(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: -)
الجامع في العلل والفوائد   (ماهر الفحل)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: الجامع في العلل والفوائد

المؤلف: ماهر ياسين الفحل

الناشر: دار ابن الجوزي - السعودية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 ربيع الآخر 1446

আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়াইদ   (মাহির আল-ফাহল)

বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি ও প্রশ্নাবলি


গ্রন্থ: আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়াইদ

লেখক: মাহির ইয়াসিন আল-ফাহল

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযি - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩১ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ রবিউস সানি ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له.

«وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وخيرته من خلقه وسفيره بينه وبين عباده، المبعوث بالدين القويم، والمنهج المستقيم، أرسله الله رحمةً للعالمين، وإماماً للمتقين، وحجةً على الخلائق أجمعين»(1).

(يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوْتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُوْنَ) (آل عمران: 102).

(يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً واتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءلُوْنَ بهِ وَالأَرْحَامِ إنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْباً) (النساء: 1). (يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُوْلُوا قَوْلاً سَدِيْداً * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ ويَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيْما) (الأحزاب: 70 - 71).

أما بعد:

فإني أحمد الله وأكرر حمدي وثنائي وتمجيدي لله رب العالمين، الحمد لله رب العالمين، الحمد لله الذي خلق السماوات والأرض وجعل الظلمات والنور، الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجاً، الحمد لله الذي له ما في السموات والأرض وله الحمد في الآخرة وهو الحكيم الخبير، الحمد لله فاطر السموات والأرض جاعل الملائكة رسلاً أولي

--------------------------------------------

(1) من مقدمة زاد المعاد 1/ 34 لابن القيم، وأنا أنصح كلَّ مسلم بقراءة كتب هذا الإمام.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

«আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে দূত, যাকে সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথ দিয়ে পাঠানো হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ, মুত্তাকীদের জন্য ইমাম হিসেবে এবং সমস্ত সৃষ্টির উপর দলিল হিসেবে পাঠিয়েছেন»(১).

(হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না) (আলে ইমরান: ১০২)।

(হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়ে (সতর্ক থাকো); নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন) (আন-নিসা: ১)। (হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে) (আল-আহ্যাব: ৭০ - ৭১)।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং রাব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য আমার প্রশংসা, গুণকীর্তন ও মহিমা বারবার ব্যক্ত করছি। সকল প্রশংসা রাব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং আখেরাতেও সকল প্রশংসা তাঁরই; আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা এবং ফিরিশতাদের বার্তাবাহক হিসেবে নিয়োগকারী...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কায়্যিমের ‘যাদুল মা’আদ’ ১/৩৪-এর ভূমিকা থেকে; আমি প্রত্যেক মুসলিমকে এই ইমামের কিতাবসমূহ পড়ার নসিহত করছি।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৬)
أجنحة مثنى وثلاث ورباع يزيد في الخلق ما يشاء؛ إنَّ الله على كل شيءٍ قدير، أحمده حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه، أحمده عدد خلقه ورضا نفسه وزنة عرشه ومداد كلماته، الحمد لله الذي يسر لي إتمام كتاب "الجامع في العلل والفوائد" على الوجه اللائق الذي جهدت فيه كلَّ جهدي؛ لأجل أنْ يكون بالشكل الذي يرضي كل محبٍّ للسنة، الحمد لله الذي وفقني لهذا العمل ويسر لي أموره وسبله حتى خرج بهذه الحلة، الحمد لله الذي قدر لي فهداني إلى علم الأثر، ويسر لي خدمة سنة سيد البشر في تخصصٍ دقيقٍ من أدق علوم السنة. نِعمُ الله عليَّ كثيرةٌ لا تعد ولا تحصى وعطاياه لي عميمةٌ وفيرةٌ؛ فأسألُ الله أنْ يديم عليَّ النعمة، وييسر لي شكرَها وأنْ يجعلني مباركاً أينما كنت، وأنْ يجعلني هادياً مهدياً خادماً لكتاب الله ناشراً لسنة نبيه.

إنَّ الله خلق الإنسان من عدم وأمده من عُدْم قال تعالى: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا) (النساء:) (وقد علم الله الإنسان قال تعالى:) وَعَلَّمَ آَدَمَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا) (البقرة: 31) وأسبغ عليه النعم العظيمة قال تعالى: (أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً) (لقمان: 20).

فالإنسان يجب عليه أنْ ينظر إلى نعمة الله منذ أنْ كان لا شيء، ثم خلقه الله تعالى قال جل ذكره وتقدست أسماؤه: (هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا) (الإنسان: 1).

ولْيتذكرْ الإنسان نعمة الله منذ أنْ كان علقة قال تعالى: (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَق) (العلق: 1 - 2).

ومن يقرأ القرآن بتدبرٍ ويتتبع النصوص القرآنية حول مراحل خلق الإنسان يجد أنَّ خلق الإنسان مر بمراحلَ مرحلة خلقه من تراب ومرحلة خلقه من طين لازب ومرحلة خلقه من صلصال من حمأٍ مسنون، ومرحلة خلقه من صلصال كالفخار، ومرحلة اشتقاقه من نفسٍ واحدة هي نفس آدم، ومرحلة خلقه من ماء مهين في النطفة، ومرحلة خلقه من علقة، ثم من مضغة مخلقة
দুইটি, তিনটি এবং চারটি ডানা বিশিষ্ট; তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আমি আল্লাহর এমন প্রশংসা করি যা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময়। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমপরিমাণ, তাঁর নিজের সন্তুষ্টি মোতাবেক, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর কালামের কালির সমপরিমাণ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার জন্য 'আল-জামি' ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়াইদ' গ্রন্থটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সহজ করে দিয়েছেন যার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি; যাতে এটি এমন রূপে হয় যা সুন্নাহর সকল অনুরাগী ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করবে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এই কাজের তাওফিক দিয়েছেন এবং এর বিষয়াদি ও পথসমূহকে সহজ করেছেন যতক্ষণ না এটি এই সুসজ্জিত রূপে প্রকাশিত হয়েছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং আমাকে আছারের ইলমের দিকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং সুন্নাহর সূক্ষ্মতম ইলমসমূহের মধ্যে একটি বিশেষ শাখায় মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সুন্নাহর খিদমত করা আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। আমার ওপর আল্লাহর নেয়ামত অনেক যা গণনা করা অসম্ভব এবং আমার প্রতি তাঁর দান ব্যাপক ও প্রচুর; অতএব আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার ওপর এই নেয়ামত অব্যাহত রাখেন, আমাকে তাঁর শুকরিয়া আদায়ের তৌফিক দেন এবং আমি যেখানেই থাকি আমাকে বরকতময় করেন, আর আমাকে হেদায়াত দানকারী ও হেদায়াতপ্রাপ্ত এবং আল্লাহর কিতাবের খাদেম ও তাঁর নবীর সুন্নাহর প্রচারক হিসেবে কবুল করেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষকে অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং অভাব থেকে তাকে প্রাচুর্য দান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: (হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক) (আন-নিসা)। (এবং আল্লাহ মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, মহান আল্লাহ বলেন:) এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন) (আল-বাকারাহ: ৩১) এবং তার ওপর মহান নেয়ামতরাজি পূর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা কি দেখনি যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ তা তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন?) (লুকমান: ২০)।

অতএব মানুষের উচিত আল্লাহর নেয়ামতের দিকে নজর দেওয়া যখন সে কিছুই ছিল না, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর স্মরণ মহান হোক এবং তাঁর নামসমূহ পবিত্র হোক, তিনি বলেন: (মানুষের ওপর কি এমন এক সময় অতিবাহিত হয়নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না?) (আল-ইনসান: ১)।

মানুষ যেন আল্লাহর নেয়ামতকে স্মরণ করে যখন সে রক্তপিণ্ড ছিল। মহান আল্লাহ বলেন: (পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন * তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাটবদ্ধ রক্তপিণ্ড থেকে) (আল-আলাক: ১ - ২)।

আর যে ব্যক্তি গভীর উপলব্ধির সাথে কুরআন পাঠ করবে এবং মানুষের সৃষ্টির পর্যায়সমূহ সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনাগুলো অনুসরণ করবে, সে দেখতে পাবে যে মানুষের সৃষ্টি কয়েকটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে—যেমন: মাটি থেকে সৃষ্টির পর্যায়, আঠালো কাদা থেকে সৃষ্টির পর্যায়, দুর্গন্ধযুক্ত কাদা থেকে তৈরি শুষ্ক কাদা থেকে সৃষ্টির পর্যায়, পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মাটি থেকে সৃষ্টির পর্যায়, এক ব্যক্তি অর্থাৎ আদমের সত্তা থেকে উদ্ভূত হওয়ার পর্যায়, বীর্যবিন্দুর তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টির পর্যায়, জমাটবদ্ধ রক্তপিণ্ড থেকে সৃষ্টির পর্যায়, এরপর সুগঠিত মাংসপিণ্ড থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৭)
وغير مخلقة، مع تتابع أطوار خلقه في بطن أمه خلقاً من بعد خلق في ظلمات ثلاث(1).

وكان من نعم الله على البشرية أنْ أرسل الله لهم الرسل مبشرين ومنذرين لحاجة الناس إلى الرسالات فالنفوس الأرضية تربة، من شأنها أنْ تنبت الأخلاق الذميمة ما لم تُسقَ بماء الإيمان الطاهر، وتشرق عليه شمس العلم الديني الصحيح وتهب عليها رياح التذكير؛ فأيُّ أرض أمحلت من ذلك الماء، وحجب عنها شعاع تلك الشمس، وسدت عنها طرق تلك الرياح، كان نباتها كما قالت الملائكة عليهم السلام: (أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ) (البقرة: 30)(2).

وقد ختم الله رسالات الأنبياء بأعظم نبيٍّ وأعظم رسول وشريعته هي التي تصلح لكل زمان، وهذه الشريعة لها رافدان عظيمان: الرافد الأول: كتاب الله العظيم القرآن الكريم الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيلٌ من حكيم حميد، وهو أصل الدين ومنبع الطريق المستقيم، والرافد الثاني: السنة النبوية التي تتضمن أقواله وأفعاله وتقريراته وصفاته صلوات ربي وسلامه عليه. والمستدّلُ بالقرآن لا يحتاج إلى بحث فالقرآن منقولٌ إلينا بالتواتر بالصدور والسطور، وقد تكفل الله بحفظه قال تعالى: (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُون) (الحجر: 9). أما السنة النبوية فلم تنقل إلينا كما نقل القرآن لكنَّ الله حفظها بنقد العلماء الفهماء النجباء الذين نقوا السنة مما شابها من أعداء الدين وغلط الغالطين وعبث العابثين، ولما كان الله قيظ لهذه السنة من يقوم بحفظها ورعايتها وتنقيتها منذ الصدر الأول وحتى يومِ الناس هذا، وإلى أن يبعث الناس فيوجد في كل زمان ومكان من ينفي عن السنة تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين وزيف الزائفين،

--------------------------------------------

(1) معارج التفكر ودقائق التدبر 1/ 48.

(2) النص من عبارة: «النفوس الأرضية ..... » إلى هنا من كلام العلامة الناقد الجهبذ عبد الرحمان ابن يحيى المعلمي اليماني - يرحمه الله - في كتابه " كيف تبحث في أصول الرواة ": 8.
...এবং তা অবয়বহীন ছিল না, যখন তাঁর সৃষ্টির পর্যায়গুলো তাঁর মায়ের গর্ভে একের পর এক তিনটি অন্ধকারের মাঝে সম্পন্ন হচ্ছিল(১)।

মানবজাতির প্রতি আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি তাদের নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, কারণ ঐশী বার্তার প্রতি মানুষের অপরিহার্য প্রয়োজন ছিল। কেননা পার্থিব আত্মাগুলো হলো ভূমির মতো; যার স্বভাবই হলো মন্দ চরিত্র উৎপন্ন করা যতক্ষণ না একে ঈমানের পবিত্র পানি দ্বারা সিক্ত করা হয়, এবং এর ওপর সঠিক দ্বীনি জ্ঞানের সূর্য উদিত হয় ও নসিহতের বায়ু প্রবাহিত হয়। সুতরাং যে ভূমি সেই পানি থেকে বঞ্চিত হলো, যার থেকে সেই সূর্যের রশ্মি আড়াল করা হলো এবং সেই বায়ুর পথ রুদ্ধ হলো, তার উৎপন্ন ফসল তেমনই হবে যেমনটি ফেরেশতাগণ (আলাইহিমুস সালাম) বলেছিলেন: "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে?" (সূরা আল-বাকারাহ: ৩০)(২)।

আর আল্লাহ নবীদের দাওয়াতকে সমাপ্ত করেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের মাধ্যমে এবং তাঁর শরীয়ত এমন যা সকল কালের জন্য উপযোগী। এই শরীয়তের দুটি মহান উৎস রয়েছে: প্রথম উৎস: আল্লাহর মহান কিতাব আল-কুরআনুল কারীম, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা বা বাতিল আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও চিরপ্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটিই দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং সরল পথের উৎস। দ্বিতীয় উৎস: সুন্নাতে নববী, যা তাঁর বাণী, কর্ম, অনুমোদন এবং বৈশিষ্ট্যসমূহকে শামিল করে—তাঁর ওপর আমার রবের অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর কুরআন দ্বারা দলিল পেশকারীর কোনো অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই, কারণ কুরআন আমাদের নিকট কিতাব ও স্মৃতির মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে (মুতাওয়াতির) পৌঁছেছে এবং আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর: ৯)। তবে সুন্নাতে নববী আমাদের নিকট কুরআনের মতো পৌঁছায়নি, কিন্তু আল্লাহ একে এমন প্রাজ্ঞ ও মহৎ আলেমদের সমালোচনার মাধ্যমে রক্ষা করেছেন যারা সুন্নাহকে দ্বীনের শত্রুদের অপচেষ্টা, ভুলকারীদের বিচ্যুতি এবং তামাশাকারীদের বিকৃতি থেকে মুক্ত করেছেন। যেহেতু আল্লাহ প্রথম যুগ থেকে আজ অবধি এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই সুন্নাহর জন্য এমন একদল লোক নির্ধারণ করেছেন যারা একে সংরক্ষণ, তদারকি ও বিশুদ্ধকরণে নিয়োজিত থাকবেন; তাই প্রতিটি যুগে ও স্থানে এমন লোক পাওয়া যাবে যারা সুন্নাহ থেকে চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ, মূর্খদের অপব্যাখ্যা এবং জালিয়াতি দূর করবেন।

--------------------------------------------

(১) মাআরিজুত তাফাক্কুর ওয়া দাকায়িকুত তাদাব্বুর ১/৪৮।

(২) "পার্থিব আত্মাগুলো..." এই উক্তিটি থেকে এই পর্যন্ত অংশটি বিজ্ঞ সমালোচক ও পন্ডিত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাঁর "কাইফা তাবাহাসু ফী উসূলির রুওয়াত" (পৃষ্ঠা: ৮) কিতাব থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৮)
فكانت نعمة من أعظم النعم على هذه الأمة المرحومة أن حفظ الله لها دينها؛ لذلك فنحن حينما نقرأ تاريخ النقد عند علماء المسلمين نجد أن العلم بإعلال الحديث وظهور النقد قد بدأت بواكيره على يدي كبار الصحابة فالتابعين فأتباع التابعين وهلم جرا حتى يومنا هذا، وهذه الأمة مولاد ستلد في كل زمان جهابذة يقومون بهذا النقد يعلمون الناس الوحي والسنة كما قال تعالى: (وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآَيَاتِنَا يُوقِنُونَ) (السجدة: 29) المتأمل في تاريخ النقد يدرك صعوبة الفن وعزة أهله قال الحافظ ابن حجر: «وهو من أغمض أنواع علوم الحديث وأدقها، ولا يقوم به إلا من رزقه الله تعالى فهماً ثاقباً، وحفظاً واسعاً، ومعرفة تامة بمراتب الرواة وملكة قوية بالأسانيد والمتون؛ ولهذا لم يتكلم فيه إلا قليل من أهل هذا الشأن، كعلي بن المديني، وأحمد بن حنبل، والبخاري، ويعقوب بن شيبة، وأبي حاتم، وأبي زرعة، والدارقطني»(1).

وهذا النص من أظهر النصوص على صعوبة النقد تصحيحاً وتضعيفاً وتقوية وإعلالاً. ولما كان الأمر على ما ذكرت والحال كما وصفت فقد قدّم المحدثون في كل زمان ببذل أقصى ما يستطيعه البشر من أجل تنقية السنة من الكذب والخطأ، وجاءوا بأشياء أذهلوا فيها العدو قبل الصديق.

وكتابي هذا " الجامع في العلل والفوائد "(2) تخصصٌ في تخصصٍ دقيق فهو يبحث في علم الحديث روايةً ودرايةً ثم في ذلك العلم يبحث في أغمض قضاياه، قال البيهقي: «وهذا النوع من معرفة صحيح الحديث من سقيمه لا يعرف بعدالة الرواة وجرحهم، وإنما يعرف بكثرة السماع، ومجالسة أهل العلم بالحديث، ومذاكرتهم والنظر في كتبهم، والوقوف على رواياتهم، حتى إذا شذ منها حديث عرفه»(3). وقبل هذا كله فإنَّ هذا العلم من علوم الآخرة؛ لا يصح العمل به إلا بعد النية الصادقة والمراقبة التامة.

--------------------------------------------

(1) نزهة النظر: 72.

(2) شرح عنوان الكتاب يؤخذ من المميزات كما سيأتي غير بعيد.

(3) معرفة السنن و الآثار 1/ 144 (170).
আল্লাহর এই দয়াপ্রাপ্ত উম্মতের ওপর এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিআামত যে, আল্লাহ তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে হিফাযত করেছেন; তাই আমরা যখন মুসলিম আলেমদের নিকট সমালোচনা-তত্ত্বের (নকদ) ইতিহাস পড়ি, তখন দেখতে পাই যে হাদীসের ত্রুটি (ইলাল) চিহ্নিত করার ইলম এবং সমালোচনার আবির্ভাবের সূচনা হয়েছিল প্রবীণ সাহাবায়ে কেরাম, অতঃপর তাবেঈন এবং এরপর তাবে-তাবেঈনদের হাতে এবং তা এভাবেই আজ পর্যন্ত চলমান রয়েছে। আর এই উম্মত হলো উর্বর, যা প্রতি যুগে এমন সব প্রাজ্ঞ মনীষী জন্ম দেবে যারা এই সমালোচনার কাজ আঞ্জাম দেবেন এবং মানুষকে ওহী ও সুন্নাহ শিক্ষা দেবেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা ছিল আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী) (আস-সাজদাহ: ২৯)। সমালোচনার ইতিহাসের প্রতি মনোনিবেশকারী ব্যক্তি এই শিল্পের কঠিনতা এবং এর ধারক-বাহকদের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করতে পারেন। হাফেয ইবনে হাজার বলেন: «এটি হাদীস বিজ্ঞানের অন্যতম জটিল ও সূক্ষ্ম প্রকার, আর এটি কেবল তারাই আঞ্জাম দিতে পারেন যাদের আল্লাহ তাআলা প্রখর প্রজ্ঞা, সুনিপুণ মুখস্থশক্তি, রাবীদের স্তর সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান এবং সনদ ও মতনের ওপর শক্তিশালী দক্ষতা দান করেছেন; এই কারণেই এ বিষয়ের অল্প কিছু বিশেষজ্ঞ ব্যতীত অন্য কেউ এ বিষয়ে কথা বলেননি, যেমন আলী ইবনুল মাদীনী, আহমাদ ইবনে হাম্বল, বুখারী, ইয়াকুব বিন শাইবাহ, আবু হাতিম, আবু যুরআহ এবং দারাকুতনী»(১).

সহীহ সাব্যস্তকরণ, যঈফ সাব্যস্তকরণ, শক্তিশালী ঘোষণা এবং ত্রুটি উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে সমালোচনার যে কঠিনতা রয়েছে, তার ওপর এই বক্তব্যটি অন্যতম সুস্পষ্ট দলিল। বিষয়টি যখন আমার বর্ণিত বর্ণনার মতো এবং অবস্থা আমার বিবৃত রূপের অনুরূপ, তখন মুহাদ্দিসগণ সুন্নাহকে মিথ্যা ও ভুল থেকে পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতি যুগে মানুষের সাধ্যের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা বিলিয়ে দিয়েছেন এবং এমন সব বিষয় উপস্থাপন করেছেন যা বন্ধুর আগে শত্রুকেও বিস্মিত করেছে।

আমার এই গ্রন্থ "আল-জামে ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়াইদ"(২) একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের ওপর বিশেষায়িত কাজ; এটি হাদীস শাস্ত্রের বর্ণনাগত (রেওয়ায়েত) ও বিশ্লেষণগত (দেরায়েত) উভয় দিক নিয়ে আলোচনা করে, অতঃপর সেই শাস্ত্রের সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান চালায়। বায়হাকী বলেন: «হাদীসের সুস্থতা ও অসুস্থতা চেনার এই বিষয়টি কেবল রাবীদের ন্যায়পরায়ণতা ও তাদের সমালোচনার (জারহ) মাধ্যমে জানা যায় না, বরং এটি জানা যায় প্রচুর শ্রবণের প্রাচুর্য, হাদীস শাস্ত্রের বিদগ্ধ আলেমদের সাহচর্য, তাঁদের সাথে পর্যালোচনা, তাঁদের কিতাবসমূহের পর্যবেক্ষণ এবং তাঁদের বর্ণনাগুলোর প্রতি গভীর দৃষ্টি প্রদানের মাধ্যমে; এমনকি যখন এর মধ্যে কোনো হাদীস অস্বাভাবিক (শাায) হয়, তখন তিনি তা চিনে ফেলেন»(৩). আর এসবের পূর্বে, নিশ্চিতভাবেই এই ইলম হলো আখেরাতের অন্যতম ইলম; বিশুদ্ধ নিয়ত এবং পূর্ণ সতর্কতা ব্যতিরেকে এর ওপর আমল করা সঠিক হয় না।

--------------------------------------------

(১) নুযহাতুন নাযার: ৭২।

(২) কিতাবের শিরোনামের ব্যাখ্যা এর বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে গ্রহণ করা হবে যা অচিরেই সামনে আসবে।

(৩) মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার ১/ ১৪৪ (১৭০)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৯)
وليعلم أن العمل بهذا الفن عموماً وخدمة علم العلل خصوصاً داخل في النصيحة لرسول الله صلى الله عليه وسلم قال ابن رجب الحنبلي: «ومن ذلك بيان ما صح من حديث النبي صلى الله عليه وسلم ومالم يصح منه بتبين حال رواته ومن تقبل رواياته ومن لا تقبل، وبيان غلط من غلط من ثقاتهم الذين تقبل رواياتهم»(1) وكلام ابن رجب كلام عظيم ومن قرأه متأملاً كلام النبي صلى الله عليه وسلم في حديث أبي رقية تميم الداري مرفوعاً «الدين النصيحة»(2) علم أن واجباً على كل مسلم تجاه أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وأن خدمتها واجبة وشرحها وتبليغها للناس أمرٌ مأمور به كما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: «بلغوا عني ولو آية» ومن أدق النصح لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم بيان العلل التي تخفى على أغلب الناس بله على كثير من العلماء المختصين؛ إذ إننا في زمن الغربة في هذا الفن العظيم.

من هنا شققت لنفسي طريقاً لتكون لي يداً بيضاء ولمسةً طيبةً في خدمة هذا الفن الذي هو من أغمض فنون العلم، وقد مرت عليَّ في هذا الكتاب أيام وساعات عصيبة عانيت ما عانيت فيها في ظل احتلال مقيت وعمالة عمياء، وانفتاح للغرب وسكر للشهوات وحسد حاسد وتسلط كاسد وزمجرة مقلد لكنَّ الله بفضله ومنّه وكرمه قد دفع عني كل شر ونجاني من كل مكر؛ فأحمده حمداً عظيماً مباركاً دائماً أبداً بعدد ما خلق وذرأ وبرأ ونشر وبعدد أنفاس الخلق وحركاتهم، وأسأل الله أنْ يوزعني ويوفقني لأداء شكر نعمته على الوجه الذي يجب.

ومعاناة الاحتلال والوضع المحيط لم يضرني بقدر ما ضرني شحة المصادر وتأخر وصول الكتب المحققة الحديثة لبلدنا الجريح؛ لا سيما وأن

--------------------------------------------

(1) " جامع العلوم والحكم " لابن رجب بتحقيقي الطبعة العراقية 1/ 254، وطبعة دار ابن كثير: 202 وطبعة دار طيبة: 179، وهذا التحقيق جعلته وقفاً لله يحق لكل مسلم طبعه، وهو متاح على الشبكة العالمية، وأنا أعاود الآن تزيين هذا الكتاب بفوائد مهمة؛ لأعده لطبعة خيرية جديدة.

(2) وهو الحديث السابع في " جامع العلوم والحكم " والحديث انظر تخريجه وشرحه كاملاً هناك، وستأتي الإشارة عليه في كتابي هذا.
এটি জেনে রাখা উচিত যে, সাধারণভাবে এই শাস্ত্রের ওপর আমল করা এবং বিশেষভাবে ‘ইলমে ইলাল’ (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান)-এর খিদমত করা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি একনিষ্ঠতা বা নসিহতের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে রাজাব আল-হাম্বলি (রহ.) বলেছেন: «এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের মধ্যে কোনটি সহিহ এবং কোনটি সহিহ নয় তা বর্ণনা করা—বর্ণনাকারীদের অবস্থা স্পষ্ট করার মাধ্যমে যে, কাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য আর কাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়; এবং ঐসব বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী যাদের হাদিস গ্রহণ করা হয়, তাদের ভুলভ্রান্তিগুলোও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা»(১) ইবনে রাজাবের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর যে ব্যক্তি আবু রুকাইয়্যাহ তামীম আদ-দারি (রা.) কর্তৃক মারফু সূত্রে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস—«দ্বীন হলো নসিহত (একনিষ্ঠতা)»(২)—গভীর অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করবে, সে জানতে পারবে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসসমূহের প্রতি প্রত্যেক মুসলিমের কিছু অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব রয়েছে। আর এগুলোর খিদমত করা ওয়াজিব এবং এর ব্যাখ্যা ও মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া একটি নির্দেশিত বিষয়, যেমনটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।» আর আল্লাহর রাসুলের হাদিসের প্রতি সবচেয়ে সূক্ষ্ম নসিহত বা একনিষ্ঠতা হলো সেইসব ‘ইলাল’ বা সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ বর্ণনা করা যা অধিকাংশ মানুষের কাছে তো বটেই, এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞ আলিমের কাছেও অস্পষ্ট থেকে যায়; কেননা আমরা বর্তমানে এই মহান শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এক অপরিচিতি বা ‘গুরবাহ’-এর যুগে বাস করছি।

এখান থেকেই আমি নিজের জন্য একটি পথ উন্মোচন করেছি যাতে এই শাস্ত্রের সেবায় আমার একটি বিশেষ অবদান ও উত্তম ছোঁয়া থাকে, যা ইলমের অন্যতম জটিল ও অস্পষ্ট একটি শাখা। এই কিতাবটি রচনার পেছনে আমার ওপর অনেক কঠিন দিন ও মুহূর্ত অতিবাহিত হয়েছে; যেখানে আমি ঘৃণাভরা দখলদারিত্ব, অন্ধ দালালি, পশ্চিমাদের প্রতি উন্মুক্ত অনুরাগ, প্রবৃত্তির নেশা, হিংসুকের হিংসা, অকর্মণ্যের প্রভাব বিস্তার এবং অন্ধ অনুসারীদের আস্ফালনের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হয়েছি। কিন্তু আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ, দান ও দয়া দ্বারা আমার থেকে সকল অনিষ্ট দূর করেছেন এবং সকল চক্রান্ত থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন। সুতরাং আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি—এমন এক মহান, বরকতময় ও চিরস্থায়ী প্রশংসা, যা তাঁর সৃষ্টি করা ও অস্তিত্ব দান করা সবকিছুর সংখ্যার সমান, আর সৃষ্টির নিঃশ্বাস ও নড়াচড়ার সংখ্যার সমান। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে তাঁর নিআমতের শুকরিয়া যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করেন।

দখলদারিত্বের কষ্ট এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আমাকে ততটা ব্যথিত করেনি, যতটা করেছে তথ্যের উৎসের স্বল্পতা এবং আমাদের এই ক্ষতবিক্ষত দেশে আধুনিক ও সম্পাদিত (তাহকিককৃত) কিতাবসমূহ পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়া; বিশেষ করে যেহেতু

--------------------------------------------

(১) ইবনে রাজাব রচিত "জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম", আমার তাহকিককৃত ইরাকি সংস্করণ ১/২৫৪, দার ইবনে কাসির সংস্করণ: ২০২, এবং দারু তৈয়্যিবাহ সংস্করণ: ১৭৯। এই তাহকিকটি আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করেছি, যা মুদ্রণ করার অধিকার প্রত্যেক মুসলিমের রয়েছে এবং এটি ইন্টারনেটে সহজলভ্য। আমি বর্তমানে এই কিতাবটিকে গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা বা টীকা দ্বারা নতুন করে সজ্জিত করছি, যাতে এটি একটি নতুন দানব্য (চ্যারিটেবল) সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করা যায়।

(২) এটি "জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম"-এর সপ্তম হাদিস। হাদিসটির পূর্ণাঙ্গ তাখরিজ ও ব্যাখ্যা সেখানে দেখুন। আমার এই কিতাবে সামনে এর প্রতি ইশারা আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১০)
كثيراً من كتب السنة التي بين أيدينا فيها من التصحيف والتحريف والسقط ما الله وحده عليم، وهذا أكبر أمر ضرني في هذا الكتاب لسنوات، ولربما حكمت على حديث على ضوء إسناد فلما راجعت المخطوطات والطبعات الحديثة؛ وجدت أنَّ تلك الأسانيد التي تم الاعتماد عليها بالترجيح كانت مصحفةً أو محرفةً، وقد ذكرت من ذلك أمثلة في ثنايا الكتاب، وأنا إذ أذكر هذا فلا أغفل قول الجاحظ: «ولربما أراد مؤلف الكتاب أن يصلح تصحيفاً أو كلمة ساقطة فيكون إنشاء عشر ورقات من حر اللفظ وشريف المعاني أيسر عليه من إتمام ذلك النقص حتى يرده إلى موضعه من اتصال الكلام»(1) فالتصحيفات الموجودة والتحريفات الكثيرة في الرواة والأسانيد لكثيرٍ من كتب السنة أخذت مني شطر الوقت، ولما كنت أعد فهارس متنوعة لكل كتاب من كتبي زدت في هذا الكتاب فهرساً للتصحيفات والتحريفات الواردة في الكتب؛ ليكون دليلاً على تصحيح نسخ الآخرين من تلك الكتب، وهو جزء من النصيحة، والله المستعان.

وهذا العمل لما كان في نقد أخطاء الرجال فقد نقدنا هذه الأخطاء، وبينا تلكم الهنات، وقد جرنا ذلك بالضرورة إلى بيان أخطاء كثير من الكتب وأخطاء كثير من المؤلفين، وهو أمرٌ أدت الضرورة إليه، ومعلومٌ أنَّ كلمة الحق لا تبقي لصاحب صاحباً وتدخلك مع من لست تعرف في صحبة ودٍّ لذلك قال ابن قتيبة: «ولعل بعض من ينظر فيما سطَّرناه، ويقف على ما لكتابنا هذا ضمَّنَّاه، يلحق سيءَ الظن بنا، ويرى أنَّا عمدنا للطعن على من تقدمنا، وإظهار العيب لكبراء شيوخنا وعلماء سلفنا وأنى يكون ذلك؟! وبهم ذُكرنا وبشُعاع ضيائهم تبصرنا وباقتفاء واضح رسومهم تميزنا، وبسلوك سبيلهم على الهمج تحيزنا، وما مثلهم ومثلنا إلا ما ذكر أبو عمرو بن العلاء. . . قال: ما نحن فيمن مضى إلا كبقلٍ في أصول نخل طوالٍ. ولما جعل الله تعالى في الخلق أعلاماً، ونصب لكل قومٍ إماماً، لزم المهتدين بمبين أنوارهم، والقائمين

--------------------------------------------

(1) الحيوان 1/ 79.
আমাদের হাতে থাকা সুন্নাহর বহু কিতাবে বর্ণনার এমন বিকৃতি, শব্দ পরিবর্তন এবং পাঠচ্যুতি রয়েছে যা কেবল আল্লাহই জানেন। এই কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে দীর্ঘ বছর যাবৎ এটিই আমাকে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। হয়তো আমি কোনো সনদের আলোকে কোনো হাদিসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়েছি, কিন্তু পরবর্তীতে যখন পাণ্ডুলিপি এবং আধুনিক সংস্করণসমূহ পর্যালোচনা করেছি, তখন দেখেছি যে যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যেসব সনদের ওপর নির্ভর করা হয়েছিল সেগুলো বিকৃত বা পরিবর্তিত ছিল। আমি এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এর উদাহরণ উল্লেখ করেছি। আমি যখন এটি উল্লেখ করছি, তখন আল-জাহিজের সেই উক্তিটি ভুলে যাইনি: "হয়তো কোনো কিতাবের লেখক কোনো বিকৃতি বা বাদ পড়া শব্দ সংশোধন করতে চাইলেন, কিন্তু সেই শূন্যস্থান পূরণ করে বক্তব্যকে সুসংহত করার চেয়ে দশটি পৃষ্ঠা প্রাঞ্জল শব্দ ও উচ্চাঙ্গের অর্থ দিয়ে নতুন করে রচনা করা তার জন্য সহজতর হয়ে দাঁড়ায়"(১)। সুন্নাহর বহু কিতাবের বর্ণনাকারী এবং সনদসমূহে বিদ্যমান এই অসংখ্য বিকৃতি ও পরিবর্তন আমার সময়ের অর্ধেকটা কেড়ে নিয়েছে। যেহেতু আমি আমার প্রতিটি কিতাবের জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্ঘণ্ট তৈরি করি, তাই এই কিতাবে আমি কিতাবসমূহে বিদ্যমান বিকৃতি ও পরিবর্তনের একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি; যেন তা অন্যদের কাছে থাকা সেই কিতাবগুলোর কপি সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। এটি নসিহতেরই অংশ, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

যেহেতু এই কাজটি বর্ণনাকারীদের ভুলত্রুটি পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই আমরা সেই ভুলগুলো সমালোচনা করেছি এবং সেই ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করেছি। আর এটি অবধারিতভাবেই আমাদেরকে বহু কিতাব ও বহু লেখকের ভুল স্পষ্ট করার দিকে নিয়ে গেছে, যা প্রয়োজনের তাগিদে করতে হয়েছে। এটা সবারই জানা যে, সত্য কথা কোনো বন্ধুর জন্য বন্ধু বাকি রাখে না এবং আপনাকে এমন সব মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় যাদের সাথে আপনার কোনো হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক নেই। একারণেই ইবনে কুতায়বা বলেছেন: "হয়তো আমাদের লিখিত বিষয়ের ওপর যার দৃষ্টি পড়বে এবং আমাদের এই কিতাবে আমরা যা অন্তর্ভুক্ত করেছি তা যে দেখবে, সে আমাদের প্রতি কুধারণা পোষণ করতে পারে এবং মনে করতে পারে যে আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের নিন্দা করার এবং আমাদের মহান শাইখ ও সালাফদের দোষ প্রকাশ করার সংকল্প করেছি। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব?! তাদের মাধ্যমেই আমরা পরিচিত হয়েছি, তাদের জ্যোতির বিকিরণে আমরা দেখতে শিখেছি, তাদের সুস্পষ্ট পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমেই আমরা স্বাতন্ত্র্য অর্জন করেছি এবং তাদের পথ অনুসরণের মাধ্যমেই আমরা অজ্ঞদের থেকে পৃথক হতে পেরেছি। আমাদের ও তাদের দৃষ্টান্ত ঠিক তেমনই, যেমনটি আবু আমর ইবনুল আলা উল্লেখ করেছেন... তিনি বলেছেন: 'অতীতের মনীষীদের তুলনায় আমরা দীর্ঘ খেজুর গাছের গোড়ায় জন্মানো ক্ষুদ্র ঘাসের মতো।' যেহেতু আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির মাঝে কিছু নিদর্শন স্থাপন করেছেন এবং প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য ইমাম নিযুক্ত করেছেন, তাই তাদের দীপ্ত আলোর মাধ্যমে যারা হেদায়েতপ্রাপ্ত এবং যারা..."

--------------------------------------------

(১) আল-হায়ওয়ান ১/ ৭৯।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১১)
بالحق في اقتفاء آثارهم، ممن رزق البحث والفهم وإنعامَ النظر في العلم، بيان ما أهملوا، وتسديد ما أغفلوا، إذ لم يكونوا معصومين من الزلل، ولا آمنين من مقارفة الخطأ والخطل، وذلك حق العالم على المتعلم، وواجبٌ للتالي على المتقدم»(1). وإنَّ هذا الصنيع لأهل العلم في القديم والحديث أمرٌ منبعثٌ من تأصيل العلم وتجريده من الخطأ، قال الإمام الشافعي: «مَنْ تعلم علماً فليدقق فيه لئلا يضيع دقيق العلم»(2). وهذا المنهج الذي أصله الإمام الشافعي - يرحمه الله - منهجٌ قديمٌ في التدقيق والبحث والنقد منذ عهد الرواية؛ لذا كان لكل قرن من قرون الرواية منهجه وأصوله وضوابطه على حسب المحيط الذي يحيط ذلك العصر والمستجدات التي تحف فن الرواية؛ لذا نجد القرن الأول كان كافياً لبيان صحيح السنة حتى لا تختل في القرن الذي بعدها، والنقد في القرن الثاني كان كافياً، وكذلك الثالث وهلم جراً. ومعلوم لدى النقاد أنَّ القرن الثالث الهجري كان العصر الذهبي في النقد والإعلال والتصنيف، ومن يمعن النظر في ذلك يجد أنَّ للمتقدمين إبداعات تخضع لها العقول، وإجادات تشهد بأنَّ علمهم مؤيدٌ من الباري سبحانه، ومما حصلوه في تلك المدة الزمنية أنَّهم دونوا الأحاديث في الكتب حتى قال البيهقي: «وهو أنَّ الأحاديث التي قد صحت، أو وقفت بين الصحة والسُّقْم قد دُوّنت وكُتبت في الجوامع التي جمعها أئمة أهل العلم بالحديث، ولا يجوز أنْ يذهب منها شيءٌ على جميعهم، وإن جاز أن تذهب على بعضهم، لضمان صاحب الشريعة حفظها، فمن جاء اليوم بحديث لا يوجد عند جميعهم، لم يقبل منه»(3).

ومن ينظر في كيفية تلقي الصحابة، وحرصهم على ذلك يدرك مدى الاهتمام، ومدى حرص الصحابة على حفظ السنة من الخطأ في الحديث فقد دققوا غاية التدقيق، فهم أخذوا عن الرسول صلى الله عليه وسلم مشافهةً، وإذا سمعوا

--------------------------------------------

(1) نقله الدكتور حاتم العوني في كتابه " المرسل الخفي " 1/ 7 - 8.

(2) المدخل إلى السنن الكبرى: 285 - 286.

(3) مناقب الشافعي 2/ 321 للبيهقي.
তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার সত্যতার সাথে, যাকে গবেষণা, অনুধাবন এবং জ্ঞানে গভীর অভিনিবেশের তওফিক দেওয়া হয়েছে, তাদের অবহেলিত বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করা এবং যা তারা উপেক্ষা করেছেন তা সংশোধন করা। কেননা তারা বিচ্যুতি থেকে মাসুম ছিলেন না এবং ভুল বা ত্রুটি করা থেকেও নিরাপদ ছিলেন না। আর এটিই হচ্ছে শিক্ষার্থীর ওপর জ্ঞানীর অধিকার এবং পরবর্তীদের জন্য পূর্ববর্তীদের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য»(১)। অতীত এবং বর্তমানের আহলে ইলমদের এই কর্মপদ্ধতিটি মূলত জ্ঞানকে সুসংহত করা এবং একে ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত রাখার চিন্তা থেকেই উদ্ভূত। ইমাম শাফেয়ী বলেন: «যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান অর্জন করে, সে যেন তাতে সূক্ষ্মভাবে তদারকি করে, যাতে জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো হারিয়ে না যায়»(২)। ইমাম শাফেয়ী -আল্লাহ তার ওপর রহম করুন- যে মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা হাদিস বর্ণনার যুগ থেকেই যাচাই-বাছাই, গবেষণা এবং সমালোচনার একটি প্রাচীন মূলনীতি। এজন্য হাদিস বর্ণনার প্রতিটি শতাব্দীর নিজস্ব মূলনীতি, উসুল এবং নীতিমালা ছিল, যা সেই সময়ের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং বর্ণনা শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট নতুন পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হতো। তাই আমরা দেখতে পাই, প্রথম শতাব্দী সুন্নাহর সহিহ বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিল যাতে পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়; দ্বিতীয় শতাব্দীর সমালোচনাও যথেষ্ট ছিল এবং একইভাবে তৃতীয় শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়কাল। হাদিস সমালোচকদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দী ছিল সমালোচনা, ইল্লাত অন্বেষণ এবং গ্রন্থ সংকলনের স্বর্ণযুগ। যে ব্যক্তি এতে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করবে, সে দেখতে পাবে যে পূর্ববর্তীদের এমন সব সৃজনশীলতা রয়েছে যার সামনে বিবেক অবনত হয় এবং এমন সব দক্ষতা রয়েছে যা সাক্ষ্য দেয় যে তাদের জ্ঞান মহান স্রষ্টা সুবহানাহু কর্তৃক সমর্থিত ছিল। সেই সময়কালে তারা যা অর্জন করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো হাদিসসমূহকে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা। এমনকি ইমাম বায়হাকী বলেন: «তা হলো এই যে, যেসব হাদিস সহিহ প্রমাণিত হয়েছে অথবা সহিহ ও দুর্বল হওয়ার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো হাদিস বিশারদ ইমামদের সংকলিত গ্রন্থসমূহে সংকলিত ও লিখিত হয়েছে। তাদের সকলের অগোচরে তা থেকে কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, যদিও তাদের কারো কারো অগোচরে থাকা সম্ভব। কারণ শরয়ি বিধানের প্রবর্তক তা সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সুতরাং আজ যদি কেউ এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসে যা তাদের কারোর কাছেই পাওয়া যায় না, তবে তা তার পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে না»(৩)。

আর যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কেরামের জ্ঞান গ্রহণের পদ্ধতি এবং এ বিষয়ে তাদের আগ্রহের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, সে বুঝতে পারবে যে তারা কতটা গুরুত্ব দিতেন এবং হাদিসে ভুল হওয়া থেকে সুন্নাহকে রক্ষা করার জন্য কতটা আগ্রহী ছিলেন। তারা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করতেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতেন এবং যখন তারা শুনতে পেতেন...

--------------------------------------------

(১) ড. হাতিম আল-আওনি তাঁর "আল-মুরসাল আল-খাফি" গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন ১/ ৭ - ৮।

(২) আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা: ২৮৫ - ২৮৬।

(৩) বায়হাকী রচিত মানাকিবুশ শাফেয়ী ২/ ৩২১।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১২)
شيئاً مما لم يسمعوه تثبتوا فيه كما حصل لعمر بن الخطاب، وطلبوا البينة أحياناً مبالغة في التثبت وصيانةً للشرع كما فعل عمر بن الخطاب مع أبي موسى الأشعري(1) في الاستئذان ثلاثاً، لذا فإنَّهم لم يكونوا يتهاونون في ذلك مع أحدٍ كائناً من كان إذا رفع حديثاً إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولذلك لما قال المستورد بن شداد القرشي عند عمرو بن العاص رضي الله عنه: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «تقوم الساعة والروم أكثر الناس»، فقال له عمرو: أبصر ما تقول قال: أقول سمعت من رسول صلى الله عليه وسلم … »(2).

وقال ابن عباس رضي الله عنهما: «إنا كنَّا مرةً إذا سمعنا رجلاً يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابتدرته أبصارنا، وأصغينا إليه بآذاننا»(3).

وكانوا يرحلون في سماع الحديث حتى إنَّ جابر بن عبد الله رضي الله عنهما رحل شهراً في سماع حديث واحدٍ(4).

ثم سار التابعون على ذلك المنهج ومن بعدهم، حتى قال ابن حبان: «فرسان هذا العلم الذين حفظوا على المسلمين الدين، وهَدَوْهم إلى الصّراط المستقيم، الذين آثروا قَطْع المفاوِز والقِفار على التنعّم في الديار والأوطْان في طلب السنن في الأمصار، وجمعها بالوجل والأسفار والدَّوران في جميع الأقطار، حتى إنَّ أحدهم ليرحَلُ في الحديث الواحد الفراسخ البعيدة، وفي الكلمة الواحدة الأيام الكثيرة، لئلا يُدخلَ مُضِلٌّ في السنن شيئاً يُضلُّ به، وإن فعل فهم الذابّون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك الكذب، والقائمون بنُصْرة الدين»(5).

 

أما‌‌ تنظيم الكتاب فقد كان الكتاب على ثلاثة أقسام:

القسم التنظيري، والقسم التطبيقي، والفوائد والقواعد الحديثية.

أما القسم الأول: فقد تضمن الكلام على معنى العلة، وأهمية علم

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري 8/ 67 (6245)، وصحيح مسلم 6/ 177 (2153).

(2) صحيح مسلم 8/ 176 (2898).

(3) مقدمة صحيح مسلم 1/ 13.

(4) الأدب المفرد (970)، وانظر " سير أعلام النبلاء " 3/ 191 - 192.

(5) في " المجروحين " 1/ 27.
তারা যা শোনেননি এমন কিছু সম্পর্কে তারা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হতেন, যেমনটি উমর ইবনুল খাত্তাবের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তারা কখনও কখনও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পরম গুরুত্ব দিয়ে এবং শরীয়তের সুরক্ষার স্বার্থে সাক্ষ্য দাবি করতেন, যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব তিনবার অনুমতি চাওয়ার ব্যাপারে আবু মুসা আল-আশআরীর(১) সাথে করেছিলেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি কোনো হাদিস সম্বন্ধযুক্ত করা হলে তারা কারো প্রতি শিথিলতা প্রদর্শন করতেন না, তিনি যেই হোন না কেন। এজন্য যখন আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ আল-কুরাশী বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «কিয়ামত সংঘটিত হবে এমতাবস্থায় যে রোমকরা হবে মানুষের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ», তখন আমর তাকে বললেন: «তুমি কী বলছো ভেবে দেখো»; তিনি বললেন: «আমি তা-ই বলছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি...»(২)।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: «একসময় এমন ছিল যে, যখন আমরা কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনতাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তখন আমাদের চোখ তার দিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা কান পেতে তার কথা শুনতাম»(৩)।

তারা হাদিস শোনার জন্য সফর করতেন, এমনকি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা মাত্র একটি হাদিস শোনার জন্য এক মাস সফর করেছিলেন(৪)।

অতঃপর তাবেয়ীগণ এবং তাদের পরবর্তীগণ সেই পদ্ধতির ওপর চলেন, এমনকি ইবনে হিব্বান বলেছেন: «এই ইলমের অশ্বারোহীগণ, যারা মুসলিমদের জন্য দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দিয়েছেন; যারা বিভিন্ন জনপদে হাদিস অন্বেষণে, তা সংগ্রহ করতে এবং পৃথিবীর সকল প্রান্তে পরিভ্রমণে অনেক শঙ্কা ও সফরের কষ্ট সহ্য করে দুর্গম মরুভূমি ও জনহীন প্রান্তর পাড়ি দেওয়াকে নিজ আবাসে ও স্বদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ একটি মাত্র হাদিসের জন্য দূর-দূরান্তের পথ পাড়ি দিতেন এবং একটি শব্দের জন্য দীর্ঘ দিন অতিবাহিত করতেন; যাতে কোনো পথভ্রষ্ট ব্যক্তি সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করাতে না পারে যার মাধ্যমে সে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। আর যদি কেউ তা করার চেষ্টাও করত, তবে তারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে সেই মিথ্যা অপনোদনকারী এবং দ্বীনের সহযোগিতায় নিয়োজিত ব্যক্তি»(৫)।

 

আর গ্রন্থের বিন্যাস সম্পর্কে বলা যায় যে, বইটি তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল:

তাত্ত্বিক বিভাগ, ব্যবহারিক বিভাগ এবং হাদিসশাস্ত্রীয় উপকারিতা ও মূলনীতিসমূহ।

প্রথম বিভাগ: এতে ইল্লাত বা ত্রুটির অর্থ এবং এই ইলমের গুরুত্বের ওপর আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি ৮/ ৬৭ (৬২৪৫), এবং সহিহ মুসলিম ৬/ ১৭৭ (২১৫৩)।

(২) সহিহ মুসলিম ৮/ ১৭৬ (২৮৯৮)।

(৩) মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম ১/ ১৩।

(৪) আল-আদাবুল মুফরাদ (৯৭০), এবং দেখুন "সিয়ারু আলামিন নুবালা" ৩/ ১৯১ - ১৯২।

(৫) "আল-মাজরুহিন" ১/ ২৭ গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
العلل، وثمرته، وتاريخه، وأئمته، والمصنفات فيه، وأسباب وقوع العلة، وطرائق كشف العلة، ومناهج المحدّثين في معرفة العلة، وما تزول به العلة، ومناهج التأليف في علم العلل، وثقافة المعلل.

وأما القسم الثاني: فقد خصصت الكلام فيه على أقسام العلة، ثم الكلام على الأنواع المتفرعة عن تلك الأقسام، والتمثيل لكل نوع من تلك الأنواع بأمثلة عديدة متنوعة، تميزت بدقة التخريج، وتحكيم قواعد أئمة الفن، وتتبع كلامهم على تلك الأحاديث، وخلاصة الحكم، فالإحالة على مصادر التخريج التي تضم جماع الأسانيد والأحكام عند آخر كل حديث.

وأما القسم الثالث: وهو الفوائد والقواعد الحديثية؛ فهو حصيلة مسيرة طويلة في خدمة السنة المشرفة، مطالعةً وتحقيقاً وتخريجاً وتدريساً، وقد ضم قواعد محكمة، وفوائد بديعة في العلل، والجرح والتعديل، والمصطلح، ومناهج أئمة الفن.

ثم ذيلت الكتاب بفهارس متنوعة، لم تكن مطولة كالتي ختمت بها مسند الإمام الشافعي طلباً للاختصار، وقد كانت الفهارس على النحو التالي:

1 - فهرس الآيات.

2 - فهرس الأحاديث.

3 - فهرس الآثار.

4 - فهرس المراسيل.

5 - فهرس الرواة المترجمين.

6 - فهرس أخطاء الرواة.

7 - فهرس الأشعار.

8 - فهرس التصحيفات والتحريفات الواقعة في المطبوعات.

وتلكم الفهارس تذلل صعوبة الكتاب، وتيسر البحث فيه. وفهرسة أخطاء الرواة، لم أسبق إليها فيما أعلم، وهو نافع جداً للباحثين في البحث عن أوهام الرواة وأخطاءهم، وعد الرواة المخطئين (361)، وهذا النوع من
ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি), এর ফলাফল, এর ইতিহাস, এর ইমামগণ, এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ, ত্রুটি ঘটার কারণসমূহ, ত্রুটি শনাক্তকরণের পদ্ধতিসমূহ, ত্রুটি নির্ণয়ে মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা কর্মপন্থা, যার দ্বারা ত্রুটি দূরীভূত হয়, ইলমে ইলালের গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিসমূহ এবং ইলাল বিশারদগণের পাণ্ডিত্য।

আর দ্বিতীয় বিভাগ: এতে আমি ইলালের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা নির্দিষ্ট করেছি, এরপর সেই প্রকারগুলো থেকে শাখা হিসেবে বের হওয়া বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করেছি এবং প্রতিটি প্রকারের জন্য অসংখ্য বৈচিত্র্যময় উদাহরণ পেশ করেছি, যা সুক্ষ্ম তাখরীজ, এই শাস্ত্রের ইমামগণের মূলনীতির প্রয়োগ, সেই হাদীসগুলোর ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য অনুসরণ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। অতঃপর প্রতিটি হাদীসের শেষে তাখরীজের মূল উৎসগুলোর বরাত দেওয়া হয়েছে, যা সমস্ত সনদ ও হুকুমকে একত্রিত করে।

আর তৃতীয় বিভাগ: এটি হলো হাদীস শাস্ত্রীয় উপকারিতা ও মূলনীতিসমূহ; এটি সুন্নাহর খিদমতে দীর্ঘ পথচলার ফসল, যা অধ্যয়ন, তাহকীক, তাখরীজ ও অধ্যাপনার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। এতে ইলাল, জারহ-ওয়াত-তাদীল, উসূলে হাদীস এবং এই শাস্ত্রের ইমামগণের মানহাজ বিষয়ক সুদৃঢ় মূলনীতি ও চমৎকার সব ফায়দা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অতঃপর আমি বইটির শেষে বিভিন্ন নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যা সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে ইমাম শাফেয়ীর মুসনাদে যুক্ত করা নির্ঘণ্টের মতো দীর্ঘ করা হয়নি। নির্ঘণ্টগুলো ছিল নিম্নরূপ:

১ - আয়াতের নির্ঘণ্ট।

২ - হাদীসের নির্ঘণ্ট।

৩ - আছারের নির্ঘণ্ট।

৪ - মুরসাল হাদীসসমূহের নির্ঘণ্ট।

৫ - জীবনী সংবলিত রাবীদের নির্ঘণ্ট।

৬ - রাবীদের ভুলের নির্ঘণ্ট।

৭ - কবিতার নির্ঘণ্ট।

৮ - মুদ্রিত কপিতে ঘটা বর্ণবিকৃতি ও শব্দ বিকৃতির নির্ঘণ্ট।

এই নির্ঘণ্টগুলো বইটির জটিলতা নিরসন করে এবং এতে অনুসন্ধান সহজ করে দেয়। রাবীদের ভুলের নির্ঘণ্ট তৈরির বিষয়টি আমার জানা মতে ইতিপূর্বে কেউ করেনি, যা রাবীদের বিভ্রম ও ভুল অনুসন্ধানে গবেষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ভুলকারী রাবীদের সংখ্যা (৩৬১) জন এবং এই ধরনের...
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الجديد في الكتاب لم يكن لوحده، فهناك كثير من أشباه ذلك الجديد، ومن ذلك أنَّ أهل الحديث فرعوا في مضطرب الإسناد أنواعاً، زدت عليها نوعين مستقلين، تجدهما في موضعهم.

 

أما‌‌ المراجع والمصادر فلم أضعها في الكتاب تجنباً لتضخيم الكتاب؛ ولأنَّ الأمر يطول ولربما زادت مراجعي على الألف، لكنَّ مما ينبغي أنْ أذكر أنَّي رجعت في عدد من الكتب على عدد من الطبعات من ذلك:

1 - سنن الدارقطني، وقد رجعت فيها إلى مطبوعة دار الكتب العلمية، ومطبوعة مؤسسة الرسالة.

2 - شرح معاني الآثار، وقد رجعت فيها إلى طبعتي دار الكتب العلمية القديمة والحديثة.

3 - شرح مشكل الآثار، وقد استخدمت مطبوعة مؤسسة الرسالة، وترتيبه المسمى " تحفة الأخيار " طبعة دار بلنسية، وكذلك رجعت إلى الطبعة الهندية في بعض المواضع المشكلة.

4 - السنن الكبرى للنسائي، وقد رجعت فيها إلى مطبوعة مؤسسة الرسالة، ومطبوعة دار الكتب العلمية.

5 - الأم للشافعي، وقد رجعت فيه إلى طبعتين، طبعة دار المعرفة، وطبعة الوفاء.

6 - معرفة السنن والآثار للبيهقي، واستخدمت فيه طبعة دار الكتب

العلمية، وطبعة دار الوعي.

7 - السنن الصغير للبيهقي، وقد رجعت فيه إلى طبعة دار الكتب العلمية، وإلى طبعة الرشد بعنوان "المنة الكبرى شرح وتخريج السنن الصغرى" للدكتور محمد ضياء الأعظمي.

8 - الشريعة للآجري، وفيه استخدمت مطبوعة دار الوطن، مع مطبوعة السنة المحمدية.

9 - المعجم الأوسط للطبراني، وفيه رجعت إلى مطبوعتي دار الحديث ودار الكتب العلمية، وربما رجعت فيه إلى طبعة دار الحرمين بتحقيق طارق عوض الله.

10 - التوحيد لابن خزيمة، وقد استخدمت فيه مطبوعة دار الكتب العلمية، ومطبوعة مكتبة الرشد.
বইটিতে নতুন যা কিছু আছে তা একা নয়, বরং এ জাতীয় আরও অনেক নতুনত্ব সেখানে রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, মুহাদ্দিসগণ 'মুজতারিবুল ইসনাদ' (সূত্রের অস্থিরতা)-এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু শাখা বিন্যস্ত করেছেন, আমি সেখানে স্বতন্ত্র আরও দুটি প্রকার যোগ করেছি, যা আপনি সংশ্লিষ্ট স্থানে পাবেন।

 

আর তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জির কথা যদি বলি, তবে বইটির কলেবর বৃদ্ধি এড়াতে আমি তা উল্লেখ করিনি; কারণ বিষয়টি দীর্ঘ এবং আমার রেফারেন্সের সংখ্যা সম্ভবত এক হাজার ছাড়িয়ে যেত। তবে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমি বেশ কিছু বইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক সংস্করণের আশ্রয় নিয়েছি, যেমন:

১ - সুনানে দারা কুতনী: এতে আমি দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ এবং মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ-এর মুদ্রিত সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি।

২ - শারহু মা'আনিল আসার: এতে আমি দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ-এর প্রাচীন ও আধুনিক উভয় সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি।

৩ - শারহু মুশকিলিল আসার: এতে আমি মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ-এর মুদ্রিত সংস্করণ এবং 'তুহফাতুল আখইয়ার' নামক বিন্যাসকৃত দারু বালানসিয়ার সংস্করণ ব্যবহার করেছি। এছাড়াও কিছু জটিল স্থানে আমি ভারতীয় সংস্করণেরও সাহায্য নিয়েছি।

৪ - নাসায়ীর আস-সুনানুল কুবরা: এতে আমি মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ এবং দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ-এর মুদ্রিত সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি।

৫ - শাফেয়ীর আল-উম্ম: এতে আমি দুটি সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি, দারুল মা'রিফাহ এবং আল-ওয়াফা সংস্করণ।

৬ - বায়হাকীর মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার: এতে আমি দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ এবং দারুল ওয়া’য়ী-এর সংস্করণ ব্যবহার করেছি।

৭ - বায়হাকীর আস-সুনানুস সাগীর: এতে আমি দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ-এর মুদ্রিত সংস্করণ এবং ড. মুহাম্মদ জিয়াউল আ’জমীর 'আল-মিনহাতুল কুবরা শারহু ওয়া তাখরিজুস সুনানিস সুগরা' শিরোনামের আর-রুশদ সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি।

৮ - আজুররীর আশ-শারীয়াহ: এতে আমি দারুল ওয়াতান এবং সুন্নাহ মুহাম্মাদিয়া-এর মুদ্রিত সংস্করণ ব্যবহার করেছি।

৯ - তাবারানীর আল-মু'জামুল আওসাত: এতে আমি দারুল হাদিস এবং দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ-এর মুদ্রিত সংস্করণদ্বয়ের সাহায্য নিয়েছি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারেক আওয়াদুল্লাহর তাহকীককৃত দারুল হারামাইন সংস্করণেরও সাহায্য নিয়েছি।

১০ - ইবনে খুজাইমার আত-তাওহীদ: এতে আমি দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ এবং মাকতাবাতুর রুশদ-এর মুদ্রিত সংস্করণ ব্যবহার করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
11 - شعب الإيمان للبيهقي، وقد رجعت فيه إلى طبعة دار الكتب العلمية وطبعة مكتبة الرشد.

12 - تاريخ بغداد، وفيه رجعت إلى طبعة دار الغرب، وإلى الطبعة القديمة.

13 - الاعتبار للحازمي، وفيه استخدمت طبعة دار ابن حزم، وطبعة دار الوعي.

14 - شرح علل الترمذي، وفيه رجعت إلى مطبوعة نور الدين عتر، وإلى مطبوعة مكتبة المنار بتحقيق همام عبد الرحيم، وأعرضت عن مطبوعة السيد صبحي السامرائي لأنها طافحة بالتصحيفات.

15 - فتح المغيث للسخاوي، وفيه رجعت إلى طبعة دار الكتب العلمية، وإلى طبعة دار المنهاج.

16 - فتح الباري بشرح صحيح البخاري، وقد استخدمت فيه طبعة دار السلام مع طبعة دار طيبة، وكان في الغالب الإحالة إلى عقب الحديث لتتسق جميع الطبعات على ذلك.

أما الصحيحان فقد جعلت الإحالة على صحيح البخاري بالجزء والصفحة للطبعة الأميرية، ثم أردفته برقم الحديث من فتح الباري ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي، ولصحيح مسلم الجزء والصفحة للطبعة الاستانبولية، ثم برقم الحديث من طبعة محمد فؤاد عبد الباقي وذلك؛ لانتشار هذه الطبعات وتداولها بين الناس، وهذا ديدني في كتبي كلها.

 

أما‌‌ مميزات الكتاب كتاب "الجامع في العلل والفوائد"، فهي على النحو التالي:

1 - جاء رسم الكتاب "الجامع في العلل والفوائد" لأنه يجمع جميع أنواع العلل، سواء ما كان منها في السند، أو في المتن، أو فيهما كليهما من حيث التنظير الوافي مع حشد عدد كبير من الأحاديث التي تدخل ضمن تلك العلة.

أما الفوائد فتشير إلى أمرين:

أولهما: أن الكتاب أصل في الأحاديث المعلة والغريبة والمنكرة التي نشأت من أوهام الرواة، فهي (فوائد) على اصطلاح أهل العلم.

والآخر: أن الكتاب غني بالفوائد العلمية، والنكت الوفية، ودقائق
11 - বায়হাক্বীর শুআবুল ঈমান, এতে আমি দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ এবং মাকতাবাতুর রুশদ সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি।

12 - তারিখে বাগদাদ, এতে আমি দারুল গারব এবং প্রাচীন সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি।

13 - হাযিমীর আল-ই’তিবার, এতে আমি দারু ইবনি হাযম এবং দারুল ওয়াই সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি।

14 - শারহু ইলালিত তিরমিযী, এতে আমি নূরুদ্দীন ইতরের মুদ্রিত সংস্করণ এবং হুমাম আব্দুর রহীমের তাহক্বীক্বকৃত মাকতাবাতুল মানার-এর মুদ্রিত সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি; আর সাইয়্যিদ সুবহী আস-সামাররাঈ-এর মুদ্রিত সংস্করণটি বর্জন করেছি, কারণ তা ভুলে (তাসহিফ) পরিপূর্ণ।

15 - সাখাবীর ফাতহুল মুগীস, এতে আমি দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ এবং দারুল মিনহাজ সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি।

16 - ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী, এতে আমি দারুস সালাম এবং দারু তীবাহ সংস্করণ ব্যবহার করেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি হাদিসের শেষাংশে দেওয়া হয়েছে যাতে সকল সংস্করণের সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

সহীহাইন বা বুখারী ও মুসলিমের উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমি সহীহ বুখারীর জন্য আমীরিয়্যাহ সংস্করণের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর ব্যবহার করেছি, এরপর মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাক্বীর নম্বর অনুযায়ী ফাতহুল বারীর হাদিস নম্বর যুক্ত করেছি। আর সহীহ মুসলিমের জন্য ইস্তাম্বুলী সংস্করণের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর এবং মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাক্বীর সংস্করণ থেকে হাদিস নম্বর প্রদান করেছি; কারণ এই সংস্করণগুলো মানুষের মাঝে বহুল প্রচলিত ও পরিচিত। আমার সকল কিতাবে এটাই আমার অনুসৃত নিয়ম।

 

আর "আল-জামি’ ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়াইদ" কিতাবটির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:

1 - কিতাবটির নাম "আল-জামি’ ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়াইদ" রাখা হয়েছে কারণ এটি সব ধরনের ‘ইল্লত’ বা ত্রুটিকে একত্রিত করেছে, তা সনদে হোক কিংবা মতনে অথবা উভয় ক্ষেত্রেই হোক; আর এতে পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক আলোচনার সাথে সেই ত্রুটির অন্তর্ভুক্ত বিপুল সংখ্যক হাদিসের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে।

‘ফাওয়াইদ’ (উপকারিতা) বলতে দুটি বিষয়কে বোঝানো হয়েছে:

প্রথমত: এই কিতাবটি মূলত সেই সকল ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল), বিরল (গারীব) এবং মুনকার হাদিসসমূহের মূল উৎস যা বর্ণনাকারীদের ভুল ধারণার (ওয়াহম) ফলে সৃষ্টি হয়েছে; ইলমি পরিভাষায় এগুলোই হলো ‘ফাওয়াইদ’।

দ্বিতীয়ত: এই কিতাবটি জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা, পূর্ণাঙ্গ সূক্ষ্ম বিষয়াবলি এবং সুগভীর তথ্যে সমৃদ্ধ।

(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الجرح والتعديل ومناهج المحدثين، وكذلك الفوائد المتعلقة بالكتب وخصائصها ومناهج مؤلفيها.

فضلاً عن ذلك فإن كلمة (الجامع) يستوحى منها من يقوم بجمع أشياء متفرقة سواء أكانت هذه الأشياء متباعدة أم متقاربة.

2 - اشتمل الكتاب على طريقتي المحدّثين في التصنيف في علل الحديث: التنظير، والتطبيق، وهو شبيه بعمل الإمام مسلم في كتابه "التمييز".

3 - الكتاب تبسيط لعلم العلل وتذليل له بالأمثلة المتنوعة، وشرح لإعلالات المحدّثين لتلك الأحاديث شرحاً وافياً بطريقة واضحة.

4 - حريٌّ بهذا الكتاب أن يكون موسوعة في علم علل الحديث؛ فالذي لم يتكلم فيه أشار إليه، وما لم يتناوله بالتفصيل أجمله، وهلم جراً.

5 - إنه كتاب تعريفات؛ فقد جمع كثيراً من التعريفات والحدود من حيث اللغة والاصطلاح، مهتماً ببيان مدى ارتباط المعنى الاصطلاحي للفظ بالمعنى اللغوي له.

6 - هو كتاب تأريخ؛ إذ تناول نشوء علم العلل منذ عصر الصحابة رضي الله عنهم، وجَمَعَ المصطلحات المستعملة للتعبير عن العلة، واضعاً لها في ميزان أهل اللغة والحديث.

7 - صار هذا الكتاب ثبتاً لأئمة هذا الفن ومؤسسيه منذ نشأته وإلى يوم الناس هذا.

8 - كان (كشفاً) لأسماء الكتب الموضوعة في هذا العلم القديمة والحديثة.

9 - جمع الكتاب بين التأليف والتحقيق، فعلى الرغم من أن الكتاب هو مؤلف عصري، أنه حقق كثيراً من المسائل، ولاسيما في باب التصحيف والتحريف، ولو لم يكن له إلا التنبيه لكفاه.

10 - الحرص على حشد أقوال الأئمة النقاد، وفي طليعتهم المتقدمون في إعلالهم للأحاديث أو تصحيحها.
জারহ ও তাদীল এবং মুহাদ্দিসগণের মানহাজ, সেইসাথে গ্রন্থসমূহ এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য ও লেখকদের মানহাজ সংশ্লিষ্ট উপকারিতাসমূহ।

তদুপরি, 'আল-জামি' শব্দটি থেকে এমন কাউকে ইঙ্গিত করা হয় যিনি বিক্ষিপ্ত বস্তুসমূহকে একত্রিত করেন, চাই সেই বস্তুগুলো পরস্পর থেকে দূরবর্তী হোক বা নিকটবর্তী।

2 - হাদিসের ত্রুটি (ইল্লত) বিষয়ক গ্রন্থ রচনায় মুহাদ্দিসগণের দুটি পদ্ধতিই এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক; যা ইমাম মুসলিমের তাঁর 'আত-তাময়িজ' কিতাবের কর্মপদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

3 - এই কিতাবটি ইলমে ইলালকে (হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) সহজবোধ্য করেছে এবং বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে একে সুগম করেছে। মুহাদ্দিসগণ সেই হাদিসগুলোর যে ত্রুটি বর্ণনা করেছেন, এটি তার একটি স্পষ্ট ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা।

4 - এই কিতাবটি ইলমে ইলালে একটি বিশ্বকোষ হওয়ার যোগ্য; কারণ যে বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হয়নি সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, আর যা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়নি তা সংক্ষেপে আনা হয়েছে, এবং এভাবেই ধারাটি অব্যাহত রয়েছে।

5 - এটি একটি সংজ্ঞার্থের কিতাব; এতে আভিধানিক ও পারিভাষিক দিক থেকে প্রচুর সংজ্ঞা ও সীমা একত্রিত করা হয়েছে। শব্দের পারিভাষিক অর্থের সাথে তার আভিধানিক অর্থের সম্পর্কের ব্যাখ্যার প্রতি এখানে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

6 - এটি একটি ইতিহাসের কিতাব; যেহেতু এটি সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগ থেকে ইলমে ইলালের উদ্ভব নিয়ে আলোচনা করেছে এবং ইল্লত প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত পরিভাষাসমূহ একত্রিত করেছে, সেগুলোকে ভাষা ও হাদিস শাস্ত্রবিদদের মানদণ্ডে উপস্থাপন করেছে।

7 - এই কিতাবটি এই শাস্ত্রের উদ্ভবকাল থেকে আজ অবধি এর ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতাদের একটি নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য দলিলে পরিণত হয়েছে।

8 - এটি এই শাস্ত্রে রচিত প্রাচীন ও আধুনিক কিতাবসমূহের নামের ক্ষেত্রে একটি 'উন্মোচক' (কাশফ) স্বরূপ ছিল।

9 - কিতাবটি রচনা ও তাহকিকের (গবেষণালব্ধ সংকলন) সমন্বয় ঘটিয়েছে। যদিও এটি একটি সমসাময়িক রচনা, তবুও এটি অনেক মাসআলা তাহকিক করেছে, বিশেষ করে 'তাসহিফ' (শব্দ বিকৃতি) ও 'তাহরিফ' (অক্ষর বিকৃতি) অধ্যায়ে। যদি এটিতে শুধু এই বিষয়ে সতর্কীকরণ থাকত, তবে তা-ই এর জন্য যথেষ্ট হতো।

10 - এতে বিশেষজ্ঞ ইমামগণের উক্তিগুলো একত্রিত করার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন প্রাচীন ইমামগণ—হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কিংবা সহিহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
11 - جمع ما يخص علل الحديث من كتب العلم المتنوعة كالأصول والتفسير والفقه وغيرها، وعدم الاقتصار على كتب الحديث فقط؛ ليتجلى علم العلل بوضوح ولتتم مقاصده، وليكون العمل استقرائياً.

12 - البحث في إعلال الحديث إعلالاً شمولياً يشمل كل ما يخص الإعلال، سواء كان الإعلال واقعياً أو غير واقعي، فإن كان غير واقعي تتم الإجابة عنه كما هو الحال في كثير من الأحاديث التي أعلها الفقهاء، مع أن الكتاب مؤلف على طريقة أهل الحديث لكنه يشمل إعلالات غيرهم.

13 - شرح قواعد العلل التي قعّدها المتقدمون، وسار عليها من بعدهم ممن حذا حذوهم، وكذلك فيما يتعلق بالسلاسل الإسنادية، والتوثيق الضمني.

14 - التأكيد على سبب العلة، وكشف سبب خطأ الراوي ووهمه في ذلك الحديث؛ ليكون العمل ميزاناً فيه تنقد الأخبار.

15 - استخلاص كثير من أسباب العلل التي لم يتطرق إليها غالب من كتب في هذا الفن، لاسيما أن بحثنا شامل للتنظير والتطبيق، مع محاولة الاستيعاب لكثير من الدقائق.

16 - تذليل المصطلحات الصعبة العامة والخاصة التي استخدمها الأئمة النقاد وبيان مرادهم بها، إذ إن المتقدمين ممن تكلم في العلل لهم مصطلحات ومناهج قد يعسر فهمها على كل أحد، ولا يفهمها إلا الحذاق ممن مارس هذا الفن، وكانت له بضاعة في هذه الصناعة، ولعل من أوجب الواجبات على المشتغلين بهذا الفن الشريف تبسيط هذا الفن على الناس.

17 - الحكم على المئات من الأحاديث التي توسّع كلام النقد والإعلال فيها، مع حشد أقوال المصححين والمعللين بالنقول والأدلة؛ ليتضح للقراء الحكم الصحيح، وليكون الكتاب خير دليل للباحث عن أحسن طرائق الحكم.

18 - كانت خلاصة الحكم على المتن بعد استنفاد الوسع في الكلام على الأسانيد.

19 - تناولتُ بعض الأحاديث التي أُعلت لسبب معين، أو اتسع
১১ - বিভিন্ন শাস্ত্রের কিতাব যেমন উসূল, তাফসির, ফিকহ ইত্যাদি থেকে হাদিসের ইল্লত (ত্রুটি) সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংকলন করা এবং কেবল হাদিসের কিতাবগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকা; যাতে ইলমুল ইলাল (হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) স্পষ্টভাবে প্রস্ফুটিত হয় এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ পূর্ণ হয় এবং কাজটি যেন অনুসন্ধানমূলক হয়।

১২ - হাদিসের ত্রুটি (ইলাল) চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে একটি সামগ্রিক গবেষণা পরিচালনা করা, যা ত্রুটি সংক্রান্ত সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই সেই ত্রুটিটি বাস্তব হোক বা অবাস্তব। যদি তা অবাস্তব হয়, তবে তার উত্তর প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি ফকিহগণ কর্তৃক ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। যদিও বইটি আহলে হাদিসদের পদ্ধতিতে রচিত, তবে এটি অন্যদের আপত্তিকৃত ত্রুটিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

১৩ - মুতাকাদ্দিমুন (পূর্বসূরি) উলামায়ে কেরাম হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ের যেসব উসূল বা মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন এবং পরবর্তী যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন, সেই নীতিগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা। পাশাপাশি সনদগত ধারাবাহিকতা এবং পরোক্ষ নির্ভরযোগ্যতা (তাউসিক দিমনি) সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা।

১৪ - ত্রুটির কারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা এবং উক্ত হাদিসে রাবির ভুল ও সংশয়ের কারণ উন্মোচন করা; যাতে এই কর্মটি এমন একটি মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হয় যার মাধ্যমে বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই করা যায়।

১৫ - ত্রুটির এমন অনেক কারণ নিরূপণ করা যা এই শাস্ত্রের অধিকাংশ লেখক আলোচনা করেননি। বিশেষ করে যেহেতু আমাদের এই গবেষণাটি তত্ত্ব ও প্রয়োগ উভয় দিককে শামিল করে এবং এতে অনেক সূক্ষ্ম বিষয়কে আয়ত্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৬ - ইমাম ও হাদিস সমালোচকগণ যেসব কঠিন সাধারণ ও বিশেষ পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, সেগুলো সহজবোধ্য করা এবং সেগুলোর মাধ্যমে তাঁদের উদ্দেশ্য কী তা স্পষ্ট করা। কেননা পূর্বসূরিদের মধ্যে যারা হাদিসের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাঁদের এমন কিছু পরিভাষা ও পদ্ধতি রয়েছে যা সবার পক্ষে বোঝা কঠিন হতে পারে। এই শাস্ত্রে অভিজ্ঞ এবং পারদর্শী ব্যক্তি ছাড়া তা বোঝা সম্ভব নয়। সম্ভবত এই মহৎ শাস্ত্র নিয়ে যারা কাজ করেন, তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো মানুষের কাছে এই শাস্ত্রটিকে সহজ করে উপস্থাপন করা।

১৭ - শত শত হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান করা যেগুলোর সমালোচনা ও ত্রুটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেই সাথে সহিহ আখ্যাদানকারী ও ত্রুটি বর্ণনাকারীদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃতি ও দলিলসহ একত্রিত করা; যাতে পাঠকদের কাছে সঠিক সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট হয় এবং হাদিসের হুকুম নির্ণয়ের সর্বোত্তম পদ্ধতি অন্বেষণকারীদের জন্য এই বইটি যেন একটি উত্তম পথপ্রদর্শক হয়।

১৮ - সনদের ওপর পর্যালোচনার পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয়ের পর মতনের (মূল পাঠ) ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে।

১৯ - আমি এমন কিছু হাদিস নিয়ে আলোচনা করেছি যা নির্দিষ্ট কোনো কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা হয়েছে, অথবা যার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الخلاف فيها مع رجحان صحتها، فقد بحثتُ عدداً من الأحاديث لبيان صحتها والدفاع عنها كما هو ديدن الذين صنفوا في العلل.

20 - توسعت في التمثيل لكل نوع وفرع وصورة، وكان التمثيل لأنواع العلة الخفية كثيراً، أما غيرها من العلل القادحة الظاهرة فيختلف الحال حسب أهمية ذلك النوع من أنواع علل الحديث.

21 - البحث في تخريج الحديث وجمع الطرق على طريقة الاستيعاب، ومتابعة موارد المخرِّجين ومن استقى منهم؛ لمعرفة الصواب وتمييز الخطأ.

22 - العناية بنقل النصوص عن الأئمة العلماء خاصة، مثل نقل أقوال الترمذي النقدية عقب الأحاديث، والموازنة بين طبعات الجامع الكبير له وتحفة الأشراف، ومَن نقل أقوال الترمذي.

23 - بذل الجهد والوسع في تخريج المعلقات التي يذكرها الترمذي والدارقطني والبيهقي وغيرهم عند ذكر المتابعات والمخالفات مع الإشارة إلى عدم العثور على ما لم يُعثر عليه.

24 - أُلف الكتاب وفق أحدث الطرق، وتم اختيار الطريق الأحسن والأسلم في التخريج والترتيب والعزو؛ وكان المنهج رائد العمل من أوله إلى آخره.

25 - إثبات رواية معينة ثم إثبات اختلاف الروايات، وبيان سبب الترجيح وذكر سبب الاختلاف ما وجدنا لذلك سبيلاً.

26 - الحكم على الرواة بالنظر والمقارنة بين أقوال أئمة الجرح

والتعديل، وليس لنا في ذلك تقليد محض، بل نجتهد فيمن اختلف فيهم في الأعم الأغلب.

27 - حوى الكتاب كثيراً من الدراسات الجادة في الرجال، وتم تعقب كثير من اجتهادات المحدّثين في الرواة، و قد ضم أكثر من (193) ترجمة للرواة ناقشتُ في بعضها أسباب الجرح والتعديل مبيناً الصواب وفق القواعد العلمية الرصينة.
তার বিশুদ্ধতা অগ্রগণ্য হওয়া সত্ত্বেও সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আমি অনেকগুলো হাদিস নিয়ে গবেষণা করেছি সেগুলোর বিশুদ্ধতা বর্ণনা করতে এবং সেগুলোকে সমর্থন করতে, যেমনটা হাদিসের ইল্লত (ত্রুটি) বিষয়ক কিতাব প্রণেতাদের চিরাচরিত নিয়ম।

২০ - আমি প্রতিটি প্রকার, শাখা এবং সুরতের উদাহরণ প্রদানে বিস্তৃতি ঘটিয়েছি। বিশেষ করে সূক্ষ্ম ইল্লত বা ত্রুটির প্রকারগুলোর উদাহরণ প্রচুর পরিমাণে দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য প্রকাশ্য ত্রুটিপূর্ণ ইল্লতের ক্ষেত্রে উক্ত প্রকারের গুরুত্ব অনুযায়ী উদাহরণের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে।

২১ - হাদিসের তাখরিজ এবং পূর্ণাঙ্গরূপে সনদসমূহ একত্রীকরণের ক্ষেত্রে গবেষণা করা হয়েছে। এছাড়া মুরাখরিজদের মূল উৎস এবং যারা তাদের থেকে গ্রহণ করেছেন, তাদের অনুসরণ করা হয়েছে; যাতে সঠিকটি জানা যায় এবং ভুলটি পৃথক করা যায়।

২২ - বিশেষভাবে ইমাম ও আলেমদের মূল বক্তব্য নকলে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। যেমন হাদিসের পর ইমাম তিরমিযীর সমালোচনামূলক মন্তব্যগুলো উদ্ধৃত করা এবং তাঁর 'আল-জামি আল-কাবীর' এর বিভিন্ন সংস্করণ ও 'তুহফাতুল আশরাফ' এবং যারা ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য নকল করেছেন তাদের মধ্যে তুলনা ও ভারসাম্য রক্ষা করা।

২৩ - ইমাম তিরমিযী, দারাকুতনী, বায়হাকী ও অন্যান্যরা মুতাবাআত (সমর্থনকারী বর্ণনা) ও মুখালাফাত (বিপরীত বর্ণনা) উল্লেখের সময় যে সকল মুআল্লাক রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন, সেগুলো তাখরিজ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি যা পাওয়া যায়নি, তা না পাওয়ার বিষয়টিও নির্দেশ করা হয়েছে।

২৪ - কিতাবটি সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে সংকলিত হয়েছে। তাখরিজ, বিন্যাস ও তথ্যসূত্র প্রদানের ক্ষেত্রে উত্তম ও নিরাপদ পদ্ধতি নির্বাচন করা হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট মানহাজ বা পদ্ধতি এই কর্মের দিশারি ছিল।

২৫ - একটি নির্দিষ্ট বর্ণনা সাব্যস্ত করার পর বর্ণনাসমূহের মধ্যকার মতভেদগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসাথে সম্ভবপর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের কারণ এবং মতভেদের কারণও বর্ণনা করা হয়েছে।

২৬ - জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের ইমামদের বক্তব্যের নিরীক্ষণ ও তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে রাবীদের ব্যাপারে হুকুম প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো অন্ধ অনুকরণ নেই, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে তাদের বিষয়ে আমরা ইজতিহাদ বা গবেষণা করেছি।

২৭ - কিতাবটিতে রাবীদের ব্যাপারে অনেক গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা স্থান পেয়েছে। রাবীদের বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের অনেক ইজতিহাদের পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে ১৯৩টিরও বেশি রাবীর জীবনী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার কয়েকটিতে আমি জারহ ও তাদীলের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক মূলনীতি অনুযায়ী সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
28 - التنبيه على أخطاء الرواة، وتم عمل إحصائية دقيقة لكل راو أخطأ في هذا الكتاب، وقد بلغ عدد الرواة الذين أخطئوا (361).

29 - حفل الكتاب بإحصاء مرويات بعض الرواة في بعض الكتب، وهذا قلما تجده في غيره.

30 - إبراز خصوصيات بعض الرواة في بعض الشيوخ، فبعضهم ثقات في أنفسهم، ضعفاء في بعض الشيوخ.

31 - دراسة كثير من الرواة المختلف فيهم مع سبر مروياتهم من أجل الخلوص إلى حكم صحيح شامل، وكذلك صنعت مع الرواة الذين لم يترجم لهم في كتب التراجم.

32 - جاءت بعض التراجم مطولة للضرورة؛ ليعرف من خلالها خلاصة الحكم على الرواة.

33 - العناية بنقل التوثيق والتضعيف من الأسانيد وكتب العلل، من أجل لملمة أقوال ترصد لتوضع في أماكنها في كتب الرجال.

34 - شرح كثير من قواعد الجرح والتعديل، وإيضاح المعاني المختلفة للفظة الواحدة واختلاف النقاد في معانيها، وكنت أحاول جاهداً الوقوف على أقدم شرح للقاعدة أو اللفظة، فإن لم أجد للمتقدمين في شرحها شيئاً اعتمدت على ما دوّنه المحققون من المتأخرين والمعاصرين.

35 - بيان مصطلحات العلماء في مؤلفاتهم عند النقل عنهم، لتكتمل الفائدة؛ على أن ما يذكر من تلك الفوائد لا يذكر على سبيل الإسهاب، بل يؤتى بها بألخص عبارة وأوجز إشارة.

36 - إحالات الكتب غالباً على الطبعات المعتمدة، وقد أرجع إلى طبعات متعددة لعدد من الكتب خاصة عند الاختلاف.

37 - بيان أخطاء الكتب، وتصويب الكلام المخطوء عند نقله، وتصحيح التصحيف وتحرير التحريف والإشارة إلى الزيادة والنقص عند النقل.

38 - إن كان للكتاب طبعتان أو أكثر ووُجد خطأ في إحدى الطبعات
28 - বর্ণনাকারীদের ভুলত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই কিতাবে ভুল করেছেন এমন প্রত্যেক বর্ণনাকারীর একটি নিখুঁত পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে; ভুলকারী বর্ণনাকারীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (৩৬১)।

29 - কিতাবটি বিভিন্ন কিতাবে নির্দিষ্ট কিছু বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদীসসমূহের পরিসংখ্যানে পরিপূর্ণ, যা অন্য কিতাবে খুব কমই দেখা যায়।

30 - নির্দিষ্ট কিছু শাইখের ক্ষেত্রে কতিপয় বর্ণনাকারীর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে; কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য হলেও নির্দিষ্ট কিছু শাইখের বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল।

31 - মতভেদপূর্ণ অনেক বর্ণনাকারীর অবস্থা এবং তাদের বর্ণিত হাদীসসমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে; একইভাবে আমি সেই সব বর্ণনাকারীদের ব্যাপারেও কাজ করেছি যাদের জীবনীগ্রন্থসমূহে কোনো জীবনী উল্লেখ করা হয়নি।

32 - প্রয়োজনে কোনো কোনো বর্ণনাকারীর জীবনী দীর্ঘ করা হয়েছে; যাতে এর মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ জানা যায়।

33 - সনদসমূহ ও ইলমুল ইলাল (বর্ণনার সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক বিজ্ঞান) এর কিতাবগুলো থেকে নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা সংক্রান্ত বক্তব্যগুলো উদ্ধৃত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিক্ষিপ্ত উক্তিগুলো সংগ্রহ করে ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারী বিষয়ক বিজ্ঞান) এর কিতাবগুলোতে তাদের উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা যায়।

34 - জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ)-এর অনেক নিয়ম ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং একই শব্দের বিভিন্ন অর্থ ও সেসব অর্থের ক্ষেত্রে সমালোচকদের মতভেদ স্পষ্ট করা হয়েছে; আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি কোনো নিয়ম বা শব্দের সবচেয়ে প্রাচীন ব্যাখ্যাটি খুঁজে বের করতে। যদি প্রাচীনদের পক্ষ থেকে এর কোনো ব্যাখ্যা না পেয়েছি, তবে পরবর্তী যুগের গবেষক ও সমসাময়িক বিজ্ঞজনদের সংকলিত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করেছি।

35 - আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার সময় তাদের রচিত গ্রন্থসমূহের পারিভাষিক শব্দগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে যাতে উপকারিতা পূর্ণাঙ্গ হয়; তবে এসব বিষয় দীর্ঘ আলোচনার পরিবর্তে সংক্ষিপ্ততম শব্দ ও সংকেত ব্যবহারের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

36 - কিতাবসমূহের তথ্যসূত্র সাধারণত নির্ভরযোগ্য সংস্করণগুলোর ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে মতভেদের সময় একই কিতাবের একাধিক সংস্করণের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

37 - কিতাবসমূহের ভুলত্রুটি বর্ণনা করা হয়েছে এবং ভুল কথা উদ্ধৃত করার সময় তা সংশোধন করা হয়েছে; পাশাপাশি অনবধানবশত শব্দের পরিবর্তন (তাসহিফ) ও বিকৃতি (তাহরিফ) সংশোধন করা হয়েছে এবং উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন ঘটলে তা নির্দেশ করা হয়েছে।

38 - যদি কোনো কিতাবের দুই বা ততোধিক সংস্করণ থাকে এবং কোনো একটি সংস্করণে ভুল পাওয়া যায়...
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২০)
فإنه يُرصد، وتدقق بقية الطبعات؛ ليعلم تقليد المتأخر للمتقدم.

39 - التعريف بكثير من الكتب والأجزاء الحديثية مع بيان خصائصها بعبارات موجزة شاملة لفوائد نادرة.

40 - الاهتمام بذكر أوهام محققي الكتب في نقد الأحاديث أو تعيين الرواة إذا كان في ذلك فائدة أو دفع مفسدة، مع ترك كثير من ذلك حين لا يكون في بيانه كبير فائدة.

41 - رصد المخالفين في انتقاص مخالفيهم، وإيضاح ذلك حتى لا يقع النقد في غير موضعه.

42 - تضمن الكتاب الكلام على بعض المصادر وتحقيق صحة نسبتها إلى مؤلفيها.

43 - ومع تخصص الكتاب الدقيق في الحديث والعلل والأسانيد والجرح والتعديل لم يخل من كثير من الفوائد الفقهية والعقدية والشوارد اللغوية وغيرها.

44 - شمل الكتاب مقدمات نافعة، وقواعد ماتعة، وفهارس متنوعة، تيسر صعوبة الكتاب، وتذلل طرائق البحث فيه، وتضمن للباحثين إحصائيات مهمة.

45 - من يطالع الكتاب يجد أبحاثاً حديثية مهمة ودراسات إستقرائية قلَّ نظيرها، ومن يعاود النظر في الكتاب سيجد الفرق بين مناهج المتقدمين والمتأخرين جلياً، ويطلع على أسباب ترجيح المتقدمين.

46 - يُعد أول كتاب رتّب الأحاديث المعلولة على أجناس العلل.

47 - في الكتاب يكون إعلال الحديث بالعلة الرئيسة، ويشار إلى إعلالات الآخرين، مع بيان القادح وغير القادح من تلك الإعلالات.

وفي ختام مقدمتي المتواضعة أكرر شكري لله رب العالمين أنْ أمدني بالصحة والتمكين حتى تم هذا العمل، وأتقدم بالشكر لكل من مد إليَّ يد العون في هذا العمل، وأخص منهم أبي الحاج ياسين الفحل رحمه الله
এটি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং অন্যান্য সংস্করণগুলো সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হয়; যাতে পরবর্তীদের দ্বারা পূর্ববর্তীদের অনুকরণের বিষয়টি জানা যায়।

৩৯ - অনেক হাদিসগ্রন্থ এবং হাদিসের ক্ষুদ্র সংকলনগুলোর (আজযা) পরিচয় প্রদান, সাথে সংক্ষিপ্ত অথচ বিরল উপকারে ভরপুর অভিব্যক্তিতে সেগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা।

৪০ - হাদিস সমালোচনা বা বর্ণনাকারী নির্ধারণে গ্রন্থসমূহের গবেষকদের (মুহাক্কিক) ভুলভ্রান্তি উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা, যদি তাতে কোনো উপকার থাকে বা কোনো অনিষ্ট দূর করার বিষয় থাকে; অন্যথায় এমন অনেক বিষয় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে তা বর্ণনায় বিশেষ কোনো উপকার নেই।

৪১ - বিরোধীদের দ্বারা তাদের প্রতিপক্ষকে খাটো করার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা এবং তা স্পষ্ট করা, যাতে সমালোচনা অপ্রাসঙ্গিক স্থানে প্রযুক্ত না হয়।

৪২ - কিতাবটিতে কিছু উৎসগ্রন্থের আলোচনা এবং সেগুলোর লেখকদের প্রতি সেগুলোর সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা যাচাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

৪৩ - হাদিস, ইলাল (সূক্ষ্ম ত্রুটি), আসানিদ (সনদসমূহ) এবং জারহ ও তাদীল বিষয়ে কিতাবটির গভীর বিশেষত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি অনেক ফিকহি ও আকিদাগত ফায়দা এবং বিরল ভাষাগত তথ্য ও অন্যান্য বিষয় থেকে খালি নয়।

৪৪ - কিতাবটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উপকারী ভূমিকা, চমৎকার মূলনীতি এবং বৈচিত্র্যময় নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র), যা কিতাবটির কাঠিন্য সহজ করে দেয়, এতে গবেষণার পথ সুগম করে এবং গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করে।

৪৫ - যে ব্যক্তি কিতাবটি পাঠ করবে সে হাদিস বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা এবং এমন পর্যালোচনামূলক অধ্যয়ন দেখতে পাবে যার নজির খুব কমই মেলে। আর যে ব্যক্তি কিতাবটিতে পুনরায় দৃষ্টি দেবে, তার কাছে মুতাকাদ্দিমীন (পূর্ববর্তী) ও মুতাআখখিরীন (পরবর্তী) আলিমদের কর্মপদ্ধতির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং সে মুতাকাদ্দিমীনদের অগ্রাধিকার প্রদানের কারণগুলো জানতে পারবে।

৪৬ - এটিই প্রথম কিতাব হিসেবে গণ্য যা ত্রুটিযুক্ত (মা’লুল) হাদিসগুলোকে ইল্লতের (ত্রুটি) প্রকারভেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছে।

৪৭ - কিতাবটিতে প্রধান ইল্লতের মাধ্যমে হাদিসের ত্রুটি নির্দেশ করা হয়েছে এবং অন্যদের নির্দেশিত ত্রুটিগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে, সাথে সেই ত্রুটিগুলোর মধ্যে কোনটি গ্রহণযোগ্যতা নষ্টকারী আর কোনটি নয়—তাও স্পষ্ট করা হয়েছে।

আমার এই বিনম্র ভূমিকার শেষে আমি রাব্বুল আলামীন আল্লাহর প্রতি পুনরায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, তিনি আমাকে সুস্থতা ও সামর্থ্য দান করেছেন যাতে এই কাজটি সম্পন্ন হতে পারে। আর আমি সেই সকল ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা এই কাজে আমার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, বিশেষ করে আমার পিতা আলহাজ ইয়াসীন আল-ফাহল (রাহিমাহুল্লাহ)-কে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২১)
تعالى - الذي طالما سألني عن الكتاب، وكان دعاؤه لي متواصلاً، لكنه استقبل أجل الله قبل أكثر من عام، فرحمه الله تعالى وأسكنه فسيح جناته، وأمي الحنونة الحاجة هدية دحام المرأة المؤمنة القانتة الصابرة التي كانت وما زالت قدوة لي في الصبر والديانة، وأهل بيتي زوجي أم الحارث والحارث ومعاذ وطه وطارق الذين طالما قصرت في حقهم من أجل هذا العمل فأسأل الله أن يستعملني وإياهم في طاعته.

ولا أنسى إخواني جميعاً، وأخص منهم أخي الحاج سالم سلّمه الله الذي أمدني بعطاء متواصل، فأسأل الله أن يفتح له من خيري الدنيا والآخرة.

ولا أنسى إخواني في دار الحديث العراقية - حرسها الله - الذين عانوا معي تصحيح تجارب الطباعة المضنية، وتدقيق جميع الإحالات، وهم المشايخ: يحيى على المرعي، وسعد شاكر عبد، وحسن عبد الوهاب سحاب، وصفاء حسين خلف، وأحمد مؤيد العاني، وولدي النجيب حارث، أسأل الله أن يبارك في أوقاتهم وأعمارهم، وأن ينفع بهم البلاد والعباد.

وبعد: فهذا كتابي " الجامع في العلل والفوائد " قد خدمته الخدمة الَّتِي توازي تعلقي بكتاب الله وسنة الحبيب المصطفى عَلَيْهِ أفضل الصَّلاة والسلام. أقدمه لمحبي كِتَاب الله وعشاق السُّنَّة النبوية، وأسأل الله أَنْ يَكُوْن شافعاً لي يوم لا ينفع مال ولا بنون، وآخر دعوانا أَنِ الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام عَلَى سيدنا مُحَمَّد وعلى آله وصحبه والتابعين لَهُمْ بإحسان إِلَى يوم الدين.

 

وكتب

د. ماهر ياسين الفحل

أستاذ الحديث والفقه المقارن/ كلية العلوم الإسلامية - جامعة الأنبار

شيخ دار الحديث في العراق
মহান আল্লাহ—যিনি দীর্ঘকাল ধরে আমাকে এই কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং যাঁর দোয়া আমার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ছিল, কিন্তু তিনি এক বছরেরও বেশি সময় আগে আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের (মৃত্যুর) ডাক গ্রহণ করেছেন; মহান আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং জান্নাতের প্রশস্ত বাগানে স্থান দান করুন। আর আমার মমতাময়ী মা হাজ্জাহ হাদিয়াহ দাহাম, সেই মুমিন, অনুগত ও ধৈর্যশীল নারী যিনি সবর ও ধার্মিকতার ক্ষেত্রে আমার জন্য আদর্শ ছিলেন এবং এখনও আছেন। আর আমার পরিবারের সদস্য—আমার স্বামী উম্মুল হারিস, এবং হারিস, মুয়াজ, ত্বহা ও তারিক, এই কাজের খাতিরে যাদের অধিকার আদায়ে আমি প্রায়শই অবহেলা করেছি; আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে ও তাদের তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখেন।

এবং আমি আমার সকল ভাইয়ের কথা ভুলছি না, বিশেষ করে আমার ভাই হাজ্জি সালেম—আল্লাহ তাঁকে সুস্থ রাখুন—যিনি আমাকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ উন্মুক্ত করে দেন।

এবং আমি 'দারুল হাদিস আল-ইরাকিয়্যাহ'—আল্লাহ একে হিফাজত করুন—এর আমার ভাইদের কথা ভুলছি না, যারা আমার সাথে মুদ্রণের কষ্টকর সংশোধন ও যাবতীয় উদ্ধৃতি যাচাইয়ের দুঃসাধ্য কাজে কষ্ট সহ্য করেছেন। তাঁরা হলেন শাইখগণ: ইয়াহইয়া আলী আল-মারঈ, সা’দ শাকির আবদ, হাসান আব্দুল ওয়াহহাব সাহাব, সাফাউ হুসাইন খালাফ, আহমদ মুয়াইয়িদ আল-আনী এবং আমার সুসন্তান হারিস। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদের সময়ে ও জীবনে বরকত দান করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধন করেন।

অতঃপর: এটি আমার কিতাব "আল-জামি’ ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ"। আমি এর পেছনে এমন শ্রম দিয়েছি যা আল্লাহর কিতাব ও প্রিয় নবী মুস্তফা—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এর সুন্নাহর প্রতি আমার অনুরাগের সমতুল্য। আল্লাহর কিতাব প্রেমী ও সুন্নাহর অনুরাগীদের খেদমতে আমি এটি পেশ করছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এটি যেন সেই দিন আমার জন্য সুপারিশকারী হয় যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না। আমাদের শেষ নিবেদন হলো সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।

 

লিখেছেন

ডক্টর মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল

অধ্যাপক, হাদিস ও তুলনামূলক ফিকহ বিভাগ / ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ — আনবার বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধান শাইখ, দারুল হাদিস, ইরাক
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌القسم الأول: القسم التنظيري

‌‌تعريف العلة لغة:

عَلَّ - بلام مشددة مفتوحة -: فعل متعدٍ ولازمٌ، نقول فيهما: عَلَّ يَعُِلّ - بضم العين وكسرها - ومصدرهما: عَلاًّ وعَلَلاً.

وأَعلَّهُ اللهُ: أي: أصابه بعلة.

والعلة: المرض، عَلَّ واعتلّ، أي مرض، وصاحبها مُعتَلّ، فهو عليل، وهي حدث يشغل صاحبه عن وجهه، كأنَّ تلك العلة صارت شُغلاً ثانياً، منعه عن شغله الأول.

وعَلَّلَهُ بالشيء تعليلاً، أي: لهّاه به، كما يُعلَّل الصبيُّ بشيء من الطعام عن اللبن، والتعليل: سقيٌ بعد سقي، وجنيُ الثمرة مرة بعد أخرى، والتعليل: تبيين عِلة الشيء، وأيضاً ما يستدل به من العلة على المعلول، وعَلَّلَ الشيءَ: بَيّن علتَهُ وأَثبتَهُ بالدليل، فهو مُعلَّل(1).

قال الخطَّابي: «والعُلالة مأخوذة من العَلّ، وهو الشرب الثاني بعد الأول، ومنه سُميت المرأة عَلّة؛ وذلك أنها تَعُلّ بعد صاحبتها، أي ينتقل الزوج إليها بعد الأخرى»(2).

وذكر ابن فارس في علّ: ثلاثة أصول صحيحة:

«أحدها: تكرار أو تكرير، والثاني: عائق يعوق، والثالث: ضعف في الشيء.

--------------------------------------------

(1) انظر: " العين "، و " المعجم الوسيط " مادة (عل)، و " الصحاح "، و " اللسان " مادة (علل).

(2) " غريب الحديث " للخطَّابي 1/ 75.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাত্ত্বিক অংশ

ভাষাগতভাবে ইল্লত-এর সংজ্ঞা:

‘আল্লা’ (লাম বর্ণে তাশদীদ ও ফাতহাযুক্ত): এটি সকর্মক ও অকর্মক উভয় প্রকারের ক্রিয়া। উভয় ক্ষেত্রে বলা হয়: ‘আল্লা ইয়াউল্লু’ বা ‘ইয়াআল্লু’ (আইন বর্ণে পেশ অথবা যের সহযোগে), এবং এদের ক্রিয়ামূল হলো ‘আল্লান’ ও ‘আলালান’।

‘আআল্লাহুল্লাহু’ অর্থাৎ: আল্লাহ তাকে কোনো রোগে বা ত্রুটিতে আক্রান্ত করেছেন।

আর ইল্লত অর্থ হলো: রোগ। ‘আল্লা’ এবং ‘ই’তাল্লা’ মানে হলো সে অসুস্থ হয়েছে। এমতাবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে ‘মু’তাল’ তথা ‘আলীল’ (অসুস্থ) বলা হয়। এটি এমন এক ঘটনা যা এর অধিকারীকে তার দিক বা উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করে দেয়; যেন সেই ইল্লত বা রোগটি তার জন্য দ্বিতীয় এক ব্যস্ততা হয়ে দাঁড়ায়, যা তাকে তার প্রথম কাজ থেকে বিরত রাখে।

আর কোনো কিছুর মাধ্যমে কাউকে ‘তালীল’ করার অর্থ হলো তাকে তা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা বা ব্যস্ত রাখা। যেমন শিশুকে দুধের পরিবর্তে অন্য কোনো খাবারের মাধ্যমে ভুলিয়ে রাখা হয়। আর ‘তালীল’ অর্থ হলো: পুনরায় পানি পান করানো এবং বারবার ফল আহরণ করা। ‘তালীল’ অর্থ আরও হয়: কোনো কিছুর কারণ (ইল্লত) বর্ণনা করা, এবং ইল্লত বা কারণের মাধ্যমে যা দিয়ে মা’লুল (ফলাফল) সাব্যস্ত করা হয়। ‘আল্লালাশ শাইয়া’ এর অর্থ হলো তিনি বস্তুটির কারণ বর্ণনা করেছেন এবং দলিলের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত করেছেন; এমতাবস্থায় বস্তুটি ‘মুআল্লাল’ (সুসাব্যস্ত)।(১)

খাত্তাবী বলেন: ‘উলালাহ’ শব্দটি ‘আল্ল’ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো প্রথমবার পান করার পর দ্বিতীয়বার পান করা। এই অর্থ থেকেই (সতীন বা দ্বিতীয়) স্ত্রীকে ‘ইল্লাহ’ বলা হয়। কারণ তিনি তার সঙ্গিনীর (প্রথম স্ত্রীর) পর আপ্যায়িত হন; অর্থাৎ স্বামী অন্যজনের পর তার নিকট স্থানান্তরিত হন।(২)

ইবনে ফারিস ‘আল্ল’ ধাতুর ক্ষেত্রে তিনটি বিশুদ্ধ মূলনীতির কথা উল্লেখ করেছেন:

«প্রথমটি: পুনরাবৃত্তি। দ্বিতীয়টি: এমন কোনো বাধা যা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এবং তৃতীয়টি: কোনো জিনিসের মধ্যে দুর্বলতা।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘আল-আইন’, এবং ‘আল-মু’জামুল ওয়াসীত’ (আইন-লাম) অনুচ্ছেদ, এবং ‘আস-সিহাহ’, এবং ‘আল-লিসান’ (আইন-লাম-লাম) অনুচ্ছেদ।

(২) খাত্তাবী রচিত ‘গারীবুল হাদীস’ ১/৭৫।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فالأول: العلل، وهو الشربة الثانية، ويقال: علل بعد نهل، ويقال: أعل القوم، إذا شربت إبلهم عللاً.

قال ابن الأعرابي في المثل: ما زيارتك إيانا إلا سوم عالة، أي: مثل

الإبل التي تعل. إنَّما قيل هذا؛ لأنها إذا كرر عليها الشرب، كان أقل لشربها الثاني.

والثاني: العائق يعوق، قال الخليل: العلة: حدث يشغل صاحبه عن وجهه، ويقال: اعتله كذا، أي اعتاقه، قال: فاعتله الدهر وللدهر علل.

والثالث: العلة المرض، وصاحبها معتل، قال ابن الأعرابي: عل المريض يعل، فهو عليل»(1).

وزاد صاحب كتاب: " العلة وأجناسها عند المحدّثين " معنى رابعاً، هو التشاغل بالشيء والتلهي به، ويمكن أنْ يضم تحت الأصل الثاني.

والمعل: اسم مفعول من أعله: أنزل به علة فهو مُعَلٌّ، يقولون: لا أَعَلَّكَ اللهُ، أي لا أصابك بعلة، والحديث الذي اكْتُشِفَتْ فيه علةٌ قادحة هو مُعَلٌّ؛ لأنَّه ظهر أنَّه مصاب بتلك العلة(2).

وبهذا يتضح أنَّ أقرب المعاني اللغوية لمعنى العلة في اصطلاح المحدّثين هو المرض؛ وذلك لأنَّ الحديث الذي ظاهره الصحة، إذا اكتشف الناقد فيه علة قادحة، فإنَّ ذلك يمنع من الحكم بصحته.

 

‌‌تعريف العلة اصطلاحاً:

عرفها الحافظ ابن الصلاح بقوله: «هي عبارة عن أسباب خفية، غامضة، قادحة، فيه»(3).

وعرفها النووي بقوله: «عبارة عن سبب غامض، قادح، مع أنَّ الظاهر السلامة منه»(4).

--------------------------------------------

(1) " معجم مقاييس اللغة " مادة (عل).

(2) "لسان العرب " مادة (علل).

(3) " معرفة أنواع علم الحديث ": 187 بتحقيقي.

(4) " التقريب " المطبوع مع " التدريب " 1/ 252.
প্রথমটি হলো: আল-ইলাল, যার অর্থ দ্বিতীয়বার পান করা। বলা হয়: প্রথমবার পানের পর দ্বিতীয়বার পান করা। আরও বলা হয়: কওম তাদের উটকে দ্বিতীয়বার পান করিয়েছে, যখন তাদের উটগুলো দ্বিতীয়বার পানি পান করে।

ইবনুল আরাবি প্রবাদে বলেছেন: আমাদের নিকট তোমার যাতায়াত কেবল দ্বিতীয়বার পানকারী উটের পালের মতো। অর্থাৎ: সেই

উটের মতো যা দ্বিতীয়বার পান করে। এটি কেবল একারণেই বলা হয়েছে; কারণ পান করার পুনরাবৃত্তি করা হলে দ্বিতীয়বার পানের পরিমাণ কমে যায়।

দ্বিতীয়টি হলো: প্রতিবন্ধক যা বাধা প্রদান করে। আল-খলিল বলেছেন: ইল্লত (ত্রুটি) হলো এমন এক ঘটনা যা তার অধিকারীকে তার গন্তব্য থেকে বিচ্যুত করে রাখে। বলা হয়: তাকে অমুক বিষয় বিরত রেখেছে অর্থাৎ বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন: কাল তাকে বিরত রেখেছে, আর কালের রয়েছে বহু বাধা।

তৃতীয়টি হলো: ইল্লত অর্থ ব্যাধি বা রোগ। আর ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিকে অসুস্থ বলা হয়। ইবনুল আরাবি বলেন: রোগী অসুস্থ হয়েছে, সুতরাং সে রুগ্ন বা অসুস্থ।»(১)।

এবং "মুহাদ্দিসদের নিকট ইল্লত ও এর প্রকারভেদ" নামক গ্রন্থের লেখক চতুর্থ একটি অর্থ বৃদ্ধি করেছেন, তা হলো কোনো কিছুতে মগ্ন হওয়া ও তা নিয়ে আনন্দিত থাকা। এটিকে দ্বিতীয় মূল অর্থের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

আর 'মুআল্ল' শব্দটি 'আ-আল্লাহু' এর কর্মবাচক বিশেষ্য: এর মাধ্যমে সে তাকে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছে, সুতরাং সে ব্যাধিগ্রস্ত। তারা বলে: আল্লাহ আপনাকে অসুস্থ না করুন, অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত না করুন। আর যে হাদিসে এমন কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি আবিষ্কৃত হয়েছে তা হলো 'মুআল্ল'; কারণ এটি স্পষ্ট হয়েছে যে হাদিসটি সেই ত্রুটি দ্বারা আক্রান্ত(২)।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় 'ইল্লত' শব্দের অর্থ হিসেবে ভাষাগত দিক থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী অর্থ হলো 'ব্যাধি'; কারণ যে হাদিসের বাহ্যিক দিকটি সহিহ (সঠিক) বলে মনে হয়, বিশেষজ্ঞ যখন তাতে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি খুঁজে পান, তখন সেটি সেই হাদিসকে সহিহ বলে গণ্য করতে বাধা দেয়।

 

‌‌পরিভাষায় ইল্লতের সংজ্ঞা:

হাফিজ ইবনুস সালাহ এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: «এটি হাদিসের মধ্যে বিদ্যমান এমন কিছু গোপন, অস্পষ্ট ও ক্ষতিকারক কারণের নাম।»(৩)।

ইমাম নববী এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: «এটি একটি অস্পষ্ট ও ক্ষতিকারক কারণ, অথচ হাদিসের বাহ্যিক অবস্থা তা থেকে মুক্ত বলেই প্রতীয়মান হয়।»(৪)।

--------------------------------------------

(১) "মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ", শব্দমূল (আইন-লাম-লাম)।

(২) "লিসানুল আরব", শব্দমূল (আইন-লাম-লাম)।

(৩) "মা'রিফাতু আনওয়া'ই ইলমিল হাদিস": ১৮৭, আমার তাহকিককৃত।

(৪) "আত-তাকরিব", যা "আত-তাদরিব" ১/ ২৫২ এর সাথে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فللعلة ركنان:

1 - سبب خفي غامض.

2 - قادح في السند أو المتن أو كليهما.

ولا يكون الحديث مُعَلّاً إذا فقد أحد شرطيه.

 

‌‌الاصطلاح الذي يطلق على الحديث المصاب بعلة:

خاض(1) العلماء - قدامى ومُحْدَثينَ - في الاستعمال الصحيح لاسم المفعول للحديث الذي أصابته علة، والحقيقة أنَّ اسم المفعول يكون اشتقاقه من الأفعال الثلاثية وغيرها.

فمن الفعل الثلاثي يكون على زنة (مفعول) ويشتق من الفعل المبني للمجهول أو لما لم يُسمَّ فاعله، نحو: حُمِدَ فهو محمود، وعُلَّ فهو معلول.

أما من الفعل غير الثلاثي وهو الرباعي والخماسي وغيرهما، فيكون على وزن مضارعه مع إبدال حرف المضارعة ميماً مضمومة، وفتح ما قبل الآخر، نحو: أَعَلَّ فعل رباعي، وزن مضارعه يَعِلُّ، واسم المفعول منه مُعَلّ، والفعل عَلّل رباعي أيضاً، وزن مضارعه يعلل، واسم المفعول منه مُعَلَّل، والفعل اعتلّ خماسي، وزن مضارعه يَعْتَلّ، واسم المفعول منه مُعْتَلّ.

وتتفاوت نسبة استعمال العلماء لهذه التسميات، فالمعلول تسمية للحديث الذي أصابته علة استعمله المحدّثون واللغويون، فمن المحدّثين: البخاري، والترمذي، وابن عدي، والدارقطني، والحاكم وغيرهم، ومن اللغويين: الزجّاج، وابن القوطية، وقطرب، والجوهري، والمطرزي، وابن هشام وغيرهم .. ومن منكري هذه الصيغة ابن الصلاح فقد أنكرها بقوله:

--------------------------------------------

(1) أي: مشى وهذا من تشبيه المعقول بالمحسوس للإشارة إلى أنَّ المتكلم في ذلك كالخائض في الماء الماشي في غير مظنة المشي، وهذا إيذان وتنبيه على أنَّ الناس مضطربون في هذا التعريف، وانظر التعليق على " النكت الوفية " 1/ 92.
ইল্লাত বা ত্রুটির দুটি ভিত্তি রয়েছে:

১ - একটি সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট কারণ।

২ - যা হাদিসের সনদ (সূত্র), মতন (মূল পাঠ) অথবা উভয় ক্ষেত্রেই দোষ সৃষ্টি করে।

আর যদি এই দুটি শর্তের কোনো একটি অনুপস্থিত থাকে, তবে হাদিসটিকে 'মুআল্ল' (ত্রুটিযুক্ত) বলা হবে না।

 

‌‌ইল্লাত বা ত্রুটিযুক্ত হাদিসের ক্ষেত্রে যে পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়:

আলেমগণ—পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরিগণ—যে হাদিসে ইল্লাত বা ত্রুটি রয়েছে তার জন্য সঠিক 'ইসমুল মাফউল' (কর্মবাচক বিশেষ্য) ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা(১) করেছেন। বাস্তবতা হলো, 'ইসমুল মাফউল' তিন অক্ষরবিশিষ্ট এবং এর অতিরিক্ত অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূল থেকে গঠিত হয়।

তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া থেকে এটি 'মাফউল' এর ওজনে আসে এবং এটি কর্মবাচ্য ক্রিয়া থেকে গঠিত হয়, যেমন: 'হুমিদা' থেকে 'মাহমুদ', এবং 'উল্লা' থেকে 'মা'লুল'।

আর তিন অক্ষরের অতিরিক্ত অর্থাৎ চার, পাঁচ বা ততোধিক অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটি বর্তমানকালীন ক্রিয়ার ওজনে গঠিত হয়, যেখানে বর্তমানকালীন ক্রিয়ার আদ্যাক্ষরকে একটি পেশযুক্ত 'মীম' দ্বারা পরিবর্তন করা হয় এবং শেষাক্ষরের পূর্বের অক্ষরে জবর প্রদান করা হয়। যেমন: 'আআল্লা' একটি চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া, এর বর্তমানকালীন রূপ 'ইয়া-ইল্লু', এবং এর কর্মবাচক বিশেষ্য হলো 'মুআল্ল'। 'আল্লালা' ক্রিয়াটিও চার অক্ষরবিশিষ্ট, এর বর্তমানকালীন রূপ 'ইউ-আল্লিলু', এবং এর কর্মবাচক বিশেষ্য হলো 'মুআল্লাল'। এবং 'ই'তাল্লা' একটি পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া, এর বর্তমানকালীন রূপ 'ইয়া'তাল্লু', এবং এর কর্মবাচক বিশেষ্য হলো 'মু'তাল্ল'।

আলেমদের মাঝে এই নামগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। ত্রুটিযুক্ত হাদিসের ক্ষেত্রে 'মা'লুল' পরিভাষাটি মুহাদ্দিস ও ভাষাবিদগণ ব্যবহার করেছেন। মুহাদ্দিসদের মধ্যে রয়েছেন: বুখারী, তিরমিযী, ইবনে আদী, দারাকুতনী, হাকেম এবং অন্যান্যরা। আর ভাষাবিদদের মধ্যে রয়েছেন: যাজ্জাজ, ইবনুল কুতীয়াহ, কুতরুব, জাওহারী, মুতাররিযী, ইবনে হিশাম এবং অন্যান্যরা। তবে যারা এই শব্দরূপটিকে অস্বীকার করেছেন তাদের মধ্যে ইবনুস সালাহ অন্যতম, তিনি এটিকে অস্বীকার করে বলেছেন:

--------------------------------------------

(1) অর্থাৎ: তিনি এতে প্রবেশ করেছেন। এটি মূলত একটি বিমূর্ত বিষয়কে দৃশ্যমান বিষয়ের সাথে তুলনা করা, যাতে ইঙ্গিত করা যায় যে, এই বিষয়ে আলোচনাকারী ব্যক্তি অনেকটা পানিতে অবগাহনকারীর মতো—যে এমন জায়গায় হাঁটছে যেখানে সাধারণত হাঁটা যায় না। এটি মূলত একটি সংকেত ও সতর্কতা যে, এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মানুষ অস্থির বা দ্বিধাগ্রস্ত। দেখুন: "আন-নুকাত আল-ওয়াফিয়্যাহ" ১/৯২ এর টীকা।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
«مرذول عند أهل العربية واللغة»(1)، وقال النووي: «هو لحن»(2)، وقال العراقي في " ألفيته ":

«وسم ما بعلة مشمول … معللاً ولا تقل معلول»(3)

وأنكره الفيروزأبادي بقوله: «ولا تقل: معلول»(4).

وتابع السيوطيُّ النوويَّ في تلحينه له …(5)، وحكاية بعض أهل اللغة له، غير مخرج له عن كونه ضعيفاً، ولا سيما قد أنكره غير واحد من اللغويين كابن سيده، والحريري، وغيرهما.

ثم اعترض العراقي على التسمية بـ «معلل» فقال: «والأحسن أنْ يقال فيه: «معل» بلام واحدة لا معلل؛ فإنَّ الذي بلامين يستعمله أهل اللغة بمعنى: ألهاه بالشيء و شغله به، من تعليل الصبي بالطعام، وأما بلام واحدة، فهو الأكثر في كلام أهل اللغة، وفي عبارة أهل الحديث أيضاً»(6).

وهاتان الصيغتان: (معلول) و (معلل) هما اللتان كثر الاعتراض عليهما، أما باقي الصيغ فصحيحة أفصحها (مُعَلّ).

 

‌‌المعنى العام والمعنى الخاص والفرق بينهما:

للعلة معنيان:

الأول: معنى خاص: وهو الذي أشار إليه ابن الصلاح بقوله: «هو الحديث الذي اطُّلِعَ فيه على علة، تقدح في صحته مع أنَّ ظاهره السلامة

--------------------------------------------

(1) " معرفة أنواع علم الحديث ": 186 بتحقيقي.

(2) " التقريب " المطبوع مع " تدريب الراوي " 1/ 251.

(3) " شرح التبصرة والتذكرة " 1/ 272 بتحقيقي.

(4) " القاموس المحيط " مادة (علل).

(5) انظر: " تدريب الراوي " 1/ 251.

(6) " التقييد والإيضاح ": 117، وعبارته في " شرح التبصرة والتذكرة " 1/ 273 بتحقيقي: «والأجود في تسميته: المعل» وقد عقب البقاعي على ذلك، فقال في " النكت الوفية " 1/ 499 بتحقيقي: «يفهم أنَّ في استعمال معلل جودةً ما، وليس كذلك؛ فإنَّه لا يجوز أصلاً، فيحمل على أنَّ مراد الشيخ أنَّه أجود من المعلول».
«আরবি ভাষা ও ভাষাবিদদের নিকট এটি বর্জনীয়»(১), এবং নববী বলেছেন: «এটি একটি ভাষাগত ভুল»(২), আর ইরাকী তাঁর "আলফিয়্যাহ"-তে বলেছেন:

«যাকে ইল্লত বা ত্রুটি অন্তর্ভুক্ত করেছে তাকে মুআল্লাল নামকরণ করো … মুআল্লাল বলো, মা’লুল বলো না»(৩)

এবং ফিরোজাবাদী এটি অস্বীকার করে বলেছেন: «আর তুমি মা’লুল বলো না»(৪)।

এবং সুয়ূতী একে ভাষাগত ভুল বলার ক্ষেত্রে নববীর অনুসরণ করেছেন …(৫), আর কতিপয় ভাষাবিদ কর্তৃক এটি বর্ণিত হওয়া একে দুর্বল হওয়া থেকে বের করে দেয় না, বিশেষ করে যখন একাধিক ভাষাবিদ একে অস্বীকার করেছেন, যেমন ইবনে সিদাহ, হারীরি এবং অন্যান্যরা।

অতঃপর ইরাকী «মুআল্লাল» নামকরণের ওপর আপত্তি জানিয়েছেন এবং বলেছেন: «সবচেয়ে উত্তম হলো একে একটি লাম দিয়ে «মুআল্ল» বলা, মুআল্লাল নয়; কারণ দ্বৈত লাম বিশিষ্ট শব্দটি ভাষাবিদগণ কোনো কিছু দিয়ে ভুলিয়ে রাখা বা ব্যস্ত রাখা অর্থে ব্যবহার করেন, যেমন শিশুকে খাবার দিয়ে ভুলিয়ে রাখা। আর একটি লাম বিশিষ্ট শব্দটিই ভাষাবিদদের কথায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং হাদীসবিদদের পরিভাষাতেও এটিই অধিক প্রচলিত»(৬)।

আর এই দুটি রূপ: (মা'লুল) এবং (মুআল্লাল)—এই দুটির ওপরই আপত্তিসমূহ অধিক হয়েছে। তবে অবশিষ্ট রূপগুলো সঠিক, যার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো (মুআল্ল)।

 

‌‌সাধারণ অর্থ ও বিশেষ অর্থ এবং এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য:

ইল্লত বা ত্রুটির দুটি অর্থ রয়েছে:

প্রথম: বিশেষ অর্থ: এটি সেটিই যার দিকে ইবনে সালাহ ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: «এটি এমন হাদীস যাতে এমন কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় যা এর বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে এটি ত্রুটিমুক্ত মনে হয়।

--------------------------------------------

(১) "মারিফাতু আনওয়াই ইলমিল হাদীস": ১৮৬, আমার তাহকীককৃত।

(২) "তাক্বরীব" যা "তাদরীবুর রাবী"-র সাথে মুদ্রিত ১/ ২৫১।

(৩) "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ" ১/ ২৭২, আমার তাহকীককৃত।

(৪) "আল-ক্বামূসুল মুহীত", মূলশব্দ: (আইন-লাম-লাম)।

(৫) দেখুন: "তাদরীবুর রাবী" ১/ ২৫১।

(৬) "আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদহ": ১১৭; এবং "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ" ১/ ২৭৩-এ তাঁর ইবারত হলো (আমার তাহকীককৃত): «এর নামকরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম হলো: আল-মুআল্ল»। এর ওপর বুক্বায়ী মন্তব্য করতে গিয়ে তাঁর "আন-নুকাতুল ওয়াফিয়্যাহ" ১/ ৪৯৯-এ (আমার তাহকীককৃত) বলেছেন: «এর দ্বারা বোঝা যায় যে 'মুআল্লাল' ব্যবহারের মধ্যেও কোনো না কোনো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; কেননা এটি ব্যবহার করা মোটেও জায়েজ নেই। সুতরাং শায়খের কথাকে এভাবে বুঝতে হবে যে, এটি 'মা'লুল' অপেক্ষা অধিকতর উত্তম»।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
منها»(1)، والحاكم بقوله: «وإنما يعلل الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل .. »(2).

«ولعل تخصيص المتأخرين هذا النوع باسم العلل؛ لأنَّ أكثر أحاديث كتب العلل من هذا النوع، كما هو ظاهر وصرّح به السخاوي؛ أو لأنَّه أدقها وأغمضها .. ولعل ما ذهب إليه المتأخرون نوع من الحصر والتقييد، لا تغيير في المنهج بالمعنى العام .. »(3).

وبهذا يتضح لنا أنَّ العلة شيء خارج عن الجروح الموجهة إلى رجال الإسناد؛ وذلك لأنَّ ميدان الإعلال إنَّما هو الأحاديث التي ظاهرها الصحة، يقول ابن الصلاح: «ويتطرق ذلك إلى الإسناد الذي رجاله ثقات، الجامع شروط الصحة من حيث الظاهر»(4).

وكل من جاء بعد ابن الصلاح و عرّف المعل اشترط فيه خفاء العلة وكونها قادحة: كالطيبي(5)، والعراقي(6)، والسيوطي(7)، وأبي الفيض محمد بن محمد بن علي بن فارس(8)، وغيرهم.

لكننا مع ذلك نجد بعض العلماء يطلق العلة و يريد بها ما هو أعم من ذلك؛ حيث يدخل فيها العلة الظاهرة وغير الظاهرة: «وهذا الاستعمال إنما هو من باب التوسع فقط، واستعمال اللفظ بمعناه العام، وإلا فما حاز علم العلل هذه الشهرة، وحظي بالتقديم والتبجيل دون سائر علوم الحديث، إلا بخفاء العلل التي يبحث فيها ودقتها»(9) وهو الثاني من معنيي العلة. أي المعنى

--------------------------------------------

(1) " معرفة أنواع علم الحديث ": 187 بتحقيقي.

(2) " معرفة علوم الحديث ": 112 ط. العلمية، وعقب (270) ط. ابن حزم.

(3) " قواعد العلل وقرائن الترجيح ": 11.

(4) " معرفة أنواع علم الحديث ": 187 بتحقيقي.

(5) "الخلاصة ":70.

(6) " شرح التبصرة والتذكرة " 1/ 274 بتحقيقي.

(7) " التدريب " 1/ 252.

(8) " جواهر الأصول ": 48

(9) " العلة وأجناسها ": 21.
...এর অন্তর্ভুক্ত»(১), এবং আল-হাকিমের উক্তি: «নিশ্চয়ই হাদীসের ইল্লত (ত্রুটি) এমন সব দিক থেকে বর্ণনা করা হয় যেখানে রাবীর জরাহ বা সমালোচনার কোনো প্রবেশাধিকার নেই...»(২)।

«সম্ভবত পরবর্তী যুগের আলেমগণ এই প্রকারটিকে 'ইল্লত' নামে বিশেষায়িত করেছেন; কারণ ইল্লত বিষয়ক গ্রন্থগুলোর অধিকাংশ হাদীসই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি সুস্পষ্ট এবং আল-সাখাভী তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; অথবা এজন্য যে, এটি সবচেয়ে সূক্ষ্ম এবং অস্পষ্ট... সম্ভবত পরবর্তী যুগের আলেমগণ যা গ্রহণ করেছেন তা এক প্রকার সীমাবদ্ধকরণ ও নির্দিষ্টকরণ মাত্র, সাধারণ অর্থে মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির কোনো পরিবর্তন নয়...»(৩)।

এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, ইল্লত (ত্রুটি) এমন একটি বিষয় যা সনদের রাবীদের প্রতি লক্ষ্য করা জরাহ বা সমালোচনার বাইরের বিষয়; কারণ ই’লাল (ত্রুটি চিহ্নিতকরণ)-এর ক্ষেত্র হলো মূলত সেই সকল হাদীস যা বাহ্যিকভাবে সহীহ বা বিশুদ্ধ মনে হয়। ইবনে আস-সালাহ বলেন: «এটি এমন সনদে প্রবেশ করে যার রাবীগণ নির্ভরযোগ্য এবং যা বাহ্যিকভাবে সহীহ হওয়ার শর্তাবলী পূরণ করে»(৪)।

ইবনে আস-সালাহর পরে যারাই এসেছেন এবং 'মুআল্লাল' (ত্রুটিপূর্ণ হাদীস)-এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তারা এতে ইল্লতের অস্পষ্টতা এবং তা হাদীসের বিশুদ্ধতা ক্ষুণ্ণকারী হওয়ার শর্ত আরোপ করেছেন: যেমন আত-তিবী(৫), আল-ইরাকী(৬), আস-সুয়ূতী(৭), আবুল ফায়য মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন ফারিস(৮) এবং অন্যান্যগণ।

তবে তা সত্ত্বেও আমরা কিছু আলেমকে দেখি যারা 'ইল্লত' শব্দটি ব্যবহার করেন এবং এর দ্বারা আরও ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য নেন; যেখানে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় প্রকার ত্রুটিই অন্তর্ভুক্ত হয়: «এই ব্যবহারটি কেবল অর্থের সম্প্রসারণের অন্তর্ভুক্ত এবং শব্দটিকে এর সাধারণ অর্থে ব্যবহার মাত্র। অন্যথায় ইল্লত শাস্ত্র এই খ্যাতি অর্জন করত না এবং অন্যান্য হাদীস শাস্ত্রের তুলনায় অগ্রাধিকার ও সম্মান লাভ করত না, যদি না এতে আলোচিত ইল্লত বা ত্রুটিগুলোর সূক্ষ্মতা ও অস্পষ্টতা থাকত»(৯)। আর এটি হলো ইল্লতের দুটি অর্থের মধ্যে দ্বিতীয়টি। অর্থাৎ অর্থ—

--------------------------------------------

(১) "মা'রিফাতু আনওয়া'ই ইলমিল হাদীস": ১৮৭, আমার তাহকীককৃত।

(২) "মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস": ১১২, আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ, এবং ২১০, ইবনে হাযম সংস্করণ।

(৩) "কাওয়ায়িদুল ইলাল ওয়া ক্বারায়িনুত তারজীহ": ১১।

(৪) "মা'রিফাতু আনওয়া'ই ইলমিল হাদীস": ১৮৭, আমার তাহকীককৃত।

(৫) "আল-খুলাসাহ": ৭০।

(৬) "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ" ১/২৭৪, আমার তাহকীককৃত।

(৭) "আত-তাদরীব" ১/২৫২।

(৮) "জাওয়াহিরুল উসুল": ৪৮।

(৯) "আল-ইল্লাহ ওয়া আজনাসুহা": ২১।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
العام. فهذا الحافظ ابن الصلاح يقول: «ثم اعلم أنَّه قد يطلق اسم العلة على غير ما ذكرناه من باقي الأسباب القادحة في الحديث، المخرجة له من حال الصحة إلى حال الضعف، المانعة من العمل به على ما هو مقتضى لفظ العلة في الأصل؛ ولذلك تجد في كتب علل الحديث الكثير من الجرح بالكذب، والغفلة، وسوء الحفظ، ونحو ذلك من أنواع الجرح، وسمى الترمذي النسخ علة(1) من علل الحديث، ثم إنَّ بعضهم أطلق اسم العلة على ما ليس بقادح من وجوه الخلاف، نحو إرسال من أرسل الحديث الذي أسنده الثقة الضابط»(2).

وعقب الحافظ ابن حجر فقال: «مراده بذلك أنَّ ما حققه من تعريف المعلول، قد يقع في كلامهم ما يخالفه، وطريق التوفيق بين ما حققه المصنف وبين ما يقع في كلامهم أنَّ اسم العلة إذا أُطلق على حديث، لا يلزم منه أنْ يُسمى الحديث معلولاً اصطلاحاً. إذ المعلول ما علته قادحةٌ خفية، والعلة أعم من أنْ تكون قادحة أو غير قادحة، خفية أو واضحة»(3).

وقد ذكر الصنعاني ما يدل على أنَّ تقييد العلة بكونها خفية قادحة هو عنده قيد أغلبي، حيث قال: «وكأنَّ هذا التعريف أغلبي للعلة، وإلا فإنَّه سيأتي أنهم يعللون بأشياء ظاهرة غير خفية و لا غامضة»(4).

والفرق بين المعنيين أنَّ المعنى العام هو علم الأولين، أما المعنى الخاص فهو علم المتأخرين، فالأخير هو الذي صنّف فيه المتأخرون، وشددوا على صعوبته

وأهميته ودقته، وقلة من برز فيه على عكس المعنى العام.

--------------------------------------------

(1) وكذلك ابن أبي حاتم كما يُعلم ذلك من صنيعه في علله. انظر حديث (114) و (246) ولم يرتض العراقي هذا الإطلاق؛ و ذلك أنَّ الترمذي إنْ أراد أنَّ النسخ علة في العمل، فهو كلام صحيح مقبول، أما إنْ أراد أنَّه علة تقدح في صحة الحديث أو في صحة نقله، فذلك غير مقبول؛ لأنَّ في كتب الصحيح أحاديث كثيرة صحيحة منسوخة. انظر: " شرح التبصرة و التذكرة " 1/ 289 بتحقيقي.

(2) " معرفة أنواع علم الحديث ": 190 - 191 بتحقيقي.

(3) " نكت ابن حجر " 2/ 771 و:537 بتحقيقي.

(4) " توضيح الأفكار" 2/ 27.
সাধারণ। হাফিজ ইবনুস সালাহ বলেন: «অতঃপর জেনে রাখুন যে, ইল্লত শব্দটি আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও হাদিসের অন্যান্য ত্রুটিপূর্ণ কারণের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, যা হাদিসকে সহিহ হওয়ার স্তর থেকে জয়িফ হওয়ার স্তরে নিয়ে যায় এবং এর ওপর আমল করতে বাধা প্রদান করে, যা মূলত ইল্লত শব্দের মূল আভিধানিক অর্থের দাবি; এই কারণেই আপনি হাদিসের ইলাল বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে মিথ্যাচার, অসতর্কতা, মুখস্থশক্তির দুর্বলতা এবং এই জাতীয় অন্যান্য জারহ-এর (সমালোচনা) অনেক বর্ণনা পাবেন। তিরমিজি রহ. নাসখকে (রহিতকরণ) হাদিসের ইলালসমূহের একটি ইল্লত(১) হিসেবে অভিহিত করেছেন। অতঃপর তাদের কেউ কেউ মতভেদের এমন বিষয়ের ওপরও ইল্লত শব্দের প্রয়োগ করেছেন যা ক্ষতিকর নয়, যেমন নির্ভরযোগ্য ও সুসংরক্ষিত বর্ণনাকারীর মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হাদিসকে অন্য কারও মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করা»(২)।

হাফিজ ইবনে হাজার রহ. এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: «এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো, তিনি মা'লূল-এর যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন, মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যে কখনো কখনো তার পরিপন্থী কিছু পাওয়া যেতে পারে। গ্রন্থকার যা সাব্যস্ত করেছেন এবং মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যে যা পাওয়া যায়, এই দুয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের পদ্ধতি হলো—যখন কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে ইল্লত শব্দটি প্রয়োগ করা হয়, তখন পারিভাষিক অর্থে সেই হাদিসটিকে মা'লূল বলা আবশ্যক নয়। কারণ মা'লূল হলো তা-ই, যার ইল্লত বা ত্রুটিটি হবে ক্ষতিকর ও সুপ্ত। আর ইল্লত শব্দটি ক্ষতিকর হোক বা অ-ক্ষতিকর, সুপ্ত হোক বা স্পষ্ট—উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়»(৩)।

সান'আনী এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, ইল্লতকে সুপ্ত ও ক্ষতিকর হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করা তাঁর নিকট একটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত। তিনি বলেন: «মনে হচ্ছে ইল্লতের এই সংজ্ঞাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য, অন্যথায় সামনে আসবে যে তারা এমন অনেক প্রকাশ্য বিষয়ের মাধ্যমেও ইল্লত সাব্যস্ত করেন যা সুপ্ত বা অস্পষ্ট নয়»(৪)।

এই দুই অর্থের মধ্যে পার্থক্য হলো—সাধারণ অর্থটি হলো পূর্ববর্তীগণের জ্ঞান, আর বিশেষ অর্থটি হলো পরবর্তীগণের জ্ঞান। পরবর্তীগণ এই শেষোক্ত বিষয়েই কিতাব রচনা করেছেন এবং এর কাঠিন্য,

গুরুত্ব ও সূক্ষ্মতা নিয়ে জোর দিয়েছেন। সাধারণ অর্থের বিপরীতে এতে পারদর্শী হওয়ার মতো লোকের সংখ্যা খুবই কম।

--------------------------------------------

(১) তেমনিভাবে ইবনে আবি হাতিমও করেছেন, যা তাঁর ইলাল গ্রন্থে তাঁর কর্মপদ্ধতি থেকে জানা যায়। দেখুন হাদিস নং (১১৪) ও (২৪৬)। ইরাকি রহ. এই নামকরণে সন্তুষ্ট হননি; কারণ তিরমিজি রহ. যদি বোঝাতে চান যে নাসখ আমল করার ক্ষেত্রে একটি ইল্লত, তবে তা সঠিক ও গ্রহণযোগ্য কথা। কিন্তু তিনি যদি বোঝাতে চান যে এটি এমন এক ইল্লত যা হাদিসের বিশুদ্ধতা বা এর বর্ণনার বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ সহিহ হাদিসের কিতাবগুলোতে এমন অনেক বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে যা মানসুখ বা রহিত। দেখুন: "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ" ১/২৮৯, আমার সম্পাদিত।

(২) "মা'রিফাতু আনওয়া'ই ইলমিল হাদিস": ১৯০ - ১৯১, আমার সম্পাদিত।

(৩) "নুকাতে ইবনে হাজার" ২/৭৭১ এবং ৫৩৭, আমার সম্পাদিত।

(৪) "তাওদিহুল আফকার" ২/২৭।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والحديث في المعنى العام لا يشترط فيه السلامة، بخلاف الحديث في المعنى الخاص، فيشترط فيه السلامة، ويطّلع بعد التفتيش على قادح، قال ابن حجر: «وفي هذا رد على من زعم، أنَّ المعلول يشمل كلَّ مردود»(1).

وأن يكون هذا القادح خفياً في المعنى الخاص، يقول ابن حجر: «المعلول ما علته قادحة خفية»(2)، على خلاف المعنى العام فلا يشترط أنْ يكون قادحاً أو خفياً، قال ابن الصلاح: «إنَّ بعضهم أطلق اسم العلة على ما ليس بقادح»(3).

وتجدر الإشارة إلى أنَّ المعنى الاصطلاحي الخاص للعلة، إنما يشمل العلة القادحة الخفية التي يكون الظاهر السلامة منها. و هذه تختص برواية الثقات. أما العلة بالمعنى الأعم فإنها تتعلق بالرواية عموماً، سواء أكان الراوي ثقة أم ضعيفاً، وسواء كذلك أكان الوهم بالإسناد أم بالمتن، ومن الملاحظ: أنَّ الخطأ في رواية الثقة أشد غموضاً من الخطأ في رواية الضعيف؛ لأنَّ الأصل في رواية الثقة الصواب - والخطأ طارئ - فالقلب من حيث الأساس مطمئن إلى رواية الثقة، وليست كذلك رواية الضعيف، فالقلب غير مطمئن أساساً إليها، فالأصل الحكم عليها بالخطأ - والصواب طارئ - ومع ذلك فإنَّ معرفة الخطأ في رواية الضعيف ليس بالأمر السهل؛ وذلك لأنَّ الحكم عليه بالضعف أساساً يحتاج إلى متابعة روايته ومقارنتها برواية الثقات، فإن كثرت مخالفته لهم، حُكم بضعفه. وأيضاً فإنَّ الضعف درجات؛ و إذا لم يكن شديداً في الراوي، فإنَّ بالإمكان الاستفادة من بعض أحاديثه؛ لأنَّ خطأ الضعيف غير مقطوع به؛ لذلك فإنَّ من أحاديثه ما يصح و ما يضعف، و يُعرف الخطأ و الصواب بالبحث و الموازنة.

ومن ينظر في كتب الشروح و التخريج والعلل يجد إطلاق لفظ العلة

--------------------------------------------

(1) " نكت ابن حجر " 2/ 710 و: 485 بتحقيقي.

(2) " نكت ابن حجر " 2/ 771 و:537 بتحقيقي.

(3) " معرفة أنواع علم الحديث ": 191 بتحقيقي.
সাধারণ অর্থে হাদিসের ক্ষেত্রে (ত্রুটিমুক্ত হওয়া) শর্ত নয়, পক্ষান্তরে বিশেষ অর্থে হাদিসের ক্ষেত্রে এটি শর্ত; যেখানে গভীর অনুসন্ধানের পরই কোনো ক্ষতিকর দোষ প্রকাশিত হয়। ইবনে হাজার বলেন: "এর মাধ্যমে তাদের প্রতিউত্তর করা হয়েছে যারা দাবি করেন যে, 'মা'লুল' (ত্রুটিযুক্ত) বলতে সমস্ত প্রত্যাখ্যাত হাদিসকেই বোঝায়"(১).

আর বিশেষ অর্থের ক্ষেত্রে এই ক্ষতিকর দোষটি সূক্ষ্ম হওয়া আবশ্যক। ইবনে হাজার বলেন: "মা'লুল হলো তা যার ইল্লত বা ত্রুটি হলো ক্ষতিকর ও সূক্ষ্ম"(২), সাধারণ অর্থের বিষয়টি এর বিপরীত, যেখানে তা ক্ষতিকর বা সূক্ষ্ম হওয়া শর্ত নয়। ইবনে আস-সালাহ বলেন: "নিশ্চয়ই তাদের কেউ কেউ এমন বিষয়ের ওপর 'ইল্লত' (ত্রুটি) শব্দটির প্রয়োগ করেছেন যা ক্ষতিকর নয়"(৩).

এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইল্লত বা ত্রুটির বিশেষ পারিভাষিক অর্থ কেবল সেই ক্ষতিকর সূক্ষ্ম ত্রুটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে, যা থেকে বাহ্যিকভাবে মুক্ত থাকার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। আর এটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) বর্ণনার সাথে নির্দিষ্ট। পক্ষান্তরে অধিকতর সাধারণ অর্থে ইল্লত বা ত্রুটি সাধারণভাবে বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত, বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হোন কিংবা দুর্বল, এবং একইভাবে সেই ভ্রম সনদে থাকুক কিংবা মতনে। লক্ষণীয় যে: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনায় ভুল হওয়া দুর্বল বর্ণনাকারীর বর্ণনায় ভুলের চেয়ে অধিকতর অস্পষ্ট; কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো সঠিক হওয়া—আর ভুল হলো একটি আকস্মিক বিষয়—ফলে অন্তর মৌলিকভাবে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বর্ণনার ওপর আশ্বস্ত থাকে। কিন্তু দুর্বল বর্ণনাকারীর বর্ণনা এমন নয়, কারণ অন্তর মৌলিকভাবে তার ওপর আশ্বস্ত নয়, তাই তার ক্ষেত্রে মূল সিদ্ধান্তই হলো ভুল হওয়া—আর সঠিক হওয়া হলো একটি আকস্মিক বিষয়। তা সত্ত্বেও দুর্বল বর্ণনাকারীর বর্ণনায় ভুল নির্ণয় করা সহজ বিষয় নয়; কারণ তাকে মূলত দুর্বল হিসেবে বিচার করার জন্য তার বর্ণনাগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্ভরযোগ্যদের বর্ণনার সাথে তুলনা করার প্রয়োজন হয়। যদি তাদের সাথে তার বিরোধের পরিমাণ অধিক হয়, তবে তার দুর্বলতার ফয়সালা দেওয়া হয়। এছাড়াও দুর্বলতার বিভিন্ন স্তর রয়েছে; যদি বর্ণনাকারীর মধ্যে তা তীব্র না হয়, তবে তার কিছু হাদিস থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব; কারণ দুর্বলের ভুলটি সুনিশ্চিত নয়; তাই তার হাদিসসমূহের মধ্যে কোনটি সঠিক হয় আবার কোনটি দুর্বল হয়, আর অনুসন্ধান ও তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমেই ভুল ও সঠিক নির্ণয় করা হয়।

আর যারা ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তাখরিজ এবং ইল্লত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন, তারা ইল্লত শব্দের প্রয়োগ দেখতে পাবেন...

--------------------------------------------

(১) "নুকাত ইবনে হাজার" ২/৭১০ এবং: ৪৮৫ আমার সম্পাদনায়।

(২) "নুকাত ইবনে হাজার" ২/৭৭১ এবং: ৫৩৭ আমার সম্পাদনায়।

(৩) "মা'রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস": ১৯১ আমার সম্পাদনায়।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
والمعلول والمعل على كثير من الأحاديث التي فيها جرح ظاهر، وقد قمت باستقراء كتاب علل ابن أبي حاتم - وهو كتاب عظيم النفع غير أنَّ مصنفه ذكر فيه العلل الخفية والجلية، فهو غير خاص بالعلل الخفية كما يظن(1) -، وأشرت إلى الأحاديث التي أُعلت بالجرح الظاهر، فوجدتها كثيرة العدد، يزيد مجموعها على مئتين و سبعة وأربعين حديثاً، فقد أَعل بالانقطاع سبعة وعشرين حديثاً، منها الأحاديث: (24) و (74) و (108) و (132) و (164) و (214) و (594) و (622) و (753) و (905) و (1259) و (1371).

وأَعَلَّ بضعف الراوي مئة وثلاثة وأربعين حديثاً منها: (53) و (100) و (151) و (176) و (208) و (250) و (309) و (421) و (50) و (565) و (609) و (641) و (727) و (854) و (988) و (1053) و (1156) و (1241) و (1473).

وأَعل بالجهالة ثمانية وستين حديثاً منها: (89) و (180) و (345) و (441) و (701) و (1070) و (1152) و (1311) و (1484) و (1579) و (1689) و (1760) و (1829) و (1966) و (2151).

وأَعل بالاختلاط حديثين هما: (279) و (2220).

وأَعل بالتدليس أربعة أحاديث هي: (2119) و (2255) و (2275) و (2579).

وكذلك نجد في كلام كثير من جهابذة العلم إطلاق العلة على الجرح الظاهر كما في " نصب الراية " للزيلعي 3/ 85 و 3/ 239 و 3/ 287 و 3/ 358 و 3/ 370 و 3/ 431 و 4/ 47.

وفي كلام ابن القيم كما في " زاد المعاد " 1/ 177 و 244.

وكذلك وقع في كلام الحافظ ابن حجر إعلال بعض الأحاديث بالعلة

--------------------------------------------

(1) ومثله كتاب " علل الدارقطني " ذكر فيه جميع أنواع العلل الخفية والجلية، و" مسند البزار " مهم في العلل القادحة الجلية؛ لأنَّه يريد بالعلة معناها العام، ومفهوم العلة في أكثر هذه الكتب يشمل المعنى العام للعلة.
এবং 'মা'লুল' ও 'মু'আল' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এমন অনেক হাদিসকে যাতে স্পষ্ট ত্রুটি বা দোষ বিদ্যমান। আমি ইবনে আবি হাতিমের 'ইলাল' গ্রন্থটি আদ্যোপান্ত পর্যালোচনা করেছি—যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি কিতাব, তবে এর গ্রন্থকার এতে সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট উভয় প্রকার ত্রুটিই উল্লেখ করেছেন; সুতরাং এটি কেবল সূক্ষ্ম ত্রুটির জন্য বিশেষায়িত নয়, যেমনটি ধারণা করা হয়(১)—। আমি সেই হাদিসগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি যেগুলোকে স্পষ্ট দোষ বা জরাহ-এর কারণে ত্রুটিযুক্ত বলা হয়েছে এবং আমি সেগুলোকে প্রচুর সংখ্যায় পেয়েছি, যার সর্বমোট সংখ্যা দুইশত সাতচল্লিশটিরও বেশি। তিনি 'ইনকিতা' বা সূত্রের বিচ্ছিন্নতার কারণে সাতাশটি হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে হাদিস নং: (২৪), (৭৪), (১০৮), (১৩২), (১৬৪), (২১৪), (৫৯৪), (৬২২), (৭৫৩), (৯০৫), (১২৫৯) ও (১৩৭১)।

এবং বর্ণনাকারীর দুর্বলতার কারণে তিনি একশ তেতাল্লিশটি হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: (৫৩), (১০০), (১৫১), (১৭৬), (২০৮), (২৫০), (৩০৯), (৪২১), (৫০), (৫৬৫), (৬০৯), (৬৪১), (৭২৭), (৮৫৪), (৯৮৮), (১০৫৩), (১১৫৬), (১২৪১) ও (১৪৭৩)।

এবং বর্ণনাকারীর পরিচয়হীনতা বা 'জাহালাত'-এর কারণে আটষট্টিটি হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: (৮৯), (১৮০), (৩৪৫), (৪৪১), (৭০১), (১০৭০), (১১৫২), (১৩১১), (১৪৮৪), (১৫৭৯), (১৬৮৯), (১৭৬০), (১৮২৯), (১৯৬৬) ও (২১৫১)।

এবং 'ইখতিলাত' বা স্মৃতিভ্রমজনিত ত্রুটির কারণে দুটি হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, সেগুলো হলো: (২৭৯) ও (২২২০)।

এবং 'তাদলিস'-এর কারণে চারটি হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, সেগুলো হলো: (২১১৯), (২২৫৫), (২২৭৫) ও (২৫৭৯)।

অনুরূপভাবে আমরা ইলমুল হাদিসের অনেক দিকপাল ইমামদের বক্তব্যে স্পষ্ট দোষ বা জরাহ-এর ক্ষেত্রে 'ইল্লাত' শব্দের প্রয়োগ দেখতে পাই, যেমনটি রয়েছে যায়লায়ির "নাসবুর রায়াহ" ৩/৮৫, ৩/২৩৯, ৩/২৮৭, ৩/৩৫৮, ৩/৩৭০, ৩/৪৩১ এবং ৪/৪৭ পৃষ্ঠায়।

এবং ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্যে, যেমনটি রয়েছে "যাদুল মাআদ" ১/১৭৭ এবং ২৪৪ পৃষ্ঠায়।

অনুরূপভাবে হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্যেও কিছু হাদিসকে 'ইল্লাত' বা ত্রুটিযুক্ত হিসেবে অভিহিত করার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।

--------------------------------------------

(১) একই রকম হলো দারা কুতনির "ইলাল" গ্রন্থটি, যেখানে তিনি সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট সকল প্রকার ত্রুটি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া স্পষ্ট ও ক্ষতিকারক ত্রুটিগুলোর ক্ষেত্রে "মুসনাদে বাজ্জার" অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ তিনি 'ইল্লাত' বলতে এর ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য নিয়েছেন। এই গ্রন্থগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই 'ইল্লাত'-এর ধারণাটি এর সাধারণ বা ব্যাপক অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الظاهرة كالإعلال بالانقطاع الظاهر، وبالإرسال الظاهر، وبالجهالة، وبضعف الرواة .. كما في " التلخيص الحبير " 1/ 117 (1) و 1/ 129 (3) و 1/ 159 (10) و 1/ 164 (13) و 1/ 173 (22)، و " فتح الباري " 1/ 83 و 2/ 446، و انظر: " سبل السلام " 1/ 69 و 72 و 75.

وقد أشرت - فيما سبق - إلى أنَّ الصنعاني قد عد تقييد العلة في التعريف بكونها خفية قادحة قيداً أغلبياً .. وقد قال الحافظ ابن حجر:

« .. لأنَّ الضعف في الراوي علة في الخبر، والانقطاع في الإسناد علة في الخبر، وعنعنة المدلس علة في الخبر، وجهالة حال الراوي علة في الخبر»(1). وفي حوار مع أستاذي العلاّمة الدكتور هاشم جميل قد تنبهت على أمر آخر، وهو: أنَّ المحدّثين إذا تكلموا على العلة بوصفها أنَّ خلو الحديث منها يعد قيداً لا بد منه لتعريف الحديث الصحيح، فإنهم في هذه الحالة يطلقون العلة و يريدون بها المعنى الاصطلاحي الخاص، وهو السبب الخفي القادح، وإذا تكلموا في نقد الحديث بشكل عام، فإنَّهم في هذه الحالة يطلقون العلة و يريدون بها المعنى العام، أي: السبب الذي يعل الحديث به، سواء أكان خفياً أم ظاهراً، قادحاً أم غير قادح.

وهذا توجد له نظائر عند المحدّثين، منها: المنقطع(2)، فهو بالمعنى الخاص: ما حصل في إسناده انقطاع في موضع أو أكثر من موضع لا على التوالي.

هذا المصطلح نفسه يستعمله المحدّثون أيضاً استعمالاً عاماً فيريدون: كل ما حصل فيه انقطاع، في أي موضع في السند، فيشمل:

المعلّق(3): وهو الذي حصل فيه انقطاع في أول السند.

والمرسل(4): وهو الذي حصل فيه انقطاع في آخر السند.

--------------------------------------------

(1) " نكت ابن حجر " 1/ 407 و: 203 بتحقيقي

(2) انظر: " معرفة أنواع علم الحديث ": 132 وما بعدها بتحقيقي.

(3) انظر: " معرفة أنواع علم الحديث ": 92 بتحقيقي.

(4) انظر: " معرفة أنواع علم الحديث ": 126 بتحقيقي.
প্রকাশ্য ত্রুটিসমূহ, যেমন প্রকাশ্য বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা), প্রকাশ্য ইরসাল, অজ্ঞতা এবং বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা দ্বারা ত্রুটিযুক্ত হওয়া... যেমনটি 'আত-তালখিস আল-হাবির' ১/১১৭ (১), ১/১২৯ (৩), ১/১৫৯ (১০), ১/১৬৪ (১৩), ১/১৭৩ (২২) এবং 'ফাতহুল বারি' ১/৮৩ ও ২/৪৪৬-এ বর্ণিত হয়েছে; আরও দেখুন: 'সুবুলুস সালাম' ১/৬৯, ৭২ ও ৭৫।

আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি যে, সানআনি ত্রুটির (ইল্লাত) সংজ্ঞাকে 'গোপন ও দোষযুক্ত' হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করাকে একটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন:

«...কেননা বর্ণনাকারীর দুর্বলতা হলো খবরের (হাদিসের) মধ্যে একটি ত্রুটি, সনদের বিচ্ছিন্নতা হলো খবরের মধ্যে একটি ত্রুটি, মুদাল্লিসের আনা'না (عنعنة) হলো খবরের মধ্যে একটি ত্রুটি এবং বর্ণনাকারীর অবস্থা অজ্ঞাত থাকা হলো খবরের মধ্যে একটি ত্রুটি»(১)। আমার উস্তাদ আল্লামা ডক্টর হাশেম জামিলের সাথে এক সংলাপে আমি অন্য একটি বিষয়ের প্রতি সচেতন হয়েছি, তা হলো: মুহাদ্দিসগণ যখন ত্রুটি (ইল্লাত) নিয়ে আলোচনা করেন এই হিসেবে যে, হাদিস এটি থেকে মুক্ত হওয়া সহিহ হাদিসের সংজ্ঞার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত, তখন তারা এই অবস্থায় 'ইল্লাত' শব্দটি প্রয়োগ করেন এবং এর দ্বারা বিশেষ পারিভাষিক অর্থ উদ্দেশ্য নেন, যা হলো গোপন ও দোষযুক্ত কারণ। আর যখন তারা সাধারণভাবে হাদিসের সমালোচনা নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তারা এই অবস্থায় 'ইল্লাত' শব্দটি প্রয়োগ করেন এবং এর দ্বারা সাধারণ অর্থ উদ্দেশ্য নেন, অর্থাৎ: এমন কারণ যার দ্বারা হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত হয়, তা গোপন হোক বা প্রকাশ্য, দোষযুক্ত হোক বা দোষহীন।

মুহাদ্দিসগণের নিকট এর অনেক নজির রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো: মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)(২)। এটি বিশেষ অর্থে হলো: যার সনদে এক বা একাধিক স্থানে ধারাবাহিকভাবে নয় এমন বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে।

এই পরিভাষাটিই মুহাদ্দিসগণ সাধারণ অর্থেও ব্যবহার করেন, তখন তারা উদ্দেশ্য নেন: সনদের যেকোনো স্থানে যেকোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতা, যা অন্তর্ভুক্ত করে:

মুআল্লাক(৩): যাতে সনদের শুরুতে বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে।

এবং মুরসাল(৪): যাতে সনদের শেষে বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে।

--------------------------------------------

(১) "নুকাত ইবনে হাজার" ১/৪০৭ এবং ২০৩, আমার সম্পাদনায়।

(২) দেখুন: "মা'রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস": ১৩২ এবং পরবর্তী অংশ, আমার সম্পাদনায়।

(৩) দেখুন: "মা'রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস": ৯২, আমার সম্পাদনায়।

(৪) দেখুন: "মা'রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস": ১২৬, আমার সম্পাদনায়।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
والمعضل(1): وهو الذي حصل فيه انقطاع في أثناء السند، باثنين فأكثر على التوالي.

ويشمل أيضاً المنقطع بالمعنى الخاص الذي ذكرناه(2).

وهكذا نرى أنَّ مصطلح المنقطع يستعمله المحدّثون استعمالاً خاصاً في المنقطع الاصطلاحي، ويستعملونه استعمالاً عاماً في كل ما حصل فيه انقطاع فيشمل المنقطع الاصطلاحي، والمعلق، والمرسل، والمعضل. و على هذا المنوال جرى استعمالهم لمصطلح العلة؛ فهم يستعملونه بالمعنى الاصطلاحي الخاص، وهو: السبب الخفي القادح، و يستعملونه استعمالاً عاماً، و يريدون به: كل ما يعل الحديث به، فيشمل العلة بالمعنى الاصطلاحي، و العلة الظاهرة، و العلة غير القادحة.

 

‌‌تعريف علم العلل:

هو عِلم برأسه، وهو أَجَلُّ أنواع علم الحديث وأدَقُّها، وأما أصحابه فهم جهابذة الفن في الحفظ والإتقان، وأما أدواته فهي قواعد تُكشف بها الأسباب الخفية القادحة. وهو صاحب القول الفصل في قبول الحديث ورفضه، حتى إنَّه لا يسلم كبار الحفاظ من نقده، ولا يتكلم فيه إلا المتقنون لسائر علوم الحديث، وأساسه التمرس والتجربة العملية الطويلة.

 

‌‌أهمية علم العلل:

إذا كان كل علم يشرف بمدى نفعه، فإنَّ علم علل الحديث يعد من أشرف العلوم؛ لأنَّه من أكثرها نفعاً، فهو نوع من أَجَلِّ أنواع علم الحديث، وفن من أهم فنونه، قال الخطيب: «معرفة العلل أَجَلُّ أنواع علم الحديث»(3)،

--------------------------------------------

(1) انظر: " معرفة أنواع علم الحديث ": 135 بتحقيقي. .

(2) انظر: " التدريب " 1/ 207 و ما بعدها، و " شرح البيقونية في مصطلح الحديث ": 98. وكذلك المرسل يستعملونه استعمالاً عاماً في كل انقطاع في السند، ويستعملونه استعمالاً خاصاً ويريدون به ما أضافه التابعي إلى النبي صلى الله عليه وسلم.

(3) " الجامع لأخلاق الراوي " قبيل (1908).
মুদাল(১): এটি এমন হাদিস যার সনদের মাঝখানে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে।

এটি আমাদের উল্লিখিত বিশেষ অর্থের মুনকাতি-কেও অন্তর্ভুক্ত করে(২)।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, মুহাদ্দিসগণ 'মুনকাতি' পরিভাষাটি পরিভাষাগত মুনকাতির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যবহার করেন এবং সনদে যেকোনো প্রকার বিচ্ছিন্নতার ক্ষেত্রে এটি সাধারণভাবে ব্যবহার করেন; ফলে এটি পরিভাষাগত মুনকাতি, মুয়াল্লাক, মুরসাল এবং মুদাল—সবগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করে। একইভাবে তাঁরা 'ইল্লাহ' (ত্রুটি) পরিভাষাটিও ব্যবহার করেন; তাঁরা এটি বিশেষ পরিভাষাগত অর্থে ব্যবহার করেন, যা হলো: হাদিসের বিশুদ্ধতা নষ্টকারী গোপন ত্রুটি। আবার তাঁরা এটি সাধারণ অর্থেও ব্যবহার করেন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেন: এমন প্রতিটি বিষয় যার মাধ্যমে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত হয়। ফলে এটি পরিভাষাগত ইল্লাহ, প্রকাশ্য ইল্লাহ এবং অ-ক্ষতিকারক ইল্লাহকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

 

‌‌ইলমে ইলাল-এর সংজ্ঞা:

এটি একটি স্বতন্ত্র জ্ঞান শাখা এবং এটি হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদের মধ্যে সবচেয়ে মহান ও সূক্ষ্মতম। আর এর পণ্ডিতগণ হলেন হাদিস মুখস্থ রাখা ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে এই শিল্পের বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ। এর উপকরণসমূহ হলো এমন কিছু মূলনীতি যার মাধ্যমে গোপন ও ক্ষতিকারক ত্রুটিগুলো উদ্ঘাটিত হয়। হাদিস গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে এটি চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, এমনকি বড় বড় হাফেজরাও এর সমালোচনা থেকে রেহাই পান না। হাদিসের অন্যান্য সকল শাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তিরা ছাড়া এতে কেউ কথা বলেন না এবং এর ভিত্তি হলো দীর্ঘ অনুশীলন ও দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

 

‌‌ইলমে ইলাল-এর গুরুত্ব:

প্রতিটি জ্ঞান যেহেতু তার উপযোগিতার ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, সেহেতু ইলমে ইলালুল হাদিসকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞান হিসেবে গণ্য করা হয়; কারণ এটি সর্বাধিক উপকারী শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। এটি হাদিস বিজ্ঞানের অত্যন্ত মহান একটি প্রকার এবং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। খতিব বাগদাদী বলেন: «ইল্লাহ (ত্রুটি) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ»(৩),

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "মারেফাতু আনওয়াইল উলুমিল হাদিস": ১৩৫, আমার সম্পাদনায়।

(২) দেখুন: "তাদরীব" ১/ ২০৭ এবং পরবর্তী অংশ, এবং "শারহুল বাইকুনিয়্যাহ ফি মুসতালাহিল হাদিস": ৯৮। একইভাবে তাঁরা 'মুরসাল' পরিভাষাটি সনদের প্রতিটি বিচ্ছিন্নতার ক্ষেত্রে সাধারণ অর্থে ব্যবহার করেন এবং বিশেষ অর্থে ব্যবহার করে তা দ্বারা উদ্দেশ্য নেন যা তাবিঈগণ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সরাসরি সম্বন্ধ করেছেন।

(৩) "আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি", (১৯০৮) নং এর পূর্বে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ورحم الله الإمام النووي حيث قال: «ومن أهم أنواع العلوم تحقيق معرفة الأحاديث النبويات، أعني: معرفة متونها: صحيحها وحسنها وضعيفها، متصلها ومرسلها ومنقطعها ومعضلها، ومقلوبها، ومشهورها وغريبها وعزيزها، ومتواترها وآحادها وأفرادها، معروفها وشاذها ومنكرها، ومعللها وموضوعها ومدرجها وناسخها ومنسوخها … »(1).

فعلماء الحديث قد اهتموا بالحديث النبوي الشريف عموماً؛ لأنَّه المصدر التشريعي الثاني بعد القرآن الكريم، و قد اهتموا ببيان علل الأحاديث النبوية من حيث الخصوص؛ لأنَّ بمعرفة العلل يعرف كلام النبيِّ صلى الله عليه وسلم من غيره، وصحيح الحديث من ضعيفه، وصوابه من خطئه، قيل لعبد الله بن المبارك(2): هذه الأحاديث المصنوعة؟ قال: «تعيش لها الجهابذة»(3).

وقد ذكر الحاكم: «أنَّ معرفة علل الحديث من أجَلِّ هذه العلوم»(4) وقال: «معرفة علل الحديث، وهو علم برأسه غير الصحيح و السقيم، والجرح والتعديل»(5).

وعلم العلل ممتد من مرحلة النقد الحديثي الذي ابتدأت بواكيره على أيدي كبار الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، حيث كان أبو بكر الصديق وعمر الفاروق رضي الله عنهما يحتاطان(6) في قبول الأخبار، ويطلبان الشهادة على

--------------------------------------------

(1) مقدمة شرحه لصحيح مسلم 1/ 6.

(2) هو عبد الله بن المبارك المروزي، ثقة ثبت، فقيه عالم، جواد مجاهد جمعت فيه صفات الخير.

"التقريب " (3570).

(3) أخرجه: ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل " 1/ 311 (المقدمة)، وابن عدي في " الكامل " 1/ 192، وذكره ابن الجوزي في مقدمة " الموضوعات " 1/ 46 ط. الفكر وعقب (22)

ط. أضواء السلف.

(4) " معرفة علوم الحديث ": 119 ط. العلمية و عقب (289) ط. ابن حزم.

(5) " معرفة علوم الحديث ": 112 ط. العلمية و قبيل (270) ط. ابن حزم.

(6) في احتياط الصحابة، انظر: " السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي " لمصطفى السباعي: 75، وكان علي بن أبي طالب رضي الله عنه يستحلف الراوي أحياناً، فقد روى الإمام أحمد في مسنده 1/ 2 عن علي، قال: «كنت إذا سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً نفعني الله بما شاء منه، وإذا حدثني عنه غيري استحلفته»، قال الحافظ ابن حجر في " تهذيب التهذيب " 1/ 267 - 268: «هذا حديث جيد الإسناد».
আল্লাহ ইমাম নববীকে রহমত করুন, যেখানে তিনি বলেছেন: «বিদ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হলো নববী হাদিসসমূহের পরিচয় নিশ্চিত করা; আমি বলতে চাচ্ছি: হাদিসের মতনসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা: সেগুলোর সহিহ, হাসান ও জয়িফ (দুর্বল); মুত্তাসিল (সংযুক্ত), মুরসাল, মুনকাতি‘ (বিচ্ছিন্ন) ও মু’দাল; মাকলুব, মশহুর, গরিব ও আজিজ; মুতাওয়াতির, আহাদ ও আফরাদ; মা’রুফ, শাজ ও মুনকার; মু’আল্লাল, মাওদু‘ (জাল), মুদ্রাজ এবং নাসিখ ও মানসুখ সম্পর্কে জানা … »(১).

হাদিস বিশারদগণ সাধারণভাবে সম্মানিত নববী হাদিসের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন; কারণ পবিত্র কুরআনের পর এটিই দ্বিতীয় বিধানিক উৎস। আর তারা বিশেষভাবে হাদিসের ত্রুটিসমূহ (ইলাল) বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন; কারণ এই ত্রুটিসমূহ চেনার মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীকে অন্যদের বাণী থেকে পৃথক করা যায়, এবং সহিহ হাদিসকে জয়িফ থেকে এবং সঠিককে ভুল থেকে আলাদা করা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক(২)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: এই বানোয়াট হাদিসগুলোর ব্যাপারে কী হবে? তিনি বললেন: «এগুলোর (রহস্য উন্মোচনের) জন্য সুদক্ষ সমালোচকগণ বেঁচে আছেন»(৩).

আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন: «হাদিসের ত্রুটি (ইলত) চেনা এই জ্ঞানসমূহের মধ্যে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ»(৪) এবং তিনি বলেছেন: «হাদিসের ত্রুটি শনাক্তকরণ এমন এক স্বতন্ত্র জ্ঞান, যা সহিহ ও সাকিম (ত্রুটিযুক্ত) এবং জারহ ও তাদিল (সমালোচনা ও গুণগান) থেকে ভিন্ন»(৫).

ইলমুল ইলাল (ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান) হাদিস পর্যালোচনার সেই পর্যায় থেকে বিস্তৃত, যার সূচনা হয়েছিল মহান সাহাবিগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) হাত ধরে। যেখানে আবু বকর সিদ্দিক ও উমর ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং তারা এর সপক্ষে সাক্ষ্য দাবি করতেন

--------------------------------------------

(১) তাঁর সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যার ভূমিকা ১/৬।

(২) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াজি, নির্ভরযোগ্য, সুপ্রতিষ্ঠিত, ফকিহ, বিজ্ঞ আলেম, দানশীল ও মুজাহিদ, যার মধ্যে কল্যাণের সকল গুণাবলী একত্রিত হয়েছিল।

"আত-তাকরিব" (৩৫৭০)।

(৩) ইবনে আবি হাতিম এটি "আল-জারহ ওয়াত তাদিল" ১/৩১১ (ভূমিকা) গ্রন্থে, এবং ইবনে আদি "আল-কামিল" ১/১৯২ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আল-জাওজি এটি "আল-মাওদু'আত" ১/৪৬ (আল-ফিকর সংস্করণ) এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন এবং এর আলোচনা করেছেন (২২)

আদওয়াউস সালাফ সংস্করণ।

(৪) "মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস": ১১৯ (আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) এবং ইবনুল হাজম সংস্করণের ২৮৯ নং অনুচ্ছেদের পর।

(৫) "মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস": ১১২ (আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) এবং ইবনুল হাজম সংস্করণের ২৭০ নং অনুচ্ছেদের আগে।

(৬) সাহাবিগণের সতর্কতার বিষয়ে দেখুন: মুস্তফা আস-সিবায়ীর "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিইল ইসলামি": ৭৫। আর আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কখনো কখনো বর্ণনাকারীকে শপথ করাতেন। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে ১/২ অংশে আলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনতাম, আল্লাহ আমাকে তা দ্বারা যা ইচ্ছা দান করতেন। আর যখন তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ আমাকে হাদিস শোনাত, আমি তাকে শপথ করাতাম।» হাফেজ ইবনে হাজার "তাহজিবুত তাহজিব" ১/২৬৭-২৬৮ গ্রন্থে বলেছেন: «এই হাদিসটির সনদ উত্তম (জায়্যিদ)»।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফিল ইলাল ওয়াল ফাওয়ায়িদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الحديث أحياناً؛ من أجل تمييز الخطأ والوهم في الحديث النبوي، ثم اهتم العلماء به من بعد؛ لئلا ينسب إلى السنة المطهرة شيء ليس منها خطأ. فعلم العلل له مزية خاصة، فهو كالميزان لبيان الخطأ من الصواب، والصحيح من المعوج، و قد اعتنى به أهل العلم قديماً وحديثاً، ولا يزال الباحثون يحققون و ينشرون تلكم الثروة العظيمة التي دَوَّنَها لنا أولئك الأئمة العظام كعلي ابن المديني، و أحمد، و البخاري، و الترمذي، و ابن أبي حاتم، والدارقطني، وغيرهم(1).

وما ذلك إلا لأهمية هذا الفن فـ «التعليل(2) أمر خفي، لا يقوم به إلا نقاد أئمة الحديث دون الفقهاء الذين لا اطلاع لهم على طرقه وخفاياها»(3). ولأهميته أيضاً نجد بعض جهابذة العلماء يصرّح بأنَّ معرفة العلل والبحث عنها، مقدم على مجرد الرواية دون سبر ولا تمحيص، يقول عبد الرحمان بن مهدي: «لأَنْ أعرف علة حديث هو عندي، أحب إليَّ من أنْ أكتب حديثاً ليس عندي»(4).

ويزيد هذا العلم أهمية أنَّه من أشد العلوم غموضاً، فلا يدركه إلا من رُزِقَ سعة الرواية، وكان مع ذلك حاد الذهن، ثاقب الفهم، دقيق النظر، واسع المران، قال الحاكم: «إنَّ الصحيح لا يعرف بروايته فقط، وإنَّما يُعرف بالفهم والحفظ وكثرة السماع، وليس لهذا النوع من العلم عون أكثر من مذاكرة أهل الفهم والمعرفة، ليظهر ما يخفى من علة الحديث، فإذا وُجد مثل

--------------------------------------------

(1) انظر ماسيأتي من المصنفات فيه.

(2) قال البقاعي في " النكت الوفية " 1/ 503 بتحقيقي: «صوابه الإعلال».

(3) " نكت ابن حجر " 2/ 714 و: 488 بتحقيقي.

(4) " علل الحديث " لابن أبي حاتم 1/ 387 ط. الحميّد (المقدمة)، وقد نقله الحاكم في " معرفة علوم الحديث ": 112 ط. العلمية و (270) ط. ابن حزم، و ابن رجب في "شرح العلل " 1/ 199 ط. عتر و 1/ 470 ط. همام.
কখনো কখনো হাদীস সম্পর্কে; যাতে করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীসে বিদ্যমান ভুল ও বিভ্রমকে পৃথক করা যায়, অতঃপর পরবর্তীতে ওলামায়ে কেরাম এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন; যেন পবিত্র সুন্নাহর সাথে ভুলবশত এমন কিছু সম্বন্ধযুক্ত না হয় যা আসলে তার অংশ নয়। ইলমুল ইলাল-এর একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, কারণ এটি সঠিক থেকে ভুল এবং ত্রুটিপূর্ণ থেকে সহীহকে পৃথক করার জন্য একটি দাড়িপাল্লার ন্যায়। প্রাচীন এবং আধুনিককালের আলেমগণ এর প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং গবেষকগণ আজও সেই মহান সম্পদকে সম্পাদনা ও প্রকাশ করে চলেছেন যা আমাদের জন্য সেই মহান ইমামগণ সংকলন করে গেছেন, যেমন আলী ইবনুল মাদীনী, আহমাদ, বুখারী, তিরমিযী, ইবনে আবি হাতিম, দারা কুতনী এবং অন্যান্যরা(১).

আর এটি কেবল এই শাস্ত্রের গুরুত্বের কারণেই। কারণ: «ইলাল(২) (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) নির্ণয় করা একটি গোপন বিষয়, যা কেবল হাদীস বিশারদ ইমামগণই সম্পন্ন করতে পারেন; সেই ফকীহগণ নয় যাদের এই শাস্ত্রের বিভিন্ন পথ ও এর গূঢ় রহস্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই»(৩)। এর গুরুত্বের কারণে আমরা আরও দেখতে পাই যে, কিছু বিদগ্ধ আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, হাদীসের ইলাল (ত্রুটি) চেনা এবং তা অনুসন্ধান করা কেবল বর্ণনা করার চেয়ে অগ্রগণ্য, যখন তা যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণহীন হয়। আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: «আমার কাছে থাকা কোনো হাদীসের ত্রুটি জানতে পারা আমার কাছে নতুন কোনো হাদীস লিখে রাখার চেয়ে বেশি প্রিয়»(৪)।

এই ইলমের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় এই বিষয়টি যে, এটি অত্যন্ত দুরূহ একটি বিজ্ঞান, যা কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারেন যারা বর্ণনার ব্যাপকতা লাভে ধন্য হয়েছেন এবং সেই সাথে প্রখর মেধা, তীক্ষ্ণ বোধশক্তি, সূক্ষ্ম দৃষ্টি ও ব্যাপক অভিজ্ঞতার অধিকারী। আল-হাকিম বলেন: «নিশ্চয়ই সহীহ হাদীস কেবল তার বর্ণনার দ্বারা চেনা যায় না, বরং তা চেনা যায় বোধশক্তি, মুখস্থশক্তি এবং অধিক শ্রবণ বা চর্চার মাধ্যমে। হাদীসের সুপ্ত ত্রুটিগুলো প্রকাশ করার জন্য প্রজ্ঞা ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে পারস্পরিক আলোচনার চেয়ে বড় কোনো সহায়ক এই ইলমের ক্ষেত্রে নেই। সুতরাং যদি এমনটি পাওয়া যায়...

--------------------------------------------

(১) এতে লিখিত পরবর্তী কিতাবসমূহ দেখুন।

(২) আল-বিকায়ী আমার তাহকীককৃত "আন-নুকা আল-ওয়াফিয়াহ" ১/৫০৩-এ বলেছেন: «এর সঠিক রূপ হলো আল-ই'লাল (الإعلال)»।

(৩) আমার তাহকীককৃত "নুকা ইবনে হাজার" ২/৭১৪ এবং ৪:৪৮৮।

(৪) ইবনে আবি হাতিমের "ইলালুল হাদীস" ১/৩৮৭, আল-হুমাইদ সংস্করণ (ভূমিকা); আল-হাকিম এটি "মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস": ১১২, ইলমিয়্যাহ সংস্করণ এবং (২৭০), ইবনে হাযম সংস্করণে বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে রাজাব "শারহুল ইলাল" ১/১৯৯, ইতর সংস্করণ এবং ১/৪৭০, হাম্মাম সংস্করণে উল্লেখ করেছেন।