(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
القدر - ابن وهب - ت الحفيان القسم: كتب السنة
الكتاب: القدر وما ورد في ذلك من الآثار
المؤلف: عبد الله بن وهب بن مسلم القرشي المصري (125 - 197 هـ)
حققه وخرج أحاديثه: عمر بن سليمان الحَفيان
الناشر: دار العطاء للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 79
[ترقيم الكتاب موافق المطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الأولى 1442
আল-কদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফইয়ান বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
বই: আল-কদর এবং এ বিষয়ে বর্ণিত আসারসমূহ
লেখক: আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম আল-কুরাইশী আল-মিসরী (১২৫ - ১৯৭ হিজরী)
যাচাইকরণ ও হাদীস বিশ্লেষণ করেছেন: উমর বিন সুলাইমান আল-হাফইয়ান
প্রকাশক: দারুল আতা প্রকাশনা ও পরিবেশনা, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল উলা ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمدَ للهِ نَحْمَدُهُ، ونستعينُهُ ونستغفِرُهُ، ونعوذُ باللهِ من شُرورِ أنفُسنا، وسيِّئاتِ أعمالنا، من يهدِهِ الله فلا مُضِلَّ له، ومَنْ يُضللْ فلا هاديَ له، وأشهدُ أنْ لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبدُهُ ورسولُهُ. صلى الله عليه وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإنَّه مما يسرُّنا أنْ نضَعَ بين يدي القُرَّاءِ وطلبةِ العلم «كتاب القدر» للإمام الحافظِ الزاهدِ عبدِ الله بن وَهْبٍ القُرشيِّ المِصريِّ، المُتوفَّى سنة (197 هـ) رحمهُ اللهُ تعالى رحمةً واسعةً.
وكتابه هذا؛ سارَ فيه المصنِّفُ رحمه الله على طريقة السَّلفِ في تصانيفهم ذاك الزَّمان، فَسَاقَ الأحاديثَ النبويَّةَ، والآثارَ السلفيةَ المُثبتةَ للقضاءِ والقدرِ الإلهي من غيرِ تعليقٍ أو تبويبٍ.
نعم؛ قد يُشْعِرُ سياقُهُ للأحاديث والآثار أنها مرتَّبةٌ وَفْقَ تسلسُلٍ موضوعيٍّ عام، إلَاّ أنَّهُ لم يُبوِّبْ قَطُّ.
ثم إنَّ الورَّاقَ أبا بكرٍ؛ محمدَ بنَ إسماعيل -وهو راوي الكتاب- قد أضافَ على أصلِ الكتاب أحاديثَ عن شيوخه، هي في جُمْلَتِها استخراجٌ ومتابعةٌ لأحاديثِ الكتاب
(1).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর ওপর আল্লাহর অসংখ্য রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
পাঠকবৃন্দ ও ইলম অন্বেষণকারীদের সম্মুখে ইমাম, হাফিজ ও যাহেদ আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়াহাব আল-কুরাশি আল-মিসরি (মৃত্যু ১৯৭ হি.)—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন—কর্তৃক রচিত «কিতাবুল কদর» উপস্থাপন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
তাঁর এই কিতাবটিতে লেখক (রহ.) তৎকালীন সময়ের সালাফদের রচনাশৈলী অনুসরণ করেছেন। এতে তিনি কোনো প্রকার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বা অধ্যায় বিন্যাস ছাড়াই আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির সাব্যস্তকারী নববী হাদিসসমূহ এবং সালাফদের আসারসমূহ সন্নিবেশিত করেছেন।
হ্যাঁ, হাদিস ও আসারসমূহের প্রাসঙ্গিক ধারা দেখে মনে হতে পারে যে সেগুলো একটি সাধারণ বিষয়ভিত্তিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, তবে তিনি কোনো অধ্যায় বিন্যাস করেননি।
অতঃপর কিতাবটির বর্ণনাকারী ওয়াররাক আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল মূল কিতাবের সাথে তাঁর শায়খদের থেকে বর্ণিত কিছু হাদিস যোগ করেছেন, যেগুলো মূলত কিতাবের হাদিসসমূহের সমর্থক এবং পরিপূরক বর্ণনা
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٦)
ومما ينبغي التنبيهُ عليه: أنَّ هذا الكتابَ قد طُبِعَ بتحقيق الدكتور: عبد العزيز عبد الرحمن محمد العُثيم رحمه الله في عام (1406) في مكَّة المكرمة.
والذي حَملَني على إعادةِ تحقيقه ونشره، مع تقدُّمِ ذلك من الشيخ العُثيم رحمه الله أمورٌ منها:
1 - أنَّ الشيخ رحمه الله فد تدخَّلَ في مَتْنِ الكتاب تدخُّلاً مباشراً؛ بالتَّعديلِ والتَّبديلِ والزِّيادةِ والنُّقصانِ؛ مشيراً أحياناً إلى هذا الصَّنيع، ومغفِلاً ذلك أُخرى. ولا يخفى أنَّ هذا النَّهج خطيرٌ غيرُ محمودِ العواقبِ.
وأنا أضرِبُ بعضَ الأمثلةِ والنماذج من صَنيعه:
في ص (152) من مطبوعته: عَلَّقَ الورَّاقُ على حديث جرير بنِ حازم، عن الأعمش، عن زيد بن وَهْبٍ، عن ابن مسعود بقوله: «هذا إسنادٌ غريبٌ عن جَرير بن حازم، عن الأعمش».
فعدَّلها الشيخُ العُثيم رحمه الله إلى: «هذا إسنادٌ [ليس غريباً] عن جرير بن حازم، عن الأعمش».
ومستنده: أنَّ كلامَ الوّرَّاقِ -في نظره- مناقضٌ لما أوردَه من متابعات للحديث!
ولا يخفى أنَّ الورَّاقَ إنما أراد الغرابةَ النسبيَّةَ لا المطلقة. ومهما يكن من أمرٍ؛ فلا ينبغي تعديلُ عبارته.
في ص (157): قال الوَرَّاقُ: «وباقي طُرقِ هذا الحديثِ عن
একটি বিষয় সতর্ক করা প্রয়োজন যে: এই বইটি ড. আব্দুল আজিজ আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ আল-উসাইম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাহকিকসহ ১৪০৬ হিজরি সনে মক্কাতুল মুকাররামায় মুদ্রিত হয়েছিল।
শেখ উসাইম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পূর্ববর্তী কাজ থাকা সত্ত্বেও আমাকে এটি পুনরায় তাহকিক ও প্রকাশে যে বিষয়গুলো উদ্বুদ্ধ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে:
১ - শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) কিতাবের মূল পাঠে (মাতান) সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন; পরিমার্জন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বিয়োজনের মাধ্যমে; কখনো তিনি এই কাজের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আবার কখনো তা এড়িয়ে গেছেন। এটা গোপন কিছু নয় যে, এই পদ্ধতিটি বিপজ্জনক এবং এর ফলাফল প্রশংসনীয় নয়।
আমি তাঁর কাজের কিছু উদাহরণ ও নমুনা পেশ করছি:
তাঁর মুদ্রিত কিতাবের ১৫২ পৃষ্ঠায়: ওয়াররাক; জারির বিন হাযিম থেকে, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি যায়িদ বিন ওয়াহব থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিসের ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: «এটি জারির বিন হাযিম-এর সূত্রে আ'মাশ থেকে বর্ণিত একটি গরিব (বিরল) সনদ।»
শেখ উসাইম (রাহিমাহুল্লাহ) এটিকে পরিবর্তন করে লিখেছেন: «এটি জারির বিন হাযিম-এর সূত্রে আ'মাশ থেকে বর্ণিত একটি [গরিব নয় এমন] সনদ।»
তাঁর দলিল হলো: তাঁর দৃষ্টিতে ওয়াররাকের কথাটি হাদিসের যে সকল মুতাবাআত (সমর্থক বর্ণনা) তিনি উল্লেখ করেছেন তার সাথে সাংঘর্ষিক!
এটা অস্পষ্ট নয় যে, ওয়াররাক এখানে কেবল আপেক্ষিক বিরলতা (গারাবাতে নিসবী) বুঝিয়েছেন, পরম বিরলতা (গারাবাতে মুতলাক) নয়। যাই হোক না কেন; তাঁর মূল বক্তব্য পরিবর্তন করা উচিত নয়।
১৫৭ পৃষ্ঠায়: ওয়াররাক বলেছেন: «এবং এই হাদিসের অবশিষ্ট সূত্রগুলো...
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٧)
الأعمش، تأتي في حديث الأعمش عن زيد بن وَهْبٍ».
فأبدلَها الشيخُ رحمه الله بقوله: «وباقي طُرقِ حديثِ زيدِ بن وَهْب يأتي في حديث [سلمةَ بن كُهَيل]» لأن عبارته أصوبُ من عبارة الورَّاق، كما قال.
في ص (137): حديث ابن عمر: «إذا أراد الله عز وجل أن يخلقَ النَّسمة قال مَلَكُ الأرحامِ معها
… ».
كذا ورد «معها» في المخطوطات الثلاث لـ «كتاب القدر» لابن وَهْب.
وفي الأصول الخطيَّة لـ «شفاء العليل» لابن القيم -حيث نَقَلَ هذا الحديثَ بإسناده ومتنه- وفي «تهذيب الكمال» للمِزِّيِّ حيث روى الحديثَ بإسناده من طريق «كتاب القدر» لابن وَهْبٍ. ونَبَّهَ المِزِّيُّ على أنها وقعَتْ هكذا في الرِّواية «معها».
فحذفها الشيخُ، ووضع مكانها «معرضاً» ولم يُشِرْ أدنى إشارة إلى هذا التصرُّف
(1).
أما الزيادات فهي كثيرة، أُلْحِقَتْ من روايات الحديث الأُخرى تتميماً للفائدة. ولا ريب أنَّ ابنَ وَهْبٍ غيرُ مَعْنِيٍّ بها. وممَّا يدلُّ على أنها لم ترد في أصل الكتاب: أن من نقل عن «كتاب القدر» قديماً كابن القيِّم وغيره نقلوا أحاديثَه وروَوها دون تلك الزيادات.
أما تخريجُه؛ فهو دالٌّ على سَعةِ اطِّلاع الشيخ رحمه الله على
--------------------------------------------
আল-আ’মাশ; এটি জায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত আল-আ’মাশের হাদিসে আসবে।
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) এটিকে তাঁর এই বক্তব্য দ্বারা পরিবর্তন করেছেন: “এবং জায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত হাদিসের অবশিষ্ট সূত্রগুলো [সালামাহ ইবনে কুহাইল]-এর হাদিসে আসবে”, কারণ শায়খ যেমনটি বলেছেন, তাঁর এই অভিব্যক্তিটি আল-ওয়াররাকের অভিব্যক্তির চেয়ে অধিকতর সঠিক।
১৩৭ নং পৃষ্ঠায়: ইবনে ওমরের হাদিস: “যখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কোনো রূহ সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন, তখন জরায়ুর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা সাথে বলেন
… ”।
ইবনে ওয়াহাব রচিত ‘কিতাবুল কাদার’-এর তিনটি পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই “সাথে” শব্দটি এসেছে।
এবং ইবনুল কাইয়্যিম রচিত ‘শিফাউল আলিল’-এর পাণ্ডুলিপিগত মূল পাঠে—যেখানে তিনি এই হাদিসটি এর সনদ ও মতনসহ উদ্ধৃত করেছেন—এবং আল-মিজ্জি রচিত ‘তাহজিবুল কামাল’-এও এভাবেই এসেছে, যেখানে তিনি ইবনে ওয়াহাবের ‘কিতাবুল কাদার’-এর সূত্রে সনদসহ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আল-মিজ্জি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্ণনাটিতে এভাবেই “সাথে” শব্দটি এসেছে।
কিন্তু শায়খ তা মুছে ফেলেছেন এবং তার পরিবর্তে “বিমুখ হয়ে” শব্দটি বসিয়েছেন, অথচ তিনি এই পরিবর্তনের বিষয়ে সামান্যতম ইঙ্গিতও দেননি
(১)।
আর অতিরিক্ত অংশগুলো অনেক, যা উপকারের পূর্ণতার জন্য হাদিসের অন্যান্য বর্ণনা থেকে যুক্ত করা হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে ওয়াহাব এগুলো দিয়ে উদ্দেশ্য নন। এটি যে মূল কিতাবে ছিল না তার প্রমাণ হলো: যারা প্রাচীনকালে ‘কিতাবুল কাদার’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন ইবনুল কাইয়্যিম ও অন্যান্যরা, তাঁরা এর হাদিসগুলো সেই অতিরিক্ত অংশগুলো ছাড়াই বর্ণনা করেছেন ও উদ্ধৃত করেছেন।
আর তাঁর তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ); তা শায়খের (রহিমাহুল্লাহ) ব্যাপক অধ্যয়নের প্রমাণ দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٨)
كُتُبِ الحديث، ومعرفتِهِ بطُرُقِهِ ورجاله، وقوَّةِ عارضتِهِ. لكن؛ يبقى لكلٍّ منهجُهُ وطريقتُهُ.
2 - أنني قد وُفِّقْتُ للحصولِ على ثلاث نُسَخٍ خطِّيَّةٍ للكتاب، ولله الحمد
(1)، رمزت لها بـ: الأصل و (ظ) و (هـ) وسيأتي وصفُها فيما بعد. وكان الشيخ العُثَيم رحمه الله قد ذكرَ في مقدِّمة طبعتِه أنَّه اعتمدَ مخطوطتين وهما: الأصل و (ظ)، ولكن لدى المقارنة تبيَّن أنه اعتمد على (ظ) فقط وأهملَ الأصل، ممَّا أوقعَ بعضَ الخَلَل في عمَلِه، وقد تداركتُه بمقارنة النُّسَخ الثلاث بتوفيق الله ومنَّه.
3 - أنَّ نُسَخَهُ قد نَفِدَت من المكتبات منذ سنوات، وعَزَّ الحصولُ عليها؛ لعدم إعادة نَشْرِهَ وطَبْعِهِ.
هذا؛ ولا يفوتني في الختام أن أتقدَّم بجزيل الشُّكر لأخينا أيمن ذو الغنى على ما بَذَله من جُهْدٍ في مراجعة الكتاب، واهتمامٍ وعناية به، فجعل الله ذلك في ميزان حسناتِه؛ إنه سميعٌ مجيبٌ.
وآخرُ دعوانا أن الحمد لله ربِّ العالمين.
كتبه
عمر بن سليمان الحفيان
غفر الله له
* * *
--------------------------------------------
হাদিসশাস্ত্রের কিতাবসমূহ, এর বিভিন্ন সূত্র ও বর্ণনাকারী সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থাপনা। তবে, প্রত্যেকের নিজস্ব মানহাজ ও পন্থা থাকে।
২ - আমি আল্লাহর অনুগ্রহে কিতাবটির তিনটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি, আল্লাহর সকল প্রশংসা
(১), যেগুলোকে আমি চিহ্নিত করেছি: মূল পাণ্ডুলিপি, (জ) এবং (হ) হিসেবে, যার বর্ণনা পরবর্তীতে প্রদান করা হবে। শায়খ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রকাশিত সংস্করণের ভূমিকায় উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন, আর সেগুলো হলো: মূল এবং (জ)। কিন্তু তুলনামূলক পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি শুধুমাত্র (জ)-এর ওপর নির্ভর করেছিলেন এবং মূল পাণ্ডুলিপিটি উপেক্ষা করেছিলেন, যার ফলে তাঁর কাজে কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। আল্লাহর তাওফীক ও অনুগ্রহে আমি তিনটি পাণ্ডুলিপি তুলনা করার মাধ্যমে তা সংশোধন করেছি।
৩ - অনেক বছর আগেই লাইব্রেরিগুলো থেকে এর কপিগুলো শেষ হয়ে গেছে এবং এর পুনর্মুদ্রণ ও প্রকাশনা না হওয়ার কারণে এটি পাওয়া দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছিল।
সবশেষে, কিতাবটির পরিমার্জন এবং এর প্রতি গভীর মনোযোগ ও যত্নের জন্য আমাদের ভাই আয়মান যুল গিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আমি ভুলব না। আল্লাহ তা’আলা যেন তাঁর নেক আমলের পাল্লায় এটি যোগ করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
আর আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
উমর ইবনে সুলাইমান আল-হাফিয়ান
আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٩)
ترجمةُ عبد الله بن وَهْب (1)
اسمه ونسبه ومولده:هو عبدُ الله بنُ وَهْبِ بنِ مُسلمٍ، القُرشيُّ، الفِهرِيُّ، المِصريُّ.
مولى يزيد بن زَمَانه؛ مولى يزيد بن أبي أُنَيس أبي عبد الرحمن الفِهرِيِّ.
ولد سنة خمسٍ وعشرين ومِئَة. وطَلَبَ العلمَ وهو ابن سبعَ عشرةَ سنة، كما أخبر هو عن نفسه.
شيوخه:روى عن: الإمام مالك بن أنس، والليث بن سعد، وعَمرو بن الحارث، وعبد الله بن لَهيعة، وسُفيان الثوري، وسفيان بن
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ বিন ওয়াহবের জীবনী(১)তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহব বিন মুসলিম, আল-কুরাশি, আল-ফিহরি, আল-মিসরি।
ইয়াজিদ বিন জামানাহর মাওলা; ইয়াজিদ বিন আবি উনাইস আবু আবদুর রহমান আল-ফিহরির মাওলা।
তিনি একশ পঁচিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সতেরো বছর বয়সে ইলম অন্বেষণ শুরু করেন, যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে জানিয়েছেন।
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:তিনি বর্ণনা করেছেন: ইমাম মালিক বিন আনাস, আল-লাইস বিন সাদ, আমর বিন আল-হারিস, আবদুল্লাহ বিন লাহিয়াহ, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং সুফিয়ান বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
عُيينة، وعبد الرحمن بن أبي الزِّناد، وعبد الرحمن بن مَهدي -وهو أصغر منه- ويُونُس بن يزيد الأيلي، وعبد الملك بن جُريج، ومحمد بن عبد الرحمن بن أبي ذئب، وأسامة بن زيد بن أسلم، وأسامة بن زيد الليثي، وجَرير بن حازم، وحَرمَلة بن عمران التُّجيبي. وخَلْقٍ كثير.
تلامذته:روى عنه: أحمد بن سعيد الهَمْدَاني -وهو راوي كتاب القدر عنه-، والليث بن سعد -وهو من شيوخه- وأحمد بن صالح المِصري، وأبو الطاهر؛ أحمد بن عَمرو بن السَّرح، وأَصْبغ بن الفَرَج، والحارث بن مِسكين، وحَرمَلَة بن يَحيى التُّجيبي، والربيع بن سُليمان المُرادي، وسعيد بن منصور، وعبد الرحمن بن مَهْدي، وعليُّ بن المديني، وقُتيبة بن سعيد، ويُونُس بن عبد الأعلى. وخَلْقٌ سواهُم.
أقوال العلماء فيه جرحاً وتعديلاً:قال عباس الدُّوري وأبو بكر بن أبي خَيثمة، عن يحيى بن معين: ثقة.
قال أحمدُ بن حنبل: كان عبدُ الله بنُ وَهْبٍ عالماً، صالحاً، فقيهاً، كثيرَ العلم.
قال أبو زُرعة: نظرت في نحو ثلاثين ألف حديث من حديثِ ابن وَهْبٍ بمصرَ وغير مصر، لا أعلم أني رأيتُ له حديثاً لا أصل له. وهو ثقة.
উয়াইনাহ, আবদুর রহমান বিন আবি আয-যিনাদ, আবদুর রহমান বিন মাহদী—যিনি তাঁর থেকে বয়সে ছোট—, ইউনুস বিন ইয়াযিদ আল-আইলী, আব্দুল মালিক বিন জুরাইজ, মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন আবি দি’ব, উসামা বিন যাইদ বিন আসলাম, উসামা বিন যাইদ আল-লাইসী, জারীর বিন হাযিম এবং হারমালাহ বিন ইমরান আত-তুজীবী। আরও অসংখ্য ব্যক্তি।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আহমাদ বিন সাঈদ আল-হামদানী—যিনি তাঁর থেকে কিতাবুল কাদর-এর বর্ণনাকারী—, আল-লাইস বিন সাদ—যিনি তাঁর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত—, আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরী, আবু তাহের আহমাদ বিন আমর বিন আস-সারহ, আসবাগ বিন আল-ফারাজ, আল-হারিস বিন মিসকীন, হারমালাহ বিন ইয়াহইয়া আত-তুজীবী, আর-রাবী বিন সুলাইমান আল-মুরাদী, সাঈদ বিন মানসূর, আবদুর রহমান বিন মাহদী, আলী বিন আল-মাদীনী, কুতায়বাহ বিন সাঈদ এবং ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা। তাঁরা ছাড়াও আরও অসংখ্য ব্যক্তি।
তাঁর সম্পর্কে জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও গুণগান) বিষয়ক আলেমগণের উক্তি:আব্বাস আদ-দুরী এবং আবু বকর বিন আবি খাইসামাহ, ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য।
আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহব ছিলেন একজন আলেম, সৎকর্মশীল ব্যক্তি, ফকীহ এবং অগাধ ইলমের অধিকারী।
আবু যুরআহ বলেন: আমি মিসর এবং মিসরের বাইরে ইবন ওয়াহবের প্রায় ত্রিশ হাজার হাদীস পর্যালোচনা করেছি; আমি জানি না যে তাঁর এমন কোনো হাদীস দেখেছি যার কোনো ভিত্তি নেই। আর তিনি নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١١)
قال النسائيُّ: ثقة، ما أعلَمُهُ روى عن الثقات حديثاً منكراً.
قال الخليلي: ثقة متفق عليه.
أُخِذَ عليه أنه كان يتساهل في الأخذ.
قال النسائيُّ: كان يتساهل في الأخذ؛ ولا بأس به.
قال الساجيُّ: صدوق ثقة، وكان من العُبَّاد، وكان يتساهل في السماع؛ لأن مذهبَ أهل بلده أن الإجازةَ عندهم جائزة، ويقول فيها: حدثني فلان.
وأورده ابن عَدي في «الكامل» لهذا الأمر.
قال الذهبي: تناكد ابنُ عدي بإيراده في «الكامل».
عن يحيى بن معين: أنه سَمِعَ ابنَ وهب يقول لسُفيان بن عُيينة: يا أبا محمد، الأحاديث -أي: الذي عَرَضَ عليك أمس فلان- أَجِزْها لي. قال: نعم.
عَلَّق الذهبيُّ: هذا مذهب الجماعة، وإنْ كان على عبد الله فيه عَتَبٌ، فابنُ عُيينة شريكه فيه.
قلت: وهذا التساهل المذكور لا يؤثِّرُ على حديثه البتَّة؛ لأنه كان لا يُدخِلُها في تصانيفه ومروياته.
قال الإمام أحمد: بلغني أنه لم يكن يُدخل في تصنيفه من تلك شيئاً.
وقال أيضاً: عبدُ الله بنُ وَهْبٍ صحيح الحديث، يفصِلُ السماعَ من العَرْضِ، والحديثَ من الحديث، ما أصحَّ حديثَه وأثبتَه!
قيل له: أليس كان يُسيءُ الأخذ؟
ইমাম নাসাঈ বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য; আমি জানি না যে তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে কোনো আপত্তিকর হাদিস বর্ণনা করেছেন।
খলীলী বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, এ ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।
তাঁর ব্যাপারে এই সমালোচনা করা হয়েছে যে, তিনি হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করতেন।
ইমাম নাসাঈ বলেন: তিনি হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করতেন; তবে তিনি ত্রুটিমুক্ত।
সাজী বলেন: তিনি সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য, এবং তিনি ইবাদতগুজার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করতেন; কারণ তাঁর দেশের অধিবাসীদের রীতি ছিল যে, তাঁদের নিকট ‘ইজাজত’ (বর্ণনার অনুমতি) বৈধ, আর তিনি সেই ক্ষেত্রে বলতেন: ‘অমুক ব্যক্তি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন’।
আর ইবনে আদি তাঁর ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে এই কারণে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন।
ইমাম যাহাবী বলেন: ইবনে আদি তাঁকে ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করে কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত: তিনি ইবনে ওয়াহাবকে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছেন: ‘হে আবু মুহাম্মদ! এই হাদিসগুলো—অর্থাৎ যা গতকাল অমুক ব্যক্তি আপনার কাছে পেশ করেছিল—সেগুলোর ব্যাপারে আমাকে অনুমতি দিন।’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ’।
ইমাম যাহাবী মন্তব্য করেন: এটি অধিকাংশের অনুসৃত পদ্ধতি; আর এই বিষয়ে যদি আবদুল্লাহর প্রতি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে ইবনে উইয়াইনাহও তাতে অংশীদার।
আমি বলি: উল্লিখিত এই শিথিলতা তাঁর বর্ণিত হাদিসের ওপর মোটেও প্রভাব ফেলে না; কারণ তিনি তাঁর সংকলন ও বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতেন না।
ইমাম আহমাদ বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি তাঁর সংকলনগ্রন্থের মধ্যে এগুলোর কোনো কিছুই অন্তর্ভুক্ত করতেন না।
তিনি আরও বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব সহিহ হাদিস বর্ণনাকারী, তিনি শ্রুত হাদিস এবং পেশকৃত হাদিসের মাঝে পার্থক্য করতেন, এবং এক হাদিস থেকে অন্য হাদিসকে পৃথক করতেন। তাঁর হাদিস কতই না বিশুদ্ধ ও সুদৃঢ়!
তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: তিনি কি হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ ছিলেন না?
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
قال: قد يُسيءُ الأخذَ، ولكن إذا نظرت في حديثه، ما روى عن مشايخه وجدته صحيحاً.
وأُخِذَ عليه أيضاً: أنَّ في روايته عن ابن جُريج أفراداً وأوهاماً.
قال يحيى بن معين: ليس بذاك في ابن جُريج، كان يستصغره.
قال أحمد: في حديث ابنِ وَهْبٍ عن ابن جُريج شيء.
قال أبو عَوانة: صَدَقَ [أي: أحمد بن حنبل]؛ لأنه يأتي عنه بأشياء لا يأتي بها غيره.
ومهما قيل؛ فإن المناكيرَ والأوهامَ في سعة ما روى نادرةٌ وقليلة، بل قد أخرج صاحبا الصحيح روايته عن ابن جُريج.
قال ابن عَدي: وعبدُ الله بن وَهْبٍ من أجِلَّة الناس، ومن ثقاتهم، وحديثُ الحجاز ومصر، وما إلى تلك البلاد، يدور على رواية ابنِ وَهْبٍ، وجَمَعَ لهم مسندهم ومقطوعهم .... ولا أعلم له حديثاً منكراً إذا حَدَّثَ عنه ثقة من الثقات.
قال الذهبيُّ: أكثرَ في تواليفه من المقاطيع والمُعضلات، وأكثر عن ابن سمعان وبابَتِه، وقد تَمَعْقَل بعضُ الأئمة على ابنِ وَهْبٍ في أخذه للحديث، وأنه كان يترخَّص في الأخذ، وسواء ترخَّصّ ورأى ذلك سائغاً، أو تشدَّدَ، فمن يروي مِئَةَ ألف حديث، ويَنْدُرُ المنكرُ في سعة ما روى، فإليه المُنتهى في الإتقان.
قال يُونُس بن عبد الأعلى: عُرِضَ على ابنِ وَهْبٍ القضاءُ، فجنَّنَ نفسَه، ولزم بيتَهُ.
وقيل: إنه لما طُلِبَ ليتولَّى قضاءَ مصر؛ استخفى عند حَرمَلة بن يحيى سنة وأشهراً.
তিনি বলেন: তিনি হাদিস শ্রবণে ত্রুটি করে থাকতে পারেন, তবে যখন আপনি তার হাদিসগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেবেন যা তিনি তার উস্তাদদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তখন সেগুলোকে সঠিক পাবেন।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ইবনে জুরাইজ থেকে তার বর্ণনায় কিছু একক বর্ণনা ও ভ্রম রয়েছে।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: ইবনে জুরাইজের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি তেমন শক্তিশালী নন, তিনি তাকে ছোট মনে করতেন।
ইমাম আহমাদ বলেন: ইবনে জুরাইজ থেকে ইবনে ওয়াহবের বর্ণিত হাদিসগুলোতে কিছু সমস্যা রয়েছে।
আবু আওয়ানা বলেন: তিনি (অর্থাৎ: আহমাদ ইবনে হাম্বল) সত্য বলেছেন; কারণ তিনি তার থেকে এমন সব বর্ণনা নিয়ে আসেন যা অন্য কেউ নিয়ে আসে না।
যাই বলা হোক না কেন; তার বর্ণনার বিশালতার তুলনায় মুনকার ও ভ্রমাত্মক বর্ণনাগুলো বিরল ও নগণ্য, বরং সহীহাইন-এর সংকলকদ্বয় ইবনে জুরাইজ থেকে তার বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
ইবনে আদি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহব অত্যন্ত মর্যাদাবান ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্যতম। হিজাজ, মিশর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলসমূহের হাদিস ইবনে ওয়াহবের বর্ণনার ওপরই আবর্তিত হয়। তিনি তাদের জন্য মুসনাদ ও মাকতু হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন... আমি তার কোনো মুনকার হাদিস সম্পর্কে জানি না যখন কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেন।
ইমাম যাহাবি বলেন: তিনি তার গ্রন্থাবলিতে প্রচুর পরিমাণে মাকতু ও মু'দাল হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে সামআন ও তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু ইমাম ইবনে ওয়াহবের ওপর বিজ্ঞজনোচিত আপত্তি তুলেছেন যে, তিনি হাদিস শ্রবণে শিথিলতা প্রদর্শন করতেন। তবে তিনি শিথিলতা প্রদর্শন করে তাকে বৈধ মনে করুন কিংবা কঠোরতা অবলম্বন করুন—যিনি এক লক্ষ হাদিস বর্ণনা করেন এবং তার বর্ণনার বিশালতায় মুনকার বর্ণনা খুবই বিরল হয়, তবে হাদিসের নিপুণতায় তিনিই চূড়ান্ত গন্তব্য।
ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা বলেন: ইবনে ওয়াহবকে বিচারপতির পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি পাগলের ভান করেছিলেন এবং নিজ গৃহে অবস্থান করতে লাগলেন।
বলা হয়ে থাকে যে, যখন তাকে মিশরের বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তলব করা হলো, তখন তিনি হারমালা ইবনে ইয়াহইয়ার কাছে এক বছর কয়েক মাস আত্মগোপন করে ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
قال خالد بن خِداش: قُرئ على عبدِ الله بن وَهْبٍ كتابُ «أهوال القيامة» -يعني: من تصنيفه- فخَرَّ مَغشِيًّا عليه، فلم يتكلَّم بكلمة حتى مات بعد أيام.
وكانت وفاتُه يومَ الأحد لأربعٍ بقين من شعبان سنةَ سبعٍ وتسعين ومِئَة. رحمه الله رحمةً واسعةً وغفر له.
مؤلفاته:قال أحمد بن صالح: صنَّفَ ابنُ وَهْبٍ مِئَةَ ألفٍ وعشرين ألف حديث.
قال ابنُ حبان: جَمَعَ وصَنَّفَ.
قال ابنُ فَرحون: ألَّفَ تآليفَ كثيرة، حسنةً عظيمةَ المنفعة.
قال القاضي عِياض: ألَّف تواليفَ كثيرة، جليلةَ المقدار، عظيمةَ المنفعة منها:
سماعه من مالك ثلاثون حديثاً.
مُوَطَّؤه الكبير.
جامعه الكبير.
كتاب الأهوال - وبعضهم يضيفها إلى الجامع.
كتاب تفسير المُوَطأ.
كتاب البيعة.
كتاب لا هام ولا صفر.
كتاب المناسك.
খালিদ বিন খিদাশ বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের সামনে ‘আহওয়ালুল কিয়ামা’ (কিয়ামতের ভয়াবহতা) কিতাবটি—অর্থাৎ তাঁর স্বীয় রচনা থেকে—পাঠ করা হয়েছিল। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন, এরপর কয়েক দিন পর মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আর একটি কথাও বলেননি।
তাঁর মৃত্যু হয়েছিল একশত সাতানব্বই হিজরির শাবান মাসের চার দিন বাকি থাকতে রবিবার দিনে। আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।
তাঁর রচনাবলি:আহমাদ বিন সালিহ বলেন: ইবনে ওয়াহব এক লক্ষ বিশ হাজার হাদিস সংকলন করেছেন।
ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি (হাদিস) সংগ্রহ ও গ্রন্থনা করেছেন।
ইবনে ফারহুন বলেন: তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা অত্যন্ত সুন্দর ও অত্যন্ত উপকারী।
কাজী আয়াজ বলেন: তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেগুলোর মান অতি উচ্চ এবং উপকারিতা অপরিসীম। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইমাম মালিক থেকে তাঁর শ্রুত (সামা‘) তিরিশটি হাদিস।
তাঁর আল-মুওয়াত্তাউল কাবীর।
তাঁর আল-জামি‘উল কাবীর।
কিতাবুল আহওয়াল—কেউ কেউ এটিকে ‘আল-জামি‘’-এর অন্তর্ভুক্ত করেন।
কিতাব তাফসিরুল মুওয়াত্তা।
কিতাবুল বাইয়াত।
কিতাব ‘লা হামা ওয়া লা সাফার’।
কিতাবুল মানাসিক।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
كتاب المغازي.
كتاب الردَّة. انتهى كلامه.
ومنها: «كتاب القدر» وهو المعني بالتحقيق.
والواقع أنني لم أقف له على ذِكْرٍ أو إشارة عند من تقدَّم ذكرهم م
من ترجم لابن وَهْبٍ. وهم رحمهم الله نصُّوا على أنَّ له تآليف كثيرة، ثم ذكروا نماذج منها؛ غيرَ ملتزمين الاستيعاب. أو لعل هذا الكتابَ لم يقع لهم، مع أنه كان معروفاً متداولاً بين العُلماء، نذكر منهم:
1 - الإمام ابنُ قيِّم الجوزية:نقل كثيراً من أحاديثه بأسانيدها ومتونها في كتابه «شفاء العليل» وإليك مواضعها:
- ص (57) قال: «وهذا الذي كَتبه القلم هو القَدَر؛ لما رواه ابنُ وَهْب .. » ثم ذكر الحديث رَقْم (26).
- ص (59) قال عن حديث أبي هُريرة: جفَّ القلمُ بما أنت لاقٍ: «رواه ابنُ وَهْبٍ في كتاب القدر .. » وذكر الحديث رَقْم (16).
- ص (60) قال: «وقال ابن وَهْب
… » ثم ذكر الحديث رقم (29).
-ص (76 - 77) قال: «قال عبد الله بن وَهْب في كتاب القدر
… » ثم نقل ثلاثة أحاديث، وهي ذوات الأرقام (12، 15، 24).
কিতাবুল মাগাযী।
কিতাবুর রিদ্দাহ। তাঁর কথা এখানেই সমাপ্ত।
এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'কিতাবুল কদর', যা এখানে পর্যালোচনার মূল বিষয়।
প্রকৃতপক্ষে, ইবনুল ওয়াহাবের জীবনী যারা লিখেছেন এবং যাদের কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের বর্ণনায় আমি এই কিতাবের কোনো উল্লেখ বা সংকেত পাইনি
যারা ইবনুল ওয়াহাবের জীবনী লিখেছেন তাঁদের মধ্যে। তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের রহম করুন) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে; অতঃপর তাঁরা সেগুলোর কিছু নমুনা উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁরা সব কিতাব পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেননি। অথবা হতে পারে এই কিতাবটি তাঁদের নাগালে পৌঁছেনি, যদিও এটি আলেমদের মাঝে পরিচিত ও প্রচলিত ছিল; যাঁদের মধ্যে আমরা উল্লেখ করতে পারি:
১ - ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ:তিনি তাঁর 'শিফাউল আলীল' গ্রন্থে এর অনেকগুলো হাদিস সনদ ও মতনসহ (মূল পাঠ) উদ্ধৃত করেছেন, আর নিচে সেগুলোর স্থানসমূহ দেওয়া হলো:
- পৃষ্ঠা (৫৭), তিনি বলেছেন: "কলম যা লিখেছে তা-ই হলো কদর; কারণ ইবনুল ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন..." অতঃপর তিনি ২৬ নম্বর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
- পৃষ্ঠা (৫৯), তিনি আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস— "তুমি যা কিছুর সম্মুখীন হবে তা লিখে কলম শুকিয়ে গেছে"— সম্পর্কে বলেছেন: "ইবনুল ওয়াহাব এটি 'কিতাবুল কদর'-এ বর্ণনা করেছেন..." এবং তিনি ১৬ নম্বর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
- পৃষ্ঠা (৬০), তিনি বলেছেন: "ইবনুল ওয়াহাব বলেছেন
..." অতঃপর ২৯ নম্বর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
- পৃষ্ঠা (৭৬ - ৭৭), তিনি বলেছেন: "আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়াহাব 'কিতাবুল কদর'-এ বলেছেন
..." অতঃপর তিনটি হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, যেগুলোর নম্বর হলো (১২, ১৫, ২৪)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
- ص (101) قال: «قال ابنُ وهب
… » ونقل ثلاثةَ أحاديثَ أيضاً، وهي ذوات الأرقام (30، 36، 45).
2 - الحافظ المِزِّي:روى في كتابه العظيم «تهذيب الكمال» (17/ 472) حديثاً عن «كتاب القدر» لابن وَهْبٍ من طريق نُسختِنا هذه، فقال: «أخبرنا به أبو الحسن بن البُخاري، وأحمد بن شَيبان، وزينب بنت مكِّي قالوا: أخبرنا أبو حفص بن طَبَرْزَذ
… » فذكر الحديث رَقْم
(30). 3 - الحافظ ابنُ حَجَر:يروي الحافظ ابن حجر «كتاب القدر» عن شيخه أبي العباس؛ أحمد بن الحسن السويداوي، بسماعه من أحمد بن أبي بكر بن طي، وبدر الدين؛ محمد بن أحمد بن خالد الفارقي، بسماع ابن طي، وإجازة الفارقي إن لم يكن سماعاً؛ من شاميَّة بنت أبي علي الحسن بن محمد البكري، ثم ظهر سماع البدر.
قالت: أخبرنا عمر بن محمد بن طَبَرْزَذ به .... «المجمع المؤسس» (1/ 302)، «المعجم المفهرس» ص (57).
ونقل منه في «فتح الباري» (11/ 511) شرح حديث رَقْم (6614) قال: «
… وقد حكى ابنُ وَهْبٍ في كتاب القدر عن مالك، عن يحيى بن سعيد، أنَّ ذلك كان من آدم بعد أنْ تِيب عليه
… » ولم أقفْ على هذا النَّقل! فلعلَّه في رواية أخرى للكتاب. والله أعلم.
পৃষ্ঠা (১০১) তিনি বলেন: «ইবনে ওয়াহাব বলেছেন
… » এবং আরও তিনটি হাদিসও উদ্ধৃত করেছেন, যেগুলোর নম্বর হলো (৩০, ৩৬, ৪৫)।
২ - আল-হাফিজ আল-মিজ্জি:তিনি তাঁর মহান গ্রন্থ «তহজিবুল কামাল» (১৭/৪৭২)-এ ইবনে ওয়াহাব-এর «কিতাবুল কদর» থেকে আমাদের এই পাণ্ডুলিপির সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: «আমাদেরকে তা জানিয়েছেন আবুল হাসান ইবনুল বুখারি, আহমদ ইবনে শাইবান এবং জয়নাব বিনতে মাক্কি। তাঁরা বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু হাফস ইবনে তাবারজাদ
… » অতঃপর তিনি ৩০ নম্বর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
৩ - আল-হাফিজ ইবনে হাজার:
হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর শিক্ষক আবু আব্বাস আহমদ ইবনুল হাসান আস-সুয়াইদাভি-এর সূত্রে «কিতাবুল কদর» বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি শুনেছেন আহমদ ইবনে আবি বকর ইবনে তাই এবং বদরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে খালিদ আল-ফারিকি থেকে। তিনি ইবনে তাই-এর নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে এবং আল-ফারিকির ইজাজত (অনুমতি) অনুযায়ী—যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে—শামিয়্যাহ বিনতে আবি আলি হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরির নিকট থেকে (বর্ণনা করেছেন)। পরবর্তীতে বদর-এর সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন: ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাবারজাদ এর মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন... «আল-মুজামুল মুয়াসসিস» (১/৩০২), «আল-মুজামুল মুফাহরাস» পৃষ্ঠা (৫৭)।
এবং তিনি তা থেকে «ফাতহুল বারি» (১১/৫১১)-তে ৬৬১৪ নম্বর হাদিসের ব্যাখ্যায় উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন: «
… ইবনে ওয়াহাব কিতাবুল কদর-এ মালিকের সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, এটি আদমের পক্ষ থেকে তাঁর তওবা কবুল হওয়ার পরে ঘটেছিল
… » তবে আমি এই উদ্ধৃতিটি খুঁজে পাইনি! সম্ভবত এটি কিতাবটির অন্য কোনো বর্ণনায় রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
4 - الحافظ العَيني:قال في «عمدة القاري» (23/ 145) ط/ المنيرية:
«
… ولم ينفرد به ابنُ مسعود أيضاً، بل رواه جماعة من الصحابة مطولاً ومختصراً، منهم: أنس بن مالك
… وعبد الله بن عُمر في القدر لابنِ وَهْبٍ
… ».
5 - الإمام أبو الطَّيبِ التَّقيُّ الفاسِيُّ:قال في «ذيل التقييد» (1/ 306) ط/ أم القُرى: «الأغَرُّ بن فضائل بن كرم بن العُلّيق البغدادي، أبو نصر البابصروي
… وسمع من المبارك بن محمد بن يحيى الزَّبيدي وعبد الرحمن بن يعيش القواريري كتاب القَدَر لابنِ وَهْبٍ المِصري
… ».
6 - الإمام ابنُ بَطَّة:روى في كتابه «الإبانة» عدداً من أحاديثِ وآثار كتاب القَدَر لابن وَهْبٍ من طريق أحمد بن سعيد الهَمْداني راوي الكتاب عن ابنِ وَهْبٍ.
* * *
৪ - হাফিয আল-আইনি:তিনি ‘উমদাতুল কারি’ (২৩/১৪৫) আল-মুনিরিয়্যাহ সংস্করণে বলেছেন:
«
… কেবল ইবনে মাসউদই এটি এককভাবে বর্ণনা করেননি, বরং সাহাবীদের এক জামাত এটি বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আনাস ইবনে মালিক
… এবং ইবনে ওয়াহাব-এর ‘আল-কাদার’ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর
… »।
৫ - ইমাম আবু তৈয়ব আত-তাকি আল-ফাসি:তিনি ‘যাইলুত তাকিদ’ (১/৩০৬) উম্মুল কুরা সংস্করণে বলেছেন: «আল-আগাড় ইবনে ফাদাইল ইবনে কারাম ইবনে আল-উল্লাইক আল-বাগদাদি, আবু নাসর আল-বাবাসরাভি
… এবং তিনি আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আজ-জাবিদি ও আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াইশ আল-কাওয়ারিরি থেকে মিসরীয় ইবনে ওয়াহাব-এর ‘কিতাবুল কাদার’ শ্রবণ করেছেন
… »।
৬ - ইমাম ইবনে বাত্তাহ:তিনি তাঁর ‘আল-ইবানাহ’ গ্রন্থে ইবনে ওয়াহাব-এর ‘কিতাবুল কাদার’ থেকে আহমদ ইবনে সাঈদ আল-হামদানির সূত্রে বেশ কিছু হাদিস ও আছার বর্ণনা করেছেন, যিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে কিতাবটির বর্ণনাকারী।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
دراسة إسناد النسخة1 - يروي «كتاب القدر» عن ابنِ وَهْبٍ: أحمدُ بن سَعيد بن بِشْرٍ الهَمْدَانيُّ المِصريُّ.
قال النسائيُّ: ليس بالقويِّ.
قال زكريَّا السَّاجيُّ: ثبتٌ.
قال أحمدُ بن صالح والعِجْليُّ: ثقةٌ.
قال ابنُ حجر: صَدوق.
تُوفِّيَ سنة ثلاثٍ وخمسينَ ومئتين.
«تهذيب الكمال» (1/ 314)، «تهذيب التهذيب» (1/ 31).
2 - عنه: أبو بكر، عبدُ الله بنُ أبي داود السِّجِسْتاني صاحبِ السُّنن.
قال الدارقطنيُّ: ثقة.
قال الخليليُّ: الحافظُ؛ الإمامُ ببغداد في وقته.
تُوفِّيَ سنة ست عشرة وثلاث مِئَة.
«تاريخ بغداد» (9/ 464)، «الإرشاد» بتجزئة السلفي (2/ 10)، «السير» (13/ 221)، «اللسان» (4/ 31).
3 - عنه: أبو بكر، محمدُ بنُ إسماعيل، الوَرَّاق، البغداديُّ، المستملي.
قال البَرْقانيُّ: ثقةٌ ثقة.
قال ابنُ أبي الفَوارس: فيه تساهلٌ، ضاعت كتبُهُ؛ واستحدثَ نُسَخاً من كُتُبِ النَّاس.
পাণ্ডুলিপির সনদ পর্যালোচনা১ - ইবনু ওয়াহব থেকে ‘কিতাবুল কদর’ বর্ণনা করেছেন: আহমাদ বিন সাঈদ বিন বিশর আল-হামদানি আল-মিসরি।
আন-নাসায়ী বলেন: তিনি শক্তিশালী নন।
যাকারিয়া আস-সাজি বলেন: তিনি সুদৃঢ়।
আহমাদ বিন সালিহ এবং আল-ইজলি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য।
ইবনু হাজার বলেন: তিনি সত্যবাদী।
তিনি ২৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
‘তাহজীবুল কামাল’ (১/ ৩১৪), ‘তাহজীবুত তাহজীব’ (১/ ৩১)।
২ - তাঁর থেকে: আবু বকর, আবদুল্লাহ বিন আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি, যিনি সুনান গ্রন্থের সংকলকের পুত্র।
আদ-দারাকুতনি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য।
আল-খালিঁলি বলেন: তিনি হাফিজ; নিজ সময়ে বাগদাদের ইমাম।
তিনি ৩১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
‘তারিখু বাগদাদ’ (৯/ ৪৬৪), আস-সালাফী কর্তৃক খণ্ড বিন্যাসকৃত ‘আল-ইরশাদ’ (২/ ১০), ‘আস-সিয়ার’ (১৩/ ২২১), ‘আল-লিসান’ (৪/ ৩১)।
৩ - তাঁর থেকে: আবু বকর, মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল, আল-ওয়াররাক, আল-বাগদাদি, আল-মুস্তামলি।
আল-বারকানি বলেন: তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
ইবনু আবিল ফাওয়ারিস বলেন: তাঁর মধ্যে শিথিলতা রয়েছে, তাঁর কিতাবগুলো হারিয়ে গিয়েছিল; এরপর তিনি অন্যদের কিতাব থেকে নতুন পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
تعقَّبَهُ الذهبيُّ: التحديثُ من غير أصلٍ قد عَمَّ اليوم وطَمَّ، فنرجو أن يكونَ واسعاً بانضِمامه إلى الإجازة.
تُوفِّيَ سنة ثمانٍ وسبعينَ وثلاث مِئَة.
«تاريخ بغداد» (2/ 53)، «السِّير» (16/ 388)، «اللسان» (5/ 721).
4 - عنه: أبو الحُسين، محمدُ بن أحمد بن حسنون.
قال الخطيب: كان صدوقاً، ثقةً، من أهل القرآن؛ حسن الاعتقاد.
تُوفِّيَ سنة ستٍّ وخمسينَ وأربع مِئَة.
«تاريخ بغداد» (1/ 356).
5 - عنه: أبو غَالب، أحمدُ بن الحَسن بن البنَّاء، البغداديُّ، الحنبليُّ.
قال الذهبيُّ: الشيخُ، الصالح، الثقة.
تُوفِّيَ سنة سبعٍ وعشرينَ وخمس مِئَة. «السِّير» (19/ 603).
6 - عنه: أبو حَفص، عُمر بن محمَّد بن مُعَمَّر بن طَبَرْزَذ، الدَّارَقَرِّيُّ.
قال ابنُ نُقطة: هو مكثرٌ، صحيحُ السَّماعِ، ثقةٌ في الحديث.
قال ابنُ النَّجار: كان متهاوناً بأمور الدِّين، وكُنَّا نسمعُ منه يوماً أجمع؛ فنُصَلِّي، ولا يُصلِّي معنا، ولا يقومُ لصلاةٍ، وكان يطلبُ الأجْرَ على روايةِ الحديث.
قال الذَّهبيُّ: فمعَ ما أبدَينا من ضعفه، قد تكاثرَ عليه الطَّلبةُ،
আয-যাহাবী এর ওপর মন্তব্য করেছেন: মূল পাণ্ডুলিপি ব্যতিরেকে হাদীস বর্ণনা করা বর্তমানে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ হয়ে গেছে, তাই আমরা আশা করি যে ইজাযাহর (অনুমতির) সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনি তিনশত আটাত্তর হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
‘তারিখ বাগদাদ’ (২/ ৫৩), ‘আস-সিয়ার’ (১৬/ ৩৮৮), ‘আল-লিসান’ (৫/ ৭২১)।
৪ - তাঁর সূত্রে: আবুল হুসাইন, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাসনুন।
আল-খাতীব বলেন: তিনি সত্যবাদী, নির্ভরযোগ্য এবং কুরআনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তাঁর আকিদাহ ছিল উত্তম।
তিনি চারশত ছাপ্পান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
‘তারিখ বাগদাদ’ (১/ ৩৫৬)।
৫ - তাঁর সূত্রে: আবু গালিব, আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আল-বান্না, আল-বাগদাদী, আল-হানবালী।
আয-যাহাবী বলেন: শাইখ, নেককার, নির্ভরযোগ্য।
তিনি পাঁচশত সাতাশ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। ‘আস-সিয়ার’ (১৯/ ৬০৩)।
৬ - তাঁর সূত্রে: আবু হাফস, উমর বিন মুহাম্মাদ বিন মুআম্মার বিন তাবারযাদ, আদ-দারাকাররি।
ইবনু নুকতাহ বলেন: তিনি অধিক বর্ণনাকারী, তাঁর শ্রবণ বিশুদ্ধ এবং হাদীস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য।
ইবনুন নাজ্জার বলেন: তিনি দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন। আমরা সারাদিন তাঁর নিকট হাদীস শুনতাম; এরপর আমরা সালাত আদায় করতাম কিন্তু তিনি আমাদের সাথে সালাত আদায় করতেন না এবং সালাতের জন্য দাঁড়াতেনও না। তিনি হাদীস বর্ণনার বিনিময়ে পারিশ্রমিক দাবি করতেন।
আয-যাহাবী বলেন: আমরা তাঁর যে দুর্বলতা প্রকাশ করেছি তা সত্ত্বেও তাঁর নিকট শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল,
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وانتشر حديثُهُ في الآفاق، وفَرِحَ الحُّفَّاظُ بعَواليه، ثم في الزَّمن الثاني تزاحموا على أصحابه، وحمَلوا عنهم الكثيرَ، وأحسنوا به الظَّنَّ، والله الموعد، ووثَّقه ابنُ نقطة.
تُوفِّيَ سنة سبع وست مِئَة.
ملاحظة: الطَّبَرْزَذ: هو السُّكَّر. والدَّارَقَزِّيُّ: نسبة إلى دار القَزِّ، محلَّة كبيرة كانت ببغداد.
«مختصر تاريخ ابن الدُّبيثي» (5/ 286)، «ذيل تاريخ بغداد» لابن النَّجار ص (118)، «السِّير» للذهبي (21/ 507)، «اللسان» لابن حجر (5/ 234).
7 - عنه: شهابُ الدين، أبو الفضل، عبدُ الرحيم بن يُوسف بن يَحيى، المَوْصِلِيُّ، ابنُ خطيب المِزَّة، الدِّمشقيُّ، المُسْنِدُ.
كان ثقةً، فاضلاً، دَيِّناً.
«الوافي بالوَفَيات» (18/ 399)، «شذرات الذهب» (5/ 401).
8 - عنه: شمسُ الدين، أبو عبد الله، محمَّد بن أحمد بن إبراهيم، بن حَيدرة، المعروف بابن القمَّاح، الإمام، الثقة، الفقيه، كان آيةً في حفظ القرآن وفي الذَّكاء.
تُوفِّي سنة إحدى وأربعين وسبع مئة.
«الوافي بالوَفَيات» (2/ 150)، «الدُّرر الكامنة» (3/ 303)، «شذرات الذهب» (6/ 131).
* * *
তাঁর বর্ণিত হাদিস দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং হাদিস বিশারদগণ তাঁর উচ্চপর্যায়ের সনদবিশিষ্ট হাদিসগুলো পেয়ে আনন্দিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মানুষ তাঁর ছাত্রদের কাছে ভিড় জমিয়েছিলেন এবং তাঁদের থেকে প্রচুর হাদিস গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা তাঁর সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতেন। আল্লাহর নিকটই চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। ইবনে নুকতাহ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি ৬০৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
দ্রষ্টব্য: ‘তাবারজাদ’ অর্থ হলো চিনি। আর ‘দারাকাজ্জি’ শব্দটি ‘দারুল কাজ’-এর সাথে সম্পর্কিত, যা বাগদাদের একটি বড় মহল্লার নাম ছিল।
‘মুখতাসারু তারিখি ইবনিদ দুবাইসি’ (৫/২৮৬), ইবনুন্ নাজ্জারের ‘যাইনু তারিখি বাগদাদ’ পৃ. (১১৮), যাহাবির ‘আস-সিয়ার’ (২১/৫০৭), ইবনু হাজারের ‘আল-লিসান’ (৫/২৩৪)।
৭ - তাঁর সূত্রে: শিহাবুদ্দিন আবু আল-ফজল আব্দুর রহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাওসিলি, যিনি ইবনে খতিবে মজিদ আদ-দিমাশকি নামে পরিচিত, তিনি একজন মুসনিদ ছিলেন।
তিনি নির্ভরযোগ্য, বিদগ্ধ এবং ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন।
‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’ (১৮/৩৯৯), ‘শাযারাতুজ জাহাব’ (৫/৪০১)।
৮ - তাঁর সূত্রে: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হায়দারা, যিনি ইবনুল কাম্মাহ নামে সুপরিচিত। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, নির্ভরযোগ্য ও ফকিহ। পবিত্র কুরআন মুখস্থ রাখা এবং মেধার ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন।
তিনি ৭৪১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’ (২/১৫০), ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৩/৩০৩), ‘শাযারাতুজ জাহাব’ (৬/১৩১)।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وصف المخطوطات المعتمدة في التحقيق
1 - نسخة الأسكوريال (الأصل):هي نسخةٌ قديمة نفيسة، تقعُ صمن مجموع يضمُّ عدداً من كُتُبِ الحديث والرِّجال، محفوظة في دير الأسكوريال في إسبانيا، وعنها صُورة ورقية في مكتبة الحرم المكي.
عدد أوراقها: (6) لوحات، بما يعادل (11) صفحة.
يتراوح عدد الأسطر في كلِّ صفحة بين 27 - 28 سطراً.
خطُّها رديء، وغير معجَم في الغالب.
مقابلة، ومصحَّحة، وعليها عَددٌ من السَّماعات.
ناسخها: أحمدُ بن عثمان بن محمد بن إبراهيم بن عبد الله، أبو الفتح، الكِرمانيُّ الأصل، القاهِريُّ، الحنفي، المحدِّث، ويُعرف بالكلوتاتي.
تكررت قراءته للكتب الكبار، حتى إنه قرأ البخاريَّ أكثر من ستين مرةً، وشيوخُه فيه نحوٌ من ذلك، وكتب بخطه جملةً من تصانيف الشيوخ، ثم من تصانيف الأقران كالولي العراقي، ثم ابن حَجَر، وخطُّه رديء.
كان ديِّناً، خيراً، كثيرَ العبادة، على وجهه وضاءةُ الحديث.
تُوفِّي في سنة خمسٍ وثلاثينَ وثمانِ مئة بالقاهرة.
«الضوء اللامع» (1/ 378).
সম্পাদনায় ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ
১ - এস্কোরিয়াল পাণ্ডুলিপি (মূল):এটি একটি প্রাচীন ও মূল্যবান পাণ্ডুলিপি, যা হাদীস ও রিজাল শাস্ত্রের বেশ কিছু কিতাব সংবলিত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এটি স্পেনের এস্কোরিয়াল মঠে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এর একটি কাগজের অনুলিপি মক্কার হারাম লাইব্রেরিতে বিদ্যমান।
এর পত্র সংখ্যা: (৬)টি পত্র, যা (১১) পৃষ্ঠার সমতুল্য।
প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ লাইনের মধ্যে।
এর হস্তাক্ষর নিম্নমানের এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নুকতাহীন।
এটি মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে (মুকাবালা), সংশোধিত এবং এতে একাধিক শ্রবণ-সনদ (সামা'আত) বিদ্যমান।
এর লিপিকার: আহমদ বিন উসমান বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ, আবুল ফাতহ, মূলগতভাবে কিরমানি, কায়রোবাসী, হানাফি, মুহাদ্দিস, এবং তিনি 'আল-কালুতাতী' নামে পরিচিত।
তিনি বড় বড় কিতাবসমূহ বারবার পাঠ করেছেন, এমনকি তিনি বুখারি ষাটের অধিকবার পাঠ করেছেন এবং এই কিতাবে তাঁর উস্তাদদের সংখ্যাও প্রায় অনুরূপ। তিনি স্বহস্তে উস্তাদদের অনেক রচনা এবং সমসাময়িকদের—যেমন ওয়ালি আল-ইরাকি এবং ইবনে হাজার—অনেক রচনা প্রতিলিপি করেছেন, তবে তাঁর হাতের লেখা ছিল নিম্নমানের।
তিনি ধর্মপ্রাণ, নেককার ও অধিক ইবাদতকারী ছিলেন; তাঁর চেহারায় হাদীসের ঔজ্জ্বল্য ফুটে উঠত।
তিনি ৮৩৫ হিজরিতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন।
«আদ-দাউ আল-লামি'» (১/ ৩৭৮)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
2 - نسخة الظاهرية:عدد أوراقها: (6) لوحات، بما يعادل (11) صفحة.
خطها: فارسي متقن جداً ومعجم.
قام ناسخُها بمقابلتها وتصحيحها واستدراك السقط وتصحيح الأخطاء في هامشها.
في هامشها عدةُ تعليقات وإفادات بخط ناسخها «زين العابدين».
ولا تحمل أي سماعات أو تواريخ، أو ما أشبه.
لا تخلو من بعض الأخطاء. والظاهر أنها منقولة من نسخة الأسكوريال.
3 - النسخة الهندية:محفوظة في ندوة العلماء بلكنو بالهند تحت رقم (56)، وعنها صورة في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة برقم (27) حديث.
خطها: رقعي يقترب من النسخ.
ناسخها: سيد كليم أحمد، بتاريخ 10/ ديسمبر/ 1930 م.
قابلها بأصلها المنقول منه وصحَّحها: عزُّ الدين الفلواروي أستاذ اللغة العربية في ندوة العلماء بلكنو.
قال المصحِّح عن الأصل المنقول منه: كان مملوءاً من الأخلاط
২ - যাহিরিয়া পান্ডুলিপি:এর পত্র সংখ্যা: (৬)টি পাতা, যা (১১) পৃষ্ঠার সমতুল্য।
এর লিপি: অত্যন্ত নিপুণ এবং নুকতাযুক্ত ফার্সি লিপি।
এর লিপিকার এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা ও সংশোধন করেছেন এবং বাদ পড়া অংশগুলো যুক্ত করার পাশাপাশি এর পার্শ্বটীকায় ভুলগুলো সংশোধন করেছেন।
এর পার্শ্বটীকায় লিপিকার ‘যয়নুল আবেদীন’-এর হস্তাক্ষরে বেশ কিছু মন্তব্য ও টীকা রয়েছে।
এতে কোনো শ্রবণ সনদ (সামাআতি), তারিখ বা অনুরুপ কিছু নেই।
এটি কিছু ভুলত্রুটি মুক্ত নয়। দৃশ্যত এটি এসকোরিয়াল পান্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে।
৩ - ভারতীয় পান্ডুলিপি:এটি ভারতের লখনউস্থ নদওয়াতুল উলামায় (৫৬) নম্বরাধীনে সংরক্ষিত আছে এবং মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে (২৭) হাদিস নম্বরে এর একটি প্রতিলিপি রয়েছে।
এর লিপি: রুকআ লিপি যা নাসখ লিপির কাছাকাছি।
এর লিপিকার: সাইয়্যেদ কলিম আহমাদ, তারিখ: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ।
লখনউ নদওয়াতুল উলামার আরবি ভাষার অধ্যাপক ইজ্জুদ্দীন আল-ফুলওয়ারী এটিকে তার মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে পাঠান্তর যাচাই ও সংশোধন করেছেন।
সংশোধক সেই মূল উৎস সম্পর্কে বলেছেন: এটি নানা ধরণের অসংলগ্নতায় পরিপূর্ণ ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
والمتروكات اللفظية. فجاء الآن بمَنِّ الله على أحسن ما يقدر الإنسانُ على إتقانه ونظمه الرائق المعجب.
قلت: ومع ذلك بقيت حافلةً بالتصحيفات. ويبدو لي أنها منقولةٌ من أحد فروع نُسخة الأسكوريال. والله أعلم.
* * *
এবং শব্দগত বর্জনসমূহ। আল্লাহর অনুগ্রহে এটি এখন এমন এক সর্বোত্তম রূপে উপস্থাপিত হয়েছে, যা কোনো মানুষের পক্ষে এর নিখুঁতকরণ এবং এর চমৎকার ও বিস্ময়কর বিন্যাসের ক্ষেত্রে করা সম্ভব।
আমি বলছি: তা সত্ত্বেও এটি পাঠ-বিকৃতিতে (তাসহিফাত) পরিপূর্ণ রয়ে গেছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে এটি এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপির কোনো একটি শাখা থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
نماذج من المخطوطات المعتمدةنموذج من نسخة الأسكوريال
(الأصل)
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিসমূহের নমুনাএসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপির একটি নমুনা
(মূল)
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
نموذج من نسخة الأسكوريال
(الأصل)
এস্কোরিয়াল পাণ্ডুলিপির একটি নমুনা
(মূল)
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
نموذج من نسخة الظاهرية
জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপির একটি নমুনা
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
نموذج من نسخة الظاهرية
জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির একটি নমুনা।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
نموذج من نسخة لكنو (الهندية)
وقد نسبها الناسخُ خطأً لأبي داود السجستاني
লক্ষ্ণৌ (ভারতীয়) সংস্করণের একটি নমুনা।
এবং লিপিকার ভুলবশত এটিকে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
نموذج من نسخة لكنو (الهندية)
লখনউ (ভারতীয়) সংস্করণের একটি নমুনা
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
كتابُ القَدَر وما وَرَدَ في ذلكَ من الآثار
تأليف
الإمام عبد الله بن وَهْب بن مُسلم القُرشيِّ المِصريِّ
تغمَّده الله تعالى برحمته
رواية أبي جعفر، أحمدَ بن سعيد المِصريِّ عنه.
رواية أبي بكر، عبد الله بن أبي داود السِّجستاني عنه.
رواية أبي بكر، محمد بن إسماعيل الوَرَّاق عنه. وفيه زيادة عن شيوخه.
رواية أبي الحُسين، محمَّد بن أحمد بن حسنون عنه.
رواية أبي غالب، أحمد بن الحَسن بن البنَّاء عنه.
رواية أبي حفص، عُمر بن محمَّد بن مُعَمَّر بن طَبَرْزَذ الدَّارَقَزِّي عنه.
رواية أبي الفضل، عبد الرحيم بن يُوسف بن يحيى القُرشيِّ، ابن خطيب المِزَّة عنه.
رواية كاتبه -يعني: كاتب الأصل المنقول منه
(1) - محمَّد بن أحمد بن إبراهيم بن حَيدرة القُرشيِّ عنه إجازة.
--------------------------------------------
তাকদিরের কিতাব এবং এ বিষয়ে বর্ণিত আসারসমূহ
রচনায়
ইমাম আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহব বিন মুসলিম আল-কুরাশি আল-মিসরি
আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন
তাঁর থেকে আবু জাফর আহমদ বিন সাঈদ আল-মিসরির বর্ণনা।
তাঁর থেকে আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আবি দাউদ আস-সিজিস্তানির বর্ণনা।
তাঁর থেকে আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ওয়াররাকের বর্ণনা। এতে তাঁর উস্তাদদের থেকে অতিরিক্ত কিছু অংশ রয়েছে।
তাঁর থেকে আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসনুনের বর্ণনা।
তাঁর থেকে আবু গালিব আহমদ বিন আল-হাসান বিন আল-বান্নার বর্ণনা।
তাঁর থেকে আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মুআম্মার বিন তাবারযাদ আদ-দারাকযির বর্ণনা।
তাঁর থেকে আবুল ফজল আব্দুর রহিম বিন ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া আল-কুরাশি, ইবনে খতিব আল-মিজ্জাহর বর্ণনা।
এর লেখকের বর্ণনা - অর্থাৎ: যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি নকল করা হয়েছে তার লেখক
(১) - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন হায়দারা আল-কুরাশি তাঁর থেকে অনুমতি (ইজাজত) সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣١)
بسم الله الرحمن الرحيم
صلَّى الله على سيِّدنا محمَّدٍ وآلِهِ وصحبِهِ وسَلَّم تسليماً كثيراً.
أخبرنا الشَّيخُ الأجلُّ المُسْنِدُ، شهابُ الدِّين، أبو الفَضل، عبدُ الرحيم
(1) بنُ يوسف بنِ يحيى الدِّمشقيُّ إذْناً، قال: أنا أبو حفصٍ؛ عُمرُ بنُ محمَّد بنِ مُعَمَّر بن طَبَرْزَذ؛ الدَّارَقَزِّيُّ، قِراءةً عليه ونحن نسمع، أنا أبو غالبٍ، أحمدُ بنُ الحَسَنِ بنَ أحمد بنِ البنَّاء، الفقيه، أبنا [أبو]
(2) الحُسين؛ محمَّدُ بنُ أحمد بنِ محمَّد بنِ حسنون، القُرشيُّ، قراءةً عليه في سنة خمسٍ وخمسينَ وأربعِ مئة، قال: قُرِئَ على أبي بكرٍ؛ محمَّد بنِ إسماعيل بنِ العباس بنِ محمَّد، الورَّاقِ، وأنا أسمع في جُمادى الأُولى من سنة اثنينِ وسبعينَ وثلاث مِئَة.
الجزء الأول (3)(1) - حَدَّثَنا أبو بكر؛ عبدُ الله بن سُليمان بن
(4) الأشْعَث بن إسحاق السِّجِسْتاني؛ قراءةً من أصل كتابه، سنة إحدى عشرة
(5) وثلاث مِئَة، حَدَّثَنا
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের প্রতি আল্লাহর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মহিমান্বিত শাইখ, আল-মুসনিদ, শিহাবুদ্দীন আবুল ফজল আবদুর রহীম
(১) ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দিমাশকি আমাদের অনুমতিসূত্রে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুয়াম্মার ইবনে তাবারজাদ আদ-দারাকাজ্জি আমাদের কাছে পাঠ করেছেন এবং আমরা শুনছিলাম, (তিনি বলেন:) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু গালিব আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আহমদ ইবনুল বান্না আল-ফকিহ্, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন [আবু]
(২) আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসনুন আল-কুরাশি, চারশত পঞ্চান্ন হিজরি সালে তাঁর নিকট পাঠকালে, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাকের নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তিনশত বাহাত্তর হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে তা শুনছিলাম।
প্রথম খণ্ড (৩)(১) - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক আস-সিজিস্তানি; তিনশত এগারো হিজরি সালে তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠের মাধ্যমে, তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
أبو جعفر، أحمدُ بن سعيد بن بِشْر الهَمْدانيُّ المِصريُّ، أبنا عبدُ الله بن وَهْب، أنا
(1) أنسُ بن عياض، عن الحارث بن عبدِ الرحمن بن أبي ذُباب، عن يزيدَ بن هُرمز، قال:
سمعتُ أبا هُريرةَ رضي الله عنه يقول: قالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: «احْتَجَّ آدمُ ومُوسَى عليهما السلام عند ربِّهِما عز وجل، فحَجَّ* آدمُ مُوسَى، فقال مُوسَى: أنت آدمُ الذي خَلقَكَ اللهُ بيدهِ، ونفَخَ فيكَ من رُوحِهِ، وأسْجَدَ لك ملائِكَتَهُ، وأسْكَنَكَ في جَنَّتِهِ، ثم أهْبَطْتَ النَّاسَ بخَطيئَتِكَ إلى الأرضِ؟
قال آدمُ: أنت مُوسَى الذي اصْطَفاكَ اللهُ برسالَتِهِ وبكَلامِهِ، وأعطاكَ الألواحَ، فيها تِبْيانُ كُلِّ شيءٍ، وقَرَّبكَ نَجيًّا، فَبِكَمْ وجَدتَ اللهَ عز وجل كتبَ التَّوراةَ مِنْ قَبلِ أنْ يَخْلُقَني؟
قال مُوسى: بأربعينَ عاماً.
قال آدمُ: فهل وجدتَ فيها
(2) {وعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوى}؟
قالَ: نعم.
قال: أفَتَلُومُني على أنْ عَمِلتُ عَمَلاً كَتَبَهُ اللهُ عَلَيَّ قبلَ أنْ يَخْلُقَني بأربعينَ سنةً؟
قالَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: فحَجَّ آدمُ مُوسَى»
(3).
--------------------------------------------
আবু জাফর, আহমাদ বিন সাঈদ বিন বিশর আল-হামদানি আল-মিসরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়াহব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(১) আনাস বিন ইয়াজ, আল-হারিস বিন আব্দুর রহমান বিন আবি জুবাব থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন হুরমুজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আদম ও মুসা আলাইহিমাস সালাম তাদের মহান রবের সমীপে বিতর্কে লিপ্ত হলেন। তখন আদম মুসাকে তর্কে পরাজিত করলেন। মুসা বললেন: আপনিই কি সেই আদম যাকে আল্লাহ তাঁর নিজের হাতে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, তাঁর ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং তাঁর জান্নাতে আপনাকে বসবাস করতে দিয়েছেন, অতঃপর আপনি আপনার ত্রুটির কারণে মানুষকে পৃথিবীতে নামিয়ে এনেছেন?
আদম বললেন: আপনিই কি সেই মুসা যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও তাঁর কালামের (কথপোকথনের) মাধ্যমে মনোনীত করেছেন, আপনাকে ফলকসমূহ দান করেছেন যাতে সবকিছুর বিবরণ রয়েছে এবং আপনাকে একান্ত আলাপের জন্য নিকটবর্তী করেছেন? তবে আপনি আল্লাহ তাআলা আমাকে সৃষ্টি করার কতকাল পূর্বে তাওরাত লিপিবদ্ধ করেছেন বলে পেয়েছেন?
মুসা বললেন: চল্লিশ বছর পূর্বে।
আদম বললেন: আপনি কি তাতে এই আয়াতটি পেয়েছেন যে, {আদম তার রবের অবাধ্য হলেন, ফলে তিনি পথভ্রষ্ট হলেন}?
(২)তিনি বললেন: হ্যাঁ।
আদম বললেন: তবে কি আপনি আমাকে এমন একটি কাজ করার জন্য তিরস্কার করছেন যা আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বেই আমার জন্য লিখে রেখেছিলেন?
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এভাবেই আদম মুসাকে তর্কে পরাজিত করলেন»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
(2) - قال الحارثُ: وثَنا عبدُ الرَّحمن بن هُرمز،
عن أبي هُريرة رضي الله عنه، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم بذلك
(1).
(3) - وحَدَّثَنا أبو بكر؛ عبدُ الله بن سُليمان، قال: وحَدَّثَنا أحمدُ بن سعيد بن بِشْرٍ الهَمْداني، أبنا ابنُ وَهْبٍ، قال: أخبرني هِشَامُ بنُ سَعْد، عن زيدِ بن أسْلِم، عن أبيه،
عن عُمر بن الخطَّاب رضي الله عنه، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم بذلك
(2).
--------------------------------------------
(2) - হারিস বলেছেন: এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন হুরমুয,
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একই বিষয় (বর্ণনা করেছেন)
(1)।
(3) - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর; আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সাঈদ বিন বিশর আল-হামদানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল ওয়াহব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হিশাম বিন সাদ, যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে,
উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একই বিষয় (বর্ণনা করেছেন)
(2)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাদার - ইবনু ওয়াহাব - তাহকীক আল-হাফিয়ান
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
(4) - حَدَّثَنا عبدُ الله بن سُليمان، ثَنَا الهَمْداني، قال: أبنا ابنُ وَهْب، قال: أخبرني أسامةُ بن زيدٍ الليثيُّ، عن عُمرَ بن الحكَم بن ثَوبان،
أنه سَمِعَ أبا هُريرة رضي الله عنه يُحدِّثُ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم نحو ذلك
(1).
(5) - حَدَّثَنا عبدُ الله بن سُليمان، قال: وثَنَا الهَمْدانيُّ، قال: أبنا ابنُ وَهْبٍ، قال: أخبرني يُونُسُ، عن ابنِ شهابٍ، عن حُميدِ بنِ عبدِ الرَّحمن؛
أنَّه سَمِعَ أبا هُريرةَ يُحَدِّثُ عن رسولِ الله صلى الله عليه وسلم بنحوِ ذلك
(2).
--------------------------------------------
(৪) - আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-হামদানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উসামা ইবনে যাইদ আল-লাইসি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনুল হাকাম ইবনে সাওবান থেকে,
যিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন)-কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছেন
(১)।
(৫) - আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং আল-হামদানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে;
যিনি আবু হুরায়রাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছেন
(২)।
--------------------------------------------