(খণ্ড: ১)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل الشام القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: فضائل الشام [مطبوع ضمن مجموع رسائل الحافظ ابن رجب الحنبلي]
المؤلف: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (736 - 795 هـ)
دراسة وتحقيق: أبي مصعب طلعت بن فؤاد الحلواني
الناشر: الفاروق الحديثة للطباعة والنشر
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 111
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1433
শামের ফযীলত বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণ কাহিনী
কিতাব: শামের ফযীলত [হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলীর সংকলিত রিসালাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত]
লেখক: যয়নুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরী)
গবেষণা ও সম্পাদনা: আবু মুসআব তালাত বিন ফুয়াদ আল-হালওয়ানী
প্রকাশক: আল-ফারুক আল-হাদীসাহ লিত-তিবাআহ ওয়ান-নাশর
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৩
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
فضائل الشام
শাম অঞ্চলের ফযিলতসমূহ
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله منجي من شاء من عباده المؤمنين من الهلكة، ومصطفي ما شاء من بلاده بمزيد الإيمان والبركة، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، فطوبى لمن وحده، وتبًّا لمن أشركه.
وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله المخصوص بالفضل الَّذِي ما بلغه سواه ولا أدركه، مولده بمكة، ومهاجره طَيْبَة، وملكه بالشام فهي لأمته خير مملكة، صلّى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن اقتفى طريقه وسلكه، وبعد.
فإن الله -تعالى- جعل البلدة الحرام مبدأ لخلقه وأمره؛ فأول ما خلق من الأرض مكان البيت، ومنه دُحيتِ الأرض وهو أول مسجد وضع عَلَى وجه الأرض لعِبَادَةِ الله -تعالى- وتوحيده، وفيه ابتدأت رسالة. خاتم النبيين، وأنزل الكتاب المبين، وجعل الشام منتهى الخلق والأمر، ففي آخر الزمان يستقر الإيمان وأهله بالشام، وهي أرض المحشر والنشر للأنام.
وقد اجتمعت في هذا الكتاب ما ورد في حماية الشام وصيانتها بما فيها من الإيمان والإسلام تطييبًا لقلوب المؤمنين وتسكينًا لهم مما حدث بالشام من الحوادث المزعجة في سنة إحدى واثنين وتسعين بعد سبع مئين من هجرة إمام المتقين، وخاتم النبيين صلّى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، والله المسئول أن يحسن لنا وللمسلمين العاقبة، وأن يجعلنا من الطائفة القائمة بالحق الغالبة.
وقد قسمته إِلَى عشرة أبواب، والله الموفق للصواب.
الباب الأول: فيما ورد في الأمر بسُكنى الشام.
الباب الثاني: فيما ورد في استقرار العِلْم والإيمان بالشام.
الباب الثالث: فيما ورد في حفظ الشام من الفتن.
الباب الرابع: فيما ورد في استقرار خيار أهل الأرض في آخر الزمان بالشام، وأن الخير فيها أكثر منه في سائر بلاد المسلمين.
الباب الخامس: فيما ورد في أن الطائفة المنصورة بالشام.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা ধ্বংস থেকে মুক্তি দেন এবং তাঁর ভূখণ্ডসমূহের মধ্যে যেটিকে ইচ্ছা অধিক ঈমান ও বরকত দিয়ে মনোনীত করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সুতরাং সুসংবাদ তার জন্য যে তাঁকে একক মেনেছে, আর ধ্বংস তার জন্য যে তাঁর সাথে শরিক করেছে।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি এমন ফযিলতের অধিকারী যা তিনি ছাড়া আর কেউ লাভ করতে পারেনি এবং কেউ তা অর্জন করতে পারেনি। তাঁর জন্ম মক্কায়, তাঁর হিজরতভূমি তাইবায় (মদিনায়), আর তাঁর রাজত্ব শামে (সিরিয়া অঞ্চল); যা তাঁর উম্মতের জন্য সর্বোত্তম রাজত্ব। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন ও তাঁর পথে চলেছেন তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই পবিত্র শহরকে (মক্কা) তাঁর সৃষ্টি ও আদেশের সূচনাস্থল বানিয়েছেন। জমিনের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম যে স্থানটি সৃষ্টি করেছেন তা হলো বাইতুল্লাহর (কা’বা) স্থান এবং সেখান থেকেই জমিনকে বিস্তৃত করা হয়েছে। এটিই প্রথম মসজিদ যা মহান আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর একত্ববাদের জন্য ভূপৃষ্ঠে স্থাপিত হয়েছে। এখানেই নবীগণের মোহরের (খাতামুন্নাবিয়্যীন) রিসালাত শুরু হয়েছে এবং সুস্পষ্ট কিতাব নাযিল হয়েছে। আর তিনি শামকে সৃষ্টি ও আদেশের সমাপ্তিস্থল বানিয়েছেন। সুতরাং শেষ যামানায় ঈমান ও ঈমানদারগণ শামে অবস্থান গ্রহণ করবে এবং এটিই হবে মানবজাতির হাশর ও নশরের (পুনরুত্থান ও সমাবেশের) ভূমি।
এই কিতাবে আমি শাম-এর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং সেখানে বিদ্যমান ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা একত্রিত করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো মুমিনদের অন্তরকে প্রশান্ত করা এবং মুত্তাকীদের ইমাম ও নবীগণের মোহরের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের সাতশত বিরানব্বই হিজরীতে শামে যেসব উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে তার কারণে তাদের মনে স্থিরতা আনা। আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি আমাদের এবং মুসলিমদের পরিণাম ভালো করেন এবং আমাদের সেই হকপন্থী দলের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ও বিজয়ী থাকবে।
আমি একে দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি। আল্লাহই সঠিক পথে চলার তৌফিকদাতা।
প্রথম অধ্যায়: শাম দেশে বসবাস করার নির্দেশ সংক্রান্ত বর্ণনা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: শামে ইলম ও ঈমানের স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত বর্ণনা।
তৃতীয় অধ্যায়: শামকে ফিতনা থেকে রক্ষা করা সংক্রান্ত বর্ণনা।
চতুর্থ অধ্যায়: শেষ যামানায় ভূপৃষ্ঠের সর্বোত্তম লোকদের শামে অবস্থান গ্রহণ এবং সেখানে অন্যান্য মুসলিম দেশ অপেক্ষা অধিক কল্যাণ থাকা সংক্রান্ত বর্ণনা।
পঞ্চম অধ্যায়: সাহায্যপ্রাপ্ত দল (তায়েফায়ে মানসুরা) শামে থাকা সংক্রান্ত বর্ণনা।
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮০)
الباب السادس: فيما ورد في أن الأبدال بالشام.
الباب السابع: فيما ورد في بركة الشام.
الباب الثامن: في حفظ الله الشام بالملائكة الكرام.
الباب التاسع: فيما ورد في بقاء الشام بعد خراب غيرها من الأمصار.
الباب العاشر: فيما ورد في فضل دمشق بخصوصها.
وبالله المستعان وعليه التكلان، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
***
ষষ্ঠ অধ্যায়: আবদালগণ শামে অবস্থান করা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।
সপ্তম অধ্যায়: শামের বরকত প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।
অষ্টম অধ্যায়: সম্মানিত ফেরেশতাগণের মাধ্যমে আল্লাহ কর্তৃক শামের সুরক্ষা প্রদান প্রসঙ্গে।
নবম অধ্যায়: অন্যান্য জনপদ ধ্বংস হওয়ার পর শামের অবশিষ্ট থাকা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।
দশম অধ্যায়: বিশেষভাবে দামেস্কের ফযিলত প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয় এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ নির্ভরতা, আর আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্য ছাড়া কোনো উপায় নেই।
***
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
الباب الأول ما ورد في الأمر بسُكْنى الشامعن عبد الله بن حوالة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "سَيَصِيرُ الأَمْرُ إِلَى أَنْ يَكُونَ أَجْنَادًا مُجَنَّدَةً، جُنْدٌ بِالشَّامِ، وَجُنْدٌ بِالْيَمَنِ، وَجُنْدٌ بِالْعِرَاقِ، فَقَالَ ابْنُ حَوَالَةَ: خِرْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ! فَقَالَ: عَلَيْكَ بِالشَّامِ؛ فَإِنَّهَا خِيرَةُ اللَّهِ مِنْ أَرْضِهِ، يَجْتَبِي إِلَيْهَا خِيرَتَهُ مِنْ عِبَادِهِ، فَأَمَّا إِنْ أَبَيْتُمْ فَعَلَيْكُمْ بِيَمَنِكُمْ، وَاسْقُوا مِنْ غُدْرِكُمْ (1)، فَإِنَّ اللَّهَ توكل -وفي رواية: تَكَفَّلَ -لِي بِالشَّامِ وَأَهْلِهِ".
خرجه الإمام أحمد (2) وأبو داود (3) وابن حبان في صحيحه (4)، والحاكم (5) وقال: صحيح الإسناد. وقال أبو حاتم الرازي (6): هو حديث صحيح حسن غريب.
قلت: وله طرق كثيرة، قد ذكرتها في شرح كتاب الترمذي مستوفاة.
وخرَّج البزار (7) نحوه، من حديث أبي الدرداء، وخرج البزار (8) أيضاً، والطبراني (9) نحوه من حديث ابن عمر.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: শাম দেশে বসবাসের নির্দেশ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছেআবদুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অচিরেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়াবে যে, (মুসলিমরা) একাধিক সুসংগঠিত সেনাদলে বিভক্ত হয়ে পড়বে; একদল শামে, একদল ইয়ামেনে এবং একদল ইরাকে।" তখন ইবনে হাওয়ালা (রা.) বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি সেই সময়ের দেখা পাই, তবে আমার জন্য একটি স্থান পছন্দ করে দিন।" তিনি বললেন: "তুমি শামের পথ বেছে নিও; কেননা তা আল্লাহর জমিনের মধ্যে তাঁর মনোনীত ভূখণ্ড। সেখানে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিদের একত্রিত করবেন। আর যদি তোমরা তা (শামে যাওয়া) অস্বীকার করো, তবে তোমাদের ইয়ামেনকে গ্রহণ করো এবং তোমাদের জলাশয়গুলো থেকে পানি পান করো (১)। কেননা আল্লাহ তাআলা আমার খাতিরে শামের এবং তার অধিবাসীদের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন (অন্য বর্ণনায় এসেছে: দায়িত্ব নিয়েছেন)।"
এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ (২), আবু দাউদ (৩), ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪) এবং হাকেম (৫); তিনি (হাকেম) বলেছেন: হাদিসটির সনদ সহিহ। আবু হাতিম আর-রাজি (৬) বলেছেন: এটি একটি সহিহ, হাসান ও গারিব হাদিস।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই হাদিসের অনেকগুলো সূত্র রয়েছে, যা আমি তিরমিজি গ্রন্থের ব্যাখ্যায় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি।
আল-বাজার (৭) আবু দারদা (রা.)-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; এছাড়াও আল-বাজার (৮) এবং তাবারানিও (৯) ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮২)
وخرَّج الطبراني أيضاً من حديث واثلة بن الأسقع (1)، والعرباض (2) بن سارية.
وخرَّج الإمام أحمد (3) والترمذي (4) وابن حبان (5) في صحيحه من حديث ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "تَخْرُجُ نَارٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ فَتَسُوقُ النَّاسَ قُلنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا تَأْمُرُنَا؟ قَالَ: عَلَيْكُمْ بِالشَّامِ» وصححه الترمذي.
وخرَّج الإمام أحمد (6) والترمذي (7) من حديث بهز بن حكيم (8) قال: "قلت يا رسول الله، أين تأمرني؟ قال: ها هنا. ونحى بيده نحو الشام. قال: إنكم محشورون رجالاً وركبانًا، وتخرون عَلَى وجوهكم".
وفي رواية خرج الإمام أحمد (9): "وأشار بيده إِلَى الشام، فقال: إِلَى ها هنا تحشرون" وصححه الترمذي أيضاً.
وخرَّج الإمام أحمد (10) من حديث أبي أمامة الباهلي عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "عليكم بالشام".
وخرج الطبراني (11) من حديث ابن عباس قال: "جاء رجل إِلَى رسول الله
--------------------------------------------
তাবারানি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (১) এবং ইরবাদ (২) ইবনে সারিয়া-এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ (৩), তিরমিজি (৪) এবং ইবনে হিব্বান (৫) তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হাজরামাউত থেকে একটি আগুন বের হবে যা মানুষকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: তোমরা শামের দিকে যাও।" তিরমিজি একে সহিহ বলেছেন।
ইমাম আহমাদ (৬) এবং তিরমিজি (৭) বাহজ ইবনে হাকিম (৮) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে কোথায় যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: এই দিকে। এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে শামের দিকে ইশারা করলেন। তিনি বললেন: তোমাদেরকে পদব্রজে এবং আরোহী অবস্থায় একত্রিত করা হবে এবং তোমাদেরকে তোমাদের মুখের ওপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।"
ইমাম আহমাদ (৯)-এর বর্ণিত এক বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি তাঁর হাত দিয়ে শামের দিকে ইশারা করে বললেন: এই দিকেই তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।" তিরমিজিও একে সহিহ বলেছেন।
ইমাম আহমাদ (১০) আবু উমামা আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা শামের দিকে যাও।"
তাবারানি (১১) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলের কাছে এল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
- صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يا رسول الله، إني أريد الغزو في سبيل الله، قال: عليك بالشام؛ فإن الله قد تكفل لي بالشام وأهله".
وخرج الإمام أحمد (1) من حديث أبي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كيف تصنع إن أُخرجت من المدينة؟ قلت: إِلَى السَّعة والدَّعة أنطلق، حين (2) أكون حمامةً من حمام مكة. قال: فكيف تصنع إن أُخرجت من مكة؟ قلت: إِلَى السَّعة والدَّعة، إِلَى الشام والأرض المقدسة. قال: فكيف تصنع إن أُخرجت من الشام؟ قلت: إذًا والذي بعثك بالحق أضع سيفي عَلَى عاتقي. فَقَالَ: أو خيرٌ من ذلك تسمع وتطيع، وإن كان عبدًا حبشيًّا".
وخرج ابن أبي خيثمة من حديث ذي الأصابع، أنَّه قال: "يا رسول الله، أين تأمرنا إن ابتلينا بالبقاء بعدك؟ قال: عليك بالشام".
وخرج الترمذي (3) من حديث ابن عمر "أن مولاة له أتته فقالت: اشتد عليّ الزمان، وأنا أريد أن أخرج إِلَى العراق، قال: فهلا إِلَى الشام؛ أرض المنشر
… " وذكر الحديث، وقال: حسن غريب (4).
وروى يحيى بن سعيد عن عبد الله بن هبيرة "أن أبا الدرداء كان قاضيًا بالشام فكتب إِلَى سلمان: هلم إِلَى الأرض المقدسة، أرض الجهاد".
وروى الطبراني (5) من حديث أرطاة بن المنذر قال: حدثني أبو الضحاك، قال: "أتيت ابن عمر فسألته: أين أنزل؟ فَقَالَ: إنَّ الناصية الأولى من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ساروا بلواء رسول الله صلى الله عليه وسلم حين نزلوا الشام، ثم نزلوا حمص خاصة، فانظر ما كانوا عليه فأته".
وروينا من حديث ابن ثوبان عن منصور بن المعتمر عن علقمة قال: "قدم
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।" তিনি বললেন: "তোমার জন্য শাম আবশ্যক; কেননা আল্লাহ আমার খাতিরে শাম ও এর অধিবাসীদের জিম্মাদারী গ্রহণ করেছেন।"
ইমাম আহমাদ (১) আবু যার-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাকে যদি মদিনা থেকে বের করে দেওয়া হয় তবে তুমি কী করবে?" আমি বললাম: "আমি প্রশস্ততা ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে চলে যাব, যতক্ষণ (২) না আমি মক্কার কবুতরসমূহের ন্যায় একটি কবুতর হই।" তিনি বললেন: "তবে তোমাকে যদি মক্কা থেকে বের করে দেওয়া হয় তখন কী করবে?" আমি বললাম: "প্রশস্ততা ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে—শাম ও পবিত্র ভূমির দিকে চলে যাব।" তিনি বললেন: "যদি তোমাকে শাম থেকে বের করে দেওয়া হয় তখন কী করবে?" আমি বললাম: "তবে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি আমার তরবারি নিজের কাঁধে তুলে নেব।" তখন তিনি বললেন: "অথবা তার চেয়ে উত্তম কিছু হলো—তুমি শুনবে ও আনুগত্য করবে, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়।"
ইবন আবি খাইসামাহ যিল আসাবি’-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আপনার পরে আমরা যদি বেঁচে থাকার পরীক্ষার সম্মুখীন হই, তবে আপনি আমাদের কোথায় যাওয়ার নির্দেশ দেন?" তিনি বললেন: "তোমার জন্য শাম আবশ্যক।"
তিরমিযী (৩) ইবন উমর-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তাঁর এক মুক্তদাসী তাঁর কাছে এসে বলল: আমার ওপর সময় খুব কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আমি ইরাকের দিকে চলে যেতে চাই। তিনি বললেন: কেন তুমি শামের দিকে যাচ্ছ না; যা পুনরুত্থানের ভূমি..." এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন: এটি হাসান গরীব (৪)।
ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আবদুল্লাহ ইবন হুবায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, "আবু দারদা শামে বিচারক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি সালমানের কাছে লিখে পাঠালেন: পবিত্র ভূমিতে চলে এসো, যা জিহাদের ভূমি।"
তাবারানী (৫) আরতাহ ইবনুল মুনযিরের বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুয যাহহাক আমাকে বলেছেন: "আমি ইবন উমর-এর কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: আমি কোথায় বসতি স্থাপন করব? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের অগ্রবর্তী দলটি যখন শামে অবতরণ করেছিলেন, তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঝাণ্ডা সাথে নিয়েই অগ্রসর হয়েছিলেন। অতঃপর তাঁরা বিশেষভাবে হিমসে অবস্থান করেন। সুতরাং দেখো তাঁরা কিসের ওপর অটল ছিলেন এবং সেখানে চলে যাও।"
আমরা ইবন সাওবান-এর বর্ণিত হাদিস থেকে মানসুর ইবনুল মু’তামির-এর সূত্রে আলকামা থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেন: "উপস্থিত হলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮৪)
كعب عَلَى عمر المدينة، فَقَالَ له عمر: يا كعب، ما يمنعك بالنزول (1) بالمدينة، فإنها مهاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم وبها مدفنه؟ قال: يا أمير المؤمنين، إني وجدت في كتاب الله المنزل في التوراة، وإن الشام كنز الله في أرضه، وبها كنز الله من عباده".
ورواه عبد الرزاق (2) عن معمر، عن قتادة: "أن كعبًا قال لعمر: إني وجدت
… " فذكره.
وروى إبراهيم بن أدهم عن عطاء الخراساني قال: لما هممت بالنُّقلة من خراسان شاورت من بها من أهل العِلْم: أين ترون أن أنزل بعيالي؟ فكلهم يقول: عليك بالشام، ثم أتيت البصرة فشاورت من بها: أين ترون أن أنزل بعيالي؟ فكلهم يقول: عليك بالشام، ثم أتيت الكوفة فشاورت من بها من أهل العِلْم: أين ترون أن أنزل بعيالي؟ فكلهم يقول: عليك بالشام، ثم أتيت مكة فشاورت من بها من أهل العِلْم: أين ترون لي أن أنزل بعيالي؟ فكلهم يقول: عليك بالشام، ثم أتيت المدينة: فسألت من بها من أهل العِلْم: أين ترون لي أن أنزل بعيالي؟ فكلهم يقول: عليك بالشام. خرَّجه ابن أبي خيثمة.
وروى الصلت بن حكيم عن وهب بن منبه، قال: قال هرم بن حبَّان لأويس القرني: يا أخي، إني أخاف الوحشة من بعدك، فَقَالَ أويس: ما ظننت أن أحدًا يعرف الله عز وجل فيستوحش معه، قال: قلت له: فأين أكون؟ قال: فأومأ بيده نحو الشام. قال: فقلت: كيف أصنع بالمعيشة؟ قال: إن خالط هذه النفوس الضعف فما ينفعها شيء.
وذكر أبو بكر الخلال في كتاب "الجامع" عن أبي بكر المروذي قال: سئل أبو عبد الله -يعني: أحمد بن حنبل-: أين ترى إذا كره المكان الَّذِي هو فيه أن ينتقل؟ قال: إِلَى المدينة، قيل: فغير المدينة؟ قال: مكة. قيل: فغير هذا؟
--------------------------------------------
কা’ব (রা.) মদিনায় উমর (রা.)-এর নিকট আসলেন। উমর (রা.) তাকে বললেন: হে কা’ব, মদিনায় বসবাস করতে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? কেননা এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরত ভূমি এবং এখানেই তাঁর সমাধি। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব তাওরাতে পেয়েছি যে, "নিশ্চয়ই শাম (সিরিয়া অঞ্চল) হচ্ছে তাঁর জমিনে আল্লাহর ভাণ্ডার এবং সেখানে আল্লাহর বান্দাদের মধ্য হতে আল্লাহর ভাণ্ডার রয়েছে।"
এবং আব্দুর রাজ্জাক মা’মার থেকে, তিনি কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই কা’ব উমরকে বলেছিলেন: নিশ্চয়ই আমি পেয়েছি
… " অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।
ইব্রাহিম ইবনে আদহাম আতা আল-খুরাসানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আমি খুরাসান থেকে স্থানান্তরের ইচ্ছা করলাম, তখন সেখানকার আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) সাথে পরামর্শ করলাম: আপনারা আমার পরিবারের জন্য কোথায় বসতি স্থাপন করা উচিত মনে করেন? তাদের প্রত্যেকেই বললেন: তোমার শামে যাওয়া উচিত। এরপর আমি বসরায় আসলাম এবং সেখানকার আহলে ইলমদের সাথে পরামর্শ করলাম: আপনারা আমার পরিবারের জন্য কোথায় বসতি স্থাপন করা উচিত মনে করেন? তাদের প্রত্যেকেই বললেন: তোমার শামে যাওয়া উচিত। এরপর আমি কূফায় আসলাম এবং সেখানকার আহলে ইলমদের সাথে পরামর্শ করলাম: আপনারা আমার পরিবারের জন্য কোথায় বসতি স্থাপন করা উচিত মনে করেন? তাদের প্রত্যেকেই বললেন: তোমার শামে যাওয়া উচিত। এরপর আমি মক্কায় আসলাম এবং সেখানকার আহলে ইলমদের সাথে পরামর্শ করলাম: আপনারা আমার পরিবারের জন্য কোথায় বসতি স্থাপন করা উচিত মনে করেন? তাদের প্রত্যেকেই বললেন: তোমার শামে যাওয়া উচিত। অতঃপর আমি মদিনায় আসলাম এবং সেখানকার আহলে ইলমদের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনারা আমার পরিবারের জন্য কোথায় বসতি স্থাপন করা উচিত মনে করেন? তাদের প্রত্যেকেই বললেন: তোমার শামে যাওয়া উচিত। ইবনে আবি খাইসামা এটি বর্ণনা করেছেন।
আস-সালত ইবনে হাকিম ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারাম ইবনে হাইয়ান উওয়াইস আল-কারনিকে বললেন: হে আমার ভাই, আপনার পরে আমি একাকিত্ব ও অস্থিরতার ভয় পাচ্ছি। উওয়াইস বললেন: আমি মনে করি না যে কেউ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে চেনার পর তাঁর সান্নিধ্যে থাকাবস্থায় একাকিত্ব অনুভব করবে। তিনি বললেন: আমি তাকে বললাম: তবে আমি কোথায় থাকব? তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে শামের দিকে ইশারা করলেন। তিনি বললেন: আমি বললাম: আমার জীবনযাত্রার উপায় কী হবে? তিনি বললেন: যদি এই নফস বা আত্মার মধ্যে দুর্বলতা মিশে যায় তবে কোনো কিছুই তার উপকারে আসে না।
আবু বকর আল-খাল্লাল তাঁর "আল-জামি" কিতাবে আবু বকর আল-মাররুজি থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহকে—অর্থাৎ আহমদ ইবনে হাম্বলকে—জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোনো ব্যক্তি যদি বর্তমান জায়গাটি অপছন্দ করে, তবে কোথায় চলে যাওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেন: মদিনায়। বলা হলো: মদিনা ছাড়া অন্য কোথাও? তিনি বললেন: মক্কায়। বলা হলো: এছাড়া অন্য কোথাও?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
قال: الشام، والشام أرض المحشر، ثم قال: دمشق، لأنها يجتمع إليها الناس إذا غلبت عليهم الروم.
ونقل إسحاق بن إبراهيم بن هانئ وأبو طالب عن أحمد، قريبًا من ذلك، زاد أبو طالب: قلت له: فأصير إِلَى دمشق؟ قال: نعم. قلت: فالرملة؟ قالا: لا، هي قريبة من الساحل.
ونقل حنبل عن أحمد قال: إذا لم يكن للرجل حرمة فالساحل والرباط أعظم للأجر، يَردُّ عن المسلمين، والشام بلد مبارك.
ونقل أبو داود عن أحمد أنَّه قِيلَ لَهُ: هذه الأحاديث التي جاءت أن الله تكفل لي بالشام وأهله، ونحو هذا قال: ما أكثر ما جاء في هذا. قِيلَ لَهُ: فلعله في الثغور. قال: لا. وقال: أرض بيت المقدس أين هي؟ ولا يزال أهل الغرب ظاهرين عَلَى الحق، هم أهل الشام.
ونقل يعقوب بن بختان قال: سمعت أبا عبد الله -يعني: أحمد- يقول: كنت آمُر بحمل الحريم إِلَى الشام، فأما اليوم فلا.
ونقل مهنّا وبكر بن محمد وأبو الحارث عن أحمد نحوه.
وزاد في روايتهما قال: لأنّ الأمر قد اقترب.
زاد مهنّا قال: أخاف عَلَى الذرية من العدو.
وقال جعفر بن محمد: سألت أبا عبد الله عن الحرمة، قلت: دمشق، فأعجبه ذلك، وأحسبه قال: نعم.
ونقل حنبل، قيل لأبي عبد الله: فأين أَحَبّ إليك أن ينزل الرجل بأهله وينتقل؟ قال: كل المدينة معقل للمسلمين مثل دمشق.
قال أبو بكر الخلال: كل ما ذكروه عن أبي عبد الله -يعني: أحمد- من معاقل المدن، ثم ذكرهم عند التوفي بآلائها أيضاً فهذا لما يبلغه من الحوادث، فأما ذكرهم عنه دمشق فهي عنده معقل دون الشام ودون غيرها إلا ما ذكر في أول
তিনি বললেন: শাম, আর শাম হলো হাশরের ভূমি। তারপর তিনি বললেন: দামেস্ক, কারণ যখন রোমানরা তাদের ওপর বিজয় লাভ করবে তখন সেখানে মানুষ সমবেত হবে।
ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হানি এবং আবু তালিব আহমাদ থেকে এর কাছাকাছি বর্ণনা করেছেন। আবু তালিব এতে যোগ করেছেন: আমি তাঁকে বললাম: আমি কি দামেস্কে চলে যাব? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: রামলা-তে? তাঁরা বললেন: না, সেটি উপকূলের কাছাকাছি।
হানবাল আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তির সাথে নারী বা পরিবার না থাকে, তবে উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং সীমান্ত পাহারা দেওয়ার স্থান (রিবাত) সওয়াবের জন্য অধিক মহত্তম; সে মুসলমানদের রক্ষা করবে। আর শাম একটি বরকতময় দেশ।
আবু দাউদ আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে বলা হলো: সেই হাদীসগুলো যাতে এসেছে যে আল্লাহ আমার জন্য শাম এবং তার অধিবাসীদের জিম্মাদার হয়েছেন এবং এই জাতীয় আরও বর্ণনা; তিনি বললেন: এ বিষয়ে কত অসংখ্য বর্ণনা যে এসেছে! তাঁকে বলা হলো: সম্ভবত এটি সীমান্ত অঞ্চলগুলোর ব্যাপারে। তিনি বললেন: না। এবং তিনি বললেন: বাইতুল মাকদিসের ভূমি কোথায়? আর পশ্চিমের লোকেরা সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, তারা হলো শামের অধিবাসী।
ইয়াকুব ইবনে বাখতান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে—অর্থাৎ আহমাদকে—বলতে শুনেছি: আমি শামে পরিবার-পরিজন নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিতাম, তবে বর্তমান দিনে আর দিই না।
মুহান্না, বাকর ইবনে মুহাম্মদ এবং আবুল হারিস আহমাদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
তাঁদের দুইজনের বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে যে তিনি বলেছেন: কারণ বিষয়টি (কিয়ামত) ঘনিয়ে এসেছে।
মুহান্না আরও যোগ করেছেন: আমি সন্তানদের ব্যাপারে শত্রুর ভয় করছি।
জাফর ইবনে মুহাম্মদ বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে নিরাপদ স্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: দামেস্ক? সেটি তাঁর পছন্দ হলো এবং আমার মনে হয় তিনি বললেন: হ্যাঁ।
হানবাল বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো: কোনো ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে কোথায় বসবাস ও স্থানান্তরিত হওয়া আপনার নিকট অধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেন: প্রতিটি শহরই মুসলমানদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল, যেমন দামেস্ক।
আবু বকর আল-খাল্লাল বলেন: আবু আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ আহমাদ—থেকে তারা নিরাপদ শহরগুলো সম্পর্কে যা কিছু বর্ণনা করেছেন এবং পরে বিভিন্ন সময়ে সেগুলোর কল্যাণসমূহও উল্লেখ করেছেন, তা মূলত তাঁর কাছে পৌঁছানো বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ছিল। আর দামেস্ক সম্পর্কে তাঁদের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর কাছে তা ছিল শামের অন্তর্গত একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল, যা অন্যান্য স্থান থেকে স্বতন্ত্র, তবে শুরুতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যতীত।
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
الباب من محبة المدينة عَلَى غيرها. انتهى.
وحاصل ما نُقِل عن الإمام أحمد أنَّه يُسْتَحَبُّ سُكْنَى الشام والانتقال بالذرية والعيال إِلَى معاقلها كدمشق، فأما أطرافها وثغورها القريبة من السواحل فلا يستحب سكناها بالذرية، لما يخشى عليهم من إغارة الكفار، وإنَّما يستحب الإقامة بها للرباط بدون نقل النساء والذرية.
وكل ما كان من بلد من بلدانها أقرب إِلَى السواحل، وأشد خوفًا، فإنَّه يكره نقل الذرية إِلَيْهِ.
فأما الأحاديث في فضائل الشام فلا تختص عنده بثغورها، بل هي عامة لجميع أرض الشام، كبيت المقدس، وما والاه ودمشق وغيرها، والله تعالى أعلم.
وكذلك كره الأوزاعي نقل الذرية إلي الثغور التي يخشى عليها من العدو دون الثغور التي يغلب عليها الأمن من العدو.
وفي كتاب "المراسيل" (1) لأبي داود عن الوضين بن عطاء عن مكحول والقاسم أبي عبد الرحمن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تنزلوا الذرية -يعني- بإزاء العدو".
وروى جويبر، عن الضحاك، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يعرض ذريته لسَبَاء المشركين" خرّجه أبو إسحاق الفزاري في كتاب "السير" وهو مرسل، وجويبر ضعيف.
وروى أبو إسحاق عن الحسن بن الحسن عن عمر بن عبد العزيز أنَّه صرف قومًا قدموا عليه من اليمامة أرادوا سُكنى دمشق عنها، فقالوا: اختر لنا، قال: قِنَّسرِين.
وهكذا كان عمر بن العزيز يختار لنفسه بلاد قنسرين عَلَى دمشق، وإنَّما اختار هذا لقرب العدو، وكون مقامه فيه أنفع للمسلمين؛ لتجهيز الجيوش ووصول الأخبار، وغير ذلك من مصالح العامة. والله أعلم.
--------------------------------------------
অন্যান্য শহরের তুলনায় মদিনার ভালোবাসার পরিচ্ছেদ। সমাপ্ত।
ইমাম আহমাদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো, শাম দেশে বসবাস করা এবং সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজনকে নিয়ে এর সুরক্ষিত দুর্গসমূহ যেমন দামেস্কে চলে যাওয়া মুস্তাহাব। তবে এর সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং উপকূলের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করা মুস্তাহাব নয়, কারণ তাদের ওপর কাফেরদের অতর্কিত হামলার ভয় থাকার আশঙ্কা থাকে। নারীদের এবং সন্তানদের স্থানান্তর না করে কেবল পাহারাদারির (রিবাত) উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করা মুস্তাহাব।
এই দেশের শহরগুলোর মধ্যে যা কিছু উপকূলের অধিক নিকটবর্তী এবং যেখানে ভয়-ভীতি বেশি, সেখানে সন্তান-সন্ততি নিয়ে যাওয়া মাকরূহ।
আর শামের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসসমূহ তাঁর নিকট কেবল সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং তা সমগ্র শাম দেশের জন্য সাধারণ ভাবে প্রযোজ্য, যেমন বায়তুল মুকাদ্দাস ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা, দামেস্ক এবং অন্যান্য শহর। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
একইভাবে ইমাম আওযায়ী শত্রুর ভয় আছে এমন সীমান্তে সন্তান-সন্ততি নিয়ে যাওয়াকে অপছন্দ করেছেন; তবে যে সীমান্তগুলোতে শত্রুর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত সেখানে তা অপছন্দ করেননি।
আবু দাউদের 'আল-মারাসিল' কিতাবে ওয়াদিন ইবনে আতা থেকে, তিনি মাকহুল ও কাসিম আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা শত্রুর মুখোমুখি স্থানে সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে অবস্থান করো না।"
জুওয়াইবার দাহহাক থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার সন্তান-সন্ততিকে মুশরিকদের হাতে বন্দি হওয়ার আশঙ্কায় ফেলে না দেয়।" আবু ইসহাক আল-ফাজারি এটি 'আস-সিয়ার' কিতাবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি মুরসাল বর্ণনা; আর জুওয়াইবার বর্ণনাকারী হিসেবে দুর্বল।
আবু ইসহাক হাসান ইবনে হাসান থেকে এবং তিনি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইয়ামামা থেকে তাঁর নিকট আগত একদল লোককে ফেরত পাঠিয়েছিলেন যারা দামেস্কে বসবাস করতে চেয়েছিল। তারা বলল: "আপনি আমাদের জন্য কোনো জায়গা বেছে দিন।" তিনি বললেন: "কিন্নাসরিন।"
এভাবেই উমর ইবনে আব্দুল আজিজ দামেস্কের চেয়ে নিজের জন্য কিন্নাসরিন অঞ্চলকে বেছে নিতেন। তিনি এটি বেছে নিয়েছিলেন শত্রুর নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এবং সেখানে তাঁর অবস্থান মুসলিমদের জন্য অধিক উপকারী ছিল; যেমন সেনাবাহিনী প্রস্তুত করা, খবরাখবর পৌঁছানো এবং অন্যান্য জনস্বার্থমূলক কাজের জন্য। আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
الباب الثاني ما ورد في استقرار العِلْم والإيمان بالشامعن عبد الله بن عمرو بن العاص عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنِّي رَأَيْتُ كَأَنَّ عَمُودَ الْكِتَابِ (1) انْتُزِعَ مِنْ تَحْتِ وِسَادَتِي، فَأَتْبَعْتُهُ بَصَرِي، فَإِذَا هُوَ نُورٌ سَاطِعٌ عُمِدَ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ، أَلَا وَإِنَّ الْإِيمَانَ إِذَا وَقَعَتِ الْفِتَنُ بِالشَّامِ» خرّجه الحاكم (2) وقال: صحيح عَلَى شرط الشيخين.
وفي رواية خرّجها [أبو] (3) القاسم بن عساكر في "تاريخ دمشق": "فَأَوَّلتُهُ المُلْك".
وللحديث طرق عن عبد الله بن عمرو، قد ذكرتها في شرح الترمذي.
وخرّجه الإمام أحمد (4) من حديث أبي الدرداء، وعمرو بن العاص (5) عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه.
وخرّجه الطبراني (6) من حديث عمر بن الخطاب وابنه عبد الله (7) - رضي
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: শাম (সিরিয়া) দেশে ইলম (জ্ঞান) এবং ঈমান প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছেআবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন কিতাবের খুঁটিটি (১) আমার বালিশের তলা থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আমার দৃষ্টি দিয়ে সেটির অনুসরণ করলাম, হঠাৎ দেখলাম তা একটি প্রদীপ্ত নূর যা আসমানের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে (এবং শামের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে)। জেনে রেখো, যখন ফিতনা দেখা দেবে তখন ঈমান শাম দেশেই থাকবে।’ এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন (২) এবং বলেছেন: এটি শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ।
আবুল কাসিম ইবনে আসাকির (৩) তার ‘তারিখে দিমাশক’ গ্রন্থে একটি বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: "আমি এর ব্যাখ্যা করেছি রাজত্ব বা শাসনকর্তৃত্ব হিসেবে।"
আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত এই হাদিসের আরও অনেক সূত্র রয়েছে, যা আমি ‘শারহুত তিরমিজি’-তে উল্লেখ করেছি।
ইমাম আহমাদ (৪) এটি আবু দারদা এবং আমর ইবনুল আস (৫) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
তাবারানি (৬) এটি উমর ইবনুল খাত্তাব এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ (৭) রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেছেন - রাদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
الله عنهما- ويروى نحوه من حديث أبي أمامة وعائشة، وفي إسناديهما ضعف.
وخرَّج الإمام أحمد (1) والنسائي (2) من حديث سلمة بن [نفيل] (3) سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين عَلَى الناس يزيغ الله قلوب أقوام فيقاتلونهم، يرزقهم الله منهم حتى يأتي أمر الله لي هم عَلَى ذلك، ألا إن [عقب] (4) دار المؤمنين الشام".
وروى أبو القاسم الحافظ (5) بإسناده عن أبي الدرداء أنَّه كان بدمشق فسأله معاوية أن يرجع إِلَى حمص، فَقَالَ: يا معاوية، أتأمرني بالخروج من عقر دار الإسلام.
وعقر الشيء: أصله، ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم: "إني لَبِعُقْرِ حوضي" أي: عند أصله.
وروى شهاب بن خراش، عن سفيان الثوري، عن الأعمش، عن خيثمة، عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يأتي عليكم زمان لا يبقى مؤمن إلا لحق بالشام".
خرجه أبو القاسم الدمشقي الحافظ في "تاريخه" (6) وقال: رواه ابن المبارك، وابن مهدي، وقبيصة، و [أبو] (7) حذيفة، عن سفيان، فوقفوه عَلَى عبد الله بن عمرو، وهو المحفوظ.
قلت: وكذا خرّجه عبد الرزاق (8) في "كتابه" عن معمر، عن الأعمش.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—অনুরূপ বর্ণনা আবু উমামা ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তাঁদের উভয়ের সনদে দুর্বলতা রয়েছে।
ইমাম আহমাদ (১) ও নাসাঈ (২) সালামাহ ইবন [নুফাইল] (৩) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে। আল্লাহ কিছু সম্প্রদায়ের অন্তরকে সত্যবিচ্যুত করবেন, ফলে তারা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে তাদের রিযিক দান করবেন, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ চলে আসে এমতাবস্থায় যে তারা সেই পথেই অবিচল থাকবে। জেনে রেখো, মুমিনদের ভূখণ্ডের মূল কেন্দ্র হলো শাম।"
হাফেজ আবুল কাসিম (৫) তাঁর সনদে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দামেস্কে ছিলেন, তখন মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে হিমস-এ ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বললেন: হে মুয়াবিয়া, আপনি কি আমাকে ইসলামের মূল কেন্দ্রস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দিচ্ছেন?
আর কোনো বস্তুর 'উক্ব্র' (ভিত্তি) হলো তার মূল। এ থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি আমার হাউজের মূল গোঁড়ায় থাকব", অর্থাৎ: তার মূল ভিত্তির কাছে।
শিহাব ইবন খিরাশ, সুফিয়ান সাওরী থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি খাইসামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন শামে গমন করা ব্যতীত কোনো মুমিন অবশিষ্ট থাকবে না।"
হাফেজ আবুল কাসিম দামেশকী এটি তাঁর 'তারিখ' (৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইবনুল মুবারক, ইবন মাহদী, কাবিসাহ এবং [আবু] (৭) হুযায়ফা এটি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা একে আব্দুল্লাহ ইবন আমরের বক্তব্য (মাওকূফ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই সংরক্ষিত (বিশুদ্ধতর) বর্ণনা।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তদ্রূপ আব্দুর রাজ্জাক (৮) তাঁর 'কিতাব'-এ মা'মার থেকে, তিনি আমাশ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
وخرَّج ابن عدي (1) من رواية أحمد بن كنانة، عن مقسم، عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا ذهب الإيمان من الأرض وجد ببطن الأردن".
وقال: حديث منكر، وأحمد بن كنانة شامي منكر الحديث.
وروى المسعودي، عن القاسم بن عبد الرحمن، قال: مَدَّ الفُرات عَلَى عهد عبد الله بن مسعود، فكره الناس مَدَّه، فَقَالَ عبد الله: يا أيها الناس، لا تكرهوا مَدَّه، فإنَّه يوشك أن يلتمس فيه ملء طست من ماء فلا يوجد، وذلك حين يرفع كل ماء إِلَى عنصره، ويكون الحساء وبقية المؤمنين بالشام".
ورواه الأعمش، عن القاسم بن عبد الرحمن، عن أبيه، عن ابن مسعود بنحوه، إلا أنَّه ذكر فيه أن الماء قل بالفرات، وقال فيه: "ويبقى الماء والمؤمنون بالشام".
وخرّجه عبد الرزاق في "كتابه" (2) عن معمر، عن الأعمش، عن القاسم ابن عبد الرحمن، قال: "شُكِي إِلَى ابن مسعود الفرات، فقالوا: نخشى أن ينفتق علينا، فلو أرسلت له من يَسْكره، فَقَالَ عبد الله: "لا نسكره؛ فوالله ليأتين عَلَى الناس زمان لو التمستم فيه ملء طست من ماء ما وجدتموه، وليرجعن كل ماء إِلَى عنصره، ويكون بقية الماء والمسلمين بالشام".
وروى سعيد بن راشد القيسي عن عطاء عن ابن عمر، قال: "يأتي عَلَى الناس زمان لا يبقى مؤمن إلا لحق بالشام" (3).
وروى أبو مسهر، حدثنا صدقة بن خالد، سمعت عبد الرحمن بن يزيد بن جابر يقول: كان يقال: "من أراد العِلْم فلينزل [بداريا، بين عنس] (4) وخولان.
--------------------------------------------
ইবনে আদি (১) আহমদ ইবনে কিনানার বর্ণনায় মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যখন পৃথিবী থেকে ঈমান চলে যাবে, তখন জর্ডানের অভ্যন্তরে তা পাওয়া যাবে।"
তিনি বলেছেন: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস এবং আহমদ ইবনে কিনানা একজন শামি বর্ণনাকারী যার হাদিস মুনকার।
মাসউদি কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের আমলে ফোরাত নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তখন মানুষ এর বৃদ্ধিকে অপছন্দ করল। তখন আবদুল্লাহ বললেন: "হে লোকসকল! এর পানিবৃদ্ধিকে অপছন্দ করো না, কেননা শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন এতে এক পাত্র পানিও তালাশ করে পাওয়া যাবে না। আর তা হবে সেই সময়ে যখন সকল পানি তার উৎসে ফিরে যাবে এবং পানির সামান্য অবশিষ্টাংশ ও মুমিনদের অবশিষ্টাংশ সিরিয়ায় অবস্থান করবে।"
আমাশ এটি কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে এতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ফোরাত নদীর পানি কমে গিয়েছিল এবং তিনি এতে বলেছেন: "পানি এবং মুমিনগণ সিরিয়ায় অবশিষ্ট থাকবে।"
আবদুর রাজ্জাক তার কিতাবে (২) মা'মার থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইবনে মাসউদের কাছে ফোরাত নদী সম্পর্কে অভিযোগ করা হলো, তারা বলল: আমরা আশঙ্কা করছি যে এটি আমাদের ওপর প্লাবিত হয়ে যাবে, আপনি যদি এর জন্য এমন কাউকে পাঠাতেন যে একে বাঁধ দিয়ে আটকে দিত! তখন আবদুল্লাহ বললেন: "আমরা একে বাঁধ দিয়ে আটকাবো না; আল্লাহর শপথ! মানুষের নিকট অবশ্যই এমন এক সময় আসবে যখন তোমরা এক পাত্র পানি তালাশ করলেও তা পাবে না, এবং প্রতিটি পানি তার উৎসে ফিরে যাবে, আর অবশিষ্ট পানি ও মুসলিমগণ সিরিয়ায় থাকবে।"
সাঈদ ইবনে রাশিদ আল-কাইসি আতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন কোনো মুমিনই অবশিষ্ট থাকবে না যে সিরিয়ায় গিয়ে মিলিত হয়নি" (৩)।
আবু মুসহির বর্ণনা করেন, সাদাকা ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে চায় সে যেন [দারিয়ায়, যা আনস] (৪) ও খাওলানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯০)
وروى ضمرة، عن رجاء بن أبي سلمة، عن عطاء الخراساني قال: ما رأيت ففيها أفقه إذا وجدته من شامي.
وقال [يعقوب] (1) بن سفيان (2): سمعت الحسن بن الربيع يقول: سمعت ابن المبارك يقول: ما رحلت إِلَى الشام إلا لاستغني عن حديث أهل الكوفة.
وقد ذكرنا في أول الباب الرواية عن النبي صلى الله عليه وسلم بتأويل آية استقرار الكتاب بالشام بالملك، فإن الكتاب إِنَّمَا يقام به بملك يؤيده ويقاتل به من خرج عنه، كما جمع الله بين الأمرين في قوله: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ} [الحديد: 25] وروى العوام بن حوشب، عن سليمان بن أبي سليمان، عن أبيه، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الخلافة بالمدينة، والملك بالشام" (3).
وروى شهاب بن خراش، حدثنا عبد الملك بن عمير، عمن حديثه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "خلافتي بالمدينة، وملكي بالشام" (4).
وروى الوليد بن مسلم، عن مروان بن جناح، عن يونس بن ميسرة بن حَلْبَس قال: قال رسول الله: " «هَذَا الْأَمْرُ كَائِنٌ بِالْمَدِينَةِ ثُمَّ بِالشَّامِ ثُمَّ بِالْجَزِيرَةِ ثُمَّ بِالْعِرَاقِ ثُمَّ بِالْمَدِينَةِ ثُمَّ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَإِذَا كَانَتْ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ فَثَمَّ عُقْرُ دَارِهَا وَإنْ يُخْرِجُهَا قَوْمٌ فَتَعُودُ إِلَيْهِمْ أَبَدًا» (5).
قال أبو القاسم الحافظ: يعني بقوله: بالجزيرة أمر مروان بن محمد الحمار.
وبقوله: بالمدينة بعد العراق، يعني به: المهدي الَّذِي يخرج آخر الزمان ثم
--------------------------------------------
দামরাহ, রাজা ইবনে আবি সালামাহ থেকে, তিনি আতা আল-খুরাসানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি যখনই কোনো সিরীয় ব্যক্তিকে পেয়েছি, তাকে ফিকহ শাস্ত্রে অধিক দক্ষ দেখেছি।
এবং [ইয়াকুব] (১) ইবনে সুফিয়ান (২) বলেছেন: আমি হাসান ইবনুল রাবি'কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "আমি কুফাবাসীদের হাদিস থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়ার জন্যই কেবল সিরিয়া সফর করেছি।"
আমরা এই অধ্যায়ের শুরুতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছি যাতে সিরিয়ায় কিতাব স্থিতিশীল হওয়ার ব্যাখ্যা রাজত্বের মাধ্যমে করা হয়েছে। কেননা কিতাব কেবল এমন রাজত্বের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয় যা তাকে সমর্থন যোগায় এবং যারা এর অবাধ্য হয় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে উভয় বিষয়কে একত্রিত করেছেন: {আমি অবশ্যই আমার রাসুলদের সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও তুলাদণ্ড অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু কল্যাণ; এবং যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন কে তাঁকে ও তাঁর রাসুলদের অদৃশ্যে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী} [আল-হাদিদ: ২৫]। আর আওয়াম ইবনে হাওশাব, সুলায়মান ইবনে আবি সুলায়মান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "খিলাফত হবে মদিনায় এবং রাজত্ব হবে সিরিয়ায়।" (৩)।
শিহাব ইবনে খিরাশ বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর আমাদের কাছে এমন এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যার হাদিস নির্ভরযোগ্য, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার খিলাফত মদিনায় এবং আমার রাজত্ব সিরিয়ায়।" (৪)।
ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, মারওয়ান ইবনে জানাহ থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে মায়সারাহ ইবনে হালবাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এই শাসনব্যবস্থা মদিনায় থাকবে, তারপর সিরিয়ায়, তারপর জাজিরায়, তারপর ইরাকে, তারপর পুনরায় মদিনায় এবং এরপর বাইতুল মাকদিসে। যখন এটি বাইতুল মাকদিসে থাকবে, তখন সেখানেই হবে এর মূল কেন্দ্র। আর যদি কোনো জাতি একে সেখান থেকে বের করে দেয়, তবে তা আবার চিরকালের জন্য তাদের কাছেই ফিরে আসবে।" (৫)।
আবু আল-কাসিম আল-হাফিজ বলেছেন: "জাজিরায়" কথাটি দ্বারা তিনি মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আল-হিমারের শাসনকালকে বুঝিয়েছেন।
আর "ইরাকের পর মদিনায়" কথাটি দ্বারা তিনি মাহদীকে বুঝিয়েছেন, যিনি শেষ জামানায় আবির্ভূত হবেন, এরপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯১)
ينتقل إِلَى بيت القدس، وبها يحاصره الدجال، فالله أعلم.
ورُوي عن ابن عباس "أنَّه سأل كعبًا: كيف تجد نعت النبي صلى الله عليه وسلم في التوراة؟ قال كعب: نجده محمد بن عبد الله، يولد بمكة، ويهاجر إِلَى طابة، ويكون ملكه بالشام" (1) وقد رُوي هذا عن كعب من وجوه كثيرة، وفي بعض ألفاظه: "سلطانه بالشام".
…--------------------------------------------
তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে চলে যাবেন এবং দাজ্জাল সেখানে তাঁকে অবরোধ করবে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, তিনি কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তাওরাতে আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা কেমন পান?" কাব বললেন: "আমরা তাঁকে পাই মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ হিসেবে, তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করবেন, তবায় (মদিনায়) হিজরত করবেন এবং তাঁর রাজত্ব হবে শামে।" (১) এটি কাব থেকে বহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এর কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: "তাঁর শাসন হবে শামে।"
...--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯২)
الباب الثالث فيما ورد في حفظ الشام من الفتن وأنها معقل المسلمين في ذلك الزمنقد تقدم في الباب الأول حديث ابن عمر، وبهز بن حكيم، عن أبيه، عن جده في المعنى.
وفي الباب الثاني حديث "أن الإيمان إذا وقعت الفتن بالشام".
وفي رواية خرجها الطبراني (1) من حديث عبد الله بن عمرو عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "رأيت في المنام أخذوا عَمُودَ الْكتَاب فَعَمَدُوا بِهِ إِلَى (السماء) (2)؛ فَإِذَا وَقَعَتِ الْفِتَنَةُ فَالأَمْرُ بِالشَّامِ".
وفي مسند الإمام أحمد (3) عن ابن حوالة قال: «قَالَ لِي رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم: يَا ابْنَ حَوَالَةَ، كَيْفَ تَصْنَعُ فِي فِتْنَةٍ تَثُورُ فِي أَقْطَارِ الْأَرْضِ كَأَنَّهَا صَيَاصِي بَقَرٍ؟» (4) قُلْتُ: أَصْنَعُ مَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «عَلَيْكَ بِالشَّامِ».
وروى ثور بن يزيد، عن حفص بن بلال بن سعيد (5)، عن أبيه، وإن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا وقعت الفتن فهاجروا إِلَى الشام؛ فإنها من الله بمنظر، وهي أرض المحشر: خرجه أبو القاسم الحافظ (6) وهو مرسل.
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়: ফিতনা থেকে শাম সংরক্ষিত থাকা এবং ওই সময়ে তা মুসলমানদের আশ্রয়স্থল হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছেইবনে উমর এবং বাহজ ইবনে হাকিম কর্তৃক তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদিস প্রথম অধ্যায়ে এই অর্থেই অতিবাহিত হয়েছে।
এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে সেই হাদিস যে, "যখন ফিতনা দেখা দিবে তখন ঈমান শামে থাকবে"।
তাবারানি (১) কর্তৃক বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর এক রেওয়ায়েতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তারা কিতাবের স্তম্ভটি গ্রহণ করল এবং তা (আসমানের) (২) দিকে নিয়ে গেল; সুতরাং যখন ফিতনা সংঘটিত হবে, তখন নিরাপত্তা শামে থাকবে।"
মুসনাদে ইমাম আহমাদে (৩) ইবনে হাওয়ালা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: হে ইবনে হাওয়ালা, পৃথিবীর দিগন্তজুড়ে যখন গরুর শিংয়ের মতো ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে (৪), তখন তুমি কী করবে? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কী করব? তিনি বললেন: তুমি শামকে আঁকড়ে ধরো»।
সাওর ইবনে ইয়াজিদ, হাফস ইবনে বিলাল ইবনে সাঈদ (৫) থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন ফিতনা প্রকাশ পাবে তখন তোমরা শামের দিকে হিজরত করো; কেননা তা আল্লাহর বিশেষ দৃষ্টির স্থানে রয়েছে এবং তা হাশরের ময়দান।" এটি আবুল কাসিম আল-হাফিজ (৬) বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি মুরসাল হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯৩)
وروى حماد بن سلمة، عن بهز بن حكيم، عن أبيه، عن جده "أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لأبي ذر: إذا رأيت البناء قد بلغ مبلغًا -يعني:- المدينة، فعليك بالشام".
ورُوي معناه عن الحسن، عن أبي أَسِيدِ الأنصاري، عن النبي صلى الله عليه وسلم.
وروى نافع، عن ابن عمر، عن كعب قال: "يوشك نار تخرج من اليمن تسوق الناس إِلَى الشام، تغدو معهم إذا غدوا، وتروح معهم إذا راحوا، فَإِذَا سمعتم بها فأخرجوا إِلَى الشام".
وروى قطن بن وهب، عن مولاة لعبد الله بن عمر "أنها أرادت الجلاء في الفتنة واشتد عليها الزمان فاستأمرت عبد الله بن عمر، فَقَالَ: أين؟ قالت: العراق، قال: فلا إِلَى الشام، إِلَى المحشر".
وروى هشام بن عمار، حدثنا الوليد، حدثنا خليد وسعيد، عن قتادة "في قوله تعالى: {وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 71] قال: أنجاهما الله إِلَى الشام أرض المحشر والمنشر، وبها يجتمع الناس رأسًا واحدًا، وبها ينزل عيسى ابن مريم عليه السلام وبها يُهْلك الله المسيح الكذاب".
وقال ابن أبي خيثمة: حدثنا هارون بن معروف، حدثنا ضمرة، عن ابن شوذب قال: تذاكرنا الشام قال؛ فقلت لأبي سهل: أما بلغك أنَّه يكون بها كذا؟ قال: بلى، ولكن ما كان لها فهو أيسر مما يكون بغيرها.
وروى نعيم بن حماد (1)، عن أبي ربيعة، عن يزيد بن أبي حبيب، قال: بلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ستكون فتنة تشمل الناس كلهم، لا يسلم منهم إلا الجند الغربي".
وسنذكر فيما بعد أن الشام وما والاها مكان أهل المدينة يسمونها الغرب.
وقد سبق حديث عبد الله بن حوالة عن النبي صلى الله عليه وسلم أن الله تكفل لي بالشام
--------------------------------------------
হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বাহজ ইবনে হাকিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু যরকে বলেছিলেন: "যখন তুমি দেখবে যে দালানকোঠা একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে—অর্থাৎ মদিনার—তখন তোমার জন্য শামে যাওয়া আবশ্যক।"
এর সমার্থক একটি বর্ণনা হাসান থেকে, তিনি আবু আসীদ আল-আনসারী থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
নাফি ইবনে উমর থেকে, তিনি কা'ব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "শীঘ্রই ইয়েমেন থেকে একটি আগুন নির্গত হবে যা মানুষকে শামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে; তারা যখন সকালে যাত্রা করবে আগুনও তখন তাদের সাথে যাত্রা করবে, এবং তারা যখন বিকেলে বিশ্রাম নেবে আগুনও তখন তাদের সাথে অবস্থান করবে। সুতরাং তোমরা যখন এর সংবাদ শুনবে, তখন শামের দিকে বেরিয়ে পড়ো।"
কাতান ইবনে ওয়াহাব আবদুল্লাহ ইবনে উমরের এক মুক্তদাসী থেকে বর্ণনা করেন যে, সে ফিতনার সময় হিজরত করতে চেয়েছিল এবং তার ওপর জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছিল। সে আবদুল্লাহ ইবনে উমরের কাছে পরামর্শ চাইল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কোথায় যেতে চাও?" সে বলল: "ইরাক।" তিনি বললেন: "না, বরং শামের দিকে যাও, যা হাশরের ময়দান।"
হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেন, ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, খুলাইদ ও সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাতাদা থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {আর আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে সেই ভূমিতে নিয়ে গেলাম যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি} [আল-আম্বিয়া: ৭১]। তিনি বলেন: আল্লাহ তাদের উভয়কে শামে উদ্ধার করে নিয়েছিলেন যা হাশর ও পুনরুত্থানের ভূমি। সেখানেই মানুষ এক জায়গায় সমবেত হবে, সেখানেই ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করবেন এবং সেখানেই আল্লাহ মিথ্যাবাদী মসীহকে (দাজ্জাল) ধ্বংস করবেন।
ইবনে আবি খাইসামাহ বলেন: হারুন ইবনে মারুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, দামরাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে শাওযাব থেকে, তিনি বলেন: আমরা শাম নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আমি আবু সাহলকে বললাম: "আপনার কাছে কি সংবাদ পৌঁছেনি যে সেখানে এমন এমন বিপদ ঘটবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তবে শামে যা ঘটবে তা অন্য জায়গায় যা ঘটবে তার চেয়ে সহজতর হবে।"
নুআইম ইবনে হাম্মাদ (১) আবু রাবিয়াহ থেকে, তিনি ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অচিরেই এমন এক ফিতনা আসবে যা সমস্ত মানুষকে গ্রাস করবে, কেবল পশ্চিমের সৈন্যদল ছাড়া আর কেউ তা থেকে নিরাপদ থাকবে না।"
আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব যে, শাম এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ এমন স্থান যাকে মদিনাবাসীরা 'পশ্চিম' (আল-গারব) বলে অভিহিত করতেন।
ইতিপূর্বে আবদুল্লাহ ইবনে হাওয়ালাহ বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসটি অতিক্রান্ত হয়েছে যে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার খাতিরে শামের জিম্মাদারী গ্রহণ করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯৪)
وأهله.
وكان أبو إدريس الخولاني إذا حدث به قال: ومن تكفل الله به فلا ضيعة عليه.
ورُوي عن عبد الله بن حوالة أنَّه كان إذا حدث به قال مثل ذلك أيضًا.
وبقية هذا الباب سيأتي -إن شاء الله تعالى- في الباب الأخير في ذكر دمشق، فإنَّه ورد أنها معقل المسلمين من الملاحم، وأن من سكنها نجا وسنذكر فيه إن شاء الله حديث معقل المسلمين من الروم دمشق، ومن الدجال بيت المقدس، ومن يأجوج ومأجوح الطور، وهذه الأماكن الثلاثة كلها من أرض الشام.
***
এবং তার পরিবার-পরিজন।
আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি যখনই এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: "আল্লাহ যার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তার কোনো বিনাশ নেই।"
আবদুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনিও যখন এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখন অনুরূপ কথা বলতেন।
এই অধ্যায়ের অবশিষ্ট অংশ ইনশাআল্লাহ তাআলা দামেস্কের বর্ণনায় শেষ অধ্যায়ে আসবে। কেননা বর্ণিত হয়েছে যে, ভয়াবহ যুদ্ধসমূহের সময় দামেস্ক হবে মুসলিমদের প্রধান দুর্গ, আর যে সেখানে বসবাস করবে সে মুক্তি পাবে। আমরা সেখানে ইনশাআল্লাহ এই হাদিসটি উল্লেখ করব যে, রোমকদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের আশ্রয়স্থল হলো দামেস্ক, দাজ্জাল থেকে রক্ষার স্থান হলো বায়তুল মাকদিস এবং ইয়াজুজ-মাজুজ থেকে রক্ষার স্থান হলো তূর পাহাড়। আর এই তিনটি স্থানই শাম ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
***
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯৫)
الباب الرابع فيما ورد في استقرار خيار أهل الأرض في آخر الزمان بالشام وأن الخير فيها أكثر منه في سائر بلاد المسلمينقد سبق حديث: "أنها صفوة الله من بلاده، يسوق إليها خيرته من عباده".
خرَّج الإمام أحمد (1) وأبو داود (2) واللفظ له من حديث قتادة، عن شهر ابن حوشب، عن عبد الله بن عمرو قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «سَتَكُونُ هِجْرَةٌ بَعْدَ هِجْرَةٍ، فَخِيَارُ أَهْلِ الأَرْضِ أَلْزَمهم مُهَاجرِ إِبْرَاهِيمَ، وَتَنْفِي الأرْض شِرَار أهْلِها تَلْفِظَهُمْ أَرْضُهُمْ (3)، وَتَقْذَرُهُم (4) نَفْسُ الرَّحْمَنِ، وَتَحْشَرُهُمُ النَّارُ مَعَ الْقِرَدَةِ وَالْخَنَازِيرِ».
وعند الإمام أحمد (5): "ينحاز الناس إِلَى مهاجر إبراهيم".
وعنده في ذكر النار: "تبيت معهم إذا باتوا، تقيل معهم إذا قالوا، وتأكل من تَخَلَّف" (5).
وخرّجه نعيم بن حماد في كتاب "الفتن" (6) وعنده: "وتحشرهم نار من
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শেষ জামানায় পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষদের শামে অবস্থান করা এবং সেখানে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডের তুলনায় অধিক কল্যাণ থাকা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছেইতিপূর্বে এই হাদিস অতিক্রান্ত হয়েছে: "নিশ্চয়ই এটি (শাম) আল্লাহর ভূখণ্ডসমূহের মধ্যে তাঁর মনোনীত ভূখণ্ড, তিনি এখানে তাঁর বান্দাদের মধ্যে তাঁর মনোনীত ব্যক্তিদের পরিচালিত করেন।"
ইমাম আহমাদ (১) এবং আবু দাউদ (২) বর্ণনা করেছেন - এবং শব্দসমূহ তাঁরই (আবু দাউদের) - কাতাদাহ থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "অচিরেই হিজরতের পর হিজরত হতে থাকবে। তখন পৃথিবীর সর্বোত্তম ব্যক্তিগণ ইব্রাহিমের হিজরতস্থলকে (অর্থাৎ শামকে) আঁকড়ে ধরবে। আর পৃথিবী তার নিকৃষ্ট বাসিন্দাদের তাড়িয়ে দেবে, তাদের জমিন তাদের উগড়ে দেবে (৩) এবং রহমানের নফস তাদের অপছন্দ করবে (৪), আর আগুন তাদের বানর ও শূকরদের সাথে একত্রিত করবে।"
ইমাম আহমাদের (৫) বর্ণনায় রয়েছে: "মানুষ ইব্রাহিমের হিজরতস্থলের দিকে সরে আসবে।"
আগুনের বর্ণনায় তাঁর কাছে আরও রয়েছে: "তারা যেখানে রাত যাপন করবে, আগুনও সেখানে তাদের সাথে রাত যাপন করবে; তারা যেখানে দুপুরে বিশ্রাম করবে, আগুনও সেখানে তাদের সাথে দুপুরে বিশ্রাম করবে; আর যে ব্যক্তি পিছনে পড়ে থাকবে আগুন তাকে খেয়ে ফেলবে" (৫)।
আর নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ এটি 'কিতাবুল ফিতান'-এ (৬) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণনায় রয়েছে: "এবং এক আগুন তাদের একত্রিত করবে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯৬)
عدن مع القردة والخنازير".
وقد رُوي موقوفًا عَلَى عبد الله بن عمرو، ورواه أبو جناب الكلبي، عن شهر، عن عبد الله بن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه.
خرّجه من طريقه الإمام أحمد (1)، ورواية قتادة ومن تابعه أشبه، وقد رواه عبد الله بن صالح، عن موسى بن علي [بن] رباح (2)، عن أبيه، عن أبي هريرة، عن عبد الله بن عمرو بن العاص عن النبي صلى الله عليه وسلم خرَّجه من طريقه الحاكم في "المستدرك" (3) وقال: صحيح عَلَى شرط الشيخين. وفيما قاله نظر.
وقد رُوي هذا الحديث عن الأوزاعي، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يسمعه الأوزاعي من نافع، إِنَّمَا بلغه عنه، ولم يسم من حديثه عنه، والله أعلم.
وخرَّج الحاكم (4) من حديث عفير بن معدان سمع سليم بن عامر يحدث عن أبي أمامة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الشام صفوة الله من بلاده يسوق إليها صفوة عباده، من خرج من الشام إِلَى غيرها فبسخطه، ومن دخلها من غيرها فبرحمته".
وقال: صحيح الإسناد عَلَى شرط مسلم، كذا قال، وعفير بن معدان ضعيف الحديث.
وروى إسماعيل بن عياش، عن عبد العزيز بن [عبيد] الله (5)، عن القاسم، عن أبي أمامة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "صفوة الله من أرض الشام، وفيها صفوته ممن خلقه وعباده" وخرجه الطبراني (6) وعبد العزيز هذا فيه ضعف.
ويروى نحوه من حديث معاذ عن النبي صلى الله عليه وسلم بإسناد ضعيف.
--------------------------------------------
"...বানর ও শূকরদের সাথে আদন-এ।"
এটি আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর ওপর মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আবু জানাব আল-কালবী এটি শাহর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ (১) তাঁর সূত্রে এটি সংকলন করেছেন। কাতাদাহ এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন তাদের বর্ণনাটিই অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়। আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ এটি মুসা ইবনে আলী ইবনে রাবাহ (২) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম তাঁর সূত্রে এটি 'আল-মুস্তাদরাক' (৩) গ্রন্থে সংকলন করেছেন এবং বলেছেন: এটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহীহ। তবে তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
এই হাদীসটি আওযাঈ থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তবে আওযাঈ এটি নাফি থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি, বরং এটি কেবল তাঁর কাছে পৌঁছেছে, এবং তিনি কার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন তার নাম উল্লেখ করেননি। আল্লাহই ভালো জানেন।
আল-হাকিম (৪) উফায়র ইবনে মা'দান-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইম ইবনে আমিরকে আবু উমামাহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী বর্ণনা করতে শুনেছেন: "শাম হলো আল্লাহর দেশসমূহের মধ্যে তাঁর মনোনীত ভূমি; তিনি এখানে তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে পছন্দনীয় ব্যক্তিদের পরিচালিত করেন। যে ব্যক্তি শাম থেকে অন্য কোনো স্থানে চলে যায়, তা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণে; আর যে অন্য কোনো স্থান থেকে শামে প্রবেশ করে, তা আল্লাহর রহমতের কারণে।"
তিনি বলেছেন: সনদটি মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহীহ। তিনি এমনটি বললেও উফায়র ইবনে মা'দান হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।
ইসমাইল ইবনে আইয়াশ, আবদুল আজিজ ইবনে উবাইদুল্লাহ (৫) থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "শাম ভূমি হলো আল্লাহর মনোনীত স্থান, আর সেখানে তাঁর সৃষ্টি ও বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর মনোনীত ব্যক্তিরা অবস্থান করে।" তাবারানী (৬) এটি সংকলন করেছেন এবং এই আবদুল আজিজ নামক বর্ণনাকারী দুর্বল।
মুয়ায থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস হিসেবে একটি দুর্বল সনদে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯৭)
وفي مسند الإمام أحمد (1) من حديث أبي المثنى، عن أبي أمامة قال: "لا تقوم الساعة حتى يتحول خيار أهل العراق إِلَى الشام، ويتحول شرار أهل الشام إِلَى العراق" وهذا موقوف.
وخرَّج الطبراني (2) من حديث أنس قال: "قلت": يا رسول الله، أين الناس يوم القيامة؟ قال: "في خير أرض الله وأحبها إِلَيْهِ؛ الشام، وهي أرض فلسطين".
وهو منكر، وفي إسناده: إبراهيم بن حرب العسقلاني، قال العقيلي (3): حدث بمناكير.
وروى معاوية بن قرة عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا فسد أهل الشام، فلا خير فيكم، ولا تزال طائفة من أمتي منصورين، لا يضرهم من خذلهم، حتى تقوم الساعة".
خرجه الإمام أحمد (4) والترمذي (5)، وقال: "حسن صحيح"
وابن حبان في [صحيحه] (6) (7).
وخرج ابن ماجه (8) آخره.
وروى أبو خليد الدمشقي، عن الوضين بن عطاء، عن مكحول، عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الْخَيْر عشرَة أعشار، تِسْعَة بِالشَّام، وَوَاحِد فِي سَائِر الْبلدَانِ، وَالشَّر عشرَة أعشار، وَاحِد بِالشَّام، وَتِسْعَة فِي سَائِر الْبلدَانِ، وَإِذا فسد أهل الشَّام فَلَا خير فِيكُم".
--------------------------------------------
ইমাম আহমদের মুসনাদে (১) আবু আল-মুসান্না থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ইরাকের সর্বোত্তম ব্যক্তিরা শামে স্থানান্তরিত হয় এবং শামের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা ইরাকে স্থানান্তরিত হয়।" এটি একটি মাওকুফ বর্ণনা।
তাবারানি (২) আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামতের দিন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: আল্লাহর সর্বোত্তম ভূমিতে এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থানে; সেটি হলো শাম, আর তা হলো ফিলিস্তিনের ভূমি।"
এটি একটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা এবং এর বর্ণনাকারী পরম্পরায় ইব্রাহিম ইবনে হারব আল-আসকালানি রয়েছেন। আল-উকায়লি (৩) বলেছেন: তিনি মুনকার হাদিস বর্ণনা করতেন।
মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন শামবাসীরা কলুষিত হয়ে যাবে, তখন তোমাদের মধ্যে আর কোনো কল্যাণ থাকবে না। তবে আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, যারা তাদের সহযোগিতা করবে না তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না কিয়ামত সংঘটিত হয়।"
এটি ইমাম আহমদ (৪) এবং তিরমিজি (৫) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: "হাসান সহিহ।"
এবং ইবনে হিব্বান তার [সহিহ]-তে (৬) (৭)।
ইবনে মাজাহ (৮) এর শেষাংশ বর্ণনা করেছেন।
আবু খুলাইদ আদ-দিমাশকি, ওয়াদিন ইবনে আতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "কল্যাণ দশ ভাগের দশ ভাগ; তার নয় ভাগ শামে এবং এক ভাগ অন্যান্য দেশে। আর অকল্যাণ দশ ভাগের দশ ভাগ; তার এক ভাগ শামে এবং নয় ভাগ অন্যান্য দেশে। আর যখন শামবাসীরা কলুষিত হয়ে যাবে, তখন তোমাদের মধ্যে আর কোনো কল্যাণ থাকবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯৮)
في إسناده ضعف وانقطاع، ولعله موقوف.
وروى الأعمش، عن عبد الله بن ضرار الأسدي، عن أبيه، عن ابن مسعود قال: "قسم الله الْخَيْر فَجعله عشرَة أعشار، فَجعلت (1) تِسْعَة أعشار بِالشَّام وبقيته فِي سَائِر الْأَرْض، وَقسم الشَّرّ، فَجعله عشرَة أعشار، فَجعل جزءًا منه فِي الشَّام، وبقيته فِي سَائِر الْأَرْضين".
وقيل: عن الأعمش، عن عبد الله بن سراقة، عن أبيه، عن ابن مسعود.
وقيل: عن الأعمش، عن سعيد بن عبد الله بن ضرار، عن أبيه، وعن خيثمة قالا: قال عبد الله
… فذكره (2).
خرَّجه ابن أبي خيثمة.
وروى زياد بن عِلَاقة، عن ثابت بن قُطبة، عن عبد الله بن مسعود، قال: "إن تسعة أعشار الخير بالشام، وعُشْر بغيرها، وإن تسعة أعشار الشر بغيرها وعُشْر بها، وسيأتي عليكم زمان يكون أحب مال الرجل فيه حمر ينتقل عليها إِلَى الشام".
وقيل: عن زياد بن علاقة، عن قطبة بن مالك، عن ابن مسعود.
وقد رُوي هذا المعنى مرفوعًا، من وجه ضعيف، من رواية بقية بن الوليد، عن صباح بن مجالد، عن عطية، عن أبي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا كان سنة خمس وثلاثين ومائة خرج مردة الشياطين كان حبسهم سليمان بن داود عليهما السلام في جزيرة العرب، فذهب تسعة أعشارهم في العراق يجادلونهم، وعُشْر بالشام".
خرجه العقيلي (3)، وقال: لا أصل لهذا الحديث.
--------------------------------------------
এর সনদে দুর্বলতা ও বিচ্ছিন্নতা রয়েছে এবং সম্ভবত এটি মাওকুফ।
আমাশ বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে দিরার আল-আসাদি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ কল্যাণকে দশ ভাগে বিভক্ত করেছেন, অতঃপর তার নয় ভাগ সিরিয়াতে (১) রেখেছেন এবং বাকি অংশ পৃথিবীর অন্যত্র রেখেছেন। আর তিনি অকল্যাণকে দশ ভাগে বিভক্ত করেছেন, অতঃপর তার এক ভাগ সিরিয়াতে রেখেছেন এবং বাকি অংশ অন্যান্য ভূখণ্ডে রেখেছেন।"
আরও বলা হয়েছে: আমাশ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সুরাকা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে।
আরও বলা হয়েছে: আমাশ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে দিরার থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং খাইসামাহ থেকে; তারা উভয়ে বলেছেন: আবদুল্লাহ বলেছেন
… অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন (২)।
এটি ইবনে আবি খাইসামাহ সংকলন করেছেন।
জিয়াদ ইবনে ইলাকাহ সাবিত ইবনে কুতবাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই কল্যাণের নয় ভাগ সিরিয়াতে এবং এক ভাগ অন্য জায়গায়। আর অকল্যাণের নয় ভাগ অন্য জায়গায় এবং এক ভাগ সিরিয়াতে। অচিরেই তোমাদের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন একজন মানুষের নিকট তার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হবে তার গাধাগুলো, যার ওপর চড়ে সে সিরিয়ার দিকে চলে যাবে।"
আরও বলা হয়েছে: জিয়াদ ইবনে ইলাকাহ থেকে, তিনি কুতবাহ ইবনে মালিক থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে।
এই বিষয়টি একটি দুর্বল সূত্রের মাধ্যমে মারফু হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে; বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ, সাবাহ ইবনে মুজালিদ থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যখন একশ পঁয়ত্রিশ হিজরি সাল আসবে, তখন বিদ্রোহী শয়তানরা বেরিয়ে আসবে যাদেরকে সুলায়মান ইবনে দাউদ আলাইহিমাস সালাম আরব উপদ্বীপে বন্দি করে রেখেছিলেন। অতঃপর তাদের নয় ভাগ ইরাকে যাবে তাদের সাথে বিতর্ক সৃষ্টি করতে এবং এক ভাগ সিরিয়াতে যাবে।"
এটি উকাইলি সংকলন করেছেন (৩) এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসের কোনো ভিত্তি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ১৯৯)
وخرّجه [ابن] (1) عدي (2) من طريق بقية، عن عبد الواحد بن زياد، عن الصباح
… فذكره. وقال: الصباح هذا ليس بالمعروف، وهو من مشايخ بقية الذين لا يروي عنهم غيره.
ورُوي عن كعب الأحبار، قال: الخير عشرة أجزاء، فتسعة أجزاء الخير في الشام، وجزء في سائر الأرضين.
خرجه ابن أبي خيثمة (3).
وخرج الطبراني (4) من حديث ابن وهب: أخبرني ابن [لهيعة] (5) ويحيى [بن] (6) أيوب عن عقيل عن الزهري عن يعقوب بن عتبة بن المغيرة عن الأخنس عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم: «دَخَلَ إِبْلِيسُ الْعِرَاقَ فَقَضَى حَاجَتَهُ وَدَخَلَ الشَّامَ فَطَرَدُوهُ، حَتَّى بَلَغَ [بسَاق] (7) وَدَخَلَ مِصْرَ فَبَاضَ فِيهَا وَفَرَّخَ، وَبَسَطَ عَبْقَرِيَّهُ». وقال: تفرد به ابن وهب بهذا الإسناد. وفي رواية عن الطبراني قال ابن وهب: أرى ذلك في فتنة عثمان، لأن الناس افتتنوا فيه، وسلم أهل الشام.
ورُوي من وجه آخر من رواية خطاب بن يوسف، حدثنا عباد بن كثير عن سعيد عن قتادة عن سالم عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الشيطان أتى العراق فباض فيهم وأفرخ، ثم إِلَى مصر، فبسط عبقريه وجلس، ثم أتى إِلَى الشام فطردوه".
ورُوي موقوفًا فرواه يعقوب بن [سفيان] (8) ثنا إبراهيم بن المنذر، حدثني
--------------------------------------------
এবং [ইবনে] (১) আদি (২) একে বাকিয়্যাহ-এর সূত্রে, আব্দুল ওয়াহিদ বিন জিয়াদ থেকে, আস-সাব্বাহ থেকে... বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এই আস-সাব্বাহ পরিচিত নন, এবং তিনি বাকিয়্যাহ-এর এমন শাইখদের অন্তর্ভুক্ত যাদের থেকে তিনি ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেন না।
এবং কাব আল-আহবার থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: কল্যাণ দশটি অংশ, তার মধ্যে নয়টি অংশ শামে এবং এক অংশ অবশিষ্ট যমীনসমূহে।
একে ইবনে আবি খাইসামা বর্ণনা করেছেন (৩)।
এবং তাবারানি (৪) ইবনে ওয়াহাব-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: আমাকে ইবনে [লাহিআহ] (৫) এবং ইয়াহইয়া [বিন] (৬) আইয়ুব, উকাইল থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন উতবাহ বিন আল-মুগিরা থেকে, তিনি আল-আখনাস থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: «ইবলিস ইরাকে প্রবেশ করল এবং তার প্রয়োজন পূরণ করল, আর শামে প্রবেশ করল কিন্তু তারা তাকে তাড়িয়ে দিল, এমনকি সে [বিসাক] (৭) পর্যন্ত পৌঁছে গেল। এবং সে মিশরে প্রবেশ করল, সেখানে ডিম পাড়ল এবং বাচ্চা ফুটাল, আর তার আসন বিস্তার করল।» তিনি বলেন: এই সনদসহ এটি ইবনে ওয়াহাব এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাবারানির একটি বর্ণনায় ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি মনে করি এটি উসমানের ফিতনার সময়কার বিষয়, কারণ মানুষ তাতে ফিতনায় পড়েছিল এবং শামের অধিবাসীরা নিরাপদ ছিল।
অন্য একটি সূত্রে খাত্তাব বিন ইউসুফের বর্ণনা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্বাদ বিন কাসির বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই শয়তান ইরাকে এল এবং তাদের মধ্যে ডিম পাড়ল ও বাচ্চা ফুটাল, তারপর মিশরে গিয়ে তার আসন বিছাল ও বসল, তারপর শামে এল কিন্তু তারা তাকে তাড়িয়ে দিল।"
এটি মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে; তা ইয়াকুব বিন [সুফিয়ান] (৮) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন মুনজির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২০০)
[عباس] (1) بن أبي شملة، عن موسى بن يعقوب، عن زيد بن أبي عتاب عن أسيد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب عن عمر (2) قال: "نزل الشيطان [بالشرق] (3) فقضى قضاءه، ثم خرج يريد الأرض المقدسة الشام فمنع، فخرج عَلَى ساق حتى جاء المغرب فباض بيضة، وبسط بها عبقريه".
وهذا الموقوف أشبه، ويروى نحوه مختصرًا بإسناد منقطع عن إياس ابن معاوية مرسلاً.
وخرج الطبراني (4) من رواية أبي عبد السلام- صالح بن رستم مولى بني هاشم- عن عبد الله بن حوالة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله يقول: يَا شَامُ، يدي عليك، يَا شَامُ، أَنْتِ صَفْوَتِي مِنْ بِلَادِي، أُدْخِلُ فِيكِ خَيْرَة مِنْ عِبَادِي، أَنْتِ سَوْطُ نِقْمَتِي، وَسَوْطُ عَذَابِي، أَنْتِ [الْأَنْدَرُ] (5) وَإِلَيْكِ الْمَحْشَرُ. [وَرَأَيْتُ] (6) لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَمُودًا أَبْيَضَ كَأَنَّهُ لُؤْلُؤَة تَحْمِلُهُ الْمَلَائِكَةُ، قُلْتُ: [مَا] (7) تَحْمِلُونَ؟ قَالُوا: عَمُودُ الْإِسْلَامِ، أَمَرَنَا أَنَ نَضَعَهُ بِالشَّامِ، وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ رَأَيْتُ الْكِتَابَ اخْتُلِسَ مِنْ تَحْتِ وِسَادَتِي، فَظَنَنْتُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ تَخَلَّى مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ فَأَتْبَعْتُهُ بَصَرِي، فَإِذَا هُوَ نُورٌ بَيْنَ يَدَيَّ حَتَّى وُضِعَ بِالشَّامِ".
وهذه الألفاظ غير محفوظة في حديث ابن حوالة فإنَّه رُوي من طرق كثيرة، ليس فيها شيء من ذلك وروى إسماعيل بن عياش عن الأسود بن [أحمد
--------------------------------------------
[আব্বাস] (১) ইবনে আবি শামলাহ, মুসা ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আবি আত্তাব থেকে, তিনি আসিদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে জায়েদ ইবনে আল-খাত্তাব থেকে, তিনি উমর (২) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "শয়তান [প্রাচ্যে] (৩) অবতরণ করল এবং তার কাজ সম্পন্ন করল। এরপর সে পবিত্র ভূমি শামের উদ্দেশ্যে বের হলো কিন্তু তাকে বাধা দেওয়া হলো। অতঃপর সে দ্রুতবেগে বেরিয়ে মাগরিবে (পশ্চিমে) পৌঁছাল এবং সেখানে ডিম পাড়ল এবং তার রাজত্ব বিস্তার করল।"
এই মাওকুফ বর্ণনাটিই অধিক সদৃশ। আর অনুরূপ একটি বর্ণনা ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া থেকে মুরসাল হিসেবে বিচ্ছিন্ন সনদে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে।
আত-তাবারানি (৪) আবু আবদুস সালাম —বনু হাশেমের মুক্ত দাস সালেহ ইবনে রুস্তম— থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে হাওয়ালাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: হে শাম, তোমার উপর আমার হাত রয়েছে। হে শাম, তুমি আমার দেশসমূহের মধ্যে আমার মনোনীত ভূমি। আমি তোমার মধ্যে আমার বান্দাদের মধ্য থেকে উত্তমদের প্রবেশ করাই। তুমি আমার ক্রোধের চাবুক এবং আমার শাস্তির চাবুক। তুমি হলে [শস্য মাড়াইয়ের স্থান] (৫) এবং তোমার দিকেই হবে হাশর (পুনরুত্থান)। আর মিরাজের রাতে আমি একটি সাদা স্তম্ভ দেখেছিলাম যা মুক্তার ন্যায় উজ্জ্বল, ফেরেশতারা সেটি বহন করছিল। আমি বললাম: তোমরা কী বহন করছ? তারা বলল: ইসলামের স্তম্ভ; আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা এটি শামে স্থাপন করি। আর আমি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন দেখলাম যে আমার বালিশের নিচ থেকে কিতাবটি ছিনিয়ে নেওয়া হলো। আমি মনে করলাম যে আল্লাহ হয়তো যমিনবাসীদের ত্যাগ করেছেন, তাই আমি আমার দৃষ্টি দিয়ে সেটিকে অনুসরণ করলাম। হঠাৎ দেখলাম সেটি আমার সামনে একটি নূর হয়ে গেল এবং শেষ পর্যন্ত তা শামে স্থাপন করা হলো।"
ইবনে হাওয়ালাহর হাদিসে এই শব্দগুলো সংরক্ষিত নয়; কারণ এটি অনেকগুলো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যেগুলোর কোনোটিতেই এর কোনো অংশ নেই। আর ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আসওয়াদ ইবনে [আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২০১)
العبسي] (1) عن وهب الذماري، قال: إن الله عز وجل كتب للشام: إني فدَّسْتُكِ وباركتك، جعلت فيك مقامي، وأنت صفوتي من بلادي، وأنا سائق إليك صفوتي من عبادي؛ فاتسعي لهم برزقك [ومسألتك] (2) كما يتسع الرحم أن [وضع] (3) فيه اثنان وسعه، وإن ثلاثة مثل ذلك، وعيني عليك بالظل والمطر من أول السنين إِلَى آخر الدهر، فلن أنساك حتى أنسى يميني، وحتى تنسى ذات الرحم ما في رحمها.
وروى ضمرة بن ربيعة عن الوليد بن صالح قال: في [كتاب] (4) الأول: إن الله يقول للشام: أنت [الأندر] (5) ومنك المنشر، وإليك المحشر، فيك ناري، ونُوري من دخلك، رغبة فيك، فبرحمتي ومن خرج منك رغبة [عنك] (6) فبسخطي، تتسع لأهلها كما يتسع الرحم للولد.
وخرّجه ابن أبي خيثمة في "تاريخه" وزاد في آخره: مهما أعجزهم فيها، فلن يعجزهم فيها [الخبز والزيت] (7).
ويروي من غير وجه عن كعب أنَّه وجد في الكتب السابقة أن الشام كنز الله في أرضه، بها كنزه من عباده. وقد سبق ذكره.
ويروى أيضاً عن كعب أنَّه كان يقول: يا أهل الشام، إن الناس يريدون أن يضعوكم، والله يرفعكم، وإن الله يتعهدكم كما يتعاهد الرجل نبله في كنانته؛ لأنها أَحَبّ أرضه إِلَيْهِ، يسكنها أَحَبّ خلقه إِلَيْهِ، من دخلها مرحوم، ومن خرج منها فهو مغبون.
--------------------------------------------
[আল-আবসি] (১) ওহাব আদ-দিমারি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল শামের উদ্দেশ্যে লিখে দিয়েছেন: আমি তোমাকে পবিত্র করেছি এবং তোমাকে বরকতময় করেছি, তোমার মাঝে আমি আমার অবস্থান নির্ধারণ করেছি। তুমি আমার ভূমিগুলোর মধ্যে আমার পছন্দনীয়, আর আমি আমার বান্দাদের মধ্যে আমার পছন্দনীয়দের তোমার দিকে চালিত করব; সুতরাং তোমার রিজিক ও [বাসস্থানের] (২) মাধ্যমে তাদের জন্য প্রশস্ত হও, যেভাবে জরায়ু প্রশস্ত হয় যখন তাতে দুইজন রাখা হয় তখন তা জায়গা দেয়, এবং তিনজনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। বছরের শুরু থেকে কালের শেষ পর্যন্ত ছায়া ও বৃষ্টির মাধ্যমে তোমার প্রতি আমার দৃষ্টি থাকবে। আমি তোমাকে ততক্ষণ ভুলব না যতক্ষণ না আমি আমার ডান হাত ভুলে যাই এবং যতক্ষণ না কোনো গর্ভধারিণী তার গর্ভের সন্তানকে ভুলে যায়।
দামরাহ ইবনে রাবিয়াহ ওয়ালিদ ইবনে সালেহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: পূর্ববর্তী [কিতাবে] (৪) আছে: নিশ্চয়ই আল্লাহ শামের উদ্দেশ্যে বলেন: তুমি হলে [শস্য মাড়াইয়ের স্থান] (৫), তোমার থেকেই হবে পুনরুত্থান এবং তোমার দিকেই হবে হাশর। তোমার মধ্যেই আমার আগুন এবং আমার নূর। যে তোমার প্রতি অনুরাগী হয়ে প্রবেশ করল, সে আমার রহমতে প্রবেশ করল। আর যে তোমার প্রতি বিরাগী হয়ে তোমাকে ছেড়ে চলে গেল, সে আমার ক্রোধের শিকার হলো। শাম তার অধিবাসীদের জন্য সেভাবেই প্রশস্ত হয় যেভাবে জরায়ু সন্তানের জন্য প্রশস্ত হয়।
ইবনে আবি খায়সামাহ এটি তার "তারিখ"-এ বর্ণনা করেছেন এবং শেষে যোগ করেছেন: সেখানে যা কিছুই তাদের জন্য সংকীর্ণ হোক না কেন, [রুটি ও যয়তুন তেল] (৭) কখনোই তাদের জন্য সংকীর্ণ বা দুর্লভ হবে না।
কাব থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে পেয়েছেন যে—শাম হলো জমিনে আল্লাহর ভাণ্ডার; এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখেন। এটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাব থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: হে শামবাসী! মানুষ তোমাদের অবনমিত করতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তোমাদের সমুন্নত করেন। আল্লাহ তোমাদের এমনভাবে দেখাশোনা করেন যেমন এক ব্যক্তি তার তূণের তীরের দেখাশোনা করে। কারণ শাম হলো আল্লাহর কাছে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ভূমি, সেখানে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়দের বসবাস করান। যে সেখানে প্রবেশ করল সে রহমতপ্রাপ্ত হলো, আর যে সেখান থেকে বের হয়ে গেল সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২০২)
وقال الأوزاعي عن ثابت بن معبد قال الله عز وجل: "يا شام، أنت خيرتي من بلادي، أسكنك خيرتي من عبادي".
وعن وهب بن منبه قال: "إني لأجد ترداد الشام في الكتب، حتى كأنه ليس لله حاجة إلا بالشام".
وعن كعب قال: "أَحَبّ البلاد إِلَى الله: الشام، وأحب الشام إِلَى الله القدس، وأحب القدس: جبل نابلس، ليأتين عَلَى الناس زمان يتماسحونه بالحبال بينهم".
وعن كعب وروى أبو المهدي عن أبي [الزاهرية] (1) عن الصنابحي يرفعه، قال: "أوصى الله إِلَى الشام: إنك واري، وقراري، وأنت [الأندر] وأنت منبت أنبيائي، وأنت موضع قدسي، وأنت موضع موطئي، وإليك أسوق [خيري] (2) من خلقي، وإليك محشر عبادي، ولم تزل [عيني] (3) عليك من أول يوم من الدهر إِلَى آخر يوم من الدهر بالظل والمطر، وإذا عجز أهلك المال لمن يعجزهم الخبز والماء.
وروينا في كتاب "فضائل الشام" (4) للربعي بإسناده عن يونس بن حلبس قال: "أشرف عيسى عليه السلام عَلَى الغوطة، فَقَالَ: يا غوطة، إن عجز الغني أن يجمع منك كنزًا، لم يعجز المسكين أن يشبع منك خبزًا".
وروى خالد الخراساني، حدثنا جسر - هو ابن الحسن - عن الحسن قال: "خيار أهل الشام خير من خياركم، وشرار أهل الشام خير من شراركم، قالوا: ولم تقول هذا يا أبا سعيد؟ قال: لأنّ الله -تعالى- يقول: {وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 71].
--------------------------------------------
আওযাঈ রহ. সাবিত ইবনে মাবাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে শাম, তুমি আমার দেশসমূহের মধ্যে আমার পছন্দনীয়, আমি তোমার মধ্যে আমার বান্দাদের মধ্য থেকে আমার পছন্দনীয়দের বসবাস করাব।"
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি কিতাবসমূহে শামের আলোচনা এতো পুনরাবৃত্ত দেখতে পাই যে, মনে হয় যেন আল্লাহর শামের ব্যাপারে ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজন নেই।"
কা’ব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় দেশ হলো শাম। আর শামের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় হলো কুদস। আর কুদসের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় হলো নাবলুস পাহাড়। মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তারা রশি দিয়ে মেপে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে।"
কা’ব রহ. থেকে বর্ণিত এবং আবু মাহদি আবু জাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি সুনাবিহি থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ শামের প্রতি প্রত্যাদেশ করেছেন: নিশ্চয়ই তুমি আমার রহস্যের আধার ও আমার অবস্থানের জায়গা, তুমি অনন্য এবং তুমি আমার নবীদের উৎপত্তিস্থল, তুমি আমার পবিত্রতার স্থান এবং আমার পা রাখার স্থান। আমি আমার সৃষ্টির মধ্য থেকে আমার উত্তম সৃষ্টিকে তোমার দিকে চালিত করব এবং তোমার দিকেই আমার বান্দাদের পুনরুত্থান হবে। মহাকালের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ছায়া ও বৃষ্টির মাধ্যমে আমার চোখ সর্বদা তোমার ওপর থাকবে। আর যখন তোমার অধিবাসীরা সম্পদ অর্জনে অক্ষম হবে, তখন রুটি ও পানির ক্ষেত্রে তারা অক্ষম হবে না।"
আমরা রাবাঈ রচিত "ফাযায়িলে শাম" গ্রন্থে তাঁর সনদসহ ইউনুস ইবনে হালবাস থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: "ঈসা আলাইহিস সালাম গূতা অঞ্চলের দিকে তাকিয়ে বললেন: হে গূতা, ধনী ব্যক্তি যদি তোমার থেকে ধন-ভাণ্ডার জমা করতে অক্ষম হয়, তবে কোনো মিসকিন তোমার রুটি খেয়ে পরিতৃপ্ত হতে অক্ষম হবে না।"
খালিদ খুরাসানি বর্ণনা করেন, জাসর (তিনি ইবনুল হাসান) আমাদের কাছে হাসান রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "শামবাসীর মধ্যে যারা উত্তম তারা তোমাদের উত্তমদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আর শামবাসীর মধ্যে যারা অধম তারা তোমাদের অধমদের চেয়েও উত্তম। তারা বললেন: হে আবু সাঈদ, আপনি কেন এমন বলছেন? তিনি বললেন: কারণ মহান আল্লাহ বলেন: 'আর আমি তাকে ও লুতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই ভূমিতে, যাতে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি।' [সূরা আল-আম্বিয়া: ৭১]"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২০৩)
وقال يحيى بن صالح: سمعت إسماعيل بن عياش يقول: لما أنْ خرجت من عند المهدي لقيني هشيم بن بشير، فَقَالَ لي: يا أبا عتيبة، جزاك الله عن الإسلام خيرًا، سمعت أشياخنا يَقُولُونَ: صَالحُوكم خير من صالحينا، وطالحوكم خير من طالحينا.
أخرج ذلك كله الحافظ أبو القاسم الدمشقي في أول "تاريخه" (1).
وروى يعقوب بن شيبة بإسناده عن الحارث بن عميرة أنَّه قدم عَلَى "مسعود" (2)، فَقَالَ له: ممن أنت يا ابن أخي؟
فَقَالَ الحارث: من أهل الشام.
فَقَالَ: نعم الحي أهل الشام، لولا واحدة، لولا أنهم يشهدون عَلَى أنفسهم أنهم من أهل الجنة
… وذكر الحديث.
…--------------------------------------------
ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ বলেছেন: আমি ইসমাঈল ইবনে আইয়াশকে বলতে শুনেছি: আমি যখন মাহদীর নিকট থেকে বের হলাম, তখন হুশাইম ইবনে বাশিরের সাথে আমার দেখা হলো। তিনি আমাকে বললেন: হে আবু উতাইবা, আল্লাহ আপনাকে ইসলামের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি আমাদের শায়খদের বলতে শুনেছি: তোমাদের নেককাররা আমাদের নেককারদের চেয়ে উত্তম, আর তোমাদের পাপিষ্ঠরা আমাদের পাপিষ্ঠদের চেয়ে উত্তম।
হাফিজ আবুল কাসিম আদ-দিমাশকি তাঁর 'তারিখ' (১) এর শুরুতে এ সবকিছুই বর্ণনা করেছেন।
ইয়াকুব ইবনে শাইবা তাঁর সনদে হারিস ইবনে উমাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি 'মাসউদ' (২) এর নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি কোন জায়গার লোক?
হারিস বললেন: সিরিয়ার অধিবাসী।
তিনি বললেন: সিরিয়ার লোকেরা চমৎকার সম্প্রদায়, যদি একটি বিষয় না থাকত; যদি না তারা নিজেদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিত যে তারা জান্নাতের অধিবাসী
… এরপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২০৪)
الباب الخامس فيما ورد في أن الطائفة المنصورة بالشامفي "الصحيحين" (1) عن عمير بن هانئ أنَّه سمع معاوية يقول: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "لا يزال من أمتي أمة قائمة بأمر الله، لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى يأتي أمر الله وهم عَلَى ذلك".
قال عمير: فَقَالَ مالك بن يخامر: قال معاذ: وهم بالشام.
فَقَالَ معاوية: هذا مالك بن يخامر يزعم أنَّه سمع معاذًا يقول: وهم بالشام.
وروى حماد بن زيد عن الجريري عن مطرف عن عمران بن حصين قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون عَلَى الحق ظاهرين عَلَى من ناوأهم حتى يقاتل آخرهم المسيح الدجال".
قال مطرف: فنظرت في هذه العصابة فوجدتهم أهل الشام.
وقد خرجه الإمام أحمد (2) وأبو داود (3) بدون قول مطرف.
وخرج مسلم في "صحيحه" (4) من حديث سعد بن أبي وقاص قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يزال الغرب ظاهرين عَلَى الحق حتى تقوم الساعة" وقد فسر الإمام أحمد أهل الغرب في هذا الحديث بأهل الشام؛ فإن التشربق والتغريب
--------------------------------------------
পঞ্চম অধ্যায়: সাহায্যপ্রাপ্ত দল শামে (সিরিয়া অঞ্চলে) হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে‘সহীহাইন’ (১)-এ উমাইর ইবন হানি থেকে বর্ণিত যে, তিনি মুআবিয়াকে বলতে শুনেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকবে। যারা তাদের সহায়তা ত্যাগ করবে বা যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর ফয়সালা (কিয়ামত) আসবে এমতাবস্থায় যে তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।"
উমাইর বলেন: তখন মালিক ইবন ইখামির বললেন: মুআয (রা.) বলেছেন: তারা শামে (সিরিয়া অঞ্চলে) থাকবে।
তখন মুআবিয়া বললেন: এই যে মালিক ইবন ইখামির দাবি করছেন যে, তিনি মুআযকে বলতে শুনেছেন যে তারা শামে থাকবে।
হাম্মাদ ইবন যাইদ জুরারি থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে এবং তিনি ইমরান ইবন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং যারা তাদের সাথে শত্রুতা করবে তাদের ওপর তারা বিজয়ী থাকবে, এমনকি তাদের শেষ দলটি মাসীহ দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে।"
মুতাররিফ বলেন: আমি এই দলটির ব্যাপারে অনুসন্ধান করলাম এবং তাদের শামের অধিবাসী হিসেবে পেলাম।
ইমাম আহমাদ (২) এবং আবু দাউদ (৩) মুতাররিফের উক্তিটি ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন।
মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ (৪) গ্রন্থে সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পশ্চিমের অধিবাসীরা (আহলুল গারব) সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না কিয়ামত সংঘটিত হয়।" ইমাম আহমাদ এই হাদীসে ‘পশ্চিমের অধিবাসী’ বলতে শামের অধিবাসীদের বুঝিয়েছেন; কেননা প্রাচ্য ও প্রতীচ্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২০৫)
أمر نسبي، والنبي صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا قال هذا بالمدينة، وقد سمي النبي صلى الله عليه وسلم وأهل نجد والعراق أهل المشرق، فلذلك كانوا يسمون أهل الشام أهل المغرب؛ لأن الشام تتغرّب عن المدينة، كما أن نجدًا تتشرّق عنها.
وكانوا يسمون البصرة هِندًا، لأنها من جهة الهند، ومنها يُسلك إِلَى الهند، ولهذا قال خالد لما عزله عمر عن الشام: إن عمر أمرني أن [آتي] (1) الهند.
قال الرواي: وكانت الهند عندنا البصرة.
وفسرت طائفة أخرى الغرب المذكور في هذا الحديث بالدلو العظيم، وقالوا: المراد بهم العرب (2)؛ لأنهم يستقون [بالغرب] (3) وهذا قول علي بن المديني وغيره.
وقد وردت الأحاديث أن [العرب تهلك] (4) في آخر الزمان، فلا يبقى منهم بقية إلا بالشام، فيرجع الأمر إِلَى تفسير الحديث بأهل الشام، كما روى يونس بن أبي إسحاق، حدثنا إدريس بن يزيد وداود بن يزيد [الأوديان] (5)، حدثنا والدنا عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أول الناس هلاكًا فارس ثم [العرب] (6) من قربها، ثم أشار بيده قبل الشام: إلا بقية ها هنا" (7).
ورواه سعيد بن بشير عن داود (الأزدي) (8) عن أبيه عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أول الناس هلكة فارس، ثم الغرب، إلا بقايا ها هنا - يعني:
--------------------------------------------
এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় থাকাকালীন এটি বলেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নজদ ও ইরাকের অধিবাসীরা তাদের পূর্বদেশীয় (আহলে মাশরিক) বলে অভিহিত করতেন। সেই কারণে তারা শামবাসীদের পশ্চিমদেশীয় (আহলে মাগরিব) বলতেন; কারণ শাম মদিনা থেকে পশ্চিম দিকে অবস্থিত, যেমনটি নজদ তার থেকে পূর্ব দিকে অবস্থিত।
তারা বসরাকে হিন্দ (ভারত) বলে ডাকতেন, কারণ এটি ভারতের দিকে ছিল এবং এখান থেকেই ভারতের দিকে যাত্রা করা হতো। এই কারণেই খালিদ যখন ওমর তাকে শাম থেকে বরখাস্ত করেন তখন বলেছিলেন: ওমর আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি ভারতে (বসরা) যাই।
বর্ণনাকারী বলেন: আমাদের নিকট হিন্দ (ভারত) বলতে বসরা ছিল।
অন্য একদল এই হাদিসে উল্লিখিত ‘গারব’ শব্দটির ব্যাখ্যা করেছেন বিশাল বালতি হিসেবে। তারা বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আরব জাতি; কারণ তারা বিশাল বালতি (গারব) দিয়ে পানি সংগ্রহ করে। এটি আলী ইবনুল মাদীনী এবং অন্যদের অভিমত।
হাদিসসমূহে এসেছে যে, শেষ যামানায় আরবরা ধ্বংস হয়ে যাবে, ফলে শাম ব্যতীত তাদের আর কোনো অবশিষ্ট থাকবে না। অতএব, বিষয়টি হাদিসটির ব্যাখ্যা হিসেবে শামবাসীদের দিকেই ফিরে যায়। যেমন ইউনুস বিন আবি ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইদ্রিস বিন ইয়াজিদ এবং দাউদ বিন ইয়াজিদ আল-আউদিয়্যান বর্ণনা করেছেন, আমাদের পিতা আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম ধ্বংস হবে পারস্যবাসীরা, এরপর তাদের নিকটবর্তী আরবরা।" তারপর তিনি শামের দিকে তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন: "তবে এখানে কিছু অবশিষ্ট অংশ ছাড়া।"
সাঈদ বিন বশির দাউদ (আল-আযদি) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম ধ্বংস হবে পারস্যবাসীরা, এরপর গারব (পশ্চিমদেশীয়/আরব), তবে এখানে কিছু অবশিষ্ট অংশ ছাড়া - অর্থাৎ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৩)
ফাযাইলুশ শাম
(পৃষ্ঠা: ২০৬)
بالشام" (1).
وخرج ابن ماجه (2) من حديث أبي أمامة "أن النبي صلى الله عليه وسلم لما نزل خروج الدجال خارج المدينة قِيلَ لَهُ: يا رسول الله، فأين [العرب] (3) يومئذ؟ قال: هم يومئذ قليل، وجُلَّهُم ببيت المقدس".
وقد ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم التصريح بأن هذه الطائفة المنصورة بالشام.
فروى يعقوب بن سفيان، حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا يحيى بن حمزة، حدثني أبو علقمة الحضرمي أن عمير (الأسود) (4) وكثير بن مرة الحضرمي قالا: إن أبا هريرة وابن السَّمط كانا يقولان: "لا يزال المسلمون في الأرض حتى تقوم الساعة، وذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا تزال عصابة من أمتي قوَّامة عَلَى أمر الله، لا يضرُّها من خالفها، تقاتل أعداء الله، كما ذهب حرب نشأ حرب قوم آخرين".
يزيغ الله قلوب قوم ليرزقهم منهم حتى تأتيهم الساعة كأنها قطع الليل المظلم، فيفزعون لذلك، حتى [يلبسوا] (5) له أبدان الدروع".
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "وهم أهل الشام. ونكت رسول الله صلى الله عليه وسلم بأصبعه يومئ بها إِلَى الشام حتى أوجعها" (6).
وذكر البخاري في "تاريخه" (7) عن عبد الله بن يوسف نحوه.
وخرَّج ابن ماجه (8) من أوله إِلَى قوله: "ولا يضرها من خالفها" عن
--------------------------------------------
শাম দেশে।" (১)।
ইবনে মাজাহ (২) আবু উমামাহ-এর বর্ণিত হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনার বাইরে দাজ্জালের আবির্ভাবের বিবরণ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সেই দিন [আরবরা] (৩) কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: তারা সেই দিন সংখ্যায় হবে অল্প এবং তাদের অধিকাংশই বাইতুল মাকদিসে থাকবে।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি শাম দেশে থাকবে।
ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বিন হামজাহ বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে আবু আলকামা আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন যে, উমাইর (আল-আসওয়াদ) (৪) এবং কাসীর বিন মুররা আল-হাদরামি বলেছেন: আবু হুরায়রা এবং ইবনুল সামত বলতেন: "কেয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত পৃথিবীতে মুসলিমরা অবশিষ্ট থাকবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তারা আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যখনই একটি যুদ্ধ শেষ হবে, তখনই অন্য একটি সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ শুরু হবে।"
"আল্লাহ কোনো কোনো সম্প্রদায়ের অন্তরকে সত্যবিচ্যুত করবেন যাতে তিনি তাদের মাধ্যমে এদেরকে (সাহায্যপ্রাপ্ত দলকে) রিজিক দান করেন, যতক্ষণ না তাদের কাছে অন্ধকার রাতের টুকরোর মতো ঘোর অন্ধকার কেয়ামত উপস্থিত হয়। তখন তারা তাতে আতঙ্কিত হবে, এমনকি তারা এর জন্য শরীরে বর্ম পরিধান করবে।" (৫)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তারা শামের অধিবাসী।" আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শামের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর আঙুল দিয়ে টোকা দিচ্ছিলেন (বা নির্দেশ করছিলেন), এমনকি তিনি এতে ব্যথাও অনুভব করেছিলেন (৬)।
ইমাম বুখারী তাঁর 'তারিখ' (৭) গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইবনে মাজাহ (৮) এর শুরু থেকে তাঁর এই কথা পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন: "যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না" - হতে
--------------------------------------------