل) এমন একটি বিষয় যা তাদের হৃদয়ে উদয় হয় যা তারা প্রতিহত করতে পারেন না এবং এটি তাদের একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যা থেকে বিচ্যুত হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে ফিকহ ও হাদিসের সমন্বয়কারীগণ—যেমন ইবনে খুজাইমা, ইসমাইলি, বায়হাকি এবং ইবনে আব্দুল বার—তাদের বিরোধিতা করেন না, বরং তাদের সাথে শরিক হন এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তবে হয়তো ফকিহ বা উসুলবিদ, যাদের হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান নেই, তারা তাদের কাছে প্রমাণ দাবি করে বসেন
… "
(১)।
এখানে গবেষকের জন্য ‘বিশারদদের সাথে অংশীদারিত্ব’ (مشاركة أهل الفن)-এর অর্থ অনুধাবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فهي عبارة تطلق في كافة العلوم، فيكثر في تراجم العلماء قولهم فيه: مشارك في الفقه، أو أصول الفقه، أو التفسير، أو اللغة، أو الحديث، ويقولون على سبيل الإجمال: مشارك في كثير من العلوم، أو في علوم أخرى.
ومعنى هذا الوصف أنه ليس من أهل الفن المختصين به، لكنه يستطيع السير معهم، ويعرف مصطلحاتهم، ويفهم لغتهم، ويربط بين أحكامهم وبين قواعدهم التي يسيرون عليها في ذلك العلم، ولكثرة ممارسته لهذه القواعد يستطيع أن يوازن بين أقوالهم عند الاختلاف، ويشرح دليل هذا، ودليل هذا، وفق قواعدهم، وربما شاركهم في الأحكام، فرجح عند الاختلاف، واستدل للراجح، وناقش المرجوح.
والذي أقوله هنا -وأرجو أن يتأمله الباحث جيدا- أننا في هذا العصر في فن (نقد السنة) لا نستطيع تجاوز درجة المشاركة، ومن وصلها بعد جهد طويل وصبر وخبرة واسعة فقد بلغ الغاية.
ووصف المشارك ينبني عليه أشياء في نقد السنة، من أهمها أن أحكام الباحث على الأحاديث إنما تدور حول أحكام أهل النقد الأولين في عصر الرواية، فمهمة الباحث إذن التنقيب الشديد عنها، تصريحا أو تلميحا، فمتى رآهم متفقين على حكم، لم يجز له أن يخالفهم، وإن انقدح في ذهنه غير ذلك، وكذلك إذا وقف على حكم لإمامين أو ثلاثة مثلا لا يصح له أن يخالفهم، بل أقول إنه إذا وقف على حكم واحد منهم ولم يجد له مخالفا لزمه الوقوف عنده.
وإذا وجد الباحث أن الأئمة قد اختلفوا فله عمل في الاستدلال للقولين، إن لم يكونوا فعلوا ذلك، أو بعضهم، والموازنة بين قوليهم،
এটি এমন একটি অভিব্যক্তি যা সকল বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়; আলেমদের জীবনীসমূহের (تراجم) আলোচনায় প্রায়ই বলা হয়: তিনি ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, তাফসির, ভাষা বা হাদিস শাস্ত্রে অংশগ্রহণকারী (مشارك); আবার সামগ্রিকভাবে বলা হয়: তিনি অনেক বিদ্যায় অথবা অন্যান্য বিদ্যায় অংশগ্রহণকারী (مشارك)।
এই বিশেষণের অর্থ হলো তিনি সেই শাস্ত্রের বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত নন, তবে তিনি তাঁদের সাথে চলার সক্ষমতা রাখেন, তাঁদের পরিভাষাগুলো (مصطلحات) জানেন, তাঁদের ভাষা বোঝেন এবং সেই শাস্ত্রে তাঁরা যেসব মূলনীতির (قواعد) ওপর ভিত্তি করে চলেন, সেগুলোর সাথে তাঁদের সিদ্ধান্তসমূহের (أحكام) সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। এই মূলনীতিগুলো অধিক চর্চার কারণে তিনি মতভেদের (اختلاف) সময় তাঁদের বক্তব্যগুলোর মধ্যে তুলনা করতে পারেন এবং তাঁদের মূলনীতি অনুযায়ী একেকজনের দলিলের (دليل) ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এমনকি অনেক সময় তিনি হুকুম বা সিদ্ধান্তের (أحكام) ক্ষেত্রেও তাঁদের সাথে শরিক হন; ফলে মতভেদের (اختلاف) সময় কোনো একটি মতকে প্রাধান্য (رجح) দেন, অগ্রগণ্য (راجح) মতের স্বপক্ষে দলিল প্রদান (استدل) করেন এবং অপ্রধান বা দুর্বল (مرجوح) মতটি নিয়ে আলোচনা করেন।
আমি এখানে যা বলছি—এবং আশা করি গবেষকগণ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করবেন—তা হলো, বর্তমান যুগে সুন্নাহর সমালোচনা (نقد السنة) বিদ্যায় আমরা অংশগ্রহণ (مشاركة) করার স্তর অতিক্রম করতে পারি না। আর দীর্ঘ প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং ব্যাপক অভিজ্ঞতার পর যিনি এই স্তরে পৌঁছাতে পেরেছেন, তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে উপনীত হয়েছেন।
অংশগ্রহণকারী (مشارك) গুণের ওপর সুন্নাহর সমালোচনা (نقد السنة) শাস্ত্রের অনেক কিছু নির্ভর করে। এর মধ্যে প্রধান বিষয় হলো, হাদিসের ওপর গবেষকের সিদ্ধান্তসমূহ (أحكام) মূলত বর্ণনা যুগের (عصر الرواية) আদি সমালোচকদের (أهل النقد) সিদ্ধান্তের চারপাশেই আবর্তিত হয়। সুতরাং গবেষকের কাজ হলো তাঁদের সেই সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে—তা স্পষ্টভাবে (تصريحا) হোক বা ইঙ্গিতমূলকভাবে (تلميحا)—নিবিড় অনুসন্ধান করা। যখনই তিনি দেখবেন যে তাঁরা কোনো একটি সিদ্ধান্তের (حكم) ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তখন তাঁর জন্য তাঁদের বিরোধিতা করা বৈধ হবে না, যদিও তাঁর মনে অন্য কোনো চিন্তার উদয় হয়। একইভাবে তিনি যদি উদাহরণস্বরূপ দুই বা তিনজন ইমামের কোনো সিদ্ধান্তের (حكم) কথা জানতে পারেন, তবে তাঁর জন্য তাঁদের বিরোধিতা করা সঠিক হবে না। বরং আমি বলব, যদি তিনি তাঁদের মধ্য থেকে কেবল একজনের সিদ্ধান্তের (حكم) কথাও জানতে পারেন এবং তার কোনো বিরোধী মত না পান, তবে তাঁর জন্য সেই সিদ্ধান্তের ওপরই স্থির থাকা আবশ্যক।
আর গবেষক যদি দেখেন যে ইমামগণ মতভেদ করেছেন (اختلفوا), তবে উভয় মতের স্বপক্ষে দলিল প্রদানের (استدلال) সুযোগ তাঁর রয়েছে—যদি তাঁরা বা তাঁদের কেউ ইতিপূর্বে তা না করে থাকেন—এবং উভয় মতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা বা তুলনা করার সুযোগও তাঁর আছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد يرجح بين القولين إن رأي في نفسه القدرة، وتحمّل تبعة ذلك شرعًا، فحكمه فتوى، يشترط له ما يشترط للفتوى.
وللباحث المشارك نظر في أحاديث لم يقف على حكم للأئمة فيها، بعد أن بذل غاية وسعه في البحث عنه، فيجتهد في الحكم، مطبقا قواعد الأئمة، مستخدما جميع ما يلوح له من قرائن تربطه بأحكامهم.
وهو في كل ذلك معترف بتقصيره، مدرك لمنزلته بالنسبة لأولئك النقاد، مستخدما معهم عبارات الإجلال والإكبار، إن ناقش أحدا منهم ناقشه بأدب واحترام، يطرح رأيه بطريقة تليق بحاله، خائف وجل، مبتعد عن العبارات التي توحي بالثناء على النفس.
وغير خاف أن ما تقدم يحتاج إلى مجاهدة للنفس، وترويض لها، فهي ضعيفة، تواقة لكل ما تظنه يرفع من شأنها، وإن كان بغير حق، فالمتأمل في كتابات بعض الباحثين الذين يتعاطون نقد السنة يرى عجبا: تسامقا وتعالما، وعبارات خشنة في حق الأئمة، لا تليق بآحاد الناس.
ويجد القارئ الكريم في هذه السلسلة ما يعينه على الالتزام بما أرشدته إليه، حيث حرصت في كل موضوع منها على بيان العمل الذي يستطيع الباحث أن يقوم به، وكذلك إبراز منزلة أولئك النقاد، وما اختصوا به، فعلت ذلك في الجرح والتعديل، والاتصال والانقطاع، ومقارنة المرويات، وخصوصًا في هذا الأخير، فقد عقدت فصلا في بيان الوسائل التي كانت في حوزتهم، وفقدت فيمن بعدهم.
كما خصصت قسمًا كاملا من هذه السلسلة للحديث عن أئمة
যদি তিনি নিজের মধ্যে সক্ষমতা অনুভব করেন এবং শরীয়ত অনুযায়ী এর দায়ভার গ্রহণ করেন, তবে তিনি দুটি মতের মধ্যে একটিকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে পারেন। এমতাবস্থায় তাঁর ফয়সালা একটি ফতোয়া হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য সেই সব শর্ত প্রযোজ্য হবে যা ফতোয়ার ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত।
সহযোগী গবেষকের এমন সব হাদিসের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে তিনি ইমামদের কোনো সিদ্ধান্ত পাননি, যদিও তিনি তা অনুসন্ধানে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। এমতাবস্থায় তিনি ইমামদের মূলনীতিসমূহ প্রয়োগ করে এবং তাঁদের সিদ্ধান্তের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার আলামত বা লক্ষণ (قرائن) ব্যবহার করে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করবেন।
আর এই সব কিছুর মাঝে তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করবেন এবং সেই সকল সমালোচক (نقاد) তথা হাদিস বিশারদদের তুলনায় নিজের অবস্থান সম্পর্কে সজাগ থাকবেন। তাঁদের ক্ষেত্রে তিনি উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানসূচক শব্দাবলি ব্যবহার করবেন। যদি তিনি তাঁদের কারো সাথে কোনো বিষয়ে আলোচনা বা দ্বিমত পোষণ করেন, তবে তা অত্যন্ত আদব ও শ্রদ্ধার সাথে করবেন। তিনি তাঁর মতামত এমনভাবে উপস্থাপন করবেন যা তাঁর নিজের অবস্থানের সাথে মানানসই হয়; তিনি অত্যন্ত ভীত ও সঙ্কুচিত থাকবেন এবং নিজের প্রশংসা প্রকাশ পায় এমন অভিব্যক্তি থেকে দূরে থাকবেন।
এটি অস্পষ্ট নয় যে, উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার জন্য আত্মার কঠোর সাধনা এবং একে বশ করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ মানুষের আত্মা দুর্বল, যা কেবল নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করে এমন সব বিষয়ের প্রতি লালায়িত থাকে, যদিও তা অন্যায্য হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সুন্নাহর সমালোচনা বা পর্যালোচনায় নিয়োজিত কিছু গবেষকের লেখা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি এক বিস্ময়কর চিত্র দেখতে পাবেন: দম্ভ ও পাণ্ডিত্য জাহির করা এবং ইমামগণের শানে এমন রূঢ় শব্দ ব্যবহার করা যা সাধারণ কোনো মানুষের ক্ষেত্রেও সমীচীন নয়।
সম্মানিত পাঠক এই গ্রন্থমালায় এমন কিছু পাবেন যা তাঁকে নির্দেশিত বিষয়গুলো অনুসরণে সহায়তা করবে। কারণ আমি এর প্রতিটি বিষয়ে সেই কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি যা একজন গবেষক সম্পাদন করতে পারেন। পাশাপাশি সেই সকল সমালোচক (نقاد) তথা হাদিস বিশারদদের মর্যাদা এবং তাঁদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তুলেছি। আমি এটি করেছি জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل), নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) ও বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) এবং বর্ণনাগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে। বিশেষত শেষের বিষয়টিতে আমি একটি অধ্যায় রচনা করেছি সেই সকল উপকরণের বর্ণনায় যা তাঁদের করায়ত্ত ছিল কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের নিকট তা নেই।
এছাড়াও আমি এই গ্রন্থমালার একটি পূর্ণাঙ্গ অংশ নির্দিষ্ট করেছি ইমামদের সম্পর্কে আলোচনার জন্য
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
النقد، وعن كتبهم.
الثالث: إتقان عرض التخريج والدراسة.
يغفل كثير من الباحثين الاهتمام بحسن عرض تخريجهم ودراستهم للقارئ، فيجيء العمل مهلهلا، مطولا، متداخلا، كثير التكرار، وهذا يؤدي إلى نقيض مراد الباحث، فلا يفهم القارئ مراده، ولا يتمكن من متابعة أسانيد الحديث ومخارجه.
ولا شك أن حسن العرض وتسلسل المعلومات وترابطها يغني في كثير من الأحيان عن حكم الباحث، فهو يقود القارئ إلى النتيجة دون حاجة إلى تدخل الباحث.
وهناك فرق بين أن يقود حسن العرض وتماسكه وترابطه إلى النتيجة بشكل تلقائي، وهو الذي أعنيه وأقصده، وبين أن يقوم الباحث بعرض التخريج والدراسة ليقود إلى النتيجة التي وضعها في ذهنه للحديث، فتجده يتخبط في المنهج، فكل حديث يعرضه بصورة غير الحديث الآخر.
وحسن عرض التخريج والدراسة يتضمن اختيار المنهج المناسب للتخريج والدراسة من جهة الاختصار والبسط، فبعض البحوث يكون فيها التخريج على الصحابي، ثم ذكر الحكم مختصرا، وبعضها يكون فيه التخريج على مدار الحديث، ثم الكلام عن درجة الحديث، وبعضها يكون فيه التخريج مطولاً، على الطرق والمتابعات، وهذا الأخير أيضا ليس على درجة واحدة في الاختصار والبسط، وللباحثين عدة مسالك في عرضه، يختار منها الباحث ما يناسب بحثه، وما يستطيع أن يقوم به.
সমালোচনা এবং তাদের কিতাবসমূহ থেকে।
তৃতীয়: তাখরিজ (تخريج) এবং গবেষণার উপস্থাপনায় পারদর্শিতা।
অনেক গবেষকই পাঠকের নিকট তাদের তাখরিজ (تخريج) ও গবেষণার উত্তম উপস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দিতে অবহেলা করেন। ফলে কাজটি অগোছালো, দীর্ঘসূত্রিতা সম্পন্ন, জটিলভাবে মিশে যাওয়া এবং প্রচুর পুনরাবৃত্তিযুক্ত হয়ে পড়ে। এটি গবেষকের উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল বয়ে আনে; ফলে পাঠক তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন না এবং হাদিসের সনদসমূহ (أسانيد) ও উৎসসমূহ (مخارج) অনুসরণ করতে সক্ষম হন না।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উত্তম উপস্থাপনা এবং তথ্যের ধারাবাহিকতা ও পারষ্পরিক সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রে গবেষকের সিদ্ধান্তের (حكم) প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। কারণ এটি গবেষকের হস্তক্ষেপ ছাড়াই পাঠককে একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের দিকে নিয়ে যায়।
তবে উত্তম উপস্থাপনা, এর সুসংহতি ও নিবিড়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ফলাফলে উপনীত হওয়া—যা আমার উদ্দেশ্য—এবং কোনো গবেষক নিজের মনে হাদিস সম্পর্কে আগে থেকেই স্থির করা কোনো ফলাফলের দিকে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তাখরিজ (تخريজ) ও গবেষণা উপস্থাপন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এমতাবস্থায় আপনি তাকে পদ্ধতিতে (منهج) বিভ্রান্ত হতে দেখবেন; ফলে তিনি প্রতিটি হাদিসকে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেন।
তাখরিজ (تخريج) ও গবেষণার উত্তম উপস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত হলো সংক্ষেপণ ও বিস্তারিত আলোচনার দিক থেকে তাখরিজ ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি (منهج) নির্বাচন করা। কিছু গবেষণায় সাহাবীর (صحابي) ভিত্তিতে তাখরিজ করা হয় এবং এরপর সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত (حكم) উল্লেখ করা হয়। আবার কোনোটিতে হাদিসের মূল কেন্দ্রবিন্দুর (مدار) ভিত্তিতে তাখরিজ করা হয় এবং এরপর হাদিসের মান (درجة) নিয়ে আলোচনা করা হয়। আবার কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূত্র (طرق) ও সমর্থক বর্ণনার (متابعات) ভিত্তিতে বিস্তারিতভাবে তাখরিজ করা হয়। এই শেষোক্ত বিষয়টিও সংক্ষেপণ ও বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রে এক স্তরের নয়। গবেষকদের নিকট এটি উপস্থাপনের বেশ কিছু পন্থা রয়েছে, যেখান থেকে গবেষক তার গবেষণার জন্য যা উপযুক্ত এবং যা তিনি সম্পাদন করতে সক্ষম, তা নির্বাচন করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وإذا كان التخريج مطولا فستكون الدراسة كذلك، فيفردها الباحث عن التخريج، ولا يخلطها به، ويتقن تلخيص حال الحديث، ثم يعرض موقف الأئمة منه، تصحيحًا وتضعيفًا، ويدلل ويوازن، وربما أقدم على الترجيح.
وإذا كان الباحث قد اختار الترجمة لرواة الإسناد كلهم فيراعي اختيار المنهج المناسب لكل منهم، ويحسن عرض الترجمة، وفق ضوابط علمية معينة.
وهو في كل ذلك يسير وفق ترتيب صحيح للدراسة، يراعي فيه حال الحديث، وما فيه من علل، كما يراعي فيه حين عرض أقوال الأئمة تسلسلهم التاريخي.
وشرح ما تقدم تحته تفاصيل كثيرة، ويحتاج إلى أمثلة تطبيقية، وقد خصصت قسما من هذه السلسلة لشرح عرض التخريج والدراسة، وذلك لما رأيته من أهمية بالغة لذلك، فكم يحز في النفس أن ترى شيخا فاضلا يشارك في هذا العلم، فإذا كتب كتب بعفوية متناهية، فأفسد بحوثه.
وقد ألف أحد المشايخ الفضلاء كتابا جاء في عدة مجلدات، أودع في حواشيه مادة ضخمة جدا، لكنها بعيدة كل البعد عن المنهج الصحيح، فالطرق متداخلة، والدراسة لا تدري أين موضعها، مما أدى إلى تضخم الكتاب بالتراجم، وبالطرق التي لا حاجة إليها، مع سوء في الترتيب والتنسيق.
وأُرسل لي قبل أيام يسيرة جزء لأحد الأساتذة الفضلاء يقع في خمسين صفحة أو تزيد، خصصه لدراسة حديث واحد، وطُلب مني
যদি তাখরিজ (تخريج) দীর্ঘ হয়, তবে পর্যালোচনা (دراسة)-ও সেরূপ হবে। এক্ষেত্রে গবেষক তাখরিজ (تخريج) থেকে পর্যালোচনাকে (دراسة) পৃথক করবেন এবং উভয়ের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটাবেন না। তিনি হাদিসের অবস্থার সারসংক্ষেপকরণে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করবেন, অতঃপর এর ব্যাপারে ইমামগণের অবস্থান তুলে ধরবেন—তা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করা হোক বা জঈফ (ضعيف) সাব্যস্ত করা হোক। তিনি দলিল প্রদান করবেন ও ভারসাম্য রক্ষা করবেন, এবং সম্ভবত প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) দিকে অগ্রসর হবেন।
আর গবেষক যদি সনদের (إسناد) সকল বর্ণনাকারীর (رواة) জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করা বেছে নেন, তবে তিনি তাদের প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি চয়নের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন এবং নির্দিষ্ট ইলমি মানদণ্ড অনুযায়ী সুন্দরভাবে জীবনী (ترجمة) উপস্থাপন করবেন।
এই সবকিছুর ক্ষেত্রে তিনি পর্যালোচনার (دراسة) সঠিক বিন্যাস অনুযায়ী অগ্রসর হবেন, যাতে হাদিসের অবস্থা এবং তাতে বিদ্যমান ইল্লত (علة)-সমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। একইভাবে ইমামগণের মতামত পেশ করার সময় তিনি তাদের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাও রক্ষা করবেন।
উপরে যা আলোচিত হয়েছে তার ব্যাখ্যায় অনেক বিস্তারিত বিষয় রয়েছে এবং এর জন্য প্রায়োগিক উদাহরণের প্রয়োজন। আমি এই সিরিজের একটি অংশ তাখরিজ (تخريج) ও পর্যালোচনা (دراسة) পদ্ধতি ব্যাখ্যা করার জন্য নির্দিষ্ট করেছি, কারণ আমি এর অপরিসীম গুরুত্ব অনুভব করেছি। মনে অত্যন্ত কষ্ট লাগে যখন দেখা যায় যে, একজন বিজ্ঞ শায়খ এই ইলমে অংশগ্রহণ করছেন, কিন্তু যখন তিনি লিখছেন তখন অত্যন্ত অগোছালোভাবে লিখছেন, যা তার গবেষণাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
জনৈক বিজ্ঞ শায়খ কয়েক খণ্ডে একটি কিতাব রচনা করেছেন, যার টীকায় তিনি বিশাল তথ্যভাণ্ডার জমা করেছেন; কিন্তু তা সঠিক পদ্ধতি থেকে অনেক দূরে। সেখানে সূত্রসমূহ (طرق) একটি অন্যটির সাথে মিশে গেছে এবং পর্যালোচনার (دراسة) স্থানটি কোথায় তা বুঝা যায় না। ফলে অপ্রয়োজনীয় জীবনী (ترجمة) ও অপ্রয়োজনীয় সূত্রসমূহ (طرق) দ্বারা কিতাবটি যেমন কলেবরে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি এর বিন্যাস ও সমন্বয়েও ত্রুটি রয়ে গেছে।
কয়েক দিন আগে একজন বিজ্ঞ অধ্যাপকের একটি পুস্তিকা আমার কাছে পাঠানো হয়েছে যা পঞ্চাশ বা তারও বেশি পৃষ্ঠার। তিনি এটি কেবল একটি হাদিসের পর্যালোচনার (دراسة) জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং আমার কাছে চাওয়া হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إبداء الرأي فيه، فلما قرأته رأيت عجبا، معلومات مشتتة، وتطويل لا حاجة له، لا يدري القارئ أول الكلام من آخره، وكان بالإمكان -وفق المنهج الصحيح -أن يقع تخريج هذا الحديث ودراسته في بضع صفحات لا تزيد.
وكنت أكرر دائما للباحثين الذين أشرف على رسائلهم أو أقرأ لهم بحوثهم أن جهدي الأكبر سينصب على تنشئة الباحث وتدريبه على حسن العرض وإتقانه، واختيار المعلومة، ووضعها في مكانها اللائق بها، وتسخيرها لتنسجم مع ما قبلها وما بعدها، والبعد عن الحشو والتطويل، واختيار العبارات المناسبة في المناقشة والاعتراض، فهذا هو الدور الأكبر للمشرف والناقد.
وما عدا ذلك فنحن فيه سواء، بل قد يتفوق الشباب في الوصول إلى المعلومات، والتنقيب عن الطرق، والاجتهاد والبحث.
وتبقى قضية اتباع قواعد المنهج الصحيح في الموازنة والترجيح والحكم، وقد تبين لي أنها فرع عن إتقان عرض التخريج والدراسة، فالباحث متى أتقن ذلك، وكان لديه قراءة يسيرة في قواعد المنهج الصحيح تجده لا يستطيع أن ينفك عن اتباع هذا المنهج، لأنه منهج معلل، منضبط، فالمعلومات التي يعرضها الباحث ويتقن عرضها ستقوده إذن إلى الاختيار الصحيح، وقد جربت هذا مع عدد من الطلاب.
وهذا أوان الشروع في هذه السلسلة، والابتداء -كما تقدم -سيكون بالجرح والتعديل، وهو يشتمل على تمهيد، وأربعة فصول:
الفصل الأول: الحكم على الراوي.
এ বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য; যখন আমি এটি পাঠ করলাম, তখন এক বিস্ময়কর ব্যাপার দেখতে পেলাম। তথ্যগুলো ছিল অগোছালো এবং অনর্থক দীর্ঘায়িত, যেখানে পাঠক আলোচনার শুরু ও শেষ বুঝতে পারবে না। অথচ সঠিক পদ্ধতি অনুযায়ী এই হাদিসের উৎস-নির্দেশ (تخريج) ও এর বিশ্লেষণ মাত্র কয়েক পৃষ্ঠার মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল।
আমি সব সময় সেইসব গবেষকদের নিকট পুনব্যক্ত করতাম, যাদের থিসিস আমি তত্ত্বাবধান করি অথবা যাদের গবেষণা প্রবন্ধ পাঠ করি যে, আমার মূল প্রচেষ্টা নিহিত থাকবে গবেষককে গড়ে তোলা এবং উপস্থাপনার সৌন্দর্য ও নিখুঁতকরণের ওপর তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সাথে সঠিক তথ্য নির্বাচন করা, তা উপযুক্ত স্থানে বিন্যস্ত করা, পূর্বাপর প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, অহেতুক কথা ও দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করা এবং আলোচনা ও আপত্তির ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত শব্দ চয়ন করার প্রশিক্ষণ প্রদান করা। একজন তত্ত্বাবধায়ক ও সমালোচকের মূল ভূমিকা তো এখানেই।
এ ছাড়া অন্য সব বিষয়ে আমরা সমান; এমনকি তথ্য আহরণ, বিভিন্ন সূত্র (الطرق) অনুসন্ধান এবং গবেষণা ও সাধনার ক্ষেত্রে তরুণরা অধিক পারদর্শিতা দেখাতে পারে।
আর বাকি থাকে ভারসাম্য রক্ষা, অগ্রাধিকার প্রদান (الترجيح) এবং সিদ্ধান্ত (الحكم) প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতির নিয়মাবলী অনুসরণের বিষয়টি। আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি মূলত উৎস-নির্দেশ (تخريج) ও গবেষণার সুনিপুণ উপস্থাপনারই একটি শাখা। গবেষক যখন এতে পারদর্শী হন এবং সঠিক পদ্ধতির নিয়মাবলী সম্পর্কে তার নূন্যতম জ্ঞান থাকে, তখন তিনি এই পদ্ধতি অনুসরণ করা থেকে বিচ্যুত হতে পারেন না। কারণ এটি একটি কারণভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি। ফলে গবেষক যে তথ্যগুলো নিপুণভাবে উপস্থাপন করেন, তা তাকে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়। আমি অনেক ছাত্রের ক্ষেত্রে এর সত্যতা যাচাই করেছি।
এখনই এই ধারাবাহিকটি শুরু করার উপযুক্ত সময়। পূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, এর সূচনা হবে জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) তথা বর্ণনাকারীর মূল্যায়ন শাস্ত্রের মাধ্যমে। এটি একটি ভূমিকা ও চারটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যাপারে সিদ্ধান্ত (الحكم) প্রদান।
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني: أحكام النقاد على الرواة ومراتبها.
الفصل الثالث: ضوابط النظر في أحكام النقاد على الرواة.
الفصل الرابع: تمييز رواة الإسناد.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه
إبراهيم بن عبد الله اللاحم
المملكة العربية السعودية
القصيم - بريدة
بريد (شبكة المعلومات)
IBRAHIMALLAHI3@HOTMAIL.COM
দ্বিতীয় অধ্যায়: বর্ণনাকারীদের (رواة) বিষয়ে সমালোচকদের সিদ্ধান্তসমূহ (أحكام) ও সেগুলোর স্তরসমূহ (مراتب)।
তৃতীয় অধ্যায়: বর্ণনাকারীদের (رواة) বিষয়ে সমালোচকদের সিদ্ধান্তসমূহ (أحكام) পর্যালোচনার নীতিমালা (ضوابط)।
চতুর্থ অধ্যায়: সনদের (إسناد) বর্ণনাকারীদের (رواة) শনাক্তকরণ।
আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সহচরদের ওপর।
লিখেছেন
ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম
সৌদি আরব রাজতন্ত্র
আল-কাসিম - বুরাইদাহ
ইমেইল (তথ্য নেটওয়ার্ক)
IBRAHIMALLAHI3@HOTMAIL.COM
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
تمهيداشترط المحدثون في الراوي لقبول روايته شرطين، أحدهما: أن يكون عدلا، والثاني أن يكون ضابطا.
والبحث في عدالة الراوي وضبطه هو ما عرف اصطلاحًا بـ (الجرح والتعديل)، فالجرح معناه الطعن فيهما أو في أحدهما، والتعديل بضد ذلك، أي الحكم بتوافرهما، فهو وإن كان في الأصل ينصرف إلى العدالة فقط إلا أن الاصطلاح جرى على شموله للضبط أيضًا.
و (علم الجرح والتعديل) أحد علوم نقد السنة النبوية، له قواعده وضوابطه وفقهه، وسينتظم هذا القسم بفصوله ومباحثه ما يتعلق بذلك كله، فمن المهم جدا أن يدرك الباحث أن الوصول إلى حكم دقيق على كل راو من رواة أسانيده ليس بالأمر اليسير، لاسيما في هذا الوقت المتأخر؛ إذ قد خلَّف لنا المتكلمون في الجرح والتعديل والمؤلفون فيه كمًا هائلا من المعلومات، سواء منها المتعلق بالقواعد والضوابط، أو المتعلق بكل راو بعينه.
وقبل الشروع في هذا القسم هناك عدد من القضايا التمهيدية التي يحسن بالباحث أن يقف عليها أولاً، لتكون عونا له على السير فيه، وهي ثلاث قضايا:
الأولى: يمكن أن يستدل لهذين الشرطين بنصوص من الكتاب والسنة، مثل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات]، وقوله صلى الله عليه وسلم: "نضر الله امرأ سمع منا حديثًا فحفظه حتى يبلغه، فرب حامل فقه إلى من هو أفقه منه
… "
(1)، وكذلك عمومات الشريعة التي توجب صيانة
--------------------------------------------
ভূমিকামুহাদ্দিসগণ বর্ণনাকারীর (রাবি) বর্ণনা কবুল করার জন্য দু’টি শর্তারোপ করেছেন; একটি হলো: তাকে ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতে হবে এবং দ্বিতীয়টি হলো: তাকে স্মৃতিশক্তির অধিকারী (ضابط) হতে হবে।
বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং স্মৃতিশক্তি (ضبط) নিয়ে গবেষণাই পারিভাষিকভাবে জারহ ও তা’দীল (الجرح والتعديل) নামে পরিচিত। জারহ (الجرح) অর্থ হলো এই দু’টি গুণের ক্ষেত্রে বা যে কোনো একটির ক্ষেত্রে আপত্তি উত্থাপন করা, আর তা’দীল (التعديل) হলো এর বিপরীত, অর্থাৎ বর্ণনাকারীর মধ্যে এই গুণাবলি বিদ্যমান থাকার ফয়সালা প্রদান করা। যদিও শব্দগতভাবে তা’দীল বিষয়টি কেবল ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) দিকে ধাবিত হয়, তবে পারিভাষিকভাবে এটি স্মৃতিশক্তিকেও (ضبط) অন্তর্ভুক্ত করে।
জারহ ও তা’দীল শাস্ত্র (علم الجرح والتعديل) সুন্নাহ পর্যালোচনার অন্যতম একটি বিজ্ঞান, যার নিজস্ব মূলনীতি (قواعد), নিয়মাবলি (ضوابط) এবং প্রজ্ঞা রয়েছে। এই বিভাগটি তার বিভিন্ন অধ্যায় ও আলোচনার মাধ্যমে এই সবকিছুর সমন্বয়ে বিন্যস্ত হবে। গবেষকের জন্য এটি উপলব্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, সনদের প্রত্যেক বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ কোনো কাজ নয়, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে। কারণ, জারহ ও তা’দীল শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ এবং এই বিষয়ের লেখকেরা আমাদের জন্য তথ্যের এক বিশাল ভাণ্ডার রেখে গেছেন, তা হোক মূলনীতি ও নিয়মাবলি সংক্রান্ত অথবা নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনাকারী সংক্রান্ত।
এই বিভাগে প্রবেশের পূর্বে কিছু প্রারম্ভিক বিষয় রয়েছে যা গবেষকের জন্য প্রথমেই জেনে নেওয়া ভালো, যাতে তা এই পথে চলার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। বিষয়গুলো হলো তিনটি:
প্রথমত: এই দু’টি শর্তের স্বপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর দলিল উপস্থাপন করা যায়। যেমন আল্লাহ তা’আলার বাণী: {হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।} [সূরা হুজুরাত], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও সতেজ রাখুন, যে আমাদের কাছ থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা সংরক্ষণ (حفظ) করল যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়। কারণ, অনেক জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার … "
(১)। অনুরূপভাবে শরিয়তের সাধারণ বিধানাবলি যা (সুন্নাহর) রক্ষণাবেক্ষণকে আবশ্যক করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
نقلها عن الكذب والغلط، وأن لا تؤخذ إلا ممن أمن جانبه أن يكذب أو يغلط، كما قال محمد بن سيرين: "إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم"
(1).
وقال بهز بن أسد: "لو أن لرجل على رجل عشرة دراهم لم يستطع أخذها منه إلا بشاهدين عدلين، فدين الله أحق أن يؤخذ من العدول"
(2).
وقال أبو نُعَيْم الفضل بن دُكَيْن: "إنما هي شهادات، وهذا الذي نحن فيه -يعني الحديث- من أعظم الشهادات"
(3).
وقال الخطيب البغدادي: "وقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم بأن في أمته ممن يجيء بعده كذابين، فحذر منهم، ونهى عن قبول رواياتهم، وأعلمنا أن الكذب عليه ليس كالكذب على غيره، فوجب بذلك النظر في أحوال المحدثين، والتفتيش عن أمور الناقلين، احتياطًا للدين، وحفظا للشريعة من تلبيس الملحدين"
(4).
وهذا الشرطان هما أساس نقد السنة، بل هما أساس نقد الأخبار عموما، فمتى كان الناقل لخبر ما مأمونا جانبه من أن يكذب، ضابطا لما يتحمله من أخبار، وجب قبول خبره.
وعند التأمل فإن الثلاثة الشروط الباقية من شروط الحديث الصحيح
--------------------------------------------
(এগুলো) মিথ্যা (كذب) ও ভুল (غلط) থেকে রক্ষা করে বর্ণনা করা এবং এমন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও থেকে গ্রহণ না করা যাকে মিথ্যা বলা বা ভুল করা থেকে নিরাপদ মনে করা হয়। যেমনটি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম (জ্ঞান) দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো"
(১)。
বাহজ ইবনে আসাদ বলেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে দশ দিরহাম পাওনা থাকে, তবে সে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী ব্যতীত তা আদায় করতে পারে না। সুতরাং আল্লাহর দ্বীন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিদের থেকে গ্রহণ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত"
(২)。
আবু নুয়াইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন বলেছেন: "এগুলো তো কেবল সাক্ষ্য (شهادة), আর আমরা যে বিষয়ের মধ্যে আছি —অর্থাৎ হাদিস— তা অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাক্ষ্য"
(৩)。
খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর পরবর্তী সময়ে এমন কিছু চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) আসবে, তাই তিনি তাদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং তাদের বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, তাঁর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করা অন্য কারও ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়। ফলে দ্বীনের সতর্কতাস্বরূপ এবং নাস্তিকদের বিভ্রান্তি থেকে শরিয়তকে রক্ষার উদ্দেশ্যে মুহাদ্দিসগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং বর্ণনাকারীদের বিষয়াদি অনুসন্ধান করা ওয়াজিব হয়ে পড়েছে"
(৪)。
এই শর্ত দুটিই হলো সুন্নাহর সমালোচনার (نقد) মূল ভিত্তি, বরং তা সাধারণভাবে সকল সংবাদ (أخبار) যাচাইয়ের মূল ভিত্তি। সুতরাং যখনই কোনো সংবাদের বর্ণনাকারী মিথ্যা (كذب) বলা থেকে নিরাপদ হন এবং তিনি যা বর্ণনা করছেন তা সংরক্ষণে নির্ভরযোগ্য (ضابط) হন, তখনই তার সংবাদ গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, সহিহ (صحيح) হাদিসের অবশিষ্ট তিনটি শর্ত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জারহু ওয়াত-তাদীল - আল-লাহিম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
-وهي اتصال الإسناد، وخلوه من العلة والشذوذ- ترجع في النهاية إلى هذين الشرطين، فاتصال الإسناد إنما اشترط من أجل معرفة عدالة الناقل وضبطه، إذ قد يكون الساقط غير عدل، أو غير ضابط، واشتراط عدم الشذوذ، وعدم العلة، لأن وجودهما معناه انتفاء الضبط والحفظ، وترجيح وجود خطأ وغلط.
الثانية: تضافرت أقوال الأئمة على اشتراط عدالة الراوي وضبطه، بعبارات مختلفة، مطولة ومختصرة، لكن ليس بالضرورة أن يتم التعبير بهاتين الكلمتين، فكل ما يصدر عن الأئمة من وصف للراوي الذي يقبل حديثه أو الذي لا يقبل مرجعه إلى هاتين الكلمتين، وإنما جرى الالتزام بهما بعد استقرار المصطلحات، وشيوع تدوين (قواعد علوم الحديث).
فمن كلمات الأئمة في ذلك قول عروة بن الزبير: "إني لأسمع الحديث أستحسنه فما يمنعني من ذكره إلا كراهية أن يسمعه سامع فيقتدي به، أسمعه من الرجل لا أثق به، قد حدث به عمن أثق به، وأسمعه من الرجل أثق به، قد حدث به عمن لا أثق به"
(1).
وقال الشافعي: "كان ابن سيرين، وإبراهيم النخعي، وغير واحد من التابعين يذهبون إلى أن لا يقبلوا الحديث إلا عمن عرف وحفظ، وما رأيت أحدا من أهل العلم بالحديث يخالف هذا المذهب، وكان طاوس إذا حدثه رجل حديثا قال: إن كان حدثك حافظ ملي، وإلا فلا تحدث عنه"
(2).
--------------------------------------------
-আর তা হলো নিরবচ্ছিন্ন সনদ (اتصال الإسناد) হওয়া এবং তা ত্রুটি (علة) ও বিচ্যুতি (شذوذ) থেকে মুক্ত থাকা—যা পরিশেষে এই দুটি শর্তের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। কারণ, নিরবচ্ছিন্ন সনদ (اتصال الإسناد) হওয়ার শর্ত এজন্যই আরোপ করা হয়েছে যাতে বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভুলতা (ضبط) সম্পর্কে জানা যায়। কেননা সনদ থেকে বাদ পড়া বর্ণনাকারী (ساقط) হয়তো অ-ন্যায়পরায়ণ (غير عدل) অথবা নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তিতে দুর্বল (غير ضابط) হতে পারেন। আর বিচ্যুতি (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) না থাকার শর্ত একারণে যে, এগুলোর উপস্থিতির অর্থ হলো নির্ভুলতা (ضبط) ও মুখস্থশক্তির (حفظ) অনুপস্থিতি এবং ভুল-ভ্রান্তি বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা প্রবল হওয়া।
দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং নির্ভুলতা (ضبط) শর্ত হওয়ার ব্যাপারে ইমামগণের বিভিন্ন দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত উক্তি সমভাবে বর্ণিত হয়েছে। তবে বিষয়টি এই দুটি শব্দের মাধ্যমেই ব্যক্ত হওয়া আবশ্যক নয়। বরং কোনো বর্ণনাকারী—যার হাদিস গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য—তার গুণাগুণ বর্ণনায় ইমামগণের পক্ষ থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার মূল ভিত্তি হলো এই দুটি শব্দ। পরিভাষাগুলো স্থির হওয়ার পর এবং হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (قواعد علوم الحديث) লিপিবদ্ধ করার প্রচলন হওয়ার পরেই কেবল এই শব্দ দুটির ব্যবহার সুনির্দিষ্টভাবে শুরু হয়।
এ বিষয়ে ইমামগণের বক্তব্যের মধ্যে উরওয়াহ ইবনুল যুবাইরের উক্তিটি উল্লেখযোগ্য: "আমি কোনো একটি হাদিস শুনি যা আমার কাছে ভালো মনে হয়, কিন্তু আমি তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকি শুধুমাত্র এই আশঙ্কায় যে, কোনো শ্রোতা হয়তো তা শুনে সে অনুযায়ী আমল করতে শুরু করবে। অথচ আমি সেটি এমন ব্যক্তির নিকট থেকে শুনেছি যার ওপর আমি আস্থা রাখি না (لا أثق به), যদিও সে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছে যার ওপর আমি আস্থা রাখি (أثق به)। আবার কখনও এমন ব্যক্তির কাছ থেকে শুনি যার ওপর আমি আস্থা রাখি (أثق به), কিন্তু সে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছে যার ওপর আমি আস্থা রাখি না (لا أثق به)"
(১)।
ইমাম শাফেয়ি বলেন: "ইবনে সিরিন, ইব্রাহিম নাখয়ি এবং আরও অনেক তাবেয়ি (تابعين) এমন মত পোষণ করতেন যে, তারা সেই ব্যক্তির বর্ণনা ছাড়া হাদিস গ্রহণ করতেন না যার পরিচয় জানা আছে এবং যার মুখস্থশক্তি (حفظ) স্বীকৃত। আমি হাদিস বিশারদদের কাউকেই এই মতের বিরোধিতা করতে দেখিনি। তাউস (রহ.)-কে যখন কেউ কোনো হাদিস শোনাতেন, তিনি বলতেন: 'যদি তোমাকে কোনো হাফেজ (حافظ) ও দক্ষ (ملي) ব্যক্তি হাদিস শুনিয়ে থাকেন তবেই গ্রহণ করো, অন্যথায় তার থেকে বর্ণনা করো না'"
(২)।
--------------------------------------------