(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
قفو الأثر في صفوة علوم الأثر القسم: علوم الحديث
الكتاب: قفو الأثر في صفوة علوم الأثر
المؤلف: محمد بن إبراهيم بن يوسف الحلبي القادري التاذفي، الحنفي رضي الدين المعروف بـ ابن الحنبلي (ت 971هـ)
المحقق: عبد الفتاح أبو غدة
الناشر: مكتبة المطبوعات الإسلامية - حلب
الطبعة: الثانية، 1408هـ
عدد الصفحات: 123
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ক্বাফউ আল-আসার ফি সাফওয়াত উলূম আল-আসার বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
কিতাব: ক্বাফউ আল-আসার ফি সাফওয়াত উলূম আল-আসার
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন ইউসুফ আল-হালাবি আল-কাদিরি আত-তাদিফি, আল-হানাফি রাযীউদ্দীন, যিনি ইবনুল হাম্বলী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৯৭১ হিজরি)
সম্পাদক/গবেষক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ - হালাব
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله الَّذِي لم يزل عَالما قَدِيرًا وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد الَّذِي أرْسلهُ إِلَى النَّاس بشيرا وَنَذِيرا وعَلى آل مُحَمَّد وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا
أما بعد فَإِن التصانيف فِي اصْطِلَاح أهل الحَدِيث قد كثرت فِي الْقَدِيم والْحَدِيث فَمن أول من صنف فِي ذَلِك القَاضِي أَبُو مُحَمَّد الرامَهُرْمُزِي فِي كِتَابه الْمُحدث الْفَاصِل بَين الرَّاوِي والواعي لكنه لم يستوعب وَالْحَاكِم أَبُو عبد الله النَّيْسَابُورِي لكنه لم يهذب وَلم يرتب وتلاه أَبُو نعيم الْأَصْبَهَانِيّ فَعمل على كِتَابه مستخرجا وَأبقى أَشْيَاء للمتعقب
ثمَّ جَاءَ الْخَطِيب أَبُو بكر الْبَغْدَادِيّ فصنف فِي قوانين الراوية كتابا سَمَّاهُ الْكِفَايَة وَفِي آدابها كِتَابه الْجَامِع لِآدَابِ الشَّيْخ وَالسَّامِع وَقل فن من فنون الحَدِيث إِلَّا وَقد صنف فِيهِ كتابا مُفردا فَكَانَ كَمَا قَالَ الْحَافِظ أَبُو بكر بن نقطة كل من أنصف علم أَن الْمُحدثين بعد الْخَطِيب عِيَال على كتبه
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বদা সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। সালাত ও অগণিত সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাকে তিনি মানবজাতির নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর, হাদিস বিশারদগণের পরিভাষা (اصطلاح) সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এই বিষয়ে যারা সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি, তাঁর 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়ায়ি' নামক গ্রন্থে; তবে তা সকল বিষয় বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। এরপর হাকেম আবু আবদুল্লাহ আন-নাইসাবুরি গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু তা সুসংহত ও সুবিন্যস্ত ছিল না। এরপর আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি তাঁর পথ অনুসরণ করেন এবং তাঁর (হাকেমের) গ্রন্থের ওপর একটি মুস্তাখরাজ (مستخرج) রচনা করেন, তবে তিনিও পরবর্তী পর্যালোচকদের জন্য কিছু বিষয় বাকি রেখে যান।
অতঃপর খতিব আবু বকর আল-বাগদাদি আগমন করেন এবং তিনি হাদিস বর্ণনার নিয়মাবলী নিয়ে 'আল-কিফায়া' এবং বর্ণনার শিষ্টাচার বিষয়ে 'আল-জামি লি আদাবিশ শায়খ ওয়াস সামি' নামক গ্রন্থ রচনা করেন। হাদিসের এমন কোনো শাখা নেই বললেই চলে যে বিষয়ে তিনি স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি। বিষয়টি তেমনই ছিল যেমনটি হাফেজ (حافظ) আবু বকর ইবনে নুকতাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তিই ইনসাফ করবে সে-ই এটি স্বীকার করবে যে, খতিব বাগদাদির পরবর্তী সকল মুহাদ্দিসই তাঁর গ্রন্থরাজির ওপর নির্ভরশীল।"
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
ثمَّ جَاءَ بعض من تَأَخّر عَن الْخَطِيب فَأخذ من هَذَا الْعلم بِنَصِيب فَجمع القَاضِي عِيَاض كتابا لطيفا سَمَّاهُ الإلماع إِلَى أصُول الرِّوَايَة وَالسَّمَاع وَأَبُو حَفْص الميانجي جزأ سَمَّاهُ
অতঃপর খতীব (আল-বাগদাদী)-এর পরবর্তী যুগের এমন কিছু উত্তরসূরি আসলেন যারা এই ইলম থেকে অংশ গ্রহণ করলেন। অতঃপর কাযী ইয়াদ একটি চমৎকার গ্রন্থ সংকলন করেন যার নাম দিয়েছেন ‘আল-ইলমা’ ইলা উসুলির রিওয়ায়াহ ওয়াস সামা’। আর আবু হাফস আল-মিয়ানাজী একটি জুয সংকলন করেন যার নাম তিনি দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
مَا لَا يسع الْمُحدث جَهله إِلَى غير ذَلِك من التصانيف الَّتِي اشتهرت وَبسطت واختصرت
যা একজন হাদিস বিশারদ (محدث)-এর পক্ষে অজানা থাকা সমীচীন নয়—এরূপ গ্রন্থ এবং অন্যান্য আরও রচনাবলী, যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং যেগুলোকে বিস্তারিত (مبسوط) ও সংক্ষিপ্ত (مختصر) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
إِلَى أَن جَاءَ الْحَافِظ الْفَقِيه تَقِيّ الدّين أَبُو عَمْرو عُثْمَان / بن الصّلاح عبد الرَّحْمَن الشهرزوري نزيل دمشق فَجمع لما ولي تدريس الحَدِيث بِالْمَدْرَسَةِ الأشرفية كِتَابه الْمَشْهُور فهذب فنونه
পরিশেষে হাফিজ (الحافظ) ও ফকিহ (الفقيه) তকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবন আস-সালাহ আবদুর রহমান আশ-শাহরাজুরি আগমন করলেন, যিনি দামেশকের অধিবাসী ছিলেন। অতঃপর তিনি যখন আশরাফিয়া মাদ্রাসায় হাদিস পাঠদানের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, তখন তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থটি সংকলন করলেন এবং এর শাস্ত্রসমূহকে (فنونه) সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করলেন।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤١)
وأملاه شَيْئا بعد شَيْء فَلهَذَا لم يتناسب وَضعه واعتنى بتصانيف الْخَطِيب المتفرقة فَجمع فِي كِتَابه مَا تفرق فِي غَيره فَلهَذَا عكف النَّاس عَلَيْهِ وَسَارُوا بسيره مَا بَين ناظم لَهُ ومختصر ومستدرك عَلَيْهِ ومنتصر ومعارض لَهُ ومقتصر
তিনি এটি অল্প অল্প করে ধারাবাহিকভাবে লিখিয়েছিলেন, যার ফলে এর বিন্যাস সুসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। তিনি খতীব আল-বাগদাদীর বিক্ষিপ্ত রচনাবলির প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেছিলেন এবং অন্যদের গ্রন্থে যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল তা তিনি নিজের গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এ কারণেই মানুষ এই গ্রন্থের প্রতি নিবিষ্ট হয়েছে এবং তাঁর অনুসৃত পথ অবলম্বন করেছে; তাদের মধ্যে কেউ একে কাব্যে রূপান্তর করেছেন, কেউ এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر) তৈরি করেছেন, কেউ এতে বাদ পড়া বিষয়ের সংযোজন (مستدرك) করেছেন, কেউ এর স্বপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, কেউ এর বিরোধিতা করেছেন আবার কেউ একে অতি-সংক্ষেপে প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
إِلَى أَن جَاءَ الْحَافِظ بِإِمَام شيخ الْإِسْلَام نَاصِر سنة سيد الْأَنَام المترجم بفيلسوف علل الْأَخْبَار وطيبها المنعوت لما انه الْمُقدم بِإِمَام طَائِفَة أهل الحَدِيث وخطيبها السَّابِق فِي معرفَة صَحِيح وَسَقِيم الْخَبَر قَاضِي الْقُضَاة شهَاب الدّين أَحْمد بن حجر الْعَسْقَلَانِي الأَصْل الْمصْرِيّ الشَّافِعِي
فلخص المهم من هَذَا الإصطلاح مِمَّا جمعه فِي كِتَابه الْحَافِظ ابْن الصّلاح مَعَ فرائد ضمت إِلَيْهِ وفوائد زيدت عَلَيْهِ فِي أوراق قَليلَة هِيَ فِي نَفسهَا جليلة سَمَّاهَا نخبة الْفِكر فِي مصطلح أهل الْأَثر فَصَارَت جديرة إِذْ صغرت حجما وتراءت نجما لكل أثري بقول من قَالَ
(والنجم تستصغر الْأَبْصَار صورته
… والذنب للطرف لَا للنجم فِي الصغر)
إِلَى أَن شرحها وَضمن شرحها من طرف الْفَوَائِد وزوائد العوائد كرة فكرة مَا لَا يُحْصى كَثْرَة وَإِن لم يخل عَن فَوَات تَحْرِير وركاكة تَقْرِير كَمَا لم يخل مَتنه عَن ضيق الْعبارَة وَإِن لطفت مِنْهُ الْإِشَارَة كَمَا قيل
(يُشِير إِلَى غر الْمعَانِي بِلَفْظِهِ
… كحب إِلَى المشاق باللحظ يرمز)
حَتَّى حشى عَلَيْهِ تلميذاه الإِمَام زين الدّين أَبُو الْعدْل قَاسم
পরিশেষে হাফিজ (الحافظ), ইমাম, শাইখুল ইসলাম, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার সুন্নাহর সাহায্যকারী, সংবাদের ত্রুটিসমূহের (علل) দার্শনিক ও চিকিৎসক হিসেবে সংজ্ঞায়িত, যাকে হাদিসবেত্তা জামায়াতের ইমাম ও প্রধান বাগ্মী হিসেবে অগ্রগণ্য করা হয়, সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (সقيم) সংবাদ বিচারে অগ্রগামী, প্রধান বিচারপতি শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল-আসকালানি আল-মিসরি আশ-শাফিঈর আগমন ঘটে।
অতঃপর হাফিজ ইবনুস সালাহ তাঁর কিতাবে যা সংকলন করেছিলেন, সেই পরিভাষাগুলোর (اصطلاح) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে তিনি সংক্ষেপিত করেন। এর সাথে তিনি এমন কিছু বিরল ও অতিরিক্ত ফায়দা যুক্ত করেন যা ছিল আকারে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত সুমহান। তিনি এর নাম দেন 'নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার'। এটি আকারে ছোট হলেও তারকার ন্যায় সমুজ্জ্বল হওয়ার কারণে প্রত্যেক আসারি (أثري) পণ্ডিতের নিকট সমাদৃত হয়েছে, যেমনটি কবি বলেছেন:
(দৃষ্টিশক্তি নক্ষত্রকে অতি ক্ষুদ্র মনে করে
… অথচ এই ক্ষুদ্রতা দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা, নক্ষত্রের কোনো দোষ নয়।)
পরিশেষে তিনি এই গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যা (شرح) প্রদান করেন এবং সেই ব্যাখ্যায় (شرح) অগণিত বিরল ও অতিরিক্ত ফায়দা বারবার অন্তর্ভুক্ত করেন। যদিও সেখানে সুনিপুণ বিন্যাসের কিছু অভাব এবং উপস্থাপনার কিছুটা শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়, ঠিক যেমন এর মূল পাঠে (متن) শব্দচয়নের সংক্ষিপ্ততাজনিত সীমাবদ্ধতা ছিল, যদিও তাঁর ইঙ্গিতসমূহ ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও চমৎকার। যেমনটি বলা হয়েছে:
(তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে অত্যন্ত গভীর ও উজ্জ্বল অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন
… যেমন একজন প্রেমিক চোখের ইশারায় তার ব্যাকুলতার কথা বুঝিয়ে দেয়।)
এমনকি তাঁর দুই ছাত্র এর ওপর টিকা (حاشية) সংযোজন করেন, যাঁদের একজন হলেন ইমাম জাইন উদ্দিন আবুল আদল কাসিম।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
الْحَنَفِيّ وَشَيخ بعض شُيُوخنَا الإِمَام كَمَال الدّين مُحَمَّد بن أبي شرِيف الْمَقْدِسِي الشَّافِعِي
হানাফি এবং আমাদের কোনো কোনো শায়খের উস্তাদ, ইমাম কামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবি শরিফ আল-মাকদিসি আল-শাফেয়ি।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
فَوضع الأول حَوَاشِي سَمَّاهَا القَوْل المبتكر على شرح نخبة الْفِكر وأودعها من التَّحْرِير جانبا وَلم يكن عَن مناقشة ذَلِك التَّحْرِير جانبا
وَوضع الثَّانِي من الْحَوَاشِي مَا رفع بِهِ من الغواشي مَعَ مَا فِيهِ من القادح وَشَيْء كَانَ علقه عَن الشَّارِح
ثمَّ لما رفعت إِلَى الصرح بِقِرَاءَة هَذِه الشَّرْح سنة إِحْدَى
অতঃপর প্রথমজন 'শারহু নুখবাতিল ফিকার'-এর ওপর 'আল-কাওলুল মুবতাকির' নামক টীকা-টিপ্পনী (حواشي) রচনা করেন এবং এতে পরিমার্জন (تحرير)-এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সন্নিবেশিত করেন; আর সেই পরিমার্জনের পর্যালোচনা থেকে তিনি বিমুখ ছিলেন না।
দ্বিতীয়জন এমন কিছু টীকা-টিপ্পনী (حواشي) সংকলন করেন যার মাধ্যমে তিনি অস্পষ্টতাগুলো দূর করেছেন, যদিও তাতে কিছু ত্রুটি (قادح) বিদ্যমান এবং এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা তিনি ব্যাখ্যাকার (شارح) থেকে গ্রহণ করে লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
অতঃপর যখন ৮০১ হিজরি সনে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) পাঠের জন্য আমাকে উচ্চাসনে উন্নীত করা হলো...
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
وَأَرْبَعين وتسع مئة على الْأُسْتَاذ شمس الدّين مُحَمَّد الشهير بِابْن عروس الديروطي الْمصْرِيّ الشَّافِعِي نزيل حلب كنت كتبت حَال قراءتي عَلَيْهِ حَوَاشِي سميتها منح النغبة على شرح النخبة منطوية على فرائد مِنْهُ استفدتها محتوية على زَوَائِد لما وحدتها استجدتها
وَلَكِن كَانَ فِيهِ مسَائِل خلافية رجح فِيهَا خلاف مَا عَلَيْهِ أَصْحَابنَا الْحَنَفِيَّة فَلم يعم نَفعه الثُّلثَيْنِ كَأَنَّهُ قَول بالقلتين فآثرت
৯৪০ হিজরি সালে, হালব নিবাসী উস্তাদ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ—যিনি ইবনে আরুস আদ-দাইরুতি আল-মিসরি আশ-শাফিঈ নামে সুপরিচিত—তাঁর নিকট পাঠগ্রহণকালে আমি কিছু টীকা লিখেছিলাম এবং সেটির নাম দিয়েছিলাম 'মিনাহুন নুগবাহ আলা শারহিন নুখবাহ'। এতে তাঁর নিকট থেকে সংগৃহীত নানাবিধ দুর্লভ (فرائد) বিষয়াবলী সন্নিবেশিত ছিল এবং এমন কিছু পরিশিষ্ট (زوائد) অন্তর্ভুক্ত ছিল যা আমি পাওয়ার পর চমৎকার ও অভিনব মনে করেছি।
তবে এতে কিছু মতভেদপূর্ণ (خلافية) মাসআলা ছিল, যেখানে তিনি আমাদের হানাফি ইমামদের অবস্থানের বিপরীতে অন্য মতকে প্রাধান্য (رجح) দিয়েছিলেন। ফলে এর উপকারিতা দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের নিকট পৌঁছেনি, যেন এটি 'কুল্লাতাইন' (قلتين) সংক্রান্ত মতবাদের ন্যায় ছিল; তাই আমি শ্রেয় মনে করলাম...
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
الْآن تبيان مَا نَحن عَلَيْهِ إِثْر بَيَان مَا جنح من جنح إِلَيْهِ بِقدر مَا أمكن وبحسب مَا قدر الْقَادِر وَمكن
فأخرجت من بَين الشَّرْح وحواشيه متْنا متينا وَقطعت من الْإِخْلَال بِمَا نَحن عَلَيْهِ والإملال بِمَا لَا حَاجَة إِلَيْهِ وتينا وفصلته فصولا مقررة وضمنته أصولا محررة هِيَ من مغاصها دُرَر لغواصها وَمن مطالعها دراري لمطالعها من غير تَغْيِير لبَعض النُّصُوص لما أَنَّهَا جَوَاهِر وفصوص وسميته قفو الْأَثر فِي صفو عُلُوم الْأَثر راجيا مِنْهُ تَعَالَى نفع مُسَمَّاهُ حَالا ومآلا وَمن الملمين بطلله عُذْري فِي خلله وزلله وَالله تَعَالَى هُوَ الْمُوفق فصل فِي الحَدِيث الْمُتَوَاتر
هُوَ مَا رَوَاهُ عَن استناد إِلَى الْحس دون الْعقل الصّرْف عدد أحالت الْعَادة تواطؤهم على الْكَذِب فَقَط أَو رَوَوْهُ عَن مثلهم من الِابْتِدَاء إِلَى الإنتهاء ومستند رِوَايَة منتهاهم الْحس أَيْضا فالنوع الأول مَا لَا طباق لَهُ وَالثَّانِي مَا لَهُ طبقتان فَأكْثر
ثمَّ هُوَ بقسميه مُفِيد للْعلم الضَّرُورِيّ لَا النظري وَغير مَحْصُور فِي عدد معِين لَا مَحْصُور فِيهِ وموجود وجود كَثْرَة لَا مَعْدُوم وَلَا مَوْجُود وجود قلَّة خلافًا لزاعمي ذَلِك
وَمَتى استوفيت شُرُوطه وَتَخَلَّفت إِفَادَة الْعلم عَنهُ فلمانع لَا بِمُجَرَّدِهِ وَمن شَأْنه أَن لَا يشْتَرط عَدَالَة رِجَاله بِخِلَاف غَيره
فصل فِي الْمَشْهُور هُوَ مَا رَوَاهُ عدد فَوق الْإِثْنَيْنِ إِلَى
এখন আমাদের বর্তমান অবস্থানের সুস্পষ্ট বর্ণনা, তাদের বর্ণনার পর যারা এ বিষয়ে ভিন্ন পথে পরিচালিত হয়েছে, যতটুকু সম্ভব এবং সর্বশক্তিমান যতটুকু সামর্থ্য ও সুযোগ দিয়েছেন।
সুতরাং আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও এর টীকাগুলোর মধ্য থেকে একটি সুদৃঢ় মূলপাঠ (متن) বের করে এনেছি এবং আমাদের বিষয়ের ব্যত্যয় ও অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রিতা থেকে একে বিচ্ছিন্ন করেছি। আমি একে সুনির্দিষ্ট পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং এতে পরিমার্জিত মূলনীতি (أصول) অন্তর্ভুক্ত করেছি, যা এর গভীর থেকে ডুবুরিদের জন্য মুক্তাসম এবং এর উদয়স্থল থেকে পাঠকদের জন্য উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য। আমি কিছু মূল পাঠের (نصوص) কোনো পরিবর্তন করিনি, কারণ সেগুলো জহরত ও আংটির পাথরতুল্য। আমি এর নামকরণ করেছি 'কাফউল আসার ফি সাফউ উলুমিল আসার' এবং মহান আল্লাহর নিকট এর বিষয়বস্তুর মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে উপকার প্রার্থনা করছি। আর যারা এর পাঠে মনোনিবেশ করবেন, তাদের নিকট এর ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা। মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস বিষয়ক পরিচ্ছেদ।
এটি এমন যা এমন এক জনসমষ্টি বর্ণনা করেছেন যাদের বর্ণনার ভিত্তি কেবল বিশুদ্ধ যুক্তির ওপর নয় বরং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতির ওপর এবং স্বভাবত যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব; অথবা তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের সমসংখ্যক বর্ণনাকারীদের থেকে তা বর্ণনা করেছেন এবং তাদের বর্ণনার (رواية) শেষ স্তরের ভিত্তিও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। সুতরাং প্রথম প্রকারটি হলো যার কোনো স্তর (طبقة) নেই এবং দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যার দুই বা ততোধিক স্তর রয়েছে।
অতঃপর এর উভয় প্রকারই আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) প্রদান করে, তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) নয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান; এটি অস্তিত্বহীন বা স্বল্প সংখ্যায় বিদ্যমান নয়, যারা এমন দাবি করে তাদের মতের বিপরীতে।
যখন এর শর্তাবলি (شروط) পূর্ণ হয় কিন্তু জ্ঞান অর্জিত হয় না, তখন তা কোনো বাধার কারণে হয়, স্বতস্ফূর্তভাবে নয়। এর বৈশিষ্ট্য হলো যে, এতে বর্ণনাকারীদের (رجال) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) থাকা শর্ত নয়, যা অন্য প্রকারের ক্ষেত্রে ভিন্ন।
মশহুর (مشهور) বিষয়ক পরিচ্ছেদ এটি এমন যা দুইয়ের অধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
جمَاعَة من الصَّحَابَة وَلم يفد بِمُجَرَّدِهِ الْعلم فَهُوَ مباين للمتواتر خلافًا لِابْنِ الصّلاح إِذْ جعله أَعم مِنْهُ
وَهُوَ المستفيض على رَأْي جمَاعَة من أَئِمَّة الْفُقَهَاء وَقيل المستفيض يكون عدد طَرفَيْهِ ووسطه سَوَاء وَالْمَشْهُور أَعم من ذَلِك وَيُطلق الْمَشْهُور أَيْضا على مَا اشْتهر على الْأَلْسِنَة مُطلقًا
فصل فِي الْعَزِيز هُوَ مَا لم يروه أقل من اثْنَيْنِ عَن أقل مِنْهُمَا بِأَن رَوَاهُ اثْنَان عَن كل من اثْنَيْنِ وَهَكَذَا إِلَى صحابيين أَو رَوَاهُ عَن كل من الصحابيين اثْنَان وَعَن كل مِنْهُمَا اثْنَان ثمَّ عَن كل من هذَيْن الْإِثْنَيْنِ اثْنَان وَهَكَذَا وَإِن ورد فِي بعض الْمَوَاضِع من سَنَد كل وَاحِد مِنْهُمَا رِوَايَة أَكثر من اثْنَيْنِ عَن أحد اثْنَيْنِ وَجَمَاعَة آخَرين عَن الآخر
وَلَيْسَ شَرطه شرطا للصحيح خلافًا لمن زَعمه
فصل فِي الْغَرِيب هُوَ مَا ينْفَرد بروايته وَاحِد فِي أَي مَوضِع كَانَ الإنفراد من السَّنَد بعد الصَّحَابِيّ وَهَذَا هُوَ الْغَرِيب من جِهَة الْمَتْن والسند مَعًا
فَإِن كَانَت الغرابة فِي التَّابِعِيّ سَوَاء كَانَت فِيهِ فَقَط أَو فِيهِ وفيمن يَلِيهِ فَقَط أَو فِي جَمِيع من بعد الصَّحَابِيّ أَو أَكْثَره سمي الحَدِيث بالفرد الْمُطلق
وَإِن كَانَت فِيمَن بعده إِمَّا فِي أثْنَاء السَّنَد أَو فِي آخِره سمي بالفرد النسبي
একদল সাহাবী (صحابة) কর্তৃক বর্ণিত, যা এককভাবে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না; ফলে এটি মুতাওয়াতির (متواتر) এর পরিপন্থী। এটি ইবনুত সালাহ-এর মতের বিপরীত, কারণ তিনি একে মুতাওয়াতির অপেক্ষা ব্যাপক অর্থবোধক গণ্য করেছেন।
একদল ফকিহ ইমামদের মতে এটিই মুস্তাফিদ (مستفيض)। বলা হয়ে থাকে যে, মুস্তাফিদ (مستفيض) হলো যার উভয় প্রান্ত ও মধ্যবর্তী স্তরের বর্ণনাকারী সংখ্যা সমান হয়। আর মাশহুর (مشهور) এর চেয়েও ব্যাপক। সাধারণ মানুষের মুখে যা সাধারণভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে তাকেও মাশহুর (مشهور) বলা হয়।
আজিজ (عزيز) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ আজিজ হলো যা অন্তত দুইজন থেকে অন্তত দুইজন বর্ণনা করেছেন; এভাবে যে, প্রত্যেক স্তর থেকে দুইজন করে এবং এভাবে দুইজন সাহাবী (صحابيين) পর্যন্ত ধারাটি পৌঁছেছে। অথবা এভাবে যে, দুইজন সাহাবী (صحابيين) প্রত্যেকের নিকট থেকে দুইজন করে এবং তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে পুনরায় দুইজন করে বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকের সনদের (سند) কোনো স্তরে একজনের নিকট থেকে দুইজনের বেশি বর্ণনাকারী থাকে এবং অন্যজনের নিকট থেকে একদল বর্ণনাকারী থাকে।
এটি সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য কোনো শর্ত নয়, যা কেউ কেউ দাবি করেছেন তার বিপরীতে।
গারিব (غريب) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ গারিব হলো সেই হাদিস যার বর্ণনায় সাহাবী (صحابي) পরবর্তী সনদের (سند) যেকোনো স্তরে কোনো একজন বর্ণনাকারী একক হয়ে যান। এটি মতন (متن) ও সনদ (سند) উভয় দিক থেকেই গারিব (غريب)।
যদি এই একক হওয়া বা গারাবাত (غرابة) তাবিঈ (تابعي) এর স্তরে হয়—চাই তা কেবল তাঁর স্তরেই হোক, কিংবা তাঁর ও তাঁর পরবর্তী স্তরে হোক, অথবা সাহাবী (صحابي) পরবর্তী সকল স্তরে বা অধিকাংশ স্তরেই হোক—তবে সেই হাদিসকে ফারদ মুতলাক (فرد مطلق) বলা হয়।
আর যদি এই একাকীত্ব তাবিঈর পরবর্তী স্তরে অর্থাৎ সনদের (سند) মাঝখানে অথবা শেষে হয়, তবে তাকে ফারদ নিসবি (فرد نسبي) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
وَإِن كَانَ الحَدِيث قبل عروضها لَهُ عَزِيزًا أَو مَشْهُورا يقل إِطْلَاق الْفَرد عَلَيْهِ كَمَا يقل إِطْلَاق الْغَرِيب على الْفَرد الْمُطلق وَإِن رادف الْفَرد والغريب اصْطِلَاحا
وَلَهُم مَا هُوَ غَرِيب من جِهَة السَّنَد دون الْمَتْن وَهُوَ مَا يكون مَشْهُورا بِرِوَايَة جمَاعَة من الصَّحَابَة فينفرد ثِقَة بروايته عَن صَحَابِيّ آخر لَا يعرف هُوَ من رِوَايَته إِلَّا من طَرِيق ذَلِك الثِّقَة
وَأما عَكسه فَلَا وجود لَهُ
هَذَا فِي التفرد بِالنِّسْبَةِ إِلَى شخص معِين وَقد يكون بِالنِّسْبَةِ إِلَى أهل بلد معِين كَأَن يُقَال هُوَ من أَفْرَاد الْكُوفِيّين فَإِن أَرَادَ الْقَائِل أَنه رَوَاهُ وَاحِد مِنْهُم فَهُوَ من الْفَرد بِالنِّسْبَةِ إِلَى شخص معِين
فصل وَكلهَا سوى الْمُتَوَاتر آحَاد وفيهَا
المقبول وَهُوَ مَا رجح صدق الْمخبر بِهِ
والمردود وَهُوَ مَا يرجح كذب الْمخبر بِهِ
وَمَا يتَوَقَّف فِي قبُوله ورده لتوقف الِاسْتِدْلَال بهَا على الْبَحْث عَن أَحْوَال رواتها بِخِلَاف الْمُتَوَاتر فكله مَقْبُول لعدم توقف الِاسْتِدْلَال بِهِ على الْبَحْث عَن أَحْوَال رُوَاته
فصل قَالَ قَاضِي الْقُضَاة وَقد يَقع فِي أَخْبَار الْآحَاد
আর যদি এই বৈশিষ্ট্যটি ঘটার আগে হাদিসটি দুর্লভ (عزيز) অথবা প্রসিদ্ধ (مشهور) হয়ে থাকে, তবে তার উপর একক (فرد) শব্দের প্রয়োগ কমে যায়, যেমনটি পরম একক (الفرد المطلق)-এর ক্ষেত্রে অপরিচিত (غريب) শব্দের প্রয়োগ কমে যায়; যদিও পরিভাষাগতভাবে একক (فرد) এবং অপরিচিত (غريب) সমার্থক।
মুহাদ্দিসগণের নিকট এমন হাদিসও রয়েছে যা মূলপাঠ (متن)-এর পরিবর্তে সনদের (سند) দিক থেকে অপরিচিত (غريب); আর তা হলো যা একদল সাহাবীর বর্ণনায় প্রসিদ্ধ (مشهور), কিন্তু একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী অন্য একজন সাহাবী থেকে তা বর্ণনায় একক হয়ে যান, যা সেই নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির মাধ্যম ছাড়া ওই সাহাবীর বর্ণনা হিসেবে জানা যায় না।
আর এর বিপরীতটির কোনো অস্তিত্ব নেই।
এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রেক্ষিতে একক হওয়া। আবার কখনো কখনো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রেক্ষিতেও হতে পারে, যেমন বলা হয়: 'এটি কুফাবাসীদের একক (أفراد) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত'। যদি বক্তা এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেন যে তাদের মধ্য থেকে কেবল একজন এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তা নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রেক্ষিতে একক (فرد) হওয়ার অন্তর্ভুক্ত।
পরিচ্ছেদ: মুতাওয়াতির (متواتر) ব্যতীত সব হাদিসই আহাদ (آحاد) এর মধ্যে রয়েছে:
গ্রহণযোগ্য (مقبول), আর তা হলো যার বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা প্রবলভাবে প্রমাণিত হয়।
বর্জনীয় (مردود), আর তা হলো যার বর্ণনাকারীর মিথ্যাচার প্রবলভাবে প্রমাণিত হয়।
এবং এমন কিছু যার গ্রহণ বা বর্জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়; কারণ সেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করা বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসের বিষয়টি ভিন্ন; তার সবটুকুই গ্রহণযোগ্য (مقبول), কারণ এর দ্বারা দলিল পেশ করা বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল নয়।
পরিচ্ছেদ: কাযিউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) বলেছেন আর আহাদ (آحاد) সংবাদসমূহের মধ্যে কখনো কখনো এমনটি ঘটে থাকে—
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
مَا يُفِيد الْعلم النظري على الْمُخْتَار وعنى بِهِ مَا احتف بالقرائن وَجعله أنواعا
مِنْهَا مَا أخرجه الشَّيْخَانِ فِي صَحِيحَيْهِمَا من أَخْبَار الْآحَاد مِمَّا لم ينتقده أحد من الْحفاظ وَلَا / وَقع التجاذب بَين مدلوليه حَتَّى حصل الْإِجْمَاع على تَسْلِيم صِحَّته
وَمِنْهَا الْمَشْهُور إِذا كَانَت لَهُ طرق متباينة سَالِمَة من ضعف الروَاة والعلل
وَمِنْهَا المسلسل بالأئمة الْحفاظ المتقنين حَيْثُ لَا يكون غَرِيبا كالحديث الَّذِي رَوَاهُ أَحْمد بن حَنْبَل مثلا ويشاركه فِيهِ غَيره عَن الشَّافِعِي وَفِيه غَيره عَن مَالك بن أنس
وَالْمُخْتَار عندنَا معشر الْحَنَفِيَّة خلاف هَذَا الْمُخْتَار حَتَّى إِن خبر كل وَاحِد فَهُوَ مُفِيد للظن وَإِن تفاوتت طَبَقَات الظنون قُوَّة وضعفا
فصل فِي الصَّحِيح وَالْحسن لذاته وَلغيره اعْلَم أَن الصَّحِيح لذاته هُوَ خبر الْوَاحِد الْمُتَّصِل السَّنَد بِنَقْل عدل تَامّ الضَّبْط غير مُعَلل بقادح وَلَا شَاذ
পছন্দনীয় মত (المختار) অনুযায়ী যা তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহ (القرائن) দ্বারা পরিবেষ্টিত, এবং তিনি একে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করেছেন।
তার মধ্যে রয়েছে যা শায়খাইন (ইমাম বুখারি ও মুসলিম) তাদের সহিহদ্বয়ে একক বর্ণনা (أخبار الآحاد) থেকে সংকলন করেছেন, যেগুলোর ওপর হাফিজদের (الحفاظ) কেউ সমালোচনা করেননি এবং যেগুলোর অর্থের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য ঘটেনি, এমনকি এর বিশুদ্ধতা (صحة) মেনে নেয়ার ওপর ঐক্যমত (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আরও রয়েছে প্রসিদ্ধ (المشهور) হাদিস, যখন তার এমন ভিন্ন ভিন্ন সূত্র (طرق) থাকে যা বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা (ضعف) এবং ত্রুটি (العلل) থেকে মুক্ত থাকে।
আরও রয়েছে হাফিজ (الحفاظ) ও সুনিপুণ (المتقنين) ইমামগণের মাধ্যমে পরস্পর পরম্পরাযুক্ত (المسلسل) হাদিস, যেখানে সেটি অদ্ভুত (غريبا) নয়; যেমন উদাহরণস্বরূপ সেই হাদিস যা আহমদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন এবং শাফিঈ থেকে বর্ণনায় অন্যরাও তার সাথে শরিক রয়েছেন, আর শাফিঈ বর্ণনা করেছেন মালেক ইবনে আনাস থেকে।
আমাদের হানাফি সম্প্রদায়ের নিকট পছন্দনীয় মত (المختار) হলো এই মতের বিপরীত, এমনকি প্রত্যেক একক সংবাদ (خبر الواحد) প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে, যদিও প্রবল ধারণার স্তরসমূহ শক্তি (قوة) ও দুর্বলতার (ضعفا) দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
স্বকীয় বিশুদ্ধ (الصحيح لذاته), স্বকীয় সুন্দর (الحسن لذاته) এবং অন্যের কারণে সুন্দর (الحسن لغيره) বিষয়ক পরিচ্ছেদ জেনে রাখুন যে, স্বকীয় বিশুদ্ধ (الصحيح لذاته) হাদিস হলো এমন একক সংবাদ (خبر الواحد) যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (المتصل السند), যা বর্ণনা করেছেন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ মুখস্থশক্তিসম্পন্ন (تام الضبط) ব্যক্তি এবং যা কোনো ক্ষতিকর ত্রুটিযুক্ত (معلل) ও ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) নয়।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
ونعني بتام الضَّبْط من يكون لَا بِحَيْثُ يُقَال إِنَّه قد يضْبط وَقد لَا يضْبط
وبالضبط ضبط صدر وَهُوَ أَن يثبت الرَّاوِي مَا سَمعه بِحَيْثُ يتَمَكَّن من استحضاره مَتى شَاءَ وَضبط كتاب وَهُوَ صيانته لَدَيْهِ مُنْذُ سمع وَصَححهُ إِلَى أَن يُؤَدِّي مِنْهُ
فَإِن خف الضَّبْط وَالصِّفَات الْأُخْرَى فِيهِ فَهُوَ الْحسن لذاته
فَإِن تعدّدت طرق الْحسن لذاته بمجيئه من طَرِيق آخر أقوى أَو مُسَاوِيَة أَو طرق أُخْرَى وَلَو منحطة فَهُوَ الصَّحِيح لغيره
وَأما الْحسن لغيره فَهُوَ الْوَاحِد الَّذِي يرويهِ من يكون سيء الْحِفْظ وَلَو مختلطا لم يتَمَيَّز مَا حدث بِهِ قبل الِاخْتِلَاط أَو يكون مَسْتُورا أَو مُرْسلا لحديثه أَو مدلسا فِي رِوَايَته من غير معرفَة الْمَحْذُوف فيهمَا فيتابع أيا كَانَ مِنْهُم من هُوَ مثله أَو فَوْقه فِي الدرجَة من السَّنَد وستعرف الْمُتَابَعَة
وَقيل الْحسن لغيره مَا رَوَاهُ المستور الَّذِي توقف فِيهِ ثمَّ قَامَت قرينَة رجحت جَانب قبُوله لمجيء مروية من طَرِيق أُخْرَى
فصل فِي تفَاوت رتب مُطلق الصَّحِيح وَالْحسن أما الْحسن فَالَّذِي صحّح إِسْنَاده عدَّة من الْحفاظ ونعتوه بِأَنَّهُ من أدنى مَرَاتِب الْإِسْنَاد الصَّحِيح
পরিপূর্ণ স্মৃতিশক্তি (تام الضبط) বলতে আমরা তাকেই বুঝাই, যার সম্পর্কে এমনটি বলা যায় না যে—সে কখনও নির্ভুল বর্ণনা করে আবার কখনও ভুল করে।
স্মৃতিশক্তি (الضبط) হলো ‘স্মৃতিগত সংরক্ষণ’ (ضبط صدر), আর তা হলো বর্ণনাকারী যা শুনেছেন তা এমনভাবে দৃঢ়ভাবে গেঁথে নেওয়া যাতে তিনি যখনই চান তা উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। আর ‘লৈখিক সংরক্ষণ’ (ضبط كتاب) হলো—তিনি যা শুনেছেন এবং যা শুদ্ধ করেছেন তা অন্যের কাছে বর্ণনার সময় পর্যন্ত নিজের কাছে সুরক্ষিত রাখা।
যদি স্মৃতিশক্তি (الضبط) এবং অন্যান্য গুণাবলির ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা (خف) থাকে, তবে তা হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته)।
যদি হাসান লি-যাতিহি (الحسن لذاته)-এর একাধিক সূত্র বিদ্যমান থাকে—অর্থাৎ অন্য কোনো শক্তিশালী (أقوى), সমপর্যায়ের (مساوية) বা নিম্নমানের হওয়া সত্ত্বেও একাধিক সূত্রের (طرق) মাধ্যমে বর্ণিত হয়—তবে তা সহিহ লি-গাইরিহি (الصحيح لغيره)।
আর হাসান লি-গাইরিহি (الحسن لغيره) হলো এমন একক বর্ণনা, যা এমন কেউ বর্ণনা করেন যার স্মৃতিশক্তি মন্দ (سيء الحفظ), অথবা তিনি ‘মুখতালিত’ (স্মৃতিভ্রমকারী) (مختلطا) যার মস্তিষ্ক বিকৃতির পূর্বের বর্ণনা পৃথক করা সম্ভব হয়নি; কিংবা বর্ণনাকারী ‘মাস্তুর’ (অজ্ঞাত পরিচয়) (مستورا) হন, অথবা হাদিসটি মুরসাল (مرسلا) হয়, কিংবা তিনি তার বর্ণনায় মুদাল্লাস (مدلسا) করেন যেখানে উহ্য ব্যক্তি সম্পর্কে জানা যায় না। এমতাবস্থায় এই বর্ণনাকারীদের যে কেউ যদি তার সমপর্যায়ের কিংবা সনদের (السند) স্তরে তার চেয়ে উচ্চপর্যায়ের কোনো বর্ণনাকারী দ্বারা সমর্থিত (يتابع) হন। আর শীঘ্রই আপনি ‘মুতাবায়াত’ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) (المتابعة) সম্পর্কে জানতে পারবেন।
বলা হয়েছে যে, হাসান লি-গাইরিহি (الحسن لغيره) হলো সেই বর্ণনা যা এমন কোনো ‘মাস্তুর’ (অপ্রকাশিত অবস্থা) (المستور) ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, অতঃপর অন্য কোনো সূত্র (طريق) থেকে হাদিসটি আসার কারণে তার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়ার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পরিচ্ছেদ: সামগ্রিকভাবে সহিহ (الصحيح) ও হাসান (الحسن)-এর স্তরের তারতম্য প্রসঙ্গে হাসান (الحسن) হলো সেই বর্ণনা, যার সনদকে (إسناده) একদল হাফিজ (الحفاظ) সহিহ (صحح) বলেছেন এবং তারা একে সহিহ সনদের (الإسناد الصحيح) সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥١)
وَإِن حسنه الْأَكْثَرُونَ مِنْهُم فَهُوَ مقدم على مَا لم يصحح إِسْنَاده أحد
وَمَا لم يصحح إِسْنَاده أحد وَلم يضعف إِسْنَاده بَعضهم فَهُوَ مقدم على خِلَافه
وَأما الصَّحِيح فَالَّذِي أطلق بعض الْأَئِمَّة على إِسْنَاده أَنه أصح الْأَسَانِيد وَإِن كَانَ الْمُعْتَمد عدم إِطْلَاق ذَلِك لترجمة مُعينَة مِنْهَا فَهُوَ مقدم على خِلَافه
وخلافه إِن كَانَت فِيهِ صِفَات الصَّحِيح كلهَا بِلَا خلاف فَهُوَ مقدم على مَا هِيَ فِيهِ مَعَ الْخلاف فِي وجود بَعْضهَا أَو مَعَ الْخلاف فِي كَونه شرطا للصِّحَّة بعد الِاتِّفَاق على عَدمه نَحْو الِاتِّصَال بِالنِّسْبَةِ إِلَى من يصحح مُرْسل أهل الْقُرُون الثَّلَاثَة وهم أَصْحَابنَا الْحَنَفِيَّة وَنَحْو الضَّبْط بِالنِّسْبَةِ إِلَى من يصحح مَا نَقله عدل وَإِن لم يكن ضابطا
وَأَيْضًا مَا اتّفق الشَّيْخَانِ على تَخْرِيجه فِي صَحِيحَيْهِمَا فَهُوَ مقدم على مَا انْفَرد بِهِ أَحدهمَا فِي صَحِيحه
- وَمَا انْفَرد بِهِ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه
- فَهُوَ مقدم على مَا انْفَرد بِهِ مُسلم فِي صَحِيحه لوَجْهَيْنِ
أَحدهمَا أَنه كَانَ أجل من مُسلم فِي الْعُلُوم وَأعرف بصناعة الحَدِيث مِنْهُ وَأَن مُسلما تِلْمِيذه وخريجه وَلم يزل يَسْتَفِيد مِنْهُ وَيتبع آثاره
আর যদি তাদের অধিকাংশ এটিকে হাসান (حسن) বলে গণ্য করেন, তবে তা এমন হাদিসের ওপর প্রাধান্য পাবে যার সনদ (إسناد) কেউ সহিহ (صحيح) বলেননি।
আর যার সনদ (إسناد) কেউ সহিহ (صحيح) বলেননি এবং তাদের কেউ যার সনদকে (إسناد) দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেননি, তা এর বিপরীতটির ওপর প্রাধান্য পাবে।
আর সহিহ (صحيح) হাদিসের ক্ষেত্রে, কোনো কোনো ইমাম যার সনদ (إسناد) সম্পর্কে 'সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ' (أصح الأسانيد) পরিভাষাটি প্রয়োগ করেছেন—যদিও নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনাক্রমের (ترجمة) জন্য এটি ঢালাওভাবে বলা হয় না—তা এর বিপরীতটির ওপর প্রাধান্য পাবে।
আর এর বিপরীতটি, যদি তাতে সহিহ (صحيح) হওয়ার সকল গুণাবলী সর্বসম্মতভাবে বিদ্যমান থাকে, তবে তা এমন হাদিসের ওপর প্রাধান্য পাবে যেটির কোনো কোনো গুণের উপস্থিতির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, অথবা যে গুণটি না থাকার বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ার পর সেটি বিশুদ্ধতার (صحة) শর্ত হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। যেমন সেই ব্যক্তিদের নিকট সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال), যারা প্রথম তিন যুগের মনীষীদের মুরসাল (مرسل) হাদিসকে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করেন—আর তারা হলেন আমাদের হানাফি মাযহাবের ইমামগণ; অথবা যেমন সেই ব্যক্তিদের নিকট স্মৃতিশক্তির (ضبط) বিষয়, যারা কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির বর্ণিত হাদিসকে সহিহ (صحيح) বলেন, যদিও বর্ণনাকারী প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) না হন।
অনুরূপভাবে, শাইখাইন যে হাদিসটি তাঁদের উভয় সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তা এমন হাদিসের ওপর প্রাধান্য পাবে যা তাঁদের কোনো একজন এককভাবে তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
- আর ইমাম বুখারি এককভাবে তাঁর সহিহ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন,
- তা ইমাম মুসলিমের এককভাবে বর্ণিত হাদিসের ওপর দুটি কারণে প্রাধান্য পাবে:
প্রথমত, তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের চেয়ে অধিক মহান এবং হাদিস শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্ব সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক প্রজ্ঞাবান ছিলেন। তাছাড়া ইমাম মুসলিম ছিলেন তাঁর ছাত্র ও শিষ্য; তিনি সর্বদা তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
وَثَانِيهمَا أَن الصِّفَات الَّتِي تَدور عَلَيْهَا الصِّحَّة فِي كتاب البُخَارِيّ أتم مِنْهَا فِي كتاب مُسلم وَأسد وَشَرطه فِيهَا أقوى وَأَشد
أما رجحانه من حَيْثُ الِاتِّصَال فلاشتراطه ثُبُوت لِقَاء الرَّاوِي لمن روى عَنهُ وَلَو مرّة بِخِلَاف مُسلم فَإِنَّهُ اكْتفى بِإِمْكَان اللِّقَاء
وَأما من حَيْثُ الْعَدَالَة والضبط فَلِأَن من تكلم فيهم من رجال صَحِيحه أقل بِخِلَاف مُسلم فَإِن من تكلم فيهم من رجال صَحِيحه أَكثر وَلِأَنَّهُ لم يكثر من إِخْرَاج حَدِيث من تكلم فيهم بِخِلَاف مُسلم وَلِأَن أَكثر مَا انْفَرد بِهِ مِنْهُم هم من شُيُوخه الَّذين أَخذ عَنْهُم ومارس حَدِيثهمْ بِخِلَاف مُسلم وَلما علم من أَنه إِنَّمَا كَانَ يخرج حَدِيث من كَانَ متقنا ملازما لمن أَخذ عَنهُ مُلَازمَة طَوِيلَة دون حَدِيث من يَتْلُو هَذِه الطَّبَقَة فيهمَا فِي المتابعات إِلَّا حَيْثُ تقوم الْقَرِينَة لضبطه لَهُ بِخِلَاف مُسلم
وَأما من حَيْثُ عدم الشذوذ وَالتَّعْلِيل فَلِأَن مَا انتقد عَلَيْهِ من الْأَحَادِيث أقل بِخِلَاف مُسلم
وَادّعى الزين قَاسم أَن النَّقْد الْمَذْكُور غير مُسلم وَأَنه لَيْسَ كُله من الحيثيتين
وَمِنْهُم من قدم صَحِيح مُسلم فِي الصِّحَّة على صَحِيح البُخَارِيّ وَاسْتدلَّ لَهُ بقول الْحَافِظ أبي عَليّ النَّيْسَابُورِي
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, বিশুদ্ধতার (الصحة) ভিত্তি হিসেবে যে গুণাবলি সহিহ বুখারি গ্রন্থে বিদ্যমান, তা সহিহ মুসলিমের তুলনায় অধিকতর নিখুঁত ও সুদৃঢ়। আর এক্ষেত্রে বুখারির শর্ত (شرطه) অধিক শক্তিশালী ও কঠোর।
বর্ণনাসূত্রের নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) দিক থেকে এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো, ইমাম বুখারি বর্ণনাকারী (الراوي) ও যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন, তাদের মধ্যে অন্তত একবার সাক্ষাৎ (لقاء) প্রমাণিত হওয়াকে শর্ত হিসেবোরোপ করেছেন; পক্ষান্তরে ইমাম মুসলিম শুধুমাত্র সাক্ষাতের সম্ভাবনাকে (إمكان اللقاء) যথেষ্ট মনে করেছেন।
আর ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) ও স্মৃতিশক্তির নির্ভুলতার (الضبط) দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো, সহিহ বুখারির বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্যে যাদের সমালোচনা করা হয়েছে (تكلم فيهم), তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম; যা সহিহ মুসলিমের বিপরীত, কারণ সেখানে সমালোচিত বর্ণনাকারীর সংখ্যা অধিক। তাছাড়া ইমাম বুখারি সমালোচিত বর্ণনাকারীদের থেকে অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনা করেননি, যা ইমাম মুসলিম করেছেন। পাশাপাশি, বুখারি তাদের মধ্য থেকে যাদের বর্ণনা এককভাবে গ্রহণ করেছেন, তারা মূলত তার সেসব শিক্ষক ছিলেন যাদের নিকট থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাদের বর্ণিত হাদিস নিয়ে দীর্ঘ চর্চা করেছেন, যা ইমাম মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এছাড়া এটি সুবিদিত যে, তিনি কেবল সেসব বর্ণনাকারীর হাদিস গ্রহণ করতেন যারা বর্ণনাসূত্রের উস্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন এবং যারা সুদক্ষ (متقنا) ছিলেন। সমান্তরাল বর্ণনার (المتابعات) ক্ষেত্রেও তিনি তাদের পরবর্তী স্তরের (الطبقة) বর্ণনাকারীদের হাদিস গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না তাদের নির্ভুলতার (ضبطه) পক্ষে কোনো স্পষ্ট আলামত বা প্রমাণ (القرينة) পাওয়া যায়, যা ইমাম মুসলিমের পদ্ধতির বিপরীত।
আর অস্বাভাবিকতা (الشذوذ) ও সুপ্ত ত্রুটি (التعليل) মুক্ত হওয়ার দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো, বুখারির যেসব হাদিসের ওপর সমালোচনা করা হয়েছে তার সংখ্যা ইমাম মুসলিমের চেয়ে কম।
জয়ন কাসিম দাবি করেছেন যে, উল্লিখিত সমালোচনাগুলো প্রশ্নাতীত নয় এবং এর সবগুলো কেবল এই দুই প্রেক্ষিত থেকে করা হয়নি।
তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা বিশুদ্ধতার (الصحة) বিচারে সহিহ মুসলিমকে সহিহ বুখারির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং হাফিজ আবু আলী আন-নাইসাবুরীর উক্তিকে এর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
مَا تَحت أَدِيم السَّمَاء أصح من كتاب مُسلم وَقَول مسلمة بن قَاسم حَيْثُ ذكر صَحِيح مُسلم لم يضع أحد مثله
ورد الأول بِأَنَّهُ إِنَّمَا نفى وجود كتاب أصح من كتاب مُسلم
আকাশের নিচে মুসলিম-এর কিতাব অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) কোনো কিতাব নেই এবং মাসলামাহ ইবনে কাসিমের উক্তি যেখানে তিনি সহিহ মুসলিম সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, এর মতো কেউ কিছু রচনা করতে পারেনি।
প্রথম উক্তিটির উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, এর মাধ্যমে কেবলমাত্র মুসলিম-এর কিতাব অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) কোনো কিতাবের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
وَلم ينف المساوة وَلَو سلم فمعارض بقول شَيْخه الإِمَام أبي عبد الرَّحْمَن النَّسَائِيّ مَا فِي هَذِه الْكتب أَجود من كتاب مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل إِذْ الظَّاهِر أَنه أَرَادَ الأجودية فِي الصِّحَّة لَا فِي غَيرهَا وَلَو سلم فَالْقَوْل بِتَقْدِيم صَحِيح البُخَارِيّ فِي الصِّحَّة على صَحِيح مُسلم هُوَ قَول الْجُمْهُور
(وَالْقَوْل مَا قَالَت حذام
… )
তিনি সমতাকে নাকচ করেননি; আর যদি তা স্বীকার করে নেওয়াও হয়, তবে তা তাঁর উস্তাদ ইমাম আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ীর সেই উক্তির পরিপন্থী যে, "এই কিতাবসমূহের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের কিতাবের চেয়ে অধিক উৎকৃষ্ট আর কিছু নেই।" কেননা বাহ্যত তিনি এর দ্বারা বিশুদ্ধতা (صحة)-এর বিচারে শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিয়েছেন, অন্য কোনো দিক থেকে নয়। আর যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবে বিশুদ্ধতা (صحة)-এর ক্ষেত্রে সহিহ মুসলিমের ওপর সহিহ বুখারিকে অগ্রাধিকার প্রদান করা জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলিমদের অভিমত।
(আর চূড়ান্ত কথা হলো হাজাম যা বলেছে
… )
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
ورد الثَّانِي بِأَنَّهُ إِن أَرَادَ أَن أحدا لم يضع مثله فِي جودة التَّرْكِيب وَحسن التَّهْذِيب فَمُسلم لكنه لم يلْزم مِنْهُ تَقْدِيمه فِي الصِّحَّة على صَحِيح البُخَارِيّ وَإِن أَرَادَ أَن أحدا لم يضع مثله فِي الصِّحَّة فَمَمْنُوع
- وَأما مَا كَانَ على شَرطهمَا مِمَّا لم يخرجَاهُ فِي صَحِيحَيْهِمَا
দ্বিতীয় আপত্তির উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যদি এর দ্বারা বোঝাতে চান যে, রচনার গুণগত মান এবং পরিমার্জনের উৎকর্ষের দিক থেকে কেউ এর সমতুল্য কিছু রচনা করেননি, তবে তা স্বীকৃত (مسلم); কিন্তু এর দ্বারা বিশুদ্ধতার (صحة) বিচারে সহীহ বুখারীর ওপর একে অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক হয় না। আর তিনি যদি এর দ্বারা বোঝাতে চান যে, বিশুদ্ধতার (صحة) দিক থেকে কেউ এর সমতুল্য কিছু রচনা করেননি, তবে তা অগ্রহণযোগ্য (ممنوع)।
- আর যা তাঁদের উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে তা সংকলন করেননি।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
- فمقدم على مَا كَانَ على شَرط البُخَارِيّ
- وَهُوَ مقدم على مَا كَانَ على شَرط مُسلم
- وَهُوَ مقدم على مَا لَيْسَ على شَرطهمَا اجتماعا وَلَا انفرادا
ونعني بشرطهما اجتماعا أَن يكون رُوَاة الحَدِيث رُوَاة كِتَابَيْهِمَا مَا بَاقِي شُرُوط الصَّحِيح على الصَّحِيح
لَكِن مَا كَانَ على شَرطهمَا وَلَيْسَ لَهُ عله فَهُوَ فَوق مَا انْفَرد بِهِ البُخَارِيّ وَكَذَا مُسلم فِي صَحِيحه على الْمُخْتَار
وَذهب قَاضِي الْقُضَاة إِلَى أَن مَا كَانَ على شَرطهمَا فَهُوَ دونه أَو مثله
قَالَ وَإِنَّمَا قلت أَو مثله لما عِنْد مُسلم جِهَة تَرْجِيح أَيْضا من حَيْثُ أَنه فِي الْكتاب المذكورفتعادلا
- সুতরাং এটি ইমাম বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী বর্ণিত হাদিসের ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য (مقدم)।
- এবং এটি ইমাম মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী বর্ণিত হাদিসের ওপরও অগ্রাধিকারযোগ্য (مقدم)।
- আর যা যৌথভাবে (اجتماعا) বা পৃথকভাবে (انفرادا) তাদের শর্ত (شرط) অনুযায়ী নয়, তার ওপর এটি অগ্রাধিকারযোগ্য (مقدم)।
উভয়ের যৌথ শর্ত (شرط) বলতে আমাদের উদ্দেশ্য হলো—হাদিসের বর্ণনাকারীগণ (رواة) যেন তাদের উভয় কিতাবেরই বর্ণনাকারী (رواة) হন এবং সহিহ (صحيح) হওয়ার বাকি শর্তাবলিও সহিহ (صحيح) হাদিসের মানদণ্ড অনুযায়ী বিদ্যমান থাকে।
তবে যা উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী এবং যাতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) নেই, তা পছন্দনীয় (مختار) মতানুসারে ইমাম বুখারি কিংবা ইমাম মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন তার চেয়েও উচ্চতর।
আর প্রধান বিচারপতি (قاضي القضاة) এই মত পোষণ করেছেন যে, যা উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী তা এর চেয়ে নিম্নমানের অথবা এর সমপর্যায়ের।
তিনি বলেন, আমি "অথবা এর সমপর্যায়ের" কথাটি একারণে বলেছি যে, ইমাম মুসলিমের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকারের (ترجيح) একটি দিক রয়েছে, যেহেতু এটি উল্লিখিত কিতাবে রয়েছে, ফলে উভয়টি সমান হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
ورده الزين قَاسم بِأَن قُوَّة الحَدِيث إِنَّمَا هِيَ بِالنّظرِ إِلَى رِجَاله لَا بِالنّظرِ إِلَى كَونه فِي كتاب كَذَا
এবং জাইন কাসিম এটি খণ্ডন করেছেন এই বলে যে, হাদিসের শক্তি (قوة) মূলত তার বর্ণনাকারীদের (رجال) পর্যালোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, কোনো নির্দিষ্ট কিতাবে তা বিদ্যমান থাকার ওপর ভিত্তি করে নয়।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
فَهَذِهِ سَبْعَة أَقسَام مُتَفَاوِتَة فِي الصِّحَّة عِنْد قَاضِي الْقُضَاة وَأَعْلَى الثَّلَاثَة الأول أَولهَا كَمَا أَن أَعلَى الْأَرْبَعَة الْأَخِيرَة أَولهَا
وَلَو رجح قسم من هَذِه السَّبْعَة على مَا فَوْقه بمرجح قدم على مَا فَوْقه
كَمَا لَو كَانَ الحَدِيث مِمَّا انْفَرد بِهِ مُسلم وَهُوَ مَشْهُور مُفِيد للظن فحفته قرينَة بهَا أَفَادَ الْعلم فَقدم على فَرد مُطلق انْفَرد البُخَارِيّ لبَقَائه على إِفَادَة الظَّن دون ذَاك
أَو كَانَ مِمَّا لم يخرجَاهُ وَلَكِن كَانَ من تَرْجَمَة وصفت بِكَوْنِهَا أصح الْأَسَانِيد فَقدم على مَا انْفَرد بِهِ أَحدهمَا مثلا وَلم يكن مِنْهُمَا لَا سِيمَا إِذا كَانَ فِي إِسْنَاده من فِيهِ مقَال
এগুলো হলো বিশুদ্ধতার (الصحة) দিক থেকে তারতম্যপূর্ণ সাতটি স্তর যা প্রধান বিচারপতির (ক্বাযিল কুযাত) নিকট স্বীকৃত। এই সাতটি স্তরের প্রথম তিনটির মধ্যে প্রথমটি যেমন উচ্চতর, তেমনি শেষ চারটির মধ্যেও প্রথমটিই উচ্চতর।
যদি এই সাতটি স্তরের কোনো একটি বিভাগ তার উপরের কোনো বিভাগের তুলনায় কোনো বিশেষ প্রাবল্য দানকারী বিষয়ের কারণে অগ্রগণ্য হয়, তবে তাকে উপরের সেই বিভাগের চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
যেমন যদি কোনো হাদিস কেবল মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেন এবং তা প্রসিদ্ধ (مشهور) হওয়ার দরুন প্রবল ধারণা (ظن) প্রদানকারী হয়, অতঃপর তার সাথে এমন কোনো অনুষঙ্গ বা প্রমাণ যুক্ত হয় যার মাধ্যমে তা নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদানের স্তরে পৌঁছে যায়; তবে এটি বুখারি কর্তৃক এককভাবে বর্ণিত এমন নিরঙ্কুশ একক (فرد مطلق) হাদিসের ওপর প্রাধান্য পাবে যা কেবল প্রবল ধারণাই (ظن) প্রদান করে এবং ওই হাদিসটির মতো নিশ্চিত জ্ঞানের স্তরে পৌঁছায়নি।
অথবা হাদিসটি এমন হয় যা বুখারি ও মুসলিমের কেউ বর্ণনা করেননি, তবে তা এমন একটি বর্ণনাসূত্র বা তরজমার অন্তর্ভুক্ত যা বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হিসেবে বিশেষিত। এমতাবস্থায় এটি তাঁদের কোনো একজনের একক বর্ণনার ওপর প্রাধান্য পাবে, বিশেষত যদি সেই একক বর্ণনার সনদ (إسناد)-এ এমন কেউ থাকে যার সম্পর্কে সমালোচনা (مقال) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
فصل إِن وصف واصف حَدِيثا وَاحِدًا بِالصَّحِيحِ وَالْحسن مَعًا من غير عطف كَقَوْل التِّرْمِذِيّ وَغَيره حَدِيث حسن صَحِيح فَلَا إِشْكَال فِي الْجمع بَينهمَا على هَذَا الْوَجْه
لِأَنَّهُ إِذا كَانَ فَردا فلتردد الْمُجْتَهد فِي ناقله هَل اجْتمعت فِيهِ شُرُوط الصِّحَّة أَو الْحسن لوُقُوع الْخلاف بَين أهل الحَدِيث فِيهِ أناقل صَحِيح هُوَ أم ناقل حسن وعَلى هَذَا فَمَا قيل فِيهِ حسن صَحِيح فعلى حذف أَو فَهُوَ دون مَا قيل فِيهِ صَحِيح
وَإِن كَانَ غير فَرد فباعتبار إسنادين يَقْتَضِي أَحدهمَا صِحَّته وَالْآخر حسنه وعَلى هَذَا فَمَا قيل فِيهِ حسن صَحِيح فعلى حذف الْوَاو فَهُوَ فَوق مَا قيل فِيهِ صَحِيح إِذا كَانَ فَردا هَكَذَا قيل
وَأورد على الأول وُقُوع الْجمع بَينهمَا فِي فَرد قد جمع شُرُوط الصِّحَّة بالِاتِّفَاقِ وعَلى الثَّانِي وُقُوعه فِيمَا كلا إسناديه على شَرط الصَّحِيح
وَكَذَا لَا إِشْكَال فِي قَول التِّرْمِذِيّ فِي بعض الْأَحَادِيث حسن غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من هَذَا الْوَجْه مَعَ اشْتِرَاطه فِي تَعْرِيف الْحسن أَن يرْوى من غير وَجه لِأَن الْحسن الَّذِي اشْترط فِي تَعْرِيفه ذَلِك أَن يرْوى من غير وَجه لِأَن الْحسن الَّذِي اشْترط فِي تَعْرِيفه ذَلِك إِنَّمَا هُوَ مَا يَقُول فِيهِ حسن وَأما مَا يَقُول فِيهِ حسن مَعَ ذكر صفة أُخْرَى فَهُوَ لم يعرفهُ أصلا كَمَا لم يعرف مَا يَقُول فِيهِ صَحِيح أَو غَرِيب
فصل فِي زِيَادَة رَاوِي الصَّحِيح وَالْحسن هِيَ مَقْبُولَة مَا لم تقع مُخَالفَة لرِوَايَة من هُوَ أوثق مِنْهُ
পরিচ্ছেদ: যদি কোনো বর্ণনাকারী একটি একক হাদিসকে একই সাথে সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হিসেবে অভিহিত করেন কোনো সংযোজক অব্যয় (عطف) ব্যবহার না করে, যেমন ইমাম তিরমিজি ও অন্যদের বক্তব্য "হাদিসটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)"; তবে এই পদ্ধতিতে উভয় পরিভাষাকে একত্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা নেই।
কারণ, যদি হাদিসটি একক (فرد) হয়, তবে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মুজতাহিদের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে এমনটি ঘটে যে, সেখানে কি সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলি পূর্ণ হয়েছে নাকি হাসান (حسن) হওয়ার? কেননা মুহাদ্দিসগণের মধ্যে উক্ত বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যে, তিনি কি সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারী নাকি হাসান (حسن) হাদিসের বর্ণনাকারী। এই মতানুসারে, যে হাদিস সম্পর্কে "হাসান সহিহ (حسن صحيح)" বলা হয়েছে, সেখানে 'অথবা' (أو) শব্দটিকে উহ্য ধরা হয়। সুতরাং এটি কেবল "সহিহ (صحيح)" বলা হয়েছে এমন হাদিসের চেয়ে নিম্নমানের।
আর যদি হাদিসটি একক নয় (غير فرد) এমন হয়, তবে এটি দুটি সনদের (إسنادين) বিবেচনায় বলা হয়, যার একটি হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحيح) এবং অপরটি এর হাসান (حسن) হওয়াকে আবশ্যক করে। এই মতানুসারে, যে হাদিস সম্পর্কে "হাসান সহিহ (حسن صحيح)" বলা হয়েছে, সেখানে 'এবং' (و) অব্যয়টিকে উহ্য ধরা হয়। সুতরাং এটি কেবল "সহিহ (صحيح)" বলা হয়েছে এমন একক (فرد) হাদিসের চেয়ে উচ্চমানের; এমনটিই বলা হয়েছে।
প্রথম মতটির বিপক্ষে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এমন একক (فرد) হাদিসের ক্ষেত্রেও উভয় পরিভাষাকে একত্রে ব্যবহার করা হয়েছে যা সর্বসম্মতিক্রমে সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করে। আর দ্বিতীয় মতটির বিপক্ষে আপত্তি হলো, এটি এমন ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে যার উভয় সনদই সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
একইভাবে ইমাম তিরমিজি কর্তৃক কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে "হাসান গরিব (حسن غريب), আমরা এই সূত্র ছাড়া এটি জানি না" বলার মাঝেও কোনো অস্পষ্টতা নেই, যদিও তিনি হাসান (حسن) এর সংজ্ঞায় শর্ত দিয়েছেন যে তা একাধিক সূত্র (غير وجه) থেকে বর্ণিত হতে হবে। কারণ হাসান (حسن) এর যে সংজ্ঞায় তিনি এই শর্ত আরোপ করেছেন তা কেবল সেই সব হাদিসের ক্ষেত্রে যেখানে তিনি কেবল "হাসান (حسن)" বলেন। পক্ষান্তরে যেখানে তিনি "হাসান (حسن)" শব্দের সাথে অন্য কোনো গুণ উল্লেখ করেন, সেখানে তিনি হাসান (حسن) এর সেই শর্তযুক্ত সংজ্ঞাটি উদ্দেশ্য নেন না, যেমনটি তিনি "সহিহ (صحيح)" বা "গরিব (غريب)" এর সংজ্ঞায় উল্লেখ করেননি।
পরিচ্ছেদ: সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিসের বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) প্রসঙ্গে এটি গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যতক্ষণ না তা তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিপরীত হয়।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
وَإِطْلَاق كثير من الشَّافِعِيَّة القَوْل بِقبُول زِيَادَة الثِّقَة مَحْمُولَة على تقييدهم الْخَبَر المقبول بِأَن لَا يكون شاذا
وَلَيْسَ نَص إمَامهمْ حَيْثُ قَالَ وَيكون إِذا شرك أحدا من الْحفاظ لم يُخَالِفهُ فَإِن خَالفه فَوجدَ حَدِيثه أنقص كَانَ فِي ذَلِك دَلِيل على صِحَة مخرج حَدِيثه وَمَتى خَالف مَا وصفت أضرّ ذَلِك بحَديثه منافيا لإطلاقهم كَمَا ظن
زعما أَنه اقْتضى أَنه إِذا حَالف الْعدْل أحدا من الْحفاظ فَوجدَ حَدِيثه أَزِيد أضرّ ذَلِك بحَديثه فَدلَّ على أَن زِيَادَة الْعدْل عِنْده لَا يلْزم قبُولهَا مُطلقًا وَإِنَّمَا يلْزم قبُولهَا من الْعدْل الْحَافِظ لِأَن الْعدْل غير الثِّقَة الَّذِي هُوَ الْعدْل الضَّابِط مَعًا وَكَلَامه إِنَّمَا هُوَ فِي عدل لم يعرف ضَبطه وعَلى قِيَاس مَا سبق لَا تقبل زِيَادَة الضَّعِيف إِذا خَالَفت رِوَايَة الثِّقَة
هَذَا وَذهب بعض أَصْحَاب الحَدِيث إِلَى رد الزِّيَادَة مُطلقًا وَنقل عَن مُعظم أَصْحَاب / أبي حنيفَة رضي الله عنه
وَالْمُخْتَار عِنْد ابْن الساعاتي وَغَيره من الْحَنَفِيَّة انه إِذا انْفَرد
অনেক শাফিঈ (Shafi'i) বিদ্বানদের নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) গ্রহণ করার সাধারণ বক্তব্যটি মূলত গ্রহণযোগ্য (مقبول) সংবাদের ক্ষেত্রে তাদের এই শর্তারোপের ওপর ভিত্তি করে যে, সেটি যেন সংগতিহীন (شاذ) না হয়।
এবং তাদের ইমামের (ইমাম শাফিঈ) সুস্পষ্ট বক্তব্য তাদের এই সাধারণ মতের পরিপন্থী নয় যেমনটি ধারণা করা হয়েছে। কেননা তিনি বলেছেন: "যখন সে (বর্ণনাকারী) কোনো হাফেজ (الحفاظ) ব্যক্তির বর্ণনার অংশীদার হয় এবং তার বিরোধিতা না করে, তবে যদি সে বিরোধিতা করে এবং তার হাদিসটি সংক্ষিপ্ত পাওয়া যায়, তবে তা তার হাদিসের উৎসের বিশুদ্ধতার (صحة) দলিল হবে। আর যখনই সে আমার বর্ণিত নিয়মের বিরোধিতা করবে, তা তার হাদিসের জন্য ক্ষতিকর হবে।" যা তাদের সাধারণ বক্তব্যের পরিপন্থী বলে ধারণা করা হয়।
এই দাবি করা হয় যে, এর দ্বারা বোঝা যায় যখন কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি কোনো হাফেজ (الحفاظ) ব্যক্তির বিরোধিতা করে এবং তার হাদিসে অতিরিক্ত কিছু পাওয়া যায়, তবে তা তার হাদিসের জন্য ক্ষতিকর হবে। এটি নির্দেশ করে যে, তার নিকট ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) গ্রহণ করা নিঃশর্তভাবে আবশ্যক নয়; বরং তা কেবল হাফেজ (الحفاظ) ও ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির পক্ষ থেকেই গ্রহণ করা আবশ্যক। কারণ কেবল ন্যায়পরায়ণ (عدل) হওয়া আর নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়া এক নয়—যে কি না একই সাথে ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط)। আর তার (ইমাম শাফিঈর) বক্তব্য এমন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি সম্পর্কে যার স্মৃতিশক্তি (ضبط) সম্পর্কে জানা নেই। পূর্বের নিয়মানুযায়ী, দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) গ্রহণযোগ্য হবে না যখন তা নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিপরীত হয়।
এ প্রসঙ্গে কোনো কোনো হাদিস বিশারদ (أصحاب الحديث) অতিরিক্ত বর্ণনাকে (زيادة) নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করার মত পোষণ করেছেন এবং এটি ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর অধিকাংশ অনুসারীদের পক্ষ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে আস-সাআতি এবং অন্যান্য হানাফি (Hanafi) বিদ্বানদের নিকট পছন্দনীয় মত হলো, যখন বর্ণনাকারী একক (انفرد) হয়।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
الْعدْل بِزِيَادَة لَا تخَالف كَمَا لَو نقل أَنه صلى الله عليه وسلم دخل الْبَيْت فَزَاد وَصلى
فَإِن اخْتلف الْمجْلس قبلت بِاتِّفَاق
وَإِن اتَّحد وَكَانَ غَيره قد انْتهى فِي الْعدَد إِلَى حد لَا يتَصَوَّر غفلتهم عَن مثل مَا زَاد لم تقبل
وَإِن لم ينْتَه فالجمهور على الْقبُول خلافًا لبَعض الْمُحدثين وَأحمد فِي رِوَايَة
وَإِن جهل حَال الْمجْلس فَهُوَ بِالْقبُولِ أولى مِمَّا إِذا اتَّحد بذلك الشَّرْط
একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর এমন অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) যা পূর্বের বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক নয়, যেমন যদি কেউ বর্ণনা করেন যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাবার ভেতরে প্রবেশ করেছেন এবং অন্যজন অতিরিক্ত (زيادة) বর্ণনা করলেন যে তিনি সেখানে সালাতও আদায় করেছেন।
যদি মজলিস ভিন্ন হয়, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য হবে।
আর যদি মজলিস অভিন্ন হয় এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এমন স্তরে পৌঁছে যে তাদের সবার পক্ষে এই অতিরিক্ত অংশটি খেয়াল না করা অসম্ভব বলে মনে হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে না।
আর যদি বর্ণনাকারীদের সংখ্যা সেই পর্যায়ে না পৌঁছে, তবে অধিকাংশ (جمهور) আলিমের মতে তা গ্রহণযোগ্য, যদিও কিছু মুহাদ্দিস (محدثين) এবং এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী ইমাম আহমাদ এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
আর যদি মজলিসের অবস্থা অজ্ঞাত থাকে, তবে উল্লিখিত শর্তযুক্ত অভিন্ন মজলিসের তুলনায় এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক উপযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
وَأما إِذا كَانَت الزِّيَادَة مُخَالفَة فَالظَّاهِر التَّعَارُض
فصل فِي الحَدِيث الْمَحْفُوظ والشاذ وَالْمَعْرُوف وَالْمُنكر إِن خُولِفَ الرَّاوِي المقبول بأرجح مِنْهُ لمزيد ضبط أَو كَثْرَة عدد أَو مُرَجّح سواهُمَا سمي مَا رَوَاهُ الْأَرْجَح بالمحفوظ وَالْآخر بالشاذ
فالشاذ مَا رَوَاهُ المقبول مُخَالفا لمن هُوَ أرجح مِنْهُ
وَالْمَحْفُوظ مَا رَوَاهُ المقبول مُخَالفا لمن هُوَ أدنى مِنْهُ رجحانا
وَإِن خُولِفَ الضَّعِيف لكَونه مَجْهُول الْحَال أَو سيء الْحِفْظ مثلا بأخف مِنْهُ ضعفا سمي مَا رَوَاهُ الأخف ضَعِيفا بِالْمَعْرُوفِ وَالْآخر بالمنكر
فالمنكر مَا رَوَاهُ الضَّعِيف مُخَالفا لمن هُوَ أدنى مِنْهُ ضعفا
وَالْمَعْرُوف مَا رَوَاهُ الضَّعِيف مُخَالفا لمن هُوَ أَعلَى مِنْهُ ضعفا
وَقد علم مِمَّا سبق أَن الْمَحْفُوظ مقدم على الْمَعْرُوف وَأَن الشاذ مقدم على الْمُنكر وَأَن بَينهمَا تباينا لَا عُمُوما من وَجه كَمَا قَالَ قَاضِي الْقُضَاة قَالَ وَقد غفل من سوى بَينهمَا
আর যদি অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) বিরোধী হয়, তবে বাহ্যত তা পারস্পরিক বিরোধিতা (تعارض) হিসেবে গণ্য হবে।
মাহফুজ (محفوظ), শাজ (شاذ), মারুফ (معروف) এবং মুনকার (منكر) হাদিস বিষয়ক পরিচ্ছেদ যদি কোনো গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী (مقبول) তার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح) কোনো বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেন—অধিক মুখস্থশক্তি (ضبط), বর্ণনাকারীদের আধিক্য (كثرة عدد) বা এজাতীয় অন্য কোনো অগ্রাধিকারের কারণে—তবে অধিক অগ্রগণ্য বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিসটিকে মাহফুজ (محفوظ) এবং অপরটিকে শাজ (شاذ) বলা হয়।
অতএব, শাজ (شاذ) হলো সেই হাদিস যা কোনো গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী (مقبول) তার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح) কারো বিপরীতে বর্ণনা করেন।
আর মাহফুজ (محفوظ) হলো সেই হাদিস যা কোনো গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী (مقبول) তার চেয়ে কম অগ্রগণ্য (أدنى رجحانا) কারো বিপরীতে বর্ণনা করেন।
আর যদি কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী (ضعيف)—যেমন পরিচয় অজ্ঞাত হওয়া (مجهول الحال) বা দুর্বল মুখস্থশক্তির (سيء الحفظ) কারণে—তার চেয়ে তুলনামূলক কম দুর্বল (أخف ضعفا) কারো বিরোধিতা করেন, তবে কম দুর্বল বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিসটিকে মারুফ (معروف) এবং অপরটিকে মুনকার (منكر) বলা হয়।
সুতরাং, মুনকার (منكر) হলো সেই হাদিস যা কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী (ضعيف) তার চেয়ে কম দুর্বল (أدنى ضعفا) কারো বিপরীতে বর্ণনা করেন।
আর মারুফ (معروف) হলো সেই হাদিস যা কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী (ضعيف) তার চেয়ে অধিক দুর্বল (أعلى ضعفا) কারো বিপরীতে বর্ণনা করেন।
পূর্বোক্ত আলোচনা হতে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, মারুফ (معروف)-এর তুলনায় মাহফুজ (محفوظ) অগ্রগণ্য এবং মুনকার (منكر)-এর তুলনায় শাজ (شاذ) অগ্রগণ্য। আর এ দুই প্রকারের মধ্যে পূর্ণ বৈসাদৃশ্য (تباين) বিদ্যমান, কোনো দিক থেকেই এদের মধ্যে সাধারণ কোনো মিল (عموم من وجه) নেই; যেমনটি কাজিউল কুজাত (قاضي القضاة) বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, যারা এই দুয়ের মধ্যে সমতা কল্পনা করেন, তারা মূলত গাফেল বা অসতর্ক।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
فصل فِي معرفَة الِاعْتِبَار والمتابعات والشواهد اعْلَم أَن الشَّاهِد حَدِيث يُسَاوِي آخر أَو يُشبههُ فِي الْمَعْنى فَقَط والصحابي غير وَاحِد وإيراده يُسمى اسْتِشْهَادًا
والمتابعة أَن يُتَابع رَاوِيا ظن تفرده وَلَو صحابيا غَيره / وَلَو صحابيا فِي لفظ مَا رَوَاهُ أَو مَعْنَاهُ بِشَرْط وحدة الصَّحَابِيّ فِي مُتَابعَة غَيره لغيره وَيُسمى هَذَا الْغَيْر المتابع بِكَسْر الْبَاء وَالتَّابِع أَيْضا
وَهِي تَامَّة إِن حصلت للراوي نَفسه وقاصرة إِن حصلت لشيخه أَو من فَوْقه مُطلقًا
وَمن لم يذكر مُتَابعَة رَاوِي الْفَرد الْمُطلق والصحابي مُقْتَصرا على مُتَابعَة رَاوِي النسبي فقد أخل
وَخص قوم الْمُتَابَعَة بِمَا حصل بِاللَّفْظِ سَوَاء كَانَ من رِوَايَة ذَلِك الصَّحَابِيّ أم لَا وَالشَّاهِد بِمَا حصل بِالْمَعْنَى كَذَلِك
وَقد تطلق الْمُتَابَعَة على الشَّاهِد وَبِالْعَكْسِ وَالْأَمر فِيهِ سهل
وَأما الِاعْتِبَار فتتبع طرق الحَدِيث الَّذِي يظنّ أَنه فَرد ليعلم أَن لَهُ مُتَابعًا أَو شَاهدا أَو لَا هَذَا وَلَا ذَاك
ثمَّ اعْلَم أَنه قد يدْخل فِي بَاب الْمُتَابَعَة والاستشهاد رِوَايَة من لَا يحْتَج بحَديثه وَحده بل يكون معدودا فِي الضُّعَفَاء وَفِي كتابي البُخَارِيّ وَمُسلم جمَاعَة من الضُّعَفَاء ذكراهم فِي المتابعات والشواهد
পর্যালোচনা (الاعتبار), সমর্থনমূলক বর্ণনা (المتابعات) এবং সাক্ষী বর্ণনা (الشواهد) পরিচ্ছেদ জেনে রাখুন যে, সাক্ষী (شاهد) হলো এমন একটি হাদিস যা অন্য একটি হাদিসের সমার্থক অথবা কেবল অর্থের দিক থেকে তার সদৃশ হয়, তবে এর সাহাবী ভিন্ন হন; আর এটি উপস্থাপন করাকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ (استشهاد) বলা হয়।
আর অনুসরণ বা সমর্থন (متابعة) হলো এমন একজন বর্ণনাকারীর অনুসরণ করা যাকে একক বলে মনে করা হয়েছিল—এমনকি তিনি যদি অন্য একজন সাহাবীও হন—তার বর্ণিত হাদিসের শব্দে অথবা অর্থে; তবে শর্ত হলো অন্য কেউ যখন অন্য কারো অনুসরণ করবে তখন সাহাবী অভিন্ন হতে হবে। এই অন্যজনকে অনুসরণকারী (متابع) এবং অনুসারী (تابع) ও বলা হয়।
যদি এটি স্বয়ং বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে ঘটে তবে তা পূর্ণাঙ্গ (تامة), আর যদি এটি তার উস্তাদ বা তার উপরের স্তরের কারো ক্ষেত্রে ঘটে তবে তা সাধারণভাবে অপূর্ণাঙ্গ (قاصرة)।
যে ব্যক্তি নিরঙ্কুশ একক (فرد مطلق) বর্ণনাকারী ও সাহাবীর অনুসরণ বা সমর্থন (متابعة) উল্লেখ না করে কেবল আপেক্ষিক একক (فرد نسبي) বর্ণনাকারীর অনুসরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সে ত্রুটি করেছে।
একদল আলেম অনুসরণ বা সমর্থনকে (متابعة) শব্দের মিলের সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন, চাই তা সেই সাহাবীর বর্ণনা থেকে হোক বা না হোক। আর সাক্ষী বর্ণনাকে (شاهد) একইভাবে কেবল অর্থের মিলের সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন।
কখনো কখনো সাক্ষী বর্ণনার (شاهد) ক্ষেত্রে অনুসরণ বা সমর্থন (متابعة) শব্দ ব্যবহৃত হয় এবং এর উল্টোটিও ঘটে; এ বিষয়টি শিথিলযোগ্য।
আর পর্যালোচনা (الاعتبار) হলো সেই হাদিসের সূত্রসমূহ অনুসন্ধান করা যাকে একক (فرد) বলে মনে করা হয়, যাতে জানা যায় যে তার কোনো অনুসরণকারী (متابع) বা সাক্ষী (شاهد) আছে কি না, নাকি কোনোটিই নেই।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, অনুসরণ বা সমর্থন (متابعة) এবং সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ (استشهاد) এর অধ্যায়ে এমন ব্যক্তির বর্ণনাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যার হাদিস এককভাবে দলিল হিসেবে গৃহীত হয় না, বরং তাকে দুর্বল রাবীগণের (الضعفاء) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিম গ্রন্থে এমন একদল দুর্বল রাবী (الضعفاء) রয়েছেন যাদেরকে তারা সমর্থনমূলক বর্ণনা (المتابعات) এবং সাক্ষী বর্ণনা (الشواهد) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
وَلَيْسَ كل ضَعِيف يصلح لذَلِك وَلِهَذَا يَقُول الدَّارَقُطْنِيّ وَغَيره فِي الضُّعَفَاء فلَان يعْتَبر بِهِ وَفُلَان لَا يعْتَبر بِهِ وَكَذَا رِوَايَة عدل لَيْسَ من شَرط الشَّيْخَيْنِ فيخرجان حَدِيثه فِي الْمُتَابَعَة والاستشهاد دون غَيرهمَا
فصل فِي تَقْسِيم الحَدِيث المقبول وَلَكِن بِالْقِيَاسِ إِلَى مَقْبُول آخر بِحَيْثُ يخرج مِنْهُ الْمُحكم ومختلف الحَدِيث والناسخ والمنسوخ اعْلَم أَن المقبول
إِن سلم من مُعَارضَة مَقْبُول آخر وَلَو ظَاهرا فَهُوَ الْمُحكم
وَإِن لم يسلم من ذَلِك بِأَن عَارضه مثله من أصل المقبول فَإِن أمكن الْجمع بَين مدلوليهما بِغَيْر تعسف فهما مَعًا مُخْتَلف الحَدِيث
وَإِلَّا فَإِن ثَبت الْمُتَأَخر مِنْهُمَا بالتاريخ الْمَعْلُوم من خَارج مُطلقًا أَو الْمَعْلُوم لَا من خَارج مُطلقًا فهما النَّاسِخ والمنسوخ
وَلَيْسَ من النَّاسِخ مَا يرويهِ الصَّحَابِيّ الْمُتَأَخر الْإِسْلَام مُعَارضا لمتقدم الْإِسْلَام إِلَّا أَن يُصَرح بِسَمَاعِهِ من النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأَن يكون الْمُتَقَدّم الْإِسْلَام قد سَمعه قبل سَمَاعه
وَكَذَا الْإِجْمَاع لَا يكون نَاسِخا على الْمُخْتَار عِنْد ابْن الساعاتي من أَصْحَابنَا وَغَيره لِأَنَّهُ إِن كَانَ عَن نَص فَهُوَ النَّاسِخ
আর সকল দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীই এর জন্য উপযুক্ত নয়। এ কারণেই দারাকুতনি ও অন্যান্যরা দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের প্রসঙ্গে বলেন: অমুক ব্যক্তি বিবেচনাযোগ্য (يعتبر به) এবং অমুক ব্যক্তি বিবেচনাযোগ্য নয় (لا يعتبر به)। একইভাবে এমন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর বর্ণনা, যিনি শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুসারে নন; তাঁরা কেবল মুতাবাআহ (متابعة) ও ইশতিশহাদ (استشهاد) হিসেবেই তাঁর হাদিস চয়ন করেন, অন্যথায় নয়।
পরিচ্ছেদ: গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসের বিভাজন প্রসঙ্গে; তবে অন্য একটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসের সাথে তুলনামূলক বিচারে, যাতে এর থেকে দ্ব্যর্থহীন (محكم), মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث), রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিষয়গুলো পৃথক হয়ে আসে জেনে রাখুন যে, গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিস—
যদি তা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসের বিরোধিতা থেকে মুক্ত থাকে—যদিও তা বাহ্যিকভাবে হয়—তবে সেটিই হলো দ্ব্যর্থহীন (محكم)।
আর যদি তা মুক্ত না হয়—অর্থাৎ এর সমপর্যায়ের কোনো গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিস এর বিরোধী হয়—এবং যদি কোনো প্রকার কষ্টকল্পনা ছাড়াই উভয়ের অর্থের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে সেই উভয়ই হলো মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث)।
অন্যথায়, যদি বাহ্যিক কোনো সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে জানা ইতিহাসের ভিত্তিতে অথবা বাহ্যিক সূত্র ছাড়াই কোনোটি পরবর্তী প্রমাণিত হয়, তবে তারা হলো রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ)।
রহিতকারী (ناسخ) সেই বর্ণনা নয়, যা ইসলাম গ্রহণে পরবর্তী পর্যায়ের কোনো সাহাবি তাঁর পূর্ববর্তী পর্যায়ের কোনো সাহাবির বর্ণনার বিপরীতে বর্ণনা করেন; যতক্ষণ না তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করেন এবং এটি সাব্যস্ত হয় যে, ইসলাম গ্রহণে অগ্রবর্তী সাহাবি সেটি এই সাহাবির শোনার আগেই শুনেছিলেন।
অনুরূপভাবে, আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে ইবনে আস-সাআতি ও অন্যদের নিকট পছন্দনীয় মতানুসারে ইজমা রহিতকারী (ناسخ) হতে পারে না। কারণ এটি যদি কোনো অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে হয়ে থাকে, তবে সেই দলিলটিই হবে প্রকৃত রহিতকারী (ناسخ)।
(খণ্ড: ১)
কাফাউল আসার ফী সাফওয়াতি উলূমিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
وَإِلَّا فالترجيح بِوَجْه من وجوهه الْمُتَعَلّقَة بِالْمَتْنِ أَو بِالْإِسْنَادِ إِن أمكن ثمَّ التَّوَقُّف عَن الْعَمَل بِكُل وَاحِد مِنْهُمَا إِن لم يُمكن هَذَا وَالأَصَح أَن مُخْتَلف الحَدِيث إِنَّمَا هُوَ الحديثان المقبولان المتعارضان فِي الْمَعْنى ظَاهرا مُطلقًا وَأَن يطْلب التَّارِيخ أَولا فَإِن لم يُوجد طلب الْجمع فَإِن لم يُمكن ترك الْعَمَل بهما
فصل فِي الحَدِيث الْمَرْدُود لسقط من السَّنَد وَهُوَ قد يقبل بِوَجْه مَا
فَمِنْهُ الْمُعَلق وَهُوَ مَا سقط من أول سَنَده وَاحِد فَأكْثر مَعَ التوالي من غير تَدْلِيس سَوَاء سقط الْبَاقِي أم لَا
وَمِنْه الْمُرْسل وَهُوَ مَا سقط من آخر سَنَده من بعد التَّابِعِيّ فَقَط
فَإِن عرف من عَادَة التَّابِعِيّ أَنه لَا يُرْسل إِلَّا عَن ثِقَة فَقَالَ الشَّافِعِي يقبل إِن اعتضد بمجيئه من وَجه آخر يباين الطَّرِيق الأولى مُسْندًا كَانَ أَو مُرْسلا
وَذهب جُمْهُور الْمُحدثين إِلَى التَّوَقُّف وَهُوَ أحد قولي أَحْمد
وَثَانِيهمَا وَهُوَ قَول المالكيين والكوفيين يقبل سَوَاء اعتضد بمجيئه من وَجه آخر يباين الطَّرِيق الأولى أم لَا هَكَذَا قيل
অন্যথায়, সম্ভব হলে মূল পাঠ (المتن) অথবা সনদ (الإسناد) সংশ্লিষ্ট কোনো একটি পন্থায় প্রাধান্য দান (الترجيح) করতে হবে; আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে উভয়টির উপর আমল করা থেকে বিরত থেকে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (التوقف) অবলম্বন করতে হবে। অধিকতর সঠিক (الأصح) অভিমত হলো, হাদিসের পারস্পরিক বৈপরিত্য (مختلف الحديث) মূলত এমন দুটি গ্রহণযোগ্য (المقبولان) হাদিসকে বোঝায়, যা অর্থের দিক থেকে বাহ্যিকভাবে ও নিরঙ্কুশভাবে পরস্পর বিরোধী (المتعارضان)। এমতাবস্থায় প্রথমে ইতিহাস (التاريخ) তালাশ করতে হবে। যদি তা পাওয়া না যায়, তবে সমন্বয়ের (الجمع) চেষ্টা করতে হবে। আর তাও যদি সম্ভব না হয়, তবে উভয়টির উপর আমল করা ছেড়ে দিতে হবে।
সনদ থেকে রাবি বাদ পড়ার (سقط من السند) কারণে প্রত্যাখ্যাত (المردود) হাদিস প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ (فصل) এটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনোভাবে কবুল করা হতে পারে।
এর একটি প্রকার হলো মুয়াল্লাক বা ঝুলন্ত সনদ (المعلق); আর তা হলো এমন হাদিস যার সনদের শুরু থেকে এক বা একাধিক রাবি ধারাবাহিকভাবে বাদ পড়েছে, তথ্য গোপন (تدليس) করা ছাড়াই; চাই বাকি অংশটুকুও বাদ পড়ুক বা না পড়ুক।
আরেকটি প্রকার হলো মুরসাল বা বিচ্ছিন্ন সনদ (المرسل); আর তা হলো এমন হাদিস যার সনদের শেষ প্রান্তে শুধুমাত্র তাবেয়ি (التابعي)-এর পরবর্তী রাবি বাদ পড়েছে।
যদি সংশ্লিষ্ট তাবেয়ি (التابعي)-এর অভ্যাস এমন হয় যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি ছাড়া অন্য কারও থেকে মুরসাল (المرسل) বর্ণনা করেন না, তবে ইমাম শাফেয়ি বলেন: তা গ্রহণযোগ্য হবে যদি অন্য কোনো সূত্র থেকে এসে তা সমর্থিত (اعتضد) হয় যা প্রথম সূত্রের পরিপন্থী, চাই তা মুসনাদ হোক কিংবা মুরসাল (المرسل)।
অধিকাংশ মুহাদ্দিস (جمهور المحدثين) এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (التوقف) এর অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং এটি ইমাম আহমদের দুটি মতের একটি।
দ্বিতীয় মতটি হলো মালিকি এবং কুফিবাসী আলেমদের অভিমত; তারা বলেন, এটি গ্রহণযোগ্য; চাই তা প্রথম সূত্রের পরিপন্থী অন্য কোনো সূত্র দ্বারা সমর্থিত (اعتضد) হোক বা না হোক। এভাবেই বলা হয়েছে।