(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
مقدمة تشتمل على أن جميع الرسل كان دينهم الإسلام القسم: العقيدة
الكتاب: مقدمة تشتمل على أن جميع الرسل كان دينهم الإسلام [مطبوع ضمن مجموع رسائل الحافظ ابن رجب الحنبلي]
المؤلف: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (736 - 795 هـ)
دراسة وتحقيق: أبي مصعب طلعت بن فؤاد الحلواني
الناشر: الفاروق الحديثة للطباعة والنشر
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 17
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1433
সকল রাসূলের ধর্ম ছিল ইসলাম—এর উপর একটি ভূমিকা বিভাগ: আকিদাহ (বিশ্বাসমালা)
বই: সকল রাসূলের ধর্ম ছিল ইসলাম—এর উপর একটি ভূমিকা [হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলীর সংকলিত রিসালাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত]
লেখক: জয়নুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে রজব আল-হাম্বলী (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)
অধ্যয়ন ও তাহকীক: আবু মুসআব তালাত ইবনে ফুয়াদ আল-হুলওয়ানি
প্রকাশক: আল-ফারুক আল-হাদিসা লি-তিবাআ ওয়াল নাশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৩
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫৩)
مقدمة تشتمل على أن جميع الرسل كان دينهم الإسلام
ভূমিকা, যা সকল রাসূলের দ্বীন ইসলাম হওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
اللهم صل عَلَى سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا.
الحمد لله نستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ونشهد أن مُحَمَّدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليمًا.
أما بعد:
فإن خير الكلام كلام الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة، ومن يطع الله ورسوله فقد رشد، ومن يعص الله ورسوله فإنه لا يضر إلا نفسه، ولن يضر الله شيئًا.
ثم إِنَّ الله تعالى خلق الخلق لأجل معرفته، وليأمرهم بعبادته، ولا سعادة لأحد في الدُّنْيَا والآخرة إلا بمعرفة الله عز وجل وعبادته وحده لا شريك له، ولذلك أرسل الله الرسل، وأنزل الكتب.
فإن العباد وإن كانوا مفطورين عَلَى معرفة الله ومحبته وتألهه فإن كل مولود يولد عَلَى الفطرة، وهي سلامة القلب، وقبوله وإرادته للحق الَّذِي هو الإسلام، وتهيؤه له، لكنهم محتاجون أشد الحاجة إِلَى ما يحمل به قوتهم العلمية والعملية، وهو العِلْم النافع والعمل الصالح، وبذلك يصيرون مسلمين بالفعل، بعد أن كانوا مسلمين بالقوة، فلذلك أرسل الله الرسل وأنزل معهم الكتب؛ ليرشدوا الخلق إِلَى ما فيه سعادتهم، وفلاحهم في دنياهم وآخرتهم، وضمن لهم أن من اتبع هداه الَّذِي أرسل به رسله فلا يضل ولا يشقى، وأنه عَلَى هدًى من ربه، وأنه من المفلحين، فالهدى ضد الضلال، والفلاح ضد حال أهل الشقاء، وكذلك الغي، كما نفى الله تعالى عن نبيه صلى الله عليه وسلم أن يكون ضل أو غوى، فَإِذَا جمع بين الضلال والغي، فالضلال من الجهل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষণ করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোনো পথপ্রদর্শনকারী নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর বাণী এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হলো; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে কেবল নিজেরই ক্ষতি করে এবং সে আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না।
অতঃপর, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন তাঁকে চেনার জন্য এবং তাঁদেরকে তাঁর ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার জন্য। দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর পরিচয় এবং তাঁর ইবাদত—যিনি একক ও যার কোনো শরিক নেই—ব্যতীত কারো জন্য কোনো সুখ বা সফলতা নেই। আর এই উদ্দেশ্যেই আল্লাহ রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন।
যদিও বান্দাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিই হলো আল্লাহর পরিচয় জানা, তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করা; কেননা প্রতিটি শিশু ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। আর ফিতরাত হলো অন্তরের সুস্থতা এবং হকের প্রতি (যা হলো ইসলাম) তার গ্রহণযোগ্যতা, সদিচ্ছা ও প্রস্তুতি। তবে তাদের জ্ঞানগত ও কর্মগত শক্তিকে পরিচালনা করার বিষয়ের প্রতি তারা অত্যন্ত মুখাপেক্ষী, আর তা হলো উপকারী জ্ঞান ও সৎ কাজ। এর মাধ্যমেই তারা সুপ্ত মুসলিম থেকে কর্মতৎপর মুসলিমে পরিণত হয়। এই কারণেই আল্লাহ রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের সাথে কিতাব নাযিল করেছেন; যাতে তাঁরা সৃষ্টিজগতকে তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সুখ ও সফলতার পথ দেখাতে পারেন। আর তিনি তাদের জন্য এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর পাঠানো হেদায়েত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না; বরং সে তার রবের পক্ষ থেকে হেদায়েতের ওপর থাকবে এবং সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। সুতরাং হেদায়েত হলো পথভ্রষ্টতার বিপরীত, আর সফলতা হলো দুর্ভাগাদের অবস্থার বিপরীত। তদ্রূপ বিভ্রান্তিও; যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে পথভ্রষ্ট হওয়া বা বিভ্রান্ত হওয়ার বিষয়টিকে নাকচ করেছেন। যখন পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি একত্রে উল্লেখ করা হয়, তখন পথভ্রষ্টতা অজ্ঞতা থেকে উৎপন্ন হয়
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫৬)
وعدم العِلْم، والغي من اتباع الهوى، ذاك فساد في القوة العلمية، وهذا فساد في القوة العملية.
ولن ينجو من ذلك إلا أهل الصراط المستقيم، صراط الذين أنعم الله عليهم غير المغضوب عليهم ولا الضالين.
ثم إِنَّ الله تعالى كان يتعاهد الخلق بالأنبياء والرسل، كلما بعد عهد نبوة ورسالة أتبعها بأخرى.
وكان الَّذِي اتفقت عليه دعوة جميع الأنبياء والرسل هو دين الإسلام كما قال نوح أول الرسل: {وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} (1).
وقال الحواريون للمسيح وهو آخر أنبياء بني إسرائيل: {آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} (2).
والإسلام هو الاستسلام والانقياد، وهو متضمن لعبادة الله وحده لا شريك له.
والعبادة تجمع كمال الحب، وكمال الخضوع والذل.
وعبادة الله هي الغاية التي لأجلها خلق الخلق، وبها سعد مَنْ سعد منهم في الدُّنْيَا والآخرة فأما في الآخرة فظاهر معروف، وأما في الدُّنْيَا فقد بسط في موضع آخر ذكر اختلاف الناس في المقصود بالتأله والعبادة وبين ما في تلك الأقوال من الباطل، وأن الصحيح من ذلك أن لا صلاح ولا فلاح، ولا سرور ولا نعيم ولا قرة عين، إلا بأن يكون كمال إرادتهم ومحبتهم، وخشيتهم وتعظيمهم وتألههم لله وحده لا شريك له، وأن ضد ذلك هو عين الفساد، ولا يتسع هذا المكان لبسط هذه الأمور.
--------------------------------------------
এবং জ্ঞানের অভাব, আর প্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে পথভ্রষ্টতা; ওটি হলো জ্ঞানগত শক্তির বিপর্যয়, আর এটি হলো কর্মগত শক্তির বিপর্যয়।
আর সরল পথের অনুসারীগণ ব্যতীত কেউই তা থেকে মুক্তি পাবে না; এটি তাদের পথ যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, যাদের ওপর তাঁর ক্রোধ নেই এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়।
অতঃপর মহান আল্লাহ নবী ও রাসূলগণের মাধ্যমে সৃষ্টির দেখাশোনা করতেন; যখনই নবুয়ত ও রিসালাতের কোনো সময়কাল অতিবাহিত হতো, তখনই তিনি অন্য নবী বা রাসূল প্রেরণ করতেন।
আর সকল নবী ও রাসূলের দাওয়াতের ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়টি ছিল ইসলাম ধর্ম, যেমনটি রাসূলগণের মধ্যে প্রথম রাসূল নূহ বলেছিলেন: "আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই" (১)।
আর হাওয়ারীগণ মসীহকে বলেছিলেন—যিনি বনী ইসরাঈলের সর্বশেষ নবী—: "আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা মুসলিম" (২)।
আর ইসলাম হলো আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য, যা অংশীদারহীন কেবল এক আল্লাহর ইবাদতকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আর ইবাদত পূর্ণ ভালোবাসা এবং পূর্ণ আনুগত্য ও বিনয়কে শামিল করে।
আর আল্লাহর ইবাদতই সেই মূল লক্ষ্য যার জন্য সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এবং এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবানরা সৌভাগ্য লাভ করে। আখিরাতের বিষয়টি তো সুস্পষ্ট ও সুপরিচিত। আর দুনিয়ার বিষয়ে অন্য এক স্থানে উপাসনা ও ইবাদতের উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষের মতপার্থক্য এবং সেসব বক্তব্যের অসারতা বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রকৃত সংশোধন, সফলতা, আনন্দ, নেয়ামত বা চোখের শীতলতা কেবল তখনই সম্ভব, যখন মানুষের পূর্ণ ইচ্ছা, ভালোবাসা, ভীতি, সম্মান এবং উপাসনা হবে শিরকমুক্ত একমাত্র আল্লাহর জন্য। আর এর বিপরীত যা কিছু আছে তা-ই মূল বিপর্যয়। এই স্থানে এ সকল বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫৭)
ولما كان النفع الحاصل بإرسال الرسل، وإنزال الكتب أمرًا لا نظير له، قرر الله تعالى الرسالة عَلَى المنكرين لها بهذه الطريقة، وهي شدة الحاجة إليها في غير موضع من القرآن كما في قوله: {مَا كَانَ اللَّهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتَّى يَمِيزَ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَجْتَبِي مِنْ رُسُلِهِ مَنْ يَشَاءُ} (1).
ولهذا نسب تعالى منكري إرسال الرسل وإنزال الكتب إِلَى القدح في كماله وعظمته وحكمته، وإلى الجهل به وبأسمائه وصفاته، وأنهم ما قدروه حق قدره.
والمقصود ها هنا أن جميع الرسل كان دينهم الإسلام، ولهذا ثبت في "الصحيح" عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إنا معاشر الأنبياء ديننا واحد" (2) فإنهم كلهم متفقون عَلَى أصول التوحيد وتوابعه، وإنما تختلف شرائعهم في الأحكام العلمية التي يسميها كثير من الناس الفروع، وتنوع الشرائع في ذلك كتنوع الشريعة الواحدة التي فيها ناسخ ومنسوخ. كما كانت القبلة في أول الإسلام إِلَى صخرة بيت المقدس، ثم صارت إِلَى الكعبة.
والدين واحد، ثم ختم الله الشرائع والملل بالشريعة العامة الكاملة، الحنيفية المحمدية، المحتوية عَلَى جميع محاسن الشرائع، المتضمنة لجميع مصالح العباد في المعاش والمعاد، فأكمل الله بها دينه الذى ارتضاه لنفسه، وختم بها العِلْم الَّذِي أنزله من السماء عَلَى رسله، فلذلك تضمنت جميع محاسن الشرائع المتقدمة، وزادت عليها أمورًا عظيمة وأشياء كثيرة، من العلوم النافعة والأعمال الصالحة، التي خص بها هذه الأمة، وفضلهم بها عَلَى من قبلهم من الأمم.
ولذلك أوجب الله عَلَى جميع من بلغته هذه الدعوة من جميع الأمم الانقياد إليها ولم يقبل من أحد منهم دينا سواها.
--------------------------------------------
যেহেতু রাসূলগণকে প্রেরণ এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করার মাধ্যমে অর্জিত উপকার এক অতুলনীয় বিষয়, তাই মহান আল্লাহ এটি অস্বীকারকারীদের কাছে এই পদ্ধতিতে রিসালাতের বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, আর তা হলো এর চরম প্রয়োজনীয়তা। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তিনি এটি বর্ণনা করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: {আল্লাহ মুমিনদেরকে তোমরা যে অবস্থায় আছ সে অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার নন, যতক্ষণ না তিনি অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করেন। আর আল্লাহ তোমাদেরকে অদৃশ্যের জ্ঞান দান করার নন, তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন} (১)।
এই কারণে মহান আল্লাহ রাসূল প্রেরণ এবং কিতাব অবতীর্ণ করার বিষয়টিকে অস্বীকার করাকে তাঁর পূর্ণতা, মহিমা এবং হিকমতের (প্রজ্ঞা) প্রতি অপবাদ আরোপ করার এবং তাঁর সত্তা, নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে অজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর তারা আল্লাহকে যেরূপ সম্মান করা উচিত ছিল সেরূপ সম্মান করেনি।
এখানে উদ্দেশ্য হলো, সকল রাসূলের দ্বীন ছিল ইসলাম। এ কারণেই 'সহীহ' গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমরা নবী সম্প্রদায়, আমাদের সকলের দ্বীন এক" (২)। কেননা তারা সকলে তাওহীদের মূলনীতি এবং এর অনুসঙ্গগুলোর ব্যাপারে একমত। তাদের শরীয়ত বা বিধান কেবল সেই সকল বিধানের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়, যাকে অনেকে 'ফুরু' বা শাখা-প্রশাখা বলে থাকেন। এ ক্ষেত্রে শরীয়তসমূহের ভিন্নতা হলো একটি শরীয়তের মধ্যে রহিতকারী (নাসিখ) এবং রহিতকৃত (মানসুখ) বিধানের ভিন্নতার মতো। যেমন ইসলামের শুরুতে কিবলা ছিল বায়তুল মাকদিসের পাথরের দিকে, অতঃপর তা কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়।
দ্বীন এক। অতঃপর আল্লাহ সকল শরীয়ত ও মিল্লাতকে এক সাধারণ ও পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত—সুষ্ঠু মুহাম্মাদী শরীয়তের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, যা পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের সকল কল্যাণকে ধারণকারী এবং দুনিয়া ও আখিরাতে বান্দাদের সকল কল্যাণকে অন্তর্ভুক্তকারী। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর মনোনীত দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং এর মাধ্যমেই তিনি আকাশ থেকে তাঁর রাসূলগণের প্রতি অবতীর্ণ ইলম বা জ্ঞানের সমাপ্তি টেনেছেন। ফলস্বরূপ, এটি পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের সকল সৌন্দর্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তার ওপর আরও মহান বিষয় ও অনেক কিছু বৃদ্ধি করেছে—উপকারী জ্ঞান ও সৎ কর্মের মধ্য থেকে, যা তিনি বিশেষভাবে এই উম্মতকে দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে পূর্ববর্তী উম্মতগণের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
এই কারণেই আল্লাহ সকল উম্মতের মধ্যে যার কাছেই এই দাওয়াত পৌঁছেছে, তার জন্য এর আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক করেছেন এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন কারো কাছ থেকে কবুল করবেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫৮)
ولما كانت هذه الشريعة خاتمة الشرائع، وعليها تقوم الساعة، ولم يكن بعدها شريعة ولا رسالة أخرى، تبين ما تبدل منها، وتجدد ما درس من آثارها، كما كانت الشرائع المتقدمة تجدد بعضها آثار بعض، وتبين بعضها ما تبدل من بعض، تكفل الله بحفظ هذه الشريعة، ولم يجمع أهلها عَلَى ضلالة، وجعل منهم طائفة قائمة بالحق لا تزال ظاهرة عَلَى من خالفها حتى تقوم الساعة، وأقام لها من يحملها ويذب عنها بالسيف واللسان والحجة والبيان، فلهذا أقام الله تعالى لهذه الأمة من خلفاء الرسل وحَمَلَةِ الحجة في كل زمان من يعتني بحفظ ألفاظ الشريعة وضبطها، وصيانتها عن الزيادة والنقصان، ومن يعتني بحفظ معانيها ومدلولات ألفاظها، وصيانتها عن التحريف والبهتان. والأولون أهل الرواية، وهؤلاء أهل الدارية والرعاية، وقد ضرب النبي صلى الله عليه وسلم مثل الطائفتين. كما ثبت في "الصحيحين" (1) عن أبي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مَثَلَ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ مِنَ الْهُدَى وَالْعِلْمِ، كَمَثَلُ غَيْثٍ أَصَابَ الْأَرْضَ، فَكَانَتْ مِنْهَا طَائِفَةً قَبِلَتْ الْمَاءَ فَأَنْبَتَتِ الْكَلَأَ وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ، وَكَانَتْ مِنْهَا أَجَادِبُ أَمْسَكَتِ الْمَاءَ فَنَفَعَ اللَّهُ بِهِ نَاسًا فَشَرِبُوا وَرَعُوا وَسَقَوْا وَزَرَعُوا، وَأَصَابَتْ طَائِفَةً مِنْهَا أُخْرَى إِنَّمَا هِيَ قِيعَانٌ لا تُمْسِكُ مَاءً وَلا تُنْبِتُ كَلَأً، فَلِذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقَّهَ فِي دِينِ اللَّهِ وَنَفَعَهُ اللَّهُ بِمَا بَعَثَنِي بِهِ وَنَفَعَ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ، وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ».
فمثَّل النبي صلى الله عليه وسلم العِلْم والإيمان الَّذِي جاء به بالغيث يصيب الأرض.
وهذا المثل كقوله تعالى: {أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَدًا رَابِيًا} (2).
فمثل تعالى ما أنزله من العلم والإيمان إلى القلوب بالماء الذي أنزله من
--------------------------------------------
যেহেতু এই শরীয়ত সকল শরীয়তের পরিসমাপ্তি এবং এর ওপর ভিত্তি করেই কিয়ামত সংঘটিত হবে, এবং এরপর আর কোনো শরীয়ত বা রিসালাত নেই যা এর মধ্যে যা পরিবর্তিত হয়েছে তা স্পষ্ট করবে এবং এর বিলুপ্ত নিদর্শনসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করবে—যেভাবে পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহ একে অপরের নিদর্শনকে নবায়ন করত এবং একে অন্যের মধ্যে যা পরিবর্তিত হয়েছে তা বর্ণনা করত—তাই আল্লাহ তাআলা এই শরীয়তের সুরক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি এই শরীয়তের অনুসারীদের ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ করেননি এবং তাদের মধ্যে এমন একটি দল রেখেছেন যারা সত্যের ওপর অটল থাকবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বিরোধীদের ওপর বিজয়ী থাকবে। তিনি এর জন্য এমন বাহক নিযুক্ত করেছেন যারা তলোয়ার, জিহ্বা, প্রমাণ ও বর্ণনার মাধ্যমে একে বহন করবে এবং এর প্রতিরক্ষা করবে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য প্রত্যেক যুগে রাসূলগণের উত্তরসূরি এবং দলীলের ধারক-বাহকদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিবর্গ দাঁড় করিয়েছেন যারা শরীয়তের শব্দাবলি সংরক্ষণ করতে, তা নির্ভুল রাখতে এবং তাতে কোনো বাড়তি বা কমতি হওয়া থেকে রক্ষা করার বিষয়ে যত্নশীল থাকেন। আর এমন ব্যক্তিবর্গ যারা এর অর্থ ও শব্দাবলির নিহিতার্থ সংরক্ষণ করতে এবং একে বিকৃতি ও মিথ্যা অপবাদ থেকে বাঁচাতে সচেষ্ট। প্রথম দলটি হলো বর্ণনার পারদর্শী (আহলুর রিওয়ায়াহ), আর দ্বিতীয় দলটি হলো প্রজ্ঞা ও অনুধাবনের অধিকারী (আহলুদ দিরায়াহ ওয়া র-রিআইয়াহ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দলের উদাহরণ পেশ করেছেন। যেমনটি 'সহীহাইন'-এ (১) আবু মুসা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ আমাকে যে হেদায়েত ও জ্ঞান দিয়ে প্রেরণ করেছেন তার উদাহরণ হলো সেই বৃষ্টির মতো যা জমিনে পতিত হলো। জমিনের এক অংশ ছিল উর্বর যা পানি গ্রহণ করল এবং প্রচুর ঘাস ও লতাপাতা উৎপন্ন করল। আর এক অংশ ছিল শক্ত মাটি যা পানি ধরে রাখল, ফলে আল্লাহ এর দ্বারা মানুষের উপকার করলেন—তারা তা পান করল, গবাদি পশু চরাল, সেচ দিল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির পানি এমন এক জমিনেও পতিত হলো যা ছিল নিছক সমতল প্রান্তর, যা না পানি ধরে রাখে, না ঘাস উৎপন্ন করে। এটি সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীনে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দ্বারা উপকৃত হয়েছে—ফলে সে নিজে শিখেছে এবং অন্যকে শিখিয়েছে। আর এটি সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং আল্লাহর সেই হেদায়েত গ্রহণ করেনি যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।"
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আনীত জ্ঞান ও ঈমানকে জমিনে পতিত বৃষ্টির সাথে তুলনা করেছেন।
এই উদাহরণটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো: {তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে উপত্যকাগুলো তাদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্রবাহিত হয়, অতঃপর সেই প্লাবন উপরিভাগে ভাসমান ফেনা বহন করে নিয়ে আসে} (২)।
আল্লাহ তাআলা অন্তরে যে জ্ঞান ও ঈমান নাজিল করেছেন তাকে সেই পানির সাথে তুলনা করেছেন যা তিনি বর্ষণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৫৯)
السماء إِلَى الأرض، وهو سبحانه وتعالى يمثل العِلْم والإيمان تارة بالماء كما في هذه الآية، وكما في المثل الثاني المذكور في أول سورة البقرة (1)، وتارة يمثله بالنور كما في المثل المذكور في سورة النور (2)، والمثل الأول المذكور في سورة البقرة (3)، وكذلك في هذه الآية التي في سورة الرعد (4)، ذكر مثلاً ثانيًا يتعلق بالنار وهو قوله: {وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَاءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِثْلُهُ} (5) فإن الماء والنور مادة حياة الأبدان، ولا يعيش حيوان إلا حيث هما موجودان، كما أن العِلْم والإيمان مادة حياة القلب، وهما للقلوب كالماء والنور، فَإِذَا فقدهما القلب فقد مات.
وقوله تعالى: {فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا} (6) شبه القلوب الحاملة للعلم والإيمان بالأودية الحاملة للسيل، فقلب كبير يسع علمًا عظيمًا، كوادٍ كبير يسع ماء كثيرًا، وقلب صغير يسع علمًا قليلاً، كواد صغير يسع ماءً قليلاً، فحملت القلوب من هذا العِلْم بقدرها، كما سألت الأودية من الماء بقدرها.
فهذا تقسيم للقلوب بحسب ما تحمله من العِلْم والإيمان إِلَى متسع وضيق.
والذي ذكره النبي صلى الله عليه وسلم في حديث أبي موسى تقسيم لها بحسب ما يرد عليها من العِلْم والإيمان إِلَى قابل لإنبات الكلأ والعشب، وغير قابل لذلك وجعلها ثلاثة أقسام:
قسم قبل الماء، فأنبت الكلأ والعشب الكثير، وهؤلاء هم الذين لهم قوة الحفظ والفهم والفقه في الدين، والبصر بالتأويل، واستنباط أنواع المعارف والعلوم من النصوص، وهؤلاء مثل:
--------------------------------------------
আকাশ থেকে জমিনের দিকে। আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা জ্ঞান ও ঈমানকে কখনো পানির সাথে তুলনা করেন, যেমনটি এই আয়াতে এবং সূরা বাকারার শুরুতে বর্ণিত দ্বিতীয় উদাহরণে (১) রয়েছে। আবার কখনো তিনি একে নূরের সাথে তুলনা করেন, যেমনটি সূরা নূরে বর্ণিত উদাহরণে (২) এবং সূরা বাকারার প্রথম উদাহরণে (৩) রয়েছে। একইভাবে সূরা রা‘দের (৪) এই আয়াতেও তিনি আগুন সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় একটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো তাঁর বাণী: {আর অলঙ্কার বা আসবাবপত্র তৈরির উদ্দেশ্যে তারা আগুনের ওপর যা উত্তপ্ত করে, তাতেও অনুরূপ ফেনা থাকে} (৫)। কেননা পানি ও নূর হলো দেহের জীবনোপকরণ, আর কোনো প্রাণীই এ দুটির উপস্থিতি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না; ঠিক তেমনি জ্ঞান ও ঈমান হলো অন্তরের জীবনোপকরণ। আর অন্তরের জন্য এ দুটি হলো পানি ও নূরের মতো। যখন অন্তর এ দুটিকে হারিয়ে ফেলে, তখন তা মৃত হয়ে যায়।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর উপত্যকাসমূহ তাদের পরিমাণ অনুযায়ী প্রবাহিত হলো} (৬)—এখানে জ্ঞান ও ঈমান বহনকারী অন্তরসমূহকে স্রোত বহনকারী উপত্যকাগুলোর সাথে তুলনা করা হয়েছে। সুতরাং একটি বড় অন্তর বিশাল জ্ঞান ধারণ করতে পারে, যেমন একটি বড় উপত্যকা প্রচুর পানি ধারণ করতে পারে। আর একটি ছোট অন্তর সামান্য জ্ঞান ধারণ করতে পারে, যেমন একটি ছোট উপত্যকা সামান্য পানি ধারণ করে। ফলে অন্তরসমূহ তাদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী এই জ্ঞান বহন করে, ঠিক যেমন উপত্যকাসমূহ তাদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পানি প্রবাহিত করে।
সুতরাং এটি হলো অন্তরসমূহ যে পরিমাণ জ্ঞান ও ঈমান বহন করে, সেই অনুযায়ী প্রশস্ত ও সংকীর্ণ হিসেবে একটি বিভাজন।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মুসা (রা.)-এর হাদিসে জ্ঞান ও ঈমান গ্রহণের ভিত্তিতে অন্তরসমূহের যে বিভাজন উল্লেখ করেছেন, তা হলো ঘাস ও তৃণলতা উৎপন্ন করার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা অনুযায়ী। তিনি এগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:
এক প্রকার (মাটি) যা পানি গ্রহণ করেছে, ফলে তাতে প্রচুর ঘাস ও তৃণলতা জন্মেছে। এরা হলো সেই সব লোক যাদের হেফজ করার শক্তি, অনুধাবন ক্ষমতা ও দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফকাহ) এবং ব্যাখ্যার প্রজ্ঞা রয়েছে এবং যারা নস (মূল পাঠ) থেকে বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান ও শাস্ত্র উদ্ঘাটন করতে পারে। এরা হলো যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬০)
الخلفاء الأربعة، وأبيِّ بن كعب، وأبي الدرداء، وابن مسعود، ومعاذ بن جبل، وابن عباس.
ثم كالحسن، وسعيد بن المسيب، وعطاء، ومجاهد.
ثم كمالك، والليث، والثوري، والأوزاعي، وابن المبارك، والشافعي، وأحمد، وإسحاق، وأبي عبيد، وأبي ثور، ومحمد بن نصر المروزي.
وأمثالهم من أهلم العِلْم بالله وأحكامه، أوامره ونواهيه.
وكذلك مثل أويس، ومالك بن دينار، وإبراهيم بن أدهم، والفضيل بن عياض، وأبي سليمان، وذي النون، ومعروف، والجنيد بن محمد، وسهل بن عبد الله، والحر بن أسد.
وأمثالهم من أهل العِلْم بالله وأسمائه وصفاته، وأيامه وأفعاله.
وقسم حفظ الماء، وأمسكه حتى ورد الناس فأخذوه فانتفعوا به، وهؤلاء هم الذين لهم قوة الحفظ والضبط، والإتقان، دون الاستنباط والاستخراج، وهؤلاء كسعيد بن أبي عروبة، والأعمش، ومحمد بن جعفر غندر، وعبد الرازق، وعمرو الناقد، ومحمد بن بشار بندار، ونحوهم.
وقسم ثالث وهم شر الخلق، ليس لهم قوة الحفظ، ولا قوة الفهم، لا دارية ولا رواية، وهؤلاء الذين لم يقبلوا هدى الله ولم يرفعوا به رأسًا.
والمقصود ها هنا أن الله تعالى حفظ هذه الشريعة بما جعل لها من الحملة: أهل الدارية، وأهل الرواية، فكان الطالب للعلم والإيمان يتلقى ذلك ممن يدركه من شيوخ العِلْم والإيمان، فيتعلم الضابط القرآن والحديث ممن يعلم ذلك، ويتعلم الفقه في الدين من شرائع الإسلام الظاهرة، وحقائق الإيمان الباطنة ممن يعلم ذلك.
وكان الأغلب عَلَى القرون الثلاثة المفضلة جمع ذلك كله، فإن الصحابة تلقوا عن النبي صلى الله عليه وسلم جميع ذلك، وتلقاه عنهم التابعون، وتلقى عن التابعين تابعوهم، فكان الدين حيئذ مجتمعًا، ولم يكن قد ظهر الفرق بين
চার খলিফা, উবাই বিন কাব, আবু দারদা, ইবনে মাসউদ, মুআজ বিন জাবাল এবং ইবনে আব্বাস।
অতপর হাসান (বসরি), সাঈদ বিন মুসাইয়িব, আতা এবং মুজাহিদের মতো (ব্যক্তিবর্গ)।
অতপর মালিক, লাইস, সাওরি, আওজায়ি, ইবনুল মুবারক, শাফেয়ি, আহমাদ, ইসহাক, আবু উবাইদ, আবু সাওর এবং মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াজির মতো (ব্যক্তিবর্গ)।
এবং তাদের মতো ব্যক্তিবর্গ যারা আল্লাহ এবং তাঁর আহকাম (বিধান), তাঁর আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে ইলমধারী।
একইভাবে উওয়াইস, মালিক বিন দিনার, ইব্রাহিম বিন আদহাম, ফুদাইল বিন ইয়াদ, আবু সুলাইমান, জুননুন, মারুফ, জুনাইদ বিন মুহাম্মদ, সাহল বিন আব্দুল্লাহ এবং হার বিন আসাদ এর মতো ব্যক্তিবর্গ।
এবং তাদের মতো ব্যক্তিবর্গ যারা আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ ও সিফাত (গুণাবলি), তাঁর দিবসসমূহ এবং কার্যাবলি সম্পর্কে ইলমধারী।
আর এক শ্রেণি পানি সংরক্ষণ করল এবং তা ধরে রাখল যতক্ষণ না মানুষ সেখানে আসল, তারা তা গ্রহণ করল এবং এর দ্বারা উপকৃত হলো। এরা সেই সকল লোক যাদের মুখস্থ করার শক্তি, যথাযথ ধারণক্ষমতা এবং নিখুঁতত্বের গুণ ছিল, কিন্তু তাদের ইস্তিনবাত (গভীর গবেষণা থেকে মাসআলা বের করা) এবং ইস্তিখরাজ করার ক্ষমতা ছিল না। তারা হলেন সাঈদ বিন আবু আরুবাহ, আমাশ, মুহাম্মদ বিন জাফর গুন্দার, আব্দুর রাজ্জাক, আমর আন-নাক্বিদ, মুহাম্মদ বিন বাশশার বুন্দার এবং তাদের মতো ব্যক্তিবর্গ।
আর তৃতীয় শ্রেণিটি হলো সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম, যাদের না আছে মুখস্থ করার শক্তি, আর না আছে বোঝার ক্ষমতা; না আছে প্রজ্ঞা (দারিইয়াহ), আর না আছে বর্ণনা করার ক্ষমতা (রেওয়ায়েত)। এরাই তারা যারা আল্লাহর হেদায়েত গ্রহণ করেনি এবং একে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেনি।
এখানে উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলা এই শরিয়তকে এর বহনকারীদের মাধ্যমে রক্ষা করেছেন: যারা প্রজ্ঞাবান এবং যারা বর্ণনাকারী। সুতরাং ইলম ও ঈমান অন্বেষণকারী ব্যক্তি সমকালীন ইলম ও ঈমানের শায়খদের থেকে তা গ্রহণ করত। ফলে যে ব্যক্তি কুরআন ও হাদিস যথাযথভাবে সংরক্ষণকারী সে তা জানাশোনা ব্যক্তিদের থেকে শিখত এবং দ্বীনের ফিকহ অর্থাৎ ইসলামের প্রকাশ্য বিধানসমূহ এবং ঈমানের অভ্যন্তরীণ হাকিকতসমূহ তা জানাশোনা ব্যক্তিদের থেকে শিখত।
আর শ্রেষ্ঠ তিন যুগের অধিকাংশ মানুষের বৈশিষ্ট্য ছিল এই সবকিছুর সমন্বয় ঘটানো। কেননা সাহাবায়ে কিরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে এই সবকিছুই গ্রহণ করেছিলেন, তাবেঈগণ তাদের থেকে তা গ্রহণ করেছিলেন এবং তাবে-তাবেঈগণ তাবেঈদের থেকে তা গ্রহণ করেছিলেন। ফলে দ্বীন তখন সংহত ও সুসংবদ্ধ অবস্থায় ছিল এবং তখন পার্থক্য প্রকাশ পায়নি যে...
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬১)
مسمى الفقهاء وأهل الحديث، ولا بين علماء الأصول والفروع، ولا بين الصوفي والفقير والزاهد، وإنما انتشرت هذه الفروق بعد القرون الثلاثة، وإنما كان السَّلف يسمون أهل العِلْم والدين القراء، ويَقُولُونَ: يقرأ الرجل إذا تنسك.
وكان العالم منهم يتكلم في جنس المسائل المأخوذة من الكتاب والسنة، وسواء كانت من المسائل الخبرية العلمية، كمسائل التوحيد والأسماء والصفات، والقدر والعرش والكرسي، والملائكة والجن وقصص الأنبياء، ومسائل الأسماء والأحكام، والوعد والوعيد، وأحوال البرزخ، وصفة البعث والمعاد، والجنة والنار ونحو ذلك.
أو من أعمال الجوارح، كالطهارة، والصلاة، والصيام، والزكاة، والحج والجهاد، وأحكام المعاوضات والمناكحات والحدود والأقضية والشهادة ونحو ذلك.
أو من المسائل العملية، سواء كانت من أعمال القلوب كالمحبة والخوف والرجاء والتوكل والزهد والتوبة والشكر والصبر ونحو ذلك، وإن كان يكون لبعضهم في نوع من هذه الأنواع من مزيد العِلْم والمعرفة، والحال ما ليس له في غيره مثله.
كما كان يقال في أئمة التابعين الأربعة:
سعيد بن المسيب إمام أهل المدينة.
وعطاء بن أبي رباح إمام أهل مكة.
وإبراهيم النخعي إمام أهل الكوفة.
والحسن البصري إمام أهل البصرة.
كان يقال: أعلمهم بالحلال والحرام سعيد بن المسيب، وأعلمهم بالمناسك عطاء، وأعلمهم بالصلاة إبراهيم، وأجمعهم الحسن.
ফকিহ ও আহলে হাদিস সংজ্ঞার মধ্যে, কিংবা উসুল ও ফুরু’র (মৌলিক ও শাখা বিষয়) আলেমদের মধ্যে, কিংবা সুফি, ফকির ও যাহিদদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না; বরং এই পার্থক্যগুলো প্রথম তিন প্রজন্মের পরে ছড়িয়ে পড়েছে। সালাফগণ কেবল ইলম ও দ্বীনের অধিকারীদের 'কুররা' (পাঠক) বলতেন এবং তারা বলতেন: যখন কোনো ব্যক্তি ইবাদতে রত হতো, তখন তাকে 'কুররা' বা পাঠক বলা হতো।
তাঁদের মধ্য থেকে আলেমগণ কিতাব ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত যাবতীয় মাসআলা নিয়ে আলোচনা করতেন; চাই তা খবরি (সংবাদ ভিত্তিক) ইলমি মাসআলা হোক, যেমন তাওহিদ, আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি), তাকদির, আরশ ও কুরসি, ফেরেশতা ও জিন, নবীদের কাহিনি, আসমা ও আহকাম (নাম ও বিধান), ওয়াদা ও ওয়াইদ (সুসংবাদ ও সতর্কবাণী), বারযাখের অবস্থা, পুনরুত্থান ও পরকালের বর্ণনা, জান্নাত ও জাহান্নাম এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি।
অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল সংক্রান্ত বিষয় হোক, যেমন পবিত্রতা, সালাত, সিয়াম, জাকাত, হজ ও জিহাদ, এবং লেনদেন, বিবাহ, হুদুদ (দণ্ডবিধি), বিচার ব্যবস্থা ও সাক্ষ্য প্রদান সংক্রান্ত বিধানাবলি এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি।
অথবা আমলি (কার্যকরী) মাসআলা হোক, চাই তা অন্তরের আমল সংক্রান্ত হোক যেমন ভালোবাসা, ভয়, আশা, নির্ভরতা, দুনিয়াবিমুখতা, তওবা, কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি। যদিও তাঁদের কারো কারো ক্ষেত্রে এই প্রকারগুলোর কোনো একটিতে এমন অধিক ইলম, মা’রিফাত ও অবস্থা থাকত, যা অন্য বিষয়ে থাকত না।
যেমনটি চারজন তাবিঈ ইমামের ব্যাপারে বলা হতো:
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব মদিনাবাসীদের ইমাম।
আতা ইবনে আবি রাবাহ মক্কাবাসীদের ইমাম।
ইবরাহিম আন-নাখঈ কুফাবাসীদের ইমাম।
হাসান বসরি বসরার অধিবাসীদের ইমাম।
বলা হতো: তাঁদের মধ্যে হালাল ও হারাম সম্পর্কে সবচাইতে বিজ্ঞ ছিলেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, হজের নিয়মাবলি সম্পর্কে সবচাইতে বিজ্ঞ ছিলেন আতা, সালাত সম্পর্কে সবচাইতে বিজ্ঞ ছিলেন ইবরাহিম এবং তাঁদের মধ্যে সকল বিষয়ের সংকলক ও পারদর্শী ছিলেন হাসান।
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬২)
وكان أهل الدراية والفهم من العُلَمَاء إذا اجتمع عند الواحد منهم من ألفاظ الكتاب والسنة ومعانيهما، وكلام الصحابة والتابعين ما يسره الله له، جعل ذلك أصولاً وقواعد يبني عليها ويستنبط منها، فإن الله تعالى أنزل الكتاب بالحق والميزان، والكتاب فيه كلمات كثيرة، هي قواعد كلية وقضايا عامة، تشتمل أنواعًا عديدة، وجزئيات كثيرة، ولا يهتدي كل أحد إِلَى دخولها تحت تلك الكلمات؛ بل ذلك من الفهم الَّذِي يؤتيه الله من يشاء في كتابه.
وأما الميزان فهو الاعتبار الصحيح، وهو من العدل والقسط الَّذِي أمر الله بالقيام به، كالجمع بين المتماثلين لاشتراكهما في الأوصاف الموجبة للجمع والتفريق بين المختلفين؛ لاختلافهما في الأوصاف الموجبة للفرق، وكثيرًا ما يخفى وجه الاجتماع والافتراق ويدق فهمه.
وأما أهل الرواية إذا اجتمع عندهم من ألفاظ الرسول، وكلام الصحابة والتابعين وغيرهم في التفسير والفقه وأنواع العلوم، لم يتصرفوا في ذلك؛ بل نقلوه كما سمعوه، وأدوه كما حفظوه، وربما كان لكثير منهم من التصرف والتميز في صحة الحديث وضعفه من جهة إسناده، وروايته ما ليس لغيرهم.
فصل: وكان العِلْم والدين يتلقاه التابع عن المتبوع سماعًا وتعلمًا، وتأدبًا واقتداء.
وكان الحديث يحفظ في القلوب حفظًا، فكان الشيخ يحدث أصحابه من حفظه، وربما حدث من حِفْظِه وكتابه، وأصحابه يسمعون ذلك ويحفظونه عنه وربما كتبوه، ولم تكن الكتب قد صنفت في زمن الصحابة والتابعين، وإنما صنفت بعد ذلك في زمان أتباع التابعين، فصنف ابن جريج في التفسير والحديث والفقه.
وصنف سعيد بن أبي عروبة، وحماد بن سلمة، وصنف مالك، وابن المبارك، ووكيع، وعبد الرحمن بن مهدي، وهشيم، وابن أبي شيبة، وعبد الرزاق، وابن وهب، وغيرهم.
আলেমদের মধ্যে যারা বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন, তাদের কারো কাছে যখন আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর শব্দ ও অর্থ এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের বক্তব্য থেকে যা কিছু আল্লাহ সহজ করে দিতেন তা একত্রিত হতো, তখন তারা সেগুলোকে এমন মূলনীতি ও নিয়মে পরিণত করতেন যার ওপর ভিত্তি করে তারা মাসআলা উদ্ভাবন ও বিশ্লেষণ করতেন। কেননা মহান আল্লাহ সত্য ও মানদণ্ডসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর কিতাবের মধ্যে এমন অনেক শব্দ রয়েছে যা সামগ্রিক মূলনীতি ও সাধারণ বিষয়বস্তু, যা অনেক প্রকার ও অসংখ্য খুঁটিনাটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু প্রত্যেকে এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে সেই শব্দগুলোর অধীনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সঠিক পথ পায় না; বরং এটি হলো সেই প্রজ্ঞা যা আল্লাহ তাঁর কিতাবের ব্যাপারে যাকে ইচ্ছা দান করেন।
আর মানদণ্ড (মীযান) হলো সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ। এটি সেই ন্যায় ও ইনসাফের অন্তর্ভুক্ত যা কায়েম করার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন। যেমন—দুটি সমজাতীয় বিষয়ের মধ্যে তাদের এমন বৈশিষ্ট্যের কারণে সমন্বয় করা যা একত্র করার দাবি রাখে; এবং দুটি ভিন্ন বিষয়ের মধ্যে তাদের এমন বৈশিষ্ট্যের কারণে পার্থক্য করা যা পৃথক করার দাবি রাখে। অনেক ক্ষেত্রে এই সমন্বয় ও পার্থক্যের দিকটি অস্পষ্ট থাকে এবং এর বোধগম্যতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়ে থাকে।
আর বর্ণনা-নির্ভর ব্যক্তিবর্গের নিকট যখন রাসূলের বাণী এবং তাফসীর, ফিকহ ও বিভিন্ন শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সাহাবী, তাবিঈ ও অন্যদের বক্তব্য একত্রিত হতো, তখন তারা তাতে কোনো রদবদল করতেন না; বরং তারা যেভাবে শুনেছিলেন সেভাবেই তা বর্ণনা করতেন এবং যেভাবে মুখস্থ করেছিলেন সেভাবেই তা পৌঁছে দিতেন। তবে তাদের অনেকের ক্ষেত্রে হাদীসের সনদ ও বর্ণনার দিক থেকে তার বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিরূপণের ব্যাপারে এমন পারদর্শিতা ও বিশেষত্ব ছিল যা অন্যদের ছিল না।
পরিচ্ছেদ: ইলম ও দ্বীন পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের নিকট থেকে শ্রবণ, শিক্ষা গ্রহণ, শিষ্টাচার এবং অনুসরণের মাধ্যমে গ্রহণ করতেন।
হাদীস মূলত অন্তরে মুখস্থ করে রাখা হতো। শায়খ তাঁর ছাত্রদের নিকট নিজের স্মৃতি থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন, আবার কখনো স্মৃতি ও লিখিত পাণ্ডুলিপি উভয়টি থেকে বর্ণনা করতেন। তাঁর ছাত্ররা তা শুনতেন এবং তাঁর নিকট থেকে তা মুখস্থ করে নিতেন, কখনো কখনো তারা তা লিখেও নিতেন। সাহাবী ও তাবিঈগণের যুগে গ্রন্থসমূহ সংকলিত হয়নি, বরং তা সংকলিত হয়েছে পরবর্তীকালে তাবি-তাবিঈগণের যুগে। যেমন—ইবনে জুরাইজ তাফসীর, হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রে গ্রন্থ সংকলন করেন।
সাঈদ ইবনে আবু আরূবা ও হাম্মাদ ইবনে সালামাহ গ্রন্থ সংকলন করেন। এছাড়া ইমাম মালিক, ইবনুল মুবারক, ওয়াকী‘, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী, হুশাইম, ইবনে আবু শাইবাহ, আবদুর রাজ্জাক, ইবনে ওয়াহাব এবং আরও অনেকে গ্রন্থ সংকলন করেন।
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬৩)
وهؤلاء يجمعون في كتبهم ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم وعن الصحابة والتابعين، ثم جرد طوائفه آخرون الحديث المسند عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يخلطوه بشيء من الآثار كما فعل موسى بن قرة، والإمام أحمد، وإسحاق وبقي بن مخلد، وأبو يعلى الموصلي، وغيرهم.
ثم صنف قوم المسند الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم، وأسقطوا ما عداه من الضعيف، كما فعل البخاري ومسلم.
وصنف أيضاً في الصحيح ابن حبان، وابن خزيمة، والحاكم، وابن السكن، وغيرهم، ولا يبلغ تصحيح هؤلاء تصحيح الشيخين.
وصنف أصحاب السنن والجوامع الكتب المرتبة عَلَى الأبواب، ولما انتشرت الكتب والتصانيف توسع الناس في الرواية، فصاروا يقرءون عَلَى الشيوخ قراءات ويسمى ذلك العرض. وصار الشيوخ يناولون أصحابهم كتبًا يعرفون ما فيها، ويأذنون لهم في روايتها عنهم، وكان هذا وهذا من عمل أهل الحجاز وغيرهم.
وقد كانوا قبل تصنيف الكتب يفعلون ذلك أيضاً أحيانًا في أحاديث يكتبونها في صحف.
وأنكر العرض والمناولة طائفة من علماء العراق، كما أنكروا الشهادة عَلَى مثل ذلك، فإنهم أنكروا الشهادة عَلَى الوصية المختومة، وعلى كتاب القاضي حين يقرءوه عليه، ويعلم ما فيه، ووافقهم طائفة من الفقهاء في الشهادة دون الرواية، فصارت الأقوال ثلاثة:
أحدها: المنع من الرواية بما قرأه عَلَى الشيخ أو ناوله إياه بخطه، وهؤلاء يمنعون الزيادة بما ناوله بخطه أيضاً.
وأما الشهادة بما قرئ عليه فأقر به، فلا يحفظ قولهم في ذلك، وهذا القول كان قديمًا مشهورًا عن أهل العراق، وكان مالك وغيره ينكره عليهم.
এবং তারা তাদের গ্রন্থসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা একত্র করেন। অতঃপর অন্য একদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মুসনাদ হাদিসসমূহকে পৃথক করেন এবং সেগুলোর সাথে অন্য কোনো আছার বা বর্ণনা মিশ্রিত করেননি; যেমনটি করেছেন মূসা বিন কুররাহ, ইমাম আহমাদ, ইসহাক, বাকী বিন মাখলাদ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি এবং আরও অনেকে।
এরপর একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহিহ মুসনাদ সংকলন করেন এবং যঈফ বা দুর্বল হাদিসগুলো বাদ দেন, যেমনটি করেছেন বুখারী ও মুসলিম।
ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমা, হাকীম, ইবনে সাকান এবং আরও অনেকে সহিহ হাদিসের সংকলন করেছেন; তবে তাদের সহিহ করার মান শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর সহিহ করার মানের সমপর্যায়ের নয়।
সুনান ও জামে' গ্রন্থকারগণ অধ্যায়ভিত্তিক গ্রন্থসমূহ সংকলন করেছেন। যখন গ্রন্থ ও সংকলনসমূহ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ল, তখন মানুষের মধ্যে হাদিস বর্ণনার পরিধি বিস্তৃত হলো। তারা শায়খদের সামনে হাদিস পাঠ করতে শুরু করল, যাকে 'আরদ' (উপস্থাপন) বলা হয়। আর শায়খগণ তাদের ছাত্রদের এমন সব গ্রন্থ প্রদান করতেন যার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তারা অবহিত ছিলেন এবং সেগুলো তাদের থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিতেন। এটি এবং সেটি (আরদ ও মুনাওয়ালা) হিজাজবাসী এবং অন্যদের আমল বা কর্মপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গ্রন্থ সংকলনের পূর্বেও তারা মাঝে মাঝে সহিফা বা খাতায় লেখা হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে অনুরূপ করতেন।
ইরাকের একদল আলেম 'আরদ' ও 'মুনাওয়ালা'কে অস্বীকার করেছেন, যেভাবে তারা এ জাতীয় বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদানকেও অস্বীকার করেছেন। কেননা তারা মোহরকৃত অসিয়তনামা এবং বিচারকের চিঠির ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদানকে অস্বীকার করেছেন, যখন তা তাকে পড়ে শোনানো হতো এবং তিনি তার বিষয়বস্তু জানতেন। একদল ফকিহ হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে নয়, বরং কেবল সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে মত তিনটি হয়ে দাঁড়ালো:
প্রথমটি: শায়খের সামনে যা পাঠ করা হয়েছে অথবা শায়খ তার নিজ হাতের লেখায় যা প্রদান করেছেন, তার মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করা নিষিদ্ধ। তারা শায়খের নিজ হাতে লিখে দেওয়া কিতাবে অতিরিক্ত কিছু বর্ণনা করাকেও নিষিদ্ধ মনে করেন।
আর তার সামনে যা পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন, তার ওপর সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে তাদের বক্তব্য সংরক্ষিত নেই। এই মতটি প্রাচীনকালে ইরাকবাসীদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল এবং ইমাম মালিক ও অন্যান্যরা তাদের এই মতের প্রতিবাদ করতেন।
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬৪)
ومنهم طوائف يجيزون العرض دون المناولة.
والثاني: جواز الرواية بالعرض والمناولة، وأن ذلك بمنزلة السماع من لفظ الراوي، وجواز الشهادة عَلَى ما قرئ عليه فأقر به، وعلى الكتاب المختوم أيضاً، وهذا قول علماء أهل الحجاز وغيرهم.
وها هنا سببان يتعين الفرق بينهما:
أحدهما: صحة ما قرأه عَلَى الشيخ أو ناوله إياه أو وجده بخطه. وكذلك صحة ما وجد من الوصايا والأقارير بخط الرجل، وجواز العمل بذلك والحكم به.
والثاني: جواز الرواية والشهادة بذلك.
فأما الأول: فإن مالكًا وغيره من علماء الحجاز يرون أن ما عرض عَلَى الرجل فأقر به، وما كتبه بخطه بمنزلة ما قاله بلسانه في الصحة والثبوت وفي ذلك كله، فإنهم يرون صحة العرض والمناولة، ويرون قبول كتاب القاضي وغيره إذا علم أنه كتابه بالشهادة، وإن لم يشهدوا بما فيه، وهذا أيضاً هو الثابت عن الإمام أحمد، فإن مذهبه جواز العرض والمناولة، ومذهبه جواز الرواية من الكتاب إذا عرف الخط، وإن لم يكن بخطه، وكذلك مذهبه جواز العمل بالوصية من غير إشهاد عليها، وكذلك الخط وإن لم يكن بخطه.
وكذلك مذهبه جواز العمل بالوصية من غير إشهاد عليها، وكذلك الخط وإن لم يكن بخطه.
وكذلك مذهبه أن الحاكم والشاهد يعملان بما يجدان بخطهما، وإن لم يذكراه، وهذا أكثر الروايات عنه.
والرواية التي قال فيها لا يعمل بذلك -حتى يكون الكتاب تحت حرزه- هو من الاستظهار ليتيقن أنه خطه، وإلا فهو إِنَّمَا يعمل بخطه لا بحفظه.
وكذلك خرَّج أصحابه من كلامه جواز العمل بكتاب القاضي إذا شهد به
তাদের মধ্যে এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা হস্তান্তর (মুনাবালা) ব্যতীত কেবল পেশ করা (আরজ)-কে বৈধ মনে করেন।
দ্বিতীয়ত: পেশ করা এবং হস্তান্তরের মাধ্যমে বর্ণনা করা বৈধ এবং এটি বর্ণনাকারীর শব্দ থেকে সরাসরি শোনার সমতুল্য। একইভাবে যা তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন, তার ওপর সাক্ষ্য প্রদান এবং মোহরকৃত পত্রের ওপর সাক্ষ্য প্রদানও বৈধ। এটি হিজাজের আলেমগণ এবং অন্যদের অভিমত।
এখানে দুটি কারণ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক:
প্রথমটি: শায়খের সামনে যা পাঠ করা হয়েছে বা তিনি যা হস্তান্তর করেছেন অথবা তাঁর হস্তাক্ষরে যা পাওয়া গিয়েছে তার বিশুদ্ধতা। একইভাবে কোনো ব্যক্তির হস্তাক্ষরে প্রাপ্ত অসিয়তনামা এবং স্বীকারোক্তির বিশুদ্ধতা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ও ফয়সালা করার বৈধতা।
দ্বিতীয়টি: তদানুসারে বর্ণনা করা এবং সাক্ষ্য প্রদান করা বৈধ হওয়া।
প্রথমটির ক্ষেত্রে: ইমাম মালিক এবং হিজাজের অন্যান্য আলেমগণ মনে করেন যে, কোনো ব্যক্তির সামনে যা পেশ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন, অথবা তিনি যা নিজ হাতে লিখেছেন, তা বিশুদ্ধতা ও প্রমাণের ক্ষেত্রে তাঁর মুখনিঃসৃত বাণীর সমতুল্য। এ সবকিছুর ক্ষেত্রে তাঁরা পেশ করা ও হস্তান্তরের বিশুদ্ধতার প্রবক্তা। তাঁরা বিচারক এবং অন্যদের পত্র গ্রহণ করা বৈধ মনে করেন যখন সাক্ষ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে এটি তাঁরই পত্র, যদিও সাক্ষীরা পত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাক্ষ্য না দেয়। এটি ইমাম আহমাদ থেকেও প্রমাণিত। কেননা তাঁর মাযহাব হলো পেশ করা ও হস্তান্তরের বৈধতা। তাঁর মাযহাব অনুযায়ী হস্তাক্ষর চেনা গেলে কিতাব থেকে বর্ণনা করা বৈধ, যদিও তা বর্ণনাকারীর নিজ হাতের লেখা না হয়। একইভাবে তাঁর মাযহাব হলো সাক্ষ্য রাখা ছাড়াই অসিয়তনামা অনুযায়ী আমল করা বৈধ। হস্তাক্ষরের ক্ষেত্রেও একই কথা, যদিও তা তাঁর নিজ হাতের লেখা না হয়।
অনুরূপভাবে তাঁর মাযহাব হলো সাক্ষ্য রাখা ছাড়াই অসিয়তনামা অনুযায়ী আমল করা বৈধ। হস্তাক্ষরের ক্ষেত্রেও একই কথা, যদিও তা তাঁর নিজ হাতের লেখা না হয়।
তদ্রূপ তাঁর মাযহাব হলো, বিচারক এবং সাক্ষী তাদের নিজ নিজ হস্তাক্ষরে যা পায় তদানুসারে আমল করবে, যদিও তারা বিষয়টি স্মরণ করতে না পারে। তাঁর থেকে বর্ণিত অধিকাংশ বর্ণনা এমনই।
আর যে বর্ণনায় তিনি বলেছেন যে—কিতাবটি তাঁর নিরাপদ হেফাজতে থাকার আগ পর্যন্ত তা অনুযায়ী আমল করা যাবে না—তা অতিরিক্ত সতর্কতাস্বরূপ যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি তাঁরই হস্তাক্ষর। অন্যথায় তিনি তো তাঁর হস্তাক্ষরের ওপর ভিত্তি করেই আমল করেন, তাঁর মুখস্থ স্মৃতির ওপর নয়।
একইভাবে তাঁর অনুসারীরা তাঁর বক্তব্য থেকে বিচারকের পত্র অনুযায়ী আমল করার বৈধতা আহরণ করেছেন যখন তার ওপর সাক্ষ্য প্রদান করা হয়।
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬৫)
شاهدان، وإن لم يقرأ عليهم، كما هو مذهب مالك والزهري، وقول أبي يوسف، وأبي عبيد، ومحمد بن نصر المروزي، واختيار السرخسي من الشافعية.
وكانت سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنة خلفائه الراشدين، وسنة قضاة الإسلام بالحجاز والعراق قبول الكتاب، وإن لم يشهد عَلَى ما فيه.
وأول من طلب الشهود عَلَى الكتاب بعض القضاة في أوائل الدولة العباسية، كسوار بالبصرة، وابن أبي ليلى بالكوفة، وقد ذكر ذلك البخاري في "صحيحه" وغيره من العُلَمَاء؛ بل كانوا يقبلون الكتاب مع واحد ثقة إذا عرف الخط أيضًا.
وهذه الأقوال في مذهب مالك، وقد صرح أصحاب أحمد أن من قوله قبول الكتاب بمجرد معرفة الخط والختم، وهو قول محمد بن نصر وغيره من فقهاء أهل الحديث.
وأما الثاني: وحو جواز الرواية والشهادة بذلك، فها هنا ثلاثة أشياء: عرض، ومناولة، وشهادة.
فأما العرض: فَإِذَا قرئ عَلَى العالم فأقر به جاز أن يرويه عنه، وإن لم يأذن له في روايته عند الجمهور، وليس في ذلك إلا خلاف شاذ ولا يكاد يثبت، وإن لم يقر به بل سكت فهل له أن يرويه عنه؟ فيه قولان.
والجمهور عَلَى جواز روايته عنه، ويكون سكوته كإقراره.
وتنازعوا: هل يجوز له في روايته عنه أن يقول: حدثني، وأخبرني، أو لا يجوز ذلك؟
يقول: قرأت عَلَى فلان فلم ينكر عليَّ. قوله هذا حكاية عن الإمام أحمد.
وكذلك تنازعوا فيما إذا عرض عَلَى الشيخ فأقر له به، هل يقول في الرواية عنه: ثنا، وأخبرنا، أو لا يقول ذلك، بل يقول: قرأت عَلَى فلان فأقر به، أو يقول: أخبرنا، ولا يقول: حدثنا؟ عَلَى ثلاثة أقوال:
দুইজন সাক্ষী, যদিও তাদের সামনে তা পাঠ করা না হয়, যেমনটি ইমাম মালিক ও যুহরী-র মাযহাব, এবং আবু ইউসুফ, আবু উবাইদ ও মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযীর অভিমত, আর শাফিঈদের মধ্যে সারাখসী-র পছন্দ।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ, তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ এবং হিজায ও ইরাকের ইসলামী বিচারকদের সুন্নাহ ছিল লিখিত দলিল গ্রহণ করা, যদিও তার বিষয়বস্তুর ওপর সাক্ষ্য প্রদান করা না হতো।
আর লিখিত দলিলের ওপর সর্বপ্রথম সাক্ষীর আবশ্যকতা তৈরি করেন আব্বাসীয় আমলের শুরুর দিকের কিছু বিচারক, যেমন বসরার সাওয়ার এবং কুফার ইবনে আবি লায়লা। ইমাম বুখারী তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এবং অন্যান্য আলিমগণ এটি উল্লেখ করেছেন; বরং তারা একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির সাথে লিখিত দলিল গ্রহণ করতেন যদি হস্তলিপিও চেনা যেত।
আর এই অভিমতগুলো মালিকী মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত, এবং ইমাম আহমাদ-এর অনুসারীরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর একটি অভিমত হলো কেবল হস্তলিপি ও সিলমোহর চেনার মাধ্যমেই লিখিত দলিল গ্রহণ করা। এটিই মুহাম্মাদ ইবনে নাসর এবং আহলে হাদীস ফকীহগণের অভিমত।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: এর মাধ্যমে বর্ণনা এবং সাক্ষ্য প্রদানের বৈধতা। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় রয়েছে: আরয (উপস্থাপন), মুনাওয়ালা (হস্তান্তর) এবং শাহাদাহ (সাক্ষ্য)।
আর আরয বা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে: যখন কোনো আলিমের সামনে পাঠ করা হয় এবং তিনি তা স্বীকার করে নেন, তখন জমহুর আলিমের মতে তা তাঁর থেকে বর্ণনা করা বৈধ, যদিও তিনি বর্ণনা করার অনুমতি না দেন। এ বিষয়ে কেবল কিছু শায বা বিচ্ছিন্ন মতপার্থক্য রয়েছে যা সাব্যস্ত নয়। আর যদি তিনি তা স্বীকার না করে চুপ থাকেন, তবে কি তাঁর পক্ষ থেকে সেটি বর্ণনা করা যাবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।
আর জমহুর আলিমগণ তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনার বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং তাঁর নীরবতাকে তাঁর স্বীকৃতির সমতুল্য গণ্য করেছেন।
এবং তাঁরা মতভেদ করেছেন: তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করার সময় কি 'তিনি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন' এবং 'তিনি আমাকে খবর দিয়েছেন' বলা জায়েয, নাকি তা জায়েয নয়?
সে বলবে: আমি অমুকের সামনে পাঠ করেছি এবং তিনি আমার প্রতিবাদ করেননি। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি উক্তি।
অনুরূপভাবে তাঁরা সেই বিষয়েও মতভেদ করেছেন যখন শায়খের সামনে উপস্থাপন করা হয় এবং তিনি তা স্বীকার করেন, তখন কি বর্ণনা করার সময় 'তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন' এবং 'তিনি আমাদের খবর দিয়েছেন' বলা যাবে, নাকি তা বলা যাবে না? বরং বলবে: আমি অমুকের সামনে পাঠ করেছি এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন, অথবা বলবে 'তিনি আমাদের খবর দিয়েছেন' কিন্তু 'তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন' বলবে না? এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে:
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬৬)
وكلام الإمام أحمد في ذلك مختلف، وطرق أصحابه مختلفة في حكاية الروايات عنه في ذلك.
وأما المناولة: إذا ناوله شيئًا معينًا يعلمه، وقال له: اروه عني، فالجمهور عَلَى جواز ووايه عنه.
وتنازعوا: هل يقول في الرواية بالمناولة: حدثنا، وأخبرنا، أو لا يجوز ذلك؟
بل يقول: قال فلان أو عن فلان، أو أعطانى فلان، أو ناولني ونحو ذلك، عَلَى قولين:
وقد قيل بجواز أن تقول: أخبرني، ولا يجوز أن تقول: حدثني، وهو ظاهر كلام أحمد.
وإن ناوله شيئًا، وقال: هو سماعي، ولم يأذن له في روايته عنه، ففي جواز روايته عنه قولان.
وأما الشهادة عَلَى الخط: فإن قرأه عليه وأقر به، فلا ريب في صحة الشهادة به.
وأما إِن لم يقرأه عليه، ولم يعلم ما فيه، فهل يجوز له أن يشهد به إذا أمره بذلك؟ كمن كتب كتابًا وختمه، وقال لرجل: اشهد بماء فيه، عَلَى قولين:
وكثير من الفقهاء يمنعون تحمل صحة هذه الشهادة، وهو منصوص الإمام أحمد في رواية إسحاق بن منصور، وذهب طائفة إِلَى صحة تحملها كالزهري وأبي يوسف وأبي عبيد، وهو قول أبي بكر الرازي وغيره.
وقد خرّج طائفة من أصحاب أحمد صحة هذه الشهادة من نصه، عَلَى جواز العمل بها، وليس ذلك بلازم، فإن جواز العمل بها يقتضي صحة الحكم بالخط المعروف، ولا يلزم من ذلك تحمل الشهادة عليه بما لم يسمعه منه، ألا ترى أنه إذا وجد حدثنا بخط من يعرفه، جاز له أن يعتمد عليه في العمل وتصحيحه، وليس له أن يروي عنه؛ لأنّه لم يتحمله عنه، ولم يسمعه منه، ولهذا منع طائفة من العُلَمَاء من الرواية بالمناولة، وجوزوا العمل
এ বিষয়ে ইমাম আহমাদের বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন, এবং এ সম্পর্কে তাঁর থেকে বর্ণনা উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারীদের পদ্ধতিও বিভিন্ন।
আর মুনাহওয়ালাহ (হস্তান্তর) প্রসঙ্গে কথা হলো: যদি তিনি তাকে নির্দিষ্ট কোনো কিছু প্রদান করেন যা সম্পর্কে সে অবগত এবং তাকে বলেন, ‘এটি আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো’, তবে জুমহুর (অধিকাংশ) আলিমের মতে তা বর্ণনা করা জায়েজ।
তাঁরা এ বিষয়ে ইখতিলাফ করেছেন যে, মুনাহওয়ালার মাধ্যমে বর্ণনার ক্ষেত্রে কি ‘হাদ্দাসানা’ (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) এবং ‘আখবারানা’ (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) বলা যাবে, নাকি তা জায়েজ নয়?
বরং সে বলবে: ‘অমুক বলেছেন’ অথবা ‘অমুক হতে বর্ণিত’ অথবা ‘অমুক আমাকে দিয়েছেন’ অথবা ‘আমাকে হাতে হাতে দিয়েছেন’ এবং এই জাতীয় শব্দ। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
কেউ কেউ বলেছেন ‘আখবারানি’ (আমাকে সংবাদ দিয়েছেন) বলা জায়েজ, কিন্তু ‘হাদ্দাসানি’ (আমার নিকট বর্ণনা করেছেন) বলা জায়েজ নয়। ইমাম আহমাদের বক্তব্য থেকে এটিই প্রকাশ পায়।
যদি তিনি তাকে কোনো কিছু প্রদান করেন এবং বলেন, ‘এটি আমার শ্রবণকৃত (সামা‘)’, কিন্তু তা বর্ণনা করার অনুমতি না দেন, তবে তাঁর থেকে তা বর্ণনা করার বৈধতার ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে।
আর হস্তলিপির ওপর সাক্ষ্য প্রদান প্রসঙ্গে কথা হলো: যদি তিনি সেটি তাঁর নিকট পাঠ করেন এবং তিনি তা স্বীকার করেন, তবে সেটির সাক্ষ্য সহিহ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
কিন্তু যদি তিনি সেটি তাঁর নিকট পাঠ না করেন এবং তাতে কী আছে তা তিনি না জানেন, তবে তাকে যদি সেটি সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তবে কি তা জায়েজ হবে? যেমন কেউ একটি চিঠি লিখে তাতে মোহর লাগাল এবং কোনো ব্যক্তিকে বলল, ‘এতে যা আছে তার ওপর সাক্ষ্য দাও’। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
অনেক ফকিহ এই সাক্ষ্য গ্রহণের বৈধতাকে অস্বীকার করেছেন, যা ইসহাক ইবনে মানসুরের বর্ণনায় ইমাম আহমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য। তবে একদল আলিম এটি সহিহ হওয়ার দিকে গিয়েছেন, যেমন যুহরি, আবু ইউসুফ এবং আবু উবাইদ। এটিই আবু বকর আল-রাজি ও অন্যদের অভিমত।
ইমাম আহমাদের একদল অনুসারী তাঁর বক্তব্য থেকে এই সাক্ষ্য সহিহ হওয়ার বিষয়টি আহরণ করেছেন এই ভিত্তিতে যে, এর ওপর আমল করা জায়েজ। কিন্তু এটি আবশ্যক নয়; কেননা এর ওপর আমল করা জায়েজ হওয়া কেবল পরিচিত হস্তলিপির মাধ্যমে ফয়সালা করার বৈধতাকে দাবি করে, কিন্তু এটি সেই বিষয়ের সাক্ষ্য বহন করাকে আবশ্যক করে না যা সে তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেনি। আপনি কি দেখেন না যে, যদি কেউ তার পরিচিত কোনো ব্যক্তির হস্তলিপিতে ‘হাদ্দাসানা’ (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) শব্দটি পায়, তবে তার জন্য আমল করা ও তা সংশোধনের ক্ষেত্রে সেটির ওপর নির্ভর করা জায়েজ, কিন্তু তার জন্য তাঁর থেকে বর্ণনা করা জায়েজ নয়; কারণ সে এটি তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করেনি এবং তাঁর থেকে শ্রবণও করেনি। এই কারণেই একদল আলিম মুনাহওয়ালার মাধ্যমে বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন, তবে এর ওপর আমল করা জায়েজ রেখেছেন।
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬৭)
بها كما نُقِلَ ذلك عن الأوزاعي وغيره، وأيضًا فالحكم يعمل بالخط إِن يعرفه والشاهد في حال التحمل لم يعرف ما تحمله البتة، ولا سمعه من لفظه، ولا قرأه من خطه، فكيف يصح تحمله لما لم يعلمه بحال.
نعم، يجوز له أن يشهد أن هذا كتابه الَّذِي تبه وختمه، أو يشهد عَلَى الخط إذا فتحه وعرفه، ولعل مراد كثير ممن قال بقبول الختاب المختوم المشهود عليه وأن يقرأ عَلَى الشهود أن الشاهد يشهد أن هذا كتاب فلان، فيفيد ذلك أنه كتابه، ويكون العمل بالخط، وتخريج هذا عن أحمد في كتاب القاضي ونحوه، من نصوصه المستفيضة في العمل بالخطوط أولى من تخريج صحة الشهادة بما تضمنه الكتاب المختوم.
لكن يقال: تخرج صحة الشهادة عَلَى الكتاب المختوم من صحة الرواية بالمناولة، إِن ناوله كتابًا لا يعلم الطالب ما فيه، وأذن له في روايته، فإنه يجوز له أن يقول إذا قرأه: أجزت فلانًا بكذا كما تقدم، ولكن كثيرًا من العُلَمَاء يجعل باب الرواية أسهل من باب الشهادة، ويرى التوسع في الرواية بما لا يتسع بمثله في الشهادة، ولأجل هذا فرق أهل القول الثالث في أصل المسألة بين بابي الرواية والشهادة، فجوزوا الرواية بالعرض والمناولة، دون الحكم بالكتاب المختوم والشهادة به، وهذا قول الشافعي وغيره، وهو المشهور عند المتأخرين من أصحاب أحمد.
وفرقوا بينهما بأن الرواية مبناها عَلَى المسامحة، فإنه لا يشترط لها العدالة في الباطن، ويقبل فيها قول النساء والعبيد، وحديث العنعنة ونحو ذلك بخلاف الشهادة في كلام أحمد إيماء إِلَى فرق آخر وهو أن الشهادة قد يخفى تغيرها وزيادتها ونقصها، بخلاف الحديث، فإنه قد ضبط وحفظ، فلا يكاد يخفى تغيره، وهذا لأنّ الطعن في رواية ما في الكتاب والشهادة، تارة يعلل بعدم الوثوق بالكتاب لاحتمال تزويره، والزيادة فيه والنقص منه.
যেমনটি আল-আওজায়ি এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। তদুপরি, বিচারক যদি হাতের লেখা চিনতে পারেন তবে সেই অনুযায়ী কাজ করবেন। অথচ সাক্ষ্য গ্রহণের সময় সাক্ষী কী গ্রহণ করছে তা সে একেবারেই জানত না; সে তা বক্তার মুখ থেকে শোনেনি এবং তার হাতের লেখাও পড়েনি। এমতাবস্থায় সে যা কোনোভাবেই অবগত নয়, তার সাক্ষ্য গ্রহণ কীভাবে সঠিক হতে পারে?
হ্যাঁ, তার জন্য এটি সাক্ষ্য দেওয়া জায়েজ যে, এটি অমুকের কিতাব যা সে লিখেছে এবং মোহর অঙ্কিত করেছে। অথবা সে হাতের লেখার ওপর সাক্ষ্য দেবে যখন সে তা খুলবে এবং চিনতে পারবে। সম্ভবত যারা মোহরকৃত এবং সাক্ষ্যকৃত কিতাব গ্রহণ করার কথা বলেছেন এবং যা সাক্ষীদের সামনে পড়তে হবে বলে মনে করেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো—সাক্ষী সাক্ষ্য দেবে যে এটি অমুকের কিতাব। ফলে এটি প্রমাণিত হবে যে এটি তারই কিতাব এবং আমলটি হবে হাতের লেখার ভিত্তিতে। আর বিচারকের কিতাব ও এই জাতীয় বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে এটি গ্রহণ করা—হাতের লেখার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রসিদ্ধ উদ্ধৃতিসমূহ অনুযায়ী—মোহরকৃত কিতাবে যা রয়েছে তার ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদান সহিহ হওয়ার চেয়ে অধিক যুক্তিযুক্ত।
তবে বলা হয় যে: মোহরকৃত কিতাবের ওপর সাক্ষ্য দেওয়ার বৈধতা ‘মুনায়ালা’ (হস্তান্তর) এর মাধ্যমে রেওয়ায়েত করার বৈধতা থেকে গৃহীত হতে পারে; যদি কেউ ছাত্রকে এমন একটি কিতাব প্রদান করে যার বিষয়বস্তু ছাত্র জানে না এবং তাকে সেটি রেওয়ায়েত করার অনুমতি দেয়। এমতাবস্থায় সে যখন কিতাবটি পড়বে, তখন তার জন্য বলা জায়েজ যে: ‘আমি অমুককে অমুক বিষয়ে অনুমতি দিলাম’—যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু অনেক আলেম রেওয়ায়েত বা বর্ণনার অধ্যায়কে সাক্ষ্য প্রদানের অধ্যায়ের চেয়ে সহজতর মনে করেন। তারা রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে এমন প্রশস্ততার অবকাশ দেখেন যা সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে দেখেন না। এই কারণেই তৃতীয় মত পোষণকারীরা এই মাসআলার মূলে রেওয়ায়েত এবং সাক্ষ্য প্রদানের অধ্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। ফলে তারা ‘আরজ’ (উপস্থাপন) এবং ‘মুনায়ালা’ (হস্তান্তর) এর মাধ্যমে রেওয়ায়েত করা জায়েজ বলেছেন, কিন্তু মোহরকৃত কিতাবের মাধ্যমে ফয়সালা দেওয়া বা সাক্ষ্য দেওয়াকে জায়েজ মনে করেননি। এটি ইমাম শাফেয়ি এবং অন্যদের মত এবং ইমাম আহমাদের পরবর্তী যুগের অনুসারীদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ মত।
তারা এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন এই ভিত্তিতে যে, রেওয়ায়েতের ভিত্তি হলো শিথিলতা; কেননা এতে অভ্যন্তরীণ বিশ্বস্ততা (আদল) শর্ত নয় এবং এতে নারী ও ক্রীতদাসদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হয়, সেই সঙ্গে ‘আনআনা’ হাদিস ও এই জাতীয় বিষয়সমূহও গ্রহণযোগ্য। পক্ষান্তরে সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি ভিন্ন। ইমাম আহমাদের বক্তব্যে অন্য একটি পার্থক্যের দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে, আর তা হলো—সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বিয়োজন গোপন থেকে যেতে পারে; কিন্তু হাদিসের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ হাদিস যথাযথভাবে সংরক্ষিত ও মুখস্থ করা হয়েছে, ফলে এর পরিবর্তন প্রায় গোপন থাকে না। এর কারণ হলো, কিতাবের রেওয়ায়েত বা সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে আপত্তির কারণটি কখনো কিতাবের ওপর আস্থা না থাকাকে নির্দেশ করে, কারণ এতে জালিয়াতি, সংযোজন বা বিয়োজনের সম্ভাবনা থাকে।
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬৮)
وبسبب هذا قال من قال: إِن الرواية من الكتاب كالمنقطعة؛ لأنها مأخوذة عن مجهول، وتارة يعلل بالطعن في صحة تحمل الرواية والشهادة لانتفاء السماع، والذين يجيزون ذلك يحتجون بكتابة النبي صلى الله عليه وسلم إِلَى الملوك وغيرهم، وبعمل خلفائه من بعده بالمكاتبات ونحو ذلك مما ليس هذا موضع بسطه.
وهذه المناولة التي ذكرناها هي أن يناوله شيئًا معينًا من رواياته قد عرفه، ويخبره أنه من رواياته، ويأذن له في روايته عنه، أو يكتب إِلَيْهِ بخطه الإذن في رواية شيء معين من رواياته.
فأما الإجازة المطلقة، وهو أن يقول: أجزت لك جميع ما يصح عندك من مروياتي، أو يكتب إِلَيْهِ بذلك، فهذا فيه نزاع بين من يرى صحة المناولة المعينة، والذي نقله أبو بكر الخطيب وغيره عن أهل المدينة العمل به، وقد أنكره جماعة ممن يرى صحة المناولة المعينة، كأحمد بن صالح المصري، ولذلك نقل حنبل عن الإمام أحمد ما يدل عَلَى كراهته، وممن أنكر ذلك البرقاني وأبو بكر الرازي، وطائفة من الفقهاء والمحدثين، وأكثر أصحاب الشافعي وأحمد عَلَى جوار ذلك، وتوسعوا في ذلك حتى جوزوا الإجازة المطلقة لكل أحد، وهي التي تسمى الإجازة العامة، وجوزوا الإجازة للمعدوم.
وهذا كما توسع المتأخرون في السماع، فإن المتقدمين كانوا لا يسمعون إلا من أهل المعرفة والحفظ، حتى تنازعوا في صحة الرواية عمن يحدث من كتابه، ولا يحفظ حديثه، فمنعه مالك ويحيى بن معين وغيرهما، ورخص فيه آخرون إذا كانت كتبه محفوظة، وأهل المغرب إِلَى الآن يشددون في ذلك، وبسبب ذلك صارت أسانيدهم نازلة.
وأما أكثر المتأخرين، فإنهم يسمعون عَلَى الشيوخ الذين لا يعرفون ما يقرأ
এই কারণে যারা বলার তারা বলেছেন যে, কিতাব থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা মুনকাতি‘ (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনার ন্যায়; কেননা তা অজ্ঞাত ব্যক্তি থেকে গৃহীত। আবার কখনো কখনো শ্রবণের অনুপস্থিতির কারণে বর্ণনা ও সাক্ষ্য গ্রহণের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আপত্তি তুলে এর কারণ দর্শানো হয়। আর যারা একে বৈধ মনে করেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক রাজা-বাদশাহ ও অন্যদের নিকট প্রেরিত পত্রাবলী এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাদের পত্র আদান-প্রদান ও অনুরূপ কার্যাবলীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন, যার বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়।
আর আমরা যে ‘মুনাবালা’ (হস্তান্তর)-এর কথা উল্লেখ করেছি, তা হলো তিনি (শায়খ) তাকে তাঁর বর্ণনাসমূহের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু হস্তান্তর করবেন যা তিনি জানেন, এবং তাকে অবহিত করবেন যে এটি তাঁর বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত এবং তাকে নিজের পক্ষ থেকে তা বর্ণনা করার অনুমতি দেবেন; অথবা তাঁর বর্ণনাসমূহের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কোনো কিছু বর্ণনা করার অনুমতি নিজের হস্তাক্ষরে লিখে দেবেন।
পক্ষান্তরে ‘ইজাযাহ মুতলাক্বাহ’ (সাধারণ অনুমতি) হলো এই যে, তিনি বলবেন: "আমার বর্ণনাসমূহের মধ্যে যা কিছু তোমার নিকট বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হবে, সেগুলোর সব বর্ণনার অনুমতি তোমাকে দিলাম", অথবা তিনি তাকে এই মর্মে লিখে দেবেন। এ বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যারা নির্দিষ্ট মুনাবালাকে বিশুদ্ধ মনে করেন। আবু বকর আল-খাতিব এবং অন্যরা মদিনাবাসীদের থেকে এর উপর আমল করার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। আবার নির্দিষ্ট মুনাবালাকে বিশুদ্ধ মনে করেন এমন একদল আলেম তা অস্বীকার করেছেন, যেমন আহমাদ ইবনে সালিহ আল-মিসরি। এই কারণেই হানবাল ইমাম আহমাদ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা এর প্রতি তাঁর অপছন্দনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। যারা এটি অস্বীকার করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-বারকানি, আবু বকর আর-রাজি এবং একদল ফকিহ ও মুহাদ্দিস। তবে শাফেয়ী ও আহমাদ রহ.-এর অধিকাংশ অনুসারী একে বৈধ মনে করেন এবং তারা এ বিষয়ে এতোটা প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন যে, তারা প্রত্যেকের জন্য সাধারণ অনুমতি (ইজাযাহ আম্মাহ) জায়েজ করেছেন, এমনকি তারা অস্তিত্বহীন (মা‘দুম) ব্যক্তির জন্য ইজাযাহ প্রদানকেও বৈধ বলেছেন।
এটি ঠিক তেমনই যেমন পরবর্তী যুগের আলেমগণ শ্রবণের (সামা‘) ক্ষেত্রে প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন। অথচ পূর্ববর্তীগণ প্রজ্ঞা ও মুখস্থশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে শ্রবণ করতেন না। এমনকি যারা নিজের কিতাব দেখে বর্ণনা করেন কিন্তু হাদিস মুখস্থ রাখেন না, তাদের বর্ণনার বিশুদ্ধতা নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং অন্যরা তা নিষেধ করেছেন। আবার অন্য একদল এতে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন যদি তার কিতাব সংরক্ষিত থাকে। মাগরিবের (মরক্কো অঞ্চল) অধিবাসীগণ বর্তমান সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে কঠোরতা বজায় রেখেছেন, আর এই কারণে তাদের সনদসমূহ ‘নাজিল’ (নিম্ন স্তরের) হয়ে গিয়েছে।
আর পরবর্তী যুগের অধিকাংশের অবস্থা হলো, তারা এমন সব শায়খদের কাছে শ্রবণ করেন যারা নিজেরা কী পড়া হচ্ছে তা জানেন না।
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৬৯)
عليهم ويستجيزونهم، وهذا لأنّ مقصودهم من الإسناد حفظ السلسلة والعلو، وليس المقصود من الرواية عن هؤلاء تلقي العِلْم عنهم وضبطه كما كان السَّلف، فإن هذه الكتب والأجزاء التي تسند عن هؤلاء الشيوخ معروفة محفوظة، بل منقولة بالتواتر لا يُحتاج في نقلها إِلَى ذلك الشيخ، وصار هذا كالذي يحفظ القرآن، ويقرأه عَلَى شيخ عالي الإسناد، فإنه يستفيد بذلك علو الإسناد فقط، وإلا فنقل القرآن والقراءات كلاهما متواتر، لا يحتاج فيه إِلَى هذا الشيخ، فكذلك الحديث إِنَّمَا يعمد فيه عَلَى ما يعرفه الحفاظ، وما {يحققونه} (*) من الكتب المعتمد عليها، والخطوط الموثوق بها.
وتكون الرواية عن هؤلاء الشيوخ لأجل علو الإسناد، واتصال سلسلته؛ فإن الإسناد من خصائص هذه الأمة، مع أن في السماع فوائد جمة من نشر السنة النبوية وإظفارها، وبعث الهمم عَلَى الاشتغال بها دراية ورواية، وغير ذلك من المصالح.
فصل: وكان المقصود من ذكر هذه المقدمة، أنه وقع السؤال عن جماعة من شيوخ الرواية الذين أدركناهم بالسماع والإجازة بالشام ومصر، وعن شيء من (رواياتهم) (**) العالية، وكان السائل قدره أعلى من أن يسلك به المسلك المعتاد من الاقتصار عَلَى ذكر الإسناد، فإن ذلك يقع كثيرًا لمن يقنع بظواهر الرسوم دون حقائق الإيمان والعلوم، فذكرنا قبل ذلك هذه المقدمة لتكون الأشياء مبنية عَلَى أصولها، ويبين بذلك مقصود الرواية، وأنها وسيلة إِلَى الدراية والرعاية.
وقد قال الحسن البصري رضي الله عنه: همة السفهاء الرواية، وهمة الحكماء الرعاية.
والرعاية هي: القيام بحقوق الرواية من العمل والتعليم، فهي ثمرة الدراية.
--------------------------------------------
তাদের কাছে যাওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করা; এর কারণ হলো, ইসনাদ বা সনদ রক্ষার মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো সনদের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং উচ্চতা (আভিজাত্য) অর্জন করা। এই শায়খদের কাছ থেকে বর্ণনা করার উদ্দেশ্য এই নয় যে, সালাফ বা পূর্বসূরিদের মতো তাদের কাছ থেকে ইলম বা জ্ঞান গ্রহণ এবং তা আয়ত্ত করা। কারণ, যেসব গ্রন্থ এবং অংশসমূহ এই শায়খদের সূত্রে বর্ণিত হয়, সেগুলো সুপরিচিত এবং সংরক্ষিত, বরং সেগুলো মুতাওয়াতির বা অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতির মাধ্যমে বর্ণিত, যা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সেই শায়খের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। বিষয়টি সেই ব্যক্তির মতো যে কুরআন হিফজ করেছে এবং একজন উচ্চ সনদধারী শায়খের কাছে তা পাঠ করে; সে এর মাধ্যমে শুধুমাত্র সনদের উচ্চতাটুকুই অর্জন করে। অন্যথায়, কুরআন এবং ক্বিরাআত (পাঠরীতি) উভয়ই মুতাওয়াতির, যার জন্য এই শায়খের প্রয়োজন হয় না। একইভাবে, হাদিসের ক্ষেত্রেও কেবল হাফেজদের পরিচিত বিষয় এবং নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও বিশ্বস্ত পাণ্ডুলিপি থেকে তারা যা যাচাই করেছেন, তার ওপরই নির্ভর করা হয়।
এই শায়খদের থেকে বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হলো সনদের উচ্চতা এবং এর ধারাবাহিকতার সংযোগ বজায় রাখা; কারণ সনদ হলো এই উম্মতের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এর পাশাপাশি শ্রবণের (সামা') মধ্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে, যেমন সুন্নাহর প্রচার ও প্রসার এবং দিরায়াহ (জ্ঞান) ও রিওয়ায়াত (বর্ণনা) উভয় ক্ষেত্রে হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগের অনুপ্রেরণা জাগানোসহ আরও অনেক কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
পরিচ্ছেদ: এই ভূমিকাটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, সিরিয়া ও মিসরের এমন একদল শায়খ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যাদের থেকে আমরা শ্রবণ এবং ইজাজত (অনুমতি) লাভ করেছি, এবং তাদের কিছু উচ্চমানের বর্ণনা সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছিল। প্রশ্নকারীর মর্যাদা কেবল সনদ বর্ণনার প্রথাগত গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে ছিল। কারণ, যারা ঈমান ও ইলমের প্রকৃত রহস্য বাদ দিয়ে কেবল বাহ্যিক কাঠামোর ওপর সন্তুষ্ট থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রথাগত বিষয়টি অনেক বেশি ঘটে থাকে। তাই আমরা আগে এই ভূমিকাটি উল্লেখ করলাম যাতে বিষয়গুলো নিজ নিজ মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে বর্ণনার আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় যে, এটি হলো বিষয়বস্তুর জ্ঞান লাভ (দিরায়াহ) এবং তা পালনের (রিআয়াহ) একটি মাধ্যম মাত্র।
হাসান বসরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: মূর্খদের মূল লক্ষ্য থাকে বর্ণনা করা, আর জ্ঞানীদের লক্ষ্য থাকে তা পালন করা।
আর পালন (রিআয়াহ) হলো: আমল ও শিক্ষার মাধ্যমে বর্ণনার হক বা অধিকার আদায় করা; যা মূলত বিষয়বস্তুর জ্ঞানেরই (দিরায়াহ) ফল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
মুকাদ্দিমাতুন তাশতামিলু আলা আন্না জামিআর রুসুলি কানা দ্বীনুহুমুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫৭০)
والحكماء هم: أهل الحكمة، والحكمة هي معرفة الدين والعمل به كما قاله مالك والليث وغيرهما من السَّلف.
وكذلك ذكره ابن قتببة وغيره، فالحكماء هم خواص العُلَمَاء كما كان الفضيل بن عياض رضي الله عنه يقول: العُلَمَاء كثير، والحكماء قليل.
وقال له رجل: العُلَمَاء ورثة الأنبياء، فَقَالَ فضيل: الحكماء ورثة الأنبياء، وإنما قال هذا؛ لأنّه صار كثير من الناس يظن أن العُلَمَاء الممدوحين في الشريعة يدخل فيهم من له لسان علم، وإن لم يكن عنده من حقائق الإيمان ومن العمل بالعلم ما يوجب سعادته.
فبين الفضيل أنه لا يدخل في مدح الله ورسوله للعلماء إلا أهل الحكمة، وهم أهل الدراية والرعاية.
وقد كان السَّلف لا يطلقون اسم العالم إلا عَلَى من عنده علم يوجب له الخشية، كما قال بعضهم: إِنَّمَا العالم من يخشى الله، ولقي بخشية الله علمًا، وهذا مطابق لقوله تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} (1). والله تعالى أعلم. انتهى. بلغ مقابلة عَلَى أصله.
الحمد لله رب العالمين وصلى الله عَلَى سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا. وحسبنا الله ونعم الوكيل.
…--------------------------------------------
প্রজ্ঞাবানগণ হলেন: প্রজ্ঞার অধিকারী ব্যক্তিগণ। আর প্রজ্ঞা হলো দ্বীন সম্পর্কে জানা এবং সেই অনুযায়ী আমল করা, যেমনটি মালিক, লাইস এবং পূর্বসূরিগণের মধ্যে আরও অনেকে বলেছেন।
অনুরূপভাবে ইবনে কুতাইবা এবং অন্যান্যরাও এটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং প্রজ্ঞাবানগণ হলেন আলেমদের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যেমনটি ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) বলতেন: আলেম অনেক, কিন্তু প্রজ্ঞাবান অল্প।
এক ব্যক্তি তাকে বলল: আলেমগণ নবীগণের ওয়ারিশ। তখন ফুদাইল বললেন: প্রজ্ঞাবানগণই নবীগণের ওয়ারিশ। তিনি এটি এই কারণে বলেছেন যে, অনেক মানুষ মনে করতে শুরু করেছে যে শরীয়তে প্রশংসিত আলেমদের অন্তর্ভুক্ত সেই ব্যক্তিও যার কেবল ইলমী জবান রয়েছে, যদিও তার মধ্যে ঈমানের হাকীকত এবং ইলম অনুযায়ী এমন আমল নেই যা তার সৌভাগ্য নিশ্চিত করে।
ফুদাইল এটি স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে আলেমদের জন্য যে প্রশংসা করা হয়েছে, তাতে কেবল প্রজ্ঞাবানরাই অন্তর্ভুক্ত, আর তাঁরাই হলেন প্রজ্ঞা ও ইলমের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণকারী।
পূর্বসূরিগণ কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ‘আলেম’ শব্দটির প্রয়োগ করতেন যার কাছে এমন ইলম রয়েছে যা তাকে আল্লাহর ভীতি প্রদান করে। যেমন তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: প্রকৃত আলেম তো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে ভয় করে এবং আল্লাহর ভয়ের মাধ্যমে ইলম অর্জন করে। এটি মহান আল্লাহর বাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ: {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করেন} (১)। আর মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সমাপ্ত। মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা সম্পন্ন হয়েছে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
...--------------------------------------------