(খণ্ড: ১)
কায়িদাতুন ফী ইখরাজিল যাকাত আলাল ফাওর
(পৃষ্ঠা: -)
قاعدة في إخراج الزكاة على الفور القسم: مسائل فقهية
الكتاب: قاعدة في إخراج الزكاة على الفور [مطبوع ضمن مجموع رسائل الحافظ ابن رجب الحنبلي]
المؤلف: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (736 - 795 هـ)
دراسة وتحقيق: أبي مصعب طلعت بن فؤاد الحلواني
الناشر: الفاروق الحديثة للطباعة والنشر
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 7
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1433
অবিলম্বে যাকাত আদায় সংক্রান্ত একটি মূলনীতি বিভাগ: ফিকহী মাসআলা
গ্রন্থ: অবিলম্বে যাকাত আদায় সংক্রান্ত একটি মূলনীতি [হাফেজ (حافظ) ইবনে রজব আল-হাম্বলীর সংগৃহীত পত্রাবলীর অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত]
লেখক: যাইনুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: আবু মুসআব তালাত বিন ফুয়াদ আল-হুলওয়ানী
প্রকাশক: আল-ফারুক আল-হাদিসা লি-তিবাআতি ওয়ান-নাশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৩
(খণ্ড: ২)
কায়িদাতুন ফী ইখরাজিল যাকাত আলাল ফাওর
(পৃষ্ঠা: ৬০৯)
قاعدةٌ في إخراج الزكاة عَلَى الفور
যাকাত অবিলম্বে আদায় করার একটি মূলনীতি (قاعدة)
(খণ্ড: ২)
কায়িদাতুন ফী ইখরাজিল যাকাত আলাল ফাওর
(পৃষ্ঠা: ৬১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
ربِّ يسرّ يا كريم
الحمدُ لله رب العالمين، وصلى الله عَلَى سيدنا محمد وآله أجمعين وسلَّم تسليمًا. وبعد.
فهذا فصلٌ في وجوب إخراج الذكاة عَلَى الفور. قد صرَّح بذلك أصحابنا في كتبهم، وكلامُ الإمام أحمد يدلُّ عليه؛ قال في رواية (جعفر) (*) بن محمد: إذا وجبت الزكاةُ لا يخرجها إلا جملة، لا يُفرِّط. وقال في رواية ابن هانئ وصالح، وسُئل أتؤخر الزكاة؟ قال: لا. قال في رواية أبي داود: لا يؤخرها عن محلها.
وقال بكرُ بن محمد: سُئل أبو عبد الله عن رجل يكون وقت زكاته، فيُخرج فيُعطي قليلاً قليلاً: فكأنه كره إذا حلَّت عليه إلا أن يُقدمها. قال: ما يأمن الحدثان (**). قال: ولكن يُخرج قليلاً قليلاً قبل أنْ تحل، فَإِذَا حلَّت تعيَّن تخريجُها.
وقال الأثرم: سُئل أبو عبد الله عن رجل يحول الحولُ عَلَى ماله، فيُؤخّر عن وقت الزكاة. قال: ولم يؤخر، يُخرجها إذا حال الحولُ. وشدَّد في ذلك. قِيلَ لَهُ: فإن حال الحولُ فابتدأ في إخراجها. فجعل يُخرج أولاً فأولاً.
قال: لا يحل، يخرجها كلَّها إذا حال عليه الحول. وشدَّد في ذلك.
وقال رواية ابن منصور وصالح، وسُئل عن قول سُفيان الثوري: إذا وجبت عليه الزكاة فجعلها في كيس، فجعل يُعطي قليلاً قليلاً يرعى الموضع.
قال: لا بأس إذا كان لا يجد، فَإِذَا وجد لأنّ يفرغ منه أَحَبّ إلي. قال: أحمد: جيد. وهذه الرواية قد تُشعر بعدم التحريم.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে দাতা প্রভু! সহজ করে দিন।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর শান্তি ও অজস্র রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর—
এটি অবিলম্বে জাকাত প্রদানের আবশ্যকতা (وجوب) বিষয়ক একটি পরিচ্ছেদ। আমাদের (মাযহাবের) আলেমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমদের বক্তব্যও এরই প্রমাণ দেয়। তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদের বর্ণনায় (رواية) বলেছেন: "যখন জাকাত ওয়াজিব (واجب) হবে, তখন তা একত্রে ব্যতীত বের করবে না, এতে কোনো অবহেলা করবে না।" ইবনে হানি ও সালেহের বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেছেন—তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: জাকাত কি বিলম্বিত করা যাবে? তিনি বললেন: "না।" আবু দাউদের বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেছেন: "জাকাত তার সময় থেকে বিলম্বিত করবে না।"
বকর ইবনে মুহাম্মদ বলেন: আবু আবদুল্লাহকে (ইমাম আহমদ) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যার জাকাতের সময় উপস্থিত হয়েছে, অতঃপর সে তা বের করছে এবং অল্প অল্প করে প্রদান করছে। ইমাম একে অপছন্দ করলেন যে জাকাত আবশ্যক হয়ে যাওয়ার পর তা আদায়ে বিলম্ব করবে, কেবল যদি আগে থেকেই অগ্রিম প্রদান করে থাকে (তবে ভিন্ন কথা)। তিনি বললেন: "বিপদ-আপদ বা মৃত্যু (حدثان) কখন আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।" তিনি আরও বলেন: "তবে সময় হওয়ার পূর্বে অল্প অল্প করে বের করতে পারে; কিন্তু যখন সময় হয়ে যাবে, তখন তা প্রদান করা নির্ধারিত (تعيَّن) হয়ে যাবে।"
আল-আছরাম বলেন: আবু আবদুল্লাহকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যার সম্পদের ওপর বছর পূর্ণ (حول) হয়েছে, অথচ সে জাকাতের সময় থেকে বিলম্ব করছে। তিনি বললেন: "কেন বিলম্ব করবে? বছর পূর্ণ (حول) হলেই সে তা বের করবে।" তিনি এ বিষয়ে কঠোরতা পোষণ করলেন। তাঁকে বলা হলো: যদি বছর পূর্ণ (حول) হয় এবং সে তা বের করা শুরু করে, অতঃপর ক্রমান্বয়ে একের পর এক প্রদান করতে থাকে?
তিনি বললেন: "তা বৈধ (حلال) নয়; বছর পূর্ণ (حول) হলে সে তার পুরোটা বের করে দিবে।" তিনি এ বিষয়ে কঠোরতা করলেন।
ইবনে মনসুর ও সালেহের বর্ণনায় (رواية) রয়েছে যে, সুফিয়ান সাওরির একটি উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "যখন কারও ওপর জাকাত ওয়াজিব (واجب) হয় এবং সে তা একটি থলেতে রেখে দেয়, অতঃপর হকদারদের অবস্থা বিবেচনা করে অল্প অল্প করে দিতে থাকে?"
তিনি বললেন: "যদি উপযুক্ত পাত্র না পায় তবে সমস্যা নেই; কিন্তু যখন পেয়ে যাবে তখন তা থেকে দায়িত্বমুক্ত হওয়া আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।" আহমদ (ইমাম) বললেন: "এটি উত্তম।" আর এই বর্ণনাটি (رواية) নিষিদ্ধ না হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
কায়িদাতুন ফী ইখরাজিল যাকাত আলাল ফাওর
(পৃষ্ঠা: ৬১২)
وقال في رواية العبَّاس بن محمد الخلال، في الرجل يؤخِّر الزكاة حتى تأتي عليها سنين، ثُم يُزكي: نخافُ عليه الإثم في تأخيره. وقال في رواية يعقوب ابن بُختان، في رجل عليه زكاة عام لم يُعطه، وأعطى زكاة عام قابل. قال: جائز، ولكن يُعطي الماضي. وهذا يُشعر بعدم التحريم أيضًا.
ونقل عنه يعقوب بن بُختان أيضاً، في الرجل تجب عليه الزكاة، وله قرابةٌ وقوم قد كان عوَّدهم، فيعطيهم وهم عنه غُيَّبٌ، يدفعها إليهم؟ قال: ما أَحَبّ أن يؤخرها إلا أن لا يجد مثلهم في الحاجة.
فهذا نصٌّ جواز التأخير لمن لا يجد مثلهم في الحاجة.
وقد نصٌّ في مواضع أُخر، عَلَى أنّه لا يؤخّرها بعد الحول ليُجريها عَلَى أقاربه، {نقله عنه جماعة} (1) منهم: محمد بن يحيى الكحَّال (2)، والحسن بن محمد، والفضل بن زياد.
ونقل عنه إسحاقُ بن هانئ وعبد الله {و} (1) أبو مسعود الأصبهاني وأبو طالب، وسندي وغيرهم الجواز.
وفي رواية عبد الله: أنَّه يجوز ذلك تعجيلاً للزكاة.
فحمل أبو بكر عبد العزيز المنعَ والجواز عَلَى اختلاف حالين، لا عَلَى اختلاف قولين: المنعُ، عَلَى تأخيرها ليُجريها عليهم بعد الحول. والجواز، عَلَى إجرائها عليهم قبل الحول.
وهذا التفصيلُ قد نقله الحسنُ بن محمد، عن أحمد. وخالف صاحبُ المحرَّر أبا بكر في ذلك. وقال: ظاهرهُ الجواز مطلقًا، وأخذ منه جوار تأخير
--------------------------------------------
আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল-খাল্লাল-এর বর্ণনায় (رواية) তিনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে যাকাত আদায়ে বিলম্ব করে এমনকি কয়েক বছর অতিবাহিত হয়ে যায়, অতঃপর সে যাকাত প্রদান করে: আমরা তার এই বিলম্ব করার কারণে তার জন্য পাপের আশঙ্কা করি। এবং ইয়াকুব ইবনে বুখতানের বর্ণনায় (رواية) তিনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যার ওপর এক বছরের যাকাত ওয়াজিব হয়েছিল কিন্তু সে তা দেয়নি, বরং পরবর্তী বছরের যাকাত দিয়েছে। তিনি বলেন: এটি বৈধ (جائز), তবে তাকে বিগত বছরেরটিও দিতে হবে। আর এটি (হারাম না হওয়ার) নিষিদ্ধ না হওয়ারও ইঙ্গিত প্রদান করে।
ইয়াকুব ইবনে বুখতান তার থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তির ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়েছে, এবং তার এমন কিছু নিকটাত্মীয় ও লোক রয়েছে যাদের সে যাকাত দিতে অভ্যস্ত ছিল, কিন্তু তারা বর্তমানে অনুপস্থিত; সে কি তাদের জন্য তা জমা রাখবে? তিনি বললেন: আমি এটি বিলম্ব করা পছন্দ করি না, তবে যদি তাদের মতো অভাবী অন্য কাউকে না পাওয়া যায় (তবে তা ভিন্ন কথা)।
এটি ঐ ব্যক্তির জন্য বিলম্ব করার বৈধতার (جواز) পক্ষে একটি সুস্পষ্ট টেক্সট (نص), যে তাদের মতো অভাবী কাউকে পায় না।
তিনি অন্যান্য স্থানেও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা (نص) করেছেন যে, বছর পূর্ণ হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাকাত আদায়ে বিলম্ব করা যাবে না। {একদল (جماعة) রাবী তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন} (১) যাদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কাহহাল (২), হাসান ইবনে মুহাম্মদ এবং ফাদল ইবনে যিয়াদ।
আর ইসহাক ইবনে হানি, আবদুল্লাহ, {এবং} (১) আবু মাসউদ আল-আসবাহানি, আবু তালিব, সিন্দী ও অন্যান্যরা তার থেকে বৈধতার (الجواز) বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।
এবং আবদুল্লাহর বর্ণনায় (رواية) আছে যে: যাকাত অগ্রিম প্রদানের ক্ষেত্রে এটি বৈধ (يجوز)।
আবু বকর আব্দুল আজিজ এই নিষেধাজ্ঞা ও বৈধতাকে (الجواز) দুটি ভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করেছেন, দুটি ভিন্ন মত হিসেবে নয়: নিষেধাজ্ঞাটি হলো—বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আত্মীয়দের দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেরি করার ক্ষেত্রে। আর বৈধতা (الجواز) হলো—বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই তাদের মাঝে তা বণ্টন করার ক্ষেত্রে।
এই বিস্তারিত বিবরণটি হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আল-মুহাররার গ্রন্থের লেখক এ বিষয়ে আবু বকরের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন: এর বাহ্যিক অর্থ হলো নিঃশর্তভাবে বৈধতা (الجواز), এবং তিনি এখান থেকে বিলম্বে যাকাত প্রদানের বৈধতা গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
কায়িদাতুন ফী ইখরাজিল যাকাত আলাল ফাওর
(পৃষ্ঠা: ৬১৩)
الزكاة للقرابةولكن لأحمد نصوصٌ أُخر تدل {عَلَى} (1) كراهة إجرائها عليهم شيئًا فشيئًا قبل الحول. معللاً بأنّه يخص بزكاته {قرابته} (2) دون غيرهم ممن هو أحوج منهم وقال لا يُعجبني، فإن كانوا مع غيرهم سواء في الحاجة فلا بأس نقله عنه جعفرُ بن محمد.
وكذا نقل عنه أبو داود إذا كان غيرُهم أحوج، وإنَّما يريد أن يُغنيهم ويدع غيرهم، فلا فإن استووا في الحاجة فهم أولى.
ونقل عنه أيضًا إذا كان له قرابةٌ يجري عليهم، أيعطيهم من الزكاة؟ قال إِن كان {عدَّها} (3) من عياله، فلا قيل إنَّما يُجري عليها شيئًا معلومًا كلَّ شهر قال إذا كفاها ذلك قيل لا يكفيها فلم يُرخِّص له أن يُعطيها من الزكاة ثم قال لا يُوقى بالزكاة {مال} (4) قال ومعنى هذا إِن كان عوَّدها الإجراء عليها من غير الزكاة قال لا توقى بالزكاة فقد وقى به ماله ولم يذكر الخلال ولا أبو بكر آخر الرواية فأشكل فقهها من كلامها ومما يتفرَّع علي جواز تأخير أداء الزكاة أنَّه يجوز أن يُتحرَّى. بها شيء معين تُضاعف فيه الصدقة.
فمن قال: إنّه يجوز تأخيرها لمن لا يجد مثلهم في الحاجة لم يبعُد عَلَى قوله أن يجوز تأخيرُها لشهر يفضُل فيه الصدقة أيضًا وقد يتخرَّج عَلَى ذلك أنه يجوز نقل الزكاة إِلَى بلدٍ بعيد لقرابة فقراء حاجتُهم شديدة.
وقد توقف أحمدُ في هذه الصورة في رواية الأثرم وقال لا أدري ومسائل التوقف تُخرَّج عَلَى وجهين غالبًا.
--------------------------------------------
আত্মীয়-স্বজনের জন্য জাকাততবে ইমাম আহমাদের আরও কিছু বক্তব্য রয়েছে যা বর্ষপূর্তির পূর্বে তাদের ওপর ধীরে ধীরে জাকাত প্রদান করা অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার প্রমাণ দেয়। তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এর মাধ্যমে দাতা তার জাকাতকে তার আত্মীয়-স্বজনের জন্য নির্দিষ্ট করে ফেলে অন্যদের বাদ দিয়ে যারা তাদের চেয়ে বেশি অভাবী। তিনি বলেছেন, "এটি আমার নিকট পছন্দনীয় নয়।" তবে যদি অভাবের ক্ষেত্রে তারা ও অন্যরা সমান হয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই; জাফর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে আবু দাউদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যদি অন্য কেউ তাদের চেয়ে বেশি অভাবী হয় এবং দাতা কেবল নিজের আত্মীয়দের অভাবমুক্ত করতে চায় ও অন্যদের বর্জন করতে চায়, তবে তা করা যাবে না। কিন্তু যদি তারা অভাবের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে আত্মীয়রাই অধিক হকদার।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কারো এমন আত্মীয় থাকে যাদের তিনি নিয়মিত অর্থ প্রদান করেন, তবে তিনি কি তাদের জাকাত থেকে দিতে পারেন? তিনি বললেন, "যদি তিনি তাদের নিজ পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করেন, তবে না।" প্রশ্ন করা হলো, "তিনি তো কেবল প্রতি মাসে তাদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু অর্থ প্রদান করেন?" তিনি বললেন, "যদি তা তাদের জন্য যথেষ্ট হয় (তবে জাকাত দেওয়া যাবে না)।" বলা হলো, "তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।" তবুও তিনি তাকে জাকাত থেকে দেওয়ার অনুমতি দেননি। অতঃপর তিনি বললেন, "জাকাত দ্বারা সম্পদ রক্ষা করা যাবে না।" তিনি বলেন, এর অর্থ হলো, যদি তিনি জাকাত ছাড়া অন্য উৎস থেকে তাদের অর্থ প্রদানে অভ্যস্ত থাকেন, তবে জাকাত দ্বারা তা রক্ষা করা যাবে না; কারণ সে ক্ষেত্রে তিনি জাকাত প্রদানের মাধ্যমে প্রকারান্তরে নিজের সম্পদই রক্ষা করলেন। আল-খাল্লাল বা আবু বকর বর্ণনার (رواية) শেষাংশ উল্লেখ করেননি, ফলে তাঁর বক্তব্য থেকে এর ফিকহী অর্থ অনুধাবনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। জাকাত আদায়ে বিলম্ব করা জায়েজ হওয়ার মাসআলা থেকে এটিও উদ্ভূত হয় যে, জাকাতের জন্য বিশেষ কোনো ক্ষেত্র বা সময় অনুসন্ধান করা জায়েজ যাতে সদকার সওয়াব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।
যাঁরা মনে করেন যে, সমতুল্য অভাবী না পাওয়া গেলে জাকাত আদায়ে বিলম্ব করা জায়েজ, তাঁদের মতানুসারে এমন কোনো মাস পর্যন্ত বিলম্ব করাও অবান্তর নয় যাতে সদকা অধিক ফজিলতপূর্ণ হয়। এর ওপর ভিত্তি করে এটিও প্রতিপন্ন হতে পারে যে, দূরবর্তী কোনো শহরে অত্যন্ত অভাবী আত্মীয়দের নিকট জাকাত স্থানান্তর করা জায়েজ।
ইমাম আহমাদ আল-আছরামের বর্ণনায় (رواية) এই সুরত বা অবস্থার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত প্রদানে বিরত থেকেছেন (توقف) এবং বলেছেন, "আমি জানি না"। আর সিদ্ধান্ত প্রদানে বিরত থাকার (توقف) মাসআলাগুলো সাধারণত দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
কায়িদাতুন ফী ইখরাজিল যাকাত আলাল ফাওর
(পৃষ্ঠা: ৬১৪)
وأجازه النخعي لذي القرابة خاصة، وأجازه مالك في النقل إِلَى المدينة خاصة والنقلُ فيه تأخيرُ الإخراج؛ فكما يؤخّر الأداء إِلَى الوصول إِلَى مكانٍ فاضل، تفضل فيه أبوابُ النفقة؛ فكذلك تُوخِّر إِلَى زمان فاضل تفضل فيه الصدقة.
بل التأخير إِلَى الزمان أولى؛ لأنّه ليس فيه عدولٌ عن فُقراء بلد الصدقة، ولا نقلٌ لها عن غيرهم.
وقد استشكل أحمدُ قولَ عُثمان: هذا شهرُ زكاتكم.
قال إبراهيم بنُ الحارث: سُئل أحمد عن قول عثمان: هذا شهر زكاتكم.
قال: ما فُسِّر أي وجه هو. قيل: فليس يُعرف وجهه؟ قال: لا.
قال الأثرم: قلتُ لأبي عبد الله: حديثُ عثمان: هذا شهر زكاتكم. ما وجهه؟ قال: لا أدري.
وأما {حديثُ} (1) عثمان: فحدَّثنا به من قال: ثنا ابنُ المبارك، ثنا معمر، عن الزهري، عن السائب بن يزيد، قال: سمعتُ عثمان، يقول: "هذا شهرُ زكاتكم" (2). يعني: رمضان.
قال القاضي أبو يعلى: لقد نُقل عن السائب بن يزيد، أنَّه قال ذلك في شهر رمضان. ونُقل عنه أنّه قال ذلك في المحرَّم.
قلتُ: قوله: يعني رمضان. ليس هو من قول السائب، بل من قول من بعده من الرُّواة.
وحمل القاضي هذا الحديث: عَلَى أنَّ الإمام يبعثُ سُعَاته في أوَّل السنة، وهو أول المحرَّم. فمن كان حال حولُه أخذ منه زكاته، ومن تبرَّع بأداء زكاة لم تجب عليه قُبل منه، ومن قال: لم يحل حولي أخَّره.
--------------------------------------------
এবং আন-নাখায়ি এটি বিশেষভাবে আত্মীয়-স্বজনের ক্ষেত্রে জায়েজ বলেছেন। আর ইমাম মালিক বিশেষভাবে মদিনায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে তা জায়েজ বলেছেন। আর স্থানান্তরের মধ্যে আদায় করতে বিলম্ব হওয়া নিহিত রয়েছে; সুতরাং যেভাবে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত আদায় বিলম্বিত করা হয়, যেখানে ব্যয়ের খাতসমূহ শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে; ঠিক তেমনিভাবে একটি মর্যাদাপূর্ণ সময় পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা যেতে পারে যেখানে সদকা প্রদান শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।
বরং সময়ের জন্য বিলম্ব করা অধিক উত্তম; কারণ এতে সদকার শহরের দরিদ্রদের থেকে বিমুখ হওয়া হয় না এবং অন্যদের কাছে তা স্থানান্তর করাও হয় না।
আর ইমাম আহমদ উসমানের (রা.) এই উক্তিটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যে: "এটি তোমাদের জাকাত প্রদানের মাস।"
ইব্রাহিম বিন আল-হারিস বলেন: আহমদকে উসমানের (রা.) এই কথা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "এটি তোমাদের জাকাত প্রদানের মাস।"
তিনি বললেন: এর কোন দিকটি উদ্দেশ্য, তার ব্যাখ্যা করা হয়নি। বলা হলো: তাহলে কি এর অর্থ জানা নেই? তিনি বললেন: না।
আল-আছরাম বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমদ) বললাম: উসমানের (রা.) হাদিস: "এটি তোমাদের জাকাত প্রদানের মাস।" এর অর্থ কী? তিনি বললেন: আমি জানি না।
আর উসমানের (রা.) {হাদিস} (১) সম্পর্কে আমাদের নিকট তিনি বর্ণনা করেছেন যিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি মা'মার থেকে, তিনি আয-যুহরি থেকে, তিনি আস-সাইব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উসমানকে (রা.) বলতে শুনেছি: "এটি তোমাদের জাকাত প্রদানের মাস।" অর্থাৎ: রমজান মাস।
কাজী আবু ইয়ালা বলেন: আস-সাইব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রমজান মাসের কথা বলেছেন। আবার তাঁর থেকে এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মহররম মাসের কথা বলেছেন।
আমি (লেখক) বলছি: তাঁর কথা "অর্থাৎ রমজান", এটি আস-সাইবের উক্তি নয়, বরং তাঁর পরবর্তী বর্ণনাকারীদের (الرواة) উক্তি।
আর কাজী এই হাদিসটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে: ইমাম বছরের শুরুতে তাঁর জাকাত সংগ্রাহকদের পাঠান, আর তা হলো মহররমের শুরু। অতঃপর যার (জাকাতের) বছর পূর্ণ হয়েছে, তার থেকে জাকাত গ্রহণ করা হয়। আর যে ব্যক্তি তার ওপর জাকাত ফরজ হওয়ার আগেই তা প্রদান করে, তা কবুল করা হয়। আর যে বলে যে তার বছর পূর্ণ হয়নি, তার ক্ষেত্রে তা বিলম্বিত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
কায়িদাতুন ফী ইখরাজিল যাকাত আলাল ফাওর
(পৃষ্ঠা: ৬১৫)
وقد نص أحمدُ وغيره عَلَى أن من خشي أن يرجع عليه الساعي بالزكاة، أنَّه عذرٌ له في تأخير إخراجها.
وقال مالك وغيرُه من العُلَمَاء: لا تجب الزكاةُ في الأموال الظاهرة إلا يوم مجيء السُّعاة. نقله عنه أبو عُبيد.
وقالت طائفة: معنى قول عُثمان: "هذا شهيرُ زكاتكم". يُستحب فيه تعجيل زكاتكم. نقل ذلك القاضي في "خلافه"، وردَّه عَلَى قائله.
وروى أبو عبيد في كتاب "الأموال" (1): ثنا إبراهيمُ بن سعد، عن ابن شهاب، عن السائب بن يزيد، قال: سمعتُ عُثمان بن عفان، يقول: "هذا شهرُ زكاتكم. فمن كان عليه دينٌ فليؤدِّه حتى تُخرجوا زكاة أموالكم، ومن لم يكن عنده لم يُطلب منه حتى يأتي بها تطوعًا، ومن أُخذ منه لم تُؤخذ منه حتى يأتي هذا الشهر من قابل" قال إبراهيم: أراه يعني شهر رمضان.
قال أبو عُبيد: وقد جاءنا في بعض الأثر، ولا أدري عمَّن هو: أنَّ هذا الشهر الَّذِي أراد عُثمان المحرَّم.
وقد قال بعضُ السَّلف: ذلك الشهر الَّذِي كان يُخرج فيه الزكاة نُسي، وأنَّ ذلك من المصائب عَلَى هذه الأمة. فروى أبو زرعة في تاريخه، قال: سألت أبا مُسهر، عن عبد العزيز بن الحُصين: هل يُؤخذ عنه؟ فَقَالَ: أمَّا أهلُ الحزم فلا يفعلون. قال: فسمعتُ أبا مُسهر يحتجّ بما أنكره عَلَى عبد العزيز بن الحُصين. ثنا سعيد بن عبد العزيز، عن الزهري فَقَالَ: كان من البلاء عَلَى هذه الأمة أن نسوا ذلك الشهر. يعني: شهر الزكاة. قال أبو مُسهر: قال عبد العزيز: سمَّاه لنا الزُّهري.
وقد رُوي أنَّ الصحابة كانوا يُخرجون زكاتهم في شهر شعبان إعانة عَلَى الاستعداد لرمضان، لكن من وجهٍ لا يصح (2).
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি আশঙ্কা করে যে জাকাত আদায়কারী পুনরায় তার কাছে ফিরে আসবে, এটি তার জন্য জাকাত প্রদানের বিলম্ব করার একটি ওজর হিসেবে গণ্য হবে।
ইমাম মালিক এবং আলেমদের মধ্যে অন্যান্যরা বলেছেন: প্রকাশ্য সম্পদের ক্ষেত্রে জাকাত কেবল আদায়কারীদের আগমনের দিনেই ওয়াজিব হয়। আবু উবাইদ তার থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
একটি দল বলেছে: উসমানের উক্তি— "এটি তোমাদের জাকাতের মাস"—এর অর্থ হলো এতে তোমাদের জাকাত দ্রুত প্রদান করা মুস্তাহাব। আল-কাদি তার 'খিলাফ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং যে এটি বলেছে তার মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আবু উবাইদ তার 'আল-আমওয়াল' (১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: ইব্রাহিম ইবনে সা’দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সায়েব ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আফফানকে বলতে শুনেছি: "এটি তোমাদের জাকাতের মাস। সুতরাং যার ওপর ঋণ রয়েছে সে যেন তা পরিশোধ করে দেয়, যাতে তোমরা তোমাদের সম্পদের জাকাত বের করতে পারো। আর যার কাছে (নিসাব পরিমাণ সম্পদ) নেই, তার কাছে তা দাবি করা হবে না যতক্ষণ না সে স্বেচ্ছায় তা নিয়ে আসে। আর যার থেকে (জাকাত) নেওয়া হয়েছে, তার থেকে আগামী বছরের এই মাস আসার আগ পর্যন্ত পুনরায় নেওয়া হবে না।" ইব্রাহিম বলেন: আমার মনে হয় তিনি রমজান মাসকে বুঝিয়েছেন।
আবু উবাইদ বলেন: কিছু আসারে (ঐতিহাসিক বর্ণনা) আমাদের কাছে এসেছে, যদিও আমি জানি না এটি কার থেকে বর্ণিত: উসমান যে মাসটি উদ্দেশ্য করেছেন তা হলো মহররম।
কিছু সালাফ বলেছেন: যে মাসে জাকাত বের করা হতো তা বিস্মৃত হয়ে গেছে এবং এটি এই উম্মতের ওপর অন্যতম বিপদ। আবু যুরআহ তার 'তারিখ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুসহিরকে আব্দুল আজিজ ইবনে আল-হুসাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: তার থেকে কি হাদিস গ্রহণ (يؤخذ عنه) করা হবে? তিনি বললেন: সাবধানী ব্যক্তিরা (أهل الحزم) তা করেন না। তিনি (আবু যুরআহ) বলেন: আমি আবু মুসহিরকে সেই বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ (يحتج) করতে শুনেছি যা তিনি আব্দুল আজিজ ইবনে আল-হুসাইনের ক্ষেত্রে অস্বীকার করেছিলেন। সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি বলেন: এই উম্মতের জন্য এটি একটি মুসিবত ছিল যে তারা সেই মাসটি ভুলে গেছে। অর্থাৎ: জাকাতের মাস। আবু মুসহির বলেন: আব্দুল আজিজ বলেছেন: যুহরি আমাদের কাছে সেই মাসের নাম উল্লেখ করেছিলেন।
বর্ণিত আছে যে, সাহাবীগণ রমজানের প্রস্তুতির সহায়তাস্বরূপ শাবান মাসে তাদের জাকাত প্রদান করতেন, কিন্তু এটি এমন এক সূত্রে বর্ণিত যা সঠিক নয় (لا يصح) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
কায়িদাতুন ফী ইখরাজিল যাকাত আলাল ফাওর
(পৃষ্ঠা: ৬১৬)
وروى يحيى بن سعيد العطَّار الحمصي، ثنا سيفُ بن محمد، عن ضرار ابن عمرو، عن يزيد الرقاشي، عن أنس بن مالك، قال: "كان أصحابُ رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا استهلَّ شهر شعبان أكبّوا عَلَى المصاحف فقرءوها وأخذوا في زكاة أموالهم فقووا بها الضعيف والمسكين عَلَى صيام شهر رمضان، ودعا المسلمون مملوكيهم فحطوا عنهم ضرائب شهر رمضان، ودعت الولاةُ أهل (السجون) (1) فمن كان عليه حدٌّ أقاموه عليه وإلا خلَّوا سبيله.
يحيى، ومن فوقه إِلَى يزيد: كلُّهم ضُعفاء.
وأمَّا مذاهب العُلَمَاء في هذه المسألة: قال ميمون بن مهران: إذا حال الحولُ أخرج زكاته، وله أن يشتغل بتفرقتها شهرًا لا يزيد عليه.
قال أبو عُبيد: ثنا علي بن ثابت، عن جعفر بن برقان، عن ميمون بن مهران، قال: اجعلها صررًا ثم ضعها فيمن تعرف، ولا يأتي عليك الشهر حتى تفرقها.
وصرَّح أصحابُنا: بجواز تأخير إخراجها يسيرًا من غير تقدير.
وحكوا عن مالك، والشافعي، ومحمد بن الحسن أنه يجب إخراجُها علي الفور. وعن أبي يوسف: لا يجب ما لم يُطالبه الإمام.
وحكوا في كُتب الخلاف -منهم القاضي وابن عقيل- عن الحنفية أنهم قالوا: تسقط الزكاة بتلف المال قبل إمكانه وبعده. عَلَى أنَّه لا يجب إخراجها عَلَى الفور، وأنَّه لا يجب بدون مطالبة الساعي. وهذا يُشبه المحكي عن أبي يوسف، كما تقدَّم.
آخر ما وجدنا من خط المؤلف -رحمه الله تعالى- والحمد لله وحده وصلى الله عَلَى سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم، ورضي الله عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أجمعين. هذا آخر القاعدة في إخراج الزكاة عَلَى الفور، للشيخ الإمام العالم العلامة بقية الحفاظ زين الدين ابن رجب البغدادي الدمشقي، رحمه الله وأسكنه فسيح جنته بمنه وكرمه، وغفر لنا ولجميع المسلمين أجمعين. بلغ مقابلة وتصحيحًا عَلَى حسب الطاقة.
--------------------------------------------
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আত্তার আল-হিমসি বর্ণনা করেছেন, সাইফ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি জিরার ইবনে আমর থেকে, তিনি ইয়াযীদ আল-রকাশী থেকে, আর তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ যখন শাবান মাস শুরু হতো, তখন তাঁরা আল-কুরআনের পাণ্ডুলিপিগুলোর (মুসহাফ) প্রতি নিবিষ্ট হতেন এবং সেগুলো তিলাওয়াত করতেন। তাঁরা তাঁদের সম্পদের জাকাত বের করতেন যাতে এর মাধ্যমে দুর্বল ও অভাবী ব্যক্তিরা রমজান মাসের রোজা পালনে শক্তি অর্জন করতে পারে। মুসলিমরা তাদের অধীনস্থদের ডাকতেন এবং রমজান মাসের জন্য তাদের করের বোঝা লাঘব করতেন। আর শাসকগণ কয়েদিদের ডাকতেন; যাদের ওপর কোনো দণ্ডবিধি কার্যকর করার বিধান থাকতো তা তারা কার্যকর করতেন, অন্যথায় তাদের মুক্তি দিতেন।"
ইয়াহইয়া এবং তাঁর উপরস্থ রাবিগণ থেকে ইয়াযীদ পর্যন্ত: তাঁরা সকলেই দুর্বল (ضعفاء)।
আর এই মাসআলায় আলেমদের মতামতসমূহ হলো: মায়মুন ইবনে মিহরান বলেছেন: যখন বছর পূর্ণ হবে, তখন জাকাত বের করবে। তবে এক মাস পর্যন্ত তা বণ্টন করার কাজে নিয়োজিত থাকার সুযোগ তাঁর আছে, এর বেশি নয়।
আবু উবাইদ বলেছেন: আলী ইবনে সাবিত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি জাফর ইবনে বুরকান থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তুমি একে (জাকাতের অর্থ) থলিতে রাখো, তারপর তা পরিচিতদের মধ্যে প্রদান করো। আর মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই তুমি তা বণ্টন করে ফেলো।"
আমাদের (মাযহাবের) ফকিহগণ কোনো সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ ছাড়াই সামান্য বিলম্বে জাকাত আদায় করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন।
তাঁরা ইমাম মালিক, শাফেঈ এবং মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, অবিলম্বে জাকাত আদায় করা ওয়াজিব। আর আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত হয়েছে: ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) দাবি না করা পর্যন্ত তা ওয়াজিব হয় না।
ইখতিলাফ বিষয়ক গ্রন্থসমূহে—যাদের মধ্যে কাজী এবং ইবনে আকীলও রয়েছেন—হানাফিদের থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন: জাকাত আদায় করা সম্ভব হওয়ার আগে বা পরে মাল নষ্ট হয়ে গেলে জাকাত রহিত হয়ে যায়। এই ভিত্তিতে যে, অবিলম্বে তা আদায় করা ওয়াজিব নয় এবং জাকাত সংগ্রাহকের দাবি ছাড়া তা ওয়াজিব হয় না। এটি ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত মতের সদৃশ, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রন্থকারের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) স্বহস্তে লিখিত যা আমরা সর্বশেষ পেয়েছি তা এখানেই সমাপ্ত—সকল প্রশংসা এক আল্লাহর এবং সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল সাহাবীর প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন। অবিলম্বে জাকাত আদায়ের বিধান সংক্রান্ত এই মূলনীতির এখানেই সমাপ্তি, যা শাইখ, ইমাম, আলেম, আল্লামা, হাফেজদের উত্তরসূরি যয়নুদ্দীন ইবনে রজব আল-বাগদাদী আদ-দিমাশকী (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনা। আল্লাহ তাঁকে তাঁর জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে আবসস্থান দিন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। সাধ্যমতো পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখা ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
--------------------------------------------