(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: -)
الرد على التعقيب الحثيث للشيخ عبد الله الحبشي   (ناصر الدين الألباني)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الرد على التعقيب الحثيث للشيخ عبد الله الحبشي

المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني

الناشر: مطبعة الترقي، دمشق - سوريا

عام النشر: 1377 هـ - 1958 م

عدد الصفحات: 66

أعده للشاملة: محمد المنصور m_almansour@yahoo.com

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 رمضان 1440

শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশীর ‘আত-তাকীব আল-হাছীছ’-এর প্রতিউত্তর   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী)

বিভাগ: দল-উপদল এবং খণ্ডনসমূহ


বই: শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশীর ‘আত-তাকীব আল-হাছীছ’-এর প্রতিউত্তর

লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী

প্রকাশক: মাতবাআতুত তারাক্কী, দামেস্ক - সিরিয়া

প্রকাশকাল: ১৩৭৭ হিজরি - ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: মুহাম্মদ আল-মানসুর m_almansour@yahoo.com

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রমজান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي مَنَّ علينا فهدانا للإسلام، ووفَّقَنا لاتباع سنة نبيه عليه الصلاة والسلام، والانتصار لها، والذبِّ عن حوضها، والرد على من خالفها أو حاد عنها. والصلاة والسلام على رسوله القائل: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين، تمسكوا بها" وعلى آله وصحبه ومن تبعهم على الأخذ بها وإيثارها على كل ما خالفها.

أما بعد: فهذه رسالة لطيفه، في الرد على رسالة فضيلة الشيخ عَبْدُ الله الحبشي التي سماها "التعقب الحثيث على من طعن فيما صح من الحديث" أو "تحقيق البيان في إثبات سبحة أهل الإيمان"! لَعَقَّبني فيها -بزعمه- في ثلاثة أحاديث كنتُ تكلمت عليها في بعض مقالاتي التي تنشر تباعا في "مجلة التمدن الاسلامي" الزاهرة، تحت عنوان "الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيء في الأمة"، حكمت فيها بوضع حَدِيث "نعم الذكر السُّبحة، وضعف سند حديثي صفية وسعد رضي الله عنهما في التسبيح بالحصى أو النوي، فادَّعى الشيخ أن الحديث الأول ضعيف ليس بموضوع، وأن الحديثين الآخرين صحيحان! وبني على ذلك مشروعية عَدّ الذكر بالسبحة وحملها، بل جَعَلَها من شِعار أهل الأيمان!

ولو أن فضيلته ذهب إِلَى ما ذهب إليه دون أن يتعرض للرد علينا بما يخالف علم الحديث واصطلاحاته التي قررها العلماء -لما سمحنا لأنفسنا بالرد عليه، لأن له الحق أن يرى ما يشاء ما دام أَنَّهُ يظنه مشروعًا، والرد على مثل هذه الآراء لا يمكن أن ينتهي! ولكن لمَّا كان الشيخ قد خرج في رده على تلك القواعد، وخالفها مخالفة بينة، بل ونسب إلينا ما لم نقله وَلَا ندين الله به، رأيت أَنَّهُ لا بد من الرد عليه، وبيان أخطائه حَتَّى لا يغتر بها من لا علم عنده، وينسب إلينا ما لم نقله.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং ইসলামের পথে পরিচালিত করেছেন, আর তাঁর নবীর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহর অনুসরণ করার, তাকে বিজয়ী করার, তার সীমানা রক্ষা করার এবং যারা এর বিরোধিতা করে বা এ থেকে বিচ্যুত হয় তাদের খণ্ডন করার তাওফিক দান করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের ওপর, যিনি বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো।" এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম এবং যারা এর বিপরীত সবকিছুর ওপর সুন্নাহ গ্রহণ ও অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের ওপর।

এরপর: এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যা শ্রদ্ধেয় শাইখ আবদুল্লাহ আল-হাবাশীর সেই রিসালাহর জবাবে রচিত, যার নাম তিনি দিয়েছেন "সহিহ হাদিসের ওপর যারা কটাক্ষ করে তাদের কঠোর অনুসরণ" অথবা "ঈমানদারদের তসবিহ ব্যবহারের প্রমাণের বর্ণনার সত্যতা নিরূপণ"! তিনি সেখানে—তাঁর দাবি অনুযায়ী—তিনটি হাদিসের বিষয়ে আমার সমালোচনা করেছেন, যে হাদিসগুলো নিয়ে আমি আমার কিছু প্রবন্ধে আলোচনা করেছিলাম। সেই প্রবন্ধগুলো ধারাবাহিকভাবে উজ্জ্বল "মাজাল্লাতুত তামাদ্দুনিল ইসলামি" (ইসলামি সভ্যতা বিষয়ক সাময়িকী)-তে "দুর্বল ও জাল হাদিস এবং উম্মাহর ওপর তার কুপ্রভাব" শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে আমি "তসবিহ কতই না উত্তম জিকির" হাদিসটিকে জাল বলে রায় দিয়েছিলাম এবং কঙ্কর বা বিচি দিয়ে তসবিহ পাঠ সংক্রান্ত সাফিয়্যাহ ও সাদ (রা.)-এর হাদিস দুটির বর্ণনাসূত্রকে দুর্বল বলেছিলাম। কিন্তু শাইখ দাবি করেছেন যে, প্রথম হাদিসটি কেবল দুর্বল, জাল নয়; আর অন্য দুটি হাদিস সহিহ! এর ওপর ভিত্তি করে তিনি তসবিহ দিয়ে জিকির গণনা ও তা বহন করার বৈধতা প্রমাণ করেছেন, এমনকি একে ঈমানদারদের প্রতীক হিসেবে গণ্য করেছেন!

যদি শ্রদ্ধেয় শাইখ ইলমে হাদিস ও ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক নির্ধারিত পরিভাষার পরিপন্থী কোনো জবাব না দিয়ে কেবল নিজের মত প্রকাশ করতেন, তবে আমি নিজেকে তার জবাব দিতে প্রবৃত্ত করতাম না। কারণ যতক্ষণ তিনি কোনো বিষয়কে বৈধ মনে করেন, ততক্ষণ তার নিজের মতামত রাখার অধিকার আছে, আর এই ধরণের মতামতের খণ্ডন কখনো শেষ হওয়ার নয়! কিন্তু যেহেতু শাইখ তার জবাবে ঐ সকল মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং সেগুলোর স্পষ্ট বিরোধিতা করেছেন, এমনকি আমাদের ওপর এমন বিষয়ের দায় চাপিয়েছেন যা আমরা বলিনি এবং আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তা বিশ্বাসও করি না; তাই আমি মনে করেছি যে, তার জবাব দেওয়া এবং তার ভুলগুলো স্পষ্ট করা জরুরি, যাতে যারা এ বিষয়ে জ্ঞান রাখে না তারা এর দ্বারা প্রতারিত না হয় এবং আমাদের নামে এমন কিছু না ছড়ায় যা আমরা বলিনি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ২)
وقد كنا نشرنا ردنا هذا في المجلة المذكورة في مقالات متسلسلة، ثم جمعناها في هذه الرسالة، ليسهل مراجعتها عند الحاجة، ويطلع عليها من شاء ممن لم يكن وقف عليها في المجلة، جزى الله القائمين عليها خيرًا.

وأملي أن يجد القراء الكرام فيها ردًا عادلًا، لا يداهن أحدًا، وَلَا يطعن في أحد ظلمًا، لأن القصد بيان الحق، وتيسير الطريق إليه، ليهتدي من شاء الله له الهدي، وأمَّا من أعرض وَأَبي، وعاند ونأي، فلا سبيل إِلَى إقناعه ولو جئته بكل دليل! .

وسيجد القراء فيها -إن شاء الله تعالي- نموذجًا بديعًا من الأسلوب العملي في تطبيق الفروع على الأصول، سواء ما كان منها في أصول الحديث أو الفقه، وبيانًا لمنهجنا في تضعيف الأحاديث، وتحقيقًا في بعض القواعد الحديثية التي غفل عنها كثير من المشتغلين بالسنة فضلًا عن غيرهم! وتذكيرًا ببعض القواعد الأصولية التي يجب استحضارها والأخذ بها لمن يريد أن يستحسن شيئًا مِمَّا لم يكن من قبل! .

وأوردنا فيها بعض الآثار في التحذير من الابتداع في الدين، ونبهنا على بعض البدع التي ابتلي بها من لا علم عنده بالسنة! وغير ذلك من الفوائد التي ستمر بالقارئ الكريم إن شاء الله تعالي.

أسأل الله تبارك وتعالى أن ينفع إخواني المسلمين بها، ويدَّخر لنا أجرها في العقبى.

والحمد لله وكفي، وسلامه على عباده الذين اصطفى.

دمشق: 22/ 11/ 1377

أبو عبد الرَّحمن

محمد ناصر الدين الألباني
আমরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত ম্যাগাজিনে ধারাবাহিক প্রবন্ধাকারে আমাদের এই খণ্ডনমূলক উত্তরটি প্রকাশ করেছিলাম, অতঃপর আমরা তা এই পুস্তিকায় সংকলন করেছি যাতে প্রয়োজনে তা পর্যালোচনা করা সহজ হয় এবং যারা ম্যাগাজিনে এটি পড়ার সুযোগ পাননি তারা যেন এটি দেখার সুযোগ পান। আল্লাহ এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমার প্রত্যাশা যে, সম্মানিত পাঠকগণ এতে একটি ইনসাফপূর্ণ উত্তর পাবেন, যা কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না এবং অন্যায়ভাবে কাউকে আক্রমণও করে না। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো সত্য প্রকাশ করা এবং সত্যের পথকে সুগম করা, যাতে আল্লাহ যার জন্য হিদায়াত চান সে সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি বিমুখ হলো, অস্বীকার করল, হঠকারিতা করল এবং সত্য থেকে দূরে সরে থাকল, তাকে তুষ্ট করার কোনো পথ নেই, এমনকি আপনি যদি তার নিকট সমস্ত দলিলও পেশ করেন!

পাঠকগণ এতে—ইনশাআল্লাহ তাআলা—মূলনীতির ওপর শাখা-প্রশাখার প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি চমৎকার প্রায়োগিক নমুনা পাবেন, চাই তা হাদিসের মূলনীতি সংক্রান্ত হোক কিংবা ফিকহ শাস্ত্রের। পাশাপাশি হাদিস দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের অনুসৃত পদ্ধতির বর্ণনা এবং হাদিস শাস্ত্রের এমন কিছু নিয়মনীতির বিশ্লেষণ এতে পাওয়া যাবে, যা সুন্নাহ নিয়ে চর্চাকারী অনেক ব্যক্তিই উপেক্ষা করেছেন, অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য! এছাড়া এমন কিছু মৌলিক মূলনীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যা তাদের জন্য সর্বদা স্মরণে রাখা ও গ্রহণ করা অপরিহার্য, যারা এমন কোনো বিষয়কে উত্তম মনে করতে চায় যা ইতঃপূর্বে ছিল না!

আমরা এতে দ্বীনের মধ্যে বিদআত বা নব-উদ্ভাবন সম্পর্কে সতর্কীকরণ বিষয়ক কিছু আসার (সালাফদের বর্ণনা) উদ্ধৃত করেছি এবং এমন কিছু বিদআতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যাতে সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা লিপ্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্মানিত পাঠক এতে ইনশাআল্লাহ তাআলা আরও অনেক জ্ঞানগর্ভ বিষয় পাবেন।

আমি বরকতময় ও সুমহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার মুসলিম ভাইদের এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং পরকালে আমাদের জন্য এর সওয়াব সঞ্চিত রাখেন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

দামেস্ক: ২২/ ১১/ ১৩৭৭

আবু আবদুর রহমান

মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: -)
الرد على التعقيب الحثيث للشيخ عبد الله الحبشي   (ناصر الدين الألباني)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الرد على التعقيب الحثيث للشيخ عبد الله الحبشي

المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني

الناشر: مطبعة الترقي، دمشق - سوريا

عام النشر: 1377 هـ - 1958 م

عدد الصفحات: 66

أعده للشاملة: محمد المنصور m_almansour@yahoo.com

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 رمضان 1440

শাইখ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশির 'আত-তাকীব আল-হাসিস'-এর খণ্ডন   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: শাইখ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশির 'আত-তাকীব আল-হাসিস'-এর খণ্ডন

লেখক: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি

প্রকাশক: মাতবাআতুত তারািক্কি, দামেস্ক - সিরিয়া

প্রকাশের বছর: ১৩৭৭ হিজরি - ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬

শামিলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ আল-মানসুর m_almansour@yahoo.com

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রমাদান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১)
الرد على

التعقيب الحثيث

للشيخ عبد الله الحبشي

وهو مجموع مقالات نشرت تباعًا في مجلة التمدن الإسلامي الغراء

بقلم

مُحَمَّد ناصر الدين الألباني

خادم السنة

1377 هـ - 1958 م
খণ্ডন

আত-তাকীবুল হাসিস-এর

শেখ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী বিরচিত

এটি একটি প্রবন্ধ সংকলন যা ধারাবাহিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ 'আত-তামাদ্দুন আল-ইসলামী' সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে

রচনায়

মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

সুন্নাহর খাদেম

১৩৭৭ হিজরী - ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌توطئة: عَرَفَتْ دمشقُ محدثَها الأكبَر العلامة الشيخ بدر الدين الحسيني، فلما توفاه الله خلت الديار من إمام تتجه الأنظار إليه في علوم الحديث، غير أن فتي أرناؤوطيًا - (نشأ نشأة علم وتقى، وكان له من اسمه نصيب هو الأستاذ محمد ناصر الدين) - عرف في أوساط الشباب بخدمته الحديث وعلومه، وجمع الشباب عليه، واشتهر بينهم، واستطاع بفصاحة لسانه العربي وطلاوة حديثه، وجودة مناقشته، أن يستأثر بنخبة تأخد عنه وتتلمذ عليه.

وإذ كان الحديث ثاني مصدر للفقه الإسلامي بعد كتاب الله، وكان يعتمد ما صح عند أهل الحديث مذهبًا لأهل الفقه، لذلك اشتهر بعض أنصار الشيخ ناصر بتركهم من الأحكام المذهبية ما عرفوا فيه حديثًا ثابتًا صحيحًا، وبعضهم كان يثير اللفظ، ومن هنا تألب على الأستاذ من تألب.

وأخيرًا نزل في دمشق الشيخ عبد الله بن محمد من آل شيبة (سدنة الكعبة) (وهو وليد الحبشة في هرر في ثالث بطن من مهاجرة أسرته)، وهو يحفظ من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم عشرة آلاف بروايتها، وله في فقه الشافعية حظ وافر، وكان مقدمه لدمشق لتتبع كتب الحديث وجمع قراءات القرآن ونحو هذا من خدمة الشريعة وعلومها.

ورأى فيه جماعة من أهل الدين والعلم خليفة للشيخ بدر الدين رحمه الله، فاستنصروا به على الشيخ محمد ناصر الدين، فجرت بينهما مباحثة في جو سبقت له الدعاية بين الطرفين بما جعل الشيخ عبد الله ينقطع عن المباحثة قبل الانتهاء إلى غاية الشوط، حتى إذا رأى الأستاذ الشيبي من بعدها بحوثًا تنشرها مجلتنا للشيخ محمد ناصر الدين في الأحاديث الضعيفة والموضوعة، فإنه تتبع منها ما خالفه به في حديث "السبحة"، وأرسل إلينا بذلك مقالة هممنا بنشرها، ثم ما لبث أن نشر رسالة بعنوان "التعقيب الحثيث على من طعن فيما صح من الحديث".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌উপক্রমণিকা: দামেস্ক তার সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা শায়খ বদরুদ্দিন আল-হুসাইনিকে চিনেছিল। যখন আল্লাহ তাঁর মৃত্যু ঘটালেন, তখন দেশ এমন একজন ইমাম থেকে শূন্য হয়ে পড়ল যাঁর দিকে হাদিস বিজ্ঞানে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল। তবে একজন আলবেনীয় যুবক—(যিনি জ্ঞান ও তাকওয়ার পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন এবং যাঁর নামের সার্থকতা তাঁর ব্যক্তিত্বে ফুটে উঠেছে, তিনি হলেন উস্তাদ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন)—তরুণ প্রজন্মের মাঝে হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের খেদমতের জন্য পরিচিতি লাভ করেন। তিনি যুবকদের নিজের চারপাশে সমবেত করেন এবং তাদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি তাঁর প্রাঞ্জল আরবি ভাষা, মনোমুগ্ধকর কথা বলার ভঙ্গি এবং উন্নত মানের যুক্তিতর্কের মাধ্যমে একটি বিশেষ শ্রেণির মন জয় করতে সক্ষম হন, যারা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিল।

যেহেতু হাদিস আল্লাহর কিতাবের পর ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের দ্বিতীয় উৎস, এবং হাদিস বিশারদদের নিকট যা সহিহ বা শুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয় তা ফকিহদের মাযহাব বা পথ হিসেবে গণ্য হতো, তাই শায়খ নাসিরের কিছু অনুসারী মাযহাবী বিধানগুলোর মধ্যে যেগুলোর বিপরীতে তারা সাব্যস্ত ও সহিহ হাদিস জানতে পারতেন, তা বর্জন করার জন্য পরিচিতি লাভ করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শব্দগত বিতর্কের অবতারণা করতেন, আর এখান থেকেই উস্তাদের বিরুদ্ধে একদল লোক জোটবদ্ধ হতে শুরু করে।

পরিশেষে দামেস্কে আগমন করেন বনু শায়বা (কাবার চাবিকাঠি রক্ষক) পরিবারের শায়খ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ (তাঁর পরিবার হিজরত করে হারারে চলে যাওয়ার পর তিনি সেখানে তৃতীয় প্রজন্মে ইথিওপিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন)। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দশ হাজার হাদিস রেওয়ায়েতসহ মুখস্থ রেখেছিলেন এবং শাফেয়ী ফিকহশাস্ত্রে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। তাঁর দামেস্কে আসার উদ্দেশ্য ছিল হাদিসের কিতাবসমূহ অনুসন্ধান করা, কোরআনের কিরাতসমূহ সংগ্রহ করা এবং অনুরূপভাবে শরিয়ত ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের খেদমত করা।

ধর্মপ্রাণ ও শিক্ষিত একদল লোক তাঁকে শায়খ বদরুদ্দিন (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য করেন। ফলে তাঁরা শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিনের বিপক্ষে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এরপর উভয়ের মধ্যে এমন এক পরিবেশে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে আগে থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিল, যার ফলে শায়খ আবদুল্লাহ তর্কের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই তা থেকে বিরত হন। এরপর যখন শায়বী উস্তাদ আমাদের পত্রিকায় জাল ও দুর্বল হাদিস সম্পর্কে শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিনের প্রকাশিত কিছু প্রবন্ধ দেখেন, তখন তিনি "তসবিহ" সংক্রান্ত হাদিসে তাঁর সাথে যে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন তা নিয়ে অনুসরণ করেন এবং আমাদের কাছে একটি নিবন্ধ পাঠান যা আমরা প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করি। এরপর তিনি অবিলম্বে "সহিহ হাদিসে আক্রমণকারীদের প্রতি দ্রুত প্রত্যুত্তর" শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ২)
وإذ كانت خطة المجلة أن تمهد الأسباب لنشر الحقيقة وتتجنب ما وسعها مجال الأخذ والرد بغير طائل، وكنا لمثل ذلك نجمع عادة بين وجهات النظر المختلفة بعرض حجة الفريقين المختلفَين معًا، لذلك فإننا عرضنا على الشيخ محمد ناصر الدين هذه الرسالة فأوجز ما أتى به الأستاذ الشيبي، وبين نقاط الاختلاف؛ وبسط خلال ذلك من قواعد "الجرح والتعديل" بمناقشة رصينة ما تتضاعف به فائدة القراء، وهذا ما سيراه القاريء الكريم، ورائدنا أن يحصحص الحق لطالبيه، والله من وراء القصد وهو يهدي السبيل.

* * *

قال الأستاذ الشيخ محمد ناصر الدين الألباني:

‌‌موضع الخلاف بيني وبين الشيخ: يدور الخلاف بيني وبين فضيلة الشيخ عبدالله في ثلاثة أحاديث:

الأول: (نعم المذكر السبحة).

الثاني: عن سعد بن أبي وقاص أنه دخل مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على امرأة وبين يديها نوى أو حصى تسبح به، فقال صلى الله عليه وسلم: (أخبرك بما هو أيسر عليك من هذا أو أفضل)؟ فقال: (سبحان الله عدد ما خلق في السماء … الحديث).

الثالث: عن صفية قالت: دخل علىّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين يدي أربعة آلاف نواة أسبح بهن … الحديث، نحو الذي قبله. .

فذهبت أنا في مقال نشرته هذه المجلة الكريمة في الجزأين (9 و 10 السنة 22) إلى أن الحديث الأول ضعيف السند موضوع المتن؛ وإلى أن الحديثين الآخرين إسنادهما ضعيف، وأنّ ذكر الحصى في الثاني منهما منكر لمخالفته لحديث جويرية الصحيح في مسلم الذي ليس فيه ذكر الحصى. (1)

أما حضرة الشيخ فإنه ذهب في رسالته الآنفة الذكر إلى أن الحديث الأول ضعيف فقط وأن الآخرين صحيحان؛ ولكي يتضح القاريء اللبيب الصواب من هذا الخلاف لابد من أن أذكر الأصول التي بنى الشيخ عليها تضعيفه وتصحيحه، ثم أعود فأجيب عنها بما ييسر الله سبحانه وتعالى.

--------------------------------------------

(1) تم طبع المقال مع المقالات الأخرى في الصحيفة (1/ 110/ 117).
যেহেতু সত্য প্রকাশের পথ প্রশস্ত করা এবং সাধ্যানুযায়ী নিরর্থক বাদানুবাদ এড়িয়ে চলাই এই সাময়িকীর পরিকল্পনা, আর এ লক্ষ্যে আমরা সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে একত্রিত করি, তাই আমরা শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানীর সামনে এই পত্রটি পেশ করেছিলাম। তিনি উস্তাদ আশ-শাইবীয়ের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন এবং মতপার্থক্যের স্থানগুলো স্পষ্ট করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি 'জরাহ ও তাদীল' (বর্ণনাকারী যাচাই পদ্ধতি) এর নীতিমালা অত্যন্ত সুসংহত আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যা পাঠকদের উপকারিতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সম্মানিত পাঠকগণ তাই দেখতে পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সত্যান্বেষীদের কাছে সত্যকে সুস্পষ্ট করা; আর লক্ষ্য পূরণে আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শনকারী।

* * *

উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী বলেন:

‌আমার ও শেখের মধ্যে মতপার্থক্যের ক্ষেত্র: আমার এবং মাননীয় শেখ আবদুল্লাহর মধ্যে মতপার্থক্য মূলত তিনটি হাদিসকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে:

প্রথম: (তসবীহ বা তসবীহ পাঠের দানা কতই না চমৎকার স্মারক)।

দ্বিতীয়: সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক মহিলার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন সেই মহিলার সামনে তসবীহ পাঠ করার জন্য কিছু খেজুরের আঁটি বা পাথর ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (আমি কি তোমাকে এর চেয়ে সহজ বা উত্তম কিছু সম্পর্কে অবহিত করব না?) এরপর তিনি বললেন: (সুবহানাল্লাহি আদাদা মা খালাকা ফিস সামায়ি … হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

তৃতীয়: সাফিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন আমার সামনে চার হাজার খেজুরের আঁটি ছিল যা দিয়ে আমি তসবীহ পাঠ করছিলাম … হাদিসের শেষ পর্যন্ত, যা পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ।

আমি এই সম্মানিত সাময়িকীর (২২তম বর্ষের ৯ ও ১০ম সংখ্যায়) প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে এই অভিমত ব্যক্ত করেছি যে, প্রথম হাদিসটির সনদ (বর্ণনাসূত্র) দুর্বল এবং মতন (মূল পাঠ) জাল; আর অন্য দুটি হাদিসের সনদও দুর্বল। এছাড়া দ্বিতীয় হাদিসে পাথরের উল্লেখটি 'মুনকার' (পরিত্যক্ত), কারণ এটি মুসলিমে বর্ণিত জুওয়াইরিয়া (রা.)-এর সহীহ হাদিসের পরিপন্থী যেখানে পাথরের কোনো উল্লেখ নেই। (১)

পক্ষান্তরে, মাননীয় শেখ তার উল্লিখিত পত্রে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, প্রথম হাদিসটি কেবল দুর্বল এবং অন্য দুটি হাদিস সহীহ। এই মতপার্থক্যের মধ্যে কোনটি সঠিক তা বিচক্ষণ পাঠকের কাছে স্পষ্ট করার জন্য শেখ তার দুর্বল সাব্যস্তকরণ ও সহীহ সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে যেসব মূলনীতির ওপর নির্ভর করেছেন তা উল্লেখ করা প্রয়োজন। এরপর আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার তৌফিক অনুযায়ী সেগুলোর উত্তর প্রদান করব।

--------------------------------------------

(১) এই প্রবন্ধটি পত্রিকার অন্যান্য প্রবন্ধের সাথে মুদ্রিত হয়েছে (১/ ১১০/ ১১৭)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الأصول التي بني عليها الشيخ تضعيف الحديث فقط: [لقد قرر فضيلة الشيخ (ص 5 - 9) فيما يتعلق بالحديث الأول أصولا:

أولًا: أنه لا يحكم على الحديث بالوضع بمجرد كون الراوي منكر الحديث أو مجهولًا، بل الأمران من أسباب الضعف الوسطي.

ثانيًا: ولا يحكم عليه بذلك بمجرد أن الراوي يكذب.

ثالثًا: يمنع العمل بالضعيف الشديد لضعف -سوى الموضوع- وهو الذي ينفرد به كذاب أو متهم بالكذب أو من فحش غلطه (ص 38).

رابعًا: ومن القرائن التي يدرك بها الموضوع ما يؤخذ من حال المروي، كأن يكون مناقضًا لنص القرآن والسنة المتواترة أو الإجماع القطعي أو صريح العقل حيث لا يقبل شيء من ذلك التأويل، كما نقله عن الشيخ علي القاري (ص 9).

‌‌الجواب عن هذه الأصول: أقول في الجواب على هذه الأصول على الترتيب السابق:

‌‌1 - هذا الأصل صحيح وهو غير وارد علي، لأنني لم أحكم على الحديث الأول بالوضع بمجرد أن في رواته مجهولًا أو منكر الحديث، بل لأنه انضاف إلى ذلك أن السبحة بدعةً وأنها مخالفة لسنة العقد بالأنامل، وكلامي في "المقال المشار إليه" صريح في ذلك لأنني قلت: بعد أن تكلمت على رجال إسناد الحديث (ص 201).

"فثبت أنه إسناد ضعيف لا تقوم به حجة".

وتمام هذا الكلام: "ثم إن الحديث من حيث معناه باطل عندي لأمور" وهذا نقله الشيخ (ص 12) دون الذي قبله!

ولكن الشيخ -سامحه الله- لما نقل كلامي في رسالته (ص 3 - 4) ليردَ عليه نقله مختصِرًا هذه الجملة الهامة من كلامي، فبنى رده علي دون النظر إليها، فوقع في هذه الخطيئة المكشوفة التي نسبني بسببها (ص 5) إلى مخالفتي لأهل الحديث! ولم يكتف حضرته بأن سود أربع صفحات في هذا الأصل الذي لا خلاف فيه، بل عاد في آخر الرسالة (ص 29) فعقد فصلًا آخر في أن الجهالة والنكارة لا يوجبان الوضع، ثم سود لبيان ذك خمس صفحات أخرى، ما كان أغناه عن تضييع الوقت في كتابتها لو أنه تأمل جملتي السابقة
সেই মূলনীতিসমূহ যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে শায়খ হাদিসটিকে কেবল দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন: [সম্মানিত শায়খ (পৃষ্ঠা ৫ - ৯) প্রথম হাদিসটির ক্ষেত্রে কতগুলো মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন:

প্রথমত: কোনো বর্ণনাকারী মুনকারুল হাদিস (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী) অথবা মাজহুল (অপরিচিত) হলেই হাদিসটিকে মাউজু (জাল) হিসেবে গণ্য করা যাবে না, বরং এ দুটি বিষয় মধ্যম স্তরের দুর্বলতার কারণ।

দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারী মিথ্যা বলে—কেবল একারণেও হাদিসটিকে জাল বলা যাবে না।

তৃতীয়ত: প্রচণ্ড দুর্বল হাদিস অনুযায়ী আমল করা নিষিদ্ধ—জাল হাদিস ব্যতিরেকে—আর এটি এমন হাদিস যার বর্ণনায় কোনো মিথ্যাবাদী, অথবা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি, কিংবা যার ভুলভ্রান্তি অত্যন্ত জঘন্য—এমন কেউ একক হয়ে পড়ে (পৃষ্ঠা ৩৮)।

চতুর্থত: যেসব আলামতের মাধ্যমে হাদিস জাল হওয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়, তা বর্ণিত বিষয়ের অবস্থা থেকে গৃহীত হয়; যেমন তা কুরআন বা সুন্নাতে মুতাওয়াতিরাহ-এর ভাষ্য অথবা অকাট্য ইজমা কিংবা সুস্পষ্ট বিবেকের বিরোধী হওয়া, যেখানে এর কোনোটিই ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না; যেমনটি তিনি শায়খ আলী আল-ক্বারী থেকে উদ্ধৃত করেছেন (পৃষ্ঠা ৯)।

এই মূলনীতিগুলোর উত্তর: পূর্বোক্ত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী আমি এই মূলনীতিগুলোর উত্তরে বলছি:

১ - এই মূলনীতিটি সঠিক এবং এটি আমার ওপর বর্তায় না, কারণ আমি কেবল বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ মাজহুল বা মুনকারুল হাদিস থাকার কারণে প্রথম হাদিসটিকে জাল সাব্যস্ত করিনি। বরং এর সাথে এ বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে যে, তসবিহ বা জপমালা একটি বিদআত এবং এটি আঙুলের গিঁটে তসবিহ গণনার সুন্নাতের পরিপন্থী। "উল্লিখিত নিবন্ধে" আমার বক্তব্য এ বিষয়ে স্পষ্ট, কারণ হাদিসটির সনদের বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনার পর (পৃষ্ঠা ২০১) আমি বলেছি:

"সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, এটি একটি দুর্বল সনদ যার দ্বারা কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না।"

আর এই বক্তব্যের পূর্ণরূপ হলো: "অতঃপর হাদিসটি অর্থের দিক থেকে আমার নিকট কতগুলো কারণে বাতিল।" আর শায়খ (পৃষ্ঠা ১২) এর পূর্বের অংশ বাদ দিয়ে কেবল এটিই উদ্ধৃত করেছেন!

কিন্তু শায়খ—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—যখন তার পুস্তিকায় (পৃষ্ঠা ৩ - ৪) আমার বক্তব্যের খণ্ডন করার জন্য তা উদ্ধৃত করেছেন, তখন তিনি আমার বক্তব্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি সংক্ষেপ করে ফেলেছেন। ফলে তিনি তা বিবেচনা না করেই আমার ওপর তার খণ্ডন সাজিয়েছেন। এতে তিনি এমন এক প্রকাশ্য ভুলের শিকার হয়েছেন, যার কারণে তিনি (পৃষ্ঠা ৫) আমাকে মুহাদ্দিসগণের বিরোধিতার অপবাদ দিয়েছেন! জনাব কেবল এই অবিসংবাদিত মূলনীতিটির পেছনে চারটি পৃষ্ঠা কালো করেই ক্ষান্ত হননি, বরং পুস্তিকার শেষে (পৃষ্ঠা ২৯) আবারও একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন যে, জাহালাত (অপরিচিতি) এবং নাকারা (অস্বীকৃতি) হাদিস জাল হওয়াকে আবশ্যক করে না। অতঃপর তা বর্ণনার জন্য আরও পাঁচটি পৃষ্ঠা কালো করেছেন; অথচ তিনি যদি আমার পূর্বোক্ত বাক্যটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন, তবে এই লেখালেখিতে সময় অপচয় করার প্রয়োজন হতো না।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ৪)
المصرحة بأن إسناد الحديث ضغيف! لو أنه فعل ذلك لما اتهمني بقوله في هذه الفصل (ص 41):

"فيه دليل لرد ما زعمه هذا الرجل من أن رواية الراوي للمناكير دليل على كون حديث موضوعًا … "

أنا لم أقل هذا أيها الشيخ ألبتة ولا أعتقده، بل أعتقد خلافه، وهذا هو المقال في "المجلة المحترمة" ففي أي صحيفة منها هذا الذي تنسبه إليّ؟ ! وأنا بفضل الله تعالى قد مضى علي نحو عشرين سنة في دراسة علم الحديث الشريف أصولًا وفروعًا مع تحقيقه عملًا بإرجاع الفروع إلى الأصول، فثكلتني أمي إذن إن كنتُ زعمتُ هذا الذي تنسبه إلي! فقليلًا من التروي والإنصاف يا حضرة الشيخ!

‌‌2 - خطأ الشيخ في قوله: "إنه لا يحكم على الحديث بالوضع "لكذب الراوي"! هذا الأصل مردود بقول الحافظ ابن حجر في "شرح النخبة":

"ثم الطعن إما أن يكون لكذب الراوي، أو تهمته بذلك، أو فحش غلطه أو غفلته … ، فالأول: الموضوع (قال الشيخ على القاري في شرحه (ص 122 - 123): وهو الطعن بكذب الراوي)، والحكم عليه بالوضع إنما هو بطريق الظن الغالب لا القطع، والثاني المتروك" قال القاري (ص 130): "وهو ما يكون بسبب تهمة الراوي بكذب" - والثالث: المنكر على رأي".

فأنت ترى أن الحافظ جعل وصف الراوي بالكذب أعلى مراتب الجرح، وجعل حديث من كان من هذه المرتبة "موضوعًا"، وجعل المتهم بالكذب في المرتبة الثانية في الجرح، وجعل حديثه "متروكا"، وهو الشديد الضعف.

فانظر كيف خلط حضرة الشيخ بين المرتبتين فجعلهما مرتبة واحدة، وجعل حديث الكذاب "الموضوع" والمتهم بالكذب "المتروك" في رتبة واحدة وهو الشديد الضعف! .

ومما يدلك على وهمه قول الإمام الصنعاني فيه توضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار"

(ج 2 ص 272) بعد أن ذكر مراتب الجرح ومنها المرتبتان الأوليان الواردتان في كلام الحافظ: "ولا تقول في الكذاب أي فيمن وصفوه بذلك إنه متهم بالكذب لأن الأولى تفيد أنه معروف به، والثانية تفيد نفي ذلك وإنما عنده مجرد تهمة".
যেটি স্পষ্ট করে যে হাদীসটির সনদ দুর্বল! তিনি যদি তা করতেন, তবে এই অধ্যায়ে (পৃষ্ঠা ৪১) তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে আমাকে অভিযুক্ত করতেন না:

"এতে এই লোকটির দাবির খণ্ডনের প্রমাণ রয়েছে যে, কোনো বর্ণনাকারীর প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) বর্ণনা করা তার হাদীস জাল হওয়ার প্রমাণ … "

হে শায়খ, আমি এটি মোটেও বলিনি এবং এটি বিশ্বাসও করি না। বরং আমি এর বিপরীতটি বিশ্বাস করি। আর এটিই সেই "সম্মানিত সাময়িকী"-র প্রবন্ধ; এর কোন পৃষ্ঠায় এমন কথা আছে যা আপনি আমার দিকে আরোপ করছেন?! আল্লাহর অনুগ্রহে আমি প্রায় বিশ বছর যাবৎ হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা নিয়ে অধ্যয়ন করছি এবং শাখাগুলোকে মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে বাস্তব গবেষণার কাজ করছি। অতএব, আপনি আমার দিকে যা আরোপ করেছেন, আমি যদি তা দাবি করে থাকি তবে আমার মা আমাকে হারাক (অর্থাৎ আমি ধ্বংস হই)! হে শায়খ, একটু ধৈর্য ধরুন এবং ইনসাফ করুন!

‌‌২ - শায়খের এই উক্তিতে ভুল: "বর্ণনাকারীর মিথ্যার কারণে কোনো হাদীসকে জাল (মাওদু) হিসেবে গণ্য করা হয় না!" এই মূলনীতিটি হাফেজ ইবনে হাজার (র.)-এর "শারহু নাখবাতিল ফিকার"-এর উক্তির মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত:

"অতঃপর বর্ণনাকারীর ওপর আপত্তির কারণ হয় তার মিথ্যাচারিতা হবে, অথবা মিথ্যার অভিযোগ হবে, অথবা মারাত্মক ভুল হবে অথবা উদাসীনতা হবে … , সুতরাং প্রথমটি হলো: জাল বা মাওদু (শায়খ আলি আল-কারী তাঁর শরাহ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২২-১২৩) বলেছেন: এটি হলো বর্ণনাকারীর মিথ্যার কারণে করা জেরা), আর হাদীসটিকে জাল হিসেবে গণ্য করার ভিত্তি হলো প্রবল ধারণা, নিশ্চিত জ্ঞান নয়। আর দ্বিতীয়টি হলো পরিত্যক্ত বা মাতরুক।" আল-কারী বলেছেন (পৃষ্ঠা ১৩০): "আর এটি হলো যা বর্ণনাকারীর ওপর মিথ্যার অভিযোগের কারণে হয়" - এবং তৃতীয়টি হলো এক মতানুসারে মুনকার বা প্রত্যাখ্যাত।

সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, হাফেজ ইবনে হাজার বর্ণনাকারীকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিহিত করাকে জেরার সর্বোচ্চ স্তর নির্ধারণ করেছেন এবং এই স্তরের ব্যক্তির হাদীসকে "জাল" (মাওদু) আখ্যা দিয়েছেন। আর মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জেরার দ্বিতীয় স্তরে রেখেছেন এবং তার হাদীসকে "পরিত্যক্ত" (মাতরুক) আখ্যা দিয়েছেন, যা চরম দুর্বল হাদীস।

তাহলে দেখুন, হযরত শায়খ কীভাবে এই দুটি স্তরের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন এবং তাদের একটি স্তরে পরিণত করেছেন! তিনি মিথ্যাবাদীর "জাল" (মাওদু) হাদীস এবং মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির "পরিত্যক্ত" (মাতরুক) হাদীসকে একই স্তরে নিয়ে এসেছেন, যা মূলত চরম দুর্বল!

তাঁর এই ভ্রান্তির একটি প্রমাণ হলো ইমাম সানআনী (র.)-এর "তাওদীহুল আফকার লি মাআনি তানকীহিল আনযার" গ্রন্থে বলা উক্তি:

(২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭২) হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্যে উল্লিখিত প্রথম দুটি স্তরসহ জেরার স্তরগুলো বর্ণনার পর তিনি বলেন: "আর তুমি মিথ্যাবাদীর ক্ষেত্রে অর্থাৎ যাকে তারা এই বিশেষণে বিশেষায়িত করেছে, তাকে 'মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত' বলবে না। কারণ প্রথমটি প্রকাশ করে যে সে মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত, আর দ্বিতীয়টি তা অস্বীকার করে; অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে কেবল অভিযোগ রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ৫)
والخلاصة: إن رواية الكذاب لحديث ما كان في الحكم عليه بالوضع لخصوص هذه الطريق، وعليه جرى عمل النقاد في الحكم على الحديث بالوضع لرواية أحد الكذابين له، كما فعل ابن الجوزي في "الموضوعات" والسيوطي في "ذيله" ولآلئه وغيرهما.

ولا يخالف هذا ما نقله المؤلف (ص 9) عن الحافظ العراقي "أن مطلق كذب الراوي لا يدل على الوضع" لأنه يعني أنه لا يدل على الوضع قطعًا لاحتمال صدقه ومتابعة غيره له؛ ولكن هذا لا ينفي الحكم عليه بالوضع بطريق الظن الغالب (1) كما سبق عن الحافظ ابن حجر، وبهذا يلتقي قوله مع قول شيخه الحافظ العراقي، والظن الغالب قامت عليه غالب الأحكام الشرعية، ومنه ما نحن فيه، ولا يجوز تركه إلا بدليل أقوى منه، كأن يروي الحديث الذي رواه الكذاب رجل غيره وهو ثقة، فحينئذ يحتج بهذا الحديث، ونقول إنه تبين لنا صدق هذا الكذاب في هذا الحديث لموافقته للثقة، كما أشار لذلك قوله صلى الله عليه وسلم في حديث الجني: "صدقك وهو كذوب"! وأما عند فقدان هذا الشاهد الثقة فحديث الكذاب موضوع بلا شك. فقد تبين للقاريء مما سبق من الذي "خالف علم الحديث"؟ !

‌‌3 - خروجه عن المحدثين: في قوله أن الحديث الشديد الضعف هو ما تفرد به كذاب! لا أعلم أحدًا سبق المؤلف إلى وصف الحديث الشديد الضعف - (الذي لم يصل إلى رتبة "الموضوع") - بأنه الذي يتفرد به كذاب! بل لا يشك كل من شم رائحة علم الحديث في (وضع) ما تفرد به كذاب، والذي يمنع بعضهم من الجزم بوضعه هو احتمال أن يكون له طريق آخر خير من طريقه؛ أما والبحث فيما تفرد به كذاب فلا شك في وضعة من وجهة اصطلاح المحدثين، وكلام الحافظ ابن حجر المتقدم من أوضح الأدلة على ذلك، والكلام في بطلان كلمة الشيخ هذه طويل الذيل، فلا نطيل المقال بذكره، وإنما يكفي في بيان خطأه في ذلك أنه يسوي بين حديث من هو كذاب، وبين حديث من هو صدوق ولكنه فاحش الخطأ، وهذا مما لا يقول به أحد غير الشيخ! والذي يعتقده العلماء أن حديث الكذاب موضوع، وحديث الفاحش الخطأ ضعيف جدًا كما سبق.

وغالب ظني أن الشيخ أتي مما نقله السيوطي في "التدريب" (ص 108) عن

--------------------------------------------

(1) وانظر شرح نخبة الفكر لعلي القاري (ص 123 - 124).
সারসংক্ষেপ: কোনো হাদীসের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী মিথ্যাবাদী হওয়ার অর্থ হলো—বিশেষ করে ওই সূত্রের কারণে হাদীসটিকে জাল (মাওযু) হিসেবে গণ্য করা। হাদীস সমালোচকদের কর্মপন্থাও কোনো হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ মিথ্যাবাদী হলে সেই হাদীসটিকে জাল হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে এমনই ছিল। যেমনটি ইবনুল জাওযী তাঁর 'আল-মাওযুআত' গ্রন্থে এবং সুয়ূতী তাঁর 'যাইল' ও 'আল-লাআলী' এবং অন্যান্য গ্রন্থে করেছেন।

লেখক (৯ পৃষ্ঠায়) হাফেজ ইরাকী থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন যে, "বর্ণনাকারীর সাধারণ মিথ্যাচার হাদীস জাল হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে না"—তা এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, এটি সুনিশ্চিতভাবে হাদীস জাল হওয়ার প্রমাণ দেয় না; কেননা বর্ণনাকারী এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সত্য বলে থাকতে পারেন অথবা অন্য কেউ তাঁর সমর্থনকারী (মুতাবিআত) হিসেবে থাকতে পারেন। কিন্তু এটি প্রবল ধারণার (যন-ই-গালিব) ভিত্তিতে হাদীসটিকে জাল বলার পরিপন্থী নয় (১), যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমেই তাঁর বক্তব্য তাঁর উস্তাদ হাফেজ ইরাকীর বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। আর শরীয়তের অধিকাংশ বিধানই প্রবল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং আমাদের আলোচ্য বিষয়টিও এরই অন্তর্ভুক্ত। এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলিল না পাওয়া পর্যন্ত এটি বর্জন করা জায়েজ নয়; যেমন সেই মিথ্যাবাদীর বর্ণিত হাদীসটি যদি অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তবে সেক্ষেত্রে এই হাদীসটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আমরা তখন বলব যে, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বর্ণনার সাথে মিল থাকার কারণে এই হাদীসটিতে এই মিথ্যাবাদীর সত্যবাদিতা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিনের হাদীসে ইঙ্গিত করেছেন: "সে তোমাকে সত্য বলেছে, অথচ সে চরম মিথ্যাবাদী!" কিন্তু যখন এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষী (শাহিদ) পাওয়া যাবে না, তখন মিথ্যাবাদীর বর্ণিত হাদীসটি নিঃসন্দেহে জাল। সুতরাং ইতিপূর্বের আলোচনা থেকে পাঠকের নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, কে আসলে "হাদীস শাস্ত্রের বিরোধিতা" করেছে?!

‌‌৩ - মুহাদ্দিসগণের পথ থেকে তাঁর বিচ্যুতি: তাঁর এই দাবিতে যে, অত্যন্ত দুর্বল হাদীস হলো তা-ই যা কোনো মিথ্যাবাদী এককভাবে বর্ণনা করে! আমার জানামতে লেখকের পূর্বে এমন কেউ নেই, যিনি কোনো অত্যন্ত দুর্বল হাদীসকে—(যা এখনও 'জাল' স্তরে পৌঁছায়নি)—এমন হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা কেবল একজন মিথ্যাবাদী এককভাবে বর্ণনা করে! বরং হাদীস শাস্ত্রের সামান্যতম ঘ্রাণ যে পেয়েছে, সেও কোনো মিথ্যাবাদীর একক বর্ণনাকে 'জাল' বলার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করবে না। কেউ কেউ যে একে নিশ্চিতভাবে জাল বলতে বিরত থাকেন, তার কারণ হলো—সম্ভাবনা থাকে যে এর অন্য কোনো উত্তম সূত্র থাকতে পারে; কিন্তু যখন কেবল মিথ্যাবাদীর একক বর্ণনা নিয়ে আলোচনা হয়, তখন মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় তা জাল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। হাফেজ ইবনে হাজারের ইতিপূর্বে বর্ণিত কথাটি এর স্পষ্টতম প্রমাণ। শাইখের এই বক্তব্যের অসারতা প্রমাণের আলোচনা অনেক দীর্ঘ, তাই কথা দীর্ঘ করব না। তবে তাঁর ভুল স্পষ্ট করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি একজন মিথ্যাবাদীর হাদীস এবং একজন সত্যবাদী কিন্তু মারাত্মক ভুলকারীর (ফাহিশুল খাতা) হাদীসকে সমান করে দিয়েছেন! অথচ শাইখ ছাড়া এমন কথা আর কেউ বলেন না। আলেমগণের নিকট স্বীকৃত হলো—মিথ্যাবাদীর হাদীস জাল, আর মারাত্মক ভুলকারীর হাদীস অত্যন্ত দুর্বল, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমার প্রবল ধারণা যে, শাইখ এটি সুয়ূতী তাঁর 'তাদরীব' (পৃষ্ঠা ১০৮) গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তা থেকে গ্রহণ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আলী কারী কৃত শরহু নুখবাতিল ফিকার (পৃষ্ঠা ১২৩ - ১২৪)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ৬)
الحافظ أنه ذكر الحديث الضعيف ليعمل به في فضائل الأعمال "ثلاثة شروط":

أحدها: أن يكون الضعف غير شديد، فيخرج من انفرد من الكذابين والمتهمين بالكذب ومن فحش غلطه".

فهذا شيء، مقبول معروف، وما ذكره الشيخ فهو مجهول مرفوض.

‌‌4 - تحقيق القول في القرائن التي يدرك بها الموضوع:

أقول: هذه القرائن التي نقلها الشيخ عن الحافظ ابن حجرُ مسلَّم بها، ولكن هنا في كلام الحافظ دقيقة يجب أن ينتبه لها وهي أن كلامه هذا ليس مقصودًا به الحديث الذي في سنده متهم، بل هو خاص بما كان ظاهر إسناده الصحة التي توجب العمل به، فيرد حينئذ بالمناقصة التي وردت في كلام الحافظ، ولا يمكن حملها على الحديث الذي يرويه كذاب لأمور منها: أولًا: أن كونه من رواية العذاب مسقط له، ولا حاجة حينئذ إلى رده بالمناقضة، ثانيًا: إن التأويل فرع التصحيح، فإذا كان السند موضوعًا كفانا مؤنة التأويل كما لا يخفي، فظهر أن كلام الحافظ لا يقصد به الحديث الذي لا تقوم باسناده حجة.

والغرض من هذا أنني أقول إن الحديث الضعيف السند يحكم بوضعه بقرائن أخرى قد تكون دون التي سبقت في القوة، من ذلك أن يكون مخالفًا للسنة الصحيحة ولو لم تكن متواترة، ويؤيد في في هذا قول الحافظ ابن كثير في "اختصار علوم الحديث" (ص 85) في صدد ذكر الشواهد على الحديث الموضوع:

"ومن ذلك ركاكة ألفاظه، وفساد معناه، أو مجازفة فاحشة، أو مخالفته لما ثبت في الكتاب والسنة الصحيحة"

فتأمل كيف أطلق السنة الصحيحة ولم يقيدها بـ "المتواترة" ذلك لأن كلامه أعم من كلام الحافظ كما ظهر بهذا البيان.

‌‌سقوط انتقاد الشيخ لحكمي على الحديث بالوضع: إذ تبين رأينا فيما قرره حضرة الشيخ من القواعد الأربعة، وعرف ما صح منها عند المحدثين وما لم يصح، لم يسلم له انتقاده إياي في حكمي على حديث السبحة بالوضع لأمرين:
হাফেয (ইবনে হাজার) উল্লেখ করেছেন যে, আমলের ফযীলতের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীসের ওপর আমল করার জন্য "তিনটি শর্ত" রয়েছে:

প্রথমটি: দুর্বলতা যেন তীব্র না হয়, ফলে এমন ব্যক্তির বর্ণনা এর বাইরে থাকবে যারা এককভাবে মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত অথবা যারা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কিংবা যাদের ভুল অত্যন্ত জঘন্য।"

এটি একটি গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত বিষয়, আর শায়খ যা উল্লেখ করেছেন তা অজ্ঞাত ও প্রত্যাখ্যাত।

‌‌৪ - জাল (মাওযূ) হাদীস চেনার আলামতসমূহ সম্পর্কিত বক্তব্যের পর্যালোচনা:

আমি বলব: শায়খ হাফেয ইবনে হাজার থেকে যে সকল আলামত বা চিহ্ন উদ্ধৃত করেছেন তা স্বীকৃত। তবে হাফেযের বক্তব্যের মাঝে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে যা লক্ষ্য করা জরুরি; আর তা হলো—তার এই বক্তব্য এমন হাদীসের ক্ষেত্রে নয় যার সনদে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রয়েছে। বরং এটি সেই হাদীসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার সনদের বাহ্যিক অবস্থা সহীহ হওয়ার দাবি রাখে এবং যা অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। এমতাবস্থায় হাফেযের বক্তব্যে বর্ণিত বৈপরীত্যের কারণে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর এটি এমন হাদীসের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব নয় যা কোনো মিথ্যাবাদী বর্ণনা করেছে। এর কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: প্রথমত: কোনো মিথ্যাবাদীর বর্ণনা হওয়াই একে বর্জন করার জন্য যথেষ্ট, ফলে বৈপরীত্যের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করার প্রয়োজন পড়ে না। দ্বিতীয়ত: ব্যাখ্যা প্রদান হলো সহীহ হওয়ার পরবর্তী একটি ধাপ। সুতরাং যদি সনদটিই জাল হয়, তবে আমাদের জন্য ব্যাখ্যা প্রদানের কষ্ট করার আর প্রয়োজন নেই, যেমনটি অস্পষ্ট নয়। ফলে স্পষ্ট হলো যে, হাফেযের বক্তব্য এমন হাদীসকে বুঝায় না যার সনদের মাধ্যমে কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না।

এর উদ্দেশ্য হলো—আমি বলছি যে, দুর্বল সনদের হাদীসের ক্ষেত্রে অন্যান্য কিছু আলামতের ভিত্তিতে জাল হওয়ার হুকুম দেওয়া হয়, যা শক্তিমত্তার দিক থেকে পূর্বোল্লিখিত আলামতগুলোর চেয়ে কম হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—হাদীসটি সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থী হওয়া, যদিও তা মুতাওয়াতির না হয়। এ বিষয়ে হাফেয ইবনে কাসীরের বক্তব্য একে সমর্থন করে, যা তিনি 'ইখতিসার উলূমিল হাদীস' (পৃষ্ঠা ৮৫) গ্রন্থে জাল হাদীসের আলামত বর্ণনার প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন:

"এর মধ্যে রয়েছে শব্দের কদর্যতা, অর্থের বিকৃতি, কিংবা জঘন্য অতিরঞ্জন, অথবা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ দ্বারা যা প্রমাণিত তার পরিপন্থী হওয়া।"

অতএব লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে সাধারণভাবে 'সহীহ সুন্নাহ' শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং একে 'মুতাওয়াতির' দ্বারা সীমাবদ্ধ করেননি। কারণ তার বক্তব্য হাফেযের বক্তব্যের চেয়েও অধিক ব্যাপক, যা এই আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

‌‌হাদীসের ওপর আমার জাল হওয়ার হুকুমের বিষয়ে শায়খের সমালোচনার অসারতা: যেহেতু শায়খ কর্তৃক নির্ধারিত চারটি মূলনীতির বিষয়ে আমাদের অভিমত স্পষ্ট হয়েছে এবং মুহাদ্দিসগণের নিকট সেগুলোর মধ্যে কোনটি সহীহ আর কোনটি নয় তা জানা গেছে, তাই তসবীহ সম্পর্কিত হাদীসটির ওপর আমার জাল হওয়ার হুকুমের ব্যাপারে তার সমালোচনা দুটি কারণে গ্রহণযোগ্য নয়:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ৭)
الأول: أنني ضعفت إسناده والشيخ وافقني على تضعيفه من هذه الناحية، ولم أحكم بسببها عليه بالوضع فسقط احتجاجه علي بالقاعدة الأولي.

الثاني أنني حكمت بوضعه لأن السبحة بدعة، ولأن التسبيح بها خلاف السنة العملية، كما بينته في "المقال"، فيسقط بهذا قول الشيخ (ص 13) بعد أن نقل كلامي في الحكم عليه بالبطلان:

"إبطالك هذا باطل، فمن أين ينطبق هذا على ما قالوه فيها يدرك به الموضوع؟ وهو ما قدمناه عن الحافظ ابن حجر أن يكون الخبر مناقضًا لصريح العقل".

ووجه سقوطه أن كلام الحافظ مُنْصَبٌّ على الحديث الصحيح الإسناد إذا افترض مخالفته لصريح العقل كما سبق بيانه، وحديثنا هذا ليس كذلك، بل هو ضعيف، فالحكم بطلانه أسهل من الحكم ببطلان الصحيح الإسناد بلا شك، وليس شرطًا أن يكون مناقضًا لصريح العقل، بل يكفي فيه أن يكون مخالفًا السنة الصحيحة مثلًا كما أفاده كلام ابن كثير السابق.

‌‌بدعة السبحة ومخالفتها للسنة كنت برهنت في "المقال" الذي رد عليه الشيخ أن السبحة بدعة، وأن التسبيح بها مخالف لهديه صلى الله عليه وسلم في التسبيح بالأنامل؛ وجعلت هذين الأمرين من القرائن الدالة على بطلان الحديث ووضعه، ولكن الشيخ لم يرضه ذلك.

أما القرينة الأولى فردها بمغالطة مكشوفة وهي قوله (ص 10):

"فليت شعري أي عقل يحيل إحالة مقطوعة بها وجود السبحة في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم.

ووجه المغالطة أنني لم أدَّع استحالة وجود السبحة في ذلك العهد المبارك -عقلًا-، لأن ذلك ليس من "ما لا يتصور في العقل وجوده" قطعا، وليست السبحة من المسائل النظرية التي يحكم العقل بإمكانها أو استحالتها، وإنما هي من المسائل المتعلقة بالتاريخ وجودًا وعدمًا، وإذا كان من المقرر عند العلماء أن السبحة لم تكن في عهده صلى الله عليه وسلم وإنما حدثت في القرن الثاني، فيصح حينئذ استنكار هذا الحديث باعتبار أنه يحض الصحابة على أمر لا يعرفونه، وهذا -أعني الحض- غير معقول صدوره منه صلى الله عليه وسلم مع عدم وجود السبحة فدل ذلك على وضع الحديث وعلى جهل واضعه بتاريخ السبحة.
প্রথমত: আমি এর সনদকে দুর্বল বলেছি এবং শায়খ এই দিক থেকে এটিকে দুর্বল বলার ক্ষেত্রে আমার সাথে একমত হয়েছেন। আমি কেবল এই কারণে একে জাল হওয়ার হুকুম দেইনি, ফলে প্রথম মূলনীতির ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধে তাঁর পেশ করা যুক্তি বাতিল হয়ে গেল।

দ্বিতীয়ত: আমি এর জাল হওয়ার হুকুম দিয়েছি কারণ তসবীহ মালা একটি বিদআত এবং এর মাধ্যমে তসবীহ পাঠ করা আমলী সুন্নাহর পরিপন্থী; যেমনটি আমি "আল-মাকালাহ"-তে বর্ণনা করেছি। এর মাধ্যমে শায়খের সেই বক্তব্যটি (পৃষ্ঠা ১৩) বাতিল হয়ে যায় যা তিনি আমার বাতিল হওয়ার হুকুমটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন:

"আপনার এই বাতিল ঘোষণাটিই বাতিল। মুহাদ্দিসগণ জাল হাদিস চেনার ক্ষেত্রে যা বলেছেন, তার সাথে আপনার কথা কীভাবে মিলে? হাফেজ ইবনে হাজার থেকে আমরা যা পেশ করেছি তা হলো, সংবাদটি স্পষ্ট বিবেকের পরিপন্থী হতে হবে।"

তাঁর এই যুক্তি বাতিল হওয়ার কারণ হলো, হাফেজের কথাটি ছিল সহীহ সনদের হাদিসের ক্ষেত্রে, যদি ধরে নেওয়া হয় যে তা স্পষ্ট বিবেকের পরিপন্থী; যেমনটি আগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর আমাদের আলোচ্য হাদিসটি তেমন নয়, বরং এটি দুর্বল। সুতরাং সহীহ সনদের হাদিস বাতিল হওয়ার হুকুমের চেয়ে দুর্বল হাদিস বাতিল হওয়ার হুকুম প্রদান করা নিঃসন্দেহে অনেক সহজ। আর এর জন্য স্পষ্ট বিবেকের পরিপন্থী হওয়া শর্ত নয়, বরং এটি সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থী হওয়াই যথেষ্ট, যেমনটি ইবনে কাসীরের পূর্বোল্লিখিত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।

‌‌তসবীহ মালার বিদআত এবং সুন্নাহর সাথে এর বিরোধিতা আমি "আল-মাকালাহ"-তে (যার ওপর শায়খ রদ করেছেন) প্রমাণ করেছি যে, তসবীহ মালা একটি বিদআত এবং এর মাধ্যমে তসবীহ পাঠ করা আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে তসবীহ পাঠ করার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনার পরিপন্থী। আমি এই দুটি বিষয়কে হাদিসটি বাতিল ও জাল হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেছি, কিন্তু শায়খ এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

প্রথম প্রমাণের ক্ষেত্রে তিনি একটি প্রকাশ্য বিভ্রান্তিকর যুক্তির মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, আর তা হলো তাঁর কথা (পৃষ্ঠা ১০):

"হায়! আমি যদি জানতাম, কোন বিবেক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তসবীহ মালার অস্তিত্ব থাকাকে অকাট্যভাবে অসম্ভব বলে মনে করে?"

এই বিভ্রান্তিকর যুক্তির উত্তর হলো যে, আমি সেই বরকতময় যুগে তসবীহ মালার অস্তিত্ব থাকাকে জ্ঞানগতভাবে অসম্ভব বলে দাবি করিনি। কারণ এটি এমন কিছু নয় যা "বিবেক যার অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারে না" তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। তসবীহ মালা এমন কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয় যার সম্ভাবনা বা অসম্ভবতা সম্পর্কে বিবেক ফয়সালা দেবে; বরং এটি ইতিহাস ও এর অস্তিত্ব-অনস্তিত্ব সংক্রান্ত একটি বিষয়। আর আলেমদের নিকট যখন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তসবীহ মালার কোনো অস্তিত্ব ছিল না, বরং এটি দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে উদ্ভব হয়েছে, তখন এই হাদিসটিকে প্রত্যাখ্যান করা সঠিক; কারণ এতে সাহাবীদের এমন একটি বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে যা তাদের পরিচিত ছিল না। আর তসবীহ মালার অস্তিত্ব না থাকা অবস্থায় তাঁর পক্ষ থেকে এমন উৎসাহ প্রদান করা যুক্তিগ্রাহ্য নয়। এটিই প্রমাণ করে যে হাদিসটি জাল এবং এর জালকারী তসবীহ মালার ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ৮)
فهذا هو وجه حكمنا على الحديث بالبطلان، لا ما صوره الشيخ من الإحالة العقلية! وكأن حضرة الشيخ تنبه لهذا الوجه الصحيح ولذلك حاول الإجابة عنه بقوله (ص 10): "ولو فرضنا عدم وجودها في ذلك العصر فلا استحالة عقلًا في أن يحض النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه على شيء ليس بمعروف لهم ليعمل به إذا وجد … ".

ثم أني على ذلك بمثالين:

الأول: حديث نبيط الأشجعي مرفوعًا: (إن أشد أمتي حبًا لي قوم يأتون من بعدي يؤمنون بي ولم يروني، يعملون بما في الورق المعلق) رواه ابن عساكر. وذكر الشيخ له في التعليق شاهدًا من حديث عمر برواية الحاكم.

الثاني: "حديث أبي داود عن النواس بن سمعان: "ينزل عيسى بن مريم عند المنارة البيضاء شرقي دمشق".

‌‌ضعف الحديث الأول وقصور الشيخ في تخريج الثاني! وبيان عدم دلالتها على غرضه! والجواب على المثال الأول من وجهين:

الأول: عدم التسليم بصحته، فإن في حديث ابن عساكر رجلًا كذابًا، وآخر ضعيفًا، وفي إسناد الحاكم راو ضعيف جدًا قال فيه البخاري: "منكر الحديث" (1) وقال النسائي: "ليس بثقة"، ولذلك رد الذهبي على الحاكم تصحيحه إياه، وللحديث طريق ثالث هو خير من الأولين وهو ضعيف أيضًا، وتفصيل الكلام عليها سيأتي إن شاء الله في مقالات "الأحاديث الضعيفة" التي تبين ضعف كثير من الأحاديث التي يظن صحتها بعض الخاصة فضلا عن العامة!

الوجه الثاني: أن الحديث لو صح فهو صريح في أن "الورق المعلق" -وهو كناية عن المصاحف والكتب- لم تكن في عهده صلى الله عليه وسلم فهو عليه الصلاة والسلام يمدح الذين ليسوا

--------------------------------------------

(1) يعني أنه لا تحل الرواية عنه كما ذكره السيوطي في "التدريب" (ص 127) منبهًا على أن هذا هو مراد البخاري بهذه الجملة، وسلم بصحة ذلك عن البخاري، وأما حضرة الشيخ فقد أشار إلى عدم صحة ذلك عنده بقوله (ص 8): "إن صح" ولازمه أنه لم يثق بتقل السيوطي فما السبب في ذلك مع أنه لم يتفرد بنقله بل سبقه إليه الذهبي في "الميزان" (1/ 5) نقلا عن ابن القطان، واعتمده الذهبي في رسالته "الموقظة"! ! .
এটাই হলো হাদীসটিকে বাতিল হিসেবে গণ্য করার আমাদের কারণ, শেখ বুদ্ধিগত অসম্ভবতার যে চিত্র এঁকেছেন তা নয়! মনে হচ্ছে শেখ এই সঠিক দিকটি সম্পর্কে সজাগ হয়েছেন, তাই তিনি এর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই বলে (পৃষ্ঠা ১০): "যদি আমরা ধরেও নেই যে সেই যুগে এগুলোর অস্তিত্ব ছিল না, তবুও বুদ্ধিগতভাবে এটি অসম্ভব নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের এমন কিছুর প্রতি উৎসাহিত করবেন যা তাঁদের কাছে পরিচিত ছিল না, যাতে তা পাওয়া গেলে তারা সে অনুযায়ী আমল করতে পারে ... "।

এরপর আমি এর ওপর দুটি উদাহরণ দিচ্ছি:

প্রথম: নুবাইত আল-আশজা'ঈর মারফু' হাদীস: (নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে এমন একদল লোক যারা আমার পরে আসবে, যারা আমার প্রতি ঈমান আনবে অথচ আমাকে দেখেনি, তারা ঝুলন্ত পাতায় যা আছে সে অনুযায়ী আমল করবে) এটি ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন। শেখ টিকায় হাকিমের বর্ণনায় ওমরের হাদীস থেকে এর একটি সমর্থনকারী বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়: আবু দাউদের হাদীস যা নাওয়াস বিন সামআন থেকে বর্ণিত: "ঈসা ইবনে মারিয়াম দামেস্কের পূর্ব দিকে সাদা মিনারের নিকট অবতরণ করবেন।"

‌‌প্রথম হাদীসটির দুর্বলতা এবং দ্বিতীয়টির সূত্র নির্ণয়ে শেখের অপূর্ণতা! এবং তাঁর উদ্দেশ্যের সাথে এগুলোর অপ্রাসঙ্গিকতার বর্ণনা! প্রথম উদাহরণের উত্তর দুটি দিক থেকে:

প্রথম: এর বিশুদ্ধতা স্বীকার না করা; কারণ ইবনে আসাকিরের হাদীসে একজন চরম মিথ্যাবাদী ব্যক্তি রয়েছে এবং অন্য একজন দুর্বল। আর হাকিমের সনদে একজন অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনাকারী আছে যার সম্পর্কে বুখারী বলেছেন: "মুনকারুল হাদীস" (১) এবং নাসাঈ বলেছেন: "সে নির্ভরযোগ্য নয়"। এই কারণেই যাহাবী হাকিমের এটিকে সহীহ বলার প্রতিবাদ করেছেন। হাদীসটির একটি তৃতীয় পথ আছে যা প্রথম দুটির চেয়ে উত্তম, সেটিও দুর্বল। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ইনশাআল্লাহ "দুর্বল হাদীসসমূহ" বিষয়ক প্রবন্ধে আসবে, যা এমন অনেক হাদীসের দুর্বলতা স্পষ্ট করবে যা সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও সহীহ বলে মনে করেন!

দ্বিতীয় দিক: হাদীসটি যদি সহীহও হয়, তবে তা স্পষ্ট যে "ঝুলন্ত পাতা" -যা মুসহাফ এবং কিতাবসমূহের রূপক অর্থে ব্যবহৃত- তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিল না। ফলে তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এমন লোকদের প্রশংসা করছেন যারা নেই

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়, যেমনটি সুয়ূতী 'তাদরীব' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৭) উল্লেখ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে ইমাম বুখারীর এই বাক্য দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য। তিনি বুখারী থেকে এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। কিন্তু শেখ তাঁর বক্তব্যে (পৃষ্ঠা ৮) "যদি সঠিক হয়" বলে এর সঠিকতা সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এর অর্থ হলো তিনি সুয়ূতীর বর্ণনার ওপর আস্থা রাখেননি। এর কারণ কী হতে পারে? অথচ সুয়ূতী এটি বর্ণনায় একক নন, বরং তাঁর পূর্বে যাহাবী 'মিজান' গ্রন্থে (১/৫) ইবনুল কাত্তান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং যাহাবী তাঁর 'আল-মুয়ক্বিযাহ' রিসালায় এটি গ্রহণ করেছেন! ! .
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ৯)
بأصحابه على عملهم بشيء حدث من بعده صلى الله عليه وسلم يؤمنون به غيبًا بسبب هذه المصاحف التي يقرؤونها ويعرفون صدقه صلى الله عليه وسلم بها فليس في الحديث -لو صح- أي حض الصحابة على العمل بما لا يعرفونه، كيف وهم مؤمنون به حافظون لكتابه عالمون بسيرته؟ ! وهذا بخلاف حديث: (نعم المذكر السبحة) فليس فيه أدنى إشارة إلى أنه صلى الله عليه وسلم يحض أصحابه على شيء سيحدث، بل لا يتبادر منه إلا أنه يحضهم عليها وهي معروفة لديهم، فظهر الفرق بينه وبين حديث (الورق المعلق) (1) وسقطت بذلك محاولة الشيخ لإبطال حكمنا على الحديث بالبطلان.

‌‌إبطال قول الشيخ: "إن الصحابة كانوا لا يعرفون (المئذنة) "!

وأما المثال الثاني وهو حديث المنارة، فالجواب:

إن استدلال المؤلف به على حض الصحابة على العمل بما لا يعرفونه في الحال من أعجب الأمور في زعمي! وذلك لوجوه:

الأول: أن الحديث غاية ما فيه الإخبار عن نزول عيسى عليه السلام عند المنارة، فليس فيه أي حض عليها.

الثاني: من أين للمصنف أن المراد بـ "المنارة" في الحديث: المئذنة التي يؤذن عليها، وليس في الحديث ما يشير إلى ذلك أدنى إشارة، و"المنارة" في اللغة لها معاني أخري: نفي "القاموس": "والمنارة موضع النور كالمنار، والمسرجة، والمئذنة" وفي "لسان العرب": "والمنار جمع منارة وهي العلامة التي تجعل بين الحدين".

فما دام أن لـ "المنارة" معاني عديدة فلا يجوز أن نعين معنى واحدًا منها إلا بدليل وهو مفقود ههنا، ولعل الشيخ يظن أن هذه المنارة هي التي في شرقي مسجد بني أمية ويسميها العامة منارة عيسى عليه السلام! فقيد الشيخ الحديث بمفهومهم! وهو مردود عليه، سميا وقد قال النووي في "شرح مسلم": "وهذه المنارة وجودة اليوم شرقي دمشق".

--------------------------------------------

(1) ويوضح هذا الفرق أن كل من يقرأ أو يسمع حديث (نعم المذكر السبحة) لا يدور في خَلَده إلا أنه صلى الله عليه وسلم يريد سبحة معروفة في عهده لا سبحة ستحدث من بعده، بخلاف حديث (الورق للعلق)، ولما كان من الثابت أنها لم تكن في عهده صلى الله عليه وسلم دل ذلك على بطلان الحديث وهذا أمر واضح والحمد لله على توفيقه.
তাঁর সাহাবীদের এমন কিছুর ওপর আমল করার ব্যাপারে যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে ঘটবে, যার ওপর তাঁরা অদৃশ্যের বিশ্বাস স্থাপন করবেন এই মাসহাফগুলোর কারণে যা তাঁরা পাঠ করবেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্যতা জানবেন। সুতরাং এই হাদিসে—যদি এটি সহিহও হয়—সাহাবীদের এমন কিছুর ওপর আমল করার কোনো উৎসাহ নেই যা তাঁরা চেনেন না; তা কীভাবে সম্ভব যখন তাঁরা তাঁর ওপর ঈমানদার, তাঁর কিতাবের হাফেজ এবং তাঁর সীরাত সম্পর্কে অবগত? আর এটি "তাসবিহ কতই না উত্তম স্মারক" হাদিসটির বিপরীত। কারণ এতে সামান্যতম ইঙ্গিতও নেই যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কোনো বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করছেন; বরং এটি থেকে কেবল এটাই বুঝে আসে যে তিনি তাঁদেরকে এর (তাসবিহ) প্রতি উৎসাহিত করছেন যা তাঁদের কাছে পরিচিত ছিল। ফলে এটি এবং "ঝুলন্ত পাতা"র হাদিসের (১) মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গেল, এবং এর মাধ্যমে হাদিসটিকে বাতিল ঘোষণা করার ব্যাপারে আমাদের হুকুমকে নস্যাৎ করার জন্য শেখের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো।

‌‌শেখের এই উক্তির অসারতা প্রমাণ: "সাহাবীগণ মিনার (আজান দেওয়ার স্থান) চিনতেন না"!

আর দ্বিতীয় উদাহরণ অর্থাৎ মিনার সংক্রান্ত হাদিসের ক্ষেত্রে উত্তর হলো:

লেখকের পক্ষ থেকে এই হাদিসটি দিয়ে সাহাবীদেরকে বর্তমানে অজানা কোনো বিষয়ের ওপর আমল করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদানের প্রমাণ পেশ করা আমার দৃষ্টিতে অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়! আর তা কয়েকটি কারণে:

প্রথমত: হাদিসটির চূড়ান্ত বিষয় হলো ঈসা আলাইহিস সালামের মিনারের নিকট অবতরণ করার সংবাদ প্রদান করা, এতে মিনারের ব্যাপারে কোনো উৎসাহ নেই।

দ্বিতীয়ত: লেখক কোত্থেকে পেলেন যে হাদিসে "মানারাহ" বলতে সেই মিনারকে বোঝানো হয়েছে যার ওপর আজান দেওয়া হয়? অথচ হাদিসে এর কোনো সামান্যতম ইঙ্গিতও নেই। আর অভিধানে "মানারাহ" শব্দের অন্যান্য অর্থ রয়েছে: "আল-কামুস"-এ আছে: "মানারাহ হলো আলোর স্থান, যেমন মানার, বাতিদানি এবং মিনার (আজান দেওয়ার স্থান)।" এবং "লিসানুল আরব"-এ আছে: "মানার হলো মানারাহ-এর বহুবচন, আর তা হলো সেই চিহ্ন যা দুই সীমানার মাঝে স্থাপন করা হয়।"

যেহেতু "মানারাহ" শব্দের অনেকগুলো অর্থ রয়েছে, তাই দলিল ছাড়া এর কোনো একটি অর্থ নির্দিষ্ট করা জায়েজ নয়, যা এখানে অনুপস্থিত। সম্ভবত শেখ ধারণা করেছেন যে, এই মিনারটি হলো বনু উমাইয়া মসজিদের পূর্ব দিকের সেই মিনারটি যাকে সাধারণ মানুষ ঈসা আলাইহিস সালামের মিনার বলে থাকে! ফলে শেখ হাদিসটিকে তাদের ধারণার সাথে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন! যা প্রত্যাখ্যানযোগ্য, বিশেষ করে যখন ইমাম নববী "শরহে মুসলিম"-এ বলেছেন: "এই মিনারটি আজ দামেস্কের পূর্ব দিকে বিদ্যমান।"

--------------------------------------------

(১) এই পার্থক্যটি এটি স্পষ্ট করে যে, যে কেউ "তাসবিহ কতই না উত্তম স্মারক" হাদিসটি পড়ে বা শোনে, তার মনে এটাই আসে যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যুগের কোনো পরিচিত তাসবিহ বুঝিয়েছেন, তাঁর পরে আবিষ্কৃত কোনো তাসবিহ নয়, যা "ঝুলন্ত পাতা"র হাদিসের বিপরীত। আর যখন এটি প্রমাণিত যে এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে ছিল না, তখন এটি হাদিসটির অসারতা প্রমাণ করে। আর এটি একটি স্পষ্ট বিষয়, এবং আল্লাহর তাওফিকের জন্য সমস্ত প্রশংসা তাঁরই।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১০)
فهو يقول: "شرقي دمشق" لو كان يفهم الحديث كما تفهمه العامة لقال: "شرقي المسجد الأموي".

الثالث: هب أن الحديث أراد "المئذنة" فمن أين للمؤلف أن الصحابة لم يكونوا يعرفون المئذنة؟ ! مع أنها كلمة عربية لها معنى مفهوم عندهم؟ !

قال في "القاموس": "والمئذنة موضع الأذان، أو المنارة والصومعة".

فهذا النص من هذا الإمام في تفسير (المئذنة) يفيد أن لها عدة معان أيضًا لا معني واحدًا فيرِدُ على المؤلف ما أوردناه عليه في "المنارة"، وإذا اختير في تفسير "المئذنة" المعنى الأول وهو موضع الأذان، فهذا شيء معروف لديهم فلا يجوز أن يقالُ لا يعرفونه، وإذا كان قد دخل على المئذنة تطور من حيث البناء فهذا لا يخرجها عن اسمها الذي كان الصحابة يعرفونه طبعًا، وبما أن الحديث يخبر عن أمر غيبي فلا يجوز لنا أن نقيد المئذنة بصفات من عندنا بدون حجة ولا برهان ثم نسب إلى الصحابة عدم معرفتهم بالمئذنة! وخلاصة القول يا حضرة الشيخ أن الصحابة يعرفون المئذنة جيدًا ولكنهم لا يعرفون طبعًا المئذنة التي قامت صورتها لديك، هذه الصورة التي لا تستطيع أبدًا أن تقول أن الرسول صلى الله عليه وسلم أرادها في الحديث، وبناء عليه يبطل قولك (ص 12): "إن الصحابة كانوا لا يعرفون المئذنة".

وإذا ثبت ما أوردنا من هذه الأمور يتبين للقارئ الكريم سقوط استدلال المؤلف بالحديث على أنه صلى الله عليه وسلم حض الصحابة على العمل بما لا يعرفونه! ويظل قولنا إنه "لا يعقل أن يحض الرسول عليه الصلاة والسلام أصحابه على أمر لا يعرفونه" سالمًا من المعارضة، وبالتالي تبقى القرينة الأولى على بطلان حديث السبحة قائمة صحيحة (1).

‌‌رد قول الشيخ أن لا مخالفة للسنة في التسبح بالسبحة! وتفصيل القول فيما بعد مخالفة وما لا بعد: وأما القرينة الثانية وهي كون التسبيح بالسبحة معارض لهديه صلى الله عليه وسلم في التسيح بالأنامل فقد أجاب فضيلة الشيخ عنها بقوله (ص 14 - 15):

--------------------------------------------

(1) هذا ولا يفوتني بهذه المناسبة أن أنبه على خطيئة وقع الشيخ فيها وهي أنه عزي حديث المنارة المتقدم لأبي داود فقط مع أنه في صحيح مسلم (ج 8/ 197 - 198)!
তিনি বলছেন: "দামেস্কের পূর্ব দিকে", যদি তিনি হাদিসটি সেভাবে বুঝতেন যেভাবে সাধারণ মানুষ বোঝে, তবে তিনি বলতেন: "উমাইয়া মসজিদের পূর্ব দিকে"।

তৃতীয়ত: ধরে নিলাম হাদিসে "মিনারা" (আল-মি'যানাহ) দ্বারা মিনার উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু লেখক কোথা থেকে পেলেন যে সাহাবীগণ মিনারা সম্পর্কে জানতেন না?! অথচ এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ তাদের নিকট পরিচিত ছিল?!

"আল-কামুস"-এ বলা হয়েছে: "আল-মি'যানাহ হলো আজান দেওয়ার স্থান, অথবা মিনার ও মঠ।"

এই ইমামের পক্ষ থেকে "মিনারা"-র ব্যাখ্যার এই বক্তব্যটি প্রমাণ করে যে এরও বেশ কিছু অর্থ রয়েছে, কেবল একটি অর্থ নয়। সুতরাং "মানারা" শব্দের ক্ষেত্রে আমরা লেখকের বিরুদ্ধে যা উল্লেখ করেছিলাম, তা এখানেও প্রযোজ্য হবে। আর যদি "মিনারা"-র ব্যাখ্যায় প্রথম অর্থটি তথা আজান দেওয়ার স্থান গ্রহণ করা হয়, তবে এটি তাদের নিকট একটি পরিচিত বিষয় ছিল, তাই এটি বলা বৈধ নয় যে তারা এটি চিনতেন না। আর যদি মিনারার নির্মাণশৈলীতে কোনো বিবর্তন ঘটে থাকে, তবে তা একে সেই নাম থেকে বের করে দেবে না যা সাহাবীগণ স্বাভাবিকভাবেই জানতেন। যেহেতু হাদিসটি একটি গায়েবি বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছে, তাই আমাদের জন্য দলীল-প্রমাণ ছাড়া নিজেদের পক্ষ থেকে মিনারার কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আরোপ করা বৈধ নয়, আর এরপর সাহাবীগণের প্রতি মিনারা না চেনার অপবাদ দেওয়াও ঠিক নয়! সারকথা হলো, হে সম্মানিত শাইখ, সাহাবীগণ মিনারা খুব ভালোভাবেই চিনতেন, কিন্তু তারা অবশ্যই সেই মিনারা চিনতেন না যার চিত্র আপনার মনে গেঁথে আছে। এই সেই চিত্র যার ব্যাপারে আপনি কখনোই বলতে পারবেন না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে এটিই উদ্দেশ্য করেছেন। এর ভিত্তিতে আপনার এই কথা বাতিল হয়ে যায় (পৃষ্ঠা ১২): "সাহাবীগণ মিনারা চিনতেন না।"

যখন আমাদের উপস্থাপিত এই বিষয়গুলো প্রমাণিত হলো, তখন সম্মানিত পাঠকের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, লেখকের এই হাদিস দ্বারা করা দলিলটি অসার যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে এমন বিষয়ের ওপর আমল করতে উৎসাহিত করেছেন যা তারা চিনতেন না! এবং আমাদের এই কথাটিই বহাল থাকে যে, "রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের এমন কোনো বিষয়ে উৎসাহিত করবেন যা তারা চেনেন না—এটি বিবেকগ্রাহ্য নয়।" ফলে তসবিহ ব্যবহারের হাদিসটি বাতিল হওয়ার প্রথম প্রমাণটি সঠিক ও অটুট থাকল (১)।

‌‌তসবিহ দিয়ে জিকির করা সুন্নাহর পরিপন্থী নয়—শাইখের এই উক্তির খণ্ডন! সুন্নাহর পরিপন্থী হওয়া এবং না হওয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা: আর দ্বিতীয় প্রমাণটি হলো তসবিহ দিয়ে জিকির করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙুলের করের মাধ্যমে জিকির করার পদ্ধতির বিরোধী হওয়া; এ প্রসঙ্গে শাইখ তাঁর উত্তরে বলেছেন (পৃষ্ঠা ১৪ - ১৫):

--------------------------------------------

(১) এখানে এই সুযোগে আমি একটি ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করতে চাই যাতে শাইখ পতিত হয়েছেন, তা হলো তিনি পূর্বোক্ত মিনারার হাদিসটিকে কেবল আবু দাউদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, অথচ এটি সহিহ মুসলিমের (৮ম খণ্ড/ ১৯৭ - ১৯৮ পৃষ্ঠা) অন্তর্ভুক্ত!
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১১)
"يقال لك: لا يلزم من التسبيح بالسبح بدل التسبيح بالأنامل أن يكون فاعله مخالفًا لهدي النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما غاية ما فيه أنه ترك الأفضل الذي هو العقد باليمين لكونه الوارد من فعله صلى الله عليه وسلم: وقوله".

ثم أطال فضيلته في ذكر نظائر لهذه المسألة، ولو أنا أردنا أن نتعقبه في كل مثال أورده لطال بنا المقال جدًا، ولأثقلنا على المجلة وعلى القراء معًا ولكن "ما لا يدرك كله لا يترك قله" ولذلك فإني سأقول في تلك الأمثلة كلمة جامعة:

إن الأمثلة المشار إليها تنقسم إلى قسمين:

الأولى: ما دل النص على جواز الأمرين وفضلها، وأن أحدهما أفضل من الآخر، هم مثل ما أورده الشيخ من صلاة النوافل في المساجد والبيوت، والنص هو قوله صلى الله عليه وسلم: . (أفضل صلاة المرأ في بيته إلا المكتوبة) رواه البخاري ومسلم. وقد يقوم مقامه نص هو من فعله صلى الله عليه وسلم لا يظهر للفقيه أنه أفضل من فعله الآخر.

والقسم الآخر: ما جاء النص العملي عنه صلى الله عليه وسلم محددًا لشيء من العبادات أو مقيدًا له بصفة؛ ثم لم يأت ما يفيد أن خلافه مشروع وأن له فضلًا دون الذي شرعه صلى الله عليه وسلم بفعله، مثل الوضوء بالمد والاغتسال به مع الصاع، فإنه ليس في الشرع ما يدل على مشروعية الزيادة عليه.

فالذي نراه وندين الله به: أن ما كان من القسم الأول فنحن نفضل ما فضله صلى الله عليه وسلم ونجيز الأمر الآخر، لأن النبي صلى الله عليه وسلم أجازه وجعل له فضيلة دون فضيلة الأمر الأول، مثل صلاة النوافل في المساجد لا لأننا "نرى الناس يصلون الرواتب كلها في المسجد"!

وأما ما كان من النوع الثاني فنحن نجيب الشيخ بصراحة "نعم نحن ننكر عليه إنكارنا للسبحة نظرًا لكونه ترك ما هو الوارد عنه صلى الله عليه وسلم"، وقد قال الإمام البخاري في كتاب "الوضوء من صحيحه (1/ 188 يشرح فتح الباري):

"وكره أهل العلم الإسراف فيه، وأن يجاوزوا فعل النبي صلى الله عليه وسلم".

ولا يخفي أنه لا فرق بين أن يزيد على عدد الثلاث أو على كمية الماء إذ كله تجاوز لفعل النبي صلى الله عليه وسلم. ومما يؤيد هذا قوله صلى الله عليه وسلم:
আপনাকে বলা হবে যে: আঙ্গুলের গিঁটের পরিবর্তে তসবীহ মালা দিয়ে তসবীহ পাঠ করলে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিরোধী হওয়া আবশ্যক করে না। বরং এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো যে, ব্যক্তিটি সর্বোত্তম পদ্ধতিটি বর্জন করেছে, যা হলো ডান হাতের আঙুলে গণনা করা; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ও কথা থেকে এটিই বর্ণিত হয়েছে।

অতঃপর মাননীয় লেখক এই মাসআলার অনুরূপ বিষয়গুলো বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি যেসব উদাহরণ পেশ করেছেন, আমরা যদি তার প্রত্যেকটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে চাই তবে আমাদের আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে যাবে এবং তা পত্রিকা ও পাঠক—উভয়ের জন্যই বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু একটি প্রবাদ আছে যে, "যা পূর্ণরূপে অর্জন করা যায় না, তার সামান্যটুকুও বর্জন করা উচিত নয়।" তাই আমি সেই উদাহরণগুলোর ব্যাপারে একটি সারসংক্ষেপ কথা বলব:

উল্লিখিত উদাহরণগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথমত: যে ক্ষেত্রে দলিল উভয় বিষয়ের বৈধতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে, এবং একটি অন্যটির চেয়ে অধিক উত্তম। এটি শায়খ যেমনটি উল্লেখ করেছেন—মসজিদে এবং ঘরে নফল সালাত আদায়ের উদাহরণের মতো। এ প্রসঙ্গে দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (ফরজ সালাত ব্যতীত মানুষের সর্বোত্তম সালাত হলো তার ঘরে আদায়কৃত সালাত)। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আবার অনেক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল থেকেও এমন দলিল থাকতে পারে যা একজন ফকিহর কাছে অন্য কোনো আমলের চেয়ে অধিক উত্তম বলে প্রতীয়মান হয় না।

দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এমন আমলি দলিল এসেছে যা কোনো ইবাদতকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে অথবা তাকে একটি বিশেষ গুণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে; অতঃপর এমন কোনো দলিল আসেনি যা এর বিপরীত কাজকে বৈধ বলে প্রমাণ করে অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আমল দিয়ে যা সাব্যস্ত করেছেন তার বাইরে অন্য কিছুর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। যেমন এক মুদ পানি দিয়ে অজু করা এবং এক সা' পানি দিয়ে গোসল করা; কারণ শরিয়তে এর অতিরিক্ত করা বৈধ হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

সুতরাং আমরা যা সঠিক মনে করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে মত পোষণ করি তা হলো: প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোতে আমরা সেই পদ্ধতিকেই প্রাধান্য দেই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠ বলেছেন এবং অন্য পদ্ধতিকেও বৈধ মনে করি। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বৈধ করেছেন এবং প্রথম পদ্ধতির তুলনায় তারও একটি মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন। যেমন মসজিদে নফল সালাত আদায় করা; আমরা এটি এ কারণে বৈধ বলছি না যে "আমরা মানুষকে মসজিদের সব সুন্নাতে রাতিবা আদায় করতে দেখি"!

আর দ্বিতীয় প্রকারের ব্যাপারে আমরা শায়খকে স্পষ্টভাবে জবাব দিচ্ছি যে, "হ্যাঁ, আমরা তাঁর তসবীহ মালার ব্যবহারের সমালোচনা করার মতোই একেও প্রত্যাখ্যান করি, যেহেতু এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা বর্জন করার নামান্তর।" ইমাম বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'ওজু' অধ্যায়ে (ফাতহুল বারীর ১/১৮৮ নং পৃষ্ঠার ব্যাখ্যায়) বলেছেন:

"আহলে ইলমগণ এতে অপচয় করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলকে ছাড়িয়ে যাওয়া অপছন্দ করেছেন।"

এটি স্পষ্ট যে, ধোয়ার সংখ্যার ক্ষেত্রে তিনের বেশি করা অথবা পানির পরিমাণের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ এর সবই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলের সীমা লঙ্ঘন। একে সমর্থন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১২)
(إنه سيكون في هذه الأمة قوم يعتدون في الطُّهور والدعاء) (1).

والاعتداء لا يجوز شرعًا فثبت أنه لا يجوز الزيادة في الماء وضوءًا وغُسلًا على ما حدده الرسول صلى الله عليه وسلم، وبهذا يسقط من عين الاعتبار تساؤل الشيخ المستنكر في قوله:

"وأغلب الناس اليوم يأخذون لوضوئهم أكثر من هذا القدر بكثير، فهل نجعل كل من لا يقتصر في وضوئه على المد وفي غسله على الصاع مخالفًا لهديه صلى الله عليه وسلم؟ ! "!

وكيف لا يكون من زاد على هديه صلى الله عليه وسلم مخالفًا وليس وراء هديه عليه الصلاة والسلام إلا الضلال، ولهذا ذهب الشافعية وغيرهم إلى ذم الإسراف في الماء في الوضوء والغسل، وسبق ما نقله البخاري عن أهل العلم في كراهة ذلك، بل ذهب بعض الشافعية مثل البغوي وغيره إلى أنه حرام (2). وهذا أقرب إلى ظاهر حديث الاعتداء في الطهور المتقدم آنفًا.

وإذا تبين للقراء الكرام هذان القسمان من عبادته عليه الصلاة والسلام فقد آن أن نتساءل هل التسبيح بالأنامل بدخل في القسم الأول أم الثاني؟

أما نحن فلا شك أنه من القسم الثاني ولكونه الوارد من فعله صلى الله عليه وسلم وقوله" كما قال فضيلة الشيخ نفسه! ولم يأت عنه صلى الله عليه وسلم ما يدل على مشروعية خلافه وفضيلته حق بكون العمل به سائغًا مع ترك الأفضل، وعبارة الشيخ التي نحن في صدد الرد عليها صريحة في أن التسبيح بالسبحة له فضيلة ولكن التسبيح بالأنامل أفضل، ولذلك فنحن نطالبه الدليل الشرعي على هذه الفضيلة، وليس لديه إلا هذا الحديث (نعم المذكر السبحة) وهو عندي موضوع، وعند الشيخ ضعيف، فلا يجوز الاستدلال به على كل حال، وأما قياس السبحة على التسبيح بالحصى فقياس مع الفارق، لأن المفاسد التي تنشأ عادة من استعمال السبحة كالرياء والاشتغال بها عن رد السلام كما كنا أشرنا إليه في "المقال" لا تحصل في التسبيح بالحصي، فاختلف المقيس والمقيس عليه، هذا لو صح النسبيح بالحصى عنه صلى الله عليه وسلم، وليس بصحيح كما كنا بيناه في "المقال" المشار إليه وسنزيده بيانًا ههنا إن شاء الله.

ومن عجيب أمر الشيخ أنه يصرح (ص 15) أن العقد باليمين هو "الوارد من فعله صلى الله عليه وسلم وقوله" ويشير بـ "وقوله" إلى حديث يُسَيْرة مرفوعًا:

--------------------------------------------

(1) وهو حديث صحيح كما قال الحاكم والنووي وابن حجر.

(2) ذكره النووي في "المجموع شرح المهذب" (2/ 190).
(নিশ্চয়ই এই উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা পবিত্রতা অর্জন ও দোয়ার ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করবে) (১)।

আর সীমা লঙ্ঘন করা শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ নয়। ফলে এটি প্রমাণিত যে, ওজু এবং গোসলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা জায়েজ নয়। আর এর মাধ্যমেই শায়খের সেই আপত্তিকর প্রশ্নটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে, যেখানে তিনি বলেছেন:

"বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ তাদের ওজুর জন্য এই পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি পানি গ্রহণ করে। তবে কি আমরা প্রত্যেক সেই ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের পরিপন্থী সাব্যস্ত করব, যে তার ওজুতে এক মুদ এবং গোসলে এক সা'-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না?!"

যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াত বা আদর্শের ওপর অতিরিক্ত কিছু করল, সে কেন তাঁর আদর্শের বিরোধী হবে না? অথচ তাঁর হেদায়াতের বাইরে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নেই। এই কারণেই শাফেয়ী মাযহাবের ইমামগণ ও অন্যান্যগণ ওজু এবং গোসলে পানির অপচয়কে নিন্দা করেছেন। ইতিপূর্বে ইমাম বুখারী আলেমদের নিকট থেকে এই কাজের অপছন্দনীয়তা বা মাকরূহ হওয়ার বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করা হয়েছে। বরং বাগাভী ও অন্যান্যদের মতো কিছু শাফেয়ী ফকীহ একে হারাম হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন (২)। আর এটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত পবিত্রতা অর্জনে সীমা লঙ্ঘন সংক্রান্ত হাদীসের বাহ্যিক অর্থের অধিক নিকটবর্তী।

সম্মানিত পাঠকদের নিকট যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদতের এই দুটি প্রকার স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন এটি জিজ্ঞাসা করার সময় এসেছে যে, আঙ্গুলের করের মাধ্যমে তাসবিহ পাঠ করা কি প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নাকি দ্বিতীয় প্রকারের?

আমাদের পক্ষ থেকে উত্তর হলো, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম ও বাণী দ্বারা প্রমাণিত, যেমনটি খোদ শায়খ নিজেই বলেছেন! আর তাঁর থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যা এর বিপরীত আমলের বৈধতা নির্দেশ করে এবং যার কারণে উত্তমটি বর্জন করে সেই আমল করা বিধিসম্মত হয়। শায়খের যে বক্তব্যের আমরা প্রতিবাদ করছি, তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তাসবিহ মালার মাধ্যমে তাসবিহ পাঠের ফযিলত রয়েছে, তবে আঙ্গুলের মাধ্যমে তাসবিহ পাঠ করা উত্তম। তাই আমরা এই ফযিলতের ব্যাপারে তাঁর কাছে শরঈ দলিল দাবি করছি। তাঁর কাছে "(তাসবিহ মালা কতই না চমৎকার স্মারক)"-এই হাদীসটি ছাড়া আর কিছুই নেই। এই হাদীসটি আমার মতে জাল, আর শায়খের মতে এটি দুর্বল। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই এটি দ্বারা দলিল গ্রহণ করা জায়েজ নয়। আর তাসবিহ মালাকে পাথরের কণার ওপর কিয়াস করাটি একটি ত্রুটিপূর্ণ কিয়াস। কারণ তাসবিহ মালা ব্যবহারের ফলে সাধারণত রিয়া (লোকদেখানো আমল) এবং সালামের উত্তর প্রদান থেকে বিমুখ হওয়ার মতো যেসব ক্ষতিকর দিক তৈরি হয়—যা আমরা আমাদের 'প্রবন্ধে' উল্লেখ করেছি—তা পাথরের কণার মাধ্যমে তাসবিহ পাঠের ক্ষেত্রে ঘটে না। সুতরাং মূল বিষয় এবং যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। এটি তো তখন কার্যকর হতো যদি পাথর ব্যবহারের বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত হতো। অথচ তা সহীহ নয়, যেমনটি আমরা নির্দেশিত 'প্রবন্ধে' বর্ণনা করেছি এবং ইনশাআল্লাহ এখানেও আমরা এর বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করব।

শায়খের ব্যাপারে বিস্ময়কর বিষয় হলো যে, তিনি (১৫ পৃষ্ঠায়) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ডান হাতের মাধ্যমে গণনা করা হলো "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম ও বাণী দ্বারা প্রমাণিত" এবং "তাঁর বাণী" দ্বারা তিনি ইউসাইরাহ বর্ণিত মারফু হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন:

--------------------------------------------

(১) এটি একটি সহীহ হাদীস, যেমনটি হাকেম, নববী এবং ইবনে হাজার বলেছেন।

(২) ইমাম নববী এটি "আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব" (২/ ১৯০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১৩)
(عليكن بالتسبيح والتهليل والتقديس، ولا تغفُلّنَ فنُنْسَيّن التوحيد - (وفي رواية: الرحمة) -، واعقدن بالأنامل فإنهن مسؤولات ومستنطقات) (1).

فهذا أمر بالعقد بالأنامل، معلل بأنهن (مسؤولات ومستنطقات) فكيف يجيز الشيخ لنفسه، وللناس مخالفة هذا الأمر الصريح المعلل بهذه العلة التي تقضي بأنه لا يقوم مقام العقد شيء كالتسبيح بالسبحة أو الحصى لانتفاء العلة منها! !

ومما سبق يتبين للبصير أن الشيخ لم يستطع أن يوهن من شأن القرينتين السابقتين اللتين جعلتهما من الأدلة على بطلان حديث "السبحة" وعلى ذلك فهما سالمتان من النقد قائمتان بدلالتها أتم القيام.

‌‌قرينة ثالثة على بطلان حديث السبحة: هذا، وإني لأعتقد أن فيما مضى كفاية في إقناع الشيخ ببطلان هذا الحديث من حيث معناه، ومع ذلك فإني أضيف إلى ما تقدم قرينة أخرى على البطلان فأقول:

جاء في "لسان العرب" ما نصه: "و (السبحة) الخرزات التي يعد المسبح بها تسبيحه، وهي كلمة مولدة".

وفي شرح القاموس للزَّبيدي: "هي كلمة مُوَلَّدة، قال الأزهري، وقال شيخنا: إنها ليست من اللغة في شيء، ولا تعرفها العرب، وإنما حدثت في الصدر الأول إعانة على الذكر وتذكيرًا وتنشيطًا".

ومن المقرر في علوم اللغة وآدابها أن "المولَّد"، ما أحدثه المولدون الذين لا يحتج بألفاظهم، وأنهم الذين وجدوا بعد الصدر الأول (2).

فهذا يدل دلالة ظاهرة على أن هذا الحديث (نعم المذكر السبحة) مختلق من بعد العصر الأول لأن لفظة "السبحة" ليست من لغته صلى الله عليه وسلم ولا من لغة أصحابه بشهادة أهل

--------------------------------------------

(1) وهو حديث صحيح عند الشيخ كما يدل عليه احتجاجه به لاسيما وقد صححه الحاكم والذهبي وحسنه النووي والعسقلاني، وهو لا يستطيع أن يخالفهم كما يدل عليه صنيعه في هذه الرسالة.

(2) انظر "المزهر في علوم اللغة وأنواعها" للسيوطي (1/ 304) و"خزانة الأدب" (1/ 4).
"তোমরা তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং তাকদিস (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা) করাকে নিজেদের জন্য আবশ্যক করে নাও এবং গাফেল হয়ো না, অন্যথায় তোমরা তাওহিদ—অন্য বর্ণনায় এসেছে: রহমত—ভুলে যাবে। আর তোমরা আঙ্গুলের গিঁটে গণনা করো, কেননা কিয়ামতের দিন সেগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং সেগুলো কথা বলবে" (১)।

এটি আঙ্গুলের গিঁটে তাসবিহ গণনা করার একটি নির্দেশ, যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেগুলো (জিজ্ঞাসাবাদযোগ্য ও বাকশক্তিপ্রাপ্ত)। সুতরাং শায়খ কীভাবে নিজের জন্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য এই স্পষ্ট নির্দেশের বিরোধিতা করা বৈধ মনে করেন? অথচ এই নির্দেশটি এমন একটি সুনির্দিষ্ট কারণ দ্বারা সাব্যস্ত যা এটিই নির্ধারণ করে যে, আঙ্গুলের গিঁটের স্থলাভিষিক্ত তসবিহ মালা বা কঙ্করের মতো অন্য কিছু হতে পারে না; কারণ সেগুলোর মধ্যে উল্লিখিত কারণ বা বৈশিষ্ট্যটি অনুপস্থিত! !

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে বিচক্ষণ ব্যক্তির নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, শায়খ ইতিপূর্বে উল্লিখিত প্রমাণ দুটির গুরুত্বকে খর্ব করতে সক্ষম হননি, যেগুলোকে আমি তসবিহ মালা সংক্রান্ত হাদিসটির অসারতার দলিল হিসেবে পেশ করেছিলাম। সুতরাং সেই প্রমাণ দুটি সব ধরনের সমালোচনা হতে মুক্ত এবং নিজস্ব দালালাত বা নির্দেশের ক্ষেত্রে পূর্ণরূপে অটল রয়েছে।

‌‌তসবিহ মালা সংক্রান্ত হাদিস ভিত্তিহীন হওয়ার তৃতীয় প্রমাণ: আমি বিশ্বাস করি যে, অর্থের দিক থেকে এই হাদিসটির অসারতা সম্পর্কে শায়খকে আশ্বস্ত করার জন্য পূর্বের আলোচনাটুকুই যথেষ্ট। তা সত্ত্বেও আমি পূর্বোক্ত প্রমাণের সাথে এর বাতুলতার আরেকটি আনুষঙ্গিক প্রমাণ যুক্ত করছি এবং বলছি:

"লিসানুল আরব" গ্রন্থে স্পষ্টভাবে এসেছে: "এবং (আস-সুবহাহ) হলো সেই পুঁতিগুলো যার দ্বারা তাসবিহ পাঠকারী তার তাসবিহ গণনা করে থাকে, আর এটি একটি 'মুওয়াল্লাদ' (পরবর্তী যুগে উদ্ভাবিত) শব্দ।"

জাবিদি কৃত 'শারহুল কামুস'-এ রয়েছে: "এটি একটি মুওয়াল্লাদ শব্দ, আজহারি এটি বলেছেন। আর আমাদের শায়খ বলেছেন: এটি মূল ভাষার কোনো অংশ নয় এবং আরবরা এটি চিনত না। এটি কেবল প্রথম যুগে জিকিরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য উদ্ভাবিত হয়েছিল।"

ভাষা বিজ্ঞানে এটি স্বীকৃত যে, 'মুওয়াল্লাদ' হলো এমন শব্দ যা পরবর্তী যুগের মানুষেরা উদ্ভাবন করেছে যাদের শব্দাবলী দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। আর তারা হলো সেই সব লোক যারা প্রথম যুগের (সদরুল আউয়াল) পরে আবির্ভূত হয়েছিল (২)।

এটি স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে যে, "তসবিহ মালা কতই না উত্তম স্মারক" নামক এই হাদিসটি প্রথম যুগের পরবর্তী সময়ে উদ্ভাবিত বা জাল করা হয়েছে। কারণ ভাষা বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য অনুযায়ী "সুবহাহ" (তসবিহ মালা) শব্দটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষা কিংবা তাঁর সাহাবীদের ব্যবহৃত ভাষার অন্তর্ভুক্ত নয়।

--------------------------------------------

(১) এটি শায়খের নিকট একটি সহিহ হাদিস, যা তাঁর দলিল হিসেবে এটি গ্রহণ করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। বিশেষ করে হাকেম ও দাহাবি একে সহিহ বলেছেন এবং নববী ও আসকালানি একে হাসান বলেছেন। আর তিনি তাদের বিরুদ্ধাচরণ করতে পারেন না, যা এই রিসালায় (পুস্তিকায়) তাঁর কর্মপদ্ধতি থেকে স্পষ্ট।

(২) দেখুন সুয়ুতির "আল-মুযহির ফি উলুমিল লুগাহ ওয়া আনওয়াউহা" (১/৩০৪) এবং "খিজানাতুল আদব" (১/৪)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১৪)
المعرفة باللغة، فهذا من القرائن التي أشار إليها الحافظ بقوله: "ومن القرائن التي يدرك بها الموضوع ما يؤخذ من حال المروي".

فتبين أن "السبحة" مخترعة ذاتًا واسمًا، وذلك يدل على وضع هذا الحديث قطعًا، والله الموفق.

‌‌تعيين واضع الحديث: فإن قيل: فمن هو واضع هذا الحديث؟ فأقول:

كنت ذكرت في "المقال" الذي حققت فيه القول في وضع هذا الحديث احتمال أن يكون آفته، عبد الصمد بن موسي الهاشمي الضعيف، ثم تبين لي الآن أن المتهم به هو "محمد بن هارون بن عيسى بن المنصور الهاشمي" فإنه كان يضع الحديث كما سيأتي، ولكني كنت ذكرت هناك أنه "محمد بن هارون بن العباس بن أبي جعفر المنصور" وأنه من أهل الستر والفضل اعتمادًا مني على ورود نسبه هكذا في ترجمة الخطيب إياه، وذهلت عن الترجمة التي بعدها الموافقة لنسب المترجم. كما ورد في سند الحديث فقال الخطيب:

"محمد بن هارون بن عيسي بن إبراهيم بن عيسى بن أبي جعفر المنصور يكنى أبا اسحاق ويعرف بابن بُرَيْنه … وفي حديثه مناكير كثيرة، وقال الدارقطني: لا شيء".

فأنت ترى أن جد محمد بن هارون راوي هذا الحديث اسمه "عيسي" وكذا هو في هذه الترجمة فهو هو، وأما في الترجمة الأولى فاسم جده العباس وهو مخالف لاسمه في سند الحديث فليس به، وإنما هو هذا المطعون فيه وقد اتهمه ابن عساكر فقال كما … في "اللسان":

"يضع الحديث" ثم ساق له حديثًا ثم قال!

"هذا من موضوعاته" (1)

وكذلك اتهمه الخطيب فقال عقب الحديث المشار إليه (7/ 403):

--------------------------------------------

(1) لكن الحافظ نازع ابن عساكر في أن يكون الحديث المشار إليه من موضوعات الهاشمي هذا، لأنه قد توبع عليه، ثم اتهم الحافظ به غيره، لكن الشاهد من كلام ابن عساكر قائم على كل حال لتصريحه بأنه "يضع الحديث" وأن له موضوعات غير هذا.
ভাষার জ্ঞান, এটি সেই সকল আলামতের অন্তর্ভুক্ত যার প্রতি হাফেজ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "আর যে সকল নিদর্শনের মাধ্যমে জাল হাদিস শনাক্ত করা যায়, তার একটি হলো যা বর্ণিত বিষয়ের অবস্থা থেকে গৃহীত হয়।"

সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, "তসবিহ" সত্তাগতভাবে এবং নামগতভাবে একটি নবউদ্ভাবিত বিষয়, আর এটি অকাট্যভাবে এই হাদিসটি জাল হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

‌‌হাদিস জালকারীর পরিচয় নির্ধারণ: যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে এই হাদিসটি জালকারী কে? আমি বলব:

আমি সেই "প্রবন্ধে"—যাতে আমি এই হাদিসটি জাল হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি—উল্লেখ করেছিলাম যে, এর ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দুর্বল বর্ণনাকারী আবদুস সামাদ ইবনে মুসা আল-হাশিমী। কিন্তু এখন আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন "মুহাম্মদ বিন হারুন বিন ঈসা বিন আল-মানসুর আল-হাশিমী"; কেননা তিনি হাদিস জাল করতেন যেমনটি সামনে আসবে। তবে আমি সেখানে উল্লেখ করেছিলাম যে, তিনি হলেন "মুহাম্মদ বিন হারুন বিন আল-আব্বাস বিন আবি জাফর আল-মানসুর" এবং তিনি ছিলেন সচ্চরিত্র ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আমি এটি বলেছিলাম খতিব বাগদাদীর জীবনী গ্রন্থে তাঁর বংশলতিকা এভাবে আসার ওপর ভিত্তি করে, এবং আমি পরবর্তী জীবনীটি খেয়াল করিনি যা বর্ণনাকারীর বংশলতিকার সাথে মিলে যায়, যেমনটি হাদিসের সনদে বর্ণিত হয়েছে। খতিব বলেন:

"মুহাম্মদ বিন হারুন বিন ঈসা বিন ইব্রাহিম বিন ঈসা বিন আবি জাফর আল-মানসুর, তাঁর ডাকনাম আবু ইসহাক এবং তিনি ইবনে বুরাইনাহ নামে পরিচিত ... এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসে অনেক অগ্রহণযোগ্য বিষয় রয়েছে, আর দারাকুতনী বলেছেন: তিনি কিছুই নন।"

আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, এই হাদিসের বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন হারুনের দাদার নাম "ঈসা" এবং এই জীবনীতেও তা-ই রয়েছে, সুতরাং তিনি সেই ব্যক্তিই। পক্ষান্তরে প্রথম জীবনীতে তাঁর দাদার নাম ছিল আল-আব্বাস, যা হাদিসের সনদে বর্ণিত নামের সাথে অমিল, সুতরাং তিনি সেই ব্যক্তি নন। বরং তিনি হলেন এই সমালোচিত ব্যক্তি এবং ইবনে আসাকির তাঁকে অভিযুক্ত করেছেন, তিনি যেমনটি বলেছেন ... "আল-লিসান" গ্রন্থে:

"তিনি হাদিস জাল করেন", অতঃপর তিনি তাঁর একটি হাদিস উল্লেখ করে বললেন!

"এটি তাঁর জাল করা হাদিসগুলোর একটি" (১)

অনুরূপভাবে খতিবও তাঁকে অভিযুক্ত করেছেন এবং উল্লিখিত হাদিসের পর (৭/৪০৩) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) তবে হাফেজ ইবনে আসাকিরের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে উল্লিখিত হাদিসটি এই হাশিমীর জাল করা কি না; কারণ এই হাদিসের অন্যান্য বর্ণনাকারীও রয়েছে। অতঃপর হাফেজ এর জন্য অন্য কাউকে অভিযুক্ত করেছেন। কিন্তু ইবনে আসাকিরের বক্তব্যের মূল বিষয়টি সব অবস্থাতেই বহাল থাকে, কারণ তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি "হাদিস জাল করেন" এবং এটি ছাড়াও তাঁর আরও জাল করা হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১৫)
"والهاشمي يعرف بابن بُرَيّه ذاهب الحديث يتهم بالوضع".

فانحصرت شبهة وضع الحديث فيه، وبرئت ذمة عبد الصمد بن موسي منه على ضعفه وروايته المناكير. والفضول في تنبهي لهذه الحقيقة يعود إلى مقال لي قديم في الكلام على هذا الحديث. فالحمد لله على توفيقه.

 

‌‌الأصول التي بني الشيخ عليها صحة حديثي الحصى

بعد أن فرغنا من تقرير الأصول التي بنا عليها الشيخ حكمه على الحديث بالضعف، والإجابة عليها بما يعود عليه بالنقض، أعود فأذكر الأصول التي بنا عليه الشيخ تصحيحه للحديثين، ثم أكر عليه بالرد فأقول: ذكر الشيخ:

1 - "لا يلزم من ضعف إسنادٍ لمتنٍ ضعفهُ، لاحتمال أن يكون له إسناد آخر صحيح إلا إذا بحث حافظ فأداه بحثه إلى الحكم بأنه لا يوجد له سوى هذا الضعيف، فحينئذ يحكم بضعف الحديث لضعف إسناده" (ص 20).

2 - أن الراوي المجهول إن زكاه أحد من أئمة الجرح والتعديل مع رواية واحدٍ عنه قبله وإلا فلا (ص 23) ولو كان هذا المزكي ابن حبان (ص 26).

"الغرابة عند الترمذي تطلق على عدة معان قد تجامع الصحة كما بينها في خاتمة الجامع ص 27.

‌‌الجواب عن هذه الأصول وجوابًا عن هذه الأصول الثلاثة أقول:

1 - هذه القاعدة مسلمة إن كان الشيخ لا يريد بها أكثر مما نقله عن النووي ص 21 وهو قوله:

"وإذا رأيت حديثًا بإسناد ضعيف فلك أن تقول ضعيف بهذا الإسناد، ولا تقل ضعيف لمتن مجرد ضعف ذاك الإسناد إلا أن يقول إمام إنه لم يرد من وجه صحيح، أو إنه ضعيف مفسرًا ضعفه".

وأوضح منه قول الحافظ العراقي في شرح ألفيته (1)

--------------------------------------------

(1) نقلة حضرة الشيخ في رسالته الخطية (ص 3) وهي ملخصة من رسالته المطبوعة وفيها زيادات قليلة، وكنت وقفت عليها بعد أن طبع الشيخ أصلها ونشرها على الناس! ولهذا جعلت ردي عليها لأن الخطية جزء منها.
হাশেমী ইবনে বুরাইয়্যাহ নামে পরিচিত, তিনি পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী এবং হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত।

ফলে হাদীস জাল করার সন্দেহটি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল এবং আবদুস সামাদ ইবনে মুসা তার দুর্বলতা ও মুনকার হাদীস বর্ণনা করা সত্ত্বেও এই অভিযোগ থেকে দায়মুক্ত হলেন। এই সত্যটির প্রতি আমার মনোনিবেশ করার কৃতিত্ব আমার একটি পুরনো নিবন্ধের কাছে ফিরে যায় যেখানে এই হাদীস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সুতরাং আল্লাহর তৌফিকের জন্য সমস্ত প্রশংসা তাঁরই।

 

‌‌যে মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে শাইখ কঙ্করের হাদীস দুটির বিশুদ্ধতা সাব্যস্ত করেছেন

শাইখ যে মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে হাদীসটিকে দুর্বল বলে হুকুম দিয়েছিলেন তা বর্ণনা করার এবং সেগুলোর খণ্ডনমূলক উত্তর দেওয়ার পর, এখন আমি পুনরায় সেই মূলনীতিগুলো উল্লেখ করছি যার ওপর ভিত্তি করে শাইখ হাদীস দুটির বিশুদ্ধতা দাবি করেছেন। অতঃপর আমি সেগুলো খণ্ডন করে বলছি: শাইখ উল্লেখ করেছেন:

১ - "কোনো মতনের (মূল পাঠ) সনদের দুর্বলতা থেকে সেই মতনের দুর্বলতা অনিবার্য হয় না, কারণ এর অন্য কোনো সহীহ সনদ থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবে যদি কোনো হাফেয (হাদীস বিশারদ) অনুসন্ধান করেন এবং তার গবেষণা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে এই দুর্বল সনদটি ছাড়া আর কোনো সনদ নেই, কেবল তখনই সনদের দুর্বলতার কারণে হাদীসটিকে দুর্বল বলে হুকুম দেওয়া হবে" (পৃ. ২০)।

২ - জনৈক অজ্ঞাত (মাজহুল) বর্ণনাকারী সম্পর্কে যদি জারহ ও তা'দীল শাস্ত্রের কোনো ইমাম তার বিশুদ্ধতা সত্যায়ন করেন এবং তার থেকে অন্তত একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করে থাকেন, তবেই তাকে গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় নয় (পৃ. ২৩); এমনকি সেই সত্যায়নকারী যদি ইবনে হিব্বানও হন (পৃ. ২৬)।

তিরমিযীর নিকট ‘গারা-বাত’ (অদ্ভুত বা একক হওয়া) শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয় যা কখনও কখনও সহীহ হওয়ার সাথেও একত্রিত হতে পারে, যেমনটি তিনি ‘জামে’ গ্রন্থের শেষে বর্ণনা করেছেন (পৃ. ২৭)।

‌‌এই মূলনীতিগুলোর উত্তরএই তিনটি মূলনীতির উত্তরে আমি বলছি:

১ - এই নিয়মটি স্বীকৃত, যদি শাইখ এর মাধ্যমে ইমাম নববী থেকে যা বর্ণনা করেছেন (পৃ. ২১) তার চেয়ে বেশি কিছু না বোঝাতে চান। ইমাম নববীর বক্তব্যটি হলো:

"আপনি যখন কোনো হাদীসকে দুর্বল সনদে দেখবেন, তখন আপনার জন্য এ কথা বলা জায়েয যে ‘এই সনদে হাদীসটি দুর্বল’। কিন্তু কেবল সনদের দুর্বলতার কারণে আপনি সেই মতন বা মূল পাঠকে সরাসরি দুর্বল বলবেন না, যতক্ষণ না কোনো ইমাম বলেন যে এটি অন্য কোনো সহীহ পথে বর্ণিত হয়নি অথবা এর দুর্বলতার কারণ ব্যাখ্যা করে সেটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন।"

এর চেয়েও সুস্পষ্ট হলো হাফেয ইরাকী কর্তৃক তাঁর আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায় প্রদত্ত বক্তব্য (১)

--------------------------------------------

(১) শাইখ এটি তাঁর পাণ্ডুলিপিতে (পৃ. ৩) উল্লেখ করেছেন যা তাঁর মুদ্রিত রিসালার একটি সংক্ষিপ্তসার এবং এতে সামান্য কিছু সংযুক্তি রয়েছে। শাইখ যখন এর মূল কপিটি ছেপে মানুষের মাঝে প্রচার করেন, তখন আমি এটি দেখতে পাই। একারণেই আমি এর ওপর আমার প্রত্যুত্তরটি তৈরি করেছি, কারণ পাণ্ডুলিপিটি এরই একটি অংশ।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১৬)
"إذا وجدت حديثًا بإسناد ضعيف فلك أن تقول: هذا ضعيف، وتعني بذلك الإسناد، وليس لك أن تعني بذلك ضعفه مطلقًا بناء على ضعف ذلك الطريق، ولعل له إسنادًا صحيحًا آخر يثبت بمثله الحديث، بل يقف جواز إطلاق ضعفه على حكم إمام من أئمة الحديث بأنه ليس له إسناد يثبت به، مع وصف ذلك الإمام لبيان وجه الضعف مفسرًا".

يضاف إلى ما سبق قول الحافظ ابن حجر الذي ساقه الشيخ عقب كلام النووي السابق:

"وكذلك إذا وجد كلام إمام من أئمة الحديث قد جزم بأن فلانًا تفرد به، وعرف المتأخر بأن فلانًا المذكور قد ضعف، فما المانع من الحكم بالضعف؟ ! ".

‌‌جواز تضعيف الحديث مقيدًا أو مطلقًا فقد استفدنا من هذه النصوص أمرين:

الأول: جواز تضعيف الحديث الذي سنده ضعيف، تضعيفًا مقيدًا بهذا السند لا مطلقًا للاحتمال المذكور في كلام العراقي.

الثاني: يجوز لأمثالنا من المتأخرين أن يضعف الحديث مطلقًا بناء على جزم إمام أنه تفرد به أحد الرواة وقد عرفنا نحن ضعفه.

فإذا تأمل القارئ الكريم في هذه الفوائد يتضح له وضوحًا جليًّا تحامل حضرة الشيخ عليّ إذ نسبني (ص 20) إلى مخالفتي هذه القاعدة وإلى "التحكم النفساني"! مع أنني لم أخالف القاعدة مطلقًا في كل ما أكتبه من هذه "المقالات" بل تضعيفي للأحاديث دائر حولها. أما على الأمر الأول فظاهر، وعلى هذا جرى كل العلماء في تخريجهم للأحاديث فإنهم إذا وجدوا حديثًا بإسناد ضعيف. قالوا: "سنده ضعيف" أو "هذا حديث ضعيف" ويعنون بذلك ضعفه بخصوص هذا الإسناد، ولا يمنعهم من ذلك احتمال أن يكون له إسناد آخر، لأن هذا الاحتمال لا يكلف به الإنسان إلا من الوجهة النظرية، أما من الوجهة العملية، فالحديث الضعيف سنده هو مثل الحديث الضعيف مطلقًا الذي صرح العلماء بضعفه وعدم وجود طريق آخر له.
যদি আপনি দুর্বল সনদে কোনো হাদিস পান, তবে আপনার জন্য এটি বলা বৈধ যে: "এটি দুর্বল", এবং এর দ্বারা আপনি উক্ত সনদটিকেই বোঝাবেন। কেবল সেই সূত্রের দুর্বলতার ওপর ভিত্তি করে আপনার জন্য একে নিরঙ্কুশভাবে দুর্বল বলা সমীচীন নয়। কারণ সম্ভবত হাদিসটির অন্য কোনো সহিহ সনদ থাকতে পারে যার মাধ্যমে হাদিসটি সাব্যস্ত হয়। বরং একে নিরঙ্কুশভাবে দুর্বল বলার বৈধতা হাদিসের ইমামগণের মধ্য থেকে কোনো ইমামের এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে যে, এর এমন কোনো সনদ নেই যার দ্বারা এটি সাব্যস্ত হতে পারে; সাথে উক্ত ইমামের দুর্বলতার কারণটি সবিস্তারে ব্যাখ্যা করার বর্ণনাও থাকতে হবে।

পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে হাফেজ ইবনে হাজার-এর সেই উক্তিটি যুক্ত করা যায় যা শায়খ (পূর্ববর্তী) ইমাম নববীর বক্তব্যের পরপরই উল্লেখ করেছেন:

"অনুরূপভাবে, যদি হাদিসের ইমামগণের মধ্য থেকে কোনো ইমামের এমন বক্তব্য পাওয়া যায় যাতে তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, অমুক ব্যক্তি এটি বর্ণনায় একক, এবং পরবর্তী স্তরের আলেম (মুতাআখখির) জানতে পারেন যে উল্লিখিত সেই ব্যক্তিটি দুর্বল, তবে হাদিসটিকে দুর্বল বলে হুকুম প্রদান করতে বাধা কোথায়?!"

‌‌হাদিসকে শর্তসাপেক্ষ বা নিরঙ্কুশভাবে দুর্বল আখ্যা দেওয়ার বৈধতাএই পাঠগুলো থেকে আমরা দুটি বিষয় লাভ করেছি:

প্রথমত: যে হাদিসের সনদ দুর্বল, সেই সনদটির ওপর ভিত্তি করে তাকে শর্তসাপেক্ষভাবে দুর্বল বলা জায়েজ, নিরঙ্কুশভাবে নয়; যা ইরাকির বক্তব্যে উল্লিখিত সম্ভাবনার কারণে।

দ্বিতীয়ত: আমাদের মতো পরবর্তী স্তরের আলেমদের জন্য কোনো হাদিসকে নিরঙ্কুশভাবে দুর্বল বলা জায়েজ, যখন কোনো ইমামের এই সুনিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায় যে কোনো বর্ণনাকারী এটি বর্ণনায় একক এবং আমরা সেই বর্ণনাকারীর দুর্বলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি।

সম্মানিত পাঠক যদি এই ফায়দাগুলোর প্রতি লক্ষ করেন, তবে তার কাছে শায়খ আলীর পক্ষপাতমূলক আচরণ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে, যেহেতু তিনি (২০ নং পৃষ্ঠায়) আমার প্রতি এই নীতি লঙ্ঘনের এবং "খেয়ালখুশিমতো আচরণের" অভিযোগ এনেছেন! অথচ আমি আমার এই "প্রবন্ধসমূহের" কোথাও এই নীতিটি মোটেও লঙ্ঘন করিনি, বরং হাদিস দুর্বল আখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার যাবতীয় পদ্ধতি এই নীতির চারপাশেই আবর্তিত হয়েছে। প্রথম বিষয়টির ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট, এবং উলামায়ে কেরাম হাদিসের তাখরিজ করার ক্ষেত্রে এই নিয়মই অনুসরণ করেছেন। কেননা তারা যখন কোনো দুর্বল সনদের হাদিস পান, তখন বলেন: "এর সনদ দুর্বল" অথবা "এটি দুর্বল হাদিস" এবং এর দ্বারা তারা নির্দিষ্টভাবে এই সনদের দুর্বলতাই বুঝিয়ে থাকেন। অন্য কোনো সনদ থাকার সম্ভাবনা তাদেরকে তা বলা থেকে বিরত রাখে না; কারণ এই সম্ভাবনা কেবল তাত্ত্বিক দিক থেকেই বিবেচনা করা হয়। ব্যবহারিক দিক থেকে, যে হাদিসের সনদ দুর্বল তা মূলত সেই নিরঙ্কুশ দুর্বল হাদিসের মতোই যেটির দুর্বলতা এবং অন্য কোনো সূত্র না থাকার বিষয়টি উলামায়ে কেরাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويوضح لك هذا أن حضرة الشيخ صرح -كما تقدم- أن حديث "نعم المذكر السبحة": "ضعيف بهذا السند" فنسأله: هل تعامل هذا الحديث معاملة الحديث الضعيف مطلقًا فلا تجيز الاحتجاج به والجزم بنسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم أم لا؟ وغالب ظني أن جوابه سيكون إيجابيًّا، وأنه لا يعامله إلا معاملة الضعيف مطلقًا، وعلى هذا نسأله السؤال الثاني: هل يحتمل أن يكون له إسناد آخر أم لا؟ وغالب الظن أيضًا أن يكون الجواب إيجابيًّا، وحينئذ نقول: فكما لم يؤثر هذا الاحتمال في ضعف حديثك هذا، فكذلك لا يؤثر في ضعف الأحاديث التي أضعفها بسبب ضعف أسانيدها، وإنما يؤثر في ذلك أن تُظهر خطأي في تضعيفها أو ذهولي عن بعض طرقها الصحيحة، وأما بتطريق الاحتمال المذكور عليها فلا، لأنه لا يمكن أن تتصور حديثًا ضعف من قبل سنده، إلا وأمكن تطريق الاحتمال المذكور عليه، فإن قيل بالاعتداد به واعتباره مانعًا من تضعيف الحديث سقط الاعتماد والثقة بأقوال العلماء في تضعيف الأحاديث بل وفي تصحيحهم للأحاديث الصحيحة لأنه يحتمل كما قال -بعضهم- أن يكون بعض الرواة لها أخطأ أو تعمد الكذب ولم يظهر ذلك للمحدثين! ولا يخفى فساد هذا (القيل) على اللبيب البصير.

وأما على الأمر الثاني فانتفاء مخالفتي للقاعدة المذكورة أجلى وأظهر، لأن تضعيفنا في هذه الحالة قائم على أساس التفرد الذي جزم به بعض الأئمة، والحديثان اللذان نحن في صدد الكلام عليهما مما صرح به الترمذي بتفرد بعض الرواة بهما أما الحديث الأول وهو حديث سعد فقد قال فيه الترمذي (4/ 278 شرح التحفة):

"هذا حديث حسن غريب من حديث سعد".

ومعنى هذا أنه ليس له إسناد آخر عن سعد، فقد قال الحافظ ابن كثير في "اختصار علوم الحديث" في "معرفة الغريب" (ص 187):

"فالغريب ما تفرد به واحد وقد يكون ثقة، وقد يكون ضعيفًا، ولكل حكمه".

قلت: وهذا الحديث من قسم "الضعيف" لأن راويه (خزيمة) مجهول كما ذكرته هناك في "المقال" ويأتي له زيادة بيان ههنا.

وأما الحديث الثاني وهو حديث صفية فقال الترمذي أيضًا (4/ 274):
এটি আপনার কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, শায়খ ইতিপূর্বে যেমনটি ব্যক্ত করেছেন যে, "তসবীহ কতই না উত্তম স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যম" শীর্ষক হাদিসটি "এই সনদে যঈফ (দুর্বল)"। সুতরাং আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করি: আপনি কি এই হাদিসটিকে ঢালাওভাবে যঈফ হাদিস হিসেবে গণ্য করবেন—যাতে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে এটি সম্বন্ধযুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া বৈধ না হয়—নাকি করবেন না? আমার প্রবল ধারণা যে, তাঁর উত্তর হবে ইতিবাচক এবং তিনি এটিকে ঢালাওভাবে যঈফ হিসেবেই গণ্য করবেন। এমতাবস্থায় আমরা তাঁকে দ্বিতীয় প্রশ্নটি করি: এর কি অন্য কোনো সনদ থাকার সম্ভাবনা আছে কি নেই? এখানেও প্রবল ধারণা হলো যে উত্তর ইতিবাচক হবে। এমতাবস্থায় আমরা বলব: যেভাবে আপনার এই হাদিসের ক্ষেত্রে এই (অন্য সনদের) সম্ভাবনাটি এর দুর্বলতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি, ঠিক তেমনিভাবে যেসব হাদিসকে আমি তাদের সনদের দুর্বলতার কারণে যঈফ বলেছি, সেগুলোর দুর্বলতার ওপরেও এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না। বরং কেবল তখনই এর ওপর প্রভাব পড়বে যদি আপনি সেগুলোকে যঈফ বলার ক্ষেত্রে আমার ভুল ধরিয়ে দিতে পারেন অথবা সেগুলোর কোনো সহীহ সনদ সম্পর্কে আমার অসতর্কতা প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু কেবল উল্লিখিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তা হবে না; কারণ আপনি এমন কোনো হাদিস কল্পনা করতে পারবেন না যা সনদের দিক থেকে যঈফ বলা হয়েছে অথচ সেখানে উক্ত সম্ভাবনাটি আসার সুযোগ নেই। যদি এই সম্ভাবনাকে ধর্তব্য মনে করা হয় এবং এটিকে হাদিসকে যঈফ বলার পথে বাধা হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে হাদিস যঈফ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলেমদের বক্তব্যের ওপর থেকে নির্ভরযোগ্যতা ও আস্থা উঠে যাবে, এমনকি সহীহ হাদিসকে সহীহ বলার ক্ষেত্রেও; কারণ সেক্ষেত্রে এই সম্ভাবনাও থেকে যায়—যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন—যে এর কোনো বর্ণনাকারী হয়তো ভুল করেছেন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেছেন যা মুহাদ্দিসদের কাছে স্পষ্ট হয়নি! কোনো বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তির কাছে এই 'কথার' অসারতা গোপন নয়।

আর দ্বিতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে, উল্লিখিত মূলনীতির সাথে আমার বিরোধ না থাকার বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও প্রকাশ্য। কারণ, এই অবস্থায় আমাদের যঈফ বলাটি এমন 'তাফাররুদ' বা একক বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে যা কোনো কোনো ইমাম নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন। আর যে দুটি হাদিস নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, সেগুলোর ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিজী কোনো কোনো রাবীর একক বর্ণনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। প্রথম হাদিসটি হলো সা'দ-এর হাদিস, যার সম্পর্কে ইমাম তিরমিজী (তুহফাতুল আহওয়াযীর শারহ ৪/২৭৮) বলেছেন:

"সা'দ-এর বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান গারীব।"

এর অর্থ হলো সা'দ থেকে এর অন্য কোনো সনদ নেই। হাফেজ ইবনে কাসীর "ইখতিসার উলূমিল হাদিস"-এর "মা'রিফাতুল গারীব" (পৃষ্ঠা ১৮৭) অংশে বলেছেন:

"গারীব হলো সেটি যা কেবল একজন বর্ণনা করেছেন, আর তিনি বিশ্বস্ত হতে পারেন আবার দুর্বলও হতে পারেন, এবং প্রত্যেকের জন্য আলাদা বিধান রয়েছে।"

আমি বলি: এই হাদিসটি "যঈফ" বা দুর্বল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কারণ এর বর্ণনাকারী (খুজাইমাহ) হলেন মাজহুল (অপরিচিত), যেমনটি আমি সেখানে "নিবন্ধে" উল্লেখ করেছি এবং এখানে তার অতিরিক্ত বর্ণনা আসবে।

আর দ্বিতীয় হাদিসটি হলো সাফিয়্যাহ-এর হাদিস, সে সম্পর্কে ইমাম তিরমিজী আরও বলেছেন (৪/২৭৪):
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১৮)
"لا نعرفه إلا من هذا الوجه ..... ".

فهذا أصرح في الدلالة على تفرد أحد رواته به من قوله المتقدم في الحديث الأول كما هو ظاهر.

وهو من قسم الضعيف أيضًا لتفرد هاشم بن سعيد الكوفي به وهو ضعيف كما ذكرته هناك أيضًا وقد ضعفه الترمذي أيضًا بقوله "غريب" وبقوله: "وليس إسناده بمعروف" فثبت من هذا أن تضعيفي للحديثين قائم على القاعدة الحديثية ليس خارجًا عنها فسقط بذلك ما دندن به حضرة الشيخ حولها!

‌‌منهجي في تضعيف الأحاديث: على أنني حين أضعف حديثًا ما فإنني لا أكتفي على تضعيفه بمجرد أنني رأيت له هذا الطريق الضعيف بل إنني أتبع في سبيل ذلك كل ما تطوله يدي من مطبوع أو مخطوط مستعينًا على ذلك بما قاله الأئمة الحفاظ، كل ذلك خشية أن يكون له طريق تقوم به الحجة، فأقع بعدم إطلاعي عليه في الخطأ، وأعتقد أن هذا المنهج قد لمسه حضرات القراء في مقالاتي "الأحاديث الضعيفة والموضوعة" فإنهم كثيرًا ما يرون في مقال واحد منها أحاديث متكررة في معنى واحد قد ذكر كل حديث منها مفصولًا عن الآخر برقم متسلسل، وما ذلك إلا لتطبيق هذا المنهج والكلام على إسناد كل واحد منها تضعيفًا وتجريحًا، بحيث يندر أن يستدرك عليّ أحد طريقًا لم أورده! ولا أعتقد أن الله تعالى يكلفنا بأكثر من هذا، والخطأ ما يسلم منه إنسان، وإنما عليه أن يفرغ جهده للوصول إلى الحق، فإن أصابه فله أجران، وإن أخطأ فله أجر واحد، وصدق الله العظيم: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا}.

‌‌توثيق ابن حبان للمجهول غير مقبول:

2 - نقلنا في المقال السابق قاعدة الشيخ الثانية وهي قبول الراوي المجهول إن زكاه أحد من أئمة الجرح. فأقول: هذه القاعدة ليست على إطلاقها بل هي مفيدة عند المحققين من المحدثين بما إذا كان المزكي غير متساهل في التزكية، أمثال الإمام أحمد والبخاري وأبي حاتم وغيرهم، أما إذا كان معروفًا بالتساهل في ذلك بناء على قاعدة له في التزكية خالف فيها الأئمة، فإن تزكيته للمجهول غير مقبولة، ولا يخرج المجهول بها عن الجهالة! ومن هؤلاء المتساهلين ابن حبان البُستي صاحب "كتاب الثقات"
"আমরা এই সূত্র ব্যতীত এটি চিনি না ..... "।

এটি প্রথম হাদিসে বর্ণিত তাঁর আগের বক্তব্যের চেয়ে এর কোনো এক রাবির একক বর্ণনার নির্দেশক হিসেবে অধিকতর স্পষ্ট, যেমনটি প্রতীয়মান হচ্ছে।

এটিও যয়িফ বা দুর্বল পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, কারণ হাশিম ইবনে সাঈদ আল-কুফি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দুর্বল, যেমনটি আমি সেখানেও উল্লেখ করেছি। ইমাম তিরমিযীও একে "গরিব" এবং "এর সনদ পরিচিত নয়" বলে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, হাদিস দুটিকে আমার দুর্বল বলা হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতির ওপরই প্রতিষ্ঠিত এবং তা এর বাইরে নয়; এর ফলে শ্রদ্ধেয় শাইখ এ নিয়ে যা গুঞ্জন তুলেছেন তা বাতিল হয়ে গেল!

হাদিস দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি: তবে আমি যখন কোনো হাদিসকে দুর্বল বলি, তখন আমি কেবল এর একটি দুর্বল সূত্র দেখেই ক্ষান্ত হই না; বরং আমি মুদ্রিত বা পাণ্ডুলিপি আকারে যা কিছু আমার নাগালে পাই তার সবটুকুই অনুসন্ধান করি এবং হাফেয ইমামগণের বক্তব্যের সাহায্য গ্রহণ করি। এই সবকিছু করার কারণ হলো এই ভয় যে, হয়তো এর এমন কোনো সূত্র আছে যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, আর আমার তা না দেখার কারণে আমি ভুল করে বসব। আমি বিশ্বাস করি যে, পাঠক মহোদয়গণ আমার "দুর্বল ও জাল হাদিসসমূহ" নিবন্ধগুলোতে এই পদ্ধতির ছোঁয়া পেয়েছেন। কারণ তারা প্রায়শই একটি নিবন্ধের মধ্যে একই অর্থের একাধিক হাদিস দেখতে পান, যেখানে প্রতিটি হাদিসকে আলাদা আলাদা ক্রমিক নম্বর দিয়ে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা কেবল এই পদ্ধতি প্রয়োগ এবং প্রতিটি হাদিসের সনদের ওপর দুর্বলতা ও ত্রুটি বর্ণনার জন্যই করা হয়েছে, যাতে করে কেউ এমন কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়া বিরল হয় যা আমি উল্লেখ করিনি! আমি মনে করি না যে আল্লাহ তাআলা আমাদের এর চেয়ে বেশি কিছুর দায়িত্ব দিয়েছেন। আর ভুল থেকে কোনো মানুষই মুক্ত নয়, তবে তাকে সত্যে পৌঁছানোর জন্য তার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে; যদি সে সত্য লাভ করে তবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব, আর ভুল করলে তার জন্য একটি সওয়াব। আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "আল্লাহ কোনো প্রাণসত্তাকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।"

অজ্ঞাত রাবির ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ গ্রহণযোগ্য নয়:

২ - আমরা গত নিবন্ধে শাইখের দ্বিতীয় মূলনীতিটি উল্লেখ করেছি, যা হলো: অজ্ঞাত রাবিকে যদি জারহ ও তাদিলের কোনো ইমাম নির্ভরযোগ্য বলেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে। আমি বলব: এই মূলনীতিটি ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়, বরং তা মুহাক্কিক মুহাদ্দিসগণের নিকট তখন ফলপ্রসূ যখন সত্যায়নকারী ব্যক্তি সত্যায়নের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারী নন; যেমন ইমাম আহমাদ, বুখারি, আবু হাতিম ও অন্যান্যগণ। কিন্তু যখন তিনি সত্যায়নের ক্ষেত্রে এমন কোনো মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে শিথিলতার জন্য পরিচিত হন যাতে তিনি অন্য ইমামগণের বিরোধিতা করেছেন, তখন অজ্ঞাত রাবির ক্ষেত্রে তাঁর সত্যায়ন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এর মাধ্যমে অজ্ঞাত রাবি অজ্ঞাত অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে না! আর এই শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন "কিতাবুত থিকাত"-এর লেখক ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ১৯)
فإن من مذهبه فيه: "أن الرجل إذا انتفت جهالة عينه برواية واحد عنه فهو عدل حتي يتبين جرحه" وهذا خلاف ما تقرر في "مصطلح الحديث" أنه لا تثبت عدالته بذلك بل ولا برواية عدلين عنه، ولذلك قال النووي إنه "لا تقبل روايته عند الجماهير" (1) وقال الحافظ ابن حجر في مقدمة "لسان الميزان" (ص 14) بعد أن حكي مذهب ابن حبان المذكور:

"وهذا مذهب عجيب، والجمهور على خلافه، وهذا هو مساك ابن حبان في "كتاب الثقات" الذي ألفه، فإنه يذكر خلقًا ممن نص عليهم أبو حاتم وغيره على أنهم "مجهولون"! تم ذكر الحافظ قول الخطيب:

"إن العدالة لا تثبت برواية الاثنين" فمن شاء فليراجعه فيه.

وقاعدة ابن حبان هذه قل من يتنبه لها من المشتغلين بالحديث، ولهذا تري كثيرًا منهم يوثقون الرجل لمجرد توثيق ابن حبان إياه! وقد يكون غيره قد صرح بتجهيله! كما سبق عن الحافظ ثم يبني هؤلاء على ذلك تصحيح حديث هذا الموثّق! وبهذا يظهر خطر الجهل بأصل بهذه القاعدة وأنها مردودة! ولهذا نبه المحقون من العلماء عليها وحذروا منها فقال الحافظ محمد بن عبد الهادي في "الصارم المناكي" (ص 93):

"وقد علم أن ابن حبان ذكر في هذا الكتاب الذي جمعه في الثقات عددًا كثيرًا وخلقًا عظيمًا من المجهولين الذين لا يعرف هو ولا غيره أحوالهم! وقد صرح ابن حبان بذلك في غير موضع من هذا الكتاب فقال في الطبقة الثالثة:

1 - سهل، يروي عن شداد بن الهاد، روى عنه أبو يعقوب، ولست أعرفه، ولا أدري من أبوه"!

هكذا ذكر هذا الرجل في "كتاب الثقات" ونص على أنه لا يعرفه. وقال أيضًا:

2 - "حنظلة، شيخ يروي المراسيل، لا أدري من هو، رواه بن المبارك عن إبراهيم بن حنظلة عن أبيه"

--------------------------------------------

(1) تدريب الراوي (ص 115).
নিশ্চয়ই এই বিষয়ে তাঁর মত হলো: "যদি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে একজন রাবীর বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তি-পরিচয়হীনতা (জাহালাত আল-আঈন) দূর হয়ে যায়, তবে তিনি ন্যায়পরায়ণ (আদল) হিসেবে গণ্য হবেন যতক্ষণ না তাঁর কোনো ত্রুটি (জারহ) প্রকাশ পায়।" এটি 'হাদীস পরিভাষা' বিজ্ঞানে যা প্রতিষ্ঠিত তার পরিপন্থী যে, এর মাধ্যমে তাঁর ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত হয় না, এমনকি দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির তাঁর থেকে বর্ণনার মাধ্যমেও নয়। এই কারণে ইমাম নববী বলেছেন যে, "জমহুর বা অধিকাংশ ওলামার নিকট তাঁর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়" (১)। হাফেজ ইবন হাজার 'লিসান আল-মিজান' গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ১৪) ইবন হিব্বানের উক্ত মত বর্ণনা করার পর বলেছেন:

"এটি একটি অদ্ভুত মত, এবং জমহুর এর পরিপন্থী অবস্থানে রয়েছেন। আর এটিই ইবন হিব্বানের অবলম্বিত পদ্ধতি তাঁর রচিত 'কিতাবুস সিকাত' গ্রন্থে। কেননা তিনি সেখানে এমন অসংখ্য লোকের উল্লেখ করেছেন যাদের সম্পর্কে আবু হাতিম এবং অন্যান্যরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে তারা 'অজ্ঞাত'!" অতঃপর হাফেজ খতিব আল-বাগদাদীর উক্তি উল্লেখ করেছেন:

"নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণতা দুইজনের বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় না।" সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে সেখানে তা দেখে নিতে পারে।

ইবন হিব্বানের এই মূলনীতিটি হাদীস নিয়ে চর্চাকারীদের মধ্যে খুব কম লোকই লক্ষ্য করেন। এই কারণে আপনি দেখবেন যে, তাদের মধ্যে অনেকেই কোনো ব্যক্তিকে কেবল ইবন হিব্বানের নির্ভরযোগ্য বলার কারণেই নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করেন! অথচ অন্য কেউ হয়ত তাঁকে অজ্ঞাত বলে স্পষ্ট করেছেন! যেমনটি হাফেজ থেকে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তারা এর ওপর ভিত্তি করে উক্ত নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির হাদীসকে সহীহ বলে গণ্য করেন! এর মাধ্যমেই এই মূলনীতির ভিত্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার বিপদ এবং এটি যে প্রত্যাখ্যানযোগ্য তা স্পষ্ট হয়! এই কারণেই গবেষক আলেমগণ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং এ থেকে সাবধান করেছেন। হাফেজ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল হাদী 'আস-সারিম আল-মুনকি' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৯৩) বলেছেন:

"এটি জানা কথা যে, ইবন হিব্বান তাঁর সংকলিত এই 'সিকাত' গ্রন্থে এমন অসংখ্য এবং বিশাল সংখ্যক অজ্ঞাত ব্যক্তিদের উল্লেখ করেছেন যাদের অবস্থা সম্পর্কে না তিনি নিজে জানেন, না অন্য কেউ জানে! ইবন হিব্বান এই গ্রন্থের একাধিক স্থানে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি তৃতীয় স্তরে বলেছেন:

১ - সাহল, তিনি শাদ্দাদ ইবনুল হাদ থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াকুব। আমি তাঁকে চিনি না এবং তাঁর পিতা কে তাও জানি না!"

এভাবেই তিনি এই ব্যক্তিকে 'কিতাবুস সিকাত'-এ উল্লেখ করেছেন এবং স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি তাঁকে চেনেন না। তিনি আরও বলেছেন:

২ - "হানজালাহ, একজন শায়খ যিনি মুরসাল হাদীস বর্ণনা করেন, আমি জানি না তিনি কে। ইবনুল মুবারক ইব্রাহিম ইবন হানজালাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।"

--------------------------------------------

(১) তাদরীবুর রাভী (পৃষ্ঠা ১১৫)।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ২০)
3 - "الحسن أبو عبد الله، شيخ يروي المراسيل، روى عنه أيوب، النجار لا أدري من هو ولا ابن من هو"! . وقال أيضًا:

4 - جميل، شيخ يروي عن أبي المليح بن أسامة، روى عنه عبد الله بن عوف، لا أدري من هو ولا ابن من هو".

وقد ذكر ابن حبان في هذا الكتاب خلقًا كثيرًا من هذا النمط، وطريقته فيه أنه يذكر من لم يعرفه بجرح، وإن كان مجهولًا لم يعرف حاله، وينبغي أن يتنبه لهذا، ويعرف أن توثيق ابن حبان للرجل بمجرد ذكره في هذا الكتاب من أدنى درجات التوثيق".

ولهذا نري المحققين من العلماء لا يوثقون من تفرد ابن حبان بتوثيقه، بل يصرحون بكونه مجهولًا، قال الذهبي في "الميزان":

"أيوب عن أبيه، عنه كعب بن سور مجهول"، قال الحافظ في "اللسان":

"وذكره ابن حبان في "الثقات" وقال: "روى عنه مهدي بن ميمون، لا أدري من هو، ولا ابن من هو"! وهذا القول من ابن حبان يؤيد ما ذهبنا إليه من أنه يذكر في "كتاب الثقات" كل مجهول روى عنه ثقة ولم يجرح ..... ".

ولهذا نجد مئات التراجم في كتاب "تهذيب التهذيب" للحافظ ابن حجر ذكر أن ابن حبان وثقهم، ومع ذلك لم يعتمد عليه الحافظ في كتابه "التقريب" بل قال في كل منهم إنه مجهول وهاك بعضها على سبيل المثال:

1 - أبان بن طارق القيسي.

2 - بجير بن أبي يحيى.

3 - حاتم بن أبي نصر القِنَّسريني.

4 - ضُبارة بن عبد الله الحضرمي.

5 - طارق بن أبي الحسناء.

6 - عبد الله بن أبي بكر بن زيد بن المهاجر.

7 - محمد بن حبيب الجرمي.

8 - النعمان بن معبد بن هوذة الأنصاري.

9 - هشام بن هارون الأنصاري.

10 - يحيى بن أبي صالح المدني.
৩ - "আল-হাসান আবু আব্দুল্লাহ, একজন শাইখ যিনি মুরসাল বর্ণনা করেন, তার থেকে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন; আন-নাজ্জার বলেন: আমি জানি না তিনি কে এবং কার পুত্র"! এবং তিনি আরও বলেছেন:

৪ - জামিল, একজন শাইখ যিনি আবু আল-মালিহ বিন উসামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তার থেকে আব্দুল্লাহ বিন আউফ বর্ণনা করেছেন; আমি জানি না তিনি কে এবং কার পুত্র"।

আর ইবন হিব্বান এই কিতাবে এই ধরণের অনেক লোক উল্লেখ করেছেন। এই ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি হলো, তিনি এমন ব্যক্তিদের উল্লেখ করেন যাদের সম্পর্কে তিনি কোনো জারহ (ত্রুটি) জানেন না, যদিও তারা মাজহুল (অজ্ঞাত পরিচয়) এবং তাদের অবস্থা অজানা। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত এবং জেনে রাখা উচিত যে, ইবন হিব্বান কর্তৃক কোনো ব্যক্তিকে শুধুমাত্র এই কিতাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে তাওসিক (নির্ভরযোগ্য বলা) প্রদান করা হলো তাওসিকের সর্বনিম্ন স্তরগুলোর একটি।"

এ কারণেই আমরা দেখি যে আলেমদের মধ্যে যারা গবেষক বা মুহাক্কিক, তারা এমন কাউকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না যাকে শুধুমাত্র ইবন হিব্বান নির্ভরযোগ্য বলেছেন। বরং তারা স্পষ্টভাবে তাকে মাজহুল (অজ্ঞাত) বলে উল্লেখ করেন। ইমাম যাহাবী 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন:

"আইয়ুব তার পিতা থেকে, তার থেকে কাব বিন সুর বর্ণনা করেছেন, তিনি মাজহুল"। হাফিয ইবন হাজার 'আল-লিসান' গ্রন্থে বলেছেন:

"এবং ইবন হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: 'তার থেকে মাহদী বিন মাইমুন বর্ণনা করেছেন, আমি জানি না তিনি কে এবং কার পুত্র'! ইবন হিব্বানের এই উক্তিটি আমাদের সেই অভিমতকেই সমর্থন করে যে, তিনি 'কিতাবুস সিকাত'-এ এমন প্রত্যেক মাজহুল ব্যক্তিকে উল্লেখ করেন যার থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী বর্ণনা করেছেন এবং যাকে জারহ (ত্রুটিপূর্ণ) করা হয়নি...।"

এ কারণেই আমরা হাফিয ইবন হাজারের 'তাহযিবুত তাহযিব' কিতাবে শত শত জীবনবৃত্তান্ত পাই যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইবন হিব্বান তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তা সত্ত্বেও হাফিয তার 'আত-তাকরিব' কিতাবে তার ওপর নির্ভর করেননি, বরং তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বলেছেন যে সে মাজহুল। উদাহরণস্বরূপ এখানে কিছু উল্লেখ করা হলো:

১ - আবান বিন তারিক আল-কায়সি।

২ - বুজাইর বিন আবি ইয়াহইয়া।

৩ - হাতিম বিন আবি নাসর আল-কিননাসরিনি।

৪ - দুবারাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি।

৫ - তারিক বিন আবিল হাসনা।

৬ - আব্দুল্লাহ বিন আবি বকর বিন যায়িদ বিন আল-মুহাজির।

৭ - মুহাম্মাদ বিন হাবিব আল-জারমি।

৮ - আন-নুমান বিন মাবাদ বিন হাওযাহ আল-আনসারি।

৯ - হিশাম বিন হারুন আল-আনসারি।

১০ - ইয়াহইয়া বিন আবি সালিহ আল-মাদানি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ২১)
كل هؤلاء وأمثالهم بالمئات قال الحافظ في ترجمة كل منهم "مجهول" مع توثيق ابن حبان إياهم!

فهذه أدلة قاطعة على أن توثيق ابن حبان غير موثوق به عند العلماء، وأن هذه القاعدة التي ذكرها فضيلة الشيخ ليست على إطلاقها حتى عند الحافظ ابن حجر الذي عزا الشيخ تصحيحها إليه!

فليحفظ هذا فإنه مفيد جدًا في معرض النزاع لاسيما فيما يأتي من ردنا التفصيلي على الشيخ.

‌‌الغرابة عند الترمذي لا تجامع الصحة إذا صرح بالتضعيف:

3 - نقلنا عن الشيخ فيما سبق أن الغرابة عند الترمذي … قد تجامع الصحة. فأقول:

هذه القاعدة غير صحيحة أيضًا على إطلاقها بل هي مقيدة بقيود أهمها إذا لم يصرح الترمذي. بتضعيف الحديث الذي وصفه بالغرابة وإلا فهي في هذه الحالة لا تجامعها الصحة أبدًا وإليك بعض الأمثلة من سننه:

1 - جاءني جبريل فقال: يا محمد إذا توضأت فانتضح" قال الترمذي (1/ 71):

"هذا حديث غريب، وسمعت محمدًا (يعني البخاري) يقول الحسن بن علي الهاشمي منكر الحديث".

2 - عن معاذ بن جبل قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم إذا توضأ مسح وجهه بطرف ثوبه. قال الترمذي (1/ 76).

"هذا حديث غريب، وإسناده ضعيف".

3 - عن أبي بن كعب مرفوعًا: "إن للوضوء شيطانًا يقال له: الولهان، فاتقوا وسواس الماء".

قال الترمذي: (1/ 85):

"حديث غريب وليس إسناده بالقوي".

4 - عن ابن عباس مرفوعًا: "من أذن سبع سنين محتسبًا كتبت له براءة من النار".

قال الترمذي (1/ 401):
এই সকল এবং এদের মতো আরও শত শত ব্যক্তি রয়েছেন যাদের প্রত্যেকের জীবনীতে হাফেজ (ইবনে হাজার) 'মাজহুল' (অজ্ঞাত) বলেছেন, অথচ ইবনে হিব্বান তাদেরকে নির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন!

সুতরাং এগুলো অকাট্য দলিল যে, আলেমদের নিকট ইবনে হিব্বানের নির্ভরযোগ্য ঘোষণা (তাওসিক) নির্ভরযোগ্য নয়। আর শায়খ যে নীতিটির কথা উল্লেখ করেছেন তা হাফেজ ইবনে হাজারের নিকটও সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য নয়, যদিও শায়খ এর বিশুদ্ধতা ইবনে হাজারের দিকেই সম্বন্ধ করেছেন!

এটি স্মরণ রাখা উচিত, কারণ বিতর্কের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত উপকারী, বিশেষ করে শায়খকে দেওয়া আমাদের বিস্তারিত জবাবের ক্ষেত্রে যা পরবর্তীতে আসছে।

‌‌তিরমিযীর নিকট 'গারাবাত' (একাকী হওয়া) সহীহ হওয়ার সাথে একত্রিত হয় না যদি তিনি স্পষ্টভাবে দুর্বলতার (তাদঈফ) কথা উল্লেখ করেন:

৩ - আমরা ইতিপূর্বে শায়খের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করেছি যে, তিরমিযীর নিকট 'গারাবাত' … কখনও কখনও সহীহ হওয়ার সাথে একত্রিত হতে পারে। আমি বলছি:

এই নীতিটিও সর্বাবস্থায় সঠিক নয়, বরং এটি কিছু শর্তের সাথে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে প্রধান হলো যদি তিরমিযী সেই হাদীসটিকে দুর্বল বলে স্পষ্ট না করেন যাকে তিনি 'গারীব' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যথায়, এই অবস্থায় তা কখনোই সহীহ হওয়ার সাথে একত্রিত হবে না। আর তার সুনান থেকে আপনার জন্য কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

১ - "জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি যখন ওযু করবেন, তখন (লজ্জাস্থানে) পানি ছিটিয়ে দেবেন।" ইমাম তিরমিযী (১/৭১) বলেছেন:

"এই হাদীসটি গারীব, এবং আমি মুহাম্মদকে (অর্থাৎ বুখারী) বলতে শুনেছি যে, হাসান ইবনে আলী আল-হাশেমী মুনকারুল হাদীস (পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী)।"

২ - মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি যখন ওযু করতেন তখন তাঁর কাপড়ের প্রান্ত দিয়ে মুখমণ্ডল মুছতেন। ইমাম তিরমিযী (১/৭৬) বলেছেন:

"এই হাদীসটি গারীব এবং এর সনদ দুর্বল।"

৩ - উবাই ইবনে কাব থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই ওযুর জন্য একটি শয়তান রয়েছে যাকে 'ওলহান' বলা হয়। সুতরাং তোমরা পানির কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) থেকে বেঁচে থাকো।"

ইমাম তিরমিযী: (১/৮৫):

"হাদীসটি গারীব এবং এর সনদ শক্তিশালী নয়।"

৪ - ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় সাত বছর আযান দেবে, তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা লিখে দেওয়া হবে।"

ইমাম তিরমিযী (১/৪০১) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ২২)
"حديث غريب، وجابر الجعفي (يعني الذي في إسناده) ضعفوه، تركه يحيي ابن سعيد وعبد الرحمن بن مهدي"

5 - عن علي بن أبي طالب مرفوعًا: " … لا تقع بين السجدتين".

قال الترمذي: (2/ 73):

"غريب لا نعرفه إلا من حديث أبي إسحاق عن الحارث عن علي، وقد ضعف أهل العلم الحارث الأعور" (1).

والأمثلة بنحو هذا كثيرة جدًا في سنن الترمذي وفي هذا القدر كفاية، ومنها يتبين للقارئ الكريم أن الغرابة المذكورة في هذه الأحاديث الخمسة وأمثالها لا يمكن أن تجامع الصحة مطلقًا لتصريح الترمذي فيها بما ينافي الصحة كما سبق، وإنما يمكن أن تجامع الغرابة الصحة عند الترمذي في بعض الأحاديث التي أطلق الترمذي عليها الغرابة ولم ينص على تضعيفها، أو تضعيف أسانيدها، مثل الحديث الذي قال فيه (2/ 57 - 58):

"حدثنا قتيبة: حدثنا عبدالله بن نافع عن محمد بن عبدالله بن حسن عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يعمد أحدكم فيبرك في صلاته برك الجمل".

قال الترمذي: حديث غريب لا نعرفه من حديث أبي الزناد إلا من هذا الوجه. قلت: فهذا الحديث صحيح لأن إسناده صحيح رجاله كلهم ثقات رجال مسلم غير

--------------------------------------------

(1) قلت: بل هو ضعيف جدًا فقد كذبه الشعبي وابن المديني وغيرهما. ومما يدل على كذب حديثه هذا ثبوت الإقعاء المذكور فيه عن النبي صلى الله عليه وسلم في صحيح مسلم وغيره، فعلى أنصار السنة والمحبين لها أن يفعلوه أحيانًا في صلاتهم.
এটি একটি গরীব (অপ্রসিদ্ধ) হাদীস, এবং জাবির আল-জু'ফী (অর্থাৎ যার নাম সনদে রয়েছে) কে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং আবদুর রহমান ইবন মাহদী তাকে বর্জন করেছেন।

৫ - আলী ইবনে আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণিত: " ... দুই সিজদার মাঝখানে ইকআ করো না।"

তিরমিযী (২/ ৭৩) বলেন:

"এটি গরীব হাদীস, আমরা এটি কেবল আবূ ইসহাক সূত্রে হারিস থেকে এবং তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন বলেই জানি। অথচ ইলম অর্জনকারী বিশেষজ্ঞগণ হারিস আল-আ'ওয়ারকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন" (১)।

সুনানে তিরমিযীতে এই ধরনের উদাহরণ অনেক রয়েছে এবং যতটুকু উল্লেখ করা হয়েছে তা যথেষ্ট। এর মাধ্যমেই সম্মানীত পাঠকের নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, উল্লিখিত এই পাঁচটি হাদীস এবং এই জাতীয় হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে ‘গারাবাত’ (অপ্রসিদ্ধ হওয়া) কোনোভাবেই ‘সহীহ’ (বিশুদ্ধ) হওয়ার সাথে একত্রিত হতে পারে না। কারণ, তিরমিযী নিজেই সেই হাদীসগুলোতে এমন মন্তব্য করেছেন যা বিশুদ্ধ হওয়ার পরিপন্থী, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে তিরমিযীর নিকট ‘গারাবাত’ কেবল তখনই ‘সহীহ’ হওয়ার সাথে একত্রিত হতে পারে যখন তিনি কোনো হাদীসকে কেবল ‘গরীব’ বলেছেন কিন্তু সেই হাদীসটিকে বা এর সনদকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেননি। যেমন সেই হাদীসটি যার সম্পর্কে তিনি বলেছেন (২/ ৫৭ - ৫৮):

"কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে নাফে' আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান থেকে, তিনি আবূ যিনাদ থেকে, তিনি আ'রাজ থেকে এবং তিনি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে তখন সে যেন উটের মতো না বসে'।"

তিরমিযী বলেন: এটি একটি গরীব হাদীস, আবূ যিনাদের বর্ণনা থেকে আমরা কেবল এই সূত্রেই এটি জেনেছি। আমি (লেখক) বলছি: এই হাদীসটি সহীহ, কারণ এর সনদ সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ সকলে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী, কেবল...

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: বরং সে অত্যন্ত দুর্বল, শাবী, ইবনুল মাদীনী এবং অন্যান্যগণ তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আর এই হাদীসটি যে মিথ্যা হওয়ার একটি প্রমাণ হলো যে, এতে যে 'ইকআ'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত। সুতরাং সুন্নাহর সাহায্যকারী ও সুন্নাহ প্রেমীদের উচিত মাঝেমধ্যে তাদের সালাতে এটি পালন করা।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ২৩)
محمد بن عبدالله بن حسن وهو المعروف بالنفس الزكية العلوي وهو ثقة كما قال الحافظ وغيره (1).

فهذا المثال مما يمكن أن يدخل تحت قول الشيخ السابق:

"الغرابة عند الترمذي تطلق على عدة معان قد تجامع الصحة".

وأما الأمثلة الآنفة الذكر، وما يشبهها فلا يمكن إدخالها فيه. فظهر خطأ الشيخ في إطلاقه هذا القول أولًا، وفي استعماله إياه وتطبيقه على ما هو من قبيل الأمثلة الخمسة المتقدم ذكرها ثانيا، وسيأتي بيان ذلك إن شاء الله قريبًا.

 

‌‌مقابلة الأصول الثلاثة بكلام الشيخ والرد عليه مفعلا

أما بعد، فقد فرغنا من الكلام على الأصول الثلاثة التي بني عليها فضيلة الشيخ حكمه بصحة حديثي التسبيح بالحصى وحققنا القول عليها وبينا رأينا فيها بما يكفي إن شاء الله تعالى لإظهار الحق، فيحسن بنا الآن أن نعود إلى الحديثين المشار إليهما ونناقش حضرة الشيخ فيما تمسك به في تصحيحهما فأقول:

 

‌‌شبهات الشيخ في تصحيح حديث سعد وردها

أما حديث سعد فقد كنت ضعفته لأمرين:

الأول: جهالة أحد رواته: "خزيمة" ونقلته عن الذهبي والحافظ ابن حجر.

الثاني: اختلاط سعيد بن أبي هلال" ونقلته عن الإمام أحمد".

--------------------------------------------

(1) فائدة: قد صح الحديث بلفظ أتم من هذا يتبين منه أن بروك الجمل المذكور فيه هو ما يفعله أكثر المصلين حين هويهم إلى السجود! وهو وضعهم الركبتين قبل الكفين! فقال صلى الله عليه وسلم: "إذا سجد أحدكم فلا يبرك كما يبرك البعير، وليضع يديه قبل ركبتيه" رواه أبو داود والنسائي والدارمي والطحاوي في كتابيه والدارقطني والبيهقي. وكذا أحمد وابن حزم وإسناده. قال النووي والزرقاني "جيد"، وقد تكلمت على معنى الحديث باختصار في كتابي: "صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم" الطبعة الثانية (ص 100 - 101) فعلى محيي السنة أن يحبوا هذه السنة أيضًا ولا يغتروا بما عليه أكثر الناس!
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান, যিনি আন-নাফসুজ যাকিয়্যাহ আল-আলাওয়ী নামে পরিচিত। হাফেজ এবং অন্যান্যদের মতে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী (১)।

এই উদাহরণটি শায়খের পূর্বোক্ত বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

"তিরমিযীর নিকট 'গারাবাত' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা কখনও কখনও সহীহ হওয়ার সাথেও একত্রিত হতে পারে।"

তবে ইতিপূর্বে উল্লিখিত উদাহরণসমূহ এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। ফলে শায়খের এই সাধারণ বক্তব্য প্রদানের ভুলটি প্রথমত স্পষ্ট হয়েছে, এবং দ্বিতীয়ত, ইতিপূর্বে বর্ণিত পাঁচটি উদাহরণের ক্ষেত্রে এই বক্তব্যের প্রয়োগ ও ব্যবহারের ভুলটিও প্রকাশ পেয়েছে। অচিরেই ইনশাআল্লাহ এর বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।

 

‌‌শায়খের বক্তব্যের সাথে তিনটি মূলনীতির তুলনা এবং তার ওপর কার্যকর খণ্ডন

অতঃপর, শায়খ কঙ্কর দিয়ে তাসবীহ পাঠ সংক্রান্ত হাদীস দুটিকে সহীহ বলার ক্ষেত্রে যে তিনটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন, সে সম্পর্কে আমাদের আলোচনা শেষ হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করেছি এবং সত্য প্রকাশের জন্য যথেষ্ট হয় এমনভাবে আমাদের অভিমত ব্যক্ত করেছি, ইনশাআল্লাহ। এখন আমাদের জন্য সমীচীন হবে উল্লেখিত হাদীস দুটির দিকে ফিরে যাওয়া এবং শায়খ সেগুলোকে সহীহ প্রমাণের জন্য যা কিছু আঁকড়ে ধরেছেন, সে বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করা। আমি বলছি:

 

‌সা'দ-এর হাদীসটি সহীহ প্রমাণের ক্ষেত্রে শায়খের সংশয়সমূহ এবং তার খণ্ডন

সা'দ-এর হাদীসটি আমি দুটি কারণে দুর্বল (যঈফ) বলে গণ্য করেছি:

প্রথমত: এর একজন বর্ণনাকারী 'খুযায়মাহ' অজ্ঞাত (মাজহুল); যা আমি ইমাম যাহাবী এবং হাফেজ ইবনে হাজার থেকে উদ্ধৃত করেছি।

দ্বিতীয়ত: সাঈদ ইবনে আবু হিলাল-এর স্মৃতিবিভ্রম (ইখতিলাত); যা আমি ইমাম আহমাদ থেকে উদ্ধৃত করেছি।

--------------------------------------------

(১) একটি জ্ঞাতব্য বিষয়: এই হাদীসটি এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গ শব্দে সহীহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, উটের বসার ধরণ যা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তা অধিকাংশ মুসল্লি সিজদায় যাওয়ার সময় করে থাকেন! আর তা হলো হাতের তালুর আগে হাঁটু রাখা! অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে, সে যেন উটের বসার মতো না বসে, বরং সে যেন তার হাঁটুর আগে হাত রাখে।" হাদীসটি আবু দাউদ, নাসাঈ, দারেমী, তাহাবী (তাঁর উভয় গ্রন্থে), দারা কুতনী এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে আহমাদ এবং ইবনে হাজমও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সম্পর্কে ইমাম নববী ও যারকানী বলেছেন "জায়্যিদ" (উত্তম)। আমি আমার 'সিফাতু সালাতিন নাবী' (রাসূলুল্লাহর সালাতের পদ্ধতি) গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে (পৃষ্ঠা ১০০-১০১) সংক্ষেপে এই হাদীসের অর্থ নিয়ে আলোচনা করেছি। সুতরাং সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনকারীদের উচিত এই সুন্নাহটিকেও ভালোবাসা এবং অধিকাংশ মানুষ যা করছে তাতে বিভ্রান্ত না হওয়া!
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ২৪)
فرد الشيخ الأمر الأول (ص 19 - 20) بأن خزيمة ذكره ابن حبان في "الثقات" قال: "فهو عنده ثقة".

ورد الأمر الثاني (ص 20) بقوله "فيكفي بأن ابن أبي هلال أخرج له الستة"! والجواب عن رده الأول أن توثيق ابن حبان غير معتبر به عند العلماء كما سبق بيانه عن العلماء في الكلام على القاعدة الثانية، ولذلك لم يوثق خزيمة هذا أحد غير ابن حبان بل قال فيه الذهبي وابن حجر: "لا يعرف" كما ذكرته مرارًا فسقط رد الشيخ هذا وانهار، وكأن حضرته كان يشعر بضعف تمسكه بهذا التوثيق ولذلك قال: "فهو عنده ثقة" يعني عند ابن حبان، فإن هذا القيد "عنده" له مفهوم إن اعتبرناه فعبارة الشيخ حينئذ تفيد أن خزيمة غير ثقة عند الشيخ! ولكن الظاهر أنه لم يرد هذا المفهوم بدليل اعتداده بتوثيق ابن حبان ورده لحكمي بجهالة كنانة الآتي ذكره في حديث صفية؛ لأن ابن حبان وثقه أيضًا كما سيأتي وعلى هذا، فقول الشيخ: "عنده" كلام لا معنى له!

وحينئذ أسأل فضيلة الشيخ كيف جاز لك أن تعرض عن كلام العلماء المحققين الذين يبنوا ضعف توثيق ابن حبان مثل الذهبي وابن عبد الهادي والعسقلاني وغيرهم، وظللت أنت متمسكا بتوثيق ابن حبان كأنه توثيق معتبر به؟ ! إن كان لا علم لك بذلك فكيف خفي ذلك عليك وأنت في صدد الانتصار للحديث وأهله؟ ! وإن كان لم يخف عليك فبأي حجة خالفت هؤلاء الأئمة؟ ثم كيف يخفى عليك هذا، والظاهر أنك تتتبع ما أكتبه في هذه المجلة الكريمة من بيان الأحاديث الضعيفة وطريقتي في ذلك، وأنا قد ذكرت مرارًا تارة مفصلًا وأحيانًا مجملًا عدم اعتدادي بتوثيق ابن حبان، فكان اللائق بك وقد عرفت رأيي هذا أن لا ترد علي بشيء ليس من مذهبي ولا من مذهب العلماء الذين من قبلي، إنما الواجب الذي
শায়খ প্রথম বিষয়টি (পৃষ্ঠা ১৯ - ২০) এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, ইবনে হিব্বান খুজাইমাহকে তাঁর "আস-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য।"

এবং তিনি দ্বিতীয় বিষয়টি (পৃষ্ঠা ২০) তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, "এটিই কি যথেষ্ট নয় যে, ইবনে আবি হিলাল থেকে সিহাহ সিত্তাহর সংকলকগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন!" আর তাঁর প্রথম আপত্তির উত্তর হলো, আলেমগণের নিকট ইবনে হিব্বানের 'তাওসিক' (নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেওয়া) গ্রহণযোগ্য নয়, যেমনটি দ্বিতীয় মূলনীতির আলোচনায় আলেমদের উদ্ধৃতিতে ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর এ কারণেই ইবনে হিব্বান ব্যতীত অন্য কেউ এই খুজাইমাহকে নির্ভরযোগ্য বলেননি; বরং আয-যাহাবী এবং ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি অপরিচিত", যা আমি বারবার উল্লেখ করেছি। সুতরাং শায়খের এই আপত্তি বাতিল ও ধূলিসাৎ হয়ে গেল। এবং মনে হচ্ছে জনাব এই তাওসিক আঁকড়ে ধরার দুর্বলতা অনুভব করতে পেরেছিলেন, তাই তিনি বলেছেন: "তিনি তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য" অর্থাৎ ইবনে হিব্বানের নিকট। কেননা "তাঁর নিকট" এই শর্তারোপের একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে; যদি আমরা তা বিবেচনা করি, তবে শায়খের বক্তব্য তখন এটাই বুঝায় যে, খুজাইমাহ স্বয়ং শায়খের নিকট নির্ভরযোগ্য নন! কিন্তু বাহ্যত তিনি এই অর্থটি উদ্দেশ্য করেননি, যার প্রমাণ হলো ইবনে হিব্বানের তাওসিকের ওপর তাঁর নির্ভর করা এবং সাফিয়্যাহর হাদীসে বর্ণিত কিনানাহ-এর অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যাপারে আমার হুকুমকে তাঁর প্রত্যাখ্যান করা; কারণ ইবনে হিব্বান তাকেও নির্ভরযোগ্য বলেছেন যেমনটি সামনে আসবে। এর ভিত্তিতে শায়খের "তাঁর নিকট" কথাটি অর্থহীন বাক্য হিসেবে গণ্য হয়!

এমতাবস্থায় আমি মাননীয় শায়খকে জিজ্ঞাসা করি, আয-যাহাবী, ইবনে আব্দুল হাদী, আল-আসকালানী এবং তাঁদের মতো অন্যান্য মুহাক্কিক আলেমগণ যারা ইবনে হিব্বানের তাওসিকের দুর্বলতা বর্ণনা করেছেন, তাঁদের কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আপনার জন্য কীভাবে বৈধ হলো? অথচ আপনি ইবনে হিব্বানের তাওসিককে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন যেন এটি একটি নির্ভরযোগ্য তাওসিক! আপনার যদি এ বিষয়ে জ্ঞান না থাকে, তবে হাদীস এবং আহলে হাদীসের পক্ষে কথা বলার সংকল্প থাকা অবস্থায় এটি আপনার কাছে কীভাবে গোপন রইল? আর যদি এটি আপনার নিকট গোপন না থেকে থাকে, তবে কোন প্রমাণের ভিত্তিতে আপনি এই ইমামগণের বিরোধিতা করলেন? এরপর এটি আপনার নিকট কীভাবে অস্পষ্ট থাকতে পারে, যেখানে আপনি স্পষ্টতই এই সম্মানিত ম্যাগাজিনে দুর্বল হাদীসসমূহ চিহ্নিত করার বিষয়ে আমার লেখালেখি এবং এ ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করেন? আমি বহুবার কখনো বিস্তারিতভাবে, আবার কখনো সংক্ষেপে ইবনে হিব্বানের তাওসিকের ওপর আমার নির্ভর না করার কথা উল্লেখ করেছি। সুতরাং আমার এই অভিমত জানার পর আপনার জন্য উচিত ছিল আমার বিরুদ্ধে এমন কোনো কিছু দিয়ে যুক্তি না দেওয়া যা আমার মাযহাব নয় এবং আমার পূর্ববর্তী আলেমদেরও মাযহাব নয়। বরং আপনার ওপর যা কর্তব্য ছিল তা হলো...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস লিশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আল-হাবাশী (পৃষ্ঠা: ২৫)
يقتضيه البحث العلمي أن تبين أولًا فساد هذا المذهب الذي تمسك به العلماء المشار إليهم وتبعتُهم عليه، ثم تبني على ذلك صحة الاعتداد بتوثيق ابن حبان، إنك لو فعلت ذلك جاز لك حينئذ أن ترد حكمي بجهالة أحد الرواة متبعًا في ذلك العلماء التقاد بتمسكك بتوثيق ابن حبان له، ولكنك لم تفعل ذلك ولن تستطيع إلى ذلك سبيلا! وأما الجواب عن رده اعلالنا الحديث باختلاط ابن أبي هلال بقوله السابق: "يكفي أنه أخرج له الستة … "

فأقول: الجواب على شطرين:

الأول: يتعلق بإخراج أصحاب السنن الأربعة له، فهذا لا حجة فيه مطلقًا لأنه من المعروف عند المشتغلين بعلم الحديث أن الأربعة لا يتقيدون في كتبهم هذه بالرواية عن الثقات فقط، بل يروون أيضًا عن الضعفاء، وعن المتروكين وبعضهم عن بعض الكذابين أيضًا! وما أظن أن الشيخ ينازع في هذا فلا أطيل القول فيه.

الثاني: إخراج الشيخين له، فهذا في ظاهره حجة للشيخ وليس كذلك لأمرين:

1 - أنه يجوز أنهما أخرجا له ولم يطلعا على ما اطلع عليه الإمام أحمد من اختلاطه، فهما معذوران بل مأجوران في إخراجهما له، ولكن هذا لا يلزمنا نحن الاعراض عن حكم الإمام أحمد باختلاطه، لأمرين اثنين تقررا في علم الأصول:

الأول: من علم حجة على من لم يعلم.

الثاني: الجرح مقدم على التعديل.

فهذه القواعد مع قول أحمد السابق كل ذلك حملني على إعلال الحديث بابن أبي هلال أيضًا، وإن كنت أعلم أنه من رجال الشيخين.

2 - ويجوز أنهما أخرجا له مع علمهما باختلاطه، وحينئذ فالظن بها أنهما لم يخرجا له إلا ما علما أنه من حديثه قبل اختلاطه، ففي المختلطين جماعة استطاع المدققون من علماء الحديث أن يميزوا حديثهم قبل الاختلاط من حديثهم بعدهم الاختلاط، فلعل هذا متهم عند الشيخين، قال ابن الصلاح في مقدمة علوم الحديث في معرفة من اختلط في آخر عمره من الثقات (ص 391 الطبعة الحلبية):
বৈজ্ঞানিক গবেষণার দাবি হলো আপনাকে প্রথমে উল্লিখিত আলেমগণ যে মতটি আঁকড়ে ধরেছেন এবং আপনিও যেটির অনুসরণ করেছেন, তার অসারতা প্রমাণ করতে হবে; অতঃপর তার ওপর ভিত্তি করে ইবনে হিব্বানের তাওসিক (নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করা) গ্রহণের যথার্থতা প্রমাণ করতে হবে। আপনি যদি তা করতেন, তবে আপনার জন্য ইবনে হিব্বানের তাওসিককে আঁকড়ে ধরে এবং বিজ্ঞ আলেমদের অনুসরণ করে কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে আমার 'জাহালাত' (অজ্ঞাত হওয়ার) হুকুমকে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ হতো। কিন্তু আপনি তা করেননি এবং করার সামর্থ্যও আপনার নেই! আর ইবনে আবু হিলালের 'ইখতিলাত' (স্মৃতিভ্রম) হওয়ার কারণে হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলার ব্যাপারে আমার বক্তব্যকে আপনার এই বলে প্রত্যাখ্যান করা যে: "এতটুকুই যথেষ্ট যে কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন ... "

এর উত্তরে আমি বলব: এর জবাব দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথমত: চার সুনান গ্রন্থকারের তাঁর থেকে বর্ণনা করা সম্পর্কিত। এতে কোনো দলিল নেই, কারণ হাদীস শাস্ত্রবিদদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, চার সুনান গ্রন্থকার তাঁদের কিতাবসমূহে কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন, বরং তাঁরা দুর্বল, বর্জনীয় এবং এমনকি কেউ কেউ মিথ্যাবাদীদের থেকেও বর্ণনা করেন! আমি মনে করি না যে শায়খ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করবেন, তাই এ নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ করছি না।

দ্বিতীয়ত: শায়খায়ন (বুখারী ও মুসলিম) কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণনা করা। এটি বাহ্যিকভাবে শায়খের স্বপক্ষে দলিল মনে হলেও মূলত দুটি কারণে তা নয়:

1 - এমনটি হতে পারে যে, তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু ইমাম আহমাদ তাঁর ইখতিলাত সম্পর্কে যা অবগত হয়েছিলেন, তাঁরা তা হতে পারেননি। তাই তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অপারগ, বরং সওয়াবের অধিকারী। কিন্তু এটি আমাদের জন্য ইমাম আহমাদ কর্তৃক তাঁর ইখতিলাতের ব্যাপারে প্রদত্ত হুকুম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়াকে আবশ্যক করে না, কারণ উসূলে হাদীসের দুটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো:

প্রথমত: যিনি জানেন, তিনি না-জানার ওপর দলিল।

দ্বিতীয়ত: ‘জারহ’ (ত্রুটি বর্ণনা) ‘তা’দীল’ (প্রশংসা)-এর ওপর অগ্রগণ্য।

সুতরাং এই নিয়মাবলি এবং ইমাম আহমাদের পূর্বোক্ত বক্তব্য—এই সবকিছুই আমাকে ইবনে আবু হিলালের কারণে হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত হিসেবে গণ্য করতে বাধ্য করেছে, যদিও আমি জানি যে তিনি শায়খায়নের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

2 - এবং এমনটি হতে পারে যে, তাঁরা তাঁর ইখতিলাত সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায় তাঁদের সম্পর্কে ধারণা এই যে, তাঁরা কেবল তাঁর সেই হাদীসগুলোই বর্ণনা করেছেন যেগুলো তাঁর ইখতিলাতের আগের ছিল বলে তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন। কারণ যাদের স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল, এমন বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন একদল রয়েছেন যাদের ইখতিলাতের আগের ও পরের বর্ণনার মাঝে হাদীস শাস্ত্রের সূক্ষ্মদর্শী আলেমগণ পার্থক্য করতে সক্ষম হয়েছেন। সম্ভবত শায়খায়নের নিকটও বিষয়টি এমনই ছিল। ইবনুস সালাহ তাঁর ‘মুকাদ্দিমাহ উলূমিল হাদীস’-এ শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রম হওয়া নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের পরিচিতি পর্বে (পৃষ্ঠা ৩৯১, হালাবিয়া সংস্করণ) বলেছেন: