(খণ্ড: ১) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: -)
القول الصواب في تزويج أمهات أولاد الغياب   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: القول الصواب في تزويج أمهات أولاد الغياب [مطبوع ضمن مجموع رسائل الحافظ ابن رجب الحنبلي]

المؤلف: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (736 - 795 هـ)

دراسة وتحقيق: أبي مصعب طلعت بن فؤاد الحلواني

الناشر: الفاروق الحديثة للطباعة والنشر

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 24

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1433

আল-কাওলুস সাওয়াব ফি তাজউইজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব   (ইবনে রজব আল-হাম্বলী)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আল-কাওলুস সাওয়াব ফি তাজউইজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব [হাফেজ (الحافظ) ইবনে রজব আল-হাম্বলীর সংকলিত রিসালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত]

লেখক: জয়নুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)

গবেষণা ও তাহকিক (تحقيق): আবু মুসআব তালাত বিন ফুয়াদ আল-হালওয়ানি

প্রকাশক: আল-ফারুক আল-হাদিসাহ লিত-তিবাআহ ওয়ান-নাশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৩

(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৭১)
القول الصواب في تزويج أمهات أولاد الغياب
অনুপস্থিত ব্যক্তিদের উম্মাহাতুল আওলাদগণের বিবাহ দান প্রসঙ্গে সঠিক অভিমত।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৭৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله نحمده ونستعينه ونستهديه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.

هذه حادثة حدثت في الفتاوى وهي: أم ولد لرجل غاب عنها من نحو ثمان سنين أو أكثر، ولم يوقف له عَلَى خبر، وكان سفره من الشام إِلَى العراق في قافلة نهبت، وأُخذ أكثر أموال أهلها، وقتل منهم عدد كثير، فهل يجوز أن تتزوج أم ولده والحالة هذه أم لا؟

فالجواب عن هذه المسألة مبني عَلَى أصلين:

أحدهما: تزويج امرأة المفقود، وفيها قولان مشهوران:

أحدهما: أنها تتربص أربع سنين أكثر مدة الحمل، ثم تعتد للوفاة، ثم تتزوج، وهذا مروي عن عمر، وعثمان، وعلي، وابن عمر، وابن عباس، وابن الزبير، وهو قول عمر بن عبد العزيز، وسعيد بن المسيب، وعطاء، والحسن وقتادة والزبير والأوزاعي، ومالك، وابن الماجشون، وأهل المدينة، وأحمد، وإسحاق. وأبي عبيد والشافعي في القديم، وأبي خيثمة، وسليمان بن داود الهاشمي، وعلي بن المديني، وفقهاء الحديث.

والقول الثاني: تنتظر أبدًا حتى يتبين خبره، وروي عن علي رضي الله عنه، وأنكر الإمام أحمد صحته عنه، وهو قول الكوفيين كالنخعي وابن أبي ليلى وابن شبرمة وأبي حنيفة وأصحابه والثوري، إليه ذهب الشافعي في الجديد، وروي {عن} (1) أبي قلابة، وحكي رواية عن أحمد، ومن أصحابه من لم يثبتها عنه؛ فإن المشهور عنه القول الأول، وقد أنكر قول من حكى عن خلافه.

--------------------------------------------

(1) سقطت من "الأصل"، والصواب إثباتها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

এটি ফতোয়ার ক্ষেত্রে ঘটা একটি ঘটনা: এক ব্যক্তির একজন উম্মে ওয়ালাদ (সন্তান প্রসবকারিণী দাসী) ছিল, যার থেকে সেই ব্যক্তি প্রায় আট বছর বা তারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ এবং তার কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। তার সফর ছিল সিরিয়া থেকে ইরাকের অভিমুখে একটি কাফেলার সাথে, যা লুণ্ঠিত হয়েছিল এবং কাফেলাবাসীদের অধিকাংশ সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ও তাদের অনেককে হত্যা করা হয়েছিল। এমতাবস্থায় উক্ত উম্মে ওয়ালাদ কি বিবাহ করতে পারবে কি না?

এই মাসআলার উত্তরটি দুটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হলো:

তার একটি হলো: নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর বিবাহ; এ বিষয়ে দুটি প্রসিদ্ধ (مشهور) মত রয়েছে:

প্রথম মত: সে চার বছর অপেক্ষা করবে—যা গর্ভাবস্থার দীর্ঘতম সময়—অতঃপর সে মৃত্যুর ইদ্দত পালন করবে এবং এরপর বিবাহ করবে। এটি উমর, উসমান, আলী, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস ও ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণিত (مروي)। এটি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আতা, হাসান, কাতাদা, যুবায়ের, আওযায়ী, মালেক, ইবনুল মাজিশুন, মদিনাবাসীগণ, আহমদ, ইসহাক, আবু উবাইদ এবং শাফেয়ী-এর পুরাতন মত। এছাড়াও এটি আবু খাইসামা, সুলায়মান ইবনে দাউদ আল-হাশিমি, আলী ইবনুল মাদিনি এবং হাদিস বিশারদ ফকিহগণের অভিমত।

দ্বিতীয় মত: সে আজীবন অপেক্ষা করবে যতক্ষণ না তার সংবাদ স্পষ্ট হয়। এটি আলী (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তবে ইমাম আহমদ তাঁর পক্ষ থেকে এর বিশুদ্ধতা (صحة) অস্বীকার করেছেন। এটি কুফাবাসীদের অভিমত, যেমন: নাখয়ি, ইবনে আবি লায়লা, ইবনে শুবরুমা, আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীগণ এবং সাওরি। ইমাম শাফেয়ী তাঁর নতুন মতে এই দিকেই গিয়েছেন। এটি আবু কিলাবা থেকেও বর্ণিত (روي) এবং ইমাম আহমদের পক্ষ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর থেকে এটি সাব্যস্ত করেননি; কেননা তাঁর থেকে প্রথম মতটিই প্রসিদ্ধ (مشهور), এবং তিনি তাঁর বিপরীত মত বর্ণনাকারীদের কথা অস্বীকার করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ পড়েছিল, তবে এটি বহাল রাখাই সঠিক।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৭৪)
قال الأثرم: قلت لأبي عبد الله: إِنَّ إنسانًا قال: إِنَّ أبا عبد الله ترك قوله في المفقود، فضحك وقال: ومن ترك هذا القول فبأي شيء يقول؟ !

قال: وقال لي أبو عبد الله: ما أعجب من لا يفتي هنا! يذهبون بأقوال الناس ويحبسون المرأة المسيكينة أبدًا لا تتزوج؟ ! قيل: يَقُولُونَ: يطمع. قال: من يطمع بعد هذا الأجل؟ قال: وقال خمسة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يفتون يَقُولُونَ: تزوج امرأة المفقود. قال: وهو مروي من عمر رضي الله عنه من ثمانية أوجه.

قِيلَ لَهُ فروي عن عمر خلاف هذا؟ قال: لا، إلا أن يكون إنسان يكذب.

وقال أبو داود في "مسائله": سمعت أحمد قِيلَ لَهُ: في نفسك من المفقود شيء، فإن فلانًا وفلانًا لا يفتيان به؟

فَقَالَ: ما في نفسي منه شيء، هذا خمسة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أمروها بالتربص، قال أحمد: هذا من ضيق العِلْم.

قال أبو داود: يعني ضيق علم الرجل أن لا يتكلم في المفقود. قال: وسمعته يقول: هذا عندي من ضيق العِلْم أن لا يتكلم في المفقود، وفيمن ليست عنده نفقة -يعني: في الفسخ.

والكلام في أدلة هذه المسأله من الجانيين واستيعاب تفاريع القولين يطول جدًّا، وليس غرضنا الآن تقرير ذلك، لكن القائلون بتزويج امرأة المفقود منهم من يقول: صرنا إِلَى ذلك متابعة لقضاه الخلفاء الراشدين، وإن كان عَلَى خلاف القياس.

ومنهم من يقول: بل هو عَلَى وفق القياس.
আল-আসরাম বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে বললাম: জনৈক ব্যক্তি বলেছে যে, আবু আবদুল্লাহ নিখোঁজ ব্যক্তি (المفقود) সম্পর্কে তাঁর মত ত্যাগ করেছেন। তিনি হাসলেন এবং বললেন: যে ব্যক্তি এই মতটি ত্যাগ করে, সে তবে কিসের ভিত্তিতে ফতোয়া দেবে?!

তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আমাকে আরও বললেন: যে ব্যক্তি এখানে ফতোয়া দেয় না, তার বিষয়টি কতই না বিস্ময়কর! তারা মানুষের কথা নিয়ে চলে এবং অসহায় মহিলাটিকে চিরদিনের জন্য আটকে রাখে যাতে সে বিয়ে করতে না পারে?! তাকে বলা হলো: তারা বলে যে, সে (স্বামী ফিরে আসার) আশা রাখে। তিনি বললেন: এই নির্দিষ্ট মেয়াদের পর আর কে আশা রাখে? তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাঁচজন সাহাবী ফতোয়া দিতেন, তাঁরা বলতেন: নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী বিয়ে করতে পারবে। তিনি বলেন: এটি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আটটি সূত্রে বর্ণিত (مروي)।

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে কি এর বিপরীত কিছু বর্ণিত হয়েছে? তিনি বললেন: না, তবে কেউ যদি মিথ্যা (يكذب) বলে থাকে (সেটি ভিন্ন কথা)।

আবু দাউদ তাঁর "মাসায়েল"-এ বলেন: আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: নিখোঁজ ব্যক্তির ব্যাপারে কি আপনার মনে কোনো সংশয় রয়েছে? কেননা অমুক এবং অমুক এ বিষয়ে ফতোয়া দেন না।

তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমার মনে কোনো সংশয় নেই। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাঁচজন সাহাবী তাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার (التربص) নির্দেশ দিয়েছেন। আহমাদ বলেন: এটি জ্ঞানের সংকীর্ণতা থেকে উদ্ভূত।

আবু দাউদ বলেন: অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির জ্ঞানের সংকীর্ণতা হলো নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে কথা না বলা। তিনি বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে এবং যার নিকট ভরণপোষণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই তার বিষয়ে—অর্থাৎ বিবাহ বিচ্ছেদের (الفسخ) ক্ষেত্রে—কথা না বলা আমার নিকট জ্ঞানের সংকীর্ণতা।

উভয় পক্ষের দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করা এবং উভয় মতের শাখা-প্রশাখাগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করা অত্যন্ত দীর্ঘসাধ্য বিষয়, আর বর্তমানে আমাদের উদ্দেশ্য সেটি সাব্যস্ত করা নয়। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর পুনরায় বিয়ের প্রবক্তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: আমরা এটি গ্রহণ করেছি খুলাফায়ে রাশেদীনের ফয়সালার অনুসরণে, যদিও এটি কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমানের (القياس) পরিপন্থী হয়।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: বরং এটি কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমানের (القياس) সাথেই সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৭৫)
ثم منهم من يقول: لما ظهرت أمارات موته حكم عليه بحكم الميت واكتفي بذلك، كما يكتفى باشتهار موته بالاستفاضة وشهادة عدلين، ونحو ذلك مما لا يوقف معه عَلَى القطع، وهذا قول كثير من أصحابنا وغيرهم.

ومنهم من يقول: إِنَّمَا فسخ لرفع الضرر الحاصل بحبس الزوجة أبدًا، وهو قول مالك وبعض أصحابنا.

ومنهم من يقول: بل لما جهل بقاؤه جاز التصرف في أهله، وماله موقوف عَلَى إجازته عند ظهوره، كما لو جهل عين رب المال ابتداء كاللقطة ونحوها.

{الأصل الثاني} (1): أن مال المفقود هل يقسم إذا حكم بجواز تزوج زوجته أم لا؟ وفيه قولان:

أحدهما: أنه يقسم بين مستحقيه من الورثة وغيرهم -وهو قول الحسن وقتادة، والزهري وأحمد وإسحاق- لحكمهم بموته ظاهرًا.

والثاني: لا يقسم ماله؛ بل يوقف، وهو قول من يقف الزوجة كما سبق، وقول من يبيح المزوجة النكاح لتضررها بانتظار زوجها أبدًا، كمالك والشافعي في القديم.

والأوّل {هو} (2) المأثور عن الصحابة رضي الله عنه أيضاً.

وروى الإمام أحمد -فيما نقله عنه ابنه صالح- في "مسائله" (3) ثنا عبد الرزاق، قال: أخبرني ابن جريج، قال: أخبرني عطاء الخراساني، عن الزهري: "أن عمر وعثمان قالا في امرأة المفقود: تتربص أربع سنين ثم تعتد أربعة أشهر وعشرًا، ويقسم ميراثه".

وخرَّج الجوزجاني، من طريق عمر بن هبيرة، عن جابر بن زيد، عن ابن عباس قال: "إِنَّ امرأة المفقود تستقرض وتنفق؛ فإن جاء زوجها قضى ذلك، وإن لم يأت فهو من نصيبها".

--------------------------------------------

(1) بياض بالأصل والمثبت يناسب السياق.

(2) في "الأصل": و.

(3) (3/ 120).
তারপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: যখন তার মৃত্যুর আলামত বা লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, তখন তাকে মৃত হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তা-ই যথেষ্ট মনে করা হয়। যেমনটি তার মৃত্যুর বিষয়টি প্রসিদ্ধি (استفاضة) এবং দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدلين) ব্যক্তির সাক্ষ্যের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে পরিচিত হওয়াকে যথেষ্ট মনে করা হয়, এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যার মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায় না। এটি আমাদের অনেক সাথী এবং অন্যদের অভিমত।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: স্ত্রীকে চিরতরে অবরুদ্ধ রাখার ফলে যে ক্ষতির সৃষ্টি হয়, তা নিরসনের উদ্দেশ্যেই কেবল বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। এটি ইমাম মালিক এবং আমাদের কোনো কোনো সাথীর অভিমত।

আবার কেউ কেউ বলেন: বরং তার বেঁচে থাকার বিষয়টি যখন অজ্ঞাত থাকে, তখন তার পরিবার-পরিজনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা বৈধ। আর তার সম্পদ তার ফিরে আসার সম্ভাবনা পর্যন্ত তার অনুমতির ওপর স্থগিত (موقوف) থাকবে। যেমনটি কোনো সম্পদের প্রকৃত মালিক অজ্ঞাত থাকলে করা হয়, যেমন কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু (لقطة) বা এই জাতীয় ক্ষেত্রে।

{দ্বিতীয় মূলনীতি} (১): নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহের অনুমতি দেওয়া হলে তার সম্পদ কি বণ্টন করা হবে কি না? এই বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি হলো: তার উত্তরাধিকারী ও অন্যদের মধ্যে তা বণ্টন করে দেওয়া হবে—এটি হাসান, কাতাদাহ, যুহরী, আহমাদ এবং ইসহাক-এর অভিমত—যেহেতু তারা বাহ্যিক অবস্থার প্রেক্ষিতে তাকে মৃত বলে গণ্য করেছেন।

দ্বিতীয়টি হলো: তার সম্পদ বণ্টন করা হবে না; বরং তা স্থগিত (موقوف) রাখা হবে। এটি তাদের অভিমত যারা স্ত্রীর বিষয়টি স্থগিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন—যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে—এবং এটি তাদেরও অভিমত যারা স্বামীর জন্য আজীবন অপেক্ষা করার ক্ষতির কারণে স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহের অনুমতি দেন, যেমন ইমাম মালিক এবং শাফেয়ীর প্রাচীন অভিমত।

আর প্রথম মতটিই সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (مأثور)।

ইমাম আহমাদ—তার পুত্র সালেহ কর্তৃক বর্ণিত—তার মাসায়িল (৩)-এ বর্ণনা করেছেন (روى): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) ইবনে জুরাইজ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) আতা আল-খুরাসানি, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন যে: "নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর ব্যাপারে ওমর ও ওসমান বলেছেন: সে চার বছর অপেক্ষা করবে, তারপর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে এবং তার মিরাস বা উত্তরাধিকার বণ্টন করা হবে।"

আল-জাওযজানি আমর ইবনে হুবাইরাহ্-এর সূত্রে জাবির ইবনে যাইদ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে উদ্ধৃত (خرَّج) করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী প্রয়োজনবোধে ঋণ গ্রহণ করবে এবং তা নিজের জন্য ব্যয় করবে; যদি তার স্বামী ফিরে আসে তবে সে তা পরিশোধ করবে, আর যদি সে না আসে তবে তা তার প্রাপ্য অংশ থেকে ধরা হবে।"

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান ছিল, বর্তমান পাঠটি প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(২) মূলে রয়েছে: "ও" (و)।

(৩) (৩/ ১২০)।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৭৬)
وهذا يدل عَلَى أنه يرى قسمة ماله بين الورثة.

إذا تقرر هذان الأصلان فلنرجع إِلَى الكلام عَلَى أم ولد المفقود فنقول: من قال بوقف مال المفقود وأزواجه؛ فلا شك في أنه يوقف أم ولده أيضاً.

وأما من أباح التزويج لأزواجه ولم يقسم ماله كمالك؛ فإنه يحتمل عَلَى أصله أن يقف أم ولده؛ لأنها مال، ويحتمل أن لا يقفها؛ لأنّ في إيقافها عن النكاح من الضرر كالزوجة، ولهذا يغلب عنده عَلَى أم الولد حكم الحرة، فلا تضمن عنده بغصب، ولا بالعقد الفاسد.

وأما من أباح نكاح زوجاته وقسمة ماله كأحمد، فلا وجه عنده للتوقف في نكاح أم ولده، وذلك لأنّ المغلب عند أصحابنا فيهم حكم المال، ولهذا يضمن عندهم بالغصب، ومن متأخريهم من قال: وبالعقد الفاسد أيضًا.

وعلى تقدير تغليب حكم الأحرار عليها فليلحق بالزوجة لما في انتظارها لسيدها أبدًا من الضرر.

وقد ذكر أبو داود في "مسائله" باب المفقود، ثم ذكر عن أحمد في زوجة المفقود أنها تتربص أربع سنين ثُم تعتد وتتزوج، ثم قال: سمعت أحمد سئل عن المفقود يقدم وقد تزوج أمهات ولده قال: يردون إِلَيْهِ، ثم ذكر كلام أحمد في قسمة مال المفقود بعد هذا.

فانظر إِلَى ترتيب أبي داود، كيف أدخل حكم أمهات {أولاده} (1) بين الزوجات والمال لترددها بينهما، ولو كان أحمد لا يرى جواز تزويج أمهات أولاده لأنكر تزويجهن، وقال: لم يكن يجوز ذلك، أو ما يدل عَلَى هذا المعنى.

وأيضًا فأبو داود لما ساق من كلام أحمد جواز تزويج زوجة المفقود كان تقريرًا منه لجواز تزويج أمهات أولاده، فلم يحتج إِلَى التصريح بجوازه، وإنما ساق أحكامه التي يحتاج إِلَى معرفتها لمخالفتها حكم تزويج الزوجة.

--------------------------------------------

(1) في "الأصل": "أوده" وهو تصحيف.
এটি নির্দেশ করে যে, তিনি ওয়ারিশদের মধ্যে তার (নিখোঁজ ব্যক্তির) সম্পদ বণ্টন করাকে সমীচীন মনে করেন।

যখন এই দুটি মূলনীতি সাব্যস্ত হলো, তখন আমরা নিখোঁজ ব্যক্তির 'উম্মু ওয়ালাদ' (সন্তানের জননী ক্রীতদাসী) সংক্রান্ত আলোচনায় ফিরে আসি। আমরা বলি: যারা নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ ও স্ত্রীদের বিষয়ে স্থগিত (وقف) রাখার কথা বলেন, তাদের মতে তার 'উম্মু ওয়ালাদ'কেও স্থগিত (وقف) রাখা হবে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

আর যারা মালেকের মতো তার স্ত্রীদের পুনরায় বিবাহের অনুমতি দেন কিন্তু সম্পদ বণ্টন করেন না, তার মূলনীতি (أصله) অনুযায়ী সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি 'উম্মু ওয়ালাদ'কে স্থগিত (وقف) রাখবেন; কারণ সে সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। আবার সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি তাকে স্থগিত রাখবেন না; কারণ তাকে বিবাহ (نكاح) থেকে বিরত রাখার মধ্যে স্ত্রীর মতোই ক্ষতি বিদ্যমান। এজন্য তার নিকট 'উম্মু ওয়ালাদ'-এর ক্ষেত্রে স্বাধীন (حرة) নারীর বিধান (حكم) প্রবল হয়। ফলে তার মতে, জবরদখল (غصب) বা ফাসিদ চুক্তি (بالعقد الفاسد)-এর মাধ্যমে সে ক্ষতিপূরণের অন্তর্ভুক্ত হয় না।

আর যারা আহমাদের মতো তার স্ত্রীদের বিবাহ (نكاح) এবং তার সম্পদ বণ্টনের অনুমতি দেন, তার নিকট 'উম্মু ওয়ালাদ'-এর বিবাহের বিষয়ে স্থগিত থাকার কোনো অবকাশ নেই। এর কারণ হলো, আমাদের (হাম্বলি) মাযহাবের অনুসারীদের নিকট তাদের ক্ষেত্রে সম্পদের বিধান (حكم) প্রবল। এজন্য তাদের নিকট জবরদখল (غصب)-এর কারণে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, এবং তাদের পরবর্তী আলিমদের কেউ কেউ বলেছেন: ফাসিদ চুক্তির (بالعقد الفاسد) ক্ষেত্রেও একই বিধান।

আর তার ওপর যদি স্বাধীনদের (الأحرار) বিধান (حكم) প্রবল হওয়ার বিষয়টি ধরে নেওয়া হয়, তবে তাকে স্ত্রীর সাথেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে; কারণ নিজ মনিবের জন্য চিরকাল অপেক্ষায় থাকার মধ্যে ক্ষতি নিহিত রয়েছে।

আবু দাউদ তার "মাসায়িল" গ্রন্থে 'নিখোঁজ ব্যক্তি' অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি আহমাদ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন যে, সে চার বছর অপেক্ষা করবে, এরপর ইদ্দত পালন করবে এবং বিবাহ করবে। এরপর তিনি বলেন: আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি, যখন তাকে এমন এক নিখোঁজ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে ফিরে এসেছে অথচ তার 'উম্মু ওয়ালাদ'গণ বিবাহ করে ফেলেছে। তিনি বললেন: তাদের তার (নিখোঁজ ব্যক্তির) কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তিনি নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে আহমাদের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং আবু দাউদের বিন্যাসটি লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি 'উম্মু ওয়ালাদ'দের বিধানকে (حكم) স্ত্রী এবং সম্পদের মধ্যবর্তী স্থানে রেখেছেন—উভয় অবস্থার সাথে তার সম্পৃক্ততার কারণে। আহমাদ যদি 'উম্মু ওয়ালাদ'দের বিবাহের বৈধতা স্বীকার না করতেন, তবে তিনি তাদের বিবাহের প্রতিবাদ করতেন এবং বলতেন: এটি জায়েজ ছিল না, অথবা এই অর্থের কোনো কথা বলতেন।

অধিকন্তু, আবু দাউদ যখন আহমাদ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর বিবাহের বৈধতা বর্ণনা করেছেন, তা ছিল 'উম্মু ওয়ালাদ'দের বিবাহের বৈধতার বিষয়ে তার পক্ষ থেকে একটি মৌন সমর্থন (تقرير)। তাই এটি স্পষ্টভাবে জায়েজ বলার প্রয়োজন পড়েনি। বরং তিনি সেই সব বিধান (أحكام) বর্ণনা করেছেন যা জানা প্রয়োজন, যেহেতু তা স্ত্রীর বিবাহের বিধানের (حكم) চেয়ে ভিন্নতর।

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে "আওদাহু" ছিল, যা একটি লিখন প্রমাদ (تصحيف)।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৭৭)
وممن روي عنه جواز تزويج أم ولد المفقود صريحًا: الحسن البصري.

قال حرب: ثنا عبد الله بن معاذ، ثنا أبي، ثنا أشعث بن عبد الملك، عن الحسن قال: إِن تزوجت أم ولد المفقود فهو أحق بها، وولدها بمنزلتها، ولا تتزوج هي حتى يمضي لها أربع سنين.

وقد روي عن عثمان وعلي أنهما قضيا في أم الولد إذا تزوجت لفقد سيدها ثم جاء سيدها أن الزوج يفدي ولده.

فروى الجوزجاني، ثنا سليمان بن حرب، ثنا حماد بن زيد، عن أبي المليح، عن، سهيمة ابنة عميرة "أن زوجها صيفي بن قتيل أسر في خلافة عثمان، فتزوجت هي وأمهات أولاده، فجاءوا عثمان وهو محصور، فسألوه، فَقَالَ: ألا ترون عَلَى أي حال أنا؟ ! فقلنا: بلى يا أمير المؤمنين، فَقَالَ: أرى أن يخير بين الصداق وبين امرأته، وترد عليه أمهات أولاده، وعلى الآباء أن يفادوا أولاده، فلما قتل عثمان رضي الله عنه وقام علي أتيناه فسألناه، فَقَالَ مثل ذلك، فأعطيته ألفين وأعطاه زوجي ألفين".

وروى هذا الحديث سعيد عن قتادة، عن أبي المليح "أن الحكم بن أيوب بعثه إِلَى سهيمة فسألها، فحدثت أن زوجها صيفيًّا قُتل، فتزوجت بعده العباس بن طريف القيسي، ثم إِنَّ الزوج الأول قدم، فأتينا عثمان بن عفان وهو محصور فأشرف علينا ثم قال: كيف أقضي بينكم وأنا عَلَى هذه الحال؟ ! فقلنا: قد رضينا بقولك، فقضى أن يخير الزوج الأول بين المرأة وبين الصداق فرجعنا، فلما قتل عثمان أتينا عليًّا فخير الزوج الأول بين الصداق وبين المرأة فاختار الصداق، وكانت له أم ولد فتزوجت بعده وولد لها أولاد من زوجها الآخر، فردها عليه وأولادها، وجعل لأبيهم أن يَفْتكّهُم (1) إِنَّ شاء".

وقال أيوب: "جعل أولادها لأبيهم".

خرجه الأثرم ومحمد بن سعد في "الطبقات" (2)، وخرّجه الخلال في

--------------------------------------------

(1) أي: يعتقهم، من الفكاك وهو العتق.

(2) (8/ 471).
যাদের নিকট থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির উম্মে ওয়ালাদকে (সন্তানবতী দাসী) বিবাহ করার বৈধতার বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে হাসান বসরী অন্যতম।

হারব বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াজ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আশ'আস ইবনে আব্দুল মালিক, হাসান বসরী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "নিখোঁজ ব্যক্তির উম্মে ওয়ালাদ যদি বিবাহ করে তবে সে-ই (পূর্বের মুনিব) তার অধিক হকদার হবে এবং তার সন্তানও তার মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হবে; তবে চার বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত সে বিবাহ করতে পারবে না।"

ওসমান এবং আলী (রা.) থেকেও বর্ণিত (روي) আছে যে, তারা উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে এই ফয়সালা দিয়েছিলেন যে, সে যদি তার মুনিব নিখোঁজ হওয়ার কারণে বিবাহ করে এবং পরবর্তীতে মুনিব ফিরে আসে, তবে (দ্বিতীয়) স্বামী তার সন্তানদের বিনিময় প্রদান করে মুক্ত করবে।

জাওযাজানি বর্ণনা করেছেন (روى), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) সুলাইমান ইবনে হারব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, আবু মালিহ থেকে, তিনি সুহাইমা বিনতে উমাইরা থেকে বর্ণনা করেন যে, "তার স্বামী সাইফি ইবনে কতিল ওসমানের খিলাফতকালে বন্দী হন। ফলে তিনি এবং তার উম্মে ওয়ালাদগণ বিবাহ করেন। অতঃপর তারা ওসমানের নিকট আসলেন যখন তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি দেখছ না আমি কোন অবস্থায় আছি?! আমরা বললাম: অবশ্যই, হে আমিরুল মুমিনীন! তখন তিনি বললেন: আমি মনে করি তাকে (পূর্বের স্বামীকে) মোহরানা এবং তার স্ত্রীর মধ্যে ইখতিয়ার দেওয়া হবে, আর তার উম্মে ওয়ালাদদের তার নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর পিতাদের (দ্বিতীয় স্বামীদের) দায়িত্ব হলো সন্তানদের মুক্ত করা। অতঃপর যখন ওসমান (রা.) শহীদ হলেন এবং আলী (রা.) দায়িত্ব নিলেন, তখন আমরা তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনিও অনুরূপ বললেন। ফলে আমি তাকে দুই হাজার প্রদান করলাম এবং আমার স্বামী তাকে দুই হাজার প্রদান করলেন।"

সাঈদ এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (روى) কাতাদা থেকে, তিনি আবু মালিহ থেকে যে, "হাকাম ইবনে আইয়ুব তাকে সুহাইমার নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বর্ণনা করলেন যে, তার স্বামী সাইফি নিহত হয়েছিলেন। ফলে তিনি তার পরে আব্বাস ইবনে তরিফ আল-কাইসিকে বিবাহ করেন। পরবর্তীতে প্রথম স্বামী ফিরে আসলেন। তখন আমরা ওসমান ইবনে আফফানের নিকট আসলাম যখন তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন। তিনি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন: আমি এই অবস্থায় তোমাদের মাঝে কীভাবে ফয়সালা করব?! আমরা বললাম: আমরা আপনার ফয়সালায় সন্তুষ্ট। তখন তিনি ফয়সালা দিলেন যে, প্রথম স্বামীকে স্ত্রী অথবা মোহরানার মধ্য থেকে কোনো একটি বেছে নেয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। অতঃপর আমরা ফিরে আসলাম। যখন ওসমান শহীদ হলেন তখন আমরা আলীর নিকট আসলাম। তিনি প্রথম স্বামীকে মোহরানা এবং স্ত্রীর মধ্যে ইখতিয়ার দিলেন, তখন তিনি মোহরানা বেছে নিলেন। তার একজন উম্মে ওয়ালাদ ছিল যে পরে বিবাহ করেছিল এবং দ্বিতীয় স্বামীর পক্ষ থেকে তার সন্তানাদি হয়েছিল। তিনি তাকে এবং তার সন্তানদের প্রথম স্বামীর নিকট ফিরিয়ে দিলেন এবং তাদের পিতার (দ্বিতীয় স্বামীর) জন্য সুযোগ রাখলেন যে তিনি চাইলে তাদের মুক্ত করে নিতে (১) পারবেন।"

আইয়ুব বলেন: "তিনি তাদের সন্তানদের তাদের পিতার জন্য সাব্যস্ত করেছেন।"

এটি সংকলন করেছেন (خرج) আসরাম এবং মুহাম্মদ ইবনে সাদ তাবাকাত গ্রন্থে (২), আর এটি সংকলন করেছেন (خرج) খাল্লাল...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: তাদের মুক্তি দেওয়া; যা আল-ফিকাক শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ মুক্তি দান।

(২) (৮/ ৪৭১)।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৭৮)
"العلل" وذكر عن الميمونى، عن أحمد أنه قال: حماد بن زيد يجوده ويفسره.

وهذا يدل عَلَى ترجيح أحمد رواية حماد بن زيد، عن أيوب عَلَى رواية قتادة هذه.

وقد عد أحمد في رواية الأثرم هذا الحديث من جملة أحاديث امرأة المفقود، فدل عَلَى أنه رأى أن نعي هذه المرأة (لها هو أثرها وانقطاع خبره) (1) الَّذِي فسره حماد بن زيد في روايته، وهذه بلغها مع ذلك موته من وجه لا يثبت مجرده فانضم ذلك إِلَى انقطاع خبره، وهذا القضاء من عثمان وعلي رضي الله عنهما يدل عَلَى أنهما رأيا الحكم بحرية ام الولد عند فقد سيدها ظاهرًا، فلذلك قضيا بفداء الزوج ولده منها، كما يفدي المغرور بحرية أمته ولده منها عند ظهور سيدها، فإن من تزوج أمة يعلم رقها كان ولده منها رقيقًا لا يفدون إلا باختيار سيد الأمة بخلاف المغرور، وهذا الاستدلال ظاهر عَلَى رواية حماد عن أيوب أن عليًّا وعثمان قضيا بفداء الأولاد حتمًا.

وأما سعيد عن قتادة؛ فإنه جعل عليًّا وحده هو القاضي في ذلك، وأنه رد الأولاد عَلَى سيد أم الولد، وجعل لأبيهم أن يَفْتَكَّهم إِنَّ شاءوا، وهذا عَلَى تقدير أن يكون محفوظًا؛ فإنه قد يحمل عَلَى أن المغرور لا يحكم بحرية ولده إلا فكاكهم، وهو رواية عن أحمد.

قال أحمد في رواية حنبل في أمة قالت: إني حرة، فتزوجها فولدت منه أولادًا قيل للأب: أفتكَّ ولدك هؤلاء وإلا هم يتبعون الأم.

فظاهر هذه الرواية أن ولد المغرور بالحرية ينعقدون أرقاء، وإنما الأب يفتكهم بالفداء فيعتقون عليه، وظاهر ما روي عن علي يدل عَلَى أن الأب لا يجب عليه الافتداء، كما لا يجب عليه شراء ولده إذا رآه يباع، وقد يحمل عَلَى وجه آخر وهو أن من تزوج أم ولد فقد ( .... ) (2) سيدها؛ فإنه أقدم عَلَى نكاح أمة حكم بعتقها بسبب ظاهر، مع جواز ظهور بقاء رقها

--------------------------------------------

(1) كذا! !

(2) بياض بالأصل.
'আল-ইলাল' গ্রন্থে আল-মাইমুনি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম আহমাদ বলেছেন: হাম্মাদ ইবন যায়িদ একে উত্তম (يجوده) করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

এটি আইয়ুব থেকে হাম্মাদ ইবন যায়িদের বর্ণনাকে কাতাদাহর এই বর্ণনার ওপর ইমাম আহমাদের অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের প্রমাণ বহন করে।

আল-আছরামের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ এই হাদিসকে নিখোঁজ ব্যক্তির (المفقود) স্ত্রীর সংক্রান্ত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, তিনি মনে করতেন এই নারীর জন্য মৃত্যু সংবাদ প্রদান (نعي) হলো মূলত তার কোনো চিহ্ন না পাওয়া এবং সংবাদ বিচ্ছিন্ন (انقطاع خبره) হওয়া, যা হাম্মাদ ইবন যায়িদ তার বর্ণনায় ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়া তার কাছে স্বামীর মৃত্যুর এমন এক সংবাদ পৌঁছেছিল যা এককভাবে প্রমাণিত (لا يثبت) নয়, ফলে তা সংবাদ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়েছে। আর উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর এই ফয়সালা (القضاء) প্রমাণ করে যে, তারা বাহ্যত মালিক নিখোঁজ হওয়ার সময় উম্মুল ওয়ালাদ-এর স্বাধীনতার বিধানের পক্ষে ছিলেন। এ কারণেই তারা নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, স্বামী তার সন্তানদের মুক্তিপণ (فداء) দিয়ে ছাড়িয়ে নেবে, ঠিক যেমন কোনো ব্যক্তি দাসীকে স্বাধীন মনে করে ধোঁকায় পড়ে (المغرور) বিয়ে করলে তার মালিকের উপস্থিতির সময় সন্তানদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়। কারণ, যে ব্যক্তি কোনো দাসীকে তার দাসত্ব (رق) সম্পর্কে জেনে বিয়ে করে, তার গর্ভজাত সন্তান দাস (رقيق) হিসেবে গণ্য হয়; দাসীর মালিকের ইচ্ছা ব্যতীত তাদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়ানো যায় না, যা ধোঁকায় পড়া ব্যক্তির (المغرور) ক্ষেত্রে ভিন্ন। আর আইয়ুব থেকে হাম্মাদের বর্ণনার ওপর এই দলিল গ্রহণ (الاستدلال) সুস্পষ্ট যে, আলী ও উসমান ফয়সালা দিয়েছিলেন যে সন্তানদের মুক্তিপণ দেওয়া আবশ্যক।

অন্যদিকে কাতাদাহ থেকে সাঈদের বর্ণনায় কেবল আলী (রা.)-কে ফয়সালাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; সেখানে বলা হয়েছে যে তিনি সন্তানদের উম্মুল ওয়ালাদের মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং পিতার ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের মুক্ত করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এটি যদি সংরক্ষিত (محفوظ) বর্ণনা হিসেবে ধরা হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যে ধোঁকায় পড়া ব্যক্তির (المغرور) সন্তানদের স্বাধীনতার বিধান কার্যকর হবে না যতক্ষণ না তাদের মুক্ত করা হয়; যা ইমাম আহমাদেরও একটি বর্ণনা (رواية)।

হাম্বল বর্ণিত রেওয়ায়েতে জনৈক দাসী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন, যে বলেছিল: "আমি স্বাধীন", অতঃপর এক ব্যক্তি তাকে বিয়ে করল এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। তখন পিতাকে বলা হয়েছিল: "তোমার সন্তানদের মুক্ত করো, অন্যথায় তারা মায়ের অনুগামী হবে।"

এই বর্ণনার বাহ্যিক অর্থ হলো, স্বাধীনতার ব্যাপারে ধোঁকায় পড়া ব্যক্তির (المغرور) সন্তানরা দাস (أرقاء) হিসেবেই জন্ম নেয়, কেবল পিতা মুক্তিপণের (فداء) বিনিময়ে তাদের ছাড়িয়ে নিলে তারা স্বাধীন হয়। অন্যদিকে আলী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার বাহ্যিক অর্থ নির্দেশ করে যে, পিতার ওপর মুক্তিপণ দেওয়া ওয়াজিব নয়, যেমন তার সন্তানকে বিক্রি হতে দেখলে তা ক্রয় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। এর অন্য একটি ব্যাখ্যাও হতে পারে যে, যে ব্যক্তি কোনো উম্মুল ওয়ালাদকে বিয়ে করল, সে মূলত তার মালিকের ( .... ) (২); কারণ সে এমন এক দাসীকে বিয়ে করার পদক্ষেপ নিয়েছে যার স্বাধীনতার বিধান বাহ্যিক কারণে দেওয়া হয়েছিল, যদিও তার দাসত্ব (رق) অবশিষ্ট থাকার সম্ভাবনা বিদ্যমান ছিল।

--------------------------------------------

(১) এভাবেই মূল পাঠে আছে!

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে ফাঁকা স্থান।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৭৯)
بظهور سيدها. فلم يدخل عَلَى نكاح حرة في نفس الأمر، فلهذا كان ولدها منه تبعًا لها في حريتها الظاهرة ورجوعهم إلي الرق بظهور السيد، وهذا بخلاف الغرور الَّذِي لم يشعر برق المرأة المغرور بحريتها بالكلية، وبخلاف من شهد بموته اثنان، فحكم بعتق أم ولده ثم ظهر حيًّا؛ لأنّ العتق هنا استند إِلَى بينة شرعية، يجب العمل بها، بخلاف الحكم بعتق أمهات أولاد المفقود، فإنه إِنَّمَا استند عليه ظن مجرد.

وعلى هذين المحملين يحمل كلام الحسن البصري في قوله: ولدها بمنزلتها.

ونقل مهنا عن أحمد في أم ولد غاب عنها، فمكثت سنتين، ثم جاءها الخبر أنه قد مات. فزوجها، أخوها، فدخل بها وولدت منه، ثم جاء سيدها، لمن يكون الولد؟ قال: للآخر، {وعلى} (1) الَّذِي زوجها قيمة الولد، يدفعه إِلَى السيد. فقلت له: وترجع إِلَى سيدها؟ قال: نعم".

فهذه المسألة إِن حملت عَلَى أنها زوجت بخبر ثبت به الموت شرعًا كانت مما نحن فيه.

وإن حملت عَلَى أعم من ذلك دخلت فيه أم ولد المفقود، وأيضًا فقصة عثمان وعلي رضي الله عنهما تدل عَلَى جواز نكاح أم ولد المفقود عند إباحة نكاح نسائه {لأنّ} (2) وقوع ذلك في كلام عثمان إِنَّمَا يكون بعلمه وإذنه غالبًا، فإن مثل هذه القضايا المشكلة لا يفتات فيها عَلَى الإمام، وقد تنازع العُلَمَاء في توقيفها عَلَى إذن الإمام عَلَى قولين مشهورين، هما روايتان عن أحمد.

ولو قدر أنها لم تكن بإذن عثمان فالظاهر أنها كانت عن فتاوى أعيان علماء الصحابة. وأسوأ ما تقدر أن ذلك وقع عن غير فتيا ولا حكم، لكنه لم ينكر مع ظهوره واشتهاره.

--------------------------------------------

(1) في "الأصل": "وعن" والمثبت أنسب للسياق.

(2) في "الأصل": "لا" والمثبت أنسب للسياق.
তার মুনিবের উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে। প্রকৃতপক্ষে সে কোনো স্বাধীন নারীর বিবাহে প্রবেশ করেনি, তাই তার সন্তানরা তার প্রকাশ্য স্বাধীনতার অনুগামী হবে এবং মুনিবের আত্মপ্রকাশের ফলে তারা পুনরায় দাসত্ব (الرق) অবস্থায় ফিরে যাবে। এটি সেই প্রবঞ্চনার (الغرور) বিপরীত যেখানে ব্যক্তি নারীর দাসত্বের বিষয়ে একেবারেই অবগত ছিল না। এটি সেই বিষয়েরও বিপরীত যেখানে দুই ব্যক্তি কারো মৃত্যুর সাক্ষ্য দেয় এবং তার উম্মে ওয়ালাদ (أم ولد)-এর মুক্তির ফয়সালা করা হয়, অতঃপর সে জীবিত অবস্থায় প্রকাশ পায়। কারণ এখানে মুক্তি একটি শরয়ি প্রমাণের (بينة شرعية) ওপর ভিত্তি করে ছিল যার ওপর আমল করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে নিখোঁজ (مفقود) ব্যক্তির উম্মে ওয়ালাদ (أم ولد)-এর মুক্তির ফয়সালা এর বিপরীত, কারণ তা কেবল নিছক ধারণার (ظن) ওপর ভিত্তি করে ছিল।

হাসান বসরীর এই উক্তি: "তার সন্তান তার মর্যাদাই পাবে"—এই দুটি অর্থেই গ্রহণ করা হবে।

মুহান্না ইমাম আহমাদ থেকে এমন এক উম্মে ওয়ালাদ (أم ولد) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যার মুনিব অনুপস্থিত ছিল। সে দুই বছর অপেক্ষা করল, তারপর তার কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে মুনিব মারা গেছে। ফলে তার ভাই তাকে বিয়ে দিল এবং সে স্বামীর সাথে ঘর-সংসার করল ও তার সন্তান হলো। এরপর তার মুনিব ফিরে এল। এখন সন্তান কার হবে? তিনি (আহমাদ) বললেন: "পরবর্তী স্বামীর, আর যে ব্যক্তি তাকে বিয়ে দিয়েছে সে মুনিবকে সন্তানের মূল্য পরিশোধ করবে।" আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: "সে কি তার মুনিবের কাছে ফিরে যাবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"

এই মাসআলাটি যদি এমন ধরা হয় যে, তাকে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ে দেওয়া হয়েছে যার দ্বারা শরয়িভাবে মৃত্যু প্রমাণিত হয়েছে, তবে তা আমাদের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আর যদি এর চেয়ে ব্যাপক অর্থে ধরা হয়, তবে নিখোঁজ (مفقود) ব্যক্তির উম্মে ওয়ালাদ (أم ولد)-ও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তাছাড়া উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ঘটনা নিখোঁজ (مفقود) ব্যক্তির উম্মে ওয়ালাদ (أم ولد)-এর বিয়ের বৈধতা নির্দেশ করে যখন তার স্ত্রীদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। কারণ উসমানের বক্তব্যে এটি আসা সাধারণত তার জ্ঞান ও অনুমতিক্রমেই হয়ে থাকে। কেননা এ জাতীয় জটিল বিষয়গুলোতে ইমামের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। আলেমগণ ইমামের অনুমতির ওপর এটি স্থগিত রাখার ব্যাপারে দুটি প্রসিদ্ধ মতভেদে লিপ্ত হয়েছেন, যা ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনা (روايتان)।

যদি ধরে নেওয়া হয় যে এটি উসমানের অনুমতিতে ছিল না, তবে দৃশ্যত তা বিশিষ্ট আলেম সাহাবীগণের (صحابة) ফতোয়ার ভিত্তিতে ছিল। আর সবচেয়ে মন্দ যা ধারণা করা যায় তা হলো, এটি ফতোয়া বা ফয়সালা ছাড়াই ঘটেছে, কিন্তু তা প্রকাশ ও প্রচার হওয়া সত্ত্বেও কেউ তার প্রতিবাদ করেননি।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে "وعن" রয়েছে, তবে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা প্রসঙ্গের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(২) মূল পাঠে "لا" রয়েছে, তবে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা প্রসঙ্গের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮০)
والمعنى في جواز نكاح أمهات أولاد المفقود أنه إما أن يشبهن بالزوجات فلا يحبسن عَلَى مولاهن؛ لما فيه من الضرر كضرر الزوجات، فيتعين أنه يجوز لهن النكاح؛ دفعًا عن الضرر، ويوضح هذا أن الإماء يجب عَلَى سيدهن إعفافهن، إما بالوطء إِن أمكن، وإما بالتزويج، وإما أن يبيعهن لمن يقوم مقامه في ذلك إِن أمكن البيع.

وأمهات الأولاد لا يمكن فيهن البيع فيتعين إعفافهن بأحد الأمرين الأولين، والغائب قد يتعذر الإعفاف منه بالوطء فيتعين وجوب إعفافهن بالنكاح إِن طلبنه، وهذا ينقضي جواز إنكاح الحاكم لهن مع الغيبة المطلقة.

وإن لم يكن السيد مفقودًا؛ بل حصل لهن الضرر بترك الوطء، فقد صرح بذلك القاضي أبو يعلى في "الجامع الكبير" وإن الحاكم يزوج إماء الغائب إذا طلبن ذلك، وكانت غيبته منقطعة بحيث يجوز للولي الأبعد تزويج الحرة مع غيبة الولي الأقرب، فَإِذَا كان هذا في الغائب دون المفقود، فالمفقود أولى وأحرى أن يزوج أمهات أولاده.

وأما إِن تشبهت -أعني أمهات الأولاد- بالإماء القن (1) تغليبًا للمالية فيهن وهو مقتضى كلام أصحابنا في تضمينهن بالغصب {والعقد} (2) كما سبق ذكره، فيجب حينئذ أن يحكم فيهن بحكم المال، ومعلوم أن ماله يقسم عند الإمام أحمد إذا مضت مدة انتظاره كما سبق ذكره.

وإذا وجب قسمته فإنه يجب قسمته عَلَى مقتضى قسمة سائر التركات، فيبدأ بإخراج ما يخرج من رأس المال من ديون ونحوها، ثم بما يخرج من الثلث من الوصايا ونحوها، ثم يقسم الباقي بين الورثة عَلَى حكم الميراث.

--------------------------------------------

(1) العبد القنّ: الَّذِي وُلد عندك، ولا يستطيع أن يخرج عنك. والأنثى: قنّ بغير هاء. قال الأصمعي: القن: الَّذِي كان أبوه مملوكًا لمواليه، وكأن القن مأخوذ من القنية. "اللسان" مادة: (قنن).

(2) في "الأصل": "اليد".
নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তির উম্মে ওয়ালাদদের (أمهات أولاد) বিবাহের (نكاح) বৈধতার তাৎপর্য হলো, হয় তাদেরকে স্ত্রীদের সাথে তুলনা করা হবে, ফলে তাদের ওপর তাদের মালিকের কারণে কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করা যাবে না; কারণ এতে স্ত্রীদের ক্ষতির ন্যায় ক্ষতি (ضرر) নিহিত রয়েছে। সুতরাং ক্ষতি (ضرر) নিরসনের নিমিত্তে তাদের বিবাহ (نكاح) বৈধ হওয়াই আবশ্যক; আর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, দাসীদের পবিত্রতা রক্ষা করা তাদের মালিকের জন্য ওয়াজিব, হয় সম্ভব হলে সহবাসের মাধ্যমে, অথবা বিবাহের (نكاح) মাধ্যমে, অথবা যদি বিক্রয় করা সম্ভব হয় তবে এমন কারো নিকট বিক্রয় করার মাধ্যমে যে এই দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে।

আর উম্মে ওয়ালাদদের (أمهات أولاد) ক্ষেত্রে বিক্রয় করা সম্ভব নয়, তাই প্রথম দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে তাদের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টি নির্ধারিত হয়ে যায়। আর অনুপস্থিত (الغائب) ব্যক্তির ক্ষেত্রে সহবাসের মাধ্যমে পবিত্রতা রক্ষা করা অসম্ভব হতে পারে, ফলে তারা আবেদন করলে বিবাহের (نكاح) মাধ্যমে তাদের পবিত্রতা রক্ষা করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর এটি মালিকের নিরুদ্দেশ অবস্থায় বিচারক (الحاكم) কর্তৃক তাদের বিবাহের (نكاح) বৈধতাকে সাব্যস্ত করে।

যদি মালিক নিখোঁজ (المفقود) না-ও হয়, বরং সহবাস বর্জন করার কারণে তাদের ক্ষতি (ضرر) হয়, তবে কাজী আবু ইয়ালা "আল-জামেউল কাবীর" গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অনুপস্থিত (الغائب) ব্যক্তির দাসীরা আবেদন করলে বিচারক (الحاكم) তাদের বিবাহ (نكاح) দেবেন। আর এটি এমন দীর্ঘ অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে নিকটবর্তী অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে দূরবর্তী অভিভাবকের জন্য কোনো স্বাধীন নারীকে বিবাহ দেওয়া বৈধ হয়। সুতরাং, যখন সাধারণ অনুপস্থিত (الغائب) ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে, তখন নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তির উম্মে ওয়ালাদদের (أمهات أولاد) বিবাহ দেওয়ার বিষয়টি আরও অধিক শ্রেয় ও অগ্রগণ্য।

আর যদি তাদের—অর্থাৎ উম্মে ওয়ালাদদের (أمهات أولاد)—পূর্ণ দাসী (القن) (১) হিসেবে গণ্য করা হয়, তাদের মালিকানাধীন সম্পদের দিকটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে, যেমনটি আমাদের মাযহাবের ইমামগণের (أصحابنا) বক্তব্যে জবরদখল ও চুক্তির ক্ষেত্রে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে; তবে সেক্ষেত্রে তাদের ওপর সম্পদের বিধান কার্যকর হবে। আর এটি সুবিদিত যে, ইমাম আহমদের নিকট নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তির সম্পদ তার অপেক্ষার সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর বণ্টন করে দেওয়া হয়, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

যখন তা বণ্টন করা আবশ্যক হয়, তখন তা অন্যান্য সকল পরিত্যক্ত সম্পত্তির (التركات) ন্যায় বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে। ফলে প্রথমে মূল সম্পদ থেকে ঋণ (الديون) ও অনুরূপ বিষয়গুলো পরিশোধের মাধ্যমে শুরু করতে হবে, এরপর এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে অসিয়ত (الوصايا) ও অনুরূপ বিষয়গুলো পূরণ করতে হবে, অতঃপর অবশিষ্ট অংশ ওয়ারিশদের মধ্যে মিরাসের (الميراث) বিধান অনুযায়ী বণ্টন করা হবে।

--------------------------------------------

(১) পূর্ণ দাস (العبد القنّ): এমন দাস যে তোমার ঘরেই জন্মগ্রহণ করেছে এবং তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে না। আর নারী দাসের ক্ষেত্রে 'ক্বিন' শব্দটি গোল 'হা' ছাড়াই ব্যবহৃত হয়। আসমাঈ বলেন: ক্বিন হলো সেই ব্যক্তি যার পিতাও তার মালিকদের মালিকানাধীন ছিল। মনে হয় যেন 'ক্বিন' শব্দটি 'কিনিয়াহ' (মালিকানা) থেকে নেওয়া হয়েছে। "লিসানুল আরব", মূল: (قنن)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে: "আল-ইয়াদ" (اليد) রয়েছে।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮১)
وقول الأصحاب: يقسم ماله بين ورثته مرادهم به أنه يقسم عَلَى حكم سائر المواريث، لم يريدوا أنه يقسم جميعه عَلَى الورثة، ولا يخرج منه ما يخرج من رءوس الأموال، فإن هذا لا يقوله عاقل، وبعضهم صرح به يقسم بين الغرماء والورثة، منهم ابن عقيل وغيره، وهذا واضح لا خفاء به، ومعلوم أن عتق أمهات الأولاد يتعين إخراجه من رأس المال قبل الديون وغيرها، ولهذا لو مات المفلس وعليه ديون، ولم يخلف غير أم ولده لعتقت ولم يتخلص فيها الغرماء، فكيف يتوهم متوهم أن مال المفقود يوفى منه ديونه، ويترك أمهات أولاده يعتقن، وعتقهن يقدم عَلَى الديون؟ أم كيف يتوهم متوهم أن ماله يقسم بين ورثته ولا تخرج منه ديونه ولا تنفذ منه وصاياه؟

فإن قيل: ما الفرق بين توريث المال والحكم بالعتق؟

أما توريث المال لم يشترط له تعين حياة الوارث ولا الموروث عند أحمد بدليل أنه يورث الغرقاء والهدماء بعضهم من بعض، ويورث المفقود من مال مورثه الَّذِي مات في مدة انتظاره في أحد الوجهين لأصحابه وقد قيل: إِنَّ في كلامه إيماء إِلَيْهِ، فلذلك لا يعتبر له تعين وفاة الموروث.

وأما العتق فلا يحكم به مع الشك في وقوعه، كما لا يحكم بالطلاق مع الشك فيه.

قيل: قسمة مال المفقود عند الإياس من قدومه مشبه بملك اللقطة بعد حول التعريف للإياس من الاطلاع عَلَى مالكها، وكلاهما جائز لما في قسمة المال والتصرف فيه من المصلحة، ولما في {إمساكه} (1) وحبسه من الفساد وتعرضه لاستيلاء الظلمة عليه، وذلك هو الواقع في هذه الأزمان لا محالة، وكلاهما يجوز من غير استئذان حاكم، وقد نص عليه أحمد في رواية أبي داود في مال المفقود، مع تردده في رفع أمر زوجته إِلَى الحاكم، وكلاهما

--------------------------------------------

(1) في "الأصل": "إنفاقه" والمثبت أنسب للسياق.

মাযহাবের পণ্ডিতগণের (الأصحاب) বক্তব্য: "নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ তার ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে"—এর মাধ্যমে তাঁদের উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মিরাসের বিধান অনুযায়ী তা বণ্টিত হবে। তাঁরা এটি বোঝাতে চাননি যে, সমস্ত সম্পদই ওয়ারিশদের দিয়ে দেওয়া হবে এবং মূলধন থেকে যা বের করা আবশ্যক তা বের করা হবে না; কেননা কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এমন কথা বলতে পারেন না। তাঁদের কেউ কেউ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তা পাওনাদার ও ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, যাঁদের মধ্যে ইবনে আকীল ও অন্যান্যরা রয়েছেন। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। এটি সর্বজনবিদিত যে, 'উম্মুল ওয়ালাদ' (দাস-মা)-দের মুক্ত করার বিষয়টি ঋণ পরিশোধ বা অন্যান্য বিষয়ের আগে মূলধন থেকে নিশ্চিত করা আবশ্যক। এই কারণে, যদি কোনো দেউলিয়া ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যান এবং তাঁর 'উম্মুল ওয়ালাদ' ছাড়া আর কোনো সম্পদ না থাকে, তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে এবং পাওনাদাররা তাঁর ওপর কোনো অধিকার পাবে না। এমতাবস্থায় কোনো ব্যক্তি কীভাবে এটি কল্পনা করতে পারে যে, নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ থেকে তাঁর ঋণ পরিশোধ করা হবে এবং তাঁর 'উম্মুল ওয়ালাদ'-দের মুক্ত হতে দেওয়া হবে, অথচ তাঁদের মুক্তি ঋণ পরিশোধের ওপর অগ্রগণ্য? অথবা কোনো ব্যক্তি কীভাবে এটি ভাবতে পারে যে, তাঁর সম্পদ তাঁর ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টিত হবে অথচ তাঁর ঋণ পরিশোধ করা হবে না এবং তাঁর অসিয়তসমূহ কার্যকর করা হবে না?

যদি প্রশ্ন করা হয়: সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টন এবং মুক্তির বিধান প্রদানের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তরে বলা যায়: ইমাম আহমদের নিকট সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার জন্য ওয়ারিশ বা মৃত ব্যক্তি—কারো জীবনের নিশ্চয়তা শর্ত নয়। এর প্রমাণ হলো, তিনি পানিতে ডুবে মারা যাওয়া এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একে অপরের উত্তরাধিকারী হওয়ার বিধান দেন। অনুরূপভাবে, তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিকেও তাঁর সেই আত্মীয়র সম্পদের উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত করেন যে তাঁর অপেক্ষারত সময়ের মধ্যে মারা গেছে; এটি তাঁর অনুসারী পণ্ডিতগণের দুটি মতের (الوجهين) একটি। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর বক্তব্যে এর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক বিবেচিত হয় না।

পক্ষান্তরে, মুক্তির বিধান সন্দেহের উপস্থিতিতে প্রদান করা হয় না, যেমন সন্দেহের ভিত্তিতে তালাকের বিধান দেওয়া হয় না।

বলা হয়ে থাকে: নিখোঁজ ব্যক্তির ফিরে আসার আশা ত্যাগ করার পর তাঁর সম্পদ বণ্টন করার বিষয়টি কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর এক বছর প্রচারের পর মালিকানাধীন হওয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; কারণ তার মালিকের সন্ধান পাওয়ার ব্যাপারে আশা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মালামাল বণ্টন ও ব্যবহারের মধ্যে জনস্বার্থ নিহিত থাকায় উভয়টিই বৈধ। তদুপরি সম্পদ {আটকে রাখা} (১) ও রুদ্ধ করে রাখার মধ্যে অনিষ্ট নিহিত রয়েছে এবং এতে জালিমদের দ্বারা তা জবরদখল হওয়ার আশঙ্কা থাকে; আর বর্তমান যুগে এটিই অনিবার্যভাবে ঘটে থাকে। এ উভয় কাজই বিচারকের অনুমতি ব্যতীত জায়েজ। ইমাম আহমদ আবু দাউদের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদের ব্যাপারে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যদিও নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর বিষয়টি বিচারকের নিকট উত্থাপন করার ব্যাপারে তিনি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। আর উভয়ই...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে: "ব্যয় করা" (إنفاقه), তবে বর্তমান শব্দটিই প্রসঙ্গের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮২)
يتصرف فيه تصرفًا مراعًى بظهور صاحبه؛ فإن لم يظهر استمر التصرف في المالين عَلَى ما كان عليه من الصحة، وإن ظهر صاحبه؛ فإن كان عين المال موجودًا وجب رده عَلَى صاحبه، وإن كان مستهلكًا فهل يضمن له أم لا؟ عَلَى قولين مشهورين، وقد حكاهما الأصحاب روايتين عن أحمد في مال المفقود، وإن كان المنصوص عنه في أكثر الروايات عدم الضمان.

وكذلك عنه في اللقطة روايتان أيضاً حكاهما ابن أبي موسى، ومن هنا حكم الصحابة رضي الله عنهم بأن أم ولد المفقود إذا جاء وقد تزوجت فإنهم خيروه بينها وبين الصداق الَّذِي دفعه إليها؛ لأنّ الزوجة ليست ملكًا له، وإنما كان يملك الانتفاع ببعضها، وفي مقابلة ذلك بذل لها الصداق، فلذلك خير بين المال الَّذِي لزمه مقابلة البضع وبين عوضه وهو البضع، وحينئذ فلا فرق بين قسمة ماله بين ورثته وبين عتق أمهات أولاده، وليس هذا من قبيل الحكم بالعتق مع الشك في شروطه، وإنما هو من قبيل التصرف في مال من أيس من وجوده لفقده، وأيضًا فما ذكر من الفرق غير صحيح عَلَى مقتضى سواعد مذهب أحمد؛ فإن {العتق} (1) عنده يحكم به مع الشك في عين من وقع عليه، كما يحكم إخراج المعتقة المسببة عنده بالقرعة، ويكون ذلك مراعاة بدوام النسيان عَلَى أحد الوجهين؛ بل وفي الطلاق أيضاً كذلك عَلَى الصحيح المنصوص عنه وعليه أكثر الأصحاب؛ فإن قيل فأحمد يحتاط للأبضاع ويفرق بينها وبين المال، ولهذا قال فيمن مات بأرض غربة ولا وارث له: إنه يجوز لمن معه أن يجمع ماله ويبيعه إلا الجواري؛ فإنه لا يبيعهن إلا الحاكم، وعلل بأن البضع يحتاط له، فلا يجوز أن يباع إلا بإذن الملك أو الحاكم، وكذلك فرق بين بيع المدبرة والمدبر في رواية عنه لهذا المعنى، وهذا يقتضي أن يفرق هاهنا بين مال المفقود وأمهات أولاده وهذا التفريق لم يقل به أحد في مال

--------------------------------------------

(1) في "الأصل": "المعتق" والمثبت أنسب للسياق.
মালিকের পুনরাবির্ভাবের বিষয়টি বিবেচনা করে তাতে এমনভাবে হস্তক্ষেপ করা হবে; যদি মালিকের সন্ধান না পাওয়া যায়, তবে উভয় সম্পদের ব্যবস্থাপনা তার বৈধতা (صحة) অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে। আর যদি মালিক ফিরে আসে এবং মূল সম্পদটি বিদ্যমান থাকে, তবে তা তার মালিককে ফেরত দেওয়া আবশ্যক (واجب) হবে। আর যদি তা নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে কি তার জন্য সে দায়বদ্ধ (ضمان) হবে কি না? এ বিষয়ে দুটি প্রসিদ্ধ অভিমত রয়েছে। আহমদ এর সাথীবর্গ (أصحاب) নিখোঁজ ব্যক্তির (مفقود) সম্পদের ব্যাপারে তার থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনা (روايتين) হিসেবে এ দুটি উল্লেখ করেছেন। যদিও অধিকাংশ বর্ণনায় তার থেকে বর্ণিত স্পষ্ট ভাষ্য (منصوص) হলো দায়বদ্ধ (ضمان) না হওয়া।

অনুরূপভাবে কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর (لقطة) ক্ষেত্রেও তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে যা ইবনে আবি মুসা উল্লেখ করেছেন। এখান থেকেই সাহাবীগণ (رضي الله عنهم) এই ফয়সালা দিয়েছেন যে, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্তানবতী দাসী (أم ولد) যদি অন্য কাউকে বিবাহ করে ফেলে এবং পরবর্তীতে মালিক ফিরে আসে, তবে তাকে উক্ত নারী এবং ঐ নারী যে মোহর (صداق) গ্রহণ করেছে—এই দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার দেওয়া হবে। কারণ, স্ত্রী তার মালিকানাধীন কোনো বস্তু নয়, বরং তিনি কেবল তার কিছু অংশের উপভোগের অধিকার রাখতেন। আর এর বিনিময়ে তিনি তাকে মোহর (صداق) প্রদান করেছিলেন। একারণেই তাকে উক্ত সম্পদ (মোহর), যা বৈবাহিক অধিকারের (بضع) বিনিময়ে আবশ্যক হয়েছিল, এবং তার বিকল্প অর্থাৎ বৈবাহিক অধিকারের (بضع) মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায়, নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ তার ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা এবং তার সন্তানবতী দাসীদের (أمهات أولاد) মুক্ত করে দেওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। এটি কোনো শর্তের ব্যাপারে সন্দেহ (شك) থাকা অবস্থায় দাসমুক্তির (عتق) ফয়সালা দেওয়ার পর্যায়ভুক্ত নয়; বরং এটি এমন ব্যক্তির সম্পদে হস্তক্ষেপ করার অন্তর্ভুক্ত যার অনুপস্থিতির কারণে ফিরে আসার ব্যাপারে নিরাশ হওয়া গেছে। এছাড়া, পার্থক্যের যে দিকটি উল্লেখ করা হয়েছে তা আহমদ এর মাযহাবের (مذهب) মূলনীতি অনুযায়ী সঠিক নয়। কারণ, তাঁর নিকট দাসমুক্তি (عتق) এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয় যার পরিচয় নিশ্চিতভাবে জানা নেই। যেমনটি তাঁর নিকট লটারির (قرعة) মাধ্যমে মুক্তিপ্রাপ্তা দাসী নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফয়সালা দেওয়া হয়; এবং এটি দুই অভিমতের (وجهين) একটি অনুযায়ী বিস্মৃতির ধারাবাহিকতা বিবেচনা করে হয়ে থাকে। এমনকি তালাকের (طلاق) ক্ষেত্রেও তাঁর থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيح) স্পষ্ট ভাষ্য (منصوص) এবং অধিকাংশ সাথীবর্গের (أصحاب) মতানুযায়ী বিষয়টি একই রকম। যদি বলা হয় যে, আহমদ বৈবাহিক অধিকারের (أبضاع) ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং এগুলোর সাথে সম্পদের পার্থক্য করেন—আর একারণেই তিনি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে প্রবাসে মারা গেছে এবং তার কোনো ওয়ারিশ নেই: তার সাথে থাকা ব্যক্তি তার সম্পদ একত্রিত করে বিক্রি করতে পারবে, তবে দাসী (جواري) ব্যতীত; কারণ বিচারক (حاكم) ছাড়া অন্য কেউ তাদের বিক্রি করতে পারবে না। তিনি এর কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন যে, বৈবাহিক অধিকার বা লজ্জাস্থানের (بضع) ক্ষেত্রে সতর্কতা কাম্য, তাই শাসক বা বিচারকের (حاكم) অনুমতি ব্যতীত তাদের বিক্রি করা জায়েয (جائز) নয়। অনুরূপভাবে, এই অর্থের প্রেক্ষিতে তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় মুদাব্বারা (মৃত্যুপরবর্তী মুক্তির অঙ্গীকারপ্রাপ্তা দাসী) (مدبرة) এবং মুদাব্বার (মৃত্যুপরবর্তী মুক্তির অঙ্গীকারপ্রাপ্ত দাস) (مدبر) বিক্রির মধ্যেও পার্থক্য করা হয়েছে। এর দাবি হলো—এখানে নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ এবং তার সন্তানবতী দাসীদের (أمهات أولاد) মধ্যে পার্থক্য করা, অথচ সম্পদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যের কথা কেউ বলেননি।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'আল-মু'তাক' (মুক্তপ্রাপ্ত দাস) রয়েছে, তবে প্রসঙ্গের সাথে 'আল-ইতক' (দাসমুক্তি) শব্দটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮৩)
المفقود، وذلك أنه سوى بين حكم ماله وزوجاته عَلَى ما سبق، وبضع الزوجة آكد حرمة من بضع الأمة، وأيضًا فإنه لم يفرق في مال المفقود بين الإماء وغيرهن، ولا أحد من {الصحابة} (1)، فلو كان في ماله أمة جاز بيعها وقسمة ثمنها، وجاز لبعض الورثة أن يأخذها من نصيبه برضاء الباقين، ولو كان الوارث واحدًا واختص بها {جاز} (2) له وطؤها.

فعلم أن أحمد لم يراع هذا الفرق في مال الفقود بالكلية، وحينئذ فتجب التسوية بين أمهات أولاده وسائر رقيقه وأمواله في حكم القسمة، إلا أن قسمة أم الولد بين الورثة والغرماء والوصايا متعذر، وإنما قسمتها إرسالها وتمكينها عَلَى حكم العتق لها ظاهرًا.

ومما يدل عَلَى هذا أن أحمد يرى أن المفقود إذا مضت هذه المدة في انتظاره بحكم له بأحكام الموتى مطلقًا، وأنه نص عَلَى أن نفقة زوجته تسقط من ماله بعد مدة انتظاره، ولو حبست نفسها عليه بعد ذلك منتظرة له.

قال في رواية الأثرم: مال المفقود إذا أمرت به امرأته أن تزوج قسمت ماله بين ورثته، قال: فقلت له: ففي هذه الأريع سنين والأربعة أشهر أليس ينفق عليها من ماله؟ قال لي: فبد لها من نفقة، قلت: فإن أحبت أن تقيم عليه بعد الأربع سنين والأربعة أشهر أليس لها ذاك؟ فمن أين ينفق عليها بعد؟ قال: أنا أرى إذا مضى هذا الأجل أن يقسم المال، قلت: فَإِذَا قسم المال فمن أين ينفق عليها؟ أليس لها بعد الأجل نفقة؟

وهذا نص في أن نفقتها تسقط بانقضاء أربع سنين وأربعة أشهر وعشر عنه بموته بعد انقضاء هذه المدة، وإنما وجب لها النفقة هاهنا في مدة العدة، وإن كان عنده لا يجب {للمتوفى} (3) عنها نفقة في مدة عدتها؛ لأنّ الوفاة هاهنا غير متيقنة فيها بخلاف من علمت وفاة زوجها، وقد أشار إِلَى هذا المعنى في

--------------------------------------------

(1) في الأصل: أصحابه.

(2) في الأصل: وجاز.

(3) في الأصل: المتوفى.
নিখোঁজ ব্যক্তি সম্পর্কে বিধান হলো, তার সম্পদের হুকুম এবং তার স্ত্রীদের হুকুমের মধ্যে সমতা বজায় রাখা হবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্কের পবিত্রতা দাসীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্কের পবিত্রতার চেয়ে অধিকতর গুরুত্ববহ। তদুপরি, তিনি নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদের ক্ষেত্রে দাসী এবং অন্যান্য সম্পদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি, আর সাহাবীগণের (الصحابة) (১) মধ্য থেকেও কেউ এই পার্থক্য করেননি। সুতরাং যদি তার সম্পদের মধ্যে কোনো দাসী থেকে থাকে, তবে তা বিক্রয় করা এবং তার বিক্রয়লব্ধ মূল্য বণ্টন করা বৈধ হবে। আবার অবশিষ্ট ওয়ারিশদের সম্মতিতে কোনো এক ওয়ারিশের জন্য তাকে নিজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করাও বৈধ। আর যদি ওয়ারিশ মাত্র একজন হন এবং তিনি তার জন্যই নির্দিষ্ট হন, তবে তার জন্য সেই দাসীর সাথে সহবাস করা বৈধ (২)।

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম আহমদ নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি পুরোপুরিভাবে বিবেচনা করেননি। এমতাবস্থায়, বণ্টন প্রক্রিয়ায় তার উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানের জননী দাসী) এবং অন্যান্য দাস-দাসী ও সম্পদের মধ্যে সমতা বজায় রাখা ওয়াজিব হবে। তবে ওয়ারিশ, পাওনাদার এবং অসিয়তের মাঝে উম্মে ওয়ালাদকে বণ্টন করা অসম্ভব; মূলত তাকে বণ্টন করার অর্থ হলো তাকে মুক্তি প্রদান করা এবং বাহ্যিকভাবে তার স্বাধীনতার হুকুম কার্যকর করা।

এ বিষয়টি আরও যা দ্বারা প্রমাণিত হয় তা হলো, আহমদ মনে করেন যে, অপেক্ষার এই নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলে নিখোঁজ ব্যক্তির ওপর সর্বতোভাবে মৃত ব্যক্তির হুকুম প্রযোজ্য হবে। তিনি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অপেক্ষার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তার সম্পদ থেকে তার স্ত্রীর ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যাবে, যদিও স্ত্রী এরপরও তার অপেক্ষার জন্য নিজেকে আবদ্ধ রাখে।

আল-আছরামের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তিনি বলেছেন: নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী যখন পুনরায় বিবাহের নির্দেশ পায়, তখন তার সম্পদ ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে। তিনি (আছরাম) বলেন: আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: এই চার বছর এবং চার মাসের মধ্যে কি তার সম্পদ থেকে স্ত্রীর ভরণপোষণ নির্বাহ করা হবে না? তিনি আমাকে বললেন: অবশ্যই তার ভরণপোষণ দিতে হবে। আমি বললাম: যদি সে চার বছর চার মাস পার হওয়ার পরও অপেক্ষায় থাকতে চায়, তবে কি তার সেই অধিকার নেই? এরপর তাকে কোথা থেকে ভরণপোষণ দেওয়া হবে? তিনি বললেন: আমি মনে করি, যখন এই সময়সীমা অতিবাহিত হবে তখন সম্পদ বণ্টন করা হবে। আমি বললাম: যখন সম্পদ বণ্টন হয়ে যাবে, তখন তাকে কোত্থেকে ভরণপোষণ দেওয়া হবে? সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কি তার জন্য আর কোনো ভরণপোষণ নেই?

এটি একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য যে, চার বছর চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তার ভরণপোষণের অধিকার রহিত হয়ে যায়; কারণ এই সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে তার মৃত্যু সাব্যস্ত হয়। এখানে মূলত ইদ্দত চলাকালীন সময়ে তার জন্য নাফাকাহ বা ভরণপোষণ ওয়াজিব করা হয়েছে, যদিও তার (ইমাম আহমদের) নিকট মৃত ব্যক্তির (৩) স্ত্রীর জন্য ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ ওয়াজিব নয়। কারণ এখানে মৃত্যুর বিষয়টি সুনিশ্চিত নয়, পক্ষান্তরে যার স্বামীর মৃত্যু সুনিশ্চিতভাবে জ্ঞাত তার বিষয়টি ভিন্ন। তিনি এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: আসহাবাহু (তার সাথীরা)।

(২) মূল পাঠে: ‘ওয়া জাযা’ (এবং বৈধ)।

(৩) মূল পাঠে: ‘আল-মুতাওয়াফফা’ (মৃত ব্যক্তি)।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮৪)
رواية صالح فَقَالَ في نفقة الحامل، يموت عنها زوجها أو يطلقها: إِن قامت البينة فمن نصيبها، وإن لم يصح الخبر ولم تقم البينة فمن جميع المال؛ لأنها حبست نفسها عليه، وهذا النص يخالف ما قاله كثير من الأصحاب: أن لها النفقة من مال الغائب ما لم تتزوج أو يفسخ الحاكم نكاحها، ولما قاله بعضهم كابن الزاغوني أنه لا نفقة لها في مدة الأربعة أشهر لا كما في عدة وفاته، وذكر أبو البركات في "شرح الهداية" أنه قياس المذهب عنده، والمنصوص عن أحمد هو منقول عن عمر وابن عباس، لكنهما اختلفا في نفقة الأربع سنين، فَقَالَ ابن عمر: هي من مال المفقود. وقال ابن عباس: إذًا يجحف بالوارث، ولكن يستقرض وينفق؛ فإن جاء زوجها قضى ذلك، وإن لم يأت فهو من نصيبها. وكذلك نص أحمد عَلَى أن مال المفقود بعد مضي المدة المعتبرة لانتظاره يُزكى لما مضى من السنين معللاً بأن صاحبه مات وعليه زكاته، والزكاة تخرج من رأس المال، وهذا يدل عَلَى أنه يحكم بوفاته ظاهرًا بعد هذه المدة، وعلى هذا فتخرج الزكاة من أصل مال المفقود، فإن كان عليه دين تحاصا عَلَى المنصوص عليه في اجتماع الزكاة والدين عَلَى الميت.

وهذا نص منه بإخراج جميع الواجبات عن الميت من ماله بعد مدة انتظاره، سواء كانت لآدمي أو لله، وعتق أم ولد المفقود من قبيل إخراج الزكاة من ماله؛ لأنّه حق واجب لله تعالى، وإن كان مستحقه آدميًّا معينًا بخلاف الزكاة؛ فإن مستحقها آدمي غير معين، وطرد هذا أن تنفذ منه وصاياه ويعتق المدبرون.

***
সালেহ-এর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তিনি গর্ভবতী নারীর ভরণপোষণ সম্পর্কে বলেছেন, যার স্বামী মারা গেছে অথবা তাকে তালাক দিয়েছে: যদি প্রমাণ (البينة) প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা তার অংশ থেকে হবে। আর যদি খবরটি সহিহ বা সঠিক (يصح) না হয় এবং প্রমাণ (البينة) প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে তা সমগ্র সম্পদ থেকে হবে; কারণ সে তার স্বামীর জন্যই নিজেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এই বক্তব্যটি (نص) অনেক সতীর্থদের (الأصحاب) মতের পরিপন্থী; তারা বলেন যে, নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ থেকে তার ভরণপোষণ প্রাপ্য যতক্ষণ না সে পুনরায় বিবাহ করে অথবা বিচারক তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। আবার তাদের কেউ কেউ, যেমন ইবনুল যাগূনী বলেছেন যে, চার মাস সময়ের জন্য তার কোনো ভরণপোষণ নেই, যা তার মৃত্যু পরবর্তী ইদ্দতের মতো নয়। আবু বারাকাত 'শারহুল হিদায়া'-তে উল্লেখ করেছেন যে, এটি তাঁর মতে মাযহাবের সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس)। ইমাম আহমাদ থেকে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত (المنصوص) তা উমর এবং ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণিত হয়েছে; তবে তারা চার বছরের ভরণপোষণের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ইবনে উমর বলেছেন: এটি নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ থেকেই হবে। ইবনে আব্বাস বলেছেন: এটি উত্তরাধিকারীর জন্য ক্ষতিকর হবে, বরং ঋণ গ্রহণ করে খরচ নির্বাহ করা হবে; যদি তার স্বামী ফিরে আসে তবে সে তা পরিশোধ করবে, আর যদি না আসে তবে তা নারীর অংশ থেকে গণ্য হবে। একইভাবে ইমাম আহমাদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ (نص) করেছেন যে, নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদ তার অপেক্ষার নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বিগত বছরগুলোর যাকাত প্রদান করতে হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এর মালিক মারা গেছেন এবং তার ওপর যাকাত বকেয়া ছিল, আর যাকাত মূলধন থেকে বের করা হয়। এটি নির্দেশ করে যে, উক্ত সময়ের পর তাকে আপাতদৃষ্টিতে (ظاهرًا) মৃত বলে রায় দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে, নিখোঁজ ব্যক্তির মূল সম্পদ থেকে যাকাত প্রদান করা হবে; আর যদি তার কোনো ঋণ থাকে, তবে মৃত ব্যক্তির ওপর যাকাত এবং ঋণের পাওনা একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত (المنصوص عليه) আছে সেই অনুযায়ী আনুপাতিক হারে পরিশোধ করা হবে।

নিখোঁজ ব্যক্তির অপেক্ষার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার সম্পদ থেকে মানুষের বা আল্লাহর হক সংক্রান্ত সকল ওয়াজিব (الواجبات) দায়বদ্ধতা পরিশোধ করার ব্যাপারে এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বক্তব্য (نص)। নিখোঁজ ব্যক্তির 'উম্মে ওয়ালাদ'-এর মুক্তি তার সম্পদ থেকে যাকাত প্রদানের মতোই; কারণ এটি মহান আল্লাহর একটি আবশ্যকীয় (واجب) হক, যদিও এর হকদার নির্দিষ্ট কোনো মানুষ হয়, যা যাকাতের বিপরীত—কেননা যাকাতের হকদার কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়। এর ধারাবাহিকতায় তার অসিয়তসমূহ (وصاياه) কার্যকর হবে এবং মুদাব্বার (المدبرون) দাসরা মুক্তি লাভ করবে।

(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮৫)
‌‌فصل: [في وصف حال المفقود الَّذِي يجوز أن تتزوج زوجته]

والمفقود الَّذِي يجوز أن تتزوج زوجته ويقسم ماله عند الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- هو من فقد في حالة، الظاهر منها الهلاك، فأما من سافر سفر سلامة ثم انقطع خبره فليس عنده بمفقود؛ بل هو غائب.

قال الأثرم: قيل لأبي عبد الله: أي شيء المفقود؟

قال: عَلَى حديث عمر إذا خرج من أهله لحاجة فلم يرجع، أو كان بين الصفين ففقد، فلم يدر أقتل ام أسر. قال: ولا يكون المفقود ( ..... ) (1) يخرج إِلَى الحج أو إِلَى السفر. ولو خرج إِلَى الصفين فلم يأت خبره وانقطع كتابه لا يكون مفقودًا.

قيل لأبي عبد الله: فكان مع أصحاب له في سفر، فتوجه من بينهم لحاجة، ثم لم يعد إليهم. فَقَالَ: هذا مفقود، بمنزلة الَّذِي خرج من أهله لحاجة، فلم يرجع إليهم؟ قال أبو عبد الله: ترى هؤلاء الذين فقدوا في الحرب تربص أهاليهم إِلَى الساعة؟ والذين فقدوا في بلاد الروم؟ ! يعني: إنكارًا لذلك ثم قال: حديث أبي نضرة "أن رجلاً خرج من أهله .. " وحديث أبي عمرو الشيباني "أن قومًا لقوا العدو ففقد بعضهم .. " فهذا المفقود.

يشير إِلَى أن المفقود الَّذِي أجل عمر امرأته؛ إِنَّمَا هو عَلَى ما جاء في هذه الروايات، وهو أن يكون فقده عَلَى وجه ظاهر بالهلاك، فلا يلحق به ما ليس في معناه، فنقل إسماعيل بن سعيد، عن أحمد قال: "إِنَّمَا المفقود أن يكون الرجل في أهله فيصبح وليس بينهم، ولم يعلموا أنه أراد سفرًا، أو يركب البحر فتنكسر بهم السفينة، أو تحملهم الريح في البحر أو يلقوا العدو فيفقد".

فأما من سافر فطالت غيبته فليس بمفقود.

--------------------------------------------

(1) بياض بمقدار كلمة.
‌পরিচ্ছেদ: [নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তির অবস্থার বর্ণনায়, যার স্ত্রী (অন্যত্র) বিবাহ করতে পারে]

ইমাম আহমাদ -রাহিমাহুল্লাহ তাআলা- এর নিকট এমন নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তি যার স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করতে পারে এবং যার সম্পদ বণ্টন করা যায়, সে হলো ঐ ব্যক্তি যে এমন অবস্থায় নিখোঁজ হয়েছে যেখানে মৃত্যু বা ধ্বংসের (الهلاك) বিষয়টিই প্রকাশ্য। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিরাপদ সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে এবং পরবর্তীতে তার সংবাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সে তাঁর নিকট নিখোঁজ (المفقود) নয়; বরং সে কেবল অনুপস্থিত (الغائب)।

আল-আছরাম বলেন: আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তি আসলে কে?

তিনি বললেন: এটি উমর (রা.)-এর হাদিস অনুযায়ী—যখন কোনো ব্যক্তি তার পরিবার থেকে কোনো প্রয়োজনে বের হয় অতঃপর আর ফিরে আসে না, অথবা দুই বাহিনীর (রণক্ষেত্রের) মাঝে থাকার সময় নিখোঁজ হয়, ফলে সে নিহত হয়েছে নাকি বন্দী (الأسر) হয়েছে তা জানা যায় না। তিনি আরও বলেন: সেই ব্যক্তি নিখোঁজ (المفقود) হবে না যে ( ..... ) (১) হজ বা অন্য কোনো সাধারণ সফরে বের হয়েছে। এমনকি যদি সে রণক্ষেত্রেও যায় এবং তার কোনো সংবাদ না আসে ও তার পত্রযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে সে (কেবল এই কারণে) নিখোঁজ (المفقود) হবে না।

আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হলো: যদি কোনো ব্যক্তি তার সঙ্গীদের সাথে সফরে থাকে এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো প্রয়োজনে কোথাও যায়, অতঃপর আর তাদের নিকট ফিরে না আসে; তবে কি সে ঐ ব্যক্তির মতো নিখোঁজ (المفقود) হিসেবে গণ্য হবে যে তার পরিবার থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি? আবু আব্দুল্লাহ বললেন: তুমি কি মনে করো যুদ্ধে যারা নিখোঁজ হয়েছে তাদের পরিবারগুলো কি কিয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? আর যারা রোম সাম্রাজ্যের ভূখণ্ডে নিখোঁজ হয়েছে (তাদের কী হবে)?! অর্থাৎ, তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আবু নাদ্বরার হাদিস—"নিশ্চয়ই এক ব্যক্তি তার পরিবার থেকে বের হলো...", এবং আবু আমর আশ-শাইবানীর হাদিস—"নিশ্চয়ই একদল লোক শত্রুর সম্মুখীন হলো এবং তাদের কেউ কেউ নিখোঁজ হয়ে গেল..."—মূলত এরাই হলো নিখোঁজ (المفقود)।

এটি ইঙ্গিত করে যে, যে নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তির স্ত্রীর জন্য উমর (রা.) সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, তা কেবল ঐ সকল বর্ণনার (الروايات) আলোকেই প্রযোজ্য যেখানে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্য মৃত্যু বা ধ্বংসের (الهلاك) আশঙ্কাপূর্ণ অবস্থায় ঘটে। সুতরাং যার অবস্থা এমন নয়, তাকে এর অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ইসমাইল ইবনে সাঈদ ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "নিখোঁজ (المفقود) মূলত সেই ব্যক্তি যে তার পরিবারের মধ্যেই ছিল, অতঃপর ভোরবেলা তাকে আর তাদের মাঝে পাওয়া গেল না এবং তারা জানতও না যে সে কোনো সফরের ইচ্ছা করেছিল; অথবা সে সমুদ্রযাত্রা করছিল এবং তাদের জাহাজটি ভেঙে গেল, কিংবা সমুদ্রের প্রবল বাতাস তাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেল, অথবা তারা শত্রুর সম্মুখীন হলো এবং সে নিখোঁজ হয়ে গেল।"

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সফরে বের হয়েছে এবং তার অনুপস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়েছে, সে নিখোঁজ (المفقود) নয়।

--------------------------------------------

(১) এক শব্দ পরিমাণ শূন্যস্থান।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮৬)
ولأحمد رضي الله عنه نصوص كثيرة في هذا المعنى، وكذلك مذهب إسحاق بن راهويه، قال حرب: قال إسحاق: المفقود هو الَّذِي يفقد من موضع منزله، أو في كورة (1) أخرى، أو في طريق سفر أو غيره يكون معهم ثم يفقدونه فيَقُولُونَ: أين فلان؟ وأين ذهب؟ فلا يدري الجن ذهبت به، أم مات، أم غاب حيث لا يدري في بر أو بحر. فهذا المفقود.

فأما إذا غاب عن منزله إِلَى سفر أو قصد كورة فكان فيها في تجارة أو حاجة ثم انقطع علمه عن منزله وأهله فلم يأتهم خبر؛ فإن هذا لا يسمى مفقودًا، هذا غائب، ولا يحكم له حكم المفقود.

وقال إسحاق بن منصور: قلت لأحمد: ما المفقود؟

قال: لا يكون مفقودًا حتى يغزو أو يركب البحر فينكسر بهم، أو رجل خرج من الليل فَسَبتْهُ الجن، فهو عَلَى قول عمر.

قال إسحاق -يعني: ابن راهويه-: هو عَلَى ما قاله، وكذلك كل ما رئي في موضع ثم فقد منه.

وأما مالك رضي الله عنه فالمفقود عنده أقسام منها المفقود في التجارة، فتتربص امرأته أربع سنين ثم تعتد.

ومنها المفقود في معارك القتل، فيجتهد فيه الإمام، وليس فيه أجل معلوم، ثم تعتد بعد الاجتهاد عدة الوفاة.

وأما الأسير عنده إذا انقطع خبره، فلا يفرق بينه وبين امرأته.

وحكى ابن المنذر عن سعيد بن المسيب أن المفقود بين الصفين تؤجل امرأته سنة، وإن فقد في غير صف فأربع سنين.

وعن الأوزاعي قال: إذا فقد -يعني: في الصف- ولم يثبت عَلَى أحد منهم أنهم قتلوا وأسروا، فعليهن عدة المتوفى عنهن ثم يتزوجن.

--------------------------------------------

(1) قال الجوهري: الكورة: المدينة. "اللسان" مادة: (كور).
ইমাম আহমাদ (রা.) থেকে এই বিষয়ে অনেক বর্ণনা (نصوص) রয়েছে এবং ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ-এর মাযহাবও তদ্রূপ। হারব বলেন: ইসহাক বলেছেন: নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তি হলো সেই ব্যক্তি যে তার নিজ গৃহ থেকে নিখোঁজ হয়, অথবা অন্য কোনো অঞ্চল (كورة) থেকে, অথবা সফরের পথে বা অন্য কোথাও সে সঙ্গীদের সাথে ছিল কিন্তু পরে তারা তাকে হারিয়ে ফেলে; তখন তারা বলতে থাকে: অমুক ব্যক্তি কোথায়? সে কোথায় গেল? জীন তাকে নিয়ে গেল কি না, নাকি সে মারা গেল, অথবা স্থলে বা জলে এমন কোথাও অদৃশ্য হয়ে গেল যার হদিস কেউ জানে না—কেউ তা বলতে পারে না। এই ব্যক্তিই হলো নিখোঁজ (المفقود)।

পক্ষান্তরে, যদি কেউ সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় কিংবা কোনো অঞ্চলের (كورة) উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সেখানে ব্যবসা বা কোনো প্রয়োজনে অবস্থান করে, অতঃপর তার বাড়ির লোকজন বা পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তাদের নিকট কোনো খবর না পৌঁছায়; তবে তাকে নিখোঁজ (مفقود) বলা হবে না। বরং সে হলো অনুপস্থিত (غائب) ব্যক্তি এবং তার ওপর নিখোঁজ ব্যক্তির (المفقود) বিধান কার্যকর হবে না।

ইসহাক ইবন মানসুর বলেন: আমি ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করলাম: নিখোঁজ (المفقود) ব্যক্তি কে?

তিনি বললেন: সে ততক্ষণ পর্যন্ত নিখোঁজ (مفقود) হবে না যতক্ষণ না সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অথবা সমুদ্রে যাত্রা করে আর তাদের জাহাজ ডুবে যায়, অথবা এমন ব্যক্তি যে রাতে ঘর থেকে বের হয়েছে আর জীন তাকে অপহরণ করেছে। এটি উমর (রা.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী।

ইসহাক অর্থাৎ ইবন রাহওয়াইহ বলেন: বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি (আহমাদ) বলেছেন। তদ্রূপ প্রতিটি বিষয় যা কোনো স্থানে দৃশ্যমান ছিল অতঃপর সেখান থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে।

আর ইমাম মালিক (রা.)-এর নিকট নিখোঁজ ব্যক্তির (المفقود) কয়েকটি প্রকার রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো ব্যবসা উপলক্ষে নিখোঁজ হওয়া। এমতাবস্থায় তার স্ত্রী চার বছর অপেক্ষা করবে এবং এরপর ইদ্দত (عدة) পালন করবে।

আরেকটি প্রকার হলো যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ হওয়া। এ বিষয়ে ইমাম (শাসক) ইজতিহাদ (اجتهاد) করবেন এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ইজতিহাদের পর স্ত্রী মৃত্যুজনিত ইদ্দত (عدة الوفاة) পালন করবে।

আর তার (ইমাম মালিকের) মতে বন্দী (الأسير) ব্যক্তির সংবাদ যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তার এবং তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে না।

ইবনুল মুনযির সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যুদ্ধের দুই সারির মধ্যখানে নিখোঁজ (المفقود) হওয়া ব্যক্তির স্ত্রীর জন্য এক বছর সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। আর যদি যুদ্ধের সারি ছাড়া অন্য কোথাও নিখোঁজ হয় তবে চার বছর।

আর আওযায়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি কেউ নিখোঁজ হয়—অর্থাৎ যুদ্ধের সারিতে—এবং তাদের কারও ব্যাপারে এটি নিশ্চিত না হওয়া যায় যে তারা নিহত হয়েছে নাকি বন্দী (أسروا) হয়েছে, তবে তাদের স্ত্রীদের ওপর মৃত্যুজনিত ইদ্দত (عدة الوفاة) পালন করা আবশ্যক হবে এবং এরপর তারা বিবাহ করতে পারবে।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওহারী বলেন: ‘আল-কুরাহ’ (الكورة) অর্থ হলো শহর (المدينة)। 'আল-লিসান', মূলশব্দ: (كور)।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮৭)
قال: وأجمع كل من نحفظ عنه من أهل العِلْم عَلَى أن زوجة الأسير لا تنكج، حتى يعلم بتعين وفاته، ما دام عَلَى الإسلام. هذا قول النخعي، والزهري، ومكحول، ويحيى الأنصاري، ومالك، والشافعي، وأبي ثور وأبي عبيد وأصحاب الرأي.

وتابعه عَلَى هذا النقل صاحب "المغني" وليس الأمر كما ذكره، وقد صح عن الزهري خلاف ما حكاه عنه.

قال الجوزجاني: حدثنا أبو صالح أن الليث حدثه ثني يونس، عن ابن شهاب قال: "الأسير قد علم بحياته، لا تزوج امرأته ما علم بحياته، ولا يقسم ماله؛ فَإِذَا انقطع خبره كانت سنته سنة المفقود، وقال في رجل انطلق في معشر من أنصار المسلمين لحاجة أو تجارة؛ فغاب أربع سنين لم يأت عنه خبر ولا كتاب ولا نفقة، قال: "هو بمنزلة المفقود" وهذا إسناد صحيح.

قال الجوزجاني: وثنا صفوان، ثنا عمر -هو ابن عبد الواحد- عن الأوزاعي قال: قلت للزهري، في العبد تكون تحته الحرة فأسر؟ قال: إِن علم أنه حي فلا سبيل لها إِلَى التزويج، وإن لم يعلم مكانه فأجلها مثل أجلها تحت الحر، قلت: فإن أبق؟ قال: هي مثل الَّذِي قبلها" وهذا الإسناد صحيح أيضاً.

وكذلك حكى كثير من الفرضيين عن أكثر العُلَمَاء أن الأسير إذا انقطع خبره كان حكمه حكم المفقود، وصرح أصحابنا أيضاً بهذا القول في كتبهم، وأن الأسير المنقطع خبره حكمه حكم المفقود، منهم القاضي وأبو الخطاب وابن عقيل وغيرهم، حتى قال أبو محمد الحلواني في "تبصرته": تتربص زوجته أربع سنين ثم تعتد وتتزوج. وهذا تصريح بأن حكمه حكم المفقود الَّذِي غالب أمره الهلاك، وكذلك نقله الخبرين صريحًا عن أحمد، لا سيما إِن كان مأسورًا عند قوم يعرفون بقتل الأسارى، وعلم أنهم قتلوا بعض الأسارى، ولم يدر هل هو ممن قتل أم لا؛ فإن هذا يصير حكمه حكم المفقود في المعركة.
তিনি (গ্রন্থকার) বলেছেন: আমরা যাদের নিকট থেকে ইলম সংরক্ষণ করেছি সেই সকল আলেমদের মধ্যে এটি নিয়ে ইজমা রয়েছে যে, বন্দীর স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করতে পারবে না যতক্ষণ না তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যায়, যতদিন সে ইসলামের ওপর অটল থাকে। এটিই ইব্রাহিম নাখয়ি, যুহরি, মাকহুল, ইয়াহইয়া আনসারি, মালিক, শাফেয়ি, আবু সাওর, আবু উবাইদ এবং আসহাবুর রায়ের ফকিহগণের অভিমত।

"আল-মুগনি" গ্রন্থের লেখকও এই বর্ণনার ক্ষেত্রে তার অনুসরণ করেছেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন। বরং যুহরি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিপরীতেই বিষয়টি বিশুদ্ধভাবে (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে।

জুযজানি বলেছেন: আবু সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, লাইস তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ইউনুস থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে বন্দীর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তার স্ত্রী বিবাহ করতে পারবে না এবং তার সম্পদও বণ্টন করা যাবে না। কিন্তু যখন তার কোনো সংবাদ পাওয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তখন তার বিধান নিখোঁজ (مفقود) ব্যক্তির বিধানের মতো হবে।" আর তিনি এমন ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন যে মুসলিম আনসারদের একটি দলের সাথে কোনো প্রয়োজন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল, অতঃপর চার বছর যাবৎ নিখোঁজ রইল এবং তার পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ, পত্র বা ভরণপোষণ এলো না, তিনি বলেন: "সে নিখোঁজ (مفقود) ব্যক্তির মর্যাদায় গণ্য হবে।" আর এই সনদ (إسناد) টি বিশুদ্ধ (صحيح)।

জুযজানি বলেছেন: সাফওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর—তিনি ইবনে আবদুল ওয়াহিদ—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আওযায়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যুহরিকে সেই গোলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার বিবাহবন্ধনে একজন স্বাধীন নারী রয়েছে এবং সে বন্দী হয়েছে? তিনি বললেন: যদি জানা যায় যে সে জীবিত, তবে সেই নারীর জন্য পুনরায় বিবাহের কোনো পথ নেই। আর যদি তার অবস্থান জানা না যায়, তবে তার ইদ্দত হবে স্বাধীন ব্যক্তির অধীনে থাকা স্ত্রীর ইদ্দতের মতো। আমি বললাম: যদি সে পলায়নকারী গোলাম (آبق) হয়? তিনি বললেন: সে পূর্ববর্তী অবস্থার ন্যায় গণ্য হবে। আর এই সনদ (إسناد) টিও বিশুদ্ধ (صحيح)।

অনুরূপভাবে অনেক ফরায়েজ বিশেষজ্ঞ আলেম অধিকাংশ আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বন্দীর সংবাদ যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তার বিধান নিখোঁজ (مفقود) ব্যক্তির বিধানের মতো হয়। আমাদের মাযহাবের আলেমগণও তাদের গ্রন্থসমূহে স্পষ্টভাবে এই মতটি ব্যক্ত করেছেন যে, যে বন্দীর সংবাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার বিধান নিখোঁজ (مفقود) ব্যক্তির বিধানের ন্যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-কাজি, আবু আল-খাত্তাব, ইবনে আকিল এবং অন্যান্যগণ। এমনকি আবু মুহাম্মদ আল-হালওয়ানি তার "তাবসিরাহ" গ্রন্থে বলেছেন: তার স্ত্রী চার বছর অপেক্ষা করবে, এরপর ইদ্দত পালন করে পুনরায় বিবাহ করবে। এটি এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট বক্তব্য যে, তার বিধান সেই নিখোঁজ (مفقود) ব্যক্তির ন্যায় যার অবস্থা থেকে মৃত্যুর আশঙ্কাই প্রবল। একইভাবে এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে স্পষ্টতর বর্ণনা, বিশেষ করে যদি সে এমন কোনো সম্প্রদায়ের নিকট বন্দী থাকে যারা বন্দীদের হত্যার জন্য পরিচিত, এবং এটি জানা যায় যে তারা কিছু বন্দীকে হত্যা করেছে কিন্তু জানা নেই যে সে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত কি না; তবে এক্ষেত্রে তার বিধান যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ (مفقود) হওয়া ব্যক্তির বিধানের ন্যায় হবে।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮৮)
وقد تنازع الفقهاء في وصية الأسير، هل هي من رأس ماله أو من ثلثه، ومنهم من فصل بين أن يكون خائفًا أو آمنًا، ومنهم من فصل بين أن يكون عند قوم يعرفون بقتل الأسارى فتكون وصيته من الثلث وبين أن يكون عند من لا يعرف بذلك، فتكون وصيته من رأس المال.

ولو غاب الزوج غيبة منقطعة ولم يترك للزوجة مالا ينفق عليها منه، ولم يبعث لها بمال، وليس بمعسر؛ فمن قال: إنه يثبت له حكم المفقود فحكمه ظاهر.

وأما من لم يثبت له حكم المفقود بذلك، فاختلفوا هل يثبت لها الفسخ لامتناعه؟ عَلَى قولين:

أحدهما: أنه لا فسخ بذلك، وهو ظاهر مذهب الشافعي، وقول القاضي من أصحابنا وابن عقيل في كتاب "الفصول".

والثاني: يثبت به الفسخ كما لو كان معسرًا، وهو قول أبي الخطاب من أصحابنا وابن عقيل في كتاب "المفردات" و"عمدة الأدلة" ورجحه صاحب "المغنى" و"المحرر" ولا فرق عندهم بين أن يكون غائبًا أو حاضرًا إذا تعذر أخذ النفقة منه، وهو ظاهر كلام الخرقي، بل هو ظاهر كلام أحمد، فإنه قال في رواية الميموني: إذا كانت السنة فيمن عجز عن النفقة، وهو مقيم معها أن يفرق بينهما، أليس هذا أقل من أن يكون لا يوصل إليها وهو غائب عنها؟

فبين أحمد أن الغائب إذا لم يوصل إِلَى زوجته النفقة فهي أولى بالفسخ من زوجة العاجز المقيم، وهو اختيار أبي الطيب الطبري من الشافعية.

***

বন্দীর অসিয়ত (وصية) সম্পর্কে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন যে, তা কি তার মূল সম্পদ (رأس المال) থেকে গণ্য হবে নাকি এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) থেকে? তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বন্দীর ভীত বা নিরাপদ অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই পার্থক্য করেছেন যে, সে যদি এমন এক জনসমষ্টির নিকট বন্দী থাকে যারা বন্দীদের হত্যার জন্য পরিচিত, তবে তার অসিয়ত (وصية) এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) থেকে কার্যকর হবে; আর যদি সে এমন লোকদের নিকট থাকে যারা এর জন্য পরিচিত নয়, তবে তার অসিয়ত (وصية) মূল সম্পদ (رأس المال) থেকে গণ্য হবে।

যদি স্বামী দীর্ঘকাল নিরুদ্দেশ থাকে এবং স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য কোনো সম্পদ রেখে না যায়, কিংবা তার কাছে কোনো অর্থও না পাঠায় এবং সে নিঃস্ব (معسر) না হয়; তবে যারা বলেন যে তার ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তি (مفقود) এর বিধান কার্যকর হবে, তাদের নিকট বিষয়টি সুস্পষ্ট।

আর যারা এই অবস্থায় তার জন্য নিখোঁজ ব্যক্তি (مفقود) এর বিধান সাব্যস্ত করেন না, তারা এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, স্বামীর অবাধ্যতার কারণে স্ত্রীর জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ) এর অধিকার সাব্যস্ত হবে কি না? এই বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি: এতে বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ) সাব্যস্ত হবে না। এটি ইমাম শাফেয়ির মাজহাবের বাহ্যিক মত এবং আমাদের সাথীদের মধ্যে কাজী ও ইবনুল আকিলের মত, যা তিনি "আল-ফুসুল" কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়টি: এতে বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ) সাব্যস্ত হবে, যেমনটি স্বামী নিঃস্ব (معسر) হলে হয়ে থাকে। এটি আমাদের সাথীদের মধ্যে আবুল খাত্তাব এবং ইবনুল আকিলের মত, যা তিনি "আল-মুফরাদাত" ও "উমদাতুল আদিলাহ" কিতাবে বর্ণনা করেছেন। "আল-মুগনি" ও "আল-মুহাররার" গ্রন্থের লেখকগণ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভরণপোষণ (نفقة) আদায় করা যদি অসম্ভব হয়, তবে স্বামী অনুপস্থিত থাকুক বা উপস্থিত—এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি আল-খিরাকির বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম, বরং এটি ইমাম আহমদেরও প্রকাশ্য বক্তব্য। কেননা তিনি মায়মুনির বর্ণনায় বলেছেন: "যে ব্যক্তি ভরণপোষণ (نفقة) দিতে অক্ষম (عجز) অথচ সে স্ত্রীর সাথেই অবস্থান করছে, তার ক্ষেত্রে যদি সুন্নাহ অনুযায়ী উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকার কারণে স্ত্রীর কাছে ভরণপোষণ পৌঁছাতে পারছে না, সে কি এর অধিক যোগ্য নয়?"

এভাবে ইমাম আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, অনুপস্থিত স্বামী যদি স্ত্রীর কাছে ভরণপোষণ (نفقة) না পৌঁছায়, তবে সে অক্ষম (عجز) উপস্থিত স্বামীর স্ত্রীর তুলনায় বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ) পাওয়ার অধিক হকদার। এটি শাফেয়ি ফকিহদের মধ্যে আবু আল-তৈয়্যব আল-তাবারির পছন্দকৃত মত।

(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৮৯)
‌‌فصل: [متى يفرق بين الغائب وامرأته؟]

وأما الغائب المعلوم خبره إذا طلبت امرأته قدومه، فإن كان سفره فوق ستة أشهر وأبى القدوم من غير عذر؛ فإنه يفرق بينهما عند الإمام أحمد، نص عليه في رواية ابن منصور. قال ابن منصور: قلت لأحمد: كم يغيب الرجل عن أهله؟ قال: ستة أشهر.

قال إسحاق بن راهويه: كذا هو قول أحمد: يكتب إِلَيْهِ؛ (فإن أبى أن يرجع فرقت، فإن رجع وإلا فرق) (1).

وقال حرب: سألت أحمد قلت: كم يجوز للرجل أن يغيب عن أهله؟

قال: يروى ستة أشهر حديث عمر، وقد يغيب الرجل أكثر من ذلك لابد له.

وحمل القاضي أبو يعلى هذ الرواية عَلَى أن الزيادة عَلَى ستة أشهر كانت في سفره واجب متعين لابد منه، كالحج والجهاد، فلا يحتسب عليه بالزيادة، وكلام أحمد أعم من ذلك.

وفي مسائل إسحاق بن هانئ عن أحمد: سألته عن رجل يغيب عن امرأته أكثر من ستة أشهر قال: إذا كان في حج أو غزو أو مكتسب -كسب عليَّ عياله- أرجو أن لا يكون به بأس، إذا كان قد تركها في كفاية من النفقة، ومحرم رجل يكفيها، مثل أب أو عم أو خال.

ومذهب مالك: إذا أطال الغيبة عن امرأته مختارًا لذلك، وكرهت امرأته غيبته أمر بالقدوم إليها أو نقلتها إِلَيْهِ، فإن امتنع منه أمر بفراقها؛ فإن لم يفعل فرق الحاكم بينهما:

نقله صاحب "التفريع".

--------------------------------------------

(1) كذا!!
পরিচ্ছেদ: [কখন প্রবাসী ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে?]

আর সেই প্রবাসী ব্যক্তি যার সংবাদ জানা আছে, তার স্ত্রী যদি তার প্রত্যাবর্তনের দাবি জানায় এবং তার সফর যদি ছয় মাসের অধিক হয় এবং সে কোনো ওজর (عذر) ছাড়াই ফিরে আসতে অস্বীকার করে; তবে ইমাম আহমদের মতে তাদের উভয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয়া হবে। ইবনে মনসুরের বর্ণনায় তিনি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ইবনে মনসুর বলেন: আমি আহমদকে জিজ্ঞেস করলাম: একজন ব্যক্তি তার পরিবার থেকে কতদিন অনুপস্থিত থাকতে পারে? তিনি বললেন: ছয় মাস।

ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেন: ইমাম আহমদের বক্তব্য এমনই: তাকে পত্র লেখা হবে; (যদি সে ফিরে আসতে অস্বীকার করে তবে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে, আর যদি সে ফিরে আসে তবে ভালো, অন্যথায় বিচ্ছেদ করে দেয়া হবে) (১)।

হারব বলেন: আমি আহমদকে জিজ্ঞেস করলাম: একজন ব্যক্তির জন্য তার পরিবার থেকে কতদিন অনুপস্থিত থাকা বৈধ?

তিনি বললেন: ওমরের একটি হাদিস অনুযায়ী ছয় মাস বর্ণিত হয়েছে, তবে প্রয়োজনে একজন ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি সময়ও অনুপস্থিত থাকতে পারে।

কাজী আবু ইয়ালা এই বর্ণনাটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়টুকু যদি এমন কোনো সফরে হয় যা পালন করা তার জন্য আবশ্যক (واجب) ও অনিবার্য, যেমন হজ বা জিহাদ, তবে এই অতিরিক্ত সময়টুকু তার প্রতিকূলে গণ্য হবে না; তবে ইমাম আহমদের বক্তব্য এর চেয়েও ব্যাপক।

ইসহাক ইবনে হানি বর্ণিত ইমাম আহমদের মাসআলাসমূহে রয়েছে: আমি তাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ছয় মাসের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকে। তিনি বললেন: যদি সে হজ, যুদ্ধ কিংবা জীবিকা অন্বেষণে থাকে—যা তার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য—তবে আমি আশা করি এতে কোনো দোষ নেই, যদি সে স্ত্রীকে পর্যাপ্ত ভরণপোষণ (نفقة) এবং একজন মাহরাম (محرم) পুরুষের তত্ত্বাবধানে রেখে যায় যে তার জন্য যথেষ্ট হবে, যেমন পিতা, চাচা বা মামা।

ইমাম মালিকের মাযহাব হলো: যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তার স্ত্রীর কাছ থেকে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকে এবং তার স্ত্রী এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি অপছন্দ করে, তবে তাকে স্ত্রীর কাছে ফিরে আসার অথবা স্ত্রীকে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে। যদি সে তা করতে অস্বীকার করে, তবে তাকে বিচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হবে; আর যদি সে তা না করে, তবে বিচারক তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেবেন।

'আত-তাফরি' গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এভাবেই আছে!!
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৯০)
وقال ابن عقيل من أصحابنا في كتاب "المفردات": قد يباح الفسخ وطلاق الحاكم لأجل الغيبة إذا قصد بها الإضرار، بناء عَلَى أصلنا: إذا ترك الاستمتاع بها من غير يمين أكثر من أربعة أشهر، فعلى هذه الغيبة المضرة بمجردها قد أثبتت الفسخ لنكاحه، انتهى.

وهذا الأصل الَّذِي أشار إِلَيْهِ قد ذكره القاضي في خلافه ومن تبعه، وهو ترك الوطء لقصد الإضرار بغير يمين أن حكمه حكم المولى، وأخذه من قول أحمد، في رجل تزوج بامرأة، فلم يدخل بها ويقول: اليوم أدخل، وغدًا أدخل، قال: أذهب إِلَى أربعة أشهر، إِن دخل بها وإلا فرق بينهما.

ونص فيمن ظاهر من امرأته سنة فجاءت تطالب فليس له أن يعضلها بعد أربعة أشهر، ثم تطلق عليه إِن أبي التكفير والطلاق.

وقال ابن عقيل في "عمدة الأدلة" وفي كتاب "المفردات": عندي إِن قصد الإضرار خرج مخرج الغائب، وإلا فمتى حصل إضرارها بامتناعه من الوطء، وإن كان ذاهلاً عن قصد الإضرار تضرب له المدة. وذكر في آخر كلامه: إِن حصل له الضرر بترك الوطء لعجزه عنه كان حكمه كالعنين.

فيؤخذ من كلامه أن حصول الضرر للزوجة بترك الوطء لعجزه عنه كان حكمه يقتضي الفسخ بكل حال، سواء كان بقصد من الزوج أو بغير قصد، وسواء كان مع قدرته أو عجزه، وكذا ذكره الشيخ تقي الدين ابن تيمية في العاجز، وألحقه بمن طرأ عليه خنث أو عُنة، وبالعاجز عن النفقة.

وذكر أبو الخطاب، وصاحب "المحرر" إِن امتنع من وطء زوجته أكثر من أربعة أشهر بغير عذر، وطلبت الفرقة فرق بينهما، ولم يعتبرا قصد الإضرار.

وقال صاحب "المغني": لابد أن يظهر دليل يدل عَلَى إرادة الضرر.

ومذهب مالك وأصحابه أن ترك الوطء من غير عذر يوجب الفسخ مع اختلافهم في تقدير المدة، فهذا كله في حق الزوجات.
আমাদের মাযহাবের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ইবনে আকিল তার "আল-মুফরাদাত" গ্রন্থে বলেছেন: ক্ষতির উদ্দেশ্যে অনুপস্থিত থাকার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ) এবং বিচারক কর্তৃক তালাক (طلاق) প্রদান বৈধ হতে পারে। এটি আমাদের এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যে: যদি স্বামী শপথ (يمين) করা ছাড়াই চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ বা মেলামেশা ত্যাগ করে। সুতরাং, কেবল ক্ষতির উদ্দেশ্যে করা এই অনুপস্থিতি (غيبة)-র কারণেই তার বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ) সাব্যস্ত হয়। সমাপ্ত।

তিনি যে মূলনীতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা কাজী তার "খিলাফ" গ্রন্থে এবং তার অনুসারীরা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো: শপথ (يمিন) ছাড়াই ক্ষতির উদ্দেশ্যে সহবাস (وطء) ত্যাগ করা; যার বিধান শপথকারী (المولي)-র বিধানের অনুরূপ। তিনি এটি ইমাম আহমাদের উক্তি থেকে গ্রহণ করেছেন এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে কোনো নারীকে বিবাহ করেছে কিন্তু বাসর করেনি এবং বলে: আজ বাসর করব, কাল বাসর করব। তিনি বলেন: আমি চার মাস পর্যন্ত সময় দিব, যদি সে এর মধ্যে বাসর করে তবে ভালো, অন্যথায় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ (فرق) করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন এমন ব্যক্তি সম্পর্কে যে তার স্ত্রীর সাথে এক বছর পর্যন্ত জিহার (ظاهر) করে রেখেছে, অতঃপর স্ত্রী তার অধিকার দাবি করতে এলে চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে আর অবরুদ্ধ (يعضلها) করে রাখার অধিকার স্বামীর নেই; অতঃপর স্বামী যদি কাফফারা (تكفير) প্রদান ও তালাক (طلاق) দিতে অস্বীকার করে, তবে তার ওপর তালাক (طلاق) কার্যকর হবে।

ইবনে আকিল "উমদাতুল আদিল্লাহ" এবং "আল-মুফরাদাত" গ্রন্থে বলেছেন: আমার মতে যদি স্বামী ক্ষতির ইচ্ছা পোষণ করে তবে সে অনুপস্থিত (غائب) ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত হবে। অন্যথায় সহবাস (وطء) বর্জন করার কারণে যখনই স্ত্রীর ক্ষতি হবে—যদিও স্বামীর ক্ষতির ইচ্ছা না থাকে—তবুও তার জন্য সময়সীমা (مدة) নির্ধারণ করা হবে। তিনি তার আলোচনার শেষে উল্লেখ করেছেন: যদি স্বামীর অক্ষমতার কারণে সহবাস (وطء) ত্যাগ করার ফলে স্ত্রীর ক্ষতি হয়, তবে তার বিধান ধ্বজভঙ্গ (عنين) ব্যক্তির ন্যায় হবে।

তার বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, স্বামীর অক্ষমতার কারণে সহবাস (وطء) ত্যাগের ফলে স্ত্রীর ক্ষতি হওয়া সর্বাবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ)-এর দাবি রাখে, চাই তা স্বামীর ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, স্বামী সামর্থ্যবান হোক বা অক্ষম। অনুরূপ কথা শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়াহ অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন এবং তাকে এমন ব্যক্তির সাথে যুক্ত করেছেন যার নতুন করে লিঙ্গ জটিলতা (خنث) বা পুরুষত্বহীনতা (عنة) দেখা দিয়েছে, অথবা যে ভরণপোষণ (نفقة) দিতে অক্ষম।

আবু আল-খাত্তাব এবং "আল-মুহাররার" গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, স্বামী যদি কোনো ওজর ছাড়াই চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর সাথে সহবাস (وطء) বর্জন করে এবং স্ত্রী বিচ্ছেদ (فرقة) দাবি করে, তবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ (فرق) করে দেওয়া হবে; এক্ষেত্রে তারা ক্ষতির উদ্দেশ্যের শর্তারোপ করেননি।

"আল-মুগনি" গ্রন্থের লেখক বলেছেন: ক্ষতির ইচ্ছা নির্দেশ করে এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ পাওয়া আবশ্যক।

ইমাম মালিক এবং তার অনুসারীদের মাযহাব (مذهب) হলো, ওজর ছাড়া সহবাস (وطء) ত্যাগ করা বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ) ওয়াজিব করে দেয়, যদিও সময়সীমা (مدة) নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ বিষয়গুলোর সবই স্ত্রীদের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৯১)
فأما الإماء، فمذهب أحمد أنه يجب عَلَى السيد إعفافهن إذا طلبن الإعفاف: إما بنفسه إِن أمكن، وإما بالتزويج، أو بخروجهن عن ملكه بالعتق، وفي إجباره عليه ضرر له، فَإِذَا لم يعفهن بنفسه تعين إعفافهن بالتزويج.

وقد ذكر القاضي في غير موضع من كتابه "الجامع الكبير" أن الحاكم لا يجبر السيد عَلَى تزويج إمائه إذا طلبن ذلك؛ لأنّ لنا طريقًا إِلَى إزالة ضررها بدون النكاح، فلذلك قام الحاكم فيه مقام الأولياء عند امتناعهم منه، وهذا التعليل يقتضي أن أم الولد يزوجها الحاكم إذا امتنع السيد من تزويجها؛ لأنّه لا يمكن نقل الملك فيها إلا أن نقول: يجبره الحاكم عَلَى أحد أمرين: إما إعفافهن بالوطء، أو بالنكاح.

وقد يقال: إنه يمكن إزالة ضررها، بإخراجها عن ملكه بالعتق لتصير حرة.

ثُم قال القاضي -بعد ما ذكره من التعليل والفرق-: فعلى هذا لو كان السيد غائبًا غيبة منقطعة، وله أمة، وقد دعيت إلي التزويج، أو كان سيدها صبيًّا أو مجنونًا احتمل أن يزوجها الحاكم كما ينفق عليها من ماله.

ومعنى هذا أنه إذا طلبت الأمة النكاج وكان الزوج ممن لا يمكن أن يطلب منه عقد النكاح عليها، إما لغيبته أو صغره أو جنونه؛ فإن الحاكم يقوم مقامه حينئذ فيه؛ لأنّه حق وجب إبقاوه، وقد تعذر فعله منه، فقام الحاكم فيه مقامه كما يقوم مقامه في الإنفاق عَلَى الأمة من ماله، وهذا المعنى لا فرق فيه بين أمهات الأولاد وغيرهن للاشتراك في وجوب الإعفاف، والله تعالى أعلم.

ولذلك ذكر القاضي في "خلافه" أن سيد الأمة إذا غاب غيبة منقطعة، فطلبت منه التزويج في غيبته زوجها الحاكم، وأن هذا قياس المذهب، ولم يذكر فيه خلافًا.

وكذلك نقله عنه صاحب "المحرر" في تعليقه عَلَى "الهداية" ولم يعترض عليه بشيء.
দাসীদের ক্ষেত্রে ইমাম আহমদের মাযহাব হলো, তারা যদি সচ্চরিত্রতা বা পবিত্রতা রক্ষার দাবি জানায়, তবে মুনিবের ওপর তাদের পবিত্রতা নিশ্চিত করা ওয়াজিব। এটি হয় মুনিব নিজে করবেন যদি সম্ভব হয়, অথবা বিবাহের মাধ্যমে, কিংবা আজাদকরণের মাধ্যমে তাকে মালিকানা থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে। আর তাকে এটি করতে বাধ্য করার মধ্যে তার জন্য ক্ষতি রয়েছে। সুতরাং মুনিব যদি নিজে তাদের পবিত্রতা রক্ষার ব্যবস্থা না করেন, তবে বিবাহের মাধ্যমে তাদের সচ্চরিত্রতা নিশ্চিত করা আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে।

কাজি তার ‘আল-জামেউল কাবির’ গ্রন্থের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, দাসীরা বিবাহের দাবি জানালে শাসক মুনিবকে তাদের বিয়ে দিতে বাধ্য করবেন না; কারণ বিবাহ ব্যতীতও তাদের ক্ষতি দূর করার পথ আমাদের জানা আছে। একারণেই অভিভাবকরা বিবাহ দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাসক যেমন তাদের স্থলাভিষিক্ত হন, এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। এই যুক্তি দাবি করে যে, উম্মে ওয়ালাদ-এর মুনিব যদি তাকে বিয়ে দিতে অস্বীকার করে, তবে শাসক তাকে বিয়ে দেবেন; কারণ এক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। তবে আমরা যদি বলি যে: শাসক তাকে দুটি বিষয়ের একটিতে বাধ্য করবেন—হয় সহবাসের মাধ্যমে তাদের পবিত্রতা রক্ষা করা, না হয় বিবাহের মাধ্যমে।

এটিও বলা হয়ে থাকে যে: তাকে আজাদকরণের মাধ্যমে মালিকানা থেকে মুক্ত করে তার ক্ষতি দূর করা সম্ভব, যাতে সে স্বাধীন হয়ে যায়।

এরপর কাজি—উল্লিখিত যুক্তি ও পার্থক্যের বর্ণনার পর—বলেন: এর ওপর ভিত্তি করে, যদি মুনিব এমনভাবে নিরুদ্দেশ থাকেন যে তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার এমন কোনো দাসী থাকে যাকে বিবাহের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে, অথবা মুনিব যদি শিশু কিংবা অপ্রকৃতিস্থ হয়, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে শাসক তাকে বিবাহ দেবেন; ঠিক যেমন মুনিবের সম্পদ থেকে উক্ত দাসীর ভরণপোষণ করা হয়।

এর অর্থ হলো, যখন দাসী বিবাহের দাবি জানায় এবং মুনিব এমন ব্যক্তি হয় যার থেকে বিবাহের চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব নয়—হয় তার অনুপস্থিতির কারণে অথবা তার শৈশব বা উন্মাদনার কারণে; তবে শাসক তখন তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। কারণ এটি এমন একটি অধিকার যা বজায় রাখা ওয়াজিব এবং মুনিবের পক্ষ থেকে তা সম্পাদন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে শাসক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন, ঠিক যেমন তিনি মুনিবের সম্পদ থেকে দাসীর ভরণপোষণের ক্ষেত্রে স্থলাভিষিক্ত হন। এই অর্থের ক্ষেত্রে উম্মে ওয়ালাদগণ এবং অন্যান্য দাসীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, যেহেতু পবিত্রতা বজায় রাখার আবশ্যিকতায় সকলে সমান। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

একারণেই কাজি তার ‘খিলাফ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, দাসীর মুনিব যদি এমনভাবে নিরুদ্দেশ হয় যার কোনো হদিস নেই, আর দাসী তার অনুপস্থিতিতে বিবাহের দাবি জানায়, তবে শাসক তাকে বিবাহ দেবেন। এটিই মাযহাবের কিয়াস এবং তিনি এ বিষয়ে কোনো মতভেদ উল্লেখ করেননি।

অনুরূপভাবে ‘আল-মুহাররার’ গ্রন্থের লেখক ‘আল-হিদায়া’-এর ওপর তার টীকায় এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর ওপর কোনো আপত্তি করেননি।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৯২)
وكذلك أبو الخطاب في "الانتصار": أن السيد إذا غاب زوج أمته من يلي ماله. قال: وأومأ إِلَيْهِ أحمد في رواية بكر بن محمد.

فإن قيل: فقد ذكر طائفة من أصحابنا كصاحب "المغني" ومن اتبعه أن حكم الإماء مخالف لحكم الزوجات في أنهن لا يجب لهن قسم، ولا يثبت في حقهن ما يثبت للزوجات من الفسخ بالجب (1) والعنة، ولا يضرب لهن مدة الإيلاء، وهذا يدل عَلَى أنه لا يتعرض لأمة الغائب بشيء حتى يقدم.

قيل: إِنَّمَا مرادهم بذلك أن الإماء لا يساوين الزوجات في حكم الزوجات المختص بهن، من وجوب القسم والتسوية بينهن مع حضور السيد، ولا يثبت لهن به مع غيبة السيد ما يثبت للزوجات مع غيبة الزوج من مراسلته بعد ستة أشهر؛ فإن أبى القدوم أزيل ملكهن عنه، فإن هذا الحكم مختص بالزوجات، فلا تشاركهن فيه الإماء، وهذا لا ينافي أن للإماء المطالبة بحقهن من الإعفاف، عند تضررهن بترك الوطء مع الغيبة وإزالة ضررهن، فمراد الأصحاب بما قالوا نفي الحكم الأخص، وهو مساواة ما للزوجات، وليس مرادهم نفي الحكم الأعم، وهو وجوب إزالة الضرر لماء بترك الوطء، ومعلوم أن نفي الخاص لا يلزم منه نفي العام، ألا ترى أنهم قالوا: لا قسم عليه للإماء مع حضوره، ولم يكن قولهم هذا منافيًا لما ذكروه من وجوب إعفافهن بالوطء، ولا مناقضًا له، فحكم الزوجات يخالف حكم الإماء في حال حضور الزوج وغيبته.

أما في حال حضوره، فإن الزوج يجب عليه القسم والمبيت والوطء في كل أربعة أشهر، والسيد لا يجب عليه سوى الإعفاف عند الحاجة إِلَيْهِ، ولا يتعذر ذلك بمدة معينة.

وأما في حالة غيبته فإن الزوج إذا طالت غيبته فوق ستة أشهر، وطلبت زوجته قدومه، وأبى ذلك من غير عذر فرق بينهما.

--------------------------------------------

(1) الجب: هو القطع والمراد به هنا قطع الذكر.
অনুরূপভাবে আবু আল-খাত্তাব তাঁর "আল-ইনতিসার" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যখন কোনো মনিব অনুপস্থিত থাকে, তখন তার দাসীকে এমন ব্যক্তি বিয়ে দেবেন যে তার সম্পদের দেখাশোনা করে। তিনি বলেন: ইমাম আহমাদ বকর ইবনে মুহাম্মাদের বর্ণনায় (رواية) এ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

যদি বলা হয়: আমাদের একদল ফকিহ, যেমন "আল-মুগনি" গ্রন্থের লেখক এবং তাঁর অনুসারীরা উল্লেখ করেছেন যে, দাসীদের বিধান স্ত্রীদের বিধানের বিপরীত; কারণ তাদের জন্য পালা বণ্টন ওয়াজিব নয়। আর লিঙ্গ কর্তন (جب) ও ধ্বজভঙ্গতার (عنة) কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের যে অধিকার স্ত্রীদের থাকে, তা দাসীদের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয় না। তদুপরি, তাদের জন্য ঈলার (إيلاء) সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয় না। এটি নির্দেশ করে যে, অনুপস্থিত ব্যক্তির দাসীর ব্যাপারে সে ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।

উত্তরে বলা হবে: এর মাধ্যমে তাঁদের উদ্দেশ্য হলো দাসীরা স্ত্রীদের সাথে সেই বিশেষ বিধানগুলোতে সমান নয় যা শুধু স্ত্রীদের জন্যই নির্দিষ্ট। যেমন মনিবের উপস্থিতিতে তাদের মধ্যে পালা বণ্টন ও সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব হওয়া। তেমনি মনিবের অনুপস্থিতিতে তাদের জন্য সেই বিধানটি সাব্যস্ত হয় না যা স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর জন্য হয়; অর্থাৎ ছয় মাস পর তাকে পত্র পাঠানো। স্বামী যদি ফিরে আসতে অস্বীকার করে, তবে তার মালিকানা ছিন্ন করা হবে। কেননা এই বিধানটি স্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট, এতে দাসীরা অংশীদার নয়। এর মানে এই নয় যে, দাসীরা তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা ও যৌন তুষ্টির অধিকার দাবি করতে পারবে না যখন তারা দীর্ঘ অনুপস্থিতির (غيبة) কারণে সহবাস বর্জিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তাদের সেই ক্ষতি দূর করা আবশ্যক হবে। সুতরাং ফকিহদের উদ্দেশ্য হলো বিশেষ বিধানটিকে নাকচ করা, যা হলো স্ত্রীদের অধিকারের সাথে সমতা। তাঁদের উদ্দেশ্য সাধারণ বিধানটি নাকচ করা নয়, যা হলো সহবাস বর্জনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি দূর করার আবশ্যকতা। এটা সুবিদিত যে, বিশেষ কিছু নাকচ করলে সাধারণ বিষয় নাকচ হওয়া আবশ্যক হয় না। আপনি কি দেখেন না যে তাঁরা বলেছেন: মনিবের উপস্থিতিতে দাসীদের জন্য পালা বণ্টন নেই, অথচ তাঁদের এই কথাটি সহবাসের মাধ্যমে তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা নিশ্চিত করার আবশ্যকতা সংক্রান্ত আলোচনার সাথে সাংঘর্ষিক বা পরিপন্থী নয়। সুতরাং স্বামী বা মনিবের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি—উভয় ক্ষেত্রেই স্ত্রীদের বিধান দাসীদের বিধান থেকে ভিন্ন হয়।

উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে, স্বামীর ওপর প্রতি চার মাসে একবার পালা বণ্টন, রাতযাপন এবং সহবাস করা ওয়াজিব। আর মনিবের ওপর প্রয়োজন দেখা দিলে দাসীর চারিত্রিক পবিত্রতা বজায় রাখা ছাড়া অন্য কিছু ওয়াজিব নয় এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়।

আর অনুপস্থিতির (غيبة) ক্ষেত্রে, যখন স্বামীর অনুপস্থিতি ছয় মাসের বেশি দীর্ঘ হয় এবং তার স্ত্রী তার ফিরে আসার দাবি জানায়, আর সে কোনো ওজর ছাড়াই তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ করিয়ে দেওয়া হবে।

--------------------------------------------

(১) আল-জাব্ব (الجب): এর অর্থ হলো কেটে ফেলা; আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুংলিঙ্গ কর্তন।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৯৩)
والأمة لا تساوي الزوجة في ذلك من وجهين:

أحدهما: تقدير المدة ستة أشهر.

والثاني: إزالة ملك السيد عنها بالكلية، ولكن إذا طالت غيبته وتضررت بترك الوطء، زَوَّجها الحاكمُ ولم يزل ملكه عن رقبتها بالكلية.

فيجب الجمع بين كلام الأصحاب (1) في هذا كله، ولا يرد بعضه ببعض، ولا يؤخذ بعضه ويترك بعضه، ولا يجعل متناقضًا، بل يجمع بينه، ويؤخذ بجميعه عَلَى الوجه الَّذِي ذكرنا، وبذلك يزول الإشكال عنه، ويتدفع التناقض، والله أعلم.

فإن قيل: فالزوج لو غاب غيبة ظاهرها السلامة، ولم يعلم خبره وتضررت زوجته بترك النكاح لم يفسخ نكاحها عَلَى المشهور من كلام الإمام أحمد وأصحابه، فكيف يزوج أمة السيد الغائب في هذه الحال؟

قيل: أما عَلَى قول ابن عقيل الَّذِي تقدم ذكره؛ فإنه يزوج المرأة بذلك كما سبق، فتزويج الأمة حينئذ عَلَى قوله أولى.

وأما عَلَى المشهور فالفرق بين تزويج المرأة وتزويج الأمة أن تزويج الأمة إِنَّمَا يجوز بعد الحكم بفسخ نكاح الزوج، ولا يجوز عند الإمام أحمد فسخ نكاحه في هذه الحال.

وأما تزويج الأمة فليس فيه فسخ لملك السيد؛ إذ الأمة باقية عَلَى ملكه لم تخرج بذلك عن ملكه، وإنما يزال ضررها بالتزويج.

--------------------------------------------

(1) كتب في هامش "الأصل" ما يأتي:

قف تأمل -رحمك الله- كلام الشيخ إذا وجد في عبارات الأصحاب ما يشكل أو يتعسر فهمه أو يظهر للمفتي أو العالم منه التناقض أو عدم الجمع أنه يجب الجمع بينه .. إلخ، فما أجله من تنبيه لو تأمله الجاهل بحال أعيان حملة الشرع، وعلو مقامهم، وسعة علومهم وأفهامهم، فتجد الجاهل بمحلهم من العِلْم، المخصوص بسوء الفهم، المعجب بنفسه كثيرًا ما يحط من قدرهم، ويرى أنه خفي عليهم ما خص به … الفهم. فالله المستعان.
আর ক্রীতদাসী এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর সমতুল্য নয়, আর তা দুটি দিক থেকে:

প্রথমটি হলো: সময়সীমা ছয় মাস নির্ধারণ করা।

দ্বিতীয়টি হলো: মনিবের মালিকানা তার ওপর থেকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হওয়া; কিন্তু যখন মনিবের অনুপস্থিতি দীর্ঘ হয় এবং সহবাস ত্যাগের কারণে সে (দাসী) ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন শাসক তাকে বিবাহ দেবেন, তবে এতে তার সত্তার ওপর হতে মনিবের মালিকানা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হবে না।

সুতরাং এই সব বিষয়েই ফকীহগণের (الأصحاب) বক্তব্যের মাঝে সমন্বয় সাধন করা আবশ্যক, এবং তাদের কোনো বক্তব্য দিয়ে অন্যটিকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না, এবং কিছু গ্রহণ করে কিছু বর্জন করাও যাবে না। তাঁদের বক্তব্যকে পরস্পরবিরোধী সাব্যস্ত করা যাবে না; বরং সেগুলোর মাঝে সমন্বয় করতে হবে এবং আমরা যে পদ্ধতি উল্লেখ করেছি সে অনুযায়ী সবটুকুই গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট অস্পষ্টতা দূর হবে এবং বৈপরীত্য নিরসন হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

যদি প্রশ্ন করা হয়: স্বামী যদি এমনভাবে অনুপস্থিত থাকে যে তার বাহ্যিক অবস্থা নিরাপদ মনে হয়, কিন্তু তার কোনো সংবাদ জানা নেই এবং তার স্ত্রী দাম্পত্য সম্পর্ক ত্যাগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ইমাম আহমাদ ও তাঁর অনুসারীদের (الأصحاب) বক্তব্যের প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী তার নিকাহ বাতিল (فسخ) করা হয় না। এমতাবস্থায় অনুপস্থিত মনিবের ক্রীতদাসীকে এই অবস্থায় কীভাবে বিবাহ দেওয়া যাবে?

উত্তরে বলা হবে: ইবনে আকীলের ইতোপূর্বে উল্লেখিত মতানুসারে, তিনি এ অবস্থায় স্ত্রীকে বিবাহ দেওয়ার অনুমতি দেন যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে; সুতরাং তখন তাঁর মতানুসারে ক্রীতদাসীকে বিবাহ দেওয়া আরও বেশি সংগত।

আর প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী, স্ত্রীকে বিবাহ দেওয়া এবং ক্রীতদাসীকে বিবাহ দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য হলো—স্ত্রীর বিবাহের বিষয়টি কেবলমাত্র স্বামীর নিকাহ বাতিলের (فسخ) ফয়সালার পরেই সম্ভব হয়, কিন্তু ইমাম আহমাদের নিকট এই অবস্থায় তার নিকাহ বাতিল (فسخ) করা বৈধ নয়।

পক্ষান্তরে ক্রীতদাসীকে বিবাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে মনিবের মালিকানা বাতিল (فسخ) হয় না; কারণ ক্রীতদাসী তার মালিকানাধীন অবস্থাতেই থেকে যায় এবং এর দ্বারা সে তার মালিকানা থেকে বিচ্যুত হয় না, বরং বিবাহের মাধ্যমে কেবল তার ক্ষতি দূর করা হয়।

--------------------------------------------

(১) 'মূল পাণ্ডুলিপির' পার্শ্বটীকায় নিম্নোক্ত কথাটি লেখা ছিল:

থামুন এবং চিন্তা করুন—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—শাইখের বক্তব্যের দিকে; যখন ফকীহগণের (الأصحاب) অভিব্যক্তিতে এমন কিছু পাওয়া যায় যা অস্পষ্ট অথবা যা বোঝা দুষ্কর, কিংবা কোনো মুফতি বা আলেমের নিকট তা থেকে বৈপরীত্য বা সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়, তখন তার মাঝে সমন্বয় করা আবশ্যক... ইত্যাদি। এটি কতই না মহান এক সতর্কবার্তা যদি শরয়ি শাস্ত্রের বাহকগণের অবস্থা, তাঁদের উচ্চ মর্যাদা এবং তাঁদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রশস্ততা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি তা নিয়ে চিন্তা করত। ফলে আপনি এমন ব্যক্তিকে পাবেন যে তাঁদের ইলমি মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ, মন্দ বুঝের অধিকারী এবং আত্মমুগ্ধতায় বিভোর; সে প্রায়ই তাঁদের মর্যাদাকে খাটো করে এবং মনে করে যে তার যে বুঝ হয়েছে তা তাঁদের নিকট অস্পষ্ট ছিল …। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৯৪)
فقد يقال: فقد أخرجتم منفعة بعضها عن ملكه بتزويجها؛ لأنا نقول: ملك بضع الأمة للسيد ليس هو كملك الزوج لبضع زوجته؛ لأنّ بضع الزوجة يملكه الزوج للاستمتاع به بنفسه خاصة، فلا يجوز لغيره مشاركته فيه إلا بعد انقطاع علق الزوج عنه، وأما بضع الأمة فمملوك للسيد لا عَلَى طريق الانتفاع به بنفسه خاصة، بل ينتفع به بنفسه وتارة يعارض عليه، ولهذا يجوز له أن يتملك من يحرم عليه وطؤها عَلَى التأبيد.

فظهر بهذا أن ملك الإماء ليس موضوعًا للاستمتاع بخلاف النكاح، وقد قرر أصحابنا هذا الفرق في مواضع متعددة من كتب الفقه.

وحينئذ فنقول: لا يجوز إلحاق الأمة ببضع الزوجة في هذا الموضع، ويدل عليه أن الأمة لو طلبت من السيد تزويجها، عند امتناعه من الوطء، وتعذر عليه شرعًا أو حسّا أجبر عَلَى تزويجها بخلاف الزوجة.

فظهر من هذا أن وجوب تزويج الأمة إِنَّمَا هو من باب إزالة ضررها لا غير، مع بقاء ملكها وملك بضعها عليه، وهذا أوسع من فسخ نكاح الحرة، فيجوز تزويج الأمة في حال لا يجوز تزويج الزوجة فيه، فإن الأمة لا يجوز منعها من نكاح عند طلبه، كما لا يجوز منعها من النفقة والكسوة عند الحاجة.

وأما الزوجة فإنها -وإن كان يجب لها عَلَى الزوج حق الوطء- لكن لا يمكنها استيفاءه بالأمة خاصة، فَإِذَا لم يجز فسخ نكاحه فقد تعذر استيفاء هذا الحق منه، بخلاف الأمة؛ فإنه يجب إزالة ضررها بالنكاح مع حضور السيد، ويمكنه منه إذا تعذر حصول الوطء منه، ولا يعتبر امتناعه من ذلك كما لو كان السيد صبيًّا أو مجنونًا كما صرح به القاضي فيما تقدم، والله أعلم.

ومما يبين ما بين الأمة والزوجة في هذا أن الزوجة لا تملك فسخ نكاح زوجها بطول مرضه وامتناعه من الوطء، فكذلك لا تملكه بغيبته، بخلاف الأمة؛ فإنها تطالب السيد بالتزويج عند تعذر استمتاعه بها لمرض وغيره، فكذا تطالب به مع غيبته، والله أعلم.
হয়তো বলা হতে পারে: আপনারা দাসীকে বিবাহ দেওয়ার মাধ্যমে তার কিছু অংশের উপযোগিতাকে মুনিবের মালিকানা থেকে বের করে দিয়েছেন; এর উত্তরে আমরা বলব: দাসীর গোপনাঙ্গের ওপর মুনিবের যে মালিকানা, তা স্ত্রীর গোপনাঙ্গের ওপর স্বামীর মালিকানার মতো নয়। কেননা, স্ত্রীর গোপনাঙ্গের মালিকানা স্বামী লাভ করে বিশেষভাবে নিজে উপভোগ করার জন্য, তাই স্বামীর সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়া অন্য কারো জন্য সেখানে অংশীদার হওয়া বৈধ নয়। পক্ষান্তরে, দাসীর গোপনাঙ্গের মালিকানা মুনিবের জন্য কেবল বিশেষভাবে নিজের ভোগের জন্য নয়, বরং সে নিজেও তা উপভোগ করতে পারে এবং কখনো কখনো এর বিনিময়ে অন্যকে (বিবাহের মাধ্যমে) সুযোগ দিতে পারে; একারণেই মুনিবের জন্য এমন দাসীর মালিক হওয়া বৈধ যার সাথে সহবাস করা তার জন্য চিরতরে হারাম।

এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, দাসীদের মালিকানা কেবল উপভোগের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত নয়, যা বিবাহের বিপরীত। আমাদের মাযহাবের ফকিহগণ ফিকহশাস্ত্রের কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে এই পার্থক্যের কথা দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন।

এমতাবস্থায় আমরা বলি: এই ক্ষেত্রে দাসীকে স্ত্রীর গোপনাঙ্গের সাথে তুলনা করা বৈধ নয়। এর প্রমাণ হলো, দাসী যদি মুনিবের কাছে তাকে বিবাহ দেওয়ার দাবি জানায়—যখন মুনিব সহবাস থেকে বিরত থাকে এবং শরয়ি বা বাস্তব কারণে মুনিবের পক্ষে সহবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে—তবে তাকে বিবাহ দিতে বাধ্য করা হবে, যা স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দাসীকে বিবাহ দেওয়া আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি কেবল তার ক্ষতি দূর করার উদ্দেশ্যে, অথচ তার ওপর মুনিবের মালিকানা এবং তার গোপনাঙ্গের মালিকানা বহাল থাকে। এটি স্বাধীন মহিলার বিবাহ বাতিলের চেয়েও ব্যাপকতর। সুতরাং এমন অবস্থায় দাসীকে বিবাহ দেওয়া বৈধ, যে অবস্থায় স্ত্রীকে বিবাহ দেওয়া বৈধ নয়। কেননা, দাসী বিবাহের দাবি জানালে তাকে বাধা দেওয়া বৈধ নয়, যেমনটি প্রয়োজনের সময় তাকে ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে বঞ্চিত করা বৈধ নয়।

আর স্ত্রীর বিষয় হলো—যদিও স্বামীর ওপর তার সহবাসের অধিকার রয়েছে—কিন্তু বিশেষভাবে দাসীর মাধ্যমে তা পূরণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং যখন স্বামীর বিবাহ বাতিল করা বৈধ হলো না, তখন স্বামীর পক্ষ থেকে এই অধিকার আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়ল। দাসীর বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ মুনিবের উপস্থিতিতে বিবাহের মাধ্যমে তার ক্ষতি দূর করা আবশ্যক। আর যখন মুনিবের পক্ষ থেকে সহবাস পাওয়া অসম্ভব হয়, তখন বিবাহের মাধ্যমে সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মুনিবের অস্বীকৃতি বিবেচনা করা হবে না, যেমনটি মুনিব যদি শিশু বা পাগল হয় তবুও তা কার্যকর হয়, যা ইতিপূর্বে কাজী স্পষ্ট করেছেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

দাসী ও স্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টকারী বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো: স্বামী দীর্ঘকাল অসুস্থ থাকলে এবং সহবাস থেকে বিরত থাকলে স্ত্রী তার বিবাহ বাতিলের অধিকার লাভ করে না। একইভাবে স্বামীর অনুপস্থিতির কারণেও সে এই অধিকার পায় না। দাসীর বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে মুনিব তাকে উপভোগ করতে অক্ষম হলে সে মুনিবের কাছে বিবাহের দাবি জানাতে পারে। একইভাবে মুনিবের অনুপস্থিতিতেও সে এই দাবি করতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ২) আল কাওলুস সাওয়াব ফী তাযওয়ীজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব (পৃষ্ঠা: ৫৯৫)
فتبين بهذا أن الأمة حقها في إزالة ضررها بالوطء من السيد أو غيره بخلاف الزوجة، فإن حقها في الوطء من الزوج خاصة، فكذلك تزوج أمة الغائب دون زوجة الغائب إلا حينما يجوز فسخ نكاحها بالغيبة.

والله سبحانه وتعالى أعلم.

آخره، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم عَلَى خير خلقه أجمعين، وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إِلَى يوم الدين.

***
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, একজন দাসীর (সহবাসের মাধ্যমে) ক্ষতি নিরসনের অধিকার তার মালিক বা অন্যের মাধ্যমে হতে পারে, যা স্ত্রীর ক্ষেত্রে ভিন্ন। কেননা স্ত্রীর সহবাসের অধিকার নির্দিষ্টভাবে কেবল তার স্বামীর নিকট। একইভাবে, অনুপস্থিত ব্যক্তির দাসীকে বিবাহ দেওয়া বৈধ, তবে অনুপস্থিত ব্যক্তির স্ত্রীকে নয়; কেবল সেই অবস্থা ব্যতীত যখন অনুপস্থিতির কারণে তার বিবাহ বাতিলকরণ (فسخ) জায়েজ হয়।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অধিক পরিজ্ঞাত।

এটিই সমাপ্তি। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের (التابعين) ওপর।

***