(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: -)
نهاية الإيجاز في سيرة ساكن الحجاز القسم: السيرة النبوية
الكتاب: نهاية الإيجاز في سيرة ساكن الحجاز
المؤلف: رفاعة رافع بن بدوي بن علي الطهطاوي (ت 1290هـ)
الناشر: دار الذخائر - القاهرة
الطبعة: الأولى - 1419 هـ
عدد الصفحات: 514
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নিহায়াতুল ইজায ফি সিরাতি সাকিনিল হিজায বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: নিহায়াতুল ইজায ফি সিরাতি সাকিনিল হিজায
লেখক: রিফায়া রাফি বিন বাদাবি বিন আলী আত-তাহতাওয়ী (মৃত্যু ১২৯০ হিজরি)
প্রকাশক: দারুজ জাখায়ির - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৭)
تعريف الدرس الذى نسيه المبطلون: أدب الاختلاف في الإسلامبسم الله الرحمن الرحيم
كانت لفتة لطيفة صائبة عند ما نبّهنى بعض الأصدقاء إلى إمكان أن نصدر فى (الذخائر) كتابا ذا طابع يتمشى مع شهر رمضان المبارك، ثم كانت اللفتة اللطيفة الاخرى باقتراح كتاب الطهطاوى في سيرة النبى صلى الله عليه وسلم.
لقد كان ذلك منذ فترة قبل أن نسمع بما سمعنا من تعرّض بعضهم لشخص الرسول صلى الله عليه وسلم ودعوته وطبيعة رسالته، وهو تعرّض يسىء إلى صاحبه ولا يسىء إلى من قصدت الإساءة إليه، وذلك لأسباب، منها:
* أن هذه الصيحة التى صدرت عن أكبر رمز دينى في العالم الغربى قد ضربت في الصميم روح الحوار والتسامح التى يتداعى بها العالم كله- خاصة دول الغرب- في الاونة الأخيرة، وأظهرت جليا أن أحاديثهم في هذا الصدد هى أقرب إلى الديكور واللياقة الدبلوماسيّة منها إلى التعبير عن مواقف حقيقية لمن صدرت عنهم.
* أنها كشفت عن أن هناك تناغما بين المدّ العدوانى والطموح الاستعمارى وروح الهيمنة لدى عدد من ساسة الغرب وبين تلك الصيحات التى تصدر من هنالك وهناك بين الحين والاخر تارة باسم حرّية التعبير، وأخرى باسم التاريخ والحقيقة
… ولكنها في جميع الأحوال لا تعنى سوى دقّ ناقوس العدوان والنفخ فى الجمر حتّى يتأجج نارا قد تأتى على كل شىء.
* كذلك كشفت عن أن أحقاد الماضى باقية في ضمائرهم، حيّة في
বাতিলপন্থীরা যে পাঠটি ভুলে গেছে তার পরিচিতি: ইসলামে মতভেদের শিষ্টাচারপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এটি ছিল একটি চমৎকার ও সঠিক ইঙ্গিত যখন কিছু বন্ধু আমাকে এই সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, আমরা (আয-যাখাইর) সিরিজে পবিত্র রমজান মাসের মেজাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বই প্রকাশ করতে পারি। এরপর আরেকটি সুন্দর পরামর্শ ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাতের ওপর তাহতাওয়ীর বইটি প্রস্তাব করা।
এটি ছিল কিছুকাল আগের কথা, যখন আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্ব, তাঁর দাওয়াত এবং তাঁর রিসালাতের স্বরূপ সম্পর্কে কিছু লোকের আক্রমণাত্মক মন্তব্য শুনিনি যা আমরা পরে শুনেছি। এটি এমন এক আক্রমণ যা আক্রমণকারীর নিজেরই ক্ষতি করে, আর যাঁর অবমাননার ইচ্ছা করা হয়েছিল তাঁর কোনো ক্ষতি করে না। এর কারণগুলো হলো:
* পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে আসা এই চিৎকার সেই সংলাপ ও সহনশীলতার মূল চেতনায় কুঠারাঘাত করেছে, যার আহ্বান সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্ব—বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো—দিয়ে আসছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে যে, এই বিষয়ে তাদের কথাবার্তা বাস্তব অবস্থানের বহিঃপ্রকাশের চেয়ে বরং বাহ্যিক সাজসজ্জা এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারেরই বেশি কাছাকাছি।
* এটি উন্মোচন করেছে যে, পশ্চিমা বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদের মাঝে বিদ্যমান আগ্রাসী প্রবণতা, ঔপনিবেশিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আধিপত্যবাদী মেজাজের সাথে সেই সব চিৎকারের এক সুসংগতি রয়েছে, যা মাঝে মাঝেই এখান-ওখান থেকে কখনও বাক-স্বাধীনতার নামে, আবার কখনও ইতিহাস ও সত্যের নামে ধ্বনিত হয়
… কিন্তু সর্বাবস্থায় এগুলো আগ্রাসনের ঘণ্টা বাজানো এবং জ্বলন্ত অঙ্গারে ফুঁ দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়, যেন তা এমন এক অগ্নিশিখায় পরিণত হয় যা সবকিছুকে ভস্মীভূত করে দিতে পারে।
* অনুরূপভাবে এটি এও প্রকাশ করেছে যে, অতীতের বিদ্বেষসমূহ তাদের অন্তরে এখনো রয়ে গেছে এবং তা জীবন্ত...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৮)
ذاكرتهم مما يصدق عليه قول الشاعر:
وقد ينبت المرعى على دمن الثرى
… وتبقى حزازات النفوس كما هيا
أى أن الظاهر قد يوحى بالسلام والحبّ بينما ينطوى الباطن على نيّة الخصام والحرب.
ونحن لا ننكر حقيقة أنه (لكلّ وجهة هو مولّيها) وأن لكل إنسان أن يتحّمس لعقيدته بما تتفق فيه مع غيرها وما تختلف فيه أيضا، لكن المهم أن يتمسّك فى حديثه عن عقائد الاخرين ب (أدب الاختلاف) ، وهو مما تفتخر به الثقافة العربية عامة والإسلامية خاصة، نعم لدينا كتب تحمل عناوين: أدب السماع، أدب المعاشرة، أدب الطلب، أدب الإخوان، أدب الجليس، أدب النديم، أدب الموائد، أدب القاضى، أدب الكاتب، أدب السلطان، أدب الحروب وفتح الحصون، أدب الناطق، أدب الجدل، وفي هذه العناوين تعنى كلمة (الأدب) : المعرفة، الثقافة، الخبرة اللازمة لإحسان التصرّف بالقول أو العمل، أو حتّى الصمت، فى هذا المجال أو ذاك
… ولا شك أن أدب الجدل يعنى حسن الاستماع إلى الاخر واحترام وجهة نظره وإحسان الرّد عليه مع عدم الإساءة له حتى في موقف الخلاف معه، انطلاقا من المبدأ الأسمى الذى أرساه القران الكريم، والذى يقوم على شقين:
أحدهما: قوله تعالى لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ [الكافرون 6] .
والاخر: قوله تعالى: وَلا تَزِرُ وازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرى [الأنعام 164] .
وانطلاقا من هذا المبدأ جاء الرصيد التطبيقى الرائع الذى حكاه القران عن بعض مواقف الأنبياء في تقرير حريّة الاختيار ومسئولية كلّ عما وقع عليه اختياره دون إجبار أو ازدراء. ففى سورة البقرة- بعد أن ذكر وصية إبراهيم
তাদের স্মৃতি সেটিরই অন্তর্ভুক্ত যে বিষয়ে কবির এই উক্তিটি প্রযোজ্য:
"আবর্জনাময় মাটির ওপর তৃণভূমি জন্মাতে পারে
... কিন্তু অন্তরের ক্ষোভ বা বিদ্বেষ ঠিক আগের মতোই রয়ে যায়।"
অর্থাৎ, বাহ্যিক অবস্থা হয়তো শান্তি ও ভালোবাসার আভাস দেয়, অথচ অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকে বিবাদ ও যুদ্ধের সংকল্প।
আর আমরা এই ধ্রুব সত্যকে অস্বীকার করি না যে, "প্রত্যেকেরই একটি দিক রয়েছে যেদিকে সে মুখ ফিরায়" এবং প্রতিটি মানুষেরই অধিকার আছে নিজের আকিদাহর প্রতি অনুরাগী হওয়ার, চাই তা অন্যের আকিদাহর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হোক কিংবা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্যের আকিদাহ নিয়ে কথা বলার সময় "মতভেদের আদব" রক্ষা করা। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে সামগ্রিকভাবে আরব সংস্কৃতি এবং বিশেষভাবে ইসলামি সংস্কৃতি গৌরব করে থাকে। হ্যাঁ, আমাদের নিকট এমন সব গ্রন্থ রয়েছে যার শিরোনাম হলো: শ্রবণ-আদব, সামাজিকতার আদব, জ্ঞান অন্বেষণের আদব, ভ্রাতৃত্বের আদব, মজলিসের আদব, সহচরের আদব, ভোজসভার আদব, বিচারকের আদব, লেখকের আদব, সুলতানের আদব, যুদ্ধ ও দুর্গ জয়ের আদব, বক্তার আদব এবং তর্কের আদব। এই শিরোনামগুলোতে "আদব" শব্দের অর্থ হলো: জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কথা, কাজ বা এমনকি নীরবতার মাধ্যমে উত্তম আচরণ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা।
... আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তর্কের আদব বলতে বোঝায় অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং মতভেদের ক্ষেত্রেও তাকে তুচ্ছজ্ঞান না করে সুন্দরভাবে উত্তর প্রদান করা। এটি সেই মহান মূলনীতি থেকে উৎসারিত যা পবিত্র কুরআন সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যা দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে:
একটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন।" [আল-কাফিরুন ৬]
অন্যটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।" [আল-আনআম ১৬৪]
এই মূলনীতির প্রেক্ষাপটেই সেই চমৎকার প্রায়োগিক দৃষ্টান্তগুলো এসেছে যা পবিত্র কুরআন নবীদের বিভিন্ন অবস্থানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছে। সেখানে কোনো প্রকার জবরদস্তি বা অবজ্ঞা ছাড়াই পছন্দের স্বাধীনতা এবং নিজ পছন্দের জন্য প্রত্যেকের দায়বদ্ধতার বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন সূরা আল-বাকারায়—ইব্রাহিমের অসিয়ত উল্লেখ করার পর।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৯)
لبنيه بأن يؤمنوا بالله، ووصية يعقوب لبنيه كذلك بالإيمان بالله وتوحيده، وألايموتوا إلّا وهم مسلمون- جاء قوله تعالى تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَها ما كَسَبَتْ وَلَكُمْ ما كَسَبْتُمْ وَلا تُسْئَلُونَ عَمَّا كانُوا يَعْمَلُونَ [البقرة 134، ويتكرر في لفظ الاية 141] . فإذا لجّ العصاة في الجدال والحجاج كان التوجيه من الله لرسوله قُلْ أَتُحَاجُّونَنا فِي اللَّهِ وَهُوَ رَبُّنا وَرَبُّكُمْ وَلَنا أَعْمالُنا وَلَكُمْ أَعْمالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ البقرة 139] .
ويضرب نوح عليه السلام المثل في احترام رأى الاخرين وعدم مجاراة قومه في ازدراء مخالفيهم في العقيدة وَلا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزائِنُ اللَّهِ وَلا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَنْ يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْراً اللَّهُ أَعْلَمُ بِما فِي أَنْفُسِهِمْ إِنِّي إِذاً لَمِنَ الظَّالِمِينَ [هود 31] .
فلما أوسعوه خلافا، وتحدوه في صدق رسالته، وقالُوا يا نُوحُ قَدْ جادَلْتَنا فَأَكْثَرْتَ جِدالَنا فَأْتِنا بِما تَعِدُنا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ [هود 32] . كان جوابه الذى ألهمه الله إيّاه: قُلْ إِنِ افْتَرَيْتُهُ فَعَلَيَّ إِجْرامِي وَأَنَا بَرِيءٌ مِمَّا تُجْرِمُونَ [هود 35] .
ومعنى الاية ولفظها قريب مما جاء في الاية (25) من سورة سبأ، بعد أن مهد له بما في الاية (24) . ولكن المهم هو أن ما جاء في الايتين كان هو نهاية الاشتباك بين المتشككين والموقنين في أوائل السورة- فى الايتين 3، 6 وَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لا تَأْتِينَا السَّاعَةُ
… وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ [سبأ 3، 6] ذلك هو محور الخلاف، أما الجواب فقد جاء- كما قلنا- فى الايتين 24، 25: قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ وَإِنَّا أَوْ إِيَّاكُمْ لَعَلى هُدىً أَوْ فِي ضَلالٍ مُبِينٍ (24) قُلْ لا تُسْئَلُونَ عَمَّا أَجْرَمْنا وَلا نُسْئَلُ عَمَّا تَعْمَلُونَ.
ইব্রাহিম তার সন্তানদের আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এবং ইয়াকুবও তার সন্তানদের একইভাবে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদের অসিয়ত করেছিলেন এবং তারা যেন মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ না করে—সেই প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর বাণী এসেছে: "তারা ছিল এক উম্মত যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য। তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না।" [বাকারা ১৩৪, এবং আয়াত ১৪১-এ একইভাবে পুনরাবৃত্তি হয়েছে]। এরপর যদি পাপাচারীরা বিতর্ক ও তর্কে লিপ্ত হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের প্রতি নির্দেশনা ছিল: "বলুন, তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করছ, অথচ তিনি আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব? আমাদের জন্য আমাদের আমলসমূহ এবং তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ। আর আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ।" [বাকারা ১৩৯]।
আর নূহ আলাইহিস সালাম অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং আকিদার ক্ষেত্রে বিরোধীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার বিষয়ে তাঁর কওমের অনুকরণ না করার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: "আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে, আর আমি গায়েবও জানি না এবং আমি এও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আর তোমাদের চোখ যাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করছে, তাদের সম্পর্কে আমি বলি না যে, আল্লাহ তাদেরকে কখনও কল্যাণ দান করবেন না। তাদের অন্তরে যা আছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। অন্যথায় আমি অবশ্যই জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হব।" [হুদ ৩১]।
এরপর যখন তারা বিরোধিতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল এবং তাঁর রিসালাতের সত্যতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল, আর বলল: "হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিতণ্ডা করেছ এবং আমাদের সাথে অনেক ঝগড়া করেছ। অতএব তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও, তবে যার ভয় আমাদের দেখাচ্ছ তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো।" [হুদ ৩২]। তখন তাঁর উত্তর ছিল যা আল্লাহ তাঁকে ইলহাম করেছিলেন: "বলুন, আমি যদি তা উদ্ভাবন করে থাকি তবে আমার অপরাধ আমার ওপর, আর তোমরা যে অপরাধ করছ তা থেকে আমি মুক্ত।" [হুদ ৩৫]।
এই আয়াতের অর্থ ও শব্দশৈলী সূরা সাবার ২৫ নম্বর আয়াতে যা এসেছে তার কাছাকাছি, যা ২৪ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে ভূমিকা হিসেবে পেশ করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দুই আয়াতে যা এসেছে তা ছিল সূরার শুরুতে সন্দেহ পোষণকারী এবং দৃঢ় বিশ্বাসীদের মধ্যে যে বাকবিতণ্ডা চলছিল তার সমাপ্তি—যেমনটি ৩ ও ৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "আর কাফেররা বলে, কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না
… আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা দেখতে পায় যে, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা-ই সত্য।" [সাবা ৩, ৬]। এটিই ছিল বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আর এর উত্তর এসেছে—যেমনটি আমরা বলেছি—২৪ ও ২৫ নম্বর আয়াতে: "বলুন, আসমানসমূহ ও জমিন থেকে কে তোমাদের রিজিক দান করেন? বলুন, আল্লাহ। আর নিশ্চয়ই আমরা অথবা তোমরা সঠিক পথের ওপর রয়েছি অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত।" (২৪) "বলুন, আমরা যে অপরাধ করেছি সে সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না এবং তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না।" (২৫)।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ১০)
فيم الخلاف والتطاول إذن؟ مع أن الأمور واضحة ومقرّرة:
لنا أعمالنا ولكم أعمالكم
إن افتريته فعلى إجرامى وأنا برىء مما تجرمون
لا تسألون عمّا أجرمنا ولا نسأل عما تعملون
بل إن الاية 24 من سورة سبأ تحمل معنى رائعا، وذلك بعدم القطع بالمصيب والمخطئ من المتجادلين، وترك الأمر لحكم الله، وذلك في قوله تعالى: وَإِنَّا أَوْ إِيَّاكُمْ لَعَلى هُدىً أَوْ فِي ضَلالٍ مُبِينٍ، أحد الفريقين بالقطع (على هدى) ، والاخر (فى ضلال مبين) لكن دون تحديد، نزاهة وإنصافا للخصم المجادل، وإحقافا لأدب الخلاف.
هذه الظاهرة- الإنصاف للاخر عند الاختلاف، بعدم القطع بمن على صواب، أو عدم القطع بالأفضل، أو عدم القطع بمن ينتصر- عرفها العرب.. حسّان بن ثابت يدافع عن الرسول صلى الله عليه وسلم، ردّا على هجاء أبى سفيان بن الحارث له، يقول حسّان مخاطبا أبا سفيان:
هجوت محمد فأجبت عنه
… وعند الله في ذاك الجزاء
أتهجوه ولست له بكفء
… فشرّكما لخيركما الفداء
لاحظ الشطر الأخير (فشركما لخير كما الفداء) لم يقل الشاعر إن الرسول صلى الله عليه وسلم هو خيرهما، وإن كان مؤمنا بذلك، نزاهة وثقة بأن ممدوحه هو الأفضل وإن لم يصرّح بذلك
…الرسول صلى الله عليه وسلم قام بتطبيق أعظم الأمثلة في الأدب الاختلاف، وذلك بالتنازل عن ذكر صفته- وهى الرسالة- عند تسجيل معاهدة الحديبية، بل والتنازل عن ذكر البسملة بصورتها المعهودة، اكتفاء بكلمة (باسمك اللهم) ، وذلك نزولا
তাহলে বিরোধ ও বাড়াবাড়ি কিসের জন্য? অথচ বিষয়টি স্পষ্ট ও নির্ধারিত:
আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য
যদি আমি তা উদ্ভাবন করে থাকি তবে তার অপরাধ আমার ওপরই বর্তাবে, আর তোমরা যে অপরাধ করছ তা থেকে আমি মুক্ত
আমরা যে অপরাধ করেছি সে সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না এবং তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না
বরং সূরা সাবার ২৪ নম্বর আয়াতে এক চমৎকার অর্থ নিহিত রয়েছে; তা হলো তর্কে লিপ্ত দুই পক্ষের মধ্যে কে সঠিক আর কে ভুল তা নিশ্চিত না করে বিষয়টি আল্লাহর বিচারের ওপর ছেড়ে দেওয়া। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘নিশ্চয় আমরা অথবা তোমরা সৎপথে আছি কিংবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছি’। তর্করত প্রতিপক্ষের প্রতি সততা ও ইনসাফ প্রদর্শন এবং মতভেদের শিষ্টাচার রক্ষার্থে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ নির্ধারণ না করেই বলা হয়েছে যে, দুই দলের একটি অবশ্যই (সৎপথে) এবং অন্যটি (স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে)।
এই বৈশিষ্ট্য—মতভেদের সময় অন্যের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন, কে সঠিক তার ওপর অটল না থাকা, অথবা কে শ্রেষ্ঠ তা নিশ্চিত না করা, কিংবা কার বিজয় হবে তা নির্ধারণ না করা—আরবদের মাঝে পরিচিত ছিল। হাসসান বিন সাবিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ নিয়ে আবু সুফিয়ান বিন হারিসের কুৎসা রটনার প্রতিবাদে আবু সুফিয়ানকে সম্বোধন করে বলেছিলেন:
তুমি মুহাম্মাদের কুৎসা রটনা করেছ, আর আমি তার পক্ষ থেকে উত্তর দিয়েছি
… এবং আল্লাহর নিকট এর প্রতিদান রয়েছে
তুমি কি তার কুৎসা রটনা করছ অথচ তুমি তার সমকক্ষ নও?
… সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে নিকৃষ্ট সে তোমাদের মধ্যের শ্রেষ্ঠজনের জন্য উৎসর্গিত
শেষ চরণের (তোমাদের মধ্যে যে নিকৃষ্ট সে তোমাদের মধ্যের শ্রেষ্ঠজনের জন্য উৎসর্গিত) প্রতি লক্ষ করুন; কবি এখানে স্পষ্টভাবে বলেননি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই তাদের দুজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, যদিও তিনি মনেপ্রাণে তা বিশ্বাস করতেন। এটি ছিল প্রতিপক্ষের প্রতি তার সততা এবং এই আত্মবিশ্বাস যে, তার প্রশংসিত ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যদিও তিনি তা স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেননি
…রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মতভেদের শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম উদাহরণ প্রয়োগ করেছেন। হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পাদনের সময় তিনি নিজের বৈশিষ্ট্য—অর্থাৎ রিসালাত—উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন এবং এমনকি বিসমিল্লাহর প্রচলিত রূপটি উল্লেখ না করে কেবল ‘বিসমিকা আল্লাহুম্মা’ (হে আল্লাহ! আপনার নামে) শব্দটির ওপর সন্তুষ্ট থাকেন; আর তা করা হয়েছে [প্রতিপক্ষের দাবির] প্রতি সম্মান প্রদর্শনকল্পে।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ১১)
على رغبة مفاوض أهل مكة الذى قال: لا أعرف الرحمن، ولا أقرّ بأنك رسول الله «ولو كنا نعلم أنك رسول الله ما صددناك عن البيت ولا قاتلناك، ولكن اكتب اسمك واسم أبيك (محمد بن عبد الله) » فيقول النبى صلى الله عليه وسلم: «إنى لرسول الله، وإن كذبتمونى، وأنا محمد بن عبد الله، ثم يقول للكاتب: اكتب محمد بن عبد الله.
هذا على الرغم من اعتراض عليّ وأبى بكر وعمر، وغضبهم إلى قريب من الثورة، ولكنه أدب الاختلاف، فقد عرف صلى الله عليه وسلم أنه- وهو في موقف التفاوض مع من يخالفه في عقيدته- إنه ليس من حقه أن يفرض صفته، أو لغته الخاصة، على مخالفه، لذلك ارتضى لغة مشتركة يقرها خصمه ويوافق عليها، وإن كان في قرارة نفسه لا يرضاها.
وكم من مرة جاءته رجالات قريش يحاولون أن يثنوه عن دعوته بالتهديد تارة والترغيب أخرى، وكان يعلم سلفا أن عروضهم مرفوضة، ولكنه كان ينصت إلى ما يقولون ويستمع إليه ويناقشه ويرد عليه في موضوعيّة ورحابة صدر. وتحمل كتب السيرة الكثير من أخبار هذه المفاوضات، من أشهرها ما دار بينه وبين عتبة بن ربيعة الذى جاء إلى الرسول فقال:
«يا ابن أخي إنك منا حيث قد علمت، وإنك قد أتيت قومك بأمر عظيم، فرقت به جماعتهم وسفهت به أحلامهم
… فاسمع منى أعرض عليك أمورا تنظر فيها لعلك تقبل منها بعضها» .
ويقول الرسول: «قل يا أبا الوليد، أسمع
…فلما فرغ عتبة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : أو قد فرغت يا أبا الوليد؟ قال: نعم.
قال: فاسمع منى. قال: أفعل
… إلى اخر الخبر. [الخبر في سيرة ابن هشام 1/ 293، 294] .
মক্কাবাসীদের সেই আলোচকের ইচ্ছানুসারে, যে বলেছিল: ‘আমি রহমানকে চিনি না এবং আপনি আল্লাহর রাসুল—এটাও আমি স্বীকার করি না। যদি আমরা জানতাম যে আপনি আল্লাহর রাসুল, তবে আমরা আপনাকে বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) থেকে বাধা দিতাম না এবং আপনার সাথে যুদ্ধ করতাম না। বরং আপনি নিজের নাম ও আপনার পিতার নাম (মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ) লিখুন।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘আমি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল, যদিও তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করো; আর আমি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ।’ এরপর তিনি লেখককে বললেন: ‘মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ লেখো।’
এটি আলি, আবু বকর ও উমরের আপত্তি এবং তাদের প্রায় বিদ্রোহের কাছাকাছি পর্যায়ের রাগান্বিত হওয়ার স্বত্ত্বেও সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু এটি ছিল মতভেদের শিষ্টাচার। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝতে পেরেছিলেন যে—যখন তিনি এমন ব্যক্তির সাথে আলোচনারত যার আকিদা বা বিশ্বাস তার চেয়ে ভিন্ন—তখন তার নিজের কোনো বৈশিষ্ট্য বা বিশেষ পরিভাষা সেই ভিন্ন মতাবলম্বীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার তার নেই। এই কারণে তিনি একটি সাধারণ ভাষার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন যা তার প্রতিপক্ষ স্বীকার করে এবং তাতে একমত হয়, যদিও মনে মনে তিনি সেটি পছন্দ করেননি।
কুরাইশ নেতাদের এমন কতবারই না আগমন ঘটেছে, যারা কখনো হুমকির মাধ্যমে আবার কখনো প্রলোভনের মাধ্যমে তাকে তার দাওয়াত থেকে বিরত করার চেষ্টা করেছে। তিনি আগে থেকেই জানতেন যে তাদের প্রস্তাবগুলো অগ্রহণযোগ্য, তবুও তিনি তারা কী বলে তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, শ্রবণ করতেন, সে বিষয়ে আলোচনা করতেন এবং অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠতা ও উদারচিত্তে তার উত্তর দিতেন। সিরাতের কিতাবগুলোতে এই আলোচনার অনেক সংবাদ সংরক্ষিত আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উতবাহ বিন রাবিয়াহর মধ্যের কথোপকথন। উতবাহ রাসুলের কাছে এসে বলেছিল:
‘হে আমার ভাতিজা, আমাদের মাঝে তোমার অবস্থান তো তুমি জানোই। তুমি তোমার সম্প্রদায়ের কাছে এমন এক গুরুতর বিষয় নিয়ে এসেছ, যার মাধ্যমে তুমি তাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছ এবং তাদের বিচারবুদ্ধিকে নির্বুদ্ধিতা বলে সাব্যস্ত করেছ
… সুতরাং আমার কথা শোনো, আমি তোমার সামনে কিছু বিষয় পেশ করছি, তুমি সেগুলো ভেবে দেখো, হয়তো তুমি তার কিছু অংশ গ্রহণ করবে।’
রাসুল বললেন: ‘বলুন হে আবুল ওয়ালিদ, আমি শুনছি
…যখন উতবাহ শেষ করল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘হে আবুল ওয়ালিদ, আপনার কথা কি শেষ হয়েছে?’ সে বলল: ‘হ্যাঁ।’
তিনি বললেন: ‘তবে এবার আমার কথা শুনুন।’ সে বলল: ‘আমি শুনছি
… সংবাদের শেষ পর্যন্ত। [সংবাদটি ইবনে হিশামের সিরাতে ১/ ২৯৩, ২৯৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে]।’
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ১২)
عزيزى القارئ
… ذلك هو الدرس الذى تعلمناه من الرسول صلى الله عليه وسلم درس فى أدب الاختلاف ولغته.. كيف تستمع لخصمك، وتفسح له صدرك وتمنحه فرصة التعبير عن رأيه وشرح موقفه، وبعد ذلك يكون من حقك الردّ، والردّ هنا بمعنيين: الجواب، والرفض، وأبعد درجات الرفض هو شعار (لكم دينكم ولى دين) (ولا تزر وازرة وزر أخرى) ، دون عداء، هذا الدرس بسطه القران الكريم- كما سبق أن رأينا- وعرفه العرب في بعض أشعارهم- وطبقه الرسول صلى الله عليه وسلم أحسن تطبيق، وكان صلى الله عليه وسلم أحفظ له وأكثر عملا به من هؤلاء الذين صدّعوا رؤوسنا بالكلام عن الحرّية والمساواة والعدالة و
… و
… إلخ وكنا نظن أنه قد جاء الوقت لتؤتى هذه الدعاوى ثمارها لينعم الإنسان بتأمل نفسه وما حوله ويملأ رئتيه من نسائم السلام والمحبّة، ولكن سرعان ما طلع علينا من يقول إنه سيشعلها حربا صليبية جديدة من جهة، ومن يدير اسطوانة مشروخة فى الهجوم على ديانات الاخرين ورموزها من جهة ثانية، مع إصرار عنيد وغبىّ على أن ما يقولونه وما يسعون إليه هو المساواة والمحبة والسلام والعدل.
وأنه الطريق إلى مصلحة الشعوب ورخائها. ويعجب المتأمل من درجة التناقض بين الأقوال والأقوال، وكذلك بين الأقوال والأفعال
… فالاحتلال أصبح يسمى تحريرا، وتدمير الشعوب: الأرض والديار والبشر- أصبح يسمّى خلاصا، وامتلاك أعنى الأسلحة وأكثرها فتكا واستخدامها عند اللزوم، وتحريم ذلك على الاخرين يسمى عدالة ومحافظة على السلام!!. وهكذا
…عزيزى القارئ
… كنا قد اخترنا أن يكون كتاب الذخائر هو (نهاية الإيجاز فى سيرة ساكن الحجاز) الذى كتبه الطهطاوى بمناسبة شهر رمضان، وجاءت المهاترات الأخيرة في التطاول على شخص الرسول صلى الله عليه وسلم ودعوته فأكدت سلامة اختيارنا.
হে প্রিয় পাঠক
… এটিই সেই শিক্ষা যা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শিখেছি; মতভেদের শিষ্টাচার ও তার ভাষা সংক্রান্ত শিক্ষা। কীভাবে আপনি আপনার প্রতিপক্ষের কথা শুনবেন, তার জন্য আপনার অন্তরকে প্রশস্ত করবেন এবং তাকে তার মতামত প্রকাশ ও অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেবেন; আর এরপর আপনার অধিকার হবে উত্তর প্রদান করার। এখানে উত্তর প্রদানের দুটি অর্থ রয়েছে: জবাব দেওয়া এবং প্রত্যাখ্যান করা। আর প্রত্যাখ্যানের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো—কোনো প্রকার শত্রুতা পোষণ ছাড়াই—এই মূলমন্ত্র: (তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন আর আমার জন্য আমার দ্বীন) এবং (কেউ অন্য কারও গুনাহের বোঝা বহন করবে না)। এই শিক্ষাটি পবিত্র কুরআন বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি—এবং আরবরা তাদের কিছু কবিতায় এটি জানত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি সর্বোত্তমভাবে প্রয়োগ করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐসব লোকদের তুলনায় এই শিক্ষার অধিক হেফাজতকারী এবং এতে অধিক আমলকারী ছিলেন, যারা স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলে আমাদের মাথা ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম যে, সম্ভবত এই দাবিগুলোর ফল পাওয়ার সময় এসেছে, যাতে মানুষ নিজের সত্তা ও তার চারপাশ নিয়ে ভাবার সুযোগ পায় এবং শান্তি ও ভালোবাসার সমীরণে নিজের ফুসফুস ভরে নিতে পারে। কিন্তু শীঘ্রই আমাদের সামনে একদিকে এমন লোক আবির্ভূত হলো যারা বলছে যে তারা এক নতুন ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ শুরু করবে, আর অন্যদিকে এমন লোক যারা অন্যের ধর্ম ও তার প্রতীকগুলোর ওপর আক্রমণের এক ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে রয়েছে তাদের একগুঁয়ে ও নির্বোধ জেদ যে, তারা যা বলছে এবং যা করার চেষ্টা করছে তা-ই হলো সাম্য, ভালোবাসা, শান্তি ও ন্যায়বিচার।
এবং এটাই নাকি জাতিসমূহের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির পথ। একজন চিন্তাশীল ব্যক্তি কথার সাথে কথার বৈপরীত্য দেখে যেমন বিস্মিত হন, তেমনি কথা ও কাজের মধ্যবর্তী বৈপরীত্য দেখেও অবাক হন
… কেননা দখলদারিত্বের নাম এখন রাখা হয়েছে 'মুক্তি', আর জাতিসত্তা, ভূখণ্ড, ঘরবাড়ি ও মানুষের ধ্বংসলীলাকে বলা হচ্ছে 'পরিত্রাণ'। সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্রের মালিক হওয়া এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা, অথচ অন্যদের জন্য তা নিষিদ্ধ করাকে বলা হচ্ছে ন্যায়বিচার ও শান্তি রক্ষা!! এমনিভাবে
…হে প্রিয় পাঠক
… আমরা 'আয-যাখাইর' সিরিজের জন্য আল-তাহতাওয়ী কর্তৃক রমজান মাস উপলক্ষে রচিত (নিহায়াতুল ইজায ফি সিরাতি সাকিনিল হিজায) বইটি নির্বাচন করেছিলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সত্তা ও তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যে কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ ও বিতণ্ডা শুরু হয়েছে, তা আমাদের এই নির্বাচনের সঠিকতাকেই আরও জোরালোভাবে নিশ্চিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ১৩)
نعم
… لأن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم التى ترسم خط حياته في الكفاح من أجل دعوته بالقول والفعل تقدم مشهدا رائعا لما سميته (أدب الاختلاف في الإسلام) وهو مشهد حدوده- أو لنقل مفرداته من جهة: لا إكراه في الدين، ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة، وجادلهم بالتى هى أحسن، ومن جهة أخرى: ولا تزر وازرة وزر أخرى، لكم دينكم ولى دين.
وهو- كما نرى- مشهد لا مجال فيه للمزايدة أو الغصب، أو التطاول على الاخرين والطعن عليهم، بل شعاره (امن الرسول بما أنزل إليه من ربه، والمؤمنون كلّ امن بالله وملائكته وكتبه ورسله، لا نفرق بين أحد من رسله) ومع ذلك نتّهم نحن بالتعصّب ويدّعى الاخرون لأنفسهم صفة التسامح، وتلك هى المأساة الحقيقية في عالمنا الحديث، أعنى أدّعاء الأدوار، أو تبديلها وتبادلها عنوة وغصبا، الذئب يمثل دور الحمل، والحمل يورّط في دور الذئب، القاتل يظهر في دور الضحية، والضحيّة يفرض عليها دور القاتل.... وهكذا.
وتلك- مرة أخرى- هى المأساة، أو لنقل: المؤامرة التى نرجو أن يكشف حقيقتها ويفضح أبعادها نشرنا لكتاب في سيرة الرسول يحمل حقيقة موقفه من مخالفيه وكيفية تصرفه في نشر دعوته، مما كان وما يزال- هدفا للهجوم الظالم عليه من جانب مدعى السلام والتسامح، أولئك الذين فاتهم أن يستوعبوا الدرس الحقيقى
… درس الإسلام في أدب الاختلاف مع الاخرين.
عبد الحكيم راضى أكتوبر 2006
হ্যাঁ
… কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত, যা কথা ও কাজের মাধ্যমে তাঁর দাওয়াতের সংগ্রামে তাঁর জীবনযাত্রার রূপরেখা অঙ্কন করে, তা আমার অভিহিত করা (ইসলামে মতভেদের শিষ্টাচার)-এর একটি চমৎকার দৃশ্য উপস্থাপন করে। এটি এমন একটি দৃশ্য যার সীমানা—কিংবা বলা যায় এর উপাদানসমূহ—একদিকে হলো: দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই, তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দাও এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়; আর অন্যদিকে: কোনো ভার বহনকারী অন্যের ভার বহন করবে না, তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন।
এটি—যেমনটি আমরা দেখছি—এমন একটি দৃশ্য যেখানে অতিরঞ্জন বা জবরদস্তি, কিংবা অন্যদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাদের নিন্দা করার কোনো অবকাশ নেই। বরং এর মূলমন্ত্র হলো (রাসূল বিশ্বাস স্থাপন করেছেন তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর, এবং মুমিনগণও। তারা সকলেই বিশ্বাস স্থাপন করেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না)। তা সত্ত্বেও আমাদের বিরুদ্ধে গোঁড়ামির অভিযোগ আনা হয় এবং অন্যরা নিজেদের জন্য সহনশীলতার গুণ দাবি করে। আর এটাই আমাদের আধুনিক বিশ্বের প্রকৃত ট্র্যাজেডি—আমি বলতে চাচ্ছি ভূমিকার দাবি করা, অথবা জোরপূর্বক ও জবরদস্তিমূলকভাবে সেগুলো পরিবর্তন ও বিনিময় করা। নেকড়ে মেষশাবকের ভূমিকায় অভিনয় করে, আর মেষশাবককে নেকড়ের ভূমিকায় ফাঁসানো হয়, হত্যাকারী ভিকটিমের ভূমিকায় আবির্ভূত হয় এবং ভিকটিমের ওপর হত্যাকারীর ভূমিকা চাপিয়ে দেওয়া হয়.... এভাবেই চলছে।
আর এটিই—পুনরায় বলছি—সেই ট্র্যাজেডি, অথবা বলা যায়: সেই ষড়যন্ত্র যার বাস্তবতা উন্মোচন এবং যার পরিধি প্রকাশ করার আমরা আশা রাখি রাসূলের সীরাত বিষয়ক একটি গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে, যা তাঁর বিরোধীদের প্রতি তাঁর অবস্থানের বাস্তবতা এবং দাওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপদ্ধতি তুলে ধরে। যা শান্তির দাবিদার ও সহনশীলতার প্রবক্তাদের পক্ষ থেকে অন্যায় আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং এখনও আছে; তারা সেই প্রকৃত শিক্ষাটি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে... অন্যদের সাথে মতভেদের শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা।
আবদুল হাকিম রাযী, অক্টোবর ২০০৬
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هذه الطبعةعزيزى القارئ
… هذه كلمة شكر، وعرفان بالفضل لأهله، وصاحب الفضل في حصولنا على هذه الطبعة هو الصديق الكريم الأستاذ أحمد على حسن صاحب مكتبة الاداب الذى تفضل أولا بالسماح لنا بتصوير طبعة الكتاب الصادرة عن مكتبته، ثم زودنى بعد ذلك بطبعة أخرى على اسطوانة قال إنها أصحّ من النسخة الورقية المطبوعة.
وقد احتاج التعامل مع الاسطوانة التى حصلنا عليها إلى جهد شاق ومحاولات متعددة، وذلك لسببين: اختلاف نظم الأجهزة، واختلاف مقاس الطبعة عن المقاس الذى تطبع به الذخائر، أما الجهد الأكبر فكان في تصحيح النسخة الجديدة ومراجعتها إذ تبين لنا كثرة الأخطاء الواردة بالطبعة المذكورة إلى حد يفوق أى توقع
… مما اضطرنى إلى قراءتها أكثر من مرة، مستعينا بالمقابلة مع النسخة الورقية الموجودة. وأكثر ما كانت الأخطاء في الأشعار الواردة بالكتاب وهى كثيرة وكذلك في أسماء الأشخاص والأماكن.
وقد ساعدنى في جانب من المراجعة الابن العزيز الدكتور سامى سليمان أحمد- مقدم هذه الطبعة- فله جزيل الشكر.
رئيس التحرير
এই সংস্করণপ্রিয় পাঠক
… এটি একটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং যোগ্য ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার। এই সংস্করণটি পাওয়ার ক্ষেত্রে যার অবদান রয়েছে, তিনি হলেন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় বন্ধু জনাব আহমদ আলী হাসান, ‘মাকতাবাতুল আদাব’-এর স্বত্বাধিকারী; যিনি প্রথমত তাঁর লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত বইটির সংস্করণ আমাদের প্রতিলিপি করার অনুমতি দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন, অতঃপর তিনি আমাকে একটি সিডিতে অন্য একটি সংস্করণ প্রদান করেন এবং জানান যে, এটি মুদ্রিত কাগজের কপির চেয়ে অধিকতর নির্ভুল।
আমরা যে সিডিটি পেয়েছিলাম, তা নিয়ে কাজ করতে কঠোর পরিশ্রম এবং বহুবার চেষ্টা করতে হয়েছে। এর দুটি কারণ ছিল: ডিভাইসের সিস্টেমের ভিন্নতা এবং এই সংস্করণের মাপের সাথে ‘আয-যাখাইর’ সিরিজের মুদ্রণ মাপের পার্থক্য। তবে সবচেয়ে বড় পরিশ্রম হয়েছে এই নতুন সংস্করণের ভুল সংশোধন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে; কেননা আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, উল্লিখিত সংস্করণে ভুলের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি
… যার ফলে আমি বিদ্যমান কাগজের কপির সাথে মিলিয়ে এটি একাধিকবার পাঠ করতে বাধ্য হয়েছি। সবচেয়ে বেশি ভুল ছিল বইটিতে উদ্ধৃত কবিতাগুলোতে—যা সংখ্যায় অনেক—এবং ব্যক্তি ও স্থানের নামসমূহে।
পর্যালোচনার একটি অংশে আমাকে সাহায্য করেছেন স্নেহাস্পদ ডক্টর সামী সুলাইমান আহমদ—যিনি এই সংস্করণের ভূমিকা লেখক—তাঁর প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
প্রধান সম্পাদক
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مقدم هذه الطبعةد. سامى سليمان أحمد، أستاذ النقد العربى الحديث المساعد بكلية الاداب، جامعة القاهرة.
1- درس بجامعة «بامبرج» بألمانيا (1995- 1998) كما درّس بها (1996- 1998) اللغة العربية والعامية المصرية والأدب العربى الحديث.
2- عمل أستاذا زائرا بجامعة أوساكا للدراسات الأجنبية باليابان (2004- 2006) .
3- شارك في عدد كبير من المؤتمرات العلمية حول قضايا الأدب والنقد العربى بالجامعات المصرية واليابانية، وبالمجلس الأعلى للثقافة.
4- شارك في عدد من المشروعات العلمية، ومنها معجم أسماء العرب (1989- 1990) ، ومشروع جامعة أوساكا للدراسات الأجنبية لعمل امتحان دولى لقياس مهارات دارسى العربية من غير الناطقين بها (2004- 2005) ، ودليل الجامعة الأمريكية للأدب العربى الحديث (2006) .
5- نشر مقالات ودراسات متعددة بمجلات فصول والفكر العربى ومجلة كلية الاداب جامعة القاهرة، ومجلة «كانساى» للدراسات العربية والإسلامية باليابان، ومجلة الفنون الشعبية.
6- من مؤلفاته:
الخطاب النقدى والأيديولوجيا: دراسة للنقد المسرحى عند نقاد الاتجاه الاجتماعى فى مصر «1945- 1967» (2002) .
كتابة السيرة النبوية عند رفاعة الطهطاوى: دراسة في التشكيل السردى والدلالة (2002) .
خطاب التجديد النقدى عند أحمد ضيف مع النص الكامل لكتابه «مقدمة لدراسة بلاغة العرب» ، (2003) .
مدخل إلى دراسة النص الأدبى المعاصر، (2003) .
الذات وحلم تغيير الواقع: قراءة في قصيدة «الجامعة» لمحمد سليمان (2004) .
حفريات نقدية: دراسات في نقد النقد العربى المعاصر (2006) .
এই সংস্করণের উপস্থাপকড. সামী সুলাইমান আহমদ, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের আধুনিক আরবি সাহিত্য সমালোচনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
১- জার্মানির «বামবার্গ» বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন (১৯৯৫-১৯৯৮) এবং সেখানে আরবি ভাষা, মিশরীয় উপভাষা ও আধুনিক আরবি সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন (১৯৯৬-১৯৯৮)।
২- জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন (২০০৪-২০০৬)।
৩- মিশরীয় ও জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং উচ্চতর সংস্কৃতি পরিষদে আরবি সাহিত্য ও সমালোচনা বিষয়ক অসংখ্য বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।
৪- বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আরব নামসমূহের অভিধান (১৯৮৯-১৯৯০), অনারবদের জন্য আরবি ভাষা দক্ষতা পরিমাপের আন্তর্জাতিক পরীক্ষা প্রণয়নে ওসাকা ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের প্রকল্প (২০০৪-২০০৫) এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আধুনিক আরবি সাহিত্যের নির্দেশিকা (২০০৬)।
৫- ফুসুল, আল-ফিকর আল-আরবি, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাময়িকী, জাপানের «কানসাই» আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ সাময়িকী এবং লোকশিল্প সাময়িকীতে বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছেন।
৬- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
সমালোচনা ধারা ও মতাদর্শ: মিশরের সামাজিক ধারার সমালোচকদের নিকট নাট্য সমালোচনার একটি অধ্যয়ন «১৯৪৫-১৯৬৭» (২০০২)।
রিফাআ আত-তাহতাবীর সীরাতুন্নবী রচনা শৈলী: বর্ণনামূলক কাঠামো ও তাৎপর্যের একটি অধ্যয়ন (২০০২)।
আহমদ দাইফের সমালোচনামূলক সংস্কার চিন্তা, তাঁর রচিত «মুকাদ্দিমাহ লি-দিরাসাহ বালাগাতিল আরব» (আরব অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নের ভূমিকা) গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ পাঠসহ (২০০৩)।
সমকালীন সাহিত্য পাঠের ভূমিকা (২০০৩)।
সত্তা ও বাস্তবতা পরিবর্তনের স্বপ্ন: মুহাম্মদ সুলাইমানের «আল-জামিআ» কবিতার একটি পাঠ (২০০৪)।
সমালোচনামূলক খনন: আধুনিক আরবি সমালোচনার ব্যবচ্ছেদ বিষয়ক অধ্যয়ন (২০০৬)।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم رفاعة الطهطاوى ومدخل حديث لكتابة السيرة النبوية
(1) مثل رفاعة الطهطاوى (1801- 1873 م) نموذجا للمثقف العربى المجدد في أولى مراحل النهضة العربية الحديثة التى بزغت مع بدايات القرن التاسع عشر، وقد فرضت تلك المرحلة على ذلك المثقف الحديث والمحدّث أن يسهم بكتاباته في مجالات ثقافية واجتماعية متعددة، وقد جسد الطهطاوى هذا النموذج إذ جمعت كتاباته بين عمل المفكر الاجتماعى والتعليمى، والصحفى، والأديب (الشاعر والناثر) ، والمؤرخ غير المحترف، ومثل منحاه الإصلاحى العنصر الأساسى الرابط بين كتاباته التى تؤكد، بتنوعها، سعى الطهطاوى إلى الوفاء بما تطلبه واقعه.
وقد تنوعت إسهامات الطهطاوى في مجالات الأدب العربى في القرن التاسع عشر؛ ورغم كونه واحدا من شعراء المرحلة الأولى من مراحل حركة الإحياء، على نحو ما يتجلى في ديوانه، فإن من اللافت أن إسهاماته في ميادين الكتابة النشرية هى التى وضعت اسمه في قائمة الأدباء المجددين في القرن التاسع عشر؛ إذ جمع بين تقديم شكل الرحلة في كتابه «تلخيص الإبريز في تلخيص باريز» (1834) والإسهام في تأصيل الرواية التعليمية وذلك بترجمته لرواية فينيلون (1651- 1715) المسماة" وقائع تليماك" (1699) والتى أعطاها الطهطاوى عنوان" مواقع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
রিফাত আল-তাহতাওয়ির ভূমিকা এবং সীরাতুন্নবী (সা.) রচনার আধুনিক প্রবেশিকা
(১) রিফাত আল-তাহতাওয়ি (১৮০১- ১৮৭৩ খ্রি.) উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে সূচিত আধুনিক আরব জাগরণের প্রথম পর্যায়ের একজন সংস্কারক আরব বুদ্ধিজীবীর আদর্শ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই সময়কালটি এই আধুনিক ও নবীন বুদ্ধিজীবীর ওপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর লেখনীর মাধ্যমে অবদান রাখার দাবি রেখেছিল। তাহতাওয়ি এই আদর্শকে বাস্তবে রূপদান করেছেন, কারণ তাঁর রচনাবলী সামাজিক ও শিক্ষা বিষয়ক চিন্তাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক (কবি ও গদ্যকার) এবং অপেশাদার ঐতিহাসিকের কাজের সমন্বয় ঘটিয়েছে। তাঁর সংস্কারমুখী প্রবণতা ছিল তাঁর রচনাবলীর মূল যোগসূত্র, যা তাঁর বৈচিত্র্যের মাধ্যমে প্রকাশ করে যে, তাহতাওয়ি তাঁর সময়ের বাস্তবতার চাহিদা পূরণ করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন।
উনবিংশ শতাব্দীর আরবি সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাহতাওয়ির অবদান ছিল বহুমুখী; যদিও তিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থের (দীওয়ান) মাধ্যমে পুনর্জাগরণ আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের কবিদের অন্যতম ছিলেন, তবুও এটি লক্ষণীয় যে, গদ্য সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানই তাঁকে উনবিংশ শতাব্দীর সংস্কারক সাহিত্যিকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ তিনি তাঁর ‘তাখলীসুল ইবরীয ফী তালখীসি বারীয’ (১৮৩৪) গ্রন্থে ভ্রমণকাহিনীর রূপ তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষামূলক উপন্যাসের ভিত্তি স্থাপনেও অবদান রেখেছিলেন। এটি তিনি ফিনিলনের (১৬৫১-১৭১৫) ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অফ টেলেমেকাস’ (১৬৯৯) নামক উপন্যাসের অনুবাদের মাধ্যমে করেছিলেন, যাকে তাহতাওয়ি শিরোনাম দিয়েছিলেন ‘মাওয়াকে...’
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأفلاك في وقائع تليماك" (1868) . كما أن له إسهامات بارزة في مجال الكتابة التاريخية يعكسها كتابه" أنوار توفيق الجليل في توثيق مصر وبنى إسماعيل" (1868) ، كما يعكسها كتابه" مناهج الألباب المصرية في مباهج الاداب العصرية" وإن لم يكن من نمط الكتابة التاريخية الخالصة.
وقد كتب الطهطاوى السيرة النبوية وقدمها تحت عنوان" نهاية الإيجاز في سيرة ساكن الحجاز"، وهى تمثل أوّل نموذج للكتابة الحديثة لمتن السيرة النبوية. وتحمل تلك العنونة أكثر من دلالة؛ فالطهطاوى قد ربط" نهاية الإيجاز" بكتاب" أنوار توفيق الجليل" وهذا ما يسوغ النظر إلى" نهاية الإيجاز" بوصفه جزا من كتابات الطهطاوى التاريخية، ويدعم ذلك
تقسيم الطهطاوى كتابه إلى أبواب وفصول تحمل عناوينها دلالات مرتبطة بتتبعه حياة الرسول (ص) وبعض هذه العناوين- مثل" الأسباب الباعثة على الهجرة"- يبدو أكثر اتصالا بعمل المؤرخ منه بعمل الأديب.
وفي مقابل الدلالات السابقة هناك دلالات مضادة تشير إلى إمكانية قراءة" نهاية الإيجاز" بوصفه كتابا مستقلا عن" أنوار توفيق الجليل"، من ناحية، وبوصفه كتابة تقع في المنطقة الواصلة بين الأدب والتاريخ من ناحية أخرى. فالطهطاوى أعطى كتابته عن السيرة اسما مستقلا عن كتابه التاريخى، كما أن كتابة الطهطاوى للسيرة ذات وشائج قوية في ارتباطها بأنماط كتابات السابقين عليه للسيرة النبوية، بقدر ما هى مختلفة عن كتابات اللاحقين له مباشرة أو الأجيال التالية له؛ فكتاب محمد الخضرى" نور اليقين في سيرة خير المرسلين" (1895) بمثابة سيرة تاريخية بالغة الاختصار، بينما كتاب محمد حسين هيكل" حياة محمد" (1935) يمثل، فيما نرى، أول دراسة تاريخية يقدمها كاتب أو مؤرخ مصرى حديث يفيد من مناهج البحث التاريخى الغربى، ويتجادل مع كتابات بعض المستشرقين حول سيرة النبى" ص".
ويعد" نهاية الإيجاز" وكتاب" المرشد الأمين للبنات والبنين" اخر كتابات الطهطاوى، وقد نشرت فصول" نهاية الإيجاز" فى ثلاثة وأربعين عددا من أعداد مجلة" روضة المدارس" فى سنواتها الثالثة والرابعة والخامسة. ويتكون النص المنشور
"আল-আফলাক ফি ওয়াকায়ি তেলি মাক" (১৮৬৮)। পাশাপাশি ঐতিহাসিক রচনার ক্ষেত্রেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে, যা তার "আনোয়ারু তাওফিকিল জলিল ফি তাওসিকি মিসরা ওয়া বানি ইসমাইল" (১৮৬৮) গ্রন্থে প্রতিফলিত হয়েছে। একইভাবে এটি তার "মানাহিজুল আলবাবিল মিসরিয়্যাহ ফি মাবাহিজিল আদাবিল আসরিয়্যাহ" গ্রন্থটিতেও প্রতিফলিত হয়, যদিও এটি বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক রচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।
আত্তাহতাউয়ি নবীজির সিরাত (জীবনী) রচনা করেছেন এবং তা "নিহায়াতুল ইজায ফি সিরাতি সাকিনিল হিজাজ" শিরোনামে পেশ করেছেন; যা নবীজির সিরাতের মূল পাঠ্য আধুনিক পদ্ধতিতে রচনার প্রথম নমুনা হিসেবে গণ্য হয়। আর এই শিরোনামটি একাধিক তাৎপর্য বহন করে; কেননা তাহতাউয়ি "নিহায়াতুল ইজায"-কে তার "আনোয়ারু তাওফিকিল জলিল" গ্রন্থের সাথে সংযুক্ত করেছেন, যা "নিহায়াতুল ইজায"-কে তাহতাউয়ির ঐতিহাসিক রচনার অংশ হিসেবে দেখার যৌক্তিকতা প্রদান করে। আর একে সমর্থন করে
তাহতাউয়ি কর্তৃক তার গ্রন্থটিকে বিভিন্ন অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা, যেগুলোর শিরোনাম রাসুল (সা.)-এর জীবন অনুসরণ করার সাথে সংশ্লিষ্ট তাৎপর্য বহন করে। এই শিরোনামগুলোর কিছু—যেমন "হিজরতের পেছনে চালিকা শক্তিসমূহ"—একজন সাহিত্যিকের কাজের চেয়ে একজন ঐতিহাসিকের কাজের সাথে বেশি নিবিড় বলে মনে হয়।
পূর্বোক্ত তাৎপর্যগুলোর বিপরীতে কিছু ভিন্নধর্মী ইঙ্গিত রয়েছে যা "নিহায়াতুল ইজায"-কে একদিকে "আনোয়ারু তাওফিকিল জলিল" থেকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে পাঠ করার সম্ভাবনা নির্দেশ করে, এবং অন্যদিকে এটিকে সাহিত্য ও ইতিহাসের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি রচনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ দেয়। কারণ তাহতাউয়ি তার সিরাত বিষয়ক রচনাটিকে তার ঐতিহাসিক গ্রন্থ থেকে একটি স্বতন্ত্র নাম দিয়েছেন। পাশাপাশি তাহতাউয়ির এই সিরাত রচনার সাথে তার পূর্ববর্তী লেখকদের সিরাত রচনারীতির নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে, ঠিক যতটা এটি তার অব্যবহিত পরবর্তী বা পরবর্তী প্রজন্মের লেখকদের রচনা থেকে ভিন্ন। যেমন মুহাম্মদ আল-খুদরির গ্রন্থ "নুরুল ইয়াকিন ফি সিরাতি খায়রিল মুরসালিন" (১৮৯৫) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি ঐতিহাসিক সিরাতগ্রন্থের সমতুল্য; যেখানে মুহাম্মদ হুসাইন হাইকলের "হায়াতু মুহাম্মদ" (১৯৩৫) আমাদের দৃষ্টিতে আধুনিক কোনো মিশরীয় লেখক বা ঐতিহাসিকের উপস্থাপিত প্রথম ঐতিহাসিক গবেষণা, যা পাশ্চাত্য ঐতিহাসিক গবেষণা পদ্ধতি থেকে উপকৃত হয়েছে এবং নবী (সা.)-এর সিরাত সম্পর্কে কিছু প্রাচ্যবিদের রচনার সাথে তাত্ত্বিক বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে।
"নিহায়াতুল ইজায" এবং "আল-মুরশিদুল আমিন লিল বানাত ওয়াল বানিন" গ্রন্থ দুটি তাহতাউয়ির শেষ জীবনের রচনা হিসেবে পরিগণিত। "নিহায়াতুল ইজায"-এর অধ্যায়গুলো "রাওদাতুল মাদারিস" পত্রিকার তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের তেতাল্লিশটি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকাশিত এই পাঠ্যটি গঠিত...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২১)
فى" روضة المدارس" من ستة أبواب، وتتفق الأبواب الخمسة الأولى منه مع الطبعة المحققة التى تقوم عليها دراستنا هذه (1) . بينما عنون الطهطاوى الباب السادس على النحو التالى: الباب السادس في الوظائف والعمالات البلدية، خصوصية وعمومية، أهلية داخلية جهادية، التى هى عبارة عن نظام السلطنة الإسلامية، وما يتعلق بها من الحرف والصنائع والعمالات الشرعية على ما كان في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وفيه فصول" (2) ، ولكن المحققين (عبد الرحمن حسن محمود وفاروق حامد بدر) جعلا من هذا الباب وما يليه كتابا سمياه (الدولة الإسلامية: نظامها وعمالاتها) ثم ووصفاه بأنه المتمم لكتاب" نهاية الإيجاز" (3) .
وفي نهاية العدد الثالث والأربعين من" روضة المدارس" هناك فقرات- حذفها المحققان- يقرر فيها على رفاعة أن الطهطاوى قد أتم قبل موته تسويد كتابى" نهاية الإيجاز" و" المرشد الأمين"، وقد راجع نهاية الإيجاز حتّى الفصل التاسع من الباب الثالث، بينما تتبع على رفاعة بقية الكتاب (قراءة وتصحيحا، حذفا وإثباتا) (4) .
واللافت أن المحققين قد حذفا المقدمة التى وضعها الطهطاوى لكتابه، والتى نشرها في العدد الرابع من السنة الثالثة من سنوات" روضة المدارس" وهى مقدمة مكونة من صفحتين يشير فيها الطهطاوى إلى أن" نهاية الإيجاز" يمثل الجزء الثانى من" أنوار توفيق الجليل"، ويشير أيضا إلى أن على مبارك هو الذى رأى التعجيل ينشر هذه السيرة منجمة في" روضة المدارس" على تطبع كاملة بعد ذلك (5) . ولما كان" نهاية الإيجاز" متمماك" أنوار توفيق الجليل" فقد احتل في هذا النسق ترتيب المقالة الخامسة على النحو التالى: المقالة الخامسة: فى ظهوره صلى الله عليه وسلم وأحواله وشئونه ووقائعه والدخول في الحياة البرزخية وذكر الخطط والعمالات الإسلامية التى كانت في عهده صلى الله عليه وسلم إلى استخلاف أبى بكر رضى الله عنه وفيه أبواب.
ويمكن للقارئ المعاصر أن يقرأ" نهاية الإيجاز" من منظور التشكيل السردى الذى وضع فيها لطهطاوى السيرة النبوية، بما ينطوى عليه ذلك التشكيل من واحدات وتقنيات وطرائق سردية اعتمدها الطهطاوى لينقل بواسطتها، من ناحية، رسالة ضمنية حملتها كتابته، وليسهم، من ناحية ثانية، فى تقدم نمط جديد من
"রওজাতুল মাদারিস"-এ এটি ছয়টি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত ছিল এবং এর প্রথম পাঁচটি পরিচ্ছেদ আমাদের এই গবেষণার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত সম্পাদিত সংস্করণের সাথে হুবহু মিলে যায় (১)। পক্ষান্তরে, তাহতাবি ষষ্ঠ পরিচ্ছেদের শিরোনাম এভাবে নির্ধারণ করেছিলেন: "ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পৌরসভা সংক্রান্ত দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ড, বিশেষ ও সাধারণ, অভ্যন্তরীণ যোগ্যতা ও জিহাদি বিষয়সমূহ, যা মূলত ইসলামি সালতানাতের শাসনব্যবস্থার একটি রূপরেখা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে প্রচলিত পেশা, শিল্প ও শরয়ি কর্মকালাপের সাথে সম্পর্কিত; এবং এতে কয়েকটি পাঠ রয়েছে" (২)। কিন্তু সম্পাদকদ্বয় (আবদুর রহমান হাসান মাহমুদ ও ফারুক হামিদ বদর) এই পরিচ্ছেদ এবং পরবর্তী অংশগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র বই তৈরি করেছেন এবং তার নাম রেখেছেন "আল-দাওলা আল-ইসলামিয়্যাহ: নিযামুহা ওয়া আমালাতুহা" (ইসলামি রাষ্ট্র: এর ব্যবস্থা ও কর্মকাণ্ড) এবং তারা এটিকে "নিহায়াতুল ইজাজ" গ্রন্থের পরিপূরক হিসেবে বর্ণনা করেছেন (৩)।
"রওজাতুল মাদারিস"-এর তেতাল্লিশতম সংখ্যার শেষে কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে—যা সম্পাদকদ্বয় বাদ দিয়েছেন—যেখানে আলি রিফাআ উল্লেখ করেছেন যে, তাহতাবি তাঁর মৃত্যুর আগে "নিহায়াতুল ইজাজ" ও "আল-মুরশিদ আল-আমিন" গ্রন্থদ্বয়ের খসড়া সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি "নিহায়াতুল ইজাজ"-এর তৃতীয় পরিচ্ছেদের নবম পাঠ পর্যন্ত পর্যালোচনা করেছিলেন, আর আলি রিফাআ বইটির বাকি অংশ তদারকি (পাঠ, সংশোধন, বর্জন ও সংযোজন) করেছিলেন (৪)।
লক্ষণীয় যে, সম্পাদকদ্বয় তাহতাবি কর্তৃক রচিত বইটির সেই ভূমিকাটি বাদ দিয়েছেন যা তিনি "রওজাতুল মাদারিস"-এর তৃতীয় বর্ষের চতুর্থ সংখ্যায় প্রকাশ করেছিলেন। এটি ছিল দুই পৃষ্ঠার একটি ভূমিকা যেখানে তাহতাবি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, "নিহায়াতুল ইজাজ" হলো "আনোয়ারু তওফিকিল জলিল"-এর দ্বিতীয় খণ্ড। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আলি মুবারকই এই সিরাত গ্রন্থটি কিস্তিবন্দি আকারে "রওজাতুল মাদারিস"-এ দ্রুত প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেন পরবর্তীতে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত হয় (৫)। যেহেতু "নিহায়াতুল ইজাজ" ছিল "আনোয়ারু তওফিকিল জলিল"-এর পরিপূরক, তাই এই পরিক্রমায় এটি পঞ্চম প্রবন্ধ হিসেবে নিম্নোক্ত শিরোনামে স্থান পেয়েছে: "পঞ্চম প্রবন্ধ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাব, তাঁর অবস্থা, বিষয়াদি ও ঘটনাবলি, বারযাখি জীবনে প্রবেশ এবং তাঁর যুগে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকাল পর্যন্ত প্রচলিত ইসলামি পরিকল্পনা ও কর্মতৎপরতার বর্ণনা; এবং এতে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ রয়েছে।"
সমকালীন পাঠক "নিহায়াতুল ইজাজ" গ্রন্থটিকে সেই বর্ণনামূলক কাঠামোর দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করতে পারেন যার মাধ্যমে তাহতাবি সিরাতে নববিকে উপস্থাপন করেছেন। এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এমন কিছু একক, কৌশল ও বর্ণনাপদ্ধতি যা তাহতাবি গ্রহণ করেছিলেন; যাতে একদিকে তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে একটি অন্তর্নিহিত বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন এবং অন্যদিকে একটি নতুন ধারার অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২২)
أنماط كتابة السيرة النبوية بوصفها نصّا سرديا، وليساهم، من ناحية ثالثة، فى إنشاء تقاليد كتابة بعض الأنواع السردية الحديثة في الأدب العربى.
وبقدر ما تكشف النواحى الثلاث السابقة عن منحى التجديد الأدبى لدى الطهطاوى فإنها تتطلب إضاءة عدة أطر تتمثل في أنماط كتابة السيرة النبوية- بوصفها نصا سرديا- لدى السابقين على الطهطاوى، وعلاقة كتابة الطهطاوى السيرة بلحظة نشأة الأنواع السردية الحديثة في الأدب العربى، ووعى الطهطاوى بالأشكال السردية العربية الوسيطة، ومستويات تلقى نص الطهطاوى ودور الوسيط الثقافى الذى نقله إلى المتلقى في تحديد طرائق التلقى، وعلاقة كتابة الطهطاوى بالموقف أو الرسالة التى ضمّنها تلك الكتابة.
وستتبدى طبيعة كتابة الطهطاوى عبر الأطر المختلفة التى نضع" نهاية الإيجاز" فى سياقاتها المتداخلة والمتفاعلة معا.
(2) مرّ متن السيرة النبوية بمراحل متعددة ومتشابكة، ومتوالية أيضا، إلى أن استوى نصّا سرديا مكتملا؛ إذ شكلت المرويات التى رواها بعض الصحابة عن حياة النبى (ص) وصفاته وسلوكه المادة الأولى لمتن السيرة، وطوال القرنين الأوّل والثانى الهجريين برزت أسماء بعض التابعين- مثل عروة بن الزبير وعاصم بن عمر بن قتادة والزهرى وعبد الله ابن أبي بكر وغيرهم- ممن تخصصوا في رواية أخبار النبى. وقد وازى تطور الاهتمام بجمع أخبار النبى التطور في علوم الحديث والتفسير والتاريخ (6) وهذا ما برز، منذ بداية القرن الثالث الهجرى، إذ توزع الاهتمام بسيرة النبى بين أصحاب كتب طبقات المحدثين، من ناحية وكتّاب التاريخ العام من ناحية ثانية، وكتّاب سيرة النبى من ناحية ثالثة. فابن سعد (ت 230 هـ) صاحب (الطبقات الكبرى) قد دوّن سيرة النبى في الأجزاء الأربعة الأولى من كتابه، حيث كان يعنون الفقرات، ثم يسوق داخل كل فقرة مجموعة المرويات: أي الأحاديث والأخبار التى تقع في دائرتها، ولا يكاد يقدم رأيا فيما يرويه (7) . على حين أصّل الطبرى (ت 310 هـ) فى كتابه (تاريخ الرسل والملوك) تقليدا يتمثل في تقديم
বর্ণনামূলক পাঠ্য হিসেবে সীরাতুন্নবী রচনার ধরণসমূহ, এবং তৃতীয়ত, আরবি সাহিত্যে আধুনিক বর্ণনামূলক কিছু বর্গের রচনার ঐতিহ্য সৃষ্টিতে অবদান রাখা।
পূর্বোক্ত তিনটি দিক যেমন আল-তাহতবির সাহিত্যিক আধুনিকায়নের প্রবণতাকে উন্মোচন করে, তেমনি তা কতগুলো কাঠামোকে আলোকিত করার দাবি রাখে। এই কাঠামোগুলো হলো আল-তাহতবির পূর্ববর্তীদের নিকট—একটি বর্ণনামূলক পাঠ্য হিসেবে—সীরাতুন্নবী রচনার ধরণসমূহ; আরবি সাহিত্যে আধুনিক বর্ণনামূলক বর্গসমূহের উৎপত্তিলগ্নের সাথে আল-তাহতবির সীরাত রচনার সম্পর্ক; মধ্যযুগীয় আরবি বর্ণনামূলক রূপসমূহ সম্পর্কে আল-তাহতবির সচেতনতা; আল-তাহতবির পাঠ্য গ্রহণের স্তরসমূহ এবং যে সাংস্কৃতিক মাধ্যমটি তা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, গ্রহণের পদ্ধতি নির্ধারণে তার ভূমিকা; এবং আল-তাহতবির রচনার সাথে সেই অবস্থান বা বার্তার সম্পর্ক যা তিনি উক্ত রচনায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
বিভিন্ন কাঠামোর মাধ্যমে আল-তাহতবির রচনার প্রকৃতি স্পষ্ট হবে, যেখানে আমরা "নিহায়াতুল ইজায"-কে তার পরস্পর সম্পৃক্ত ও ক্রিয়াশীল প্রেক্ষাপটগুলোর মধ্যে স্থাপন করি।
(২) সীরাতুন্নবীর মূল পাঠ্যটি বিভিন্ন বহুমুখী, পরস্পর জটিল এবং ধারাবাহিক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, যতক্ষণ না এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনামূলক পাঠ্যে উন্নীত হয়েছে; কেননা নবী (সা.)-এর জীবন, গুণাবলি ও আচরণ সম্পর্কে কিছু সাহাবীর বর্ণিত বর্ণনাগুলো সীরাতের মূল পাঠ্যের প্রাথমিক উপাদান গঠন করেছিল। হিজরি প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দী জুড়ে নবীর সংবাদ বর্ণনায় পারদর্শী কিছু তাবিঈর নাম প্রসিদ্ধি লাভ করে—যেমন উরওয়াহ ইবনে আল-জুবায়ের, আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ, আল-জুহরি, আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর এবং অন্যান্য। নবীর সংবাদ সংগ্রহের প্রতি আগ্রহের ক্রমবিকাশ হাদিস বিজ্ঞান, তাফসির এবং ইতিহাসের (৬) ক্রমবিকাশের সমান্তরালে চলেছে। এটি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন সীরাতুন্নবীর প্রতি মনোযোগ একদিকে মুহাদ্দিসগণের তবাকাত (পর্যায়ক্রমিক জীবনী) বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতাদের মধ্যে, অন্যদিকে সাধারণ ইতিহাস রচয়িতাদের মধ্যে এবং তৃতীয়ত সীরাতুন্নবী রচয়িতাদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইবনে সাদ (মৃ. ২৩০ হি.), যিনি 'আত-তবাকাতুল কুবরা'-এর লেখক, তিনি তাঁর গ্রন্থের প্রথম চার খণ্ডে সীরাতুন্নবী লিপিবদ্ধ করেছেন। সেখানে তিনি অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনাম দিতেন, তারপর প্রতিটি অনুচ্ছেদের ভেতরে বর্ণনাসমূহের সমষ্টি পেশ করতেন: অর্থাৎ সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হাদিস ও সংবাদসমূহ, এবং তিনি যা বর্ণনা করতেন সে বিষয়ে নিজের কোনো মতামত প্রদান করতেন না বললেই চলে (৭)। অন্যদিকে তাবারী (মৃ. ৩১০ হি.) তাঁর 'তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক' গ্রন্থে একটি ঐতিহ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা হলো পেশ করা...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২৩)
سيرة الرسول (ص) بوصفها جزا من التاريخ العام، وقد تابعه في ذلك المؤرخون التالون له كابن الأثير (ت 630 هـ) فى كتابه (الكامل في التاريخ) وابن كثير (ت 774 هـ) فى كتابه (البداية والنهاية) وغيرهما.
وتشكلت كتابة السيرة النبوية في ثلاثة أنماط مختلفة؛ نمطان منها يمكن وصفهما بأنهما نمطان سرديان خالصان، على حين يمكن وصف ثالثهما بأنه يضيف إلى المتن السردى نصا اخر شارحا بعض الوقائع أو يضيف معارف من علوم متنوعة. ويمثل نمط السيرة المكتملة التى تقدم وقائع حياة النبى (ص) وغزواته وعلاقاته المختلفة النمط السردى الأوّل، ونموذجه الأجلى سيرة ابن إسحاق (ت 151 هـ) التى رواها ابن هشام (ت 218 هـ) ، وقد قسم ابن إسحاق السيرة إلى ثلاثة أقسام كبرى هى المبتدأ، والمبعث، ثم المغازى، وكان يقدم- سواء داخل كل قسم من الأقسام الكبرى أو الأقسام الصغرى التى تشكل الأقسام الكبرى- الأخبار المختلفة، ويقدم الوقائع مستشهدا بالأشعار سواء في إطار سرده الوقائع، أو في نهايتها؛ كما في تقديمه- فى نهاية الغزوات- الأشعار المختلفة التى قيلت فيها.
وإذا كان ابن هشام قد هذب نص ابن إسحاق فإنه قد أهمل بعض مرويات ابن إسحاق كما خذف أشعارا لم ير (أحدا من أهل العلم بالشعر يعرفها، وأشياء بعضها يشنع الحديث به (8) .
ولقد تحول متن ابن هشام إلى المصدر الأساسى الذى اعتمده اللاحقون له سواء كانوا من المؤرخين الخلّص أو من كتاب السيرة النبوية، ويمثل كتاب" عيون الأثر فى فنون المغازى والشمائل والسير" لابن سيد الناس (ت 734 هـ) نموذجا لكتابة تتابع تقاليد سرد السيرة النبوية المكتملة التى أصّلها ابن إسحاق وابن هشام، ثم تضيف إليه تقاليد جديدة مثل تقديم مرويات مختلفة عن رواة اخرين غير ابن إسحاق، وتقديم مرويات تمثل تحديدات أدق لمضامين بعض مرويات ابن إسحاق، أو تصحيح بعض المرويات التى قدمها ابن إسحاق (9) .
ولما كان معنى مصطلح السيرة النبوية قد انصرف- لا سيما في المراحل المبكرة من رواية السيرة وتدوينها- إلى دلالة تقصره على تقديم المرويات الخاصة بمغازى الرسول (ص) فإن كتاب محمد بن عمر الواقدى (ت 207 هـ) " المغازى" يمثل نمط
রাসুলের (সা.) সীরাত সাধারণ ইতিহাসের অংশ হিসেবে পরিগণিত; তাঁর পরবর্তী ঐতিহাসিকগণও এই ধারা অনুসরণ করেছেন, যেমন ইবনুল আসীর (মৃত্যু ৬৩০ হিজরী) তাঁর 'আল-কামিল ফিত তারিখ' গ্রন্থে এবং ইবনে কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী) তাঁর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে ও অন্যান্যরা।
সীরাতুন্নবী বা নববী সীরাত রচনা তিনটি ভিন্ন রীতিতে গঠিত হয়েছে; এর মধ্যে দুটি রীতিকে বিশুদ্ধ বর্ণনামূলক রীতি হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে, যেখানে তৃতীয় রীতিটি বর্ণনামূলক মূল পাঠের সাথে বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদ কিংবা বিবিধ শাস্ত্রের জ্ঞান যোগ করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। পূর্ণাঙ্গ সীরাতের রীতিটি প্রথম বর্ণনামূলক রীতির প্রতিনিধিত্ব করে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনের ঘটনাবলী, তাঁর যুদ্ধবিগ্রহ এবং বিভিন্ন সম্পর্ক তুলে ধরে। এর উজ্জ্বলতম উদাহরণ হলো ইবনে ইসহাকের (মৃত্যু ১৫১ হিজরী) সীরাত, যা ইবনে হিশাম (মৃত্যু ২১৮ হিজরী) বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইসহাক সীরাতকে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন: আল-মুবতাদা (সূচনা), আল-মাব'আস (নবুওয়াত প্রাপ্তি) এবং আল-মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহ)। তিনি প্রধান বিভাগগুলোর ভেতর কিংবা সেগুলোর অন্তর্গত উপ-বিভাগগুলোতে বিভিন্ন সংবাদ ও বিবরণ পেশ করতেন। তিনি ঘটনাবলী বর্ণনার ক্ষেত্রে কবিতার উদ্ধৃতি দিতেন, কখনও বর্ণনার মাঝখানে আবার কখনও বর্ণনার শেষে; যেমনটি তিনি যুদ্ধের শেষে উক্ত যুদ্ধ সম্পর্কে রচিত বিভিন্ন কবিতা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে করেছেন।
ইবনে হিশাম যদিও ইবনে ইসহাকের পাঠ্যটি পরিমার্জন করেছেন, তবে তিনি ইবনে ইসহাকের কিছু বর্ণনা উপেক্ষা করেছেন এবং এমন কিছু কবিতাও বাদ দিয়েছেন যা কাব্যবিশারদদের কারো জানা ছিল না বলে তিনি মনে করেছেন, সেইসাথে এমন কিছু বিষয়ও বাদ দিয়েছেন যা উল্লেখ করা অশোভন মনে হতে পারে (৮)।
ইবনে হিশামের এই পাঠ্যটি পরবর্তী ঐতিহাসিক এবং সীরাত রচয়িতাদের নিকট প্রধান উৎসে পরিণত হয়। ইবনে সাইয়্যিদুন নাস (মৃত্যু ৭৩৪ হিজরী) রচিত "উয়ুনুল আসার ফি ফুনুনিল মাগাযী ওয়াশ শামায়িল ওয়াস সিয়ার" গ্রন্থটি ইবনে ইসহাক ও ইবনে হিশাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ সীরাত বর্ণনার ঐতিহ্যের অনুসারী একটি উদাহরণ। এতে তিনি কিছু নতুন রীতি যুক্ত করেছেন, যেমন ইবনে ইসহাক ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীদের থেকে বিভিন্ন বর্ণনা উপস্থাপন করা এবং এমন সব বর্ণনা প্রদান করা যা ইবনে ইসহাকের বর্ণিত কিছু বিষয়ের অধিকতর সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা দেয় অথবা ইবনে ইসহাক প্রদত্ত কিছু বর্ণনার সংশোধন করে (৯)।
যেহেতু সীরাতুন্নবী পরিভাষাটির অর্থ—বিশেষ করে সীরাত বর্ণনা ও সংকলনের প্রাথমিক যুগগুলোতে—রাসুলের (সা.) যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সেহেতু মুহাম্মদ বিন ওমর আল-ওয়াকিদীর (মৃত্যু ২০৭ হিজরী) "আল-মাগাযী" গ্রন্থটি এমন এক রীতির প্রতিনিধিত্ব করে...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الكتابة في السيرة طبقا لهذا الفهم. ويبدو أن اقتصار عمل الواقدى على فترة قصيرة من حياة النبى (ص) قد منحه فرصة وضع تقاليد خاصة في سرد المغازى؛ إذ ثبّت طرائق واحدة اتبعها في سرد الغزوات المختلفة؛ فبعد أن افتتح كتابه بذكر أسماء الرواة الذين نقل عنهم أخباره مشيرا إلى اختلاف مروياتهم أخذ يسرد (المغازى واحدة واحدة مع تاريخ محدد للغزوة بدقة، وغالبا ما يذكر تفاصيل جغرافية عن موقع الغزوة، ثم يذكر المغازى التى غزاها النبى بنفسه وأسماء الذين استخلفهم على المدينة أثناء غزواته، وأخيرا يذكر شعار المسلمين في القتال، كل ذلك بالإضافة إلى وصفه لكل غزوة بأسلوب مواحد، فيذكر أولا اسم الغزوة وتأريخها وأميرها، ويكرر في بعضها اسم المستخلف على المدينة وتفاصيل جغرافية مما كان قد ذكرها في مقدمة الكتاب. وفي أماكن كثيرة يقدم لنا الواقدى قصة
الواقعة بإسناد جامع- أى يجمع الرجال والأسانيد في متن واحد. وإذا كانت الغزوة قد نزل فيها ايات كثيرة من القران، فإن الواقدى يفردها واحدها مع تفسيرها ويضعها في نهاية أخبار الغزوة. وفي المغازى الهامة يذكر الواقدى أسماء الذين شهدوا الغزوة وأسماء الذين استشهدوا أو قتلوا فيها) (10) .
ويشكل نمط الكتابة المختصرة النمط السردى الثانى من أنماط كتابة السيرة النبوية، وهو يشترك مع النمط السابق في تقديم الأخبار الخاصة بحياة الرسول (ص) ووقائع دعوته وغزواته المختلفة، وتقسيم هذه الأخبار طبقا للمسار الزمنى لحياة الرسول (ص) ، ولكن كتّاب ذلك النمط كانوا يركزون على اختيار الوقائع، ويعرضون عن تقديم المرويات المختلفة حول الوقائع التى يعرضونها، كما يندر لدى بعضهم- كابن عبد البر- تقديم الأشعار المرتبطة بوقائع السيرة، بينما لا يورد بعضهم الاخر- كابن حزم- أيّا من أشعار السيرة. ومن أبرز النماذج التى تمثل هذا النمط كتاب" الدرر في اختصار المغازى والسير" لابن عبد البر (ت 463 هـ) ، وكتاب" جوامع السيرة" لابن حزم الأندلسى (ت 459 هـ) (11) .
وثمة احتمال أن يكون تأصل هذا النمط في إطار كتابة السيرة النبوية قد أثر على كتابة بعض النصوص التى تنتمى إلى النمط الأوّل؛ فكتاب المقريزى (ت 845 هـ) (إمتاع الأسماع بما للرسول من الأنباء والأموال والحفدة والمتاع) يقوم على
এই উপলব্ধি অনুযায়ী সীরাত রচনা। মনে হয় যে, নবীর (সা.) জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ওয়াকিদির কর্ম সীমাবদ্ধ থাকা তাকে মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বর্ণনায় বিশেষ ঐতিহ্য স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছিল; যেহেতু তিনি বিভিন্ন যুদ্ধ বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তিনি তার গ্রন্থটি যেসব বর্ণনাকারীর কাছ থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করে এবং তাদের বর্ণনার ভিন্নতার দিকে ইঙ্গিত করে শুরু করার পর, প্রতিটি যুদ্ধ (মাগাজি) অত্যন্ত নির্ভুলভাবে সুনির্দিষ্ট তারিখসহ একে একে বর্ণনা করতে থাকেন। তিনি প্রায়শই যুদ্ধের অবস্থানের ভৌগোলিক বিবরণ উল্লেখ করেন, এরপর নবী (সা.) নিজে যেসব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সেগুলোর কথা এবং যুদ্ধের সময় মদিনায় তিনি যাদের স্থলাভিষিক্ত করে যেতেন তাদের নাম উল্লেখ করেন। পরিশেষে তিনি যুদ্ধে মুসলমানদের রণধ্বনি উল্লেখ করেন। এ সবকিছুর পাশাপাশি তিনি প্রতিটি যুদ্ধকে একটি অভিন্ন শৈলীতে বর্ণনা করেন; যেখানে তিনি প্রথমে যুদ্ধের নাম, তার তারিখ ও সেনাপতির নাম উল্লেখ করেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মদিনায় স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির নাম ও ভৌগোলিক বিবরণ পুনরায় উল্লেখ করেন যা তিনি গ্রন্থের ভূমিকায় দিয়েছিলেন। অনেক স্থানে ওয়াকিদি আমাদের সামনে ঘটনার বিবরণটি
একটি সম্মিলিত সনদে (ইসনাদে জামে) উপস্থাপন করেন—অর্থাৎ তিনি বর্ণনাকারী ও সনদসমূহকে একটি মূল পাঠে একত্রিত করেন। যদি কোনো যুদ্ধ সম্পর্কে কুরআনের অনেক আয়াত নাজিল হয়ে থাকে, তবে ওয়াকিদি সেগুলোকে পৃথকভাবে ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করেন এবং যুদ্ধের সংবাদের শেষে সেগুলো স্থান দেন। গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলোর ক্ষেত্রে ওয়াকিদি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের নাম এবং যারা শহিদ বা নিহত হয়েছেন তাদের নামও উল্লেখ করেন। (১০)।
সংক্ষেপিত রচনারীতিটি সীরাত রচনার ধারায় দ্বিতীয় বর্ণনাপদ্ধতি হিসেবে গণ্য। এটি রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন সম্পর্কিত সংবাদ, তাঁর দাওয়াতের ঘটনাবলি এবং বিভিন্ন যুদ্ধ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এবং রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবনের কালানুক্রম অনুযায়ী এই সংবাদগুলোকে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে এই পদ্ধতির লেখকরা ঘটনাবলি নির্বাচনের দিকে বেশি মনোযোগ দিতেন এবং তারা যেসব ঘটনা উপস্থাপন করতেন সেগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বর্ণনাসমূহ উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকতেন। তেমনি তাদের কারো কারো কাছে—যেমন ইবনে আব্দুল বার—সীরাতের ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কবিতা উল্লেখ করার বিষয়টি বিরল ছিল, আবার কেউ কেউ—যেমন ইবনে হাজম—সীরাতের কোনো কবিতাই উল্লেখ করেননি। এই পদ্ধতির প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে ইবনে আব্দুল বারের (মৃ. ৪৬৩ হি.) গ্রন্থ "আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার" এবং ইবনে হাজম আল-আন্দালুসির (মৃ. ৪৫৯ হি.) গ্রন্থ "জাওয়ামিউস সীরাহ"। (১১)।
একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে, সীরাত রচনার কাঠামোর মধ্যে এই পদ্ধতির শেকড় গেড়ে বসা প্রথম পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত কিছু গ্রন্থ রচনার ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। যেমন মাকরিজির (মৃ. ৮৪৫ হি.) গ্রন্থ "ইমতাউল আসমা বিমা লিররাসুলি মিনাল আনবায়ি ওয়াল আমওয়ালি ওয়াল হাফাদাতি ওয়াল মাতা" নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إيجاز المرويات المختلفة التى يعيد المقريزى صياغتها بلغته هو، مقدما- فى ثنايا سرده- بعض المرويات المسندة إلى قائليها الأوّل، ومستشهدا بالقليل من أشعار الوقائع، (12) ، ولعل قيام كتاب المقريزى على لغة مؤلفه في الصياغة جعل منه متنا مختلفا عن متون النمو الأوّل التى كانت تنظيما لمجموعات من الأخبار ذات الأسانيد.
إن متن السيرة النبوية في كتابات النمطين السابقين يشكل نصا سرديا يقوم على تتابع عدد من الواحدات السردية الكبرى التى تصور حياة النبى (ص) ، وإذا كانت كل واحدة سردية كبرى تقدم مرحلة مهمة ودالة من حياة شخصية النبى (ص) فإن الواحدة السردية الكبرى يمكن أن توصف بأنها مقطع سردى طويل يبدأ من نقطة زمنية محددة وينتهى عند نقطة زمنية محددة، وتحمل كل نقطة منهما قيمة دالة في حياة الشخصية، وما بين نقطة البداية ونقطة النهاية يتشكل امتداد زمنى تملؤه عناصر سردية متنوعة كالوقائع والأخبار والأحداث وغيرها. وإذا كانت كل واحدة كبرى تشكل (سلسلة من الأفعال المتعاقبة) (13) فإن الراوى لا يكتفى بتقديم تلك السلسلة عبر مسار زمنى صاعد، وإنما يستطيع دائما أن يكسر ذلك المسار بالعودة المطولة إلى الماضى أو ماضى الماضى أحيانا- ولا سيما لتأصيل نسب الشخصية- أو تقديم نبوات بمصائر بعض الشخصيات- ولا سيما أعداء البطل- أو الاستطراد نحو كثير من التفريعات السردية التى تضعف- أحيانا- من ظهور المسار الزمنى الأساسى للوقائع.
وتشكل بعض الوقائع في السيرة النبوية ما يمكن أن يسمى واحدة سردية وسطى إذ تقع- من ناحية- فى مدى زمنى أقل من المدى الذى تستغرقه وقائع الواحدة السردية الكبرى، كما تقوم- من ناحية ثانية- على نواة صراع مباشر يحدد للراوى طريقة معينة في سرد الوقائع وتنظيمها وصياغة التفاصيل، مما يجعل السرد أدنى إلى التركيز على خيوط متوالية زمنيا، ومتوالدة سببيا. وتمثل الغزوات الكبرى نماذج دالة لتلك الواحدات السردية الوسطى، ولعل هذا" التميز" الذى تتصف به واحدات المغازى هو الذى جعل عبد الله إبراهيم يصفها بأنها قد جاءت- فى سيرة ابن إسحاق (بشكل واحدات شبه قصصية) (14) ، بينما وصف عبد
বিভিন্ন বর্ণনার সংক্ষিপ্তসার যা আল-মাকরিজি তাঁর নিজস্ব ভাষায় পুনঃনির্মাণ করেছেন, তাঁর বর্ণনার ভাঁজে ভাঁজে তিনি মূল বক্তাদের প্রতি সম্পৃক্ত কিছু বর্ণিত বিষয় উপস্থাপন করেছেন এবং ঘটনাবলি সংক্রান্ত কিছু কবিতা উদ্ধৃত করেছেন (১২)। সম্ভবত আল-মাকরিজির কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে লেখকের নিজস্ব ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠায় এটি প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যসমূহ থেকে ভিন্ন একটি পাঠ্য হিসেবে গণ্য হয়েছে, যা ছিল মূলত সনদযুক্ত সংবাদ বা সংবাদের সংকলন মাত্র।
পূর্ববর্তী দুটি পদ্ধতির লেখায় সীরাতুন্নবীর মূল পাঠ্যটি একটি বর্ণনামূলক পাঠ্য গঠন করে, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন চিত্রিতকারী বেশ কয়েকটি বৃহৎ বর্ণনামূলক এককের ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। যদি প্রতিটি বৃহৎ বর্ণনামূলক একক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্বের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ পর্যায় উপস্থাপন করে, তবে এই বৃহৎ বর্ণনামূলক একককে একটি দীর্ঘ বর্ণনামূলক অংশ হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে যা একটি নির্দিষ্ট সময়বিন্দু থেকে শুরু হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময়বিন্দুতে শেষ হয়। এই উভয় বিন্দুই ওই ব্যক্তির জীবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ বহন করে এবং শুরুর বিন্দু ও শেষ বিন্দুর মাঝখানে একটি কালগত ব্যাপ্তি তৈরি হয় যা বিভিন্ন বর্ণনামূলক উপাদান যেমন বাস্তবতা, সংবাদ, ঘটনা ও অন্যান্য বিষয় দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। আর যদি প্রতিটি বৃহৎ একক (পরস্পর অনুগামী কার্যাবলীর একটি ধারা) (১৩) গঠন করে, তবে বর্ণনাকারী কেবল একটি ঊর্ধ্বমুখী কালানুক্রমিক ধারায় সেই ধারাটি উপস্থাপনের মাধ্যমেই ক্ষান্ত হন না, বরং তিনি সর্বদা অতীতের দিকে বা কখনও কখনও অতীতের অতীতের দিকে দীর্ঘ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সেই কালানুক্রমিক ধারাটিকে ভেঙে দিতে পারেন—বিশেষ করে ব্যক্তির বংশপরিচয় সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য—অথবা কিছু চরিত্রের পরিণতি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী প্রদানের মাধ্যমে—বিশেষ করে নায়কের শত্রুদের ক্ষেত্রে—অথবা এমন অনেক বর্ণনামূলক শাখা-প্রশাখার দিকে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে যা কখনও কখনও ঘটনাবলির মূল কালানুক্রমিক ধারার প্রকাশকে দুর্বল করে দেয়।
সীরাতুন্নবীর কিছু ঘটনা এমন একটি বিষয় গঠন করে যাকে মধ্যম বর্ণনামূলক একক বলা যেতে পারে; কারণ একদিকে এটি বৃহৎ বর্ণনামূলক এককের ঘটনাবলির তুলনায় কম সময়ের ব্যাপ্তিতে সংঘটিত হয়, এবং অন্যদিকে এটি একটি প্রত্যক্ষ সংগ্রামের মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যা বর্ণনাকারীর জন্য ঘটনাবলি বর্ণনা, বিন্যাস এবং বিস্তারিত তথ্য রচনার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেয়। এটি বর্ণনাকে কালানুক্রমিকভাবে ধারাবাহিক এবং কার্যকারণগতভাবে উদ্ভূত সূত্রগুলোর ওপর আলোকপাত করার ক্ষেত্রে আরও নিবিড় করে তোলে। বড় বড় যুদ্ধগুলো (গাজওয়াহসমূহ) এই মধ্যম বর্ণনামূলক এককগুলোর তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ উপস্থাপন করে। সম্ভবত মাগাযী (যুদ্ধসমূহ) বিষয়ক এককগুলোর এই "বৈশিষ্ট্যই" আবদুল্লাহ ইবরাহিমকে ইবনে ইসহাকের সীরাতে এগুলোকে (আধা-গল্পীয় এককের আকারে) (১৪) বর্ণনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেখানে আবদ...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الحميد بورايو الغزوة بأنها (تمثل قصة مكتملة، لها بداية ووسط ونهاية، وهى في الوقت نفسه ترتبط بمثيلاتها بواحدة ملحمية) (15) .
وتمثل الأخبار والحكايات المختلفة نمط الواحدة السردية الصغرى ليس في متن السيرة النبوية واحدها، ولكن في كل أشكال السرد العربى الوسيط.
وتمثل السيرة المشروحة النمط الثالث من أنماط كتابة السيرة النبوية، ويقوم هذا النمط على الموازاة بين نصين مختلفين ومتصلين في الان نفسه، ويتمثل النص الأوّل في متن ابن إسحاق أو ابن هشام الذى يتحول لدى كتاب هذا النمط إلى نص أصلى، بينما يتمثل النص الثانى في نص شارح يقدم فيه مؤلفه شرحا للألفاظ الغريبة أو إعرابا لبعض الكلمات أو العبارات الغامضة، وتجلية لأنساب بعض الشخصيات، وإكمالا لبعض الأخبار الناقصة، وتناولا لبعض الجوانب الفقهية أو الكلامية التى تثيرها بعض وقائع السيرة أو مواقفها.
ويبدو أن هذا النمط قد تشكل في مرحلة تالية لتشكل النمطين الأولين، كما يبدو أنه كان يؤدى بعض الوظائف التعليمية المباشرة، ومن الكتب الممثلة لهذا النمط كتاب" الروض الأنف في شرح السيرة" الذى ألفه عبد الرحمن السهيلى (ت 581 هـ) ، وهو يقرر في مقدمته أنه قد جمع فيه (من فوائد العلوم والاداب، وأسماء الرجال والأنساب؛ ومن الفقه الباطن اللباب، وتعليل النحو وصنعة الإعراب، ما هو مستخرج من نيف على مائة وعشرين ديوانا، سوى ما أنتجه صدرى ونفحه فكرى ونتجه نظرى ولقنته عن مشيختى، من نكت علمية لم أسبق إليها ولم أزحم عليها) (16) .
ولعل ذلك النص أن يكون كاشفا عن أن اكتمال نص السيرة النبوية لدى ابن هشام- فى بداية القرن الثالث الهجرى- قد جعل من شراحه يسعون إلى إفادة القارئ بتقديمهم مجموعة من المعارف المختلفة المستمدة من مجالات الحديث والفقه وعلوم اللغة وعلم الكلام والتاريخ، والقراات أحيانا، فى إضاءة النص الأصلى للسيرة، وذلك ما يخرج بعض هذه النصوص، وربما معظمها، عن إطار الكتابة الأدبية والكتابة التاريخية؛ يستوى في هذا كتاب" الروض الأنف" وكتاب" الشفا فى حقوق المصطفى" الذى ألفه القاضى عياض (ت 544 هـ) وجعل من شروحه
আল-হামিদ বুরাইউ যুদ্ধাভিযানকে (মাগাযী) বর্ণনা করেছেন এভাবে যে (এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে, যার শুরু, মধ্যভাগ এবং শেষ রয়েছে, এবং একই সাথে এটি মহাকাব্যিক ঐক্যের দ্বারা তার সমজাতীয় বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত) (১৫)।
বিভিন্ন সংবাদ এবং বিচিত্র গল্পসমূহ ক্ষুদ্র বর্ণনামূলক এককের ধরণকে উপস্থাপন করে, যা কেবল এককভাবে সীরাতে নববীর মূল পাঠেই নয়, বরং মধ্যযুগীয় আরবি বর্ণনার সমস্ত রূপের মধ্যেই বিদ্যমান।
ব্যাখ্যাসম্বলিত সীরাত হলো সীরাতে নববী রচনার ধারাসমূহের মধ্যে তৃতীয় ধরণ। এই ধারাটি একই সাথে দুটি ভিন্ন কিন্তু ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত পাঠের সমান্তরাল অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রথম পাঠটি হলো ইবনে ইসহাক বা ইবনে হিশামের মূল পাঠ (মতন), যা এই ধারার লেখকদের কাছে একটি মূল পাঠে পরিণত হয়। অন্যদিকে দ্বিতীয় পাঠটি হলো একটি ব্যাখ্যামূলক পাঠ, যেখানে লেখক বিরল শব্দাবলীর ব্যাখ্যা প্রদান করেন, অথবা কিছু অস্পষ্ট শব্দ বা বাক্যাংশের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করেন, কিছু ব্যক্তির বংশপরিচয় স্পষ্ট করেন, কিছু অসম্পূর্ণ সংবাদ পূর্ণ করেন এবং সীরাতের কিছু ঘটনা বা প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত ফিকহী বা কালামশাস্ত্রীয় (তাত্ত্বিক) দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
মনে হয় যে, এই ধারাটি প্রথম দুটি ধারা গঠিত হওয়ার পরবর্তী পর্যায়ে গড়ে উঠেছে। আরও মনে হয় যে, এটি কিছু সরাসরি শিক্ষামূলক ভূমিকা পালন করত। এই ধারার প্রতিনিধিত্বকারী গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো আব্দুর রহমান আস-সুহায়লী (মৃত্যু ৫৮১ হিজরি) রচিত 'আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহিস সীরাহ'। তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে সংগ্রহ করেছেন (বিজ্ঞানের নানাবিধ উপকারিতা ও সাহিত্য, রাবীদের নাম ও বংশপরিচয়; গভীর ফিকহী তত্ত্বের নির্যাস, ব্যাকরণতত্ত্ব এবং বাক্যবিন্যাসের কৌশল; যা একশ বিশটিরও বেশি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। এছাড়া আমার অন্তরের প্রসূত, চিন্তার ফসল ও গবেষণার নির্যাস এবং আমার উস্তাদদের থেকে প্রাপ্ত এমন কিছু ইলমী সূক্ষ্ম বিষয়ও এতে রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে আমার আগে কেউ যায়নি এবং কেউ আমার সমকক্ষ ছিল না) (১৬)।
সম্ভবত এই পাঠটি এ বিষয়টি উন্মোচিত করে যে, তৃতীয় হিজরি শতকের শুরুতে ইবনে হিশামের কাছে সীরাতে নববীর পাঠ পূর্ণতা পাওয়ার ফলে এর ব্যাখ্যাকারগণ হাদীস, ফিকহ, ভাষাবিজ্ঞান, ইলমুল কালাম, ইতিহাস এবং কখনও কখনও ক্বিরাআত শাস্ত্র থেকে আহরিত বিভিন্ন জ্ঞান পাঠকদের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে মূল সীরাত গ্রন্থটিকে আরও আলোকিত ও স্পষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছেন। আর এটিই এই পাঠগুলোর কিছু অংশকে—এবং সম্ভবত অধিকাংশকেই—নিছক সাহিত্যিক বা ঐতিহাসিক রচনার গণ্ডি থেকে বের করে এনেছে। এক্ষেত্রে 'আর-রাওদুল উনুফ' এবং কাযী আয়ায (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি) রচিত 'আশ-শিফা ফি হুকুিল মুস্তফা' উভয় গ্রন্থই সমান, যার ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে তিনি...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وسيلة لعرض بعض المسائل الكلامية أو تقديم تفسيرات لبعض الايات القرانية، أو تقديم بعض الأحاديث والأخبار، أو عرض بعض مسائل القراات القرانية (17) .
شكل كل نمط من الأنماط السابقة مجموعة من التقاليد الكتابية الخاصة بمتن السيرة النبوية بوصفه نصا سرديا، أو بشرحه لغايات مختلفة. وكانت هذه الأنماط متاحة أمام الطهطاوى وهو يكتب" نهاية الإيجاز"، وقد نقل الطهطاوى كثيرا من النصوص السابقة عليه، وكان يردها إلى مصادرها، لكنه أعاد صياغة تقاليد كتابة السيرة النبوية حيث أفاد من تقاليد كتابتها لدى أصحاب الأنماط الثلاثة السابقة عليه (وذلك ما سيتضح تفصيلا في فقرات تالية) . وبقدر ما كان سعى الطهطاوى إلى إعادة صياغة تقاليد كتابة السيرة النبوية دالّا على منحاه التجديدى الذى يبدأ بتمثل الموروث- مع السعى إلى تجاوزه- فإن فعل التجاوز لدى الطهطاوى يمثل بدوره، دالا اخر على أن كتابة.
الطهطاوى السيرة النبوية لم تنفصل عن لحظتها التاريخية والأدبية؛ أى لحظة ميلاد الأنواع السردية الحديثة في الأدب العربى.
(3) إذا كان الطهطاوى قد قدم صياغته للسيرة النبوية في أوائل العقد الثامن من القرن التاسع عشر فإن عمله هذا يمكن تفهمه في تقاطعه مع إطار التيار الأساسى السائد على الرواية العربية الحديثة في المرحلة الأولى من مراحل تبلورها، والتى تمتد من الثلث الأخير من القرن التاسع عشر إلى بداية الحرب العالمية الأولى. وقد ساد فيها نمطان روائيان هما الرواية التاريخية والرواية التعليمية ويتفق النمطان في كون التعليم الهدف المشترك لكليهما؛ وإن اختلفت طبيعته بينهما؛ فبينما كانت الرواية التاريخية تعلّم الأحداث والوقائع التاريخية الخاصة بفترة أو شخصية ما من التاريخ العربى والإسلامى فإن الرواية التعليمية قد تغيت تقديم معارف من علوم متنوعة، على نحو ما يتجلى في رواية" علم الدين" (1883) لعلى مبارك (1823- 1893) والتى تعد النموذج الأساسى لها في هذه المرحلة (18) .
ومن اللافت أن بدايات الرواية التاريخية قد بدأت في لبنان في وقت معاصر
...কিছু কালামশাস্ত্রীয় বিষয় উপস্থাপন করার মাধ্যম অথবা কুরআনের কিছু আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান, কিংবা কিছু হাদীস ও বর্ণনা পেশ করা, অথবা কুরআনের কিরাত সংক্রান্ত কিছু বিষয় প্রদর্শনের মাধ্যম (১৭)।
পূর্বোক্ত প্রতিটি ধারা সীরাতুন নববীর মূল পাঠের সাথে সংশ্লিষ্ট কতগুলো নির্দিষ্ট লিখনরীতির ঐতিহ্য গঠন করেছে, একে একটি বর্ণনামূলক পাঠ হিসেবে বিবেচনা করে অথবা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এর ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে। আত-তহতাবি যখন "নিহায়াতুল ইজাজ" লিখছিলেন, তখন এই ধারাগুলো তাঁর সামনে বিদ্যমান ছিল। তহতাবি তাঁর পূর্ববর্তী অনেক পাঠ উদ্ধৃত করেছেন এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে নির্দেশ করেছেন, কিন্তু তিনি সীরাতুন নববী রচনার ঐতিহ্যকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী তিনটি ধারার অনুসারীদের লিখনরীতি থেকে উপকৃত হয়েছেন (যা পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট হবে)। সীরাতুন নববী রচনার ঐতিহ্যকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তহতাবির এই প্রচেষ্টা যতটা না তাঁর সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক—যা ঐতিহ্যকে ধারণ করার মাধ্যমে শুরু হয়ে তা অতিক্রম করার প্রচেষ্টায় পর্যবসিত হয়—ততটাই তাঁর এই অতিক্রমণ প্রক্রিয়া অন্য একটি বিষয়ের নির্দেশক। তা হলো, তহতাবির সীরাত রচনা তাঁর সমকালীন ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক মুহূর্ত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না; অর্থাৎ আরবি সাহিত্যে আধুনিক বর্ণনামূলক ধারাসমূহের জন্মের মুহূর্ত থেকে তা আলাদা ছিল না।
(৩) তহতাবি যদি উনবিংশ শতাব্দীর অষ্টম দশকের শুরুতে সীরাতুন নববী সংক্রান্ত তাঁর বিন্যাস উপস্থাপন করে থাকেন, তবে তাঁর এই কাজটিকে আধুনিক আরবি উপন্যাসের বিকাশের প্রথম পর্যায়ের মূলধারার কাঠামোর সাথে সংগতিপূর্ণ হিসেবে বোঝা যেতে পারে। এই পর্যায়টি উনবিংশ শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশ থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরু পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই সময়ে দুটি ঔপন্যাসিক ধারা প্রচলিত ছিল: ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং শিক্ষামূলক উপন্যাস। উভয় ধারারই সাধারণ লক্ষ্য ছিল 'শিক্ষা প্রদান', যদিও তাদের প্রকৃতির মধ্যে পার্থক্য ছিল। ঐতিহাসিক উপন্যাস যেখানে আরব ও ইসলামি ইতিহাসের কোনো নির্দিষ্ট সময়কাল বা ব্যক্তিত্বের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি শিক্ষা দিত, সেখানে শিক্ষামূলক উপন্যাস বিভিন্ন বিজ্ঞানের জ্ঞান প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। যেমনটি আলী মুবারকের (১৮২৩-১৮৯৩) "আলমুদ্দীন" (১৮৮৩) উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে, যা এই পর্যায়ের মৌলিক আদর্শ হিসেবে গণ্য হয় (১৮)।
এটি লক্ষ্যণীয় যে, সমসাময়িক কালে লেবাননেও ঐতিহাসিক উপন্যাসের সূচনা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لتقديم الطهطاوى" نهاية الإيجاز"؛ إذ قدم سليم البستانى (1848- 1884) روايات: " زنوبيا" (1871) ، و" بدور" (1872) ، و" الهيام في فتوح بلاد الشام" (1874) ؛ وقد نشرت كلها في أعداد مجلة الجنان. بينما قدم جميل نخلة المدور روايته" حضارة الإسلام في دار السلام" فى عام 1888 ثم بدأ جرجى زيدان (1856- 1914) مع بداية العقد الأخير من القرن التاسع عشر، أى عام 1891، تقديم سلسلة روآياته عن تاريخ الإسلام؛ إذ قدم- فى الفترة من 1891 إلى 1914- اثنتين وعشرين رواية صاغ في معظمها أحداث التاريخ العربى الإسلامى (19) ؛ وركز فيها على بعض المراحل والشخصيات المؤثرة فيه مثل:
الحجاج بن يوسف (1902) ، وأبو مسلم الخراسانى (1905) ، والعباسة أخت الرشيد (1906) ، والأمين والمأمون (1907) ، وعبد الرحمن الناصر (1909) ، ثم صلاح الدين ومكائد الحشاشين (1913) . على حين أنه اعتمد في القليل من روآياته التاريخية على وقائع بعض الفترات التاريخية الحديثة أو المعاصرة له، أو بعض شخصيات التاريخ العربى المصرى الحديث، كما في روايتيه محمد على (1907) والانقلاب العثمانى (1911) .
إن تلاقى نمطى الرواية التاريخية والرواية التعليمية في الهدف التعليمى العام هو الذى يفسر مظاهر التلاقى بينهما في طرائق الصياغة والتشكيل واستخدام تقنيات بعينها. فلما كان تعليم التاريخ- بالمعنى العام والمباشر لهذه العبارة- هو مبتغى كتاب الرواية التاريخية فإن ذلك الهدف كان يضم إلى تقديم الحقائق التاريخية المتعلقة بفترة ما، من ناحية، تصوير بعض الجوانب الحضارية التى تميز هذه الفترة، من ناحية ثانية، وتصوير الأخلاق والعادات، من ناحية ثالثة. وكان حرص كاتب الرواية التاريخية على أن يقدم لقارئه الحقائق والأحداث التاريخية الكبرى في الفترة يكتب عنها دافعا له إلى أن يثبت المراجع التاريخية التى اعتمد عليها سواء في بداية الرواية أو في نهايتها أو في مواضع مختلفة، على نحو ما يبدو لدى جرجى زيدان وجميل نخلة المدور. وقد أفرز ذلك ظاهرة متكررة تتمثل في حرص كتاب الرواية التاريخية على إسناد الأخبار والمعلومات إلى مصادرها. وبقدر ما تشير هذه الظاهرة إلى ارتباط هؤلاء الكتاب ببعض طرائق نقل الأخبار التاريخية وغير التاريخية- فى
আত-তাহতাবী-এর 'নিহায়াতুল ইজায' উপস্থাপনের মাধ্যমে; যেহেতু সালিম আল-বুস্তানি (১৮৪৮-১৮৮৪) 'যুনুবিয়া' (১৮৭১), 'বদুর' (১৮৭২) এবং 'আল-হিয়াম ফি ফুতুহি বিলাদিল শাম' (১৮৭৪) উপন্যাসগুলো উপস্থাপন করেছিলেন; এবং এগুলোর সবকটিই 'মাজাল্লাতুল জিনান'-এর বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে জামিল নাখলা আল-মুদাউওয়ার ১৮৮৮ সালে তাঁর 'হাদারাতুল ইসলাম ফি দারিস সালাম' উপন্যাসটি উপস্থাপন করেন। এরপর জুরজি যায়দান (১৮৫৬-১৯১৪) উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের শুরুতে, অর্থাৎ ১৮৯১ সালে, ইসলামের ইতিহাস নিয়ে তাঁর উপন্যাস সিরিজ উপস্থাপন করতে শুরু করেন; যেখানে তিনি ১৮৯১ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে বাইশটি উপন্যাস উপস্থাপন করেন, যার অধিকাংশতেই তিনি আরব-ইসলামী ইতিহাসের ঘটনাবলীকে রূপদান করেছেন (১৯); এবং সেগুলোতে তিনি ইতিহাসের কিছু প্রভাবশালী পর্যায় এবং ব্যক্তিত্বের ওপর আলোকপাত করেছেন, যেমন:
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ (১৯০২), আবু মুসলিম আল-খুরাসানি (১৯০৫), আর-রাশিদের বোন আব্বাসাহ (১৯০৬), আল-আমিন ও আল-মামুন (১৯০৭), আবদুর রহমান আন-নাসির (১৯০৯), এবং এরপর সালাহউদ্দিন ও হাশাশিনদের চক্রান্ত (১৯১৩)। অন্যদিকে, তিনি তাঁর অল্প কিছু ঐতিহাসিক উপন্যাসে আধুনিক বা সমসাময়িক কিছু ঐতিহাসিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ অথবা আধুনিক মিশরীয়-আরব ইতিহাসের কিছু ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করেছেন, যেমন তাঁর 'মুহাম্মদ আলী' (১৯০৭) এবং 'আল-ইনকিলাব আল-উসমানি' (১৯১১) উপন্যাস দুটিতে।
সাধারণ শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং শিক্ষামূলক উপন্যাসের যে সম্মিলন ঘটেছে, তা-ই মূলত তাদের রচনাশৈলী, রূপায়ণ এবং সুনির্দিষ্ট কৌশল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সাদৃশ্যগুলোর ব্যাখ্যা দেয়। যেহেতু ইতিহাস শিক্ষা দেওয়া—এই বাক্যটির সাধারণ এবং প্রত্যক্ষ অর্থে—ঐতিহাসিক উপন্যাসের লেখকদের কাম্য ছিল, তাই সেই লক্ষ্যটি একদিকে যেমন কোনো নির্দিষ্ট কালপর্বের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য উপস্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছিল, অন্যদিকে তেমনি সেই সময়ের স্বতন্ত্র সভ্যতাগত দিকসমূহ এবং নৈতিকতা ও আচার-আচরণের চিত্রায়নকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ঐতিহাসিক উপন্যাসের লেখক যে সময়ের বিষয়ে লিখছেন, সেই সময়ের বড় বড় ঐতিহাসিক ঘটনা ও তথ্যসমূহ তাঁর পাঠকের সামনে উপস্থাপন করার যে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, সেটিই তাঁকে উপন্যাসের শুরুতে বা শেষে অথবা বিভিন্ন স্থানে তাঁর ব্যবহৃত ঐতিহাসিক উৎসসমূহ উল্লেখ করতে অনুপ্রাণিত করত; যেমনটি জুরজি যায়দান এবং জামিল নাখলা আল-মুদাউওয়ারের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি একটি পুনরাবৃত্তিমূলক বৈশিষ্ট্যের জন্ম দিয়েছে, যা হলো ঐতিহাসিক উপন্যাসের লেখকদের সংবাদ ও তথ্যাবলিকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্পর্কিত করার আগ্রহ। এই বিষয়টি যতটা না ঐতিহাসিক ও অনৈতিহাসিক সংবাদ স্থানান্তরের কিছু পদ্ধতির সাথে এই লেখকদের সম্পৃক্ততাকে নির্দেশ করে—
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الأشكال السردية العربية الوسيطة- فإنها تشير أيضا إلى أن الجمهور الذى كان يتوجه إليه هؤلاء الكتاب إنما هو جمهور كانت" التقليدية" سمة مؤثرة في ثقافته؛ إذ كان يطالب كتاب هذا الشكل بالحرص على" المرويات الصحيحة" مما كان يدفع بعض الكتاب- مثل جميل نخلة المدور- إلى إعادة صياغة بعض الوقائع وتناولها (بشىء من التهذيب والتنقيح وتبديل الروايات الضعيفة بما هو أصح وأثبت عند أئمة النقل) (20) .
وكان كتاب الرواية التاريخية يسعون إلى تقديم وصف تاريخى وجغرافى دقيق ومفصل وموثق للأماكن التى تدور فيها أحداث رواياتهم، بينما نحا بعضهم أحيانا إلى الاهتمام بإيراد التفاصيل التاريخية أكثر من العناية بإحكام (الخيال في خلق صورة حية واقعية) (21) للمجتمعات أو الفترات التاريخية التى يصورونها.
وقد دفع المسعى التعليمى المباشر كتاب الرواية التاريخية إلى الاتكاء على تقنية الاستطراد؛ إذ كان كاتب هذا الشكل يتخذ من أحداث روايته وسيلة لتقديم معلومات عن عصرها، أو تقديم النصائح والمواعظ والحكم والتوجيهات المباشرة (22) . كما تتجلى الظاهرة نفسها في" علم الدين" حيث ينتقل الراوى بين عدة مسامرات تختلف في موضوعاتها مما يضعف من دور الرابطة الأساسية التى تربط هذه المسامرات (23) .
لقد كان كتّاب نمطى الرواية التاريخية والرواية التعليمية يسعون- كل بطريقته إلى اتخاذ التشكيل السردى وسيلة ناجعة لتعليم جمهور المتلقين، وهذا ما حدد دور" الخيال" فى تشكيل حبكات أعمالهم؛ إذ ثمة صيغ مختلفة لتشكيل الحبكة؛ منها صيغة تقوم على الجمع بين حكاية وقائع تاريخية وحكاية متخيلة غالبا ما تكون حكاية عاطفية؛ وإذا كانت الحكاية الأولى تتشكل من عناصر قدمتها المصادر العربية القديمة عن الشخصية أو الفترة موضوع الرواية فإن الحكاية المتخيلة قد تستند إلى شخصيات تاريخية يملك الكاتب حرية الإفاضة في سلوكها أو ابتكار أحداث تنسب إليها أو مجاوزة بعض الأطر التاريخية في تصويرها له، على نحو ما يبدو في تصوير جرجى زيدان لشخصية أبى العتاهية في روايته" العباسة أخت الرشيد" (24) .
মধ্যযুগীয় আরবি বর্ণনামূলক রূপগুলো—এগুলো আরও নির্দেশ করে যে, এই লেখকরা যে পাঠকদের উদ্দেশ্য করে লিখতেন, তারা এমন এক জনসমষ্টি ছিল যাদের সংস্কৃতিতে "ঐতিহ্যপ্রিয়তা" একটি প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান ছিল; কারণ তারা এই শৈলীর লেখকদের নিকট "সহিহ বর্ণনা" বা "নির্ভুল বর্ণনা"-এর প্রতি যত্নশীল হওয়ার দাবি জানাত। এটি জামিল নাখলা আল-মুদাওয়ারের মতো কিছু লেখককে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা পুনরায় সংকলন করতে এবং সেগুলোকে (কিছুটা পরিমার্জন, সংশোধন এবং দুর্বল বর্ণনাগুলোকে বর্ণনাবিদ ইমামদের নিকট যা অধিকতর সহিহ ও সুপ্রতিষ্ঠিত তা দ্বারা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে) উপস্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল (২০)।
ঐতিহাসিক উপন্যাসের লেখকরা তাদের উপন্যাসের ঘটনাবলি যে স্থানগুলোতে সংঘটিত হতো, সেগুলোর একটি নির্ভুল, বিস্তারিত এবং প্রামাণ্য ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বর্ণনা প্রদানের চেষ্টা করতেন। পক্ষান্তরে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ কখনো কখনো তাদের চিত্রিত সমাজ বা ঐতিহাসিক সময়কাল সম্পর্কে (একটি প্রাণবন্ত ও বাস্তবসম্মত চিত্র তৈরিতে কল্পনার) সুনিপুণ প্রয়োগের চেয়ে ঐতিহাসিক তথ্যাদি উপস্থাপনের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপের দিকে ঝুঁকে পড়তেন (২১)।
প্রত্যক্ষ শিক্ষামূলক প্রচেষ্টাই ঐতিহাসিক উপন্যাসের লেখকদের প্রাসঙ্গিকতা-বিচ্যুতির (ইস্তিতরাদ) কৌশলের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করেছিল; কারণ এই শৈলীর লেখকরা তাদের উপন্যাসের ঘটনাবলিকে সেই যুগের তথ্য প্রদানের মাধ্যম হিসেবে অথবা সরাসরি উপদেশ, নসিহত, প্রজ্ঞা ও নির্দেশনা প্রদানের উপায় হিসেবে গ্রহণ করতেন (২২)। একই প্রপঞ্চ "ইলমুদ দীন"-এও পরিলক্ষিত হয়, যেখানে বর্ণনাকারী বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনার মধ্যে যাতায়াত করেন, যা এই আলোচনাগুলোর মধ্যকার মূল যোগসূত্রটিকে দুর্বল করে দেয় (২৩)।
ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং শিক্ষামূলক উপন্যাস—এই উভয় ধারার লেখকরাই নিজ নিজ পদ্ধতিতে বর্ণনামূলক কাঠামোকে পাঠকদের শিক্ষিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার চেষ্টা করতেন। এটিই তাদের সৃষ্টিকর্মের প্লট বা কাহিনীসূত্র নির্মাণে "কল্পনার" ভূমিকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কাহিনীসূত্র নির্মাণের বিভিন্ন রূপ রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বর্ণনা এবং একটি কাল্পনিক কাহিনীর সমন্বয় ঘটানো, যা সাধারণত একটি আবেগঘন কাহিনী হয়ে থাকে। প্রথম কাহিনীটি যদি উপন্যাসের বিষয়বস্তু হওয়া চরিত্র বা সময়কাল সম্পর্কে প্রাচীন আরবি উৎসসমূহ থেকে প্রাপ্ত উপাদানের ভিত্তিতে গঠিত হয়, তবে কাল্পনিক কাহিনীটি এমন সব ঐতিহাসিক চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে হতে পারে যাদের আচরণ বিস্তারিত বর্ণনায়, কিংবা তাদের ওপর আরোপিত কাল্পনিক ঘটনা উদ্ভাবনে, অথবা তাদের চিত্রায়নে কিছু ঐতিহাসিক কাঠামো অতিক্রম করার ক্ষেত্রে লেখকের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। যেমনটি জর্জি জায়দানের "আল-আব্বাসা উখতুর্ রশীদ" উপন্যাসে আবু আতাহিয়া চরিত্রটির চিত্রায়নে দেখা যায় (২৪)।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وبينما قامت معظم روايات زيدان على تلك الصيغة من الحبكات فإن ثمة صيغة أخرى قدمها جميل نخلة المدور هى صيغة الرحلة الخيالية إلى فترة تاريخية سابقة؛ فروايته" حضارة الإسلام في دار السلام" تصور رحالة فارسيا يطوف معظم البلدان الإسلامية في المائة الثانية للهجرة، ويلتقى بعدد من رجال العصر العباسى ويتصل بالبرامكة بصفة خاصة، ويقدم رحلته- إلى المتلقى- فى إطار مجموعة من الرسائل التى تصور للمتلقى كثيرا من جوانب العصر الذى ارتحل إليه.
وتمثل حبكة رواية" علم الدين" الصيغة الثالثة من صيغ الحبكات، وهى صيغة تقوم على الجمع بين حكاية رئيسية تمثل حكاية الإطار، وهذا ما تجسده علاقة علم الدين بالرجل الإنجليزى، سواء في مبتدأها أو تطورها أو نهايتها- وحكايات أخرى فرعية تتصل- بطريقة أو بأخرى- بحكاية الإطار، وتنشأ هذه الحكايات- دائما- من دورانها حول شخص واحد كما في قصة يعقوب أو قصة المصرى المغترب (25) .
إن وضع كتابة الطهطاوى السيرة النبوية في" نهاية الإيجاز" فى توازيها الزمنى مع تأصيل الرواية التاريخية والرواية التعليمية يكشف عن كثير من جوانب التلاقى بينهما، والتى يمكن أن يكون بعضها دالا، بدوره، على بعض صور التفاعل بين تشكيل الرواية التاريخية وبنية بعض الأشكال السردية العربية الوسيطة؛ فإذا كان كاتب الرواية التاريخية يحرص على الاعتماد على مرويات تاريخية" موثقة" ويشير إلى مصادره، فإن كتابة الطهطاوى كانت تحقق الشرط ذاته مستجيبة في ذلك إلى" خصوصية" متن السيرة في إطار الثقافة العربية الوسيطة؛ بمعنى أن حرص المهتمين بالسيرة النبوية- فى عديد من العلوم في الحضارة الإسلامية- على تحقيق نسبة الأحداث والوقائع إلى النبى (ص) قد حدد مجال الابتكار أمام كاتب السيرة إذ أصبح ماثلا في التأكد من صحة الأخبار، ثم اصطفاء بعضها، أو الكثير منها أحيانا، مع التخلى عن كثير من التفصيلات أو المرويات الخلافية. ولعل ذلك ما شكل مبدأ لكتابة السيرة النبوية حتّى لدى الأجيال التالية للطهطاوى؛ على نحو ما يبدو عند طه حسين في" على هامش السيرة" (1933) (26) .
وبقدر ما كان الشرط السابق يقيد خيال كاتب السيرة في ابتكار أحداث أو
যেখানে জাইদানের অধিকাংশ উপন্যাসের কাহিনী এই ধরনের বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল, সেখানে জামিল নাখলা আল-মুদাওয়ার অন্য একটি আঙ্গিক উপস্থাপন করেছেন; সেটি হলো পূর্ববর্তী কোনো ঐতিহাসিক সময়ের একটি কাল্পনিক ভ্রমণের আঙ্গিক। তার "হাযারাতুল ইসলাম ফি দারিস সালাম" (দারুস সালামে ইসলামের সভ্যতা) উপন্যাসে একজন পারস্যদেশীয় পর্যটকের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যিনি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে অধিকাংশ মুসলিম দেশ ভ্রমণ করেন এবং আব্বাসীয় আমলের বেশ কিছু ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলিত হন ও বিশেষ করে বারমাকিদের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি তার এই ভ্রমণকে পাঠকের কাছে একগুচ্ছ পত্রের আকারে পেশ করেন, যা ঐ যুগের বহু দিক পাঠকের সামনে ফুটিয়ে তোলে যে যুগে তিনি ভ্রমণ করেছিলেন।
"আলম আদ-দীন" উপন্যাসের কাহিনী বিন্যাস তৃতীয় এক প্রকার আঙ্গিককে তুলে ধরে। এই আঙ্গিকটি একটি মূল কাহিনীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে যা কাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে—যা আলম আদ-দীনের সাথে ইংরেজ ব্যক্তির সম্পর্কের মাধ্যমে ফুটে ওঠে, হোক তা শুরুতে, বিকাশে কিংবা সমাপ্তিতে। এর সাথে যুক্ত থাকে অন্যান্য কিছু উপ-কাহিনী যা কোনো না কোনোভাবে মূল কাহিনীর সাথে সম্পর্কিত। এই উপ-কাহিনীগুলো সর্বদা কোনো একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়ার মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়, যেমনটি ইয়াকুবের গল্পে কিংবা প্রবাসী মিশরীয়র গল্পে (২৫) দেখা যায়।
তাহতাবীর "নিহায়াতুল ইজায"-এ বর্ণিত সিরাত রচনার প্রেক্ষিতকে ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক উপন্যাসের তাত্ত্বিক বিকাশের সমান্তরালে স্থাপন করলে এদের মধ্যে মিলের অনেকগুলো দিক উন্মোচিত হয়। এর কিছু দিক আবার ঐতিহাসিক উপন্যাসের গঠন এবং মধ্যযুগীয় আরবি বর্ণনামূলক কাঠামোর মধ্যকার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার রূপকেও নির্দেশ করতে পারে। ঐতিহাসিক উপন্যাসের লেখক যদি "নথিভুক্ত" ঐতিহাসিক বর্ণনার ওপর নির্ভর করতে সচেষ্ট হন এবং তার উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেন, তবে তাহতাবীর রচনাও মধ্যযুগীয় আরবি সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে সিরাতের পাঠ্যের "স্বাতন্ত্র্য" বজায় রেখে একই শর্ত পূরণ করেছে। এর অর্থ হলো, ইসলামি সভ্যতার বিভিন্ন শাস্ত্রের সাথে যুক্ত সিরাত গবেষকদের ঐকান্তিক লক্ষ্য ছিল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে ঘটনা ও তথ্যের সম্বন্ধ সুনিশ্চিত করা। এটি একজন সিরাত লেখকের উদ্ভাবনী ক্ষেত্রকে সংবাদের সত্যতা নিশ্চিতকরণ এবং তারপর তার মধ্য থেকে কিছু সংবাদ বা কখনো অনেক সংবাদ নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে, পাশাপাশি অনেক বিস্তারিত বিবরণ বা বিতর্কিত বর্ণনা বর্জন করার পথও তৈরি করেছে। সম্ভবত এটিই তাহতাবীর পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও সিরাত রচনার মূলনীতি হিসেবে কাজ করেছে; যেমনটি ১৯৩৩ সালে ত্বহা হুসাইনের "আলা হামিশিস সিরাহ" (সিরাতের পাদটীকায়) গ্রন্থে দেখা যায় (২৬)।
পূর্বোক্ত শর্তটি একজন সিরাত লেখকের কল্পনাশক্তিকে নতুন কোনো ঘটনা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যতটা সীমাবদ্ধ করেছিল বা...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقائع فإن ضخامة مرويات السيرة- لا سيما عند كتاب النمط المطول- كانت تعطى كاتب السيرة المحدث فرصة اختيار مجموعة من الأحداث والوقائع ليشكل منها هيكلا سرديا متصلا، وهو الموقف نفسه الذى كان يتخذه كاتب الرواية التاريخية إزاء المواد التى تقدمها له المصادر التاريخية العربية القديمة والوسيطة.
ولما كان هدف الطهطاوى من كتابة السيرة يتصل بأهداف كتاب الرواية التاريخية والتعليمية، فقد كانت تقنية الاستطراد في السرد تقنية مشتركة بين كتابته وكتابتهم.
وستتبدى تلك الجوانب بتفصيل أكبر في فقرات تالية، ولكن ذلك لن يتحقق إلا بعد الوقوف على مدى وعى الطهطاوى بالأشكال السردية المختلفة ووظائفها.
(4) تقع سيرة الطهطاوى في المنطقة الواصلة بين التاريخ والأدب، وكانت كتابة الطهطاوى لها تتصل- بقدر تماسها مع الرواية التاريخية والرواية التعليمية- بمرحلة
الإحياء التى ينتسب إليها فكر الطهطاوى وكتاباته المختلفة. ويتبدى اتصال الإحيائية بكتابة الطهطاوى" نهاية الإيجاز" من كون الطهطاوى قد أعاد إحياء ذلك الشكل السردى بعد أن توقفت كتابتة في مصر لمدة أربعة قرون؛ إذ إن اخر الكتابات المصرية السابقة على الطهطاوى هو كتاب المقريزى" إمتاع الأسماع" (27) . ويتصل بذلك الإحياء بعدان يتعلق أولهما بالصلة بين الأدب والتاريخ ودورها في تحديد طريقة كتابة السيرة وتقديمها بوصفها شكلا سرديا. بينما يرتبط ثانيهما بوعى الطهطاوى بالأشكال السردية العربية الوسيطة والقديمة. ولا ينفصل عن هذين البعدين تصور الطهطاوى لمهمة الأشكال السردية والأنواع الأدبية الحديثة.
يتبدى البعد الأوّل الكاشف عن الصلة بين الأدب والتاريخ لدى الطهطاوى فيما يظهر في مواضع مختلفة- على قلتها- من كتابات الطهطاوى بتناول الأدب أو بعض جوانبه أو بعض قضاياه أو ما يبدو من اهتمامه النسبى بتناول مسائل كتابة
ঘটনাবলি, কেননা সীরাত বর্ণনার বিশালতা—বিশেষ করে দীর্ঘকায় শৈলীর লেখকদের নিকট—আধুনিক সীরাত লেখককে এমন সুযোগ করে দিয়েছিল যে, তিনি কিছু ঘটনা ও বিষয় নির্বাচন করে একটি অবিচ্ছিন্ন বর্ণনামূলক কাঠামো তৈরি করতে পারতেন। এটি সেই একই অবস্থান ছিল যা একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় আরবি ঐতিহাসিক উৎসগুলোর প্রদানকৃত উপকরণের ব্যাপারে গ্রহণ করতেন।
যেহেতু সীরাত রচনার ক্ষেত্রে আল-তাহতাউয়ির লক্ষ্য ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক উপন্যাস লেখকদের লক্ষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, তাই বর্ণনায় প্রসঙ্গের বাইরে যাওয়ার পদ্ধতিটি তাঁর এবং তাঁদের রচনার মধ্যে একটি সাধারণ কৌশল ছিল।
পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে এই দিকগুলো আরও বিস্তারিতভাবে ফুটে উঠবে, তবে এটি কেবল তখনই সম্ভব হবে যখন বিভিন্ন বর্ণনামূলক রূপ ও তাঁদের কার্যাবলি সম্পর্কে আল-তাহতাউয়ির সচেতনতার মাত্রা অনুধাবন করা যাবে।
(৪) আল-তাহতাউয়ির সীরাত ইতিহাস ও সাহিত্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত। সীরাত রচনার ক্ষেত্রে তাঁর এই প্রয়াস ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক উপন্যাসের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি এমন এক পর্যায়ের সাথে যুক্ত ছিল যা—
সেই পুনর্জাগরণ বা রেনেসাঁ, যার সাথে আল-তাহতাউয়ির চিন্তা ও বিভিন্ন রচনা সম্পর্কিত। আল-তাহতাউয়ির রচনায় এই পুনর্জাগরণের যোগসূত্রটি তাঁর ‘নিহায়াতুল ইজায’ গ্রন্থের মাধ্যমে ফুটে ওঠে এই দিক থেকে যে, তিনি সেই বর্ণনামূলক রূপটিকে পুনরায় জীবিত করেছেন যা মিশরে প্রায় চার শতাব্দী ধরে বন্ধ ছিল। কেননা আল-তাহতাউয়ির আগে মিশরে এই ধারার সর্বশেষ রচনা ছিল আল-মাকরিজীর ‘ইমতাউল আসমা’ (২৭)। এই পুনর্জাগরণের সাথে দুটি দিক জড়িত। প্রথমটি সাহিত্য ও ইতিহাসের মধ্যকার সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সীরাত রচনার পদ্ধতি নির্ধারণ ও একে একটি বর্ণনামূলক রূপ হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এর ভূমিকার সাথে যুক্ত। অন্যদিকে দ্বিতীয়টি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় আরবি বর্ণনামূলক রূপ সম্পর্কে আল-তাহতাউয়ির সচেতনতার সাথে সম্পর্কিত। আধুনিক বর্ণনামূলক রূপ ও সাহিত্যিক প্রকারভেদের লক্ষ্য সম্পর্কে আল-তাহতাউয়ির যে ধারণা, তা এই দুই দিক থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
সাহিত্য ও ইতিহাসের মধ্যকার সম্পর্ক প্রকাশকারী প্রথম দিকটি আল-তাহতাউয়ির রচনার বিভিন্ন স্থানে ফুটে ওঠে—যদিও তা পরিমাণে কম—যেখানে তিনি সাহিত্য বা এর কিছু দিক ও বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন অথবা রচনার বিষয়সমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর যে আপেক্ষিক আগ্রহ দৃশ্যমান হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩২)
التاريخ ووظائفه. واللافت أن تناول الطهطاوى لمسائل الأدب يركز فيه- على عادة غيره من الإحيائيين- على الشعر، بينما يغلب أن يتصل تناوله للنثر عامة أو السرد خاصة بتناوله للتاريخ. ولعل تقديم الطهطاوى لتناول الشعر في مقابل التغييب النسبى لتناول النثر أو السرد بوصفه الطرف الثانى من أطراف ثنائية الشعر والنشر أن يشير إلى انتماء الطهطاوى إلى اللحظة التاريخية التى كان الأديب والناقد الإحيائى يسعى فيها، حثيثا، لصياغة موقف من الأشكال النثرية بتأثير اتصاله بالثقافة الأوروبية. وبالمثل يبدو تناول الطهطاوى لبعض الأشكال السردية العربية الوسيطة في إطار تناوله للتاريخ دالا على منحى إحيائى يتصل باستعادة تناول المؤرخ العربى الوسيط- فى مرحلة نضج الكتابة التاريخية- لأوجه التشابه والتلاقى بين بعض الأشكال السردية والكتابة التاريخية، وأوجه الاختلاف والتمايز بينهما (28) .
إن التاريخ عند الطهطاوى ينقسم إلى أثرى وبشرى (فالأوّل ما كان من طريق الشرع
كالقصص الواردة في الكتب السماوية والثانى ما وقف عليه الناس من الوقائع والحوادث الحاصلة في الأعصر القديمة والحديثة فأرخوه) (29) .
وإذا كان التاريخ أحداثا ووقائع تنتمى إلى الماضى دائما أو إلى الحاضر أحيانا، فإن الكتابة التاريخية عند الطهطاوى تستهدف تحقيق مهمة مزدوجة، وتعود هذه الازدواجية إلى المتلقى الذى كان الطهطاوى يتوجه إليه؛ إذ كان بحكم موقعه الثقافى والطبقى وطبيعة المرحلة يتوجه بكثير من كتاباته إلى الحاكم من ناحية، وإلى عامة القراء- ولا سيما طلاب المدارس من أبناء النظام التعليمى الذى أنشأه محمد على ودعمه إسماعيل- من ناحية أخرى، فالطهطاوى يقرر أن (تعلم التاريخ أليق بأبناء الأمراء والسلاطين، إذ هو معرفة أحوال الأمم والدول والملوك الماضين، فتقف الملوك به على أحوال من مضى من الأنبياء والأصفياء وغيرهم من أرباب الرياسات والسياسات، ممن مرّ زمانهم وانقضى، فيعتبر القارئ لسيرتهم من تلك الأحوال، ويتحصل على ملكة التجارب من تعرفه تقلبات الزمان والانتقال، فيحترز عن تجرع غصص ما نقل عن المضار، وينتهز التمتاع بفرص ما قيل
ইতিহাস ও এর কার্যাবলি। লক্ষণীয় যে, আল-তাহতাউয়ি সাহিত্যের বিষয়াবলি আলোচনার ক্ষেত্রে—অন্যান্য নবজাগরণবাদীদের প্রথানুসারে—কবিতার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, সাধারণভাবে গদ্য বা বিশেষভাবে আখ্যান সংক্রান্ত তাঁর আলোচনা সাধারণত ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। গদ্য বা আখ্যানের আপেক্ষিক অনুপস্থিতির বিপরীতে কবিতার আলোচনাকে আল-তাহতাউয়ি যে প্রাধান্য দিয়েছেন—যেখানে কবিতা ও গদ্যের দ্বৈত রূপের দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে আখ্যান বা গদ্য বিবেচিত—তা হয়তো সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে ইঙ্গিত করে, যখন নবজাগরণবাদী সাহিত্যিক ও সমালোচকগণ ইউরোপীয় সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসার প্রভাবে গদ্যের রূপরেখা সম্পর্কে একটি অবস্থান তৈরিতে সচেষ্ট ছিলেন। একইভাবে, ইতিহাসের আলোচনার কাঠামোতে আল-তাহতাউয়ি কর্তৃক মধ্যযুগীয় কিছু আরবি আখ্যানের অবতারণা একটি নবজাগরণবাদী প্রবণতার পরিচয় দেয়। এটি মধ্যযুগীয় আরবি ঐতিহাসিকদের—ইতিহাস রচনার পরিপক্ক পর্যায়ে—আখ্যানের বিভিন্ন রূপ এবং ইতিহাস রচনার মধ্যকার সাদৃশ্য ও মেলবন্ধন এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য ও বৈচিত্র্যগুলো পুনরুদ্ধারের সাথে সম্পর্কিত (২৮)।
আল-তাহতাউয়ির নিকট ইতিহাস দুই ভাগে বিভক্ত: ওহি-ভিত্তিক ও মানবীয় (প্রথমটি হলো যা শরিয়তের মাধ্যমে প্রাপ্ত, যেমন আসমানি কিতাবসমূহে বর্ণিত কাহিনীসমূহ; আর দ্বিতীয়টি হলো সেই সব ঘটনা ও বিবরণ যা প্রাচীন ও আধুনিক যুগে মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে এবং ইতিহাস হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছে) (২৯)।
ইতিহাস যদি সর্বদা অতীতের এবং কখনো কখনো বর্তমানের ঘটনা ও বাস্তবতার সমষ্টি হয়, তবে আল-তাহতাউয়ির নিকট ইতিহাস রচনার লক্ষ্য ছিল একটি দ্বিমুখী উদ্দেশ্য সাধন করা। এই দ্বিমুখীতা নির্ভর করত সেই পাঠকদের ওপর যাদের উদ্দেশ্য করে আল-তাহতাউয়ি লিখতেন। তাঁর সাংস্কৃতিক ও শ্রেণিগত অবস্থান এবং সমসাময়িক পরিস্থিতির কারণে তিনি একদিকে তাঁর অনেক লেখার মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীকে সম্বোধন করতেন, আর অন্যদিকে সাধারণ পাঠক—বিশেষ করে মুহাম্মদ আলী প্রতিষ্ঠিত এবং ইসমাইল কর্তৃক সমর্থিত শিক্ষাব্যবস্থার আওতাধীন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে লিখতেন। আল-তাহতাউয়ি সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, (ইতিহাস শিক্ষা করা রাজপুত্র ও সুলতানদের সন্তানদের জন্য অধিকতর উপযুক্ত; কারণ এটি হলো অতীত জাতি, রাষ্ট্র ও রাজাদের অবস্থা জানার মাধ্যম। এর মাধ্যমে রাজন্যবর্গ অতীত নবী, পুণ্যবান ব্যক্তি এবং অন্যান্য নেতৃত্ব ও রাজনীতির ধারকদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন, যাদের সময় অতিবাহিত ও সমাপ্ত হয়েছে। ফলে পাঠক তাদের জীবনচরিত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং মহাকালের পরিবর্তন ও বিবর্তন জানার মাধ্যমে অভিজ্ঞতার দক্ষতা অর্জন করেন। এর ফলে তিনি ক্ষতিকর বিষয়গুলো থেকে বর্ণিত দুঃখকষ্ট ভোগ করা থেকে বেঁচে থাকেন এবং যা বলা হয়েছে তার সুযোগগুলো গ্রহণ করেন...)
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
من المنافع والمضار، فالتاريخ عمر ثان للناظرين، فمن تعلمه فكأنما زاد في عمره وأحسن عاقبة أمره) (30) .
إن كتابة التاريخ لدى الطهطاوى بمثابة (معاد معنوى لأنه يعيد الأعصار وقد سلفت، وينشر أهلها وقد ذهبت اثارهم وعفت) (31) . وليست هذه سوى عملية استحضار للماضى، بأحداثه وشخصياته إلى وعى المتلقى الذى يتوجه إليه الكاتب المؤرخ، وتنهض تلك العملية على مجموعة من الأشكال السردية المختلفة التى يشير الطهطاوى إلى عدد منها عرفه التراث العربى القديم كالخبر والقصة والسيرة، ثم المقامة التى جمعت بين التعليم والنقد الاجتماعى. بينما يبدو تناول الطهطاوى للأسطورة بوصفها- شكلا سرديا- نابعا من اتصال الطهطاوى بالأدب الفرنسى وجذوره اليونانية. ومن اللافت أن كل الأشكال السردية العربية التى تناولها الطهطاوى قد كانت لها فاعليتها في تبلور أشكال الرواية العربية في مرحلة نشأتها بصفة خاصة.
يبدو مصطلح الخبر أو الأخبار لدى الطهطاوى مقترنا بالتاريخ من حيث كون التاريخ نقلا أو تقديما للأخبار، ومن هنا يربط الطهطاوى بين التاريخ والأخبار من ناحية، والكتب السماوية- فى جانب من جوانبها السردية- من ناحية أخرى. إذ يؤكد أنه لمكان العناية به (أى بالتاريخ) لم يخل منه كتاب من كتب الله المنزلة، فمنها ما أتانا بأخباره المجملة ومنها ما أتانا بأخباره المفصلة) (32) .
ولعل تلك الأهمية التى نالتها الأخبار التاريخية هى التى جعلت الطهطاوى يرفض الأخبار التى أولع بها (الإخباريون والقصاص) من (الأقاويل غير المرضية) و (ما يظهر بعرضه على ميزان العقل أنه من محض الخرافات) أو من (الأباطيل والخزعبلات) (33) . ويمثل موقف الطهطاوى استمرارا لمواقف فئات مختلفة في المجتمع العربى الوسيط من نشاط القصاصين وحكاياتهم وأخبارهم (34) ، كما أنه يمثل دافعا من الدوافع المباشرة التى دفعته إلى تلخيص السيرة النبوية وتقديمها في شكل موجز.
ويتردد مصطلحا القصة والقصص في مقدمة ترجمة الطهطاوى لرواية" مواقع الأفلاك في وقائع تليماك" وفي كتابه" مناهج الألباب المصرية في مباهج الاداب
উপকার ও অপকারের দিক থেকে। ইতিহাস দর্শকদের জন্য এক দ্বিতীয় জীবন; তাই যে ব্যক্তি তা শিক্ষা করল, সে যেন নিজের আয়ু বৃদ্ধি করল এবং তার পরিণামকে সুন্দর করল) (৩০)।
তহতভীয়ের নিকট ইতিহাস রচনা একটি (আধ্যাত্মিক পুনরুত্থান সদৃশ, কারণ এটি অতীত হয়ে যাওয়া কালসমূহকে ফিরিয়ে আনে এবং তাদের অধিবাসীদের পুনর্জীবিত করে, যাদের চিহ্নসমূহ বিলীন ও মুছে গিয়েছিল) (৩১)। এটি অতীতকে তার ঘটনাবলী ও ব্যক্তিত্বসহ সেই পাঠকের চেতনায় উপস্থিত করার একটি প্রক্রিয়া মাত্র, যাকে লক্ষ্য করে ঐতিহাসিক লেখক লিখছেন। এই প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন বর্ণনামূলক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যার বেশ কয়েকটিকে তহতভী উল্লেখ করেছেন যা প্রাচীন আরব ঐতিহ্যে পরিচিত ছিল, যেমন খবর (সংবাদ), কিসসা (গল্প) ও সিরাত (জীবনী); এরপর মাকামাহ, যা শিক্ষা ও সামাজিক সমালোচনার সমন্বয় ঘটিয়েছিল। অন্যদিকে, তহতভী কর্তৃক উপকথাকে একটি বর্ণনামূলক রূপ হিসেবে গ্রহণ করা মূলত ফরাসি সাহিত্য ও এর গ্রীক শিকড়ের সাথে তার সংযোগের ফল বলে মনে হয়। এটি লক্ষণীয় যে, তহতভী যে সকল আরবি বর্ণনামূলক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন, তার প্রতিটিই বিশেষ করে বিকাশের পর্যায়ে আরবি উপন্যাসের রূপরেখা গঠনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।
তহতভীয়ের নিকট 'খবর' বা 'আখবার' (সংবাদ) পরিভাষাটি ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মনে হয়, যেহেতু ইতিহাস হলো সংবাদ বা তথ্যের বর্ণনা বা উপস্থাপন। এখান থেকেই তহতভী একদিকে ইতিহাস ও সংবাদ এবং অন্যদিকে আসমানি কিতাবসমূহের বর্ণনামূলক দিকগুলোর মধ্যে এক যোগসূত্র স্থাপন করেন। কারণ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এর (অর্থাৎ ইতিহাসের) গুরুত্বের কারণে আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের কোনোটিই তা থেকে শূন্য নয়; কোনো কিতাবে আমাদের কাছে সংক্ষিপ্ত সংবাদ এসেছে, আবার কোনোটিতে এসেছে বিস্তারিত সংবাদ) (৩২)।
সম্ভবত ঐতিহাসিক সংবাদের এই গুরুত্বের কারণেই তহতভী সেইসব সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছেন যার প্রতি (সংবাদ বর্ণনাকারী ও গল্পকাররা) আসক্ত ছিল, যেমন (অসন্তোষজনক উক্তি) এবং (যা বিবেকের মানদণ্ডে উপস্থাপন করলে স্পষ্ট হয় যে তা নিছক কুসংস্কার) অথবা (বাতিল ও ভিত্তিহীন গালগল্প) (৩৩)। তহতভীয়ের এই অবস্থান মধ্যযুগীয় আরব সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর সেই অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা যা তারা গল্পকারদের কর্মকাণ্ড এবং তাদের কিচ্ছা-কাহিনীর প্রতি পোষণ করত (৩৪)। এছাড়া এটি একটি অন্যতম প্রত্যক্ষ কারণ যা তাকে সীরাতে নববীকে সংক্ষিপ্ত করতে এবং তা সংক্ষেপে উপস্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
'মাওয়াকিউল আফলাক ফি ওয়াকায়ি তেলিমাখ' উপন্যাসের অনুবাদের ভূমিকায় এবং তার রচিত 'মানাহিজুল আলবাব আল-মিসরিয়া ফি মাবাহিজিল আদাব' গ্রন্থে 'কিসসা' ও 'কাসাস' (গল্প ও কাহিনী) পরিভাষা দুটি বারবার এসেছে।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
العصرية"، ومن اللافت أن الطهطاوى في مقدمة ترجمته تلك يمدح النبى" ص" بأنه (خير من اختص بالقصص والنبأ، وأنبأ عن قصة بلقيس وسبأ، ولم يغادر صغيرة ولا كبيرة إلا أحصاها من أخبار العرب والعجم) (35) . ولقد قرن الطهطاوى رواية" تليماك" ببعض الأشكال السردية العربية الوسيطة، فتليماك- كما يراها الطهطاوى- موضوعة (على هيئة المقامات الحريرية في صورة مقالات) (36) ، كما أطلق الطهطاوى مصطلح" قصة" على بعض السير الشعبية العربية، ثم فضل رواية تليماك عليها وعلى بعض الأشكال السردية العربية الاخرى كألف ليلة وليلة؛ إذ يقرر (وأين منها (أى من تليماك) عند القوم ألف ليلة وليلة وألف يوم ويوم، وهل تقاس بها قصة ذى يزن أو عنتر، فكيف وموضوعهما أقطع أبتر، فقد اشتهرت هذه المقالات بين الملل والأمم اشتهار نار على علم وترجمت بفصاحتها الركبان في سائر الجهات لما اشتملت عليه من المعانى الحسنة مما هو نصايح للسلاطين والملوك وبها لسائر الناس تحسين السلوك تارة بالتصريح والتوضيح وأخرى بالرمز والتلويح) (37) .
ولما كان الطهطاوى بترجمته رواية" تليماك" يقدم نصّا يقوم على استلهام أصل أسطورى فقد توقف أمام مصطلحى الأسطورة والأساطير؛ إذ قدم- فى ديباجة ترجمته- تعريفا بتليماك وعرّف بأصله الأسطورى، ونصّ على أنه يستقى معلوماته من (كتب الخرافات اليونانية) (38) . وفي ضوء ذلك حاول أن يبرر ميلاد تليماك من مواقعة المشترى للكمينة زوجة انفتريون، وسعى إلى تقريب هذا إلى ذهن المتلقى العربى بتقديمه عدة أخبار من التراث العربى تتحدث عن زواج الأنس بالجان أو الأنس بالملائكة (39) . وفي هذا ما يشير إلى أن الطهطاوى قد أدرك أن الأسطورة شكل سردى يقوم على مجموعة من الأخبار التى تحوى أفعالا خارقة أو مجاوزة للمألوف، من ناحية، كما أنها- من ناحية ثانية- تجسيد لعقيدة جماعة معينة، ولكنها يمكن- من ناحية ثالثة- أن توظف لأهداف تعليمية أو أخلاقية.
وفي ضوء ذلك يتبدى وصفه للأدب اليونانى بأنه مبنى (على إفراط العبارة) فى الاعتماد على الأساطير مؤكدا أنه (لما كان الفرنج يحذون في ادابهم حذو اليونان اتخذوا الخرافات اليونانية قدوة في ذلك وألفوا فيها تاليف تسمى المثيولوجيا ووقائع تليماك مشحونة بهذه الأشياء) (40) .
আধুনিক", এবং এটি লক্ষণীয় যে আল-তাহতাউয়ি তাঁর সেই অনুবাদের ভূমিকায় নবী (সা.)-এর প্রশংসা করে বলেন যে, তিনি (সেই সর্বোত্তম সত্তা যাঁকে কাহিনী ও সংবাদের বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে, এবং যিনি বিলকিস ও সাবার কাহিনী বর্ণনা করেছেন, এবং আরব ও অনারবদের সংবাদের মধ্যে ছোট-বড় এমন কিছুই নেই যা তিনি গণনা করেননি বা বর্ণনা করেননি) (৩৫)। আল-তাহতাউয়ি "টেলিম্যাক" উপন্যাসটিকে মধ্যযুগীয় কিছু আরবি বর্ণনামূলক কাঠামোর সাথে তুলনা করেছেন। তাহতাউয়ির দৃষ্টিতে টেলিম্যাক মূলত (প্রবন্ধের আকারে মাকামাতে হারিরির আদলে) বিন্যস্ত (৩৬)। আল-তাহতাউয়ি কিছু জনপ্রিয় আরবি লোকগাঁথার ক্ষেত্রে "কিসসা" (কাহিনী) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অতঃপর তিনি টেলিম্যাক উপন্যাসটিকে সেই সব এবং অন্যান্য আরবি বর্ণনামূলক কাঠামো যেমন 'আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা' (এক হাজার এক রজনী)-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন; তিনি সিদ্ধান্ত দেন যে (সেই জাতির নিকট টেলিম্যাক-এর তুলনায় 'এক হাজার এক রজনী' এবং 'এক হাজার এক দিন'-এর অবস্থান কোথায়? যি-ইয়াযান বা আন্তারের কাহিনী কি এর সাথে তুলনাযোগ্য হতে পারে? যখন তাদের উভয়টির বিষয়বস্তু বিচ্ছিন্ন ও অসম্পূর্ণ। এই প্রবন্ধগুলো বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে পাহাড়ের চূড়ায় প্রজ্জ্বলিত আগুনের ন্যায় প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এর সাবলীলতার কারণে সর্বদাই এটি বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষান্তরিত হয়েছে। কেননা এতে চমৎকার সব অর্থ নিহিত রয়েছে যা সুলতান ও বাদশাহদের জন্য উপদেশস্বরূপ এবং সাধারণ মানুষের আচরণের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যম; কখনো তা সরাসরি ও স্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে, আবার কখনো ইঙ্গিত ও রূপকের মাধ্যমে) (৩৭)।
যেহেতু আল-তাহতাউয়ি "টেলিম্যাক" উপন্যাসটি অনুবাদের মাধ্যমে এমন একটি পাঠ্য উপস্থাপন করছিলেন যা একটি পৌরাণিক উৎসের অনুপ্রেরণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তাই তিনি "উসতুরা" (মিথ) এবং "আসাতীর" (পৌরাণিক কাহিনী) শব্দদ্বয়ের সামনে থমকে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তাঁর অনুবাদের প্রস্তাবনায় টেলিম্যাকের পরিচিতি দিয়েছেন এবং এর পৌরাণিক উৎস সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর তথ্যসমূহ (গ্রিক উপকথা বা রূপকথার বইসমূহ) থেকে সংগ্রহ করেছেন (৩৮)। এর আলোকে তিনি অ্যালকমিন (অ্যাম্ফিট্রিওনের স্ত্রী)-এর সাথে জুপিটারের মিলনের ফলে টেলিম্যাকের জন্মের বিষয়টি যৌক্তিক করার চেষ্টা করেছেন এবং আরবি ঐতিহ্যের বেশ কিছু বর্ণনা উপস্থাপনের মাধ্যমে আরব পাঠকদের মনের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন, যা জিন বা ফেরেশতাদের সাথে মানুষের বিবাহের কথা বর্ণনা করে (৩৯)। এটি নির্দেশ করে যে, আল-তাহতাউয়ি বুঝতে পেরেছিলেন যে একদিকে পৌরাণিক কাহিনী হলো এমন একটি বর্ণনামূলক রূপ যা এমন কিছু সংবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে যাতে অলৌকিক বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থাকে; অন্যদিকে এটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিশ্বাসের প্রতিফলন; আবার তৃতীয়ত, এটিকে শিক্ষামূলক বা নৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এর আলোকে গ্রিক সাহিত্যের প্রতি তাঁর সেই বিবরণটি প্রকাশিত হয় যে এটি পৌরাণিক কাহিনীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার (ভাষা বা বর্ণনার আধিক্যের ওপর) ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে (যেহেতু ইউরোপীয়রা তাদের সাহিত্যে গ্রিকদের অনুসরণ করে, তাই তারা গ্রিক রূপকথাগুলোকে এই ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তারা মিথোলজি নামক গ্রন্থসমূহ রচনা করেছে এবং টেলিম্যাকের ঘটনাবলি এই সমস্ত বিষয়ে পরিপূর্ণ) (৪০)।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ويتضمن تناول الطهطاوى للأسطورة ودورها في الأدبين اليونانى والفرنسى دلالات متعددة لعل أبرزها تأكيده على ضرورة التفريق بين الظاهر والباطن فيها (41) وهو تمييز قد يسهم في تأويل الرسالة الضمنية التى ينطوى عليها" نهاية الإيجاز" على نحو ما سيتضح في فقرات تالية.
ويمثل مصطلح المقامة واحدا من مصطلحات الأشكال السردية التى أشار إليها الطهطاوى، وتشير بعض سياقات استخدامه لديه إلى إطلاقه إياه على القصص الفرنسية (42) . وأما مصطلح سيرة فمن المؤكد أن الطهطاوى قد عرفه- منذ البداية إبان دراسته بالأزهر قبل سفره إلى باريس، ثم أتيح له في باريس أن يقرأ سيرا أوروبية متنوعة كسير فلاسفة اليونان وسيرة نابليون، وقد قرأها في إطار دراسته" النظامية" للتاريخ، واللافت أنه وصف مادة بعضها مستخدما بعض المصطلحات المستخدمة في السرد العربى الوسيط كالقصص والحكايات والنوادر (43) .
إن تحليل المصطلحات السردية التى استخدمها الطهطاوى يكشف عن أنه كان على دراية واسعة بكثير من الأشكال السردية العربية القديمة والوسيطة، كما أتيح له التعرف على عدد من الأشكال السردية الأوروبية القديمة والوسيطة والحديثة، ولما كانت معرفته بهذه الأشكال قد تمت في إطار تشكل معرفته بالتاريخ فقد كان ذلك دافعا له لأن يرى دور هذه الأشكال في تحقيق مهام تعليمية وتهذيبية يحققها التاريخ. كما قادته تلك المعرفة إلى الوعى بالأدوار التى يمكن أن يؤديها السرد في توصيل معارف مختلفة، ولهذا اعتمد عليه في عدد من مؤلفاته سواء التاريخية مثل" أنوار توفيق الجليل" أو التعليمية التوجيهية العامة مثل" المرشد الأمين" و" مناهج الألباب". وقد قاده ذلك الوعى إلى إعادة كتابة السيرة النبوية بوصفها نصّا سرديا، ولعله كان يدرك- على نحو ضمنى- أن مثل هذه الكتابة هى صورة من صور التجادل مع تقاليد راسخة تثبتت في كتابة السيرة النبوية لدى السابقين عليه، وإذا كانت كتابته تلك قد استندت إلى توجهاته الإصلاحية التى حكمت مجمل مؤلفاته، فإنها قد تأسست، من ناحية، على رؤيته التاريخية، بينما قامت، من ناحية أخرى ومن حيث هى إعادة تشكيل لتقاليد شكل سردى راسخ في الثقافة العربية الوسيطة، على أداة الذوق الذى رأى الطهطاوى أنه ملكة متجددة يتغير
তাহতাভীর উপকথা এবং গ্রিক ও ফরাসি সাহিত্যে এর ভূমিকা সংক্রান্ত আলোচনা বহুবিধ ইঙ্গিত বহন করে, যার মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো উপকথার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য রূপের মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তার গুরুত্বারোপ (৪১)। এটি এমন একটি পার্থক্য যা 'নিহায়াতুল ইজাজ'-এর অন্তর্নিহিত বার্তার ব্যাখ্যায় অবদান রাখতে পারে, যেভাবে পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে তা স্পষ্ট হবে।
মাকামা পরিভাষাটি তাহতাভী নির্দেশিত বর্ণনামূলক কাঠামোগুলোর অন্যতম একটি পরিভাষা হিসেবে গণ্য। তার ব্যবহারের কিছু প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে যে, তিনি এটি ফরাসি গল্পের (৪২) ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন। আর সীরাত পরিভাষাটির ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত যে, প্যারিস সফরের পূর্বে আল-আযহারে অধ্যয়নকালেই তাহতাভী তা জানতেন। পরবর্তীতে প্যারিসে তিনি গ্রিক দার্শনিকদের জীবনী এবং নেপোলিয়নের জীবনীর মতো বিভিন্ন ইউরোপীয় জীবনী পড়ার সুযোগ পান। তিনি এগুলো ইতিহাসের 'প্রাতিষ্ঠানিক' পাঠের কাঠামোর মধ্যে পড়েছিলেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো যে, তিনি এগুলোর কোনো কোনোটির বিষয়বস্তু বর্ণনা করতে মধ্যযুগীয় আরবি বর্ণনায় ব্যবহৃত কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেছেন যেমন কিসসা, হিকায়াত এবং নাওয়াদির (৪৩)।
তাহতাভী কর্তৃক ব্যবহৃত বর্ণনামূলক পরিভাষাগুলোর বিশ্লেষণ প্রকাশ করে যে, তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বহু আরবি বর্ণনামূলক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান রাখতেন। পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু প্রাচীন, মধ্যযুগীয় ও আধুনিক ইউরোপীয় বর্ণনামূলক কাঠামোর সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। যেহেতু এই কাঠামোগুলো সম্পর্কে তার জ্ঞান ইতিহাস বিষয়ক জ্ঞান অর্জনের কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই এটি তাকে ইতিহাসের মাধ্যমে অর্জিত শিক্ষামূলক ও নীতিশাস্ত্রীয় লক্ষ্যসমূহ অর্জনে এই কাঠামোগুলোর ভূমিকা অনুধাবনে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এই জ্ঞান তাকে বিভিন্ন জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ণনার ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিল। একারণেই তিনি তার বেশ কিছু গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করেছেন, তা ঐতিহাসিক গ্রন্থ যেমন 'আনোয়ারু তাওফিকিল জলিল' হোক বা সাধারণ শিক্ষামূলক ও নির্দেশনামূলক গ্রন্থ যেমন 'আল-মুরশিদুল আমিন' এবং 'মানাহিজুল আলবাব' হোক। এই সচেতনতা তাকে সীরাতে নববীকে একটি বর্ণনামূলক পাঠ্য হিসেবে পুনরায় লিখতে পরিচালিত করেছিল। সম্ভবত তিনি পরোক্ষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, এ ধরণের লেখা হলো তার পূর্ববর্তীদের সীরাত রচনার সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যের সাথে মিথস্ক্রিয়ার একটি রূপ। যদি তার সেই রচনা তার সংস্কারবাদী প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে যা তার সামগ্রিক কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, তবে তা একদিকে তার ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; অন্যদিকে, মধ্যযুগীয় আরবি সংস্কৃতির একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণনামূলক কাঠামোর পুনর্গঠন হিসেবে এটি রুচিবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যাকে তাহতাভী একটি নবায়নযোগ্য অনুষদ হিসেবে দেখেছিলেন যা পরিবর্তিত হয়...
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
دورها بتغير البيئة والأزمان ويرتقى مع تقدم العمران (44) . وفي هذا ما يؤسس للطرائق والتقنيات التى اعتمدها الطهطاوى في إعادة تشكيل كتابة السيرة النبوية ليواجه متطلبات جديدة طرحها واقع جديد.
(5) تتصل كتابة الطهطاوى السيرة النبوية بتقاليد كتابة السيرة النبوية في التراث العربى السابق عليه، كما ترتبط بطرائق الكتابة والتشكيل في الرواية التاريخية والرواية التعليمية المعاصرتين له. وتتكشف تلك الصلات- أكثر ما تتكشف- فى التشكيل السردى الذى صاغ فيه الطهطاوى كتابته، ويقوم على ذلك التشكيل على عدة عناصر هى: تنظيم الواحدات السردية الكبرى، والاعتماد على تقنية الإيجاز والحذف، والركون إلى تقنية الاستطراد، ثم توظيف الشعر داخل الكتابة السردية.
وبقدر ما تمارس تقنيتا الإيجاز والحذف والاستطراد تأثيرات متعددة في إطار الواحدات السردية (الكبرى والوسطى والصغرى) فى سيرة الطهطاوى فإن أدوارهما في تشكيل.
الواحدات الوسطى تحمل دلالات واضحة على المنحى التجديدى في كتابة الطهطاوى للسيرة النبوية، ومن هنا ضرورة التوقف أمام نموذج من نماذج تشكل الواحدات الوسطى.
وبقدر ما تمثل العناصر السابقة متن السيرة النبوية عند الطهطاوى فإنها تكشف عن كون الطهطاوى نموذجا لذلك الراوى المفارق لمرويه.
(1/ 5) تنتظم السيرة النبوية لدى الطهطاوى في ست واحدات سردية كبرى، هى على تتابعها: المولد، والمبعث، والهجرة، وظواهر ما بعد الهجرة، ثم وفاة النبى (ص) وذكر بعض أخلاقه وصفاته ومعجزاته وأزواجه وأعمامه وعماته وأخواله ومواليه وخدمه وحشمه، ثم الوظائف والعمالات البلدية.
পরিবেশ ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে এর ভূমিকা পরিবর্তিত হয় এবং সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তা উন্নত হয় (৪৪)। এর মধ্যেই সেই পদ্ধতি ও কলাকৌশলগুলোর ভিত্তি নিহিত রয়েছে যা আল-তহতাবি তাঁর সীরাত গ্রন্থ রচনার পুনর্গঠনে গ্রহণ করেছিলেন, যাতে একটি নতুন বাস্তবতার উত্থাপিত নতুন চাহিদাগুলোর মোকাবিলা করা যায়।
(৫) আল-তহতাবির সীরাত রচনা তাঁর পূর্ববর্তী আরব ঐতিহ্যের সীরাত রচনার ঐতিহ্যের সাথে যেমন যুক্ত, তেমনি তাঁর সমসাময়িক ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক উপন্যাসের লিখনশৈলী ও কাঠামোর সাথেও সম্পর্কিত। এই সংযোগগুলো সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে সেই বর্ণনামূলক কাঠামোতে যার মাধ্যমে আল-তহতাবি তাঁর লেখাটি তৈরি করেছেন। এই কাঠামোটি কয়েকটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: বৃহৎ বর্ণনামূলক এককগুলোর বিন্যাস, সংক্ষেপণ ও বিলোপন পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা, প্রসঙ্গান্তর পদ্ধতির সাহায্য গ্রহণ এবং বর্ণনামূলক লেখার ভেতরে কবিতার ব্যবহার।
আল-তহতাবির সীরাতে সংক্ষেপণ, বিলোপন ও প্রসঙ্গান্তর—এই পদ্ধতিগুলো বর্ণনামূলক এককগুলোর (বৃহৎ, মধ্যম ও ক্ষুদ্র) কাঠামোর মধ্যে যতটা প্রভাব বিস্তার করে, ঠিক ততটাই এদের ভূমিকা কাঠামোগত রূপায়ণে দৃশ্যমান হয়।
মধ্যম এককগুলো আল-তহতাবির সীরাত রচনার সংস্কারমূলক প্রবণতার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। এখান থেকেই মধ্যম এককগুলোর গঠনের একটি নমুনা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
পূর্বোক্ত উপাদানগুলো আল-তহতাবির নিকট সীরাতের মূল পাঠ্য হিসেবে যতটা গণ্য, সেগুলো একই সাথে এটিও প্রকাশ করে যে, আল-তহতাবি সেই বর্ণনাকারীর একটি আদর্শ উদাহরণ যিনি তাঁর বর্ণিত বিষয়বস্তু থেকে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখেন।
(১/ ৫) আল-তহতাবির নিকট সীরাতে নববী ছয়টি বৃহৎ বর্ণনামূলক এককে বিন্যস্ত, যেগুলো ক্রমানুসারে হলো: জন্ম, নবুওয়াত প্রাপ্তি, হিজরত, হিজরত-পরবর্তী ঘটনাবলি, এরপর নবী (সা.)-এর ওফাত এবং তাঁর চরিত্র, গুণাবলি, মুজিজা, পত্নীগণ, চাচা ও ফুফুগণ, মামাগণ, মুক্তদাস, সেবক ও অনুসারীদের বিবরণ, এবং সবশেষে প্রশাসনিক ও আঞ্চলিক দায়িত্বসমূহ।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ومن البين أن الواحدات الأربع الأولى- بالإضافة إلى نقطة الوفاة في بداية الواحدة الخامسة- قد رتبت على أساس زمنى قائم على التوالى التاريخى. وتشكل العلاقة بين هذه الواحدات نمطا من أنماط البنية المركبة التى تقوم على منطق النظم أو التنضيد- عند شلوفسكى- حيث تتتابع مجموعة من القصص القصيرة يغلب أن تكون واحدات سردية (مستقلة كل واحدة عن الاخرى، لكن تصل فيما بينها شخصية مشتركة) (45) ، ويؤدى تعاقبها في نص واحد إلى إنشاء (واحدة جديدة لها بنية مخصوصة، ولعل أظهر ما تتجلى فيه هذه البنية القصص التاريخية أو قصص السيرة) (46) . وتشكل تلك الواحدات الهيكل الأساسى لمتن السيرة النبوية، ومن اللافت تأمل العلاقات التى ينشئوها نص الطهطاوى مع الكتابات السابقة عليه؛ فهو من ناحية يتابع كتّاب نمط السيرة المختصرة- كابن عبد البر وابن حزم- الذين قصروا متن السيرة على متابعة حياة النبى (ص) من ميلاده إلى وفاته. بينما يبدو- من ناحية ثانية- معدّلا في بعض التقاليد السائدة لدى كتاب النمط المطول والنمط المشروح؛ فإذا كانت سيرة ابن هشام تنتهى بوفاة النبى (ص) فإنها قد توقفت عند القصائد التى قيلت في رثائه، بينما وضع ابن سيد الناس- قبل تقديمه واحدة الوفاة- أخبارا مختلفة عن الجوانب الاجتماعية والأسرية للنبى كأولاده وأعمامه وأزواجه وأسرته ومواليه وكتابه وحراسه وجمل من صفاته وغيرها (47) ، وهذه هى نفسها الواحدات الصغرى التى ساقها الطهطاوى بعد ذكره الوفاة. ومن اللافت أن المنطق الكامن خلف ذلك التنظيم الذى قدمه الطهطاوى يبدو متصلا- بقوة- ببعض السير الغيرية التراثية، كما يرتبط أيضا بنظام الترجمة في بعض كتب التراجم العربية ككتاب الأغانى؛ فسيرة عمر بن الخطاب لابن الجوزى (ت 597 هـ) تقوم على سرده وقائع حياته من مولده إلى توليه الخلافة عبر تتابع زمنى محكم، ثم تلجأ إلى السرد القائم على الموازاة بين عرض سلوكه وتصرفاته من ناحية وصفاته وسماته من ناحية أخرى، مما يخرق الترتيب الزمنى لسرد الوقائع الذى تجلى في الواحدات الأولى. ولا تمثل حادثة مقتل عمر نهاية السيرة إذ تتلوها مجموعة من الواحدات التى يقدم فيها المؤلف عددا من الواحدات أو الموضوعات المتصلة بعمر كبعض صفاته، وبكاء الناس عليه، والمنامات التى راها أو التى رؤى فيها، وذكر ثناء الناس عليه (48) .
এটা স্পষ্ট যে, প্রথম চারটি একক—পঞ্চম এককের শুরুতে মৃত্যুর বিষয়ের পাশাপাশি—ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে একটি কালানুক্রমিক ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এই এককগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক একটি জটিল কাঠামোর রূপ গঠন করে, যা শ্লোভস্কির মতে সংহতি বা বিন্যাস পদ্ধতির যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেখানে একগুচ্ছ ছোটগল্প পর্যায়ক্রমে আসে যা মূলত বর্ণনামূলক একক (প্রতিটি একে অপরের থেকে স্বাধীন, কিন্তু একটি অভিন্ন চরিত্র তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে) (৪৫)। এবং একটি পাঠ্যের মধ্যে সেগুলোর এই অনুক্রম একটি (নতুন একক সৃষ্টি করে যার একটি বিশেষ কাঠামো রয়েছে; সম্ভবত ঐতিহাসিক কাহিনী বা জীবনীমূলক কাহিনীতে এই কাঠামোটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে) (৪৬)। এই এককগুলোই সীরাত-উন-নববীর মূল পাঠের মৌলিক কাঠামো গঠন করে। আর তাহতাওয়ির পাঠ্য তার পূর্ববর্তী রচনাবলির সাথে যে সম্পর্ক তৈরি করে তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। তিনি একদিক থেকে সংক্ষিপ্ত সীরাত রচনার ধারার লেখকদের—যেমন ইবনে আবদিল বার এবং ইবনে হাজম—অনুসরণ করেন, যারা সীরাতের মূল পাঠকে নবী (সা.)-এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের ঘটনাবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। অন্যদিকে, বিস্তারিত এবং ব্যাখ্যাসংবলিত সীরাত রচনার ধারার লেখকদের মধ্যে প্রচলিত কিছু ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে তাকে সংস্কারকারী বলে মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে হিশামের সীরাত গ্রন্থ নবী (সা.)-এর মৃত্যুর মাধ্যমে সমাপ্ত হলেও তা শেষ হয়েছে তাঁর শোকগাঁথা হিসেবে রচিত কবিতাগুলোতে। অন্যদিকে, ইবনে সাইয়্যেদুন নাস—মৃত্যুর এককটি উপস্থাপনের পূর্বে—নবী (সা.)-এর সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদ যেমন তাঁর সন্তানাদি, চাচা, স্ত্রী, পরিবার, মুক্ত করা দাস, লেখক, দেহরক্ষী এবং তাঁর গুণাবলির একটি সারসংক্ষেপ ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন (৪৭)। আর এগুলোই হলো সেই ক্ষুদ্র একক যা তাহতাওয়ি মৃত্যুর বর্ণনার পরে উল্লেখ করেছেন। লক্ষণীয় যে, তাহতাওয়ি উপস্থাপিত এই বিন্যাসের পেছনে নিহিত যুক্তিটি ঐতিহাসিকভাবে অন্য ব্যক্তিদের জীবনীগ্রন্থের সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত বলে মনে হয়; যেমন এটি ‘কিতাবুল আগানি’-র মতো কিছু আরবি জীবনীগ্রন্থের জীবনী রচনার পদ্ধতির সাথেও সম্পর্কিত। ইবনুল জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি) রচিত উমর ইবনুল খাত্তাবের জীবনী গ্রন্থটি তাঁর জন্ম থেকে খিলাফত গ্রহণ পর্যন্ত জীবনের ঘটনাবলিকে একটি সুদৃঢ় কালানুক্রমিক বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। এরপর এটি এমন এক বর্ণনার আশ্রয় নেয় যা একদিকে তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ড এবং অন্যদিকে তাঁর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের সমান্তরাল উপস্থাপনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা প্রথম দিকের এককগুলোতে দৃশ্যমান কালানুক্রমিক বিন্যাসকে ভেঙে দেয়। উমরের শাহাদাতের ঘটনাটি সেই জীবনীর সমাপ্তি নির্দেশ করে না, বরং এর পরে একগুচ্ছ একক আসে যেখানে লেখক উমর সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় বা বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন, যেমন তাঁর কিছু গুণাবলি, তাঁর মৃত্যুতে মানুষের ক্রন্দন, তাঁর দেখা স্বপ্ন অথবা তাঁকে নিয়ে দেখা স্বপ্নসমূহ এবং মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসার বর্ণনা (৪৮)।
(খণ্ড: ১)
নিহায়াতুল ইজায ফী সীরাতি সাকিনিল হিজায
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ورغم أن نظام الترجمة في كتاب الأغانى يقوم على الابتداء بنسب المترجم له والانتهاء بوفاته، فإن بعض التراجم كانت تنتهى بأخبار تتصل بالمترجم له بعد وفاته (49) .
وإذا كانت الواحدة السادسة التى قدم فيها الطهطاوى الوظائف والعمالات البلدية قد مثلت لدى دارسى كتاباته التاريخية دالا من دوال تجديده (50) فإنها- من حيث علاقتها بواحدات السيرة- تبدو متصلة بها في اعتمادها على تقديم كم كبير من المرويات السردية المختلفة، بينما تبدو- فى الان نفسه- منفصلة عن متن السيرة؛ إذ تبدو عرضا لجوانب اجتماعية وسياسية تنظيمية يستعين ببعض العناصر السردية كالأخبار والحكايات، كما تبدو إيجازا لكتاب الخزاعى (ت 789 هـ) " تحرير الدلالات السمعية" (51) . وقد صرح الطهطاوى بأن إضافته تلك الواحدة إلى السيرة تمثل نمطا من أنماط التجديد في كتابتها (52) ، ولعل هذه الإضافة دال يشير إلى أن كتابة الطهطاوى السيرة لم تقف فقط عند حد التغيير في تقاليد كتابة السيرة النبوية، بل جمعت إليها لونا من النصوص المقالية- الاجتماعية والسياسية- التى قد تنهض- بدورها- دالا على تغير ما في توجهات الطهطاوى الفكرية في أخريات حياته.
وتختلف أطوال الواحدات السردية الكبرى في سيرة الطهطاوى نتيجة عاملين يتمثل أولهما في حجم العناصر السردية وغير السردية التى يعتمد عليها الطهطاوى، وتبدو الواحدة الرابعة، وهى الخاصة بظواهر ما بعد الهجرة، أطول هذه الواحدات، ولذا قسمها الطهطاوى إلى واحدات أصغر حيث جعل من أحداث كل عام وما فيه من غزوات واحدة واحدة. على حين يتمثل ثانيهما في بروز تقنيتى الإيجاز والحذف والاستطراد حيث تبدو فاعلية كل منهما سببا من أسباب تحديد حجم الواحدة السردية، من ناحية، ودالا- من ناحية أخرى- على أهمية هذه الواحدة أو تلك في متن الطهطاوى.
যদিও কিতাবুল আগানি-তে জীবনী রচনার পদ্ধতি হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বংশপরিচয় দিয়ে শুরু করা এবং তার মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ করা, তবুও কিছু জীবনী এমন সংবাদের মাধ্যমে শেষ হয়েছে যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর পরের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত (৪৯)।
ষষ্ঠ অধ্যায়টি, যেখানে তাহতাবি রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি ও প্রশাসনিক কাঠামোর বিবরণ দিয়েছেন, তা তার ঐতিহাসিক রচনাবলি গবেষকদের নিকট তার সংস্কার ও আধুনিকায়নের একটি অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত (৫০)। সীরাতের অধ্যায়গুলোর সাথে এর সম্পর্কের দিক থেকে একে সীরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট মনে হয়, কারণ এটি বিপুল সংখ্যক বর্ণনামূলক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। আবার একই সাথে একে সীরাতের মূল পাঠ থেকে বিচ্ছিন্নও মনে হয়; কেননা এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সাংগঠনিক দিকগুলোর একটি উপস্থাপনা হিসেবে প্রতীয়মান হয় যেখানে সংবাদ ও গল্পের মতো কিছু বর্ণনামূলক উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি এটি খুজায়ি (মৃত্যু ৭৮৯ হি.) রচিত ‘তাহরিরুদ দালালাতিস সামইয়্যাহ’ (৫১) গ্রন্থের একটি সারসংক্ষেপ হিসেবেও পরিগণিত হয়। তাহতাবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সীরাতের মধ্যে এই অধ্যায়টির সংযোজন সীরাত রচনার ক্ষেত্রে এক ধরনের নতুনত্বের প্রতিনিধিত্ব করে (৫২)। সম্ভবত এই সংযোজনটি ইঙ্গিত দেয় যে, তাহতাবির সীরাত রচনা কেবল নবীজির সীরাত রচনার প্রচলিত রীতি পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রবন্ধধর্মী রচনার এক সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। এটি সম্ভবত তার জীবনের শেষ ভাগে তার বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তনের নিদর্শন হিসেবেও কাজ করে।
তাহতাবির সীরাত গ্রন্থের প্রধান বর্ণনামূলক অধ্যায়গুলোর দীর্ঘতা দুটি বিষয়ের কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। প্রথমটি হলো, তাহতাবি যে সকল বর্ণনামূলক ও অবর্ণনামূলক উপাদানের ওপর নির্ভর করেছেন সেগুলোর আয়তন। চতুর্থ অধ্যায়টি, যা হিজরত পরবর্তী ঘটনাবলি নিয়ে রচিত, তা এই অধ্যায়গুলোর মধ্যে দীর্ঘতম বলে প্রতীয়মান হয়। এ কারণেই তাহতাবি একে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করেছেন, যেখানে তিনি প্রতি বছরের ঘটনা এবং সেই বছরের যুদ্ধগুলোকে একেকটি আলাদা অংশ হিসেবে বিন্যস্ত করেছেন। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, সংক্ষেপণ, বিলোপ এবং অবান্তর আলোচনার কৌশলগুলোর প্রকাশ। এই কৌশলগুলোর কার্যকারিতা একদিকে যেমন বর্ণনামূলক অধ্যায়গুলোর আয়তন নির্ধারণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে এটি তাহতাবির মূল পাঠে নির্দিষ্ট কোনো অধ্যায়ের গুরুত্বকেও নির্দেশ করে।