(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: -)
بحوث في قضايا فقهية معاصرة   (محمد تقي العثماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث في قضايا فقهية معاصرة.

المؤلف: القاضي محمد تقي العثماني بن الشيخ المفتي محمد شفيع

دار النشر: دار القلم - دمشق

الطبعة: الثانية، 1424هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 456

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: سيد أبو بكر بن محمد عمر الندوي

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমসাময়িক ফিকহী সমস্যার গবেষণাসমূহ   (মুহাম্মদ তাকি উসমানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: সমসাময়িক ফিকহী সমস্যার গবেষণাসমূহ.

লেখক: বিচারপতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি বিন শায়খ মুফতি মুহাম্মদ শফী

প্রকাশনী: দারুল কলম - দামেস্ক

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪২৪ হিজরী - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: সৈয়দ আবু বকর বিন মুহাম্মদ ওমর নদভী

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
ـ[بحوث في قضايا فقهية معاصرة.]ـ

المؤلف: القاضي محمد تقي العثماني بن الشيخ المفتي محمد شفيع

دار النشر: دار القلم - دمشق

الطبعة: الثانية، 1424هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: سيد أبو بكر بن محمد عمر الندوي
[সমসাময়িক ফিকহি ইস্যুসমূহের ওপর গবেষণাসমূহ]

লেখক: বিচারপতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি বিন শায়খ মুফতি মুহাম্মদ শাফি

প্রকাশনী: দারুল কলম - দামেস্ক

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: সাইয়্যেদ আবু বকর বিন মুহাম্মদ উমর নদভী
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الثانية

1424هـ - 2003 م
দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بُحُوثْ

فِيْ

قَضَايَا فِقْهِيَّةْ مُعَاصِرَةْ

 

تأليف

محمد تقي العثماني

قاضي التمييز الشرعي بالمحكمة العليا لباكستان

ونائب رئيس جامعة دار العلوم بكراتشي

ونائب رئيس المجمع الإسلامي بجدة

 

دَارَ الْقَلَمْ

دِمَشْقْ
গবেষণা

সংক্রান্ত

সমসাময়িক ফিকহি বিষয়াবলী

 

রচনায়

মুহাম্মদ তাকি উসমানি

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরয়ি আপিল বেঞ্চের বিচারপতি

এবং করাচির জামিয়া দারুল উলূমের সহ-সভাপতি

এবং জেদ্দার ইসলামি ফিকহ একাডেমির সহ-সভাপতি

 

দারুল কলম

দামেস্ক
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌كَلِمَةَ الْمُؤَلِّفْ

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الكريم وعلى كل من تبعهم بإحسان

على يوم الدين.

إن عصرنا هذا قد حدثت فيه مسائل جديدة لم تكن معهودة أو متصورة من قبل ولذلك لا يوجد لها ذكر صريح في مآخذ الفقه الإسلامي الأصيلة ولكن الشريعة الإسلامية شريعة خالدة سوف

تبقى-إن شاء الله تعالى-إلى قيام الساعة وإنه منبثقة من الوحي الإلهي الذي تجلى في صور القرآن الكريم والسنة النبوية الطاهرة-على صاحبها أفضل الصلاة والتسليم-والذي لا تحول الأزمان دون إدراكه للحقائق الكونية وتطورات البشرية فإنها مهدت للأمة الإسلامية مناهجا وأصولا لا تزال غضة طرية في كل مكان وزمان دون أن يعتبرها بلىً وفساد على كرّ الأعصار ومر الدهور.

ولم يزل الفقهاء المسلمون - في كل عصر ومصر - يستنبطون أحكام الحوادث الجديدة في ضوء هذه المناهج والأصول حتى أصبح الفقه الإسلامي يمتاز على غيره من التشريعات البشرية بثروتها الهائلة وتنوعه الشامل وقواعده المحكمة وعطاءه المتواصل بحيث لا يخفى ذلك على من استقى من معينة العذب دون أن تعممه الشحناء والعصيبة العمياء.
লেখকের কথা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন

কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।

নিশ্চয়ই আমাদের বর্তমান যুগে এমন কিছু নতুন মাসআলা (مسائل) উদ্ভূত হয়েছে যা ইতিপূর্বে পরিচিত বা কল্পিত ছিল না। এই কারণে ইসলামী ফিকহ (الفقه) এর মৌলিক উৎসসমূহে এগুলোর কোনো স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে ইসলামী শরীয়ত (شريعة) একটি শাশ্বত বিধান, যা আল্লাহ চাহেন তো কিয়ামত পর্যন্ত অটুট থাকবে। আর এটি ঐশী ওহী (وحي) থেকে উৎসারিত যা পবিত্র কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহ (السنة) এর রূপে প্রস্ফুটিত হয়েছে—যাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এবং সময়ের আবর্তন মহাজাগতিক সত্য ও মানবজাতির বিবর্তন অনুধাবনে একে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এমন কিছু কর্মপদ্ধতি (مناهج) ও মূলনীতি (أصول) প্রস্তুত করেছে যা প্রতিটি স্থানে ও সময়ে সজীব ও সতেজ থাকে, দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হলেও যাতে কোনো জরাগ্রস্ততা বা বিকৃতি স্পর্শ করতে পারে না।

আর মুসলিম ফকিহগণ (الفقهاء)—প্রতিটি যুগে ও ভূখণ্ডে—এই সকল কর্মপদ্ধতি (مناهج) ও মূলনীতি (أصول) এর আলোকে নতুন উদ্ভূত ঘটনাবলির বিধানাবলী (أحكام) উদ্ঘাটন (استنباط) করে চলেছেন। এর ফলে ইসলামী ফিকহ (الفقه) তার বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার, ব্যাপক বৈচিত্র্য, সুদৃঢ় নীতিমালা (قواعد) এবং নিরবচ্ছিন্ন অবদানের মাধ্যমে অন্যান্য মানবসৃষ্ট আইনের ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে; যারা অন্ধ বিদ্বেষ ও গোঁড়ামিতে লিপ্ত না হয়ে এর সুমিষ্ট ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন, তাঁদের কাছে এই বিষয়টি অস্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وإني-كأدنى دارس للفقه الإسلامي-لم أزل أكتب على مسائل فقهية في اللغات: العربية، الأردية، الإنكليزية منذ أكثر من ثلاثين عاماً، حتى اجتمعت لدي مجموعة من بحوث فقهية معاصرة في كل من هذه اللغات الثلاث. وبما أن هذه البحوث كانت مبعثرة في عدة مجلات وصحف وكتب فربما تعسر على طلبة العلم اقتناؤها.

فأشار إليّ بعض أحبتي أن تجمع هذه البحوث في مجموعة وتنشر في صورة كتاب لتكون ميسرة للطلبة على صعيد واحد فأردت أن تكون هناك ثلاث مجموعات في اللغات الثلاث المذكورة. فابتدأت - بعون الله تعالى بهذه المجموعة التي تضم البحوث الفقهية التي كتبتها باللغة العربية. ومعظمها قد عرضت على ندوات أو مؤتمرات فقهية عالمية في بلاد مختلفة من الوطن الإسلامي.

وطبعت هذه المجموعة لأول مرة من مكتبة دار العلوم كراتشي عام:1415هـ حتى نفذت نسخها وعند طبعتها الثانية تولاها (دار القلم) - مشكورة - راجعت هذه البحوث فأصلحت ما وقع فيها

من أخطاء في الطبعة الأولى من الأخطاء المطبعية وعدلت العبارات في بعض المواضع إصلاحا لبعض التسامحات التي وقعت في أصل البحث وقد أضفت إلى أصل بعض البحوث فوائد جديدة كما أضفت بحثين جديدين: الأول: أحكام الودائع المصرفية، والثاني: أحكام الذبائح واللحوم المستوردة.

هذا، وإن معظم المسائل المدروسة في هذه البحوث مسائل جديدة تحتاج إلى دراسة متقنة واستنباط عميق، وتعرض لاختلاف بعض الآراء والأنظار ولم آل جهدا في تحقيقها وتنقيرها، وفي مراجعة ما يتعلق بها من الأصول الشرعية والنصوص الفقهية ولكن لا عصمة إلا لرسل الله تعالى فإن كان ما أثبته صوابا فهو توفيق من الله سبحانه وتعالى، وإن كان خطأً فمني ومن الشيطان، ورحم الله تعالى أمرا نبهني على ما وقع فيها من خطأ،
আমি—ইসলামি ফিকহের একজন নগণ্য শিক্ষার্থী হিসেবে—দীর্ঘ ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় বিভিন্ন ফিকহি মাসআলার ওপর লিখে আসছি, যার ফলে এই তিন ভাষার প্রতিটিতেই আমার কাছে সমকালীন ফিকহি গবেষণার (بحوث فقهية) একটি সংকলন তৈরি হয়েছে। যেহেতু এই গবেষণাগুলো বিভিন্ন সাময়িকী, সংবাদপত্র ও গ্রন্থে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, তাই ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য সেগুলো সংগ্রহ করা হয়তো কষ্টসাধ্য ছিল।

তাই আমার কিছু প্রিয়জন পরামর্শ দিলেন যেন এই গবেষণাগুলো একটি সংকলনে একত্রিত করে বই আকারে প্রকাশ করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য তা এক স্থানে সহজলভ্য হয়। আমি চেয়েছিলাম উল্লিখিত তিনটি ভাষায় তিনটি পৃথক সংকলন হোক। মহান আল্লাহর সাহায্যে আমি এই সংকলনটি দিয়ে শুরু করেছি, যাতে আমার লেখা আরবি ফিকহি গবেষণাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফিকহি সেমিনার বা সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়েছে।

এই সংকলনটি প্রথমবারের মতো ১৪১৫ হিজরিতে মাকতাবা দারুল উলুম করাচি থেকে মুদ্রিত হয়েছিল এবং এর কপিগুলো নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় সংস্করণের সময় দারুল কলম—তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা—এটি প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করে। আমি এই গবেষণাগুলো পুনঃনিরীক্ষণ করেছি এবং প্রথম সংস্করণের মুদ্রণজনিত ভুলগুলো সংশোধন করেছি। মূল গবেষণায় যেসব অসাবধানতা (تسامحات) ঘটেছিল তা সংশোধনের লক্ষ্যে কিছু স্থানে শব্দবিন্যাস পরিবর্তন করেছি। কিছু গবেষণার মূলে আমি নতুন কিছু জ্ঞানগর্ভ তথ্য যুক্ত করেছি এবং দুটি নতুন গবেষণা প্রবন্ধ যোগ করেছি: প্রথমটি 'ব্যাংক আমানতের বিধান' এবং দ্বিতীয়টি 'জবাইকৃত পশু ও আমদানিকৃত গোশতের বিধান'।

উল্লেখ্য যে, এই গবেষণাগুলোতে আলোচিত অধিকাংশ মাসআলাই নতুন, যা নিবিড় অধ্যয়ন এবং গভীর উদ্ভাবনী (استنباط) বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এগুলো বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের সম্মুখীন হয়েছে। আমি এগুলোর যাচাই-বাছাই (تحقيق) ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে এবং এ সংক্রান্ত শরয়ি মূলনীতি (الأصول الشرعية) ও ফিকহি ভাষ্যসমূহ (النصوص الفقهية) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করিনি। তবে নির্ভুল (معصوم) হওয়া কেবল আল্লাহর রাসূলগণের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং আমি যা সাব্যস্ত করেছি তা যদি সঠিক হয় তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক, আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যিনি আমাকে আমার ভুলগুলো সম্পর্কে অবহিত করবেন।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وأسأل الله العلي القدير أن يجعل هذه الدراسات خالصة لوجهه الكريم وينفع بها الطالبين ويجعلها ذخرا لمؤلفها يوم لا ينفع مال ولا بنون إنه تعالى على كل شيء قدير، وبالإجابة جدير وله الحمد أولا وآخراً.

محمد تقي العثماني

دار العلوم كراتشي 14

باكستان
আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই গবেষণাকর্মগুলোকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে জ্ঞানপিপাসুদের উপকৃত করেন। আর একে এর লেখকের জন্য সেই দিনের পাথেয় বানান, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না। নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং প্রার্থনা কবুলের যোগ্য। আদি ও অন্তে সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য।

মুহাম্মদ তাকী উসমানী

দারুল উলূম করাচী ১৪

পাকিস্তান
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
..

এই হাদিসটি সহিহ (صحيح) এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যদিও বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবুও এই বিশেষ সূত্রে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য। হাফিজ ইবনে হাজার 'তাকরিবুত তাহজিব' গ্রন্থে তাঁকে সত্যবাদী (صدوق) কিন্তু স্মৃতিশক্তির বিভ্রাটে আক্রান্ত (سيء الحفظ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। অতএব, হাদিসটি আপত্তিকর (منكر) হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
(1)

 

‌‌أحكام البيع بالتقسيط

بحث عرض على مجلس مجمع الفقه الإسلامي في دورة مؤتمره السادس بجدة في المملكة العربية السعودية من (17) إلى (23) شعبان (1410) الموافق (14) إلى (20) مارس عام (1990) م.
(১)

 

‌কিস্তিতে কেনাবেচার বিধানসমূহ

সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামি ফিকহ একাডেমির ষষ্ঠ সম্মেলনের অধিবেশনে উপস্থাপিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ, যা ১৭ থেকে ২৩ শাবান ১৪১০ হিজরি মোতাবেক ১৪ থেকে ২০ মার্চ ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
..

বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস হলো সেই হাদিস যার সনদ (সূত্র) একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী কর্তৃক তার অনুরূপ বর্ণনাকারীর থেকে প্রাপ্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে (متصل) পৌঁছেছে, এবং তা কোনো ধরনের বিচ্যুতি (شذوذ) কিংবা গোপন ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত। এই হাদিসটি মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ের এবং এর বর্ণনাকারীরা সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقة)। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা হাদিসশাস্ত্রে একটি সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) হিসেবে গণ্য। ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে এই জাতীয় বর্ণনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন।

(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

أحكام البيع بالتقسيط

وسائله المعاصرة في ضوء الفقه الإسلامي

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الكريم، وعلى آله وأصحابه أجمعين، وعلى كل من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد:

فإن البيع بالتقسيط من البيوع التي قد شاع تداولها في عصرنا الحاضر في جميع البلدان الإسلامية، وهو البيع الذي يلجأ إليه كثير من الناس لشراء حاجاتهم، وتأثيث منازلهم، والتمتع بالآلات الحديثة الغالية التي لا يمكن لهم شراؤها بثمن حال.

فمست الحاجة إلى بيان الحكم الشرعي لهذا البيع، وما يتفرع عليه من مسائل مختلفة، وإن هذا البحث الموجز يهدف إلى إنجاز هذه الحاجة، والله سبحانه وتعالى أسأل أن يوفقني فيه للسداد والصواب، ويشرح صدري لما فيه رضاه عز وجل.

حقيقة البيع بالتقسيط:

البيع بالتقسيط بيع بثمن مؤجل يدفع إلى البائع في أقساط متفق عليها، فيدفع البائع البضاعة المبيعة إلى المشتري حالّة، ويدفع المشتري الثمن في أقساط مؤجلة، وإن اسم (البيع بالتقسيط) يشمل كل بيع بهذه الصفة سواء كان الثمن المتفق عليه مساويا لسعر السوق، أو أكثر منه، أو أقل، ولكن المعمول به في الغالب أن الثمن في (البيع بالتقسيط) يكون أكثر من سعر تلك البضاعة في السوق، فلو أراد رجل أن يشتريها نقدا، أمكن له أن يجدها في السوق بسعر أقل ولكنه حينما يشتريها بثمن مؤجل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয়ের বিধানাবলী

ইসলামী ফিকহের আলোকে এর সমকালীন মাধ্যমসমূহ

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর, এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের ওপর।

অতঃপর:

বর্তমান যুগে সকল মুসলিম দেশে কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয় বহুল প্রচলিত একটি লেনদেন পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। এটি এমন এক ধরণের ক্রয়-বিক্রয় যার আশ্রয় অনেক মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে, ঘরবাড়ি আসবাবপত্রে সজ্জিত করতে এবং আধুনিক ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভোগ করতে গ্রহণ করে থাকে, যা এককালীন নগদ মূল্যে ক্রয় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

তাই এই ক্রয়-বিক্রয়ের শরয়ি বিধান এবং এ থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন মাসআলা বা বিষয়াবলী স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাটি সেই প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যেই পরিচালিত। আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে সঠিক ও নির্ভুল পথে চলার তাওফিক দান করেন এবং আমার অন্তরকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে প্রসারিত করে দেন।

কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয়ের স্বরূপ:

কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয় হলো এমন এক ধরণের বিক্রয় যেখানে মূল্য পরিশোধ বিলম্বিত হয় এবং বিক্রেতাকে তা নির্ধারিত কিস্তিতে প্রদান করা হয়। এতে বিক্রেতা বিক্রয়কৃত পণ্যটি ক্রেতার নিকট তাৎক্ষণিকভাবে হস্তান্তর করেন এবং ক্রেতা তার মূল্য নির্ধারিত কিস্তিসমূহে পরিশোধ করেন। 'কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয়' পরিভাষাটি এই বৈশিষ্ট্যের সকল প্রকার বিক্রয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই নির্ধারিত মূল্য বাজারদরের সমান হোক, বা তার চেয়ে বেশি হোক কিংবা কম। তবে সাধারণত কিস্তিতে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য বাজারদরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি তা নগদে ক্রয় করতে চায়, তবে বাজারে তা কম দামে পাওয়া সম্ভব, কিন্তু যখন সে তা বিলম্বিত মূল্যে ক্রয় করে
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بالتقسيط، فإن البائع لا يرضى بذلك إلا أن يكون ثمنه أكثر من ثمن النقد، فلا ينعقد البيع بالتقسيط عادة إلا بأكثر من سعر السوق في بيع الحال.

زيادة الثمن من أجل التأجيل:

ومن هنا ينشأ السؤال: هل يجوز أن يكون الثمن المؤجل أكثر من الثمن الحال؟ وقد تكلم الفقهاء في هذه المسألة قديما وحديثا، فذهب بعض العلماء إلى عدم جوازه، لكون الزيادة عوضا من الأجل، وهو الربا، أو فيه مشابهة للربا، وهذا مذهب مروي عن زين العابدين علي بن الحسين، والناصر والمنصور بالله، والهادوية، كما نقل عنهم الشوكاني رحمه الله (1)

أما الأئمة الأربعة وجمهور الفقهاء والمحدثون، فقد أجازوا البيع المؤجل بأكثر من سعر النقد، بشرط أن يبت العاقدان بأنه بيع مؤجل بأجل معلوم، وبثمن متفق عيه عند العقد، فأما إذا قال البائع: أبيعك نقدا بكذا ونسيئة بكذا، وافتراقا على ذلك، دون أن يتفقا على تحديد واحد من السعرين، فإن مثل هذا البيع لا يجوز، ولكن إذا عين العاقدان أحد الشقين في مجلس العقد، فالبيع جائز. يقول الإمام الترمذي رحمه الله في جامعه: تحت حديث أبي هريرة رضي الله عنه: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيعتين في بيعة، وقد فسر بعض أهل العلم قالوا: بيعتين في بيعة أن يقول: (أبيعك هذا الثوب بنقد بعشرة، وبنسيئة بعشرين، ولا يفارقه على أحد البيعين، فإن فارقه على أحدهما، فلا بأس، إذا كانت العقدة على أحد منهما) (2) .

--------------------------------------------

(1) نيل الأوطار: 5/129.

(2) جامع الترمذي، كتاب البيوع، باب 18، حديث 1331: 3/533، طبع بيروت.
কিস্তিতে (بالتقسيط) বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, বিক্রেতা সাধারণত এটি পছন্দ করেন না যদি না এর মূল্য নগদ মূল্যের (ثمن النقد) চেয়ে বেশি হয়। তাই সাধারণত নগদ বিক্রয়ের (بيع الحال) বাজার দরের চেয়ে বেশি মূল্য নির্ধারণ ছাড়া কিস্তিতে বিক্রয় সম্পন্ন হয় না।

বিলম্বের কারণে মূল্য বৃদ্ধি:

এখান থেকেই এই প্রশ্নের উদয় হয়: বাকি মূল্য (الثمن المؤجل) কি নগদ মূল্যের (الثمن الحال) চেয়ে বেশি হওয়া জায়েজ? প্রাচীন ও আধুনিক সময়ের ফকিহগণ (الفقهاء) এই মাসয়ালা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিছু আলেম এটি জায়েজ না হওয়ার মত পোষণ করেছেন, যেহেতু এই অতিরিক্ত অংশটি সময়ের বিনিময় হিসেবে গণ্য হয়, যা সুদ (الربا) বা সুদের সাদৃশ্য বহন করে। এই মাজহাবটি জাইনুল আবেদিন আলি ইবনুল হুসাইন, আন-নাসির, আল-মানসুর বিল্লাহ এবং হাদাওয়িয়াদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন (১)।

পক্ষান্তরে চার ইমাম (الأئمة الأربعة), অধিকাংশ ফকিহ (جمهور الفقهاء) এবং মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) নগদ মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বাকি বিক্রয় (البيع المؤجل) জায়েজ বলেছেন, তবে শর্ত হলো—উভয় পক্ষকে এই মর্মে একমত হতে হবে যে এটি একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাকি বিক্রয় এবং চুক্তির সময় মূল্য নির্ধারিত হতে হবে। কিন্তু বিক্রেতা যদি বলে: আমি তোমার কাছে এটি নগদে এত দামে এবং বাকিতে (نسيئة) এত দামে বিক্রি করব, আর তারা কোনো একটি মূল্য নির্ধারণ না করেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে এ ধরনের বিক্রয় জায়েজ নয়। কিন্তু যদি চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষ চুক্তি মজলিসে (مجلس العقد) যেকোনো একটি দিক নির্ধারণ করে নেয়, তবে বিক্রয়টি জায়েজ। ইমাম তিরমিজি (রহিমাহুল্লাহ) তার জামে তিরমিজিতে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের অধীনে বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক বিক্রয়ের মধ্যে দুই বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। কতিপয় আহলে ইলম এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: এক বিক্রয়ের মধ্যে দুই বিক্রয় হলো—বিক্রেতার এমনটি বলা যে, "আমি এই কাপড়টি নগদে দশ টাকায় এবং বাকিতে (نسيئة) বিশ টাকায় বিক্রি করলাম," অথচ কোনো একটির ওপর চূড়ান্ত না করেই সে পৃথক হয়ে গেল। কিন্তু যদি তারা কোনো একটির ওপর ভিত্তি করে পৃথক হয় এবং চুক্তিটি সেটির ওপরই স্থির হয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই (২)।

--------------------------------------------

(১) নেইলুল আওতার: ৫/১২৯।

(২) জামে তিরমিজি, কিতাবুল বুয়ু, অনুচ্ছেদ ১৮, হাদিস ১৩৩১: ৩/৫৩৩, বৈরুত মুদ্রণ।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وحاصل قول الإمام الترمذي رحمه الله تعالى: أن علة النهي عن هذا البيع إنما هو تردد الثمن بين الحالتين، دون أن تتعين إحداهما عند العقد، وهذا يوجب الجهالة في الثمن، وليس سبب النهي زيادة الثمن من أجل التأجيل، فلو زالت مفسدة الجهالة بتعيين إحدى الحالتين فلا بأس بهذا البيع شرعا.

وإن ما ذكره الإمام الترمذي رحمه الله، هو مذهب الأئمة الأربعة وجمهور الفقهاء (1) ، وهو الراجح بالدليل، لأنه ليس في القرآن والسنة ما يمنع جواز مثل هذا البيع، وإن تعريف الربا لا ينطبق على هذه الزيادة في الثمن، لأنه ليس قرضا، ولا بيعا للأموال الربوية بمثلها، وإنما هو بيع محض، وللبائع أن يبيع بضاعته بما شاء من ثمن، ولا يجب عليه أن يبيعها بسعر السوق دائما، وللتجار ملاحظ مختلفة في تعيين الأثمان وتقديرها فربما

تختلف أثمان البضاعة الواحدة باختلاف الأحوال، ولا يمنع الشرع من أن يبيع المرء سلعته بثمن في حالة، وبثمن آخر في حالة أخرى.

وبالتالي: فإن من يبيع البضاعة بثمانية نقدا، وبعشرة نسيئة، يجوز له الإجماع أن يبيعها بعشرة نقدا، ما لم يكن فيه غش أو خداع، فلم لا يجوز له أم يبيعها بالعشرة نسيئة؟ وبما أن هذه المسألة متفق عليها فيما بين المذاهب الأربعة المتداولة، وبين أكثر الفقهاء والمحدثين، فلا نريد الإطالة في بيان دلائلها من الكتاب والسنة، بل نريد أن ننطلق في هذا البحث على أساس جواز هذا البيع، ونذكر بعض التفاصيل والمسائل المتفرعة على هذا الجواز.1- الجزم بأحد الثمنين شرط للجواز:

قد تبين فيما سبق أنه لا بأس

--------------------------------------------

(1) . راجع المغني، لابن قدامة:4/290؛والمبسوط، للسرخسي:13/8؛والدسوقي على الشرح الكبير:3/58؛ومغني المحتاج للشربيني: 2/31.
ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো: এই বেচাকেনা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ (علة) হলো মূল্য দুটি অবস্থার মধ্যে দোদুল্যমান থাকা এবং চুক্তির সময় কোনো একটি নির্ধারিত না হওয়া। এটি মূল্যের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা (الجهالة) সৃষ্টি করে। মূল্য নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ মূলত পরিশোধে বিলম্বকরণ (تأجيل) নয়। সুতরাং, যদি কোনো একটি অবস্থা নির্ধারণ করার মাধ্যমে অজ্ঞতার (الجهالة) অপকারিতা দূর হয়ে যায়, তবে শরয়িভাবে এই বেচাকেনাতে কোনো বাধা নেই।

ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন, তা-ই চার ইমাম এবং অধিকাংশ (جمهور) ফকিহগণের মাযহাব (১)। দলিলের দিক থেকে এটিই অগ্রগণ্য (الراجح), কারণ কুরআন ও সুন্নাহর কোথাও এ জাতীয় বেচাকেনার বৈধতা (جواز) নিষিদ্ধ করা হয়নি। আর সুদের (الربا) সংজ্ঞা মূল্যের এই বৃদ্ধির ওপর প্রযোজ্য হয় না, কারণ এটি ঋণ (قرض) নয় এবং এটি সুদি পণ্যের (الأموال الربوية) সমজাতীয় পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয়ও নয়; বরং এটি স্রেফ একটি বেচাকেনা। বিক্রেতার অধিকার আছে তার পণ্য যে কোনো মূল্যে বিক্রয় করার এবং সবসময় বাজারদরে পণ্য বিক্রয় করা তার জন্য আবশ্যক নয়। ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকে, তাই পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে একই পণ্যের দাম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। শরিয়ত কোনো ব্যক্তিকে এক অবস্থায় এক মূল্যে এবং অন্য অবস্থায় অন্য মূল্যে পণ্য বিক্রয় করতে বাধা দেয় না।

ফলশ্রুতিতে: যে ব্যক্তি কোনো পণ্য নগদে আট টাকায় এবং বাকিতে (نسيئة) দশ টাকায় বিক্রয় করে, ঐকমত্যের (الإجماع) ভিত্তিতে তার জন্য সেটি নগদে দশ টাকায় বিক্রয় করাও বৈধ (يجوز), যতক্ষণ না তাতে কোনো প্রকার প্রতারণা (غش) বা জালিয়াতি (خداع) থাকে। তাহলে কেন তার জন্য দশ টাকায় বাকিতে (نسيئة) বিক্রয় করা বৈধ (يجوز) হবে না? যেহেতু প্রচলিত চার মাযহাব এবং অধিকাংশ ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের মধ্যে এই মাসয়ালাটি (المسألة) সর্বসম্মত (متفق عليه), তাই আমরা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর দলিলসমূহ বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রিতা করতে চাই না। বরং আমরা এই বেচাকেনার বৈধতাকে (جواز) ভিত্তি হিসেবে ধরে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে চাই এবং এই বৈধতার (جواز) আলোকে কিছু বিস্তারিত বিবরণ ও আনুষঙ্গিক মাসয়ালাসমূহ (المسائل) উল্লেখ করতে চাই। ১- বৈধতার (جواز) জন্য দুই মূল্যের যেকোনো একটি নিশ্চিত করা শর্ত (شرط):

ইতিপূর্বে স্পষ্ট হয়েছে যে, এতে কোনো সমস্যা নেই

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-মুগনি, ইবনে কুদামা: ৪/২৯০; আল-মাবসুত, সারাখসি: ১৩/৮; আদ-দুসুকি আলাশ শারহিল কাবির: ৩/৫৮; মুগনিল মুহতাজ, শারবিনি: ২/৩১।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
للبائع أن يذكر الأثمان المختلفة عند المساومة، فيقول: أبيعه نقدا بثمانية، ونسيئة بعشرة، وهل يجوز أن يذكر أثمانا مختلفة باختلاف الآجال، مثل أن يقول: أبيعه إلى شهر بعشرة، وإلى شهرين باثني عشر مثلا؟ لم أر في ذلك تصريحا من الفقهاء، وقياس قولهم السابق أن يجوز ذلك أيضا؛ لأنه إذا جاز اختلاف الأثمان على أساس كونها نقدا أو نسيئة، جاز اختلافها على أساس آجال مختلفة، لأنه لا فارق بين الصورتين.

ولكن اختلاف الأثمان هذا إنما يجيز ذكرها عند المساومة، وأما عقد البيع فلا يصح، إلا إذا اتفق الفريقان على أجل معلوم وثمن معلوم، فلا بد من الجزم بأحد الشقوق المذكورة في المساومة.

فلو قال البائع مثلا: إن أديت الثمن بعد شهر، فالبضاعة بعشرة، وإن أديته بعد شهرين، فهو باثني عشر، وإن أديته بعد ثلاثة أشهر، فهو بأربعة عشر، وافترقا على ذلك بدون تعيين أحد هذه الشقوق، زعما من المشتري أنه سوف يختار منها ما يلائمه في المستقبل، فإن هذا البيع حرام بالإجماع. ويجب على العاقدين أن يعقداه من جديد بتعيين أحد الشقوق واضحا.

2 - إنما الجائز زيادة في الثمن، لا تقاضي الفائدة:

ومما يجب التنبيه عليه هنا: أن ما ذكر من جواز هذا البيع إنما هو منصرف إلى زيادة في الثمن نفسه، أما ما يفعله بعض الناس من تحديد ثمن البضاعة على أساس سعر النقد، وذكر القدر الزائد على أساس أنه جزء من فوائد التأخير في الأداء، فإنه ربا صراح، وهذا مثل أن يقول البائع: بعتك هذه البضاعة بثماني ربيات نقدا، فإن تأخرت في الأداء إلى مدة شهر، فعليك ربيتان علاوة على الثمانية، سواء سماها "فائدة " (Interest) أو لا، فإنه لا شك في كونه معاملة ربوية، لأن ثمن البضاعة إنما تقرر كونه ثمانية، وصارت هذه الثمانية دينا في ذمة المشتري، فما يتقاضى عليه البائع من الزيادة فإنه ربا لا غير.
দরদাম বা দরাদরির (المساومة) সময় বিক্রেতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন মূল্য উল্লেখ করার অবকাশ রয়েছে। যেমন সে বলল: আমি এটি নগদে (نقدا) আট টাকায় এবং বাকিতে (نسيئة) দশ টাকায় বিক্রি করব। আর সময়ের পার্থক্যের কারণে কি ভিন্ন ভিন্ন মূল্য উল্লেখ করা জায়েজ (يجوز)? যেমন সে বলল: আমি এটি এক মাসের মেয়াদে দশ টাকায় এবং দুই মাসের মেয়াদে বারো টাকায় বিক্রি করব? এ বিষয়ে আমি ফকিহগণের (الفقهاء) পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেখিনি। তবে তাদের পূর্ববর্তী বক্তব্যের কিয়াস (قياس) বা যুক্তি অনুযায়ী এটিও জায়েজ (يجوز) হওয়া উচিত; কেননা যদি নগদ (نقدا) বা বাকির (نسيئة) ভিত্তিতে মূল্যের ভিন্নতা জায়েজ (يجوز) হয়, তবে মেয়াদের ভিন্নতার ভিত্তিতেও মূল্যের ভিন্নতা জায়েজ (يجوز) হবে। কারণ এই উভয় সুরতের (الصورتين) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তবে মূল্যের এই ভিন্নতা কেবল দরাদরির (المساومة) সময়ই উল্লেখ করা বৈধ। পক্ষান্তরে, ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি (عقد البيع) ততক্ষণ পর্যন্ত সহিহ (يصح) হবে না, যতক্ষণ না উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ (أجل معلوم) এবং নির্দিষ্ট মূল্যের (ثمن معلوم) ওপর একমত হয়। সুতরাং দরাদরির (المساومة) সময় উল্লিখিত বিকল্পগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটির ওপর নিশ্চিতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অপরিহার্য।

বিক্রেতা যদি উদাহরণস্বরূপ বলে: "যদি তুমি এক মাস পর মূল্য পরিশোধ করো তবে পণ্যটির দাম দশ টাকা, দুই মাস পর পরিশোধ করলে বারো টাকা এবং তিন মাস পর পরিশোধ করলে চৌদ্দ টাকা", আর তারা এই বিকল্পগুলোর কোনোটি নির্ধারণ না করেই পৃথক হয়ে যায়—ক্রেতার এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে ভবিষ্যতে সে তার সুবিধামতো যেকোনো একটি বেছে নেবে—তবে এই বেচা-কেনা ইজমা (الإجماع) অনুযায়ী হারাম (حرام)। এক্ষেত্রে চুক্তিকারীদ্বয়ের (العاقدين) জন্য আবশ্যক হলো স্পষ্টভাবে একটি বিকল্প নির্ধারণ করে পুনরায় নতুন করে চুক্তি সম্পাদন করা।

২ - কেবল মূল্যের বৃদ্ধিই জায়েজ (الجائز), সুদ (الفائدة) গ্রহণ নয়:

এখানে যে বিষয়টি সতর্ক করা জরুরি তা হলো: এই ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ (جواز) হওয়ার যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা কেবল মূল্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে কিছু মানুষ পণ্যের মূল্য নগদ দামের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে এবং পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার কারণে অতিরিক্ত অংশকে বিলম্বজনিত সুদের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে; এটি স্পষ্ট সুদ (ربا صراح)। যেমন বিক্রেতা বলল: "আমি তোমার কাছে এই পণ্যটি নগদে আট রুপিতে বিক্রি করলাম, তবে তুমি যদি পরিশোধ করতে এক মাস দেরি করো, তবে তোমাকে আটের সাথে আরও দুই রুপি অতিরিক্ত দিতে হবে।" সে একে "সুদ" (Interest) বলুক বা না বলুক, এটি সুদি কারবার হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ পণ্যের মূল্য আট রুপি নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল এবং এই আট রুপি ক্রেতার জিম্মায় ঋণ (دينا) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং বিক্রেতা এর ওপর যে অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করবে, তা কেবল রিবা (ربا) ছাড়া আর কিছুই নয়।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
والفرق العملي بين الصورتين، أن ما تصور كونه ثمنا في الصورة الأولى، صار ثمنا باتا بعد جزم الفريقين بأحد الشقوق، ولا يزيد هذا الثمن بعد تمام البيع ولا ينقص باختلاف أحوال المشتري في الأداء فلو كان المشتري اشترى البضاعة بعشرة على أنه سيؤدي الثمن بعد شهر، ولكنه لم يتمكن من الأداء إلا بعد شهرين، فإن الثمن يبقى عشرة كما هو، ولا يزيد بزيادة مدة الأداء الفعلي، وأما في الصورة الثانية، فالثمن ثمانية، وما يزيد عليه فائدة تطالب من أجل التأخير في الأداء، فلا تزال تزيد الفائدة كلما يطول التأخير، فتصير ربيتين في شهر، وأربع ربيات في شهرين، وهكذا، فالصورة الأولى نوع من أنواع البيع الحلال، والصورة الثانية داخلة في الربا المحرم شرعا.

3- توثيق الدين وأنواعه:

وبما أن الثمن في البيع المؤجل يصير دينا على المشتري فور تمام العقد، فإنه يجوز للبائع أن يطالبه بتوثيق لهذا الدين، أو بضمان للتسديد عند حلول الأجل.

الرهن:

أما ضمان التسديد، فيمكن بطريق الرهن، أو بكفالة من الطرف الثالث، وفى الصورة الأولى يرهن المشتري شيئا من ممتلكاته لدى البائع، ويحق للبائع أن يمسكه كضمان للتسديد، بدون أن ينتفع به في صورة من الصور، لأن الانتفاع بالمرهون شعبة من شعب الربا، ولكن يبقى الشىء المرهون بيد البائع لضغط المشتري على الاهتمام بأداء الأقساط في موعدها، وليحق له إذا قصر المشتري في الأداء عند حلول الأجل، أن يبيع الشيء المرهون ويسدد دينه بذلك، ولكن لا يجوز له أن يتجاوز عن الثمن المتفق عليه في العقد، فإن فضل من قيمة الشيء المرهون شيء بعد تسديد الدين رده إلى المشتري الراهن، وكما يجوز رهن الأعيان المملوكة للمشتري كذلك يجوز رهن مستندات الملكية لتلك الأعيان.
দুই পদ্ধতির মধ্যে ব্যবহারিক পার্থক্য হলো এই যে, প্রথম পদ্ধতিতে যাকে মূল্য (ثمن) হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, তা উভয় পক্ষ কোনো একটি বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর চূড়ান্ত মূল্যে পরিণত হয়। বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রেতার পরিশোধের অবস্থার পরিবর্তনের কারণে এই মূল্য বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না। সুতরাং যদি ক্রেতা দশ টাকায় পণ্যটি ক্রয় করে এই শর্তে যে সে এক মাস পরে মূল্য পরিশোধ করবে, কিন্তু সে দুই মাসের আগে পরিশোধ করতে সক্ষম না হয়, তবে মূল্য দশ টাকাই বহাল থাকবে এবং প্রকৃত পরিশোধের সময় বৃদ্ধির কারণে তা বৃদ্ধি পাবে না। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে মূল্য হলো আট এবং তার অতিরিক্ত যা কিছু আছে তা পরিশোধে বিলম্বের কারণে দাবি করা সুদ (فائدة), ফলে বিলম্ব যত দীর্ঘ হবে সুদ তত বাড়তেই থাকবে। এভাবে এক মাসে দুই রুপি এবং দুই মাসে চার রুপি হবে। সুতরাং প্রথম পদ্ধতিটি হালাল (حلال) বিক্রয়ের একটি প্রকার এবং দ্বিতীয় পদ্ধতিটি শরয়িভাবে নিষিদ্ধ সুদের (ربا) অন্তর্ভুক্ত।

৩- ঋণের (دين) নিশ্চয়তা বিধান (توثيق) এবং এর প্রকারভেদ:

যেহেতু বাকিতে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্যটি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই ক্রেতার ওপর ঋণ (دين) হিসেবে বর্তায়, তাই বিক্রেতার জন্য এই ঋণের বিপরীতে কোনো নিশ্চয়তা (توثيق) দাবি করা অথবা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের জন্য জামিন (ضمان) চাওয়া বৈধ।

বন্ধক (رهن):

আর পরিশোধের জামিন (ضمان) বন্ধক (رهن) রাখার মাধ্যমে অথবা তৃতীয় পক্ষের জামিনদারিত্বের (كفالة) মাধ্যমে হতে পারে। প্রথম ক্ষেত্রে ক্রেতা তার মালিকানাধীন কোনো বস্তু বিক্রেতার নিকট বন্ধক রাখে এবং বিক্রেতার অধিকার থাকে তা পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে আটকে রাখার, তবে সে কোনোভাবেই তা থেকে কোনো সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। কারণ বন্ধকী বস্তু থেকে ফায়দা হাসিল করা সুদের (ربا) একটি শাখা। তবে বন্ধকী বস্তুটি বিক্রেতার হাতে থাকবে যাতে ক্রেতাকে সময়মতো কিস্তি পরিশোধে আগ্রহী করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা যায় এবং যাতে ক্রেতা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিক্রেতার জন্য সেই বন্ধকী বস্তু বিক্রি করে নিজের ঋণ উসুল করার অধিকার থাকে। তবে চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্যের (ثمن) অতিরিক্ত গ্রহণ করা তার জন্য জায়েজ হবে না। যদি ঋণ পরিশোধের পর বন্ধকী বস্তুর মূল্য থেকে কিছু উদ্বৃত্ত থাকে, তবে তা বন্ধকদাতার (راهن) নিকট ফেরত দিতে হবে। ক্রেতার মালিকানাধীন মূল সম্পদসমূহ যেমন বন্ধক রাখা যায়, তেমনি সেই সম্পদের মালিকানা দলিলসমূহও বন্ধক রাখা বৈধ।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
إمساك البائع المبيع لضمان التسديد:

وقد اطلعت على صورة من المعاملات المعاصرة الجارية بين الناس، وهي أن البائع في البيع المؤجل يمسك المبيع عنده إلى أن يتم التسديد من قبل المشتري، أو إلى أن يتم تسديد بعض الأقساط.

وإن إمساك المبيع بيد البائع في هذه الصورة يمكن أن يتصور بطريقتين:

الأول: أن يكون على أساس حبس المبيع لاستيفاء الثمن.

والثانى: أن يكون بطريق الرهن، والفرق بين الصورتين أن المبيع المحبوس عند البائع مضمون عليه بالثمن، لا بالقيمة، فلو هلك المبيع وهو محبوس عنده، ينفسخ البيع، ولا يكون مضمونا عليه بقيمته السوقية، أما في الرهن، لو هلك عند البائع بغير تعد منه، لا ينفسخ البيع، بل يضمنه المرتهن بأقل من قيمته ومن الدين عند الحنفية (1) وإذا هلك بتعد منه، يضمنه المرتهن بقيمته السوقية، لا بالثمن.

فأما الطريق الأول، وهو حبس البائع المبيع لاستيفاء الثمن، فإنه لا يجوز في البيع بالتقسيط، لأن البيع بالتقسيط بيع مؤجل، وإن حق البائع في حبس المبيع لاستيفاء الثمن إنما يثبت في البيوع الحالة، وليس له ذلك في البيوع المؤجلة، جاء في الفتاوى الهندية:

(قال أصحابنا رحمهم الله تعالى: للبائع حق حبس المبيع لاستيفاء الثمن إذا كان حالا، كذا في المحيط، وإن كان مؤجلا فليس للبائع أن يحبس المبيع قبل حلول الأجل ولا بعده، كذا في المبسوط) (1) .

--------------------------------------------

(1) بدائع الصنائع:6/160.

(2) الفتاوى الهندية: 3/15، باب 4، من كتاب البيوع.
পরিশোধের নিশ্চয়তার জন্য বিক্রেতা কর্তৃক বিক্রিত পণ্য আটকে রাখা:

আমি সমসাময়িক লেনদেনের এমন একটি পদ্ধতি পর্যালোচনা করেছি যা মানুষের মাঝে প্রচলিত; তা হলো—বাকি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতা বিক্রিত পণ্যটি নিজের কাছে রেখে দেন যতক্ষণ না ক্রেতার পক্ষ থেকে পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়, অথবা কিছু কিস্তি পরিশোধ করা হয়।

বিক্রেতার হাতে পণ্য আটকে রাখার এই পদ্ধতিটি দুটি উপায়ে কল্পনা করা যেতে পারে:

প্রথম: মূল্য আদায়ের উদ্দেশ্যে বিক্রিত পণ্য আটকে রাখার ভিত্তিতে।

দ্বিতীয়: বন্ধক রাখার পদ্ধতিতে। এই দুই পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য হলো, বিক্রেতার কাছে আটকে রাখা পণ্যটি বিক্রয়মূল্যের বিনিময়ে দায়বদ্ধ হয়, বাজারমূল্যের বিনিময়ে নয়। সুতরাং যদি বিক্রেতার কাছে আটকে থাকা অবস্থায় পণ্যটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে বিক্রয় চুক্তি বাতিল হয়ে যায় এবং বাজারমূল্যের ভিত্তিতে বিক্রেতার ওপর কোনো দায় বর্তায় না। পক্ষান্তরে বন্ধকের ক্ষেত্রে, যদি বিক্রেতার কোনো সীমালঙ্ঘন ছাড়াই পণ্যটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে বিক্রয় চুক্তি বাতিল হবে না; বরং হানাফী মাযহাব অনুযায়ী (১) বন্ধক গ্রহীতা পণ্যটির বাজারমূল্য এবং ঋণ—এই দুটির মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণ অর্থ দ্বারা দায়বদ্ধ হবেন। আর যদি পণ্যটি তার সীমালঙ্ঘনের কারণে ধ্বংস হয়, তবে তাকে বাজারমূল্য অনুযায়ী দায়বদ্ধ করা হবে, বিক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে নয়।

প্রথম পদ্ধতিটির কথা বলা যায়—যা হলো মূল্য আদায়ের জন্য বিক্রেতা কর্তৃক পণ্য আটকে রাখা—তা কিস্তিতে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ নয়। কারণ কিস্তিতে বিক্রয় হলো একটি মেয়াদী বিক্রয়, আর মূল্য আদায়ের জন্য পণ্য আটকে রাখার অধিকার বিক্রেতার তখনই সাব্যস্ত হয় যখন বিক্রয়টি নগদ হয়। মেয়াদী বা বাকি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার এই অধিকার নেই। আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:

(আমাদের ইমামগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—বলেছেন: মূল্য যদি নগদ হয়, তবে তা আদায়ের জন্য বিক্রেতার পণ্য আটকে রাখার অধিকার রয়েছে। ‘আল-মুহিত’ গ্রন্থে এমনটিই রয়েছে। আর মূল্য যদি মেয়াদী হয়, তবে নির্ধারিত মেয়াদের আগে বা পরে কোনো অবস্থাতেই বিক্রেতার জন্য পণ্যটি আটকে রাখা বৈধ নয়। ‘আল-মাবসুত’ গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে) (১)।

--------------------------------------------

(১) বাদায়েউস সানায়ে: ৬/১৬০।

(২) আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া: ৩/১৫, অধ্যায় ৪, কিতাবুল বুয়ূ।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما الطريق الثاني، وهو أن يمسك البائع المبيع عنده بصفة كونه رهنا من المشتري بالثمن الواجب في ذمته، فإنه يمكن بطريقين أيضا:

الأول: أن يرهنه المشتري قبل أن يقبضه من البائع، فهذا لا يجوز أيضا، لأنه في معنى حبس المبيع عند البائع لاستيفاء الثمن، وذلك لا يجوز في البيوع المؤجلة، كما ذكرنا.

والثاني: أن يقبضه المشتري من البائع أولا، ثم يرده إليه بصفة كونه رهنا، فهذا جائز عند أكثر الفقهاء رحمهم الله تعالى، قال الإمام محمد في الجامع الصغير: (ومن اشترى ثوبا بدراهم، فقال للبائع: أمسك هذا الثوب حتى أعطيك الثمن، فالثوب رهن) . ونقله المرغيناني في الهداية، وقال شارحها في الكفاية: (لأن الثوب لما اشتراه وقبضه، كان هو وسائر الأعيان المملوكة سواء في صحة الرهن) (1) .

وذكر الحصكفي هذه المسألة في الدر المختار، وأوضحها بقوله: (ولو كان ذلك الشيء الذي قال له المشتري: أمسكه، هو المبيع الذي اشتراه بعينه، لو بعد قبضه، لأنه حينئذ يصلح أن يكون رهنا بثمنه، ولو قبله لا يكون رهنا، لأنه محبوس بالثمن) . وقال ابن عابدين تحته: (قوله: " لأنه حينئذ يصلح … إلخ "، أي لتعيين ملكه فيه، حتى لو هلك يهلك على المشتري، ولا ينفسخ العقد، قوله: " لأنه

--------------------------------------------

(1) الكفاية شرح الهداية بهامش فتح القدير: 9/99.
আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো, বিক্রেতা বিক্রিত বস্তু (المبيع) ক্রেতার নিকট থেকে তার যিম্মায় ওয়াজিব হওয়া মূল্যের বিপরীতে বন্ধক (رهن) হিসেবে নিজের কাছে রেখে দিবে। এটিও দুইভাবে হওয়া সম্ভব:

প্রথমত: ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে তা হস্তগত (قبض) করার আগেই তা বন্ধক রাখবে। এটিও জায়েয (جائز) নয়; কেননা এটি মূল্য আদায়ের উদ্দেশ্যে বিক্রেতার কাছে বিক্রিত বস্তু আটকে রাখার নামান্তর। আর বাকিতে বিক্রয় (البيوع المؤجلة)-এর ক্ষেত্রে এটি বৈধ নয়, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়ত: ক্রেতা প্রথমে বিক্রেতার কাছ থেকে তা হস্তগত (قبض) করবে, অতঃপর তা বন্ধক (رهن) হিসেবে তার কাছে ফিরিয়ে দিবে। অধিকাংশ ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট এটি জায়েয (جائز)। ইমাম মুহাম্মদ জামিউস সাগির গ্রন্থে বলেছেন: "যে ব্যক্তি দিরহামের বিনিময়ে একটি কাপড় ক্রয় করল, অতঃপর বিক্রেতাকে বলল: 'মূল্য পরিশোধ না করা পর্যন্ত এই কাপড়টি তোমার কাছে রাখো', তবে কাপড়টি বন্ধক (رهن) হিসেবে গণ্য হবে।" মারগিনানি আল-হিদায়া গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর ব্যাখ্যাকার আল-কিফায়া গ্রন্থে বলেছেন: "কেননা যখন সে কাপড়টি ক্রয় করে হস্তগত (قبض) করল, তখন বন্ধক (رهন) বৈধ (صحة) হওয়ার ক্ষেত্রে এটি এবং অন্যান্য মালিকানাধীন বস্তুর মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না।" (১)।

হাসকাফি আদ-দুররুল মুখতার গ্রন্থে এই মাসআলা (المسألة) উল্লেখ করেছেন এবং তা এভাবে স্পষ্ট করেছেন: "ক্রেতা বিক্রেতাকে যে বস্তুটি রাখার কথা বলছে, সেটি যদি খোদ ওই বিক্রিত বস্তু (المبيع) হয় যা সে ক্রয় করেছে, তবে হস্তগত (قبض) করার পরে হলে তা বৈধ হবে। কেননা তখন সেটি মূল্যের বিনিময়ে বন্ধক (رهن) হওয়ার যোগ্য হয়। কিন্তু হস্তগত করার আগে সেটি বন্ধক (رهن) হবে না, কারণ তখন তা মূল্যের দায়ে বিক্রেতার নিকট আটক থাকে।" ইবনে আবিদীন এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "তার উক্তি 'কেননা তখন তা যোগ্য হয়... ইত্যাদি' অর্থাৎ এতে তার মালিকানা সুনির্ধারিত হওয়ার কারণে; এমনকি এটি ধ্বংস হয়ে গেলে তা ক্রেতার পক্ষ থেকেই ধ্বংস হবে এবং চুক্তি (العقد) বাতিল হবে না। তার উক্তি 'কেননা এটি...

--------------------------------------------

(১) আল-কিফায়া শারহুল হিদায়া, ফাতহুল কদির-এর হাশিয়া: ৯/৯৯।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
محبوس بالثمن "، أى وضمانه يخالف ضمان الرهن، فلا يكون مضمونا بضمانين مختلفين، لاستحالة اجتماعهما، حتى لو قال: أمسك المبيع حتى أعطيك الثمن قبل القبض، فهلك، انفسخ البيع، زيلعي) (1) .

والذي يظهر أن جواز مثل هذا الرهن ليس فيه خلاف بين الفقهاء المتبوعين إذا لم يكن هذا الرهن مشروطا في صلب عقد البيع، أما إذا كان مشروطا في صلب العقد فقد حكى ابن قدامة رحمه الله: (وإذا تبايعا بشرط أن يكون المبيع رهنا على ثمنه، لم يصح، قال ابن حامد رحمه الله، وهو قول الشافعي، لأن المبيع حين شرط رهنه لم يكن ملكا له، وسواء شرط أنه يقبضه ثم يرهنه، أو شرط رهنه قبل قبضه … وظاهر الرواية صحة رهنه … فأما إن لم يشترط ذلك في البيع، لكن رهنه عنده بعد البيع، فإن كان بعد لزوم البيع، فالأولى صحته، لأنه يصح رهنه عند غيره، فصح عنده كغيره، ولأنه يصح رهنه على غير ثمنه، فصح رهنه على ثمنه، وإن كان قبل لزوم البيع انبنى على جواز التصرف في المبيع، ففي كل موضع جاز التصرف فيه وجاز رهنه، ومالا فلا، لأنه نوع تصرف فأشبه بيعه) (1) .

الرهن السائل: وهناك نوع آخر من الرهن يوجد في قوانين كثير من البلاد الإسلامية، لا يقبض فيه المرتهن على الشيء المرهون، وإنما يبقى

--------------------------------------------

(1) . رد المحتار مع الدرالمختار، كتاب الرهن: 6/497، طبع كراتشي.

(2) . المغني، لابن قدامة: 4/427 و 428، كتاب الرهن، دار الكتاب العربي، بيروت 1392هـ.
"মূল্যের বিনিময়ে আটকে রাখা (محبوس بالثمن)", অর্থাৎ এর দায়বদ্ধতা বা জামানত (ضمان) বন্ধকের (رهن) জামানত (ضمان) থেকে ভিন্ন। সুতরাং এটি দুটি ভিন্ন ভিন্ন জামানতের (ضمان) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না, কারণ এ দুটির একত্রে সমাবেশ অসম্ভব। এমনকি যদি কেউ বলে: "বিক্রিত পণ্যটি (المبيع) আটকে রাখুন যতক্ষণ না আমি হস্তান্তরের আগে আপনাকে মূল্য পরিশোধ করি", আর এমতাবস্থায় পণ্যটি নষ্ট হয়ে যায়, তবে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল (انفسخ البيع) হয়ে যাবে। (যাইলায়ী) (১)।

প্রকাশ্য বিষয় হলো যে, এই ধরনের বন্ধকের (رهن) বৈধতার ব্যাপারে অনুসরণীয় ফকিহদের (الفقهاء) মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, যদি এই বন্ধকটি (رهن) মূল বিক্রয় চুক্তির (صلب عقد البيع) শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে। তবে যদি এটি মূল চুক্তিতে শর্ত (شرط) হিসেবে থাকে, তবে ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন: (আর যখন তারা এই শর্তে (شرط) ক্রয়-বিক্রয় করে যে বিক্রিত পণ্যটিই (المبيع) তার মূল্যের বিপরীতে বন্ধক (رهن) থাকবে, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে না। ইবনে হামিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটিই ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মত। কারণ, যখন বিক্রিত বস্তুটি বন্ধক (رهن) রাখার শর্ত (شرط) করা হয়েছিল, তখন সেটি তার মালিকানায় (ملك) ছিল না। চাই সে পণ্যটি গ্রহণ করার পর বন্ধক (رهن) রাখার শর্ত (شرط) করুক অথবা পণ্য গ্রহণের আগে বন্ধক (رهن) রাখার শর্ত (شرط) করুক … আর বর্ণনার বাহ্যিক পাঠ অনুযায়ী এই বন্ধক (رهن) সহিহ (صحيح) হওয়া প্রতীয়মান হয় … তবে যদি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই শর্ত (شرط) করা না হয়, বরং বিক্রয়ের পরে তার কাছে বন্ধক (رهن) রাখা হয়; যদি তা বিক্রয় চূড়ান্ত (لزوم البيع) হওয়ার পরে হয়, তবে সেটি সহিহ (صحيহ) হওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত। কারণ অন্যের কাছে যেমন এটি বন্ধক (رهن) রাখা বৈধ, তেমনি তার কাছেও তা অন্যের ন্যায় বৈধ হবে। আর যেহেতু মূল্যের অতিরিক্ত অন্য কোনো পাওনার বিপরীতে এটি বন্ধক (رهن) রাখা সহিহ (صحيح), সেহেতু মূল্যের বিপরীতেও এটি বন্ধক (رهن) রাখা সহিহ (صحيহ) হবে। আর যদি বিক্রয় চূড়ান্ত (لزوم البيع) হওয়ার পূর্বে হয়, তবে তা বিক্রিত পণ্যের (المبيع) উপর ব্যবহারের বা হস্তক্ষেপের (التصرف) বৈধতার ওপর নির্ভরশীল হবে। সুতরাং যে ক্ষেত্রে পণ্যটি ব্যবহারের (التصرف) সুযোগ থাকে, সেখানে তা বন্ধক (رهن) রাখাও বৈধ হবে, আর যেখানে ব্যবহারের (التصرف) সুযোগ নেই, সেখানে বন্ধক (رهن) রাখাও বৈধ হবে না। কারণ এটি এক প্রকার ব্যবহার বা হস্তক্ষেপ (التصرف), যা বিক্রয়ের (بيع) সদৃশ।) (১) ।

চলমান বন্ধক (الرهن السائل): আরও এক প্রকারের বন্ধক (رهن) রয়েছে যা অনেক মুসলিম দেশের আইনে পাওয়া যায়, যেখানে বন্ধক গ্রহীতা (المرتهن) বন্ধকী বস্তুটি হস্তগত করে না, বরং তা থেকে যায়...

--------------------------------------------

(১) . রাদ্দুল মুহতার মা আদ-দুররুল মুখতার, কিতাবুর রহ্ন: ৬/৪৯৭, করাচি সংস্করণ।

(২) . আল-মুগনি, ইবনে কুদামা কৃত: ৪/৪২৭ ও ৪২৮, কিতাবুর রহ্ন, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত ১৩৯২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بيد الراهن، ولكن يحق للدائن إذا قصر المدين في الأداء أن يطالب ببيعه وتسديد دينه من حصيلة بيعه، وهذا النوع من الرهن يسمى أحيانا (الرهن الساذج) (SIMPLE MORTGAGE) وأحيانا: (الذمة السائلة) (FLOTING CHARGE) وهذا مثل أن يرهن المدين سيارته لدي الدائن، ولكن تبقى السيارة بيد المدين الراهن يستعملها لصالحه كيف يشاء، ولكن لا يجوز له نقل ملكيته إلى شخص ثالث حتى يفتك الرهن السائل بتسديد الدين، ويثبت للدائن المرتهن حق في بيعها إذا قصر صاحبها في أداء دينه، وإن هذا الحق يسمى (الذمة السائلة) (FLORTING CHARGE) فهل يجوز شرعا توثيق الدين بهذا النوع من الرهن؟ وربما يقع الإشكال في جوازه من الناحية الفقهية، أن معظم الفقهاء قد اشترطوا قبض المرتهن لصحة عقد الرهن أو لتمامه على أساس قوله تعالى: {فرهان مقبوضة} [البقرة: 283] . وفي (الرهن السائل) لا يقبض المرتهن على الشيء المرهون، فينبغي أن لا يصح هذا الرهن.

والواقع أن الفقهاء، وإن اشترطوا قبض المرتهن للشيء المرهون، ولكنهم في الوقت نفسه أجازوا بعد ذلك للراهن أن يستعير ذلك الشيء منه، وينتفع به لصالحه، ولا يفسد بذلك الرهن، بل يحق للمرتهن أن يسترده متى شاء، ولئن هلك الشيء المرهون عند الراهن، فإنما يهلك على مكة، ويحق للمرتهن أن يبيعه لتسديد دينه عند حلول الأجل، ولا يكون فيه أسوة لسائر الغرماء عند إفلاس الراهن أو موته. وقد جاء في الهداية للمرغيناني: (وإذا أعار المرتهن الرهن للراهن ليخدمه أو ليعمل له عملا، فقبضه، خرج من ضمان المرتهن، لمنافاة بين يد العارية ويد الرهن، فإن هلك في يد الراهن هلك بغير شيء، لفوات القبض المضمون، وللمرتهن أن يسترجعه إلى يده، لأن عقد
বন্ধকদাতার (الراهن) হাতে থাকে, কিন্তু ঋণগ্রহীতা যদি পরিশোধে ব্যর্থ হয় তবে পাওনাদারের অধিকার রয়েছে যে তিনি সেটি বিক্রয় করার এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে তার ঋণ পরিশোধের দাবি করতে পারেন। এই ধরনের বন্ধককে (الرهن) কখনো ‘সাধারণ বন্ধক’ (الرهن الساذج) (SIMPLE MORTGAGE) এবং কখনো ‘ভাসমান দায়’ (الذمة السائلة) (FLOATING CHARGE) বলা হয়। এটি এমন যে, ঋণগ্রহীতা পাওনাদারের নিকট তার গাড়ি বন্ধক (الرهن) রাখল, কিন্তু গাড়িটি বন্ধকদাতার (الراهن) কাছেই রয়ে গেল এবং সে নিজের প্রয়োজনে যেভাবে ইচ্ছা তা ব্যবহার করল; তবে ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে ভাসমান বন্ধক (الرهن السائل) মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তার মালিকানা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা তার জন্য বৈধ নয়। আর পাওনাদার বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) জন্য এটি বিক্রয় করার অধিকার সাব্যস্ত হয় যদি মালিক ঋণ পরিশোধে অবহেলা করে। এই অধিকারকে ‘ভাসমান দায়’ (الذمة السائلة) (FLOATING CHARGE) বলা হয়। এখন প্রশ্ন হলো, শরিয়ত মোতাবেক এই ধরনের বন্ধকের (الرهن) মাধ্যমে ঋণ নিশ্চিত করা কি বৈধ? ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এর বৈধতা নিয়ে হয়তো সংশয় তৈরি হতে পারে যে, অধিকাংশ ফকিহ (فقهاء) আল্লাহ তাআলার বাণী—"তবে দখলকৃত বন্ধক (فرهان مقبوضة)" [বাকারা: ২৮৩]—এর ভিত্তিতে বন্ধক (الرهن) চুক্তির বিশুদ্ধতা বা পূর্ণতার জন্য বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) দখলকে (قبض) শর্ত করেছেন। অথচ ‘ভাসমান বন্ধকে’ (الرهن السائل) বন্ধকগ্রহীতা (المرتهن) বন্ধককৃত (المرهون) বস্তুটির দখল (قبض) গ্রহণ করে না; সুতরাং এই বন্ধক (الرهن) সহিহ (صحيح) না হওয়া উচিত।

প্রকৃতপক্ষে ফকিহগণ (الفقهاء) যদিও বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) পক্ষ থেকে বন্ধককৃত (المرهون) বস্তুর দখলের (قبض) শর্তারোপ করেছেন, কিন্তু একই সঙ্গে তারা এর পরে বন্ধকদাতার (الراهن) জন্য সেই বস্তুটি তার নিকট থেকে ধার নেওয়া এবং নিজের প্রয়োজনে তা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এতে বন্ধক (الرهن) ফাসিদ (فاسد) হয় না, বরং বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) অধিকার থাকে যে তিনি যখন ইচ্ছা তা ফেরত নিতে পারেন। যদি বন্ধককৃত (المرهون) বস্তুটি বন্ধকদাতার (الراهن) নিকট থাকা অবস্থায় ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তা তার জিম্মাতেই ধ্বংস হবে এবং পাওনা পরিশোধের সময় উপস্থিত হলে বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) অধিকার থাকবে ঋণ পরিশোধের জন্য তা বিক্রি করার। আর বন্ধকদাতার (الراهن) দেউলিয়া হওয়া বা মৃত্যুর সময় এটি অন্য পাওনাদারদের জন্য সমান অংশীদারিত্বের বিষয় হবে না। মারগিনানি রচিত হিদায়া গ্রন্থে এসেছে: (যদি বন্ধকগ্রহীতা (المرتهن) বন্ধকি (الرهن) বস্তুটি বন্ধকদাতাকে (الراهن) তার সেবা করার জন্য বা তার কোনো কাজ করার জন্য ধার দেন এবং সে তা দখল (قبض) করে, তবে তা বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) জামানত (ضمان) বা দায় থেকে বের হয়ে যাবে; কারণ ধারের দখল (يد العارية) এবং বন্ধকের দখলের (يد الرهن) মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে। সুতরাং এটি যদি বন্ধকদাতার (الراهن) হাতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস হয়, তবে কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ধ্বংস হবে, যেহেতু জামানতযোগ্য দখল (القبض المضمون) বিলুপ্ত হয়েছে। তবে বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) অধিকার রয়েছে তা পুনরায় নিজ দখলে ফিরিয়ে নেওয়ার, কারণ চুক্তি...
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الراهن باق، لا في حكم الضمان في الحال، ألا ترى أنه لو هلك الراهن قبل أن يرده على المرتهن، كان المرتهن أحق به من سائر الغرماء، وهذا لأن يد العارية ليست بلازمة، والضمان ليس من لوازم الرهن على كل حال) (1) .

ولكن هذا إذا تم عقد الراهن بقبض المرتهن مرة، أعارة المرتهن للراهن، أما إذا لم يقبض المرتهن الرهن أصلا، فهل يثبت حكم الإعارة في تلك الصورة أيضا؟ الظاهر من عبارات الفقهاء أنه لا يثبت ذلك في تلك الصورة بناء على اشتراط القبض لصحة الرهن، ولكن هاهنا ملاحظ أذكرها لتأمل الفقهاء المعاصرين، وهي:

1 - إن المرتهن في (الرهن السائل) وإن كان لا يقبض الشيء المرهون، ولكنه في عموم الأحوال يقبض على مستندات ملكيته، فيحتمل أن يقال: إن الرهن قد تم بقبض المستندات، ثم صار الشيء المرهون كالعارية في يد الراهن.

2 - إن علة اشتراط القبض في الرهن، كما ذكر الفقهاء، هو تمكن المرتهن من تسديد دينه ببيع ذلك الشيء عند الحاجة، وإن هذا المقصود حاصل في " الرهن السائل " على أساس شروط الاتفاقية المعترف بها قانونا، فيحتمل أن يكون القبض الحسي غير لازم في الصورة المذكورة، لحصول المقصود بهذه الشروط المقررة.

3 - المقصود من الرهن هو توثيق الدين، وقد أجازت الشريعة لحصول هذا المقصود أن يحبس الدائن ملك المديون ويمنعه عن التصرف فيه إلى أن يتم تسديد الدين، فإن رضي الدائن بحصول مقصوده بأقل من ذلك، وهو أن يبقي العين المرهون بيد الراهن، ويبقى للمرتهن حق

--------------------------------------------

(1) الهداية مع فتح القدير: 9/116؛ وراجع أيضا: رد المحتار: 6/510 و 511.
বন্ধককৃত বস্তু (الراهن) অবশিষ্ট থাকে, বর্তমানে তা দায়বদ্ধতার (ضمان) বিধানে অন্তর্ভুক্ত নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, যদি বন্ধককৃত বস্তু বন্ধকগ্রহীতার নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার আগে (বন্ধকদাতার কাছে) ধ্বংস হয়ে যায়, তবে বন্ধকগ্রহীতা অন্যান্য পাওনাদারদের তুলনায় এর অধিক হকদার হবে? আর এটি এই কারণে যে, ধারের (عارية) দখল আবশ্যকীয় নয় এবং কোনো অবস্থাতেই দায়বদ্ধতা (ضمان) বন্ধকের অপরিহার্য অনুষঙ্গ নয়। (১) .

কিন্তু এটি তখনই হয় যখন বন্ধকগ্রহীতার একবার দখলের (قبض) মাধ্যমে বন্ধক চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং এরপর বন্ধকগ্রহীতা তা বন্ধকদাতাকে ধার হিসেবে প্রদান করে। কিন্তু যদি বন্ধকগ্রহীতা আদপেই বন্ধককৃত বস্তু দখল (قبض) না করে, তবে কি সেই ক্ষেত্রেও ধারের (إعارة) বিধান কার্যকর হবে? ফকিহগণের ইবারত থেকে এটিই প্রতীয়মান (الظاهر) হয় যে, বন্ধক সহিহ (صحة) হওয়ার জন্য দখলকে (قبض) শর্ত করার ভিত্তিতে সেই ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে না। তবে এখানে কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা আমি সমসাময়িক ফকিহগণের চিন্তাভাবনার জন্য উল্লেখ করছি, সেগুলো হলো:

১ - ‘চলমান বন্ধকের’ (الرهن السائل) ক্ষেত্রে যদিও বন্ধকগ্রহীতা বন্ধককৃত বস্তু দখল (قبض) করে না, কিন্তু সাধারণত সে এর মালিকানার নথিপত্র দখল (قبض) করে নেয়। এমতাবস্থায় এটি বলা সম্ভব যে, নথিপত্র দখলের (قبض) মাধ্যমেই বন্ধক সম্পন্ন হয়েছে, অতঃপর বন্ধককৃত বস্তু বন্ধকদাতার নিকট ধারের (عارية) মতো রয়ে গেছে।

২ - ফকিহগণ যেমনটি উল্লেখ করেছেন, বন্ধকের ক্ষেত্রে দখলের (قبض) শর্ত করার কারণ (علة) হলো, প্রয়োজনের সময় বন্ধকগ্রহীতা যেন উক্ত বস্তু বিক্রির মাধ্যমে তার ঋণ পরিশোধে সক্ষম হয়। আর এই উদ্দেশ্য ‘চলমান বন্ধকের’ (الرهن السائل) ক্ষেত্রে আইনত স্বীকৃত চুক্তিনামার শর্তাবলির ভিত্তিতে অর্জিত হয়। সুতরাং উল্লিখিত ক্ষেত্রে সরাসরি দৃশ্যমান দখল (القبض الحسي) অপরিহার্য না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ নির্ধারিত শর্তাবলির মাধ্যমেই মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হচ্ছে।

৩ - বন্ধকের উদ্দেশ্য হলো ঋণ সুনিশ্চিতকরণ (توثيق الدين)। এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য শরিয়ত অনুমতি দিয়েছে যে, পাওনাদার ঋণদাতার মালিকানাধীন বস্তু আটকে রাখবে এবং ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাকে তাতে অধিকার প্রয়োগ বা হস্তক্ষেপে (تصرف) বাধা প্রদান করবে। এখন পাওনাদার যদি তার উদ্দেশ্য এর চেয়ে কম কিছুর মাধ্যমে অর্জনে সন্তুষ্ট হয়—অর্থাৎ বন্ধককৃত বস্তু বন্ধকদাতার হাতেই থাকবে আর বন্ধকগ্রহীতার জন্য তাতে অধিকার বহাল থাকবে—

--------------------------------------------

(১) আল-হিদায়া মা'আ ফাতহুল কাদির: ৯/১১৬; আরও দেখুন: রাদ্দুল মুহতার: ৬/৫১০ ও ৫১১।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
التسديد فقط، فلا يرى في ذلك أي محظور شرعي.

4 - إن " الرهن السائل " فيه مصلحة للجانبين، أما مصلحة الراهن فظاهرة، من حيث إنه لا يحرم من الانتفاع بملكه، وأما مصلحة المرتهن، فمن حيث إنه يحتفظ بحق

التسديد دون أن يضمن الشيء المرهون عند الهلاك، غاية الأمر أنه ربما بتضرر به

الغرماء الآخرون عند إفلاس الراهن، فإن المرتهن يكون أحق بذلك الشيء ممن سواه من الغرماء، ولكن ضررهم هذا لم يعتبر شرعا فيما إذا كان الرهن مقبضا للمرتهن، وفيما إذا قبضه المرتهن، ثم استعاره الراهن منه، كما تقدم، فتبين أن مجرد هذا الضرر لا يفسد الرهن.

5 - إن القبض على الشيء المرهون ربما يكون متعذرا في التجارة الدولية، التي يكون البائع فيه ببلد، والمشتري ببلد آخر، والشيء المرهون يتطلب مؤونة كبيرة ونفقات باهظة لتحويله من محل إلى آخر، ولا سبيل لتوثيق الدين في مثل هذه الصورة إلا " بالرهن السائل ".

وإن هذه الملاحظات الخمس قد تجعلني أميل إلى جواز " الرهن السائل "، والمسألة مطروحة لدى العلماء للبت فيها، والله سبحانه أعلم.

الكفالة من طرف ثالث:

ومن طرق ضمان التسديد أن يكفل طرف ثالث بمبلغ الدين ويلتزم على نفسه تسديد الدين من عنده إذا قصر المدين الأصيل، وهذا النوع من الضمان يسمى " كفالة " وللكفالة أحكام مبسوطة في كتب الفقه، لا نقصد ذكرها في هذا البحث. ولكن نريد هاهنا أن نلم بجزئية واحدة من أحكام الكفالة، وهي تقاضي الأجرة أو الجعل على الكفالة، فإن البنوك التقليدية في عصرنا لا تضمن لأحد بأداء الدين إلا إذا رضي المكفول به ببذل أجرة معلومة على ذلك، وربما تكون لهذه الأجرة نسبة مرتبطة بمبلغ الدين، مثل الثلاث في المائة، أو الأربع في المئة.
শুধুমাত্র পরিশোধের ক্ষেত্রে, তাই এতে শরীয়তগত কোনো নিষিদ্ধ (محظور) বিষয় দেখা যায় না।

4 - নিশ্চয়ই 'অস্থাবর বন্ধক' (الرهن السائل)-এর মধ্যে উভয় পক্ষের কল্যাণ (مصلحة) নিহিত রয়েছে। বন্ধকদাতার (الراهن) কল্যাণ তো স্পষ্ট, এই দিক থেকে যে সে তার মালিকানাধীন বস্তু থেকে উপকৃত হওয়া হতে বঞ্চিত হয় না। আর বন্ধকগ্রহীতার (المرتهن) কল্যাণ হলো এই দিক থেকে যে, সে বন্ধকী বস্তু ধ্বংস হওয়ার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ (يضمن) না হয়েই ঋণ

পরিশোধের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারে। বড়জোর বিষয়টি এমন হতে পারে যে, বন্ধকদাতার দেউলিয়া হওয়ার (إفلاس) সময় অন্যান্য পাওনাদাররা (الغرماء) এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কেননা বন্ধকগ্রহীতা অন্যান্য পাওনাদারদের তুলনায় ওই বস্তুর ব্যাপারে অধিক হকদার হয়ে থাকে। কিন্তু তাদের এই ক্ষতি শরীয়তের দৃষ্টিতে ধর্তব্য নয় যখন বন্ধকী বস্তু বন্ধকগ্রহীতার হস্তগত (مقبوضا) থাকে, অথবা যখন বন্ধকগ্রহীতা তা হস্তগত করার পর বন্ধকদাতা পুনরায় তার থেকে সেটি ধার হিসেবে গ্রহণ করে, যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, শুধুমাত্র এই ক্ষতি বন্ধককে বাতিল (فسد) করে দেয় না।

5 - আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বন্ধকী বস্তু হস্তগত করা (القبض) অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যেখানে বিক্রেতা এক দেশে এবং ক্রেতা অন্য দেশে অবস্থান করে; আর বন্ধকী বস্তুকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের জন্য বিপুল পাথেয় ও ব্যয়ের প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে 'অস্থাবর বন্ধক' (الرهن السائل) ব্যতীত ঋণ নিশ্চিত করার কোনো পথ নেই।

এই পাঁচটি পর্যবেক্ষণ আমাকে 'অস্থাবর বন্ধকের' বৈধতার (جواز) প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। বিষয়টি আলেমদের নিকট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পেশ করা হলো। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সম্যক অবগত।

তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জামিনদারি (الكفالة):

ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করার অন্যতম পদ্ধতি হলো তৃতীয় কোনো পক্ষ ঋণের অংকের জামিন হওয়া এবং মূল ঋণগ্রহীতা (المدين الأصيل) ব্যর্থ হলে নিজের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা। এই ধরনের নিশ্চয়তাকে 'জামিনদারি' (كفالة) বলা হয়। ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে জামিনদারির বিস্তারিত বিধানাবলি আলোচিত হয়েছে, যা এই গবেষণায় উল্লেখ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু আমরা এখানে জামিনদারির বিধানাবলির একটি বিশেষ অংশ স্পর্শ করতে চাই, আর তা হলো জামিনদারির বিনিময়ে পারিশ্রমিক (الأجرة) বা বিনিময় (الجعل) গ্রহণ করা। কেননা বর্তমান যুগে প্রচলিত ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক প্রদানের ব্যাপারে সম্মত হওয়া ছাড়া কারো ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে না। আর সম্ভবত এই পারিশ্রমিক ঋণের অংকের সাথে শতাংশের হারে সম্পৃক্ত থাকে, যেমন তিন শতাংশ বা চার শতাংশ।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن المعروف في الفقه الإسلامي أن الكفالة عقد تبرع كالقرض، فلا يجوز تقاضي الأجرة عليها. ولكن ربما استدل بعض المعاصرين على جواز أخذ الأجرة على الكفالة، بأن الكفالة أصبحت اليوم عنصرا قويا من عناصر التجارة المعاصرة، وقد أنشئت من أجل ذلك مؤسسات مستقلة تقدم خدمات الكفالة وتنفق على هذه الخدمات نفقات باهظة، فلم تعد الكفالة عقد تبرع محض، وإنما أصبحت معاملة مالية يحتاج إليها التجار، وخاصة في التجارات الدولية، وليس من الميسور الحصول على المتبرعين بالكفالة بالعدد المطلوب، فينبغي أن يجوز إعطاء الأجرة عليها.

ولكن هذا الدليل غير صحيح، لأنه لو كان صحيحا لجاز تقاضي الفائدة على القرض أيضا، لأن نفس هذا الكلام ينطبق على عقد القرض سواء بسواء، فإن القرض، وإن كان عقد تبرع في الأصل، غير أنه قد أصبح اليوم من الحاجات الأساسية للتجارة، وقد أنشئت لتقديم القروض مؤسسات مستقلة، وهي البنوك، ولا يمكن الحصول على المتبرعين بالقرض بالعدد المطلوب، ومع ذلك لا يقول أحد بجواز تقاضي الفائدة على القروض.

والواقع أن الكفالة والقرض لا يختلفان في كونهما عقدي تبرع، وكما لا يجوز أخذ الفائدة على القرض، كذلك لا يجوز أخذ الأجرة على الكفالة، بل إن أجرة الكفالة أولى بالتحريم من فائدة القرض، وذلك لأن الكفالة التزام محض لأداء الدين عن المكفول له، بحيث إذا وقع الأداء فعلا، فإنه يصير قرضا للكفيل على الأصيل، فكأنه التزام بالإقراض، في حين أن الإقراض هو الدفع فعلا، فإذا كان أخذ الأجرة على الإقراض - وهي الفائدة - ممنوعا، فإن أخذ الأجرة على الالتزام به أولى بالمنع.

ويتضح هذا بمثال: هب أن زيدا استدان من عمرو مائة دولار، وطالبه عمرو بكفيل. فجاء خالد يقول لزيد: أنا أؤدي عنك دينك الآن، على أن تعطيني بعد ذلك مائة وعشرة، والعشرة أجرة على ما قدمته من
ইসলামী ফিকহশাস্ত্রে এটি সুপরিচিত যে, জামিনদারি হলো ঋণের মতোই একটি দানমূলক চুক্তি, তাই এর ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ নয়। কিন্তু সম্ভবত বর্তমান সময়ের কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ জামিনদারির ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতার সপক্ষে এ মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, জামিনদারি বর্তমানে আধুনিক বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী উপাদানে পরিণত হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে স্বতন্ত্র কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে যেগুলো জামিনদারি সেবা প্রদান করে এবং এই সেবাগুলোর জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে থাকে। ফলে জামিনদারি এখন আর নিছক কোনো দানমূলক চুক্তি হিসেবে অবশিষ্ট নেই, বরং এটি একটি আর্থিক লেনদেনে পরিণত হয়েছে যা ব্যবসায়ীদের জন্য অপরিহার্য, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিঃস্বার্থ জামিনদাতা পাওয়াও সহজসাধ্য নয়, তাই এর ওপর পারিশ্রমিক প্রদান বৈধ হওয়া উচিত।

কিন্তু এই দলিলটি সঠিক নয়। কারণ এটি যদি সঠিক হতো, তবে ঋণের ওপরও সুদ গ্রহণ করা বৈধ হয়ে যেত। কেননা একই যুক্তি ঋণ চুক্তির ক্ষেত্রেও হুবহু প্রযোজ্য। ঋণ যদিও আদতে একটি দানমূলক চুক্তি, তবে বর্তমানে তা ব্যবসার অন্যতম মৌলিক প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলোর মতো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিঃস্বার্থ ঋণদাতা পাওয়া দুষ্কর। এতদসত্ত্বেও ঋণের ওপর সুদ গ্রহণের বৈধতার কথা কেউ বলেন না।

প্রকৃতপক্ষে জামিনদারি এবং ঋণ উভয়ই দানমূলক চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন। যেভাবে ঋণের ওপর সুদ গ্রহণ বৈধ নয়, তেমনি জামিনদারির ওপরও পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ নয়। বরং জামিনদারির পারিশ্রমিক ঋণের সুদের তুলনায় নিষিদ্ধ হওয়ার অধিকতর দাবি রাখে। কারণ জামিনদারি হলো কেবল যার পক্ষে জামিন হওয়া হয়েছে তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের একটি নিছক প্রতিশ্রুতি। যখন বাস্তবে ঋণ পরিশোধ করা হয়, তখন তা জামিনদাতার পক্ষ থেকে মূল ঋণগ্রহীতার ওপর একটি ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এটি যেন ঋণ প্রদানেরই একটি প্রতিশ্রুতি মাত্র। অন্যদিকে ঋণ প্রদান হলো বাস্তবে অর্থ পরিশোধ করা। ফলে ঋণ প্রদানের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ—যা মূলত সুদ—যদি নিষিদ্ধ হয়, তবে সেই ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রদানের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ আরও জোরালোভাবে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা যায়: মনে করুন, জায়েদ আমরের কাছ থেকে একশ ডলার ঋণ নিল এবং আমর জায়েদের কাছে একজন জামিনদাতা চাইল। তখন খালেদ এসে জায়েদকে বলল: "আমি এখনই তোমার পক্ষ থেকে তোমার ঋণ পরিশোধ করে দিচ্ছি, তবে শর্ত হলো তুমি আমাকে পরবর্তীতে একশ দশ ডলার দিবে। আর এই অতিরিক্ত দশ ডলার হলো আমি যা প্রদান করেছি তার পারিশ্রমিক হিসেবে..."
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
خدمة الأداء. وجاء بكر يقول لزيد: أنا أكفل عنك دينك، على أن تعطيني عشرة دولارات أجرة الكفالة، وتكون المائة قرضا عليك إذا اضطررت إلى الأداء فعلا.

ويلزم القائلين بجواز أجرة الكفالة أن تكون الأجرة التي يتقاضاها بكر جائزة، والأجرة التي تقضاها خالد حراما، مع أن خالدا قد بذل ماله فعلا، وإن بكرا لم يفعل شيئا إلا الالتزام بالبذل عند الأداء، فلو كانت الأجرة المطلوب من قبل الباذل حراما، فالأجرة المطلوبة من قبل الملتزم أولى بالتحريم.

وبعبارة أخرى، فإن الكفيل نفسه، لو اضطر إلى أداء الدين من قبل الأصيل، فإنه لا يجوز له أن يطالب الأصيل إلا بما دفع فعلا، ولا يجوز له الزيادة على ذلك، لكونها ربا محرما، فكيف يجوز له أن يطالب الأصيل بشيء فيما إذا لم يدفع شيئا، وإنما التزم بالدفع فقط؟

وبهذا تبين أنه لا سبيل إلى القول بجواز أجرة الكفالة (1) ، فما هو البديل الشرعي الذي يمكن أن تتخذه البنوك الإسلامية، لا سيما في عمليات التجارة الدولية، وفي إصدار خطاب الضمان (etter of Credit) ؟ والجواب أنه يجوز للبنك أن يتقاضى من العميل شيئين: الأول: النفقات الفعلية التي تحملها في عملية إصدار خطاب الضمان.

الثاني: الأجر على جميع الأعمال التي يباشرها بصفة الوكيل، أو السمسار، أو الوسيط بين المورد والمصدر. ولكن لا يجوز له أن يطالب بالأجرة على نفس الكفالة والضمان.

--------------------------------------------

(1) هذا ما أراه حتى الآن ولكن المسألة تحتاج إلى مزيد من الدراسة ولعل الله يحدث بعد ذلك أمرا.
পরিশোধ সেবা। বকর জায়িদকে উদ্দেশ্য করে বলল: "আমি তোমার ঋণের (دين) জামিনদার (كفالة) হচ্ছি এই শর্তে যে, তুমি আমাকে জামিনদারিত্বের পারিশ্রমিক (أجرة الكفالة) হিসেবে দশ ডলার প্রদান করবে এবং যদি আমাকে বাস্তবে তা পরিশোধ করতে হয়, তবে সেই একশ ডলার তোমার ওপর করজ (قرض) হিসেবে গণ্য হবে।"

যারা জামিনদারিত্বের পারিশ্রমিক (أجرة الكفالة) বৈধ হওয়ার প্রবক্তা, তাদের মতানুসারে বকরের গ্রহণ করা পারিশ্রমিকটি বৈধ (جائز) হওয়া আবশ্যক এবং খালিদের গ্রহণ করা পারিশ্রমিকটি হারাম (حرام) হওয়া উচিত; অথচ খালিদ বাস্তবে তার সম্পদ ব্যয় করেছে, আর বকর পরিশোধের সময় কেবল প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করেনি। সুতরাং যদি অর্থ প্রদানকারীর পক্ষ থেকে দাবিকৃত পারিশ্রমিক হারাম (حرام) হয়, তবে প্রতিশ্রুতি প্রদানকারীর পক্ষ থেকে দাবিকৃত পারিশ্রমিক হারাম (تحريم) হওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি অগ্রগণ্য।

অন্য কথায়, জামিনদার (كفيل) ব্যক্তি যদি মূল ঋণগ্রহীতার (أصيل) পক্ষ থেকে ঋণ (دين) পরিশোধ করতে বাধ্য হয়, তবে তার জন্য মূল ঋণগ্রহীতার (أصيل) কাছে বাস্তবে যতটুকু প্রদান করেছে তার বেশি দাবি করা বৈধ নয়। তার ওপর অতিরিক্ত কিছু দাবি করা বৈধ নয়, কারণ তা হারাম সুদ (ربا محرم) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় সে যখন কিছুই প্রদান করেনি, কেবল প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তখন সে কীভাবে মূল ঋণগ্রহীতার (أصيل) কাছে কোনো কিছু দাবি করতে পারে?

এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, জামিনদারিত্বের পারিশ্রমিক (أجرة الكفالة) বৈধ (جواز) বলার কোনো সুযোগ নেই (১)। তাহলে শরয়ি বিকল্প (البديل الشرعي) কী হতে পারে যা ইসলামি ব্যাংকগুলো গ্রহণ করতে পারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এবং গ্যারান্টি পত্র (Letter of Credit) ইস্যু করার ক্ষেত্রে? এর উত্তর হলো, ব্যাংকের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে দুটি বিষয় গ্রহণ করা বৈধ: প্রথমত, গ্যারান্টি পত্র ইস্যু করার প্রক্রিয়ায় যে প্রকৃত ব্যয় (النفقات الفعلية) ব্যাংক বহন করেছে।

দ্বিতীয়ত: সরবরাহকারী ও রপ্তানিকারকের মধ্যে প্রতিনিধি (وكيل), দালাল (سمسار) বা মধ্যস্থতাকারী (وسيط) হিসেবে ব্যাংক যেসব কাজ সম্পাদন করে, তার পারিশ্রমিক। কিন্তু খোদ জামিনদারিত্ব (كفالة) বা জিম্মাদারি (ضمان)-এর জন্য পারিশ্রমিক (أجرة) দাবি করা তার জন্য বৈধ (جائز) নয়।

--------------------------------------------

(১) এখন পর্যন্ত এটিই আমার অভিমত, তবে বিষয়টি আরও গভীর গবেষণার দাবি রাখে। সম্ভবত আল্লাহ এর পরে নতুন কোনো ফয়সালা প্রদান করবেন।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
توثيق الدين بالكمبيالة:

وربما يقع توثيق الدين بتوقيع المشتري على وثيقة مكتوبة يعترف بها بكونه مديونا للبائع بمبلغ مسمى إلى أجل مسمى. ويلتزم بأداء مبلغها في تاريخ معين، وتسمى هذه الوثيقة المكتوبة في العرف المعاصر " كمبيالة " (Bill of Exchange) وإن التاريخ الذي يلزم فيه الأداء يسمى " تاريخ نضج الكمبيالة " (Maturity date) .

وإن توثيق الدين بالكمبيالة جائز شرعا، بل هو مندوب بمقتضى قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا إذا تداينتم بدين إلى أجل مسمى فاكتبوه} [البقرة: 282] .

ولكن المشكلة إنما تحدث من جهة أن الكمبيالة قد أصبحت اليوم آلة قابلة للتداول (Negotiable Instrument) وإن حامل الكمبيالة، وهو الدائن الأصيل ربما يبيعها إلى طرف ثالث بأقل من المبلغ المكتوب عليها، طمعا في استعجال الحصول على المبلغ قبل حلول الأجل. وإن هذا البيع يسمى " خصم الكمبيالة " (Discounting of the Bill) فكلما أراد حامل الكمبيالة أن يتعجل في قبض مبلغها، ذهب إلى شخص ثالث، وهو البنك في عموم الأحوال، وعرض عليه الكمبيالة، والبنك يقبلها بعد التظهير (1) (Endorsement) من الحامل، ويعطى مبلغ الكمبيالة نقدا بخصم نسبة مئوية منها.

وإن خصم الكمبيالة بهذا الشكل غير جائز شرعا، إما لكونه بيع الدين من غير من عليه الدين، أو لأنه من قبيل بيع النقود بالنقود متفاضلة ومؤجلة، وحرمته منصوصة في أحاديث ربا الفضل.

ولكن هذه المعاملة يمكن تصحيحها بتغيير طريقها وذلك أن يوكل

ــ

(1) التظهير: هو التوقيع على ظهر الوثيقة، ويعتبر دليلا على أن صاحبها قد تنازل عن مبلغها لغيره.
কম্বিয়ালার মাধ্যমে ঋণ নিশ্চিতকরণ:

কখনো কখনো ক্রেতার একটি লিখিত দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ঋণ নিশ্চিত করার বিষয়টি ঘটে থাকে, যেখানে সে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিক্রেতার কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের দেনাদার হওয়ার স্বীকৃতি দেয়। এবং সে একটি নির্দিষ্ট তারিখে উক্ত অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। সমকালীন পরিভাষায় এই লিখিত দলিলকে "কম্বিয়ালা" (Bill of Exchange) বলা হয়। আর যে তারিখে অর্থ পরিশোধ করা আবশ্যক হয়, তাকে "কম্বিয়ালার পরিপক্কতার তারিখ" (Maturity date) বলা হয়।

কম্বিয়ালার মাধ্যমে ঋণ নিশ্চিত করা শরীয়তসম্মতভাবে জায়েজ, বরং মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রেক্ষিতে এটি মুস্তাহাব (مندوب): {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য একে অপরের সাথে ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো} [আল-বাকারাহ: ২৮২]।

কিন্তু সমস্যাটি এই দিক থেকে তৈরি হয় যে, বর্তমানে কম্বিয়ালা একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিলে (Negotiable Instrument) পরিণত হয়েছে। এবং কম্বিয়ালার ধারক, যিনি মূল পাওনাদার, তিনি হয়তো মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দ্রুত অর্থ পাওয়ার আশায় এতে লিখিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে এটি কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেন। আর এই বিক্রিকে "কম্বিয়ালা বাট্টাকরণ" (Discounting of the Bill) বলা হয়। যখনই কম্বিয়ালার ধারক এর অর্থ দ্রুত গ্রহণ করতে চান, তিনি একজন তৃতীয় ব্যক্তির কাছে যান—সাধারণত যা ব্যাংক হয়ে থাকে—এবং তার কাছে কম্বিয়ালাটি পেশ করেন। ব্যাংক ধারকের পক্ষ থেকে পৃষ্ঠাঙ্কন (১) (Endorsement) করার পর তা গ্রহণ করে এবং একটি নির্দিষ্ট শতাংশ বাট্টা রেখে কম্বিয়ালার অর্থ নগদে প্রদান করে।

এই পদ্ধতিতে কম্বিয়ালা বাট্টাকরণ শরীয়তসম্মতভাবে বৈধ নয়; হয় এটি যার ওপর ঋণ নেই তার কাছে ঋণ বিক্রয় (بيع الدين) করার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে, অথবা এটি কম-বেশি ও বাকিতে অর্থ বিনিময় করার পর্যায়ভুক্ত হওয়ার কারণে। আর এর নিষিদ্ধতা উদ্বৃত্ত সুদ (ربا الفضل) সংক্রান্ত হাদিসগুলোতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

তবে এই লেনদেনটি এর পদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে সঠিক করা সম্ভব, আর তা হলো এই যে, সে প্রতিনিধি নিযুক্ত (يوكل) করবে...

--

(১) পৃষ্ঠাঙ্কন: এটি হলো দলিলের উল্টো পিঠে স্বাক্ষর করা, যা এর মালিক কর্তৃক অন্য কারো জন্য উক্ত অর্থ ত্যাগ করার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
صاحب الكمبيالة البنك باستيفاء دينه من المشتري (وهو مصدر الكمبيالة) ويدفع إليه أجرة على ذلك، ثم يستقرض منه مبلغ الكمبيالة، ويأذن له أن يستوفي هذا القرض مما يقبض من المشتري بعد نضج الكمبيالة، فتكون هناك معاملتان مستقلتان: الأولى معاملة التوكيل باستيفاء الدين بالأجرة المعينة، والثانية: معاملة الاستقراض من البنك، والإذن باستيفاء القرض من الدين المرجو حصوله بعد نضج الكمبيالة، فتصح كلتا المعاملتين على أسس شرعية، أما الأولى، فلكونها توكيلا بالأجرة، وذلك جائز، وأما الثانية، فلكونها استقراضا من غير شرط زيادة، وهو جائز أيضا.

إسقاط بعض الدين مقابل التعجيل:

ومما يتعامل به بعض التجار في الدين المؤجلة أنهم يسقطون حصة من الدين بشرط أن يعجل المدين الباقي، مثل أن يكون لزيد على عمرو ألف، فيقول زيد: عجل لي تسعمائة، وأنا أضع عنك مائة، وإن هذه المعاملة معروفة في الفقه الإسلامي باسم " ضع وتعجل ".

وقد اختلف الفقهاء في حكمها، فذهب عبد الله بن عباس رضي الله عنه من الصحابة وإبراهيم النخعي من التابعين وزفر بن الهذيل من الحنفية، وأبو ثور من الشافعية إلى جوازه، وروي عن عبد الله بن عمر وزيد بن ثابت من الصحابة رضي الله عنهم وعن محمد بن سيرين والحسن البصري، وابن المسيب، والحكم بن عتيبة، والشعبي رحمهم الله من
বিল অব এক্সচেঞ্জের (চেক/হুণ্ডি) মালিক ব্যাংককে ক্রেতার (যিনি বিলটি ইস্যু করেছেন) নিকট থেকে তার ঋণ উশুল করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করে এবং এর বিনিময়ে তাকে একটি পারিশ্রমিক প্রদান করে। অতঃপর সে ব্যাংকের নিকট থেকে বিলের সমপরিমাণ অর্থ ঋণ গ্রহণ করে এবং ব্যাংককে অনুমতি দেয় যে, বিলের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর ক্রেতার নিকট থেকে সংগৃহীত অর্থ থেকে সে এই ঋণ উশুল করে নেবে। ফলে এখানে দুটি স্বতন্ত্র লেনদেন সংঘটিত হয়: প্রথমটি হলো নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ঋণ আদায়ের প্রতিনিধিত্বের (توكيل) লেনদেন এবং দ্বিতীয়টি হলো ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ এবং বিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যে পাওনাটি আদায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তা থেকে এই ঋণ পরিশোধের অনুমতি প্রদান। ফলে শরয়ি মূলনীতির ভিত্তিতে উভয় লেনদেনই সঠিক হবে। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রতিনিধিত্ব (توكيل), যা জায়েজ (جائز)। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো অতিরিক্ত কোনো শর্ত ব্যতিরেকে ঋণ গ্রহণ, যা-ও জায়েজ (جائز)।

দ্রুত পরিশোধের বিনিময়ে ঋণের কিছু অংশ মওকুফ করা:

বাকি বা মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী যে ধরনের লেনদেন করে থাকেন তা হলো, দেনাদার যদি অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত পরিশোধ করে দেয়, তবে তারা ঋণের একটি অংশ মওকুফ করে দেন। যেমন জায়েদের নিকট আমরের এক হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। তখন জায়েদ বলল: তুমি আমাকে এখনই নয়শ টাকা দিয়ে দাও, আর আমি তোমার পক্ষ থেকে একশ টাকা কমিয়ে দিচ্ছি। ইসলামি ফিকহে এই লেনদেনটি "দা' ওয়া তাআজ্জাল" (ضع وتعجل - ছাড় দাও এবং দ্রুত গ্রহণ করো) নামে সুপরিচিত।

ফকিহগণ এর বিধান নিয়ে মতভেদ করেছেন। সাহাবিদের (صحابة) মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তাবেয়িদের (تابعين) মধ্যে ইব্রাহিম নাখয়ি, হানাফিদের মধ্যে জুফার ইবনুল হুযাইল এবং শাফেয়িদের মধ্যে আবু সাওর এর বৈধতার (جواز) পক্ষে মত দিয়েছেন। পক্ষান্তরে সাহাবি (صحابة) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ও জায়েদ ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, হাসান বসরি, ইবনুল মুসায়্যিব, হাকাম ইবনে উতাইবা ও শা'বি (রহিমাহুমুল্লাহ) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
التابعين عدم جواز ذلك (1) ، وهو المروي عن الأئمة الأربعة. وهناك حديثان مرفوعان متعارضان، وفي إسناد كل واحد منهما ضعف: أما الحديث الأول، فقد أخرجه البيهقي بإسناده عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: " لما أمر النبي صلى الله عليه وسلم بإخراج بني النضير من المدينة جاء ناس منهم، فقالوا: يا رسول الله، إنك أمرت بإخراجهم ولهم على الناس ديون لم تحل، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ضعوا وتعجلوا " (2) .وهذا الحديث يدل على الجواز، ويعارضه ما أخرجه البيهقي في الباب اللاحق عن المقداد بن الأسود رضي الله عنه قال: " أسلفت رجلا مائة دينار، ثم خرج سهمي في بعث بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت له: عجل لي تسعين دينارا، وأحط عشرة دنانير، فقال: نعم، فذكر ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: أكلت ربا يا مقداد وأطعمته" (3) .وقد صرح البيهقي رحمه الله تعالى، بأن كل واحد من الحديثين ضعيف من جهة الإسناد، فلا تقوم بأي منهما حجة. ورجع جمهور الفقهاء جانب الحرمة، لأن زيادة الدين في مقابلة التأجيل ربا صراح، فكذلك الحط من الدين بإزاء التعجيل في معناه. أما قصة بني النضير، فليس فيها حجة، أما أولا: فلأن إسنادها ضعيف، وأما ثانيا، فلأنه لو ثبتت هذه القصة من جهة الإسناد، فيمكن أن يقال: إن قصة إجلاء بني النضير وقعت في السنة الثانية من الهجرة، وذلك قبل نزول حرمة الربا.

--------------------------------------------

(1) راجع آثارهم في موطأ الإمام مالك: 1/606؛ ومصنف عبد الرازق: 8/74_71.

(2) السنن الكبري للبيهقي: 6/28، كتاب البيوع، باب من عجل له أدنى من حقه.

(3) السنن الكبرى، للبيهقي: 6/28.
তাবিঈগণের নিকট এটি বৈধ না হওয়ার বিষয়টি (১), এবং এটিই চার ইমাম থেকে বর্ণিত। সেখানে দুটি মারফু (مرفوع) হাদিস রয়েছে যা পরস্পরবিরোধী (متعارض), এবং এ দুটির প্রতিটির সনদ (إسناد)-এ দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। প্রথম হাদিসটির ক্ষেত্রে, ইমাম বায়হাকি এটি তাঁর সনদ (إسناد)-সহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন নবী (সা.) বনু নাযিরকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিলেন, তখন তাদের কিছু লোক এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তাদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন অথচ মানুষের কাছে তাদের এমন কিছু ঋণ পাওনা রয়েছে যা এখনো আদায়ের সময় হয়নি। তখন নবী (সা.) বললেন: তোমরা ঋণের কিছু অংশ ছেড়ে দাও এবং দ্রুত তা উসুল করো।" (২)। এই হাদিসটি বৈধতার প্রমাণ দেয়, কিন্তু এর বিপরীতে রয়েছে ইমাম বায়হাকি কর্তৃক পরবর্তী পরিচ্ছেদে মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন: "আমি এক ব্যক্তিকে একশ দিনার ঋণ দিয়েছিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রেরিত এক অভিযানে আমার নাম এল। তখন আমি তাকে বললাম: তুমি আমাকে নব্বই দিনার দ্রুত দিয়ে দাও আর দশ দিনার কমিয়ে দাও। সে তাতে সম্মত হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: হে মিকদাদ! তুমি সুদ খেয়েছ এবং তাকেও খাইয়েছ।" (৩)। ইমাম বায়হাকি (রহ.) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই দুটি হাদিসের প্রতিটিই সনদ (إسناد)-এর দিক থেকে দুর্বল (ضعيف), তাই এগুলোর কোনোটিই দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না। জমহুর ফকিহগণ হারামের পক্ষকে প্রাধান্য দিয়েছেন, কারণ সময়ের বিনিময়ে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যেমন স্পষ্ট সুদ, তেমনি সময়ের আগে পরিশোধের বিনিময়ে ঋণের পরিমাণ হ্রাস করাও একই অর্থের অন্তর্ভুক্ত। বনু নাযিরের ঘটনার মধ্যে কোনো দলিল (حجة) নেই। প্রথমত: কারণ এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। দ্বিতীয়ত: যদি সনদ (إسناد)-এর দিক থেকে এই ঘটনাটি প্রমাণিতও হয়, তবে বলা যেতে পারে যে, বনু নাযিরকে বহিষ্কারের ঘটনাটি হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে ঘটেছিল, যা সুদ হারাম হওয়ার বিধান নাজিল হওয়ার পূর্বের ঘটনা।

--------------------------------------------

(১) তাদের আসার (آثار) দেখার জন্য দেখুন মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ১/৬০৬; এবং মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক: ৮/৭১-৭৪।

(২) আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি: ৬/২৮, কিতাবুল বুয়ু, পরিচ্ছেদ: যার পাওনা সময়ের আগে কিছু কমিয়ে গ্রহণ করা হয়।

(৩) আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি: ৬/২৮।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وذكر شمس الأئمة السرخسي رحمه الله هذه القصة واستدل بها على أنه لا ربا بين المسلم والحربي، قال رحمه الله تعالى: (ولما أجلي بين النضير قالوا: إن لنا ديونا على الناس، فقال: ضعوا وتعجلوا، ومعلوم أن مثل هذه المعاملة لا يجوز بين لمسلمين، فإن من كان له على غيره دين إلى أجل،

فوضع عنه بعضه بشرط أن يعجل بعضه لم يجز، كره ذلك عمر، وزيد بن ثابت، وابن عمر رضي الله عنهم (ذ) .

وحاصل هذا الجواب أن المسلمين كانوا في حالة الحرب مع بني النضير، فكان يجوز لهم أن يقبضوا على جميع أموالهم في تلك الحالة فلو استوضعوا عنهم بعض الديون، جاز من باب أولى. والوجه الرابع في الاعتذار عن قصة بني النضير أن اليهود كانوا يداينون الناس على أساس الربا، والذي أمر رسول الله عليه وسلم بوضعه، هو الربا الزائد على رأس المال، ولم يأمرهم بالوضع في رأس المال نفسه، ويؤيده أن الواقدي ذكر هذه القصة في سيره، فقال: (فأجلاهم -أي بني النضير - رسول الله صلى الله عليه وسلم من المدينة، وولي إخراجهم محمد بن مسلمة، فقالوا: إن لنا ديونا على الناس إلى آجال، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((تعجلوا وضعوا)) ، فكان لأبي رافع سلام بن أبي الحقيق على أسيد بن حضير عشرون ومائة دينار إلى سنة، فصالحه على أخذ رأس ماله ثمانين دينارا، وأبطل ما فضل) (2)

--------------------------------------------

(1) شرح السير الكبير، للسرخسي:4/1412، فقرة 2738، وذكر هذه المسألة مرة ثانية في:4/4194، فقرة2921، بتحقيق صلاح الدين المنجد، طبع باكستان 1415 هـ.

(2) مغازي الواقدي:1/374؛ وذكر الواقدي أن مثل هذه القصة وقعت عند إجلاء بني قينقاع أيضا، يراجع: 1/179.
শামসুল আইম্মাহ আস-সারাকসি (রহিমাহুল্লাহ) এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন এবং এর দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন যে, মুসলিম এবং হারবি ব্যক্তির মধ্যে কোনো সুদ নেই। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (যখন বনু নাদিরকে বহিষ্কার করা হলো, তখন তারা বলল: মানুষের কাছে আমাদের ঋণ পাওনা রয়েছে। তখন তিনি বললেন: তোমরা (দাবির পরিমাণ) কমিয়ে দাও এবং দ্রুত (তা) গ্রহণ করো। এটি সুপরিচিত যে, এই ধরনের লেনদেন মুসলিমদের মধ্যে জায়েজ নয়; কারণ কারো যদি অন্যের ওপর নির্দিষ্ট মেয়াদী ঋণ থাকে,

অতঃপর সে মেয়াদের আগে পরিশোধের শর্তে ঋণের কিছু অংশ মওকুফ করে দেয়, তবে তা বৈধ হবে না। উমর, যায়িদ ইবনে সাবিত এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এটি অপছন্দ করেছেন। (য))।

এই উত্তরের সারকথা হলো, মুসলিমরা তখন বনু নাদিরের সাথে যুদ্ধাবস্থায় ছিল, তাই সেই অবস্থায় তাদের সকল সম্পদ হস্তগত করা মুসলিমদের জন্য বৈধ ছিল। এমতাবস্থায় যদি তারা ঋণের কিছু অংশ মওকুফ করে থাকে, তবে তা আরও বেশি সংগত বা অগ্রাধিকারযোগ্য ছিল। বনু নাদিরের ঘটনার ব্যাপারে চতুর্থ ব্যাখ্যা হলো যে, ইহুদিরা সুদের ভিত্তিতে লেনদেন করত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা মওকুফ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা হলো আসলের অতিরিক্ত সুদ। তিনি তাদের খোদ আসলের অংশ মওকুফ করার নির্দেশ দেননি। এর সমর্থনে বলা যায় যে, ওয়াকিদি তাঁর সিরাতগ্রন্থে এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: (রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের—অর্থাৎ বনু নাদিরকে—মদিনা থেকে বহিষ্কার করলেন এবং তাদের বের করে দেওয়ার দায়িত্ব মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহকে প্রদান করলেন। তখন তারা বলল: মানুষের কাছে আমাদের মেয়াদী ঋণ পাওনা আছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ((তোমরা দ্রুত গ্রহণ করো এবং পাওনা কমিয়ে দাও))। তখন আবু রাফি সাল্লাম ইবনে আবিল হুকাইক-এর আসিদ ইবনে হুদাইর-এর নিকট এক বছর মেয়াদী একশ বিশ দিনার পাওনা ছিল। ফলে সে আশি দিনার মূলধন গ্রহণের শর্তে তার সাথে আপস করল এবং অতিরিক্ত অংশ বাতিল করে দিল।) (২)

--------------------------------------------

(১) শারহুস সিয়ারিল কাবির, আস-সারাকসি: ৪/১৪১২, অনুচ্ছেদ ২৭৩৮; এবং তিনি এই বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করেছেন ৪/৪১৯৪, অনুচ্ছেদ ২৯২১-এ; সালাহুদ্দিন আল-মুনজিদ-এর সম্পাদনায়, পাকিস্তান সংস্করণ ১৪১৫ হিজরি।

(২) মাগাযিল ওয়াকিদি: ১/৩৭৪; এবং ওয়াকিদি উল্লেখ করেছেন যে, বনু কায়নুকাকে বহিষ্কারের সময়ও অনুরুপ ঘটনা ঘটেছিল, দ্রষ্টব্য: ১/১৭৯।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فهذه الرواية صريحة في أن الموضوع كان هو الربا، لا حصة من رأس المال، ومن هنا ذهب جمهور العلماء إلى القول بتحريم " ضع وتعجل " فقال الإمام مالك رحمه الله بعد رواية آثار زيد بن ثابت وابن عمر رضي الله عنهم:

(قال مالك: والأمر المكروه الذي لا اختلاف فيه عندنا أن يكون للرجل على الرجل الدين إلى أجل، فيضع عنه الطالب، ويعجله المطلوب، قال مالك: وذلك عندنا أن يكون للرجل على الرجل الدين إلى أجل، فيضع عنه الطالب ويعجله المطلوب في حقه، قال: هذا الربا بعينه لا شك فيه) (1) .

وقال الإمام محمد في موطئه بعد رواية أثر زيد بن ثابت رضي الله عنه: (قال محمد: وبهذا نأخذ، من وجب له دين على إنسان إلى أجل، فسأل أن يضع عنه، ويعجل له ما بقي، لم ينبغ ذلك، لأنه يعجل قليلا بكثير دينا، فكأن يبيع قليلا نقدا، بكثير دينا وهو قول عمر بن الخطاب، وزيد بن ثابت، وعبد الله بن عمر. وهو قول أبي حنيفة (1) .

وقال ابن قدامة في المغني: (إذا كان عليه دين مؤجل فقال لغريمه: ضع عني بعضه وأعجل لك بقيته، لم يجز. كرهه زيد بن ثابت وابن عمر،

--------------------------------------------

(1) الموطأ، للإمام مالك، بيوع، ما جاء في الربا في الدين: 1/606، طبع كراتشي.

(2) الموطأ، للإمام محمد: 1/334، باب الرجل يبيع المتاع أو غيره نسيئة، ثم يقول: أنقدني وأضع عنك.
এই বর্ণনা (رواية) এ বিষয়ে স্পষ্ট যে, মূল বিষয়টি ছিল সুদ (الربا), মূলধনের অংশ নয়। এখান থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমগণ ‘ছেড়ে দাও এবং দ্রুত পরিশোধ করো’ এর নিষিদ্ধতার (تحريم) অভিমত গ্রহণ করেছেন। ইমাম মালিক (রহ.) যায়িদ বিন সাবিত এবং ইবনে ওমর (রা.)-এর আসার (آثار) বর্ণনা করার পর বলেন:

(মালিক বলেন: আমাদের নিকট যে বিষয়টি অপছন্দনীয় (المكروه) এবং যাতে আমাদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই তা হলো, কোনো ব্যক্তির নিকট অন্য ব্যক্তির নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ পাওনা থাকা, অতঃপর পাওনাদার কিছু অংশ মওকুফ করে দেয় এবং ঋণগ্রহীতা তা দ্রুত পরিশোধ করে। মালিক বলেন: আমাদের নিকট বিষয়টি হলো, কোনো ব্যক্তির নিকট অন্য ব্যক্তির নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ থাকা, অতঃপর পাওনাদার তার হকের কিছু অংশ ছেড়ে দেয় এবং ঋণগ্রহীতা তা দ্রুত পরিশোধ করে। তিনি বলেন: এটিই হলো সরাসরি সুদ (الربا), এতে কোনো সন্দেহ নেই।) (১) ।

ইমাম মুহাম্মদ তাঁর মুয়াত্তায় যায়িদ বিন সাবিত (রা.)-এর আসার (أثر) বর্ণনা করার পর বলেন: (মুহাম্মদ বলেন: আমরা একেই গ্রহণ করি; যার কোনো ব্যক্তির নিকট নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ পাওনা থাকে, অতঃপর সে যদি অনুরোধ করে যে তার থেকে কিছু অংশ কমিয়ে দেয়া হোক এবং সে অবশিষ্ট অংশ দ্রুত পরিশোধ করে দেবে, তবে তা সমীচীন হবে না। কারণ সে নগদে অল্প দিয়ে ঋণের অধিক পরিমাণ দ্রুত আদায় করছে। এটি যেন নগদে অল্প মূল্যে ঋণের অধিক পরিমাণ বিক্রি করার মতো। আর এটিই ওমর ইবনুল খাত্তাব, যায়িদ বিন সাবিত এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর অভিমত। আর এটিই আবু হানিফারও অভিমত (১) ।

ইবনে কুদামা আল-মুগনি গ্রন্থে বলেন: (যখন কারো নিকট মেয়াদি ঋণ (دين مؤجل) থাকে, তখন সে যদি তার পাওনাদারকে বলে: আমার থেকে কিছু অংশ কমিয়ে দাও এবং আমি তোমাকে অবশিষ্ট অংশ দ্রুত পরিশোধ করে দিচ্ছি, তবে তা বৈধ (لم يجز) হবে না। যায়িদ বিন সাবিত এবং ইবনে ওমর (রা.) একে অপছন্দ (كرهه) করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুয়াত্তা, ইমাম মালিক, কিতাবুল বুয়ু, অধ্যায়: ঋণের সুদের বর্ণনা: ১/৬০৬, করাচি মুদ্রণ।

(২) মুয়াত্তা, ইমাম মুহাম্মদ: ১/৩৩৪, পরিচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি বাকিতে পণ্য বা অন্য কিছু বিক্রয় করার পর ক্রেতাকে বলা যে, আমাকে নগদে পরিশোধ করো এবং আমি তোমার পাওনা থেকে কিছু অংশ কমিয়ে দেব।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ফী কাদায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والمقداد وسعيد بن المسيب وسالم والحسن وحماد والحكم والشافعي ومالك والثوري وهشيم وابن علية وإسحاق وأبو حنيفة، وقال مقداد لرجلين فعلا ذلك: كلاكما قد آذن بحرب من الله ورسوله، وروي عن ابن عباس أنه لم ير به بأسا، وروي ذلك عن النخغي وأبي ثور، لأنه آخذ ببعض حقه، تارك لبعضه، فجاز، كما لو كان الدين حالا، الخرقي: لا بأس أن يعجل المكاتب لسيده ويضع عنه بعض كتابته، ولنا أنه بيع الحلول فيم يجز، كما لو زاده الذي له الدين فقال: أعطيك عشرة دراهم وتعجل لي المائة التي عليك، فأما المكاتب فإن معاملته مع سيده، وهو يبيع بعض ماله ببعض، فدخلت المساهمة فيه، ولأنه سبب العتق، فسومح فيه، بخلاف غيره) (1) .

وبناء على هذه النصوص الفقهية، فالراجح حرمة إسقاط بعض الدين في مقابل إسقاط بعض الأجل.

(ضع وتعجل) في الديون الحالة:

ولكن الذي يبدو أن حكم المنع هذا يختص بالديون المؤجلة. أما في الديون الحالة التي لا يكون الأجل فيها مشروطا في العقد، وإنما يتأخر المدين في الأداء لسبب أو لآخر، فالظاهر أنه لا بأس بالصلح على إسقاط بعض الدين بشرط أن يؤدي المدين الدين المتبقي معجلا، وهذا قد صرح به علماء المالكية، جاء في المدونة الكبرى: (قلت: أريت: لو أن لي على رجل ألف درهم قد حلت، فقلت: اشهدوا: إن أعطاني مائة درهم عند رأس الشهر،

--------------------------------------------

(1) المغني، لابن قدامة، مع الشرح الكبير: 4/174 و175.
আল-মিকদাদ, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, সালিম, আল-হাসান, হাম্মাদ, আল-হাকাম, আশ-শাফেয়ী, মালিক, আস-সাওরী, হুশাইম, ইবনে উলাইয়্যাহ, ইসহাক এবং আবু হানিফা। মিকদাদ এমন কাজ করা দুই ব্যক্তিকে বলেছিলেন: "তোমরা উভয়েই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করেছ।" ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এতে কোনো সমস্যা দেখতেন না। এটি আন-নাখয়ী এবং আবু সাওর থেকেও বর্ণিত হয়েছে; কারণ তিনি তার হকের একাংশ গ্রহণ করছেন এবং একাংশ ত্যাগ করছেন, তাই এটি বৈধ (جائز), যেমনটি ঋণ তাৎক্ষণিক (حالا) হলে হয়ে থাকে। আল-খিরাকী বলেন: চুক্তিবদ্ধ দাস (المكاتب) যদি তার মনিবের পাওনা দ্রুত পরিশোধ করে এবং মনিব তার মুক্তিপণ চুক্তির কিছু অংশ মওকুফ করে দেয় তবে তাতে কোনো দোষ নেই। আমাদের দলিল হলো, এটি মেয়াদের (الحلول) বিনিময়ে বিক্রয় যা বৈধ নয়, যেমন পাওনাদার যদি ঋণীকে কিছু বাড়িয়ে দিয়ে বলে: "আমি তোমাকে দশ দিরহাম দেব আর তুমি তোমার ওপর থাকা একশত দিরহাম আমাকে দ্রুত পরিশোধ (تعجل) করে দেবে।" তবে চুক্তিবদ্ধ দাসের (المكاتب) ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, তার লেনদেন তার মনিবের সাথে এবং সে তার সম্পদের কিছু অংশের বিনিময়ে কিছু অংশ বিক্রি করছে, ফলে এতে পারস্পরিক ছাড় (المساهمة) প্রবেশ করেছে। যেহেতু এটি দাসমুক্তির মাধ্যম, তাই এক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়েছে, যা অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। (১)

এই সকল ফিকহী ভাষ্যের ভিত্তিতে অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো, মেয়াদের একাংশ কমানোর বিনিময়ে ঋণের একাংশ মাফ করা হারাম।

তাৎক্ষণিক (الحالة) ঋণের ক্ষেত্রে "কমাও এবং দ্রুত পরিশোধ করো" (ضع وتعجل) নীতি:

কিন্তু প্রতীয়মান হয় যে, এই নিষিদ্ধতার হুকুমটি কেবল বিলম্বিত বা মেয়াদী (المؤجلة) ঋণের জন্য নির্দিষ্ট। তবে যেসব তাৎক্ষণিক (الحالة) ঋণের ক্ষেত্রে চুক্তিতে কোনো মেয়াদ শর্তযুক্ত করা হয়নি, বরং ঋণগ্রহীতা কোনো না কোনো কারণে পরিশোধে বিলম্ব করছে, সেক্ষেত্রে স্পষ্টত ঋণের একাংশ মাফ করার বিষয়ে মীমাংসা (الصلح) করাতে কোনো দোষ নেই, যদি শর্ত থাকে যে ঋণগ্রহীতা অবশিষ্ট পাওনা দ্রুত পরিশোধ (معجلاً) করবে। মালিকী ওলামাগণ স্পষ্টভাবে এটি উল্লেখ করেছেন। আল-মুদাওয়ানা আল-কুবরা গ্রন্থে এসেছে: (আমি বললাম: আপনি কী মনে করেন, যদি কোনো ব্যক্তির কাছে আমার এক হাজার দিরহাম পাওনা থাকে যা তাৎক্ষণিক প্রদেয় (حلت) হয়েছে, আর আমি বলি: তোমরা সাক্ষী থাকো, যদি সে আমাকে মাসের শুরুতে একশত দিরহাম প্রদান করে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনী, ইবনে কুদামা রচিত, আশ-শারহুল কাবীর সহ: ৪/১৭৪ ও ১৭৫।