(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: -)
ريحانة الألبا وزهرة الحياة الدنيا (الشهاب الخفاجي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: ريحانة الألبّا وزهرة الحياة الدنيا
المؤلف: شهاب الدين أحمد بن محمد بن عمر الخفاجي (ت 1069هـ)
المحقق: عبد الفتاح محمد الحلو
الناشر: مطبعة عيسى البابى الحلبى وشركاه
الطبعة: الأولى، 1386 هـ - 1967 م
عدد الصفحات: 464
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রায়হানাতুল আলিব্বা ওয়া যাহরাতুল হায়াতুদ দুনিয়া (আশ-শিহাব আল-খাফাজী)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: রায়হানাতুল আলিব্বা ওয়া যাহরাতুল হায়াতুদ দুনিয়া
লেখক: শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন উমর আল-খাফাজী (মৃত্যু ১০৬৯ হিজরি)
সম্পাদক: আবদ আল-ফাত্তাহ মুহাম্মাদ আল-হিলু
প্রকাশক: ঈসা আল-বাবী আল-হালাবী এন্ড পার্টনার্স প্রেস
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيمحَمداً لمن سرَّح عيونَ البصائر في رِياض النعِّم، رياض زهَت فيها رياحين العقول، وتفتَّحتْ بنسِيم اللطف أنوار الحِكَم، فاجْتنَت منها أيدي المُنَى فواكه الأرواح، واقتطفت شَقيق الشَّقيق من بين أقاحِي الصَّباح، والنَّدَى طرَّز برد النسيم ببَلالِه، لمَّا رأى مجامِرَ الزَّهْرِ تحت أذياله.مَن قبل أن ترشِف شمسُ الضحى … ريقَ الغَوادي من ثُغُور الأقاحْوأشكره شكراً يطوِّق جيدَ البلاغة نظِيمُ عقوده، وينسِج ببَنان البيان لي مِنوال البراعة رقيقُ بُروده، على نِعمٍ لا تفنَى من معان الوجود جواهرُها، ولا تذوِي من خمائل الفصاحة أزاهرُها.ونُهدِي صِلات الصَّلاة لناظم عقد الدين بعد نَثْره، المُؤيَّد بآياتٍ لا يزال يتلوها لِسانُ الدهر ولو طار نَسْر السماء من وَكره، وكَلَّت دونها ألسنةُ أَسِنّة الطَّاعنين، وحُمِيت حديقتُها بشوكة الإعجاز فلم تلمسْها يدُ أفكار المعارضين، فصار السابقون في حَوْمَة البلاغة، الماهرين في صناعة الصِّياغة، ما بين ساكتٍ أَلْفا، وناطقٍ خَلْفا، ومُشمِّرٍ ذيلَه، ومُدَّرِعٍ ليلَه تسرْبَل سابغةَ دُجى، قَتيِرُها نجومُ ليلٍ دجا، حتى اشتفَتْ نفسُ الإسلام من دائهم، وزال كلَب الكفر بما أُريق من دمائهم، فبيوتُهم خاوية، ونفوسُهم على أثر تلك البيوت قافية.
ভূমিকাপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সেই সত্তার প্রশংসা, যিনি নেয়ামতের উদ্যানে অন্তর্দৃষ্টির চোখসমূহকে বিচরণ করিয়েছেন; এমন উদ্যান যেখানে বুদ্ধিবৃত্তির সুগন্ধি গুল্মরাজি প্রস্ফুটিত হয়েছে এবং অনুগ্রহের সমীরণে হিকমতের নূরসমূহ উন্মোচিত হয়েছে। ফলে কামনার হাতসমূহ সেখান থেকে আত্মার ফলসমূহ আহরণ করেছে এবং সকালের ডেইজি ফুলের মাঝ থেকে রক্তিম পপি ফুলগুলো ছিঁড়ে নিয়েছে। শিশির যখন তার আঁচলের নিচে পুষ্পের ধূপদানি দেখল, তখন তার সিক্ততা দিয়ে সমীরণের চাদরকে অলঙ্কৃত করল।পূর্বাহ্নের সূর্য ডেইজি ফুলের মুখ থেকে সকালের মেঘের শিশির পান করার পূর্বেই …আমি তাঁর এমন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যার সুবিন্যস্ত মালা অলঙ্কারশাস্ত্রের গ্রীবাকে বেষ্টন করে থাকে এবং বর্ণনার আঙুলসমূহ আমার জন্য দক্ষতার তাঁতে সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত বস্ত্র বয়ন করে। এমন সব নেয়ামতের জন্য, অস্তিত্বের অর্থের খনি থেকে যার মণি-মুক্তাসমূহ নিঃশেষ হয় না এবং প্রাঞ্জলতার কানন থেকে যার পুষ্পরাজি কখনো শুকিয়ে যায় না।আমরা দুরুদ ও সালামের তোহফা পেশ করছি দ্বীনের মালার বিন্যাসকারীর প্রতি, যা অগোছালো হয়ে পড়ার পর তিনি সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি এমন সব নিদর্শন দ্বারা সমর্থিত, যা মহাকালের জিহ্বা সর্বদা তিলাওয়াত করতে থাকে—যদিও আকাশের ঈগল নক্ষত্র তার বাসা থেকে উড়ে যায়। নিন্দুকদের বর্শার জিহ্বাগুলো তার সামনে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এর উদ্যানকে অলৌকিকত্বের কণ্টক দ্বারা সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, তাই বিরোধীদের চিন্তার হাত একে স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে অলঙ্কারশাস্ত্রের ময়দানে অগ্রগামী এবং শিল্পকলায় দক্ষ ব্যক্তিবর্গ কেউ কেউ বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে, কেউ কেউ অসার বাক্যব্যয় করেছে; কেউবা কোমর বেঁধেছে আবার কেউবা রাতকে বর্ম বানিয়ে নিয়েছে এবং ঘুটঘুটে অন্ধকারের দীর্ঘ চাদর পরিধান করেছে, যার তকমাগুলো ছিল অন্ধকার রাতের নক্ষত্ররাজি। পরিশেষে ইসলামের প্রাণ তাদের ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করেছে এবং তাদের রক্তপাতের মাধ্যমে কুফরের উন্মাদনা দূরীভূত হয়েছে। ফলে তাদের ঘরবাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং তাদের প্রাণগুলো সেই ঘরবাড়ির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٤)
وعلى آلِه الذين تفتَّحت لهم كمائمُ المعاقل عن زهرة النَّصر، وتحلَّى بعقود عُهودهم جِيِدُ كلِّ عصر.فجَنوا لهم ثمرَ الوقائع يانعاً … بالْغُرِّ من ورق الحديدِ الأخضرِلا زالت سُحُب الرَّحمة المُطَنَّبة بالقطر مخيَّمةُ على مراقدهم، ولا برحْت تَحايا المُزْن مُهينِمة بلسان الرَّعد على معاهدهم، ما سقى غديرُ المجرَّة روضةَ السماء، وزَها نَرجِس النَّجم تحت بَنَفْسج الظَّلماء.هذا وإني كنت قبل أن تُشِيب منِّى الخطوبُ الذَوائبَ، وتصبحَ كبدي وأحشائي بلظَى النَّوائب ذوائبَ، والزمان ربيعٌ، ورَوْض الشباب مَرِيع، أعد الأدبَ عنوانَ صَحائفِ الشَّمائل، وبيْتَ القصيد في ديوان المآثر والفضائل، أُنْفِق نَقْد عمري في اقتنائِه واقتناصِ شوارده، وأملأُ صدَف المسامع مما يستخرج غوَّاصُ الأفكار من فرائدهِ، وأَشِيم بارقةَ السّحر من نفَثاتِه، وأشُمُّ عبِير السرور من أرْدَان نسماتِه، وأرتَشِف من طَبْعي ما يَنِمّ على سرِّ الزُّجاجة، وأشْتَفُّ منه ما أسْأرَتْه الجُدودُ من ذُؤابة خفاجة، صُبابةَ مجدٍ لم يكدِّرها في جامِ المشارب وِرْدُ الخطوب، واْزدِحامُ الشَّوائب.فإنِّي من العرب الأكرمين … وفي أوَّل الدهرِ ضاع الكرمْوما زلتُ على هذا الحال، منذ فارقني الحال، لا دأب لي إلا تلقى وفُودِه، لاسْتهداء تُحَفِ الأخبار التي هي ألطفُ من دمع الطَّلِّ في وجَنات الأزهار.ومَن يسألِ الرُّكبانَ مَن كان نائيا … فلا بُدَّ أن يلْقَى بشيراً وناعِيِاَ
এবং তাঁর পরিবারের ওপর, যাঁদের জন্য দুর্গের কলিগুলো বিজয়ের পুষ্পে প্রস্ফুটিত হয়েছে এবং যাঁদের অঙ্গীকারের চুক্তিমালার অলংকারে প্রতিটি যুগের গর্দান সুশোভিত হয়েছে।তাঁরা তাঁদের জন্য যুদ্ধের পরিপক্ব ফল আহরণ করেছেন … উজ্জ্বল ও সবুজ লৌহ-পত্রের মাধ্যমে।বৃষ্টির ধারায় সিক্ত রহমতের মেঘমালা সর্বদা তাঁদের সমাধিস্থলগুলোর ওপর ছায়া দান করুক, এবং মেঘের অভিবাদন বজ্রের ভাষায় তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে অবিরত গুঞ্জরিত হতে থাকুক—যতদিন ছায়াপথের জলাধার আকাশের উদ্যানকে সিক্ত করবে এবং অন্ধকারের বেগুনি আবাহের নিচে তারকার নার্গিস ফুল শোভা পাবে।এর পর কথা হলো, বিপদ-আপদ আমার অলকগুচ্ছকে শুভ্র করার আগে এবং মুসিবতের অগ্নিশিখায় আমার কলিজা ও নাড়িভুঁড়ি বিগলিত হওয়ার আগে—যখন সময় ছিল বসন্তময় এবং যৌবনের উদ্যান ছিল সতেজ—আমি সাহিত্যকে চরিত্রের গুণাবলির শিরোনাম এবং কীর্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের সংকলনের মূল ভিত্তি মনে করতাম। আমি আমার জীবনের পুঁজি এটি অর্জনে এবং এর দুর্লভ বিষয়গুলো শিকারে ব্যয় করতাম; চিন্তার ডুবুরিরা এর গভীর থেকে যেসব রত্ন উদ্ধার করত, তা দিয়ে আমি শ্রবণের ঝিনুকগুলোকে পূর্ণ করতাম। আমি এর নিশ্বাস থেকে জাদুকরী চমক লক্ষ্য করতাম এবং এর মৃদুমন্দ বাতাসের প্রান্ত থেকে আনন্দের সুঘ্রাণ নিতাম। আমি আমার প্রকৃতি থেকে এমন কিছু পান করতাম যা কাঁচপাত্রের রহস্য প্রকাশ করে এবং পূর্বপুরুষদের থেকে অবশিষ্ট থাকা আভিজাত্যের উচ্চশিখর থেকে সুধা গ্রহণ করতাম; এটি ছিল এমন এক গৌরবের অবশিষ্টাংশ যা পানপাত্রে কোনো বিপদ বা পঙ্কিলতা ঘোলাটে করতে পারেনি।কেননা আমি সেই অতি সম্মানিত আরবদের অন্তর্ভুক্ত … আর কালের শুরুতেই মহানুভবতা সুবাস ছড়িয়েছে।সচ্ছলতা আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে আমি এই অবস্থাতেই আছি; আগন্তুক দলকে স্বাগত জানানো ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নেই, যাতে আমি সেইসব সংবাদের উপঢৌকন লাভ করতে পারি যা ফুলের পাপড়িতে শিশিরবিন্দুর চেয়েও অধিক লাবণ্যময়।আর যে ব্যক্তি দূর প্রবাসে থেকে কাফেলাদের কাছে সংবাদ জিজ্ঞেস করে … সে সুসংবাদদাতা অথবা দুঃসংবাদদাতার দেখা পাবেই।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥)
ومن أحاديث يُشفَى بها الغَليل، ويصِحُّ مِزاج النَّسيم العليل، تنْفتِح منها في رياض المُسَامَرة، مِن أجْفان الكمائِم عيونُ أنوارِها الزَّاهرة، ويحسُو فَم السَّمع منها ماءُ حياة يُطِيل عمرَ المسرَّة، وتكتحِلُ منها المآثرُ بما هو لعيونها قُرَّة، من كل من هو لتْشييد المجد أكرمُ بانِي، حتى تكفل الثَّناء له بعمر ثاني، يشِيب في وجه السماءِ حاجبُ القمرِ هلالا، ويشتعل رأسُ الشمس شيباً ولم يَرَ له مِثالاً.إذا ما روَى الإنسانُ أخبارَ مَن مضى … فتحسَبُه قد عاش مِن أوَّلِ الدهرِوتحسَبه قد عاش آخرَ دهرِه … إلى الحشْر إنْ أبقْى الجميلَ مِن الذِّكرِفقد عاش كلَّ الدهر مَن عاش عالماً … كريماً حليماً فاغتنْمِ أطولَ العُمرِوسواءٌ تلفُّتُ المريض للطبيب، وفَرحةُ الأديب بِلقَا الأديب، لا سيَّما أهل العَصر، الهاصِري أغصانَ المُنَى ألطفَ هصْر، القائلين في رياضِها، الواردين نَمِيرَ حياضِها، فقد سرَتْ كلماتُهم مَسْرَى الأرواحِ في الأجساد، وأُثْنَى عليها ثناءَ نسيم الرياض على العُهَّاد، وقد انتصر لكلِّ عصرٍ مَن أحْيَا مَيْتَه، وعَمَّر من دارس عهودِه بيْتَه، كصاحب) اليتيمة (و) قلائد العِقْيان (و) المية (و) الذخيرة (و) عقود الجُمَانَ (، وحَمِيَّة المرء لعصرِه، وقيامُه على منابر نصْرِه، من آياتِ الفُتوَّة، التي هي على لسان الحميَّة متلُوَّة، فليس منَّا مَن لم يَغْتَذِ بِدَرِّ المجد في مِهادِه، ولم يفتخِرْ في المحافل بأُستاذِه وإسنادِه، إلا أن الأدبَ في هذه الأعصار، قد هبَّتْ على أطلالِه ريحٌ ذاتُ إعْصار، حتى أَخْلَقتْ عُرَى المحامد، واسترْخَى في جرْيِه عِنانُ القصائد، وتقلصتْ أذيالُ الظِّلال، وخطب البلاءُ على منابر الأطْلال، وعفَا رَسْمُ الكرام، فعليه منِّى السلام.
এমন সব বর্ণনা যার দ্বারা হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারিত হয় এবং রুগ্ণ সমীরণের মেজাজ সুস্থতা লাভ করে; যা থেকে কথোপকথনের উদ্যানের পুষ্পমুকুলের নেত্রপল্লভ উন্মোচিত হয়ে প্রস্ফুটিত আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। শ্রবণের মুখ তা থেকে এমন এক সঞ্জীবনী সুধা পান করে যা আনন্দের আয়ু দীর্ঘ করে, এবং কীর্তিসমূহ তা থেকে সুরমা গ্রহণ করে যা তাদের চোখের শীতলতা স্বরূপ। তিনি সেই মহৎ নির্মাতা যিনি মহিমা বিনির্মাণে অগ্রগণ্য, এমনকি প্রশংসা তাঁর জন্য এক দ্বিতীয় জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। আকাশের ললাটে নবচন্দ্রের ন্যায় চাঁদের ভ্রু শুভ্র হয়ে যায় এবং বার্ধক্যের শুভ্রতায় সূর্যের মস্তক প্রজ্জ্বলিত হয়, তবুও তাঁর সমতুল্য কোনো নজির দেখা যায় না।যখন মানুষ অতীতকালের সংবাদ বর্ণনা করে, … তখন তোমার মনে হবে সে যেন মহাকালের শুরু থেকেই জীবিত রয়েছে।আর তুমি তাকে তার অন্তিমকাল পর্যন্ত জীবিত মনে করবে, … হাশর পর্যন্ত, যদি সে তার উত্তম স্মৃতি অবশিষ্ট রেখে যায়।বস্তুত সেই ব্যক্তিই পুরো মহাকাল ব্যাপী বেঁচে থাকল যে জ্ঞানী, … মহৎ ও ধৈর্যশীল হিসেবে বেঁচে থাকল; সুতরাং দীর্ঘতম আয়ুকে গনীমত মনে করো।চিকিৎসকের প্রতি রোগীর মুখাপেক্ষী হওয়া আর একজন সাহিত্যিকের সাথে অন্য সাহিত্যিকের সাক্ষাতের আনন্দ সমতুল্য, বিশেষ করে সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে, যারা আকাঙ্ক্ষার শাখাগুলোকে অত্যন্ত নিপুণভাবে অবনমিত করেছেন; যারা সেই উদ্যানের বক্তা এবং সেই জলাধারের সুপেয় পানির সন্ধানকারী। তাদের বাক্যগুলো দেহের মধ্যে প্রাণের ন্যায় প্রবাহিত হয়েছে এবং সেগুলোর প্রশংসা সেভাবেই করা হয়েছে যেভাবে প্রথম বৃষ্টির পর বাগানের স্নিগ্ধ বাতাসের প্রশংসা করা হয়। প্রত্যেক যুগের জন্য এমন ব্যক্তি বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন যিনি এর মৃতপ্রায় বিষয়গুলোকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং এর জীর্ণ যুগের গৃহকে আবাদ করেছেন, যেমন— 'আল-ইয়াতিমাহ', 'কালায়িদুল ইকইয়ান', 'আদ-দুমইয়াহ', 'আদ-যাখিরাহ' এবং 'উকূদুল জুমান'-এর রচয়িতাগণ। নিজ যুগের প্রতি মানুষের এই অনুরাগ এবং এর বিজয়ের মিম্বরগুলোতে তাঁর অবস্থান হলো বীরত্বের সেই নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা আত্মমর্যাদার জবানীতে পঠিত হয়। আমাদের অন্তর্ভুক্ত সে নয় যে শৈশবে গৌরবের সুধা পান করেনি এবং সভা-সমাবেশে নিজ উস্তাদ ও সনদ নিয়ে গর্ব করেনি। তবে বর্তমান সময়ে সাহিত্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে, যার ফলে প্রশংসার বন্ধনগুলো শিথিল হয়ে পড়েছে, কাসিদাগুলোর গতির লাগাম ঢিলে হয়ে গেছে, ছায়ার আঁচল সংকুচিত হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মিম্বরগুলোতে বিপদ ভাষণ দিচ্ছে এবং মহৎ ব্যক্তিদের চিহ্নসমূহ বিলীন হয়ে গেছে; সুতরাং তার প্রতি আমার পক্ষ থেকে সালাম।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦)
وممَّا أعان عليَّ الزمانَ … عَفافُ يدِي وعُلُوُّ الهِمَمْوالرُّؤساء شعراء لا ينظِمون ولا ينثرون، وما فيهم مِن صفاتِ الشُّعراء إلا أنَّهم يقولون ما لا يفعلون، وإذا كذَب مادحٌ أحدَهم اهْتزَّ وطرِب، وجَازَى مِن سَراب وعدِه بكذِب على كذِب، وبالوعد القَطير لا يخَّمر الخَمِير.وبأحْسَنْتَ لا يُباع الشَّعيرُوبرَعْد الوعد، لا يْسقَى غَرس الحمدفلا تلوموه في وَعدِ يُردِّدُه … في وقتِ مدْحِي له علَّمْتُه الكذِباَومع هذا، فكم هبَّتْ لهم أنفاسٌ معطَّرةٌ بالنجاح، مُزْرِية في وقتها بأنفَاس الصَّبا في الصَّباح، يُهزّ السَّماحُ هِيف معاطِفِه، وينشرُ تحت أقدامِها الزمانُ بِساطَ عواطفِه، تتمسَّك كف الشَّمال بأذْيالها، وتتفيَّأ العشَّاقُ في هجير الأشواق ضَافِيَ ظلالها، وترِدُ صافيَ زُلالِها، مِن كلِّ حديثٍ تَلِيد وطارِف، له وَشْيٌ كوَشْيِ المطارِف، تزهُو به الطُّروس على صفحاتِ الخدود المُحَسَّنات بالسَّوالِف، في كل ورَقةٍ منها خمائل، تسوغُ مياهُ فصاحتِها في لَهَواتِ الجداول.تكادُ يدِي تنْدَى إذا ما لمستُها … وينبُتُ في أطْرافِها الورقُ الخضْرُمِن كل مَن ألحق المتأخِّر بالمتقدِّم في تطْبيق مفاصِل معانِيه، وإخراج مُخَبَّآتِ عِطْره من جُونَة مبانِيه، وإن تأخَّر عصرُه فلا بَاس، في تأخُّرِ النتيجة عن القِياس، والخدمُ تتقدَّم بين السَّادة، والسُّنَن أُمِر بتقيمها على الفروضِ في العبادة، وتقدُّم الآحاد، يرقي مرتبة الأَعداد.
আর যা আমার বিরুদ্ধে কালকে সহায়তা করেছে … তা হলো আমার হাতের পবিত্রতা এবং সংকল্পের উচ্চতা।আর নেতৃবৃন্দ হলো এমন কবি যারা না ছন্দবদ্ধ কবিতা রচনা করে, না গদ্য; আর তাদের মধ্যে কবিদের কোনো গুণ নেই কেবল এটি ছাড়া যে, তারা যা বলে তা করে না। আর যখন কোনো স্তাবক তাদের কারো প্রতি মিথ্যাচার করে, সে পুলকিত ও আনন্দিত হয়; আর সে তার অলীক প্রতিশ্রুতির মরীচিকা দ্বারা মিথ্যার ওপর মিথ্যার প্রতিদান দেয়। আর অতি সামান্য প্রতিশ্রুতি দ্বারা খামির প্রস্তুত হয় না।এবং কেবল "চমৎকার বলেছ" দ্বারা যব বিক্রয় হয় না।আর প্রতিশ্রুতির গর্জনে প্রশংসার চারাগাছ সিঞ্চিত হয় না।সুতরাং সে যে প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করে সে জন্য তাকে তিরস্কার করো না … কারণ আমার প্রশংসার সময় আমিই তাকে মিথ্যা শিক্ষা দিয়েছি।এতদসত্ত্বেও, কত সফলতার সুগন্ধি শ্বাস তাদের অনুকূলে প্রবাহিত হয়েছে, যা তার সময়ে প্রভাতের মৃদুমন্দ বাতাসের সুবাসকেও তুচ্ছ করে দেয়; বদান্যতা তার সুঠাম দেহকে আন্দোলিত করে, আর কাল তার পদতলে অনুরাগের গালিচা বিছিয়ে দেয়; উত্তর পবন তার অঞ্চল আঁকড়ে ধরে এবং প্রেমিকরা আকাঙ্ক্ষার প্রখর উত্তাপে তার সুদীর্ঘ ছায়াতলে আশ্রয় নেয় ও তার নির্মল স্বচ্ছ বারি পান করে; এমন প্রতিটি প্রাচীন ও আধুনিক কথা থেকে যার কারুকাজ কারুকার্যখচিত চাদরের ন্যায়। যার দ্বারা পাণ্ডুলিপিগুলো অলকগুচ্ছ দ্বারা সুশোভিত গণ্ডদেশের ওপর গর্ববোধ করে। এর প্রতিটি পত্রে রয়েছে ঘন কুঞ্জবন, যার সাবলীলতার বারিধারা ঝরনার স্রোতধারায় অনায়াসে প্রবাহিত হয়।আমি যখন তা স্পর্শ করি তখন আমার হাত প্রায় সিক্ত হয়ে ওঠে … আর তার প্রান্তসীমায় সবুজ পাতা গজিয়ে ওঠে।এমন প্রত্যেক ব্যক্তি থেকে যে তার অর্থের বিন্যাস ঘটানোর ক্ষেত্রে পরবর্তীকে পূর্ববর্তীদের সাথে মিলিয়ে দিয়েছে এবং তার রচনার সিন্দুক থেকে সুগন্ধির গুপ্তভাণ্ডার বের করে এনেছে; আর যদি তার যুগ পরবর্তীকালের হয় তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই; যেমন যুক্তির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আসতে বিলম্ব হয়, আর ভৃত্যরা মনিবদের সামনে অগ্রবর্তী থাকে, এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে ফরজের পূর্বে সুন্নত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর এককের অগ্রগমন সংখ্যার মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٧)
أو مَا ترى أن النبيَّ محمداً … فاقَ البريَّة وهْو آخِرُ مُرسَلِفيا أدِلَاّء الهُدَى إني آنستُ من جانب الطُّور ناراً بها تَهْتدون، أو آتيكم بِشهاب قبسٍ لعلكم تصْطَلون، فإن لم يترُك الأوَّل شيئاً للآخِر، فخيرٌ من الكثير الغائب القليلُ الحاضر، ويا مَن هم في مُحَّيا الأيام حسَنة، لقد كان لكم في رسول اللهِ أُسْوة حسَنة، فلا يُزْرِ النَّورْ تأخُّرُه عن غِراس أغْصانِه، ولا يُكِلّ مَضاءَ السِّنان كونُه في أطْراف مُرَّانِه، على انه قد تتساوى الآصالُ والبُكُر، وتتشابه طُرَرُ العشِيَّات والسَّحر، وليس إلا للحسد رغِبتْ الطَّبائع، عن محاسنَ للعصرِ هي مِلءُ الأفواهِ والمسامِع.وما شُكْرُهم للمَيْتِ إلَاّ لأنَّه … بما حلَّ في أيديهِمُ غيرُ طامِعِوللهِ دَرُّ ابن رَشِيق، في قوله:أُولِعَ الناسُ بامْتداح القديمِ … وبذمِّ الجديدِ غير الذَّميمِليس إلَاّ لأنهمْ حسَدُوا الحيَّ … فرقُوا على العظامِ الرَّميمِوالحُرُّ وإن حلَّ تيهاً وَبادِية، فستغدُو محاسنُه على رغم الخمول بادية، ولنا في ذِمَّة الدهر ديونٌ بأوقاتها مرهونَة، فإذا جاء إبِّانُهَا فكَّ الزمانُ رُهُونه.على أنِّي أستغفر اللهَ مِن دهرٍ كلَّت فيه مُرهَفاتُ الطِّباع، ونفَضت الآمالُ فيه يدها من غُبار الأطماع، وَافيْناه على الهِرَم، وقد قلع ضِرْسَ النَّدم، بعد ما أكل باكورةَ الكرماء، وشابتْ بالصباح لياليه الدَّهْماء، ودبَّ خَرِفاً على عصا الجوْزاء.وكنتُ لما ذُيل بالنَّوى عيْشِي النَّضِر، وَلَيْت سِياحةَ الآفاقِ فَصِرت خليفةَ
আপনি কি দেখেন না যে নবী মুহাম্মদ … সৃষ্টিজগতকে ছাড়িয়ে গেছেন, অথচ তিনি সর্বশেষ প্রেরিত পুরুষ।হে হেদায়েতের দিশারীরা, আমি তূর পর্বতের এক প্রান্ত হতে আগুন দেখেছি যা দিয়ে আপনারা পথনির্দেশ পাবেন, অথবা আমি আপনাদের কাছে একটি প্রজ্জ্বলিত অঙ্গার নিয়ে আসব যাতে আপনারা উত্তাপ গ্রহণ করতে পারেন। যদি পূর্বসূরিগণ উত্তরসূরিদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট না রেখে যান, তবে অনুপস্থিত প্রচুরের চেয়ে উপস্থিত অল্পই শ্রেয়। আর হে তারা, যারা যুগের কপালে সৌন্দর্যস্বরূপ, আল্লাহর রাসূলের মধ্যে অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। সুতরাং মুকুল আসার বিলম্ব যেন তার ডালপালা রোপণকে তুচ্ছ না করে, আর বর্শার তীক্ষ্ণতা যেন তার দণ্ডের অগ্রভাগে থাকার কারণে হ্রাস না পায়। যদিও কখনো কখনো বিকেল ও সকাল সমান হয়ে যায় এবং সন্ধ্যা ও শেষ রাতের প্রান্তগুলো সদৃশ হয়ে ওঠে। কেবল হিংসার বশবর্তী হয়েই মানুষের স্বভাব সেই সমকালীন গুণাবলী থেকে বিমুখ হয়েছে, যা মানুষের মুখে মুখে এবং শ্রুতিগোচর হয়ে পূর্ণতা পেয়েছে।মৃত ব্যক্তির প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা কেবল একারণেই যে, … তাদের হাতে যা আছে তার প্রতি সে আর লালায়িত নয়।ইবনে রাশিক কতই না চমৎকার বলেছেন:মানুষ পুরাতনের প্রশংসায় মত্ত হয়েছে … আর অনিন্দ্য নতুনকে নিন্দা করতে উদ্যত হয়েছে।এটা কেবল একারণেই যে তারা জীবিতকে হিংসা করে … আর জীর্ণ অস্থির প্রতি তারা করুণা প্রদর্শন করে।স্বাধীনচেতা মানুষ যদিও কোনো নির্জন মরুপ্রান্তরে অবস্থান করে, তবুও তার গুণাবলী বিস্মৃতি সত্ত্বেও প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। মহাকালের জিম্মায় আমাদের এমন কিছু ঋণ রয়েছে যা স্ব-স্ব সময়ের কাছে বন্ধক রাখা, যখন তার উপযুক্ত সময় আসবে তখন কাল সেই বন্ধক মুক্ত করবে।তদুপরি আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এমন এক কাল থেকে যাতে তীক্ষ্ণ স্বভাবগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে এবং আশাগুলো লালসার ধূলিকণা থেকে স্বীয় হস্ত ঝেড়ে ফেলেছে। আমি তাকে জরাজীর্ণ অবস্থায় পেয়েছি, সে অনুশোচনার দাঁত উপড়ে ফেলেছে; মহানুভব ব্যক্তিদের অগ্রজদের গ্রাস করার পর এবং তার অন্ধকার রাতগুলো প্রভাতের শুভ্রতায় শুভ্র হওয়ার পর; আর সে বার্ধক্যে জওজা নক্ষত্রের লাঠিতে ভর করে হেলেদুলে চলছে।যখন বিচ্ছেদের ফলে আমার সজীব জীবন যবনিকার অন্তরালে চলে গেল, তখন আমি দিগন্ত পরিভ্রমণে ব্রতী হলাম এবং স্থলাভিষিক্ত হলাম...
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٨)
الخَضِر، تهادتْني التَّنائِف، وقذفَتْنِي الأمانيُّ في لَهَوات المخاوِف، كأنِّي قَذَاة بأجفانِ الدهر، أو سَفَاة بوجْه نهر، أو كُرَة لاعب، أو سهم محارب، طَوْراً أُشَقِّق قلب الشرق كأنِّي أُفتِّش على الفجْر، وتارةً أُمزِّق كِيس الغرب حتى كأنِّي أُريد أن أُخرِج منه دينار البدْر، أُفلِّي لُمّةَ دجَا، شاب فوقَها فِرْقُ ابنُ جَلا، يُخَّيل لي أن البلادَ مَسامع أنا فيها مَرُّ الْمَلام، أو فكْرَ بليدٍ أنا حَوْله معنًى دقَّ أن تتصوَّره الأوْهام، غريبٌ في عيون الظُّنون، كأنِّي بيت حسَّان بن ثابت في ديوان سَحْنون، أو مُصحَفٌ في بيت زِنْدِيق، أو عابد في صَوْمعةِ بِطْرِيق، أو بِكرُ معنًى سار في مثَل، أو غَضٌّ عمرٍ جرى خلفَه رائدُ أجَل، أو خَبَر لم يصِحَّ له سنَد، فلم يقبلْهُ من الثِّفات أحد،كأنَّ له دَيْناً على كلِّ مشرقٍ … مِن الأرض أوثَاراً لَدَى كلِّ مغربِأرِدُ مواردَ الحُوب، مُكدَّرة بغُصَص الخطُوب، فلم أُرِبّ ببَدْوٍ ولا حظَارة، كأنَّني من الشُّهب السَيَّارة، وقد قيل تنزِل الألقابُ من السَّما، فلكلٍّ من أسْمه نصيبٌ انْحطَّ أو سَمَا.وطني حيثُ حطَّتِ العِيسُ رَحْلِي … وذراعِي الوِسادُ وهْيَ مِهادِيفكل جوْلي بين إبْراقٍ وإرْعاد، وأمانيّ في مَهامِهِ الحيرة بين إتْهامٍ وإنْجاد، والزمان يُضمِر سَلْبَ ما أوْلاه بُخْلاً إن جَاد، وألسنةُ أبنائِه عن الإجابة صُمْت،
আল-খাদির, বিজন মরুপ্রান্তরগুলো আমাকে দুলিয়েছে, আর আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাকে ভীতিসঙ্কুল গহ্বরে নিক্ষেপ করেছে; যেন আমি মহাকালের চোখের পাতার এক কণা ধূলি, অথবা নদীর উপরিভাগের খড়কুটো, অথবা কোনো খেলোয়াড়ের বল, কিংবা কোনো যোদ্ধার তীর। কখনো আমি প্রাচ্যের হৃদপিণ্ড চিরে চলি যেন আমি ভোরের অন্বেষণ করছি, আর কখনো প্রতীচ্যের থলে বিদীর্ণ করি যেন সেখান থেকে পূর্ণিমার চাঁদের দিনার বের করতে চাই। আমি অন্ধকারের কেশগুচ্ছ হাতড়াই, যার ওপর দিয়ে স্পষ্ট আলোকবর্তিকা সাদা হয়ে ফুটে উঠেছে। আমার মনে হয় জনপদগুলো যেন একেকটি কান যেখানে আমি নিন্দার গুঞ্জন মাত্র, অথবা কোনো স্থূলবুদ্ধি ব্যক্তির চিন্তা যার চারপাশে আমি এমন এক সূক্ষ্ম অর্থ যা কল্পনা করাও দুষ্কর। সন্দেহের চোখে আমি এক আগন্তুক; যেন আমি সাহনুনের দিওয়ানে হাসসান ইবনে সাবিতের একটি পঙক্তি, অথবা কোনো যিনদিকের গৃহে রক্ষিত পবিত্র কুরআন, অথবা কোনো ধর্মগুরুর নির্জন উপাসনালয়ে একজন ইবাদতকারী, অথবা প্রবাদে পরিণত হওয়া কোনো এক অনন্য ভাবধারা, অথবা এক সজীব জীবন যার পেছনে মৃত্যুর দূত ধাবমান, অথবা এমন কোনো সংবাদ যার সনদ সহিহ নয়, তাই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের কেউ তা গ্রহণ করেনি।যেন পৃথিবীর প্রতিটি উদয়াচলের নিকট তার ঋণ রয়েছে … অথবা প্রতিটি অস্তাচলের নিকট তার প্রতিশোধ পাওনা রয়েছে।আমি দুঃখের ঘাটে উপনীত হই যা বিপদের তিক্ততায় ঘোলাটে; আমি মরুবাসী বা নগরবাসী কোনোটিই হয়ে থাকিনি, যেন আমি বিচরণশীল উল্কাসমূহের একটি। বলা হয়ে থাকে যে, উপাধিগুলো আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়; তাই প্রত্যেকের নিজ নামে একটি অংশ থাকে, হোক তা নিম্ন কিংবা উচ্চ।আমার স্বদেশ সেখানেই যেখানে আমার দ্রুতগামী উটগুলো তাদের বোঝা নামায় … আর আমার বাহুই হলো বালিশ এবং সেটিই আমার শয্যা।আমার সমস্ত বিচরণ বিদ্যুৎ চমক আর বজ্রপাতের মাঝে, এবং বিভ্রান্তির মরুপ্রান্তরে আমার আকাঙ্ক্ষাসমূহ নিচুভূমি ও উচ্চভূমির মাঝে বিচরণশীল। আর কাল কৃপণতাবশত যা কিছু দান করেছে তা ছিনিয়ে নেওয়ার সংকল্প পোষণ করে, যদি সে কখনো উদারতা দেখিয়েও থাকে; আর তার সন্তানদের জিহ্বা উত্তর প্রদানে নির্বাক।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٩)
وآذانُهم عن صَرِيخ الاسْتغاثةِ صُمَّت، فقد خلَا من المكارم مَغْناها، وأصبح لا يجاوِب البُومَ إلَاّ صَداها.لكنني مع أهواله، ودُروس رُسوم السرور في أطْلالِه، وإن توسَّدتُ ذراعَ الهمِّ في دياجيها، وقطعتُ ظُلمةَ الشَّدائد في سَنَا بدْرِ أمانيها، أتعلَّل بأن السيفَ لا يقطعُ في قِرابِه، والليثَ لا يصِل لغرض الفرائس في غابِه، ولولا مُفارقة القوس ما أصاب سهم، ولولا بُعْد الدُّرّ عن الصَّدف لم يَظفَرْ من الغِيد بأوْفَى سهم، فلذلك أُضَاحِك مباسِمَ الأمانِي، وأُغازِل عيونَ الآمال والتَّهاني، وأُنزِّه طَرْفي في رياض الدَّفاتر، ولم أَقِل مع السرور إلا في ظلِّ طائر، فزمان مسرَّاتي أقصرُ مِن عمر المكارم، وفؤادي لم يهْتَدِ إلى طُرْق سَلْوة المُدَام، في أُوَيْقات أثقل من السُّؤَّال، وأطول من عمر الآمال، أشْأمُ مِن وجه خَنَّاس، وأثقلُ من غريمٍ مُلِحٍّ على إفْلاس.ولم يكْفِ الدَّهرَ ما ورَّثنِيه من الحِرمان، حتى ابْتلاني بعد الإثْبات بالنَّفْي كأنِّي نِكْتُ أُمَّ الزَّمان، وأنا أستغفر الله جلَّ وعلا، ولا أرْتضى بمَعرَّة أبي العَلَا، في قوله:إذا ما ذكرْناَ آدماً وفعِالَه … وتزْويجَه لابْنَيِهِ بِنْتيْهِ في الْخَنَا
তাদের কান সাহায্যপ্রার্থীদের আর্তনাদের প্রতি বধির হয়ে গিয়েছে, তাদের আবাসে মহানুভবতার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই এবং পেঁচার ডাকের প্রতিধ্বনি ছাড়া সেখানে আর কোনো উত্তর পাওয়া যায় না।কিন্তু এর ভয়াবহতা সত্ত্বেও এবং এর ধ্বংসাবশেষে আনন্দের নিশানার বিলোপ সত্ত্বেও, যদিও আমি এর গাঢ় অন্ধকারে উদ্বেগের বাহুতে মাথা রেখেছি এবং এর আকাঙ্ক্ষার পূর্ণিমার আলোতে বিপদের অন্ধকার পাড়ি দিয়েছি, তবুও আমি নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিই যে—তলোয়ার তার কোষের ভেতরে থাকা অবস্থায় কাটতে পারে না, আর সিংহ তার অরণ্যে অবস্থান করে শিকার লাভে সমর্থ হয় না। যদি ধনুক থেকে বিচ্ছিন্ন না হতো তবে তীর লক্ষ্যভেদ করতে পারত না, আর মুক্তা যদি ঝিনুক থেকে দূরে সরে না আসত তবে সুন্দরী রূপসীদের অলঙ্কারে শ্রেষ্ঠ অংশটি জুটত না। সেই কারণেই আমি আকাঙ্ক্ষার মুচকি হাসিতে হাসির রেখা ফোটাই, আর আশা ও শুভকামনার চোখের সাথে ভাব বিনিময় করি। আমি পাণ্ডুলিপির উদ্যানে দৃষ্টি বুলিয়ে চিত্তবিনোদন করি; আর পাখির ছায়ার মতো অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী সময় ব্যতীত আমি আনন্দের সাথে বিশ্রাম নিইনি। আমার আনন্দের সময়টুকু মহানুভবতার আয়ুষ্কালের চেয়েও সংক্ষিপ্ত। আমার হৃদয় মদের সান্ত্বনার পথ খুঁজে পায়নি এমন সব মুহূর্তে, যা যাঞ্চাকারীর প্রশ্নের চেয়েও ভারী এবং আশার আয়ুষ্কালের চেয়েও দীর্ঘ; যা খন্নাসের চেহারার চেয়েও অশুভ এবং নিঃস্ব ব্যক্তির ওপর জেদ ধরা পাওনাদারের চেয়েও গুরুভার।কালচক্র আমাকে যে বঞ্চনা উত্তরাধিকার সূত্রে দিয়েছে তাতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং অস্তিত্বের পরে সে আমাকে নির্বাসনের পরীক্ষায় ফেলল, যেন আমি কালের মাতার সাথে অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছি! আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি; আর আমি আবু আল-আলার এই কুরুচিপূর্ণ উক্তির সাথে একমত নই, যা তিনি তাঁর এই বাণীতে বলেছেন:যখনই আমরা আদম ও তাঁর কার্যাবলির কথা স্মরণ করি … এবং অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে তাঁর দুই পুত্রকে তাঁর দুই কন্যার সাথে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ভাবি।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠)
علِمْناَ بأنَّ الخلقَ مِن نسلِ فاجرٍ … وأن جميعَ النّاسِ مِن عُنْصُر الزِّناَفإنه كفرٌ مِن وَسْوسة الشياطين، وغُلُوّ مِنْه في خَلْعِه رِبْقَهَ الدين، بل أقولُ ما قال ابن عُنَين:أنْفُوا الُمؤذِّنَ مِن بلادِكُمُ … إن كان يُنْفَى كلُّ مَن صدَقاَوللحسن بن أبي عُقامة في الردِّ عليه، أي على أبي العلاء:لَعَمْرِي أمَّا فيك فالقولُ صادقٌ … وتكذِبُ في الباقِين مَن شَطَّ أو دَناَكذلك إقرارُ الفتى لازمٌ له … وفي غيرِه لَغْوٌ كذا جاء شرْعُناَفلا سَمِير لي أجالسه، ولا نديمَ لي أؤانِسه، سوى أوراقٍ كنت خلعت عن مَنْكبِ الإقبال بُرْدَها الخلِيع، وجعلتُها كبَيْت العَرُوض ادِّخارُها للتّقطِيع، فوجدتُ فيها نُبذاً مِن المحاسن أسرَّها الدهرُ في خاطره، شاهدةً لقوْلِ مَعْدِن الحِكَم:) أمَّتِي كَالْمَطَر لا يُدْرَى الْخَيْرُ في أَوَّلِهِ أَمْ فِي آخِرِهِ، ممَّن جَرَّ عليه الزمنُ أذيالَ الفَنَا،
আমরা জেনেছি যে সৃষ্টি এক পাপাচারীর বংশধর … এবং সকল মানুষ ব্যভিচারের উপাদান থেকে।নিশ্চয়ই এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে উদ্ভূত কুফর, এবং তার পক্ষ থেকে দ্বীনের রশি ছিঁড়ে ফেলার ক্ষেত্রে এক চরম বাড়াবাড়ি; বরং আমি তা-ই বলি যা ইবন উনায়ন বলেছেন:তোমাদের শহর থেকে মুয়াজ্জিনকে নির্বাসিত করো … যদি সত্য বলা প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্বাসিত করা হয়।এবং হাসান ইবন আবি উকামার পক্ষ থেকে তার (অর্থাৎ আবু আল-আলার) খণ্ডনে:আমার জীবনের কসম! তোমার ক্ষেত্রে এই কথাটি সত্য … কিন্তু অবশিষ্টদের ক্ষেত্রে তুমি মিথ্যা বলছো, সে দূরে হোক বা কাছে।অনুরূপভাবে ব্যক্তির নিজের স্বীকৃতি তার নিজের জন্যই আবশ্যক … এবং অন্যদের ব্যাপারে তা অসার; এভাবেই আমাদের শরীয়ত এসেছে।এখন আমার সাথে বসার মতো কোনো নৈশ-আলাপী নেই, এবং মনের খোরাক দেওয়ার মতো কোনো সাথী নেই, কেবল কতগুলো কাগজ ছাড়া যেগুলোর জীর্ণ আবরণ আমি অনুকূল মনোযোগের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলেছিলাম এবং সেগুলোকে আমি ছন্দের পংক্তির মতো করেছিলাম যা কেবল খণ্ডবিখণ্ড করার জন্য সঞ্চিত হয়। অতঃপর সেগুলোর মধ্যে আমি এমন কিছু সৌন্দর্যের অংশ খুঁজে পেলাম যা কাল তার অন্তরে গোপন রেখেছিল, যা প্রজ্ঞার খনির এই বাণীর সাক্ষ্য দেয়: আমার উম্মত বৃষ্টির মতো, জানা যায় না এর প্রথমাংশে কল্যাণ বেশি নাকি শেষাংশে, যাদের ওপর মহাকাল বিনাশের আঁচল টেনে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١)
وأسكنه تحت أَطْباقِ الثَّرى، فحلَّ مُخَيَّمَ البِلَى، كأنه سِرٌ في صدرِه، ومِن باقٍ على هامةِ الليالي تعْبَق أنفاسُ الرُّواةِ بذكْرِه، ممَّن ركِبتُ لرُؤْياه مطايَا أُمِّ عمري، أو نابتْ عنِّي في مشاهدتِه أهلُ عصْرِي، فاجتلَوتُ مُحيَّاه، أو رأيتُ من رآه، حتى طرِبتُ على الاسْتماع، وعلمتُ أن الذِّكرَى طَيفُ الاجتماع، وإذا كان الحِبُّ مَنُوع، فالصَّبّ قَنُوع، يتعلَّل ببارق ثَنَّية، وتكْفِيه لمْحةُ إشارة لمحة إشارةٍ أو تحيَّة.فإن تمنُعوا ليلى وحُسنَ حديِثها … فلن تمنُعوا مِنِّي البُكا والقوافِيِاَفهلَاّ منعتُمْ إذ منعتم حديثَها … خَيالاً يُوافِيِني على النَّأْيِ هاديَافجمعتُ منها ما هو لطَرْف الدَّهر حَوَر، ولجِيد الأدب عِقْد يبْسَم منظومُه هُزْؤوا بعِقد الدُّرَر، ولكاس الأدب خِتام، ولعِقْد حُبَابه نِظام، تُذكِّر العهودَ والمودَّة وتطلع في وَجْنة الوفاة ورْدَة، وتندُب من ألْقى للبَلاء قِيادَه، وتُلبِس عليه وجْهَ الطِّرس حِدَادَه، وتسجُد الأقلام في محراب طِرسها الذي هو المحاسن جامِع، ويَودُّ كل عضو إذا تُلِيتْ أحاديثُها لو أنه مسامِع، وهي وإن كانت عِقْداً منتثراً دُرُّه، وأُفُقاً تبدَّد بيد الصباح زُهْرُه، ونَوْرّاً نشرتْه كفُّ الشَّمال، فانتظم على ترائِب الماءِ السَّلْسال، فلرُبَّما نُثِر العِقْد المُفصَّل، ليعود أحسنَ في النِّظام وأجْمل.فهذه ذخائرُ من) خبايا الزَّوايا، فيما في الرِّجال من البَقايا (تنفَّس الدهرُ بها عن
তাকে মৃত্তিকার স্তরে স্তরে শায়িত করেছেন, ফলে সে জীর্ণতার তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে; যেন সে তার বক্ষের এক নিগূঢ় রহস্য। আর কালের শিখরে যারা অবশিষ্ট রয়েছেন, বর্ণনাকারীদের নিশ্বাসে তাদের স্মৃতির সুগন্ধ বিকিরিত হচ্ছে। তাদের দর্শনের জন্য আমি আমার জীবনের বাহনসমূহকে চালিত করেছি, অথবা আমার সমসাময়িকরা তাদের প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে আমার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। অতঃপর আমি তাদের মুখচ্ছবি অবলোকন করেছি অথবা তাকে দেখেছি যে তাদের দেখেছে; এমনকি আমি সেই শ্রবণেই বিমোহিত হয়েছি। আর আমি জেনেছি যে, স্মৃতি হলো মিলনের এক কাল্পনিক প্রতিচ্ছবি মাত্র। আর যখন প্রিয়জন বিমুখ হয়, তখন প্রেমিক অল্পতেই তুষ্ট থাকে; সে দন্তের চমকে সান্ত্বনা খোঁজে এবং তার জন্য ইশারা বা সম্ভাষণের এক পলকই যথেষ্ট।যদি তোমরা লায়লা এবং তার মনোমুগ্ধকর কথোপকথনকে অবরুদ্ধ করো … তবে আমার অশ্রু ও ছন্দসমূহকে তোমরা কদাপি রোধ করতে পারবে না।তোমরা যখন তার আলাপন বন্ধ করে দিয়েছ, তখন কেন সেই কল্পনাকে রোধ করলে না … যা সুদূর পথ পেরিয়ে পথপ্রদর্শক হয়ে আমার নিকট উপস্থিত হয়?অতঃপর আমি তা থেকে এমন কিছু সংগ্রহ করেছি যা মহাকালের চক্ষুর শুভ্রতা স্বরূপ এবং সাহিত্যের কণ্ঠের এমন এক হার, যার সুশৃঙ্খল গাঁথুনি মুক্তার মালাকে উপহাস করে হাস্যরত। যা সাহিত্যের পানপাত্রের মোহর এবং তার বুদবুদ-মালার শৃংখল। এটি অতীতের প্রতিশ্রুতি ও সৌহার্দ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মৃত্যুর গালে গোলাপ হয়ে ফুটে ওঠে। এটি তাকে স্মরণ করে বিলাপ করে, যে ধ্বংসের হাতে স্বীয় লাগাম সঁপে দিয়েছে এবং কাগজের পৃষ্ঠায় তার শোকের পোশাক পরিয়ে দেয়। এর কাগজের মিহরাবে কলমগুলো সিজদাবনত হয়, যা সকল সৌন্দর্যের আধার। যখন এর বর্ণনাগুলো পাঠ করা হয়, তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গই কান হয়ে যেতে চায়। যদিও এটি এমন এক হার যার মুক্তোগুলো বিক্ষিপ্ত, এমন এক দিগন্ত যার নক্ষত্ররাজি ভোরের হাতে বিলীন হয়ে গেছে, এবং এমন এক পুষ্প যা উত্তর বায়ু বিকিরিত করেছে এবং যা স্বচ্ছ পানির উপরিভাগে সারিবদ্ধ হয়েছে। তবে অনেক সময় সুবিন্যস্ত মালা ছিন্ন করা হয়, যাতে তা পুনরায় সুসংবদ্ধ হলে আরও সুন্দর ও মনোরম হয়।এগুলো হলো লুকায়িত স্থানসমূহের সেই ধনভাণ্ডার এবং মহাপুরুষদের অবশিষ্ট গুণাবলি, যা কাল তার নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٢)
نفْحةٍ عنْبَريَّة، وهبَّتْ بها أنفاسُه النَّدِيةُ نَدِيَّة، تنفُّسَ الروض في الأسحار بأفواه العبير عن أفْواهِ النَّوْر والأزهار.يَسْرِي على رَيْحانِها نفَسُ الصَّبَا … سحَراً فُيوهِم أنه ذِكْراهَافلذا سمَّيْتُها:) ريحانة الألِبَّا، وزهرة الحياة الدنيا (فإني شمَمْت بها روائحَ الشَّباب، ونظرتُ في مِرآتها وُجوهَ الأحباب، وتذكَّرتُ غابِرَ الأيَّام، إذ العيش غضٌّ والزمان غُلام، مِن أعلام شم الأنُوف إن دعي بهم بوّ الصغار تشَّمخ، في غُرَر أيامٍ تُقام بها مواسمُ الدهرِ وتُؤرَّخ.وجعلتُ مِسْك الخِتام، ذكَر سادةٍ من العلماء الأعلام، فإنَّ بصَبا أنفاسهم ينْقشِع غَمامُ الغُمَّة، وبذِكْرِهم في نادِينا تنزِلُ الرَّحْمَة.فإن عَذُبت مواردُها، فَلْتُقرَن بالدعاء فرائدُها، فإن عُثِر منها على كَبْوة، فليَبذُل لها اللبيبُ عفوَة.على أنَّني راضٍ بأن أحملَ الهوَى … وأخلُصَ منه لا عَلَيَّ ولا لِياَوها أنا ذا أُمتِع الأسماع، بربيع أحْوَى الظِّلال الْمَى التِّلاع، فإذا رأيتَ كلاماً لأهل العصر لم تترنَّح أعطافُه لهذا النَّسيم، فتمتَّع من شَمِيم عَرارِ نجدٍ فما بعدَه من شَمِيم، فليس مِن ليْلِى ولا سَمَره، ولا مما يُهدَى لنا من الأدب باكورةُ ثَمرِه، فكم من أشعار، للبُخل فيها أعذار:
এটি একটি আম্বর মিশ্রিত সুবাস, যার সতেজ নিশ্বাস মৃদুমন্দ প্রবাহিত হচ্ছে; শেষ রাতে বাগানের সতেজ নিশ্বাস যেমন সুগন্ধি ও পুষ্পরাজি থেকে নির্গত হয়।এর সুগন্ধি গুল্মের ওপর ভোরের মৃদু হাওয়া বয়ে যায় … যা শেষ রাতে এমন এক বিভ্রম তৈরি করে যেন এটি তারই স্মৃতি।এজন্য আমি এর নামকরণ করেছি: (প্রাজ্ঞজনদের সুগন্ধি এবং পার্থিব জীবনের পুষ্প)। এতে আমি যৌবনের সুঘ্রাণ পেয়েছি, এর দর্পণে প্রিয়জনদের মুখচ্ছবি অবলোকন করেছি এবং ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছি, যখন জীবন ছিল সজীব আর সময় ছিল নবীন। এটি সেই সকল সুউচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিদের আলোচনা, যাদের প্রতি আহ্বান করা হলে অধমও গৌরবান্বিত হয়; সেই স্বর্ণালি দিনগুলোর কথা, যখন কালের উৎসবসমূহ উদযাপিত হতো এবং ইতিহাসে তা স্মরণীয় হয়ে থাকত।আর আমি এর সমাপ্তিকে কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধময় করেছি প্রখ্যাত ও বরেণ্য উলামায়ে কেরামের আলোচনার মাধ্যমে; কারণ তাঁদের নিশ্বাসের স্নিগ্ধ বাতাসে শোক ও দুশ্চিন্তার মেঘ অপসারিত হয় এবং আমাদের মজলিসে তাঁদের স্মরণে রহমত অবতীর্ণ হয়।যদি এর উৎসগুলো সুমিষ্ট হয়, তবে এর অনন্য বিষয়গুলোর জন্য যেন দুআ করা হয়; আর যদি এতে কোনো স্খলন পরিলক্ষিত হয়, তবে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি যেন তার ক্ষমার দৃষ্টি প্রসারিত করেন।তবে আমি এতেই সন্তুষ্ট যে আমি ভালোবাসা বহন করছি … এবং তা থেকে এমনভাবে নিষ্কৃতি পাচ্ছি যে আমার কোনো দায় নেই, আবার কোনো পাওনাও নেই।আর এখন আমি শ্রোতাদের শ্রবণেন্দ্রিয়কে পরিতৃপ্ত করছি ছায়াঘেরা বসন্ত ও সুউচ্চ টিলার মনোহর দৃশ্যের বর্ণনায়। সুতরাং আপনি যদি সমকালীনদের এমন কোনো কথা শোনেন যা এই মৃদু বাতাসে আন্দোলিত হয় না, তবে আপনি নজদের ‘আরার’ ফুলের সুঘ্রাণ গ্রহণ করুন, কেননা এরপর আর কোনো সুগন্ধ নেই। এটি আমার নিভৃত রাতের গল্প নয়, আর না এটি আমাদের উপহার দেওয়া সাহিত্যের অগ্রিম কোনো ফল; কত কবিতাই তো এমন আছে, যেখানে সংকীর্ণতার অজুহাত দেওয়া হয়:
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٣)
تَا اللهِ ما بخِل الكرامُ وإنَّما … لِبُرودةِ الأشعارِ قد جَمُد النَّدَىفما كل مُرتفِع نَجد، ولا كل وادٍ يُنبِت الشِّيحَ والرَّنْدِ، وما كل سَوْداء تَمْرة، ولا كل صَهْباء خمرَة ولا كل بيْضاء شَحْمة ولا كل حمراء لَحْمة ولا كل نبْتٍ يعلو بنَمَائِه، ولا كل بَرْقٍ يجود بمائِه.اللهم بحُرمةِ سيِّد الأنام، كما يسَّرتَ الابتداء يَسِّر الاختتام، صارفاً عنا سُوءَ القضا، ناظراً إلينا بعيْنِ الرِّضا.
আল্লাহর শপথ, মহৎ ব্যক্তিগণ কৃপণতা করেননি, বরং … কাব্যের শৈত্যের কারণে দানশীলতার শিশির জমাটবদ্ধ হয়ে গেছে।কেননা প্রতিটি উচ্চভূমিই নাজদ নয়, এবং প্রতিটি উপত্যকাই শীহ ও রানদ বৃক্ষ উৎপন্ন করে না। প্রতিটি কালো বস্তু খেজুর নয়, আর প্রতিটি লালচে পানীয় মদ নয়। প্রতিটি সাদা বস্তু চর্বি নয়, আর প্রতিটি লাল বস্তু মাংস নয়। প্রতিটি উদ্ভিদ তার বৃদ্ধিতে উচ্চতা লাভ করে না, আর প্রতিটি বিদ্যুৎ চমকানিই পর্যাপ্ত বৃষ্টি দান করে না।হে আল্লাহ, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার মর্যাদার অসিলায়, আপনি যেভাবে সূচনার পথ সহজ করেছেন, সেভাবে সমাপ্তির পথও সুগম করে দিন; আমাদের থেকে মন্দ ফয়সালাসমূহ দূর করে দিন এবং আমাদের প্রতি সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে তাকান।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٥)
القسم الأولفي محاسن أهل الشَّام ونواحِيهاومن برز مَن بَرَزَ سُرَّةِ رُبَاهَا وبطن وَادِيها، وتغذَّى بنسِيِمها، وتربَّى في حِجْرِ رياض نعيمها وقال في ظلالِ أغصانها، المُتعانِقَة هوًى وَوُدَّاً، وتعطَّرَ بأنفاس شَمَائلِها، التي صارت للنَّدِّ نِدَّاً، وطعِم من مائِها العذب وَرَوِى بِذَؤبِ لؤلؤها الرَّطْب، وهو ماءُ الحياة في سائرِ الصِّفات إلا أنه في نور التَّقديس وهو في الظُّلماتِ.
প্রথম অংশশাম দেশের অধিবাসী এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায়এবং তাদের মধ্য হতে যারা এর উচ্চভূমির কেন্দ্রস্থল ও উপত্যকার অভ্যন্তরীণ ভাগ থেকে আবির্ভূত হয়েছে, এর মৃদু বাতাসে পুষ্টি লাভ করেছে এবং এর নেয়ামতপূর্ণ উদ্যানসমূহের কোলে প্রতিপালিত হয়েছে। তারা এর সেই সব ডালপালার ছায়াতলে অবস্থান করে (কাব্য ও কথা) বলেছে, যারা একে অপরকে প্রেম ও সৌহার্দ্যে আলিঙ্গন করে আছে। তারা এর মৃদুমন্দ বাতাসের সুবাসে নিজেকে সুবাসিত করেছে, যা শ্রেষ্ঠ সুগন্ধির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। তারা এর সুপেয় পানি আস্বাদন করেছে এবং এর সিক্ত মুক্তাসম স্বচ্ছ বারিধারা দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করেছে। এটি যাবতীয় গুণাবলির বিচারে 'আবে-হায়াত' (জীবনী-সুধা) সমতুল্য; তবে পার্থক্য এই যে, এটি পবিত্রতার আলোতে বিদ্যমান, আর সেটি (পৌরাণিক জীবনী-সুধা) ছিল অন্ধকারের অতলে।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أحمد العِنَايَاتِيّصديقُ الصِّدق، وخِدْن الصلاح، شقيق النَّدى، وتِرْب السَّماح، رَوض سجيَّته غضٌّ ناضر، لو رآه المُتَنِّبي لقال ما هذا إلا ساحر، خلَب الأسماع بنَفَّاثاتِه، ونسَج على مِنوال الرِّقَّة حُللَ عِناياتِه.ذو حسَب تَليِد، وبَاعٍ في المجد طويلٍ مَدِيد، لم يُسطَّر مثلُ محاسنِه في كتاب الزمان، ولم نُملأ بأنْفسَ من جواهره حِقاقُ الآذان، فيالَها جواهر إذا شاهدها مُفنقِر إلى البيان، أغْناه يا قوتُها وجوهرُها، وخَرائد جَمَعت له بين الحُسْن والإحسان منظرها طِّيب ومخبرها، تُغرِّد على قُضُب براعتهحمائمها، وتفرح أنوارُ بلاغتِه إذا فَضَّت الطُّروس عنها كمائِمها، طلعت شمسُ الأدب من أُفُق أشعارِه، وتفجَّرت ينابيعُها من خِلال آثارِه.وهو الآن في جبهةالشام غُرَّة، وفي حدائقها النَّضِرة زُهَرَة، وفي سماء كمالها الزَّاهية
আহমদ আল-ইনায়াতীতিনি সত্যের অকৃত্রিম বন্ধু, সৎকর্মের সহচর, দানশীলতার সহোদর এবং উদারতার দোসর। তাঁর স্বভাবের কানন সজীব ও সতেজ; প্রখ্যাত কবি মুতানাব্বি যদি তাঁকে দেখতেন, তবে বলতেন, "এ তো এক জাদুকর বৈ কিছু নয়।" তিনি তাঁর সূক্ষ্ম ও জাদুকরী রচনাশৈলী দিয়ে শ্রবণেন্দ্রিয়কে বিমোহিত করেছেন এবং অত্যন্ত কোমলভাবে তাঁর অনুগ্রহের বসন বুনন করেছেন।তিনি সুপ্রাচীন আভিজাত্যের অধিকারী এবং মর্যাদার সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারক। মহাকালের ইতিহাসে তাঁর ন্যায় সুগুণাবলি আর লিপিবদ্ধ হয়নি এবং তাঁর বাণীরূপ মহামূল্যবান মণি-মুক্তার চেয়ে উত্তম কিছু দিয়ে কর্ণকুহর কখনো পূর্ণ হয়নি। আ মরি! কী চমৎকার সে সব জহরত, বাগ্মীতার কাঙাল কোনো ব্যক্তি যদি তা প্রত্যক্ষ করে, তবে তার সেই মণি-মাণিক্য তাকে অভাবমুক্ত ও সমৃদ্ধ করে দেবে। এ যেন এমন এক অনন্য কাব্যকৃতি যা সৌন্দর্য ও সৌকর্যের সমন্বয় ঘটিয়েছে; যার বাহ্যিক রূপ যেমন মনোরম, অভ্যন্তরীণ সংবাদও তেমনি চমৎকার। তাঁর পাণ্ডিত্যের শাখায় বাগ্মীতার কপোতরা কূজন করে এবং তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রের জ্যোতি প্রফুল্লিত হয় যখন তা কাগজ হতে নিজ আবরণ উন্মোচন করে। তাঁর কাব্যের দিগন্ত হতে সাহিত্যের সূর্য উদিত হয়েছে এবং তাঁর লেখনীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাহিত্যের ঝর্ণাধারা উৎসারিত হয়েছে।বর্তমানে তিনি শাম বা সিরিয়ার ললাটে এক উজ্জ্বল তিলকস্বরূপ, সেখানকার সজীব উদ্যানসমূহের মাঝে এক দেদীপ্যমান নক্ষত্র এবং এর পূর্ণতার সমুজ্জ্বল আকাশে...
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٨)
زُهَرَة، وقد حَلَّى بحُلَل الزهد كمالَه، ورأى برأْيِه الصَّائبِ أسْماَلَه أسْمَى لَه، لم يحتفِل بأمر غَد، قانعاً بظلِّ الخُمول نكَداً أم رَغَد، قائِلاً في خمائِله الرِّحاب، عفَّ السَّريرة طاهرَ الأثواب، لم يَشْرَق بسُؤال، ولم يَغَصّ بنَدامة الآمال، ولم يأْلَف سكَنا، ويتوطَّن مَسْكناً.كما قيل:ومِن عجيبً أن أكونَ شاعراَ … وليس لي في النَّاسِ بيتٌ يُعرَفُكما وصف زِيّه في قصيدته الزَّائيَّة بقوله:إذا لم أعِزَّ فمن ذا يعِزُّ … وفَقْرِي وقَنعِي كنْزٌ وحرْزُلِبستُ من اليأْس في الناسِ ثوباً … عليه من العقْل والفضْلِ طَرْزُولستُ أدرى الذُّلَّ إلا إذا كا … ن في الحُبِّ والذلُّ عِزُّومثْلِيَ حرُّ عَبَاةٌ غِنَاهُ … إذا استعبدَ الناسَ خَزٌّ وبَزُّوسِيَّان مَن حَبَّ أو مَن قَلَى … ومَن راح يمدحُ أو راح يهْزُوومن غرره قوله:قلبي على قَدِّك الممشوقِ بالهيَفِ … طيرٌ على الغصن أم همْزٌ على الألفِوهل سُوَيْداه أم خَالٌ بخدَّك أم … خُويدِمٌ أسودٌ في الرَّوضةِ الأُنُفِوهذه غُرَّوٌ في طُرَّةٍ طلعتْ … أم بدرُ تِمٍّ بدََا في ظُلمةِ السُّدَفِتخْفى النجومُ بنورِ البدر وهو بنُو … ر الشمس وهْيَ بنُور منك غيرُ خَفِي
তিনি ছিলেন উজ্জ্বল এক নক্ষত্র, যিনি বৈরাগ্যের অলংকারে নিজের পূর্ণতাকে সুশোভিত করেছিলেন এবং নিজের সঠিক অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে নিজের জীর্ণ বসনকেও অতি উচ্চ মনে করতেন। আগামী দিনের দুশ্চিন্তায় তিনি ব্যতিব্যস্ত হতেন না, বরং অখ্যাতির ছায়াতলে—কষ্টে কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যে—তুষ্ট থাকতেন। নিজের প্রশস্ত উদ্যানতুল্য নির্জনতায় তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ অন্তরাত্মার ও পবিত্র পোশাকের অধিকারী। মানুষের কাছে যাচনা করার অপমানে তিনি নীল হননি এবং ব্যর্থ আশার অনুশোচনায় নিমজ্জিত হননি। তিনি কোনো নির্দিষ্ট আবাসে অভ্যস্ত হননি এবং কোনো নির্দিষ্ট গৃহকে স্থায়ী নিবাস করেননি।যেমনটি বলা হয়েছে:এক আশ্চর্য বিষয় যে আমি একজন কবি … অথচ মানুষের মাঝে আমার পরিচিত কোনো ঘর নেই।যেমনটি তিনি তাঁর 'যাইয়্যাহ' কবিতায় নিজের পোশাকের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন:আমি যদি সম্মান লাভ না করি, তবে কে করবে? … আর আমার দারিদ্র্য ও অল্পেতুষ্টিই আমার গুপ্তধন ও রক্ষাকবচ।মানুষের প্রতি অনাগ্রহের মাধ্যমে আমি এমন এক পোশাক পরিধান করেছি … যাতে বুদ্ধিবৃত্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের নকশা খচিত।আমি তো লাঞ্ছনা চিনি না, তবে যদি তা ভালোবাসার ক্ষেত্রে হয় … আর সেই লাঞ্ছনা তো সম্মানেরই নামান্তর।আমার মতো স্বাধীন মানুষের সম্পদ হলো তার সাধারণ চাদর … যখন রেশম ও দামী বস্ত্র অন্য মানুষকে দাসে পরিণত করে।যে ভালোবাসে আর যে ঘৃণা করে—উভয়ই সমান … এবং যে প্রশংসা করতে যায় কিংবা যে উপহাস করতে যায়।তাঁর অনন্য পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:তোমার সুঠাম ও ক্ষীণ তনুর ওপর আমার হৃদয় কি … বৃক্ষশাখার ওপর কোনো পাখি, নাকি আলিফের ওপর কোনো হামযাহ?এটি কি হৃদয়ের কালো বিন্দু, নাকি তোমার গালের তিল, নাকি … কোনো এক পবিত্র উদ্যানে এক কৃষ্ণবর্ণ ক্ষুদ্র সেবক?এটি কি কপালে জেগে ওঠা কোনো দীপ্তি … নাকি গাঢ় অন্ধকারে উদিত পূর্ণিমার চাঁদ?পূর্ণিমার চাঁদের আলোতে নক্ষত্ররাজি অদৃশ্য হয়ে যায়, অথচ চাঁদ সূর্যের আলোয় আলোকিত … আর সূর্য তোমারই আলোয় জাজ্বল্যমান।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٩)
يا بدرُ وطرفي فيك مُنتصِفٌ … بالوصْل منك وهذا غيرُ مُنتِصفِالقلبُ واصَلْتَ فيه وَصْلَ مُمتزِجٍ … والطَّرفُ صَدَّيت عنه صَدَّ مُنحرِفِظَبْيٌ تألفَّتُ منه غيرَ مُلتَفتٍ … غُصنٌ تعطَّفتُ منه غيرَ مُنعطِفِشِفاءُ حَرِّ غليلي بَرْدُ رِيقَتِهِ … والُبرْءُ مِن دَنَفي في لَحظِهِ الدَّنِفِوَيْلاهُ من وردِ خدٍّ غيرِ مُقتَطفٍ … مِنْهُ ومن خَمْرِ ريقٍ غير مُرتشَفِعذلتُ عاشقَ عَذْلي في محبَّتِهِ … فاعْجَب لذي شَغَفٍ يلْحِى على الشَّغِفِيظُنُّ أن سِواه منهُ لي خَلَفٌ … أساء في الظَّنِّ هل للروح من خَلَفِعُذْريَّ عِشقي عُذْرِي فيه مُتِّضِحٌ … كوجهِه وهو مثلُ الشمسِ في الشَّرَفِفنِيتُ سُقماً بِخَصْرٍ منه مُخَتَصَرٌ … فيه وطَرْفِي ونوْمي جِدُّ مُختِلفِيطير قلبي إلى ألحاظِهِ شَغَفاً … فاعْجَبْ له كيف يرْمى السَّهْمَ بالهدفِيا أيها الرَّشَأُ الضَّارِي على مُهَجِ الْ … آسادِ بالسَّيْف مِن جَفْنَيهَ لم يَخِفِبما بحُسِنك مِن تِيهٍ ومن صَلَفٍ … وما بعِشْقِيَ من ذُلٍّ ومن كَلفِالله في كَبدٍ للوجدِ في كَمَدٍ … إليك أسْرَف فيها الشوقُ في السَّرَفِومُغْرمٍ ماله مِن مُسعِفٍ لعبتْ … به اللَّواعجُ لِعْب الرِّيح بالسَّعَفِأشْفَى مِحَاق الضَّنَى لما هجرتَ به … على التّلاف ولو واصلْتَه لشُفِييا باخِلاً بلِقاهُِ باذلاً لدمى … فالوعدَ يُخلِف منه والوَعيد يَفيحُزتَ الجمالَ ألا تُولىِ الجميلَ فقد … يُصادَفُ الحُسن بالإحسان في الصَّدَفِ
হে পূর্ণিমার চাঁদ, তোমার প্রতি আমার দৃষ্টি তো অর্ধেক নিবদ্ধ … তোমার সাথে মিলনে, আর এটি তো ন্যায়বিচার নয়।তুমি অন্তরের সাথে মিশে গেছ একীভূত হওয়ার ন্যায় … অথচ আমার দৃষ্টিকে তুমি বিমুখ করেছ দূরে সরিয়ে দেওয়ার ন্যায়।এমন এক হরিণ যার সাথে আমি সখ্য গড়েছি কিন্তু সে ফিরে তাকায় না … এমন এক পল্লব যাকে আমি নুয়ে দিতে চেয়েছি কিন্তু সে নুয়ে পড়ে না।আমার হৃদয়ের প্রবল উত্তাপের উপশম তার লালার শীতলতায় … আর আমার কঠিন ব্যাধির আরোগ্য তার মোহময় আঁখিপাতে।হায় আফসোস সেই গালের গোলাপের জন্য যা চয়ন করা হয়নি … আর সেই লালারূপী মদিরার জন্য যা পান করা হয়নি।তার ভালোবাসায় আমাকে যে তিরস্কার করে, আমি সেই প্রেমিককেই তিরস্কার করি … তবে এমন এক অনুরাগীর জন্য আশ্চর্যান্বিত হও যে অন্য এক অনুরাগীকে গালমন্দ করে।সে মনে করে যে অন্য কেউ তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে … সে ভুল ধারণা পোষণ করেছে; আত্মার কি কোনো বিকল্প থাকে?আমার এই অকৃত্রিম প্রেম নিষ্কলুষ, এতে আমার ওজর স্পষ্ট … তার চেহারার ন্যায়, যা আভিজাত্যে সূর্যের মতো ভাস্বর।তার সরু কোমরের বিরহে আমি রোগগ্রস্ত হয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছি … আমার দৃষ্টি ও নিদ্রার মাঝে চরম বৈরিতা বিদ্যমান।অনুরাগে আমার হৃদয় তার আঁখিপাতের দিকে উড়ে যায় … তবে আশ্চর্য হও যে, লক্ষ্যবস্তু নিজেই কীভাবে তীরের দিকে ধাবিত হয়!হে সেই তরুণ মৃগ, যে সিংহদের হৃদয়ের ওপর প্রবল হয়ে উঠেছ … নিজের আঁখিপাতের তলোয়ারের আঘাতে সে মোটেও ভীত নয়।তোমার সৌন্দর্যের সেই অহংকার ও গর্বের শপথ … এবং আমার প্রেমের সেই দৈন্য ও ব্যাকুলতার শপথ।আল্লাহ সেই কলিজার প্রতি দয়া করুন যা বিরহ-বেদনায় কাতর … তোমার প্রতি আকাঙ্ক্ষা এতে সীমাহীন সীমা লঙ্ঘন করেছে।আর সেই আসক্ত ব্যক্তি যার কোনো সাহায্যকারী নেই, যাকে নিয়ে বিরহ-বেদনা খেলা করছে … যেমন প্রবল বাতাস খেজুরের পাতার সাথে খেলা করে।তোমার বিরহে তার ক্ষয়রোগ তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে … যদি তুমি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে, তবে সে অবশ্যই আরোগ্য লাভ করত।হে সাক্ষাতের ব্যাপারে কৃপণ কিন্তু আমার রক্ত ঝরাতে অকৃপণ … যার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয় কিন্তু হুমকি পূর্ণ হয়।তুমি তো সৌন্দর্য অর্জন করেছ, তবে কি সুন্দর আচরণ করবে না? … কেননা ঝিনুকের মাঝে সৌন্দর্যের সাথে মহানুভবতার মিলন ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
) تتمة (اعتُرض على هذا المطلع بأنه لا وجه لتشبيه القلب بالهَمْز.وأٌجيب بأن له وجهاً؛ لأنه وقع تشبيههُ بالطائر لخفقاته، وهم قد شبَّهوا الطيرَ على الغصن بالهمز، والغصنَ بالألف، ولما شاع هذا شبَّه به القلب، وقدَّ الحبيب، فهذا في باب التشبيه كالمجاز على المجاز، والنكاية على الكفاية، كما قيل في وصف قصيدة هَمْزيِّة:والقوافي إليك حَنَّتْ حنِيني … فنأمَّلْ فهمْزُها ورْفاءُوقوله:) والبُرْءُ مِن دَنَفيِ (إلخ، معنى مشهور، كقول أبن مَطْرُوح:أشتكى سِقَمِي إلى أجْفانِه … ومتى يُشْفَى سِقامٌ بسِقَمْوقوله:ورنا إليّ بطَرْفهِ فكأنما … أهْدَى السِّقامَ لُمدنَفٍ من مُدْنَفِِوقول ظافر الحدّاد:مريضُ لحاظِ الطَّرفِ لولا جُفُونُه … كما كنتُ أدْرِي السُّقْمَ كيف يكونُوأصله قول المتَنَبِّيّ:أعارني سُقْمَ عْينْيهِ وحَّملنِي … مِن الهوَى ثِقْلَ ما تحْوِي مآزِرُهُوقوله:) فاعجب له كيف يرمي السهم بالهدف (نوع من البديع يُسمَّى العكس،
(পরিশিষ্ট) এই প্রারম্ভিক চরণের ওপর এই বলে আপত্তি করা হয়েছে যে, হৃদপিণ্ডকে 'হামজা' (ء) বর্ণের সাথে তুলনা করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এর একটি ভিত্তি রয়েছে; কারণ হৃদস্পন্দনের কারণে হৃদপিণ্ডকে পাখির সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর কবিগণ বৃক্ষশাখে বসা পাখিকে 'হামজা' বর্ণের সাথে এবং শাখাকে 'আলিফ' (أ) বর্ণের সাথে তুলনা করে থাকেন। যখন এটি লোকমুখে প্রসিদ্ধি লাভ করল, তখন এর মাধ্যমে হৃদপিণ্ড এবং প্রিয়ার দেহের উচ্চতাকে তুলনা করা হয়েছে। অলঙ্কার শাস্ত্রের পরিভাষায় এটি যেন 'রূপকের ওপর রূপক' এবং 'পর্যাপ্ততার ওপর অধিকতর নিপুণতা' স্বরূপ। যেমনটি একটি হামজিয়া (হামজা বর্ণে অন্ত্যমিলযুক্ত) কসিদার বর্ণনায় বলা হয়েছে:অন্ত্যমিলগুলো তোমার প্রতি আমার আকুলতার ন্যায় আকুল হয়েছে … সুতরাং লক্ষ্য করো, তার 'হামজা' বর্ণগুলো যেন ডালে বসা পাখির মতো সুবিন্যস্ত।আর তার উক্তি: "এবং আমার ক্ষীণতা হতে আরোগ্য..." ইত্যাদি একটি সুপরিচিত ভাবার্থ, যেমন ইবনে মাত্রুহ-এর উক্তি:আমি তার চোখের পাতার কাছে আমার অসুস্থতার অভিযোগ করি … আর ব্যাধি দ্বারা কি কখনও ব্যাধির নিরাময় হয়?এবং তার উক্তি:সে তার দৃষ্টি দিয়ে আমার দিকে তাকাল, যেন সে … এক রুগ্ণ ব্যক্তি হতে অন্য এক রুগ্ণ ব্যক্তিকে ব্যাধি উপহার দিল।এবং জাফির আল-হাদ্দাদের উক্তি:তার চাহনি রুগ্ণ, যদি তার চোখের পাতা না থাকত … তবে অসুস্থতা কেমন হয় তা আমি জানতাম না।এর মূল উৎস হলো আল-মুতানাব্বির উক্তি:সে তার চোখের রুগ্ণতা আমাকে ধার দিয়েছে এবং আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে … অনুরাগের সেই ভার যা তার কটিবাস ধারণ করে আছে।আর তার উক্তি: "বিস্মিত হও তার প্রতি যে, কীভাবে সে লক্ষ্যবস্তুর মাধ্যমে তীর নিক্ষেপ করে" এটি 'বাদি' (অলঙ্কারশাস্ত্রের) একটি প্রকার যাকে 'আকস' (বিপর্যাস) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢١)
بديعٌ في بابه، وهو كقول الذَّهبيّ:يطيرُ فؤادي لألْحاظِه … غراماً وشوقاً وفيها التَّلَفْفيا مَن رأى قبْلَها أسهُماً … يطيرُ اشتياقاً إليها الهدَفْونحوه قوله ابن نُبَاتَة المِصْرِيّ:صيِّرتَ نومي مثلَ عِطْفك نافراً … وتركتَ عزْمي مثل جَفْنِك فاتراَوسكنْتَ قلباً طار فيك مسَرَّةً … أرأيْتَ وكراً قطُّ أصبحَ طائراَومما أنشدته له قولَه أيضاً من قصيدة:يا أيُّها الملأُ المِلاحُ أفتُوني … مَن ذا أباح لكم دمَ المفتُونِمِن كل أسْمرَ سَنَّ قتلَ مُحبهِّ … إِن المكان مُشرَّفٌ بمكِيِنِروضٌ نضيرٌ لم يردْه ناظرٌ … إلا ورَدَّ عيونَه بعُيونِالعيون: جمع عَيْن بمعنى الباصِرة، وبمعنى الجاسوس.يحمِى بنَرْجِسِه أقاحِيَ ثغرِهِ … ويصونُ وَرْدَ الخدِّ بالمرسينِوحياتهِ وهي اليمينُ وإنها … وحياتِهِ عندي أبرُّ يمينِما خنتهُ إنِّي وشخصُ جمالهِ … حيث اتّجهتُ عليَّ مِثلُ أمينِقرَن الودادُ له فؤادي بالأسى … أكذا يُجازَى وُدُّ كلِّ قَرينِفاتُركْ حديثَ شجونِ من قتل الهوى … قبْلي وخُذ منِّي حديثَ شجونيقسماً لو أن العامريَّ مُعَمَّرٌ … ما جُنَّ إلا مُعجَباً بجنونِي
এটি আপন মহিমায় অনন্য, আর এটি আয-যাহাবীর এই বাণীর মতো:
তার দৃষ্টির পানে আমার অন্তর উড়ে যায় … প্রেমানুরাগে ও আকাঙ্ক্ষায়, অথচ তাতেই রয়েছে বিনাশ
হে সেই ব্যক্তি! যে এর আগে এমন তীর দেখেছে কি … যার প্রতি লক্ষ্যবস্তু নিজেই আকাঙ্ক্ষায় উড়ে যায়?
আর এরই অনুরূপ ইবনে নুবাতাহ আল-মিসরীর এই উক্তি:
তুমি আমার নিদ্রাকে তোমার বিমুখতার মতো পলায়নপর করেছ … আর আমার সংকল্পকে তোমার চোখের পাতার মতো অবসন্ন করে রেখেছ
তুমি এমন এক হৃদয়ে বসতি স্থাপন করেছ যা তোমার জন্য আনন্দে উড়ছে … তুমি কি কখনো এমন কোনো বাসা দেখেছ যা নিজেই উড়ন্ত পাখিতে পরিণত হয়েছে?
আর তাঁর রচিত যে কবিতাটি আমি আবৃত্তি করেছি, তা তাঁর এই কাসিদা থেকেও বটে:
হে রূপবানদের দল! আমাকে ফতোয়া দিন … কে তোমাদের জন্য এই দেওয়ানার রক্তপাত বৈধ করেছে?
প্রতিটি শ্যামবর্ণের অধিকারী থেকে, যে তার প্রেমিকের হত্যাকে প্রথা বানিয়েছে … নিশ্চয়ই স্থানটি তার অধিকারীর গুণে মহিমান্বিত
এক সজীব উদ্যান, কোনো দর্শকই সেখানে উপস্থিত হয়নি … কিন্তু সে তার চোখগুলোকে বহু চোখের (বা চরের) মাধ্যমে ফিরিয়ে দিয়েছে
আল-উয়ুন: এটি 'আইন' শব্দের বহুবচন, যা দৃষ্টিশক্তি এবং গোয়েন্দা (চর) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
সে তার নার্গিস (চোখ) দ্বারা তার দাঁতের শুভ্রতাকে রক্ষা করে … আর গালের গোলাপকে লতাগুল্ম (চুল) দিয়ে হেফাজত করে
তাঁর জীবনের কসম, আর এটিই হলো শপথ, আর নিশ্চয়ই … তাঁর জীবনের কসম আমার নিকট সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ শপথ
আমি তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি, কারণ তাঁর সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি … আমি যেখানেই মুখ ফিরিয়েছি, সেখানে আমার ওপর একজন আমানতদারের মতো
ভালোবাসা আমার অন্তরকে তাঁর প্রতি দুঃখের সাথে গেঁথে দিয়েছে … প্রতিটি সঙ্গীর ভালোবাসার প্রতিদান কি এভাবেই দেওয়া হয়?
সুতরাং আমার আগে প্রেমের হাতে নিহতদের দুঃখের গল্প ছেড়ে দাও … আর আমার কাছ থেকে আমারই দুঃখের কাহিনী গ্রহণ করো
শপথ করে বলছি, যদি (মজনু) আল-আমেরী দীর্ঘায়ু লাভ করত … তবে সে আমার উন্মাদনায় মুগ্ধ হয়েই পাগল হতো
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
والعقلُ منِّي ضاع في ثغْرٍ له … فيه الثَّنايا بين مِيمٍ سينِيا ذا الْمَلاحةِ والذي بجَبينهِ … في كل ليل مَلامة يهْدينيلا يطرُقنَّ اللَّومُ باب مسامِعي … وعليه مِن صُدْغَيْك كالزُّرْفِينِيا لائمِي لك في الملامةِ دِينُكَ الْواهِ … ي كما ليَ في الصَّبابة دِيِنِيلا يخطُرُ السُّلوانُ عنه بخاطرِي … إلا ورُدَّ من الجوَى بكَمِينِكم خُضْتُ بَحرَ الموتِ دون وصَالِه الْ … غالي ولم أكُ قانّعاً بالدُّونِوشَفَيْتُ حرَّ الوجد مِن برْدِ اللَّمىَ … عِلْماً بأن الماءَ مَا يشْفينِيمُتعجِّباً من خدِّهِ بالماءِ يرْ … وينِي أسْاً وبنارِهِ يُورينِيوبخطِّ عارِضِه أَساوِرُ أرْقماً … منه فأقرأُ منه ما يَرْقِينِيويظنُّني حاشاهُ أسلُو حبَّه … واللهُ مِن ظنِّ الحبيب يقينِيوهي عِراض قصيدة الرئيس أبي منصور عليّ بن الفضل، الكاتب المعروف بصرَّدُرّ:أكذا يُجازَى وُدُّ كل قَرين … أم هذه شِيَمُ الظِّباءِ العِينِقُصُّوا علىَّ حديثَ مَن قتَل الهوى … إن التَّأسِّي رَوْحُ كل حزينِولئن كتمتُمْ مُشفِقين فقد درَى … بمصارعِ العُذرِىِّ والمجنونِ
আমার বুদ্ধি তার এমন এক ওষ্ঠাধরে বিলীন হয়েছে … যেখানে সম্মুখের দাঁতগুলো মীম ও সীন বর্ণের মাঝে বিন্যস্ত।হে লাবণ্যময়! যার ললাট … প্রতিটি নিন্দার রজনীতে আমাকে পথপ্রদর্শন করে।ভর্ৎসনা যেন আমার কর্ণের দ্বারে করাঘাত না করে … যার ওপর তোমার অলকগুচ্ছ হুড়কোর ন্যায় ঝুলে আছে।ওহে আমার নিন্দুক! নিন্দার ক্ষেত্রে তোমার দুর্বল ধর্ম তোমারই থাকুক … যেমন অনুরাগের ক্ষেত্রে আমার ধর্ম আমার।তাকে ভুলে যাওয়ার খেয়াল আমার মনে উদয়ই হয় না … বরং প্রাণের তীব্র ব্যাকুলতার অতর্কিত আক্রমণে তা প্রতিহত হয়।তার মহামূল্যবান সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় কতবার আমি মৃত্যু-সমুদ্র পাড়ি দিয়েছি … সামান্য কিছুতে আমি কখনোই সন্তুষ্ট ছিলাম না।বিরহের দহনকে আমি ওষ্ঠাধরের শীতলতায় জুড়িয়েছি … এই নিশ্চিত জ্ঞানে যে, সাধারণ পানি আমাকে তৃপ্ত করতে পারবে না।তার গণ্ডদেশ দেখে আমি বিস্মিত হই, যা সকরুণ সিক্ততায় আমাকে … পরিতৃপ্ত করে, আবার তার অগ্নিশিখায় আমাকে দগ্ধ করে।তার গালের নবীন রেখা যেন চিত্রবিচিত্র সর্পের কুণ্ডলী … আমি তা থেকে এমন কিছু পাঠ করি যা আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে।সে কি মনে করে—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—যে আমি তার প্রেম ভুলে যাব … প্রিয়তমার এমন ধারণা থেকে আল্লাহই আমার রক্ষাকারী।আর এটি হচ্ছে রাইস আবু মনসুর আলী বিন আল-ফজল, যিনি সররাদুর হিসেবে পরিচিত সেই লেখকের কবিতার সমান্তরাল রচনা:প্রতিটি সঙ্গীর ভালোবাসার প্রতিদান কি এভাবেই দেওয়া হয়? … নাকি এটি ডাগরচোখা হরিণীদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য?প্রেমের কারণে যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের কাহিনী আমাকে শোনাও … কেননা সমবেদনা ও সান্ত্বনা প্রতিটি দুঃখী হৃদয়ের প্রশান্তি।আর তোমরা যদি মমতার বশবর্তী হয়ে তা গোপনও করো, তবে সে তো জানেই … উধরী প্রেমিক ও মজনূনের পরিণতির কথা।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
فوق الرِّكاب ولا أٌطيل مُشَبِّهاً … بل ثَمَّ شهوةُ أنفُسٍ وعيونِهُزِّت قدودُهم وقالت للصِّبَا … هُزْؤا أعند البان مِثْلُ غُصونِيوكأنما نقَلتْ مآزِرهم إلى ال … جَدَد الحمى الأنقْاءَ من يَبْرينِووراءَ ذيِّاك المُقبَّل مَوْرِدٌ … حَصْباؤُه مِن لُؤْلُؤ مكنوُنِإمَّا بيوتُ النَّحْل بين شفاهِهم … منْضُودةً أو حانةُ الزَّرْجُونِترْمي بعينْك الفِجاجَ مْقلِّباً … ذاتَ الشِّمال بها وذاتَ يمينِلو كنتَ زَرْقاء اليمامة ما رأتَ … من بارقٍ حَيَّا على جَيْرُونِشكْوك مِن ليل التَّمام وإنَّما … أرْقَى بليلِ ذوائبٍ وقرونِومعُنِّفٍ في الوجْدِ قلتُ له أنَّئِدْ … فالدِّمعُ دمْعيِ والحَنين حَنينيما نافِعي إنْ كان ليس بنافعي … جاهُ الصَّبا وشفاعةُ العشْرينِلا تُطرُقَنْ خجلاً للَوْمةِ لأئمٍ … ما أنتَ أولُ حازم مَفْتُونِأأسومُهمْ وهمُ الأجانبُ طاعة … وهوايَ بين جوانحيِ يَعْصِينِي
আরোহীদের উপরে, এবং আমি উপমার বিস্তার ঘটাব না … বরং সেখানে রয়েছে নফস ও চক্ষুসমূহের আকাঙ্ক্ষা।তাদের দেহবল্লরী দুলছে এবং পুবালি বাতাসকে বলছে … উপহাসভরে, ‘বান’ বৃক্ষের কি আমার ডালপালার মতো কোনো শাখা আছে?যেন তাদের কোমরবন্ধগুলো সংরক্ষিত এলাকার শক্ত ভূমিতে … ইয়াবরিনের নির্মল বালুরাশি বয়ে নিয়ে এসেছে।আর সেই চুম্বনকৃত স্থানের নেপথ্যে রয়েছে এক প্রস্রবণ … যার কঙ্করগুলো হলো সযত্নে রক্ষিত মুক্তার।তাদের ওষ্ঠদ্বয়ের মাঝে যেন মৌচাকের সারিবদ্ধ মধু … অথবা দ্রাক্ষারসের সুরাশালা।তুমি তোমার দৃষ্টির বিনিময়ে গিরিপথগুলোয় তাকাচ্ছ … একে ডানে ও বামে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে।তুমি যদি যারকা আল-ইয়ামামাও হতে, তবুও তুমি … জাইরুনের ওপর বর্ষিত বিজলি-চমকের অভিবাদন দেখতে পেতে না।তোমার অভিযোগ পূর্ণিমার রাত নিয়ে, অথচ … আমি তো বিনিদ্র রজনী কাটাই কেশগুচ্ছ ও অলকের অন্ধকারে।আর প্রেমের আতিশয্যে আমাকে তিরস্কারকারী ব্যক্তিকে আমি বলেছি, ‘শান্ত হও’ … কারণ অশ্রু তো আমারই অশ্রু আর বিলাপও আমারই বিলাপ।আমার কী লাভ যদি তা আমার উপকারে না আসে … যৌবনের প্রতাপ আর বিশ বছরের সুপারিশ।কোনো নিন্দুকের নিন্দায় লজ্জায় অবনত হয়ো না … মোহগ্রস্ত হওয়া প্রথম কোনো সংকল্পবান ব্যক্তি তুমি নও।আমি কি তাদের কাছে আনুগত্য কামনা করব যখন তারা অপরিচিত … অথচ আমার পাঁজরের অন্তরালে থাকা প্রবৃত্তিই আমাকে অমান্য করে চলছে?
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
دَيْنِي على ظَبْياتِهم مَا ينْقضِي … فبأيِّ حُكمٍ يقبضون رُهونِيوخَشِيتُ مِن قلبي الفِرارَ إليهِمُ … حتى لقد طالبْتُه بضمينِكلَّ النَّكالِ أُطيقُ إلا ذِلَّةً … إن العزيز عذابهُ بالهُونِيا عينُ مثلُ قَذَاكِ رُؤيةُ مَعْشرٍ … عارٍ على دُنياهُم والدِّينِلم يُشبِهوا الإنسان إلا أنهمْ … مُتكوِّنونَ من الحَمْاَ المسْنُونِنجَسُ العيونِ فإن رأتْهُم مُقلتيِ … طهَّرتها فنزحتُ ماءَ جُفونِيأنا إن هُم حسبُوا الذَّخائر دُونَهُمْ … وهمُ إذا عدُّوا الفضائلَ دُونِيلا يُشمِتِ الحسَّادَ أنَّ مَطامِعي … عادتْ إليَّ بصَفقْةِ المغبُونِما يستديرُ البدرُ إلا بعدما … أبصرْتَه في الضّمْر كالعُرْجُونِهذا الطريق اللَّحْب زاجرُ ناقتي … واليمُّ قاذِفُ فُلكيَ الْمشحونِفإذا عمِيدُ المُلْك حلَّ بربْعهِ … ظَفرِا بفَأْلِ الطائر الميْمونِقوله:) أأسومهم وهم الأجانب طاعة (، هو من قول البُحْتُرِيّ:ولستُ أعجبُ مِن عِصْيان قلبِك لي … عْمداً إذا كان قَلبي فيكَ يعْصِينيوبعده:مَلِكٌ إذا ما العزمُ حثَّ جِيادَهُ … مَرِحتْ بأزْهرَ شامخِ العِرْنِينِ
তাদের হরিণীদের (সুন্দরী নারী) কাছে আমার যে ঋণ তা কখনো শেষ হওয়ার নয় … তবে কোন বিচারে তারা আমার বন্ধকগুলো দখল করে?আমি আমার হৃদয়ের তাদের দিকে পালিয়ে যাওয়ার ভয় করছিলাম … এমনকি শেষ পর্যন্ত আমি হৃদয়ের কাছে একজন জামিনদার দাবি করলাম।আমি সব ধরনের কঠোর শাস্তি সহ্য করতে পারি কিন্তু হীনতা নয় … কেননা সম্মানীর জন্য অবমাননাই হলো প্রকৃত আজাব।হে চোখ! তোমার ভেতরে খড়কুটো পড়ার মতোই যন্ত্রণাদায়ক এমন এক দলের দর্শন … যারা তাদের ইহকাল ও পরকালের জন্য কলঙ্কস্বরূপ।তারা মানুষের সদৃশ নয় কেবল এটুকু ছাড়া যে … তারা পচা ও বিবর্তিত কালো কাদা থেকে সৃজিত।তারা চোখের জন্য অপবিত্র; যদি আমার চোখের মণি তাদের দেখে ফেলে … তবে আমি তা পবিত্র করি এবং চোখের পাতার সমস্ত পানি (অশ্রু) নিংড়ে বের করে দিই।তারা যদি ধন-ভাণ্ডার গণনা করে তবে আমি তাদের উর্ধ্বে … আর তারা যদি শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি গণনা করে তবে তারা আমার নিচে।হিংসুকদের এই সুযোগ দিও না যে তারা আনন্দিত হবে এই দেখে যে আমার প্রত্যাশাগুলো … এক ক্ষতিগ্রস্তের চুক্তির মতো আমার কাছে ফিরে এসেছে।পূর্ণিমার চাঁদ তখনই পূর্ণতা পায় যখন তুমি তাকে … প্রথমে খেজুরের শুকনো বাঁকা ডাল বা বাঁকা লাঠির মতো ক্ষীণকায় দেখেছ।এই প্রশস্ত পথটিই আমার উটনীর চালক … আর সমুদ্র হলো আমার মালবোঝাই নৌকার নিক্ষেপকারী।যখন সাম্রাজ্যের প্রধান তাঁর আবাসে অবতরণ করেন … তখন তিনি শুভ লক্ষণের পক্ষীর ন্যায় কল্যাণময় বিজয় অর্জন করেন।তাঁর উক্তি: (আমি কি তাদের আনুগত্য করতে বাধ্য করব অথচ তারা আগন্তুক), এটি আল-বুহতুরীর উক্তি থেকে নেওয়া:তোমার হৃদয়ের ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতায় আমি মোটেও অবাক হই না … যখন আমার নিজের হৃদয়ই তোমার মোহে আমার অবাধ্যতা করে।এবং এরপর:তিনি এমন এক রাজা, যখন তাঁর সংকল্প তেজী ঘোড়াগুলোকে পরিচালিত করে … তখন ঘোড়াগুলো এক উজ্জ্বল চেহারার ও উন্নত নাসিকার (উচ্চমর্যাদাশীল) বীরকে নিয়ে উল্লাস করে।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ومثله قول الشريف الرضي:أرومُ إنْصافي مِن رجالٍ أباعدٍ … ونفسِيَ أعْدَى لي مِن النَّاس أجمعاَإذا لم تكنْ نفسُ الفتَى من صديقِه … فلا يُحْدِثَنْ مِن خِلُة الغيْرِ مَطمعَاوأصله مِن قول بَكْر بن حارثه:قلبي إلى ما ضرَّنِي داعي … يُكثُر أسقامِي وأوجاعِيكيف احتراسي مِن عدوِّي إذا … كان عدُوِّي بيْن أضْلاعِيوقوله:) يا عين مثل قذاك رؤية معشر (إلخ، هو معنى بديع، وقد سُبِق إليه، قال الثعالِبيّ: أتفق لي في زمن الصِّبا معنىً بديع، لم أُسْبق إليه، وهو:قلبيَ وجْداً مشتعلْ … وبالهمُومِ مُشتِغلْوقَد كستْنِي في الهوَى … ملابسَ الصَّبِّ الغَزِلْإنْسانةٌ فتَّانةٌ … بدرُ الدُّجَى منها خَجِلْإذا زنَتْ عيني بها … فبالدُّموعِ تغْتَسِلْوقد سبقه ابن هِنْدو، في قوله:يقولون لي ما بالُ عيْنِكَ مُذ رأَتْ … محاسنَ هذا الظَّبيِ أدْمُعُها هُطْلُفقلتُ زنَتْ عيني بطلْعةِ وجهِهِ … فكان لها مِن صَوْبِ أدمُعِها غُسْلُ
অনুরূপ হলো শরীফ আল-রাযীর উক্তি:
আমি দূরবর্তী মানুষদের থেকে ইনসাফ কামনা করি … অথচ আমার নিজের প্রবৃত্তি সমস্ত মানুষের চেয়েও আমার বড় শত্রু।
যুবকের প্রবৃত্তিই যদি তার বন্ধু না হয় … তবে অন্যের বন্ধুত্বের প্রতি সে যেন কোনো লালসা পোষণ না করে।
আর এর উৎস হলো বকর বিন হারিসার উক্তি:
আমার অন্তর সেই সবের দিকেই আহ্বানকারী যা আমার ক্ষতি করে … যা আমার রোগ ও বেদনা বাড়িয়ে দেয়।
আমি কীভাবে আমার শত্রু থেকে সতর্কতা অবলম্বন করব, যখন … আমার শত্রু আমার পাঁজরের মাঝেই অবস্থান করছে।
এবং তাঁর উক্তি: (হে চক্ষু, একদল লোকের দর্শন তোমার আবর্জনার মতোই) ইত্যাদি, এটি একটি চমৎকার ভাবার্থ, তবে এ ক্ষেত্রে অন্যেরা তাঁর অগ্রগামী হয়েছেন। আস-সা'আলিবি বলেছেন: কৈশোরকালে আমার মাথায় এক চমৎকার ভাবনার উদয় হয়েছিল, যা ইতিপূর্বে আর কেউ বলেনি বলে আমি মনে করেছিলাম, আর তা হলো:
আমার অন্তর অনুরাগে প্রজ্জ্বলিত … এবং দুশ্চিন্তায় নিমগ্ন।
আর প্রেমের পথে তা আমাকে পরিয়ে দিয়েছে … এক বিরহী অনুরাগীর পোশাক।
এক মোহময়ী মানবী … যার সৌন্দর্যে গভীর রজনীর পূর্ণিমাও লজ্জিত।
যখনই আমার চোখ তাকে দেখে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় … অমনি তা অশ্রুজল দিয়ে গোসল করে পবিত্র হয়।
তবে ইবনে হিন্দু এ বিষয়ে তাঁর অগ্রগামী ছিলেন, তাঁর উক্তি হলো:
তারা আমাকে বলে, তোমার চোখের কী হলো যে, যখন থেকে সে এই হরিণসদৃশ সুন্দরীর রূপ অবলোকন করেছে, তখন থেকেই তার অশ্রু অবিরাম ঝরছে?
আমি বললাম, আমার চোখ তার চেহারার সৌন্দর্যে ব্যভিচার করে ফেলেছে … তাই ঝরে পড়া অশ্রুই তার জন্য পবিত্রকারী গোসল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قال أبو عليّ الفارسيّ: لستُ أعجب من توارُدِه، وإنما أعجب من قولهِ لم أُسْبَق إليه وقد قال أبو الطَّيِّب في الُحمَّى:إذا ما فاَرَقْتنيِ غسَّلتْنيِ … كأنَّا عاكِفان على حَرامِوقد سلم من شَناعة ذكر الزِّنا، وما في قُبْح لفظِه من الْخَنَا، فمعناه أَصحّ؛ لأنه ذكر في هذا الشعر مِن نفسه وزائرته ذكراً وأنثى، جرى بينهما ما يقتضي الغسلَ.وإن قيل: إن قوله) عاكفان على حرام (مِن لَغْو الكلام، وهما ذكراً، زِناً بين اثنين، ولو قال زني ناظري، أو لحظي، كان أحسن.قلتُ: هذا كله كلام ناءِ عن حُسْن الأدب، وهو سُخْف، ولكن أيُّ الرِّجال المُهذَّب، ومع ذلك فقد وقع هذا في كلام من تقدَّمهم، ومعناه أصح ودِيباجتُه ألطف وأوضح، كقول يزيد بن معاوية:وكيف تَرَى بعينٍ ترى بها … سِواهَا وما طهَّرْتَهَا بالمدامِعِأجِلُّكِ يا ليلى عن العينِ إنَّما … أراكِ بقلْبٍ خاشعٍ لك خاضعِثم مشى على أثرهم الناسُ، وولَّدوا معانيَ لا تُحصَر، كقول السِّراج الورَّاق:يا نازحَ الدَّارِ مُرْ نومي يُعاوِدْنِي … فقد بكْيتُ لفَقْدِ الظَّاعنينَ دَمَاأوْجَبْتَ غُسْلاً على عيني بأدْمُعِها … فكيف وهْيَ التي لم تبلُغِ الُحُلمَا
আবু আলী আল-ফারিসি বলেন: আমি এর পুনরাবৃত্তি দেখে বিস্মিত হই না, বরং আমি তাঁর এই দাবিতে বিস্মিত হই যে তাঁর পূর্বে কেউ এমন কথা বলেনি, অথচ আবুল তায়্যিব জ্বর সম্পর্কে বলেছেন:
যখন সে আমাকে ছেড়ে যায়, তখন সে আমাকে ধৌত করে দেয় … যেন আমরা কোনো নিষিদ্ধ কাজে রত ছিলাম।
আর এটি ব্যভিচার উল্লেখ করার কদর্যতা এবং এর শব্দের কুরুচিপূর্ণ অশ্লীলতা থেকে মুক্ত ছিল, ফলে এর অর্থটি অধিকতর সঠিক; কারণ তিনি এই কবিতায় নিজের এবং তাঁর সেই দর্শনার্থীর কথা একজন পুরুষ ও নারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটেছে যা গোসলকে আবশ্যক করে।
যদি বলা হয়: তাঁর উক্তি ‘নিষিদ্ধ কাজে রত’ কথাটি অসার প্রলাপ, আর তারা দুজনই পুরুষ, যা দুইজনের মধ্যে ব্যভিচার বুঝায়; তবে তিনি যদি বলতেন ‘আমার দৃষ্টির ব্যভিচার’ বা ‘আমার চাহনির ব্যভিচার’, তবে তা অধিকতর সুন্দর হতো।
আমি বলি: এই সব কথাই শিষ্টাচার থেকে দূরে এবং এটি মূর্খতা, তবে কোন্ মানুষটিই বা সম্পূর্ণ মার্জিত? তবুও এটি তাদের পূর্ববর্তীদের কথাতেও এসেছে, যার অর্থ অধিকতর সঠিক এবং যার প্রকাশভঙ্গি অধিকতর সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট, যেমন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার উক্তি:
তুমি সেই চোখ দিয়ে কীভাবে তাকে দেখবে যা দিয়ে অন্যকেও দেখ … অথচ তুমি চোখের পানি দিয়ে তাকে পবিত্র করোনি।
হে লায়লা, আমি তোমাকে চোখের দৃষ্টির ঊর্ধ্বে সম্মান করি, আমি তো তোমাকে কেবল … এমন এক হৃদয়ে দেখি যা তোমার প্রতি বিনীত ও অনুগত।
অতঃপর মানুষ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং অগণিত নতুন অর্থ তৈরি করেছে, যেমন সিরাজ আল-ওয়াররাক বলেছেন:
হে দূরবর্তী গৃহের অধিবাসী, আমার নিদ্রাকে ফিরে আসতে বলো … কেননা প্রস্থানকারীদের বিরহে আমি রক্তাশ্রু বিসর্জন দিয়েছি।
তুমি আমার চোখের ওপর তার অশ্রু দিয়ে গোসল আবশ্যক করেছ … অথচ সেটি তো এখনো সাবালকত্বেই পৌঁছায়নি।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
محمد الصَّالِحِيّ الهِلَاليّهُمام بعيد الْهِمَّة، قريب منال مياه الْجَمّة، له دَرارِيُّ شِيم، هي غُرَّة دُهْم اللَّيالي، وبَناتُ أَفكارٍ لم ترتضِعْ غير دَرِّ المعالي، فلا بربِّ المشرق والمغارب، إنها شموسٌ لم تزل طالعةً مِن سماء المناقب، وهي الآن شامَةٌ في وجَنات الشام، وروضة تفتَّحت أنوارُها بثغُورٍ ذاتِ ابْتِسام.ومن سُنَّتِه الاعْتزالُ عن الناس، وتقديمُ الوَحْشة على الاسْتِئْناس، مُنقطعاً لاقْتِطاف زهرات العلوم، يمدُّ لِقِرَى الأسماع موائدَ المنثور والمنظوم، في زهدٍ مُتحَلٍّ بخِلاله، تَدِقّ صفاتُ المدح عن معاني جَلاله، بعزمٍ هو أبو العجَب، لو قُدِح زَنْدُه لَهَبَّ له لَهَب، وخَطٍّ تُسَرّ به النُّفوس، وتُوَشَّى بدِيباجِه الطُّروس.خطٌّ زهَتْ أزهارُه … والروض يُنْبِتُه السَّحابْ.وشعرُه شَقِيق الرياض، المُطَّرِدة الحِياض، تُسْتَخرج الجواهرُ من بحوره، وتُحَلَّى لَبَّات الطُّروس بقلائد سطورِه، لم يصْرِفه لمدح كريم، ولا تغزَّل بمليحٍ كريم، ولعَمْري
মুহাম্মাদ আস-সালিহি আল-হিলালিতিনি এক উচ্চাভিলাষী মহাপ্রাণ ব্যক্তি, যাঁর লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী এবং যাঁর দয়া ও ঔদার্যের বারিধারা অতি নিকটবর্তী। তাঁর চরিত্রমাধুরী উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির ন্যায়, যা ঘোর কৃষ্ণবর্ণ রজনীর ললাটদেশের শুভ্র তিলকস্বরূপ। তাঁর চিন্তাপ্রসূত গবেষণাকর্মসমূহ শ্রেষ্ঠত্বের দুগ্ধ পান করেই লালিত-পালিত হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিমের রবের শপথ! তাঁর এই কীর্তিসমূহ যেন প্রশংসার আকাশ থেকে উদিত চিরভাস্বর সূর্য। বর্তমান সময়ে তিনি শাম ভূখণ্ডের গণ্ডদেশের সৌন্দর্যতিলক এবং এমন এক উদ্যান, যার কুঁড়িগুলো স্মিত হাস্যের ন্যায় প্রস্ফুটিত হয়েছে।জনবিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করা ছিল তাঁর নীতি, আর তিনি সামাজিকতার চেয়ে নির্জনতাকেই প্রাধান্য দিতেন। ইলমের ফুল আহরণে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ। শ্রোতাদের শ্রুতিসুখ প্রদানের জন্য তিনি গদ্য ও পদ্যের আসর সাজাতেন। তিনি ছিলেন গুণাবলি মণ্ডিত এক জাহিদ ব্যক্তি, যাঁর মহত্ত্বের তুলনায় স্তুতিবাক্যও তুচ্ছ মনে হয়। তাঁর সংকল্প ছিল বিস্ময়কর; যদি তাতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছিটানো হতো, তবে তা প্রজ্জ্বলিত শিখায় পরিণত হতো। তাঁর হস্তলিপি ছিল চিত্তাকর্ষক, যা কাগজের পৃষ্ঠাকে রেশমি অলংকারে সুশোভিত করত।এমন এক হস্তলিপি যার পুষ্পরাজি বিকশিত হয়েছে … আর মেঘমালা সেই উদ্যানকে সজীব করে তোলে।তাঁর কবিতা ছিল প্রবহমান জলাধার বিশিষ্ট বাগিচার সহোদর তুল্য। তাঁর সেই কবিতার সমুদ্র থেকে মণি-মুক্তা আহরণ করা হয় এবং তাঁর পঙ্ক্তিমালা রূপী কণ্ঠহার দ্বারা কাগজের বক্ষদেশ সুশোভিত হয়। তিনি স্বীয় কাব্যপ্রতিভাকে কোনো দাতার গুণকীর্তনে ব্যয় করেননি এবং কোনো সুন্দরের সাথে প্রেমালাপেও মগ্ন হননি। আমার জীবনের শপথ—
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
إِنه قطَع منه مَيداناً لم يصِلْ إليه الكُمَيْت، ونَقَّي ألفاظَه وهذَّب معانيه فلم يقُل فيه) لو (ولا) ليت (.وبالجملة فهو في عصره إمام الدب المُقتدَى به، والبليغ الذي لا تُثْمِر أغصانُ الأقلام إلا في رياض آدابه.ولما قدِم القاهرة أفاض عليَّ لباسَ مودة لم تُبْلَ عهودُها، ألا حبَّذا إخْلاقُها وجديدُها، ووَرّقُ الدنيا خَضِر، وعُود الشباب غَضُّ نَضر، والأدب لم يَعْفُ منارُه، ولم تَخْبُ نارهُ وأنوارُه، لا كاليوم إذ حام قومٌ حول حِماه، فوقعوا في ظُلماتٍ ليس فيها عينُ الحياة، وهو إذ ذاك أستاذ ومَلاذ، تذوق أفهامُنا من موائد فوائده أنواعَ الملَاذّ، فأتْحَفي بطُرَف أشعاره، ونزَّه أحْدقَ فكري في حدائق آثارِه، فأسكر سمْعِي بسُلافةٍ أدارتْها كؤوسُ بيانهِ، وتقلَّدتُ بمذهب البُحْتُرِي في اجْتناءِ الورد من أغصانِه:واْسمَعْهُ ممَّن قاله تَزْدَدْ بهِ … عجباً فحسْن الوْردِ في أغْصانِهِطالعتُ له فصلا في ديوانه، الذي سماه) صدح الحمام، في مدح خير الأنام (ذكر فيه نُبذاً من صفاتِه، ومعاهِد أُنْسِه ولَذَّاتِه، ومسارحِ آرام تِربه ولِدَاتِه، وهو) إني لَّما نشأتُ بمكة المُشرّفة، والأماكن التي هي بالجَوْزاء مُمَنْطَقة، وبالثُّرَيَّا مُشَنَّفَة، وكساني الزمانُ قَشيِبَ برُودِه، وطفِقْت أرْفُل ما بين عَقِيق
নিশ্চয়ই তিনি সাহিত্যের এমন এক ময়দান অতিক্রম করেছেন যেখানে আল-কুমাইতও পৌঁছাতে পারেননি। তিনি এর শব্দাবলিকে পরিচ্ছন্ন করেছেন এবং এর ভাবধারাকে মার্জিত করেছেন, ফলে তিনি এতে 'যদি' কিংবা 'হায়' জাতীয় আক্ষেপের শব্দ ব্যবহার করেননি।সারকথা এই যে, তিনি তাঁর যুগের এক অনুসরণীয় সাহিত্যের ইমাম এবং এমন এক বাগ্মী পুরুষ, যাঁর সাহিত্যের উদ্যান ব্যতিরেকে কলমের শাখাগুলো ফলপ্রসূ হয় না।যখন তিনি কায়রোতে আগমন করলেন, তখন তিনি আমাকে এমন এক প্রীতির চাদরে আবৃত করলেন যার প্রতিশ্রুতিগুলো কখনও জীর্ণ হয়নি; আহা, এর পুরাতন ও নতুনের মিশেল কতই না মনোরম! তখন পৃথিবীর বৃক্ষপল্লব ছিল সবুজ এবং যৌবনের ডাল ছিল সজীব ও প্রাণবন্ত। সাহিত্যের মিনার তখন ম্লান হয়ে যায়নি এবং তার অগ্নি ও আলোকশিখা নির্বাপিত হয়নি; আজকের দিনের মতো নয়, যখন একদল লোক তার পবিত্র সীমানার চারপাশে বিচরণ করে এমন এক অন্ধকারে নিপতিত হয়েছে যেখানে জীবনের সঞ্জীবনী সুধার দেখা নেই। সে সময়ে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক ও আশ্রয়স্থল; আমাদের বোধশক্তি তাঁর জ্ঞানের দস্তরখান থেকে হরেক রকমের আস্বাদন গ্রহণ করত। তিনি আমাকে তাঁর চমৎকার সব কাব্য উপহার দিলেন এবং তাঁর অবিনশ্বর কীর্তিসমূহের উদ্যানে আমার চিন্তার দৃষ্টিকে প্রশান্ত করলেন। তিনি তাঁর প্রাঞ্জল বর্ণনার সুধাভরা পেয়ালার মাধ্যমে আমার শ্রবণেন্দ্রিয়কে বিম্ময়াবিষ্ট করলেন এবং আমি তাঁর কাব্যের শাখা থেকে পুষ্প আহরণ করার ক্ষেত্রে আল-বুহতুরির পন্থাই অবলম্বন করলাম:আর যে ব্যক্তি তা রচনা করেছেন তাঁর নিকট থেকেই তা শ্রবণ করো, এতে তোমার বিস্ময় আরও বৃদ্ধি পাবে; কারণ গোলাপের সৌন্দর্য তো তার ডালপালার ওপর থাকা অবস্থাতেই শ্রেষ্ঠতর।আমি তাঁর দিওয়ানের একটি পরিচ্ছেদ পাঠ করেছি, যেটির নাম তিনি রেখেছেন (সাদহুল হামাম ফী মাদহি খাইরিল আনাম—সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের প্রশংসায় কপোতের কুজন)। তিনি সেখানে তাঁর কিছু গুণাবলি, তাঁর সাহচর্যের স্থান ও আনন্দসমূহ এবং তাঁর সমবয়সীদের সাথে সময় কাটানোর চারণভূমিগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। আর তা হলো: "নিশ্চয়ই আমি যখন সম্মানিত মক্কায় এবং সেই সকল স্থানে লালিত-পালিত হয়েছি যা জাওযা নক্ষত্রপুঞ্জ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ দ্বারা বিভূষিত; আর কাল যখন আমাকে তার নতুন কারুকার্যখচিত পোশাক পরিধান করাল এবং আমি আকিক প্রান্তরের মধ্য দিয়ে গর্বভরে বিচরণ করতে শুরু করলাম..."
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الحِمى وزَرُودِه، وغُصن الصَّبا بأيام السعادة مُورِق، وبدْر الشَّباب في سماء الكمال مُشْرِق، لا دَأَب لي ألَاّ توسُّم وفود في سوق عُكاظِها، ولا شُغْل لي إلا استكشاف وسائِم وجوهِ المعاني المُخبَّأة تحت براقع تحت براقع ألفاظِها، ثم لما بطلت حركة الدَّوْر، وتنقَّل الزمانُ من طَوْر إلى طَوْر، أْعمَلْنا حُروف النَّجائب تنُصُّ بنا البَيْداء في سُرَاها، ولطمْنا خَدَّ الأرض بأخْفافِها إلى أن بَرَاها السُّرَى في بُرَاها، فكم جاوَزْنا جبالاً شوامِخ زاحمتْ بمناكِبها أكتاف السَّحائب، وذَرْعنا بأذْرُع النَّاجِيات شُقَّة قّفْز لم تُطْوَ إلَاّ بأيْدِي الرّكائب، فكم مَن راسلْتُه وراسلنِي برائق شِعْره وسَجْعه، وأدار وأدرْتُ كؤوسَ قوافي شعره على أواه سمْعِه، وزفَفْتُ عليه عرائسَ أفكاري استجلاباً لِوِدَادِه، وتلوْتُ علي غرائبَ أسْماري استقْداحاً لِوَارِي زِنَادِه.وهُنَّ عَذارىَ مهرُها الوُدُّ لا النَّدَى … وما كلُّ مَن يُعْزَى إلى الشِّعر يَسْتَجدِىانتهى.هذه نُبْذة من نِثاره نَثْره، وسأُفَرِّط سمْعَك بجواهِر شعره.وكنت كتبتُ له قصيدة تائيَّة، مُلغِزاً من شعر الصِّبا، الذي يحسُد مُهَلْهَلَ بُرْدِه في رِقّتِه نسيمُ الصَّبا، لا كما قال البَاخَرْزِيّ هو التَّمْر باللِّبا، فهو باكورة
হিমী ও যারুদের প্রান্তর, সুখের দিনগুলিতে সেখানে যৌবনের শাখা ছিল পল্লবিত এবং পূর্ণতার আকাশে তারুণ্যের পূর্ণিমা ছিল ভাস্বর। উকাযের সাহিত্য-বাজারে আগত কাফেলাসমূহের চিহ্ন অন্বেষণ ব্যতীত আমার অন্য কোনো সংকল্প ছিল না, আর শব্দের নেকাবের নিচে লুকায়িত অর্থের সুন্দর মুখাবয়বসমূহের রহস্য উন্মোচন করা ব্যতীত আমার অন্য কোনো ব্যস্ততা ছিল না। অতঃপর যখন সময়ের আবর্তন স্তব্ধ হলো এবং কাল এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে স্থানান্তরিত হলো, তখন আমরা দ্রুতগামী উষ্ট্রসমূহকে চালিত করলাম যারা রাতের ভ্রমণে আমাদের নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দিচ্ছিল। আমরা তাদের খুর দিয়ে জমিনের গণ্ডদেশে আঘাত করলাম, এমনকি রাতের নিরন্তর পথচলা তাদের অত্যন্ত জীর্ণ ও শীর্ণ করে ফেলল। কত সুউচ্চ পর্বতমালা আমরা অতিক্রম করেছি যারা তাদের কাঁধ দিয়ে মেঘমালার স্কন্ধদেশকে ধাক্কা দিচ্ছিল। আমরা দ্রুতগামী উষ্ট্রীদের বাহুর সাহায্যে মরুভূমির এমন বন্ধুর পথ মেপেছি যা কেবল আরোহী পশুর হাতের মাধ্যমেই গুটিয়ে আনা সম্ভব ছিল। আমি অনেকের সাথে পত্র বিনিময় করেছি এবং তারাও আমার সাথে তাদের চমৎকার কবিতা ও গদ্যের মাধ্যমে পত্রালাপ করেছে। সে তার কবিতার অন্ত্যমিলের পেয়ালা আমার কর্ণকুহরে ঢেলেছে আর আমিও তার কানে আমার পেয়ালা ঘুরিয়েছি। তার ভালোবাসা লাভের আশায় আমি আমার চিন্তা-বধুদের তার কাছে উপস্থাপন করেছি এবং তার ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে প্রজ্বলিত করার জন্য আমার বিস্ময়কর সান্ধ্যকাহিনীসমূহ তার সামনে পাঠ করেছি।আর তারা হলো এমন কুমারী যাদের মোহরানা হলো ভালোবাসা, সম্পদ নয় … আর কবিতার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া মানেই এই নয় যে সে যাচ্ঞা করছে।সমাপ্ত।এটি তার গদ্যের কিছু অংশ, অচিরেই আমি তার কবিতার মণি-মুক্তা দিয়ে আপনার শ্রবণেন্দ্রিয়কে অলঙ্কৃত করব।আমি তার প্রতি একটি 'তা-ঈয়্যাহ' কাসিদা লিখেছিলাম, যা ছিল যৌবনকালের কবিতার ধাঁধাস্বরূপ; যার সূক্ষ্মতার কারণে প্রভাতী সমীরণ তার সেই জীর্ণ চাদরের কোমলতাকেও ঈর্ষা করত। আল-বাখারযী যেমনটি বলেছিলেন যে এটি ননীযুক্ত খেজুর—তা তেমন নয়, বরং এটি হলো মৌসুমের প্রথম ফল।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
ثمرات الآداب، بل الرَّوْض الأرِيض، الذي سُقِيَ من ماء الشَّباب، فأجاب وأجاد، وصَفَّى من قَذَى الكَدَر مواردَ الوِدَاد، وهذه، كواكبُها المُشرِقة في دياجي نفسِه، وثمراتها الزَّاهية في رِياض طِرسِه:طالتْ وقد قصُرتْ عنها العباراتُ … وحازتِ الحُسْنَ هاتِيكَ البَراعاتُغرَّاءُ فائقةٌ باللُّطفِ رائقةٌ … تحلُو الْخَلاعاتُ فيها والصَّباباتُأختُ الغزالةِ إشْراقاً ومُلتَفَتاً … لها لدَى السَّمعِ لذَّاتٌ ونَشْآتُنسِيِبُها أطربَ الأسماعَ مَوقِعُهُ … ومدحُها مالَه في الْحُسنِ غاياتُكأنَّ حُرَّ معانيها ورِقَّتهَا … في لفظِها الخمرُ تجلُوه الزُّجَاجاتُيحلُو المُكرَّر من ألفاظِها ولَكمْ … مُلَّ المُكرَّرُ طبْعا والمُعاداتُأتتْ إليَّ وبدرُ الفكرِ مُنخسِفٌ … ومالَه في سماَ الإدْراكِ هالاتُوللهمومِ اطِّرادٌ في الفؤادِ كما … ضَمَّتْ عِتاقَ الْمَذَاكي الجُرْدَ حَلْباتُأسامِر النَّجمَ في الليلِ الطويلِ ولا … أغفُو وكم لعُيونِ النَّجمٍ غَفواتُفقمتُ في الحالِ إجلالاً لها وسَرتْ … عنِّي الهمومُ وزارَتنيِ المسرَّاتُوظَلْتُ مُنتصِباً لمَّا ارتفعت بها … وكان عندي بذلِّ النَّفسِ كسراتُقبَّلْتهُا ألفَ ألفٍ ثم زِدْتُ فلم … أحسِبْ وكم للكثيرِ العدِّ غَلْطاتُوكان أُفْقُ زماني مُظلِماً فبدَا … فيه شِهابٌ لنا منهُ إناراتُشهابُ علمٍ ولكن نوره أبداً … بالذَّاتِ ما عرَضتْ فيه الإضاءاتُ
শিষ্টাচারের ফলসমূহ, বরং এটি এক সুরভিত উদ্যান, যা তারুণ্যের বারিধারায় সিক্ত হয়েছে; ফলে তা প্রস্ফুটিত ও চমৎকার হয়েছে এবং সৌহার্দ্যের উৎসগুলোকে আবিলতার পঙ্কিলতা থেকে নির্মল করেছে। আর এগুলো হলো তার অন্তরের অন্ধকারে উদিত উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি এবং তার পাণ্ডুলিপি-রূপ উদ্যানের প্রফুল্ল ফলসমূহ:এটি সুউচ্চ হয়েছে অথচ বর্ণনা এর মহিমা প্রকাশে সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে … আর সেই অনন্য নৈপুণ্যসমূহ সৌন্দর্যকে করায়ত্ত করেছেএটি জ্যোতির্ময়, শ্রেষ্ঠ ও মাধুর্যে চমৎকার … যাতে চপলতা ও প্রেমাসক্তিও সুমধুর হয়ে ওঠেএটি উজ্জ্বলতা ও চাউনিতে হরিণীর ভগিনী স্বরূপ … শ্রবণের নিকট এর রয়েছে অনাবিল স্বাদ ও নব উন্মেষএর প্রেমগীতি যেখানেই ঝঙ্কৃত হয় শ্রোতাকে বিমোহিত করে … আর এর প্রশংসাগাথার সৌন্দর্যের কোনো সীমা নেইমনে হয় যেন এর শ্রেষ্ঠ অর্থাবলী ও সূক্ষ্মতা … এর শব্দের অবয়বে এমন সুরা যা স্ফটিক পাত্রসমূহ প্রকাশ করছেএর শব্দাবলির পুনরাবৃত্তিও মিষ্ট লাগে, অথচ কতই না … পুনরাবৃত্তি ও পৌনঃপুনিকতা স্বভাবত বিরক্তির উদ্রেক করেএটি আমার নিকট তখন এলো যখন চিন্তার পূর্ণিমা চন্দ্র গ্রহণগ্রস্ত ছিল … আর উপলব্ধির আকাশে তার কোনো জ্যোতির্বলয় ছিল নাহৃদয়ে দুশ্চিন্তার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ এমন ছিল যেমনটি … প্রতিযোগিতার ময়দানে দ্রুতগামী তেজি ঘোড়াসমূহকে বেষ্টন করে রাখেদীর্ঘ রজনীতে আমি নক্ষত্রের সাথে কথা বলি এবং … নিদ্রা যাই না, অথচ নক্ষত্ররাজির চোখেরও কত তন্দ্রা রয়েছেআমি তাৎক্ষণিকভাবে এর সম্মানে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং … আমার থেকে দুশ্চিন্তা অপসারিত হলো ও আনন্দের আগমন ঘটলযখন আমি এর দ্বারা সমুন্নত হলাম তখন আমি সোজা হয়ে দণ্ডায়মান হলাম … অথচ ইতিপূর্বে হীনম্মন্যতায় আমার মাঝে ভাঙন ছিলআমি একে লক্ষ লক্ষ বার চুম্বন করলাম অতঃপর আরও বাড়িয়ে দিলাম কিন্তু … গণনা করিনি; কারণ অনেক বড় গণনায় কতই না ভুল হয়ে থাকেআমার সময়ের দিগন্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল, অতঃপর তাতে প্রকাশ পেল … আমাদের জন্য একটি জ্যোতিষ্ক যার থেকে আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হচ্ছেএটি জ্ঞানের জ্যোতিষ্ক, তবে এর জ্যোতি সর্বদা … সত্তাগত, এতে আলোকসম্পাত কোনো আকস্মিক বিষয় নয়
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣١)
غُذِّي بدَرِّ لِبانِ الفضلِ مُذ زَمنٍ … فشَبَّ كالنَّارِ لا تعرُوه فَتْراتُشيخُ العلومِ ومِفْتاحُ الفُهومِ وغَلَاّ … بُ الخضومِ إذا عنَّتْ مُلاحاةُباهَتْ به أرضُ مصرٍ وازدهَتْ فلِذاَ … قد كاد أن تحسِدَ الأرضَ السَّمواتْقد شاد بيْتَ العُلا فوق السُّهى وله … مِن فوق ذاك مَقاماتٌ عَلِيّاتُتسْتَنُّ أفلامُه في الطِّرسِ من ضرَرٍ … كأنَّها عند نَفْثِ السُّمِّ حيَّاتُفيها النَّقيضانِ مِن نَفْعٍ ومِن ضرَرٍ … ذاك الأمانِيُّ إذ ذاك المَنِيَّاتُمهْمَا اغتدَتْ طَوْعَ باريها مُلازِمةً … للخَمْس تغدُو لها في الطِّرس سَجْداتُأشعارُه الغُرُّ مثلُ الدُّرِّ قد نُظِمتْ … منها عقودٌ ولكن لُؤلُؤيَّاتُما إن حسَا كاسُ سمْعي من سُلافتِها … إلا اعْتَرتْنِي لفَرْطِ السٌّكْر نَشْواتُلِلّهِ أحجِيةٌ منه أتت فسَرتْ … منها إلى السَّمْعِ نَفْحاتٌ زَكِيَّاتُوأَذْكَرتْني بأن القُدسَ مِن سكَنِي … وبانَ بالْبَان من شَكْوايَ مَيْلاتُوالوُرْقُ رقَّتْ لِمَا ألقاه ساجعةً … كأنها فوقَ غُصنِ الْبانِ قَيْناتُوأنت يا أفضلَ العصرِ الذي اجْتمعَتْ … فيه العلومُ وفي الدَّهْماءِ أشْتاتُسامحْ إذا هفوةٌ للذهن قد عرَضتْ … فكم لمِثلِيَ بالتَّقْصير هَفْواتُفسيفُ فكريَ لا لافَيْتُ فيه صدَا … وكم له عندما أرجوه نَبْواتُوالجسمُ في غُرْبةٍ والقلبُ في وطنٍ … لم تُدْنهِ منه أيامٌ ولَيْلاتُ
বহুকাল পূর্ব হতেই তিনি শ্রেষ্ঠত্বের দুগ্ধে লালিত-পালিত হয়েছেন … অতঃপর তিনি আগুনের ন্যায় তেজস্বী হয়ে উঠেছেন যার কোনো বিরাম নেই।তিনি জ্ঞানবিজ্ঞানের শাইখ এবং বোধশক্তির চাবিকাঠি; … বিতর্ক দেখা দিলে তিনি প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল বিজয়ী।মিসরের ভূমি তাঁকে নিয়ে গর্বিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে, যার ফলে … আকাশমন্ডলী যেন প্রায় এই জমিনকে ঈর্ষা করতে শুরু করেছে।তিনি সুহা নক্ষত্রের ঊর্ধ্বে মহিমার গৃহ নির্মাণ করেছেন এবং তাঁর জন্য … তারও উপরে রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ।কাগজের পৃষ্ঠায় তাঁর কলমসমূহ ক্ষিপ্রতার সাথে বিচরণ করে, … যেন বিষ উদগিরণকালে তারা একেকটি বিষধর সর্প।তাতে উপকার ও অপকার—উভয় বিপরীতধর্মী গুণ বিদ্যমান; … ওগুলো হলো আকাঙ্ক্ষা আর এগুলো হলো মৃত্যু।যখনই তা আপন স্রষ্টার অনুগত হয়ে অবিচল থাকে, … তখন পঞ্চ (আঙুলের) অনুগামী হয়ে কাগজের বুকে তা সিজদাবনত হয়।তাঁর উজ্জ্বল কাব্যগাঁথা মুক্তার ন্যায় সুবিন্যস্ত হয়েছে, … সেগুলো যেন কণ্ঠহার, তবে নিতান্তই মুক্তাসদৃশ।আমার কর্ণের পেয়ালা যখনই সেই কাব্যসুধা পান করেছে, … তখনই অত্যধিক মত্ততায় আমাকে এক অপার্থিব আমেজ গ্রাস করেছে।আল্লাহরই তরে তাঁর পক্ষ থেকে এক প্রহেলিকা এসেছে যা হতে … শ্রবণের দ্বারে পবিত্র সুবাস প্রবাহিত হয়েছে।এটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে আল-কুদস আমার আবাসস্থল, … আর বান বৃক্ষের মাধ্যমে আমার অনুযোগের দিকগুলো স্পষ্ট হয়েছে।আর কপোতসমূহ আমার আবৃত্তিতে ব্যথিত হয়ে সমস্বরে গেয়ে উঠেছে, … যেন তারা বান বৃক্ষের শাখার উপরে উপবিষ্ট গায়িকা।হে সমকালের শ্রেষ্ঠ পুরুষ! যাঁর মাঝে … সেই জ্ঞানসমূহ একত্রিত হয়েছে যা সাধারণ মানুষের নিকট বিক্ষিপ্ত অবস্থায় আছে।যদি মনের কোনো বিচ্যুতি ঘটে তবে ক্ষমা করবেন, … কেননা আমার ন্যায় অধমের কতই না ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে থাকে।আমার চিন্তার তরবারিতে যেন কখনো মরচে না ধরে, … যদিও প্রত্যাশার সময় তা কতবারই না লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।দেহ পরবাসে আর অন্তর স্বদেশে রয়ে গেছে, … দিন ও রজনী তাকে তার স্বদেশের নিকটবর্তী করতে পারেনি।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
والبالُ في قلقٍ والنفسُ في شجَنٍ … يعتادُها لفراقِ الإلْفِ زَفْراتُفأيُّ شخصٍ بهذا الوصْفِ مُتَّصِفٍ … تُطِيُعه مِن قوافي الشعر أبْياتُبقيتَ مُفْرَدَ علمٍ للهُدى علماً … يُجلَى به الجهلُ عنَّا والضَّلالاتُودُمْتَ طَوْدَ حِجّى في الجُود بَحْرَ ندًى … تأْتى إليه المعالِي والْكَمالاتُما لاح نَجْمٌ على الْخَضْراءِ مُتَّقِدٌ … ومارعَتْهُ الجِيادُ الأعْوجِيَّاتُ) سانحة (في قوله:) رعته (استخدام لعَوْدِه إلى النجم، بمعنى الكوكب، على ملاحظة معنى النَّبْت.وقد يتعدَّد ذلك، كما في قول ابن الْوَرْدِيّورُبَّ غزالةٍ طلَعتْ … بقْلبِي وهْو مَرْعاهَا
মন অস্থিরতায় ব্যাকুল এবং আত্মা শোকাতুর … প্রিয়জনের বিচ্ছেদে তাকে ঘনঘন দীর্ঘশ্বাস আচ্ছন্ন করে।এমন বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত আর কে আছে … যার প্রতি কবিতার ছন্দ ও পঙ্ক্তিমালা অনুগত হয়।আপনি হিদায়াতের এক অনন্য আলোকবর্তিকা হয়ে বেঁচে থাকুন … যার মাধ্যমে আমাদের থেকে মূর্খতা ও বিভ্রান্তি অপসারিত হয়।আপনি প্রজ্ঞার অটল পাহাড় এবং দাক্ষিণ্যে বদান্যতার সমুদ্র হয়ে থাকুন … যার সমীপে উচ্চ মর্যাদা ও পূর্ণতাগুলো উপস্থিত হয়।যতদিন নীল আকাশপটে কোনো প্রজ্বলিত নক্ষত্র চমকাবে … এবং উচ্চবংশীয় তেজী ঘোড়াগুলো তাকে চারণভূমি হিসেবে গ্রহণ করবে।) একটি পর্যবেক্ষণ (তাঁর উক্তি: "রআতহু" (সেটি চরেছে) শব্দটির ব্যবহার মূলত নক্ষত্র বা গ্রহের দিকে প্রত্যাবর্তনের জন্য, যেখানে উদ্ভিদের অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে।এমন ব্যবহার একাধিক ক্ষেত্রে হতে পারে, যেমন ইবনুল ওয়ার্দির উক্তিতে রয়েছে:কতই না হরিণী উদিত হয়েছে … আমার হৃদয়ে, আর সেটিই তার বিচরণস্থল।
(খণ্ড: ১)
রাইহানাতুল আলবা ওয়া যাহরাতুল হায়াতিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وقالتْ لي وقد صِرْنا … إلى عيْنٍ قصدْناهَابذلْتَ العيْنَ فاكْحُلْها … بطَلْعتِها ومجْراهَاوقد يكون الاسْتِخدام بالضمير، من غير اشتراك أيضاً، كما في قوله تعالى:) وَمَا يُعَمَّرُ مِنْ مُعَمَّرٍ ولَا يُنْقَصُ مِنْ عُمُرِهِ (.وقد يكون بالضمير المُستتِر في حالٍ ونحوها، كقولك:بذلْتَ العيْنَ جاريةً … مُكحَّلةً وطالعةًوقد يكون بالتمييز من غير ضمير، كقوله في هذه القصيدة:أُخْتُ الغزالةِ إشراقاً ومُلتَفَتاًوقد يكون باسْم الإشارة، كقولي:رأَى العقيقَ فأجْرَى ذاكَ ناظِرُهوقد يكون بالاسْتِثْناءِ كقول الْبَهاَء زُهَيْر:أبداً حديثي ليس بالْ … منسوخ إلَاّ في الدَّفاتِرْفذكر النَّسْخ بمعنى الإبطال، واستثنى منه بمعنى الكتابة. وهو استثناء غريب، يحتاج إلى نظرٍ دقيق في إدخاله في أحد نوعيْه.وله من قصيدة:وتجرَّدَتْ بيضُ الصِّفاحِ وأُلْبِستْ … عَلَقَ النَّجِيِعِ كَحُلةٍ حمْراءِ
সে আমাকে বলল যখন আমরা পৌঁছেছি … একটি ঝরনার কাছে যেটির সংকল্প আমরা করেছিলাম।তুমি চোখ দান করেছ, সুতরাং তার চেহারা ও প্রবাহ দিয়ে তাকে সুরমা মন্ডিত করো।আর কখনো কখনো ইস্তিখদাম (একটি শব্দের একাধিক অর্থ গ্রহণ) সর্বনামের মাধ্যমে হয়, অংশীদারিত্ব ব্যতীতই; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর কোনো দীর্ঘায়ু ব্যক্তিকে দীর্ঘায়ু দান করা হয় না এবং তার আয়ু থেকে হ্রাস করা হয় না।"আবার কখনো কখনো এটি 'হাল' (অবস্থা) বা অনুরূপ ক্ষেত্রে উহ্য সর্বনামের মাধ্যমে হতে পারে, যেমন তোমার উক্তি:তুমি প্রবাহিত ঝরনাটি দান করেছ … যা সুরমা মাখা এবং প্রকাশিত।আর কখনো এটি সর্বনাম ছাড়াই 'তাময়িজ' (স্পষ্টকরণ)-এর মাধ্যমে হতে পারে, যেমন এই কাসিদায় কবির উক্তি:উজ্জ্বলতায় ও গ্রীবা ফেরানোর ভঙ্গিতে সে হরিণীর বোন।আবার কখনো ইশারাসূচক বিশেষ্যের মাধ্যমেও হতে পারে, যেমন আমার উক্তি:সে আকীক দেখল, ফলে তার চক্ষুদ্বয় তা প্রবাহিত করল।আবার কখনো ব্যতিক্রমের (ইস্তিসনা) মাধ্যমে হতে পারে, যেমন বাহাউদ্দিন জুহাইরের উক্তি:আমার কথা কখনো রহিত … নয়, তবে পাণ্ডুলিপি বা খাতাপত্র ব্যতীত।এখানে তিনি 'নাসখ' শব্দটিকে বাতিল বা রহিত করা অর্থে উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে অনুলিপি করা বা লেখা অর্থে ব্যতিক্রম করেছেন। এটি একটি বিরল ব্যতিক্রম, একে (ইস্তিখদামের) কোনো একটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম পর্যালোচনার প্রয়োজন।তার অন্য একটি কাসিদায় রয়েছে:সাদা তলোয়ারগুলো কোষমুক্ত হলো এবং তাদের পরিধান করানো হলো … জমাটবদ্ধ ঘন রক্ত, লাল লাবণ্যময় পোশাকের মতো।