(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: -)
كيف تعامل الإسلام مع الوباء والبلاء القسم: كتب عامة
الكتاب: كيف تعامل الإسلام مع الوباء والبلاء
المؤلف: محمد مهدي قشلان
عدد الصفحات: 17
تاريخ النشر بالشاملة: 30 رمضان 1441
মহামারি ও বিপদের মোকাবিলায় ইসলামের কর্মপন্থা বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
বই: মহামারি ও বিপদের মোকাবিলায় ইসলামের কর্মপন্থা
লেখক: মুহাম্মদ মাহদী কশলান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ রমজান ১৪৪১
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১)
كيف تعامل الإسلام
مع الوباء والبلاء
محمد مهدي قشلان
ইসলাম যেভাবে মহামারি
ও বিপদের মোকাবেলা করেছে
মুহাম্মদ মাহদী কাশলান
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ২)
عناصر الموضوع:• مقدمة.
• أثر الإيمان بالقضاء والقدر في سلوك المؤمنين.
• وقفات إيمانية في ظل الرُّهاب من مرض الكورونا:
1 - الوقفة الأولى: الطَّواعين والأوبئة كانت ولا تزال تقع في الناس .. وكثرة ظهورها علامة من علامات الساعة، والناس عند نزول البلاء إما معذبين وإما مختبرين.
2 - الوقفة الثانية: ما نزل البلاء إلا بذنب، ولا يرفع إلا بتوبة، وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ.
3 - الوقفة الثالثة: العدوى بالمرض ثابتةٌ عقلاً وعلماً وشرعاً؛ لكنها بقدر الله وبإذنه، ووقفة إعجازية عند قول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا عَدْوَى، وَلا طِيَرَةَ، وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ».
4 - الوقفة الرابعة: ضرورة اتباع الإِرشَادَاتِ النَّبويَّةَ التي جاءت وَاضِحةً جليَّةً فِي ضرورة الأخذ بأسباب الوقاية والسلامة من المرض قبل انتشاره وتفشيه في المجتمع، من خلال حثّ الإسلام على العناية بالنظافة والطهارة؛ ليبقى الإنسان نظيفاً بعيداً عن كل ما من شأنه أن ينقل له الأمراض والعدوى.
• الوسائل والتوجيهات النَّبويَّة للحيلولة دون انتقال الأمراض وتفشيها، وهي تدخل تحت ما يسمَّى بالطب الوقائي.
- ضرورة تناول الأدوية والأسباب التي جعلها الله في كونه.
- أدعية وأذكار نبوية للوقاية من الأمراض والأوبئة.
• الإشاعة وخطرها على الفرد والمجتمع.
আলোচনার বিষয়বস্তু:• ভূমিকা।
• মুমিনদের আচরণে তকদির ও ভাগ্যের ফয়সালার প্রতি বিশ্বাসের প্রভাব।
• করোনা মহামারির ভীতির প্রেক্ষাপটে ঈমানী কিছু পর্যালোচনা:
1 - প্রথম পর্যালোচনা: প্লেগ ও মহামারি মানুষের মাঝে যুগে যুগে ছিল এবং এখনও বিদ্যমান... আর এগুলোর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব কিয়ামতের অন্যতম আলামত; বিপদ-আপদ নাযিল হওয়ার সময় মানুষ হয় শাস্তির সম্মুখীন অথবা পরীক্ষার সম্মুখীন।
2 - দ্বিতীয় পর্যালোচনা: পাপ ছাড়া কোনো বিপদ অবতীর্ণ হয় না এবং তাওবা ছাড়া তা অপসারিত হয় না; "তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল।"
3 - তৃতীয় পর্যালোচনা: রোগের সংক্রমণ যুক্তি, বিজ্ঞান এবং শরিয়ত দ্বারা প্রমাণিত; তবে তা আল্লাহর নির্ধারণ ও তাঁরই অনুমতি সাপেক্ষে হয়ে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর এক মুজিজাপূর্ণ দিক: "কোনো সংক্রমণ নেই, কোনো অশুভ লক্ষণ নেই এবং কুষ্ঠরোগী থেকে সেভাবে পলায়ন করো যেভাবে তুমি সিংহ থেকে পলায়ন করো।"
4 - চতুর্থ পর্যালোচনা: সমাজে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধ ও নিরাপত্তার উপায় অবলম্বনের গুরুত্ব সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুস্পষ্ট নির্দেশনাবলি অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা। ইসলাম পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার উৎসাহ দেয়, যাতে মানুষ পরিচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং এমন সব বিষয় থেকে দূরে থাকে যা রোগ ও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
• রোগ সংক্রমণ ও এর বিস্তার রোধে নববী পন্থা ও দিকনির্দেশনাসমূহ, যা মূলত 'প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা' বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
- আল্লাহ তাআলা এই মহাবিশ্বে যেসব ঔষধ ও মাধ্যম রেখেছেন তা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা।
- রোগ-ব্যাধি ও মহামারি থেকে সুরক্ষায় বর্ণিত নববী দোয়া ও যিকিরসমূহ।
• গুজব এবং ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর ভয়াবহতা।
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة:الحمد لله رب العالمين، الحمد لله الذي خلق فسوى، والذي قدّر فهدى، والذي أبْدَعَ كلَّ شَيْء وذَرَا، لا يَغيب عن علمه صغيرُ النَّمْل في الليل إِذَا سَرى، ولا يَعْزُبُ عن علمه مثقالُ ذرةٍ في الأرض ولا في السَّماء، {لَهُ مَا فِي السَّمَوَتِ وَمَا فِي الارْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى} [طَهَ: 6]، خَلَقَ الخلق فقدَّر عليهم البلاء؛ ليعيشوا بعد ذلك في جنة السماء؛ حيث لا نصب فيها ولا مِراء، وهو القائل في الأثر القدسي الجليل: (إِنِّي لأَهِمُّ بِأَهْلِ الأَرْضِ عَذَابَاً، فَإِذَا نَظَرْتُ إِلَى عُمَّارِ بُيُوْتِي، وَالْمُتَحَابِّيْنَ فِيَّ، وَالْمُسْتَغْفِرِيْنَ بِالأَسْحَارِ، صَرَفْتُ عَنْهُمْ
(1) (البيهقي في الشعب وغيره).
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن سيدنا محمداً عبد الله ورسوله، القائل صلوات الله عليه: «اطْلُبُوا الْخَيْرَ دَهْرَكُمْ، وَتَعَرَّضُوا لِنَفَحَاتِ رَحْمَةِ اللَّهِ عز وجل فَإِنَّ لِلَّهِ عز وجل نَفَحَاتٍ مِنْ رَحْمَتِهِ يُصِيبُ بِهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ، وَاسْأَلُوا اللَّهَ أَنْ يَسْتُرَ عَوْرَتِكُمْ، وَيُؤَمِّنَ رَوْعَاتِكُمْ
(2)» (البيهقي في الشعب وغيره).
اللهم صل وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন, যিনি তাকদির নির্ধারণ করেছেন ও পথপ্রদর্শন করেছেন এবং যিনি সবকিছু নিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন। রাতের আঁধারে বিচরণকারী ক্ষুদ্র পিঁপড়াও তাঁর জ্ঞানের অগোচর নয় এবং আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। {আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, যা কিছু এই দুয়ের মাঝখানে এবং যা কিছু মাটির নিচে রয়েছে, সব তাঁরই} [ত্বহা: ৬]। তিনি সৃষ্টিজগত সৃজন করেছেন এবং তাদের জন্য পরীক্ষার ফয়সালা করেছেন; যাতে তারা এরপর জান্নাতুল সামায় বসবাস করতে পারে; যেখানে কোনো ক্লান্তি বা বিবাদ নেই। তিনি মহান ঐতিহ্য (أثر) কুদসি (قدسي)-তে বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমি জমিনবাসীদের আজাব প্রদানের ইচ্ছা করি, কিন্তু যখন আমি আমার ঘরসমূহ আবাদকারীদের দিকে, আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসাকারীদের দিকে এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের দিকে লক্ষ্য করি, তখন আমি তাদের থেকে আজাব সরিয়ে নিই)
(১) (শুআবুল ইমান গ্রন্থে বায়হাকি ও অন্যান্য)।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। যাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: «তোমরা তোমাদের জীবনভর কল্যাণ অনুসন্ধান করো এবং মহান আল্লাহর রহমতের স্নিগ্ধ প্রবাহের সম্মুখীন হও। কেননা আল্লাহর রহমতের কিছু স্নিগ্ধ প্রবাহ রয়েছে যা দ্বারা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা ধন্য করেন। আর তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো যেন তিনি তোমাদের দোষত্রুটি গোপন রাখেন এবং তোমাদের ভয়ভীতি দূর করে নিরাপত্তা দান করেন
(২)» (শুআবুল ইমান গ্রন্থে বায়হাকি ও অন্যান্য)।
হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ৪)
أثر الإيمان بالقضاء والقدر في سلوك المؤمنين:إنَّ أروع وأكمل ما يُميَّز به المؤمن عن غيره إيمانهُ الجازمُ بقضاء الله وقدره، فهو يعتقد أنه لا يقع شيءٌ في كون الله إلا ما يقدره ويريده الله، وأن كل ما في الكون من رزق وحياة وسعادةٍ وشقاءٍ وموت، كلها تحضع لقدر الله وقضائه، فالله قدر مقادير العباد قبل أن يخلقهم، وجفت الصحف بما قدَّره الله، كل ذلك من المسلَّمات عند المؤمن، والإيمان بذلك هو بلسم الحياة الذي يزيل الأسى والحزن؛ فإن العبد إذا رضي لحكمة الله التامة في قضائه وقدره، كان مرتاح البال، مطمئن النفس، ثابت القلب، صابراً عند الشدائد والكرب، لا يحيد عن مراد الله، يعيش دائماً مستذكراً ومستحضراً قول رَسُولُ الله: «عَجَباً لأمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَلِكَ لأِحَدٍ إِلَاّ للْمُؤْمِن: إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْراً لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خيْراً لَهُ». (رواه مسلم).
وإنَّ مما قضاه الله وأمضاه ظهور مرض خفي خطير صار حديث الناس، وسبَّبَ قلقاً وخوفاً عند كثيرٍ منهم، أعني مرض (كورونا)
(1)نسأل الله السلامة والعافية لنا ولجميع المسلمين، واسمحوا لي في هذه الدقائق المباركة أن أضع النقاط على الحروف، وأن أسميَ الأشياء بأسمائها، أجول بحضراتكم بين وقفات أربعة، بين الشريعة والعلم، فما أحوجنا لمثل هذه الوقفات الإيمانية في وقت كثر فيه الرُّهاب والهلع والخوف والفزع
--------------------------------------------
মুমিনদের আচরণে আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরে বিশ্বাসের প্রভাব:মুমিনকে অন্যদের থেকে যা সবচেয়ে চমৎকার ও পূর্ণাঙ্গভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে, তা হলো আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি তার সুদৃঢ় বিশ্বাস। সে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর সৃষ্টিজগতে যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহ যা নির্ধারণ ও ইচ্ছা করেন তা ব্যতিরেকে ঘটে না। আর মহাবিশ্বের রিজিক, জীবন, সুখ, দুঃখ ও মৃত্যু—সবই আল্লাহর তাকদির ও ফয়সালার অনুগত। আল্লাহ তাআলা বান্দাদের সৃষ্টি করার পূর্বেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছেন এবং যা নির্ধারিত হয়েছে সে অনুযায়ী কলম শুকিয়ে (লিপি চূড়ান্ত হয়ে) গেছে। মুমিনের কাছে এগুলো সুনিশ্চিত সত্যের অন্তর্ভুক্ত এবং এর ওপর বিশ্বাস রাখা জীবনের এমন এক প্রশান্তিদায়ক মলম যা দুঃখ ও বেদনা দূর করে দেয়। কেননা বান্দা যখন আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরে তাঁর পূর্ণ প্রজ্ঞার বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকে, তখন সে শান্ত মনে, প্রশান্ত হৃদয়ে ও অটল চিত্তে বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করতে পারে এবং আল্লাহর মর্জির বাইরে যায় না। সে সর্বদাই রাসুলুল্লাহর এই বাণী স্মরণ ও হাজির রেখে জীবন অতিবাহিত করে: “মুমিনের বিষয়গুলো কতই না চমৎকার! তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া আর কেউ এমনটি লাভ করতে পারে না। যদি সে সুখ লাভ করে, তবে শুকরিয়া আদায় করে, আর এটি তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে বিপদে পড়ে, তবে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।” (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।
আল্লাহ যা ফয়সালা ও বাস্তবায়ন করেছেন তার মধ্যে রয়েছে একটি গোপন ও বিপজ্জনক রোগের প্রাদুর্ভাব, যা মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং অনেকের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের সৃষ্টি করেছে; আমি (করোনা) ভাইরাসের কথা বলছি।
(১)আমরা আমাদের এবং সকল মুসলিমের জন্য আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি। এই বরকতময় মুহূর্তগুলোতে আমাকে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার এবং বিষয়গুলোকে যথাযথ নামে অভিহিত করার অনুমতি দিন। আমি আপনাদের সামনে শরয়ি বিধিবিধান ও বিজ্ঞানের আলোকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরছি। ভীতি, আতঙ্ক, ভয় ও অস্থিরতা যখন ছড়িয়ে পড়েছে, তখন ঈমানি দৃষ্টিকোণ থেকে এই জাতীয় আলোচনার আমাদের খুবই প্রয়োজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقفات إيمانية في ظل الرُّهاب من كورونا: أما
الوقفة الأولى: علينا أن نعلم أيها الإخوة أن الطَّواعين والأوبئة كانت ولا تزال تقع في الناس، ولله في ذلك كمالُ الحكمة والتدبير، فقد عرفها الناسُ مُنذ القدم، وذكرها المؤرخون في التاريخ، وتكلّم العلماء عن أحكامها الشرعية في كتبهم، بل مات بسببها جماعات من سادات الصحابة، منهم أبو عبيدة بن الجراح ومعاذ بن جبل وغيرهم، بل ذكر المؤرخون أنه توفي في طاعون عمواس وحده من المسلمين ما يزيد عن خمسة وعشرين ألفاً"
(1)وقيل أكثر من ذلك بكثير .. وكان ذلك في أيام خلافة الفاروق عمر، وقد عدّ النبي صلى الله عليه وسلم ذلك من أشراط الساعة، فقد روى الإمام البخاري عن عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ، فَقَالَ: «اعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ: مَوْتِي، ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ المَقْدِسِ، ثُمَّ مُوتَانٌ أو - مَوْتَانٌ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الغَنَمِ
…(2)». قال أبو عبيد اللغوي الفقيه 157 هـ: "القُعاص: داءٌ يأخُذ الغنم لا يُلبِثها إلى أن تموت، وهو داءٌ قاتل
(3) ". وَقَالَ ابْن فَارس: "القعاص دَاء يَأْخُذ فِي الصَّدْر كَأَنَّهُ يكسر الْعُنُق
(4) ".
الناس عند نزول البلاء إما معذبين وإما مختبرين:
ولنعلم أيها الأحبة: أنَّ الْأَوْبِئَة وَالطَّوَاعِين إما أن تكونَ عذاباً وبلاءً، وإما أن تكونَ ابْتِلَاءً واختباراً، فالذين تسلطوا على المسلمين والمستضعفين في الأرض، وضيّقوا عليهم حتى في دور عبادتهم فهدموا منها ما هدموا .. هؤلاء وأمثالهم يكون البلاء عليهم عذاباً وعقاباً في الدنيا قبل الآخرة، وأما نزول هذا البلاء على المؤمنين القائمينَ بِأمرِ اللهِ تعَالَى فيكون ابْتِلَاءً واختباراً وتذكيراً. فهو إذن لقومٍ عذابٌ وبلاء، ولقومٍ آخرين اختبارٌ وابتلاء.
ولنسمع ما أعدَّ الله عز وجل لعباده المؤمنين الذين وقع عليهم هذا البلاء وماتوا بسببه، تقول السيدة عَائِشَةَ رضي الله عنها: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الطَّاعُونِ، فَأَخْبَرَنِي: «أَنَّهُ عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ، وَأَنَّ اللهَ جَعَلَهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ، لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ، فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا، يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُصِيبُهُ إِلَّا مَا كَتَبَ اللهُ لَهُ، إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ شَهِيدٍ
(5)». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.
الله أكبر .. وهذه بشارة وأيّ بشارة! للذين يبتلون بالأمراض والأوبئة المميتة كالسرطان وغيره؛ فإن صبروا واحتسبوا وأحسنوا الظن بخالقهم كان لهم مِثْلُ أَجْرِ شَهِيدٍ، وقال صلى الله عليه وسلم: في حديث آخر: «الطَّاعُونُ شَهَادَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ
(6)» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
أي يكون الميت به في درجة الشهداء يوم القيامة.
--------------------------------------------
করোনা ভীতির আবহে ঈমানি শিক্ষা: অতঃপর
প্রথম শিক্ষা: হে ভ্রাতৃবৃন্দ! আমাদের জানা উচিত যে প্লেগ (طاعون) এবং মহামারি (أوبئة) মানুষের মধ্যে অতীতেও দেখা দিয়েছে এবং এখনও ঘটছে। আর এতে আল্লাহর পূর্ণ হিকমত ও পরিকল্পনা নিহিত রয়েছে। মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই এগুলো সম্পর্কে অবগত এবং ঐতিহাসিকগণ (مؤرخون) ইতিহাসের পাতায় তা উল্লেখ করেছেন। আলেমগণও তাঁদের কিতাবসমূহে এর শরয়ি বিধান (أحكام شرعية) নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমনকি এর কারণে অনেক বিশিষ্ট সাহাবি মৃত্যুবরণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, মুয়াজ ইবনে জাবাল ও আরও অনেকে রয়েছেন। বরং ঐতিহাসিকগণ (مؤرخون) উল্লেখ করেছেন যে, কেবল আমওয়াসের প্লেগ (طاعون عمواس)-এ পঁচিশ হাজারেরও বেশি মুসলমান মৃত্যুবরণ করেছিলেন।"
(1)কেউ কেউ বলেছেন এর চেয়েও অনেক বেশি.. আর এটি ছিল ফারুক উমরের খিলাফতকালে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে কিয়ামতের আলামত (أشراط الساعة) হিসেবে গণ্য করেছেন। ইমাম বুখারি আউফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তাবুক যুদ্ধের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম, তিনি তখন একটি চামড়ার তাবুর ভেতরে ছিলেন। তিনি বললেন: «কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি বিষয় গণনা করো: আমার মৃত্যু, তারপর বায়তুল মাকদিস বিজয়, এরপর একটি মড়ক (موتان) যা তোমাদের পাকড়াও করবে যেমন বকরির মহামারি (قعاص الغنم) বকরিকে আক্রমণ করে
…(2)»। ভাষাবিদ ফকিহ (فقيه) আবু উবাইদ (১৫৭ হি.) বলেন: "قعاص (কুয়াস) হলো এমন একটি রোগ যা বকরিকে আক্রমণ করে এবং তাকে সুস্থ হওয়ার সুযোগ না দিয়েই মৃত্যু ঘটায়, আর এটি একটি প্রাণঘাতী রোগ।
(3)"। ইবনে ফারিস বলেন: "القعاص (কুয়াস) হলো এমন রোগ যা বুকে উৎপন্ন হয়, যেন তা ঘাড় মচকে দেয়।
(4)"
বিপদাপদ নাজিল হওয়ার সময় মানুষ হয় শাস্তিপ্রাপ্ত অথবা পরীক্ষিত:
হে প্রিয় সুহৃদ! আমাদের জানা উচিত: মহামারি (أوبئة) ও প্লেগ (طاعون) কখনও আজাব (عذاب) ও শাস্তি হতে পারে, আবার কখনও পরীক্ষা (ابتلاء) ও যাচাইও হতে পারে। যারা জমিনে মুসলিম ও দুর্বলদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের ওপর সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে এমনকি তাদের ইবাদতগাহ পর্যন্ত ভেঙে দেয়.. তাদের এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের ওপর এই বিপদ দুনিয়া ও আখেরাতে আজাব (عذاب) ও শাস্তি হিসেবে আপতিত হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহর নির্দেশের ওপর অটল মুমিনদের ওপর এই বিপদ যখন নাজিল হয়, তখন তা পরীক্ষা (ابتلاء), যাচাই এবং সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এটি একদলের জন্য আজাব (عذاب) ও শাস্তি, আর অন্যদলের জন্য যাচাই ও পরীক্ষা (ابتلاء)।
আসুন আমরা শুনি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ঐসব মুমিন বান্দাদের জন্য কী প্রস্তুত রেখেছেন যারা এই বিপদে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর কারণে মারা গিয়েছেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্লেগ (طاعون) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে জানালেন যে: «এটি একটি আজাব (عذاب), আল্লাহ যার ওপর ইচ্ছা এটি প্রেরণ করেন। তবে আল্লাহ একে মুমিনদের জন্য রহমত (رحمة) বানিয়েছেন। এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে প্লেগ (طاعون)-এ আক্রান্ত হওয়ার পর নিজ শহরে ধৈর্যশীল (صابرًا) হয়ে এবং সওয়াবের প্রত্যাশী (محتسبًا) হয়ে অবস্থান করে এবং এই বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া আর কিছুই তাকে স্পর্শ করবে না, তবে তার জন্য শহিদের (شهيد) মতো সওয়াব নির্ধারিত হয়।
(5)»। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহু আকবার.. এটি এক মহা সুসংবাদ! যারা মরণব্যাধি ক্যান্সার বা অনুরূপ মহামারি (أوبئة) দ্বারা আক্রান্ত হন; যদি তারা ধৈর্য (صبر) ধারণ করেন, আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা রাখেন এবং তাদের স্রষ্টা সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করেন, তবে তাদের জন্য শহিদের (شهيد) সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদিসে বলেছেন: «প্লেগ (طاعون) প্রতিটি মুসলমানের জন্য শাহাদাত (شهادة)
(6)» এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।
অর্থাৎ এর মাধ্যমে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি কিয়ামতের দিন শহিদদের (شهداء) মর্যাদায় থাকবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ৬)
الوقفة الثانية: أنَّ الله جل وعلا أخبر أنَّ ما يصيب عباده من محن وفتن وكوارث ومصائب، فما ذلك إلا بما كسبت أيديهم، قال تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ} [الشُّورَى: 30] وقال في آية أخرى يغفل الكثير منا عن تدبرها والتأمل فيها: {ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الرُّومِ: 41] واللام في «ليذيقهم»: للتعليل؛ أي ليذيق سبحانه وتعالى الناسَ نتائج بعض أعمالهم من طرحهم للأديان، وعصيانهم للدّيان، ونسيانهم يوم الحساب. أذاقهم سبحانه ويذيقهم كي يرجعوا عن غيهم وفسقهم، ويعودوا إلى طاعة ربهم. وَقَدْ دَلَّتِ السُّنَّةُ المطهرة أَنَّ الْفَوَاحِشَ وَالْبَغْيَ سَبَبَانِ لِلْوَبَاءِ ونزول العذاب، قال صلوات الله عليه: «لم تَظْهَرْ الْفَاحِشَةُ في قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالْأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا
(1)» (ابن ماجة). وَقَالَ حبر الأمة عبد الله بنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: "مَا ظَهَرَ الْبَغْيُ فِي قَوْمٍ قَطُّ إِلَّا ظَهَرَ فِيهِمُ المُوتَانُ
(2) (التمهيد)
والمُوتَانُ هُوَ الوباء الذي يعم الناس فيهلكهم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় আলোচনা: মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর বান্দাদের ওপর যে সমস্ত পরীক্ষা, ফিতনা, দুর্যোগ ও মুসিবত আপতিত হয়, তা মূলত তাদেরই কৃতকর্মের ফসল। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের ওপর যে বিপদই আপতিত হোক না কেন, তা তোমাদেরই হাতের কামাই এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন} [আশ-শুরা: ৩০]। এবং তিনি অন্য একটি আয়াতে বলেছেন, যেটির মর্ম উপলব্ধি ও চিন্তা-গবেষণার বিষয়ে আমাদের অনেকেই গাফেল: {মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে} [আর-রুম: ৪১]। আর ‘লিইউজিকা’ (ليذيقهم) শব্দে ‘লাম’ অক্ষরটি কারণ দর্শানোর (تعليل) জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে তাদের কোনো কোনো কর্মের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাতে চান—যা মূলত তাদের দ্বীন বর্জন, অবাধ্যতা এবং বিচার দিবসের কথা ভুলে যাওয়ার ফলস্বরূপ। মহান আল্লাহ তাদেরকে এই স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন এবং করাবেন যাতে তারা তাদের পথভ্রষ্টতা ও পাপাচার থেকে ফিরে আসে এবং তাদের রবের আনুগত্যে প্রত্যাবর্তন করে। আর পবিত্র সুন্নাহ নির্দেশ করেছে যে, অশ্লীলতা ও সীমালঙ্ঘন হলো মহামারি এবং আজাব অবতীর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখনই কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ পায় এবং তারা প্রকাশ্যে তা করতে শুরু করে, তখনই তাদের মাঝে প্লেগ বা মহামারি (طاعون) এবং এমন সব ব্যধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না
(১)» (ইবনে মাজা)। উম্মতের প্রাজ্ঞ আলেম আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "যখনই কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে সীমালঙ্ঘন প্রকাশ পায়, তখনই তাদের মাঝে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি বা মহামারি (الموتان) ছড়িয়ে পড়ে
(২) (আত-তামহিদ)।
আর ‘মউতান’ (الموتان) হলো এমন মহামারি যা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ৭)
الوقفة الثالثة: أن يعلم المؤمنُ أن العدوى بالمرض ثابتةٌ عقلاً وعلماً وشرعاً؛ لكنها بقدر الله وبإذنه، بيد أن هناك حديثاً لرسول الله يأخذ بذوي الألباب الباصرة، وأولي الأفئدة المستنيرة، وقف عنده العلماء قديماً وحديثاً قال فيه: «لا عَدْوَى، وَلا طِيَرَةَ
… » وقال في آخره: «وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ
(1)» حديث عجيب غريب أوله يناقض آخره ظاهراً
(2)!، ورسول الله لا ينطق عن الهوى، فأوله نفي للعدوى "لا عَدْوَى" وآخره إثبات لها، فكيف يكون ذلك .. ؟! وحاشا لرسول الله أن يقول كلاماً متناقضاً.
قال العلماء رحمهم الله-أما قوله"لا عَدْوَى": فهي إبطال لما كانت تعتقده العرب ويعتقده اليوم اللادينيون من أن المرض يتعدى بنفسه من شخص لآخر، ويعدي بطبعه، وعقيدة المسلم أنه متعلق بالمشيئة الربانية.
وأما قوله صلى الله عليه وسلم "وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ" فهو إثبات للعدوى لكن تحت المشيئة الإلهية، فنهي النبيِّ صلى الله عليه وسلم عن الدنو من المريض مرضاً معدياً إنما ليبين لهم أن هذا من الأسباب التي أجرى الله العادة بأنها تفضي إلى مُسبَّباتِها، والنهي عن مداناة المجذوم من قبيل اتقاءِ الجدار المائلِ والسفينةِ المعيبة.
ولعل أحدث بحثٍ في علم الجراثيم يشير إلى ما ذكره رسول قبل أربعة عشر قرناً
(3)، ويجعل مراد النبي لمعنىً آخر لم يُهتدى إليه إلا في العصر الحديث، قال علماء الطب: "إن الجرثوم قد ينتقل من مريضٍ إلى صحيح، ولا يمرض الصحيح، وقد ينتقل من صحيحٍ إلى صحيح، فيمرض الصحيح الثاني، وقد ينتقل من مريضٍ إلى صحيح، فتُسبّبُ هذه الجرثومة للصحيح مناعة، يزداد بها قوةً، وقد ينتقل من صحيحٍ إلى صحيحٍ أول، وصحيحٍ ثان، وثالث، ورابع، وخامس، وعاشر، فيصاب الصحيح العاشر. فحينما قال النبي عليه الصلاة والسلام: "لا عَدْوَى"
أي أن العدوى لا تُمْرِضْ بذاتها، ولكن العدوى تهيئ أسباب المرض، هذا معنى قول النبي صلى الله عليه وسلم وهو في منتهى الدقة
… ولذلك قال صلى الله عليه وسلم: «إِذَا سَمِعْتُمْ بِالطَّاعُونِ بِأَرْضٍ فَلَا تَدْخُلُوهَا، وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَا
(4)» (متفق عليه).
وهذا التوجيه الكريم: يقتضي محاصرة الوباء، وعند إعلان المسؤولين بأنه وباء، وبأنه أصبح خارج السيطرة والتحكم في شأنه، ينبغي للمسلم أن يحتسب عند الله الالتزام بالنصوص الشرعية فيما يكون عليه حاله من عدم التعرض لمثل هذه الاوبئة أو المساعدة في انتشارها، وكان عمر رضي الله عنه خرج بالناس فلما عوتب رضي الله عنه في ذلك لما أبى أن يدخل إلى أرض عمواس لما فيها من الطواعين، وقف واستشار أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلم يجد عند كثير منهم خبراً، فقال: أرجع بالناس، ولا أدخل، فعاتبه بعض الصحابة، وقالوا: تفر من قدر الله؟ قال: نعم، نفر من قدر الله، إلى قدر الله. (أصله في الصحيحين)
--------------------------------------------
তৃতীয় পর্যবেক্ষণ: একজন মুমিনের জন্য এটি জানা আবশ্যক যে, রোগের সংক্রমণ যুক্তি, বিজ্ঞান এবং শরিয়ত দ্বারা সাব্যস্ত; তবে তা আল্লাহর নির্ধারণ (তাকদির) ও তাঁর অনুমতিক্রমেই ঘটে। কিন্তু আল্লাহর রাসুলের এমন একটি হাদিস রয়েছে যা প্রজ্ঞাবান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং প্রাচীন ও আধুনিক উলামায়ে কেরাম এই হাদিসটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি তাতে বলেছেন: «কোনো সংক্রমণ নেই, এবং কোনো কুলক্ষণ নেই
…» এবং এর শেষাংশে বলেছেন: «আর কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে পলায়ন করো যেভাবে তুমি সিংহ থেকে পলায়ন করো
(১)»। এটি এক বিস্ময়কর ও অসাধারণ (غريب) হাদিস, যার প্রথমাংশ আপাতদৃষ্টিতে শেষাংশের সাথে বৈপরীত্য প্রকাশ করে
(২)! অথচ আল্লাহর রাসুল প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না। এর শুরুতে সংক্রমণকে নাকচ করা হয়েছে "কোনো সংক্রমণ নেই" এবং শেষে তা সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব...? আল্লাহর রাসুল পরস্পরবিরোধী কথা বলবেন—তা অসম্ভব।
উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—রাসুলের বাণী "কোনো সংক্রমণ নেই" দ্বারা মূলত জাহেলি আরবরা যা বিশ্বাস করত এবং বর্তমানে নাস্তিকরা যা বিশ্বাস করে তা বাতিল করা হয়েছে। তারা মনে করত যে, রোগ নিজ থেকেই একজন থেকে অন্যজনে স্থানান্তরিত হয় এবং এটি তার প্রকৃতিগত স্বভাব। অথচ একজন মুসলিমের আকিদা হলো, প্রতিটি বিষয় মহান রবের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
আর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে পলায়ন করো যেভাবে তুমি সিংহ থেকে পলায়ন করো" এর মাধ্যমে সংক্রমণকে সাব্যস্ত করা হয়েছে, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির নিকটবর্তী হতে যে নিষেধ করেছেন, তার উদ্দেশ্য হলো এটি বর্ণনা করা যে এগুলো আল্লাহ নির্ধারিত সাধারণ কারণ বা মাধ্যম মাত্র, যা ফলাফল পর্যন্ত নিয়ে যায়। আর কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাকার বিষয়টি হেলে পড়া দেয়াল কিংবা ত্রুটিপূর্ণ নৌকা থেকে আত্মরক্ষা করার মতো।
সম্ভবত জীবাণুবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণাসমূহ সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে যা আল্লাহর রাসুল চৌদ্দশ বছর আগে উল্লেখ করেছেন
(৩)। এটি নবীজির বাণীর এমন এক নিগূঢ় অর্থ প্রকাশ করে যা বর্তমান যুগের আগে অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেছেন: "জীবাণু একজন রোগী থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে স্থানান্তরিত হতে পারে কিন্তু সুস্থ ব্যক্তিটি অসুস্থ না-ও হতে পারে। আবার কখনও সুস্থ ব্যক্তি থেকে অন্য সুস্থ ব্যক্তির দেহে গিয়ে দ্বিতীয় জন অসুস্থ হতে পারে। আবার কখনও রোগী থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে জীবাণু প্রবেশের ফলে তা সুস্থ ব্যক্তির দেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, যা তার শক্তি বৃদ্ধি করে। কখনও এটি এক সুস্থ ব্যক্তি থেকে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম ব্যক্তি পর্যন্ত যেতে পারে এবং কেবল দশম ব্যক্তিটি আক্রান্ত হতে পারে।" তাই নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বলেছেন: "কোনো সংক্রমণ নেই"—
তার অর্থ হলো, সংক্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগ সৃষ্টি করে না, বরং এটি রোগের পরিবেশ বা কারণসমূহকে প্রস্তুত করে। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর এটাই সারকথা যা অত্যন্ত নিখুঁত
… আর এ কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করবে না। আর যদি তোমাদের অবস্থানের জায়গায় তা ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেখান থেকে বের হবে না
(৪)» (সর্বসম্মত (متفق عليه))।
এই সম্মানীত দিকনির্দেশনা মহামারিকে অবরুদ্ধ করার দাবি রাখে। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যখন একে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে এবং জানায় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তখন একজন মুসলিমের উচিত শরয়ি বিধানসমূহ মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশা করা। যেন সে নিজে মহামারির শিকার না হয় এবং তা বিস্তারে সহায়তা না করে। ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন সেনাবাহিনী নিয়ে বের হয়েছিলেন, তখন আমওয়াস নামক স্থানে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেখানে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তাঁকে অভিযুক্ত করা হলে তিনি আল্লাহর রাসুলের সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করেন। তাদের অনেকের কাছেই এ বিষয়ে সরাসরি কোনো হাদিস ছিল না। তখন তিনি বললেন: আমি লোকদের নিয়ে ফিরে যাব, সেখানে প্রবেশ করব না। কোনো কোনো সাহাবি তাকে বললেন: আপনি কি আল্লাহর তাকদির থেকে পলায়ন করছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর এক তাকদির থেকে অন্য তাকদিরের দিকে পলায়ন করছি। (এর মূল বিবরণ সাহিহাইন-এ রয়েছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ৮)
الوقفة الرابعة: ضرورة اتباع الإرشاداتِ النَّبوِيَّةَ التي جاءت وَاضحَةً جليَّةً فِي ضرورة الأخذ بأسباب الوقاية والسلامة من المرض قبل انتشاره وتفشيه في المجتمع، فقد حثّ الإسلام على العناية بالنظافة والطهارة ليبقى الإنسان نظيفاً بعيداً عن كل ما من شأنه أن ينقل له الأمراض والعدوى. وقد سُئل بعض العلماء، علماء الجراثيم، ما المنطقة في الإنسان التي يكثر فيها العدوى. فقال: الأطراف الأربعة والوجه.
চতুর্থ প্রসঙ্গ: সমাজে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়া ও মহামারি আকার ধারণ করার পূর্বে তা থেকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার উপায়সমূহ অবলম্বনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত নববী নির্দেশনাসমূহ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা। বস্তুত ইসলাম পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার প্রতি যত্নবান হতে উৎসাহিত করেছে যাতে মানুষ সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং এমন সব বিষয় থেকে দূরে থাকে যা তার শরীরে রোগ ও সংক্রমণ (عدوى) ছড়াতে পারে। কতিপয় বিশেষজ্ঞ, তথা অণুজীববিজ্ঞানীদের নিকট জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, মানুষের শরীরের কোন অংশে সংক্রমণের প্রকোপ সবচাইতে বেশি দেখা যায়? তাঁরা বললেন: চার হাত-পা এবং মুখমণ্ডল।
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الوسائل والتوجيهات النَّبويَّة للحيلولة دون انتقال الأمراض وتفشيها:• وما الوضوء أيها الأحبة؟ ! أليس هو وجوب غسل اليدين، وقد علمنا النبي عليه الصلاة والسلام أيضاً أن نغسل أيدينا لا في الإناء، ولكن في ماءٍ منتزعٍ من الإناء، فقال صلوات الله عليه: «إذا اسْتَيْقَظَ أحدُكم من نومه فلا يَغْمِسْ يدَه في الإناء حتى يغسلها ثلاثاً، فإنه لا يَدري: أين بَاتَتْ يدُه؟
(1)» (رواه البخاري) فإذا كان في الأيدي جراثيم، لا ينتقل هذا الجرثوم إلى ماء الإناء، ألم يعلمنا النبي عليه الصلاة والسلام أنَّ هذه المنافذ الأربعة التي ينفد منها الجرثوم إلى الجسم، كالأنف، والفم، والأذنان، ينبغي غسلها في اليوم والليلة خمس مرات؟ ! .
أليس الوضوء -أيها الأحبة- أكبر وقايةٍ من العدوى؟ ! ، الوضوء وحده، الذي فيه المضمضة، والاستنثار، وغسل الوجه، واليدين، والرجلين.
• وإذا كانت العدوى تنتقل عن طريق جهاز التنفس، فقد قال لنا النبي عليه الصلاة والسلام مرشداً ومعلماً: «أَبِنِ الْقَدَحَ عَنْ فِيكَ-أي أزله عنه-، ثُمَّ تَنَفَّسْ
(2)» (مالك والترمذي). ثم قَالَ للذي نفخ في الشراب: «إِنِّي أَرَى الْقَذَى فِيه، قَالَ: فَأَهْرِقْهُ
(3)» (المرجع السابق). إنه كلام من لا ينطق عن الهوى؛ إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى.
--------------------------------------------
রোগ সংক্রমণ এবং এর বিস্তার রোধে নববী উপায় ও দিকনির্দেশনা:• হে প্রিয়জনরা, ওজু আসলে কী?! এটি কি উভয় হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা নয়? নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম আমাদের শিখিয়েছেন যে, আমরা যেন আমাদের হাত পাত্রের ভেতরে না ধুয়ে বরং পাত্র থেকে পানি তুলে ধুই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, সে যেন তার হাত পাত্রে না ডুবায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কারণ সে জানে না তার হাতটি কোথায় রাত যাপন করেছে।
(1)» (বুখারি বর্ণনা করেছেন)। হাতের মাধ্যমে যদি জীবাণু থাকে, তবে এই জীবাণু যেন পাত্রের পানিতে স্থানান্তরিত না হয়। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম কি আমাদের শেখাননি যে, শরীরের যে চারটি প্রবেশপথ দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করে—যেমন নাক, মুখ ও দুই কান—সেগুলো দিনে ও রাতে পাঁচবার ধোয়া উচিত?!
হে প্রিয়জনরা, ওজু কি সংক্রমণের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ নয়?! শুধু ওজু, যার মধ্যে কুলি করা, নাক পরিষ্কার করা এবং মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা ধোয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
• আর যদি সংক্রমণ শ্বসনতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়, তবে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম আমাদের শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে বলেছেন: «পানপাত্রটি তোমার মুখ থেকে সরাও—অর্থাৎ তা দূরে নাও—অতঃপর শ্বাস নাও।
(2)» (মালিক ও তিরমিজি)। এরপর তিনি পানীয়র মধ্যে ফু প্রদানকারী ব্যক্তিকে বললেন: «আমি এতে ময়লা দেখতে পাচ্ছি, সে বলল: তবে তা ঢেলে দিন।
(3)» (পূর্বোক্ত সূত্র)। এটি তাঁর কথা যিনি খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না; এটি ওহি ছাড়া আর কিছুই নয় যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১০)
• أمر آخر .. كان من وصية رسوله الله ومن سننه المحافظة على السواك خمس مرات باليوم، وعلماء الجراثيم عندما يتحدثون عن وسائل الوقاية يقولون: بضرورة أن يبقى الفم واللسان رطباً لا جافاً
… ، إنه كلام من لا ينطق عن الهوى .. قال صلوات الله عليه: «السِّواكُ مَطهَرةٌ للفَمِ، مَرْضاةٌ للرَّبِّ
(1)» (أخرجه النسائي وغيره) دققوا في اختيار رسول الله لهذا التعبير المعجز "مطهرة للفم" .. ! وقال: «لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاةٍ
(2)» (متفق عليه). والسواك كل ما يُستاك به في اللغة العربية .. ففرشاة الأسنان سواك
… وعود الأراك سواك ..
• وكان من وصيته صلى الله عليه وسلم استعمال ما يمنعُ وصولَ رذاذ العطاس إلى الآخرين. قال أبو هُرَيْرة رضي الله عنه: "كَانَ- صلى الله عليه وسلم إِذَا عَطَسَ غَضَّ صَوَتهُ، وَاسْتَتَر بِثَوْبِه أَوْ يدهِ
(3) " (البيهقي في شعب).
--------------------------------------------
• অন্য একটি বিষয় .. রাসুলুল্লাহর অসিয়ত ও তাঁর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল দিনে পাঁচবার মেসওয়াক করার প্রতি যত্নশীল হওয়া। জীবাণুবিদগণ যখন প্রতিরোধের উপায়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তারা বলেন: মুখ ও জিহ্বা শুষ্ক না রেখে সিক্ত রাখা অপরিহার্য
… , নিশ্চয়ই এটি তাঁর বাণী যিনি নিজের খেয়ালখুশি থেকে কথা বলেন না .. তিনি (সা.) বলেছেন: «মেসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং রবের সন্তুষ্টি লাভের উপায়
(১)» (নাসাঈ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন)। রাসুলুল্লাহর এই মুজিজাপূর্ণ অভিব্যক্তি "মুখের পবিত্রতা" নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করুন .. ! তিনি আরও বলেছেন: «যদি না আমি মুমিনদের ওপর কষ্টসাধ্য মনে করতাম, তবে অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম
(২)» (সর্বসম্মত (متفق عليه))। আর আরবি ভাষায় 'সিওয়াক' বলা হয় এমন প্রত্যেক বস্তুকে যা দ্বারা দাঁত মাজা হয় .. সুতরাং টুথব্রাশও মেসওয়াক
… এবং আরাক গাছের ডালও মেসওয়াক ..
• এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসিয়তের অন্তর্ভুক্ত ছিল এমন কিছু ব্যবহার করা যা হাঁচির কণা অন্যের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি নিজের আওয়াজ নিচু করতেন এবং কাপড় বা হাত দিয়ে স্বীয় চেহারা আবৃত করতেন
(৩)" (বায়হাকী, শুয়াবুল ইমান)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১১)
• وقد أرشدتنا شريعتنا الغراء إلى استحباب غسل اليدين قبل الطعام؛ ليأكل بهما وهما نظيفتان من كل فيروس أو أذى، فقد ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «بركة الطعام الوُضُوء قبلَه، والوضوء بعدَه
(1)» (الترمذي وغيره). ولا يخفى أنّ وضوءَ الطعامِ هو غسلُ اليدين والفمِ قبل الطعام وبعده. فهي تقِي مِن انتقالِ كثيرٍ مِنَ الأمراضِ المُعْدِيةِ، التي تنتقلُ بتلوُّثِ الأيدِي، كالكوليرا، والزحارِ، والالتهابِ المعويِّ .. وغير ذلك مما هو معلوم في الطب، ومن الإحصاءاتِ الطريفةِ والخطيرةِ التي أَجْرَتْهَا إحدى المؤسساتِ العلميةِ المعنيةِ بشؤونِ الصحةِ على مستوى العالَمِ كلِّه أنّ أمراضَ القذارةِ التي تنتقلُ عن طريقِ تلوُّثِ اليدينِ والماءِ والطعامِ، بلغ ضحيتها ثلاثة ملايين إنسانٍ، يموتون كلَّ عامٍ بسببِ قذارتِهم، وبسببِ مخالفتِهم لاتِّباعِ السنةِ، ونصفُ هؤلاءِ من الأطفالِ؛ نتيجةَ عدمِ الاهتمامِ بنظافةِ اليدينِ، وغسلِهما قبلَ الطعامَ، هذه السنة التي هملها بعضنا ولا يوليها أدنى اهتمام.
• ألم يأمر النبي صلى الله عليه وسلم بالمحافظة على نظافة أدوات الأكل والشرب وصيانتها عن التلوث الذي يؤدي إلى نقل الأمراض المعدية والأوبئة الممرضة، فقال صلى الله عليه وسلم: «غَطُّوا الإِنَاءَ، وَأَوْكُوا السِّقَاءَ - أي شدوا رأس السقاء بالوكاء وهو الخيط لئلا يسقط فيه شئ - وَأَغْلِقُوا الْبَابَ، وَأَطْفِئُوا السِّرَاجَ
(2)» (مسلم).
--------------------------------------------
• আমাদের প্রদীপ্ত শরীয়াহ আমাদের আহারের পূর্বে হাত ধৌত করার মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে; যাতে উভয় হাত সকল ভাইরাস বা ক্ষতিকর বস্তু থেকে পরিচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় আহার করা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আহারের বরকত হলো আহারের পূর্বের অজু এবং আহারের পরের অজু
(১)» (তিরমিজি ও অন্যান্য)। এটি অস্পষ্ট নয় যে, আহারের অজু হলো আহারের পূর্বে ও পরে হাত ও মুখ ধৌত করা। এটি অনেক সংক্রামক ব্যাধির সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে যা হাতের দূষণের মাধ্যমে ছড়ায়, যেমন: কলেরা, আমাশয়, অন্ত্রের প্রদাহ... এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুপরিচিত আরও অন্যান্য রোগ। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করা একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত এক চমৎকার ও ভয়াবহ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অপরিচ্ছন্নতা জনিত রোগ যা হাত, পানি ও খাবারের দূষণের মাধ্যমে ছড়ায়, তাতে প্রতি বছর তিন মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তাদের অপরিচ্ছন্নতার কারণে এবং সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের প্রতিকূলে চলার কারণে। এদের অর্ধেকই শিশু; যা হাতের পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া এবং আহারের পূর্বে হাত ধৌত না করার ফল। এটি এমন এক সুন্নাহ (سنة) যা আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্জন করেছে এবং এর প্রতি সামান্যতম গুরুত্বও দেয় না।
• নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আহার ও পানের পাত্রের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এবং সেগুলোকে দূষণ থেকে রক্ষা করার নির্দেশ দেননি, যা সংক্রামক ব্যাধি ও রোগসৃষ্টিকারী মহামারি ছড়ানোর কারণ হয়? অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা পাত্র ঢেকে রাখো, পানির পাত্রের মুখ বেঁধে রাখো - অর্থাৎ মশকের মুখ রশি দিয়ে বেঁধে রাখো যাতে তাতে কোনো কিছু পড়ে না যায় - এবং দরজা বন্ধ করো ও প্রদীপ নিভিয়ে দাও
(২)» (মুসলিম)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১২)
• بل إن من التدابير والتوجيهات الإسلامية في مواجهة الأوبئة نهيه عن دخول المريض على الأصحاء، فمن علم أنه مريض مرضاً يعدي من حوله ويؤذيهم فلا يجوز له مخالطة الناس دون اتخاذ التدابير الوقائية التي تمنع نقل العدوى لهم؛ لأن ذلك إضرار بالمجتمع وهو أمر محرم شرعاً، يقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا ضَرَرَ ولا ضِرَارَ -وفي رواية: ولا إِضْرَارَ
(1)» (مالك وغيره)، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يُورِدَنّ مُمْرِض على مُصِحّ
(2)» (البخاري).
ومما ينبغي علينا ترك الاجتماعات التي قد تؤذي إلى تفشي الوباء حتى لو كان هذا الاجتماع للدعاء والعبادة، قال الحافظ ابن حجر العسقلاني: "ووقع هذا في زماننا، حيث وقع أول الطاعون بالقاهرة، في السابع والعشرين من شهر ربيع الآخر، سنة 833 هـ، فكان عدد من يموت بها دون الاربعين، فخرجوا إلى الصحراء، في الرابع من جمادى الأولى، بعد أن نودي فيهم بصيام ثلاثة ايام، كما في الاستسقاء، واجتمعوا ودعوا وأقاموا ساعة ثم رجعوا، فما انسلخ الشهر حتى صار عدد من يموت في كل يوم بالقاهرة فوق الألف، ثم تزايد ". (كنوز الذهب في تاريخ حلب 2/ 212)
--------------------------------------------
• বস্তুত মহামারি মোকাবিলায় ইসলামি ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসতে নিষেধ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি জানে যে সে এমন রোগে আক্রান্ত যা তার চারপাশের লোকদের সংক্রমিত করবে এবং তাদের ক্ষতি করবে, তার জন্য সংক্রমণ রোধকারী সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে মানুষের সাথে মেলামেশা করা বৈধ নয়; কারণ এটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং শরীয়ত অনুযায়ী একটি নিষিদ্ধ বিষয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না - অন্য বর্ণনায়: এবং একে অপরের ক্ষতি করা যাবে না
(1)» (মালিক ও অন্যান্য), এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অসুস্থ পশুকে যেন সুস্থ পশুর সাথে (পানি পানের স্থানে) না আনা হয়
(2)» (বুখারি)।
আমাদের জন্য এমন সব সমাবেশ বর্জন করা উচিত যা মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে, এমনকি সেই সমাবেশ যদি দোয়া ও ইবাদতের উদ্দেশ্যেও হয়। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেছেন: "এটি আমাদের সময়েও ঘটেছে, যখন ৮৩৩ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের সাতাশ তারিখে কায়রোতে প্রথম প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তখন সেখানে দৈনিক মৃতের সংখ্যা চল্লিশের কম ছিল। এরপর জমাদিউল আউয়াল মাসের চার তারিখে তারা মরুভূমির দিকে বের হয়, যখন তাদের মধ্যে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার (ইসতিসকা) মতো তিন দিন রোজা রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তারা সেখানে সমবেত হয়ে দোয়া করল এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করে ফিরে এল। কিন্তু মাস শেষ হতে না হতেই কায়রোতে প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা এক হাজারের উপরে চলে গেল এবং এরপর তা আরও বৃদ্ধি পেল।" (কুনুজুজ জাহাব ফি তারিখি হালাব ২/ ২১২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ضرورة تناول الأدوية والأسباب التي جعلها الله في كونه:لقد أمرنا النبي صلى الله عليه وسلم بالتداوي وأوصانا بأخذ أسباب الشفاء والعلاج، فقال: «تَداوَوْا عِبادَ؛ الله فإنَّ الله تَعَالَى لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَاّ وَضَعَ لَهُ دَوَاءً غَيْرَ داء واحد: الهرم
(1)» (أحمد وغيره). وقال أيضاً: «إن الله أنْزَلَ الدَّاءَ والدَّوَاءَ، وجعل لكلِّ داء دواء، فَتَدَاوَوْا، ولا تَدَاوَوْا بحرام
(2)» (أبو داود).
وقد عَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا بِهِ جُرْحٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ادْعُ لَهُ طَبِيبَ بَنِي فُلَانٍ. قَالَ: فَدَعُوهُ فَجَاءَهُ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَيُغْنِي الدَّوَاءُ شَيْئًا؟ فَقَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ! وَهَلْ أَنْزَلَ اللَّهُ تبارك وتعالى مِنْ دَاءٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا جَعَلَ لَهُ شِفَاءً
(3)» (أحمد).
بل إن النبي صلى الله عليه وسلم ربط الشفاء بحسن اختيار الدواء بدون زيادة أو نقصان، وأن يكون مناسباً للمكان والزمان والبدن وغيره، مع العلم بأن الداء والشفاء من الله سبحانه وتعالى وقد ورد في الأثر: " إن إبراهيم الخليل قال يارب ممن الداء قال: مني. فقال: فممن الدواء؟ قال: مني. قال: فما بال الطبيب؟ قال رجل أرسل الدواء على يديه
(4) " (زاد المعاد).
--------------------------------------------
ওষুধ সেবনের প্রয়োজনীয়তা এবং আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগতে যেসব উপকরণ নিহিত রেখেছেন:নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আরোগ্য ও চিকিৎসার উপকরণ অবলম্বনের নসিহত করেছেন। তিনি বলেছেন: «হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো; কারণ আল্লাহ তাআলা বার্ধক্য (هرم) ব্যতীত এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার জন্য তিনি ওষুধ বা প্রতিষেধক তৈরি করেননি» (আহমাদ ও অন্যান্য)। তিনি আরও বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ রোগ এবং ওষুধ অবতীর্ণ করেছেন এবং প্রত্যেক রোগের জন্য প্রতিষেধক নির্ধারণ করেছেন। অতএব তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো, তবে হারাম (حرام) বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করো না» (আবু দাউদ)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন এবং বললেন: «তার জন্য বনু ফুলান গোত্রের চিকিৎসককে ডেকে আনো। বর্ণনাকারী বলেন: তারা তাকে ডাকলে তিনি আসলেন। এরপর তারা জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল! ওষুধ কি সত্যিই কোনো উপকারে আসে? তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার জন্য আরোগ্য (شفاء) নির্ধারণ করেননি» (আহমাদ)।
বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোগ্য লাভকে সঠিক ওষুধ নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন—যাতে কোনো আধিক্য বা ঘাটতি থাকবে না এবং যা স্থান, কাল ও শরীরের অবস্থা অনুযায়ী যুতসই হবে। এর পাশাপাশি এই জ্ঞান রাখাও জরুরি যে, রোগ এবং আরোগ্য উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আসার (أثر)-এ বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, হে পালনকর্তা! রোগ কার পক্ষ থেকে আসে? আল্লাহ বললেন: আমার পক্ষ থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তবে ওষুধ কার পক্ষ থেকে? আল্লাহ বললেন: আমার পক্ষ থেকে। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: তাহলে চিকিৎসকের ভূমিকা কী? আল্লাহ বললেন: সে এমন এক ব্যক্তি যার মাধ্যমে আমি ওষুধ বা চিকিৎসা পাঠিয়ে থাকি" (যাদুল মাআদ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولذلك يجب أن نتعالج بالعقاقير والأمصال والأدوية المتاحة، ونتعاطى كل أسباب الوقاية أو العلاج عند الحاجة إلى ذلك، ولا يصح أن نترك الدواء بزعم التوكل على الله تعالى، فالعمل بالأسباب عمل بمنهج رسول الله صلى الله عليه وسلم، فاليد تأخذ بالأسباب الظاهرة، والقلب متعلق ومتوكل على الله.
أدعية وأذكار نبوية للوقاية من الأمراض والأوبئة:هذه وصايا رسول الله فيما يتعلق بأخذ أسباب الوقاية الظاهرة الحسية أما وصيته الروحانية الإيمانية فكانت تذكيراً بضرورة التحصن بذكر الله تبارك وتعالى والحرص على أذكار الصباح والمساء، وفي ذلك يقول صلوات الله عليه:
• «مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ في صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ: بِسْمِ اللهِ الَّذِي لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ في الأرْضِ وَلا في السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ، ثَلاثَ مَرَّاتٍ، إِلَاّ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ
(1)» (أبو داود الطيالسي في مسنده وغيره).
• وقال صلوات الله عليه: «مَنْ نَزَلَ مَنْزِلاً، ثُمَّ قالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ؛ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ
(2)» (مسلم وغيره).
--------------------------------------------
এজন্য আমাদের প্রচলিত ভেষজ দ্রব্য, প্রতিষেধক এবং সহজলভ্য ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা আবশ্যক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগ প্রতিরোধ বা নিরাময়ের সকল উপায় অবলম্বন করা উচিত। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের দোহাই দিয়ে চিকিৎসা বর্জন করা সংগত নয়; কেননা জাগতিক উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসৃত পদ্ধতিরই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং হাত বাহ্যিক উপায়সমূহ গ্রহণ করবে, আর অন্তর আল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে এবং তাঁর ওপরই ভরসা করবে।
রোগ-ব্যাধি ও মহামারি থেকে সুরক্ষায় নববী দোয়া ও জিকিরসমূহ:বাহ্যিক ও দৃশ্যমান রোগ প্রতিরোধের উপায় অবলম্বনের ক্ষেত্রে এগুলো ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশনা। আর তাঁর আধ্যাত্মিক ও ঈমানি উপদেশ ছিল মহান আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে সুরক্ষা গ্রহণ এবং সকাল-সন্ধ্যার জিকিরসমূহের প্রতি যত্নশীল হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
• «যে বান্দা প্রতিদিন সকালে এবং প্রতি রাতে তিনবার বলে: 'বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদ্বুররু মাআ’সমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম' (আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ), তবে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না
(১)» (আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন)।
• তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করার পর বলে: 'আউজু বিকালিমাতিলাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক' (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি); তবে সেই স্থান থেকে প্রস্থান না করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না
(২)» (মুসলিম এবং অন্যান্য)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
• وقال في حديث آخر: «مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ
(1)» (متفق عليه)، أي كفتاه من كل آفة وشر.
• وقال عبدِ اللَّهِ بنِ خُبَيْب رضي الله عنه قَالَ لي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: اقْرأْ: «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ والمعوِّذَتَيْن حِينَ تُمْسِي وَحِينَ تُصبِحُ، ثَلاثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كلِّ شَيْءٍ
(2)». (أَبو داود والترمذي).
• وكَانَ من دعاء رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي جَسَدِي، وَعَافِنِي فِي بَصَرِي، وَاجْعَلْهُ الوَارِثَ مِنِّي، لا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ الحَلِيمُ الكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ العَرْشِ العَظِيمِ، الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ
(3)» (الترمذي وغيره).
• ولنتذكر [قول] رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: «وَإِنَّ الْبَلَاءَ لَيَنْزِلُ فَيَتَلَقَّاهُ الدُّعَاءُ، فَيَعْتَلِجَانِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» (رواه البزار والطبراني، والحاكم وقال: صحيح الإسناد.)
--------------------------------------------
• অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে
(১)» (সর্বসম্মত (متفق عليه)), অর্থাৎ সকল প্রকার আপদ ও অনিষ্ট থেকে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।
• আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: «তুমি সন্ধ্যায় এবং সকালে তিনবার "কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ" (সূরা আল-ইখলাস) এবং মুআউবিজাতাইন (সূরা আল-ফালাক ও আন-নাস) পাঠ করো; তা তোমাকে সব কিছু থেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট হবে
(২)»। (আবু দাউদ ও তিরমিজি)।
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম দোয়া ছিল: «হে আল্লাহ! আমার শরীরে সুস্থতা দান করুন, আমার দৃষ্টিশক্তিতে সুস্থতা দান করুন এবং একে আমার উত্তরসূরি (মৃত্যু অবধি অবশিষ্ট) করুন। পরম সহনশীল ও মহীয়ান আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। মহা আরশের রব আল্লাহ পবিত্র। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
(৩)» (তিরমিজি ও অন্যান্য)।
• এবং আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর [বাণী] স্মরণ করি: «নিশ্চয়ই যখন বিপদ অবতীর্ণ হয়, তখন দোয়া তার মোকাবিলা করে। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত তারা একে অপরের সাথে লড়াই করতে থাকে» (আল-বাযযার এবং আত-তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন, এবং আল-হাকিম বর্ণনা করে বলেছেন: সনদ সহিহ (صحيح الإسناد))।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الإشاعة وخطرها على الفرد والمجتمع:أخيراً: أريد أن أنبّه لمسألة ليست أقل خطورة من المرض نفسه، ألا وهي خطر وضرر الإشاعات من خلال الرسائل القصيرة أو المقاطع المرئية، وخطرها داهم على الفرد والمجتمع خاصة أنها تصل للكبير والصغير والجاهل والمتعلم، فمنذ أيام-أيها الأحبة-وصلني مقطع مرئي عبر بعض برامج التوصل الاجتماعي .. هذا المقطع انتشر قبل أيام انتشار النار في الهشيم .. ، ملخص هذا المقطع المرئي، فيه تحذير من بعض اللحوم أو ما يسمى بالهوت دوغ والمرتديلاً، يدخل فيه البغال والحمير والخنازير إلى مكنات ضخمة وهي بكامل أعضائها موصولة الرأس ثم تخرج لحماً طرياً طازجاً معلباً يأكل منه الناس
… ، والمقطع يظهر عليه آثار التوصيل والتقطيع والفبركة، وقد عرضته على طبيب في الأغذية فضحك من ذلك ضحكاً كثيراً، وقال لا يمكن لذلك أن يكون؛ فهناك مراقبة عامة، ومراقبة نظام الجودة وغير ذلك الكثير الكثير، و «كفى بالمرء إثماً أن يحدث بكلِّ ما سمع
(1)» (سنن أبي داود). كما قال الرسول صلى الله عليه وسلم. إنها الشائعة .. ! التي يطلقها الجبناء، ويصدقها البسطاء، ويستفيد منها الأذكياء.
--------------------------------------------
গুজব এবং ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর ঝুঁকি:পরিশেষে: আমি এমন একটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাই যা মূল রোগের চেয়ে কোনো অংশেই কম বিপজ্জনক নয়; আর তা হলো খুদে বার্তা বা ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর প্রভাব। ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর বিপদ অত্যন্ত ভয়াবহ, বিশেষ করে এটি যেহেতু আবালবৃদ্ধবনিতা, অজ্ঞ ও শিক্ষিত নির্বিশেষে সকলের কাছেই পৌঁছে যায়। প্রিয় সুহৃদ, কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু অ্যাপের মাধ্যমে আমি একটি ভিডিও ক্লিপ পেলাম। ক্লিপটি কয়েক দিন আগে শুকনো ঘাসে আগুনের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। ভিডিওটির সারকথা হলো, এতে কিছু মাংস কিংবা তথাকথিত হট ডগ এবং মর্টাডেলা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে যে, খচ্চর, গাধা ও শুকরকে আস্ত অবস্থায় মস্তকসহ বিশাল মেশিনে প্রবেশ করানো হচ্ছে এবং এরপর তা নরম ও তাজা প্যাকেটজাত মাংস হিসেবে বের হয়ে আসছে যা মানুষ ভক্ষণ করছে
…। ভিডিওটিতে জোড়াতালি, কাটছাঁট ও কারসাজির চিহ্ন সুস্পষ্ট। আমি একজন খাদ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে এটি প্রদর্শন করলে তিনি তা দেখে অট্টহাসি হাসলেন এবং বললেন যে, এটি ঘটা অসম্ভব; কারণ সেখানে সাধারণ তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আরও অনেক কিছু বিদ্যমান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির পাপিষ্ঠ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করা (حدث)
(1)” (সুনান আবি দাউদ)। এটিই হলো গুজব! যা কাপুরুষেরা রটায়, সরলমনা মানুষরা বিশ্বাস করে এবং চতুর ব্যক্তিরা এর থেকে ফায়দা লুটে নেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তাআমালা আল-ইসলাম মাআল ওয়াবা ওয়াল বালা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أخيراً أيها الأحبة: فلنحسن الظنَّ بالله، وهذا الذي نحن فيه لن يطول ولن يدوم، وأبشركم ببشارةِ عالمٍ حافظٍ للحديث، بل كان يُلقبُ بأميرِ المؤمنين في الحديث وهو: "الحافظُ ابن حجرِ العسقلاني" الذي ابتليَ بموتِ ثلاث من بناته بسبب الوباء، حيث قال في كتابهِ: «عامةُ الطواعين التي وقعت في بلدانِ المسلمين على مرِّ التاريخ إنما تقعُ كانت تقع أثناءَ فصلِ الربيعِ وبعدَ خروجِ الشتاء، ثمَّ بعد ذلك ترتفع في أولِ الصيف» (بذل الماعون في فضل الطاعون). وها نحن على أبواب الصيف فأبشروا بفرجٍ قريبٍ ليس ببعيد.
"فلا تَيْئَسُوا مِنْ رَوْحِ اللهِ"، حتى لا نكونَ ممن قال الله فيهم: {وَإِذَا أَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً فَرِحُوا بِهَا؛ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ} [الرُّوم: 36] فلنحسنِ الظنَ بالله، وهو القائل في الحديثِ القدسي الجليل: {أَنَا عِنْدَ حَسَنِ ظَنِّ عَبْدِي بِي فليظُنَّ بي ماشاء .. } ولله در القائل:
وإنِّي لأدعو اللهَ حتى كأنّني .... أرى بجميلِ الظنِّ ما اللهُ فاعلُهْ
وأقرعُ أبوابُ السماواتِ راجياً .... عطاءَ كريمٍ قطُّ ما خابَ سائلُهْ
نسأل الله أن يحفظ بلدنا هذا، وسائر بلاد المسلمين من الأمراض والأوبئة والبلايا والمحن والفتن ما ظهر منها وما بطن، وأن يجعلنا من الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنة
(1).
وكتبه:
محمد مهدي قشلان رجاء دعوة صالحة
10/رجب/1441 هـ الموافق لـ 5/ 3/2020 م
--------------------------------------------
পরিশেষে হে প্রিয়জনেরা! আসুন আমরা আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করি। আমরা বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং চিরকাল থাকবে না। আমি আপনাদেরকে একজন আলেম এবং হাদিস বিশারদ (حافظ) এর সুসংবাদ প্রদান করছি, বরং তাঁকে হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনিন (أمير المؤمنين في الحديث) উপাধিতে ভূষিত করা হতো; তিনি হলেন: হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার আল-আসকালানি, যাঁর তিনটি কন্যা মহামারি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার মাধ্যমে তিনি পরীক্ষিত হয়েছিলেন। তিনি তাঁর 'বাজলুল মাউন ফি ফাদলিত তাউন' নামক কিতাবে বলেছেন: "ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলিম দেশগুলোতে সচরাচর যে প্লেগ বা মহামারিগুলো দেখা দিয়েছে, সেগুলো সাধারণত বসন্তকালে এবং শীতকাল শেষ হওয়ার পর দেখা দিত, অতঃপর গ্রীষ্মের শুরুতে তা দূর হয়ে যেত।" আর আমরা এখন গ্রীষ্মের দ্বারপ্রান্তে, তাই অচিরেই মুক্তি ও প্রশস্ততার সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা মোটেও দূরে নয়।
"সুতরাং তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না," যাতে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন আমি মানুষকে অনুগ্রহের আস্বাদ দিই, তারা তাতে আনন্দিত হয়; আর যদি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর কোন বিপদ আসে, তবে তারা হতাশ হয়ে পড়ে} [সূরা আর-রূম: ৩৬]। সুতরাং আসুন আমরা আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করি, আর তিনি তো সেই মহান সত্তা যিনি এক সুমহান হাদিসে কুদসিতে (الحديث القدسي) ইরশাদ করেছেন: {আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে আচরণ করি, সুতরাং সে আমার প্রতি যা ইচ্ছা ধারণা পোষণ করুক...}। আর কবিকুল শ্রেষ্ঠ কী চমৎকারই না বলেছেন:
আর আমি আল্লাহর নিকট এমনভাবে প্রার্থনা করি যে, মনে হয় আমি আমার সুধারণার মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি আল্লাহ আমার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন।
আমি আকাশের দ্বারে দ্বারে করাঘাত করি সেই মহান দাতার করুণার আশায়, যার কাছে সাহায্যপ্রার্থী কখনো বিফল হয় না।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই দেশকে এবং বিশ্বের সকল মুসলিম দেশকে রোগ-ব্যাধি, মহামারি, বালা-মসিবত, পরীক্ষা ও প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ফিতনা থেকে রক্ষা করেন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে
(১)।
এটি লিখেছেন:
মুহাম্মাদ মাহদি কাশলান, আপনাদের নেক দোয়ার প্রত্যাশায়
১০ই রজব, ১৪৪১ হিজরি মোতাবেক ৫ই মার্চ, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
--------------------------------------------