(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
آراء القرطبي والمازري الاعتقادية القسم: العقيدة
الكتاب: آراء القرطبي والمازري الاعتقادية من خلال شرحيهما لصحيح مسلم (دراسة وترجيح)
المؤلف: الدكتور / عبد الله بن محمد بن رميان الرميان
أصل الكتاب: رسالة دكتوراه - جامعة أم القرى بمكة المكرمة, قسم العقيدة
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، مكة المكرمة - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الطبعة الأولى، 1427 هـ
عدد الصفحات: 915
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442
আল-কুরতুবী এবং আল-মাযিরীর আকিদাগত মতামতসমূহ বিভাগ: আকিদা
বই: সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয়ের আলোকে আল-কুরতুবী এবং আল-মাযিরীর আকিদাগত মতামতসমূহ (গবেষণা ও প্রাধান্য নিরূপণ)
লেখক: ডক্টর / আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন রুমাইয়ান আল-রুমাইয়ান
বইটির মূল ভিত্তি: পিএইচডি থিসিস - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররমা, আকিদা বিভাগ
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী প্রকাশনা ও বিতরণ، মক্কা মুকাররমা - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ، ১৪২৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯১৫
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
آرَاءُ القُرطبي وَالمازري الاعتِقَادية مِنْ خِلال شَرْحَيْهِمَا لِصَحِيحِ مُسْلِم - درَاسَة وَتَرجيح
تأليف: الدكتور عَبد الله بن محمَّد بن رميَان الرميَان، وَكيلُ كُليةِ الدّعوَةِ وَأصُول الدين لِلدِرَاسَاتِ العُليَا - بِجَامِعَة أم القُرى
توزيع دار ابن الجوزي - للنشر والتوزيع
সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয়ের আলোকে আল-কুরতুবী ও আল-মাযিরীর আকিদাগত দৃষ্টিভঙ্গি - একটি পর্যালোচনা ও মূল্যায়নমূলক গবেষণা
রচনা: ডক্টর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন রুমইয়ান আল-রুমইয়ান, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদের উচ্চশিক্ষা বিষয়ক উপ-ডীন
পরিবেশনায়: দার ইবনুল জাওযী - প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
حقُوق الطّبْع مَحفُوظة للمؤَلّف
الطّبْعَة الأولى
1427 هـ
أصل هذا الكتاب رسالة علمية نال بها المؤلف درجة العالمية العالية (الدكتوراه) من قسم العقيدة بجامعة أم القرى بمكة المكرمة في 2/ 2/ 1421 هـ بتقدير (ممتاز) مع التوصية بطبع الرسالة وتداولها بين الجامعات
عنوان المؤلف: مكة المكرمة - ص. ب: 13663
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সর্বস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৭ হিজরি
এই বইটির মূল হলো একটি গবেষণাপত্র, যার মাধ্যমে লেখক মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আকিদাহ বিভাগ থেকে ২/২/১৪২১ হিজরি তারিখে (চমৎকার) মানসহ উচ্চতর আন্তর্জাতিক ডিগ্রি (পিএইচডি) লাভ করেছেন এবং সাথে গবেষণাপত্রটি মুদ্রণ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মাঝে বিতরণের সুপারিশ করা হয়েছে।
লেখকের ঠিকানা: মক্কা মুকাররমা - পোস্ট বক্স: ১৩৬৬৩
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدِّمَةإنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَّا الله وحده لا شريك له وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله. {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [سورة آل عمران: 102] {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [سورة النساء]، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [سورة الأحزاب] أما بعد:
فإن أصدق الحديث كتابُ الله، وخيرُ الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمورِ محدثاتُها، وكلَّ محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.
وبعد:
فإنَّ الله تعالى بعثَ رسولَه محمدًا صلى الله عليه وسلم ليخرج الناس من الظلمات إلى النور ويهديهم بإذنه إلي صراط مستقيم، فبلَّغ الرسالة، وأدَّى الأمانةَ ونصحَ الأمةَ وجاهدَ في الله حقَّ جهاده حتى أتاه اليقين.
ثم سار على دربِه الصحابة والتابعون، فهم بنبيِّهم يقتدون وعلى منهجه سائرون.
ثم خلفت من بعدهم خلوف ظهرت فيهم البدعُ واستحكمت فيهم الأهواءُ فنشأت الفرقُ والأحزاب: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ (118) إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ (119)} [سورة هود].
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে হেদায়াত কামনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [সূরা আল-ইমরান: ১০২]। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (১)} [সূরা আন-নিসা]। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল। (৭১)} [সূরা আল-আহযাব]। অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করার জন্য। অতঃপর তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না তাঁর কাছে মৃত্যু এসেছে।
অতঃপর তাঁর পথে চলেছেন সাহাবীগণ এবং তাবেয়ীগণ; তাঁরা তাঁদের নবীকে অনুসরণ করতেন এবং তাঁরই মানহাজের ওপর চলতেন।
অতঃপর তাদের পরে এমন সব পরবর্তী প্রজন্ম এল যাদের মধ্যে বিদআতের আবির্ভাব ঘটল এবং প্রবৃত্তি তাদের ওপর জেঁকে বসল, ফলে বিভিন্ন ফিরকা ও উপদলের সৃষ্টি হলো: {আর আপনার রব্ব যদি চাইতেন তবে অবশ্যই মানুষকে এক জাতি করে দিতেন, কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে; (১১৮) তারা ছাড়া যাদের ওপর আপনার রব্ব দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর আপনার রব্বের এই কথা পূর্ণ হয়েছে যে, ‘আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।’ (১১৯)} [সূরা হুদ]।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ولكن لا تزالُ في هذه الأمة طائفةٌ منصورة، وفرقةٌ ناجية، لا يضرُّهم من خذلهم ولا من خالَفَهم حتى يأتي أمرُ الله، فيهم أهلُ السنة والجماعة، الذين يعتقدون ما عليه الرسولُ صلى الله عليه وسلم ومن معه، فمنهجُهم في العقيدة هو الذي يجب الأخذُ به والسيرُ عليه والجزمُ بصحتِه ونقائه وكمالِه وأنَّ ما خالفه من العقائد مذموم مردود.
والمصدران الوحيدانِ لتَلقِّي هذه العقيدة الصحيحة النقية هما الكتاب والسنة ومن المعلوم أنَّ أصحَّ الكتب بعد كتاب الله هما صحيحا البخاري ومسلم، حيث أجمعت الأمةُ على تقديمهما وقبولهما.
ولهذا كثرت عنايةُ العلماءِ بهما دراسةً وشرحًا وتعليقًا وتوضيحًا، وقد لقي صحيح مسلم من العناية والاهتمام خصوصًا من علماء المغرب والأندلس ما فاق به غيره، وممن قام باختصاره وشرحه الحافظ الفقيه أبو العباس أحمد بن عمر القرطبيُّ الأندلسي المتوفى في الإسكندرية سنة (656 هـ). وقد سماه "المفهم في حل ما أشكل من تلخيص كتاب مسلم" وهو كتابٌ ضخمٌ وشرح واسع يدل على سعة علم مؤلفه وتمكنه. ومع اعتماد العلماء السابقين عليه وكثرة نقلهم منه كالحافظ ابن حجر في كتابه فتح الباري، إذ نقل عنه في أكثر من مائة موضع، وقد ينقل له كلامًا في صفحة كاملة، وكالعراقي وابنه في "طرح التثريب" إذ نقلا عنه في أكثر من ثلاثمائة وثمانين موضعًا، وغيرهم كثير، مما هو مبين في الرسالة عند التعريف بالكتاب وبيان أهميته، هذا سوى تلميذه القرطبي المفسر الذي حوى تفسيره الكثير من آراء شيخه بل وكلماته وعباراته وإن لم ينسبها إليه وما صرح بنقله عن شيخه في تفسيره لا يحصى كثرة.
أقول مع معرفة العلماء بقدره واستفادتهم منه بحيث إذا أطلق القرطبي عند العلماء المتقدمين قصد به صاحبُ "المفهم" إلَّا أنَّ هذا
কিন্তু এই উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি সাহায্যপ্রাপ্ত দল এবং একটি নাজাতপ্রাপ্ত ফিরকা থাকবে, আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ আসা পর্যন্ত যারা তাদের অপদস্থ করতে চায় বা যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তাদের মধ্যে রয়েছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীরা যে আদর্শের ওপর ছিলেন তাতে বিশ্বাস পোষণ করেন। সুতরাং আকিদার ক্ষেত্রে তাদের মানহাজই হলো সেটি, যা গ্রহণ করা, যার ওপর চলা এবং যার বিশুদ্ধতা, নির্মলতা ও পূর্ণতার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া ওয়াজিব; আর এর বিপরীত আকিদাগুলো নিন্দনীয় ও প্রত্যাখ্যাত।
এই বিশুদ্ধ ও নির্মল আকিদা গ্রহণের একমাত্র উৎস হলো কিতাব (আল্লাহর কিতাব) ও সুন্নাহ। আর এটি সুপরিচিত যে, আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হলো সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। উম্মত এই দুই কিতাবকে অন্য সবকিছুর ওপর প্রধান্য দিতে এবং গ্রহণ করে নিতে ঐকমত্য পোষণ করেছে।
একারণেই আলেমগণ এই দুই কিতাবের অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা, টীকা এবং স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে এগুলোর প্রতি অনেক যত্নশীল হয়েছেন। বিশেষ করে মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) এবং আন্দালুসের আলেমদের নিকট সহীহ মুসলিম যে বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব পেয়েছে তা অন্য কিতাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। যারা এই কিতাবকে সংক্ষেপ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফেজ ফকিহ আবু আব্বাস আহমদ ইবনে উমর আল-কুরতুবী আল-আন্দালুসী, যিনি ৬৫৬ হিজরীতে আলেকজান্দ্রিয়ায় ইন্তেকাল করেন। তিনি এই কিতাবের নাম রেখেছেন "আল-মুফহিম ফি হাল্লি মা উশকিলা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম"। এটি একটি বিশাল কিতাব এবং সুবিস্তৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা এর লেখকের অগাধ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। পূর্ববর্তী আলেমদের এই কিতাবের ওপর নির্ভরতা এবং এ থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি গ্রহণ করার বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত; যেমন হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর "ফাতহুল বারী" কিতাবে একশোরও বেশি স্থানে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, এমনকি কখনও কখনও তিনি পূর্ণ এক পৃষ্ঠার দীর্ঘ বক্তব্যও উদ্ধৃত করেছেন। অনুরূপভাবে ইরাকি এবং তাঁর পুত্র "তারহুত তাসরীব" গ্রন্থে এটি থেকে তিনশো আশিটিরও বেশি স্থানে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এ ছাড়াও আরও অনেক আলেম রয়েছেন যাদের বিষয়টি এই গবেষণাপত্রে কিতাবটির পরিচিতি এবং এর গুরুত্ব আলোচনার সময় বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এটি তো গেল অন্যান্যদের কথা, কিন্তু তাঁর ছাত্র মুফাসসির আল-কুরতুবী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে তাঁর শাইখের অনেক মত, এমনকি তাঁর হুবহু শব্দ ও বাক্য পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন যদিও তিনি তা তাঁর শাইখের দিকে নিসবত (সম্পর্কিত) করেননি। আর যা কিছু তিনি তাঁর শাইখের উদ্ধৃতি হিসেবে নিজ তাফসীরে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তা তো গণনা করে শেষ করা যাবে না।
আমি বলছি, আলেমদের নিকট এই কিতাবের মর্যাদা এবং এটি থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি এতটাই সুবিদিত ছিল যে, পূর্ববর্তী আলেমদের নিকট যখন কেবল "আল-কুরতুবী" বলা হতো, তখন এর দ্বারা "আল-মুফহিম" গ্রন্থের লেখককেই উদ্দেশ্য করা হতো, তবে এই...
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الكتاب بقي رهين الحبس دون إخراج قرونًا متطاولة، حتى يسَّر الله إخراجه بصورة جيدة وبتحقيق طيب على يد مجموعة من الباحثين، علمًا أنَّ هناك عشر رسائل علمية بعضها قد أجيزت في جامعة الإمام لتحقيق هذا الكتاب. ولما خرج هذا الشرح في سبع مجلدات ضخمة بأكثر من أربعة ألاف صفحة تسارع طلاب العلم لاقتنائه وأكبوا على مطالعته والاستفادة منه فوجدت هذه فرصة سانحةً ليكون هذا الشرح الكبير موضوعًا لرسالتي في مرحلة الدكتوراه في قسم العقيدة خصوصًا أنَّ القرطبي رحمه الله قد تأثر بمنهج المتكلمين وسار على طريقة الأشاعرة المأولين، بحيث أنَّ دراسة منهجه في ذلك وبيان مخالفته لمنهج السلف في هذا الجانب وتقويم ما أخطأ فيه يكون وسيلةً نافعةً للاستفادة من هذا الشرح دون حرج أو حذر فاستشرت من مشايخي من أثق بعلمه واستنير برأيه، فوجدت التأييد التام، فاستعنت بالله تعالى وقدمت مخططه لقسم العقيدة، ولكن أعضاء القسم حفظهم الله، رأوا إضافة شرح آخر إليه فوقع اختيارهم على أول شروح صحيح مسلم وأقدمها وصولًا إلينا وهو "المعلم بفوائد مسلم"، لمحمد بن علي المازري المتوفي سنة (536 هـ)، وهو الكتاب الذي أصبح أساسًا لما بعده حيث أكمله القاضي عياض بكتابه "إكمال المعلم" ثم أكمله عدد من العلماء بـ "إكمال إكمال المعلم"، و"مكمل إكمال المعلم" وغيرها فزادت الكتب المصنفة على "المعلم" على خمسة مؤلفات فرضخت للأمر، رغم علمي بصعوبته، إلَّا أنه مما سهل الأمر بعد الإستعانة بالله أنهما على مذهب واحد في العقيدة وهي عقيدة الأشاعرة وإن لم يلتزم القرطبي التزامًا كاملًا بها.
ولا ريب أنَّ الفتن والبدع التي ظهرت عصفت في مسارها بخلق كثير وإنَّ ممن نالهم عصف هذه الفتن القرطبي والمازري - رحمهما الله
বইটি সুদীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে অপ্রকাশিত অবস্থায় পড়ে ছিল, অবশেষে আল্লাহ তাআলা একদল গবেষকের মাধ্যমে উত্তম রূপে ও চমৎকার সম্পাদনার সাথে এটি প্রকাশের ব্যবস্থা সহজ করে দিলেন। উল্লেখ্য যে, এই বইটি সম্পাদনার (তাহকীক) লক্ষ্যে ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দশটি গবেষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে, যার কয়েকটি ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। যখন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সাতটি বিশাল খণ্ডে চার হাজারেরও অধিক পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হলো, তখন জ্ঞানপিপাসু ছাত্ররা এটি সংগ্রহ করতে সচেষ্ট হলেন এবং এর অধ্যয়ন ও তা থেকে উপকৃত হতে নিবিষ্ট হলেন। তখন আমি আকিদা বিভাগে আমার ডক্টরেট পর্যায়ের গবেষণার জন্য এই বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে একটি উপযুক্ত বিষয় হিসেবে গ্রহণ করার সুবর্ণ সুযোগ দেখতে পেলাম। বিশেষ করে এই কারণে যে, কুরতুবী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মুতাকাল্লিমীনদের (কালামশাস্ত্রবিদ) মানহাজ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন এবং ব্যাখ্যা প্রদানকারী আশায়িরাদের পথ অনুসরণ করেছিলেন। ফলে এই বিষয়ে তাঁর মানহাজ অধ্যয়ন করা এবং এই ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজের সাথে তাঁর বিরোধপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করা ও তাঁর ভুলগুলো সংশোধন করা—এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি থেকে কোনো সংকোচ বা সতর্কতা ছাড়াই উপকৃত হওয়ার একটি উপকারী মাধ্যম হতে পারে। তাই আমি আমার এমন শায়খদের সাথে পরামর্শ করলাম যাদের ইলমের ওপর আমার আস্থা আছে এবং যাদের মতামতের আলোয় আমি পথ চলি। আমি তাঁদের পূর্ণ সমর্থন পেলাম। অতঃপর আল্লাহর সাহায্য নিয়ে আমি আকিদা বিভাগে এর একটি রূপরেখা পেশ করলাম। কিন্তু বিভাগের সম্মানিত সদস্যগণ (আল্লাহ তাঁদের হিফাজত করুন) এর সাথে অন্য আরেকটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যুক্ত করা সমীচীন মনে করলেন। ফলে তাঁদের পছন্দ গিয়ে পড়ল সহীহ মুসলিমের প্রথম এবং আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম ব্যাখ্যাগ্রন্থটির ওপর, যা হলো মুহাম্মদ বিন আলী আল-মাযারি (মৃত্যু ৫৩৬ হিজরী) রচিত "আল-মু'লিম বি ফাওয়াইদি মুসলিম"। এটি সেই কিতাব যা পরবর্তী গ্রন্থগুলোর জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে; যেখানে কাজী আইয়াজ তাঁর "ইকমালুল মু'লিম" গ্রন্থের মাধ্যমে এর কাজ এগিয়ে নিয়েছেন, এরপর একদল আলেম "ইকমালু ইকমালিল মু'লিম", "মুকাম্মিলু ইকমালিল মু'লিম" এবং অন্যান্য গ্রন্থের মাধ্যমে এর পরিপূরণ করেছেন। এভাবে "আল-মু'লিম" গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পাঁচটিরও অধিক হয়ে গেল। তাই কাজটির কঠিনতা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও আমি এই আদেশের সামনে নতি স্বীকার করলাম। তবে আল্লাহর সাহায্যের পর বিষয়টি যা সহজ করে দিল তা হলো—আকিদার ক্ষেত্রে তাঁরা উভয়েই একই মাযহাব তথা আশায়িরা আকিদার অনুসারী ছিলেন, যদিও কুরতুবী পুরোপুরিভাবে তা মেনে চলেননি।
নিঃসন্দেহে, যেসব ফিতনা ও বিদআত প্রকাশিত হয়েছিল তা বহু সৃষ্টিকে এর ঝাপটায় আক্রান্ত করেছিল। আর যেসব ব্যক্তি এই ফিতনার কবলে পড়েছিলেন কুরতুবী ও মাযারি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
تعالى- إذ سيتبين من خلال الرسالة مخالفتهما لمذهب أهل السنة والجماعة في كثير من مسائل الاعتقاد.
ولكن ومع هذه المخالفة التي جاءت لأسباب عديدة تتعلق ببيئاتهم وأزمانهم لكننا لا نشك في صدقهم وحسن نواياهم ولا نغض الطرف عن جهودهم في خدمة السنة والدفاع عنها فليس حالهم كالذين عقدوا ألوية البدعة وأجمعوا على مفارقة الكتاب والسنة.
لكن لا ينبغي مع هذا السكوت على أخطائهم ولا التغاضي عن زلاتهم التي هي في أصول الدين، حتى لا يغتر بها من يجهل الحال ويخفى عليه الأمر.
وهذا هو هدف هذه الدراسة خصوصًا أنَّ الدراسة تتعلق بكتابين هما من أهم شروح صحيح مسلم الذي هو من أصح الكتب بعد كتاب الله تعالى. ولم يكن هذا الموضوع مما كتب فيه رسالة علمية إضافة إلى استفادة الباحث الشخصية وذلك بالبحث في جل أبواب العقيدة مما يساعد على الإلمام بمسائلها والاطلاع على كلام أهل العلم فيها وهو ما كنت أتطلع إليه واسعى للحصول عليه خصوصًا أنَّ جميع دراساتي السابقة في المرحلة الجامعية والماجستير لم تكن في هذا التخصص فـ {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ}.
خطة البحث:قسمت البحث إلى مقدمة وأربعة أبواب وخاتمة.
أما المقدمة: فعن أهمية الموضوع وأسباب اختياره وخطة البحث وبيان المنهج الذي سرت عليه وكلمة الشكر لمن يستحقها.
وأما الباب الأول: فهو دراسة لشخصيتي المازري والقرطبي وعصرهما
মহান আল্লাহ- কেননা এই অভিসন্দর্ভের মাধ্যমে আকিদাগত বহু মাসআলায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবের সাথে তাদের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
কিন্তু তাদের পরিবেশ ও সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারণে ঘটিত এই বিরোধ সত্ত্বেও আমরা তাদের সততা ও সদিচ্ছার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না এবং সুন্নাহর সেবা ও তা রক্ষার ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করি না। কারণ তাদের অবস্থা ঐসব লোকেদের মতো নয় যারা বিদআতের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে ধরেছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
তবে এর পাশাপাশি তাদের ভুলগুলোর ব্যাপারে নীরব থাকা বা দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে তাদের পদস্খলনগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়, যাতে করে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত এবং বিষয়টি যাদের কাছে অস্পষ্ট, তারা এতে বিভ্রান্ত না হয়।
আর এটাই এই গবেষণার উদ্দেশ্য, বিশেষ করে যেহেতু গবেষণাটি এমন দুটি কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট যা সহীহ মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত; আর সহীহ মুসলিম মহান আল্লাহর কিতাবের পর বিশুদ্ধতম কিতাবসমূহের অন্যতম। আর এই বিষয়টি এমন ছিল না যাতে ইতিপূর্বে কোনো বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ লেখা হয়েছে। এর সাথে গবেষকের ব্যক্তিগত উপকারের বিষয়টিও যুক্ত, কারণ আকিদার অধিকাংশ অধ্যায় নিয়ে গবেষণার ফলে এর মাসআলাগুলো আয়ত্ত করা এবং এ ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব হয়েছে। আর এটাই ছিল এমন কিছু যার আকাঙ্ক্ষা আমি করতাম এবং যা অর্জনের চেষ্টা করতাম, বিশেষ করে যখন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আমার পূর্ববর্তী সকল পড়াশোনা এই বিশেষায়িত বিষয়ে ছিল না। তাই {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এর দিকে পথ দেখিয়েছেন, আর আল্লাহ যদি আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা পথ পেতাম না}।
গবেষণা পরিকল্পনা:আমি গবেষণাকে একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
ভূমিকার বিষয়বস্তু হলো: বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণা পরিকল্পনা, অনুসৃত পদ্ধতির বর্ণনা এবং যারা কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন।
আর প্রথম অধ্যায়টি হলো: আল-মাযিরী ও আল-কুরতুবী—এই দুই ব্যক্তিত্ব এবং তাদের যুগ সম্পর্কিত গবেষণা।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الذي عاشا فيه، وقسمت هذا الباب إلى فصلين:
الفصل الأول: عن عصر المازري وحياته. وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: عصره وفيه مطلبان.
المبحث الثاني: حياته الشخصية وفيه تمهيد وثلاثة مطالب.
المبحث الثالث: حياته العلمية وفيه سبعة مطالب.
المبحث الرابع: التعريف بكتاب المعلم وأهميته وفيه خمسة مطالب:
الفصل الثاني: عن عصر القرطبي وحياته، وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: عصره، وفيه مطلبان.
المبحث الثاني: حياته الشخصية، وفيه أربعة مطالب.
المبحث الثالث: حياته العلمية، وفيه ستة مطالب.
المبحث الرابع: التعريف بكتاب "المفهم" وبيان أهميته، وفيه ستة مطالب.
الباب الثاني: الإيمان والتوحيد، وفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: الإيمان وما يتعلق به من مسائل وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تعريف الإيمان لغة وشرعًا، وحكم الإستثناء فيه، وفيه ثلاثة مطالب.
المبحث الثاني: الإيمان والإسلام.
المبحث الثالث: الكييرة وحهكم مرتكبها وفيه ثلاثة مطالب.
الفصل الثاني: توحيد الربوبية وفيه تمهيد وثلاثة مباحث:
التمهيد: عن علم الكلام وموقف السلف منه.
المبحث الأول: أول واجب على المكلف والرد على المتكلمين.
المبحث الثاني: معنى توحيد الربوبية وأدلته، وفيه ثلاثة مطالب:
المبحث الثالث: الإيمان بالقدر وفيه عشرة مطالب.
যাতে তাঁরা বসবাস করেছেন, এবং আমি এই পরিচ্ছেদটিকে দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: আল-মাযিরীর যুগ ও তাঁর জীবন সম্পর্কে। এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর যুগ এবং এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত জীবন এবং এতে সাতটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: 'আল-মুআল্লিম' কিতাবের পরিচিতি ও এর গুরুত্ব এবং এতে পাঁচটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
দ্বিতীয় অধ্যায়: আল-কুরতুবীর যুগ ও তাঁর জীবন সম্পর্কে, এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর যুগ, এবং এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, এবং এতে চারটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত জীবন, এবং এতে ছয়টি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: 'আল-মুফহিম' কিতাবের পরিচিতি ও এর গুরুত্ব বর্ণনা, এবং এতে ছয়টি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমান ও তাওহীদ, এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: ঈমান এবং এ সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক ও শরয়ী পরিভাষায় ঈমানের সংজ্ঞা এবং এতে ইস্তিসনা করার বিধান, এবং এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ঈমান ও ইসলাম।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কবিরা গুনাহ এবং তা সম্পাদনকারীর বিধান এবং এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
ভূমিকা: ইলমুল কালাম এবং এ বিষয়ে সালাফদের অবস্থান প্রসঙ্গে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপর প্রথম ওয়াজিব এবং মুতাকাল্লিমদের খণ্ডন।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর অর্থ ও এর দলীলসমূহ, এবং এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাকদীরের ওপর ঈমান এবং এতে দশটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الثالث: توحيد الألوهية، وفيه أربعة مباححث:
المبحث الأول: حقيقة توحيد الألوهية ومكانته.
المبحث الثاني: العبادة وبعض أنواعها، وفيه مطلبان.
المبحث الثالث: نواقض التوحيد وقوادحه وفيه أربعة عشر مطلبًا.
المبحث الرابع: البدع والموقف من الفرق المبتدعة وفيه ثلاثة مطالب:
الفصل الرابع: توحيد الأسماء والصفات، وفيه تمهيد وثلاثة مباحث:
المبحث الأول: منهجهما في أسماء الله تعالى وفيه تسعة مطالب.
المبحث الثاني: منهجهما في صفات الله تعالى: وفيه خمسة مطالب.
المبحث الثالث: منهجهما في رؤية الله تعالى.
الباب الثالث: النبوة والإمامة والصحابة وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: النبوة وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: تعريف النبوة والرسالة وبيان فضل الأنبياء وفيه خمسة مطالب.
المبحث الثاني: دلائل النبوة وفيه مطلبان:
المبحث الثالث: عصمة الأنبياء.
المبحث الرابع: خصائص نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.
المبحث الخامس: ، الإيمان بالملائكة والجن، وفيه مطلبان.
الفصل الثاني: الإمامة وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: حكم نصب الإمام وبما تنعقد به الإمامة.
المبحث الثاني: البيعة.
المبحث الثالث: شروط الإمام.
المبحث الرابع: واجبات الإمام وحقوقه.
المبحث الخامس: الموقف من الأئمة.
তৃতীয় অধ্যায়: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর হাকিকত ও এর মর্যাদা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদত ও এর কিছু প্রকারভেদ, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদের পরিপন্থী ও ক্ষতিকারক বিষয়সমূহ, এতে চৌদ্দটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিদআত এবং বিদআতী ফিরকাদের ব্যাপারে অবস্থান, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
চতুর্থ অধ্যায়: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত, এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে তাঁদের মানহাজ (কর্মপন্থা), এতে নয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর গুণাবলীর ক্ষেত্রে তাঁদের মানহাজ, এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহকে দেখার ব্যাপারে তাঁদের মানহাজ।
তৃতীয় খণ্ড: নবুওয়াত, ইমামত ও সাহাবায়ে কেরাম, এতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: নবুওয়াত, এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবুওয়াত ও রিসালাতের সংজ্ঞা এবং নবীদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা, এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবুওয়াতের প্রমাণাদি, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবীদের নিষ্পাপতা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতা ও জিনের প্রতি ঈমান, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমামত, এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম নিযুক্ত করার বিধান এবং যার মাধ্যমে ইমামত সাব্যস্ত হয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বায়আত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমামের শর্তাবলী।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমামের দায়িত্ব ও অধিকারসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইমামদের ব্যাপারে অবস্থান।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الثالث: الصحابة وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: مكانة الصحابة وفضلهم.
المبحث الثاني: عدالتهم وعظم الطعن فيهم.
المبحث الثالث: الموقف مما وقع بينهم.
الباب الرابع: اليوم الآخر وفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: أشراط الساعة وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تعريف أشراط الساعة وأقسامها.
المبحث الثاني: أشراط الساعة الصغرى.
المبحث الثالث: أشراط الساعة الكبرى.
الفصل الثاني: فتنة القبر وعذابه ونعيمه، وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: الروح.
المبحث الثاني: فتنة القبر.
المبحث الثالث: عذاب القبر ونعيمه.
المبحث الرابع: سماع الموتى.
الفصل الثالث: البعث والحشر وفيه ثمانية مباحث:
المبحث الأول: النفخ في الصور.
المبحث الثاني: البعث والنشور.
المبحث الثالث: الحشر.
المبحث الرابع: الميزان.
المبحث الخامس: الشفاعة.
المبحث السادس: الحوض.
المبحث السابع: الصراط.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণ এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সাহাবীগণের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা এবং তাঁদের প্রতি কটাক্ষ করার ভয়াবহতা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁদের মধ্যে সংঘটিত বিষয়াবলির ক্ষেত্রে অবস্থান।
চতুর্থ অধ্যায়: পরকাল এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের আলামতসমূহ এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কিয়ামতের আলামতের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কবরের ফিতনা, আজাব ও নেয়ামত এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: রূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কবরের ফিতনা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কবরের আজাব ও নেয়ামত।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মৃতদের শ্রবণ করা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পুনরুত্থান ও হাশর এবং এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সূরে ফুঁৎকার।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পুনরুত্থান ও কবর থেকে প্রস্থান।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হাশর।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মিযান।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: শাফায়াত।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: হাওয।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: সিরাত।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثامن: ذبح الموت.
الفصل الرابع: الجنة والنار.
الخاتمة: وذكرت فيها أهم نتائج البحث.
منهج البحث: وقد سرت في إعداد هذا البحث على المنهج التالي:
1 - قمت بقراءة كتابي "المفهم" و"المعلم" واستخرجت منهما مسائل العقيدة حسب علمي القاصر.
2 - قسمت هذه المسائل المحصورة إلى موضوعات علم العقيدة وعنونت لها بحسب الخطة المعدة لذلك حسب ما فهمت من مضامينها.
3 - جمعت شتات كلام القرطبي أو المازري في المسألة الواحدة من مواضعها المختلفة وأعتمد على أكمل النصوص وأوضحها في الدلالة على المسألة وقد أذكر أكثر من قول في المسألة الواحدة إن وجد وكان لذكره فائدة وإلَّا أحلت إلى مواضعها في الهامش.
4 - أعرض الأقوال في المسألة وأبين رأي القرطبي والمازري فيها ثم اتبعه ببيان موافقتهما لمنهج السلف من عدمه ثم أردف بعد ذلك بكلام أئمة السلف في هذه المسألة تأييدًا لما ذهبا إليه حال الموافقة، وردًا عليهما عند المخالفة هذا في المسائل التي فيها خلاف بين أهل السنة والجماعة وبين الأشاعرة، وأما في المسائل التي هي محل اتفاق فقد أذكر قوليهما دون حاجة إلى تعليق أو تأييد خصوصًا في البابين الثالث والرابع.
5 - أقدم في عرض المسائل قول القرطبي رغم تأخر زمنه عن المازري لأنه أصل هذه الرسالة ولقلة المادة العلمية العقدية في كتاب المعلم لأنه لا يعد في الحقيقة شرحًا لصحيح مسلم بل تعليق على بعض أحاديثه ولذلك فالكثير من المسائل لم أجد للمازري قولًا فيها ومنهجي في
অষ্টম পরিচ্ছেদ: মৃত্যুকে যবেহ করা।
চতুর্থ অধ্যায়: জান্নাত ও জাহান্নাম।
উপসংহার: এতে আমি গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি।
গবেষণার পদ্ধতি: এই গবেষণাটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১ - আমি 'আল-মুফহিম' এবং 'আল-মু'লিম' গ্রন্থদ্বয় পাঠ করেছি এবং আমার সীমিত জ্ঞান অনুযায়ী তা থেকে আকিদাহর বিষয়গুলো বের করেছি।
২ - আমি এই সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলোকে আকিদাহ শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে বিভক্ত করেছি এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর ওপর আমার উপলব্ধি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারে সেগুলোর শিরোনাম দিয়েছি।
৩ - আমি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ইমাম কুরতুবী বা ইমাম মাযেরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বক্তব্যগুলোকে একত্রিত করেছি। এ ক্ষেত্রে আমি উক্ত বিষয়ের ওপর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং সুস্পষ্ট ভাষ্যের ওপর নির্ভর করেছি। কোনো বিষয়ে একাধিক মত থাকলে এবং তা উল্লেখ করা ফলপ্রসূ মনে হলে আমি তা উল্লেখ করেছি, অন্যথায় টীকায় সেগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছি।
৪ - আমি কোনো বিষয়ের ওপর বিভিন্ন মতামত তুলে ধরি এবং সে বিষয়ে কুরতুবী ও মাযেরীর অভিমত স্পষ্ট করি। অতঃপর তাদের মতটি সালাফদের মানহাজের সাথে সংগতিপূর্ণ কি না তা বর্ণনা করি। এরপর যদি তাদের মতটি সালাফদের অনুকূলে হয় তবে তার সমর্থনে এবং প্রতিকূলে হলে তার প্রতিবাদে সালাফ ইমামগণের বক্তব্য উল্লেখ করি। এটি মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং আশআরিদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এমন বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে। আর যেসব বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে, বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যায়ে, সেগুলোতে কোনো মন্তব্য বা সমর্থনের প্রয়োজন ছাড়াই আমি তাদের দুইজনের বক্তব্য উল্লেখ করেছি।
৫ - কোনো বিষয় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমি ইমাম কুরতুবীর বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েছি, যদিও তিনি ইমাম মাযেরীর পরবর্তী সময়ের। কারণ তিনি হলেন এই থিসিসের মূল ভিত্তি। এছাড়া 'আল-মু'লিম' গ্রন্থে আকিদাহ বিষয়ক বৈজ্ঞানিক উপাদানের স্বল্পতা রয়েছে, কারণ এটি প্রকৃতপক্ষে সহীহ মুসলিমের কোনো পূর্ণাঙ্গ শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) নয়, বরং এর কিছু হাদিসের ওপর টীকা মাত্র। ফলে অনেক বিষয়ে আমি ইমাম মাযেরীর কোনো বক্তব্য খুঁজে পাইনি। আর আমার পদ্ধতি হলো...
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
هذا ذكر قول المازري إن كان له قول في المسألة بعد كلام القرطبي وقد أقدمه أحيانًا لحاجة أو سبب وإن لم يكن له في المسألة قول سكت عنه دون التنبيه لذلك حتى لا يتكرر هذا في كل مسألة.
6 - عزوت الآيات القرآنية إلى مواضعها في القرآن وكتبتها وفق رسم المصحف العثماني.
7 - خرجت الأحاديث النبوية الواردة في البحث من مصادرها المعتمدة فإن كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت بهما في التخريج وأذكر الكتاب والباب، والجزء والصفحة من فتح الباري بالنسبة للبخاري وشرح صحيح مسلم للنووي بالنسبة لمسلم وإن كان في غيرهما ذكرت من خرَّجه من الأئمة وقد أكتفي بواحد مع بيان الحكم على الحديث ثم أحيل عليه إن ورد مرة أخرى.
8 - ترجمت للأعلام المذكورين في صلب البحث عند أول موضع، يرد فيه ما عدا الصحابة والأئمة الأربعة وأصحاب الكتب الستة، وشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم.
9 - شرحت ما رأيت الحاجة إلى شرحه من الألفاظ الغريبة.
10 - خرجت الأبيات الشعرية الواردة في صلب البحث من دواوينها.
11 - بالنسبة للمرجع، فأذكر اسم الكتاب في الهامش كاملًا وكذلك مؤلفه في أول موضع يرد فيه ثم أذكره مختصرًا للبعد عن الإطالة وإثقال الحواشي.
12 - ذيَّلت الرسالة بفهارس لمحتوياتها اشتملت على ما يلي:
(1) فهرس الآيات القرآنية.
(2) فهرس الأحاديث والآثار.
(3) فهرس الأبيات الشعرية.
(4) فهرس الأعلام.
এটি ইমাম আল-মাযিরীর মতামতের উল্লেখ যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইমাম কুরতুবীর বক্তব্যের পর তাঁর কোনো বক্তব্য থাকে। কোনো বিশেষ প্রয়োজনে বা কারণে আমি কখনো কখনো তাঁর বক্তব্যকে আগে নিয়ে এসেছি। আর যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য না থাকে, তবে আমি সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য ছাড়াই নীরব থেকেছি, যাতে প্রতিটি মাসআলায় এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
৬ - আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে কুরআনে তাদের নির্দিষ্ট স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি এবং সেগুলো উসমানি লিপির লিখনরীতি অনুযায়ী লিখেছি।
৭ - গবেষণায় উল্লিখিত নবিজির হাদিসসমূহকে তাদের নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) করেছি। যদি হাদিসটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল সেই দুটি গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদানকেই যথেষ্ট মনে করেছি এবং বুখারির ক্ষেত্রে 'ফাতহুল বারি' এবং মুসলিমের ক্ষেত্রে ইমাম নববীর 'শারহু সহিহি মুসলিম' থেকে কিতাব, অধ্যায়, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। আর যদি হাদিসটি এই দুটি গ্রন্থ ছাড়া অন্য কোথাও থাকে, তবে কোন কোন ইমাম তা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছি; এক্ষেত্রে কখনো একজন ইমামের উদ্ধৃতি দিয়েই যথেষ্ট করেছি এবং হাদিসের মান বর্ণনা করেছি। এরপর হাদিসটি পুনরায় উল্লিখিত হলে পূর্বের উদ্ধৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছি।
৮ - মূল গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিদের প্রথমবার উল্লেখের সময় তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি; তবে সাহাবীগণ, চার ইমাম, কুতুবে সিত্তার লেখকগণ, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত নন।
৯ - অপ্রচলিত ও কঠিন শব্দাবলির মধ্য থেকে যেগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন মনে করেছি, সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
১০ - মূল গবেষণায় উল্লিখিত কাব্যপদগুলোকে তাদের মূল কাব্যগ্রন্থসমূহ থেকে উৎস নির্দেশ করেছি।
১১ - তথ্যসূত্রের ক্ষেত্রে, পাদটীকায় গ্রন্থের পূর্ণ নাম এবং লেখকের নাম প্রথমবার উল্লেখের সময় পূর্ণাঙ্গভাবে লিখেছি, এরপর দীর্ঘসূত্রতা পরিহার এবং পাদটীকার ভার কমানোর জন্য সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি।
১২ - গবেষণাপত্রের শেষে আমি বিষয়বস্তুর সূচিপত্র যুক্ত করেছি, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
(১) কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট।
(২) হাদিস ও আসারের নির্ঘণ্ট।
(৩) কাব্য পঙক্তির নির্ঘণ্ট।
(৪) ব্যক্তিদের নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(5) فهرس المصادر والمراجع.
(6) فهرس موضوعات البحث.
هذا وفي الختام لا يسعني إلَّا أن أتوجه بالشكر الجزيل لله سبحانه وتعالى على إتمام هذا البحث وإخراجه على هذه الصورة التي هي جهد المقل، وعمل الضعيف وحسبي أني قد بذلت فيه وسعي وغاية جهدي فإن أصبت فمن الله وإن أخطأت فمن نفسي والشيطان واستغفر الله من كل خطأ وزلل.
وأتقدم بالشكر الجزيل لشيخي ومشرفي على هذا البحث فضيلة الأستاذ الدكتور علي بن نفيع العلياني فقد أفدت من علمه الغزير وتواضعه الجم، فله من الشكر أطيبه ومن الدعاء أخلصه والله يتولى عنا مكافأته كما أذكر بالذكرى الحسنة فضيلة الأستاذ الدكتور محمود خفاجي المشرف على هذا البحث في بدايته، فله مني جزيل الشكر وخالص الدعاء، كما أشكر كل من أعانني في إخراج هذا البحث من أساتذة وزملاء وإخوان هكذا بصفة التعميم والله بأعمال المخلصين عليم. كما أتقدم بالشكر الجزيل لهذا الصرح العلمي جامعة أم القرى بمكة المكرمة ممثلة بكلية الدعوة وأصول الدين وبقسم العقيدة على وجه الخصوص على رعاية طلاب العلم وتيسير التحصيل لهم وأخص بالشكر من كان له الفضل علي بعد الله تعالى في مواصلة دراستي بهذا القسم وهم كل من فضيلة الدكتور عبد الله بن عمر الدميجي عميد الكلية، وفضيلة الدكتور أحمد بن عطية الزهراني رئيس قسم العقيدة السابق، كما أشكر فضيلة الدكتور عبد الله بن محمد القرني رئيس قسم العقيدة على جهوده المشكورة ومساعيه الحميدة.
وأسأل الله تعالى أن يجعل أعمالنا جميعًا خالصة لوجهه الكريم وأن يوفقنا للعلم النافع والعمل الصالح وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
(৫) উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।
(৬) গবেষণার বিষয়সূচি।
পরিশেষে, এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার এবং এই রূপে প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এটি একজন নগণ্য ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা এবং এক দুর্বল বান্দার কাজ মাত্র। আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে আমি এতে আমার সাধ্য ও সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি। যদি এতে সঠিক কিছু থাকে তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি কোনো ভুল থাকে তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি প্রতিটি ভুল ও বিচ্যুতির জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আমি আমার শাইখ ও এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক সম্মানিত প্রফেসর ডক্টর আলী বিন নুফাই আল-উলইয়ানির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি তাঁর অগাধ জ্ঞান ও অনন্য বিনয় থেকে উপকৃত হয়েছি। তাঁর জন্য রইল উত্তম কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক দোয়া। আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে এর প্রতিদান দান করুন। এছাড়াও আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সম্মানিত প্রফেসর ডক্টর মাহমুদ খাফাজীকে, যিনি গবেষণার শুরুর দিকে এর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তাঁর প্রতিও রইল আমার গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক দোয়া। সেই সাথে আমি সকল শিক্ষক, সহকর্মী ও ভাইদের প্রতি সাধারণভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেছেন; আল্লাহ মুখলিস বা নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত। আমি আরও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মক্কা মুকাররমার জ্ঞানপীঠ উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি, বিশেষত দাওয়াহ ও উসুলুদ দীন অনুষদ এবং বিশেষভাবে আকীদাহ বিভাগের প্রতি—জ্ঞান অন্বেষণকারীদের যত্ন নেওয়া এবং জ্ঞান অর্জন সহজতর করার জন্য। আল্লাহর পরে এই বিভাগে আমার উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যাদের বিশেষ অবদান রয়েছে আমি তাদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা হলেন— অনুষদের ডিন ডক্টর আবদুল্লাহ বিন উমর আদ-দুমিজী এবং আকীদাহ বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডক্টর আহমদ বিন আতিয়্যাহ আয-যাহরানী। এছাড়া আমি আকীদাহ বিভাগের প্রধান ডক্টর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-কুরনীকেও তাঁর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ও কল্যাণকর উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকল কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের উপকারী জ্ঞান ও সৎ আমল করার তাওফীক দান করেন। আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الباب الأول المازري والقرطبي عصرهما وحياتهماوفيه فصلان:
الفصل الأول: المازري عصره وحياته
الفصل الثاني: القرطبي عصره وحياته
প্রথম অধ্যায়: আল-মাযিরী এবং আল-কুরতুবী, তাঁদের যুগ ও জীবনএতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-মাযিরী, তাঁর যুগ ও জীবন
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কুরতুবী, তাঁর যুগ ও জীবন
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأول المازري عصره وحياتهوفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: عصره
المبحث الثاني: حياته الشخصية
المبحث الثالث: حياته العلمية
المبحث الرابع: التعريف بالكتاب وبيان أهميته
প্রথম অধ্যায়: আল-মাযিরি, তাঁর যুগ ও জীবনএতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি ও এর গুরুত্ব বর্ণনা
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأول عصرهوفيه مطلبان:
المطلب الأول: عصره من الناحية السياسية
المطلب الثاني: عصره من الناحية العلمية
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগএতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর যুগ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে তাঁর যুগ
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الأول: الحالة السياسية:لقد عاش المازري بين سنة (453 هـ) وسنة (536 هـ)، وهي فترة اضطراب وعدم استقرار وحروب وفتن، خصوصًا في بلاد إفريقية التي عاش فيها.
فهذه الفترة لم تكن فيها للخليفة العباسي أيَّة سلطة حقيقة، إنما يُكتفى بذكر اسمه على المنابر، والدعاء له في الدولة التي تدين له بالولاء، وإلَّا فقد كانت الدولة الفاطمية العبيدية الباطنية تسيطر على مصر والشام وإفريقية. أمَّا بلاد اليمن وبلاد الحجاز فتخضعان لهم تارة، وتخرجان عن سلطتهم تارة أخرى.
وفي اليمن كانت الدولة الصليحية الباطنية خاضعةً للدولة الفاطمية وتحت سلطتها.
وكذلك في إفريقية كانت الدولة الصنهاجية تابعة للفاطميين وخاضعة لهم كما سيأتي تفصيله.
وأمَّا خُراسان والعراق وما تبعهما فكانتا خاضعتين للسلطان السلجوقي.
والمغرب والأندلس كانتا تحت حكم دولة المرابطين
(1).
وهكذا انقسمت بلاد الإسلام، وأصبحت دولًا متعددةً تحت رايات كثيرة.
أما إذا خصصنا الحديث عن بلاد إفريقية وهي التي عاش فيها المازري، فإنها كانت تحت حكم الدولة الفاطمية التي قامت أصلًا في إفريقية ثم امتد سلطانها إلى مصر والشام، فانتقلت عاصمة الدولة من
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা:আল-মাযারি ৪৫৩ হিজরি এবং ৫৩৬ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন, যা ছিল বিশৃঙ্খলা, অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ এবং ফিতনার একটি সময়; বিশেষ করে ইফ্রিকিয়া অঞ্চলে, যেখানে তিনি বসবাস করতেন।
এই সময়ে আব্বাসীয় খলিফার কোনো প্রকৃত ক্ষমতা ছিল না; বরং যে রাষ্ট্রগুলো তাঁর প্রতি আনুগত্য পোষণ করত, সেখানে কেবল মিম্বরসমূহে তাঁর নাম উল্লেখ এবং তাঁর জন্য দোয়া করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা হতো। অন্যথায়, ফাতেমি ওবায়দি বাতেনি রাষ্ট্র মিশর, শাম এবং ইফ্রিকিয়া নিয়ন্ত্রণ করছিল। আর ইয়ামেন ও হিজায অঞ্চল কখনো তাদের অধীনে থাকত, আবার কখনো তাদের কর্তৃত্ব থেকে বেরিয়ে যেত।
আর ইয়ামেনে বাতেনি সুলায়হি রাষ্ট্র ফাতেমি রাষ্ট্রের অনুগত এবং তাদের কর্তৃত্বাধীন ছিল।
একইভাবে ইফ্রিকিয়াতেও সানহাজি রাষ্ট্র ফাতেমিদের অনুসারী ও অনুগত ছিল, যেমনটি সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।
আর খুরাসান, ইরাক এবং তাদের সংলগ্ন অঞ্চলসমূহ সেলজুক সুলতানের অধীনে ছিল।
মাগরিব এবং আন্দালুস মুরাবিতুন রাষ্ট্রের শাসনের অধীনে ছিল
(১)।
এভাবে মুসলিম ভূখণ্ড বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং বহু পতাকার অধীনে একাধিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
আর আমরা যদি বিশেষভাবে ইফ্রিকিয়া ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনা করি—যেখানে আল-মাযারি বসবাস করতেন—তবে তা ফাতেমি রাষ্ট্রের অধীনে ছিল, যা মূলত ইফ্রিকিয়াতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাদের কর্তৃত্ব মিশর ও শাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্রের রাজধানী স্থানান্তরিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إفريقية إلى مصر سنة (362 هـ) في عهد المعز لدين الله الفاطمي، وجعلوا على إفريقية بلكين بن زيزي الصنهاجي، وهي بداية قيام الدولة الصنهاجية التي امتدت قرابة القرنين، ولما توفي بلكين سنة (373 هـ)
(1) تولى ابنه المنصور الذي توفي سنة (385 هـ)
(2) فتولى بعده ابنه باديس حتى توفي سنة (407 هـ)
(3)، فتولى ابنه المعز بن باديس.
وكان المعز بن باديس يميل إلى السنة ويسعى إلى التخلص من سلطة الدولة الفاطمية الشيعية، خصوصًا أن الشعب يعين على ذلك بتمسكه بالسنة ورفضه للمذهب الرافضي الذي تدين به الدولة.
وقد أعلن المعز بن باديس انفصاله عن الدولة الفاطمية ودعا للخليفة العباسي، ودان له بالولاء، وذلك سنة (440 هـ)
(4)، فما كان من الخليفة الفاطمي "المستنصر" إلَّا أن سلَّط عليه الأعراب من هلال ورياح وزغبة، الذين كانوا مع القرامطة فبعثهم إلى إفريقية، وأوكل الأمر فيها إليهم، فساروا إليها، ودخلوا مع الصنهاجيين في حروب طاحنة أدت إلى ضعف الدولة الصنهاجية وتسلَّط الأعراب على كثير من مدنها حتى دخلوا القيروان عاصمة الدولة الصنهاجية سنة (449 هـ)، وعاثوا فيها فسادًا، حتى رحل المعز إلى المهدية، حيث سبقه ابنه تميم إليها، وانتقلت عاصمة الدولة الصنهاجية إلى المهدية، ولم ينته حكم المعز بن باديس الذي توفي سنة (454 هـ) - أي بعد ولادة المازري بسنة - إلَّا وقد كثُرت الاضطرابات والمحن، واختل الأمن، وضعف أمر صنهاجة وتفككت وحدة الدولة.
--------------------------------------------
ইফ্রিকিয়া থেকে মিশরে (রাজধানী স্থানান্তর) ৩৬২ হিজরিতে আল-মুইজ লি-দিনিল্লাহ আল-ফাতেমির যুগে সম্পন্ন হয় এবং তারা ইফ্রিকিয়ার শাসনে বুলুক্কিন বিন জিরি আস-সানহাজিকে নিযুক্ত করেন। এটিই সানহাজি রাষ্ট্রের সূচনালগ্ন যা প্রায় দুই শতাব্দীকাল স্থায়ী ছিল। যখন ৩৭৩ হিজরিতে বুলুক্কিন মারা যান
(১) তখন তার পুত্র আল-মানসুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যিনি ৩৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)। অতঃপর তার পুত্র বাদিস দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং ৪০৭ হিজরিতে তার মৃত্যু পর্যন্ত বহাল থাকেন
(৩)। এরপর তার পুত্র আল-মুইজ বিন বাদিস ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
আল-মুইজ বিন বাদিস সুন্নাহর প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং শিয়া ফাতেমি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব থেকে মুক্তি পেতে সচেষ্ট ছিলেন; বিশেষ করে জনগণ সুন্নাহর প্রতি তাদের অবিচলতা এবং রাষ্ট্রের অনুসৃত রাফেজি মতাদর্শ প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে এ কাজে তাকে সাহায্য করছিল।
আল-মুইজ বিন বাদিস ৪৪০ হিজরিতে ফাতেমি রাষ্ট্র থেকে নিজের বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করেন এবং আব্বাসীয় খলিফার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তার নামে খুতবা পাঠ করান
(৪)। এর ফলে ফাতেমি খলিফা "আল-মুস্তানসির" তার বিরুদ্ধে বনু হিলাল, রিয়াহ ও জুগবা গোত্রের বেদুইনদের লেলিয়ে দেন, যারা কারামাতিদের সাথে ছিল। তিনি তাদের ইফ্রিকিয়াতে পাঠান এবং সেখানকার শাসনভার তাদের ওপর ন্যস্ত করেন। তারা সেখানে পৌঁছে সানহাজিদের সাথে ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হয়, যা সানহাজি রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেয় এবং বেদুইনরা রাষ্ট্রের অনেকগুলো শহরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। এমনকি ৪৪৯ হিজরিতে তারা সানহাজি রাষ্ট্রের রাজধানী কাইরুয়ানে প্রবেশ করে সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। শেষ পর্যন্ত আল-মুইজ মাহদিয়াতে চলে যান, যেখানে তার পুত্র তামিম আগেই পৌঁছেছিলেন। ফলে সানহাজি রাষ্ট্রের রাজধানী মাহদিয়াতে স্থানান্তরিত হয়। আল-মুইজ বিন বাদিস—যিনি ৪৫৪ হিজরিতে অর্থাৎ আল-মাজিরির জন্মের এক বছর পর মৃত্যুবরণ করেন—তার শাসনকাল শেষ হওয়ার আগেই সেখানে ব্যাপক গোলযোগ ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, সানহাজিদের শক্তি হ্রাস পায় এবং রাষ্ট্রের ঐক্য ভেঙে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن خلدون
(1): "وانتزى الثوار في البلاد فغلب حَمُّو بن مليل البرغواطي على مدينة صفاقس، وملكها سنة إحدى وخمسين، وخالفت سوسة وصار أهلها إلى الشورى في أمرهم، وصارت تونس آخرًا إلى ولاية الناصر بن علناس بن حماد صاحب القلعة، وولى عليهم عبد الحق بن خراسان فاستبد بها، واستقرت في ملكه وملك بنيه، وتغلب موسى بن يحيى على قابس وصار عاملها المعز بن محمد الصنهاجي إلى ولايته، وأخوه إبراهيم من بعده، والتاث ملك آل باديس وانقسم في الثوار وهلك المعز سنة أربع وخمسين، ولما هلك المعز قام بأمره ابنه تميم وغلبه العرب على إفريقية فلم يكن له إلَّا ما ضمه السور"
(2).
ولكنَّه استطاع إعادة أغلب ما زال من ملكهم فاستعاد صفاقس وسوسة وتونس والقيروان.
غير أنه لم يهدأ الوضع ويستعيد بعض الملك حتى فاجأه النصارى بحملات أدت إلى استيلائهم على المهدية عاصمة الدولة الصنهاجية سنة (480 هـ)، ولم يخرجوا منها حتى بذل لهم تميم أموالًا طائلة، وما زال تميم في حروب متواصلة، لاستعادة ما ذهب من ملكه، وإخضاع من تحت يده من عمال، يسعون لانتهاز الفرصة للاستقلال بما تحت أيديهم، حتى توفي سنة (501 هـ)
(3).
--------------------------------------------
ইবন খালদুন
(১) বলেন: "দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্রোহীদের উত্থান ঘটে এবং হাম্মু বিন মালিল আল-বারঘওয়াতি ৪৫১ হিজরি সালে সাফাক্স শহর জয় করে তা নিজের দখলে নিয়ে নেন। সুসা অবাধ্যতা শুরু করে এবং সেখানকার অধিবাসীরা তাদের বিষয়াদি পরিচালনার জন্য পরামর্শ সভার (শুরা) ব্যবস্থা করে। তিউনিস শেষ পর্যন্ত কালআ-র অধিপতি নাসির বিন আলনাস বিন হাম্মাদের শাসনাধীনে চলে যায়। তিনি সেখানে আব্দুল হক বিন খুরাসানকে গভর্নর নিয়োগ করেন, যিনি পরবর্তীতে সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন এবং শহরটি তার ও তার সন্তানদের অধীনে স্থায়ী হয়। মুসা বিন ইয়াহইয়া কাবিস দখল করেন এবং এর শাসক মুইজ বিন মুহাম্মদ আল-সানহাজি তার বশ্যতা স্বীকার করেন, পরবর্তীতে তার ভাই ইব্রাহিমও একই পথ ধরেন। এর ফলে বনু বাদিসদের রাজত্ব বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ে এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়। ৪৫৪ হিজরি সালে মুইজ মৃত্যুবরণ করেন এবং তার মৃত্যুর পর তার পুত্র তামীম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু আরবরা আফ্রিকা ভূখণ্ডে তার ওপর জয়ী হয়, ফলে শহরের প্রাচীরবেষ্টিত এলাকা ছাড়া তার আর কোনো কর্তৃত্ব অবশিষ্ট ছিল না"
(২)।
তবে তিনি তাদের হারানো রাজ্যের অধিকাংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন এবং সাফাক্স, সুসা, তিউনিস ও কাইরুয়ান পুনরায় নিজ অধিকারে নিয়ে আসেন।
কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই এবং রাজ্যের কিছু অংশ ফিরে পাওয়ার পর পরই খ্রিস্টানরা অতর্কিত অভিযান চালায়, যার ফলে ৪৮০ হিজরি সালে সানহাজি রাষ্ট্রের রাজধানী মাহদিয়া তাদের হস্তগত হয়। তামীম তাদের প্রচুর ধনসম্পদ প্রদান না করা পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরে যায়নি। তামীম তার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধার এবং তার অধীনস্থ কর্মচারীদের দমনের জন্য ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, যারা সুযোগ পেলেই স্বাধীনতা ঘোষণার চেষ্টায় থাকত। অবশেষে ৫০১ হিজরি সালে তার মৃত্যু হয়
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وتولى من بعده ابنه يحيى الذي رجع إلى طاعة الفاطميين ولم يبق في الملك طويلًا إذ توفي سنة (509 هـ)
(1).
فتولى من بعده ابنه علي بن يحيى، ولكن ملكه أيضًا لم يدم طويلًا إذ توفي سنة (515 هـ)
(2).
فتولى ابنه الحسن، وهو صغير لم يبلغ الحلم، وفي عهده هاجم رجار النصراني حاكم صقلية المهدية وحاصرها، ولكنه فشل في الاستيلاء عليها، فرجع عنها.
ولكنه عاد مرة أخرى ونشب مع الحسن في قتال استطاع النصارى فيها أن يدخلوا المهدية، ويستولوا عليها، وذلك سنة (543 هـ) بعد وفاة المازري بسبع سنوات
(3).
ودخلت بعد ذلك المهدية وغالب مدن إفريقية تحت الحكم النصراني حتى جاء عبد المؤمن بن علي زعيم الموحدين واسترجعها من النصارى، وسيطر عليها، ودخلت إفريقية تحت حكم الدولة الموحدية.
هذه مجمل الأحداث السياسية في عهد المازري في إفريقية، وهي - ولا شك - مرحلة حرجة مليئة بالفتن والاضطرابات وعدم الاستقرار السياسي مما سيكون له الأثر الواضح على حياة المازري الشخصية والعلمية ولا شك.
--------------------------------------------
এরপর ক্ষমতা গ্রহণ করেন তার পুত্র ইয়াহইয়া, যিনি ফাতেমীয়দের আনুগত্যে ফিরে গিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকেননি, কারণ তিনি ৫০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(১).
এরপর ক্ষমতা গ্রহণ করেন তার পুত্র আলী বিন ইয়াহইয়া, কিন্তু তার রাজত্বকালও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ তিনি ৫১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২).
এরপর তার পুত্র আল-হাসান ক্ষমতা গ্রহণ করেন, যিনি ছিলেন অল্পবয়স্ক এবং তখনও সাবালক হননি। তার আমলে সিসিলির খ্রিস্টান শাসক রজার মাহদিয়া আক্রমণ করেন এবং তা অবরোধ করেন, কিন্তু তিনি সেটি দখলে নিতে ব্যর্থ হন এবং ফিরে যান।
তবে তিনি পুনরায় ফিরে আসেন এবং আল-হাসানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এতে খ্রিস্টানরা মাহদিয়ায় প্রবেশ করতে এবং তা দখল করতে সক্ষম হয়। এটি ঘটেছিল ৫৪৩ হিজরিতে, আল-মাজারির মৃত্যুর সাত বছর পর
(৩).
এরপর মাহদিয়া এবং ইফরিকার অধিকাংশ শহর খ্রিস্টান শাসনাধীনে চলে যায়, যতক্ষণ না মুওয়াহহিদুন নেতা আব্দুল মুমিন বিন আলী আসেন এবং খ্রিস্টানদের কাছ থেকে তা পুনরুদ্ধার করেন ও এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে ইফরিকা মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্রের শাসনাধীনে আসে।
ইফরিকার বুকে আল-মাজারির যুগের রাজনৈতিক ঘটনাবলির সারসংক্ষেপ এটিই। নিঃসন্দেহে এটি ছিল ফিতনা, বিশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পূর্ণ একটি সংকটময় সন্ধিক্ষণ, যা আল-মাজারির ব্যক্তিগত ও জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল—এতে কোনো সন্দেহ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المطلب الثاني: الحالة العلمية:لقد عاش المازري في النصف الأخير من القرن الخامس، والثلث الأول من السادس.
وقد رأينا في الحالة السياسية الأحداث المعاصرة لحياته من حروب واضطرابات تعرضت لها بلاده من الأعراب والنصارى، مما يترتب عليه تأثير على الحياة العلمية في تلك البلاد. إضافة إلى أن حياته كانت تحت ظل دولة ترضخ للحكم الفاطمي الشيعي وما يضمره من عداء للسنة والقائمين بها والمنافحين عنها، ولذا أثرت هذه الظروف على الحياة العلمية.
فالغموض الذي صاحب حياة المازري خصوصًا في نشأته الأولى، فلم يُعرف من شيوخه سوى أربعة - بعد البحث والتحري - رغم كثرتهم، وهو العلم البارز - أثر من آثار هذا التأثير.
فغالب تأثير الحياة السياسية في عصره على الحياة العلمية ينصب في ضياع ذلك التراث العلمي الضخم للعلماء في ذلك العصر، وقلة المعلومات عنهم، والمازري - وهو العلم البارز - مثل لذلك بغموض حياته وضياع معظم مؤلفاته.
ولكن رغم هذه الظروف الصعبة، والحملة الشيعية الظالمة إلَّا أن العلماء لم يتخلَّو عن واجبهم ولم يغفلوا عمَّا أُنيط بهم من نصرة الدين، ونصيحة الأمة، والقيام بواجب العلم، بل كلما ازدادت المحنة عظمت المهمة، فلم تقتصر على التدريس فقط في حلق العلم ومجالس الذكر، وهو ما حدث من علماء إفريقية في هذا العصر، بل قاوموا الدعوة الفاطمية الشيعية، رغم دخولهم راغمين تحت سلطانها.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা:আল-মাযারি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শেষার্ধে এবং ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম এক-তৃতীয়াংশে জীবন অতিবাহিত করেছেন।
আমরা রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোচনায় তাঁর জীবনের সমসাময়িক ঘটনাবলি দেখেছি, যেমন তাঁর দেশ বেদুইন আরব এবং খ্রিষ্টানদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হয়েছিল, যার ফলে সেই অঞ্চলের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এছাড়া তাঁর জীবন অতিবাহিত হয়েছিল এমন এক রাষ্ট্রের অধীনে যা শিয়া ফাতেমীয় শাসনের বশ্যতা স্বীকার করেছিল। সুন্নাত এবং এর অনুসারী ও রক্ষকদের প্রতি এই শাসকগোষ্ঠী যে চরম বিদ্বেষ পোষণ করত, তার ফলে এই পরিস্থিতি জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
আল-মাযারির জীবনের সাথে বিশেষ করে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের যে অস্পষ্টতা জড়িয়ে আছে—যেমন তাঁর অসংখ্য উস্তাদ থাকা সত্ত্বেও ব্যাপক অনুসন্ধান ও তদন্তের পর মাত্র চারজনের নাম জানা যায়, অথচ তিনি একজন অতি প্রখ্যাত আলেম ছিলেন—তা মূলত এই পরিস্থিতিরই প্রভাব।
মূলত তাঁর যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের ওপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির অধিকাংশ প্রভাবই পরিলক্ষিত হয় সেই যুগের আলেমদের বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের সম্পর্কে তথ্যের স্বল্পতার মাঝে। আল-মাযারি—যিনি একজন প্রখ্যাত আলেম ছিলেন—তাঁর জীবনের অস্পষ্টতা এবং তাঁর অধিকাংশ রচনার বিলুপ্তি এরই একটি উদাহরণ।
তবে এই কঠিন পরিস্থিতি এবং শিয়াদের যুলুমপূর্ণ প্রচারণা সত্ত্বেও উলামায়ে কেরাম তাঁদের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হননি এবং দ্বীনের সাহায্য, উম্মাহর কল্যাণ কামনা এবং ইলমী দায়িত্ব পালনের যে গুরুভার তাঁদের ওপর অর্পিত হয়েছিল সে বিষয়ে তাঁরা উদাসীন হননি। বরং ফিতনা ও বিপদ যত বেড়েছে, তাঁদের দায়িত্ববোধ তত মহিমান্বিত হয়েছে। তাঁদের কাজ কেবল ইলমী হালকা এবং যিকিরের মজলিসে পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না—যা এই যুগে আফ্রিকার আলেমদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল—বরং তাঁরা ফাতেমীয় শিয়া দাওয়াতের প্রতিরোধ করেছিলেন, যদিও তাঁরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাদের শাসনের অধীনে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال الشيخ محمد الشاذلي النيفر: ويرجع تستر الفاطميين إلى شدة شكيمة الأفارقة، فإنهم لم يقبلوا بالسنة بدلًا، كلفهم ذلك ما كلفهم، ومع أنهم لاقوا شدة وبلاءً كبيرًا من الفاطميين لم تلن لهم قناة ولا رجعوا عن السنة"
(1).
فهم يقومون بواجبهم من نشرٍ للعلم الصحيح، وإحياءٍ للسنة، والأخذ بعامة الأمة إلى ما فيه صلاحهم وإصلاحهم، ولو قدموا حياتهم ثمنًا لذلك.
قال الشيخ النيفر: فمن المقاومة في ابتدائها حين تأسيس الدعوة ما قام به ابن خيرون
(2) فإنه عُذب من أجل أنه سُعى به لدى عبيد الله المهدي
(3) فقُتل رفسًا بأرجل السودان.
ولم يترك فقهاء القيروان أرضهم بل صمدوا عاملين للسنة بكل ما أوتوا من قوة، وقد صرح بصبر أهل القيروان وثباتهم ووقوفهم في وجه الدعوة ابن ناجي
(4) في كتابه "معالم الإيمان"
(5): وجزى الله مشيخة
--------------------------------------------
শায়খ মুহাম্মদ আল-শাধিলি আল-নায়ফার বলেন: "ফাতেমীয়দের আত্মগোপন বা সাবধানতা অবলম্বনের কারণ ছিল আফ্রিকাবাসীদের (উত্তর আফ্রিকাবাসী) চারিত্রিক দৃঢ়তা। কেননা তারা সুন্নাহর পরিবর্তে অন্য কোনো কিছুকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করেনি, এজন্য তাদের যা-ই মূল্য দিতে হোক না কেন। যদিও তারা ফাতেমীয়দের পক্ষ থেকে চরম কঠোরতা ও মহা বিপদের সম্মুখীন হয়েছিল, তবুও তারা দুর্বল হয়ে পড়েনি এবং সুন্নাহ থেকেও বিচ্যুত হয়নি"
(১)।
তারা সঠিক জ্ঞান প্রচার, সুন্নাহর পুনর্জাগরণ এবং সাধারণ উম্মাহকে তাদের কল্যাণ ও সংশোধনের পথে পরিচালিত করার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছিলেন, যদিও এর বিনিময়ে তাদের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছিল।
শায়খ আল-নায়ফার বলেন: "দাওয়াত প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকের প্রতিরোধের একটি উদাহরণ হলো ইবনে খাইরুন
(২) যা করেছিলেন। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর
(৩) কাছে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করার কারণে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং সুদানিদের পায়ের লাথিতে পিষ্ট হয়ে তিনি নিহত হন।"
কায়রাওয়ানের ফকিহগণ তাদের ভূমি ত্যাগ করেননি, বরং তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে সুন্নাহর খেদমতে অটল ছিলেন। ইবনে নাজি
(৪) তার 'মাআলিমুল ইমান'
(৫) গ্রন্থে কায়রাওয়ানবাসীদের ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং ফাতেমীয় দাওয়াতের মোকাবিলায় তাদের অটল অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আল্লাহ শায়খদের প্রতি জাযা দান করুন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القيروان: هذا يموت، وهذا يضرب، وهذا يسجن، وهم صابرون، لا يفرون، ولو فروا لكفرت العامة دفعة واحدة
(1).
فالأحوال السياسية في إفريقية فرضت على العلماء في ذلك الوقت طريقة خاصة في نشر العلم وتبليغه، وهو مقاومة الواقع المفروض من تأثير المذهب الشيعي الذي تدعمه الحكومة، وكذلك مواجهة الأطماع النصرانية التي سيطرت على البلاد القريبة من إفريقية، بل سيطرت أحيانًا على المهدية نفسها.
ولكن لم تكن هذه الظروف لتقضي على العلم، أو تطمس رسمه، قال فرحات الدشراوي: لقد كان المازري في تلك الفترة التي طالت فيها محنة الدولة الصنهاجية مثلًا ساطعًا عن اتصال السند العلمي بإفريقية منذ القرن الأول، بالرغم مما كان ينتاب البلاد من نوائب الفتنة، وشرور الاضطراب السياسي، فلقد استقر فيها الإسلام وترعرعت بربوعها علومه، ونمت به الآداب والمعارف، جيلًا بعد جيل، منذ دخولها في الملة الإسلامية والثقافة العربية، ولم تكن تلك التقلبات السياسية التي ألفتها البلاد قاطعة لأسباب النمو الفكري، والنهضة العلمية، بل إن إفريقية ظلت دارًا خصبة للعلوم الإسلامية، والآداب والمعارف
… فقد عاش المازري وهو صقلي الأصل في عهد كاد يتقلص فيه سلطان الإسلام من بلادنا بخطر النصارى الزاحفين من جهة جنوب إيطاليا وصقلية
… فكأن المازري ظل طيلة حياته - وقد أبى الالتجاء إلى المشرق، وآثر البقاء في بلده والصمود أمام المحنة - برهانًا عن صبر إفريقية على المآسي، وعما يكون بالعلوم والمعارف من العزاء من شرور السياسة واضطراب
--------------------------------------------
কায়রাওয়ান: কেউ মারা যাচ্ছে, কাউকে প্রহার করা হচ্ছে, কাউকে বন্দি করা হচ্ছে, তবুও তারা ধৈর্যশীল, তারা পালিয়ে যাচ্ছে না। যদি তারা পালিয়ে যেত, তবে সাধারণ মানুষ একযোগে কুফরিতে লিপ্ত হতো
(১)।
সেই সময়ে ইফরীকিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলেমদের ওপর ইলম প্রচার ও প্রসারে এক বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে বাধ্য করেছিল। তা ছিল সরকার সমর্থিত শিয়া মাযহাবের প্রভাব থেকে উদ্ভূত বাস্তবতাকে প্রতিরোধ করা, এবং ইফরীকিয়ার নিকটবর্তী দেশগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকারী—এমনকি কখনও কখনও খোদ মাহদিয়া শহরও দখল করে নেওয়া—খ্রিস্টানদের লালসাকে মোকাবিলা করা।
কিন্তু এই পরিস্থিতি ইলমকে মিটিয়ে দিতে বা এর চিহ্ন মুছে ফেলতে সক্ষম হয়নি। ফারহাত আদ-দাশরাওয়ী বলেন: সানহাজিয়া রাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সেই সময়ে আল-মাযেরী ছিলেন প্রথম শতাব্দী থেকে ইফরীকিয়ায় ইলমী সিলসিলা বা পরম্পরা অব্যাহত থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেশটিতে ফিতনার বিপদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার অনিষ্ট জেঁকে থাকা সত্ত্বেও সেখানে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল, এর ইলম চতুর্দিকে বিকশিত হয়েছিল এবং ইসলাম গ্রহণ ও আরবি সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সেখানে সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞান বৃদ্ধি পেয়েছিল। দেশটি যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছিল, তা বৌদ্ধিক বিকাশ এবং বৈজ্ঞানিক জাগরণের পথ রুদ্ধ করতে পারেনি। বরং ইফরীকিয়া ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও প্রজ্ঞার এক উর্বর ভূমি হিসেবেই থেকে গিয়েছিল
… আল-মাযেরী, যিনি বংশগতভাবে সিসিলীয় ছিলেন, তিনি এমন এক যুগে বসবাস করেছিলেন যখন দক্ষিণ ইতালি ও সিসিলি থেকে অগ্রসরমান খ্রিস্টানদের বিপদের কারণে আমাদের ভূখণ্ড থেকে ইসলামের কর্তৃত্ব প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছিল
… আল-মাযেরী তার পুরো জীবনজুড়ে—প্রাচ্যে আশ্রয় নিতে অস্বীকার করে নিজ দেশে অবস্থান করা এবং সংকটের মুখে অটল থাকাকে প্রাধান্য দিয়ে—যেন ইফরীকিয়ার দুঃখ-দুর্দশার ওপর ধৈর্যের এবং রাজনৈতিক অনিষ্ট ও অস্থিরতার মাঝে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়ার এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে রইলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الدول
(1).
والمهدية وهي بلد المازري، كانت بلد علم وعلماء ساعدها على ذلك موقعها على طريق المارين من المغرب إلى المشرق، والعكس، لذا أصبحت فيها حركة علمية متميزة.
قال محمد الهادي العامري: "انتصب أبو عبد الله محمد المازري للتدريس بالمهدية، فأقبل على مدرسته ما لا يحصى ولا يعد، من الرحالة المستهامين بطلب العرفان، أكان ذلك من الأندلس أو المغرب، أو المشرق الإسلامي، فكان ذلك الملتقى العجيب يجمع بين رجال الفكر والعلم من كل صوب وحدب
… وكانت المهدية في تلكم العهود تضج برجال العلم وتزخر بكبار الأدباء وتزدحم بالوافدين عليها"
(2).
وبرز في عصر المازري علماء أعلام سواء بالمغرب أو المشرق، حفلت كتب التراجم بسيرهم، من أشهرهم:
- ابن حزم
(3): المتوفى سنة (456 هـ).
- والبيهقي
(4) المتوفي سنة (458 هـ).
--------------------------------------------
রাষ্ট্রসমূহ
(১)।
মাহদিয়া যা ছিল আল-মাজিরির শহর, তা ছিল ইলম ও ওলামাদের শহর; মাগরিব (পশ্চিম) থেকে মাশরিক (পূর্ব) এবং এর বিপরীতমুখী ভ্রমণকারীদের পথের উপর এর অবস্থান এতে সহায়ক হয়েছিল, ফলে সেখানে এক অনন্য ইলমী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
মুহাম্মদ আল-হাদী আল-আমিরী বলেন: "আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-মাজিরি মাহদিয়াতে পাঠদানের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেন, ফলে জ্ঞান অন্বেষণে ব্যাকুল অগণিত পর্যটক তাঁর মাদরাসায় আসতে শুরু করেন, হোক তাঁরা আন্দালুস, মাগরিব কিংবা ইসলামী মাশরিক থেকে আগত। সেই বিস্ময়কর মিলনস্থলটি প্রতিটি দিক ও অঞ্চল থেকে আসা চিন্তাবিদ ও ওলামাদের একত্রিত করত
… এবং মাহদিয়া সেই যুগে আলেমদের পদচারণায় মুখরিত ছিল, প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের দ্বারা পূর্ণ ছিল এবং সেখানে আগতদের ভিড় উপচে পড়ত"
(২)।
আল-মাজিরির যুগে মাগরিব ও মাশরিক উভয় অঞ্চলে অনেক প্রথিতযশা আলেম প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যাঁদের জীবনীতে জীবনচরিতের গ্রন্থগুলো সমৃদ্ধ হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত হলেন:
- ইবনে হাযম
(৩): মৃত্যু (৪৫৬ হি.)।
- এবং আল-বায়হাকী
(৪) মৃত্যু (৪৫৮ হি.)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
- وابن عبدالبر
(1): المتوفى سنة (463 هـ).
- والواحدي المفسر
(2): المتوفي سنة (468 هـ).
- والجويني
(3): المتوفى سنة (478 هـ).
- والبغوي
(4): المتوفي سنة (516 هـ)
… وغيرهم.
--------------------------------------------
- এবং ইবন আবদিল বার
(১): মৃত্যু বছর (৪৬৩ হি.)।
- এবং মুফাসসির আল-ওয়াহিদী
(২): মৃত্যু বছর (৪৬৮ হি.)।
- এবং আল-জুওয়াইনী
(৩): মৃত্যু বছর (৪৭৮ হি.)।
- এবং আল-বাগাবী
(৪): মৃত্যু বছর (৫১৬ হি.)
… এবং অন্যান্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثاني حياته الشخصيةوفيه تمهيد وثلاثة مطالب:
المطلب الأول: اسمه ونسبه وولادته
المطلب الثاني: نشأته
المطلب الثالث: وفاته
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবনএতে একটি ভূমিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تمهيدإن علمية المازري وشهرته الواسعة لم تشفع لنا في الحصول على ترجمة وافية له، خصوصًا في جانب حياته الشخصية، ذلك أن غالب التراجم التي تحدثت عنه تهتم بالجانب العلمي، وكذلك الدراسات أو الكتابات التي اهتمت بحياته ركزت على حياته العلمية، أي: بعد بروزه وظهوره وشهرته فحفظت لنا تلاميذه ومؤلفاته، وتحدثت عن علمه واجتهاده وما يتعلق بهذه الجوانب. وأمَّا حياته الشخصية من ولادته ونشأته وبداية طلبه للعلم، وشيوخه، فالمعلومات لا تكاد تفي بالغرض في هذا الجانب.
ويكفي أن نعلم أنه لم يذكر أحد ممن ترجم له تاريخ ولادته.
واختلفوا كثيرًا في مكان ولادته ونشأته الأولى، ولم يَذكر غالب من ترتجم له من شيوخه إلَّا اللخمي وابن الصائغ.
ولعل هذا يعود إلى أسباب، منها:
1 - أنه لم ترجم له أحد من تلاميذه الملازمين أو ممن عرفه وعاصره، وأقرب من ترجم له القاضي عياض
(1)، وهو لم يلتق به، ولم يره، وإنما تتلمذ عليه بالإجازة.
2 - الأحداث السياسية المضطربة في عصره، خصوصًا في بلده وما جاوره، فالنصارى قد استولوا على صقلية بلاد المازري الأصلية سنة
--------------------------------------------
উপক্রমণিকাআল-মাযিরির পাণ্ডিত্য এবং তাঁর ব্যাপক খ্যাতি তাঁর সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী লাভের জন্য যথেষ্ট হয়নি, বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রে। এর কারণ হলো, তাঁর সম্পর্কে লিখিত অধিকাংশ জীবনীই কেবল তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একইভাবে তাঁর জীবন নিয়ে রচিত গবেষণা বা লেখাগুলোও তাঁর জ্ঞানগর্ভ জীবনের ওপরই আলোকপাত করেছে; অর্থাৎ তাঁর উত্থান, আত্মপ্রকাশ ও খ্যাতির পরবর্তী সময়গুলো, যা আমাদের জন্য তাঁর ছাত্র ও রচনাবলি সংরক্ষণ করেছে এবং তাঁর ইলম, ইজতিহাদ ও এসব সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, ইলম অর্জনের সূচনা এবং তাঁর উস্তাদদের সম্পর্কে ব্যক্তিগত জীবনের তথ্যগুলো এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
এটা জানাই যথেষ্ট যে, যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন তাদের কেউই তাঁর জন্মের তারিখ উল্লেখ করেননি।
তাঁর জন্মস্থান এবং প্রাথমিক বেড়ে ওঠার স্থান নিয়েও তাঁরা অনেক মতভেদ করেছেন। এবং তাঁর জীবনী লেখকদের অধিকাংশই আল-লাখমি ও ইবনুস সায়িগ ছাড়া তাঁর উস্তাদদের মধ্য থেকে আর কারো কথা উল্লেখ করেননি।
সম্ভবত এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে আছে:
১ - তাঁর সার্বক্ষণিক সাহচর্যে থাকা কোনো ছাত্র কিংবা তাঁকে চিনতেন এমন কোনো সমসাময়িক ব্যক্তি তাঁর জীবনী লিখেননি। তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী যিনি তাঁর জীবনী লিখেছেন তিনি হলেন কাজি আইয়াদ
(১), অথচ তাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি এবং তিনি তাঁকে দেখেননি; বরং তিনি ইজাজতের (অনুমতিপত্রের) মাধ্যমে তাঁর কাছে ইলম অর্জন করেছেন।
২ - তাঁর সমসাময়িক যুগের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে তাঁর নিজের দেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে। কেননা খ্রিস্টানরা আল-মাযিরির পৈতৃক ভূমি সিসিলি দখল করে নিয়েছিল... সালে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(464 هـ) وما تبع ذلك من طمعهم في بقية البلاد المجاورة.
وهذا ما حصل إذا احتلوا المهدية عاصمة الدولة الصنهاجية بعد القيروان سنة كثير من العلماء وتفرقهم في البلاد، إذ هذا الخوف والحياة المضطربة لا تساعد على تدوين تراجم لهؤلاء العلماء في ذلك البلد، وما دون من ذلك فهو عرضة للضياع والتلف في هذه الاضطرابات، إضافة إلى تفرق العلماء أو هجرتهم، أو اختفائهم مما أدى إلى غموض حياتهم.
قال الدكتور الحسين شواط عن ذلك الزمن وأثره في شح مصادر ترجمة المازري: "فاتصلت الحروب، وعمَّت الفوضى، وتجرأ العدو على بلاد إفريقية بعد أن افتكَّ صقلية، ووصل الأمر إلى استيلائه على المهدية نفسها عاصمة البلاد، بعد خراب القيروان، وضعفت الحياة العلمية، وتفرَّق أكثر العلماء في الأمصار، ولم تتهيأ أسباب التدوين لتواريخ من بقي بها من أهل العلم، ويسهل على الناظر في كتب طبقات الأفارقة مثل "شجرة النور الزكية" و"معالم الإيمان في معرفة أهل القيروان" أن يلاحظ قلة العلماء في طبقة المازري، وفي الطبقة التي قبله والطبقة التي بعده، ولم تعد الحياة العلمية لتلك الربوع إلَّا بعد سنة 555 هـ"
(1).
المطلب الأول: اسمه ونسبه وولادته:هو الإمام العلم العلَّامة أبو عبد الله محمد بن علي بن عمر
(2)--------------------------------------------
(৪৬৪ হিজরি) এবং এর পরবর্তীকালে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অবশিষ্টাংশের প্রতি তাদের লালসা।
আর এটিই ঘটেছিল যখন তারা কায়রোয়ানের পর ৪৬৪ হিজরিতে সানহাজি রাষ্ট্রের রাজধানী আল-মাহদিয়া দখল করে নেয়, যার ফলে অনেক আলেম বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েন। কারণ এই ভীতি এবং অস্থিতিশীল জীবন সেই দেশে এই আলেমদের জীবনী লিপিবদ্ধ করার অনুকূলে ছিল না। আর যা কিছু লিপিবদ্ধ হয়েছিল, তা এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া বা ধ্বংস হওয়ার মুখে পড়েছিল। এর সাথে আলেমদের বিচ্ছিন্ন হওয়া, হিজরত করা বা আত্মগোপন করার বিষয়টি যুক্ত হয়ে তাদের জীবনকে অস্পষ্ট করে দেয়।
ডক্টর আল-হুসাইন শাওয়াত সেই সময়কাল এবং আল-মাযিরীর জীবনী সংক্রান্ত উৎসের স্বল্পতার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে বলেন: "অবিরাম যুদ্ধ চলতে থাকে, বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং সিসিলি ছিনিয়ে নেওয়ার পর শত্রু ইফ্রিকিয়ার দেশগুলোর ওপর দুঃসাহস দেখায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কায়রোয়ান ধ্বংসের পর তারা দেশের রাজধানী আল-মাহদিয়াই দখল করে নেয়। ইলমি জীবন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অধিকাংশ আলেম বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েন। যারা সেখানে অবশিষ্ট ছিলেন সেইসব আহলে ইলমের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার পরিবেশ তৈরি হয়নি। উত্তর আফ্রিকার আলেমদের জীবনী গ্রন্থসমূহ যেমন 'শাজারাতুন নূর আল-জাকিয়্যাহ' এবং 'মাআলিমুল ইমান ফি মারিফাতি আহলিল কায়রোয়ান' এর প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তির পক্ষে আল-মাযিরীর স্তরে এবং তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী স্তরের আলেমদের স্বল্পতা লক্ষ্য করা সহজ। আর ৫৫৫ হিজরির আগে সেই জনপদগুলোতে ইলমি জীবন ফিরে আসেনি"
(১)।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশ পরিচয় এবং জন্ম:তিনি হলেন ইমাম, প্রখ্যাত জ্ঞানতাপস আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন উমর
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المازري
(1) المالكي.
لم ينص أحدٌ على تاريخ ولادته، لكن اتفقوا على أنه تُوفي سنة (536 هـ) وحدَّد أكثرهم عمره حين وفاته بثلاث وثمانين سنة، فتكون ولادته بناءً على ذلك سنة (453 هـ).
وقد ذكر الأستاذ حسن حسني عبد الوهاب
(2) أن ولادته سنة (443 هـ)
(3).
وقد ردَّ ذلك الشيخ النيفر فقال: "ولم أظفر إلى اليوم بمستند يدعم ما جاء به، إذ لم يذكر أحد أنه عاش نيفًا وتسعين سنة حتى إن ما خالف فيه
--------------------------------------------
আল-মাযারি
(১) আল-মালিকি।
তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে কেউ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তবে জীবনীকারগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তিনি ৫৩৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁদের অধিকাংশ তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স তিরাশি বছর বলে নির্ধারণ করেছেন, সেই অনুযায়ী তাঁর জন্ম ৪৫৩ হিজরি সনে।
উস্তায হাসান হুসনি আব্দুল ওয়াহহাব
(২) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম ৪৪৩ হিজরি সনে
(৩)।
শাইখ আন-নাইফার এটি খণ্ডন করে বলেছেন: "তাঁর এই বক্তব্যের সপক্ষে কোনো দলিল আজ পর্যন্ত আমার হস্তগত হয়নি, কেননা কেউ উল্লেখ করেননি যে তিনি নব্বই বছরেরও বেশি সময় জীবিত ছিলেন, এমনকি তিনি যে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউল কুরতুবী ওয়াল মাযিরী আল-ইতিকাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ابن قنفذ
(1) غيره من أنه قارب التسعين - أي توفي في حدود سبع أو ثمان وثمانين - لا يوافق ما ذكره الأستاذ عبد الوهاب، فالمصادر كلها مطبقة على أنه لم يبلغ التسعين، فضلًا عن تجاوزها، ولهذا لا يصح أنه ولد سنة 443 هـ)
(2).
وأمَّا مكان ولادته فهو موضع اختلاف بين المترجمين، فذهب البعض إلى أنه ولد في مازر؛ لأنه نسب إليها، ومن ترجموا له قالوا: أصله من مازر
(3)، أو: الساكن بالمهدية
(4)، أو مستوطن المهدية
(5). مما يدل على أنه انتقل إليها ولم يكن من أهلها، وهو مفهوم كلام ابن فرحون
(6)، وإليه مال النيفر حيث قال: "ولا يمكن أن يكون من مواليد المهدية لما ذكر عن ابن فرحون وعياض وغيرهما، ثم إنه ليس هناك ما يدل على أنه من مواليد إفريقية، بل الذي يدل عليه كلام ابن فرحون وعياض وغيرهما أنه من مواليد مازر، حيث قال: أصله من مازر، ولو كان أبوه هو المهاجر لقال: أصل أبيه من مازر، وكذلك لم يقل القاضي عياض واستوطن أبوه المهدية، وهو أعرف الناس به للمعاصرة"
(7).
--------------------------------------------
ইবনে কুনফুদ
(১) এবং অন্যদের এই বর্ণনা যে, তিনি নব্বইয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন—অর্থাৎ তিনি সাতাশি বা আটাশি হিজরি নাগাদ মৃত্যুবরণ করেন—তা উস্তাদ আব্দুল ওয়াহহাবের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ সমস্ত উৎসসমূহ এ বিষয়ে একমত যে তিনি নব্বই বছর বয়সে পৌঁছাননি, তা অতিক্রম করা তো দূরের কথা; আর এই কারণেই তিনি ৪৪৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে যে মত রয়েছে তা সঠিক নয়
(২)।
আর তাঁর জন্মস্থানের বিষয়টি জীবনীকারদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়। কেউ কেউ মনে করেন যে তিনি মাজারে জন্মগ্রহণ করেছেন; কারণ তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধ সেদিকেই করা হয়। আর যাঁরা তাঁর জীবনী লিখেছেন তাঁরা বলেছেন: তাঁর আদি নিবাস মাজার থেকে
(৩), অথবা: মাহদিয়ার অধিবাসী
(৪), অথবা মাহদিয়ায় বসতি স্থাপনকারী
(৫)। যা নির্দেশ করে যে তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন এবং সেখানকার আদি বাসিন্দা ছিলেন না। আর এটিই ইবনে ফারহুনের বক্তব্যের মর্মার্থ
(৬), এবং আন-নাইফার এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "ইবনে ফারহুন, ইয়াদ এবং অন্যদের বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর মাহদিয়ায় জন্মগ্রহণ করা সম্ভব নয়। তদুপরি, এমন কোনো প্রমাণ নেই যা নির্দেশ করে যে তিনি আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেছেন, বরং ইবনে ফারহুন, ইয়াদ এবং অন্যদের বক্তব্য যা নির্দেশ করে তা হলো তিনি মাজারে জন্মগ্রহণ করেছেন; কেননা তিনি বলেছেন: 'তাঁর আদি নিবাস মাজার থেকে'। যদি তাঁর পিতা হিজরতকারী হতেন তবে তিনি বলতেন: 'তাঁর পিতার আদি নিবাস মাজার থেকে'। একইভাবে কাদী ইয়াদও এটি বলেননি যে তাঁর পিতা মাহদিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন, অথচ সমসাময়িক হওয়ার কারণে তিনি তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন"
(৭)।
--------------------------------------------