(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: -)
آراء ابن حجر الهيتمي الاعتقادية (عرض وتقويم في ضوء عقيدة السلف) القسم: العقيدة
الكتاب: آراء ابن حجر الهيتمي الاعتقادية (عرض وتقويم في ضوء عقيدة السلف)
المؤلف: محمد بن عبد العزيز الشايع
أصل الكتاب: رسالة ماجستير - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
الناشر: مكتبة دار المنهاج للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1427 هـ
عدد الصفحات: 815
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442
ইবনে হাজার আল-হাইতামীর আকিদাগত মতাদর্শ (সালাফদের আকিদার আলোকে উপস্থাপন ও মূল্যায়ন) বিভাগ: আকিদা
কিতাব: ইবনে হাজার আল-হাইতামীর আকিদাগত মতাদর্শ (সালাফদের আকিদার আলোকে উপস্থাপন ও মূল্যায়ন)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-শায়া
কিতাবের মূল: মাস্টার্স থিসিস - ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারুল মিনহাজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১৫
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة منشورات دار المنهاج للنشر والتوزيع (27)
آرَاءُ ابْن حَجَر الهَيْتَمِي الاعتقادية
عَرْضٌ وَتَقْويم فِي ضَوْءِ عَقِيدَةِ السَّلَف
تَأْلِيف
مُحَمَّد بْنِ عَبْدِ العَزِيزِ الشَّايع
مكتبة دار المنهاج، للنشر والتوزيع
দারুল মিনহাজ প্রকাশনী ও বিতরণী ধারাবাহিকের প্রকাশনা (২৭)
ইবনে হাজার আল-হায়তামীর আকিদাগত অভিমতসমূহ
সালাফদের আকিদার আলোকে একটি উপস্থাপন ও মূল্যায়ন
রচনায়
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আশ-শায়ে'
মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ, প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
أصل هذا الكتاب رسالة ماجستير تقدم بها الباحث إلى قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية وقد أُجيزت الرسالة بتقدير ممتاز مع التوصية بطباعتها وتداولها بين الجامعات
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এই গ্রন্থটির মূল ভিত্তি হলো একটি মাস্টার্স থিসিস, যা গবেষক ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আকীদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগে পেশ করেছিলেন। থিসিসটি চমৎকার (মুমতাজ) গ্রেডসহ অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি মুদ্রণ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিনিময়ের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ৩)
آراء ابن حجر الهيتمي الاعتقادية
ইবনে হাজার আল-হায়তামির বিশ্বাসগত মতামতসমূহ
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ৪)
ح مكتبة دار المنهاج للنشر والتوزيع، 1427 هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
الشايع، محمد بن عبد العزيز بن محمد
آراء ابن حجر الهيتمي الاعتقادية عرض وتقويم في ضوء عقيدة السلف. محمد بن عبد العزيز بن محمد الشايع.-
الرياض، 1427 هـ
824 ص؛ 17 × 24 سم.- (منشورات مكتبة دار المنهاج؛ 27)
ردمك: 4 - 9 - 9661 - 9960
1 - العقيدة الإسلامية أ- العنوان ب- السلسلة
ديوي 240
4104/ 1427
جميع حقوق الطبع محفوظة لدار المنهاج بالرياض
الطبعة الأولى
1427 هـ
حقوق الطبع محفوظة 1427 هـ، لا يسمح بإعادة نشر هذا الكتاب أو أي جزء منه بأي شكل من الأشكال أو حفظه ونسخه في أي نظام ميكانيكي أو إلكتروني يمكن من استرجاع الكتاب أو ترجمته إلى أي لغة أخرى دون الحصول على إذن خطي مسبق من الناشر.
مكتبة دار المنهاج
للنشر والتوزيع
المملكة العربية السعودية - الرياض
المركزي الرئيسي -طريق الملك فهد- شمال الجوازات
هاتف 4065553 - فاكس 4083698 - ص ب 5192 الرياض 11553
الفروع: طريق خالد بن الوليد (إنكاس سابقًا) ت 2322095
طريق الأمير سعد بن عبد الرحمن (مخرج 15) ت 4456229
المدينة النبوية -طريق سلطانة ت 8467999/ 04
مكة المكرمة- الشاميّة- ت 5730980/ 02
দার আল-মিনহাজ প্রকাশনী ও পরিবেশনী লাইব্রেরি, ১৪২৭ হিজরি
প্রকাশনা চলাকালীন কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং
আল-শায়ি, মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ
ইবনে হাজার আল-হাইতামীর আকিদাগত মতামত: সালাফদের আকিদার আলোকে উপস্থাপন ও মূল্যায়ন। মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-শায়ি।-
রিয়াদ, ১৪২৭ হিজরি
৮২৪ পৃষ্ঠা; ১৭ × ২৪ সেমি.- (দার আল-মিনহাজ লাইব্রেরি প্রকাশনা; ২৭)
আইএসবিএন: ৪ - ৯ - ৯৬৬১ - ৯৯৬০
১ - ইসলামী আকিদা ক- শিরোনাম খ- সিরিজ
ডিউই ২৪০
৪১০৪/ ১৪২৭
রিয়াদস্থ দার আল-মিনহাজের জন্য সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৭ হিজরি
মুদ্রণ স্বত্ব সংরক্ষিত ১৪২৭ হিজরি, প্রকাশকের পূর্ব লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এই বই বা এর কোনো অংশ কোনো রূপেই পুনঃপ্রকাশ করা অথবা কোনো যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ বা কপি করা যা থেকে বইটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বা অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা অনুমোদিত নয়।
দার আল-মিনহাজ প্রকাশনী ও পরিবেশনী লাইব্রেরি
সৌদি আরব সাম্রাজ্য - রিয়াদ
প্রধান কেন্দ্র - কিং ফাহাদ রোড - জাওয়াজাত (পাসপোর্ট অফিস) এর উত্তরে
টেলিফোন ৪০৬৫৫৫৩ - ফ্যাক্স ৪০৮৩৬৯৮ - পোস্ট বক্স ৫১৯২ রিয়াদ ১১৫৫৩
শাখাগুলো: খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ রোড (পূর্বের ইনকাস) টেলিফোন ২৩২২০৯৫
প্রিন্স সাদ বিন আব্দুল রহমান রোড (এক্সিট ১৫) টেলিফোন ৪৪৫৬২২৯
মদীনা নববী - সুলতানা রোড টেলিফোন ৮৪৬৭৯৯৯/ ০৪
মক্কা মুকাররামা - আল-শামিয়া - টেলিফোন ৫৭৩০৯৮০/ ০২
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةوتشتمل على:
أ- أهمية الموضوع، وأسباب اختياره.
ب- الدراسات السابقة.
ج- خطة البحث.
د- منهج البحث.
ভূমিকাএবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
ক- বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ।
খ- পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ।
গ- গবেষণা পরিকল্পনা।
ঘ- গবেষণা পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة
إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].
أما بعد:
فإن أحسن الحديث كلام الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة
(1).
--------------------------------------------
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়ে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর নজরদারীকারী (১)} [নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল (৭১)} [আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অত:পর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ৮)
وبعد: فإن علم التوحيد أشرف العلوم وأفضلها، وأرفعها مكانة وأجلها؛ إذ شرف العلم بشرف المعلوم، ولا أشرف من توحيد الله تعالى ومعرفة ما يجب له من الأسماء الحسنى والصفات العلى، وإدراك حقوقه تعالى على عباده، والالتزام بذلك علمًا وعملًا، فإن العبد كلما كان بهذا أعرف وله أتبع كان إلى ربه أقرب، وبهذا تنال النجاة والفلاح والسعادة في الدنيا والآخرة.
ولما كان من فضل الله عليّ أن جعلني أحد طلاب الدراسات العليا بقسم العقيدة والمذاهب المعاصرة لمرحلة الماجستير؛ اخترت الكتابة في موضوع "آراء ابن حجر الهيتمي الاعتقادية، عرض وتقويم في ضوء عقيدة السلف"، بعد استخارة الله تعالى، واستشارة مشايخي الفضلاء الذين أشاروا علي بتسجيله والكتابة فيه.
أسباب اختيار الموضوع:ومما دفعني لاختيار هذا الموضوع ورغبني فيه، ما يلي:
1 - أهمية دراسة الأعلام المشهورين وآرائهم الاعتقادية، وعظم الفائدة المرجوة من ذلك؛ فإن البحث في آراء هؤلاء الأعلام يفيد الباحث من حيث قراءته الكتب الكثيرة في الفنون المختلفة، ودراسته لأغلب مسائل العقيدة من جهة، ويفيد الباحثين من حيث جمع آراء هؤلاء الأعلام الاعتقادية المتناثرة في كتبهم وتمحيصها من جهة أخرى.
2 - أهمية دراسة آراء ابن حجر الهيتمي الاعتقادية على الخصوص ويتجلى ذلك في أمور:
--------------------------------------------
এরপর: নিশ্চয়ই তাওহীদ শাস্ত্র হলো সকল শাস্ত্রের মধ্যে অধিক সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ, এবং মর্যাদার দিক থেকে সুউচ্চ ও মহিমান্বিত; কারণ বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের ওপরই শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে। আর আল্লাহ তাআলার তাওহীদ এবং তাঁর জন্য অবধারিত সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তাঁর বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর অধিকার অনুধাবন করা ও ইলম ও আমলের মাধ্যমে তা আঁকড়ে ধরার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ আর কিছু নেই। কেননা বান্দা এ বিষয়ে যত বেশি জ্ঞান লাভ করবে এবং যত বেশি তা অনুসরণ করবে, সে তার রবের তত বেশি নিকটবর্তী হবে। এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তি, সফলতা ও সৌভাগ্য অর্জিত হয়।
যেহেতু আমার ওপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ এই যে, তিনি আমাকে মাস্টার্স পর্যায়ে আকিদা ও সমসাময়িক মতবাদ বিভাগের উচ্চতর শিক্ষার একজন শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন; তাই আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করার পর এবং আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদগণের সাথে পরামর্শ করার পর—যাঁরা আমাকে এই বিষয়টি নিবন্ধন করতে ও এতে লিখতে পরামর্শ দিয়েছেন—গবেষণার জন্য "ইবনে হাজার আল-হাইতামী-র আকিদাগত মতসমূহ: সালাফদের আকিদার আলোকে উপস্থাপন ও মূল্যায়ন" বিষয়টি নির্বাচন করেছি।
বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:যে বিষয়গুলো আমাকে এই বিষয়টি নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ ও আগ্রহী করেছে, তা হলো নিম্নরূপ:
১ - প্রখ্যাত আলেমগণ ও তাঁদের আকিদাগত মতসমূহ অধ্যয়নের গুরুত্ব এবং তা থেকে প্রত্যাশিত মহা উপকারিতা; কারণ এসব বরেণ্য ব্যক্তিত্বের মতামতের ওপর গবেষণা করা একদিকে গবেষককে বিভিন্ন বিষয়ের অনেক কিতাব পড়ার এবং আকিদার অধিকাংশ মাসআলা অধ্যয়ন করার সুযোগ করে দেয়, আর অন্যদিকে তাঁদের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আকিদাগত মতসমূহ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে অন্যান্য গবেষকদেরও উপকৃত করে।
২ - বিশেষত ইবনে হাজার আল-হাইতামী-র আকিদাগত মতসমূহ অধ্যয়নের গুরুত্ব, যা কতিপয় বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ৯)
أ- مكانته العلمية فهو من كبار أعلام الشافعية المتأخرين وأحد المحققين لمذهبهم وله اليد الطولى في تأليف كثير من الكتب التي لا تزال معتمدة عندهم، وأقواله تحظى بالقبول لديهم ولدى غيرهم من أتباع المذاهب الأخرى.
ب- كثرة مصنفاته وتنوع فنونها، حيث أربت على المائة والعشرين؛ طبع منها نحو الخمسين والباقي ما بين مخطوط ومفقود، وقد ملأها بكثير من آرائه الاعتقادية التي خالف فيها منهج السلف؛ مما يحتم بيانها والتحذير منها، ومناقشته فيها.
ج- أنه يعتبر من الأشاعرة المتأخرين الذين يجمعون بين التمشعر والتصوف في آن واحد؛ ولهذا فإن دراسة آرائه تعني الرد على الأشاعرة والصوفية، وتمييز ما أدخله من آراء المتصوفة على عقائد الأشاعرة.
د- أنه يعد من حاملي لواء بعض البدع العملية وداعيًا إليها كالتوسل الممنوع، وشد الرحال إلى القبور، والاحتفال بالمولد النبوي وغيرها؛ مما جعله مرجعًا للقبورية والمتصوفة المتأخرين.
هـ- أنه على جلالته العلمية إلا أنه كان له موقف معاد لبعض أئمة السلف كشيخ الإسلام ابن تيمية والعلامة ابن القيم، فقد أكثر من الطعن فيهما والتقول عليهما، فلعل في هذا البحث دفاعًا عن هؤلاء الأعلام وانتصارًا لهم.
3 - أن هذا الموضوع لم يتناوله أحد بالبحث -حسب علمي-.
الدراسات السّابقة:لم يتناول أحد بالبحث -حسب علمي- آراء ابن حجر الهيتمي الاعتقادية على وجه التفصيل، ولكن هناك دراسات تخدم البحث يمكن تقسيمها إلى قسمين:
القسم الأول: دراسات تتعلق بالمسائل التي اختلف فيها ابن حجر مع شيخ الإسلام ابن تيمية سواء كانت عقدية أو فقهية:
والكتاب الوحيد في ذلك "جلاء العينين في محاكمة الأحمدين" تأليف السيد نعمان خير الدين الشهير بابن الألوسي البغدادي.
ক- তাঁর ইলমি মর্যাদা: তিনি পরবর্তী যুগের শাফিয়ী মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম এবং তাঁদের মাযহাবের একজন মুহাক্কিক (গবেষক)। অনেক কিতাব রচনায় তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে যা আজও তাঁদের নিকট নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। তাঁর বক্তব্যগুলো তাঁদের নিকট এবং অন্যান্য মাযহাবের অনুসারীদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।
খ- তাঁর রচনার আধিক্য ও বিষয়ের বৈচিত্র্য: তাঁর রচিত কিতাবের সংখ্যা একশত বিশের অধিক; এর মধ্যে প্রায় পঞ্চাশটি মুদ্রিত হয়েছে এবং বাকিগুলো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে অথবা হারিয়ে গেছে। তিনি এই কিতাবগুলোকে তাঁর এমন অনেক আকিদাগত মতামতে পূর্ণ করেছেন যা সালাফদের মানহাজের পরিপন্থী; যার ফলে সেগুলো স্পষ্ট করা, সে বিষয়ে সতর্ক করা এবং তা নিয়ে আলোচনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
গ- তাঁকে পরবর্তী যুগের এমন আশআরীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয় যারা একই সাথে আশআরী মতবাদ ও তাসাউফকে একত্রিত করেছেন। একারণে তাঁর মতামতগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করার অর্থ হলো আশআরী ও সূফীবাদের খণ্ডন করা এবং আশআরীদের আকিদার মধ্যে তিনি সূফীদের যেসকল মতবাদ প্রবেশ করিয়েছেন তা পৃথক করা।
ঘ- তাঁকে কিছু আমলি বিদআতের পতাকাবাহী এবং সেগুলোর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে গণ্য করা হয়, যেমন—নিষিদ্ধ উসিলা গ্রহণ, কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা, মিলাদুন্নবী উদযাপন ইত্যাদি; যা তাঁকে পরবর্তী যুগের কবরপূজারী ও সূফীদের নিকট একটি প্রধান মراجع বা সূত্রে পরিণত করেছে।
ঙ- তাঁর ইলমি উচ্চমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও সালাফদের কিছু ইমামের প্রতি তাঁর শত্রুতাভাবাপন্ন অবস্থান ছিল, যেমন—শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম। তিনি তাঁদের প্রতি অনেক অপবাদ দিয়েছেন এবং তাঁদের নামে অনেক ভিত্তিহীন কথা বলেছেন। সম্ভবত এই গবেষণাপত্রটি এই মহান ইমামদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিরক্ষা এবং তাঁদের সত্যতা প্রকাশের মাধ্যম হবে।
৩ - আমার জানামতে এই বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে কেউ গবেষণা করেননি।
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:আমার জানামতে ইবনে হাজার আল-হাইতামীর আকিদাগত মতামত সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে কেউ গবেষণা করেননি। তবে এমন কিছু গবেষণা রয়েছে যা এই গবেষণার কাজে সহায়ক হতে পারে, যেগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
প্রথম অংশ: ইবনে হাজার যেসকল বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে দ্বিমত করেছেন সে সম্পর্কিত গবেষণাসমূহ, তা আকিদাগত হোক বা ফিকহী হোক:
এ বিষয়ে একমাত্র কিতাব হলো সাইয়্যেদ নুমান খাইরুদ্দীন, যিনি ইবনুল আলুসী আল-বাগদাদী নামে পরিচিত, তাঁর রচিত "জালাউল আইনাইন ফী মুহাকামাতিল আহমাদাইন"।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأصل الكتاب هو رد على إحدى فتاوى ابن حجر الهيتمي المضمنة فتاواه الحديثية، سئل فيها عن شيخ الإسلام ابن تيمية، فأجاب فيها بأنه مبتدع ضال، وجاهل غال، ثم ذكر بعض المسائل التي انتقدها على شيخ الإسلام ابن تيمية سواء أكانت مسائل فقهية أو مسائل عقدية، وهذه المسائل منها ما يقول به شيخ الإسلام ومنها ما هو مفترى عليه.
والكتاب إنما هو في الرد على ابن حجر في اتهامه لشيخ الإسلام ابن تيمية، وليس في دراسة آراء ابن حجر الاعتقادية، وفرق بين الأمرين.
القسم الثاني: دراسات مختصرة عن عقيدة ابن حجر الهيتمي قام بها بعض الباحثين استكمالًا لعناصر ترجمته في مقدمات تحقيقاتهم لبعض كتبه.
ويلحظ على هذه الدراسات جميعًا كونها لم تف بكافة جوانب البحث، وذلك لِمَا يلي:
1 - أن دراساتهم دراسات موجزة تناسب الغرض الذي سيقت من أجله، ولهذا فإن أكثرهم تفصيلًا لم يُسطّر فيها أكثر من عشر صفحات.
2 - أن دراساتهم كانت في بيان عقيدة ابن حجر لا في دراسة آرائه الاعتقادية، وفرق بين الأمرين.
3 - أن دراساتهم كانت مجملة، لم تعتمد على استقراء كلامه وتقصي آرائه فهي في مجملها تقرر أشعريته وتصوفه، وتدعم ذلك ببعض الأمثلة فقط.
خطة البحث:اقتضت طبيعة البحث تقسيمه إلى مقدمة، وتمهيد، وثلاثة أبواب، وخاتمة:
المقدمة: وتشتمل على:
أ- أهمية الموضوع، وأسباب اختياره.
ب- الدراسات السابقة.
ج- خطة البحث.
د- منهج البحث.
এই বইটির মূল ভিত্তি হলো ইবনে হাজার আল-হাইতামীর 'ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ'-তে অন্তর্ভুক্ত একটি ফতোয়ার খণ্ডন। সেখানে তাকে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে তাকে একজন ভ্রান্ত বিদআতী এবং চরমপন্থী জাহেল বলে অভিহিত করেন। এরপর তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সমালোচনা করে কিছু মাসআলা উল্লেখ করেন, তা ফিকহী মাসআলা হোক বা আকিদাগত। এই মাসআলাগুলোর মধ্যে কিছু এমন যা শাইখুল ইসলাম প্রকৃতপক্ষে বলেছেন, আর কিছু তার ওপর মিথ্যা আরোপ করা হয়েছে।
আর এই বইটি মূলত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বিরুদ্ধে ইবনে হাজারের করা অভিযোগের খণ্ডন মাত্র, এটি ইবনে হাজারের আকিদাগত মতামতের ওপর কোনো গবেষণা নয়; আর এই দুই বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
দ্বিতীয় অংশ: ইবনে হাজার আল-হাইতামীর আকিদা সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত গবেষণা, যা কিছু গবেষক তাদের সম্পাদিত তার কিছু বইয়ের ভূমিকার জীবনীর অংশ হিসেবে সম্পন্ন করেছেন।
এই গবেষণাগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, এগুলো গবেষণার সকল দিক পূরণ করতে পারেনি, এর কারণগুলো নিম্নরূপ:
১ - তাদের গবেষণাগুলো ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত যা কেবল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের উপযোগী ছিল, এ কারণে তাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বিস্তারিত লিখেছেন তিনিও দশ পৃষ্ঠার বেশি অতিক্রম করেননি।
২ - তাদের গবেষণাগুলো ছিল ইবনে হাজারের আকিদা বর্ণনার ক্ষেত্রে, তার আকিদাগত মতামতের পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নয়; আর এই দুই বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৩ - তাদের গবেষণাগুলো ছিল ভাসাভাসা, যা তার বক্তব্যের সামগ্রিক বিশ্লেষণ ও মতামতের বিস্তারিত অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে ছিল না। সেগুলো মূলত তার আশআরী আকিদা ও তাসাউফপন্থী হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে এবং কেবল কিছু উদাহরণের মাধ্যমে তা সমর্থন করে।
গবেষণার পরিকল্পনা:গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী একে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করা হয়েছে:
ভূমিকা: এতে রয়েছে:
ক- বিষয়টির গুরুত্ব এবং এর নির্বাচনের কারণসমূহ।
খ- পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ।
গ- গবেষণার পরিকল্পনা।
ঘ- গবেষণা পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১১)
التمهيد في ترجمة ابن حجر الهيتمي، وبيان مصادره ومنهجه في تقرير العقيدة، وموقفه من شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه العلامة ابن القيم:
وفيه ثلانة مباحث:
المبحث الأول: ترجمة ابن حجر الهيتمي.
المبحث الثاني: مصادر ابن حجر ومنهجه في تقرير العقيدة.
المبحث الثالث: موقف ابن حجر من شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه العلامة ابن القيم.
الباب الأول: آراؤه في الايمان بالله:
وفيه تمهيد وثلاثة فصول:
تمهيد في تعريف التوحيد وبيان أقسامه.
الفصل الأول: آراؤه في توحيد الربوبية:
وفيه تمهيد، وثلاثة مباحث:
تمهيد في تعريف توحيد الربوبية.
المبحث الأول: معرفة الله تعالى.
المبحث الثاني: الفطرة.
المبحث الثالث: حكم إيمان المقلد.
الفصل الثاني: آراؤه في توحيد الألوهية:
وفيه تمهيد، وثلاثة مباحث:
تمهيد في تعريف توحيد الألوهية.
المبحث الأول: معنى شهادة أن لا إله إلا الله، وفضلها.
المبحث الثاني: معنى العبادة، وبيان بعض أنواعها.
المبحث الثالث: موقفه مما ينافي توحيد الألوهية أو يقدح فيه.
الفصل الثالث: آراؤه في توحيد الأسماء والصفات:
وفيه تمهيد، ومبحثان:
تمهيد في تعريف توحيد الأسماء والصفات.
ইবনে হাজার আল-হাইতামীর জীবনী, আকিদাহ নির্ধারণে তাঁর উৎস ও পদ্ধতি এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম সম্পর্কে তাঁর অবস্থানের ভূমিকা:
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবনে হাজার আল-হাইতামীর জীবনী।
второй অনুচ্ছেদ: আকিদাহ নির্ধারণে ইবনে হাজারের উৎস এবং তাঁর পদ্ধতি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম সম্পর্কে ইবনে হাজারের অবস্থান।
প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর প্রতি ঈমান সম্পর্কে তাঁর মতামতসমূহ:
এতে একটি ভূমিকা এবং তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
তাওহীদের সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদ বর্ণনায় ভূমিকা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ সম্পর্কে তাঁর মতামতসমূহ:
এতে একটি ভূমিকা এবং তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর সংজ্ঞায় ভূমিকা।
প্রথম অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহকে চেনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফিতরাত (স্বভাবজাত প্রবৃত্তি)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর ঈমানের বিধান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদে উলুহিয়্যাহ সম্পর্কে তাঁর মতামতসমূহ:
এতে একটি ভূমিকা এবং তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
তাওহীদে উলুহিয়্যাহর সংজ্ঞায় ভূমিকা।
প্রথম অনুচ্ছেদ: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্যের অর্থ এবং এর ফযীলত।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইবাদতের অর্থ এবং এর কিছু প্রকারের বর্ণনা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাওহীদে উলুহিয়্যাহর পরিপন্থী কিংবা এতে ত্রুটি সৃষ্টি করে এমন বিষয়সমূহ সম্পর্কে তাঁর অবস্থান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদে আসমা ওয়াস-সিফাত সম্পর্কে তাঁর মতামতসমূহ:
এতে একটি ভূমিকা এবং দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
তাওহীদে আসমা ওয়াস-সিফাতের সংজ্ঞায় ভূমিকা।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الأول: آراؤه في أسماء الله.
المبحث الثاني: آراؤه في صفات الله.
الباب الثاني: آراؤه في بقية أركان الإيمان:
وفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: آراؤه في الإيمان بالملائكة:
وفيه تمهيد، وثلاثة مباحث:
تمهيد في تعريف الملائكة.
المبحث الأول: معنى الإيمان بالملائكة وما يتضمنه.
المبحث الثاني: المفاضلة بين الملائكة، والمفاضلة بينهم وبين صالحي البشر.
المبحث الثالث: عصمة الملائكة.
الفصل الثاني: آراؤه في الإيمان بالكتب:
وفيه تمهيد، وثلاثة مباحث:
تمهيد في تعريف الكتب.
المبحث الأول: معنى الإيمان بالكتب وما يتضمنه.
المبحث الثاني: نزول القرآن ومعناه.
المبحث الثالث: إعجاز القرآن.
الفصل الثالث: آراؤه في الإيمان بالرسل:
وفيه تمهيد، وثلاثة مباحث:
تمهيد في تعريف النبي والرسول، والفرق بينهما.
المبحث الأول: آراؤه في الإيمان بالأنبياء والرسل عمومًا.
المبحث الثاني: آراؤه في الإيمان بنبينا محمد صلى الله عليه وسلم.
المبحث الثالث: آراؤه في كرامات الأولياء.
الفصل الرابع: آراؤه في الإيمان باليوم الآخر:
وفيه تمهيد، وثلاثة مباحث:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর নামসমূহ সম্পর্কে তাঁর মতামত।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে তাঁর মতামত।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ঈমানের অবশিষ্ট রোকনসমূহ সম্পর্কে তাঁর মতামত:
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান সম্পর্কে তাঁর মতামত:
এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
ফেরেশতাদের সংজ্ঞায় ভূমিকা।
প্রথম অনুচ্ছেদ: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমানের অর্থ ও এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফেরেশতাদের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের ও সৎকর্মশীল মানুষের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্ব।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ফেরেশতাদের নিষ্পাপতা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান সম্পর্কে তাঁর মতামত:
এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
কিতাবসমূহের সংজ্ঞায় ভূমিকা।
প্রথম অনুচ্ছেদ: কিতাবসমূহের প্রতি ঈমানের অর্থ ও এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআন অবতীর্ণ হওয়া ও এর অর্থ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআনের অলৌকিকত্ব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলদের প্রতি ঈমান সম্পর্কে তাঁর মতামত:
এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
নবী ও রাসূলের সংজ্ঞা এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য বিষয়ে ভূমিকা।
প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে নবী ও রাসূলদের প্রতি ঈমান সম্পর্কে তাঁর মতামত।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ঈমান সম্পর্কে তাঁর মতামত।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অলীদের কারামত সম্পর্কে তাঁর মতামত।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পরকালের প্রতি ঈমান সম্পর্কে তাঁর মতামত:
এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تمهيد: في تعريف اليوم الآخر.
المبحث الأول: آراؤه في الحياة البرزخية.
المبحث الثاني: آراؤه في أشرطة الساعة.
المبحث الثالث: آراؤه في الحياة الآخرة.
الفصل الخامس: آراؤه في القضاء والقدر:
وفيه تمهيد، وثلاثة مباحث:
تمهيد في تعريف القضاء والقدر والفرق بينهما.
المبحث الأول: معنى الإيمان بالقضاء والقدر وما يتضمنه.
المبحث الثاني: آراؤه في أفعال العباد، والهدى والضلال، وتنزيه الله عن الظلم.
المبحث الثالث: آراؤه في التحسين والتقبيح، والحكمة والتعليل في أفعال الله، وتكليف ما لا يطاق.
الباب الثالث: آراؤه في الصحابة، والإمامة، ومسائل الأسماء والأحكام: وفيه فصلان:
الفصل الأول: آراؤه في الصحابة، والإمامة:
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: آراؤه في الصحابة.
المبحث الثاني: آراؤه في الإمامة.
الفصل الثاني: آراؤه في مسائل الأسماء والأحكام:
وفيه تمهيد، وثلاثة مباحث:
تمهيد في تعريف مسائل الأسماء والأحكام، وبيان أهميتها.
المبحث الأول: آراؤه في مسائل الإيمان.
المبحث الثاني: آراؤه في مسائل الكفر والتكفير.
المبحث الثالث: آراؤه في مسائل البدعة.
উপক্রমণিকা: পরকাল বা শেষ দিবসের সংজ্ঞায়।
প্রথম পরিচ্ছেদ: বারযাখী জীবন সম্পর্কে তাঁর মতামত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের আলামতসমূহ সম্পর্কে তাঁর মতামত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরকালীন জীবন সম্পর্কে তাঁর মতামত।
পঞ্চম অধ্যায়: কাযা ও কদর সম্পর্কে তাঁর মতামত:
এতে একটি উপক্রমণিকা এবং তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
উপক্রমণিকা: কাযা ও কদরের সংজ্ঞা এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য।
প্রথম পরিচ্ছেদ: কাযা ও কদরের প্রতি ঈমানের অর্থ এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বান্দার কাজ, হিদায়াত ও গোমরাহি এবং আল্লাহকে জুলুম থেকে পবিত্র রাখা সম্পর্কে তাঁর মতামত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ভালো-মন্দ নির্ধারণ, আল্লাহর কার্যাবলীতে হিকমত ও কারণ এবং সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্বারোপ সম্পর্কে তাঁর মতামত।
তৃতীয় খণ্ড: সাহাবীগণ, ইমামত এবং আসমা ও আহকাম সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ সম্পর্কে তাঁর মতামত: এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: সাহাবীগণ ও ইমামত সম্পর্কে তাঁর মতামত:
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণ সম্পর্কে তাঁর মতামত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমামত সম্পর্কে তাঁর মতামত।
দ্বিতীয় অধ্যায়: আসমা ও আহকাম সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ সম্পর্কে তাঁর মতামত:
এতে একটি উপক্রমণিকা এবং তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
উপক্রমণিকা: আসমা ও আহকাম সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের সংজ্ঞা এবং এগুলোর গুরুত্বের বর্ণনা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ঈমানের মাসআলাসমূহ সম্পর্কে তাঁর মতামত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুফর ও তাকফীরের মাসআলাসমূহ সম্পর্কে তাঁর মতামত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিদআতের মাসআলাসমূহ সম্পর্কে তাঁর মতামত।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الخاتمة:
وفيها أهم نتائج البحث.
الفهارس:
1 - فهرس الآيات.
2 - فهرس الأحاديث.
3 - فهرس الأعلام.
4 - فهرس الملل والنحل.
5 - فهرس المصطلحات.
6 - فهرس الألفاظ الغريبة.
7 - فهرس المصادر والمراجع.
8 - فهرس الموضوعات.
منهج البحث:سلكت في كتابة البحث المنهج الاستقرائي التحليلي، ويمكن تلخيص معالمه فيما يلي:
أولًا: فيما يتعلق بجمع المادة العلمية:1 - حصرت كتب ابن حجر الهيتمي ومؤلفاته المخطوطة والمطبوعة، وقرأتها قراءة فاحصة لاستخراج المسائل العقدية منها وآرائه فيها.
2 - رتّبت تلك المسائل على أبواب العقيدة ومباحثها، وفق ما رسمه السلف في كتبهم ومؤلفاتهم.
ثانيًا: فيما يتعلق بعرض المسائل ودراستها:1 - ذكرت أولًا رأي ابن حجر في المسألة موجزًا، ثم أوردت كلامه فيها بتمامه إن كان قصيرًا، أو مع التصرف فيه بما لا يخل بمقصوده إن كان طويلًا، وإن كان قد تكلم في المسألة في أكثر من موضع، فإني أقارن بين تلك المواضع فإن كان كلامه فيها متفقًا أوردت أجمعها وأحلت في الحاشية على الباقي، وإن كان كلامه مختلفًا أو فيه زيادة أو نقصان ذكرته كله وحاولت التوفيق بينه.
উপসংহার:
এতে রয়েছে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ।
নির্ঘণ্টসমূহ:
১ - আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
২ - হাদীসসমূহের নির্ঘণ্ট।
৩ - বরণীয় ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
৪ - ধর্ম ও উপদলসমূহের নির্ঘণ্ট।
৫ - পরিভাষাসমূহের নির্ঘণ্ট।
৬ - বিরল শব্দাবলীর নির্ঘণ্ট।
৭ - উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।
৮ - বিষয়সূচি।
গবেষণা পদ্ধতি:গবেষণাটি রচনার ক্ষেত্রে আমি আরোহী বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করা যেতে পারে:
প্রথমত: তাত্ত্বিক উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে:১ - ইবনে হাজার আল-হাইতামীর পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সকল গ্রন্থ ও রচনাবলি সংগ্রহ করেছি এবং সেগুলো থেকে আকিদাগত মাসয়ালাসমূহ ও সে বিষয়ে তাঁর মতামতগুলো আহরণ করার জন্য গভীরভাবে পাঠ করেছি।
২ - সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) তাঁদের গ্রন্থ ও রচনাবলিতে যেভাবে বিন্যাস করেছেন, সেই অনুযায়ী আমি ওই মাসয়ালাগুলোকে আকিদার বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।
দ্বিতীয়ত: মাসয়ালাসমূহ উপস্থাপন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে:১ - আমি প্রথমে মাসয়ালাটি সম্পর্কে ইবনে হাজারের মতামত সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। এরপর যদি তাঁর বক্তব্যটি ছোট হয় তবে তা হুবহু বর্ণনা করেছি, আর যদি দীর্ঘ হয় তবে মূল উদ্দেশ্যের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে তাতে প্রয়োজনীয় সংক্ষেপ বা পরিবর্তন করেছি। আর যদি তিনি কোনো মাসয়ালা নিয়ে একাধিক স্থানে আলোচনা করে থাকেন, তবে আমি সেই স্থানগুলোর মধ্যে তুলনা করেছি। যদি সব জায়গায় তাঁর বক্তব্য একই রকম হয়, তবে আমি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যটি উল্লেখ করেছি এবং বাকিগুলোর উদ্ধৃতি টীকায় প্রদান করেছি। আর যদি তাঁর বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হয় অথবা তাতে কোনো কমবেশি থাকে, তবে আমি তার পুরোটাই উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - بعد إيراد كلام ابن حجر ذكرت عقبه موافقته لمنهج السلف في المسألة أو مخالفته لهم:
أ- فإن كانت المسألة مما وافق فيه منهج السلف ذكرت ما يدل على ذلك من كلامهم وبعض أدلتهم باختصار وإيجاز.
ب- وإن كانت المسألة مما خالف فيه منهج السلف ذكرت ما يدل على ذلك مع مناقشته فيما ذهب إليه بحسب كلامه فيها إجمالًا وتفصيلًا.
3 - في دراسة المسائل لم أعرض لاختلاف الطوائف وأقوال الفرق في المسألة المقصودة بالبحث، إلا إذا تعرض لذلك ابن حجر في كلامه عليها، أو كانت طبيعة المسألة تقتضي ذلك، إذ المقصود تقويم آراء ابن حجر الاعتقادية من حيث موافقتها أو مخالفتها لمنهج السلف.
ثالثًا: فيما يتعلق بكتابة البحث وتوثيقه:أ- عزوت الآيات إلى سورها، وذكرت رقم الآية فيها، وجعلت ذلك في متن البحث، خشية الإطالة بذكرها في الحاشية.
2 - خرجت الأحاديث التي ذكرتها في البحث، وسلكت في ذلك الآتي:
أ- إذا كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما، اكتفيت بهما عما سواهما.
ب- إذا كان الحديث خارج الصحيحين، فإني أجتهد في تخريجه من المصادر الحديثية المعتمدة، ثم أذكر حكم الأئمة عليه.
ج- رتبت مصادر التخريج باعتبار الكتب الستة أولًا ثم ما عداها بحسب تواريخ وفيات أصحابها.
د- ذكرت عنوان الكتاب والباب ورقم الجزء والصحيفة والحديث في الكتب الستة، واكتفيت برقم الجزء والصحيفة والحديث فيما عداها.
3 - وثقت النقول التي نقلها ابن حجر الهيتمي، والتي استطعت الوقوف عليها.
4 - ترجمت للأعلام غير الصحابة والأئمة الأربعة وأصحاب الكتب الستة ومَن وَرَدَ ذكره عرضًا في سياق أسانيد الأحاديث المُتكلّم عليها،
২ - ইবনে হাজারের বক্তব্য উল্লেখ করার পর, সেই মাসআলায় তিনি সালাফদের মানহাজের সাথে একমত হয়েছেন না কি ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তা এর পরপরই আমি উল্লেখ করেছি:
ক- মাসআলাটি যদি এমন হয় যেখানে তিনি সালাফদের মানহাজের সাথে একমত হয়েছেন, তবে তাঁদের বক্তব্য থেকে এর সপক্ষে যা কিছু রয়েছে এবং তাঁদের কিছু দলিল সংক্ষেপে ও সারসংক্ষেপে উল্লেখ করেছি।
খ- আর মাসআলাটি যদি এমন হয় যেখানে তিনি সালাফদের মানহাজের বিরোধিতা করেছেন, তবে তাঁর সেই অবস্থানের স্বপক্ষে যা কিছু রয়েছে তা উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁর সামগ্রিক ও বিস্তারিত বক্তব্যের আলোকে তাঁর সেই অভিমত নিয়ে আলোচনা করেছি।
৩ - মাসআলাসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমি গবেষণাধীন বিষয়ে বিভিন্ন দল ও উপদলের মতপার্থক্য এবং তাদের বক্তব্যগুলো তুলে ধরিনি, যতক্ষণ না ইবনে হাজার স্বয়ং তাঁর আলোচনায় সেগুলো উল্লেখ করেছেন অথবা মাসআলাটির প্রকৃতিই তেমনটি দাবি করে। কারণ, মূল উদ্দেশ্য হলো ইবনে হাজারের আকিদাগত মতামতগুলো সালাফদের মানহাজের সাথে সংগতি বা অসংগতির বিচারে মূল্যায়ন করা।
তৃতীয়ত: গবেষণাটি রচনা এবং এর সূত্র বা উদ্ধৃতি যাচাই সংক্রান্ত:ক- আয়াতসমূহকে তাদের নিজ নিজ সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং সূরার মধ্যে আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি। পাদটীকায় এগুলো উল্লেখ করলে দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমি তা গবেষণার মূল পাঠের ভেতরেই রেখেছি।
২ - গবেষণায় উল্লেখিত হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করেছি এবং এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
ক- হাদিসটি যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এর যেকোনো একটিতে থাকে, তবে অন্যান্য কিতাবের পরিবর্তে এ দুটির উল্লেখই যথেষ্ট মনে করেছি।
খ- হাদিসটি যদি সহিহাইনের বাইরে হয়, তবে আমি নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থসমূহ থেকে এর তাখরিজ করার চেষ্টা করেছি এবং পরবর্তীতে এর ওপর ইমামগণের হুকুম (মানদণ্ড) উল্লেখ করেছি।
গ- তাখরিজের উৎসসমূহ সাজানোর ক্ষেত্রে প্রথমে কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব) এবং এরপর অন্য কিতাবগুলোকে তাদের রচয়িতাদের মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।
ঘ- কুতুবে সিত্তাহর ক্ষেত্রে কিতাবের শিরোনাম, অধ্যায়, খণ্ড নম্বর, পৃষ্ঠা এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি; আর অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে কেবল খণ্ড নম্বর, পৃষ্ঠা এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
৩ - ইবনে হাজার আল-হাইতমি যে উদ্ধৃতিগুলো প্রদান করেছেন এবং যেগুলোর সন্ধান পাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে, সেগুলোর সূত্র যাচাই করেছি।
৪ - সাহাবীগণ, চার ইমাম এবং কুতুবে সিত্তাহর রচয়িতাগণ ব্যতীত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী উল্লেখ করেছি। এছাড়া আলোচিত হাদিসসমূহের সনদের ধারায় যাদের নাম প্রসঙ্গক্রমে এসেছে, তাদেরও জীবনী দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وذكرت اسم المترجم، وعقيدته -قدر الاستطاعة- وشيئًا من مؤلفاته، وتاريخ وفاته.
5 - عرّفْتُ بالملل والنحل الواردة في البحث.
6 - عرفت بالأماكن والبلدان والألفاظ الغريبة الواردة في البحث.
7 - سلكت في كتابة البحث طرائق البحث المعروفة في عزو النصوص.
8 - أخرت ذكر بيانات المصادر إلى فهرسها، خشية الإطالة بذكرها.
هذا، وأحمد الله -جل وعلا- على ما مَنّ به عليّ من إتمام هذا البحث، وأشكر له فضله وإنعامه، فله الحمد أولًا وآخرًا، وأبرأ من الحول والقوة إلا به، وأسأله أن يجعله خالصًا لوجهه، نافعًا لي يوم العرض عليه، وأن يعفو عما وقع لي فيه من خطأ أو تقصير، وأن يوفقني للسداد، ويهديني سبل الرشاد.
وأشكر بعد شكر الله تعالى من قرن شكرهم بشكره، وهما والداي الكريمان على حسن تربيتهما وكريم عنايتهما، ثم لزوجتي المباركة التي كانت ولا تزال نعم المعين لي على الدراسة والبحث. أجزل الله للجميع المثوبة، وأسبغ عليهم نعمة الصحة.
كما أشكر فضيلة الشيخ الدكتور يوسف بن محمد السعيد الأستاذ المشارك بقسم العقيدة والمذاهب المعاصرة، الذي أشرف على هذا البحث، ولم يدخر جهدًا في توجيهه وتصويبه، فأعلى الله درجته، ووفقه في دينه ودنياه، وبارك له في علمه وعمله وعمره.
وبعد، فهذا جهد المقل، وهذه بضاعته، فإن أصبت فذلك محض فضل الله، وإن كانت الأخرى فمن نفسي ومن الشيطان، وأستغفر الله، وهو أهل التقوى وأهل المغفرة.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.
আমি অনুবাদকের নাম, তাঁর আকিদা (সাধ্যমতো), তাঁর কিছু গ্রন্থ এবং তাঁর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেছি।
৫ - গবেষণায় উল্লিখিত বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের পরিচয় প্রদান করেছি।
৬ - গবেষণায় উল্লিখিত স্থানসমূহ, দেশসমূহ এবং অপরিচিত শব্দাবলির পরিচয় দিয়েছি।
৭ - গবেষণাটি রচনার ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি প্রদানের প্রচলিত গবেষণাপদ্ধতি অনুসরণ করেছি।
৮ - দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উৎসগ্রন্থের বিস্তারিত তথ্য নির্ঘণ্টে প্রদান করেছি।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার সুযোগ দানের জন্য। আমি তাঁর অনুগ্রহ ও নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; আদিতে ও অন্তে সকল প্রশংসা তাঁরই। আমি তাঁর সাহায্য ব্যতীত সকল শক্তি ও সামর্থ্য থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কর্মকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, তাঁর সামনে উপস্থিত হওয়ার দিনে এটি যেন আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তিনি যেন এতে ঘটে যাওয়া ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন এবং আমাকে সঠিক পথের তাওফিক ও হিদায়াত দান করেন।
আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পর আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই যাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাকে তিনি তাঁর কৃতজ্ঞতার সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা হলেন আমার সম্মানীয় পিতা-মাতা—তাঁদের উত্তম লালন-পালন ও সুনিপুণ যত্নের জন্য। অতঃপর আমার বরকতময় স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি পড়াশোনা ও গবেষণার কাজে আমার জন্য উত্তম সহযোগী ছিলেন এবং আছেন। আল্লাহ সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্যের নিয়ামতে সিক্ত করুন।
সেই সাথে আমি আকিদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাইখ ড. ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আস-সাঈদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যিনি এই গবেষণার তত্ত্বাবধান করেছেন এবং এটি পরিচালনা ও সংশোধনে কোনো ত্রুটি করেননি। আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, তাঁকে দ্বীন ও দুনিয়ায় তাওফিক দান করুন এবং তাঁর জ্ঞান, কর্ম ও আয়ু বরকতময় করুন।
পরিশেষে, এটি একজন সামান্য ব্যক্তির প্রচেষ্টা এবং তার যৎসামান্য পুঁজি; যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে থাকি তবে তা একান্তই আল্লাহর অনুগ্রহ, আর যদি অন্যথা হয় তবে তা আমার নিজের ও শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর তিনিই তাকওয়া ও ক্ষমার অধিকারী।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التمهيد في ترجمة ابن حجر الهيتمي، وبيان مصادره ومنهجه في تقرير العقيدة، وموقفه من شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه العلامة ابن القيموفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: ترجمة موجزة لابن حجر الهيتمي.
المبحث الثاني: مصادر ابن حجر الهيتمي ومنهجه في تقرير العقيدة.
المبحث الثالث: موقف ابن حجر من شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه العلامة ابن القيم -رحمهما الله-.
ইবনে হাজার আল-হাইতামীর জীবনী, আকিদাহ নির্ধারণে তাঁর উৎস ও কর্মপদ্ধতির বর্ণনা এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম-এর ব্যাপারে তাঁর অবস্থানের উপক্রমণিকাএতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে হাজার আল-হাইতামীর সংক্ষিপ্ত জীবনী।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে হাজার আল-হাইতামীর উৎসসমূহ এবং আকিদাহ নির্ধারণে তাঁর কর্মপদ্ধতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম —আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন— এর ব্যাপারে ইবনে হাজারের অবস্থান।
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول ترجمة موجزة لابن حجر الهيتمي
المطلب الأول عصر ابن حجر سياسيًا، ودينيًا، واجتماعيًا، وعلميًا
أولًا: الحالة السياسية:عاش ابن حجر رحمه الله في القرن العاشر الهجري، وعاصر دولتين إسلاميتين هما: دولة المماليك، ودولة العثمانيين، حيث عاش قرابة الخمسة عشر عامًا الأولى من عمره في عهد الدولة الأولى، وقضى البقية منه وهو قرابة الاثنين والخمسين عامًا في عهد الدولة الثانية.
أما الدولة الأولى: وهي دولة المماليك:
فقد كانت تحكم مصر والشام، وتسيطر على غرب الجزيرة العربية سيطرة اسمية
(1).
والفترة التي عاصرها ابن حجر رحمه الله من هذه الدولة تعتبر فترة ضعفها وهرمها، حيث ساءت الأحوال فيها بسبب كثرة الفتن والاضطرابات الداخلية من جهة، وتسلط الصليبيين الإسبان والبرتغال من جهة أخرى.
فقد ظهر في هذه الفترة الضعف والتفكك بين أفراد المجتمع، وانتشرت العصبية المقيتة بينهم، وساد النظام الإقطاعي، وكثرت المكوس
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে হাজার আল-হাইতামীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে ইবনে হাজারের যুগ
প্রথমত: রাজনৈতিক পরিস্থিতি:ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) দশম হিজরি শতাব্দীতে বসবাস করেছেন। তিনি দুটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ করেছেন, সেগুলো হলো: মামলুক সালতানাত এবং উসমানীয় সালতানাত। তিনি তাঁর জীবনের প্রথম প্রায় পনের বছর প্রথম রাষ্ট্রের অধীনে অতিবাহিত করেন এবং অবশিষ্ট প্রায় বায়ান্ন বছর দ্বিতীয় রাষ্ট্রের অধীনে কাটান।
প্রথম রাষ্ট্রটি হলো: মামলুক সালতানাত:
এটি মিশর ও সিরিয়া শাসন করত এবং আরব উপদ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলের ওপর নামমাত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত
(১)।
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) এই রাষ্ট্রের যে সময়কালটি প্রত্যক্ষ করেছেন, তা ছিল এর দুর্বলতা ও জরাগ্রস্ততার যুগ। একদিকে অভ্যন্তরীণ ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার আধিক্য এবং অন্যদিকে স্পেনীয় ও পর্তুগিজ ক্রুসেডারদের আধিপত্য বিস্তারের কারণে তৎকালীন পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছিল।
এই সময়ে সমাজের সদস্যদের মধ্যে দুর্বলতা ও অনৈক্য প্রকাশ পায়, তাদের মাঝে ঘৃণ্য গোত্রবাদ ছড়িয়ে পড়ে, সামন্ততান্ত্রিক প্রথা গেড়ে বসে এবং অন্যায় করের বোঝা বৃদ্ধি পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২০)
على التجار والمزارعين، وتمكن الصليبيون من الاستيلاء على عدن وعمان
(1).
ولَمّا رأى بعض أمراء المماليك ضعف الدولة المملوكية، وقوة أعدائها الصليبيين، والخطر المحدق بالمسلمين اتصل بالعثمانيين وطلب منهم سرعة التدخل، ووعدهم بالتعاون
(2).
حينها تحركت جيوش الدولة العثمانية، ففتحت مصر أوائل سنة (923 هـ)، ثم امتد فتحها ليشمل بقية تركة الدولة المملوكية، ومنها الحجاز
(3).
وأما الدولة الثانية: وهي دولة العثمانيين:
فقد كانت تحكم الشرق الأقصى الإسلامي، ثم امتد حكمها -كما سبق- ليشمل تركة الدولة المملوكية
(4).
والفترة التي عاصرها ابن حجر رحمه الله من هذه الدولة تمثل عصرها الذهبي في تاريخها الطويل، ويمثل هذا العصر ولاية خليفتين من خلفائها، هما:
1 - سليم الأول
(5)، والفترة التي عاصرها ابن حجر من ولايته (923 هـ- 926 هـ).
--------------------------------------------
বণিক ও কৃষকদের ওপর, এবং ক্রুসেডাররা এডেন ও ওমান দখল করতে সক্ষম হয়েছিল
(১)।
যখন কিছু মামলুক আমীর মামলুক সালতানাতের দুর্বলতা, তাদের শত্রু ক্রুসেডারদের শক্তি এবং মুসলমানদের ওপর আসন্ন বিপদ প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তারা উসমানীয়দের সাথে যোগাযোগ করলেন এবং তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানালেন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেন
(২)।
সেই সময় উসমানীয় সালতানাতের সেনাবাহিনী অগ্রসর হয় এবং ৯২৩ হিজরির শুরুর দিকে মিসর বিজয় করে। এরপর তাদের বিজয় অভিযান মামলুক সালতানাতের অবশিষ্টাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যার মধ্যে হিজাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল
(৩)।
আর দ্বিতীয় রাষ্ট্রটি হলো: উসমানীয় সালতানাত:
এটি ইসলামী দূরপ্রাচ্য শাসন করত, এরপর তাদের শাসন—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে—মামলুক সালতানাতের উত্তরসূরি হিসেবে বিস্তৃত হয়
(৪)।
ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এই সালতানাতের যে সময়কালটি পেয়েছিলেন, তা ছিল এর দীর্ঘ ইতিহাসের স্বর্ণযুগ। এই যুগটি তাদের খলিফাদের মধ্য থেকে দুইজন খলিফার শাসনকালকে প্রতিনিধিত্ব করে, তারা হলেন:
১ - প্রথম সেলিম
(৫), এবং ইবনে হাজার তাঁর শাসনের যে সময়কাল পেয়েছিলেন তা হলো (৯২৩ হিজরি - ৯২৬ হিজরি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২১)
2 - سليمان القانوني
(1)، والفترة التي عاصرها ابن حجر من ولايته (926 هـ- 974 هـ).
وفي هذا العصر الذهبي للدولة العثمانية كان الحكم الإسلامي في العالم يشهد أعظم اتساع له على مدى التاريخ
(2).
لكن الدولة العثمانية مع ذلك كانت تواجه خطرين في وقت واحد:
الخطر الأول: خطر الروافض
(3) ممثلًا في الدولة الصفوية التي قامت سنة (906 هـ) قبل مولد ابن حجر بقرابة ثلاث سنين، وكان قيامها نقطة تحول كبير في تاريخ إيران، والشرق كله، فلأول مرة يعلن الرفض مذهبًا رسميًا لكل إيران
(4).
والخطر الثاني: خطر الصليبيين ممثلًا في الأوربيين، وبخاصة البرتغال الذين وصل نفوذهم إلى محاولة الوصول إلى الأماكن المقدسة مكة والمدينة
(5).
--------------------------------------------
২ - সুলায়মান আল-কানুনী
(১), এবং ইবনে হাজার তাঁর শাসনের যে সময়কাল পেয়েছিলেন (৯২৬ হিজরী - ৯৭৪ হিজরী)।
উসমানীয় সাম্রাজ্যের এই স্বর্ণযুগে বিশ্বে ইসলামি শাসন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিস্তৃতি লাভ করেছিল
(২)।
তবে তা সত্ত্বেও উসমানীয় সাম্রাজ্য একই সাথে দুটি বিপদের সম্মুখীন ছিল:
প্রথম বিপদ: রাফেযীদের
(৩) বিপদ, যা প্রতিফলিত হয়েছিল সাফাভী সাম্রাজ্যের মাধ্যমে। এটি ইবনে হাজারের জন্মের প্রায় তিন বছর আগে ৯০৬ হিজরীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রতিষ্ঠা ছিল ইরান এবং সমগ্র প্রাচ্যের ইতিহাসে এক বিশাল সন্ধিক্ষণ, কারণ প্রথমবারের মতো সমগ্র ইরানের জন্য রাফেযী মতাদর্শকে রাষ্ট্রীয় মাযহাব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল
(৪)।
এবং দ্বিতীয় বিপদ: ইউরোপীয়দের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বকারী ক্রুসেডারদের বিপদ, বিশেষ করে পর্তুগিজরা, যাদের প্রভাব মক্কা ও মদীনার মতো পবিত্র স্থানগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা পর্যন্ত গড়িয়েছিল
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২২)
هذا هو حال العالم الإسلامي بعمومه، أما في مكة بخصوصها والتي قضى ابن حجر رحمه الله معظم سني حياته بها فقد كانت تحت حكم أسرة آل أبي نُميّ، وهي أسرة حسنية، وكان حكمهم خاضعًا للدولة العثمانية.
وقد عاصر ابن حجر رحمه الله اثنين من أمراء هذه الأسرة، هما:
1 - بركات بن محمد بركات بن حسن
(1) (903 هـ- 931 هـ).
2 - محمد بن بركات بن محمد بركات
(2) (931 هـ- 992 هـ).
وقد تتابعت الفتن والحروب بين أفراد أسرة آل أبي نمي، وكان كل منهم يستعين بمن يواليه من القبائل التي حول مكة
(3).
ثانيًا: الحالة الدينية:كانت الدولة المملؤكية قد حملت الناس على اتباع أحد المذاهب الفقهية الأربعة وترك كل ما سواها، وتعزير من يخالفها أو يخرج عنها
(4).
ولَمّا جاءت الدولة العثمانية اتخذت المذهب الحنفي مذهبًا رسميًا لها
(5).
وقد كان عامة أهل العلم في هذه الفترة أشعرية
(6) أو
--------------------------------------------
সামগ্রিকভাবে এটিই ছিল ইসলামি বিশ্বের অবস্থা, আর বিশেষভাবে মক্কার কথা বলতে গেলে, যেখানে ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর জীবনের অধিকাংশ বছর কাটিয়েছেন, তা আল আবু নুমি পরিবারের শাসনাধীন ছিল। এটি একটি হাসানি পরিবার ছিল এবং তাদের শাসন উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।
ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই পরিবারের দুইজন আমিরের সমসাময়িক ছিলেন, তাঁরা হলেন:
১ - বারাকাত বিন মুহাম্মদ বারাকাত বিন হাসান
(১) (৯০৩ হিজরি - ৯৩১ হিজরি)।
২ - মুহাম্মদ বিন বারাকাত বিন মুহাম্মদ বারাকাত
(২) (৯৩১ হিজরি - ৯৯২ হিজরি)।
আল আবু নুমি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে ফিতনা ও যুদ্ধ চলত এবং তাদের প্রত্যেকেই মক্কার চারপাশের গোত্রগুলোর মধ্যে যারা তাদের অনুগত ছিল, তাদের সাহায্য গ্রহণ করত
(৩)।
দ্বিতীয়: ধর্মীয় অবস্থা:মামলুক সালতানাত জনগণকে চারটি ফিকহি মাজহাবের যেকোনো একটি অনুসরণে বাধ্য করেছিল এবং অন্য সব কিছু বর্জন করতে বলেছিল। আর যারা এর বিরোধিতা করত বা এর বাইরে যেত, তাদের শাস্তি প্রদান করত
(৪)।
যখন উসমানীয় সাম্রাজ্য আসল, তখন তারা হানাফি মাজহাবকে তাদের রাষ্ট্রীয় মাজহাব হিসেবে গ্রহণ করল
(৫)।
এই সময়ে আলেমদের সাধারণ অংশটি ছিল আশআরি
(৬) অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ما تريدية
(1) المعتقد، صوفية
(2) الطريقة؛ حيث انتشر التصوف في العالم الإسلامي أجمع
(3).
وقد ساعد على ذلك تأييد الدولة العثمانية له فيما بعد، مما أدى إلى بروز جملة من مظاهره في المجتمع، منها:
1 - بناء المشاهد والقبور.
2 - كثرة الزوايا الصوفية.
3 - الاحتفالات البدعية.
4 - إقامة مجالس السماع.
5 - انتشار التواكل وترك العمل والكسب.
6 - ضعف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
وقد أثرت هذه المظاهر على هدي المجتمع المسلم في هذه الفترة، وقلّ التزام الناس بالفرائض الدينية
(4)، وتسلل هذا لبعض الحكام والقضاة
(5).
--------------------------------------------
আকিদায় মাতুরিদি
(১) এবং তরিকায় সুফি; যেহেতু সমগ্র ইসলামি বিশ্বে সুফিবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল
(৩)।
পরবর্তীতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে একে সমর্থন প্রদান এই প্রসারে সহায়তা করেছিল, যার ফলে সমাজে এর বেশ কিছু নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মাযার ও কবর নির্মাণ করা।
২ - সুফি খানকাহর আধিক্য।
৩ - বিদআতী অনুষ্ঠানসমূহ উদযাপন করা।
৪ - সামা মাহফিল (তথা গান-বাদ্যের মজলিস) কায়েম করা।
৫ - ভুল অর্থে তাওয়াক্কুল বা কর্মবিমুখতা এবং উপার্জন ও কাজ ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়া।
৬ - সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের বিধান দুর্বল হয়ে পড়া।
এই নিদর্শনগুলো উক্ত সময়ে মুসলিম সমাজের হেদায়েত বা জীবনপদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলেছিল এবং মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ফরযসমূহ পালনের ব্যাপারে শৈথিল্য চলে এসেছিল
(৪); এমনকি এটি কিছু শাসক ও বিচারকদের মধ্যেও অনুপ্রবেশ করেছিল
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثالثًا: الحالة الاجتماعية:كان للفتوحات الإسلامية واتساع رقعة الدولة الإسلامية في هذا العصر أثر بلا شك على الحالة الاجتماعية.
فقد أدى ذلك إلى تداخل الأجناس واللغات، ونتج عنه تمازج الشعوب، وانتقال المبادئ والأفكار والثقافات.
وكان لمصر والحجاز قصب السبق في ذلك لمكانتهما التاريخية، وأهميتهما السياسية في ذلك الوقت.
وقد برزت في عصر ابن حجر رحمه الله نتيجة لذلك جملة من المظاهر الاجتماعية السلبية، منها:
1 - العصبية بين الأتراك والعرب التي تجاوزت مداها إلى أن القتيل من العرب لا يؤخذ له بالقصاص من قاتله، وأصبحت سببًا بعد ذلك في سقوط الدولة العثمانية.
2 - كثرة الاختلافات في المسائل الشرعية والنوازل الفقهية وكلام العامة فيها، واضطراب أهل العلم حولها، كإصلاح ما وهى وتشعب من الكعبة، والسماع الصوفي، وشرب القهوة ونحو ذلك، وما نتج عنه من فتن وقلاقل وتحزبات داخل المجتمع الواحد.
3 - انتشار الحشيش أكلًا وتدخينًا، وأكل القات، وشرب التبغ.
وقد كان لابن حجر رحمه الله عناية فائقة بعلاج هذه المظاهر، حيث ألّف عددًا من المؤلفات في بيان أحكامها والتحذير منها، مثل: مبلغ الأرب في فخر العرب
(1)، والمناهل العذبة في إصلاح ما وهى من الكعبة
(2)، وكف الرعاع عن محرمات اللهو والسماع
(3)، وتحذير الثقات عن أكل الكفتة والقات.
وكثير من كتب ابن حجر -رجمه الله- تجلي هذه الظواهر الاجتماعية وتصف العلاج لها، وتعكس علاقة التأثير والتأثر بين ابن حجر رحمه الله وبين مجتمعه.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: সামাজিক অবস্থা:এই যুগে ইসলামী বিজয় এবং ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা বিস্তারের সামাজিক অবস্থার ওপর নিসন্দেহে প্রভাব ছিল।
এর ফলে বিভিন্ন জাতি ও ভাষার সংমিশ্রণ ঘটে এবং যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মেলবন্ধন তৈরি হয় এবং আদর্শ, চিন্তা ও সংস্কৃতির বিনিময় ঘটে।
তৎকালীন ঐতিহাসিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে এ ক্ষেত্রে মিসর ও হিজাজ অগ্রগণ্য ছিল।
এরই ফলশ্রুতিতে ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহির যুগে বেশ কিছু নেতিবাচক সামাজিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটেছিল, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - তুর্কি ও আরবদের মধ্যকার গোষ্ঠীগত গোঁড়ামি (আসাবিয়্যাহ), যা তার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল এমন পর্যায়ে যে, আরবের কোনো নিহত ব্যক্তির জন্য তার হত্যাকারীর কাছ থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) নেওয়া হতো না। পরবর্তীতে এটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২ - শরয়ী মাসআলা এবং সমসাময়িক ফিকহি বিষয়াদির (নাওয়াজিল) ক্ষেত্রে প্রচুর মতবিরোধ এবং এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের অনধিকার চর্চা; আর এসকল ক্ষেত্রে আহলে ইলমদের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, যেমন কাবার জীর্ণ ও ফাটল ধরা অংশের সংস্কার, সুফিদের সামা (গান শোনা), কফি পান করা ইত্যাদি। এর ফলে একক সমাজের অভ্যন্তরে ফিতনা, বিশৃঙ্খলা ও দলাদলি সৃষ্টি হয়েছিল।
৩ - খাদ্য ও ধূমপান হিসেবে হাশিশের বিস্তার, কাত খাওয়া এবং তামাক সেবন।
ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি এসকল বিষয় সংশোধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। তিনি এগুলোর বিধান বর্ণনা এবং এগুলো থেকে সতর্ক করার জন্য বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেমন: ‘মুবলাগুল আরাব ফি ফাখরিল আরাব’
(১), ‘আল-মানাহিলুল আযবাহ ফি ইসলাহি মা ওয়াহা মিনাল কাবা’
(২), ‘কাফফুল রুয়া আন মুহাররমাতিল লাহওয়ি ওয়াস সামা’
(৩) এবং ‘তাহযিরুস সিকাত আন আকলিল কাফতাহ ওয়াল কাত’।
ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহির অনেক গ্রন্থই এই সামাজিক বিষয়গুলোকে সুস্পষ্ট করে এবং সেগুলোর প্রতিকার বর্ণনা করে। এটি ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং তার সমাজের মধ্যকার পারস্পরিক প্রভাবের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
رابعًا: الحالة العلمية:لقد عاش ابن حجر رحمه الله أغلب سني القرن العاشر الهجري؛ والمتأمل لهذا القرن من جهة ما كتب فيه وما كتب عنه، يظهر له مدى الضعف العلمي الذي يعانيه مقارنة بما سبقه من القرون، ويتجلى ذلك في مظاهر عدة، أهمها:
1 - انتشار البدع والخرافات كالموالد، ومجالس السماع، والصلوات المبتدعة ونحوها.
2 - شيوع الجمود الفكري، والتقليد المذهبي، ودعوى إغلاق باب الاجتهاد.
3 - اشتغال العلماء والطلاب في دروسهم بعلوم الآلة، والتصوف، والفقه المذهبي، دون علوم الاجتهاد.
4 - اقتصار كثير من المؤلفات على المتون والاختصارات والشروح والحواشي.
وهذه الحالة العلمية الضعيفة كانت هي السائدة في العالم الإسلامي عامة
(1).
أما مصر التي عاش بها ابن حجر رحمه الله أوائل عمره فقد كانت مأهولة بالعلماء نظرًا لوجود الجامع الأزهر فيها، وبعد فتح العثمانيين لها انتقل كثير منهم إلى استنبول عاصمة الدولة العثمانية
(2)، والفترة التي قضاها ابن حجر رحمه الله في مصر تمثل الفترة الأولى فيها.
وأما الحجاز التي قضى ابن حجر رحمه الله بها بقية عمره فقد كانت أحسن حالًا من غيرها نظرًا لوجود الحرمين بها، خاصة بعد دخولها تحت سلطة الدولة العثمانية الواسعة النفوذ؛ حيث أصبح الطريق إلى مكة والمدينة ميسورًا وبدأت الهجرة إليهما تفتح أبوابها وأصبح العلماء يجاورون بهما مما ساعد على ازدهار العلم
(3).
--------------------------------------------
চতুর্থ: ইলমী অবস্থা:ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) হিজরি দশম শতাব্দীর অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছেন; এই শতাব্দীতে যা কিছু লেখা হয়েছে এবং যা কিছু এই শতাব্দী সম্পর্কে লেখা হয়েছে, সে বিষয়ের প্রতি গভীর অভিনিবেশকারী ব্যক্তির নিকট তৎকালীন ইলমী দুর্বলতার চিত্র ফুটে ওঠে, যা পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোর তুলনায় অত্যন্ত প্রকট। এটি কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, যার মধ্যে প্রধান হলো:
১ - বিদআত ও কুসংস্কারের প্রসার, যেমন: মিলাদ মাহফিল, সামা মাহফিল, মনগড়া নামায এবং অনুরূপ বিষয়াদি।
২ - বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা, মাযহাবী অন্ধ-তাকলীদ এবং ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়ার দাবির ব্যাপকতা।
৩ - আলেম ও তালিবে ইলমদের পাঠদানে ইজতিহাদের ইলম বাদ দিয়ে কেবল সহায়ক জ্ঞান (উলূমে আ’লা), তাসাউফ এবং মাযহাবী ফিকহ নিয়ে মগ্ন থাকা।
৪ - অধিকাংশ রচনা কেবল মূলপাঠ (মতন), সংক্ষিপ্তসার, ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) এবং টীকা-টিপ্পনী (হাশিয়া) এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।
আর এই দুর্বল ইলমী অবস্থা সাধারণভাবে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে বিরাজমান ছিল
(১)।
আর মিশর, যেখানে ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শুরুর দিক অতিবাহিত করেছেন, সেখানে জামে আজহার থাকার কারণে তা আলেমদের দ্বারা জনবহুল ছিল। উসমানীয়দের মিশর বিজয়ের পর তাঁদের অনেক আলেম উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হন
(২)। ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) মিশরে যে সময়টুকু কাটিয়েছেন, তা সেখানে তাঁর জীবনের প্রথম পর্যায়কে প্রতিনিধিত্ব করে।
আর হিজায, যেখানে ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের অবশিষ্টাংশ কাটিয়েছেন, সেখানে হারামাইন শরীফাইনের উপস্থিতির কারণে অন্য জায়গার তুলনায় অবস্থা বেশ ভালো ছিল। বিশেষ করে প্রভাবশালী উসমানীয় শাসনের অধীনে আসার পর মক্কা ও মদিনার পথ সুগম হয় এবং সেখানে হিজরতের দ্বার উন্মোচিত হয়। ফলে আলেমগণ সেখানে অবস্থান শুরু করেন, যা ইলমের উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক হয়েছিল
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومع ذلك لم يخل هذا القرن من جملة من أهل العلم المشهورين، الذين عاصرهم ابن حجر رحمه الله.
فمن الحنفية: ابن كمال باشا
(1)، وابن طولون
(2)، وطاش كبرى زاده
(3)، وابن نجيم
(4)، وأبو السعود
(5).
ومن المالكية: الونشريسي
(6)، والحطاب
(7)، واللقاني
(8)، والأخضري
(9).
--------------------------------------------
তৎসত্ত্বেও এই শতাব্দী এমন একদল বিখ্যাত আলেম থেকে শূন্য ছিল না, যারা ইবন হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমসাময়িক ছিলেন।
হানাফিদের মধ্যে রয়েছেন: ইবন কামাল পাশা
(১), ইবন তুলুন
(২), তাশ কুবরা জাদাহ
(৩), ইবন নুজাইম
(৪) এবং আবুস সাউদ
(৫)।
আর মালিকিদের মধ্যে রয়েছেন: আল-ওয়ানশারিসি
(৬), আল-হাততাব
(৭), আল-লাক্কানি
(৮) এবং আল-আখদারি
(৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن الشافعية: القسطلانى
(1)، وزكريا الأنصاري
(2)، وبحرق
(3) والرملي
(4)، والخطيب الشربيني
(5).
ومن الحنابلة: العليمي
(6)، والشويكي
(7)، وابن عطوة
(8) والحجاوي
(9)، وابن النجار
(10).
--------------------------------------------
এবং শাফিঈদের মধ্যে রয়েছেন: আল-কাসতালানি
(১), জাকারিয়া আল-আনসারি
(২), বাহরাক
(৩), আর-রামলি
(৪) এবং আল-খাতিব আশ-শারবিনি
(৫)।
এবং হাম্বলিদের মধ্যে রয়েছেন: আল-উলাইমি
(৬), আশ-শুওয়াইকি
(৭), ইবনে আতওয়া
(৮), আল-হাজ্জাউয়ি
(৯) এবং ইবনুন্নজ্জার
(১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المطلب الثاني حياته الشخصية
أولًا: اسمه، ولقبه، وكنيته:أ- اسمه:
هو
(1): أحمد بن محمد بن محمد بن علي بن حجر، السلمنتي، الهيتمي، الوائلي، السعدي، المصري، ثم المكي.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবনপ্রথমত: তাঁর নাম, উপাধি এবং উপনাম:ক- তাঁর নাম:
তিনি হলেন
(১): আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাজার, আস-সালামান্তি, আল-হাইতামী, আল-ওয়াইলি, আস-সা'দী, আল-মিসরি, অতঃপর আল-মাক্কী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وبهذا السياق ذكر ابن حجر رحمه الله نفسه في معجم شيوخه
(1).
والمتأمل له يجده قد نسب نفسه فيه إلى:
1 - ابن حجر: وهي -بفتح الحاء المهملة والجيم المعجمة بعدها- نسبة لأحد أجداده؛ لقب بحجر لملازمته الصمت
(2).
2 - السَّلمنتي: وهي -بالسين المهملة المفتوحة المشددة، بعدها لام ساكنة، وميم مضمومة، ونون ساكنة- نسبة إلى سلمنت
(3)، وهي موطن أهله قبل انتقالهم إلى محلة أبي الهيتم
(4).
3 - الهيتمي: وهي نسبة إلى محلة أبي الهيتم أو الهياتم بمصر الغربية، واختلف في ضبطها هل هو بالمثناة أم المثلثة؟
قال العلامة الغزي
(5): "ضبطها عبد القادر الفاكهي في ترجمته بالمثناة الفوقية، وأما ما يقع لبعض المتشدقين من قراءته بالمثلثة فلم أقف عليه في كلام أئمة المنقول"
(6).
وقال العلامة الزبيدي
(7): "يقال هي محلة أبي الهيثم بالمثلثة، فغيرتها العامة"
(8).
--------------------------------------------
এই প্রসঙ্গে ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'মুজামু শুয়ুখিহি'
(১) গ্রন্থে নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।
এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি সেখানে নিজেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি নিসবত (সম্পর্কিত) করেছেন:
১ - ইবনে হাজার: এটি—নুসতাহীন 'হা' এবং 'জিম' এর উপর ফাতহা সহকারে—তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষের নিসবত; নীরবতা পালনে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে তাঁর উপাধি হয়েছিল 'হাজার'
(২)।
২ - আস-সালমান্তি: এটি—তাশদিদ ও ফাতহা যুক্ত 'সিন', এরপর সাকিনযুক্ত 'লাম', পেশযুক্ত 'মিম' এবং সাকিনযুক্ত 'নুন' সহযোগে—'সালমান্ত'
(৩) নামক স্থানের প্রতি নিসবত; এটি ছিল 'মাহাল্লাতু আবি আল-হাইতাম'
(৪) নামক স্থানে স্থানান্তরের পূর্বে তাঁর পরিবারের আদি নিবাস।
৩ - আল-হাইতামি: এটি পশ্চিম মিশরের 'মাহাল্লাতু আবি আল-হাইতাম' বা 'আল-হায়াতিম' এর প্রতি নিসবত; এর উচ্চারণের বিশুদ্ধতায় (হরকতের ক্ষেত্রে) মতভেদ রয়েছে যে, এটি কি দুই নুকতাযুক্ত 'তা' নাকি তিন নুকতাযুক্ত 'ছা' সহযোগে হবে?
আল্লামা আল-গাজ্জি
(৫) বলেন: "আবদুল কাদির আল-ফাকিহি তাঁর জীবনীতে এটিকে উপরস্থ দুই নুকতাযুক্ত 'তা' হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর কিছু বাগাড়ম্বরকারীর মুখে যে একে তিন নুকতাযুক্ত 'ছা' হিসেবে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়, তা আমি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ইমামদের বক্তব্যে পাইনি"
(৬)।
আল্লামা আয-যাবিদি
(৭) বলেন: "বলা হয়ে থাকে যে, এটি মূলত তিন নুকতাযুক্ত 'ছা' সহযোগে 'মাহাল্লাতু আবি আল-হাইসাম' ছিল, যা পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ পরিবর্তন করে ফেলেছে"
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وعلى هذا فمن ذكره بالمثلثة؛ على القول الأول: ضبطهم له خاطئ، وعلى القول الثاني: ضبطهم له محتمل.
4 - الوائلي: وهي نسبة لوائل، وهو بطن من بني سعد الأنصار
(1).
5 - السعدي: وهي نسبة لبني سعد الذين كانوا في مصر، وموطنهم إقليم الشرقية
(2).
قال تلميذه الفاكهي في مقدمة فتاويه: "المستفاض أنهم من الأنصار، ولكن امتنع شيخنا من كتابة الأنصاري تورعًا"
(3).
6 - المصري: وهي نسبة إلى مصر التي ولد بها وقضى فيها أوائل عمره.
7 - المكي: وهي نسبة لمكة المكرمة التي استوطنها باقي حياته بعد انتقاله من مصر.
ب- لقبه:يلقب المترجم بشهاب الدين، وقد أثبت ذلك رحمه الله في معجمه
(4)، وذكره عنه من ترجم له
(5).
ج- كنيته:يُكنّى بكنيتين:
1 - أبو العباس، وبها اشتهر
(6).
2 - أبو عبد الله، ووجدت على طرة إحدى مخطوطات كتبه
(7)، ولم أجد فيما اطلعت عليه من مصادر ترجمته من ذكر له ولدًا بهذا الاسم.
--------------------------------------------
এর ভিত্তিতে, যারা একে 'সা' (তিন নুক্তাবিশিষ্ট) দিয়ে উল্লেখ করেছেন; প্রথম মতানুযায়ী: তাদের লিখনভঙ্গি ভুল এবং দ্বিতীয় মতানুযায়ী: তাদের লিখনভঙ্গি সম্ভাব্য।
৪ - আল-ওয়াইলি: এটি ওয়াইল-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যা আনসারদের বনু সাদ গোত্রের একটি উপশাখা
(১)।
৫ - আস-সাদি: এটি বনু সাদ-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত যারা মিসরে ছিলেন এবং তাদের আবাসস্থল ছিল শারকিয়া অঞ্চল
(২)।
তাঁর ছাত্র আল-ফাকিহি তাঁর ফাতাওয়ার ভূমিকায় বলেছেন: "এটি প্রসিদ্ধ যে তারা আনসারদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু আমাদের শায়খ তাকওয়ার কারণে নিজের নামের সাথে আনসারি লিখতে বিরত থাকতেন"
(৩)।
৬ - আল-মিসরি: এটি মিসরের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর জীবনের শুরুর সময় অতিবাহিত করেছিলেন।
৭ - আল-মাক্কি: এটি মক্কা মুকাররমার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত যেখানে তিনি মিসর থেকে স্থানান্তরিত হওয়ার পর তাঁর অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করেন।
খ- তাঁর লকব (উপাধি):জীবনীকারকে শিহাবুদ্দীন উপাধিতে ভূষিত করা হয়, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মু'জামে এটি সাব্যস্ত করেছেন
(৪) এবং তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর সম্পর্কে এটি উল্লেখ করেছেন
(৫)।
গ- তাঁর কুনিয়াত (উপনাম):তাঁকে দুটি কুনিয়াতে ডাকা হয়:
১ - আবুল আব্বাস, এবং এর মাধ্যমেই তিনি প্রসিদ্ধ
(৬)।
২ - আবু আব্দুল্লাহ, এটি আমি তাঁর একটি পান্ডুলিপির প্রচ্ছদে পেয়েছি
(৭), তবে তাঁর জীবনীর যে সকল উৎস আমি দেখেছি তাতে এই নামে তাঁর কোনো পুত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরাউ ইবনু হাজারিল হাইতামী আল-ইতিকাদিয়্যাহ (আরদু ওয়া তাকভীম ফী দাউয়ি আকীদাতিল সালাফ)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثانيًا: مولده، ونشأته، ورحلاته:أ- مولده:
ذكر تلميذه السيفي
(1) أنه وجد بخطه أنه ولد في محلة أبي الهيتم أواخر سنة (909 هـ)
(2).
وهناك قولان آخران في سنة ولادته:
الأول: أنها سنة (911 هـ) وهو قول الغزي
(3)، وعمدته في ذلك إخبار حفيده عبد العزيز الزمزمي
(4) بذلك.
الثاني: أنها سنة (899 هـ) وهو قول الزبيدي
(5)، والكتاني
(6)(7)، ولم يذكرا عمدتهما في ذلك.
والراجح أنه ولد أواخر سنة (909 هـ)؛ وذلك لِمَا يلي:
1 - أنه ذكر في معجم شيوخه
(8) أنه ولد قبل وفاة السيوطي
(9) بنحو ثلاث سنين، والسيوطي توفي في جمادى الأولى سنة (911 هـ)؛ ولا يمكن أن يتحقق ذلك إلا بالقول بمولده سنة (909 هـ).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং সফরসমূহ:ক- তাঁর জন্ম:
তাঁর ছাত্র আস-সাইফি
(১) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর (লেখকের) নিজ হাতের লেখায় পেয়েছেন যে, তিনি ৯০৯ হিজরি সালের শেষের দিকে মাহাল্লা আবি আল-হাইতামে জন্মগ্রহণ করেছেন
(২)।
তাঁর জন্ম সাল নিয়ে আরও দুটি মত রয়েছে:
প্রথম: এটি ৯১১ হিজরি সাল, যা আল-গাজ্জি-র অভিমত
(৩)। এক্ষেত্রে তাঁর প্রধান ভিত্তি হলো তাঁর নাতি আব্দুল আজিজ আল-যামযামি-র
(৪) প্রদান করা তথ্য।
দ্বিতীয়: এটি ৮৯৯ হিজরি সাল, যা আয-যাবিদি
(৫) এবং আল-কাত্তানি-র
(৬)(৭) অভিমত। তবে তাঁরা এক্ষেত্রে তাঁদের প্রমাণের ভিত্তি উল্লেখ করেননি।
আর প্রাবল্যপ্রাপ্ত (রাজহ) মত হলো, তিনি ৯০৯ হিজরি সালের শেষের দিকে জন্মগ্রহণ করেছেন; আর তা নিম্নোক্ত কারণে:
১ - তিনি তাঁর ‘মু'জামু শুয়ুখ’ (শিক্ষকদের অভিধান)
(৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আস-সুয়ূতি-র
(৯) ইন্তেকালের প্রায় তিন বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন। আর আস-সুয়ূতি ৯১১ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে ইন্তেকাল করেন; আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যদি তাঁর জন্ম ৯০৯ হিজরি সালে ধরা হয়।
--------------------------------------------