(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
تفسير النصوص في الفقه الإسلامي   (محمد أديب الصالح)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: تفسير النصوص في الفقه الإسلامي

(دراسة مقارنة لمناهج استنباط الأحكام من النصوص وما ترتب على الاختلاف في الأصول من اختلاف في الفروع)

المؤلف: محمد أديب الصالح

أصل الكتاب: أطروحة دكتوراة - كلية الحقوق، جامعة القاهرة

الناشر: المكتب الإسلامي، بيروت - لبنان

الطبعة: الخامسة، 1429 هـ - 2008 م

(طبعة منقحة ومزيدة في التخريج والتبيين والتوثيق)

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ربيع الأول 1446

ইসলামি ফিকহে নসসমূহের ব্যাখ্যা   (মুহাম্মদ আদীব আস-সালিহ)

বিভাগ: উসূলুল ফিকহ

কিতাব: ইসলামি ফিকহে নসসমূহের ব্যাখ্যা

(নসসমূহ থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতির তুলনামূলক অধ্যয়ন এবং মূলনীতিতে (উসূল) মতভেদের কারণে শাখা-বিধানে (ফুরু) যে মতভেদ সৃষ্টি হয় তার পর্যালোচনা)

লেখক: মুহাম্মদ আদীব আস-সালিহ

মূল গ্রন্থ: পিএইচডি থিসিস - আইন অনুষদ, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

(তখরীজ, ব্যাখ্যা ও প্রামাণিকীকরণে পরিমার্জিত ও বর্ধিত সংস্করণ)

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

نال المؤلف بهذا الكتاب درجة الدكتوراة بمرتبة الشرف الأولى مع التبادل مع الجامعات الأجنبية من كلية الحقوق بجامعة القاهرة وكانَ رئيسُ لجنة المُناقشةِ: العَلَّامَة الشيخ محمَّد أبو زهْرَة رحمه الله.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

লেখক এই গ্রন্থের মাধ্যমে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ হতে প্রথম শ্রেণির সম্মান এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সাথে বিনিময়ের যোগ্যতাসহ ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উক্ত অভিসন্দর্ভ মূল্যায়ন কমিটির প্রধান ছিলেন আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আবু জাহরা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الإهْدَاء

إلى الرائدة الأمينة على درب اليُتم الطويل .. والتي ما زالت تتابع الطريق، عطاءً ووفاءً .. ترجو بهما الله واليوم الآخر .. أُمي .. يرحمها الله‌‌(1).

إلى الرجل الذي عاش لا يخاف في الله لومة لائم حتى قضي في سبيل الهداية والحق، مثلًا رائعًا للعالم العامل المجاهد، ومربيًا ناصحًا لدينه ولأمته "الشيخ إبراهيم الغلاييني" … أستاذي.

 

محمد أديب الصالح

--------------------------------------------

‌‌(1) توفيت غفر الله لها ورحمها رحمة واسعة في العاشر من ذي الحجة عام 1403 هـ، ودفنت - بحمد الله - في البقيع. وأسأله تعالى أن يحشرها في زمرة المنعَم عليهم {مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا (69)}.
উৎসর্গ

দীর্ঘ পিতৃহীনতার পথে সেই বিশ্বস্ত অগ্রপথিকের প্রতি... যিনি দান ও আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহ এবং পরকালের প্রত্যাশা নিয়ে এখনও পথ চলছেন... আমার মা... আল্লাহ তাঁকে রহম করুন(১)।

সেই মহান ব্যক্তির প্রতি, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া না করে আমৃত্যু হিদায়াত ও সত্যের পথে অটল ছিলেন; যিনি আমলকারী আলেম ও মুজাহিদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত এবং স্বীয় দ্বীন ও উম্মাহর এক নিষ্ঠাবান শিক্ষক— "শায়খ ইবরাহিম আল-গালায়িনি"... আমার উস্তাদ।

 

মুহাম্মদ আদীব আস-সালিহ

--------------------------------------------

(১) তিনি ১০ই যিলহজ ১৪০৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন—এবং আল্লাহর প্রশংসায়, তাঁকে বাকী-তে দাফন করা হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে সেই সব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের প্রতি তিনি অনুগ্রহ করেছেন: {নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মপরায়ণগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম! (৬৯)}।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

• {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ"}. . . [قرآن كريم]

 

• «اللّهم فقِّههُ في الدّينَ وعلّمهُ التأويل». . . [من دعاء رسول الله لابن عبّاس]

 

• «ليكنُ الذّي تعتمد عليهِ هذا الأثر، وَخُذ من الرأي ما يُفسر لكَ الحَديث». . . [عَبد الله بن المبارك]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

• {"এবং যদি তারা বিষয়টি রাসুলের প্রতি এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃপক্ষ বা আলেমদের) প্রতি ন্যস্ত করত, তবে তাদের মধ্যে যারা গবেষণায় পারদর্শী তারা অবশ্যই তার সঠিক হাকীকত জানতেন"}। . . [পবিত্র কুরআন]

 

• "হে আল্লাহ, আপনি তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে সঠিক ব্যাখ্যা শিক্ষা দিন"। . . [ইবনে আব্বাসের প্রতি আল্লাহর রাসুলের দুআ থেকে]

 

• "তোমার নির্ভরতার ভিত্তি যেন হয় আছার (সালাফদের বর্ণনা), আর ব্যক্তিগত অভিমত থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করো যা তোমার নিকট হাদিসের মর্মার্থ ব্যাখ্যা করে"। . . [আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক]
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة الطبعة الثالثة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي له مقاليد السماوات والأرض، والذين كفروا بآيات الله أولئك هم الخاسرون. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وقف الأمةَ على النهج السويِّ بقوله جلّ شأنه: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: 83] وأصلي وأسلّم على إمام الهدى ومعلم الناس الخير، سيدنا محمد بن عبد الله وعلى آله وصحابته، ومَن اهتدى بهديه واستنَّ بسنّته إلى يوم التناد.

وَبَعْد، فعلى بركة الله أقدّم للقارئ الكريم الطبعة الثالثة من كتاب

"تفسير النصوص في الفقه الإسلامي"

بعد أن مضى على نفاد الطبعة الثانية عدد من السنوات، وحالت ظروف - كان لا حيلة في دفعها - دون إعادة الطبع.

وإني إذ أشكر للإخوة الباحثين الذين شجّعوا على إخراج هذه الطبعة، وكانوا كرامًا على ساحة التقويم العلمي والثناء على العمل … أود الإشارة إلى أن مما حفزني إلى ذلك أيضًا، أن رواد المعرفة من الشباب الإسلامي - بصرف النظر عن التخصصات - بدأوا يتطلعون بجدية ووعي واضحين، إلى التعرف المبصر على مناهج علمائنا - رحمهم الله تعالى - في استنباط الأحكام من نصوص الكتاب والسنّة، والطرائق التي واجهوا بها تلك النصوص بوصفها قِوام الشريعة وينبوع الإسلام، وجاءت بلسان عربي مبين. ناهيك عن تبيُّن ما ترتب على ذلك من آثار فكرية عظيمة متسعة الجنبات.
‌তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর চাবিকাঠি যাঁরই নিকট; আর যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর মহান বাণীর মাধ্যমে উম্মতকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন: {আর যদি তারা তা রাসুলের সমীপে কিংবা তাদের উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) সমীপে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) করে, তারা অবশ্যই তার স্বরূপ জানতে পারত} [নিসা: ৮৩]। আর আমি দরুদ ও সালাম পাঠ করছি হিদায়াতের ইমাম এবং মানুষের জন্য কল্যাণের শিক্ষক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি, আর যারা তাঁর দেখানো পথে চলেন এবং বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করেন।

অতঃপর, আল্লাহর বরকতের ওপর নির্ভর করে আমি সম্মানিত পাঠকের কাছে বইটির তৃতীয় সংস্করণ উপস্থাপন করছি:

"ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে নসুস (মূল পাঠ) এর ব্যাখ্যা"

দ্বিতীয় সংস্করণটি নিঃশেষ হওয়ার পর বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং কিছু অনিবার্য পরিস্থিতি—যা এড়ানো সম্ভব ছিল না—পুনঃমুদ্রণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আমি সেইসব গবেষক ভাইদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা এই সংস্করণটি প্রকাশের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন এবং বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও কাজের প্রশংসার ক্ষেত্রে উদারতা প্রদর্শন করেছেন … আমি আরও উল্লেখ করতে চাই যে, যা আমাকে এটি করতে উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—বিশেষায়িত ক্ষেত্র নির্বিশেষে—মুসলিম যুব সমাজের জ্ঞানপিপাসুরা অত্যন্ত গুরুত্ব এবং স্বচ্ছ সচেতনতার সাথে আমাদের ওলামায়ে কেরামের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞানলব্ধ পরিচিতি লাভের আকাঙ্ক্ষা করছেন। বিশেষ করে কিতাব ও সুন্নাহর নসুস (نصوص) থেকে হুকুম বা বিধান আহরণের (ইস্তিনবাত) পদ্ধতি এবং সেই নসুসগুলোকে শরিয়তের ভিত্তি ও ইসলামের উৎস হিসেবে মোকাবেলা করার পন্থাগুলো সম্পর্কে, যা সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর ফলে যে সুদূরপ্রসারী ও মহান বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
وما من ريب في أن تحقيق ذلك من شأنه أن يصحح المسار ويزيد الثقة بالمنهج المسلوك.

ولا يخفى أن التطلعات التي نومئ إليها، تصحبها الرغبة في أن يتحقق المراد بأسلوب ميسَّر قدر المستطاع، حيث الموضوعات الشائكة والبحوث الدقيقة التي يعوزها - أحيانًا - قدر لا بأس به من التذليل. والمأمول أن يسهم "تفسير النصوص" في تحقيق هذا المطلب بتوفيق الله تعالى.

ثم إن طلاب الدراسات العليا من مرحلتَي الماجستير والدكتوراه على ساحة هذا التخصص، قد صحب الكثيرُ منهم - كما علمت من عدد من الأساتذة والطلاب - هذا الكتابَ - والحمد لله - صحبة علمية ناجحة - سواء في أصل الاختيار لموضوع البحث، أو في جمع المادة العلمية، والاهتداء إلى المصادر، ثم تنسيق المعلومات وصياغتها بعد التمحيص والمقارنة والترجيح إن وُجدتْ بواعثُه. وذلك ما جعل توافر الكتاب بين أيدي الباحثين على هذا المستوى أمرًا نافعًا إن شاء الله.

وإني لأسأل المولى تباركت أسماؤه - وعطاؤه هو العطاء - أن يرزقني الإخلاص في القول والعمل، وأن يهب لي من لدنه مزيدًا من ستره وعونه وفضله، فلا ربَّ غيره ولا خير إلا خيره، له الحمد في الأولى والآخرة، وهو حسبي ونعم الوكيل.

 

الرياض: 1 من شعبان 1403 هـ

محمد أديب الصالح
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি বাস্তবায়ন করা সঠিক পথ নির্ধারণ করবে এবং অনুসৃত পদ্ধতির ওপর আস্থা বৃদ্ধি করবে।

এটি গোপন নয় যে, আমরা যে আকাঙ্ক্ষাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করছি, তার সাথে এই ইচ্ছাটি রয়েছে যে যেন লক্ষ্যটি যথাসম্ভব সহজ পদ্ধতিতে অর্জিত হয়; কারণ এখানে এমন কিছু জটিল বিষয় ও সূক্ষ্ম গবেষণা রয়েছে যেগুলোর জন্য মাঝে মাঝে যথেষ্ট পরিমাণ সহজবোধ্যকরণের প্রয়োজন পড়ে। আল্লাহ তাআলার তৌফিকে আশা করা যায় যে, "তাফসিরুন নুসস" (মূলপাঠের ব্যাখ্যা) এই লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে।

তদুপরি, এই বিষয়ের মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ের উচ্চতর গবেষণার অনেক শিক্ষার্থী—যেমনটি আমি বেশ কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নিকট থেকে জেনেছি—এই কিতাবটির সাথে একটি সফল ইলমি সফর অতিবাহিত করেছে—আলহামদুলিল্লাহ। চাই তা গবেষণার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে হোক, অথবা ইলমি তথ্য সংগ্রহ ও উৎস খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে হোক, কিংবা যাচাই-বাছাই, তুলনা এবং উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে কোনো মতকে প্রাধান্য দেওয়ার পর তথ্যের বিন্যাস ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে হোক। এ কারণেই এই স্তরের গবেষকদের নিকট কিতাবটির সহজলভ্যতা একটি উপকারী বিষয় হিসেবে পরিগণিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি—যাঁর নামসমূহ বরকতময় এবং যাঁর দানই প্রকৃত দান—তিনি যেন আমাকে কথায় ও কাজে ইখলাস দান করেন। তিনি যেন তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে অধিকতর নিরাপত্তা, সাহায্য এবং অনুগ্রহ দান করেন। তিনি ছাড়া কোনো রব নেই এবং তাঁর কল্যাণ ব্যতীত কোনো কল্যাণ নেই। দুনিয়া ও আখেরাতে সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

রিয়াদ: ১ শাবান ১৪০৩ হিজরি

মুহাম্মদ আদীব আস-সালিহ
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونصلي ونسلّم على نبينا محمد المبيِّن عن ربه كتابه، المبلغ عنه شريعته، وعلى آله وصحابته.

وَبَعْد: فقد يكون من نافلة القول الحديث عن مكانة وأهمية تفسير نصوص الأحكام من الكتاب والسنّة؛ فإن إلى هذين الأصلين الكريمين مردَّ شريعة الإسلام في مصادرها الأولى؛ إذ إنهما الينبوعان الأساسيان لتلك المصادر التي هي طريق العلماء لاستنباط الأحكام.

فالكتاب: وهو كليُّ الشريعة وأصل أصولها، كان سجلًا مباركًا تناول الأحكام - إلا قليلًا منها - بطريقة يزينها - في الغالب - طابع الإجمال.

وتليه السنّة التي كانت ترجمان بيانه وتفصيله، وطريق الوصول إلى هدايته. وفي ذلك يخاطب الله من أولاء كرامة البيان: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (44)} [النحل: 44]. وكان البيان … وقال الرسول صلوات الله وسلامه عليه: "ألا وإني أوتيت القرآن ومثله معه .... ".

ومن هنا كان البحث في مناهج تفسير نصوص الكتاب والسنّة، والصلة بمسالك استنباط الأحكام عند الأئمة، جديرًا بمزيد من المعرفة، حريًا بكثير من الدقة والإدراك.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করি, যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর কিতাবকে সুস্পষ্টকারী এবং তাঁর শরীয়তকে পৌঁছে দানকারী; আর তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের ওপরও (সালাম বর্ষিত হোক)।

অতঃপর: কিতাব ও সুন্নাহর আহকাম (বিধান) সংক্রান্ত পাঠ্যসমূহের (নুসুস) ব্যাখ্যার মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা বাহুল্যমাত্র হতে পারে; কেননা ইসলামী শরীয়তের প্রাথমিক উৎসগুলোর প্রত্যাবর্তন এই দুটি মহান মূলনীতির দিকেই। যেহেতু এই দুটি হলো সেই উৎসসমূহের প্রধান দুটি ঝরনাধারা যা আলিমদের বিধান আহরণের পথ।

কিতাব (কুরআন): এটি শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ রূপ এবং এর সকল মূলনীতির মূল। এটি একটি বরকতময় দলিল যা বিধানসমূহকে—সামান্য কিছু ব্যতীত—এমন এক পদ্ধতিতে আলোচনা করেছে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততার (ইজমাল) বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত।

আর এরপরই সুন্নাহর অবস্থান, যা ছিল কুরআনের ব্যাখ্যার অনুবাদক ও বিশদ বিবরণ এবং এর হেদায়েত পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা তাকে সম্বোধন করেছেন যাকে বর্ণনার মর্যাদা দান করা হয়েছে: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" [সূরা আন-নাহল: ৪৪]। আর এই বর্ণনা ছিল … এবং রাসূল (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং এর সাথে এর অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে...."।

আর এ কারণেই কিতাব ও সুন্নাহর পাঠ্যসমূহের ব্যাখ্যার পদ্ধতি এবং ইমামগণের নিকট বিধান আহরণের পন্থার সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা অধিকতর জ্ঞান লাভের যোগ্য এবং অনেক বেশি সূক্ষ্মতা ও উপলব্ধির দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
ولقد وقفت أمتنا في الماضي على سبيل المعرفة - ويدها هي العليا - فأعطت لبني البشر عن طريق أئمتها الأعلام مناهج لتفسير النصوص، قائمةً على قواعد العربية، ومفهومات الشريعة في مقاصدها وأعرافها، فأوضحت معالم الطريق، وسلكت بالاستنباط أقوم السبل، وكان ذلك تحقيقًا لقول الله تبارك وتعالى: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: 83].

وقد مرّت تلك المناهج في مراحل أدخلتها في الطور العلمي القائم على أُسس وقواعد، وذلك بعد أن كان التفسير مبنيًا على السليقة العربية، وفهم من نزل الكتاب بلسانهم في ظل البيان النبوي الحكيم.

وهكذا كانت مناهج تفسير النصوص وقواعده عند أئمتنا الأولين: ثمرة جهود، ونتاج قرائح؛ فكانت الأساسَ الذي قام عليه البناء التشريعي، من حيث استخراجُ الأحكام من النصوص، ضمن إطار علمي من الضوابط، وفي ظل قواعد عامة تمنع الزلل، وتباعد عن الانحراف.

ولقد كان طبيعيًا - والعربية لسان شريعة الإسلام - أن توضع قواعد التفسير في ظل هذه الحقيقة. وهكذا وُضعت تلك القواعد بعد استقراء لأساليب العربية، وإدراك لطبيعتها في الخطاب، ومعرفة ما يمكن أن تؤديه الألفاظ والتراكيب من مدلولات، وإن كان للعرف الشرعي مكانه في التقديم، حين يدخل مدلول اللفظ العربي مع الشريعة في طور جديد.

وقد حفلت المكتبة الفقهية الإسلامية بالكثير من الآثار في هذا الموضوع، غير أن طابعًا من التعقيد طبع كثيرًا من المؤلفات في أصول الفقه، الأمر الذي احتاجت هذه القضية الكبرى معه إلى كثير من البحث والتنقيب، بغية الوصول إلى خيرات تلك الكنوز الدفينة، وراء العبارة الغامضة والأسلوب الذي كثيرًا ما يستعصي على غير ذوي الاختصاص، وإن كان عذر أولئك المؤلفين؛ أنهم التزموا طرائق عصورهم التي عاشوا في ظلها، وتأثروا بأساليبها ومناهج التأليف فيها.

ومن هنا كان لا بد للانتفاع بهذه الثروة المباركة، من جهد دائب، في
অতীতে আমাদের উম্মাহ জ্ঞানের পথে অটল ছিল - এবং তাদের হাতই ছিল সুউচ্চ - তারা তাদের মহান ইমামগণের মাধ্যমে মানবজাতিকে মূল পাঠ্যসমূহ (নুসুস) ব্যাখ্যার এমন পদ্ধতি দান করেছেন যা আরবি ভাষার নিয়মাবলি এবং শরীয়তের লক্ষ্য ও প্রথাগত ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এভাবে তারা পথের দিশা স্পষ্ট করেছেন এবং ইস্তিনবাত (তত্ত্ব উদ্ঘাটন)-এর ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পথ অনুসরণ করেছেন। আর এটি ছিল আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণীরই বাস্তব প্রতিফলন: "যদি তারা তা রাসুলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গের) কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা ইস্তিনবাত করতে (নিগূঢ় রহস্য উদ্ঘাটন করতে) সক্ষম তারা বিষয়টি জানতে পারত" [নিসা: ৮৩]।

এই পদ্ধতিগুলো এমন কিছু স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে যা সেগুলোকে নীতি ও নিয়মের ওপর ভিত্তি করে একটি বৈজ্ঞানিক রূপ দান করেছে। এটি সেই সময়ের পরবর্তী ঘটনা যখন ব্যাখ্যা বা তাফসির ছিল মূলত আরবি সহজাত প্রবৃত্তি এবং যাদের ভাষায় কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে সেই হিকমতপূর্ণ নববী বর্ণনার ছায়াতলে তাদের উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল।

এভাবেই আমাদের পূর্বসূরি ইমামগণের নিকট মূল পাঠ্য বা নুসুস ব্যাখ্যার পদ্ধতি ও নীতিমালা ছিল তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা ও মেধার ফসল। এটিই ছিল সেই মূল ভিত্তি যার ওপর আইনি কাঠামো গড়ে উঠেছে; যেখানে নিয়মনীতির একটি বৈজ্ঞানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে এবং বিচ্যুতি ও বিভ্রান্তি রোধকারী সাধারণ মূলনীতির আলোকে নুসুস থেকে বিধানসমূহ আহরণ করা হতো।

যেহেতু আরবি ভাষা হলো ইসলামি শরীয়তের ভাষা, তাই এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ব্যাখ্যার নীতিমালা প্রণীত হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। এভাবেই আরবি প্রকাশভঙ্গির গভীর পর্যবেক্ষণ, সম্বোধনের প্রকৃতি উপলব্ধি এবং শব্দ ও বাক্য গঠন কী কী অর্থ প্রদান করতে পারে তা পরিজ্ঞাত হওয়ার পর সেই নীতিমালাগুলো সুসংবদ্ধ করা হয়েছে। যদিও শরয়ি পরিভাষার অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্বতন্ত্র, যখন আরবি শব্দের আভিধানিক অর্থ শরীয়তের সংস্পর্শে এসে একটি নতুন রূপ পরিগ্রহ করে।

ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার এই বিষয়ের বহু নিদর্শনে সমৃদ্ধ। তবে উসুলুল ফিকহ বিষয়ক অনেক গ্রন্থেই এক ধরণের জটিলতা লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে এই মহান বিষয়টি অনেক নিবিড় গবেষণা ও অনুসন্ধানের মুখাপেক্ষী হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সেই অস্পষ্ট শব্দাবলি এবং দুর্বোধ্য শৈলীর আড়ালে থাকা বরকতময় ধনভাণ্ডারের কল্যাণ লাভ করা, যা অনেক সময় বিশেষজ্ঞ ব্যতীত অন্যদের জন্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। অবশ্য সেই লেখকদের ক্ষেত্রে ওজর এই যে, তাঁরা তাঁদের সমসাময়িক যুগের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন এবং তৎকালীন লিখনশৈলী ও রচনারীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

তাই এই বরকতময় সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টার প্রয়োজন ছিল, যাতে...
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
سبيل عرضها بأسلوب يجعلها قريبة المنال قدر المستطاع، ليمكن استخدامها في الطريق العملي، كما أراده لها الواضعون الأولون.

وعلى ذلك: يبدو لزامًا على الباحث في تلك المناهج، إلى جانب صلته بالكتاب والسنّة والعربية، أن يكون على معرفة بالمفاتيح الأولى لمصطلحات أولئك الأئمة في التعبير والضوابط، كيما يتسنى له دخول حِمَىً فيه - على ما نعتقد - الخيرُ الكثير الوفير الذي يشكل عنصرًا أساسيًا من عناصر ثروتنا الفقهية والتشريعية التي تميزت بها أمتنا عن سائر أمم الأرض.

هذا: ولقد كانت تشدني إلى البحث في (تفسير النصوص)، رغبة في مغرفة طرائق الأئمة في الاستنباط، وكيفية تخريج الفروع الفقهية على أصولها التي تنتمي إليها، وهي رغبة آذنت منذ أيام الدراسة الجامعية في الأزهر وفي الحقوق في جامعة دمشق، حيث أضاءت يومئذ قبسًا في العقل والتفكير وبدأت - والحمد لله - تتفاعل مع النفس بدافع الاقتناع بها طريقًا لخدمة الإسلام، ثم كان من فَضل الله أن يسّر تعهدها ورعايتها بالاطلاع الدائب والمتابعة الواعية … وتوالت الأيام تمضي، وكان هذا البحث الذي أكرمني الله به موضوعًا لرسالة الدكتوراه، في كلية الحقوق - جامعة القاهرة، ولقد رأيتني، وأنا حفِيٌّ به، كَلِفٌ بِحَزْنِه وسهله، أعيش معه أيامًا غالية، أرجو أن تكون ظلالها على خطاي في متابعة الطريق .. طريق الإسلام الخالد الذي أيقظ الإنسانية من سبات، ولسوف تصحو على شريعته من جديد لترى فيها خير منقذ مما تعانيه من جاهلية وظلمات.

وإذا كان لا بد من الإشارة إلى الأغراض التي يمكن أن يؤديها هذا الموضوع، فإنه يحقق أغراضًا كثيرة من أهمها:

أولًا: الخروج من عهدة الامتثال لما جاء من الأمر بتدبُّر القرآن وتعقله ووعي السنّة والعمل بها، لتكون شريعة الله هي المحكَّمة؛ فلا يمكن أن يكون تدبر أو تعقل، ولا وعي أو عمل بتلك النصوص، إلا بفهمها والكشف عن معانيها؛ وذلك عن طريق التفسير.

ثانيًا: معرفة مسالك الأئمة في الاستنباط، والإحاطة بطرائق استخراجهم
এটি উপস্থাপনের এমন একটি পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে যা একে সাধ্যমতো সহজবোধ্য করে তোলে, যাতে একে ব্যবহারিক পথে ব্যবহার করা সম্ভব হয়, যেমনটি এর প্রাথমিক সংকলকগণ চেয়েছিলেন।

সেই প্রেক্ষিতে: এই সব মানহাজ বা পদ্ধতির গবেষকের জন্য কুরআন, সুন্নাহ এবং আরবি ভাষার সাথে গভীর সম্পর্কের পাশাপাশি সেই সকল ইমামগণের পরিভাষা ও মূলনীতির প্রাথমিক চাবিকাঠিগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা আবশ্যক বলে মনে হয়, যাতে তিনি এমন এক সংরক্ষিত অঙ্গনে প্রবেশ করতে পারেন যাতে রয়েছে—আমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী—প্রচুর কল্যাণ। আর এটি আমাদের ফিকহী ও আইনগত সম্পদের একটি মৌলিক উপাদান গঠন করে, যার মাধ্যমে আমাদের উম্মত পৃথিবীর অন্যান্য জাতি থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়েছে।

এটি: (নصوص বা পাঠের ব্যাখ্যা) বিষয়ে গবেষণার প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম ইমামগণের ইস্তিনবাত বা মাসআলা উদ্ভাবনের পদ্ধতিগুলো জানার এবং ফিকহের শাখাগুলোকে তাদের সংশ্লিষ্ট মূলনীতির সাথে কীভাবে সম্পৃক্ত করা হয় তা জানার আকাঙ্ক্ষা থেকে। এই আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়েছিল আল-আজহার এবং দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যয়নকালেই, যখন তা আমার বুদ্ধি ও চিন্তার জগতে একটি আলোকশিখা প্রজ্বলিত করেছিল এবং—আল্লাহর শুকরিয়া—ইসলামের সেবার পথ হিসেবে এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে তা আমার অন্তরে নাড়া দিতে শুরু করেছিল। এরপর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি নিরন্তর অধ্যয়ন ও সচেতন অনুধাবনের মাধ্যমে এর যত্ন ও চর্চাকে সহজ করে দিয়েছিলেন... দিনের পর দিন অতিবাহিত হলো এবং এই গবেষণাটি, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে আমার ডক্টরেট থিসিসের বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়াল। আমি এর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ও অনুরাগী ছিলাম, এর কাঠিন্য ও সহজতার মাঝে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলাম এবং এর সাথে অতি মূল্যবান দিনগুলো অতিবাহিত করেছি। আমি আশা করি, এর প্রভাব আমার চলার পথের পদক্ষেপে ছায়া হয়ে থাকবে—সেই শাশ্বত ইসলামের পথ যা মানবতাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে জাগ্রত করেছে এবং অচিরেই তারা এর শরীয়তের আলোকে পুনরায় জেগে উঠবে যাতে তারা বর্তমানের জাহিলিয়াত ও অন্ধকার থেকে মুক্তির শ্রেষ্ঠ উপায় দেখতে পায়।

এই বিষয়টি যে উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করতে পারে সেগুলো নির্দেশ করা যদি আবশ্যক হয়, তবে এটি অনেকগুলো লক্ষ্য অর্জন করে যার মধ্যে প্রধান হলো:

প্রথমত: কুরআন নিয়ে গবেষণা ও চিন্তা-ভাবনা এবং সুন্নাহ সম্পর্কে সচেতন হওয়া ও তা অনুসরণ করার যে আদেশ এসেছে, তা পালনের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া, যাতে আল্লাহর শরীয়ত হয় চূড়ান্ত ফয়সালাকারী; কারণ সেই নصوص বা পাঠ্যসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা, অনুধাবন, সচেতনতা কিংবা সে অনুযায়ী আমল করা সম্ভব নয় সেগুলোকে বুঝা এবং সেগুলোর মর্ম উদ্ঘাটন করা ছাড়া; আর তা সম্ভব তাফসির বা ব্যাখ্যার মাধ্যমে।

দ্বিতীয়ত: মাসআলা আহরণে ইমামগণের কর্মপন্থা সম্পর্কে জানা এবং তাদের বিধান উদ্ঘাটনের পদ্ধতিগুলো আয়ত্ত করা।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১২)
للأحكام من منابعها الأولى في عصور ما قبل التقليد، وهذا أمر ينير السبيل أمام الباحث، ليدرك كيف أن هذه الشريعة الغنية بأصولها وفروعها، كانت - وما تزال - قادرة على أن تُمِدَّ الإنسانية في ميدان الأنظمة والتشريع بما يضمن لها الخير، والقوة، والمنعة، والعدالة المطلقة.

ثالثًا: ولقد يكون من بديهيات القول، أن من الأغراض التي يؤديها الموضوع، إدراكَ جانب كبير من الاختلاف بين الأئمة - فيما اختلفوا فيه - كيف نشأ وإلى أي الموارد ينتمي؛ لأن من أسباب الاختلاف الحكمَ على النص عند التفسير.

وبمعرفة الاختلاف وما يتصل به يسهل على الباحث الناطق بالضاد على الأقل قبل غيره، أن يَقْدُرَ الثروةَ الفقهية على اختلاف المذاهب فيها، حق قدرها، ويؤمن أن تشعُّب المذاهب في العصور الأولى من حضارتنا الفقهية لم يكن عبثًا، وإنما كان صورة لهذا البحر الزاخر من التشريع الذي وُلد - على غاية الكمال - وحيًا، ونما وترعرع - بالنسبة إلينا - بحثًا وفهمًا وتفريعًا، فكان شجرة طيبة أصلها ثابت وفرعها في السماء.

ومما لا شك فيه: أن في معرفة مسالك الأئمة والاختلاف، تنميةً للملكة الفقهية الواعية عند الباحث، لما يرى من نماذج حية عند الفقهاء في القدرة على استخراج الأحكام ورد الفروع إلى أصولها، وكيف تختلف هذه الفروع باختلاف الضوابط والأصول؛ وذلك بعد التثبُّت من صحة النص إن كان من السنة.

كما أن في ذلك ما يعطي القدرة على الدقة وضبط النفس، وعدم التسرع في حكم أو فتوى أو قضاء.

ومن هنا أقام الأولون العلم بالاختلاف، في موضع الإيضاح لمعالم الطريق.

روى ابن عبد البر في كتابه "جامع بيان العلم وفضله" أن سعيد بن أبي عَروبة قال: مَن لم يسمع الاختلاف فلا تعدوه عالمًا.
তাকলিদপূর্ব যুগে বিধানসমূহের মূল উৎস থেকে তা গ্রহণ করা। এটি একজন গবেষকের সামনে এমন এক পথ উন্মোচন করে, যাতে তিনি অনুধাবন করতে পারেন যে, মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় সমৃদ্ধ এই শরিয়ত ব্যবস্থা ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কীভাবে মানবতাকে এমন কিছু প্রদান করতে সক্ষম ছিল—এবং আজও আছে—যা তাদের জন্য কল্যাণ, শক্তি, সুরক্ষা এবং পরম ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।

তৃতীয়ত: এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যে, এই বিষয়ের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইমামগণের মধ্যকার মতভিন্নতার একটি বড় অংশ—যেসব বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন—সেটি কীভাবে উদ্ভূত হয়েছে এবং কোন উৎসের সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে তা উপলব্ধি করা। কেননা মতভেদের অন্যতম কারণ হলো ব্যাখ্যার সময় মূল পাঠ বা নসের ওপর কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া।

মতভেদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানার মাধ্যমে একজন গবেষক—অন্তত যারা আরবি ভাষায় পারদর্শী তারা অন্যদের তুলনায় সহজে—বিভিন্ন মাজহাবের এই ফিকহী জ্ঞানভাণ্ডারের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারেন। তিনি বিশ্বাস করতে পারেন যে, আমাদের ফিকহী সভ্যতার প্রাথমিক যুগে মাজহাবসমূহের এই বিস্তৃতি কোনো নিরর্থক বিষয় ছিল না; বরং এটি ছিল শরিয়তের সেই বিশাল সমুদ্রের একটি প্রতিচ্ছবি, যা ওহীর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গরূপে জন্মলাভ করেছিল এবং আমাদের ক্ষেত্রে তা গবেষণা, অনুধাবন ও শাখা-প্রশাখা বিন্যাসের মাধ্যমে বিকশিত ও পল্লবিত হয়েছে। ফলে এটি এমন এক পবিত্র বৃক্ষে পরিণত হয়েছে যার মূল সুদৃঢ় এবং শাখা আকাশে বিস্তৃত।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমামগণের কর্মপন্থা ও তাদের মধ্যকার মতভেদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন গবেষকের মাঝে একটি সচেতন ফিকহী প্রজ্ঞা তৈরি করে। কারণ, তিনি ফকিহগণের মাঝে আহকাম বা বিধান আহরণ করা এবং শাখা-প্রশাখাগুলোকে মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার জীবন্ত উদাহরণ দেখতে পান। এছাড়া মূলনীতি ও মানদণ্ডের ভিন্নতার কারণে কীভাবে এই শাখা-প্রশাখাগুলোতে ভিন্নতা আসে তাও তিনি প্রত্যক্ষ করেন; আর এ সবকিছুই হয় সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত মূল পাঠের বিশুদ্ধতা যাচাই করার পর।

তদুপরি, এটি সূক্ষ্মতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দান করে এবং কোনো হুকুম, ফতোয়া বা বিচারকার্যে তাড়াহুড়ো না করার শিক্ষা দেয়।

এ কারণেই পূর্বসূরিগণ মতভেদ বিষয়ক জ্ঞানকে সঠিক পথের দিশা উন্মোচনের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেছেন।

ইবনে আবদিল বারর তাঁর "জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, সাঈদ বিন আবি আরুবাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আলেমদের মতভেদ সম্পর্কে শ্রবণ করেনি, তাকে তোমরা আলেম হিসেবে গণনা করো না।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وروى عن عثمان بن عطاء عن أبيه قال: لا ينبغي لأحد أن يفتي الناس حتى يكون عالمًا باختلاف الناس؛ فإنه إن لم يكن كذلك، ردّ من العلم ما هو أوثقُ من الذي في يديه.

رابعًا: فيما وراء بيان النبي صلى الله عليه وسلم الذي هو من نصوص الأحكام، سواء في تقرير حكم قرآني أو بيان لمجمل الكتاب، أو إنشاء حكم جديد: لا بد من الإشارة إلى أن قواعد التفسير التي نحن بصدد الحديث عنها، ليست في موضع القداسة بحيث تحمل طابع الإلزام الديني.

ذلك أن هذه القواعد - كما أسلفنا - قامت على استقراء أساليب العربية، وإدراك المدلول الصحيح للخطاب في لسان العرب، وكذلك إدراك القواعد العامة للتشريع، فمن الممكن أن تكون طريقنا لفهم القانون وتفسيره، وعلى الأخص في بلادنا العربية التي أصبحت العربية فيها لغة القانون.

وإذا كان عندنا - في البلاد العربية - دولة كالعراق ما تزال تستمد قانون الأحوال الشخصية من فقه الحنفية، فالبلاد العربية الأخرى - شأنَ بلدنا - تعتبر الشريعة الإسلامية بمذاهبها المتعددة الغامرة بالخير، مصدرًا لما يسمى بقانون الأحوال الشخصية، والقانون المدني ينتسب في كثير من أبوابه إلى أصولها.

ويمكن القول بلا تحفظ:

إنه حتى القوانين التي كانت تنتمي إلى أصل أجنبي أصبحت الآن عربية، ويجب أن تفسر بناء على قواعد التفسير التي نمت وترعرعت في ظل بيان اللغة العربية.

خصوصًا أن هذه القوانين تمثل واقع هذه الحقبة من حياة الأمة، وأنّ لغتها في خطاب المواطنين الذين يجب أن يفهموا القانون الذي يحكم تصرفاتهم: هي العربية. وإن كان هذا الواقع لا يعفي من تقرير أن واجب أمتنا الذي لا مندوحة عنه هو العودة الصحيحة إلى الشريعة لتكون هي الأصل في كل تقنين تريد.

وتقرر الكثرة من علماء القانون اليوم: أنه حتى عند إبهام النص، لا ضرورة للعودة إلى النص الأجنبي، وإن كان البعض قد أجاز العودة في
উসমান ইবনে আতা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মানুষের মতভেদ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকা পর্যন্ত কারো পক্ষে মানুষকে ফতোয়া দেওয়া উচিত নয়; কারণ যদি এমনটা না হয়, তবে সে জ্ঞানের এমন কিছুকে প্রত্যাখ্যান করবে যা তার কাছে থাকা জ্ঞানের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য।

চতুর্থত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যার বাইরে যা বিধিবদ্ধ বিধানের পাঠ (নসুসুল আহকাম) থেকে এসেছে—চাই তা কুরআনের কোনো বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে হোক, কিতাবের কোনো অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যায় হোক, অথবা নতুন কোনো বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে হোক: এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, ব্যাখ্যার যে নিয়মাবলি (কাওয়ায়েদুত তাফসির) নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, তা পবিত্রতার এমন স্তরে নেই যা ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার রূপ ধারণ করে।

এর কারণ হলো, এই নিয়মাবলি—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—আরবি ভাষার শৈলীসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ, আরবদের ভাষায় সম্বোধনের সঠিক অর্থ অনুধাবন এবং সেইসাথে শরীয়তের সাধারণ মূলনীতিসমূহ বোঝার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং এগুলো আইন বোঝা ও তা ব্যাখ্যা করার পথ হতে পারে, বিশেষ করে আমাদের আরব দেশগুলোতে যেখানে আরবি ভাষাই আইনের ভাষায় পরিণত হয়েছে।

আমাদের আরব দেশগুলোর মধ্যে ইরাকের মতো এমন রাষ্ট্র থাকলে যারা এখনও তাদের ব্যক্তিগত আইন (পার্সোনাল ল) হানাফি ফিকহ থেকে গ্রহণ করে, তবে অন্যান্য আরব দেশগুলো—আমাদের দেশের মতো—ইসলামী শরীয়তকে তার কল্যাণময় বহুমুখী মাযহাবসহ ব্যক্তিগত আইন হিসেবে পরিচিত আইনের উৎস হিসেবে গণ্য করে। এমনকি দেওয়ানি আইনেরও অনেক অধ্যায় শরীয়তের মূলনীতির সাথে সম্পর্কিত।

কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই বলা যায়:

এমনকি যে আইনগুলো বিদেশি উৎস থেকে আগত ছিল, সেগুলো এখন আরবি হয়ে গেছে; আর সেগুলোকে অবশ্যই আরবি ভাষার প্রকাশভঙ্গির ছায়াতলে গড়ে ওঠা ব্যাখ্যার নিয়মাবলির ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করতে হবে।

বিশেষত এই আইনগুলো উম্মাহর জীবনের বর্তমান সময়ের বাস্তবতাকে তুলে ধরে, এবং নাগরিকদের প্রতি সম্বোধনের ক্ষেত্রে এর ভাষা হলো আরবি, যাদের জন্য তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী আইনটি বোঝা আবশ্যক। যদিও এই বাস্তবতা এই কথা বলার আবশ্যকতাকে ঘুচিয়ে দেয় না যে, আমাদের উম্মাহর জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হলো শরীয়তের দিকে সঠিকভাবে প্রত্যাবর্তন করা, যাতে এটিই প্রতিটি আইন প্রণয়নের মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়।

বর্তমানে অধিকাংশ আইন বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে: এমনকি পাঠ্য বা নস অস্পষ্ট হলেও বিদেশি পাঠের দিকে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, যদিও কেউ কেউ ফেরার অনুমতি দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
حالات نادرة من التعارض، ليكون ذلك طريقًا إلى ترجيح حكم على حكم.

وفي ذلك يقول الدكتور عبد الرزاق السنهوري في معرض الحديث عن المادة 293 عقوبات قديم في مصر والتي أصبحت 336 من قانون العقوبات الجديد بعد أن يبين الرأيين في الموضوع ويوجه الرأي القائل بعدم العودة إلى النص الأجنبي: (على أنه يلاحظ أن مثل هذا الجدل إذا كان مما يسوغ التعرض له في ظل التقنينات القديمة التي وضعت أولًا باللغة الفرنسية، واعتبرت الترجمة العربية صيغة رسمية، فإنه لا يمكن أن تثور بالنسبة للتقنينات الجديدة، إذ لا شبهة في أن اللغة العربية هي الأصل، وعليها وحدها يكون المدار)‌‌(1).

ولقد يبدو الأمر أكثر وضوحًا يوم نستأنف السير فتغدو الشريعة - كما أسلفنا - مصدرنا الأساسي في التقنين، ويكونَ حكمنا حكمًا بما أنزل الله.

ولا شكَّ أن الاستقلال التشريعي لأمة نهضت من عثار، وتحررت من سلطان الغاصبين، يجب أن يساوق الاستقلال السياسي، وإن أمتنا الغنية الثرية في هذا الميدان تفتقر إلى أمرين:

الأول: الإيمان بذاتها وطاقاتها وأرضها الطيبة في شريعتها ولغتها.

الثاني: أن تتولى هذه الثروةَ بعناية، وتعرضَها العرض الصحيح. وهذا لا يتنافى أبدًا مع الإفادة من تنظيم الآخرين، وما عندهم من نظريات كانت ثمرةَ الواقع الحضاري اليوم.

وتبقى ثروتنا الفقهية، ومناهجها في التفسير: محط أنظار العالم، ونحن أجدر أن نستمسك بثروة نبتت في أرضنا، وجاءت دينًا بلغتنا، خصوصًا والعربية عندنا - كما سلف - أصبحت لغة القانون.

وإني لأرجو أن يكون عملي في تفسير النصوص محاولة للإسهام في هذا الباب، والله المستعان.

--------------------------------------------

‌‌(1) "أصول القانون" للسنهوري وأبو ستيت (ص 242).
বিরোধের বিরল ক্ষেত্রসমূহ, যাতে এটি এক বিধানকে অন্য বিধানের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার পথ হয়ে দাঁড়ায়।

এ প্রসঙ্গে ডক্টর আবদুর রাজ্জাক সানহুরি মিশরের পুরাতন দণ্ডবিধির ২৯৩ নম্বর ধারা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, যা নতুন দণ্ডবিধির ৩৩৬ নম্বর ধারায় পরিণত হয়েছে। তিনি বিষয়টির ওপর দুটি অভিমত ব্যাখ্যা করার পর বিদেশি পাঠের দিকে প্রত্যাবর্তন না করার অভিমতকে শক্তিশালী করে বলেন: (উল্লেখ্য যে, এই ধরণের বিতর্ক যদি সেই প্রাচীন আইনসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যা প্রথমে ফরাসি ভাষায় প্রণীত হয়েছিল এবং পরে আরবি অনুবাদকে দাপ্তরিক রূপ দেওয়া হয়েছিল, তবে নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এ জাতীয় প্রশ্ন উঠতে পারে না। কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আরবি ভাষাই হলো মূল ভিত্তি এবং একে কেন্দ্র করেই সবকিছু আবর্তিত হয়।)‌‌(১)।

আর বিষয়টি সেদিন অধিকতর স্পষ্ট হয়ে উঠবে যখন আমরা পুনরায় পথ চলা শুরু করব এবং শরিয়ত হবে—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—আমাদের আইন প্রণয়নের মৌলিক উৎস, আর আমাদের বিচার ব্যবস্থা হবে আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী।

নিঃসন্দেহে একটি জাতির আইনগত স্বাধীনতা, যে জাতি বিপর্যয় কাটিয়ে জেগে উঠেছে এবং জবরদখলকারীদের আধিপত্য থেকে মুক্ত হয়েছে, অবশ্যই তার রাজনৈতিক স্বাধীনতার সমান্তরাল হতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমাদের সম্পদে ভরপুর এই উম্মাহর দুটি বিষয়ের প্রয়োজন রয়েছে:

প্রথমত: নিজের সত্তা, যোগ্যতা এবং নিজের শরিয়ত ও ভাষার এই পবিত্র ভূমির প্রতি আস্থা।

দ্বিতীয়ত: এই সম্পদের যথাযথ তদারকি করা এবং একে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা। এটি অন্যদের সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং তাদের বর্তমান সভ্যতার ফসল স্বরূপ বিভিন্ন তাত্ত্বিক ধারণা থেকে উপকৃত হওয়ার পরিপন্থী নয়।

আমাদের ফিকহি সম্পদ এবং তার ব্যাখ্যাপদ্ধতি বিশ্ববাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে। আমরাই এই সম্পদের সাথে আঁকড়ে থাকার অধিক দাবিদার যা আমাদের মাটিতে জন্মেছে এবং আমাদের ভাষায় দীন হিসেবে এসেছে, বিশেষত যেহেতু আমাদের নিকট আরবি ভাষা—যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে—আইনের ভাষায় পরিণত হয়েছে।

আমি আশা করি যে, মূল পাঠসমূহ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমার এই কাজ এই অঙ্গনে অবদান রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

‌‌(১) সানহুরি ও আবু স্তাইত রচিত "উসুলুল কানুন" (পৃষ্ঠা ২৪২)।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌طريقة البحث:

وقد جريتُ في البحث على وضع القاعدة في موضعها من التطور التاريخي، حيث عملت على مراعاة التسلسل الزمني، فلا أعرض للرأي إلا حسب أسبقية وجوده زمنًا. وكنت أعود إلى اللغة وعرف الشريعة ومفهوم الصحابة والتابعين إذا أعوز الأمر، لإيضاح القاعدة ووضعها في إطارها من الضبط.

أما من الناحية التطبيقية: فعندما يكون النص قرآنيًا: أعود لما ورد من تفسير له في كتاب أو سنة أو شيء من آثار السلف ثم أقوال المفسرين، وفي ضوء ذلك يكون الحكم على مقدار انطباق القاعدة على النص.

وإذا كان النص واحدًا من نصوص السنّة: كان الأمر يقتضيني العناية بتخريج الحديث، وبيان ما قاله علماء الاختصاص فيه، ثم العودة إلى صنيعنا في النص القرآني، لنرى ما إذا كان هنالك ما يستعان به على تفسير الحديث: من كتاب أو سنّة أو أثر من آثار السلف، يظهر فيه استنباطهم للحكم كيف كان، كما يبدو فيه إلى أي حد يتفق أو يختلف ما سلكه المتأخرون بالنسبة لما سلكه المتقدمون.

ومسألة انطباق القاعدة على النص المراد استخراج الحكم منه: مسألة تَحُلُّ كثيرًا من العُقَد؛ لأنها توضح إلى أي حد استطاع أصحاب القاعدة، أن يلتزموا قاعدتهم عند الاستنباط، ورد الفرع إلى الأصل، وإيضاح النسبة بينهما؛ فقد تكون النسبة صحيحة، وقد لا تكون.

على أن هذا لم يُعْفِ من الوقوف موقف البحث في الفرع الفقهي، مع النظر في نصوص الكتاب والسنّة وآثار السلف، ثم في كلام الفقهاء في الموضوع. ولقد حرصتُ على أن آخذ الأحكام من كتب أصحابها، لا من نقل أهل مذهب عن مذهب آخر.

ويجدر بنا أن نقرر: أن عرض القواعد، وتطبيقها على النصوص، كان من حيث الأصل على الطريقتين المعروفتين في أصول الفقه، وهما طريقة المتكلمين وطريقة الحنفية، غير مهمل ما أرى في غيرهما، مع المقارنة دائمًا
গবেষণার পদ্ধতি:

আমি গবেষণায় নীতিমালার ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশের প্রেক্ষিতে তাকে নিজ স্থানে উপস্থাপনের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যেখানে আমি কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা করেছি। ফলে আমি কোনো মতকে তার অস্তিত্বের সময়ের অগ্রাধিকার ব্যতিরেকে উপস্থাপন করিনি। প্রয়োজনবোধে আমি নীতিমালার ব্যাখ্যা এবং তাকে যথাযথ কাঠামোর অধীনে সুশৃঙ্খলভাবে স্থাপনের জন্য ভাষা, শরয়ি পরিভাষা এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের বুঝের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছি।

আর প্রায়োগিক দিক থেকে: যখন টেক্সটটি কুরআনি হবে, তখন আমি তার যে ব্যাখ্যা কুরআন, সুন্নাহ বা সালাফদের আসারে বর্ণিত হয়েছে, সেদিকে এবং পরবর্তীতে মুফাসসিরগণের বক্তব্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি। এর আলোকেই সংশ্লিষ্ট টেক্সটের ওপর নীতিমালার প্রয়োগযোগ্যতার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর যদি টেক্সটটি সুন্নাহর নসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা আমার জন্য হাদিসের তাখরিজ এবং এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যের প্রতি বিশেষ যত্নের দাবি রাখে। এরপর আমি কুরআনি নসের ক্ষেত্রে আমাদের অনুসৃত পদ্ধতির দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি, যাতে দেখা যায় যে হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কুরআন, সুন্নাহ বা সালাফদের আসার থেকে এমন কোনো কিছু পাওয়া যায় কি না যা দ্বারা সহযোগিতা গ্রহণ করা যায়; যেখান থেকে তাদের বিধান আহরণের পদ্ধতি কেমন ছিল তা প্রকাশিত হয় এবং এতে আরও প্রতীয়মান হয় যে, পূর্বসূরিদের অনুসৃত পদ্ধতির তুলনায় উত্তরসূরিদের অবলম্বিত পন্থা কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ বা ভিন্নতর।

যে টেক্সট থেকে বিধান বের করতে হবে, তার ওপর নীতিমালার প্রয়োগযোগ্যতার বিষয়টি অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করে; কারণ এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, নীতি প্রণেতারা বিধান আহরণের সময় তাদের নীতিমালার প্রতি কতটুকু দায়বদ্ধ থাকতে পেরেছেন এবং শাখা মাসয়ালাকে মূলের দিকে ফিরিয়ে নিতে ও এতদুভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। কেননা এই সম্পর্ক কখনো সঠিক হতে পারে, আবার কখনো নাও হতে পারে।

তবে এটি ফিকহি শাখা মাসয়ালা গবেষণার ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহ এবং সালাফদের আসারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফকিহদের বক্তব্য পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে রহিত করেনি। আমি বিধানসমূহ সংশ্লিষ্ট মাজহাবের নিজস্ব কিতাবসমূহ থেকে গ্রহণ করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম, এক মাজহাবের অনুসারীদের বর্ণনার মাধ্যমে অন্য মাজহাবের উদ্ধৃতি থেকে নয়।

এখানে উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে: নীতিমালার উপস্থাপন এবং টেক্সটসমূহের ওপর তার প্রয়োগ মূলত উসুলে ফিকহের সুপরিচিত দুটি পদ্ধতি অনুসারে হয়েছে, যা হলো মুতাকাল্লিমীন পদ্ধতি এবং হানাফি পদ্ধতি। এক্ষেত্রে অন্য পদ্ধতিতে আমি যা দেখেছি তাকেও উপেক্ষা করিনি এবং সর্বদা তুলনামূলক আলোচনার প্রয়াস পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
بين ما ذهب إليه العلماء في كل من الطريقتين المذكورتين، أو في داخل الطريقة نفسها، أو من خارج الاتجاه، والعناية بمواقف الظاهرية حين يلزم الأمر، مع بيان رأينا الخاص وترجيح ما نختاره بالدليل.

أقول هذا غير ناسٍ أن الحديث عن مسالك الشيعة والزيدية والإباضية داخلٌ في إطار الحديث عن طريقة المتكلمين؛ على أني كنت أفرد كل فريق بالذكر حين أرى لزومًا لذلك.

ثم إني بعد ذلك كله لم أجد بدًا من استخدام التطبيقات القانونية، فجئت بأمثلة تطبيقية من القانون على كثير من القواعد، الأمر الذي يبين إمكان الإفادة من قواعد التفسير عندنا في فهم النصوص القانونية، كما أسلفت، ولقد عملت على المقارنة في عدد من المسائل التي جرى بحثها عند رجال القانون، كما في دلالة النص ونسبتها من القياس، والأخذ بمفهوم الموافقة بوجه عام، والأخذ بمفهوم المخالفة، حيث ينبني على هذه الضوابط العامة آثار كثيرة في التفريع.

وإني إذ أقدّم هذا البحث المتواضع، لا أزعم لنفسي أنني أشفيت على الغاية، ولكنها محاولة إسهام في أمر أعتقد أنه بالغ الخطورة في كياننا الفقهي، وثروتنا التشريعية العظيمة، خصوصًا أن موضوع تفسير النصوص - إلى جانب أهميته الأصيلة في ذاته - كان ملتقى عدد من علوم الإسلام؛ من لغة، وتفسير، وأصول، وفقه، وحديث، ومصطلح، واختلاف، وغير ذلك، كالمنطق وما إليه، الأمر الذي يخدم هذا الركن من أركان التشريع، وهو الاستنباط من النص، عن طريق فهمه، والكشف عن معانيه ومدلولاته.

ولقد يبدو الأمر أكثر أهمية، إذا كنا على ذكر من أن مناهج تفسير النصوص التي يحتويها أصول الفقه، قد دخلت منذ زمن غير يسير طور الجمود على الشكل النظري في أذهان كثير من المؤلفين، وذلك ما باعدها عن السمة العملية التي هي طابعها الأصيل من قبل، ولعل الكشف اليوم عن خصائصها العظيمة، مع التطبيقات العملية، والعناية بربط الفروع والأحكام بالقواعد التي تنتمي إليها من الأصول، يساعد - بتعاون الباحثين - على أن تؤدي هذه المناهج دورها من جديد في عالم الفقه والقانون.
উল্লেখিত উভয় পদ্ধতির প্রত্যেকটিতে আলেমগণের মতামত, অথবা একই পদ্ধতির অভ্যন্তরীণ বা এই ধারার বাইরের মতামতসমূহ বর্ণনা করেছি, এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে জাহিরী মতবাদের অবস্থানের প্রতি যত্নশীল হয়েছি। পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছি এবং দলিলের ভিত্তিতে যা আমরা পছন্দ করেছি তাকে প্রাধান্য দিয়েছি।

আমি এ কথা বলছি এই সত্যটি স্মরণে রেখেই যে, শিয়া, জায়দিয়া এবং ইবাদিয়াদের কর্মপন্থা সম্পর্কে আলোচনা মূলত মুতাকাল্লিমদের পদ্ধতির আলোচনার কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত; তবে যখনই আমি কোনো দলকে পৃথকভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করেছি, তখনই তা করেছি।

এরপর আমি এই সবকিছুর পর আইনগত প্রয়োগ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি, তাই অনেকগুলো কায়েদার ক্ষেত্রে আইন থেকে ব্যবহারিক উদাহরণ পেশ করেছি। এটি আমাদের তাফসীর বা ব্যাখ্যাতত্ত্বের নীতিগুলোকে আইনগত মূলপাঠ বোঝার ক্ষেত্রে ব্যবহারের সম্ভাবনাকে স্পষ্ট করে, যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি। আমি আইনবিদদের নিকট আলোচিত বেশ কিছু বিষয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেছি, যেমন 'দালালাতুন নাস' (মূলপাঠের নির্দেশনা) এবং কিয়াসের সাথে এর সম্পর্ক, এবং সাধারণভাবে 'মাফহুমুল মুওয়াফাকাহ' গ্রহণ ও 'মাফহুমুল মুখালাফাহ' গ্রহণের বিষয়টি, কারণ এই সাধারণ মূলনীতিগুলোর ওপর শাখা-প্রশাখা বিন্যাসের ক্ষেত্রে অনেক প্রভাব বিদ্যমান।

এই বিনম্র গবেষণাটি উপস্থাপন করার সময় আমি দাবি করছি না যে আমি চরম লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি, বরং এটি এমন একটি বিষয়ে অবদানের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যা আমি মনে করি আমাদের ফিকহী কাঠামো এবং আমাদের মহান আইনি সম্পদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মূলপাঠের ব্যাখ্যা বা তাফসীরের বিষয়টি—তার নিজস্ব মৌলিক গুরুত্বের পাশাপাশি—তা ছিল ভাষা, তাফসীর, উসুল, ফিকহ, হাদীস, মুসতালাহ, ইখতিলাফ এবং যুক্তিশাস্ত্রের মতো ইসলামের বহুবিধ জ্ঞানের মিলনস্থল। এই বিষয়টি শরীয়তের অন্যতম রুকন তথা মূলপাঠ থেকে ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ)-এর কাজটিকে এর অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন এবং উন্মোচনের মাধ্যমে ত্বরান্বিত করে।

বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হতে পারে যদি আমরা স্মরণ করি যে, উসুলুল ফিকহে বর্ণিত মূলপাঠ ব্যাখ্যার পদ্ধতিগুলো বেশ দীর্ঘ সময় ধরে অনেক লেখকের চিন্তায় তাত্ত্বিক রূপ ধারণ করে স্থবির হয়ে আছে। এটি তাকে তার পূর্ববর্তী সেই ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে যা একদা এর আসল রূপ ছিল। সম্ভবত আজ এর মহান বৈশিষ্ট্যগুলো উন্মোচনের সাথে সাথে ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং শাখা ও বিধানগুলোকে উসুলের সেই মূলনীতির সাথে যুক্ত করার প্রতি যত্নশীল হওয়া—গবেষকদের সহযোগিতায়—এই পদ্ধতিগুলোকে ফিকহ ও আইনের জগতে পুনরায় তাদের ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
هذا: وقد كان من توفيق الله إعداد الفهارس العلمية المنوّعة التي تلقي الضوء على ما زخرت به حواشي الكتاب، وتيسَّر الانتفاع بها، خصوصًا ما كان من الإحالات على المصادر، وإثبات الكثير من النصوص الموضحة للمراد والمؤيدة لأقوال أصحابها. ناهيك عن التوثيق والتخريج، وأني لم أدع أن أترجم لكل علم من الأعلام تدعو حاجة البحث لترجمته، وعلى كل؛ فصفحات الحواشي تفصح عن نفسها. علمًا بأنه كان من توفيق الله تعالى: أن التفاعل مع موضوع بحثنا "تفسير النصوص" حملني على تحقيق كتاب "تخريج الفروع على الأصول" للإمام الزنجاني وهو الكتاب الذي كان فريدًا في عصره، حيث وقعت على نسختين مخطوطتين له، مع عملي في الرسالة، وطبعته جامعة دمشق قبل مناقشة الرسالة بسنتين وذلك عام 1962 م، ولله الحمد في الأولى والآخرة وعليه التكلان في كل حال.

 

‌‌خطة البحث:

وقد جعلت ما تضمنته الرسالة مشتملًا على: باب تمهيدي، وقسمين، وأربعة أبواب، وخاتمة؛ فكان الأمر كما يلي:

الباب التمهيدي: نظرة الشريعة والقانون إلى التفسير.

الفصل الأول: البيان عند الأصوليين.

الفصل الثاني: ماهية تفسير النصوص.

الفصل الثالث: نظرة عامة حول التفسير ومدارسه في القانون.

القسم الأول: قواعد التفسير في حالات وضوح الألفاظ وإبهامها ودلالتها على الأحكام:

الباب الأول: الوضوح والإبهام في الألفاظ.

الفصل الأول: الواضح وأنواعه.

المبحث الأول: منهج الحنفية في الواضح.

المبحث الثاني: منهج المتكلمين في الواضح.
এটি: আল্লাহর তাওফিকেই সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করা যা গ্রন্থের টীকাসমূহে বিদ্যমান তথ্যের প্রাচুর্যের ওপর আলোকপাত করে এবং এগুলো থেকে উপকৃত হওয়া সহজ করে তোলে, বিশেষ করে উৎসসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান এবং বক্তব্যের উদ্দেশ্য স্পষ্টকারী ও প্রণেতাদের মতামতের সমর্থক বহু পাঠ্য সংযোজনের ক্ষেত্রে। এছাড়া প্রমাণীকরণ ও উৎস নির্দেশনার (তাখরিজ) বিষয়টি তো রয়েছেই। আমি গবেষণার প্রয়োজনে যে সকল মনীষীর জীবনীর প্রয়োজন ছিল, তাদের প্রত্যেকের জীবনী উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কোনো কমতি করিনি। যা-ই হোক, টীকার পৃষ্ঠাগুলোই এর পরিচয় দেবে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহর তাওফিকে আমাদের গবেষণার বিষয় 'পাঠের ব্যাখ্যা' (তফসিরুন নুসুস)-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণেই আমি ইমাম জানজানি রচিত 'তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল' গ্রন্থটি সম্পাদনা করতে উদ্বুদ্ধ হই। গ্রন্থটি নিজ যুগে এক অনন্য সৃষ্টি ছিল। অভিসন্দর্ভের কাজ করার সময় আমি এর দুটি পাণ্ডুলিপি হাতে পাই এবং অভিসন্দর্ভটি পর্যালোচনার দুই বছর পূর্বে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় এটি মুদ্রণ করে। ইহকাল ও পরকালে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই এবং সর্বাবস্থায় তাঁর ওপরই ভরসা।

 

‌‌গবেষণা পরিকল্পনা:

আমি অভিসন্দর্ভের বিষয়বস্তুকে একটি প্রারম্ভিক অধ্যায়, দুটি অংশ, চারটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি; বিন্যাসটি নিম্নরূপ:

প্রারম্ভিক অধ্যায়: ব্যাখ্যা বা তাফসিরের প্রতি শরিয়ত ও আইনের দৃষ্টিভঙ্গি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: উসুলবিদদের নিকট আল-বায়ান (স্পষ্টকরণ)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাঠের ব্যাখ্যার (তফসিরুন নুসুস) স্বরূপ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আইনে ব্যাখ্যা এবং এর বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা।

প্রথম অংশ: শব্দের স্পষ্টতা, অস্পষ্টতা এবং বিধানের ওপর এগুলোর নির্দেশক হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার নিয়মাবলী:

প্রথম অধ্যায়: শব্দের স্পষ্টতা ও অস্পষ্টতা।

প্রথম পরিচ্ছেদ: স্পষ্ট শব্দ এবং এর প্রকারভেদ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: স্পষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে হানাফিদের পদ্ধতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: স্পষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে মুতাকাল্লিমদের পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الفصل الثاني: المبهم وأنواعه.

المبحث الأول: منهج الحنفية في المبهم.

المبحث الثاني: منهج المتكلمين في المبهم.

الفصل الثالث: التأويل.

المبحث الأول: تطور معنى التأويل ومجاله.

المبحث الثاني: شروط التأويل وأنواعه.

المبحث الثالث: من ثمرات الاختلاف في الحكم على التأويل.

المبحث الرابع: طريق الجادة في التأويل وموقف الظاهرية.

الباب الثاني: طرق دلالة الألفاظ على الأحكام.

الفصل الأول: منهج الحنفية في طرق الدلالات.

المبحث الأول: عبارة النص.

المبحث الثاني: إشارة النص.

المبحث الثالث: دلالة النص.

المبحث الرابع: دلالة الاقتضاء.

الفصل الثاني: منهج المتكلمين في طرق الدلالات.

المبحث الأول: المنطوق والمفهوم.

المبحث الثاني: موقف العلماء من مفهوم الموافقة.

المبحث الثالث: موقف العلماء من مفهوم المخالفة بوجه عام.

المبحث الرابع: موقف العلماء من بعض أنواع مفهوم المخالفة.

المبحث الخامس: موقف علماء القانون من الأخذ بالمفهوم.

القسم الثاني: قواعد التفسير في حالات شمول الألفاظ في دلالتها على الأحكام وعدم شمولها.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুবহাম (অস্পষ্টতা) এবং এর প্রকারভেদ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুবহামের ক্ষেত্রে হানাফীগণের মানহাজ (পদ্ধতি)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুবহামের ক্ষেত্রে মুতাকাল্লিমগণের মানহাজ (পদ্ধতি)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাবিল (ব্যাখ্যা)।

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাবিলের অর্থের বিবর্তন এবং এর ক্ষেত্র।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাবিলের শর্তাবলি এবং এর প্রকারভেদ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাবিলের বিধানের ক্ষেত্রে মতভেদের কিছু ফলাফল।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাবিলের ক্ষেত্রে সঠিক পথ এবং জাহিরীগণের অবস্থান।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বিধানের ওপর শব্দের দালালাত (নির্দেশনা)-এর পদ্ধতিসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: দালালাতের পদ্ধতিসমূহের ক্ষেত্রে হানাফীগণের মানহাজ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবারাতুন নাস (নসের প্রত্যক্ষ বক্তব্য)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইশারাতুন নাস (নসের ইঙ্গিত)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দালালাতুন নাস (নসের নির্দেশনা)।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দালালাতুল ইকতিজা (প্রয়োজনীয় প্রসঙ্গের নির্দেশনা)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দালালাতের পদ্ধতিসমূহের ক্ষেত্রে মুতাকাল্লিমগণের মানহাজ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: মানতুক (উচ্চারিত অর্থ) এবং মাফহুম (উহ্য অর্থ)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মাফহুমুল মুওয়াফাকাহ (সঙ্গতিপূর্ণ অর্থ) সম্পর্কে আলেমগণের অবস্থান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে মাফহুমুল মুখালাফাহ (বিপরীত অর্থ) সম্পর্কে আলেমগণের অবস্থান।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মাফহুমুল মুখালাফাহ-র কিছু প্রকার সম্পর্কে আলেমগণের অবস্থান।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মাফহুম গ্রহণের বিষয়ে আইনবিদগণের অবস্থান।

দ্বিতীয় অংশ: বিধানের নির্দেশনায় শব্দের ব্যাপকতা এবং অব্যাপকতার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার নিয়মাবলি।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৯)
الباب الأول: دلالة الألفاظ على الأحكام في حالتي العموم والاشتراك.

الفصل الأول: العام.

المبحث الأول: صيغ العموم

المبحث الثاني: تخصيص العام.

المبحث الثالث: دلالة العام.

الفصل الثاني: المشترك.

المبحث الأول: ماهية المشترك وأسباب وجوده.

المبحث الثاني: دلالة المشترك.

الباب الثاني: دلالة الألفاظ على الأحكام في حالة الخصوص (الخاص).

الفصل الأول: ماهية الخاص ودلالته على الأحكام.

المبحث الأول: ماهية الخاص ونوع دلالته.

المبحث الثاني: من آثار قطعية الخاص عند التطبيق.

الفصل الثاني: أنواع الخاص.

الفرع الأول: المطلق والمقيد.

المبحث الأول: ماهية المطلق والمفيد وحكمهما.

المبحث الثاني: حمل المطلق على المقيد.

الفرع الثاني: الأمر والنهي.

المبحث الأول: الأمر.

المبحث الثاني: النهي. الخاتمة.

هذا: وقد صدرت الطبعة الأولى من هذا الكتاب عن مطبعة جامعة دمشق وذلك بين يدَي المناقشة والحكم.
প্রথম অধ্যায়: আম (ব্যাপকতা) ও মুশতারাক (অংশীদারিত্ব) এর অবস্থায় বিধানের ওপর শব্দাবলীর দ্যোতনা।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আম (ব্যাপক শব্দ)।

প্রথম অনুচ্ছেদ: ব্যাপকতার শব্দরূপসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আম-কে খাস (সুনির্দিষ্ট) করা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আমের দ্যোতনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুশতারাক (অংশীদারিত্বমূলক শব্দ)।

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুশতারাকের স্বরূপ ও এর অস্তিত্বের কারণসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুশতারাকের দ্যোতনা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: খাস (সুনির্দিষ্টতা) এর অবস্থায় বিধানের ওপর শব্দাবলীর দ্যোতনা।

প্রথম পরিচ্ছেদ: খাস-এর স্বরূপ ও বিধানের ওপর এর দ্যোতনা।

প্রথম অনুচ্ছেদ: খাস-এর স্বরূপ ও এর দ্যোতনার ধরন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: প্রয়োগের ক্ষেত্রে খাস-এর অকাট্যতার প্রভাবসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খাস-এর প্রকারভেদ।

প্রথম শাখা: মুতলাক (অনিবন্ধিত) ও মুকায়্যাদ (নিবন্ধিত)।

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুতলাক ও মুকায়্যাদ-এর স্বরূপ এবং তাদের বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুতলাক-কে মুকায়্যাদ-এর ওপর প্রয়োগ করা।

দ্বিতীয় শাখা: আমর (নির্দেশ) ও নাহি (নিষেধ)।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আমর (নির্দেশ)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নাহি (নিষেধ)। উপসংহার।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই কিতাবটির প্রথম সংস্করণ দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় মুদ্রণালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে, যা পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রাক্কালে সম্পন্ন হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
وها أنذا أقدّم الطبعة الثانية للقراء، لدواع، كان في مقدمتها: ما لمت من تقدير لجنة الحكم في جامعة القاهرة التي كانت برئاسة أستاذنا الكبير الشيخ محمد أبو زهرة، والتي قررت - مشكورة - ما يمكن أن يؤديه نشر هذا البحث من خير على صعيد الفكر الإسلامي بوجه عام، وعلى صعيد الشريعة والقانون بوجه خاص، يضاف إلى ذلك ما كان من إقبال على النسخ المعروضة من الكتاب في الأسواق، حيث استقبله كثير من الباحثين والمعنيين بهذه الشؤون برغبة وحرص كما كان له مكان فسيح في كثير من الجامعات والحمد لله. ولقد عملت على تنقيح الكتاب في الحدود التي تصل بين البحث والقارئ، وأضفت قدرًا من الزيادات التي لا بد منها عند إيضاح فكرة، أو توسع في الاستدلال أو تفريع على أصل. دعاني إلى ذلك رغبة المزيد من الاستيفاء، ثم التيسير والبيان قدر المستطاع لمن يريد معاناة موضوع قد يكون من أشق الموضوعات التي تضمها رحاب الشريعة التي أكرم الله أمتنا بأن تحملها للناس، طريقة هدًى وسعادة للفرد والجماعة، بل وللإنسانية جمعاء، وعلى تنوُّع الفهارس الميسَّرة في الطبعة الماضية، فقد زدتها في هذه الطبعة فهرسًا للأعلام يكون مفتاحًا لما يبتغيه القارئ في كثير من الأحيان.

وإني لأسأل الله المبتدئَ لنا بنعمه قبل استحقاقها، المديمَها علينا، مع تقصيرنا في الإتيان على ما أوجب من شكره، الجاعلَنا في خير أمة أخرجت للناس: أن يرزقنا فهمًا في كتابه، ثم سنّة نبيه، قولًا وعملًا يؤدي به عنا حقه، ويوجب لنا نافلة مزيده‌‌(1)، وأن يقيمنا على الطريقة الرائدة في خدمة شريعته، وله الحمد في الأولى والآخرة وهو حسبنا ونعم الوكيل.

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) من كلام الإمام الشافعي في "الرسالة" (ص 19) بتحقيق العلامة الشيخ أحمد محمد شاكر.
আমি পাঠকদের সামনে এই দ্বিতীয় সংস্করণটি পেশ করছি এমন সব কারণে যার অগ্রভাগে রয়েছে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারক কমিটির সেই মূল্যায়ন যা আমি লাভ করেছি। এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন আমাদের মহান উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ আবু জাহরা। তারা কৃতজ্ঞতার সাথে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এই গবেষণার প্রকাশনা সামগ্রিকভাবে ইসলামী চিন্তাধারার ক্ষেত্রে এবং বিশেষভাবে শরিয়ত ও আইনের ক্ষেত্রে প্রভূত কল্যাণ বয়ে আনবে। এর সাথে যোগ হয়েছে বাজারে থাকা বইটির কপির প্রতি বিপুল আগ্রহ। বহু গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গভীর আগ্রহ ও নিষ্ঠার সাথে একে গ্রহণ করেছেন, পাশাপাশি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি একটি বড় স্থান করে নিয়েছে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমি বইটির পরিমার্জনে কাজ করেছি সেই সীমা পর্যন্ত যা গবেষণা এবং পাঠকের মাঝে সংযোগ তৈরি করে। আমি এমন কিছু পরিবর্ধন করেছি যা কোনো ধারণা স্পষ্ট করতে, দলিলের বিস্তৃতি ঘটাতে অথবা কোনো মূলনীতির শাখা বের করতে অপরিহার্য ছিল। বিষয়টির অধিকতর পূর্ণতা প্রদান এবং যথাসম্ভব সহজীকরণ ও বর্ণনার ইচ্ছা আমাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে। যারা এমন একটি বিষয়ে কষ্টসাধ্য গবেষণা করতে চান যা শরিয়তের বিস্তৃত অঙ্গনের অত্যন্ত কঠিন বিষয়গুলোর একটি হতে পারে। আল্লাহ আমাদের উম্মতকে সেই শরিয়ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, যা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য, এমনকি সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াত ও সুখের পথ। পূর্ববর্তী সংস্করণে বিভিন্ন সহজবোধ্য নির্ঘণ্ট থাকা সত্ত্বেও আমি এই সংস্করণে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের একটি নির্ঘণ্ট যোগ করেছি, যা অনেক ক্ষেত্রে পাঠকের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি—যিনি আমাদের যোগ্য হওয়ার আগেই নেয়ামত দান শুরু করেছেন, আমাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও যিনি আমাদের উপর নেয়ামত অব্যাহত রেখেছেন এবং যিনি আমাদের মানুষের জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন—তিনি যেন আমাদের তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহর সঠিক বুঝ দান করেন, এমন কথা ও কাজের মাধ্যমে যার দ্বারা তাঁর হক আদায় হয় এবং যা আমাদের জন্য তাঁর অতিরিক্ত অনুগ্রহ সাব্যস্ত করে‌‌(১)। তিনি যেন আমাদের তাঁর শরিয়তের সেবায় অগ্রগামী পথে অটল রাখেন। ইহকাল ও পরকালে সকল প্রশংসা তাঁরই, এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও উত্তম অভিভাবক।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) আল্লামা শেখ আহমদ মুহাম্মদ শাকের সম্পাদিত "আর-রিসালাহ" (পৃষ্ঠা ১৯) গ্রন্থে ইমাম শাফিঈর উক্তি থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الباب التمهيدي نظرة الشّريعة والقانون إلى تفسير النّصوص

البيان عند الأصوليين

ماهية تفسير النصوص

حول التفسير ومدارسه في القانون
প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ: শরিয়াহ ও আইনের দৃষ্টিতে পাঠ-ব্যাখ্যার (তফসিরুন নুসুস) পর্যালোচনা

উসুলবিদগণের নিকট আল-বায়ান

পাঠ-ব্যাখ্যার স্বরূপ

আইনের ব্যাখ্যা ও এর বিভিন্ন মতবাদ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الأول البيان عند الأصوليين

باب البيان في الأصول - على تشعُّب مسالكه وتنوُّع مذاهب العلماء فيه - وثيق الصلة بمناهج تفسير النصوص، أصيل العلاقة بها، يهدي إلى ذلك ما يجده الباحث في معاني الألفاظ، وتحديد المصطلحات، من صادق النسب بين البيان والتفسير.

لذا كان لزامًا أن يكون هذا الباب سبيلنا للكشف عن ماهية التفسير بالمعنى الذي نريد. ولسوف يعطينا ذلك مزيدًا من الوضوح في معالم استنباط الأحكام.

والبيان في اللغة: إظهار المقصود بأبلغ لفظ، وهو من الفهم وذكاء القلب، وأصله الكشف والظهور، فهو اسم لكل ما كشف عن معنى الكلام وأظهره‌‌(1).

قال أبو عثمان الجاحظ: (والبيان اسم جامع لكل شيء كشف لك قناع المعنى وهتك الحجاب دون الضمير)‌‌(2).

ومنه قوله عليه الصلاة والسلام: "إن من البيان لسحرًا"‌‌(3) وهكذا يستعمل البيان لغة في الإظهار والظهور.

--------------------------------------------

‌‌(1) راجع: "النهاية" و "لسان العرب" مادة (بين).

‌‌(2) "البيان والتبيين" (1/ 76).

‌‌(3) الحديث بهذا اللفظ رواه مالك (الموطأ: 7) وأحمد (4651) والبخاري (5767) وأبو داود (5007) والترمذي (2028) عن ابن عمر رضي الله عنهما، وهو عند أحمد (3026) وأبي داود (5011) عن ابن عباس بلفظ: "إن من البيان لسحرًا". وفي رواية للبخاري عن ابن عباس قال: جاء رجلان من الشرق فخطبا، فقال صلى الله عليه وسلم: "إن من البيان لسحرًا". وفي لفظ لأبي داود عن أبي بن كعب قال: - جاء أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فجعل يتكلم بكلام، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن من البيان لسحرًا وإن من الشعر حكمًا". =
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: উসুলবিদদের নিকট বায়ান (বিবৃতি) এর বর্ণনা

উসুলশাস্ত্রে বায়ান বা বিবৃতির অধ্যায়টি—এর বিবিধ শাখা-প্রশাখা ও এ বিষয়ে আলেমদের মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও—নصوص (নস) বা পাঠ্য ব্যাখ্যার পদ্ধতির সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত এবং এর সাথে এর একটি মৌলিক যোগসূত্র রয়েছে। শব্দের অর্থ এবং পরিভাষা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বায়ান ও তাফসীরের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গবেষকগণ খুঁজে পান, তা এই সংশ্লিষ্টতারই প্রমাণ দেয়।

তাই আমরা যে অর্থে তাফসীরের সারমর্ম উন্মোচন করতে চাই, তার পথ হিসেবে এই অধ্যায়টি গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিল। এটি আমাদের কাছে বিধান আহরণের (ইস্তিনবাত) বৈশিষ্ট্যসমূহকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

আভিধানিক অর্থে বায়ান (বিবৃতি) হলো: সাবলীলতম শব্দের মাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রকাশ করা। এটি বুদ্ধিমত্তা ও হৃদয়ের প্রখরতা থেকে উদ্ভূত। এর মূল অর্থ হলো উন্মোচন করা ও প্রকাশ করা। সুতরাং যা কিছু কথার অর্থ উন্মোচন করে এবং তা প্রকাশ করে, তার নামই হলো বায়ান‌‌(১)।

আবু উসমান আল-জাহিজ বলেন: (বায়ান হলো এমন একটি ব্যাপক নাম, যা আপনার কাছে অর্থের আবরণ উন্মোচন করে এবং অন্তরের ভেতরের পর্দা ছিন্ন করে দেয়)‌‌(২)।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো চমৎকার বিবৃতির মধ্যে জাদু রয়েছে"‌‌(৩)। এভাবেই আভিধানিক অর্থে প্রকাশ করা এবং প্রকাশিত হওয়ার ক্ষেত্রে বায়ান শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "আন-নিহায়াহ" এবং "লিসানুল আরব", (ব-ই-ন) শব্দমূল।

‌‌(২) "আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন" (১/ ৭৬)।

‌‌(৩) এই শব্দে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মালেক (আল-মুয়াত্তা: ৭), আহমাদ (৪৬৫১), বুখারি (৫৭৬৭), আবু দাউদ (৫০০৭) এবং তিরমিজি (২০২৮) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে। এটি আহমাদে (৩০২৬) এবং আবু দাউদে (৫০১১) ইবনে আব্বাস থেকে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো চমৎকার বিবৃতির মধ্যে জাদু রয়েছে।" বুখারির এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: পূর্ব দিক থেকে দুইজন লোক এসে ভাষণ দিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো চমৎকার বিবৃতির মধ্যে জাদু রয়েছে।" আবু দাউদের এক বর্ণনায় উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক গ্রাম্য ব্যক্তি এসে কথা বলতে শুরু করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো চমৎকার বিবৃতির মধ্যে জাদু রয়েছে এবং নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতার মধ্যে প্রজ্ঞা রয়েছে।" =
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولم يبتعد الأصوليون عن المعنى اللغوي في تعريفهم للبيان، فهو عندهم (إظهار المعنى وإيضاحه للمخاطب منفصلًا عما تستَّر به).

واعتبار البيان الإظهار دون الظهور، هو ما جرى عليه الإمام الشافعي وأكثر علماء الأصول من الحنفية، وعلى رأسهم فخر الإسلام البزدوي‌‌(1) الذي قرر ذلك بقوله: (والمراد به - أي البيان - في هذا الباب عندنا الإظهار دون الظهور)‌‌(2).

وقد عزا عبد العزيز البخاري‌‌(3) شارح "أصول البزدوي" القول بالظهور، إلى بعض الحنفية، وأكثر الشافعية، مبينًا أنهم جنحوا إلى ذلك بناء على أن الأصل في البيان لغةً: الظهور، حيث يقال: بأن لي هذا المعنى بيانًا - أي ظهر واتضح -، وبان الهلال: أي ظهر وانكشف.

ولقد يؤيد ما ذهب إليه الأولون من جعل المراد بالبيان عندهم الإظهار دون الظهور، أي أن أكثر استعماله جاء بمعنى الإظهار، فإن الرجل إذا قال: بيّن فلان كذا بيانًا، يفهم منه العربي أنه أظهره إظهارًا لم يبقَ معه شك،

--------------------------------------------

= وانظر: "جامع الأصول في أحاديث الرسول" لابن الأثير الجزري (9418، 3218، 3219)، "تخريج أحاديث البزدوي" للقاسم بن قطلوبغا (ق 34) مخطوطة دار الكتب المصرية، وهو الآن قيد الطبع بتحقيقنا، "الجامع الصغير" للسيوطي مع "فيض القدير" للمناوي (2/ 524 - 525)، "المقاصد الحسنة" للسخاوي (ص 129)، "كشف الخفا والإلباس" للعجلوني (1/ 253 - 255).

‌‌(1) هو علي بن محمد، أبو الحسن فخر الإسلام البزدوي، من كبار الحنفية في الأصول والفقه والتفسير، كان من سكان سمرقند، ونسبته إلى قلعة بزدة. من تصانيفه: "المبسوط"، و"كنز الأصول إلى معرفة الأصول" ويعرف بـ "أصول البزدوي" و "غناء الفقهاء"، و "شرح الجامع الصغير والكبير" في الفقه، و"تفسير القرآن" توفي رحمه الله في سنة 482 هـ.

‌‌(2) راجع: "الرسالة" للإمام الشافعي "باب كيف البيان" ص 21 فما بعدها تحقيق الشيخ أحمد محمد شاكر. "أصول البزدوي" (3/ 824) مع شرحه "كشف الأسرار" لعبد العزيز البخاري.

‌‌(3) هو عبد العزيز بن أحمد بن محمد، علاء الدين البخاري من كبار الحنفية في الأصول والفقه، من مصنفاته: "كشف الأسرار" في شرح أصول البزودي - وهو شرح متميَّز -، و"غاية التحقيق" شرح المنتخب الحسامي في الأصول للأخسيكثي، توفي سنة 730 هـ.
মূলনীতিবিদগণ (উসুলবিদগণ) 'বয়ান' (বিবৃতি/স্পষ্টীকরণ)-এর সংজ্ঞায় শাব্দিক অর্থ থেকে দূরে সরে যাননি। তাঁদের নিকট এটি হলো (সম্বোধিত ব্যক্তির জন্য কোনো অর্থের প্রকাশ ঘটানো এবং তা কী দ্বারা আবৃত ছিল তা থেকে পৃথক করে স্পষ্ট করে দেওয়া)।

বয়ান-এর অর্থ কেবল 'প্রকাশ হওয়া' (যুহুর) নয় বরং 'প্রকাশ করা' (ইযহার) হিসেবে গণ্য করা—এটিই ইমাম শাফেয়ী এবং হানাফী উসুলবিদদের অধিকাংশের অনুসৃত পথ। তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন ফখরুল ইসলাম আল-বাজদাভী‌‌(১) যিনি এই বিষয়টিকে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্থির করেছেন: (আর আমাদের নিকট এই অধ্যায়ে এটি—অর্থাৎ বয়ান—দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'প্রকাশ করা', 'প্রকাশ হওয়া' নয়)‌‌(২)।

'উসুলুল বাজদাভী'-এর ভাষ্যকার আব্দুল আজিজ আল-বুখারী‌‌(৩) 'প্রকাশ হওয়া' (যুহুর)-এর মতটিকে কিছু হানাফী এবং অধিকাংশ শাফেয়ী আলেমের দিকে নিসবত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা এই দিকে ঝুঁকেছেন এই যুক্তিতে যে, ভাষাগত দিক থেকে বয়ান-এর মূল ভিত্তি হলো 'প্রকাশ হওয়া' (যুহুর)। যেমন বলা হয়: অমুক বিষয়টি আমার নিকট বয়ান বা স্পষ্ট হয়েছে—অর্থাৎ তা প্রকাশিত ও পরিস্ফুট হয়েছে—, এবং নতুন চাঁদ বয়ান হয়েছে: অর্থাৎ তা উদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।

পূর্ববর্তীরা বয়ান বলতে 'প্রকাশ হওয়া'-এর পরিবর্তে 'প্রকাশ করা'-কে যে উদ্দেশ্য নিয়েছেন, তার সমর্থনে বলা যায় যে, এর অধিকাংশ ব্যবহার 'প্রকাশ করা' অর্থেই এসেছে। কেননা কোনো ব্যক্তি যখন বলে: 'অমুক ব্যক্তি অমুক বিষয়টি বয়ান (স্পষ্ট) করেছে', তখন আরবরা তা থেকে বুঝে নেয় যে, সে তা এমনভাবে প্রকাশ করেছে যাতে কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট নেই।

--------------------------------------------

= এবং দেখুন: ইবনুল আসির আল-জাযারির "জামি আল-উসুল ফি আহাদিসির রাসুল" (৯৪১৮, ৩২১৮, ৩২১৯); কাসিম ইবনে কুতলুবুগার "তাখরিজু আহাদিসিল বাজদাভী" (পৃষ্ঠা ৩৪), যা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর একটি পাণ্ডুলিপি এবং বর্তমানে আমাদের সম্পাদনায় মুদ্রণাধীন রয়েছে; মুনাউয়ির "ফায়দুল কাদির" সহ সুয়ুতির "আল-জামি আস-সগির" (২/ ৫২৪ - ৫২৫); সাখাভীর "আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ" (পৃ. ১২৯); আজলুনির "কাশফুল খাফা ওয়াল ইলবাস" (১/ ২৫৩ - ২৫৫)।

‌‌(১) তিনি হলেন আলী বিন মুহাম্মদ, আবু হাসান ফখরুল ইসলাম আল-বাজদাভী। তিনি উসুল, ফিকহ এবং তাফসির শাস্ত্রে হানাফী মাযহাবের বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সমরকন্দের অধিবাসী ছিলেন এবং বাজদাহ দুর্গের দিকে তাঁর নিসবত করা হয়। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আল-মাবসুত", "কানযুল উসুল ইলা মারিফাতিল উসুল" যা "উসুলুল বাজদাভী" নামে পরিচিত, "গিনায়ুল ফুকাহা", ফিকহ শাস্ত্রে "শারহু জামি ইস-সগির ওয়াল কাবির" এবং "তফসিরুল কুরআন"। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৪৮২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

‌‌(2) দেখুন: ইমাম শাফেয়ীর "আর-রিসালাহ", "বয়ান কেমন হতে হয় পরিচ্ছেদ", পৃ. ২১ ও পরবর্তী অংশ, শায়খ আহমদ মুহাম্মদ শাকিরের সম্পাদনা; আব্দুল আজিজ আল-বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "কাশফুল আসরার" সহ "উসুলুল বাজদাভী" (৩/ ৮২৪)।

‌‌(৩) তিনি হলেন আব্দুল আজিজ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ, আলাউদ্দিন আল-বুখারী। তিনি উসুল ও ফিকহ শাস্ত্রের বড় হানাফী ইমামদের একজন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "কাশফুল আসরার", যা উসুলুল বাজদাভীর একটি অনন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এবং "গায়াতুত তাহকীক", যা আখসিকাসি-র উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থ "আল-মুনতাখাবুল হুসামি"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তিনি ৭৩০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا قيل: فلان ذو بيان، يراد منه الإظهار‌‌(1).

ولقد كثر ورود البيان في التنزيل بمعنى الإظهار، كما يرى في قوله تعالى: {هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ} [آل عمران: 138] وقوله تباركت أسماؤه: {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (18) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ (19)} [القيامة: 18، 19] أي إظهار معانيه وأحكامه وشرائعه إذا أشكل عليك يا محمد شيء من معانيه، أو إظهاره على لسانك بالوحي حتى تقرأه‌‌(2). ومن ذلك قوله تعالى: {عَلَّمَهُ الْبَيَانَ (4)} [الرحمن: 4]‌‌(3).

وإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قلّده الله أمانة البيان لما أنزل إليه من كتاب فكان مأمورًا بأن يبين للناس ما ينزل إليه‌‌(4) {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (44)} [النحل: 44].

ولم ينتقل الرسول صلوات الله عليه إلى الرفيق الأعلى، حتى أدّى أمانة البيان كما أمره مولاه وعهد إليه، ولو كان البيان بمعنى الظهور وهو العلم الواقع للمبيَّن له، لما كان رسول الله مؤديًا لتلك الأمانة‌‌(5).

--------------------------------------------

‌‌(1) راجع: "أصول السرخسي" (2/ 26)، "كشف الأسرار" لعبد العزيز البخاري (3/ 428)، "مرآة الأصول شرح مرقاة الوصول" لمنلا خسرو (2/ 122) مع حاشية الإزميري.

‌‌(2) انظر: "الكشاف" للزمخشري (4/ 529)، "كشف الأسرار" لعبد العزيز البخاري (3/ 824).

‌‌(3) جاء في "لسان العرب" لابن منظور نقلًا عن الزجاج في قوله تعالى: {خَلَقَ الْإِنْسَانَ (3) عَلَّمَهُ الْبَيَانَ (4)} قيل: إنه عنى بالإنسان هاهنا النبي صلى الله عليه وسلم، ويجوز في اللغة أن يكون الإنسان اسمًا لجنس الناس جميعًا، ويكون على هذا {عَلَّمَهُ الْبَيَانَ (4)} جعله مميزًا، حتى انفصل الإنسان ببيانه وتميزه من جميع الحيوان.

‌‌(4) انظر: "الرسالة" للإمام الشافعي (ص 21، 29، 31)، "أصول السرخسي" (2/ 27)، "جامع بيان العلم وفضله" لابن عبد البر (2/ 188 - 193).

‌‌(5) قال شمس الأئمة السرخسي: (وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مأمورًا بالبيان للناس … وقد علّمنا أنه بين للكل. ومَن وقع له العلم ببيانه أقر، ومَن لم يقع له أصر، ولو كان البيان عبارة عن العلم الواقع للمبين له لما كان هو - يعني رسول الله - متمِّمًا للبيان في حق الناس كلهم). انظر: "أصول السرخسي" (2/ 27).
যখন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি ‘বায়ান’ (সুস্পষ্ট প্রকাশ)-এর অধিকারী, তখন এর দ্বারা ‘ইজহার’ বা প্রকাশ করা উদ্দেশ্য হয়।‌‌(১)

নাযিলকৃত কিতাবে (কুরআনে) ‘বায়ান’ শব্দটি ‘ইজহার’ বা প্রকাশ করা অর্থে প্রচুর ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে দেখা যায়: {এটি মানুষের জন্য এক সুস্পষ্ট বর্ণনা} [আল-ইমরান: ১৩৮] এবং তাঁর মহান বাণীতে: {সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তারপর তার বিশদ বর্ণনা (বায়ান) করা আমারই দায়িত্ব} [আল-কিয়ামাহ: ১৮, ১৯]। অর্থাৎ, হে মুহাম্মদ! যদি আপনার নিকট এর কোনো অর্থ অস্পষ্ট মনে হয়, তবে এর অর্থসমূহ, বিধানসমূহ এবং শরয়ি বিষয়সমূহ স্পষ্ট করে দেয়া; অথবা ওহির মাধ্যমে আপনার জবানে তা প্রকাশ করে দেয়া যাতে আপনি তা পাঠ করতে পারেন।‌‌(২) এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {তিনি তাকে বায়ান (ভাব প্রকাশের ক্ষমতা) শিক্ষা দিয়েছেন} [আর-রাহমান: ৪]।‌‌(৩)

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কিতাবের ব্যাখ্যার আমানত অর্পণ করেছেন। ফলে মানুষের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা ব্যাখ্যা করে দেওয়ার জন্য তিনি আদিষ্ট ছিলেন।‌‌(৪) {আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট তা সুস্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} [আন-নাহল: ৪৪]।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততক্ষণ পর্যন্ত ‘রফিকে আলা’-র (উচ্চতর সান্নিধ্য) পানে পাড়ি জমাননি, যতক্ষণ না তিনি তাঁর রবের আদেশ ও প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী ব্যাখ্যার আমানত যথাযথভাবে আদায় করেছেন। যদি ‘বায়ান’ অর্থ ‘যুহুর’ বা প্রকাশমান হওয়া হতো—অর্থাৎ যা সম্বোধিত ব্যক্তির মাঝে জ্ঞান হিসেবে অর্জিত হয়—তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই আমানত আদায়কারী হতেন না।‌‌(৫)

--------------------------------------------

‌‌(1) দেখুন: "উসুলুস সারাখসি" (২/ ২৬), আব্দুল আজিজ বুখারী কৃত "কাশফুল আসার" (৩/ ৪২৮), মোল্লা খসরু কৃত "মিরআতুল উসুল শারহু মিরকাতিল উসুল" (২/ ১২২) সাথে ইজমিরির টীকা।

‌‌(2) দেখুন: যামাখশারি কৃত "আল-কাশশাফ" (৪/ ৫২৯), আব্দুল আজিজ বুখারী কৃত "কাশফুল আসার" (৩/ ৮২৪)।

‌‌(3) ইবনে মনজুরের "লিসানুল আরব"-এ আজ-জাজ্জাজ থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে বায়ান শিক্ষা দিয়েছেন} সম্পর্কে উদ্ধৃত হয়েছে যে: কেউ কেউ বলেছেন, এখানে মানুষ বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে। তবে ভাষাগতভাবে ‘ইনসান’ শব্দটি সমগ্র মানবজাতির নাম হিসেবে হওয়াও বৈধ, আর এই অর্থ অনুযায়ী {তাকে বায়ান শিক্ষা দিয়েছেন}-এর অর্থ হবে—তিনি তাকে পার্থক্য করার ক্ষমতা দিয়েছেন, যাতে মানুষ তার বায়ান (প্রকাশভঙ্গি) ও স্বাতন্ত্র্যের মাধ্যমে সকল প্রাণী থেকে পৃথক হতে পারে।

‌‌(4) দেখুন: ইমাম শাফেয়ি কৃত "আর-رিসালাহ" (পৃ. ২১, ২৯, ৩১), "উসুলুস সারাখসি" (২/ ২৭), ইবনে আব্দুল বার কৃত "জামেউ বায়ানে ইলমি ওয়া ফাদলিহি" (২/ ১৮৮ - ১৯৩)।

‌‌(5) শামসুল আইম্মাহ আস-সারাখসি বলেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের জন্য ‘বায়ান’ বা ব্যাখ্যা করার বিষয়ে আদিষ্ট ছিলেন... এবং আমরা জানতে পেরেছি যে তিনি সবার জন্যই তা স্পষ্ট করেছেন। এখন যার নিকট তাঁর বর্ণনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয়েছে, সে তা স্বীকার করেছে; আর যার নিকট তা অর্জিত হয়নি, সে (অস্বীকারে) অবিচল থেকেছে। ‘বায়ান’ যদি সম্বোধিত ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞানকে বোঝাত, তবে তিনি—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ—সকল মানুষের ক্ষেত্রে বায়ান বা বর্ণনার কাজ সমাপ্তকারী হতেন না)। দেখুন: "উসুলুস সারাখসি" (২/ ২৭)।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن هنا قرر عبد العزيز البخاري في "كشف الأسرار": أن (مَن جعل البيان بمعنى الظهور دون الإظهار، يلزمه القول: بأن كثيرًا من الأحكام لا يجب على من لا يتأمل في النصوص، كما أنه لا يجب الإيمان على من لا يتأمل في الآيات الدالة، ما لم يتبين لهم ذلك، ومردُّ ذلك: أن الظهور عبارة عن العلم للمكلف بما أريد منه، ولم يحصل له ذلك، وهذا فاسد)‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) راجع: (3/ 824 - 825) وانظر: "أصول السرخسي" (2/ 26 - 27)، "حاشية الإزميري على المرآة" (2/ 122).
এখান থেকেই আব্দুল আজিজ আল-বুখারী "কাশফুল আসরার" গ্রন্থে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে: (যে ব্যক্তি বায়ান (স্পষ্টকরণ)-কে ইজহার (প্রকাশ করা)-এর পরিবর্তে জুহুর (প্রকাশ হওয়া) অর্থে গ্রহণ করেন, তার জন্য এই কথা বলা অনিবার্য হয়ে পড়ে যে: অনেক বিধানই ঐ ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব হবে না যে নসসমূহ (মূল পাঠ) নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না; যেমনভাবে ঐ ব্যক্তির ওপর ঈমান আনাও ওয়াজিব হবে না যে নির্দেশক নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, যতক্ষণ না তাদের নিকট তা স্পষ্ট হয়। এর কারণ হলো: জুহুর বলতে মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) তার নিকট যা চাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে জ্ঞান লাভ করাকে বোঝায়, অথচ তার ক্ষেত্রে তা অর্জিত হয়নি। আর এটি ভ্রান্ত।)‌‌(১).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: (৩/ ৮২৪ - ৮২৫) এবং দেখুন: "উসুলুস সারাখসি" (২/ ২৬ - ২৭), "হাশিয়াতুল ইজমিরি আলাল মিরআত" (২/ ১২২)।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌أنواع البيان

‌‌تمهيد:

بعد الذي مرّ من تعريف البيان في اللغة واصطلاح الأصوليين، يحسن أن نعلم أن لهذا البيان عند الأصوليين أنواعًا هي: بيان التقرير، بيان التغيير، بيان التبديل، بيان التفسير، ويضيف البعض: بيان الضرورة، ولكن الأمر يقتضينا من ناحية التاريخ والتطور: أن نعلم ما الذي كان قبل هذا التقسيم؟ وهذا ما يوجب الحديث عن البيان وأنواعه عند الإمام الشافعي رضي الله عنه، الذي كان أول من صنّف في هذا الموضوع. وسنكتفي باللمحة الموجزة، ونحن في طريقنا إلى التفصيل في الأنواع التي أشرنا إليها في مفتتح هذا الكلام.

‌‌1 - لا يجد الباحث في رسالة الإمام الشافعي - التي هي فيما بلغنا أول مدونة في أصول الفقه وتفسير النصوص - وَضْعَ أسماء اصطلاحية معينة للبيان حسب الغرض الذي يؤديه، بأن يكون ذلك البيان للتقرير أو للتفسير … إلى غير ذلك من الأغراض التي يكون به أداؤها، وإنما يجد عرضًا مفصلًا لوجوه البيان في الشريعة حيث يكون بكتاب، أو بسنة أو باجتهاد … إلخ، فهي وجوه متعددة وإن كان بعضها أشد تأكيد بيان من بعض، ومختلفًا عند من يجهل لسان العرب‌‌(1).

فقد عقد محمد بن إدريس الشافعي في "رسالته" بابًا تحت عنوان (كيف البيان) ذكر تحته خمسة أوجه للبيان: أجملَها ثم فصَّل القول في كل واحد منها على حِدة، وقد شفع كل وجه منها بالأمثلة والشواهد التي توضح ما

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "الرسالة" (ص 21).
বয়ানের প্রকারভেদ

ভূমিকা:

ভাষা এবং উসুলবিদগণের পরিভাষায় বয়ানের (বর্ণনা) যে সংজ্ঞা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তার পর, উসুলবিদগণের নিকট এই বয়ানের যে প্রকারভেদ রয়েছে তা জেনে নেওয়া সমীচীন; সেগুলো হলো: বায়ানুত তাকরির (সুদৃঢ়করণ বর্ণনা), বায়ানুত তাগয়ির (পরিবর্তনমূলক বর্ণনা), বায়ানুত তাবদিল (স্থলাভিষিক্তকারী বর্ণনা), বায়ানুত তাফসির (ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা)। কেউ কেউ এর সাথে বায়ানুদ দারুরা (অপরিহার্য বর্ণনা) যোগ করেছেন। কিন্তু ইতিহাস এবং বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আমাদের জানা প্রয়োজন: এই বিভাজনের পূর্বে বিষয়টি কেমন ছিল? আর একারণেই ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট বয়ান ও তার প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে, যিনি এই বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই আলোচনার শুরুতে আমরা যেসব প্রকারের দিকে ইঙ্গিত করেছি, সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণের দিকে যাওয়ার পথে আমরা এখানে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেই ক্ষান্ত হব।

১ - গবেষকগণ ইমাম শাফিঈর 'আর-রিসালা' গ্রন্থে—যা আমাদের কাছে পৌঁছানো তথ্যমতে উসুলুল ফিকহ এবং মূলপাঠের (নুসুস) ব্যাখ্যার ওপর প্রথম সংকলিত দলিল—উদ্দেশ্য অনুযায়ী বয়ানের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পারিভাষিক নাম দেখতে পাবেন না, যেমন সেই বয়ানটি সুদৃঢ়করণ (তাকরির) বা ব্যাখ্যার (তাফসির) জন্য হওয়া... ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্দেশ্য যার মাধ্যমে বয়ান সম্পাদিত হয়। বরং তিনি সেখানে শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে বয়ানের বিভিন্ন পদ্ধতির বিস্তারিত উপস্থাপনা পাবেন, যেখানে তা কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ অথবা ইজতিহাদ... ইত্যাদির মাধ্যমে হয়ে থাকে। সুতরাং এগুলো বহুবিধ পদ্ধতি, যদিও এর কিছু অংশ অন্য অংশের তুলনায় বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক জোরালো এবং যারা আরবি ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের কাছে তা ভিন্নতর মনে হতে পারে(১)।

মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ তাঁর "আর-রিসালা" গ্রন্থে 'বর্ণনা পদ্ধতি' (কাইফাল বায়ান) শিরোনামে একটি অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন, যার অধীনে তিনি বয়ানের পাঁচটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন: প্রথমে তিনি সেগুলোকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীতে প্রত্যেকটি সম্পর্কে আলাদাভাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি প্রত্যেকটি পদ্ধতির সাথে এমন উদাহরণ ও প্রমাণাদি যুক্ত করেছেন যা বিষয়টি স্পষ্ট করে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আর-রিসালা" (পৃষ্ঠা ২১)।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৮)
أراد. ولعل من الخير أن نعرض هذا الإجمال ونترك التفصيل لمن شاء الاستقصاء. قال الشافعي رحمه الله:

(والبيان اسم جامع لمعان مجتمعة الأصول متشعّبة الفروع. فأقل ما في تلك المعاني المجتمعة: أنها بيان لمن خوطب بها ممن نزل القرآن بلسانه، متقاربة الاستواء عنده. وإن كان بعضها أشد تأكيد بيان من بعض، ومختلفة عند من يجهل لسان العرب).

ثم كشف - رحمه الله تعالى - عن تلك الأوجه معدِّدًا لها بإجمال، وذلك قوله: (فجماع ما أبان الله لخلقه في كتابه، مما تعبدهم به، لما مضى من حكمه جلَّ ثناؤه: من وجوه:

فمنها: ما أبانه لخلقه نصًا. مثل جمل فرائضه، أن عليهم صلاة وزكاة وحجًا وصومًا. وأنه حرَّم الفواحش ما ظهر منها وما بطن، ونصَّ الزنى والخمر، وأكل الميتة والدم ولحم الخنزير، وبيّن لهم كيف فرض الوضوء، مع غير ذلك مما بيّن نصًا.

ومنها: ما أحكم فرضه بكتابه، وبيّن كيف هو على لسان نبيه، مثلُ عدد الصلاة، والزكاة ووقتها، وغير ذلك من فرائضه التي أنزل في كتابه.

ومنها: ما سنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم مما ليس فيه نص حكم، وقد فرض الله في كتابه طاعة رسوله، والانتهاء إلى حكمه؛ فمن قَبِل عن رسول الله فبفرض الله قَبِل.

ومنها: ما فرض الله على خلقه الاجتهادَ في طلبه، وابتلى طاعته في غيره مما فرض عليهم‌‌(1). فإنه يقول تبارك وتعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ (31)} [محمد: 31].

وبعد أن أورد الشافعي شواهد أخرى للاجتهاد‌‌(2) عاد - كما أسلفنا - على كل وجه من أوجه البيان المذكورة بمزيد من الشرح والإيضاح‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) "الرسالة" (ص 21 - 23).

‌‌(2) راجع: "الرسالة" (ص 23 - 25).

‌‌(3) انظر ذلك في "الرسالة": (ص 26 - 53).
তিনি চেয়েছিলেন। সম্ভবত এই সংক্ষিপ্তসার পেশ করা এবং যারা বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে চায় তাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা ছেড়ে দেওয়াটাই উত্তম হবে। ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

(বায়ান বা পরিস্ফুটন হলো এমন একটি সামগ্রিক নাম যা এমন কিছু অর্থের সমন্বয় যার মূলনীতিগুলো একত্রিত কিন্তু শাখা-প্রশাখাগুলো বিস্তৃত। সেই সম্মিলিত অর্থগুলোর মধ্যে ন্যূনতম বিষয় হলো: এটি তাদের জন্য সুস্পষ্ট যাদের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাদের সম্বোধন করা হয়েছে, এটি তাদের কাছে সমান পর্যায়ের। যদিও এর কোনোটি অন্যটির তুলনায় অধিকতর জোরালো পরিস্ফুটন সম্পন্ন হতে পারে, এবং যারা আরবদের ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের কাছে তা ভিন্নতর অনুভূত হতে পারে)।

অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) সেই প্রকারগুলো সংক্ষেপে গণনা করে উন্মোচন করেছেন, আর তা হলো তাঁর এই বক্তব্য: (আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে তাঁর সৃষ্টির জন্য যা কিছু পরিস্ফুট করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাদের ইবাদতের বিধান দিয়েছেন তাঁর অনাদি ফয়সালা অনুযায়ী, তা কয়েকটি প্রকারের সমষ্টি:

তার মধ্যে রয়েছে: যা তিনি তাঁর সৃষ্টির জন্য সরাসরি পাঠের (নাস) মাধ্যমে বিবৃত করেছেন। যেমন তাঁর ফরয বিধানসমূহের সারসংক্ষেপ—যে তাদের ওপর সালাত, যাকাত, হজ ও সিয়াম পালন করা আবশ্যক। আর তিনি প্রকাশ্য ও গোপন সকল অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন, এবং ব্যভিচার, মদ, মৃত জন্তু, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছেন, এবং তাদের জন্য অযুর ফরয বিধান কীভাবে পালন করতে হবে তা বর্ণনা করেছেন, এছাড়া আরও যা কিছু তিনি সরাসরি পাঠের মাধ্যমে বিবৃত করেছেন।

তার মধ্যে রয়েছে: যে বিষয়গুলোর আবশ্যকতা তিনি তাঁর কিতাবে সুনিশ্চিত করেছেন এবং তা কীভাবে পালন করতে হবে তা তাঁর নবীর মুখে বর্ণনা করেছেন। যেমন সালাতের রাকাত সংখ্যা, যাকাতের পরিমাণ ও তার সময়, এবং তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ অন্যান্য ফরয বিধানসমূহ।

তার মধ্যে রয়েছে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা সুন্নাত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন যার ব্যাপারে কিতাবে কোনো সুস্পষ্ট বিধান ছিল না। অথচ আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা এবং তাঁর হুকুম মেনে নেওয়া ফরয করেছেন; সুতরাং কেউ আল্লাহর রাসূলের নিকট থেকে কোনো বিধান গ্রহণ করলে তা আল্লাহর দেওয়া ফরয বিধান হিসেবেই গ্রহণ করল।

তার মধ্যে রয়েছে: যার অন্বেষণে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর ইজতিহাদ করা ফরয করেছেন এবং অন্যান্য ফরয বিধানের ন্যায় এর মাধ্যমেও তাদের আনুগত্যের পরীক্ষা নিয়েছেন। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদের জেনে নিই এবং আমি তোমাদের অবস্থাাদি পরীক্ষা করি। (৩১)} [মুহাম্মদ: ৩১]।

ইমাম শাফিঈ ইজতিহাদের আরও কিছু প্রমাণ পেশ করার পর—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—উল্লিখিত বায়ান বা পরিস্ফুটনের প্রতিটি প্রকারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনার দিকে পুনরায় ফিরে এসেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) "আর-রিসালাহ" (পৃ. ২১ - ২৩)।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: "আর-রিসালাহ" (পৃ. ২৩ - ২৫)।

‌‌(৩) এটি দেখুন "আর-রিসালাহ"-তে: (পৃ. ২৬ - ৫৩)।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌بعد رسالة الشافعي:

‌‌2 - ولقد امتدت يد الاستقراء والتوسع في ميدان الاصطلاحات إلى مباحث البيان في تفسير النصوص، فرأينا الأصوليين - فيما بعد رسالة الشافعي - يقسمون البيان من حيث الوظيفة التي يمكن أن يؤديها من تقرير أو تفسير، أو تغيير أو تبديل … إلخ إلى أربعة أقسام، وأوصلها بعضهم إلى الخمسة‌‌(1).

فالقاضي أبو زيد الدبوسي‌‌(2): يقسم البيان إلى أربعة أقسام هي:

بيان التقرير.

وبيان التفسير.

وبيان التغيير، وهو الاستثناء.

وبيان التبديل - وهو التعليق - بالشرط‌‌(3).

وأوصلها شمس الأئمة السرخسي‌‌(4) - إلى خمسة - حيث اتفق مع أبي زيد الدبوسي في الأربعة المذكورة، وضمّ إليها خامسًا وهو:

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "تقويم أصول الفقه وتحديد أدلة الشرع" للدبوسي (ص 429) مخطوطة دار الكتب المصرية، وطبع فيما بعد. "أصول البزدوي" (3/ 428) فما بعدها مع "كشف الأسرار".

‌‌(2) هو عبد الله بن عمر بن عيسى الدبوسي. أبو زيد، أحد القضاة السبعة في عصره.

ومن أجلّ كبار الحنفية من الفقهاء. وإليه انتهت مشيخة بخارى وسمرقند وما والاهما، وكان يضرب به المثل في النظر واستخراج الحجج، وهو أول من وضع علم الخلاف. والديوسي نسبة إلى دبوسية قرية بين بخاري وسمرقند من أعمال الصغد من ما وراء النهر. وأجل تصانيفه: كتاب "الأسرار في الأصول والفروع"، و "تقويم الأدلة" في الأصول، و"تأسيس النظر" في الخلاف، وله "خزانة الهدى"، و "نظم الفتاوى". توفي سنة 430 هـ.

‌‌(3) راجع: "تقويم الأدلة" للدبوسي (ص 429) مخطوطة دار الكتب المصرية.

‌‌(4) هو محمد بن أحمد بن سهل، أبو بكر شمس الأئمة من كبار قضاة الحنفية، يقال: إنه وصل إلى رتبة الاجتهاد. من أهل (سرخس) في خراسان. من أهم مصنفاته: "المبسوط" في الفقه، شرح "الكافي" للحاكم الشهيد وهو ثلاثون جزءًا أملاها وهو سجين بالجب في أوزجند (بفرغانه) وكان سبب سجنه صدعه بالحق والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وله "شرح الجامع الكبير للإمام محمد" أيضًا، و"شرح السير الكبير" للإمام محمد أيضًا، و"شرح مختصر الطحاوي" و "الأصول" في أصول الفقه. توفي سنة 483 هـ.
‌শাফেয়ীর রিসালার পরবর্তী সময়:

‌‌২ - পরিভাষা নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও প্রসারের হাতটি মূলপাঠের (নসুস) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বয়ান-সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে আমরা দেখেছি যে, উসূলবিদগণ—শাফেয়ীর রিসালার পরবর্তী যুগে—বয়ানকে তার কার্যকারিতার দিক থেকে (যেমন: তকরীর বা দৃঢ়করণ, তাফসীর বা ব্যাখ্যা প্রদান, তাগয়ীর বা পরিবর্তন অথবা তাবদীল বা স্থলাভিষিক্ত করা ইত্যাদি) চার ভাগে বিভক্ত করেছেন; আর তাঁদের কেউ কেউ একে পাঁচ প্রকার পর্যন্ত উন্নীত করেছেন‌‌(১)।

কাযী আবু যায়েদ আদ-দাব্বুসী‌‌(২) বয়ানকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো:

বয়ানুত তকরীর (দৃঢ়করণমূলক বয়ান)।

বয়ানুত তাফসীর (ব্যাখ্যামূলক বয়ান)।

বয়ানুত তাগয়ীর (পরিবর্তনমূলক বয়ান), যা হলো ‘ইস্তিসনা’ বা ব্যতিক্রম।

বয়ানুত তাবদীল (স্থলাভিষিক্তকরণমূলক বয়ান)—যা হলো শর্তের মাধ্যমে ঝুলন্ত করা বা ‘তালীক’‌‌(৩)।

শামসুল আইম্মাহ আস-সারাকসী‌‌(৪) একে পাঁচ প্রকার পর্যন্ত উন্নীত করেছেন। তিনি উল্লিখিত চার প্রকারের ক্ষেত্রে আবু যায়েদ আদ-দাব্বুসীর সাথে একমত হয়েছেন এবং এর সাথে পঞ্চম একটি প্রকার যুক্ত করেছেন, যা হলো:

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: দাব্বুসী রচিত "তাকভীম উসূলিল ফিকহ ওয়া তাহদীদু আদিল্লাতিশ শার" (পৃষ্ঠা ৪২৯), দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার পাণ্ডুলিপি, যা পরবর্তীতে মুদ্রিত হয়েছে। "উসূলুল বাযদাবী" (৩/ ৪২৮) এবং পরবর্তী অংশ, "কাশফুল আসরার" সহ।

‌‌(২) তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন উমর বিন ঈসা আদ-দাব্বুসী। আবু যায়েদ, তাঁর সমসাময়িক সাতজন বিচারকের (কাযী) অন্যতম।

তিনি ফকীহদের মধ্যে হানাফী মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। বুখারা, সমরকন্দ এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের ইলমী নেতৃত্ব তাঁর কাছেই সমাপ্ত হয়েছিল। তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং দলীল উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে তিনি প্রবাদতুল্য ছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম ‘ইলমুল খিলাফ’ বা মতভেদ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। ‘দাব্বুসী’ নামটি মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের সগদ এলাকার বুখারা ও সমরকন্দের মধ্যবর্তী ‘দাব্বুসিয়া’ নামক গ্রামের দিকে সম্বন্ধিত। তাঁর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: উসূল ও ফুরু (মূলনীতি ও শাখা) বিষয়ক "কিতাবুল আসরার", উসূল শাস্ত্রের "তাকভীমূল আদিল্লাহ", মতভেদ শাস্ত্রের "তাসীসুন নাযার"; এছাড়াও তাঁর "খাযানাতুল হুদা" এবং "নাযমুল ফাতাওয়া" রয়েছে। তিনি ৪৩০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

‌‌(৩) দেখুন: দাব্বুসী রচিত "তাকভীমূল আদিল্লাহ" (পৃষ্ঠা ৪২৯), দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার পাণ্ডুলিপি।

‌‌(৪) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাহল, আবু বকর শামসুল আইম্মাহ। তিনি হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত বিচারকদের অন্যতম। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছেছিলেন। তিনি খোরাসানের ‘সারাকস’ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা হলো: ফিকহ শাস্ত্রের "আল-মাবসূত", এটি হাকীম আশ-শহীদের "আল-কাফী" গ্রন্থের ব্যাখ্যা যা ত্রিশ খণ্ডে বিভক্ত। তিনি যখন উজজান্দের (ফারগানা) কূপে বন্দী ছিলেন, তখন এটি মুখে বলে লিখিয়েছিলেন। তাঁর কারাবরণের কারণ ছিল সত্য প্রকাশ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা। এছাড়াও তাঁর ইমাম মুহাম্মদ রচিত "জামেউল কবীর"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, "সিয়ারুল কবীর"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, "মুখতাসারুত ত্বহাবী"-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের "আল-উসূল" রয়েছে। তিনি ৪৮৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩০)
بيان الضرورة‌‌(1).

أما البزدوي الذي تابعه الأكثرون فيما بعد: فقد عدّها خمسة هي:

بيان التقرير.

بيان التفسير.

وبيان التغيير، وهو على نوعين: الاستثناء، والتعليق.

وبيان الضرورة.

وبيان التبديل، وهو: النسخ‌‌(2).

وهكذا نرى أن ما اعتبره الدبوسي، والسرخسي: بيان تغيير، وبيان تبديل، هو عند البزدوي والأكثرين: بيان تبديل.

وأن الدبوسي لم يذكر: بيان الضرورة.

فاشترك السرخسي مع الدبوسي في جعل بيان التغيير هو: الاستثناء، وبيان التبديل هو: التعليق، وعدم اعتبار النسخ نوعًا من أنواع البيان.

واختلف عنه بأنه اعتبر بيان الضرورة؛ مع أن أبا زيد لم يأتِ على ذكره. فكانت أقسام البيان أربعة عند الدبوسي، وخمسة عند شمس الأئمة.

وقد اتفق السرخسي مع البزدوي ومن تابعه بأنها خمسة: منها بيان الضرورة، إلا أنه اختلف معه في عدم اعتبار النسخ: بيان تبديل.

وستعرض فيما يأتي لكل واحد من الأقسام الخمسة، لنرى مع أيُّها يلتقي ما نريده من "تفسير النصوص".

--------------------------------------------

‌‌(1) راجع: "أصول السرخسي" (2/ 26 - 53).

‌‌(2) راجع: "أصول البزدوي" (3/ 824 - 825 - 837)، مع شرحه "كشف الأسرار" لعبد العزيز البخاري.
প্রয়োজনীয়তার বর্ণনা‌‌(১)।

পক্ষান্তরে আল-বাজদাবি, যাঁর অনুসরণ পরবর্তী অধিকাংশরাই করেছেন, তিনি এগুলোকে পাঁচটি সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলো হলো:

সুদৃঢ়করণের বর্ণনা।

ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা।

এবং পরিবর্তনমূলক বর্ণনা; যা দুই প্রকার: ইস্তিসনা (ব্যতিক্রমকরণ) এবং তায়লিক (শর্তযুক্ত করা)।

এবং প্রয়োজনীয়তার বর্ণনা।

এবং স্থলাভিষিক্তকরণের বর্ণনা; যা হলো: নাসখ (রহিতকরণ)‌‌(২)।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, আদ-দাবাসি ও আস-সারাহসি যা কিছুকে পরিবর্তনমূলক বর্ণনা ও স্থলাভিষিক্তকরণের বর্ণনা হিসেবে গণ্য করেছেন, আল-বাজদাবি ও অধিকাংশের নিকট তা স্থলাভিষিক্তকরণের বর্ণনা।

এবং আদ-দাবাসি 'প্রয়োজনীয়তার বর্ণনা' উল্লেখ করেননি।

ফলে আস-সারাহসি ও আদ-দাবাসি উভয়েই পরিবর্তনমূলক বর্ণনাকে 'ইস্তিসনা' এবং স্থলাভিষিক্তকরণের বর্ণনাকে 'তায়লিক' সাব্যস্ত করা এবং রহিতকরণকে বর্ণনার কোনো প্রকার হিসেবে গণ্য না করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

তবে তিনি (সারাহসি) তার (দাবাসি) থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এ বিষয়ে যে, তিনি প্রয়োজনীয়তার বর্ণনাকে প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন; যদিও আবু যায়িদ এর উল্লেখ করেননি। ফলে আদ-দাবাসির নিকট বর্ণনার প্রকার ছিল চারটি, আর শামসুল আইম্মাহর নিকট পাঁচটি।

আস-সারাহসি আল-বাজদাবি ও তাঁর অনুসারীদের সাথে একমত হয়েছেন যে প্রকারগুলো পাঁচটি, যার অন্যতম হলো প্রয়োজনীয়তার বর্ণনা। তবে তিনি তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন রহিতকরণকে স্থলাভিষিক্তকরণের বর্ণনা হিসেবে গণ্য না করার বিষয়ে।

সামনে আমরা এই পাঁচটি প্রকারের প্রতিটির আলোচনা পেশ করব, যাতে দেখা যায় "নصوص বা পাঠ্যবচনের ব্যাখ্যা" বলতে আমরা যা বোঝাতে চাইছি, তার সাথে কোনটির মিল রয়েছে।

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "উসুলুস সারাহসি" (২/ ২৬-৫৩)।

‌‌(২) দেখুন: "উসুলুল বাজদাবি" (৩/ ৮২৪ - ৮২৫ - ৮৩৭), সাথে আব্দুল আজিজ আল-বুখারির এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "কাশফুল আসরার"।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌1 - بيان التقرير:

هذ أول وجه من أوجه البيان الخمسة التي اعتمدها البزدوي والأكثرون من بعده، كما مرّ وهي:

بيان التقرير، بيان التفسير، بيان التغيير، وبيان التبديل - وهو النسخ - وبيان الضرورة.

ويرى في هذه الأوجه أنها تنوعت حسب الوظيفة التي يؤديها كل واحد منها كما أسلفنا، فما كان وظيفته التقرير سمي: بيان التقرير. وما أدى غرض التفسير سمي: بيان التفسير، وهكذا … وذلك فيما عدا بيان الضرورة الذي سمّاه الآخرون باسم سببه كذلك؛ لأنه بيان بسبب الضرورة.

ومن هنا قرر العلماء: أن إضافة البيان إلى التقرير، والتغيير، والتبديل، هي من قبيل إضافة الجنس إلى نوعه، كما في قولنا: علم الفقه، وعلم الطب … إلخ، أي بيانٌ، هو تقرير، وكذا في الباقي.

أما إضافة البيان إلى الضرورة في قولهم: بيان ضرورة، فذلك من قبيل إضافة الشيء إلى سببه، أي بيانٌ يحصل بالضرورة‌‌(1).

وبيان التقرير: هو تأكيد الكلام بما يقطع احتمال المجاز، إن كان المراد بالكلام المؤكَّد حقيقتَه، أو بما يقطع احتمال الخصوص؛ إن كان المؤكَّد عامًا‌‌(2).

فمن الأول - وهو ما يقطع احتمال المجاز - لفظ: {يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ} من

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "كشف الأسرار" لعبد العزيز البخاري، شرح "أصول البزدوي" (3/ 826).

‌‌(2) قال البزدوي: (أما بيان التقرير: فتفسيره أن كل حقيقة تحتمل المجاز، أو عام يحتمل الخصوص، إذ ألحق به ما يقطع الاحتمال: فهو بيان تقرير) وقال السرخسي: (فأما بيان التقرير: فهو في الحقيقة التي تحتمل المجاز والعام والذي يحتمل الخصوص). انظر: "أصول البزدوي" (3/ 825 - 826) "أصول السرخسي" (2/ 28) هذا: ويلاحظ أن في ذكرنا للحقيقة التي تحتمل المجاز، والعام الذي يحتمل الخصوص، احترازًا عما لا يدخل في حيز واحد من هذين الاحتمالين من مثل قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} {إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} فإنه لا يحتمل المجاز ولا يحتمل الخصوص.
১ - সুনিশ্চিতকরণ বর্ণনা (বায়ানুত তাকরির):

এটি বর্ণনার (বায়ান) পাঁচটি প্রকারের মধ্যে প্রথম, যা আল-বাজদাভি এবং তাঁর পরবর্তী অধিকাংশ আলেম গ্রহণ করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর সেগুলো হলো:

সুনিশ্চিতকরণ বর্ণনা, ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা, পরিবর্তনমূলক বর্ণনা, স্থলাভিষিক্তকরণ বর্ণনা — যা মূলত রহিতকরণ (নাসখ) — এবং জরুরতজনিত বর্ণনা।

তিনি এই প্রকারগুলোর ক্ষেত্রে মনে করেন যে, এগুলো তাদের প্রত্যেকের সম্পাদিত কার্যাবলি অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় হয়েছে, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। সুতরাং যার কাজ সুনিশ্চিত করা, তাকে ‘সুনিশ্চিতকরণ বর্ণনা’ নামকরণ করা হয়েছে। আর যা ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য পূরণ করে, তাকে ‘ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা’ নামকরণ করা হয়েছে। এভাবেই চলতে থাকবে... কেবল ‘জরুরতজনিত বর্ণনা’ ছাড়া, যাকে অন্যান্যরা একইভাবে তার কারণের সাথে সম্বন্ধ করে নামকরণ করেছেন; কারণ এটি জরুরত বা বিশেষ প্রয়োজনের কারণে সৃষ্ট বর্ণনা।

এখান থেকেই আলেমগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে: সুনিশ্চিতকরণ, পরিবর্তন এবং স্থলাভিষিক্তকরণের দিকে বর্ণনার সম্বন্ধ করাটি হলো সাধারণ (জিলস) শব্দকে তার বিশেষ প্রকারের (নাও’) দিকে সম্বন্ধ করার মতো; যেমন আমাদের কথা: ফিকহ শাস্ত্র, চিকিৎসা শাস্ত্র... ইত্যাদি। অর্থাৎ এমন একটি বর্ণনা যা সুনিশ্চিতকরণ; বাকিগুলোর ক্ষেত্রেও অনুরূপ।

আর তাদের বক্তব্য ‘জরুরতজনিত বর্ণনা’-তে জরুরতের দিকে বর্ণনার সম্বন্ধ করাটি হলো কোনো বস্তুকে তার কারণের দিকে সম্বন্ধ করার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এমন এক বর্ণনা যা জরুরত বা অপরিহার্যতার কারণে অর্জিত হয়‌‌(১)।

আর সুনিশ্চিতকরণ বর্ণনা হলো: বক্তব্যকে এমন কিছুর মাধ্যমে জোরালো করা যা রূপক (মাজায) হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়, যদি বক্তব্যটি দ্বারা তার প্রকৃত অর্থ (হাকিকাত) উদ্দেশ্য হয়; অথবা যা সুনির্দিষ্টকরণের (খুসাস) সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়, যদি বক্তব্যটি সাধারণ (আম) হয়‌‌(২)।

প্রথমটির উদাহরণ — যা রূপকের সম্ভাবনা নাকচ করে — তা হলো এই বাণী: {তার দুই ডানা দিয়ে ওড়ে}

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: আব্দুল আজিজ আল-বুখারি রচিত "কাশফুল আসরার", যা "উসুলুল বাজদাভি"-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৩/৮২৬)।

‌‌(২) আল-বাজদাভি বলেছেন: (সুনিশ্চিতকরণ বর্ণনার ব্যাখ্যা হলো: প্রত্যেক প্রকৃত অর্থ যা রূপকের সম্ভাবনা রাখে, অথবা প্রত্যেক সাধারণ শব্দ যা সুনির্দিষ্টকরণের সম্ভাবনা রাখে, যখন তার সাথে এমন কিছু যুক্ত করা হয় যা সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়, তবে সেটিই সুনিশ্চিতকরণ বর্ণনা)। আল-সারাকসি বলেছেন: (সুনিশ্চিতকরণ বর্ণনা মূলত সেই প্রকৃত অর্থের ক্ষেত্রে হয় যা রূপকের সম্ভাবনা রাখে এবং সেই সাধারণ শব্দের ক্ষেত্রে হয় যা সুনির্দিষ্টকরণের সম্ভাবনা রাখে)। দেখুন: "উসুলুল বাজদাভি" (৩/৮২৫-৮২৬), "উসুলুস সারাকসি" (২/২৮)। দ্রষ্টব্য: রূপকের সম্ভাবনা রাখা প্রকৃত অর্থ এবং সুনির্দিষ্টকরণের সম্ভাবনা রাখা সাধারণ শব্দের উল্লেখের মাধ্যমে আমরা এমন বিষয়গুলোকে বাদ দিয়েছি যা এই দুই সম্ভাবনার কোনোটিরই আওতায় পড়ে না; যেমন আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} {নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়}। কারণ এতে রূপক বা সুনির্দিষ্টকরণের কোনো সম্ভাবনা নেই।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩২)
قوله جلّ وعلا: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ} [الأنعام: 38].

فإن (الطائر) في الآية يحتمل أن يستعمل في حقيقته استعمالًا مجازيًا، ذلك أن العرب تستعمل الطيران لغير الطائر، فيقال للبريد: طائر، مجازًا لأنه يسرع في مشيه، كما يقال: فلان يطير بهمته؛ وتقول للرجل: طِر في حاجتي، أي أسرع. فيكون قوله تعالى: {يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ} تقريرًا لموجَب الحقيقة، وقطعًا لاحتمال المجاز، فالمراد بالطائر حقيقة: الطائر المعروف، وقد قطع احتمال المجاز؛ فكان بيان تقرير‌‌(1).

ومن الثاني: وهو ما يقطع احتمال الخصوص: لفظ: {كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ} ومن قوله تعالى: {فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ (30)} [الحجر: 30].

فإن لفظ: {الْمَلَائِكَةُ} لفظ عام يشمل جميع الملائكة، ويحتمل الخصوص؛ بأن يكون المراد بعضهم، فقطع هذا الاحتمال قوله جلّ وعلا: {كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ} فكان ذلك بيانًا قاطعًا للاحتمال؛ وذلك أيضًا بيان التقرير‌‌(2).

وقد ذكروا أن من بيان التقرير في مسائل الفقه: أن يقول الرجل لامرأته: أنت طالق، ثم يقول: عنيت به الطلاق من النكاح، أي رفع قيد النكاح، وقد علل ذلك عبد العزيز البخاري بقوله: (لأن الطلاق - وإن كان رفع القيد في الأصل - غير مختص بالنكاح، لكنه صار مختصًا به في الشرع والعرف، فصار الطلاق برفع النكاح حقيقةً شرعيةً وعرفيةً. واحتمل رفع كل قيد باعتبار أصل الوضع. ولهذا لو نوى صدَقَ ديانة لا قضاء، فكان ذلك بمنزلة المجاز لهذه الحقيقة، فيقوله: (عنيت به الطلاق من النكاح، قرر مقتضى الكلام، وقطع احتمال المجاز)‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "أصول السرخسي" (2/ 28)، "أصول البزدوي" مع شرحه "كشف الأسرار" (2/ 827)، "تفسير القرطبي" (6/ 419).

‌‌(2) راجع: "أصول البزدوي" مع شرحه لعبد العزيز البخاري (3/ 827)، "أصول السرخسي"، (2/ 28)، "المنار للنسفي" مع شرحه لابن ملك (2/ 688 - 689).

‌‌(3) انظر: "كشف الأسرار" (3/ 827).
মহামহিম আল্লাহর বাণী: “আর পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে এবং যত পাখি তার দুই ডানা দিয়ে উড়ে, তারা সবাই তোমাদের মতোই এক একটি উম্মত।” [আল-আন’আম: ৩৮]।

নিশ্চয়ই এই আয়াতে ‘পাখি’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থের পাশাপাশি রূপক অর্থেও ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। কেননা আরবরা পাখি নয় এমন সত্তার ক্ষেত্রেও ‘ওড়া’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। যেমন ডাক পিয়নকে রূপকভাবে ‘পাখি’ বলা হয়, কারণ সে তার চলাচলে দ্রুততা প্রদর্শন করে। যেমন বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উড়ছে’। আবার কোনো লোককে আপনি বলেন: ‘আমার প্রয়োজনে উড়ে যাও’, অর্থাৎ দ্রুত যাও। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহর বাণী: “তার দুই ডানা দিয়ে উড়ে” হলো প্রকৃত অর্থের দাবিকে সুদৃঢ়কারী এবং রূপকের সম্ভাবনাকে ছিন্নকারী। সুতরাং পাখি দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত পরিচিত পাখি, এবং এর মাধ্যমে রূপকের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছে; আর এটিই হলো বয়ানুত তকরীর বা সুদৃঢ়ীকরণমূলক বর্ণনা‌‌(1)।

দ্বিতীয় প্রকার হলো: যা বিশেষীকরণের সম্ভাবনাকে নাকচ করে। যেমন: ‘তারা সকলেই একত্রে’ শব্দদ্বয় এবং মহান আল্লাহর বাণী: “অতঃপর ফেরেশতারা সবাই একত্রে সেজদাহ করল।” [আল-হিজর: ৩০]।

নিশ্চয়ই ‘ফেরেশতাগণ’ শব্দটি একটি সাধারণ শব্দ যা সকল ফেরেশতাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে এখানে বিশেষ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল যে, হয়তো তাদের একাংশকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু মহামহিম আল্লাহর বাণী: “তারা সবাই একত্রে” এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছে। ফলে এটি সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি চূড়ান্ত বর্ণনা হিসেবে গণ্য হয়েছে; আর এটিও বয়ানুত তকরীর‌‌(2)।

ফিকার মাসআলাসমূহে বয়ানুত তকরীরের উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন: এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: ‘তুমি তালাকপ্রাপ্তা’, অতঃপর সে বলল: ‘আমি এর দ্বারা নিকাহ বা বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করা উদ্দেশ্য নিয়েছি’, অর্থাৎ নিকাহের বন্ধন উঠিয়ে দেওয়া। আব্দুল আজিজ আল-বুখারী এর কারণ দর্শাতে গিয়ে বলেন: (কেননা তালাক—যদিও মূল আভিধানিক অর্থে কোনো বন্ধন উন্মোচন করা—তা কেবল নিকাহের সাথে নির্দিষ্ট নয়, তবে শরিয়ত ও প্রচলিত প্রথায় তা নিকাহের সাথেই নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। ফলে তালাক দ্বারা নিকাহ বিচ্ছেদ করা একটি শরয়ি ও প্রথাগত প্রকৃত অর্থে পরিণত হয়েছে। তবে শব্দের মূল গঠন বিবেচনায় এটি যেকোনো বন্ধন মোচনের সম্ভাবনাও রাখত। এই কারণেই সে যদি অন্য কোনো বন্ধনের নিয়ত করে তবে তা ধর্মীয় বিচারে সত্য বলে গণ্য হলেও বিচারিক ক্ষেত্রে হবে না। তাই এটি এই প্রকৃত অর্থের বিপরীতে রূপকের পর্যায়ে ছিল। এমতাবস্থায় তার এই উক্তি: ‘আমি এর দ্বারা নিকাহের তালাক উদ্দেশ্য নিয়েছি’—কথার দাবিকে সুদৃঢ় করেছে এবং রূপকের সম্ভাবনাকে নাকচ করেছে)‌‌(3)।

--------------------------------------------

‌‌(1) দেখুন: “উসুলুস সারাখসি” (২/ ২৮), “উসুলুল বাজদাওয়ি” ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ “কাশফুল আসরার” (২/ ৮২৭), “তাফসিরে কুরতুবি” (৬/ ৪১৯)।

‌‌(2) পর্যালোচনা করুন: “উসুলুল বাজদাওয়ি” ও আব্দুল আজিজ আল-বুখারী কৃত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৩/ ৮২৭), “উসুলুস সারাখসি” (২/ ২৮), নাসাফি রচিত “আল-মানার” ও ইবনে মালাক কৃত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (২/ ৬৮৮ - ৬৮৯)।

‌‌(3) দেখুন: “কাশফুল আসরার” (৩/ ৮২৭)।
(খণ্ড: ১) তাফসীরুন নুসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وهكذا يكون بيان التقرير، كما يلاحظ في المثالين السابقين، قاطعًا للاحتمال، مقررًا للحكم على ما اقتضاء الظاهر، وذلك أوضح مراتب البيان‌‌(1).

 

‌‌2 - بيان التغيير:

أما بيان التغيير: فهو كما يتضح من اسمه:

(البيان الذي فيه تغيير لموجب اللفظ من المعنى الظاهر إلى غيره).

قال منلا خسرو: (وحقيقته بيان أن الحكم لا يتناول بعض ما يتناوله لفظه، فوجب أن يتوقف أول الكلام على آخره حتى يصير المجموع كلامًا واحدًا، لئلا يلزم التناقض)‌‌(2).

وذلك: كالتعليق بالشرط المؤخر في الذكر، كما في قول الرجل لامرأته: أنت طالق إن دخلت الدار.

وكالاستثناء، وذلك كما في قوله: لفلان عليّ ألف إلا مائة.

فلولا الشرط في قوله: إن دخلت الدار، لوقع الطلاق في الحال.

ولولا الاستثناء في قوله: إلا مائة، بعد ذكر الألف، لكان الواجب عليه ألفًا.

فبالإتيان بالشرط: صار الطلاق معلقًا، وبذكر الاستثناء: تغير وجوب المائة في ذمته، بعد أن كان الكلام يقتضي وجوب الألف.

وقد قرر العلماء: أن تسمية التعليق، والاستثناء، ونحوهما، بيانًا: مجازٌ، لأن الشرط في قوله: إن دخلت الدار، يبطل كون الكلام إيقاعًا، ويصيِّره يمينًا. والاستثناء في قوله: ألف إلا مائة: يبطل الكلام في حق المائة.

--------------------------------------------

‌‌(1) راجع: "تسهيل الوصول إلى علم الأصول" للشيخ محمد المحلاوي (ص 118).

‌‌(2) "المرآة مع المرقاة" لمنلا خسرو (2/ 126).
এভাবেই বয়ানুত তাকরির (দৃঢ়করণমূলক বর্ণনা) পূর্ববর্তী দুটি উদাহরণের মতো সম্ভাব্য সকল সংশয়কে নিরসনকারী এবং আপাত অর্থের (যহির) দাবি অনুযায়ী বিধানকে সুপ্রতিষ্ঠিতকারী হয়; আর এটি বর্ণনার স্তরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট স্তর‌‌(১).

 

‌‌২ - বয়ানুত তাগয়ির (পরিবর্তনমূলক বর্ণনা):

বয়ানুত তাগয়ির সম্পর্কে বলা যায়: এর নাম থেকেই যেমনটা স্পষ্ট হয়:

(এমন বর্ণনা যাতে শব্দের বাহ্যিক অর্থের দাবি থেকে অন্য দিকে পরিবর্তন আনা হয়)।

মোল্লা খুসরো বলেন: (এর প্রকৃত রূপ হলো এই বর্ণনা দেওয়া যে, বিধানটি এমন কিছু বিষয়কে শামিল করে না যা তার শব্দগুলো বাহ্যিকভাবে শামিল করে। তাই কথার প্রথমাংশকে শেষাংশের ওপর স্থগিত রাখা আবশ্যক, যাতে পুরো বিষয়টি একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যে পরিণত হয়, পাছে বৈপরীত্য দেখা না দেয়)‌‌(২).

আর তা হলো: যেমন কথার শেষে কোনো শর্তের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়া (তা'লিক), যেমন কোনো ব্যক্তির তার স্ত্রীকে বলা: তুমি তালাক যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো।

এবং যেমন ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম), যেমন কারো এই কথা: অমুক ব্যক্তি আমার কাছে এক হাজার পাবে একশত ব্যতীত।

যদি "যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো" কথাটিতে শর্ত না থাকত, তবে তালাক তৎক্ষণাৎ কার্যকর হয়ে যেত।

আর এক হাজার উল্লেখ করার পর যদি "একশত ব্যতীত" কথাটিতে ইস্তিসনা না থাকত, তবে তার ওপর এক হাজার প্রদান করাই ওয়াজিব হতো।

সুতরাং শর্ত উল্লেখ করার দ্বারা তালাকটি স্থগিত হয়ে গেল, এবং ইস্তিসনা উল্লেখ করার দ্বারা তার জিম্মায় একশতের আবশ্যকতা পরিবর্তিত হয়ে গেল, অথচ পূর্বে বাক্যটি এক হাজার ওয়াজিব হওয়ার দাবি করছিল।

আলেমগণ স্থির করেছেন যে: তা'লিক (শর্তযুক্ত করা), ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম করা) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোকে 'বয়ান' হিসেবে নামকরণ করা হলো রূপক (মাজায), কারণ "যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো" বাক্যে শর্তটি কথাটিকে তালাক কার্যকরকারী হওয়া থেকে বাতিল করে দেয় এবং একে শপথে পরিণত করে। আর "এক হাজার থেকে একশত ব্যতীত" কথাটিতে ইস্তিসনা একশতের ক্ষেত্রে বাক্যটিকে বাতিল করে দেয়।

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: শায়খ মুহাম্মদ আল-মাহলাউয়ি রচিত "তাসহিলুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল" (পৃ. ১১৮)।

‌‌(2) মোল্লা খুসরো রচিত "আল-মিরআত মাআল মিরকাত" (২/ ১২৬)।