(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: -)
الإجماع لابن المنذر - ت أبي عبد الأعلى   (ابن المنذر)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الإجماع

المؤلف: أبو بكر محمد بن إبراهيم بن المنذر النيسابوري

المحقق: أبو عبد الأعلى خالد بن محمد بن عثمان

الناشر: دار الآثار للنشر والتوزيع، القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 140

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 رمضان 1440

আল-ইজমা লি-ইবনিল মুনযির - তাহকীক: আবু আবদিল আলা   (ইবনুল মুনযির)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: আল-ইজমা

লেখক: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল মুনযির আন-নিসাবুরি

গবেষক ও সম্পাদক: আবু আবদিল আলা খালিদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উসমান

প্রকাশক: দারুল আসার পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ রমজান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১)
الإجماع

 

تصنيف

الإمام ابن المنذر رحمه الله

 

وثق نصوصه وعلَّق عليه

أبوعبد الأعلى خالد بن محمد بن عثمان المصري

الطبعة الأولى

حقوق الطبع محفوظة لدار الآثار-القاهرة
আল-ইজমা

 

গ্রন্থনা

ইমাম ইবনুল মুনযির (রহিমাহুল্লাহ)

 

এর পাঠ্যসমূহ যাচাই (وثق) করেছেন এবং এর ওপর টীকা প্রদান করেছেন

আবু আবদিল আ’লা খালিদ বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-মিসরি

প্রথম সংস্করণ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - দারুল আসার, কায়রো
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الْمُقدمة

إن الْحَمد لله نَحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن مُحمَّدًا عبده ورسوله.

{يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُم مُّسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]

{يَأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد: فإن خير الحديث كلام الله وأحسن الهدي هدي محمد؛ وشر الأمور محدثاتُها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

وبعد؛ فإن كتاب "الإجماع" لابن المنذر هو واحد من سلسلة مؤلفاتٍ له اعتنى فيها عناية فائقة بمسائل الاختلاف والاتفاق؛ حَتَّى صارت كتبه في هذا الباب مرجعًا أساسيًا لكل من أتى بعده، بِها يعرف مواطن الاختلاف والاتفاق بين الأئمة في المسائل الفقهية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক এবং আমাদের সকল প্রকার মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু নর ও নারী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহা সফলতা অর্জন করে।} [আহযাব: ৭০ - ৭১]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিদায়াত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

অতঃপর; ইবনুল মুনযিরের 'আল-ইজমা' গ্রন্থটি তাঁর সেই ধারাবাহিক রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত একটি, যাতে তিনি মতভেদ (اختلاف) ও ঐকমত্য (اتفاق) সংক্রান্ত মাসয়ালাগুলোর প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়েছেন। ফলে এই বিষয়ে তাঁর কিতাবসমূহ পরবর্তী সকলের জন্য মৌলিক তথ্যসূত্রে পরিণত হয়েছে; এর মাধ্যমেই ফিকহী মাসয়ালাসমূহে ইমামগণের মধ্যকার মতভেদ (اختلاف) ও ঐকমত্যের (اتفاق) ক্ষেত্রসমূহ জানা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ৬)
وهذه السلسلة تتضمن الكتب التالية (1):

 

1 - كتاب السنن والإجماع والاختلاف: وكتاب مبسوط حافل، روى فيه كل ما وصله من أحاديث وآثار في الباب بأسانيده.

 

2 - مختصر كتاب السنن والإجماع والاختلاف.

 

3 - اختلاف العلماء، وتوجد نسخ منه في دار الكتب المصرية.

 

4 - المبسوط.

 

5 - الأوسط في السنن والإجماع والاختلاف، وهو مختصر كتاب المبسوط.

 

6 - الإشراف على مذاهب العلماء، وهو مختصر كتاب الأوسط.

 

7 - الإقناع.

 

8 - الإجماع.

والإجماع هو أصغر هذه الكتب حجمًا؛ وهو من أشهر كتب الإجماع على الإطلاق خاصةً عند طلبة العلم المبتدئين، حيث إنه سهل المأخذ موجز العبارة.

وأما عن الكتب التي أُفردت لنقل الإجماع في المسائل الفقهية، فهي:

 

1 - نوادر الفقهاء لمحمد بن الحسن التميمي (ت 350 هـ).

 

2 - مراتب الإجماع لابن حزم (2) (ت 456 هـ).

 

3 - الإقناع في مسائل الإجماع لابن القطان (ت 628 هـ).

 

4 - الإجماع لابن عبد البر (جمعه: فؤاد الشهلوب وعبد الوهاب الشهري).

 

5 - موسوعة الإجماع لشيخ الإسلام ابن تيمية (جمع: عبد الله بن المبارك البوهي).

 

6 - البرق اللماع لما في المغني من اتفاق وافتراق وإجماع (جمع: عبد الله بن عمر

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة كتاب "الأوسط في السنن" للدكتور أبو حماد صغير أحمد بن محمد حنيف (1/ 36، 22).

(2) وقد نقد بعض مسائله: شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله كتاب "نقد مراتب الإجماع".
আর এই ধারায় নিম্নলিখিত গ্রন্থসমূহ অন্তর্ভুক্ত (১):

 

১ - কিতাবুস সুনান ওয়াল ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ: এটি একটি বিস্তারিত ও সমৃদ্ধ গ্রন্থ, এতে তিনি এই অধ্যায়ে তাঁর নিকট পৌঁছানো সকল হাদিস এবং বর্ণনা (آثار) তাঁর সনদসমূহের (أسانيده) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

 

২ - মুখতাসার কিতাবুস সুনান ওয়াল ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ।

 

৩ - ইখতিলাফুল উলামা, এর পাণ্ডুলিপি মিসরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-তে বিদ্যমান রয়েছে।

 

৪ - আল-মাবসুত।

 

৫ - আল-আওসাত ফিস সুনান ওয়াল ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ, এটি আল-মাবসুত গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত রূপ।

 

৬ - আল-ইশরাফ আলা মাজাহিবিল উলামা, এটি আল-আওসাত গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত রূপ।

 

৭ - আল-ইকনা।

 

৮ - আল-ইজমা।

আর আল-ইজমা হলো এই গ্রন্থসমূহের মধ্যে আকারে সবচেয়ে ছোট; এটি ইজমা সংক্রান্ত গ্রন্থাবলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ, বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারী নবীনদের কাছে, কারণ এর ব্যবহার সহজ এবং বর্ণনা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।

আর ফিকহি মাসআলাসমূহে ইজমা বর্ণনার জন্য যে স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে, সেগুলো হলো:

 

১ - মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আত-তামিমী (মৃত ৩৫০ হি.) রচিত নাওয়াদিরুল ফুকাহা।

 

২ - ইবনে হাজম (২) (মৃত ৪৫৬ হি.) রচিত মারাতবিুল ইজমা।

 

৩ - ইবনুল কাত্তান (মৃত ৬২৮ হি.) রচিত আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা।

 

৪ - ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-ইজমা (সংকলন: ফুয়াদ আশ-শাহলুব এবং আব্দুল ওয়াহহাব আশ-শাহরি)।

 

৫ - শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রচিত মাওসুয়াতুল ইজমা (সংকলন: আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আল-বুহি)।

 

৬ - আল-বারকুল লাম্মা' লিমা ফিল মুগনি মিন ইত্তিফাক ওয়া ইফতিরাক ওয়া ইজমা (সংকলন: আব্দুল্লাহ বিন উমর...

--------------------------------------------

(১) দেখুন ড. আবু হাম্মাদ সাগির আহমদ বিন মুহাম্মাদ হানিফ রচিত "আল-আওসাত ফিস সুনান" গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ৩৬, ২২)।

(২) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) "নাকদু মারাতবিুল ইজমা" গ্রন্থে এর কিছু মাসআলার সমালোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ৭)
البارودي).

 

7 - موسوعة الإجماع في الفقه الإسلامي لسعدي أبو جيب (1).

 

8 - كتاب "الإشراف على مذاهب الأشراف" للوزير ابن هُبَيْرة الحنبلي، وقد نشرته دار الحرمين بالقاهرة تحت عنوان: "الفقه على مذاهب الأئمة الأربعة"؛ وهو قطعة من كتابه الكبير "الإفصاح عن معاني الصحاح" الذي شرح فيه الصحيحين (2).

هذا بِخلاف كتب الاختلاف والمطولات التي اعتنت أيضًا بنقل الإجماع مثل: كتب ابن المنذر-التي سبق الإشارة إليها-، "اختلاف العلماء" لمحمد بن نصر المروزي، "الاستذكار" و "التمهيد" لابن عبد البر، "اختلاف الفقهاء" لابن جرير الطبري، "المحلى" لابن حزم، "المغني" لابن قدامة، "شرح معاني الآثار" للطحاوي، "بداية المجتهد" لابن رشد، "المجموع" للنووي، "فتح الباري" للحافظ ابن حجر، "نيل الأوطار" للشوكاني.

ومن الكتب التي نُقِلت غالب نصوص كتاب الإجماع من خلالها: المغني لابن قدامة، والإقناع في مسائل الإجماع لابن القطان.

قلت: وهنا أمر هام ينبغي التفطن له، وهو أن المسائل التي اتفق عليها الأئمة المجتهدون من أهل السنة والجماعة كثيرة؛ ولكن تشغيب أهل الأهواء والمتعصبين من المذهبيين والحزبيين من الفرق المناهضة لأهل السنة هم الذين يظهرون علماء هذه الأمة بمظهر المتصارعين المختلفين على الكبيرة والصغيرة؛ فإذا طرحنا خلاف هؤلاء، ظهر لنا أن الاختلاف ليس هو الغالب على أهل الحق كما يظن البعض.

لذلك فإن أهل الأهواء المتعصبين -خاصة الدعاة منهم- لا عبرة بخلافهم لا في

--------------------------------------------

(1) وثَمَّ كتب أخرى أُلفت في الإجماع بعضها قد يكون في حيز المفقود، قد أشار إليها أصحاب كتب الفهارس؛ مثل كتاب "تشنيف الأسماع بمسائل الإجماع" للسيوطي، ذكره حاجي خليفة في كشف الظنون (1/ 409)، وكتاب "الإجماع في الفقه" لأبي الحسن الدقيقي الحلواني الطبري، ذكره ابن نديم في الفهرست (ص 327).

(2) انظر الذيل على طبقات الحنابلة للحافظ ابن رجب (1/ 252).
আল-বারুদি)।

 

৭ - সা'দি আবু জাইবের 'মাওসুআতুল ইজমা ফিল ফিকহিল ইসলামি' (১)।

 

৮ - উজির ইবনে হুবাইরা আল-হানবালির গ্রন্থ 'আল-ইশরাফ আলা মাজাহিবিল আশরাফ', যা কায়রোর দারুল হারামাইন 'আল-ফিকহ আলা মাজাহিবিল আইম্মাতিল আরবাআহ' শিরোনামে প্রকাশ করেছে। এটি মূলত তার বৃহৎ গ্রন্থ 'আল-ইফসাহ আন মাআনিল সিহাহ'-এর একটি অংশ, যাতে তিনি দুই সহিহ (সহিহাইন) গ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন (২)।

এটি মতভেদ (اختلاف) সংক্রান্ত কিতাব এবং দীর্ঘ পরিসরের কিতাবসমূহ (المطولات) ব্যতিরেকে, যা ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করার ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করেছে; যেমন: ইবনুল মুনজিরের কিতাবসমূহ—যার উল্লেখ ইতিপূর্বে করা হয়েছে—, মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াজির 'ইখতিলাফুল উলামা', ইবনে আব্দুল বার-এর 'আল-ইস্তিজকার' ও 'আত-তামহিদ', ইবনে জারির আত-তাবারির 'ইখতিলাফুল ফুকাহা', ইবনে হাজমের 'আল-মুহাল্লা', ইবনে কুদামার 'আল-মুগনি', আত-তাহাভির 'শারহু মাআনিল আসার', ইবনে রুশদের 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ', আন-নববীর 'আল-মাজমু', হাফেজ ইবনে হাজারের 'ফাতহুল বারি' এবং আশ-শাওকানির 'নাইলুল আওতার'।

যেসব কিতাবের মাধ্যমে 'কিতাবুল ইজমা'-এর অধিকাংশ পাঠ উদ্ধৃত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: ইবনে কুদামার 'আল-মুগনি' এবং ইবনুল কাত্তানের 'আল-ইকনা ফি মাসাইলিল ইজমা'।

আমি (লেখক) বলছি: এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা খেয়াল রাখা প্রয়োজন, তা হলো—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মুজতাহিদ (مجتهدون) ইমামগণ যেসব মাসআলায় একমত হয়েছেন তার সংখ্যা অনেক। কিন্তু প্রবৃত্তি পূজারি (أهل الأهواء) এবং মাযহাবি ও দলীয় সংকীর্ণতায় নিমজ্জিত গোঁড়া (متعصبون) ব্যক্তিরা, যারা আহলুস সুন্নাহ বিরোধী বিভিন্ন ফিরকার অন্তর্ভুক্ত, তারাই মূলত এই উম্মতের আলেমদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তারা প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়েই বিবাদে লিপ্ত ও মতভেদে বিভক্ত। আমরা যদি তাদের এই বিরোধিতাকে উপেক্ষা করি, তবে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, হকের অনুসারীদের মধ্যে মতভেদই (اختلاف) প্রধান বিষয় নয়, যেমনটি অনেকে ধারণা করেন।

তাই গোঁড়া প্রবৃত্তি পূজারিদের (أهل الأهواء)—বিশেষ করে তাদের দাঈদের—বিরোধিতার কোনো গুরুত্ব নেই...

--------------------------------------------

(১) ঐকমত্য (إجماع) বিষয়ে আরও কিছু কিতাব রচিত হয়েছে যেগুলোর কোনো কোনোটি বর্তমানে নিখোঁজ (مفقود) থাকতে পারে, গ্রন্থসূচি প্রণেতাগণ সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। যেমন: সুয়ুতির 'তাশনিফুল আসমা বি-মাসাইলিল ইজমা', হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' (১/৪০৯)-এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং আবুল হাসান আদ-দাকিকি আল-হালওয়ানি আত-তাবারির 'আল-ইজমা ফিল ফিকহ', ইবনে নাদিম 'আল-ফিহরিস্ত' (পৃ. ৩২৭)-এ এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) দেখুন: হাফেজ ইবনে রজবের 'আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা' (১/২৫২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ৮)
الأصول ولا في الفروع، فقد يُخالف صاحب هوى في مسألة من مسائل العبادات أو المعاملات، ويكون قد بنى خلافه على هوى وتعصب مذهبي لا عن اجتهاد في معرفة الحق بدليله؛ فمثل هذا الصنف لا ينبغي أن يُعتبر بِخلافه أو أن يُحسب خلافه مناقضًا لاتفاق أهل السنة، أو لإجماعهم على مسألة فقهية في العبادات أو المعاملات.

قال العلامة المحدث مقبل بن هادي رحمه الله في نصيحته لأهل السنة (ص 13): "وبعد: فإنَّا قد نظرنا في المسائل التي يختلف فيها أهل السنة المعاصرون الذين لا يختلفون عن هوى، فوجدناها تقارب ثلاثين مسألة ووزعناها على إخواننا أهل السنة يذكرون -إن شاء الله- الأحاديث بأسانيدها، وينظرون في أقوال الشرَّاح في فهم هذه الأحاديث، وإن احتيج إلى نظر في كتب الفقهاء رحمهم الله نُظر فيها، وبعد الانتهاء -إن شاء الله- سينشر في رسالة صغيرة".اهـ

قلت: واعلم -رحمك الله- أن قاعدة: "نجتمع فيما اتفقنا عليه ويعذر بعضنا بعضًا فيما اختلفنا فيه" (1)، هي قاعدة باطلة، المقصود بها ليس العمل على اجتماع أهل الإسلام لكن المقصود بِها هو تمييع الحق والانصياع للأهواء بحجة الاتفاق؛ فهي دعوة لتمييع الخلاف بين أهل السنة وغيرها من طوائف الضلال من شيعة وخوارج ومعتزلة ومرجئة وغيرها.

فالزم -رعاك الله- غرز السلف الصالِح، ولا تعزب عن فهمهم مثقال ذرة، فإن السلف هم القوم، فلا تعدو عيناك عنهم تريدُ كلام أهل الأهواء المزين ببهرج القول، فالثبات! الثبات! على سبيل السلف؛ وإياك! ثم إياك! أن تخرج على إجماعهم في صغير أو كبير؛ فإن السلف الصالح لا يجتمعون على ضلالة أبدًا؛ سواء كان في مسألة تتعلق بأصول الدين أو في مسألة فقهية - مثل جواز المسح على الخفين -، ونحوها من

--------------------------------------------

(1) وضع هذه القاعدة محمد رشيد رضا ثم شهرها حسن البنا؛ ثم طورها إبراهيم أبو شقرة، فزاد عليها: "ونتحاور فيما اختلفنا فيه".
মূলনীতি (أصول) কিংবা শাখা-প্রশাখা (فروع) কোনোটির ক্ষেত্রেই নয়; কখনো কোনো প্রবৃত্তি পূজারী (صاحب هوى) ইবাদত বা লেনদেন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারে। কিন্তু তার এই দ্বিমত দলীলের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধানের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) থেকে নয়, বরং প্রবৃত্তি এবং মাযহাবী গোঁড়ামির ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। সুতরাং এই শ্রেণির ব্যক্তির দ্বিমতকে ধর্তব্যের মধ্যে নেওয়া উচিত নয়, কিংবা তার দ্বিমতকে আহলে সুন্নাহর ঐকমত্যের (اتفاق) পরিপন্থী অথবা ইবাদত বা লেনদেন সংক্রান্ত কোনো ফিকহি (فقهية) বিষয়ে তাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) বিরোধী হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়।

আল্লামা মুহাদ্দিস মুকবিল বিন হাদি (রাহিমাহুল্লাহ) আহলে সুন্নাহর প্রতি তাঁর নসিহতমূলক পত্রে (পৃ. ১৩) বলেছেন: "অতঃপর, আমরা সমসাময়িক আহলে সুন্নাহর আলেমদের মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছি—যাঁরা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে মতভেদ করেন না। আমরা এ জাতীয় প্রায় ত্রিশটি বিষয় পেয়েছি এবং সেগুলো আমাদের আহলে সুন্নাহর ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছি। তাঁরা ইনশাআল্লাহ হাদিসগুলো সেগুলোর সনদ (أسانيد) সহ উল্লেখ করবেন এবং এই হাদিসগুলো বোঝার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাকারকদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করবেন। যদি ফকিহদের (রাহিমাহুল্লাহ) কিতাবসমূহ দেখার প্রয়োজন হয়, তবে সেগুলোও দেখা হবে। কাজ শেষ হওয়ার পর ইনশাআল্লাহ এটি একটি ছোট পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হবে।" (সমাপ্ত)

আমি বলি: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, জেনে রাখুন— "আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছি তাতে পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হব, আর যে বিষয়ে আমাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে তাতে একে অপরকে ছাড় দেব" (১)—এই মূলনীতিটি একটি বাতিল (باطل) মূলনীতি। এর উদ্দেশ্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্য নয়, বরং ঐক্যের দোহাই দিয়ে সত্যকে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন করা এবং প্রবৃত্তির আনুগত্য করা। এটি মূলত আহলে সুন্নাহ এবং অন্যান্য ভ্রান্ত দল যেমন শিয়া, খারেজি, মুতাজিলা, মুরজিয়া প্রভৃতির মধ্যকার পার্থক্যকে মিটিয়ে দেওয়ার একটি আহ্বান।

সুতরাং—আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন—আপনি সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করুন এবং তাদের বুঝ বা উপলব্ধি থেকে অণু পরিমাণও বিচ্যুত হবেন না। কারণ সালাফরাই হচ্ছেন প্রকৃত আদর্শ। অলঙ্কৃত কথার মায়াজালে ঘেরা প্রবৃত্তি পূজারীদের (أهل الأهواء) কথার লোভে আপনার দৃষ্টি যেন তাদের (সালাফদের) থেকে সরে না যায়। সুতরাং সালাফদের পথে অটল থাকুন! অবিচল থাকুন! সাবধান! সাবধান! ছোট বা বড় কোনো বিষয়েই তাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) বাইরে যাবেন না। কেননা সালাফে সালেহীন কখনোই কোনো ভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর ঐক্যবদ্ধ হন না; তা দ্বীনের মৌলিক বিষয়ের (أصول الدين) সাথে সম্পৃক্ত হোক কিংবা কোনো ফিকহি মাসআলা—যেমন মোজার ওপর মাসেহ করার বৈধতা—অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু হোক।

--------------------------------------------

(১) এই মূলনীতিটি মুহাম্মদ রাশিদ রিদা প্রবর্তন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে হাসান আল-বান্না একে প্রসিদ্ধি দান করেন। এরপর ইব্রাহিম আবু শাকরা এতে সংযোজন করে একে আরও বিস্তৃত করেন: "এবং যে বিষয়ে আমাদের মতভেদ রয়েছে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ৯)
المسائل التي قد يُخالف فيها بعض المعاصرين بحجة الاجتهاد وعدم التقليد؛ وهذا من الخلط؛ فإن عدم التقليد لا يقتضي الخروج على إجماع الصحابة والسلف الصالح؛ أو حتى الخروج عن أقوالهم التي اختلفوا عليها؛ فلو اختلف الصحابة في مسألة على قولين؛ فإن الصحيح أنه لا يَجوز إحداث قول ثالث؛ فإن الخروج عن أقاويل الصحابة بدعة وضلالة كما قرر هذا إمام السنة الإمام أحمد رحمه الله وغيره من الأئمة.

وأما عن عملي في الكتاب؛ فقد قمت بمقابلة النسخة المطبوعة على النسخة الخطية الوحيدة له؛ وكذلك قمت بمقابلته على نسخة كتاب الإقناع لابن القطان؛ وأثبت الفروق بين النسخ في الحاشية.

وأثبت في الحواشي أيضًا بداية كل صفحة من المخطوط؛ بأن أضع الرقم بين قوسين هكذا: (1/أ)، (1/ب)، (2/أ)، .....

وقمت بتخريج الأحاديث والآثار التي مرت في المتن؛ ثم علَّقت على بعض المواضع التي تحتاج إلى بيان؛ وإن كان هناك فائدة في كتب الإجماع الأخرى أو كتب المطولات أثبتها؛ إثراءً للكتاب.

وأخيرًا؛ هذا جهد المقل، أسأل الله القبول ومغفرة التقصير، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

 

وكتب

خالد بن محمد بن عثمان

 

18 - من جمادى الأولى 1425 هـ
সেইসব মাসয়ালা যেগুলোতে কতিপয় সমসাময়িক ব্যক্তি ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং তাকলীদ (تقليد) না করার অজুহাতে ভিন্নমত পোষণ করে থাকেন; এটি মূলত একটি বিভ্রান্তি; কেননা তাকলীদ না করার অর্থ এই নয় যে, সাহাবী এবং সালফে সালেহীনদের ঐক্যমত্য (إجماع) থেকে বিচ্যুত হওয়া; এমনকি তাদের সেই সকল বক্তব্য থেকেও বের হওয়া নয় যেগুলোতে তারা মতভেদ করেছিলেন। যদি সাহাবীগণ কোনো মাসয়ালায় দুটি মতের ওপর ইখতিলাফ করেন, তবে সঠিক (صحيح) সিদ্ধান্ত হলো যে, সেখানে তৃতীয় কোনো মত উদ্ভাবন করা জায়েয নেই। কেননা সাহাবীগণের বক্তব্যের বাইরে যাওয়া হলো বিদআত (بدعة) এবং পথভ্রষ্টতা (ضلالة), যেমনটি সুন্নাহর ইমাম, ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যান্য ইমামগণ স্থির করেছেন।

আর এই কিতাবটিতে আমার কাজের ব্যাপারে বলা যায় যে, আমি এর মুদ্রিত পাণ্ডুলিপিকে কিতাবটির একমাত্র হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছি; একইভাবে আমি ইবনুল কাত্তান রচিত ‘আল-ইকনা’ কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপির সাথেও এটি মিলিয়ে দেখেছি এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পার্থক্যসমূহ টীকাতে উল্লেখ করেছি।

আমি পাদটীকাগুলোতে পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠার শুরুও চিহ্নিত করেছি এভাবে যে, সংখ্যাটিকে বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি: (১/ক), (১/খ), (২/ক), .....

আর আমি মূল পাঠে (متن) উল্লিখিত হাদিস এবং আছারসমূহের তাখরীজ (تخريج) করেছি; এরপর ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে এমন কিছু স্থানে মন্তব্য করেছি; আর যদি ইজমা (إجماع) বিষয়ক অন্যান্য কিতাবে বা বিস্তারিত গ্রন্থসমূহে কোনো বিশেষ শিক্ষণীয় বিষয় থেকে থাকে, তবে কিতাবটিকে সমৃদ্ধ করার জন্য আমি তা উল্লেখ করেছি।

পরিশেষে, এটি একজন সামান্য জ্ঞানীর প্রচেষ্টা, আমি আল্লাহর কাছে কবুলিয়্যাত এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।

 

লিখিত

খালেদ বিন মুহাম্মদ বিন উসমান

 

১৮ - জমাদিউল আউয়াল ১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌مبحث عن الإجماع

-‌‌ تعريف الإجماع:

أولاً: لُغة: قال الرازي في المحصول (4/ 20، 19): "الإجماع يقال بالاشتراك على معنيين:

أحدهما: العزم (1)، قال الله تعالى: {فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ} [يونس: 71]، وقال عليه الصلاة والسلام: «لا صيام لمن لم يجمع الصيام من الليل» (2).

وثانيهما: الاتفاق يقال أجمع الرجل إذا صار ذا جمع كما يقال ألبن وأتمر إذا صار ذا لبن وذا تمر فقولنا اجمعوا على كذا أي صاروا ذوي جمع عليه .. ".اهـ

وقد نقل الشوكاني في إرشاد الفحول (ص 131) كلام الرازي ثم عقَّب عليه قائلاً: " واعترض على هذا بأن إجماع الأمة يتعدى بـ: (على)، والإجماع بمعنى العزيمة لا يتعدى بـ: (على)، وأجيب عنه بما حكاه ابن فارس في المقاييس، فإنه قال: يقال أجمعت على الأمر إجماعًا وأجمعته، وقد جزم بكونه مشتركًا بين المعنيين أيضًا الغزالي؛ وقال القاضي: العزم يرجع إلى الاتفاق لأن من اتفق على شيء فقد عزم عليه؛ وقال ابن برهان وابن السمعاني: الأول أي العزم أشبه باللُغة، والثاني أي الاتفاق أشبه بالشرع .. ".اهـ

وقد ذكر محب الله الشكور في "مسلَّم الثبوت" (2/ 211) أن كلا المعنيين: "مأخوذان من الجمع، فإن العزم: فيه جمع الخواطر؛ والاتفاق جمع الخواطر".اهـ

ثانيًا: اصطلاحًا: قال التفتازاني في شرح التلويح على التوضيح (2/ 82): "اتفاق المجتهدين من أمة محمد عليه الصلاة والسلام في عصر على حكم شرعي، والمراد

--------------------------------------------

(1) قال الآمدي في الإحكام (1/ 179): "وعلى هذا فيصح إطلاق اسم الإجماع على عزم الواحد".اهـ

(2) الراجح في هذا الحديث الوقف، كما بينته بتوسع في تخريجي على كتاب السنة للمروزي (99) (ص 134 - 136) (ط. دار الآثار).
‌ইজমা (إجماع) সংক্রান্ত আলোচনা

-‌ ইজমা (إجماع)-এর সংজ্ঞা:

প্রথমত: আভিধানিক অর্থ: আল-রাজি আল-মাহসুল (৪/২০, ১৯) গ্রন্থে বলেছেন: "ইজমা (إجماع) শব্দটি সমার্থকভাবে দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

এক: দৃঢ় সংকল্প (العزم) (১), আল্লাহ তাআলা বলেন: {فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ} [ইউনূস: ৭১], এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: «যে ব্যক্তি রাত থেকে রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প (يجمع) করল না, তার রোজা নেই» (২)।

দুই: ঐক্যমত (الاتفاق)। বলা হয়ে থাকে 'ব্যক্তিটি ইজমা (أجمع الرجل) করেছে' যখন সে সংকলনের বা দলের অধিকারী হয়; যেমন বলা হয় 'দুগ্ধের অধিকারী হয়েছে' বা 'খেজুরের অধিকারী হয়েছে' যখন সে দুধ বা খেজুরের মালিক হয়। সুতরাং আমাদের বক্তব্য 'তারা অমুক বিষয়ে একমত হয়েছে' (أجمعوا على كذا) এর অর্থ হলো তারা সেই বিষয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ দলে (جمع) পরিণত হয়েছে..."। সমাপ্ত।

আল-শাওকানি 'ইরশাদুল ফুহুল' (পৃ. ১৩১) গ্রন্থে আল-রাজির বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে, উম্মতের ইজমা (إجماع) 'আলা' (على) অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু দৃঢ় সংকল্প (العزيمة) অর্থে ইজমা (إجماع) 'আলা' (على) অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয় না। এর জবাবে ইবনে ফারিস 'আল-মাকায়িস' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন: বলা হয়ে থাকে 'আমি এই বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প (أجمعت على الأمر) করেছি' এবং 'আমি এটি সম্পন্ন (أجمعته) করেছি'। ইমাম আল-গাজালিও এটি এই উভয় অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন। আল-কাদি বলেন: সংকল্প মূলত ঐক্যমতের (الاتفاق) দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, কারণ যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে ঐক্যমত (اتفق) পোষণ করে, সে মূলত সেই বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প (عزم) করে। ইবনে বুরহান এবং ইবনে সামআনি বলেন: প্রথমটি অর্থাৎ দৃঢ় সংকল্প (العزم) আভিধানিক অর্থের অধিক নিকটবর্তী এবং দ্বিতীয়টি অর্থাৎ ঐক্যমত (الاتفاق) শরয়ি পরিভাষার অধিক নিকটবর্তী..."। সমাপ্ত।

মুহিব্বুল্লাহ আল-শাকুর 'মুসাল্লাম আল-সুবুত' (২/২১১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এই উভয় অর্থই: "একত্রীকরণ (الجمع) থেকে গৃহীত। কেননা দৃঢ় সংকল্পের (العزم) মধ্যে সংকল্পের একত্রীকরণ ঘটে এবং ঐক্যমতের (الاتفاق) মধ্যে চিন্তাধারার একত্রীকরণ ঘটে।" সমাপ্ত।

দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থ: আল-তাফতাজানি 'শারহুত তালবিহ আলাত তাওদিহ' (২/৮২) গ্রন্থে বলেন: "কোনো এক যুগে মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের মুজতাহিদগণের (المجتهدين) কোনো শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) ওপর ঐক্যমত (اتفاق) হওয়া। আর এর উদ্দেশ্য হলো...

--------------------------------------------

(১) আল-আমিদি আল-ইহকাম (১/১৭৯) গ্রন্থে বলেছেন: "এই হিসেবে একজনের দৃঢ় সংকল্পের ক্ষেত্রেও ইজমা (إجماع) শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ হবে।" সমাপ্ত।

(২) এই হাদিসটির ক্ষেত্রে শক্তিশালী মত হলো এটি মাওকুফ (الوقف), যা আমি আল-মারওয়াজির 'কিতাবুস সুন্নাহ' (৯৯) এর তাখরিজে (تخريجي) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি (পৃ. ১৩৪-১৩৬) (দারুল আসার সংস্করণ)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১১)
بالاتفاق: الاشتراك في الاعتقاد أو القول أو الفعل؛ وقيَّد بالمجتهدين إذ لا عبرة باتفاق العوام".اهـ

قلت: وأطلق الغزالي الاتفاق فلم يَخصه بعصر من العصور، فقال في الْمُستصفى (ص 137): "اتفاق أمة محمد صلى الله عليه وسلم خاصة على أمر من الأمور الدينية".اهـ

وقال الآمدي في الإحكام (1/ 180) عن تعريف الغزالي: " وهو مدخول من ثلاثة أوجه:

الأول: أن ما ذكره يشعر بعدم انعقاد الإجماع إلى يوم القيامة

فإن أمة محمد جملة من اتبعه إلى يوم القيامة ومن وجد في بعض الأعصار منهم إنما يعم بعض الأمة لا كلها وليس ذلك مذهبًا له ولا لمن اعترف بوجود الإجماع.

الثاني: أنه وإن صدق على الموجودين منهم في بعض الأعصار أنهم أمة محمد غير أنه يلزم مما ذكره أنه لو خلا عصر من الأعصار عن أهل الحل والعقد وكان كل من فيه عاميًا واتفقوا على أمر ديني أن يكون إجماعًا شرعيًا وليس كذلك.

الثالث: أنه يلزم من تقييده للإجماع بالاتفاق على أمر من الأمور الدينية أن لا يكون إجماع الأمة على قضية عقلية أو عرفية حجة شرعية وليس كذلك لما يأتي بيانه.

والحق في ذلك أن يقال الإجماع: عبارة عن اتفاق جملة أهل الحل والعقد من أمة محمد في عصر من الأعصار على حكم واقعة من الوقائع هذا إن قلنا إن العامي لا يعتبر في الإجماع وإلا فالواجب أن يقال الإجماع عبارة عن اتفاق المكلفين من أمة محمد إلى آخر الحد المذكور".اهـ

قلت: ووافق الآمدي على عدم اختصاص الإجماع بالأمور الشرعية:

الشوكاني في إرشاد الفحول (ص 132)، فقال: "يتناول الشرعيات والعقليات واللغويات". اهـ

وكذلك قال به: السبكي كما في جمع الجوامع، والزركشي في البحر المحيط،
ঐক্যমত্য (بالاتفاق) বলতে বোঝায়: বিশ্বাস, কথা বা কাজে অংশগ্রহণ করা; এবং এটি মুজতাহিদদের সাথে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, কেননা সাধারণ জনগণের ঐক্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সমাপ্ত।

আমি (লেখক) বলছি: ইমাম গাযালি ঐক্যমত্য (الاتفاق) শব্দটিকে সাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন এবং একে কোনো নির্দিষ্ট যুগের সাথে সীমাবদ্ধ করেননি। তিনি আল-মুস্তাসফা (পৃ. ১৩৭) গ্রন্থে বলেছেন: "বিশেষভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের কোনো দ্বীনি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ (اتفاق) হওয়া।" সমাপ্ত।

আর আল-আমিদি আল-ইহকাম (১/ ১৮০) গ্রন্থে ইমাম গাযালির সংজ্ঞা সম্পর্কে বলেন: "এটি তিনটি দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ:

প্রথমত: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে কিয়ামত পর্যন্ত ইজমা (إجماع) সংঘটিত হবে না।

কেননা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত বলতে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসারী সকলকেই বোঝায়। আর কোনো যুগে তাদের মাঝে যারা বিদ্যমান থাকে, তারা কেবল উম্মতের একটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পুরো উম্মতকে নয়। এটি না তাঁর অভিমত, আর না ইজমা (إجماع)-এর অস্তিত্ব স্বীকারকারীদের কারো অভিমত।

দ্বিতীয়ত: কোনো যুগে যারা বিদ্যমান তাদের ওপর 'উম্মতে মুহাম্মাদী' কথাটি সত্য হলেও, তার বক্তব্যের দ্বারা এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে—যদি কোনো যুগ 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদি' (أهل الحل والعقد) শূন্য হয় এবং সেখানে শুধু সাধারণ মানুষই অবশিষ্ট থাকে, আর তারা কোনো দ্বীনি বিষয়ে একমত হয়, তবে তা শরয়ি ইজমা (إجماع) হিসেবে গণ্য হবে; অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

তৃতীয়ত: তাঁর ইজমা (إجماع)-কে কেবল দ্বীনি বিষয়ের ঐক্যের সাথে সীমাবদ্ধ করার কারণে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে—যৌক্তিক বা প্রথাগত কোনো বিষয়ে উম্মতের ঐক্যবদ্ধ (اتفاق) হওয়া শরয়ি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না; অথচ বাস্তবতা এমন নয়, যা সামনে বর্ণিত হবে।

এক্ষেত্রে সঠিক হলো এটি বলা যে, ইজমা (إجماع) হলো: কোনো এক যুগে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত সকল 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদি'-এর কোনো বাস্তব ঘটনার বিধানের ওপর ঐক্যবদ্ধ (اتفاق) হওয়া। এটি তখন প্রযোজ্য হবে যখন আমরা বলব যে, ইজমা (إجماع)-এর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ঐক্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। অন্যথায় এটি বলা আবশ্যক হবে যে: ইজমা (إجماع) হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের সকল মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের ঐকমত্য... সংজ্ঞার শেষ পর্যন্ত।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: ইজমা (إجماع) কেবল শরয়ি বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট না হওয়ার ব্যাপারে আল-আমিদির সাথে একমত হয়েছেন:

ইমাম শাওকানি তাঁর ইরশাদুল ফুহুল (পৃ. ১৩২) গ্রন্থে; তিনি বলেছেন: "এটি শরয়ি, আকলি (যৌক্তিক) এবং লোগাভি (ভাষাগত) সকল বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।" সমাপ্ত।

অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন ইমাম সুবকি জামউল জাওয়ামি গ্রন্থে এবং ইমাম যারকাশি আল-বাহরুল মুহিত গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১২)
وعبد العزيز البخاري في كشف الأسرار، والفتوحي في شرح الكوكب المنير، والعطار في حاشيته على الجلال المحلى.

وذهب الشنقيطي في مذكرته إلى اختصاصه بالأمور الشرعية.

وقال الغزالي في المستصفى (ص 137): "وذهب النظَّام إلى أن الإجماع عبارة عن كل قول قامت حجته، وإن كان قولٌ واحد، وهو على خلاف اللُغة والعرف".اهـ

قلت: لكن قال محب الله في مسلَّم الثبوت (2/ 211): "بعض النظامية والشيعة قالوا إنه -أي الإجماع- محال، ونسبه غير واحد إلى النظَّام، قال السبكي: إنما هو قول بعض أصحابه، وأما رأي النظَّام نفسه فهو أنه متصور، لكن لا حجة فيه".اهـ

قلت: وممن أنكر حجية الإجماع أيضًا الخوارج كما في الإحكام (1/ 183)، وطائفة من المرجئة كما في المسودة (2/ 615) حيث قالوا يجوز اجتماع الكل على خطأ.

-‌‌ هل حجية الإجماع قطعية أم ظنية؟

خلاصة المذاهب في هذه المسألة ذكرها الزركشي في البحر المحيط (6/ 389، 388)، والشوكاني في إرشاد الفحول (ص 144).

قال الزركشي: " المبحث السادس: في أنه حجة قطعية؛ قال الروياني في البحر: إذا انعقد الإجماع على أحد أدلته، فهل يقطع على صحته؟ فيه وجهان: أحدهما: نعم; ليصح قيام الحجة؛ الثاني: المنع اعتبارًا بأهله في انتفاء العصمة عن آحادهم، فكذا عن جميعهم؛ وأطلق جماعة من الأصوليين بأنه حجة قطعية منهم: الصيرفي، وابن برهان، وجزم به من الحنفية الدبوسي، وشمس الأئمة، وقالا: كرامة لهذه الأمة، وقال الأصفهاني: إنه المشهور، وإنه يقدم على الأدلة كلها، ولا يعارضه دليل أصلاً، ونسبه إلى الأكثرين؛ قال: بحيث يكفر أو يضلل ويبدع مخالفه؛ وخالفه الإمام الرازي والآمدي، فقالا: إنه لا يفيد إلا الظن، والحق التفصيل بين ما اتفق عليه المعتبرون فحجة قطعية، وبين ما اختلفوا فيه كالسكوتي، وما ندري مخالفه، فحجة
আব্দুল আজিজ আল-বুখারি 'কাশফুল আসরার' গ্রন্থে, আল-ফুতুহি 'শারহুল কাওকাব আল-মুনির' গ্রন্থে এবং আল-আত্তার 'আল-জালাল আল-মহাল্লি'-র উপর তাঁর হাশিয়া বা টীকায় এটি উল্লেখ করেছেন।

আশ-শানকিতী তাঁর 'মুযাক্কিরাহ' গ্রন্থে একে শরয়ি বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আল-গাযালি 'আল-মুস্তাসফা' (পৃষ্ঠা ১৩৭) গ্রন্থে বলেন: "আল-নাজ্জাম এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, ইজমা বলতে এমন প্রতিটি বক্তব্যকে বোঝায় যার সপক্ষে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যদিও তা একজনের বক্তব্য হয়। আর এটি ভাষা ও প্রথার পরিপন্থী।" সমাপ্ত।

আমি বলি: তবে মুহিব্বুল্লাহ 'মুসাল্লামুস সুবুত' (২/২১১) গ্রন্থে বলেছেন: "নাজ্জামিয়াদের একাংশ এবং শিয়াগণ বলেছেন যে এটি—অর্থাৎ ইজমা—অসম্ভব (محال)। আর একাধিক ব্যক্তি এই মতটি আল-নাজ্জামের দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করেছেন। আস-সুবকি বলেন: এটি প্রকৃতপক্ষে তাঁর কিছু অনুসারীর বক্তব্য। আর খোদ আল-নাজ্জামের অভিমত হলো, এটি কল্পনাযোগ্য (متصور), তবে এতে কোনো প্রমাণ (حجة) নেই।" সমাপ্ত।

আমি বলি: যারা ইজমার প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকার করেছেন তাদের মধ্যে খারিজিপন্থীরাও রয়েছে যেমনটি 'আল-ইহকাম' (১/১৮৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, এবং মুরজিয়াপন্থীদের একটি দলও যেমনটি 'আল-মুসাওয়াদাহ' (২/৬১৫) গ্রন্থে রয়েছে, যেখানে তারা বলেছে যে কোনো বিষয়ে সকলের ভুলে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টি সম্ভব।

-‌‌ ইজমার প্রামাণিকতা (حجية) কি নিশ্চিত (قطعية) নাকি ধারণাপ্রসূত (ظنية)?

এই মাসআলায় বিভিন্ন মাযহাবের সারসংক্ষেপ আজ-যারকাশি 'আল-বাহরুল মুহিত' (৬/৩৮৮, ৩৮৯) গ্রন্থে এবং আশ-শাওকানি 'ইরশাদুল ফুহুল' (পৃষ্ঠা ১৪৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আজ-যারকাশি বলেন: "ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এটি একটি নিশ্চিত প্রমাণ (حجة قطعية) হওয়া প্রসঙ্গে। আল-রুয়ানি 'আল-বাহর' গ্রন্থে বলেন: যখন কোনো একটি দলিলের (أدلة) ভিত্তিতে ইজমা সম্পন্ন হয়, তখন কি এর শুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি: হ্যাঁ; যাতে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হওয়া সঠিক হয়। দ্বিতীয়টি: এটি অস্বীকৃত; কারণ ইজমাকারীদের একক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যেহেতু নিষ্পাপ হওয়ার বিষয়টি অনুপস্থিত, তাই সমষ্টির ক্ষেত্রেও তা-ই হবে। একদল উসুলে ফিকহবিদ (أصوليين) একে নিশ্চিত প্রমাণ (حجة قطعية) হিসেবে গণ্য করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আস-সায়রাফি এবং ইবনে বুরহান। হানাফিদের মধ্যে আদ-দাবুসি এবং শামসুল আইম্মাহ এটি নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: এটি এই উম্মতের জন্য একটি অলৌকিক সম্মান (كرامة)। আল-আসফাহানি বলেন: এটিই প্রসিদ্ধ মত যে, এটি সমস্ত দলিলের (أدلة) ঊর্ধ্বে স্থান পাবে এবং কোনো দলিল (دليل) এর সাথে মোটেও বিরোধপূর্ণ হবে না। তিনি এই মতটি অধিকাংশের দিকে নিসবত করেছেন। তিনি বলেন: এর বিরোধিতাকারীকে কাফির বলা হবে অথবা বিভ্রান্ত ও বিদআতি আখ্যা দেওয়া হবে। তবে ইমাম আর-রাজি এবং আল-আমেদি এর বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেন: এটি কেবল ধারণা (ظن) প্রদান করে। আর সঠিক কথা হলো এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে—যে বিষয়ে গ্রহণযোগ্য (معتبرون) আলেমগণ একমত হয়েছেন তা নিশ্চিত প্রমাণ (حجة قطعية), আর যে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন যেমন ইজমায়ে সুকুতি, অথবা যার বিরোধিতাকারী সম্পর্কে আমাদের জানা নেই, তা কেবল প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১৩)
ظنية؛ وقال البزدوي وجماعة من الحنفية: الإجماع مراتب: فإجماع الصحابة مثل الكتاب والخبر المتواتر، وإجماع من بعدهم بمنزلة المشهور من الأحاديث، والإجماع الذي سبق فيه الخلاف في العصر السالف بمنزلة خبر الواحد، واختار بعضهم في الكل أنه يوجب العمل لا العلم، فصارت المذاهب أربعة: يوجب العلم والعمل، لا يوجبهما، يوجب العلم حيث اتفقوا عليه قطعًا، يوجب العلم في إجماع الصحابة؛ وقد أورد صاحب التقويم: "أن الإجماع قد يقع عن أمارة، فكيف يوجب العلم إجماع تفرع عن الظن؟ وأجاب بأن الموجب لذلك اتصالها بالإجماع، وقد ثبت عصمتهم من الخطأ، فكان بمنزلة الاتصال برسول الله صلى الله عليه وسلم وتقريره على ذلك؛ وأما أن الإجماع من الأصول الكلية التي يحكم بها على القواطع التي هي نصوص الكتاب والسنة المتواترة، فلا بد أن يكون قاطعًا; لاستحالة رفع القاطع بما ليس بقاطع، وحكى الأستاذ أبو إسحاق في تعليقه، والبندنيجي في الذخيرة: "قولين في أن لفظ الإجماع هل يطلق على القطعي والظني ، أو لا يطلق إلا على القطعي؟ وصرحا بأنه خلاف في العبارة".اهـ

قلت: وبعض هذه الأقوال نابع من قول طائفة المتكلمين من أن خبر الواحد يفيد الظن؛ وهذا القول بظنية حديث الواحد بله الإجماع لم يُعرف في عصر الصحابة، وإنما نشأ مع نشأة علم الكلام؛ أما قول أصحاب الحديث والأثر الذين بنوا دينهم على أصول الصحابة؛ فهو: إن خبر الواحد الثابت يفيد العلم اليقيني ويوجب العمل.

-‌‌ شروط صحة الإجماع:

‌‌أولاً: الشرط الخاص بِحال من ينعقد بِهم الإجماع: وفيه مسائل:

‌‌(المسألة الأولى): الإجماع المعتبر في كل فن:

قال الزركشي في البحر المحيط (6/ 415): "يشترط في الإجماع في كل فن من الفنون أن يكون فيه قول كل العارفين بذلك في ذلك العصر، فإن قول غيرهم فيه يكون بلا دليل بجهلهم به، فيشترط في الإجماع في المسألة الفقهية قول جميع الفقهاء، وفي
ধারণাভিত্তিক (ظنية); আল-বাজদাওয়ী এবং হানাফীগণের (الحنفية) একটি দল বলেছেন: ইজমা (الإجماع) বিভিন্ন স্তরের হয়: সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (إجماع) কিতাব (কুরআন) এবং মুতাওয়াতির সংবাদের (الخبر المتواتر) ন্যায়, আর তাদের পরবর্তী যুগের ইজমা (إجماع) হাদিসের মশহুর (المشهور) পর্যায়ের সমতুল্য, আর যে ইজমার (الإجماع) ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী যুগে মতপার্থক্য বিদ্যমান ছিল তা খবরে ওয়াহিদের (خبر الواحد) সমতুল্য। তাদের কেউ কেউ সবগুলোর ক্ষেত্রেই এই মত গ্রহণ করেছেন যে, এটি আমল করা ওয়াজিব করে কিন্তু নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে না। ফলে মাযহাব বা মতবাদ চারটি হয়েছে: এটি জ্ঞান ও আমল উভয়ই প্রদান করে; কোনোটিই প্রদান করে না; যেখানে তারা নিশ্চিতভাবে ঐক্যমত পোষণ করেছেন সেখানে জ্ঞান প্রদান করে; এবং সাহাবায়ে কেরামের ইজমায় (إجماع) জ্ঞান প্রদান করে। 'তাকউইম' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন: "ইজমা (إجماع) কখনো কোনো নিদর্শনের ভিত্তিতে ঘটে থাকে, তাহলে ধারণাপ্রসূত বিষয় থেকে উদ্ভূত ইজমা (إجماع) কীভাবে জ্ঞান প্রদান করে? তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, এর কারণ হলো ইজমার (إجماع) সাথে তার সম্পৃক্ততা, আর ভুল থেকে তাদের সুরক্ষা (عصمة) প্রমাণিত, তাই এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া এবং সে বিষয়ে তাঁর সম্মতির স্থলাভিষিক্ত। আর ইজমা (إجماع) যেহেতু এমন এক সামষ্টিক মূলনীতি যার মাধ্যমে কিতাব ও মুতাওয়াতির সুন্নাহর নাসের (نصوص) মতো অকাট্য (قاطع) দলিলসমূহের ওপর ফয়সালা দেওয়া হয়, তাই একে অবশ্যই অকাট্য (قاطع) হতে হবে; কারণ যা অকাট্য (قاطع) নয় তার মাধ্যমে অকাট্য (قاطع) কিছু রহিত হওয়া অসম্ভব। উস্তাদ আবু ইসহাক তাঁর 'তালিক' গ্রন্থে এবং আল-বান্দানিজী তাঁর 'যখিরা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "ইজমা (إجماع) শব্দটি কি অকাট্য (القطعي) এবং ধারণাভিত্তিক (الظني) উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, নাকি কেবল অকাট্য (القطعي) বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় - এ নিয়ে দুটি মত রয়েছে। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, এটি পরিভাষা সংক্রান্ত মতপার্থক্য মাত্র।" সমাপ্ত।

আমি বলি: এই মতগুলোর কিছু অংশ ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) সেই কথা থেকে উদ্ভূত যে, খবরে ওয়াহিদ (خبر الواحد) কেবল প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে। খবরে ওয়াহিদের (خبر الواحد) ধারণাভিত্তিক (ظنية) হওয়ার এই মতবাদ, এমনকি ইজমার (الإجماع) ক্ষেত্রেও, সাহাবীদের যুগে পরিচিত ছিল না; বরং এটি ইলমুল কালামের (علم الكلام) উদ্ভবের সাথে সাথে সৃষ্টি হয়েছে। পক্ষান্তরে আসহাবুল হাদিস ওয়াল আসার যারা তাদের দ্বীনকে সাহাবীদের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন, তাদের বক্তব্য হলো: প্রমাণিত (الثابت) খবরে ওয়াহিদ (خبر الواحد) সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে এবং আমল করা ওয়াজিব করে।

-‌‌ ইজমা (إجماع) সহিহ হওয়ার শর্তাবলী:

‌‌প্রথমত: যাদের মাধ্যমে ইজমা (إجماع) সংঘটিত হয় তাদের অবস্থা সংক্রান্ত বিশেষ শর্ত: এতে কয়েকটি মাসয়ালা রয়েছে:

‌‌(প্রথম মাসয়ালা): প্রত্যেক শাস্ত্রের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ইজমা (إجماع):

আল-যারকাশি আল-বাহরুল মুহিত (৬/৪১৫) গ্রন্থে বলেছেন: "প্রত্যেক শাস্ত্রের ইজমার (إجماع) ক্ষেত্রে শর্ত হলো সেই যুগের ঐ বিষয়ের সকল পারদর্শীর (العارفين) মতামত থাকা। কেননা অন্যদের কথা এক্ষেত্রে তাদের অজ্ঞতার কারণে দলিল হিসেবে গণ্য হবে হবে না। সুতরাং ফিকহ শাস্ত্রের কোনো মাসয়ালার ইজমার (إجماع) ক্ষেত্রে সকল ফকিহদের (الفقهاء) ঐকমত্য শর্ত, আর..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأصول قول جميع الأصوليين، وفي النحو قول جميع النحويين؛ وخالف ابن جني، فزعم في كتاب: "الخصائص " أنه لا حجة في إجماع النحاة … ".اهـ

‌‌(المسألة الثانية): مدى اعتبار قول المجتهد المبتدع في الإجماع:

قال أبو بكر الرازي في الفصول (3/ 293): " لا نعرف عن أصحابنا كلاما في تفصيل من ينعقد بهم الإجماع، وكيف صفتهم، وقد اختلف أهل العلم بعدهم في ذلك؛ فقال قائلون: لا ينعقد الإجماع الذي هو حجة لله عز وجل إلا باتفاق فرق الأمة كلها، من كان محقًّا، أو مبتدعًا ضالاً، ببعض المذاهب الموجبة للضلال، وقال آخرون: لا اعتبار بموافقة أهل الضلال، لأن الحق في صحة الإجماع؛ وإنما الإجماع الذي هو حجة لله تعالى عز وجل: إجماع أهل الحق، الذين لم يثبت فسقهم، ولا ضلالهم؛ قال أبو بكر: وهذا هو الصحيح عندنا".اهـ

قلت: وقد فصَّل الزركشي في ذكر مذاهب العلماء في هذه المسألة في البحر المحيط (6/ 419) حيث قال: "أحدها: اعتبار قوله، لكونه من أهل الحل والعقد، وإخباره عن نفسه مقبول إذا كان يعتقد تحريم الكذب، وقال الهندي: إنه الصحيح ،وكلام ابن السمعاني كما سنذكره يقتضي أنه مذهب الشافعي; لنصه على قبول شهادة أهل الهوى.

والثاني: أنه لا يعتبر، قال الأستاذ أبو منصور: قال أهل السنة: لا يعتبر في الإجماع وفاق القدرية، والخوارج، والرافضة، ولا اعتبار بخلاف هؤلاء المبتدعة في الفقه، وإن اعتبر في الكلام، هكذا روى أشهب عن مالك، ورواه العباس بن الوليد عن الأوزاعي، وأبو سليمان الجوزجاني عن محمد بن الحسن، وذكر أبو ثور في منثوراته أن ذلك قول أئمة أهل الحديث. اهـ؛ وقال أبو بكر الصيرفي: هل يقدح خلاف الخوارج في الإجماع؟ فيه قولان: قال: ولا يخرج عن الإجماع من كان من أهل العلم، وإن اختلفت بهم الأهواء كمن قال بالقدر من حملة الآثار، ومن رأى الإرجاء، وغير ذلك
উসুল (الأصول) হলো সকল উসুলশাস্ত্রবিদের (الأصوليين) বক্তব্য, এবং ব্যাকরণ হলো সকল ব্যাকরণবিদের বক্তব্য; তবে ইবনে জিন্নি এর বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর ‘আল-খাসাইস’ গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, ব্যাকরণবিদদের ঐকমত্যের (إجماع) মধ্যে কোনো প্রমাণ নেই ... "। সমাপ্ত।

‌‌(দ্বিতীয় মাসয়ালা): ঐকমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে বিদআতী (المبتدع) মুজতাহিদের (المجتهد) মতামতের গ্রহণযোগ্যতার সীমা:

আবু বকর আল-রাজি আল-ফুসুল (৩/২৯৩) গ্রন্থে বলেছেন: "যাদের সমন্বয়ে ঐকমত্য (الإجماع) গঠিত হয় এবং তাদের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে সে বিষয়ে আমাদের সাথীদের (মাযহাবের ইমামগণ) থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য আমাদের জানা নেই। তবে তাঁদের পরবর্তী যুগের উলামাগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন; একদল বলেছেন: আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য ঐকমত্য (الإجماع) ততক্ষণ পর্যন্ত গঠিত হবে না, যতক্ষণ না উম্মতের সকল দল ঐকমত্যে পৌঁছাবে—চাই তারা সত্যপন্থী (محقًّا) হোক কিংবা ভ্রষ্টতাপূর্ণ কিছু মতবাদের কারণে বিদআতী (مبتدعًا) ও পথভ্রষ্ট (ضالاً) হোক। আবার অন্যরা বলেছেন: পথভ্রষ্টদের (أهل الضلال) ঐকমত্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, কারণ ঐকমত্যের (الإجماع) সঠিকতা সত্যের ওপর নির্ভরশীল। আর মহান আল্লাহর সামনে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গ্রহণযোগ্য ঐকমত্য (الإجماع) কেবল সত্যপন্থীদের ঐকমত্য, যাদের পাপাচার (فسق) বা পথভ্রষ্টতা (ضلال) প্রমাণিত নয়। আবু বকর বলেন: এটিই আমাদের নিকট সঠিক (الصحيح) মত।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: আল-যারকাশি এই মাসয়ালায় উলামাদের মাযহাব (مذهب) উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আল-বাহরুল মুহিত (৬/৪১৯) গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন: "প্রথমত: তার মতের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যেহেতু সে সিদ্ধান্ত প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গের (أهل الحل والعقد) অন্তর্ভুক্ত। আর যদি সে মিথ্যা বলাকে হারাম মনে করে, তবে তার ব্যক্তিগত বর্ণনাও গ্রহণযোগ্য (مقبول)। আল-হিন্দি বলেন: এটিই সঠিক (الصحيح) মত। আর ইবনে সামআনির বক্তব্য—যা আমরা পরে উল্লেখ করব—একথা দাবি করে যে, এটিই শাফেয়ী মাযহাব (مذهب); কারণ তিনি প্রবৃত্তিপূজারীদের (أهل الهوى) সাক্ষ্য (شهادة) কবুল করার বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়ত: তার মত গণ্য হবে না। উস্তাদ আবু মনসুর বলেছেন: আহলুস সুন্নাহগণ বলেছেন যে, ঐকমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে কাদারিয়া, খারেজি এবং রাফেজিদের সম্মতির কোনো গুরুত্ব নেই। যদিও ইলমুল কালামের ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই বিদআতীদের (المبتدعة) বিরোধিতার কোনো গুরুত্ব নেই। ইমাম মালেক থেকে আশহাব, আওজায়ি থেকে আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকে আবু সুলায়মান আল-জাওযজানি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আবু সাওর তাঁর ‘মানসুরাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটিই আহলুল হাদিস ইমামগণের বক্তব্য। সমাপ্ত। আবু বকর আল-সাইরাফি বলেন: ঐকমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে খারেজিদের বিরোধিতা কি কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। তিনি বলেন: যারা জ্ঞানান্বেষী বা আলেমদের (أهل العلم) অন্তর্ভুক্ত, তাদের ঐকমত্য (الإجماع) থেকে বহিষ্কার করা হবে না, যদিও তাদের প্রবৃত্তি (الأهواء) ভিন্ন হয়; যেমন হাদিস বর্ণনাকারীদের (حملة الآثار) মধ্যে যারা তাকদির বা মুরজিয়া মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং অন্যান্যরা।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১৫)
من اختلاف آراء أهل الكوفة والبصرة إذا كان من أهل الفقه؛ فإذا قيل: قالت الخطابية والرافضة كذا ، لم يلتفت إلى هؤلاء في الفقه; لأنهم ليسوا من أهله، وقال ابن القطان: الإجماع عندنا إجماع أهل العلم، فأما من كان من أهل الأهواء، فلا مدخل له فيه؛ قال: قال أصحابنا في الخوارج لا مدخل لهم في الإجماع والاختلاف; لأنهم ليس لهم أصل ينقلون عنه; لأنهم يكفرون سلفنا الذين أخذنا عنهم أصل الدين. انتهى؛ وممن اختار أنه لا يعتد به من الحنفية أبو بكر الرازي، ومن الحنابلة القاضي أبو يعلى واستقرأه من كلام أحمد لقوله: لا يشهد رجل عندي ليس هو عندي بعدل، وكيف أجوِّز حكمه؛ قال القاضي: يعني الجهمي.

والثالث: أن الإجماع لا ينعقد عليه، وينعقد على غيره، أي أنه يجوز له مخالفة من عداه إلى ما أداه إليه اجتهاده، ولا يجوز لأحد أن يقلده، حكاه الآمدي وتابعه المتأخرون، وأنكر عليه بعضهم، وقال: أرى حكايته لغيره؛ والظاهر أنه تفسير للقولين المتقدمين، ومنع من بقائهما على إطلاقهما; لوقوع مسألتين في بابي الاجتهاد والتقليد، تنفي ذلك؛ إحداهما: اتفاقهم على أن المجتهد بعد اجتهاده ممنوع من التقليد، وأنه يَجب عليه العمل بما أداه إليه اجتهاده، فالقول هنا بأنه يَجب عليه العمل بقول من خالفه معارض لذلك الاتفاق؛ وثانيهما: اتفاقهم على أنه يَجوز للمقلد أن يقلد من عرف بالعلم والعدالة، وأنه يحرم عليه تقليد من عرف بضد ذلك، وإذا ثبت هذا استحال بقاء القولين في هذه المسألة على إطلاقهما، وتبين أن معنى قول من يقول: لا ينعقد الإجماع بدونه، يعني في حق نفسه، ومعنى قول من يقول: فينعقد، يعني على غيره، ويصير النزاع لفظًا، وعلى هذا يجب تأويل هذا القول، وإلا فهو مشكل.

والرابع: التفصيل بين الداعية فلا يعتد به، وبين غيره فيعتد به، حكاه ابن حزم في كتاب الإحكام، ونقله عن جماهير سلفهم من المحدثين، وقال: وهو قول فاسد; لأن المراعى العقيدة".اهـ
কুফা ও বসরার অধিবাসীদের মতভেদ (اختلاف) থেকে (বিবেচনা করা হয়), যদি তিনি ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিত (أهل الفقه) হন। সুতরাং যখন বলা হয়: খাত্তাবিয়া ও রাফেজিরা এমন বলেছে, তখন ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হয় না; কারণ তারা এর যোগ্য (أهل الفقه) নন। ইবনুল কাত্তান বলেছেন: আমাদের নিকট ইজমা (إجماع) হলো ইলম অন্বেষণকারীদের (أهل العلم) ঐকমত্য। আর যারা খেয়াল-খুশির অনুসারী (أهل الأهواء), এতে তাদের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। তিনি বলেন: আমাদের সাথীরা খারেজিদের সম্পর্কে বলেছেন যে, ইজমা (إجماع) ও মতভেদের (اختلاف) ক্ষেত্রে তাদের কোনো স্থান নেই; কারণ তাদের এমন কোনো মূলনীতি নেই যা থেকে তারা বর্ণনা করবে এবং তারা আমাদের সেই পূর্বসূরী (سلف) সালফদের কাফের সাব্যস্ত করে যাদের থেকে আমরা দ্বীনের মূলনীতি গ্রহণ করেছি। (সমাপ্ত)। হানাফিদের মধ্য থেকে আবু বকর আল-রাজি এবং হাম্বলিদের মধ্য থেকে কাজী আবু ইয়ালা এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, তাদের (বিদআতিদের) মতামত গণ্য করা হবে না। কাজী আবু ইয়ালা ইমাম আহমদের বক্তব্য থেকে এটি নির্যাস করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন: "আমার কাছে এমন কোনো ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে না যে আমার নিকট ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয়, আর আমি কীভাবে তার ফয়সালাকে বৈধ করতে পারি?" কাজী বলেন: অর্থাৎ জাহমি।

তৃতীয় মত: তার উপস্থিতিতে ইজমা (إجماع) সংগঠিত হয় না, তবে তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের মাধ্যমে তা সংগঠিত হয়। অর্থাৎ, তার ইজতিহাদ (اجتهাদ) তাকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত করে সে অনুযায়ী অন্যদের বিরোধিতা করা তার জন্য বৈধ, কিন্তু অন্য কারোর জন্য তাকে তাকলিদ (تقليد) করা বৈধ নয়। আল-আমিদি এটি বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীগণ তাকে অনুসরণ করেছেন; তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি অস্বীকার করে বলেছেন: আমি মনে করি এটি অন্যদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর প্রকাশ্য বিষয় হলো, এটি পূর্ববর্তী দুটি মতের ব্যাখ্যা এবং তাদের ঢালাও প্রয়োগকে (إطلاق) বাধা প্রদান করে; কারণ ইজতিহাদ (اجتهাদ) ও তাকলিদ (تقليد) অধ্যায়ে দুটি মাসআলা রয়েছে যা একে নাকচ করে। প্রথমটি: তাদের ঐকমত্য (اتفاق) রয়েছে যে, মুজতাহিদ (مجتهد) তার ইজতিহাদের (اجتهাদ) পর তাকলিদ (تقليد) করা থেকে নিষিদ্ধ, এবং তার ইজতিহাদ তাকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে সে অনুযায়ী আমল করা তার ওপর ওয়াজিব। সুতরাং এখানে তার বিরোধিতাকারীদের কথা অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব—একথা বলা উক্ত ঐকমত্যের (اتفاق) পরিপন্থী। দ্বিতীয়টি: তাদের ঐকমত্য (اتفاق) রয়েছে যে, একজন মুকাল্লিদের (مقلদ) জন্য কেবল এমন ব্যক্তির তাকলিদ (تقليد) করা বৈধ যিনি ইলম ও ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) জন্য সুপরিচিত, এবং যার মধ্যে এর বিপরীত বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার তাকলিদ (تقليد) করা হারাম। আর যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন এই মাসআলায় পূর্ববর্তী দুটি মতের ঢালাও প্রয়োগ (إطلاق) অসম্ভব। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, যারা বলেন: "তাকে ছাড়া ইজমা (إجماع) সংগঠিত হয় না", এর অর্থ হলো তার নিজের অধিকারের ক্ষেত্রে। আর যারা বলেন: "ইজমা সংগঠিত হয়", এর অর্থ হলো অন্যদের ওপর (তার ওপর নয়); ফলে বিরোধটি শাব্দিক রূপ নেয়। আর এভাবেই এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করা আবশ্যক, অন্যথায় এটি জটিল (مشكل) রয়ে যাবে।

চতুর্থ মত: আহ্বানকারী (داعية) বিদআতির মধ্যে পার্থক্য করা; যার মত গণ্য হবে না, এবং আহ্বানকারী নয় এমন ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করা যার মত গণ্য হবে। ইবনে হাজম এটি আল-ইহকাম গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) মধ্যে পূর্ববর্তী জমহুর (جماهير) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এটি একটি অসার (فاسد) মত; কারণ মূল বিবেচ্য বিষয় হলো আকিদা (العقيدة)। (সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌(المسألة الثالثة): اعتبار أهل الظاهر في الإجماع:

قال الزركشي في البحر المحيط (6/ 425، 424): "ذهب قوم منهم القاضي أبو بكر، والأستاذ أبو إسحاق الإسفراييني، ونسبه إلى الجمهور أنه لا يعتد بخلاف من أنكر القياس في الحوادث الشرعية، وتابعهم إمام الحرمين، والغزالي، قالوا: لأن من أنكره لا يعرف طرق الاجتهاد، وإنما هو متمسك بالظواهر، فهو كالعامي الذي لا معرفة له، وحكاه الأستاذ أبو منصور عن أبي علي بن أبي هريرة، وطائفة من أقرانه، وقال الأصفهاني شارح المحصول: "يلزم القائل بذلك أنه لا يعتبر خلاف منكر العموم، وخبر الواحد، ولا ذاهب إليه"؛ قلت: نقل الأستاذ عن ابن أبي هريرة رضي الله عنه أنه طرد قوله في منكر أخبار الآحاد، ومن توقف في الظواهر والعموم؛ قال: لأن الأحكام الشرعية تستنبط من هذه الأصول، فمن أنكرها وتوقف فيها لم يكن من أهل الاجتهاد، فلا يعتبر بخلافه.

قال النووي في باب السواك في شرح مسلم: "إن مخالفة داود لا تقدح في انعقاد الإجماع على المختار الذي عليه الأكثرون والمحققون، وكذا قال صاحب المفهم: جل الفقهاء والأصوليين على أنه لا يعتد بخلافهم، بل هم من جملة العوام، وإن من اعتد بهم فإنما ذلك; لأن مذهبه أنه يعتبر خلاف العوام في انعقاد الإجماع، والحق خلافه؛ وذكر غيره أنهم في الشرعيات كالسوفسطائية في العقليات، وكذا قال أبو بكر الرازي من الحنفية: لا يعتد بخلافهم، ولا يؤنس بوفاقهم؛ وقال القاضي عبد الوهاب في الملخص: يعتبر كما يعتبر خلاف من ينفي المراسيل، ويمنع العموم ومن حمل الأمر على الوجوب; لأن مدار الفقه على هذه الطرق، ونقل ابن الصلاح عن الأستاذ أبي منصور أنه حكى عن ابن أبي هريرة وغيره: أنهم لا يعتد بخلافهم في الفروع، ويعتد بخلافهم في الأصول، وقال إمام الحرمين: المحققون لا يقيمون لخلاف الظاهرية وزنًا; لأن معظم الشريعة صادرة عن الاجتهاد، ولا تفي النصوص بعشر معشارها؛ وقال في
‌(তৃতীয় মাসআলা): ইজমা (الإجماع)-এর ক্ষেত্রে আহলে জাহেরদের গ্রহণযোগ্যতা:

আল-যারকাশি আল-বাহরুল মুহিত (৬/ ৪২৫, ৪২৪)-এ বলেছেন: "একদল আলিম, যাদের মধ্যে রয়েছেন কাজী আবু বকর এবং উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি—যিনি একে জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত হিসেবে অভিহিত করেছেন—মনে করেন যে, শরয়ী ঘটনাবলিতে যারা কিয়াস (القياس) অস্বীকার করে, তাদের ভিন্নমত ধর্তব্য নয়। ইমামুল হারামাইন এবং আল-গাজালিও তাঁদের অনুসরণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: কারণ যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করে সে ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে অবগত নয়; সে কেবল বাহ্যিক অর্থের (الظواهر) ওপর অটল থাকে। ফলে সে এমন একজন সাধারণ ব্যক্তির (العامي) মতো যার কোনো জ্ঞান নেই। উস্তাদ আবু মনসুর এটি আবু আলী বিন আবি হুরায়রা এবং তাঁর সমসাময়িক একদল আলিম থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-মাহসুল গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার আল-আস্পাহানি বলেছেন: 'যিনি এ কথা বলেন, তাঁর জন্য এটিও আবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়ায় যে, তিনি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ (العموم) এবং একক সূত্রের বর্ণনা (خبر الواحد) অস্বীকারকারীর ভিন্নমতকেও গণ্য করবেন না এবং এর প্রবক্তাদেরও ধর্তব্যে নেবেন না।' আমি বলছি: উস্তাদ ইবনে আবি হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এই নীতিকে একক সূত্রের হাদিস (أخبار الآحاد) অস্বীকারকারী এবং বাহ্যিক অর্থ (الظواهر) ও ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের (العموم) বিষয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করে, তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন। তিনি বলেছেন: কারণ শরয়ী বিধানসমূহ এই মূলনীতিগুলো (الأصول) থেকেই আহরিত হয়; সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলো অস্বীকার করবে বা এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করবে, সে ইজতিহাদ (الاجتهاد) করার যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে না, তাই তার ভিন্নমত গ্রহণযোগ্য হবে না।"

ইমাম নববী সহিহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ শারহ মুসলিম-এর মেসওয়াক অধ্যায়ে বলেছেন: "পছন্দনীয় মত অনুযায়ী—যা অধিকাংশ এবং গবেষক আলিমগণের অভিমত—দাউদের ভিন্নমত ইজমা (الإجماع) সংঘটিত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে না।" একইভাবে আল-মুফহিম গ্রন্থের লেখক বলেছেন: "অধিকাংশ ফকিহ (الفقهاء) এবং উসুলবিদ (الأصوليون) এই মত পোষণ করেন যে, তাদের ভিন্নমত গণ্য করা হবে না, বরং তারা সাধারণ মানুষের (العوام) অন্তর্ভুক্ত। আর যারা তাদের ভিন্নমতকে গণ্য করেছেন, তারা কেবল এই কারণেই করেছেন যে—তাদের মাযহাব অনুযায়ী ইজমা (الإجماع) সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভিন্নমতও ধর্তব্য; তবে সত্য এর বিপরীত।" অন্য একজন উল্লেখ করেছেন যে, শরয়ী বিষয়ে তাদের অবস্থা বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়ে সফিস্টদের মতো। হানাফি মাযহাবের আবু বকর আল-রাজিও অনুরূপ বলেছেন: "তাদের ভিন্নমত ধর্তব্য নয় এবং তাদের ঐকমত্যের দ্বারা স্বস্তি পাওয়া যায় না।" কাজী আব্দুল ওয়াহহাব আল-মুলখাস গ্রন্থে বলেছেন: "তাদের মত গণ্য করা হবে যেমনটি বিচ্ছিন্ন (المراسيل) বর্ণনা অস্বীকারকারী, ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ (العموم) অগ্রাহ্যকারী এবং কোনো নির্দেশকে আবশ্যকতা (الوجوب) হিসেবে গ্রহণকারীর ভিন্নমত গণ্য করা হয়; কারণ ফিকহের আবর্তন এই পদ্ধতিগুলোর ওপরেই।" ইবনে আস-সালাহ উস্তাদ আবু মনসুরের বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে আবি হুরায়রা ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন: "তারা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিষয়ে (الفروع) তাদের ভিন্নমত গণ্য করতেন না, তবে মূলনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে (الأصول) তাদের ভিন্নমত গণ্য করতেন।" ইমামুল হারামাইন বলেছেন: "গবেষক আলিমগণ জাহেরিদের ভিন্নমতকে কোনো গুরুত্বই দেন না; কারণ শরিয়তের অধিকাংশ বিষয় ইজতিহাদ (الاجتهاد) থেকে উদ্ভূত, আর মূল পাঠসমূহ (النصوص) এর সামান্যতম অংশও ধারণ করে না।" এবং তিনি বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১৭)
كتاب اللعان: إن قول داود بإجزاء الرقبة المعيبة في الكفارة نقل الشافعي-رحمه الله تعالى- الإجماع على خلافه؛ قال: وعندي أن الشافعي لو عاصر داود لما عده من العلماء، وقال الإبياري: هذا غير صحيح عندنا على الإطلاق، بل إن كانت المسألة مما تتعلق بالآثار والتوقيف واللفظ اللغوي، ولا مخالف للقياس فيها لم يصح أن ينعقد الإجماع بدونهم إلا على رأي من يرى أن الاجتهاد لا يتجزأ؛ فإن قلنا: بالتجزؤ، لم يمنع أن يقع النظر في فرع هم فيه محقون، كما نعتبر خلاف المتكلم في المسألة الكلامية; لأن له فيه مدخلاً، كذلك أهل الظاهر في غير المسائل القياسية يعتد بخلافهم؛ وقال ابن الصلاح: الذي استقر عليه الأمر ما اختاره الأستاذ أبو منصور، وحكاه عن الجمهور، وأن الصحيح من المذهب الاعتداد بخلافهم، ولهذا يذكر الأئمة من أصحابنا خلافهم في الكتب الفرعية؛ ثم قال: والذي أجيب به بعد الاستخارة: أن داود

يعتبر قوله ، ويعتد به في الإجماع إلا ما خالف القياس، وما أجمع عليه القياسيون من أنواعه أو بناه على أصوله التي قام الدليل القاطع على بطلانها ، فاتفاق من سواه على خلافه إجماع ينعقد، فقول المخالف حينئذ خارج عن الإجماع، كقوله في التغوط في الماء الراكد، وتلك المسائل الشنيعة، وفي: "لا ربا إلا في النسيئة"، المنصوص عليها، فخلافه في هذا وشبهه غير معتد به. اهـ".اهـ

‌‌(المسألة الرابعة): هل يشترط شهرة المجتهد الذي يُعتبر قوله في الإجماع؟

ذهب الزركشي في البحر المحيط (6/ 430) إلى عدم اشتراط الشهرة، وقال: "بل يعتبر قول المجتهد الخامل خلافًا لبعض الشاذين حيث فصل المشهور بالفتوى فيعتبر قوله دون غيره … ".اهـ

(المسألة الخامسة): هل يعد خلاف الواحد والاثنين مانعًا من الإجماع؟

قال ابن حزم في الإحكام (4/ 538): "وقالت طائفة إذا اتفق الجمهور على قول خالفهم واحد من العلماء فلا يلتفت إلى ذلك الواحد وقول الجمهور هو إجماع
লিআনের কিতাব: ইমাম শাফেয়ী—আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কাফফারা (كفارة)-র ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত ক্রীতদাসকে যথেষ্ট মনে করার বিষয়ে দাউদ আজ-জাহিরির মতের বিপরীতে ঐক্যমত (إجماع)-এর কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার ধারণা, শাফেয়ী যদি দাউদের সমসাময়িক হতেন, তবে তাঁকে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করতেন না। আল-ইবিয়ারি বলেন: আমাদের কাছে এটি ঢালাওভাবে সঠিক নয়; বরং বিষয়টি যদি বর্ণনা (آثار), ওহী-নির্ভর সাব্যস্তকরণ (توقيف) এবং আভিধানিক শব্দার্থ (لفظ لغوي)-এর সাথে সম্পর্কিত হয় এবং এতে সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس)-এর পরিপন্থী কিছু না থাকে, তবে তাদের (যাহিরিদের) বাদ দিয়ে ঐক্যমত (إجماع) গঠিত হওয়া সঠিক হবে না। কেবল ওই ব্যক্তির মতানুসারে তা হতে পারে, যে মনে করে গবেষণালব্ধ বিচারবুদ্ধি (اجتهاد) অবিভাজ্য। আর যদি আমরা বিভাজ্যতা (تجزؤ)-এর কথা বলি, তবে এমন কোনো শাখাগত (فرع) বিষয়ে তাদের বিচার-বিশ্লেষণকে বাধা দেওয়া যাবে না যাতে তারা সত্যের ওপর রয়েছেন, যেমনটি আমরা ধর্মতত্ত্ব শাস্ত্রীয় বিষয়ে ধর্মতত্ত্ববিদ (متكلم)-গণের ভিন্নমতকে বিবেচনা করি; কারণ তাতে তাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে। তেমনিভাবে যাহিরিপন্থী (أهل الظاهر)-গণ সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس) বহির্ভূত বিষয়গুলোতে যে ভিন্নমত পোষণ করেন তা ধর্তব্য হবে। ইবনে আস-সালাহ বলেন: বিষয়টি যে সিদ্ধান্তের ওপর স্থির হয়েছে তা হলো উস্তাদ আবু মনসুর যা পছন্দ করেছেন এবং অধিকাংশ আলেম (الجمهور)-দের থেকে বর্ণনা করেছেন; আর মাজহাব (مذهب)-এর সঠিক মত হলো তাদের ভিন্নমত ধর্তব্য হওয়া। একারণেই আমাদের মাজহাবের ইমামগণ ফিকহী শাখা-প্রশাখার বইগুলোতে তাদের ভিন্নমত উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন: ইস্তিখারার পর আমি যে উত্তরটি দিচ্ছি তা হলো: দাউদের

বক্তব্য গ্রহণযোগ্য এবং ঐক্যমত (إجماع)-এর ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা হবে, তবে যা সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس)-এর পরিপন্থী এবং কিয়াসপন্থী (القياسيون)-গণ কিয়াসের যে প্রকারগুলোর ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন অথবা যা তিনি তাঁর এমন কিছু মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন যার অসারতা অকাট্য দলীলের মাধ্যমে প্রমাণিত—সেসব ক্ষেত্রে অন্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এক প্রকার ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে সাব্যস্ত হবে। সেক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণকারীর বক্তব্য ঐক্যমত (إجماع)-এর বাইরে থাকবে। যেমন আবদ্ধ পানিতে মলত্যাগ করার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং ওই সব জঘন্য মাসয়ালাগুলো, এবং 'নাসিয়া বা বাকিতে লেনদেন (نسيئة) ব্যতীত কোনো সুদ (ربا) নেই' মর্মে তাঁর বক্তব্য যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। সুতরাং এই জাতীয় ও এর সদৃশ মাসয়ালাগুলোতে তাঁর ভিন্নমত ধর্তব্য নয়। ইতি। ইতি।

‌‌(চতুর্থ মাসয়ালা): ঐক্যমত (إجماع)-এর ক্ষেত্রে যে গবেষক ফকিহ (مجتهد)-এর মত ধর্তব্য হয়, তাঁর কি প্রসিদ্ধ হওয়া শর্ত?

আল-বাহরুল মুহিত (৬/৪৩০) গ্রন্থে আল-যারকাশি প্রসিদ্ধি শর্ত না হওয়ার দিকে মত দিয়েছেন এবং বলেছেন: "বরং স্বল্পপরিচিত গবেষক ফকিহ (مجتهد)-এর বক্তব্যও ধর্তব্য হবে। এটি সেই কিছু বিচ্ছিন্ন মত পোষণকারীদের বিপরীত যারা ফতোয়া (فتوى)-র মাধ্যমে প্রসিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য করেছেন এবং কেবল তাদের বক্তব্য ধর্তব্য মনে করেছেন, অন্যদের নয় … "। ইতি।

(পঞ্চম মাসয়ালা): এক বা দুইজনের ভিন্নমত কি ঐক্যমত (إجماع)-এর পথে অন্তরায় হিসেবে গণ্য হবে?

ইবনে হাজম আল-ইহকাম (৪/৫৩৮) গ্রন্থে বলেন: "একটি দল বলেছে যে, যখন অধিকাংশ আলেম (الجمهور) একটি মতের ওপর একমত হন এবং আলেমদের মধ্য থেকে একজন তাঁদের বিরোধিতা করেন, তবে সেই একজনের দিকে ভ্রূক্ষেপ করা হবে না এবং অধিকাংশ আলেম (الجمهور)-এর বক্তব্যই ঐক্যমত (إجماع)।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১৮)
صحيح؛ وهذا قول محمد بن جرير الطبري.

وقالت طائفة: ليس هذا إجماعًا.

وقالت طائفة: قول الجمهور والأكثر إجماع وإن خالفهم من هو أقل عددًا منهم؛ وقالت طائفة ليس هذا إجماعًا … ".اهـ

قلت: قال د. أبو حماد صغير في مقدمة الأوسط (1/ 48): "أما ابن المنذر فقد تابع فيه الطبري؛ فهو يذكر المسألة وإذا كان فيها خلافٌ شاذ أو رأي منفرد ليس له سند صحيح، فهو يعتبره إجماع أهل العلم ولا عبرة عنده بخلاف رجل أو رجلين.

ومن عرف نهج ابن المنذر ثم تتبع نهج الطبري في تهذيب الآثار وتفسيره، وابن نصر المروزي في اختلاف العلماء، ومالك في الموطأ والمدونة الكبرى، والشافعي في الأم، وأبو عُبَيْد في كتاب الطهارة وكتاب الأموال، وغيرهم كثيرون، يَجد أن نَهج بعضهم لا يختلف عن بعض آخر.

إذن إجماعات ابن المنذر ليست من قبيل إجماع الأصوليين ولا فيها نكارة، إذ سبقه العلماء وسلك هو أثرهم فيها".اهـ

وقال ابن مفلح في الفروع (1/ 465): " … قال العلامة ابن القيم: وهذه عادة ابن المنذر أنه إذا رأى قول أكثر أهل العلم حكاه إجماعًا".اهـ

قلت: وقد قال المقري في قواعده الفقهية: "إياكم وإجماعات ابن المنذر" (1).

وهذا التقرير من المقري قد يكون صوابًا إذا وزنا إجماعات ابن المنذر على تعريف الأصوليين للإجماع؛ أما إذا اعتبرنا ما ذكره ابن حزم من مذهب الطبري في تعريف الإجماع؛ ففي هذه الحالة يعتبر قول المقري فيه شيء من الإجحاف.

وقال الشيخ عبد الله بن الجبرين في مقدمة تحقيقه لكتاب الإقناع لابن المنذر

(1/ 20): "إن من يدرس المسائل التي حكى الإمام ابن المنذر فيها الإجماع عليها تتبين

--------------------------------------------

(1) أفادني بهذا النقل: الشيخ مشهور حسن آل سلمان -جزاه الله خيرًا-.
সহিহ (صحيح); এটি মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারির অভিমত।

একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন: এটি ঐক্যমত্য (إجماع) নয়।

অন্য একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন: জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশের অভিমতই হলো ঐক্যমত্য (إجماع), যদিও তাঁদের তুলনায় অল্প সংখ্যক কেউ এর বিরোধিতা করে থাকে; আবার অন্য একদল বলেছে এটি ঐক্যমত্য (إجماع) নয় … "। সমাপ্ত।

আমি বলছি: ড. আবু হাম্মাদ সগির আল-আওসাত গ্রন্থের ভূমিকায় (১/ ৪৮) বলেছেন: "ইবনুল মুনজির এ বিষয়ে তবারিকে অনুসরণ করেছেন; তিনি কোনো মাসআলা উল্লেখ করেন এবং তাতে যদি কোনো বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতপার্থক্য থাকে কিংবা কোনো একক মত থাকে যার কোনো সহিহ (صحيح) সনদ (سند) নেই, তবে তিনি তাকে আলেমদের ঐক্যমত্য (إجماع) হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর নিকট একজন বা দুইজন ব্যক্তির ভিন্নমতের কোনো গুরুত্ব নেই।

যিনি ইবনুল মুনজিরের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তবারির তাজহিবুল আসার ও তাঁর তাফসির, ইবনে নাসর আল-মারওয়াজির ইখতিলাফুল উলামা, ইমাম মালিকের মুয়াত্ত্তা ও আল-মুদাওওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম শাফেয়ীর আল-উম্ম, আবু উবায়েদের কিতাবুত তাহারাহ ও কিতাবুল আমওয়াল এবং আরও অনেকের অনুসৃত পদ্ধতি তালাশ করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে তাঁদের একজনের পদ্ধতি অন্যজন থেকে ভিন্ন নয়।

অতএব, ইবনুল মুনজিরের বর্ণিত ঐক্যমত্যগুলো (إجماعات) উসুলবিদদের (الأصوليين) সংজ্ঞায়িত ঐক্যমত্যের (إجماع) অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এতে কোনো আপত্তিকর বিষয়ও (نكارة) নেই; কারণ পূর্ববর্তী আলেমগণ তাঁর আগে এ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং তিনিও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।" সমাপ্ত।

ইবনে মুফলিহ আল-ফুরু গ্রন্থে (১/ ৪৬৫) বলেছেন: " … আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: এটি ইবনুল মুনজিরের অভ্যাস যে, যখন তিনি অধিকাংশ আলেমদের অভিমত দেখেন, তখন তিনি সেটিকে ঐক্যমত্য (إجماع) হিসেবে বর্ণনা করেন।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: আল-মাককারি তাঁর কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন: "ইবনুল মুনজিরের বর্ণিত ঐক্যমত্যগুলোর (إجماعات) ব্যাপারে তোমরা সাবধান থেকো" (১)।

মাককারির এই মন্তব্যটি সঠিক হতে পারে যদি আমরা ইবনুল মুনজিরের বর্ণিত ঐক্যমত্যগুলোকে (إجماعات) উসুলবিদদের (الأصوليين) দেওয়া ঐক্যমত্যের (إجماع) সংজ্ঞা অনুযায়ী বিচার করি; কিন্তু আমরা যদি ইবনে হাজম কর্তৃক বর্ণিত তবারির মাযহাব অনুযায়ী ঐক্যমত্যের (إجماع) সংজ্ঞা বিবেচনা করি, তবে এই ক্ষেত্রে মাককারির বক্তব্যে কিছুটা অবিচার পরিলক্ষিত হয়।

শায়খ আবদুল্লাহ বিন জিবরিন ইবনুল মুনজিরের আল-ইকনা গ্রন্থের তাহকিকের (تحقيق) ভূমিকায়

(১/ ২০) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সেই মাসআলাগুলো অধ্যয়ন করবে যেগুলোতে ইমাম ইবনুল মুনজির ঐক্যমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন, তার কাছে স্পষ্ট হবে

--------------------------------------------

(১) আমাকে এই উদ্ধৃতিটি দিয়ে তথ্য প্রদান করেছেন: শায়খ মাশহুর হাসান আল-সালমান -আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন-।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ১৯)
له دقته في ذلك، فلا تكاد تجد مسألة حكى إجماع أهل العلم عليها إلا وقد وافقه في ذلك بعض إئمة هذا الشأن كابن حزم أو ابن رشد أو ابن قدامة أو غيرهم؛ وقد يوجد في بعض هذه المسائل خلاف شاذ من بعض أهل العلم، وهي قليلة إذا قورنت بالمسائل التي لم يعثر فيها على خلاف، كما أن هذا الخلاف قد لا يثبت عمَّن نسب إليه، وإن ثبت عن أحد منهم قد يكون قولاً رجع عنه أو اشتهر عنه خلافه أو أن الإجماع سابق لخلافه أو أن المخالف في ذلك ممن لا يعتد بخلافه عند أهل العلم أو عند بعضهم.

وإن لم يوجد شيء من هذه الاحتمالات فلا ينبغي أن يتخذ من ذلك وسيلة إلى القدح في جميع الإجماعات التي حكاها المؤلف أو الحكم بأنه متساهل في حكاية الإجماع أو أنه يحكي الإجماع مع علمه بوجود مخالف، أو مع عدم جزمه بعدم وجود مخالف؛ فهذا كله غير مسلَّم .... ".اهـ

قلت: وكذلك فإن بعض المسائل قد يظهر فيها الخلاف بعد عصر ابن المنذر؛ وأما قبل ابن المنذر أو في حياته لم يكن يُعرف في المسألة خلاف معتبر؛ فلا ينبغي القدح في إجماع نقله ابن المنذر لمجرد وجود خلاف من بعض المتأخرين عنه.

‌‌ثانيًا: انقراض عصر المجمعين هل هو شرط في اعتبار الإجماع؟

نسب الفتوحي في شرح الكوكب المنير (ص 233) اعتبار هذا الشرط إلى الإمام أحمد وأكثر أصحابه، ثم قال: "وفي المسألة أقوال غير ذلك؛ أحدها: وهو قول الأئمة الثلاثة وأكثر الفقهاء والمتكلمين: أنه لا يعتبر انقراض العصر مطلقًا؛ والقول الثاني: أنه يعتبر انقراض العصر للإجماع السكوتي لضعفه دون غيره؛ اختاره الآمدي وغيره؛ ونقل عن الأستاذ أبي منصور البغدادي؛ وقال: إنه قول الحذاق من أصحاب الشافعي، وقال القاضي أبو الطيب: هو قول أكثر الأصحاب، ونقله أبو المعالي عن الأستاذ أبي إسحاق واختاره البندنيجي؛ وجعل سليم الرازي محل الخلاف في غير السكوتي؛ والقول الثالث: أنه يعتبر انقراض العصر للإجماع القياسي دون غيره؛
এ বিষয়ে তাঁর সূক্ষ্মতা ও যথাযথ জ্ঞান রয়েছে; তাই আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) বর্ণনা করেছেন এমন কোনো বিষয় আপনি খুব কমই পাবেন যেখানে এই শাস্ত্রের কোনো কোনো ইমাম যেমন ইবনে হাজম, ইবনে রুশদ, ইবনে কুদামা বা অন্যরা তাঁর সাথে একমত হননি। এসব বিষয়ের কোনো কোনোটিতে আলেমদের একাংশের বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতবিরোধ পাওয়া যেতে পারে, তবে যেসকল বিষয়ে কোনো মতবিরোধ পাওয়া যায়নি সেগুলোর তুলনায় এগুলো খুবই নগণ্য। তদুপরি, এই মতবিরোধটি যাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাঁর থেকে তা প্রমাণিত নাও হতে পারে। আর যদি কারো থেকে প্রমাণিত হয়ও, তবে সেটি এমন কোনো বক্তব্য হতে পারে যা থেকে তিনি ফিরে এসেছেন অথবা তাঁর থেকে এর বিপরীতটিই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে কিংবা সেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) তাঁর মতবিরোধের পূর্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল অথবা এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তি এমন কেউ হতে পারেন আলেমদের নিকট বা তাঁদের একাংশের নিকট যাঁর ভিন্নমত গ্রহণযোগ্য (يعتد) নয়।

আর যদি এই সম্ভাবনাগুলোর কোনটিই বিদ্যমান না থাকে, তবুও লেখক বর্ণিত সকল সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের (إجماع) ক্ষেত্রে সেটিকে তাঁর সমালোচনা করার মাধ্যম বানানো কিংবা তাঁর সম্পর্কে এই ফয়সালা দেওয়া সমীচীন নয় যে তিনি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) বর্ণনায় শিথিলতাকারী (متساهل), অথবা তিনি ভিন্নমতাবলম্বীর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) বর্ণনা করেন, কিংবা ভিন্নমতাবলম্বী না থাকার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েই তা বর্ণনা করেন—এসবের কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাপ্ত।

আমি বলছি: একইভাবে কিছু বিষয়ে ইবনে আল-মুনজিরের যুগের পরে মতবিরোধ প্রকাশ পেতে পারে; অথচ ইবনে আল-মুনজিরের পূর্বে বা তাঁর জীবদ্দশায় সেই বিষয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য (معتبر) মতবিরোধ জানা ছিল না। সুতরাং কেবল তাঁর পরবর্তী সময়ের কারো মতবিরোধের কারণে ইবনে আল-মুনজির কর্তৃক বর্ণিত কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে (إجماع) প্রশ্নবিদ্ধ করা অনুচিত।

‌‌দ্বিতীয়ত: সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে (إجماع) অংশগ্রহণকারীদের যুগের অবসান (انقراض العصر) হওয়া কি ঐকমত্যের গ্রহণযোগ্যতার (اعتبار) জন্য শর্ত (شرط)?

আল-ফুতুহি শারহুল কাওকাব আল-মুনির (পৃ. ২৩৩) গ্রন্থে এই শর্তটি (شرط) ইমাম আহমাদ এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারীর মত বলে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "এই বিষয়ে আরও কিছু অভিমত রয়েছে; প্রথমটি হলো: এটি তিন ইমাম এবং অধিকাংশ ফকিহ ও কালামশাস্ত্রবিদদের অভিমত যে, শর্তহীনভাবে (مطلقًا) যুগের অবসান (انقراض العصر) হওয়াকে গ্রহণযোগ্য (اعتبار) মনে করা হবে না। দ্বিতীয় অভিমত: কেবল মৌন সম্মতির (إجماع سكوتي) ক্ষেত্রে এর দুর্বলতার (ضعف) কারণে যুগের অবসান (انقراض العصر) শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য হবে, অন্যগুলোর ক্ষেত্রে নয়। আল-আমিদি ও অন্যরা এই মতটি গ্রহণ করেছেন। এটি উস্তাদ আবু মানসুর আল-বাগদাদি থেকে বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেছেন: এটি শাফেঈ মাজহাবের দক্ষ পণ্ডিতদের অভিমত। কাজি আবু তাইয়িব বলেছেন: এটি অধিকাংশ সহকর্মীর মত। আবুল মাআলি এটি উস্তাদ আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আল-বান্দানিজি এটি পছন্দ করেছেন। অন্যদিকে সুলাইম আর-রাজি মৌন সম্মতি (إجماع سكوتي) ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে মতবিরোধের ক্ষেত্র (محل الخلاف) নির্ধারণ করেছেন। তৃতীয় অভিমত: কেবল কিয়াসভিত্তিক ঐকমত্যের (إجماع قياسي) জন্য যুগের অবসান (انقراض العصر) হওয়াকে শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য করা হবে, অন্য ক্ষেত্রে নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২০)
والقول الرابع: أنه يعتبر انقراض العصر إن بقي عدد التواتر؛ وإن بقي أقل من ذلك لم يكترث بالباقي؛ وحاصله: أنه إذا مات منهم جمع وبقي منهم عدد التواتر، ورجعوا أو بعضهم لم ينعقد الإجماع، وإن بقي منهم دون عدد التواتر، ورجعوا أو بعضهم لم يؤثر في الإجماع؛ والقول الخامس: أنه يعتبر انقراض العصر في إجماع الصحابة دون إجماع غيرهم، وحيث لا يعتبر انقراض العصر لا يعتبر تمادي الزمن مطلقًا، بل يكون اتفاقهم حجة بمجرده، حتى لو رجع بعضهم لا يعتد به، ويكون خارقًا للإجماع؛ ولو نشأ مخالف لم يعتد بقوله، بل يكون الإجماع حجة عليه، ولو ظهر لجميعهم ما يوجب الرجوع فرجعوا كلهم حرم؛ وكان إجماعهم حجة عليهم وعلى غيرهم، حتى لو جاء غيرهم مجمعين على خلاف ذلك لم يَجز أيضا، وإلا لتصادم الإجماعان ..... ".اهـ

وقال الغزالي في المستصفى (ص 152) عن القول باشتراط انقراض العصر: "وهذا فاسد لأن في اتفاقهم لا في موتِهم، وقد حصل قبل الموت، فلا يزيده الموت تأكيدًا".اهـ

قلت: وهذا تعليل له وجه مُعتبر.

‌‌ثالثًا: هل المعتبر إجماع الصحابة فقط دون من بعدهم؟

قال الغزالي في المستصفى (ص 149): "ذهب داود وشيعته من أهل الظاهر إلى أنه لا حجة في إجماع من بعد الصحابة؛ وهو فاسد لأن الأدلة الثلاثة على كون الإجماع حجة، أعني الكتاب والسنة والعقل، لا تفرق بين عصر وعصر، فالتابعون إذا أجمعوا فهو إجماعٌ من جميع الأمة، ومن خالفهم فهو سالك غير سبيل المؤمنين".اهـ

قلت: وقد نُسب القول بعدم الاعتداد بغير إجماع الصحابة إلى أحمد رحمه الله، فقد جاء في المسودة (2/ 616): "قال القاضى الإجماع حجة قطعية يَجب المصير إليها وتُحرم مخالفته ولا يجوز أن تُجمِع الأمة على الخطأ؛ وقد نص أحمد على هذا في رواية عبد الله وأبى الحارث في الصحابة إذا اختلفوا لم يخرج عن أقاويلهم، أرأيت إن أجمعوا
চতুর্থ মত হলো: যুগ অতিবাহিত হওয়াকে (انقراض العصر) শর্ত হিসেবে গণ্য করা হবে যদি মুতাওয়াতির সংখ্যা (عدد التواتر) অবশিষ্ট থাকে। আর যদি এর চেয়ে কম সংখ্যক লোক অবশিষ্ট থাকে, তবে অবশিষ্টাংশের কোনো তোয়াক্কা করা হবে না। এর সারকথা হলো: যদি তাদের মধ্য থেকে একদল লোক মারা যায় এবং মুতাওয়াতির সংখ্যা (عدد التواتر) অবশিষ্ট থাকে, আর তারা অথবা তাদের কেউ যদি মত পরিবর্তন করে, তবে ইজমা (الإجماع) সংঘটিত হবে না। আর যদি তাদের মধ্য থেকে মুতাওয়াতির সংখ্যার (عدد التواتر) চেয়ে কম লোক অবশিষ্ট থাকে এবং তারা বা তাদের কেউ মত পরিবর্তন করে, তবে তা ইজমার (الإجماع) ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

পঞ্চম মত হলো: সাহাবীদের ইজমার (إجماع الصحابة) ক্ষেত্রে যুগ অতিবাহিত হওয়াকে (انقراض العصر) শর্ত হিসেবে গণ্য করা হবে, অন্যদের ইজমার ক্ষেত্রে নয়। আর যেখানে যুগ অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়, সেখানে সময়ের প্রলম্বিত হওয়াকেও (تمادي الزمن) মোটেও বিবেচনা করা হবে না; বরং তাদের নিছক ঐকমত্য হওয়াই দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি তাদের কেউ যদি মত পরিবর্তন করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা ইজমা লঙ্ঘনকারী (خارق للإجماع) হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনো ভিন্নমত পোষণকারীর উদ্ভব ঘটে, তবে তার কথা গ্রাহ্য হবে না; বরং ইজমা (الإجماع) তার বিরুদ্ধে দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তাদের সকলের কাছে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা মত পরিবর্তন করা আবশ্যক করে এবং তারা সকলেই মত পরিবর্তন করেন, তবে তা নিষিদ্ধ হবে। কারণ তাদের ইজমা (الإجماع) তাদের নিজেদের ওপর এবং অন্যদের ওপর দলীল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে গেছে। এমনকি যদি অন্য কোনো দল এসে এর বিপরীতে ইজমা (الإجماع) করে, তবে তাও বৈধ হবে না; অন্যথায় দুটি ইজমার (الإجماع) মাঝে সংঘর্ষ তৈরি হবে। ... (সমাপ্ত)।

আল-গাযালী আল-মুস্তাসফা গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৫২) যুগ অতিবাহিত হওয়াকে শর্ত করার মতবাদ সম্পর্কে বলেছেন: "এটি বাতিল (فاسد); কারণ ইজমা তাদের ঐকমত্যের মধ্যে নিহিত, তাদের মৃত্যুর মধ্যে নয়। আর ঐকমত্য তো মৃত্যুর আগেই অর্জিত হয়েছে, তাই মৃত্যু একে নতুন করে কোনো দৃঢ়তা প্রদান করে না।" (সমাপ্ত)।

আমি বলছি: এই যুক্তির একটি গ্রহণযোগ্য দিক রয়েছে।

‌‌তৃতীয়ত: সাহাবীদের পরবর্তী যুগের মানুষদের বাদ দিয়ে কেবল সাহাবীদের ইজমা কি গ্রহণযোগ্য?

আল-গাযালী আল-মুস্তাসফা গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৪৯) বলেছেন: "দাউদ এবং তার অনুসারী আহলে জাহিরগণ (أهل الظاهر) এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, সাহাবীদের পরবর্তী প্রজন্মের ইজমা কোনো দলীল (حجة) নয়। এই মতটি বাতিল (فاسد); কারণ ইজমা (الإجماع) দলীল (حجة) হওয়ার সপক্ষে যে তিনটি প্রমাণ রয়েছে—অর্থাৎ কুরআন, সুন্নাহ এবং বিবেক—সেগুলো এক যুগ ও অন্য যুগের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। সুতরাং তাবিঈগণ (التابعون) যদি ঐকমত্য পোষণ করেন, তবে তা সমগ্র উম্মাহর পক্ষ থেকে ইজমা (إجماع) হিসেবেই গণ্য হবে; আর যে ব্যক্তি তাদের বিরোধিতা করবে, সে মুমিনদের পথ বহির্ভূত পথ অনুসরণকারী হবে।" (সমাপ্ত)।

আমি বলছি: সাহাবীদের ইজমা ব্যতীত অন্য ইজমা গ্রহণ না করার অভিমতটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দিকেও নিসবত করা হয়েছে। আল-মুসাওয়াদ্দাহ গ্রন্থে (২/৬১৬) উল্লেখ করা হয়েছে: "কাযী বলেছেন, ইজমা (الإجماع) একটি অকাট্য দলীল (حجة قطعية), যার অনুসরণ করা আবশ্যক এবং এর বিরোধিতা করা হারাম। উম্মাহর পক্ষে কোনো ভুলের ওপর একমত হওয়া সম্ভব নয়। ইমাম আহমাদ আবদুল্লাহ এবং আবু হারিসের বর্ণনায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন যে, সাহাবীরা যখন কোনো বিষয়ে মতভেদ করেন, তখন তাদের মতামতের বাইরে যাওয়া যাবে না। তাহলে ভেবে দেখুন, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হন (তবে তার গুরুত্ব কতটুকু)!"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২১)
له أن يخرج من أقاويلهم؟ هذا قول خبيث قول أهل البدع لا ينبغي لأحد أن يخرج من أقاويل الصحابة إذا اختلفوا.

قال شيخنا رضي الله عنه: قلت قال فى رواية عبد الله: الحجة على من زعم أنه إذا كان أمرًا مجمعًا عليه ثم افترقوا أنَّا نقف على ما أجمعوا عليه إلى آخره؛ قال: "وقد علَّق (1) القول في رواية عبد الله فقال: من ادعى الإجماع فهو كاذب لعل الناس قد اختلفوا، وهذه دعوى بشر المريسي والأصم"، ولكن يقول: "لا نعلم الناس اختلفوا"، إذا لم يبلغه، وكذلك نقل المروذى عنه أنه قال: "كيف يَجوز للرجل أن يقول أجمعوا؟ إذا سمعتهم يقولون أجمعوا فاتهمهم، لو قال: إنى لم أعلم مخالفًا، جاز"، وكذلك نقل أبو طالب عنه أنه قال: "هذا كذب ما أعلمه أن الناس مجمعون؟ ولكن يقول: لا أعلم فيه اختلافًا، فهو أحسن من قوله إجماع الناس"؛ وكذلك نقل عنه أبو الحارث: "لا ينبغي لأحد أن يدعى الإجماع لعل لناس اختلفوا".

قال القاضي: "وظاهر هذا الكلام أنه قد منع صحة الإجماع، وليس هذا على ظاهره، وإنما قال هذا على طريق الورع لجواز أن يكون هناك خلاف لم يبلغه، أو قال هذا في حق من ليس له معرفة بخلاف السلف، لأنه قد أطلق القول بصحة الإجماع في رواية عبد الله وأبي الحارث، وادعى الإجماع في رواية الحسن ابن ثواب، فقال: "أذهب في التكبير من غداة يوم عرفة إلى آخر أيام التشريق، فقيل له: إلى أي شيء تذهب؟ فقال: بالإجماع، عمر وعلي وعبد الله بن مسعود وعبد الله بن عباس."

قال شيخنا: قلت: الذي أنكره أحمد دعوى إجماع المخالفين بعد الصحابة أو بعدهم وبعد التابعين أو بعد القرون الثلاثة المحمودة، ولا يكاد يوجد في كلامه احتجاج

--------------------------------------------

(1) قال د. أحمد الذروي - محقق نسخة المسودة-: "في م - أي المطبوعة القديمة- زعم المحقق أنها محرفة، وصوابها أطلق".اهـ؛ وقال الشيخ عبد الله بن محسن التركي في "أصول مذهب الإمام أحمد" (ص 351): "هكذا في مخطوطة العدة، والظاهر أنها تحريف، وصوابها: وقد أطلق".اهـ
তাঁর জন্য কি তাঁদের মতামতের বাইরে যাওয়ার অধিকার আছে? এটি একটি নিকৃষ্ট কথা, এটি বিদআতপন্থীদের কথা। সাহাবায়ে কেরাম যখন কোনো বিষয়ে মতভেদ করেন, তখন কারো জন্য তাঁদের মতামতের বাইরে যাওয়া উচিত নয়।

আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: আমি বলছি, আবদুল্লাহর বর্ণনায় তিনি বলেছেন: সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলিল যে দাবি করে যে, যখন কোনো বিষয় সর্বসম্মত (مجمع عليه) হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন আমরা সেই বিষয়ের ওপর অটল থাকব যার ওপর তারা ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছিলেন—ইত্যাদি। তিনি বলেছেন: "আবদুল্লাহর বর্ণনায় তিনি এই বক্তব্যটিকে শর্তযুক্ত (১) করেছেন এবং বলেছেন: যে ব্যক্তি ঐক্যমত (إجماع) দাবি করে সে মিথ্যাবাদী, সম্ভবত লোকেরা মতভেদ করেছে। আর এটি বিশর আল-মারিসি এবং আল-আসাম-এর দাবি।" তবে তিনি বলেন: "যদি তাঁর কাছে কোনো ভিন্নমত না পৌঁছে থাকে, তবে তিনি বলবেন—আমরা জানি না যে লোকেরা মতভেদ করেছে।" অনুরূপভাবে আল-মারওয়াযী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "একজন মানুষের জন্য কীভাবে বলা বৈধ যে 'তারা ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন'? তুমি যখনই কাউকে বলতে শুনবে যে 'তারা ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন', তবে তাকে সন্দেহ করো। যদি সে বলত: 'আমি কোনো ভিন্নমত জানি না', তবে তা জায়েজ হতো।" একইভাবে আবু তালিব তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "এটি মিথ্যা, আমি কীভাবে বলব যে মানুষ ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছে? বরং সে বলবে: 'আমি এতে কোনো মতভেদ জানি না', এটি তার 'মানুষের ঐক্যমত (إجماع)' বলার চেয়ে উত্তম।" একইভাবে আবু আল-হারিস তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: "কারো জন্য ঐক্যমত (إجماع) দাবি করা উচিত নয়, সম্ভবত লোকেরা মতভেদ করেছে।"

আল-কাদী বলেছেন: "এই বক্তব্যের বাহ্যিক দিকটি হলো তিনি ঐক্যমতের (إجماع) বিশুদ্ধতা (صحة) অস্বীকার করেছেন, কিন্তু বিষয়টি এর বাহ্যিক অর্থের ওপর নয়। বরং তিনি এটি তাকওয়ার খাতিরে বলেছেন এই সম্ভাবনায় যে, সেখানে এমন কোনো মতভেদ থাকতে পারে যা তাঁর নিকট পৌঁছায়নি। অথবা তিনি এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেছেন যার পূর্বসূরিদের (سلف) মতভেদ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। কারণ তিনি আবদুল্লাহ এবং আবু আল-হারিসের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে ঐক্যমতের (إجماع) বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে বলেছেন। এমনকি হাসান ইবনে সাওয়াবের বর্ণনায় তিনি ঐক্যমত (إجماع) দাবি করেছেন এবং বলেছেন: 'আমি আরাফার দিন সকাল থেকে তাশরীক দিনগুলোর শেষ পর্যন্ত তাকবীর পাঠের পক্ষে মত পোষণ করি।' তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: 'আপনি কিসের ভিত্তিতে এই মত দিচ্ছেন?' তিনি বললেন: 'ঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তিতে; উমর, আলী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস-এর আমলের কারণে'।"

আমাদের শায়খ বলেছেন: আমি বলছি, ইমাম আহমাদ যা অস্বীকার করেছেন তা হলো সাহাবীদের পরবর্তী যুগের, অথবা তাঁদের ও তাবেয়ীদের পরবর্তী যুগের, অথবা প্রশংসিত তিন প্রজন্মের পরবর্তী যুগের ভিন্নমতাবলম্বীদের ঐক্যমত (إجماع) দাবি করা। তাঁর বক্তব্যে এর স্বপক্ষে প্রমাণ প্রায় পাওয়াই যায় না।

--------------------------------------------

(১) ড. আহমাদ আল-যারভী—মুসাওয়াদাহ পাণ্ডুলিপির গবেষক—বলেছেন: "ম-তে (অর্থাৎ পুরাতন মুদ্রিত কপিতে) গবেষক দাবি করেছেন যে এটি বিকৃত, আর এর সঠিক রূপ হলো: নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করেছেন (أطلق)।" শেখ আবদুল্লাহ বিন মুহসিন আল-তুর্কী 'উসুল মাজহাব আল-ইমাম আহমাদ' (পৃষ্ঠা ৩৫১) এ বলেছেন: "আল-উদ্দাহ পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে স্পষ্টত এটি বিকৃত, আর এর সঠিক রূপ হলো: তিনি নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করেছেন (أطلق)।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২২)
بإجماع بعد عصر التابعين أو بعد القرون الثلاثة، مع أن صغار التابعين أدركوا القرن الثالث، وكلامه في إجماع كل عصر إنما هو في التابعين ثم هذا منه نهى عن دعوى الإجماع العام النطقي، وهو كما قال: الإجماع السكوتي أو إجماع الجمهور من غير علم بالمخالف، فإنه قال في القراءة خلف الإمام: ادعى الإجماع في نزول الآية، وفي عدم الوجوب في صلاة الجهر، وإنما فقهاء المتكلمين كالمريسي والأصم يدعون الإجماع، ولا يعرفون إلا قول أبي حنيفة ومالك ونحوهما، ولا يعلمون أقوال الصحابة والتابعين، وقد ادعى الإجماع فى مسائل الفقه غير واحد من مالك ومحمد بن الحسن والشافعي وأبي عبيد في مسائل وفيها خلاف، لم يطلعوه، وقد جاء الاعتماد على الكتاب والسنة والإجماع في كلام عمر بن الخطاب وعبد الل بن مسعود وغيرهما حيث يقول كل منهما: أقضي بما في كتاب الله، فإن لم يكن فبما في سنة رسول الله، فإن لم يكن فبما أجمع عليه الصالحون، وفى لفظ: بما قضى به الصالحون، وفى لفظ: بما أجمع عليه الناس، لكن يقتضى تأخير هذا عن الأصلين وما ذاك إلا لأن هؤلاء لا يخالفون الأصلين".اهـ

وقال الرازي في المحصول (4/ 23): "ومن الناس من سلم إمكان هذا الاتفاق في نفسه لكنه قال لا طريق لنا إلى العلم بحصوله لأن العلم بالأشياء إما أن يكون وجدانيًا أو لا يكون؛ أما الوجداني فكما يجد كل واحد منا من نفسه من جوعه وعطشه ولذته وألمه إلى غير ذلك، ولا شك أن العلم بحصول اتفاق أمه محمد صلى الله عليه وسلم ليس من هذا الباب، وأما الذي لا يكون وجدانيًا فقد اتفقوا على أن الطريق إلى معرفته إما الحس وإما الخبر وإما النظر العقلي، أما النظر العقلي فلا مجال له في أن الشخص الفلاني قال بهذا القول أو لم يقل به؛ بقي أن يكون الطريق إليه إما الحس وإما الخبر لكن من المعلوم أن الإحساس بكلام الغير أو الإخبار عن كلامه لا يمكن إلا بعد معرفته؛ فإذن العلم باتفاق الأمة لا يحصل إلا بعد معرفة كل واحد من الأمة، لكن ذلك متعذر قطعًا فمن
তাবেয়িদের (التابعين) যুগ অথবা প্রথম তিন শতাব্দীর পরবর্তী সময়ের ঐক্যমত্য (إجماع) সাপেক্ষে, যদিও অল্প বয়স্ক তাবেয়িগণ (التابعين) তৃতীয় শতাব্দী পেয়েছিলেন। প্রত্যেক যুগের ঐক্যমত্য (إجماع) সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য মূলত তাবেয়িদের (التابعين) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতঃপর এটি তাঁর পক্ষ থেকে সাধারণ বাচনিক ঐক্যমত্য (الإجماع النطقي) দাবি করার ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা। এটি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন: মৌন ঐক্যমত্য (الإجماع السكوتي) অথবা ভিন্নমত সম্পর্কে অবগত না হয়ে সংখ্যাগুরুদের (الجمهور) ঐক্যমত্য (إجماع)। কেননা তিনি ইমামের পেছনে কিরাত পাঠের বিষয়ে বলেছেন: আয়াতের অবতরণ এবং উচ্চশব্দের নামাজে কিরাত পাঠ আবশ্যক না হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত্য (إجماع) দাবি করা হয়েছে। মূলত আল-মারিসি এবং আল-আসামের মতো কালামতত্ত্ববিদ ফকিহরাই ঐক্যমত্যের (إجماع) দাবি করেন, অথচ তারা আবু হানিফা ও মালিক এবং তাঁদের অনুরূপ ফকিহদের বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই জানেন না এবং সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়িদের (التابعين) বক্তব্য সম্পর্কেও অবগত নন। ফিকহের বিভিন্ন মাসআলায় ইমাম মালিক, মুহাম্মদ বিন হাসান, শাফেয়ি এবং আবু উবাইদ সহ একাধিক ইমাম ঐক্যমত্য (إجماع) দাবি করেছেন এমন সব বিষয়ে যেগুলোতে মতভেদ বিদ্যমান ছিল অথচ তাঁরা তা জানতে পারেননি। কুরআন, সুন্নাহ ও ঐক্যমত্যের (إجماع) ওপর নির্ভর করার বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ও অন্যদের কথায় এসেছে, যেখানে তাঁদের প্রত্যেকেই বলতেন: আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করি, যদি তা না পাওয়া যায় তবে আল্লাহর রাসুলের সুন্নাহ অনুযায়ী, আর যদি সেখানেও না পাওয়া যায় তবে নেককারগণ (الصالحون) যে বিষয়ে ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন সে অনুযায়ী। অন্য শব্দে: নেককারগণ (الصالحون) যা ফয়সালা করেছেন। অন্য শব্দে: মানুষ যে বিষয়ে ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেছে। তবে এই স্তরটিকে মূল দুই উৎসের পরে রাখা আবশ্যক এবং এর কারণ কেবল এটাই যে, তাঁরা মূল দুই উৎসের বিরোধিতা করতেন না। (সমাপ্ত)

আল-রাজি আল-মাহসুল গ্রন্থে (৪/ ২৩) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে কেউ কেউ স্বয়ং এই ঐকমত্যের (اتفاق) সম্ভাবনাকে স্বীকার করেছেন কিন্তু বলেছেন যে, এটি বাস্তবে ঘটার জ্ঞান লাভ করার কোনো পথ আমাদের নেই। কারণ কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান হয় স্বতঃলব্ধ (وجداني) হবে অথবা তা হবে না। স্বতঃলব্ধ (وجداني) জ্ঞান হলো তেমনই যা আমাদের প্রত্যেকে নিজের মাঝে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, আনন্দ ও ব্যথা ইত্যাদি থেকে অনুভব করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের ঐকমত্য (اتفاق) হওয়ার জ্ঞান এই পর্যায়ের নয়। আর যা স্বতঃলব্ধ (وجداني) নয়, তার ক্ষেত্রে আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, তা জানার পথ হলো হয় পঞ্চেন্দ্রিয় (الحس), অথবা বর্ণনা (الخبر), কিংবা বুদ্ধিভিত্তিক বিশ্লেষণ (النظر العقلي)। বুদ্ধিভিত্তিক বিশ্লেষণের (النظر العقلي) ক্ষেত্রে অমুক ব্যক্তি এই কথা বলেছেন কি বলেননি তা জানার কোনো অবকাশ নেই। অবশিষ্ট থাকে পঞ্চেন্দ্রিয় (الحس) অথবা বর্ণনা (الخبر); কিন্তু এটি সুনিশ্চিত যে, অন্যের কথা পঞ্চেন্দ্রিয় (الحس) দিয়ে অনুভব করা বা তার কথা বর্ণনা (إخبار) করা কেবল তাকে চেনার পরেই সম্ভব। অতএব, উম্মতের প্রত্যেক ব্যক্তিকে চেনা ছাড়া উম্মতের ঐকমত্যের (اتفاق) জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়, কিন্তু এটি নিশ্চিতভাবে অসম্ভব। অতএব যে ব্যক্তি..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২৩)
الذي يعرف جميع الناس الذين هم بالشرق والغرب، وكيف الأمان من وجود إنسان في مطمورة لا خبر عندنا منه فإنا إذا أنصفنا علمنا أن الذين بالشرق لا خبر عندهم من أحد من علماء الغرب فضلا عن العلم بكل واحد منهم على التفصيل وبكيفية مذاهبه؛ وأيضًا فبتقدير العلم بكل واحد من علماء العالم لا يمكننا معرفة اتفاقهم لأنه لا يمكن ذلك إلا بالرجوع إلى كل واحد منهم وذلك لا يفيد حصول الاتفاق لاحتمال أن بعضهم أفتى بذلك على خلاف اعتقاده تقية أو خوفاأو لأسباب أخرى مخفية عنا، وأيضًا فبتقدير أن نرجع إلى كل واحد منهم ونعلم أن كل واحد منهم أفتى بذلك من صميم قلبه فهو لا يفيد حصول الإجماع لاحتمال أن علماء بلدة إذا أفتوا بحكم فعند الارتحال عن بلدهم والذهاب إلى البلدة الأخرى رجعوا عن ذلك الحكم قبل فتوى أهل البلدة الأخرى؛ بذلك

وعلى هذا التقدير لا يحصل الاتفاق، لأنا لو قدرنا أن الأمة انقسمت إلى قسمين وأحد القسمين أفتى بحكم والآخر أفتى بنقيضه ثم انقلب المثبت نافيًا والنافي مثبتًا لم يحصل الإجماع، وإذا كان

كذلك فمع قيام هذا الاحتمال كيف يحصل اليقين بحصول الإجماع؛ بل ها هنا مقام آخر وهو أن أهل العلم بأسرهم لو اجتمعوا في موضع واحد ورفعوا أصواتهم دفعة واحدة وقالوا أفتينا بهذا الحكم فهذا مع امتناع وقوعه لا يفيد العلم بالإجماع لاحتمال أن يكون بعضهم كان مخالفًا فيه فخاف من مخالفة ذلك الجمع العظيم أو خاف ذلك الملك الذي أحضرهم أو أنه أظهر المخالفة لكن خفي صوته فيما بين أصواتهم فثبت أن معرفة الإجماع ممتنعة"، إلى أن قال في

(4/ 44): "والإنصاف أنه لا طريق لنا إلى معرفة حصول الإجماع إلا في زمن الصحابة حيث كان المؤمنون قليلين يمكن معرفتهم على التفصيل".اهـ

قلت: ولا يخفى أن هذا الكلام لا يخلو من تكلف، وإن كان في الجملة قد أجاد في إثبات القول بتعذر معرفة إجماع من بعد الصحابة.

وذكر العلامة ابن عثيمين في "الأصول من علم الأصول" (ص 83) أن الإجماع
যিনি পূর্ব ও পশ্চিমের সকল মানুষকে চেনেন, আর এমন একজন মানুষ যে কোনো মাটির নিচের প্রকোষ্ঠে অবস্থান করছে যার খবর আমাদের কাছে নেই, সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কোথায়? যদি আমরা সুবিচার করি তবে আমরা জানতে পারব যে, পূর্ব অঞ্চলের মানুষের কাছে পশ্চিম অঞ্চলের কোনো আলেম সম্পর্কে খবর নেই, প্রত্যেকের বিস্তারিত অবস্থা এবং তাদের মাযহাবের প্রকৃতি জানা তো বহু দূরের কথা। এছাড়াও, বিশ্বের প্রত্যেক আলেম সম্পর্কে জ্ঞান থাকাও যদি ধরে নেওয়া হয়, তবুও তাদের ঐক্যমত্য জানা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, প্রত্যেকের কাছে ফিরে যাওয়া ব্যতীত এটি সম্ভব নয়, আর এতেও ঐক্যমত্য অর্জিত হওয়া প্রমাণিত হয় না; কারণ সম্ভাবনা থাকে যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকিয়া (تقية) বশত অথবা ভয়ের কারণে কিংবা আমাদের কাছে অজানা অন্য কোনো কারণে ফতোয়া দিয়েছেন। আরও ধরা যাক, আমরা প্রত্যেকের কাছে ফিরে গেলাম এবং জানলাম যে প্রত্যেকেই তার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ফতোয়া দিয়েছেন, তবুও তা সর্বসম্মত ঐক্যমত্য (إجماع) অর্জনে ফায়দা দেয় না। কেননা সম্ভাবনা রয়েছে যে, একটি জনপদের আলেমগণ যখন কোনো বিধানের ফতোয়া দিলেন, অতঃপর সেই স্থান ত্যাগ করে অন্য জনপদে যাওয়ার সময় তারা সেই বিধান থেকে ফিরে আসলেন, অপর জনপদের লোকদের ফতোয়া দেওয়ার আগেই; সে বিষয়ে।

এবং এই অনুমানের ভিত্তিতে ঐক্যমত্য অর্জিত হয় না। কারণ আমরা যদি ধরে নিই যে উম্মত দুই ভাগে বিভক্ত হলো, এক ভাগ একটি বিধানের ফতোয়া দিল এবং অন্য ভাগ তার বিপরীত ফতোয়া দিল, তারপর যারা ইতিবাচক বলেছিল তারা নেতিবাচক হয়ে গেল আর যারা নেতিবাচক ছিল তারা ইতিবাচক হয়ে গেল, তবে সর্বসম্মত ঐক্যমত্য (إجماع) অর্জিত হবে না। এবং যদি বিষয়টি

এমন হয়, তবে এই সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কীভাবে সর্বসম্মত ঐক্যমত্য (إجماع) অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জিত হবে? বরং এখানে আরেকটি পর্যায় রয়েছে, তা হলো—যদি সকল আলেম এক স্থানে সমবেত হতেন এবং একযোগে উচ্চকণ্ঠে বলতেন যে "আমরা এই বিধানের ফতোয়া দিচ্ছি", তবে এটি ঘটা অসম্ভব হওয়ার পাশাপাশি সর্বসম্মত ঐক্যমত্য (إجماع) সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করত না। কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে, তাদের কেউ কেউ এতে ভিন্নমত পোষণকারী ছিলেন কিন্তু সেই বিশাল সমাবেশের বিরোধিতার ভয়ে কিংবা সেই বাদশাহর ভয়ে ভীত ছিলেন যিনি তাদের উপস্থিত করেছেন, অথবা তিনি তার ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন কিন্তু সমবেত কণ্ঠস্বরের ভিড়ে তার কণ্ঠস্বর ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, সর্বসম্মত ঐক্যমত্য (إجماع) সম্পর্কে জানা অসম্ভব।" যতক্ষণ না তিনি

(৪/৪৪) পৃষ্ঠায় বলেছেন: "সুবিচার হলো এই যে, সাহাবায়ে কিরামের যুগ ব্যতীত আমাদের কাছে সর্বসম্মত ঐক্যমত্য (إجماع) জানার কোনো পথ নেই, যেখানে মুমিনদের সংখ্যা অল্প ছিল এবং তাদের বিস্তারিত অবস্থা জানা সম্ভব ছিল।" সমাপ্ত।

আমি (লেখক) বলছি: এটি গোপন নয় যে, এই কথাটি কিছুটা কৃত্রিমতা বর্জিত নয়, যদিও সামগ্রিকভাবে তিনি সাহাবায়ে কিরামের পরবর্তী যুগের সর্বসম্মত ঐক্যমত্য (إجماع) জানার দুঃসাধ্যতার বিষয়টি প্রমাণ করতে চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন।

আল্লামা ইবনে উসাইমিন "আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল" (পৃষ্ঠা ৮৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সর্বসম্মত ঐক্যমত্য (إجماع)
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২৪)
الظني هو: "ما لا يُعلم إلا بالتتبع والاستقراء، وقد اختلف العلماء في إمكان ثبوته، وأرجح الأقوال في ذلك رأي شيخ الإسلام ابن تيمية حيث قال في العقيدة الواسطية: والإجماع الذي ينضبط ما كان عليه السلف الصالح إذ بعدهم كثُر الاختلاف وانتشرت الأمة".اهـ

وذهب أيضًا الشيخ محمد الخضري في كتابه "أصول الفقه" إلى تعذر معرفة الإجماع بعد عصر الصحابة، حيث قال في (ص 329): "وقال الإمام الرازي: والإنصاف أنه لا طريق لنا إلى معرفته إلا في زمان الصحابة".اهـ

وفي المذكرة للشنقيطي (ص 179): "واختار المؤلف أن وجود الإجماع ممكن متصور خلافًا لمن قال: لا يمكن بعد الصحابة لكثرة العلماء، وانتشارهم في أقطار الدنيا وعدم القدرة على معرفة أقوال الكل".اهـ

قلت: وينبغي التنبه إلى الفارق بين قول أهل الظاهر، وقول الإمام أحمد ومن تابعه، حيث أن أهل الظاهر ينفون حجية إجماع من بعد الصحابة، وأما الإمام أحمد ومن تابعه لا ينفون حجية إجماع من بعد الصحابة وإنما يقولون بتعذر وصعوبة إثبات إجماع من بعد الصحابة، أو الجزم بكونه إجماعًا.

‌‌حكم إجماع أهل المدينة:

قال شيخ الإسلام كما في مجموع الفتاوى (20/ 304): "والكلام في إجماع أهل المدينة في تلك الأعصار؛ والتحقيق في " مسألة إجماع أهل المدينة " أن منه ما هو متفق عليه بين المسلمين; ومنه ما هو قول جمهور أئمة المسلمين; ومنه ما لا يقول به إلا بعضهم؛ وذلك أن إجماع أهل المدينة على أربع مراتب:

الأولى: ما يجري مجرى النقل عن النبي صلى الله تعالى عليه وسلم؛ مثل نقلهم لمقدار الصاع والمد; وكترك صدقة الخضراوات والأحباس؛ فهذا مما هو حجة باتفاق العلماء؛ أما الشافعي وأحمد وأصحابهما فهذا حجة عندهم بلا نزاع كما هو حجة عند
ধারণাপ্রসূত (ظني) হলো: "যা অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার (تتبع واستقراء) মাধ্যম ছাড়া জানা যায় না। এর সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ওলামায়ে কেরাম দ্বিমত পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে সবচেয়ে অগ্রগণ্য মত হলো শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মত, যা তিনি আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়াহ গ্রন্থে ব্যক্ত করেছেন: 'সালাফে সালেহীন যে বিষয়ের ওপর ছিলেন, তা-ই হলো সুনির্দিষ্ট ঐক্যমত (إجماع); কেননা তাঁদের পরে মতভেদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উম্মত ছড়িয়ে পড়েছে'।" সমাপ্ত।

শায়খ মুহাম্মাদ আল-খুদরিও তাঁর 'উসুলুল ফিকহ' গ্রন্থে সাহাবীদের যুগের পর ঐক্যমত (إجماع) সম্পর্কে জানা অসম্ভব হওয়ার দিকে মত দিয়েছেন। সেখানে (পৃষ্ঠা ৩২৯) তিনি বলেন: "ইমাম রাজি বলেছেন: ন্যায়সঙ্গত কথা হলো, সাহাবীদের যুগ ছাড়া এটি জানার আমাদের আর কোনো পথ নেই।" সমাপ্ত।

শানকিতির আল-মুজাক্কিরাহ-তে (পৃষ্ঠা ১৭৯) রয়েছে: "লেখক পছন্দ করেছেন যে, ঐক্যমতের (إجماع) অস্তিত্ব সম্ভব ও ধারণাযোগ্য; তাঁদের মতের বিপরীতে যারা বলেন: আলেমদের আধিক্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের ছড়িয়ে পড়া এবং সবার মতামতের বিষয়ে অবগত হওয়ার সক্ষমতা না থাকার কারণে সাহাবীদের পরে এটি সম্ভব নয়।" সমাপ্ত।

আমি বলি: আহলে জাহেরদের বক্তব্য এবং ইমাম আহমাদ ও তাঁর অনুসারীদের বক্তব্যের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা আহলে জাহেরগণ সাহাবীদের পরবর্তী যুগের ঐক্যমতের (إجماع) প্রামাণ্যতা (حجية) অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, ইমাম আহমাদ ও তাঁর অনুসারীরা সাহাবীদের পরবর্তী যুগের ঐক্যমতের (إجماع) প্রামাণ্যতা (حجية) অস্বীকার করেন না, বরং তাঁরা সাহাবীদের পরবর্তী যুগের ঐক্যমত (إجماع) সাব্যস্ত করার বা একে নিশ্চিতভাবে ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে গণ্য করার জটিলতা ও অসম্ভবপর হওয়ার কথা বলেন।

‌‌মদিনাবাসীদের ঐক্যমতের (إجماع) বিধান:

শায়খুল ইসলাম মাজমুউল ফাতাওয়া গ্রন্থে (২০/৩০৪) বলেন: "সেই সকল যুগের মদিনাবাসীদের ঐক্যমত (إجماع) নিয়ে বক্তব্য হলো: 'মদিনাবাসীদের ঐক্যমতের (إجماع) মাসআলা'-র সূক্ষ্ম পর্যালোচনা (تحقيق) হলো যে, এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা মুসলমানদের মাঝে সর্বসম্মত; কিছু রয়েছে যা মুসলিম ইমামদের সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) অংশের মত; আবার কিছু রয়েছে যা কেবল তাঁদের কেউ কেউ বলে থাকেন। কারণ মদিনাবাসীদের ঐক্যমত (إجماع) চারটি স্তরের ওপর বিন্যস্ত:

প্রথম: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনার (نقل) পর্যায়ভুক্ত; যেমন— সা' ও মুদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে তাঁদের বর্ণনা (نقل); শাকসবজির সদকা বর্জন এবং ওয়াকফ (الأحباس) সংক্রান্ত বিষয়। এগুলো ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। ইমাম শাফেয়ী, আহমাদ ও তাঁদের অনুসারীদের নিকট এটি কোনো প্রকার বিতর্ক ছাড়াই দলিল (حجة), যেমনটি এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য...
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২৫)
مالك، وذلك مذهب أبي حنيفة وأصحابه، قال أبو يوسف رحمه الله وهو أجل أصحاب أبي حنيفة وأول من لقب قاضي القضاة - لما اجتمع بمالك وسأله عن هذه المسائل وأجابه مالك بنقل أهل المدينة المتواتر رجع أبو يوسف إلى قوله وقال: لو رأى صاحبي مثل ما رأيت لرجع مثل ما رجعت؛ فقد نقل أبو يوسف أن مثل هذا النقل حجة عند صاحبه أبي حنيفة كما هو حجة عند غيره لكن أبو حنيفة لم يبلغه هذا النقل كما لم يبلغه ولم يبلغ غيره من الأئمة كثير من الحديث فلا لوم عليهم في ترك ما لم يبلغهم علمه، وكان رجوع أبي يوسف إلى هذا النقل كرجوعه إلى أحاديث كثيرة اتبعها هو وصاحبه محمد وتركا قول شيخهما ; لعلمهما بأن شيخهما كان يقول: إن هذه الأحاديث أيضًا حجة إن صحت لكن لم تبلغه؛ ومن ظن بأبي حنيفة أو غيره من أئمة المسلمين أنهم يتعمدون مخالفة الحديث الصحيح لقياس أو غيره فقد أخطأ عليهم وتكلم إما بظن وإما بهوى ........ "، إلى أن قال: "والمقصود هنا: أن عمل أهل المدينة الذي يجري مجرى النقل حجة باتفاق المسلمين كما قال مالك لأبي يوسف، لما سأله عن الصاع والمد وأمر أهل المدينة بإحضار صيعانهم وذكروا له أن إسنادها عن أسلافهم؛ أترى هؤلاء يا أبا يوسف يكذبون؟ قال: لا والله ما يكذبون فأنا حررت هذه الصيعان فوجدتُها خمسة أرطال وثلث بأرطالكم يا أهل العراق؛ فقال: رجعت إلى قولك يا أبا عبد الله ولو رأى صاحبي ما رأيت لرجع كما رجعت؛ وسأله عن صدقة الخضراوات فقال: هذه مباقيل أهل المدينة لم يؤخذ منها صدقة على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أبي بكر ولا عمر رضي الله عنهما يعني: وهي تنبت فيها الخضراوات؛ وسأله عن الأحباس فقال: هذا حبس فلان وهذا حبس فلان يذكر لبيان الصحابة، فقال أبو يوسف في كل منهما: قد رجعت يا أبا عبد الله ولو رأى صاحبي ما رأيت لرجع كما رجعت ......... فهذا هو المرتبة الأولى لإجماع أهل المدينة وهو حجة باتفاق المسلمين"؛ ثم قال: "المرتبة الثانية: العمل القديم بالمدينة قبل مقتل عثمان بن عفان
মালিক; আর এটিই ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের মাজহাব। আবু হানিফার অনুসারীদের মধ্যে অগ্রগণ্য এবং সর্বপ্রথম 'কাজি আল-কুজাত' (প্রধান বিচারপতি) উপাধিতে ভূষিত ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন—যখন তিনি ইমাম মালিকের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আর মালিক মদিনাবাসীদের নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা (متواتر) দ্বারা তাঁকে উত্তর দিলেন, তখন আবু ইউসুফ তাঁর পূর্বের মত ত্যাগ করে মালিকের বক্তব্যে ফিরে আসলেন এবং বললেন: 'আমার সাথী (আবু হানিফা) যদি তা দেখতেন যা আমি দেখেছি, তবে তিনিও সেভাবেই ফিরে আসতেন যেভাবে আমি ফিরে এসেছি।' আবু ইউসুফ বর্ণনা করেছেন যে, এই ধরনের বর্ণনা তাঁর সাথী আবু হানিফার নিকটও দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য, যেমনটি তা অন্যদের নিকট দলিল (حجة)। কিন্তু ইমাম আবু হানিফার নিকট এই বর্ণনাটি পৌঁছেনি, ঠিক যেমন তাঁর নিকট এবং অন্যান্য ইমামদের নিকট অনেক হাদিস পৌঁছেনি; সুতরাং যে বিষয়ের জ্ঞান তাঁদের কাছে পৌঁছেনি, তা পরিহার করার কারণে তাঁদের প্রতি কোনো নিন্দা নেই। আবু ইউসুফের এই বর্ণনার দিকে ফিরে আসা ছিল অনেক হাদিসের দিকে ফিরে আসার মতোই, যা তিনি এবং তাঁর সাথী মুহাম্মদ অনুসরণ করেছিলেন এবং তাঁদের শায়খের মত পরিত্যাগ করেছিলেন; কারণ তাঁরা জানতেন যে তাঁদের শায়খ বলতেন: 'এই হাদিসগুলোও দলিল (حجة) যদি সেগুলো বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত হয়, কিন্তু সেগুলো তাঁর নিকট পৌঁছেনি।' আর যে ব্যক্তি আবু হানিফা অথবা মুসলিম উম্মাহর অন্য কোনো ইমাম সম্পর্কে ধারণা পোষণ করে যে, তাঁরা কিয়াস (قياس) বা অন্য কোনো কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের বিরোধিতা করেন, তবে সে তাঁদের ব্যাপারে ভুল করল এবং হয় ধারণা নতুবা প্রবৃত্তি (هوى) বশবর্তী হয়ে কথা বলল... এমনকি তিনি বলেছেন: "এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো: মদিনাবাসীদের আমল যা বর্ণনার সমপর্যায়ভুক্ত, তা মুসলিমদের ঐকমত্যে (إجماع) একটি দলিল (حجة); যেমনটি ইমাম মালিক আবু ইউসুফকে বলেছিলেন যখন তিনি তাঁকে 'সা' ও 'মুদ' (পরিমাপক) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং মালিক মদিনাবাসীদের তাঁদের পরিমাপকগুলো উপস্থিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁরা উল্লেখ করেছিলেন যে এগুলোর সনদ (إسناد) তাঁদের পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত। (মালিক বললেন,) 'হে আবু ইউসুফ! আপনি কি মনে করেন এরা মিথ্যা বলছে?' তিনি বললেন, 'না, আল্লাহর কসম! তারা মিথ্যা বলছে না।' এরপর আমি (আবু ইউসুফ) এই পরিমাপকগুলো যাচাই করে দেখলাম যে এগুলো আপনাদের ইরাকিদের মাপে পাঁচ রতল এবং এক-তৃতীয়াংশ রতল। তখন তিনি বললেন, 'হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি আপনার মতের দিকে ফিরে আসলাম। আমার সাথী যদি দেখতেন যা আমি দেখেছি, তবে তিনিও ফিরে আসতেন যেমনটি আমি ফিরে এসেছি।' তিনি তাঁকে শাকসবজির জাকাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: 'এগুলো মদিনাবাসীদের সবজি বাগান, যেখান থেকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কিংবা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে জাকাত গ্রহণ করা হয়নি।' অর্থাৎ যেখানে শাকসবজি উৎপাদিত হতো। তিনি তাঁকে ওয়াকফ (أحباس) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: 'এটি অমুকের ওয়াকফ এবং এটি অমুকের ওয়াকফ', যা সাহাবীদের বর্ণনার প্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হতো। তখন আবু ইউসুফ তার প্রতিটিতেই বললেন: 'হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি ফিরে আসলাম। আমার সাথী যদি দেখতেন যা আমি দেখেছি, তবে তিনিও ফিরে আসতেন যেমনটি আমি ফিরে এসেছি'... সুতরাং এটিই হলো মদিনাবাসীদের ঐকমত্যের (إجماع) প্রথম স্তর এবং মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে এটি একটি দলিল (حجة)।" অতঃপর তিনি বলেন: "দ্বিতীয় স্তর: উসমান বিন আফফানের শাহাদাতের পূর্বে মদিনায় প্রচলিত আমল।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২৬)
فهذا حجة في مذهب مالك وهو المنصوص عن الشافعي قال في رواية يونس بن عبد الأعلى: إذا رأيت قدماء أهل المدينة على شيء فلا تتوقف في قلبك ريبًا أنه الحق؛ وكذا ظاهر مذهب أحمد أن ما سنه الخلفاء الراشدون فهو حجة يجب اتباعها وقال أحمد: كل بيعة كانت في المدينة فهي خلافة نبوة. ومعلوم أن بيعة أبي بكر وعمر وعثمان كانت بالمدينة وكذلك بيعة علي كانت بالمدينة ثم خرج منها وبعد ذلك لم يعقد بالمدينة بيعة .... ".

إلى أن قال: "وأما المرتبة الرابعة: فهي العمل المتأخر بالمدينة فهذا هل هو حجة شرعية يجب اتباعه أم لا؟ فالذي عليه أئمة الناس أنه ليس بحجة شرعية، هذا مذهب الشافعي وأحمد وأبي حنيفة وغيرهم، كتابه " أصول الفقه " وغيره ذكر أن هذا ليس إجماعًا ولا حجة عند المحققين من أصحاب مالك … ".اهـ

قلت: وقد ذكر نفس هذا التقسيم الزركشي في البحر المحيط (6/ 447)؛ وانظر أيضًا: المذكرة للشنقيطي (ص 182).

-‌‌ إجماع الخلفاء الأربعة:

قال أبو الحسن البعلي في "القواعد النورانية والفوائد الأصولية" (ص 294): "إجماع الخلفاء الأربعة مع مخالفة مجتهد صحابي لهم على حكم ليس بإجماع ولا حجة عند أحمد وأكثر الفقهاء؛ وعن أحمد -رحمه الله تعالى- رواية أخرى: أنه إجماع، وبها قال أبو خازم الحنفي واختارها ابن البنا من أصحابنا.

وعن أحمد رواية ثالثة: أنه حجة لا إجماع".اهـ

وقال د. عبد الله التركي في أصول مذهب الإمام أحمد (ص 382): "والذي أرجحه أن أحمد رحمه الله لا يعتبر اتفاقهم إجماعًا ذلك أن الروايات التي نقلت عنه في التخير من أقوال الصحابة عند الاختلاف أقربها للكتاب والسنة صريحة ومتعددة، ومنها قوله في رواية المروذي: إذا اختلف أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يجز للرجل أن يأخذ
এটি ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী একটি দলিল (حجة), এবং এটি ইমাম শাফেয়ি থেকেও স্পষ্টভাবে বর্ণিত। তিনি ইউনুস ইবনে আবদিল আ'লার বর্ণনা (رواية)-এ বলেছেন: "যখন আপনি মদিনার প্রাচীন অধিবাসীদের কোনো বিষয়ে একমত দেখবেন, তখন আপনার অন্তরে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, সেটিই সত্য।" একইভাবে ইমাম আহমদের মাযহাবের প্রকাশ্য মত হলো, খুলাফায়ে রাশিদুন যা প্রবর্তন করেছেন তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য এবং তা অনুসরণ করা আবশ্যক। ইমাম আহমদ বলেছেন: "মদিনায় সম্পাদিত প্রতিটি বাইআত ছিল নবুওয়াতের আদলে খিলাফত।" এটি সুবিদিত যে, আবু বকর, উমর ও উসমানের বাইআত মদিনাতেই হয়েছিল। তেমনিভাবে আলীর বাইআতও মদিনায় হয়েছিল, এরপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যান এবং এরপর মদিনায় আর কোনো বাইআত অনুষ্ঠিত হয়নি...।

তিনি আরও বলেন: "আর চতুর্থ স্তর হলো মদিনার পরবর্তী সময়ের আমল। এটি কি শরয়ি দলিল (حجة شرعية) যা অনুসরণ করা আবশ্যক, নাকি নয়? অধিকাংশ ইমামের মতে এটি শরয়ি দলিল (حجة شرعية) নয়। এটি শাফেয়ি, আহমদ, আবু হানিফা এবং অন্যদের মাযহাব। তাঁর 'উসুলুল ফিকহ' এবং অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মালিকি মাযহাবের গবেষক আলেমদের মতে এটি সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) নয় এবং দলিল (حجة)-ও নয় … "। সমাপ্ত।

আমি বলছি: আজ-যারকাশি আল-বাহরুল মুহিত (৬/ ৪৪৭) গ্রন্থে একই বিভাজন উল্লেখ করেছেন; এছাড়া শিনকিতির আল-মুযাক্কিরাহ (পৃ. ১৮২) দেখুন।

-‌‌ চার খলিফার সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع):

আবুল হাসান আল-বালি 'আল-কাওয়ায়িদুল নূরানিয়্যাহ ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ' (পৃ. ২৯৪) গ্রন্থে বলেছেন: "কোনো বিধানে চার খলিফার ঐক্যের বিপরীতে যদি কোনো সাহাবি মুজতাহিদ (مجتهد) ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে ইমাম আহমদ ও অধিকাংশ ফকিহগণের নিকট তা সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) বা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয়। ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে অন্য একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে, এটি সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع); আবু খাযিম হানাফি এই মত পোষণ করেছেন এবং আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে ইবনুল বান্না একে পছন্দ করেছেন।

ইমাম আহমদ থেকে তৃতীয় আরেকটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে, এটি দলিল (حجة), তবে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) নয়"। সমাপ্ত।

ড. আব্দুল্লাহ আত-তুর্কি 'উসুলু মাযহাবিল ইমাম আহমদ' (পৃ. ৩৮২) গ্রন্থে বলেছেন: "আমার নিকট যেটি অগ্রগণ্য তা হলো, ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) তাদের ঐক্যকে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) হিসেবে গণ্য করেন না। কারণ মতভেদের সময় সাহাবিদের বক্তব্যের মধ্য থেকে পছন্দ করে নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর থেকে যে বর্ণনাগুলো (روايات) উদ্ধৃত হয়েছে, সেগুলো কিতাব ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী, সুস্পষ্ট এবং সংখ্যায় অনেক। এর মধ্যে আল-মারওয়াযির বর্ণনা (رواية)-এ তাঁর উক্তি হলো: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ মতভেদ করেন, তখন কোনো ব্যক্তির জন্য এটি গ্রহণ করা বৈধ নয়..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২৭)
بقول بعضهم إلا على اختيار ينظر أقرب قول إلى الكتاب والسنة".اهـ

قلت: وقد رجح الشنقيطي في المذكرة (ص 183) أن اتفاقهم حجة وليس إجماعًا، لأن الإجماع لا يكون إلا من الجميع.

وللعلائي بحث قوي في "إجمال الإصابة" في إثبات كون اتفاق الخلفاء الأربعة حجة وليس إجماعًا، وقد رد فيه على اعتراضات المخالفين، فقال في (ص 47 - 50):

" وكذلك ما تقدم عن الإمام الشافعي في القديم وفي كتاب اختلافه مع مالك في الجديد عند تفرق أقوال الصحابة وقد تقدم أنه يصير إلى قول أحد الخلفاء الأربعة، وحينئذ فالاحتجاج بما اتفقوا عليه يكون بطريق الأولى؛ وأما كونه إجماعًا كما إذا أجمعت الأمة قاطبة فبعيد، لأن الأدلة المتمسك بها لكون الإجماع حجة من النقلية والعقلية إنما يتناول جميع الأمة ولا ريب في أن الخلفاء الأربعة ليسوا جميع الأمة؛ وقد ذكر أئمة الأصول أن أبا خازم احتج لكون ذلك إجماعا بقوله صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ … " -الحديث-، فأوجب اتباع سنتهم كما أوجب اتباع سنته والمخالف لسنته صلى الله عليه وسلم لا يعتد بقوله فكذلك المخالف لسنتهم ثم أجابوا عن ذلك بوجهين: أحدها: أن ذلك عام في كل الخلفاء الراشدين ولا دليل فيه على انحصاره في الأربعة دون غيرهم رضي الله عنهم؛ وثانيهما: المعارضة بما روي عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "أصحابي كالنجوم فبأيهم اقتديتم اهتديم"؛ فتحمل سنة الخلفاء الأربعة في الحديث على ما يتعلق بالخلافة فقط للجمع بين الأحاديث، كيف ومن سنتهم إجازة المخالفة لهم كما تقدم من رد المرأة على عمر رضي الله عنه في المغالاة بالصداق وغير ذلك من الصور الكثيرة.

وأيضًا فإنه يلزم منه أن يكون قول الواحد منهم بمفرده حجة وحينئذ فتتعارض أقوالهم كما قد اختلف الشيخان رضي الله عنهما في العطاء، فرأى أبو بكر رضي الله عنه تسوية الصحابة فيه كلهم ورأى عمر رضي الله عنه التفاضل بينهم بحسب السبق والقرب من النبي صلى الله عليه وسلم فيتعذر العمل بسنتهم فيحمل
"কারো কারো মতে, কেবল সেই মতটি বেছে নেওয়া হবে যা কুরআন ও সুন্নাহর নিকটতম।" - সমাপ্ত।

আমি বলি: আশ-শানকিতী আল-মুজাক্কিরাহ-তে (পৃ. ১৮৩) প্রাধান্য দিয়েছেন যে, তাঁদের (চার খলিফার) একমত হওয়া একটি দলিল (حجة), কিন্তু এটি সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) নয়; কারণ সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) কেবল সকলের সম্মতির মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

আল-আলাই-এর 'ইজমালুল ইসাবাহ' গ্রন্থে চার খলিফার ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে দলিল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং একে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) না বলার স্বপক্ষে শক্তিশালী আলোচনা রয়েছে। সেখানে তিনি বিরোধিতাকারীদের আপত্তির জবাব দিয়েছেন। তিনি (পৃ. ৪৭-৫০) বলেন:

"অনুরূপভাবে ইমাম শাফেঈ থেকে তাঁর প্রাচীন (কাদিম) মতবাদে এবং তাঁর নতুন (জাদিদ) মতবাদে মালিকের সাথে মতবিরোধ বিষয়ক কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে যে, সাহাবীগণের (صحابة) মতের ভিন্নতার সময় তিনি চার খলিফার কোনো একজনের মত গ্রহণ করতেন। এমতাবস্থায়, তাঁদের ঐকমত্য হওয়া বিষয়টি দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত। আর এটি সবার ন্যায় সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হওয়া তো দূরহ ব্যাপার; কারণ সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) দলিল (حجة) হওয়ার স্বপক্ষে যেসব বর্ণনামূলক (نقلي) ও যুক্তিগত (عقلي) প্রমাণ রয়েছে, তা পুরো উম্মতকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কেবল চার খলিফা পুরো উম্মত নন। উসুলের ইমামগণ উল্লেখ করেছেন যে, আবু খাজিম একে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হিসেবে প্রমাণ করতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী পেশ করেছেন: 'তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, একে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো … ' -হাদিস। এখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মতো তাঁদের সুন্নাহ অনুসরণকেও আবশ্যক করেছেন। আর তাঁর সুন্নাহর বিরোধিতাকারীর কথা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি তাঁদের সুন্নাহর বিরোধিতাকারীর কথাও গ্রহণযোগ্য হবে না। এরপর তাঁরা এর উত্তর দিয়েছেন দুটি দিক থেকে: প্রথমত, এটি সকল খুলাফায়ে রাশেদীনের জন্য সাধারণ (عام), এতে কেবল চার খলিফার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কোনো দলিল নেই (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। দ্বিতীয়ত, এর বিপরীতে একটি পাল্টা যুক্তি (معارضة) রয়েছে যে তিনি (সা.) বলেছেন: 'আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা যাকেই অনুসরণ করবে সঠিক পথ পাবে।' সুতরাং হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য হাদিসে বর্ণিত চার খলিফার সুন্নাহকে কেবল খিলাফত সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির ওপর প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া তাঁদের নীতিই ছিল অন্যদেরকে তাঁদের বিরোধিতা করার অনুমতি দেওয়া, যেমনটি মোহরের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক মহিলার উমর (রা.)-এর প্রতিবাদ করা এবং এমন আরও অনেক ঘটনা থেকে প্রমাণিত।"

"তাছাড়া, একে দলিল (حجة) মানলে এটাও আবশ্যক হয়ে পড়ে যে তাঁদের যে কারো একক কথাও দলিল (حجة) হবে। সেক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্যগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ দেখা দিবে; যেমনটি শাইখাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। আবু বকর (রা.) সকল সাহাবীর ভাতা সমান রাখার মত দিয়েছেন, আর উমর (রা.) ইসলামের পথে অগ্রবর্তী হওয়া এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হওয়ার ভিত্তিতে মর্যাদাক্রম (تفاضল) বজায় রাখার পক্ষে ছিলেন। ফলে তাঁদের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাই একে (খিলাফতের বিষয়ের ওপর) প্রয়োগ করা হবে..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২৮)
حينئذ كما تقدم على أمر الخلافة وتجهيز الجيوش إلى الأمصار ونحو ذلك؛ وهذه الاعتراضات كلها ضعيفة؛ ولنبدأ أولاً ببيان الحديث المتقدم وتصحيحه ووجه الدلالة منه ثم نرجع إلى ما يتعلق بهذه الاعتراضات ..... "؛ وبعد أن أثبت صحته، قال:

"ووجه الدلالة منه ظاهر لا من الطريق التي تقدم أنه احتج به لكون ذلك كالإجماع بل من جهة أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بالتمسك بسنتهم والعض عليها بالنواجذ وذلك مجاز كناية عن ملازمة الأخذ بها وعدم العدول عنها مع أنه صلى الله عليه وسلم قرن في هذه الأوامر بين سنته وسنتهم فكانا في الحجية سواء، ولا يقال إن ذلك يلزم منه أن تكون سنتهم مساوية لما ثبت من سنة النبي صلى الله عليه وسلم بحيث يقع التعارض بينهما ويعدل إلى الترجيح فربما يقدم العمل بسنتهم على ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم لأنا نقول لا يلزم من كون سنتهم حجة معتمدة أن يكون لها هذه المساواة بل يجوز أن تكون مأمورًا باتباعها والعمل بها بشرط عدم وجود سنة للنبي صلى الله عليه وسلم قدمت على سنتهم كما أن القياس حجة شرعية، وهو متأخر في الرتبة عن الكتاب والسنة.

وأما كونه مُختصًا بالخلفاء الأربعة دون من بعدهم فلإجماع العلماء قاطبة على اختصاصهم بالوصف المذكور في الحديث وأنه لا يطلق على من بعدهم، وقد روى سفينة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "الخلافة في أمتي ثلاثون سنة بعدي ثم يصير ملكًا"، وإسناده حسن؛ وكانت مدة الأئمة الأربعة رضي الله عنهم نَحو هذا المقدار بالاتفاق، وبِهذا احتج البيهقي وغيره على انصراف قوله صلى الله عليه وسلم: "وسنة الخلفاء الراشدين المهديين" إلى الأئمة الأربعة، وقَصَرَ اللفظ عليهم؛ وأما الحديث المروي: أصحابي كالنجوم، فسيأتي بيانه وأنه حديث ضعيف لا يقاوم الحديث المروي عن العرباض المتقدم حتى يكونا متعارضين".اهـ

قلت: وما رجحه العلائي والشنقيطي -رحمهما الله- من أن اتفاق الخلفاء الأربعة حجة وليس إجماعًا هو الذي به تجتمع الأدلة، وهو رواية عن الإمام أحمد.
তখন, যেমনটি পূর্বে খিলাফতের বিষয় এবং বিভিন্ন জনপদে সেনাবাহিনী প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ অনুরুপ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে; এই সকল আপত্তিই দুর্বল (ضعيف); আমরা প্রথমে উল্লিখিত হাদিসটি বর্ণনা করার মাধ্যমে এর বিশুদ্ধতা সাব্যস্তকরণ (تصحيح) এবং তা থেকে প্রমাণের ধরণ (وجه الدلالة) স্পষ্ট করব, অতঃপর এই আপত্তিগুলো সংশ্লিষ্ট আলোচনায় ফিরে আসব...।"; এবং এর বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণের পর তিনি বলেন:

"তা থেকে প্রমাণের ধরণ (وجه الدلالة) সুস্পষ্ট, এবং তা কেবল সেই পদ্ধতিতে নয় যা ইতিপূর্বে ইজমা (إجماع) হিসেবে দলিল প্রদানের জন্য বর্ণিত হয়েছে। বরং বিষয়টি এই দিক থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এটি একটি রূপক (مجاز) যা তা পালনে অবিচল থাকা এবং তা থেকে বিচ্যুত না হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তা সত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই নির্দেশগুলোতে তাঁর সুন্নাত এবং তাঁদের সুন্নাতের মাঝে সমন্বয় করেছেন, ফলে দলিল হওয়ার যোগ্যতা বা প্রামাণিকতার (حجية) ক্ষেত্রে উভয়টিই সমান। এমনটি বলা যাবে না যে, এর ফলে তাঁদের সুন্নাত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রমাণিত সুন্নাতের সমান হয়ে যাবে, যার ফলে উভয়ের মাঝে বৈপরীত্য (تعارض) তৈরি হবে এবং শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণের (ترجيح) প্রয়োজন পড়বে; কিংবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত বিষয়ের ওপর তাঁদের সুন্নাত অনুযায়ী আমল করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ আমরা বলি যে, তাঁদের সুন্নাত একটি নির্ভরযোগ্য দলিল (حجة) হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাকে এই পর্যায়ের সমতুল্য হতে হবে। বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এমন কোনো সুন্নাত না থাকার শর্তে তাঁদের সুন্নাতের অনুসরণ ও আমল করার নির্দেশ দেওয়া বৈধ, যা তাঁদের সুন্নাতের ওপর অগ্রাধিকার পায়; যেমন কিয়াস (قياس) একটি শরয়ি দলিল (حجة شرعية), অথচ মর্যাদার ক্রমধারায় তা কুরআন ও সুন্নাহর পরে।

আর বিষয়টি যে পরবর্তী কারো জন্য নয় বরং চার খলিফার সাথে নির্দিষ্ট, তার কারণ হলো হাদিসে বর্ণিত উক্ত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তাঁদের বিশেষায়িত করার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع); এবং এই পরিভাষাটি তাঁদের পরবর্তী কারো ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় না। সাফিনা (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের মাঝে খিলাফত থাকবে আমার পরে ত্রিশ বছর, অতঃপর তা রাজতন্ত্রে পরিণত হবে।" আর এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن); এবং সর্বসম্মতিক্রমে চার ইমামের (খলিফার) সময়কাল ছিল প্রায় এই পরিমাণ। এর মাধ্যমেই বায়হাকি ও অন্যান্যগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "এবং পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত" কথাটিকে চার ইমামের (খলিফার) দিকে ধাবিত হওয়ার এবং এই শব্দটিকে কেবল তাঁদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে দলিল পেশ (احتجاج) করেছেন। আর বর্ণিত হাদিস "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য" সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে যে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস; যা ইরবাজ (রা.) থেকে বর্ণিত ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হাদিসের সমকক্ষ নয় যে উভয়ের মাঝে বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দিবে।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: আল্লামা আলাই ও শানকিতি (রাহিমাহুমুল্লাহ) যে মতটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছেন যে—চার খলিফার ঐক্যবদ্ধ হওয়া একটি দলিল (حجة), ইজমা (إجماع) নয়—তার মাধ্যমেই সকল দলিলের মাঝে সমন্বয় ঘটে; এবং এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি অভিমত।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ২৯)
-‌‌ الإجماع السكوتي:

قال العلامة الشنقيطي في المذكرة (ص 188): "وتحرير هذه المسألة أن لها ثلاث حالات:

 

1 - أن يعلم من قرينة حال الساكت أنه راض بذلك فهو إجماع قولاً واحدًا.

 

2 - أن يعلم من قرينته أنه ساخط غير راض فليس بإجماع قولاً واحدًا.

 

3 - ألَاّ يُعلم منه رضا ولا سخط ففيه الأقوال الثلاثة المتقدمة، ومذهب الجمهور أنه إجماع سكوتي وهو ظني".اهـ

قلت: وهذه الأقوال الثلاثة التي أشار إليها الشيخ هي المذكورة في قوله: "إذا بعض الصحابة قولاً في تكليف فانتشر في بقية الصحابة فسكتوا، ففي ذلك ثلاثة أقوال، والحق أنه إجماع سكوتي ظني:

 

1 - أنه إجماع وروي عن أحمد ما يدل عليه، وبه قال أكثر الشافعية المالكية تنزيلاً للسكوت منزلة الرضا والموافقة، ويشترط في ذلك ألَاّ يعلم أن الساكت ساخط غير راض بذلك القول، وأن تمضي مهلة تسع النظر في ذلك القول بعد سماعه.

 

2 - أنه حجة لا إجماع.

 

3 - ليس بحجة ولا إجماع ....... ".اهـ

قلت: وقد سرد الشوكاني في إرشاد الفحول (ص 153 - 155) اثني عشر قولاً في المسألة؛ وقد ورد في كشف الأسرار (3/ 228) لعبد العزيز البخاري تسمية هذا الإجماع بـ: الرخصة.
মৌন ঐকমত্য (إجماع سكوتي):

আল্লামা শিনকীতি আল-মুযাক্কিরাহ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৮৮) বলেছেন: "এই মাসআলাটির বিশ্লেষণ হলো এর তিনটি অবস্থা রয়েছে:

 

1 - যদি মৌন ব্যক্তির পরিস্থিতির লক্ষণ (قرينة) থেকে জানা যায় যে তিনি এতে সন্তুষ্ট, তবে এটি সর্বসম্মতভাবে একটি ঐকমত্য (إجماع)।

 

2 - যদি তার অবস্থা থেকে জানা যায় যে তিনি অসন্তুষ্ট এবং সন্তুষ্ট নন, তবে এটি সর্বসম্মতভাবে ঐকমত্য (إجماع) নয়।

 

3 - যদি তার পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির কোনোটিই জানা না যায়, তবে সেক্ষেত্রে ইতিপূর্বে উল্লিখিত তিনটি অভিমত রয়েছে। আর সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত (مذهب الجمهور) হলো—এটি মৌন ঐকমত্য (إجماع سكوتي) এবং এটি ধারণা-প্রসূত (ظني)।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: শায়খ যে তিনটি অভিমতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা তাঁর এই বক্তব্যে বর্ণিত হয়েছে: "যদি কোনো সাহাবী শরয়ি বিধান (تكليف) সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য প্রদান করেন এবং তা অন্যান্য সাহাবীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু তারা মৌন থাকেন, তবে এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে। আর সঠিক হলো এটি একটি ধারণা-প্রসূত (ظني) মৌন ঐকমত্য (إجماع سكوتي):

 

1 - এটি ঐকমত্য (إجماع); ইমাম আহমাদ থেকে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যা এরই নির্দেশ দেয়। অধিকাংশ শাফেয়ি ও মালিকি ফকিহগণও এই মত পোষণ করেছেন। তারা মৌনতাকে সন্তুষ্টি ও সম্মতির স্থলাভিষিক্ত ধরেছেন। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো—মৌন ব্যক্তি ওই বক্তব্যের প্রতি অসন্তুষ্ট বা অসম্মত এমন কিছু জানা না থাকা এবং শোনার পর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনার জন্য পর্যাপ্ত সময় অতিবাহিত হওয়া।

 

2 - এটি দলিল (حجة), কিন্তু ঐকমত্য (إجماع) নয়।

 

3 - এটি দলিল (حجة)-ও নয় এবং ঐকমত্য (إجماع)-ও নয়...।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: ইমাম শাওকানি ইরশাদুল ফুহুল গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৫৩ - ১৫৫) এই মাসআলায় বারোটি অভিমত উল্লেখ করেছেন। আর আব্দুল আজিজ বুখারী রচিত কাশফুল আসরার গ্রন্থে (৩/২২৮) এই ধরনের ঐকমত্যকে 'শিথিলতা' (رخصة) নামে অভিহিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌ترجمة المصنف رحمه الله

‌‌اسمه ونسبه: محمد بن إبراهيم بن المنذر النيسابوري؛ وكنيته: أبو بكر.

مولده: وُلِد بنيسابور سنة 242 هـ، ولم يذكره الحاكم في تاريخ نيسابور، نسيه كما قال الذهبي، وقال الذهبي أيضًا: "وُلِد في حدود موت أحمد بن حنبل".

‌‌ثناء أهل العلم عليه وعلى كتبه:

قال الذهبي في السير: "الإمام الحافظ العلامة شيخ الإسلام ....... الفقيه نزيل مكة وصاحب التصانيف .. الإشراف في اختلاف العلماء وكتاب الإجماع وكتاب المبسوط وغير ذلك".

وقال أيضًا في تذكرة الحفاظ: "الحافظ العلامة الفقيه الأوحد شيخ الحرم وصاحب الكتب التي لم يصنف مثلها".

وقال السبكي: "نزيل مكة أحد أعلام هذه الأمة وأحبارها؛ كان إمامًا مجتهدًا حافظًا ورعًا … ".

وقال الشيرازي: "صنف في اختلاف العلماء كتبًا لم يصنف أحد مثلها واحتاج إلى كتبه الموافق والمخالف .. ".

وقال ابن شهبة: "الفقيه نزيل مكة أحد الأئمة الأعلام وممن يقتدى بنقله في الحلال والحرام صنف كتبا معتبرة عند أئمة الإسلام".

وقال ابن خلكان: " كان فقيها عالما مطلعا .... ومن كتبه المشهورة في اختلاف العلماء كتاب الأشراف وهو كتاب كبير يدل على كثرة وقوفه على مذاهب الأئمة وهو من أحسن الكتب وأنفعها وأمتعها وله كتاب المبسوط أكبر من الأشراف وهو في اختلاف العلماء ونقل مذاهبهم أيضا وله كتاب الإجماع وهو صغير".

وقال الداودي: "الإمام المجتهد نزيل مكة صنف كتبا لم يصنف مثلها في الفقه وغيره ومنها كتاب المبسوط وكتاب الإشراف في اختلاف العلماء وكتاب الإجماع
‌গ্রন্থকারের (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন) জীবনী

‌‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়: মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আল-মুনজির আন-নিসাবুরি; তাঁর কুনিয়াত (উপনাম): আবু বকর।

জন্ম: তিনি ২৪২ হিজরি সনে নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। আল-হাকিম তাঁর ‘তারিখু নিশাপুর’ গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেননি; ইমাম আজ-জাহাবি যেমনটি বলেছেন যে তিনি তা ভুলে গিয়েছিলেন। ইমাম আজ-জাহাবি আরও বলেন: "তিনি আহমাদ বিন হাম্বল-এর ইন্তেকালের সমসাময়িক সময়ে জন্মগ্রহণ করেন।"

‌‌তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর গ্রন্থাবলি সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

আজ-জাহাবি ‘সিয়ার’ গ্রন্থে বলেন: "তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ (الحافظ), আল্লামা, শাইখুল ইসলাম... ফকিহ (الفقيه), মক্কার অধিবাসী এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা... যেমন: ‘আল-ইশরাফ ফি ইখতিলাফিল উলামা’, ‘কিতাবুল ইজমা’ এবং ‘কিতাবুল মাবসুত’ ও অন্যান্য।"

তিনি ‘তাজকিরাতুল হুফফাজ’ গ্রন্থে আরও বলেন: "হাফেজ (الحافظ), আল্লামা, অনন্য ফকিহ (الفقيه), হারাম শরিফের শাইখ এবং এমন সব কিতাবের রচয়িতা যার দৃষ্টান্ত ইতিপূর্বে রচিত হয়নি।"

আস-সুবকি বলেন: "মক্কার অধিবাসী, এই উম্মতের অন্যতম দিকপাল ও শ্রেষ্ঠ আলেমদের একজন; তিনি ছিলেন একজন মুজতাহিদ (مجتهد) ইমাম, হাফেজ (حافظ) এবং অত্যন্ত পরহেজগার (ورع) … "।

আশ-শিরাজি বলেন: "তিনি আলেমদের মতভেদ নিয়ে এমন সব কিতাব রচনা করেছেন যার মতো আর কেউ রচনা করতে পারেনি। তাঁর কিতাবসমূহের মুখাপেক্ষী হয়েছেন তাঁর সাথে একমত পোষণকারী এবং ভিন্নমত পোষণকারী—উভয়ই...।"

ইবনে শাহবাহ বলেন: "ফকিহ (الفقيه), মক্কার অধিবাসী, ইমামদের মধ্যে অন্যতম দিকপাল এবং যাদের বর্ণনা বা উদ্ধৃতি (نقل)-এর ওপর ভিত্তি করে হালাল ও হারামের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়। তিনি ইসলামি ইমামদের নিকট গ্রহণযোগ্য (معتبرة) কিতাবসমূহ রচনা করেছেন।"

ইবনে খাল্লিকান বলেন: "তিনি ছিলেন একজন ফকিহ (فقيه), আলেম ও অত্যন্ত প্রাজ্ঞ... আলেমদের মতভেদ বিষয়ক তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো ‘আল-ইশরাফ’; এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা ইমামদের মাজহাব (مذاهب) বা মতাদর্শসমূহ সম্পর্কে তাঁর গভীর পান্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। এটি সর্বোত্তম, সর্বাধিক উপকারী ও মনোরম কিতাবগুলোর একটি। তাঁর ‘আল-মাবসুত’ নামক একটি কিতাব রয়েছে যা ‘আল-ইশরাফ’ থেকে আকারে বড় এবং সেটিও আলেমদের মতভেদ ও তাঁদের মাজহাব (مذاهب) বর্ণনার ওপর রচিত। এছাড়াও তাঁর ‘কিতাবুল ইজমা’ রয়েছে যা আকারে ছোট।"

আদ-দাউদি বলেন: "মুজতাহিদ (المجتهد) ইমাম, মক্কার অধিবাসী, তিনি ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে এমন সব কিতাব রচনা করেছেন যার দৃষ্টান্ত আর রচিত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে ‘কিতাবুল মাবসুত’, ‘কিতাবুল ইশরাফ ফি ইখতিলাফিল উলামা’ এবং ‘কিতাবুল ইজমা’।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ৩১)
وكتاب التفسير وهو من أحسن التفاسير".

وقال ابن القطان: "كان ابن المنذر فقيهًا محدثًا ثقة".

‌‌طلبه للعلم ورحلاته: قال أبو حماد صغير أحمد في مقدمة الأوسط (1/ 14): "ليس لدينا أي تفصيل عن رحلة ابن المنذر من بلدة نيسابور إلى بلد آخر لطلب العلم، وتلقي الأحاديث؛ إلا أن المؤرخين ذكروا أن ابن المنذر وُلِد بنيسابور ثم نزل مكة وسكنها، ولكن متى نزل مكة؟ وهل ذهب إلى بلد آخر قريب أو بعيد؟ ليس هناك أي جواب عن هذا السؤال؛ ونقول بالتأكيد: أنه لم ينزل بغداد، ولا أصبهان، ولا دمشق، فإن كتب التاريخ الخاصة لهذه البلدان لم تذكر عنه شيئًا، وقد صرَّح الذهبي أنه لم ينزل بغداد ولا دمشق.

ولعله رحل إلى مصر وسمع هناك من الربيع وغيره من العلماء؛ وقد يوحي إلى ذلك كلام ابن المنذر، يقول: حدثنا بكار بن قتيبة بمصر حدثنا … الخ؛ ويقول في قول الشافعي: "إيجاب الوضوء على الرجل إذا قبل أمه أو ابنته أو أخته إكرامًا لهن"، لم أجد هذه المسألة في كتبه المصرية التي قرأناها على الربيع".اهـ

‌‌منهجه: قال الذهبي: "قال الشيخ محيي الدين النواوي: له من التحقيق في كتبه مالا يقاربه فيه أحد وهو في نهاية من التمكن من معرفة الحديث وله اختيار فلا يتقيد في الاختيار بمذهب بعينه بل يدور مع ظهور الدليل.

قلت -القائل الذهبي-: ما يتقيد بمذهب واحد إلا من هو قاصر في التمكن من العلم كأكثر علماء زماننا أو من هو متعصب؛ وهذا الإمام فهو من حملة الحجة جار في مضمار ابن جرير وابن سريج وتلك الحلبة رحمهم الله".

وقال ابن قاضي شهبة: "كان مجتهدًا لا يقلد أحدًا".

وقال السيوطي: " وكان على نهاية من معرفة الحديث والاختلاف وكان مجتهدًا لا يقلد أحدًا".
এবং তাঁর তাফসির গ্রন্থটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাফসির।"

এবং ইবনুল কাত্তান বলেছেন: "ইবনুল মুনজির একজন ফকিহ (فقيه), মুহাদ্দিস (محدث) এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন।"

‌‌তাঁর ইলম অর্জন এবং সফরসমূহ: আল-আওসাত গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় (১/ ১৪) আবু হাম্মাদ সাগির আহমদ বলেছেন: "ইলম অর্জন এবং হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইবনুল মুনজিরের নিশাপুর শহর থেকে অন্য কোনো দেশে সফরের ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো বিস্তারিত বিবরণ নেই; তবে ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল মুনজির নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মক্কায় আগমন করে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু তিনি কখন মক্কায় এসেছিলেন? এবং তিনি কি নিকটবর্তী বা দূরবর্তী অন্য কোনো দেশে গিয়েছিলেন? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই; তবে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, তিনি বাগদাদ, ইসফাহান বা দামেস্কে যাননি। কারণ এসব অঞ্চলের নির্দিষ্ট ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে তাঁর সম্পর্কে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। আয-যাহাবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বাগদাদ বা দামেস্কে যাননি।

সম্ভবত তিনি মিশরে সফর করেছিলেন এবং সেখানে আর-রবি ইবনে সুলাইমান ও অন্যান্য আলেমদের নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে ইলম অর্জন করেছিলেন; ইবনুল মুনজিরের বক্তব্যেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন: মিশরে বাক্কার ইবনে কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে … ইত্যাদি; এবং ইমাম শাফেয়ির একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "কোনো ব্যক্তি যদি তার মা, কন্যা বা বোনকে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে চুম্বন করে, তবে তার ওপর ওজু ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ির যে অভিমত রয়েছে, তা আমি তাঁর সেই সব মিশরীয় কিতাবসমূহে পাইনি যা আমরা আর-রবি'র নিকট পাঠ করেছি।" সমাপ্ত।

‌‌তাঁর কর্মপন্থা (মানহাজ): আয-যাহাবি বলেন: "শাইখ মুহিউদ্দিন আন-নববী বলেছেন: তাঁর কিতাবসমূহে তিনি এমন সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) করেছেন যার সমকক্ষ অন্য কেউ হতে পারেনি। হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানে তাঁর পারদর্শিতা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের এবং তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদি পছন্দ (اختيار) ছিল। তিনি তাঁর ইজতিহাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো মাজহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতেন না, বরং দলিলের বলিষ্ঠতার সাথে আবর্তিত হতেন।

আমি (আয-যাহাবি) বলছি: কেবল সে ব্যক্তিই একটি মাজহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে যার ইলমি পারদর্শিতা অপূর্ণাঙ্গ, যেমনটি আমাদের যুগের অধিকাংশ আলেমদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অথবা যে ব্যক্তি চরমপন্থী (متعصب); আর এই ইমাম হলেন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্বের (الحجة) ধারক-বাহকদের একজন, যিনি ইবনে জারির ও ইবনে সুরাইজ এবং তাঁদের সমসাময়িকের কাতারে শামিল। আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।"

এবং ইবনে কাজি শুহবা বলেন: "তিনি একজন মুজতাহিদ (مجتهد) ছিলেন, তিনি কারো তাকলিদ (تقليد) করতেন না।"

এবং আস-সুয়ূতী বলেন: "হাদিস এবং ফিকহি মতপার্থক্য সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের এবং তিনি ছিলেন একজন মুজতাহিদ (مجتهد), তিনি কারো তাকলিদ (تقليد) করতেন না।"
(খণ্ড: ১) আল-ইজমা লি ইবনিল মুনজির - ত আবী আব্দুল আলা (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال أبو بكر بن هداية الله الحسيني: "أحد الأئمة الأعلام لم يقلد أحدًا في آخر عمره".

وقال السبكي: "المحمدون الأربعة محمد بن نصر ومحمد بن جرير وابن خزيمة وابن المنذر من أصحابنا، وقد بلغوا درجة الاجتهاد المطلق ولم يخرجهم ذلك عن كونِهم من أصحاب الشافعى المخرجين على أصوله المتمذهبين بمذهبه لوفاق اجتهادهم اجتهاده بل قد ادعى من هو بعد من أصحابنا الخلص كالشيخ أبي علي وغيره أنهم وافق رأيهم رأى الإمام الأعظم فتبعوه ونسبوا إليه لا أنَّهم مقلدون فما ظنك بهؤلاء الأربعة، فإنهم وإن خرجوا عن رأى الإمام الأعظم في كثير من المسائل فلم يخرجوا في الأغلب؛ فاعرف ذلك واعلم أنَّهم في أحزاب الشافعية معدودون، وعلى أصوله في الأغلب مخرجون، وبطريقه متهذبون وبمذهبه متمذهبون".اهـ

قلت: وما قاله السبكي من كون ابن المنذر بلغ درجة الاجتهاد المطلق موافق لما قاله المترجمون الآخرون الذين ترجموا لابن المنذر، لكن إصرار السبكي على إدخاله في جملة الشافعية قد يُقبل منه على باب التنزل حيث إن ابن المنذر صرَّح أنه قد قرأ كتب الشافعي في مصر، فهو يعتبر منسوبًا للشافعي من ناحية الدراسة أما الاتباع فابن المنذر بلا ريب يسير على طريقة أصحاب الحديث والأثر من اتباع الدليل دون التقيد بمذهب واحد من العلماء؛ وهذا في واقع الأمر هو مذهب الشافعي بل مذهب كل أئمة السلف من أصحاب المذاهب المتبوعة مثل مالك وأحمد والثوري وغيرهم -رحم الله الجميع-.

‌‌شيوخه: له عدة شيوخ، منهم:

أبو حاتم الرازي، إسحاق بن إبراهيم، الربيع بن سليمان، محمد بن إسحاق بن خزيمة، البخاري، محمد بن الصباح، محمد بن توبة، محمد بن عبد الله بن الحكم، محمد بن إسماعيل الصائغ، وغيرهم كثير.

‌‌تلامذته: قال السبكي: "روى عنه أبو بكر ابن المقرئ، ومحمد بن يحيى بن عمار
আবু বকর ইবন হিদায়াতুল্লাহ আল-হুসাইনি বলেন: "তিনি অন্যতম প্রখ্যাত ইমাম (الأئمة الأعلام) ছিলেন এবং জীবনের শেষ ভাগে তিনি কারো অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতেন না।"

সুবকি বলেন: "চার মুহাম্মদ—মুহাম্মদ ইবন নাসর, মুহাম্মদ ইবন জারির, ইবন খুজাইমাহ এবং ইবনুল মুনজির আমাদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা পূর্ণাঙ্গ ইজতিহাদের (الاجتهاد المطلق) স্তরে পৌঁছেছিলেন। তবে এই বিষয়টি তাঁদেরকে শাফেয়ি অনুসারীদের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়নি, যারা ইমাম শাফেয়ির মূলনীতির (أصول) ওপর ভিত্তি করে মাসআলা উদ্ভাবন (المخرجون) করেন এবং তাঁর মাজহাব অনুসরণ করেন; কারণ তাঁদের ইজতিহাদ তাঁর ইজতিহাদের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল। বরং আমাদের পরবর্তী একনিষ্ঠ অনুসারীদের মধ্যে শাইখ আবু আলি ও অন্যান্যরা দাবি করেছেন যে, তাঁদের মত ইমামে আজমের মতের অনুকূলে ছিল, তাই তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর দিকে সম্বন্ধিত হয়েছেন, তাঁরা অন্ধ অনুসারী (مقلدون) ছিলেন না। অতএব এই চারজন সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হতে পারে? যদিও তাঁরা অনেক মাসআলায় ইমামে আজমের মতের বাইরে গিয়েছেন, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাননি। সুতরাং এটি জেনে রাখুন এবং মনে রাখুন যে, তাঁরা শাফেয়ি দলভুক্ত হিসেবেই গণ্য, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর মূলনীতির (أصول) আলোকেই মাসআলা উদ্ভাবনকারী (المخرجون), তাঁর পদ্ধতির অনুসারী এবং তাঁর মাজহাবের অনুসারী।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: ইবনুল মুনজির পূর্ণাঙ্গ ইজতিহাদের (الاجتهاد المطلق) স্তরে পৌঁছানোর বিষয়ে সুবকি যা বলেছেন, তা ইবনুল মুনজিরের অন্যান্য জীবনীকারদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তাঁকে শাফেয়িদের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সুবকির জেদ কিছুটা ছাড় দিয়ে গ্রহণ করা যেতে পারে, কারণ ইবনুল মুনজির নিজেই স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি মিশরে ইমাম শাফেয়ির কিতাবসমূহ পাঠ করেছেন। তাই অধ্যয়নের দিক থেকে তাঁকে শাফেয়ি মাজহাবের দিকে নিসবত করা যায়। কিন্তু অনুসরণের ক্ষেত্রে ইবনুল মুনজির নিঃসন্দেহে আহলুল হাদিস (أصحاب الحديث) ও আছারের (الأثر) পথ অনুসারী ছিলেন, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবের সাথে আবদ্ধ না থেকে দলিলের অনুসরণ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এটিই হলো ইমাম শাফেয়ির মাজহাব, বরং মালিক, আহমাদ, সাওরি ও অন্যান্য অনুসৃত মাজহাবের ইমামসহ সকল সালাফ ইমামদেরও এটিই মাজহাব ছিল—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।

‌‌তাঁর শিক্ষকগণ: তাঁর বেশ কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

আবু হাতিম আর-রাজি, ইসহাক ইবন ইবরাহিম, রাবি ইবন সুলাইমান, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন খুজাইমাহ, বুখারি, মুহাম্মদ ইবন আস-সাব্বাহ, মুহাম্মদ ইবন তাওবাহ, মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুল হাকাম, মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আস-সায়িগ এবং আরও অনেকে।

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ: সুবকি বলেন: "তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনুল মুকরি এবং মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আম্মার...