(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المغربية في شرح العقيدة القيروانية القسم: العقيدة
الكتاب: المغربية في شرح العقيدة القيروانية «مقدمة الرسالة لابن أبي زيد القيرواني المغربي ت 386 هـ»
المؤلف: عبد العزيز بن مرزوق الطريفي
الناشر: دار المنهاج للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1438 هـ
عدد الصفحات: 378
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 رمضان 1441
আকিদায়ে কায়রাওয়ানিয়ার ব্যাখ্যায় আল-মাগরিবিয়্যাহ বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: আকিদায়ে কায়রাওয়ানিয়ার ব্যাখ্যায় আল-মাগরিবিয়্যাহ «ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি আল-মাগরিবির (মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি) মুকাদ্দিমাতুর রিসালাহ»
লেখক: আবদুল আজিজ বিন মারজুক আত-তারিফি
প্রকাশক: দারুল মিনহাজ প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ রমজান ১৪৪১
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة منشورات مكتبة دار المنهاج والتوزيع بالرياض (170)
المغربية في شرح العقيدة القيروانية
«مقدمة الرسالة لابن أبي زيد القيرواني المغربي ت 386 هـ»
وهو ما نقله القيرواني من قول مالك، والمعلوم من مذهبه وما عليه أهل السنة وأئمة الناس في الفقه والحديث
تأليف
عبد العزيز بن مرزوق الطريفي
রিয়াদের মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ আন-নাশর ওয়াত-তাওজি-এর প্রকাশনা সিরিজ (১৭০)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফি শারহিল আকিদাহ আল-কাইরাওয়ানিয়্যাহ
«ইবনু আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানি আল-মাগরিবি (মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি)-এর আর-রিসালাহ গ্রন্থের ভূমিকা»
এটি মূলত ইমাম মালিকের বক্তব্য থেকে আল-কাইরাওয়ানি যা উদ্ধৃত করেছেন, এবং যা তাঁর মাযহাব থেকে সুপরিচিত এবং আহলুস সুন্নাহ ও ফিকহ ও হাদিসের ইমামগণ যাঁর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
রচনায়
আব্দুল আজিজ বিন মারজুক আত-তারিফি
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المغَرِبيَّة في شَرِحْ الْعَقِيدَةِ الْقَيْرَوَانِيَّة
আল-আকিদাহ আল-কাইরাওয়ানিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যায় আল-মাগরিবিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
جميع حقوق الطبع محفوظة لدار المنهاج بالرياض
الطبعَة الأولى
1438 هـ
مكتبة دار المنهاج للنشر والتوزيع
المملكة العربية السعودية - الرّياض
المركَز الرئيسي - الدائري الشرقي - مخرَج 15 - جنوب أسوَاق المجد
ت: 4456229 - فاكس: 4962014 - ص ب: 51929 - الرّياض 11553
الفرُوع - طريق خالد بن الوليد (إنكاس سَابقا) ت: 2322095
مكّة المكرمة - الجميزة - الطريق النازل للحَرَم - ت: 5761377/ 02
المَدينة النَّبويَّة - أِمَام الجامِعَة الإسلاميَّة مِن جهةَ الجنوب - ت: 8467999/ 04
حِسَاب الدَّار في موقع تويتر: Alminhajj
রিয়াদের দার আল-মিনহাজের সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৮ হিজরী
মাকতাবাতু দার আল-মিনহাজ প্রকাশনা ও বিতরণী
সৌদি আরব রাজতন্ত্র - রিয়াদ
প্রধান কেন্দ্র - পূর্ব রিং রোড - ১৫ নম্বর এক্সিট - আল-মাজদ মার্কেটস-এর দক্ষিণে
টেলিফোন: ৪৪৫৬২২৯ - ফ্যাক্স: ৪৯৬২০১৪ - পি.ও. বক্স: ৫১৯২৯ - রিয়াদ ১১৫৫৩
শাখাসমূহ - খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ রোড (পূর্বের ইনকাস) টেলিফোন: ২৩২২০৯৫
মক্কা আল-মুকাররামা - আল-জুম্মাইযাহ - হারাম অভিমুখে নামার রাস্তা - টেলিফোন: ০২/৫৭৬১৩৭৭
আল-মাদিনা আন-নাবাবিয়্যাহ - ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ প্রান্তের সামনে - টেলিফোন: ০৪/৮৪৬৭৯৯৯
টুইটার সাইটে প্রকাশনা সংস্থার অ্যাকাউন্ট: Alminhajj
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المُقَدِّمَةُ الْعَقَدِيَّة، للرِّسَالَةِ الفِقْهِيَّة
قَالَ الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ عبدُ اللهِ بْنُ أَبِي زَيْدٍ الْقَيْرَوَانِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى (ت 386 هـ):
الحمدُ للهِ الَّذِي ابْتَدَأَ الْإِنْسَانَ بِنِعْمَتِهْ، وَصَوَّرَهُ فِي الْأَرْحَامِ بِحِكْمَتِهْ، وَأَبْرَزَهُ إِلَى رِفْقِهْ، وَمَا يَسَّرَهُ لَهُ مِنْ رِزْقِهْ، وَعَلَّمَهُ مَا لَمْ يَكُنْ يَعْلَم، وَكَانَ فَضْلُ اللهِ عَلَيْهِ عَظِيمًا.
وَنَبَّهَهُ بِآثَارِ صَنْعَتِهْ، وَأَعْذَرَ إِلَيْهِ عَلَى أَلْسِنَةِ الْمُرْسلِينَ الْخِيَرَةِ مِنْ خَلْقِهْ، فَهَدَى مَنْ وَفَّقَهُ بِفَضْلِهْ، وَأَضَلَّ مَنْ خَذَلَهُ بِعَدْلِهْ، وَيَسَّرَ الْمُؤْمِنِينَ لِلْيُسْرَى، وَشَرَحَ صُدُورَهُمْ لِلذِّكْرَى، فَآمَنُوا بِاللهِ بِأَلْسِنَتِهِمْ نَاطِقِينْ، وَبِقُلُوبِهِمْ مُخْلِصِينْ، وَبِمَا أَتَتْهُمْ بِهِ رُسُلُهُ وَكُتُبُهُ عَامِلِينْ، وَتَعَلَّمُوا مَا عَلَّمَهُمْ، وَوَقَفُوا عِنْدَ مَا حَدَّ لَهُمْ، وَاسْتَغْنَوْا بِمَا أَحَلَّ لَهُمْ عَمَّا حَرَّمَ عَلَيْهِمْ.
أَمَّا بَعْدُ:
أَعَانَنَا اللهُ وَإِيَّاكَ عَلَى رِعَايَةِ وَدَائِعِهْ، وَحِفْظِ مَا أَوْدَعَنَا مِنْ شَرَائِعِهْ.
فَإِنَّكَ سَأَلْتَنِي أَنْ أَكْتُبَ لَكَ جُمْلَةً مُخْتَصَرَةً مِنْ وَاجِبِ أُمُورِ الدِّيَانَهْ؛
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ফিকহী রিসালার আকীদাহ বিষয়ক ভূমিকা
ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) (মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি) বলেছেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নিআমতের মাধ্যমে মানুষের সূচনা করেছেন, তাঁর হিকমতের মাধ্যমে জরায়ুসমূহে তার অবয়ব দান করেছেন, তাঁর দয়ার প্রতি তাকে প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য যা সহজ করেছেন তাঁর রিযিক থেকে, আর তাকে এমন কিছু শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না; এবং তার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অপরিসীম।
আর তিনি তাকে তাঁর সৃষ্টির নিদর্শনাদির মাধ্যমে সতর্ক করেছেন, তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত রাসূলগণের মুখে তাঁর পক্ষ থেকে ওজর পেশ (প্রমাণ উপস্থাপন) করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর অনুগ্রহে যাকে তাওফীক দিয়েছেন তাকে পথপ্রদর্শন করেছেন, আর তাঁর ইনসাফের মাধ্যমে যাকে লাঞ্ছিত করেছেন তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন। তিনি মুমিনদের জন্য সহজ পথকে সহজ করে দিয়েছেন এবং উপদেশের জন্য তাদের বক্ষসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে তারা তাদের মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং অন্তরে ইখলাসের সাথে বিশ্বাস করেছে, আর তাঁর রাসূলগণ ও কিতাবসমূহ তাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন সে অনুযায়ী আমল করেছে। আল্লাহ তাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা তারা শিখেছে, তাদের জন্য তিনি যে সীমা নির্ধারণ করেছেন সেখানে তারা থেমে গেছে এবং তিনি তাদের জন্য যা হালাল করেছেন তার মাধ্যমে হারাম বিষয়াদি থেকে বিমুখ হয়েছে।
অতঃপর:
আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে তাঁর আমানতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণে এবং তিনি আমাদের নিকট তাঁর যে শরীয়ত গচ্ছিত রেখেছেন তা সংরক্ষণে সাহায্য করুন।
নিশ্চয়ই আপনি আমার নিকট দ্বীনি বিষয়াবলীর অপরিহার্য কার্যাবলীর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ লিখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন;
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مِمَّا تَنْطِقُ بِهِ الْأَلْسِنَهْ، وَتَعْتَقِدُهُ الْقُلُوبْ، وَتَعْمَله اْلجَوَارِحْ، وَمَا يَتَّصِلُ بِالْوَاجِبِ مِنْ ذَلِكَ مِنَ السُّنَنِ؛ منْ مُؤَكَّدِهَا وَنَوَافِلِهَا، وَرَغَائِبِهَا وَشَيْءٍ مِنَ الْآدَابِ مِنْهَا، وَجُمَلٍ مِنْ أُصُولِ الْفِقْهِ وَفُنُونِهْ؛ عَلَى مَذْهَبِ الْإِمَامِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى وَطَرِيقَتِهْ.
مَعَ مَا سَهَّلَ سَبِيلَ مَا أَشْكَلَ مِنْ ذَلِكَ؛ مِنْ تَفْسِيرِ الرَّاسِخِينْ، وَبَيَانِ الْمُتَفَقِّهِينْ؛ لِمَا رَغِبْتَ فِيهِ مِنْ تَعْلِيمِ ذَلِكَ لِلْوِلْدَانْ؛ كَمَا تُعَلِّمُهُمْ حُرُوفَ الْقُرْآنْ؛ لِيَسْبِقَ إِلَى قُلُوبِهِمْ مِنْ فَهْمِ دِينِ اللهِ وَشَرَائِعِهْ: مَا تُرْجَى لَهُمْ بَرَكَتُهْ، وَتُحْمَدُ لَهُمْ عَاقِبَتُهْ؛ فَأَجَبْتُكَ إِلَى ذَلِكَ؛ لِمَا رَجَوْتُهُ لِنَفْسِي وَلَكَ مِنْ ثَوَابِ مَنْ عَلَّمَ دِينَ اللهِ أَوْ دَعَا إِلَيْهِ.
وَاعْلَمْ: أَنَّ خَيْرَ القُلُوبِ: أَوْعَاهَا لِلْخَيْر، وَأَرْجَى الْقُلُوبِ لِلْخَيْرِ: مَا لَمْ يَسْبِقِ الشَّرُّ إِلَيْهِ.
وَأَوْلَى مَا عُنِيَ بِهِ النَّاصِحُونْ، وَرَغِبَ فِي أَجْرِهِ الرَّاغِبُونْ: إِيصَالُ الْخَيْرِ إِلَى قُلُوبِ أَوْلَادِ الْمُؤْمِنِينْ، لِيَرْسَخَ فِيهَا، وَتَنْبِيهُهُمْ عَلَى مَعَالِمِ الدِّيَانَهْ، وَحُدُودِ الشَّرِيعَهْ؛ لِيُرَاضُوا عَلَيْهَا، وَمَا عَلَيْهِمْ أَنْ تَعْتَقِدَهُ مِنَ الدِّينِ قُلُوبُهُمْ، وَتَعْمَلَ بِهِ جَوَارِحُهُمْ؛ فَإِنَّهُ رُوِيَ أَنَّ تَعْلِيمَ الصِّغَارِ لِكِتَابِ الله، يُطْفِئُ غَضَبَ الله، وَأَنَّ تَعْلِيمَ الشَّيْءِ فِي الصِّغَرْ؛ كَالنَّقْشِ فِي الْحَجَرْ.
وَقَدْ مَثَّلْتُ لَكَ مِنْ ذَلِكَ مَا يَنْتَفِعُونَ -إِنْ شَاءَ اللهُ- بِحِفْظِهْ، وَيَشْرُفُونَ بِعِلْمِهْ، وَيَسْعَدُونَ بِاعْتِقَادِهِ وَالْعَمَلِ بِهْ.
وَقَدْ جَاءَ أَنْ يُؤْمَرُوا بِالصَّلَاةِ لِسَبْعِ سِنِينَ، وَيُضْرَبُوا عَلَيْهَا لِعَشْرٍ، وَيُفَرَّقَ بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ؛ فَكَذَلِكَ: يَنْبَغِي أَنْ يَعْلَمُوا مَا فَرَضَ اللهُ عَلَى الْعِبَادِ مِنْ قَوْلٍ وَعَمَلٍ قَبْلَ بُلُوغِهِمْ؛ لِيَأْتِيَ عَلَيْهِمُ الْبُلُوغُ، وَقَدْ تَمَكَّنَ ذَلِكَ مِنْ قُلُوبِهِمْ، وَسَكَنَتْ إِلَيْهِ أَنْفُسُهُمْ، وَأَنِسَتْ بِمَا يَعْمَلُونَ بِهِ مِنْ ذَلِكَ جَوَارِحُهُمْ.
যা জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত হয়, অন্তর বিশ্বাস করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পালন করে; আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট আবশ্যকীয় সুন্নাহসমূহ—যার মধ্যে রয়েছে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ, নফল, মুস্তাহাব কার্যাবলি এবং সংশ্লিষ্ট শিষ্টাচারসমূহ; তদুপরি ইমাম মালিক ইবনে আনাস (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর মাযহাব ও পদ্ধতি অনুযায়ী উসূলে ফিকহ এবং এর বিভিন্ন শাখার কিছু সারসংক্ষেপ।
সেই সঙ্গে এগুলোর মধ্য থেকে যা জটিল, তা সহজ করার জন্য পারদর্শী আলেমদের ব্যাখ্যা এবং ফকীহদের বর্ণনা যুক্ত করা হয়েছে; যেহেতু আপনি শিশুদেরকে এগুলো শিক্ষা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যেভাবে আপনি তাদেরকে কুরআনের অক্ষরসমূহ শিক্ষা দিয়ে থাকেন; যাতে আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর শরীয়তের সম্যক জ্ঞান তাদের অন্তরে অন্য সবকিছুর আগেই গেঁথে যায়—যার বরকত তাদের জন্য প্রত্যাশিত এবং যার শেষ পরিণাম প্রশংসনীয়। তাই আপনার সেই আহ্বানে আমি সাড়া দিয়েছি; এ আশায় যে, আল্লাহর দ্বীন শিক্ষাদানকারী বা তার দিকে আহ্বানকারীর যে সওয়াব, তা আমার এবং আপনার আমলনামায় যুক্ত হবে।
জেনে রাখুন, সেই অন্তরই সর্বোত্তম যা কল্যাণকে অধিক ধারণ করে। আর কল্যাণের জন্য সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক অন্তর হলো সেটি, যেটিতে মন্দ বা অকল্যাণ আগে প্রবেশ করেনি।
কল্যাণকামীরা যার প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হন এবং সওয়াব প্রত্যাশীরা যার প্রতি আগ্রহী হন, তা হলো মুমিনদের সন্তানদের অন্তরে কল্যাণ পৌঁছে দেওয়া যাতে তা সেখানে বদ্ধমূল হয়ে যায়; এবং দ্বীনের নিদর্শনসমূহ ও শরীয়তের সীমারেখা সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করা, যাতে তারা সে অনুযায়ী পরিচালিত হতে পারে। আরও শিক্ষা দেওয়া সেইসব বিষয় যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং যা তাদের অন্তরের বিশ্বাস করা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল করা আবশ্যক। কেননা বর্ণিত আছে যে, শিশুদের আল্লাহর কিতাব শিক্ষা দেওয়া আল্লাহর ক্রোধকে প্রশমিত করে এবং শৈশবে কোনো কিছু শেখা পাথরে খোদাই করার মতো।
আমি আপনার জন্য এমন কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছি যা মুখস্থ করার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ তারা উপকৃত হবে, এর জ্ঞানের মাধ্যমে মর্যাদা লাভ করবে এবং এর বিশ্বাস ও আমলের মাধ্যমে সৌভাগ্যমণ্ডিত হবে।
হাদিসে এসেছে যে, তাদেরকে সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দিতে হবে, দশ বছর বয়সে (সালাত না পড়লে) প্রহার করতে হবে এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দিতে হবে। একইভাবে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের ওপর যে সকল কথা ও কাজ ফরজ করা হয়েছে, সেগুলো তাদের শিক্ষা দেওয়া উচিত। যেন তারা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন সেই জ্ঞান তাদের অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে, তাদের মন তাতে প্রশান্তি খুঁজে পায় এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সেসব আমলে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وَقَدْ فَرَضَ اللهُ سُبْحَانَهُ عَلَى الْقَلْبِ عَمَلًا مِنَ الاِعْتِقَادَاتْ، وَعَلَى الْجَوَارحِ الظَّاهِرَةِ عَمَلًا مِنَ الطَّاعَاتْ.
وَسَأُفَصِّلُ لَكَ مَا شَرَطْتُ لَكَ ذِكْرَهُ بَابًا بَابًا؛ لِيَقْرُبَ مِنْ فَهْمِ مُتَعَلِّمِيهِ إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى، وَإِيَّاهُ نَسْتَخِيرْ، وَبِهِ نَسْتَعِينْ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمْ.
وَصَلَّى اللهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ نَبِيِّه، وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا
* * *
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অন্তরের ওপর বিশ্বাসের কিছু কর্ম এবং বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর আনুগত্যের কিছু কর্ম ফরজ করেছেন।
আমি আপনার নিকট আমার প্রতিশ্রুত বিষয়গুলো পরিচ্ছেদ অনুসারে বিস্তারিত বর্ণনা করব; যাতে তা শিক্ষার্থীদের অনুধাবনের নিকটবর্তী হয়, যদি আল্লাহ তায়ালা চান। আমরা তাঁরই নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করি এবং তাঁরই সাহায্য কামনা করি। সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
আল্লাহ তাঁর নবী আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর অজস্র রহমত ও পূর্ণ মাত্রায় শান্তি বর্ষণ করুন।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بَابُ مَا تَنْطِقُ بِهِ الْأَلْسِنَةُ، وَتَعْتَقِدُهُ الأَفْئِدَةُ مِنْ وَاجِبِ أُمُوُرِ الدِّيَانَاتِ
مِنْ ذَلِكَ: الْإِيمَانُ بِالْقَلْبِ، وَالنُّطْقُ بِاللِّسَانِ: أَنَّ اللهَ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ غَيْرُهْ، وَلَا شَبِيهَ لَهْ، وَلَا نَظِيرَ لَهْ، وَلَا وَلَدَ لَهْ، وَلَا وَالِدَ لَهْ، وَلَا صَاحِبَةَ لَهْ، وَلَا شَرِيكَ لَهْ.
لَيْسَ لِأَوَّليَّتِهِ ابْتِدَاءْ، وَلَا لِآخِرِيَّتِهِ انْقِضَاءْ.
لَا يَبْلُغُ كُنْهَ صِفَتِهِ الْوَاصِفُونْ، وَلَا يُحِيطُ بِأَمْرِهِ الْمُتَفَكِّرُونْ.
يَعْتَبِرُ الْمُتَفَكِّرُونَ بِآيَاتِهْ، وَلَا يَتَفَكَّرُونَ فِي مَاهِيَّةِ ذَاتِهْ.
{وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255].
الْعَالِمُ الْخَبِيرْ، الْمُدَبِّرُ الْقَدِيرْ، السَّمِيعُ الْبَصِيرْ، الْعَلِيُّ الْكَبِيرْ.
وَأَنَّهُ فَوْقَ عَرْشِهِ الْمَجِيدِ بِذَاتِهْ، وَهُوَ فِي كُلِّ مَكَانٍ بِعِلْمِهْ.
خَلَقَ الْإِنْسَانَ، وَيَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ، وَهُوَ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ، {وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ} [الأنعام: 59].
عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، وَعَلَى الْمُلْكِ احْتَوَى.
وَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى، وَالصِّفَاتُ الْعُلَا، لَمْ يَزَلْ بِجَمِيعِ صِفَاتِهِ وَأَسْمَائِهِ؛ تَعَالَى أَنْ تَكُونَ صِفَاتُهُ مَخْلُوقَهْ، وَأَسْمَاؤُهُ مُحْدَثَهْ.
দ্বীনের আবশ্যিক বিষয়াবলির মধ্য হতে জিহ্বা যা উচ্চারণ করে এবং অন্তর যা বিশ্বাস করে তার পরিচ্ছেদ
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: অন্তরে বিশ্বাস করা এবং জিহ্বায় উচ্চারণ করা যে, আল্লাহ একমাত্র ইলাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো সদৃশ নেই, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, তাঁর কোনো সন্তান নেই, তাঁর কোনো পিতা নেই, তাঁর কোনো স্ত্রী নেই এবং তাঁর কোনো শরিক নেই।
তাঁর অনাদ্যত্বের কোনো শুরু নেই এবং তাঁর অনন্তত্বের কোনো শেষ নেই।
বর্ণনাকারীরা তাঁর গুণাবলির স্বরূপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না এবং চিন্তাশীলরা তাঁর বিষয়াবলি পরিবেষ্টন করতে পারে না।
চিন্তাশীলরা তাঁর নিদর্শনাদির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে, কিন্তু তাঁর সত্তার হাকিকত নিয়ে তারা চিন্তা করে না।
“তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না; আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান।” [সূরা আল-বাকারা: ২৫৫]
তিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত; তিনি পরিচালক, সর্বশক্তিমান; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা; তিনি সুউচ্চ, সুমহান।
আর তিনি স্বয়ং তাঁর মহিমান্বিত আরশের উপরে, এবং তিনি তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে সর্বত্র বিরাজমান।
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মন তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তা তিনি জানেন। তিনি তার জীবন-ধমনীর চেয়েও নিকটতর। “আর তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না এবং মাটির অন্ধকার স্তরে এমন কোনো শস্যকণাও নেই কিংবা আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।” [সূরা আল-আন‘আম: ৫৯]
তিনি আরশের উপর উঠেছেন এবং সমগ্র রাজত্বের ওপর কর্তৃত্বশীল হয়েছেন।
তাঁরই জন্য সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি রয়েছে। তিনি তাঁর সকল গুণাবলি ও নামসহ অনাদিকাল থেকে আছেন। তাঁর গুণাবলি সৃষ্টি হওয়া বা তাঁর নামসমূহ নবউদ্ভূত হওয়া থেকে তিনি অতীব পবিত্র ও ঊর্ধ্বে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
كَلَّمَ مُوسَى بِكَلَامِهِ الَّذِي هُوَ صِفَةُ ذَاتِهْ، لَا خَلْقٌ مِنْ خَلْقِهْ.
وَتَجَلَّى لِلْجَبَلِ فَصَارَ دَكًّا مِنْ جَلَالِهْ.
وَأَنَّ الْقُرْآنَ كَلَامُ الله، لَيْسَ بِمَخْلُوقٍ فَيَبِيدْ، وَلَا صِفَةٍ لِمَخْلُوقٍ فَيَنْفَدْ.
وَالْإِيمَانُ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهْ، حُلْوِهِ وَمُرِّهْ، وَكُلُّ ذَلِكَ قَدْ قَدَّرَهُ اللهُ رَبُّنَا، وَمَقَادِيرُ الْأُمُورِ بِيَدِهْ، وَمَصْدَرُهَا عَنْ قَضَائِهْ.
عَلِمَ كُلَّ شَيْءٍ قَبْلَ كَوْنِهْ؛ فَجَرَى عَلَى قَدَرِهْ، لَا يَكُونُ مِنْ عِبَادِهِ قَوْلٌ وَلَا عَمَلٌ إِلَّا وَقَدْ قَضَاهْ، وَسَبَقَ عِلْمُهُ بِهْ؛ {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الملك: 14].
يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ فَيَخْذُلُهُ بِعَدْلِهْ، وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ فَيُوَفِّقُهُ بِفَضْلِهْ؛ فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ بِتَيْسِيرِهْ، إِلَى مَا سَبَقَ مِنْ عِلْمِهِ وَقَدَرِهْ، مِنْ شَقِيٍّ أَو سَعِيدٍ.
تَعَالَى أَنْ يَكُونَ فِي مُلْكِهِ مَا لَا يُرِيدْ، أَو يَكُونَ لِأَحَدٍ عَنْهُ غِنًى، أَو يَكُونَ خَالِقٌ لِشَيْءٍ إِلَّا هُوَ، رَبُّ الْعِبَادِ وَرَبُّ أَعْمَالِهِمْ، وَالْمُقَدِّرُ لِحَرَكَاتِهِمْ وَآجَالِهِم.
الْبَاعِثُ الرُّسُلِ إِلَيْهِمْ؛ لإِقَامَةِ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ.
ثُمَّ خَتَمَ الرِّسَالَةَ وَالنِّذَارَةَ وَالنُّبُوَّةَ بِمُحَمَّدٍ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم؛ فَجَعَلَهُ آخِرَ الْمُرْسَلِينَ، بَشِيرًا وَنَذِيرَا، وَدَاعِيًا إِلَى اللهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرَا.
وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابَهُ الْحَكِيمْ، وَشَرَحَ بِهِ دِينَهُ الْقَوِيمْ، وَهَدَى بِهِ الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمْ.
وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا، وَأَنَّ اللهَ يَبْعَثُ مَنْ يَمُوتُ، كَمَا بَدَأَهُمْ يَعُودُونَ.
তিনি মূসার সাথে তাঁর কালামের (বাণীর) মাধ্যমে কথা বলেছেন যা তাঁর সত্তাগত সিফাত, তা তাঁর সৃষ্টির কোনো মাখলুক নয়।
এবং তিনি পাহাড়ের জন্য প্রকাশিত হলেন, ফলে তাঁর মহিমায় তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।
আর নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক (সৃষ্টি) নয় যে ধ্বংস হয়ে যাবে, আর তা সৃষ্টির কোনো গুণও নয় যে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
এবং তাকদীরের ভালো-মন্দ ও মিষ্ট-তিক্তের ওপর ঈমান রাখা; আর এসবই আমাদের রব আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন এবং সব বিষয়ের ফয়সালা আল্লাহর হাতে এবং এগুলোর উৎস তাঁর অমোঘ সিদ্ধান্ত।
তিনি সবকিছু হওয়ার পূর্বেই তা জানেন; ফলে সবকিছু তাঁর তাকদীর অনুযায়ীই পরিচালিত হয়। তাঁর বান্দাদের কোনো কথা বা কাজ তাঁর ফয়সালা ও পূর্বজ্ঞান ব্যতিরেকে সংঘটিত হয় না; "যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবহিত" [আল-মুলক: ১৪]।
তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং স্বীয় ইনসাফের কারণে তাকে লাঞ্ছিত করেন, আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন এবং স্বীয় অনুগ্রহে তাকে তাওফীক দান করেন; ফলে দুর্ভাগা হোক বা সৌভাগ্যবান—প্রত্যেককেই তাঁর পূর্বজ্ঞান ও তাকদীরের নির্ধারিত বিষয়ের দিকে তাঁর সহজীকরণের মাধ্যমে পরিচালিত করা হয়।
তিনি এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে যে তাঁর রাজত্বে এমন কিছু ঘটবে যা তিনি চান না, অথবা তাঁর থেকে কেউ অমুখাপেক্ষী হবে, অথবা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ কোনো কিছুর স্রষ্টা হবে। তিনি বান্দাদের রব এবং তাদের আমলেরও রব, এবং তাদের নড়াচড়া ও আয়ুষ্কালেরও নির্ধারক।
তিনি তাদের নিকট রাসূলদের প্রেরণকারী; যেন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
অতঃপর তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে রিসালাত, সতর্কীকরণ ও নবুওয়তের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন; সুতরাং তাঁকে সর্বশেষ রাসূল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যিনি সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপস্বরূপ।
আর তিনি তাঁর ওপর অবতীর্ণ করেছেন স্বীয় প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাব, এর মাধ্যমে তিনি তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনকে সুস্পষ্ট করেছেন এবং এর মাধ্যমে সরল পথ প্রদর্শন করেছেন।
আর কিয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর আল্লাহ মৃতদের পুনরুত্থিত করবেন; যেভাবে তিনি তাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন সেভাবেই তারা ফিরে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَأَنَّ اللهَ سبحانه وتعالى ضَاعَفَ لِعِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ الْحَسَنَاتْ، وَصَفَحَ لَهُمْ بِالتَّوْبَةِ عَنْ كَبَائِرِ السَّيِّئَاتْ، وَغَفَرَ لَهُمُ الصَّغَائِرْ، بِاجْتِنَابِ الْكَبَائِرْ، وَجَعَلَ مَنْ لَمْ يَتُبْ مِنَ الْكَبَائِرِ صَائِرًا إِلَى مَشِيئَتِهْ؛ {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48].
وَمَنْ عَاقَبَهُ اللهُ بِنَارِهْ، أَخْرَجَهُ مِنْهَا بِإِيمَانِهْ، فَأَدْخَلَهُ بِهِ جَنَّتَهْ: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ} [الزلزلة: 7].
وَيُخرِجُ مِنْهَا بِشَفَاعَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مَنْ شَفَعَ لَهُ مِنْ أَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِهْ.
وَأَنَّ اللهَ سُبْحَانَهُ قَدْ خَلَقَ الْجَنَّةَ فَأَعَدَّهَا دَارَ خُلُودٍ لِأَوْليَائِهْ، وَأَكْرَمَهُمْ فِيهَا بِالنَّظَرِ إِلَى وَجْهِهِ الْكَرِيمْ، وَهِيَ الَّتِي أَهْبَطَ مِنْهَا آدَمَ نَبِيَّهُ وَخَلِيفَتَهُ إِلَى أَرْضِهْ، بِمَا سَبَقَ فِي سَابِقِ عِلْمِهْ.
وَخَلَقَ النَّارَ فَأَعَدَّهَا دَارَ خُلُودٍ لِمَنْ كَفَرَ بِهْ، وَأَلْحَدَ فِي آيَاتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهْ، وَجَعَلَهُمْ مَحْجُوبِينَ عَنْ رُؤْيَتِهْ.
وَأَنَّ اللهَ تبارك وتعالى يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَة، {وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا} [الفجر: 22]؛ لِعَرْضِ الْأُمَمِ وَحِسَابِهَا، وَعُقُوبَتِهَا وَثَوَابِهَا.
وَتُوضَعُ الْمَوَازِينُ لِوَزْنِ أَعْمَالِ الْعِبَادِ؛ {فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الأعراف: 8].
وَيُؤْتَوْنَ صَحَائِفَهُمْ بِأَعْمَالِهِمْ؛ فَـ: {مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ (7) فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا} [الانشقاق: 7 - 8]، وَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ فَأُولَئِكَ يَصْلَوْنَ سَعِيرَا.
وَأَنَّ الصِّرَاطَ حَقٌّ، يَجُوزُهُ الْعِبَادُ بِقَدْرِ أَعْمَالِهِمْ؛ فَنَاجُونَ مُتَفَاوِتُونَ فِي سُرْعَةِ النَّجَاةِ عَلَيْهِ مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ، وَقَوْمٌ أَوْبَقَتْهُمْ فِيهَا أَعْمَالُهُمْ.
এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য নেক আমলসমূহকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন, এবং তওবার মাধ্যমে তাদের কবিরা গুনাহগুলো মার্জনা করেন। আর কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার বিনিময়ে তিনি তাদের সগিরা গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন। আর যে ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে তওবা করেনি, তাকে তিনি তাঁর ইচ্ছাধীন রেখেছেন; [যেমন তিনি বলেছেন:] "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং এর বাইরে যা কিছু আছে তা তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন" [আন-নিসা: ৪৮]।
আর আল্লাহ যাকে তাঁর আগুনের মাধ্যমে শাস্তি দেবেন, তাকে তার ইমানের কারণে সেখান থেকে বের করে আনবেন এবং এর মাধ্যমে তাকে তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন: "অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ নেক আমল করলে সে তা দেখতে পাবে" [আয-যিলযাল: ৭]।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশের মাধ্যমে সেখান থেকে বের করা হবে তাঁর উম্মতের কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যাদের জন্য তিনি সুপারিশ করবেন।
এবং আল্লাহ সুবহানাহু জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং একে তাঁর বন্ধুদের জন্য চিরস্থায়ী আবাস হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। সেখানে তিনি তাদের তাঁর মর্যাদাপূর্ণ চেহারার দিকে তাকানোর মাধ্যমে সম্মানিত করবেন। আর এটিই সেই জান্নাত যেখান থেকে তিনি তাঁর নবী ও প্রতিনিধি আদমকে তাঁর জমিনে নামিয়ে দিয়েছিলেন, যা তাঁর পূর্বজ্ঞানে নির্ধারিত ছিল সে অনুযায়ী।
এবং তিনি জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং একে তাদের জন্য চিরস্থায়ী আবাস হিসেবে প্রস্তুত করেছেন যারা তাঁকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁর আয়াতসমূহ, কিতাবসমূহ ও রাসুলগণের ব্যাপারে সত্যবিচ্যুত হয়েছে। আর তিনি তাদেরকে তাঁর দর্শন থেকে বঞ্চিত রেখেছেন।
এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কিয়ামতের দিন আসবেন এবং "ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে" [আল-ফাজর: ২২]; জাতিসমূহকে পেশ করার জন্য এবং তাদের হিসাব গ্রহণ, শাস্তি প্রদান ও পুরস্কার প্রদানের জন্য।
এবং বান্দাদের আমল পরিমাপের জন্য পাল্লা স্থাপন করা হবে; "অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম" [আল-আরাফ: ৮]।
এবং তাদের আমল অনুযায়ী তাদেরকে আমলনামা প্রদান করা হবে; অতঃপর: "যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, অচিরেই তার হিসাব অত্যন্ত সহজভাবে নেওয়া হবে" [আল-ইনশিকাক: ৭-৮], আর যাকে তার আমলনামা তার পিঠের পেছন দিক থেকে দেওয়া হবে, তারা প্রজ্বলিত আগুনে দগ্ধ হবে।
এবং সিরাত সত্য, বান্দারা তাদের আমল অনুযায়ী তা অতিক্রম করবে। পার পাওয়ার গতির তারতম্য অনুযায়ী একদল জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাবে, আর অন্য এক দলকে তাদের আমলসমূহ তাতে নিপতিত করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَالْإِيمَانُ بِحَوْضِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، تَرِدُهُ أُمَّتُهُ؛ لَا يَظْمَأُ مَنْ شَرِبَ مِنْهُ، وَيُذَادُ عَنْهُ مَنْ بَدَّلَ وَغَيَّرَ.
وَأَنَّ الْإِيمَانَ: قَوْلٌ بِاللِّسَان، وَإِخْلَاصٌ بِالْقَلْبِ، وَعَمَلٌ بِالْجَوَارحِ، يَزِيدُ بِزِيَادَةِ الْأَعْمَالِ، وَيَنْقُصُ بِنَقْصِهَا؛ فَيَكُونُ فِيهَا النَّقْصُ، وَبِهَا الزِّيَادَةُ.
وَلَا يَكْمُلُ قَوْلُ الْإِيمَانِ إِلَّا بِالْعَمَلِ، وَلَا قَوْلٌ وَعَمَلٌ إِلَّا بِنِيَّةٍ، وَلَا قَوْلٌ وَعَمَلٌ وَنِيَّةٌ إِلَّا بِمُوَافَقَةِ السُّنَّةِ.
وَأَنَّهُ لَا يَكْفُرُ أَحَدٌ بِذَنْبٍ مِنْ أَهْلِ الْقِبْلَةِ.
وَأَنَّ الشُّهَدَاءَ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونْ، وَأَرْوَاحُ أَهْلِ السَّعَادَةِ بَاقِيَةٌ نَاعِمَةٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونْ، وَأَرْوَاحُ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ مُعَذَّبَةٌ إِلَى يَوْمِ الدِّينْ.
وَأَنَّ الْمُؤْمِنِينَ يُفْتَنُونَ فِي قُبُورِهِمْ وَيُسْأَلُونَ؛ {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27].
وَأَنَّ عَلَى الْعِبَادِ حَفَظَةً يَكْتُبُونَ أَعْمَالَهُمْ، وَلَا يَسْقُطُ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ عَنْ عِلْمِ رَبِّهِمْ.
وَأَنَّ مَلَكَ الْمَوْتِ يَقْبِضُ الْأَرْوَاحَ بِإِذْنِ رَبِّهِ.
وَأَنَّ خَيْرَ الْقُرُونِ: الْقَرْنُ الَّذِينَ رَأَوْا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَآمَنُوا بِه، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ.
وَأَفْضَلُ الصَّحَابَةِ: الْخُلَفَاءُ الرَّاشِدُونَ الْمَهْدِيُّونْ: أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرُ، ثُمَّ عُثْمَانُ، ثُمَّ عَلِيٌّ؛ رضي الله عنهم أَجْمَعِينْ.
وَأَلَّا يُذْكَرَ أَحَدٌ مِنْ صَحَابَةِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا بِأَحْسَنِ ذِكْرٍ، وَالْإِمْسَاكُ عَمَّا شَجَرَ بَيْنَهُمْ، وَأَنَّهُمْ أَحَقُّ النَّاسِ أَنْ يُلْتَمَسَ لَهُمْ أَحْسَنُ الْمَخَارِجْ، وَيُظَنَّ بِهِمْ أَحْسَنُ الْمَذَاهِبْ.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাওযের প্রতি ঈমান রাখা, যাতে তাঁর উম্মত উপস্থিত হবে। যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না এবং যারা (দীনের মধ্যে) পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করেছে তাদেরকে তা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।
আর নিশ্চয়ই ঈমান হলো: মুখে স্বীকৃতি দেওয়া, অন্তরে একনিষ্ঠ হওয়া এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা। নেক আমল বৃদ্ধির মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পায় এবং আমল হ্রাসের মাধ্যমে তা হ্রাস পায়; সুতরাং আমলের অভাবেই তাতে ঘাটতি দেখা দেয় এবং আমলের মাধ্যমেই তাতে বৃদ্ধি ঘটে।
আর ঈমানের কথা আমল ছাড়া পূর্ণ হয় না, কথা ও আমল নিয়ত ছাড়া পূর্ণ হয় না এবং কথা, আমল ও নিয়ত সুন্নাহর অনুবর্তিতা ছাড়া পূর্ণ হয় না।
আর কিবলাপন্থীদের (মুসলিমদের) মধ্য থেকে কাউকে কোনো গুনাহের কারণে কাফির বলা যাবে না।
আর শহীদগণ তাঁদের রবের নিকট জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত। সৌভাগ্যবানদের রূহসমূহ পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত নেয়ামতপূর্ণ অবস্থায় বাকি থাকে এবং দুর্ভাগাদের রূহসমূহ বিচার দিবস পর্যন্ত আজাব ভোগ করতে থাকে।
আর মুমিনগণ তাঁদের কবরে পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন এবং তাঁদেরকে প্রশ্ন করা হবে; "যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদেরকে শাশ্বত বাণীর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন" [ইবরাহীম: ২৭]।
আর বান্দাদের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন যারা তাদের আমলসমূহ লিখে রাখেন এবং এর কোনো কিছুই তাদের রবের জ্ঞানের বাইরে থাকে না।
আর মালাকুল মাউত তাঁর রবের অনুমতিতে রূহ কবজ করেন।
আর সর্বোত্তম যুগ হলো সেই যুগ যাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এবং তাঁর ওপর ঈমান এনেছেন, তারপর তাঁদের পরবর্তীগণ, তারপর তাঁদের পরবর্তীগণ।
আর সাহাবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদুন: আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান, তারপর আলী; তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।
আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর কথা সর্বোত্তম আলোচনা ছাড়া অন্যভাবে করা যাবে না এবং তাঁদের মাঝে যে বিবাদ ঘটেছিল তা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর তাঁরাই সবচেয়ে বেশি হকদার যে তাঁদের জন্য সর্বোত্তম ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করা হবে এবং তাঁদের ব্যাপারে সর্বোত্তম ধারণা পোষণ করা হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَالطَّاعَةُ لِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ؛ مِنْ وُلَاةِ أُمُورِهِمْ وَعُلَمَائِهِمْ.
وَاتِّبَاعُ السَّلَفِ الصَّالِحِ، وَاقْتِفَاءُ آثَارِهِمْ، وَالاسْتِغْفَارُ لَهُمْ.
وَتَرْكُ الْمِرَاءِ وَالْجِدَالِ فِي الدِّينْ، وَتَرْكُ مَا أَحْدَثَهُ الْمُحْدِثُونْ.
وَصَلَّى اللهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا
* * *
এবং মুসলিম ইমামদের—তাদের শাসকবর্গ ও ওলামায়ে কেরামের—আনুগত্য করা।
এবং সালাফে সালেহীনের অনুসরণ করা, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা এবং তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।
এবং দ্বীনের বিষয়ে বাদানুবাদ ও ঝগড়া পরিহার করা এবং উদ্ভাবনকারীরা যা নতুন উদ্ভাবন করেছে তা বর্জন করা।
আর আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, পত্নীগণ ও বংশধরদের ওপর রহমত ও প্রচুর পরিমাণে শান্তি বর্ষণ করুন।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المُقَدِّمَة
الحمدُ للهِ؛ له الحمدُ كلُّهْ، أوَّلُهُ وآخِرُ، ظاهِرُهُ وباطنُهْ، وله الشكرُ كلُّهُ على ما أفاضَ به وتكرَّمْ، وتفضَّلَ به على عبادِهِ وأنعَمْ.
ونَشهَدُ أنْ لا إلهَ إلا اللهُ، وأنَّ محمَّدًا عبدُهُ ورسولُه.
وصلَّى اللهُ وسلَّم على النبيِّ الأَمِينْ، محمَّدِ بنِ عبد اللهِ وعلى آلِهِ وصحبِهِ ومَن تَبِعهم بإحسانٍ إلى يومِ الدِّينْ.
أَمَّا بَعْدُ:
فإنَّ أعظَمَ الواجباتِ على الإنسانِ: مَعرِفةُ مُوجِدِهِ، وغايةِ وجودِهِ، وحَقِّ مُوجِدِهِ -وهو اللهُ- عليه؛ وذلك أنَّ هذا هو دعوةُ جميعِ الرسل؛ قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25]، وقال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56].
وبيانُ الحقِّ يكونُ بأخذِهِ مِن أصولِهِ والتدليلِ عليه به، وبيانُهُ يكونُ بلا جدالٍ ولا مراء؛ فإنَّ الجدالَ والمراءَ الزائدَ عن البَيِّنة يُورِثُ العنادَ والمكابَرة، ويُحدِثُ في نفوسِ المخالِفِينَ العِزَّةَ بالإثمِ حتى وإنِ استبانوا الحقَّ.
فمِن الناسِ مَن يقولُ الخطأَ بِلا قَنَاعة، فإذا جادَلَه أحدٌ عانَدَ وكابَر؛ فيكونُ جِدَالُه تَثْبيتًا للخطأِ في نَفْسِه! ومِثلُ هذا يبيَّنُ له الصوابُ ويُترَكُ بلا جِدال.
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর; সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে। তাঁর প্রতিই সকল কৃতজ্ঞতা যা তিনি অকাতরে দান করেছেন এবং যার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, আর যা তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ ও নিয়ামত হিসেবে প্রদান করেছেন।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
আল্লাহ শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর:
মানুষের ওপর সবচেয়ে বড় আবশ্যিক কর্তব্য হলো: তার সৃষ্টিকর্তাকে চেনা, তার অস্তিত্বের লক্ষ্য জানা এবং তার ওপর তার সৃষ্টিকর্তার—যিনি আল্লাহ—অধিকার সম্পর্কে অবগত হওয়া; আর তা এই জন্য যে, এটিই ছিল সকল রাসুলের দাওয়াতের মূল বিষয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসুল প্রেরণ করিনি যার প্রতি আমি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।" [আল-আম্বিয়া: ২৫], এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আদ-যারিয়াত: ৫৬]।
সত্যের ব্যাখ্যা হতে হবে তার মূল উৎসসমূহ থেকে তা গ্রহণের মাধ্যমে এবং তার স্বপক্ষে সেগুলোর মাধ্যমেই দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে। আর এই ব্যাখ্যা হতে হবে কোনো প্রকার কলহ বা বিতর্ক ছাড়াই; কেননা দলিলের বাইরে অতিরিক্ত ঝগড়া ও বিতর্ক একগুঁয়েমি ও অহংকার সৃষ্টি করে এবং বিরোধীদের অন্তরে পাপের প্রতি আসক্তি তৈরি করে, এমনকি সত্য তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও।
কেননা মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে যারা কোনো দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়াই ভুল কথা বলে বসে, অতঃপর কেউ তার সাথে বিতর্ক করলে সে একগুঁয়েমি ও অহংকার করতে শুরু করে; ফলে তার সেই বিতর্ক নিজের মনের মধ্যে ভুলটিকেই আরও দৃঢ়ভাবে গেঁথে দেয়! এই ধরনের ব্যক্তির কাছে সঠিক বিষয়টি তুলে ধরতে হবে এবং এরপর কোনো প্রকার বিতর্ক ছাড়াই তাকে ত্যাগ করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد نهَجَ الأئمَّةُ مِن السلفِ بيانَ الحقِّ والبعدَ عن الجدالِ الزائد فيه، وقد قيل لمالك: الرجُلُ له عِلْمٌ بالسُّنَّةِ يجادِلُ عنها؟ قال: "لا، ولكنْ يُخبِرُ بالسُّنَّة؛ فإنْ قُبِلَ منه، وإلَّا سكَتَ" (1).
وإيضاحُ الحقِّ بلا جدالٍ ولا مراءٍ زائدٍ عن الحُجة، يُبقِي في قلبِ المخالِفِ قبَسًا منه وإنْ لم يُظهِرْ قَبُولَه، وربَّما حمَلَهُ ذلك على المراجَعةِ في السِّرِّ؛ تهيُّبًا من الرجوع في العَلَن؛ فللنَّفْسِ سُلْطانٌ وعِزَّةٌ لا يَغلِبُها بالحقِّ إلا النُّدْرةُ مِن أصفياءِ الناس.
والواجبُ على المتكلِّم: بيانُ الحقِّ بحُجَّتِهِ بما يَفهَمُهُ السامعُ والقارئُ بلا تكلُّف، مع الأخذِ في الحُسْبانِ: المعانِدُ، وضعيفُ الفَهْم، والتفريقُ بينهما؛ فإنَّ بعضَ مَن يَعجِزُ عن الفهم، يظُنُّ أنَّ القائلَ يَعجِزُ عن التعبير؛ وهذا يُمكِنُ تقريبُهُ بالرِّفْق، ويُمكِنُ أن يُبعَدَ فيَصنَعَ منه الإبعادُ معانِدًا بالشِّدَّة.
ولم يَزَلِ العلماءُ يعرِّفونَ الإنسان ويذكِّرونَهُ بذلك، ويعرِّفونَهُ بحقِّ ربِّه عليه، وذلك في كلِّ بلدٍ، وفي كلِّ زَمَن، ولم تَخْلُ بلدٌ مِن بلدانِ الإسلامِ مَشرِقًا ومَغرِبًا مِن مبلِّغٍ عن اللهِ مُقِيمٍ للحُجَّةِ على الخلق؛ وهذا مقتضى حفظِ اللهِ لدينِهِ أنْ سخَّر له حَفَظةً يَحفَظُونَهُ ويبلِّغونه.
وفي المغرِبِ أئمَّةٌ على آثارٍ مِن سلفٍ؛ فقد نَزَلَها صحابةٌ وتابعون، وأئمَّةٌ مهتدون، وأخَذَ عنهم أهلُها، ومنهم أبو محمَّدٍ عبدُ اللهِ بنُ أبي زيدٍ القَيْرَوَانيُّ، وله كتبٌ على آثارٍ مِن السلفِ في الأصولِ والفروع، ومنها كتابَاهُ: "الرِّسَالة"، و"الجامِع"، وقد أبان فيهما اعتقادَ السلفِ في
--------------------------------------------
সালাফ আইম্মায়ে কেরাম সত্যের স্পষ্টীকরণ এবং তাতে অতিরিক্ত বিতর্ক পরিহারের পথ অবলম্বন করেছেন। ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "কোনো ব্যক্তির নিকট সুন্নাহর ইলম থাকলে সে কি তা নিয়ে বিতর্ক করবে?" তিনি বললেন: "না, বরং সে সুন্নাহ সম্পর্কে অবহিত করবে; যদি তার থেকে তা গ্রহণ করা হয় (তবে ভালো), অন্যথায় সে মৌনতা অবলম্বন করবে" (১)।
দলীল-প্রমাণের বাইরে অতিরিক্ত বিতর্ক ও ঝগড়া ব্যতিরেকে সত্যের স্পষ্টীকরণ প্রতিপক্ষের অন্তরে তার একটি আলোকরশ্মি অবশিষ্ট রাখে, যদিও সে বাহ্যিকভাবে তা গ্রহণের কথা প্রকাশ না করে। আর সম্ভবত এটি তাকে গোপনে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে; জনসম্মুখে সত্যে ফিরে আসার সংকোচবোধের কারণে। কেননা নফসের এক প্রকার আধিপত্য ও আভিজাত্য রয়েছে, যা সত্যের মাধ্যমে কেবল কতিপয় মনোনীত ব্যক্তিই জয় করতে সক্ষম হন।
বক্তার ওপর ওয়াজিব হলো: কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়াই শ্রোতা ও পাঠক যা সহজে বোঝেন সেভাবে দলীলসহ সত্য স্পষ্ট করা। এর পাশাপাশি হঠকারী এবং দুর্বল বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করা। কেননা যারা বুঝতে অক্ষম, তাদের কেউ কেউ মনে করে যে বক্তাই সম্ভবত তা ব্যক্ত করতে অক্ষম। এমতাবস্থায় কোমলতার মাধ্যমে তাকে সত্যের নিকটে আনা সম্ভব, আবার কঠোরতার মাধ্যমে তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়াও সম্ভব, যা তাকে একজন জেদি হঠকারীতে পরিণত করতে পারে।
আলিমগণ সর্বদা মানুষকে এই সত্যের পরিচয় দিয়ে আসছেন এবং তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, আর তার ওপর তার রবের যে অধিকার রয়েছে সে সম্পর্কে তাকে অবগত করছেন। এটি প্রতিটি ভূখণ্ডে এবং প্রতিটি যুগেই চলমান রয়েছে। ইসলামের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কোনো ভূখণ্ডই আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বীনের বাণী পৌঁছে দানকারী এমন ব্যক্তি থেকে শূন্য থাকেনি, যিনি সৃষ্টির ওপর আল্লাহর হুজ্জাত বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেন। এটি আল্লাহর স্বীয় দ্বীন সংরক্ষণেরই দাবি যে, তিনি এর জন্য এমন কিছু হিফাযতকারী নিয়োজিত করেছেন যারা একে সংরক্ষণ করেন এবং পৌঁছে দেন।
মাগরিবেও সালাফদের পদাঙ্ক অনুসারী আইম্মায়ে কেরাম বিদ্যমান ছিলেন; সেখানে সাহাবী, তাবিঈ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত ইমামগণ অবস্থান করেছিলেন এবং সেখানকার অধিবাসীরা তাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। তাদের অন্যতম হলেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানি। উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) উভয় বিষয়েই সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার বহু গ্রন্থ রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম হলো তার দুটি কিতাব: "আর-রিসালাহ" এবং "আল-জামি"। এই গ্রন্থদ্বয়ে তিনি যে বিষয়ে সালাফদের আকিদা বা বিশ্বাস বর্ণনা করেছেন তা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مَعرِفةِ اللهِ وحقِّه على عبادِه، وقد تعدَّى نفعُ كتبِهِ أهلَ بلدِهِ؛ فانتفَعَ بها أهلُ المشرِقِ والمغرِب.
هذا؛ وقد زُرْتُ القيروانَ عامَ ثلاثةٍ وثلاثينَ وأربعِ مِئَةٍ وألفٍ، وكان في أهلِها حبٌّ للعلمِ وحرصٌ على تلَقِّيهِ فيما كان مِن مجالسَ في جامعِ القَيْرَوانِ: (عُقْبةَ بنِ نافعٍ)، وغيرِه.
وقد رَغِبَ إليَّ بعضُ مَن لَقِيتُ: شرحَ معتقَدِ ابنِ أبي زيدٍ، وبيانَ ما عليه أسلافُهُ مِن الأئمَّةِ المهديِّينَ مِن الصحابةِ والتابعينَ، وما عليه الإمامُ مالكٌ وأصحابُهُ؛ خاصَّةً مِن أهلِ المغرِبِ الذين لا يَختلِفُونَ عن طَبَقَتِهم مِن الأئمَّةِ في شيءٍ مِن الأصولِ إلا باختلافِ الأَرْض، وتباعُدِ القُطْر.
وقد كان التعليقُ على مقدِّمة "الرِّسَالة"؛ مِن غيرِ إطالةٍ تُمِلّ، ولا اختصارٍ يُخِلّ، حتى يتحقَّقَ المقصود، ومِن اللهِ التوفيقُ والتسديد.
وصلَّى اللهُ وسلَّم على النبيِّ وعلى آلِهِ وصحبِهِ أجمعين
عبد العزيز الطَّرِيفي
আল্লাহকে জানা এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর অধিকার সম্পর্কে; এবং তাঁর গ্রন্থসমূহের উপকারিতা তাঁর দেশের মানুষের সীমা ছাড়িয়ে গেছে, ফলে পূর্ব ও পশ্চিমের মানুষ তা দ্বারা উপকৃত হয়েছে।
অতঃপর, আমি এক হাজার চারশ তেত্রিশ হিজরি সনে কায়রোয়ান সফর করেছি। সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে ইলমের প্রতি ভালোবাসা এবং কায়রোয়ান জামে মসজিদে (উকবা ইবনে নাফে) ও অন্যান্য স্থানে আয়োজিত ইলমি মজলিসগুলো থেকে তা অর্জনের গভীর আগ্রহ বিদ্যমান ছিল।
যাদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছে ইবনে আবি যায়দ-এর আকিদার ব্যাখ্যা প্রদান এবং সাহাবী ও তাবিঈনগণের মধ্য থেকে হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণ তথা তাঁর পূর্বসূরিগণ যে নীতির ওপর ছিলেন তা বর্ণনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই সাথে ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীগণ, বিশেষ করে মাগরিবের (মরক্কো অঞ্চল) উলামায়ে কিরাম যে নীতির ওপর ছিলেন—যারা মৌলিক কোনো বিষয়ে তাঁদের সমপর্যায়ের ইমামদের থেকে ভিন্ন ছিলেন না, শুধুমাত্র ভূখণ্ড ও ভৌগোলিক দূরত্বের পার্থক্য ছাড়া—তা ব্যাখ্যা করারও অনুরোধ করেছেন।
আর এই ব্যাখ্যাটি "আর-রিসালা" গ্রন্থের ভূমিকার ওপর করা হয়েছে; যা বিরক্তি তৈরি করার মতো দীর্ঘ নয় এবং মূল বিষয় ক্ষুণ্ণ করার মতো সংক্ষিপ্তও নয়, যাতে উদ্দেশ্য হাসিল হয়। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক ও সঠিক পথে পরিচালনার সাহায্য কাম্য।
আল্লাহ নবী করীম, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
আব্দুল আজিজ আত-তারিফি
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ للهِ ربِّ العالَمِين، مستوجِبِ كمالِ الشكرِ لتفرُّدِهِ بالنِّعَمْ، والصَّلاةُ والسَّلامُ على سيِّدِ ولَدِ آدَمَ المبعوثِ لجميعِ الأُمَمْ:
أَمَّا بَعْدُ:
فإنَّ توفيقَ الإنسانِ يكونُ بمقدارِ علمِهِ وصدقِهِ فيه؛ فلا ينالُ التوفيقَ إلَّا بالعلمِ بالحَقّ، وكمالُ التوفيقِ إصابةُ الحقِّ عن علمٍ به، وذلك أنه قد يُصِيبُ الإنسانُ الحقَّ وهو جاهلٌ؛ وذلك بالصُّدْفةِ والتقليد، ومَن أصاب الحقَّ بالصُّدْفةِ والتقليدِ لا يثبُتُ عليه، وإنما يتغيَّرُ بحسَبِ عواملِ الصُّدْفةِ وسَيْرِ المتبوعينَ وما يَلحَقُهُ مِن خوفٍ أو طمَعٍ في طريقِه.
وقد ينشأُ الإنسانُ في بلدٍ أو مجتمَعٍ ويكونُ على ما كان عليه مَنشَؤُه، وقد يُصيبُ الحقَّ وقد لا يُصيبه، وقد يُصيبُهُ عن علمٍ، وقد يُصيبُهُ عن جهلٍ، كما أنه قد يُخطِئُهُ عن علمٍ، وقد يُخطِئُهُ عن جهلٍ.
*
فضلُ العلم وأفضَلُه:ولا يَختلِفُ الناسُ على فضلِ العلم، وأنَّ زيادةَ اليقينِ تكونُ -من بينِ ما تكون- بمقدارِ زيادةِ العلم، وأعظَمُ مراتبِ اليقينِ اليقينُ بالله، ففضلُ العلومِ بفضلِ المعلوم، وأفضَلُ العلومِ نوعان:
الأوَّل: العلمُ بالمعبودِ؛ وهو اللهُ تعالى.
الثاني: العلمُ بحقِّ المعبودِ، وحقُّه: أن يُعبَدَ وَحدَه بما شرَعَ؛
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর একচ্ছত্র নেয়ামতের কারণে পূর্ণ কৃতজ্ঞতা পাওয়ার একমাত্র হকদার। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আদম-সন্তানদের সরদার, সকল উম্মতের নিকট প্রেরিত রাসূলের প্রতি:
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মানুষের তাওফিক অর্জিত হয় তার জ্ঞান এবং তাতে তার সত্যবাদিতার পরিমাণ অনুযায়ী; সুতরাং সত্যের জ্ঞান অর্জন ব্যতীত তাওফিক লাভ করা যায় না। আর তাওফিকের পূর্ণতা হলো সত্যের জ্ঞানসহ তাকে উপলব্ধি করা বা প্রাপ্ত হওয়া। কেননা অনেক সময় মানুষ অজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও সত্যকে পেয়ে যায়; আর তা ঘটে আকস্মিকতা ও অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে। কিন্তু যে ব্যক্তি আকস্মিকতা ও অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে সত্য লাভ করে, সে তার ওপর অটল থাকতে পারে না; বরং আকস্মিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে এবং যাদের সে অনুসরণ করে তাদের গতিবিধি অনুযায়ী কিংবা তার পথে যে ভয় বা লালসা দেখা দেয় তার ভিত্তিতে সে পরিবর্তিত হয়ে যায়।
কোনো মানুষ হয়তো এমন কোনো দেশ বা সমাজে বেড়ে ওঠে যেখানে সে তার বেড়ে ওঠার পরিবেশের রীতিনীতির ওপর অটল থাকে। এমতাবস্থায় সে হয়তো সত্য লাভ করে, আবার হয়তো করে না। আর সে হয়তো জ্ঞানসহ সত্য লাভ করে, আবার হয়তো অজ্ঞতাবশত তা লাভ করে। একইভাবে সে হয়তো জেনে-বুঝে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়, আবার হয়তো না জেনে বিচ্যুত হয়।
*
ইলমের ফযিলত এবং তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ইলম:ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে মানুষের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। আর ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাসের বৃদ্ধি অন্যান্য বিষয়ের সাথে সাথে জ্ঞানের বৃদ্ধির পরিমাণের ওপরও নির্ভর করে। আর ইয়াকীনের সর্বোচ্চ স্তর হলো আল্লাহর প্রতি ইয়াকীন। সুতরাং বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। আর শ্রেষ্ঠতম ইলম দুই প্রকার:
প্রথম: মাবুদ সম্পর্কিত জ্ঞান; আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ।
দ্বিতীয়: মাবুদের হকের জ্ঞান; আর তাঁর হক হলো এই যে, তিনি যা বিধান দিয়েছেন সেই অনুযায়ী কেবল তাঁরই ইবাদত করা হবে;
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فالعبادةُ هي الصلةُ التي تكونُ بين العابِدِ ومعبودِه، والمخلوقِ وخالقِه.
وأدنى دَرَكاتِ الجَهْلِ: الجهلُ بالمعبود، ثُمَّ الجهلُ بعبادتِه؛ فمَن كان جاهلًا بالله، صرَفَ العبادةَ لغيرِ الله، ومَن كان عالِمًا بالله، وجاهلًا بالعبادةِ، عبَدَ اللهَ بغيرِ ما شَرَع، ومَن كان جاهلًا بالعبادةِ والمعبود، وقَعَ في الشركِ والبدعةِ كِلَيْهما.
وقد أوجَدَ اللهُ الإنسانَ في الأرض، وجعَلَ له عقلًا لِيُبْصِرَ به دنياه، وأنزَلَ إليه النقلَ (الوَحْيَ) ليُبْصِرَ به دِينَه؛ فمَن عطَّل العقلَ، فسَدَتْ دنياه؛ كما تفسُدُ دنيا المجنون، ومَن عطَّل النقلَ، فسَدَ دِينُهُ؛ كما يفسُدُ دِينُ المحرِّفينَ وأهلِ الأهواء، ومَن أبصَرَ فسادَ دنيا فاقدِ العقل، عرَفَ كيف يكونُ فسادُ دِينِ فاقِدِ النقل.
*
حفظُ العقلِ والنقلِ:وقد فطَرَ اللهُ الإنسانَ على الاحترازِ ممَّا يُفسِدُ عقلَهُ مِن الأمراضِ والعِلَلِ؛ حتى لا تؤثِّرَ على دنياه، وبمثلِ ذلك جاءت حِيَاطةُ النقلِ مِن الأهواءِ والبِدَعِ؛ حتى لا تؤثِّرَ على الدِّين، ولكنْ لما كانت لَذَّةُ الدنيا عاجِلةً، ومتعةُ الآخرةِ آجِلةً، غلَبَ على الناسِ حمايةُ الدنيا أكثَرَ مِن حمايةِ الدين.
وقد وصَفَ اللهُ مَيْلَ الإنسانِ وحبَّه للذةِ العاجلةِ في مواضع؛ قال تعالى: {كَلَّا بَلْ تُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ} [القيامة: 20]، وقال: {إِنَّ هَؤُلَاءِ يُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ} [الإنسان: 27]، وقال: {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ} [الإسراء: 18].
فالنفسُ ميَّالةٌ للمتعةِ العاجلةِ؛ فإنَّ المتعةَ العاجِلةَ تسلُبُ الحواسَّ وتَجذِبُها إليها؛ ولهذا أمَرَ اللهُ بعدمِ مدِّ البصَرِ إليها حتى لا تَجذِبَهُ وتَحرِفَهُ، وقد قال اللهُ لنبيِّه المعصومِ: {وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ
ইবাদত হলো সেই সম্পর্ক যা ইবাদতকারী ও তার মাবুদ এবং সৃষ্টি ও তার স্রষ্টার মাঝে বিদ্যমান থাকে।
আর মূর্খতার সর্বনিম্ন স্তর হলো: মাবুদ সম্পর্কে অজ্ঞতা, এরপর তাঁর ইবাদত সম্পর্কে অজ্ঞতা। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য ইবাদত করে। আর যে আল্লাহ সম্পর্কে অবগত কিন্তু ইবাদত সম্পর্কে অজ্ঞ, সে আল্লাহর ইবাদত এমন পদ্ধতিতে করে যা তিনি বিধিবদ্ধ করেননি। আর যে ব্যক্তি ইবাদত ও মাবুদ উভয়টি সম্পর্কেই অজ্ঞ, সে শিরক ও বিদআত উভয়টির মধ্যেই নিপতিত হয়।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বুদ্ধি দান করেছেন যাতে সে এর মাধ্যমে তার পার্থিব জীবনকে উপলব্ধি করতে পারে, আর তার কাছে ওহি (নকল) অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে এর মাধ্যমে তার দ্বীনকে বুঝতে পারে। অতএব, যে ব্যক্তি বুদ্ধিকে অকেজো করে দেয়, তার দুনিয়া নষ্ট হয়ে যায়; যেমন পাগলের দুনিয়া নষ্ট হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি ওহিকে (নকল) উপেক্ষা করে, তার দ্বীন নষ্ট হয়ে যায়; যেমন বিকৃতকারী ও প্রবৃত্তিপূজারীদের দ্বীন নষ্ট হয়। আর যে ব্যক্তি বুদ্ধিহীন ব্যক্তির দুনিয়ার বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেছে, সে বুঝতে পারবে ওহিবিমুখ ব্যক্তির দ্বীনের বিপর্যয় কেমন হয়।
*
বুদ্ধি ও ওহির (নকল) হিফাজত:আল্লাহ তাআলা মানুষকে এমন স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যে, সে তার বুদ্ধিকে বিনষ্টকারী রোগব্যাধি ও ত্রুটি থেকে নিজেকে রক্ষা করে; যাতে তা তার পার্থিব জীবনে প্রভাব না ফেলে। একইভাবে ওহিকে (নকল) প্রবৃত্তি ও বিদআত থেকে রক্ষা করার বিধান এসেছে; যাতে তা দ্বীনের ওপর প্রভাব না ফেলে। কিন্তু দুনিয়ার স্বাদ যেহেতু তাৎক্ষণিক এবং আখিরাতের সুখ যেহেতু বিলম্বিত, তাই মানুষের ওপর দ্বীন রক্ষার চেয়ে দুনিয়া রক্ষার প্রবণতাই প্রবল হয়ে থাকে।
আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন স্থানে মানুষের তাৎক্ষণিক স্বাদের প্রতি ঝোঁক ও ভালোবাসার বর্ণনা দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: "কখনো নয়, বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে ভালোবাসো" [কিয়ামাহ: ২০]। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই তারা পার্থিব জীবনকে ভালোবাসে" [ইনসান: ২৭]। তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি পার্থিব সুখ কামনা করে, আমি তাকে সেখানে যা ইচ্ছা দ্রুত দিয়ে দেই" [ইসরা: ১৮]।
সুতরাং প্রবৃত্তি পার্থিব সুখের প্রতি অতিশয় অনুরাগী; কারণ তাৎক্ষণিক সুখ ইন্দ্রিয়সমূহকে আচ্ছন্ন করে এবং সেগুলোর প্রতি আকৃষ্ট করে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা এর প্রতি দৃষ্টি প্রসারিত না করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তা তাকে আকর্ষণ ও বিচ্যুত না করে। আল্লাহ তাঁর মাসুম নবীকে বলেছেন: "আর আপনি আপনার চক্ষুদ্বয়কে সে সবের প্রতি প্রসারিত করবেন না যা আমি ভোগ-বিলাসের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি..."
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أَزْوَاجًا مِنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ وَرِزْقُ رَبِّكَ خَيْرٌ وَأَبْقَى} [طه: 131]، والتوسُّعُ بالمتعةِ العاجلةِ يُنسِي النعيمَ الآجِلَ؛ كما قال تعالى: {وَلَكِنْ مَتَّعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا} [الفرقان: 18].
وسَيْرُ الإنسانِ لتحقيقِ المتعةِ الدنيويَّةِ والاكتفاءُ بذلك، قَدْرٌ يُشارِكُهُ فيه الحيوانُ؛ كما قال تعالى: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَهُمْ} [محمد: 12]، بل إنَّ الحيوانَ أكمَلُ في تحقيقِ كمالِ متعتِهِ مِن الإنسان، ولكنَّ اللهَ اختصَّ الإنسانَ بالعبوديَّة له؛ وهي التي يُفارِقُ الإنسانُ بها الحيوان؛ ولهذا فإنَّ اللهَ إذا ذكَرَ الإنسانَ في القرآنِ ذكَرَهُ مذمومًا، وإذا وصفَهُ بالإيمانِ مدَحَهُ.
وقد أنزَلَ اللهُ الوحيَ ليحفظَ العقولَ مِن سطوةِ النفوسِ واستبدادِها على الإنسان.
*
فضلُ قُرْبِ الزمانِ والمكانِ الأوَّلِ:وأصحُّ الناسِ اعتقادًا وأسلَمُهم فهمًا: أصحابُ القرونِ الثلاثةِ الأُولى؛ لقولِهِ صلى الله عليه وسلم: (خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ)، وقد أنزَلَ اللهُ الوحيَ على نبيِّه صلى الله عليه وسلم بلسانٍ عَرَبيٍّ مُبِين، وكان وضعُهُ على وضعِ قُرَيْشٍ ولسانِهم، وأقرَبُ الناسِ إلى الحَقِّ وفهمِهِ: مَن تحقَّق فيه القُرْبانِ مِن الوحيِ:
القربُ الأوَّلُ: قربُ الزمان.
والقربُ الثاني: قربُ المكان.
وقد كان طُلَّابُ الحقِّ في القرونِ الأُولى يعظِّمونَ أهلَ الفقهِ في الحجاز، ويقدِّمونَ فَهْمَهم:
...তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে আমি পার্থিব জীবনের যে জাঁকজমক দিয়েছি, তার দিকে আপনি আপনার চক্ষুদ্বয় প্রসারিত করবেন না—তাদেরকে এর মাধ্যমে পরীক্ষা করার জন্য; আর আপনার রবের দেওয়া রিযিকই উত্তম ও অধিক স্থায়ী। [ত্বহা: ১৩১], নশ্বর আনন্দ-ভোগের বিস্তার পরকালীন নিয়ামতকে ভুলিয়ে দেয়; যেমন মহান আল্লাহ বলেন: "বরং আপনিই তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, পরিশেষে তারা উপদেশ ভুলে গিয়েছিল এবং তারা ছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।" [আল-ফুরকান: ১৮]।
দুনিয়াবী ভোগ-বিলাস অর্জনে মানুষের পথচলা এবং তাতেই সন্তুষ্ট থাকা এমন একটি বিষয় যাতে পশুরাও তার অংশীদার; যেমন মহান আল্লাহ বলেন: "আর যারা কুফরি করে তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় আহার করে; আর জাহান্নামই তাদের আবাসস্থল।" [মুহাম্মাদ: ১২]। বরং পশুরা তাদের ভোগ-বিলাস পূর্ণ করার ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি নিপুণ, কিন্তু আল্লাহ মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; যার মাধ্যমেই মানুষ পশুর থেকে পৃথক হয়। এই কারণেই আল্লাহ যখনই কুরআনে 'মানুষ' (সাধারণভাবে) উল্লেখ করেছেন, তখন তাকে নিন্দিত অবস্থায় উল্লেখ করেছেন, আর যখন তাকে ঈমানের বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, তখন তার প্রশংসা করেছেন।
আর আল্লাহ ওহী নাযিল করেছেন মানুষের উপর নফসের প্রতাপ ও স্বৈরাচার থেকে আকল বা বুদ্ধিকে রক্ষা করার জন্য।
*
প্রথম যুগের সময় ও স্থানের নৈকট্যের শ্রেষ্ঠত্ব:আকিদাহর ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক এবং বুঝের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ হলেন প্রথম তিন প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গ; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় ওহী নাযিল করেছেন, এবং এর বাচনভঙ্গি ছিল কুরাইশদের বাচনভঙ্গি ও ভাষার অনুরূপ। আর সত্য এবং তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী তারাই, যাদের মধ্যে ওহীর দুই প্রকার নৈকট্য অর্জিত হয়েছে:
প্রথম নৈকট্য: সময়ের নৈকট্য।
দ্বিতীয় নৈকট্য: স্থানের নৈকট্য।
প্রথম যুগের সত্যপিয়াসীগণ হিজাযের ফকীহদের অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তাঁদের বুঝ বা উপলব্ধিকে অগ্রগণ্য মনে করতেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فكلَّما كان الواحدُ منهم أسبَقَ زمنًا وأقرَبَ مكانًا، كان أقرَبَ إلى الصوابِ مِن غيرِه؛ لأنَّ الوحيَ نزَلَ بين أظهُرِهم وبلسانِهِم أو لسانِ مَن حَوْلَهم.
وكلَّما تقادَمَ الزمانُ، وتباعَدَ المكان، ضَعُف اللسان.
وقد يُوجَدُ صحيحُ الاعتقادِ بعيدَ المَنزِل، وقريبُ المَنزِلِ فاسدَ الاعتقاد.
*
المَغرِبُ في زمَنِ الصحابةِ والتابعين:دخَلَ الإسلامُ المَغرِبَ في خلافةِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ، ثُمَّ توسَّع في خلافةِ مَن بعدَهُ؛ كعُثْمانَ، ثُمَّ في إمارةِ مُعاوِيةَ، ويَزِيدَ، وعبدِ المَلِكِ بن مَرْوانَ:
فإنَّ عُمَرَ بنَ الخَطَّابِ قد بعَثَ عَمْرَو بنَ العاصِ، وعُثْمانُ بعَثَ عبدَ اللهِ بنَ أبي السَّرْح، ومعاويةُ بعَثَ رُوَيفِعَ بنَ ثابتٍ، ومعاويةَ بنَ حُدَيْجٍ، وعبدَ اللهِ بنَ الزُّبَيْرِ، وعُقْبةَ بنَ نافعٍ، وجاء يزيدُ وأتَمَّ أمرَ عُقْبةَ بنِ نافعٍ.
وكلُّ أولئكَ المبعوثينَ صحابةٌ؛ إلا عُقْبةَ، فمولودٌ زمَنَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم؛ وبه دخَلَ الإسلامَ عامَّةُ المَغرِبِ الأدنى والأوسَط، حتى بلَغَ محيطَهُ الأَطْلَسِيَّ، ومما اشتَهَر عنه قولُهُ: "اللَّهُمَّ، اشْهَدْ أَنِّي قَدْ بَلَغْتُ المَجْهُودَ، وَلَوْلَا هَذَا البَحْرُ، لَمَضَيْتُ فِي البِلَادِ أُقَاتِلُ مَنْ كَفَرَ بِكَ؛ حَتَّى لَا يُعْبَدَ أَحَدٌ دُونَكَ" (1).
ثم اتسَعَ الإسلامُ بعدُ بيَدِ زُهَيْرِ بنِ قيسٍ، وموسى بنِ نُصَيْرٍ، وطارقِ بنِ زيادٍ؛ حتى جاوَزَتِ الأَنْدَلُسَ إلى جنوبِ فَرَنْسَا.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে যারা সময়ের দিক থেকে অগ্রবর্তী এবং অবস্থানের দিক থেকে নিকটবর্তী ছিলেন, তারা অন্যদের তুলনায় সত্যের অধিক কাছাকাছি ছিলেন; কারণ তাদের উপস্থিতিতে এবং তাদের ভাষায় অথবা তাদের চারপাশের মানুষের ভাষায় ওহী অবতীর্ণ হয়েছে।
আর সময় যত অতিবাহিত হয়েছে এবং ভৌগোলিক দূরত্ব যত বেড়েছে, ভাষার শক্তি তত দুর্বল হয়েছে।
এমন হতে পারে যে, দূরবর্তী স্থানে অবস্থানকারী কেউ সঠিক আকিদার অধিকারী, আবার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থানকারী কেউ ভ্রান্ত আকিদার অধিকারী।
সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগে মাগরিব (পশ্চিম অঞ্চল):ওমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকালে মাগরিব অঞ্চলে ইসলামের প্রবেশ ঘটে, এরপর তার পরবর্তী খলিফাদের যুগে যেমন উসমানের খিলাফতে এর বিস্তার ঘটে, অতঃপর মুয়াবিয়া, ইয়াজিদ এবং আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের শাসনামলে আরও প্রসার লাভ করে:
ওমর ইবনুল খাত্তাব আমর ইবনুল আসকে পাঠিয়েছিলেন, উসমান পাঠিয়েছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি সারহকে, মুয়াবিয়া পাঠিয়েছিলেন রুওয়াইফি ইবনে সাবিত, মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ, আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের এবং উকবা ইবনে নাফেকে। এরপর ইয়াজিদ এসে উকবা ইবনে নাফের অভিযানকে পূর্ণতা দান করেন।
প্রেরিত এই সকল ব্যক্তিই ছিলেন সাহাবী; কেবল উকবা ব্যতীত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন; তার মাধ্যমেই নিকটবর্তী ও মধ্যবর্তী মাগরিবের অধিকাংশ অঞ্চলে ইসলাম প্রবেশ করে, এমনকি তিনি আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছে যান। তার একটি উক্তি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ: "হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, আর যদি এই সমুদ্র বাধা না হতো, তবে আমি দেশসমূহে অগ্রসর হতে থাকতাম এবং আপনার সাথে যারা কুফরি করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম; যতক্ষণ না আপনি ছাড়া আর কারো ইবাদত করা না হয়" (১)।
এরপর জুহাইর ইবনে কাইস, মুসা ইবনে নুসাইর এবং তারিক ইবনে জিয়াদের হাতে ইসলামের সীমানা আরও প্রশস্ত হয়; এমনকি তা আন্দালুস অতিক্রম করে দক্ষিণ ফ্রান্স পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكلُّ هذا قبلَ تمامِ المئةِ مِن الهِجْرة.
وقد دخَلَ بلدانَ المغربِ جماعةٌ مِن الصحابةِ فاتحين، وقد سمَّى أهلُ السِّيَرِ خلقًا منهم متفرِّقين؛ يقرُبُونَ أو يزيدون على خمسينَ نَفْسًا، وقد أخرَجَ ابنُ عبد الحَكَمِ عن سُلَيْمانَ بنِ يَسَارٍ؛ قال: "غَزَوْنَا إفريقيَّةَ معَ معاويةَ بنِ حُدَيْجٍ، ومعنا بَشَرٌ كثيرٌ مِن أصحابِ رسولِ اللهِ مِن المهاجِرِينَ والأنصارِ" (1).
وأمَّا التابعونَ: فخلقٌ كثيرٌ لا يُحصَوْنَ، وقد ارتحَلَ إلى المَغرِبِ جماعةٌ مِن فقهاءِ التابِعينَ ممَّن سَمِعَ أو أدرَكَ جماعةً مِن أصحابِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم-كابنِ عبَّاس، وابنِ عُمَر، وعبدِ اللهِ بنِ عمرو، وطبقتِهم -لنشرِ العلمِ في المغرِبِ؛ كحَيِّ بنِ مَوْهَبٍ المَعَافِرِيِّ، وحِبَّانَ بنِ أبي جَبَلةَ القُرَشيِّ، وإسماعيلَ بنِ عُبَيْدِ اللهِ القُرَشيِّ، وبكرِ بنِ سَوَادةَ الجُذَاميِّ، وعبدِ الرحمنِ بنِ رافعٍ التَّنُوخِيِّ، وعبدِ اللهِ بنِ يزيدَ المَعَافِرِيِّ، وإسماعيلَ بنِ عُبَيْدِ اللهِ بنِ أبي المُهاجِر، وجُعْثُلِ بنِ عاهانَ الرُّعَيْنِيِّ، وسعدِ بنِ مسعودٍ التُّجِيبِيِّ، وطَلْقِ بنِ جَعْبانَ الفارسيِّ.
وهؤلاءِ أرسَلَهم عمرُ بن عبدِ العزيزِ لتعليمِ أهلِ المغرِب.
وكذلك في المغرِبِ مِن التابعينَ: عبدُ اللهِ بن أبي بُرْدةَ القُرَشيُّ، وعُلَيُّ بن رَبَاحٍ اللَّخْميُّ.
وعامَّةُ هؤلاءِ سكَنَ القَيْرَوانَ بلدَ ابنِ أبي زيدٍ، وأكثَرُهم تُوُفِّيَ فيها، وخَلَفَهم في ذلك تلامذتُهم، وكان السلفُ يسمُّونَ القيروانَ بإفريقيَّةَ، وقد قال مالك: "تُوُفِّيَتْ حَفْصةُ عامَ فُتِحَتْ إفريقيَّةُ" (2)؛ يريدُ: القيروانَ،
--------------------------------------------
এবং এই সব কিছু হিজরি একশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ঘটেছে।
একদল সাহাবী বিজয়ী হিসেবে মাগরিবের (উত্তর আফ্রিকা) ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন। সীরাত গবেষকগণ তাঁদের মধ্য থেকে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকের নাম উল্লেখ করেছেন; তাঁদের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি বা তারও বেশি। ইবনে আবদিল হাকাম সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: "আমরা মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজের সাথে ইফ্রিকিয়াতে যুদ্ধ করেছি এবং আমাদের সাথে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক সাহাবী ছিলেন" (১)।
আর তাবিঈগণের কথা বললে: তাঁদের সংখ্যা অগণিত। তাবিঈ ফকীহদের একদল মাগরিবে সফর করেছিলেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীর কথা শুনেছেন অথবা তাঁদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন—যেমন ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আমর এবং তাঁদের সমপর্যায়ের সাহাবীগণ—মাগরিবে ইলম প্রচারের উদ্দেশ্যে; যেমন হাই ইবনে মাওহাব আল-মাআফিরি, হিব্বান ইবনে আবি জাবালা আল-কুরাশি, ইসমাইল ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-কুরাশি, বকর ইবনে সাওয়াদাহ আল-জুযামি, আবদুর রহমান ইবনে রাফি আত-তানুখি, আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ আল-মাআফিরি, ইসমাইল ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবুল মুহাজির, জু’সুল ইবনে আহান আর-রুআইনি, সা’দ ইবনে মাসউদ আত-তুজিবি এবং তালক ইবনে জা’বান আল-ফারিসি।
আর এদেরকে উমর ইবনে আবদুল আজিজ মাগরিববাসীদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন।
একইভাবে মাগরিবে আগত তাবিঈদের মধ্যে রয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি বুরদাহ আল-কুরাশি এবং উলাই ইবনে রাবাহ আল-লাখমি।
তাঁদের সাধারণ সবাই ইবনে আবি যাইদের শহর কাইরাওয়ানে বসবাস করতেন এবং তাঁদের অধিকাংশ সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে তাঁদের ছাত্রগণ তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হন। সালাফগণ কাইরাওয়ানকে ইফ্রিকিয়া নামে অভিহিত করতেন। ইমাম মালেক বলেছেন: "হাফসা সেই বছর ইন্তেকাল করেন যে বছর ইফ্রিকিয়া বিজিত হয়েছিল" (২); তিনি এর দ্বারা কাইরাওয়ানকে বুঝিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وهكذا في "المدوَّنة" إذا أُطلِقَ إفريقيَّةُ، فالمراد بها: القَيْرَوانُ؛ لأنها أظهَرُ مَعَالِمِها وعَوَامِرِها (1).
*
السُّنَّةُ والأثَرُ وعلمُ الكلامِ في المَغرِب:وكان الناسُ في إفريقيَّةَ والمَغرِبِ على السُّنَّةِ والأثَر، ولمْ تَظهَرْ فيهم البِدَعُ متمكِّنةً، ولا علمُ الكلامِ والفلسفةُ، وقد كان الفيلسوفُ أبو بكرٍ محمَّدُ بنُ الطُّفَيْلِ القَيْسيُّ في القرنِ السادسِ يصفُ نُدْرةَ الفلسفةِ في المغرِبِ بأنها أعدَمُ مِن الكِبْرِيتِ الأحمَر (2)، وكانتِ المغربُ آخِرَ بلدانِ الإسلامِ يَنتظِمُ فيها علمُ الكلام، وقد كانت بلدانُ الإسلامِ على جهاتٍ ثلاثٍ:
الأُولى: بلادُ المَشرِقِ؛ وهي: مِن عِرَاقِ العجَمِ إلى خُرَاسانَ وما وراءَها، وهي موضعُ الفلاسفةِ في الإسلام، وفيها ظهَرَ علمُ الكلامِ، ودخَلَ في تقريرِ مسائلِ الدِّين؛ كأقوالِ الجَهْمِ بنِ صَفْوانَ، والجَعدِ بنِ دِرْهَمٍ، وهي مَوطِنُ الفارابيِّ، وابنِ سِينَا، وابنِ مِسْكَوَيْهِ، وهي موطنُ الأئمَّةِ المتكلِّمينَ؛ كابنِ فُورَكَ، وأبي إسحاقَ الإِسْفَرايِينيِّ، وأبي القاسمِ القُشَيْرِيِّ، والجُوَيْنِيِّ، والغَزَاليِّ.
الثانية: بلادُ المَغرِبِ؛ وهي: المغرِبُ الأدنى؛ وتُسمَّى إفريقيَّةَ، وهي القيروانُ وما حولَها، والمغرِبُ الأقصى؛ وهي الأَندَلُسُ وما وراءَها.
الثالثةُ: ما بينَهما؛ وهي: جزيرةُ العرَبِ وما اتصَلَ بها مما بين
--------------------------------------------
একইভাবে "আল-মুদাওওয়ানা" গ্রন্থে যখন নিরঙ্কুশভাবে 'ইফ্রিকিয়া' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: কায়রাওয়ান; কারণ এটিই ছিল এর সর্বাধিক পরিচিত নিদর্শন ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা (১)।
*
মাগরিবে সুন্নাহ, আসার এবং ইলমুল কালাম:ইফ্রিকিয়া ও মাগরিবের অধিবাসীরা সুন্নাহ ও আসারের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং তাদের মধ্যে বিদআত সুসংহতভাবে প্রকাশ পায়নি, আর না সেখানে কালাম শাস্ত্র ও দর্শনের প্রভাব ছিল। ষষ্ঠ শতাব্দীর দার্শনিক আবু বকর মুহাম্মদ বিন তুফায়েল আল-কায়সি মাগরিবে দর্শনের দুষ্প্রাপ্যতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন যে, এটি 'লাল গন্ধক' (কিফরিতে আহমার) এর চেয়েও দুর্লভ (২)। মাগরিব ছিল মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ ভূখণ্ড যেখানে কালাম শাস্ত্র সুশৃঙ্খল রূপ লাভ করেছিল। আর মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো তিনটি ধারায় বিভক্ত ছিল:
প্রথমত: মাশরিকের (প্রাচ্যের) দেশসমূহ; যা হলো: ইরাকে আজম থেকে খোরাসান এবং তার পরবর্তী অঞ্চলসমূহ পর্যন্ত। এটিই ছিল ইসলামি বিশ্বে দার্শনিকদের বিচরণভূমি এবং এখানেই ইলমুল কালামের উদ্ভব হয়েছিল এবং দ্বীনি বিষয়ের বর্ণনায় তা অনুপ্রবেশ করেছিল; যেমন জাহম বিন সাফওয়ান ও জা'দ বিন দিরহামের মতবাদসমূহ। এটি আল-ফারাবি, ইবনে সিনা এবং ইবনে মিসকাওয়াইহ-এর জন্মভূমি। এছাড়াও এটি ছিল ইলমুল কালামের ইমামদের আবাসস্থল; যেমন ইবনে ফুরাক, আবু ইসহাক আল-ইসফিরায়িনি, আবুল কাসিম আল-কুশায়রি, জুওয়াইনি এবং আল-গাজালি।
দ্বিতীয়ত: মাগরিবের দেশসমূহ; যা হলো: আল-মাগরিব আল-আদনা (নিকটবর্তী মাগরিব), যাকে 'ইফ্রিকিয়া' বলা হয় এবং এটি মূলত কায়রাওয়ান ও তার আশপাশের এলাকা। এবং আল-মাগরিব আল-আকসা (দূরবর্তী মাগরিব); যা হলো আন্দালুস এবং তার পরবর্তী অঞ্চল।
তৃতীয়ত: এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অঞ্চল; যা হলো: আরব উপদ্বীপ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকা যা... এর মাঝে অবস্থিত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المشرِقِ والمغرِبِ، وما يَربِطُ بهما مِن عراقِ العرَبِ والشامِ، وإنْ كان العراقُ يَعُدُّهُ أهلُ الحجازِ شرقًا، والشامُ يَعُدُّونَهُ غربًا.
*
أثَرُ المَشرِقِ على المَغرِب:والمذاهبُ الإسلاميَّةُ في المَغرِبِ في الأصولِ والفروعِ، إنما أُخِذَتْ مِن المشرقِ؛ حتى مذهبُ أهلِ الظاهِرِ لم ينشأْ في المغرِبِ؛ وإنما نَشِطَ فيه، ونشأتُهُ مشرقيَّة.
ومَن نظَرَ في عامَّةِ متكلِّمي الأشاعِرةِ في المَشرِق، وجَدَ أنهم لا يكادونَ يذكُرُونَ متكلِّميهم في المَغرِب؛ بخلافِ المغارِبةِ مع متكلِّميهم في المَشرِق، حتى القرنِ التاسع.
*
فلسفة اليُونان وأثَرُها على المتكلِّمِين:وبعضُ العلومِ كالفلسفةِ أصلُها في الغربِ؛ فقد كان رؤوسُ الفلاسفةِ يونانيِّين، ولكنْ لم تُؤَسْلَمْ فلسفتُهم إلا في المشرقِ أوَّلَ الأمر، ثم أخَذَها المغاربةُ بعد أَسْلَمَتِها من الشرقِ، ولم يُؤسْلِمُوها بأنفسِهم.
وقد ذكَرَ الفيلسوفُ اليهوديُّ ابنُ مَيْمونٍ القُرْطُبيُّ (1): أنَّ كلَّ ما قالَتْهُ المعتزِلةُ والأشاعِرةُ في علمِ الكلامِ مبنيٌّ على مقدِّماتٍ مأخوذةٍ كلِّها مِن كتبِ اليونانيِّينَ والسُّرْيانيِّينَ، الذين رامُوا مخالَفةَ آراءِ الفلاسِفةِ الذين يَطْعُنُونَ في دِينِهِمُ النَّصْرانيِّ، ودعَمَهُمْ ملوكٌ يريدونَ منهم حمايةَ دِينِهم مِن تلك الآراءِ الفلسفيَّةِ التي تَهُدُّ قواعدَ شَرِيعَتِهم؛ فنشَأَ فيهم علمُ الكلامِ، وعنهم أخَذَ المعتزِلةُ، ثم الأشاعِرة، وطبَّقوه بزَعْمِهم حمايةً للدِّينِ مِن تلك الآراءِ، واختارُوا مِن آراءِ الفلاسِفةِ ما رأَوْهُ مستقيمًا على طَرِيقَتِهم؛
--------------------------------------------
পূর্ব ও পশ্চিম এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরবের ইরাক ও শামে। যদিও হিজাজের অধিবাসীরা ইরাককে পূর্ব দিক এবং শামের অধিবাসীরা একে পশ্চিম দিক হিসেবে গণ্য করত।
*
পশ্চিমের ওপর পূর্বের প্রভাব:পশ্চিমের (মাগরিব) মৌলিক ও শাখা বিষয়ক ইসলামি মাযহাবগুলো মূলত পূর্ব (মাশরিক) থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে; এমনকি আহলে যাহের মাযহাবও পশ্চিমে জন্মলাভ করেনি; বরং সেখানে এটি কেবল বিকাশ লাভ করেছে এবং এর উৎপত্তি হয়েছে পূর্বে।
আর যারা পূর্বের সাধারণ আশআরি কালাম শাস্ত্রবিদদের প্রতি লক্ষ্য করবেন, তারা দেখতে পাবেন যে তারা পশ্চিমের কালাম শাস্ত্রবিদদের কথা উল্লেখই করেন না; অথচ পশ্চিমের লোকেরা নবম শতাব্দী পর্যন্ত পূর্বের কালাম শাস্ত্রবিদদের ক্ষেত্রে এর বিপরীত আচরণ করত।
*
গ্রীক দর্শন এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের ওপর এর প্রভাব:দর্শনের মতো কিছু বিদ্যার মূল উৎস পশ্চিমে; কেননা শীর্ষস্থানীয় দার্শনিকগণ গ্রীক ছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের দর্শন কেবল পূর্বেই ইসলামীকরণ করা হয়েছিল। অতঃপর পশ্চিমের লোকেরা পূর্ব থেকে ইসলামীকৃত হওয়ার পর তা গ্রহণ করেছে, তারা নিজেরা এটিকে ইসলামীকরণ করেনি।
ইয়াহুদি দার্শনিক ইবনে মাইমুন আল-কুরতুবি (১) উল্লেখ করেছেন যে: মুতাজিলা এবং আশআরিগণ ইলমুল কালামে যা কিছু বলেছেন, তার সবই গ্রীক ও সিরিয়াকদের কিতাব থেকে নেওয়া প্রারম্ভিক প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে রচিত। যারা সেইসব দার্শনিকদের মতামতের বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন যারা তাদের খ্রিস্টধর্মে আঘাত হানত। আর তাদেরকে এমন রাজন্যবর্গ সমর্থন দিয়েছিলেন যারা চেয়েছিলেন তাদের ধর্মকে সেইসব দার্শনিক মতবাদ থেকে রক্ষা করতে যা তাদের শরিয়তের মূল ভিত্তিগুলোকে ধসিয়ে দিচ্ছিল। ফলে তাদের মাঝে ইলমুল কালামের উদ্ভব ঘটে। তাদের কাছ থেকেই মুতাজিলারা এবং পরবর্তীতে আশআরিরা এটি গ্রহণ করে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী ধর্মকে সেইসব মতবাদ থেকে রক্ষা করার জন্য তা প্রয়োগ করে। তারা দার্শনিকদের মতামত থেকে তা-ই নির্বাচন করেছিল যা তাদের পদ্ধতির জন্য সঠিক মনে হয়েছিল;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حتى قال ابنُ مَيْمونٍ: "إنَّه نظَرَ في كتبِ المتكلِّمِينَ والفلاسِفةِ كلِّهم حسَبَ طاقتِهِ -مِن اليهودِ والنصارى والمسلِمِينَ- فوجَدَ أنَّ طريقَ المتكلِّمينَ كلِّهم طريقٌ واحدٌ بالنوع، وإنِ اختلَفَتْ أصنافُه، وأنَّهم في مواضعَ كثيرةٍ يَتَّبِعُونَ الخَيَال، ويسمُّونه عقلًا" (1).
*
اعتقاد أهلِ المغرب:ولم يكنِ الناسُ في المغرِبِ أهلَ جَدَلٍ، بل أهلَ سُنَّةٍ وأثَر، حتى في المغربِ الأقصى الأَندَلُسِ، وكما قال الباجيُّ: "كانوا عن سَنَنِ المُجادِلةِ عادِلِين" (2)، وقِلَّةُ الجدَلِ في متقدِّمي أهلِ المغرِبِ لا تعني عدَمَهُ فيهم؛ فلابنِ سُحْنُونٍ كتابٌ في "أدَبِ المتناظِرين"، وكانوا على معتقَدِ السلَفِ، فنُقِلَ إليهم اعتقادُ مالكٍ، كما نُقِلَ إليهم فِقْهُه، ونُقِلَ إليهم اعتقادُ أحمدَ بنِ حنبلٍ؛ فقد أدخَلَهُ المغرِبَ الأقصى والأدنى: أَسْلَمُ بن عبد العزيزِ قاضي قضاةِ الأَنْدَلُسِ، وقد ارتحَلَ ولَقِيَ أصحابَ أحمَدَ، وأصحابَ الشافعيِّ؛ كالمُزَنيِّ، والرَّبِيعِ، ويونسَ بنِ عبد الأعلى، وغيرهم، كما أسنَدَ عقيدةَ أحمدَ بنِ حنبلٍ بروايةِ أسلَمَ وسنَدِهِ: محمَّدُ بن الحارثِ الخُشَنيُّ القَيْرَوانيُّ في كتابِهِ: "أخبارِ الفُقَهاءِ والمحدِّثينَ بالأَندَلُس"، وفيها عقيدتُهُ بصفاتِ اللهِ؛ كالاستواءِ، وكلامِ الله، وعلوِّهِ، ومَعِيَّتِه، ومسائلِ الإيمانِ والبعثِ، وابنُ الحارِثِ ناقلُ عقيدةِ ابنِ حنبلٍ تلك، هو شيخُ ابنِ أبي زَيْدٍ القَيْرَوانيِّ.
والاعتزالُ لم يكنْ منتشِرًا في المغرِبِ في القرنِ الثاني والثالثِ والرابعِ لدى العلماءِ؛ يَعقِدُونَ له المجالسَ، ويصنِّفُونَ فيه الكتبَ؛ فلم
--------------------------------------------
এমনকি ইবনে মাইমুন বলেছেন: "তিনি তার সাধ্যমত ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম—সকল কালামশাস্ত্রবিদ ও দার্শনিকদের কিতাবসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং পেয়েছেন যে, কালামশাস্ত্রবিদদের পথ প্রকারভেদে মূলত একই পথ, যদিও এর শ্রেণিভেদ ভিন্ন ভিন্ন। এবং তারা অনেক ক্ষেত্রেই কল্পনার অনুসরণ করে, অথচ তাকে আকল বা বুদ্ধি নামে অভিহিত করে" (১)।
*
মাগরিববাসীদের আকিদা:মাগরিবের (মরক্কো ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল) মানুষ বিতর্কপ্রিয় ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন সুন্নাহ ও আসারের অনুসারী। এমনকি সুদূর মাগরিব অর্থাৎ আন্দালুসেও তারা এমনই ছিলেন। যেমনটি বাজি বলেছেন: "তারা তার্কিকদের পথ থেকে বিমুখ ছিলেন" (২)। মাগরিবের প্রাচীনদের মধ্যে বিতর্কের স্বল্পতা মানেই যে তা একেবারেই ছিল না—এমনটি নয়; কারণ ইবনে সুহনুনের 'আদাবুল মুতানাজিরিন' (তার্কিকদের শিষ্টাচার) বিষয়ক একটি গ্রন্থ রয়েছে। তারা সালাফদের আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তাই তাদের কাছে ইমাম মালিকের ফিকহ পৌঁছানোর পাশাপাশি তার আকিদাও পৌঁছেছিল। একইভাবে তাদের কাছে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের আকিদাও পৌঁছেছিল; যা সুদূর ও নিকট মাগরিবে প্রবেশ করিয়েছেন আন্দালুসের প্রধান বিচারপতি আসলাম বিন আব্দুল আজিজ। তিনি সফর করেছিলেন এবং ইমাম আহমাদের শাগরেদ ও ইমাম শাফিয়ির শাগরেদদের—যেমন মুজানি, রাবি, ইউনুস বিন আব্দুল আলা এবং অন্যদের—সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। যেমনটি মুহাম্মদ বিন হারিস আল-খুশানি আল-কায়রাওয়ানি তার 'আখবারুল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসিনা বিল আন্দালুস' গ্রন্থে আসলামের বর্ণনা ও সনদে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের আকিদাটি উদ্ধৃত করেছেন। সেখানে আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত তাঁর আকিদা বর্ণিত হয়েছে; যেমন আরশের ওপর উঠা, আল্লাহর কালাম, তাঁর উচ্চতা, তাঁর সাথে থাকা (মায়িয়্যাহ) এবং ঈমান ও পুনরুত্থান বিষয়ক মাসআলাসমূহ। ইমাম ইবনে হাম্বলের সেই আকিদা বর্ণনাকারী এই ইবনে হারিসই হলেন ইবনে আবি জাইদ আল-কায়রাওয়ানির উস্তাদ।
দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে মাগরিবের আলেমদের মধ্যে মুতাজিলা মতবাদ বিস্তৃত ছিল না যে তারা এর জন্য মজলিস কায়েম করবেন কিংবা এই বিষয়ে কিতাব রচনা করবেন। ফলে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يَتَبَنَّهُ عالمٌ معتَبَرٌ، ولا رأسٌ في الشريعة؛ وهذا في المغربِ عامَّةً الأقصى والأدنى، وخاصَّةً مِن المالكيَّةِ أتباعِ مالكٍ، حتى قيلَ: "إنَّه لا يُوجَدُ مالكيٌّ معتزليٌّ إلا أبا إسحاقَ إبراهيمَ الغافقيَّ"؛ كما قاله أبو العبَّاسِ أحمَدُ المَقَّرِيُّ في "النَّفْح" (1).
وقد قال ابنُ حَزْمٍ في "رسائلِهِ" (2): "وأمَّا علمُ الكلامِ: فإنَّ بلادَنا وإنْ كانت لم تَتجاذَبْ فيها الخصوم، ولا اختَلَفَتْ فيها النِّحَل، فقَلَّ لذلك تصرُّفُهم في هذا البابِ؛ فهي على كلِّ حالٍ غيرُ عريَّةٍ عنه، وقد كان فيهم قومٌ يَذهَبُونَ إلى الاعتزال".
وبنحوِهِ قال ابنُ جُبَيْرٍ صاحبُ "الرِّحْلة" (3): أنَّ المغرِبَ على جادَّةٍ واضحة، لا بُنيَّاتِ لها، وليس فيه ما في الجهاتِ الشرقيَّةِ مِن أهواءٍ وبِدَعْ، وفرقٍ ضالَّةٍ وشِيَعْ.
*
وجودُ الاعتزالِ في المغرِبِ، وموقفُ العلماءِ منه:والاعتزالُ في المغرِبِ موجود، ووجودُهُ لا يعني أنَّ له شَوْكةً ورأسًا في علمٍ؛ كما قال ابنُ عبد البَرِّ فيهم: "لا يُعَدُّونَ عند الجميعِ في جميعِ الأمصارِ في طبقاتِ العلماء"؛ كما في كتابِه "الجامع" (4)، وقد كان العلماءُ لا يَرُدُّونَ عليهم بالتصنيفِ ردًّا ظاهِرًا؛ لأنهم لا يَعُدُّونَ خلافَهُمْ خلافًا؛ كما قاله ابن عبد البَرِّ في "الاستذكار" (5).
ووجودُهُمْ في تلك القرونِ في طبقتَيْن:
الطبقة الأُولى: حَمَلةٌ مِن العامَّةِ وأواسِطِ المتعلِّمينَ، لا يُنسَبُونَ إلى
--------------------------------------------
কোনো গ্রহণযোগ্য আলেম একে গ্রহণ করেননি, এবং শরিয়তের ক্ষেত্রে (তাদের) কোনো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব নেই; আর এটি সাধারণভাবে মাগরিবে—অقصى (দূরবর্তী) এবং أدنى (নিকটবর্তী)—উভয় অঞ্চলে প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে ইমাম মালিকের অনুসারী মালিকি মাযহাবের মধ্যে, এমনকি বলা হতো: "আবু ইসহাক ইবরাহিম আল-গাফেকি ছাড়া আর কোনো মুতাজিলি মালিকি পাওয়া যায় না"; যেমনটি আবুল আব্বাস আহমদ আল-মাক্কারি তাঁর "নাফহুত তীব" (১) গ্রন্থে বলেছেন।
ইবনে হাজম তাঁর "রাসায়েল" (২) গ্রন্থে বলেছেন: "আর ইলমুল কালামের ব্যাপারে কথা হলো: আমাদের ভূখণ্ডে যদিও বিরোধীরা একে অপরকে টানাহেঁচড়া করেনি এবং বিভিন্ন মতবাদ ও দলসমূহের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়নি, যার ফলে এই বিষয়ে তাদের পদচারণা কম ছিল; তবুও এটি সর্বাবস্থায় তা থেকে মুক্ত ছিল না। তাদের মধ্যে এমন একদল লোক ছিল যারা মুতাজিলা মতাদর্শ পোষণ করত।"
"রিহলা" (৩) গ্রন্থের লেখক ইবনে জুবায়র অনুরূপভাবে বলেছেন: মাগরিব অঞ্চল একটি সুস্পষ্ট সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত, যার কোনো শাখা-বিচ্যুতি নেই। পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোতে যে ধরনের খেয়ালখুশি, বিদআত, ভ্রান্ত ফেরকা ও শিয়া মতবাদ রয়েছে, এখানে তা নেই।
*
মাগরিবে মুতাজিলা মতবাদের অস্তিত্ব এবং এর প্রতি আলেমদের অবস্থান:মাগরিবে মুতাজিলা মতবাদ বিদ্যমান ছিল, তবে এর অস্তিত্বের অর্থ এই নয় যে, কোনো জ্ঞানে বা শাস্ত্রে তাদের কোনো শক্তি বা নেতৃত্ব ছিল; যেমনটি ইবনে আবদিল বার তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "সমস্ত জনপদে সকলের নিকট তারা আলেমদের স্তরে গণ্য হন না"; যেমনটি তাঁর "আল-জামে" (৪) গ্রন্থে উল্লেখ আছে। আর আলেমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে খণ্ডন করতেন না; কারণ তারা তাদের বিরোধিতাকে ধর্তব্য কোনো মতভেদ হিসেবেই গণ্য করতেন না; যেমনটি ইবনে আবদিল বার তাঁর "আল-ইস্তিজকার" (৫) গ্রন্থে বলেছেন।
সেই শতাব্দীগুলোতে তাদের অস্তিত্ব ছিল দুই স্তরে:
প্রথম স্তর: সাধারণ জনগণ এবং মধ্যম সারির শিক্ষার্থীদের একটি অংশ, যারা কোনো (বিশেষ গুণের দিকে) সম্বন্ধযুক্ত নন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العلمِ بالشريعةِ والفهمِ فيها؛ وهذا وُجِدَ في أوَّلِ ظهورِ الاعتزالِ في المشرِقِ؛ فقد ارتحَلَ بعضُ أصحابِ واصلِ بنِ عَطَاءٍ إلى المغرِبِ؛ كعبدِ اللهِ بنِ الحارِث، وتأثَّر بهم بعضُ عَوَامِّ المَغرِبِ وجُهَّالِهم؛ خاصَّةً مِن البَرْبَرِ في تَاهَرْتَ في المغربِ الأوسَطِ الجزائرِ اليومَ.
الطبقة الثانية: بعضُ أمراءِ المغرِبِ؛ ككثيرٍ مِن الأَغَالِبةِ؛ فقد كانوا على الاعتزالِ؛ اقتداءً ببعضِ أمراءِ المشرِقِ مِن بني العبَّاسِ؛ كالمأمونِ، والمعتصِمِ، والواثِقِ، وبعضِ قُضَاتِهم؛ وذلك لِمَا جعَلَهُ اللهُ مِن تأثُّرِ النفوسِ بالعِلْيةِ والكُبَراءِ؛ فيَقتدِي الأدنى بالأعلى فيُحاكِيهِ، فحاكى بعضُ أمراءِ المغرِبِ أمراءَ المشرِقِ، وحاكى بعضُ قضاةِ المغرِبِ قضاةَ المشرِقِ؛ فحمَلَ بعضُ أُمَراءِ الأَغَالِبةِ -وهم أولادُ الأَغْلَبِ بنِ سالِمٍ التميميِّ، قائدِ بني العبَّاسِ في غزوِ المغربِ- الناسَ على الاعتزالِ؛ كمحمَّدٍ وأحمدَ ابنَيِ الأغلب، ومِن القضاةِ والمنسوبينَ إلى العلمِ المغاربةِ: ابنُ أبي الجَوَّادِ، ومحمَّدُ بن الأسوَدِ الصَّدِّينِيُّ، وسُلَيْمانُ بن عُمَرَ العِرَاقيُّ القَيْرَوانيُّ، ومِن أشهَرِهم: سُلَيْمانُ بن أبي عصفورٍ الحنفيُّ شيخُ الاعتزالِ بالقيروانِ، ويُعرَفُ بالفَرَّاء؛ فقد كتَبَ في خَلقِ القرآنِ، وكان مقامُهُ قريبًا مِن مقامِ بِشْرٍ المَرِيسِيِّ عندَ المشارِقةِ؛ فهو مِن أصحابِ بِشْرٍ، وأبي الهُذَيْلِ، ومِن الراحِلِينَ إليهم.
وقد امتُحِنَ في المغربِ العلماءُ والعامَّةُ؛ كسُحْنُونِ بنِ سعيدٍ، وموسى بنِ معاويةَ، وكان سُحْنُونُ بن سعيدٍ عصريًّا لأحمدَ بنِ حنبلٍ، وقام وثبَتَ في فتنةِ خلقِ القرآنِ في المغرِبِ؛ كما قام ابنُ حنبلٍ وثبَتَ في المشرِق.
وكان العلماءُ والعامَّةُ يهجُرُونَ أهلَ الكلامِ ومَن يقولُ بقولهم؛ فقد
শরিয়তের জ্ঞান এবং এতে গভীর বুঝ; এটি প্রাচ্যে মুতাজিলা মতবাদের শুরুর দিকে দেখা গিয়েছিল। ওয়াসিল ইবনে আতার কিছু সঙ্গী মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চল) দিকে সফর করেছিলেন; যেমন আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস। মাগরিবের কিছু সাধারণ ও অজ্ঞ মানুষ তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল; বিশেষ করে মধ্য মাগরিবের (বর্তমান আলজেরিয়া) তাহেরত অঞ্চলের বারবারদের মধ্যে।
দ্বিতীয় স্তর: মাগরিবের কিছু আমির বা শাসক; যেমন আগলাবি বংশীয় অনেকেই। তারা মুতাজিলা মতবাদের ওপর ছিলেন; প্রাচ্যের আব্বাসীয় বংশীয় কিছু আমির যেমন আল-মামুন, আল-মুতাসিম ও আল-ওয়াসিকের এবং তাদের কিছু বিচারকের অনুসরণে। এটি একারণে যে, আল্লাহ মানুষের অন্তরের মধ্যে প্রভাবশালীদের এবং বড়দের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার স্বভাব নিহিত রেখেছেন; ফলে নিম্নস্তরের লোক উচ্চস্তরের লোকের অনুসরণ ও অনুকরণ করে। তাই মাগরিবের কিছু আমির প্রাচ্যের আমিরদের অনুকরণ করেছিলেন এবং মাগরিবের কিছু বিচারক প্রাচ্যের বিচারকদের অনুকরণ করেছিলেন। মাগরিব বিজয়ে আব্বাসীয় সেনাপতি আল-আগলাব ইবনে সালিম আত-তামিমির বংশধর—আগলাবি আমিরদের কেউ কেউ মানুষকে মুতাজিলা মতবাদ গ্রহণে বাধ্য করেছিলেন; যেমন আল-আগলাবের দুই পুত্র মুহাম্মদ ও আহমদ। মাগরিবের বিচারক এবং ইলমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন: ইবনে আবিল জাওয়াদ, মুহাম্মদ ইবনুল আসওয়াদ আস-সাদ্দিনী এবং সুলাইমান ইবনে উমর আল-ইরাকি আল-কায়রাওয়ানি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন: সুলাইমান ইবনে আবি আসফুর আল-হানাফি, যিনি কায়রাওয়ানের মুতাজিলা মতবাদের শায়খ ছিলেন এবং আল-ফাররা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কুরআন সৃষ্টির মতবাদ বিষয়ে গ্রন্থ লিখেছিলেন। প্রাচ্যের লোকদের কাছে বিশর আল-মারিসির যে অবস্থান ছিল, তার অবস্থান ছিল অনেকটা তার কাছাকাছি; তিনি বিশর ও আবুল হুযাইলের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের কাছে সফরকারীদের একজন ছিলেন।
মাগরিবে আলেমগণ ও সাধারণ জনগণ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন; যেমন সুহনুন ইবনে সাঈদ এবং মুসা ইবনে মুয়াবিয়া। সুহনুন ইবনে সাঈদ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি মাগরিবে কুরআন সৃষ্টির ফিতনায় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অটল ছিলেন; ঠিক যেমন ইবনে হাম্বল প্রাচ্যে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অটল ছিলেন।
আলেমগণ ও সাধারণ মানুষ ইলমে কালামের অনুসারী এবং যারা তাদের মত পোষণ করত তাদেরকে বর্জন করতেন; কেননা...
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كان بُهْلُولُ بنُ راشدٍ، وسُحْنُونُ بنُ سعيدٍ، وعليُّ بنُ زيادٍ: لا يسلِّمون عليهم، وكان سُحْنُونُ بنُ سعيدٍ لا يصلِّي خَلْفَهم، بل كان عبدُ اللهِ بنُ فَرُّوخٍ، وابنُ غانمٍ، وبُهْلُولُ بنُ راشدٍ، لا يصلُّون على جَنائِزِهم، وقد حكى بعضُ علماءِ المغربِ اتفاقَ علماءِ السُّنَّةِ المغارِبةِ على أنه لا تجوزُ الصلاةُ على مَن يَدِينُ بالاعتزالِ.
*
بدايةُ رَدِّ المغاربةِ على المشارِقةِ في الفروعِ لا في الأصول:والمذاهِبُ الفقهية -ومنها: المذاهِبُ الأربعةُ المشهورة- مذاهِبُ فقهيَّة، وليست طُرُقًا عَقَدِيَّة؛ فليس كلُّ مَن انتسَبَ إلى إمامٍ في الفروع، فهو على طريقتِهِ في الاعتقاد، ولا يُنسَبُ للإمامِ اعتقادٌ قرَّره بعضُ أتباعِهِ في الفروع.
ومَن نظَرَ في كثيرٍ مِن رؤوسِ الاعتزالِ، وجَدَهم حنفيَّةً في الفروعِ، وأبو حنيفةَ بريءٌ مِنِ اعتزالهم، وهكذا في بعضِ مَن ينتسِبُ لمالكٍ والشافعيِّ وأحمدَ؛ فتؤخَذُ مذاهبُ الفروعِ بمأخَذٍ غيرِ طرائقِ العقائد.
ولم تَظهَرِ الأهواءُ في المغربِ منتظِمةً مبكِّرةً؛ كما ظهَرَتْ في المشرِقِ والعراقِ والشامِ، وقد كانت غايةُ البدعِ الكلاميَّةِ يَحمِلُها أفرادٌ، وربَّما يتهيَّبون من الدعوةِ إليها والكتابةِ بها، وكان عامَّةُ ردودِ المغارِبةِ ومناظراتُهم في القرنِ الثالثِ والرابعِ -خاصَّةً المالكيَّةَ- في الفروعِ، ودفاعًا عن مالكٍ ومذهبِهِ مِن ردودِ بعضِ المشارِقةِ وغيرِهم عليه؛ خاصَّةً مِن أبي حنيفةَ والشافعيِّ وأصحابِهما، وخاصَّةً في كتابِ محمَّد بن الحسَن "الحُجَّةِ على أهلِ المدينة"، وكتابِ الشافعيِّ "اختلافِ مالك"، وغيرِهما.
وقد رَدَّ جماعةٌ مِن المغارِبةِ على الشافعيِّ، منهم: محمَّدُ بنُ سُحْنُونٍ في كتابِهِ "الجوابَات"، ويحيى بن عُمَرَ الكِنَانيُّ الأندلسيُّ
বুহলুল ইবনে রাশিদ, সুহনুন ইবনে সাঈদ এবং আলী ইবনে যিয়াদ তাদের সালাম দিতেন না। সুহনুন ইবনে সাঈদ তাদের পিছনে সালাত আদায় করতেন না। বরং আবদুল্লাহ ইবনে ফাররূখ, ইবনে গানিম এবং বুহলুল ইবনে রাশিদ তাদের জানাযার সালাতও পড়তেন না। মাগরিবের (উত্তর আফ্রিকা) কিছু আলেম মাগরিবের সুন্নী আলেমদের এই ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, যারা মু'তাযিলা মতবাদে বিশ্বাসী তাদের ওপর জানাযার সালাত পড়া জায়েজ নেই।
*
শাখা-প্রশাখায় প্রাচ্যবাসীদের প্রতি মাগরিববাসীদের আপত্তির সূচনা, মূলনীতিতে নয়:ফেকহী মাযহাবসমূহ - যার মধ্যে প্রসিদ্ধ চারটি মাযহাবও অন্তর্ভুক্ত - সেগুলো হলো ফেকহী মাযহাব, কোনো আকিদাগত পথ বা পদ্ধতি নয়। সুতরাং শাখা-প্রশাখায় কোনো ইমামের অনুসারী হওয়া মানেই তিনি আকিদার ক্ষেত্রেও সেই ইমামের পদ্ধতিতে আছেন এমনটি নয়। আর ইমামের দিকে এমন কোনো আকিদা সম্বন্ধ করাও ঠিক নয় যা শাখা-প্রশাখায় তার কিছু অনুসারী স্থির করেছে।
কেউ যদি মু'তাযিলাদের অনেক প্রধানের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে তিনি দেখবেন যে তারা শাখা-প্রশাখায় হানাফী ছিলেন, অথচ ইমাম আবু হানিফা তাদের মু'তাযিলা মতবাদ থেকে মুক্ত। একইভাবে মালিক, শাফেয়ী এবং আহমাদ (রহ.)-এর অনুসারীদের মধ্যেও এমনটি দেখা যায়। তাই শাখা-প্রশাখার মাযহাবগুলোকে আকিদার পদ্ধতির বাইরে ভিন্নভাবে গ্রহণ করতে হবে।
মাগরিবে ভ্রান্ত মতবাদসমূহ প্রাচ্য, ইরাক এবং শামের মতো প্রথম দিকে সুসংগঠিতভাবে প্রকাশ পায়নি। কালামী বিদআতের চরম পর্যায়গুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল; তারা সম্ভবত সেদিকে দাওয়াত দিতে বা তা লিখতে সংকুচিত বোধ করত। তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে মাগরিবের আলেমদের - বিশেষ করে মালিকী আলেমদের - অধিকাংশ খণ্ডন এবং বিতর্ক ছিল শাখা-প্রশাখার (ফুরু) বিষয়ে। তারা ইমাম মালিক ও তাঁর মাযহাবের ওপর প্রাচ্যবাসী ও অন্যদের আপত্তির জবাবে প্রতিরক্ষা করেছিলেন; বিশেষ করে আবু হানিফা, শাফেয়ী এবং তাঁদের সঙ্গীদের থেকে আসা আপত্তির জবাবে। বিশেষ করে মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের "আল-হুজ্জাহ আলা আহলিল মদিনা" এবং শাফেয়ীর "ইখতিলাফে মালিক" ও অন্যান্য কিতাবের বিপরীতে।
মাগরিববাসীদের একটি জামাত ইমাম শাফেয়ীর রদ বা খণ্ডন করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে সুহনুন তাঁর "আল-জাওয়াবাত" কিতাবে এবং ইয়াহইয়া ইবনে উমর আল-কিনানী আল-আন্দালুসী।
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
القَيْرَوانيُّ في كتابِهِ "الحُجَّةِ في الردِّ على الشافعيِّ"، ورَدَّ على الشافعيِّ: يُوسُفُ المُغَامِيُّ الأندلسيُّ، وأبو عثمانَ سعيدٌ الحدَّاد، ورَدَّ محمَّدُ بن سُحْنُونٍ على أبي حنيفةَ وأصحابِهِ في كتابِهِ "الردِّ على أهلِ العراق".
وهذه الردودُ كلُّها في القرنِ الثالث.
وقد كانوا يَرُدُّونَ الاحتجاجَ بكتبِ داوُدَ الظاهِريِّ وأقوالِهِ قبلَ دخولِ بعض رجالِ المغربِ في مذهبِه، وقبلَ ولادةِ ابنِ حزمٍ، وأوَّلُ مَن أدخَلَ كتبَ داودَ الأَندَلُسَ تلامذتُهُ: عبدُ اللهِ بن قاسمِ بنِ هِلَالٍ القرطبيُّ، ومُنْذِرُ بن سَعيدٍ البَلُّوطيُّ، ثم أدخَلَ كتبَ داودَ مَغرِبَ إفريقيَّة: محمَّدُ بن خَيْرُونَ القيروانيُّ في "رحلتِهِ إلى العراق"، التي لَقِيَ فيها أصحابَ أحمَدَ، وابنِ مَعِينٍ، وابنِ المَدِينيِّ؛ وهو أوَّلُ مَن أدخَلَها القَيْرَوانَ؛ وهذا قبلَ ولادةِ ابنِ حَزْمٍ بنحوِ قَرْنٍ.
وقد تكلَّم أبو عُثْمانَ سعيدُ بن الحدَّادِ في مسألةٍ، فقيل له: إنَّ داودَ قال فيها كذا وكذا، فقال: "لو كان نَوْمِي كيَقَظةِ داودَ، ما تكلَّمْتُ في العِلْم" (1).
وابنُ الحدَّاد شيخُ شيوخِ ابنِ أبي زَيْد.
ورَدَّ ابنُ أبي زيدٍ نفسُهُ على الظاهريَّةِ وخلافِهم لمالكٍ في كتابِهِ "الذَّبِّ عن مذهبِ مالك"، وكان كتابُهُ ردًّا على كتابٍ لأحدِ الظاهريَّةِ سمَّاه: "التنبيهَ والبيانَ، عن مسائلَ اختلَفَ فيها مالكٌ والشافعيُّ"؛ حيثُ ذكَرَ صاحبُ "التنبيهِ" مخالَفةَ مالكٍ للسُّنَّةِ في بعضِ أصولِ فقهِهِ، وسبعًا وثلاثينَ مسألةً مِن فروعِه، وكان المَغارِبةُ يسمُّونَ داودَ بالقِيَاسيِّ؛ لأنه ينفي القياسَ.
--------------------------------------------
আল-কায়রাওয়ানি তাঁর ‘আল-হুজ্জাহ ফির-রাদ্দি আলাশ-শাফিয়ি’ গ্রন্থে শাফিয়ির প্রতিবাদ করেছেন; এছাড়াও শাফিয়ির প্রতিবাদ করেছেন: ইউসুফ আল-মুগামি আল-আন্দালুসি এবং আবু উসমান সাইদ আল-হাদ্দাদ। আর মুহাম্মদ বিন সুহনুন তাঁর ‘আর-রাদ্দু আলা আহলিল ইরাক’ গ্রন্থে আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের প্রতিবাদ করেছেন।
এই সকল প্রতিবাদ বা খণ্ডনমূলক কাজ ছিল তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে।
মাগরিবের (উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুস) কিছু ব্যক্তি দাউদ জাহিরির মাজহাবে দীক্ষিত হওয়ার পূর্বে এবং ইবনে হাজমের জন্মের আগেই তাঁরা দাউদ জাহিরির কিতাব ও তাঁর বক্তব্য দ্বারা দলিল পেশ করাকে প্রত্যাখ্যান করতেন। আন্দালুসে দাউদের কিতাবসমূহ সর্বপ্রথম তাঁর ছাত্ররা নিয়ে আসেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ বিন কাসিম বিন হিলাল আল-কুরতুবি এবং মুনজির বিন সাইদ আল-বাল্লুতি। এরপর দাউদের কিতাবসমূহ ইফরীকিয়্যাহর মাগরিব অঞ্চলে নিয়ে আসেন মুহাম্মদ বিন খাইরুন আল-কায়রাওয়ানি তাঁর ‘ইরাক সফর’ (রিহলাহ ইলাল ইরাক) এর মাধ্যমে; যেখানে তিনি আহমাদ, ইবনে মায়িন ও ইবনুল মাদিনির অনুসারীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই কিতাবগুলো কায়রাওয়ানে নিয়ে আসেন; আর এটি ছিল ইবনে হাজমের জন্মের প্রায় এক শতাব্দী আগের ঘটনা।
আবু উসমান সাইদ বিন আল-হাদ্দাদ একটি মাসয়ালা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: দাউদ এই বিষয়ে এমন এমন বলেছেন। তিনি উত্তর দিলেন: "আমার ঘুম যদি দাউদের জাগরণ সদৃশ হতো, তবে আমি ইলম (জ্ঞান) নিয়ে কথাই বলতাম না" (১)।
আর ইবনুল হাদ্দাদ ছিলেন ইবনে আবি যাইদের শাইখদের শাইখ।
ইবনে আবি যাইদ নিজেও তাঁর ‘আয-যাব্বু আন মাজহাবি মালিক’ গ্রন্থে জাহিরি সম্প্রদায় এবং ইমাম মালিকের সাথে তাদের বিরোধের প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর এই গ্রন্থটি মূলত জাহিরি মতাদলম্বী এক ব্যক্তির একটি কিতাবের প্রতিবাদে লেখা হয়েছিল যার নাম ছিল: ‘আত-তানবিহু ওয়াল বায়ান, আন মাসায়িলা ইখতালাফা ফিহা মালিকুন ওয়াশ-শাফিয়ি’। উক্ত কিতাবের লেখক ইমাম মালিকের কতিপয় উসুলে ফিকহ এবং সাঁইত্রিশটি ফুরুয়ি (শাখা) মাসয়ালার ক্ষেত্রে সুন্নাহর বিরোধিতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। মাগরিবের উলামাগণ দাউদকে ‘কিয়াসি’ (কিয়াসপন্থী) বলে ডাকতেন; কারণ তিনি কিয়াসকে অস্বীকার করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وإنَّما قَوِيَتْ شوكةُ أهلِ الظاهِرِ في المَغرِبِ الأقصى بعدَ ابنِ حزمٍ، وانتشَرَ مذهبُهُمْ حتى القرنِ السابعِ؛ فضَعُفُوا حتى كأنْ لم يكنْ لهم فيها أثَرٌ.
وكتبُ الأئمَّةِ المشارِقةِ السابِقِينَ في العقائدِ معروفةٌ، ولم يكنْ أهلُ المغربِ يَرُدُّونَ على شيءٍ منها، ومِن ذلك: كتبُ أبي جعفرٍ الطَّحَاويِّ الحَنَفيِّ؛ فقد كتَبَ رسالتَهُ في "معتَقَدِهِ ومعتَقَدِ أئمَّةِ مذهبِهِ أبي حنيفةَ وأصحابِه"، وكتَبَ في فروعِهم وأدلَّتِها: "مُشكِلَ الآثار"، و"معانيَ الآثار"، وغيرَهما.
ولم يَرُدَّ عليه المالكيُّونَ إلا في الفروعِ؛ كما رَدَّ عليه شيخُ ابنِ أبي زيدٍ القَيْرَوانيِّ: أبو الفضلِ العبَّاسُ المُمْسِيُّ في تحريمِ المُسكِرِ.
وكثرةُ ردودِهم في الفروعِ في تلك الطَّبَقةِ دليلُ اتفاقِهم في الأصول؛ فإنَّهم لم يكونوا يَختَلِفونَ مع الشافعيِّ ولا أصحابِهِ في عقائِدِهم، ولا لهم في القرنِ الثالثِ كبيرُ شيءٍ مِن كتبٍ في أصولِ الدِّينِ؛ لاستقرارِ الأمرِ على السُّنَّة، وجَرَيانِهِ على الفِطْرة.
*
أسبابُ تأخُّرِ ذيوعِ علمِ الكلامِ في المَغرِب:وقد كان ما بين المَشرِقِ والمَغرِبِ مِن البلدانِ -كجزيرةِ العرَبِ وما علاها مِن علماءِ العراقِ والشامِ- حائلًا عن وصولِ علمِ الفلسفةِ والكلامِ إلى المغربِ؛ فشَغَلُوا فلاسفةَ المشرقِ الأقصى ومتكلِّميهم بالردِّ والنقضِ والتحذيرِ، ونازَعُوهم بالحُجَّةِ والبرهانِ؛ فحُبِسَتْ تلك البدعةُ في العراقِ والشامِ، ولم تَنتقِلْ إلى المغربِ إلا بعدَ نحوِ مِئَتَيْ سَنَةٍ مِن ظهورِها في المشرِقِ؛ على يَدِ الجَعْدِ بنِ دِرْهَمٍ، فالجهمِ بنِ صَفْوانَ، فبِشْرٍ المَرِيسِيِّ، فأحمدَ بنِ أبي دُؤَادٍ، وطَبَقَتِهم وأصحابِهم مِن المعتزِلة، وكذلك: مَن
ইবনে হাজমের পরে সুদূর মাগরিবে আহলে জাহেরদের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত তাদের মাযহাব বিস্তৃত থাকে; এরপর তারা দুর্বল হয়ে পড়ে, এমনকি মনে হচ্ছিল সেখানে তাদের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই।
আকিদা বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রাচ্যদেশীয় ইমামদের গ্রন্থসমূহ সুপরিচিত ছিল এবং মাগরিববাসীরা এগুলোর কোনোটির প্রতিবাদ করত না। এর মধ্যে ইমাম আবু জাফর তাহাবি হানাফীর গ্রন্থসমূহ অন্যতম; তিনি তাঁর নিজের এবং তাঁর মাযহাবের ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের আকিদা বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেন। এছাড়া ফিকহী মাসআলা ও তাঁর দলিলের ওপর তিনি 'মুশকিলুল আসার', 'মাআনিল আসার' এবং আরও অন্যান্য কিতাব রচনা করেন।
মালেকীগণ ফিকহী শাখা-প্রশাখা ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে তাঁর প্রতিবাদ করেননি; যেমন ইবনে আবি যায়িদ আল-কায়রাওয়ানির উস্তাদ আবুল ফজল আব্বাস আল-মুমসী মাদকদ্রব্য হারামের মাসআলায় তাঁর প্রতিবাদ করেছিলেন।
ঐ স্তরে ফিকহী মাসআলায় তাদের প্রচুর প্রতিবাদের বিষয়টি মূলত মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে তাদের ঐকমত্যেরই প্রমাণ; কেননা আকিদার বিষয়ে তাঁরা ইমাম শাফেয়ী কিংবা তাঁর সাথীদের সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন না। তৃতীয় শতাব্দীতে উসুলুদ্দীন বা আকিদা বিষয়ে তাঁদের তেমন কোনো কিতাবও ছিল না; কারণ তখন বিষয়টি সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং স্বভাবজাত ফিতরা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল।
মাগরিবে ইলমুল কালামের প্রচার বিলম্বিত হওয়ার কারণসমূহ:প্রাচ্য ও মাগরিবের মধ্যবর্তী দেশগুলো—যেমন আরব উপদ্বীপ এবং তার উত্তর দিকের ইরাক ও শামের উলামায়ে কেরাম—মাগরিবে দর্শন ও ইলমুল কালাম পৌঁছানোর পথে অন্তরায় হিসেবে ছিলেন। তাঁরা দূর প্রাচ্যের দার্শনিক ও কালামবিদদেরকে রদ, খণ্ডন এবং সতর্কীকরণের কাজে ব্যস্ত রেখেছিলেন এবং দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তাঁদের সাথে বিতর্ক চালিয়েছিলেন। ফলে সেই বিদআতগুলো ইরাক ও শামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল এবং প্রাচ্যে এর উদ্ভবের প্রায় দুইশ বছর না হওয়া পর্যন্ত তা মাগরিবে স্থানান্তরিত হতে পারেনি। প্রাচ্যে এই ধারার সূচনা হয়েছিল জা'দ বিন দিরহাম, এরপর জাহম বিন সাফওয়ান, তারপর বিশর আল-মারীসি, এরপর আহমাদ বিন আবি দুয়াদ এবং তাদের সমপর্যায়ের মুতাযিলা ও তাদের সাথীদের হাত ধরে। একইভাবে যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أخَذَ بعلمِ الكلامِ ممَّن لم يَجْرِ مجرى المعتزِلةِ، وإنَّما رَدَّ عليهم؛ كأبي الحسَنِ الأشعريِّ، فضلًا عن الفلاسفةِ المشَّائِينَ وأشباهِهم مِن المَشارِقةِ؛ كيعقوبَ بنِ إسحاقَ الكِندِيِّ.
وإنْ كان في المغرِبِ فلاسفةٌ؛ كابنِ مَسَرَّةَ الجبليِّ بقُرْطُبةَ مِن أتباعِ أَنْبَاذوقْلِيسَ أحدِ حُكَماءِ اليونانِ السَّبْعةِ، وكان يزعُمُ الانتسابَ إلى مذهبِ مالكٍ، واختصَرَ "المدوَّنة"، وكان يَحفَظُ مسائِلَها ويسرُدُها، وهو مِن فلاسفةِ المتصوِّفة، وتَبِعَهُ تلامذةٌ نُدْرةٌ على مذهَبِهِ؛ كمحمَّدٍ الخَوْلانيِّ ابنِ الإمام، وعبدِ العزيزِ بنِ حَكَمٍ، وكان الخليفةُ يَتتبَّعُ أتباعَهُ بالحَبْسِ والنفي.
وقد رَدَّ ابنُ أبي زَيْدٍ القَيْرَوانيُّ على ابنِ مَسَرَّةَ في كتابِه "الرَّدِّ على ابنِ مَسَرَّةَ المارقِ"، وبَقِيَ مذهبُ ابنِ مَسَرَّةَ في المغربِ، وهو الذي آلَ إليه ابنُ عَرَبيٍّ في القرنِ السادسِ بالأَندَلُس.
وكذلك: فإنَّ فيهم معتزِلةً قليلِينَ؛ كخليلِ بنِ عبد الملكِ بنِ كُلَيْبٍ القرطبيِّ، المعروفِ بخليلِ الغَفْلة، وقد شدَّد عليه جماعةٌ؛ كبَقِيِّ بنِ مَخْلَدٍ، وابنِ وضَّاح.
ومِن المعتزِلةِ: أبو طالبٍ شيخُ المعتزِلةِ ولسانُهم، وفيهم أهلُ خُرَافةٍ في الكَرَاماتِ؛ كأبي القاسمِ البَكْريِّ الصِّقِلِّيِّ القيروانيِّ، وقد رَدَّ عليه ابنُ أبي زَيْدٍ بكتابِهِ: "الرَّدِّ على البَكْريَّة".
وليس لهؤلاءِ المبتدِعةِ كُتُبٌ، وإنما هي أقوالٌ تفوَّهوا بها.
وقد كتَبَ ابنُ أبي زيدٍ القَيْرَوانيُّ إلى الباقلَّانيِّ -مع كونِ ابنِ أبي زيدٍ أسَنَّ منه- يسألُهُ عن الكَرَاماتِ لِعِلْمِهِ بأقوالِ المعتزِلة، وردِّه عليهم؛ حيث نُسِبَ ابنُ أبي زَيْدٍ في "ردِّه على البَكْريِّ" بمشابَهةِ قولِ المعتزِلةِ
তিনি ইলমে কালাম গ্রহণ করেছিলেন এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকে যারা মুতাযিলাদের পথে চলতেন না, বরং তাদের খণ্ডন করতেন; যেমন আবুল হাসান আল-আশআরী। এছাড়াও তিনি প্রাচ্যের পেরিপেটেটিক (মাশশায়ী) দার্শনিক ও তাদের সমগোত্রীয়দের থেকে ইলমে কালাম গ্রহণ করেছিলেন; যেমন ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-কিন্দি।
যদিও পশ্চিমে (মাগরিব) দার্শনিক ছিলেন; যেমন কর্ডোভার ইবনে মাসাররাহ আল-জাবালি, যিনি গ্রিসের সাতজন জ্ঞানীর একজন এম্পেডোক্লিসের (আম্বাযুক্লিস) অনুসারী ছিলেন। তিনি মালেকী মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ততার দাবি করতেন এবং 'আল-মুদাওওয়ানা'র সংক্ষেপন করেছিলেন; তিনি এর মাসআলাগুলো মুখস্থ রাখতেন এবং সাবলীলভাবে বর্ণনা করতেন। তিনি সুফি দার্শনিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্র তার মতাদর্শ অনুসরণ করত; যেমন ইবনুল ইমাম মুহাম্মাদ আল-খাওলানী এবং আব্দুল আযীয ইবনে হাকাম। খলিফা তার অনুসারীদের কারারুদ্ধ ও নির্বাসিত করার মাধ্যমে তাদের পিছু নিতেন।
ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী তার 'আর-রাদ্দু আলা ইবনি মাসাররাহ আল-মারিক' (ধর্মত্যাগী ইবনে মাসাররাহর খণ্ডন) গ্রন্থে ইবনে মাসাররাহর প্রতিবাদ করেছেন। মাগরিবে ইবনে মাসাররাহর মতবাদ টিকে ছিল এবং এটিই ষষ্ঠ শতাব্দীতে আন্দালুসে ইবনে আরাবি পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
অনুরূপভাবে, তাদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক মুতাযিলাও ছিল; যেমন খলিল ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে কুলাইব আল-কুরতুবী, যিনি 'খলিল আল-গাফলা' নামে পরিচিত ছিলেন। বাকী ইবনে মাখলাদ এবং ইবনে ওয়াদদাহর মতো একদল আলেম তার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।
মুতাযিলাদের মধ্যে ছিলেন আবু তালিব, যিনি মুতাযিলাদের শায়খ ও মুখপাত্র ছিলেন। আবার তাদের মধ্যে অলৌকিকতা বা কারামতের বিষয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকও ছিল; যেমন আবুল কাসিম আল-বাকরী আস-সিকিল্লী আল-কায়রাওয়ানী। ইবনে আবি যায়েদ তার 'আর-রাদ্দু আলাল বাকারিয়্যাহ' গ্রন্থের মাধ্যমে তার প্রতিবাদ করেছিলেন।
এই বিদআতিদের কোনো কিতাব নেই, বরং এগুলো কেবলই তাদের মুখনিসৃত কিছু কথা।
ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী আল-বাকিলানীর কাছে চিঠি লিখেছিলেন—যদ্যপি ইবনে আবি যায়েদ বয়সে তাঁর জ্যেষ্ঠ ছিলেন—যাতে তিনি তাঁর নিকট কারামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। এর কারণ ছিল মুতাযিলাদের বক্তব্য সম্পর্কে বাকিলানীর জ্ঞান এবং তাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ; যেহেতু ইবনে আবি যায়েদকে তাঁর 'আল-বাকরীর খণ্ডন' গ্রন্থে মুতাযিলাদের বক্তব্যের সাদৃশ্য অবলম্বনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মাগরিবিয়্যাহ ফী শারহিল আকিদাতিল কাইরাওয়ানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بنفيِ الكَرامَات؛ فانتصَرَ الباقِلَّانيُّ لابنِ أبي زيدٍ، وبيَّن قولَهُ (1)؛ وقد قال في ابنِ أبي زيدٍ: "شَيْخُنا" (2).
*
أسبابُ انتشارِ علمِ الكلامِ في المَغرِب:وقد كانت غالبُ البِدَعِ الكلاميَّةِ في المغربِ يَحمِلُها أفرادٌ، وربَّما يَتهيَّبونَ الدعوةَ إليها، والكتابةَ بها، حتى إذا كان القرنُ الرابعُ والخامسُ، حمَلَها بعضُ المَغارِبةِ إلى بُلْدانِهم مِن بعضِ شيوخِ المَشرِق، وبدَأَ الخوضُ في الكلامِ والفلسفةِ، وبدَأَتْ رياحُ المشرِقِ الكلاميَّةُ تصلُ وتؤثِّرُ في المغرِبِ، بأسبابٍ ثلاثةٍ:
أوَّلُها: ارتحالُ المَغارِبةِ إلى المشرقِ الأدنى والأقصى، والأخذُ والسماعُ مِن عُلَمائِها؛ فسَمِعُوا منهم القرآنَ والسُّنَّةَ والأثَرَ، والفقهَ والكلامَ، ورحَلَ فرَجُ بنُ سَلَّامٍ القرطبيُّ، ولَقِيَ الجاحظَ، وأخَذَ كُتُبَهُ، ورحَلَ عبدُ اللهِ بن مَسَرَّةَ بنِ نَجِيحٍ، وأبو بكرٍ يحيى بنُ السَّمِينة، وإبراهيمُ القَلَانِسِيُّ، ودَرَّاسُ بن إسماعيلَ؛ القيروانيُّونَ، وغيرُهم.
ولم يأخُذْ -فيما أعلَمُ- أحدٌ مِن أعيانِ المَغارِبةِ المعتَبَرِينَ مِن أبي الحسَنِ الأشعريِّ عِلْمَ الكلامِ مباشَرةً، وإنما كان هناك مَن التَقَى ببعضِ أصحابِهِ؛ كابنِ مجاهِدٍ الطائيِّ؛ فقد ارتحَلَ إلى العراقِ: أبو بكرٍ إسماعيلُ بن إسحاقَ بنِ عُذْرةَ، ومحمَّدُ بنُ خَلْدُونَ؛ وكلاهما مِن تلامذةِ ابنِ أبي زيدٍ القَيْرَوانيِّ، والتقيا ابنَ مجاهدٍ مِن جملةِ مَن التقياهُ بالعراق، وقد استجاز ابنُ مجاهِدٍ كتابَ "المختَصَر" لابنِ أبي زَيْدٍ القَيْرَوانيِّ، وأرسَلَ إليه مع تلاميذِهِ بذلك، ورحَلَ إلى المشرقِ: أبو بكر محمَّدُ بن مَوْهَبٍ، وهو جَدُّ أبي الوليدِ الباجيِّ، وحَكَمُ بن مُنذِرٍ البَلُّوطِيُّ.
--------------------------------------------
কারামত অস্বীকার করার মাধ্যমে; ফলে বাকিল্লানি ইবনে আবি যায়িদের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং তাঁর বক্তব্য ব্যাখ্যা করেন (১); আর তিনি ইবনে আবি যায়িদ সম্পর্কে বলেছেন: "আমাদের শাইখ" (২)।
*
মাগরিবে ইলমুল কালাম প্রসারের কারণসমূহ:মাগরিবে কালাম শাস্ত্রীয় বিদআতের অধিকাংশ ছিল বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাহিত, সম্ভবত তারা এর দিকে দাওয়াত দিতে এবং তা লিখে প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করতেন। অবশেষে যখন চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দী এল, তখন কিছু মাগরিববাসী প্রাচ্যের কিছু শাইখদের নিকট থেকে তা তাঁদের দেশে বহন করে আনলেন। এভাবে কালাম শাস্ত্র ও দর্শনে মগ্নতা শুরু হয় এবং তিনটি কারণে প্রাচ্যের কালাম শাস্ত্রীয় প্রভাব মাগরিবে পৌঁছাতে ও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে:
প্রথমত: মাগরিববাসীদের নিকটপ্রাচ্য ও দূরপ্রাচ্যে ভ্রমণ এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও শ্রবণ করা; তারা তাঁদের নিকট থেকে কুরআন, সুন্নাহ, আছার (সাহাবীদের বাণী), ফিকহ ও কালাম শাস্ত্র শ্রবণ করেন। ফারাজ বিন সাল্লাম আল-কুরতুবি সফর করেন এবং জাহিজের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর কিতাবগুলো সংগ্রহ করেন। এছাড়া আব্দুল্লাহ বিন মাসাররাহ বিন নাজিহ, আবু বকর ইয়াহইয়া বিন সামিনা, ইব্রাহিম আল-কালানিসি এবং দাররাস বিন ইসমাইল আল-কাইরাওয়ানি ও অন্যান্যরা সফর করেন।
আমার জানামতে, মাগরিবের নির্ভরযোগ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই সরাসরি আবুল হাসান আল-আশআরির নিকট থেকে ইলমুল কালাম গ্রহণ করেননি। তবে সেখানে এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন যারা তাঁর কিছু সঙ্গীর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যেমন ইবনে মুজাহিদ আত-তায়ি। ইরাকে সফর করেছিলেন: আবু বকর ইসমাইল বিন ইসহাক বিন উজরাহ এবং মুহাম্মদ বিন খালদুন; তাঁরা উভয়ই ইবনে আবি যায়িদ আল-কাইরাওয়ানির ছাত্র ছিলেন। তাঁরা ইরাকে যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন তাদের মধ্যে ইবনে মুজাহিদও ছিলেন। ইবনে মুজাহিদ ইবনে আবি যায়িদ আল-কাইরাওয়ানির 'আল-মুখতাসার' কিতাবটির ইজাজত (অনুমতি) চেয়েছিলেন এবং তাঁর ছাত্রদের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এছাড়া প্রাচ্যে সফর করেছিলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন মাওহাব, যিনি আবু ওয়ালিদ আল-বাজির দাদা ছিলেন এবং হাকাম বিন মুনজির আল-বাল্লুতি।
--------------------------------------------