(খণ্ড: ১)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: -)
نور الاقتباس في مشكاة وصية النبي - صلى الله عليه وسلم - لابن عباس القسم: شروح الحديث
الكتاب: نور الاقتباس في مشكاة وصية النبي - صلى الله عليه وسلم - لابن عباس [مطبوع ضمن مجموع رسائل الحافظ ابن رجب الحنبلي]
المؤلف: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (736 - 795 هـ)
دراسة وتحقيق: أبي مصعب طلعت بن فؤاد الحلواني
الناشر: الفاروق الحديثة للطباعة والنشر
الطبعة :الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 87
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1433
ইবনে আব্বাসের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়তের দীপাধার হতে আহরিত আলো বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাসমূহ
গ্রন্থ: ইবনে আব্বাসের প্রতি নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর অসিয়তের দীপাধার হতে আহরিত আলো [হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলীর সংকলিত রিসালাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত]
লেখক: যাইনুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন রজব আল-হাম্বলী (৭৩৬ - ৭৯৫ হি.)
গবেষণা ও সম্পাদনা: আবু মুসআব তলাআত বিন ফুয়াদ আল-হুলওয়ানী
প্রকাশক: আল-ফারুক আল-হাদিসা মুদ্রণ ও প্রকাশনা
সংস্করণ :প্রথম، ১৪২৫ হি. - ২০০৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৩
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٨٩)
نور الاقتباس في مشكاة وصية النبي صلى الله عليه وسلم لابن عباس
ইবনে আব্বাসের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপদেশের প্রদীপাধার হতে আহরিত আলোকবর্তিকা
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩١)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر يا كريم
الحمد لله رب العالمين حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه كما يحب ربنا ويرضى، وكما ينبغي لكرم وجهه وعز جلاله، وصلى الله عَلَى محمد النبي الأمي وآله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.
خرج الإمام أحمد (1) من حديث حَنَشٍ الصَّنْعَانِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ [رضي الله عنه] (2).
قَالَ: "كُنْتُ رَدِيفَ (النَّبِيِّ) (*) صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا غُلامُ -أَوْ يَا غُلَيِّمُ- أَلا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ يَنْفَعُكَ اللهُ بِهِنَّ؟ فَقُلْتُ: بَلَى، فَقَالَ: احْفَظِ اللهَ يَحْفَظْكَ، احْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ أَمَامَكَ، تَعَرَّفْ إِلَى اللهِ فِي الرَّخَاءِ يَعْرِفْكَ فِي الشِّدَّةِ، وَإِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللهِ، قَدْ جَفَّ الْقَلَمُ بِمَا هُوَ كَائِنٌ، فَلَوْ أَنَّ الْخَلْقَ كُلَّهُمْ جَمِيعًا أَرَادُوا أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَكْتُبْهُ اللهُ [عَلَيْكَ] (**) لَمْ يَقْدِرُوا عَلَيْهِ، وَإِنْ أَرَادُوا أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَكْتُبْهُ اللهُ عَلَيْكَ لَمْ يَقْدِرُوا عَلَيْهِ، وَاعْلَمْ أنَّ فِي الصَّبْرِ عَلَى مَا تَكْرَهُ خَيْرًا كَثِيرًا، وَأَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ، وَأَنَّ الْفَرَجَ مَعَ الْكَرْبِ، وَأَنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا".
هكذا ساقه من طريق حنش مع إسنادين آخرين منقطعين، وفي السياق أنَّه لا يحفظ حديث بعضهم من بعض.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে রব, সহজ করে দিন, হে দয়ালু।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য—প্রচুর পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা, যেভাবে আমাদের রব পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এবং যেভাবে তাঁর সত্তার মহানুভবতা ও তাঁর প্রতাপের মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এবং উম্মী নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও অনেক অনেক শান্তি বর্ষিত হোক।
ইমাম আহমাদ (১) হানাস আস-সানআনী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস [রাদিয়াল্লাহু আনহু] (২) হতে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: "আমি (নবী) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহনের পেছনে বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন: হে কিশোর—অথবা হে ছোট বালক—আমি কি তোমাকে এমন কিছু কথা শেখাব না যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে উপকৃত করবেন? আমি বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর (বিধানের) হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। তুমি আল্লাহর (বিধানের) হেফাজত করো, তুমি তাঁকে তোমার সামনে পাবে। তুমি সচ্ছলতার সময় আল্লাহকে চিনে রেখো (স্মরণ করো), তিনি তোমাকে কঠিন সময়ে স্মরণ করবেন। যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো। যা কিছু ঘটার তা নিয়ে কলম শুকিয়ে গেছে। সুতরাং যদি সমস্ত মাখলুক (সৃষ্টিজগত) একত্রিত হয়ে তোমার এমন কোনো উপকার করতে চায় যা আল্লাহ তোমার [ভাগ্যে] লেখেননি, তবে তারা তা করতে সক্ষম হবে না। আর যদি তারা তোমার এমন কোনো ক্ষতি করতে চায় যা আল্লাহ তোমার ভাগ্যে লেখেননি, তবে তারা তা করতে সক্ষম হবে না। আর জেনে রেখো, যা তুমি অপছন্দ করো তার ওপর ধৈর্য ধারণের মাঝে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। আর নিশ্চয়ই ধৈর্যের সাথেই সাহায্য আসে, বিপদের সাথেই মুক্তি আসে এবং কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।"
তিনি (ইমাম আহমাদ) এভাবেই হানাসের সূত্র থেকে এবং আরও দুটি বিচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। বর্ণনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, তাঁদের একজনের হাদিস অপরজনের হাদিসের সাথে হুবহু সংরক্ষিত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩٢)
وخرّجه أيضاً (1) من طريق حنش وحده مختصراً، ولفظه:
"يَا غُلامُ، إِنِّي مُحَدِّثُكَ حَدِيثًا: احْفَظِ اللهَ يَحْفَظْكَ، احْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ، إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللهِ، فَقَدْ رُفِعَتِ الأَقْلامُ وَجُفَّتِ الكُتُبِ، فَلَوْ جَاءَتِ الأُمَّةُ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَكْتُبْهُ اللهُ لَكَ لَمَا اسْتَطَاعَتْ، وَلَوْ أَرَادَتْ أنْ تَضُرَّكَ بِشَيءٍ لَمْ يَكْتُبُهُ اللهُ لَكَ لَمَا اسْتَطَاعَتْ عَلَيهِ، وَاعْلَمْ أَنَّ فِي الصَّبْرِ عَلَى مَا تَكْرَهُ خَيْرًا كَثِيرًا، وَأَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ، وَأَنَّ الْفَرَجَ مَعَ الْكَرْبِ، وَأَنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا".
هكذا ساقه من طريق [حنش] (2)، وخرّجه الترمذي (3) بنحو هذا السياق المختصر ولفظه:
«إِنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ: احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ، احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ، إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ، وَاعْلَمْ أَنَّ الأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ، وَإِنْ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ، رُفِعَتِ الأَقْلَامُ وَجَفَّتْ الصُّحُفُ».
وقال: حديث حسن صحيح.
وقال الحافظ أبو عبد الله بن منده: لهذا الحديث طرق عن ابن عباس وهذا أصحها. قال: وهذا إسناد مشهور ورواته ثقات.
قلت: قد رُوي هذا الحديث عن ابن عباس من رواية جماعة؛ عنه فمنهم: علي ابنه، وعطاء، وعكرمة. ومن رواية عمر (4) مولى غفرة، وعبد الملك بن
--------------------------------------------
তিনি এটিও (১) কেবল হানাশ-এর সূত্র থেকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দসমূহ হলো:
"হে বালক, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে একটি কথা বলছি: তুমি আল্লাহর বিধানসমূহের হিফাযত করো, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির হিফাযত করো, তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন সাহায্যের প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো। কলমসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কিতাবসমূহ শুকিয়ে গেছে। সুতরাং যদি সমগ্র উম্মত তোমার কোনো উপকার করার জন্য সমবেত হয় যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখেননি, তবে তারা তাতে সক্ষম হবে না। আর যদি তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায় যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখেননি, তবে তারা সে বিষয়ে সক্ষম হবে না। জেনে রেখো, তোমার অপছন্দনীয় বিষয়ের ওপর সবর করার মধ্যে অনেক কল্যাণ রয়েছে। নিশ্চয়ই ধৈর্যের সাথেই বিজয় আসে, কষ্টের সাথেই আসে মুক্তি এবং সংকটের সাথেই রয়েছে সহজতা।"
তিনি এভাবেই [হানাশ] (২)-এর সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিযী (৩) এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনাধারা অনুযায়ী এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দসমূহ হলো:
«আমি তোমাকে কয়েকটি বাক্য শিখিয়ে দিচ্ছি: তুমি আল্লাহর বিধানসমূহের হিফাযত করো, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির হিফাযত করো, তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন সাহায্যের প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো। জেনে রেখো, যদি সমগ্র উম্মত তোমার কোনো উপকার করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তোমার কোনো উপকার করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে আল্লাহ তোমার বিপক্ষে যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সহীফাসমূহ শুকিয়ে গেছে।»
তিনি (ইমাম তিরমিযী) বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাফেয আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ বলেছেন: ইবনে আব্বাস থেকে এই হাদীসের একাধিক বর্ণনাপথ রয়েছে এবং এটি সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ। তিনি বলেন: এটি একটি প্রসিদ্ধ সনদ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
আমি বলছি: ইবনে আব্বাস থেকে একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর পুত্র আলী, আতা এবং ইকরিমা। এছাড়া গুফরার আযাদকৃত গোলাম উমর (৪) এবং আব্দুল মালিক ইবনে... এর বর্ণনা থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩٣)
عمير (1)، وابن أبي مليكة عن ابن عباس (2). وقيل أنهما لم يسمعا منه، وفي أسانيدها جميعها مقال، وفي ألفاظها بعض الزيادة والنقص.
ورُوي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنَّه وصى بذلك ابن عباس من حديث علي بن أبي طالب، وأبي سعيد الخدري (3)، وسهل بن سعد، وغيرهم من الصحابة، وفي أسانيدها أيضًا مقال.
وذكر العقيلي (4) أن أسانيد الحديث كلها لينة، وبعضها أصلح من بعض.
قلت: وأجود أسانيده من رواية حنش عن ابن عباس التي ذكرناها، وهو إسناد حسن لا بأس به.
وقد استوفينا ذكر طرق الحديث مع الكلام عليها في كتاب "شرح الترمذي".
ومقصودنا ها هنا الكلام عَلَى معنى الحديث وشرح ألفاظه، فإنَّه تضمن وصايا عظيمة وقواعد كلية من أهم أمور الدين وأجلها، حتى قال الإمام أبو الفرج [ابن الجوزي] (*) في كتابه "صيد الخاطر": تدبرت هذا الحديث فأدهشني وكدت أطيش. ثم قال: واأسفًا من الجهل بهذا الحديث، وقلة الفهم لمعناه.
…--------------------------------------------
উমায়ের (১), এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত ইবনে আবি মুলাইকাহ (২)। আর বলা হয়েছে যে, তারা উভয়ে তাঁর থেকে শোনেননি, এবং এর সকল সনদে সমালোচনা রয়েছে, আর এর শব্দাবলিতে কিছু আধিক্য ও ঘাটতি রয়েছে।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে এই মর্মে অসিয়ত করেছেন—যা আলী ইবনে আবি তালিব, আবু সাঈদ আল-খুদরি (৩), সাহল ইবনে সা’দ এবং অন্যান্য সাহাবীগণের বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আর এগুলোর সনদেও সমালোচনা রয়েছে।
আর উকাইলি (৪) উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসের সকল সনদই দুর্বল, তবে কোনোটি অন্যটির চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো।
আমি বলি: এর সনদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হলো ইবনে আব্বাস থেকে হানাশ-এর বর্ণনা যা আমরা উল্লেখ করেছি, আর এটি একটি হাসান সনদ যাতে কোনো সমস্যা নেই।
আর আমরা 'শরহু তিরমিজি' গ্রন্থে হাদিসটির বর্ণনাপথগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
আর আমাদের উদ্দেশ্য এখানে হাদিসের মর্মার্থ ও এর শব্দাবলির ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করা, কারণ এটি দ্বীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত কতিপয় মহান অসিয়ত ও সামগ্রিক মূলনীতি ধারণ করে আছে। এমনকি ইমাম আবুল ফারাজ [ইবনুল জাওজি] (*) তাঁর 'সাইদুল খাতির' গ্রন্থে বলেছেন: "আমি এই হাদিসটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করলাম, যা আমাকে বিস্মিত করেছে এবং আমি প্রায় বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম।" অতঃপর তিনি বলেন: "আফসোস এই হাদিস সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এর অর্থ অনুধাবনে স্বল্পতার জন্য!"
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩٤)
فقوله صلى الله عليه وسلم: "احفظ الله يحفظك"
يعني: احفظ حدود الله وحقوقه وأوامره ونواهيه وحفظ ذلك هو الوقوف عند أوامره بالامتثال، وعند نواهيه بالاجتناب، وعند حدوده فلا تتجاوز ولا تتعدى ما أمر به إِلَى ما نهى عنه.
فدخل في ذلك فعل الواجبات جميعًا وترك المحرمًات كلها، كما في حديث أبي ثعلبة المرفوع:
«إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ فَرَائِضَ فَلَا تُضَيِّعُوها، وَحَرَّمَ حُرُمَاتٍ فَلَا تَنْتَهِكُوهَا، وَحَدَّ حُدُودًا فَلَا تَعْتَدُوهَا» (1).
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তুমি আল্লাহর (বিধানের) হিফাযত করো, আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন"অর্থাৎ: আল্লাহর সীমারেখা, তাঁর অধিকারসমূহ, তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ হিফাযত করো। আর এগুলো হিফাযত করার অর্থ হলো তাঁর আদেশগুলো পালনের মাধ্যমে, নিষেধগুলো বর্জনের মাধ্যমে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমানার ওপর অটল থাকা; সুতরাং আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা লঙ্ঘন করে যা নিষেধ করেছেন সেদিকে ধাবিত হওয়া যাবে না।
এর মধ্যে সমস্ত ওয়াজিব কাজ সম্পাদন করা এবং সকল হারাম কাজ বর্জন করা অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আবু সা'লাবা কর্তৃক বর্ণিত মারফূ হাদীসে এসেছে:
«নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু ফরয বিধান নির্ধারণ করেছেন, সুতরাং তোমরা সেগুলো নষ্ট করো না; তিনি কিছু বিষয় হারাম করেছেন, সুতরাং তোমরা সেগুলো লঙ্ঘন করো না; এবং তিনি কিছু সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সুতরাং তোমরা সেগুলো অতিক্রম করো না» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩٥)
وذلك كله يدخل في حفظ حدود الله، كما ذكره الله في قوله: {وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ
… } [التوبة: 112].
وقال تعالى: {هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٍ * مَنْ خَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُنِيبٍ} [ق: 32، 33].
وفسر الحفيظ ها هنا بالحافظ لأوامر الله، وفسر بالحافظ لذنوبه حتى يرجع منها، وكلاهما يدخل في الآية.
ومن حفظ وصية الله لعباده وامتثلها فهو داخل أيضاً، والكل يرجع إِلَى معنى واحد.
وقد ورد في بعض ألفاظ حديث يوم المزيد في الجنة:
"إن الله تعالى يقول لأهل الجنة، إذا استدعاهم إِلَى زيارته وكشف لهم الحجب: مرْحَبًا بعبادي الَّذين حفظوا وصيتي، وراعوا عهدي، وخافوني بِالْغَيْبِ، وَكَانُوا مني على كل حَال مشفقين" (1).
--------------------------------------------
এবং এ সব কিছুই আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা রক্ষার অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আল্লাহ তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {এবং যারা আল্লাহর সীমানাসমূহ হেফাজতকারী...} [আত-তাওবাহ: ১১২]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদেরকে এরই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য, যে ছিল আল্লাহ-অভিমুখী ও (সীমানার) রক্ষণাবেক্ষণকারী। যে দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করেছে এবং বিনীত হৃদয়ে উপস্থিত হয়েছে।} [ক্বাফ: ৩২, ৩৩]।
এখানে 'হাফিজ' (রক্ষণাবেক্ষণকারী)-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—আল্লাহর আদেশসমূহ হিফাযতকারী; আবার ব্যাখ্যা করা হয়েছে—নিজের গুনাহসমূহ স্মরণকারী (হিফাযতকারী) যাতে সে তা থেকে ফিরে আসে। উভয় ব্যাখ্যাই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
আর যে ব্যক্তি তার বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অসিয়ত হিফাযত করল এবং তা পালন করল, সে-ও এর অন্তর্ভুক্ত; আর সবকিছুর সারমর্ম একই অর্থের দিকে ফিরে যায়।
জান্নাতে 'অতিরিক্ত প্রাপ্তির দিন' (ইয়াওমুল মাযীদ) সংক্রান্ত হাদীসের কিছু শব্দে বর্ণিত হয়েছে:
"নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ জান্নাতীদের বলবেন—যখন তিনি তাদের তাঁর সাক্ষাতের জন্য আহ্বান করবেন এবং তাদের জন্য পর্দা উন্মোচন করবেন: স্বাগতম আমার সেই বান্দাদের প্রতি যারা আমার অসিয়ত হিফাযত করেছে, আমার অঙ্গীকার রক্ষা করেছে, আমাকে না দেখে ভয় করেছে এবং সর্বাবস্থায় আমার ব্যাপারে ভীত-সন্ত্রস্ত ছিল" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩٦)
فأمره صلى الله عليه وسلم لابن عباس بحفظ الله يدخل فيه هذا كله.
ومن أعظم ما يجب حفظه من المأمورات الصلوات الخمس، قال تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى} [البقرة: 238] وقال: {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} [المعارج: 34].
وقال النبي صلى الله عليه وسلم:
"من حافظ عليها كان له عند الله عهدًا أن يدخله الجنة
… " (1) الحديث.
وفي حديث آخر:
" «مَنْ حَافَظَ عَلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ نُورًا وَبُرْهَانًا وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ» (2). الحديث.
وكذلك الطهارة فإنها مفتاح الصلاة، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا يحافظ عَلَى الوضوء إلا مؤمن" (3).
فإن العبد تنتقض طهارته ولا يعلم بذلك إلا الله، فالمحافظة عَلَى الوضوء للصلاة دليل عَلَى ثبوت الإيمان في القلب.
ومما أمر الله بحفظه الأيمان لمَّا ذكر كفارة اليمين قال: {ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ} [المائدة: 89] فإن الأيمان كثيرًا ما تقع من الناس وموجباتها مختلفة، فتارة يجب بها كفارة يمين وتارة يجب بها كفارة مغلظة، وتارة يلزم بها المحلوف عليه من طلاق ونحوه. فمن حفظ أيمانه دل عَلَى دخول الإيمان في قلبه.
وكان السَّلف كثيرًا يحافظون عَلَى الأيمان، فمنهم من كان لا يحلف بالله ألبتة، ومنهم من كان يتورع حتى يكفر عما شك في الحنث فيه. ووصى الإمام
--------------------------------------------
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্বাসকে আল্লাহকে সংরক্ষণ করার যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার মধ্যে এই সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত।
নির্দেশিত বিষয়গুলোর মধ্যে যা সংরক্ষণ করা সবচেয়ে বেশি আবশ্যক, তা হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা সালাতসমূহের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের।" [আল-বাকারাহ: ২৩৮]। তিনি আরও বলেন: "আর যারা নিজেদের সালাতসমূহ সংরক্ষণ করে।" [আল-মাআরিজ: ৩৪]।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে ব্যক্তি এগুলোর (সালাতের) প্রতি যত্নবান হবে, আল্লাহর নিকট তার জন্য এই মর্মে প্রতিশ্রুতি থাকবে যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন..." (১) হাদীস।
অন্য এক হাদীসে এসেছে:
"যে ব্যক্তি সেগুলোর প্রতি যত্নবান হবে, কিয়ামতের দিন সেগুলো তার জন্য নূর, দলীল ও মুক্তির কারণ হবে।" (২)। হাদীস।
অনুরূপভাবে পবিত্রতাও, কারণ তা হলো সালাতের চাবিকাঠি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউ ওযুর প্রতি যত্নবান হয় না।" (৩)।
কেননা বান্দার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কেউ তা জানতে পারে না; তাই সালাতের জন্য ওযুর প্রতি যত্নশীল হওয়া অন্তরে ঈমান সুদৃঢ় হওয়ার প্রমাণ।
আল্লাহ তাআলা যা সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো শপথ। শপথের কাফফারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: "এটি তোমাদের শপথের কাফফারা যখন তোমরা শপথ করবে; আর তোমরা তোমাদের শপথসমূহ রক্ষা করো।" [আল-মায়িদাহ: ৮৯]। কেননা মানুষের পক্ষ থেকে প্রায়ই শপথ হয়ে থাকে এবং এগুলোর বিধানও ভিন্ন ভিন্ন হয়। কখনও এর কারণে শপথের কাফফারা আবশ্যক হয়, কখনও কঠোর কাফফারা আবশ্যক হয়, আবার কখনও এর দ্বারা শপথকৃত বিষয় হিসেবে তালাক বা অনুরূপ কিছু কার্যকর হয়ে যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি তার শপথ রক্ষা করে, তা তার অন্তরে ঈমান প্রবেশের প্রমাণ বহন করে।
সালফে সালেহীন শপথের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন ছিলেন যারা আল্লাহর নামে একেবারেই কসম খেতেন না, আবার কেউ কেউ এতটা সতর্ক ছিলেন যে, শপথ ভঙ্গের সামান্যতম সন্দেহ হলেও তার কাফফারা আদায় করতেন। আর ইমাম ওসিয়ত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩٧)
أحمد رحمه الله عند موته أن تخرج عنه كفارة يمين. وقال: أظن أني حنثت في يمين حلفتها.
وقد رُوي عن أيوب عليه السلام أنَّه كان إذا مر باثنين يحلفان بالله ذهب فكفر عنهما بيمين، لئلا يأثمان وهما لا يشعران.
ولهذا لما حلف عَلَى ضرب امرأته مائة جلدة، أفتاه الله بالرخصة لحفظه لأيمانه وأيمان غيره.
وقد اختلف العُلَمَاء، هل تتعدى الرخصة لحلفه أم لا؟
وقال يزيد بن أبي حبيب: بلغني أن من حملة العرش من يسيل من عينيه أمثال الأنهار من البكاء، فإذا رفع رأسه قال: سبحانك، ما (تخشى) (*) حق خشيتك؟ فيقول الله تعالى: لكن الذين يحلفون باسمي كاذبين لا يعلمون ذلك.
وقد ورد التشديد العظيم في الحلف الكاذب، ولا يصدر كثرة الحلف بالله والحلف به كاذبًا من الجهل بالله وقلة هيبته في الصدور.
ومما يلزم المؤمن حفظه رأسه وبطنه، كما في حديث ابن مسعود المرفوع: "الِاسْتِحْيَاءَ مِنَ اللَّهِ حَقَّ الحَيَاءِ أَنْ تَحْفَظَ الرَّأْسَ وَمَا وَعَى، وَيَحْفَظِ البَطْنَ وَمَا حَوَى" خرجه الإمام أحمد (1) والترمذي (2).
وحفظ الرأس وما وعى، يدخل فيه السمع والبصر واللسان من المحرمات.
وحفظ البطن وما حوى: يتضمن حفظ القلب عن الإصرار عَلَى محرم.
وقد جُمع -ذلك كله في قوله تعالى: {إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا} [الإسراء: 36].
ويدخل في حفظ البطن وما حوى: حفظه من إدخال الحرام. إِلَيْهِ من
--------------------------------------------
আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মৃত্যুর সময় অসিয়ত করেন যেন তাঁর পক্ষ থেকে শপথের কাফফারা আদায় করা হয়। তিনি বলেছিলেন: আমার মনে হয় আমি একটি কসমে শপথ ভঙ্গ করেছি যা আমি করেছিলাম।
আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন এমন দুজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে যেতেন যারা আল্লাহর নামে শপথ করছে, তখন তিনি গিয়ে তাদের পক্ষ থেকে কাফফারা আদায় করতেন, যাতে তারা অজান্তেই পাপী না হয়ে যায়।
এই কারণেই, যখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করার শপথ করেছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে সহজতা (রুকসাত) লাভের ফতোয়া দিয়েছিলেন, কারণ তিনি নিজের ও অন্যদের শপথের প্রতি যত্নশীল ছিলেন।
আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, এই সহজতা কি কেবল তাঁর শপথের জন্য নির্দিষ্ট নাকি তা অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে?
ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যাঁর চোখ থেকে কান্নার কারণে নদীর মতো পানি প্রবাহিত হয়। যখন তিনি তাঁর মাথা তোলেন, তখন বলেন: আপনি মহাপবিত্র, আপনাকে যেভাবে ভয় করা উচিত ছিল সেভাবে কি (ভয়) (*) করা হয়েছে? তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: কিন্তু যারা আমার নামে মিথ্যা শপথ করে, তারা তা জানে না।
মিথ্যা শপথের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর নামে অধিক শপথ করা এবং তাঁর নামে মিথ্যা শপথ করা কেবল আল্লাহর প্রতি অজ্ঞতা এবং অন্তরে তাঁর মহত্বের অভাব থেকেই উৎপন্ন হয়।
মুমিনের জন্য যা রক্ষা করা আবশ্যক তা হলো তার মাথা এবং পেট, যেমন ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসে এসেছে: "আল্লাহর প্রতি যথাযথ লজ্জা হলো মাথা এবং তা যা ধারণ করে তা রক্ষা করা, আর পেট এবং তা যা ধারণ করে তা রক্ষা করা।" এটি ইমাম আহমাদ (১) এবং তিরমিজি (২) বর্ণনা করেছেন।
মাথা এবং তা যা ধারণ করে তা রক্ষা করার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো কান, চোখ এবং জিহ্বাকে হারাম বিষয় থেকে রক্ষা করা।
পেট এবং তা যা ধারণ করে তা রক্ষা করার অন্তর্ভুক্ত হলো অন্তরকে হারামের ওপর অটল থাকা থেকে রক্ষা করা।
এই সবকিছুই আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে একত্রিত করা হয়েছে: "নিশ্চয়ই কান, চোখ এবং অন্তর—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" [আল-ইসরা: ৩৬]।
পেট এবং তা যা ধারণ করে তা রক্ষা করার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো: তাতে হারাম বস্তু প্রবেশ করানো থেকে রক্ষা করা। এর থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩٨)
المأكولات والمشروبات.
ومما يجب حفظه من المنهيات: حفظ اللسان والفرج. وفي حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم:
"من حفظ ما بين لحييه وما بين رجليه دخل الجنة" خرجه الحاكم (1).
وخرّجه البخاري (2) من حديث سهل بن سعد عن النبي صلى الله عليه وسلم ولفظه: "من يضمن لي ما بين لحييه ورجليه، أضمن له الجنة".
وفي مسند الإمام أحمد (3) عن أبي موسى، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من حفظ ما بين فقميه (4) وفرجه دخل الجنة".
وقد أمر الله بحفظ الفروح خاصة ومدح الحافظين لها، قال تعالى: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ
… } [النور: 30].
وقال تعالى: {وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ} [الأحزاب: 35].
وقال: {وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ * إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ
… } [المؤمنون: 5، 6].
وقد رُوي عن أبي إدريس الخولاني أن أول ما وصى الله آدم عند إهباطه إِلَى الأرض بحفظ فرجه، أن لا يضعه إلا في حلال.
…--------------------------------------------
খাদ্যদ্রব্য ও পানীয়।
আর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে যা হিফাযত করা ওয়াজিব, তা হলো: জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হিফাযত। আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে:
"যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান এবং তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান হিফাযত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন (১)।
এবং সাহল ইবনে সা'দ বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বুখারি (২) এটি বর্ণনা করেছেন, যার শব্দসমূহ হলো: "যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের নিশ্চয়তা দিবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।"
আর ইমাম আহমদের মুসনাদে (৩) আবু মুসা থেকে বর্ণিত, নবী (সালллаল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (৪) এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
আল্লাহ বিশেষভাবে লজ্জাস্থান হিফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা তা হিফাযত করে তাদের প্রশংসা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হিফাযত করে...} [আন-নূর: ৩০]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এবং লজ্জাস্থান হিফাযতকারী পুরুষ ও লজ্জাস্থান হিফাযতকারী নারীগণ} [আল-আহযাব: ৩৫]।
এবং তিনি বলেন: {যারা নিজেদের লজ্জাস্থান হিফাযত করে, তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ক্ষেত্র ব্যতীত...} [আল-মুমিনুন: ৫, ৬]।
আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ আদমকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়ার সময় সর্বপ্রথম যে নসিহতটি করেছিলেন তা হলো লজ্জাস্থানের হিফাযত করা, যেন তিনি তা হালাল ব্যতিরেকে অন্য কোথাও ব্যবহার না করেন।
...--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ٩٩)
قوله: "يحفظك"
يعني أن من حفظ حدود الله وراعى حقوقه، حفظه، فإن الجزاء من جنس العمل، كما قال تعالى: {وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ} [البقرة: 40].
وقال: {فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ} [البقرة: 152].
وقال: {إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ} [محمد: 7].
وحفظ الله -تعالى- لعبده وماله.
وفي حديث ابن عمر قال: لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يدع هؤلاء الدعوات حين يمسي وحين يصبح:
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي».
خرجه الإمام أحمد (1) وأبو داود (2) والنسائي (3) وابن ماجه (4).
وهذا الدعاء منتزع من قوله عز وجل: {لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ} الآية [الرعد: 11].
قال ابن عباس: هم الملائكة يحفظونه بأمر الله، فإذا جاء القدر خلوا عنه (5).
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: "তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন"এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমানা রক্ষা করবে এবং তাঁর হকসমূহ পর্যবেক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে রক্ষা করবেন। কেননা প্রতিদান হয় কর্ম অনুযায়ী, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করো, আমি তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করব} [আল-বাকারা: ৪০]।
তিনি আরও বলেছেন: {অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব} [আল-বাকারা: ১৫২]।
তিনি আরও বলেছেন: {যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন} [মুহাম্মাদ: ৭]।
আর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার জান ও মালের সুরক্ষা।
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুআগুলো কখনো ছাড়তেন না:
«হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপনীয় বিষয়সমূহ ঢেকে রাখুন এবং আমার ভীতি দূর করে আমাকে নিরাপদ রাখুন। আপনি আমাকে আমার সম্মুখ হতে ও আমার পশ্চাৎ হতে, আমার ডান দিক হতে ও আমার বাম দিক হতে এবং আমার উপর দিক হতে রক্ষা করুন। আর আমি আপনার মহত্ত্বের উসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার নিচ হতে আকস্মিক বিপদে ধ্বংস হওয়া থেকে।»
এটি ইমাম আহমাদ (১), আবু দাউদ (২), নাসায়ি (৩) এবং ইবনে মাজাহ (৪) বর্ণনা করেছেন।
আর এই দুআটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত হয়েছে: {তার জন্য রয়েছে সামনের ও পিছনের দিক থেকে একের পর এক আগমনকারী (ফেরেশতাগণ)} আয়াত [আর-রাদ: ১১]।
ইবনে আব্বাস বলেন: তারা হলেন ফেরেশতা যারা আল্লাহর আদেশে তাকে রক্ষা করেন। অতঃপর যখন তাকদির চলে আসে, তখন তারা তাকে ছেড়ে দেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٠)
وقال علي رضي الله عنه: إن مع كل رجل ملكين يحفظانه مما لم يُقَدَّرْ، فإذا جاء القَدَرُ خليا بينه وبينه، وإن الأجل جنة حصينة (1).
وقال مجاهد: ما من عبد إلا له ملك يحفظه في نومه ويقظته من الجن والإنس والهوام، فما من شيء يأتيه إلا قال: وراءك، إلا شيئًا قد أذن الله فيه فيصيبه.
ومن حفظ الله للعبد: أن يحفظه في صحة بدنه وقوته وعقله وماله.
قال بعض السَّلف: العالم لا يحزن، وقال بعضهم: من جمع القرآن متع بعقله.
وتأول ذلك بعضهم عَلَى قوله تعالى: {ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ} [التين: 5] وهو أرذل العمر {إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [التين: 6].
وكان أبو الطيب الطبري قد جاوز المائة سنة وهر ممتع بعقله وقوته، فوثب يومًا من سفينة كان فيها إِلَى الأرض وثبة شديدة. فعوتب عَلَى ذلك، فَقَالَ: هذه جوارح حفظناها عن المعاصي في الصغر، فحفظها الله علينا في الكبر.
وعكس هذا أن الجنيد رأى شيخًا يسأل الناس، فَقَالَ: إن هذا ضيع الله في صغره، فضيعه الله في كبره.
وقد يحفظ الله العبد بصلاحه في ولده وولد ولده، كما قيل في قوله تعالى: {وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا} [الكهف: 82]: إنهما حفظا بصلاح أبيهما.
وقال محمد بن المنكدر: إن الله ليحفظ بالرجل الصالح ولده وولد ولده وقريته التي هو فيها، والدويرات التي حولها، فما يزالون في حفظ من الله وستره.
وقال ابن المسيب لابنه: يا بني (لأزيدن) (*) في صلاتي من أجلك، رجاء
--------------------------------------------
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে দুইজন ফেরেশতা থাকেন যারা তাকে তা থেকে রক্ষা করেন যা (তার জন্য) নির্ধারিত নয়। অতঃপর যখন তাকদির (নির্ধারিত সময়) উপস্থিত হয়, তখন তারা তার এবং তাকদিরের মধ্যকার বাধা সরিয়ে নেন। আর নিশ্চয়ই নির্ধারিত আয়ু হলো একটি সুদৃঢ় ঢাল (১)।
মুজাহিদ বলেন: এমন কোনো বান্দা নেই যার জন্য একজন ফেরেশতা নিয়োজিত নেই, যে তাকে তার ঘুমে ও জাগরণে জিন, মানুষ ও বিষাক্ত পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে। ফলে যা কিছুই তার কাছে আসে, ফেরেশতাটি বলে: ‘পিছনে হটো’, কেবল সেই বিষয়টি ছাড়া যার অনুমতি আল্লাহ দিয়েছেন, তখন তা তাকে স্পর্শ করে।
আর বান্দার প্রতি আল্লাহর সংরক্ষণের একটি দিক হলো: তাকে তার দেহের সুস্থতা, তার শক্তি, তার বুদ্ধি এবং তার সম্পদের মধ্যে নিরাপদ রাখা।
জনৈক সালাফ (পূর্বসূরি) বলেছেন: আলেম (বিদ্বান) কখনও চিন্তিত হন না। আর তাদের কেউ কেউ বলেন: যে ব্যক্তি কুরআন আত্মস্থ করেছে, সে তার বুদ্ধির দ্বারা উপকৃত হয়েছে।
তাদের কেউ কেউ মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন: {অতঃপর আমি তাকে হীনতমদের নিম্নতম অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছি} [আত-তীন: ৫], আর তা হলো বার্ধক্যের চরম অশক্ত অবস্থা; {কিন্তু তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে} [আত-তীন: ৬]।
আবু তায়্যিব আত-তাবারী একশত বছর পার করেছিলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তার বুদ্ধি ও শক্তির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছিলেন। একদিন তিনি একটি নৌকা থেকে তীরের দিকে এক জোরালো লাফ দিলেন। এ নিয়ে তাঁকে তিরস্কার করা হলে তিনি বললেন: "এগুলো এমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যা আমরা শৈশবে পাপাচার থেকে রক্ষা করেছি, ফলে আল্লাহ বার্ধক্যে আমাদের জন্য এগুলোকে সুরক্ষিত রেখেছেন।"
এর বিপরীত উদাহরণ হলো, ইমাম জুনাইদ এক বৃদ্ধকে দেখলেন যে মানুষের কাছে হাত পাতছে। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি তার শৈশবে আল্লাহর হকের অবমূল্যায়ন করেছে, ফলে আল্লাহ তাকে তার বার্ধক্যে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছেন।"
আল্লাহ কখনও বান্দার নেক আমলের কারণে তার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের মধ্যেও তাকে রক্ষা করেন, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: {এবং তাদের পিতা ছিল নেককার} [আল-কাহফ: ৮২]: অর্থাৎ নিশ্চয়ই তাদের পিতার সততার কারণেই তাদের উভয়কে রক্ষা করা হয়েছিল।
মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ একজন নেককার ব্যক্তির মাধ্যমে তার সন্তান, তার নাতি-নাতনি, তার গ্রাম যাতে সে বসবাস করে এবং তার চারপাশের ছোট জনপদগুলোকে রক্ষা করেন। ফলে তারা সর্বদা আল্লাহর সুরক্ষা ও নিগূঢ় আবরণের মধ্যে থাকে।
ইবনুল মুসাইয়িব তার পুত্রকে বললেন: "হে বৎস! আমি কেবল তোমার খাতিরেই আমার সালাতকে দীর্ঘ করব, এই আশায়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠١)
أن أحفظ فيك. وتلا هذه الآية: {وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا} [الكهف: 82].
وقال عمر بن عبد العزيز: ما من مؤمن يموت إلا حفظه الله في عقبه وعقب عقبه.
وقال يحيى بن إسماعيل بن سلمة بن كُهيل: كان لي أخت أسنَّ مني فاختلطت وذهب عقلها وتوحشت، وكانت في غرفة في أقصى سطوحنا، فمكثت بذلك بضع عشرة سنة، فبينما أنا نائم ذات ليلة إذا باب يدق نصف الليل، فقلت: من هذا؟ قالت: كجه، فقلت: أختي؟! قالت: أختك، ففتحت الباب فدخلت ولا عهد لها بالبيت أكثر من عشر سنين.
فقالت: أتيت الليلة في منامي فقيل لي: إن الله قد حفظ أباك إسماعيل لسلمة جدك، وحفظك لأبيك إسماعيل؛ فإن شئت دعوت الله فذهب ما بك، وإن شئت صبرت ولك الجنة؛ فإن أبا بكر وعمر قد شفعا فيك إِلَى الله عز وجل بحب أبيك وجدك إياهما، فقلت: فإذا كان لابد من اختيار أحدهما فالصبر عَلَى ما أنا فيه والجنة، وإن الله عز وجل لواسع بخلقه لا يتعاظمه شيء، إن شاء أن يجمعهما لي فعل.
قالت: فقيل لي: فإن الله قد جمعهما لك ورضي عن أبيك وجدك بحبهما أبا بكر وعمر رضي الله عنهما، قومي فانزلي، فأذهب الله تعالى ما كان بها.
ومتى كان العبد مشتغلاً بطاعة الله فإن الله عز وجل يحفظه في تلك الحال، كما في مسند الإمام أحمد (1) عن حميد بن هلال عن رجل قال:
"أتيت النبي صلى الله عليه وسلم فإذا هو يريني بيتًا فَقَالَ: إِنَّ امْرَأَةً كَانَتْ فِيهِ فَخَرَجَتْ فِي سَرِيَّةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَتَرَكَتْ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ عَنْزًا وَصِيصِيَتَهَا (2)، كَانَتْ تَنْسِجُ بِهَا قَالَ: فَفَقَدَتْ عَنْزًا، مِنْ غَنَمِهَا وَصِيصِيَتَهَا فَقَالَتْ: يَا رَبِّ، إِنَّكَ قَدْ ضَمِنْتَ لِمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِكَ أَنْ تَحْفَظَ عَلَيْهِ، وَإِنِّي قَدْ فَقَدْتُ عَنْزًا مِنْ غَنَمِي
--------------------------------------------
যাতে তোমার মাধ্যমে রক্ষা করা হয়। আর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {এবং তাদের পিতা ছিলেন সৎকর্মশীল} [আল-কাহাফ: ৮২]।
ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন: এমন কোনো মুমিন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন না, যাকে আল্লাহ তার পরবর্তী বংশধর এবং তাদেরও পরবর্তী বংশধরের মাঝে রক্ষা না করেন।
ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাইল ইবনে সালামাহ ইবনে কুহাইল বলেন: আমার এক বোন ছিল যে আমার চেয়ে বড় ছিল। সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল, তার বুদ্ধি লোপ পেয়েছিল এবং সে বন্য স্বভাবের হয়ে গিয়েছিল। সে আমাদের ছাদের এক প্রান্তের একটি কামরায় থাকত এবং সেখানে দশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছিল। এক রাতে আমি যখন ঘুমাচ্ছিলাম, তখন মাঝরাতে হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: কে? সে বলল: কাজাহ। আমি বললাম: আমার বোন?! সে বলল: তোমার বোন। আমি দরজা খুলে দিলাম এবং সে ভেতরে প্রবেশ করল; অথচ দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘরের সাথে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
সে বলল: আজ রাতে স্বপ্নে আমার নিকট কেউ আসল এবং আমাকে বলা হলো: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার দাদা সালামার কারণে তোমার পিতা ইসমাইলকে রক্ষা করেছেন এবং তোমার পিতা ইসমাইলের কারণে তোমাকে রক্ষা করেছেন। এখন তুমি চাইলে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব যেন তোমার এই ব্যাধি দূর হয়ে যায়, আর চাইলে তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারো এবং বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। কেননা আবু বকর এবং ওমর তোমার পিতা ও দাদার তাদের প্রতি ভালোবাসার কারণে মহান আল্লাহর কাছে তোমার জন্য সুপারিশ করেছেন। আমি বললাম: যদি কোনো একটি বেছে নিতেই হয়, তবে আমি বর্তমান অবস্থার ওপর ধৈর্য এবং জান্নাতকেই বেছে নিলাম। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি অত্যন্ত প্রশস্ত, কোনো কিছুই তাঁর নিকট অসম্ভব নয়; তিনি চাইলে আমার জন্য উভয়টিই দান করতে পারেন।
সে বলল: তখন আমাকে বলা হলো: আল্লাহ তোমার জন্য উভয়টিই একত্রিত করে দিয়েছেন এবং আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি ভালোবাসার কারণে তোমার পিতা ও দাদার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। ওঠো এবং নিচে নেমে যাও। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার সেই অসুস্থতা দূর করে দিলেন।
আর যখনই কোনো বান্দা আল্লাহর আনুগত্যে লিপ্ত থাকে, তখন মহান আল্লাহ তাকে সেই অবস্থায় রক্ষা করেন; যেমনটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (১) হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
"আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম, তিনি আমাকে একটি ঘর দেখিয়ে বললেন: এই ঘরে এক নারী থাকত, সে মুসলিমদের এক সেনাদলের সাথে অভিযানে বের হয় এবং বারোটি ছাগল ও তার বুননকার্যের সরঞ্জাম (২) রেখে যায় যা দিয়ে সে কাপড় বুনত। বর্ণনাকারী বলেন: সে তার একটি ছাগল এবং সরঞ্জামটি হারিয়ে ফেলে। তখন সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আপনার পথে জিহাদকারীদের মালামাল হিফাজত করার জিম্মাদারি নিয়েছেন, অথচ আমি আমার একটি ছাগল হারিয়ে ফেলেছি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٢)
وَصِيصِيَتِي، وَإِنِّي أَنْشُدُكَ عَنْزِي وَصِيصِيَتِي. قَالَ: فَجَعَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ شِدَّةَ مُنَاشَدَتِهَا رَبِّهَا تبارك وتعالى، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: فَأَصْبَحَتْ عَنْزُهَا وَمِثْلُهَا وَصِيصِيَتُهَا وَمِثْلُهَا، وَهَاتِيكَ [فَأْتِهَا]. قَالَ: قُلْتُ: بَلْ أُصَدِّقُكَ".
وكان شيبان الراعي يرعى غنمًا في البرية، فإذا جاءت الجمعة خط عليها خطًّا وذهب إِلَى الجمعة ثم يرجع وهي كلما تركها.
وكان بعض السَّلف في يده الميزان يزن بها دراهم، فسمع الأذان فنهض ونفضها عَلَى الأرض وذهب إِلَى الصلاة، فلما عاد جمعها فلم يذهب منها شيء.
ومن أنواع حفظ الله لمن حفظه في دنياه: أن يحفظه من شر كل من يريده بأذى من الجن والإنس.
كما قال تعالى: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا} [الطلاق: 2] قالت عائشة رضي الله عنها: يكفيه غم الدُّنْيَا وهمها.
وقال الربيع بن خثيم. يجعل له مخرجًا من كل ما ضاق عَلَى الناس.
وكتبت عائشة إِلَى معاوية: إن اتقيت الله كفاك الناس، وإن اتقيت الناس لم يغنوا عنك من الله شيئًا (1).
وكتب بعض الخلفاء إِلَى الحكم بن عمرو الغفاري كتابًا يأمره فيه بأمر يخالف كتاب الله، فكتب إِلَيْهِ الحكم: إني نظرت في كتاب الله فوجدته قَبلَ كتاب أمير المؤمنين، وإن السماوات والأرض لو كانتا رتقًا عَلَى امرئ فاتقى الله عز وجل، جعل الله له مخرجًا، والسلام.
قال بعضهم شعرًا:
بتقوى الإلهِ نجا من نجَا. . . وفازَ وصارَ إلى مَا رَجَا
ومن يتقِّ اللَّهِ يجعلْ له. . . كما قالَ من أمره مَخْرَجَا
--------------------------------------------
...এবং আমার সূচ; আমি আপনার কাছে আমার ছাগল এবং সূচের ফরিয়াদ করছি। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান রবের কাছে সেই নারীর অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে ফরিয়াদ করার কথা উল্লেখ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অতঃপর সকালে দেখা গেল তার ছাগলটি এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি, এবং তার সূচটি ও তার সাথে অনুরূপ আরেকটি বিদ্যমান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: [সেটির কাছে যাও]। বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: বরং আমি আপনাকে বিশ্বাস করি।
শায়বান আর-রাঈ মরুভূমিতে ভেড়া চরাতেন। জুমার সময় হলে তিনি সেগুলোর চারপাশে একটি রেখা টেনে জুমায় চলে যেতেন। এরপর ফিরে এসে দেখতেন সেগুলো ঠিক তেমনই আছে যেমন তিনি রেখে গিয়েছিলেন।
কোনো এক সালাফ হাতে তুলাদণ্ড নিয়ে দিরহাম ওজন করছিলেন, এমতাবস্থায় আযান শুনে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সেগুলো জমিনে ঝেড়ে ফেলে নামাজের উদ্দেশ্যে চলে গেলেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, সেগুলো কুড়িয়ে নিলেন এবং সেখান থেকে কিছুই হারায়নি।
যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের হিফাযত করে, দুনিয়াতে আল্লাহ কর্তৃক তাকে হিফাযত করার একটি প্রকার হলো: জিন ও মানুষের মধ্য হতে যারা তার ক্ষতি করতে চায়, আল্লাহ তাকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন।
যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন} [সূরা আত-তালাক: ২]। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: এটি তাকে দুনিয়ার দুঃখ ও দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট।
রাবী ইবনে খুসাইম বলেন: মানুষের ওপর যা কিছু সংকীর্ণ হয়ে যায়, সেই সব কিছু থেকেই তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন।
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা মুআবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট লিখে পাঠালেন: যদি তুমি আল্লাহকে ভয় করো, তবে মানুষের মোকাবিলায় আল্লাহই তোমার জন্য যথেষ্ট হবেন। আর যদি তুমি মানুষকে ভয় করো, তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারা তোমার কোনোই উপকারে আসবে না (১)।
জনৈক খলিফা হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারির নিকট একটি চিঠি লিখলেন এবং তাতে তাকে আল্লাহর কিতাবের পরিপন্থী একটি বিষয়ের আদেশ দিলেন। তখন হাকাম তাকে লিখে পাঠালেন: আমি আল্লাহর কিতাবের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি এবং আমীরুল মুমিনীনের চিঠির তুলনায় সেটিকে অগ্রগণ্য পেয়েছি। আর আসমান ও জমিন যদি কোনো ব্যক্তির ওপর রুদ্ধ হয়ে যায় এবং সে মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। ওয়াসসালাম।
কেউ একজন কবিতা আবৃত্তি করে বলেছেন:
আল্লাহর তাকওয়ার মাধ্যমেই মুক্তিপ্রাপ্তরা মুক্তি পেয়েছে... এবং সফল হয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছে।
আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, তিনি তার জন্য... তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٣)
ويرزقه من حيث لا يحتسب. .. وإن ضاق أمرًا به فرجًا
كتب بعض السَّلف إِلَى أخيه:
أما بعد: فإنه من اتقى الله فقد حفظ نفسه، ومن ضيع تقواه فقد ضيع نفسه، والله الغني عنه.
ومن عجيب حفظ الله تعالى لمن حفظه: أن يجعل الحيوانات المؤذية بالطبع حافظة له من الأذى وساعية في مصالحه، كما جرى لسفينة (1) مولى النبي صلى الله عليه وسلم حيث كسر به المركب وخرج إِلَى جزيرة فرأى السبع، فَقَالَ له: يا أبا الحارث، أنا سفينة مولى النبي صلى الله عليه وسلم فجعل يمشي حوله ويدله عَلَى الطريق حتى أوقفه عليها، ثم جعل يُهَمْهِمُ كأنه يودعه وانصرف عنه.
وكان أبو إبراهيم السائح قد مرض في برية بقرب دير، فَقَالَ: لو كنت عند باب الدير لنزل الرهبان فعالجوني، فجاء السبع فاحتمله عَلَى ظهره حتى وضعه عَلَى باب الدير فرآه الرهبان فأسلموا وكانوا أربعمائة.
وكان إبراهيم بن أدهم نائمًا في بستان وعنده حية في فمها طاقة نرجس، فما زالت تذب عنه حتى استيقظ.
فمن حفظ الله حفظه من الحيوانات المؤذية بالطبع، وجعل تلك الحيوانات حافظة له.
ومن ضيع الله ضيعه الله بين خلقه، حتى يدخل عليه الضرر بشيء ممن كان يرجو أن ينفعه، ويصير أخص أهله به وأرفقهم به يؤذيه.
كما قال بعضهم: إني لأعصى الله فأعرف ذلك في خلق خادمي وحماري. يعني: أن خادمه يسوء خلقه عليه ولا يطيعه، وحماره يستعصي عليه فلا يواتيه لركربه. فالخير كله مجموع في طاعة الله والإقبال عليه، والشر كله مجموع في معصيته والإعراض عنه.
--------------------------------------------
এবং তাকে এমনভাবে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না... আর যদি কোনো বিষয় তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়, তিনি তাকে মুক্তি দান করেন।
জনৈক পূর্বসূরি তাঁর ভাইয়ের নিকট লিখেছিলেন:
অতঃপর: নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুম পালনের মাধ্যমে আল্লাহকে ভয় করে, সে প্রকৃতপক্ষে নিজেকেই রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি তার আল্লাহভীতিকে বিনষ্ট করল, সে নিজেকেই বিনষ্ট করল; আর আল্লাহ তার থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী।
যারা আল্লাহর দ্বীনের হিফাযত করে, তাদের প্রতি মহান আল্লাহর হিফাযতের একটি বিস্ময়কর দিক হলো: তিনি স্বভাবগতভাবে ক্ষতিকারক প্রাণীদেরকেও তার হিফাযতকারী ও তার কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট করে দেন। যেমনটি ঘটেছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সাফীনার (১) ক্ষেত্রে; যখন তাঁর নৌকা ভেঙে গিয়েছিল এবং তিনি একটি দ্বীপে পৌঁছেছিলেন। সেখানে তিনি একটি সিংহ দেখতে পেলেন। তিনি তাকে বললেন: "হে আবুল হারিস, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সাফীনা।" তখন সিংহটি তাঁর চারপাশে ঘুরতে লাগল এবং তাঁকে পথ দেখিয়ে দিল যতক্ষণ না তিনি তাঁকে মূল পথে পৌঁছে দিলেন। এরপর সিংহটি মৃদু গর্জন করতে লাগল যেন সে তাঁকে বিদায় জানাচ্ছে এবং তাঁর নিকট থেকে চলে গেল।
আবু ইবরাহিম আস-সাইয়াহ একটি গির্জার নিকটে মরুভূমিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি মনে মনে বললেন: "আমি যদি গির্জার দরজার কাছে থাকতাম, তবে সন্ন্যাসীরা নেমে এসে আমার চিকিৎসা করত।" তখন একটি সিংহ এসে তাঁকে নিজের পিঠে বহন করে গির্জার দরজায় নিয়ে রাখল। সন্ন্যাসীরা এই দৃশ্য দেখে ইসলাম গ্রহণ করল, আর তারা সংখ্যায় ছিল চারশ জন।
ইবরাহিম ইবনে আদহাম একটি বাগানে ঘুমাচ্ছিলেন। তাঁর নিকট একটি সাপ ছিল যার মুখে একটি নার্গিস ফুলের গুচ্ছ ছিল। সাপটি অনবরত তাঁর থেকে মাছি বা ক্ষতিকর কিছু তাড়িয়ে দিচ্ছিল যতক্ষণ না তিনি জেগে উঠলেন।
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুমতের হিফাযত করে, আল্লাহ তাকে স্বভাবগতভাবে ক্ষতিকারক প্রাণী থেকেও রক্ষা করেন এবং ওই প্রাণীগুলোকেই তার রক্ষক বানিয়ে দেন।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর হক বিনষ্ট করে, আল্লাহ তাকে তাঁর সৃষ্টির মাঝে লাঞ্ছিত করেন। এমনকি যার থেকে সে উপকারের আশা করত, তার মাধ্যমেই তার নিকট ক্ষতি পৌঁছায়। আর তার পরিবারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও কোমল হৃদয়ের ব্যক্তিটিও তাকে কষ্ট দিতে শুরু করে।
যেমন জনৈক ব্যক্তি বলেছিলেন: "আমি যখন আল্লাহর নাফরমানি করি, তখন আমি তার প্রভাব আমার খাদেম ও আমার পশুর আচরণের মাঝে দেখতে পাই।" অর্থাৎ: তার খাদেমের স্বভাব তার প্রতি রূঢ় হয়ে যায় এবং সে তার অবাধ্য হয়, আর তার গাধাটি অবাধ্য হয়ে যায় এবং তাকে আরোহণ করতে দিতে চায় না। সুতরাং সকল কল্যাণ আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর অভিমুখী হওয়ার মাঝে নিহিত, আর সকল অকল্যাণ তাঁর নাফরমানি ও তাঁর থেকে বিমুখ হওয়ার মাঝে নিহিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
قال بعض العارفين: من فارق سُدَّة سيده لم يجد لقدميه قرارًا أبدًا.
وقال بعضهم شعرًا:
والله ما جئتكم زائرًا
… إلا وجدت الأرض تطوى لي
ولا ثنيت العزم عن بابكم
… إلا تعثرت بأذيالي
بالله فاعفوا واصفحوا واجبروا
… كسري فحالي بكم حالي
النوع الثاني من الحفظ: وهو أشرفها وأفضلها، حفظ الله تعالى لعبده في دينه، فيحفظ عليه دينه وإيمانه في حياته من الشبهات المردية والبدع المضلة، والشهوات المحرمة، ويحفظ عليه دينه عند موته، فيتوفاه عَلَى الإسلام.
قال الحكم بن أبان عن أبي مكي: إذا حضر الرجل الموت يقال للملك: شم رأسه، قال: أجد في رأسه القرآن. قال: شم قلبه. قال: أجد في قلبه الصيام، قال: شم قدميه. قال: أجد في قدميه القيام. قال: حفظ نفسه فحفظه الله عز وجل. خرجه ابن أبي الدُّنْيَا.
وقد ثبت في "الصحيحين" (1) في حديث البراء بن عازب أن النبي صلى الله عليه وسلم علَّمه أن يقول عند منامه:
"اللهم إن قبضت نفسي فارحمها وإن أرسلتها فاحفظها بما تحفظ به عبادك الصالحين".
وفي حديث عمر عن النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم "أَنَّهُ عَلَّمَهُ أَنْ يَقُولَ: اللَّهُمَّ احْفَظْنِي بِالْإِسْلَامِ قَائِمًا، وَاحْفَظْنِي بِالْإِسْلَامِ قَاعِدًا، وَاحْفَظْنِي بِالْإِسْلَامِ رَاقِدًا، فَلَا تُطِعْ فِيَّ
--------------------------------------------
জনৈক আরিফ (আল্লাহ-সচেতন ব্যক্তি) বলেছেন: যে ব্যক্তি তার মনিবের দুয়ার ত্যাগ করল, সে তার কদমের জন্য কখনোই কোনো স্থিরতা পাবে না।
তাদের কেউ কেউ কবিতায় বলেছেন:
আল্লাহর কসম, আমি যখনই আপনাদের নিকট যিয়ারতকারী হিসেবে এসেছি
… তখনই জমিন আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে (পথ সহজ হয়েছে)।
আর যখনই আমি আপনাদের দুয়ার থেকে বিমুখ হওয়ার সংকল্প করেছি
… তখনই আমি নিজের বস্ত্রাঞ্চলে হোঁচট খেয়েছি।
আল্লাহর দোহাই, আপনারা ক্ষমা করুন, মার্জনা করুন এবং আমার ভগ্ন দশাটি
… জুড়ে দিন; কেননা আপনাদের সাথেই আমার অবস্থা (উন্নত) হয়।
হিফাযত বা রক্ষণাবেক্ষণের দ্বিতীয় প্রকার: এটি সর্বাধিক সম্মানিত ও সর্বোত্তম প্রকার। আর তা হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক বান্দার দ্বীনকে হিফাযত করা। ফলে তিনি তার জীবনে তার দ্বীন ও ঈমানকে ধ্বংসাত্মক সংশয়, পথভ্রষ্ট বিদআত এবং হারাম প্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করেন এবং তার মৃত্যুর সময়ও তার দ্বীনকে হেফাযত করেন, ফলে তাকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করেন।
হাকাম ইবনে আবান আবু মাক্কী থেকে বর্ণনা করেন: যখন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ফেরেশতাকে বলা হয়: তার মাথা শুঁকে দেখো। সে বলে: আমি তার মাথায় কুরআন পাচ্ছি। তিনি বলেন: তার অন্তর শুঁকে দেখো। সে বলে: আমি তার অন্তরে সিয়াম (রোজা) পাচ্ছি। তিনি বলেন: তার দুই পা শুঁকে দেখো। সে বলে: আমি তার দুই পায়ে কিয়াম (রাত্রি জাগরণ) পাচ্ছি। তিনি বলেন: সে নিজের (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের) হিফাযত করেছিল, ফলে মহান আল্লাহ তাকে হিফাযত করেছেন। এটি ইবনু আবুদ দুনইয়া বর্ণনা করেছেন।
‘সহীহাইন’ (১)-এ বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ঘুমানোর সময় বলতে শিখিয়েছিলেন:
“হে আল্লাহ! যদি আপনি আমার প্রাণ কবজ করেন তবে তার প্রতি দয়া করুন, আর যদি তাকে ছেড়ে দেন তবে তাকে সেইভাবে হিফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার নেককার বান্দাদের হিফাযত করেন।”
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসে রয়েছে যে, তিনি তাকে বলতে শিখিয়েছিলেন: “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ইসলামের মাধ্যমে দণ্ডায়মান অবস্থায় হিফাযত করুন, উপবিষ্ট অবস্থায় ইসলামের মাধ্যমে হিফাযত করুন এবং শায়িত অবস্থায় ইসলামের মাধ্যমে হিফাযত করুন; আর আমার ব্যাপারে কোনো শত্রুকে সুযোগ দেবেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٥)
عدوًا ولا حاسدًا، خرجه ابن حبان في "صحيحه" (1).
وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا وَدَّعَ من يريد السفر يقول له.
"أستودع الله دينك وأمانتك وخواتيم عملك" (2).
وفي رواية، وكان يقول:
"إن الله إذا استودع شيئًا حفظه" خرجه النسائي (3) وغيره (4).
وخرج الطبراني (5) حديثًا مرفوعًا:
"إن العبد إذا صلّى الصلاة عَلَى وجهها صعدت إِلَى الله ولها برهان كبرهان الشمس وتقول لصاحبها: حفظك الله كما حفظتني، وإذا ضيَّعها لفت كما يلف الثوبُ الخَلِقُ ثم يضرب بها وجه صاحبها وتقول: ضيعك الله كما ضيعتني".
وكان عمر رضي الله عنه يقول في خطبته: اللهم اعصمنا بحفظك وثبتنا عَلَى
--------------------------------------------
শত্রু নয়, ঈর্ষাকারীও নয়; ইবনে হিব্বান এটি তাঁর 'সহীহ'-তে (১) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফরকারীকে বিদায় জানাতেন, তখন তাকে বলতেন:
"আমি আল্লাহর কাছে তোমার দ্বীন, তোমার আমানত এবং তোমার আমলের শেষ অংশ গচ্ছিত রাখছি" (২)।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলতেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে যখন কোনো কিছু গচ্ছিত রাখা হয়, তিনি তা হিফাজত করেন।" নাসাঈ (৩) ও অন্যান্যরা (৪) এটি বর্ণনা করেছেন।
তাবারানি (৫) একটি মারফু হাদিস বর্ণনা করেছেন:
"বান্দা যখন যথাযথভাবে সালাত আদায় করে, তখন তা আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এবং তার সূর্যের উজ্জ্বলতার মতো জ্যোতি থাকে। তা তার আদায়কারীকে বলে: আল্লাহ তোমাকে হিফাজত করুন যেমন তুমি আমাকে হিফাজত করেছ। আর যখন সে তা নষ্ট করে ফেলে, তখন তাকে পুরনো কাপড়ের মতো পেঁচানো হয়, এরপর তা আদায়কারীর মুখে নিক্ষেপ করা হয় এবং তা বলে: আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন যেমন তুমি আমাকে ধ্বংস করেছ।"
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খুতবায় বলতেন: হে আল্লাহ! আপনার হিফাজতের মাধ্যমে আমাদের রক্ষা করুন এবং আমাদের অটল রাখুন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٦)
أمرك.
ودعا رجل لبعض السَّلف بأن يحفظه الله فَقَالَ: يا أخي، لا تسأل عن حفظه، ولكن قل يحفظ الإيمان. يعني: أن المهم هو الدعاء بحفظ الدين، فإن الحفظ الدنيوي قد يشترك فيه البر والفاجر، فالله يحفظ عَلَى المؤمن دينه ويحول بينه وبين ما يفسده عليه بأسباب قد لا يشعر العبد ببعضها وقد يكون يكرهه.
وهذا كما حفظ يوسف عليه السلام قال: {كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ} [يوسف: 24] فمن أخلص لله خلصه الله من السوء والفحشاء وعصمه منها من حيث لا يشعر، وحال بينه وبين أسباب المعاصي المهلكة.
كما رأى معروف الكرخي شبابًا يتهافتون في الخروج إِلَى القتال في فتنة، فَقَالَ: اللهم احفظهم، فقِيلَ لَهُ: تدعو لهؤلاء؟ فَقَالَ: إن حفظهم لم يخرجوا إِلَى القتال.
وسمع عمر رضي الله عنه رجلاً يقول: اللهم إنك تحول بين المرء وقلبه، فَحُلْ بيني وبين معاصيك. فأعجب ذلك عمر ودعا له بخير (1).
ورُوي عن ابن عباس في قوله تعالى: {يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ} [الأنفال: 24]، قال: يحول بين المؤمن وبين المعصية التي تجره إِلَى النار (2).
حج بعضُ المتقدمين فبات بمكة مع قوم فهمَّ بمعصية، فسمع هاتفًا يهتف يقول: ويلك، ألم تحج؟ فعصمه الله مما هم به.
--------------------------------------------
তোমার আদেশ।
জনৈক ব্যক্তি কোনো এক সালাফের (পূর্বসূরী) জন্য দোয়া করলেন যেন আল্লাহ তাকে হিফাযত করেন। তখন তিনি বললেন: হে আমার ভাই, তাঁর হিফাযতের বিষয়ে প্রার্থনা করো না, বরং বলো, তিনি যেন ঈমানকে হিফাযত করেন। অর্থাৎ: গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্বীন রক্ষার জন্য দোয়া করা; কেননা পার্থিব হিফাযতে পুণ্যবান এবং পাপিষ্ঠ উভয়ই অংশীদার হতে পারে। সুতরাং আল্লাহ মুমিনের দ্বীনকে হিফাযত করেন এবং তার ও এমন সব বিষয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান যা তার দ্বীনকে নষ্ট করে দেয়, এমন সব উপায়ে যার কিছু বান্দা অনুভবও করতে পারে না, আবার কখনও কখনও সে তা অপছন্দও করে।
এটি ঠিক তেমনি, যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালামকে হিফাযত করা হয়েছিল। আল্লাহ বলেন: "এভাবেই, যাতে আমি তার থেকে মন্দ ও অশ্লীলতাকে ফিরিয়ে দেই। নিশ্চয়ই সে ছিল আমার একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত" [ইউসুফ: ২৪]। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হবে, আল্লাহ তাকে মন্দ ও অশ্লীলতা থেকে নিষ্কৃতি দেবেন এবং তাকে এমনভাবে তা থেকে রক্ষা করবেন যা সে টেরই পাবে না, আর তার ও ধ্বংসাত্মক পাপের কারণগুলোর মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবেন।
যেমন মারুফ আল-কারখী একদল যুবককে একটি ফিতনা চলাকালীন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আপনি তাদের হিফাযত করুন। তাঁকে বলা হলো: আপনি কি এদের জন্য দোয়া করছেন? তিনি বললেন: যদি আল্লাহ তাদের হিফাযত করেন, তবে তারা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হবে না।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান, সুতরাং আমার ও আপনার অবাধ্যতার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান। এটি উমরকে মুগ্ধ করল এবং তিনি তার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন (১)।
ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান" [আল-আনফাল: ২৪] সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: তিনি মুমিন ও সেই পাপাচারের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান যা তাকে জাহান্নামের আগুনের দিকে টেনে নিয়ে যায় (২)।
পূর্ববর্তীদের কেউ হজ পালন করলেন এবং মক্কায় এক সম্প্রদায়ের সাথে রাত যাপন করলেন। সেখানে তিনি একটি পাপের সংকল্প করলেন। তখন তিনি এক অদৃশ্য আহ্বানকারীর আওয়াজ শুনতে পেলেন যে বলছে: তোমার দুর্ভোগ, তুমি কি হজ করোনি? ফলে আল্লাহ তাকে সেই কাজ থেকে রক্ষা করলেন যার সংকল্প সে করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٧)
وخرج بعضهم مع رفقة إِلَى معصية، فلما همَّ بمواقعتها هتف به هاتف: {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ} [المدثر: 38] فتركها.
ودخل رجل غيضة ذات شجر فَقَالَ: لو خلوت ها هنا بمعصية من كان يراني؟ فسمع صوتًا ملأ ما بين حافتي الغيضة: {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الملك: 14].
وهمَّ رجل بمعصية فخرج إليها فمرَّ في طريقه بقاصٍّ يقص عَلَى الناس، فوقف عَلَى حلقته فسمعه يقول: أيها الهامُّ بالمعصية، أما علمت أن خالق الهمة مطلع عَلَى همَّتك؟ فوقع مغشيًا عليه فما أفاق إلا من توبة.
كان بعض الملوك الصالحين قد تعلق قلبه بمملوك له جميل فخشي عَلَى نفسه؛ فقام ليلة واستغاث الله، فمرض المملوك من ليلته ومات بعد ثلاث.
ومنهم من عُصِمَ بموعظة جرت عَلَى لسان من أراد منه الموافقة عَلَى المعصية، كما جرى لأحد الثلاثة الذين دخلوا الغار وانطبقت عليهم الصخرة، فإنَّه لما جلس من تلك المرأة مجلس الرجل من امرأته، قالت له: يا عبد الله. اتق الله ولا تفض الخاتم إلا بحقه فقام عنها (1).
وكذلك الكفل من بني إسرائيل، كان لا يتورع عن معصية، فأعجبته امرأة فأعطاها ستين دينارًا، فلما قعد منها مقعد الرجل من امرأته ارتعدت، فَقَالَ: أكرهتك؟ قالت: لا، ولكن عمل ما عملته قط، وإنَّما حملني عليه الحاجة.
فَقَالَ: تخافين الله ولا أخافه! ثم قام عنها ووهب لها الدنانير وقال: والله لا يعصي الله الكفلُ أبدًا. ومات من ليلته فأصجع مكتوبًا عَلَى بابه، قد غفر الله للكفل.
خرج الإمام أحمد (2) والترمذي (3) حديثه هذا من حديث ابن عمر مرفوعًا.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ একজন সঙ্গীদের নিয়ে কোনো পাপ কাজ করতে বের হয়েছিলেন। যখনই তিনি পাপে লিপ্ত হতে উদ্যত হলেন, তখন একজন অদৃশ্য আহ্বানকারী তাকে ডেকে বললেন: {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ} [আল-মুদ্দাসসির: ৩৮]। তখন তিনি তা বর্জন করলেন।
এক ব্যক্তি বৃক্ষশোভিত এক গভীর বনে প্রবেশ করে বললেন, "আমি যদি এখানে একাকী কোনো পাপে লিপ্ত হই, তবে কে আমাকে দেখবে?" তখন তিনি এমন এক আওয়াজ শুনতে পেলেন যা বনের চারপাশ প্রকম্পিত করে দিল: {যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত} [আল-মুলক: ১৪]।
এক ব্যক্তি পাপ কাজের সংকল্প করে সেদিকে বের হলেন। পথিমধ্যে তিনি এক নসিহতকারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি মানুষের কাছে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি সেই মজলিসে থামলেন এবং শুনতে পেলেন তিনি বলছেন: "হে পাপের সংকল্পকারী! তুমি কি জানো না যে, এই সংকল্পের স্রষ্টা তোমার সংকল্প সম্পর্কে অবগত?" তখন তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়ে গেলেন এবং তাওবা করার পরেই কেবল তার জ্ঞান ফিরল।
জনৈক নেককার বাদশাহর অন্তর তার এক সুদর্শন দাসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল, ফলে তিনি নিজের ব্যাপারে আশঙ্কিত হলেন। এক রাতে তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন। সেই রাতেই দাসটি অসুস্থ হয়ে পড়ল এবং তিন দিন পর মারা গেল।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই ব্যক্তির উপদেশের মাধ্যমে পাপ থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন, যার সঙ্গে তিনি পাপে লিপ্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। যেমনটি ঘটেছিল সেই তিন ব্যক্তির একজনের ক্ষেত্রে যারা গুহায় প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের ওপর পাথর পড়ে মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যখন তিনি সেই মহিলার সাথে মিলনের উদ্দেশ্যে বসলেন, তখন মহিলাটি তাকে বললেন: "হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো এবং ন্যায়সংগত অধিকার (বিবাহ) ব্যতীত এই সতীত্বের মোহর ভেঙো না।" তখন তিনি তার কাছ থেকে উঠে দাঁড়ালেন (১)।
অনুরূপভাবে বনী ইসরাঈলের কিফল নামক ব্যক্তির ঘটনা; সে কোনো পাপ করতেই কুণ্ঠাবোধ করত না। এক মহিলা তার পছন্দ হলো এবং সে তাকে ষাট দিনার প্রদান করল। যখন সে তার সাথে মিলনের উদ্দেশ্যে বসল, তখন মহিলাটি প্রকম্পিত হতে লাগলেন। সে বলল, "আমি কি তোমাকে বাধ্য করেছি?" তিনি বললেন, "না, বরং এটি এমন এক কাজ যা আমি কখনো করিনি। কেবল অভাবই আমাকে এতে বাধ্য করেছে।"
সে বলল, "তুমি আল্লাহকে ভয় পাচ্ছ অথচ আমি তাঁকে ভয় পাচ্ছি না!" এরপর সে উঠে দাঁড়াল এবং তাকে দিনারগুলো দিয়ে দিল। সে বলল, "আল্লাহর কসম, কিফল আর কখনো আল্লাহর অবাধ্যতা করবে না।" সেই রাতেই সে মারা গেল এবং সকালবেলা তার দরজায় লেখা দেখা গেল: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কিফলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।"
ইমাম আহমাদ (২) ও তিরমিযী (৩) এই হাদিসটি ইবনে উমর (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٨)
وراود رجل امرأة عن نفسها وأمرها بغلق الأبواب ففعلت، وقالت له: قد بقي باب واحد، قال: وأي باب هو؟ قالت: الباب الَّذِي بيننا وبين الله عز وجل فلم (يعرض) (*) لها.
وراود رجل أعرابية، قال لها: ما يرانا إلا الكواكب، قالت: فأين مكوكبها؟!
وهذا كله من ألطاف الله وحيلولته بين العبد ومعصيته.
قال الحسن -وذكر أهل المعاصي-: هانوا عليه فعصوه، ولو عزوا عليه لعصمهم.
وقال بشر: ما أصر عَلَى معصية الله كريم، ولا آثر الدُّنْيَا عَلَى الآخرة حكيم.
ومن أنواع حفظ الله لعبده في دينه: أن العبد قد يسعى في سبب من أسباب الدُّنْيَا، إما الولايات أو التجارات أو غير ذلك، فيحول الله بينه وبين ما أراده لما يعلم له من الخيرة في ذلك وهو لا يشعر مع كراهته لذلك.
قال ابن مسعود: إن العبد ليهم بالأمر من التجاوة والإمارة حتى ييسر له، فينظر الله إليه فيقول للملائكة: اصرفوه عنه، فإني إن يسَّرته له أدخلته النار.
فيصرفه الله عنه، فيظل يتطير، يقول: سبقني فلان، دهاني فلان، وما هو إلا فضل الله عز وجل.
--------------------------------------------
এক ব্যক্তি এক নারীকে প্ররোচিত করল এবং তাকে দরজাগুলো বন্ধ করার আদেশ দিল। সে তা করল এবং তাকে বলল: একটি দরজা এখনও বাকি আছে। সে বলল: সেটি কোন দরজা? সে বলল: যে দরজা আমাদের ও সুমহান আল্লাহর মাঝে রয়েছে। অতঃপর সে তার প্রতি কোনো হাত বাড়াল না।
জনৈক ব্যক্তি এক বেদুঈন নারীকে প্ররোচিত করল এবং তাকে বলল: নক্ষত্ররাজি ছাড়া আমাদের আর কেউ দেখছে না। সে বলল: তাহলে নক্ষত্ররাজির স্রষ্টা কোথায়?!
আর এ সবই আল্লাহর সূক্ষ্ম অনুগ্রহ এবং বান্দা ও তার পাপাচারের মাঝে তাঁর অন্তরায় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।
হাসান (বসরী) পাপীদের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন: তারা আল্লাহর নিকট তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল, তাই তারা তাঁর অবাধ্যতা করেছে; যদি তারা আল্লাহর নিকট সম্মানিত হতো, তবে তিনি অবশ্যই তাদের রক্ষা করতেন।
বিশর বলেন: কোনো সম্মানিত ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানিতে অটল থাকে না, আর কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি দুনিয়াকে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দেয় না।
দ্বীনের ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে হিফাযত করার অন্যতম প্রকার হলো: বান্দা দুনিয়াবী কোনো মাধ্যমের জন্য চেষ্টা করে—তা নেতৃত্ব হোক কিংবা ব্যবসা বা অন্য কিছু—অতঃপর আল্লাহ তার মাঝে এবং তার উদ্দেশের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে দেন, কারণ আল্লাহ জানেন যে এর মধ্যেই তার জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। অথচ বান্দা তা অপছন্দ করা সত্ত্বেও বিষয়টি অনুভব করতে পারে না।
ইবনে মাসউদ বলেন: বান্দা ব্যবসা বা নেতৃত্বের কোনো বিষয়ের সংকল্প করে, এমনকি তা তার জন্য সহজও হয়ে যায়; অতঃপর আল্লাহ তার দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং ফেরেশতাদের বলেন: এটিকে তার থেকে সরিয়ে দাও, কারণ আমি যদি এটি তার জন্য সহজ করে দিই তবে আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব।
ফলে আল্লাহ তা তার থেকে সরিয়ে দেন। তখন সে কুলক্ষণ গ্রহণ করতে থাকে এবং বলতে থাকে: অমুক ব্যক্তি আমাকে ছাড়িয়ে গেল, অমুক আমাকে ধোঁকা দিল; অথচ এটি সুমহান আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া আর কিছুই নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١٠٩)
وأعجب من هذا أن العبد قد يطلب بابًا من أبواب الطاعات، ولا يكون فيه خيرة، فيحول الله بينه وبينه صيانة له وهو لا يشعر.
وخرج الطبراني (1) وغيره (2) حديث أنس مرفوعًا. "يقول الله عز وجل إِنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ لَا يُصْلِحُ إِيمَانَهُ إِلَّا الْفَقْرُ، وَإِنْ بَسَطْتُ عَلَيْهِ أَفْسَدَهُ ذَلِكَ، وَإِنَّ
--------------------------------------------
এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, বান্দা আনুগত্যের কোনো একটি পথ অন্বেষণ করতে পারে, অথচ তাতে তার জন্য কোনো কল্যাণ নেই। ফলে আল্লাহ তাকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তার ও সেই আমলের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান, আর সে তা উপলব্ধিও করতে পারে না।
তাবারানি (১) এবং অন্যান্যরা (২) আনাস (রা.) হতে মারফু সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন: "মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যার ঈমান দারিদ্র্য ছাড়া সংশোধিত হয় না, আর আমি যদি তাকে প্রাচুর্য দান করি তবে তা তাকে কলুষিত করে দেবে, আর নিশ্চয়ই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١٠)
مِنْ عِبَادِي مَنْ لَا يُصْلِحُ إِيمَانَهُ إِلَّا الْغِنَى، وَلَوْ أَفْقَرْتُهُ لَأَفْسَدَهُ ذَلِكَ، وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ لَا يُصْلِحُ إِيمَانَهُ إِلَّا الصِّحَّةُ، وَلَوْ أَسْقَمْتُهُ لَأَفْسَدُهُ ذَلِكَ، وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ لَا يُصْلِحُ إِيمَانَهُ إِلَّا السَّقَمُ وَلَوْ أَصْحَحْتُهُ لَأَفْسَدَهُ ذَلِكَ، وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ يَطْلُبُ بَابًا مِنَ الْعِبَادَةِ فَأَكُفُّهُ عَنْهُ لِكَيْ لَا يَدْخُلَهُ الْعُجْبُ، إِنِّي أُدَبِّرُ عِبَادِي بِعِلْمِي بِمَا فِي قُلُوبِهِمْ إِنِّي عَلِيمٌ خَبِيرٌ".
كان بعض المتقدمين يكثر سؤال الشهادة، فهتف به هاتف: إنك إن غزوت أسرت وإن أسرت تنصرت. فكف عن سؤاله.
وفي الجملة: فمن حفظ حدود الله وراعى حقوقه، تولى الله حفظه في أمور دينه ودنياه، وفي دنياه وآخرته.
وقد أخبر الله تعالى في كتابه أنَّه وليُّ المؤمنين، وأنه يتولى الصالحين، وذلك يتضمن أنَّه يتولى مصالحهم في الدُّنْيَا والآخرة، ولا يكلهم إِلَى غيره، قال تعالى: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} [البقرة: 257].
وقال تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ مَوْلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَأَنَّ الْكَافِرِينَ لَا مَوْلَى لَهُمْ} [محمد: 11].
وقال: {وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ} [الطلاق: 3].
وقال: {أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ} [الزمر: 36].
فمن قام بحقوق الله عليه فإن الله يتكفل له بالقيام بجميع مصالحه في الدُّنْيَا والآخرة؛ فمن أراد أن يتولى الله حفظه ورعايته في أموره كلها فليراع حقوق الله عليه، ومن أراد ألا يصبيه شيء مما يكره فلا يأت شيئًا مما يكرهه الله منه.
كان بعض السَّلف يدور عَلَى المجالس ويقول: من أَحَبّ أن تدوم له العافية فليتق الله.
وقال العمري الزاهد لمن طلب منه الوصية: كما تحب أن يكون الله لك،
“আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান কেবল সচ্ছলতাই সংশোধন করতে পারে, আর আমি যদি তাকে দরিদ্র করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করত। আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান কেবল সুস্থতাই সংশোধন করতে পারে, আর আমি যদি তাকে অসুস্থ করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করত। আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান কেবল অসুস্থতাই সংশোধন করতে পারে, আর আমি যদি তাকে সুস্থ করে দিতাম তবে তা তাকে ধ্বংস করত। আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে ইবাদতের কোনো একটি পথ অন্বেষণ করে, কিন্তু আমি তাকে তা থেকে বিরত রাখি যাতে তার মধ্যে আত্মমুগ্ধতা প্রবেশ না করে। নিশ্চয় আমি আমার বান্দাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে আমার জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের বিষয়াবলি পরিচালনা করি। নিশ্চয় আমি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।”
পূর্ববর্তীদের মধ্যে কেউ একজন অধিক পরিমাণে শাহাদাত প্রার্থনা করতেন। তখন এক অদৃশ্য আহ্বানকারী তাকে ডেকে বলল: “তুমি যদি যুদ্ধে যাও তবে তুমি বন্দী হবে, আর যদি বন্দী হও তবে তুমি খ্রিস্টান হয়ে যাবে।” তখন তিনি সেই প্রার্থনা করা ছেড়ে দিলেন।
সারকথা হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করবে এবং তাঁর হকের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, আল্লাহ তাঁর দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াবলিতে এবং তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতে তার হেফাযতের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুমিনদের অভিভাবক এবং তিনি নেককারদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি একথার অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের কল্যাণসমূহ পরিচালনা করেন এবং তাদের অন্য কারো কাছে সোপর্দ করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আল্লাহ বিশ্বাসীদের অভিভাবক; তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।” [আল-বাকারাহ: ২৫৭]।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “এটি একারণে যে, আল্লাহ বিশ্বাসীদের অভিভাবক এবং কাফিরদের কোনো অভিভাবক নেই।” [মুহাম্মাদ: ১১]।
তিনি বলেন: “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।” [আত-তালাক: ৩]।
তিনি বলেন: “আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?” [আজ-জুমার: ৩৬]।
সুতরাং যে ব্যক্তি তার ওপর আল্লাহর যে হক রয়েছে তা পালন করবে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অতএব যে ব্যক্তি চায় আল্লাহ তার সমস্ত বিষয়ে তার হেফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিন, সে যেন আল্লাহর হকসমূহ আদায় করে। আর যে চায় তাকে অপছন্দনীয় কোনো কিছু স্পর্শ না করুক, সে যেন আল্লাহর অপছন্দনীয় কোনো কাজ না করে।
কোনো কোনো পূর্বসূরি বিভিন্ন মজলিসে ঘুরে ঘুরে বলতেন: “যে চায় তার সুস্থতা ও নিরাপত্তা দীর্ঘস্থায়ী হোক, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।”
যুহদ অবলম্বনকারী উমারি জনৈক ব্যক্তির উপদেশের অনুরোধে বলেছিলেন: “আল্লাহ তোমার জন্য যেরূপ হোন বলে তুমি পছন্দ করো,”
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١١)
فهكذا كن لله عز وجل
وقال صالح بن عبد الكريم يقول الله عز وجل "وعزتي وجلالي لا أطلع عَلَى قلب عبد أعلم أن الغالب عليه حب التمسك بطاعتي، إلا توليت سياسته وتقويمه".
وفي بعض الكتب المتقدمة: يقول الله عز وجل "يا ابن آدم، ألا تعلمني ما يضحكك؟! يا ابن آدم، اتقني ونم حيث شئت".
والمعنى: أنك إذا قمت بما عليك لله من حقوق التقوى فلا تهتم بعد ذلك بمصالحك، فإن الله هو أعلم بها منك، وهو يوصلها إليك عَلَى أتم الوجوه من غير اهتمام منك بها.
وفي حديث جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم "مَنْ كَانَ يُحِبُّ أَنْ يَعْلَمَ مَنْزِلَتَهُ عِنْدَ اللَّهِ، فَلْيَنْظُرْ كَيْفَ مَنْزِلَةِ اللَّهِ عَنْهُ، فَإِنَّ اللَّهَ يُنْزِلُ الْعَبْدَ مِنْهُ، حَيْثُ أَنْزَلَهُ مِنْ نَفْسِهِ» (1).
فهذا يدل عَلَى أنَّه على قدر اهتمام العبد بحقوق الله وبأداء حقوقه ومراعاة حقوقه ومراعاة حدوده، واعتنائه بذلك وحفظه له يكون اعتناؤه به وحفظه له، فمن كان غاية همه رضا الله عنه وطلب قربه ومعرفته ومحبته وخدمته، فإن الله يكون له عَلَى حسب ذلك كما قال تعالى {فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ} [البقرة: 152] {وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ} [البقرة: 40] بل هو سبحانه أكرم الأكرمين، فهو يجازي بالحسنة عشرًا ويزيد، ومن تقرَّب منه شبرًا تقرب منه ذراعًا. ومن تقرب منه ذراعًا تقرب منه باعًا، ومن أتاه يمشي أتاه هرولة.
فما يؤتى الإنسان إلا من قِبل نفسه ولا يصيبه المكروه إلا من تفريطه في حق
--------------------------------------------
অতএব আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য এমনই হও।
সালিহ বিন আব্দুল কারীম বলেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, "আমার সম্মান ও মহিমার কসম, আমি যখন কোনো বান্দার অন্তরে দেখি যে আমার আনুগত্য আঁকড়ে ধরার ভালোবাসা তার ওপর প্রবল, তখন আমি নিজেই তার পরিচালনা ও সংশোধনের দায়িত্ব গ্রহণ করি।"
পূর্ববর্তী কোনো কিতাবে আছে: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, "হে আদম সন্তান, তুমি কি আমাকে জানাবে না কিসে তোমাকে হাসায়?! হে আদম সন্তান, আমাকে ভয় করো এবং যেখানে ইচ্ছা ঘুমাও।"
এর অর্থ হলো: যখন তুমি আল্লাহর প্রতি তোমার ওপর অর্পিত তাকওয়ার হকসমূহ আদায় করবে, তখন এরপর নিজের কল্যাণ ও স্বার্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না; কারণ আল্লাহ সে সম্পর্কে তোমার চেয়ে বেশি অবগত। তোমার পক্ষ থেকে কোনো চিন্তা ছাড়াই তিনি তা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে তোমার কাছে পৌঁছে দেবেন।
জাবির বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসে এসেছে, "যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা কেমন তা জানতে চায়, সে যেন দেখে তার কাছে আল্লাহর মর্যাদা কেমন। কারণ আল্লাহ বান্দাকে নিজের কাছে সেই মর্যাদাই দেন, যা বান্দা তাকে নিজের অন্তরে দিয়েছে।" (১)
এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর হকসমূহের প্রতি বান্দার গুরুত্ব প্রদান, তাঁর হক আদায়, তাঁর সীমা রক্ষা এবং এ বিষয়ে যত্ন ও সংরক্ষণের মাত্রা অনুযায়ী আল্লাহর পক্ষ থেকেও তাঁর প্রতি যত্ন ও সংরক্ষণ হয়ে থাকে। সুতরাং যার একমাত্র লক্ষ্য হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তাঁর নৈকট্য লাভ, তাঁকে চেনা, তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁর খিদমত করা, আল্লাহ তাঁর জন্য ঠিক তেমনই হন। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, {তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব} [আল-বাকারা: ১৫২] {এবং তোমরা আমার ওয়াদা পূর্ণ করো, আমি তোমাদের ওয়াদা পূর্ণ করব, আর তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো} [আল-বাকারা: ৪০]। বরং তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। তিনি একটি নেকির বিনিময়ে দশ গুণ প্রতিদান দেন এবং আরও বাড়িয়ে দেন। যে ব্যক্তি তাঁর দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তিনি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হন। যে ব্যক্তি তাঁর দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, তিনি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হন। আর যে ব্যক্তি তাঁর দিকে হেঁটে আসে, তিনি তার দিকে দ্রুত গতিতে আসেন।
মানুষকে কেবল তার নিজের কারণেই পাকড়াও করা হয় এবং সে কেবল তার হকের প্রতি অবহেলার কারণেই বিপদে পড়ে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
ربه عز وجل.
كما -قال علي رضي الله عنه: لا يرجوَنَّ عبد إلا ربه، ولا يخافنَّ إلا ذنبه.
وقال بعضهم: من صَفَّى صُفِّي له، ومن خلَّطَ خُلِّطَ عليه.
وقال مسروق: من راقب الله في خطرات قلبه، عصمه الله في حركات جوارحه.
وبسط هذا المعنى يطول جدًّا، وفيما أشرنا إِلَيْهِ كفاية، ولله الحمد.
***
তাঁর প্রতিপালক মহাপরাক্রমশালী ও মহান।
যেমন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: কোনো বান্দা যেন তার প্রতিপালক ব্যতীত অন্য কারো নিকট আশা পোষণ না করে এবং তার গুনাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে ভয় না পায়।
তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: যে ব্যক্তি (স্বীয় আমল) নির্মল ও পরিশুদ্ধ করে, তার জন্য (বিনিময় ও পরিস্থিতি) নির্মল করা হয়; আর যে ব্যক্তি (ভালো-মন্দের) মিশ্রণ ঘটায়, তার ওপরও (জটিলতা ও প্রতিদান) মিশ্রিত করা হয়।
মাসরূক বলেছেন: যে ব্যক্তি তার অন্তরের খেয়াল-খুশি ও চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে (আল্লাহর নজরদারির কথা স্মরণে রাখে), আল্লাহ তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া তথা বাহ্যিক কর্মের ক্ষেত্রে তাকে হিফাজত করেন।
এই অর্থটির সবিস্তার বর্ণনা অত্যন্ত দীর্ঘ হবে, আর আমরা যেটুকু ইশারা করেছি তাই যথেষ্ট। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
***
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
وقوله صلى الله عليه وسلم: "احفظ الله تجده أمامك" وفي رواية أخرى: "تجاهك"
معناه أن من حفظ حدود الله وراعى حقوقه، وجد الله معه في جميع الأحوال، يحوطه وينصره ويحفظه ويوفقه ويؤيده ويسدده، فإنَّه قائم عَلَى كل نفس بما كسبت، وهو تعالى مع الذين اتقوا والذين هم محسنون.
قال قتادة: ومن يتق الله يكن معه، ومن يكن الله معه فمعه الفئة التي لا تغلب، والحارس الَّذِي لا ينام، والهادي الَّذِي لا يضل.
كتب بعض السَّلف إِلَى أخ له أما بعد؛ فإن كان الله معك فمن تخاف؟ وإن كان عليك فمن ترجو؟ والسلام.
وهذه المعية الخاصة بالمتقين، غير المعية العامة المذكورة في قوله تعالى: {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} [الحديد: 4] وقوله: {وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ} [النساء: 108] فإن المعية الخاصة تقتضي النصر والتأييد والحفظ والإعانة، كما قال تعالى لموسى وهارون: {لَا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} [طه: 46].
وقوله تعالى: {إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} [التوبة: 40].
وكان صلى الله عليه وسلم قد قال لأبي بكر الصديق رضي الله عنه في تلك الحال: "ما ظنك باثنين الله ثالثهما؟ " (1).
فهذا غير المعنى المذكور في قوله تعالى: {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ
… } الآية [المجادلة: 7].
فإن ذلك عام لكل جماعة، ومن هذا المعنى الخاص الحديث الإلهي وقوله فيه:
--------------------------------------------
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তুমি আল্লাহর হিফাযত করো, তুমি তাকে তোমার সামনে পাবে" এবং অন্য বর্ণনায়: "তোমার অভিমুখে পাবে।"এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমারেখা হিফাযত করে এবং তাঁর অধিকারসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখে, সে আল্লাহকে সর্বাবস্থায় তার সাথে পাবে। তিনি তাকে পরিবেষ্টন করে রাখেন, তাকে সাহায্য করেন, তাকে হিফাযত করেন, তাকে তাওফিক দান করেন, তাকে সমর্থন যোগান এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। কেননা তিনি প্রতিটি আত্মা যা অর্জন করে তার ওপর দণ্ডায়মান (তদারককারী)। আর মহান আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।
কাতাদাহ বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার সাথে থাকেন। আর যার সাথে আল্লাহ থাকেন, তার সাথে থাকে এমন এক বাহিনী যা কখনো পরাজিত হয় না, এমন এক প্রহরী যে কখনো ঘুমায় না এবং এমন এক পথপ্রদর্শক যে কখনো পথভ্রষ্ট হয় না।
কোনো এক সালফ তাঁর এক ভাইয়ের কাছে লিখেছিলেন: আম্মা বাদ; যদি আল্লাহ তোমার সাথে থাকেন, তবে তুমি কাকে ভয় করো? আর যদি তিনি তোমার বিপক্ষে থাকেন, তবে তুমি কার কাছে প্রত্যাশা করো? আস-সালাম।
আর মুত্তাকীদের জন্য এই বিশেষ 'সাথে থাকা' (মাইয়াত) সেই সাধারণ 'সাথে থাকা' থেকে ভিন্ন যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন} [হাদিদ: ৪] এবং তাঁর বাণী: {তারা মানুষের কাছ থেকে লুকাতে চায়, কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে লুকাতে পারে না; অথচ তিনি তাদের সাথেই থাকেন যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে যা তিনি পছন্দ করেন না} [নিসা: ১০৮]। কেননা বিশেষ 'সাথে থাকা'র অনিবার্য দাবি হলো সাহায্য, সমর্থন, হিফাযত ও সহযোগিতা, যেমনটি মহান আল্লাহ মূসা ও হারুনকে বলেছিলেন: {তোমরা ভয় পেয়ো না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি শুনি এবং দেখি} [ত্বহা: ৪৬]।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তিনি তাঁর সাথীকে বলছিলেন, তুমি বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন} [তাওবাহ: ৪০]।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই অবস্থায় আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: "সেই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারণা কী যাদের তৃতীয়জন হলেন আল্লাহ?" (১)।
সুতরাং এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত অর্থের মতো নয়: {তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থজন না থাকেন...} আয়াত [মুজাদালাহ: ৭]।
কেননা তা প্রতিটি দলের জন্য সাধারণ। আর এই বিশেষ অর্থ থেকেই হলো হাদিসে কুদসি এবং তাতে তাঁর বাণী:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
"وَلَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا" (1).
إِلَى غير ذلك من نصوص الكتاب والسنة الدالة عَلَى قرب الرب سبحانه ممن أطاعه واتقاه، وحفظ حدوده وراعاه.
ودخل بُنان الحمال البرية عَلَى طريق تبوك فاستوحش، فهتف به هاتف: لم تستوحش، أليس حبيبك معك؟
فمن حفظ الله وراعى حقوقه وجده أمامه وتجاهه عَلَى كل حال، فاستأنس به واستغن به عن خلقه.
وفي الحديث:
"أفضل الإيمان أن يعلم العبد أن الله معه حيث كان" خرجه الطبراني (2) وغيره (3). وبسط هذا القول يطول جدًّا.
كان بعض العُلَمَاء البربانيين كثير السفر عَلَى التجريد وحده، فخرج الناس مرة معه يودعونه فردهم، وأنشد:
إِذَا نَحْنُ أَدْلَجْنَا وَأَنْتَ أَمَامَنَا
… كَفَى لِمَطَايَانَا بِذِكْرِكَ هَادِيًا
وكان الشبلي ينشد هذا البيت، وربما قطع مجلسه عليه.
…--------------------------------------------
"এবং আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে মহব্বত করি। যখন আমি তাকে মহব্বত করি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে হাঁটে" (১)।
এছাড়া কুরআন ও সুন্নাহর আরও অনেক দলিল রয়েছে যা মহান রবের সেই সকল অনুগত, মুত্তাকী এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা ও অধিকার রক্ষাকারীদের নৈকট্যের প্রমাণ দেয়।
বুনান আল-হাম্মাল তাবুকের পথে মরুভূমিতে প্রবেশ করলেন এবং একাকীত্ব অনুভব করলেন। তখন এক অদৃশ্য আহ্বানকারী তাঁকে ডেকে বলল: তুমি কেন একাকীত্ব অনুভব করছ? তোমার প্রিয়তম কি তোমার সাথে নেই?
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর হিফাজত করে এবং তাঁর অধিকারসমূহ রক্ষা করে, সে তাঁকে সব অবস্থায় নিজের সম্মুখে পায়। ফলে সে তাঁর মাধ্যমেই প্রশান্তি লাভ করে এবং তাঁর সৃষ্টির মুখাপেক্ষী না হয়ে তাঁর মাধ্যমেই অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়।
হাদীসে এসেছে:
"ঈমানের সর্বোত্তম স্তর হলো বান্দার এটি জানা যে, সে যেখানেই থাকুক আল্লাহ তার সাথে আছেন।" এটি তাবারানী (২) ও অন্যান্যরা (৩) বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ।
কোনো কোনো রব্বানী আলেম নিঃসঙ্গ অবস্থায় একা অধিক সফর করতেন। একবার লোকজন তাঁকে বিদায় জানাতে বের হলে তিনি তাঁদের ফিরিয়ে দিলেন এবং আবৃত্তি করলেন:
যখন আমরা রাতের শেষভাগে পথ চলি আর আপনি আমাদের সম্মুখে থাকেন
… আমাদের বাহনগুলোর জন্য আপনার স্মরণই পথপ্রদর্শক হিসেবে যথেষ্ট।
শিবলী এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করতেন এবং অনেক সময় এর কারণে তাঁর মজলিস বন্ধ হয়ে যেত।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
قوله صلى الله عليه وسلم: "تعرف إِلَى الله في الرخاء، يعرفك في الشدة"
المعنى: أن العبد إذا اتقى الله وحفظ حدوده وراعى حقوقه في حال رخائه وصحته، فقد تعرف بذلك إِلَى الله وكان بينه وبينه معرفة، فعرفه ربه في الشدة وعرف له عمله في الرخاء، فنجاه من الشدائد بتلك المعرفة.
وهذه أيضاً معرفة خاصة تقتضي القرب من الله عز وجل، ومحبته لعبده، وإجابته لدعائه، وليس المراد بها المعرفة العامة فإن الله لا يخفى عليه حال أحد من خلقه، كما قال تعالى: {هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنْتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ} [النجم: 32] وقال: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ} [ق: 16].
وهذا التعرف الخاص هو المشار إِلَيْهِ في الحديث الإلهي.
"وَلَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ -إلى أن قال-: وَلَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ، وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيذَنَّهُ" (1).
اجتمع الفضيل بشعوانة العابدة فسألها الدعاء، فقالت: يا فضيل، وما بينك وبينه؟ ما إن دعوته أجابك: فشهق الفضيل شهقة خرَّ مغشيًّا عليه.
وقال أبو جعفر السائح: أتى الحسن إِلَى حبيب أبي محمد هاربًا من الحَجَّاج، فَقَالَ: يا أبا محمد احفظني من الشرط، هم عَلَى إثري.
فَقَالَ: استحييت لك يا أبا سعيد، أليس بينك وبينه من الثقة ما تدعوه فيسترك من هؤلاء؟! ادخل البيت فدخل الشرط عَلَى إثره فلم يروه.
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তুমি সচ্ছল অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করো (তাঁর সাথে পরিচিত হও), তিনি তোমাকে কঠিন অবস্থায় স্মরণ করবেন।"এর অর্থ হলো: বান্দা যখন তার সচ্ছলতা ও সুস্থতার অবস্থায় আল্লাহকে ভয় করে চলে, তাঁর নির্ধারিত সীমা রক্ষা করে এবং তাঁর হকের প্রতি লক্ষ্য রাখে, তবে এর মাধ্যমে সে আল্লাহর সাথে এক বিশেষ পরিচয় গড়ে তোলে এবং তার ও আল্লাহর মাঝে একটি যোগসূত্র স্থাপিত হয়। ফলে তার রব তাকে কঠিন অবস্থায় স্মরণ করেন এবং সচ্ছল অবস্থায় তার কৃত আমলগুলো বিবেচনায় রাখেন। অতঃপর সেই পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি তাকে বিপদাপদ থেকে নাজাত দান করেন।
আর এটি এমন এক বিশেষ পরিচয় যা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ, বান্দার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং তার দুআ কবুল হওয়াকে অবধারিত করে। এখানে 'সাধারণ পরিচয়' বা সাধারণ জ্ঞান উদ্দেশ্য নয়; কেননা আল্লাহর সৃষ্টির কারোর অবস্থাই তাঁর কাছে গোপন নয়। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত—যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মায়েদের পেটে ভ্রূণ অবস্থায় ছিলে।" [আন-নাজম: ৩২]। তিনি আরও বলেন: "আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার কুপ্রবৃত্তি তাকে কী প্ররোচনা দেয় তা আমি জানি।" [ক্বাফ: ১৬]।
এই বিশেষ পরিচয়ের দিকেই হাদিসে কুদসিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
"আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি—আর সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। আর সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দেই।" (১)।
ফুদাইল ইবাদতগুজার নারী শা'ওয়ানার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর কাছে দুআ চাইলেন। তখন তিনি বললেন: হে ফুদাইল! আপনার ও তাঁর মাঝে এমন কী আছে যে, আপনি তাঁকে ডাকলেই তিনি আপনার ডাকে সাড়া দেবেন? একথা শুনে ফুদাইল এক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন।
আবু জাফর আস-সাইয়্যাহ বলেন: হাসান (বাসরি) হাজ্জাজের হাত থেকে বাঁচতে পলায়নরত অবস্থায় হাবিব আবু মুহাম্মদের কাছে আসলেন এবং বললেন: হে আবু মুহাম্মদ! প্রহরীদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করুন, তারা আমার পিছু নিয়েছে।
তিনি বললেন: হে আবু সাঈদ! আমি আপনার জন্য লজ্জিত বোধ করছি। আপনার ও তাঁর মাঝে কি এমন কোনো আস্থা বা ভরসা নেই যে, আপনি তাঁর কাছে দুআ করবেন আর তিনি আপনাকে এদের থেকে আড়াল করে দেবেন?! ঘরে প্রবেশ করুন। এরপর হাসান ঘরে প্রবেশ করলেন। প্রহরীরা তাঁর পিছু পিছু আসলেও তাঁকে দেখতে পায়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
فذكروا ذلك للحجاج فَقَالَ: بل كان في بيته إلا أن الله طمس أعينهم فلم يروه.
ومتى حصل هذا التعرف الخاص للعبد حصل للعبد معرفة خاصة بربه توجب له الأنس به والحياء منه، وهذه معرفة خاصة غير معرفة المؤمنين العامة.
ومدار العارفين كلهم عَلَى هذه المعرفة وهذا التعرف، وإشاراتهم تومئ إِلَى هذا.
سمع أبو سليمان رجلاً يقول: سهرت البارحة في ذكر النساء، فَقَالَ: ويحك، أما تستحي منه، يراك ساهرًا في ذكر غيره؟! ولكن كيف تستحي ممن لا تعرف؟!.
وقال أحمد بن عاصم الأنطاكي: أَحَبّ ألا أموت حتى أعرف مولاي. وليس معرفته الإقرار به ولكن المعرفة الَّذِي إذا عرفته استحييت منه.
وهذه المعرفة الخاصة والتعرف الخاص [توجب] طمأنينة العبد بربه وثقته به في إنجائه من كل شدة وكرب وتوجب استجابة الرب دعاء عبده.
لما اختفى الحسن البصري من الحجاج قِيلَ لَهُ: لو خرجت من البصرة فإنا نخاف أن يدل عليك، فبكى ثم قال: أخرج من مصري وأهلي وإخواني؟ إن معرفتي بربي وبنعمته عليّ [تدلني] عَلَى أنَّه سينجيي ويخصلني منه إن شاء الله تعالى؟ فما ضرَّه الحجاج بشيء، ولقد كان يكرمه بعد ذلك إكرامًا شديدًا ويحسن ذكره.
وقال رجل لمعروف: ما الَّذِي هيجك عَلَى الانقطاع والعبادة [و] [*] ذكر الموت والبرزخ والجنة والنار؟ فَقَالَ معروف: أى شيء هذا، إن مَلِكًا هذا كله بيده، إن كانت بينك وبينه معرفة كفاك جميع هذا.
ومما يبين هذا ويوضحه الحديث الذي خرجه "الترمذي" (1) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
তারা হাজ্জাজের কাছে এটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: বরং তিনি তাঁর বাড়িতেই ছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছিলেন, ফলে তারা তাকে দেখতে পায়নি।
যখন বান্দার জন্য এই বিশেষ পরিচয় লাভ হয়, তখন বান্দার তার রব সম্পর্কে এক বিশেষ মারিফাত (পরিচয়) অর্জিত হয়, যা তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর প্রতি লজ্জাবোধের উদ্রেক করে। আর এটি মুমিনদের সাধারণ মারিফাত বা জ্ঞানের চেয়ে এক বিশেষ পর্যায়ের মারিফাত।
সকল আরিফদের (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) ভিত্তি হলো এই মারিফাত ও এই পরিচয়ের ওপর, এবং তাঁদের ইশারা-ইঙ্গিতসমূহ এই দিকেই ইঙ্গিত করে।
আবু সুলায়মান জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: আমি গতরাতে নারীদের স্মরণে রাত জেগেছি। তিনি বললেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! তুমি কি তাঁর (আল্লাহর) প্রতি লজ্জা করো না, তিনি তোমাকে অন্যের স্মরণে রাত জাগতে দেখছেন?! কিন্তু তুমি যাকে চেনোই না, তাকে কীভাবে লজ্জা করবে?!
আহমদ ইবনে আসিম আল-আনতাকি বলেছেন: আমি পছন্দ করি যে আমার মৃত্যু যেন ততক্ষণ না হয় যতক্ষণ না আমি আমার মাওলাকে (প্রভু) চিনতে পারি। আর তাঁকে চেনা মানে কেবল তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া নয়, বরং এমন এক মারিফাত যা অর্জন করলে তুমি তাঁকে লজ্জা করবে।
আর এই বিশেষ মারিফাত ও বিশেষ পরিচয় বান্দার হৃদয়ে তাঁর রবের প্রতি প্রশান্তি এবং প্রতিটি বিপদ ও সংকট থেকে তাঁকে উদ্ধার করার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর আস্থার উদ্রেক করে এবং এটি বান্দার দুআ রবের পক্ষ থেকে কবুল হওয়ার কারণ হয়।
যখন হাসান বসরী হাজ্জাজের নিকট থেকে আত্মগোপন করলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: আপনি যদি বসরা থেকে বেরিয়ে যেতেন, তবে আমরা আশঙ্কা করছি যে কেউ আপনার সন্ধান দিয়ে দেবে। তিনি কাঁদলেন এবং বললেন: আমি আমার শহর, পরিবার ও ভাইদের ছেড়ে চলে যাব? আমার রব এবং আমার ওপর তাঁর নিয়ামত সম্পর্কে আমার মারিফাত আমাকে পথ দেখায় যে, তিনি অবশ্যই আমাকে নাজাত দেবেন এবং ইনশাআল্লাহ তাঁর হাত থেকে আমাকে মুক্তি দেবেন। ফলে হাজ্জাজ তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, বরং এরপরে সে তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করত এবং প্রশংসার সাথে তাঁকে স্মরণ করত।
জনৈক ব্যক্তি মা’রুফকে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন জিনিসটি আপনাকে সবকিছু ছেড়ে ইবাদতে মগ্ন হতে এবং মৃত্যু, বারযাখ, জান্নাত ও জাহান্নামের স্মরণে উদ্বুদ্ধ করেছে? মা’রুফ বললেন: এগুলো কী (সামান্য বিষয়)? নিশ্চয়ই এমন এক অধিপতি রয়েছেন যার হাতেই এসব কিছু রয়েছে; যদি তাঁর সাথে তোমার পরিচয় থাকে তবে এসব কিছুর বিপরীতে তিনিই তোমার জন্য যথেষ্ট।
আর যা এই বিষয়টি বর্ণনা ও স্পষ্ট করে তা হলো সেই হাদিস যা তিরমিযী (১) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
من سره أن يستجيب الله له عند الشدائد، فليكثر الدعاء في الرخاء".
وخرج ابن أبي الدُّنْيَا (1) وابن أبي حاتم (2) وابن جرير (3) وغيرهم من حديث يزيد الرقاشي عن أنس يرفعه:
«أَنَّ يُونُسَ عليه السلام لَمَّا دَعَا فِي بَطْنِ الْحُوتِ، قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ: يَا رَبِّ، هَذَا صَوْتٌ مَعْرُوفٌ مِنْ بِلَادٍ غَرِيبَةٍ فَقَالَ اللَّهُ: أَمَا تَعْرِفُونَ ذَلِكَ؟ قَالُوا: وَمَنْ هُوَ؟ قَالَ: عَبْدِي يُونُسُ قَالُوا: عَبْدُكَ يُونُسُ الَّذِي لَمْ يَزَلْ يُرْفَعُ لَهُ عَمَلٌ مُتَقَبَّلٌ وَدَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالُوا: يَا رَبِّ، أَفَلَا تَرْحَمُ مَا كَانَ يَصْنَعُ فِي الرَّخَاءِ فَتُنْجِيَهِ مِنَ الْبَلَاءِ؟ قَالَ: بَلَى. قَالَ: فَأَمَرَ اللَّهُ الْحُوتَ فَطَرَحَهُ بِالْعَرَاءِ».
قال الضحاك بن قيس: اذكروا الله في الرخاء يذكركم في الشدة، إن يونس عليه السلام كان يذكر الله، فلما وقع في بطن الحوت قال الله تعالى: {فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ * لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ} [الصافات: 143، 144].
وإن فرعون كان طاغيًا ناسيًا لذكر الله، فلما أدركه الغرق قال: آمنت، فَقَالَ الله تعالى: {آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ} [يونس: 91].
وقال رشدين بن سعد: قال رجل لأبي الدرداء أوصني، فَقَالَ: اذكر الله في السراء يذكرك في الضراء.
وقال سلمان الفارسي: إذا كان الرجل دعّاءً في السراء ونزلت به ضراء فدعا الله عز وجل، فقالت الملائكة. صوت معروف
… فشفعوا له، وإذا كان ليس بدعّاءٍ في السراء فنزلت به ضراء، فدعا الله عز وجل قالت
--------------------------------------------
"যে ব্যক্তি চায় যে বিপদের সময় আল্লাহ তার দোয়া কবুল করুন, সে যেন সচ্ছলতার সময় অধিক পরিমাণে দোয়া করে।"
ইবনু আবুদ দুনিয়া (১), ইবনু আবি হাতিম (২), ইবনু জারীর (৩) এবং অন্যান্যরা ইয়াজিদ আর-রাক্কাশি থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন:
«ইউনুস (আলাইহিস সালাম) যখন মাছের পেটে দোয়া করলেন, তখন ফেরেশতারা বললেন: হে রব! এটি তো কোনো অচেনা জায়গা থেকে আসা একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর। আল্লাহ বললেন: তোমরা কি একে চেনো না? তাঁরা বললেন: তিনি কে? তিনি বললেন: আমার বান্দা ইউনুস। তাঁরা বললেন: আপনার বান্দা ইউনুস, যাঁর কবুলযোগ্য আমল এবং কবুল হওয়া দোয়া সর্বদা (আপনার সমীপে) উপরে উঠত? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তাঁরা বললেন: হে রব! তিনি সচ্ছলতার সময় যা করতেন, আপনি কি তাঁর সেই আমলের কারণে তাঁর প্রতি দয়া করবেন না এবং তাঁকে বিপদ থেকে মুক্তি দেবেন না? তিনি বললেন: অবশ্যই। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আল্লাহ মাছকে নির্দেশ দিলেন এবং সেটি তাঁকে এক জনমানবহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করল।»
দাহহাক বিন কাইস বলেন: তোমরা সচ্ছলতার সময় আল্লাহকে স্মরণ করো, তবে তিনি বিপদের সময় তোমাদের স্মরণ করবেন। নিশ্চয়ই ইউনুস (আলাইহিস সালাম) আল্লাহকে স্মরণ করতেন। তাই যখন তিনি মাছের পেটে পড়লেন, তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {যদি তিনি তাসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতেন, তবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে সেই মাছের পেটে থাকতে হতো।} [আস-সাফফাত: ১৪৩, ১৪৪]।
আর ফেরাউন ছিল সীমালঙ্ঘনকারী এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ। যখন সে ডুবে যেতে লাগল তখন সে বলল: আমি ঈমান আনলাম। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {এখন? অথচ ইতিপূর্বে তুমি অবাধ্যতা করেছ এবং তুমি ছিলে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।} [ইউনুস: ৯১]।
রুশদিন বিন সাদ বলেন: এক ব্যক্তি আবুদ্দারদা (রা.)-কে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: তুমি সুখের সময় আল্লাহকে স্মরণ করো, তিনি কষ্টের সময় তোমাকে স্মরণ করবেন।
সালমান আল-ফারসি (রা.) বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি সুখের সময় অধিক দোয়া করে এবং তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে আর সে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কাছে দোয়া করে, তখন ফেরেশতারা বলেন: পরিচিত কণ্ঠস্বর... অতঃপর তাঁরা তার জন্য সুপারিশ করেন। আর যদি সে সুখের সময় দোয়া না করে থাকে এবং তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে আর সে তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কাছে দোয়া করে, তখন ফেরেশতারা বলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٣)
নুরুল ইক্তিবাাস ফী মিশকাতি ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিবনি আব্বাস
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
الملائكة: صوت ليس بمعروف، فلا يشفعون له.
وحديث الثلاثة الذين دخلوا الغار (1) (وأطبقت) (*) عليهم الصخرة يشهد لهذا أيضًا؛ فإنهم فُرِّجَ عنهم بدعائهم لله بما كان سبق منهم من الأعمال الصالحة الخالصة في حال الرخاء: من بر الوالدين، وترك الفجور، وأداء الأمانة الخفية.
فإذا علم أن التعرف إِلَى الله في الرخاء يوجب معرفة الله لعبده في الشدة، فلا شدة يلقاها المؤمن في الدُّنْيَا أعظم من شدة الموت، وهي أهون مما بعدها إن لم يكن مصير العبد إِلَى خير، وإن كان مصيره إِلَى خير، فهي آخر شدة يلقاها.
فالواجب عَلَى العبد الاستعداد للموت قبل نزوله بالأعمال الصالحة والمبادرة إِلَى ذلك، فإنَّه لا يدري المرء متى تنزل به هذه الشدة من ليل أو نهار.
وذكر الأعمال الصالحة عند الموت مما يحسن ظن المؤمن بربه، ويهون عليه شدة الموت ويقوي رجاءه.
قال بعضهم: كانوا يستحبون أن يكون للمرء خبيئة من عمل صالح، ليكون أهون عليه عند نزول الموت أو كما قال.
وكانوا يستحبون أن يموت (الرجل) (**) عقب طاعة عملها من حج أو جهاد أو صيام.
وقال النخعي: كانوا يستحبون أن يلقنوا العبد محاسن عمله عند موته لكي يحسن ظنه بربه.
قال أبو عبد الرحمن السُّلمى في مرضه: كيف لا أرجو ربي وقد صمت له ثمانين رمضان؟!.
ولما احتُضِر أبو بكر بن عياش وبكوا عليه قال: لا تبكوا، فإني ختمت
--------------------------------------------
ফেরেশতাগণ: এটি কোনো পরিচিত কণ্ঠস্বর নয়, তাই তারা তার জন্য সুপারিশ করেন না।
আর গুহায় প্রবেশকারী সেই তিন ব্যক্তির (১) হাদীসটিও (যাদের ওপর পাথরটি চেপে বসেছিল) (*) এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়; তারা সুখের সময়ে তাদের ইতিপূর্বে সম্পাদিত নিষ্ঠাপূর্ণ নেক আমলগুলোর—যেমন পিতা-মাতার সেবা, পাপাচার বর্জন এবং গোপন আমানত রক্ষা—অসিলায় আল্লাহর নিকট দুআ করার ফলে তাদের সেই বিপদ দূরীভূত হয়েছিল।
যখন এটি জানা গেল যে, সুখের দিনে আল্লাহর পরিচয় লাভ করা কষ্টের দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি পরিচিতির (সহায়তার) কারণ হয়, আর দুনিয়াতে মুমিন ব্যক্তি মৃত্যুর কষ্টের চেয়ে বড় কোনো কষ্টের সম্মুখীন হয় না; আর এটি (মৃত্যুর কষ্ট) পরবর্তী ধাপগুলোর তুলনায় সহজতর যদি বান্দার পরিণাম মঙ্গলের দিকে না হয়; আর যদি তার পরিণাম কল্যাণের দিকে হয়, তবে এটিই তার শেষ কষ্ট যা সে ভোগ করে।
সুতরাং বান্দার ওপর আবশ্যক হলো মৃত্যু আসার পূর্বেই নেক আমলের মাধ্যমে তার প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং সে বিষয়ে দ্রুত সচেষ্ট হওয়া; কারণ মানুষ জানে না কখন দিবা-রাত্রির কোন অংশে তার ওপর এই কঠোরতা নেমে আসবে।
মৃত্যুর সময় নেক আমলসমূহের কথা স্মরণ করা মুমিনের মনে তার প্রতিপালক সম্পর্কে সুধারণা সৃষ্টি করে, তার ওপর মৃত্যুর কষ্টকে লাঘব করে এবং তার আশাকে সুদৃঢ় করে।
তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: তাঁরা পছন্দ করতেন যে মানুষের জন্য যেন কোনো গোপন নেক আমল থাকে, যাতে তা মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার সময় তার জন্য সহজতর হয়—অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।
তাঁরা আরও পছন্দ করতেন যে (ব্যক্তিটি) (**) যেন কোনো ইবাদত পালনের পরপরই মৃত্যুবরণ করে, যেমন হজ, জিহাদ কিংবা রোজা।
নাখায়ী রহ. বলেন: তাঁরা পছন্দ করতেন যে মৃত্যুর সময় বান্দাকে তার নেক আমলগুলো মনে করিয়ে দেওয়া হোক, যাতে সে তার প্রতিপালক সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতে পারে।
আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী রহ. তাঁর অসুস্থ অবস্থায় বলেছিলেন: "আমি কেন আমার রবের প্রতি আশা রাখব না, অথচ আমি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আশিটি রমজানের রোজা পালন করেছি?!"
যখন আবু বকর বিন আইয়াশ রহ.-এর অন্তিম সময় উপস্থিত হলো এবং লোকজন তাঁর জন্য কাঁদতে শুরু করল, তখন তিনি বললেন: তোমরা কেঁদো না, কারণ আমি খতম করেছি...
--------------------------------------------