(খণ্ড: ১) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: -)
كلمة الإخلاص وتحقيق معناها - ضمن رسائل ابن رجب   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: العقيدة


الكتاب: التوحيد أو تحقيق كلمة الإخلاص [مطبوع ضمن مجموع رسائل الحافظ ابن رجب الحنبلي]

المؤلف: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (736 - 795 هـ)

دراسة وتحقيق: أبي مصعب طلعت بن فؤاد الحلواني

الناشر: الفاروق الحديثة للطباعة والنشر

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 46

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1433

কালিমাতুল ইখলাস এবং এর অর্থের তাহকিক - ইবনে রজবের রিসালাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত   (ইবনে রজব আল-হাম্বলী)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: আত-তাওহিদ অথবা কালিমাতুল ইখলাসের তাহকিক [হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলীর রিসালাহ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত]

লেখক: জাইনুদ্দিন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)

গবেষণা ও তাহকিক: আবু মুসআব তালাত বিন ফুয়াদ আল-হালওয়ানি

প্রকাশক: আল-ফারুক আল-হাদিসাহ প্রকাশনী

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৩

(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৪১)
التوحيد أو تحقيق كلمة الإخلاص
তাওহীদ অথবা কালিমাতুল ইখলাসের স্বরূপ বিশ্লেষণ
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

وهو حسبي وبه أستعين

قال الشيخ الإمام العالم العلامة شيخ الإسلام زين الدين بن رجب -رحمه الله تعالى-:

خرج البخاري (1) ومسلم (2) في الصحيحين عن أنس رضي الله عنه قال: «كَانَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمُعاذٌ رَدِيفُهُ عَلَى الرَّحْلِ، فَقَالَ: يَا مُعَاذَ. قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ! قَالَ: «يَا مُعَاذُ» قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ. قَالَ: يَا مُعَاذُ. قَالَ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ. قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ. قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: أَلا أُخْبِرُ بِهَا النَّاسَ فَيَسْتَبْشِرُوا! قَالَ: إِذًا يَتَّكِلُوا» وَأَخْبَرَ بِهَا مُعَاذٌ عِنْدَ مَوْتِهِ تَأَثُّمًا.

وفي "الصحيحين" (3) عن عتبان بن مالك، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ".

وفي "صحيح مسلم" عن أبي هريرة -أو أبي سعيد، بالشك (4) - أنهم كانوا مع النبي صلى الله عليه وسلم في (غزاة) (*) تبوك فأصابتهم مَجَاعَةٌ، فدعا النبي صلى الله عليه وسلم بِنِطَعٍ (5) فَبَسَطَهُ، ثُمَّ دَعَا بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ، فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجِيءُ بِكَفِّ ذُرَةٍ،

--------------------------------------------

(1) برقم (128).

(2) برقم (30/ 48) من هذا الطريق أيضاً.

(3) أخرجه البخاري (425 مطولا) ومسلم (33 مطولا، 33/ 263 ص 455).

(4) برقم (27/ 45 ص 56 - 57) والشاك هنا هو الأعمش، ورواه مسلم أيضاً (27/ 44 ص 55 - 56) عن أبي هريرة بغير شك.

(*) غزوة "نسخة".

(5) النطع: هو بساط متخذ من أديم، وفيه أربع لغات: فتح النون وكسرها، ومع كل واحد فتح الطاء وسكونها.

وكانت الأنطاع تبسط بين أيدي الملوك والأمراء حين أرادوا قتل أحد صبرًا، ليصان=
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম জাইন উদ্দিন ইবন রজব -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- বলেছেন:

বুখারী (১) ও মুসলিম (২) তাদের সহীহদ্বয়ে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মুয়ায সওয়ারির পিঠে তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি ডাকলেন: "হে মুয়ায!" মুয়ায উত্তর দিলেন: "আমি আপনার খেদমতে উপস্থিত ও আপনার অনুগত, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি পুনরায় বললেন: "হে মুয়ায!" মুয়ায উত্তর দিলেন: "আমি আপনার খেদমতে উপস্থিত ও আপনার অনুগত, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি আবারও বললেন: "হে মুয়ায!" মুয়ায উত্তর দিলেন: "আমি আপনার খেদমতে উপস্থিত ও আপনার অনুগত, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "এমন কোনো বান্দা নেই যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেন।" মুয়ায বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এ সংবাদ দেব না, যাতে তারা আনন্দিত হয়?" তিনি বললেন: "তাহলে তারা কেবল এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে।" অতঃপর মুয়ায (রা.) তাঁর মৃত্যুর সময় ইলম গোপন করার গোনাহের ভয়ে এ সংবাদটি প্রকাশ করেন।

এবং "সহীহদ্বয়ে" (৩) উতবান বিন মালিক থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের আগুনের জন্য তাকে হারাম করেছেন যে বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং এর দ্বারা সে আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) কামনা করে।"

এবং "সহীহ মুসলিমে" আবু হুরায়রা -অথবা আবু সাঈদ, বর্ণনাকারীর সন্দেহ (৪)- থেকে বর্ণিত যে, তারা তাবুক যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলেন। তখন তারা দুর্ভিক্ষের শিকার হন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি চামড়ার দস্তরখান (৫) আনালেন এবং তা বিছালেন। এরপর তিনি তাদের অতিরিক্ত খাবারগুলো নিয়ে আসার আহ্বান জানালেন। ফলে কোনো লোক এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে আসতে লাগলেন,

--------------------------------------------

(১) ১২৮ নম্বরে।

(২) ৩০/৪৮ নম্বরে এই সূত্র থেকেও বর্ণিত।

(৩) বুখারী (৪২৫ বিস্তারিতভাবে) এবং মুসলিম (৩৩ বিস্তারিতভাবে, ৩৩/২৬৩ পৃষ্ঠা ৪৫৫) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) ২৭/৪৫ নম্বর, পৃষ্ঠা ৫৬ - ৫৭। এখানে সন্দেহ পোষণকারী হলেন আমাশ। মুসলিম এটি আবু হুরায়রা থেকে কোনো সন্দেহ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন (২৭/৪৪ নম্বর, পৃষ্ঠা ৫৫ - ৫৬)।

(*) পাণ্ডুলিপিতে "গাজওয়া" (যুদ্ধ)।

(৫) আন-নিত'উ: এটি চামড়ার তৈরি বিছানা। এটি চারটি উপায়ে উচ্চারণ করা যায়: নুন বর্ণে ফাতহা (যবর) অথবা কাসরা (যের) এবং উভয়ের সাথে ত' বর্ণে ফাতহা অথবা সুকুন। রাজাবাদশাহ ও আমীরদের সামনে কাউকে যখন ধৈর্যশীল অবস্থায় হত্যা (শিরশ্ছেদ) করার ইচ্ছা করা হতো, তখন এই বিছানা বিছানো হতো যেন (রক্ত থেকে মেঝে) সংরক্ষিত থাকে।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَيَجِيءُ الْآخَرُ بِكَفِّ تَمْرٍ، وَجَعَلَ الْآخَرُ يَجِيءُ بِكَسْرَةٍ، حَتَّى اجْتَمَعَ عَلَى النِّطَعِ مِنْ ذَلِكَ شَيْءٌ يَسِيرٌ، فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ قَالَ: خُذُوا فِي أَوْعِيَتِكُمْ. فَأَخَذُوا فِي أَوْعِيَتِهِمْ، حَتَّى مَا تَرَكُوا فِي الْعَسْكَرِ وِعَاءً إِلَّا مَلَئُوهُ. قَالَ: فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا وَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ، لَا يَلْقَى اللهَ بِهِمَا عَبْدٌ غَيْرَ شَاكٍّ فَيُحْجَبَ عَنِ الْجَنَّةِ».

وفي "الصحيحين" (1) عن أبي ذر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا دَخَلَ الجَنَّةَ. قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ؟! قَالَ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ، قَالَهَا ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ: عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرٍّ. فَخَرَجَ أَبُو ذَرٍّ، وَهُوَ يَقُولُ: وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أَبِي ذَرٍّ».

وفي "صحيح مسلم" (2) عن عبادة، أنَّه قال عند موته: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم- يقول: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ النَّارَ».

وفي " الصحيحين" (3) عن عبادة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ، وَأَنَّ الجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ الجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنْ عَمَلِ».

وفي هذا المعنى أحاديث كثيرة جدًّا، يطول ذكرها.

…

--------------------------------------------

=المجلس من الدم. انظر المصباح المنير مادة "نطع" وشرح النووي لصحيح مسلم.

(1) أخرجه البخاري (5828)، ومسلم (94).

(2) برقم (29).

(3) أخرجه البخاري (3435)، ومسلم (28).
অন্যজন এক মুষ্টি খেজুর নিয়ে আসল, আর অন্য এক ব্যক্তি এক টুকরো রুটি নিয়ে আসতে শুরু করল, এভাবে চামড়ার দস্তরখানের ওপর সামান্য কিছু পরিমাণ জমা হলো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাতে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। তারপর বললেন: "তোমাদের পাত্রগুলোতে নিতে শুরু করো।" ফলে তারা তাদের পাত্রগুলোতে নিতে লাগল, এমনকি তারা সৈন্যবাহিনীর কোনো পাত্রই পূর্ণ করা ছাড়া বাকি রাখল না। রাবী বলেন: তারা আহার করল এবং পরিতৃপ্ত হলো এবং কিছু অবশিষ্টও রয়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কোনো বান্দা এ দুটির ব্যাপারে কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলে তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত রাখা হবে না।"

এবং "সহীহাইন"-এ (১) আবু যার থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে কোনো বান্দা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' বলল, অতঃপর এর ওপরই মৃত্যুবরণ করল, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আমি বললাম: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে?" তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।" তিনি তিনবার এটি বললেন, অতঃপর চতুর্থবার বললেন: "আবু যারের নাসিকা ধূলামিলিত হওয়া সত্ত্বেও।" তারপর আবু যার বের হয়ে গেলেন এই বলতে বলতে যে, "যদিও আবু যারের নাসিকা ধূলামিলিত হয়।"

এবং "সহীহ মুসলিম"-এ (২) উবাদাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় বলেছিলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।"

এবং "সহীহাইন"-এ (৩) উবাদাহ থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া傳 সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যা-ই হোক না কেন।"

এই অর্থে হাদিস অত্যন্ত বেশি সংখ্যক রয়েছে, যার উল্লেখ দীর্ঘ হবে।

...

--------------------------------------------

রক্তের জন্য ব্যবহৃত চামড়ার দস্তরখান। দেখুন 'আল-মিসবাহুল মুনীর' "নিতা" পরিচ্ছেদে এবং সহীহ মুসলিমের নববী শরহ।

(১) বুখারী (৫৮২৮) ও মুসলিম (৯৪) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) হাদিস নম্বর (২৯)।

(৩) বুখারী (৩৪৩৫) ও মুসলিম (২৮) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌أهل التوحيد لا يخلدون في النار وإن دخلوها

وأحاديث هذا الباب نوعان:

أحدهما: ما فيه أنَّ من أتى بالشهادتين دخل الجنة، أو لم يحجب عنها؛ وهذا ظاهر؛ فإن النار لا يخلد فيها أحد من أهل التوحيد الخالص، وقد يدخل الجنة ولا يحجب عنها إذا طُهِّر من ذنوبه بالنار.

وحديث أبي ذر معنا: أن الزنا والسرقة لا يمنعان دخول الجنة مع التوحيد، وهذا حق لا مرية فيه، ليس فيه أنَّه لا يعذب يومًا عليهما مع التوحيد.

وفي "مسند البزار" (1) عن أبي هريرة مرفوعًا: "مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ نَفَعَتْهُ يَوْمًا مِنَ دَهْرِهِ، يُصيبُهُ قَبْلَ ذَلِكَ مَا أَصَابَهُ".

--------------------------------------------

(1) برقم (3 - كشف) وقال: لا نعلمه يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا بهذا الإسناد.

ورواه عيسى بن يونس عن الثوري عن منصور أيضًا، وقد رُوي عن أبي هريرة موقوفًا، ورفعه أصح.

وسئل الدراقطني في العلل (11/ 238 - 240) برقم (2260) عن هذا الحديث فَقَالَ: يرويه هلال بن يساف عن الأغر، حدث به منصور بن المعتمر وحصين بن عبد الرحمن، واختلف عنهما، فأما منصور، فرواه الثوري عن منصور، واختلف عنه؛ فرواه عيسى بن يونس وابن إسماعيل الفارسي عن الثوري عن منصور مرفوعًا إِلَى النبي صلى الله عليه وسلم.

وخالفهما أبو نعيم، فوقفه عَلَى أبي هريرة وراد ابن إسماعيل الفارسي وهو محمد بن إسماعيل في هذا الحديث كلمة لم يقلها غيره، وهي قوله: "لقنوا موتاكم لا اله إلا الله".

ورواه أبر عوانة، واختلف عنه، فرواه حبَّان بن هلال عن أبي عوانة عن منصور مرفوعًا؛ وغيره يرويه عن أبي عوانة موقوفًا.

وكذلك رواه إبراهيم بن طهمان وجرير بن عبد الحميد وأبو حفص الأبار عن=
তাওহীদপন্থীরা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না, যদিও তারা সেখানে প্রবেশ করে

এই অধ্যায়ের হাদীসসমূহ দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি দুই শাহাদাত (সাক্ষ্য) নিয়ে আসবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথবা তাকে তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না; এটি সুস্পষ্ট; কেননা খাঁটি তাওহীদপন্থীদের কেউ জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না। আর সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে এবং তা থেকে বঞ্চিত হবে না যখন তাকে তার পাপসমূহ থেকে জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে পবিত্র করা হবে।

আমাদের নিকট থাকা আবু যর (রা.)-এর হাদীসটি হলো: ব্যভিচার ও চুরি তাওহীদের সাথে জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা হবে না। এটি সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এতে এমনটি বলা হয়নি যে, তাওহীদ থাকা সত্ত্বেও এই দুই পাপের কারণে কোনো একদিন তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে না।

"মুসনাদুল বাজ্জার"-এ (১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, তা তার জীবনের কোনো একদিন উপকারে আসবে, তার পূর্বে তাকে যা স্পর্শ করার তা স্পর্শ করলেও।"

--------------------------------------------

(১) নম্বর ৩ (কাশফ); তিনি বলেন: আমরা জানি না যে এই সনদ ছাড়া অন্য কোনোভাবে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে।

এবং ঈসা ইবনে ইউনুস আস-সাওরী থেকে, তিনি মানসুর থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, তবে মারফু হিসেবে হওয়া অধিক বিশুদ্ধ।

আদ-দারা কুতনীকে 'আল-ইলাল'-এ (১১/২৩৮-২৪০), নম্বর ২২৬০, এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ আল-আগার থেকে বর্ণনা করেছেন, মানসুর ইবনুল মুতামির এবং হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাদের থেকে বর্ণনায় মতপার্থক্য রয়েছে। মানসুরের ক্ষেত্রে, আস-সাওরী তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতেও মতভেদ রয়েছে; ঈসা ইবনে ইউনুস এবং ইবনে ইসমাঈল আল-ফারিসী আস-সাওরী থেকে, তিনি মানসুর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আবু নুয়াইম তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটিকে আবু হুরায়রা (রা.)-এর ওপর মাওকুফ করেছেন। আর ইবনে ইসমাঈল আল-ফারিসী—যিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল—এই হাদীসে একটি শব্দ বৃদ্ধি করেছেন যা অন্য কেউ বলেনি, তা হলো তাঁর বাণী: "তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তালকীন দাও।"

আবু আওয়ানা এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে বর্ণনায় মতভেদ আছে। হাব্বান ইবনে হিলাল আবু আওয়ানা থেকে, তিনি মানসুর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন; আর অন্য বর্ণনাকারীগণ আবু আওয়ানা থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে এটি ইবরাহিম ইবনে তাহমান, জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ এবং আবু হাফস আল-আববার বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৪৬)
والثاني: ما فيه أنَّه يحرم عَلَى النار، وهذا قد حمله بعضهم عَلَى الخلود فيها، أو عَلَى نار يخلَّد فيها أهلُها، وهي ما عدا الدرك الأعلى، فإن الدرك الأعلى يدخله خلق كثير من عصاة الموحدين بذنوبهم، ثم يخرجون بشفاعة الشافعين، وبرحمة أرحم الراحمين.

وفي "الصحيحين" (1): "أن الله -تعالى- يقول: وعزتي وجلالي لأخرجن من النار من قال: لا اله إلا الله".

…

--------------------------------------------

=منصور، وأما حصين بن عبد الرحمن، فرواه عمرو بن عثمان الكلابي عن زهير بن معاوية عن حصين عن هلال عن الأغر عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وخالفه شعبة وهشيم وعبثر بن القاسم؛ رووه عن حصين عن هلال موقوفًا.

ورواه علي بن عابس عن حصين عن الأغر عن أبي هريرة موقوفًا، أسقط منه هلال بن يساف، والصحيح عن حصين ومنصور الموقوف.

(1) أخرجه البخاري (7510)، ومسلم (193/ 326) في كتاب الإيمان باب أدنى أهل الجنة منزلة فيها.
এবং দ্বিতীয়টি: যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, সে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম হয়ে যাবে; আর কেউ কেউ একে জাহান্নামে চিরকাল অবস্থানের ক্ষেত্রে অথবা এমন আগুনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন যেখানে তার অধিবাসীরা চিরস্থায়ী হবে, আর তা হলো জাহান্নামের সর্বোচ্চ স্তর ব্যতীত অন্যান্য স্তর। কারণ জাহান্নামের সর্বোচ্চ স্তরে অনেক গোনাহগার একত্ববাদী তাদের পাপের কারণে প্রবেশ করবে, এরপর সুপারিশকারীদের সুপারিশে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালুর রহমতে তারা সেখান থেকে বের হয়ে আসবে।

এবং "সহীহাইন"-এ (১) এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার মর্যাদা ও প্রতাপের কসম! আমি অবশ্যই জাহান্নাম থেকে তাকে বের করব যে বলেছে: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।"

...

--------------------------------------------

মানসুর। আর হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি আমর ইবনে উসমান আল-কিলাবি বর্ণনা করেছেন জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া থেকে, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি হিলাল থেকে, তিনি আল-আগার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর শুবা, হুশাইম এবং আবসার ইবনুল কাসিম তার বিরোধিতা করেছেন; তারা এটি হুসাইন থেকে, তিনি হিলাল থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আর আলী ইবনে আবিস এটি বর্ণনা করেছেন হুসাইন থেকে, তিনি আল-আগার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মাওকুফ হিসেবে, এতে তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফকে বাদ দিয়েছেন। আর হুসাইন ও মানসুরের সূত্রে মাওকুফ বর্ণনাটিই সঠিক।

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৭৫১০) এবং মুসলিম (১৯৩/৩২৬), ঈমান অধ্যায়, জান্নাতবাসীদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের অধিকারীদের পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌شروط لا إله إلا الله

وقالت طائفة من العُلَمَاء: المراد من هذه الأحاديث: أن لا إله إلا الله سبب لدخول الجنة والنجاة من النار، ومتقض لذلك، ولكن المقتضي لا يعمل عمله إلا باستجماع شروطه وانتفاء موانعه، فقد يتخلف عنه مقتضاه لفوات شرط من شروطه، أو لوجود مانع؛ وهذا قول الحسن ووهب بن منبه وهو الأظهر.

وقال الحسن للفرزدق -وهو يدفن امرأته-: ما أعددت لهذا اليوم؟ قال: شهادة أن لا إله إلا الله منذ سبعين سنة. قال الحسن: نعم العُدة إن لـ "لا إله إلا الله" شروطما؛ فإياك وقذف المحصنة!.

ورُوي عنه أنَّه قال للفرزدق: هذا العمود. فأين الطنب (1)؟

وقيل للحسن: إن ناسًا يَقُولُونَ: من قال: لا إله إلا الله دخل الجنة؟ فَقَالَ: من قال: لا إله إلا الله، فأدّى حقها وفرضها دخل الجنة.

وقال وهب بن منبه لمن سأله: أليس لا إله إلا الله مفتاح الجنة؟ قال: بلى، ولكن (ليس) (*) مفتاح إلا وله أسنانُ؛ فإن جئت بمفتاح له أسنان فُتح لك، وإلا لم يُفتَح لك.

وهذا الحديث: "إن مفتاح الجنة لا اله إلا الله" خرجه الإمام أحمد (2) بإسناد

--------------------------------------------

(*) ما من "نسخة".

(1) قال في القاموس المحيط: هو حبل طويل يشد به سرادق البيت أو الوتد.

(2) في مسنده (5/ 242).

وقال الهيثمي في مجمع الزوائد (1/ 21): رواه أحمد والبزار، وفيه انقطاع بين شهر ومعاذ، وإسماعيل بن عياش روايته عن أهل الحجار ضعيفة، وهذا منها.

وقد أخرجه ابن عدي في الكامل (4/ 38 - 39) وقال ابن عدي (4/ 40):=
‌'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর শর্তাবলি

একদল আলেম বলেছেন: এই হাদিসগুলোর উদ্দেশ্য হলো যে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' জান্নাতে প্রবেশের এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির একটি কারণ এবং তার একটি দাবি। কিন্তু কোনো কারণ ততক্ষণ পর্যন্ত তার কার্যকারিতা প্রদর্শন করে না যতক্ষণ না এর শর্তগুলো পূর্ণ হয় এবং এর প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীভূত হয়। কখনও কখনও এর শর্তের অনুপস্থিতির কারণে অথবা কোনো প্রতিবন্ধক উপস্থিত থাকার কারণে এর দাবিটি কার্যকর হতে পারে না। এটি হাসান বসরী এবং ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ-এর অভিমত এবং এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট।

হাসান বসরী ফারাজদাককে বলেছিলেন—যখন তিনি তার স্ত্রীকে দাফন করছিলেন—: এই দিনের জন্য তুমি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? তিনি বললেন: সত্তর বছর ধরে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য প্রদান। হাসান বললেন: এটি কতই না চমৎকার পাথেয়, তবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর কিছু শর্ত রয়েছে; সুতরাং সতী-সাধ্বী নারীকে অপবাদ দেওয়া থেকে বেঁচে থেকো!

তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি ফারাজদাককে বলেছিলেন: এটি তো খুঁটি। কিন্তু রশি (১) কোথায়?

হাসানকে বলা হলো: কিছু মানুষ বলছে যে, যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে এবং এর হক ও ফরজসমূহ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ-কে যখন কেউ জিজ্ঞাসা করল: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' কি জান্নাতের চাবিকাঠি নয়? তিনি বললেন: অবশ্যই, কিন্তু এমন কোনো চাবিকাঠি নেই যার দাঁত নেই। সুতরাং তুমি যদি দাঁতবিশিষ্ট চাবিকাঠি নিয়ে আসো তবে তোমার জন্য দরজা খোলা হবে, অন্যথায় তোমার জন্য খোলা হবে না।

আর এই হাদিসটি: "নিশ্চয়ই জান্নাতের চাবিকাঠি হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", ইমাম আহমদ (২) এটি একটি সনদে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(*) কোনো একটি "সংস্করণে" নেই।

(১) আল-কামুস আল-মুহিত গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি একটি দীর্ঘ রশি যা দিয়ে ঘরের শামিয়ানা বা তাবু বাঁধা হয় অথবা এটি পেরেকের মতো খুঁটি।

(২) তাঁর মুসনাদে (৫/ ২৪২)।

হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে (১/ ২১) বলেছেন: এটি আহমদ এবং বাজ্জার বর্ণনা করেছেন, এতে শাহর এবং মুআযের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, আর হিজাযের অধিবাসীদের থেকে ইসমাঈল ইবনে আইয়াশের বর্ণনা দুর্বল, আর এটিও তার অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে আদি আল-কামিল গ্রন্থে (৪/ ৩৮ - ৩৯) এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আদি বলেছেন (৪/ ৪০):=
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৪৮)
منقطع. عن معاذ قال: "قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا سألك أهل اليمن عن مفتاح الجنة فقل: شهادة أن لا إله إلا الله".

ويدل عَلَى صحة هذا القول أن النبي صلى الله عليه وسلم رتَّب دخول الجنة عَلَى الأعمال الصالحة في كثير من النصوص، كما في "الصحيحين" (1) عن أبي أيوب أن رجلاً قال: يا رسول الله! أَخْبِرْنِى بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِى الْجَنَّةَ. فَقَالَ: "تَعْبُدُ اللَّهَ، لا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ، وَتُؤْتِى الزَّكَاةَ، وَتَصِلُ الرَّحِمَ".

وفي "صحيح مسلم" (2) عن أبي هريرة "أنَّ رَجُلاً قال: يا رسول الله، دُلَّنِى عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، قَالَ: تَعْبُدُ اللَّهَ لا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّى الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ. فَقَالَ الرَّجُلُ: وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لا أَزِيدُ عَلَى هَذَا شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ.

فَقَالَ النبي صلى الله عليه وسلم: "مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا".

وفي "المسند" (3) عَنْ بَشِيرِ بْنِ الْخَصَاصِيَةِ قَالَ: «أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِأُبَايِعَهُ فَاشْتَرَطَ عَلَيَّ: شَهَادَةَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَنْ أُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَأَنْ (أُؤَدِّي) (4) الزَّكَاةَ، وَأَنْ أَحُجَّ حَجَّةَ الْإِسْلَامِ، وَأَنْ أَصُومَ رَمَضَانَ، وَأَنْ أُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَمَّا [اثْنَتَانِ] (5) فَوَاللَّهِ لَا أُطِيقُهُمَا: الْجِهَادُ وَالصَّدَقَةُ! فَقَبَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ ثُمَّ حَرَّكَهَا، وَقَالَ: فَلَا جِهَادَ وَلَا صَدَقَةَ، فَبِمَ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِذًا؟! قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَنْ أُبَايِعُكَ، فَبَايَعْتُهُ عَلَيْهِنَّ كُلِّهِنَّ».

--------------------------------------------

=ولشهر بن حوشب هذا غير ما ذكرت من الحديث .... وشهر هذا ليس بالقوي في الحديث، وهو ممن لا يحتج بحديثه ولا يتدين به.

(1) أخرجه البخاري (1396)، ومسلم (13).

(2) برقم (14)، وكذا البخاري (1397).

(3) (5/ 224) وفي إسناده مؤثر بن عفارة وهو مجهول.

(4) "أوتي": نسخة.

(5) في الأصول المخطوطة "اثنتين" وما نقلته من المسند، وهو الصواب.
বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)। মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: যদি ইয়ামেনের অধিবাসীরা তোমাকে জান্নাতের চাবিকাঠি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তবে তুমি বলো: সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।"

এই বক্তব্যের সঠিকতার ওপর এটি প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দলিলে জান্নাতে প্রবেশকে নেক আমলের ওপর নির্ভরশীল করেছেন, যেমনটি 'সহীহাইন'-এ (১) আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে বলুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, নামাজ কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবে।"

এবং 'সহীহ মুসলিম'-এ (২) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, "এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করব। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরজ নামাজ কায়েম করবে, নির্ধারিত জাকাত আদায় করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে। তখন লোকটি বলল: যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, আমি এর ওপর সামান্য বৃদ্ধিও করব না এবং তা থেকে কমাবও না।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "জান্নাতি কোনো মানুষকে দেখে যদি কেউ আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই ব্যক্তিকে দেখে।"

এবং 'মুসনাদ'-এ (৩) বাশির ইবনে খাসাসিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর হাতে বায়আত হওয়ার জন্য আসলাম। তিনি আমার ওপর শর্ত আরোপ করলেন: এ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত (আদায়) (৪) করা, ইসলামের হজ সম্পাদন করা, রমজানের রোজা রাখা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এর মধ্যে [দুটি] (৫) বিষয়ের ওপর আল্লাহর কসম আমার সামর্থ্য নেই: জিহাদ এবং সদকা! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত গুটিয়ে নিলেন এবং তা নাড়ালেন, আর বললেন: জিহাদও নেই আবার সদকাও নেই, তাহলে তুমি কিসের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করবে?! আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার হাতে বায়আত হচ্ছি। অতঃপর আমি এ সবগুলোর ওপরেই তাঁর হাতে বায়আত হলাম।"

--------------------------------------------

=এবং শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত এটি আপনার উল্লেখিত হাদিস ছাড়া অন্য কিছু... এবং এই শাহর হাদিস শাস্ত্রে শক্তিশালী নন, তিনি এমন ব্যক্তি যাঁর হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা হয় না এবং যা দীন হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।

(১) বুখারি (১৩৯৬) এবং মুসলিম (১৩) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) নম্বর ১৪, একইভাবে বুখারি (১৩৯৭)।

(৩) (৫/ ২২৪) এবং এর সনদে মুয়াসসির ইবনে আফারাহ রয়েছেন, যিনি মাজহুল (অপরিচিত)।

(৪) "উতি": পাণ্ডুলিপি ভেদে।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে "ইসনাতাইনি" রয়েছে, এবং আমি যা মুসনাদ থেকে উদ্ধৃত করেছি সেটিই সঠিক।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌شروط دخول الجنة

ففي هذا الحديث أن الجهاد والصدقة شرط في دخول الجنة، مع حصول التوحيد والصلاة والصيام والحج.

ونظير هذا أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أُمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله" (1).

ففهم عمر، وجماعة من الصحابة أن من أتى بالشهادتين امتنع من عقوبة الدُّنْيَا بمجرد ذلك، فتوقفوا في قتال مانعي الزكاة، وفهم الصِّديق أنَّه لا يمتنع قتاله إلا بأداء حقوقها، لقوله صلى الله عليه وسلم: "فإذا فعلوا ذلك منعوا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها. وقال: الزكاة حق المال" (2).

وهذا الَّذِي فهمه الصديق؛ قد رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم (صريحًا غير واحد من الصحابة) (*) منهم: ابن عمر (3) وأنس (4) وغيرهما (5)، وأنه قال: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ» ".

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (25)، ومسلم (22) من حديث ابن عمر بهذا اللفظ، وورد بلفظ: "حتى يقولوا" في الصحيحين من حديث عمر بن الخطاب، وفي صحيح البخاري من حديث أنس، وفي صحيح مسلم من حديث جابر.

(*) جماعة من الصحابة "نسخة".

(2) انظر تخريج الحديث السابق.

(3) كما سبق في الصحيحين.

(4) أخرجه البخاري (392).

(5) منهم:

أ- جابر بن عبد الله، كما عند مسلم برقم (21/ 35).

ب- وعمر، كما عند البخاري برقم (1399)، ومسلم برقم (20).

ج- وأبو هريرة، كما عند مسلم برقم (21).
জান্নাতে প্রবেশের শর্তাবলী

সুতরাং এই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তাওহীদ, সালাত, সিয়াম ও হজ পালনের সাথে সাথে জিহাদ এবং সাদাকাও জান্নাতে প্রবেশের শর্ত।

এর দৃষ্টান্ত হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল" (১)।

উমর এবং একদল সাহাবী বুঝতে পেরেছিলেন যে, যে ব্যক্তি কেবল শাহাদাতাইন (দুইটি সাক্ষ্যবাণী) পাঠ করবে, কেবল তার মাধ্যমেই সে পার্থিব শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পাবে। ফলে তারা যাকাত প্রদান করতে অস্বীকারকারীদের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। আর সিদ্দীক (আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু) বুঝতে পেরেছিলেন যে, এর পাওনা হকসমূহ আদায় করা ব্যতীত যুদ্ধ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যখন তারা এটি করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদকে রক্ষা করবে, তবে এর হক ব্যতীত। আর তিনি বলেছেন: যাকাত হলো সম্পদের হক" (২)।

আর সিদ্দীক যা বুঝেছিলেন, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (একাধিক সাহাবী স্পষ্টভাবে) বর্ণনা করেছেন (*) তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে উমর (৩), আনাস (৪) এবং আরও অনেকে (৫)। আর তা হলো যে, তিনি বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে।"

--------------------------------------------

(১) বুখারী (২৫) এবং মুসলিম (২২) ইবনে উমর-এর হাদীস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন। আর "যতক্ষণ না তারা বলে" শব্দে সহীহাইন-এ উমর ইবনুল খাত্তাব-এর হাদীসে, সহীহ বুখারীতে আনাস-এর হাদীসে এবং সহীহ মুসলিমে জাবির-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

(*) একদল সাহাবী "সংস্করণ"।

(২) পূর্ববর্তী হাদীসের তাখরীজ দেখুন।

(৩) যেমনটি পূর্বে সহীহাইন-এ অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) বুখারী (৩৯২) বর্ণনা করেছেন।

(৫) তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

ক- জাবির বিন আব্দুল্লাহ, যেমনটি মুসলিমে ২১/৩৫ নম্বরে রয়েছে।

খ- এবং উমর, যেমনটি বুখারীতে ১৩৯৯ নম্বর ও মুসলিমে ২০ নম্বরে রয়েছে।

গ- এবং আবু হুরায়রা, যেমনটি মুসলিমে ২১ নম্বরে রয়েছে।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫০)
وقد دل عَلَى ذلك قوله تعالى: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ} [التوبة: 5].

كما دل قوله تعالى: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ} [التوبة: 11]، عَلَى أن الأخوة في الدين لا تثبت إلا بأداء الفرائض مع التوحيد، فإن التوبة من الشرك لا تحصل إلا بالتوحيد.

ولما قرر أبو بكر هذا للصحابة رجعوا إِلَى قوله (1)، ورأوه صوابًا.

فإذا عُلم أن عقوبة الدُّنْيَا لا ترفع عمن أدّى الشهادتين مطلقًا.

بل قد يعاقب بإخلاله بحق من حقوق الإسلام، فكذلك عقوبة الآخرة.

وقد ذهب طائفة إِلَى أن هذه الأحاديث المذكورة أولاً وما في معناها، كانت قبل نزول الفرائض والحدود، منهم:

الزهري والثوري وغيرهما.

وهذا بعيد جدًا، فإن كثيرًا منها كان بالمدينة قد نزل بعد نزول الفرائض والحدود، وفي بعضها أنَّه كان في غزوة تبوك (وهي) (*) في آخر حياة النبي صلى الله عليه وسلم.

وهؤلاء منهم من يقول في هذه الأحاديث أنها منسوخة، ومنهم من يقول: هي (**) محكمة، ولكن ضم إليها شرائط، ويلتفت هذا إِلَى أن الزيادة عَلَى النص: هل هي نسخ أم لا؟ والخلاف في ذلك بين الأصوليين مشهور.

وقد صرَّح الثَّوري وغيره بأنها منسوخة، وأن نسخها الفرائض والحدود، وقد يكون مرادهم بالنسخ البيان والإيضاح، فإن السَّلف كانوا يطلقون النسخ

--------------------------------------------

(1) وعلى رأسهم عمر رضي الله عنه كما عند البخاري (1400)، ومسلم (20) حيث قال: "فوالله ما هو إلا أن قد شرح الله صدر أبي بكر للقتال، فعرفت أنه الحق".

(*) وهو "نسخة".

(**) إنها: "نسخة".
মহান আল্লাহর এই বাণী এর ওপর প্রমাণ পেশ করে: "অতঃপর তারা যদি তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও।" [আত-তাওবাহ: ৫]।

তেমনিভাবে মহান আল্লাহর এই বাণী: "অতঃপর তারা যদি তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তারা দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমাদের ভাই" [আত-তাওবাহ: ১১] - এটি প্রমাণ করে যে, তাওহীদের সাথে সাথে ফরয বিধানসমূহ পালন করা ব্যতিরেকে দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব সাব্যস্ত হয় না; কেননা শিরক থেকে তওবা কেবল তাওহীদ দ্বারাই অর্জিত হয়।

যখন আবু বকর সাহাবীদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন, তখন তারা তাঁর সিদ্ধান্তের দিকেই প্রত্যাবর্তন করলেন (১) এবং একে সঠিক হিসেবে গ্রহণ করলেন।

সুতরাং যখন এটি জানা গেল যে, দুনিয়াবী শাস্তি কেবল দুই শাহাদাত (কালিমা) পাঠ করার কারণে নিঃশর্তভাবে রহিত হয় না।

বরং ইসলামের কোনো একটি অধিকার লঙ্ঘনের কারণে তাকে শাস্তি প্রদান করা হতে পারে, ঠিক তেমনিভাবে পরকালের শাস্তির বিষয়টিও।

একদল আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, পূর্বে উল্লেখিত এই হাদিসসমূহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনাগুলো ফরয বিধান এবং দণ্ডবিধি (হুদুদ) অবতীর্ণ হওয়ার আগের; তাদের মধ্যে রয়েছেন:

যুহরী, সাওরী এবং অন্যান্যগণ।

আর এই মতটি অত্যন্ত দূরহ বা দুর্বল; কেননা এগুলোর অনেকগুলোই মদীনায় ফরয বিধান ও দণ্ডবিধি অবতীর্ণ হওয়ার পর প্রকাশ পেয়েছিল। এমনকি এগুলোর কোনো কোনোটিতে উল্লেখ আছে যে, তা তাবুক যুদ্ধের সময়কার (আর এটি) (*) ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষলগ্নে।

তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এই হাদিসগুলো সম্পর্কে বলেন যে এগুলো রহিত (মানসুখ), আবার কেউ কেউ বলেন: এগুলো (**) সুসংহত (মুহকাম), তবে এর সাথে কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নস বা মূল পাঠের ওপর অতিরিক্ত সংযোগ কি রহিতকরণ (নাসখ) হিসেবে গণ্য হবে কি না—সেই প্রশ্নের দিকে ধাবিত করে; আর এ বিষয়ে উসুলবিদদের মধ্যে মতভেদ প্রসিদ্ধ।

সাওরী এবং অন্যান্যগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এগুলো রহিত এবং এগুলোর রহিতকারী হলো ফরয বিধান ও দণ্ডবিধিসমূহ। তবে রহিতকরণ (নাসখ) দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হতে পারে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ, কেননা সালাফগণ 'নাসখ' শব্দটি এই অর্থেও প্রয়োগ করতেন।

--------------------------------------------

(১) তাদের অগ্রগণ্য ছিলেন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, যেমনটি বুখারী (১৪০০) ও মুসলিম (২০)-এ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম, আমি কেবল এটাই প্রত্যক্ষ করেছি যে, আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের জন্য আবু বকরের বক্ষ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তখন আমি উপলব্ধি করলাম যে এটিই সত্য।"

(*) আর এটি একটি পাণ্ডুলিপির পাঠ।

(**) নিশ্চয়ই তা: এটি একটি পাণ্ডুলিপির পাঠ।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫১)
عَلَى مثل ذلك كثيرًا، ويكون مقصودهم أن آيات الفرائض والحدود تبين بها توقفُ دخول الجنة والنجاة من النار عَلَى فعل الفرائض واجتناب المحارم، فصارت تلك النصوص منسوخة، أي: مبيَّنة مفسَّرة، ونصوص الفرائض والحدود ناسخة أي: مفسَّرة لمعنى تلك، موضِّحة لها.

***
এরূপ অনেক ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, আর তাদের উদ্দেশ্য হলো এই যে, ফরজ বিধান ও দণ্ডবিধি সংক্রান্ত আয়াতসমূহের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ ফরজ কাজসমূহ সম্পাদন ও হারাম বিষয়সমূহ বর্জনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ফলে সেই নস বা পাঠসমূহ 'মনসুখ' তথা ব্যাখ্যাত হয়ে গেছে, অর্থাৎ: স্পষ্টভাবে বর্ণিত ও ব্যাখ্যাত। আর ফরজ ও দণ্ডবিধির নসসমূহ হলো 'নাসিখ' তথা ব্যাখ্যাকারী, অর্থাৎ: সেগুলোর অর্থের ব্যাখ্যাকারী এবং সেগুলোকে সুস্পষ্টকারী।

***
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌فهم النصوص المطلقة في ضوء النصوص المقيدة

وقالت طائفة: تلك النصوص المطلقة قد جاءت مقيَّدة في أحاديث أُخر، ففي بعضها: "من قال: لا إله إلا الله مخلصًا" (1) وفي بعضها: (مُستيقنًا) (*) " (2)، وفي بعضها: "يصدق قلبه لسانه" (3) وفي بعضها: "يقولها حقًّا من قبله" (4) وفي بعضها: "قد ذل بها لسانه، واطمأن بها قلبه" (5).

وهذا كله إشارة إِلَى عمل القلب، وتحققه بمعنى الشهادتين، فتحققه بقول: لا إله إلا الله أن لا يأله القلب غير الله حبًّا ورجاءً، وخوفًا، وتوكلا واستعانة، وخضوعًا وإنابة وطلبًا، وتحققه بأن محمدًا رسول الله، ألا يعبد الله بغير ما شرعه الله عَلَى لسان رسوله محمد صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (5/ 236).

(*) "متيقنا": "نسخة".

(2) أخرجه مسلم (31) من حديث أبي هريرة.

(3) أخرجه أحمد (2/ 307) قال الهيثمي في المجمع (10/ 407): رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح غير معاوية بن معتب، وهو ثقة.

(4) أخرجه أحمد (1/ 63).

قال الهيثمي في "المجمع" (1/ 20): قلت: لعمر حديث رواه ابن ماجه، بغير هذا السياق، ورجاله ثقات، رواه أحمد.

(5) أخرجه البيهقي في الشعب رقم (9) من حديث أبي قتادة.

وأورده الهيثمي في المجمع (1/ 26) عن سعد بن عبادة قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "من قال: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، أطاع بها قلبه، وذل بها لسانه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله حرمه الله عز وجل عَلَى النار".

وقال الهيثمي: رواه الطبراني في الأوسط وفيه عبد الرحمن بن ريد بن أسلم، والأكثر عَلَى تضعيفه.
শর্তযুক্ত ভাষ্যের আলোকে নিঃশর্ত ভাষ্যসমূহ অনুধাবন

একদল আলিম বলেছেন: সেই নিঃশর্ত ভাষ্যসমূহ অন্যান্য হাদিসে শর্তযুক্ত হয়ে এসেছে। যেমন কোনোটিতে এসেছে: "যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলবে" (১)। আবার কোনোটিতে এসেছে: "(দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে)" (*) (২)। কোনোটিতে এসেছে: "তার অন্তর তার জিহ্বাকে সত্যায়ন করবে" (৩)। কোনোটিতে এসেছে: "সেটি তার অন্তর থেকে সত্য হিসেবে বলবে" (৪)। এবং কোনোটিতে এসেছে: "তার জিহ্বা এর অনুগত হয়েছে এবং তার অন্তর এতে প্রশান্তি লাভ করেছে" (৫)।

এই সবই অন্তরের আমল এবং শাহাদাতদ্বয়ের (কালিমা শাহাদাত) অর্থের বাস্তব রূপায়ণের দিকে ইঙ্গিত প্রদান করে। সুতরাং 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—এই বাণীর যথার্থতা তখনই প্রমাণিত হয় যখন অন্তর ভালোবাসা, আশা, ভয়, তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), সাহায্য প্রার্থনা, আনুগত্য, প্রত্যাবর্তন এবং অন্বেষণের ক্ষেত্রে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে না। আর 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল'—এই বাণীর যথার্থতা তখনই প্রমাণিত হয় যখন আল্লাহর ইবাদত কেবল তা দিয়েই করা হয় যা আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখনিঃসৃত বাণীর মাধ্যমে শরিয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (৫/২৩৬)।

(*) "দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে": "পাণ্ডুলিপি সংস্করণ"।

(২) এটি মুসলিম (৩১) আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (২/৩০৭)। হাইসামি 'আল-মাজমা' (১০/৪০৭) গ্রন্থে বলেছেন: আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং মুয়াবিয়া ইবনে মুত্তিব ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, আর তিনি বিশ্বস্ত।

(৪) এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১/৬৩)।

হাইসামি "আল-মাজমা" (১/২০) গ্রন্থে বলেছেন: আমি বলছি: উমর (রা.) থেকে একটি হাদিস ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এই শব্দসূত্র ব্যতীত অন্য সূত্রে, যার বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, যা আহমাদও বর্ণনা করেছেন।

(৫) এটি বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' ৯ নং-এ আবু কাতাদা বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং হাইসামি এটি 'আল-মাজমা' (১/২৬) গ্রন্থে সাদ ইবনে উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই, তার অন্তর এর অনুগত হবে এবং তার জিহ্বা এর বশ্যতা স্বীকার করবে, আর সে সাক্ষ্য দিবে যে মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।"

হাইসামি বলেছেন: তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবদুর রহমান ইবনে যাইদ ইবনে আসলাম রয়েছেন, আর অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وقد جاء هذا المعنى مرفوعًا إِلَى النبي صلى الله عليه وسلم صريحًا أنَّه قال: «مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ

إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصًا دَخَلَ الْجَنَّةَ. قِيلَ: مَا إِخْلَاصُهَا يَا رَسُولَ الله؟! قَالَ: أَنْ تَحْجِزَكَ (عَمَّا) (*) حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيكَ».

وهذا يُروى من حديث أنس بن مالك (1)، وزيد بن أرقم (2)، ولكن إسنادهما لا يصح. وجاء أيضاً من مراسيل الحسن نحوه.

وتحقيق هذا المعنى وإيضاحه أن قول العبد: لا إله إلا الله يقتضي أن لا إله غير الله، والإله الَّذِي يطاع فلا يعصى هيبة له وإجلالا، ومحبة وخوفًا ورجاء، وتوكلاً عليه، وسؤالا منه، ودعاء له، ولا يصلح ذلك كله إلا لله عز وجل، فمن أشرك مخلوقًا في شيء من هذه الأمور التي هي من خصائص الإلهية كان ذلك قدحًا في إخلاصه في قول: لا إله إلا الله، ونقصًا في توحيده (فكان فيه عبودية لذاك المخلوق) (**) بحسب ما فيه من ذلك.

…

--------------------------------------------

(*) عن كل ما: "نسخة".

(1) أخرجه الخطيب في تاريخه (12/ 64).

(2) أخرجه الطبراني في الكبير (5/ 5074)، وفي الأوسط (3 - مجمع البحرين).

وأورده الهيثمي في المجمع (1/ 23) وقال: رواه الطبراني في الأوسط والكبير إلا أنَّه قال في الكبير: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إخلاصه أن تحجزه عما حرم الله عليه" وفي

إسناده: محمد بن عبد الرحمن بن غزوان، وهو وضاع.

(**) وكان فيه من عبودية المخلوق "نسخة".

এই অর্থটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা

ইল্লাল্লাহ' বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এর একনিষ্ঠতা কী? তিনি বললেন: তা যেন তোমাকে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে বিরত রাখে»।

এটি আনাস বিন মালিক (১) এবং যায়েদ বিন আরকাম (২) এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তাঁদের বর্ণনাসূত্র সহিহ নয়। হাসানের মুরসাল বর্ণনা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

এই অর্থের বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণ হলো, বান্দার 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' উক্তিটি এই দাবি রাখে যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আর ইলাহ হলেন তিনি, যাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, মহিমা, ভালোবাসা, ভয় ও আশা রাখা হয় এবং যাঁর ওপর ভরসা ও যাঁরই কাছে প্রার্থনা ও দোয়ার কারণে তাঁর আনুগত্য করা হয় এবং তাঁর অবাধ্য হওয়া হয় না। আর এ সবকিছুর উপযুক্ত কেবল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা। সুতরাং যে ব্যক্তি উলুহিয়্যাতের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনোটিতে কোনো সৃষ্টিকে অংশীদার করল, তা তার 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার একনিষ্ঠতায় আঘাত এবং তার তাওহিদে ঘাটতি হিসেবে গণ্য হবে (ফলে ওই সৃষ্টির প্রতি তার ততটুকু দাসত্ব সাব্যস্ত হবে) যতটুকু সে এতে লিপ্ত হবে।

…

--------------------------------------------

(*) সবকিছু থেকে: "সংস্করণ"।

(১) খাতিব বাগদাদি তাঁর তারিখে (১২/৬৪) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) তাবারানি একে আল-মু'জামুল কাবিরে (৫/৫০৭৪) এবং আল-আওসাতে (৩ - মাজমাউল বাহরাইন) বর্ণনা করেছেন।

হাইসামি একে মাজমা-উয-যাওয়ায়েদ গ্রন্থে (১/২৩) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাবারানি এটি আল-আওসাত এবং আল-কাবিলে বর্ণনা করেছেন, তবে আল-কাবিরে তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এর একনিষ্ঠতা হলো তা যেন তোমাকে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে বিরত রাখে।" আর এর

বর্ণনাসূত্রে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন গাজওয়ান রয়েছেন, যিনি একজন হাদিস জালকারী।

(**) "এবং তার মধ্যে সৃষ্টির দাসত্ব ছিল" "সংস্করণ"।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌الشرك والكفر له أصل وفروع

وهذا كله من فروع الشرك، ولهذا ورد إطلاق الكفر والشرك عَلَى كثير من المعاصي (التي) (*) منشؤها من طاعة غير الله أو خوفه أو رجائه، أو التوكل عليه أو العمل لأجله، كما ورد في (الصحيح) (**) إطلاق الشرك عَلَى الرياء (1)، وعلى الحلف بغير الله (2)، وعلى التوكل عَلَى غير الله والاعتماد عليه، وعلى من سوَّى بين الله وبين المخلوق في المشيئة، مثل أن يقول: ما شاء الله وشاء فلان (3).

وكذا قوله: ما لي إلا الله وأنت؛ وكذلك ما يقدح في التوكل وتفرد الله بالنفع والضر: كالطيرة، والرُّقَى المكروهة، وإتيان الكهان وتصديقهم بما يَقُولُونَ، وكذلك اتباع هوى النفس فيما نهى الله عنه، قادحٌ في تمام التوحيد وكماله.

ولهذا أطلق الشرع عَلَى كثير من الذنوب التي منشؤها من اتباع هوى النفس بما هو كفر وشرك؛ كقتال المسلم (4)، ومن أتى حائضًا أو امرأة في

--------------------------------------------

(*) الَّذِي: "نسخة".

(**) في نسخة استانبول: صحيح، وما أثبته الأنسب للسياق، والأحاديث في "المسند" وليست في الصحيح.

(1) أخرجه أحمد (5/ 428) بلفظ: "إن أخوف ما أخاف عليكم الشرك الأصغر.

قالوا: وما الشرك الأصغر يا رسول الله؟ قال: "الرياء" من حديث محمود بن لبيد.

(2) أخرجه أحمد (2/ 125)، وأبو داود (3251)، والترمذي (1535). بلفظ: "لا تحلف بأبيك؛ فإنَّه من حلف بغير الله فقد أشرك" من حديث ابن عمر.

(3) أخرجه أحمد (5/ 384، 394، 398)، وأبو داود (4980) بلفظ: "لا تقولوا ما شاء الله وشاء فلان" من حديث حذيفة بن اليمان.

(4) أخرج البخاري (6044)، ومسلم (64) من حديث ابن مسعود مرفوعًا بلفظ:=
শির্ক ও কুফরের মূল এবং শাখা রয়েছে

এই সবই হলো শির্কের শাখা। আর এই কারণেই কুফর এবং শির্ক শব্দটির প্রয়োগ এমন অনেক গুনাহের ক্ষেত্রে করা হয়েছে (যা) (*) আল্লাহ ব্যতীত অন্যের আনুগত্য, ভয়, আশা, কিংবা তাঁর ওপর ভরসা করা বা অন্যের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা থেকে উদ্ভূত। যেমন (সহীহ) (**) বর্ণনায় রিয়া বা লোক-দেখানো ইবাদতের (১) ওপর শির্ক শব্দটির প্রয়োগ করা হয়েছে, এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে কসম করার (২) ওপর, এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ওপর ভরসা ও নির্ভর করার ওপরও। অনুরূপভাবে, আল্লাহর ইচ্ছা ও মাখলুকের ইচ্ছাকে সমপর্যায়ে নিয়ে আসার ওপরও শির্ক শব্দটির প্রয়োগ হয়েছে, যেমন কেউ বলল: আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছে (৩)।

একইভাবে তার এই কথা বলা: আল্লাহ এবং আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই; আর তেমনিভাবে যা তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা এবং উপকার ও ক্ষতি সাধনে আল্লাহর একত্বের ক্ষেত্রে ত্রুটি সৃষ্টি করে: যেমন কুলক্ষণ গ্রহণ করা, অপছন্দনীয় ঝাড়ফুঁক, এবং গণকদের কাছে যাওয়া ও তারা যা বলে তাতে বিশ্বাস করা। একইভাবে, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তাতে নফসের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা তাওহীদের পূর্ণতা ও কামিলিয়্যাতে ত্রুটি সৃষ্টি করে।

এই কারণেই শরীয়ত নফসের প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে উদ্ভূত এমন অনেক পাপকে কুফর ও শির্ক হিসেবে অভিহিত করেছে; যেমন কোনো মুসলিমের সাথে লড়াই করা (৪), এবং ঋতুমতী কোনো মহিলার সাথে অথবা কোনো মহিলার...

--------------------------------------------

(*) যে: "পাণ্ডুলিপি"।

(**) ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপিতে: সহীহ, তবে আমি যা সাব্যস্ত করেছি তা প্রসঙ্গের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ; আর হাদীসগুলো "মুসনাদ"-এ রয়েছে এবং সহীহ (বুখারী ও মুসলিম) কিতাবসমূহে নয়।

(১) আহমাদ (৫/৪২৮) বর্ণনা করেছেন। শব্দগুলো হলো: "আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো ছোট শির্ক।

তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, ছোট শির্ক কী? তিনি বললেন: "রিয়া" (লোক-দেখানো ইবাদত)। মাহমুদ ইবনে লাবীদ এর হাদীস থেকে বর্ণিত।

(২) আহমাদ (২/১২৫), আবু দাউদ (৩২৫১), তিরমিযী (১৫৩৫) বর্ণনা করেছেন। শব্দগুলো হলো: "তোমার পিতার নামে কসম করো না; কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে কসম করল সে শির্ক করল।" ইবনে উমরের হাদীস থেকে বর্ণিত।

(৩) আহমাদ (৫/৩৮৪, ৩৯৪, ৩৯৮), আবু দাউদ (৪৯৮০) বর্ণনা করেছেন। শব্দগুলো হলো: "তোমরা বলো না: আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং অমুক যা চেয়েছে।" হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এর হাদীস থেকে বর্ণিত।

(৪) বুখারী (৬০৪৪) এবং মুসলিম (৬৪) ইবনে মাসউদ থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫৫)
دبرها (1)، ومن شرب الخمر في المرة الرابعة (2)، وإن كان ذلك لا يخرجه عن الملّة بالكلية.

ولهذا قال السَّلف: كُفر دون كفر، وشرك دون شرك.

--------------------------------------------

= "سباب المسلم فسوق، وقتاله كفر".

(1) أخرج الترمذي (135) وغيره من حديث أبي هريرة مرفوعًا بلفظ: "من أتى حائضًا أو امرأة في دبرها أو كاهنا فقد كفر بما أنزل عَلَى محمد".

وقال الترمذي: لا نعرف هذا الحديث إلا من حديث حكيم الأثرم عن أبي تميمة الهجيمي عن أبي هريرة. وإنَّما معنى هذا عند أهل العِلْم عَلَى التغليظ. وقد رُوي عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من أتى حائضًا فليتصدق بدينار". فلو كان إتيان الحائض كفرًا لم يؤمر فيه بالكفارة.

وضعف محمد هذا الحديث من قبل إسناده.

(2) أخرج الترمذي (1444) وغيره من حديث معاوية مرفوعًا بلفظ: "من شرب الخمر فاجلدوه، فإن عاد في الرابعة فاقتلوه".

قال الترمذي: وفي الباب عن أبي هريرة والشريد وشرحبيل بن أوس وجرير وأبي الرَّمَد البَلَوي وعبد الله بن عمرو.

وقال أبو عيسى: حديث معاوية هكذا روى الثوري أيضاً عن عاصم عن أبي صالح عن معاوية عن النبي صلى الله عليه وسلم، وروى ابن جريج ومعمر عن سهيل بن أبي صالح عن أبيه عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم.

قال: سمعت محمدًا يقول: حديث أبي صالح عن معاوية عن النبي صلى الله عليه وسلم في هذا أصح من حديث أبي صالح عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما كان هذا في أول الأمر ثم نسخ بعد.

هكذا روى محمد بن إسحاق عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إِنَّ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ، فَإِنْ عَادَ فِي الرَّابِعَةِ فَاقْتُلُوهُ"، قال: ثُمَّ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الرَّابِعَةِ فَضَرَبَهُ وَلَمْ يَقْتُلْهُ.

وكذلك روى الزهري عن قبيصة بن ذويب عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا، قال: فَرَفَعَ الْقَتْلَ وَكَانَتْ رُخْصَةً، والعمل عَلَى هذا الحديث عند عامة أهل العِلْم لا نعلم بينهم اختلافًا في ذلك في القديم والحديث، ومما يقوي هذا ما رُوي عن النبي صلى الله عليه وسلم من أوجه كثيرة أنَّه قال: "لا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنِّى رَسُولُ اللَّهِ إِلا بِإِحْدَى ثَلاثٍ: النَّفْسُ بِالنَّفْسِ، وَالثَّيِّبُ الزَّانِى، وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ".
তার পশ্চাদদেশ (১), এবং যে ব্যক্তি চতুর্থবার মদ পান করে (২), যদিও তা তাকে পুরোপুরি মিল্লাত (দ্বীন) থেকে বের করে দেয় না।

এই কারণে সালাফগণ বলেছেন: কুফরের চেয়ে নিম্নপর্যায়ের কুফর এবং শিরকের চেয়ে নিম্নপর্যায়ের শিরক।

--------------------------------------------

= "মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।"

(১) তিরমিজি (১৩৫) এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসে উল্লেখ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ঋতুমতী নারীর সাথে সঙ্গম করে অথবা স্ত্রীর পশ্চাদপথে সঙ্গম করে অথবা কোনো গণকের কাছে যায়, তবে সে মুহাম্মাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার (কুফরী) করল।"

তিরমিজি বলেন: হাকিম আল-আছরাম থেকে আবু তামিমা আল-হুজাইমির মাধ্যমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে আমাদের জানা নেই। ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট এর অর্থ হলো কঠোরতা প্রদর্শন করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঋতুমতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে, সে যেন এক দিনার দান করে।" সুতরাং ঋতুমতী নারীর সাথে সঙ্গম করা যদি কুফরী হতো, তবে তাকে কাফফারা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতো না।

মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারি) এর সনদগত দুর্বলতার কারণে এই হাদিসটিকে যয়িফ বা দুর্বল বলেছেন।

(২) তিরমিজি (১৪৪৪) এবং অন্যান্যরা মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসে উল্লেখ করেছেন: "যে ব্যক্তি মদ পান করে তাকে বেত্রাঘাত করো, যদি সে চতুর্থবার পুনরায় পান করে তবে তাকে হত্যা করো।"

তিরমিজি বলেন: এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, আশ-শারিদ, শারহাবিল বিন আউস, জারির, আবু আর-রামাদ আল-বালাউই এবং আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

আবু ঈসা বলেন: মুয়াবিয়ার হাদিসটি আসিম থেকে আবু সালিহের মাধ্যমে মুয়াবিয়া হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাওরিও বর্ণনা করেছেন। ইবনে জুরাইজ এবং মা’মার সুহাইল বিন আবু সালিহ থেকে তার পিতার মাধ্যমে আবু হুরায়রা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারি) বলতে শুনেছি: এই বিষয়ে আবু সালিহের মাধ্যমে মুয়াবিয়া থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসটি আবু সালিহের মাধ্যমে আবু হুরায়রা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের চেয়ে বেশি সহিহ। এটি ইসলামের প্রাথমিক সময়ের বিষয় ছিল এবং পরবর্তীতে তা মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে।

মুহাম্মাদ বিন ইসহাক মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির থেকে জাবির বিন আবদুল্লাহর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যে মদ পান করবে তাকে বেত্রাঘাত করো, যদি সে চতুর্থবার পুনরায় পান করে তবে তাকে হত্যা করো।" তিনি (জাবির) বলেন: এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো যে চতুর্থবার মদ পান করেছিল, তিনি তাকে প্রহার করলেন কিন্তু হত্যা করেননি।

অনুরূপভাবে জুহরি কাবিসা বিন যুআইব থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এমনটিই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হত্যার বিধান তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এটি ছিল সহজতা (রুখসত)। অধিকাংশ আহলে ইলম বা আলেমদের নিকট এই হাদিসের ওপর আমল জারি আছে, প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য আমাদের জানা নেই। এই বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত এই হাদিস দ্বারা আরও শক্তিশালী হয় যেখানে তিনি বলেছেন: "এমন কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত প্রবাহিত করা হালাল নয় যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল; কেবল তিনটি কারণ ব্যতীত: জীবনের বিনিময়ে জীবন, বিবাহিত ব্যভিচারী এবং নিজ দ্বীন ত্যাগকারী।"
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وقد ورد إطلاق الإله عَلَى الهوى المتَّبع، قال تعالى: {أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ} [الجاثية: 23] وقال الحسن: هو الَّذِي لا يهوى شيئًا إلا ركبه.

وقال قتادة: هو الَّذِي كلما هوى شيئًا ركبه، وكلما اشتهى شيئًا أتاه لا يحجزُه عن ذلك ورعٌ ولا تقوى.

ورُوي من حديث أبي أمامة مرفوعًا بإسناد ضعيف: «مَا تَحْتَ ظِلِّ السَّمَاءِ إِلَهٌ يُعْبَدُ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ هَوًى مُتَّبَعٍ» (1).

وفي حديث آخر: "لا تزال لا إله إلا الله تدفع عن أصحابها حتى يؤثروا دنياهم عَلَى دينهم، فَإِذَا فعلوا ذلك رُدَّت عليهم، وقِيلَ لَهُم: كذبتم" (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن عدي (2/ 301)، (3/ 69) والطبراني في الكبير (8/ 7502)، وأبو نعيم في الحلية (6/ 118) من طريق الحسن بن دينار عن الخصيب بن جحدر عن راشد بن سعد عن أبي أمامة.

قال ابن عدى (2/ 301): وهذا إن كان البلاء فيه من الحسن، وإلا من الخصيب ابن جحدر، ولعله أضعف منه.

وقال ابن عدي (3/ 69): وللخصيب أحاديث غير ما ذكرته، وأحاديثه قلما يتابعه أحد عليها، وربما روى عنه ضعيف مثله مثل عباد بن كثير والحسن بن دينار، كما ذكرته، فلعل البلاء منهم لا منه.

وقال الهيثمي في المجمع (1/ 193): رواه الطبراني في الكبير، وفيه الحسن بن دينار، وهو متروك الحديث.

(2) أخرجه أبو يعلى (4034) من حديث أنس.

وسئل أبو حاتم الرازي عنه كما في العلل لابنه برقم (1857) فَقَالَ: هذا خطأ، إِنَّمَا هو أبو سهيل عن مالك بن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسل.

وقال الهيثمي في المجمع (7/ 277): رواه البزار وإسناده. حسن. قلت: وليس كما قال.

وأخرجه العقيلي في الضعفاء (2/ 297) من حديث أبي هريرة، وفي إسناده: عبد الله بن محمد بن عجلان، قال عنه العقيلي: منكر الحديث، لا يتابع على هذين الحديثين. وذكر هذا الحديث وآخر.

وأورده الهيثمي في المجمع (7/ 277) وقال: رواه البزار، وفيه: عبد الله بن محمد ابن عجلان، وهو ضعيف جدًّا. اهـ.

وللحديث روايات أخرى كلها ضعيفة.
প্রবৃত্তির অনুসরণের ক্ষেত্রে 'ইলাহ' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে?" [আল-জাসিয়া: ২৩]। হাসান (রহ.) বলেন: সে এমন ব্যক্তি, যার কোনো কিছুর প্রতি আসক্তি তৈরি হলে সে তাতে লিপ্ত হওয়া ছাড়া ক্ষান্ত হয় না।

কাতাদাহ (রহ.) বলেন: সে এমন ব্যক্তি, যখনই কোনো কিছুর প্রতি তার প্রবৃত্তি জাগে, সে তাতে লিপ্ত হয় এবং যখনই কোনো কিছুর প্রতি তার লালসা তৈরি হয়, সে তা পূরণ করে; কোনো ধরনের সতর্কতা বা তাকওয়া তাকে তা থেকে বিরত রাখে না।

আবু উমামাহ (রা.) থেকে মারফু সূত্রে দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে: "আসমানের ছায়ার নিচে এমন কোনো উপাস্য নেই যার ইবাদত আল্লাহর নিকট প্রবৃত্তি অনুসরণের চেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য।" (১)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর প্রবক্তাদের থেকে সর্বদা বিপদ আপদ দূর হতে থাকে যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনের ওপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়। যখন তারা এটি করে, তখন তা তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের বলা হয়: ' তোমরা মিথ্যা বলেছ'।" (২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আদি (২/ ৩০১, ৩/ ৬৯), তাবারানি আল-কাবিরে (৮/ ৭৫০২) এবং আবু নুআইম আল-হিলইয়ায় (৬/ ১১৮) হাসান ইবনে দিনার থেকে আল-খাসিব ইবনে জাহদার, রাশিদ ইবনে সাদ ও আবু উমামাহ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আদি (২/ ৩০১) বলেন: এতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা হাসান থেকে এসেছে, অথবা খাসিব ইবনে জাহদার থেকে এসেছে এবং সে সম্ভবত হাসানের চেয়েও বেশি দুর্বল।

ইবনে আদি (৩/ ৬৯) আরও বলেন: খাসিবের উল্লিখিত হাদিস ছাড়াও আরও হাদিস রয়েছে, যেগুলোতে কেউ তার অনুসরণ (মুতাবাআত) করে না। অনেক সময় তার থেকে তার মতোই কোনো দুর্বল রাবী বর্ণনা করেন, যেমন ইবাদ ইবনে কাসির ও হাসান ইবনে দিনার, যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি। সুতরাং সম্ভবত ত্রুটিটি তাদের পক্ষ থেকেই, তার পক্ষ থেকে নয়।

হাইসামি আল-মাজমা গ্রন্থে (১/ ১৯৩) বলেন: তাবারানি এটি আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন এবং এতে হাসান ইবনে দিনার রয়েছেন, যার হাদিস পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

(২) আবু ইয়ালা (৪০৩৪) এটি আনাস (রা.) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু হাতিম আর-রাজিকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যেমনটি তার পুত্রের আল-ইলাল গ্রন্থে (নং ১৮৫৭) বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: এটি ভুল, মূলত এটি আবু সুহাইল মালেক ইবনে আনাস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হাইসামি আল-মাজমা গ্রন্থে (৭/ ২৭৭) বলেন: বাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান। আমি বলছি: বিষয়টি তিনি যা বলেছেন তেমন নয়।

উকায়লি আদ-দুয়াফা গ্রন্থে (২/ ২৯৭) আবু হুরায়রা (রা.) এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আজলান রয়েছেন, যার সম্পর্কে উকায়লি বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদিস, এই দুটি হাদিসের ক্ষেত্রে কেউ তার অনুসরণ করে না। এরপর তিনি এই হাদিসটি ও আরেকটি হাদিস উল্লেখ করেছেন।

হাইসামি আল-মাজমা গ্রন্থে (৭/ ২৭৭) এটি উল্লেখ করে বলেন: বাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আজলান রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত দুর্বল। সমাপ্ত।

এই হাদিসের আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫৭)
ويشهد لذلك الحديث الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم: "تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ، تَعِسَ عَبْدُ الدِّرْهَمِ، تَعِسَ عَبْدُ الْقَطِيفَةِ، تَعِسَ عَبْدُ الْخَمِيصَةِ، تَعِسَ وَانْتَكَسَ، وَإِذَا شِيكَ فَلا انْتَقَشَ" (1).

فدل هذا عَلَى أن كل من أَحَبّ شيئًا وأطاعه، وكان غاية قصده ومطلوبه، ووالى لأجله، وعادى لأجله؛ فهو عبده، وذلك الشيء معبوده وإلهه.

…

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (2886).
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস এর সাক্ষ্য প্রদান করে: "দীনারের দাস ধ্বংস হোক, দিরহামের দাস ধ্বংস হোক, কাতিফার (দামী চাদর) দাস ধ্বংস হোক, খামিসার (দামী পোশাক) দাস ধ্বংস হোক। সে ধ্বংস ও বিপর্যস্ত হোক, আর তার শরীরে কাঁটা বিঁধলে সে যেন তা বের করতে না পারে।" (১)।

সুতরাং এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভালোবাসল এবং তার আনুগত্য করল, আর সেটিই তার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, এবং সেটির খাতিরেই সে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা পোষণ করল; সে মূলত সেটিরই দাস, আর ওই বিষয়টিই তার উপাস্য ও ইলাহ।

...

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন (২৮৮৬)।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫৮)
‌‌طاعة الشيطان تقدح في توحيد الرحمن

ويدل عليه أيضاً أن الله -تعالى- سمَّى طاعة الشيطان في معصية عبادةً للشيطان، كما قال تعالى: {أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ} [يس: 60]. وقال حاكيًا عن خليله إبراهيم أنَّه قال لأبيه: {يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَنِ عَصِيًّا} [مريم: 44].

فمن لم يحقق عبودية الرحمن وطاعته فإنَّه يعبد الشيطان بطاعته له، ولم يخلص من عبادة الشيطان إلا من أخلص عبودية الرحمن، وهم الذين قال فيهم: {إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ} [الحجر: 42].

فهم الذين (حققوا) (*) قول: "لا إله إلا الله" وأخلصوا في قولها، وصدقوا قولهم بفعلهم، فلم يلتفتوا إِلَى غير الله، محبةً ورجاءً وخشية وطاعة وتوكلا، وهم الذين صدقوا في قول: "لا إله إلا الله" وهم عباد الله حقًّا.

فأما من قال: "لا إله إلا الله" بلسانه ثم أطاع الشيطان، وهواه في معصية الله ومخالفته فقد كذب فعلُهُ قولَهُ، ونقص من كمال توحيده بقدر معصية الله في طاعة الشيطان والهوى {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ} [القصص: 50] {وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [ص: 26].

فيا هذا كن عبد الله لا عبد الهوى، فإن الهوى يهوي بصاحبه في النار: {أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} [يوسف: 39] "تَعِسَ عَبْدُ الدِّرْهَمِ، تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ" والله ما ينجو غدًا من عذاب الله إلا من حقق عبودية الله

--------------------------------------------

(*) حفظوا: "نسخة".
শয়তানের আনুগত্য রহমানের তাওহীদে ত্রুটি ঘটায়

এর সপক্ষে এটিও প্রমাণ দেয় যে, আল্লাহ তাআলা নাফরমানির ক্ষেত্রে শয়তানের আনুগত্য করাকে শয়তানের ইবাদত বা উপাসনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “হে বনী আদম! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না?” [ইয়াসীন: ৬০]। এবং তিনি তাঁর খলীল ইবরাহীমের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যে, তিনি তাঁর পিতাকে বলেছিলেন: “হে আমার পিতা! শয়তানের ইবাদত করবেন না, নিশ্চয়ই শয়তান রহমানের অত্যন্ত অবাধ্য।” [মারইয়াম: ৪৪]।

সুতরাং যে ব্যক্তি রহমানের দাসত্ব ও তাঁর আনুগত্য বাস্তবায়ন করল না, সে মূলত শয়তানের আনুগত্যের মাধ্যমে শয়তানেরই ইবাদত করল। আর শয়তানের ইবাদত থেকে কেবল তারাই মুক্তি পেয়েছে যারা রহমানের দাসত্বকে একনিষ্ঠ করেছে। তারাই সেইসব লোক যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই।” [হিজর: ৪২]।

তারা হলেন সেইসব লোক যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বাণীটিকে (বাস্তবায়ন করেছেন) (*) এবং তা উচ্চারণে একনিষ্ঠ হয়েছেন। তারা তাদের কর্মের মাধ্যমে নিজেদের কথাকে সত্য প্রমাণিত করেছেন; ফলে ভালোবাসা, আশা, ভয়, আনুগত্য ও তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। তারাই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাণীতে সত্যবাদী এবং তারাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মুখে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল, অতঃপর আল্লাহর নাফরমানি ও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে শয়তান ও নিজ প্রবৃত্তির আনুগত্য করল, তবে তার কর্ম তার বাক্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। শয়তান ও প্রবৃত্তির আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যতা করার দরুন তার তাওহীদের পূর্ণতা সেই পরিমাণ হ্রাস পেল। “আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পথনির্দেশ ছাড়া যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?” [কাসাস: ৫০]। “তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, নতুবা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে।” [সোয়াদ: ২৬]।

অতএব হে মানুষ! তুমি আল্লাহর বান্দা হও, প্রবৃত্তির দাস হয়ো না। কারণ প্রবৃত্তি তার অনুসারীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে: “ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক কি উত্তম, নাকি পরাক্রমশালী এক আল্লাহ?” [ইউসুফ: ৩৯]। “দিরহামের দাস ধ্বংস হোক, দীনারের দাস ধ্বংস হোক।” আল্লাহর কসম, পরকালে আল্লাহর আযাব থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর দাসত্ব ও বন্দেগিকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

--------------------------------------------

(*) সংরক্ষণ করেছেন: “একটি পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী”।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৫৯)
وحده، ولم يلتفت معه إِلَى شيء من الأغيار".

من علم أن إلهه ومعبوده فرد، فليُفرده بالعبودية {وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: 110].

كان بعض العارفين يتكلم عَلَى أصحابه عَلَى رأس جبل، فَقَالَ في كلامه: لا ينال أحد مراده حتى ينفرد فردًا بفرد، فانزعج واضطرب، حتى رأى أصحابه أن الصخور قد تدكدكت، وبقي عَلَى ذلك ساعات، فلما أفاق فكأنه نُشر من قبر.

قوله: "لا إله إلا الله" يقتضي أن لا يحب سواه، فإن الإله هو الَّذِي يطاع، محبةً وخوفًا ورجاءً، ومن تمام محبته محبةُ ما يحبه وكراهية ما يكرهه، فمن أَحَبّ شيئًا مما يكره الله، أو كره شيئًا مما يحبه الله لم يكمل توحيده ولا صدقه في قول: لا إله إلا الله، وكان فيه من الشرك الخفي بحسب ما كرهه مما يحبه الله، وما أحبه مما يكرهه الله. قال تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ} [محمد: 28].

***
এককভাবে, এবং তিনি তাঁর সাথে অন্য কোনো কিছুর দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি।"

যে ব্যক্তি জানে যে তার ইলাহ এবং তার মাবুদ একক, সে যেন তাঁকে ইবাদতে একক সাব্যস্ত করে {এবং সে যেন তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে} [আল-কাহফ: ১১০]।

জনৈক আরেফ পাহাড়ের চূড়ায় তাঁর সাথীদের কাছে আলোচনা করছিলেন। তিনি তাঁর আলোচনায় বললেন: "কেউ তার উদ্দেশ্য লাভ করতে পারে না যতক্ষণ না সে একক হিসেবে এককের সাথে একাকী হয়।" এতে তিনি এমন বিচলিত ও অস্থির হয়ে পড়লেন যে, তাঁর সাথীরা মনে করলেন পাহাড়ের পাথরগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তিনি কয়েক ঘণ্টা এই অবস্থায় থাকলেন। যখন তিনি হুঁশ ফিরে পেলেন, তখন মনে হলো যেন তিনি কবর থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন।

তাঁর বাণী: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" এর দাবি হলো তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে ভালোবাসা যাবে না। কারণ ইলাহ তিনিই, যাঁর আনুগত্য করা হয় ভালোবাসা, ভয় এবং আশার সাথে। তাঁর ভালোবাসার পূর্ণতা হলো তিনি যা ভালোবাসেন তাকে ভালোবাসা এবং তিনি যা অপছন্দ করেন তাকে অপছন্দ করা। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তার মধ্য থেকে কিছু ভালোবাসল, অথবা আল্লাহ যা ভালোবাসেন তার মধ্য থেকে কিছু অপছন্দ করল, তার তাওহিদ এবং "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" বাণীর সত্যতা পূর্ণ হলো না। আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা অপছন্দ করা এবং আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা ভালোবাসার অনুপাতে তার মধ্যে গোপন শিরক বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি এ কারণে যে, তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে রাগান্বিত করেছে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহ নষ্ট করে দিয়েছেন} [মুহাম্মদ: ২৮]।

***
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌دلالة محبة الله عز وجل

قال الليث، عن مجاهد في قوله تعالى: {لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا} [النور: 55]، قال: لا تحبوا غيري.

وفي صحيح الحاكم (1) عن عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الشَّرَكُ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ الذَّرِّ عَلَى الصَّفَا فِي اللَّيْلَةِ الظَّلْمَاءِ، وَأَدْنَاهُ أَنْ تُحِبَّ عَلَى شَيْءٍ مِنَ الْجَوْرِ، أَوْ أَنْ تُبْغِضَ عَلَى شَيْءٍ مِنَ الْعَدْلِ، وَهَلِ الدِّينُ إِلَّا الْحُبُّ وَالْبُغْضُ؟».

قَالَ اللَّهُ عز وجل: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} [آل عمران: 31].

وهذا نص في أن محبة ما يكرهه الله وبغض ما يحبه متابعة للهوى، والموالاة عَلَى ذلك والمعاداة عليه من الشرك الخفي.

وقال الحسن: اعلمْ أنك لن تحب الله حتى تحب طاعته!

وسئل ذو النون: متى أحبّ ربي؟ قال: إذا كان ما يبغضه عندك أمرَّ من الصبر.

وقال بشر بن السري: ليس من أعلام الحب أن تحب ما يبغضه حبيبك.

وقال أبو يعقوب النَّهْرجَوري: كل من ادعى محبة الله ولم يوافق الله في أمره فدعواه باطلة.

وقال يحيى بن معاذ: ليس بصادقٍ من ادعى محبة الله ولم يحفظ حدوده.

وقال رويم: المحبة: الموافقة في جميع الأحوال. وأنشد:

وَلَوْ قُلْتَ لي مُتْ مُتُّ سَمعًا وطَاعَةً … وَقلت لِدَاعي المَوْتِ أهلا ومَرْحَبًا

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحاكم في مستدركه (2/ 291) وقال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم=
মহান আল্লাহর ভালোবাসার নিদর্শন

লাইস মুজাহিদ থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: {তারা আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না} [আন-নূর: ৫৫], মুজাহিদ বলেন: এর অর্থ হলো তোমরা আমি ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসবে না।

সহীহ হাকেমে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «শিরক হলো অন্ধকার রাতে মসৃণ পাথরের ওপর দিয়ে পিপীলিকার পদচারণার চেয়েও অধিক সূক্ষ্ম। আর এর ক্ষুদ্রতম পর্যায় হলো কোনো অন্যায়ের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা অথবা কোনো ইনসাফের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা। আর দ্বীন কি ভালোবাসা ও বিদ্বেষ ছাড়া অন্য কিছু?»।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলো, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} [আলে ইমরান: ৩১]।

এটি এই বিষয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তাকে ভালোবাসা এবং আল্লাহ যা পছন্দ করেন তাকে ঘৃণা করা মূলত প্রবৃত্তির অনুসরণ; আর এর ভিত্তিতে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা পোষণ করা গোপন শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

হাসান (বসরী) বলেন: জেনে রেখো, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহকে ভালোবাসতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি তাঁর আনুগত্যকে ভালোবাসবে!

যুন-নুনকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আমি কখন আমার রবকে ভালোবাসব? তিনি বললেন: যখন তাঁর অপছন্দনীয় বিষয়গুলো তোমার কাছে সবরের (তিতকুটে ফলের) চেয়েও অধিক তিক্ত মনে হবে।

বিশর ইবনুল সারী বলেন: তোমার প্রিয়তম যা অপছন্দ করেন তাকে ভালোবাসা ভালোবাসার লক্ষণের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আবু ইয়াকুব আন-নাহরাজাওরি বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে অথচ তাঁর নির্দেশের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে না, তার দাবি অসার।

ইয়াহইয়া ইবনে মুআয বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে অথচ তাঁর নির্ধারিত সীমারেখাগুলো রক্ষা করে না, সে সত্যবাদী নয়।

রুওয়াইম বলেন: ভালোবাসা হলো সর্বাবস্থায় (আল্লাহর ইচ্ছার সাথে) ঐকমত্য পোষণ করা। অতঃপর তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:

যদি তুমি আমাকে মরতে বলতে, তবে শ্রবণ ও আনুগত্যের সাথেই আমি মরে যেতাম … আর মৃত্যুর আহ্বানকারীকে বলতাম—সুস্বাগতম ও অভিবাদন।

--------------------------------------------

(১) হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে এটি বর্ণনা করেছেন (২/২৯১) এবং বলেছেন: এই হাদিসের সনদ সহীহ এবং এটি...
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬১)
ويشهد لهذا المعنى أيضاً قوله تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} [آل عمران: 31].

قال الحسن: قال أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم: يا رسول، الله إنا نحب ربنا حبًّا شديدًا؛ فأحبَّ الله أن يجعل لحبه علماً. فأنزل الله -تعالى- هذه الآية.

ومن هنا يُعلم أنَّه لا تتم شهادة أن لا إله إلا الله إلا بشهادة أن محمدًا رسول الله؛ فإنَّه إذا علم أنَّه لا تتم محبة الله إلا بمحبة ما يحبه وكراهة ما يكرهه. ولا طريق إِلَى معرفة ما يحبه وما يكرهه إلا من جهة محمد المبلّغ عن الله ما يحبه وما يكرهه، فصارت محبة الله مستلزمة لمحبة رسوله وتصديقه ومتابعته.

ولهذا قرن الله بين محبته ومحبة رسوله في قوله: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ … } إِلَى قوله: {أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [التوبة: 24] كما قرن بين طاعته وطاعة رسوله في مواضع كثيرة.

وقال صلى الله عليه وسلم: "ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلاوَةَ الإيمَانِ: أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لا يُحِبُّهُ إِلا لِلَّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْقَذَهُ اللهُ مِنْهُ، وَأَنْ يَكْرَهُ أَنْ يُلْقَى فِى النَّارِ" (1).

…

--------------------------------------------

=يخرجاه. وتعقبه الذهبي في التلخيص قائلا: عبد الأعلى، قال الدارقطني: ليس بثقة.

(1) أخرجه البخاري (16)، ومسلم (43) من حديث أنس.
এই অর্থের সাক্ষ্য প্রদান করে মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।" [আলে ইমরান: ৩১]।

হাসান বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আমাদের প্রতিপালককে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ভালোবাসি। তখন আল্লাহ চাইলেন তাঁর প্রতি ভালোবাসার জন্য একটি নিদর্শন নির্ধারণ করতে। ফলে মহান আল্লাহ এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।

এখান থেকেই জানা যায় যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' এই সাক্ষ্য 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল' এই সাক্ষ্য প্রদান ছাড়া পূর্ণ হয় না। কারণ, এটি নিশ্চিত যে, আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা ভালোবাসা এবং তিনি যা অপছন্দ করেন তা অপছন্দ করা ব্যতীত আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা পূর্ণ হয় না। আর আল্লাহ কী ভালোবাসেন এবং কী অপছন্দ করেন তা জানার কোনো পথ নেই আল্লাহর পক্ষ থেকে পয়গাম প্রচারকারী মুহাম্মাদ ব্যতীত। ফলে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা, তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁর অনুসরণের আবশ্যকতা তৈরি করে।

এই কারণেই আল্লাহ তাঁর বাণীতে নিজের ভালোবাসা ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসাকে একত্র করেছেন: "বলুন, যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই..." থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "তোমাদের নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়" [আত-তাওবাহ: ২৪]। যেভাবে তিনি অনেক স্থানে নিজের আনুগত্য ও রাসূলের আনুগত্যকে একত্র করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তার নিকট অন্য সবকিছু অপেক্ষা অধিক প্রিয় হন, সে যেন কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে এবং আল্লাহ তাকে কুফর থেকে উদ্ধার করার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে সে যেন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করে।" (১)

…

--------------------------------------------

=তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবি 'আত-তালখিস' গ্রন্থে এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: আব্দুল আলা; আদ-দারাকুতনি বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়।

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১৬) এবং মুসলিম (৪৩), আনাস-এর হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬২)
‌‌تلازم الظاهر والباطن

هذا حال السحرة لما سكنت المحبة قلوبهم، سمحوا ببذل نفوسهم، قالوا لفرعون: "اقض ما أنت قاض" ومتى تمكنت المحبة في القلب لم تنبعث الجوارح إلا إِلَى طاعة الرب.

وهذا هو معنى الحديث الإلهي الَّذِي خرَّجه البخاري في "صحيحه" (1) وفيه: "وَلَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ؛ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا". وفي بعض الروايات: "فبي يسمع وبي يبصر وبي يبطش، وبي يمشي".

والمعنى أن محبه الله إذا استغرق بها القلب واستولت عليه لم تنبعث الجوارح إلا إِلَى مراضي الرب، وصارت النفس حينئذٍ مطمئنة، ففنيت بإرادة مولاها عن مرادها وهواها.

يا هذا، اعبد الله لمراده منك لا لمرادك منه، فمن عبده لمراده منه فهو ممن يعبد الله عَلَى حرف، إن أصابه خير اطمأن به، وإن أصابته فتنة انقلب عَلَى وجهه خسر الدُّنْيَا والآخرة، ومتى قويت المعرفة والمحبة لم يُرد صاحبها إلا ما يريده مولاه.

وفي بعض الكتب السالفة: من أَحَبّ الله لم يكن في شيءٌ عنده آثر من رضاه، ومن أحبَّ الدُّنْيَا لم يكن شيء عنده آثر من هوى نفسه.

وروى ابن أبي الدُّنْيَا بإسناده عن الحسن قال: (ما نظرت) (*) ببصري، ولا نطقت بلساني، ولا بَطَشْتُ بيدي، ولا نَهَضْتُ عَلَى قدمي، حتى أنظر عَلَى طاعة

--------------------------------------------

(1) برقم (6502) من حديث أبي هريرة.

(*) ما ضربت: "نسخة".
জাহির ও বাতিনের অবিচ্ছেদ্যতা

জাদুকরদের অবস্থা এমনই ছিল যখন তাদের হৃদয়ে ভালোবাসা স্থান করে নিয়েছিল, তারা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। তারা ফেরাউনকে বলেছিল: "তোমার যা ফয়সালা করার করো।" আর যখন অন্তরে ভালোবাসা সুদৃঢ় হয়, তখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রবের আনুগত্য ছাড়া অন্য কোনো দিকে ধাবিত হয় না।

আর এটিই সেই হাদিসে কুদসির মর্মার্থ যা ইমাম বুখারি তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে (১) বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: "আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি; আর যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে হাঁটে।" কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: "সে আমার মাধ্যমেই শোনে, আমার মাধ্যমেই দেখে, আমার মাধ্যমেই ধরে এবং আমার মাধ্যমেই চলাফেরা করে।"

এর অর্থ হলো, আল্লাহর ভালোবাসা যখন হৃদয়ে পূর্ণরূপে জেঁকে বসে এবং তা হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো কেবল রবের সন্তুষ্টির পথেই পরিচালিত হয়। তখন নফস বা আত্মা প্রশান্ত হয়ে যায় এবং সে নিজের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে তার মাওলার ইচ্ছায় বিলীন হয়ে যায়।

হে মানুষ, তুমি আল্লাহর ইবাদত করো তিনি তোমার কাছে যা চান সেই উদ্দেশ্যে, তোমার নিজের কোনো স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। কেননা যে ব্যক্তি নিজের স্বার্থের জন্য ইবাদত করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে আল্লাহর ইবাদত করে; যদি তার কোনো কল্যাণ হয় তবে সে তাতে তৃপ্ত হয়, আর যদি কোনো পরীক্ষায় পড়ে তবে সে বিমুখ হয়ে যায়। ফলে সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই হারায়। যখন মারিফাত ও ভালোবাসা প্রবল হয়, তখন বান্দা তা-ই কামনা করে যা তার মাওলা পছন্দ করেন।

পূর্ববর্তী কিছু কিতাবে বর্ণিত আছে: যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালোবাসে, তার কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে অগ্রগণ্য আর কিছুই থাকে না। আর যে দুনিয়াকে ভালোবাসে, তার কাছে নিজের প্রবৃত্তির চেয়ে অধিক প্রিয় আর কিছু থাকে না।

ইবনে আবিদ দুনিয়া তাঁর সনদে হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার চোখ দিয়ে তাকাইনি, জিহ্বা দিয়ে কথা বলিনি, হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরিনি কিংবা পা দিয়ে অগ্রসর হইনি, যতক্ষণ না আমি দেখেছি যে তা আল্লাহর আনুগত্যের কাজ কি না।

--------------------------------------------

(১) হাদিস নং ৬৫০০২, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।

(*) "আমি আঘাত করিনি": এটি একটি পাণ্ডুলিপির পাঠান্তর।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬৩)
أو معصية، فإن كانت طاعة تقدمتُ، وإن كانت معصية تأخرت.

هذا حال خَوَاصّ المحبين الصادقين، فافهموا -رحمكم الله- هذا، فإنَّه من دقائق أسرار التوحيد الغامضة. وإلى هذا أشار صلى الله عليه وسلم في خطبته لما قدم المدينة حيث قال: "أحبوا الله من كل قلوبكم" وقد ذكرها ابن إسحاق (1) وغيره.

فإن من امتلأ قلبه من محبة الله لم يكن فيه فراغ لشيء من إرادات النفس والهوى، وإلى ذلك أشار القائل بقوله:

أروح وَقد ختمت على فُؤَادِي … بحبِّك أَن يَحُلَّ بِهِ سواكا

فَلَو أَنِّي اسْتَطَعْت غضضت طَرفِي … فَلم أنظُر بِهِ حَتَّى أراكا

أحبك لَا ببعضي بل بكلِّي … وَإِن لم يُبْق حُبُّك لي حِراكا

وَفِي الأحباب مَخْصُوص بوجدٍ … وَآخر يَدَّعِي معه اشتراكا

إِذا اشتكبت دموعٌ فِي خدودٍ … تبيَّن من بَكَى مِمَّن تباكى

فَأَما من بَكَى فيذوبُ وجدًا … وينطقُ بالهوى من قد تشاكى

متى بقي للمحب من نفسه حظ، فما بيده من المحبة إلا الدعوى، إِنَّمَا المحب من يفنى عن نفسه كله، ويبقى بحبيبه، "فبي يسمع، وبي يبصر".

القلب بيت الرب:

وفي الإسرائيليات يقول الله: "ما وسعني سمواتي ولا أرضي، ولكن وسعني قلبُ عبدي المؤمن" (2). فمتى كان القلب فيه غير الله، فالله أغنى الأغنياء عن الشرك، وهو لا يرضى بمزاحمة أصنام الهوى.

الحق -تعالى- غيور، يغار عَلَى عبده المؤمن من أن يسكن في قلبه سواه،

--------------------------------------------

(1) أخرج ذلك البيهقي في الدلائل (2/ 524 - 525) من طريق ابن إسحاق، وذكر ذلك ابن هشام في السيرة (2/ 146 - 147) دون إسناد.

(2) انظر مجموع الفتاوى لشيخ الإسلام ابن تيمية (18/ 122) فقد ذكر أن هذا الحديث من الإسرائيليات.
অথবা কোনো পাপাচার। যদি তা আনুগত্যের কাজ হয় তবে আমি অগ্রসর হই, আর যদি পাপাচার হয় তবে আমি পিছিয়ে যাই।

এটিই হলো একনিষ্ঠ প্রেমিকদের বিশিষ্ট স্তরের অবস্থা। অতএব হে মহানুভবগণ—আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন—আপনারা এটি অনুধাবন করুন; কেননা এটি তাওহীদের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিগূঢ় রহস্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রতিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমনের পর তাঁর খুতবায় ইঙ্গিত করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: "তোমরা তোমাদের অন্তর দিয়ে আল্লাহকে ভালোবাসো।" ইবনে ইসহাক (১) এবং অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন।

যার অন্তর আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, সেখানে নফসের কোনো ইচ্ছা বা প্রবৃত্তির কামনার জন্য আর কোনো শূন্যস্থান অবশিষ্ট থাকে না। আর সেই দিকেই লক্ষ্য করে কবি বলেছেন:

আমি সকাল-সন্ধ্যায় চলি এই অবস্থায় যে, আমার হৃদয়ে আপনার ভালোবাসার মোহর অঙ্কিত হয়েছে … যাতে আপনি ছাড়া অন্য কেউ সেখানে স্থান না পায়।

যদি আমি সামর্থ্য রাখতাম তবে আমার দৃষ্টিকে অবনত রাখতাম … আমি অন্য কিছুর দিকে তাকাতাম না যতক্ষণ না আপনার দর্শন পেতাম।

আমি আপনাকে ভালোবাসি আমার আংশিক অস্তিত্ব দিয়ে নয়, বরং পূর্ণ অস্তিত্ব দিয়ে … যদিও আপনার ভালোবাসা আমার মধ্যে কোনো স্পন্দন অবশিষ্ট রাখেনি।

প্রেমিকদের মধ্যে কেউ অনুরাগে একনিষ্ঠ ও বিশিষ্ট … আর অন্য কেউ কেবল সেই অনুরাগের অংশীদারিত্বের দাবি করে।

যখন গণ্ডদেশে অশ্রু প্রবাহিত ও মিলিত হয় … তখন স্পষ্ট হয়ে যায় কে প্রকৃতপক্ষে কাঁদছে আর কে কান্নার ভান করছে।

যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে কাঁদে, সে তো অনুরাগে বিগলিত হয় … আর যে অনুযোগ করে, সে কেবল প্রবৃত্তি তাড়িত কথা বলে।

প্রেমিকের মধ্যে যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের নফসের কোনো স্বার্থ অবশিষ্ট থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার ভালোবাসার দাবির কোনো ভিত্তি নেই। প্রকৃত প্রেমিক তো সেই ব্যক্তি, যে নিজের সমগ্র অস্তিত্ব থেকে বিলীন হয়ে যায় এবং তার প্রিয়তমে বেঁচে থাকে, "সে আমার মাধ্যমেই শোনে এবং আমার মাধ্যমেই দেখে।"

অন্তর হলো রবের ঘর:

ইসরাঈলী রেওয়ায়েতে আছে, আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমার আসমান ও যমীন আমাকে ধারণ করতে পারেনি, কিন্তু আমার মুমিন বান্দার অন্তর আমাকে ধারণ করেছে" (২)। সুতরাং যখন অন্তরে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ থাকে, তখন জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ সকল অংশীদারিত্বের ঊর্ধ্বে পরম অমুখাপেক্ষী। তিনি প্রবৃত্তির মূর্তিসমূহের ভিড় পছন্দ করেন না।

সত্য স্বরূপ আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন ও আত্মমর্যাদাবান (গয়ূর); তিনি তাঁর মুমিন বান্দার ব্যাপারে এটি অপছন্দ করেন যে তার অন্তরে তিনি ছাড়া অন্য কেউ বাস করুক।

--------------------------------------------

(১) আল-বায়হাকী 'আদ-দালাইল' (২/৫২৪ - ৫২৫) গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিশাম 'আস-সিরাহ' (২/১৪৬ - ১৪৭) গ্রন্থে কোনো সনদ ছাড়াই এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১৮/১২২) দেখুন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই হাদিসটি ইসরাঈলী বর্ণনাভুক্ত।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬৪)
وأن يكون فيه شيء لا يرضاه.

أردناكموا صِرْفًا فلما مَزَجْتُم … بعُدْتُم بمقدار التفاتكموا عنَّا

وقلنا لكم لا تُسْكِنُوا غَيْرَنَا … فأسْكَنْتُمُوا الأغيار ما أنتموا مِنَّا

***
এবং তাতে এমন কিছু থাকা যা তিনি পছন্দ করেন না।

আমরা তোমাদের কেবল বিশুদ্ধরূপে চেয়েছিলাম, কিন্তু যখন তোমরা মিশ্রণ ঘটালে … তখন তোমরা আমাদের থেকে বিমুখ হওয়ার সমপরিমাণে দূরে সরে গেলে।

আর আমরা তোমাদের বলেছিলাম আমাদের ব্যতীত অন্য কাউকে স্থান দিও না … কিন্তু তোমরা পরদের স্থান দিলে, তোমরা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নও।

***
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌النجاة لا تكون إلا لصاحب القلب السليم

لا ينجو غدًا إلا من لقي الله بقلب سليم، ليس فيه سواه؛ قال الله -تعالى-: {يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ * إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} [الشعراء: 88 - 90].

القلب السليم هو الطاهر من أدناس المخالفات، فأما المتلطخ بشيء من المكروهات فلا يصلح لمجاورة حضرة (القدوس) (*) إلا بعد أن يطهر في كير العذاب، فإذا زال منه الخبث صلح حينئذٍ للمجاورة، إن الله طيب لا يقبل إلا طيبًا.

فأما القلوب الطيبة فتصلح للمجاورة من أول الأمر: {سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ} [الزمر: 73] {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ} [النحل: 32].

ومن لم يُحرق اليوم قلبَه بنار الأسف عَلَى ما سلف، أو بنار الشوق إِلَى لقاء الحبيب، فنار جهنم له أشد حرًا.

ما يحتاج إِلَى التطهير بنار جهنم إلا من لم يُكمل تحقيق التوحيد والقيام بحقوقه.

…

--------------------------------------------

(*) القدس: "نسخة".
মুক্তি কেবল সুস্থ হৃদয়ের অধিকারীর জন্যই

আগামীকাল (কিয়ামতে) কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পাবে, যে আল্লাহর সাথে এমন এক সুস্থ হৃদয়ে সাক্ষাৎ করবে, যাতে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে সুস্থ হৃদয় নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।" [শুআরা: ৮৮-৯০]।

সুস্থ হৃদয় হলো তা, যা অবাধ্যতার কলুষতা থেকে পবিত্র। পক্ষান্তরে, যা কোনো অপছন্দনীয় কাজের দ্বারা লিপ্ত হয়েছে, তা শাস্তির হাপরে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত পবিত্র সত্তার (আল-কুদ্দুস) (*) সান্নিধ্য লাভের যোগ্য হবে না। অতঃপর যখন তা থেকে অপবিত্রতা দূর হবে, তখন সে সান্নিধ্যের উপযুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।

আর পবিত্র হৃদয়সমূহ শুরু থেকেই সান্নিধ্যের উপযুক্ত হয়: "তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা পবিত্র হয়েছ, সুতরাং তোমরা জান্নাতে চিরস্থায়ীভাবে প্রবেশ করো।" [যুমার: ৭৩]। "যাদের মৃত্যু ঘটিয়ে ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় পায়, তারা বলে: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো।" [নাহল: ৩২]।

আর যে ব্যক্তি আজ (দুনিয়াতে) অতীতের কর্মের জন্য অনুশোচনার আগুনে অথবা প্রিয়তমের (আল্লাহর) সাথে সাক্ষাতের আকুলতায় নিজ হৃদয়কে দগ্ধ করেনি, জাহান্নামের আগুন তার জন্য অধিকতর উত্তপ্ত হবে।

জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে পবিত্র করার প্রয়োজন কেবল তারই হবে, যে তাওহীদকে পূর্ণরূপে উপলব্ধি করেনি এবং এর হকসমূহ যথাযথভাবে পালন করেনি।

…

--------------------------------------------

(*) আল-কুদস: "একটি পাঠান্তর"।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌احذروا الرياء

أول من تُسعر به النار من الموحدين العباد المراءون بأعمالهم؛ أولهم العالم والمجاهد والمتصدق للرياء (1)؛ لأنّ يسير الرياء شرك.

ما ينظر المرائي إِلَى الخلق في عمله إلا لجهله بعظمة الخالق.

المرائي يُزوِّر التواقيع عَلَى اسم الملك ليأخذ البراطيل (2) لنفسه، ويوهم أنَّه من خاصة الملك، وهو ما يعرف الملك بالكلية.

نقش المرائي عَلَى الدرهم الزائف اسم الملك ليروج، والبهرج (3) ما يجوز إلا عَلَى غير الناقد.

وبعد أهل الرياء يدخل النار أصحاب الشهوات وعبيد الهوى، الذين أطاعوا هواهم، وعصوا مولاهم، فأما عبيد الله حقًّا، فيقال لهم: {يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ * ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً * فَادْخُلِي فِي عِبَادِي * وَادْخُلِي جَنَّتِي} [الفجر: 27 - 30].

نار جهنم تنطفئ بنور إيمان الموحدين.

في الحديث: "تقول النار للمؤمن: (جُزْ) (4)، فقد أطفأ نورك

--------------------------------------------

(1) يشير إِلَى الحديث الَّذِي رواه مسلم برقم (1905) من حديث أبي هريرة.

(2) البراطيل: جمع برطيل بكسر الباء، وهو الرشوة، ويقال في المثل: البراطيل تنصر الأباطيل. كأنه مأخوذ من البرطيل الَّذِي هو المعول؛ لأنه يستخرج به ما استتر.

وفتح الباء عاميُّ - المصباح المنير (ص 42).

(3) البهرج: مثل جعفر. الرديء من الشيء … ودرهمٌ بَهْرَجٌ: رديء الفضة. وبُهْرِجَ الشيء -بالبناء للمفعول-: أخذ به عَلَى غير الطريق - المصباح المنير (ص 64).

(4) كذا وقع في الأصول المخطوطة، وفي جميع النسخ المطبوعة ومصادر التخريج [جُز يا مؤمن].
লোকদেখানো আমল বা রিয়া হতে সতর্ক থাকুন

একত্ববাদী ইবাদতকারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাদের দ্বারা জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে, তারা হলো সেই সব লোক যারা তাদের আমলের মাধ্যমে রিয়া বা লোকদেখানো কাজ করত। তাদের মধ্যে প্রথম হলো লোকদেখানোর জন্য আমলকারী আলেম, মুজাহিদ এবং দানবীর (১); কারণ সামান্য রিয়াও শিরক।

রিয়াকারী ব্যক্তি তার আমলের ক্ষেত্রে সৃষ্টির দিকে কেবল এজন্যই তাকায় কারণ সে স্রষ্টার মহান মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ।

রিয়াকারী ব্যক্তি নিজের জন্য উৎকোচ বা ঘুষ (২) গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে বাদশাহর নামে জাল স্বাক্ষর তৈরি করে এবং এমন ধারণা দেয় যে সে বাদশাহর বিশেষ ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ সে বাদশাহকে একেবারেই চেনে না।

রিয়াকারী ব্যক্তি জাল দিরহামের ওপর বাদশাহর নাম খোদাই করে যাতে তা বাজারে চলে, আর অচল মুদ্রা (৩) কেবল সেই ব্যক্তির কাছেই পার পায় যে মুদ্রার যাচাইকারী নয়।

লোকদেখানো আমলকারীদের পর জাহান্নামে প্রবেশ করবে কুপ্রবৃত্তির অনুসারী ও লালসার দাসরা, যারা তাদের খেয়ালখুশির আনুগত্য করেছে এবং তাদের মহান রবের অবাধ্য হয়েছে। আর যারা আল্লাহর প্রকৃত বান্দা, তাদের উদ্দেশ্যে বলা হবে: {হে প্রশান্ত আত্মা! * তুমি তোমার রবের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। * অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও * এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো} [আল-ফজর: ২৭-৩০]।

জাহান্নামের আগুন একত্ববাদীদের ঈমানের আলোতে নিভে যায়।

হাদীসে এসেছে: “আগুন মুমিনকে বলবে: (অতিক্রম করো) (৪), তোমার নূর আমার আগুনকে নিভিয়ে দিয়েছে।”

--------------------------------------------

(১) এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মুসলিম শরীফের ১৯০৫ নম্বর হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করে।

(২) আল-বারাতিল: এটি বুরতিল শব্দের বহুবচন (বা-বর্ণে কাসরাহ যোগে), যার অর্থ হলো ঘুষ বা উৎকোচ। প্রবাদে বলা হয়: ঘুষ বাতিলকে সাহায্য করে। এটি সম্ভবত বুরতিল শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ কুড়ুল; কারণ এর মাধ্যমে লুকানো জিনিস বের করা হয়। বা-বর্ণে ফাতহাহ দিয়ে উচ্চারণ করা আঞ্চলিক ভাষা - আল-মিসবাহুল মুনীর (পৃ. ৪২)।

(৩) আল-বাহরাজ: জা’ফার এর ওজনে। কোনো বস্তুর নিকৃষ্ট অংশ... আর দিরহামুন বাহরাজুন: নিকৃষ্ট রূপার মুদ্রা। কোনো কিছুকে বাহরাজ করা—কর্মবাচ্যে: সঠিক পথ ছাড়া অন্য পথে পরিচালিত হওয়া - আল-মিসবাহুল মুনীর (পৃ. ৬৪)।

(৪) পাণ্ডুলিপির মূল কপিগুলোতে এবং সকল মুদ্রিত সংস্করণ ও তথ্যসূত্রে এভাবেই এসেছে [হে মুমিন, অতিক্রম করো]।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬৭)
لهبي! " (1).

وفي "المسند" (2) عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم: "لَا يَبْقَى (بَرٌّ) (*) وَلَا فَاجِرٌ إِلَّا دَخَلَهَا، فَتَكُونُ عَلَى الْمُؤْمِنِ بَرْدًا وَسَلَامًا، كَمَا كَانَتْ عَلَى إِبْرَاهِيمَ حَتَّى إِنَّ لِلنَّارِ ضَجِيجًا مِنْ بَرْدِهِمْ".

هذا ميراث ورثه المحبون من حال الخليل عليه السلام.

نار المحبة في قلوب المحبين تخاف منها نار جهنم.

قال الجنيد: قالت النار: يا رب لو لم أطعك هل كنت تعذبني بشيء هو أشد مني؟ قال: نعم كنت أسلط عليك ناري الكبرى. قالت: وهل هناك نار أعظم مني وأشد؟! قال: نار محبتي أسكنها قلوب أوليائي المؤمنين.

قفا قليلاً بها عَلَيَّ فلا … أقلَّ من نظرة أرددها

ففي فؤاد المحبِّ نارُ جويّ … أحرُّ نار الجحيم أبردُها

لولا دموع المحبين تطفئ بعض … حرارة الوجد لاحترقوا كمدًا

دعوه يطفي بالدموع حرارة … عَلَى كبدٍ حرِّي دعوه دعُواه

سلوا عاذليه يعذروه هنيهة … فبالعذل دون الشوق قد قتلوه

كان بعض العارفين، يقول: أليس عجبًا أن كون حيًّا بين أظهركم، وفي

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن عدي في الكامل (6/ 394)، والطبراني في الكبير (22/ 668)، وأبو نعيم في الحلية (9/ 329)، والخطيب في تاريخ بغداد (9/ 232) من طرق عن بشير بن طلحة عن خالد بن دريك عن يعلي بن منية مرفرعًا.

قلت: وهذا الطريق فيه علتان، إحداهما: ضعف بشير بن طلحة، والثانية: الانقطاع بين خالد بن دريك ويعلي بن منية.

وقد أخرجه البيهقي في الشعب (469 - سلفية) من طريق سليم بن منصور بن عمار حدثني أبي عن الهقل بن زياد عن خالد بن دريك عن بشير، وهو منكر.

قلت: وقد حدث قلب في هذا السند؛ لأن خالدًا شيخ بشير لا تلميذه.

(2) (3/ 328، 329).

(*) مؤمن: "نسخة".
আগুনের শিখা!" (১)।

এবং "মুসনাদ"-এ (২) জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোনো পুণ্যবান (*) বা পাপিষ্ঠই বাকি থাকবে না যে তাতে (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে না; অতঃপর তা মুমিনের জন্য শীতল ও প্রশান্তিদায়ক হয়ে যাবে, যেমনটি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য হয়েছিল, এমনকি মুমিনদের শীতলতার কারণে জাহান্নামের আগুন চিৎকার করতে থাকবে।"

এটি এমন এক উত্তরাধিকার যা প্রেমাসক্তরা খলিল (আলাইহিস সালাম)-এর অবস্থা থেকে লাভ করেছেন।

প্রেমাসক্তদের হৃদয়ে বিদ্যমান ভালোবাসার আগুনকে জাহান্নামের আগুনও ভয় পায়।

জুনাইদ (রহ.) বলেন: জাহান্নামের আগুন বলেছিল, "হে রব! আমি যদি আপনার অবাধ্য হতাম, তবে কি আপনি আমাকে এমন কিছু দ্বারা শাস্তি দিতেন যা আমার চেয়েও তীব্র?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আমি তোমার ওপর আমার মহা-অগ্নিকে চাপিয়ে দিতাম।" আগুন বলল, "আমার চেয়েও বড় ও তীব্র কোনো আগুন কি আছে?" তিনি বললেন, "আমার ভালোবাসার আগুন, যা আমি আমার মুমিন বন্ধুদের হৃদয়ে স্থাপন করেছি।"

তোমরা আমার নিকট সামান্য থামো... … অন্তত একটি দৃষ্টি তো ফিরে দেখার সুযোগ দাও।

প্রেমাসক্তের হৃদয়ে বিরহের এমন এক আগুন রয়েছে... … যার তুলনায় জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনও শীতলতম মনে হয়।

যদি প্রেমাসক্তদের অশ্রু তাদের অনুরাগের উত্তাপ কিছুটা … নির্বাপিত না করত, তবে তারা দুঃখে দগ্ধ হয়ে যেত।

তাকে তার চোখের পানি দিয়ে কলিজার দহন শীতল করতে দাও … তাকে তার বিরহ-কাতর অবস্থায় ছেড়ে দাও।

তার তিরস্কারকারীদের বলো তাকে যেন সামান্য ছাড় দেয় … কারণ অনুরাগের দহনের আগেই তারা তাকে তিরস্কার দিয়ে মেরে ফেলেছে।

জনৈক আরিফ (আল্লাহভীরু জ্ঞানতাপস) বলতেন: এটি কি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, আমি তোমাদের মাঝে জীবিত রয়েছি, অথচ

--------------------------------------------

(১) ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে (৬/৩৯৪), তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে (২২/৬৬৮), আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে (৯/৩২৯) এবং খতিব 'তারিখে বাগদাদ' গ্রন্থে (৯/২৩২) বশির বিন তালহা সূত্রে খালিদ বিন দুরিইক থেকে, তিনি ইয়ালা বিন মুনইয়াহ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: এই সূত্রে দুটি ত্রুটি রয়েছে; প্রথমটি হলো: বশির বিন তালহার দুর্বলতা, আর দ্বিতীয়টি হলো: খালিদ বিন দুরিইক এবং ইয়ালা বিন মুনইয়াহ-এর মধ্যকার বিচ্ছিন্নতা।

বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে (৪৬৯ - সালাফিয়্যাহ সংস্করণ) সুলাইম বিন মানসুর বিন আম্মার সূত্রে বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন হিকাল বিন যিয়াদ থেকে, তিনি খালিদ বিন দুরিইক থেকে, তিনি বশির থেকে; আর এটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)।

আমি বলছি: এই সনদে তথ্য বিপর্যয় ঘটেছে; কারণ খালিদ হলেন বশিরের উস্তাদ, তাঁর ছাত্র নন।

(২) (৩/ ৩২৮, ৩২৯)।

(*) মুমিন: "অন্য পাণ্ডুলিপিতে"।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬৮)
قلبي من الاشتياق إِلَى ربي مثل شُعَلِ النار التي لا تنطفئ؟!

ولم أرَ مِثْل نارِ (المحبين) (*) نارًا … تزيدُ بُبُعد موقِدِها اتِّقادًا

ما للعارفين شغل بغير مولاهم، ولا همّ في غيره.

وفي الحديث: "من أصبح وهمه غير الله فليس من الله" (1).

قال بعضهم: من أخبرك أن الله وليه [و] (2) همه في غيره فلا تصدقه.

وكان داود الطائي يقول في الليل: همك عطّل عليّ الهموم، وحال بيني وبين السهاد، وشوقي إِلَى النظر إليك أوبق مني اللذات، وحال بيني وبين الشهوات، فأنا في سجنك أيها الكريم مطلوب.

ما لي شُغْلٌ سواه ما لي شُغلُ … ما يصرفُ قلبي عن هواه عذل

ما أصنع إن جَفَا وخَابَ الأملُ … مني بَدلٌ ومنه مالي بَدَلُ

إخواني: إذا فهمتم هذا المعنى فهمتم معنى قول النبي صلى الله عليه وسلم: "من شهد أن لا إله إلا الله (صدقًا) (**) من قلبه حرّمه الله عَلَى النار" (3).

…

--------------------------------------------

(*) الحب: "نسخة".

(1) أخرجه بهذا اللفظ ابن بشران في "الأمالي" (7/ 105/ 1)، (ج19/ 3/ 2) كما في الضعيفة للألباني برقم (311)، والحاكم (4/ 320) من طريق إسحاق بن بشر، ثنا مقاتل بن سليمان عن حماد عن إبراهيم عن عبد الرحمن بن يزيد عن ابن مسعود مرفوعًا.

ونقل العلامة الألباني رحمه الله قول ابن بشران: "هذا حديث غريب، تفرد به إسحاق بن بشر" وقال الذهبي في "التلخيص": "إسحاق ومقاتل ليسا بثقتين ولا صادقين".

وحكم عليه العلامة الألباني بالوضع؛ فراجعه في الضعيفة برقم (311).

(2) سقطت من الناسخ، وبها يستقيم المعنى.

(**) خالصًا: "نسخة".

(3) أخرجه البخاري (128).
আমার রবের প্রতি ব্যাকুলতায় আমার অন্তর যেন প্রজ্বলিত অগ্নিশিখার মতো যা কখনো নেভে না?!

আমি (প্রেমিকদের) অগ্নির মতো কোনো আগুন দেখিনি … যা এর প্রজ্বলনকারীর দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে আরও তীব্রভাবে জ্বলে ওঠে।

আরিফদের (আল্লাহর পরিচয় লাভকারীদের) কাছে তাদের মাওলা ছাড়া অন্য কোনো ব্যস্ততা নেই এবং তাঁকে ছাড়া অন্য বিষয়ে তাদের কোনো চিন্তাও নেই।

হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি এমনভাবে সকাল করল যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু তার চিন্তার বিষয় হলো, তবে আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই" (১)।

তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: যে তোমাকে সংবাদ দেয় যে আল্লাহ তার বন্ধু, অথচ তার চিন্তা-ফিকির অন্য কিছুতে মগ্ন, তাকে তুমি সত্যবাদী মনে করো না।

দাউদ আত-তাঈ রাতে বলতেন: আপনার চিন্তা আমার সকল দুশ্চিন্তাকে ভুলিয়ে দিয়েছে এবং আমার ও আমার অনিদ্রার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনার দিদারের প্রতি আমার ব্যাকুলতা আমার থেকে সকল স্বাদ কেড়ে নিয়েছে এবং আমার ও কুপ্রবৃত্তির মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব হে দয়াময়! আমি আপনার কারাগারে এক প্রার্থনাকারী।

তিনি ছাড়া আমার আর কোনো ব্যস্ততা নেই, আমার কোনো কাজ নেই … কোনো ভর্ৎসনাই আমার অন্তরকে তাঁর ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত করতে পারে না।

তিনি যদি বিমুখ হন এবং আশা ভঙ্গ হয় তবে আমি কী করব? … আমার বিকল্প মিলবে, কিন্তু তাঁর কোনো বিকল্প আমার নেই।

হে আমার ভাইয়েরা! তোমরা যদি এই অর্থ অনুধাবন করতে পারো, তবে তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মর্ম বুঝতে পারবে: "যে ব্যক্তি অন্তর থেকে (সত্যনিষ্ঠার সাথে) সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন" (৩)।

…

--------------------------------------------

(*) ভালোবাসা: "অন্য পাণ্ডুলিপিতে"।

(১) ইবনে বিশরান এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন ‘আল-আমালি’ গ্রন্থে (৭/১০৫/১), (খণ্ড ১৯/৩/২) যেমনটি আলবানী ‘আদ-দাঈফাহ’ গ্রন্থে (৩১১ নং) উল্লেখ করেছেন এবং হাকেম (৪/৩২০) ইসহাক বিন বিশর সূত্রে, তিনি মুকাতিল বিন সুলাইমান থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আল্লামা আলবানী রহ. ইবনে বিশরানের উক্তিটি নকল করেছেন: "এটি একটি বিরল হাদিস, যা কেবল ইসহাক বিন বিশর বর্ণনা করেছেন।" আয-যাহাবি ‘আত-তালখিস’ গ্রন্থে বলেছেন: "ইসহার ও মুকাতিল নির্ভরযোগ্যও নন, সত্যবাদীও নন।"

আল্লামা আলবানী এর ওপর জাল হওয়ার হুকুম দিয়েছেন; দেখুন আদ-দাঈফাহ (৩১১ নং)।

(২) এটি অনুলিপিকারীর ভুলবশত বাদ পড়েছে, এর মাধ্যমে অর্থ সঠিক হয়।

(**) একনিষ্ঠভাবে: "অন্য পাণ্ডুলিপিতে"।

(৩) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১২৮)।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌من صدق في قول لا إله إلا الله نجا من كربات يوم القيامة

فأما من دخل النار من أهل الكلمة، فلقلة صدقه في قولها، فإن هذه الكلمة إذا صدقت في قولها طهَّرت القلب من كل ما سوى الله، ومتى بقي في القلب أثر (لما سوى) (*) الله، فمن قلة (صدقه) (**) في قولها.

من صَدَق في قوله: لا إله إلا الله، لم يحبّ سواه، ولم يرج إلا إياه، ولم يخش أحدًا إلا الله، ولم يتوكل إلا عَلَى الله، ولم يبق له بقية من آثار نفسه وهواه.

ومع هذا فلا تظنوا أن المراد أن المحب مطالب بالعصمة، وإنَّما هو مطالب كلما زَلَّ أن يتلافى تلك الوصمة.

قال زيد بن أسلم: إن الله ليحبُّ العبد حتى يبلغ من حبه له أن يقول: اذهب فاعمل ما شئت فقد غفرت لك.

وقال الشعبي: إذا أَحَبّ الله عبدًا لم يضره (ذنب) ( … ).

وتفسير هذا الكلام أن الله عز وجل له عناية بمق يحبه من عباده، فكلما زلق ذلك العبد في هوة الهوى أخذ بيده إِلَى نجوة النجاة، ييسر له أسباب التوبة، وينبهه عَلَى قبح الزلة، فيفزع إِلَى الاعتذار، ويبتليه بمصائب مكفّرة لما جنى.

وفي بعض الآثار: يقول الله: "أهل ذكري أهل مجالستي، وأهل طاعتي

--------------------------------------------

(*) لسوى: "نسخة".

(**) الصدق: "نسخة".

( … ) ذنبه: "نسخة".
যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার ক্ষেত্রে সত্যবাদী হবে, সে কিয়ামত দিবসের ভয়াবহ বিপদসমূহ থেকে মুক্তি পাবে

আর এই কালিমার অনুসারীদের মধ্যে যারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তা মূলত এটি বলার ক্ষেত্রে তাদের সত্যবাদিতার অভাবের কারণে। কেননা, এই কালিমাটি যখন সত্যতার সাথে উচ্চারণ করা হয়, তখন তা অন্তরকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে পবিত্র করে দেয়। আর যতক্ষণ অন্তরে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর সামান্যতম প্রভাব অবশিষ্ট থাকে, তা মূলত এই কালিমা উচ্চারণের ক্ষেত্রে (আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য) সত্যবাদিতার অভাবেরই ফল।

যে ব্যক্তি তার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাণীতে সত্যবাদী হবে, সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসবে না, তিনি ব্যতীত অন্য কারও কাছে আশা রাখবে না, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবে না এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ওপর ভরসা করবে না। তার মধ্যে নফস ও খেয়াল-খুশির আর কোনো অবশিষ্টাংশ বাকি থাকবে না।

এতৎসত্ত্বেও আপনারা মনে করবেন না যে, এর অর্থ হলো প্রেমিকের জন্য নিষ্পাপ হওয়া জরুরি। বরং তার জন্য যা আবশ্যক তা হলো, যখনই সে পদস্খলিত হবে, তখনই যেন সেই কলঙ্ক মোচনের চেষ্টা করে।

যায়েদ ইবনে আসলাম বলেন: আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে এতটাই ভালোবাসেন যে, তার প্রতি তাঁর ভালোবাসার আধিক্য এই পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি বলেন: "যাও, তুমি যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।"

ইমাম শাবি বলেন: আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন কোনো গুনাহ তার ক্ষতি করতে পারে না ( … )।

এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা হলো যে, মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল। ফলে যখনই সেই বান্দা প্রবৃত্তির গহ্বরে পিছলে পড়ে, আল্লাহ তখন তার হাত ধরে মুক্তির পথে টেনে নেন; তিনি তার জন্য তাওবার উপকরণসমূহ সহজ করে দেন এবং তাকে তার পদস্খলনের কদর্যতা সম্পর্কে সচেতন করে দেন, ফলে সে ব্যাকুল হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ তাকে এমন সব বিপদ-আপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন যা তার কৃত অপরাধের কাফফারা বা মোচনকারী হয়ে যায়।

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: আল্লাহ বলেন: "যারা আমার জিকিরকারী তারা আমার মজলিসের সঙ্গী, আর যারা আমার অনুগত..."

--------------------------------------------

(*) আল্লাহ ব্যতীত কিছুর জন্য: "পাণ্ডুলিপি সংস্করণ"।

(**) সত্যবাদিতা: "পাণ্ডুলিপি সংস্করণ"।

( … ) তার গুনাহ: "পাণ্ডুলিপি সংস্করণ"।
(খণ্ড: ٣) কালিমাতুল ইখলাস ওয়া তাহকীকু মাআনাহা - দিমনু রাসায়িলি ইবনি রজব (পৃষ্ঠা: ৭০)
أهل كرامتي، وأهل مصيبتي لا أؤيسهم من رحمتي، إن تابوا فأنا حبيبهم، وإن لم يتوبوا فأنا طبيبهم، أبتليهم بالمصائب لأطهرهم من المعائب".

وفي "صحيح مسلم" (1) عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الحمى تذهب الخطايا كما يذهب الكير الخبث".

وفي "المسند" (2) و"صحيح ابن حبان" (3) عن عبد الله بن مغفل "أَنَّ رَجُلًا لَقِيَ امْرَأَةً كَانَتْ بَغِيًّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَجَعَلَ يُلَاعِبُهَا حَتَّى بَسَطَ يَدَهُ إِلَيْهَا، فَقَالَتِ: مَهْ (4) فَإِنَّ اللهَ أَذْهَبَ بِالشِّرْكِ وَجَاءَ بالإِسْلامِ! فَتَرَكَهَا وَوَلَّى، فَجَعَلَ يَلْتَفِتُ خَلْفَهُ وَيَنْظُرُ إِلَيْهَا حَتَّى أَصَابَ وَجْهُهُ حَائِطًا، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَالدَّمُ يَسِيلُ عَلَى وَجْهِهِ، فَأَخْبَرَهُ بِالْأَمْرِ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «أَنْتَ عَبْدٌ أَرَادَ اللَّهُ بِكَ خَيْرًا». ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ اللهَ إِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ خَيْرًا عَجَّلَ عُقُوبَتَهُ فِي الدُّنْيَا، وَإِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ شَرًّا أَمْسَكَ ذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ".

يا قوم، قلوبكم عَلَى أصل الطهارة، وإنَّما أصابها رشاش من نجاسة الذنوب، فرشوا عليها قليلاً من (ماء) (*) العيون، وقد طهرت.

اعزموا عَلَى فطام النفوس عن رضاع الهوى، فالحِمية رأس الدواء.

متى طالبتكم بمألوفاتها، فقولوا لها كما قالت تلك المرأة لذلك الرجل، الَّذِي دمي وجهه: قد أذهب الله الشرك وجاء بالإسلام، والإسلام يقتضي الاستسلام والانقياد للطاعة.

ذكِّروها مدحةَ {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا} [فصلت: 30] لعلها تَحِنَّ إِلَى الاستقامة.

--------------------------------------------

(1) برقم (2575).

(2) (4/ 87).

(3) برقم (2911 - إحسان).

وقال الهيثمي في المجمع (10/ 191): ورجال أحمد رجال الصحيح.

(4) اسكت واكفف.

(*) دمع: "نسخة".
"আমার সম্মানিত বান্দাগণ এবং বিপদে পতিত বান্দাগণকে আমি আমার রহমত হতে নিরাশ করি না। তারা যদি তাওবা করে তবে আমি তাদের বন্ধু, আর যদি তাওবা না করে তবে আমি তাদের চিকিৎসক। আমি তাদের বিপদ-আপদ দিয়ে পরীক্ষা করি যাতে তাদের দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র করতে পারি।"

এবং "সহীহ মুসলিম"-এ জাবির (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "জ্বর গুনাহসমূহকে সেভাবে দূরীভূত করে, যেভাবে হাঁপর লোহার ময়লা দূর করে।"

এবং "মুসনাদ" ও "সহীহ ইবনে হিব্বান"-এ আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) হতে বর্ণিত যে, "এক ব্যক্তি এমন এক মহিলার দেখা পেল যে জাহেলি যুগে ব্যভিচারিণী ছিল। সে তার সাথে খেল-তামাশা শুরু করল এবং তার দিকে নিজের হাত প্রসারিত করল। তখন মহিলাটি বলল: থামো! আল্লাহ তো শিরক দূর করে দিয়েছেন এবং ইসলাম নিয়ে এসেছেন! তখন লোকটি তাকে ছেড়ে ফিরে চলল এবং পিছন ফিরে তার দিকে তাকাতে তাকাতে তার মুখমণ্ডল একটি দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেল। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এমন অবস্থায় এল যে তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। সে তাঁকে বিষয়টি অবগত করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তুমি এমন এক বান্দা যার প্রতি আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন»। অতঃপর তিনি বললেন: «আল্লাহ যখন কোনো বান্দার প্রতি কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন দুনিয়াতেই তার শাস্তির ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করেন। আর যখন কোনো বান্দার প্রতি অকল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন তার গুনাহের শাস্তি আটকে রাখেন যেন কিয়ামতের দিন তা পূর্ণভাবে প্রদান করা যায়»।"

হে আমার জাতি! তোমাদের অন্তরসমূহ মূলগতভাবে পবিত্র ছিল, কিন্তু তাতে গুনাহের নাপাকির কিছু ছিটা লেগেছে। সুতরাং তার ওপর নয়ন-বারির সামান্য সিঞ্চন করো, তবেই তা পবিত্র হয়ে যাবে।

প্রবৃত্তির লালসা পান করা থেকে নফসকে ছাড়িয়ে নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করো, কেননা কুপ্রবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকাই হলো শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা।

যখনই নফস তোমাদের কাছে তার পরিচিত অভ্যাসগুলোর দাবি করবে, তখন তাকে সেটিই বলো যা সেই নারীটি সেই ব্যক্তিকে বলেছিল যার মুখ রক্তাক্ত হয়েছিল: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ শিরক দূর করেছেন এবং ইসলাম নিয়ে এসেছেন।' আর ইসলাম আনুগত্যের প্রতি আত্মসমর্পণ ও অনুগামিতা দাবি করে।

নফসকে এই প্রশংসাবাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দাও— {নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে} [সূরা ফুসসিলাত: ৩০], হতে পারে সে এই অবিচলতার প্রতি অনুরাগী হবে।

--------------------------------------------

(১) নং (২৫৭৫)।

(২) (৪/ ৮৭)।

(৩) নং (২৯১১ - ইহসান)। এবং মাজমাউয যাওয়ায়েদে হাইসামি (১০/ ১৯১) বলেন: আহমদের বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

(৪) চুপ করো এবং বিরত থাকো।

(*) অশ্রু: "একটি পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী"।