(খণ্ড: ১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: -)
الروض الأنف في شرح سيرة ابن هشام - ت السلامي (581) القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الروض الأنف في شرح السيرة النبوية لابن هشام
المؤلف: أبو القاسم عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد السهيلي (ت 581 هـ)
ومعه: "السيرة النبوية" للإمام عبدالملك بن هشام (ت 213 هـ)
علق عليه وقدم له: عمر عبد السلام السلامي [وهو غير الدكتور عمر تدمري]
الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت
الطبعة: الطبعة الأولى، 1421 هـ- 2000 م
عدد الأجزاء: 7
[تنبيهات]:
1 - لدار إحياء التراث نشرة أخرى سابقةٌ بالتصوير لتحقيق عبد الرحمن الوكيل
2 - للدكتور (عمر عبد السلام تدمري) طبعةٌ بعنايته لسيرة ابن هشام، نشرَتْها دار الكتاب العربي ببيروت 1408 هـ= 1987 م في 4 مجلدات، وأعادتْ طبعها مرارًا؛ فربما وقع الخلط بينه وبين السلامي
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আর-রাওদুল উনুফ ফি শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - তাহকীক: আস-সালামি (৫৮১) বিভাগ: সিরাতুন নবী
বই: ইবনে হিশাম রচিত সিরাতুন নবীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আর-রাওদুল উনুফ
লেখক: আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ আস-সুহাইলি (মৃত্যু: ৫৮১ হিজরি)
সাথে রয়েছে: "সিরাতুন নবী" ইমাম আবদুল মালিক বিন হিশাম (মৃত্যু: ২১৩ হিজরি) রচিত
টীকা ও ভূমিকা প্রদান করেছেন: ওমর আবদুস সালাম আস-সালামি [যিনি ডক্টর ওমর তাদমুরি নন]
প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৭
[সতর্কবার্তা]:
১ - দারু ইহয়ায়িত তুরাস কর্তৃক আবদুর রহমান আল-ওয়াকিলের তাহকীককৃত একটি পূর্ববর্তী সংষ্করণ ফটোকপি আকারে প্রকাশিত হয়েছিল
২ - ডক্টর (ওমর আবদুস সালাম তাদমুরি)-এর তত্ত্বাবধানে সীরাতে ইবনে হিশামের একটি সংস্করণ রয়েছে, যা বৈরুতের দারুল কিতাব আল-আরাবি ১৪০৮ হিজরি = ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে ৪ খণ্ডে প্রকাশ করেছে এবং এটি বহুবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে; ফলে আস-সালামি ও তার মধ্যে বিভ্রান্তি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الرَّوْض الْأنف فِي شرح السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ هِشَام]ـ
الْمُؤلف: أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن عبد الله بن أَحْمد السُّهيْلي (الْمُتَوفَّى: 581هـ)
الْمُحَقق: عمر عبد السَّلَام السلَامِي
الناشر: دَار إحْيَاء التراث الْعَرَبِيّ، بيروت
الطبعة: الطبعة الأولى، 1421هـ/ 2000م
عدد الْأَجْزَاء: 7
[ترقيم الْكتاب مُوَافق للمطبوع وَهُوَ مذيل بالحواشي]
[ইবন হিশাম রচিত সীরাতুন নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আর-রওযুল উনুফ']
লেখক: আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আস-সুহাইলি (মৃত্যু: ৫৮১ হিজরী)
সম্পাদক: উমর আব্দুস সালাম আস-সালামি
প্রকাশক: দার ইহয়া আল-তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরী/ ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৭
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول
مُقَدّمَة بسم الله الرحمن الرحيم
الْمُقدمَة:
الْحَمد لله رب الْعَالمين حمداً يوافي نعمه ويكافئ مزيده، الْحَمد لله الَّذِي أَحْيَا بِذكرِهِ قُلُوب عباده الصَّالِحين، فَقَامُوا لإحياء عُلُوم هَذَا الدّين.
وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا ومولانا مُحَمَّد سيد الْأَوَّلين والآخرين وصفوة الْأَنْبِيَاء وَالْمُرْسلِينَ وقائد الغر المحجلين وعَلى آله السَّادة الأكرمين وَأَصْحَابه الغر الميامين وَمن اتبعهم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين أما بعد:
إِن أهم مَا يُمَيّز هَذَا الْعَصْر عَمَّا تقدمه من عصور هُوَ التَّفَاوُت أبنائه إِلَى تراث الْآبَاء والأجداد وَالسَّعْي الحثيث إِلَى بَعثه وحقيقه؛ لما فِيهِ من ذخائر وكنوز قل نظيرها عِنْد غَيرنَا من الْأُمَم الْأُخْرَى، مدفوعين إِلَى ذَلِك بدافع ديني، وَهُوَ الْحفاظ على عُلُوم هَذَا الدّين.
فحري بمثقفي هَذِه الْأمة والمتخصصين من أبنائها أَن يحافظوا على تراث الْآبَاء والأجداد، وَأَن يسعوا جاهدين لتجديده وإحيائه ودراسته وفهمه وَشَرحه، وَالزِّيَادَة عَلَيْهِ بِمَا يتوصلون إِلَيْهِ نم معارف وعلوم وفنون؛ لِأَن الْعُلُوم حلقات مُتَّصِلَة عبر مسيرَة الْحَيَاة، وَهَكَذَا يتم التواصل بَين الأجداد والأحفاد.
وَمِمَّا لَا شكّ فِيهِ أَن ظُهُور الرسَالَة المحمدية يعْتَبر أعظم حَادث فِي تَارِيخ الْعَرَب خَاصَّة والبشرية عَامَّة، وَلم يدون فِي تَارِيخ الْعَرَب أَو السِّيرَة شَيْء إِلَى أَن مَضَت أَيَّام الْخُلَفَاء، بل لم يدون فِي هَذِه الْمدَّة غير الْقُرْآن الْكَرِيم ومبادئ النَّحْو، فقد رَأينَا
প্রথম খণ্ডভূমিকা পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা:
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমান এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির উপযুক্ত। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর স্মরণের মাধ্যমে তাঁর নেককার বান্দাদের অন্তরসমূহকে জীবিত করেছেন, ফলে তাঁরা এই দ্বীনের ইলমসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করতে দণ্ডায়মান হয়েছেন।
দরুদ ও সালাম আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা, নবী ও রাসূলগণের মধ্যে মনোনীত এবং উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত-পা বিশিষ্টদের অগ্রনায়ক; এবং তাঁর অতি সম্মানিত পরিবারবর্গ, মহান ও কল্যাণময়ী সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর। অতপর:
বর্তমান যুগকে তার পূর্ববর্তী যুগসমূহ থেকে যা সবচেয়ে বেশি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে তা হলো, উত্তরসূরিদের তাদের পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদাদের ঐতিহ্যের প্রতি মনোনিবেশ এবং তা পুনর্জাগরণ ও যাচাই-বাছাই করার নিরলস প্রচেষ্টা; কারণ এতে রয়েছে এমন সব ভাণ্ডার ও রত্নরাজি যার নজির অন্যান্য জাতিসমূহের কাছে খুব কমই মেলে। তারা এ কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এক ধর্মীয় প্রেরণায়, আর তা হলো এই দ্বীনের জ্ঞানসমূহকে সংরক্ষণ করা।
অতএব, এই উম্মতের বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞ সন্তানদের জন্য এটাই সমীচীন যে, তারা তাদের পূর্বপুরুষ ও বাপ-দাদাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করবে এবং এর নবায়ন, পুনরুজ্জীবন, অধ্যায়ন, উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। সেইসাথে তারা যে সব নতুন জ্ঞান, বিজ্ঞান ও শিল্পকলা অর্জন করবে তাও এর সাথে যুক্ত করবে; কারণ জ্ঞান হলো জীবনের দীর্ঘ পথচলায় একে অপরের সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন ধাপের সমষ্টি। এভাবেই পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের মধ্যে সংযোগ সাধিত হয়।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুহাম্মাদী রিসালাতের আবির্ভাব আরবদের ইতিহাসে বিশেষভাবে এবং সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে সাধারণভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। আর আরব ইতিহাস বা সীরাত বিষয়ে কোনো কিছুই লিপিবদ্ধ করা হয়নি যতক্ষণ না খলিফাদের যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে। বরং এই দীর্ঘ সময়ে পবিত্র কুরআন এবং নাহুর মূলনীতি ছাড়া আর কিছুই সংকলিত হয়নি। আমরা দেখেছি যে
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৬)
الْمُسلمين يحفزهم حرصهم على حفظ الْقُرْآن إِلَى كِتَابَته فِي حَيَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم.
وَلما كَانَت أَيَّام الْخَلِيفَة رضي الله عنه أحب أَن يدون فِي التَّارِيخ كتاب، فاستقدم عبيد بن شرية الجرهمي من صنعاء فَكتب لَهُ كتاب "الْمُلُوك وأخبار الماضين"، وَبعد ذَلِك أَخذ أَكثر من وَاحِد من الْعلمَاء يتجهون إِلَى علم التَّارِيخ من ناحيته الْخَاصَّة لَا الْعَامَّة، وَهِي سيرة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم، ولعلهم وجدوا فِي تدوين مَا يتَعَلَّق بِهِ عليه الصلاة والسلام شَيْئا يُحَقّق مَا فِي أنفسهم من تعلق بِهِ، وَحب لتخليد آثاره، بعد أَن منعُوا من تدوين أَحَادِيثه إِلَى أَيَّام الْخَلِيفَة الرَّاشِدِي الْخَامِس عمر بن عبد الْعَزِيز 1 رضي الله عنه خافة أَن يخْتَلط الحَدِيث بِالْقُرْآنِ، فجَاء أَكثر من رجل كلهم مُحدث، فدونوا فِي السِّيرَة كتبا. نذْكر مِنْهُم: عُرْوَة بن الزبير بن الْعَوام الْفَقِيه الْمُحدث الَّذِي مكنه نسبه من قبل أَبِيه الزبير، وَأمه أَسمَاء بنت أبي بكر أَن يروي الْكثير من الْأَخْبَار وَالْأَحَادِيث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وحياة صدر الْإِسْلَام.
وحسبك أَن تعلم أَن ابْن إِسْحَاق والواقدي والطبري، أَكْثرُوا من الْأَخْذ عَن عُرْوَة رضي الله عنه وَلَا سِيمَا فِيمَا يتَعَلَّق بِالْهِجْرَةِ إِلَى الْحَبَشَة وَالْمَدينَة، وغزوة بدر إِلَى غير ذَلِك. وَلِهَذَا كَانَ ابْن إِسْحَاق من أَوَائِل من كتب كتابا فِي السِّيرَة، وَلذَلِك اعْتَبرهُ الْعلمَاء شيخ رجال السِّيرَة.
أضف إِلَى ذَلِك أَن سيرة ابْن إِسْحَاق ت: 151هـ كَانَت مقسمة إِلَى ثَلَاثَة أَجزَاء:
- الْمُبْتَدَأ، ويتناول التَّارِيخ الجاهلي.
- المبعث، ويتناول حَيَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي مَكَّة وَالْهجْرَة.
--------------------------------------------
মুসলমানদের কুরআন সংরক্ষণের গভীর আগ্রহ তাঁদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই তা লিপিবদ্ধ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
আর যখন খলিফার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যুগ এলো, তখন তিনি ইতিহাসে একটি গ্রন্থ সংকলন করতে চাইলেন। ফলে তিনি সানা থেকে উবাইদ বিন শারিয়া আল-জুরহুমিকে ডেকে আনলেন এবং তিনি তাঁর জন্য 'আল-মুলুক ওয়া আখবারুল মদিন' (রাজন্যবর্গ ও অতীতদের সংবাদ) নামক গ্রন্থটি রচনা করলেন। এরপর একাধিক আলিম ইতিহাসের সাধারণ দিকের পরিবর্তে এর বিশেষ দিকটির প্রতি মনোনিবেশ করতে শুরু করলেন, আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত। সম্ভবত তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করার মাঝে নিজেদের অন্তরের তাঁর প্রতি অনুরাগ এবং তাঁর স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করার ভালোবাসার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছিলেন। পঞ্চম খলিফায়ে রাশেদ উমর বিন আব্দুল আজিজ (১) (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময় পর্যন্ত হাদীস ও কুরআনের মাঝে সংমিশ্রণ ঘটার আশঙ্কায় হাদীস সংকলন নিষিদ্ধ থাকার পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এলেন, যাঁদের সকলেই ছিলেন মুহাদ্দিস। তাঁরা সীরাত বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। আমরা তাঁদের মধ্য থেকে উরওয়াহ বিন যুবাইর বিন আওয়াম (রহ.)-এর কথা উল্লেখ করতে পারি, যিনি ছিলেন একজন ফকীহ ও মুহাদ্দিস। তাঁর বংশীয় মর্যাদা—পিতা যুবাইর এবং মাতা আসমা বিনতে আবু বকরের পক্ষ থেকে—তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামের সূচনালগ্নের জীবন সম্পর্কে অনেক সংবাদ ও হাদীস বর্ণনা করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
আপনার জন্য এটুকু জানাই যথেষ্ট যে, ইবনে ইসহাক, ওয়াকিদি এবং তাবারী উরওয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে আবিসিনিয়া ও মদিনায় হিজরত এবং বদর যুদ্ধ ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ে। এ কারণেই ইবনে ইসহাক সীরাত বিষয়ে গ্রন্থ রচনাকারীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং আলিমগণ তাঁকে সীরাত শাস্ত্রের পুরুষদের শায়খ বা প্রধান হিসেবে গণ্য করেন।
এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, ইবনে ইসহাকের সীরাত (মৃত্যু: ১৫১ হিজরী) তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল:
- আল-মুবতাদা: এটি জাহেলী যুগের ইতিহাস আলোচনা করে।
- আল-মাব'আস: এটি মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন এবং হিজরত সম্পর্কে আলোচনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৭)
- الْمَغَازِي، وتشمل حَيَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْمَدِينَة المنورة.
ثمَّ قيض الله لهَذَا المجهود - مجهود ابْن إِسْحَاق - رجلا لَهُ شَأْنه، هُوَ أَبُو مُحَمَّد عبد الْملك بن هِشَام ت: 213هـ الْمعَافِرِي، فَجمع هَذِه السِّيرَة ودونها، وَكَانَ لَهُ فِيهَا قلم لم يَنْقَطِع عَن تعقب ابْن إِسْحَاق فِي الْكثير مِمَّا أوردهُ بالتحرير والاختصار والنقد، أَو بِذكر رِوَايَة أُخْرَى فَاتَ ابْن إِسْحَاق ذكرهَا، هَذَا إِلَى تَكْمِلَة أضافهان وأخبار أَتَى بهَا.
ثمَّ جَاءَ من بعدهمْ أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن السُّهيْلي المتوفي سنة 518هـ فعني بِهَذَا الْكتاب وتناوله على نَحْو جَدِيد ونهج آخر، وَهُوَ بِمَنْزِلَة الشَّرْح وَالتَّعْلِيق عَلَيْهِ، فَوضع كِتَابه "الرَّوْض الْأنف" - وَهُوَ الْكتاب الَّذِي بَين أَيْدِينَا- فِي ظلّ مجهودي ابْن إِسْحَاق وَابْن هِشَام، يتعقبهما فِيمَا أخبرا بالتحرير والضبط، ثمَّ الشَّرْح وَالزِّيَادَة، فجَاء عمله هَذَا كتابا آخر فِي السِّيرَة بحجمه وَكَثْرَة مَا حواه من آراء، تشهد لصَاحِبهَا بطول الباع، وَكَثْرَة الِاطِّلَاع.
وَمِمَّا نَقله صَاحب "كشف الظنون" 1 فِي معرض حَدِيثه عَن كتاب "الرَّوْض الْأنف" قولا للْإِمَام السُّهيْلي يشْرَح فِيهِ تأليفه لهَذَا الْكتاب حَيْثُ يَقُول: "
… فَإِنِّي اتنحيت فِي هَذَا الْإِمْلَاء بعد الاستخارة إِلَى إِيضَاح مَا وَقع فِي سيرة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الَّتِي سبق إِلَى تأليفها أَبُو بكر مُحَمَّد بن إِسْحَاق المطلبي، ولخصها عبد الْملك بن هِشَام الْمعَافِرِي النسابة مَا بَلغنِي علمه وَيسر لي فهمه من لفظ غَرِيب أَو إِعْرَاب غامض أَو كَلَام مستغلق أَو نسب عويص.
وَكَانَ بَدْء إملائي هَذَا الْكتاب فِي محرم سنة / 569/ هـ تسع وَسِتِّينَ وَخَمْسمِائة، وَكَانَ الْفَرَاغ مِنْهُ فِي جُمَادَى الأولى من ذَلِك الْعَام تحصل فِيهِ من فَوَائِد الْعُلُوم والآداب وَأَسْمَاء الرِّجَال والأنساب وَمن الْفِقْه الْبَاطِن اللّبَاب وتعليل النَّحْو وصنعة الْإِعْرَاب مَا هُوَ مستخرج من نَيف على مائَة وَعشْرين ديواناً أَو نَحْوهَا". اهـ.
--------------------------------------------
আল-মাগাজি; আর এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মদিনা মুনাওয়ারায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত।
অতঃপর আল্লাহ এই প্রচেষ্টার জন্য—অর্থাৎ ইবনে ইসহাকের প্রচেষ্টার জন্য—একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নির্ধারণ করেন, তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম (মৃত্যু: ২১৩ হিজরি) আল-মুয়াফিরি। তিনি এই সিরাত সংকলন ও লিপিবদ্ধ করেন। এতে তার এমন এক লেখনী ছিল যা ইবনে ইসহাকের বর্ণিত অনেক বিষয়কে পরিমার্জন, সংক্ষেপণ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে অনুসরণ করতে ছাড়েনি, অথবা এমন কোনো বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা ইবনে ইসহাক উল্লেখ করতে বাদ দিয়েছিলেন। এর সাথে তিনি কিছু পরিপূরক অংশ এবং নতুন সংবাদও যোগ করেছেন।
অতঃপর তাদের পরে আসলেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান আস-সুহাইলি (মৃত্যু: ৫১৮ হিজরি)। তিনি এই কিতাবটির প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং একে এক নতুন আঙ্গিক ও ভিন্ন পদ্ধতিতে গ্রহণ করেন। এটি মূলত এর ওপর একটি ব্যাখ্যা ও টীকা স্বরূপ। ফলে তিনি তার গ্রন্থ "আর-রাওদুল উনুফ" —যা বর্তমানে আমাদের সামনে রয়েছে— ইবনে ইসহাক ও ইবনে হিশামের প্রচেষ্টাদ্বয়ের ছায়াতলে রচনা করেন। তিনি তাদের বর্ণিত সংবাদসমূহ পরিমার্জন ও নির্ভুল করার মাধ্যমে অনুসরণ করেন, অতঃপর ব্যাখ্যা ও পরিবর্ধন করেন। ফলে তার এই কাজটি এর কলেবর এবং এতে থাকা প্রচুর মতামতের কারণে সিরাত বিষয়ক অন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাবে পরিণত হয়েছে, যা এর লেখকের অগাধ পাণ্ডিত্য ও ব্যাপক অধ্যয়নের সাক্ষ্য দেয়।
আর "কাশফুয যুনুন" ১ এর লেখক "আর-রাওদুল উনুফ" কিতাবটি সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে ইমাম সুহাইলির একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যেখানে তিনি এই গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে বলেন: "
… আমি ইস্তিখারার পর এই শ্রুতিলিখনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সিরাতের অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করার সংকল্প করি যা আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-মুত্তালিবি সর্বপ্রথম সংকলন করেছিলেন এবং বংশবিদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম আল-মুয়াফিরি যার সারসংক্ষেপ করেছিলেন। আমি এতে এমন সব বিষয় বর্ণনা করেছি যা আমার জ্ঞানে পৌঁছেছে এবং যার বোধগম্যতা আমার জন্য সহজ হয়েছে, তা কোনো বিরল শব্দ হোক, অস্পষ্ট ব্যাকরণগত অবস্থান হোক, কোনো জটিল বাক্য হোক কিংবা কোনো দুরূহ বংশলতিকা হোক।
আমার এই কিতাবটির শ্রুতিলিখনের সূচনা হয়েছিল ৫৬৯ হিজরির মহররম মাসে এবং এর সমাপ্তি ঘটেছিল সেই বছরেরই জুমাদাল উলা মাসে। এতে বিজ্ঞানের নানাবিধ উপকারিতা, সাহিত্য, ব্যক্তিদের নাম ও বংশপরিচয়, বাতেনি ফিকহের মূল নির্যাস, ব্যাকরণগত কারণ এবং বাক্য গঠনের শৈলী সংগৃহীত হয়েছে যা একশ বিশটিরও বেশি দিওয়ান বা সমজাতীয় উৎস থেকে চয়ন করা হয়েছে।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৮)
هَذَا وَقد حظي كتاب "الرَّوْض الْأنف" اهتماما من قبل الْعلمَاء اللاحقين، فَاخْتَصَرَهُ عز الدّين بن أبي، الْمَعْرُوف بِابْن الْجَمَاعَة الْمُتَوفَّى / 819/ تسع عشة وَثَمَانمِائَة لِلْهِجْرَةِ وَسَماهُ "نور الرَّوْض"وَعَلِيهِ حَاشِيَة لقَاضِي الْقُضَاة يحيى الْمَنَاوِيّ الْمُتَوفَّى سنة/ 871/ هـ إِحْدَى وَسبعين وَثَمَانمِائَة. ثمَّ جرد سبطه زين العابدين بن عبد الرؤوف هَذِه الْحَاشِيَة.
وَقد انْتفع بمادة هَذَا الْكتاب كثير مِمَّن جاؤوا بعده، وَلَا سِيمَا ابْن الْقيم فِي كِتَابه "بَدَائِع الْفَوَائِد".
وَمن الجدير بِالذكر أَن الإِمَام السُّهيْلي تألق وَعلا شَأْنه بَين الْعلمَاء من خلال هَذَا الْكتاب، لأَنهم وجدوا من خلاله أَن الإِمَام السُّهيْلي بذلك جهداً بارعاً صادعاً بِأَن الرجل كَانَ إِمَامًا فِي فنون عصره بِنَصِيب وفير، وَقد لاءم بَين فنون مَعْرفَته حَتَّى جعل مِنْهَا وحدة يصدر عَنْهَا فِي كل مَا يكْتب.
وَمِمَّا يزيدنا إعجاباً بِهَذَا الإِمَام أَنه فقد بَصَره، علما أَن الْكتب كَانَت فِي زَمَانه خطوطة، فَمَتَى طالع كل هَذَا؟ وَكَيف طالعه؟ وتراثه يشْهد لَهُ بِأَنَّهُ استوعب كل مَا قرأن، وبدت سَعَة اطِّلَاعه ونفاذ بصيرته وَقُوَّة تفكيره فِي أَكثر مَا كتب.
وَمِمَّا يجعلنا أَيْضا شديدي الاحترام لهَذَا الرجل مُلَاحظَة تِلْكَ الْحَقِيقَة الَّتِي تطالعنا فِي كِتَابه هَذَانِ إِنَّهَا الْأَمَانَة الصادقة فِي النَّقْل، وَفِي نِسْبَة كل شَيْء إِلَى قَائِله، فَلم يَأْتِ بِزِيَادَة مفتراه، أَو يقترف فِي نَقله نقصا قد يُغير نم مَفْهُوم القولن وَلِهَذَا نرَاهُ ينْقل مَا يتَّفق مَعَ الْحق، وَمَا يُقَارِبه فِي بعض أحيانه.
وَكفى بِالْمَرْءِ شرفاً أَن يعتني بقلمه وفكره وروحه بسيرة أشرف الْبشر سيدنَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم ويحيطها بالرعاية والاهتمام.
وَلِهَذَا كُله فقد رَأَتْ دَار إحْيَاء التراث الْعَرَبِيّ فِي بيروت أَن تعيد طبع كتاب:
এই "আর-রওদুল উনুফ" গ্রন্থটি পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছে। অতঃপর ইজ্জুদ্দীন বিন আবি, যিনি ইবনুল জামায়াহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮১৯ হিজরী), এটি সংক্ষিপ্ত করেন এবং এর নামকরণ করেন "নূরুর রওদ"। এর ওপর প্রধান বিচারপতি ইয়াহইয়া আল-মানাউয়ীর (মৃত্যু ৮৭১ হিজরী) একটি পাদটীকা (হাশিয়া) রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর নাতি যয়নুল আবিদীন বিন আব্দুর রউফ এই পাদটীকাটিকে মূল পাঠ থেকে পৃথক করে সংকলন করেন।
পরবর্তী সময়ে আগত বহু আলেম এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু থেকে উপকৃত হয়েছেন, বিশেষ করে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "বাদাইউল ফাওয়াইদ" গ্রন্থে।
উল্লেখ্য যে, ইমাম সুহায়লী এই গ্রন্থের মাধ্যমেই আলেমদের মাঝে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন এবং তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ শিখরে পৌঁছে। কারণ এর মাধ্যমে তাঁরা দেখতে পান যে, ইমাম সুহায়লী এক অনন্য ও বলিষ্ঠ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, যা প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর সমসাময়িক সময়ের বিভিন্ন বিদ্যায় বিপুল অংশের অধিকারী একজন ইমাম ছিলেন। তিনি তাঁর বিবিধ জ্ঞানভাণ্ডারের মধ্যে এমন চমৎকার সমন্বয় সাধন করেছেন যে, তাঁর প্রতিটি লেখায় তার একটি সুসংহত প্রতিফলন প্রকাশ পায়।
এই ইমামের প্রতি আমাদের বিস্ময় আরও বাড়িয়ে দেয় এই সত্যটি যে, তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন। অথচ সেই যুগে বইপত্র ছিল কেবল পাণ্ডুলিপি আকারে। তাহলে তিনি কখন এই সব কিছু অধ্যয়ন করলেন? আর কিভাবেই বা অধ্যয়ন করলেন? তাঁর রেখে যাওয়া ইলমী সম্পদ একথার সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি যা পাঠ করেছিলেন তার সবকিছুই আত্মস্থ করেছিলেন। তাঁর অধিকাংশ লেখাতেই তাঁর বিস্তৃত জ্ঞানগর্ভতা, তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি এবং চিন্তাশক্তির প্রবলতা ফুটে উঠেছে।
এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধার আরও একটি কারণ হলো সেই সত্যটি লক্ষ্য করা যা এই গ্রন্থে আমাদের সামনে ভেসে ওঠে। তা হলো— উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে তাঁর ঐকান্তিক সততা এবং প্রতিটি বক্তব্যকে তার প্রকৃত বক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা। তিনি নিজে থেকে কোনো বানোয়াট কথা যোগ করেননি, কিংবা কোনো উদ্ধৃতিতে এমন কোনো ঘাটতি রাখেননি যা বক্তব্যের অর্থ পরিবর্তন করে দিতে পারে। একারণেই আমরা দেখি যে, তিনি যা সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সত্যের নিকটবর্তী, কেবল সেটুকুই উদ্ধৃত করেন।
একজন মানুষের জন্য সম্মানের বিষয় হিসেবে এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার কলম, চিন্তা এবং প্রাণশক্তি দিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাতের পরিচর্যা করবে এবং একে অত্যন্ত গুরুত্ব ও যত্নের সাথে আগলে রাখবে।
এই সমস্ত কারণে বৈরুতের দারু ইহয়াইল তুরাসিল আরাবী এই গ্রন্থটি পুনরায় মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৯)
"الرَّوْض الْأنف" شرح سيرة ابْن هِشَام 1 طباعة حَدِيثَة وترتيب جَدِيد، فأوكلوا لنا الْعَمَل فِي هَذَا الْكتاب ضمن خطة مقررة تتناسب وظروف الدَّار، وَهَذَا شَأْن العديد من الْكتب فِي كثير من دور النشر كَمَا هُوَ مَعْرُوف.
وَقد وَضعنَا سيرة ابْن هِشَام فِي أَعلَى الصفحات، يَليهَا شرح الإِمَام السهيلين ثمَّ يَلِيهِ التعليقات والهوامش فِي الْأَسْفَل.
وَكَانَت خطة الْعَمَل فِي الْكتاب كَمَا يَلِي:
1- تَصْحِيح تجارب الشَّارِح، وَحل وتوضيح العديد من أَلْفَاظه الغامضة وكلماته المصحفة.
2- تَخْرِيج الْآيَات القرآنية، والعديد من الْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة بعد ضَبطهَا من مصادرها الأساسية.
3- وضع تعليقات وهوامش ضَرُورِيَّة للْكتاب، حَسْبَمَا تَقْتَضِيه الْحَاجة، وللأمانة هُنَا، فقد اتنفعنا كثيرا من تعليقات الْأُسْتَاذ عبد الرَّحْمَن الْوَكِيل، فجزاه الله عَنَّا وَعَن الْمُسلمين كل خير.
4- ضبط الْكثير من الْأَعْلَام والكلمات الغريبة والأشعار بالشكل للإيضاح.
5- وَضعنَا محتوى مُوَافق للشرح فِي نِهَايَة كل جُزْء، أضف إِلَى ذَلِك أننا جعلنَا التراويس مُوَافقَة للشرح أَيْضا فِي كل الْأَجْزَاء.
هَذَا، وَزِيَادَة فِي الْفَائِدَة فقد وَضعنَا تراجم موجزة فِي أول الْكتاب للأئمة الثَّلَاثَة:
ابْن إِسْحَاق صَاحب السِّيرَة، وَابْن هِشَام ملخصها، والسهيلي شارحها.
--------------------------------------------
"আর-রাওদুল উনুফ" সিরাতে ইবনে হিশামের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ১ আধুনিক মুদ্রণ ও নতুন বিন্যাস। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি ও নির্ধারিত পরিকল্পনার অধীনে তারা এই গ্রন্থটির কাজের দায়িত্ব আমাদের অর্পণ করেছেন, যেমনটি অনেক প্রকাশনা সংস্থায় অনেক গ্রন্থের ক্ষেত্রে সুপরিচিত বিষয়।
আমরা ইবনে হিশামের সিরাতকে পৃষ্ঠার উপরিভাগে রেখেছি, তার নিচে ইমাম সুহাইলির ব্যাখ্যা এবং সবার নিচে টীকা ও পাদটীকা সংযোজন করেছি।
গ্রন্থটির কর্মপরিকল্পনা নিম্নরূপ ছিল:
১- ব্যাখ্যাকারীর পাণ্ডুলিপির সংশোধন এবং তার বহু অস্পষ্ট শব্দ ও বিকৃত শব্দের বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণ।
২- কুরআন মাজিদের আয়াতসমূহের তথ্যসূত্র প্রদান এবং মূল উৎস থেকে যাচাইয়ের পর বহু নববী হাদিসের তাখরিজ।
৩- প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রন্থটির জন্য প্রয়োজনীয় টীকা ও পাদটীকা সংযোজন। এখানে সততার খাতিরে উল্লেখ্য যে, আমরা উস্তাদ আব্দুর রহমান আল-ওয়াকিলের টীকা থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাকে আমাদের পক্ষ থেকে এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
৪- স্পষ্ট করার জন্য অনেক বিশিষ্ট নাম, অপরিচিত শব্দ ও কবিতার হরকত বা স্বরচিহ্ন নির্ধারণ।
৫- প্রতিটি খণ্ডের শেষে ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়সূচি সংযোজন করেছি। এর পাশাপাশি আমরা প্রতিটি খণ্ডের শিরোনামকেও ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখেছি।
এছাড়া অধিক উপকারের লক্ষ্যে গ্রন্থের শুরুতে তিন ইমামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছি: সিরাতের রচয়িতা ইবনে ইসহাক, এর সংক্ষিপ্তকারী ইবনে হিশাম এবং এর ব্যাখ্যাকারী সুহাইলি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَبعد، فَهَذَا مَا فِي وسعنا تَقْدِيمه لخدمة هَذَا الْكتاب بِمَا يسر الله بِهِ وأعان. سائلين الْمولى تَعَالَى أَن يتَقَبَّل منا هَذَا الْعَمَل خَالِصا لوجهه الْكَرِيم، وَأَن يَجعله ذخْرا لنا ولآبائنا وَأُمَّهَاتنَا أجمعينن وَأَن ينفع بِهِ عباده فِي كل حِين، وَآخر دعوانا أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين.
بيروت فِي محرم 1421/ نيسان 2000م وَكتبه
الشَّيْخ عمر عبد السَّلَام السلَامِي
অতঃপর, আল্লাহ যা সহজ করেছেন এবং সাহায্য করেছেন তার মাধ্যমে এই কিতাবটির সেবায় আমাদের সাধ্য অনুযায়ী এইটুকু নিবেদন করছি। আমরা মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের এই আমলকে একনিষ্ঠভাবে তাঁর মহান চেহারার জন্য কবুল করেন, এবং একে আমাদের ও আমাদের সকল পিতা-মাতার জন্য সঞ্চিত পাথেয় হিসেবে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সর্বদা তাঁর বান্দাদের উপকৃত করেন। আর আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
বৈরুত, মহররম ১৪২১ হিজরী/ এপ্রিল ২০০০ খ্রিস্টাব্দ। এটি লিখেছেন:
শায়খ উমর আবদুস সালাম আস-সালামী
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১১)
تَرْجَمَة ابْن إِسْحَاق:اسْمه وَنسبه:
هُوَ مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن يسَار خِيَار، أَبُو بكر، وَيُقَال أَبُو عبد الله الْمدنِي الْقرشِي المطلبي، مولى قيس بن مخرمَة، وجده، يسَار كَانَ من سبي "عين التَّمْر" الَّتِي افتتحها الْمُسلمُونَ فِي السّنة الثَّانِيَة عشرَة من الْهِجْرَة أَيَّام أبي بكر الصّديق رضي الله عنه، وَهِي بَلْدَة قريبَة من الأنبار غربي الْكُوفَة، وَكَانَ فتحهَا على يَد خَالِد بن الْوَلِيد رضي الله عنه. وبكنيسة "عين التَّمْر" وجد الْمُسلمُونَ جد ابْن إِسْحَاق بن الغلمة الَّذين كَانُوا رهنا فِي يَد كسْرَى، كَانَ مَعَه جد عبد الله بن أبي إِسْحَاق الْحَضْرَمِيّ النَّحْوِيّ، وجد الْكَلْبِيّ، فجيء بيسار إِلَى الْمَدِينَة المنورة.
مولده ووفاته:
ولد ابْن إِسْحَاق فِي الْمَدِينَة المنورة شَابًّا يافعاً جميل الْوَجْه، فَارسي الْخلقَة، وَمِمَّا ذكره ابْن النديم عَنهُ: أَن أَمِير الْمَدِينَة بلغه أَن مُحَمَّدًا يغازل النِّسَاء، فَأمر
ইবন ইসহাকের জীবনী:তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার খিয়ার, আবু বকর; তাঁকে আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানি আল-কুরাশি আল-মুত্তালিবি-ও বলা হয়। তিনি কায়স বিন মাখরামার মুক্তদাস (মাওলা) ছিলেন। তাঁর দাদা ইয়াসার "আইনুত তামর"-এর যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা হিজরি দ্বাদশ বর্ষে আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে মুসলিমগণ জয় করেছিলেন। এটি কুফার পশ্চিমে আনবারের নিকটবর্তী একটি শহর এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে এর বিজয় সম্পন্ন হয়েছিল। "আইনুত তামর"-এর গির্জায় মুসলিমগণ ইবন ইসহাকের দাদাকে এমন কিছু কিশোরের সাথে পান যারা কসরুর (পারস্য সম্রাট) নিকট জিম্মি ছিল। সেখানে তাঁর সাথে নাহুবিদ আব্দুল্লাহ বিন আবি ইসহাক আল-হাদরামির দাদা এবং আল-কালবির দাদাও ছিলেন। অতঃপর ইয়াসারকে মদিনা মুনাওয়ারায় নিয়ে আসা হয়।
তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:
ইবন ইসহাক মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সুদর্শন ও পারস্য অবয়বসম্পন্ন তেজস্বী যুবক ছিলেন। ইবনুন নাদিম তাঁর সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে একটি হলো: মদিনার আমিরের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, মুহাম্মদ নারীদের সাথে প্রেমালাপ করেন, তখন তিনি নির্দেশ দিলেন...
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১২)
بإحضاره وضربه أسواطاً، وَنَهَاهُ عَن الْجُلُوس فِي مُؤخر الْمَسْجِد 1.
وَمِمَّنْ أدْرك ابْن إِسْحَاق فِي الْمَدِينَة المنورة من الصَّحَابَة أنس بن مَالك رضي الله عنه.
ثمَّ مَا لبث ابْن إِسْحَاق أَن ترك الْمَدِينَة ورحل إِلَى غَيرهَا من الْبلدَانِ، فَكَانَت رحلته الألى إِلَى الْإسْكَنْدَريَّة سنة 115هـ، وَفِي الْإسْكَنْدَريَّة حدث عَن جمَاعَة من أهل مصر مِنْهُم: عبيد الله بن الْمُغيرَة، وَعبيد الله بن أبي جَعْفَر، وَيزِيد بن حبيب، وَغَيرهم كثير. وَقد انْفَرد ابْن إِسْحَاق بِرِوَايَة أَحَادِيث عَنْهُم لم يروها غَيره.
ثمَّ كَانَت رحلته إِلَى الْكُوفَة والجزيرة والري والحيرة وبغداد، وَفِي بَغْدَاد التقى بالخليفة أبي جَعْفَر الْمَنْصُور، وصنف لِابْنِهِ الْمهْدي كتاب "السِّيرَة" وَكَانَ أَكثر رُوَاته من تِلْكَ الْبِلَاد. وَقد عَاشَ ابْن إِسْحَاق بَقِيَّة حَيَاته فِي بَغْدَاد إِلَى أَن وافته الْمنية يها سنة 151هـ - على قَول الخزرجي - وَدفن ابْن إِسْحَاق فِي مَقْبرَة لخيزران من مَقَابِر بَغْدَاد.
مَنْزِلَته ومكانته يبن الْعلمَاء:
يعْتَبر ابْن إِسْحَاق أحد الْأَئِمَّة الأعلامن وَلَا سِيمَا فِي الْمَغَازِي وَالسير، وَهُوَ الَّذِي ألف السِّيرَة الْمَشْهُورَة النِّسْبَة إِلَى ابْن هِشَام، وَقد ألفها بِأَمْر من الْخَلِيفَة أبي جَعْفَر الْمَنْصُور، ليعلمها لِابْنِهِ الْمهْدي، وَفِي هَذَا يَقُول ابْن عدي عَنهُ: "لَو لم يكن لِابْنِ إِسْحَاق من الْفضل إِلَى أَنه صرف الْمُلُوك عَن الِاشْتِغَال بكتب لَا يحصل مِنْهُ شَيْء، للاشتغال بمغازي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ومبعثه ومبتدأ الْخلق، لكَانَتْ هَذِه الْفَضِيلَة سبق لَهَا ابْن إِسْحَاق، وَقد فتشت أَحَادِيثه الْكَثِيرَة فَلم أَجدهَا تهيء أَن يقطع عَلَيْهِ بالضعف،
--------------------------------------------
তাকে উপস্থিত করে কশাঘাত করা হয় এবং মসজিদের পেছনের অংশে বসতে তাকে নিষেধ করা হয় ১।
মদিনা মুনাওয়ারায় ইবনে ইসহাক যেসব সাহাবীকে পেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অন্যতম।
এরপর ইবনে ইসহাক বেশিদিন মদিনায় অবস্থান করেননি এবং অন্যান্য দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর প্রথম সফর ছিল ১১৫ হিজরি সনে আলেকজান্দ্রিয়ায়। আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি মিশরীয় একদল বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: উবাইদুল্লাহ ইবনুল মুগিরাহ, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি জাফর, ইয়াজিদ ইবনে হাবিব এবং আরও অনেকে। ইবনে ইসহাক তাঁদের থেকে এমন কিছু হাদিস একাকী বর্ণনা করেছেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি।
এরপর তাঁর সফর ছিল কুফা, আল-জাজিরা, রাই, আল-হিরা এবং বাগদাদে। বাগদাদে তিনি খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর পুত্র আল-মাহদির জন্য "আস-সিরাহ" কিতাবটি রচনা করেন। তাঁর বর্ণনাকারীদের অধিকাংশই ছিলেন সেই সব অঞ্চলের। ইবনে ইসহাক তাঁর জীবনের বাকি সময় বাগদাদেই অতিবাহিত করেন এবং সেখানেই খাজরাজির মতানুসারে ১৫১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে ইসহাককে বাগদাদের খাইজুরান কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
ওলামায়ে কেরামের নিকট তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান:
ইবনে ইসহাককে প্রখ্যাত ইমামদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং সিরাত শাস্ত্রে। তিনিই সেই বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থটি রচনা করেছিলেন যা ইবনে হিশামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তিনি এটি খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের আদেশে তাঁর পুত্র আল-মাহদিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সংকলন করেছিলেন। এ বিষয়ে ইবনে আদি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "যদি ইবনে ইসহাকের আর কোনো ফযিলত না-ও থাকত, কেবল শাসকদের নিষ্ফল কিতাবসমূহে মগ্ন থাকা থেকে বিরত রেখে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযান, নবুওয়াত প্রাপ্তি এবং সৃষ্টির আদি বৃত্তান্তের আলোচনায় নিবিষ্ট করার ফযিলতটুকুই থাকত, তবে এই অগ্রণী ভূমিকার ফযিলত ইবনে ইসহাকের জন্য যথেষ্ট হতো। আমি তাঁর অসংখ্য হাদিস অনুসন্ধান করেছি এবং এমন কিছু পাইনি যার ভিত্তিতে তাঁকে সুনিশ্চিতভাবে দুর্বল বলা যায়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَرُبمَا أَخطَأ وأتهم فِي الشَّيْء بعد الشَّيْء كَمَا يُخطئ غَيره".
كَمَا أننا نجد غير وَاحِد من الْأَئِمَّة الاعلامن كَابْن شهَاب الزُّهْرِيّ، وَشعْبَة بن الْحجَّاج وسُفْيَان الثَّوْريّ، يوثقونه وَلَا يَتَّهِمُونَهُ بِشَيْء مِمَّا اتهمه بِهِ غَيرهم.
فنجد عَالما جَلِيلًا كَالْإِمَامِ مَالك بن أنس رحمه الله، وَآخر كهشام بن عُرْوَة بن الزبير رضي الله عنه، يكادان يخرجانه من حَظِيرَة المحديثين، وَلَا يدخران وسعاً فِي اتهامه بِالْكَذِبِ والدجل.
وَمِمَّا قَالَه الإِمَام مَالك عَنهُ: "ابْن أسْحَاق كَذَّاب ودجال من الدجاجلة"، وَرُوِيَ عَن الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل رحمه الله أَنه قَالَ: "ابْن إِسْحَاق لَيْسَ بِحجَّة"، وَحكم عَلَيْهِ ابْن معينفي رِوَايَة عَنهُ بِأَنَّهُ سقيم، وَلَيْسَ بِحجَّة.
وَالْحق - وَالله أعلم - أَن الحاملين عَلَيْهِ لم تكن ساحتهم مبرأة عَن الْغَايَة، وَلم تكن مَعَ الْحق مُطَابقَة، لِأَن ابْن إِسْحَاق كَانَ يطعن فِي نسب مَالك بن أنس، وَفِي علمه وَيَقُول: ائْتُونِي بِبَعْض كتبه حَتَّى أبين عيوبه، فَأَنا بيطار كتبه. فانبرى لَهُ مَالك، وفتش هُوَ الآخر عَن عيوبه، وَسَماهُ دجالًا، وَكَانَت بَينهمَا هَذِه الْحَرْب الكلامية.
كام غاظ هِشَام بن عبد الْملك من ابْن إِسْحَاق أَنه كَانَ يَدعِي رِوَايَته عَن امْرَأَته، وَالرِّوَايَة فِي ظن هِشَام لَا بُد أَن تصحبها الرُّؤْيَة، وَلَقَد فَاتَ هشاماً أَن الرِّوَايَة قد تكون من وَرَاء حجاب، أَو أَن ابْن إِسْحَاق حمل عَنْهَا صَغِيرا.
وَأما مَا رمي بِهِ ابْن إِسْحَاق من التَّدْلِيس وَغَيره، فقد عقد فِي ذَلِك الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ فِي كِتَابه "تَارِيخ بَغْدَاد"، وَابْن سيد النَّاس فِي كِتَابه "عُيُون الْأَثر" فصلين عرضا فيهمَا لتفنيد جَمِيع المطاعن الَّتِي وجهت إِلَيْهِ.
يبْقى هُنَا مأخذاً على ابْن إِسْحَاق، وَهُوَ أَنه كَانَت تعْمل لَهُ الْأَشْعَار، وَيُؤْتى بهَا، وَيسْأل أَن يدخلهَا فِي كِتَابه "السِّيرَة" فيفعل ذَلِك بِلَا وقُوف وَلَا تَنْقِيح.
وَهَذَا مطْعن فِي مِقْدَار علمه بالشعر، فَكَانَ يقبل الْأَشْعَار غثها وسمينها، باطلها وصحيحها، وَلَو أَن ابْن إِسْحَاق حكم ذوقه، ووقف من هَذِه الْأَشْعَار وَقْفَة النَّاقِد،
"সম্ভবত তিনি ভুল করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, যেমন অন্যরাও ভুল করে থাকে।"
একইভাবে আমরা ইবনে শিহাব আজ-জুহরি, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এবং সুফিয়ান আস-সাওরির মতো একাধিক প্রথিতযশা ইমামকে দেখতে পাই, যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করেছেন এবং অন্যেরা যেসব বিষয়ে তাকে অভিযুক্ত করেছে, সেসবের কোনোটি দিয়েই তাকে অভিযুক্ত করেননি।
আবার আমরা ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) এবং হিশাম ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবাইর (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর মতো শ্রেষ্ঠ আলেমদের দেখতে পাই, যারা তাকে প্রায় মুহাদ্দিসদের কাতার থেকে বের করে দিয়েছেন এবং তাকে মিথ্যাবাদিতা ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে কোনো কার্পণ্য করেননি।
ইমাম মালিক তার সম্পর্কে যা বলেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: "ইবনে ইসহাক একজন বড় মিথ্যাবাদী এবং চরম প্রতারকদের অন্তর্ভুক্ত।" ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "ইবনে ইসহাক দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন।" ইবনে মাঈনও একটি বর্ণনায় তাকে দুর্বল বলে রায় দিয়েছেন এবং বলেছেন তিনি দলীল হওয়ার যোগ্য নন।
প্রকৃত সত্য—আল্লাহই ভালো জানেন—এই যে, যারা তার সমালোচনা করেছেন তাদের অবস্থান উদ্দেশ্যমুক্ত ছিল না এবং তা পুরোপুরি সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল না। কেননা ইবনে ইসহাক ইমাম মালিক ইবনে আনাসের বংশধারা ও তার ইলম নিয়ে সমালোচনা করতেন এবং বলতেন: "তার কিছু কিতাব আমার কাছে নিয়ে এসো যাতে আমি তার ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিতে পারি, কারণ আমি তার কিতাবসমূহের জহুরি (বিশেষজ্ঞ)।" এর পরিপ্রেক্ষিতে ইমাম মালিক তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং তিনিও ইবনে ইসহাকের ত্রুটিগুলো খুঁজতে শুরু করেন ও তাকে দাজ্জাল (প্রতারক) বলে অভিহিত করেন; আর তাদের মধ্যে এই বাকযুদ্ধ চলতে থাকে।
তেমনিভাবে হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে ইসহাকের ওপর ক্রুদ্ধ ছিলেন কারণ তিনি (ইবনে ইসহাক) তার স্ত্রীর থেকে বর্ণনা করার দাবি করতেন। হিশামের ধারণা ছিল যে, বর্ণনার জন্য অবশ্যই সাক্ষাত প্রয়োজন। অথচ হিশাম বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন যে, বর্ণনা পর্দার অন্তরাল থেকেও হতে পারে অথবা ইবনে ইসহাক তার থেকে শৈশবকালেও শিক্ষা গ্রহণ করে থাকতে পারেন।
আর ইবনে ইসহাককে তাদলীস (তথ্য গোপন) ও অন্যান্য যে বিষয়গুলোতে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সে সম্পর্কে খতিব আল-বাগদাদী তার "তারিখে বাগদাদ" গ্রন্থে এবং ইবনে সাইয়্যেদিন নাস তার "উয়ুনুল আসার" গ্রন্থে দুটি পৃথক অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তারা তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ খণ্ডন করেছেন।
এখানে ইবনে ইসহাকের ওপর একটি অভিযোগ অবশিষ্ট থেকে যায়, তা হলো: তার জন্য কবিতা তৈরি করে আনা হতো এবং তাকে অনুরোধ করা হতো সেগুলো যেন তিনি তার "সীরাত" গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন, আর তিনি কোনো যাচাই-বাছাই বা পরিমার্জন ছাড়াই তা করতেন।
এটি তার কাব্যিক জ্ঞানের পরিমাণের ওপর একটি অভিযোগ, কারণ তিনি ভালো-মন্দ, অসার ও সারগর্ভ, মিথ্যা ও সঠিক সব ধরণের কবিতাই গ্রহণ করতেন। ইবনে ইসহাক যদি তার রুচিবোধকে কাজে লাগাতেন এবং এই কবিতাগুলোর ক্ষেত্রে একজন সমালোচকের ন্যায় অবস্থান নিতেন...
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لخص كِتَابه من أشعار أَكْثَرهَا مَوْضُوعَة، ولخلص نَفسه من مطْعن جارح يسجله عَلَيْهِ الْآخرُونَ على مر السنين.
وَلَا بُد من الْإِشَارَة إِلَى أَمر هام فِي حَيَاة ابْن إِسْحَاق، وَهُوَ أَنه لم يتَخَلَّف عَنهُ فِي الرِّوَايَة كثير من الثِّقَات وَالْأَئِمَّة، فقد أخرج لَهُ الإِمَام مُسلم فِي المتابعات، وَاسْتشْهدَ بِهِ البُخَارِيّ فِي مَوَاضِع، وروى لَهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة.
وَقد رُوِيَ هُوَ عَن أَبِيه وَعَن الزُّهْرِيّ وَخلق غَيرهم، وروى أَيْضا عَن شَيْخه يحيى الْأنْصَارِيّ، عبد الله بن عون، وَشعْبَة وسُفْيَان الثَّوْريّ وسُفْيَان بن عُيَيْنَة.
وختاماً نقُول عَن سيرته: إِن أصدق قَول قيل فِيهِ هُوَ قَول ابْن عبد الله بن نمير، حَيْثُ قَالَ عَنهُ: فقد روى فِي السِّيرَة عَن المجهولين مَا لَا يحترمه الصدْق، ورى أَيْضا مَا ينفح بِطيب الْحق، وَقد بَقِي فِيهَا مَا لَا يَصح، رغم قيام ابْن هِشَام بتهذيبها، وَهُوَ الَّذِي يَقُول عَن ابْن إِسْحَاق فِي مُقَدّمَة كِتَابه من أَنه سيترك مِمَّا ذكر ابْن إِسْحَاق "أشعاراً ذكرهَا وَلم أر أحدا من أهل الْعلم بالشعر يعرفهَا، وَأَشْيَاء بَعْضهَا يشنع الحَدِيث بِهِ، وَبَعض يسوء بعض النَّاس ذكره، وَبَعض لم يقر لنا البكائي بروايته، ومستقص - إِن شَاءَ الله -، سوى ذَلِك مِنْهُ بمبلغ الرِّوَايَة لَهُ وَالْعلم بِهِ".
رحم الله محدثنا ابْن إِسْحَاق شيخ رجال السِّيرَة وجزاه الله عَنَّا وَعَن الْمُسلمين كل خير، وَآخر دعوانا أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين.
তিনি তাঁর গ্রন্থকে এমন সব কবিতা থেকে সংক্ষেপ করেছেন যার অধিকাংশ ছিল জাল বা বানোয়াট, এবং যাতে তিনি নিজেকে এমন এক কঠোর সমালোচনা থেকে রক্ষা করতে পারেন যা পরবর্তীকালে অন্যরা তাঁর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে নথিবদ্ধ করত।
ইবনে ইসহাকের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা আবশ্যক, আর তা হলো—বিপুল সংখ্যক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ও ইমামগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করা ছেড়ে দেননি। ইমাম মুসলিম 'মুতাবায়াত' বা সহযোগী বর্ণনাসমূহে তাঁর হাদিস সংকলন করেছেন, ইমাম বুখারী বিভিন্ন স্থানে তাঁকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি স্বয়ং তাঁর পিতা, যুহরী এবং আরও বহু সংখ্যক লোকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর উস্তাদ ইয়াহইয়া আল-আনসারী, আব্দুল্লাহ ইবনে আওন, শু'বাহ, সুফিয়ান সাওরী এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
পরিশেষে তাঁর জীবনী সম্পর্কে আমরা বলতে পারি: তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে সঠিক কথা হলো ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইরের উক্তি, যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি সীরাত গ্রন্থে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নিকট থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা সত্যের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ নয়, আবার তিনি এমন বিষয়ও বর্ণনা করেছেন যা সত্যের সুবাস ছড়ায়। ইবনে হিশাম তা সংশোধন ও পরিমার্জন করা সত্ত্বেও এতে এমন কিছু রয়ে গেছে যা সহীহ বা বিশুদ্ধ নয়।" আর ইবনে হিশামই তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় ইবনে ইসহাক সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ইবনে ইসহাকের উল্লেখ করা বিষয়গুলো থেকে এমন কিছু বাদ দেবেন— "যেমন এমন কিছু কবিতা যা তিনি উল্লেখ করেছেন অথচ আমি কাব্য বিশারদদের কাউকে তা চিনতে দেখিনি, এবং এমন কিছু বিষয় যার কিছু বর্ণনাকে কলুষিত করে, আর কিছু বিষয় মানুষের নিকট শ্রুতিকটু বা অপ্রীতিকর ঠেকে, এবং কিছু বিষয় আল-বুক্কায়ী বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের কাছে সাব্যস্ত করেননি; ইনশাআল্লাহ, এছাড়া তাঁর বর্ণিত বাকি বিষয়গুলো আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এবং আমার জ্ঞান ও বর্ণনার পরিসীমা অনুযায়ী উল্লেখ করব।"
আল্লাহ আমাদের মুহাদ্দিস ও সীরাত শাস্ত্রের ইমাম ইবনে ইসহাকের ওপর রহম করুন এবং আমাদের ও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমাদের সর্বশেষ নিবেদন হলো—সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تَرْجَمَة ابْن هِشَاماسْمه وَنسبه:
هُوَ أَبُو مُحَمَّد عبد الْملك بن هِشَام بن أَيُّوب الْحِمْيَرِي 1، عَاشَ فِي أَكثر من بلد، وَلذَلِك فَمن الروَاة من ينْسبهُ إِلَى معافر بن يعفر، حَيْثُ نزح مِنْهُم إِلَى مصر جمهرة كَثِيرَة، وَمن الروَاة من ينْسبهُ إِلَى ذهل، وَقيل غير ذَلِك، وَهَذَا شَأْن كل من يتنقل فِي الْبلدَانِ ويهجر الأوطان.
نشأته:
نَشأ ابْن هِشَام بِالْبَصْرَةِ، وَأخذ الْعلم بدايةً عَن علمائها آنذاك، ثمَّ ارتحل إِلَى مصر ليكمل علومه هُنَاكَ، وَمن هُنَا حصر الروَاة حَيَاة ابْن هِشَام فِي هذَيْن البلدين، وَالْوَاقِع أَن ابْن هِشَام تنقل فِي بلدان كَثِيرَة فَلم تكن حَيَاته محصورة كَذَلِك، وخاصة فِي عصر كَانَ الْعلم فِيهِ يُؤْخَذ سَمَاعا من الْعلمَاء، وَكَانَت الرحلات العلمية ديدن الْعلمَاء.
مولده ووفاته:
لم تذكر المصادر المتوفرة لدينا تَارِيخ مولد ابْن هِشَام، وَهَذَا حَال كثير من الْعلمَاء السَّابِقين، وَيذكر صَاحب "الْأَعْلَام" أَنه ولد بِالْبَصْرَةِ وَنَشَأ فِيهَا، ثمَّ قدم مصر،
--------------------------------------------
ইবনে হিশামের জীবনীতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক বিন হিশাম বিন আইয়ুব আল-হিময়ারি ১, তিনি একাধিক দেশে বসবাস করেছেন; আর সেই কারণেই বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে মুয়াফির বিন ইয়াফুরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন, যেহেতু তাদের মধ্য থেকে একটি বিশাল দল মিশরে স্থানান্তরিত হয়েছিল। আবার কোনো কোনো বর্ণনাকারী তাকে যুহলের দিকে নিসবত করেন; এ ছাড়াও ভিন্ন মতও ব্যক্ত করা হয়েছে। যারা বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং মাতৃভূমি ত্যাগ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটে থাকে।
তাঁর বেড়ে ওঠা:
ইবনে হিশাম বসরায় বেড়ে ওঠেন এবং শুরুতে সেখানকার তৎকালীন আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর জ্ঞান পূর্ণ করার জন্য মিশরে সফর করেন। এখান থেকেই বর্ণনাকারীরা ইবনে হিশামের জীবনকে এই দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন। তবে বাস্তবতা হলো ইবনে হিশাম অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন, তাই তাঁর জীবন কেবল ওভাবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বিশেষ করে এমন এক যুগে যখন আলেমদের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে ইলম গ্রহণ করা হতো এবং ইলমি সফর ছিল আলেমদের নিয়মিত অভ্যাস।
তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:
আমাদের নিকট বর্তমান থাকা উৎসগুলোতে ইবনে হিশামের জন্ম তারিখ উল্লেখ পাওয়া যায়নি, আর পূর্ববর্তী অনেক আলেমদের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটেছে। "আল-আ'লাম" গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন, অতঃপর তিনি মিশরে আগমন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَحدث بهَا، وَتُوفِّي فِيهَا، وَقد اخْتلفت الرِّوَايَات فِي وَفَاته، ففريق يَقُول كَانَت وَفَاته سنة 213 ثَلَاث عشرَة وَمِائَتَيْنِ لِلْهِجْرَةِ، وفريق آخر يَقُول إِن وَفَاته كَانَت سنة / 218هـ/ وَالله أعلم بِالصَّوَابِ وَإِلَيْهِ الْمرجع والمآب.
مَنْزِلَته ومكنته بَين الْعلمَاء:
كَانَ ابْن هِشَام عَالما بالانساب واللغة وأخبار الْعَرَب، وَقد كَانَ رحمه الله إِمَامًا فِي النَّحْو واللغة الْعَرَبيَّة، وَهَذَا مِمَّا حَكَاهُ الإِمَام الذَّهَبِيّ عَنهُ، كَمَا أَنه حِين قدم مصر التقى بِهِ الإِمَام الشَّافِعِي رضي الله عنه، وتناشدا الْأَشْعَار كثيرا، وَهَذَا من غرائب ابْن هِشَام، لِأَنَّهُ عِنْدَمَا كَانَ ينْقل عَن ابْن إِسْحَاق الشّعْر، وَكَانَ بعضه ظَاهر الْفساد، فَكَانَ لَا يَسْتَطِيع أَن يقطع فِيهِ بِرَأْي، وَيَقُول: هَكَذَا حَدثنَا أهل الْعلم بالشعر. أضف إِلَى ذَلِك أَن ابْن هِشَام لما هذب سيرة ابْن إِسْحَاق خفف كثيرا من أشعارها.
وَقد أورد الدَّارَقُطْنِيّ قولا عَن الْمُزنِيّ حَيْثُ يَقُول: قدم علينا الشَّافِعِي رضي الله عنه وَكَانَ بِمصْر عبد الْملك بن هِشَام صَاحب "الْمَغَازِي" وَكَانَ عَلامَة أهل مصر بِالْعَرَبِيَّةِ وَالشعر، فَقيل لَهُ فِي الْمصير إِلَى الشَّافِعِي، فتثاقل، ثمَّ ذهب إِلَيْهِ، فَقَالَ: مَا ظَنَنْت أَن الله يخلق مثل الشَّافِعِي 1 رضي الله عنه.
وَيَقُول عَنهُ ابْن خلكان: وَهَذَا ابْن هِشَام هُوَ الَّذِي جمع سيرة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من الْمَغَازِي وَالسير لِابْنِ إِسْحَاق وهذبها ولخصها، وَشَرحهَا السُّهيْلي الْمَذْكُور، وَهِي الْمَوْجُودَة بأيدي النَّاس الْمَعْرُوفَة بسيرة ابْن هِشَام.
آثَار ابْن هِشَام:
وَلابْن هِشَام العديد من الْآثَار فِي كثير من الْفُنُون نذْكر مِنْهَا على سَبِيل الذّكر لَا الْحصْر:
1- "السِّيرَة النَّبَوِيَّة" الْمَعْرُوف بسيرة ابْن هِشَام، رَوَاهُ عَن ابْن إِسْحَاق.
--------------------------------------------
তিনি সেখানে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর ইন্তেকালের সময় নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়; একদল বলেন তাঁর ইন্তেকাল হিজরি ২১৩ সনে হয়েছিল, আবার অন্য একটি দল বলেন তাঁর ইন্তেকাল ২১৮ হিজরি সনে হয়েছিল। আল্লাহই সত্য সম্পর্কে অধিক অবগত এবং তাঁর কাছেই সকলের প্রত্যাবর্তন ও শেষ আশ্রয়।
আলেমদের মাঝে তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান:
ইবনে হিশাম বংশবিদ্যা, ভাষা এবং আরবদের ইতিহাস সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নাহু এবং আরবি ভাষায় একজন ইমাম ছিলেন। ইমাম যাহাবি তাঁর সম্পর্কে এমনটিই বর্ণনা করেছেন। তিনি যখন মিশরে আসেন তখন ইমাম শাফেঈর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এবং তাঁরা একে অপরের কাছে প্রচুর কবিতা আবৃত্তি করেন। এটি ইবনে হিশামের এক বিস্ময়কর দিক ছিল, কারণ তিনি যখন ইবনে ইসহাকের সূত্রে কবিতা বর্ণনা করতেন—যার কিছু অংশ স্পষ্টতই ত্রুটিপূর্ণ ছিল—তখন তিনি সে ব্যাপারে কোনো মতামত দিতে পারতেন না এবং বলতেন: "কাব্য বিশারদগণ আমাদের কাছে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।" এর সাথে এটিও যোগ করা যেতে পারে যে, ইবনে হিশাম যখন ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থটি পরিমার্জন করেন, তখন তিনি এর অনেক কবিতাই সংক্ষেপ করে দিয়েছিলেন।
দারা কুতনী ইমাম মুজনি থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেন: ইমাম শাফেঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) আমাদের কাছে আসলেন, তখন মিশরে 'আল-মাগাজি' গ্রন্থের লেখক আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম অবস্থান করছিলেন। তিনি আরবি ভাষা ও কবিতায় মিশরের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন। তাঁকে ইমাম শাফেঈর নিকট যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি কিছুটা অনীহা বোধ করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট গেলেন এবং বললেন: "আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে আল্লাহ শাফেঈর মতো কোনো মানুষ সৃষ্টি করেছেন।" ১
ইবনে খাল্লিকান তাঁর সম্পর্কে বলেন: এই ইবনে হিশামই আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) সীরাত ইবনে ইসহাকের মাগাজি ও সিয়ার থেকে সংগ্রহ করেছেন এবং একে পরিমার্জিত ও সারসংক্ষেপ করেছেন। পরবর্তীতে ইমাম সুহাইলি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এটিই বর্তমানে মানুষের নিকট 'সীরাতে ইবনে হিশাম' নামে সুপরিচিত ও বিদ্যমান।
ইবনে হিশামের রচনাবলি:
বিভিন্ন বিদ্যায় ইবনে হিশামের অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, যা সীমাবদ্ধ না করে এখানে কেবল কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:
১- "আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ", যা সীরাতে ইবনে হিশাম নামে পরিচিত, এটি তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
2- "القصائد الحميرية" فِي أَخْبَار الْيمن وملوكها فِي الْجَاهِلِيَّة.
3- "التيجان لمعْرِفَة مُلُوك الزَّمَان" رَوَاهُ عَن أَسد بن مُوسَى، عَن ابْن سِنَان، عَن وهب بن مُنَبّه.
4- "شرح مَا وَقع فِي أشعار السِّيرَة من الْغَرِيب".
5- "مُصَنف فِي أَنْسَاب حمير وملوكها".
إِلَى غير ذَلِك من الْكتب الْأُخْرَى فِي فنون متنوعة من أَبْوَاب الْعلم. ط
رحم الله عالمنا الْجَلِيل عبد الْملك بن هِشَام وجزاه الله عَنَّا وَعَن الْمُسلمين خير الْجَزَاء سائلين الْمولى تَعَالَى أَن يحشرنا وإياهم تَحت لِوَاء الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم وَآخر دعوانا أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين.
২- "আল-কাসাইদ আল-হিমইয়ারিয়্যাহ" জাহেলি যুগে ইয়ামেনের ইতিহাস ও রাজাদের সংবাদ বিষয়ক।
৩- "আত-তিজান লি-মা'রিফাতি মুলুকিজ জামান", এটি তিনি আসাদ ইবনে মুসা থেকে, তিনি ইবনে সিনান থেকে এবং তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
৪- "শারহু মা ওয়াকা'আ ফি আশ'আরিস সীরাহ মিনাল গারিব" (সীরাতের কবিতাগুলোতে বিদ্যমান অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা)।
৫- "মুসান্নাফ ফি আনসাবি হিমইয়ার ওয়া মুলুকিহা" (হিমইয়ারের বংশলতিকা ও তাদের রাজাদের বর্ণনায় সংকলিত গ্রন্থ)।
এ ছাড়াও জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর আরও অন্যান্য কিতাব রয়েছে।
মহান আল্লাহ আমাদের বরেণ্য আলিম আবদুল মালিক ইবনে হিশামকে রহম করুন এবং আমাদের ও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমরা মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং তাঁদের সকলকে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পতাকাতলে হাশর নসিব করেন। আর আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تَرْجَمَة الإِمَام السُّهيْلياسْمه وَنسبه:
هُوَ أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن عبد الله بن أَحْمد بن أصبغ بن الْحُسَيْن بن سعدون بن رضوَان بن فتوح بن الْخَطِيب أبي مُحَمَّد بن الْخَطِيب أبي عَمْرو بن أبي الْحسن الخثعي السُّهيْلي الأندلسي المالقي.
قَالَ صَاحب "الوفيات": والسهيلي سنة / 508هـ/ فِي الأندلس، وَتُوفِّي سنة / 581هـ/ فِي مراكش 1. يَقُول ابْن الْعِمَاد الْحَنْبَلِيّ فِي كِتَابه "شذرات الذَّهَب" إِن أَبَا الْقَاسِم مِمَّن توفوا سنة/ 581هـ/ فِي شعْبَان من تِلْكَ السّنة، وَيكون قد عَاشَ اثْنَتَيْنِ وَسبعين سنة.
نشأته:
نَشأ السُّهيْلي فِي وَاد بالأندلس يُسمى سُهَيْل من كورة مالقة، وَهِي قَرْيَة بِالْقربِ
--------------------------------------------
ইমাম আস-সুহায়লীর জীবনীতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন আবুল কাসেম আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আসবাগ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে সাদুন ইবনে রিদওয়ান ইবনে ফুতুহ ইবনে আল-খতিব আবু মুহাম্মদ ইবনে আল-খতিব আবু আমর ইবনে আবিল হাসান আল-খাছআমি আস-সুহায়লী আল-আন্দালুসি আল-মালাকি।
‘ওয়াফায়াত’ গ্রন্থের লেখক বলেন: আস-সুহায়লী ৫০৮ হিজরি সনে আন্দালুসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৮১ হিজরি সনে মারাকেশে মৃত্যুবরণ করেন ১। ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী তাঁর ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে বলেন যে, আবুল কাসেম ৫৮১ হিজরি সনের শাবান মাসে মৃত্যুবরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি বাহাত্তর বছর জীবন লাভ করেছিলেন।
তাঁর বেড়ে ওঠা:
আস-সুহায়লী আন্দালুসের সুহায়ল নামক এক উপত্যকায় বেড়ে ওঠেন যা মালাকা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত, আর এটি একটি নিকটবর্তী গ্রাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২০)
من مالقة سميت باسم الْكَوْكَب 1، لِأَنَّهُ لَا يرى فِي جَمِيع الأندلس إِلَّا من جبل مطل عَلَيْهَا، ومالقة بِفَتْح اللَّام وَالْقَاف، هِيَ مَدِينَة بالأندلس.
فَأَقَامَ السُّهيْلي بالأندلس عمرا طَويلا، فنهل من كنوز الْعلم مَا نهل، وتزود من المعارف مَا تزَود، واشتهر بَين النَّاس، فَأخذُوا يقصدونه ليأخذوا عَنهُ الْعلم، فذاع سيطه فِي الْبلدَانِ حَتَّى وصل خَبره إِلَى مراكش فَطَلَبه واليها، وأكرمه وَأحسن إِلَيْهِ، وَأَقْبل بِوَجْهِهِ كل الإقبال عَلَيْهِ، وولاه بهَا قَضَاء الْجَمَاعَة 2، وَبَقِي على ذَلِك الْحَال أعواماً ثَلَاثَة إِلَى أَن وافاه الْأَجَل فَمَاتَ بهَا رحمه الله.
أخلاقه وعلمعه:
إِذا نَظرنَا مَلِيًّا فِي مؤلفات الإِمَام السُّهيْلي لظهر لنا جلياً اتجاهه الخلقي النَّبِيل، فقد عَاشَ لنصرة هَذَا الدّين فوهب لَهُ حَيَاته مَا بَين درس لَهُ، وتأليف فِيهِ، وَلِهَذَا عرف بَين النَّاس بالصلاح واشتهر بالورع وَالتَّقوى، أضف إِلَى ذَلِك أَنه كَانَ بِبَلَدِهِ يتسوغ بالعفاف، ويتبلغ بالكفاف.
كَانَ السُّهيْلي رحمه الله مالكي الْمَذْهَب، وَكَانَ ضريراً مُنْذُ السَّابِعَة عشرَة من عمره، وَأخذ الْقرَاءَات عَن سُلَيْمَان بن يحيى وَجَمَاعَة، وروى عَن أبي بكر بن الْعَرَبِيّ وكبار رجال الْعلم فِي تِلْكَ الْبِلَاد، فَأخذ اللُّغَة والآداب عَن ابْن الطراوة، وناظره فِي "كتاب سِيبَوَيْهٍ".
وتصدر للإفتاء والتدريس والْحَدِيث، فَجمع بَين الرِّوَايَة والدراية، فَأخذ النَّاس عَنهُ وانتفعوابه.
--------------------------------------------
মালাকা থেকে, যা সুহাইল নক্ষত্রের নামে নামকরণ করা হয়েছে ১; কারণ এটি সমগ্র আন্দালুসে কেবল একটি পাহাড় থেকে দেখা যায় যা এর উপর অবস্থিত। মালাকা শব্দটি 'লাম' এবং 'কাফ' অক্ষরের ফাতহা যোগে উচ্চারিত হয়, এটি আন্দালুসের একটি শহর।
সুহাইলি আন্দালুসে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন। সেখানে তিনি ইলমের ভাণ্ডার থেকে পূর্ণমাত্রায় জ্ঞান আহরণ করেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে প্রচুর পাথেয় সংগ্রহ করেন। তিনি মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং মানুষ ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর অভিমুখী হতে শুরু করে। তাঁর সুখ্যাতি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি তাঁর সংবাদ মারাক্কাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে সেখানকার শাসক তাঁকে তলব করেন, তাঁকে সম্মানিত করেন, তাঁর প্রতি অত্যন্ত সৌজন্য প্রদর্শন করেন এবং পূর্ণভাবে তাঁর প্রতি মনোযোগী হন। তিনি তাঁকে সেখানে 'কাজিউল জামায়াত' (প্রধান বিচারক) নিযুক্ত করেন। তিনি তিন বছর এই পদে আসীন ছিলেন, অবশেষে তাঁর ইন্তেকালের সময় উপস্থিত হয় এবং তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
তাঁর চরিত্র ও ইলম:
আমরা যদি ইমাম সুহাইলির রচনাবলির দিকে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করি, তবে তাঁর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হবে। তিনি এই দ্বীনের সাহায্যের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন এবং এর অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এই কারণেই তিনি মানুষের মাঝে নেককার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর তাকওয়া ও পরহেজগারির জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর নিজ শহরে আত্মমর্যাদাশীল জীবন যাপন করতেন এবং অতি সামান্য উপজীব্যেই তুষ্ট থাকতেন।
সুহাইলি (রহ.) মালিকি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং সতেরো বছর বয়স থেকে তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন। তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াহইয়া এবং একদল উস্তাদের নিকট কিরাত শিক্ষা করেন। তিনি আবু বকর ইবনুল আরাবি এবং সেই অঞ্চলের ইলম জগতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি ইবনে তরাওয়ার নিকট থেকে ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা করেন এবং 'কিতাব সিবওয়াইহি' বিষয়ে তাঁর সাথে একাডেমিক বিতর্ক করেন।
তিনি ফতোয়া প্রদান, অধ্যাপনা ও হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বর্ণনাগত জ্ঞান (রিওয়ায়াত) এবং উপলব্ধিগত জ্ঞান (দিরায়াত)-এর এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। ফলে মানুষ তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছে এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَمِمَّا حُكيَ عَن السُّهيْلي أَنه قَالَ: أخبرنَا أَبُو بكر بن الْعَرَبِيّ فِي مشيخته عَن أبي الْمَعَالِي، أَنه سَأَلَهُ فِي مَجْلِسه رجل من الْعَوام فَقَالَ: أَيهَا الْفَقِيه الإِمَام: أُرِيد أَن تذكر لي دَلِيلا شَرْعِيًّا على أَن الله تَعَالَى لَا يُوصف بالجهة، وَلَا يحدد بهَا. فَقَالَ: نعم قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا تفضلُونِي على يُونُس بن مَتى" فَقَالَ الرِّجَال: إِنِّي لَا أعرف وَجه الدَّلِيل من هَذَا الدَّلِيل، وَقَالَ كل من حضر الْمجْلس مثل قَول الرجل فَقَالَ أَبُو الْمَعَالِي: أضافني اللَّيْلَة ضيف لَهُ عَليّ ألف دِينَار، وَقد شغلت بالي، فَلَو قضيت عني قلتهَا، فَقَامَ رجلَانِ من التِّجَارَة فَقَالَا: هِيَ فِي ذمتنا، فَقَالَ أَبُو الْمَعَالِي: لَو كَانَ رجلا وَاحِدًا يضمنهَا كَانَ أحب إلين فَقَالَ أحد الرجلَيْن أَو غَيرهمَا: هِيَ فِي ذمتين فَقَالَ أَبُو الْمَعَالِي: نعم إِن الله تَعَالَى أسرى بِعَبْدِهِ إِلَى فَوق سبع سموات، حَتَّى سمع صرير الأقلام، والتقم يُونُس الْحُوت، فَهَوِيَ بِهِ إِلَى جِهَة التحت من الظُّلُمَات مَا شَاءَ الله، فَلم يكن سيدنَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فِي علو مَكَانَهُ بأقرب إِلَى الله تَعَالَى من يُونُس فِي بعد مَكَانَهُ، فَالله تَعَالَى لَا يتَقرَّب إِلَيْهِ بالأجرام والأجسام، وَإِنَّمَا يتَقرَّب إِلَيْهِ بِصَالح الْأَعْمَال.
وَكَانَ الإِمَام السُّهيْلي فَوق هَذَا شَاعِرًا، فَلهُ أَبْيَات مَشْهُورَة فِي الْفرج:
قَالَ ابْن دحْيَة السُّهيْلي: أنشدنيها وَقَالَ: مَا يسْأَل الله بهَا فِي حَاجَة إِلَّا قَضَاهُ إِيَّاهَا وَهِي:
يَا من يرا مَا فِي الضَّمِير وَيسمع
… أَنْت الْمعد لكل مَا يتَوَقَّع
يامن يُرْجَى للشدائد كلهَا
… يَا من إِلَيْهِ المشتكى والمفزع
يَا من خَزَائِن ملكه فِي قَول: كن
… أمنن فَإِن الْخَيْر عِنْد أجمع
مَالِي سوى قرعي لبابك حِيلَة
… فلئن رددت فَأَي بَاب أَقرع
مَالِي سوى فقري إِلَيْك وَسِيلَة
… وبالافتقار إِلَيْهِ فقري أدفَع
من ذَا الَّذِي أَدْعُو وأهتف باسمه
… إِن كَانَ فضلك عَن فقيرك يمْنَع
حاشا لمجدك أَن تقنط عَاصِيا
… وَالْفضل أجزل والمواهب أوسع
ثمَّ الصَّلَاة على النَّبِي وَآله
… خير الْأَنَام وَمن بِهِ يستشفع 1
--------------------------------------------
সুহায়লী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে যে তিনি বলেছেন: আবু বকর ইবনুল আরাবী তাঁর মাশায়েখদের থেকে আমাদের আবুল মা’আলী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর মজলিসে সাধারণ লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: হে ফকীহ ইমাম, আমি চাই আপনি আমার নিকট এমন একটি শারয়ি দলীল উল্লেখ করুন যা প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাআলাকে কোনো দিকের সাথে বিশেষিত করা যায় না এবং দিক দ্বারা তাঁকে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তখন তিনি বললেন: হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি: "তোমরা আমাকে ইউনুস ইবনে মাত্তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না।" তখন লোকটি বলল: আমি এই দলীলের মাধ্যমে দলীলের দিকটি বুঝতে পারছি না। মজলিসে উপস্থিত সকলেই লোকটির মতো একই কথা বলল। তখন আবুল মা’আলী বললেন: আজ রাতে আমার কাছে এমন এক মেহমান এসেছে যার কাছে আমার এক হাজার দীনার ঋণ রয়েছে, যা আমার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। যদি তোমরা আমার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দিতে, তবে আমি এটি ব্যাখ্যা করতাম। তখন ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: এটি আমাদের জিম্মায়। আবুল মা’আলী বললেন: যদি একজন ব্যক্তি এর জিম্মাদার হতো তবে তা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় হতো। তখন ঐ দুইজনের একজন অথবা অন্য কেউ বলল: এটি আমার জিম্মায়। এরপর আবুল মা’আলী বললেন: হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে সাত আসমানের উপরে নিয়ে গিয়েছিলেন, এমনকি তিনি কলমের খসখস শব্দ শুনেছিলেন; আর ইউনুসকে মাছে গিলে ফেলেছিল এবং তাকে নিয়ে অন্ধকারের গভীর নিচে চলে গিয়েছিল যা আল্লাহ চেয়েছিলেন। এমতাবস্থায় আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুউচ্চ অবস্থানে থাকা অবস্থায় ইউনুস তাঁর দূরবর্তী অবস্থানে থাকার চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটে ছিলেন না। কেননা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য দেহ বা বস্তুর মাধ্যমে অর্জিত হয় না, বরং তাঁর নৈকট্য অর্জিত হয় কেবল সৎকর্মের মাধ্যমে।
আর ইমাম সুহায়লী এর পাশাপাশি একজন কবিও ছিলেন। বিপদ মুক্তির বিষয়ে তাঁর কিছু প্রসিদ্ধ পংক্তি রয়েছে:
ইবনে দাহইয়া বলেছেন: সুহায়লী আমাকে এগুলো আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন এবং বলেছেন: আল্লাহর কাছে এর মাধ্যমে কোনো প্রয়োজনে প্রার্থনা করা হলে তিনি তা পূরণ করেন। সেগুলো হলো:
হে তিনি, যিনি অন্তরে যা আছে তা দেখেন এবং শোনেন
… আপনিই সকল সম্ভাব্য বিপদের জন্য সহায়।
হে তিনি, সকল কঠিন বিপদে যাঁর নিকট আশা করা হয়
… হে তিনি, যাঁর নিকট সকল অভিযোগ ও আশ্রয়।
হে তিনি, যাঁর রাজত্বের ভাণ্ডার 'হও' শব্দের মধ্যে নিহিত
… অনুগ্রহ করুন, নিশ্চয়ই সকল কল্যাণ আপনার নিকট পুঞ্জীভূত।
আপনার দ্বারে কড়া নাড়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই
… যদি আপনিই ফিরিয়ে দেন, তবে আমি আর কার দ্বারে কড়া নাড়ব?
আপনার প্রতি আমার মুখাপেক্ষিতা ছাড়া আমার আর কোনো অসীলা নেই
… আর আপনার প্রতি এই মুখাপেক্ষিতার মাধ্যমেই আমি আমার অভাবকে দূর করি।
কে আছে এমন যাকে আমি ডাকব এবং যাঁর নাম ধরে উচ্চস্বরে প্রার্থনা করব
… যদি আপনার অনুগ্রহ আপনার এই অভাবগ্রস্ত বান্দা থেকে রুদ্ধ হয়ে যায়?
আপনার মহত্ত্বের জন্য এটি অসম্ভব যে আপনি কোনো গুনাহগারকে নিরাশ করবেন
… অথচ আপনার অনুগ্রহ অতি মহান এবং দানসমূহ অতি প্রশস্ত।
অতঃপর নবী এবং তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক
… যিনি সৃষ্টির সেরা এবং যাঁর মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করা হয়। 1
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَيَقُول الصَّفَدِي فِي كِتَابه "نكت الْهِمْيَان": وَمن شعره يرثي بلدهن وَكَانَ الفرنج قد ضَربته، وَقتلت رِجَاله ونساءه "وَقتلُوا أَهله وأقاربه، وَكَانَ غَائِبا عَنْهُم، فاستأجر من أركبه دَابَّة، وَأتي بِهِ إلَيْهِنَّ فَوقف إزاءه وَقَالَ" 1:
يَا دَار أَيْن الْبيض والآرام!
… أم أَيْن جيران عَليّ كرام
راب الْمُحب من الْمنَازل أَنه
… حَيا، فَلم يرجع إِلَيْهِ سَلام
أخرسن أم بعد المدى فنسينه
… أم غال من كَانَ الْمُجيب حمام
دمعي شهيدي أنني لم أنسهم
… إِن السلو على الْمُحب حرَام
لما أجابني الصدى عَنْهُم، وَلم
… يلج المسامع للحبيب كَلَام
طارحت ورق حمامها مترنما
… بمقال صب، والدموع سجام
يَا دَار مَا صنعت بك الْأَيَّام
… ضامتك، وَالْأَيَّام لَيْسَ تضام
وَمن شعره ايضاً:
إِذا قلت يَوْمًا: سَلام عَلَيْكُم
… فَفِيهَا شِفَاء وفيهَا السقام
شِفَاء إِذا قلتهَا مُقبلا
… وَإِن أَنْت أَدْبَرت فِيهَا الْحمام
مؤلفات الإِمَام السُّهيْلي:
وَللْإِمَام السُّهيْلي رحمه الله مؤلفات كَثِيرَة من الْعُلُوم نذْكر مِنْهَا على سَبِيل الْمِثَال لَا الْحصْر:
1- "الرَّوْض الْأنف" وَهُوَ من أهم كتبه، وَهُوَ الْكتاب الَّذِي بَين أَيْدِينَا.
2- "التَّعْرِيف والإعلام فِيمَا أبهم فِي الْقُرْآن من الْأَسْمَاء الْأَعْلَام".
3- "نتائج الْفِكر".
4- "شرح آيَة الْوَصِيَّة فِي الْفَرَائِض".
--------------------------------------------
আস-সাফাদি তাঁর "নুকাতুল হিমইয়ান" গ্রন্থে বলেন: তাঁর কবিতাগুলোর মধ্যে একটি হলো তাঁর স্বদেশকে (মাল্লাহা) নিয়ে লেখা শোকগাথা, যেখানে ক্রুসেডাররা আক্রমণ চালিয়েছিল এবং সেখানকার পুরুষ ও নারীদের হত্যা করেছিল। তারা তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকেও হত্যা করেছিল। সে সময় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি একটি সওয়ারি ভাড়া করেন এবং তাঁকে সেখানে নিয়ে আসা হয়। এরপর তিনি সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন ১:
হে গৃহ! শ্বেতবরণা রূপসীরা আর হরিণরা (সুন্দরী রমণীরা) কোথায়?
… অথবা আলীর সম্মানিত প্রতিবেশীরাই বা কোথায়?
প্রেমিককে এই গৃহগুলো সন্দিহান করে তুলেছে যে,
… সে অভিবাদন জানাল, কিন্তু তার কোনো উত্তর ফিরে এল না।
তারা কি মূক হয়ে গেছে, নাকি দীর্ঘ বিচ্ছেদে তাকে ভুলে গেছে?
… অথবা উত্তরদানকারীকে কি মৃত্যু ছিনিয়ে নিয়েছে?
আমার চোখের অশ্রু সাক্ষী যে আমি তাদের ভুলিনি;
… প্রেমিকের জন্য প্রিয়জনকে ভুলে যাওয়া তো নিষিদ্ধ।
যখন তাদের পক্ষ থেকে কেবল প্রতিধ্বনিই আমাকে উত্তর দিল, আর
… প্রিয়জনের কোনো কথা কানে প্রবেশ করল না,
তখন আমি এর কপোতগুলোর সাথে সুর মিলিয়ে বিলাপ করলাম
… একজন আসক্ত প্রেমিকের ন্যায়, আর অশ্রু ছিল প্রবহমান।
হে গৃহ! কালচক্র তোমার সাথে কী আচরণ করল?
… সে তোমার ওপর জুলুম করল, অথচ কালচক্রের ওপর কেউ জুলুম করতে পারে না।
তাঁর আরও কিছু কবিতা:
আমি যদি কোনোদিন বলি: আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক,
… তবে এর মাঝে আরোগ্যও আছে আবার অসুস্থতাও আছে।
আরোগ্য আছে যখন আপনি এটি আসার সময় বলেন;
… আর আপনি যদি যাওয়ার সময় এটি বলেন তবে এর মাঝে রয়েছে মৃত্যু।
ইমাম আস-সুহাইলীর রচনাবলি:
ইমাম আস-সুহাইলী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় অনেক গ্রন্থ রয়েছে। আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ কিছু উল্লেখ করছি (সবগুলো নয়):
১- "আর-রাওদুল উনুফ": এটি তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ এবং এটিই সেই কিতাব যা বর্তমানে আমাদের সামনে রয়েছে।
২- "আত-তারিফ ওয়াল ইলাম ফিমা উবহামা ফিল কুরআন মিনাল আসমাইল আলাম" (কুরআনে যে সমস্ত নাম অস্পষ্ট রাখা হয়েছে সেগুলোর পরিচয় ও বিবরণ)।
৩- "নাতাইযুল ফিকর" (চিন্তার ফসল)।
৪- "শারহু আয়াতিিল অসিয়্যাহ ফিল ফারায়েজ" (উত্তরাধিকার আইনে অসিয়্যত সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
1- "مَسْأَلَة السِّرّ فِي عور الدَّجَّال".
2- "مَسْأَلَة رُؤْيَة الله عز وجل".
3- "شرح الْجمل" 1.
إِلَى غير ذَلِك من تآليفه المفيدة، وَهُنَاكَ مسَائِل كَثِيرَة غير هَذِه اكْتفى المترجمون بِالْإِشَارَةِ إِلَيْهِ دون التَّصْرِيح بأسمائها.
رحم الله الإِمَام السُّهيْلي، وجزاه عَنَّا وَعَن الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين كل خير، وَجَعَلنَا وإياه من أهل الْجنَّة مَعَ النَّبِيين وَالصديقين وَالشُّهَدَاء وَالصَّالِحِينَ وَحسن أُولَئِكَ رَفِيقًا، وَآخر دعوانا أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين.
أعد هَذِه التراجم ورتبها
الشَّيْخ عمر بن عبد السَّلَام السلَامِي
--------------------------------------------
১- "দাজ্জালের এক চক্ষু কানা হওয়ার রহস্য বিষয়ক মাসআলা।"
২- "মহান আল্লাহর দিদার (দর্শন) সংক্রান্ত মাসআলা।"
৩- "শারহুল জুমাল" ১।
এরূপ আরও অনেক তাঁর উপকারী সংকলন রয়েছে। এছাড়া আরও অনেক মাসআলা রয়েছে যেগুলোর প্রতি জীবনীকারগণ নাম উল্লেখ না করে কেবল ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।
আল্লাহ তাআলা ইমাম সুহাইলিকে রহম করুন, এবং আমাদের পক্ষ থেকে ও ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। তিনি আমাদের ও তাঁকে নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ ও নেককারদের সাথে জান্নাতবাসী করুন; আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম! আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এই জীবনীসমূহ প্রস্তুত ও বিন্যস্ত করেছেন
শাইখ উমর বিন আব্দুস সালাম আস-সালামী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلّهِ رَبّ الْعَالَمِينَ وَصَلَوَاتُهُ عَلَى سَيّدِنَا مُحَمّدٍ وَآلِهِ أَجْمَعِينَ.
ذِكْرُ سَرْدِ النّسَبِ الزّكِيّ مِنْ مُحَمّد صلى الله عليه وآله وسلم إلَى آدَمَ عليه السلامقَالَ أَبُو مُحَمّدٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بن هِشَام [النَّحْوِيّ] :
هَذَا كِتَابُ سِيرَةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم مُحَمّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطّلِبِ، وَاسْمُ عَبْدِ الْمُطّلِبِ: شَيْبَةُ بْنُ هَاشِمٍ وَاسْمُ هَاشِمٍ:
ــ
تَفْسِيرُ نَسَبِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
قَدْ ذَكَرْنَا فِي كِتَابِ التّعْرِيفِ وَالْإِعْلَامِ بِمَا أُبْهِمَ فِي الْقُرْآنِ مِنْ الْأَسْمَاءِ الْأَعْلَامِ مَعَانِيَ بَدِيعَةً وَحِكْمَةً مِنْ اللهِ بَالِغَةً فِي تَخْصِيصِ نَبِيّهِ مُحَمّدٍ صلى الله عليه وسلم بِهَذَيْنِ الِاسْمَيْنِ: مُحَمّدٍ وَأَحْمَدَ فَلْتَنْظُرْ هُنَاكَ وَلَعَلّنَا أَنْ نَعُودَ إلَيْهِ فِي بَابِ مَوْلِدِهِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ - إنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى.
عَبْدُ الْمُطّلِبِ:
وَأَمّا جَدّهُ عَبْدُ الْمُطّلِبِ، فَاسْمُهُ عَامِرٌ فِي قَوْلِ ابْنِ قُتَيْبَةَ، وَشَيْبَةُ 1 فِي قَوْلِ ابْنِ إسْحَاقَ وَغَيْرِهِ وَهُوَ الصّحِيحُ. وَقِيلَ سُمّيَ شَيْبَةُ لِأَنّهُ وُلِدَ وَفِي رَأْسِهِ شَيْبَةٌ، وَأَمّا
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর সকল বংশধরদের ওপর।
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আদম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত পবিত্র বংশপরম্পরার বর্ণনাআবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম [নাহবী] বলেন:
এটি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত গ্রন্থ; আর আব্দুল মুত্তালিবের নাম ছিল শায়বা ইবনে হাশেম, এবং হাশেমের নাম ছিল:
ــ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশপরিচয়ের ব্যাখ্যা
আমরা ‘আত-তারিফ ওয়াল ইলাম বিমা উবহামা ফিল কুরআন মিনাল আসমাইল আলাম’ গ্রন্থে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনিপুণ অর্থ ও সুগভীর প্রজ্ঞা উল্লেখ করেছি, কেন তিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই দুটি নাম—মুহাম্মদ ও আহমদ—দ্বারা নির্দিষ্ট করেছেন। সুতরাং আপনি সেখানে দেখে নিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা, হয়তো আমরা এই গ্রন্থের তাঁর জন্ম সংক্রান্ত অধ্যায়ে বিষয়টি পুনরায় আলোচনা করব।
আব্দুল মুত্তালিব:
আর তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব—ইবনে কুতায়বার মতে তাঁর নাম ছিল আমির, আর ইবনে ইসহাক ও অন্যদের মতে শায়বা ১, এবং এটিই সঠিক। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর নাম শায়বা রাখা হয়েছিল কারণ তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন তাঁর মাথায় সাদা চুল ছিল; আর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
غَيْرُهُ مِنْ الْعَرَبِ مِمّنْ اسْمُهُ شَيْبَةُ فَإِنّمَا قُصِدَ فِي تَسْمِيَتِهِمْ بِهَذَا الِاسْمِ التّفَاؤُلُ لَهُمْ، بِبُلُوغِ سِنّ الْحُنْكَةِ1 وَالرّأْيِ كَمَا سُمّوا بِهَرِمِ وَكَبِيرٍ وَعَاشَ عَبْدُ الْمُطّلِبِ مِائَةً وَأَرْبَعِينَ سَنَةً وَكَانَ لِدَةَ 2 عُبَيْدِ بْنِ الْأَبْرَصِ الشّاعِرِ غَيْرَ أَنّ عُبَيْدًا مَاتَ قَبْلَهُ بِعِشْرِينَ سَنَةً قَتَلَهُ الْمُنْذِرُ أَبُو النّعْمَانِ بْنُ الْمُنْذِرِ، وَيُقَالُ إنّ عَبْدَ الْمُطّلِبِ أَوّلُ مَنْ خَضّبَ بِالسّوَادِ مِنْ الْعَرَبِ، وَاَللهُ أَعْلَمُ.
وَقَدْ ذَكَرَ ابْنُ إسْحَاقَ سَبَبَ تَلْقِيبِهِ بِعَبْدِ الْمُطّلِبِ. وَالْمُطّلِبُ مُفْتَعِلٌ مِنْ الطّلَبِ.
هَاشِمٌ:
وَأَمّا هَاشِمٌ فَعَمْرٌ - كَمَا ذُكِرَ - وَهُوَ اسْمٌ مَنْقُولٌ مِنْ أَحَدِ أَرْبَعَةِ أَشْيَاءَ مِنْ الْعَمْرِ الّذِي هُوَ الْعُمْرُ أَوْ الْعَمْرِ الّذِي هُوَ مِنْ عُمُورِ الْأَسْنَانِ وَقَالَهُ الْقُتَبِيّ: أَوْ الْعَمَرِ الّذِي هُوَ طَرَفُ الْكُمّ يُقَالُ سَجَدَ عَلَى عَمَرَيْهِ أَيْ عَلَى كُمّيْهِ أَوْ الْعَمْرِ الّذِي هُوَ الْقُرْطُ كَمَا قَالَ التّنّوخِيّ:
وَعَمْرُو هِنْدٍ كَأَنّ اللهَ صَوّرَهُ
… عَمْرَو3 بْنَ هِنْدٍ يَسُومُ النّاسَ تَعْنِيتَا
وَزَادَ أَبُو حَنِيفَةَ وَجْهًا خَامِسًا، فَقَالَ فِي الْعُمْرِ الّذِي هُوَ اسْمٌ لِنَخْلِ السّكّرِ وَيُقَالُ فِيهِ عَمْرٌ أَيْضًا، قَالَ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ أَحَدَ الْوُجُوهِ الّتِي بِهَا سُمّيَ الرّجُلُ عَمْرًا وَقَالَ كَانَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى يَسْتَاكُ بِعَسِيبِ الْعُمْرِ 4
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
আরবদের মধ্যে অন্য যাদের নাম 'শাইবাহ' রাখা হতো, তাদের এই নামকরণের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের দীর্ঘায়ু এবং প্রজ্ঞার বয়সে পৌঁছানোর শুভকামনা করা; ঠিক যেমন তারা তাদের সন্তানদের নাম 'হারিম' (বৃদ্ধ) এবং 'কাবীর' (বড়) রাখত। আব্দুল মুত্তালিব একশ চল্লিশ বছর বেঁচে ছিলেন এবং তিনি কবি উবাইদ ইবনুল আবরাসের সমসাময়িক ছিলেন। তবে উবাইদ তাঁর বিশ বছর আগেই মারা যান; তাকে আল-নুমান ইবনে আল-মুনজিরের পিতা আল-মুনজির হত্যা করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, আব্দুল মুত্তালিবই প্রথম আরব যিনি চুলে কালো কলপ ব্যবহার করেছিলেন, তবে আল্লাহই ভালো জানেন।
ইবনে ইসহাক তাকে 'আব্দুল মুত্তালিব' উপাধি দেওয়ার কারণ উল্লেখ করেছেন। আর 'মুত্তালিব' শব্দটি 'তালাব' (সন্ধান করা) থেকে 'মুফতা'ইল' ছাঁচে গঠিত।
হাশিম:
আর হাশিমের প্রকৃত নাম ছিল 'আমর'—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে—এবং এই নামটি চারটি বিষয়ের যেকোনো একটি থেকে গৃহীত হয়েছে: হয় 'আল-আম্র' থেকে যা দ্বারা 'আয়ু' বোঝায়; অথবা 'আল-আম্র' যা দাঁতের মাড়ির গোশতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং এটি কুতায়বী বলেছেন; অথবা 'আল-আমার' থেকে যা আস্তিনের প্রান্তভাগকে বোঝায়, যেমন বলা হয়: "তিনি তাঁর দুই আমার-এর ওপর সিজদাহ করেছেন" অর্থাৎ তাঁর আস্তিনের দুই প্রান্তের ওপর; অথবা 'আল-আম্র' থেকে যার অর্থ কানের দুল, যেমন তানুখী বলেছেন:
হিন্দের কানের দুলটি এমন উজ্জ্বল যেন আল্লাহ তাকে চিত্রিত করেছেন
… আমর ইবনে হিন্দের মতো, যিনি মানুষের ওপর কঠোরতা আরোপ করেন।
আবু হানিফা পঞ্চম আরেকটি সম্ভাবনা যোগ করেছেন। তিনি 'আল-আমর' সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি একটি মিষ্টি খেজুর গাছের নাম, যাকে 'আমর'ও বলা হয়। তিনি বলেন, এটিও সেই কারণগুলোর একটি হতে পারে যার ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির নাম 'আমর' রাখা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আবি লায়লা 'আমর' নামক খেজুর গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عَمْرُو بْنُ عَبْدِ مَنَافٍ. وَاسْمُ عَبْدِ مَنَافٍ: الْمُغِيرَةُ بن قصي، [وَاسم قصي: زيد]
ــ
عَبْدُ مَنَافٍ:
وَعَبْدُ مَنَافٍ اسْمُهُ الْمُغِيرَةُ - كَمَا ذُكِرَ - وَهُوَ مَنْقُولٌ مِنْ الْوَصْفِ وَالْهَاءُ فِيهِ لِلْمُبَالَغَةِ أَيْ إنّهُ مُغِيرٌ عَلَى الْأَعْدَاءِ أَوْ مُغِيرٌ مِنْ أَغَارَ الْحَبْلَ إذَا أَحْكَمَهُ وَدَخَلَتْهُ الْهَاءُ كَمَا دَخَلَتْ فِي عَلّامَةٍ وَنَسّابَةٍ لِأَنّهُمْ قَصَدُوا قَصْدَ الْغَايَةِ وَأَجْرَوْهُ مَجْرَى الطّامّةِ وَالدّاهِيَةِ وَكَانَتْ الْهَاءُ أَوْلَى بِهَذَا الْمَعْنَى لِأَنّ مَخْرَجَهَا غَايَةُ الصّوْتِ وَمُنْتَهَاهُ وَمِنْ ثَمّ لَمْ يُكَسّرْ مَا كَانَتْ فِيهِ هَذِهِ الْهَاءُ فَيُقَالُ فِي عَلّامَةٍ عَلَالِيمُ وَفِي نَسّابَةٍ نَسَاسِيبُ كَيْ لَا يَذْهَبَ اللّفْظُ الدّالّ عَلَى الْمُبَالَغَةِ كَمَا لَمْ يُكَسّرْ الِاسْمُ الْمُصَغّرُ كَيْ لَا تَذْهَبَ بِنْيَةُ التّصْغِيرِ وَعَلَامَتُهُ.
وَيَجُوزُ أَنْ تَكُونَ الْهَاءُ فِي مُغِيرَةَ لِلتّأْنِيثِ وَيَكُونُ مَنْقُولًا مِنْ وَصْفِ كَتِيبَةٍ أَوْ خَيْلٍ مُغِيرَةٍ، كَمَا سُمّوا بِعَسْكَرِ. وَعَبْدُ مَنَافٍ هَذَا كَانَ يُلَقّبُ قَمَرَ الْبَطْحَاءِ - فِيمَا ذَكَرَ الطّبَرِيّ - وَكَانَتْ أُمّهُ حُبّى قَدْ أَخْدَمَتْهُ مَنَاةَ وَكَانَ صَنَمًا عَظِيمًا لَهُمْ وَكَانَ سُمّيَ بِهِ عَبْدُ مَنَاةَ ثُمّ نَظَرَ قُصَيّ فَرَآهُ يُوَافِقُ عَبْدَ مَنَاةَ بْنَ كِنَانَةَ فَحَوّلَهُ عَبْدَ مَنَافٍ. ذَكَرَهُ الْبَرْقِيّ وَالزّبَيْرُ أَيْضًا، وَفِي الْمُعَيْطِيّ عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ قَالَ قُلْت لِمَالِكِ مَا كَانَ اسْمُ عَبْدِ الْمُطّلِبِ؟ قَالَ شَيْبَةُ. قُلْت: فَهَاشِمٌ؟ قَالَ عَمْرٌو، قُلْت: فَعَبْدُ مَنَافٍ؟ قَالَ: لَا أَدْرِي 1
َقُصَيّ:
وَقُصَيّ اسْمُهُ: زَيْدٌ وَهُوَ تَصْغِيرُ قَصِيّ أَيْ: بَعِيدٌ لِأَنّهُ بَعُدَ عَنْ عَشِيرَتِهِ فِي بِلَادِ قُضَاعَةَ حِينَ احْتَمَلَتْهُ أُمّهُ فَاطِمَةُ مَعَ رَابّهِ2 رَبِيعَةَ بْنِ حَرَامٍ عَلَى مَا سَيَأْتِي بَيَانُهُ فِي الْكِتَابِ - إنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى - وَصُغّرَ عَلَى فُعَيْلٍ وَهُوَ تَصْغِيرُ فَعِيلٍ3 لِأَنّهُمْ كَرِهُوا
--------------------------------------------
আমর ইবনে আবদ মানাফ। আর আবদ মানাফের নাম ছিল: আল-মুগীরা ইবনে কুসাই, [এবং কুসাইয়ের নাম: যায়েদ]
—
আবদ মানাফ:
আর আবদ মানাফের নাম ছিল আল-মুগীরা—যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে—এবং এটি একটি গুণবাচক বিশেষণ থেকে উদ্ভূত। এতে বিদ্যমান 'হা' (ة) অক্ষরটি আতিশয্য (মুবালগা) প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ তিনি শত্রুদের ওপর প্রবলভাবে আক্রমণকারী ছিলেন। অথবা এটি 'আশারা আল-হাবলা' (রশি মজবুত করা) থেকে নির্গত, যখন কেউ তা সুদৃঢ় ও মজবুত করে। এতে 'হা' অক্ষরটি যুক্ত হয়েছে যেমনটি 'আল্লামাহ' ও 'নাসসাবাহ' শব্দে যুক্ত হয়; কারণ তারা এর মাধ্যমে চরম সীমা বুঝাতে চেয়েছেন এবং একে 'তাম্মাহ' ও 'দাহিয়াহ'-এর অনুরূপ সাব্যস্ত করেছেন। আর এই অর্থের জন্য 'হা' অক্ষরটিই অধিক উপযুক্ত ছিল, কারণ এর মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) হলো কণ্ঠনালীর শেষ প্রান্ত এবং শব্দের সমাপ্তি। এ কারণেই যে শব্দে এই আতিশয্যবোধক 'হা' থাকে তার বহুবচন (তাকসির) করা হয় না; সুতরাং 'আল্লামাহ'-এর বহুবচন 'আলালিম' কিংবা 'নাসসাবাহ'-এর বহুবচন 'নাসাসিব' বলা হয় না, যাতে আতিশয্য জ্ঞাপক শব্দটির মূল রূপ বিলুপ্ত না হয়ে যায়। ঠিক যেমন ইসমু তাসগীর (ক্ষুদ্রত্ববোধক বিশেষ্য) এর মূল রূপ ভেঙে বহুবচন করা হয় না, যাতে এর ক্ষুদ্রত্বের কাঠামো ও চিহ্ন বিলুপ্ত না হয়।
আবার এটিও সম্ভব যে, 'মুগীরা' শব্দের 'হা' স্ত্রীলিঙ্গ বাচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি কোনো আক্রমণকারী সেনাদল (কাতিবাহ) বা অশ্বারোহী বাহিনীর (খাইল) গুণবাচক বিশেষণ থেকে গৃহীত, যেমন তারা 'আসকার' (সৈন্যদল) নামটিও রেখে থাকে। এই আবদ মানাফের উপাধি ছিল 'কামারুল বাতহা' (বাতহার চাঁদ)—যেমনটি তাবারী উল্লেখ করেছেন—এবং তার মা হুব্বা তাকে 'মানাত' এর সেবায় নিয়োজিত করেছিলেন। মানাত তাদের একটি বড় মূর্তির নাম ছিল এবং এর নামানুসারেই প্রথমে তার নাম রাখা হয়েছিল 'আবদ মানাত'। পরবর্তীতে কুসাই লক্ষ্য করলেন যে, এই নাম আবদ মানাত ইবনে কিনানার নামের সাথে মিলে যায়, তাই তিনি তা পরিবর্তন করে 'আবদ মানাফ' রাখলেন। বারকী এবং যুবাইরও এটি উল্লেখ করেছেন। আল-মুয়াইতী গ্রন্থে আবু নুআইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম, 'আবদুল মুত্তালিবের নাম কী ছিল?' তিনি বললেন, 'শাইবাহ'। আমি বললাম, 'হাশিমের?' তিনি বললেন, 'আমর'। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'তাহলে আবদ মানাফের?' তিনি বললেন, 'আমি জানি না'। ১
কুসাই:
এবং কুসাইয়ের নাম হলো: যায়েদ। এটি 'কাসি' (দূরবর্তী) শব্দের ক্ষুদ্রত্ববোধক রূপ (তাসগীর); কারণ তিনি কুদাআ গোত্রের বসতিতে তার স্বজনদের থেকে দূরে অবস্থান করছিলেন, যখন তার মা ফাতিমা তার সৎপিতা ২ রবীআ ইবনে হারামসহ তাকে নিয়ে সেখানে চলে গিয়েছিলেন, যার বর্ণনা সামনে কিতাবে আসবে—ইনশাআল্লাহু তাআলা। এটি 'ফুয়াইল' ওজনে গঠিত হয়েছে, যা 'ফাইল' ৩ এর তাসগীর; কারণ তারা অপছন্দ করত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بْنُ كِلَابِ بْنِ مُرّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لؤَي بن غَالب بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النّضْرِ
ــ
اجْتِمَاعَ ثَلَاثِ يَاءَاتٍ فَحَذَفُوا إحْدَاهُنّ وَهِيَ الْيَاءُ الزّائِدَةُ الثّانِيَةُ الّتِي تَكُونُ فِي فَعِيلٍ نَحْوَ قَضِيبٍ فَبَقِيَ عَلَى وَزْنِ فَعِيلٍ وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْمَحْذُوفُ لَامَ الْفِعْلِ فَيَكُونُ وَزْنُهُ فُعَيّا، وَتَكُونُ يَاءُ التّصْغِيرِ هِيَ الْبَاقِيَةَ مَعَ الزّائِدَةِ فَقَدْ جَاءَ مَا هُوَ أَبْلَغُ فِي الْحَذْفِ مِنْ هَذَا، وَهِيَ قِرَاءَةُ قُنْبُلٍ يَا بُنَيْ بِبَقَاءِ يَاءِ التّصْغِيرِ وَحْدَهَا، وَأَمّا قِرَاءَةُ حَفْصٍ يَا بُنَيّ فَإِنّمَا هِيَ يَاءُ التّصْغِيرِ مَعَ يَاءِ الْمُتَكَلّمِ وَلَامُ الْفِعْلِ مَحْذُوفَةٌ فَكَانَ وَزْنُهُ فُعَيّ وَمَنْ كَسَرَ الْيَاءَ قَالَ يَا بُنَيّ فَوَزْنُهُ يَا فُعَيْل، وَيَاءُ الْمُتَكَلّمِ هِيَ الْمَحْذُوفَةُ فِي هَذِهِ الْقِرَاءَةِ.
كِلَابٌ:
وَأَمّا كِلَابٌ فَهُوَ مَنْقُولٌ إمّا مِنْ الْمَصْدَرِ الّذِي هُوَ مَعْنَى الْمُكَالَبَةِ نَحْوَ كَالَبْت الْعَدُوّ مُكَالَبَةً وَكِلَابًا، وَإِمّا مِنْ الْكِلَابِ جَمْعُ كَلْبٍ، لِأَنّهُمْ يُرِيدُونَ الْكَثْرَةَ كَمَا سَمّوْا بِسِبَاعِ وَأَنْمَارٍ. وَقِيلَ لِأَبِي الرّقَيْشِ الْكِلَابِيّ1 الْأَعْرَابِيّ لِمَ تُسَمّونَ أَبْنَاءَكُمْ بِشَرّ الْأَسْمَاءِ نَحْوَ كَلْبٍ وَذِئْبٍ وَعَبِيدَكُمْ بِأَحْسَنِ الْأَسْمَاءِ نَحْوَ مَرْزُوقٍ وَرَبَاحٍ؟ فَقَالَ إنّمَا نُسَمّي أَبْنَاءَنَا لِأَعْدَائِنَا، وَعَبِيدَنَا لِأَنْفُسِنَا، يُرِيدُ أَنّ الْأَبْنَاءَ عُدّةُ الْأَعْدَاءِ وَسِهَامٌ فِي نُحُورِهِمْ فَاخْتَارُوا لَهُمْ هَذِهِ الْأَسْمَاءَ.
مُرّة:
وَمُرّةُ مَنْقُولٌ مِنْ وَصْفِ الْحَنْظَلَةِ وَالْعَلْقَمَةِ وَكَثِيرًا مَا يُسَمّونَ بِحَنْظَلَةَ وَعَلْقَمَةَ وَيَجُوزُ أَنْ تَكُونَ الْهَاءُ لِلْمُبَالَغَةِ فَيَكُونُ مَنْقُولًا مِنْ وَصْفِ الرّجُلِ بِالْمَرَارَةِ وَيُقَوّي هَذَا قَوْلُهُمْ تَمِيمُ بْنُ مُرّ، وَأَحْسَبُهُ مِنْ الْمُسَمّيْنَ بِالنّبَاتِ لِأَنّ أَبَا حَنِيفَةَ ذَكَرَ أَنّ الْمُرّةَ بَقْلَةٌ تُقْلَعُ فَتُؤْكَلُ بِالْخَلّ وَالزّيْتِ يُشْبِهُ وَرَقُهَا وَرَقَ الْهِنْدِبَاءِ2.
--------------------------------------------
কিলাব বিন মুররাহ বিন কা’ব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদরের পুত্র।
—
তিনটি 'ইয়া' একত্রিত হওয়া প্রসঙ্গে; তারা এর একটিকে বিলুপ্ত করেছে যা হলো দ্বিতীয় অতিরিক্ত 'ইয়া', যা 'ফাই’ল' ওজনে থাকে যেমন 'কাদীব' শব্দের ক্ষেত্রে। ফলে তা 'ফাই’ল' ওজনেই অবশিষ্ট থাকে। এটিও সম্ভব যে বিলুপ্ত হওয়া অক্ষরটি হলো ক্রিয়ার শেষ মূলাক্ষর (লামুল ফি’ল), সেক্ষেত্রে এর ওজন হবে 'ফুয়াইয়া'। এখানে তাসগিরের (ক্ষুদ্রত্ববাচক) 'ইয়া' অতিরিক্ত অক্ষরের সাথে অবশিষ্ট থাকে। এর চেয়েও অধিক বিলুপ্তির উদাহরণ পাওয়া যায় কুনবুলের কিরাআতে—'ইয়া বুনাই', যেখানে কেবল তাসগিরের 'ইয়া' অবশিষ্ট রয়েছে। অন্যদিকে হাফসের কিরাআত 'ইয়া বুনাইয়্যা' মূলত তাসগিরের 'ইয়া' এবং উত্তম পুরুষের (মুতাকাল্লিম) 'ইয়া'-র সমষ্টি যেখানে ক্রিয়ার শেষ মূলাক্ষর বিলুপ্ত হয়েছে, ফলে এর ওজন হয়েছে 'ফুয়াই'। আর যারা 'ইয়া' বর্ণে কাসরা বা জের দিয়ে পড়েন তারা বলেন 'ইয়া বুনাইয়্যি', যার ওজন হলো 'ইয়া ফুয়াইল', এবং এই কিরাআতে উত্তম পুরুষের 'ইয়া' বিলুপ্ত হয়েছে।
কিলাব:
'কিলাব' শব্দটির উৎস হয় সেই মাসদার বা মূলক্রিয়া যা 'মুকালাবাহ' (শত্রুর সাথে লড়াই) অর্থ প্রদান করে, যেমন: 'আমি শত্রুর সাথে মুকালাবাহ ও কিলাব করেছি'। অথবা এটি 'কালব' (কুকুর) শব্দের বহুবচন, কারণ তারা এর মাধ্যমে সংখ্যাধিক্য বুঝাতে চেয়েছে যেমন তারা 'সিবাহ' (শিকারি পশু) ও 'আনমার' (চিতাবাঘ) নামে নামকরণ করত। বেদুঈন আবু আর-রাকায়িশ আল-কিলাবিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনারা কেন আপনাদের সন্তানদের কুকুর ও নেকড়ের মতো নিকৃষ্ট নামে ডাকেন, অথচ গোলামদের মারযুক ও রাবাহর মতো সুন্দর নামে ডাকেন?" তিনি উত্তরে বললেন: "আমরা আমাদের সন্তানদের নাম রাখি আমাদের শত্রুদের জন্য, আর গোলামদের নাম রাখি আমাদের নিজেদের জন্য।" এর অর্থ হলো সন্তানরা শত্রুদের মোকাবিলা করার হাতিয়ার এবং তাদের কণ্ঠনালীর জন্য তীরের মতো, তাই তারা তাদের জন্য এই নামগুলো পছন্দ করত।
মুররাহ:
'মুররাহ' শব্দটি হানযালা ও আলক্বামাহর (তিক্ত ফল ও উদ্ভিদ) বৈশিষ্ট্য থেকে নেওয়া হয়েছে। আরবরা প্রায়ই হানযালা ও আলক্বামাহ নামে নামকরণ করে থাকে। এটিও সম্ভব যে গোল-'তা' বর্ণটি আধিক্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং শব্দটি কোনো ব্যক্তির তিক্ত স্বভাবের বর্ণনা থেকে নেওয়া হয়েছে। তাদের 'তামিম ইবনে মুর' বলার রীতি এই মতকে শক্তিশালী করে। আমার ধারণা এটি উদ্ভিদের নামে নামকরণ করা হয়েছে, কারণ আবু হানিফাহ উল্লেখ করেছেন যে 'মুররাহ' হলো এক প্রকার শাক যা উপড়ে সিরকা ও তেলের সাথে খাওয়া হয় এবং এর পাতা 'হিন্দাবি' শাকের পাতার মতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
كَعْبٌ:
وَأَمّا كَعْبٌ فَمَنْقُولٌ إمّا مِنْ الْكَعْبِ الّذِي هُوَ قِطْعَةٌ مِنْ السّمْنِ أَوْ مِنْ كَعْبِ الْقَدَمِ وَهُوَ عِنْدِي أَشْبَهُ لِقَوْلِهِمْ ثَبَتَ ثُبُوتَ الْكَعْبِ وَجَاءَ فِي خَبَرِ ابْنِ الزّبَيْرِ أَنّهُ كَانَ يُصَلّي عِنْدَ الْكَعْبَةِ يَوْمَ قُتِلَ وَحِجَارَةُ الْمَنْجَنِيقِ1 تَمُرّ بِأُذُنَيْهِ وَهُوَ لَا يَلْتَفِتُ كَأَنّهُ كَعْبٌ رَاتِبٌ.
وَكَعْبُ بْنُ لُؤَيّ هَذَا أَوّلُ مَنْ جَمَعَ يَوْمَ الْعَرُوبَةِ وَلَمْ تُسَمّ الْعَرُوبَةُ. الْجُمُعَةَ إلّا مُنْذُ جَاءَ الْإِسْلَامُ فِي قَوْلِ بَعْضِهِمْ وَقِيلَ هُوَ أَوّلُ مَنْ سَمّاهَا الْجُمُعَةَ فَكَانَتْ قُرَيْشٌ تَجْتَمِعُ إلَيْهِ فِي هَذَا الْيَوْمِ فَيَخْطُبُهُمْ وَيُذَكّرُهُمْ بِمَبْعَثِ النّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَيُعْلِمُهُمْ أَنّهُ مِنْ وَلَدِهِ وَيَأْمُرُهُمْ بِاتّبَاعِهِ وَالْإِيمَانِ بِهِ وَيَنْشُدُ فِي هَذَا أَبْيَاتًا مِنْهَا قَوْلُهُ:
يَا لَيْتَنِي شَاهِدٌ فَحْوَاءَ دَعْوَتِهِ
… إذَا قُرَيْشٌ تُبَغّي الْحَقّ خِذْلَانًا
وَقَدْ ذَكَرَ الْمَاوَرْدِيّ هَذَا الْخَبَرَ عَنْ كَعْبٍ فِي كِتَابِ الْأَحْكَامِ لَهُ
لُؤَيّ:
وَأَمّا لُؤَيّ، فَقَالَ ابْنُ الْأَنْبَارِيّ هُوَ تَصْغِيرُ اللّأْيِ وَهُوَ الثّوْرُ الْوَحْشِيّ وَأَنْشَدَ:
يَعْتَادُ أَدِحْيَةً بَقَيْنَ بِقَفْرَةِ
… مَيْثَاءَ يَسْكُنُهَا اللّأْيُ وَالْفَرْقَدُ 2
قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: اللّأْيُ هِيَ الْبَقَرَةُ قَالَ وَسَمِعْت أَعْرَابِيّا يَقُولُ بِكَمْ لَاءَكَ هَذِهِ وَأَنْشَدَ فِي وَصْفِ فَلَاةٍ:
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
কাব:
আর কাব সম্পর্কে বলা হয় যে, এই নামটি হয় 'কাব' থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ ঘিয়ের একটি টুকরো, অথবা এটি পায়ের গোড়ালি (কাব) থেকে এসেছে। আমার মতে এটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ তারা বলে থাকে, "সে কাবের (গোড়ালির) মতো দৃঢ়ভাবে অটল থাকল।" ইবনুল জুবাইর (রা.) সম্পর্কে বর্ণনায় এসেছে যে, যে দিন তিনি শাহাদাত বরণ করেন, সেদিন তিনি কাবার পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং মিনজানিকের পাথর তাঁর কানের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল, অথচ তিনি ভ্রুক্ষেপহীন ছিলেন, যেন তিনি একটি প্রোথিত গোড়ালি।
এই কাব ইবনে লুয়াই প্রথম ব্যক্তি যিনি আরুবাহ দিবসে (শুক্রবার) মানুষকে সমবেত করেছিলেন। কারো কারো মতে, ইসলাম আসার পূর্ব পর্যন্ত আরুবাহ-কে জুমুআ নামকরণ করা হয়নি। আবার বলা হয় যে, তিনিই প্রথম এর নাম জুমুআ রেখেছিলেন। কুরাইশরা এই দিনে তাঁর কাছে সমবেত হতো, অতঃপর তিনি তাদের সামনে ভাষণ দিতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শুভাগমন সম্পর্কে তাদের উপদেশ দিতেন। তিনি তাদের অবহিত করতেন যে, নবী তাঁরই বংশধরদের মধ্য থেকে আবির্ভূত হবেন এবং তিনি তাদেরকে নবীর অনুসরণ ও তাঁর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিতেন। এ বিষয়ে তিনি কিছু কাব্য আবৃত্তি করতেন, যার মধ্যে একটি হলো:
হায়! আমি যদি তাঁর দাওয়াতের মর্মবাণী প্রত্যক্ষ করতাম... যখন কুরাইশরা সত্যকে লাঞ্ছিত করতে চাইবে।
আল-মাওয়ার্দি তাঁর 'আল-আহকাম' গ্রন্থে কাব সম্পর্কে এই সংবাদটি উল্লেখ করেছেন।
লুয়াই:
আর লুয়াই সম্পর্কে ইবনুল আনবারি বলেছেন, এটি 'লায়' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার অর্থ বন্য ষাঁড়। তিনি কাব্য আবৃত্তি করেছেন:
সে নির্জন প্রান্তরে অবশিষ্ট উটপাখির ডিম রাখার স্থানে যাতায়াত করে... এক সমতল ভূমি যেখানে বন্য ষাঁড় এবং বাছুর বাস করে।
আবু হানিফা বলেন: 'লায়' হলো গাভী। তিনি বলেন: আমি এক বেদুইনকে বলতে শুনেছি, সে বলছিল—তোমার এই গাভীটি কত দিয়ে কেনা? তিনি একটি মরুভূমির বর্ণনায় কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بْنِ كِنَانَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرِكَةَ، وَاسْمُ مُدْرِكَةَ: عَامِرُ بْنُ إلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ بْنِ
ــ
كَظَهْرِ اللّأْيِ لَوْ يَبْتَغِي رِيّةً بِهَا
… نَهَارًا لَأَعْيَتْ فِي بُطُونِ الشّوَاجِنِ
الشّوَاجِنُ: شُعَبُ الْجِبَالِ، وَالرّيّةُ: مَقْلُوبٌ مِنْ وَرَى الزّنْدُ وَأَصْلُهُ: وِرْيَةٌ وَهُوَ الْحُرَاقُ الّذِي يُشْعَلُ بِهِ الشّرَرَةُ مِنْ الزّنْدِ وَهُوَ عِنْدِي تَصْغِيرُ لَأْيٍ وَاللّأْيُ الْبُطْءُ كَأَنّهُمْ يُرِيدُونَ مَعْنَى الْأَنَاةِ وَتَرْكِ الْعَجَلَةِ وَذَلِكَ أَنّي أَلْفَيْته فِي أَشْعَارِ بَدْرٍ مُكَبّرًا عَلَى هَذَا اللّفْظِ فِي شِعْرِ أَبِي أُسَامَةَ حَيْثُ يَقُولُ:
فَدُونَكُمْ بَنِي لَأْيٍ أَخَاكُمْ
… وَدُونَكِ مَالِكًا يَا أُمّ عَمْرِو 1
مَعَ مَا جَاءَ فِي بَيْتِ الْحُطَيْئَةِ فِي غَيْرِهِ:
أَتَتْ آلَ شَمّاسِ بْنِ لَأْيٍ وَإِنّمَا
… أَتَاهُمْ بِهَا الْأَحْلَامُ وَالْحَسَبُ الْعِدّ 2
وَقَوْلُهُ أَيْضًا:
فَمَاتَتْ أُمّ جَارَةِ آلِ لَأْيٍ
… وَلَكِنْ يَضْمَنُونَ لَهَا قَرَاهَا
وَفِي الْحَدِيثِ مِنْ قَوْلِ أَبِي هُرَيْرَةَ:
"وَالرّاوِيَةُ يَوْمَئِذٍ يُسْتَقَى عَلَيْهَا أَحَبّ إلَيّ مِنْ شَاءٍ وَلَاءٍ"، فَاللّاءُ هَهُنَا جَمْعُ اللّائِي، وَهُوَ الثّوْرُ مِثْلُ الْبَاقِرِ وَالْجَامِلِ وَتَوَهّمَ ابْنُ قُتَيْبَةَ أَنّ قَوْلَهُ لَاءٍ مِثْلُ مَاءٍ فَخَطّأَ الرّوَايَةَ وَقَالَ إنّمَا هُوَ أَلْآءُ مِثْلُ أَلْعَاعٍ جَمْعُ لَأْيٍ وَلَيْسَ الصّوَابُ إلّا مَا تَقَدّمَ وَأَنّهُ لَاءٍ مِثْلُ جَاءٍ.
فِهْرٌ وَغَيْرُهُ:
وَأَمّا فِهْرٌ فَقَدْ قِيلَ إنّهُ لَقَبٌ وَالْفِهْرُ مِنْ الْحِجَارَةِ الطّوِيلُ وَاسْمُهُ قُرَيْشٌ وَقِيلَ بَلْ اسْمُهُ فِهْرٌ وَقُرَيْشٌ لَقَبٌ لَهُ عَلَى مَا سَيَأْتِي الِاخْتِلَافُ فِيهِ - إنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى - وَمَالِكٌ وَالنّضْرُ وَكِنَانَةُ لَا إشْكَالَ فِيهَا.
--------------------------------------------
কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকার পুত্র; আর মুদরিকার নাম ছিল: আমির ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে...
—
যেন 'লা-ই' এর পিঠ, যদি কেউ দিনের বেলায় সেখানে আগুনের স্ফুলিঙ্গ তালাশ করত, তবে পাহাড়ের গিরিপথগুলোর গভীরে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ত।
'শাওয়াজিন' হলো পাহাড়ের গিরিপথসমূহ। 'রিইয়াহ' শব্দটি 'ওয়ারা আয-যান্দু' থেকে বিবর্তিত, যার মূল হলো 'উইরিয়াহ'। এটি হলো সেই দাহ্য পদার্থ যা চকমকি পাথর থেকে নির্গত স্ফুলিঙ্গ দিয়ে জ্বালানো হয়। আমার মতে, এটি 'লা-ই' (La’y) শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। আর 'লা-ই' অর্থ হলো ধীরগতি; যেন তারা এর মাধ্যমে ধৈর্য এবং তাড়াহুড়ো না করাকে বুঝিয়েছেন। কারণ আমি বদর যুদ্ধের কবিতাসমূহে আবু উসামার কবিতায় এই শব্দটিকে মূল রূপেই পেয়েছি, যেখানে তিনি বলেন:
হে বনু লা-ই! তোমরা তোমাদের ভাইয়ের দায়িত্ব নাও
… আর হে উম্মে আমর! তুমি মালিকের দায়িত্ব নাও। ১
এর পাশাপাশি আল-হুতাইয়াহর কবিতায় যা এসেছে:
তা শাম্মাস ইবনে লা-ই এর বংশধরদের নিকট পৌঁছেছে; তাদের নিকট
… বুদ্ধিদীপ্ত হিতাকাঙ্ক্ষা এবং প্রাচীন আভিজাত্যই পৌঁছেছে। ২
তার আরও একটি উক্তি হলো:
লা-ই বংশের পড়শীর মা মারা গেছেন
… কিন্তু তারা তার মেহমানদারির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
হাদিসে আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে:
"সেদিন যার উপর পানি বহন করা হয় এমন পশু আমার কাছে বকরী ও ষাঁড় অপেক্ষা অধিক প্রিয়।" এখানে 'লা-ই' শব্দটি 'লায়ি' এর বহুবচন। এর অর্থ হলো ষাঁড়, যেমন 'বাকির' বা 'জামিল' শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়। ইবনে কুতাইবা ভুলবশত মনে করেছেন যে 'লা-' শব্দটি 'মা-' শব্দের মতো; ফলে তিনি বর্ণনাটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন এবং দাবি করেছেন এটি মূলত 'আলা-উ', যা 'লা-ই' এর বহুবচন। কিন্তু সঠিক মতটি পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি 'জা-' এর মতো 'লা-' শব্দ।
ফিহর এবং অন্যান্যদের প্রসঙ্গে:
ফিহর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এটি একটি উপাধি। 'ফিহর' হলো দীর্ঘাকৃতির পাথর। তার নাম ছিল কুরাইশ। আবার বলা হয়েছে যে তার নাম ছিল ফিহর আর কুরাইশ ছিল তার উপাধি—যে বিষয়ে মতভেদ ইনশাআল্লাহ তায়ালা সামনে আসবে। আর মালিক, নযর এবং কিনানা নামগুলোর ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
خُزَيْمَةُ:
وَخُزَيْمَةُ وَالِدُ كِنَانَةَ تَصْغِيرُ خَزَمَةَ وَهِيَ وَاحِدَةُ الْخَزَمِ وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ تَصْغِيرَ خَزْمَةَ وَكِلَاهُمَا مَوْجُودٌ فِي أَسْمَاءِ الْأَنْصَارِ وَغَيْرِهِمْ وَهِيَ الْمَرّةُ الْوَاحِدَةُ مِنْ الْخَزْمِ1 وَهُوَ شَدّ الشّيْءِ وَإِصْلَاحُهُ وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ الْخَزَمُ مِثْلُ الدّوْمِ تُتّخَذُ مِنْ سَعَفِهِ الْحِبَالُ وَيُصْنَعُ مِنْ أَسَافِلِهِ خَلَايَا لِلنّحْلِ وَلَهُ ثَمَرٌ لَا يَأْكُلُهُ النّاسُ وَلَكِنْ تَأْلَفَهُ الْغِرْبَانُ وَتَسْتَطِيبُهُ.
مُدْرِكَةُ وَإِلْيَاسُ:
وَأَمّا مُدْرِكَةُ2 فَمَذْكُورٌ فِي "الْكِتَابِ" وَإِلْيَاسُ أَبُوهُ قَالَ فِيهِ ابْنُ الْأَنْبَارِيّ إلْيَاسُ بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ وَجَعَلَهُ مُوَافِقًا لِاسْمِ إلْيَاسَ النّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ فِي اشْتِقَاقِهِ أَقْوَالًا مِنْهَا: أَنْ يَكُونَ فِعْيَالًا مِنْ الْأَلْسِ وَهِيَ الْخَدِيعَةُ وَأَنْشَدَ مِنْ فَهّةِ3 الْجَهْلِ وَالْأَلْسَةِ.
وَمِنْهَا أَنّ الْأَلْسَ اخْتِلَاطُ الْعَقْلِ وَأَنْشَدُوا:
إنّي إِذا لَضَعِيفُ الْعَقْلِ مَأْلُوسُ
وَمِنْهَا: أَنّهُ إفْعَالٌ مِنْ قَوْلِهِمْ: رَجُلٌ أَلْيَسُ وَهُوَ الشّجَاعُ الّذِي لَا يَفِرّ. قَالَ الْعَجّاجُ:
أَلْيَسُ عَنْ حَوْبَائِهِ4 سَخِيّ
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
খুজাইমাহ:
খুজাইমাহ হলেন কিনানাহর পিতা। এটি 'খাযামাহ' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যা 'খাযাম'-এর একবচন। এটি 'খাযমাহ' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হওয়াও সম্ভব। আনসার ও অন্যদের নামের ক্ষেত্রে উভয় রূপই বিদ্যমান। এটি 'খাযম' ক্রিয়ার একবারের রূপ, যার অর্থ কোনো কিছু মজবুত করে বাঁধা ও সংশোধন করা। আবু হানিফা বলেছেন: 'খাযাম' হলো 'দৌম' বৃক্ষের মতো, যার পাতা থেকে রশি তৈরি করা হয় এবং এর নিচের অংশ থেকে মৌমাছির জন্য চাকি তৈরি করা হয়। এর এমন ফল আছে যা মানুষ খায় না, তবে কাকেরা এর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং একে সুস্বাদু মনে করে।
মুদরিকাহ ও ইলিয়াস:
আর মুদরিকাহর কথা 'আল-কিতাব'-এ বর্ণিত হয়েছে এবং ইলিয়াস হলেন তাঁর পিতা। ইবনুল আম্বারি ইলিয়াস শব্দটিকে হামজার নিচে কাসরা দিয়ে পড়েছেন এবং একে নবী ইলিয়াস (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামের অনুরূপ গণ্য করেছেন। এর বুৎপত্তি সম্পর্কে তিনি কয়েকটি মত উল্লেখ করেছেন, যার একটি হলো: এটি 'আলস' থেকে 'ফিয়্যাল' ওজনের শব্দ হতে পারে, যার অর্থ হলো প্রতারণা। তিনি অজ্ঞতার জড়তা ও প্রতারণা সম্পর্কে কবিতা আবৃত্তি করেছেন।
আরেকটি মত হলো: 'আলস' বলতে বুদ্ধিবিকার বা মস্তিষ্কের গোলযোগ বোঝায়, এবং তারা আবৃত্তি করেছেন:
আমি তখন অবশ্যই দুর্বল মস্তিষ্কের ও মস্তিস্কবিকৃত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবো
আরেকটি মত হলো: এটি তাদের বক্তব্য 'আলইয়াস ব্যক্তি' থেকে উদ্ভূত 'ইফআল' ওজনের শব্দ। 'আলইয়াস' হলো সেই বীর পুরুষ যে রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে না। আল-আজ্জাজ বলেছেন:
সে এমন এক বীর যে স্বীয় প্রাণের মায়াত্যাগে অত্যন্ত উদার
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৩২)
نِزَارِ بْنِ مَعَدّ بْنِ عَدْنَانَ بْنِ [أُدّ، وَيُقَالُ] : أُدَدَ بْنِ مُقَوّمِ بْنِ
ــ
وَقَالَ آخَرُ:
أَلْيَسُ كَالنّشْوَانِ وَهُوَ صَاحٍ.
وَفِي"غَرِيبِ الْحَدِيثِ" لِلْقُتَبِيّ أَنّ فُلَانًا: أَلْيَسُ أَهْيَسُ أَلَدّ مِلْحَسُ. إنْ سُئِلَ أَزَزَ وَإِنْ دُعِيَ انْتَهَزَ. وَقَدْ فَسّرَهُ وَزَعَمَ أَنّ أَهْيَسَ مَقْلُوبُ الْوَاوِ وَأَنّهُ مَرّةً مِنْ الْهَوَسِ وَجُعِلَتْ وَاوُهُ يَاءً لِازْدِوَاجِ الْكَلَامِ فَالْأَلْيَسُ الثّابِتُ الّذِي لَا يَبْرَحُ وَاَلّذِي قَالَهُ غَيْرُ ابْنِ الْأَنْبَارِيّ أَصَحّ، وَهُوَ أَنّهُ الْيَاسُ سُمّيَ بِضَدّ الرّجَاءِ وَاللّامُ فِيهِ لِلتّعْرِيفِ وَالْهَمْزَةُ هَمْزَةُ وَصْلٍ وَقَالَهُ قَاسِمُ بْنُ ثَابِتٍ فِي الدّلَائِلِ 1 وَأَنْشَدَ أَبْيَاتًا شَوَاهِدَ مِنْهَا قَوْلُ قُصَيّ:
إنّي لَدَى الْحَرْبِ رَخِيّ اللّبَبِ
… أُمّهَتِي خِنْدِفُ وَالْيَاسُ أَبِي2
وَيُقَالُ إنّمَا سُمّيَ السّلّ دَاءَ يَاسٍ وَدَاءَ إلْيَاسَ لِأَنّ إلْيَاسَ بْنَ مُضَرَ مَاتَ مِنْهُ. قَالَ ابْنُ هَرْمَةَ
يَقُولُ الْعَاذِلُونَ إذَا رَأَوْنِي
… أُصِبْت بِدَاءِ يَاسٍ فَهُوَ مُودِي
وَقَالَ ابْنُ أَبِي عَاصِيَةَ:
فَلَوْ كَانَ دَاءُ إلْيَاسَ بِي، وَأَعَانَنِي
… طَبِيبٌ بِأَرْوَاحِ الْعَقِيقِ شَفَانِيَا
وَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ حِزَامٍ:
بِي إلْيَاسُ أَوْ دَاءُ الْهُيَامِ أَصَابَنِي
… فَإِيّاكَ عَنّي لَا يَكُنْ بِك مَا بِيَا
وَيُذْكَرُ عَنْ النّبِيّ أَنّهُ قَالَ"لَا تَسُبّوا إلْيَاسَ فَإِنّهُ كَانَ مُؤْمِنًا" وَذَكَرَ أَنّهُ كَانَ يَسْمَعُ فِي صُلْبِهِ تَلْبِيَةَ النّبِيّ - بِالْحَجّ. يَنْظُرُ فِي كِتَابِ"الْمَوْلِدِ" لِلْوَاقِدِيّ.
--------------------------------------------
নযিার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান ইবনে [উদ্দ, এবং বলা হয়] : উদাদ ইবনে মুকাওউয়িম ইবনে
—
অন্যজন বলেছেন:
আলইয়াস নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির মতো, অথচ সে সচেতন।
কুতায়বীর 'গারিবুল হাদিস' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে জনৈক ব্যক্তি ছিল: আলইয়াস (অটল), আহইয়াস (অদম্য), আলাদ্দ (ঝগড়াটে), মিলহাস (সংগ্রহকারী)। যদি তার কাছে কিছু চাওয়া হতো তবে সে কঠোরতা প্রদর্শন করত এবং যদি তাকে ডাকা হতো তবে সে সুযোগ গ্রহণ করত। তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে 'আহইয়াস' শব্দটি 'ওয়াও' বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে এবং এটি 'হাওয়াস' থেকে উদ্ভূত, আর শব্দগত মিল বজায় রাখার জন্য এর 'ওয়াও' বর্ণটিকে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। সুতরাং 'আল-আলইয়াস' অর্থ হলো সেই অটল ব্যক্তি যে স্বস্থান ত্যাগ করে না। ইবনুল আনবারী ব্যতীত অন্যরা যা বলেছেন তা-ই অধিক সঠিক; আর তা হলো তিনি হলেন ইলয়াস, আশার (রাজা) বিপরীত অর্থ অনুযায়ী তাঁর নামকরণ করা হয়েছে এবং এতে 'লাম' বর্ণটি নির্দিষ্টকরণের জন্য এবং 'হামজা'টি হলো 'হামজায়ে ওয়াসল'। কাসিম ইবনে সাবিত 'আদ-দালায়িল' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন ১ এবং কয়েকটি প্রমাণস্বরূপ কবিতা আবৃত্তি করেছেন, যার মধ্যে কুসাইয়ের এই উক্তিটি রয়েছে:
যুদ্ধের সময় আমি প্রশান্ত হৃদয়ের অধিকারী
… খিন্দিফ আমার মাতা এবং ইলয়াস আমার পিতা।২
বলা হয়ে থাকে যে, যক্ষ্মা রোগকে 'ইয়াসের রোগ' বা 'ইলয়াসের রোগ' বলা হয় কারণ ইলয়াস ইবনে মুদার এই রোগে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ইবনে হারমা বলেছেন:
তিরস্কারকারীরা আমাকে দেখলে বলে
… আমি ইয়াসের রোগে আক্রান্ত হয়েছি, যা প্রাণঘাতী।
ইবনে আবি আসিয়াহ বলেছেন:
যদি ইলয়াসের রোগ আমার হতো, আর আকিকের স্নিগ্ধ বাতাস দ্বারা
… কোনো চিকিৎসক আমাকে সাহায্য করতেন, তবে তিনি আমাকে সুস্থ করে দিতেন।
উরওয়াহ ইবনে হিজাম বলেছেন:
আমি ইলয়াস অথবা উন্মাদনার রোগে আক্রান্ত হয়েছি
… সুতরাং তুমি আমার থেকে দূরে থাকো, আমার যা হয়েছে তা যেন তোমার না হয়।
নবী (সা.) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন, "তোমরা ইলয়াসকে গালি দিও না, কারণ তিনি মুমিন ছিলেন।" আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে নবী (সা.)-এর হজ্জের তালবিয়া শুনতে পেতেন। এটি ওয়াকিদীর 'আল-মাওলিদ' গ্রন্থে দ্রষ্টব্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
وَإِلْيَاسُ أَوّلُ مَنْ أَهْدَى الْبُدْنَ لِلْبَيْتِ. قَالَهُ الزّبَيْرُ. وَأُمّ إلْيَاسَ الرّبَابُ بِنْتُ حُمَيْرَةَ بْنِ مَعَدّ بْنِ عَدْنَانَ قَالَهُ الطّبَرِيّ، وَهُوَ خِلَافُ مَا قَالَهُ ابْنُ هِشَامٍ فِي هَذَا الْكِتَابِ.
وَأَمّا مُضَرُ، فَقَدْ قَالَ الْقُتَبِيّ هُوَ مِنْ الْمَضِيرَةِ أَوْ مِنْ اللّبَنِ الْمَاضِرِ وَالْمَضِيرَةُ شَيْءٌ يُصْنَعُ مِنْ اللّبَنِ فَسُمّيَ مُضَرَ لِبَيَاضِهِ وَالْعَرَبُ تُسَمّي الْأَبْيَضَ أَحْمَرَ فَلِذَلِكَ قِيلَ مُضَرُ الْحَمْرَاءُ وَقِيلَ بَلْ أَوْصَى لَهُ أَبُوهُ بِقُبّةِ حَمْرَاءَ، وَأَوْصَى لِأَخِيهِ رَبِيعَةَ بِفَرَسِ فَقِيلَ مُضَرُ الْحَمْرَاءُ وَرَبِيعَةُ الْفَرَسِ.
وَمُضَرُ أَوّلُ مَنْ سَنّ لِلْعَرَبِ حِدَاءَ الْإِبِلِ1 وَكَانَ أَحْسَنَ النّاسِ صَوْنًا فِيمَا زَعَمُوا - وَسَنَذْكُرُ سَبَبَ ذَلِكَ فِيمَا بَعْدُ - إنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى - وَفِي الْحَدِيثِ الْمَرْوِيّ "لَا تَسُبّوا مُضَرَ وَلَا رَبِيعَةَ، فَإِنّهُمَا كَانَا مُؤْمِنَيْنِ" ذَكَرَهُ الزّبَيْرُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ.
نِزَارٌ وَمَعَدّ:
وَأَمّا نِزَارُ، فَمِنْ النّزْرِ وَهُوَ الْقَلِيلُ وَكَانَ أَبُوهُ حِينَ وُلِدَ لَهُ وَنَظَرَ إلَى النّورِ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَهُوَ نُورُ النّبُوّةِ الّذِي كَانَ يَنْتَقِلُ فِي الْأَصْلَابِ إلَى مُحَمّدٍ صلى الله عليه وسلم فَرِحَ فَرَحًا شَدِيدًا بِهِ وَنَحَرَ وَأَطْعَمَ وَقَالَ إنّ هَذَا كُلّهُ نَزْرٌ لِحَقّ هَذَا الْمَوْلُودِ فَسُمّيَ نِزَارًا لِذَلِكَ2.
وَأَمّا مَعَدّ أَبُوهُ فَقَالَ ابْنُ الْأَنْبَارِيّ فِيهِ ثَلَاثَةُ أَقْوَالٍ أَحَدُهَا، أَنْ يَكُونَ مَفْعَلًا مِنْ الْعَدّ وَالثّانِي أَنْ يَكُونَ فَعَلّا مِنْ مَعَدَ فِي الْأَرْضِ أَيْ أَفْسَدَ كَمَا قَالَ:
وَخَارِبَيْنِ خَرَبَا فَمَعَدَا
… مَا يَحْسِبَانِ اللهَ إلّا رَقَدَا3
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
ইলিয়াস ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে ‘বুদন’ (কুরবানির উট) উৎসর্গ করেছিলেন। এ কথা যুবায়ের বলেছেন। ইলিয়াসের মাতা ছিলেন রাবাব বিনতে হুমায়রা বিনতে মা’আদ বিন আদনান—এ কথা তাবারী বলেছেন, যা এই গ্রন্থে ইবনে হিশামের বর্ণিত তথ্যের পরিপন্থী।
মুদার সম্পর্কে কুতাইবী বলেন, এই নাম ‘মাযিরা’ অথবা ‘লাবান মাযির’ (তীব্র টক দুধ) থেকে উদ্ভূত। মাযিরা হলো দুধ দিয়ে তৈরি এক প্রকার খাদ্য। তার শুভ্রতার কারণে তাকে মুদার নামকরণ করা হয়েছে; আর আরবরা সাদা বর্ণকে ‘লাল’ বলে অভিহিত করত। এ কারণেই তাকে ‘মুদার আল-হামরা’ (লাল মুদার) বলা হতো। অন্যমতে, তার পিতা তার জন্য একটি লাল গম্বুজ (তাঁবু) অসিয়ত করেছিলেন এবং তার ভাই রাবিয়ার জন্য একটি ঘোড়া অসিয়ত করেছিলেন; ফলে বলা হয় ‘মুদার আল-হামরা’ এবং ‘রাবিয়া আল-ফারাস’ (ঘোড়াসওয়ার রাবিয়া)।
মুদার ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি আরবদের মধ্যে উট চালনার সংগীত (হিদা) প্রবর্তন করেন। তাদের ধারণা মতে তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে সুন্দর কণ্ঠস্বরের অধিকারী—এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই আমরা এর কারণ বর্ণনা করব। বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, “তোমরা মুদার ও রাবিয়াকে গালি দিও না, কারণ তারা উভয়েই মুমিন ছিলেন।” এটি যুবায়ের ইবনে আবি বকর উল্লেখ করেছেন।
নিজার ও মা’আদ:
নিজার শব্দটি ‘নাযর’ থেকে এসেছে, যার অর্থ অল্প বা সামান্য। যখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা তার দুই ভ্রুর মাঝখানে সেই নুর (নবুওয়াতের নুর) দেখতে পান যা বংশ পরম্পরায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত স্থানান্তরিত হয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন। তিনি পশু জবেহ করেন ও আপ্যায়ন করেন এবং বলেন, এই নবজাতকের হকের তুলনায় এসবই সামান্য (নাযর)। এ কারণেই তার নাম ‘নিজার’ রাখা হয়।
তার পিতা মা’আদ সম্পর্কে ইবনুল আনবারী তিনটি মত উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, এটি ‘আদ’ (গণনা) ধাতু থেকে ‘মাফআল’ ওজনে গঠিত। দ্বিতীয়ত, এটি জমিনে ‘মা’আদা’ (বিপর্যয় ঘটানো) থেকে ‘ফা’আল্লা’ ওজনে গঠিত, যেমনটি কবি বলেছেন:
“এবং দুইজন লুণ্ঠনকারী যারা লুণ্ঠন করেছে ও বিপর্যয় ঘটিয়েছে... তারা আল্লাহকে কেবল ঘুমন্তই মনে করে।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫৮১১)
আর-রাওদুল উনুফ ফী শারহি সীরাতি ইবনে হিশাম - তা. আস-সালামী (৫৮১)
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
وَإِنْ كَانَ لَيْسَ فِي الْأَسْمَاءِ مَا هُوَ عَلَى وَزْنِ فَعَلٍ بِفَتْحِ الْفَاءِ إلّا مَعَ التّضْعِيفِ فَإِنّ التّضْعِيفَ يُدْخِلُ فِي الْأَوْزَانِ مَا لَيْسَ فِيهَا كَمَا قَالُوا. شَمّرَ وَقُشَعْرِيرَةَ وَلَوْلَا التّضْعِيفُ مَا وُجِدَ مِثْلُ هَذَا، وَنَحْوُ ذَلِكَ الثّالِثِ أَنْ يَكُونَ مِنْ الْمَعَدّيْنِ وَهُمَا مَوْضِعُ عَقِبَيْ الْفَارِسِ مِنْ الْفَرَسِ1 وَأَصْلُهُ عَلَى الْقَوْلَيْنِ الْأَخِيرَيْنِ مِنْ الْمَعْدِ بِسُكُونِ الْعَيْنِ وَهُوَ الْقُوّةُ وَمِنْهُ اشْتِقَاقُ الْمَعِدَةِ.
عَدْنَانُ:
وَأَمّا عَدْنَان فَفَعْلَانُ مِنْ عَدَنَ إذَا أَقَامَ وَلِعَدْنَانَ أَخَوَانِ نَبْتٌ وَعَمْرٌو فِيمَا ذَكَرَ الطّبَرِيّ.
النّسَبُ قَبْلَ عَدْنَانَ:
وَأُدَدٌ مَصْرُوفٌ. قَالَ ابْنُ السّرَاجِ. هُوَ مِنْ الْوُدّ وَانْصَرَفَ لِأَنّهُ مِثْلُ ثُقَبٍ وَلَيْسَ مَعْدُولًا كَعُمَرِ وَهُوَ مَعْنَى قَوْلِ سِيبَوَيْهِ.
وَقَدْ قِيلَ فِي عَدْنَانَ هُوَ ابْنُ مَيْدَعَةَ وَقِيلَ ابْنُ يَحْثُمَ قَالَهُ الْقُتَبِيّ وَمَا بَعْدَ عَدْنَانَ مِنْ الْأَسْمَاءِ مُضْطَرَبٌ فِيهِ فَاَلّذِي صَحّ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنّهُ انْتَسَبَ إلَى عَدْنَانَ لَمْ يَتَجَاوَزْهُ بَلْ قَدْ رُوِيَ عَنْ طَرِيقِ ابْنِ عَبّاسٍ أَنّهُ لَمّا بَلَغَ عَدْنَانَ. قَالَ "كَذَبَ النّسّابُونَ مَرّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا" 2، وَالْأَصَحّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنّهُ مِنْ قَوْلِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه أَنّهُ قَالَ "إنّمَا نَنْتَسِبُ إلَى عَدْنَانَ وَمَا فَوْقَ ذَلِكَ لَا نَدْرِي مَا هُو" وَأَصَحّ شَيْءٍ رُوِيَ فِيمَا بَعْدَ عَدْنَانَ مَا ذَكَرَهُ الدّوْلَابِيّ أَبُو بِشْرٍ مِنْ طَرِيقِ مُوسَى بْنِ يَعْقُوبَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَهْبِ بْنِ زَمَعَةَ الزّمَعِيّ عَنْ عَمّتِهِ عَنْ أُمّ سَلَمَةَ عَنْ
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
যদিও বিশেষ্য পদের মধ্যে এমন কোনো শব্দ নেই যা ফা-এর যবরসহ ‘ফাআল’ ওজনে হয়, তবে দ্বিত্বকরণ থাকলে তা সম্ভব; কারণ দ্বিত্বকরণ ওজনসমূহে এমন কিছু প্রবেশ করায় যা মূলত সেখানে থাকে না, যেমন তারা বলেন ‘শাম্মারা’ এবং ‘কুশা’রীরা’। দ্বিত্বকরণ না থাকলে এই জাতীয় শব্দ পাওয়া যেত না। এর তৃতীয় সম্ভাবনা হলো এটি ‘মাআদ্দাইন’ শব্দ থেকে গৃহীত, যা ঘোড়ার শরীরের সেই স্থান যেখানে আরোহীর দুই গোড়ালি থাকে। শেষোক্ত দুই মত অনুযায়ী এর মূল উৎস হলো আইন অক্ষরের সাকিনসহ ‘মা’দ’, যার অর্থ শক্তি; আর পাকস্থলী বা ‘মাইদাহ’ শব্দটি এ থেকেই নির্গত হয়েছে।
আদনান:
আর আদনান শব্দটি ‘ফালান’ ওজনের যা ‘আদানা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ সে অবস্থান করল। তাবারীর উল্লেখ অনুযায়ী আদনানের দুই ভাই ছিলেন: নাবত এবং আমর।
আদনানের পূর্ববর্তী বংশপরম্পরা:
এবং ‘উদাদ’ শব্দটি পূর্ণ পরিবর্তনশীল বা তানভীন গ্রহণকারী। ইবনুল সাররাজ বলেছেন, এটি ‘আল-উদ্দ’ থেকে উদ্ভূত এবং এটি তানভীন গ্রহণ করেছে কারণ এটি ‘থুকাব’-এর মতো ওজনের এবং এটি ‘উমর’-এর মতো রূপান্তরিত শব্দ নয়; সীবওয়াইহ-এর উক্তির অর্থও এটাই।
আদনানের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তিনি মাইদা’আ-র পুত্র, আবার বলা হয়েছে তিনি ইয়াহথুম-এর পুত্র—এ কথা কুতাবী বলেছেন। আদনানের পরবর্তী নামগুলোর ব্যাপারে অনেক মতভেদ ও অস্থিরতা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত তা হলো, তিনি নিজের বংশপরিচয় আদনান পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন এবং এটি অতিক্রম করেননি। বরং ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তিনি আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন বলতেন: “বংশবিশারদগণ মিথ্যা বলেছেন”—কথাটি তিনি দুই বা তিনবার বলতেন। এই হাদীসটির ক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক মত হলো এটি ইবনে মাসউদের উক্তি। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “আমরা কেবল আদনান পর্যন্তই বংশপরম্পরা হিসেব করি, আর এর উপরে যা আছে তা আমাদের জানা নেই।” আদনানের পরবর্তী বংশপরম্পরা সম্পর্কে বর্ণিত অধিকতর বিশুদ্ধ বিষয়টি হলো যা আবু বিশর আদ-দুলাবী বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে ইয়াকুবের সূত্রে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ইবনে জামআহ আল-জামঈ থেকে, তিনি তার ফুফু থেকে এবং তিনি উম্মে সালামাহ থেকে...
--------------------------------------------