(খণ্ড: ১) তাসওয়িয়াতুস সুফূফ ওয়াল ফাহমুল খাতিউ লাহূ (পৃষ্ঠা: -)
تسوية الصفوف والفهم الخاطئ له   (محمد مهدي قشلان)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: تسوية الصفوف والفهم الخاطئ له

المؤلف: محمد مهدي قشلان

عدد الصفحات: 2

[البحث غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 رمضان 1441

কাতারের সমতা বিধান এবং এর ব্যাপারে ভুল ধারণা   (মুহাম্মাদ মাহদী কাশলান)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: কাতারের সমতা বিধান এবং এর ব্যাপারে ভুল ধারণা

লেখক: মুহাম্মাদ মাহদী কাশলান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২

[গবেষণাটি অপ্রকাশিত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ রমজান ১৪৪১

(খণ্ড: ১) তাসওয়িয়াতুস সুফূফ ওয়াল ফাহমুল খাতিউ লাহূ (পৃষ্ঠা: ১)
ليس من عادتي الإنكار في المختلف فيه؛ إلا أن ظاهرة المبالغة والغلو في فعل بعض المصلين-عند التسوية للدخول بالصلاة- من إلصاقهم القدمِ بالقدم حتى يكاد أحدهم أن يركب قدمك بحجة التسوية، بل لتصاب بالرعبات على حين غفلة منك حين يضرب قدمك بأظافره الحادة، بل إن بعضهم لا ترى رأسه أثناء الصلاة إلا بين قدميه بحثاً عنها، كل ذلك جعلني أكتب في هذه المسألة .... كما طلب مني بعض الإخوة بإلحاح أن أكتب في ذلك.

 

‌‌ما هي حدود التفريج بين القدمين في الصلاة؟

اختلف فقهاء السلف رحمهم الله في تقديره(1):

• فذهب الحنفية: بأن التفريج يكون بقدر أربع أصابع فإن زاد أو نقص كره.

• والشافعية: قدروا التفريج بينهما بقدر شبر، فيكره أن يقرن بينهما أو يوسع أكثر من ذلك كما يكره تقديم إحداهما على الأخرى.

• والمالكية قالوا: تفريج القدمين مندوب لا سنة.

وقالوا: المندوب هو أن يكون بحالة متوسطة بحيث لا يضمهما ولا يوسعهما كثيراً حتى يتفاحش عرفاً

• ووافقهم الحنابلة على هذا التقدير

 

فمن أين أتى هؤلاء بهذه الطريقة في التسوية؟ ! فأحدهم يفرشخ -يفرّج- بين قدميه بقدر متر أو يزيد

إن كانت الحجة التسوية الكاملة، قلنا لهم:

ليتأخر أحدكم عن الصلاة ولينظر حال هؤلاء بعد سجودهم، حيث تصير الفراغات بينهم أضعافاً مضاعفة حيث عادت الأقدام إلى وضعها الطبيعي.

"والغريب" أنهم تركوا العمل بما أمَر به النبي صلى الله عليه وسلم صراحةً من طلب المساواة بالمناكب، في أكثرَ من حديثٍ وصارت أعناقهم ورؤوسهم لا تراها إلا بين أرجلهم بحثاً عن أقدامهم هل وصلت إلى الطرف الآخر أم لا.! ! !

--------------------------------------------

(1) الفقه على المذاهب الأربعة 1/ 234
মতভেদপূর্ণ (المختلف فيه) বিষয়ে কোনো কিছুর প্রতিবাদ করা আমার অভ্যাস নয়; কিন্তু সালাতে প্রবেশের সময় কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে কিছু মুসল্লির অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ির বিষয়টি—যেখানে তারা কাতার সোজা করার অজুহাতে পা এমনভাবে অন্যের পায়ের সাথে মিলিয়ে দেয় যে মনে হয় তারা আপনার পায়ের ওপর চড়ে বসবে, এমনকি আপনার অসতর্ক অবস্থায় তাদের ধারালো নখ দিয়ে পায়ে আঘাত করে আপনাকে আতঙ্কিত করে তোলে, এমনকি সালাতের মাঝে তাদের মাথা নিজের দুই পায়ের মাঝখানে ছাড়া দেখা যায় না পায়ের সন্ধানে—এইসবই আমাকে এই বিষয়ে লিখতে বাধ্য করেছে... তাছাড়া কিছু ভাইও আমাকে এ বিষয়ে লিখতে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

‌সালাতে দুই পায়ের মাঝে ফাঁক রাখার সীমা কতটুকু?

সালাফ (السلف) ফকিহগণ (فقهاء) এর পরিমাপের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন(১):

• হানাফি মাযহাবের মতে: দুই পায়ের মাঝে চার আঙুল পরিমাণ ফাঁক রাখা হবে, এর চেয়ে বেশি বা কম করা মাকরূহ (كره)।

• শাফেয়ি মাযহাব: তারা দুই পায়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা করার পরিমাণ এক বিঘত নির্ধারণ করেছেন। দুই পা একত্রে মিলিয়ে রাখা কিংবা এর চেয়ে বেশি ফাঁকা করা মাকরূহ (كره), যেমন এক পা অন্যটির চেয়ে এগিয়ে রাখা মাকরূহ (كره)।

• মালিকি মাযহাব বলেছে: দুই পা ফাঁকা রাখা মানদুব (مندوب), সুন্নাহ (سنة) নয়।

তারা বলেন: মানদুব (مندوب) হলো মধ্যম অবস্থায় থাকা, যেন পা দুটি একেবারে মিশিয়ে না ফেলে এবং এত বেশি ফাঁকা না করে যা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী (عرفا) দৃষ্টিকটু মনে হয়।

• হাম্বলি মাযহাবও এই পরিমাপের ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন।

 

কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে এই লোকেরা এই পদ্ধতি কোথা থেকে পেল?! তাদের কেউ কেউ তো দুই পায়ের মাঝে এক মিটার বা তারও বেশি দূরত্ব রাখে।

যদি তাদের যুক্তি হয় কাতার পূর্ণাঙ্গভাবে সোজা করা, তবে আমরা তাদের বলব:

আপনাদের কেউ যেন সালাতের পরে অপেক্ষা করে সেজদার পরবর্তী অবস্থা লক্ষ্য করেন; যখন পাগুলো তার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে যায়, তখন তাদের মধ্যকার শূন্যস্থান বহুগুণ বেড়ে যায়।

"আশ্চর্যের বিষয়" হলো, তারা কাঁধের সমতা রক্ষা করার ব্যাপারে একাধিক হাদিস-এ বর্ণিত নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্পষ্ট নির্দেশ পালন বর্জন করেছে এবং তাদের ঘাড় ও মাথা এখন নিজের পায়ের মাঝখানে ছাড়া দেখা যায় না, তারা কেবল খুঁজে বেড়ায় তাদের পা অন্যের পায়ের প্রান্তে পৌঁছালো কি না!!!

--------------------------------------------

(১) আল-ফিকহ আলা আল-মাজাহিব আল-আরবাআ ১/ ২৩৪
(খণ্ড: ১) তাসওয়িয়াতুস সুফূফ ওয়াল ফাহমুল খাতিউ লাহূ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌وللإنصاف لهم شبه دليل: بقول أنس-رضي الله عنه " وَكَانَ أَحَدُنَا يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَقَدَمَهُ بِقَدَمِه" [صحيح البخاري 1/ 185].

والجواب: ما قاله الحفاظ والشُّراح ومن نقلوا هذا الحديث

 

• قال العلامة التهانوي في كتابه العظيم "إعلاء السنن"(1): بعد ذكره لقول أنس-رضي الله عنه "وكان أحدنا يلزق منكبه بمنكب صاحبه وقدمه بقدمه" قال: "ولو حُمل الإلزاقُ على الحقيقة فالمرادُ منه إحداثُه وقتَ الإقامة لتسوية الصف، فإن إحداثَ الإلزاق بين تلك الأعضاءِ طريقُ تحصيل هذه التسوية، ولا دلالةَ في الحديث على إبقائه في الصلاة بعْدَ الشروع فيها، ومن ادَّعَى ذلك فليأتِ بحجةٍ عليه"

 

• وقال الحافظ ابن حجر في شرحه لصحيح البخاري(2): "المرادُ بذلك المبالغةُ في تعديل الصف وسدِّ خلله" ا. هـ.

يعني: لا على الحقيقة والظاهر، أي: أنهم تراصَّوا في الصفوف حتى لكأنهم ألزَقوا الكعبين بالكعبين ..

 

وأخيراً: يكفي قول أنس في رواية ذكرها ابن حجر .. قال: "ولو فعَلْتَ ذلك بأحدهم اليومَ لنَفَر. . . " [*]، وفيه دليل صريح أن أنساً قد ترَك فِعْلَ ذلك في عهد التابعين؛ لقوله: " ولو فعَلْت "؛ لأن "لو" حرفُ امتناعٍ لامتناعٍ، أي: أنه امتنَع عن إلصاق كعبيه خشيةَ أن يَنفرَ المصلي المجاوِرُ ويُبعِدَ قدمَه، ولو اعتَقد أنسٌ أن إلزاقَ الكعبين سنةٌ مقصودةٌ بذاتها من سنن الصلاة لمَا ترَكَه مطلقاً، وقد تركَ ذلك لأجْل خشية الخوف من نفور المصلي الذي بجواره.

 

ومن همّه - فقط - تقريب الأقدام أو مباعدة السيقان فلن يخشع قلبه للدَّيان، فقد غرق في تفاصيل الشكل وغاب عنه مضمون الصلاة وهو الأصل.

 

وكتبه

محمد مهدي نذير قشلان

رجاء دعوة صالحة

1434 هـ - 2013 م

--------------------------------------------

(1) إعلاء السنن 4/ 319.

(2) فتح الباري 2/ 211.

 

[*] قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: قال الحافظ في الفتح: «وأخرجه الإسماعيلي من رواية معمر عن حميد بلفظ قال أنس فلقد رأيت أحدنا إلخ وأفاد هذا التصريح أن الفعل المذكور كان في زمن النبي صلى الله عليه وسلم وبهذا يتم الاحتجاج به على بيان المراد بإقامة الصف وتسويته وزاد معمر في روايته ولو فعلت ذلك بأحدهم اليوم لنفر كأنه بغل شموس» [«فتح الباري لابن حجر» (2/ 211)]
‌নিরপেক্ষভাবে বলতে গেলে, তাদের কাছে দলিলের মতো কিছু একটা রয়েছে: আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই উক্তি দ্বারা: "আমাদের প্রত্যেকেই নিজ কাঁধ তার সাথীর কাঁধের সাথে এবং নিজ পা তার পায়ের সাথে মিলিয়ে দিত।" [সহীহ বুখারী ১/১৮৫]।

এর উত্তর হলো: হাফিজগণ (الحفاظ), ব্যাখ্যাকারগণ (الشراح) এবং যারা এই হাদিস বর্ণনা করেছেন তারা যা বলেছেন:

 

• আল্লামা থানভী তাঁর মহান গ্রন্থ "ই'লাউস সুনান"-এ(১) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি— "আমাদের প্রত্যেকেই নিজ কাঁধ তার সাথীর কাঁধের সাথে এবং নিজ পা তার পায়ের সাথে মিলিয়ে দিত"— উল্লেখ করার পর বলেন: "যদি এই মেলানোকে আক্ষরিক অর্থে ধরা হয়, তবে এর উদ্দেশ্য হলো কাতার সোজা করার জন্য ইকামত প্রদানের সময় এটি করা। কারণ এই অঙ্গগুলোর পারস্পরিক সংযোগ কাতার সোজা করার একটি মাধ্যম মাত্র। নামাজের মধ্যে এটি অব্যাহত রাখার কোনো প্রমাণ এই হাদিসে নেই। আর যে ব্যক্তি এটি দাবি করবে, তাকে এর সপক্ষে প্রমাণ (حجة) উপস্থাপন করতে হবে।"

 

• হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার সহীহ বুখারী-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে(২) বলেন: "এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাতার সোজা করার ব্যাপারে এবং এর মধ্যকার ফাঁকা জায়গা বন্ধ করার ক্ষেত্রে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা।" সমাপ্ত।

অর্থাৎ: এটি আক্ষরিক বা বাহ্যিক অর্থে নয়। বরং তারা কাতারে এমনভাবে মিশে দাঁড়াতেন যে দেখে মনে হতো যেন তারা টাখনুর সাথে টাখনু মিলিয়ে দিয়েছেন...

 

পরিশেষে: ইবনে হাজার বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্যই যথেষ্ট... তিনি বলেছেন: "আজ যদি তুমি তাদের কারো সাথে এমনটা করতে, তবে সে অবশ্যই জংলি খচরের মতো পালিয়ে যেত..." [*]। এতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাবিঈগণের (التابعين) যুগে এটি করা ছেড়ে দিয়েছিলেন; কারণ তিনি বলেছেন: "যদি আমি করতাম"। যেহেতু "যদি" (لو) শব্দটি কোনো কাজ না হওয়ার কারণে অন্য একটি কাজ না হওয়া বুঝাতে ব্যবহৃত হয় (حرف امتناع لامتناع)। অর্থাৎ তিনি তাঁর পাশের মুসল্লি বিরক্ত হয়ে সরে যাওয়ার ভয়ে টাখনু মেলানো থেকে বিরত থেকেছেন। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যদি মনে করতেন যে টাখনু মেলানো নামাজের সুন্নাহসমূহের (سنن) মধ্য হতে স্বতন্ত্রভাবে পালনীয় কোনো সুন্নাহ (سنة), তবে তিনি তা কখনোই সম্পূর্ণভাবে ছাড়তেন না। তিনি এটি কেবল পাশের মুসল্লি বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কায় ছেড়েছেন।

 

আর যার একমাত্র চিন্তা কেবল পা কাছাকাছি রাখা অথবা দুই পায়ের গোছার দূরত্ব বজায় রাখা, তার অন্তর মহান বিচারকের সামনে বিনয়াবনত হবে না। সে কেবল বাহ্যিক কাঠামোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে ডুবে আছে এবং নামাজের মূল বিষয়বস্তু বা প্রাণ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যা মূলত আসল উদ্দেশ্য।

 

লিখেছেন

মুহাম্মদ মাহদী নাযীর কাশলান

নেক দোয়ার প্রার্থী

১৪৩৪ হিজরী - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

(১) ই'লাউস সুনান ৪/৩১৯।

(২) ফাতহুল বারী ২/২১১।

 

[*] কিতাবটির সংকলক বলেন: হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী-তে বলেছেন: «ইসমাইলী এটি মামার সূত্রে হুমাইদ থেকে এই শব্দে বর্ণনা (رواية) করেছেন যে, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমি আমাদের একজনকে দেখতাম..."। এই স্পষ্ট বক্তব্য দ্বারা বুঝা যায় যে, উক্ত কাজটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে ছিল। এর মাধ্যমে কাতার সোজা করা ও ঠিক করার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার দলিলটি পূর্ণতা পায়। মামার তাঁর বর্ণনায় (رواية) আরও যোগ করেছেন: "যদি আজ তুমি তাদের কারো সাথে এমনটা করতে, তবে সে অবাধ্য খচরের মতো পালিয়ে যেত"» [ফাতহুল বারী ২/২১১]।