(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: -)
ذخر المتأهلين والنساء للإمام البركوي   (البركوي)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: ذُخْرُ الْمُتَأَهِّلِينَ والنِّسَاء في تعريف الأطهار والدماء

المؤلف: محمد بن بير علي البِرْكِوِي (929 - 981 هـ).

وشرحه: "منهل الواردين من بحار الفيض على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض"

المؤلف: محمد أمين بن عمر الشهير بابن عابدين (1198 - 1252 هـ)

ويليهما: "إرشاد المكلفين إلى دقائق ذخر المتأهلين"

اعتنى به: هداية هارتفورد. أشرف منيب

قدَّمَ له: محمد هشام برهاني

الناشر: دار الفكر

أهداه للشاملة: محمد مهدي قشلان

عدد الصفحات: 486

تاريخ النشر بالشاملة: 27 شعبان 1441

ইমাম বিরগিভি রচিত বিবাহিত ও নারীদের পাথেয়   (আল-বিরগিভি)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


গ্রন্থ: পবিত্রতা ও রক্ত সম্পর্কিত সংজ্ঞায় বিবাহিত ও নারীদের পাথেয়

লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে পীর আলী আল-বিরগিভি (৯২৯ - ৯৮১ হিজরি)।

এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: "হায়েযের মাসায়েল সংক্রান্ত 'জুখরুল মুতাহহিলীন'-এর ওপর অনুগ্রহের সমুদ্র হতে আগতদের ঝরনাধারা"

লেখক: মুহাম্মাদ আমিন ইবনে উমর, যিনি ইবনে আবিদিন নামে পরিচিত (১১৯৮ - ১২৫২ হিজরি)

এবং এতদুভয়ের সাথে সংযুক্ত: "'জুখরুল মুতাহহিলীন'-এর সূক্ষ্ম বিষয়াবলীতে মুকাল্লাফদের দিকনির্দেশনা"

তদারকি ও সম্পাদনায়: হেদায়া হার্টফোর্ড। আশরাফ মুনীব

মুখবন্ধ লিখেছেন: মুহাম্মাদ হিশাম বুরহানী

প্রকাশক: দারুল ফিকর

শামিলা লাইব্রেরিতে উপহার দিয়েছেন: মুহাম্মাদ মাহদী কাশলান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৬

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ শাবান ১৪৪১

(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: -)
الكتاب: ذُخْرُ الْمُتَأَهِّلِينَ والنِّسَاء في تعريف الأطهار والدماء

المؤلف: للإمام محمد بن بير علي البِرْكِوِي (929 - 981 هـ).

وشرحه: "منهل الواردين من بحار الفيض على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض"

المؤلف: محمد أمين بن عمر الشهير بابن عابدين (1198 - 1252 هـ)

ويليهما: "إرشاد المكلفين إلى دقائق ذخر المتأهلين"

اعتنى به: هداية هارتفورد … أشرف منيب

قدَّمَ له: العلَّامة محمد هشام برهاني

الناشر: دار الفكر

اعتنى به ورفعه للشاملة: محمد مهدي قشلان
গ্রন্থ: পবিত্রতা ও রক্তস্রাব বর্ণনায় বিবাহিতদের পাথেয়

লেখক: ইমাম মুহাম্মাদ বিন পীর আলী আল-বিরকিভি (৯২৯ - ৯৮১ হিজরি)।

এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: "ঋতুস্রাব সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে 'জুখরুল মুতাআহহিলীন'-এর উপর ফয়যের সাগর হতে আগতদের ঝরনাধারা"

লেখক: মুহাম্মাদ আমীন বিন উমর, যিনি ইবনে আবিদীন নামে প্রসিদ্ধ (১১৯৮ - ১২৫২ হিজরি)

এবং এই দুটির সাথে রয়েছে: "জুখরুল মুতাআহহিলীন-এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহে শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের প্রতি দিকনির্দেশনা"

সম্পাদনায়: হেদায়া হার্টফোর্ড … আশরাফ মুনীব

ভূমিকা লিখেছেন: আল্লামা মুহাম্মাদ হিশাম বুরহানী

প্রকাশক: দারুল ফিকর

সম্পাদনা ও শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ মাহদী কাশলান
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: -)
‌‌عملنا في هذا الكتاب [للشاملة]

الحمدُ لله ربِّ العالمين، وأفضلُ الصلاة وأتمُّ التسليم على المبعوثِ رحمةً للعالمين، سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه ومَن اهتدى بهَديه واستنَّ بسُنَّتِه وأتباعه أجمعين.

أما بعد: فخدمةً للفقه الإسلامي، ونظراً لأهمية تَعلُّم أحكام الأطهار والدماء؛ لكونها من المسائل المتكرِّرَة في حياة كلِّ امرأةٍ، ولما يترتَّبُ عليها من أحكام مُهمَّةٍ في الصلاة والصوم والطلاق والعِدَّة، ونظراً لأهميةِ تسهيلِ الوصول لهذه الأحكام وتَعلُّمِها في ظلِّ انتشار الجهل بها والخطأ في تقديرها، لأجل ذلك كُلِّه قمنا بتوجيه الجهود إلى كتاب "ذخر المتأهلين والنساء في تعريف الأطهار والدماء" للإمام محمد بن بير علي البِرْكِوِي رحمه الله، الذي طبعته دارُ الفكر بدمشق سنةَ 1426 ه/2005 م بعناية هداية هارتفورد، وأشرف منيب، ومعه شرحه "منهل الواردين" لابن عابدين رحمه الله، ويليهما "إرشاد المكلفين إلى دقائق ذخر المتأهلين" لهداية هارتفورد، وأشرف منيب، وذلك لرفعه على الشاملة بعد خدمته خدمةً تليق به، وذلك من خلال النقاط الآتية:

1. كتابة نصِّ هذا الكتاب وما أُلحقَ به، ثم تدقيق ذلك كلِّه، واستدراك الأخطاء الإملائية والنحوية والمطبعية التي وردت في النسخة المطبوعة.

2. إضافة ما سقط من الكتاب في النسخة المطبوعة.

3. إضافة بعض علامات الترقيم، وتعديل بعضها الآخر؛ وذلك لمزيدِ إيضاحٍ، أو دفعِ لبسٍ أو اختلاط.

4. الترجمة للكتب والأعلام الذين لم يُترجم لهم أصحابُ هذا العمل المبارك لعدم اهتدائهم إليهم في تلك الآونة.

5. تحويل الجداول الواردة في آخر الكتاب إلى بيانات مكتوبة إتماماً للفائدة، وحرصاً على عدم ضياعها، وذلك لكونها لا تظهر على الشاملة مرسومة.

واللهَ نسألُ أن نكون قد وُفِّقنَا في خدمة هذا الكتاب خدمةً تليقُ به، وتُبرزه على النحو الأمثل، هذا ونسأله سبحانه أن يُعمِّمَ ويُديم النفعَ بهذا العمل، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، إنه وليُّ ذلك والقادرُ عليه، والحمد لله أولاً وآخراً.
এই কিতাবে আমাদের কাজ [শামেলা সংস্করণের জন্য]

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করেন ও সুন্নাহর ওপর অটল থাকেন তাদের সবার ওপর।

অতঃপর: ইসলামী ফিকহ-এর খিদমতের লক্ষ্যে এবং পবিত্রতা ও রক্ত সম্পর্কিত বিধিবিধান শেখার গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি রেখে; যেহেতু এগুলো প্রত্যেক নারীর জীবনে বারবার ঘটা একটি বিষয় এবং এর সাথে সালাত, সিয়াম, তালাক ও ইদ্দতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানাবলি জড়িত। সেই সাথে এই নিয়মগুলো সহজে জানা ও শেখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে, যখন এ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এর সঠিক নির্ণয়ে ভুল ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই সব কারণে আমরা ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে পীর আলী আল-বিরকিউই (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "জুখরুল মুতাহাহহিলিন ওয়ান নিসা ফি তারিফিল আতহার ওয়াদ দিমা" কিতাবটির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছি, যা ১৪২৬ হিজরী / ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কের দারুল ফিকর থেকে হিদায়াহ হার্টফোর্ড ও আশরাফ মুনীবের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছিল। এর সাথে ইবনে আবিদীন (রহিমাহুল্লাহ) রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "মানহালুল ওয়ারিদিন" এবং হিদায়াহ হার্টফোর্ড ও আশরাফ মুনীব রচিত "ইরশাদুল মুকাল্লাফিন ইলা দাকায়িকি জুখরিল মুতাহাহহিলিন" অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিতাবটিকে যথাযথ খিদমতের পর শামেলা লাইব্রেরিতে আপলোড করার উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে:

১. এই কিতাবের মূল পাঠ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট অংশগুলো লিখন বা টাইপ করা, অতঃপর সবটুকু যাচাই-বাছাই করা এবং মুদ্রিত কপিতে বিদ্যমান বানান, ব্যাকরণ ও মুদ্রণজনিত ত্রুটিসমূহ সংশোধন করা।

২. মুদ্রিত সংস্করণে কিতাবের যে অংশগুলো বাদ পড়েছিল তা সংযোজন করা।

৩. অধিকতর স্পষ্ট করার জন্য অথবা অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি দূর করার জন্য কিছু বিরামচিহ্ন যোগ করা এবং কিছু পরিবর্তন করা।

৪. সেই সকল কিতাব ও ব্যক্তিদের জীবনী প্রদান করা যাদের কথা এই বরকতময় কাজের পূর্ববর্তী সংকলকগণ সে সময়ে তথ্য না পাওয়ার কারণে উল্লেখ করতে পারেননি।

৫. কিতাবের শেষে থাকা ছকগুলোকে লিখিত তথ্যে রূপান্তর করা যাতে এর উপকারিতা পূর্ণ হয় এবং তথ্যগুলো হারিয়ে না যায়, কারণ শামেলা লাইব্রেরিতে ছকগুলো চিত্র আকারে প্রদর্শিত হয় না।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই কিতাবের যথাযথ খিদমত করতে আমরা সফল হই এবং একে সর্বোত্তম রূপে উপস্থাপন করতে পারি। সেই সাথে আমরা মহামহিম আল্লাহর কাছে এই কাজের মাধ্যমে ব্যাপক ও স্থায়ী উপকার প্রার্থনা করছি এবং একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করার আবেদন করছি। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর শুরু ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌إجازة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي قال في كتابه الكريم: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء}، والصلاة والسلام على سيدنا ورسولنا محمد الذي جعلَ العلماءَ ورثةَ الأنبياء، وعلى آله وصحبه الأصفياء.

وبعد:

فيقول العيد الضعيف "محمد أمين سراج" غفر الله له ولوالديه، ولأبنائه، ولتلامذته: لمَّا آنستُ من الأخ الكريم "أشرف أحمد منيب"، والأخت الفاضلة "هداية هارتفورد" الاستيعابَ والفهمَ الدقيق لكتاب "ذُخْر المُتَأَهِّلِينَ والنِّساءِ في تَعرِيفِ الأَطهَارِ والدِّمَاءِ" للإمام "محمد بن بير علي البِركوي" أحد كبار العلماء في الدولة العثمانية فقد أجزتُهُما بتدريس هذا الكتاب في أيِّ مكان، أو بلدٍ نزلَا، بالشروط المعتبرة عند العلماء، كما أجيزهما بما أجازني به شيوخي الأفاضل. ومنهم خاتمة العلماء في الدولة العثمانية، الشيخ محمد زاهد الكوثري.

هذا، وإني أوصيهما، ونفسيَ بتقوى الله في السرِّ والعَلَن، واتِّباعِ سنَّةِ نبيِّه الكريم صلى الله عليه وسلم، والتعليم لوجه الله تعالى مع الالتزام بعقيدة أهل السنة والجماعة. وأسألُ المولى العليَّ القدير أن يوفقني وإيَّاهما لخدمةِ دينه، ونشرِ سنَّة نبيِّه الكريم، ويغفر لي ولهما، ويحشرنا في زمرة العلماء الصالحين. والحمد لله ربِّ العالمين.

في 10/رجب الفرد/1425 ه

الشاهد الأول: عبد الرحمن أرجان البينصوي.

الشاهد الثاني: حمدي أرسلان.

 

محمد أمين سراج

المدرس في مسجد السلطان

محمد الفاتح بإسطنبول
অনুমতিপত্র (ইজাজাহ)

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই আল্লাহকে ভয় করে}। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও রাসূল মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি আলেমদের নবীদের উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত করেছেন, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও পুতঃপবিত্র সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর:

অসহায় বান্দা "মুহাম্মাদ আমিন সিরাজ"—আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, তাঁর সন্তানদের এবং তাঁর শিষ্যদের ক্ষমা করুন—বলছেন: যেহেতু আমি সম্মানিত ভাই "আশরাফ আহমদ মুনীব" এবং বিদুষী বোন "হেদায়া হার্টফোর্ড"-এর নিকট থেকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ইমাম "মুহাম্মাদ বিন পীর আলী আল-বিরকিবি" রচিত "যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা ফী তারিফিল আতহার ওয়াদ দিমা" (বিবাহিত ও নারীদের পবিত্রতা ও রক্ত বিষয়ক জ্ঞানকোষ) গ্রন্থটির গভীর আয়ত্ত ও সুক্ষ্ম অনুধাবন লক্ষ্য করেছি, তাই আমি তাঁদের উভয়কে আলেমদের নিকট স্বীকৃত শর্তাবলী অনুযায়ী যে কোনো স্থানে বা জনপদে এই কিতাবটি পাঠদানের অনুমতি প্রদান করলাম। অনুরূপভাবে আমি তাঁদের উভয়কে সেই সব বিষয়ের অনুমতি দিচ্ছি যেগুলোর অনুমতি আমার সম্মানিত উস্তাদগণ আমাকে দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ পর্যায়ের বিদগ্ধ আলেম শায়খ মুহাম্মাদ জাহিদ আল-কাওসারী।

পরন্তু, আমি তাঁদেরকে এবং নিজেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহভীতি অর্জনের, তাঁর সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুসরণের এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার ওপর অবিচল থেকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শিক্ষাদানের উপদেশ দিচ্ছি। আমি মহান পরাক্রমশালী রবের নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে এবং তাঁদের উভয়কে তাঁর দ্বীনের খেদমত করার এবং তাঁর সম্মানিত নবীর সুন্নাহ প্রচার করার তাওফীক দান করেন, আমাকে ও তাঁদেরকে ক্ষমা করেন এবং আমাদের পুণ্যবান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করে হাশরের ময়দানে সমবেত করেন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

১০ই রজবুল ফারদ, ১৪২৫ হিজরি।

প্রথম সাক্ষী: আব্দুর রহমান এরজান আল-বিনসাবী।

দ্বিতীয় সাক্ষী: হামদী আরসালান।

 

মুহাম্মাদ আমিন সিরাজ

ইস্তাম্বুলের সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ মসজিদের মুদাররিস (শিক্ষক)
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تقديم

فضيلة العلامة الشيخ

محمد هشام برهاني

حفظه الله تعالى

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاةُ والسلام على أشرفِ المرسلين المبعوثِ رحمةً للعالمين وعلى آله الأطهار، وأصحابه الأخيار الذين بلَّغوا الرسالة، وأدُّوا الأمانَة، ونصحوا الأُمَّة، وجاهدوا في الله حقَّ جهاده، وبعد:

فقد أكرمني المولى سبحانه بمعرفةِ الأخِ الفاضل الأستاذ أشرف منيب وزوجته العالمة الفاضلة السيدة هداية هارتفورد، وعرفت فيهما الاهتمام العلمي، والتحريات الدائمة الدقيقة لمسائل الفقه وموضوعاته المختلفة، وبخاصَّة فقه الجاليات الإسلامية في ديار الغرب، ولا أُزكِّيهما على الله فهو سبحانه حسيبهما، فقد لمست فيهما القرائن الدالة على صدقِ
ভূমিকা

বরেণ্য আলেম শায়খ

মুহাম্মদ হিশাম বুরহানী

আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের ওপর; আর তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং তাঁর সেই মনোনীত সাথীদের ওপর, যারা রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত রক্ষা করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথার্থ জিহাদ করেছেন। অতঃপর:

প্রভু সুবহানাহু আমাকে সম্মানিত ভাই উস্তাদ আশরাফ মুনীব এবং তাঁর সহধর্মিণী বিদুষী আলেমা হিদায়া হার্টফোর্ডের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে ধন্য করেছেন। আমি তাঁদের মধ্যে ইলমি আগ্রহ এবং ফিকহি মাসআলা ও এর বিভিন্ন বিষয়ে গভীর ও সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের নিরন্তর প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসরত মুসলিম জনপদসমূহের ফিকহি মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে। আমি আল্লাহর সামনে তাঁদের গুণকীর্তন করছি না, কারণ আল্লাহ সুবহানাহুই তাঁদের হিসাব গ্রহণকারী। তবে আমি তাঁদের মধ্যে এমন কিছু আলামত বা চিহ্ন প্রত্যক্ষ করেছি যা সততার...
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৮)
التوجُّه، والغيرة المحمودة على دين الله تعالى وشرعه، والحِرصَ الشديد على نشر العلم، والقيام بواجب التوعية للمسلمين بعامة، وللمسلمين المغتربين بخاصة.

 

وهاهما اليوم يُقدِّمانِ عملاً علمياً موفَّقاً يُشرِّفني ويسعدني تقديمُه بهذه الكلمة، فهو يتناول موضوعاً هاماً له طابع الخصوصية، لا يطَّلِعُ عليه إلا أهله، وهو: أحكام الحيض والنفاس وما يتعلق بهما من الدماء والتي يجهلها الكثيرون من عامَّةِ المسلمين، رجالاً ونساءً، وسيُسهِمُ - إن شاء الله - في سدِّ ثغرةٍ واسعة في هذا الباب، ويكشِفُ السِّتارَ عن الكثير من النقاط الغائبة، ومسائله الدقيقة.

فقد قاما - حفظهما الله - بتحقيق كتاب «منهل الواردين من بحار الفيض على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض» للعلَّامة المُحقِّق السيد محمد أمين بن السيد عمر، الشهير بابن عابدين رحمه الله تعالى، وهو شرحٌ لكتاب «ذخر المتأهلين والنساء في تعريف الأطهار والدماء» للإمام محمد بن بير علي البِرْكِوِي.

وقد بذلا جهوداً مشكورة في تحقيقِ نَصِّه، وبخاصَّة النُّقول الواردة فيه عن الأئمة الأعلام وأقوالهم في مصادرها المطبوعة.
একাগ্রতা, মহান আল্লাহর দীন ও তাঁর শরিয়তের প্রতি প্রশংসনীয় আত্মমর্যাদাবোধ, ইলম বা জ্ঞান প্রসারে প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং সাধারণভাবে সকল মুসলিম, বিশেষ করে প্রবাসী মুসলিমদের সচেতন করার আবশ্যিক দায়িত্ব পালন।

 

আজ তাঁরা একটি সফল ইলমি খিদমত পেশ করছেন, যা এই ভূমিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পেরে আমি সম্মানিত ও আনন্দিত। এটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত বিষয় নিয়ে রচিত যা কেবল সংশ্লিষ্টরাই গভীরভাবে জানেন; আর তা হলো: হায়েয (ঋতুস্রাব), নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) এবং এ সংক্রান্ত রক্তস্রাবের বিধানাবলি, যা সাধারণ মুসলিম নারী ও পুরুষদের অনেকেই জানেন না। ইনশাআল্লাহ, এটি এই বিষয়ের একটি বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে সহায়ক হবে এবং অনেক অস্পষ্ট বিষয় ও এর সূক্ষ্ম মাসআলাগুলোর ওপর থেকে পর্দা উন্মোচন করবে।

তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের হিফাযত করুন—আল্লামা মুহাক্কিক আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ আমিন বিন আস-সাইয়্যিদ উমর, যিনি ইবনে আবিদিন নামে পরিচিত (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), তাঁর রচিত ‘মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়দ আলা যুখরিল মুতাআহহিলিন ফি মাসাইলিল হায়েয’ নামক কিতাবটির তাহকিক (সম্পাদনা) সম্পন্ন করেছেন। এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন পীর আলী আল-বিরকিউই রচিত ‘যুখরুল মুতাআহহিলিন ওয়ান নিসা ফি তারিফিল আতহার ওয়াদ দিমা’ কিতাবটির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

তাঁরা এর মূল পাঠ সম্পাদনায় প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, বিশেষ করে প্রখ্যাত ইমামদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতি ও তাঁদের বক্তব্যগুলো মুদ্রিত মূল উৎসগ্রন্থগুলো থেকে যাচাই করার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد قدَّمَا هذا العمل الجليل في قسمين رئيسين:

أما القسم الأول فتضمن جزأين:

الأول: يتضمَّنُ النصَّ الكامل لرسالة الإمام البِرْكِوِي مُميَّزاً عن الشرح، مضبوطاً بالشكل الكامل، وبالفواصل والنقاط والعناوين.

الثاني: يتضمن نَصَّ كتابِ «منهل الواردين» الشامل للمتن والشرح معاً، وقد ضبطاه بالشكل أيضاً، وأضافا إليه الفهارس لكلِّ فصلٍ من فصوله، والمفردات التي تندرج تحته.

وللأمانة العلمية فقد ميَّزا ما أُضيفَ إلى أصلِ الكتاب من عناوين ضمن حاصرتين هكذا [ … ]

وأما القسم الثاني: فهو عبارة عن ثلاثة ملاحق أُضيفَت إلى الكتاب بغرَضِ الإيضاح والتيسير، وكمال الانتفاع به.

الملحق الأول: يتضمن سرداً موجزاً لثلاثة أنواع من القواعد الخاصَّة بموضوع الدماء، والمستفادَة من نصِّ الكتاب وهي:

أ- القواعد العامَّة لموضوع الدماء.

ب- القواعد الخاصَّة بالحيض.

ج- القواعد الخاصَّة بالنِّفاس.
তারা এই মহান কর্মটি দুটি প্রধান অংশে উপস্থাপন করেছেন:

প্রথম অংশটি দুটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম: এতে ইমাম বির্কিউয়ির রিসালার (পুস্তিকা) পূর্ণাঙ্গ মূল পাঠ রয়েছে যা ব্যাখ্যা থেকে পৃথক করা হয়েছে, এটি পূর্ণাঙ্গ হরকত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং বিরামচিহ্ন ও শিরোনাম দ্বারা সুবিন্যস্ত।

দ্বিতীয়: এতে 'মানহালুল ওয়ারিদিন' গ্রন্থের মূল পাঠ রয়েছে যা মূল পাঠ (মাতন) ও ব্যাখ্যা (শারহ) উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁরা এটিকেও হরকত প্রদান করেছেন এবং এর প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য সূচিপত্র ও সেই অধ্যায়ের অধীনে থাকা শব্দাবলি যুক্ত করেছেন।

বৈজ্ঞানিক সততার খাতিরে, তাঁরা গ্রন্থের মূল পাঠে যে সকল শিরোনাম সংযোজন করেছেন সেগুলোকে এভাবে থার্ড ব্র্যাকেট বা বন্ধনীর মাঝে পৃথক করেছেন [ … ]

আর দ্বিতীয় অংশটি হলো: এটি তিনটি পরিশিষ্টের সমন্বয়ে গঠিত যা বিষয়টি স্পষ্টকরণ, সহজীকরণ এবং তা থেকে পরিপূর্ণভাবে উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্যে বইটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রথম পরিশিষ্ট: এতে রক্ত (সংক্রান্ত মাসায়েল) বিষয়ক তিন ধরণের নিয়মের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রয়েছে যা গ্রন্থের মূল পাঠ থেকে সংগৃহীত, আর তা হলো:

ক- রক্ত (সংক্রান্ত মাসায়েল) বিষয়ক সাধারণ নিয়মাবলি।

খ- ঋতুস্রাব (হায়েজ) সংক্রান্ত বিশেষ নিয়মাবলি।

গ- প্রসূতি অবস্থা (নিফাস) সংক্রান্ত বিশেষ নিয়মাবলি।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১০)
والملحق الثاني: أوردا فيه خمسة أمثلة للنفاس، وأربعةَ عشرَ مثالاً للحيض.

ولمزيدٍ من الإيضاح والبيان، فقد التزما في عرضِ كلِّ مثالٍ على إيراد الأمور التالية:

• ذكر المثال، مع جدول مُلَوَّنٍ، يُصوِّرُ المثال بالشكل واللون.

• تحليل للمسألة التي تضمَّنَها المثال.

• ثم حكم المسألة بالإجمال، مع جدول مُلَوَّن يُصوِّرُها.

• ثم حكم المسألة تفصيلاً.

• ثم تصحيح المسألة.

• ثم عرض القواعد الخاصَّة بهذه المسألة.

وبهذا كُلِّه يكونان - بتوفيق الله تعالى - قد قدَّما للكتاب المحقَّقِ خِدمةً جليلة، تجعلُه مُيسَّرَ الفهم، قريبَ التناول لكلِّ قارئٍ، وباحِثٍ، ومُتعلِّم. فجزاهما الله تعالى عن الإسلام وأهلِه خيرَ الجزاء، وتقبَّلَ عملهما خالصاً لوجهه الكريم، ومتَّعهُمَا بالقوة والصحة والعافية، وكامِلِ العناية والمعونة، لمتابعة جهودِهما المبرورة في خدمة الشريعة المُطهَّرَة، وتقدِيمِها في أبهى وأوضح حلَّة، إنه أفضلُ مأمولٍ، وأكرمُ مسؤول. وصلَّى اللهُ على
এবং দ্বিতীয় পরিশিষ্ট: এতে তারা নিফাসের (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) পাঁচটি উদাহরণ এবং হায়েযের (ঋতুস্রাব) চৌদ্দটি উদাহরণ উপস্থাপন করেছেন।

অধিকতর স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে তারা প্রতিটি উদাহরণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করার নীতি অনুসরণ করেছেন:

• রঙিন ছকসহ উদাহরণটি উল্লেখ করা, যা উদাহরণটিকে আকৃতি ও রঙের মাধ্যমে চিত্রায়িত করে।

• উদাহরণটিতে অন্তর্ভুক্ত মাসআলা বা বিষয়টির বিশ্লেষণ।

• অতঃপর রঙিন ছকসহ মাসআলাটির সংক্ষিপ্ত বিধান।

• এরপর মাসআলাটির বিস্তারিত বিধান।

• অতঃপর মাসআলাটির তাসহিহ বা শুদ্ধিকরণ।

• এরপর এই মাসআলা সংশ্লিষ্ট বিশেষ নিয়মাবলি উপস্থাপন।

আর এই সবকিছুর মাধ্যমে তারা—আল্লাহ তাআলার তাওফিকে—এই সম্পাদিত গ্রন্থটির একটি মহান খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন, যা একে প্রতিটি পাঠক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীর নিকট সহজবোধ্য ও সহজলভ্য করে তুলেছে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাদের কর্মকে কেবলমাত্র তাঁর পবিত্র সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন, এবং পবিত্র শরীয়তের খিদমতে তাদের এই বরকতময় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য এবং একে অত্যন্ত চমৎকার ও সুস্পষ্ট অবয়বে উপস্থাপনের নিমিত্তে তাদেরকে শক্তি, সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং পূর্ণ তদারকি ও সহায়তা দ্বারা ধন্য করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম আশার স্থল এবং মহান দাতা। আর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক...
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১১)
سيدنا ومولانا وحبيبنا ومُعلِّمِنا الأوَّل، والمرشدِ الأكمل، والحبيبِ المرسل سيدنا محمد خاتم النبيين وإمام المرسلين، وعلى آله وأصحابه أجمعين.

 

وآخِرُ دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

الأحد 20 المحرم 1425

21 - 3 - 2003

وكتبه الفقيرُ على موائدِ مولاه الجليل

محمد هشام برهاني
আমাদের নেতা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের প্রিয়তম ও আমাদের প্রথম শিক্ষক, পূর্ণাঙ্গ পথপ্রদর্শক এবং প্রেরিত প্রিয়তম আমাদের নেতা মুহাম্মদ, যিনি নবীগণের মোহর ও রাসূলগণের ইমাম; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর (সালাম ও রহমত বর্ষিত হোক)।

 

আর আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো এই যে, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।

রবিবার ২০ মহররম ১৪২৫

২১ - ৩ - ২০০৩

এটি লিখেছেন তাঁর মহান রবের দস্তরখানের এক মুখাপেক্ষী মিসকিন

মুহাম্মদ হিশাম বুরহানি
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مقدمة

فضيلة الشيخ

عبد الرحمن أرجان البينصوي

حفظه الله تعالى

 

أما بعدُ: فقد قمتُ بمراجعةِ هذا الكتاب الذي أصله رسالة «ذخر المتأهلين» وشرحها «منهل الواردين» من البداية إلى النهاية مع محققيه الأخ أشرف منيب وزوجته هداية هارتفورد في مجالس متعددة، ومن خلالِ ذلكَ لاحظتُ شِدَّةَ تحرِّيهِمَا ودِقَّةَ ضَبطِهما في نقلِ النصوص، ولا سيَّما الإضافة التي أضافاها في نهاية الكتاب، وقاما فيها بحلِّ الأمثلة الواردة في المتن، فقد أظهرتْ الاستيعابَ والفهم الدقيق لدقائق مباحثِ
ভূমিকা

সম্মানিত শাইখ

আব্দুর রহমান আরজান আল-বাইনাসাউয়ী

আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন

 

অতঃপর: আমি এই বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর গবেষক-সম্পাদক ভাই আশরাফ মুনীব এবং তাঁর স্ত্রী হিদায়া হার্টফোর্ডের সাথে বিভিন্ন বৈঠকে পর্যালোচনা করেছি, যার মূল হলো ‘যুখরুল মুতাআহহিলীন’ নামক রিসালাহ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মানহালুল ওয়ারিদ্বীন’। এর মাধ্যমে আমি মূল পাঠ্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে তাদের কঠোর সতর্কতা এবং নিখুঁত নির্ভুলতা লক্ষ্য করেছি; বিশেষ করে বইটির শেষে তারা যে সংযোজন যুক্ত করেছেন এবং সেখানে মূল পাঠে উল্লিখিত উদাহরণগুলোর সমাধান করেছেন, তা এই বিষয়ের সূক্ষ্ম আলোচনাগুলোর ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ আয়ত্ত এবং গভীর উপলব্ধিকেই প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الحيض والنِّفَاس، فقد جمعا في صعيدٍ واحد المسائلَ المبعثرة، وقاما بتحرير القواعد، وتقرير المقاصد، وتقييد الفوائد، ملتزمين في ذلك بالقول المعتمَدِ في المذهب الحنفي، فجاءَ هذا الشرحُ في ثوبٍ علميّ قشيب ضمن قواعد التحقيق العلمي الرصين.

وإني لأرجو اللهَ تعالى أن يُثيبهُما على ذلك، وأن يُقيِّضَ لتراثنا الفقهي العظيم مَن يعملُ على إخراجه بهذا المستوى الرفيع، والحمد لله أولاً وآخراً …

 

حُرِّرَ في شهر المحرم سنة 1425

عبد الرحمن أرجان البنصوي

مُدرِّس جامع الحافظ أحمد باشا

إستانبول/ تركيا
ঋতুস্রাব ও নিফাস; তাঁরা এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে এক জায়গায় একত্রিত করেছেন, মূলনীতিসমূহ বিন্যস্ত করেছেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন; ফলে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি নিপুণ জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণার নিয়মানুযায়ী একটি সুশোভিত ইলমী অবয়বে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদেরকে এর জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাদের মহান ফিকহী ঐতিহ্যের খিদমতে এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেন যারা একে এই উচ্চমানে উপস্থাপন করবেন। শুরু ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য ...

 

১৪২৫ হিজরীর মুহাররম মাসে লিখিত

আবদুর রহমান আরজান আল-বানসাভী

হাফেজ আহমদ পাশা জামে মসজিদের শিক্ষক

ইস্তাম্বুল/ তুরস্ক
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله وليِّ الحمد والثناء، والصلاةُ والسلام على أشرفِ الرسل والأنبياء، سيدنا ومولانا محمد، وعلى آله وصحبه الأتقياء الأوفياء، ومَن تبِعَهُم بإحسانٍ إلى يومِ الفصل والقضاء.

وبعدُ:

فإنَّ باب الحيضِ من غوامضِ أبواب الفقه، ومسائلُه عند كثيرٍ من طلبة العلم - فضلاً عن غيرهم - من أصعبِ المسائل، وليست هذه الصعوبة ناشئة عن غموضِ أحكامه، فكثيٌر من تلك الأحكام مُتَّفَقٌ عليه بين الفقهاء، ولكنَّ الصعوبةَ تكمُنُ في تمييز الدم الذي تراه المرأة؛ فإنها لا تستطيع أحياناً أنْ تُميِّزَ: أَدَمُ حيضٍ هو أم دمُ فساد، وعندها تحتار: أعليها أن تُصلِّي وتصوم أم يحرم ذلك في حقِّها؟ وإن كانت حاجَّةً أيجوز لها الطواف بالبيت أم تنتظر حتى تطهر؟ وهل يحل لزوجها - والحال هذه - أن يطأها أم لا؟ وإذا كانت في عِدَّةِ الطلاق فهل تكون عدتها قد انقضت أم لا؟

ومعلومٌ أنَّ الحيضَ من الأمور التي تتكرر كلَّ شهرٍ في حياةِ المرأة، وكثير من الأحكام الشرعية في المجتمع المسلم مبنيٌ عليه، فينبغي الاعتناءُ بإيضاحِ
সম্পাদকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল প্রশংসা ও স্তুতির মালিক। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূল ও নবীদের মধ্যে সর্বোত্তম সত্তা আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও অত্যন্ত মুত্তাকী ও বিশ্বস্ত সাথীদের ওপর, আর কিয়ামত ও বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর।

অতপর:

নিশ্চয়ই ঋতুস্রাবের অধ্যায় ফিকহ শাস্ত্রের অত্যন্ত জটিল অধ্যায়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ মানুষ তো বটেই, দ্বীনী ইলম অন্বেষী অনেক শিক্ষার্থীর কাছেও এর মাসআলাসমূহ অত্যন্ত কঠিন বিষয়গুলোর অন্যতম। এই কাঠিন্য এর বিধানসমূহের অস্পষ্টতা থেকে তৈরি হয়নি, কারণ ফকীহগণের মধ্যে এর অনেক বিধানই সর্বসম্মত। বরং জটিলতা নিহিত রয়েছে নারী যে রক্ত দেখে তা শনাক্ত করার মাঝে; কেননা মাঝে মাঝে সে পার্থক্য করতে সক্ষম হয় না যে—এটি কি ঋতুস্রাবের রক্ত, নাকি অসুস্থতাজনিত রক্ত? আর তখন সে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে: তাকে কি সালাত আদায় করতে হবে এবং রোজা রাখতে হবে, নাকি তার জন্য এগুলো হারাম হবে? আর সে যদি হজ্জ পালনরতা হয়, তবে কি তার জন্য বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা বৈধ হবে, নাকি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? এবং এই অবস্থায় তার স্বামীর জন্য কি তার সাথে সহবাস করা হালাল হবে, নাকি হবে না? আর সে যদি তালাকের ইদ্দত পালনরতা হয়, তবে কি তার ইদ্দত শেষ বলে গণ্য হবে, নাকি হবে না?

এটা সুবিদিত যে, ঋতুস্রাব এমন একটি বিষয় যা নারীর জীবনে প্রতি মাসে পুনরাবৃত্ত হয় এবং মুসলিম সমাজের অনেক শরঈ বিধান এর ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। তাই এটি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে যত্নবান হওয়া বা গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক—
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১৬)
أحكامِه، وكشفِ غوامضه، لذا اجتهد فقهاؤنا رحمهم الله في حلِّ مسائله، فصنَّفُوا في ذلك - على اختلافِ مذاهبهم - المصنَّفَات الكثيرة.

ومن المؤلَّفَات العلمية الجامِعَة في هذا الباب رسالة "ذخر المتأهلين" للإمام العلامة الفقيه محمد بن بير علي البِرْكِوِي الحنفي، المتوفَّى سنة 981 هـ، التي تُعدُّ من أهمِّ ما أُلِّفَ في مذهب الحنفية في مسائل الحيض، فهي - على صغر حجمها - جمعتْ غُررَ أصولِ هذا الباب ودُررَ فروعه، وقد ذكر مُؤلِّفُها أنَّه صرفَ شطراً من عُمُرِه في جمعِ مسائلها المنثورة في الكتب المختلفة، مقتصراً فيها على أقوى الأقوال وأصحِّها والمختار منها للفتوى.

 

ولأهميَّةِ هذه الرسالة فقد اعتنى بشرحها عددٌ من العلماء، كان أجلُّهم خاتمة المحققين الإمام ابن عابدين رحمه الله، صاحب الحاشية الشهيرة، في كتابه: "منهل الواردين من بحار الفيض، شرح ذخر المتأهلين في مسائل الحيض"، فتحرّر المذهبُ بذلك تحريراً دقيقاً على يدي ذينك الحبرين الجليلين، مما يجعلُ نشرَ مثل هذا الشرح المُتقَنْ لذاكَ المتن الجامع؛ وكشفَ النِّقابِ عن مكنون دررهما، عملاً علمياً في غاية الأهمية.

وقد استخرنا اللهَ تعالى في التصدِّي لهذا العمل، فقمنا بتحقيقِ الشرحِ
এর বিধিবিধান এবং এর জটিলতাগুলো উন্মোচনের বিষয়ে; তাই আমাদের ফকীহগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এর মাসআলাগুলো সমাধানের জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, ফলে তাঁরা তাঁদের বিভিন্ন মাযহাব অনুসারে এই বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এই অধ্যায়ে সংকলিত জ্ঞানগর্ভ ও বিস্তৃত গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো ইমাম, আল্লামা ও ফকীহ মুহাম্মদ বিন পীর আলী আল-বিরকিভি আল-হানাফি (মৃত ৯৮১ হিজরি)-এর রিসালাহ "যুখরুল মুতাআহহিলিন", যা হানাফি মাযহাবে ঋতুস্রাব (হায়েয) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের ওপর রচিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কলেবরে ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের মূলনীতিসমূহের শ্রেষ্ঠাংশ এবং এর শাখা-প্রশাখার অমূল্য রত্নরাজিকে একত্রিত করেছে। এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর জীবনের একটি বড় অংশ বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এর মাসআলাগুলো সংগ্রহ করতে ব্যয় করেছেন এবং এতে তিনি কেবল শক্তিশালী ও বিশুদ্ধতম এবং ফতোয়ার জন্য মনোনীত মতগুলোকেই স্থান দিয়েছেন।

 

এই রিসালাহটির গুরুত্বের কারণে বহু আলেম এটি ব্যাখ্যা করার প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন সুপ্রসিদ্ধ হাশিয়া (টীকা)-গ্রন্থের লেখক খাতামুল মুহাক্কিকিন ইমাম ইবনে আবিদিন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), তিনি তাঁর কিতাব: "মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহরিল ফায়জ, শারহু যুখরিল মুতাআহহিলিন ফি মাসাইলিল হায়েয"-এ এটি ব্যাখ্যা করেছেন। এর মাধ্যমে সেই দুইজন মহান পণ্ডিতের হাতে মাযহাবটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই ও সম্পাদিত হয়েছে। ফলে সেই সুসমন্বিত মূল পাঠের (মাতন) জন্য এমন একটি সুনিপুণ ব্যাখ্যা প্রকাশ করা এবং সেগুলোর অন্তর্নিহিত মুক্তাগুলো উন্মোচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলমি কাজ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

আমরা এই কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি, অতঃপর আমরা এই ব্যাখ্যা গ্রন্থটির তাহকীক (সম্পাদনা) সম্পন্ন করেছি।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১৭)
المذكور، مُصدَّراً بالمتنِ منفرِداً ليسهل حفظه، بعد أن حرَّرنا ألفاظه - أي المتن - على نُسَخٍ خطيَّةٍ وثيقة، ثم ذيَّلنْا الكتابَ بحَلٍّ موسَّعٍ للأمثلة الواردة فيه، موضَّحاً بالجداول.

هذا الكتاب وعملنا فيه

أشرنا آنفاً لما لرسالة الإمام البِرْكِوِي هذه من أهمية في بابها، لذا تصدَّى عددٌ من العلماء لشرحها، منهم:

1. إسحاق بن حسن الزنجاني ثم التوقادي، (المتوفى سنة 1100 هـ)، واسم شرحه: «ذخائر الآخرة شرح ذخر المتأهلين»، (مخطوط).

2. عبد القادر بن يوسف بن سنان المعروف بنقيب زاده، (المتوفى سنة 1107 هـ)، واسم شرحه: «زاد المتزوجين شرح ذخر المتأهلين»، (مخطوط).

3. محمد بن ولي بن رسول القيرشهري ثم الأزميري، (المتوفى سنة 1165 هـ)، في كتابه: «شرح ذخر المتأهلين»، (مخطوط).

4. الإمام ابن عابدين، المتوفى (سنة 1252 هـ)، واسم شرحه: «منهل الواردين من بحار الفيض، على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض»، وهو أشهر الشروح، وقد طبع عدة مرات.
উল্লিখিত গ্রন্থটি, মুখস্থ করার সুবিধার্থে প্রথমে মূল পাঠকে (মতন) আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর ভিত্তিতে এর শব্দাবলি সম্পাদনা করার পর। এরপর আমরা বইটির শেষে এতে বর্ণিত উদাহরণগুলোর একটি বিস্তারিত সমাধান যুক্ত করেছি, যা ছকের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে।

এই গ্রন্থ এবং এতে আমাদের কর্মপদ্ধতি

ইমাম বির্কিউয়ীর এই পুস্তিকাটির সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যে গুরুত্ব রয়েছে, সে বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। একারণে একদল আলেম এর ব্যাখ্যা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১. ইসহাক বিন হাসান আল-জানজানি অতঃপর আত-তাওয়াক্বাদি (মৃত্যু ১১০০ হিজরি), এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম: «যাখায়েরুল আখিরাহ শারহু যুখরিল মুতাআহহিলীন», (পাণ্ডুলিপি)।

২. আব্দুল কাদির বিন ইউসুফ বিন সিনান, যিনি নাক্বীবযাদাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ১১০৭ হিজরি), এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম: «যাদুল মুতাযাওয়িজীন শারহু যুখরিল মুতাআহহিলীন», (পাণ্ডুলিপি)।

৩. মুহাম্মদ বিন ওয়ালি বিন রাসূল আল-কিরশেহরি অতঃপর আল-ইজমিরি (মৃত্যু ১১৬৫ হিজরি), তাঁর গ্রন্থ: «শারহু যুখরিল মুতাআহহিলীন», (পাণ্ডুলিপি)।

৪. ইমাম ইবনে আবিদিন (মৃত্যু ১২৫২ হিজরি), এবং তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম: «মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহরিল ফায়দ, আলা যুখরিল মুতাআহহিলীন ফি মাসায়িলিল হায়দ», এটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الأصول المعتمدة في تحقيق المتن:

اعتمدنا في تحقيقنا للمتن على نسختين خطيتين:

الأولى: نسخة منقولة من نسخة بخط المصنِّف، تحتفِظُ بها المكتبة السليمانية بإستانبول، تحت الرقم 2081، ضمن مجموعة رسائل أخرى للمصنِّف، على هامشها تعليقات كثيرة منقولة من كلام المصنِّف.

عدد صفحات هذه النسخة ست، وخطها تعليقي مقروء غير منقوط، ومعدل الأسطر في كل صفحة 23 سطراً.

اسم ناسخها: ولي الدين أبو الفضل الرومي ثم المدني، نسخها تجاه الحجرة النبوية الشريفة بالمدينة المنورة، في الرابع من ذي القعدة سنة 1104 هـ. وقد وضع الناسِخُ في أولها فهرساً بالموضوعات.

وقد رمزنا لهذه النسخة بالحرف: (أ)، واعتمدناها أصلاً في عملنا.

الثانية: وهي محفوظة أيضاً بالمكتبة السليمانية، تحت الرقم 2728، كُتِبتْ بخطٍ جيدٍ ومقروء، ومُيِّزَتْ عناوين الفصول فيها بالحمرة.

تقع في ثمان وعشرين صفحة، ومعدل الأسطر في كل صفحة 15 سطراً، وعلى هامشها بعض التعليقات المنقولة من كلام المصنف.
মূল পাঠ (মতন) সম্পাদনায় নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ:

মতন সম্পাদনায় আমরা দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

প্রথমটি: লেখকের স্বহস্তে লিখিত কপি থেকে প্রতিলিপি করা একটি পাণ্ডুলিপি, যা ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে ২০৮১ নম্বরে সংরক্ষিত। এটি লেখকের অন্যান্য পত্রাবলির সংকলনের অন্তর্ভুক্ত এবং এর হাশিয়া বা পার্শ্বটীকায় লেখকের বক্তব্য থেকে সংগৃহীত অনেক মন্তব্য রয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা সংখ্যা ছয় এবং এর লিখনরীতি পাঠযোগ্য তালীক পদ্ধতির, যা নুকতাহীন। প্রতি পৃষ্ঠায় গড়ে ২৩টি করে লাইন রয়েছে।

এর লিপিকারের নাম: ওয়ালীউদ্দীন আবু আল-ফজল আল-রুমি অতঃপর আল-মাদানি। তিনি মদিনা মুনাওয়ারার পবিত্র হুজরায়ে নববীর সম্মুখে ১১০৪ হিজরি সনের ৪ঠা জিলকদ তারিখে এটি প্রতিলিপি করেছেন। লিপিকার এর শুরুতে একটি বিষয়সূচি প্রদান করেছেন।

আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে (আলিফ) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং আমাদের সম্পাদনায় এটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি।

দ্বিতীয়টি: এটিও সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে ২৭২৮ নম্বরে সংরক্ষিত। এটি সুন্দর এবং পাঠযোগ্য হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এর অধ্যায়গুলোর শিরোনাম লাল রঙ দ্বারা পৃথক করা হয়েছে।

এটি আটাশ পৃষ্ঠার এবং প্রতি পৃষ্ঠায় গড়ে ১৫টি করে লাইন রয়েছে। এর হাশিয়ায় লেখকের বক্তব্য থেকে সংগৃহীত কিছু মন্তব্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ১৯)
اسم ناسخها: عمر بن إسماعيل، وقد أرَّخ نسخها في السابع عشر من ربيع الأول سنة 1054 هـ. لكنْ في هذه النسخة أخطاء وسقط كثير.

الأصول المعتمدة في تحقيق الشرح:

أما بالنسبة لرسالة "منهل الواردين" للعلامة ابن عابدين فلم يتيسر لنا نسخٌ مخطوطة لها، لذا فقد اعتمدنا في إخراجها على نسخة قديمة مطبوعة في (مطبعة المعارف في ولاية سوريا)، وقد طبعت الرسالة عنها بعد ذلك عدة مرات كان أولها سنة 1302 هـ، ووقفنا على نسخة منها بدار الكتب المصرية تحت الرقم 1102 فقه حنفي.

ثم أعاد نشر الرسالة عبد النافع فياض في سوريا سنة 1409 هـ، واعتمد في إخراجها - كذلك - على نسخة مطبعة المعارف المذكورة آنفاً.

عملنا في الكتاب:

يتلخَّصُ عملنا في هذا الكتاب في الأمور الآتية:

1. ضبطُ نصِّ المتن والشرح بالشكل اللازم، ووضع علامات الترقيم بدقة.

2. تفصيل الجمل وتفقير المقاطع ليسهل فهمها واستيعابها على
এর প্রতিলিপিকারীর নাম: উমর বিন ইসমাইল। তিনি এর প্রতিলিপিকরণের তারিখ ১৭ই রবিউল আউয়াল ১০৫৪ হিজরি নির্ধারণ করেছেন। তবে এই পাণ্ডুলিপিতে অনেক ভুল এবং প্রচুর বিচ্যুতি রয়েছে।

শারহ বা ভাষ্য সম্পাদনায় (তাহকিক) নির্ভরকৃত মূল পাঠসমূহ:

আল্লামা ইবনে আবিদিনের "মানহালুল ওয়ারিদিন" নামক রিসালাহটির ক্ষেত্রে আমরা কোনো হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি। তাই এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমরা সিরিয়া প্রদেশের (মাতবাআতুল মাআরিফ)-এ মুদ্রিত একটি পুরাতন কপির ওপর নির্ভর করেছি। এরপর এই রিসালাহটি সেখান থেকে বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার প্রথমটি ছিল ১৩০২ হিজরি সনে। আমরা এর একটি কপি মিসরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-তে ১১০২ নম্বর হানাফি ফিকহ-এর অধীনে পেয়েছি।

অতঃপর ১৪০৯ হিজরি সনে সিরিয়ায় আব্দুল নাফি ফায়্যাজ রিসালাহটি পুনরায় প্রকাশ করেন এবং এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনিও একইভাবে পূর্বে উল্লিখিত মাতবাআতুল মাআরিফ কপির ওপর নির্ভর করেন।

গ্রন্থটিতে আমাদের সম্পাদিত কার্যাবলি:

এই গ্রন্থে আমাদের কার্যাবলি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপিত হয়েছে:

১. মূল পাঠ (মাতন) এবং ভাষ্যের (শারহ) ইবারতকে প্রয়োজনীয় হরকত প্রদান করা এবং নির্ভুলভাবে বিরামচিহ্ন স্থাপন করা।

২. বাক্যগুলোকে বিশদ করা এবং অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করা যাতে তা সহজে অনুধাবন ও আত্মস্থ করা যায়।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২০)
القارئ.

3. وضع عناوين فرعية للفصول والمباحث لتسهيل الرجوع إليها، وقد ميزنا كل عنوان منها عن نصِّ الكتاب بمعقوفتين [].

4. تخريج النصوص التي اعتمد عليها العلامة ابن عابدين في شرحه، بعزوِ كلٍّ منها إلى مصدره إن كان مطبوعاً، ثم مقابلته به، فإذا وجدنا فيه اختلافاً ذا بالٍ نبَّهنا إليه.

5. التعليق على بعض العبارات بما يحل مشكلها ويُوضِّحُ غامضها، بالرجوع إلى الكتب المعتمدة في المذهب، بالإضافة إلى الشروح الأخرى لـ "ذخر المتأهلين" السابق ذكرها.

6. زيادة بعض الكلمات التي قدرنا سقوطها من الشرح المطبوع - حسب ما يقتضيه السياق - وجعلناها مميَّزةً بين معقوفتين [].

7. التعريف بالكتب المنقول عنها في الكتاب، وبيان المطبوع منها والمخطوط ضمن حدود اطلاعنا.

8. ترجمة الأعلام الواردة أسماؤهم في الكتاب.

9. صدَّرنا العملَ بترجمتين وجيزتين للإمامين: الماتن والشارح.

৩. অধ্যায় ও পরিচ্ছেদগুলোর জন্য উপশিরোনাম যুক্ত করা হয়েছে যাতে সহজে সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। আমরা এই শিরোনামগুলোকে মূল কিতাবের পাঠ থেকে আলাদা করার জন্য বন্ধনী [] ব্যবহার করে চিহ্নিত করেছি।

৪. আল্লামা ইবনে আবিদিন তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে যেসকল উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করেছেন সেগুলোর উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) করা হয়েছে; যদি তা মুদ্রিত আকারে থাকে তবে মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। অতঃপর যদি আমরা তাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পেয়েছি, তবে সে সম্পর্কে অবগত করেছি।

৫. মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ এবং ইতোপূর্বে উল্লিখিত 'যুখরুল মুতাআহহিলিন'-এর অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের সহায়তায় এমন কিছু বাক্যের ওপর টীকা প্রদান করা হয়েছে যা সেগুলোর জটিলতা নিরসন করে এবং অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করে।

৬. প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে মুদ্রিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে বাদ পড়া সম্ভাব্য কিছু শব্দ সংযোজন করা হয়েছে এবং সেগুলোকে বন্ধনীর [] মধ্যে রেখে পৃথক করা হয়েছে।

৭. কিতাবে উদ্ধৃত গ্রন্থসমূহের পরিচিতি প্রদান এবং আমাদের জানামতে সেগুলোর মধ্যে কোনটি মুদ্রিত আর কোনটি পাণ্ডুলিপি অবস্থায় আছে তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

৮. কিতাবে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে।

৯. আমরা মূল কিতাবের লেখক (মাতিন) এবং ব্যাখ্যাকার (শারহকারী)—এই দুই ইমামের সংক্ষিপ্ত জীবনী দিয়ে এই কর্মটি শুরু করেছি।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২১)
10. ذيَّلنَا الكتاب برسالة صغيرة سميناها "إرشاد المكلفين إلى دقائق ذخر المتأهلين"، ذكرنا فيها الأصول والقواعد الكلية للحيض والنفاس، وحللنا فيها الأمثلة التي ذكرها الإمام البِرْكِوِي مع إضافة جداول توضيحية في غاية السهولة.

11. أعددنا فهارس عامَّة للكتاب لتيسير الرجوع إلى مباحثه ومسائله.

وبهذا العمل نرجو أن نكون قد أتممنا تحقيقَ الكتاب من جوانبه المتعدِّدَة، ونأملُ أن تكون نسختنا هذه أصحَّ طبعةٍ تقدم لهذه الرسالة الجليلة إن شاء الله تعالى.

شكر وتقدير:

ولا يفوتنا في الختام أن نتقدَّمَ بخالصِ الشكر والتقدير لفضيلة أستاذنا الشيخ حسان الهندي، الذي كان له الفضل الأكبر - بعدَ عونِ الله تعالى - في فَهمِ غوامضِ هذا الباب، فقد أفادنا كثيراً من علْمِه الجمِّ، فنسألُ الله تعالى أن يجزيه عنَّا خيرَ الجزاء.

ونتوجَّهُ أيضاً بشكرٍ خاصٍّ إلى فضيلة شيخنا عبد الرحمن أرجان على
১০. আমরা বইটির শেষে একটি ছোট পুস্তিকা সংযোজন করেছি যার নামকরণ করেছি "ইরশাদুল মুকাল্লাফীন ইলা দাকায়িকি জুখরিল মুতাহহিলীন", এতে আমরা ঋতুস্রাব (হায়েয) ও নিফাস সংক্রান্ত মূলনীতি ও সামগ্রিক নিয়মাবলী উল্লেখ করেছি এবং ইমাম বির্কিভী কর্তৃক বর্ণিত উদাহরণসমূহ বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি অত্যন্ত সহজবোধ্য কিছু ব্যাখ্যামূলক ছক যুক্ত করেছি।

১১. বইটির আলোচ্য বিষয় ও মাসআলাসমূহ সহজে খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে আমরা একটি সাধারণ নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি।

এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আশা রাখি যে, আমরা বিভিন্ন দিক থেকে গ্রন্থটির সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি এবং আমরা প্রত্যাশা করি যে ইনশাআল্লাহ তায়ালা আমাদের এই সংস্করণটি এই মহান পুস্তিকাটির সবচেয়ে বিশুদ্ধ মুদ্রণ হিসেবে উপস্থাপিত হবে।

কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি:

পরিশেষে আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শায়খ হাসসান আল-হিন্দির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, মহান আল্লাহর সাহায্যের পর এই অধ্যায়ের জটিল বিষয়গুলো অনুধাবনের ক্ষেত্রে যাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি তাঁর বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার থেকে আমাদের প্রভূত উপকৃত করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান প্রার্থনা করছি।

পাশাপাশি আমরা আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুর রহমান আরজানের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি...
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২২)
تَفضُّلِه بمراجعة الكتاب رغم كثرة شواغله وضيق وقته، حيث كان لملاحظاته الدقيقة وتوجيهاته السديدة النفع البالغ، فجزاه الله تعالى عنا خيراً.

كما نتقدَّم بخالص الشكر لكل من أسدى إلينا مشورةً، أو رأياً، أو توجيهاً، أو دعوة صالحة، أو غير ذلك.

* * *

ونودُّ هنا أنْ نلفت انتباه القارئ الكريم قبل شروعه في قراءةِ هذا الكتاب إلى نصيحةِ الإمام البِرْكِوِي التي سطّرها في طيات رسالته في آخر الفصل الثاني، عند بيانِهِ لقواعد انتقال العادة حيث قال: "هذا البحثُ أهمُّ مباحثِ الحيض؛ لكثرة وقوعه، وصعوبة فهمه، وتعسُّرِ إجرائه، وغفلة أكثر النساء عنه، فعليك بالجد والتشمير في ضبطه، فلعلَّ الله تعالى بلُطفِه يُسهِّلْه وييسره لك، إنه ميسِّرُ كل عسير، آمين يا كريم".

لذا ننصح القارئ كي تتم له الاستفادة من جهود الإمام البِرْكِوِي ومن بعده العلامة ابن عابدين أن يتريَّثَ في قراءةِ هذا الكتاب، ويُعيدَ النظرَ فيه المرَّةَ تلوَ الأخرى، حتى تَثبُتَ الأحكامُ في ذهنه وتتضِّح فيُنتفع بها.
তাঁর অসংখ্য ব্যস্ততা ও সময়ের স্বল্পতা সত্ত্বেও অনুগ্রহপূর্বক কিতাবটি পর্যালোচনা করায়, যেখানে তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে, আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

একইসাথে আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাদের প্রতি, যারা আমাদের কোনো পরামর্শ, মতামত, দিকনির্দেশনা, নেক দোয়া বা অন্য কোনো সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

* * *

আমরা এখানে সম্মানিত পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই—এই কিতাবটি পাঠ শুরু করার আগে ইমাম বিরকিভি-এর সেই নসিহতের প্রতি, যা তিনি তাঁর রিসালার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের শেষে ঋতুচক্র পরিবর্তনের নিয়মসমূহ বর্ণনার সময় লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন: "এই আলোচনাটি ঋতুস্রাবের (হায়েজ) মাসআলাসমূহের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি সচরাচর ঘটে থাকে, এটি বোঝা কঠিন, এর বিধিবিধান প্রয়োগ করা দুষ্কর এবং অধিকাংশ নারী এ বিষয়ে অসতর্ক। সুতরাং এটি আয়ত্ত করার জন্য আপনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন। হয়তো আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়ায় এটি আপনার জন্য সহজ করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল কঠিন বিষয়কে সহজকারী। কবুল করুন হে করুণাময়।"

অতএব, ইমাম বিরকিভি এবং পরবর্তীকালের আল্লামা ইবনে আবেদিন-এর মেহনত থেকে পূর্ণ ফায়দা লাভের উদ্দেশ্যে আমরা পাঠককে পরামর্শ দিচ্ছি যে, তিনি যেন এই কিতাবটি পাঠের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করেন এবং বারবার এটি অধ্যয়ন করেন, যতক্ষণ না বিধানগুলো তাঁর স্মৃতিতে বদ্ধমূল ও স্পষ্ট হয় এবং এর দ্বারা প্রকৃত উপকার লাভ করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وختاماً نَضرعُ إلى الله تبارك وتعالى أن يتقبَّلَ عملنا هذا، وأن تتحقق الفائدةُ المرجوة منه ويُعِمَّ النفع به لطلبة العلم وسائر المسلمين، لعلَّ دعوة كريمة تنالنا ممن ينتفع به فنُسْعَدَ بها، كما نسأله تعالى أن يتقبل جُهدَنا فيه ويجعله في كفة الحسنات ذخيرةً لنا عنده، يوم نلقى نبينا الأمين صلى الله عليه وسلم، والحمد لله رب العالمين.

أشرف منيب

وهداية هارتفورد
পরিশেষে আমরা পরম বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই কর্ম কবুল করেন, এবং এর দ্বারা কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জিত হয় ও ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীসহ সকল মুসলিমের জন্য এর উপকারিতা ব্যাপক হয়। সম্ভবত এর মাধ্যমে উপকৃত হওয়া কোনো ব্যক্তির একটি মহতী দুআ আমাদের নসিব হবে যার দ্বারা আমরা ধন্য হব। সেই সাথে আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই শ্রম কবুল করেন এবং একে আমাদের জন্য তাঁর নিকট নেকির পাল্লায় গচ্ছিত পাথেয় হিসেবে গণ্য করেন, যেদিন আমরা আমাদের বিশ্বস্ত নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সাথে সাক্ষাৎ করব। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আশরাফ মুনিব

হেদায়াহ হার্টফোর্ড
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المخطوطات:

‌‌الصفحة الأولى من المخطوطة أ
পাণ্ডুলিপিসমূহ:

পাণ্ডুলিপি 'এ'-এর প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الصفحة الأخيرة من المخطوطة أ
পাণ্ডুলিপি আলিফ-এর শেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الصفحة الأولى من المخطوطة ب
পাণ্ডুলিপি 'ব'-এর প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الصفحة قبل الأخيرة من المخطوطة ب
পাণ্ডুলিপি 'ব'-এর শেষ পৃষ্ঠার পূর্ববর্তী পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الصفحة الأخيرة من المخطوطة ب
পাণ্ডুলিপি 'ব'-এর সর্বশেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌ترجمة الماتن الإمام البِرْكِوِي

‌‌اسمه ونسَبُه:

هو محمد بن بير علي بن إسكندر الرومي، المُلقَّب: بمحي الدين، أو تقي الدين، أو زين الدين، المشهور باسم بِرْكِوِي، أو بِيرْكِلي، أو بِرْكِلي، أو بِيرْكِيلو، نسبة إلى بلدة بِرْكي حيثُ قضى سنواته الأخيرة من عمره فيها، وتُوفي ودُفِنَ بها، وهو معروف بين الأتراك في تركيا وفي بلاد البلقان بالإمام البِرْكِوِي. بِرْكِلي

‌‌مولده:

وُلِدَ الإمام البِرْكِوِي في قرية بكتشلر التابعة لناحية كبسود من محافظة باليكسير، يوم الجمعة العاشر من جمادى الأول سنة 929 هـ، الموافق السابع والعشرين من آذار سنة 1523 م.

‌‌نشأته وثقافته:

نشأ الإمام البِرْكِوِي في بيئة آمنة مستقرَّة زاخرة بالعلم والعلماء، وفي كنف أسرة تتَّسِمُ بالعلم، فقد كان أبوه - بير علي أفندي - أحد المدرسين
মূল লেখক ইমাম বিরকিউয়ী-এর পরিচিতি

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন পীর আলী বিন ইস্কান্দার আর-রুমী। তাঁর উপাধি ছিল মুহিউদ্দীন, অথবা তাকী উদ্দীন, অথবা যাইনুদ্দীন। তিনি বিরকিউয়ী, বা বিরকালী, বা পীরকালু নামে প্রসিদ্ধ, যা বিরকি শহরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত; যেখানে তিনি তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলো অতিবাহিত করেছেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেছেন ও সমাহিত হয়েছেন। তিনি তুরস্কের তুর্কিদের মধ্যে এবং বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতে ইমাম বিরকিউয়ী নামে পরিচিত। বিরকালী।

তাঁর জন্ম:

ইমাম বিরকিউয়ী ৯২৯ হিজরী সনের ১০ই জুমাদাল উলা, শুক্রবার, মোতাবেক ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে মার্চ বালিকেসির প্রদেশের কাবসুদ এলাকার বেকতাশলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞানচর্চা:

ইমাম বিরকিউয়ী জ্ঞান ও ওলামায়ে কেরামে সমৃদ্ধ এক নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে এবং ইলমের দ্বারা সুশোভিত এক পরিবারের ছায়াতলে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা—পীর আলী এফেন্দি—ছিলেন একজন শিক্ষক।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৩২)
في باليكسير آنذاك، فاشتغل منذ نُعومَةِ أظافره بطلب علوم الآداب العربية، والفقه وأصوله، والتفسير، والحديث، والكلام، والمنطق … الخ، وحفظ القرآن -كعادة العلماء في شتى العصور - فغدا عالماً بارعاً في الأصول والعربية.

كما درس عند أبيه مقدمات العلوم والفنون المتنوعة، وحَصَّل عنده علم المنطق وغيره، وعندما أحسَّ الوالِدُ في ابنه النبوغَ وحُبَّ العِلْم أرسلَهُ إلى إستانبول حيث توجد المدارس العثمانية التي بناها السلطان محمد الفاتح ليُكمِلَ دراسته العليا.

وظل الإمام البِرْكِوِي ينتقل بين رياض العلماء في إستانبول، وشبَّ في أحضان هذا الجو العلمي الذي يموج بالمجادلات والمناظرات، فكان لها أعظم الأثر في اتِّقَاِد ذهنه، وصقل مواهبه.

وبالإضافة إلى ذلك كانت الدولة آنذاك تدعَمُ الحركة العلمية، وتُشجِّعُ العلماء، حيث عاش الإمام البِرْكِوِي في عهد أشهر السلاطين الذين اهتموا بالحركة الأدبية والعلمية، مثل السلطان سليمان القانوني، وابنه سليم، اللذين كان لهما انشغال ملحوظ بالأدب والشعر، وكانا يُوليَانِ اهتماماً كبيراً بالعلماء والكتاب والشعراء، مما ساعد في ازدهار الحركة العلمية والأدبية.
সেই সময় বালিকেসিরে অবস্থানকালে তিনি শৈশব থেকেই আরবি সাহিত্য, ফিকহ ও উসুল, তাফসির, হাদিস, কালাম শাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা … প্রভৃতি শিক্ষা অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং বিভিন্ন যুগের আলেমদের রীতি অনুযায়ী কুরআন হিফজ করেন; ফলে তিনি উসুল ও আরবি ভাষায় একজন সুদক্ষ আলিমে পরিণত হন।

এছাড়াও তিনি তাঁর পিতার কাছে বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যার প্রাথমিক বিষয়াদি অধ্যয়ন করেন এবং তাঁর নিকট যুক্তিবিদ্যাসহ অন্যান্য জ্ঞান অর্জন করেন। যখন পিতা তাঁর পুত্রের মধ্যে প্রতিভা ও জ্ঞানতৃষ্ণা অনুভব করলেন, তখন তিনি তাঁকে উচ্চশিক্ষার জন্য ইস্তাম্বুলে প্রেরণ করেন, যেখানে সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ নির্মিত উসমানীয় মাদরাসাগুলো অবস্থিত ছিল।

ইমাম বিরকিভি ইস্তাম্বুলের আলেমদের জ্ঞানকাননে বিচরণ করতে থাকেন এবং বিতর্ক ও তাত্ত্বিক আলোচনার ঢেউ বয়ে যাওয়া এই জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন; যা তাঁর মেধা প্রজ্জ্বলিত করতে এবং তাঁর প্রতিভাকে শাণিত করতে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভাব ফেলেছিল।

এর পাশাপাশি তৎকালীন রাষ্ট্র জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনকে সমর্থন করত এবং আলেমদের উৎসাহিত করত। ইমাম বিরকিভি এমন সব প্রথিতযশা সুলতানদের যুগে বসবাস করেছেন যারা সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক আন্দোলনের প্রতি বিশেষ মনোযোগী ছিলেন, যেমন সুলতান সুলাইমান আল-কানুনী এবং তাঁর পুত্র সেলিম। তাঁদের সাহিত্য ও কবিতার প্রতি লক্ষ্যণীয় অনুরাগ ছিল এবং তাঁরা আলেম, লেখক ও কবিদের প্রতি প্রভূত সম্মান প্রদর্শন করতেন, যা জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক আন্দোলনের উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولكن على الرغم من هذا الاهتمام من جانب السلاطين فقد ظهر في هذه الفترة بعضُ أصحاب البِدَع والخرافات والأفكار الخاطئة، وكان للإمام البِرْكِوِي دورٌ بارِز في محاربتهم ورِّدهِم، وهاجمهم داحضاً حُججَهُم بالكتابِ والسُنَّة، وألَّفَ كتابَه "الطريقة المحمدية" محاولاً من خلاله إرشاد الناس إلى الطريق الصحيح في العبادات والمعاملات.

‌‌صفاته وأخلاقه:

لقد أجمع المترجمون للإمام البِرْكِوِي على نَعتِه بالصفات الحميدة، وعظم قدره، ومنزلته العلمية، فقال صاحب العقد المنظوم:

((وممن تعانى العلم والعمل وحصل وكمل فالتحق في شبابه بالمشايخ الكمل، الشيح محي الدين الشهير ببيركيلو، كان أبوه رجلاً علَمَاً من أصحاب الزوايا، ولا غرو فيه فإنَّ الزوايا خبايا، ونشأ المرحوم - أي الإمام البِرْكِوِي - في طلب المعارف والعلوم، ووصل إلى مجلس العظام، ودخل محافل الكرام، وعكف على التحصيل والإفادة من أفاضل السادة، ثم غلب عليه الزهدُ والصلاح، ولاحَ في جبينه آياتُ الفوزِ والفلاح، فتحوَّلَ عن مضايق الشكوك إلى مسارح السلوك … ، وكان رحمه الله في طرفٍ عالٍ من الفضل والكمال، وتتبُّعِ الكتب والرسائل، وجمعِ
কিন্তু সুলতানদের পক্ষ থেকে এই মনোযোগ থাকা সত্ত্বেও এই সময়ে কিছু বিদআতপন্থী, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারার মানুষের আবির্ভাব ঘটে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তাদের প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে ইমাম বিরকিভির এক অসামান্য ভূমিকা ছিল। তিনি কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে তাদের যুক্তিগুলোকে খণ্ডন করে তাদের ওপর আক্রমণ চালান এবং নিজের গ্রন্থ 'আত-তরিকাতুল মুহাম্মাদিয়া' রচনা করেন, যার মাধ্যমে তিনি ইবাদত ও মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

‌‌তাঁর গুণাবলি ও আখলাক:

ইমাম বিরকিভির জীবনীকারগণ তাঁকে প্রশংসনীয় গুণাবলিতে ভূষিত করা এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও ইলমি অবস্থানের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। 'আল-ইকদুন মানজুম' এর লেখক বলেন:

“যিনি ইলম ও আমলের সাধনা করেছেন এবং তা অর্জন ও পূর্ণতা দান করে যৌবনেই কামিল মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তিনি হলেন শায়খ মুহিউদ্দিন, যিনি বিরকিলু নামে পরিচিত। তাঁর পিতা ছিলেন খানকাহর অধিবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ নির্জন কোণগুলোই (খানকাহ) হলো গুপ্ত ধনের খনি। মরহুম — অর্থাৎ ইমাম বিরকিভি — জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্বেষণে বেড়ে ওঠেন এবং বড় বড় পণ্ডিতদের মজলিসে ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের সমাবেশে পৌঁছান। তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণে মগ্ন হন। এরপর তাঁর ওপর দুনিয়াবিমুখতা ও নেক আমল প্রবল হয়ে ওঠে এবং তাঁর ললাটে সফলতা ও কল্যাণের নিদর্শনাবলি প্রকাশ পায়। ফলে তিনি সন্দেহের সংকীর্ণতা থেকে সুলুকের (আধ্যাত্মিক পথ) বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণে স্থানান্তরিত হন … , আর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার সুউচ্চ স্তরে ছিলেন এবং কিতাব ও রিসালাসমূহের অনুসন্ধান এবং তা সংকলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।”
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
القواعدِ والمسائل، وجمع العلم وتبحَّرَ فيه، وحوى من الفضل والمعرفة ما يكفيه … ، وكان رحمه الله آيةً في الزهد والصيانة، ونهاية في الورع والديانة … ، متمسكاً بما هو أتم وأقوى، قائماً على الحق في كل مكان، يرد على من خالف الشريعة كائناً من كان، لا يهاب أحداً لعلوِّ رُتبَتِه، وسُمُوِّ منزلَتِه، جاء في آخر عمره إلى قسطنطينية ودخل مجلس الوزير محمد باشا وكلَّمَهُ في قمع الظلم، ودفع المظالم بكلماتٍ أحدَّ من السيوف الصوارم، وملأ بفرائد المواعظ ذلك النادي، ولكن لا حياة لمن ينادي)).

وكان الإمام البِرْكِوِي سيفاً مسلولاً على أصحاب الباطل، وكان لا يخشى في قولِ الحقِّ لومةَ لائم، خاصة فيما يتعلق بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، حيث كان يَنتقِدُ بعضَ رجال الدين والدولة إذا رأى منهم قصوراً، أو خللاً في أعمالهم، وكان يتَّصِفُ بالنزاهة والعِزَّة، ولم يُقدِّم تأليفاً علمياً إلى أحد كبار الدولة لينال العطاء والثناء كما كان يفعلُ معاصروه من العلماء والأدباء.

ومما يُؤكِّدُ ذلك ما ذكرَتهُ كتبُ التراجم من نشوبِ نقاشٍ طويل وجدالٍ عنيف بين الإمام البِرْكِوِي وشيخ الإسلام أبي السعود أفندي، وكان يَشغَلُ منصِبَ الإفتاء آنذاك، في مسألةِ الوقف، وقد اتهمه بعضُ علماءِ عصرِه بأنه أرادَ أن ينالَ الشُّهرَةَ بانتقادِه لشيخ الإسلام، علماً بأنَّ
নীতিমালা ও মাসায়েল, এবং জ্ঞান আহরণ ও তাতে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন; তিনি পর্যাপ্ত ফযীলত ও মা'রিফাত অর্জন করেছিলেন … , আর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) দুনিয়াবিমুখতা ও আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে এক নিদর্শন এবং পরহেজগারি ও দ্বীনদারিতে এক অনন্য উচ্চতায় ছিলেন … , যা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী তা আঁকড়ে ধরতেন, সর্বক্ষেত্রে সত্যের ওপর অটল থাকতেন, শরিয়ত বিরোধীদের প্রতিবাদ করতেন তারা যেই হোক না কেন, কারো উচ্চ পদমর্যাদা বা সুউচ্চ অবস্থানের কারণে তিনি কাউকে ভয় করতেন না। জীবনের শেষভাগে তিনি কনস্টান্টিনোপল আগমন করেন এবং উজির মুহাম্মদ পাশার মজলিসে প্রবেশ করেন। জুলুম দমন ও অন্যায় দূর করার বিষয়ে তিনি শাণিত তরবারির চেয়েও তীক্ষ্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সাথে কথা বলেন এবং সেই মজলিসকে দুর্লভ নসিহত দ্বারা পূর্ণ করে দেন, কিন্তু যাকে ডাকছেন তার তো প্রাণ নেই।

ইমাম বিরকিবি বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে এক উন্মুক্ত তলোয়ার ছিলেন। সত্য বলার ক্ষেত্রে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না; বিশেষ করে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত বিষয়ে। তিনি ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করতেন যখনই তাদের কাজে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি দেখতেন। তিনি সততা ও আত্মমর্যাদাবোধের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। সমসাময়িক আলেম ও সাহিত্যিকদের মতো উপঢৌকন বা প্রশংসা লাভের আশায় তিনি রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তির নিকট নিজের কোনো ইলমি রচনা পেশ করেননি।

জীবনীগ্রন্থসমূহে বর্ণিত ইমাম বিরকিবি ও শাইখুল ইসলাম আবুস সাউদ এফেন্দির মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ও তীব্র বিতর্কের ঘটনাটি একে আরও দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে। আবুস সাউদ এফেন্দি তখন ইফতা পদে আসীন ছিলেন। বিতর্কটি ছিল ওয়াকফ সংক্রান্ত মাসআলায়। তাঁর সমসাময়িক কিছু আলেম তাঁকে এই বলে অভিযুক্ত করেছিলেন যে, তিনি শাইখুল ইসলামের সমালোচনা করে কেবল প্রসিদ্ধি লাভ করতে চেয়েছেন, যদিও...
(খণ্ড: ১) যুখরুল মুতাআহহিলীন ওয়ান নিসা লিল ইমামিল বারকাভী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الثابت من خلال كتاباته أنه ناقش وجادل كثيراً من معاصريه كلما رأى أمراً مخالِفَاً للكتاب أو السُنَّة أو أدلة المجتهدين، حتى لقب رحمه الله بالإمام البِرْكِوِي، والإمامة درجة علمية ودينية رفيعة المنزلة آنذاك.

إن الإمام البِرْكِوِي من أبرز العلماء الذين جمعوا بين العلم والتقوى ظاهراً وباطناً، ووصف بالورع والفضيلة، وما تركه الإمام البِرْكِوِي من آثار قيِّمَة أكبرُ شاهدٍ على أنَّ صاحبَ هذه الآثار على درجة خلقية رفيعة وعلم عميق.

‌‌رحلاته:

للإمام البِرْكِوِي - في حياته - رحلات، أولها عندما انتقل من مسقط رأسه باليكسير إلى إستانبول - عاصمة الدولة العثمانية آنذاك - طلباً للعلم، حيث أنهى تعليمه العالي.

وأما رحلته الثانية فعندما أنهى تعليمه العالي وانتقل إلى أدرنة حيث عُيِّنَ فيها بالقسَّام العسكري، أي عضو الهيئة المشرفة على توزيع تركة الميت من الجند (الانكشارية) على ورثته الشرعيين، فكان مستشاراً شرعياً في الهيئة.

ثم عاد إلى إستانبول مرةً أخرى - بعد تركه وظيفته في أدرنة - حيث
তাঁর লেখালেখির মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, তিনি তাঁর সমসাময়িক অনেকের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক করেছেন যখনই তিনি কুরআন, সুন্নাহ বা মুজতাহিদদের দলীলসমূহের পরিপন্থী কোনো বিষয় দেখতেন, এমনকি তাঁকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ইমাম বিরকিউয়ি উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আর ইমামত ছিল তৎকালীন সময়ের একটি উচ্চ ইলমি ও ধর্মীয় পদমর্যাদা।

নিশ্চয়ই ইমাম বিরকিউয়ি ছিলেন সেই সমস্ত বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত যারা প্রকাশ্য ও গোপনে ইলম ও তাকওয়ার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি পরহেজগারি ও ফযীলতের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। ইমাম বিরকিউয়ি যে মূল্যবান রচনাবলী রেখে গেছেন, তা-ই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, এই রচনাবলীর লেখক অত্যন্ত উচ্চ নৈতিক চরিত্র ও গভীর ইলমের অধিকারী ছিলেন।

‌‌তাঁর সফরসমূহ:

ইমাম বিরকিউয়ির জীবনে বেশ কিছু সফর ছিল। প্রথমটি ছিল যখন তিনি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তাঁর জন্মস্থান বালিকেসির থেকে ইস্তাম্বুলে—যা তৎকালীন উসমানীয় সালতানাতের রাজধানী ছিল—স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে তাঁর উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করেন।

আর তাঁর দ্বিতীয় সফরটি ছিল যখন তিনি তাঁর উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে এদিরনে গমন করেন। সেখানে তাঁকে 'কাসসামে আসকারি' হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, অর্থাৎ নিহত সৈন্যদের (ইনিশারি) পরিত্যক্ত সম্পদ তাদের শরয়ী ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টনের তদারকি পরিষদের সদস্য হিসেবে। তিনি উক্ত পরিষদে শরয়ী উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর এদিরনে তাঁর কর্মস্থল ত্যাগ করার পর তিনি পুনরায় ইস্তাম্বুলে ফিরে আসেন, যেখানে...