(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: -)
شرح معاني الآثار - ت البهرائجى   (الطحاوي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: شرح معاني الآثار

المؤلف: أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن عبد الملك بن سَلَمة الأزدي الحجري المصري الطحاوي الحنفي (229 - 321 هـ)

حققه وخرج أحاديثه: لطيف الرحمن البهرائجي القاسمي

(محقق على ثلاث عشرة نسخة خطية، ومقابل بكتاب نخب الأفكار للعيني)

الناشر: دار ابن حزم - بيروت، لبنان

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الأجزاء: 10 (9 والفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ربيع الأول 1446

শারহু মা'আনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী   (আত-তাহাবী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: শারহু মা'আনিল আসার

লেখক: আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে সালামাহ আল-আযদী আল-হাজারী আল-মিসরী আত-তাহাবী আল-হানাফী (২২৯ - ৩২১ হিজরি)

তাহকীক ও হাদিস তাখরীজ করেছেন: লতিফুর রহমান আল-বাহরাইজী আল-কাসেমী

(তেরোটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত, এবং আল-আইনী রচিত নুখাবুল আফকার কিতাবের সাথে মিলিয়ে সংশোধিত)

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম - বৈরুত, লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১০ (৯ এবং নির্ঘণ্ট)

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১)
- أ -

 

صورة ما قرظه الفاضل المفتي العلامة المحدث الشيخ سعيد أحمد البالن بوري شيخ الحديث بدار العلوم بديوبند

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على عبده ورسوله نبينا الأمين محمد بن عبد الله المبعوث رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه أجمعين أما بعد

هذا "شرح معاني الآثار" تأليف الإمام الحافظ المحدث الفقيه أبي جعفر أحمد بن محمد بن سلامة الأزدي المصري الطحاوي الحنفي (239) - 322 هـ) معروف ومتداول لدى أهل العلم كان مؤلفه أوحد زمانه علما وزهدا وفقها، وأعلم الناس بجميع مذاهب الفقهاء، وبصيرا بالتصنيف ومجمعا عليه في ثقته وديانته وأمانته، وله يد طولى في علل الحديث وناسخه ومنسوخه، وإليه انتهت رئاسة الحنفية ولم يخلف بعده في ذلك أحدا.

وهذا الكتاب من أنفع مؤلفاته، فائق على غيره، مشتملة على فوائد جسيمة، إذا روى حديثا بطرقه وأسانيده فهو كبحر متلاطم أمواجا، وإذا بحث في مسئلة فقهية فقد ينال منها ما لا ينال غيره وسلك فيه تبعا طريق المحاكمة بين أدلة المسائل الخلافية، يذكر المستدلات جميع ثذم يقرر مذهب أبي حنيفة النعمان - رحمه الله تعالى - ويذكر أسباب
- অ -

 

দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখুল হাদিস, বিশিষ্ট ফকীহ, মুফতি, আল্লামা, মুহাদ্দিস শাইখ সাঈদ আহমদ পালনপুরী কর্তৃক লিখিত প্রশংসাবাণীর অনুলিপি।

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের আমানতদার নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

এই "শরহু মাআনিল আসার" গ্রন্থটি ইমাম, হাফেজ, মুহাদ্দিস, ফকীহ আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন সালামাহ আল-আজদি আল-মিসরি আত-তহাবি আল-হানাফি (২৩৯ - ৩২২ হিজরি)-এর রচনা, যা আলেম সমাজের নিকট সুপরিচিত এবং সমাদৃত। এর লেখক তাঁর সময়ে জ্ঞান, দুনিয়াবিমুখতা এবং ফিকহ শাস্ত্রে অনন্য ছিলেন। তিনি ফকীহগণের সকল মাজহাব সম্পর্কে মানুষের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। গ্রন্থ রচনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী এবং তাঁর বিশ্বস্ততা, ধার্মিকতা ও আমানতদারিতার বিষয়ে সকলেই একমত। হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি এবং নাসিখ-মানসুখ (রহিতকারী ও রহিতকৃত) বিষয়ে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁর মাধ্যমেই হানাফি মাজহাবের শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণতা পায় এবং তাঁর পরে এ ক্ষেত্রে তাঁর সমতুল্য আর কেউ আসেনি।

এই কিতাবটি তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে অন্যতম উপকারী এবং অন্যান্য গ্রন্থের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে; যা বহু গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা বা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে। যখন তিনি কোনো হাদিস এর বিভিন্ন সূত্র ও সনদসহ বর্ণনা করেন, তখন মনে হয় যেন তিনি উত্তাল তরঙ্গমালার এক সুবিশাল সমুদ্র। আর যখন তিনি কোনো ফিকহি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেন, তখন এমন সব সূক্ষ্ম বিষয় উদ্ভাবন করেন যা অন্য কেউ অর্জন করতে পারে না। এতে তিনি মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোর দলিলের মাঝে বিচার-বিশ্লেষণের পথ অবলম্বন করেছেন; তিনি সকল দলিল উল্লেখ করেন এবং অতঃপর ইমাম আবু হানিফা নুমান - রহমাতুল্লাহি আলাইহি - এর মাজহাব সাব্যস্ত করেন এবং এর কারণসমূহ বর্ণনা করেন...
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ২)
- ب -

 

الرجحان ويجيب عما اعترضوا به على أدلة مذهبه إسنادا ومتنا، ورواية ودراية حتى يقتنع به الباحث الفقيه. شرحه العلماء وخرجوا أحاديث والخصوا مضامينه وترجموا رجاله وهو باكورة تصانيفه كما قال القرشي في الجواهر وأخرها بيان مشكل الآثار وموضوعه الرد على الملحدين الزائغين المنكرين لحجية الحديث، ونفي التضاد عن الأحاديث ورفع التعارض فيما بينهما، يقول الطحاوي في سبب تأليفه في مبدأ كتابه: "سألني بعض أصحابنا من أهل العلم أن أضع له كتابا أذكر فيه الآثار المأثورة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الأحكام التي يتوهم أهل الإلحاد والضعفة من أهل الإسلام: أن بعضها ينقض بعضا، لقلة علمهم بناسخها من منسوخها، وما يجب به العمل منها، لما يشهد له من الكتاب الناطق والسنة المجتمع عليها وأجعل لذلك أبوابا أذكر في كل كتاب منها ما فيه من الناسخ والمنسوخ، وتأويل العلماء واحتجاج بعضهم على بعض وإقامة الحجة لم صح عندي قوله منهم بما يصح به مثله من كتاب أو سنة أو إجماع، أو تواتر من أقاويل الصحابة، أو تابعيهم.

وإني نظرت في ذلك، وبحثت عنه بحثا شديدا فاستخرجت منه أبوابا على النحو الذي سأل، وجعلت ذلك كتبا، ذكرت في كل كتاب منها جنسا من تلك الأجناس".
- খ -

 

প্রাধান্য প্রাপ্ত হওয়া এবং তিনি তাঁর মাযহাবের দলীলসমূহের ওপর তাঁরা যে আপত্তি উত্থাপন করেছেন সেগুলোর সনদ ও মতন, বর্ণনা ও উপলব্ধি উভয় দিক থেকে জবাব প্রদান করেন, যাতে ফকীহ গবেষক তাতে আশ্বস্ত হতে পারেন। আলেমগণ এটি ব্যাখ্যা করেছেন, এর হাদীসসমূহের উৎস নির্দেশ করেছেন, এর বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ তৈরি করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদের জীবনী লিখেছেন। আল-কুরাশী 'আল-জাওয়াহির' গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন, এটি ছিল তাঁর প্রথম দিককার রচনা এবং তাঁর সর্বশেষ কাজ হলো 'বায়ানু মুশকিলিল আসার'। এর বিষয়বস্তু হলো সেই বিচ্যুত নাস্তিকদের জবাব দেওয়া যারা হাদীসের প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করে এবং হাদীসসমূহের মধ্যকার বৈপরীত্য দূর করা ও সেগুলোর মধ্যকার আপাত দ্বন্দ্ব নিরসন করা। ইমাম তহাবী তাঁর গ্রন্থের শুরুতে এটি রচনার কারণ সম্পর্কে বলেন: "ইলম অন্বেষণকারী আমাদের এক সাথী আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাঁর জন্য এমন একটি গ্রন্থ রচনা করি যেখানে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিধান সংক্রান্ত এমন সব হাদীস উল্লেখ করব যেগুলোর ক্ষেত্রে নাস্তিকরা এবং মুসলমানদের মধ্যে যারা দুর্বল তারা ধারণা করে যে, এগুলোর একটি অপরটিকে বাতিল করে দেয়। এটি মূলত তাদের নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসূখ (রহিত) এবং যে হাদীসের ওপর আমল করা আবশ্যক সে সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে, যার সপক্ষে সুস্পষ্ট কিতাব এবং সর্বসম্মত সুন্নাহ সাক্ষ্য দেয়। আমি এর জন্য এমন কিছু অধ্যায় বিন্যস্ত করব যেখানে প্রত্যেক অধ্যায়ে নাসিখ ও মানসূখ, আলেমদের ব্যাখ্যা, একে অপরের দলীল খণ্ডন এবং কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা অথবা সাহাবী ও তাবেয়ীদের বক্তব্যের মধ্য থেকে মুতাওয়াতির বর্ণনার মতো শক্তিশালী দলীল দ্বারা যাদের বক্তব্য আমার নিকট সঠিক বলে প্রমাণিত হবে তাদের স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করব।

আমি এ বিষয়ে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেছি এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান চালিয়েছি। ফলে তাঁর চাহিদানুযায়ী বিভিন্ন অধ্যায় আমি আহরণ করেছি এবং সেগুলোকে গ্রন্থে বিন্যস্ত করেছি, যেখানে প্রতিটি খণ্ডে এ জাতীয় বিষয়গুলোর একেকটি শ্রেণি বা প্রকার উল্লেখ করেছি।"
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৩)
- جـ -

 

وملخص ما قاله أن كتابه هذا وضع أصالة للرد على أهل الإلحاد، ولكن يأتي فيه تبعا بالمحاكمة بين أدلة المسائل الخلافية، يسوق الأخبار التي يتمسك بها أهل الخلاف في تلك المسائل ويخرج من بحوثه بعد نقدها إسنادا ومتنا رواية ونظرا بما يقنع به الباحث المصنف، المتبرئ عن التقليد الأعمى.

وقد طبع هذا الكتاب مرارا ولكن النسخ لا تخلو عن السقط والخطأ والتحريف في السند والمتن فقام الأخ الفاضل اللبيب أبرز خرجي الجامعة الإسلامية دار العلوم ديوبند بالهند: لطيف الرحمن البهرائجي - حفظه الله - بتحقيقه وتحريره فقابل المطبوع بأربع عشرة نسخة خطية ونبه على الأخطاء في المطبوع، وخرج الأحاديث من الصحاح والسنن والمسانيد والمعاجم وضبط النص حسب قواعد الإملاء الرائجة، وصحح أسانيد هذا الكتاب ووزع المتن ليكون في متناول الطلاب والعلماء على حد سواء، ويسهل على المستفيدين الاستفادة والأخذ منه

وقد عين مراد الطحاوي بقوله "ذهب قوم" و "خالفهم آخرون" في هامش الكتاب كما سلكت هذا الطريق في "زبدة شرح معاني "الآثار" في كتاب الطهارة، وشرح غريب الحديث، فأصبح هذا الكتاب محققا مخرجا مصححا، مشروحا كلماته الغريبة وهو
- জ -

 

তাঁর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো, তাঁর এই কিতাবটি মূলত নাস্তিক ও ধর্মত্যাগীদের খণ্ডন করার জন্য রচিত হয়েছে; তবে আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে এতে মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোর দলিলের বিচার-বিশ্লেষণও স্থান পেয়েছে। তিনি ওই সকল মাসআলায় ভিন্নমত পোষণকারীদের দলিল হিসেবে পেশকৃত বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করেছেন এবং সেগুলোর সনদ ও মতন বর্ণনা ও যুক্তির নিরিখে পর্যালোচনার পর এমন এক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যা অন্ধ অনুকরণমুক্ত একজন সত্যানুসন্ধানী লেখককে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম।

এই কিতাবটি ইতিপূর্বে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে, কিন্তু এর কপিগুলো সনদ ও মতনের বিচ্যুতি, ভুল এবং বিকৃতি থেকে মুক্ত ছিল না। তাই ভারতের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দের অন্যতম মেধাবী ছাত্র, ফাজেল ও বুদ্ধিদীপ্ত ভাই লতিফুর রহমান বাহরাইচি -আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন- এর তাহকীক ও সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি মুদ্রিত কিতাবটিকে চৌদ্দটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছেন এবং মুদ্রিত কিতাবের ভুলগুলো চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি সিহাহ, সুনান, মাসানিদ ও মু'জাম গ্রন্থাবলি হতে হাদিসগুলোর তাখরীজ করেছেন এবং প্রচলিত বানানরীতি অনুযায়ী মূল পাঠ বিন্যাস করেছেন। তিনি এই কিতাবের সনদসমূহ সংশোধন করেছেন এবং মতনকে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছেন যাতে ছাত্র ও আলেম উভয়ের জন্যই তা সহজবোধ্য হয় এবং পাঠকদের জন্য তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজতর হয়।

তিনি কিতাবের টীকায় ইমাম তহাবীর "একদল মনে করেন" এবং "অন্যরা তাদের বিরোধিতা করেছেন" উক্তিগুলোর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যেমনটি আমি 'কিতাবুত তাহারাত' পর্বে "জুবদাতু শারহি মাআনিল আসার" এবং "শারহু গারিবিল হাদিস" গ্রন্থে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। ফলে এই কিতাবটি এখন একটি তাহকীককৃত, তাখরীজকৃত, সংশোধিত এবং এর কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা সংবলিত কিতাবে পরিণত হয়েছে, আর এটি হলো...
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৪)
- د -

 

سبب لعناية طلبة علم الحديث وعلمائه بهذا الكتاب الذي يندر مثله في المكتبات الإسلامية.

والله أسأل أن يثيب فضيلة المحقق على عمله وأن ينفع به الطلاب وأهل العلم، وأن يجزيه عن الأمة كل خير إنه ولي ذلك والقادر عليه والهادي إلى الصراط المستقيم.

 

وكتبه

سعيد أحمد البالن بوري عفا الله عنه

خادم الحديث النبوي الشريف

بالجامعة الإسلامية دار العلوم ديوبند

28/ 3/ 1440 هـ
- দ -

 

এটিই ইলমে হাদিসের ছাত্র ও আলেমগণের এই কিতাবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের কারণ, যার দৃষ্টান্ত ইসলামী কুতুবখানাগুলোতে বিরল।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন সম্মানিত মুহাক্কিককে তাঁর এই কর্মের জন্য প্রতিদান দান করেন এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজকে উপকৃত করেন, আর উম্মতের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম বিনিময় দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক, এর ওপর সক্ষম এবং সরল পথের দিশারী।

 

এটি লিখেছেন

সাঈদ আহমদ পালনপুরী, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন

খাদেম, হাদিসে নববী (সা.)

জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দেওবন্দ

২৮/ ০৩/ ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: -)
شرح معاني الآثار - ت البهرائجى   (الطحاوي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: شرح معاني الآثار

المؤلف: أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن عبد الملك بن سَلَمة الأزدي الحجري المصري الطحاوي الحنفي (229 - 321 هـ)

حققه وخرج أحاديثه: لطيف الرحمن البهرائجي القاسمي

(محقق على ثلاث عشرة نسخة خطية، ومقابل بكتاب نخب الأفكار للعيني)

الناشر: دار ابن حزم - بيروت، لبنان

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الأجزاء: 10 (9 والفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ربيع الأول 1446

শারহু মাআনিল আসার - তাহকিক: আল-বাহরাইজি   (তহাবি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: শারহু মাআনিল আসার

লেখক: আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে সালামাহ আল-আজদি আল-হাজারি আল-মিসরি আত-তহাবি আল-হানাফি (২২৯ - ৩২১ হিজরি)

তাহকিক ও হাদিস তাখরিজ করেছেন: লতিফুর রহমান আল-বাহরাইজি আল-কাসিমি

(তেরোটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত, এবং আইনি-র নুখাবুল আফকার গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে সংশোধিত)

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম - বৈরুত, লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১০ (৯ এবং সূচিপত্র)

[কিতাবের নম্বর মুদ্রণ অনুযায়ী]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين …

وبعد

فهذا كتاب شرح معاني الآثار، تصنيف الإمام العلامة الحافظ الكبير محدث الديار المصرية وفقيهها أبي جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن سلمة الأزدي الحجري المصري الطحاوي، نضعه بين يدي طلبة العلم الحديث النبوي الشريف ومشائخه، بعد أن حققناه على أصول خطية متقنة، وخرجنا أحاديثه، وتكلمنا عليها قوة وضعفا على نحو تيسير الفائدة منه، وعلى رغبات أهل العلم الذين كانوا يتمنون نشر هذا الكتاب نشرة علمية متقنة على خلاف طبعاتها السابقة المحرفة، سائلين الله أن ينفع به المسلمين، ويجعله ذخرا لنا وسببا للقرب إليه.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীসাথী ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর …

অতপর

এটি হচ্ছে ‘শারহু মাআনী আল-আসার’ গ্রন্থ, যা সংকলন করেছেন ইমাম, আল্লামা, মহান হাফিজ, মিসরীয় ভূখণ্ডের মুহাদ্দিস ও ফকিহ আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ বিন সালামাহ আল-আজদী আল-হাজারী আল-মিসরী আত-তাহাবী। আমরা এটি সম্মানিত নববী হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থী ও শায়খদের সামনে উপস্থাপন করছি, সুনিপুণ মূল পাণ্ডুলিপিসমূহের ভিত্তিতে এটি সম্পাদনা করার পর। আমরা এর হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ করেছি এবং সেগুলোর সবলতা ও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করেছি যাতে এর থেকে উপকার গ্রহণ সহজতর হয়। এটি করা হয়েছে ইলম অন্বেষণকারীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ্য রেখে, যারা এই কিতাবটির পূর্ববর্তী বিকৃত মুদ্রণগুলোর পরিবর্তে একটি সুনিপুণ ইলমি সংস্করণ প্রকাশের তামান্না করতেন। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং একে আমাদের জন্য পরকালের পাথেয় ও তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে দেন।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীসাথীদের ওপর আল্লাহর অনেক অনেক সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌ترجمة المؤلف:

هو أحمد بن محمد سلامة بن سلمة بن بن عبد الملك بن سلمة بن سليم بن سليمان بن جواب الأزدي، ثم الحجري المصري، الطحاوي، الإمام المحدث الفقيه الحنفي الحافظ، أبو جعفر رحمه الله كذا نسبه مسلمة بن قاسم الأندلسي، ونسبه الحافظ ابن عساكر في تاريخه إلى سليم.

ثم الأزدي بفتح الهمزة وسكون الزاء نسبة إلى أزد شنوءة، وهو أزدي الغوث بن نبت بن مالك بن زيد بن كهلان بن سبا، والأزدي نسبة أيضا إلى أزد الحجر، وهي نسبة الطحاوي.

والحجري: بفتح الحاء المهملة، وسكون الجيم، وفي آخره راء مهملة، نسبة إلى ثلاث قبائل، اسم كل واحدة منهم حجر.

أحدهما: حجر نمر وحمير، منهم مختار الحجري، والثانية: حجر رعين، منهم سعيد بن أبي سعيد الحجري، حجر رعين، والثالثة حجر الأزد: منهم أبو جعفر الطحاوي.

والمصري: بكسر الميم وسكون في آخرها راء، نسبة إلى مصر وديارها، سميت بمصر بن بيصر بن حام بن نوح، وينسب إليها كثير من العلماء منهم الليث بن سعد رحمه الله.
লেখকের জীবনী:

তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ সালামাহ বিন সালামাহ বিন আব্দুল মালিক বিন সালামাহ বিন সুলাইম বিন সুলাইমান বিন জাওয়াব আল-আযদি, অতঃপর আল-হাজরি আল-মিসরি, আত-তাহাবি। তিনি ইমাম, মুহাদ্দিস, ফকিহ, হানাফি, হাফিজ, আবু জাফর (রহিমাহুল্লাহ)। মাসলামাহ বিন কাসিম আল-আন্দালুসি তাকে এভাবেই বংশানুক্রমিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর হাফিজ ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে তাকে সুলাইমের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

অতঃপর 'আল-আযদি' হলো হামযার উপরে ফাতহাহ এবং যা-এর উপর সুকুন যোগে—এটি 'আযদ শানুয়াহ'-এর সাথে সম্পর্কিত। তিনি হলেন আযদি আল-গাউস বিন নাবাত বিন মালিক বিন যায়েদ বিন কাহলান বিন সাবা। আযদি শব্দটি 'আযদ আল-হাজর'-এর সাথেও সম্পর্কিত, আর এটাই হলো ইমাম তাহাবির সম্পৃক্ততা।

'আল-হাজরি' হলো নুকতাহীন 'হা' অক্ষরের উপর ফাতহাহ, 'জিম' অক্ষরের উপর সুকুন এবং শেষে নুকতাহীন 'রা' যোগে—এটি তিনটি গোত্রের প্রতি সম্পৃক্ত, যাদের প্রত্যেকের নাম হলো 'হাজর'।

এর মধ্যে প্রথমটি হলো: হাজর নামির ও হিমইয়ার, যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন মুখতার আল-হাজরি। দ্বিতীয়টি হলো: হাজর রুয়াইন, যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সাঈদ বিন আবি সাঈদ আল-হাজরি (হাজর রুয়াইন)। আর তৃতীয়টি হলো: হাজর আল-আযদ, যাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু জাফর আত-তাহাবি।

'আল-মিসরি' হলো 'মিম' অক্ষরের নিচে কাসরাহ এবং শেষে 'রা' অক্ষরের উপর সুকুন যোগে—এটি মিসর ও এর ভূখণ্ডের প্রতি সম্পৃক্ত। এর নামকরণ করা হয়েছে মিসর বিন বাইসার বিন হাম বিন নূহ-এর নামানুসারে। অনেক আলেম নিজেদের এই অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে লাইস বিন সাদ (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৩)
والطحاوي: بفتح الطاء والحاء المهملتين وبعد الألف واو، نسبته إلى قرية تسمى طحا، من أعمال الأشمونين بالصعيد الأدنى، وفي بلاد مصر أيضا ثلاث قرى تسمى طحا، ينسب إليها جماعة من العلماء.

 

‌‌مولده:

اعلم أنه قد اختلف في تاريخ ولادته على أقوال: الأول: أنه ولد سنة تسع وعشرين، قاله ابن خلكان في وفيات الأعيان 6/ 71.

قال أبو سعد السمعاني ولد سنة تسع وعشرين ومئتين، وهو الصحيح، زاد غيره، فقال: ليلة الأحد لعشر خلون من ربيع الأول.

وقال العيني في تقدمته على نخب الأفكار 1/ 76 قال أبو سعيد بن يونس: قال لي الطحاوي رحمه الله: ولدت سنة تسع وعشرين وكذا قاله السمعاني وصححه.

وقال العيني في البناية 7/ 430: ولد سنة تسع وعشرين ومئتين.

وقال ابن كثير في البداية والنهاية 11/ 198: وذكر أبو سعد السمعاني: أنه ولد في سنة تسع وعشرين ومئتين، فعلى هذا يكون قد جاوز التسعين.

وقال ابن النقطة في التقييد (174): ولد سنة تسع وعشرين ومئتين.

وقال ابن الأثير في اللباب في تهذيب الأنساب 1/ 46: ولد سنة تسع وعشرين.
আত-তহাবি: ত্ব এবং হা বর্ণের ওপর ফাতহাহ (জবর) এবং আলিফের পরে ওয়াও যোগে; এটি নিম্ন উচ্চ-মিসরের আশমুনাইনের অন্তর্ভুক্ত 'তহা' নামক একটি গ্রামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। মিশরেও 'তহা' নামে আরও তিনটি গ্রাম রয়েছে, যেগুলোর সাথে একদল আলেম সম্পৃক্ত।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

জেনে রাখুন যে, তাঁর জন্মতারিখ সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। প্রথমটি হলো: তিনি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন; ইবনে খাল্লিকান তাঁর 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' (৬/৭১) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

আবু সা’দ আস-সামআনি বলেছেন যে, তিনি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এটিই সঠিক। অন্য বর্ণনাকারী আরও যোগ করে বলেছেন: রবিউল আউয়াল মাসের দশ তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর রবিবার দিবাগত রাতে।

আল-আইনি তাঁর 'নুখাবুল আফকার'-এর উপক্রমণিকা (১/৭৬)-তে বলেন, আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস বলেছেন: ইমাম তহাবি (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে বলেছেন, "আমি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছি।" আস-সামআনিও অনুরূপ বলেছেন এবং একে সঠিক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আল-আইনি 'আল-বিনায়াহ' (৭/৪৩০)-তে বলেন: তিনি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।

ইবনে কাসির 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ' (১১/১৯৮) গ্রন্থে বলেন: আবু সা’দ আস-সামআনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন; সুতরাং এই হিসাব অনুযায়ী তাঁর বয়স নব্বই বছর অতিক্রম করেছিল।

ইবনুন নুকতাহ 'আত-তাকয়িদ' (১৭৪)-এ বলেছেন: তিনি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।

ইবনুল আসির 'আল-লুবাব ফি তাহযিবিল আনসাব' (১/৪৬) গ্রন্থে বলেন: তিনি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৪)
وقال قاسم بن قطلوبغا في تاج التراجم (100): ولد سنة تسع وعشرين، وقيل تسع وثلاثين.

وقال أدنه وي في طبقات المفسرين: (59) ولد سنة تسع وعشرين، وقيل: تسع وثلاثين ومئتين.

وقال القرشي في الجواهر 1/ 102: ولد سنة تسع وعشرين ومئتين.

وقال محمد الحجوي الفاسي في الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي 2/ 108: ولد سنة تسع وعشرين ومئتين. وهكذا ذكره الكهنوي في الفوائد البهية (320)، وكحالة في معجم المؤلفين 1/ 267.

وقيل ولد سنة تسع وثلاثين ومئتين، ذكره ابن عساكر في تاريخ دمشق 7/ 317 وابن الجوزي في المنتظم 6/ 250، وياقوت الحموي في معجم البلدان 4/ 22، وابن كثير في البداية والنهاية 11/ 174، وابن حجر في اللسان 1/ 274، وابن العماد في شذرات الذهب 2/ 288.

وقيل: ولد سنة ثمان وثلاثين ومئتين، وقد تفرد به ابن خلكان في وفيات الأعيان 1/ 72، والتميمي في الطبقات السنية 2/ 49.

وما يقال لتضعيف القول الأول أنهم لم يراجعوا الأنساب، واعتمدوا في الخطأ والتحريف على الوفيات فهو ادعاء عريض دون دليل عليه.
কাসিম ইবনে কুতলুবুগা 'তাজুত তারাজিম' (১০০)-এ বলেছেন: তিনি উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন, আবার কেউ বলেছেন উনচল্লিশ হিজরিতে।

আদনাবি 'তাবাকাতুল মুফাসসিরিন' (৫৯)-এ বলেছেন: তিনি উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন, আবার বলা হয়েছে: দু'শ উনচল্লিশ হিজরিতে।

আল-কুরাশি 'আল-জাওয়াহির' (১/১০২)-এ বলেছেন: তিনি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।

মুহাম্মদ আল-হাজউয়ি আল-ফাসি 'আল-ফিকর আস-সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি' (২/১০৮)-এ বলেছেন: তিনি দু'শ উনত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। আল-কাহনাভি 'আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ' (৩২০) এবং কাহহালা 'মু'জামুল মুয়াল্লিফিন' (১/২৬৭)-এ এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

আবার বলা হয়েছে, তিনি দু'শ উনচল্লিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন; যা ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' (৭/৩১৭), ইবনুল জাওজি 'আল-মুনতাজাম' (৬/২৫০), ইয়াকুত আল-হামাভি 'মু'জামুল বুলদান' (৪/২২), ইবনে কাসির 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১১/১৭৪), ইবনে হাজার 'আল-লিসান' (১/২৭৪) এবং ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুজ জাহাব' (২/২৮৮)-এ উল্লেখ করেছেন।

এটিও বলা হয়েছে যে: তিনি দু'শ আটত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন, আর এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন ইবনে খাল্লিকান 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' (১/৭২)-এ এবং আত-তামিমি 'আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ' (২/৪৯)-এ।

প্রথম মতটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার জন্য যা বলা হয় যে—তারা বংশবৃত্তান্তের কিতাবগুলো যাচাই করেননি এবং ভুল ও বিকৃতির ক্ষেত্রে মৃত্যুর তারিখের ওপর নির্ভর করেছেন—তা কোনো প্রমাণ ছাড়াই এক বিশাল দাবি মাত্র।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌وفاته:

فقال السمعاني في الأنساب 4/ 73: توفي ليلة الخميس مستهل ذي القعدة سنة إحدى وعشرين وثلاث مئة. انتهى قلت هكذا ذكره ابن القطان في بيان الوهم والإيهام 5/ 640، وابن الأثير في جامع الأصول 12/ 169، والعيني في البناية 7/ 430، وابن الجوزي في المنتظم 6/ 250، وابن خلكان في الوفيات 6/ 71، والذهبي في العبر 2/ 186، وفي تاريخ الإسلام 24/ 77، في السير 15/ 27، وابن كثير في البداية 11/ 174، وشذ من بينهم وجانب الصواب ابن النديم في الفهرست (349) فإنه قال: توفي سنة اثنتين وعشرين وثلاث مئة.

 

‌‌ثناء أهل العلم عليه:

قال تلميذه، مؤرخ مصر أبو سعيد بن يونس، فيما نقله عنه ابن عساكر في تاريخه 7/ 368: كان ثقة ثبتا فقيها عاقلا لم يخلف مثله.

وقال تلميذه الآخر مسلمة بن القاسم الأندلسي في كتاب الصلة، فيما نقله عنه ابن حجر في اللسان 1/ 376: كان ثقة ثبتا جليل القدر فقيه البدن، عالما باختلاف العلماء، بصيرا بالتصنيف.

وقال ابن النديم في الفهرست (349): وكان أوحد زمانه علما وزهدا.
‌তার মৃত্যু:

আস-সামআনী ‘আল-আনসাব’ (৪/৭৩) গ্রন্থে বলেন: তিনি ৩২১ হিজরীর যুল-কাদাহ মাসের শুরুতে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন। (উদ্ধৃতি শেষ)। আমি বলছি, একইভাবে ইবনুল কাত্তান ‘বায়ানুল ওয়াহম ওয়াল ইহাম’ (৫/৬৪০) গ্রন্থে, ইবনুল আসীর ‘জামিওল উসুল’ (১২/১৬৯) গ্রন্থে, আল-আইনী ‘আল-বিনায়াহ’ (৭/৪৩০) গ্রন্থে, ইবনুল জাওযী ‘আল-মুনতাজাম’ (৬/২৫০) গ্রন্থে, ইবনে খাল্লিকান ‘আল-ওয়াফায়াত’ (৬/৭১) গ্রন্থে, আয-যাহাবী ‘আল-ইবার’ (২/১৮৬), ‘তারীখুল ইসলাম’ (২৪/৭৭) ও ‘আস-সিয়ার’ (১৫/২৭) গ্রন্থে এবং ইবনে কাসীর ‘আল-বিদায়াহ’ (১১/১৭৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে নাদীম ‘আল-ফিহরিস্ত’ (৩৪৯) গ্রন্থে তাদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং সঠিক মত থেকে বিচ্যুত হয়েছেন; কেননা তিনি বলেছেন: তিনি ৩২২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

‌‌তার সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

তার ছাত্র, মিসরের ইতিহাসবিদ আবু সাঈদ বিন ইউনুস বলেন—যেমনটি ইবনে আসাকির তার ‘তারীখ’ (৭/৩৬৮) গ্রন্থে তার থেকে বর্ণনা করেছেন—: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ফকীহ ও বুদ্ধিমান; তিনি নিজের মতো আর কাউকে উত্তরসূরি রেখে যাননি।

তার অপর ছাত্র মাসলামাহ বিন কাসিম আল-আন্দালুসী ‘কিতাবুস সিলাহ’ গ্রন্থে বলেন—যেমনটি ইবনে হাজার ‘আল-লিসান’ (১/৩৭৬) গ্রন্থে তার থেকে বর্ণনা করেছেন—: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও জন্মগত ফকীহ; তিনি আলেমদের মতপার্থক্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং গ্রন্থ রচনায় পারদর্শী ছিলেন।

ইবনে নাদীম ‘আল-ফিহরিস্ত’ (৩৪৯) গ্রন্থে বলেন: তিনি জ্ঞান ও যুহদ (পরহেজগারি) পালনে স্বীয় যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله 2/ 897: كان من أعلم الناس بسير القوم وأخبارهم، لأنه كان كوفي المذهب وكان عالما بجميع مذاهب الفقهاء.

وقال أبو يعلى الخليلي في الإرشاد 1/ 431: وللطحاوي كتب مصنفات في الحديث، وكان عالما بالحديث.

وقال الصيمري في أخبار أبي حنيفة وأصحابه (162): إليه انتهت رئاسة الحنفية بمصر.

وقال السمعاني في الأنساب 8/ 218 كان إماما ثقة ثبتا فقيها، عالما لم يخلف مثله.

وقال ابن الجوزي في المنتظم 6/ 250: كان ثبتا فهما عاقلا، وقال ابن الأثير في اللباب في تهذيب الأنساب 2/ 276: كان إماما فقيها من الحنفيين، وكان ثقة ثبتا.

وقال الذهبي في السير 15/ 27 الإمام العلامة الحافظ الكبير محدث الديار المصرية وفقيهها … ثم قال من نظر إلى تواليف هذا الإمام علم محله من العلم وسعة المعرفة.

وقال في تاريخ الإسلام 7/ 439: الفقيه المحدث الحافظ أحد الأعلام، وكان ثقة ثبتا فقيها عاقلا.
ইবনে আবদিল বার 'জামি বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি' (২/৮৯৭) গ্রন্থে বলেন: তিনি সেই কওমের জীবনচরিত ও সংবাদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন, কারণ তিনি কুফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং ফকিহদের সকল মাযহাব সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন।

আবু ইয়ালা আল-খালিলি 'আল-ইরশাদ' (১/৪৩১) গ্রন্থে বলেন: আত-তাহাবীর হাদিস শাস্ত্রে অনেক সংকলিত গ্রন্থ রয়েছে এবং তিনি হাদিস শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন।

আস-সাইমারি 'আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবিহি' (১৬২) গ্রন্থে বলেন: মিশরে হানাফিদের নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই শীর্ষ সীমায় পৌঁছেছিল।

আস-সামআনি 'আল-আনসাব' (৮/২১৮) গ্রন্থে বলেন: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ফকিহ ইমাম এবং এমন এক আলেম ছিলেন যার মতো দ্বিতীয় কেউ ছিল না।

ইবনুল জাওজি 'আল-মুনতাজাম' (৬/২৫০) গ্রন্থে বলেন: তিনি সুদৃঢ়, সমঝদার ও বুদ্ধিমান ছিলেন। ইবনুল আসির 'আল-লুবাব ফি তাহযিবিল আনসাব' (২/২৭৬) গ্রন্থে বলেন: তিনি হানাফিদের মধ্য হতে একজন ইমাম ও ফকিহ ছিলেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছিলেন।

আয-যাহাবি 'আস-সিয়ার' (১৫/২৭) গ্রন্থে বলেন: ইমাম, আল্লামা, সুমহান হাফেজ, মিশর অঞ্চলের মুহাদ্দিস এবং সেখানকার ফকিহ ... অতঃপর তিনি বলেন: যে ব্যক্তি এই ইমামের রচনাবলির দিকে দৃষ্টিপাত করবে, সে ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং জ্ঞানের বিশালতা সম্পর্কে জানতে পারবে।

তিনি 'তারিখুল ইসলাম' (৭/৪৩৯) গ্রন্থে বলেন: ফকিহ, মুহাদ্দিস, হাফেজ এবং বরেণ্য ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ফকিহ ও বুদ্ধিমান ছিলেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৭)
وقال في تذكرة الحفاظ 3/ 808 الإمام العلامة الحافظ صاحب التصانيف البديعة.

وقال في العبر 2/ 186: شيخ الحنفية صنف التصانيف وبرع في الفقه والحديث.

وقال الصفدي في الوافي بالوفيات 8/ 9: كان ثقة نبيلا فقيها، عاقلا، لم يخلف بعده مثله.

وقال اليافعي في مرآة الجنان 2/ 281 برع في الفقه والحديث، وصنف التصانيف المفيدة.

وقال ابن كثير في تاريخه 11/ 147: الفقيه الحنفي صاحب المصنفات المفيدة، الفوائد الغزيرة، وهو أحد الثقات الأثبات والحفاظ الجهابذة.

وقال عبد القادر القرشي في الجواهر المضيئة 1/ 102: أبو جعفر الطحاوي، الفقيه الإمام الحافظ.

وقال المقريزي: الفقيه الحنفي المحدث، أحد الأعلام.

وقال بدر الدين العيني في نخب الأفكار: أما الطحاوي فإنه مجمع عليه في ثقته، وديانته وأمانته، وفضيلته التامة ويده الطولى في الحديث وعلله، وناسخه ومنسوخه، يخلفه في ذلك أحد، ولقد أثنى عليه كل من ذكره من أهل الحديث والتاريخ،
এবং তাযকিরাতুল হুফফায ৩/৮০৮-এ বলা হয়েছে: ইমাম, আল্লামা, হাফেজ এবং অনন্য গ্রন্থসমূহের রচয়িতা।

এবং আল-ইবার ২/১৮৬-এ বলা হয়েছে: হানাফী শায়খ, তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন।

সাফাদী আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৮/৯-এ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, মহৎ, ফকিহ ও বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি নিজের পরে নিজের মতো আর কাউকে রেখে যাননি।

ইয়াফেয়ী মিরাতুল জিনান ২/২৮১-এ বলেছেন: তিনি ফিকহ ও হাদিসে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং অনেক উপকারী গ্রন্থ রচনা করেন।

ইবনে কাসীর তাঁর ইতিহাসে ১১/১৪৭-এ বলেছেন: হানাফী ফকিহ, উপকারী গ্রন্থাবলি ও প্রচুর ইলমি ফায়েদার অধিকারী। তিনি সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং বিজ্ঞ হাফেজদের অন্যতম।

আব্দুল কাদির আল-কুরাশী আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়া ১/১০২-এ বলেছেন: আবু জাফর আত-তাহাবী; ফকিহ, ইমাম ও হাফেজ।

মাকরিজি বলেছেন: হানাফী ফকিহ ও মুহাদ্দিস, অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।

বদরুদ্দিন আল-আইনী নুখাবুল আফকারে বলেছেন: তাহাবীর নির্ভরযোগ্যতা, ধার্মিকতা, আমানতদারিতা এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে সকলে একমত। হাদিস, হাদিসের ত্রুটি (ইলাল), নাসেখ ও মানসুখ শাস্ত্রে তাঁর সুদীর্ঘ হাত (অসামান্য দক্ষতা) ছিল; এ ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। হাদিস বিশারদ এবং ঐতিহাসিকদের মধ্যে যারাই তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন, তারা সকলেই তাঁর প্রশংসা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৮)
كالطبراني، وأبي بكر الخطيب، وأبي عبد الله الحميدي، والحافظ ابن عساكر، وغيرهم من المتقدمين والمتأخرين كالحافظ أبي الحجاج المزي، والحافظ الذهبي، وعماد الدين بن كثير، وغيرهم من أصحاب التصانيف.

وقال ابن تغري بردي في النجوم الزاهرة 3/ 239: الفقيه الحنفي المحدث الحافظ أحد الأعلام، وشيخ الإسلام، وكان إمام عصره بلا مدافعة في الفقه والحديث، واختلاف العلماء، والأحكام، واللغة والنحو … وصنف المصنفات الحسان.

وقال ابن قطلوبغا في تاج التراجم (8) كان ثقة نبيلا فقيها إماما.

وقال السيوطي في طبقات الحفاظ (ص 337): الإمام العلامة الحافظ صاحب التصانيف البديعة … وكان ثقة ثبتا، فقيها لم يخلف بعده.

وقال الداوودي في طبقات المفسرين 1/ 74: الإمام العلامة الحافظ ....

وقال محمود بن سليمان الكفوي في طبقاته إمام جليل القدر مشهور في الآفاق ذكر الجميل مملوء في بطون الأوراق … وكان إماما في الحديث والأخبار … وله تصانيف جليلة معتبرة.

وقال التميمي في الطبقات السنية 2/ 49: الإمام الفقيه، الحافظ، المحدث، صاحب التصانيف الفائقة، والأقوال الرائقة والعلوم الغزيرة، والمناقب الكثيرة.
যেমন তাবরানি, আবু বকর আল-খতিব, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি, হাফিজ ইবন আসাকির এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য আলেমগণ, যেমন হাফিজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযি, হাফিজ আয-যাহাবি, ইমাদ উদ্দিন ইবন কাসির এবং গ্রন্থ রচয়িতা অন্যান্য আলেমগণ।

এবং ইবন তাগরি বারদি 'আন-নুজুম আয-যাহিরা' গ্রন্থে (৩/২৩৯) বলেছেন: তিনি ছিলেন হানাফি ফকিহ, মুহাদ্দিস, হাফিজ, অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী এবং শাইখুল ইসলাম। ফিকহ, হাদিস, ওলামাদের মতপার্থক্য, আহকাম, ভাষা এবং ব্যাকরণ শাস্ত্রে তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম ... এবং তিনি চমৎকার সব গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এবং ইবন কুতলুবুগা 'তাজুত তারাজিম' গ্রন্থে (৮) বলেছেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, মহানুভব, ফকিহ এবং ইমাম।

এবং আস-সুয়ুতি 'তাবাকাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে (পৃ. ৩৩৭) বলেছেন: তিনি ছিলেন ইমাম, আল্লামা, হাফিজ এবং চমৎকার সব গ্রন্থের রচয়িতা ... তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ় ফকিহ, যাঁর মতো আর কেউ তাঁর পরে আসেনি।

এবং আদ-দাউদি 'তাবাকাতুল মুফাসসিরিন' গ্রন্থে (১/৭৪) বলেছেন: ইমাম, আল্লামা, হাফিজ....

এবং মাহমুদ বিন সুলাইমান আল-কাফাবি তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ছিলেন সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ইমাম, দিগন্তজুড়ে সুপরিচিত, যাঁর উত্তম প্রশংসা কিতাবসমূহের পাতায় পাতায় বিদ্যমান ... তিনি হাদিস ও ইতিহাসের ইমাম ছিলেন ... তাঁর রয়েছে অনেকগুলো মর্যাদাপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ।

এবং আত-তামিমি 'আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ' গ্রন্থে (২/৪৯) বলেছেন: তিনি ছিলেন ইমাম, ফকিহ, হাফিজ, মুহাদ্দিস, অনন্য সব গ্রন্থের রচয়িতা, যাঁর বক্তব্যগুলো ছিল অত্যন্ত চমৎকার, যাঁর জ্ঞান ছিল অগাধ এবং যাঁর গুণাবলি ছিল অসংখ্য।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ৯)
وقال ابن العماد الحنبلي في شذرات الذهب 2/ 288: شيخ الحنفية الثقة الثبت برع في الفقه والحديث.

 

‌‌مشائخه:

قال القرشي في الجواهر 1/ 275: سمع الحديث من خلق من المصريين والغرباء القادمين إلى مصر، وتصانيفه تطفح بذكر شيوخه، وجمع بعضهم مشائخه في جزء.

وقال ابن عساكر في تاريخ دمشق 5/ 367 سمع هارون بن سعيد الأيلي، وأبا شريح محمد بن زكريا كاتب العمري، وأبا عثمان بن بشر بن مروان الأزدي، وأبا جعفر عبد الغني بن رفاعة اللخمي وأبا بشر عبد الملك بن مروان الرقي، والربيع بن سليمان الجيزي، وأبا الحارث أحمد بن سعيد الفهري، وعلي بن معبد بن نوح، وعيسى بن إبراهيم الغافقي، ويونس بن عبد الأعلى، وأبا قرة محمد بن حميد الرعيني، ومالك بن عبد الله التجيبي، ومحمد بن عبد الله بن عبد الحكم، وإبراهيم بن منقذ الخولاني، وإبراهيم بن مرزوق، وبحر بن نصر الخولاني، وسليمان بن شعيب الكيساني، وجماعة غير من سميت.
এবং ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বালী শাযারাতুয যাহাব (২/২৮৮) গ্রন্থে বলেন: তিনি হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত শায়খ, যিনি ফিকহ ও হাদীসশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।

 

‌‌তাঁর উস্তাদগণ:

আল-কুরাশী আল-জাওয়াহির (১/২৭৫) গ্রন্থে বলেন: তিনি মিসরীয় এবং মিসরে আগত বহু সংখ্যক বিদেশী আলেমদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তাঁর রচনাবলি তাঁর উস্তাদগণের উল্লেখ দ্বারা পরিপূর্ণ এবং তাদের কেউ কেউ তাঁর উস্তাদগণের তালিকা একটি পৃথক অংশে সংকলন করেছেন।

এবং ইবনে আসাকির তারীখে দামেশক (৫/৩৬৭) গ্রন্থে বলেন, তিনি হারুন বিন সাঈদ আল-আয়লী, আবু শুরাইহ মুহাম্মদ বিন যাকারিয়া কাতিব আল-উমারী, আবু উসমান বিন বিশর বিন মারওয়ান আল-আযদী, আবু জাফর আব্দুল গনি বিন রিফাআ আল-লাখমী, আবু বিশর আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান আর-রাক্কী, রাবি বিন সুলাইমান আল-জিযী, আবুল হারিস আহমাদ বিন সাঈদ আল-ফিহরী, আলী বিন মা'বাদ বিন নূহ, ঈসা বিন ইবরাহীম আল-গাফেকী, ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা, আবু কুররা মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আল-রুআইনী, মালিক বিন আব্দুল্লাহ আত-তুজীবী, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম, ইবরাহীম বিন মুনকিয আল-খাওলানী, ইবরাহীম বিন মারযুক, বাহর বিন নাসর আল-খাওলানী, সুলাইমান বিন শুআইব আল-কায়সানী এবং যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এমন ব্যক্তিগণ ব্যতীত আরও একটি জামাতের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال أبو سعيد بن يونس: سمع الطحاوي الحديث من خلق من المصريين والغرباء القادمين إلى مصر منهم: سليمان بن شعيب الكيساني، وأبو موسى يونس بن عبد الأعلى الصدفي.

وقال البدر العيني: شارك فيه مسلما وغيره ثم سرد أسمائهم.

وقال الإمام محمد يوسف الكاندهلوي 1/ 32: وفيها أنواع، النوع الأول: المشائخ الذين روى عنهم الإمام الطحاوي في معاني الآثار ومشكل الآثار، والنوع الثاني: في المشائخ الذين روى عنهم في معاني الآثار دون مشكل الآثار، والنوع الثالث: في المشائخ الذين روى عنهم في مشكل الآثار والنوع الرابع: المشائخ الذين ذكر أصحاب الرجال والتاريخ أن الإمام الطحاوي روى عنهم أو وجدت في كتاب من كتب الأحاديث رواية الطحاوي عنهم، ثم سرد أسمائهم فبلغ بهم اثنين وسبعين ومائتي شيخ.

 

‌‌تلاميذه:

قال الحافظ عبد الغني المقدسي في الكمال: روى عن الطحاوي خلق كثير وقد أفرد بعض أهل العلم الذين رووا عنه بالتأليف في جزءٍ.
আবু সাঈদ বিন ইউনুস বলেন: ইমাম তহাবি মিসরীয় এবং মিসরে আগত অনেক বিদেশি ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: সুলাইমান বিন শুআইব আল-কাইসানি এবং আবু মুসা ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা আস-সাফাদি।

বদর আল-আইনি বলেন: তিনি এতে ইমাম মুসলিম এবং অন্যদের সাথে অংশীদার ছিলেন, এরপর তিনি তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত করেন।

ইমাম মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভি ১/ ৩২ পৃষ্ঠায় বলেন: এতে কয়েকটি প্রকার রয়েছে; প্রথম প্রকার: সেই সকল মাশায়েখ যাঁদের থেকে ইমাম তহাবি 'মা'আনিল আসার' এবং 'মুশকিলুল আসার' উভয় গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় প্রকার: সেই সকল মাশায়েখ যাঁদের থেকে তিনি কেবল 'মা'আনিল আসার' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, 'মুশকিলুল আসার'-এ করেননি। তৃতীয় প্রকার: সেই সকল মাশায়েখ যাঁদের থেকে তিনি কেবল 'মুশকিলুল আসার' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। চতুর্থ প্রকার: সেই সকল মাশায়েখ যাঁদের সম্পর্কে রিজাল শাস্ত্রবিদ ও ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে ইমাম তহাবি তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা হাদিসের কোনো কিতাবে তাঁদের থেকে ইমাম তহাবির বর্ণনা পাওয়া গিয়েছে। এরপর তিনি তাঁদের নাম উল্লেখ করেন এবং তাঁদের সংখ্যা দুইশত বাহাত্তর জন শাইখ পর্যন্ত পৌঁছায়।

 

‌‌তাঁর ছাত্রগণ:

হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি 'আল-কামাল' গ্রন্থে বলেন: ইমাম তহাবি থেকে অসংখ্য লোক হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং কোনো কোনো আলেম তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের নামের তালিকা একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال الذهبي في السير 15/ 28: حدث عنه يوسف بن القاسم الميانجي، وأبو القاسم الطبراني، ومحمد بن بكر بن مطروح، وأحمد بن القاسم الخشاب، وأبو بكر بن المقرئ، وأحمد بن عبد الوارث الزجّاج، وعبد العزيز بن محمد الجوهري قاضي الصعيد، وأبو الحسن محمد بن أحمد الأخميمي، ومحمد بن الحسن بن عمر التنوخي، ومحمد بن المظفر الحافظ، وخلق سواهم من الدماشقة والمصريين والرحالين في الحديث.

وقال القرشي في الجواهر 1/ 102 وروى عنه الخلق الكثير فزاد عليه أبو بكر علي بن أحمد بن سعدويه البردعي، وأبو القاسم مسلمة بن القاسم بن إبراهيم القرطبي وأبو القاسم عبد الله بن علي الداوودي القاضي، شيخ أهل الظاهر في عصره، والحسن بن القاسم بن عبد الرحمن أبو محمد المصري الفقيه، وابن أبي العوام القاضي الكبير، وابنه أبو الحسن علي بن أحمد الطحاوي، وأبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد بن يونس المصري، وأبو بكر محمد بن جعفر بن الحسين البغدادي المفيد الحافظ المعروف بغندر، وميمون بن حمزة العبيدلي.

وزاد ابن حجر في اللسان 1/ 274 روى عن أبي جعفر، أبو محمد بن زبر القاضي.

وقد ذكر الشيخ الكاندهلوي في مقدمة أماني الأحبار 11/ 42 - 43: إلى تسع وأربعين تلميذا.
ইমাম আয-যাহাবি আস-সিয়ার ১৫/ ২৮-এ বলেছেন: তাঁর থেকে ইউসুফ ইবনে আল-কাসিম আল-মিয়ানাজি, আবুল কাসিম আত-তাবারানি, মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে মাত্রুহ, আহমদ ইবনে আল-কাসিম আল-খাশশাব, আবু বকর ইবনুল মুকরি, আহমদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস আজ-যাজ্জাজ, আপার ইজিপ্টের (সাঈদ) বিচারক আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারি, আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-আখমিমি, মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে উমর আত-তানুখি, হাফেজ মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফফর এবং দামেস্ক ও মিশরের বাসিন্দা ও হাদিস অন্বেষণে ভ্রমণকারী এক বিশাল জামাত বর্ণনা করেছেন।

আল-কুরাশি আল-জাওয়াহির ১/ ১০২-এ বলেছেন যে, তাঁর থেকে এক বিশাল সৃষ্টি (বহু লোক) বর্ণনা করেছেন; তিনি আরও যুক্ত করেছেন আবু বকর আলি ইবনে আহমদ ইবনে সাদওয়াইহ আল-বারদাই, আবুল কাসিম মাসলামা ইবনে কাসিম ইবনে ইব্রাহিম আল-কুরতুবি, তাঁর সমকালীন জাহেরি মতালম্বীদের শায়খ বিচারক আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে আলি আদ-দাউদি, ফকিহ হাসান ইবনে আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান আবু মুহাম্মদ আল-মিসরি, প্রধান বিচারক ইবনে আবিল আওয়াম, তাঁর পুত্র আবু হাসান আলি ইবনে আহমদ আত-তাহাবি, আবু সাইদ আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে ইউনুস আল-মিসরি, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আল-হুসাইন আল-বাগদাদি আল-মুফিদ—যিনি গুন্দার নামে পরিচিত হাফেজ—এবং মাইমুন ইবনে হামজা আল-উবাইদালি।

ইবনে হাজার আল-লিসান ১/ ২৭৪-এ অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে, আবু জাফর থেকে আবু মুহাম্মদ ইবনে যাবার আল-কাদি বর্ণনা করেছেন।

শায়খ কান্ধলভি আমানিল আহবার-এর মুকাদ্দিমায় ১১/ ৪২ - ৪৩ পৃষ্ঠায় উনপঞ্চাশ জন ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌مؤلفاته:

قال الحافظ الذهبي في السير 15/ 3: من نظر إلى تأليف هذا الإمام علم محله من العلم وسعة معرفته.

وقال الإمام محمد زاهد الكوثري في الحاوي (ص 33): لو كان مثل هذا العالم في الغرب لانتدب أهل الشأن لدراسة كتبه وتحقيقها رجالا خاصة.

وقد أحصى المترجمون من تصانيفه ما يزيد على ثلاثين كتابا … وفيما يلي ذكر بعض مصنفاته مع التعريف ببعضها:

 

‌‌1 - "شرح معاني الآثار" وهو أول تصانيفه كما ذكره القرشي في الجواهر 1/ 104، وهو كتاب في المحاكمة بين أدلة المسائل الفقهية الخلافية دونه على ترتيب كتب الفقه والسنن، يسوق بسنده الأخبار التي يتمسك بها أهل الخلاف في تلك المسائل، ثم يقرر مذهب الحنفية ويستدل له من الحديث والقياس، ثم يذكر قول مخالفيهم مع الإجابة عما اعترضوا به على أدلة مذهبه إسنادا ومتنا رواية ونظرا بما يقتنع به الباحث المصنف وربما يرجح رأي غير الحنفية دون تردد.

والكتاب مطبوع بالهند 1302 هـ في مجلدين وفي مصر 1386 هـ بأربعة أجزاء ثم صور ببيروت 1399 هـ وطبع حديثا 1414 هـ ببيروت.
‌তাঁর রচনাবলি:

হাফিজ আয-যাহাবি আস-সিয়ার ১৫/ ৩ গ্রন্থে বলেছেন: যে ব্যক্তি এই ইমামের রচনার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, সে ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান এবং তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা সম্পর্কে অবগত হতে পারবে।

ইমাম মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারি আল-হাবি (পৃষ্ঠা ৩৩) গ্রন্থে বলেছেন: যদি এই স্তরের কোনো আলেম পাশ্চাত্যে থাকতেন, তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ তাঁর গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন ও তাহকিকের জন্য বিশেষ একদল ব্যক্তিকে নিযুক্ত করতেন।

জীবনীকারগণ তাঁর রচনাবলির সংখ্যা ত্রিশটিরও অধিক বলে গণনা করেছেন … নিচে তাঁর কিছু রচনার নাম এবং কয়েকটির পরিচিতি তুলে ধরা হলো:

 

‌‌১ - "শারহু মা'আনিল আসার" এটি তাঁর প্রথম রচনা, যেমনটি আল-কুরাশি আল-জাওয়াহির ১/ ১০৪ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটি ফিকহী মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহের দলিলের বিচার-বিশ্লেষণ বিষয়ক একটি গ্রন্থ, যা তিনি ফিকহ ও সুনান গ্রন্থসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সংকলন করেছেন। এতে তিনি স্বীয় সনদসহ ওইসব বর্ণনা পেশ করেন যা বিরোধীরা ওই সকল মাসআলায় আঁকড়ে ধরে থাকে। অতঃপর তিনি হানাফি মাজহাবকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং হাদিস ও কিয়াসের মাধ্যমে এর সপক্ষে দলিল উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি বিরোধীদের বক্তব্য উল্লেখ করেন এবং তাঁর মাজহাবের দলিলের ওপর তারা যে আপত্তি উত্থাপন করেছে, সনদ ও মতন এবং বর্ণনা ও যুক্তি—উভয় দিক থেকে এর এমন উত্তর প্রদান করেন যাতে একজন সত্যানুসন্ধানী গবেষক সন্তুষ্ট হন। কখনও কখনও তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই হানাফি মাজহাব বহির্ভূত মতকেও প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

গ্রন্থটি ১৩০২ হিজরিতে ভারতে দুই খণ্ডে এবং ১৩৮৬ হিজরিতে মিসরে চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এরপর ১৩৯৯ হিজরিতে বৈরুত থেকে এর প্রতিলিপি প্রকাশিত হয় এবং নতুন করে ১৪১৪ হিজরিতে বৈরুত থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد اهتم به العلماء شرحا وتخريجا وتلخيصا وترجمة لرجاله، فالذي اشتغل بشرحه هو:

1 - الحافظ أبو محمد علي بن زكريا المنبجي الحنفي 686 هـ صاحب اللباب في الجمع بين السنة والكتاب.

2 - الحافظ أبو محمد بدر الدين محمود بن محمد العيني 855 هـ ألف فيه شرحين أحدهما نخب الأفكار، والآخر مباني الأخبار في شرح معاني الآثار، والأول له ثلاث طبعات.

 

والذي اشتغل بترجمة رجاله:

3 - الحافظ بدر الدين العيني 855 هـ في كتابه مغاني الأخيار في رجال معاني الآثار وله طبعات.

4 - الحافظ قاسم بن قطلوبغا الحنفي 879 هـ في كتابه الإيثار برجال معاني الآثار - لم أظفر على نسخته الخطية -.

 

والذي اشتغل بتخريج أحاديثه:

الحافظ عبد القادر بن أبي الوفاء القرشي الحنفي 775 هـ في كتابه الحاوي في تخريج أحاديث معاني الآثار للطحاوي، وقد طبع في ثلاث مجلدات مع النقص في آخره.

 

والذي اختصره:

1 - الحافظ أبو عمر بن عبد البر القرطبي 463 هـ
আলেমগণ এর ব্যাখ্যা, তাহকীক (তথ্যসূত্র যাচাই), সারসংক্ষেপ এবং এর বর্ণনাকারীদের জীবনী রচনার মাধ্যমে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। যারা এর ব্যাখ্যা প্রদানের কাজ করেছেন, তারা হলেন:

১ - হাফেজ আবু মুহাম্মদ আলী বিন যাকারিয়া আল-মানবিজি আল-হানাফি (মৃত ৬৮৬ হি.), ‘আল-লুবাব ফিজ জাময়ি বাইনাস সুন্নাতি ওয়াল কিতাব’ গ্রন্থের রচয়িতা।

২ - হাফেজ আবু মুহাম্মদ বদরুদ্দিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-আইনি (মৃত ৮৫৫ হি.), তিনি এর ওপর দুইটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন; একটি হলো ‘নুখাবুল আফকার’ এবং অন্যটি হলো ‘মাবানিল আখবার ফি শারহি মাআনিল আসার’। প্রথমটির তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

 

আর যারা এর বর্ণনাকারীদের জীবনী রচনায় নিয়োজিত ছিলেন:

৩ - হাফেজ বদরুদ্দিন আল-আইনি (মৃত ৮৫৫ হি.), তাঁর ‘মাগানিল আখইয়ার ফি রিজালি মাআনিল আসার’ গ্রন্থে। এর একাধিক সংস্করণ রয়েছে।

৪ - হাফেজ কাসেম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফি (মৃত ৮৭৯ হি.), তাঁর ‘আল-ইসার বি-রিজালি মাআনিল আসার’ গ্রন্থে - আমি এর কোনো পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করতে পারিনি -।

 

আর যারা এর হাদিসসমূহের তাখরিজ (তথ্যসূত্র যাচাই) করেছেন:

হাফেজ আবদুল কাদির বিন আবিল ওয়াফা আল-কুরাশি আল-হানাফি (মৃত ৭৭৫ হি.), তাঁর ‘আল-হাবি ফি তাখরিজি আহাদিসি মাআনিল আসার লিত-তাহাবি’ গ্রন্থে। এটি তিন খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, তবে শেষের দিকে কিছুটা অসম্পূর্ণতা রয়েছে।

 

আর যারা একে সংক্ষিপ্ত করেছেন:

১ - হাফেজ আবু ওমর বিন আবদিল বার আল-কুরতুবি (মৃত ৪৬৩ হি.)
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১৪)
2 - الحافظ محمد بن أحمد بن رشد القرطبي 520 هـ، ومصورات هذين في مكتبة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة.

3 - الحافظ عبد الله بن يوسف بن محمد الزيلعي محمد الزيلعي 762 هـ، ومصورة المخطوط حصلت عليها من تركيا.

 

‌‌2 - "شرح مشكل الآثار" في بيان اختلاف الحديث وفي نفي التضاد عن الأحاديث، واستخراج الأحكام منها.

وهذا النوع من مشكل الحديث هو المصطلح عليه في علم الحديث بمختلف الحديث، والمشكل أعم من مختلف الحديث، لأن الإشكال ينشأ عن اختلاف الحديث وعن غيره، فكل مختلف الحديث مشكل، وليس كل مشكل مختلف الحديث.

وقد أفرد هذا النوع بالتأليف الشافعي في كتابه "اختلاف الحديث"، وابن قتيبة في "تأويل مختلف الحديث"، ويتميز كتاب أبي جعفر الطحاوي من هذين الكتابين بالشمول والاستيعاب وغزارة المادة ويقول محمد زاهد الكوثري رحمه الله في الحاوي (ص 36): ومن اطلع على اختلاف الحديث للإمام الشافعي رضي الله عنه، ومختلف الحديث لابن قتيبة ثم اطلع على كتاب الطحاوي هذا يزداد إجلالا له ومعرفة بمقداره العظيم، ويوضح هذا ما قال الطحاوي في تقدمته (ص 6): وإني نظرت في الآثار المروية عنه صلى الله عليه وسلم بالأسانيد المقبولة التي نقلها ذوو التثبت فيها، والأمانة عليها، الأداء لها فوجدت فيها أشياء مما يسقط معرفتها والعلم بما فيها عن أكثر الناس، وحسن فمال قلبي إلى تأملها، وتبيان ما قدرت عليه من مشكلها، ومن استخراج الأحكام التي
২ - হাফিজ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রুশদ আল-কুরতুবি ৫২০ হিজরি, এবং এই দুটির পাণ্ডুলিপির অনুলিপি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

৩ - হাফিজ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আজ-জায়লায়ি ৭৬২ হিজরি, এবং পাণ্ডুলিপির অনুলিপিটি আমি তুরস্ক থেকে সংগ্রহ করেছি।

 

‌‌২ - "শারহু মুশকিলিল আসার" হাদিসের বিভিন্নতা বর্ণনা, হাদিসসমূহের মধ্য থেকে বৈপরীত্য নিরসন এবং সেগুলো থেকে বিধানসমূহ উদঘাটন প্রসঙ্গে।

হাদিসের সমস্যার (মুশকিল) এই ধরনটি হাদিস বিজ্ঞানের পরিভাষায় 'মুখতালিফুল হাদিস' নামে পরিচিত। তবে 'মুশকিল' শব্দটি 'মুখতালিফুল হাদিস' অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; কারণ জটিলতা বা সমস্যা কেবল হাদিসের পারস্পরিক বিভিন্নতা থেকেই নয়, বরং অন্যান্য কারণেও সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং প্রতিটি 'মুখতালিফুল হাদিস'ই 'মুশকিল', কিন্তু প্রতিটি 'মুশকিল' 'মুখতালিফুল হাদিস' নয়।

ইমাম শাফেঈ তার "ইখতিলাফুল হাদিস" এবং ইবনে কুতাইবা তার "তাউয়ীলু মুখতালিফিল হাদিস" গ্রন্থে এই বিশেষ বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে রচনা করেছেন। তবে ইমাম আবু জাফর আত-তহাবীর কিতাবটি ব্যাপকতা, তথ্য-সমৃদ্ধি এবং প্রচুর উপাদানের কারণে এই কিতাব দুটির তুলনায় বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-হাওয়ী' (পৃ. ৩৬) গ্রন্থে বলেন: "যে ব্যক্তি ইমাম শাফেঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর 'ইখতিলাফুল হাদিস' এবং ইবনে কুতাইবার 'মুখতালিফুল হাদিস' পাঠ করেছেন, অতঃপর তহাবীর এই কিতাবটি দেখেছেন, তার প্রতি সেই ব্যক্তির শ্রদ্ধা এবং তার সুমহান মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞান আরও বৃদ্ধি পাবে।" ইমাম তহাবী তার ভূমিকার (পৃ. ৬) বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন: "আমি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত ওইসব আসার (হাদিস ও বর্ণনা) নিয়ে গবেষণা করেছি, যা নির্ভরযোগ্য, আমানতদার এবং পারদর্শী বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন। আমি সেখানে এমন কিছু বিষয় পেয়েছি যার অর্থ ও জ্ঞান অধিকাংশ মানুষের কাছে অস্পষ্ট। বিষয়টি আমার কাছে ভালো মনে হলো, তাই আমার অন্তর সেগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার এবং সেগুলোর মধ্য থেকে যে সকল জটিলতা রয়েছে তা সাধ্যানুযায়ী ব্যাখ্যা করার এবং বিধানসমূহ উদঘাটন করার প্রতি আগ্রহী হলো, যা..."
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১৫)
فيها، ومن نفي الإحالات عنها، وأن أجعل ذلك أبوابا أذكر في كل باب منها ما يهب الله عز وجل لي من ذلك منها حتى آتي فيما قدرت عليه منها كذلك ملتمسا ثواب الله عز وجل عليه، والله أسأله التوفيق لذلك، والمعونة عليه فإنه جواد كريم، وهو حسبي ونعم الوكيل.

 

‌‌تنبيه:

والفرق بين الكتابين "شرح معاني الآثار"، "وشرح مشكل الآثار" إن الأول في الأحكام والسنن كعامة السنن المدونة في الحديث، ولا يخرج بأسلوب هذا الترجيح ورفع التضاد بين الآثار عن مفهوم السنن كما يدعيه بعض الغلاة والحاقدين ضد المذهب.

والثاني في علم مختلف الحديث كما أشار المصنف رحمه الله في تقدمته.

 

‌‌3 - "أحكام القرآن الكريم" حققه الدكتور سعد الدين أونال في مجلدين نشره مركز البحوث الإسلامية التابع لوقف الديانة التركية ولعل المطبوع نصف الكتاب والباقي في عداد كتبه المفقودة.

‌‌4 - "التسوية بين حدثنا وأخبرنا": منه نسختان خطيتان أحدهما" في مكتبة شستربتي (3495)، والثانية في ظاهرية دمشق 92/ 17 وقد نشر بعناية الشيخ العلامة المحدث عبد الفتاح أبو غدة رحمه الله ضمن خمس رسائل.
...এর মধ্যে, এবং তা থেকে অসম্ভব বিষয়গুলোকে নাকচ করা, আর আমি এগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করব যেখানে মহান আল্লাহ আমাকে যা দান করবেন তার প্রতিটি অধ্যায়ে তা উল্লেখ করব, যতক্ষণ না আমি আমার সাধ্যমতো এর সমাপ্তি ঘটাতে পারি; আর এর মাধ্যমে আমি মহান আল্লাহর কাছে সওয়াব বা প্রতিদান প্রত্যাশা করছি। আল্লাহর কাছেই আমি এর তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহানুভব। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

‌‌সতর্কীকরণ:

"শারহু মাআনী আল-আসার" এবং "শারহু মুশকিল আল-আসার" গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথমটি আহকাম (বিধান) এবং সুনান (সুন্নতসমূহ) বিষয়ক, যা হাদিস শাস্ত্রে সংকলিত সাধারণ সুনান গ্রন্থসমূহের মতো। আর এটি দলীলের প্রাধান্য প্রদান এবং আসার বা বর্ণনাগুলোর মধ্যকার বৈপরীত্য দূর করার পদ্ধতির মাধ্যমে সুনানের ধারণা থেকে বিচ্যুত হয় না, যেমনটি মাযহাব-বিদ্বেষী এবং কিছু চরমপন্থী দাবি করে থাকে।

আর দ্বিতীয়টি হলো 'ইলমে মুখতালিফুল হাদিস' (হাদিসের বাহ্যিক বৈপরীত্য নিরসন বিদ্যা) বিষয়ক, যেমনটি লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর ভূমিকায় ইঙ্গিত করেছেন।

 

‌‌৩ - "আহকামুল কুরআন আল-কারীম" এটি ড. সাদ উদ্দিন উনাল দুই খণ্ডে তাহকিক করেছেন, যা তুরস্কের দিয়ানাত ওয়াকফের ইসলামি গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভবত মুদ্রিত অংশটি মূল বইয়ের অর্ধেক, আর বাকি অংশটি তাঁর নিখোঁজ বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

‌‌৪ - "আত-তাসবিয়্যাতু বাইনা হাদ্দাসানা ওয়া আখবারানা": এর দুটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, একটি চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে (৩৪৯৫) এবং দ্বিতীয়টি দামেস্কের জহিরিয়া লাইব্রেরিতে (৯২/১৭)। শাইখ আল্লামা মুহাদ্দিস আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর তত্ত্বাবধানে 'খামসু রাসায়িল' (পাঁচটি রিসালা) এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে এটি প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌5 - سنن الشافعي: جمع فيه الطحاوي مسموعاته من خاله المزني عن الشافعي سنة 252 هـ وقد نشر سنة 1315 هـ بالمطبعة الشرقية بمصر، وطبع ثانيا 1407 هـ في بيروت ثم طبع ثالثا 1409 هـ بجدة.

‌‌6 - "مختصر الطحاوي في الفقه الحنفي": على شاكلة مختصر المزني في مذهب الشافعي طبع سنة 1370 هـ بمطبعة دار الكتاب العربي بالقاهرة بتحقيق العلامة أبي الوفاء الأفغاني.

‌‌7 - "العقيدة الطحاوية": ذكر فيها ما كان عليه السلف ونقل عن الإمام أبي حنيفة وصاحبيه أبي يوسف يعقوب ومحمد بن الحسن وحظيت هذه الرسالة بشهرة واسعة وقد طبعة مرات عديدة مع شروحها الكثيرة.

‌‌8 - "الشروط الصغير:" مذيلا بما عثر عليه من "الشروط الكبير" نشرته رئاسة ديوان الأوقاف وإحياء التراث الإسلامي بالعراق في مجلدين بتحقيق الدكتور روحي أوزجان وطبع بمطبعة العاني ببغداد 1394 هـ.

‌‌9 - "الجامع الكبير في الشروط": ومنه كتاب أذكار الحقوق والرهون، ومنه كتاب الشفعة نشره يوسف شاخت في سلسلة تقارير مجمع هايد برج العلمي 1926 - 1927 م رقم (594).

والباقي من عداد كتبه المفقودة.

وبالتالي أسماؤها:

1 - أخبار أبي حنيفة وأصحابه.
৫ - সুনানে শাফিঈ: ইমাম তাহাবি এতে ২৫২ হিজরি সনে তাঁর মামা মুজানি থেকে এবং তিনি ইমাম শাফিঈ থেকে যা শুনেছেন তা সংকলন করেছেন। এটি ১৩১৫ হিজরি সনে মিশরের মাতবাআহ আশ-শারকিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয়বার ১৪০৭ হিজরি সনে বৈরুতে এবং তৃতীয়বার ১৪০৯ হিজরি সনে জেদ্দায় এটি মুদ্রিত হয়েছে।

৬ - "হানাফি ফিকহে মুখতাসারুত তাহাবি": এটি শাফিঈ মাযহাবে মুখতাসারুল মুজানির আদলে রচিত। আল্লামা আবু আল-ওয়াফা আল-আফগানির সম্পাদনায় ১৩৭০ হিজরি সনে কায়রোর মাতবাআহ দারুল কিতাব আল-আরাবি থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে।

৭ - "আল-আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ": এতে তিনি সালাফ বা পূর্বসূরিগণ যে আকিদাহর ওপর ছিলেন তা উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই সাথী আবু ইউসুফ ইয়াকুব ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে তা বর্ণনা করেছেন। এই রিসালাহটি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে এবং এর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ (শরাহ) এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে।

৮ - "আশ-শুরুতুস সাগির": এর সাথে "আশ-শুরুতুল কাবির"-এর যতটুকু অংশ পাওয়া গেছে তা পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। ইরাকের রিয়াসাতু দিওয়ানিল আওকাফ ওয়া ইহইয়াউত তুরাস আল-ইসলামি এটি ডক্টর রুহি ওজজানের সম্পাদনায় দুই খণ্ডে প্রকাশ করেছে এবং ১৩৯৪ হিজরি সনে বাগদাদের মাতবাআহ আল-আনি থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে।

৯ - "আল-জামিউল কাবির ফিশ শুরুত": এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'কিতাবু আজকারিল হুকুক ওয়ার রুহুন' এবং 'কিতাবুশ শুফআ'। জোসেফ শাখট ১৯২৬ - ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে হাইডেলবার্গ সায়েন্টিফিক একাডেমির রিপোর্ট সিরিজে এটি প্রকাশ করেন, যার নম্বর (৫৯৪)।

বাকি বইগুলো তাঁর হারানো বা নিখোঁজ গ্রন্থরাজির অন্তর্ভুক্ত।

সেগুলোর নাম নিম্নরূপ:

১ - আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবিহি (আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের সংবাদ)।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১৭)
2 - اختلاف الروايات على مذهب الكوفيين.

3 - كتاب الأشربة.

4 - التاريخ الكبير.

5 - الحكايات والنوادر.

6 - حكم أرض مكة.

7 - الرد على أبي عبيد فيما أخطأ فيه في كتاب النسب.

8 - الرد على الكرابيسي.

9 - الرد على عيسى بن أبان.

10 - الرزية.

11 - شرح المغني.

12 - شرح الجامع الصغير.

13 - الشروط الأوسط

14 - الشروط الكبير.

15 - الفرائض.

16 - قسم الفي والغنائم.

17 - المختصر الكبير.

18 - المختصر الصغير.

19 - النحل وأحكامها وصفاتها وأجناسها وما ورد فيها من خبر.
2 - কুফীদের মাযহাব অনুযায়ী বর্ণনাগুলোর মতভেদ।

3 - পানীয় বিষয়ক কিতাব।

4 - বড় ইতিহাস (আত-তারীখুল কাবীর)।

5 - গল্প ও দুর্লভ ঘটনাবলি।

6 - মক্কার ভূমির বিধান।

7 - বংশ পরিচয় বিষয়ক কিতাবে আবু উবাইদ যা ভুল করেছেন তার খণ্ডন।

8 - কারাবিসীর খণ্ডন।

9 - ঈসা ইবনে আবানের খণ্ডন।

10 - আর-রাযিয়্যাহ।

11 - শারহুল মুগনী (মুগনী গ্রন্থের ব্যাখ্যা)।

12 - শারহুল জামিউস সাগীর (জামিউস সাগীর গ্রন্থের ব্যাখ্যা)।

13 - আশ-শুরুতুল আওসাত (মধ্যম শর্তাবলি)।

14 - আশ-শুরুতুল কাবীর (বৃহৎ শর্তাবলি)।

15 - উত্তরাধিকার আইন (আল-ফারাইয)।

16 - ফায় এবং গনীমত বণ্টন।

17 - আল-মুখতাসারুল কাবীর (বড় সংক্ষিপ্তসার)।

18 - আল-মুখতাসারুস সাগীর (ছোট সংক্ষিপ্তসার)।

19 - মৌমাছি, এর বিধান, বৈশিষ্ট্য, প্রজাতি এবং এ সম্পর্কিত বর্ণিত সংবাদসমূহ।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১৮)
20 - النوادر الفقهية.

21 - الوصايا.

 

‌‌تنبيه:

وقد كتب بروكلمان في تاريخ الأدب العربي في مبحث حول مصنفات الإمام الطحاوي 3/ 262: كتاب "تصحيح معاني الآثار"، والظاهر أنه لمحمد بن محمد الباهلي المالكي، انظر بنكيبور 5/ 2/ 308.

وقال فؤاد سزكين في تاريخ التراث 3/ 186: "صحيح معاني الآثار" يحتمل أن يكون لمحمد بن محمد الباهلي المالكي المتوفى 314 هـ، تاريخ بغداد 3/ 213، بنكيبور 5/ 2/ 23، 24 - 308 - 279 ورقة ناقصة.

وقال الشيخ العلامة المحدث محمد زاهد الكوثري رحمه الله في الحاوي في فصل: "مؤلفات أبي جعفر الطحاوي" (ص:35) ولمحمد بن محمد الباهلي المالكي كتاب تصحيح معاني الأخبار" محفوظ في بانكون كما ذكره بروكلمان، ولم أطلع عليه، وقال في آخره البحث من هذا الكتاب (ص 40): وللطحاوي كتاب "صحيح الآثار" محفوظ في مكتبة بانتا (أي بَتْنَهْ) كما ذكره بروكلمان، ولم أطلع عليه، انتهى.
20 - ফিকহী দুর্লভ বিষয়াবলি।

21 - অসিয়তসমূহ।

 

‌‌সতর্কীকরণ:

ব্রোকলম্যান 'তারিখুল আদাব আল-আরাবি' (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস) গ্রন্থে ইমাম তাহাবীর রচনাবলি বিষয়ক আলোচনায় (৩/২৬২) লিখেছেন: "তাসহিহু মাআনিল আসার" নামক কিতাবটি। সম্ভবত এটি মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাহিলী আল-মালিকীর রচনা; দেখুন: বাঙ্কিপুর ৫/২/৩০৮।

ফুয়াদ সেজগিন 'তারিখুত তুরাস' (ঐতিহ্যের ইতিহাস) গ্রন্থে (৩/১৮৬) বলেছেন: "সহীহ মাআনিল আসার" সম্ভবত মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাহিলী আল-মালিকীর (মৃত্যু ৩১৪ হি.) রচনা। তারিখু বাগদাদ ৩/২১৩, বাঙ্কিপুর ৫/২/২৩, ২৪ - ৩০৮ - ২৭৯ অসম্পূর্ণ পৃষ্ঠা।

আল্লামা মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ জাহিদ আল-কাওসারী (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-হাভী' গ্রন্থের "আবু জাফর আত-তাহাবীর রচনাবলি" পরিচ্ছেদে (পৃষ্ঠা: ৩৫) বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাহিলী আল-মালিকীর 'তাসহিহু মাআনিল আখবার' নামক একটি কিতাব বাঙ্কিপুরে সংরক্ষিত রয়েছে, যেমনটি ব্রোকলম্যান উল্লেখ করেছেন; তবে আমি তা দেখিনি। তিনি এই কিতাবের আলোচনার শেষে (পৃষ্ঠা: ৪০) বলেছেন: তাহাবীর 'সহীহুল আসার' নামক একটি কিতাব বানতা (অর্থাৎ পাটনা) লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে, যেমনটি ব্রোকলম্যান উল্লেখ করেছেন; তবে আমি তা দেখিনি। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ১৯)
ونقل عنه هذا الكلام الإمام الشيخ العلامة المحدث محمد بن يوسف الكاندهلوي رحمه الله ثم سكت عليه.

ثم نقل عنه من جاء بعده وكتب كتابا في ترجمة أو كتب مقدمة على كتاب من كتب الطحاوي رحمه الله منهم الأستاذ عبد المجيد محمود، مؤلف كتاب "أبو جعفر الطحاوي وأثره في الحديث"، والدكتور عبد الله بن نذير أحمد، مؤلف كتاب "أبو جعفر الطحاوي الإمام المحدث الفقيه"، والدكتور سعد الدين أونال في مقدمته على "أحكام القرآن".

قلت: إن قول بروكلمان: إن كتاب تصحيح معاني الآثار .. إلخ، خطأ فإن الكتاب الذي يوجد بهذا الاسم بمكتبة بنكيبور قد اطلعت عليه شخصيا، فتحقق لدي أنه ليس هو الكتاب الذي حققه بروكلمان في تاريخ الأدب العربي، وفؤاد سزكين في تاريخ التراث كما سنذكره.

والسبب أنهما اعتمدا في إعداد كتابهما على فهارس المكتبات، والمفهرس إذا لا يكون متقنا يقع منه أحيانا الأخطاء في تسمية الكتب أكثر من هذا كما لاحظنا ذلك في المكتبات.

والظاهر أن الذي عمل الفهارس لهذه المكتبة اعتمد على كتابات غلاف الكتاب وظني أن الناسخ لكتابات الغلاف هو غير الناسخ لأصل الكتاب (فقد طابقت بين
ইমাম শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ কান্ধলভি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর থেকে এই কথাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন।

অতঃপর তাঁর পরবর্তী যারা এসেছেন এবং জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন অথবা ইমাম তহাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কোনো কিতাবের উপর ভূমিকা লিখেছেন, তারা তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আবু জাফর তহাবি ওয়া আসারুহু ফিল হাদিস' গ্রন্থের লেখক উস্তাদ আব্দুল মাজিদ মাহমুদ, 'আবু জাফর তহাবি আল-ইমাম আল-মুহাদ্দিস আল-ফকিহ' গ্রন্থের লেখক ডক্টর আব্দুল্লাহ ইবনে নাজির আহমদ এবং 'আহকামুল কুরআন'-এর ভূমিকায় ডক্টর সাদউদ্দিন উনাল।

আমি বলি: ব্রোকলম্যানের এই কথাটি—নিশ্চয়ই 'তাসহিহ মাআনী আল-আসার' কিতাবটি... ইত্যাদি—ভুল। কারণ বাঁকিপুর লাইব্রেরিতে এই নামে যে কিতাবটি পাওয়া যায়, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটি দেখেছি। ফলে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি সেই কিতাব নয় যা ব্রোকলম্যান 'তারিখুল আদাব আল-আরাবি' গ্রন্থে এবং ফুয়াদ সেজগিন 'তারিখুত তুরাস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি আমরা সামনে উল্লেখ করব।

এর কারণ হলো, তারা উভয়েই তাদের কিতাব তৈরির ক্ষেত্রে লাইব্রেরির ক্যাটালগসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন। আর ক্যাটালগ প্রস্তুতকারী যদি দক্ষ না হন, তবে বইয়ের নামকরণের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে এর চেয়েও বড় ভুল সংঘটিত হয়, যেমনটি আমরা লাইব্রেরিগুলোতে লক্ষ্য করেছি।

দৃশ্যত এই লাইব্রেরির জন্য যিনি ক্যাটালগ তৈরি করেছেন, তিনি বইয়ের মলাটের লেখার ওপর নির্ভর করেছেন। আমার ধারণা, মলাটের লেখার অনুলিপিকার আর মূল কিতাবের অনুলিপিকার এক ব্যক্তি নন (কেননা আমি উভয়ের মাঝে মিলিয়ে দেখেছি
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ২০)
الخطين فوجدتهما مختلفين)، فنقل هذا المفهرس للمكتبة في فهرسته اسم هذه الكتاب تصحيح معاني الآثار بدون تدقيق علمي.

ثم نقل عنه بركلمان في تاريخه، ونقل عنه الشيخ الكوثري رحمه الله، ثم نقل عنهما كل من جاء بعدهم وصنف في هذا الموضوع كما ترى، وأما محمد بن محمد المالكي الباهلي فذكر الخطيب في التاريخ ترجمته ولم يذكر تصنيفه ولا أنه مالكي، وقد ذكر حاجي خليفة في كشف الظنون (33 - 286 - 1728)، والبغدادي في هدية العارفين 2/ 33، وعمر رضا كحالة في معجم المؤلفين 11/ 231: أنه شافعي وتوفي سنة 321 هـ فهو آخر، وهو الذي شرح شرح معاني الآثار كما يذكر عنه حاجي خليفة.

وقد يوجد من هذا الكتاب ميكروفيلم في مكتبة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة برقم (4217) باسم "صحيح الآثار"، والميكروفيلم رديء جدا، مجرد عن كتابات الغلاف لأصل المخطوط، والذي يلاحظ عليه أنه يوجد في ميكروفيلم إلحاق هذا الاسم "صحيح الآثار" بعد تصوير أصل الكتاب.

ولما ذهبت إلى مكتبة ينكيبور المعروفة بمكتبة خدا بخش ما كان عندي من مختصرات "شرح معاني الآثار" حتى أقارن بها.
(দুইটি লিপি, ফলে আমি সেগুলোকে ভিন্ন পেয়েছি), তাই লাইব্রেরির এই ক্যাটালগার কোনো বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই তার ক্যাটালগে এই বইটির নাম ‘তাসহিহ মাআনি আল-আসার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর ব্রোকলম্যান তার ইতিহাস গ্রন্থে তার থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন, শায়খ আল-কাওসারি (রহিমাহুল্লাহ) তার থেকে এটি নকল করেছেন, এবং এরপর তাদের পরবর্তী যারাই এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা সবাই তাদের থেকে এটি গ্রহণ করেছেন, যেমনটি আপনি দেখছেন। আর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মালিকি আল-বাহিলি সম্পর্কে খতিব (আল-বাগদাদি) ‘তারিখ’ গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন, তবে তিনি তার কোনো রচনার কথা বা তিনি যে মালিকি ছিলেন সে কথা উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে হাজী খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ (৩৩ - ২৮৬ - ১৭২৮), আল-বাগদাদি ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ ২/৩৩ এবং উমর রিদা কাহহালা ‘মু’জামুল মুয়াল্লিফিন’ ১১/২৩১-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং ৩২১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সুতরাং তিনি একজন ভিন্ন ব্যক্তি, আর হাজী খলিফা তার সম্পর্কে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তিনিই ‘শারহু মাআনি আল-আসার’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন।

মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ৪২১৭ নম্বরে "সহীহ আল-আসার" নামে এই বইটির একটি মাইক্রোফিল্ম থাকতে পারে। তবে সেই মাইক্রোফিল্মটি অত্যন্ত নিম্নমানের এবং মূল পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদের লেখাগুলো ছাড়াই এটি সংরক্ষিত। লক্ষণীয় বিষয় হলো, মূল বইটি ছবি তোলার পর এই মাইক্রোফিল্মে "সহীহ আল-আসার" নামটি সংযোজন করা হয়েছে।

যখন আমি ‘খুদা বখশ’ লাইব্রেরি নামে পরিচিত বাঁকিপুর লাইব্রেরিতে গিয়েছিলাম, তখন আমার কাছে ‘শারহু মাআনি আল-আসার’-এর কোনো সংক্ষেপিত সংস্করণ ছিল না যার সাথে আমি এটি তুলনা করতে পারতাম।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ২১)
ولما وصل إلي مختصر شرح معاني الآثار للزيلعي من تركيا بواسطة الشيخ الفاضل الحكيم أمجد حسن فدوي حفظه الله قارنته مع ميكروفيلم مكتبة الجامعة الإسلامية فوجدت بينهما فروقا وكأنه كتاب آخر.

والمختصر الثاني لشرح معاني الآثار لابن رشد القرطبي كان ميكروفيلم من هذا الكتاب محفوظ بمكتبة الجامعة الإسلامية برقم (713 الحديث)، فقارنته من عدة أمكنة من هذا الكتاب فوجدته موافقا لكتاب "تصحيح معاني الآثار" الذي سماه به بروكلمان، فالذي يتضح من هذا التحقيق وبعد المعاينة والمقارنة: أن الكتاب الذي يحيل عليه بروكلمان وغيره ليس هو كتاب "تصحيح معاني الآثار" ولا "صحيح الآثار" كما يدعيه بعض الأفاضل، بل هو من مختصر شرح معاني الآثار لابن رشد القرطبي، فليصحح. وقد تحرف بنكيبور إلى بانكوك، وبتنة إلى بانتا في كلام الشيخ الكوثري رحمه الله، فليصحح.
যখন তুরস্ক থেকে শায়খ ফাযিল আল-হাকিম আমজাদ হাসান ফাদাউয়ি (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর মাধ্যমে যাইলায়ী রচিত 'মুখতাসারু শারহি মাআনিল আসার' আমার কাছে পৌঁছাল, তখন আমি সেটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির মাইক্রোফিল্মের সাথে তুলনা করলাম। আমি এ দুটির মধ্যে এমন পার্থক্য খুঁজে পেলাম যেন এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কিতাব।

এবং ইবন রুশদ আল-কুরতুবী রচিত 'শারহু মাআনিল আসার'-এর দ্বিতীয় সংক্ষিপ্তসারটির একটি মাইক্রোফিল্ম ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে (৭১৩ হাদীস) নম্বরে সংরক্ষিত ছিল। আমি এই কিতাবটির বিভিন্ন স্থান থেকে তুলনা করে দেখলাম যে এটি ব্রোকলম্যান কর্তৃক যেটিকে 'তাসহিহু মাআনিল আসার' নামকরণ করা হয়েছে তার সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। সুতরাং এই তাহকীক, পর্যবেক্ষণ ও তুলনার পর যা স্পষ্ট হয় তা হলো: ব্রোকলম্যান ও অন্যরা যে কিতাবটির উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেটি 'তাসহিহু মাআনিল আসার' নয় এবং 'সহীহুল আসার'-ও নয়, যেমনটি কোনো কোনো গুণীজন দাবি করে থাকেন; বরং এটি ইবন রুশদ আল-কুরতুবী রচিত 'মুখতাসারু শারহি মাআনিল আসার'। অতএব, বিষয়টি সংশোধন করা কর্তব্য। আর শায়খ কাওসারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যে 'বানকিপুর' শব্দটি 'ব্যাংকক' এবং 'পাটনা' শব্দটি 'পান্তা' হিসেবে বিকৃত হয়ে গিয়েছে, সুতরাং এটিও সংশোধন করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌فصل في الرد على ما قدح في هذا الإمام من الإمام البيهقي، وابن تيمية، وابن حجر العسقلاني

قال البيهقي في معرفة السنن والآثار 1/ 147: وحين شرعت في هذا الكتاب بعث إلي بعض إخواني من أهل العلم بالحديث بكتاب لأبي جعفر الطحاوي، فكم من حديث ضعيف فيه صححه لأجل رأيه، وكم من حديث صحيح ضعفه لأجل رأيه، وقال - عقب رده لكلام الطحاوي في حديث مس الذكر: أردت أن أبين خطأه في هذا وسكت عن كثير من أمثال ذلك، فبين أن الحديث لم يكن من صناعته، وإنما أخذ الكلمة بعد الكلمة من أهله ثم لم يحكمها.

قلت: هذا طعن بعدالته، واتهام له بالجهل في صناعة الحديث.

قال العيني في مقدمة نخب الأفكار 1/ 85: وحاشى الله من الطحاوي يقع في مثل هذا، لأن أمانته، وإمامته، وجلالة قدره تنافي ذلك، بل هذه الصفة التي رماه بها البيهقي بعينها هو متصف بها في سننه، لأن كثيرا من الثقات قد ضعفه عند كون الحجة عليه، وكثيرا من الضعفاء وثقه عند كون الحجة له فأن أردت تصديق ذلك فعليك بكتاب الجوهر النقي في الرد على البيهقي، الذي ألفه قاضي القضاة علاء الدين التركماني، حتى ترى فيه عجائب وغرائب من أنواع ما ذكرنا، ويظهر لك ظلم الخصم وتحامله من غير حق، ولا برهان وبالله المستعان في كل شأن انتهى.
ইমাম আল-বায়হাকী, ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানী কর্তৃক এই ইমামের (তহাবী) প্রতি করা সমালোচনার খণ্ডন প্রসঙ্গে একটি পরিচ্ছেদ

আল-বায়হাকী 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার' গ্রন্থে (১/১৪৭) বলেছেন: "যখন আমি এই গ্রন্থটি রচনা করতে শুরু করি, তখন হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিত আমার জনৈক দ্বীনি ভাই ইমাম আবু জাফর আত-তহাবীর একটি কিতাব আমার নিকট পাঠান। সেখানে তিনি কতই না যঈফ হাদীসকে তাঁর নিজস্ব মতামতের (রায়ের) কারণে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন এবং কতই না সহীহ হাদীসকে তাঁর নিজস্ব মতামতের কারণে যঈফ সাব্যস্ত করেছেন।" তিনি লিঙ্গ স্পর্শ সংক্রান্ত হাদীস নিয়ে ইমাম তহাবীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করার পর বলেন: "আমি এখানে তাঁর ভুলটি প্রকাশ করতে চেয়েছি এবং এ জাতীয় আরও বহু বিষয় থেকে নিশ্চুপ রয়েছি। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, হাদীস শাস্ত্র তাঁর মূল পারদর্শিতার ক্ষেত্র ছিল না। তিনি কেবল এই শাস্ত্রের পারদর্শী ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে এক-একটি বক্তব্য গ্রহণ করেছেন, কিন্তু সেগুলোকে সুসংহত করতে পারেননি।"

আমি বলি: এটি তাঁর সততা (আদালাত) নিয়ে আক্রমণ এবং হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অজ্ঞতার অভিযোগ।

আল-আইনী 'নুখাবুল আফকার' গ্রন্থের মুকাদ্দামায় (১/৮৫) বলেন: "আল্লাহর পানাহ! ইমাম তহাবী এ জাতীয় কোনো কাজে লিপ্ত হতে পারেন না। কেননা তাঁর আমানতদারি, ইমামত এবং সুউচ্চ মর্যাদা এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বরং বায়হাকী তাঁকে যে বিশেষণে অভিযুক্ত করেছেন, স্বয়ং বায়হাকীই তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে সেই গুণে গুণান্বিত। কারণ, যখনই তাঁর বিপক্ষে কোনো দলিল উপস্থিত হয়েছে, তিনি অনেক নির্ভরযোগ্য রাবীকে দুর্বল বলেছেন; আর যখনই কোনো দলিল তাঁর পক্ষে গিয়েছে, তিনি অনেক দুর্বল রাবীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আপনি যদি এর সত্যতা যাচাই করতে চান, তবে কাযিউল কুযাত আলাউদ্দীন আত-তুর্কমানী রচিত 'আল-জাওহারুন নাকি ফীর রাদ্দি আলাল বায়হাকী' গ্রন্থটি পাঠ করুন। সেখানে আপনি আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলোর বহু বিস্ময়কর ও অদ্ভুত নমুনা দেখতে পাবেন। আর আপনার নিকট প্রতিপক্ষের অবিচার এবং কোনো সত্যতা বা প্রমাণ ছাড়াই তাঁর অযাচিত বিদ্বেষ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال الحافظ عبد القادر القرشي في الجواهر المضيئة 2/ 430، بعد أن ذكر كلام البيهقي: حاشا الله أن الطحاوي رحمه الله يقع في هذا، فهذا الكتاب الذي أشار إليه هو الكتاب المعروف بمعاني الآثار، وقد تكلمت علي أسانيده، وعزوت أحاديثه وإسناده إلى الكتب الستة، والمصنف لابن أبي شيبة، وكتب الحفاظ، وسميته بالحاوي في بيان آثار الطحاوي، وكان ذلك بإشارة شيخنا العلامة الحجة قاضي القضاة علاء الدين المارديني، والد شيخنا قاضي القضاة جمال الدين، لما سأله بعض الأمراء عن ذلك، وقال له: عندنا كتاب الطحاوي، فإذا ذكرنا لخصمنا الحديث منه يقولون لنا ما نسمع إلا من البخاري ومسلم. فقال له قاضي القضاة علاء الدين والأحاديث التي في الطحاوي أكثرها في البخاري ومسلم والسنن وغير ذلك من كتب الحفاظ فقال له الأمير: أسألك أن تخرجه، وتعزو أحاديثه إلى هذه الكتب. فقال له قاضي القضاة: ما أتفرغ لذلك، ولكن عندي شخص من أصحابي يفعل ذلك. وتكلم معه رحمه الله في الإحسان إلي، وأمدني الأمير بكتب كثيرة كالأطراف للمزي، وتهذيب الكمال له، وغيرهما، وشرعت فيه، وكان ابتدائي فيه في سنة أربعين، وأمدني شيخنا قاضي القضاة بكتاب لطيف فيه أسماء شيوخ الطحاوي، وقال لي: يكفيك هذا من عندي فحصل لي النفع العظيم به، ووجدت الطحاوي قد شارك مسلما في بعض شيوخه كيونس بن عبد الأعلى، فوقع لي في كثير من الأحاديث أن الطحاوي يروي الحديث عن يونس بن عبد الأعلى، ويسوقه، ومسلم

হাফেজ আব্দুল কাদির আল-কুরাশি ‘আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যা’ গ্রন্থের ২/৪৩০ পৃষ্ঠায় ইমাম বায়হাকীর বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেছেন: আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই যে ইমাম ত্বহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) এই ধরণের কোনো কিছুতে লিপ্ত হবেন; তিনি যে কিতাবটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা হলো তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব ‘মা’আনিল আসার’। আমি এর সনদসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এর হাদীস ও সনদসমূহকে কুতুবে সিত্তা, ইবনে আবি শায়বার মুসান্নাফ এবং হাফেজগণের অন্যান্য কিতাবের দিকে নিসবত (উৎস নির্দেশ) করেছি। আর আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-হাবি ফি বায়ানি আসারিত ত্বহাবী’। এটি ছিল আমাদের শাইখ, আল্লামা হুজ্জাত কাযিল কুযাত আলাউদ্দিন আল-মারদিনীর ইঙ্গিতে—যিনি আমাদের শাইখ কাযিল কুযাত জামালুদ্দিনের পিতা ছিলেন—যখন কোনো এক আমির তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তিনি তাঁকে বলেছিলেন: আমাদের কাছে ইমাম ত্বহাবীর কিতাব আছে, কিন্তু যখন আমরা আমাদের প্রতিপক্ষের কাছে এটি থেকে কোনো হাদীস উল্লেখ করি, তখন তারা আমাদের বলে যে আমরা বুখারী ও মুসলিম ছাড়া অন্য কিছু শুনি না। তখন কাযিল কুযাত আলাউদ্দিন তাঁকে বললেন: ইমাম ত্বহাবীর কিতাবের অধিকাংশ হাদীসই বুখারী, মুসলিম, সুনান গ্রন্থসমূহ এবং হাফেজগণের অন্যান্য কিতাবে বিদ্যমান। তখন আমির তাঁকে বললেন: আমি আপনার কাছে অনুরোধ করছি যে আপনি এটি তখরীজ করুন এবং এর হাদীসগুলোকে ঐসব কিতাবের দিকে নিসবত করুন। তখন কাযিল কুযাত বললেন: এর জন্য আমার তেমন অবসর নেই, তবে আমার সাথীদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি আছে যে এটি করতে পারবে। অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আমার প্রতি অনুগ্রহ করার বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন। আর আমির আমাকে অনেক কিতাব দিয়ে সাহায্য করলেন, যেমন আল-মিযযীর ‘আল-আতরাফ’, তাঁর ‘তাহযীবুল কামাল’ এবং অন্যান্য কিতাব। আমি এটি শুরু করলাম এবং আমার শুরুটা ছিল সাতশো চল্লিশ সালে। আমাদের শাইখ কাযিল কুযাত আমাকে একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব দিলেন যাতে ইমাম ত্বহাবীর উস্তাদগণের নাম ছিল এবং তিনি আমাকে বললেন: আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য এটিই যথেষ্ট। এর মাধ্যমে আমি অনেক উপকৃত হলাম। আর আমি দেখলাম যে ইমাম ত্বহাবী ইমাম মুসলিমের সাথে তাঁর কিছু উস্তাদের ক্ষেত্রে অংশীদার হয়েছেন, যেমন ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা। ফলে অনেক হাদীসের ক্ষেত্রে আমার সামনে প্রতিভাত হলো যে ইমাম ত্বহাবী ইউনুস বিন আব্দুল আ’লার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করছেন এবং তা উপস্থাপন করছেন, আর ইমাম মুসলিমও

(খণ্ড: ১) শারহু মাআনিল আসার - তাহকীক আল-বাহরাইজী (পৃষ্ঠা: ২৪)
يرويه بعينه عن يونس بن عبد الأعلى بسند الطحاوي، ووالله لم أر في هذا الكتاب شيئا مما ذكره البيهقي عن الطحاوي، وقد اعتنى شيخنا قاضي القضاة علاء الدين، ووضع كتابا عظيما نفيسا على "السنن الكبير" له، وبيّن فيه أنواعا مما ارتكبها من ذلك النوع الذي رمى به البيهقي الطحاوي، فيذكر حديثا لمذهبه وسنده ضعيف فيوثقه، ويذكر حديثا على مذهبنا وفيه ذلك الرجل الذي وثقه فيضعفه، ويقع هذا في كثير من المواضع، وبين هذين العملين مقدار ورقتين أو ثلاثة، وهذا كتابه موجود بأيدي الناس، فمن شك في هذا فلينظر فيه، وكتاب شيخنا كتاب عظيم، ولو رآه من قبله من الحفاظ لسأله تقبيل لسانه الذي تفوّه بهذا، كما سأل أبو سليمان الداراني أبا دواد صاحب السنن أن يخرج إليه لسانه حتى يقبله. انتهى.

وذكر شيخ الإسلام ابن تيمية في منهاج السنة 4/ 194 بصدد الطعن في حديث رد الشمس إلى علي رضي الله عنه، الذي صححه الطحاوي في شرح معاني الآثار، وقال: والطحاوي ليست عادته نقد الحديث كنقد أهل العلم، ولهذا روى في شرح معاني الآثار الأحاديث المختلفة، وإنما يرجح ما يرجحه منها في الغالب من جهة القياس الذي رآه حجة ويكون أكثرها مجروحا من جهة الإسناد، لا يثبت ولا يتعرض لذلك، فإنه لم تكن معرفته بالإسناد كمعرفة أهل العلم به، وإن كان كثير الحديث فقيها عالما. انتهى.
তিনি এটি ইমাম ত্বহাবীর সনদে ইউনুস বিন আবদিল আলা থেকে হুবহু বর্ণনা করেন। আল্লাহর কসম, আমি এই কিতাবে ইমাম বায়হাকী ইমাম ত্বহাবী সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার কিছুই দেখতে পাইনি। আমাদের শায়খ কাযিউল কুযাত আলাউদ্দিন এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তাঁর (বায়হাকীর) 'আস-সুনানুল কাবীর'-এর ওপর একটি মহান ও মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। তাতে তিনি ইমাম বায়হাকী কর্তৃক ইমাম ত্বহাবীর ওপর আরোপিত সেই সব বিষয়ের বিভিন্ন প্রকার উন্মোচন করেছেন যা বায়হাকী নিজেই করেছেন। তিনি (বায়হাকী) নিজের মাযহাবের সমর্থনে একটি হাদিস উল্লেখ করেন যার সনদ দুর্বল, অথচ তিনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেন; আবার আমাদের মাযহাবের অনুকূলে একটি হাদিস উল্লেখ করেন যার সনদে সেই একই ব্যক্তি বিদ্যমান যাকে তিনি (অন্যত্র) নির্ভরযোগ্য বলেছিলেন, অথচ এখানে তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন। এমনটি অনেক স্থানেই ঘটেছে, আর এই দুই ধরনের আচরণের মাঝে মাত্র দুই বা তিন পাতার ব্যবধান থাকে। এই কিতাবটি মানুষের হাতেই বিদ্যমান রয়েছে, সুতরাং যার এ বিষয়ে সন্দেহ হয় সে যেন তা দেখে নেয়। আর আমাদের শায়খের কিতাবটি একটি মহান কিতাব; যদি পূর্ববর্তী হাফেজগণ এটি দেখতেন, তবে যে জিহ্বা দ্বারা তিনি এই কথা উচ্চারণ করেছেন তা চুম্বন করার অনুমতি চাইতেন, যেমনটি আবু সুলাইমান আদ-দারানী সুনান রচয়িতা আবু দাউদের কাছে তাঁর জিহ্বা বের করতে বলেছিলেন যেন তিনি তা চুম্বন করতে পারেন। সমাপ্ত।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'মিনহাজুস সুন্নাহ' (৪/১৯৪)-তে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য সূর্য ফিরিয়ে আনার হাদিসটি খণ্ডন প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন, যা ইমাম ত্বহাবী 'শারহু মাআনিল আসার'-এ সহিহ বলেছিলেন। তিনি বলেন: হাদিস বিশারদগণের মতো হাদিস সমালোচনা করা ইমাম ত্বহাবীর অভ্যাস নয়। একারণেই তিনি 'শারহু মাআনিল আসার'-এ বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এগুলোর মধ্য থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই মতকেই প্রাধান্য দেন যা তিনি কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) ভিত্তিতে দলিল হিসেবে গণ্য করেন, যদিও সেগুলোর অধিকাংশ সনদের দিক থেকে ত্রুটিযুক্ত হয়ে থাকে যা প্রমাণিত নয় এবং তিনি সেদিকে দৃষ্টিপাতও করেন না। কেননা সনদের বিষয়ে তাঁর জ্ঞান এ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের মতো ছিল না, যদিও তিনি অনেক হাদিসের বর্ণনাকারী এবং একজন বিজ্ঞ ফকিহ ও আলেম ছিলেন। সমাপ্ত।