(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: -)
صون المنطق والكلام عن فني المنطق والكلام القسم: الفرق والردود
الكتاب: صون المنطق والكلام عن فني المنطق والكلام (مطبوع معه: جهد القريحة في تجريد النصيحة)
المؤلف: جلال الدين السيوطي
المحقق: : الدكتور علي سامي النشار، السيدة سعاد علي عبد الرازق
الناشر: مجمع البحوث الإسلامية
عدد الصفحات: 256
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1440
তর্কশাস্ত্র ও কালামশাস্ত্রের শিল্পকলা হতে যুক্তি ও বিশ্বাসের সুরক্ষা বিভাগ: মতবাদ ও খণ্ডনতত্ত্ব
গ্রন্থ: তর্কশাস্ত্র ও কালামশাস্ত্রের শিল্পকলা হতে যুক্তি ও বিশ্বাসের সুরক্ষা (এর সাথে মুদ্রিত: জুহদুল ক্বারিহাহ ফী তাজরিদিন নাসিহাহ)
গ্রন্থকার: জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী
সম্পাদক/গবেষক: : ডক্টর আলী সামী আন-নাশশার, সাইয়্যেদাহ সুয়াদ আলী আবদুর রাজ্জাক
প্রকাশক: ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি (মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণে: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিখন সংস্থা), বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল এন্ডোমেন্টস)
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: -)
صون المنطق والكلام عن فني المنطق والكلام
للإمام جلال الدين السيوطي
تحقيق الدكتور/
علي سامي النشار
السيدة سعاد علي عبد الرازق
তর্কশাস্ত্র ও ইলমুল কালামকে এতদুভয় শাস্ত্রের বিপর্যয় হতে সুরক্ষা
ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (র.)
সম্পাদনা ও গবেষণা: ডক্টর/
আলী সামী আল-নাশশার
সাইয়্যিদাহ সুআদ আলী আবদুর রাজ্জাক
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقديم بقلم الدكتور عبد الحليم محمود الأمين العام لمجمع البحوث الإسلاميةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين -والصلاة والسلام -على أشرف المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه والتابعين. وبعد:
فتتسم الحضارة الإسلامية بالشمول والكلية.
إنها شاملة لمجالات الروح والبدن تعطى كل واحد منهما قسطه من الحياة في تناغم متناسق منسجم يحقق للفرد وللجماعة الأمن والطمأنينة والاستقرار. وهى كلية تهب الإنسان رحابه في الحياة يتجدد له بها عيش مرضياً عنه من الله والملائكة والناس أجمعين.
والحضارة الإسلامية بهذا تخلق أمة عملاقة في صنع الخير لجميع الناس.
ولقد زخرت المكتبة العربية الإسلامية بالكثير من إنتاج علماء الإسلام في مجال المعرفة والثقافة الإسلامية.
لقد ملأ علماء الإسلام مكتبات الدنيا بعلمهم ومعارفهم وكان في هذا العلم وفي هذه المعرفة درس وتعاليم عن المنهج وطرق البحث فغرف كل ظامئ من هذه المناهل فكانت حضارات الأمم في هذا المجال الفكري نبتاً يترعرع على ري علماء الإسلام.
لقد ولدت الحضارة الإسلامية حضارات في الغرب والشرق، حضارات
ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির মহাসচিব ডক্টর আব্দুল হালিম মাহমুদের উপস্থাপনাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসুলকুলের শিরোমণি আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং সত্যের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:
ইসলামী সভ্যতা তার সামগ্রিকতা ও পূর্ণাঙ্গতার গুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
এটি আত্মা ও দেহের সকল ক্ষেত্রকে পরিব্যাপ্ত করে এবং এক সুনিপুণ ও সুসমন্বিত ছন্দের মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উভয়কে তাদের ন্যায্য অংশ প্রদান করে; যা ব্যক্তি ও সমাজের জন্য নিরাপত্তা, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা যা মানুষকে জীবনের প্রশস্ততা দান করে, যার মাধ্যমে তার জন্য এমন এক সন্তোষজনক জীবন পুনর্জীবিত হয় যা আল্লাহ, ফেরেশতামণ্ডলী এবং সকল মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্য।
আর এভাবেই ইসলামী সভ্যতা সকল মানুষের জন্য কল্যাণ সাধনে এক মহীয়ান জাতি গঠন করে।
আরবি-ইসলামী পাঠাগারসমূহ জ্ঞান ও ইসলামী সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মুসলিম মনীষীদের অসংখ্য বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে।
ইসলামী পণ্ডিতগণ তাঁদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে পৃথিবীর পাঠাগারগুলোকে পূর্ণ করে তুলেছিলেন। তাঁদের এই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাঝে পদ্ধতি এবং গবেষণা-রীতির শিক্ষা নিহিত ছিল। ফলে পিপাসার্ত প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষী এই জ্ঞান-উৎসধারা থেকে আকণ্ঠ পান করেছে। এই বুদ্ধিবৃত্তিক ময়দানে বিভিন্ন জাতির সভ্যতাগুলো ছিল ইসলামী পণ্ডিতদের জ্ঞান-সিঞ্চনে বেড়ে ওঠা চারাগাছের মতো।
নিশ্চয়ই ইসলামী সভ্যতা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে জন্ম দিয়েছে বহু সভ্যতার, এমন সব সভ্যতা
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
قلدت حضارة الإسلام في أن تقدم للإنسانية الخير والطمأنينة والأمن والاستقرار، لكنها لم تفلح.
لقد تركزت حضارة الإسلام في جوهر العقيدة وخلقت الفرد المطمئن المستقر في وجدانه وعقليته وعواطفه.
لكن التقليد غالبًا ما يكون داء، لذا أخفقت الحضارات التقليدية لأنها جذور على السطح دائمًا ولأنها خلو من الإيمان بربها فكانت زيدًا زيداً يذهب جفاء.
{وأما ما ينفع الناس فيمكث في الأرض} بإذن الله تعالى.
ولقد كانت المخطوطات الإسلامية علمًا ينفع الله به، وكان من حق أجيال ستأتي، أن تربط حبائل الفكر عندها بركائز الفقه والعلم والمعرفة عند أسلافهم، فكان من أقدس الأعمال وأنفسها أحياء هذا التراث الذي كان عمادًا الحضارات قامت ويكون عمادًا لحضارة أمةً يجب أن تستمر في رحاب من رضوان ربها، وسعة من أمن دينها وفسحة من الثقة برسالتها.
ويسر الأمانة العامة لمجمع البحوث الإسلامية أن تقدم للعالم الإسلامي سلسلة جيدة في إحياء التراث الإسلامي، خدمة للدين والعلم وإحياء لمجد جدير بالتقدير والاحترام خليق بالاعزاز ونستفتح هذه السلسلة على بركة بكتاب: «صور المنطق» لمؤلفه الإمام السيوطي.
وهو كتاب غني عن التعريف به والإشادة بذكره.
والله نسأل أن ينفع به وهو وحده الموفق والمعين.
الدكتور عبد الحليم محمود
الأمين العام لمجمع البحوث الإسلامية
ইসলামি সভ্যতাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে মানবতাকে কল্যাণ, প্রশান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রদান করা যায়, কিন্তু তা সফল হয়নি।
ইসলামি সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল আকিদার সারসত্তা, যা একজন ব্যক্তির অন্তরে, মননে ও আবেগে প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা তৈরি করেছিল।
কিন্তু অনুকরণ অনেক সময়ই ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়, তাই অনুকরণনির্ভর সভ্যতাগুলো ব্যর্থ হয়েছে; কারণ তাদের শিকড় সর্বদা উপরিভাগেই ছিল এবং সেগুলো তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাসশূন্য ছিল, ফলে তা অসার ফেনার মতোই বিলীন হয়ে গেছে।
“আর যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিনে স্থায়ী হয়”, আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায়।
ইসলামি পাণ্ডুলিপিগুলো ছিল এমন এক জ্ঞান যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা কল্যাণ সাধন করেছেন। আগত প্রজন্মগুলোর এটি অধিকার ছিল যে, তারা তাদের চিন্তার সূত্রগুলোকে পূর্বসূরিদের ফিকহ, ইলম ও প্রজ্ঞার স্তম্ভগুলোর সাথে সংযুক্ত করবে। তাই এই ঐতিহ্যকে পুনর্জীবিত করা ছিল পবিত্রতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ কাজগুলোর একটি, যা ছিল বিগত সভ্যতাগুলোর মূল ভিত্তি এবং যা এমন এক উম্মাহর সভ্যতার স্তম্ভ হবে যাকে তার রবের সন্তুষ্টির প্রশস্ততায়, দ্বীনি নিরাপত্তার ব্যাপ্তিতে এবং আপন বার্তার প্রতি সুদৃঢ় আস্থার বলয়ে অগ্রসর হতে হবে।
মাজমাউল বুহুসুল ইসলামিয়্যাহ (ইসলামি গবেষণা একাডেমি)-এর সাধারণ সচিবালয় মুসলিম বিশ্বের খেদমতে ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জীবনের একটি চমৎকার গ্রন্থমালা পেশ করতে পেরে আনন্দিত। এটি দ্বীন ও ইলমের সেবা এবং এমন এক গৌরবকে পুনর্জীবিত করার প্রয়াস যা বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার দাবি রাখে। আমরা আল্লাহর বরকত নিয়ে এই গ্রন্থমালার সূচনা করছি ইমাম সুয়ুতী রচিত গ্রন্থ: ‘সুনুল মানতিক’ (তর্কের সুরক্ষা) এর মাধ্যমে।
এটি এমন এক গ্রন্থ যা নতুন করে পরিচয় দান বা প্রশংসার অপেক্ষা রাখে না।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন; তিনিই একমাত্র তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী।
ডক্টর আব্দুল হালিম মাহমুদ
মহাসচিব, মাজমাউল বুহুসুল ইসলামিয়্যাহ (ইসলামি গবেষণা একাডেমি)
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الثانيةبسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وعلى المسلمين أجمعين.
وبعد: فهذه هي مقدمة الطبعة الثانية لكتاب صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام. وقد سبق أن أستاذي الدكتور على سامي النشار بتحقيق هذا الكتاب ونشره عام 1366 هـ - 1946 م.
وكان قد أتم ذلك عن نسخة وحيدة بالمكتبة الأزهرية بالقاهرة. وقد رأى أستاذنا الكبير الدكتور عبد الحليم محمود: أمين عام مجمع البحوث الإسلامية. وعالم الإسلام العظيم. أن يقدم للقارئ العربي طبعة جديدة في صورة محدثة أنيقة. ومراجعات جديدة في ضوء مجموعة كبيرة من الكتب لم تكن قد ظهرت حين ظهور الطبعة الأولى ومن أهم هذه الكتب "كتاب الشريعة للآجدى عام 1952" وقد أورد السيوطي نصوصا كثيرة منه كذلك كتاب "الرعاية للمحاسبي" وقد نشره الأستاذ الدكتور عبد الحليم محمود والأستاذ طه عبد الباقي سرور وقد نقل السيوطي أيضا نصوصا منه .. وكتاب البخاري في خلق أفعال العباد وقد نقل السيوطي فقرة منه.
وحين قررنا للقيام بنشره هذه الطبعة الثانية -بناء على رغبة الأستاذ الدكتور عبد الحليم محمود كما قامت -بدأت وأستاذي الدكتور علي النشار
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং সকল মুসলমানের ওপর।
অতপর: এটি হলো ‘সউনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননিল মানতিক ওয়াল কালাম’ নামক গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা। ইতোপূর্বে আমার উস্তাদ ডক্টর আলী সামী আন-নাশশার ১৩৬৬ হিজরি—১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে এই গ্রন্থটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি কায়রোর আল-আযহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সেই কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। আমাদের মহান উস্তাদ, ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির মহাসচিব এবং ইসলামের মহান পণ্ডিত ডক্টর আব্দুল হালীম মাহমুদ মনে করেছেন যে, আরবি পাঠকদের জন্য এটি একটি আধুনিক ও মার্জিত অবয়বে নতুন সংস্করণ হিসেবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এটি হবে এমন এক বিশাল গ্রন্থসম্ভারের আলোকে নবতর পর্যালোচনা, যা প্রথম সংস্করণ প্রকাশের সময় বিদ্যমান ছিল না। এসব গ্রন্থের মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৫২ সালে প্রকাশিত আল-আজুরির ‘কিতাবুস শারিয়াহ’, যেখান থেকে সুয়ূতী প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তদ্রূপ আল-মুহাসিবির ‘কিতাবুর রিআয়াহ’, যা ডক্টর আব্দুল হালীম মাহমুদ ও উস্তাদ ত্বহা আব্দুল বাকি সুরূর প্রকাশ করেছেন এবং সুয়ূতী তা থেকেও উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ইমাম বুখারির ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’ গ্রন্থটিও রয়েছে, যা থেকে সুয়ূতী একটি অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন।
যখন আমরা ডক্টর আব্দুল হালীম মাহমুদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই দ্বিতীয় সংস্করণটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলাম—তখন আমি এবং আমার উস্তাদ ডক্টর আলী আন-নাশশার কাজ শুরু করলাম।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
بمراجعة الطبعة الأولى على مخطوط (صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام) ولدينا للصورة الفوتوغرافية لهذا المخطوط .. وسننشر منها صفحتين في هذه الطبعة .. ثم أتبعنا هذا بمراجعة كتاب (صون المنطق والكلام) على الكتب المنشورة التي أشرنا إليها آنفًا .. وكذلك قمت بتنظيم الكتاب تنظيمًا دقيقًا فقسمت الفقرات الكبيرة التي ظهرت في الطبعة الأولى مسترسلة إلى فقرات أصغر. حتى تسهل القراءة على القارئ .. مما جعل الكتاب يبدو في صورة جديدة تختلف عن صورته الأولى ..
أما عن مادة الكتاب، فإننا نعلم أن الكتاب قد ألفه السيوطي لكي يثبت إتقانه للمنطقة .. وكان المنطق قد أعتبر شرطًا من شروط الاجتهاد وكان السيوطي يدعي الاجتهاد المطلق .. فكتب كتابه هذا (صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام) وهو صرخة حضارية، قامت بها الروح الإسلامية تجاه علم من علوم الأوائل .. وهو المنطق الأرسططاليس وتجاه علم يستند على العقل والرأي .. وهو علم الكلام.
أما عن موقف الروح الإسلامية عن المنطق اليوناني .. فإن النقد الباطني للنصوص المختلفة التي أوردها السيوطي تبين:
أولا: أن هذا المنطق ترف عقلى .. لجأ إليه اليونان .. ولم يصل بهم إلى علم يقيني.
ثانيًا: أن هذا المنطق لا يمكن أن يكون الصورة الوحيدة لليقين، فهناك صورة أخرى لليقين .. لا يعرفها هذا المنطق ولا أصحابه الأصليون وأتباعهم من المشائين الإسلاميين ..
ثالثا: إن هذا المنطق المستند على اللغة اليونانية ويسميها السيوطي هنا -لسان يونان -لا يتفق أبدًا مع المنطق الذي يجب أن يصدر من الروح الإسلامية نفسها .. مستندًا على "عبقرية اللغة العربية".
'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননিল মানতিক ওয়াল কালাম' (যুক্তিবিদ্যা ও কালামশাস্ত্র হতে যুক্তিবিদ্যা ও কালামশাস্ত্রের শিল্পের সুরক্ষা) শীর্ষক পাণ্ডুলিপির সঙ্গে প্রথম সংস্করণের পুনর্নিরীক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। আমাদের নিকট এই পাণ্ডুলিপির আলোকচিত্র সংরক্ষিত আছে এবং বর্তমান সংস্করণে আমরা সেখান থেকে দুটি পৃষ্ঠা প্রকাশ করব। অতঃপর আমরা পূর্বে উল্লিখিত প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের আলোকে 'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম' কিতাবটি পর্যালোচনার অনুগামী করেছি। তদুপরি, আমি গ্রন্থটিকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিন্যাসে সজ্জিত করেছি এবং প্রথম সংস্করণে ধারাবাহিকভাবে আসা দীর্ঘ অনুচ্ছেদগুলোকে ছোট ছোট অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি, যাতে পাঠকের জন্য তা পাঠ করা সহজতর হয়। এর ফলে গ্রন্থটি তার আদি রূপ থেকে ভিন্নতর এক নতুন অবয়বে উপস্থাপিত হয়েছে।
গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞাত রয়েছে যে, ইমাম সুয়ূতী এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন যুক্তিবিদ্যায় তাঁর পূর্ণ দক্ষতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে। তৎকালে যুক্তিবিদ্যাকে ইজতিহাদের অন্যতম শর্ত হিসেবে গণ্য করা হতো এবং ইমাম সুয়ূতী 'ইজতিহাদে মুতলাক' বা নিরঙ্কুশ ইজতিহাদের দাবিদার ছিলেন। তাই তিনি তাঁর এই গ্রন্থ 'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননিল মানতিক ওয়াল কালাম' রচনা করেন। এটি মূলত একটি তামাদ্দুনিক বা সভ্যতাগত প্রতিবাদ, যা ইসলামি আধ্যাত্মিক চেতনা প্রাচীনদের অন্যতম শাস্ত্র তথা অ্যারিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যা এবং যুক্তি ও মতামতের ওপর নির্ভরশীল শাস্ত্র তথা ইলমুল কালামের বিরুদ্ধে উত্থাপন করেছে।
গ্রিক যুক্তিবিদ্যার প্রতি ইসলামি চেতনার অবস্থানের বিষয়ে ইমাম সুয়ূতী কর্তৃক উদ্ধৃত বিভিন্ন পাঠের অন্তর্নিহিত সমালোচনা থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো:
প্রথমত: এই যুক্তিবিদ্যা হলো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতা, যা গ্রিকরা অবলম্বন করেছিল; কিন্তু তা তাদের নিশ্চিত জ্ঞানের (ইলমে ইয়াকিনি) স্তরে পৌঁছে দিতে পারেনি।
দ্বিতীয়ত: এই যুক্তিবিদ্যা নিশ্চিত জ্ঞানের একমাত্র রূপ হতে পারে না; বরং নিশ্চিত জ্ঞানের অন্য একটি রূপ বিদ্যমান, যা এই যুক্তিবিদ্যা এবং এর আদি প্রবর্তকগণ কিংবা তাদের অনুসারী ইসলামি মাশশাঈ (পেরিপ্যাটেটিক) দার্শনিকরা অবগত ছিলেন না।
তৃতীয়ত: গ্রিক ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই যুক্তিবিদ্যা—যাকে সুয়ূতী এখানে 'লিসানে ইউনান' (গ্রিক ভাষা) বলে অভিহিত করেছেন—তা ইসলামি আধ্যাত্মিক চেতনা থেকে উৎসারিত সেই যুক্তিবিদ্যার সঙ্গে কখনোই সংগতিপূর্ণ নয়, যা 'আরবি ভাষার প্রজ্ঞা ও অলৌকিকত্বের' ওপর প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد استند السيوطي في نقده الأخير هذا على "الإمام الشافعي". والشافعي أعظم من أدرك بيقين نافذ استناد المنطق اليوناني على عبقرية اللغة اليونانية وخصائصها مما يحول دون تطبيقه على أبحاث تقوم أساس على العربية. ونحن نعلم أن الشافعي قد وضع أصول الفقه .. وطريقه الكبير "القياس الأصولي" بلغة الأصوليين الفقهاء .. وقياس الغائب على الشاهد .. بلغة الأصوليين المتكلمين .. " وهو طريق يختلف في كلياته وفي جزئياته عن القياس الأرسططاليس المشهور. كان الأول يمثل المنهج الاستقرائي .. بينما يمثل الثاني المنهج القياسي أو الاستنباطي.
وكل من المنهجين يمثل حضارة مختلفة عن الأخرى أشد الاختلاف .. أما عن موقف الروح الإسلامية من علم الكلام. فهو موقف يختلف عن المنطق فقد كان علم الكلام في بدئه عالما حادثا في الإسلام .. احتيج إليه زمنا ما لرد عادية التيارات الخارجية التي هاجمت الإسلام .. وكان أهم هذه التيارات المسيحية واليهودية والغنوصية والفلسفة اليونانية .. ولكن ما لبث علم الكلام أن تشقق أصحابه وتفيهقوا.: وكانت ميزاته إثارة الجدل الميتافيزيقي الذي لا طائل تحته. والجدل السياسي الذي استقر أوراه وقضى على سلطان المسلمين. وكان الكلام يستند على العقل ويخوض في المسائل الإلهية .. ويخلط فلسفة اليونان بعقائد المسلمين .. ورأي أهل الفقه من ناحية وأهل الحديث من ناحية أخرى أن هذا الكلام المستند على هوى العقل قد أفسد الحياة الإسلامية .. وفرق المسلمين فرقا وشيعا .. فشغلوا به عن كل شيء وما أجمل عبارة أمام دار الهجرة "مالك بن أنس" -والتي أوردها السيوطي -والكلام في الدين أكرهه. ولا أحب الكلام إلا فيما تحته عمل" .. هذه هي الروح العملية البرجمندكية .. التي ينبغي أن تسود
আস-সুয়ূতী তাঁর এই সর্বশেষ সমালোচনায় "ইমাম শাফিঈ"-এর ওপর নির্ভর করেছেন। আর শাফিঈ ছিলেন সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যিনি গভীর ও প্রখর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন যে, গ্রিক যুক্তিবিদ্যা গ্রিক ভাষার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল, যা আরবির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় এর প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে। আমরা জানি যে, ইমাম শাফিঈ উসূলে ফিকহ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ফকীহ উসূলবিদদের পরিভাষায় তাঁর মহান পদ্ধতি হলো "আল-কিয়াস আল-উসূলী" (উসূলী কিয়াস) এবং মুতাকাল্লিম উসূলবিদদের পরিভাষায় "কিয়াসুল গায়েবি আলাশ শাহিদ" (অদৃশ্যের মাধ্যমে দৃশ্যের অনুমান করা)। এই পদ্ধতিটি তার সামগ্রিক ও আংশিক উভয় দিক থেকেই সুপ্রসিদ্ধ অ্যারিস্টটলীয় কিয়াস বা ন্যায়ানুমান থেকে ভিন্ন। প্রথমটি ছিল আরোহী পদ্ধতির প্রতিনিধিত্বকারী, আর দ্বিতীয়টি অবরোহী বা নিগমনমূলক পদ্ধতির প্রতিনিধিত্বকারী।
এই উভয় পদ্ধতির প্রতিটি একটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করে। আর ইলমুল কালামের প্রতি ইসলামি চেতনার অবস্থানের কথা যদি বলি, তবে এই অবস্থান যুক্তিবিদ্যার অবস্থান থেকে ভিন্ন। ইলমুল কালাম ইসলামের সূচনালগ্নে একটি নতুন উদ্ভূত বিষয় ছিল। ইসলামকে আক্রমণকারী বহিরাগত চিন্তাধারার প্রতিকূলতা মোকাবিলায় একসময় এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। এই চিন্তাধারাগুলোর মধ্যে প্রধান ছিল খ্রিস্টধর্ম, ইহুদি ধর্ম, মারেফাতবাদ এবং গ্রিক দর্শন। কিন্তু শীঘ্রই ইলমুল কালামের অনুসারীরা উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং বাকচাতুর্যে লিপ্ত হয়। এর বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়ায় নিরর্থক আধিভৌতিক বিতর্ক সৃষ্টি করা এবং রাজনৈতিক কোন্দল, যা চরম আকার ধারণ করে মুসলিমদের কর্তৃত্ব বিনষ্ট করেছিল। কালামশাস্ত্র বুদ্ধিবৃত্তির ওপর নির্ভর করত এবং ঐশী বিষয়াবলীতে প্রবেশ করত। এটি গ্রিক দর্শনকে মুসলিমদের আকিদার সাথে সংমিশ্রিত করেছিল। ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণ মনে করতেন যে, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই কালামশাস্ত্র ইসলামি জীবনধারাকে কলুষিত করেছে এবং মুসলিমদের বিভিন্ন দলে ও উপদলে বিভক্ত করে দিয়েছে। তারা এর পেছনেই মগ্ন হয়ে সবকিছু থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছিল। ইমাম দারে হিজরত "মালিক ইবনে আনাস"-এর সেই উক্তিটি কতই না চমৎকার—যা আস-সুয়ূতী উদ্ধৃত করেছেন— "আমি দ্বীনের বিষয়ে কালামকে অপছন্দ করি। আমি কেবল সেই বিষয়েই কথা বলা পছন্দ করি যার অধীনে আমল বা কর্ম বিদ্যমান।" এটিই সেই প্রায়োগিক ও বাস্তববাদী চেতনা, যা প্রাধান্য পাওয়া উচিত।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحياة الإسلامية .. وتسيطر على تطورها .. ولقد رأى السيوطي أن يقدم لنا نصوصا نادرة .. وفي تسلسل تاريخي وموضوعي عن أقوال وآراء السلف في تحريم النظر في الالهيات ..
* * *
وأخيرًا أود أن أقدم شكري مرة ثانية للأستاذ الأكبر الدكتور الشيخ عبد الحليم محمود .. الذي تفضل مشكورًا وطلب منا إعداد هذه الطبعة الثانية .. ولعل الله أن ينفع بها العلم والعلماء .. وأن يستبصر بهديها المستبصرون .. وأن يفتح بها للمسلمين والمسلمات آفاقا جديدة من الفكر ..
وأن يعلموا أن للعقل حدوده وأن له قيوده .. والله من ورائهم محيط ..
ومنه وحده الهدى والتوفيق.
سعاد على عبد الرازق
الإسكندرية
11 ذي القعدة سنة 1389 هـ
الموافق 19 يناير سنة 1970 م
ইসলামি জীবনধারা.. এবং এর বিবর্তনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে.. ইমাম সুয়ূতী আমাদের সামনে কিছু বিরল পাঠ উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছেন.. যা ঐতিহাসিক এবং বিষয়ভিত্তিক অনুক্রমে ইলাহিয়াত বা আকিদাগত তত্ত্বে বুদ্ধিবৃত্তিক অনধিকার চর্চার নিষিদ্ধতা সম্পর্কে সালাফদের উক্তি ও মতামতের ওপর আলোকপাত করে..
* * *
পরিশেষে, আমি শায়খুল আজহার ডক্টর আব্দুল হালিম মাহমুদের প্রতি পুনরায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই.. যিনি অনুগ্রহপূর্বক আমাদের এই দ্বিতীয় সংস্করণটি প্রস্তুত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন.. আশা করি আল্লাহ এর মাধ্যমে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের উপকৃত করবেন.. এবং সত্যান্বেষীরা এর নির্দেশনার আলোকে সত্যের সন্ধান পাবেন.. এবং এটি মুসলিম নর-নারীদের জন্য চিন্তার নব দিগন্ত উন্মোচন করবে..
এবং তারা যেন বুঝতে পারে যে, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির নির্দিষ্ট সীমা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে.. আর আল্লাহ তাদের সকল দিক থেকে পরিবেষ্টন করে আছেন..
কেবল তাঁর পক্ষ থেকেই হিদায়াত ও তাওফিক অর্জিত হয়।
সুয়াদ আলী আব্দুল রাজ্জাক
আলেকজান্দ্রিয়া
১১ যিলকদ, ১৩৮৯ হিজরি
১৯ জানুয়ারি, ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
تقديم
لحضرة صاحب الفضيلة الأستاذ الأكبر
الشيخ مصطفى عبد الرازق شيخ الجامع الأزهر
ولم تنل دراسة تاريخ المنطق عند الإسلاميين حقها من عناية الباحثين. وإذا كان الرأي السائد أن منطق أرسططاليس نقل إلى العربية فيما نقل من فلسفة يونان -فظل على مر الأيام منطقا أرسططاليسيا في أصوله وقواعده، وفي جملته وتفصيله. فإن هذا الرأي السائد ليس وليد بحث عميق ولا اطلاع واسع على الاتجاهات المختلفة للمنطق في ألوان الثقافات الإسلامية. كأبحاث أصول العقائد وأبحاث أصول الأحكام.
ولقد كنت أيام اشتغالي بتدريس المنطق في الجامعة المصرية معنيا بأن أوجه الهمم إلى دراسة تاريخ المنطق في الثقافة الإسلامية وتتبع أطواره ومذاهبه، وأعرف أن ذلك يحتاج إلى تقصى المراجع في مظانها وفي غير مظانها أحيانا، وإلى التماس المؤلفات النافعة في هذا الباب بين المخطوطات التي لم تتناولها الأيدي.
وكنت عثرت في دار الكتب الأزهرية على مجموعة رسائل للسيوطي في ضمنها كتاب "صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام" يتبعه كتاب "جهد القريحة في تجريد النصيحة" الذي لخصه السيوطي من كتاب "نصيحة أهل الإيمان في الرد على منطق اليونان" لتقي الدين بن تيمية. ووجدت في الكتابين نفعا محققا فيما أحاوله، فشرعت يومئذ في تدارسهما مع بعض الطلاب، غير أن ذلك لم يطل، فقد صرفتني الأقدار عن حياة المنطق إلى حياة ليست بمنطقية.
উপস্থাপনা
মহামান্য প্রধান উস্তাদ মহোদয়ের পক্ষ থেকে
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাইখ, শাইখ মুস্তফা আব্দুন নাযিক
ইসলামি পণ্ডিতগণের মাঝে যুক্তিবিদ্যার (মানতিক) ইতিহাসের পঠন-পাঠন গবেষকদের নিকট থেকে তার যথাযোগ্য গুরুত্ব লাভ করেনি। প্রচলিত ধারণা এই যে, গ্রিক দর্শনের অন্যান্য বিষয়ের সাথে অ্যারিস্টটলের যুক্তিবিদ্যা যখন আরবিতে অনূদিত হয়েছিল, তখন তা দীর্ঘকাল যাবৎ তার মূলনীতি, নিয়মাবলি এবং সামগ্রিক ও বিস্তারিত খুঁটিনাটিতে অ্যারিস্টটলীয় বৈশিষ্ট্যই বজায় রেখেছিল। তবে এই প্রচলিত ধারণাটি কোনো গভীর গবেষণা কিংবা ইসলামি সংস্কৃতির বিবিধ ধারায়—যেমন আকিদাহর মূলনীতি (উসুলুল আকাইদ) ও আহকামের মূলনীতি (উসুলুল আহকাম) সংক্রান্ত গবেষণায়—যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন অভিমুখ সম্পর্কে ব্যাপক জানাশোনার ফসল নয়।
মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তিবিদ্যা অধ্যাপনায় নিয়োজিত থাকাকালীন আমি ইসলামি সংস্কৃতিতে যুক্তিবিদ্যার ইতিহাস অধ্যয়ন এবং এর বিবর্তন ও বিভিন্ন মতবাদ অনুসরণের দিকে বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ করতে আগ্রহী ছিলাম। আমি জানতাম যে, এর জন্য সংশ্লিষ্ট উৎস ও ক্ষেত্রবিশেষে আনুষঙ্গিক উৎসসমূহেও নিবিড় অনুসন্ধান চালানো প্রয়োজন, এবং এ বিষয়ক পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্য থেকে এমন সব উপকারী রচনাবলি খুঁজে বের করা আবশ্যক যা ইতিপূর্বে গবেষকদের দৃষ্টিগোচর হয়নি।
আমি আল-আযহার গ্রন্থাগারে ইমাম সুয়ূতীর একগুচ্ছ পত্রসংকলনের সন্ধান পাই, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল 'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননিল মানতিক ওয়াল কালাম' নামক গ্রন্থটি। এর অনুবর্তী গ্রন্থ হিসেবে ছিল 'জুহদুল কারীহা ফি তাজরীদিন নাসিহা', যা মূলত ইমাম তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর 'নাসিহাতু আহলিল ইমান ফির রাদ্দি আলা মানতিকিল ইউনান' গ্রন্থের একটি সারসংক্ষেপ এবং এটি সুয়ূতী নিজেই প্রস্তুত করেছিলেন। আমি আমার উদ্দিষ্ট বিষয়ে বই দুটির মধ্যে নিশ্চিত উপকারিতা খুঁজে পাই। ফলে তৎক্ষণাৎ আমি কতিপয় শিক্ষার্থীর সাথে গ্রন্থদ্বয় পর্যালোচনা শুরু করি। তবে সেই প্রচেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; কারণ নিয়তি আমাকে যুক্তিবিদ্যার জীবন থেকে এমন এক জীবনে সরিয়ে নিয়ে গেছে যা মোটেও যুক্তিনির্ভর নয়।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولئن كنت أسفت على ما فاتنى من متابعة ما بدأته من الدرس، فإني جد مغطبط بأن أرى صفوة مختارة من أبنائنا يأخذون بقوة، يسعدها شباب زاك، ما كنا حاولناه بعزم تخلى عنه الشاب.
وهذا الأستاذ علي سامي النشار، تلميذي بالأمس، وصديقي اليوم، يوجه همته إلى متابعة البحث ويمهد السبيل للباحثين.
ولقد عانى الأستاذ النشار في إعداد كتاب السيوطي للنشر مشقة "وأنفق جهدا يدركه تمام الإدراك من عانى نشر كتاب استنادا على مخطوط واحد".
وهو يصف في مقدمته طريقته في تصحيح النص ومقارنة ما لخصه السيوطي من الكتب بأصولها مطبوعة ومخطوطة. وقارن كتاب تجريد النصيحة في كثير من مواضعه بما ورد في كتب مختلفة لابن تيمية.
وإن مجهود الأستاذ علي سامي النشار لجدير بالتنويه والشكر والثناء.
وإذ كان قد وقع في بعض الصفحات أخطاء مطبعية وغيرها -فما كان ذلك لبعض من هذا العمل الجليل الممتاز الذي سيجد من كل معنى بالدراسات الإسلامية تقديرا عظيما.
وأسأل الله أن ينفع الأستاذ بما علمه، ويعلمه ما ينفعه، وأن يزيده علما.
القاهرة في 25 صفر سنة 1366
18 يناير سنة 1947 مصطفى عبد الرازق
আমি যদি আমার সূচিত গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারার কারণে আক্ষেপ করে থাকি, তবে আমাদের সন্তানদের মধ্য থেকে একদল মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত; যারা পূর্ণ শক্তির সাথে এবং প্রদীপ্ত যৌবনের উদ্যমে সেই কাজটির হাল ধরেছে, যা আমরা একদা দৃঢ় সংকল্পের সাথে শুরু করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তা অপূর্ণ রয়ে গিয়েছিল।
আর এই হলেন অধ্যাপক আলী সামী আল-নাশার, যিনি গতকাল আমার ছাত্র ছিলেন এবং আজ আমার বন্ধু; তিনি গবেষণার ধারা অব্যাহত রাখতে নিজ উদ্যমকে নিয়োজিত করেছেন এবং গবেষকদের জন্য পথ সুগম করছেন।
সুয়ূতী-র গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করতে গিয়ে অধ্যাপক নাশার অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন এবং এমন শ্রম ব্যয় করেছেন, যার মাহাত্ম্য কেবল সেই ব্যক্তিই অনুধাবন করতে পারবেন যিনি মাত্র একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে কোনো গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তিনি তাঁর ভূমিকার মধ্যে পাঠ্য সংশোধন এবং সুয়ূতী যেসব গ্রন্থের সারাংশ সংকলন করেছেন, সেগুলোকে মূল মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি উৎসের সাথে তুলনা করার পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি ‘তাজরীদুন নাসিহা’ গ্রন্থের বহু স্থানকে ইবনে তাইমিয়ার বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত বিষয়ের সাথে তুলনা করেছেন।
নিশ্চয়ই অধ্যাপক আলী সামী আল-নাশার-এর এই প্রচেষ্টা বিশেষ উল্লেখ, কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার দাবি রাখে।
যদিও কিছু পৃষ্ঠায় কিছু মুদ্রণজনিত বা অন্যবিধ ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তবে তা এই মহান ও অনন্য সাধারণ কর্মের মহিমাকে বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারে না; ইসলামি জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত প্রত্যেক ব্যক্তি এই কাজের উচ্চতর মূল্যায়ন করবেন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন অধ্যাপককে তাঁর অর্জিত ইলমের দ্বারা উপকৃত করেন, তাঁকে এমন বিষয় শিক্ষা দেন যা তাঁর জন্য কল্যাণকর হবে এবং তাঁর জ্ঞান আরও বৃদ্ধি করে দেন।
কায়রো, ২৫ সফর, ১৩৬৬ হিজরি
১৮ জানুয়ারি, ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ। মোস্তফা আবদুর রাজেক।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمة الناشر1 - في مكتبة الأزهر مخطوط هام في تاريخ الفكر الإسلامي اسمه "صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام" وهذا المخطوط هو الرسالة الثانية في مجموعة هناك برقم 204 مجاميع تحتوى على 19 رسالة في موضوعات مختلفة جد الاختلاف وكلها كما يبدو -مما كتب على ظاهر الغلاف -من تأليف الحافظ المشهور عبد الرحمن بن أبى بكر السيوطي عالم مصر في العهد الأوسط من عهود المماليك. أما ما كتب على الغلاف فهو: "مجموع من مؤلفات السيوطي -نفعنا الله تعالى به -بخطه".
والخط الذي كتبت به المجموعة دقيق ولا يظهر فيه تفاوت، والورق من صنف واحد، والصفحات مملوءة بالكتابة، تكاد تكون خالية من البياض، وفي كل صفحة 52 سطرًا تقريبًا.
وفي آخر الرسالة التاسعة ما نصه:
"تم من خط مصنفه بآخر يوم الاثنين الحادي والعشرين من شهر رمضان المعظم سنة 889. والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى جميع الأنبياء والمرسلين".
وفي آخر الرسالة التاسعة.
"آخر الجزء -ألفته يوم السبت تاسع عشر من صفر سنة ثلاث وسبعين وثمانمائة أحسن الله عقباها".
وتنتهي الرسالة الحادية عشرة كما يأتي:
"علقه مؤلفه يوم الأربعاء لعشر خلون من ذي القعدة سنة اثنتين وسبعين وثمانمائة -وكتب سنة 886".
প্রকাশকের ভূমিকা১ - আল-আযহার লাইব্রেরিতে ইসলামি চিন্তাধারার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নাম "সাওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননিল মানতিক ওয়াল কালাম"। এই পাণ্ডুলিপিটি সেখানে ২০৪ নম্বর ‘মাজামি’ (সংগ্রহ) সিরিজের একটি সংকলনের দ্বিতীয় রিসালাহ। এই সংকলনে ১৯টি প্রবন্ধ রয়েছে যেগুলো একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ের ওপর লিখিত। প্রচ্ছদের উপরিভাগে যা লেখা রয়েছে তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এর সবগুলোই মামলুক আমলের মধ্যবর্তী সময়ের মিশরের প্রখ্যাত পণ্ডিত হাফেজ আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সুয়ুতির রচনা। প্রচ্ছদে যা লেখা আছে তা হলো: "সুয়ুতির রচনাবলির সংকলন —মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন— তাঁর নিজস্ব হস্তাক্ষরে।"
পুরো সংকলনটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম হস্তাক্ষরে লেখা এবং এতে কোনো অসামঞ্জস্যতা দেখা যায় না। কাগজগুলো একই ধরনের এবং পৃষ্ঠাগুলো লেখায় পরিপূর্ণ, এতে সাদা জায়গা নেই বললেই চলে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রায় ৫২টি করে লাইন রয়েছে।
নবম রিসালাহর শেষে যা উল্লেখ আছে তা হলো:
"৮৮৯ হিজরি সালের মহিমান্বিত রমজান মাসের একুশ তারিখ, সোমবারের শেষাংশে লেখকের নিজস্ব হস্তাক্ষর থেকে এটি সমাপ্ত হলো। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলসহ সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।"
এবং নবম রিসালাহর শেষে (আরও আছে):
"খণ্ডের সমাপ্তি —আমি এটি রচনা করেছি ৮৭৩ হিজরি সালের ১৯শে সফর, শনিবার; আল্লাহ এর পরিণাম শুভ করুন।"
একাদশ রিসালাহটি এভাবে শেষ হয়েছে:
"এর লেখক এটি লিপিবদ্ধ করেছেন ৮৭২ হিজরি সালের ১০ই জিলকদ, বুধবার —এবং এটি অনুলিপি করা হয়েছে ৮৮৬ হিজরি সালে।"
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
أما باقي الرسائل فليس فيه تاريخ.
لكن هل كتبت المجموعة حقًا بخط السيوطي كما تذكر تلك العبارة التي نقلناها من ظاهر الغلاف -يبدو أن ثمت أسبابًا قوية تنفي نفيًا باتًا كتابة السيوطي للمجموعة التي بين أيدينا بخطه -وهاكم الأسباب:
أولا: ما كتب في الصحيفة الثالثة سطر 35 "صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام للفقير إلى عفو ربه عبد الرحمن بن أبى بكر السيوطي الشافعي غفر الله لنا وله" وقد كتبت هذه العبارة بخط لا يختلف بتاتًا عن باقي خطوط المجموعة، وهي تدل دلالة صريحة على أنها لم تكتب بخط السيوطي -وبالتالي لم تكتب المجموعة بخطه.
ثانيًا: ما كتب في آخر الرسالة السابعة "تم من خط مصنفه، أي تم نقله من نسخة بخط المؤلف.
ثالثًا: في المجموعة أخطاه نحوية متعددة -ولا يمكن على الإطلاق -أن يقع السيوطي -وهو عالم اللغة الممتاز في أمثال تلك الأخطاء -أو أن يسهو في الكتابة -فيفلت منه بعض منها -وقد لاحظت في جميع ما ترك من مجموعاته الخطية أنه لا يخطئ خطًا لغويًا أو نحويًا -ولم يؤد به النسيان أو السهو -وهو الحافظ المشهور -إلى أي خطأ من نوع تلك الأخطاء.
رابعًا: وأخيرًا نصل إلى رابع الأسباب وأقطعها -هو أن مجموعات السيوطي الخطية تسير على قاعدة لا تخف عنها إطلاقًا -وهي أنها "غير منقوطة" بينما المجموعة التي بين أيدينا منقوطة.
ومن هنا يتبين أن هذه المجموعة لم تكتب بخط السيوطي. ولكن إذا ما حاولنا أن نحدد العصر الذي كتبت فيه الرسائل، لتوصلنا إلى أنه القرن العاشر الهجري، وهو القرن الذي مات السيوطي في أولى العقد الثاني
অবশিষ্ট পত্রসমূহ বা রিসালাতগুলোতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।
তবে প্রচ্ছদলিপিতে উদ্ধৃত সেই বাক্যটির বর্ণনা অনুযায়ী এই পাণ্ডুলিপি-সংকলনটি কি আস-সুয়ূতী নিজ হাতে লিখেছেন? মনে হচ্ছে এমন কিছু শক্তিশালী কারণ রয়েছে যা আমাদের হাতে থাকা এই পাণ্ডুলিপিটি সুয়ূতীর স্বহস্তে লিখিত হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেয়—আর কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রথমত: তৃতীয় পৃষ্ঠার ৩৫তম লাইনে যা লেখা আছে: "তার প্রভুর ক্ষমার মুখাপেক্ষী নিঃস্ব বান্দা আবদুর রহমান বিন আবী বকর আস-সুয়ূতী আশ-শাফিঈর সংকলিত ‘সউনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননিল মানতিক ওয়াল কালাম’, আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন।" এই বাক্যটি এমন এক হস্তাক্ষরে লেখা যা সংকলনের বাকি হস্তাক্ষর থেকে একেবারেই ভিন্ন নয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে এটি সুয়ূতীর নিজ হাতে লেখা নয়—ফলত পুরো পাণ্ডুলিপিটিই তাঁর স্বহস্তে লিখিত নয়।
দ্বিতীয়ত: সপ্তম রিসালাতের শেষে যা লেখা হয়েছে: "লেখকের পাণ্ডুলিপি হতে সমাপ্ত হলো", অর্থাৎ এটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: এই সংকলনে বহুবিধ ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে। এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয় যে সুয়ূতীর মতো একজন শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ এই ধরনের ভুলে পতিত হবেন, কিংবা লেখার সময় অসাবধানতাবশত এমন ভুল করে ফেলবেন। আমি তাঁর রেখে যাওয়া সমস্ত পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, তিনি কখনও ভাষাগত বা ব্যাকরণগত ভুল করেন না। তদুপরি প্রখ্যাত ‘হাফিজ’ হওয়ার কারণে বিস্মৃতি বা অমনোযোগিতাও তাঁকে এ ধরনের কোনো ভুলের দিকে ধাবিত করেনি।
চতুর্থত: পরিশেষে আমরা চতুর্থ এবং সবচেয়ে অকাট্য কারণটিতে উপনীত হয়েছি—তা হলো সুয়ূতীর স্বহস্তে লিখিত সংকলনসমূহ এমন একটি নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা থেকে তিনি কখনও বিচ্যুত হন না, আর তা হলো সেগুলো "নুকতাহীন" (বিন্দুবিহীন); অথচ আমাদের হাতে থাকা এই সংকলনটি নুকতাহযুক্ত।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই সংকলনটি সুয়ূতীর হস্তলিপি নয়। তবে আমরা যদি এই রিসালাতগুলো লেখার সময়কাল নির্ধারণ করার চেষ্টা করি, তবে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হব যে এটি ছিল দশম হিজরি শতাব্দী; এটি সেই শতাব্দী যার দ্বিতীয় দশকের শুরুতে সুয়ূতী ইন্তেকাল করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
منه، وأكاد أرجح أن هذه المجموعة نقلت مباشرة عن مجموعة بخط السيوطي نفسه وفي عصر قريب جدًا منه.
والكتاب الذي تقوم بنشره الآن من هذه المجموعة هو كما قلت -الرسالة الثانية منها -وقد كتب اسم الكتاب على الهامش وبخط غير مشابه لخط المتن "كتاب صون المنطق والكلام عن فن المنطق للجلال السيوطي" وكتب في صدر المتن صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام للفقير إلى عفو ربه عبد الرحمن بن أبى بكر السيوطي الشافعي غفر الله لنا وله" ومن المؤكد أن هذا هو إسم الكتاب الحقيقي -أما ما كتب على الهامش فقدسها كاتبه عن كتابه لفظ الكلام في المقطع الثاني من العبارة -وليس ثمت فاصل في الكتابة بين هذا الكتاب والرسالة السابقة لها وهي رسالة "إيمان أم النبي".
أما آخر الكتاب فقد كتب فيه "تم كتاب صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام للجلال السيوطي.
ثم كتب بخط مغاير لخط المتن "الحمد لله -وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم -وبعد فقد طالعه العبد الفقير إليه سبحانه أحمد بن عبد الحي الحسني القدسي داعيًا لمالكه بحسن الختام ولجميع المسلمين" ويوجد فاصل كبير بين نهاية رسالة صون المنطق والرسالة الثالثة، ولا نعرف على وجه اليقين من هو أحمد بن عبد الحي الحسيني هذا. ولعله أحد طلبة العلم من أهل القدس كما هو ظاهر من الاسم، كما أننا لم نصل إلى تاريخ المخطوط، من امتلكه من الناس، ومن هو مالكه الذي يشير إليه القدسي، على أننا نستطيع أن نؤكد أن أيدي قليلة جدًا تناولت هذا الكتاب، إذ أن هوامشها قليلة، والورق على العموم نظيف وليس هناك تعليقات في نهاية
এর থেকে, এবং আমি প্রায় নিশ্চিত যে এই সংকলনটি সরাসরি ইমাম সুয়ূতী রহ.-এর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং এটি তাঁর অত্যন্ত সমসাময়িক কোনো সময়ের।
এই সংকলন থেকে বর্তমানে আমরা যে বইটি প্রকাশ করছি সেটি হলো—যেমনটি আমি বলেছি—এর দ্বিতীয় রিসালাহ (প্রবন্ধ)। বইটির নাম মার্জিনে মূল পাঠ্যের লিপি থেকে ভিন্ন হাতের লেখায় লেখা হয়েছে: "জালালুদ্দীন সুয়ূতীর যুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত শাস্ত্র থেকে যুক্তিবিদ্যা ও ইলমুল কালামকে সুরক্ষার কিতাব"। আর মূল পাঠ্যের শুরুতে লেখা হয়েছে: "আপন রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী বান্দা আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর আস-সুয়ূতী আশ-শাফিঈ-এর পক্ষ থেকে যুক্তিবিদ্যা ও ইলমুল কালামের শাস্ত্র থেকে যুক্তিবিদ্যা ও কালামশাস্ত্রকে সুরক্ষার বর্ণনা, আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন।" এটি নিশ্চিত যে এটাই বইটির প্রকৃত নাম। মার্জিনে যা লেখা হয়েছে, তাতে লেখক বাক্যের দ্বিতীয় অংশে 'কালাম' শব্দটি লিখতে ভুলবশত ভুলে গেছেন। এই বই এবং এর পূর্ববর্তী রিসালাহ—অর্থাৎ 'ইমানু উম্মিন নাবী' (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতার ঈমান)—এর মাঝে লিখনশৈলীতে কোনো বিচ্ছেদ নেই।
আর বইটির শেষে লেখা হয়েছে: "জালালুদ্দীন সুয়ূতী রচিত যুক্তিবিদ্যা ও ইলমুল কালামের শাস্ত্র থেকে যুক্তিবিদ্যা ও কালামশাস্ত্রকে সুরক্ষা বিষয়ক কিতাবটি সমাপ্ত হলো।"
এরপর মূল পাঠ্যের ভিন্ন লিপিতে লেখা হয়েছে: "সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর, মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা আহমাদ ইবনে আবদুল হাই আল-হাসানী আল-কুদ্সী এটি পাঠ করেছেন এবং এর মালিকের জন্য সুন্দর পরিসমাপ্তি ও সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করেছেন।" 'সাউনুল মানতিক' রিসালাহর সমাপ্তি এবং তৃতীয় রিসালাহর শুরুর মাঝে বড় ব্যবধান রয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না এই আহমাদ ইবনে আবদুল হাই আল-হুসাইনী কে ছিলেন। সম্ভবত তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসী ইলমে দ্বীনের কোনো ছাত্র ছিলেন, যা তাঁর নাম থেকেই স্পষ্ট। অনুরূপভাবে, আমরা এই পাণ্ডুলিপির সঠিক তারিখ, এটি বিভিন্ন সময়ে কার মালিকানায় ছিল এবং আল-কুদ্সী যে মালিকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তিনি কে—সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাইনি। তবে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, খুব কম লোকই এই বইটি নাড়াচাড়া করেছেন; কারণ এর মার্জিনগুলো প্রায় ফাঁকা, কাগজগুলো মোটের ওপর পরিষ্কার এবং শেষাংশে কোনো টীকা-টিপ্পনী নেই।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الكتاب ولا في أوله ولا أسماء من تناولوه أو قرأوه سوى الحسيني القدسي المذكور. والكتاب في 35 صحيفة من القطع المتوسط -وصحائفه مملوءة بالكتابة الدقيقة الواضحة -وقد ذكرت أن عدد الأسطر في كل صحيفة من المجموعة حوالي 52 سطرًا.
2 - هل الكتاب للسيوطي حقا؟ هنا تقابلنا المشكلة الثانية في بحث المخطوط. وقد رجعنا إلى ترجمة السيوطي التي كتبها لنفسه، فلم نعثر لهذا الكتاب على ذكر ولكن حاجى خليفة ذكره فقال "صون المنطق والكلام عن فن المنطق والكلام -مجلة للسيوطي -ذكره في فهرست مؤلفاته في فن الفقه".
فهل معنى أن السيوطي ذكره في كتاب آخر غير حسن المحاضرة؟ قد رجعنا إلى فهارست مؤلفاته في كتبه المطبوعة، فلم نجد لهذا الكتاب ذكرا أيضًا. ولكن وجدت في حسن المحاضرة ذكرًا لرسالتين ثانيتين تفصلان أو ثق صلة بموضوع كتابنا هذا، وهما "القول المشرق في تحريم الاشتغال بالمنطق، فصل الكلام في ذم الكلام".
وقد ذكر اسم الكتاب الأول في الكتاب الذي بين أيدينا الآن "كنت قديما في سنة سبع وثمان وستين وثمانمائة ألف كتابا في تحريم الاشتغال بفن المنطق سميته القول المشرق ضمنته نقول أئمة الإسلام في ذمه وتحريمه"
কিতাবটির শুরুতে বা এর মালিক অথবা পাঠকদের নামের কোনো উল্লেখ নেই, কেবল পূর্বোক্ত আল-হুসাইনি আল-কুদসি ব্যতীত। কিতাবটি মাঝারি আকারের ৩৫টি পৃষ্ঠায় সমাপ্ত—এর পৃষ্ঠাগুলো সূক্ষ্ম অথচ স্পষ্ট লেখায় পূর্ণ—এবং আমি উল্লেখ করেছি যে, সংকলনটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা প্রায় ৫২টি।
২ - কিতাবটি কি আসলেই সুয়ূতী-র লেখা? এখানে পাণ্ডুলিপি গবেষণায় আমরা দ্বিতীয় সমস্যার সম্মুখীন হই। আমরা সুয়ূতী-র নিজের লেখা তাঁর জীবনীগ্রন্থটি পর্যালোচনা করেছি, কিন্তু সেখানে এই কিতাবটির কোনো উল্লেখ পাইনি; তবে হাজী খলিফা এর উল্লেখ করে বলেছেন, "সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননিল মানতিক ওয়াল কালাম—এটি সুয়ূতী-র একটি পুস্তিকা—তিনি তাঁর ফিকহ শাস্ত্রীয় রচনার তালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন।"
তাহলে এর অর্থ কি এই যে, সুয়ূতী 'হুসনুল মুহাদারা' ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবে এর উল্লেখ করেছেন? আমরা তাঁর মুদ্রিত কিতাবসমূহে থাকা তাঁর রচনাবলির তালিকাগুলোও পরীক্ষা করেছি, কিন্তু সেখানেও এই কিতাবটির কোনো উল্লেখ খুঁজে পাইনি। তবে 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে আমি অন্য দুটি পুস্তিকার উল্লেখ পেয়েছি, যেগুলোর সাথে আমাদের আলোচ্য কিতাবটির বিষয়ের গভীর সম্পর্ক রয়েছে; সেই দুটি হলো: "আল-কাওলুল মুশরিক ফি তাহরিমিল ইশতিগাল বিল মানতিক" এবং "ফাসলুল কালাম ফি যাম্মিল কালাম"।
আমাদের হাতে থাকা বর্তমান কিতাবটিতে প্রথম কিতাবটির নাম এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: "আমি অতীতে ৮৬৮ হিজরি সনে যুক্তিবিদ্যা বা মানতিক চর্চা হারাম হওয়া বিষয়ে একটি কিতাব লিখেছিলাম, যার নামকরণ করেছিলাম 'আল-কাওলুল মুশরিক'; সেখানে আমি এর নিন্দা ও নিষিদ্ধতা সম্পর্কে ইসলামের ইমামগণের উদ্ধৃতিসমূহ সন্নিবেশিত করেছিলাম।"
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وذكر أيضًا اسم الكتاب الثاني "ولما شرعت في ذلك -أي في الكلام عن المنطق -ولزم منه الانجرار إلى نقل نصوص الأئمة في منع النظر في علم الكلام -لما بينهما من التلازم، سميت الكتاب صون المنطق والكلام"
فهل نستطيع أن نفهم من هذا أن كتاب صون المنطق والكلام، هو مجموع هاتين الرسالتين، أو أن السيوطي ضمن كتابه هذا هاتين الرسالتين مع نصوص أخرى أضافها -من المحتمل هذا كثيرا، ومن المحتمل أيضا أن يكون كتاب صون المنطق تصنيفا مستقلا عن هذين الكتابين.
على أنه بالرغم من أن السيوطي لم يذكر اسم هذا الكتاب في مؤلفاته التي بين أيدينا فإنه من المحقق -استنادا على النقد الخارجي والداخلي للنص الذي بين أيدينا -أن كتاب صون المنطق والكلام له أسباب متعددة. أهمها:
أولا: ما ذكره صاحب كشف الظنون -وهو ثبت ثقة في تاريخ الكتاب الإسلامي.
ثانيها: أسلوب الجمع في الكتاب -تسيطر على الكتاب الروح السيوطيه والتأليف جليلة واضحة -روح الجمع وتلخيص الكتب وقد كان هذا أسلوب السيوطي وعمله الذي تميزيه.
ثالثها: أسلوب أهل الحديث -ألف السيوطي صون المنطق والكلام على أسلوب المحدثين. وهذا ظاهر في جميع أجزاء الكتاب.
رابعها: كان كتابة هذا الكتاب ضرورة قصوى اضطر إليها السيوطي
তিনি দ্বিতীয় গ্রন্থের নামও এভাবে উল্লেখ করেছেন, "যখন আমি এটি অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে আলোচনা শুরু করলাম এবং এর ফলে অনিবার্যভাবে কালাম শাস্ত্র পর্যালোচনার নিষেধাজ্ঞায় ইমামদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করার আবশ্যকতা দেখা দিল—যেহেতু এই দুটির মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে—তখন আমি বইটির নামকরণ করলাম 'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম' (যুক্তিবিদ্যা ও কালাম শাস্ত্রের সুরক্ষা)।"
অতএব, আমরা কি এখান থেকে এটি বুঝতে পারি যে, 'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম' গ্রন্থটি এই দুটি পুস্তিকারই সমষ্টি, নাকি সুয়ূতী তাঁর এই গ্রন্থে এই দুটি পুস্তিকাকে অন্য কিছু বক্তব্যের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা তিনি নিজে যোগ করেছিলেন—এর সম্ভাবনা প্রবল। আবার এটিও সম্ভব যে, 'সওনুল মানতিক' গ্রন্থটি এই দুটি বই থেকে স্বতন্ত্র একটি রচনা।
যদিও সুয়ূতী আমাদের হাতে থাকা তাঁর গ্রন্থতালিকায় এই বইটির নাম উল্লেখ করেননি, তবুও আমাদের নিকট বিদ্যমান পাঠ্যের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে এটি সুনিশ্চিত যে, 'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম' গ্রন্থটির সপক্ষে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। যার মধ্যে প্রধান হলো:
প্রথমত: 'কাশফুজ জুনুন' প্রণেতার বর্ণনা—যিনি ইসলামী গ্রন্থপঞ্জির ইতিহাসে একজন নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব।
দ্বিতীয়ত: বইটির সংকলনশৈলী—এই গ্রন্থে সুয়ূতীর অনন্য রচনাশৈলী ও বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্ট—যা হলো বিভিন্ন তথ্য একত্রিত করা এবং বইয়ের সারসংক্ষেপ তৈরি করার প্রবণতা। এটিই ছিল সুয়ূতীর স্বতন্ত্র কর্মপদ্ধতি যা তাকে বিশিষ্টতা দান করেছে।
তৃতীয়ত: আহলে হাদিসগণের পদ্ধতি—সুয়ূতী 'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম' গ্রন্থটি মুহাদ্দিসগণের তরিকায় রচনা করেছেন। এটি বইটির সকল অংশে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
চতুর্থত: এই গ্রন্থটি রচনা করা ছিল একটি চরম আবশ্যকতা যার প্রতি সুয়ূতী বাধ্য হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد كانت تكتنف حياته الروحية عوامل غريبة، فقد ادعى الرجل الاجتهاد سنة 888، ويبدو أن بعض أعدائه هاجموه بأنه لا يتقن المنطق -وهو شرط من شروط الاجتهاد منذ دعا الغزالي إلى هذا -خاصة وأنه ذكر في ترجمته لنفسه في حسن المحاضرة أنه لم يحب المنطق ولم يتمكن من إجادته وقد كنت في مبادئ الطلب قرأت شيئا في علم المنطق، ثم ألقى الله كراهته في قلبي، وسمعت أن ابن الصلاح أفنى بتحريمه -فتركته لذلك -فعوضني الله تعالى عنه علم الحديث الذي هو أشرف العلوم، فاضطر إلى أن يكتب كتابه هذا. يقول في مقدمة كتابه "لما كان هذا العام -ومن المحتمل أن يكون 887 أو 888 - وتحدثت بما أنعم الله به على من الوصول إلى رتبة الاجتهاد ذكر ذاكر أن من شروط الاجتهاد معرفة فن المنطق يعني وقد فقد هذا الشرط عندي بزعمه وما شعر المسكين أني أحسنه أكثر ممن يدعيه ويناضل عليه، وأعرف أصول قواعده وما بنيت عليه".
كل هذه الأسباب -التي لجأنا فيها إلى النقد الخارجي والداخلي للكتاب الذي بين أيدينا -تثبت اثباتا قاطعا صحة نسبة هذا الكتاب للسيوطي.
أما تاريخ كتابه صون المنطق والكلام فيبدو أنه سنة 887 أو 888 على أكثر تقدير -وهي السنة التي عيب عليه فيها عدم معرفته للمنطق.
3 - كتاب ابن تيمية: ذكر السيوطي في مقدمة كتابه أنه لخص كتاب ابن تيمية: يقول "تطلبت كتاب ابن تيمية حتى وقفت عليه فرأيته سماه نصيحة أهل الإيمان في الرد على منطق اليونان، وأحسن فيه القول
তাঁর আধ্যাত্মিক জীবন বিচিত্র কিছু উপাদানে পরিবেষ্টিত ছিল। এই ব্যক্তি ৮৮৮ হিজরি সনে ইজতিহাদের দাবি করেন। প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর শত্রুদের কেউ কেউ তাঁকে এই মর্মে আক্রমণ করেন যে, তিনি যুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী নন—অথচ ইমাম গাজালির আহ্বানের পর থেকে এটি ইজতিহাদের অন্যতম শর্ত হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। বিশেষত তিনি 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যুক্তিবিদ্যা পছন্দ করতেন না এবং এতে দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হননি। তিনি বলেন: "আমি ছাত্রজীবনের শুরুতে যুক্তিবিদ্যার কিছু অংশ পাঠ করেছিলাম, অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে এর প্রতি বিরাগ সৃষ্টি করে দেন। আমি শুনতে পাই যে, ইবনুস সালাহ এটি হারাম হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন—তাই আমি এটি বর্জন করি। এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা আমাকে হাদিস শাস্ত্র দান করেছেন, যা ইলমসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম।" এরপর তিনি এই গ্রন্থটি রচনা করতে বাধ্য হন। তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "যখন এই বছরটি উপস্থিত হলো—সম্ভবত তা ৮৮৭ বা ৮৮৮ হিজরি—এবং আমি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাকে যে নেয়ামত দান করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করলাম, তখন জনৈক ব্যক্তি উল্লেখ করলেন যে, ইজতিহাদের অন্যতম শর্ত হলো যুক্তিবিদ্যায় পারদর্শিতা। অর্থাৎ তার দাবি অনুযায়ী আমার মধ্যে এই শর্তের অভাব রয়েছে। সেই বেচারা অনুভব করতে পারেনি যে, যারা এটি দাবি করে এবং এর পক্ষে লড়াই করে, আমি তাদের চেয়েও এতে অধিক পারদর্শী। আমি এর মূলনীতিসমূহ এবং কিসের ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত তা সম্যক অবগত।"
এই সকল কারণ—যার জন্য আমরা আমাদের হাতে থাকা গ্রন্থটির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার আশ্রয় নিয়েছি—সুয়ুতির প্রতি এই গ্রন্থের সম্পৃক্ততা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে।
আর 'সউনুল মানতিক ওয়াল কালাম' গ্রন্থটি রচনার সময়কাল সম্ভবত ৮৮৭ বা ৮৮৮ হিজরি—এটি সেই বছর যখন যুক্তিবিদ্যায় তাঁর অজ্ঞতার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল।
৩ - ইবনে তাইমিয়ার গ্রন্থ: সুয়ুতি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে তাইমিয়ার একটি গ্রন্থের সারসংক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেন: "আমি ইবনে তাইমিয়ার গ্রন্থটি অনুসন্ধান করতে থাকি যতক্ষণ না আমি তা লাভ করি। আমি দেখলাম তিনি এর নাম রেখেছেন ‘নাসিহাতু আহলিল ঈমান ফির রাদ্দি আলা মানতিকিল ইউনান’ (গ্রিক যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে মুমিনদের প্রতি উপদেশ), এবং এতে তিনি চমৎকার আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ما شاء من نقض قواعده -قاعدة، قاعدة وبيان فساد أصولها، فلخصته في تأليف لطيف سميته، جهد القريحة في تجريد النصيحة.
ويفتتح كتاب جهد القريحة بما نصه "ذكر ما لخصته من كتاب ابن تيمية الذي ألفه في نقض قواعد المنطق -كتاب جهد القريحة في تجريد النصيحة للفقير إلى عفو ربه عبد الرحمن بن أبى بكر السيوطي الشافعي لخصته من كتاب نصيحة أهل الإيمان في الرد على منطق اليونان للعلامة تقي الدين بن تيمية.
ثم يبدأ الكتاب بالبسملة والحمد له -ويذكر أن لابن تيمية كتابين أحدهما صغير والآخر كبير هو "نصيحة
… " ثم يذكر أنه سيقوم بتلخيصه وسيسميه "جهد القريحة
… " ومع أن السيوطي لخص لنا في "صون المنطق" كتابا كثيرة، غير أنه لم يبدأها بالحمدله ولا بالبسملة كما فعل في هذا الكتاب فهل يعني هذا أننا بصدد كتاب مستقل عن الكتاب الأصلي.
إذا ما رجعنا إلى ما كتب عن هذا الكتاب لم تجد له ذكرا في حسن المحاضرة. أما صاحب كشف الظنون فقال "نصيحة أهل الإيمان في الرد على منطق اليونان لابن تيمية -اختصره السيوطي وسماه جهد القريحة في تجريد النصيحة" ومن هذا النص يتبين لنا أن هذا الكتاب مستقل تمام الاستقلال عن كتاب صون المنطق والكلام وأنه ليس جزءا منه.
ودليل آخر -هو أنه يوجد مخطوط لمختصر السيوطي منفصل عن صون المنطق والكلام في مكتبة ليدن في مجموعة فارنر المشهورة، وهذه المجموعة برقم 474، وفيها كتب أخرى للسيوطي غير كتابنا هذا.
যুক্তিশাস্ত্রের নিয়মাবলি ভেঙে ফেলা—একে একে প্রতিটি নিয়ম—এবং এর মূলনীতিসমূহের অসারতা প্রমাণের বিষয়ে তিনি যা চেয়েছেন, আমি তা একটি চমৎকার সংকলনে সংক্ষিপ্ত করেছি যার নাম দিয়েছি, 'জুহদুল ক্বারিহা ফী তাজরিদিন নাসিহা' (উপদেশের নির্যাস গ্রহণে মেধার প্রচেষ্টা)।
'জুহদুল ক্বারিহা' গ্রন্থটি এই ভাষ্যে শুরু হয়েছে: "ইবনে তাইমিয়া কর্তৃক যুক্তিশাস্ত্রের নিয়মাবলি খণ্ডন করে রচিত গ্রন্থ থেকে আমি যা সংক্ষেপ করেছি তার বর্ণনা—'জুহদুল ক্বারিহা ফী তাজরিদিন নাসিহা' গ্রন্থটি তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর আস-সুয়ূতী আশ-শাফিঈ কর্তৃক লিখিত, যা আমি আল্লামা তাক্বীউদ্দিন ইবনে তাইমিয়ার 'নাসীহাতু আহলিল ঈমান ফী আর-রাদ্দি আলা মানতিকিল ইউনান' গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপ করেছি।"
এরপর গ্রন্থটি বিসমিল্লাহ এবং হামদ দিয়ে শুরু হয়—সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইবনে তাইমিয়ার দুটি গ্রন্থ রয়েছে, যার একটি ছোট এবং অপরটি বড়, যা হলো "নাসীহা
… "; এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি এটি সংক্ষেপ করবেন এবং এর নাম দেবেন "জুহদুল ক্বারিহা
… "। যদিও সুয়ূতী 'সউনুল মানতিক' গ্রন্থে আমাদের জন্য অনেক কিতাব সংক্ষেপ করেছেন, তবে তিনি সেগুলোর শুরুতে হামদ বা বিসমিল্লাহ যোগ করেননি যেমনটি এই বইটিতে করেছেন; তবে কি এর অর্থ এই যে, আমরা এখানে মূল গ্রন্থটি থেকে স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থের সম্মুখীন?
আমরা যদি এই গ্রন্থটি সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে সেদিকে ফিরে তাকাই, তবে 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে এর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক বলেছেন: "ইবনে তাইমিয়ার 'নাসীহাতু আহলিল ঈমান ফী আর-রাদ্দি আলা মানতিকিল ইউনান'—সুয়ূতী এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং নাম দিয়েছেন 'জুহদুল ক্বারিহা ফী তাজরিদিন নাসিহা'।" এই পাঠ্য থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এই গ্রন্থটি 'সউনুল মানতিক ওয়াল কালাম' গ্রন্থ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং এটি তার কোনো অংশ নয়।
আরেকটি প্রমাণ হলো—লাইডেন লাইব্রেরির বিখ্যাত 'ওয়ার্নার কালেকশন'-এ 'সউনুল মানতিক ওয়াল কালাম' থেকে পৃথকভাবে সুয়ূতীর এই সংক্ষেপিত গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে। এই সংগ্রহটির নম্বর ৪৭৪ এবং এতে আমাদের এই গ্রন্থটি ছাড়াও সুয়ূতীর আরও অন্যান্য বই রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ودليل أخير -فقد ذكر السخاوى في ترجمته للسيوطي "وأول ما أبرز جزء له في تحريم المنطق جرده من مصنف لابن تيمية" فنحن إذن أمام كتابين للسيوطي أحدهما كتابه الأصلي، صون. والآخر مختصر لكتاب ابن تيمية، أما عن كتاب ابن تيمية الأصلي، فقد ذكره ابن عبد الهادي في في ترجمته المشهورة فقال "وله كتال في الرد على المنطق، مجلد كبير وله مصنفان آخران في الرد على المنطق نحو المجلد" وهذا ما ذكره أيضا ابن القيم الجوزية في كتابه مفتاح دار السعادة كما ذكره صاحب كشف الظنون كما بينا من قبل.
والكتاب الأصلي موجود في الهند -على ما ذكر السيد سليمان بدوي في بحث له هام.
ولكن يبدو أن المخطوط رديء الخط مخروم في كثير من أجزائه بحيث لم يتمكن من نشره بالرغم من أنه أعلن منذ مدة بعيدة أن دائرة المعارف النظامية بحيدر آباد الدكن ستقوم بطبعه.
فالسيوطي إذن قد قدم لنا فائدة علمية لا تقدر إذ أنه حفظ لنا صورة قريبة جدًا من النص الأصلي لابن تيمية. كما حفظ لنا صور الكتب أخرى مفقودة أو متعذر الوصول إليها -ولقد كانت هذه إحدى أيادي السيوطي السابغة على الفكر الإسلامي.
একটি সর্বশেষ প্রমাণ—ইমাম সাখাওয়ি তাঁর সুয়ুতির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: "যুক্তিবিদ্যা নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে তিনি সর্বপ্রথম যে অংশটি প্রকাশ করেন, তা ইবনে তাইমিয়্যাহর একটি রচনা থেকে নির্যাস হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।" সুতরাং আমরা সুয়ুতির দুটি গ্রন্থের সম্মুখীন হচ্ছি, যার একটি তাঁর মৌলিক গ্রন্থ 'সাওন' এবং অন্যটি ইবনে তাইমিয়্যাহর গ্রন্থের একটি সারসংক্ষেপ। ইবনে তাইমিয়্যাহর মূল গ্রন্থটি সম্পর্কে ইবনে আবদিল হাদি তাঁর বিখ্যাত জীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে তাঁর একটি বৃহৎ খণ্ডবিশিষ্ট গ্রন্থ রয়েছে এবং যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনেই তাঁর আরও দুটি রচনা রয়েছে যা প্রায় এক খণ্ডের সমান।" এটি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ তাঁর 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন, যেমনটি 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখকও উল্লেখ করেছেন যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি।
এবং মূল গ্রন্থটি ভারতে বিদ্যমান—যেমনটি সাইয়্যিদ সুলাইমান বাদাউয়ি তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় উল্লেখ করেছেন।
তবে প্রতীয়মান হয় যে, পাণ্ডুলিপিটির হস্তাক্ষর অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং এর অনেক অংশই খণ্ডিত বা ক্ষতিগ্রস্ত, যার ফলে এটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি; যদিও অনেক আগে ঘোষণা করা হয়েছিল যে হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের দাইরাতিল মাআরিফ আন-নিযামিয়্যাহ এটি মুদ্রণ করবে।
অতএব, ইমাম সুয়ুতি আমাদের জন্য এক অমূল্য জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান রেখেছেন, যেহেতু তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর মূল পাঠ্যের অত্যন্ত নিকটবর্তী একটি রূপ আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। তদ্রূপ তিনি আমাদের জন্য আরও কিছু হারিয়ে যাওয়া বা দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থের অবয়বও সংরক্ষণ করেছেন—আর এটি ছিল ইসলামি চিন্তাধারার ক্ষেত্রে ইমাম সুয়ুতির অন্যতম মহান ও প্রশস্ত অবদান।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لكن ما الذي دعا السيوطي إلى انتهاج هذا النهج في كتبه. قد لا يتضح هذا على أتم وجه إلا في ضوء تحليل موجز لحياة الرجل.
4 - حياة السيوطي. عاش السيوطي في عصر المماليك في طوره الأوسط وفي عهد من عهود العلم الزاهرة لا من ناحية طرفة تراثها العلمي -إنما من ناحبة قدرة علماء هذا العصر ومفكريه على الجمع وتلخيص الكتب -كان العقل الإسلامي قد توقف في هذه الفترة عن الإبداع -في نطاق العلوم الفكرية وانتهى فيه عهد الأصالة المطلقة التي انبثقت آخر مرة، وفي صورة زاهية لامعة في تقي الدين بن تيمية. اتجه العلماء نحو كتب المفكرين الذين سبقوهم يتدارسونها ويلخصونها. ويضفون عليها أحيانًا بعض الابتكار غير الكثير وأحيانًا ينقلونها كما هي في ملخصات تقترب كثيرًا من النص الأصلي، وكان السيوطي واحدًا من هؤلاء الأخيرين، خلت كتبه حقًا من الطراقة والأبداع ولكنها كانت حافظة ممتازة حوت نصوصًا من مختلف العلوم والفنون لا يعرفها العالم الإسلامي الآن عن طريقه، هذا علاوة عن أهميتها الكبرى في ملء فجوات في تاريخ الفكر الإسلامي، وقد أفرغ السيوطي جهده في هذا العمل الشاق -وأرهفت حواسه له لكي يحقق تلك الأمنية الملحة التي ترددت في نفسه. والتي أعلنها في فترات متعددة في صور مختلفة حتى وصل إعلانه لها إلى حد الجدال واللجاج وأنكرها عليه علماء عصره أشد إنكار وحاربوه أشد محاربة -أما تلك الأمنية فهي كونه مجتهد الأمة الإسلامية -ثم مناداته بعد ذلك بأنه المبعوث من الله على رأس التاسعة ليجدد شباب دينه
…أما اسم السيوطس الكامل -فهو أبو الفضل عبد الرحمن بن محمد بن أبى بكر جلال الدين الخضيري السيوطي؛ وأما عن نسبته للخضيرية -فيقول
কিন্তু কী কারণে সুয়ূতী তাঁর গ্রন্থাবলিতে এই পন্থা অবলম্বন করতে প্ররোচিত হলেন? তাঁর জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণের আলোকেই কেবল বিষয়টি পূর্ণরূপে স্পষ্ট হওয়া সম্ভব।
৪ - সুয়ূতীর জীবনী। সুয়ূতী মামলুক আমলের মধ্যবর্তী পর্যায়ে এবং ইলম বা জ্ঞানের এক উজ্জ্বল যুগে বসবাস করেছেন—তবে তা বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের অভিনবত্বের দিক থেকে নয়, বরং এই যুগের আলেম ও চিন্তাবিদদের গ্রন্থ সংকলন ও সারসংক্ষেপ করার ক্ষমতার দিক থেকে। এই সময়ে বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলিম মানসের সৃজনশীলতা থমকে গিয়েছিল এবং সেই নিরঙ্কুশ মৌলিকত্বের যুগের অবসান ঘটেছিল, যা সর্বশেষ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর মধ্যে এক উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় রূপে প্রকাশ পেয়েছিল। আলেমগণ তাঁদের পূর্বসূরি চিন্তাবিদদের বইগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন—তাঁরা সেগুলো অধ্যয়ন করতেন এবং সংক্ষিপ্ত করতেন। কখনও কখনও তাঁরা তাতে যৎসামান্য নতুনত্ব যোগ করতেন, আবার কখনও কখনও সেগুলোকে মূল পাঠের অত্যন্ত কাছাকাছি সারসংক্ষেপ হিসেবে হুবহু নকল করতেন। সুয়ূতী ছিলেন এই শেষোক্তদের একজন। তাঁর গ্রন্থসমূহ প্রকৃতপক্ষেই অভিনবত্ব ও সৃজনশীলতা বর্জিত ছিল, কিন্তু সেগুলো ছিল চমৎকার সংরক্ষাণাগার; যাতে বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন সব পাঠ অন্তর্ভুক্ত ছিল যা বর্তমানের মুসলিম বিশ্ব কেবল তাঁর মাধ্যমেই জানতে পেরেছে। তদুপরি, ইসলামী চিন্তাধারার ইতিহাসের শূন্যস্থান পূরণে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। সুয়ূতী এই কঠোর শ্রমে তাঁর সমস্ত সামর্থ্য ব্যয় করেছিলেন—এবং তাঁর মনের সেই ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিজের ইন্দ্রিয়গুলোকে সজাগ রেখেছিলেন যা তাঁর হৃদয়ে বারংবার অনুরণিত হতো। তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে তা ঘোষণা করেছিলেন, এমনকি তাঁর এই ঘোষণা বিতর্ক ও ঝগড়ার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তাঁর সমসাময়িক আলেমগণ তীব্রভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। আর সেই আকাঙ্ক্ষাটি ছিল উম্মাহর 'মুজতাহিদ' হওয়া—অতঃপর তাঁর এই দাবি করা যে, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নবম শতাব্দীর শিরোভাগে প্রেরিত সেই ব্যক্তি, যিনি দ্বীনের নবায়ন করবেন
…সুয়ূতীর পূর্ণ নাম হলো—আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর জালালুদ্দীন আল-খুদাইরি আস-সুয়ূতী; আর 'খুদাইরি' সম্পর্কের (নিসবত) ব্যাপারে তিনি বলেন-
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
هو في ترجمته لنفسه في حسن المحاضرة "وأما نسبته للخضيرى فلا أعلم ما تكون إليه هذه النسبة، ألا الخضيرية محلة بغداد، وقد نشأ السيوطي من أسرة فارسية من ناحية الأب، عاشت في بغداد، أما أمة فكانت أمة تركية ثم انتقلت أسرته من بغداد إلى أسيوط، وبرز كثير من أفرادها على ما يذكر هو أيضًا لكن لم يشتغل بالعلم من أفرادها سوى والد السيوطي. وقد ولد السيوطي ليلة الأحد مستهل رجب سنة تسع وأربعين وثمانية - (3 أكتوبر 1455) وتوفي والده وله من العمر خمس سنوات وسبعة أشهر فقام بأمره صوفي من أصدقاء والده -وختم القرآن وهو دون ثمان سنين -ثم بدأ في دراساته على علماء عصره -حتى أجاد جميع فروع العلم الإسلامي.
وقد تركت لنا المصادر المختلفة أسماء شيوخه الكثيرين: الجلال المحلي والزين العقبي والشمس السيرامي. والشمس المرزباني والشهاب الشارمساحي والعلم البلقينى والشرف المناوى وعدد كبير من العلماء. يقول صاحب شذرات الذهب "وقد ذكر تلميذه الدودى في ترجمته أسماء شيوخه إجازة وقراءة وسماعا مرتين على حروف المعجم فبلغت عدتهم أحدًا وخمسين نفسا.
وقد أجيز السيوطي بتدريس العربية سنة 866. وذلك بعد عودته من زيارة لبعض مدن مصر والحج إلى مكة. وقد بدأ التأليف في هذه
তিনি 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে স্বীয় জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: "আর আল-খুদাইরী নিসবত বা সম্পর্কের বিষয়টি আমার জানা নেই যে এটি কোন দিকে সম্পৃক্ত; তবে আল-খুদাইরিয়াহ হলো বাগদাদের একটি মহল্লা। সুয়ূতী পিতৃসূত্রে এক পারস্য পরিবারে বেড়ে ওঠেন যারা বাগদাদে বসবাস করতেন। তাঁর মাতা ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার বাগদাদ থেকে আসিউতে স্থানান্তরিত হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর বংশের অনেকেই খ্যাতিমান ছিলেন, কিন্তু তাঁর পিতা ব্যতীত তাঁদের আর কেউ জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত হননি।" সুয়ূতী ৮৪৯ হিজরির রজব মাসের শুরুতে রবিবার দিবাগত রাতে (৩ অক্টোবর ১৪৫৫ খ্রিষ্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বয়স যখন পাঁচ বছর সাত মাস তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। অতঃপর তাঁর পিতার জনৈক সূফি বন্ধু তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আট বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তাঁর সমকালীন আলেমদের নিকট শিক্ষাগ্রহণ শুরু করেন এবং ইসলামের সকল জ্ঞানশাখায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস আমাদের জন্য তাঁর অসংখ্য উস্তাদের নাম সংরক্ষণ করেছে: জালাল আল-মাহাল্লি, জাইন আল-উকবি, শামস আস-সিরামি, শামস আল-মারজুবানি, শিহাব আশ-শারামসাহী, আলাম আল-বুলকিনি, শারাফ আল-মুনাউয়ি এবং আরও বহু আলেম। 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থের লেখক বলেন: "তাঁর ছাত্র আদ-দাউদি তাঁর জীবনীতে তাঁর উস্তাদদের নাম ইজাজত, কিরাত এবং সামা’র (শ্রবণ) ভিত্তিতে বর্ণানুক্রমে দুইবার উল্লেখ করেছেন, ফলে তাঁদের সংখ্যা একশ একান্ন জনে পৌঁছেছে।"
সুয়ূতী ৮৬৬ হিজরিতে আরবি ভাষা পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত হন। এটি ছিল মিশরের কিছু শহর ভ্রমণ এবং মক্কায় হজ পালন করে ফিরে আসার পরের ঘটনা। তিনি এই সময়েই রচনা কার্য শুরু করেন।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
السنة وفي سنة 872 تولى بواسطة أستاذه علم الدين البلقينى التدريس في الشيخونية مكان والده في سنة (891 هـ - 1486 م) قرر التدريس في البيبرسية يقول بن إياس "قرر شيخنا السيوطي في مشيخة البيبرسية عوضا عن الجلال البكري بحكم وفاته وكان الساعي له السيد الخليفة عبد العزيز" ويبدو أن صلته بالخليفة العباسي المتوكل على الله عبد العزيز كانت صلة طيبة إذا أن السيوطي أوحى إليه سنة في 902 هـ = 1466 م "أن يجعله قاضيًا كبيرًا على القضاة يولى منهم من يشاء ويعزل منهم من يشاء مطلقا في سائر ممالك الإسلام وهذه الوظيفة لم ينلها قط القاضي تاج الدين بن بنت الأعز في دولة بني أيوب".
علم القضاة بالأمر "فثاروا واستخفوا عقل الخليفة في ذلك. وقالوا ليس للخليفة مع وجود السلطان حل ولا ربط ولا ولاية ولا عزل ولكن الخليفة استخف السلطان لكونه صغيرًا" وعلم الخليفة بثورة القضاء وخشى مغبة الأمر فتراجع وأعلن أن السيوطي خدعه -ثم رجع عن عهده -وبعث من يأخذ العهد الذي كتبه للشيخ.
يقول ابن إياس "وكادت أن تكون فتنة بسبب ذلك ووقعت أمور يطول شرحها. ثم سكن الحال بعد مدة".
وفي سنة 906 قامت ضجة أخرى ضد السيوطي إذ أنه تلاعب بأموال الصوفية الحانفاه البيبرسية -وقد رمى المؤرخون السيوطي بالطمع -فثاروا
৮৭২ হিজরিতে তিনি তাঁর উস্তাদ আলামুদ্দীন আল-বুলকিনির মাধ্যমে শায়খুনিয়্যা মাদরাসায় তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে অধ্যাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৮৯১ হিজরি (১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) সালে তিনি বাইবারসিয়্যায় অধ্যাপনার সিদ্ধান্ত নেন। ইবনে ইয়াস বলেন, "আমাদের শায়খ সুয়ূতীকে জালাল আল-বকরির মৃত্যুর পর তাঁর স্থলে বাইবারসিয়্যার মাশায়িখ পদে নিযুক্ত করা হয় এবং তাঁর জন্য সুপারিশকারী ছিলেন সাইয়্যেদ খলিফা আব্দুল আজিজ।" প্রতীয়মান হয় যে, আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ আব্দুল আজিজের সাথে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ছিল; কেননা ৯০২ হিজরি (১৪৬৬ খ্রিষ্টাব্দ) সালে সুয়ূতী তাঁকে এই পরামর্শ দেন যে, "তিনি যেন তাঁকে বিচারকদের প্রধান বা কাজিউল কুজাত নিযুক্ত করেন, যাতে তিনি সমগ্র মুসলিম সাম্রাজ্যের বিচারকদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা নিয়োগ দিতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা বরখাস্ত করতে পারেন। এই পদমর্যাদা এমনকি আইয়ুবী শাসনামলে কাজী তাজউদ্দীন বিন বিনত আল-আ'যও কখনো লাভ করেননি।"
বিচারকগণ এই সংবাদ অবগত হয়ে বিক্ষুব্ধ হন এবং এই বিষয়ে খলিফার বুদ্ধিমত্তাকে তুচ্ছজ্ঞান করেন। তাঁরা বলেন, "সুলতানের উপস্থিতিতে কোনো বিষয়ের সমাধান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে, কিংবা নিয়োগ ও বরখাস্তের ক্ষেত্রে খলিফার কোনো ক্ষমতা নেই; তবে সুলতান অল্পবয়স্ক হওয়ায় খলিফা তাঁকে অবজ্ঞা করেছেন।" খলিফা বিচারকদের এই বিদ্রোহের কথা জানতে পেরে পরিণতির ভয়ে পিছিয়ে যান এবং ঘোষণা করেন যে সুয়ূতী তাঁকে প্রতারিত করেছেন। এরপর তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করেন এবং শায়খকে দেওয়া সেই লিখিত চুক্তিপত্রটি ফিরিয়ে আনার জন্য লোক পাঠান।
ইবনে ইয়াস বলেন, "এর ফলে একটি বড় ধরণের ফিতনা বা দাঙ্গা হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং এমন অনেক ঘটনা ঘটেছিল যার বর্ণনা সুদীর্ঘ। অতঃপর কিছুকাল পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।"
এবং ৯০৬ হিজরিতে সুয়ূতীর বিরুদ্ধে পুনরায় জনরোষ সৃষ্টি হয়, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে বাইবারসিয়্যা খানকাহর সুফিদের অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠে—ঐতিহাসিকগণ সুয়ূতীকে লালসার অপবাদে অভিযুক্ত করেন—ফলে তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
عليه وكادوا أن يقتلوه ثم حملوه بأثوابه ورموه في الفسقية.
عزل السيوطي من وظيفته -ورأى الدنيا قد أدبرت عنه وجمع من معاصريه يهاجمونه بكل الوسائل. فاعتكف في جزيرة الروضة. يقول صاحب شذرات الذهب: "أخذ في التجرد للعبادة والانقطاع لله تعالى والاشتغال به صرفا والأعراض عن الدنيا وأهلها كأنه لم يعرف أحدا منهم":
وكان الأمراء والأغنياء يأتون إلى زيارته ويعرضون عليه الأموال" النفسية فيردها. وأهدى إليه الغورى هدايا لم يقبلها. وطلبه مرارًا فلم يحضر إليه".
وفي سحر ليلة الجمعة تاسع عشر جمادى الأول (17 أكتوبر سنة 1055) توفي جلال الدين السيوطي عن إحدى وستين سنة وعشرة أشهر وثمانية عشر يوما ودفن في حوش قوصون خارج باب القرافة. ومازال قبره في مكانه إلى الآن. وقد حقق وجوده العالم المشهور تيمور باشا في بحث لطيف له.
إن ما يستخلصه الإنسان من حياة السيوطي في فتراته المتعددة هو أنه كان رجلا من العلماء، حاول أن يصل بكل ما لديه من وسائل إلى أوج المجد سواء كان علميا أو ماديا -فاتصل بالخليفة والسلطان وكبراء عصره وكانت له صلات طيبة بهم حتى عهد إليه الخليفة بالمنصب الذي ذكرنا، ولكن القضاة ثاروا عليه وفوتوا عليه غرضه.
أما عن مجده العلمي -فقد ادعى السيوطي أنه مجتهد الأمة الإسلامية
...তাঁকে এবং তাঁরা তাঁকে প্রায় হত্যা করার উপক্রম করেছিল, এরপর তাঁরা তাঁকে তাঁর পরিহিত বস্ত্রসহ বহন করে হাউসের মধ্যে নিক্ষেপ করল।
সুয়ূতী তাঁর পদ থেকে অপসারিত হলেন—এবং তিনি দেখলেন যে দুনিয়া তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তাঁর সমসাময়িক একদল লোক সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাঁকে আক্রমণ করছে। ফলে তিনি রওদাহ দ্বীপে নির্জনবাস গ্রহণ করেন। ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থের রচয়িতা বলেন: "তিনি ইবাদতের জন্য নিবিষ্ট হতে এবং মহান আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হতে শুরু করলেন, দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীদের থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ হয়ে গেলেন, যেন তিনি তাঁদের কাউকেই চিনতেন না":
আমির এবং ধনী ব্যক্তিরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতেন এবং তাঁর নিকট মূল্যবান সম্পদ পেশ করতেন, কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিতেন। সুলতান আল-গাওরী তাঁকে অনেক উপহার পাঠিয়েছিলেন যা তিনি গ্রহণ করেননি। সুলতান তাঁকে বারবার তলব করলেও তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হননি।
১৫০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর (৯১১ হিজরির ১৯শে জুমাদাল উলা) শুক্রবার দিবাগত শেষ রাতে জালালুদ্দিন সুয়ূতী একষট্টি বছর দশ মাস আঠারো দিন বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাবুল কারাফার বাইরে হাউশে কূসূনে দাফন করা হয়। তাঁর কবরটি আজ পর্যন্ত সেখানে বিদ্যমান। প্রখ্যাত পণ্ডিত তৈমুর পাশা তাঁর একটি চমৎকার গবেষণায় এর অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুয়ূতীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মানুষ যা সারসংক্ষেপ করতে পারে তা হলো, তিনি ছিলেন আলেমদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি জ্ঞানগত বা জাগতিক—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর সমস্ত সামর্থ্য দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। ফলে তিনি খলিফা, সুলতান এবং সমকালের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং তাঁদের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল, এমনকি খলিফা তাঁকে ইতিপূর্বে উল্লিখিত পদের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। কিন্তু বিচারকগণ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য নস্যাৎ করে দেন।
তাঁর জ্ঞানগত শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে বলা যায়—সুয়ূতী দাবি করেছিলেন যে তিনি ইসলামি উম্মাহর একজন মুজতাহিদ।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأنه أحاط بعلوم عصره جميعها.
يقول في حسن المحاضرة "رزقت التبحر في سبعة علوم: التفسير والحديث والفقه والنحو والمعاني والبيان والبديع على طريقة العرب والبلغاء لا على طريقة العجم وأهل الفلسفة. والذي أعتقده أن الذي وصلت إليه من هذه العلوم الستة، سوى الفقه والنقول التي اطلعت عليها منها، لم يصل إليه ولا يوقف عليه أحد من الأشخاص. فضلا عمن هو دونهم.
وأما علم الحساب فهو أعسر شيء على وأبعده عن ذهني وإذا نظرت في مسألة تتعلق به فكأنما أحاول جبلا أحمله، وقد كملت عندي آلات الجهاد" وقد أفاض في هذا في كثير من كتبه الأخرى.
ولم يسلم له علماء عصره بهذا وساعدهم على ذلك حدة أخلاقه وغروره في بعض الأحيان فهاجموه وانتقصوا من قدره وقدر مؤلفاته هاجمه السخاوى في الضوء اللامع هجوما عنيفا كما حدثت بينه وبين معاصريه ابن ظهير، والقاضي برهان الدين محمود محدث دمشق والقسطلاني عداوات ومنازعات ولكن برغم هذا كله، بقى السيوطي كاتب العربية الكبير وأحد حفاظ العلم الإسلامي في مختلف فروعه. وكانت كتبه معينا لا ينضب للباحثين قد احتوت الثقافة الإسلامية المتعددة النواحي، بالرغم من خلوها من الابتكار وقد اختلف الباحثون في عدد هذه الكتب. فذهب فلو جل إلى أنها تبلغ 561 كتابًا أما بروكلمن فقد عدله 415 كتابا ويقول العيدروسي "ولكن
তিনি তাঁর যুগের সকল জ্ঞান আয়ত্ত করেছিলেন।
তিনি 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে বলেন, "আমি সাতটি শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য লাভ করেছি: তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, নাহু, মাআনি, বয়ান এবং বদী‘ (অলঙ্কারশাস্ত্র)—আর তা আরব ও বাগ্মীদের রীতি অনুযায়ী, অনারব এবং দার্শনিকদের রীতিতে নয়। আমার বিশ্বাস এই যে, ফিকহ এবং তাতে আমার দেখা উদ্ধৃতিসমূহ ব্যতীত এই ছয়টি বিজ্ঞানের যে স্তরে আমি পৌঁছেছি, সমসাময়িক কোনো ব্যক্তিই সেই স্তরে পৌঁছাতে পারেনি এবং তা উপলব্ধিও করতে পারেনি; তাদের নিম্নস্তরের লোকদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
আর গণিতশাস্ত্রের কথা বলতে গেলে, এটি আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন এবং আমার মেধা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী বিষয়। আমি যখন এর সাথে সম্পর্কিত কোনো মাসআলা বা সমস্যার দিকে তাকাই, তখন আমার মনে হয় যেন আমি একটি পাহাড় বহন করার চেষ্টা করছি। তবে আমার কাছে ইজতিহাদের সরঞ্জামসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে।" তিনি তাঁর আরও অনেক গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
কিন্তু তাঁর যুগের ওলামায়ে কেরাম তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেননি। তাঁর মেজাজের তীক্ষ্ণতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাঁর আত্মগরিমা তাঁদের এই বিরোধিতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে তাঁরা তাঁকে আক্রমণ করেন এবং তাঁর ও তাঁর রচনাবলির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেন। আল-সাখাওয়ী 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থে তাঁকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। একইভাবে তাঁর এবং তাঁর সমসাময়িক ইবনে জুহাইর, দামেস্কের মুহাদ্দিস কাজী বুরহানুদ্দীন মাহমুদ এবং আল-কাসতালানির মধ্যে বৈরিতা ও বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এসব সত্ত্বেও, সুয়ূতী আরবি সাহিত্যের এক মহান লেখক এবং ইসলামি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অন্যতম প্রধান হাফেজ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকেন। তাঁর রচনাবলি গবেষকদের জন্য এক অক্ষয় উৎস হিসেবে বিবেচিত, যা ইসলামি সংস্কৃতির বহুমুখী দিকসমূহকে ধারণ করে আছে, যদিও তাতে মৌলিক উদ্ভাবনের অভাব রয়েছে। এই বইগুলোর সংখ্যা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ফ্লুগেল মনে করেন এর সংখ্যা ৫৬১টি, অন্যদিকে ব্রোকলম্যান একে ৪১৫টি বলে উল্লেখ করেছেন। আল-আইদারুসি বলেন, "কিন্তু...
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كثيًرا من مؤلفاته هذه المذكورة صغيرة وبعضها في كراس وكراسين".
وقد ذكر الباحثون قوائم بأسماء كتبه -وبقى معظم تلك الكتب -ومازال لها في العالم الإسلامي أكبر اعتبار. ونحن لا نجد على سبيل المثال كتابا يضارع "الإتقان في علوم القرآن" في شهرته عند الناس وأحاطته بالموضوع الذي حرر فيه ومن كتبه الهامة تفسير للقرآن وقد نشر هذا التفسير وعلى هامشه، لباب النقول في أسباب النزول. ومن المعروف أن الجلال المحلي (المتوفي سنة 864 = 1459) كان قد بدأ هذا الكتاب ثم توفي فأتمه السيوطي وسمى هذا الكتاب تفسير الجلالين، وهو كتاب له شهرة هامة في العالم الإسلامي وغير هذين الكتابين من كتب هامة ذكرها السيوطي في حسن المحاضرة كما ذكرها صاحب النور السافر والداودى تلميذه في بحث لم ينشر بعد عن حياة أستاذه ومؤلفاته. ونحن نعلم أن للسيوطي كتبا هامة أخرى كالمزهر وغيره.
5 - وأما عن الكتاب الذي نقوم بنشره الآن فهو وثيقة فريدة في التراث العربي، حوت نصوصا كثيرة غير معروفة عن موقف علماء المسلمين من الكلام والمنطق، وحاولت تتبع تلك للدراسة التي حاربت البحث النظري في العقائد من ناحية وأنكرت المنطق اليوناني -العنصر المميز للفتنة اليونانية في العالم الإسلامي -من ناحية أخرى. ونحن لا نجد في تاريخ العصور الوسطى محاولة لنقد المنطق الأرسططالى، فالمسلمون إذن هم أصحاب تلك المحاولة الفريدة في العصور الوسطى -وقد سبقوا بهذا Roger Bacn، Bawus وقد أتى هذان الأولان في أعقاب العصور الوسطى و Flanci Bac pn
তার উল্লিখিত এই গ্রন্থগুলোর অনেকগুলোই ক্ষুদ্রাকৃতির এবং কোনো কোনটি এক বা দুই পুস্তিকা সম্বলিত।"
গবেষকগণ তাঁর গ্রন্থাবলীর নামের তালিকা উল্লেখ করেছেন - এবং সেগুলোর অধিকাংশ গ্রন্থই সংরক্ষিত রয়েছে - আর মুসলিম বিশ্বে সেগুলোর এখনও সর্বোচ্চ মর্যাদা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরিব্যাপ্তির দিক থেকে 'ইতকান ফি উলুমিল কুরআন'-এর সমকক্ষ কোনো গ্রন্থ খুঁজে পাই না। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে আল-কুরআনের একটি তাফসীর রয়েছে এবং এই তাফসীরটি প্রকাশিত হয়েছে যার পার্শ্বটীকায় রয়েছে 'লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযুল'। এটি সুবিদিত যে, জালাল আল-মহল্লি (মৃত্যু ৮৬৪ হি. = ১৪৫৯ খ্রি.) এই গ্রন্থটি শুরু করেছিলেন, অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করলে সুয়ূতী তা সম্পন্ন করেন এবং এই গ্রন্থটির নামকরণ করেন 'তাফসীর আল-জালালাইন'। এটি এমন একটি গ্রন্থ যা মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এই দুটি গ্রন্থ ছাড়াও সুয়ূতী 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন, যেমনটি 'আন-নূরুস সাফির' গ্রন্থের লেখক এবং তাঁর ছাত্র আদ-দাউদী তাঁর উস্তাদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে একটি অপ্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করেছেন। আমরা জানি যে সুয়ূতীর আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রয়েছে যেমন 'আল-মুযহির' এবং অন্যান্য।
৫ - আর বর্তমানে আমরা যে গ্রন্থটি প্রকাশ করছি, তা আরবি ঐতিহ্যে এক অনন্য দলিল। এতে ইলমুল কালাম ও যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) সম্পর্কে মুসলিম আলেমদের অবস্থান সংক্রান্ত এমন অনেক পাঠ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা ইতিপূর্বে পরিচিত ছিল না। এই গ্রন্থটি একদিকে যেমন আকিদাহর ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক গবেষণার বিরোধিতাকারী বুদ্ধিবৃত্তিক ধারাকে অনুসরণের চেষ্টা করেছে, তেমনি অন্যদিকে গ্রিক যুক্তিবিদ্যাকে প্রত্যাখ্যান করেছে - যা ছিল মুসলিম বিশ্বে গ্রিক ফিতনার এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমরা মধ্যযুগের ইতিহাসে এরিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যা সমালোচনার আর কোনো প্রয়াস খুঁজে পাই না; সুতরাং মুসলমানরাই হলেন মধ্যযুগে সেই অনন্য প্রচেষ্টার অগ্রপথিক - এবং এই ক্ষেত্রে তারা রজার বেকন ও ওকহামের পূর্বসূরি। উল্লেখ্য যে, এই প্রথমোক্ত দুইজন মধ্যযুগের শেষভাগে এসেছিলেন এবং ফ্রান্সিস বেকনও (পরবর্তীতে এসেছেন)।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وغيرهم من مفكري أوربا المحدثين -وقد صور السيوطي نزعة النقد عند طائفة من علماء المسلمين، الفقهاء -وإن كان هذا النقد يبدو في صورة ساذجة أحيانًا -غير أنه كان في كثير من الأحيان على جانب من الطرافة -ولن نحاول نحن هنا تحليل عناصر هذا الكلام. فإن هذا جزء من محاولة كبرى قمت بها في بحث هام تحت الطبع هو: نقد مفكري الإسلام للنطق الأرسططالى. يتناول موقف المسلمين عامة -من فلاسفة ومتكلمين وأصوليين وفقهاء وصوفية -من المنطق الأرسططالى. يتناول موقف المسلمين عامة -من فلاسفة ومتكلمين وأصوليين وفقهاء وصوفية -من المنطق الأرسططاليسى ومحاولتهم هدمه؛ وإقامة منطق جديد مع روح الحضارة الإسلامية. ولقد ذهب الباحثون إلى مختلف الآراء والنظريات في بحث هذا الروح وحاولوا -بطرائقهم المختلفة من فيلولوجية وروحية وغيرها -اكتناء العنصر المميز لهذه الحضارة. ولكنهم لم يصلوا -فيما اعتقد -إلى رأى راجع في حل المشكلة، وبقيت معلقة إلى أكبر حد.
وإني لأعتقد أن بحثي الذي ذكرت، قد يلقى شجاعا جديدًا على هذه المشكلة العميقة.
وأياما كان الأمر -فإن كتاب السيوطي "صون المنطق والكلام" وتلخيصه لكتاب ابن تيمية "نصيحة أهل الإيمان" يعاونان الباحثين في تاريخ الحضارة الإسلامية -على اختلاف طرقهم وغاياتهم معاونة كبيرة -على الكشف عن العبقرية الإسلامية في أرفع مظاهرها العقلية.
6 - طريقة نشر المخطوط. كانت بيدي نسخة واحدة هي نسخة المجموعة الأزهرية التي ذكرتها آنفًا وهي النسخة الوحيدة الموجودة من هذا الكتاب في مكتبات العالم -وقد عثر على هذه النسخة منذ سنوات مضت أستاذي الجليل الأستاذ الأكبر الشيخ مصطفى عبد الرازق شيخ الجامع الأزهر وسيد الباحثين
এবং ইউরোপের অন্যান্য আধুনিক চিন্তাবিদগণ—সুয়ূতী মুসলিম পণ্ডিতদের একটি গোষ্ঠী তথা ফকিহদের মধ্যে বিদ্যমান সমালোচনামূলক প্রবণতা চিত্রায়িত করেছেন। যদিও এই সমালোচনা কখনো কখনো সরল মনে হতে পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই এটি ছিল অত্যন্ত চমৎকার ও অভিনব। আমরা এখানে এই বক্তব্যের উপাদানগুলো বিশ্লেষণের চেষ্টা করব না; কারণ এটি আমার একটি বৃহৎ প্রচেষ্টার অংশ, যা বর্তমানে মুদ্রণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় স্থান পেয়েছে। গবেষণাটির শিরোনাম হলো: 'অ্যারিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যার প্রতি ইসলামি চিন্তাবিদদের সমালোচনা'। এটি অ্যারিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যার প্রতি সাধারণ মুসলমানদের—দার্শনিক, কালাম শাস্ত্রবিদ, উসূলবিদ, ফকিহ এবং সুফিদের—অবস্থান তুলে ধরে। এটি মূলত অ্যারিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যার প্রতি সাধারণ মুসলমানদের—দার্শনিক, কালাম শাস্ত্রবিদ, উসূলবিদ, ফকিহ এবং সুফিদের—অবস্থান এবং সেই যুক্তিবিদ্যা ভেঙে ফেলে ইসলামি সভ্যতার প্রাণসত্তার সাথে সংগতিপূর্ণ একটি নতুন যুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিয়ে আলোচনা করে। গবেষকরা এই প্রাণসত্তা অনুসন্ধানে বিভিন্ন মতবাদ ও তত্ত্বে উপনীত হয়েছেন এবং তারা তাদের নিজস্ব ভাষাতাত্ত্বিক, আধ্যাত্মিক ও অন্যান্য বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই সভ্যতার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যটি উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন। তবে আমার বিশ্বাস, তারা এই সমস্যার সমাধানে কোনো অকাট্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি এবং এটি বহুলাংশে অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
আমি বিশ্বাস করি যে, আমার উল্লিখিত গবেষণাটি এই গভীর সমস্যার ওপর নতুন আলোকপাত করতে পারে।
যাই হোক না কেন, সুয়ূতীর 'সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম' গ্রন্থটি এবং ইবনে তাইমিয়্যাহর 'নাসিহাতু আহলিল ঈমান' গ্রন্থের সারসংক্ষেপ ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসের গবেষকদের—তাদের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্যের ভিন্নতা সত্ত্বেও—ইসলামি প্রজ্ঞার উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক বহিঃপ্রকাশগুলো উন্মোচনে প্রভূত সহায়তা করবে।
৬ - পাণ্ডুলিপি প্রকাশের পদ্ধতি: আমার কাছে একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি ছিল, যা আজহারি সংগ্রহের সেই পাণ্ডুলিপি যার কথা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। বিশ্বের গ্রন্থাগারগুলোতে এই বইটির একমাত্র বিদ্যমান অনুলিপি এটিই। এই পাণ্ডুলিপিটি বহু বছর আগে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, জামে আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম এবং গবেষকদের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব উস্তাদুল আকবার শাইখ মুস্তফা আবদুর রাজেক খুঁজে পেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المعاصرين في الفلسفة الإسلامية وقد قرأت عليه كتاب ذم الكلام للهروى الذي أورده السيوطي في مقدمة كتابه.
ثم بدأنا العمل في إعداد المخطوط للطبع ولكن فضيلته تولى الوزارة بعدئذ وحالت أعمالها دون إشرافه على العمل في إخراج الكتاب كله فقمت بالعمل بمفردي.
وقد اتجهت أولا إلى محاولة تقديم النص سليما من الأخطاء، كاملا غير منقوص. وقد تبين لي أن بالنسخة أغلاطا لغوية ونحوية كثيرة، وعبارات كثيرة ساقطة وأخرى غير مفهومة وقطعا كبيرا.
أما الأغلاط اللغوية والنحوية فقد أصلحتها، وهي في غالب الأحيان سهو من الناسخ. ثم اجتهدت في إضافة عبارات مكان السقط والجمل المحذوفة ووضعت هذه العبارات بين معقوفتين دلالة على إضافة من الناشر وعلى أنها لم تكن في صلب المتن، ثم حذفت بعض العبارات غير المفهومة إذا تعذر على فهمها أصلا -وأبقيت البعض في المتن إذا ما شككت في المعنى، غير أنني في كل تلك الحالات أثبت في الهوامش أو في نهاية الكتاب ما قمت به من تصحيح لخطأ أو إضافة أو حذف لحرف أو لكلمة أو لعبارة، ثم أكملت القطع الكبير في المخطوط.
ولقد عاينت في هذا العمل كثيرًا، وأنفقت جهدًا يدركه تمام الإدراك من عانى نشر كتاب استنادًا على محظوظ واحد. وحين انتهيت من تصحيح النص، بدأت في عمل آخر لا يقل عناءا عن العمل السابق، فقد نقل السيوطي أو لخش لنا في كتابه الأول "صون المنطق، كتبا كثيرة بعضها موجود وبعضها مفقود والموجود منها بعضه مطبوع والبعض الآخر مخطوط فرجعت
ইসলামি দর্শনের সমকালীন পণ্ডিতগণের অন্যতম; এবং আমি তাঁর নিকট আল-হারাউয়ি রচিত 'যম্মুল কালাম' গ্রন্থটি পাঠ করেছি, যা সুয়ূতি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর আমরা পাণ্ডুলিপিটি মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করার কাজ শুরু করি, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর সম্মানস্পদ ব্যক্তিত্ব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা বইটির পূর্ণাঙ্গ সম্পাদনার কাজে তাঁর তত্ত্বাবধানের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে আমি এককভাবেই কাজটি সম্পন্ন করি।
প্রাথমিকভাবে আমার উদ্দেশ্য ছিল মূল পাঠ্যটিকে (টেক্সট) ত্রুটিমুক্ত এবং পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করা। কিন্তু আমার নিকট এটি প্রতীয়মান হয় যে, এই অনুলিপিতে প্রচুর ভাষাগত ও ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে; পাশাপাশি অনেক বাক্য উহ্য বা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কোনোটি দুর্বোধ্য এবং পাণ্ডুলিপির একটি বড় অংশ বিচ্ছিন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।
ভাষাগত ও ব্যাকরণগত ভুলগুলোর ক্ষেত্রে আমি প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছি, যা অধিকাংশ সময় অনুলিপিকারীর অসতর্কতাবশত হয়ে থাকে। অতঃপর বিলুপ্ত ও উহ্য বাক্যগুলোর স্থলে সম্ভাব্য পাঠ্য সংযোজন করার চেষ্টা করেছি এবং এই সংযোজিত অংশগুলোকে তৃতীয় বন্ধনীতে ([ ]) আবদ্ধ করেছি, যাতে তা প্রকাশকের পক্ষ থেকে সংযোজন হিসেবে নির্দেশিত হয় এবং বোঝা যায় যে এগুলো মূল পাণ্ডুলিপির অংশ ছিল না। অধিকন্তু, যে বাক্যগুলো একেবারেই অবোধগম্য ছিল, সেগুলো আমি বর্জন করেছি; আর যেসব ক্ষেত্রে অর্থের ব্যাপারে সন্দেহ ছিল, সেগুলো মূল পাঠ্যে বহাল রেখেছি। তবে এই প্রতিটি ক্ষেত্রে—তা ভুল সংশোধন, কোনো হরফ, শব্দ বা বাক্য সংযোজন কিংবা বিয়োজন যাই হোক না কেন—আমি টীকা অথবা গ্রন্থের শেষে তা সবিস্তারে উল্লেখ করেছি। অতঃপর পাণ্ডুলিপির বৃহৎ বিচ্ছিন্ন অংশগুলো পূরণ করেছি।
এই কাজে আমাকে প্রভূত শ্রম ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে; আর এর কষ্ট কেবল তিনিই সম্যক উপলব্ধি করতে পারবেন, যিনি একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে কোনো গ্রন্থ প্রকাশ করার কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। মূল পাঠ্যের সংশোধনের কাজ শেষ করার পর, আমি অন্য একটি কাজে ব্রতী হই যা পূর্ববর্তী কাজের তুলনায় কোনো অংশেই কম পরিশ্রমসাধ্য ছিল না। সুয়ূতি তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'সউনুল মানতিক'-এ অনেক গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন অথবা সেগুলোর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন। এগুলোর মধ্যে কিছু বর্তমানে বিদ্যমান আছে এবং কিছু বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। বিদ্যমান গ্রন্থগুলোর কোনোটি মুদ্রিত আকারে পাওয়া যায়, আবার কোনোটি এখনো পাণ্ডুলিপি হিসেবেই রয়েছে। অতঃপর আমি সেগুলোর মূল উৎসের দিকে ফিরে যাই...
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إلى جميع ما ذكر من كتب موجودة مطبوعة وبخثت عن الفقرات التي ذكرها وقمت بمقارنة دقيقة بين هذه الفقرات من كتابه وبينها في كتبها المنشورة ونصصت على ما قصد يوجد من اختلافات بينها في حواشي الكتاب وقد كان عدد هذه الكتب كبيرًا، ولكنني لم آل جيدًا في حصرها وتوصلت في حالات كثيرة إلى تصحيح نص السيوطي في ضوء النص المنشور.
أما عن الكتاب الثاني -وهو تلخيص السيوطي لكتاب ابن تيمية -فقد لجأت إلى طريقة أخرى في تاريخه. فقد قمت بمقارنة كثير من المواضع التي ذكرها ابن تيمية في كتابه بما يشبهها في كتبه الأخرى، فهو على سبيل المثال يتكلم في الكتاب الذي بين أيدينا عن قياس التمثيل وقياس الشمول ص 302 - فأشرت إلى أنه يتكلم عن نفس الموضوع في كتابه "شرح العقيدة الأصفهانة" من 302 - وهكذا
… وقد اضطررت إلى قراءة التراث التيمى كله الذي بين أيدينا، حتى تمكنت من إيراد المواضع المتشابهة بين كتابنا هذا وبين كتبه الأخرى.
ولم تم إلى هذا العمل المقارن في الكتابين، بدأت بمراجعة الآيات القرآنية على المصحف الشريف. وعينت مواضعها آية وسورة، ثم أرخت لكثير من الأعلام في الكتاب الأول. ولسائرها في الكتاب الثاني ولسائر لكتب في الكتابين.
* * *
ويؤسفني بعد ذلك أن بعض الأخطاء المطبعية قد حدثت، لأسباب خارجة عن إرادتي، وقد أثبتنا في آخر الكتاب أغلب هذا الخطأ غير مقصود.
উল্লেখিত সকল মুদ্রিত বই আমি অনুসন্ধান করেছি এবং লেখক যেসব অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন সেগুলো খুঁজে বের করেছি। আমি লেখকের গ্রন্থে বিদ্যমান এই অনুচ্ছেদগুলোর সাথে মূল প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর পাঠের একটি সূক্ষ্ম তুলনা সম্পন্ন করেছি এবং এগুলোর মধ্যে যে সকল পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে তা গ্রন্থের পাদটীকায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। যদিও এই বইগুলোর সংখ্যা ছিল বিপুল, তবুও আমি সেগুলো পর্যালোচনায় কোনো কার্পণ্য করিনি এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশিত মূল পাঠের আলোকে ইমাম সুয়ূতী-র পাঠ সংশোধন করতে সক্ষম হয়েছি।
দ্বিতীয় গ্রন্থটির ক্ষেত্রে—যা ইবনে তায়মিয়্যাহর একটি গ্রন্থের ইমাম সুয়ূতী কর্তৃক সংক্ষেপিত রূপ—আমি এর সম্পাদনায় ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। ইবনে তায়মিয়্যাহ এই গ্রন্থে যে সকল বিষয় উল্লেখ করেছেন, আমি তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত অনুরূপ আলোচনার সাথে সেগুলোর তুলনা করেছি। উদাহরণস্বরূপ, আলোচ্য গ্রন্থের ৩০২ পৃষ্ঠায় তিনি 'কিয়াসুত তামসিল' (সাদৃশ্যমূলক অনুমান) ও 'কিয়াসুশ শুমুল' (ব্যাপ্তিমূলক অনুমান) নিয়ে আলোচনা করেছেন; আমি নির্দেশ করেছি যে তিনি তাঁর 'শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ' গ্রন্থের ৩০২ পৃষ্ঠাতেও একই বিষয়ে আলোচনা করেছেন—এবং এভাবেই সর্বত্র করা হয়েছে
… মূলত ইবনে তায়মিয়্যাহর আমাদের হস্তগত সমগ্র রচনাবলি আমাকে অধ্যয়ন করতে হয়েছে, যাতে আমি বর্তমান গ্রন্থ ও তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যবর্তী সদৃশ আলোচনাগুলো উদ্ধৃত করতে সক্ষম হই।
উভয় গ্রন্থের এই তুলনামূলক কাজ সমাপ্ত করার পর, আমি পবিত্র মুসহাফের সাথে মিলিয়ে কুরআনের আয়াতগুলো যাচাই শুরু করি। আমি সেগুলোর সূরা ও আয়াত নম্বর নির্ধারণ করেছি। এরপর প্রথম গ্রন্থের অধিকাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রন্থের অবশিষ্ট সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও উভয় গ্রন্থে উল্লিখিত কিতাবসমূহের পরিচয় লিপিবদ্ধ করেছি।
* * *
পরিশেষে আমি দুঃখিত যে, অনিচ্ছাকৃত ও আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরের কিছু কারণে কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি রয়ে গেছে। গ্রন্থের শেষে আমরা এই অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলোর অধিকাংশেরই একটি সংশোধনী তালিকা যুক্ত করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وإني لأشكر من هاونوني على نشر هذا الكتاب وطبعه، وأخص بالذكر والدي رحمة الله عليه -فقد عاونتى معاونة جليلة في مراجعة النص، رحمة الله رحمة واسعة وأجزل له عنى خير الجزاء. ثم أشكر صديقي العزيز الأستاذ مصطفى طريح شرف، على إشرافه على طبع جزء من الكتاب أثناء تغيبي في الإسكندرية -ثم أشكر السيد محمد نجيب أمين الخانجي على قيامه بطبع الكتاب على نفقته.
الإسكندرية في 29 محرم 1366 هـ
و23 ديسمبر 1946 م
… على سامي النشار
مدرس تاريخ الفلسفة بكلية الآداب
جامعة فاروق الأول
এই গ্রন্থটির প্রকাশনা ও মুদ্রণকার্যে যারা আমাকে সহায়তা করেছেন, আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষভাবে আমি আমার মরহুম পিতার কথা উল্লেখ করছি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কেননা তিনি পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমাকে অনবদ্য সহযোগিতা করেছেন; আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। অতঃপর আমি আমার প্রিয় বন্ধু অধ্যাপক মুস্তাফা তরীহ শারাফকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আলেকজান্দ্রিয়ায় আমার অনুপস্থিতিকালীন এই গ্রন্থের একাংশ মুদ্রণের তদারকি করার জন্য। এরপর আমি জনাব মুহাম্মাদ নাজীব আমীন আল-খানজীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, নিজ ব্যয়ে গ্রন্থটি মুদ্রণের ব্যবস্থা করার জন্য।
আলেকজান্দ্রিয়া, ২৯ মহররম ১৩৬৬ হিজরি
২৩ ডিসেম্বর ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ
… আলী সামী আল-নাশার
দর্শন শাস্ত্রের ইতিহাসের শিক্ষক, কলা অনুষদ
ফারুক আল-আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مصادر التحقيق(1) الكتب العربية
الاسفراييني: التبصير في الدين (طبعة الشيخ الكوثرى 1359 هـ)
ابن أبي أصيبعة: عيون الأنباء في طبقات الأطباء (مصر 1881 م)
الألوسي: جلاء العينين (طبعة بولاق سنة 1298 هـ)
البيهقى: تتمة صيوان الحكمة (طبعة الهند 1351)
التهانوى: كشاف اصطلاحات الفنون (طبعة استامبول 1317 هـ -1318)
ابن تيمية: منهاج السنة (المطبعة الأميرية سنة 1321 هـ)
" " موافقة صريح المعقول لصريح المنقول (على هامش الكتاب السابق)
" " كتاب تفسير سورة الإخلاص (المطبعة الحسينية المصرية 1323)
" " مجموعة الرسائل والمسائل مطبعة المنار 1349 هـ"
" " شرح العقيدة الاصفهانية (الجزء الخامس من الفتاوى)
" " السبعينية (نفس الجزء السابق والطبعة)
الجاحظ. أدب الجاحظ (طبع السندوبي)
ابن الجوزى: تلبيس إبليس (طبعة الخانجي سنة 1340 هـ)
حاجي خليفة: كشف الظنون عن أسامي الكتب والفنون
(طبع دار السعادة وطبع القاهرة)
الحارث المحاسبي: الرعاية (طبعة لندن)
ابن حجر: تهذيب التهذيب (طبعة حيدر أباد سنة 1327)
حسن صديق خان: أبجد العلوم (طبعة الهند 1296)
أبو حيان التوحيدي: الإمتاع والمؤانسة (طبعة السندوبي القاهرة 1939)
সম্পাদনার উৎসসমূহ(১) আরবি গ্রন্থাবলি
আল-ইসফরায়িনি: আত-তাবসির ফিদ-দ্বীন (শেখ আল-কাওসারি সংস্করণ, ১৩৫৯ হিজরি)
ইবনে আবি উসাইবিয়া: উয়ুনুল আনবা ফি তাবাকাতিল আতিব্বা (মিসর, ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দ)
আল-আলুসি: জালাউল আইনাইন (বুলাক সংস্করণ, ১২৯৮ হিজরি)
আল-বাইহাকি: তাতিন্মাতু সিওয়ানিল হিকমাহ (ভারত সংস্করণ, ১৩৫১ হিজরি)
আত-তহানিভি: কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন (ইস্তাম্বুল সংস্করণ, ১৩১৭-১৩১৮ হিজরি)
ইবনে তাইমিয়া: মিনহাজুস সুন্নাহ (আল-মাতবাআহ আল-আমিরিয়াহ, ১৩২১ হিজরি)
" " মুওয়াফাকাতু সারীহিল মাকুল লি-সারীহিল মানকুল (পূর্বোক্ত গ্রন্থের পার্শ্বটীকায়)
" " কিতাব তাফসির সূরাতিল ইখলাস (আল-মাতবাআহ আল-হুসাইনিয়া আল-মিসরিয়া, ১৩২৩ হিজরি)
" " মাজমুআতুর রাসায়েল ওয়াল মাসায়েল, আল-মানার প্রেস, ১৩৪৯ হিজরি"
" " শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়াহ (ফাতাওয়ার পঞ্চম খণ্ড)
" " আস-সাবঈনিয়াহ (পূর্বোক্ত খণ্ড ও সংস্করণ)
আল-জাহিয: আদাবুল জাহিয (আস-সান্দুবি সংস্করণ)
ইবনুল জাওজি: তালবিসু ইবলিস (খানজি সংস্করণ, ১৩৪০ হিজরি)
হাজি খলিফা: কাশফুয যুনুন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনুন
(দারুস সায়াদাহ সংস্করণ এবং কায়রো সংস্করণ)
আল-হারিস আল-মুহাসিবি: আর-রিআয়াহ (লন্ডন সংস্করণ)
ইবনে হাজার: তাহযীবুত তাহযীব (হায়দ্রাবাদ সংস্করণ, ১৩২৭ হিজরি)
হাসান সিদ্দিক খান: আবজাদুল উলুম (ভারত সংস্করণ, ১২৯৬ হিজরি)
আবু হাইয়ান আত-তাওহিদি: আল-ইমতা ওয়াল মুআনাসাহ (আস-সান্দুবি সংস্করণ, কায়রো, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ)
(খণ্ড: ১)
সওনুল মানতিক ওয়াল কালাম আন ফাননাইয়িল মানতিক ওয়াল কালাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أبو حيان التوحيدى المقايسات (طبعة السندوبي -القاهرة 1930)
ابن خلكان: وفيات الأعيان (طبعة باريس 1838 هـ)
الدرامي: مقدمة الدرامي هامش المنتقى من أخبار المصطفى (الطبعة الهندية)
الذهبي: ميزان الاعتدال (طبعة الخانجي)
" تذكرة الحفاظ (طبعة الهند)
الخزرجي: خلاصة تذهيب تهذيب الكمال (طبعة بولاق سنة 1301 هـ)
الرازي: اعتقادات فرق المسلمين والمشركين (طبعة النشار 1938)
" محصل أفكار المتقدمين والمتأخرين (طبعة الخانجي)
ابن سعد: الطبقات الكبير (طبعة ليدن)
السبكي: طبقات الشافعية الكبرى (الطبعة الأولى)
السيوطي: حسن المحاضرة في أخبار مصر والقاهرة (بدون ذكر تاريخ الطبعة)
" طبقات المفسرين (طبعة ليدن 1839 هـ)
" بغية الوعاة من طبقات اللغوبين والنحاة (طبعة الخانجي 1326)
الشهرزورى: نزهة الأرواح وروضة الأقراح من تاريخ حكماء المتقدمين والمتأخرين (مصور مكتبة جامعة فؤاد)
الشهر ستاني: الملل والنحل طبع المطبعة الأدبية 1320 هـ، الصلاح الهندي شرح لامية العجم (طبع المطبعة الأزهرية المصرية 1305 هـ)
ابن الصلاح: فتاوى ابن الصلاح في التفسير والحديث والأصول والعقائد
(طبع القاهرة سنة 1348 هـ)
طاش كبرى زاده: مفتاح السعادة ومصباح السيادة (طبعة حيدر آباد)
أبو طالب المكي: قوت القلوب (المطبعة المصرية 1351)
ابن عبد البر: جامع بيان العلم وفضله (المطبعة المنيرية سنة 1436)
ابن عبد الهادي: العقود الدرية في مناقب شيخ الإسلام أحمد بن تيمية
(طبعة القاهرة 1356 - 1938)
আবু হাইয়ান আল-তাওহিদী: আল-মুকায়াসাত (সান্দুবি সংস্করণ - কায়রো ১৯৩০)
ইবনে খাল্লিকান: ওফায়াতুল আইয়ান (প্যারিস সংস্করণ ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দ)
আদ-দারিমি: মুকাদ্দিমা আদ-দারিমি, আল-মুনতাকা মিন আখবারিল মুস্তাফার পাদটীকা (ভারতীয় সংস্করণ)
আয-যাহাবি: মিজানুল ইতিদাল (আল-খাঞ্জি সংস্করণ)
" তাযকিরাতুল হুফফাজ (ভারত সংস্করণ)
আল-খাজরাজি: খুলাসাতু তাযহিবি তাহযিবিল কামাল (বুলাক সংস্করণ, ১৩০১ হিজরি)
আর-রাজি: ইতিদাকাতু ফিরাকিল মুসলিমিন ওয়াল মুশরিকিন (আন-নাশশার সংস্করণ ১৯৩৮)
" মুহাসসালু আফকারিল মুতাকাদ্দিমিন ওয়াল মুতাআখখিরিন (আল-খাঞ্জি সংস্করণ)
ইবনে সাদ: আত-তাবাকাতুল কাবির (লাইডেন সংস্করণ)
আস-সুবকি: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (প্রথম সংস্করণ)
আস-সুয়ুতি: হুসনুল মুহাদারা ফি আখবারি মিসর ওয়াল কাহিরা (প্রকাশকাল অনুল্লিখিত)
" তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (লাইডেন সংস্করণ ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দ)
" বুগইয়াতুল উয়াত ফি তাবাকাতিল লুগাবিয়্যিন ওয়ান নুহাত (আল-খাঞ্জি সংস্করণ ১৩২৬)
আশ-শাহরাজুরি: নুযহাতুল আরওয়াহ ওয়া রওদাতুল আফরাহ ফি তারিখি হুকামাইল মুতাকাদ্দিমিন ওয়াল মুতাআখখিরিন (ফুয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির অনুলিপি)
আশ-শাহরাস্তানি: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (মাতবাআতুল আদাবিয়্যাহ ১৩২০ হিজরি), আস-সালাহ আল-হিন্দি: শারহু লামিয়াতিল আজম (মাতবাআতুল আযহারিয়্যাহ আল-মিসরিয়্যাহ ১৩০৫ হিজরি)
ইবনে আস-সালাহ: তাফসির, হাদিস, উসুল ও আকিদা বিষয়ে ইবনে আস-সালাহর ফতোয়া
(কায়রো মুদ্রণ, ১৩৪৮ হিজরি)
তাশ কুবরি জাদা: মিফতাহুস সাআদাহ ওয়া মিসবাহুস সিয়াদাহ (হায়দ্রাবাদ সংস্করণ)
আবু তালিব আল-মক্কি: কুতুল কুলুব (মিসরীয় মুদ্রণালয় ১৩৫১)
ইবনে আবদিল বার: জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহ (মাতবাআতুল মুনিরিয়্যাহ ১৪৩৬ হিজরি)
ইবনে আবদিল হাদি: আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ ফি মানাকিবি শায়খিল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ
(কায়রো সংস্করণ ১৩৫৬ - ১৯৩৮)