(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: -)
الصراط في رأي الكيالي والصراط في المنظور القرآني والنبوي   (محمد أيمن تيسير المراياتي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الصراط في رأي الكيالي والصراط في المنظور القرآني والنبوي

المؤلف: محمد أيمن تيسير المراياتي

عدد الصفحات: 11

تاريخ النشر بالشاملة: 30 رمضان 1441

কায়ালীর মতানুসারে আস-সিরাত এবং কুরআন ও নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে আস-সিরাত   (মুহাম্মদ আইমান তাইসির আল-মারায়াতি)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: কায়ালীর মতানুসারে আস-সিরাত এবং কুরআন ও নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে আস-সিরাত

লেখক: মুহাম্মদ আইমান তাইসির আল-মারায়াতি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ রমজান ১৪৪১

(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১)
الصراط

في رأي الكيالي

 

والصراط

في المنظور القرآني والنبوي

 

بقلم

محمد أيمن تيسير المراياتي
আস-সিরাত

আল-কায়্যালির দৃষ্টিতে

 

এবং আস-সিরাত

কুরআনিক ও নববী দৃষ্টিভঙ্গিতে

 

লেখনীতে

মুহাম্মদ আয়মান তাইসীর আল-মারায়াতি
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي هدانا صراطاً مستقيماً، وحبانا ديناً قويماً، ووهبنا كتاباً كريماً، وسنَّة طاهرةً مطهرة فصَّلت ما أُجمل في قرآننا.

والصلاة والسلام على مَن قال: «أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْقُرْآنَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ يَنْثَنِي شَبْعَانًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ، فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ .. (1)»

وقوله صلى الله عليه وسلم: " أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ يَنْثَنِي شَبْعَانًا (2) عَلَى أَرِيكَتِهِ"كناية عن البلادة وسوء الفهم الناشئ من الشبع وكثرة الأكل، أو من الحماقة اللازمة للتنعم والغرور بالمال والجاه ..

اللهم افتح لنا فتحا مبيناً، واهدنا صراطاً مستقيماً، وأرنا الحق حقاً وارزقنا اتباعه، وأرنا الباطل باطلاً وارزقنا اجتنابه.

 

وبعد:

ذاع منذ فترة وجيزة صيت شخصيات إسلامية جديدة عبر الفضائيات وعبر برامج التواصل الاجتماعي؛ تدَّعي فهماً جديداً لكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم؛ وذلك من خلال التأويلات والتفسيرات العجيبه للآيات الكونية وغيرها، مدَّعين أنها تستند في مصادرها إلى نصوص من القرآن أو من السنة المطهرة أو من اللغة العربية الفصيحة، ولكن كل ذلك بشكل مريب غريب فيه ليٌّ لأعناق النصوص الشرعية، وتفسيرها بما يتوافق مع أهوائهم ومعتقداتهم وما يصبون إليه من خلال تلك التفسيرات أو التأويلات أو الاستنتاجات، وهم بذلك لا يفرقون بين الوهم واليقين أو بين الوهم والشك أو بين الشك واليقين، فيعطون الأوهام حكم المعلومات ويتعاملون معها على هذا الأساس؛ فيجعلون الأوهام أو الشكوك أو الظنون مقدمات يقينية في زعمهم ويبنون عليها نتائج جازمة حاسمة لا تحتمل غيرها، وربما تأثر العوام بهم لعدم قدرتهم على تمييز الغث من السمين، والتأويل المقبول من المردود.

ومن هذه الشخصيات التي كثر الجدل حولها أو حول أفكارها "د. علي منصور كيالي" وهو مهندس معماري اهتمَّ -كما يقول- بدراسة القرآن وفهمه واستنباط بعض حقائقه المغيبة التي لم يسبق إليها أحد غيره .. !!

 

ولسنا هنا بصدد الحديث عن شخصيته ومبلغ علمه أو دراسته أو تخصصه؛ إنما حديثنا عنه سيكون عن بعض الافتراءات التي توصَّل إليها من خلال فهمه السّقيم للغة العربية، ومن ثم القرآن الكريم والسنة المطهرة، ومن أشهر ما عُرف به "د. الكيالي" تبنِّيه لقضايا شرعية خطيرة صادم بتأويلها النصوص القرآنية والنبوية والتي منها:

1 - إنكار وجود الصراط "جسر جهنم".

2 - نفيه لعذاب القبر وأنه خرافة لا حقيقة.

3 - إنكار وجود قوم يأجوج ومأجوج وخروجهم قبيل الساعة.

4 - زعمه أن الحور العين هم دليل سياحي لأهل الجنة، وليسو بزوجات.

5 - إنكار تعدد الزوجات.

إلى غير ذلك مما يطول ذكره من طاماته، ويعنينا في هذه الورقات بيان الشبهة الأولى التي أثارها، وهي أنه لا وجود للصراط الذي على جسر جهنم، ضارباً عُرض الحائط آيات في كتاب الله، وأحاديث صحيحة متعددة بلغت مبلغ التواتر المعنوي، وسنأتي على بيان ذلك مفصلاً ..

--------------------------------------------

(1) بهذا اللفظ أخرجه الإمام أحمد 28/ 411 بسند صحيح كما قال محقق المسند.

(2) هكذا بالتنوين في مسند الإمام أحمد والدارمي ..
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সরল পথের দিশা দিয়েছেন, আমাদের এক সুদৃঢ় দ্বীন দান করেছেন, আমাদের এক সম্মানিত কিতাব দান করেছেন এবং এক পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন সুন্নাহ দিয়েছেন যা আমাদের কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছে।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব (কুরআন) এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যে তার আরামদায়ক আসনে পেটভরে হেলান দিয়ে বসে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো। এতে যা হালাল পাবে তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করো আর যা এতে হারাম পাবে তা-ই হারাম হিসেবে মান্য করো... (১)"

নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী: "অচিরেই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যে তার আরামদায়ক আসনে পেটভরে হেলান দিয়ে বসে থাকবে" - এটি তার স্থূলবুদ্ধি এবং পেটভরে খাওয়ার ফলে সৃষ্ট বোধশক্তির অভাবের প্রতি ইঙ্গিতবাহী, অথবা বিলাসিতা এবং ধন-সম্পদ ও পতিপত্তির অহংকারের ফলে সৃষ্ট মূর্খতার পরিচায়ক।

হে আল্লাহ! আমাদের জন্য সুস্পষ্ট বিজয় উন্মোচন করে দিন, আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন, আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখার এবং তা অনুসরণের তৌফিক দান করুন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখার এবং তা বর্জনের সামর্থ্য দান করুন।

 

অতঃপর:

সাম্প্রতিক সময়ে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বদৌলতে কিছু নতুন 'ইসলামী ব্যক্তিত্বের' ব্যাপক পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে; যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সুন্নাহর এক নতুন অনুধাবনের দাবি করে থাকে। তারা মহাজাগতিক আয়াত ও অন্যান্য বিষয়ের অদ্ভুত সব ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে থাকে এবং দাবি করে যে, তাদের এই ব্যাখ্যার উৎস হলো কুরআনের বর্ণনা, পবিত্র সুন্নাহ কিংবা বিশুদ্ধ আরবি ভাষা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই সবকিছুই অত্যন্ত রহস্যময় ও অদ্ভুতভাবে শরয়ি নস বা পাঠসমূহকে বিকৃত করে উপস্থাপিত। তারা এসবের এমন ব্যাখ্যা দেয় যা তাদের প্রবৃত্তি, বিশ্বাস এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা কল্পনা ও ধ্রুব সত্যের মধ্যে কিংবা কল্পনা ও সন্দেহের মধ্যে অথবা সন্দেহ ও ধ্রুব সত্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না। ফলে তারা কল্পনাপ্রসূত বিষয়গুলোকে প্রকৃত তথ্যের মর্যাদা দেয় এবং সেই ভিত্তিতেই তা বিবেচনা করে। তারা কল্পনা, সন্দেহ বা ধারণাকে নিশ্চিত ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করে এবং সেগুলোর ওপর এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যা অন্য কোনো সম্ভাবনাকে প্রশ্রয় দেয় না। সম্ভবত সাধারণ মানুষ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়, কারণ তাদের পক্ষে অসার ও সারবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করার এবং গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় ব্যাখ্যার মধ্যে ব্যবধান করার সক্ষমতা থাকে না।

যাদের ব্যক্তিত্ব এবং চিন্তাধারা নিয়ে অধিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন হলেন 'ড. আলী মনসুর কায়ালি'। তিনি একজন স্থপতি, যিনি তাঁর ভাষ্যমতে—কুরআনের গবেষণা, উপলব্ধি এবং এর এমন কিছু নিগূঢ় সত্য উদঘাটনে মনোনিবেশ করেছেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ করতে পারেনি...!!

 

আমরা এখানে তাঁর ব্যক্তিত্ব, ইলমের গভীরতা কিংবা তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও বিশেষজ্ঞ হওয়া নিয়ে আলোচনা করতে আসিনি; বরং আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হবে তাঁর সেই সব অপপ্রচার বা অপব্যাখ্যা নিয়ে যা তিনি আরবি ভাষা এবং এর মাধ্যমে কুরআনুল কারিম ও সুন্নাহর ত্রুটিপূর্ণ অনুধাবনের মাধ্যমে পৌঁছেছেন। 'ড. কায়ালি' যে বিষয়গুলোর জন্য বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন তা হলো কিছু স্পর্শকাতর শরয়ি মাসআলার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান, যেখানে তিনি কুরআন ও সুন্নাহর নস বা মূল পাঠের পরিপন্থী ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে:

১ - সিরাত বা 'জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলের' অস্তিত্ব অস্বীকার করা।

২ - কবরের আজাব অস্বীকার করা এবং একে একটি অলীক কল্পনা হিসেবে সাব্যস্ত করা।

৩ - ইয়াজুজ-মাজুজ জাতির অস্তিত্ব এবং কিয়ামতের প্রাক্কালে তাদের আবির্ভাবকে অস্বীকার করা।

৪ - তাঁর এই দাবি যে, 'হুরুন ঈন' হলো জান্নাতবাসীদের জন্য পর্যটক গাইড, তারা স্ত্রী নন।

৫ - বহুবিবাহ প্রথা অস্বীকার করা।

এ ছাড়া তাঁর আরও অনেক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রয়েছে যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে তাঁর উত্থাপিত প্রথম সংশয়টি নিরসন করাই উদ্দেশ্য, আর তা হলো—জাহান্নামের পুলের ওপর 'সিরাত' বলতে কিছু নেই। এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ এবং এমন অনেক সহিহ হাদিসকে উপেক্ষা করেছেন যা মুতাওয়াতির বা অকাট্যতার স্তরে পৌঁছেছে। আমরা অচিরেই এর বিস্তারিত বর্ণনায় আসছি...

--------------------------------------------

(১) এই শব্দেই ইমাম আহমাদ ২৮/৪১১ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং মুসনাদের মুহাক্কিক একে সহিহ বলে অভিহিত করেছেন।

(২) ইমাম আহমাদ ও দারেমির মুসনাদে শব্দটি এভাবেই তানউইনসহ বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৩)
وسأذكر الآن بعض ما قاله د. علي منصور كيالي، حول الصراط ومفهومه في القرآن الكريم الذي خلط فيه خلطاً عجيباً، وأنكر الصراط بأسلوب ساخر مستهزئ فقال:

" … الجميع يسأل هل الصراط المستقيم هي شعرة وسيف فوق جهنم .. ؟!

وسنمر عليها … (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ)

هل معقول الله يهدينا إلى شعرة وسيف فوق جهنم؟!! ..

إبليس يعترف لله … ماذا قال له؟!

قال له: (لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ)

إذاً إبليس يحاربنا في الصراط المستقيم .. فهل إبليس يحاربنا في شعرة فوق جهنم؟!! فوق سيف فوق جهنم؟!!

أيها الناس، أيها المفكرون …

يا أصحاب العقول .. !!!

الجواب: في سورة الأنعام

قل: أي للرسول صلى الله عليه وسلم. أي قل لأتباعك

(قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا)

فالصراط المستقيم هو القيم والمبادئ والأخلاق التي يسعى إبليس لتخريبها: (لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ) …

عندنا في الدنيا لا نهتم بالقيم لا نهتم بتقبل الآخر، وفقط نخاف من سيف وشعرة فوق جهنم والمليارات يصطفون واحداً واحداً … وكلابة شالتها وكلابة نزلتها .... (1) "

وذكر كلاماً كثيراً اختصرته لعدم الإطالة يؤكد فيها إنكاره بل استهزاءه بكل ما ورد في الصراط الذي يُضرب فوق جهنم، كما جاء في الأخبار الصحيحة كما سيأتي بيانه ..

--------------------------------------------

(1) رابط المقطع المرئي: وهو بعنوان: "حقيقة الصراط المستقيم".الدكتور علي منصور الكيالي

https://www.youtube.com/watch?v=UtumZpmhj0Q&t=26s
এখন আমি ড. আলী মনসুর কায়ালি সিরাত এবং কুরআনুল কারীমে এর ধারণা সম্পর্কে যা বলেছেন তার কিছু অংশ উল্লেখ করব, যাতে তিনি এক অদ্ভুত বিভ্রান্তিকর সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন এবং অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে সিরাতকে অস্বীকার করে বলেছেন:

" … সবাই জিজ্ঞাসা করে, সিরাত-এ-মুস্তাকিম কি জাহান্নামের ওপর স্থাপিত একটি চুল এবং তলোয়ার..?!

আমরা তা অতিক্রম করব … (আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন)

এটা কি সম্ভব যে আল্লাহ আমাদের জাহান্নামের ওপর একটি চুল ও তলোয়ারের দিকে পরিচালিত করবেন?!! ..

ইবলিস আল্লাহর কাছে স্বীকারোক্তি দিচ্ছে … সে তাকে কী বলেছিল?!

সে তাকে বলেছিল: (আমি অবশ্যই আপনার সরল পথে তাদের জন্য ওত পেতে থাকব)

অতএব, ইবলিস আমাদের সাথে সিরাত-এ-মুস্তাকিমে লড়াই করে .. তাহলে ইবলিস কি জাহান্নামের ওপর চুলের ওপর আমাদের সাথে লড়াই করে?!! জাহান্নামের ওপর তলোয়ারের ওপর?!!

হে লোকসকল, হে চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ …

হে বুদ্ধিমানগণ.. !!!

উত্তর হলো: সূরা আল-আনআমে

বলুন: অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি। অর্থাৎ আপনার অনুসারীদের বলুন

(বলুন, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে এক সরল পথের দিকে হেদায়েত করেছেন যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন)

সুতরাং সিরাত-এ-মুস্তাকিম হলো সেই মূল্যবোধ, আদর্শ এবং নৈতিকতা যা ধ্বংস করার জন্য ইবলিস সচেষ্ট: (আমি অবশ্যই আপনার সরল পথে তাদের জন্য ওত পেতে থাকব) …

আমরা এই পৃথিবীতে মূল্যবোধের তোয়াক্কা করি না, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নই, শুধু জাহান্নামের ওপর তলোয়ার ও চুলের ভয়ে ভীত, যেখানে কোটি কোটি মানুষ একে একে কাতারবদ্ধ হবে … আর কাঁটাযুক্ত আঁকড়া কাউকে টেনে নেবে এবং কাউকে নিচে ফেলে দেবে.... (১) "

তিনি আরও অনেক কথা বলেছেন যা দীর্ঘায়িত না করার জন্য আমি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। এর মাধ্যমে জাহান্নামের ওপর স্থাপিত সিরাত সম্পর্কে বিশুদ্ধ হাদীসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে—যা সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে—সে সবকিছুর প্রতি তার অস্বীকৃতি বরং বিদ্রূপই প্রকাশ পায়..

--------------------------------------------

(১) ভিডিও ক্লিপের লিঙ্ক: যার শিরোনাম: "সিরাত-এ-মুস্তাকিমের হাকীকত"। ডক্টর আলী মনসুর কায়ালি

https://www.youtube.com/watch?v=UtumZpmhj0Q&t=26s
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৪)
وتعقيباً على هذا المقطع المرئي الذي يُنكر فيه " الكيالي" الصراط محتجاً بالآيات التي ساقها أودُّ أن أوضح لكم الحقائق التالية؛

 

‌‌الصراط ومعانيه في القرآن الكريم:

وردت كلمة الصراط في القرآن الكريم (45) مرة

- منها (33) مرة بلفظ الصراط المستقيم أو صراطاً مستقيماً حسب إعرابها، وهي بمعنى الطريق القويم، كما ذكر الكيالي.

- ومنها (10) مرات بالمعنى نفسه مثل صراط الذين أنعمت عليهم، أو صراط الله، أو صراط العزيز الحميد ..

وهذا المعنى هو الذي ذكره الكيالي في المقطع المرئي أيضاً …

- ومنها مرتان لا تمت إلى المعنى السابق بصلة، فهل يستطيع الدكتور الكيالي أن يفسر لنا الآيتين التاليتين:

1 - {وَلَو نَشاءُ لَطَمَسنا عَلى أَعيُنِهِم فَاستَبَقُوا الصِّراطَ فَأَنّى يُبصِرونَ} [يس: 66]

أي صراط يتسابق الكفار عليه وهم عميٌ لا يبصرون؟ إنه صراط الجحيم ..

2 - {احشُرُوا الَّذينَ ظَلَموا وَأَزواجَهُم وَما كانوا يَعبُدونَ مِن دونِ اللَّهِ فَاهدوهُم إِلى صِراطِ الجَحيمِ وَقِفوهُم إِنَّهُم مَسئولونَ} [الصافات 22 - 23 - 24]

فهل الصراط بهاتين الآيتين هو الصراط بالآيات الثلاثة والأربعين؟!!

 

ومما لا شك فيه أنَّ الصراط في القرآن تعبير عن منهج فكري سلوكي قويم -وهذا لا خلاف فيه ولم يأتِ الكيالي بجديد- لكن ذلك لا ينافي المعنى الآخر للصراط الذي جاءت به الأحاديث الصحيحة وهو الجسر الممدود على ظهر جهنم، والذي جعله الكيالي محل إنكار وسخرية واستهزاء واشمئزاز، وقد سبقه لذلك المعتزلة ومن يسمون أنفسهم بالعقلانيين والعصرانيين.

• فما هو الصراط وما هو صفته، وما هي الأحاديث الصحيحة الوارد فيه، وما حكم الإيمان به عند أهل السنة والجماعة؟؟
এই ভিডিও ক্লিপটির প্রেক্ষিতে, যাতে "আল-কায়ালি" তার পেশকৃত আয়াতগুলোর মাধ্যমে 'সিরাত' অস্বীকার করেছেন, আমি আপনাদের সামনে নিম্নোক্ত সত্যগুলো স্পষ্ট করতে চাই;

 

‌‌পবিত্র কুরআনে সিরাত এবং এর অর্থসমূহ:

পবিত্র কুরআনে 'সিরাত' শব্দটি ৪৫ বার এসেছে।

- এর মধ্যে ৩৩ বার ব্যাকরণিক অবস্থানভেদে 'আস-সিরাত আল-মুস্তাকিম' বা 'সিরাতান মুস্তাকিমা' শব্দে এসেছে, যা সঠিক বা সরল পথ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি আল-কায়ালি উল্লেখ করেছেন।

- এবং ১০ বার একই অর্থে এসেছে, যেমন: 'যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন তাদের পথ', অথবা 'আল্লাহর পথ', অথবা 'মহা পরাক্রমশালী প্রশংসিত সত্তার পথ'...

আর এই অর্থটিই আল-কায়ালি ভিডিও ক্লিপটিতেও উল্লেখ করেছেন …

- আর দুটি ক্ষেত্র রয়েছে যা পূর্বোক্ত অর্থের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। ডক্টর আল-কায়ালি কি আমাদের সামনে নিম্নোক্ত আয়াত দুটির ব্যাখ্যা দিতে পারবেন?

১ - "আমি চাইলে তাদের চোখগুলো বিলুপ্ত করে দিতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াত; কিন্তু তারা কীভাবে দেখতে পেত?" [সূরা ইয়াসিন: ৬৬]

কাফেররা কোন পথের দিকে দৌড়াবে যখন তারা অন্ধ এবং দেখতে পাবে না? এটি হলো জাহান্নামের পথ...

২ - "একত্রিত করো জালিমদের, তাদের সহচরদের এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদের। অতঃপর তাদের পরিচালিত করো জাহান্নামের পথের দিকে। আর তাদের থামাও, নিশ্চয়ই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" [সূরা আস-সাফফাত: ২২-২৪]

তাহলে এই দুই আয়াতের 'সিরাত' কি সেই 'সিরাত' যা পূর্বোক্ত ৪৩টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে?!!

 

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুরআনে 'সিরাত' শব্দটি একটি সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও আচরণগত কর্মপদ্ধতির বহিঃপ্রকাশ - এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই এবং আল-কায়ালি এখানে নতুন কিছু নিয়ে আসেননি। তবে এটি 'সিরাত'-এর সেই অন্য অর্থের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যা সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো জাহান্নামের ওপর স্থাপিত একটি সেতু। আল-কায়ালি একে অস্বীকার, উপহাস, বিদ্রূপ ও ঘৃণার বিষয়ে পরিণত করেছেন; আর এ কাজে তার পূর্বে মুতাজিলা সম্প্রদায় এবং যারা নিজেদের যুক্তিবাদী ও আধুনিকতাবাদী হিসেবে দাবি করে, তারা গত হয়েছে।

• তাহলে 'সিরাত' কী এবং এর বৈশিষ্ট্য কী? এ সম্পর্কে বর্ণিত সহিহ হাদিসগুলো কী কী? আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট এর ওপর ঈমান আনার বিধানই বা কী??
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أ - تعريف الصراط وصفته:

الصراط: هو جِسرٌ ممدود على متن جهنم يمر عليه جميع الخلائق، وهو قنطرة بين الجنة والنار، يعبره أهل الجنة، وهم متفاوتون في السرعة والإبطاء على قدر أعمالهم؛ وتزل فيه أقدام أهل النار، وقد وردت به الأحاديث الصحيحة واستفاضت وهو محمول على ظاهره (1).

 

‌‌ب - ذكر بعض الأحاديث التي ورد فيها ذِكر الصراط وأوصافه، وأحوال المارين عليه:

أخرج الإمام مسلم في صحيحه عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيّ، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال في ذكر مشاهد يوم القيامة:

« … ثُمَّ يُضْرَبُ الْجِسْرُ عَلَى جَهَنَّمَ، وَتَحِلُّ الشَّفَاعَةُ وَيَقُولُونَ اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ».

قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا الْجِسْرُ؟

قَالَ: «دَحْضٌ مَزِلَّةٌ، فِيهِ خَطَاطِيفُ وَكَلَالِيبُ وَحَسَكٌ تَكُونُ بِنَجْدٍ، فِيهَا شُوَيْكَةٌ يُقَالُ لَهَا: السَّعْدَانُ فَيَمُرُّ الْمُؤْمِنُونَ كَطَرْفِ الْعَيْنِ، وَكَالْبَرْقِ، وَكَالرِّيحِ، وَكَالطَّيْرِ، وَكَأَجَاوِيدِ الْخَيْلِ وَالرِّكَابِ؛ فَنَاجٍ مُسَلَّمٌ، وَمَخْدُوشٌ مُرْسَلٌ، وَمَكْدُوسٌ فِى نَارِ جَهَنَّمَ .. (2)».

--------------------------------------------

(1) فتاوى الإمام الرملي 4/ 210، وقد نقلت تعريفه للصراط بتصرف يسير

(2) صحيح مسلم 1/ 167 في كتاب الإيمان، باب "معرفة طريق الرؤية" معانِّي بعض الكلمات:

الجِسْر: هوَ الصرَاط

وَمَعْنَى تَحِل الشفَاعَة: أَيْ: تَقَع وَيؤْذَن فِيهَا.

دحض مزلة: الدحْض وَالمَزَلة بِمَعْنًى وَاحِد، وَ هوَ المَوْضِع ا لذِي تَزِل فِيهِ الْأَقْدَام وَلَا تَسْتَقِر.

وَمِنْه دَحَضَتْ الشمْس أَيْ: مَالَتْ، وَحجة دَاحِضَة لَا ثَبَات لهَا.

أَما الخْطَاطِيف: فَجَمْع خطاف. وَالْكَلَالِيب بِمَعْنَاه، وهي حديدة معْوَجة الرأس؛ لأجل أن

تمسك من أريد خطفه بها.

وَأَما الحَسَك: فهوَ شَوْك صلْب مِنْ حَدِيد.

 

وقَوْله صَلى ا للَّه عَلَيْهِ وَسَلمَ: (فَنَاجٍ مُسَلَّم وَمَخدوشٌ مرْسَلٌ وَمَكْدوس فِي نَار جَهَنم) أي أَ نهمْ

ثَلَاثَة أَقْسَام على الصراط:

1 - قِسْم يَسْلَم؛ فَلَا يَنَالُه شيء أَصْلًا …

2 - وَقِسْم يخدَش، ثم يرْسَل فَيُخَلَّص، وخَدْشُ الجلد: هو قَشره بِعود أو نحوه.

3 - وَقِسْم يكَرْدَس، وَيلْقَى فَيَسْقط فِي جَهَنم.

وَ "مَكْدوس" معناه: كَوْن الْأَشْيَاء بَعْضهَا عَلَى بَعْض. نسأل الله السلامة والعافية.

انتهى (شرح الإمام النووي على صحيح مسلم 3/ 29 بتصرف واختصار)، و (كشف المشكل من حديث الصحيحين 3/ 136 لأبي الفرج ابن الجوزي بتصرف)
ক - সিরাতের সংজ্ঞা ও এর বৈশিষ্ট্য:

সিরাত: এটি জাহান্নামের পিঠের উপর প্রসারিত একটি সেতু যার ওপর দিয়ে সমস্ত সৃষ্টিজগতকে অতিক্রম করতে হবে। এটি জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি সাঁকো, যা জান্নাতবাসীরা পার হবেন। তাদের আমল অনুযায়ী তারা দ্রুত বা ধীর গতিতে তা অতিক্রম করবেন; আর এতে জাহান্নামীদের পা পিছলে যাবে। এ বিষয়ে অনেক সহীহ এবং প্রসিদ্ধ হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং এটি এর বাহ্যিক অর্থেই গ্রহণ করা হয় (১)।

 

খ - সিরাত, এর বৈশিষ্ট্য এবং তা অতিক্রমকারীদের অবস্থা সম্পর্কিত কিছু হাদীসের বর্ণনা:

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.) কিয়ামত দিবসের দৃশ্যসমূহ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন:

« ... এরপর জাহান্নামের উপর সেতু স্থাপন করা হবে এবং সুপারিশের অনুমতি দেওয়া হবে। তখন তারা (নবীগণ) বলবেন: হে আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন।»

জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সেতুটি কী?

তিনি বললেন: «এটি পা পিছলে যাওয়ার স্থান, পিচ্ছিল জায়গা। এতে রয়েছে লোহার অঙ্কুশ, কাঁটাযুক্ত আঁকড়া এবং নজদ অঞ্চলে উৎপন্ন হওয়া ‘সা’দান’ নামক এক প্রকার শক্ত কাঁটা। মুমিনগণ তা অতিক্রম করবেন চোখের পলকে, বিদ্যুতের গতিতে, বাতাসের গতিতে, পাখির গতিতে এবং দ্রুতগামী ঘোড়া ও উটের গতিতে। ফলে কেউ সহিহ-সালামতে পার হয়ে যাবেন, কেউ ক্ষতবিক্ষত হয়ে মুক্তি পাবেন, আর কেউ স্তূপীকৃত হয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবেন... (২)»।

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া আল-ইমাম আর-রামলী ৪/২১০, আমি তার প্রদত্ত সিরাতের সংজ্ঞাটি সামান্য পরিমার্জনের সাথে বর্ণনা করেছি।

(২) সহীহ মুসলিম ১/১৬৭, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: "দর্শনের পথ পরিচিতি"। কিছু শব্দের অর্থ:

সেতু: এটিই হলো সিরাত।

সুপারিশ কার্যকর হওয়ার অর্থ হলো: এটি সংঘটিত হবে এবং এর অনুমতি দেওয়া হবে।

পিচ্ছিল ও পা পিছলে যাওয়ার স্থান: এই দুটি শব্দের অর্থ একই, অর্থাৎ এমন জায়গা যেখানে পা স্থির থাকে না বরং পিছলে যায়।

এ থেকেই বলা হয় 'সূর্য ঢলে পড়েছে' অর্থাৎ হেলে পড়েছে। আর 'ভিত্তিহীন প্রমাণ' যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।

আঁকড়া বা অঙ্কুশ: এটি এক প্রকার বাঁকানো মাথার লোহার যন্ত্র; যা দিয়ে কোনো কিছুকে টেনে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়।

কাঁটা: এটি লোহার তৈরি শক্ত কাঁটা।

 

নবী (সা.)-এর বাণী: (ফলে কেউ সহিহ-সালামতে পার হয়ে যাবেন, কেউ ক্ষতবিক্ষত হয়ে মুক্তি পাবেন, আর কেউ উপুড় হয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবেন) অর্থাৎ সিরাতের উপর মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হবে:

১ - এক দল যারা নিরাপদে থাকবেন; তাদের কোনো কিছুই স্পর্শ করবে না...

২ - দ্বিতীয় দল যারা ক্ষতবিক্ষত হবে, এরপর মুক্তি পেয়ে রক্ষা পাবে। চামড়া ছিলে যাওয়া বা আঁচড় লাগা বলতে কাঠ বা অনুরুপ কিছু দিয়ে ঘষা লাগা বোঝায়।

৩ - তৃতীয় দল যারা স্তূপীকৃত হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

এবং 'মাকদুস' শব্দের অর্থ হলো: জিনিসের একটির ওপর অন্যটি স্তূপ হয়ে থাকা। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।

সমাপ্ত। (ইমাম নববী রচিত শারহ সহীহ মুসলিম ৩/২৯, পরিমার্জিত ও সংক্ষেপিত), এবং (আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযী রচিত কাশফুল মুশকাল মিন হাদীসিল সহীহাইন ৩/১৩৬, পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৬)
قال الإمام مسلم:

وزاد أبو سعيد -أي الخدري-: "بلغني أن الجسرَ أدقُّ من الشعرة، وأحدُّ من السيف".

وأخرجه البخاري أيضاً عن أبي سعيد الخدري، بلفظ:

« … ثم يُؤتَى بالجسر، فيُجعَل بين ظهريْ جهنم»، قلنا: يا رسولَ الله، وما الجسر؟ قال: «مدحضة مزِلَّةٌ، عليه خطاطيف وكلاليب وحَسكة مُفَلطحة، لها شوكة عُقَيْفَاءُ تكون بنجد، يقال لها: السعدان، المؤمنُ عليها كالطَّرْف وكالبرق وكالريح وكأجاويد الخيل والرِّكاب، فناجٍ مسَلَّم، وناجٍ مخدوش، ومكدوس في نار جهنم، حتى يمرَّ آخرُهم يُسْحَب سحبًا .. (1)» ا. هـ

وأخرج الحاكم رحمه الله وقال صحيح على شرط الشيخين ووافقه الذهبي عن ابن مسعود، قال: قال صلى الله عليه وسلم: « … فَيَمُرُّونَ عَلَى الصِّرَاطِ، وَالصِّرَاطُ كَحَدِّ السَّيْفِ دَحْضٌ مَزِلَّةٌ، قَالَ: فَيُقَالُ انْجُوا عَلَى قَدْرِ نُورِكُمْ فَمِنْهُمْ مَنْ يَمُرُّ كَانْقِضَاضِ الْكَوْكَبِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَمُرُّ كَالطَّرْفِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَمُرُّ كَالرِّيحِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَمُرُّ كَشَدِّ الرَّحْلِ وَيَرْمُلُ رَمَلًا فَيَمُرُّونَ عَلَى قَدْرِ أَعْمَالِهِمْ، حَتَّى يَمُرَّ الَّذِي نُورُهُ عَلَى إِبْهَامِ قَدَمِهِ يَجُرُّ يَدًا وَيُعَلِّقُ يَدًا وَيَجُرُّ رِجْلًا وَيُعَلِّقُ رِجْلًا فَتُصِيبُ جَوَانِبَهُ النَّارُ … (2)» ا. هـ

والأحاديث الواردة في ذكر الصراط وأوصافه كثيرة نكتفي بما ذكرناه، وكلها تتفق أن المارين على الصراط بينهم تفاوت عظيم كبير، كل حسب عمله، فمنهم من يمر كالبرق، ومنهم من يمر كالريح، ومنهم كالطير، ومنهم يشد كشد الرجال …

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري 6/ 2706 برقم (7001). في التوحيد، باب: {وجوه يومئذ ناضرة. إلى ربها ناظرة}

(2) المستدرك على الصحيحين 4/ 632.
ইমাম মুসলিম বলেন:

আবু সাঈদ —অর্থাৎ আল-খুদরী (রাযি.)— আরও বর্ণনা করেছেন: "আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, পুল (সিরাত) চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়েও ধারালো।"

ইমাম বুখারীও আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) থেকে নিম্নোক্ত শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন:

« … অতঃপর পুলটি আনয়ন করা হবে এবং জাহান্নামের পিঠের (মাঝখানে) স্থাপন করা হবে», আমরা আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! পুলটি কী? তিনি বললেন: «এটি একটি পিচ্ছিল ও পা হড়কানোর স্থান; এর উপর থাকবে আঁকড়ি, কাঁটা ও চওড়া কাঁটাযুক্ত গুল্ম, যার বাঁকানো কাঁটা রয়েছে— যা নজদ অঞ্চলে দেখা যায় এবং যাকে 'সাদান' বলা হয়। মুমিনগণ এর ওপর দিয়ে চোখের পলকের ন্যায়, বিদ্যুতের ন্যায়, বায়ুর ন্যায় এবং তেজী ঘোড়া ও উটের ন্যায় দ্রুতগতিতে পার হয়ে যাবে। ফলে কেউ কেউ সহিহ-সালামতে মুক্তি পাবে, কেউ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মুক্তি পাবে, আর কাউকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এমনকি তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিটি যখন পার হবে, তাকে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া হবে... (১)» উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

ইমাম হাকেম (রহ.) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সহিহ, আর ইমাম যাহাবীও তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: « … অতঃপর তারা সিরাতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। আর সিরাত হলো তলোয়ারের ধারের মতো পিচ্ছিল ও পা হড়কানোর স্থান। তিনি বলেন: তখন বলা হবে, ‘তোমাদের নূরের (আলোর) পরিমাণ অনুযায়ী মুক্তি লাভ করো।’ ফলে তাদের কেউ উল্কাপাতের ন্যায় পার হবে, কেউ চোখের পলকের ন্যায়, কেউ বায়ুর ন্যায়, আবার কেউ দ্রুতগামী আরোহীর ন্যায় দ্রুতপদে হেঁটে পার হবে। তারা তাদের আমল অনুযায়ী পার হতে থাকবে। এমনকি যে ব্যক্তির নূর কেবল তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে থাকবে, সে যখন পার হবে তখন তার এক হাত হেঁচড়াবে আর অন্য হাত ঝুলে থাকবে, এক পা হেঁচড়াবে আর অন্য পা ঝুলে থাকবে, আর আগুন তার পার্শ্বদেশ স্পর্শ করবে … (২)» উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

সিরাতের আলোচনা ও এর গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ অনেক; আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট। এই সবকটি হাদিস এ বিষয়ে একমত যে, সিরাত পার হওয়াকারীদের মধ্যে এক বিশাল ও ব্যাপক পার্থক্য থাকবে—প্রত্যেকেই নিজ নিজ আমল অনুযায়ী। তাদের কেউ বিদ্যুতের ন্যায় পার হবে, কেউ বায়ুর ন্যায়, কেউ পাখির ন্যায়, আবার কেউ মানুষের দৌড়ানোর ন্যায় দ্রুতগতিতে পার হবে …

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারী ৬/২৭০৬, হাদিস নং (৭০০১)। কিতাবুত তাওহীদ, অধ্যায়: {সেদিন অনেক চেহারা উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে}

(২) আল-মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন ৪/৬৩২।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
قال ابن القيم رحمه الله: فالثبات يوم القيامة على الصراط بالثبات في هذه الدار على طريق الاستقامة والهداية، وعلى قدر ثبوت قدم العبد على هذا الصراط الذي نصبه الله لعباده في هذه الدار، يكون ثبوت قدمه على الصراط المنصوب على متن جهنم، وعلى قدر سيره على هذه الصراط يكون سيره على ذاك الصراط، فمنهم من يمر كالبرق، ومنهم من يمر كالطرف، ومنهم من يمر كالريح، ومنهم من يمر كشد الركاب، ومنهم من يسعى سعياً، ومنهم من يمشي مشياً، ومنهم من يحبو حبوا، ومنهم المخدوش المسلم، ومنهم المكردس في النار (1).

 

‌‌ت - حكم الإيمان بالصراط عند أهل السنة والجماعة:

اتفقت كلمة علماء أهل السنَّة والجماعة على وجوب الإيمان بالصراط، للأدلة السمعية الكثيرة المشتهرة الواردة في ذلك.

قال الإمام أبو الحسن الأشعري- رحمه الله: "وأجمعوا على أن الصراطَ جسرٌ ممدود على جهنم، يجوز عليه العبادُ بقدر أعمالهم، وأنهم يتفاوتون في السرعة والإبطاء على قدر ذلك" (2).

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين بين منازل إياك نعبد وإياك نستعين 1/ 33. بتصرف يسير.

(2) رسالة إلى أهل الثغر بباب الأبواب ص: (163) الإجماع الأربعون. للإمام أبي الحسن الأشعري. قال ابن أبي العز الحنفي شارح الطحاوية:"واختلف المفسرون في المراد بالورود المذكور في قوله: {وَإِنْ مِنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا} ما هو؟ والأظهر والأقوى أنه المرور على الصراط.

قال: {ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيّاً} وفي الصحيح أنه صلى الله عليه وسلم قال: "والذي نفسي بيده لا يلج النار أحد بايع تحت الشجرة، قالت حفصة: فقلت يا رسول الله: أليس الله يقول: {وَإِنْ مِنْكُمْ إِلا وَارِدُهَا}؟ فقال: ألم تسمعيه قال: {ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيّاً} والحديث في مسلم بنحو هذا المعنى" (شرح الطحاوية ص 364).
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: কিয়ামতের দিন সিরাতের ওপর অবিচল থাকা নির্ভর করে এই দুনিয়ায় সঠিক পথ ও হিদায়াতের ওপর অবিচল থাকার ওপর। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য এই দুনিয়ায় যে সিরাত (পথ) নির্ধারণ করেছেন, তাতে বান্দার কদম যতটুকু সুদৃঢ় থাকবে, জাহান্নামের পিঠের ওপর স্থাপিত সিরাতের ওপরও তার কদম ঠিক ততটুকুই সুদৃঢ় হবে। এই সিরাতের ওপর তার চলার গতি নির্ভর করবে ইহকালীন এই সিরাতের ওপর তার চলার গতির ওপর। ফলে তাদের মধ্যে কেউ বিদ্যুতের ন্যায় পার হবে, কেউ চোখের পলকের ন্যায়, কেউ বাতাসের ন্যায়, কেউ দ্রুতগামী বাহনের ন্যায়, কেউ দৌড়ে, কেউ হেঁটে, কেউবা হামাগুড়ি দিয়ে পার হবে। আর কেউ হবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মুক্তিপ্রাপ্ত, আবার কাউকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে (১)।

 

‌‌৩ - আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট সিরাতের ওপর ঈমান আনার বিধান:

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমগণ সিরাতের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, কারণ এ বিষয়ে অনেক প্রসিদ্ধ ও শ্রুত দলিল বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সকলে এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সিরাত হলো জাহান্নামের ওপর বিস্তৃত একটি সেতু, বান্দাগণ তাদের আমল অনুযায়ী এর ওপর দিয়ে পার হবে এবং তাদের আমলের তারতম্য অনুযায়ী পার হওয়ার গতিতে দ্রুততা বা ধীরতা পরিলক্ষিত হবে" (২)।

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন বাইনা মানাজিলি ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন ১/ ৩৩। সামান্য পরিমার্জিত।

(২) রিসালা ইলা আহলিল সাগরি বি-বাবিল আবওয়াব, পৃষ্ঠা: ১৬৩, ৪০তম ইজমা। ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী রচিত। তাহাবিয়ার ব্যাখ্যাকার ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী বলেন: "মুফাসসিরগণ আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত 'প্রবেশ বা অতিক্রম' (উরুূদ) এর অর্থ নিয়ে মতভেদ করেছেন: 'তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে তা অতিক্রম করতে হবে না'। এর সবচেয়ে স্পষ্ট ও শক্তিশালী অর্থ হলো সিরাত পার হওয়া।

তিনি বলেন: 'অতঃপর আমি মুত্তাকিদের নাজাত দেব এবং জালেমদের সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব।' সহীহ হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, গাছের নিচে বায়আত গ্রহণকারীদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।' হাফসা (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ কি বলেননি: 'তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে তা অতিক্রম করতে হবে না'? তখন তিনি বললেন: তুমি কি শোনোনি তিনি বলেছেন: 'অতঃপর আমি মুত্তাকিদের নাজাত দেব এবং জালেমদের সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব'?' এই মর্মে হাদিসটি মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে" (শারহুত তাহাবিয়াহ পৃষ্ঠা ৩৬৪)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال الحافظ ابن عساكر- رحمه الله: "وَأَن يُؤمن بِأَن الصِّرَاط حق، وَهُوَ جسر مَمْدُود على متن جَهَنَّم أحدّ من السَّيْف وأدق من الشّعْر؛ تزل عَلَيْهِ أَقْدَام الْكَافرين بِحكم اللَّه تَعَالَى فَيهْوِي بهم إِلَى النَّار، وَيثبت عَلَيْهِ أَقْدَام الْمُؤمنِينَ فيساقون إِلَى دَار الْقَرار (1) ".

وقال الفقيه المتكلم عضد الدين عبد الرحمن الإيجي- رحمه الله: "واعلم أن الصراطَ جسرٌ ممدود على ظهر جهنم، يعبُر عليه المؤمن وغير المؤمن، وأنكره أكثرُ المعتزلة … (2) "

وقال الإمام النووي رحمه الله: "مذهب أهل الحق أن الصراط جسر ممدود على متن جهنم يمر عليه الناس كلهم؛ فالمؤمنون ينجُون على حسب أعمالهم ومنازلهم، والآخرون يسقطون فيها، عافانا اللهُ الكريم، والسلف يقولون: إنه أدقُّ من الشعر، وأحدُّ من السيف، وهكذا جاء في رواية أبي سعيد (3) "

وقال الإمام السَّفاريني- رحمه الله: "اتَّفَقَتِ الْكَلِمَةُ على إثبات الصراط في الجملة، لكن أهل الحقّ يثبتونه على ظاهره من كونه جسراً مدوداً على متن جهنم، أحدّ من السيف، وأدقّ من الشعر، وأنكر هذا الظاهر القاضي عبد الجبار المعتزلي وكثير من أتباعه .. (4) ".

--------------------------------------------

(1) تبيين كذب المفتري ص: 305، وانظر قواعد العقائد للإمام الغزالي ص: 66

(2) كتاب المواقف - الإيجي 3/ 525.

(3) مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح للملّا علي القاري 8/ 3533.

(4) لوامع الأنوار البهية 2/ 192.لأبي العون محمد بن أحمد بن سالم السفاريني الحنبلي، وهو محدث، وفقيه أصولي، وصوفي، ومؤرخ.
হাফিজ ইবনে আসাকির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এবং এটি বিশ্বাস করা যে সিরাত ধ্রুব সত্য; আর তা হলো জাহান্নামের পিঠের ওপর প্রসারিত একটি সেতু, যা তলোয়ারের চেয়েও ধারালো এবং চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম। মহান আল্লাহর হুকুমে এর ওপর কাফিরদের পা পিছলে যাবে এবং তা তাদের নিয়ে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে; আর এর ওপর মুমিনদের পা অবিচল থাকবে এবং তাদের চিরস্থায়ী আবাসের দিকে পরিচালিত করা হবে (১)।"

ফকিহ ও মুতাকাল্লিম আযুদুদ্দীন আব্দুর রহমান আল-ঈজী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জেনে রাখুন যে, সিরাত হলো জাহান্নামের পৃষ্ঠদেশের ওপর প্রসারিত একটি সেতু, যার ওপর দিয়ে মুমিন ও অ-মুমিন সবাই অতিক্রম করবে। অধিকাংশ মুতাজিলা একে অস্বীকার করেছে... (২) "

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সত্যপন্থীদের মাযহাব হলো, সিরাত হলো জাহান্নামের পিঠের ওপর প্রসারিত একটি সেতু যার ওপর দিয়ে সকল মানুষ অতিক্রম করবে। মুমিনগণ তাদের আমল ও মর্তবা অনুযায়ী মুক্তি পাবে এবং অন্যরা তাতে নিপতিত হবে। পরম দয়ালু আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। সালাফগণ বলেন: এটি চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়েও ধারালো; আবু সাঈদের বর্ণনায় এভাবেই বর্ণিত হয়েছে (৩) "

ইমাম সাফফারিনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সামগ্রিকভাবে সিরাত সাব্যস্ত করার বিষয়ে সর্বসম্মতি রয়েছে। তবে সত্যপন্থীরা একে এর প্রকাশ্য অর্থেই সাব্যস্ত করেন যে, এটি জাহান্নামের পৃষ্ঠের ওপর প্রসারিত একটি সেতু, যা তলোয়ারের চেয়ে ধারালো এবং চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম। মুতাজিলা কাজী আব্দুল জাব্বার এবং তার অনুসারীদের অনেকেই এই প্রকাশ্য রূপটিকে অস্বীকার করেছেন... (৪) "।

--------------------------------------------

(১) তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা: ৩০৫; এবং দেখুন ইমাম গাযালীর কাওয়াইদুল আকাইদ, পৃষ্ঠা: ৬৬

(২) কিতাবুল মাওয়াকিফ - আল-ঈজী ৩/ ৫২৫।

(৩) মোল্লা আলী কারী রচিত মিরকাতুল মাফাতিহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ ৮/ ৩৫৩৩।

(৪) লাওয়ামি উল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ ২/ ১৯২। এটি আবু আল-আওন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সালিম আস-সাফফারিনী আল-হাম্বলীর রচনা, যিনি একজন মুহাদ্দিস, ফকিহ, উসুলবিদ, সূফী এবং ঐতিহাসিক।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الخلاصة:

هناك صراط مستقيم، وهو الطريق القويم طريق الهداية، وهناك صراط الجحيم منصوب على جهنم أشارت إليه الآيات في سورة يس، وفي الصافات، وفي مريم، وبيّنته الأحاديث الصحيحة المشهورة المروية في البخاري ومسلم وفي غيرهما كما مرّ.

والعجيب أن د. الكيالي أنكر مفهوم الآيات السابقة، ثم أنكر الأحاديث الصّحيحة الصّريحة ليصل إلى فكرته الاعتزالية، ثم بعد ذلك استدل ببعض الأحاديث التي تخدم فكرته وما يصبوا إليه.

فإمّا أن لا يستدل بالحديث أصلاً وهذا هو المفروض حسب عقيدته، أو يستدل بكل الأحاديث الواردة دون انتقاء لبعضها وإقصاء للآخر.

وقد عنف الله في القرآنُ الكريم اليهودَ لأنهم يأخذون ببعض الكتاب وينكرون البعض الآخر؛ حسب أهوائهم وعقيدتهم الفاسدة قال تعالى:

{أَفَتُؤمِنونَ بِبَعضِ الكِتابِ وَتَكفُرونَ بِبَعضٍ فَما جَزاءُ مَن يَفعَلُ ذلِكَ مِنكُم إِلّا خِزيٌ فِي الحَياةِ الدُّنيا وَيَومَ القِيامَةِ يُرَدّونَ إِلى أَشَدِّ العَذابِ وَمَا اللَّهُ بِغافِلٍ عَمّا تَعمَلونَ} [البقرة: 85]

نقول للدكتور الكيالي ما قاله الشاعر:

فقلْ لمنْ يدَّعِي في العلم معرفةً … حفِظْتَ شَيئًا، وغابَتْ عنك أشياءُ

ومن المعروف أن د. الكيالي مهندس معماري، ودرس الرياضيات والفيزياء والكيمياء، ولم يثبت عنه أنه أخذ العلم الشرعي عن واحد من العلماء المشهود لهم بالعلم والتقوى والاستقامة، فلم يتلقَّ العلم عن أهله، بل هبج من الكتب من هنا وهناك ما يروق له فَضَلَّ وأَضلّ، وقد يكون الهدف من ترويجه هو وأمثاله في هذه الأوقات ضربَ الاسلام من خلال إنكار السنة المطهرة، وهي المرجع الثاني التي نأخذ منها الأحكام بعد القرآن الكريم، وقد حذر النبيُّ من ذلك قبل أربعة عشر قرناً فقال صلى الله عليه وسلم: «أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ .. » وفي رواية: «لَا أُلْفِيَنَّ- لَا أجدنَّ- أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ، يَأْتِيهِ الأَمْرُ مِنْ أَمْرِي: مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ، أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ، فَيَقُولُ: مَا أَدْرِي، مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللهِ اتَّبَعْنَاهُ (1)»

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود رقم (4605) في السنة: باب لزوم السنة، والترمذي رقم: (2666) في العلم: باب رقم (10) وإسناده صحيح. وقال الترمذي: حسن، وأخرجه أحمد 6/ 8، وابن ماجة في المقدمة رقم (13) بألفاظ متقاربة. (انظر جامع الأصول في أحاديث الرسول 1/ 283 مع الحاشية)
সারসংক্ষেপ:

একটি সরল পথ (সিরাত মুস্তাকিম) রয়েছে, যা মূলত সুদৃঢ় পথ ও হিদায়াতের পথ। আবার জাহান্নামের ওপর স্থাপিত একটি পথ (সিরাত) রয়েছে; যার প্রতি সূরা ইয়াসিন, আস-সাফফাত এবং মারইয়ামের আয়াতসমূহে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং বুখারি, মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত প্রসিদ্ধ সহিহ হাদিসসমূহে যা বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ড. আল-কায়্যালি পূর্বোক্ত আয়াতসমূহের মর্মার্থ অস্বীকার করেছেন, অতঃপর নিজের মুতাজিলাপন্থী চিন্তাধারায় পৌঁছানোর জন্য সুস্পষ্ট সহিহ হাদিসগুলোকেও অস্বীকার করেছেন। এরপর তিনি এমন কিছু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা কেবল তাঁর নিজস্ব চিন্তাধারা ও উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই সহায়ক।

সুতরাং হয় তাঁর হাদিস দ্বারা আদৌ দলিল পেশ করা উচিত নয়—আর তাঁর আকিদা অনুযায়ী এটাই ছিল কাম্য—অথবা বর্ণিত সকল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা উচিত, কোনো প্রকার বাছবিচার বা একটিকে গ্রহণ করে অন্যটিকে বর্জন করা ব্যতিরেকেই।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের কঠোর নিন্দা করেছেন, কারণ তারা তাদের প্রবৃত্তি ও ভ্রান্ত আকিদা অনুযায়ী কিতাবের কিছু অংশ গ্রহণ করত এবং অন্য অংশ অস্বীকার করত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

“তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে, তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠোরতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফেল নন।” [সূরা আল-বাকারাহ: ৮৫]

আমরা ড. আল-কায়্যালিকে তা-ই বলছি যা কবি বলেছিলেন:

জ্ঞানের দাবিদার ব্যক্তিকে বলো … তুমি তো সামান্য কিছু জেনেছ, কিন্তু তোমার অগোচরে রয়ে গেছে বহু বিষয়।

এটি সর্বজনবিদিত যে, ড. আল-কায়্যালি একজন স্থপতি; তিনি গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। জ্ঞান, তাকওয়া ও সততার জন্য স্বীকৃত কোনো আলেমের নিকট থেকে তিনি শারয়ি ইলম অর্জন করেছেন বলে প্রমাণিত নয়। ফলে তিনি যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেননি, বরং এখান ওখান থেকে বিভিন্ন কিতাব ঘেঁটে নিজের পছন্দমতো বিষয়গুলো গ্রহণ করেছেন; যার ফলে তিনি নিজে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং অন্যদেরও বিভ্রান্ত করেছেন। বর্তমান সময়ে তাঁর ও তাঁর ন্যায় ব্যক্তিদের প্রচারের উদ্দেশ্য সম্ভবত সুন্নাহকে অস্বীকার করার মাধ্যমে ইসলামের মূলে আঘাত হানা। অথচ সুন্নাহ হলো কুরআনুল কারিমের পর দ্বিতীয় প্রধান উৎস যেখান থেকে আমরা বিধান গ্রহণ করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশ বছর আগেই এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন: “সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু দেওয়া হয়েছে। সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু দেওয়া হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো উদরপূর্তি করা ব্যক্তি নিজ আসনে হেলান দিয়ে বলবে, তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তা-ই হালাল মনে করো আর যা হারাম পাবে তা-ই হারাম মনে করো...” অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: “আমি যেন তোমাদের কাউকেও এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে আছে, আর তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ কিংবা নিষেধ পৌঁছলে সে বলে, 'আমি জানি না; আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করেছি'।” (১)

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৬০৫, কিতাবুস্ সুন্নাহ: বাব লুযুমিস সুন্নাহ; তিরমিযি, হাদিস নং ২৬৬৬, কিতাবুল ইলম: অনুচ্ছেদ ১০; এর সনদ সহিহ। ইমাম তিরমিযি একে 'হাসান' বলেছেন। ইমাম আহমদ (৬/৮) এবং ইবনে মাজাহ তাঁর মুকাদ্দিমার ১৩ নং হাদিসে প্রায় একই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। (দেখুন: জামিউল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল, ১/২৮৩, টীকাসহ)
(খণ্ড: ১) আস-সিরাত ফী রাইল কায়ালী ওয়াস-সিরাত ফিল মানজুরিল কুরআনী ওয়ান নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
قال الحافظ المنذري رحمه الله: يعني أنه صلى الله عليه وسلم أنه أوتي من الوحي غير المتلو مثل ما أوتي من المتلو كما قال الله تعالى (وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ) فالكتاب هو القرآن، والحكمة السنن التي لم ينطق القرآن بنصها، وأوتي صلى الله عليه وسلم من بيان القرآن وتفسيره، فإن بيان القرآن مفوض إليه صلى الله عليه وسلم، قال الله تعالى (وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ) وفي تكرير كلمة التنبيه (ألا) توبيخ نشأ من غضب عظيم؛ عن من ترك السنة والعمل بالحديث استغناء بالكتاب؛ فكيف بمن ترك العمل بالحديث استغناء بالرأي (1)!!. اهـ

 

ولولا خشية الإطالة لروينا العشرات من الأحاديث الصحيحة التي تثبت وجود الصراط، والميزان، وعذاب القبر، وكلهم ينكرهم الكيالي هذا؛ فلننتبه الى هذه الدعوات الهدامة ولننبذها بشدة وبالله التوفيق.

--------------------------------------------

(1) وأما ما رواه بعضهم أنه صلى الله عليه وسلم قال: "إذا جاءكم الحديث فاعرضوه على كتاب الله فإن وافقه فخذوه" فإنه حديث باطل لا أصل له، وقد حكى زكريا الصاحبي عن يحيى بن معين -رحمهما الله- أنه قال: هذا حديث وضعته الزنادقة اهـ (الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني 1/ 192.المؤلف: أحمد بن عبد الرحمن بن محمد البنا الساعاتي (المتوفى: 1378 هـ)
হাফেজ মুনজিরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এর অর্থ হলো, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পঠিত ওহীর (কুরআন) ন্যায় অপঠিত ওহী (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং তিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন।" এখানে 'কিতাব' হলো কুরআন, আর 'হিকমত' হলো সেই সকল সুন্নাত যা কুরআনের শব্দে বর্ণিত হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কুরআনের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা প্রদানের দায়িত্বও প্রদান করা হয়েছে, কেননা কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানের বিষয়টি তাঁর ওপরই ন্যস্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি জিকর (স্মারক) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন।" আর সতর্কতামূলক শব্দ (সাবধান)-এর পুনরাবৃত্তির মধ্যে এক মহাক্রোধ থেকে উদ্ভূত তিরস্কার নিহিত রয়েছে; তাদের প্রতি যারা কুরআনকে যথেষ্ট মনে করে সুন্নাহ বর্জন করে এবং হাদীস অনুযায়ী আমল করা ছেড়ে দেয়। তাহলে তাদের অবস্থা কী হবে যারা নিজ মতামতের ওপর নির্ভর করে হাদীসের ওপর আমল করা ছেড়ে দেয় (১)!! সমাপ্ত।

 

যদি দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে আমরা সেই সব দশ দশটি সহীহ হাদীস বর্ণনা করতাম যা সিরাত (পুলসিরাত), মিজান (পাল্লা) এবং কবরের আজাবের অস্তিত্ব প্রমাণ করে; অথচ এই কায়ালি নামক ব্যক্তি এগুলোর সবই অস্বীকার করে। সুতরাং আমাদের এই ধ্বংসাত্মক দাওয়াতগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত এবং এগুলোকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য।

--------------------------------------------

(১) আর কেউ কেউ যে বর্ণনা করেছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কাছে কোনো হাদীস আসে, তা আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে নাও; যদি তা কিতাবের সাথে মিলে যায় তবে তা গ্রহণ করো" — এটি একটি বাতিল হাদীস যার কোনো ভিত্তি নেই। জাকারিয়া আস-সাহেবি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রাহিমাহুমাল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "এটি একটি জাল হাদীস যা যিনদিক বা ধর্মদ্রোহীরা তৈরি করেছে।" সমাপ্ত। (আল-ফাতহুর রব্বানি লি-তারতিবি মুসনাদিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানি ১/১৯২। লেখক: আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-বান্না আস-সাআতি (মৃত্যু: ১৩৭৮ হিজরি))