(খণ্ড: ১) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: -)
نزهة الأسماع في مسألة السماع «أحكام الغناء والمعازف»   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: نزهة الأسماع في مسألة السماع «أحكام الغناء والمعازف» [مطبوع ضمن مجموع رسائل الحافظ ابن رجب الحنبلي]

المؤلف: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (736 - 795 هـ)

دراسة وتحقيق: أبي مصعب طلعت بن فؤاد الحلواني

الناشر: الفاروق الحديثة للطباعة والنشر

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 33

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1433

নুযহাতুল আসমা' ফী মাসআলাতিস সামা' «গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিধান»   (ইবনে রজব আল-হাম্বলী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: নুযহাতুল আসমা' ফী মাসআলাতিস সামা' «গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিধান» [হাফেয (الحافظ) ইবনে রজব আল-হাম্বলীর সংকলিত রিসালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত]

লেখক: যাইনুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)

গবেষণামূলক পর্যালোচনা ও তাহকীক (تحقيق): আবু মুসআব তালাত বিন ফুয়াদ আল-হুলওয়ানী

প্রকাশক: আল-ফারুক আল-হাদিসাহ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৩৩

(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৪১)
نزهة الأسماع في مسألة السماع

"أحكام الغناء والمعازف"
শ্রবণ সংক্রান্ত মাসআলায় শ্রবণেন্দ্রিয়ের প্রশান্তি (নুযহাতুল আসমা ফী মাসআলাতিস সামা)

"গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিধানাবলি"
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৪৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، رب يسر وأعن يا كريم

قال الشيخ الإمام العالم العلامة الحافظ المتقن المحقق زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن ابن الشيخ الإمام شهاب الدين أبي العباس أحمد بن رجب الحنبلي [تغمده الله برحمته وأسكنه فسيح جنته بمنه وكرمه. آمين] (*).

سُئلت عن السماع المحدث، وما يتضمنه من سماع الغناء وآلات اللهو، هل هو محظور أم لا؟ وهل ورد في حظره دليل صريح أم لا؟ وعن سماعه من المرأة الأجنبية، وعمّن يفعله قربة وديانة.

فأجبت والله والموفق:

هذه المسائل قد انتشر فيها من الناس المقال، وكثر القيل فيها والقال، وصنّف الناس فيها تصانيف مفردة، وذكرت في أشاء التصانيف ضمنًا، وتكلم فيها أنواع الطوائف، من الفقهاء وأهل الحديث والصوفية. ثم منهم من يميل إِلَى الرخصة، ومنهم من يميل إِلَى المنع والشدَّة.

واستيفاء الكلام في ذلك يستدعي تطويلاً كثيرًا، ولكن سنشير -إِنَّ شاء الله تعالى بعونه وتوفيقه- إِلَى نكتٍ مختصرةٍ وجيزة، ضابطة لكثير من مقاصد هذه المسائل، ونسأل الله تعالى أن يلهمنا رشدنا، وأن يعيذنا من شر أنفسنا، وأن يجعل قصدنا بذلك بيان الحق الَّذِي بعث به رسوله، وأن يزيد المهتدي منا ومن إخواننا المسلمين هدى، وأن يُراجع بالمسيء إِلَى الحق الَّذِي يرتضيه، في خير وعافية. بمنه ورحمته آمين.

فنقول: سماع الغناء وآلات الملاهي عَلَى قسمين:

فإنه تارة يقع ذلك عَلَى وجه اللعب واللهو، وإبلاغ النفوس حظوظها من الشهوات واللذات.

--------------------------------------------

(*) في "نسخة": متعنا الله والمسلمين بطول حياته وختم لنا وله بالخير، إنه عَلَى كل شيء قدير.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে প্রতিপালক! আপনি সহজ করুন এবং সাহায্য করুন, হে মহানুভব।

শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, হাফিজ (الحافظ), সুনিপুণ (المتقن), গবেষক (المحقق) জয়নুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে শায়খ ইমাম শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী [আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও মহত্ত্বের মাধ্যমে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে বসবাস করতে দিন। আমিন] (*) বলেছেন।

আমাকে নব্য প্রচলিত সামা (গান শোনা) এবং এর অন্তর্ভুক্ত গীতবাদ্য ও বাদ্যযন্ত্র শোনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে, তা কি নিষিদ্ধ নাকি নিষিদ্ধ নয়? এবং এর নিষিদ্ধতার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দলিল বর্ণিত হয়েছে কি না? এছাড়া পরনারী থেকে গান শোনা এবং একে ইবাদত ও দ্বীনদারী মনে করে যারা তা করে থাকে, তাদের সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছে।

আমি উত্তর দিচ্ছি, আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী:

এই মাসআলাগুলো সম্পর্কে মানুষের মাঝে অনেক কথা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এ নিয়ে বাদানুবাদও প্রচুর হয়েছে। মানুষ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং অন্যান্য বিভিন্ন কিতাবেও আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে এর উল্লেখ করা হয়েছে। ফকীহগণ, আহলে হাদিস এবং সুফিদের বিভিন্ন দল এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ শিথিলতার দিকে ঝুঁকেছেন, আবার কেউ একে নিষিদ্ধ ও কঠোরতার সাথে দেখার দিকে মত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা অনেক দীর্ঘ হবে, তবে আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা তাঁর সাহায্য ও তাওফিকে কিছু সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করব, যা এই মাসআলাগুলোর অনেক উদ্দেশ্যকে সংজ্ঞায়িত করবে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের সুপথ প্রদর্শন করেন এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় দেন। তিনি যেন আমাদের এই প্রচেষ্টাকে সেই সত্য বর্ণনার মাধ্যম বানান যা নিয়ে তিনি তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন এবং আমাদের ও আমাদের মুসলিম ভাইদের মধ্যে যারা হেদায়েতপ্রাপ্ত তাদের হেদায়েত বৃদ্ধি করেন, আর বিচ্যুত ব্যক্তিকে কল্যাণের সাথে তাঁর পছন্দনীয় সত্যের পথে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায়। আমিন।

আমরা বলছি: গান শোনা এবং বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার দুই প্রকার:

কখনো তা খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে হয় এবং প্রবৃত্তিকে তার কামনা-বাসনা ও স্বাদ আস্বাদনের স্তরে পৌঁছে দেয়।

--------------------------------------------

(*) একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة)-তে রয়েছে: আল্লাহ আমাদের এবং মুসলিমদের তাঁর দীর্ঘ হায়াতের মাধ্যমে উপকৃত করুন এবং আমাদের ও তাঁর শেষ পরিণতি কল্যাণের সাথে করুন, নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৪৪)
وتارة يقع عَلَى وجه التقرب إِلَى الله عز وجل: باستجلاب صلاح القلوب، وإزالة قسوتها وتحصيل رقتها.

 

‌‌القسم الأول: أن يقع عَلَى وجه اللعب واللهو: فأكثر العُلَمَاء عَلَى تحريم ذلك -أعني سماع الغناء وسماع آلات الملاهي كلها- وكل منها محرم بانفراده، وقد حكى أبو بكر الآجري وغيره إجماع العُلَمَاء عَلَى ذلك.

والمراد بالغناء المحرم: ما كان من الشعر الرقيق الَّذِي فيه تشبيب بالنساء ونحوه، مما توصف فيه محاسن من تهيج الطباع بسماع وصف محاسنه، فهذا هو الغناء المنهي عنه، وبذلك فسره الإمام أحمد وإسحاق بن راهويه، وغيرهما من الأئمة.

فهذا الشعر إذا لُحن، وأخرج تلحينه عَلَى وجه يُزعج القلوب، ويخرجها عن الاعتدال، ويُحرك الهوى الكلامن المجبول في طباع البشر، فهو الغناء المنهي عنه.

فإن أنشد هذا الشعر عَلَى غير وجه التلحين؛ فإن كان محركًا للهوى بنفسه فهو محرم أيضاً؛ لتحريكه الهوى، لهان لم يُسمَّ غناء.

فأما ما لم يكن فيه شيء من ذلك، فإنه ليس بمحرم وإن سُمي غناء.

وعلى هذا حمل الإمام أحمد حديث عائشة رضي الله عنها في الرخصة في غناء نساء الأنصار وقال: هو غناء الركبان أتيناكم أتيناكم. يشير إِلَى أنه ليس فيه ما يُهيجُ الطباع إِلَى الهوى ويشهد لذلك حديث عائشة: أن الجاريتين اللتين كانتا عندها كانتا تغنيان بما (تقاولت) (*) به الأنصارُ رضي الله عنهم يوم بُعاث (1) وعلى مثله يُحمل كل حديث ورد في الرخصة في الغناء، كحديث الحبشية التي نذرت أن تضرب الدّف، في مقدم النبي صلى الله عليه وسلم (2)، وما أشبهه من الأحاديث.

--------------------------------------------

(*) في "نسخة": تقاومت.

(1) أخرجه البخاري (952)، ومسلم (892).

(2) أخرجه الترمذي (3690)، وأحمد (5/ 353). وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث بريدة، وفي الباب عن عمر، وسعد بن أبي وقاص، وعائشة.
কখনও কখনও এটি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে: হৃদয়ের পরিশুদ্ধি আনয়ন, এর কঠোরতা দূরীকরণ এবং কোমলতা অর্জনের মাধ্যমে।

 

‌‌প্রথম অংশ: এটি খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে হওয়া: অধিকাংশ আলেম একে নিষিদ্ধ হওয়ার ওপর মত দিয়েছেন - অর্থাৎ গান শোনা এবং সব ধরণের বাদ্যযন্ত্র শোনা - আর এর প্রত্যেকটি পৃথকভাবে নিষিদ্ধ। আবু বকর আল-আজুরি এবং অন্যান্যেরা এ বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন।

আর নিষিদ্ধ গানের উদ্দেশ্য হলো: সেই সব কোমল পদ্য যাতে নারীদের নিয়ে প্রেমাত্মক বর্ণনা এবং এই জাতীয় বিষয় রয়েছে, যার মাধ্যমে এমন সব সৌন্দর্যের গুণকীর্তন করা হয় যা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিগুলোকে সেই সৌন্দর্যের বিবরণ শোনার মাধ্যমে উত্তেজিত করে। এটিই হলো সেই গান যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, আর ইমাম আহমাদ, ইসহাক বিন রাহওয়াই এবং অন্যান্য ইমামগণ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন।

সুতরাং এই কবিতা যখন সুরারোপিত হয় এবং এর সুর এমনভাবে প্রকাশ করা হয় যা অন্তরকে বিচলিত করে, একে ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত করে এবং মানুষের স্বভাবে লুকায়িত কামনা-বাসনাকে জাগ্রত করে, তবে তা-ই হলো নিষিদ্ধ গান।

যদি এই কবিতা সুরারোপ করা ব্যতীত আবৃত্তি করা হয়; তবে যদি তা স্বভাবগতভাবেই কামনা-বাসনাকে জাগ্রতকারী হয়, তবে সেটিও নিষিদ্ধ হবে; কামনা-বাসনাকে জাগ্রত করার কারণে, যদিও তাকে গান বলা না হয়।

আর যাতে এর কোনো কিছুই নেই, তা নিষিদ্ধ নয়, যদিও তাকে গান বলা হয়ে থাকে।

আর এর ওপর ভিত্তি করেই ইমাম আহমাদ আনসারী নারীদের গানের অনুমতির বিষয়ে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটিকে প্রয়োগ করেছেন এবং বলেছেন: এটি হলো আরোহীদের গান—'আমরা তোমাদের কাছে এসেছি, আমরা তোমাদের কাছে এসেছি'। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, এতে এমন কিছু নেই যা স্বভাবকে কুপ্রবৃত্তির দিকে উত্তেজিত করে। আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটিও এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়: তাঁর নিকট যে দু’টি ছোট মেয়ে ছিল তারা বুআসের যুদ্ধের দিন আনসাররা (রা.) একে অপরের উদ্দেশ্যে যা বলেছিল তা গেয়ে শুনাচ্ছিল। আর গানের অনুমতি সংক্রান্ত বর্ণিত প্রতিটি হাদিস এই ধরনের বিষয়ের ওপরই প্রয়োগ করা হবে, যেমন সেই হাবশি নারীর হাদিস যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনে দফ বাজানোর মানত করেছিল, এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিস।

--------------------------------------------

(*) একটি সংস্করণে রয়েছে: "তাকাওয়ামাত" (تقاومت)।

(১) এটি বুখারি (৯৫২) ও মুসলিম (৮৯২) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি তিরমিজি (৩৬৯০) ও আহমাদ (৫/৩৫৩) বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: বুরাইদাহ বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) গরিব (غريب); আর এই অধ্যায়ে ওমর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং আয়েশা (রা.) থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৪৫)
ويدل عليه أيضاً ما في "صحيح البخاري" (1) عَنْ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ قَالَتْ: "جَاءَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، غَدَاةَ بُنِيَ بِي فَجَلَسَ عَلَى فِرَاشِي. وَجُوَيْرِيَاتٌ لَنَا يَضْرِبْنَ الدُّفّ وَيَنْدُبْنَ مَنْ قُتِلَ مِنْ آبَائِي يَوْمَ بَدْرٍ، إِلَى أَنْ قَالَتْ جَارِيةً مِنْهُنَّ: وَفِينَا نَبِيٌّ يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ، فَقَالَ لَهَا: أمْسِكِي عَنْ هَذِهِ، وَقُولِي الَّتِي كُنْتِ تَقُولِينَ قَبْلَهَا". وفي "مسند الإمام أحمد" (2) و"سنن ابن ماجه" (3) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعائشة: "أَهَدَيْتُمُ الْجَارِيَةَ إِلَى بَيْتِهَا؟ قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: فَهَلَّا بَعَثْتُمْ مَعَهَا مَنْ يُغَنِّيهِمْ يَقُولُ:

أَتَيْنَاكُمْ أَتَيْنَاكُمْ … فَحَيُّونَا نُحَيِّيكُمْ

فَإِنَّ الْأَنْصَارَ قَوْمٌ فِيهِمْ غَزَلٌ". وعلى مثل ذلك أيضاً حمل طوائف من العُلَمَاء قول من رخص في الغناء من الفقهاء، من أصحابنا وغيرهم وقالوا: إِنَّمَا أردوا الأشعار التي لا تتضمن ما يُهيج الطباع إِلَى الهوى، وقريبٌ من ذلك الحداء (4)، وليس في شيء من ذلك ما يحرك النفوس إِلَى شهواتها المحرمة.

ونذكر بعض ما ورد في الكتاب والسنة والآثار من تحريم الغناء وآلات اللهو:

فأمَّا تحريم الغناء، فقد استُنبط من القرآن من آيات متعددة، فمن ذلك: قول الله عز وجل: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} (5). (6)

وقال ابن عباس: هو الغناء وأشباهه (7).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (5147).

(2) في "المسند" (3/ 391).

(3) في "السنن" (1900).

(4) قال الجوهري: الحدو: سوق الإبل والغناء لها. "اللسان" مادة: (حدو).

(5) لقمان: 6.

(6) أخرجه ابن أبي شيبة (6/ 309)، والطبري في "تفسيره" (21/ 61)، والحاكم (2/ 411)، والبيهقي في "السنن الكبير" (10/ 223) وغيرهم.

(7) أخرجه ابن أبى شيبة (6/ 310)، والبخاري في "الأدب المفرد" برقم (678، 1265)، وابن جرير في "تفسيره" (21/ 61) وغيرهم.
সহিহ বুখারিতে (১) রুবাইয়্যি বিনতে মুআউওয়িয হতে বর্ণিত যা রয়েছে তাও এর ওপর দলীল প্রদান করে। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বিয়ের পরের সকালে আমার কাছে আসলেন এবং আমার বিছানায় বসলেন। তখন আমাদের কিছু ছোট মেয়েরা দফ বাজাচ্ছিল এবং বদর যুদ্ধে শহীদ হওয়া আমার পিতৃপুরুষদের গুণগান গাইছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্য থেকে এক কিশোরী বলল: 'আমাদের মাঝে এমন একজন নবী রয়েছেন যিনি আগামীকালের খবর জানেন।' তখন তিনি তাকে বললেন: 'এই কথাটি ছেড়ে দাও এবং আগে যা বলছিলে তা-ই বলো'।" এবং মুসনাদে ইমাম আহমাদ (২) ও সুনানে ইবনে মাজাহ-তে (৩) বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশাকে বললেন: "তোমরা কি কনেকে তার স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়েছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা কি তার সাথে এমন কাউকে পাঠাওনি যে তাদের গান গেয়ে শোনাবে? সে বলবে:

আমরা তোমাদের কাছে এসেছি, আমরা তোমাদের কাছে এসেছি … তাই আমাদের অভিবাদন জানাও, আমরাও তোমাদের অভিবাদন জানাই

কেননা আনসাররা এমন এক কওম যাদের মধ্যে কাব্য ও সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ রয়েছে।" আলেমদের একটি দল ফকিহদের মধ্য থেকে যারা গানের অনুমতি দিয়েছেন—আমাদের সাথী এবং অন্যদের কথাকে এমনই অর্থের ওপর প্রয়োগ করেছেন। তারা বলেছেন: তারা মূলত এমন কাব্যের ইচ্ছা করেছেন যা স্বভাবকে প্রবৃত্তির দিকে উত্তেজিত করে না। হুদা (الحداء) (৪) এর কাছাকাছি বিষয়। আর এগুলোর কোনো কিছুতেই নফসকে তার হারাম কামনার দিকে প্ররোচিত করার মতো কিছু নেই।

গান এবং বাদ্যযন্ত্র হারামের বিষয়ে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং আসার (الآثار) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার কিছু অংশ আমরা উল্লেখ করছি:

গান হারাম হওয়ার বিষয়টি কুরআনের একাধিক আয়াত থেকে চয়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অবান্তর কথা ক্রয় করে} (৫)। (৬)

ইবনে আব্বাস বলেন: তা হলো গান এবং এই জাতীয় বিষয় (৭)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) (৫১৪৭)।

(২) মুসনাদে (৩/ ৩৯১)।

(৩) সুনানে (১৯০০)।

(৪) জাওহারি বলেছেন: আল-হাদু (الحدو) হলো উট হাঁকানো এবং তাদের জন্য গান গাওয়া। 'আল-লিসান' মূলশব্দ: (حدو)।

(৫) লুকমান: ৬।

(৬) ইবনে আবি শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) (৬/ ৩০৯), তাবারী তার 'তাফসির'-এ (২১/ ৬১), হাকেম (২/ ৪১১), বায়হাকি তার 'সুনানে কাবীর'-এ (১০/ ২২৩) এবং অন্যরা।

(৭) ইবনে আবি শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) (৬/ ৩১০), বুখারি তার 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ নং (৬৭৮, ১২৬৫), ইবনে জারীর তার 'তাফসির'-এ (২১/ ৬১) এবং অন্যরা।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৪৬)
وفسّره بالغناء أيضًا خلق من التابعين، منهم: مجاهد وعكرمة، والحسن، وسعيد بن جبير، وقتادة، والنخعي، وغيرهم.

وقال مجاهد في قوله تعالى: {وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ} (1)

قال: الغناء والمزامير.

وقال ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى: {وَأَنْتُمْ سَامِدُونَ} (2)

قال: هو الغناء بالحميرية (3).

وقال بعض التابعين في قوله تعالى: {وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا} (4)

قال: إِنَّ اللغو هو الغناء.

وعن أبي أمامة عن النّبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَا تَبِيعُوا القَيْنَاتِ وَلَا تَشْتَرُوهُنَّ وَلَا تُعَلِّمُوهُنَّ، وَلَا خَيْرَ فِي تِجَارَةٍ فِيهِنَّ، وَثَمَنُهُنَّ حَرَامٌ، فِي مِثْلِ هَذَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةَ: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيرِ عِلْمٍ} (5).

خرّجه الإمام أحمد (6) والترمذي (7) من رواية عبيد الله بن زحر، عن علي بن يزيد، عن القاسم، عن أبي أمامة وقال: قد تكلم بعض أهل العِلْم في علي بن يزيد وضعفه، وهو شامي.

وذكر في كتاب "العلل" أنه سأل البخاري عن هذا الحديث فَقَالَ: علي ابن يزيد ذاهب الحديث. ووثق عبيد الله بن زحر والقاسم بن عبد الرحمن، وخرجه محمد بن يحيى الهمداني الحافظ الفقيه الشافعي في "صحيحه".

وقال: عبيد الله بن زحر. قال أبو زرعة: لا بأس به صدوق. قلت: علي بن يزيد لم يتفقوا عَلَى ضعفه، بل قال فيه أبو مُسهر -وهو من بلده: وهو أعلم

--------------------------------------------

(1) الإسراء: 64.

(2) النجم: 61.

(3) أخرجه ابن جرير (27/ 82)، والبيهقي (10/ 223).

(4) الفرقان: 72.

(5) لقمان: 6.

(6) في "المسند" (5/ 264).

(7) برقم (1282).
তাবিঈদের (التابعين) এক বিশাল জামাতও একে গান দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: মুজাহিদ, ইকরিমা, হাসান, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, কাতাদাহ, নাখঈ এবং আরও অনেকে।

মুজাহিদ মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের মধ্যে যার ওপর পারো তোমার কণ্ঠস্বর দ্বারা প্রভাব বিস্তার করো" (১) এর ব্যাখ্যায় বলেন:

তিনি বলেন: (এর অর্থ হলো) গান ও বাদ্যযন্ত্র।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তোমরা উদাসীন (সামিদুন)" (২) এর ব্যাখ্যায় বলেন:

তিনি বলেন: হিময়ারি ভাষায় এর অর্থ হলো গান (৩)।

মহান আল্লাহর বাণী: "এবং যখন তারা অসার কার্যকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন তারা সম্মানজনকভাবে চলে যায়" (৪) এর ব্যাখ্যায় কোনো কোনো তাবিঈ (التابعين) বলেন:

তিনি বলেন: নিশ্চয়ই অসার কাজ হলো গান।

আবু উমামাহ হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "তোমরা গায়িকা দাসী বিক্রয় করো না, ক্রয় করো না এবং তাদের গান শিক্ষা দিও না। তাদের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই এবং তাদের অর্জিত মূল্য হারাম।" এ ধরণের বিষয়ের প্রেক্ষিতেই এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে: "মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ এমন আছে যে আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বিচ্যুত করার জন্য অসার কথা ক্রয় করে কোনো জ্ঞান ছাড়াই" (৫)।

ইমাম আহমাদ (৬) ও তিরমিযী (৭) এটি উবাইদুল্লাহ ইবনে যাহর, আলী ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে এবং তিনি আবু উমামাহ এর বর্ণনাসূত্রে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি (তিরমিযী) বলেন: কোনো কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তি আলী ইবনে ইয়াযীদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, তিনি একজন শামী (সিরীয়)।

"আল-ইলাল" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বুখারীকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি (বুখারী) বলেছিলেন: আলী ইবনে ইয়াযীদ হলো হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত (ذاهب الحديث)। তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে যাহর এবং কাসিম ইবনে আবদুর রহমানকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। আর হাফিয, ফকিহ ও শাফিঈ আলেম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হামদানি একে তার "সহিহ" গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে যাহর সম্পর্কে আবু যুরআহ বলেছেন: "তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به), তিনি সত্যবাদী (صدوق)"। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আলী ইবনে ইয়াযীদের দুর্বলতার (ضعيف) বিষয়ে সকলে একমত হননি, বরং আবু মুশহির—যিনি তার স্বদেশী এবং তার সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত—তিনি তার সম্পর্কে বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-ইসরা: ৬৪।

(২) আন-নাজম: ৬১।

(৩) এটি ইবনে জারীর (২৭/৮২) এবং বাইহাকী (১০/২২৩) বর্ণনা করেছেন।

(৪) আল-ফুরকান: ৭২।

(৫) লুকমান: ৬।

(৬) "মুসনাদ" গ্রন্থে (৫/২৬৪)।

(৭) হাদীস নম্বর (১২৮২)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৪৭)
بأهل بلده من غيرهم- قال فيه: ما أعلم فيه إلا خيرًا. وقال ابن عدي: هو في نفسه صالح، إلا أن يروي عنه ضعيف فيؤتى من قبل ذلك الضعيف. هذا الحديث، قد رواه عنه غير واحد من الثقات.

وقد خرَّج الإمام أحمد (1) من رواية فرج بن فضالة، عن علي بن يزيد عن القاسم، عن أبي أمامة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إِنَّ اللهَ بَعَثَنِي رَحْمَةً وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ، وَأَمَرَنِي أَنْ أَمْحَقَ الْمَزَامِيرَ وَالْبَرَابِطَ (2)، وَالْمَعَازِفَ وَالْأَوْثَانَ". ذكر بقية الحديث وفي آخره: "وَلا يَحِلُّ بَيْعُهُنَّ وَلا شِرَاؤُهُنَّ، وَلا تَعْلِيمُهُنَّ تِجَارَةٌ فِيهِنَّ وَأَثْمَانُهُنَّ حَرَامٌ. يَعْنِي الضَّارِبَاتِ" وفرج بن فضالة مختلفٌ فيه أيضاً، ووثقه الإمام أحمد وغيره.

وخرَّج الإسماعيلي وغيره من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ثمن المغنية حرام وغناؤها حرام" وإسناده كلهم ثقات متفق عليهم، سوى يزيد بن عبد الملك النوفلي، فإنه مختلف في أمره.

وخرج حديثه هذا محمد بن يحيى الهمداني في "صحيحه" وقال: في النفس من يزيد بن عبد الملك. مع أن ابن معين قال: ما كان به بأس. وبوّب الهمداني هذا في "صحيحه" عَلَى تحريم بيع المغنيات وشرائهن، وهو من أصحاب ابن خزيمة وكان عالمًا بأنواع العلوم، وهو أول من أظهر مذهب الشافعي بهمدان، واجتهد في ذلك بماله ونفسه، وكان وفاته سنة سبع وأربعين وثلاثمائة رحمه الله تعالى.

وخرَّج في باب تحريم ثمن المغنية من رواية أبي نعيم الحلبي، ثنا ابن المبارك، عن مالك، عن ابن المنكدر، عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من قعد إِلَى قينة (3) يستمع منها صُبّ في أذنيه الآنُكُ (4) يوم القيامة".

--------------------------------------------

(1) في "المسند" (5/ 257، 268).

(2) البرابط: جمع بربط، وهي آلة طرب، تشبه العود. "النهاية" (1/ 112).

(3) القينة: الأمة، غنت أو لم تغن والماشطة، وكثيرًا ما تطلق عَلَى المغنية من الإماء.

"النهاية" (4/ 135).

(4) هو الرصاص الأبيض، وقيل الأسود. "النهاية" (1/ 77).
অন্যদের তুলনায় তিনি নিজ শহরের অধিবাসীদের সম্পর্কে অধিক অবগত- তিনি তার সম্পর্কে বলেছেন: "আমি তার মধ্যে কল্যাণ ছাড়া আর কিছু জানি না।" ইবনে আদি বলেন: "তিনি সত্তাগতভাবে যোগ্য (صالح), তবে যখন তার থেকে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন, তখন সেই দুর্বল (الضعيف) বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকেই ত্রুটি দেখা দেয়।" এই হাদিসটি তার থেকে একাধিক নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদ (১) ফারাজ ইবনে ফাদালার বর্ণনা থেকে এটি সংকলন করেছেন, যা আলি ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত ও হেদায়েত স্বরূপ পাঠিয়েছেন এবং আমাকে বাঁশি, লুত (তন্তুবিনজাতীয় বাদ্যযন্ত্র) (২), বাদ্যযন্ত্র ও মূর্তিসমূহ ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন।" হাদিসের বাকি অংশ উল্লেখ করে শেষে বলা হয়েছে: "তাদের বিক্রি করা বৈধ নয়, তাদের কেনা বৈধ নয়, তাদের শিক্ষা দেওয়াও বৈধ নয়, তাদের নিয়ে ব্যবসা করাও বৈধ নয় এবং তাদের মূল্যও হারাম। অর্থাৎ গায়িকাদের মূল্য।" ফারাজ ইবনে ফাদালার বিষয়েও মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) কথা রয়েছে, তবে ইমাম আহমদ এবং অন্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে অভিহিত করেছেন।

আল-ইসমাইলি এবং অন্যরা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "গায়িকার বিক্রয়মূল্য হারাম এবং তার গান গাওয়া হারাম।" এর সনদের সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং সর্বসম্মত (متفق عليهم), কেবল ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক আন-নাওফালি ব্যতীত, কেননা তার বিষয়ে মতভেদ (مختلف) রয়েছে।

মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-হামদানি তার 'সহিহ' গ্রন্থে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের ব্যাপারে অন্তরে সংশয় রয়েছে।" যদিও ইবনে মাঈন বলেছেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ما كان به بأس)।" আল-হামদানি তার 'সহিহ' গ্রন্থে এটি গায়িকাদের কেনা-বেচা হারামের অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি ইবনে খুজায়মার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনিই প্রথম হামদানে শাফেয়ী মাজহাবের বিস্তার ঘটান এবং এ কাজে নিজের জান-মাল দিয়ে চেষ্টা করেন। তার মৃত্যু হয়েছিল ৩৪৭ হিজরি সনে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

গায়িকাদের বিক্রয়মূল্য হারামের অধ্যায়ে তিনি আবু নুআইম আল-হালাবি-এর বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, ইবনুল মুবারক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গায়িকার (৩) কাছে গান শোনার জন্য বসবে, কিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সীসা (৪) ঢেলে দেওয়া হবে।"

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ (৫/ ২৫৭, ২৬৮)।

(২) বারাবিত: বারবাত (بربط)-এর বহুবচন, এটি একটি বাদ্যযন্ত্র যা উদ (عود)-এর মতো। "আন-নিহায়াহ" (১/ ১১২)।

(৩) আল-কায়নাহ: দাসী, সে গান গাক বা না গাক, কিংবা রূপসজ্জাকারিণী; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি গায়িকা দাসীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। "আন-নিহায়াহ" (৪/ ১৩৫)।

(৪) এটি হলো সাদা সীসা, আবার কেউ বলেছেন কালো সীসা। "আন-নিহায়াহ" (১/ ৭৭)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৪৮)
وقال: أبو نعيم الحلبي اسمه عبيد بن هشام. قلتُ: قد وثقه أبو داود وقال: إنه تغير بأخرة. وقد أنكر عليه أحاديث تفرد بها، منها هذا الحديث.

وفي النهي عن بيع المغنيات أحاديث تفرد بها آخر عن علي وعائشة رضي الله عنهما وغيرهما، وفي أسانيدها مقال.

وروى عامر بن سعد البجلي قال: دخلت عَلَى قرظة بن كعب وأبي مسعود الأنصاري في عرس، فَإِذَا جواري يتغنين. فقلت: أنتم أصحاب محمد، وأهل بدر ويُفعل هذا عندكم! قال: اجلس إِنَّ شئت واسمع، وإن شئت فاذهب فإنه قد رُخص لنا في اللهو عند العرس. خرَّجه النسائي (1) والحاكم (2) وقال: صحيح عَلَى شرطهما. والرخصة في اللهو عند العرس تدل عَلَى النهى عنه في غير العرس، ويدل عليه قول النبي صلى الله عليه وسلم حديث عائشة المتفق عليه في "الصحيحين" (3) "لما دخل عليها وعندها جاريتان تغنيان وتدففان، فانتهرهما أبو بكر الصديق رضي الله عنه وقال: مزمور الشيطان عند رسول الله صلى الله عليه وسلم! فَقَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: دَعْهُمَا فَإِنَّهَا أَيَّامُ عِيدٍ". فلم ينكر قول أبي بكر رضي الله عنه، وإنما علّل الرخصة بكونه في يوم عيد، فدل عَلَى أنه يباح في أيام السرور، كأيام العيد وأيام الأفراح، كالأعراس وقدوم الغُياب ما لا يباح في غيرها من اللهو.

وإنما كانت دفوفهم نحو الغرابيل، وغناؤهم بإنشاد أشعار الجاهلية في أيام حروبهم وما أشبه ذلك.

فمن قاس عَلَى ذلك سماع أشعار الغزل مع الدفوف المصلصلة فقد أخطأ غاية الخطأ، وقاس مع ظهور الفرق بين الفرع والأصل.

--------------------------------------------

(1) في "السنن" (3383).

(2) في "المستدرك" (2/ 184).

(3) أخرجه البخاري (952)، ومسلم (892).
এবং তিনি বলেছেন: আবু নুয়াইম আল-হালাবি, যার নাম উবাইদ ইবনে হিশাম। আমি বলছি: আবু দাউদ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং বলেছেন: জীবনের শেষভাগে তার স্মৃতি পরিবর্তিত (تغير بأخرة) হয়ে গিয়েছিল। তিনি এককভাবে বর্ণনা (تفرد بها) করেছেন এমন কিছু হাদিসকে প্রত্যাখ্যান (أنكر) করা হয়েছে, যার মধ্যে এই হাদিসটিও রয়েছে।

গাইকা দাসী বিক্রয় করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এমন আরও হাদিস রয়েছে যা অন্যদের থেকে আলী ও আয়েশা (রা.) এবং অন্যান্যদের সূত্রে এককভাবে বর্ণনা (تفرد بها) করা হয়েছে, আর সেগুলোর সনদসমূহে (أسانيدها) আপত্তি (مقال) রয়েছে।

আমির ইবনে সাদ আল-বাজালি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কারাজা ইবনে কাব এবং আবু মাসউদ আল-আনসারির নিকট প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম যে কিশোরীরা গান গাইছে। তখন আমি বললাম: আপনারা মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাহাবি এবং বদর যুদ্ধের যোদ্ধা, অথচ আপনাদের সামনে এমনটি করা হচ্ছে! তিনি বললেন: তুমি চাইলে বসো এবং শোনো, আর চাইলে চলে যাও; কারণ বিয়ের অনুষ্ঠানে আমাদের আমোদ-প্রমোদে (اللهو) অনুমতি (رخص) দেওয়া হয়েছে। এটি সুনান নাসায়ি (১) এবং মুস্তাদরাক আল-হাকিম-এ (২) বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি বলেছেন: এটি তাদের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)। আর বিয়ের অনুষ্ঠানে আমোদ-প্রমোদের (اللهو) অনুমতি প্রমাণ করে যে, বিয়ে ছাড়া অন্য সময়ে এটি নিষিদ্ধ। এর সপক্ষে নবী (সা.)-এর উক্তি এবং আয়েশা (রা.)-এর সেই হাদিসটি প্রমাণ পেশ করে যা সহিহাইন-এ (৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং সেখানে দু’জন কিশোরী গান গাইছিল ও দফ বাজাচ্ছিল, তখন আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাদেরকে ধমক দিলেন এবং বললেন: আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকট শয়তানের বাঁশি! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: তাদের ছেড়ে দাও, কারণ এগুলো ঈদের দিন।" তিনি আবু বকর (রা.)-এর কথাকে প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং অনুমতির কারণ হিসেবে একে ঈদের দিন বলে উল্লেখ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, আনন্দের দিনগুলোতে যেমন ঈদের দিন, বিয়ের অনুষ্ঠান এবং প্রবাসীদের ফিরে আসার সময় এমন কিছু আমোদ-প্রমোদ (اللهو) বৈধ যা অন্য সময়ে বৈধ নয়।

তাদের দফগুলো ছিল চালুনির মতো, আর তাদের গান ছিল জাহেলি যুগের যুদ্ধের কবিতা পাঠ করা এবং এ জাতীয় বিষয়।

সুতরাং কেউ যদি ঝুনঝুনিযুক্ত দফের সাথে প্রেমমূলক কবিতা শোনাকে এর সাথে তুলনা (قاس) করে, তবে সে চরম ভুল করল এবং মূল (الأصل) ও শাখার (الفرع) মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কিয়াস (قاس) করল।

--------------------------------------------

(১) সুনান নাসায়ি-তে (৩৩৮৩)।

(২) মুস্তাদরাক আল-হাকিম-এ (২/ ১৮৪)।

(৩) এটি বুখারি (৯৫২) এবং মুসলিম (৮৯২) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৪৯)
وقال ابن مسعود رضي الله عنه: الغناء يُنبت النفاق في القلب كما ينبت الماء البقل (1). وقد روي عنه مرفوعًا، خرّجه ابو داود (2) في بعض نسخ "السنن" وخرّجه ابن أبي الدُّنْيَا والبيهقي وغيرهما، وفي إسناد المرفوع من لا يُعرف والموقوف أشبه. وأما تحريم آلات الملاهي، فقد تقدم عن مجاهد أنه أدلخها في صوت الشيطان المذكور في قول الله تعالى: {وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ} (3) وتقدم أيضاً حديث أبي أمامة في ذلك.

وقال البخاري في "صحيحه" (4): وقال هشام بن عمار ثنا صدقة بن خالد، ثنا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، ثنا عطية بن قيس، حدثني عبد الرحمن بن غنم الأشعري، حدثني أبو عامر أو أبو مالك الأشعري -والله ما كذبني- سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الحِرَ وَالحَرِيرَ وَالخَمْرَ وَالمَعَازِفَ وَلَيَنْزِلَنَّ أَقْوَامٌ إِلَى جَنْبِ عَلَمٍ تَرُوحُ عَلَيْهِمْ بِسَارِحَةٍ لَهُمْ، يَأْتِيهِمْ الفَقِيرَ لِحَاجَةٍ فَيَقُولُوا: ارْجِعْ إِلَيْنَا غَدًا، فَيُبَيِّتُهُمُ اللَّهُ وَيَضَعُ العَلَمَ، وَيَمْسَخُ آخَرِينَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ".

هكذا ذكره البخاري في كتابه بصيغة التعليق المجزوم به، والأقرب أنه مُسند؛ فإن هشام بن عمار أحد شيوخ البخاري. وقد قيل: إِنَّ البخاري إذا قال في "صحيحه": قال فلان ولم يصرح بروايته عنه، وكان قد سمع منه، فإنه يكون قد أخذه عنه عرضًا أو مناولة أو مذاكرة. وهذا كله لا يخرجه عن أن يكون مُسندًا، والله أعلم.

وخرجه البيهقي (5) من طريق الحسن بن سفيان، ثنا هشام بن عمار، فذكره فالحديث صحيح محفوظ عن هشام بن عمار.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي الدُّنْيَا في "ذم الملاهي" (156)، والبيهقي في "السنن الكبير" (10/ 223) وضعفه الشيخ الجديع في أحاديث "ذم الغناء والمعازف في الميزان" (ص 57).

(2) في "السنن" برقم (4927).

(3) الإسراء: 64.

(4) برقم (5590).

(5) في "السنن الكبير" (10/ 221).
এবং ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: গান হৃদয়ে নিফাক উৎপন্ন করে, যেমন পানি শাক-সবজি উৎপন্ন করে (১)। এটি তাঁর থেকে মারফু (مرفوعًا) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে; আবু দাউদ (২) তাঁর "সুনান"-এর কিছু নুসখায় এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া, বায়হাকী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। তবে মারফু (مرفوعًا) বর্ণনার সনদে এমন ব্যক্তি রয়েছে যে অজ্ঞাত (من لا يُعرف), আর মাওকুফ (الموقوف) হওয়াটাই অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ (أشبه)। আর বাদ্যযন্ত্র হারামের ব্যাপারে মুজাহিদ থেকে আগে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এটিকে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে উল্লিখিত শয়তানের কণ্ঠস্বরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন: {তাদের মধ্যে যাদের পারো তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে প্ররোচিত করো} (৩)। এ প্রসঙ্গে আবু উমামার হাদিসটিও আগে বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম বুখারি তাঁর "সহিহ"-এ (৪) বলেন: হিশাম বিন আম্মার আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাদাকা বিন খালিদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আতিয়্যা বিন কায়স আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন গানম আল-আশআরি আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমির অথবা আবু মালিক আল-আশআরি আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন—আল্লাহর কসম, তিনি আমার কাছে মিথ্যা বলেননি—তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন কিছু দলের উদ্ভব হবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। আর কিছু লোক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করবে, তাদের রাখালরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে বিকেলে তাদের কাছে ফিরে আসবে। তাদের কাছে কোনো অভাবী লোক তার প্রয়োজনে এলে তারা বলবে: 'আগামীকাল আমাদের কাছে এসো।' অতঃপর আল্লাহ রাতে তাদের ওপর পাহাড় ধসিয়ে দিয়ে তাদের ধ্বংস করবেন এবং অন্যদের কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দেবেন।"

ইমাম বুখারি তাঁর গ্রন্থে এটি নিশ্চয়তাসূচক মুয়াল্লাক (التعليق المجزوم به) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অধিকতর সঠিক হলো এটি মুসনাদ (مُسند); কারণ হিশাম বিন আম্মার ইমাম বুখারির অন্যতম উস্তাদ। বলা হয়ে থাকে: বুখারি যদি তাঁর "সহিহ"-এ বলেন: "অমুক ব্যক্তি বলেছেন" এবং তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করেন, অথচ তিনি তাঁর থেকে শুনেছেন—তবে তা আরদ (عرضًا), মুনাওয়ালা (مناولة) বা মুজাকারা (مذاكرة) পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। আর এ সবের কোনোটিই হাদিসটিকে মুসনাদ (مُসند) হওয়া থেকে খারিজ করে দেয় না। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

বায়হাকী (৫) এটি হাসান বিন সুফিয়ানের সূত্রে হিশাম বিন আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং হাদিসটি হিশাম বিন আম্মারের সূত্রে সহিহ (صحيح) এবং মাহফুজ (محفوظ)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবিদ দুনিয়া এটি "জাম্মুল মালাহি" (১৫৬)-এ এবং বায়হাকী এটি "সুনানুল কাবীর" (১০/২২৩)-এ বর্ণনা করেছেন। শেখ জুদাই "আহাদিসু জাম্মিল গিনা ওয়াল মায়াজিফ ফিল মিজান" (পৃ. ৫৭) গ্রন্থে এটিকে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন।

(২) "সুনান"-এ হাদিস নং (৪৯২৭)।

(৩) সূরা আল-ইসরা: ৬৪।

(৪) হাদিস নং (৫৫৯০)।

(৫) "সুনানুল কাবীর" (১০/২২১)-এ।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫০)
وخرج أبو داود (1) هذا الحديث مختصرًا بإسناد متصل إِلَى عبد الرحمن ابن جابر الإسناد فَقَالَ: حدثنا عبد الوهاب بن نجدة، ثنا بشر بن بكر، عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، ثنا عطية بن قيس فذكره. وقال: "يستحلون الخز".

كذا عنده، "الخز": بالخاء والزاي المعجمتين، وفى باب لباس الخز خرجه.

والمعروف فى راوية البخاري "الحر"، بالحاء والراء المهملتين ومعناه: الفرج.

وقد رواه معاوية بن صالح عن حاتم بن حريث، عن مالك بن أبي مريم، عن عبد الرحمن بن غنم، عن أبي مالك الأشعري، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا، يُعْزَفُ عَلَى رُءُوسِهِمْ بِالْمَعَازِفِ وَالْمُغَنِّيَاتِ، يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الْأَرْضَ، وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ».

خرجه ابن ماجه (2) وابن حبان في "صحيحه" (3) وعنده: والقينات.

وخرج أبو داود (4): أول الحديث ولم يتمه. وروى فرقد السبخي: حدثني عاصم بن عمرو البجلي، عن أبي أمامة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "تَبِيتُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى أَكْلٍ وَلَهْوٍ وَشُرْبٍ، ثُمَّ يُصْبِحُونَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ، وَتُبْعَثُ عَلَى حَيٍّ مِنْ أَحْيَائِهِمْ رِيحٌ، فَتَنْسِفُهُمْ، كَمَا نَسَفَتْ (*) مَنْ كَانَ قَبْلَهُمْ بِاسْتِحْلَالِهِمُ الْخُمُورَ، وَضَرْبِهِمْ بِالدُّفُوفِ، وَاتِّخَاذِهِمُ الْقَيْنَاتِ". خرجه الإمام أحمد (5) والحاكم (6) وقال: صحيح عَلَى شرط مسلم. كذا قال، وفرقد لم يخرج له مسلم، وقد وثقه ابن معين وغيره، وكان رجلاً صالحًا لكن كان مشتغلاً عن الحديث بالعبادة، ففي حفظه شيء، فحديثه يصلح للاستشهاد والاعتضاد.

--------------------------------------------

(1) برقم (4039).

(2) برقم (4020).

(3) كما في "الإحسان" (6758)، وفي إسناده مالك بن أبي مريم: مجهول، ولكن للحديث شواهد يتقوى بها.

(4) برقم (3688)، (3689).

(*) في "نسخة": تنسف.

(5) برقم (5/ 259، 329).

(6) في "المستدرك" (4/ 515).
এবং আবু দাউদ (১) এই হাদিসটি সংক্ষেপে আবদুর রহমান ইবনে জাবের পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (إسناد متصل) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহাব বিন নাজদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন বকর, আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবের থেকে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতিয়্যাহ বিন কাইস—অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। এবং তিনি বলেছেন: "তারা রেশম (খাজ) হালাল মনে করবে।"

তাঁর নিকট এভাবেই রয়েছে, "আল-খাজ": 'খা' এবং 'যা' বর্ণদ্বয়ের মাধ্যমে (উভয়টি নুকতাহযুক্ত), এবং তিনি এটি 'রেশমি পোশাক' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

আর বুখারির বর্ণনায় সুপরিচিত শব্দ হলো "আল-হির", 'হা' এবং 'রা' বর্ণদ্বয়ের মাধ্যমে (উভয়টি নুকতাহবিহীন), যার অর্থ: লজ্জাস্থান।

মুয়াবিয়া বিন সালেহ এটি হাতিম বিন হুরাইস থেকে, তিনি মালিক বিন আবি মারিয়াম থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন গানাম থেকে, তিনি আবু মালিক আল-আশআরি থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «অবশ্যই আমার উম্মতের কিছু লোক মদ পান করবে এবং তারা এর ভিন্ন নাম দেবে। তাদের মাথার ওপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকাদের মাধ্যমে বাজানো হবে। আল্লাহ তাদের ভূমিতে ধসিয়ে দেবেন এবং তাদের মধ্য থেকে বানর ও শুকর বানাবেন।»

এটি ইবনে মাজাহ (২) এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ-তে (৩) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণনায় রয়েছে: "আল-কাইনাত" (গায়িকা)।

এবং আবু দাউদ (৪) হাদিসটির প্রথমাংশ বর্ণনা করেছেন কিন্তু তা পূর্ণ করেননি। ফারকাদ আস-সাবখি বর্ণনা করেছেন: আমার নিকট আসিম বিন আমর আল-বাজালি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু উমামাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল পানাহার ও আমোদ-প্রমোদে রাত কাটাবে, অতঃপর সকালে তারা বানর ও শুকরে পরিণত হবে। আর তাদের কোনো এক জনপদে এমন এক বাতাস পাঠানো হবে যা তাদের উড়িয়ে নিয়ে যাবে, যেমনটি উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল (*) তাদের পূর্ববর্তীদের; তাদের মদ হালাল জ্ঞান করা, দফ বাজানো এবং গায়িকা গ্রহণ করার কারণে।" এটি ইমাম আহমাদ (৫) এবং হাকেম (৬) বর্ণনা করেছেন। তিনি (হাকেম) বলেছেন: এটি মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)। তিনি এটিই বলেছেন, অথচ মুসলিম ফারকাদ থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি। তবে ইবনে মাঈন এবং অন্যান্যেরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। তিনি একজন নেককার ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু হাদিস চর্চার চেয়ে ইবাদতে বেশি মশগুল থাকতেন, তাই তাঁর মুখস্থ শক্তিতে কিছুটা দুর্বলতা (في حفظه شيء) ছিল। সুতরাং তাঁর হাদিস সাক্ষ্য (للاستشهاد) এবং সমর্থনের (والاعتضاد) জন্য উপযুক্ত।

--------------------------------------------

(১) নং (৪০৩৯)।

(২) নং (৪০২০)।

(৩) যেমনটি "আল-ইহসান"-এ (৬৭৫৮) রয়েছে। এর সনদে মালিক বিন আবি মারিয়াম রয়েছেন: তিনি অজ্ঞাত (مجهول), তবে হাদিসটির অন্যান্য সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যার মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হয়।

(৪) নং (৩৬৮৮), (৩৬৮৯)।

(*) একটি পাণ্ডুলিপিতে: তানসিফু।

(৫) নং (৫/ ২৫৯, ৩২৯)।

(৬) "আল-মুস্তাদরাক"-এ (৪/ ৫১৫)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫১)
وخرج الترمذي (1) معنى هذا الحديث: من حديث عمران بن حصين عن النبي صلى الله عليه وسلم. وخرج الترمذي (2) في المعنى أيضاً من حديث علي بن أبي طالب وأبي هريرة (3) عن النبي صلى الله عليه وسلم، وقال في كل واحد من الثلاثة: غريب.

وقد روي في هذا المعنى: أحاديث متعددة عن النبي صلى الله عليه وسلم، من رواية ابن مسعود وسلمان، وعبادة بن الصامت وأنس، وأبي سعيد وابن عمر، وسهل بن سعد وعبد الله بن بسر، وعائشة وغيرهم رضي الله عنهم، ولا تخلوا أسانيدها من مقال، لكن تقوى بانضمام بعضها إِلَى بعض، ويعضُد بعضها بعضًا. وقد ذكر البيهقي (4) أنها شواهد لحديث أبي مالك الأشعري المبدوء بذكره. وخرج الإمام أحمد (5) وأبو داود (6) أيضاً من حديث ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لوفد عبد القيس: "إِنَّ الله حرَّم عليّ أو حرم -الخمر والميسر والكوبة" (7) - قال: والكوبة: الطبل -كذا فسره بعض رواة الحديث.

وخرَّج أحمد (8) وأبو داود (9) أيضاً من حديث عبد الله بن عمرو "أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الخمر والميسر والكوبة".

قال الإمام أحمد: أكره الطبل وهو الكوبة، نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وروى ليث بن أبي سليم الكوفي، عن مجاهد قال: كنت مع ابن عمر رضي الله عنهما، فسمع صوت طبل، فأدخل إصبعيه في أذنيه، ثم تنحى حتى فعل ذلك ثلاث مرات ثُم قال: هكذا فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم. خرجه

--------------------------------------------

(1) برقم (2213).

(2) برقم (2211).

(3) أخرجه الترمذي (2212).

(4) في "السنن الكبير" (10/ 279).

(5) (1/ 278 - 279).

(6) برقم (3696).

(7) قال ابن الأثير: هي النرد. وقيل: الطبل، "النهاية" (4/ 207).

(8) (2/ 158، 165).

(9) برقم (3685).
ইমাম তিরমিজি (১) এই হাদিসের সমার্থক একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-এর হাদিস থেকে, যা নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত। ইমাম তিরমিজি (২) আলী ইবনে আবি তালিব এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর (৩) নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমেও একই অর্থের বর্ণনা দিয়েছেন এবং এই তিনটির প্রত্যেকটি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: এটি একক বা অপরিচিত (غريب)।

এই মর্মে ইবনে মাসউদ, সালমান, উবাদাহ ইবনুস সামিত, আনাস, আবু সাঈদ, ইবনে উমর, সাহল ইবনে সাদ, আবদুল্লাহ ইবনে বুসর, আয়েশা (রা.) ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা.)-এর একাধিক হাদিস রয়েছে। এগুলোর সনদসমূহ (أسانيد) ত্রুটি বা সমালোচনা (من مقال) থেকে মুক্ত নয়, তবে সেগুলো একে অপরের সাথে মিলিত হওয়ার মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং একে অপরকে সমর্থন করে। ইমাম বাইহাকি (৪) উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো আবু মালেক আল-আশআরী (রা.)-এর সেই হাদিসের জন্য সাক্ষ্যস্বরূপ (شواهد), যা দিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইমাম আহমাদ (৫) এবং আবু দাউদ (৬) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) আবদুল কায়েসের প্রতিনিধি দলকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার ওপর হারাম করেছেন - অথবা তিনি বলেছেন হারাম করেছেন - মদ, জুয়া এবং কুবাহ (তবলা)" (৭)। বর্ণনাকারী বলেন: কুবাহ অর্থ হলো তবলা—হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনাকারী এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন।

ইমাম আহমাদ (৮) এবং আবু দাউদ (৯) আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, "নবী (সা.) মদ, জুয়া এবং কুবাহ (তবলা) থেকে নিষেধ করেছেন।"

ইমাম আহমাদ বলেছেন: আমি তবলা অপছন্দ করি আর তা হলো 'কুবাহ', রাসুলুল্লাহ (সা.) এটি থেকে নিষেধ করেছেন।

লাইস ইবনে আবি সুলাইম আল-কুফি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমর (রা.)-এর সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি তবলার শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাঁর দুই কানে দুই আঙুল প্রবেশ করালেন, তারপর তিনি একপাশে সরে গেলেন। তিনি এভাবে তিনবার করলেন এবং তারপর বললেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) এভাবেই করেছিলেন। বর্ণনায়—

--------------------------------------------

(১) নং (২২১৩)।

(২) নং (২২১১)।

(৩) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (২২১২)।

(৪) 'আস-সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে (১০/ ২৭৯)।

(৫) (১/ ২৭৮ - ২৭৯)।

(৬) নং (৩৬৯৬)।

(৭) ইবনুল আসির বলেছেন: এটি পাশা খেলা। আবার বলা হয়েছে: তবলা বা ঢোল, 'আন-নিহায়া' (৪/ ২০৭)।

(৮) (২/ ১৫৮, ১৬৫)।

(৯) নং (৩৬৮৫)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫২)
ابن ماجه (1). وروى ابن أبي ليلى، عن عطاء، عن جابر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "نَهَيْتُ عَنْ صَوْتَيْنِ فَاجِرَيْنِ: صَوْتٍ عِنْدَ مُصِيبَةٍ: خَمْشُ وُجُوهٍ، وَشَقِّ جُيُوبٍ، وَصَوْتُ عِنْدَ (نِعْمَةٍ) (*)، وَلَهْوٌ وَلَعِبٍ وَمَزَامِيرُ شَيْطَانٍ". خرجه وكيع ابن الجراح في كتابه عن ابن أبي ليلى به.

وخرج الترمذي (2) أوله ولم يتمه، وقال في الحديث كلام، يشير إِلَى أن باقي الحديث لم يذكره، وعنده: صوتين أحمقين فاجرين. وقال: حديث حسن. وابن أبي ليلى إمام صدوق جليل القدر، لكن في حفظه شيء، وربما اختلف عنه في الأسانيد. وقد روي هذا الحديث عنه، عن عطاء، عن جابر، عن عبد الرحمن بن عوف، عن النبي صلى الله عليه وسلم. كذلك خرَّجه البزار في "مسنده" (3) وغيره وروي هذا المعنى عن النبي صلى الله عليه وسلم من رواية شبيب بن بشر، عن أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم. وشبيب وثقه ابن معين وغيره.

وخرَّج الإمام أحمد (4) وأبو داود (5) من حديث نافع عن ابن عمر: «أَنَّهُ سَمِعَ صَوْتَ زَمَّارَةِ فَوَضَعَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ وَعَدَلَ رَاحِلَتَهُ عَنِ الطَّرِيقِ وَهُوَ يَقُولُ: أَتَسْمَعُ يَا نَافِعُ فَأَقُولُ: نَعَمْ، حَتَّى قُلْتُ: لَا، فَوَضَعَ يَدَيْهِ وَأَعَادَ رَاحِلَتَهُ إِلَى الطَّرِيقِ وَقَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ صَوْتَ زَمَّارَةِ رَاعٍ فَصَنَعَ مِثْلَ هَذَا».

وهذا الحديث: يرويه سليمان بن مُوسى الفقيه الدمشقي، عن نافع.

وقد اختلفوا في سليمان، فوثقه قوم، وتكلم فيه آخرون.

وتابعه عليه المطعم بن المقدام، فرواه عن نافع أيضاً، خرَّج حديثه أبو داود (6). والمطعم هذا ثقة جليل القدر. وتابعهما أيضاً: ميمون بن مهران

--------------------------------------------

(1) برقم (1901).

(*) نعمة: "نسخة".

(2) برقم (1005).

(3) كما في "كشف الأستار" (805).

(4) (2/ 38).

(5) برقم (4924). وقال: هذا حديث منكر.

(6) برقم (4925). وقال: أدخل بين مطعم ونافعٍ سليمانَ بن موسى.
ইবনে মাজাহ (১)। ইবনে আবি লায়লা আতা থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি দুটি পাপাচারী শব্দের ব্যাপারে নিষেধ করেছি: বিপদের সময়কার শব্দ: মুখমণ্ডল আঁচড়ানো ও জামার বক্ষ বিদীর্ণ করা, এবং নেয়ামতের সময়ের শব্দ, আর লাহ্উ (অসার বিষয়), খেল-তামাশা ও শয়তানের বাঁশি।" ওয়াকি ইবনুল জাররাহ তার কিতাবে ইবনে আবি লায়লা থেকে এটি সংকলন করেছেন।

তিরমিজি (২) এর প্রথমাংশ সংকলন করেছেন কিন্তু পূর্ণ করেননি এবং হাদিসটি সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেছেন যা ইঙ্গিত দেয় যে বাকি অংশ তিনি উল্লেখ করেননি। তার বর্ণনায় রয়েছে: "দুটি নির্বোধ পাপাচারী শব্দ"। তিনি বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن)। ইবনে আবি লায়লা একজন সত্যবাদী (صدوق) ও সুউচ্চ মর্যাদার ইমাম, তবে তার মুখস্থ শক্তিতে কিছুটা সমস্যা ছিল এবং সম্ভবত তার থেকে বর্ণিত সনদসমূহ (أسانيد)-এর ক্ষেত্রে মতভেদ ঘটেছে। এই হাদিসটি তার থেকে আতা, জাবির ও আব্দুর রহমান ইবনে আউফের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে বাজ্জার তার মুসনাদ (৩) ও অন্যান্য কিতাবে এটি সংকলন করেছেন। এই একই অর্থ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শাবিব ইবনে বিশর আনাস ইবনে মালিকের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা শাবিবকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন।

ইমাম আহমাদ (৪) এবং আবু দাউদ (৫) নাফে’র সূত্রে ইবনে উমর থেকে হাদিসটি সংকলন করেছেন যে, তিনি বাঁশির শব্দ শুনে নিজের দুই কানে আঙুল দিলেন এবং তার সওয়ারিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলেন। তিনি বলছিলেন: হে নাফে, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ? আমি বলতাম: হ্যাঁ। পরিশেষে যখন আমি বললাম: না, তখন তিনি তার হাত সরিয়ে নিলেন এবং তার সওয়ারিকে পুনরায় রাস্তায় ফিরিয়ে আনলেন। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি রাখালের বাঁশির শব্দ শুনে এমনই করেছিলেন।

এই হাদিসটি দামেস্কের ফকিহ সুলাইমান ইবনে মুসা নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন।

সুলাইমান সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; একদল তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং অন্যরা তার সমালোচনা করেছেন।

মুতইম ইবনুল মিকদাম তার অনুসরণ অর্থাৎ সমর্থনমূলক বর্ণনা (تابعه) করেছেন এবং তিনিও নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ (৬) তার হাদিসটি সংকলন করেছেন। এই মুতইম একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন রাবি। মায়মুন ইবনে মিহরানও তাদের অনুসরণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ১৯০১ নম্বর।

(*) নেয়ামত: "সংস্করণ বা পাণ্ডুলিপি"।

(২) ১০০৫ নম্বর।

(৩) যেমনটি 'কাশফুল আস্তার' (৮০৫)-এ আছে।

(৪) (২/৩৮)।

(৫) ৪৯২৪ নম্বর। তিনি বলেছেন: এটি একটি অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিস।

(৬) ৪৯২৫ নম্বর। তিনি বলেছেন: মুতইম ও নাফে-এর মাঝে সুলাইমান ইবনে মুসাকে প্রবেশ করানো হয়েছে।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫৩)
عن نافع، خرَّج حديثه أبو داود (1) أيضاً. وروي أيضاً عن مالك وعبد الله العمري عن نافع، إلا أنه لا يثبت عنهما. فإن قيل: قد قال أبو داود: هذا حديث منكر. قيل: هذا يوجد في بعض نسخ السنن مع الاقتصار عَلَى رواية سليمان بن موسى، ولا يوجد في بعضها. وكأنه قاله قبل أن يتبين له أن سليمان بن موسى تُوبع عليه، فلما تبين له أنه تُوبع عليه رجع عنه.

وقد قيل للإمام أحمد: هذا الحديث منكر؟ فلم يصرح بذلك ولم يوافق عليه، واستدل الإمام أحمد بهذا الحديث.

وإنما لم يأمر ابن عمر بسد أذنيه؛ لأنّه لم يكن مستمعًا بل سامعًا، والسامع من غير استماع لا يُوصف فعله بالتحريم؛ لأنّه عن غير قصد منه، وإن كان الأولى له سد أذنيه حتى لا يسمع. ومعلوم أن زمارة الراعي لا تهيج الطباع للهوى، فكيف حال ما يُهيج الطباع ويغيرها ويدعوها إِلَى المعاصي؟! كما قال طائفة من السَّلف: الغناء رُقية الزنا.

ومن سمع شيئًا من الملاهي وهو مار في الطريق أو جالس فقام عند سماعه فالأولى له أن يدخل أصبعيه في أذنيه كما في هذا الحديث.

وكذلك روي عن طائفة من التابعين أنهم فعلوه، وليس ذلك بلازم، وإن استمر جالسًا وقصد الاستماع كان محرمًا، وإن لم يقصد الاستماع بل قصد غيره، كالأكل من الوليمة أو غير ذلك، فهو محرم أيضاً عن أصحابنا وغيرهم من العُلَمَاء، وخالف فيه طائفة من الفقهاء.

فإن قيل: فلو كان سماع الزمارة محرمًا لأنكرهُ النبي صلى الله عليه وسلم عَلَى من فعله، ولم يكتف بسد أذنيه، فيحمل ذلك عَلَى كراهة التنزيه وقد نقل ابن عبد الحكم هذا المعنى بعينه عن الشافعي رحمه الله، كما ذكره الآبرِّي في كتاب "مناقب الشافعي رضي الله عنه"؟ قيل: الشافعيّ رحمه الله لا يبيح استماع آلات الملاهي، وابن عبد الحكم ينفرد عن الشافعي بما لا

--------------------------------------------

(1) برقم (4926). قال أبو داود: وهذا أنكرُهَا.
নাফে' থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ (১) এটিও বর্ণনা করেছেন। এটি মালেক এবং আব্দুল্লাহ আল-উমারি থেকেও নাফে'র সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা তাদের থেকে প্রমাণিত (يثبت) নয়। যদি বলা হয়: আবু দাউদ বলেছেন: এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যাত (منكر)। এর উত্তরে বলা হবে: এটি সুনান-এর কিছু পাণ্ডুলিপিতে সুলাইমান ইবনে মুসা-র বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়, আবার কিছু পাণ্ডুলিপিতে এটি পাওয়া যায় না। সম্ভবত তিনি এটি বলার সময় তার কাছে স্পষ্ট ছিল না যে সুলাইমান ইবনে মুসা-র এই বর্ণনার সপক্ষে সমর্থনমূলক বর্ণনা (توبع) রয়েছে; যখন তার কাছে স্পষ্ট হলো যে এর সপক্ষে সমর্থনমূলক বর্ণনা (توبع) আছে, তখন তিনি তার পূর্বোক্ত মন্তব্য থেকে ফিরে আসেন।

ইমাম আহমাদকেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: এই হাদিসটি কি প্রত্যাখ্যাত (منكر)? তিনি স্পষ্টভাবে তা বলেননি এবং এর সাথে একমত হননি, বরং ইমাম আহমাদ এই হাদিসটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন।

আর তিনি ইবনে উমরকে কান বন্ধ করার নির্দেশ দেননি; কারণ তিনি অভিনিবেশ সহকারে শ্রবণকারী ছিলেন না, বরং সাধারণ শ্রোতা ছিলেন। আর অভিনিবেশ ছাড়া সাধারণ শোনার কাজটিকে হারামের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না; কারণ তা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই হয়ে থাকে, যদিও শোনা থেকে বিরত থাকার জন্য কান বন্ধ করে রাখাই তার জন্য উত্তম ছিল। এটি জানা কথা যে, রাখালের বাঁশির আওয়াজ প্রবৃত্তিকে উস্কানি দেয় না; তাহলে সেই বিষয়ের অবস্থা কী হবে যা মানুষের স্বভাবকে উত্তেজিত করে, পরিবর্তন করে এবং গুনাহের দিকে আহ্বান করে?! যেমনটি সালফে সালেহীনদের একদল বলেছেন: গান হলো ব্যভিচারের মন্ত্র।

রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বা কোথাও বসা অবস্থায় কেউ যদি বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শোনে, তবে শোনার সাথে সাথেই তার জন্য উত্তম হলো নিজের দুই আঙুল কানের ভেতর প্রবেশ করানো, যেমনটি এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

একইভাবে একদল তাবেয়ী (التابعين) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা এমনটি করেছিলেন। তবে এটি আবশ্যক নয়। কিন্তু যদি কেউ বসে থাকে এবং মনোযোগ দিয়ে শোনার ইচ্ছা পোষণ করে তবে তা হারাম হবে। আর যদি তার উদ্দেশ্য শোনা না হয়ে অন্য কিছু হয়, যেমন ওলিমা বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে খাবার খাওয়া, তবে এটিও আমাদের (মাযহাবের) আলেমগণ এবং অন্যান্য আলেমদের মতে হারাম; যদিও একদল ফকিহ (الفقهاء) এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

যদি বলা হয়: বাঁশির আওয়াজ শোনা যদি হারামই হতো তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শ্রবণকারীকে নিষেধ করতেন এবং কেবল নিজের কান বন্ধ করে রাখাতেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না; সুতরাং একে লঘু অপছন্দনীয় (كراهة التنزيه)-র ওপর প্রয়োগ করা হবে। ইবনে আব্দুল হাকাম ঠিক এই অর্থটিই ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আবিরী তার "মানাকিব আল-শাফেয়ী" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন? উত্তরে বলা হবে: ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বাদ্যযন্ত্র শোনাকে বৈধ মনে করতেন না, আর ইবনে আব্দুল হাকাম ইমাম শাফেয়ী থেকে এমন কিছু বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একক হয়ে পড়েছেন যা...

--------------------------------------------

(১) নম্বর: (৪৯২৬)। আবু দাউদ বলেছেন: এটি সেগুলোর মধ্যে অধিকতর প্রত্যাখ্যাত (أنكرها)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫৪)
يوافقه عليه غيرهُ، كما نقل عنه في الوطء في المحل المكروه، وأنكره عليه العُلَمَاء. فإن كان هذا محفوظًا عن الشافعي فإنما أراد به أن زمارة الراعي بخصوصها، لا يبلغ سماعُها إِلَى درجة التحريم، فإنه لا طرب فيها، بخلاف المزامير المطربة، كالشبابات المؤصلة، وقد أشار إِلَى ذلك الخطابي وغيره من العُلَمَاء.

وقد سبق حديث عائشة رضي الله عنها وقول أبي بكر رضي الله عنه: مزمور الشيطان عند رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! فقاله رسول الله صلى الله عليه وسلم: «دَعْهُمَا يَا أَبَا بَكْرٍ، فَإِنَّهَا أَيَّامُ عِيدٍ». فدل عَلَى أن الدف من مزامير الشيطان لكنه يُرخص فيه للنساء في أيام الأفراح والسرور، كما يُرخص لهن في التحلي بالذهب والحرير دون الرجال، ويباح للرجال من الحرير اليسير دون الكثير، وكذلك من حلي الفضة. فكذلك يباح للنساء في أيام الأفراح الغناء بالدف، وإن سمع ذلك الرجال تبعًا، وهذا مذهب فقهاء الحديث، كالشافعي وأحمد وغيرهما وهو قول الأوزاعي وغيره، وروي عن عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى.

وقد كان طائفة من الكوفيين من أصحاب ابن مسعود رضي الله عنه ومن بعدهم لا يُرخصون في شيء من ذلك بحالٍ.

فأما الغناء المرخص فيه، فليس هو الغزل المهيج للطباع، بل هو غناء الركبان ونحوه كما قاله الإمام أحمد وغيره. وقد كان خالد بن معدان -وهو من أعيان التابعين- يأمر بناته ونساءه إذا ضربن بالدفوف أن يتغنين بذكر الله عز وجل.

وإنما يُباح الدف إذا لم يكن فيه جُلجُل (1) ونحوه مما يُصوت عند أكثر العُلَمَاء، نص عليه الإمام أحمد وغيره من العُلَمَاء، كما كانت دفوف العرب عَلَى عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وقد رخص في هذا الدف طائفة من متأخري أصحابنا مطلقًا في العرس وغيره، للنساء دون الرجال.

وأما الآثار الموقوفة عن السَّلف في تحريم الغناء وآلات اللهو فكثيرة جدًا.

--------------------------------------------

(1) الجلجل: هو الجرس الصغير. " النهاية" (1/ 284).
অন্য কেউ তাঁর সাথে একমত হননি, যেমনটি অপছন্দনীয় স্থানে মিলনের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং ওলামায়ে কেরাম তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদি এটি শাফেয়ী থেকে সংরক্ষিত (محفوظ) হয়ে থাকে, তবে তিনি এর দ্বারা কেবল রাখালের বাঁশিকে বুঝিয়েছেন, যার শ্রবণ হারাম হওয়ার স্তরে পৌঁছায় না; কারণ এতে কোনো চিত্তাকর্ষক সুর নেই। পক্ষান্তরে চিত্তাকর্ষক বাঁশি, যেমন সুগঠিত বংশীবাদ্য, এর ব্যতিক্রম। আল-খাত্তাবী এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম এই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

আয়েশা (রা.)-এর হাদিস এবং আবু বকর (রা.)-এর উক্তি ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট শয়তানের বাঁশি?!" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: "হে আবু বকর, ওদের ছেড়ে দাও, কারণ এগুলো ঈদের দিন।" এটি প্রমাণ করে যে, দফ (খঞ্জনি) শয়তানের বাঁশিগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তবে আনন্দ ও খুশির দিনগুলোতে নারীদের জন্য এর অনুমতি (رخص) দেওয়া হয়েছে; যেমনটি পুরুষদের বাদ দিয়ে তাদের জন্য সোনা ও রেশম পরিধানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর পুরুষদের জন্য সামান্য রেশম জায়েজ (مباح), তবে অধিক নয়, এবং একইভাবে রূপার অলঙ্কারও। ঠিক তেমনি আনন্দের দিনগুলোতে নারীদের জন্য দফের সাথে গান গাওয়া জায়েজ (مباح), যদিও পুরুষরা আনুষঙ্গিকভাবে তা শুনে ফেলে। আর এটিই হাদিস বিশারদ ফকিহদের মাযহাব, যেমন শাফেয়ী, আহমদ এবং অন্যান্যরা। এটি আওজাঈ ও অন্যদেরও অভিমত, এবং ওমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.) থেকেও এটি বর্ণিত (روي) হয়েছে।

ইবনে মাসউদ (রা.)-এর অনুসারী কুফাবাসীদের একটি দল এবং তাদের পরবর্তীরা কোনো অবস্থাতেই এর কোনো কিছুর অনুমতি দিতেন না।

যে গানের অনুমতি (مرخص) দেওয়া হয়েছে, তা কুপ্রবৃত্তি জাগ্রতকারী কামোদ্দীপক গান নয়, বরং তা হলো আরোহীদের গান ও তদনুরূপ বিষয়, যেমনটি ইমাম আহমদ ও অন্যান্যরা বলেছেন। খালেদ বিন মাদান—যিনি তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি (أعيان التابعين)—তিনি যখন তাঁর কন্যা ও স্ত্রীরা দফ বাজাতেন, তখন তাদেরকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার জিকিরের সাথে গান গাইতে নির্দেশ দিতেন।

অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে দফ জায়েজ (يباح) হবে কেবল তখনই, যখন তাতে ঘুঙুর (جلجل) (১) বা অনুরূপ আওয়াজ সৃষ্টিকারী বস্তু না থাকবে। ইমাম আহমদ এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে সুস্পষ্ট উক্তি (نص) করেছেন, যেমনটি নবী (সা.)-এর যুগে আরবদের দফগুলো ছিল। আমাদের পরবর্তী যুগের (متأخرين) একদল আলেম বিয়ের অনুষ্ঠানে বা অন্য কোথাও নারীদের জন্য শর্তহীনভাবে এই দফের অনুমতি দিয়েছেন, তবে পুরুষদের জন্য নয়।

আর গান এবং বাদ্যযন্ত্র হারামের বিষয়ে সালাফদের থেকে বর্ণিত মওকুফ (موقوف) আছারসমূহ সংখ্যায় অনেক।

--------------------------------------------

(১) জুলজুল (جلجل): এটি হলো ছোট ঘণ্টা। "আন-নিহায়া" (১/২৮৪)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
روى ابن أبي حاتم وغيره، عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: في التوراة: إِنَّ الله عز وجل أنزل الحق ليذهب به الباطل، ويُبطل به اللعب والرقص والمزمار والمزاهر والكنارات (1). وخرجه أبو عبيد في كتاب "غريب الحديث". وقال: المزاهر واحدها مزهر، وهو العود الَّذِي يُضرب به. وأما الكنارات فيقال: إنها العيدان أيضاً، ويقال: بل الدفوف.

وروى زيد بن الحباب، عن أبي مودود المدني، عن عطاء بن يسار، عن كعب قال: إِنَّ مما أنزل الله عَلَى موسى عليه السلام … فذكره بنحو ما ذكره عبد الله بن عمرو. قال زيد: سألت أبا مودود، ما المزاهر؟ قال: الدفوف المربعة. قلت: ما الكنارات؟ قال: الطنابير.

وروى ابن أبي الدُّنْيَا (2)، من طريق يحيى بن سعيد، عن عبيد الله بن عمر قال: حدثني نافع أن ابن عمر مر عليه قومٌ محرمون، وفيهم رجل يتغنى. فَقَالَ: ألا لا سمع الله لكم، ألا لا سمع الله لكم.

ومن طريق عبد الله بن دينار قال: مر ابن عمر رضي الله عنهما بجارية صغيرة تغني. فَقَالَ: لو ترك الشيطان أحدًا ترك هذه (3).

وقد تقدم عن ابن مسعود أنه قال: الغناء ينبت النفاق في القلب، كما ينبت الماء البقل. وعنه أيضاً أنه قال: إذا ركب الإنسانه الدابة ولم يسم، ردفه الشيطان، فَقَالَ له: تغنه، فإن لم يحسن قال له: تمنه.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي حاتم في "تفسيره" (3/ 27/ ب)، والبيهقي (10/ 222)، وأبو عبيد في "غريب الحديث" (2/ 388) قال الجديع في أحاديث "ذم الغناء والمعازف في الميزان" (153): إسناده صحيح.

(2) في "ذم الملاهي" (ق156/ أ).

وصحح إسناده الجديع حفظه الله في "أحاديث ذم الغناء والمعازف في الميزان" (ص 153).

(3) أخرجه البخاري في "الأدب المفرد" (784)، وابن أبي الدنيا في "ذم الملاهي" (ق156/ أ-ب)، والبيهقي في "الكبير" (10/ 223).

وصحح إسناده الجديع في الموضع السابق ذكره.
ইবনে আবি হাতিম এবং অন্যান্যগণ আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তাওরাতে রয়েছে: মহান আল্লাহ সত্য নাযিল করেছেন যাতে এর মাধ্যমে বাতিলকে বিলুপ্ত করা যায়, এবং এর মাধ্যমে অনর্থক খেলাধুলা, নাচ, বাঁশি, মিযহার ও কিন্নারাতকে বাতিল করা যায় (১)। এবং আবু উবাইদ তাঁর 'গারিবুল হাদিস' গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন। তিনি বলেন: 'আল-মিযাহির' এর একবচন হলো 'মিযহার', আর এটি এমন এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র (উদ) যা বাজানো হয়। আর 'কিন্নারাত' সম্পর্কে বলা হয়: এগুলোও এক প্রকার তন্ত্রীযুক্ত বাদ্যযন্ত্র, আবার বলা হয়: বরং এগুলো হলো দফ (খঞ্জনি)।

যায়েদ ইবনুল হুবাব আবু মাওদুদ আল-মাদানি থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-এর ওপর যা নাযিল করেছেন তার মধ্যে রয়েছে... এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর যা বর্ণনা করেছেন তার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। যায়েদ বলেন: আমি আবু মাওদুদকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'মিযাহির' কী? তিনি বললেন: চারকোণা দফ (খঞ্জনি)। আমি বললাম: 'কিন্নারাত' কী? তিনি বললেন: তম্বুরা।

ইবনে আবিদ দুনিয়া (২) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ-এর সূত্রে ওবায়দুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাফে আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে ওমর (রা.) এমন এক ইহরাম পরিহিত দলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদের মধ্যে এক ব্যক্তি গান গাইছিল। তখন তিনি বললেন: সাবধান! আল্লাহ যেন তোমাদের কথা না শোনেন, সাবধান! আল্লাহ যেন তোমাদের কথা না শোনেন।

এবং আবদুল্লাহ ইবনে দীনারের সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে ওমর (রা.) একটি ছোট মেয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে গান গাইছিল। তিনি বললেন: শয়তান যদি কাউকে ছেড়ে দিত, তবে সে একে ছেড়ে দিত (৩)।

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: গান অন্তরে নিফাক উৎপন্ন করে যেমনভাবে পানি শাক-সবজি উৎপন্ন করে। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: মানুষ যখন কোনো সওয়ারিতে আরোহণ করে এবং আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) নেয় না, তখন শয়তান তার পেছনে চড়ে বসে। এরপর সে তাকে বলে: গান গাও। যদি সে তা ভালোভাবে না পারে, তবে সে তাকে বলে: গুনগুন করো।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'তাফসির' গ্রন্থে (৩/২৭/খ), বায়হাকি (১০/২২২) এবং আবু উবাইদ 'গারিবুল হাদিস' গ্রন্থে (২/৩৮৮) এটি বর্ণনা করেছেন। জুদাই 'আহাদিসু যাম্মিল গিনা ওয়াল মাআযিফ ফিল মিজান' গ্রন্থে (১৫৩) বলেছেন: এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

(২) 'যাম্মুল মালাহি' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৫৬/ক)। এবং জুদাই (হাফিজাহুল্লাহ) 'আহাদিসু যাম্মিল গিনা ওয়াল মাআযিফ ফিল মিজান' গ্রন্থে (পৃ. ১৫৩) এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) করেছেন।

(৩) বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে (৭৮৪), ইবনে আবিদ দুনিয়া 'যাম্মুল মালাহি' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৫৬/ক-খ) এবং বায়হাকি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (১০/২২৩) এটি বর্ণনা করেছেন। এবং জুদাই ইতিপূর্বে উল্লেখিত স্থানে এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) করেছেন।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫৬)
وصح عن عثمان رضي الله عنه أنه قال: ما تغنيت ولا تمنيت (1).

وروي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: الدف حرام، والمعازف حرام، والكوبة حرام، والمزمار حرام. خرجه البيهقي (2). وخرج أيضاً (3)، بإسناد صحيح، عن عائشة "أن بنات أخيها، خفضن (4) فأَلِمْنَ ذلك. فقِيلَ لَهُا: يا أم المؤمنين، ألا ندعو لهن من يلهيهن؟ قالت: بلى. فأرسلوا إِلَى فلان المغني، فأتاهم، فمرت به عائشة رضي الله عنها في البيت، فرأته يتغنى ويحرك رأسه طربًا -وكان ذا شعر كثير- فقالت عائشة: أُف شيطان، أخرجوه أخرجوه. فأخرجوه، فهذا هو الثابت عن الصحابة رضي الله عنهم. أعني ذم الغناء، وآلات اللهو.

وقد روي ما يُوهم الرخصة عن بعضهم، وليس بمخالف لهذا. فإن الرخصة إِنَّمَا وردت عنهم في إنشاد أشعار الأعراب عَلَى طريق الحداء ونحوه، مما لا محذور فيه، كما خرج البيهقي (5) من طريق الزهري. قال: قال السائب ابن يزيد: بينا نحن مع عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه في طريق الحج، ونحو نؤم مكة اعتزل عبد الرحمن بن عوف الطريق، ثم قال لرباح بن المعترف: غننا يا أبا حسان. وكان يحسن النصب، فبينا رباح يغنيهم أدركهم عمر بن الخطاب في خلافته، فَقَالَ: ما هذا؟! فَقَالَ عبد الرحمن: يا أمير المؤمنين، ما بأس بهذا؛ نلهو ويُقصر عنا. فَقَالَ عمر رضي الله عنه: فإن كنت آخذًا، فعليك بشعر ضرار بن الخطاب -وضرار رجل من بني محارب بن فهر.

قال البيهقي: والنصب ضرب من أغاني الأعراب، وهو يشبه الحداء. قاله أبو عبيد الهروي.

--------------------------------------------

(1) أخرجه يعقوب بن سفيان في "المعرفة والتاريخ" (2/ 488)، والطبراني في "الكبير" رقم (124)، وحسن إسناده الجديع حفظه الله.

(2) أخرجه البيهقي في "الكبير" (10/ 222).

(3) في "السنن الكبير" (10/ 222)، وأخرجه أيضًا البخاري في "الأدب المفرد" (1247).

(4) الخفض للنساء كالختان للرجال "النهاية" (2/ 54).

(5) في "السنن الكبير" (10/ 224).
উসমান (রা.) থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি কখনো গান গাইনি এবং কখনো (পাপের) কামনা করিনি।" (১)

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "দফ হারাম, বাদ্যযন্ত্র হারাম, তবলা (কুবা) হারাম এবং বাঁশি হারাম।" এটি বায়হাকি বর্ণনা করেছেন (২)। তিনি আরও বর্ণনা করেছেন (৩), একটি সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد), আয়েশা (রা.) থেকে যে, "তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রীদের খতনা (خفض) করা হয়েছিল এবং তারা তাতে ব্যথা পাচ্ছিল। তাকে বলা হলো: হে উম্মুল মুমিনিন, আমরা কি তাদের জন্য এমন কাউকে ডাকব যে তাদের আনন্দ দেবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তারা অমুক গায়ককে ডেকে পাঠাল এবং সে তাদের কাছে এল। আয়েশা (রা.) ঘরে তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন যে সে গান গাইছে এবং আনন্দের আতিশয্যে মাথা দোলাচ্ছে—তার মাথায় প্রচুর চুল ছিল—তখন আয়েশা (রা.) বললেন: 'উফ! শয়তান, একে বের করে দাও, একে বের করে দাও।' অতঃপর তারা তাকে বের করে দিল।" এটিই সাহাবা (রা.) থেকে প্রমাণিত (ثابت)। অর্থাৎ গান ও বাদ্যযন্ত্রের নিন্দা।

তাদের কারো কারো থেকে এমন কিছু বর্ণিত (روي) হয়েছে যা বৈধতার (رخصة) বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, কিন্তু তা এর পরিপন্থী নয়। কারণ তাদের থেকে যে বৈধতা (رخصة) বর্ণিত হয়েছে তা কেবল বেদুইনদের কবিতা পাঠের ক্ষেত্রে, যা 'হুদা' (উটের চালক কর্তৃক গাওয়া গান) বা অনুরূপ পদ্ধতিতে করা হতো, যাতে নিষিদ্ধ কিছু নেই। যেমন বায়হাকি (৫) জুহরি-এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সায়েব ইবনে ইয়াজিদ বলেছেন: "আমরা যখন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর সাথে হজের পথে মক্কার দিকে যাচ্ছিলাম, আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) পথ থেকে সরে গিয়ে রাবাহ ইবনুল মু’তারিফকে বললেন: 'হে আবু হাসান, আমাদের গান শোনাও।' সে 'নাসব' গাইতে পারদর্শী ছিল। রাবাহ যখন তাদের গান শোনাচ্ছিল, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর খিলাফতকালে তাদের কাছে পৌঁছে গেলেন এবং বললেন: 'এসব কী?!' আবদুর রহমান বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনিন, এতে কোনো দোষ নেই; আমরা আনন্দ করছি এবং এর মাধ্যমে আমাদের পথের ক্লান্তি দূর করছি।' উমর (রা.) বললেন: 'তুমি যদি গান শুনতেই চাও, তবে জিরার ইবনুল খাত্তাবের কবিতা শোনো।'—জিরার ছিলেন বনু মুহারিব ইবনে ফিহর গোত্রের একজন লোক।"

বায়হাকি বলেন: "নাসব হলো বেদুইনদের এক প্রকার গান, যা 'হুদা'-এর সদৃশ।" এটি আবু উবায়েদ আল-হারাউই বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান 'আল-মারিফা ওয়াত তারিখ' (২/৪৮৮) গ্রন্থে এবং তাবারানি 'আল-কাবির' (১২৪ নং) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আল-জুদিয় (হাফিযাহুল্লাহ) এর সনদকে (إسناد) হাসান (حسن) বলেছেন।

(২) বায়হাকি এটি 'আল-কাবির' (১০/২২২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৩) 'আস-সুনান আল-কাবির' (১০/২২২) গ্রন্থে এবং বুখারি এটি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' (১২৪৭) গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন।

(৪) নারীদের জন্য খতনা (خفض) পুরুষদের খতনার মতোই। 'আন-নিহায়া' (২/৫৪)।

(৫) 'আস-সুনান আল-কাবির' (১০/২২৪) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫৭)
قال وروينا فيه قصة أخرى عن خوات بن جبير، عن عمر (1) وعبد الرحمن بن عوف وأبي عبيدة بن الجراح في كتاب الحج، قال فيها خوات. فما زلت أغنيهم، حتى إذا كان السحر. وروي أيضاً (2) بإسناد صحيح، عن أسامة بن زيد رضي الله عنه أنه كان في مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم مضطجعًا، رافعًا إحدى رجليه عَلَى الأخرى يتغنى بالنصب. وعن أبي مسعود الأنصاري وغيره من المهاجرين والأنصار أنهم كانوا يتغنون بالنصب.

فتبين بهذه الروايات، أن ترخص الصحابة رضي الله عنهم إِنَّمَا كان في إنشاد شعر الجاهلية. وفيه من الحكم، وغيرها -عَلَى طريق الحداء ونحوه- مما لا يهيج الطباع إِلَى الهوى. ولهذا كانوا يفعلونه في مسجد المدينة، ولم يكن في شيء من ذلك غزل ولا تشبيب بالنساء ولا وصف محاسنهن، ولا وصف خمر ونحوه مما حرمه الله تعالى.

وقال ابن جريج، سألت عطاء عن الغناء بالشعر. فَقَالَ: لا أرى به بأسًا ما لم يكن فحشًا وهذا يشير إِلَى ما ذكرناه، وعلى مثل ذلك يُحمل ما روي فيه عن عروة بن الزبير، وغيره من التابعين من الرخصة.

وقال إسحاق بن منصور: قلت لأحمد بن حنبل: ما تكره من الشعر؟ قال: الهجاء، والشعر الرقيق الَّذِي يشبب بالنساء، وأما الكلام الجاهلي فما أنفعه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ من الشعر لحكمة" (3).

قال إسحاق بن راهويه كما قال. وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يسمع شعر حسان وغيره (4). واستنشد من شعر أمية بن أبي الصلت (5). فمن استدل بشيء من ذلك عَلَى إباحة الغناء المذموم فقد غلط.

وقد رُوي المنع من الغناء عن خلق من التابعين فمن بعدهم، حتى قال الشعبي: لُعن المغني والمغنى له.

--------------------------------------------

(1) في "السنن الكبير" للبيهقي (5/ 68 - 69).

(2) في "السنن الكبير" (10/ 224 - 225).

(3) أخرجه البخاري (6145).

(4) أخرجه البخاري (6153) من حديث أبي هريرة، ومسلم (2255) من حديث الشريد الثقفي.

(5) أخرجه البخاري (6147).
قال এবং আমরা এতে খাওওয়াত বিন জুবায়র থেকে উমর (১), আবদুর রহমান বিন আউফ এবং আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহ সম্পর্কে হজ অধ্যায়ে অন্য একটি বর্ণনা পেয়েছি, যাতে খাওওয়াত বলেন: "আমি তাদের উদ্দেশ্যে কবিতা আবৃত্তি করতে থাকলাম যতক্ষণ না শেষ রাত হলো।" এছাড়া একটি সহিহ (صحيح) সনদে উসামাহ বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মসজিদে কাত হয়ে শোয়া অবস্থায় এক পা অন্য পায়ের ওপর রেখে নাসব সুরে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আবু মাসউদ আল-আনসারী এবং অন্যান্য মুহাজির ও আনসারগণ থেকেও বর্ণিত আছে যে, তারা নাসব সুরে কবিতা আবৃত্তি করতেন।

এই বর্ণনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর শিথিলতা কেবল জাহেলি যুগের কবিতা আবৃত্তির ক্ষেত্রেই ছিল। এর মধ্যে হিকমত বা প্রজ্ঞা এবং অন্যান্য বিষয় থাকত—হুদা (উষ্ট্রী চালকের গান) বা এই জাতীয় পদ্ধতিতে—যা মানুষের স্বভাবকে কুপ্রবৃত্তির দিকে উত্তেজিত করে না। একারণেই তারা এটি মদিনার মসজিদে করতেন; আর এর কোনো কিছুতেই গজল, নারীদের প্রতি প্রেম নিবেদন, তাদের সৌন্দর্যের বর্ণনা কিংবা মদ বা এই জাতীয় কোনো কিছুর বর্ণনা ছিল না যা আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন।

ইবনে জুরাইজ বলেন, আমি আতা-কে কবিতার সুরে গাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না যতক্ষণ না তা অশ্লীল হয়।" এটি আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করে এবং উরওয়াহ বিন আল-যুবায়ের ও অন্যান্য তাবেয়ি (التابعين) থেকে যে শিথিলতার কথা বর্ণিত হয়েছে, তাকে এই অর্থেই গ্রহণ করা হবে।

ইসহাক বিন মনসুর বলেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে বললাম, আপনি কবিতার কোন বিষয়টিকে অপছন্দ করেন? তিনি বললেন: "নিন্দা বা ব্যঙ্গাত্মক কবিতা এবং সেই কোমল কবিতা যা নারীদের প্রতি প্রেম নিবেদন করে। আর জাহেলি কথা তো কতই না উপকারী।" আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিছু কবিতার মধ্যে হিকমত (প্রজ্ঞা) রয়েছে" (৩)।

ইসহাক বিন রাহওয়াইও তদ্রূপ বলেছেন। নবী (সা.) হাসসান ও অন্যদের কবিতা শুনতেন (৪)। তিনি উমাইয়াহ বিন আবি আল-সালতের কবিতা আবৃত্তি করতে বলতেন (৫)। অতএব, কেউ যদি এসব থেকে নিন্দনীয় গানের বৈধতার দলিল গ্রহণ করে, তবে সে ভুল করেছে।

বিপুল সংখ্যক তাবেয়ি (التابعين) এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের থেকে গান নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। এমনকি আশ-শা'বি বলেছেন: "গায়ক এবং যার উদ্দেশ্যে গান গাওয়া হয়, উভয়ের ওপর লানত বর্ষিত হোক।"

--------------------------------------------

(১) বায়হাকির "আস-সুনান আল-কুবরা" গ্রন্থে (৫/ ৬৮ - ৬৯)।

(২) "আস-সুনান আল-কুবরা" গ্রন্থে (১০/ ২২৪ - ২২৫)।

(৩) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (৬১৪৫)।

(৪) বুখারি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিস (৬১৫৩) এবং মুসলিম শারীদ আস-সাক্বাফী থেকে বর্ণিত হাদিস (২২৫৫) থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(٥) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (৬১৪৭)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫৮)
وكان أمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز رحمه الله وهو من أعلام عُلماء التابعين، وأحد الخلفاء الراشدين المهديين -يبالغ في إنكار الغناء والملاهي، ويذكر أنها بدعة في الإسلام. وكفى بأمير المؤمنين قدوة، وقد كان من هو أسن منه من التابعين يقتدون به في الدين، حتى سُئل ابن سيرين عن بعض الأشربة، فَقَالَ: نهى عنه عمر بن عبد العزيز، وهو إمام هدى.

وروى ابن أبي الدُّنْيَا بإسناد له، أن عمر بن عبد العزيز كتب إِلَى مؤدب ولده: ليكن أول ما يعتقدون من أدبك بغض الملاهي، التي بدؤهَا من الشيطان، وعاقبتها سخط الرحمن جل جلاله، فإنه بلغني عن الثقات من حملة العِلْم أن حضور المعازف، واستماع الأغاني واللهج بها ينبت النفاق في القلب كما يُنبت النبتَ الماءُ. وقد حكى زكريا بن يحيى الساجي -في كتابه اختلاف العُلَمَاء- اتفاق العُلَمَاء عَلَى النهي عن الغناء، إلا إبراهيم بن سعد المدني وعبيد الله بن الحسن العنبري قاضي البصرة. وهذا في الغناء دون سماع آلات الملاهي، فإنه لا يعرف عن أحد ممن سلف الرخصة فيها. إِنَّمَا يعرف ذلك عن بعض المتأخرين من الظاهرية والصوفية، ممن لا يعتد به.

ومن حكى شيئًا من ذلك عن مالك فقد أبطل، إلا أن مالكًا يرى أن الدف والكَبَر (1) أخف من غيرهما من الملاهي، فلا يرجع لأجلهما من دُعي إِلَى وليمة فرأى فيها شيئًا من ذلك، وقد قال الإمام أحمد: حدثنا إسحاق بن عيسى الطباع قال: سألت مالك بن أنس عما يترخص فيه أهل المدينة من الغناء، فَقَالَ: إِنَّمَا يفعله عندنا الفساق، وكذا قال إبراهيم بن المنذر الحزامي، وهو من علماء أهل المدينة.

فتبين بهذا موافقة علماء أهل المدينة المعتبرين لعلماء سائر الأمصار في النهي عن الغناء وذمه، ومنهم القاسم بن محمد وغيره، كما هو قول علماء أهل مكة كمجاهد وعطاء، وعلماء أهل الشام كمكحول والأوزاعي، وعلماء أهل مصر كالليث بن سعد، وعلماء أهل الكوفة كالثوري وأبي حنيفة، ومن قبلهما كالشعبي والنخعي وحماد، ومن قبلهم من التابعين أصحاب ابن

--------------------------------------------

(1) الكَبَر: الطبل ذو الرأسين وقيل: الطبل الَّذِي له وجه واحد، "النهاية" (4/ 143).
আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)—যিনি তাবেয়ীদের বরেণ্য আলেমদের অন্যতম এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের একজন ছিলেন—তিনি গান ও বাদ্যযন্ত্রের কঠোর নিন্দা করতেন এবং উল্লেখ করতেন যে এটি ইসলামে একটি বিদআত। আমিরুল মুমিনীনই অনুসরণের জন্য আদর্শ হিসেবে যথেষ্ট। এমনকি তাঁর চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ তাবেয়ীগণও দ্বীনি বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করতেন। যেমন, ইবনে সিরীনকে কোনো পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: "উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এটি নিষেধ করেছেন, আর তিনি হলেন হেদায়েতের ইমাম (إمام هدى)।"

ইবনে আবিদ দুনইয়া তাঁর একটি বর্ণনা-পরম্পরা (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁর সন্তানের শিক্ষকের কাছে লিখেছিলেন: "আপনার শিক্ষা ও শিষ্টাচারের মাধ্যমে তারা যেন সর্বপ্রথম এই বিশ্বাস গ্রহণ করে যে বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে হবে; যার শুরু শয়তানের পক্ষ থেকে এবং পরিণতি দয়াময় মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি। কারণ ইলম বহনকারী নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিদের থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, বাদ্যযন্ত্রের মজলিসে উপস্থিত হওয়া, গান শোনা এবং তাতে মগ্ন হওয়া অন্তরে নিফাক উৎপন্ন করে, যেমন পানি উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।" যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি তাঁর কিতাব ‘ইখতিলাফুল উলামা’-তে গান নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন; কেবল ইব্রাহিম ইবনে সা’দ আল-মাদানি এবং বসরার বিচারক উবায়দুল্লাহ ইবনে হাসান আল-আনবারি ব্যতীত। আর এই মতভেদ কেবল গানের ক্ষেত্রে, বাদ্যযন্ত্র শোনার ক্ষেত্রে নয়। কেননা পূর্বসূরিদের (سلف) কারো থেকেই বাদ্যযন্ত্রের অনুমতি সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। এটি কেবল পরবর্তী যুগের (متأخرين) কিছু যাহেরী ও সূফীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাদের মতামতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই (لا يعتد به)।

ইমাম মালেক সম্পর্কে যে ব্যক্তি এ জাতীয় কিছু বর্ণনা করে, সে মূলত বাতিল বা মিথ্যা কথা বলে। তবে ইমাম মালেক মনে করতেন যে, দফ (دف) এবং কাবার (الكبر) অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের তুলনায় কিছুটা হালকা। তাই কোনো দাওয়াতে গিয়ে যদি কেউ এর কোনোটি দেখতে পায়, তবে সে কারণে সে ফিরে আসবে না। ইমাম আহমাদ বলেছেন: ইসহাক ইবনে ঈসা আত-তাব্বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালেক ইবনে আনাসকে মদিনাবাসীদের গানের ক্ষেত্রে শিথিলতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমাদের এখানে কেবল পাপাচারী (فساق) ব্যক্তিরাই এটি করে থাকে।" অনুরূপ কথা ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির আল-হিযামীও বলেছেন, যিনি মদিনার আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এর মাধ্যমে অন্যান্য ভূখণ্ডের আলেমদের ন্যায় মদিনার গ্রহণযোগ্য (معتبرين) আলেমদের গান নিষিদ্ধ হওয়া এবং এর নিন্দার ব্যাপারে ঐকমত্য স্পষ্ট হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ও অন্যান্যরা। অনুরূপভাবে এটি মক্কাবাসী আলেম যেমন মুজাহিদ ও আতা; সিরিয়াবাসী আলেম যেমন মাকহুল ও আওযায়ী; মিসরীয় আলেম যেমন লাইস ইবনে সাদ; এবং কুফাবাসী আলেম যেমন সুফিয়ান সাওরী ও আবু হানিফা এবং তাঁদের পূর্ববর্তী শাবী, নাখায়ী ও হাম্মাদের বক্তব্য। আর তাঁদেরও আগে তাবেয়ীদের মধ্যে যাঁরা ইবনে...

--------------------------------------------

(১) আল-কাবার (الكبر): দুই মুখ বিশিষ্ট ঢোল। বলা হয়েছে: এটি এক মুখ বিশিষ্ট ঢোল, "আন-নিহায়া" (৪/১৪৩)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৫৯)
مسعود، وقول الحسن وعلماء أهل البصرة، وهو قول فقهاء أهل الحديث كالشافعي وأحمد إسحاق وأبي عبيد وغيرهم.

وكان الأوزاعي يعد قول من رخص في الغناء من أهل المدينة من زلات العُلَمَاء التي يُؤمر باجتنابها، ويُنهى عن الاقتداء بها. وقد صنف القاضي أبو الطيب الطبري الشافعي رحمه الله مصنفًا في ذم السماع، وافتتحه بأقوال العُلَمَاء في ذمه، وبدأ بقول الشافعي رحمه الله: هو لهوٌ مكروه، يشبه الباطل. وقوله: من استكثر منه فهو سفيه تُرد شهادته. قال أبو الطيب: وأما سماعه من المرأة التي ليست بمحرم له، فإن أصحاب الشافعي قالوا: لا يجوزُ بحالٍ سواء كانت مكشوفة، أو من وراء حجاب، وسواء كانت حُرة أو مملوكة.

قال الشافعي: وصاحب الجارية إذا جمع الناس لسماعها، فهو سفه تُرد شهادته، ثم غلظ القول فيه وقال: هو دياثة.

ثم ذكر بعد ذلك قول فقهاء الأمصار، ثم قال: فقد أجمع علماء الأمصار عَلَى كراهته والمنع منه. قال: وإنما فارق الجماعة هذان الرجلان: إبراهيم بن سعد وعبيد الله العنبري. وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "عليكم بالسواد الأعظم" (1). وقال: "من فارق الجماعة مات ميتة جاهلية" (2)، فالمصير إِلَى قول الجماعة أولى. وهذا الخلاف الَّذِي ذكرهُ في سماع الغناء المجرد.

فأما سماع آلات اللهو فلم يحك في تحريمه خلافًا وقال: إِنَّ استباحتها فسق. قال: وإنما يكون الشعر غناء إذا لُحن وصيغ صيغة تورث الطرب، وتزعج القلب، وتثير الشهوة الطبيعية، فأما الشعر من غير تلحين فهو كلام، كما قال الشافعي: الشعر كلام حسنه كحسنه، وقبيحه كقبيحه. انتهى. وقد أفتى قاضي القضاة أبو بكر محمد بن المظفر الشامي الشافعي -وكان أحد العُلَمَاء الصالحين الزهاد، الحاكمين بالعدل وكان يقال عنه: لو رفع مذهب

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (4/ 383) من حديث عبد الله بن أبي أوفى، وابن ماجه (3950) من حديث أنس، قال في "الزوائد": في إسناده أبو خلف الأعمى، واسمه حازم بن عطاء، وهو ضعيف، وقد جاء الحديث بطرق في كلها نظر. قاله شيخا العراقي في تخريج أحاديث البيضاوي.

(2) أخرجه البخاري (7054)، ومسلم (1847 - 1851).
...মাসউদ, এবং হাসান ও বসরার আলেমগণের অভিমত; আর এটিই শাফিঈ, আহমাদ, ইসহাক, আবু উবাইদ এবং অন্যদের ন্যায় হাদিস বিশারদ ফকিহগণের (فقهاء أهل الحديث) অভিমত।

আওযাঈ মদিনার ঐসব লোকদের বক্তব্যকে—যারা গান-বাজনার অনুমতি দিয়েছেন—আলেমদের সেই সকল পদস্খলন হিসেবে গণ্য করতেন, যা পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যা অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কাজি আবু তাইয়িব তাবারী শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) গান শোনার নিন্দায় একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং আলেমগণের নিন্দামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে এটি শুরু করেছেন। তিনি শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য দিয়ে সূচনা করেছেন: "এটি একটি অপছন্দনীয় (مكروه) খেল-তামাশা, যা বাতিলের সদৃশ।" এবং তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি এতে অধিক মগ্ন থাকে, সে নির্বোধ এবং তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" আবু তাইয়িব বলেন: "আর গাইরে-মাহরাম মহিলার কাছ থেকে গান শোনার ব্যাপারে শাফিঈর অনুসারীগণ বলেছেন: এটি কোনো অবস্থাতেই জায়েয নয়, চাই সে পর্দার অন্তরালে থাকুক কিংবা সম্মুখে থাকুক এবং চাই সে স্বাধীন হোক কিংবা দাসী হোক।"

শাফিঈ বলেছেন: "আর দাসীর মালিক যদি তার গান শোনার জন্য মানুষকে একত্রিত করে, তবে এটি নির্বুদ্ধিতা এবং তার সাক্ষ্য বর্জনীয়।" অতঃপর তিনি এ বিষয়ে কঠোর শব্দ প্রয়োগ করে বলেছেন: "এটি দাইয়ূসিপনা (دياثة)।"

এরপর তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহগণের বক্তব্য উল্লেখ করেন এবং বলেন: "বিভিন্ন শহরের আলেমগণ এটি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার ব্যাপারে এবং এটি থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন।" তিনি বলেন: "কেবল ইব্রাহিম ইবনে সা’দ এবং উবাইদুল্লাহ আল-আনবারি—এই দুইজন ব্যক্তি জামাআত থেকে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'তোমরা বৃহত্তম দলের (السواد الأعظم) সাথে থাকো' (১)। এবং তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল' (২), সুতরাং জামাআতের মতের দিকে ফিরে আসাই অধিক শ্রেয়। আর এই মতভেদের বিষয়টি যা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা ছিল কেবল বাদ্যযন্ত্রহীন সাধারণ গান শোনার ক্ষেত্রে।"

কিন্তু বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারের ব্যাপারে তিনি কোনো মতভেদ উল্লেখ করেননি এবং বলেছেন: "বাদ্যযন্ত্রকে বৈধ মনে করা পাপাচার (فسق)।" তিনি বলেন: "কবিতা তখনই গানে পরিণত হয় যখন তাতে সুরারোপ করা হয় এবং এমনভাবে বিন্যাস করা হয় যা মনে আনন্দ দেয়, হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং প্রবৃত্তি জাগ্রত করে। তবে সুর ছাড়া কবিতা কেবল সাধারণ কথা, যেমনটি শাফিঈ বলেছেন: 'কবিতা একটি কথা, এর ভালো দিকটি ভালো এবং মন্দ দিকটি মন্দ'।" সমাপ্ত। আর প্রধান বিচারপতি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল মোজাফফর শামী শাফিঈ ফতোয়া দিয়েছেন—যিনি ছিলেন নেককার ও জাহিদ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং ন্যায়বিচারক শাসক, তাঁর সম্পর্কে বলা হতো: যদি মাযহাব বিলুপ্ত হয়ে যেত...

--------------------------------------------

(১) এটি আহমাদ (৪/৩৮৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আউফা বর্ণিত হাদিস থেকে এবং ইবনে মাজাহ (৩৯৫০) আনাস বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। 'যাওয়ায়েদ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর সনদে (إسناد) আবু খালাফ আল-আ’মা রয়েছেন, যাঁর নাম হাযেম ইবনে আতা, আর তিনি দুর্বল (ضعيف)। হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার প্রত্যেকটিতেই ত্রুটি রয়েছে। ইরাকির দুই শিক্ষক বাইদাবীর হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করতে গিয়ে এই কথা বলেছেন।

(২) এটি বুখারি (৭০৫৪) এবং মুসলিম (১৮৪৭ - ১৮৫১) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬০)
الشافعي من الأرض لأملاه من صدره- بتحريم الغناء، وهذه صورة فتياه بحروفها. قال: لا يجوز الضرب بالقضيب ولا الغناء ولا سماعه، ومن أضاف هذا إِلَى الشافعي فقد كذب عليه. وقد نص الشافعي في كتاب "أدب القضاء": أن الرجل إذا داوم عَلَى سماع الغناء ردت شهادته، وبطلت عدالته. وقال الله تعالى: {أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ * وَتَضْحَكُونَ وَلا تَبْكُونَ * وَأَنْتُمْ سَامِدُونَ} (1) قال ابن عباس: معناه تُغنون بلغة حمير. وقال الله عز وجل: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ} (2) جاء في التفسير: أنه الغناء والاستماع إِلَيْهِ. وروي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إِنَّ الله كره صوتين أحمقين فاجرين: صوتٌ عند نعمة، وصوتٌ عند مصيبة". يريد بذلك الغناء والنوح. وقال ابن مسعود: الغناء خطبة الزنا. وقال مكحول: الغناء ينبت النفاق في القلب كما ينبت السيل البقل، والله أعلم.

هذا جواب محمد بن المظفر الشامي الشافعي، ثم كتب بعده موافقة له عَلَى فتياه جماعة من أعيان فقهاء بغداد، من الشافعية والحنفية والحنبلية في ذلك الزمان، وهو عصر الأربعمائة، وهذا يخالف قول كثير من الشافعية في حمل كلام الشافعي عَلَى كراهة التنزيه.

والمعنى المقتضى لتحريم الغناء: أن النفوس مجبولة عَلَى حُب الشهوات، كما قال تعالى: {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ … } (3) الآية، فجعل النساء أول الشهوات المزينة.

والغناء المشتمل عَلَى وصف ما جبلت النفوس عَلَى حُبه، والشغف به من الصُّور الجميلة يُثير ما كمن في النفوس من تلك المحبة، ويُشوق إليها، ويُحرك الطبع ويزعجه، ويخرجه عن الاعتدال، ويؤزه إِلَى المعاصي أزًّا.

--------------------------------------------

(1) النجم: 59 - 61.

(2) لقمان: 6.

(3) آل عمران: 14.
ইমাম শাফেয়ী গান হারাম হওয়ার বিষয়ে যা তাঁর হৃদয় থেকে বর্ণনা করেছেন—এটিই তাঁর ফতোয়ার হুবহু পাঠ। তিনি বলেন: লাঠি দিয়ে আঘাত করা (তালি বা বাদ্যের ন্যায়), গান গাওয়া কিংবা তা শ্রবণ করা বৈধ নয়; যে ব্যক্তি ইমাম শাফেয়ীর প্রতি এর বিপরীত কিছু আরোপ করবে, সে তাঁর ওপর মিথ্যাচার করল। ইমাম শাফেয়ী তাঁর ‘আদাবুল কাযা’ গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে: কোনো ব্যক্তি যদি নিয়মিত গান শোনে, তবে তার সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং তার ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) বাতিল হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা কি এই বিষয়ে (কুরআনের বাণীতে) বিস্ময় বোধ করছ? এবং হাসছ, অথচ কাঁদছ না? আর তোমরা গান গেয়ে আমোদ-প্রমোদ করছ} (১) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: হিময়ারি ভাষায় এর অর্থ হলো—তোমরা গান গাইছ। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে যে অবান্তর কথা ক্রয় করে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে অজ্ঞতাবশত বিভ্রান্ত করার জন্য} (২) তাফসিরে এসেছে যে: এটি হলো গান এবং তা শ্রবণ করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ দুটি নির্বোধ ও পাপাচারী শব্দ অপছন্দ করেন: নেয়ামতের সময়কার আনন্দধ্বনি এবং বিপদের সময়কার বিলাপধ্বনি।” এর দ্বারা তিনি গান ও বিলাপ করাকে বুঝিয়েছেন। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: গান হলো ব্যভিচারের প্ররোচনা। মাকহুল বলেন: গান হৃদয়ে মুনাফিকি (نفاق) উৎপন্ন করে যেমনভাবে পানি বা বৃষ্টি ঘাস উৎপন্ন করে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এটি মুহাম্মদ বিন মুজাফফর আশ-শামী আশ-শাফেয়ীর উত্তর, অতঃপর সেই সময়ের—অর্থাৎ চারশ হিজরি শতকের—বাগদাদের প্রখ্যাত শাফেয়ী, হানাফী এবং হাম্বলী ফকীহদের একটি জামাত তাঁর এই ফতোয়ার সাথে একমত পোষণ করে সই করেছেন। আর এটি ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্যকে তানযিহি অপছন্দনীয় (كراهة التنزيه) অর্থে গ্রহণকারী অনেক শাফেয়ী আলিমের মতের পরিপন্থী।

গান হারাম হওয়ার আবশ্যিক তাৎপর্য হলো: আত্মা স্বভাবগতভাবেই প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার প্রতি আসক্ত, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: {মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে নারীপ্রীতির আসক্তি...} (৩) আয়াত; এখানে নারীদেরকে সুশোভিত প্রবৃত্তির তালিকার প্রথমে রাখা হয়েছে।

আর গান যেহেতু এমন সব বিষয়ের বর্ণনায় ভরপুর থাকে যার প্রতি মানুষের মন স্বভাবতই অনুরাগী হয় এবং সুন্দর আকৃতির প্রতি আসক্তি তৈরি করে, সেহেতু তা আত্মার গভীরে সুপ্ত থাকা সেই অনুরাগকে জাগ্রত করে ও তার প্রতি লালায়িত করে। এটি মানুষের স্বভাবকে উত্তেজিত ও অস্থির করে তোলে, তাকে ভারসাম্যহীন করে ফেলে এবং পাপের দিকে চূড়ান্তভাবে প্ররোচিত করে।

--------------------------------------------

(1) আন-নাজম: ৫৯ - ৬১।

(2) লোকমান: ৬।

(3) আল ইমরান: ১৪।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬১)
ولهذا قيل: إنه رقية الزنا. وقد افتتن بسماع الغناء خلق كثير فأخرجهم استماعه إِلَى العشق، وفتنوا في دينهم. فلو لم يرد نصٌّ صريحٌ في تحريم الغناء بالشعر الَّذِي توصف فيه الصور الجميلة لكان محرمًا بالقياس عَلَى النظر إِلَى الصور الجميله، التي يحرم النظر إليها بالشهوة بالكتاب والسنة وإجماع من يُعتد به من علماء الأمة.

فإن الفتنة كما تحصل بالنظر والمشاهدة، فكذلك تحصل بسماع الأوصاف، واجتلائها من الشعر الموزون المحرك للشهوات، ولهذا "نهى النبي صلى الله عليه وسلم أن تصف المرأةُ المرأةَ لزوجها، كأنّه ينظر إليها" (1)؛ لما يخشى من ذلك من الفتنة، وقد جعل النبي صلى الله عليه وسلم زنا العينين النظر، وزنا الأذنين الاستماع (2).

وقال أبو هريرة رضي الله عنه: ثلاث فاتنات مُفتنات يُكببن في النار: رجلٌ ذو صورة حسنة، فاتن مفتون به يُكب في النار، ورجلٌ ذو شعر حسن، فاتن مفتون به يُكب في النار، ورجلٌ ذو صوت حسن، فاتن مفتون به يُكب في النار. خرجه حميد بن زنجويه في كتاب الأدب.

 

‌‌القسم الثاني:

أن يقع استماع الغناء بآلات اللهو، أو بدونها عَلَى وجه التقرب إِلَى الله عز وجل وتحريك القلوب إِلَى محبته، والأنس به والشوق إِلَى لقائه؛ وهذا هو الَّذِي يدعيه كثير من أهل السلوك ومن يتشبه بهم ممن ليس منهم، وإنما يتستر بهم، ويتوصل بذلك إِلَى بُلوغ غرض نفسه، من نيل لذته، فهذا المتشبه بهم، ومخادع مُلبِّسٌ.

وفسادُ حاله أشهر من أن يخفى عَلَى أحدٍ. وأما الصادقون في دعواهم ذلك -وقليلٌ ما هم- فنهم ملبوس عليهم، حيث تقربُوا إِلَى الله عز وجل بما لم يشرعه الله تعالى، واتخذوا دينًا لم يأذن الله فيه.

فلهم نصيبٌ ممن قال الله تعالى فيه: {وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (5240).

(2) أخرجه البخاري (6243)، ومسلم (2657).
এজন্যই বলা হয়েছে: এটি ব্যভিচারের মন্ত্র। গান শ্রবণের মাধ্যমে অসংখ্য সৃষ্টি ফেতনায় পতিত হয়েছে, যা তাদেরকে আসক্তির (ইশক) দিকে ধাবিত করেছে এবং তারা তাদের দ্বীনের বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে। যদি রূপ-সৌন্দর্যের বর্ণনা সম্বলিত কবিতার মাধ্যমে গান গাওয়ার নিষিদ্ধতা সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট দলিল (نص) না-ও থাকত, তবুও তা সুন্দর অবয়বের দিকে তাকানোর ওপর করা অনুমানলব্ধ তুলনার (قياس) ভিত্তিতে হারাম সাব্যস্ত হতো। কেননা কিতাব (الكتاب), সুন্নাহ (سنة) এবং উম্মতের নির্ভরযোগ্য আলিমগণের সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) অনুযায়ী কুপ্রবৃত্তির সাথে সুন্দর রূপের দিকে তাকানো হারাম।

কেননা দৃষ্টিপাত ও সচক্ষে দেখার মাধ্যমে যেভাবে ফেতনা সৃষ্টি হয়, একইভাবে রূপের বর্ণনা শ্রবণ এবং কুপ্রবৃত্তি জাগিয়ে তোলে এমন ছন্দময় কবিতার মাধ্যমে তা অন্তরে গেঁথে নেওয়ার ফলেও ফেতনা সৃষ্টি হয়। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো নারী কর্তৃক অন্য নারীর রূপের বর্ণনা তার স্বামীর নিকট দিতে নিষেধ করেছেন, যেন স্বামী তাকে সচক্ষে দেখছে বলে মনে না হয়; কারণ এতে ফেতনার আশঙ্কা থাকে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোখের ব্যভিচারকে দৃষ্টিপাত এবং কানের ব্যভিচারকে শ্রবণ সাব্যস্ত করেছেন।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তিনটি ফেতনাকারী বিষয় মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে: সুন্দর অবয়বের অধিকারী ব্যক্তি, যে নিজেও ফেতনায় পড়ে এবং অন্যকেও ফেতনায় ফেলে, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে; সুন্দর চুলের অধিকারী ব্যক্তি, যে নিজেও ফেতনায় পড়ে এবং অন্যকেও ফেতনায় ফেলে, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে; এবং সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তি, যে নিজেও ফেতনায় পড়ে এবং অন্যকেও ফেতনায় ফেলে, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এটি হুমাইদ বিন জানজুয়াহ তার কিতাবুল আদব-এ বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার:

বাদ্যযন্ত্রসহ বা বাদ্যযন্ত্র ব্যতিরেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এবং তাঁর প্রতি হৃদয়ে ভালোবাসা, গভীর মমত্ব ও তাঁর সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে গান শ্রবণ করা। আধ্যাত্মিক পথের (আহলুস সুলুক) অনেক অনুসারী এবং তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণকারী এমন অনেকে এই দাবি করে যারা মূলত তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তারা তাদের ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এর মাধ্যমে আত্মিক স্বাদ আস্বাদনসহ নিজেদের হীন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। সুতরাং এই সাদৃশ্য গ্রহণকারী ব্যক্তি একজন প্রতারক ও সংশয় সৃষ্টিকারী (ملبس)।

তার অবস্থার ভ্রষ্টতা এতই প্রকাশ্য যে তা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। আর যারা তাদের এই দাবিতে সত্যবাদী —যাদের সংখ্যা অতি নগণ্য— তারাও বিভ্রান্তিতে বা সংশয়ে (ملبوس عليهم) নিপতিত; কারণ তারা আল্লাহর নৈকট্য এমন কিছুর মাধ্যমে তালাশ করেছে যা আল্লাহ শরীয়তসম্মত করেননি এবং তারা এমন দ্বীন গ্রহণ করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি।

আল্লাহ তাআলা যাদের সম্পর্কে বলেছেন তাদের বৈশিষ্ট্যের একটি অংশ এদের মাঝেও রয়েছে: "আর কা'বা ঘরের নিকট তাদের সালাত (প্রার্থনা) ছিল কেবল..."

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি বুখারি (৫২৪০) বর্ণনা করেছেন।

(২) হাদিসটি বুখারি (৬২৪৩) ও মুসলিম (২৬৫৭) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬২)
مُكَاءً وَتَصْدِيَةً} (1) والمكاء: الصفير، والتصدية: التصفيق باليد. كذلك قال غير واحد من السَّلف. وقال تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ} (2) فإنه إِنَّمَا يتقرب إِلَى الله عز وجل بما يُشرع التقربُ به إِلَيْهِ عَلَى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم. فأما ما نهي عنه، فالتقرب به إِلَيْهِ مُضادةٌ لله عز وجل في أمره، قال القاضي أبو الطيب الطبري رحمه الله في كتابه في السماع: اعتقاد هذه الطائفة مخالفٌ لإجماع المسلمين؛ فإنه ليس فيهم من جعل السماع دينًا وطاعة، ولا رأى إعلانه في المساجد والجوامع، وحيث كان من البقاع الشريفة، والمشاهد الكريمة.

وكان مذهب هذه الطائفة مخالفًا لما اجتمعت عليه العُلَمَاء، ونعوذ بالله من سوء التوفيق. انتهى ما ذكره.

ولا ريب أن التقرب إِلَى الله تعالى بسماع الغناء المُلحن، لا سيما مع آلات اللهو مما يعلم بالضرورة من دين الإسلام، بل ومن سائر شرائع المرسلين أنه ليس مما يُتقرب به إِلَى الله، ولا مما تُزكى به النفس وتُطهر به فإن الله - تعالى- شرع عَلَى ألسنة الرسل كل ما تزكو به النفوس وتطهر من أدناسها وأوضارها.

ولم يشرع عَلَى لسان أحد من الرسل في ملة من الملل شيئًا من ذلك.

وإنما يأمر بتزكية النفوس بذلك من لا يتقيد بمتابعة الرسل من أتباع الفلاسفة، كما يأمرون بعشق الصور، وذلك كله مما تحيا به النفوس الأمارة بالسوء، لما لها فيه من الحظ. ويقوى به الهوى، وتموت به القلوب المتصلة بعلام الغيوب، وتبعد به عنه.

فغلط هؤلاء واشتبه عليهم حظوظ النفوس وشهواتها بأقوات القلوب الطاهرة، والأرواح الزكية المعلقة بالمحل الأعلى، واشتبه الأمر في ذلك أيضًا عَلَى طوائف من المسلمين ممن ينتسب إِلَى السلوك، ولكن هذا مما حدث في الإسلام بعد انقراض القُرون الفاضلة، وكان قد حدث قبل ذلك

--------------------------------------------

(1) الأنفال: 35.

(2) الشورى: 21.
{শিস দেওয়া এবং তালি বাজানো} (১) আর 'মুকা' (مُكَاء) হলো শিস দেওয়া এবং 'তাসদিয়া' (تَصْدِيَة) হলো হাত দিয়ে তালি বাজানো। পূর্বসূরিদের (السلف) মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এমনই বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি তাদের এমন কিছু শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} (২) কেননা আল্লাহর নৈকট্য কেবল সেই পন্থায় অর্জন করা সম্ভব যা তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যবানে তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে শরীয়তসম্মত করা হয়েছে। আর যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, তার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা হলো তাঁর আদেশের বিরোধিতা করা। কাজী আবু তায়্যিব আত-তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) 'সামা' (গান-বাদ্য) বিষয়ক তাঁর গ্রন্থে বলেন: এই সম্প্রদায়ের বিশ্বাস মুসলিমদের ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী; কেননা মুসলিমদের মধ্যে এমন কেউ নেই যারা 'সামা'-কে দ্বীন ও আনুগত্যের কাজ হিসেবে গণ্য করেছেন, কিংবা এটি মসজিদ ও জামে মসজিদ এবং অন্যান্য পবিত্র স্থান ও সম্মানিত স্মৃতিবিজড়িত স্থানে প্রকাশ্যে পালন করার কথা বলেছেন।

এই সম্প্রদায়ের মাযহাব বা মতাদর্শ আলেমদের ঐকমত্যের (اجتمعت) পরিপন্থী ছিল, এবং আমরা আল্লাহর কাছে সঠিক পথে চলার তাওফিক থেকে বঞ্চিত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুরযুক্ত গান শ্রবণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা, বিশেষ করে বাদ্যযন্ত্রের সাথে, তা ইসলামের দ্বীনের জরুরি ও স্বতঃসিদ্ধ (بالضرورة) বিষয়সমূহ থেকে জানা যায় যে এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের কোনো মাধ্যম নয়; বরং এটি সকল রাসুলের শরীয়ত থেকেই স্পষ্ট যে, এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের কোনো পথ নয় এবং এর দ্বারা আত্মা পরিশুদ্ধ বা পবিত্র হয় না। কেননা আল্লাহ তাআলা রাসুলদের যবানে এমন সব বিধান প্রবর্তন করেছেন যার মাধ্যমে আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং তার কলুষতা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হয়।

কোনো ধর্মের কোনো রাসুলের যবানেই এই জাতীয় কোনো কিছুর বিধান দেওয়া হয়নি।

বরং এর মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির আদেশ কেবল তারাই দেয় যারা রাসুলদের অনুসরণের অনুশাসন মানে না, যেমন দার্শনিকদের অনুসারীরা; তারা যেমন সুন্দর অবয়বের মোহে আসক্ত হওয়ার আদেশ দেয়। আর এ সবই হলো এমন বিষয় যার মাধ্যমে মন্দপ্রবণ আত্মা (النفس الأمارة بالسوء) সজীব হয়, কারণ এতে তার নফসের স্বাদ রয়েছে। এর ফলে প্রবৃত্তি শক্তিশালী হয় এবং অদৃশ্য বিষয়সমূহের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত অন্তরসমূহ মৃত হয়ে যায় এবং তাঁর থেকে দূরে সরে যায়।

ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়েছে এবং তাদের নিকট নফসের স্বাদ ও কামনা-বাসনার সাথে পবিত্র হৃদয়ের খাদ্য এবং ঊর্ধ্ব জগতের সাথে সংশ্লিষ্ট পবিত্র আত্মাসমূহের খাদ্যের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি মুসলিমদের এমন কিছু দলের মাঝেও অস্পষ্ট থেকে গেছে যারা নিজেদের আধ্যাত্মিক পথের (السلوك) অনুসারী বলে দাবি করে। তবে এটি ইসলামের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ যুগগুলোর (القُرون الفاضلة) অবসানের পরই উদ্ভাবিত হয়েছে, যদিও এর কিছু আলামত আগে থেকেই ছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-আনফাল: ৩৫।

(২) আশ-শূরা: ২১।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬৩)
حدثان:

أحدهما: قراءة القرآن بالألحان، بأصوات الغناء وأوزانه وإيقاعاته؛ عَلَى طريقة أصحاب الموسيقى، فرخّص فيه بعض المتقدمين إذا قصد الاستعانة عَلَى إيصال معاني القرآن إِلَى القلوب؛ للتحزين والتشويق، والتخويف والترقيق.

وأنكر ذلك أكثر العُلَمَاء. ومنهم من حكاه إجماعًا ولم يثبت فيه نزاعًا، منهم أبو عُبيد وغيره من الأئمة.

وفي الحقيقة هذه الألحان المبتدعة المطربة، تهيج الطباع. وتُلهي عن تدبُّر ما يحصل له من الاستماع، حتى يصير الالتذاذ بمجرد سماع النغمات الموزونة والأصوات المطربة، وذلك يمنع المقصود من تدبر معاني القرآن، وإنما وردت السنة بتحسين الصوت بالقرآن، لا بقراءة الألحان، وبينهما بون بعيد. وقد بسطنا القول في ذلك في كتاب "بيان الاستغناء بالقرآن في تحصيل العِلْم والإيمان".

والحدث الثاني:

سماع القصائد الرقيقة، المتضمنة للزهد والتخويف والتشويق، فكان كثيرًا من أهل السُّلوك والعبادة يستمعون ذلك، وربما أنشدوها بنوع من الألحان؛ استجلابًا لترقيق القلوب بها، ثم صار منهم من يضرب مع إنشادها، عَلَى جلد ونحوه بقضيب ونحوه، وكان يسمون ذلك، التغبير (1) وقد كرهه أكثر العُلَمَاء قال يزيد بن هارون: ما يُغبر إلا فاسق. ومتى كان التغبير؟

وصح عن الشافعي من رواية الحسن بن عبد العزيز الجروي ويونس بن عبد الأعلى أنه قال: تركتُ بالعراق شيئًا يسمونه التغبير، وضعته الزنادقة، يصدون به الناس عن القرآن. وكرهه الإمام أحمد، وقال: هو بدعة ومحدث. قِيلَ لَهُ: إنه (يرقق) (*) القلب! قال: بدعة.

--------------------------------------------

(1) يغبرون: أي يهللون، ويرددون الصوت بالقراءة وغيرها، سمُّوا بها؛ لأنهم يرغبون الناس في الغابرة: أي الباقية. "ترتيب القاموس" (مادة: غبر).

(*) في نسخة: "يرق".
দুটি নবউদ্ভাবিত বিষয় (حدثان):

প্রথমটি হলো: সুর (ألحان) দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা, যা সংগীতের সুর, ছন্দ ও তালের অনুরূপ; সংগীতজ্ঞদের অনুসৃত পদ্ধতিতে। পূর্বসূরিদের কেউ কেউ এর অনুমতি দিয়েছেন যখন উদ্দেশ্য হয় কুরআনের অর্থসমূহ হৃদয়ে পৌঁছাতে সহায়তা করা; যেমন বিষণ্ণতা ও আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করা এবং ভয় ও কোমলতা সঞ্চার করা।

অধিকাংশ আলেম (علماء) একে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন এবং এতে কোনো মতবিরোধের অস্তিত্ব স্বীকার করেননি; তাঁদের মাঝে আবু উবাইদ ও অন্যান্য ইমামগণ রয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে, এই উদ্ভাবিত ও আনন্দদায়ক সুরগুলো (ألحان) মানুষের প্রবৃত্তি বা স্বভাবকে উত্তেজিত করে এবং তিলাওয়াত শোনার মাধ্যমে যে অনুধাবন অর্জিত হওয়ার কথা, তা থেকে বিমুখ করে দেয়। এমনকি অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তখন নিছক ছন্দোবদ্ধ সুর ও আনন্দদায়ক আওয়াজ শুনেই মানুষ তৃপ্তি পেতে থাকে। এটি কুরআনের অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার যে মূল উদ্দেশ্য, তাতে বাধা প্রদান করে। অথচ সুন্নাহ এসেছে সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করার ব্যাপারে, সুর (ألحان) দিয়ে পড়ার জন্য নয়; আর এ দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আমাদের "বিয়ানুল ইস্তিগনা বিল কুরআন ফি তাহসিলিল ইলমি ওয়াল ঈমান" গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আর দ্বিতীয় নবউদ্ভাবিত বিষয় (حدثان):

যুহদ (الزهد) বা বিরাগ, পরকালভীতি এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা সম্বলিত কোমল কবিতাসমূহ শ্রবণ করা। সুফিবাদ ও ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন ব্যক্তিদের অনেকে এগুলো শুনতেন। কখনও কখনও তারা অন্তরকে নরম করার জন্য এক প্রকার সুর (ألحان) দিয়ে তা আবৃত্তি করতেন। পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আবৃত্তির সাথে চামড়া বা এ জাতীয় কোনো বস্তুর ওপর কাঠি বা অন্য কিছু দিয়ে আঘাত করে তাল দিতে শুরু করেন। একে তারা তাগবীর (التغبير) (১) নামে অভিহিত করতেন। অধিকাংশ আলেম (علماء) একে অপছন্দ করেছেন। ইয়াজিদ ইবন হারুন বলেছেন: "পাপাচারী ছাড়া কেউ তাগবীর (التغبير) করে না।" আর তাগবীর (التغبير) কখন থেকে শুরু হলো?

আল-হাসান ইবন আব্দুল আজিজ আল-জারওয়ী এবং ইউনুস ইবন আব্দুল আলা এর বর্ণনা থেকে ইমাম শাফেয়ি হতে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত (صح) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি ইরাকে এমন একটি বিষয় রেখে এসেছি যাকে তারা তাগবীর (التغبير) বলে; জিন্দিকরা (الزنادقة) এটি উদ্ভাবন করেছে যাতে এর মাধ্যমে তারা মানুষকে কুরআন থেকে বিমুখ করতে পারে।" ইমাম আহমাদ একে অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: "এটি একটি বিদআত (بدعة) এবং নবউদ্ভাবিত (محدث) বিষয়।" তাঁকে বলা হলো: "এটি তো অন্তরকে নরম (يرقق) করে!" তিনি বললেন: "বিদআত (بدعة)।"

--------------------------------------------

(১) ইয়াগবুরুন: অর্থাৎ তারা কালিমা তায়্যিবা পাঠ করে এবং তিলাওয়াত ও অন্যান্য বিষয়ে উচ্চৈঃস্বরে বারবার আওয়াজ তোলে। তাদের এ নামে ডাকার কারণ হলো তারা মানুষকে পরকাল বা চিরস্থায়ী আবাসের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। "তারতিবুল কামুস" (শব্দমূল: গবারা)।

(*) একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "কোমল হয়"।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬৪)
ومن أصحابنا من حكي عنه رواية أخرى في الرخصة في سماع القصائد المجردة، وهي اختيار أبي بكر الخلال وصاحبه أبي بكر عبد العزيز وجماعة من التميميين، وهؤلاء يحكى أيضاً عنهم الرخصة في الغناء، وإنما أرادوا سماع هذه القصائد الزهدية المرققة، لم يرخصوا في أكثر من ذلك.

وذكروا أن الإمام أحمد سمع في منزل ابنه صالح -من وراء الباب- منشدًا ينشد أبياتًا من هذه الزهديات، ولم ينكر ذلك، لكن لم يكن مع إنشادها تغبير، ولا ضرب بقضيب ولا غيره.

وفي تحريم الضرب بالقضيب وكراهته وجهان لأصحابنا، فإنه لا يُطربُ كما يطرب سماع آلات الملاهي.

وقد رُوي أيضًا سماع القصائد الزهدية عن يزيد بن هارون، وعن يحيى ابن معين وأبي خيثمة. وعلى مثل ذلك أيضًا يحمل ما نقله الربيع وابن عبد الحكم عن الشافعي في الرخصة في التغبير، وأنه أراد بذلك سماع الأبيات الزهدية المرققة للقلوب، المقتضية للتحزين والتشويق والترقيق إما مع ضرب بقضيب أو بدونه، ولعل الشافعي كره سماع القصائد مع الضرب بالقضيب، ورخص فيه بدونه، فلا يكون له في ذلك قولان مختلفان؛ بل يكونان منزلان عَلَى حالين، وكذلك يزيد بن هارون.

وعلى مثل ذلك أيضًا يُحمل عامة ما (رُوي) (*) عن المتقدمين من الصوفية وغيرهم، في الترخص في السماع والغناء، فإن غناءهم وسماعهم كان لا يزيد عَلَى سماع هذه القصائد، إلا الضرب بالقضيب معها أحيانًا، فَإِذَا كان الشافعي رحمه الله قد أنكر الضرب بالقضيب، وجعله من فعل الزنادقة الصادين عن القرآن، فكيف يكون قوله في آلات اللهو المطربة؟!

وإن كان قد وقع في سماع ذلك طائفة من الصالحين والصادقين بتأويل ضعيف، فلهم أسوة بكثير من العُلَمَاء الذين شذوا عن أهل العِلْم بأقاويل ضعيفة، ولم يقدح ذلك في منازلهم، ولم يُخرجهم عن دائرة العِلْم والدين.

--------------------------------------------

(*) يروى: "نسخة".
আমাদের মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যাদের থেকে সাধারণ কবিতা শোনার বৈধতা সম্পর্কে অন্য একটি বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায়। এটি আবু বকর আল-খলাল, তাঁর সঙ্গী আবু বকর আব্দুল আজিজ এবং তামিমি গোত্রের একদল আলিমের পছন্দ। এই ব্যক্তিদের থেকে সংগীতের (الغناء) বৈধতার বিষয়টিও বর্ণিত হয়েছে; তবে তারা এর দ্বারা কেবল সেইসব বৈরাগ্যমূলক ও হৃদয়স্পর্শী কবিতা শোনাই উদ্দেশ্য নিয়েছেন, এর অতিরিক্ত কিছুর অনুমতি তারা দেননি।

এবং তারা উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ তাঁর পুত্র সালিহের ঘরে—দরজার পেছন থেকে—এক আবৃত্তিকারীকে (منشدًا) এই বৈরাগ্যমূলক কবিতাগুলোর কিছু পংক্তি আবৃত্তি করতে শুনেছিলেন এবং তিনি তা অস্বীকার করেননি। তবে সেই আবৃত্তির সাথে তাগবীর (تغبير), লাঠি দিয়ে আঘাত করা বা অন্য কিছু ছিল না।

লাঠি দিয়ে আঘাত করার নিষিদ্ধতা বা তা অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার ব্যাপারে আমাদের অনুসারীদের দুটি অভিমত রয়েছে; কারণ এটি বাদ্যযন্ত্রের মতো সংগীতের মূর্ছনা বা আমেজ তৈরি করে না।

বৈরাগ্যমূলক কবিতা শোনার বিষয়টি ইয়াজিদ বিন হারুন, ইয়াহইয়া বিন মাইন এবং আবু খাইসামাহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে (رُوي)। ইমাম শাফিয়ি থেকে তাগবীর (تغبير) এর বৈধতা সম্পর্কে রাবি' এবং ইবনে আব্দুল হাকাম যা বর্ণনা করেছেন, তাও অনুরূপ বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে। অর্থাৎ তিনি এর মাধ্যমে সেইসব বৈরাগ্যমূলক পংক্তি শোনা উদ্দেশ্য নিয়েছেন যা হৃদয়কে কোমল করে, দুঃখবোধ জাগ্রত করে এবং আল্লাহর প্রতি অনুরাগ ও বিনম্রতা তৈরি করে—তা লাঠির আঘাতসহ হোক বা ছাড়া। সম্ভবত শাফিয়ি লাঠির আঘাতসহ কবিতা শোনা অপছন্দ (كره) করতেন এবং তা ছাড়া অনুমতি দিতেন; ফলে এ বিষয়ে তাঁর দুটি ভিন্ন মত থাকে না, বরং তা দুটি ভিন্ন অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা হয়। ইয়াজিদ বিন হারুনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন।

পূর্ববর্তী সুফি এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ ও সংগীতের (الغناء) বৈধতা সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে (رُوي), তা-ও সাধারণত একই অর্থে গ্রহণ করা হবে। কেননা তাদের সংগীত ও শ্রবণ এই কবিতাগুলো শোনার চেয়ে বেশি কিছু ছিল না, কেবল মাঝে মাঝে এর সাথে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হতো। সুতরাং ইমাম শাফিয়ি (রহিমাহুল্লাহ) যখন লাঠি দিয়ে আঘাত করাকে অস্বীকার করেছেন এবং একে কুরআন থেকে বিমুখকারী জিন্দিকদের (الزنادقة) কাজ বলে গণ্য করেছেন, তখন আনন্দদায়ক বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য কেমন হতে পারে?!

যদি একদল সৎ ও সত্যনিষ্ঠ লোক কোনো দুর্বল (ضعيف) ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তা শ্রবণে লিপ্ত হয়েও থাকেন, তবে তাদের জন্য সেইসব বহু আলিমের দৃষ্টান্ত রয়েছে যারা দুর্বল (ضعيفة) মতামতের কারণে ইলম চর্চাকারীদের মূলধারা থেকে বিচ্যুত (شذوا) হয়েছিলেন। এটি তাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেনি এবং তাদেরকে ইলম ও দ্বীনের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়নি।

--------------------------------------------

(*) বর্ণিত (يروى): "সংস্করণ"।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬৫)
فكذلك هؤلاء لا يخرجون بذلك عن دائرة الصلاح، (فإن الجميع) (*) لا يُتبعون في زلاتهم، ولا يُقتدى بهم فيها.

وقول الشافعي: إِنَّ الزنادقة وضعت التغبير تصد به الناس عن القرآن: يدل عَلَى أن الإصرار عَلَى سماع الشعر المُلحَّن -مع الضرب بقضيب ونحوه- يقتضي شغف النفوس بذلك وتعلقها به، ونفرتها عن سماع القرآن، أو عن استجلاب ثمرات القرآن وفوائده وإصلاح القلوب به، وهذا ظاهرٌ بينٌ.

فإن من كان وجده من سماع الأبيات، لا يكاد يجد (رقة ولا حلاوة) (**) عند سماع الآيات، فَإِذَا كان هذا حال من أدمن سماع الأبيات الزهدية بالتلحين، فكيف يكون حال من أدمن سماع أشعار الغزل المتضمن لوصف الخمور، والقدود، والخُدود، والثغور والشعور، مع ذكر الهوى ولواعج الأشواق، والمحبة والغرام والاشتياق، وذكر الهجر والوصال، والتجني والصدود والدلال. وكان هذا كله مع آلات الملاهي المطربة المزعجة للنفوس، المثيرة للوجد، المحركة للهوى، لاسيما إِن كان المغني ممن تميل النفوس إِلَى صُورته وصوته، ووجد السماع حلاوته وذوقه، وطرب قلبُه في ذلك. فإن هذا كما قال ابن مسعود: ينبت النفاق في القلب، ولا يكاد يبقى معه من الإيمان إلا القليل، وصاحبه في غاية من البعد عن الله والحجاب عنه، فإن ادعى من يسمع ذلك أن نفسه ماتت وهواه فني، وأنه إِنَّمَا يُشير بما يسمعه إِلَى معرفة الله، ومحبته وخشيته فهو بمنزلة من ينظر إِلَى الصور الجميلة المفتنة، ويدعي أن فتنته ماتت، وأنه إِنَّمَا ينظر إليها، يعتبر ويستدل بحسن الصنعة وكمالها عَلَى عظمة صانعها وكماله! وكل ذلك محرم بلا ريب، وأكثر من يدعى ذلك كاذبٌ في دعواهُ، ومنهم من هو ملبوس عليه، يشتبه عليه حظ نفسه وهواه بحظ روحه وقلبه، أو يختلط له الأمران فيجتمعان له جميعًا، وهو يظن أن حظ نفسه وهواه فني، وليس كذلك.

--------------------------------------------

(*) وإن كان الجميع: "نسخة".

(**) حلاوة ولا رقة: "نسخة".
তেমনিভাবে তারা এর মাধ্যমে পুণ্যবানদের পরিমণ্ডল থেকে বিচ্যুত হন না, (কেননা সকলেই) (*) তাদের পদস্খলনের ক্ষেত্রে অনুসৃত হন না এবং সেগুলোতে তাদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।

আর ইমাম শাফিঈ-এর উক্তি: "নিশ্চয়ই ধর্মদ্রোহীরা (الزنادقة) মানুষকে কুরআন থেকে বিমুখ করার জন্য 'তাগবীর' প্রবর্তন করেছে" - এটি নির্দেশ করে যে, সুরযুক্ত কবিতা শ্রবণে অবিচল থাকা—লাঠি বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করার সাথে—অন্তরে সেটির প্রতি প্রবল অনুরাগ ও আসক্তি সৃষ্টি করে এবং কুরআনের তিলাওয়াত শ্রবণ থেকে অথবা কুরআনের ফল ও উপকারিতা অর্জন এবং এর মাধ্যমে অন্তর সংশোধনের বিষয় থেকে বিমুখতা তৈরি করে। আর এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রকাশ্য।

কেননা যার আধ্যাত্মিক আবেগ কবিতা শ্রবণের মাধ্যমে অর্জিত হয়, সে কুরআনের আয়াতের শ্রবণে খুব একটা (আর্দ্রতা বা মাধুর্য) (**) খুঁজে পায় না। সুতরাং সুরের সাথে বৈরাগ্যপূর্ণ কবিতা শ্রবণে অভ্যস্ত ব্যক্তির অবস্থা যদি এমন হয়, তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে মদ্যপান, দৈহিক গঠন, গাল, মুখগহ্বর এবং কেশবিন্যাসের বর্ণনাসংবলিত গজল (প্রেমগীতি) শ্রবণে অভ্যস্ত? যেখানে প্রবৃত্তির তাড়না, তীব্র ব্যাকুলতা, ভালোবাসা, অনুরাগ ও আকাঙ্ক্ষার উল্লেখ থাকে, আর থাকে বিরহ-মিলন, অহেতুক অপবাদ, বিমুখতা ও লাবণ্যের চর্চা। আর এই সব কিছুই যদি হয় চিত্তবিনোদনের এমন বাদ্যযন্ত্রের সাথে যা আত্মার মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, ভাবাবেগ উদ্দীপ্ত করে এবং প্রবৃত্তিকে নাড়া দেয়। বিশেষ করে যদি গায়ক এমন কেউ হয় যার রূপ ও কণ্ঠের প্রতি মানুষের মন ঝুঁকে পড়ে এবং শ্রবণকারী তাতে মিষ্টতা ও স্বাদ খুঁজে পায় এবং তার অন্তর তাতে আন্দোলিত হয়। কেননা এটি যেমন ইবনে মাসউদ বলেছেন: তা অন্তরে মুনাফিকি (نفاق) উৎপন্ন করে এবং এর সাথে ঈমানের খুব সামান্যই অবশিষ্ট থাকে। এর লিপ্ত ব্যক্তি আল্লাহর থেকে চরম দূরত্বে এবং পর্দার আড়ালে অবস্থান করে। যদি এমন কেউ যে এগুলো শোনে সে দাবি করে যে তার প্রবৃত্তি (نفس) মরে গেছে এবং তার কামনা-বাসনা বিলুপ্ত হয়েছে, আর সে যা কিছু শুনছে তা দিয়ে কেবল আল্লাহর মারিফাত (পরিচয়), তাঁর ভালোবাসা ও ভীতিকেই ইঙ্গিত করছে—তবে সে ওই ব্যক্তির সমতুল্য যে ফিতনা সৃষ্টিকারী সুন্দর রূপের দিকে তাকায় এবং দাবি করে যে তার ফিতনা মরে গেছে, আর সে কেবল এ কারণেই তাকাচ্ছে যাতে সুনিপুণ কারুকার্য ও এর পূর্ণতা দেখে স্রষ্টার মহিমা ও পূর্ণতার প্রমাণ গ্রহণ করা যায়! এই সব কিছুই নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ (محرم)। আর যারা এমন দাবি করে তাদের অধিকাংশই তাদের দাবিতে মিথ্যাবাদী (كاذب), আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিভ্রান্তিতে রয়েছে যাদের কাছে নফসের অংশ ও প্রবৃত্তি তার রুহ ও অন্তরের চাহিদার সাথে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। অথবা তার কাছে উভয় বিষয়টি সংমিশ্রিত হয়ে গেছে এবং একত্রে মিলিত হয়েছে, অথচ সে ভাবছে তার নফসের অংশ ও প্রবৃত্তি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যদিও বিষয়টি তেমন নয়।

--------------------------------------------

(*) "যদিও সকলেই": এটি একটি পাণ্ডুলিপি পাঠ (نسخة)।

(**) "মাধুর্য ও আর্দ্রতা": এটি একটি পাণ্ডুলিপি পাঠ (نسخة)।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬৬)
وقد سُئل -أبو علي الرُّوذباري- وهو من أكابر مشايخ الصوفية وأهل العِلْم منهم -عمن يسمع الملاهي ويقول: هي لي حلالٌ؛ لأني وصلت إِلَى درجة لا يُؤثر فيَّ اختلاف الأحوال، فَقَالَ: نعم، قد وصل لعمري، ولكن إِلَى السفر.

وسُئل أيضًا عن السماع فَقَالَ: ليتنا خلصنا منه رأسًا برأس. قال القاضي أبو الطيب الطبري رحمه الله: قال بعضهم: إنا لا نسمع الغناء بالطبع الَّذِي يشترك فيه الخاص والعام.

قال: والجواب أن هذا تجاهلٌ منه عظيمٌ؛ لأمرين:

أحدهما: أنه يلزمه عَلَى قوله، أن يستبيح سماع العُود، والطنبور وسائر الملاهي، ويسمع ذلك كله بالطبع الَّذِي لا يشاركه فيه أحد، فإن لم يستبح ذلك فقد نقض قوله، من حيث ادعى أن بعض الملاهي يؤثر وبعضها لا يؤثر في هذا الطبع الَّذِي قد اختص به، وإن استباحهُ فقد فسق.

والثاني: أن هذا المدعي لا يخلو أن يدعي أنه فارق طبع البشر، وصار مطبوعًا عَلَى العقل والبصيرة، بمنزلة الملائكة. فإن قال ذلك فقد تخرّص عَلَى طبعه، وكذب عَلَى الله في تركيبه، وادعى بذلك العصمة مع مقارنة الفتنة، ووجب أن لا يكون مجاهدًا لنفسه، ولا مجانبًا لهواه وطبعه، ولا يكون له ثواب عَلَى ترك اللذات والشهوات، وهذا لا يقوله عاقل.

وإن قال: أنا عَلَى طبع البشر المجبول عَلَى محبة الهوى والشهوة. قلنا له: فكيف يصح أن تسمع الغناء المطرب بغير طبعك، أو تطربُ بسماعه بغير ما في جبلتك، إِلَى غير ما غُرز في نفسك؟! وذكر بقية الكلام، وقال في آخره: وبلغني أن هذه الطائفة تُضيف إِلَى السماع النظر في وجه الأمرد، ورُبما زينته بالحُلي والمُصبغات من الثياب، وتزعم أنها تقصد به الازدياد في الإيمان بالنظر والاعتبار، والاستدلال بالصنعة عَلَى الصانع! وهذه النهاية في متابعة الهوى، ومخادعة العقل ومخالفة العِلْم. ثم أطال الكلام في الرد عليهم ثم
সুফিদের মহান শাইখ এবং তাদের মধ্যকার ইলম অন্বেষীগণের অন্তর্ভুক্ত আবু আলী আর-রুজবারীকে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে বাদ্যযন্ত্র (ملاهي) শোনে এবং বলে: "এটি আমার জন্য হালাল; কারণ আমি এমন এক স্তরে পৌঁছেছি যে অবস্থার পরিবর্তন আমার উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! সে পৌঁছেছে বটে, তবে তা সফরের (سفر) দিকে।"

তাকে সামা (سماع) সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আফসোস! যদি আমরা এ থেকে পুরোপুরি নিষ্কৃতি পেতাম।" কাজী আবু তৈয়ব আত-তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাদের কেউ কেউ বলেছে: আমরা সেই সাধারণ প্রবৃত্তি (طبع) অনুযায়ী গান (غناء) শুনি না যাতে সাধারণ ও বিশিষ্ট সবাই অংশীদার।"

তিনি বলেন: এর উত্তর হলো, এটি তার পক্ষ থেকে এক চরম অজ্ঞতা; আর তা দুটি কারণে:

প্রথমত: তার বক্তব্য অনুযায়ী তার জন্য উদ (তন্ত্রী বাদ্য), তানবুর এবং অন্যান্য সকল বাদ্যযন্ত্র (ملاهي) শোনা বৈধ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, এবং সে এসবই এমন প্রবৃত্তি (طبع) দ্বারা শুনবে যাতে অন্য কেউ অংশীদার নয়। এখন সে যদি এগুলোকে বৈধ মনে না করে, তবে সে নিজের দাবিকেই খণ্ডন করল; কারণ সে দাবি করেছিল যে কিছু বাদ্যযন্ত্র (ملاهي) প্রভাব ফেলে আর কিছু ফেলে না এমন এক বিশেষ প্রবৃত্তির ক্ষেত্রে যা কেবল তার মাঝেই বিদ্যমান। আর যদি সে এগুলোকে বৈধ মনে করে, তবে সে পাপাচারী (فسق) সাব্যস্ত হলো।

দ্বিতীয়ত: এই দাবিদারের বিষয়টি এমন হওয়া থেকে মুক্ত নয় যে, সে হয়তো দাবি করছে সে মানবীয় প্রবৃত্তি (طبع) থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং ফেরেশতাদের মতো কেবল বুদ্ধি ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর তার স্বভাব গড়ে উঠেছে। যদি সে এমনটি বলে থাকে, তবে সে তার নিজের স্বভাব সম্পর্কে মিথ্যাচার করল এবং আল্লাহ তাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করল। এর মাধ্যমে সে ফিতনার সাথে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও নিজের জন্য নিষ্পাপতা (عصمة) দাবি করল। এমতাবস্থায় তার জন্য নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করার কোনো প্রয়োজন থাকে না, আর না তার কুপ্রবৃত্তি ও স্বভাব থেকে দূরে থাকার আবশ্যকতা থাকে। এমনকি ভোগ-বিলাস ও কামনা-বাসনা ত্যাগের জন্য সে কোনো সওয়াবের অধিকারীও হবে না—অথচ কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এমন কথা বলতে পারে না।

আর যদি সে বলে: "আমি সেই মানবীয় প্রবৃত্তির (طبع) ওপরই আছি যা প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার প্রতি অনুরাগী।" তবে আমরা তাকে বলব: "তাহলে তোমার স্বভাব ব্যতিরেকে চিত্তাকর্ষক গান (غناء) শোনা অথবা তোমার মজ্জাগত স্বভাবের বাইরে থেকে তা শুনে আনন্দিত হওয়া কীভাবে সম্ভব হতে পারে, যা তোমার অন্তরে গেঁথে দেওয়া স্বভাবের বিপরীত?!" এরপর তিনি বাকি কথা উল্লেখ করলেন এবং শেষে বললেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, এই দলটি সামার (سماع) সাথে শ্মশ্রুহীন যুবকের (أمرد) চেহারার দিকে তাকানোকেও যুক্ত করে নিয়েছে। এমনকি কখনো কখনো তারা তাকে অলঙ্কার এবং রঙিন পোশাক দিয়ে সজ্জিত করে। তারা দাবি করে যে, এর মাধ্যমে তারা তাদের দৃষ্টি ও শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে ঈমান বৃদ্ধি করার এবং সৃষ্টির মাধ্যমে স্রষ্টার ওপর দলিল পেশ করার উদ্দেশ্য পোষণ করে! অথচ এটি কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, বিবেকের সাথে প্রতারণা এবং ইলমের বিরোধিতার চূড়ান্ত পর্যায়।" এরপর তিনি তাদের খণ্ডনে দীর্ঘ আলোচনা করলেন...
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬৭)
قال: وإنما تفعل هذه الطائفة ما ذكرناهُ من سماع الغناء، والنظر إِلَى وجوه الملاح بعد تناول الألوان الطيبة، والمآكل الشهية.

فَإِذَا شبعت منها نفوسهم، طالبتهم بما يتبعها من السماع والرقص، والاستمتاع بالنظر إِلَى وجوه المُرد. ولو نظروا فيما ذكر من (التقليل) (**) من الغذاء، وما فيه من المجاهدة دُون الشهوات؛ لأخذوه بقدرٍ، ولم يحنوا إِلَى سماع ونظر. وذكر بقية الكلام.

وقد حكى الإمام أبو عمرو بن الصلاح وغيره من العُلَمَاء، الإجماع عَلَى تحريم السماع المعتاد في هذه الأزمان عَلَى وجهه المعتاد. قال: ومن نسب إباحته، إِلَى أحد من العُلَمَاء -يُجوز الاقتداء به في الدين- فقد أخطأ. وما جاء عن بعض المشايخ من استباحته، ففي غير هذا السماع، وبشروط شرطوها غير موجودة في هذا السماع.

ومما ينبغي أن يُعلم أن الله تعالى أكمل لنا ديننا، وأتم علينا نعمته ورضي لنا الإسلام دينًا. فما ترك شيئًا مما يقربُ منه ومن دار كرامته، إلا وأرشدنا إِلَيْهِ، ولا شيئًا يُباعد عنه وعن دار كرامته، إلا وزجرنا عنه.

ولما كان الآدمي مركبًا من جسد وروح، ولكل منهما غذاء يتغذي به، فكما أن الجسد يتغذي بالطعام والشراب، ويلتذ بالنكاح وتوابعه، وبما يشمه ويسمعه، فكذلك الروح لها غذاء تتغذي به، هو قوتها. فَإِذَا فقدته مرضت أعظم من مرض الجسد بفقد غذائه، ومتى كان الجسد سقيمًا. فإنه لا (يلتذ) (**) بما يتغذي به، ولا يميلُ إِلَى ما ينفعه؛ بل ربما مال إلي ما يضره.

فكذلك القلب والروح، إذا مرض فإنه لا يستلذ بغذائه، ولا يميل إِلَيْهِ، بل يميل إِلَى ما يضره. ولا قوت للقلب والروح، ولا غذاء لهما سوى معرفة الله تعالي، ومعرفة عظيمة وجلاله وكبريائه. فيترتب علي هذه المعرفة، خشيته

--------------------------------------------

(*) التقلل: "نسخة".

(**) يستلذ: "نسخة".
তিনি বলেন: এই গোষ্ঠীটি গান শ্রবণের যে বিষয়গুলো আমরা উল্লেখ করেছি এবং সুদর্শন ব্যক্তিদের মুখাবয়বের প্রতি দৃষ্টিপাত করার কাজগুলো কেবল উত্তম নানাবিধ উপাদেয় খাবার এবং সুস্বাদু খাদ্য গ্রহণের পরেই করে থাকে।

যখন তাদের আত্মা এসবের দ্বারা তৃপ্ত হয়, তখন তা তাদের কাছে গান শোনা, নাচ এবং দাড়িবিহীন কিশোরদের চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আনন্দ লাভের দাবি জানায়। আর যদি তারা পরিমিত আহারের (**) যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রবৃত্তির বিপরীতে সাধনার যে গুরুত্ব রয়েছে সেদিকে লক্ষ্য করত, তবে তারা তা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করত এবং গান শ্রবণ ও দৃষ্টিপাতের প্রতি লালায়িত হতো না। তিনি বাকি কথাগুলোও উল্লেখ করেছেন।

ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ এবং অন্যান্য আলেমগণ এই জামানায় প্রচলিত গান শ্রবণের প্রচলিত রূপটিকে হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (الإجماع) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি এর বৈধতাকে এমন কোনো আলেমের দিকে নিসবত করে—যিনি দ্বীনের ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য—সে ভুল করেছে। আর কিছু মাশায়েখ থেকে এর বৈধতার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা বর্তমানের এই গান শ্রবণের ক্ষেত্রে নয় এবং সেখানে এমন কিছু শর্ত ছিল যা বর্তমানের এই গান শ্রবণে বিদ্যমান নেই।

এটি জানা আবশ্যক যে, মহান আল্লাহ আমাদের জন্য আমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে আমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন। সুতরাং যা কিছু তাঁর এবং তাঁর জান্নাতের (সম্মান ও মর্যাদার আবাস) নিকটবর্তী করে, তার সবকিছুর দিকেই তিনি আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আর যা কিছু তাঁর এবং তাঁর জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তার সবকিছু থেকেই তিনি আমাদের কঠোরভাবে বারণ করেছেন।

যেহেতু মানুষ দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে গঠিত এবং তাদের প্রত্যেকেরই পুষ্টির জন্য খাদ্য রয়েছে, তাই দেহ যেমন খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে পুষ্ট হয় এবং বিবাহ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং সুঘ্রাণ ও শ্রবণের মাধ্যমে তৃপ্তি পায়, তেমনি আত্মারও খাদ্য রয়েছে যা তার শক্তি। যখন সে তা হারায়, তখন সে দেহের খাদ্য হারানোর অসুস্থতার চেয়েও ভয়াবহভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর যখন দেহ রুগ্ন হয়, তখন সে ভক্ষণ করা জিনিসের মাধ্যমে তৃপ্তি পায় না (**) এবং যা তার জন্য উপকারী তার দিকে ঝুঁকে না; বরং অনেক সময় যা তার জন্য ক্ষতিকর সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে।

তেমনিভাবে অন্তর ও আত্মা যখন অসুস্থ হয়, তখন সে তার প্রকৃত খাদ্যের স্বাদ পায় না এবং সেদিকে ঝুঁকে না, বরং যা তার ক্ষতি করে সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে। আর অন্তর ও আত্মার শক্তি ও খাদ্য মহান আল্লাহর মারেফাত (পরিচয়) এবং তাঁর মহত্ত্ব, গাম্ভীর্য ও বড়ত্বের পরিচয় লাভ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এই মারেফাতের মাধ্যমেই তাঁর ভীতি অর্জিত হয়।

--------------------------------------------

(*) অল্প করা: "পাণ্ডুলিপির পাঠান্তর"।

(**) স্বাদ আস্বাদন করা: "পাণ্ডুলিপির পাঠান্তর"।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬৮)
وتعظيمه، وإجلاله والأنس به، والمحبة له والشوق إلي لقائه، والرضا بقضائه.

فمتي سكن ذلك في القلب كان القلب حيًّا سليما، وهذا هو القلب السليم، الَّذِي لا ينفع يوم لقاء الله غيره، ومتى فقد القلب ذلك بالكلية صار ميتا. فإن فقد بعضه كان سقيما بحسب ما فقده، لاسيما إِن اعتاض عما فقده من ذلك، بما يضاده ويخالفه.

وإذا علم هذا، فإن الله تعالي أمر عباده في كتابه، وعلي لسان رسوله، بجمع ما يصلح قلوب عباده ويقربها منه. ونهاهم عما ينافي ذلك ويضاده ولما كانت الروح تقوى بما تسمعه من الحكمة والموعظة الحسنة، وتحيي بذلك: شرع الله لعباده سماع ما تقوى به قلوبهم، وتتغذى وتزداد إيمانا. فتارة يكون ذلك فرضا عليهم، كسماع القرآن، والذكر والموعظة يوم الجمعة في الخطبة والصلاة، وكسماع القرآن في الصلوات الجهرية من المكتوبات.

وتارة يكون ذلك مندوبا إِلَيْهِ غير مفترض، كمجالس الذكر والمندوب إليها. فهذا السماع حاد يحدو قلب المؤمن إلي الوصول إلي ربه، وسائق يسوقه ويشوقه إلي قربه، وقد مدح الله المؤمنين بوجود مزيد أحوالهم بهذا السماع. وذم من لا يجد منه ما يجدونه، فَقَالَ تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا} (1) وقال تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ أُولَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ * اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} (2) وقال: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ} (3) قال ابن مسعود: ما كان بين إسلامنا وبين أن عوتبنا بهذه الآية إلا أربع سنين. خرجه مسلم (4).

--------------------------------------------

(1) الأنفال: 2.

(2) الزمر: 22 - 23.

(3) الحديد: 16.

(4) برقم (3027).
তাঁকে সম্মান করা, তাঁর মহিমা ঘোষণা করা, তাঁর প্রতি অন্তরঙ্গ হওয়া, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।

যখনই এই বিষয়গুলো অন্তরে স্থান পায়, তখন অন্তর জীবন্ত ও সুস্থ (سليم) হয়। আর এটাই হলো সেই প্রশান্ত অন্তর (القلب السليم), যা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের দিনে অন্য কোনো কিছুর চেয়ে অধিক উপকারে আসবে। আর যখন অন্তর থেকে এগুলো পুরোপুরি হারিয়ে যায়, তখন তা মৃত হয়ে যায়। যদি এর কিছু অংশ হারিয়ে যায়, তবে হারানো অংশের অনুপাতে তা অসুস্থ হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যদি হারানো জিনিসের পরিবর্তে তার বিপরীত ও বিরোধী কোনো কিছু সে গ্রহণ করে।

যখন এটি জানা গেল, তখন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসুলের জবানে বান্দাদের সেই সব বিষয় অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন যা তাদের অন্তরকে সংশোধন করে এবং তাঁর নিকটবর্তী করে। আর তিনি তাদের সেই সব বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন যা এর পরিপন্থী ও বিরোধী। যেহেতু আত্মা প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় এবং এর দ্বারা জীবন লাভ করে, তাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য এমন কিছু শোনার বিধান দিয়েছেন যা দ্বারা তাদের অন্তর শক্তিশালী হয়, পুষ্টি লাভ করে এবং ঈমান বৃদ্ধি পায়। কখনো কখনো এটি তাদের ওপর ফরজ (فرض) হয়, যেমন কুরআন শ্রবণ করা এবং জুমার দিনে খুতবা ও সালাতে জিকির ও নসিহত শ্রবণ করা এবং ফরজ সালাতসমূহে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠের সময় কুরআন শ্রবণ করা।

আবার কখনো কখনো এটি মুস্তাহাব (مندوب) হয় কিন্তু ফরজ নয়, যেমন জিকিরের মাহফিলসমূহ যাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই শ্রবণ হলো এমন এক প্রেরণা যা মুমিনের অন্তরকে তার রবের কাছে পৌঁছাতে পরিচালিত করে এবং এমন এক চালক যা তাকে তাঁর নৈকট্যের দিকে ধাবিত ও আগ্রহী করে তোলে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রশংসা করেছেন যে, এই শ্রবণের মাধ্যমে তাদের আধ্যাত্মিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। আর যারা এর মাধ্যমে মুমিনদের মতো অনুভূতি লাভ করে না, তিনি তাদের নিন্দা করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "মুমিন তো তারাই, যখন আল্লাহর জিকির করা হয় তখন তাদের অন্তর কেঁপে ওঠে এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে।" (১) আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "ধ্বংস তাদের জন্য যাদের অন্তর আল্লাহর জিকির থেকে কঠোর হয়ে গেছে, তারা স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম হাদিস সম্বলিত কিতাব যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বারবার পঠিত, যা শুনে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে, তারপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর জিকিরে নরম হয়ে যায়।" (২) তিনি আরও বলেন: "মুমিনদের জন্য কি সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর জিকিরে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের অন্তর বিগলিত হবে? এবং তারা তাদের মতো না হয় যাদের আগে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারপর দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ায় তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গিয়েছিল।" (৩) ইবনে মাসউদ বলেন: আমাদের ইসলাম গ্রহণ এবং এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের তিরস্কার করার মাঝখানে মাত্র চার বছরের ব্যবধান ছিল। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) আনফাল: ২।

(২) যুমার: ২২ - ২৩।

(৩) হাদিদ: ১৬।

(৪) নম্বর ৩০২৭।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৬৯)
وفي رواية أخرى قال فجعل المؤمنون يعاتب بعضهم بعضًا

وعن ابن عباس قال: إِنَّ الله استبطأ قلوب المهاجرين، فعاتبهم، عَلَى رأس ثلاث عشرة من نُزول القرآن بهذه الآية.

فهذه الآية تتضمن توبيخًا وعتابًا لمن سمع هذا السماع، ولم يُحدث له في قلبه صلاحًا ورقة وخشوعًا، فإن هذا الكتاب المسموع يشتمل علي نهاية المطلوب، وغاية ما تصلح به القلوب، وتنجذب به الأرواح المغلقة بالمحل الأعلى، إلي حضرة المحبوب، فيحيى بذلك القلب بعد مماته، ويجتمع بعد شتاته، وتزول قسوته بتدبر خطابه وسماع آياته، فإن القلوب إذا أيقنت بعظمة ما سمعت، واستشعرت شرف نسبة هذا القول إِلَى قائله، أذعنت وخضعت فَإِذَا تدبرت ما احتوى عليه من المراد ووعت، اندكَّت من مهابة الله وإجلاله وخشعت.

فَإِذَا هطل عليها وابل الإيمان من سُحب القرآن أخذت ما وسعت، فَإِذَا بذر في القرآن حقائق العرفان، وسقاهُ ماء الإيمان أنبتت ما زرعت {وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ} (1) {فَانْظُرْ إِلَى آثَارِ رَحْمَتِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا} (2).

ومتى فقدت القلوب غذاءها، وكانت جاهلة به طلبت العوض من غيره، فتغذت به، فازداد سقمُها بفقدها ما ينفعها، والتعوض بما يضرها.

فَإِذَا سقمت مالت إِلَى ما فيه ضررها، ولم تجد طعم غذالها الَّذِي فيه نفعها، فتعوضت عن سماع الآيات بسماع الأبيات، وعن تدبُّر معاني التنزيل، بسماع الأصوات.

قال عثمان بن عفان رضي الله عنه: لو طهُرت قلوبكم ما شبعتم من كلام ربكم (3).

--------------------------------------------

(1) الحج: 5.

(2) الروم: 50.

(3) أخرجه أحمد في "الزهد" (ص: 128) وفي "فضائل الصحابة" (775). وفي إسناده انقطاع بين سفيان وعثمان رضي الله عنه.
অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) বলা হয়েছে যে, মুমিনগণ একে অপরকে তিরস্কার করতে লাগলেন।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা মুহাজিরদের অন্তরের অবস্থা পরিবর্তনে বিলম্ব দেখে তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার তেরো বছরের মাথায় এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের তিরস্কার করেছেন।

এই আয়াতটি সেই সব ব্যক্তিদের জন্য তিরস্কার ও অনুযোগ সম্বলিত, যারা এই বাণী শোনার পরেও তাদের অন্তরে কোনো সংশোধন, কোমলতা বা আল্লাহর ভীতি সৃষ্টি হয়নি। কারণ, এই শ্রবণযোগ্য কিতাবটি পরম লক্ষ্য এবং অন্তর সংশোধনের চূড়ান্ত উপায়ের ধারক। এটি রুদ্ধ আত্মাসমূহকে উচ্চতর জগত থেকে প্রিয়তমের সান্নিধ্যের দিকে ধাবিত করে। এর ফলে মৃত অন্তর জীবন লাভ করে, বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে সংহত হয় এবং এর বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও আয়াতসমূহ শোনার মাধ্যমে হৃদয়ের কঠোরতা দূরীভূত হয়। কেননা যখন অন্তরসমূহ যা শুনেছে তার মহত্ত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং এই বাণীর বক্তার উচ্চমর্যাদা অনুভব করে, তখন তা বশীভূত ও বিনীত হয়। অতঃপর যখন সে তার অন্তর্ভুক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা করে এবং তা অনুধাবন করে, তখন আল্লাহর মহিমা ও গাম্ভীর্যের প্রভাবে তা প্রকম্পিত ও বিনীত হয়।

যখন এই অন্তরের ওপর কুরআনের মেঘমালা থেকে ঈমানের প্রবল বৃষ্টিপাত হয়, তখন তা তার সামর্থ্য অনুযায়ী গ্রহণ করে। যখন কুরআনে মারেফাতের হাকিকতসমূহ বপন করা হয় এবং ঈমানের পানি দ্বারা সিক্ত করা হয়, তখন তা রোপিত শস্য উদগত করে। "তুমি ভূমিকে দেখ শুষ্ক-প্রাণহীন, অতঃপর যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং তা সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম জোড়া জোড়া উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।" (১) "অতএব আল্লাহর রহমতের চিহ্নের দিকে তাকাও, কীভাবে তিনি ভূমিকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন।" (২)।

অন্তর যখন তার প্রকৃত খাদ্য হারায় এবং সে সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তখন সে অন্য কিছু থেকে তার বিকল্প সন্ধান করে এবং তা দ্বারাই পুষ্টি গ্রহণ করে। ফলে উপকারী জিনিসের অভাব এবং ক্ষতিকর জিনিসের বিকল্প গ্রহণের কারণে তার ব্যাধি আরও বৃদ্ধি পায়।

যখন অন্তর রুগ্ন হয়ে পড়ে, তখন সে ক্ষতিকর জিনিসের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং উপকারী খাদ্যের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে না। ফলে সে আল্লাহর আয়াত শ্রবণ করার পরিবর্তে পদ্য ও কবিতার পংক্তি শোনা এবং ওহীর অর্থ নিয়ে চিন্তা করার বদলে বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শোনায় মগ্ন হয়।

ওসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন: তোমাদের অন্তর যদি পবিত্র হতো, তবে তোমরা তোমাদের রবের কালাম থেকে কখনও তৃপ্ত হতে না (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-হজ: ৫।

(২) আর-রুম: ৫০।

(৩) ইমাম আহমাদ এটি 'আল-জুহদ' (পৃষ্ঠা: ১২৮) এবং 'ফাদায়িলুস সাহাবা' (৭৭৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (إسناد)-এ সুফিয়ান এবং ওসমান (রা.)-এর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে।
(খণ্ড: ২) নুযহাতুল আসমায়ি ফী মাসআলাতিস সামায়ি আহকামুল গিনায়ি ওয়াল মাআযিফি (পৃষ্ঠা: ৪৭০)
وفي حديث مرسل: "إِنَّ هذه القلوب تصدأ كما يصدأ الحديد. قيل: فما جلاؤها؟ قال: تلاوة كتاب الله" (1). وفي حديث آخر مرسل: "أن النبي صلى الله عليه وسلم خطب بعدما قدم المدينة فَقَالَ: إِنَّ أحسن الحديث كتاب الله، قد أفلح من زينه الله في قلبه، وأدخله في الإسلام بعد الكفر؛ واختاره عَلَى ما سواه من أحاديث الناس، إنه أحسن الحديث وأبلغُه، أحبوا ما أَحَبّ الله، أحبوا الله من كل قلوبكم".

وقال ميمون بن مهران: إِنَّ هذا القرآن قد خَلِقَ في صدور كثير من الناس، والتمسوا حديثًا غيره، وهو ربيع قلوب المؤمنين، وهو غض جديد في قلوبهم. وقال محمد بن واسع: القرآن بستان العارفين حيث ما حلوا منه، حلوا في نزهة. وقال مالك بن دينار: يا حملة القرآن، ماذا زرع القرآن في قلوبكم؟! فإن القرآن ربيع المؤمن، كما أن الغيث ربيع الأرض، فقد ينزل الغيثُ من السماء إِلَى الأرض، فيصيب الحش فتكون فيه الحبة، فلا يمنعها نتن موضعها أن تهتز وتخضر وتحسن، في "حملة القرآن، ماذا زرع القرآن في قلوبكم؟! أين أصحاب سورة؟ أين أصحاب سورتين؟! ماذا عملتم فيهما.

وقال الحسن: تفقدوا الحلاوة في الصلاة، وفي القرآن، وفي الذكر، فإن وجدتموها فامضوا وأبشروا، وإن لم تجدوها باعلموا أن الباب مغلق.

اسمع يا من لا يجد الحلاوة في سماع الآيات، ويجدها في سماع الأبيات، في حديث مرفوع: "من اشتاق إِلَى الجنة فليسمع كلام الله".

كان داود الطائي يترنم بالآية في الليل، فيرى من سمعه أن جميع نعيم الدُّنْيَا جُمِعَ في ترنمه.

قال أحمد بن أبي الحواري: إني لأقرأ القرآن، فانظر في اية منه، فيحارُ فيها عقلي، وأعجبُ من حفاظ القرآن، كيف يهنيهم النوم ويسعهم أن يشتغلوا بشيء من الدُّنْيَا، وهم يتلون كلام الله؟! أما لو فهموا ما يتلون، وعرفوا حقه، وتلذذوا به، واستحلوا المناجاة به، لذهب عنهم النوم، فرحًا بما قد رزقوا.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن عدي عن ابن عمر مرفوعًا (1/ 259) وفيه إبراهيم بن عبد السلام المخزومي اتهمه ابن عدي بالسرقة وقال: ليس حدث بمعروف بالمناكير.
একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই এই অন্তরসমূহে মরিচা পড়ে যেভাবে লোহায় মরিচা পড়ে। জিজ্ঞেস করা হলো: তবে এর উজ্জ্বলতা কীসে? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করা।" (১)। অপর একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসে এসেছে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আসার পর খুতবা দিলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব। সে ব্যক্তি সফলকাম হয়েছে, যার অন্তরে আল্লাহ তা সুশোভিত করেছেন এবং কুফরের পর তাকে ইসলামে দাখিল করেছেন; আর মানুষের অন্যান্য কথার ওপর একে প্রাধান্য দিয়েছেন। নিশ্চয়ই এটি সর্বোত্তম ও সবচেয়ে কার্যকর কথা। আল্লাহ যা ভালোবাসেন তোমরাও তা ভালোবাসো, তোমাদের সমস্ত অন্তর দিয়ে আল্লাহকে ভালোবাসো।"

মাইমুন ইবনে মিহরান বলেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন বহু মানুষের অন্তরে পুরনো হয়ে গেছে এবং তারা তা ব্যতীত অন্য কথা তালাশ করেছে। অথচ এটি মুমিনদের অন্তরের বসন্ত এবং তাদের অন্তরে সজীব ও নবীন।" মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি বলেন: "কুরআন হলো আরিফদের (আল্লাহ-সচেতনদের) বাগান; তারা এর যেখানেই অবস্থান করে, সেখানেই প্রশান্তি লাভ করে।" মালিক ইবনে দিনার বলেন: "হে কুরআনের ধারকগণ! কুরআন তোমাদের অন্তরে কী রোপণ করেছে?! কেননা কুরআন মুমিনের বসন্ত, যেমন বৃষ্টি ভূমির বসন্ত। আকাশ থেকে জমিনে বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং তা খড়কুটোর উপর পড়ে যাতে শস্যদানা থাকে, কিন্তু সেই স্থানের দুর্গন্ধ তাকে আন্দোলিত হতে, সবুজ হতে ও সুন্দর হতে বাধা দেয় না। হে কুরআনের ধারকগণ! কুরআন তোমাদের অন্তরে কী রোপণ করেছে?! এক সূরার সাথীরা কোথায়? দুই সূরার সাথীরা কোথায়?! তোমরা তাতে কী আমল করেছো?"

হাসান (বসরী) বলেন: "তোমরা সালাতে, কুরআনে এবং জিকিরে মাধুর্য তালাশ করো। যদি তা পাও তবে এগিয়ে চলো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। আর যদি তা না পাও, তবে জেনে রেখো যে (রহমতের) দরজা বন্ধ।"

হে ওই ব্যক্তি শোনো, যে আয়াতের শ্রবণে মাধুর্য পায় না, কিন্তু কবিতার শ্রবণে তা খুঁজে পায়! একটি উন্নত-সূত্রযুক্ত (مرفوع) হাদিসে এসেছে: "যে জান্নাতের প্রতি আগ্রহী হয়, সে যেন আল্লাহর কালাম শুনে।"

দাউদ আত-তাঈ রাতে আয়াত আবৃত্তি করতেন, ফলে যে ব্যক্তি তা শুনত সে মনে করত যে, দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত তার আবৃত্তিতেই পুঞ্জীভূত হয়েছে।

আহমাদ ইবনে আবুল হাওয়ারী বলেন: "আমি যখন কুরআন পড়ি এবং এর কোনো আয়াতের দিকে তাকাই, তখন আমার বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আমি হাফেজদের ব্যাপারে আশ্চর্য বোধ করি যে, তারা কীভাবে ঘুমে তৃপ্ত হয় এবং দুনিয়ার কোনো কাজে মশগুল থাকতে পারে, অথচ তারা আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করছে?! তারা যদি তিলাওয়াতকৃত বিষয়ের মর্ম বুঝত, এর হক জানত, এর দ্বারা স্বাদ গ্রহণ করত এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সাথে কথোপকথনকে মধুর জ্ঞান করত, তবে তাদের এই রিযিক লাভের আনন্দে ঘুম উবে যেত।"

--------------------------------------------

(১) ইবনে আদি একে ইবনে উমর থেকে উন্নত-সূত্রযুক্ত (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন (১/২৫৯)। এর বর্ণনাকারীদের মাঝে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুস সালাম আল-মাখজুমি রয়েছে, যাকে ইবনে আদি হাদিস চুরির দায়ে অভিযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: তার হাদিসগুলো পরিচিত নয় বরং তা প্রত্যাখ্যাত (مناكير)।