(খণ্ড: ১)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: -)
المجروحين لابن حبان ت حمدي القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المجروحين من المحدثين
المؤلف: ابن حبان
المحقق: حمدي عبد المجيد السلفي [ت 1433 هـ]
الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولي، 1420 هـ - 2000 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 رمضان 1440
ইবনে হিব্বান রচিত আল-মাজরুহীন, হামদী কর্তৃক সম্পাদিত বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আল-মাজরুহীন মিনাল মুহাদ্দিসিন
লেখক: ইবনে হিব্বান
গবেষক: হামদী আব্দুল মাজিদ আল-সালাফি [মৃ. ১৪৩৩ হিজরি]
প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি প্রকাশনা ও পরিবেশনা، রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ রমজান ১৪৪০
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ١)
كتاب المجروحين من المُحَدِّثين
মুহাদ্দিসগণের মধ্য হতে সমালোচিত (المجروحين) বর্ণনাকারীদের গ্রন্থ
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٣)
كتاب المجروحين من المُحَدِّثين
لابن حبان
المجلد الأول
تحقيق
حمدي عبد المجيد السلفي
دار الصميعي
للنشر والتوزيع
হাদিস বিশারদদের মধ্যে যারা অভিযুক্ত তাদের গ্রন্থ
ইবনে হিব্বান বিরচিত
প্রথম খণ্ড
সম্পাদনা
হামদি আব্দুল মাজিদ আল-সালাফি
দার আস-সুমায়ি
প্রকাশনা ও বিতরণী
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٤)
جمَيع الحُقوق مَحفوظة
الطبعة الأولي
1420 هـ - 2000 م
دار الصميعي للنشر والتوزيع
هاتف وفاكس: 4262945 - 4251459
الرياض- السويدي-شارع السويدي العام
ص. ب: 4967 - الرمز البريدي 11412
المملكة العربية السعودية
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
দারুস সুমাইয়ি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
ফোন ও ফ্যাক্স: ৪২৬২৯৪৫ - ৪২৫১৪৫৯
রিয়াদ - আস-সুওয়াইদি - আস-সুওয়াইদি জেনারেল স্ট্রিট
পি.ও. বক্স: ৪৯৬৭ - পোস্টাল কোড ১১৪১২
সৌদি আরব সাম্রাজ্য
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٣)
كلمة الناشرالحمد لله رب العالمين؛ والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين؛
أما بعد: فلا يخفى على طلبة العلم عمومًا؛ والمهتمين بعلم الحديث خصوصًا الأهمية العظمي للكتب التي ألفها الإمام الحافظ محمد بن حبان البستي؛ المتوفى سنة (354 هـ) -رحمه الله تعالى- فقد ألف كتاب التقاسيم والأنواع والمشهور بصحيح ابن حبان؛ وكتاب الثقات، وكتبا أخرى هي في غاية النفاسة عند طلبة العلم والمهتمين بالكتاب التراثي.
ومن أشهر كتب الإمام الجليل كتاب "المجروحين" وهو كتاب خاص بجمع تراجم من الرواة الضعفاء ومن دونهم.
وقد تولى تحقيقه وخدمته الشيخ الفاضل/ حمدي بن عبد المجيد السلفي حفظه الله تعالى.
ومما يجدر ذكره هنا أننا سبق وأن نشرنا -بحمد الله- كتاب "تذكرة الحفاظ"، للحافظ محمد بن طاهر القيسراني المتوفى سنة (507 هـ) -رحمه الله تعالى- بتحقيق الشيخ حمدي السلفي -أيضًا- وهذا الكتاب جمع وفهرسة لأطراف كتاب المجروحين لابن حبان؛ فالحمد لله على توفيقه.
ويسرنا نحن في "دار الصميعي للنشر والتوزيع" أن نخرج هذا السفر المبارك؛ سائلين الله عز وجل أن ينفع به، وأن يجد المكانة الطيبة عند أهل العلم وطلابه.
دار الصميعي للنشر والتوزيع
প্রকাশকের কথাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সত্তার প্রতি।
অতঃপর: ইলম অন্বেষী সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিকট এবং বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি আগ্রহীদের নিকট ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বুস্তি (মৃত্যু: ৩৫৪ হিজরি) -রহমাতুল্লাহি আলাইহি- কর্তৃক রচিত কিতাবসমূহের সুমহান গুরুত্ব অস্পষ্ট নয়। তিনি 'আল-তাকাসিম ওয়াল-আনওয়া' কিতাবটি রচনা করেছেন যা 'সহীহ ইবনে হিব্বান' নামে প্রসিদ্ধ; এছাড়া 'কিতাবুস সিকাত' এবং অন্যান্য এমন সব কিতাব তিনি রচনা করেছেন যা ইলম অন্বেষী এবং ঐতিহ্যবাহী কিতাবসমূহের প্রতি আগ্রহীদের নিকট অত্যন্ত মূল্যবান।
এই মহান ইমামের অন্যতম প্রসিদ্ধ কিতাব হলো 'আল-মাজরুহীন', যা মূলত দুর্বল (الضعفاء) এবং তদপেক্ষা নিম্নস্তরের রাবিদের জীবনী সংকলনের জন্য নিবেদিত একটি বিশেষ গ্রন্থ।
এর তাহকিক ও সেবার দায়িত্ব পালন করেছেন শ্রদ্ধেয় শায়খ হামদি বিন আব্দুল মাজিদ আল-সালাফি -হাফিজাহুল্লাহু তায়ালা-।
এখানে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, আমরা ইতিপূর্বে—আল্লাহর প্রশংসায়—হাফেজ মুহাম্মদ বিন তাহির আল-কায়সারানি (মৃত্যু: ৫০৭ হিজরি) -রহমাতুল্লাহি আলাইহি- রচিত 'তাজকিরাতুল হুফফাজ' কিতাবটি শায়খ হামদি আল-সালাফির তাহকিকেই প্রকাশ করেছি। এই কিতাবটি মূলত ইবনে হিব্বানের 'আল-মাজরুহীন' কিতাবের হাদিসসমূহের প্রারম্ভিক অংশসমূহের (أطراف) একটি সংকলন ও নির্ঘণ্ট; আল্লাহর তাওফিকের জন্য তাঁরই প্রশংসা।
আমরা 'দারুস সুমাইয়ি পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন'-এর পক্ষ থেকে এই বরকতময় বিশাল গ্রন্থটি প্রকাশ করতে পেরে আনন্দিত; মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং এটি যেন উলামায়ে কেরাম ও ইলম অন্বেষীদের নিকট উত্তম গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।
দারুস সুমাইয়ি পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة المحققبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد، أن محمدًا عبده ورسوله.
اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد.
أما بعد فإن معرفة السنة النبوية من الواجبات، لأنها المبيِّنة لكتاب الله تعالى الذي هو المصدر الرئيسي للتشريع الإسلامي، ولما كانت السنة المبنية على الأحاديث دَخَلَ فيها كثير من الأحاديث الضعيفة والموضوعة التي شوهت جمال الإسلام، وجب النظر في حال تلك الأحاديث ليعرف صحيحها من سقيمها فيحتج بالصحيح ويرد السقيم، وذلك لا يعرف إلا بالنّظر في إسناد الحديث ومتنه، لأن الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال الناس ما شاؤوا، والنظر في المتن له مقام آخر، والنظر في الإسناد اقتضى معرفة حال رواة الحديث جرحًا وتعديلًا، فلذلك ألف نقاد الحديث الكتب في الجرح والتعديل، وهي كثيرة جدًّا وغالبها الآن مطبوع.
وممن أدلى دلوه في هذا المضمار أبو حاتم بن حبان البستي حيث
সম্পাদকের ভূমিকাপরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শক হওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
অতঃপর, সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি মহান আল্লাহর কিতাবকে বিশ্লেষণ করে যা ইসলামি শরিয়তের প্রধান উৎস। যেহেতু হাদিসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর মধ্যে অনেক দুর্বল (ضعيفة) ও জাল (موضوعة) হাদিস প্রবেশ করেছে যা ইসলামের সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়, তাই সেই হাদিসগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে যাতে সেগুলোর মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) এবং ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) হাদিসসমূহকে পৃথক করা যায়। ফলে সহিহ (صحيح) হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে এবং ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) হাদিসকে বর্জন করা যাবে। আর এটি হাদিসের সনদ (إسناد) এবং মতন (متن) পর্যালোচনা করা ছাড়া সম্ভব নয়। কেননা সনদ (إسناد) হচ্ছে দ্বীনের অংশ; সনদ (إسناد) না থাকলে মানুষ যা খুশি তা-ই বলত। মতন (متن) পর্যালোচনার ভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে, আর সনদ (إسناد) পর্যালোচনা করার জন্য হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচন (جرح) ও সত্যায়ন (تعديل) সংক্রান্ত অবস্থা জানা আবশ্যক। এই উদ্দেশ্যেই হাদিস বিশারদগণ জারহ ও তাদিল (جرح وتعديل) বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা সংখ্যায় প্রচুর এবং এর অধিকাংশই বর্তমানে মুদ্রিত।
যারা এই ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে আবু হাতেম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি অন্যতম, যিনি...
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٦)
ألف كتابين مهمين أحدهما (الثقات) وهو مطبوع، والثاني كتابنا هذا (كتاب المجروحين من المحدثين) ولأهمية هذا الكتاب ترى كتب الجرح الحي ألفت بعد المؤلف مشحونة بالمنقولات عنه.
والكتاب طبع مرتين مرة في الهند ومرة في حلب والطبعتان مملوءتان بالأخطاء الفاحشة وبإدخال تراجم في صلب الكتاب وهي ليست منها كما هو في طبعة حلب بتحقيق محمود إبراهيم وفيهما من السقط الكثير، بل فيهما تراجم ساقطة بكاملها، وأما التحريف والتصحيف فحدث ولا حرج، لذلك رأيت أن الكتاب يحتاج إلى تحقيق جديد فشمرت عن ساعد الجد بعد حصولي على مصورة للنسخة القيمة من الكتاب والتي هي في مكتبة جامع آيا صوفيا تحت رقم (496) في مدينة إستانبول.
أما عملي في الكتاب فهو تحقيق النص بشكل دقيق، لأنه المهم، ثم ذكر بعض المصادر التي ترجمت للراوي عند ترجمته (1)، وذكر موضع الأحاديث التي أوردها المؤلف من (تذكرة الحفاظ) حيث لا داعي لتطويل هوامش الكتاب بتخريج تلك الأحاديث ما دام تلك الأحاديث مخرجة في كتاب مطبوع.
أما المؤلف فهو الحافظ العلامة محمد بن حبان بن أحمد بن حبان أبو حاتم التميمي البستي السجستاني، ولد بعد المئتين والسبعين وتوفي سنة (354) هجرية، وقد أطال كثير من العلماء في ترجمته مثل الحافظ الذهبي في سير أعلام النبلاء (16/ 92 - 104) وغيره فلا نرى التطويل في ترجمته وذكر مشايخه وتلاميذه ومكانته العلمية، ومؤلفاته فلتراجع من مصادرها.
وأما كونه من المتشددين في الجرح فقد فصل ذلك العلماء وخاصة ابن عبد الهادي في الصارم المنكي وغيره.
وطريقته في كتابه هذا الاعتماد على من سبقه من النقاد مثل، ابن معين وأحمد والفلاس وأبن مهدي والقطان، ومن لم يجد فيه جرحًا يسير رواياته
--------------------------------------------
তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব রচনা করেছেন, যার একটি হলো 'আল-থিকাত' এবং এটি মুদ্রিত; আর দ্বিতীয়টি হলো আমাদের এই কিতাবটি অর্থাৎ 'কিতাবুল মাজরুহিন মিনাল মুহাদ্দিসিন'। এই কিতাবটির গুরুত্বের কারণে আপনি দেখতে পাবেন যে, লেখকের পরবর্তী সময়ে 'জারহ-তাদিল' বা সমালোচনা (الجرح) বিষয়ক যত কিতাব রচিত হয়েছে, সেগুলো তাঁর থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিতে ভরপুর।
কিতাবটি দুবার মুদ্রিত হয়েছে—একবার ভারতে এবং একবার হালবে। উভয় সংস্করণই মারাত্মক ভুলে ভরপুর এবং মূল পাঠের মধ্যে এমন সব জীবনী (تراجم) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা কিতাবটির অংশ নয়, যেমনটি মাহমুদ ইবরাহিমের সম্পাদনায় (تحقيق) প্রকাশিত হালব সংস্করণে দেখা যায়। উভয় সংস্করণেই অনেক বিচ্যুতি (السقط) বা পাঠ বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে, এমনকি কিছু জীবনী (تراجم) পুরোপুরিই বাদ পড়ে গেছে। আর শব্দ পরিবর্তন (التحريف) ও নুকতার বিকৃতি (التصحيف) তো অগণিত। এ কারণে আমি মনে করেছি যে কিতাবটির একটি নতুন সম্পাদনার (تحقيق) প্রয়োজন। তাই ইস্তাম্বুল শহরের আয়া সোফিয়া জামে মসজিদ লাইব্রেরিতে ৪৯৬ নম্বর সিরিয়ালে সংরক্ষিত এই কিতাবটির একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি পাওয়ার পর আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কোমর বেঁধে কাজে নেমে পড়ি।
এই কিতাবে আমার কাজ হলো মূল পাঠ্যকে নির্ভুলভাবে সম্পাদনা (تحقيق) করা, কারণ এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর কোনো বর্ণনাকারীর (راوي) জীবনী আলোচনার সময় তাঁর সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারী কিছু উৎসের নাম উল্লেখ করা (১), এবং লেখক যেসব হাদিস উল্লেখ করেছেন সেগুলো 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' কিতাবের কোথায় আছে তা নির্দেশ করা। কারণ কিতাবের পাদটীকা দীর্ঘ করে ওই হাদিসগুলোর উৎস বিশ্লেষণ বা তাখরিজ (تخريج) করার কোনো প্রয়োজন নেই, যেহেতু সেই হাদিসগুলো একটি মুদ্রিত কিতাবে ইতিমধ্যেই তাখরিজ করা হয়েছে।
আর লেখকের পরিচয় হলো, তিনি হলেন হাফিজ আল্লামা মুহাম্মদ বিন হিব্বান বিন আহমদ বিন হিব্বান আবু হাতিম আত-তামিমি আল-বুস্তি আস-সিজিস্তানি। তিনি ২৭০ হিজরির পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। হাফিজ আয-যাহাবি তাঁর 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' (১৬/৯২-১০৪) গ্রন্থে এবং অন্যান্য অনেক আলেম তাঁর জীবনী বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তাই আমরা তাঁর জীবনী, তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রবৃন্দ, তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর রচনাবলি উল্লেখ করে আলোচনা দীর্ঘ করতে চাই না; এগুলো মূল উৎসগুলো থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
আর সমালোচনা (الجرح) করার ক্ষেত্রে তিনি যে কঠোর (المتشددين) ছিলেন, সে বিষয়ে আলেমগণ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বিশেষ করে ইবনে আব্দুল হাদি তাঁর 'আস-সারিমুল মুনকি' ও অন্যান্য গ্রন্থে।
এই কিতাবে তাঁর পদ্ধতি হলো ইবনে মাঈন, আহমদ, আল-ফাল্লাস, ইবনে মাহদি এবং আল-কাত্তানের মতো তাঁর পূর্ববর্তী সমালোচকদের (النقاد) ওপর নির্ভর করা। আর যার মধ্যে তিনি কোনো সমালোচনা (جرح) খুঁজে পাননি, তার বর্ণনাগুলোকে (روايات) তিনি গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٧)
ومن خلال مروياته يجرحه، أو يعتمد على مشاهدته فيمن عاصره.
وذكر في مقدمته القيمة لهذا الكتاب طريقه في الجرح فلا داعي أن نعيد كلامه، وقد أضربت عن تعليقات الدارقطني لأنها طبعت على حدة إلا نادرًا جدًّا.
وغايتنا أن نضع في متناول طلبة العلم نسخة من الكتاب محققة ومتقنة قدر استطاعتنا لأنه لا يمكن لأحد أن يدعي أنه وصل إلى الكمال في عمله والله الموفق ونعم المولى ونعم الوكيل.
ثم إني لم أشر إلى الأخطاء الإملائية أو التصحيف أو التحريف في الأصل وإنما صححت ما هو خطأ حتى لا أثقل الكتاب بالهوامش، وجعلت زيادات النسخ بين معكوفين [] هكذا.
حمدي بن عبد المجيد بن إسماعيل السلفي
مصيف سرسنك
16/ 9/ 1997
তিনি বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিসসমূহের মাধ্যমে তাকে অযোগ্য সাব্যস্ত করেন (يجرحه), অথবা সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে তিনি নিজ পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করেন।
তিনি এই গ্রন্থের মূল্যবান ভূমিকায় জরাহ বা সমালোচনার (الجرح) ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, তাই তার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। আমি আদ-দারাকুতনির টীকাগুলো বর্জন করেছি কারণ সেগুলো অতি সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পৃথকভাবে মুদ্রিত হয়েছে।
আমাদের লক্ষ্য হলো জ্ঞান অন্বেষণকারীদের নিকট সাধ্যমতো এই গ্রন্থের একটি সম্পাদিত (محققة) ও সুসংহত সংস্করণ উপস্থাপন করা; কারণ কোনো মানুষের পক্ষেই তার কাজে পূর্ণতা অর্জনের দাবি করা সম্ভব নয়। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক ও উত্তম কর্মবিধায়ক।
অতঃপর, আমি মূল পাণ্ডুলিপির বানান ভুল কিংবা লিপিক্রমের ভুল (التصحيف) অথবা শব্দ বিকৃতির (التحريف) বিষয়গুলো আলাদাভাবে নির্দেশ করিনি, বরং যা ভুল ছিল তা সরাসরি সংশোধন করে দিয়েছি যাতে পাদটীকার ভারে গ্রন্থটি ভারাক্রান্ত না হয়। আর বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত অংশসমূহকে এভাবে তৃতীয় বন্ধনীর [] মধ্যে স্থাপন করেছি।
হামদি বিন আব্দুল মাজিদ বিন ইসমাইল আস-সালাফি
সারসাঙ্ক রিসোর্ট
১৬/ ৯/ ১৯৯৭
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر بفضلك
الحمد لله الواحد الأحد، المحمود الصمد الذي لا يفنيه تكرارُ دَور الأحوال، ولا أنواعُ التغيير والانتقال، وهو خالق الخلائق ومنشئهم، ورازق العباد ومغنيهم، قد كون الأشياء من غير امتثال بأصل، وذرأ البشر من غير ارتسام بنسل، ثم شرح منهم صدور أوليائه، حتى انقادت أنفسهم لعبادته، وطبع على قلوب أعدائه حتى ازوارت عن الاكتساب لطاعته (1)، ثم اصطفى منهم طائفة أصفياء، وجعلهم بررةً أتقياء، فأفرغ عليهم أنواع نعمه، وهداهم لصفوة طاعته، فهم القائمون بإظهار دينه، [و] المتمسكون بسنن نبيه صلى الله عليه وسلم، فله الحمد على ما قَدَّر وقضى، ودَبَّرَ وأمضى، حمدًا لا يبلغ الذاكرون له أحدًا، ولا يحصي المحصون له عددًا، وأشهد أن لا إله إلا الله الذي هو شاهد كل نجوى، ومنتهى كل شكوى، {لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَال ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرُ} وأشهد أن محمدًا عبده المصطفى ورسوله المرتضى، بعثه إليه داعيًا، وإلى جنابه هاديًا، فصلى الله [وسلم] عليه وعلى آله الطيبين الأخيار.
أما بعد فإن أحسنَ ما يَدَّخر المَرْءُ من الخير في العقبى، وأفضل ما يكتسب به الذخر في الدنيا حفظ ما يعرف به الصحيح من الآثار، ويميز
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে রব, আপনার অনুগ্রহে সহজ করে দিন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এক ও অদ্বিতীয়; প্রশংসিত ও অমুখাপেক্ষী, অবস্থার আবর্তন ও পুনরাবৃত্তি যাঁকে ক্ষয় করে না এবং পরিবর্তন ও রূপান্তরের বৈচিত্র্য যাঁকে স্পর্শ করে না। তিনি সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা ও উদ্ভাবক, বান্দাদের রিযিকদাতা ও অভাবমুক্তকারী। তিনি কোনো পূর্ব-নমুনা ব্যতিরেকেই সবকিছুর অস্তিত্ব দান করেছেন এবং কোনো বংশীয় ধারার পূর্ব-নকশা ছাড়াই মানবজাতির উদ্ভব ঘটিয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁর প্রিয়ভাজনদের অন্তরসমূহ উন্মোচিত করেছেন, ফলে তাদের সত্তা তাঁর ইবাদতের অনুগত হয়েছে। আর তিনি তাঁর শত্রুদের হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন, যার ফলে তারা তাঁর আনুগত্যের অর্জন থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে (১)। এরপর তিনি তাঁদের মধ্য থেকে একদল বিশুদ্ধ (أصفياء) ব্যক্তিকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁদেরকে পুণ্যবান ও মুত্তাকি বানিয়েছেন। তিনি তাঁদের ওপর তাঁর নানাবিধ নেয়ামত ঢেলে দিয়েছেন এবং তাঁদেরকে তাঁর আনুগত্যের সর্বোত্তম পথের হদিস দিয়েছেন। তাঁরাই তাঁর দ্বীনকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং তিনি যা কিছু নির্ধারণ করেছেন ও ফয়সালা দিয়েছেন এবং যা কিছু পরিচালনা ও কার্যকর করেছেন, তার জন্য সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই প্রাপ্য—এমন প্রশংসা যা বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সীমারেখায় পৌঁছায় না এবং গণনাকারীরা যার সংখ্যা নিরূপণ করতে অক্ষম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি সকল গোপন পরামর্শের প্রত্যক্ষদর্শী এবং সকল অভিযোগের শেষ আশ্রয়স্থল। {আসমান ও জমিনে অণু পরিমাণও তাঁর অগোচরে নয় এবং এর চেয়ে ছোট কিংবা বড়ও নয়}। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর মনোনীত বান্দা ও পছন্দনীয় রাসূল। আল্লাহ তাঁকে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং তাঁর সান্নিধ্যের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিবারবর্গের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর, পরকালের জন্য মানুষের সঞ্চিত কল্যাণের মধ্যে সর্বোত্তম এবং দুনিয়াতে অর্জিত শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো সেই জ্ঞান সংরক্ষণ করা, যার মাধ্যমে বিশুদ্ধ (صحيح) আসার বা বর্ণনাগুলোকে (آثار) চেনা যায় এবং পার্থক্য করা যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
بينة وبين الموضوع من الأخبار، إذ لا يَتَهَيَّأُ معرفة السقيم من الصحيح، ولا استخراج الدليل من الصريح، إلا بمعرفة ضعفاء المحدثين والثقات، وكيفية ما كانوا عليه في الحالات، فأما الأئمة المرضيون، والثقات المحدثون، فقد ذكرناهم بأسمائهم، وما نعرف، من أنبائهم، وإني ذاكر ضعفاء المحدثين، وأضداد العدول من الماضيين، مِمَّن أطلق أئمتنا عليهم القدح، وصح عندنا فيهم الجرح، وأذكر السبب الذي من أجله جُرِحَ، والعلة التي بها قدِح، ليرفض سلوك الاعوجاج، بالقول بأخبارهم عند الاحتجاج، وأقصد في ذلك ترك الإمعان والتطويل، وألزم الإشارة إلى نفس التحصيل، وبالله أستعين على السداد في المقال، وبه نتعوذ من الحيرة والضلال، إنه منتهى رجاء المؤمنين، وولي جزاء المحسنين.
ذكر الحث على حفظ السنن ونشرهاحدثنا محمد بن محمود بن عدي النسائي، قال: حدثنا حميد بن زنجويه، قال: حدثنا يعلى بن عبيد، قال: حدثنا محمد بن إسحاق، عن الزهري، عن محمد بن جبير بن مطعم، عن أبيه، قال: قام رسول الله صلى الله عليه وسلم بالخيف من منى، فقال: "نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالتي فَوَعَاهَا، ثمَّ أَدَّاهَا إِلَى مَنْ لَم يسْمَعْهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَا فِقْهَ لَه، وَرُبَّ حَامِلِ فِقهٍ إِلَى مَن هُوَ أَفقَهُ مِنْهُ، ثَلَاث لَا يُغَلُّ عَلَيْهنَّ قَلْبُ الْمؤمِنِ: إِخْلَاصُ الْعَمَلِ، وَالنَّصيحَةُ لِأُولِي الأَمرِ، وَلزوُمُ الجَمَاعَةِ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُم تَكونُ مِن وَرَائِهِمْ" (1).
--------------------------------------------
...বানোয়াট (الموضوع) সংবাদসমূহের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণকারী; কেননা রুগ্ন (السقيم) বর্ণনা থেকে সহিহ (الصحيح) বর্ণনাকে পৃথকভাবে জানা সম্ভব নয়, এবং সুস্পষ্ট বর্ণনা থেকে দলিল উদ্ঘাটন করাও সম্ভব নয়, যতক্ষণ না হাদিস বিশারদদের (المحدثين) মধ্যে যারা দুর্বল (ضعفاء) এবং নির্ভরযোগ্য (الثقات) তাদের সম্পর্কে এবং বিভিন্ন অবস্থায় তারা কেমন ছিলেন সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হয়। আর সন্তোষজনক ইমামগণ (الأئمة المرضيون) এবং নির্ভরযোগ্য (الثقات) হাদিস বিশারদগণ (المحدثين), আমরা ইতিপূর্বে তাদের নাম এবং তাদের সম্পর্কে আমাদের জানা তথ্যাদি উল্লেখ করেছি। এখন আমি পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে দুর্বল (ضعفاء) হাদিস বিশারদদের এবং ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীদের (العدول) বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্নদের কথা উল্লেখ করব, যাদের ব্যাপারে আমাদের ইমামগণ দোষারোপ (القدح) করেছেন এবং আমাদের নিকট তাদের ক্ষেত্রে জরাহ (الجرح) বা ত্রুটি সাব্যস্ত হওয়া সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। আর আমি সেই কারণটিও উল্লেখ করব যার জন্য তাকে জরাহ (الجرح) করা হয়েছে এবং সেই ত্রুটি (العلة) বর্ণনা করব যার দ্বারা সমালোচনা (القدح) করা হয়েছে; যাতে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (الاحتجاج) সময় তাদের সংবাদের ভিত্তিতে কথা বলে বক্র পথ অনুসরণ করা বর্জন করা যায়। আমি এক্ষেত্রে অনর্থক দীর্ঘায়ন না করার ইচ্ছা পোষণ করছি এবং মূল সারসংক্ষেপের দিকে ইশারা করাকেই আবশ্যক মনে করছি। আর আমি কথার সঠিকত্বের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনিই মুমিনদের আশার শেষস্থল এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কারের মালিক।
সুন্নাহ সংরক্ষণ ও তা প্রচারের উৎসাহ প্রদান বিষয়ক আলোচনামুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আদি আন-নাসায়ি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হুমাইদ ইবনে জানজুয়াহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়ালা ইবনে উবাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুত’ইম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিনায় অবস্থিত খায়ফ মসজিদে দাঁড়িয়ে বললেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও হাস্যোজ্জ্বল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে এবং তা মুখস্থ রেখেছে, অতঃপর তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিয়েছে যে তা শোনেনি। কেননা অনেক জ্ঞানের বহনকারী নিজে সমঝদার হয় না, আবার অনেক জ্ঞানের বহনকারী নিজের চেয়েও অধিক সমঝদারের নিকট জ্ঞান পৌঁছে দেয়। তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যাতে মুমিনের অন্তরে কোনো খেয়ানত বাসা বাঁধতে পারে না: ইখলাসের সাথে আমল করা, শাসকগোষ্ঠীকে নসিহত করা এবং মুসলিম জামাতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ তাদের দোয়া তাদের পেছন থেকে তাদের হেফাযত করে।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
قال أبو حاتم: الواجب على كل من رُكِّبَ فيه آلة العلم أن يراعي أوقاته على حفظ السنن، رجاء اللحوق بمن دعا لهم النبي صلى الله عليه وسلم، إِذِ اللَّهُ جل وعلا أمر عباده باتباع سنته، وعند التنازع الرجوعَ إلى ملته، حيث قال: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} ثم نفى الإيمان عمن لم يُحَكِّمْهُ فيما شجر بينهم فقال: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (65)} ولم يقل حتى يُحكِّموا فلانًا وفلَانًا فيما شجر بينهم، ولا قال حرجًا مما قضى فلان وفلان، فالحَكَمُ بين الله وبين خلقه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقط، فلا يجب لمن أشعر الإيمان قلبه أن يقصر في حفظ السنن بما قدر عليه، حتى يكون رجوعه عد التنازع إلى قول من {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} صلى الله عليه وسلم فجعلنا الله منهم بمنه.
ذكر التغليظ في الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم-
حدثنا عبد الله بن محمد بن سلم ببيت المقدس، قال: حدثنا عبد الرحمن بن إبراهيم، قال: حدثنا الوليد بن مسلم، قال: حدثنا الأوزاعي، قال: حدثني حسان بن عطية، عن أبي كبشة السلولي، عن عبد الله بن عمرو، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوا عَنْ بني إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ، وَمَن كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتبَوَّأ مَقعَدَهُ مِنَ النَّارِ" (1).
قال أبو حاتم رضي الله عنه: في أمر النبي صلى الله عليه وسلم أمته بالتبليغ عنه مَنْ بعدهم مع ذكره إيجاب النار للكاذب عليه دليلٌ على أنه إنما أمر بالتبليغ عنه ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم أو ما كان من سنته فعلًا أو سكتًا [سكوتًا] عند المشاهدة،
--------------------------------------------
আবু হাতিম বলেন: যার মধ্যেই জ্ঞান অর্জনের সরঞ্জাম (উপকরণ) দান করা হয়েছে, তার জন্য সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণে নিজের সময়কে ব্যয় করা আবশ্যক; এই প্রত্যাশায় যে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে যাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছেন। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোনো বিরোধের সময় তাঁর শরীয়তের দিকে ফিরে যাওয়ার আদেশ দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।} অতঃপর যারা তাঁর (রাসূলের) ফয়সালা মেনে নেয় না, তাদের থেকে তিনি ঈমান নাকচ করে দিয়েছেন এবং বলেছেন: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়; অতঃপর আপনার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা অনুভব না করে এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} তিনি এ কথা বলেননি যে, তাদের বিবাদের বিষয়ে অমুক বা অমুককে বিচারক না মানা পর্যন্ত, কিংবা অমুক বা অমুকের দেওয়া সিদ্ধান্তে কোনো দ্বিধা না থাকা পর্যন্ত। সুতরাং আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র ফয়সালাকারী হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাই যে ব্যক্তির অন্তরে ঈমান স্থান পেয়েছে, তার জন্য উচিত নয় সুন্নাহ সংরক্ষণে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কোনো ত্রুটি করা; যাতে করে বিরোধের সময় তার প্রত্যাবর্তন হয় কেবল তাঁরই বাণীর দিকে, যাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: {তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} আল্লাহ যেন তাঁর অনুগ্রহে আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারির বর্ণনা-
আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সালাম বায়তুল মুকাদ্দাসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আল-আওজায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে হাসসান বিন আতিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন আবু কাবশাহ আস-সালুলি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়, বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো এতে কোনো দোষ নেই, আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
আবু হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর উম্মতকে তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বাণী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি তাঁর ওপর মিথ্যারোপকারী (الكاذب) ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম অবধারিত হওয়ার কথা উল্লেখ করার মধ্যে এ দলিল রয়েছে যে, তিনি কেবল তাঁর সেই বাণীগুলোই প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বলেছেন অথবা যা তাঁর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল কর্মগতভাবে (فعلاً) কিংবা প্রত্যক্ষ দর্শনে মৌন সম্মতির (سكوتًا) মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
لا أنه يدخل في قوله صلى الله عليه وسلم: "نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً" المحدثون بأسرهم، بل لا يدخل في ظاهر هذا الخطاب، إلا من أدّى صحيح حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم دون سقيمه، وإني خائف على من روى ما سمع من الصحيح والسقيم أن يدخل في جملة الكذبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم إذأ كان عالمًا بما يروي، وتعيين [تمييز] العدول من المحدثين والضعفاء والمتروكين بحكم المبين عن الله تبارك وتعالى.
ذكر الخبر الدال على صحة ما ذهبنا إليهحدثنا عمران بن موسى بن مجاشع، قال: حدثنا عثمان بن أبي شيبة، قال: حدثنا وكيع، قال: حدثنا شعبة، عن الحكم، عن عبد الرحمن بن أبي ليلى، عن سمرة بن جندب، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مَن حَدَّثَ عَنِّي حدِيثًا وَهُوَ يُرَى أنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحدُ الكاذبَيْنِ" (1).
ذكر خبر ثان يصرح بصحة ما ذكرناهحدثنا عبد الله بن محمد المديني، قال: حدثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، قال: حدثنا النضر بن شميل، قال. حدثنا شعبه، عن حبيب بن أبي ثابت، قال: سمعت ميمون بن أبي شبيب، يحدث عن المغيرة بن شعبة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "مَنْ رَوَى عَنِّي حَدِيثًا وَهُوَ يُرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبَيْنِ" (2).
قال أبو حاتم: في هذا الخبر دليل على صحة ما ذكرنا أن المحدث إذا روى ما لم يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم مما تُقُوِّلَ عليه، وهو يعلم ذلك يكون كأحد الكاذبين، على أن ظاهر الخبر ما هو أشد، وذاك أنه قال صلى الله عليه وسلم: "مَنْ
--------------------------------------------
এমন নয় যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন" এর অন্তর্ভুক্ত সকল হাদিস বিশারদগণই পড়বেন। বরং এই ভাষ্যের প্রকাশ্য অর্থে কেবল তারাই অন্তর্ভুক্ত হবেন, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণনা করেছেন, ত্রুটিযুক্ত (سقيم) হাদিস নয়। আর আমি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে শঙ্কিত, যে সহিহ (صحيح) এবং ত্রুটিযুক্ত (سقيم) যা শুনেছে সবই বর্ণনা করে; সে যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে না যায়, যদি সে যা বর্ণনা করছে সে সম্পর্কে অবগত থাকে। আর হাদিস বিশারদদের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণ (عدول), দুর্বল (ضعفاء) এবং পরিত্যক্ত (متروكين) বর্ণনাকারীদের চিহ্নিতকরণ [পার্থক্যকরণ] হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বিধানদাতার ফয়সালা অনুযায়ী।
আমরা যে মত পোষণ করেছি তার সঠিকতার প্রমাণবাহী সংবাদ (خبر) উল্লেখআমাদের নিকট ইমরান ইবনে মুসা ইবনে মুজাশে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উসমান ইবনে আবু শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন হাকাম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সেও দুই মিথ্যাবাদীর একজন" (১)।
আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সত্যতা স্পষ্টভাবে প্রকাশকারী দ্বিতীয় একটি সংবাদ (خبر) উল্লেখআমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাদিনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আন-নাদর ইবনে শুমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি বলেন: আমি মাইমুন ইবনে আবি শাবিবকে মুগিরা ইবনে শু’বাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সেও দুই মিথ্যাবাদীর একজন" (২)।
আবু হাতিম বলেন: এই সংবাদ (خبر)-এর মাঝে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সঠিকতার প্রমাণ রয়েছে যে, কোনো হাদিস বিশারদ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে উদ্ভাবিত এমন কিছু বর্ণনা করেন যা সহিহ (صحيح) নয়, এবং তিনি সে বিষয়ে অবগত থাকেন, তবে তিনি মিথ্যাবাদীদের একজন হিসেবে গণ্য হবেন। বরং এই সংবাদ (خبر)-এর বাহ্যিক অর্থ আরও কঠোর, আর তা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
رَوَى عَنِّي حَدِيثًا وَهُوَ يُرَى أَنَّه كَذِبٌ" ولم يقل إنه يتيقن أنه كذب.
فكل شاك فيما يروي أنه صحيح أو غير صحيح داخل في ظاهر خطاب هذا الخبر، ولو لم يتعلم التاريخ وأسماء الثقات والضعفاء ومن يجوز الاحتجاج بأخبارهم ممن لا يجوز إلا لهذا الخبر الواحد، لكان الواجب على كل من ينتحل السنن أن لا يقصر في حفظ التاريخ، حتى لا يدخل في جملة الكذبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وأقل ما يثبت به خبر الخاصة حتى تقوم به الحجة على أهل العلم هو خبر الواحد الثقة في دينه المعروف بالصدق في حديثه، العاقل بما يحدث به، العالم بما يحيل معاني الحديث من اللفظ المنسري على التدليس في سماع ما يروى عن الواحد مثله في الأحوال التي وصفتها حتى ينتهي ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم سماعًا متصلًا.
ذكر خبر ثالث يدل على صحة ما ذهبنا إليهحدثنا أحمد بن يحيى بن زهير بتستر، قال: حدثنا محمد بن الحسن بن إشكاب، قال: حدثنا علي بن حفص المدائني، قال: حدثنا شعبة، عن حبيب بن عبد الرحمن، عن حفص بن عاصم، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كَفَى بِالْمَرْءِ إِثمًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكلِّ مَا سَمِعَ" (1).
قال أبو حاتم: في هذا الخبر زجر للمرء أن يحدث بكل ما يسمع حتى يعلم على اليقين صحته، ثم يحدث به دون ما لا يصح على حسب ما ذكرناه قبل.
--------------------------------------------
"যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করল যা মিথ্যা (كذب) বলে ধারণা করা হয়..." এবং তিনি এ কথা বলেননি যে, সে নিশ্চিতভাবে জানে যে এটি মিথ্যা (كذب)।
সুতরাং যে ব্যক্তি যা বর্ণনা করছে তা সহিহ (صحيح) নাকি সহিহ নয় (غير صحيح) সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণকারী এই বাণীর বাহ্যিক সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি কেউ কেবল এই একটি হাদিসের কারণেই ইতিহাস এবং নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের নাম এবং কাদের বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ (الاحتجاج) করা বৈধ আর কাদেরটা বৈধ নয় তা না শিখে থাকে, তবে সুন্নাহর অনুসারী প্রত্যেকের জন্য কর্তব্য হলো ইতিহাস সংরক্ষণে অবহেলা না করা, যাতে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যায়।
আলেমদের নিকট দলিল (الحجة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য বিশেষ বর্ণনা (خبر الخاصة) সাব্যস্ত হওয়ার সর্বনিম্ন স্তর হলো এমন একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) একক ব্যক্তির বর্ণনা (خبر الواحد), যিনি নিজ দ্বীনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত, হাদিস বর্ণনায় সত্যবাদিতার জন্য পরিচিত, তিনি যা বর্ণনা করেন সে সম্পর্কে সচেতন, শব্দের মারপ্যাঁচে হাদিসের অর্থ পরিবর্তিত হওয়া সম্পর্কে অবগত, যা তাঁর মতো অন্য একজনের নিকট থেকে শ্রবণের ক্ষেত্রে আড়াল করা বা কারচুপি (التدليس) থেকে মুক্ত, আমার বর্ণিত শর্তাবলী অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণের (سماعًا متصلًا) মাধ্যমে পৌঁছেছে।
তৃতীয় একটি বর্ণনা উল্লেখ যা আমাদের গ্রহণকৃত মতের বিশুদ্ধতার (صحة) প্রমাণ দেয়আমাদের নিকট তুস্তারে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জুহাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে ইশকাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে হাফস মাদায়িনী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন হাবিব ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি হাফস ইবনে আসিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একজন ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।" (১)
আবু হাতিম বলেন: এই বাণীতে একজন ব্যক্তির যা শুনে তাই বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ রয়েছে, যতক্ষণ না সে তার বিশুদ্ধতা (صحته) সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানতে পারে; এরপর সে কেবল তাই বর্ণনা করবে যা সহিহ, আর যা সঠিক (لا يصح) নয় তা বর্জন করবে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ذكر الخبر الدال على استحباب معرفة الضعفاءحدثنا أحمد بن مكرم بن خالد البِرْتي ببغداد، قال: حدثنا علي بن المديني، قال: حدثنا الوليد بن مسلم، قال: حدثنا ثور بن يزيد، قال: حدثني خالد بن معدان، قال: حدثني عبد الرحمن بن عمرو السلمي، وحجم بن حجم الكلاعي، قالا: أتينا العرباض بن سارية -وهو ممن نزل فيه {وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ} - فسلمنا وقلنا: أَتيناك زائرين ومقتبسين، فقال العرباض: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الصبح ذات يوم، ثم أقبل علينا فوعظنا موعظة بليغة، ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، فقال قائل: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم كان هذه موعظةُ مودع، فماذا تعهد إلينا؟ قال: "أُوصِيكُم بتقوىَ اللَّهِ عز وجل وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وإنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا مُجَدَّعًا، فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنكُمْ فسيرى اختلافًا كثيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاء الرَّاشِدينَ المَهْدِيينَ، فتمَسَّكُوا بِهَا، وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وإيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأَمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَة، وكل بِدْعَةٍ ضَلَالةٌ" (1).
قال أبو حاتم: في قوله صلى الله عليه وسلم: "فَإنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنكُم فَسَيَرَى اختِلَافًا، فَعَلَيكُم بِسُنَّتِي" دليل صحيح على أنه صلى الله عليه وسلم أمر أمته بمعرفة الضعفاء منهم من الثقات، لأنه لا يتهيأ لزوم السنة مع ما خالطها من الكذب والأباطيل إلا بمعرفة الضعفاء من الثقات.
--------------------------------------------
দুর্বল (الضعفاء) রাবিদের পরিচয় জানার গুরুত্ব নির্দেশকারী বর্ণনা উল্লেখবাগদাদে আহমাদ বিন মুকরাম বিন খালিদ আল-বিরতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আল-মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাওরাত বিন ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ বিন মা'দান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান বিন আমর আস-সুলামি এবং হুজম বিন হুজম আল-কালা'ঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমরা ইরবাদ বিন সারিয়া (রা.)-এর কাছে আসলাম—যাঁর শানে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল: {আর তাদের ওপরও কোনো অভিযোগ নেই, যারা আপনার কাছে বাহনের জন্য আসলে আপনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের জন্য কোনো বাহন আমি পাচ্ছি না’}—অতঃপর আমরা তাঁকে সালাম দিলাম এবং বললাম: আমরা আপনার নিকট জিয়ারতকারী এবং জ্ঞান অন্বেষণকারী হিসেবে এসেছি। তখন ইরবাদ (রা.) বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন, এরপর আমাদের দিকে ফিরে এমন এক হৃদয়স্পর্শী নসিহত করলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসজল হলো এবং অন্তরগুলো প্রকম্পিত হলো। জনৈক ব্যক্তি আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), মনে হচ্ছে এটি যেন কোনো বিদায়কালীন নসিহত, অতএব আপনি আমাদের কী অসিয়ত বা নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহ তাআলার তাকওয়া (আল্লাহভীতি) এবং কথা শোনা ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে নাক-কান কাটা হাবশি গোলাম হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাহ এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। তা সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হচ্ছে পথভ্রষ্টতা।"
আবু হাতিম (র.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী—"তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে, এমতাবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে"—এটি একটি সহীহ (صحيح) দলিল যে, তিনি তাঁর উম্মতকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিদের থেকে দুর্বল (الضعفاء) রাবিদের চিনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা সুন্নাহর সাথে মিশে যাওয়া মিথ্যা ও অসার বিষয়গুলোর ভিড়ে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের থেকে দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের শনাক্ত করা ব্যতীত সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকা সম্ভব নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وقد علم النبي صلى الله عليه وسلم ما يكون من ذلك في أمته، إذ قال: "مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقعَدَهُ مِنَ النَّارِ". نعوذ بالله من حالة تقربنا إلى سخطه وأليم عقابه.
ذكر خبر فيه كالأمر بالجرح للضعفاءحدثنا الحسن بن سفيان النسائي، قال: حدثنا عبد الأعلى بن حماد النرسي، قال: حدثنا سفيان، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، قال: مر عمر بن الخطاب بحسان بن ثابت وهو ينشد الشعر في المسجد، فلحظ إليه، فقال حسان: قد كنت أنشد فيه مع من هو خير منكم، ثم التفت إلى أبي هريرة، فقال: أنشدك الله هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "يَا حَسَّانُ أَجِبْ عَنِّي، اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِروُحِ الْقدُسِ "؟ قال: نعم (1).
قال أبو حاتم: في هذا الخبرِ كالدليل على الأمر بجرح الضعفاء، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال لحسان: "أَجِبْ عَنِّي" فإنما أمره أن يذب عنه ما كان يتقول عليه المشركون، فإذا كان في تقول المشركين على رسول الله صلى الله عليه وسلم يَأمُرُ (2) أن يذب عنه وإن لم يضر كذبهم المسلمين، ولا أحلوا به الحرام، ولا حرموا به الحلال، كان من كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم من المسلمين الذين يحل الحرام ويحرم الحلال بروايتهم أحرى أن يأمر بذب ذلك الكذب عنه صلى الله عليه وسلم.
وأرجو أن الله تارك وتعالى يؤيد من فعل ذلك بروح القدس كما دعا لحسان بذب الكذب عنه، وقال: "اللَّهُمَّ أَيِّدُهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ" ولم يكن هذا العلم في زمان قط تعلمه أوجب منه في زماننا هذا لذهاب من كان يحسن هذا الشأْن، وقلة اشتغال طلبة العلم به، لأنهم اشتغلوا في العلم في زماننا هذا، وصاروا حيزين [حزبين]، فمنهم طلبة الأخبار الذين يرحلون فيها إلى الأمصار، وأكثر همهم الكتابة والجمع دون الحفظ والعمل به، وتعبير [تمييز] الصحيح من السقيم حتى سماهم العوام "الحشوية" والحيز [الحزب]
--------------------------------------------
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের মাঝে এমনটি ঘটার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতেন, যখন তিনি বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" আমরা আল্লাহর নিকট এমন অবস্থা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি যা আমাদের তাঁর অসন্তুষ্টি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির নিকটবর্তী করে।
দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের সমালোচনার (جرح) নির্দেশের বর্ণনার উল্লেখহাসান ইবনে সুফিয়ান আন-নাসায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদ আল-আলা ইবনে হাম্মাদ আল-নারসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওমর ইবনে আল-খাত্তাব হাসসান ইবনে সাবিতের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। ওমর (রা.) তাঁর দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন। তখন হাসসান (রা.) বললেন: আমি এই মসজিদে এমন সত্তার উপস্থিতিতে কবিতা আবৃত্তি করেছি যিনি আপনাদের চেয়ে উত্তম ছিলেন। এরপর তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "হে হাসসান, তুমি আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও। হে আল্লাহ, তাকে রুহুল কুদুস দ্বারা শক্তিশালী করুন"? তিনি (আবু হুরায়রা) বললেন: হ্যাঁ (১)।
আবু হাতিম বলেন: এই বর্ণনায় দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের সমালোচনার (جرح) নির্দেশের প্রমাণ রয়েছে। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসানকে বলেছিলেন: "আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও"। তিনি তাকে কেবল এটাই আদেশ দিয়েছিলেন যে, মুশরিকরা তাঁর বিরুদ্ধে যে মিথ্যা রটনা করত তা যেন তিনি প্রতিহত করেন। সুতরাং মুশরিকরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করত, তখন যদি তিনি তা প্রতিহত করার আদেশ দিয়ে থাকেন—যদিও তাদের সেই মিথ্যা মুসলিমদের কোনো ক্ষতি করত না, আর না তারা এর মাধ্যমে কোনো হারামকে হালাল করত, আর না কোনো হালালকে হারাম করত—তবে সেই সব মুসলিমদের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করা, যাদের বর্ণনার মাধ্যমে হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম করা হয়, তাদের সেই মিথ্যা প্রতিহত করার নির্দেশ দেওয়া আরও বেশি সমীচীন।
আর আমি আশা করি যে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এমন ব্যক্তিকে রুহুল কুদুস দ্বারা সাহায্য করবেন যে তাঁর পক্ষ থেকে মিথ্যা প্রতিহত করার এই কাজ করবে, যেমনটি তিনি হাসসানের জন্য দোয়া করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "হে আল্লাহ, তাকে রুহুল কুদুস দ্বারা শক্তিশালী করুন"। এই ইলম (জ্ঞান) শিক্ষা করা পূর্ববর্তী কোনো সময়ের চেয়ে আমাদের বর্তমান সময়ে অধিক ওয়াজিব (অপরিহার্য), কারণ এই বিষয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা চলে গিয়েছেন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের এ বিষয়ে মনোযোগ কমে গেছে। কেননা আমাদের বর্তমান সময়ে তারা ইলম চর্চায় লিপ্ত হয়ে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে: একদল হলো সংবাদের (আখবার) অন্বেষণকারী যারা এর সন্ধানে বিভিন্ন শহরে সফর করে, কিন্তু তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো কেবল লিপিবদ্ধ করা এবং সংগ্রহ করা, মুখস্থ করা বা সে অনুযায়ী আমল করা এবং সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনার পার্থক্য করা নয়। এমনকি সাধারণ মানুষ তাদের "হাশউইয়াহ" নামে অভিহিত করেছে। আর অন্য দলটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الآخر المتفقهة الذين جعلوا جل اشتغالهم الآراء والجدل، وأغضوا عن حفظ السنن ومعانيها وكيفية قبولها، وتعبير [تمييز] الصحيح من السقيم منها، مع نبذهم السنن قاطبة وراء ظهورهم.
وقد أخبر المصطفى صلى الله عليه وسلم أن العلم ينقص في آخر الزمان، وأرى العلوم كلها يزداد إلا هذه الصناعة الواحدة، فإنها كل يوم في النقص، فكأن العلم الذي خاطب النبي صلى الله عليه وسلم أمته بنقصه في آخر الزمان هو معرفة السنن، ولا سبيل إلى معرفتها إلا بمعرفة الضعفاء والمتروكين.
ذكر السنة في ذلكحدثنا عبد الله بن سليمان بن الأشعث، قال: حدثنا أحمد بن صالح، قال: حدثنا عنبسة، عن يونس، عن ابن شهاب، قال: حدثني حميد بن عبد الرحمن، أن أبا هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "يتقَارَبُ الزَّمَانُ، وَيَنقُصُ الْعلمُ، وَتَظْهَرُ الْفِتَن، وَيَكثُرُ الْهَرَجُ" قيل. يا رسود الله أيم هو؟ قال: "الْقَتْلُ الْقَتلُ" (1).
قال أبو حاتم: في هذا الخبر كالدليل على أن ما لم ينقص من العلم ليس بعلم الدين في الحقيقة، إذ أخبر المصطفى صلى الله عليه وسلم أن العلم ينقص عند تقارب الزمان.
وفيه دليل على أن ضد العلم يزيد، وكل شيء زاد مما لم يكن مرجعه إلى الكتاب والسنة، فهو ضد العلم، ولست أعلم العلوم كلها إلا في الزيادة إلا هذا الجنس الواحد من العلم، وهو الذي لا يكون للإسلام قوام إلا به، إذ الله عز وجل أمر الناس باتباع رسوله، وعند التنازع الرجوع إلى ملته عند الحوادث، حيث قال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} ثم نفى الإيمان عمن لم يحكِّم رسوله فيما شجر بينهم فقال: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي
--------------------------------------------
অন্য দলটি হলো সেই সব তথাকথিত ফকীহ, যারা তাদের অধিকাংশ ব্যস্ততাকে কেবল ব্যক্তিগত মতামত ও যুক্তিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং তারা সুন্নাহর সংরক্ষণ, এর অর্থ অনুধাবন, তা গ্রহণের পদ্ধতি এবং বিশুদ্ধ (الصحيح) বর্ণনা থেকে ত্রুটিপূর্ণ (السقيم) বর্ণনাকে পৃথক করার বিষয় থেকে বিমুখ হয়েছে; সেই সাথে তারা সুন্নাহসমূহকে পুরোপুরিভাবে নিজেদের পেছনে ছুঁড়ে ফেলেছে।
মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, শেষ জামানায় জ্ঞান হ্রাস পাবে। আর আমি দেখছি এই একটি শাস্ত্র ব্যতীত সকল জ্ঞান বৃদ্ধি পাচ্ছে; কারণ এই শাস্ত্রটি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে শেষ জামানায় যে জ্ঞান হ্রাসের সংবাদ দিয়েছিলেন, তা মূলত সুন্নাহর জ্ঞান। আর এই সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের কোনো উপায় নেই দুর্বল (الضعفاء) এবং পরিত্যাজ্য (المتروكين) বর্ণনাকারীদের চেনা ব্যতীত।
এ বিষয়ে সুন্নাহর উল্লেখআবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনুল আশআস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনবাসা আমাদের নিকট ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন: "সময় নিকটবর্তী হবে, জ্ঞান হ্রাস পাবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে।" জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, তা কী? তিনি বললেন: "হত্যা, হত্যা" (১)।
আবু হাতিম বলেন: এই বর্ণনার মধ্যে এমন প্রমাণ রয়েছে যে, যে জ্ঞানের কোনো হ্রাস ঘটে না তা প্রকৃতপক্ষে দ্বীনি জ্ঞান নয়। কেননা মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, কাল নিকটবর্তী হওয়ার সময়ে জ্ঞান হ্রাস পাবে।
এতে এও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, জ্ঞানের বিপরীত বিষয় বৃদ্ধি পাবে। আর কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে না এমন প্রতিটি বৃদ্ধি পাওয়া বিষয়ই জ্ঞানের বিপরীত। আমি এই এক প্রকারের জ্ঞান ব্যতীত সব জ্ঞানকেই কেবল বৃদ্ধি পেতে দেখছি। আর এটিই সেই জ্ঞান যার মাধ্যমেই ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে। কারণ মহান আল্লাহ মানুষকে তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার এবং কোনো বিবাদের সময় তাঁর আদর্শের দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমনটি তিনি এরশাদ করেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। অতঃপর তিনি তাদের ঈমানকে অস্বীকার করেছেন যারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে তাঁর রাসূলকে বিচারক হিসেবে মান্য করে না। তিনি বলেছেন: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ তারা তাদের নিজেদের বিবাদের মধ্যে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ না করবে; এরপর তারা তাদের মনে কোনো...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} فمن لم يحفظ سنن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يحسن تمييز صحيحها من سقيمها. ولا عرف الثقات من المحدثين ولا الضعفاء من المتروكين، ومن يجب قبول انفراد خبره ممن لا يجب قبول زيادة الألفاظ في روايته، ولم يحسن معاني الأخبار، والجمع بين تضادها في الظواهر، ولا عرف المفسر من المجمل، ولا المختص من المتقضى [المفصل]، ولا الناسخ من المنسوخ، ولا اللفظ الخاص الذي يراد به العام، ولا اللفظ العام الذي يراد به الخاص، ولا الأمر الذي هو فريضة وإيجاب، ولا الأمر الذي هو فضيلة وإرشاد، ولا النهي الذي هو حتم لا يجوز ارتكابه من النهي الذي هو ندب مباح استعماله مع سائر فصول السنن وأنواع أسباب الأخبار على حسب ما ذكرناها في كتاب فصول السنن. كيف يستحل أن يفتي؟ أم كيف يسوغ لنفسه تحريم الحلال وتحليل الحرام تقليدًا منه لمن يخطئ ويصيب؟ راففًا قول من {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4) صلى الله عليه وسلم.
وقد أخبر المصطفى صلى الله عليه وسلم كيفية نقص العلم الذي ذكر في خبر أبي هريرة، وأن ذلك ليس برفع العلم نفسه، بل هو موت العلماء الذين يحسنون ذلك.
ذكر السنة المصرحة بذلكحدثنا أبو يعلى أحمد بن علي بن المثنى، قال: حدثنا عمر القواريري، قال: حدثنا يحيى بن سعيد، قال: حدثنا هشام بن عروة قال: حدثني أبي، قال: سمعت عبد الله بن عمرو من فيه إلى فِيَّ، يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى لَا يَقْبِضُ يَنْتَزِعُهُ مِنَ النَّاسِ، وَلَكِنْ يَقبِضُ الْعُلَمَاءِ، حَتَّى إذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤَسَاءَ جُهَّالًا، [فـ] سُئِلُوا فَأَفتُوْا بِغَيرِ عِلمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا" (1).
--------------------------------------------
{তাদের অন্তরে কোনো সংকীর্ণতা বোধ না করে এবং পূর্ণাঙ্গরূপে তা মেনে নেয়।} অতঃপর যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহসমূহ মুখস্থ করেনি এবং তার মধ্যকার বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনার মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম নয়; যে মুহাদ্দিসগণের মধ্য হতে নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারী এবং দুর্বল (ضعفاء) ও বর্জনীয় (متروكين) বর্ণনাকারীদের চেনে না; যার একক বর্ণনা (انفراد) গ্রহণ করা আবশ্যক এবং যার বর্ণনায় অতিরিক্ত শব্দের (زيادة الألفاظ) সংযোজন গ্রহণ করা আবশ্যক নয়—এদের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না; যে ব্যক্তি খবরের অর্থসমূহ এবং আপাত বৈপরীত্যের মাঝে সমন্বয় সাধনে পারদর্শী নয়; যে সুব্যাখ্যাত (مفسر) ও অস্পষ্ট (مجمل), সুনির্দিষ্ট (مختص) ও বিস্তারিত (مفصل), এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে অবগত নয়; আর না চেনে সেই বিশেষ শব্দ (لفظ خاص) যা দ্বারা সাধারণ (عام) অর্থ উদ্দেশ্য হয়, কিংবা সেই সাধারণ শব্দ (لفظ عام) যা দ্বারা বিশেষ (خاص) অর্থ উদ্দেশ্য হয়; না চেনে সেই আদেশ যা ফরজ (فريضة) ও আবশ্যিক (إيجاب), না চেনে সেই আদেশ যা কেবল ফজিলত (فضيلة) ও দিকনির্দেশনা (إرشاد); না চেনে সেই নিষেধ যা অলঙ্ঘনীয় (حتم) ও যা করা নিষিদ্ধ, আর না চেনে সেই নিষেধ যা কেবল পছন্দনীয় বা নফল (ندب) কিন্তু লিপ্ত হওয়া বৈধ—সুন্নাহর অন্যান্য অধ্যায় ও খবরের কারণসমূহের প্রকারভেদ অনুযায়ী যা আমরা 'ফুসুলুস সুনান' গ্রন্থে আলোচনা করেছি। তবে সে ব্যক্তি কীভাবে ফতোয়া প্রদান করাকে বৈধ মনে করে? অথবা কীভাবে সে ভুল ও সঠিকের মিশ্রণকারী ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণের (تقليد) মাধ্যমে হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল করা নিজের জন্য সংগত মনে করে? যেখানে সে তাঁর বাণীকে অগ্রাহ্য করছে যাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: {আর তিনি নিজ খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
এবং মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রার বর্ণনায় উল্লিখিত ইলম বা জ্ঞানের হ্রাসের স্বরূপ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি ইলম স্বয়ং উঠে যাওয়া নয়, বরং যারা এ বিষয়ে পারদর্শী সেই আলেমদের মৃত্যু।
এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সুন্নাহর উল্লেখআমাদের নিকট আবু ইয়ালা আহমদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উমর আল-কাওয়ারিরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম ইবনে উরওয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে তাঁর মুখ থেকে সরাসরি বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মানুষের নিকট থেকে ইলম ছিনিয়ে নিয়ে উঠিয়ে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তারা জ্ঞানহীন অবস্থায় ফতোয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
قال أبو حاتم: في هذا الخبر دليل على أن رفع العلم الذي ذكرنا قبل ونقصه عند تقارب الزمان لا يكون برفع يرفع من الأرض، ولكنه بموت العلماء الذين يحسنون علم السنن على حسب ما ذكرنا فصولها حتى لا يبقى منهم إلا الواحد بعد الواحد، ثم يتخذ عند ذلك الناس رؤساء لا يحسنون ذلك، فيفتون بغير علم فيضلون ويضلون، نعوذ بالله من حالة تقربنا إلى سخطه وأليم عقابه.
وإنما نوينا في بث ما خرجنا من هذه الكتب التي لم يمعن أئمتنا الكلام فيها، ولا فرعوا الفروع عليه اعتمادًا منا على اكتساب الذخر في الآجل، لأنه من خير ما يخلف المرء بعده بحكم النبي صلى الله عليه وسلم.
ذكر خبر ثان يدل على استحباب معرفة الضعفاء من المحدثينحدثنا أحمد بن علي بن المثنى، قال: حدثنا آبو بكر بن أبي شيبة، قال: حدثنا عبد الوهاب [الثقفي]، عن أيوب، عن ابن سيرين، عن ابن أبي بكرة، عن أبي بكرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ استَدَارَ كَهَيْأَتِهِ يَومَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرضَ، مِنهَا أَرْبَعَة حُرُم، ثَلَاثَة مُتَوَالِيَات، ذُو القَعْدَةِ وَذُو الحِجَّةِ وَالمُحَرَّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعبَانَ- ثم قال: - "أَيُّ شَهْرٍ هَذَا؟ " قلنا: الله ورسوله أعلم، فسكت حتى ظننا أنه سيسميه بغير اسمه، قال: " [أ] لَيْسَ ذُو [ذَا]، الْحِجَّةِ؟ " قلنا: بلى، قال: "أَيُّ بَلدٍ هَذَا؟ " قلنا: الله ورسوله أعلم، فسكت حتى ظننا أنه سيسميه بغير اسمه، قال: "أَلَيس الْبَلْدَةَ الحَرَامَ؟ " قلنا: نعم، قال: "فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَموَالكمْ وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُم حَرَام كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، وَسَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ عز وجل فَيَسأَلُكُم عَن أَعمَالِكُمْ، فَلَا تَرْجِعُوا بَعْدِي ضُلَّالًا يَضرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعضٍ، ألَا لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ، فَلَعَلَّ بَعضَ مَنْ يَبْلُغُهُ يَكُونُ أَوْعَى لَهُ مِن بَعْضِ مَنْ يَسْمَعُهُ، أَلَا هَل بَلَّغْتُ؟ أَلَا هَلْ بَلَّغتُ؟ " (1).
قال أبو حاتم: في قوله: "أَلَا لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنكُمُ الْغَائِبَ" دليل على
--------------------------------------------
আবু হাতিম বলেন: এই বর্ণনাটির (خبر) মধ্যে এমন প্রমাণ রয়েছে যে, আমরা ইতিপূর্বে ইলম তুলে নেওয়া এবং শেষ সময়ে তার স্বল্পতা দেখা দেওয়া সম্পর্কে যা আলোচনা করেছি, তা ভূমি থেকে কোনো কিছু সরাসরি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে হবে না; বরং তা হবে সুন্নাহর জ্ঞানে পারদর্শী উলামায়ে কেরামের মৃত্যুর মাধ্যমে—যেমনটি আমরা বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছি—যতক্ষণ না তাদের মধ্য থেকে একে একে সবাই বিদায় নেবেন এবং কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। তখন মানুষ এমন সব ব্যক্তিদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে যারা এই বিষয়ে পারদর্শী নয়, ফলে তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে। এতে করে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে। আমরা আল্লাহর কাছে এমন অবস্থা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা আমাদের তাঁর অসন্তুষ্টি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির নিকটবর্তী করে।
আর আমরা এই কিতাবগুলো থেকে যা চয়ন করে প্রচার করার সংকল্প করেছি, যেগুলোতে আমাদের ইমামগণ বিস্তারিত আলোচনা করেননি কিংবা সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে মাসআলা উদ্ভাবন করেননি, তা মূলত পরকালের পাথেয় অর্জনের আশায় করেছি। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এটি একজন মানুষের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলোর অন্যতম।
মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) মধ্য থেকে যারা দুর্বল (الضعفاء) তাদের চেনার প্রয়োজনীয়তার প্রতি ইঙ্গিতদানকারী দ্বিতীয় একটি বর্ণনা (خبر)আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শাইবা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহাব [আস-সাকাফী], তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে, তিনি ইবনে আবি বাকরা থেকে, তিনি আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সময় তার সেই আদি অবস্থায় ফিরে এসেছে, যেদিন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছিলেন। বারো মাসে এক বছর, তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি ধারাবাহিক—জিলকদ, জিলহজ ও মহররম; আর মুদার গোত্রের রজব মাস যা জুমাদা ও শাবানের মধ্যবর্তী।" এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "এটি কোন মাস?" আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি নীরব রইলেন, এমনকি আমাদের মনে হলো হয়তো তিনি মাসটিকে অন্য কোনো নামে অভিহিত করবেন। তিনি বললেন: "এটি কি জিলহজ নয়?" আমরা বললাম: "অবশ্যই।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "এটি কোন শহর?" আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি নীরব রইলেন, এমনকি আমাদের মনে হলো হয়তো তিনি শহরটিকে অন্য কোনো নামে অভিহিত করবেন। তিনি বললেন: "এটি কি পবিত্র শহর নয়?" আমরা বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ এবং তোমাদের মান-সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য পবিত্র, যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিনটি, তোমাদের এই শহরটি এবং তোমাদের এই মাসটি। অচিরেই তোমরা তোমাদের মহান প্রতিপালকের সাক্ষাৎ লাভ করবে এবং তিনি তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সুতরাং তোমরা আমার পর পুনরায় পথভ্রষ্ট হয়ে ফিরে যেও না যে, একে অপরের ঘাড় কাটবে (পরস্পরকে হত্যা করবে)। সাবধান! তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেয়। কারণ যাকে পৌঁছে দেওয়া হবে, সে হয়তো শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হতে পারে। সাবধান! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? সাবধান! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" (১)।
আবু হাতিম বলেন: তাঁর বাণী—"সাবধান! তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়"—এতে প্রমাণ রয়েছে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
استحباب معرفة الضعفاء من المحدثين، إذ لا يتهيأ للشاهد أن يبلغ الغائب ما شهد إلا بعد المعرفة بصحة ما يؤدي إلى من بعده، وإنه متى ما أدى إلى من بعده ما لم يصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكأنه لم يؤد عنه شيئًا، وأن من لم يعتبر [يميز]، الثقات من الضعفاء ولم يحط علمه بأسبابهم [بأنسابهم] لا يتهيأ له تخليص الصحيح من بين السقيم، فإذا وقف على أسمائهم وأنسابهم والأسباب التي أدت إلى نفي الاحتجاج بهم تنكب حديثهم، ولزم السنن الصحيحة، فيرويها حينئذ، حتى يكون داخلًا في جملة من أمر النبي صلى الله عليه وسلم بأن يبلغ الشاهد منهم الغائب، جعلنا الله من المتبعين لسنته والذابين الكذب عن نبيه صلى الله عليه وسلم، إنه رؤوف رحيم.
ذكر خبر توهم الرعاع من الناس ضد ما ذهبنا إليهحدثنا الفضل بن الحباب بالبصرة، قال: حدثنا القعنبي، قال: حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن أبيه، عن أبي هريرة، أنه قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم: ما الغيبة؟ قال: "ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ" قيل: أفرأيت إن كان فيه ما نقول؟ قال: "إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُن فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدْ بَهَتَّهُ" (1).
قال أبو حاتم: احتج بهذا الخبر جماعة ممن ليس الحديث صناعتهم، وزعموا أن قول أئمتنا: فلان ليس بشيء، وفلان ضعيف، وما يشبه هذا من المقال غيبة إن كان فيهم ما قيل، وإلا فهو بهتان عظيم.
ولو تملق قائل هذا إلى باريه في الخلوة، وسأله التوفيق لإصابة الحق لكان أولى به من الخوض فيه، إذ ليس من صناعته، لأن هذا لس بالغيبة المنهي عنها، وذاك [ذلك] أن المسلمين قاطبة لس بينهم خلاف أن الخبر لا يجب أن يُسْمَعَ عند الاحتجاج إلا من الصدوق العاقل، فكان من [في] إجماعهم هذا دليل على إباحة جرح من لم يكن بصدوق في الرواية، على
--------------------------------------------
হাদিস বিশারদগণের মধ্য থেকে দুর্বল (ضعفاء) রাবিদের সম্পর্কে জ্ঞান রাখা বাঞ্ছনীয়; কেননা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর পক্ষে অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট যা দেখেছেন তা পৌঁছানো সম্ভব নয় যতক্ষণ না তিনি তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে যা পৌঁছে দিচ্ছেন তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। আর যখনই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন যা সহিহ (يصح) নয়, তখন তিনি যেন তাঁর পক্ষ থেকে কিছুই বর্ণনা করলেন না। যে ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য [يميز] করতে পারেন না এবং তাদের কারণসমূহ [বংশ পরিচয় - بأنسابهم] সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন না, তাঁর পক্ষে অসুস্থ (سقيم) বর্ণনা থেকে সহিহ (صحيح) বর্ণনাকে পৃথক করা সম্ভব নয়। সুতরাং যখন তিনি তাদের নাম, বংশ পরিচয় এবং যে সকল কারণে তাদের বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করা নাকচ হয়েছে সে সম্পর্কে জানবেন, তখন তিনি তাদের বর্ণিত হাদিস পরিহার করবেন এবং সহিহ (صحيحة) সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবেন এবং তা বর্ণনা করবেন; যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন যেখানে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দিতে বলেছেন। আল্লাহ আমাদের তাঁর সুন্নাহর অনুসারী এবং তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরোপিত মিথ্যাকে প্রতিহতকারী হিসেবে কবুল করুন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতি দয়াময়।
সাধারণ মানুষের মাঝে আমাদের অবস্থানের বিপরীতে যে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে তার বর্ণনাফযল ইবনে হুবাব বসরার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কা’নাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো: গিবত (غيبة) কী? তিনি বললেন: "তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করা যা সে অপছন্দ করে।" জিজ্ঞাসা করা হলো: আমি যা বলছি তা যদি তার মধ্যে থাকে তবে আপনার মতামত কী? তিনি বললেন: "তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে তবেই তুমি তার গিবত (غيبة) করলে, আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তাকে অপবাদ (بهتان) দিলে।" (১)।
আবু হাতেম বলেন: একদল লোক যাদের কাছে হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান নেই, তারা এই বর্ণনাটি দলিল হিসেবে পেশ করেন। তাদের দাবি হলো আমাদের ইমামগণের মন্তব্য যেমন—'অমুক উল্লেখযোগ্য কেউ নন (ليس بشيء)', 'অমুক দুর্বল (ضعيف)', এবং এই জাতীয় বক্তব্যগুলো আসলে গিবত (غيبة), যদি তা তাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকে; অন্যথায় এটি বড় ধরনের অপবাদ (بهتان)।
যদি এ কথা ব্যক্তিকারী নির্জনে তাঁর স্রষ্টার কাছে আকুতি জানাতেন এবং সত্য সঠিক পথ পাওয়ার তাওফিক কামনা করতেন, তবে তা এই বিষয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে তাঁর জন্য অধিক উত্তম হতো, যেহেতু এটি তাঁর শাস্ত্র নয়। কারণ এটি সেই গিবত (غيبة) নয় যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেননা সকল মুসলিমের মাঝে এই বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, কোনো বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করার ক্ষেত্রে তা অবশ্যই কেবল সত্যবাদী (صدوق) ও বুদ্ধিমান (عاقল) ব্যক্তির কাছ থেকেই গ্রহণ করা আবশ্যক। তাদের এই ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনার ক্ষেত্রে যারা সত্যবাদী (صدوق) নয়, তাদের জরাহ (جرح) বা ত্রুটি বর্ণনার বৈধতার প্রমাণ বহন করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أن السنة تصرح عن المصطفى بضد ما انتحل مخالفونا فيه.
ذكر الخبر الدال على صحة ما ذهبنا إليهحدثنا الحسن بن سفيان الشيباني، قال: حدثنا محمد بن المنهال الضرير، قال: حدثنا يزيد بن زريع، قال: أخبرنا روح بن القاسم، عن محمد بن المنكدر، عن عروة، عن عائشة، قالت: أقبل رجل، فلما رآه النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "بِئسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ -أو قال- ابنُ الْعَشِيرَةِ" فلما جاء النبي صلى الله عليه وسلم كلمه وانبسط إليه، فلما وَلَّى، قالت عائشة: يا رسول الله لما رأيته قلت ما قلت، فلما جاء كلمته وأنبسطت إليه؟ فقال: "يَا عَائِشَةُ إنَّ شَرَّ أُمَّتِي عِنْدَ اللَّه مَنِزلَة يَومَ القِيَامَةِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ فُحْشِهِ" (1).
قال أبو حاتم: وفي هذا الخبر دليل على أن إخبار الرجل ما في الرجل علي جنس الديانة [الإبانة] ليس بغيبة، إذ النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بِئسَ أخُو الْعَشِيرَةِ أَو ابْنُ الْعَشِيرَةِ" ولو كان هذا غيبة لم يطلقها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما أراد بقوله هذا أن تعتد ترك الفحش لأنه أراد ثلبه، وأنما الغيبة ما يريد القائل به القدح في المقول فيه.
وأئمتنا رحمة الله عليهم فإنهم إنما بينوا هذه الأشياء وأطلقوا الجرح في غير العدول لئلا يحتج بأخبارهم، لا أنهم أرادوا ثلبهم والوقيعة فيهم، والإخبار عن الشيء لا يكون غيبة إذا أراد القائل غير الثلب.
حدثنا عمر بن محمد بن بجير بن راشد، قال: حدثنا عمرو بن علي، قال: حدثنا عفان، قال: كنت عند إسماعيل بن علية، فحدث وجل عن
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই সুন্নাহ মুস্তফা (সা.)-এর পক্ষ থেকে আমাদের বিরোধীরা যা বানোয়াটভাবে আরোপ করেছে তার বিপরীতে স্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করে।
আমরা যে মত গ্রহণ করেছি তার বিশুদ্ধতার (صحة) প্রমাণ স্বরূপ বর্ণনার (الخبر) উল্লেখআল-হাসান ইবনে সুফিয়ান আল-শায়বানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল মিনহাল আদ-দারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, উরওয়াহ থেকে, আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি এগিয়ে এলেন, যখন নবী (সা.) তাকে দেখলেন তখন বললেন: "সে গোত্রের কতই না মন্দ ভাই -অথবা বললেন- কতই না মন্দ সন্তান।" এরপর যখন সে নবী (সা.)-এর কাছে এল, তিনি তার সাথে কোমলভাবে কথা বললেন এবং তার প্রতি প্রফুল্লতা প্রকাশ করলেন। যখন সে চলে গেল, আয়িশা (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যখন তাকে দেখেছিলেন তখন যা বলার বলেছিলেন, কিন্তু সে আসার পর তার সাথে কোমলভাবে কথা বললেন এবং প্রফুল্লতা প্রকাশ করলেন? তিনি বললেন: "হে আয়িশা! কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যার অশালীন আচরণের ভয়ে মানুষ তাকে বর্জন করে চলে।" (১)।
আবু হাতিম বলেন: এই বর্ণনার (الخبر) মধ্যে এই দলিল রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির মাঝে যা আছে তা দ্বীনি স্বার্থে বর্ণনা করা গিবত বা পরনিন্দা নয়। কারণ নবী (সা.) বলেছিলেন: "সে গোত্রের কতই না মন্দ ভাই বা মন্দ সন্তান।" যদি এটি গিবত হতো তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) তা উচ্চারণ করতেন না। তিনি কেবল এর মাধ্যমে তার অশ্লীলতা পরিহারের বিষয়ে সতর্ক করতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি তার দোষ বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন। আর গিবত তো হলো তা, যার মাধ্যমে বক্তা যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তার নিন্দা করার ইচ্ছা পোষণ করে।
আর আমাদের ইমামগণ (রাহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং যারা ন্যায়পরায়ণ (عدول) নয় তাদের ক্ষেত্রে সমালোচনা (الجرح) করেছেন যাতে তাদের বর্ণনা (أخبار) দ্বারা দলিল পেশ করা না হয়। তারা তাদের গালি দেওয়া বা হেয় প্রতিপন্ন করার ইচ্ছা করেননি। কোনো বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা গিবত হয় না যদি বক্তা নিন্দা করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করেন।
উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বুজাইর ইবনে রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যাহ-এর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি বর্ণনা করলেন এবং এক ব্যক্তি সম্পর্কে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
رجل بحديث، فقلت: لا تحدث عن هذا، فإنه ليس بثبت، فقال: قد اغتبته، فقال إسماعيل: ما اغتابه، ولكنه حكم أنه ليس بثبت (1).
حدثنا محمد بن زياد الزبادي، قال: حدثنا أحمد بن علي، قال: حدثنا مكي بن إبراهيم، قال: كان شعبة يأتي عمران بن حُدير، فيقول: تعال حتى نغتاب ساعة في الله عز وجل، نذكر مساوئ أصحاب الحديث (2).
حدثنا لقمان بن علي [السرخسي]، قال: حدثنا عبد الصمد بن الفضل، قال: حدثنا مكي [بن إبراهيم]، قال: كان شعبة يجيء إلى عمران بن حُدَيْر، فيقول: قم بنا حتى نغتاب في الله تبارك وتعالى.
قال أبو حاتم: أجمع الجميع على أن الشاهدين لو شهدا عند الحاكم على شيء من حطام هذه الدنيا لم يعرفها الحاكم بعدالة أن عليه أن يسأل المعدل عنهما، فإن كتم المعدل عيبًا أو جرحًا علم فيهما أثم، بل عليه الواجب أن يخبر الحاكم بما يعلم منهما من الجرح أو التعديل حتى يحكم الحاكم بما يصح عنده، فإذا كان ذلك جائزًا لأجل التافه من حطام هذه الدنيا الفانية، كان ذلك عند ذب الكذب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أولى وأحرى، فإن الشاهد إذا كذب في شهادته لا يعدوه كذبه، والكاذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم يحل الحرام ويحرم الحلال ويتبوأ مقعده من النار.
وكيف لا يجوز القدح فيمن تبوأ مقعده من النار بفعل فعله؟
ولقد حدثنا عمر بن محمد الهمداني، قال: حدثنا عمرو بن علي، قال: سمعت يحيى بن سعيد، يقول: سألت سفيان الثوري وشعبة بن الحجاج ومالك بن أنس وسفيان بن عيينة عن الرجل يكون واهي الحديث،
--------------------------------------------
[এক ব্যক্তি] একটি হাদিস নিয়ে আলোচনা করলেন, তখন আমি বললাম: এটি বর্ণনা করো না, কারণ সে নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (ثبت) নয়। তখন তিনি বললেন: আপনি তার গিবত (পরনিন্দা) করলেন। ইসমাঈল বললেন: তিনি তার গিবত করেননি, বরং তিনি এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, সে নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (ثبت) নয় (১)।
মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-জাবাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাক্কী বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ ইমরান বিন হুদাইরের নিকট আসতেন এবং বলতেন: "এসো, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছুক্ষণ গিবত করি, অর্থাৎ আমরা হাদিস বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করি" (২)।
লুকমান বিন আলী [আস-সারখাসি] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সামাদ বিন আল-ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাক্কী [বিন ইবরাহিম] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ ইমরান বিন হুদাইরের নিকট আসতেন এবং বলতেন: "আমাদের সাথে চলো, আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য গিবত করি।"
আবু হাতিম বলেন: সকলে এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যদি দুইজন সাক্ষী বিচারকের নিকট এই নশ্বর দুনিয়ার কোনো তুচ্ছ বস্তু সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয় এবং বিচারক যদি তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে অবগত না থাকেন, তবে তার ওপর আবশ্যিক দায়িত্ব হলো তাদের সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যতা যাচাইকারী (المعدل) ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞাসা করা। এমতাবস্থায় সেই যাচাইকারী (المعدل) ব্যক্তি যদি তাদের কোনো দোষ বা ত্রুটি (جرح) গোপন করেন যা তিনি জানেন, তবে তিনি পাপী হবেন। বরং তার ওপর ওয়াজিব হলো তাদের সম্পর্কে তিনি যা জানেন—তা সমালোচনা (جرح) হোক কিংবা নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপাদন (تعديل)—তা বিচারককে অবহিত করা, যাতে বিচারক তার নিকট যা সঠিক বলে প্রমাণিত হয় সে অনুযায়ী ফয়সালা দিতে পারেন। সুতরাং এই নশ্বর দুনিয়ার অতি সামান্য জিনিসের জন্য যদি এটি বৈধ হয়, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী থেকে মিথ্যা দূর করার লক্ষ্যে এটি আরও বেশি অগ্রগণ্য ও যুক্তিযুক্ত। কারণ সাক্ষী যদি তার সাক্ষ্যে মিথ্যা বলে, তবে তার সেই মিথ্যার প্রভাব কেবল তার নিজের ওপরই পড়ে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যাচারকারী ব্যক্তি হারামকে হালাল করে এবং হালালকে হারাম করে দেয় এবং সে জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।
আর যে ব্যক্তি নিজের কর্মের মাধ্যমে জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছে, তার সমালোচনা (القدহ) করা কেন জায়েজ হবে না?উমর বিন মুহাম্মদ আল-হামদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আল-সাওরি, শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজ, মালিক বিন আনাস এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল (واهي الحديث),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
يأتيني الرجل فيسألني عنه، فأجمعوا أن أقول: ليس هو بثبت، وأن أبين أمره (1).
حدثني محمد بن المنذر بن سعيد، قال: حدثنا أبو زرعة، قال: سمعت أبا مسهر يسأل عن الرجل يغلط ويهم ويصحف، فقال: بَيِّنْ أمره، قلت لأبي مسهر: أترى ذلك من الغيبة؟ قال: لا (2).
حدثنا الحسن بن سفيان، قال: سمعت معاذ بن شعبة يقول: قال أبو داود: جاء عباد بن صهيب إلى شعبة، فقال: إن لي إليك حاجة فقال: ما هو؟ فقال: تكف عن أبان بن أبي عياش، فقال: أنظرني ثلاثًا، فجاءه بعد الثالثة فقال: يا عباد نظرت فيما قلتَ فرأيت أنه لا يحل السكوت عنه (3).
حدثنا محمد بن عبد الرحمن [الفقه] قال: حدثنا الحسين بن الفرج، عن سليمان بن حرب، عن حماد بن زيد، قال: جاءني أبان بن أبي عياش، فقال: أحب أن تكلم شعبة أن يكف عني، قال: فكلمته فكف عنه أيامًا، فأتاني في بعض الليل، فقال: إنك سألتني أن أكف عن أبان، وإنه لا يحل الكف عنه، فإنه يكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم (4).
حدثنا محمد بن عبد الله الهجري بالأبلة، قال: حدثنا عبد الله بن جنيق، قال: قال سفيان الثوري: من هم أن يكذب في الحديث سقط حديثه.
حدثنا محمد بن إسحاق الثقفي، قال: حدثنا أبو قدامة، قال: سمعت ابن مهدي يقول: مررت مع سفيان الثوري برجل، فقال: كذاب، والله لولا أنه لا يحل لي أن أسكت لسكت.
--------------------------------------------
জনৈক ব্যক্তি আমার কাছে এসে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন; এমতাবস্থায় তাঁরা (মুহাদ্দিসগণ) ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে আমি যেন বলি: সে নির্ভরযোগ্য (ثبت) নয় এবং আমি যেন তার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করি (১)।
মুহাম্মদ ইবনুল মুনজির ইবনে সাঈদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যুরআহ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুসহিরকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি যে ভুল (يغلط) করে, বিভ্রান্তি (يهم) প্রকাশ করে এবং শব্দের বিকৃতি (يصحف) ঘটায়। তখন তিনি বললেন: তার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করো। আমি আবু মুসহিরকে বললাম: আপনি কি একে গীবত (পরনিন্দা) মনে করেন? তিনি বললেন: না (২)।
হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুয়াজ ইবনে শু’বাহকে বলতে শুনেছি: আবু দাউদ বলেছেন: আব্বাদ ইবনে সুহাইব শু’বাহর কাছে এসে বললেন: আপনার কাছে আমার একটি প্রয়োজন ছিল। তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আপনি আবান ইবনে আবি আইয়াশ (এর সমালোচনা) থেকে বিরত থাকুন। তখন শু’বাহ বললেন: আমাকে তিন দিনের অবকাশ দাও। তিন দিন পর তিনি তার কাছে এলে তিনি বললেন: হে আব্বাদ! তুমি যা বলেছিলে আমি সে বিষয়ে চিন্তা করেছি এবং আমি দেখলাম যে, তার ব্যাপারে নীরব থাকা বৈধ (يحل) নয় (৩)।
মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান [আল-ফিকহ] আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনুল ফারাজ সুলায়মান ইবনে হারব থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে জায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবান ইবনে আবি আইয়াশ আমার কাছে এসে বললেন: আমি চাই আপনি শু’বাহর সাথে কথা বলুন যেন তিনি আমার (সমালোচনা) থেকে বিরত থাকেন। হাম্মাদ বলেন: আমি তাঁর সাথে কথা বললাম এবং তিনি কয়েক দিন বিরত থাকলেন। এরপর এক রাতে তিনি আমার কাছে এসে বললেন: তুমি আমাকে আবানের ব্যাপারে বিরত থাকতে বলেছিলে, কিন্তু তার থেকে বিরত থাকা বৈধ (يحل) নয়; কারণ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা (يكذب) বলে (৪)।
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাজরি উবুল্লায় আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে জুনাইক আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান সাওরী বলেছেন: যে ব্যক্তি হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা (يكذب) বলার ইচ্ছা পোষণ করে, তার হাদিস পরিত্যক্ত (سقط) হয়।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কুদামাহ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি: আমি সুফিয়ান সাওরীর সাথে এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন: সে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), আল্লাহর কসম! যদি তার ব্যাপারে চুপ থাকা আমার জন্য বৈধ (يحل) না হতো, তবে আমি অবশ্যই চুপ থাকতাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
حدثني محمد بن المنذر، قال: حدثنا محمد بن عبد الله بن سليمان، عن أبي الحارث الزبيري [الزبيدي]، قال: سمعت الثوري يقول: ما سترت على أحد يكذب في حديثه (1).
قال أبو حاتم: فهؤلاء أئمة المسلمين وأهل الورع في الدين أباحوا القدح في المحدثين وبينوا الضعفاء والمتروكين، وأخبروا أن السكوت عنه ليس مما يحل، وأن إبداءه أفضل من الإغضاء عنه، وقد تقدمهم فيه أئمة قبلهم ذكروا بعضهم، وحثوا على أخذ العلم من أهله.
حدثنا الحسين بن إسحاق الأصبهاني بالكرج، قال: حدثنا حميد بن الربيع الخزاز، قال: حدثنا محمد بن زياد، عن ميمون بن مهران، عن ابن عباس، قال: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم (2).
حدثنا الحسن بن سفيان، قال: حدثنا عبد الله بن محمد بن أسماء، قال: حدثنا مهدي بن ميمون، عن ابن سيرين، قال: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون (3).
حدثنا محمد بن سعيد القزاز، قال: حدثنا الحسن بن عبد الرحمن المصري، قال: حدثنا ابن بكير، قال: حدثنا مالك، عن زيد بن أسلم، قال: إن هذا العلم دين، فانظروا ممن تأخذون دينكم.
حدثنا الحسين بن إسحاق الأصبهاني، قال: حدثنا عقيل بن يحيى الطهراني، قال: حدثنا أصرم بن حوشب، عن الواقع بن سويد، عن أبي هريرة، قال: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم.
--------------------------------------------
মুহম্মদ ইবনে মুনজির আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-হারিস আল-জুবাইরি [আল-জুবাইদি] থেকে, তিনি বলেন: আমি আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি: "আমি এমন কাউকেই গোপন রাখিনি যে তার হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলে (يكذب)" (১)।
আবু হাতিম বলেন: এঁরা হলেন মুসলিমদের ইমাম এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে পরহেজগার ব্যক্তিবর্গ। তাঁরা হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (قدح) করা বৈধ করেছেন এবং দুর্বল (ضعيف) ও পরিত্যক্ত (متروك) বর্ণনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে নীরব থাকা বৈধ নয় এবং তা প্রকাশ করা উপেক্ষা করার চেয়ে উত্তম। তাঁদের পূর্বেও অগ্রগামী ইমামগণ এ বিষয়ে কথা বলেছেন, তাঁদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন এবং উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট থেকে ইলম অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
আল-হুসাইন ইবনে ইসহাক আল-আসবাহানি কারাজ নামক স্থানে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমায়দ ইবনে আর-রাবি আল-খাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহম্মদ ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো" (২)।
আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ ইবনে আসমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহদী ইবনে মায়মুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার নিকট থেকে তা গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো" (৩)।
মুহম্মদ ইবনে সাঈদ আল-কাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়দ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো।"
আল-হুসাইন ইবনে ইসহাক আল-আসবাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আকিল ইবনে ইয়াহইয়া আত-তিহরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসরাম ইবনে হাওশাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি ইবনে সুওয়াইদ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য করো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
حدثنا محمد بن عبدان بن هارون الأزرق بواسط، قال: حدثنا محمد بن عبد الملك الدقيقي، قال: حدثنا محمد بن إسماعيل السكري، الكوفي، قال: حدثنا حماد بن زيد، قال: دخلنا على أنس بن سيرين في مرضه، فقال: اتقوا الله يا معشر الشباب، وانظروا ممن تأخذون هذه الأحاديث، فإنها دينكم.
حدثنا الضحاك بن هارون بجنديسابور، قال: حدثنا محمد بن أحمد بن زيد المذاري. قال: حدثنا الأنصاري، عن الأشعث، عن الحسن، قال: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذونه.
حدثنا الحسن بن محمد بن مصعب، قال: حدثنا سليمان بن معبد، عن يونس بن محمد، قال: قال أبو المهلب المغيرة بن محمد، قال: حدثنا الضحاك بن مزاحم، قال: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذونه (1).
حدثنا محمد بن عبد الله بن المهدي بإسفرايين، قال: حدثنا أحمد بن عبد الله الحداد، قال: حدثنا داود بن سليمان القصار، قال: حدثنا سويد بن عبد العزيز، عن مغيرة، عن إبراهيم، قال: إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذونه.
حدثنا محمد بن المنذر، قال: حدثنا ربيعة بن الحارث قاضي حمص، قال: حدثنا محمد بن زياد الحمصي، قال: حدثنا هشيم، عن مغيرة، عن إبراهيم، قال: إن هذه الأحاديث دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم.
قال مغيرة: كنا إذا أتينا الرجل لنأخذ عنه نظرنا إلى سمته وإلى صلاته، ثم أخذنا عنه.
حدثنا عبد الملك بن محمد، قال: حدثنا أحمد بن علي الأبار، قال: حدثنا أبو غسان زنيج الرازي، قال: قال بهز: دين الله أحق من طُلِبَ له العدول.
--------------------------------------------
ওয়াসিত নামক স্থানে মুহাম্মদ বিন আবদান বিন হারুন আল-আজরাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আদ-দাকিকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুফার অধিবাসী মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সুক্কারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন যায়েদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আনাস বিন সিরিনের অসুস্থতার সময় তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন তিনি বললেন: "হে যুবসমাজ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং লক্ষ্য করো এই হাদিসগুলো তোমরা কার কাছ থেকে গ্রহণ করছ, কেননা এগুলোই তোমাদের দ্বীন।"
জুন্দিসাপুর নামক স্থানে দাহহাক বিন হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন যায়েদ আল-মাযারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আনসারি আশআস থেকে এবং তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম (জ্ঞান) দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা ভেবে দেখো।"
হাসান বিন মুহাম্মদ বিন মুসআব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান বিন মাবাদ ইউনুস বিন মুহাম্মদ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-মুহাল্লাব আল-মুগিরা বিন মুহাম্মদ বলেছেন, তিনি বলেন: দাহহাক বিন মুযাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তা গ্রহণ করছ তা ভেবে দেখো (১)।"
ইসফারায়িন নামক স্থানে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ বিন সুলায়মান আল-কাসসার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুওয়াইদ বিন আব্দুল আজিজ মুগিরা থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তা গ্রহণ করছ তা ভেবে দেখো।"
মুহাম্মদ বিন আল-মুনযির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিমসের বিচারক রাবিয়া বিন আল-হারিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-হিমসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম মুগিরা থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই হাদিসগুলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা ভেবে দেখো।"
মুগিরা বলেন: আমরা যখন কোনো ব্যক্তির নিকট (হাদিস) গ্রহণের জন্য আসতাম, তখন আমরা তার বাহ্যিক আচরণ ও তার নামাজের প্রতি লক্ষ্য করতাম, তারপর তার থেকে হাদিস গ্রহণ করতাম।
আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আলী আল-আব্বারা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু গাসসান যুনাইয আল-রাযি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাহ্য বলেছেন: "আল্লাহর দ্বীনই সবচেয়ে বেশি হকদার যে, তার জন্য ন্যায়পরায়ণ (العدول) ব্যক্তিদের অন্বেষণ করা হবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
سمعت إبراهيم بن نصر العنبري، يقول: سمعت علي بن خشرم، يقول: سمعت ابن إدريس يقول: لا يسمع الحديث ممن يشرب المسكر لا ولا كرامة.
حدثنا ابن قتيبة بعسقلان، قال: حدثنا محمد بن المتوكل بن أبي السري، قال: حدثنا يحيى بن سليم، قال: حدثنا عبيد الله بن عمر، قال: قال ابن سيرين: إن الرجل ليحدثني بالحديث فما أتهمه، ولكن أتهم من حدثه، وإن الرجل ليحدثني بالحديث فما أتهم من حدثه، ولكن أتهمه هو.
حدثنا أبو المعافي أحمد بن محمد بن إبراهيم الأنصاري بِخُبَيل، قال: حدثنا يوسف بن بحر الجبلي، قال: سمعت سَلْم بن ميمون الخواص، يقول: كنت آتي الرجل أريد أن أسمع منه، فأسأل: من أين خبره؟ فإن كان خبره من جهته سمعت منه، وإلا لم أسمع منه.
سمعت إبراهيم بن نصر العنبري، قال: سمعت محمد بن بحير الهمداني، يقول: سمعت إبراهيم بن الأشعث يقول: سمعت أبا أسامة، يقول: قد يكون الرجل كثير الصلاة، كثير الصوم، ورعًا، جائز الشهادة في الحديث لا يسوى ذِه، ورفع شيئًا ورمي به.
قال إبراهيم بن الأشعث: إذا وجدتم رجلًا معروفًا بشدة الطلب ومجالسة الرجال فاكتبوا عنه.
سمعت يعقوب بن يوسف بن عاصم ببخارى، يقول: سمعت أبا قلابة الرقاشي، يقول: سمعت أبا صفوان القديدي، يقول: قال شعبة بن الحجاج: الأشراف لا يكذبون.
حدثنا عبد الملك بن محمد، قال: حدثنا أحمد بن علي الأبار، قال: حدثنا الوليد بن شجاع، قال: حدثنا الأشجعي، قال: سمعت سفيان يقول: لو هَمَّ الرجل أن يكذب في الحديث وهو في جوف بيت لأظهر الله عليه.
قال أبو حاتم: ما كلف الله عباده أخذ الدين عمن ليس بثقة، ولا أمرهم بالانقياد للحجاج بمن ليس بعدل مرضي.
আমি ইব্রাহিম ইবনে নাসর আল-আনবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে খাশরামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে ইদ্রিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করে তার কাছ থেকে হাদিস শোনা যাবে না; তার কোনো সম্মান বা মর্যাদা নেই।
আসকালানে ইবনে কুতায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আল-মুতাওয়াক্কিল ইবনে আবি আস-সারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে সিরীন বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যখন আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করে তখন আমি তাকে সন্দেহ করি না, বরং যে তাকে হাদিসটি বর্ণনা করেছে তাকেই সন্দেহ করি। আবার কোনো ব্যক্তি যখন আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করে তখন আমি তার বর্ণনাকারীকে সন্দেহ করি না, বরং তাকেই সন্দেহ করি।
খুবায়লে আবু আল-মা'আফি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে বাহর আল-জাবালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালম ইবনে মাইমুন আল-খাওওয়াসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি কোনো ব্যক্তির কাছে হাদিস শোনার উদ্দেশ্যে যেতাম এবং জিজ্ঞাসা করতাম: তার সংবাদের উৎস কী? যদি তার সংবাদের উৎস তার নিজের পক্ষ থেকেই (নির্ভরযোগ্য) হতো তবে আমি তার থেকে হাদিস গ্রহণ করতাম, অন্যথায় আমি তার থেকে হাদিস শুনতাম না।
আমি ইব্রাহিম ইবনে নাসর আল-আনবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে বুহাইর আল-হামদানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে আল-আশআাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু উসামাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি প্রচুর সালাত আদায়কারী, প্রচুর সিয়াম পালনকারী এবং পরহেযগার (ورعًا) হতে পারে এবং সাধারণ সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (جائز الشهادة) হতে পারে, কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে সে এইটুকুও যোগ্য নয়—অতঃপর তিনি একটি বস্তু উপরে তুললেন এবং তা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন।
ইব্রাহিম ইবনে আল-আশআাস বলেছেন: তোমরা যখন এমন কোনো ব্যক্তিকে পাবে যে হাদিস অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাহচর্যের জন্য সুপরিচিত, তবে তার থেকে হাদিস লিখে নাও।
বুখারায় ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ ইবনে আসিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু কিলাবা আর-রাকাশিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু সাফওয়ান আল-কাদিদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: শু'বা ইবনে আল-হাজ্জাজ বলেছেন: সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা মিথ্যা কথা বলে না।
আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে আলী আল-আব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনে শুজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আশজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি ঘরের অভ্যন্তরে থেকেও হাদিসে মিথ্যা বলার সংকল্প করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তা প্রকাশ করে দেবেন।
আবু হাতিম বলেছেন: আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের এমন কারো কাছ থেকে দ্বীন গ্রহণের দায়িত্ব দেননি যে নির্ভরযোগ্য (ثقة) নয়, আর না তাদের এমন কারো প্রমাণের প্রতি অনুগত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যে ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও সন্তোষজনক (مرضي) নয়।
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في نفي جواز أخذ العلم عمن لا يجوز شهادته خبر غير محفوظ.
حدثنا به الحسن بن سفيان، قال: حدثنا محمد بن بكار بن الريان، قال: حدثنا حفص بن عمر قاضي حلب، عن صالح بن حسان، عن محمد بن كعب، عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا تَأخُذُوا العِلْمَ إِلا مِمن تُجِيزُونَ شَهَادَتَهُ" (1).
قال أبو حاتم: هذا خبر باطل رفعه، وإنما هو قول ابن عباس، فرفعه حفص بن عمر هذا، ولسنا بخير أن نحتج بخبر لا يصح من جهة النقل في شيء من كتبنا، ولأن فيما يصح من الأخبار بحمد الله ومنه كاف يغني عنا عن الاحتجاج في الدين بما لا يصح منها، ولو لم يكن الإسناد وطلب هذه الطائفة له لظهر في هذه الأمة من تبديل الدين ما ظهر في سائر الأمم، وذاك أنه لم تكن أمة لنبي قط حفظت عليه الدين عن التبديل ما حفظت هذه الأمة، حتى لا يتهيأ أن يزداد في سنة من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم ألف ولا واو، كما لا يتهيأ زيادة مثله في القرآن، لحفظ هذه الطائفة السنن على المسلمين وكثرة عنايتهم بأمر الدين، ولولاهم لقال من شاء ما شاء.
حدثنا محمد بن عبد الرحمن، قال: حدثنا الحسين بن الفرج، قال: حدثنا عبدان بن عثمان، قال: سمعت ابن المبارك يقول: الإسناد من الدين، لولا الإسناد لقال من شاء ما شاء، فإذا قيل: عمن بَقِيَ (2).
حدثني محمد بن المنذر، قال: حدثنا أبو الحسين الأصبهاني، قال: حدثنا قتيبة بن سعيد، قال: سمعت أبا سعيد الحداد، يقول: الحديث درج، والرأي مرج، فإذا كنت في المرج فاذهب كيف شئت، وإذا كنت في درج فانظر أن لا تزلق فيندق عنقك.
حدثنا محمد بن سعيد القزاز، قال: حدثنا أبو رفاعة العدوي، قال:
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যার সাক্ষ্য গ্রহণ বৈধ নয়, তার থেকে জ্ঞান আহরণ করাও বৈধ নয়—এই মর্মে বর্ণিত সংবাদ (خبر) টি অসংরক্ষিত (غير محفوظ)।
আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার ইবনে আল-রাইয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হালাবের বিচারক হাফস ইবনে উমর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি সালেহ ইবনে হাসান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কেবল তাদের থেকেই জ্ঞান গ্রহণ করো, যাদের সাক্ষ্য তোমরা গ্রহণ করো।" (১)
আবু হাতিম বলেন: সংবাদটি (خبر) মারফু (رفعه) হিসেবে গণ্য করা বাতিল (باطل); বরং এটি মূলত ইবনে আব্বাসের উক্তি। এই হাফস ইবনে উমর একে মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের কোনো কিতাবে এমন কোনো সংবাদ (خبر) দ্বারা দলিল পেশ করা সমীচীন নয়, যা বর্ণনার দিক থেকে সহিহ নয় (لا يصح)। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে সহিহ (يصح) হাদিসসমূহের মাঝে এমন পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে, যা আমাদের সেই সকল বিষয় থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয় যেগুলোর দলিল গ্রহণযোগ্য নয়। যদি এই সনদ (الإسناد) এবং এই জামাআতের (মুহাদ্দিসগণের) একে তালাশ করার ব্যাপারটি না থাকত, তবে এই উম্মতের মাঝেও দ্বীন পরিবর্তনের সেরূপ প্রকাশ ঘটত যেরূপ অন্যান্য উম্মতের মাঝে ঘটেছিল। কারণ, কোনো নবীর উম্মতই তাদের দ্বীনকে বিকৃতি থেকে সেভাবে রক্ষা করতে পারেনি যেভাবে এই উম্মত করেছে। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সুন্নাহতে একটি আলিফ বা একটি ওয়াও বৃদ্ধি করারও কারো সুযোগ নেই, যেমনটি কুরআনের ক্ষেত্রেও সম্ভব নয়। এটি সম্ভব হয়েছে মুসলমানদের জন্য এই জামাআত কর্তৃক সুন্নাহ সংরক্ষণ এবং দ্বীনের ব্যাপারে তাদের গভীর মনোনিবেশের কারণে। তারা না থাকলে যে কেউ যা খুশি তা-ই বলত।
মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে আল-ফারাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদান ইবনে উসমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আল-মুবারককে বলতে শুনেছি: সনদ (الإسناد) দ্বীনের অংশ, যদি সনদ (الإسناد) না থাকত তবে যে কেউ যা খুশি তা-ই বলত। কিন্তু যখন জিজ্ঞাসা করা হয়: 'কার থেকে বর্ণিত?' তখন সে নিরুত্তর হয়ে যায়। (২)
মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনজির আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন আল-আসবেহানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-হাদ্দাদকে বলতে শুনেছি: হাদিস হলো সিড়ি (উঁচু পথ), আর ব্যক্তিগত রায় হলো চারণভূমি। যখন তুমি চারণভূমিতে থাকো তখন যেভাবে ইচ্ছা চলো, কিন্তু যখন তুমি সিড়িতে থাকো তখন লক্ষ্য রেখো যেন পা পিছলে না যায়, নতুবা তোমার ঘাড় মটকে যাবে।
মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-কাযযায আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু রিফায়া আল-আদাউয়ি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
حدثنا يوسف بن سلمان، قال: حدثنا سفيان، قال: قال الزهري لأبي بكر الهذلي: إني أراك يعجبك الحديث، فقال: أجل، قال: أما إنه لا يعجب إلا ذكور الرجال.
حدثنا محمد بن أحمد بن أبي عون، قال: حدثنا أحمد بن الحسن الترمذي، قال: حدثنا عمرو بن عاصم، قال: حدثنا بكر بن سلام، عن أبي بكر الهذلي، قال: قال لي الزهري: يا هذلي أيعجبك الحديث؟ قال: قلت: نعم، قال: أما إنه يعجبه ذكور الرجال، ويكرهه مؤنثوهم.
حدثنا محمد بن المسيب بن إسحاق، قال: حدثنا عبد الله بن سعيد الكندي، قال: حدثنا ابن إدريس، قال: ربما حدث الأعمش بالحديث ثم يقول: بقي رأس المال حدثني فلان، قال: حدثنا فلان عن فلان.
حدثنا محمد بن عبد الرحمن، قال: حدثنا الحسين بن الفرج، عن عبد الصمد بن حسان، قال: سمعت الثوري يقول: الإسناد سلاح المؤمن، إذالم يكن معه سلاح فبأي شيء يقاتل؟
حدثنا مكحول، قال: حدثنا النضر بن سلمة، قال: حدثنا مؤمل بن إسماعيل، قال: سمعت شعبة يقول: كل حديث ليس فيه حدثنا وحدثنا فهو مثل الرجل بالفلاة معه البعير ليس له خطام.
حدثنا الحسن بن سفيان، قال: سمعت صالح بن حاتم بن وردان، يقول: سمعت يزيد بن زريع، يقول: لكل شيء فرسان، ولهذا العلم فرسان.
قال أبو حاتم: فرسان هذا العلم الذين حفظوا على المسلمين الدين، وهدوهم إلى الصراط المستقيم، الذين آثروا قطع الفاوز والقفار على التنعم في الدمن والأوطار في طلب السنن في الأمصار، وجمعها بالرحل والأسفار والدوران في جميع الأقطار، حتى إن أحدهم ليرحل في الحديث الواحد الفراسخ البعيدة وفي الكلمة الواحدة الأيام الكثيرة، لئلا يُدْخل فصل في السنن شيئًا يضل به، وإن فعل فهم الذابون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك الكذب، والقائمون نصرة الدين.
ইউসুফ ইবনে সালমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম জুহরি আবু বকর আল-হুজালিকে বললেন: আমি দেখছি তুমি হাদিস পছন্দ করো। তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: জেনে রাখো, পুরুষোচিত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ একে পছন্দ করে না।
মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি আউন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাসান আল-তিরমিজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বকর ইবনে সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-হুজালি থেকে, তিনি বলেন: ইমাম জুহরি আমাকে বললেন: হে হুজালি, তুমি কি হাদিস পছন্দ করো? তিনি বললেন: আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: জেনে রাখো, পুরুষোচিত ব্যক্তিরা একে পছন্দ করে, আর নারীসুলভ ব্যক্তিরা একে অপছন্দ করে।
মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসায়্যিব ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ইদ্রিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: অনেক সময় ইমাম আমাশ হাদিস বর্ণনা করতেন, অতঃপর বলতেন: আসল পুঁজি তো রয়েই গেছে; অমুক আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: অমুক আমাদের নিকট অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনুল ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ ইবনে হাসসান থেকে, তিনি বলেন: আমি ইমাম সাওরিকে বলতে শুনেছি: সনদ বা সূত্র (الإسناد) হলো মুমিনের হাতিয়ার। যদি তার সাথে হাতিয়ার না থাকে, তবে সে কী দিয়ে যুদ্ধ করবে?
মাকহুল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আন-নাদর ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআম্মাল ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শু'বাহকে বলতে শুনেছি: যে হাদিসে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) কথাটি নেই, সেটি মরুভূমিতে এমন একজন ব্যক্তির মতো যার উট তো আছে কিন্তু তার কোনো লাগাম নেই।
হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালিহ ইবনে হাতিম ইবনে ওয়ারদানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াজিদ ইবনে জুরাই'কে বলতে শুনেছি: প্রতিটি বিষয়েরই কিছু অশ্বারোহী বীর থাকে, আর এই ইলমেরও (হাদিস শাস্ত্রের) কিছু অশ্বারোহী বীর রয়েছে।
আবু হাতিম বলেন: এই ইলমের অশ্বারোহী বীর তারাই যারা মুসলিমদের জন্য দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দিয়েছেন। তারা সেই সব ব্যক্তিবর্গ যারা বিভিন্ন জনপদে বিলাসিতা ও বৈষয়িক কামনাবাসনায় নিমগ্ন হওয়ার চেয়ে বিভিন্ন শহরে সুন্নাহ অন্বেষণে এবং সফর ও ভ্রমণের মাধ্যমে তা সংগ্রহে দুর্গম প্রান্তর ও মরুভূমি পাড়ি দেওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ একটি মাত্র হাদিসের জন্য বহু পথ পাড়ি দিতেন এবং একটি মাত্র শব্দের জন্য দীর্ঘ দিন সফর করতেন, যাতে সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু অনুপ্রবেশ না ঘটে যার মাধ্যমে মানুষ পথভ্রষ্ট হতে পারে। আর যদি কেউ তা করার অপচেষ্টা করে, তবে তারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরোপিত সেই মিথ্যাকে প্রতিহত করেন এবং দ্বীনের বিজয়ে সচেষ্ট থাকেন।
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وإن من التفتيش والبحث عن هذا الشأن ما:
حدثنا عبد الله بن قحطبة بِفَمِ الصلح، قال: حدثنا أحمد بن زكريا الواسطي، قال: سمعت أبا الحارث الوراق (1)، يقول: جلسنا على باب شعبة نتذاكر السند، فقلت: حدثنا إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن عبد الله بن عطاء، عن عقبة بن عامر، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ دَخَلَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَ" فخرج شعبة بن الحجاج وأنا أحدث بهذا الحديث فصفعني، ثم قال: يا مجنون سمعتُ أبا إسحاق يحدث، عن عبد الله بن عطاء، عن عقبة بن عامر، فقلتُ: يا أبا إسحاق سمعت عبد الله بن عطاء يحدث عن عقبة بن عامر؟ [قال: ] سمعت عبد الله بن عطاء، قلت: عبد الله سمع عقبة بن عامر، فقال: اسكت، فقلت: لا أسكت، فالتفت إليَّ مسعر بن كدام، فقال: يا شعبة عبد الله بن عطاء حي بمكة، فخرجت إلى مكة، فلقيت عبد الله بن عطاء، فقلت: حديثَ الوضوء، فقال: عقبة بن عامر، قلت: يرحمك الله سمعته منه؟ قال: لا، حدثني سعد بن إبراهيم، فمضيت فلقيت سعد بن إبراهيم، فقلت: حديثَ الوضوء، فقال: من عندكم خرج، حدثني زياد بن مخراق، فانحدرت إلى البصرة، فلقيت زياد بن مخراق وأنا شحب اللون وسخ الثياب كثير الشعر، فقال: من أين؟ فحدثته الحديث، فقال: ليس هو من حاجتك، قلت: فما بد، قال: حتى تذهب تدخل الحمام وتغسل ثيابك، ثم تجيء فأحدثك به، قال: فدخلت الحمام وغسلت ثيابي، ثم أتيت فقال: حدثني شهر بن حوشب، قلت: شهر بن حوشب عمن؟ قال؟ عن أبي ريحانة، قلت: هذا حديث صعد، ثم نزل، دمروا عليه، ليس له أصل.
حدثنا إسحاق بن أحمد القطان بتستر [بتنيس]، قال: حدثنا محمد بن سعيد بن غالب، قال: حدثنا نصر بن حماد، قال: كنا بباب شعبة ومعي جماعة وأنا أقول لهم: حدثنا إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن عبد الله بن عطاء، عن عقبة بن عامر في الوضوء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فلطمني شعبة
--------------------------------------------
হাদিস যাচাই-বাছাই এবং এ বিষয়ে অনুসন্ধানের একটি দিক হলো এটি:
আব্দুল্লাহ ইবনে কাহতাবা বিফামিল সুলহ্ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে জাকারিয়া আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল হারিস আল-ওয়াররাককে (১) বলতে শুনেছি: আমরা শু'বার দরজায় বসে সূত্র (سند) নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তখন আমি বললাম: ইসরাইল আবু ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আতা থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করবে, সে জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।" তখন শু'বা ইবনে হাজ্জাজ বের হয়ে আসলেন এবং আমি যখন এই হাদিসটি বর্ণনা করছিলাম তখন তিনি আমাকে একটি চড় মারলেন। অতঃপর তিনি বললেন: ওহে পাগল! আমি আবু ইসহাককে আব্দুল্লাহ ইবনে আতা থেকে এবং তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। আমি আবু ইসহাককে জিজ্ঞেস করেছিলাম: আপনি কি আব্দুল্লাহ ইবনে আতাকে উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন? [তিনি বললেন:] আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আতাকে (বর্ণনা করতে) শুনেছি। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম: আব্দুল্লাহ কি উকবা ইবনে আমির থেকে শুনেছেন? তখন তিনি বললেন: চুপ থাকো। আমি বললাম: আমি চুপ থাকব না। তখন মিস'আর ইবনে কিদাম আমার দিকে ফিরে বললেন: হে শু'বা! আব্দুল্লাহ ইবনে আতা মক্কায় জীবিত আছেন। তখন আমি মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আতার সাথে সাক্ষাৎ করে অজুর হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি উকবা ইবনে আমিরের কথা উল্লেখ করলেন। আমি বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কি তাঁর থেকে এটি শুনেছেন? তিনি বললেন: না, আমার নিকট সাদ ইবনে ইব্রাহিম এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আমি সাদ ইবনে ইব্রাহিমের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে অজুর হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এটি তো তোমাদের ওখান থেকেই এসেছে; আমার নিকট জিয়াদ ইবনে মিখরাক এটি বর্ণনা করেছেন। তখন আমি বসরার দিকে রওনা হলাম এবং জিয়াদ ইবনে মিখরাকের সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করলাম যখন আমার গায়ের রং বিবর্ণ, কাপড় ময়লা এবং চুল এলোমেলো ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কোথা থেকে এসেছেন? আমি তাকে হাদিসটি শোনালাম। তিনি বললেন: এটি আপনার কোনো কাজে আসবে না। আমি বললাম: তবুও আমাকে জানতে হবে। তিনি বললেন: আপনি আগে হাম্মামে গিয়ে গোসল করুন এবং কাপড় ধুয়ে আসুন, তারপর আমি আপনার নিকট এটি বর্ণনা করব। তিনি বলেন: আমি হাম্মামে গেলাম এবং কাপড় ধুয়ে আসলাম। তখন তিনি বললেন: আমার নিকট শাহর ইবনে হাওশাব এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম: শাহর ইবনে হাওশাব কার থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আবু রায়হানা থেকে। আমি বললাম: এই হাদিসটি তো একবার উপরে উঠল, আবার নিচে নামল। এটিকে ধ্বংস করে দাও, এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।
ইসহাক ইবনে আহমাদ আল-কাত্তান তুসতারে [তিনিসে] আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে গালিব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাসর ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা একদল লোক শু'বার দরজায় ছিলাম এবং আমি তাদের বলছিলাম: ইসরাইল আবু ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আতা থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অজুর বিষয়ে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তখন শু'বা আমাকে একটি চড় মারলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মাজরুহীন লি ইবনি হিব্বান ত হামদী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
لطمة ودخل الدار ومعه عبد الله بن إدريس قال: ثم خرج بعد ذلك وأنا قاعد أبكي، فقال لعبد الله بن إدريس: بعد هو يبكي، فقال عبد الله: إنك لطمت الرجل، فقال: إنه لا يدري ما يحدث، إني سمعت أبا إسحاق يحدث بهذا الحديث عن عبد الله بن عطاء، فقال لأبي إسحاق: من عبد الله هذا؟ فغضب، فقال مسعر: إن عبد الله بن عطاء حي بمكة، قال: فخرجت من سنتي إلى الحج ما أريد إلا الحديث، فأتيت مكة فسألت عن عبد الله بن عطاء، فدخلت عليه، فإذا فتىً شاب، فقلت: أي شيء حدثني عنك أبو إسرائيل؟ فقال لي: نعم، قلت: لقيت عقبة؟ قال: لا، ولكن سعد بن إبراهيم حدثنيه، قال: فأتيت مالك بن أنس وهو حاج، فسألته عن سعد بن إبراهيم، فقال لي: ما حج العام، فلما قضيت نسكي مضيت إلى المدينة، فأتيت سعد بن إبراهيم، فسألته عن الحديث، فقال لي: هذا الحديث من عندكم خرج، فقلت له: كيف؟ قال: حدثني زياد بن مخراق، قلت: دَمِّر على هذا الحديث، مرة كوفي، ومرة مكي، ومرة مدني، قال: فقدمت البصرة، فأتيت زياد بن مخراق، فسألته عن الحديث، فقال: لا تُرِده، فقلت: ولِمَ؟ قال: لا ترده، فقلت: ليس منه بد، قال: حدثني شهر بن حوشب، قلت: دَمِّر على هذا الحديت، والله لو صح هذا الحديث كان أحب إلي من أهلي ومالي.
حدثنا محمد بن عبد الرحمن بن محمد، قال: حدثنا قطن بن إبراهيم، قال: حدثنا محمد بن جعفر المدائني، قال: حدثنا ورقاء بن عمر، قال: قلت لشعبة: ما لك تركت حديث فلان؟ قال: رأيته يُركض دابة فتركت حديثه.
قال أبو حاتم: فهذا كان دأب شعبة في تفتيش الأخبار والبحث عن سقيم الآثار، ولم يكن يعد السماع من الشيخ إلا بعد أن يسمعه مرارًا، وكذلك كان زائدة بن قدامة إذا سمع الحديث مرة لم يُجز عليه، فإذا سمعه أخرى لم يُجزه، فإذا سمعه ثالثة أجاز عليه، وقال: قد صح.
حدثنا محمد بن إسحاق الثقفي، قال: سمعت أبا قدامة يقول: قال
(শু'বা) একটি চড় মারলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিসের সাথে ঘরে প্রবেশ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি যখন বের হলেন, আমি তখনো বসে কাঁদছিলাম। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিসকে বললেন: সে কি এখনো কাঁদছে? আবদুল্লাহ বললেন: আপনি লোকটিকে চড় মেরেছেন। তিনি বললেন: সে জানে না সে কী বর্ণনা করছে। আমি আবু ইসহাককে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আতা থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করছেন। এরপর তিনি আবু ইসহাককে জিজ্ঞেস করলেন: এই আবদুল্লাহ কে? এতে তিনি রাগান্বিত হলেন। তখন মিসআর বললেন: আবদুল্লাহ ইবনে আতা মক্কায় জীবিত আছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি সেই বছরই হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম, আর এই হাদিসটি যাচাই করা ছাড়া আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমি মক্কায় পৌঁছে আবদুল্লাহ ইবনে আতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। আমি দেখলাম তিনি একজন যুবক। আমি বললাম: আবু ইসরাঈল আপনার সূত্রে আমার কাছে কী বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: আপনি কি উকবার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বললেন: না, বরং সাদ ইবনে ইব্রাহিম আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি মালিক ইবনে আনাস হজ্জ পালনরত অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম এবং সাদ ইবনে ইব্রাহিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তিনি এ বছর হজ্জ করেননি। যখন আমি হজ্জের কাজ সম্পন্ন করলাম, তখন মদিনায় গেলাম এবং সাদ ইবনে ইব্রাহিমের কাছে এসে হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এই হাদিসটি তো তোমাদের ওখান থেকেই (ইরাক থেকে) এসেছে। আমি তাঁকে বললাম: কীভাবে? তিনি বললেন: যিয়াদ বিন মিখরাক আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম: এই হাদিসটি তো ধ্বংস হয়ে গেল! কখনো কুফী, কখনো মক্কী, আবার কখনো মাদানি। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি বসরায় এলাম এবং যিয়াদ বিন মিখরাকের কাছে গিয়ে হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এটি বর্ণনা করো না। আমি বললাম: কেন? তিনি বললেন: এটি বর্ণনা করো না। আমি বললাম: এটি জানা ছাড়া উপায় নেই। তিনি বললেন: শাহর বিন হাওশাব আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম: এই হাদিসটি ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহর কসম! যদি এই হাদিসটি সহিহ (صح) হতো, তবে তা আমার পরিবার ও সম্পদের চেয়েও আমার কাছে প্রিয় হতো।
মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুতন ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-মাদায়িনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ারকা ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শু'বাকে বললাম: অমুক ব্যক্তির হাদিস বর্জন করার পেছনে আপনার কারণ কী? তিনি বললেন: আমি তাকে একটি পশুকে দ্রুত দৌড়াতে দেখেছি (মর্যাদাহানি), তাই আমি তার হাদিস বর্জন করেছি।
আবু হাতিম বলেন: সংবাদ যাচাই করা এবং ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) বর্ণনাগুলোর (آثار) অনুসন্ধানে শু'বার এমনই দৃঢ়তা ছিল। কোনো শায়খের নিকট থেকে শোনাকে (سماع) তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য মনে করতেন না যতক্ষণ না তা বারবার শুনে নিতেন। একইভাবে যাইদাহ ইবনে কুদামা যখন কোনো হাদিস একবার শুনতেন তখন তা গ্রহণ করতেন না, দ্বিতীয়বার শুনলেও তা গ্রহণ করতেন না, কিন্তু যখন তৃতীয়বার শুনতেন তখন তা গ্রহণ করতেন এবং বলতেন: এটি সহিহ (صح) হয়েছে।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু কুদামাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন