(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام القرآن لبكر بن العلاء - رسائل جامعية القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: أحكام القرآن
المؤلف: أبو الفضل بكر بن محمد بن العلاء القشيري البصري المالكي (ت 344 هـ)
التحقيق: رسالتا دكتوراة بقسم القرآن وعلومه بكلية أصول الدين في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض
1 - ناصر بن محمد آل عشوان الدوسري (من أول الكتاب - الأعراف) (عام 1426)
2 - ناصر بن محمد بن عبد الله الماجد - رحمه الله - (من الأنفال إلى الناس) (عام 1426)
عدد الصفحات: 1818
[هذه النسخة الإلكترونية مأخوذة عن أصل الرسائل الجامعية، ومرقمة آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 ذو القعدة 1441
বকর বিন আল-আলার আহকামুল কুরআন - বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা অভিসন্দর্ভ বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
বই: আহকামুল কুরআন
লেখক: আবুল ফজল বকর বিন মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-কুশাইরী আল-বসরী আল-মালিকী (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরি)
তাহকিক (সম্পাদনা): রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসূলুদ্দীন অনুষদের কুরআন ও উলূমুল কুরআন বিভাগের দুটি পিএইচডি থিসিস
১ - নাসের বিন মুহাম্মদ আল আশওয়ান আদ-দাওসারী (গ্রন্থের শুরু থেকে - আল-আরাফ পর্যন্ত) (১৪২৬ হিজরি)
২ - নাসের বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাজিদ - রাহিমাহুল্লাহ - (আল-আনফাল থেকে আন-নাস পর্যন্ত) (১৪২৬ হিজরি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮১৮
[এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি মূল বিশ্ববিদ্যালয় অভিসন্দর্ভ থেকে নেওয়া হয়েছে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃষ্ঠা নম্বর প্রদান করা হয়েছে]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৮ জিলকদ ১৪৪১
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية - وزارة التعليم العالي
جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية - كلية أصول الدين - قسم القرآن وعلومه
أحكام القرآن
لأبي الفضل بكر بن محمد بن العلاء القشيري البصري المالكي (المتوفى سنة 344 هـ) «دراسة وتحقيقاً»
التحقيق:
رسالتا دكتوراة بقسم القرآن وعلومه بكلية أصول الدين في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض:
1 - ناصر بن محمد آل عشوان الدوسري (من أول الكتاب - الأعراف) (عام 1426)
2 - ناصر بن محمد بن عبد الله الماجد رحمه الله (من الأنفال إلى الناس) (عام 1426)
সৌদি আরব রাজতন্ত্র - উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় - উসুলুদ্দিন অনুষদ - কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগ
আহকামুল কুরআন
আবু ফজল বকর বিন মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-কুশাইরি আল-বাসরি আল-মালিকি (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরি) রচিত «গবেষণা ও সম্পাদনা»
সম্পাদনা:
রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদের কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগের দুটি পিএইচডি থিসিস:
১ - নাসির বিন মুহাম্মদ আল আশওয়ান আদ-দাওসারি (গ্রন্থের শুরু হতে আল-আরাফ পর্যন্ত) (১৪২৬ হিজরি)
২ - নাসির বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাজিদ (রহিমাহুল্লাহ) (আল-আনফাল হতে আন-নাস পর্যন্ত) (১৪২৬ হিজরি)
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
المقدمة
ভূমিকা
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد:
فإن من أعظم نعم الله أن أنزل الله علينا القرآن الذي {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 42].
وإن من الواجبات على الأمة الإسلامية أن تتدبر هذا القرآن، وتعمل بما فيه شكراً لله على هذه النعم العظيمة.
وقد قام أسلافنا رحمهم الله بتدبر هذا القرآن، والعمل بما فيه، فحفظوه في الصدور، ودونوه في السطور، وفهموا معانيه، وتخلقوا بأخلاقه، وألفوا في علومه وفنونه حتى تركوا لنا تراثاً هائلاً، أودعوا فيه علمهم، وجهدهم، وخبرتهم.
ولعل أقل ما يحتاجه منا هذا التراث أن نعكف على نشره وتحقيقه تحقيقاً علمياً، وأن يكون مبعث عز وافتخار لنا بمنجزات أسلافنا.
وقد اخترت من بين هذا التراث كتاب (أحكام القرآن) للقاضي أبي الفضل بكر بن محمد بن العلاء القشيري البصري المالكي (ت 344 هـ) ليكون موضوعاً لرسالتي لنيل درجة الدكتوراه في القرآن وعلومه، وجعلته بعنوان: (أحكام القرآن للقاضي أبي الفضل بكر بن محمد بن العلاء القشيري البصري المالكي من أول الكتاب إلى آخر تفسير سورة الأعراف دراسة وتحقيقاً).
أهمية الموضوع:تبرز أهمية هذا الموضوع من جهتين:
الأولى: حول أهمية تحقيق كتب التراث عموماً ويتمثل ذلك في:1 - إخراج أحد هذه الكتب إخراجاً علمياً حتى يمكن الاستفادة منه، لاسيما وأن تحقيق الكتب في هذا الزمان أصبح تجارة، ومن واجب الجهات العلمية أن تتبنى المحافظة عليها وإخراجها إخراجاً علمياً.
2 - أن تحقيق الكتب المخطوطة من قبل طلاب الدراسات العليا يعد إسهاماً جاداً في نشر تراث هذه الأمة الإسلامية على أسس علمية صحيحة.
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
আল্লাহর মহান নেয়ামতসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি আমাদের ওপর কুরআন নাযিল করেছেন, যার কাছে {বাতিল আসতে পারে না সামনে থেকেও নয়, পেছন থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} [ফুসসিলাত: ৪২]।
মুসলিম উম্মাহর ওপর অন্যতম ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্য হলো এই কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করা এবং এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ এতে যা রয়েছে সে অনুযায়ী আমল করা।
আমাদের পূর্বসূরিগণ - আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন - এই কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করেছেন এবং এর ওপর আমল করেছেন। তাঁরা একে অন্তরে মুখস্থ করেছেন, পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ করেছেন, এর অর্থসমূহ অনুধাবন করেছেন এবং এর নৈতিকতা দ্বারা নিজেদের চরিত্র গঠন করেছেন। তাঁরা কুরআনের বিভিন্ন বিজ্ঞান ও শাখায় কিতাব রচনা করেছেন, এমনকি আমাদের জন্য এক বিশাল ঐতিহ্য রেখে গেছেন, যাতে তাঁরা তাঁদের ইলম, প্রচেষ্টা ও অভিজ্ঞতা গচ্ছিত রেখেছেন।
সম্ভবত এই ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম দাবি হলো এর প্রচার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এর সম্পাদনায় (তাহকীক) আত্মনিয়োগ করা, এবং এটি যেন আমাদের পূর্বসূরিদের অর্জনের কারণে আমাদের জন্য সম্মান ও গর্বের উৎস হয়।
আমি এই ঐতিহ্যের মধ্য থেকে কাজী আবু আল-ফজল বকর বিন মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-কুশায়রী আল-বাসরী আল-মালিকী (মৃত্যু ৩৪৪ হি.) রচিত 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থটিকে কুরআন ও উলূমুল কুরআনে আমার ডক্টরেট ডিগ্রির থিসিসের বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমি এর শিরোনাম দিয়েছি: 'কাজী আবু আল-ফজল বকর বিন মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-কুশায়রী আল-বাসরী আল-মালিকীর আহকামুল কুরআন: গ্রন্থের শুরু থেকে সূরা আল-আ’রাফের তাফসীরের শেষ পর্যন্ত একটি গবেষণা ও সম্পাদনা (তাহকীক)।'।
বিষয়ের গুরুত্ব:এই বিষয়ের গুরুত্ব দুটি দিক থেকে ফুটে ওঠে:
প্রথমটি: সাধারণভাবে ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থসমূহ সম্পাদনার গুরুত্ব সম্পর্কে, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:১ - এই ধরনের কিতাবগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রকাশ করা যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে কিতাব সম্পাদনা (তাহকীক) একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, তাই বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করা।
২ - উচ্চতর গবেষণারত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপিগুলো সম্পাদনা করা এই মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্যকে সঠিক বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রচার করার ক্ষেত্রে একটি ঐকান্তিক অবদান হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الثانية: حول أهمية المخطوط - المقصود تحقيقه - من حيث:1 - أهميته بين كتب التفسير:
وتبرز هذه الأهمية من خلال أنه مختصر لأصل عظيم مفقود، استفاد منه العلماء قديماً وحديثاً كابن العربي في أحكامه، والقرطبي في جامعه، وابن قدامه، وابن القيم، وغيرهم، ذلكم الأصل هو كتاب (أحكام القرآن) للقاضي إسماعيل بن إسحاق المالكي (ت 282 هـ)، الذي قال عنه الخطيب البغدادي: له كتاب أحكام القرآن لم يسبق إلى مثله.
(1)2 - تقدمه على غيره من كتب أحكام القرآن؛ نظراً لتقدم وفاة مؤلفه (344 هـ)، وبتحقيق هذا الكتاب ونشره يكون أقدم كتاب - مطبوع كامل - في أحكام القرآن.
3 - قيمته العلمية من حيث روايته للحديث وعلمه بالرجال وعلل الحديث فقد كان ـ بكر ـ راوية للحديث عالماً بماله من العلل، وكثيراً ما يسوق الأحاديث والآثار بإسناد القاضي إسماعيل، أو إسناده.
وتبرز قيمته أيضاً من حيث ذكره لأقوال السلف والوقوف عندها، وقد ذكر ذلك في مقدمته حيث قال: ولم يزل أهل العلم على ذلك متبعين لسلفهم، حتى حدث في القرن الرابع من هذه الأمة ومن تلاهم قوم مستخفون بقول السلف، وله هاجرون وعلى مذاهبهم زارون، يحدثون أنفسهم أن أسد الجواب ما استخرجوه وأعلاه ما استنبطوه، أخذوا ذلك عن أهل الزيغ، لا يعرجون على الرواية، ولا يلتفتون إلى باطن التلاوة، ويرون أنهم يساوون السلف في العلم بالكتاب، طعناً بذلك على إخوان المصطفى الذين فارقهم على الصدق والوفاء والطهارة والنقاء.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: পাণ্ডুলিপিটির—যা সম্পাদনার লক্ষ্য—গুরুত্ব নিম্নোক্ত দিক থেকে:১ - তাফসীর গ্রন্থসমূহের মাঝে এর গুরুত্ব:
এই গুরুত্বটি ফুটে ওঠে এর মাধ্যমে যে, এটি একটি বিশাল ও বর্তমানে লুপ্ত মূলগ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার, যা থেকে প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমগণ উপকৃত হয়েছেন, যেমন ইবনুল আরাবী তাঁর ‘আহকাম’ গ্রন্থে, কুরতুবী তাঁর ‘জামে’ গ্রন্থে, ইবনে কুদামা, ইবনুল কায়্যিম এবং আরও অনেকে। সেই মূলগ্রন্থটি হলো কাযী ইসমাঈল বিন ইসহাক আল-মালিকী (ওফাত ২৮২ হিজরী) রচিত ‘আহকামুল কুরআন’, যার সম্পর্কে খতীব আল-বাগদাদী বলেছেন: তাঁর আহকামুল কুরআন বিষয়ক এমন একটি গ্রন্থ রয়েছে যার সমতুল্য পূর্বে আর কেউ রচনা করেনি।
(১)২ - আহকামুল কুরআনের অন্যান্য গ্রন্থসমূহের তুলনায় এর অগ্রগণ্যতা; এর লেখকের ওফাত (৩৪৪ হিজরী) আগে হওয়ার কারণে। এই গ্রন্থটির সম্পাদনা ও প্রকাশের মাধ্যমে এটি আহকামুল কুরআন বিষয়ের প্রাচীনতম পূর্ণাঙ্গ মুদ্রিত গ্রন্থে পরিণত হবে।
৩ - হাদীস বর্ণনা, রিজাল শাস্ত্র (বর্ণনাকারী) এবং হাদীসের ত্রুটি (ইলাল) সংক্রান্ত জ্ঞানের দিক থেকে এর ইলমী গুরুত্ব। কেননা বকর ছিলেন হাদীস বর্ণনাকারী এবং হাদীসের ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেম। তিনি প্রায়শই হাদীস ও আসারসমূহ কাযী ইসমাঈলের সনদে অথবা নিজের সনদে পেশ করেছেন।
এর গুরুত্ব আরও ফুটে ওঠে সালাফদের (পূর্বসূরীদের) উক্তি উল্লেখ এবং সেগুলোর ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে। তিনি তাঁর ভূমিকার এই কথাটি উল্লেখ করেছেন: "ইলম অন্বেষণকারীগণ সর্বদা তাঁদের সালাফদের অনুসরণ করে আসছিলেন, যতক্ষণ না এই উম্মতের চতুর্থ শতাব্দীতে এবং তাদের পরবর্তী সময়ে এমন এক কওমের আবির্ভাব ঘটল যারা সালাফদের বক্তব্যকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তাঁদের পরিত্যাগ করে এবং তাঁদের মাযহাবের দোষারোপ করে। তারা নিজেদের মনে মনে ভাবে যে, তারা যা উদ্ভাবন করেছে তাই সঠিক উত্তর এবং তারা যা ইস্তিম্বাত (নির্যাস) করেছে তাই সর্বোত্তম। তারা এই নীতি পথভ্রষ্টদের থেকে গ্রহণ করেছে; তারা বর্ণনার (রেওয়ায়েতের) দিকে ভ্রুক্ষেপ করে না এবং তিলাওয়াতের অভ্যন্তরীণ মর্মের প্রতিও মনোনিবেশ করে না। তারা মনে করে যে, কিতাবুল্লাহর ইলমের ক্ষেত্রে তারা সালাফদের সমতুল্য। এর মাধ্যমে তারা মূলত মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই সকল ভাইদের ওপর দোষারোপ করে, যাঁদের তিনি সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা, পবিত্রতা ও নির্মলতার ওপর রেখে বিদায় নিয়েছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقال أيضاً: وكفى برجل نقصا أن يرى أنه قد علم من كتاب الله عز وجل ما قصر عن عمله الصحابة والتابعون، أو يرى أنه فوقهم علماً وفهماً، أو يظن أنه مثلهم لقد خاب وخسر.
(1)وللمؤلف اهتمام بأسباب النزول، وما كان عليه العرب من عادات الجاهلية قبل الإسلام.
ويهتم أيضاً باللغة العربية، ويستشهد بأقوال العرب في ذلك شعراً ونثراً، وكثيراً ما يرجع إلى ما قاله أبو عبيدة وغيره.
4 - عنايته بالمسائل الفقهية مقرونة بأدلتها، منسوبة لقائليها، مرجحاً في ذلك، ذاكراً أقوال المذاهب الأخرى.
أسباب اختيار الموضوع:بالإضافة إلى ما سبق من أهمية الكتاب، فإن هناك أسباباً دعتني لاختيار تحقيق هذا الكتاب، لعل من أبرزها:
1 - رغبتي في التزود من التفسير الفقهي للقرآن الكريم، الذي يعد ركيزة مهمة لتكوين طالب العلم، يقول القرطبي فيما ينبغي لصاحب القرآن أن يأخذ نفسه به: ((وينبغي له أن يتعلم أحكام القرآن، فيفهم عن الله مراده، وما فرض عليه فينتفع بما يقرأ ويعمل بما يتلو، فما أقبح لحامل القرآن أن يتلو فرائضه وأحكامه عن ظهر قلب وهو لا يفهم ما يتلو، فكيف يعمل بما لا يفهم معناه؟ وما أقبح أن يسأل عن فقه ما يتلو ولا يدريه، فما مثل من هذه حالته إلا كمثل الحمار يحمل أسفاراً)).
(2)2 - اكتساب معرفة جديدة في تحقيق المخطوطات حيث كانت رسالتي في مرحلة الماجستير موضوعاً، بعنوان: علوم القرآن عند ابن حزم جمعاً ودراسة.
ولا يخفى ما في التحقيق من فوائد للباحث.
3 - إخراج كتاب لم ير النور بعد في باب تفسير آيات الأحكام، ومن أهميته أنه يعد مرجعاً لكتاب أصيل ذلكم هو كتاب: أحكام القرآن لإسماعيل بن إسحاق الجهضمي، فبتحقيقه إخراج وإبراز لجهد علم من أعلام التفسير والفقه، وإظهار لفضل المتقدم على المتأخر.
4 - أن غالب ما ألف في أحكام القرآن: إما مفقود، أو مخطوط، أو مطبوع ولكن بدون تحقيق علمي.
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেন: "একজন মানুষের অসম্পূর্ণতার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে মনে করে যে সে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে এমন কিছু জেনেছে যা আমল করার ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবিঈগণ ব্যর্থ হয়েছেন, অথবা সে নিজেকে জ্ঞান ও বুঝের দিক থেকে তাদের ঊর্ধ্বে মনে করে, কিংবা সে তাদের সমতুল্য বলে ধারণা করে; তবে সে তো ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ হয়েছে।"
(1)লেখকের আসবাবুন নুযুল (নাযিলের প্রেক্ষাপট) এবং ইসলামের পূর্বে জাহিলী যুগে আরবদের প্রচলিত রীতিনীতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি আরবি ভাষার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে আরবদের কবিতা ও গদ্যের উদ্ধৃতি প্রদান করেন; প্রায়শই তিনি আবু উবায়দাহ ও অন্যদের বক্তব্যের শরণাপন্ন হন।
৪ - ফিকহি মাসআলাগুলোর প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ, যা দলিলের সাথে সম্পৃক্ত, প্রবক্তাদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এবং অন্যান্য মাযহাবের মতামত উল্লেখপূর্বক সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণকারী।
বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:গ্রন্থটির পূর্বোক্ত গুরুত্বের পাশাপাশি এই গ্রন্থটির সম্পাদনা (তাহকিক) নির্বাচনের পেছনে কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:
১ - কুরআনুল কারীমের ফিকহি তাফসির থেকে জ্ঞান আহরণের আকাঙ্ক্ষা, যা একজন ইলম অন্বেষণকারীর গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমাম কুরতুবী একজন কুরআন বহনকারীর আত্মগঠনের বিষয়ে বলেন: "তার জন্য উচিত হলো কুরআনের বিধানাবলী শিক্ষা করা, যাতে সে আল্লাহর উদ্দেশ্য এবং তার ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা বুঝতে পারে। ফলে সে যা তিলাওয়াত করে তার দ্বারা উপকৃত হতে পারে এবং যা পাঠ করে সে অনুযায়ী আমল করতে পারে। কুরআন বহনকারীর জন্য এটি কতই না মন্দ যে, সে এর ফরজ ও বিধানসমূহ মুখস্থ তিলাওয়াত করবে অথচ যা সে তিলাওয়াত করছে তা বুঝবে না। তবে সে কীভাবে আমল করবে যার অর্থ সে বোঝে না? আর এটি কতই না মন্দ যে, সে যা তিলাওয়াত করছে তার ফিকহ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে অথচ সে তা জানে না। এহেন ব্যক্তির উদাহরণ তো সেই গাধার ন্যায় যে কিতাব বহন করে।"
(২)২ - পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে নতুন জ্ঞান অর্জন করা। কারণ মাস্টার্স পর্যায়ে আমার থিসিসের বিষয় ছিল: 'ইবনে হাজমের নিকট উলূমুল কুরআন: সংকলন ও বিশ্লেষণ'।
গবেষকের জন্য সম্পাদনার (তাহকিক) যে উপকারিতা রয়েছে তা তো অস্পষ্ট নয়।
৩ - আহকামুল কুরআনের তাফসির অধ্যায়ে অপ্রকাশিত একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা। এর গুরুত্বের অন্যতম কারণ হলো, এটি একটি মৌলিক গ্রন্থের সূত্র হিসেবে কাজ করে, আর সেটি হলো ইসমাইল ইবনে ইসহাক আল-জাহদামি-এর 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থ। সুতরাং এটি সম্পাদনার মাধ্যমে তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রের একজন ইমামের প্রচেষ্টাকে সামনে নিয়ে আসা হবে এবং পরবর্তী আলিমদের ওপর পূর্ববর্তীদের শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তোলা হবে।
৪ - আহকামুল কুরআনের ওপর রচিত অধিকাংশ গ্রন্থই হয় হারিয়ে গেছে, নতুবা পাণ্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে, অথবা মুদ্রিত হলেও কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الدراسات السابقة:لم يحض كتاب أحكام القرآن لبكر بن العلاء القشيري بالطبع والتحقيق؛ نظراً لعدم وجود نسخ له مخطوطة، وأثناء رحلتي العلمية إلى المغرب التقيت ببعض أهل العلم المهتمين بالتراث فأرشدني بعضهم إلى أن هذا الكتاب يوجد منه نسخة خطية في تركيا، دون تحديد مكانها، وقد عثرت على هذه النسخة الخطية الفريدة بمكتبة (بيازد)، مستعيناً في ذلك بعد الله ببعض الإخوة الأتراك، نظراً لعدم فهرست مخطوطات تلك المكتبة، ولكتابتها باللغة التركية، وقد تمكنت بفضل الله من تصويرها، والاطلاع على النسخة الأصلية للمخطوط - وذلك أثناء رحلة علمية قمت بها إلى تركيا - ثم قمت بتقديم القسم الأول منها إلى قسم القرآن وعلومه لأحظى بدراسته وتحقيقه.
পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:বকর বিন আল-আলা আল-কুশায়রী রচিত ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থটি ইতিপূর্বে মুদ্রিত বা সম্পাদিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেনি; কারণ এর কোনো পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান ছিল না। মরক্কোতে আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরের সময় আমি ইসলামী ঐতিহ্যের (তুরাস) প্রতি অনুরাগী কতিপয় আলেমের সাক্ষাৎ লাভ করি। তাঁদের কেউ কেউ আমাকে ইঙ্গিত দেন যে, তুরস্কে এই গ্রন্থটির একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যদিও তাঁরা এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে পারেননি। অতঃপর আল্লাহর তাওফিকে এবং পরবর্তীতে কিছু তুর্কি ভাইয়ের সহযোগিতায় আমি ‘বায়াজিদ’ লাইব্রেরিতে এই অনন্য পাণ্ডুলিপিটির সন্ধান পাই। সেই লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিগুলোর কোনো তালিকা (ক্যাটালগ) না থাকায় এবং তথ্যসমূহ তুর্কি ভাষায় সংরক্ষিত হওয়ায় এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুরুহ ছিল। আল্লাহর অনুগ্রহে তুরস্কে এক বৈজ্ঞানিক সফরের সময় আমি মূল পাণ্ডুলিপিটি দেখার এবং এর অনুলিপি সংগ্রহ করার সুযোগ লাভ করি। অতঃপর আমি গ্রন্থটির প্রথম অংশটি ‘কুরআন ও উলুমুল কুরআন’ বিভাগে পেশ করি, যাতে আমি এটি নিয়ে গবেষণা ও সম্পাদনা করার সৌভাগ্য লাভ করি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
خطة البحث:وتشتمل على مقدمة، وتمهيد، وقسمين، وخاتمة، وفهارس.
المقدمة:
وتشتمل على العناصر التالية:
أهمية الموضوع، وسبب اختياره، والدراسات السابقة، وخطة البحث، والمنهج المتبع في الدراسة والتحقيق.
التمهيد: ويتضمن:
تعريف تفسير آيات الأحكام، ونشأته وأهم المصنفات فيه.
القسم الأول: دراسة عن المؤلف والكتاب، وفيه فصلان:
الفصل الأول: عصر المؤلف وحياته، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: عصره ، وأثره عليه، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: الحالة السياسية
المطلب الثاني: الحالة الاجتماعية
المطلب الثالث: الحالة العلمية
المبحث الثاني: حياته، وفيه ثمانية مطالب:
المطلب الأول: اسمه ونسبه.
المطلب الثاني: مولده ونشأته.
المطلب الثالث: مكانته وثناء العلماء عليه.
المطلب الرابع: شيوخه وتلاميذه.
المطلب الخامس: مصنفاته.
المطلب السادس: عقيدته.
المطلب السابع: مذهبه الفقهي.
المطلب الثامن: وفاته.
গবেষণার রূপরেখা:এটি একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিকা, দুটি বিভাগ, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টসমূহের সমন্বয়ে গঠিত।
ভূমিকা:
এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণার রূপরেখা এবং অধ্যয়ন ও তাহকীক (সম্পাদনা) এর ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি।
প্রারম্ভিকা: এতে রয়েছে:
আহকামের আয়াতের তাফসীরের সংজ্ঞা, এর উদ্ভব এবং এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলী।
প্রথম বিভাগ: লেখক ও গ্রন্থ পরিচিতি, এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: লেখকের যুগ ও তাঁর জীবন, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগ এবং তাঁর ওপর এর প্রভাব, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন, এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা ও তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদা।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর ফিকহী মাযহাব।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الثاني: دراسة الكتاب، وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: عنوان الكتاب، ونسبته إلى مؤلفه، ووصف المخطوط.
المبحث الثاني: مصادر المؤلف في كتابه.
المبحث الثالث: منهج المؤلف في الكتاب.
المبحث الرابع: قيمة الكتاب العلمية.
القسم الثاني: التحقيق: وفيه تحقيق القسم الأول من الكتاب من أوله إلى نهاية تفسير سورة الأعراف.
الخاتمة:
وفيها أهم نتائج البحث، والتوصيات.
الفهارس:
1. فهرس الآيات.
2. فهرس القراءات.
3. فهرس الأحاديث.
4. فهرس الآثار.
5. فهرس الأعلام.
6. فهرس البلدان والمواضع والأيام
7. فهرس المسائل الفقهية.
8. فهرس الشواهد الشعرية.
9. ثبت المصادر والمراجع.
10. فهرس الموضوعات.
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পর্যালোচনা, এবং এতে রয়েছে চারটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের শিরোনাম, লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধ এবং পাণ্ডুলিপির বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের ব্যবহৃত উৎসসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মূল্য।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদনা (তাহকিক): এতে গ্রন্থের প্রথম অংশের সম্পাদনা রয়েছে, যা গ্রন্থের শুরু থেকে সূরা আল-আ'রাফের তাফসীরের শেষ পর্যন্ত।
উপসংহার:
এতে গবেষণার প্রধান ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ রয়েছে।
নির্ঘণ্টসমূহ:
১. আয়াতের নির্ঘণ্ট।
২. কিরাতের নির্ঘণ্ট।
৩. হাদিসের নির্ঘণ্ট।
৪. আসারের নির্ঘণ্ট।
৫. ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
৬. শহর, স্থান এবং দিনসমূহের নির্ঘণ্ট।
৭. ফিকহি মাসআলাসমূহের নির্ঘণ্ট।
৮. কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের নির্ঘণ্ট।
৯. উৎস ও রেফারেন্সের তালিকা।
১০. বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المنهج الذي سرت عليه في الدراسة عن المؤلف والكتاب:سرت في القسم الدراسي حسب المنهج التالي:
أولاً: في دراستي عن المؤلف:1 - استقرأت الكتب التي تحدثت عن الفترة التي عاش فيها المؤلف، وأثرها عليه سياسياً واجتماعياً وعلمياً.
2 - استقرأت الكتب التي ترجمت للمؤلف وتحدثت عنه، واستخلصت منها حياته ونشأته، معتمداً في ذلك على كتب طبقات المفسرين، وطبقات الفقهاء، وكتب التاريخ والتراجم الأصيلة.
3 - استفدت من كتاب المؤلف - القسم المقرر تحقيقه - فيما يظهر شخصية المؤلف، وشيوخه، ومصنفاته، وعقيدته، ومذهبه الفقهي.
ثانياً: دراستي عن الكتاب:1 - قمت بإثبات الاسم الصحيح للكتاب، وصحة نسبته لمؤلفه، وذلك باستقراء ما ورد في مقدمة الكتاب وخاتمته، وما ورد على غلاف الكتاب، وفي نهاية الجزء الأول، وبداية الجزء الثاني، وما ورد في كتب التراجم التي نصت على اسم الكتاب، أو إثبات نسبته لمؤلفه.
2 - استقرأت الكتاب - القسم المحقق عندي - واستخرجت منه: مصادر المؤلف في كتابه هذا، ومنهجه في اختصاره، ومنهجه في عرض المادة العلمية.
লেখক এবং গ্রন্থ সম্পর্কে গবেষণায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:গবেষণামূলক অংশে আমি নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছি:
প্রথমত: লেখক সম্পর্কে আমার গবেষণায়:১ - আমি সেই সকল গ্রন্থ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করেছি যা লেখকের সমসাময়িক কাল এবং তার ওপর রাজনৈতিক, সামাজিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছে।
২ - আমি লেখকের জীবনী সম্বলিত ও তাকে নিয়ে আলোচনা করা গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করেছি এবং তা থেকে তার জীবন ও বেড়ে ওঠার বিবরণ নির্যাস হিসেবে গ্রহণ করেছি; এক্ষেত্রে আমি মুফাসসিরগণের জীবনীগ্রন্থ, ফকীহগণের জীবনীগ্রন্থ এবং মূল ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।
৩ - আমি লেখকের এই গ্রন্থ থেকে —যা সম্পাদনার জন্য নির্ধারিত অংশ— লেখকের ব্যক্তিত্ব, তার শিক্ষকবৃন্দ, তার রচনাবলী, তার আকিদাহ এবং তার ফিকহী মাযহাব স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে তথ্য গ্রহণ করেছি।
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থ সম্পর্কে আমার গবেষণা:১ - আমি গ্রন্থটির সঠিক নাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের সঠিকতা প্রমাণ করেছি; আর এটি করেছি গ্রন্থের ভূমিকা ও উপসংহার, গ্রন্থের প্রচ্ছদলিপি, প্রথম খণ্ডের শেষাংশ ও দ্বিতীয় খণ্ডের শুরু এবং জীবনীগ্রন্থসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা পর্যালোচনার মাধ্যমে, যেখানে গ্রন্থের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অথবা লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধ সাব্যস্ত করা হয়েছে।
২ - আমি গ্রন্থটি —যা আমার নিকট সম্পাদিত অংশ— বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করেছি এবং তা থেকে বের করেছি: এই গ্রন্থে লেখকের ব্যবহৃত উৎসসমূহ, সংক্ষেপ করার ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তার অনুসৃত পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المنهج الذي سرت عليه في التحقيق يتلخص فيما يلي:يتلخص منهجي في التحقيق بالنقاط التالية:
1. نسخ القدر المطلوب تحقيقه حسب القواعد الإملائية الحديثة، ووضعت علامات الترقيم من: نقط، وفواصل، ونحوها، وفق المنهج المتعارف عليه.
2. مقابلة النص مع ما تبقى من كتاب القاضي إسماعيل بن إسحاق، وكتب التفسير، وكتب الأحكام التي سبقته، والمصادر التي نقل عنها المؤلف، وأثبت بالأصل ما ورد في النسخة الخطية إلا ما تحققت من خطئه فإني أثبت الصواب في الأصل وما ورد في النسخة الخطية بالحاشية، مبيناً ما اعتمدت عليه في التصويب، وما ترددت فيه أو أجد له احتمالاً فإني أبقيته على ما ورد في النسخة الخطية، مع الإشارة في الحاشية إلى ما يحتمل.
3. إذا وجدت خطأ في كتابة الآيات القرآنية فإني أصححها دون الإشارة إلى ذلك في الحاشية.
4. أشرت في أعلى كل صفحة إلى اسم السورة وأرقام الآيات المفسرة فيها.
5. عزوت الآيات القرآنية إلى سورها بذكر اسم السورة ورقم الآية.
6. وثقت القراءات القرآنية، وعزوتها إلى مصادرها.
7. خرجت الأحاديث، ونقلت حكم عليها الأئمة عليها، مكتفياً بما في الصحيحين أو أحدهما، ما لم يكن الحديث الذي ذكره المؤلف من طريق آخر غير طريقهما، أو بلفظ غير لفظهما.
8. خرجت الآثار من مصادرها المعتمدة.
9. وثقت النقول وأقوال العلماء، سواء ما نص على قائله، أو ذكر القول ولم يشر إلى من قال به.
10. ترجمت للأعلام الواردة في الرسالة.
11. عزوت الشواهد الشعرية لقائلها، ووثقتها من مصادرها.
12. علقت على كلام المؤلف بما تدعو الحاجة للتعليق عليه من المسائل العلمية.
13. وضحت بعض عبارات المؤلف التي قد يكون فيها بعض الغموض.
14. شرحت الألفاظ الغريبة بالرجوع إلى معاجم اللغة وكتب الغريب والمعاني.
15. عرفت بالقبائل والفرق الواردة في الكتاب.
16. عرفت بالأماكن غير المشهورة.
17. أثبت أرقام لوحات المخطوط، وذلك بالإشارة إلى بداية اللوحة.
সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা নিম্নরূপ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপিত করা হলো:
১. আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অংশটুকু প্রতিলিপি করেছি এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দাড়ি, কমা ও অন্যান্য যতিচিহ্ন স্থাপন করেছি।
২. কাজী ইসমাইল বিন ইসহাকের কিতাবের অবশিষ্ট অংশ, তাফসীর গ্রন্থসমূহ, তাঁর পূর্ববর্তী আহকাম বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং লেখক যেসব উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোর সাথে মূল পাঠের তুলনা করেছি। পাণ্ডুলিপিতে যা ছিল তা-ই মূল পাঠে বহাল রেখেছি, তবে যেখানে ভুল নিশ্চিত হয়েছে সেখানে মূল পাঠে সঠিকটি লিখে পাণ্ডুলিপির পাঠ টীকা হিসেবে উল্লেখ করেছি এবং সংশোধনের ভিত্তি বর্ণনা করেছি। কোনো বিষয়ে সংশয় থাকলে বা একাধিক সম্ভাবনা থাকলে পাণ্ডুলিপির পাঠটিই রেখে সম্ভাব্য বিষয়টি টীকায় নির্দেশ করেছি।
৩. কুরআনের আয়াত লেখায় ভুল পেলে টীকায় উল্লেখ ছাড়াই তা সংশোধন করেছি।
৪. প্রতিটি পৃষ্ঠার উপরিভাগে সূরার নাম এবং সেই পৃষ্ঠায় ব্যাখ্যা করা আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি।
৫. সূরার নাম এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করে কুরআনের আয়াতসমূহ সংশ্লিষ্ট সূরার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছি।
৬. কুরআনের কিরাতসমূহ প্রামাণ্য উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছি।
৭. হাদিসসমূহ তাখরিজ করেছি এবং সেগুলোর ব্যাপারে ইমামদের হুকুম উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে সহীহাইন বা যেকোনো একটিতে থাকলে তা-ই যথেষ্ট মনে করেছি, যদি না লেখকের বর্ণিত হাদিসটি অন্য কোনো সনদে বা অন্য কোনো শব্দে বর্ণিত হয়ে থাকে।
৮. নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে আছারসমূহ তাখরিজ করেছি।
৯. বিভিন্ন উদ্ধৃতি এবং আলেমদের বক্তব্যসমূহ প্রামাণ্য উৎস থেকে যাচাই করেছি, চাই বক্তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক।
১০. গ্রন্থে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি।
১১. কাব্যিক পঙক্তিগুলো এর রচয়িতার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং প্রামাণ্য উৎস থেকে তা যাচাই করেছি।
১২. প্রয়োজনীয় ইলমি মাসআলার ক্ষেত্রে লেখকের বক্তব্যের ওপর টীকা প্রদান করেছি।
১৩. লেখকের অস্পষ্ট বক্তব্যসমূহ স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি।
১৪. অভিধান এবং ‘গরীব’ ও ‘মাআনী’ বিষয়ক গ্রন্থগুলোর সহায়তায় কঠিন শব্দাবলি ব্যাখ্যা করেছি।
১৫. কিতাবে উল্লেখিত গোত্র ও ফেরকাসমূহ সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করেছি।
১৬. অপরিচিত জায়গাগুলোর পরিচয় দিয়েছি।
১৭. পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বর প্রতিটি পৃষ্ঠার শুরুতে নির্দেশ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأود أن أشير إلى أن ما أوردته من أمثلة في القسم الدراسي نقلته بنصه من قسم التحقيق، دون الإشارة إلى ما فيه من تعليق أو تحقيق أو توثيق، اكتفاء بما أوردته في قسم التحقيق خشية التكرار، وليكون التحقيق متكاملاً في موضعه.
هذا وختاماً فإني أتوجه بالثناء والشكر إلى الله سبحانه وتعالى على ما يسر وأعان، ومنّ به حتى التمام، وأسأله أن يقبله مني ويغفر زللي فيه.
ثم أتوجه بالشكر إلى - من قرن الله حقهما بحقه - والديّ الفاضلين، الذين ربياني وعلماني، وشجعاني على مواصلة الدراسات العليا، رب اغفر لهما وارحمهما كما ربياني صغيراً، وأمدهما بالصحة والعافية، وأحسن خاتمتهما.
والشكر موصول لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية ممثلة في كلية أصول الدين، وقسم القرآن وعلومه، والقائمين عليه، من مسؤولين وأساتذة.
ثم أتوجه بالشكر والتقدير والاحترام لشيخي الفاضل الدكتور / علي بن سليمان العبيد - وكيل الرئيس العام لشؤون المسجد النبوي، والأستاذ في قسم القرآن وعلومه سابقاً - على توجيهاته، ومتابعته لعملي في بحثي، فقد كان مرشداً موجهاً، مع لين جانب، وحسن توجيه، استفدت من خلقه وعلمه كثيراً، فجزاه الله عني خير الجزاء.
كما لا أنسى أن أشكر كل من أعانني على إخراج هذا الكتاب، ممن قدم لي نصيحة، أو أعارني كتاباً، أو أبدى لي مشورة.
اللهم اجعل عملنا هذا خالصاً لوجهك الكريم، نافعاً للكاتب والقارئ، حجة لنا لا علينا.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحابته أجمعين
والحمد لله رب العالمين أولاً وآخرا
আমি উল্লেখ করতে চাই যে, অধ্যয়ন অংশে আমি যে উদাহরণগুলো উপস্থাপন করেছি, তা তাহকিক (সম্পাদনা) অংশ থেকে হুবহু উদ্ধৃত করেছি; এতে কোনো টীকা, তাহকিক বা তথ্যসূত্র উল্লেখ করিনি, যাতে পুনরাবৃত্তি পরিহার করা যায় এবং তাহকিক অংশটি তার নিজ স্থানে পূর্ণাঙ্গ থাকে।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দরবারে প্রশংসা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি যে, তিনি যা সহজ করে দিয়েছেন এবং সাহায্য করেছেন এবং পূর্ণতা না পাওয়া পর্যন্ত অনুগ্রহ দান করেছেন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং এতে আমার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন।
অতঃপর আমি কৃতজ্ঞতা জানাই—যাঁদের অধিকারকে আল্লাহ নিজের অধিকারের সাথে যুক্ত করেছেন—আমার সম্মানিত পিতা-মাতাকে, যাঁরা আমাকে লালন-পালন ও শিক্ষা দিয়েছেন এবং উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন। হে প্রতিপালক! তুমি তাঁদের প্রতি ক্ষমা ও দয়া করো যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন। তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দান করো এবং তাঁদের শেষ পরিণতি উত্তম করো।
আমার কৃতজ্ঞতা ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি, যা উসুলুদ্দিন অনুষদ এবং কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগ এবং এর দায়িত্বশীল ও শিক্ষকবৃন্দের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব লাভ করেছে।
এরপর আমি আমার সম্মানিত শায়খ ডক্টর আলী বিন সুলাইমান আল-উবাইদ—মসজিদে নববী বিষয়ক সাধারণ অধিদপ্তরের সহকারী প্রধান এবং কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক—এর প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও সম্মান নিবেদন করছি তাঁর দিকনির্দেশনা এবং আমার গবেষণাকর্মের তত্ত্বাবধানের জন্য। তিনি ছিলেন একজন সদয় ও সঠিক পথপ্রদর্শক। আমি তাঁর চরিত্র ও ইলম থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
সেই সাথে এই গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যারা আমাকে সাহায্য করেছেন, উপদেশ দিয়েছেন, বই ধার দিয়েছেন অথবা পরামর্শ দিয়েছেন, আমি তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না।
হে আল্লাহ! আমাদের এই আমলকে শুধুমাত্র তোমার মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করো, লেখক ও পাঠকের জন্য একে কল্যাণকর করো এবং একে আমাদের স্বপক্ষে দলিল করো, বিপক্ষে নয়।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, শুরুতে এবং শেষে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
التمهيدتعريف تفسير آيات الأحكام، ونشأته، وأهم المصنفات فيه
উপক্রমণিকাতাফসীরে আয়াতুল আহকামের সংজ্ঞা, এর উদ্ভব এবং এ বিষয়ের প্রধান গ্রন্থসমূহ
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تعريف تفسير آيات الأحكام ونشأته وأهم المصنفات فيه
لقد أنزل الله كتابه الكريم على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم ليخرج به الناس من الظلمات إلى النور، فكان كتاب حق، مشتمل على الحق، يهدي للتي هي أقوم: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآَنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ}
(1).
وأنزله عز وجل بلسان عربي مبين: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآَنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ}
(2) لكي نعقله، ونتدبره، ونفهمه، ونستنبط ما فيه من العلوم.
وقد حوى هذا الكتاب علوماً شتى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ}
(3)، يقول السيوطي: وإن كتابنا القرآن لهو مفجر العلوم ومنبعها، ودائرة شمسها ومطلعها، أودع فيه سبحانه وتعالى علم كل شيء، وأبان فيه كل هدى وغي، فترى كل ذي فن منه يستمد، وعليه يعتمد، فالفقيه يستنبط منه الأحكام، ويستخرج حكم الحلال والحرام.
(4)ومن العلوم المتعلقة بهذا الكتاب العظيم: معرفة أحكامه
(5)، ولما كان موضوع تحقيق هذه الرسالة: أحكام القرآن، وهو أحد المصنفات في هذا العلم، كان من المناسب الحديث عن هذا العلم - أعني معرفة أحكام القرآن - من جوانب ثلاثة: أولاً: تعريفه، ثانياً: نشأته وتطوره، ثالثاً: أهم المصنفات فيه.
--------------------------------------------
আহকাম আয়াতসমূহের তাফসীরের সংজ্ঞা, এর উদ্ভব এবং এই বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ
আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাব তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন যাতে এর মাধ্যমে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন। সুতরাং এটি সত্যের কিতাব, যা সত্যকে ধারণ করে এবং যা অধিকতর সুদৃঢ় তার দিকে পথ প্রদর্শন করে: {নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথের দিশা দেয় যা সর্বাপেক্ষা সুদৃঢ়}
(১)।
এবং আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী হয়ে একে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো}
(২); যাতে আমরা একে অনুধাবন করতে পারি, এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে পারি, একে বুঝতে পারি এবং এর মধ্যে নিহিত জ্ঞানসমূহ আহরণ করতে পারি।
এবং এই কিতাব বিবিধ জ্ঞানকে ধারণ করেছে: {আমি এই কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি}
(৩)। ইমাম সুয়ূতী বলেন: আমাদের এই কিতাব কুরআন হলো জ্ঞানসমূহের উৎস ও প্রস্রবণ, এর সূর্যের পরিধি এবং উদয়স্থল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এতে প্রত্যেক জিনিসের জ্ঞান গচ্ছিত রেখেছেন এবং এতে সঠিক পথ ও ভ্রষ্টতা উভয়কে স্পষ্ট করেছেন। ফলে আপনি দেখবেন প্রতিটি শাস্ত্রের পারদর্শী ব্যক্তি এখান থেকেই জ্ঞান আহরণ করছে এবং এর ওপরই নির্ভর করছে। ফকিহ এখান থেকে বিধানাবলী আহরণ করেন এবং হালাল ও হারামের বিধান বের করেন।
(৪)এই মহান কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের অন্যতম হলো: এর বিধানাবলী (আহকাম) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ। যেহেতু এই গবেষণাপত্রটি সম্পাদনার বিষয়বস্তু হলো: "আহকামুল কুরআন", যা এই শাস্ত্রের অন্যতম একটি গ্রন্থ, তাই এই শাস্ত্র তথা কুরআনের বিধানাবলী সম্পর্কে তিনটি দিক থেকে আলোচনা করা সমীচীন: প্রথমত: এর সংজ্ঞা, দ্বিতীয়ত: এর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ, তৃতীয়ত: এই বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أولاً: تعريف تفسير آيات الأحكام.
لم أجد من عرفه من المتقدمين، مع ذكرهم له كنوع مستقل من أنواع علوم القرآن، بل حتى الذين صنفوا في أحكام القرآن لم يُعرفوه، ولعل هذا يرجع إلى التصاقه بالتفسير التصاقاً وثيقاً، حيث يعد نوعاً من أنواع التفسير، ومما يدل على ذلك أن الزركشي عندما عرف التفسير أدخل فيه تفسير آيات الأحكام، حيث قال: التفسير علم يُعرف به فهم كتاب الله المنزل على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، وبيان معانيه، واستخراج أحكامه وحِكمه.
(1)ومما يدل على ذلك أيضاً: أن كتب التفسير المطولة لا تخلو من الحديث عن أحكام القرآن، وما يتعلق بالآيات من الفقه، وكذلك الكتب التي أفردت أحكام القرآن بالذكر لا تخلو من شيء من التفسير.
ومع ذلك فقد تميزت الكتب التي أفردت أحكام القرآن عن كتب التفسير الأخرى ببسط المسائل الفقهية، وبيان وجه الاستشهاد بالآيات على هذه الأحكام، والرد على المخالفين، وبهذا أصبح علماً قائماً بذاته يحتاج إلى تعريف يوضح أطره ومدلوله، ولم أجد تعريفاً جامعاً سوى ما ذكره الدكتور علي بن سليمان العبيد، في كتابه (تفاسير آيات الأحكام ومناهجها) بقوله: تفسير الأحكام وآياته، أو تفسير الفقهاء، أو التفسير الفقهي كما يسميه البعض، نعني به إذا أطلق: التفسير الذي يجمع آيات الأحكام الشرعية من القرآن الكريم ويفسرها في كتاب مستقل.
(2)
ثانياً: نشأته وتطوره:سبقت الإشارة إلى الارتباط الوثيق بين التفسير وبين تفسير آيات الأحكام كنوع من أنواع التفسير، وعليه فإن نشأة التفسير عموماً، ونشأة تفسير آيات الأحكام خصوصاً لا تختلف اختلافاً كبيراً.
--------------------------------------------
প্রথমত: তাফসির আয়াতুল আহকামের সংজ্ঞা.
আমি পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে কাউকে খুঁজে পাইনি যিনি এর সংজ্ঞা দিয়েছেন, যদিও তাঁরা একে উলুমুল কুরআনের একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন; এমনকি যারা আহকামুল কুরআন নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তারাও এর সংজ্ঞা প্রদান করেননি। সম্ভবত এর কারণ হচ্ছে তাফসিরের সাথে এর সুগভীর সম্পৃক্ততা, কারণ একে তাফসিরের প্রকারভেদসমূহেরই একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়। এর প্রমাণ হলো যখন যারকাশী তাফসিরের সংজ্ঞা দিয়েছেন, তখন তিনি তাতে আহকাম সংক্রান্ত আয়াতের তাফসিরকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: তাফসির হলো এমন এক ইলম বা শাস্ত্র যার মাধ্যমে আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবের মর্ম উপলব্ধি করা যায়, এর অর্থ স্পষ্ট করা যায় এবং এর বিধানাবলি ও হিকমতসমূহ উদ্ঘাটন করা যায়।
(১)এর আরও প্রমাণ হলো: বিস্তারিত তাফসিরের কিতাবগুলো কুরআনের বিধানাবলি এবং আয়াত সংশ্লিষ্ট ফিকহী আলোচনা থেকে মুক্ত নয়। অনুরূপভাবে যেসব কিতাব শুধু কুরআনের বিধানাবলি বর্ণনার জন্য স্বতন্ত্রভাবে রচিত, সেগুলোও তাফসিরের কিছু অংশ থেকে মুক্ত নয়।
তা সত্ত্বেও কুরআনের বিধানাবলির জন্য নিবেদিত গ্রন্থগুলো অন্যান্য তাফসির গ্রন্থ থেকে ফিকহী মাসআলাসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা, এই বিধানগুলোর ওপর আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি স্পষ্ট করা এবং বিরোধীদের খণ্ডন করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে। আর এভাবেই এটি একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে যার এমন একটি সংজ্ঞার প্রয়োজন যা এর কাঠামো ও তাৎপর্য স্পষ্ট করবে। এ ক্ষেত্রে ড. আলী বিন সুলাইমান আল-উবাইদ তাঁর ‘তাফাসিরু আয়াতি আহকাম ওয়া মানাহিজিহা’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া আমি কোনো সংহত সংজ্ঞা খুঁজে পাইনি। তিনি বলেছেন: আহকাম ও এর আয়াতসমূহের তাফসির, অথবা ফকীহগণের তাফসির, অথবা কেউ কেউ একে যে ফিকহী তাফসির নাম দিয়েছেন— তা দ্বারা সাধারণভাবে আমাদের উদ্দেশ্য হলো: এমন তাফসির যা পবিত্র কুরআনের শরয়ী বিধান সম্বলিত আয়াতগুলোকে একত্রিত করে এবং একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করে।
(২)
দ্বিতীয়ত: এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:তাফসির এবং তাফসিরের একটি প্রকার হিসেবে তাফসির আয়াতুল আহকামের মধ্যে যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে, সেদিকে আগেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সাধারণভাবে তাফসিরের উৎপত্তি এবং বিশেষভাবে তাফসির আয়াতুল আহকামের উৎপত্তির মধ্যে তেমন কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ويمكن تحديد نشأة هذا العلم من خلال مرحلتين:
المرحلة الأولى: مرحلة ما قبل ظهور المذاهب الفقهية.
وتشتمل هذه المرحلة على عهد النبوة، وعهد الصحابة، وعهد التابعين.
(1)أرسل الله سبحانه وتعالى رسوله محمداً صلى الله عليه وسلم إلى الناس بشيراً ونذيراً، فكان خاتم الرسل، وأنزل عليه كتابه فكان خاتم الكتب، وقد حوى هذا الكتاب من العقائد والأحكام والأخلاق ما فيه صلاح الناس في دينهم ودنياهم.
وقد كان مصدر التشريع في ذلك الوقت الكتاب والسنة، فكان الصحابة يفهمون ما تحمله الآيات من الأحكام الفقهية بمقتضى سليقتهم العربية، ولوضوح بعض الأحكام، وما أشكل عليهم سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عنه، باعتباره المبلغ عن الله، والمبين لهذا الكتاب.
وبعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم واتساع الفتوحات، واحتكاك المسلمين بغيرهم من الثقافات الأخرى، حدثت قضايا ومشاكل تحتاج إلى بيان الحكم الشرعي فيها، فكان الصحابة يرجعون في ذلك إلى ما عندهم من الكتاب والسنة، فإن لم يجدوا فيهما استشاروا أهل الرأي من فقهاء الصحابة، فإذا اجتمع رأيهم على شيء كان القضاء به، وذلك ما يسمى بالإجماع، فإن لم يتفقوا اجتهدوا وأعملوا الرأي على ضوء فهمهم للكتاب والسنة، يقول الشيخ مناع القطان رحمه الله: وباتساع الفتوحات الإسلامية تتجدد مشكلات الناس، وتجد أقضية لم تكن معهودة من قبل، وليس لها نص في كتاب أو سنة، وإذا كانت مدارك الصحابة ودرجاتهم في الفهم متفاوتة، فذلك من شأنه أن يوقع الاختلاف فيما بينهم، وهكذا كان موقفهم من القضايا الجديدة، فمنها ما اتفقوا فيه على رأي، ومنها ما اختلفوا فيه.
(2)--------------------------------------------
এই শাস্ত্রের উদ্ভবকে দুটি পর্যায়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা যেতে পারে:
প্রথম পর্যায়: ফিকহি মাযহাবসমূহ আবির্ভূত হওয়ার পূর্ববর্তী পর্যায়.
এই পর্যায়টি নবুওয়াতের যুগ, সাহাবায়ে কেরামের যুগ এবং তাবেয়ীদের যুগের ওপর বিস্তৃত।
(১)আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মানুষের নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি ছিলেন সর্বশেষ রাসূল এবং তাঁর ওপর তিনি তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা ছিল সর্বশেষ কিতাব। এই কিতাব আকীদা, বিধান এবং নৈতিকতার এমন সব বিষয় ধারণ করেছে যাতে মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
সেই সময় বিধান প্রদানের উৎস ছিল কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ। সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের সহজাত আরবি ভাষাজ্ঞান অনুযায়ী এবং কিছু বিধানের সুস্পষ্টতার কারণে আয়াতসমূহ যে ফিকহি বিধানসমূহ বহন করত তা বুঝতে পারতেন। আর যা তাঁদের কাছে অস্পষ্ট মনে হতো, সে সম্পর্কে তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করতেন; যেহেতু তিনি ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচারকারী এবং এই কিতাবের ব্যাখ্যাকারী।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর এবং বিজয়াভিযান সম্প্রসারিত হওয়ায় এবং অন্য সংস্কৃতির সাথে মুসলিমদের সংমিশ্রণ ঘটার ফলে এমন সব বিষয় ও সমস্যার উদ্ভব ঘটে যেগুলোর শরয়ি বিধান স্পষ্ট করার প্রয়োজন ছিল। ফলে সাহাবায়ে কেরাম সে ক্ষেত্রে তাঁদের নিকট থাকা কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। যদি তাঁরা এই দুই উৎসে সমাধান না পেতেন, তবে তাঁরা সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যারা ফকিহ বা প্রাজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন তাঁদের সাথে পরামর্শ করতেন। অতঃপর যদি তাঁদের অভিমত কোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হতো, তবে তার মাধ্যমেই ফয়সালা করা হতো। আর এটিই ইজমা নামে পরিচিত। আর যদি তাঁরা একমত হতে না পারতেন, তবে তাঁরা ইজতিহাদ করতেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর বুঝের আলোকে সুচিন্তিত রায় প্রয়োগ করতেন। শেখ মান্না আল-কাত্তান রহিমাহুল্লাহ বলেন: ইসলামি বিজয়সমূহের বিস্তৃতির সাথে সাথে মানুষের সমস্যাগুলো নতুন রূপ নিতে থাকে এবং এমন সব বিচার্য বিষয় সামনে আসে যা আগে পরিচিত ছিল না এবং কিতাব বা সুন্নাহতে যার কোনো সরাসরি বর্ণনা ছিল না। আর যেহেতু সাহাবায়ে কেরামের উপলব্ধি ও বুঝের স্তর ভিন্ন ভিন্ন ছিল, তাই তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ছিল। নতুন বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান এমনই ছিল; কিছু বিষয়ে তাঁরা একমত হতেন এবং কিছু বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করতেন।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
واستمر الحال في عهد التابعين باتباع منهج الصحابة في التعامل مع هذه القضايا، مع الأخذ بأحكام الصحابة إن كانوا حكموا في مثل هذه المسائل.
ولا بد من الإشارة إلى أنه في هذه المرحلة حدثت أمور كان لها الأثر الواضح في اختلاف مصادر الفقه الإسلامي، فبفتنة مقتل عثمان رضي الله عنه، وما حدث بين علي ومعاوية رضي الله عنهما، ومقتل الحسين رضي الله عنه، كانت هذه بداية شر وفتنة، حيث انقسم الناس إلى شيعة، وخوارج، وجماعة، فأصبح لكل فريق من الفرق الثلاث فقهه الخاص به في الأصول والفروع، وما يزال هذا الأمر حتى يومنا هذا.
المرحلة الثانية: مرحلة ظهور المذاهب الفقهية.
وتشمل هذه المرحلة عهد الأئمة الأربعة ومن بعدهم.
(1)ظل الأمر على ما هو عليه حتى ظهور الأئمة الأربعة، وفيه جدت حوادث كثيرة للمسلمين لم يسبق لمن تقدمهم حكم عليها؛ لأنها لم تكن على عهدهم، فأخذ كل إمام ينظر إلى هذه الحوادث تحت ضوء القرآن والسنة، وجعل كل إمام لنفسه أصولاً يقوم عليها مذهبه وحكمه.
ومع ذلك فقد كان قولهم جميعاً: إذا صح الحديث فهو رأيي، فهم جميعاً ينشدون الحق، ولا يجد أحدهم في نفسه حرجاً أن يرجع عن رأيه إلى ما يراه صواباً، حتى وإن كان هذا الصواب هو رأي أحد الأئمة الآخرين.
--------------------------------------------
তাবিঈদের যুগে এই বিষয়গুলো মোকাবিলায় সাহাবীদের মানহাজ অনুসরণের মাধ্যমে এই ধারা অব্যাহত থাকে, পাশাপাশি সাহাবীগণ যদি এই ধরনের মাসআলাগুলোতে কোনো ফয়সালা দিয়ে থাকেন তবে তা গ্রহণ করার নীতিও বজায় ছিল।
এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, এই পর্যায়ে এমন কিছু বিষয় ঘটেছিল যা ইসলামী ফিকহের উৎসের ভিন্নতার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের ফিতনা, আলী ও মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-র মধ্যে যা ঘটেছিল এবং হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত—এসবই ছিল অনিষ্ট ও ফিতনার সূচনা। এর ফলে মানুষ শিয়া, খারেজি এবং জামাআত—এই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে এই তিন দলের প্রত্যেকের জন্য উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা)-এর ক্ষেত্রে নিজস্ব ফিকহ তৈরি হয় এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এই বিষয়টি অব্যাহত রয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়: ফিকহী মাযহাবসমূহের বিকাশের পর্যায়.
এই পর্যায়টি চার ইমাম এবং তাঁদের পরবর্তী সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(১)চার ইমামের আবির্ভাব পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে। এই সময়ে মুসলমানদের জীবনে এমন অনেক নতুন ঘটনার উদ্ভব ঘটে যার ফয়সালা তাঁদের পূর্ববর্তীরা দিয়ে যাননি; কারণ সেসব তাঁদের যুগে ছিল না। ফলে প্রত্যেক ইমাম কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন এবং প্রত্যেক ইমাম নিজের জন্য এমন কিছু উসুল নির্ধারণ করেন যার ওপর তাঁর মাযহাব ও ফয়সালা প্রতিষ্ঠিত হয়।
তা সত্ত্বেও তাঁদের সকলেরই বক্তব্য ছিল: "হাদিস যখন সহীহ হবে, সেটিই আমার মত"। তাঁরা সকলেই সত্যের সন্ধানী ছিলেন এবং তাঁদের কেউই নিজের মত থেকে সঠিকটির দিকে ফিরে আসতে মনে কোনো দ্বিধাবোধ করতেন না, এমনকি সেই সঠিকটি যদি অন্য কোনো ইমামের মতও হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثم خلف من بعدهم خلف أضاعوا سنة أسلافهم في البحث عن الحق والأخذ به وإن خالف رأيه، واتبعوا التقليد القائم على التعصب المذهبي، فنزلوا أقوال الأئمة منزلة النصوص الشرعية، وحصروا جهدهم في الإكثار من كتب المناقب، ينشرون ما كان عليه إمام المذهب من سعة العلم وقوة الحجة، والديانة وحسن الخلق، وتتبع مواضع الخلاف والتصنيف فيها، وإبطال مذهب المخالف وتفنيده، وجالوا في ميدان المناظرة، وتسابقوا في حلبة الجدل، وتراشقوا التهم، بحثاً عن الانتصار للمذهب، وبعيداً عن طلب الحق.
ولكن مع هذا الغلو والتعصب المقيت وجد من العلماء المنصفين - وهم كُثر - من يبحث عن الحق، ويتبع الدليل وإن خالف رأيه ورأي شيخه.
ومن خلال هاتين المرحلتين نشأ تفسير آيات الأحكام، وألفت فيه المؤلفات المختلفة، وتعددت مناهج المؤلفين فيه، ما بين مقل ومستكثر، وما بين متعصب ومنصف، وسأتناول أهم هذه المصنفات في المبحث التالي، مراعياً سنة وفاة المؤلف، ليعلم المتقدم من غيره.
ثالثاً: أهم المصنفات في تفسير آيات الأحكام.
1.تفسير الخمسمائة آية من القرآن، مقاتل بن سليمان البلخي ت 150 هـ.
(1)2. أحكام القرآن يحيى بن آدام القرشي المخزومي ت 203 هـ.
(2)3.أحكام القرآن، محمد بن إدريس الشافعي ت 204 هـ.
(3)4.أحكام القرآن، إبراهيم بن خالد الكلبي، أبو ثور ت 240 هـ.
(4)5.أحكام القرآن، أحمد بن المعذل البصري ت 240 هـ.
(5)--------------------------------------------
এরপর তাদের পরে এমন এক স্থলাভিষিক্ত প্রজন্মের আগমন ঘটে যারা সত্য অনুসন্ধান এবং তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের পূর্বসূরীদের আদর্শকে বিসর্জন দেয়, যদিও তা তাদের নিজস্ব মতের পরিপন্থী হয়। তারা মাযহাবী গোঁড়ামির ওপর ভিত্তি করে অন্ধ অনুকরণের অনুসরণ করে। ফলে তারা ইমামদের বাণীসমূহকে শরয়ী দলিলের মর্যাদায় নামিয়ে আনে এবং তাদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে কেবল 'মানাকিব' বা গুণগান বিষয়ক গ্রন্থাবলির আধিক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। তারা তাদের মাযহাবের ইমামদের জ্ঞানের বিশালতা, দলিলের শক্তি, ধর্মপরায়ণতা ও সচ্চরিত্রের কথা প্রচার করতে থাকে। তারা মতপার্থক্যের স্থানগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো নিয়ে গ্রন্থ রচনা করে এবং বিরোধীদের মাযহাবকে বাতিল ও খণ্ডন করতে সচেষ্ট হয়। তারা বিতর্কের ময়দানে অবতীর্ণ হয়, বাদানুবাদের প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে এবং একে অপরের প্রতি অপবাদ ছুড়ে দেয়; যা ছিল কেবল মাযহাবের বিজয় লাভের উদ্দেশ্যে, সত্য অনুসন্ধানের জন্য নয়।
কিন্তু এই অতিরঞ্জন ও ঘৃণ্য গোঁড়ামির মধ্যেও এমন অনেক ইনসাফপন্থী আলেম ছিলেন—যাঁদের সংখ্যা অনেক—যাঁরা সত্যের অনুসন্ধান করতেন এবং দলিলের অনুসরণ করতেন, এমনকি তা যদি তাঁদের নিজস্ব মত বা তাঁদের শিক্ষকের মতের পরিপন্থীও হতো।
এই দুটি পর্যায়ের মধ্য দিয়েই বিধান সংবলিত আয়াতসমূহের তাফসীর বা 'তফসীরু আয়াতিল আহকাম'-এর উদ্ভব ঘটে এবং এতে বিভিন্ন গ্রন্থ রচিত হয়। এই বিষয়ে লেখকদের কর্মপদ্ধতিতেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়—কেউ সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেছেন আবার কেউ বিস্তারিত, কেউ ছিলেন গোঁড়া আবার কেউ ইনসাফপন্থী। আমি পরবর্তী পরিচ্ছেদে এই বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলো নিয়ে আলোচনা করব, যেখানে লেখকের মৃত্যু সাল বিবেচনা করা হবে যাতে অগ্রবর্তী ও পরবর্তী লেখকদের সম্পর্কে জানা যায়।
তৃতীয়ত: আয়াতুল আহকামের তাফসীর বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ.
১.তাফসীরুল খামসি মিআতি আয়াহ মিনাল কুরআন, মুকাতিল বিন সুলাইমান আল-বালখি, মৃত্যু ১৫০ হিজরি।
(১)২. আহকামুল কুরআন, ইয়াহইয়া বিন আদম আল-কুরাশি আল-মাখযুমি, মৃত্যু ২০৩ হিজরি।
(২)৩.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিয়ি, মৃত্যু ২০৪ হিজরি।
(৩)৪.আহকামুল কুরআন, ইব্রাহিম বিন খালিদ আল-কালবি, আবু সাওর, মৃত্যু ২৪০ হিজরি।
(৪)৫.আহকামুল কুরআন, আহমাদ বিন আল-মুআদ্দাল আল-বাসরি, মৃত্যু ২৪০ হিজরি।
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
6.إيجاب التمسك بأحكام القرآن، يحيى بن أكثم بن محمد بن قطن التميمي المروزي ت 242 هـ.
(1)7.أحكام القرآن، علي بن حجر بن إياس السعدي المروزي ت 244 هـ.
(2)8.أحكام القرآن، حفص بن عمرو الدوري الأزدي ت 246 هـ.
(3)9.أحكام القرآن، محمد بن عبد السلام سحنون بن سعيد التنوخي القيرواني ت 256 هـ.
(4)10.أحكام القرآن، محمد بن عبد الله بن عبد الحكم المصري ت 268 هـ.
(5)11.أحكام القرآن، داود بن علي الظاهري ت 270 هـ.
(6)12.أحكام القرآن، القاضي إسماعيل بن إسحاق الجهضمي ت 282 هـ.
(7)13.أحكام القرآن، يحيى بن منصور بن حسن السلمي أبو سعد الهروي الحنبلي ت 292 هـ.
(8)14.أحكام القرآن، محمد بن عبد الله بن بكير البغدادي ت 305 هـ.
(9)--------------------------------------------
৬. ইজাবুত তামাসসুক বি আহকামিল কুরআন, ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাতান আত-তামিমি আল-মারওয়াযি, মৃত্যু ২৪২ হিজরি।
(১)৭.আহকামুল কুরআন, আলি ইবনে হাজার ইবনে ইয়াস আস-সাদি আল-মারওয়াযি, মৃত্যু ২৪৪ হিজরি।
(২)৮.আহকামুল কুরআন, হাফস ইবনে আমর আদ-দুরি আল-আযদি, মৃত্যু ২৪৬ হিজরি।
(৩)৯.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুস সালাম সাহনুন ইবনে সাইদ আত-তানুখি আল-কায়রাওয়ানি, মৃত্যু ২৫৬ হিজরি।
(৪)১০.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আল-মিসরি, মৃত্যু ২৬৮ হিজরি।
(৫)১১.আহকামুল কুরআন, দাউদ ইবনে আলি আয-যাহিরি, মৃত্যু ২৭০ হিজরি।
(৬)১২.আহকামুল কুরআন, আল-কাদি ইসমাইল ইবনে ইসহাক আল-জাহদামি, মৃত্যু ২৮২ হিজরি।
(৭)১৩.আহকামুল কুরআন, ইয়াহইয়া ইবনে মানসুর ইবনে হাসান আস-সুলামি আবু সাদ আল-হারাউই আল-হানবালি, মৃত্যু ২৯২ হিজরি।
(৮)১৪.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর আল-বাগদাদি, মৃত্যু ৩০৫ হিজরি।
(৯)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
15.أحكام القرآن، علي بن موسى بن يزداد القُمي الحنفي ت 305 هـ.
(1)16.أحكام القرآن، موسى بن عبد الرحمن بن حبيب، المعروف بالقطان ت 306 هـ.
(2)17.أحكام القرآن، أحمد بن محمد بن زياد الفارسي القيرواني ت 319 هـ.
(3)18.أحكام القرآن، أحمد بن سلامة الطحاوي ت 321 هـ.
(4)19.أحكام القرآن، عبد الله بن أحمد بن محمد المُغلس البغدادي ت 324 هـ.
(5)20.أحكام القرآن، قاسم بن أصبغ القرطبي ت 340 هـ.
(6)21.أحكام القرآن، ابن آمنة الحجاري.
(7)22.مختصر أحكام القرآن للقاضي إسماعيل بن إسحاق، اختصار بكر بن محمد بن العلاء القشيري ت 344 هـ.
(8)--------------------------------------------
১৫. আহকামুল কুরআন, আলী বিন মুসা বিন ইয়াজদাদ আল-কুম্মী আল-হানাফী মৃত্যু ৩০৫ হি.।
(১)১৬.আহকামুল কুরআন, মুসা বিন আব্দুর রহমান বিন হাবিব, আল-কাত্তান নামে পরিচিত মৃত্যু ৩০৬ হি.।
(২)১৭.আহকামুল কুরআন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-ফারিসি আল-কায়রাওয়ানি মৃত্যু ৩১৯ হি.।
(৩)১৮.আহকামুল কুরআন, আহমদ বিন সালামাহ আত-তাহাবী মৃত্যু ৩২১ হি.।
(৪)১৯.আহকামুল কুরআন, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মুগাল্লিস আল-বাগদাদী মৃত্যু ৩২৪ হি.।
(৫)২০.আহকামুল কুরআন, কাসিম বিন আসবাগ আল-কুরতুবী মৃত্যু ৩৪০ হি.।
(৬)২১.আহকামুল কুরআন, ইবনে আমিনাহ আল-হাজ্জারী।
(৭)২২.কাযী ইসমাঈল বিন ইসহাক রচিত আহকামুল কুরআনের সংক্ষিপ্তসার, সংক্ষেপণে বকর বিন মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-কুশাইরী মৃত্যু ৩৪৪ হি.।
(৮)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
23.أحكام القرآن.
24.الإنباه عن الأحكام من كتاب الله، كلاهما للمنذر بن سعيد بن عبد الله البلوطي ت 355 هـ.
(1)25.أحكام القرآن، محمد بن القاسم بن شعبان بن الصقيل، المعروف بابن القرطي ت 355 هـ.
(2)26.أحكام القرآن، أحمد بن علي الرازي، المعروف بالجصاص ت 370 هـ.
(3)27.أحكام القرآن، عباد بن عباس بن عباد الطالقاني ت 385 هـ.
(4)28.أحكام القرآن، محمد بن أحمد المعروف بابن الكواز كان حياً قبل 375 هـ
(5)29.أحكام القرآن، محمد بن عبدالله بن خويز منداد توفي حدود 390 هـ.
(6)30.أحكام القرآن، أحمد بن علي الربعي الباغائي ت 401 هـ.
(7)31.مختصر أحكام القرآن.
32.المأثور عن مالك في أحكام القرآن.
33.ما أغفله القاضي منذر ووهم فيه في كتاب أحكام القرآن. ثلاثتها لمكي بن أبي طالب القيسي ت 437 هـ.
(8)34.أحكام القرآن للشافعي جمع وترتيب أحمد بن الحسين البيهقي ت 458 هـ.
(9)35.أحكام القرآن، محمد بن الحسين المشهور بالقاضي أبي يعلى ت 458 هـ.
(10)--------------------------------------------
২৩. আহকামুল কুরআন।
২৪.আল-ইনবাহ আনিল আহকাম মিন কিতাবিল্লাহ, উভয়টি মুনজির বিন সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বালুতি (মৃত্যু ৩৫৫ হি.)-এর রচিত।
(১)২৫.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন শাবান বিন আস-সাকিল, যিনি ইবনুল কুরতি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৫৫ হি.)।
(২)২৬.আহকামুল কুরআন, আহমদ বিন আলী আর-রাজি, যিনি আল-জাসসাস নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৭০ হি.)।
(৩)২৭.আহকামুল কুরআন, আব্বাদ বিন আব্বাস বিন আব্বাদ আত-তালিকানি (মৃত্যু ৩৮৫ হি.)।
(৪)২৮.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মদ বিন আহমদ যিনি ইবনুল কাওয়াজ নামে পরিচিত, তিনি ৩৭৫ হিজরির পূর্বে জীবিত ছিলেন।
(৫)২৯.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন খুওয়াইজ মানদাদ, মৃত্যু ৩৯০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে।
(৬)৩০.আহকামুল কুরআন, আহমদ বিন আলী আর-রিবয়ি আল-বাগায়ি (মৃত্যু ৪০১ হি.)।
(৭)৩১.মুখতাসার আহকামিল কুরআন।
৩২.আল-মা'সুর আন মালিক ফি আহকামিল কুরআন।
৩৩.মা আগফালাহুল কাদি মুনজির ওয়া ওয়াহামা ফিহি ফি কিতাবি আহকামিল কুরআন। এই তিনটি মাক্কি বিন আবি তালিব আল-কায়সি (মৃত্যু ৪৩৭ হি.)-এর রচিত।
(৮)৩৪.শাফেয়ী রহ.-এর আহকামুল কুরআন, সংগ্রহ ও বিন্যাস: আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকি (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)।
(৯)৩৫.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন যিনি কাজী আবু ইয়ালা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)।
(১০)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
36.أحكام القرآن، علي بن محمد الطبري المعروف بالكيالهراسي ت 504 هـ.
(1)37.أحكام القرآن، محمد بن عبد الله الأندلسي، المعروف بابن العربي ت 543 هـ.
(2)38.أحكام القرآن، عبد المنعم بن محمد بن عبد الرحيم بن الفرس ت 597 هـ.
(3)39.الجامع لأحكام القرآن، محمد بن أبي بكر الأنصاري القرطبي ت 671 هـ.
(4)40.إحكام العنوان لأحكام القرآن، صلاح الدين أبو سعيد بن خليل العلائي ت 671 هـ.
(5)41.التبيان في أحكام القرآن، ابن أبي الأحوص الحسن بن عبد العزيز بن محمد المالكي الأندلسي ت 700 هـ.
(6)42.أحكام القرآن، إبراهيم بن محمد بن إسحاق أبو إسحاق برهان الدين القيسي السقاقُسي ت 742 هـ.
(7)--------------------------------------------
36. আহকামুল কুরআন, আলী বিন মুহাম্মদ আত-তাবারী, যিনি আল-কিয়া আল-হাররাসী নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫০৪ হি।
(১)37.আহকামুল কুরআন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আন্দালুসী, যিনি ইবনুল আরাবী নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫৪৩ হি।
(২)38.আহকামুল কুরআন, আব্দুল মুনইম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাহীম বিন আল-ফারাস, মৃত্যু ৫৯৭ হি।
(৩)39.আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-আনসারী আল-কুরতুবী, মৃত্যু ৬৭১ হি।
(৪)40.ইহকামুল উনওয়ান লি-আহকামিল কুরআন, সালাহউদ্দীন আবু সাঈদ বিন খলিল আল-আলাই, মৃত্যু ৬৭১ হি।
(৫)41.আত-তিবইয়ান ফী আহকামিল কুরআন, ইবনে আবিল আহওয়াস আল-হাসান বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-মালিকি আল-আন্দালুসী, মৃত্যু ৭০০ হি।
(৬)42.আহকামুল কুরআন, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আবু ইসহাক বুরহানুদ্দীন আল-কায়সী আস-সাকাকুসী, মৃত্যু ৭৪২ হি।
(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
43.القول الوجيز في أحكام الكتاب العزيز، أحمد بن يوسف، المعروف بالسمين الحلبي ت 756 هـ.
(1)44.تهذيب أحكام القرآن، محمود بن أحمد بن مسعود، المعروف بابن سراج القونوي ت 770 هـ.
(2)45.رسالة في آيات الأحكام من القرآن الكريم، علي بن شهاب الدين حسن بن محمد الهمذاني الحسيني ت 786 هـ.
(3)46.تيسير البيان لأحكام القرآن، جمال الدين محمد بن علي، المعروف بابن نور الدين الموزعي ت 825 هـ.
(4)47.أحكام الكتاب المبين، علي بن عبد الله الشنفكي ت 907 هـ.
(5)48.الإكليل في استنباط التنزيل، عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي ت 911 هـ.
(6)49.تفسير آيات الأحكام، محمد بن علي الفارسي الاستراباذي ت 1028 هـ.
(7)50.أحكام القرآن، رحم علي الجعفري الفلواري ت 1129 هـ.
(8)51.التفسيرات الأحمدية في بيان الآيات الشرعية، أحمد بن أبي سعيد بن عبد الله الحنفي ت 1130 هـ.
(9)52.نيل المرام من تفسير آيات الأحكام.
--------------------------------------------
৪৩. আল-কাওলুল ওয়াজিজ ফি আহকামিল কিতাবিল আজিজ, আহমদ বিন ইউসুফ, যিনি আস-সামিন আল-হালাবি নামে পরিচিত, মৃ. ৭৫৬ হি.।
(১)৪৪. তাহজিবু আহকামিল কুরআন, মাহমুদ বিন আহমদ বিন মাসউদ, যিনি ইবনে সিরাজ আল-কুনাবি নামে পরিচিত, মৃ. ৭৭০ হি.।
(২)৪৫. রিসালা ফি আয়াতিল আহকাম মিনাল কুরআনিল কারিম, আলী বিন শিহাবুদ্দিন হাসান বিন মুহাম্মদ আল-হামদানি আল-হুসাইনি, মৃ. ৭৮৬ হি.।
(৩)৪৬. তাইসিরুল বায়ান লি-আহকামিল কুরআন, জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আলী, যিনি ইবনে নুরুদ্দিন আল-মাওজায়ী নামে পরিচিত, মৃ. ৮২৫ হি.।
(৪)৪৭. আহকামুল কিতাবিল মুবিন, আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-শানফাকি, মৃ. ৯০৭ হি.।
(৫)৪৮. আল-ইকলিল ফি ইস্তিনবাতিত তানজিল, আব্দুর রহমান বিন আবি বকর আস-সুয়ুতি, মৃ. ৯১১ হি.।
(৬)৪৯. তাফসিরু আয়াতিল আহকাম, মুহাম্মদ বিন আলী আল-ফারিসি আল-আস্তরাবাদি, মৃ. ১০২৮ হি.।
(৭)৫০. আহকামুল কুরআন, রহম আলী আল-জাফরি আল-ফুলওয়ারি, মৃ. ১১২৯ হি.।
(৮)৫১. আত-তাফসিরাত আল-আহমাদিয়া ফি বায়ানিল আয়াতিশ শারইয়্যাহ, আহমদ বিন আবি সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হানাফি, মৃ. ১১৩০ হি.।
(৯)৫২. নাইলুল মারাম মিন তাফসিরি আয়াতিল আহকাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
53.آيات الأحكام الشرعية، كلاهما لمحمد بن صديق خان ت 1307 هـ.
(1)54.أحكام القرآن، إسماعيل جودت المصري ت 1315 هـ.
(2)55.الفتوحات الربانية في تفسير ما ورد في القرآن من الأوامر والنواهي الإلهية، محمد بك عبد العزيز الحكيم ت 1350 هـ.
(3)56.الآيات المحكمات في التوحيد والعبادات والمعاملات، محمد بن أحمد الملقب بـ: الداه الشنقيطي.
(4)57.تفسير آيات الأحكام، محمد علي السايس ت 1396 هـ.
(5)58.تفسير آيات الأحكام، مناع خليل القطان ت 1421 هـ.
(6)59.روائع البيان في تفسير آيات الأحكام من القرآن، محمد علي الصابوني.
(7)60.الشامل في تفسير آيات الأحكام، منصور أبو المعاطي الجوهري.
(8)61.المصطفى من تفسير آيات الأحكام، د. فريد مصطفى سلمان.
(9)62.آيات الأحكام في المغني لابن قدامة المقدسي.
(10)63.تفسير آيات الأحكام في سورة النساء والمائدة، د. سليمان بن إبراهيم اللاحم.
(11)وهناك مؤلفات أخرى في تفاسير آيات الأحكام آثرت هنا الاقتصار على أبرزها.
--------------------------------------------
৫৩. আয়াতুল আহকাম আশ-শারঈয়্যাহ, উভয়টি মুহাম্মদ বিন সিদ্দিক খান (মৃত্যু ১৩০৭ হিজরি)-এর।
(১)৫৪.আহকামুল কুরআন, ইসমাইল জাওদাত আল-মিসরি (মৃত্যু ১৩১৫ হিজরি)।
(২)৫৫.আল-ফুতুহুরাত আর-রব্বানিয়্যাহ ফি তাফসিরি মা ওয়ারাদা ফিল কুরআন মিনাল আওয়ারি ওয়ান নাওয়াহিল ইলাহিয়্যাহ, মুহাম্মদ বেক আব্দুল আজিজ আল-হাকিম (মৃত্যু ১৩৫০ হিজরি)।
(৩)৫৬.আল-আয়াতুল মুহকামাত ফিত তাওহিদ ওয়াল ইবাদাত ওয়াল মুয়ামালাত, মুহাম্মদ বিন আহমদ, যিনি 'আদ-দাহ' আশ-শিনকিতি নামে পরিচিত।
(৪)৫৭.তাফসিরু আয়াতি আহকাম, মুহাম্মদ আলী আস-সাইয়িস (মৃত্যু ১৩৯৬ হিজরি)।
(৫)৫৮.তাফসিরু আয়াতি আহকাম, মান্না খলিল আল-কাত্তান (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)।
(৬)৫৯.রাওয়াইউল বায়ান ফি তাফসির আয়াতি আহকাম মিনাল কুরআন, মুহাম্মদ আলী আস-সাবুনী।
(৭)৬০.আশ-শামিল ফি তাফসির আয়াতি আহকাম, মানসুর আবু আল-মুয়াতি আল-জাওহারি।
(৮)৬১.আল-মুসতাফা মিন তাফসির আয়াতি আহকাম, ড. ফরিদ মুস্তফা সালমান।
(৯)৬২.ইবনে কুদামা আল-মাকদিসির আল-মুগনী গ্রন্থে আয়াতুল আহকাম।
(১০)৬৩.তাফসিরু আয়াতি আহকাম ফি সুরাতিল নিসা ওয়াল মায়িদাহ, ড. সুলাইমান বিন ইব্রাহিম আল-লাহিম।
(১১)আয়াতুল আহকামের তাফসির বিষয়ে আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে, তবে এখানে আমি কেবল প্রধান গ্রন্থগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকাকে পছন্দ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
القسم الأول: دراسة عن المؤلف والكتاب، وفيه فصلان:
الفصل الأول: عصر المؤلف وحياته، وفيه مبحثان:المبحث الأول: عصره، وأثره عليه، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: الحالة السياسية
المطلب الثاني: الحالة الاجتماعية
المطلب الثالث: الحالة العلمية
المبحث الثاني: حياته، وفيه ثمانية مطالب:
المطلب الأول: اسمه ونسبه
المطلب الثاني: مولده ونشأته
المطلب الثالث: مكانته وثناء العلماء عليه
المطلب الرابع: شيوخه وتلاميذه
المطلب الخامس: مصنفاته
المطلب السادس: عقيدته
المطلب السابع: مذهبه الفقهي
المطلب الثامن: وفاته
প্রথম অংশ: লেখক ও গ্রন্থ সম্পর্কে অধ্যয়ন, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগ ও জীবন, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর যুগ এবং তাঁর ওপর এর প্রভাব, এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জীবন, এতে আটটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা ও তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা
চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ
পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী
ষষ্ঠ উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদা
সপ্তম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর ফিকহী মাযহাব
অষ্টম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الأول: عصره، وأثره عليه، وفيه ثلاثة مطالب:المطلب الأول: الحالة السياسية
المطلب الثاني: الحالة الاجتماعية
المطلب الثالث: الحالة العلمية
من المناسب الحديث بإيجاز عن عصر المؤلف من خلال بيان الحالة السياسية، والاجتماعية، والعلمية؛ لمعرفة تلك الأحوال التي نشأ فيها المؤلف، ومدى تأثره بها سلباً أو إيجاباً.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগ এবং তাঁর ওপর এর প্রভাব; এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা
লেখক যে পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠেছেন এবং এর দ্বারা তিনি ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে কতটুকু প্রভাবিত হয়েছেন তা জানার জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা বর্ণনার মাধ্যমে লেখকের যুগ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা সমীচীন।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المطلب الأول: الحالة السياسية:عاش القاضي أبو الفضل بكر بن محمد بن العلاء القشيري في أواخر القرن الثالث وأوائل القرن الرابع الهجريين، وبالتحديد من سنة 263 هـ إلى 344 هـ.
فهو قد عاش في العصر العباسي الثاني، وقد كان بداية هذا العصر بداية عهد الضعف الذي أصاب الأمة الإسلامية، ويعتبر عهد الخليفة المتوكل (232 - 247 هـ) هو بداية هذا العصر الثاني من العصر العباسي.
ولعل من أبرز أسباب هذا الضعف في هذا العصر: اعتماد الدولة العباسية على الفرس أولاً ثم على الأتراك، وإيثارهم إياهم بالمناصب المدنية والعسكرية على العرب، وقد كان من ثمرات هذا الأمر خروج السيطرة عن الخليفة، حيث أصبحت مقاليد الحكم بأيدي الأتراك من خلال سيطرتهم العسكرية على مركز الخلافة، وبقي الخليفة اسماً أو صورة في قصره.
وبهذا الضعف أخذت الأقطار الإسلامية تستقل عن بغداد شيئاً فشيئاً، فصارت عبارة عن دول متعددة مستقلة، لكل دولة مالها وجندها وإدارتها وأميرها، واشتغل كل واحد منهم بقتال الآخر، وشغلوا عن قنال عدوهم، فتفشت الفوضى، وانتشرت الفتن والثورات الداخلية، وطمع الأعداء من الخارج في الدولة الإسلامية فأخذوا يغيرون عليها من وقت لآخر.
(1)--------------------------------------------
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা:কাজী আবু আল-ফজল বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-আলা আল-কুশাইরী হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগে এবং চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকে জীবন অতিবাহিত করেছেন, সুনির্দিষ্টভাবে ২৬৩ হিজরি থেকে ৩৪৪ হিজরি পর্যন্ত।
তিনি দ্বিতীয় আব্বাসীয় যুগে বসবাস করেছেন। এই যুগের সূচনা ছিল মূলত মুসলিম উম্মাহর ওপর আপতিত দুর্বলতার যুগের শুরু। খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিল-এর (২৩২ - ২৪৭ হিজরি) শাসনকালকে আব্বাসীয় যুগের এই দ্বিতীয় পর্বের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
সম্ভবত এই যুগে দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল: আব্বাসীয় রাষ্ট্রের প্রথমে পারসিকদের ওপর এবং পরবর্তীতে তুর্কিদের ওপর নির্ভরশীলতা এবং আরবদের তুলনায় তাদের অসামরিক ও সামরিক পদে অগ্রাধিকার প্রদান। এর অন্যতম ফলাফল ছিল খলিফার হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া; ফলে খিলাফতের কেন্দ্রের ওপর সামরিক আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে শাসনের চাবিকাঠি তুর্কিদের হাতে চলে যায় এবং খলিফা নিজ প্রাসাদে কেবল নামমাত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে থেকে যান।
এই দুর্বলতার কারণে মুসলিম ভূখণ্ডগুলো ধীরে ধীরে বাগদাদ থেকে স্বাধীন হতে শুরু করে। ফলে রাষ্ট্রটি অনেকগুলো স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থব্যবস্থা, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও আমির ছিল। তারা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিমুখ হয়ে যায়। ফলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, অভ্যন্তরীণ ফিতনা ও বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং বহিঃশত্রুরা মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেয় ও সময়ে সময়ে আক্রমণ চালাতে শুরু করে।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ولعل من أبرز تلك الثورات الداخلية: ثورة الزنج، والتي شغلت الدولة أربع عشرة سنة، لم تضع فيها الحرب أوزارها (255 - 270 هـ) وكانت بقيادة محمد بن علي، الذي زعم أنه متصل النسب بزيد بن علي بن الحسن بن علي بن أبي طالب، ولم تهدأ هذه الثورة إلا بمقتل زعيمهم سنة 270 هـ، بعد أن عاثوا في الأرض فساداً، فقتلوا وأخافوا، وأحرقوا المساجد، وانتهكوا الحرمات.
(1)وما كادت نار هذه الثورة تنطفئ حتى قامت ثورة أخرى وهي ثورة الإسماعلية والقرامطة، وكلها كانت من الحركات الباطنية التي ظاهرها التشيع لآل البيت، وحقيقتها الإلحاد وهدم الإسلام، وقد استمرت هذه الثورة أكثر من أربعين سنة (278 - 332 هـ)، سامو المسلمين فيها سوء العذاب، فقتلوا الرجال والنساء، وتعرضوا لحجاج بيت الله الحرام وقطعوا عليهم السبل، واشتد خطرهم وإفسادهم سنة 317 هـ عندما دخلوا مكة وقتلوا من الحجاج ما يزيد على عشرة آلاف، وقُلع باب الكعبة، واقتلع الحجر الأسود، وأخذ معهم إلى هجر، واستمرت هذه الثورة حتى مات زعيمهم سنة 332 هـ.
(2)هذا هو الحال العالم الإسلامي بصورة عامة، وإذا نظرنا إلى الحالة السياسية في مصر، وهي البلد الثاني الذي استقر به المؤلف، حيث نزل مصر قبل سنة 330 هـ حتى مات فيها
(3).
فإنها لم تكن ببعيدة عن هذه الأحداث، إلا أنها أفضل حالاً في العموم، وذلك راجع إلى قوة من حكمها ذلك الوقت من الدولة الطولونية والإخشيدية.
--------------------------------------------
সম্ভবত সেই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো জাঞ্জ বিদ্রোহ, যা রাষ্ট্রকে চৌদ্দ বছর ব্যতিব্যস্ত রেখেছিল এবং এই দীর্ঘ সময়ে যুদ্ধ থামেনি (২৫৫ - ২৭০ হিজরি)। এটি পরিচালিত হয়েছিল মুহাম্মদ ইবনে আলীর নেতৃত্বে, যিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি বংশগতভাবে যায়েদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে সম্পৃক্ত। ২৭০ হিজরিতে তাদের নেতা নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ প্রশমিত হয়নি; ইত্যবসরে তারা পৃথিবীতে চরম বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল, অগণিত মানুষ হত্যা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, মসজিদ পুড়িয়ে দিয়েছিল এবং পবিত্র বিষয়সমূহের অবমাননা করেছিল।
(১)এই বিদ্রোহের আগুন নির্বাপিত হতে না হতেই ইসমাইলি ও কারামাতিয়া নামক আরেকটি বিদ্রোহের উদ্ভব ঘটে। এই সবই ছিল বাতেনি (গুহ্যবাদী) মতাদর্শের আন্দোলন, যাদের বাহ্যিক রূপ ছিল আহলে বাইতের প্রতি অনুরাগ প্রদর্শন, কিন্তু এর প্রকৃত রূপ ছিল ধর্মহীনতা ও ইসলাম ধ্বংস করা। এই বিদ্রোহ চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় (২৭৮ - ৩৩২ হিজরি) স্থায়ী হয়েছিল। তারা এ সময়ে মুসলমানদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালায়, পুরুষ ও নারীদের হত্যা করে এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের হাজীদের পথ রুদ্ধ করে তাঁদের ওপর আক্রমণ চালায়। ৩১৭ হিজরিতে তাদের ফিতনা ও ধ্বংসযজ্ঞ চরম আকার ধারণ করে যখন তারা মক্কায় প্রবেশ করে দশ হাজারেরও বেশি হাজীকে হত্যা করে। কাবার দরজা উপড়ে ফেলা হয়, হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়ে তারা তা 'হাজর' নামক স্থানে নিয়ে যায়। ৩৩২ হিজরিতে তাদের নেতার মৃত্যু পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলতে থাকে।
(২)সামগ্রিকভাবে এটিই ছিল মুসলিম বিশ্বের অবস্থা। আর যদি আমরা মিসরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকাই—যা ছিল দ্বিতীয় দেশ যেখানে লেখক স্থায়ীভাবে বসবাস করেছিলেন, যেখানে তিনি ৩৩০ হিজরির পূর্বে আগমন করেন এবং সেখানেই মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন
(৩)।
মিসরও এসব ঘটনাবলি থেকে দূরে ছিল না, তবে সামগ্রিকভাবে এর অবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। এর কারণ ছিল সেই সময়কার শাসক গোষ্ঠী তথা তুলুনি ও ইখশিদি সালতানাতের শক্তি ও দৃঢ়তা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حيث حكمها أحمد بن طولون (255 - 270 هـ) واستمر حكم هذه الدولة بعد موت مؤسسها إلى عام 292 هـ حيث رجعت ولاية تابعة لمركز الخلافة العباسية.
(1)ثم رجعت الأمور إلى ما كانت عليه من الاضطراب والفتن، بل اشتد الأمر، حيث كانت مصر تتعرض لهجمات الفاطميين المغاربة.
واستمر الأمر على هذه الحال حتى استقر الأمر مرة أخرى في مصر على يد محمد بن طغج الأخشيد، مؤسس الدولة الإخشيدية، حيث رجع الاستقرار على ما كان في الدولة الطولونية، وقد امتد حكم الدولة الإخشيدية من (323 - 358 هـ).
(2)وقد كان للمؤلف ارتباط بالمؤسسة السياسية في العراق، حيث ولي القضاء ببعض نواحي العراق.
(3)، ولعل هذا الارتباط لم يدم طويلاً حيث خرج من العراق لأمر اضطره، فنزل مصر قبل سنة 330 هـ، وأدرك فيها رئاسة عظيمة.
(4)ولم تذكر لنا المصادر التاريخية ما هذا الأمر الذي اضطره للخروج من العراق، ولكن لعل السبب يرجع إلى تلك الاضطرابات السياسية والدينية في العراق، فنزل مصر في عهد الدولة الإخشيدية حيث الاستقرار، ولم تبين لنا أيضاً تلك المصادر ما تلك الرئاسة العظيمة التي أدركها في مصر، ولعلها الرئاسة في الدين والعلم.
المطلب الثاني: الحالة الاجتماعية:سبق في الحديث عن الحالة السياسية أن ذلك العصر شهد كثيراً من الاضطرابات والفتن التي كان لها الأثر الواضح على حالة الناس الاجتماعية.
وقد تنوعت طبقات المجتمع من ناحية الجنس، والدين، والاقتصاد.
فمن ناحية الجنس والعرق كان المجتمع يتكون من عدة عناصر من: العرب، والفرس، والترك، والمغاربة.
--------------------------------------------
সেখানে আহমদ বিন তুলুন (২৫৫ - ২৭০ হিজরি) শাসন পরিচালনা করেন এবং এই রাষ্ট্রের শাসনকাল এর প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর ২৯২ হিজরি পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যখন এটি পুনরায় আব্বাসীয় খিলাফত কেন্দ্রের অধীনস্থ একটি প্রদেশে পরিণত হয়।
(১)অতঃপর পরিস্থিতি পুনরায় পূর্বের বিশৃঙ্খলা ও ফিতনার দিকে ফিরে যায়, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে, কারণ মিশর তখন মরক্কোর ফাতেমীয়দের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না ইখশিদিয়া রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ বিন তুগজ আল-ইখশিদির হাতে মিশরে পুনরায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়, ফলে তুলুনি রাষ্ট্রের সময়কার ন্যায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। ইখশিদিয়া রাষ্ট্রের শাসনকাল (৩২৩ - ৩৫৮ হিজরি) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
(২)ইরাকের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে লেখকের একটি সংশ্লিষ্টতা ছিল, কারণ তিনি ইরাকের কিছু অঞ্চলে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
(৩) সম্ভবত এই সংশ্লিষ্টতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ তিনি বিশেষ কোনো কারণে বাধ্য হয়ে ইরাক ত্যাগ করেন এবং ৩৩০ হিজরির পূর্বেই মিশরে পদার্পণ করেন এবং সেখানে মহান মর্যাদা ও নেতৃত্ব লাভ করেন।
(৪)ঐতিহাসিক উৎসসমূহ আমাদের কাছে সেই কারণটি বর্ণনা করেনি যা তাকে ইরাক ত্যাগে বাধ্য করেছিল, তবে সম্ভবত এর কারণ ছিল ইরাকের তৎকালীন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিতিশীলতা। ফলে তিনি স্থিতিশীলতার সময়ে ইখশিদিয়া শাসনামলে মিশরে বসতি স্থাপন করেন। এই উৎসগুলো আমাদের কাছে সেই মহান নেতৃত্বের প্রকৃত রূপও স্পষ্ট করেনি যা তিনি মিশরে লাভ করেছিলেন, তবে সম্ভবত তা ছিল দ্বীন ও ইলমের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা:রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনার সময় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেই যুগটি বহু বিশৃঙ্খলা ও ফিতনার সাক্ষী ছিল, যার স্পষ্ট প্রভাব মানুষের সামাজিক অবস্থার ওপর পড়েছিল।
বংশ, ধর্ম এবং অর্থনীতির দিক থেকে সমাজের শ্রেণিবিভাগ বৈচিত্র্যময় ছিল।
বংশ ও জাতিগত দিক থেকে সমাজটি কয়েকটি উপাদান নিয়ে গঠিত ছিল: আরব, পারস্য, তুর্কি এবং মাগরিববাসী বা মরক্কোবাসী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কুরআন লি-বাকর ইবনিল আলা - রাসায়িল জামিইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن ناحية الدين كان هناك بجانب الدين الإسلامي الذي هو الأصل ديانات أخرى، كاليهودية والنصرانية والمجوس.
ومن ناحية الطوائف كان هناك: السنة، والشيعة، والخوارج، والمعتزلة.
ومن ناحية الاقتصاد فقد انقسم الشعب إلى ثلاث طبقات: طبقة عليا، وتشتمل على الخلفاء، والوزراء، والقواد، والأمراء، وكبار رجال الدولة، ورؤوس التجار، وكانت هذه الطبقة تغرق في النعيم بشتى أنواعه وأصنافه. طبقة وسطى: وتشتمل على رجال الجيش، وموظفي الدواوين، والقضاة، والتجار، والصناع، ويدخل تحت هذه الطبقة: العلماء، والشعراء، والمغنون، وهذه الطبقة أقل حالاً من الطبقة العليا، لكنها أفضل حالاً بالنسبة للطبقة الدنيا، والتي تمثل طبقة العامة من الزراع، وأصحاب الحرف، والخدم، والرقيق.
(1)وقد صورت لنا كتب التاريخ تلك الحالة التي كان عليها رجال الطبقة العليا، ووصفت وصفاً دقيقاً قصورهم وكيف تم بناؤها، وما فيها من الزينة، ووسائل الراحة، وعدد من كان فيها من الخدم والجواري، وما كان عليه الخلفاء في ذلك الوقت من الترف والنعيم، وكيف كانت مجالسهم تملأ بالشعراء والمغنين، وما انغمسوا فيه من اللهو، وشرب الخمر، والرقص، والغناء.
--------------------------------------------
ধর্মের দিক থেকে মূল ভিত্তি হিসেবে বিদ্যমান ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি সেখানে ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম এবং অগ্নিপূজকবাদের (মজুস) মতো অন্যান্য ধর্মও ছিল।
উপদলের দিক থেকে সেখানে ছিল: সুন্নি, শিয়া, খারেজি এবং মুতাজিলা।
অর্থনীতির দিক থেকে জনগণ তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল: উচ্চবিত্ত শ্রেণি, যা খলিফা, উজির, সেনাপতি, আমির, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রধান ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত ছিল। এই শ্রেণিটি নানাবিধ ভোগবিলাস ও ঐশ্বর্যের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণি: এতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সামরিক বাহিনীর সদস্য, দাপ্তরিক কর্মচারী, বিচারক, ব্যবসায়ী ও কারিগর। আলেম, কবি এবং গায়করাও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই শ্রেণির অবস্থা উচ্চবিত্ত শ্রেণির তুলনায় নিচু হলেও নিম্নবিত্ত শ্রেণির তুলনায় ভালো ছিল; আর নিম্নবিত্ত শ্রেণি বলতে কৃষক, হস্তশিল্পী, ভৃত্য ও ক্রীতদাসদের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ জনগণকে বোঝাত।
(১)ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ আমাদের সামনে উচ্চবিত্ত শ্রেণির সেই অবস্থা ফুটিয়ে তুলেছে এবং তাদের প্রাসাদসমূহ, সেগুলোর নির্মাণশৈলী, সাজসজ্জা, আরাম-আয়েশের উপকরণ এবং সেখানে অবস্থানরত ভৃত্য ও দাসীদের সংখ্যার এক নিখুঁত বর্ণনা প্রদান করেছে। সেই সাথে তৎকালীন খলিফাদের বিলাসিতা ও ঐশ্বর্য এবং কীভাবে তাদের মজলিসগুলো কবি ও গায়কদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকত এবং তারা আমোদ-প্রমোদ, মদ্যপান, নাচ ও গানে মগ্ন থাকত, তার চিত্রও তুলে ধরেছে।
--------------------------------------------