(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: -)
من قضايا البلاغة والنقد عند عبد القادر الجرجاني   (حسن إسماعيل عبد الرازق)

القسم: البلاغة


الكتاب: من قضايا البلاغة والنقد عند عبد القادر الجرجاني

المؤلف: حسن بن إسماعيل بن حسن بن عبد الرازق الجناجيُ رئيس قسم البلاغة بجامعة الأزهر (ت 1429 هـ)

عام النشر: 1402 هـ - 1981 م

عدد الصفحات: 271

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1440

আব্দুল কাদির আল-জুরজানির নিকট অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনার কতিপয় বিষয়   (হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র


গ্রন্থ: আব্দুল কাদির আল-জুরজানির নিকট অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনার কতিপয় বিষয়

লেখক: হাসান বিন ইসমাইল বিন হাসান বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-জানাজি, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কারশাস্ত্র বিভাগের প্রধান (মৃত্যু ১৪২৯ হি.)

প্রকাশকাল: ১৪০২ হি. - ১৯৮১ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১

শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২)
دكتور

حسن إسماعيل عبد الرازق

 

من قضايا البلاغة والنقد

عند عبد القادر الجرجاني
ডক্টর

হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক

 

অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনাসাহিত্যের কতিপয় প্রসঙ্গ

আব্দুল কাদির আল-জুরজানী-এর নিকট
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

ــ

" الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا ومَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ "ـ

((صدق الله العظيم))

ــ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

—

"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন। যদি আল্লাহ আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা কখনই পথপ্রাপ্ত হতাম না।"—

((মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন))

—
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: -)
من قضايا البلاغة والنقد عند عبد القادر الجرجاني   (حسن إسماعيل عبد الرازق)

القسم: البلاغة


الكتاب: من قضايا البلاغة والنقد عند عبد القادر الجرجاني

المؤلف: حسن بن إسماعيل بن حسن بن عبد الرازق الجناجيُ رئيس قسم البلاغة بجامعة الأزهر (ت 1429 هـ)

عام النشر: 1402 هـ - 1981 م

عدد الصفحات: 271

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1440

আবদুল কাদির আল-জুরজানির দৃষ্টিতে অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনার বিবিধ প্রসঙ্গ   (হাসান ইসমাইল আবদুর রাজ্জাক)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র


গ্রন্থ: আবদুল কাদির আল-জুরজানির দৃষ্টিতে অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনার বিবিধ প্রসঙ্গ

লেখক: হাসান ইবনে ইসমাইল ইবনে হাসান ইবনে আবদুর রাজ্জাক আল-জানাজি, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কারশাস্ত্র বিভাগের প্রধান (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশের বছর: ১৪০২ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১)
دكتور

حسن إسماعيل عبد الرازق

 

من قضايا البلاغة والنقد عند عبد القادر الجرجاني
ডক্টর

হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজিক

 

আব্দুল কাদির আল-জুরজানির নিকট অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনার কতিপয় প্রসঙ্গ
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌[مقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، سيدنا محمد النبي الأمي، وعلى آله وأصحابه والتابعين: وبعد:

فقد جارت أقلام كثيرة بالشكوى من منهج المتأخرين لدراسة البلاغة، لأنهم اعتمدوا في فهمهم لها على التلخيصات والشروح والتقريرات التي من شأنها أن تفرق الأفهام في بحار الخلافات التي لا طائل تحتها، وأن ترس بالعقول في متاهات المناقشات الجدلية التي لا تجدي في توعية الذوق البلاغي، ولا في تنمية الإحساس بجمال الأساليب العربية الأصيلة، ولا في التفريق بين أنماط التعبير بها.

واشتطت أقلام أخرى فاتخذت من جفاف منهج المتأخرين ذريعة للنيل من اللغة العربية، فنادت بوجوب التخلي عن بذل الجهد، وتضييع الوقت في التعرف على البلاغة العربية التي أصبحت - في نظرهم - لا تواكب العصر.

وجدت أقلام مخلصة في الرد على هؤلاء وأولئك، واصمة هؤلاء بالمكر والخبث وسوء القصد، وناعته أولئك بالجهل وضحالة الثقافة وسطحية التفكير، ومناديه - في الوقت نفسه - بوجوب
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও মুরসালিনদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আমাদের নেতা উম্মী নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও তাবেঈগণের ওপর। অতঃপর:

অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) অধ্যয়নের ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের আলিমদের অনুসৃত পদ্ধতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বহু কলম সোচ্চার হয়েছে। কারণ, তারা এই শাস্ত্রটি বোঝার জন্য এমন সব সারসংক্ষেপ, ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা-টিপ্পনীর ওপর নির্ভর করেছেন যা বোধশক্তিকে নিরর্থক মতবিরোধের সাগরে নিমজ্জিত করে এবং বুদ্ধিবৃত্তিকে এমন সব তর্কমূলক আলোচনার গোলকধাঁধায় আটকে ফেলে যা অলঙ্কারিক রুচি জাগ্রত করতে, আদি আরবি শৈলীর সৌন্দর্য উপলব্ধির ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কিংবা প্রকাশের বিভিন্ন রূপের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে কোনো কাজে আসে না।

অন্য কিছু কলম সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং পরবর্তী যুগের আলিমদের পদ্ধতির নিরসতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আরবি ভাষাকে আক্রমণ করেছে। তারা আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র শেখার পেছনে শ্রম ব্যয় এবং সময় নষ্ট করা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে, যা তাদের দৃষ্টিতে—বর্তমান যুগের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

এই উভয় পক্ষের জবাবে কিছু নিষ্ঠাবান কলম সচেষ্ট হয়েছে, যারা এদের (শেষোক্তদের) চক্রান্তকারী, বিদ্বেষপরায়ণ ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং অন্যদের (প্রথমোক্তদের) অজ্ঞতা, সংস্কৃতির দৈন্য ও অগভীর চিন্তার অধিকারী বলে আখ্যায়িত করেছে। একইসাথে তারা আহ্বান জানিয়েছে—অপরিহার্যভাবে...
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২)
العودة إلى منهج القدماء - وبخاصة عبد القاهر الجرجاني - دراسة البلاغة.

وهذه الدراسة - وأن كانت تقدر لهذا الرأي جديته الفكرية - ألا أنها - في الوقت نفسه - لا تغمط المتأخرين حقهم من الإجلال، والتقدير، لما أفنوا فيه أعمارهم من محاولة الغوص إلى أعماق اللسان العربي، لاستخراج ما فيه من درر الفكر، وجواهر التعبير وأن أخطأ الكثيرون منهم مقاصدهم، ولم يتبينوا سبيلهم فما عرفوا وجه الحق فيما اختلفوا فيه، ولا تبين لهم الخيط الأبيض من الخيط الأسود!

على أن منهج القدماء إنما هو منهج الباحث المتخصص، ومنهج المتأخرين هو منهج الدارس المبتدئ إذا استثنينا منه ما يحتويه من خلافات لا تفيد في الوقوف على أسرار التراكيب ولا تجدي في تذوق جمال الأساليب.

بيد أن منهج المتأخرين منهج"ناقص" مبتور، لأنه عدم الصلة بينه وبين المنابع الأصلية التي أستقى منها أفكاره، فشكل بها أبوابه ونوع فصوله، وفرع مسائله وأبرز قضاياه! .

وغني عن البيان أن تراث عبد القاهر الجرجاني كان أهم المنابع التي أستقى منها المتأخرون بلاغتهم، كالرازي، والسكاكي والخطيب القزويني، وأهل طبقتهم، ولكنهم لم يبينوا لنا كيف أخذوا من عبد القاهر، ولا كيف كان تصوره للبلاغة وأنما اخذوا أفكاره
অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) অধ্যয়নে প্রাচীনদের—বিশেষ করে আবদুল কাহির আল-জুরজানির—পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তন।

এই অধ্যয়নটি—যদিও এই মতামতের বুদ্ধিবৃত্তিক গুরুত্বকে মূল্যায়ন করে—তদসত্ত্বেও পরবর্তী যুগের আলিমদের (মুতাআখখিরীন) প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদাকে খাটো করে দেখে না। কারণ তারা আরবি ভাষার গভীরতায় ডুব দিয়ে চিন্তার মুক্তা এবং অভিব্যক্তির মণি-মাণিক্য আহরণের চেষ্টায় তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন; যদিও তাদের মধ্যে অনেকেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছেন এবং নিজেদের পথ স্পষ্ট করতে পারেননি, ফলে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করেছেন তাতে সত্যের রূপ চিনতে পারেননি এবং তাদের কাছে সাদা সুতা ও কালো সুতার পার্থক্যও স্পষ্ট হয়নি!

অবশ্য প্রাচীনদের পদ্ধতি হলো বিশেষজ্ঞ গবেষকের পদ্ধতি, আর পরবর্তীদের পদ্ধতি হলো শিক্ষানবিশ শিক্ষার্থীর পদ্ধতি—যদি আমরা তা থেকে সেইসব মতভেদগুলো বাদ দিই যা বাক্য গঠনের রহস্য অনুধাবনে কোনো উপকারে আসে না এবং শৈলীর সৌন্দর্য আস্বাদনেও ফলপ্রসূ হয় না।

তবে পরবর্তীদের পদ্ধতি একটি "ত্রুটিপূর্ণ" ও বিচ্ছিন্ন পদ্ধতি, কারণ এতে সেই মূল উৎসগুলোর সাথে যোগসূত্র নেই যেখান থেকে এটি তার ধারণাগুলো গ্রহণ করেছে এবং যার মাধ্যমে তার অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত করেছে, পরিচ্ছেদগুলো বৈচিত্র্যময় করেছে, মাসআলাগুলো শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত করেছে এবং বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তুলেছে!

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আবদুল কাহির আল-জুরজানির ঐতিহ্যই ছিল সেই প্রধান উৎস যেখান থেকে পরবর্তীগণ—যেমন রাজি, সাক্কাকি এবং খতিব আল-কাজউইনি ও তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা—তাদের অলঙ্কারশাস্ত্র আহরণ করেছেন। কিন্তু তারা আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট করেননি যে, কীভাবে তারা আবদুল কাহিরের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন, আর অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কে তার ধারণা কেমন ছিল; বরং তারা কেবল তার চিন্তাধারাগুলোই গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৩)
دون أن يتبينوا نظريته التي نشأت عنها هذه الأفكار، وهي نظرية النظم التي فرعوا منها مسائل علم المعاني.

وهذه الدراسة التي نقدمها بين يديك الآن: تبين لك كل هذا فتوضح كيف أخذ المتأخرون عن عبد القاهر الجرجاني"علم المعاني" وكيف كان تصوره للبلاغة والفرق بين تصورهم، وتصوره لها، فهي، أذن - تزجى إليك ما فرط فيه المتأخرون، وتبين لك ما أغفلوا تبيينه وتعقد الصلة بين منهجهم وبين منابعهم الحقيقية من تراث عبد القاهر الجرجاني.

على أن سبيل الكتابة عن البلاغة في فكر عبد القاهر الجرجاني مخالف لسبيلها عند المتأخرين ممن لم يهتموا بدراسة تراثه البلاغي إلا من حيث استخراج القاعدة البلاغية، والتبويب العلمي، والتقسيم المنطقي لأنهم بذلك قد أهملوا الظروف الفكرية، والعقلية التي صنف فيهما كتابيه "أسرار البلاغة" و"دلائل الإعجاز" وحاولوا قياس فكره بفكرهم، ووزن عقليته النادرة بعقليتهم، فحادوا بذلك عن جادة الطريق! وما مثلهم في هذا الذي تكلفوه، من محاولة فرض مقاييسهم البلاغية وتحكيم عقليتهم العلمية في ما أثمرته عقليته النادرة، وما أنتجته قريحته الفياضة إلا مثل من يضع العربة أمام الحصان - أن صح هذا التعبير - على أن الباحث الذي يريد أن يتصدى لدراسة الفكر البلاغي في كتابي عبد القاهر الجرجاني: دلائل الإعجاز وأسرار البلاغة يحتاج - أولاً وقبل كل شيء - لكي يفهم مقاصد،
তারা তাঁর সেই তত্ত্বটি স্পষ্ট না করেই এমনটা করেছেন যেখান থেকে এই ধারণাগুলো উদ্ভূত হয়েছে, আর তা হলো 'নজম' (বাক্যবিন্যাস) তত্ত্ব, যা থেকে তারা ইলমুল মা'আনির মাসআলাগুলোকে শাখায়িত করেছেন।

আপনার সামনে এখন আমরা যে গবেষণাটি উপস্থাপন করছি, তা আপনার কাছে এই সব বিষয় স্পষ্ট করে তুলে ধরবে; এটি ব্যাখ্যা করবে যে কীভাবে পরবর্তী যুগের আলিমগণ আব্দুল কাহির আল-জুরজানি থেকে 'ইলমুল মা'আনি' গ্রহণ করেছেন, অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কে তাঁর ধারণা কেমন ছিল এবং তাদের ও তাঁর ধারণার মধ্যে পার্থক্য কী ছিল। অতএব, এটি আপনার কাছে তা-ই পেশ করছে যা পরবর্তীগণ অবহেলা করেছিলেন, এবং আপনার সামনে তা-ই স্পষ্ট করছে যা ব্যাখ্যা করতে তারা উপেক্ষা করেছিলেন। এটি তাদের পদ্ধতি এবং আব্দুল কাহির আল-জুরজানির বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের প্রকৃত উৎসের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে।

তবে আব্দুল কাহির আল-জুরজানির চিন্তাধারায় অলঙ্কারশাস্ত্র নিয়ে রচনার ধরনটি পরবর্তী গবেষকদের রচনারীতির চেয়ে ভিন্ন, যারা কেবল অলঙ্কারশাস্ত্রীয় নিয়মাবলী নিষ্কাশন করা, বৈজ্ঞানিক অধ্যায় বিন্যাস এবং যৌক্তিক বিভাজনের দিকটি ছাড়া তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের অধ্যয়নের প্রতি বিশেষ কোনো ভ্রূক্ষেপ করেননি। কারণ এর মাধ্যমে তারা সেই বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করেছেন যে প্রেক্ষাপটে তিনি তাঁর 'আসরারুল বালাগাহ' এবং 'দালাইলুল ই'জায' গ্রন্থ দুটি রচনা করেছিলেন। তারা তাঁদের নিজেদের চিন্তাধারা দিয়ে তাঁর চিন্তাধারা পরিমাপ করার এবং তাঁদের নিজেদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তাঁর সেই দুর্লভ প্রজ্ঞাকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছিলেন; ফলে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছেন! তারা তাদের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মানদণ্ডগুলো চাপিয়ে দেওয়ার এবং তাঁর বিরল প্রজ্ঞা ও অফুরন্ত মেধার সৃজনশীলতার ওপর তাঁদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারাকে বিচারক সাব্যস্ত করার যে কৃত্রিম প্রয়াস চালিয়েছেন, তার দৃষ্টান্ত হলো - যদি এই অভিব্যক্তিটি ব্যবহার করা সঠিক হয় - ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার মতো। তবে যে গবেষক আব্দুল কাহির আল-জুরজানির 'দালাইলুল ই'জায' এবং 'আসরারুল বালাগাহ' কিতাব দুটির অলঙ্কারশাস্ত্রীয় চিন্তাধারা অধ্যয়নে ব্রতী হতে চান, তাঁর জন্য - সর্বপ্রথম এবং সবকিছুর আগে - তাঁর উদ্দেশ্যগুলো উপলব্ধি করা প্রয়োজন...
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৪)
ومراميه من عباراته وإيماءاتها، أن يراعي أموراً ثلاثة على قدر كبير من الأهمية:

الأمر الأول: دراسة البذور النقدية، والأفكار الأدبية - والاتجاهات الفكرية التي كان لها في تكوين عقلية عبد القادر وإثراء فكرة البلاغي آثار جعلته فارس حلبة البلاغة والنقد الأدبي، وذلك بتتبعها في كتابيه وإرجاع كل فكرة إلى مظانها من كتب الأقدمين.

والأمر الثاني: هو دراسة تطور الأفكار البلاغية في ذهن عبد القاهر بحيث يتتبع المراحل الزمنية لهذه الأفكار في كتابيه - من مقتبل حياته حتى أخريات أيامه، ويستتبع هذا الأمر، دراسة أسبقية أحد الكتابين على الآخر، لأن عبد القاهر لم يصرح بأسبقية أحدهما، وان كانت دراسة تطور الأفكار البلاغية في ذهن عبد القاهر ستؤدي بالباحث إلى معرفة أيهما أسبق في التأليف.

ومن أمثلة هذه الدراسة: ما لاحظه الدكتور محمد أبو موسى من أن عبد القاهر قد تطور بتعريف الاستعارة في كتابيه فعرفها بعدة تعريفات، بادئاً في أولهما في أول الأسرار ومنهياً بآخرها في نهايته وأن هذا التعريف الأخير هو الذي تجده في أول الدلائل (1) ثم علق على هذا بقوله" " وربما كان هذا الترقي في تحديد الفكرة على هذا النحو في الكتابين أعني ذكر الاستعارة في صدر أسرار البلاغة

--------------------------------------------

(1) التصوير البياني صـ 181، صـ 182، صـ 183
এবং তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য ও ইঙ্গিতগুলো বোঝার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন:

প্রথম বিষয়টি হলো: সমালোচনামূলক বীজের অঙ্কুরোদগম, সাহিত্যিক চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁকসমূহ নিয়ে অধ্যয়ন করা, যা আবদুল কাহিরের মানসিকতা গঠন এবং তাঁর আলঙ্কারিক চিন্তাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এমন প্রভাব ফেলেছিল, যা তাঁকে অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্য সমালোচনার ময়দানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী বীর হিসেবে গড়ে তুলেছিল। আর এটি সম্ভব তাঁর দুটি কিতাব নিবিড়ভাবে অনুসরণের মাধ্যমে এবং প্রতিটি ধারণাকে পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহের মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: আবদুল কাহিরের চিন্তায় আলঙ্কারিক ভাবনার বিবর্তনের ধারাক্রম নিয়ে অধ্যয়ন করা, যাতে তাঁর কিতাবদ্বয়ে এই চিন্তাগুলোর সময়ানুক্রমিক পর্যায়সমূহ অনুসরণ করা যায়—তাঁর জীবনের প্রারম্ভ থেকে শেষ দিনগুলো পর্যন্ত। আর এই বিষয়টি তাঁর লিখিত দুটি কিতাবের মধ্যে কোনটি আগে রচিত হয়েছে তা পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ আবদুল কাহির নিজে এগুলোর কোনোটির অগ্রগণ্যতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, যদিও তাঁর চিন্তায় অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ভাবনার বিবর্তন নিয়ে অধ্যয়ন একজন গবেষককে রচনার ক্ষেত্রে কোনটি পূর্ববর্তী তা জানতে সাহায্য করবে।

এই ধরনের অধ্যয়নের একটি উদাহরণ হলো ডক্টর মুহাম্মদ আবু মুসা যা লক্ষ্য করেছেন যে, আবদুল কাহির তাঁর কিতাবদ্বয়ে 'ইস্তিআরা' (রূপক)-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বিবর্তিত হয়েছেন। ফলে তিনি এর বেশ কয়েকটি সংজ্ঞা দিয়েছেন; যার সূচনা করেছেন 'আসরারুল বালাগাহ্'-এর শুরুতে এবং সমাপ্তি টেনেছেন উক্ত কিতাবটির শেষে। আর এই সর্বশেষ সংজ্ঞাটিই 'দালাইলুল ইজায'-এর শুরুতে পাওয়া যায়। (১) অতঃপর তিনি এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "সম্ভবত কিতাবদ্বয়ে এই পদ্ধতিতে ধারণার সুনির্দিষ্টকরণের ক্ষেত্রে এই ক্রমোন্নতি—অর্থাৎ আসরারুল বালাগাহ্-এর শুরুতে ইস্তিআরার উল্লেখ..."

--------------------------------------------

(১) আত-তাসউয়ীরুল বায়ানী, পৃষ্ঠা ১৮১, ১৮২, ১৮৩।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৫)
بهذا التحديد الشامل للمجاز، تم تحديدها في نهاية الكتاب ثم عرضها محددة في صدر الدلائل مما يغري بالقول بأن كتاب دلائل الإعجاز كتب بعد أسرار البلاغة."

وما ذكره - أيضاً - في تعليق له على قول عبد القاهر في أول الأسرار" وفي ثبوت هذا الأصل ما تعلم به أن المعنى الذي كانت له هذه الكلم بيت شعر، أو فصل خطاب، هو ترتيبها على طريقة معلومة وحصولها على صورة من التأليف مخصوصة، وهذا الحكم أعني الاختصاص في الترتيب مرتباً على المعاني المرتبة في النفس المنتظمة على قضية العقل، ولن يتصور في الألفاظ وجوب تقديم وتأخير، وتخصص في ترتيب وتنزيل، وعلى ذلك وضعت المراتب والمنازل في الجمل المركبة وأقسام الكلام المدونة، فقيل: من حق هذا أن يسبق ذلك، ومن حكم ما ههنا أن يقع هنالك، كما قيد في المبتدأ والخبر والمفعول والفاعل حتى حظر في جنس من الكلام بعينه أن يقع إلا سابقاً وفي آخر أن يوجد ألا مبنياً على غيره وبه لاحقاً، كقولنا: أن الاستفهام له الكلام، وأن الصفة لا تتقدم على الموصوف إلا أن تزال عن الوصفية لغيرها من الأحكام"

يقول الدكتور محمد أبو موسى" وهذا الكلام شيء كبير وعلينا أن نلاحظ أن الشيخ قذف بهذه الحقيقة في أول كتاب أسرار البلاغة الذي يظن أنه كتبه قبل دلائل الإعجاز، وبهذا يكون ذلك تقديماً لدراسته في الكتابين وتصوراً قائماً في نفسه وهو يبدأ تجربته في دراسة أحوال الكلام وخصائصه ومراجع مزاياه، وهذا يشير
রূপকের (মাজায) এই ব্যাপক সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে, এটি কিতাবের শেষে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং এরপর 'দালাইল' এর শুরুতে সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা এই কথা বলতে প্রলুব্ধ করে যে 'দালাইলুল ইজায' গ্রন্থটি 'আসরারুল বালাগাহ' এর পরে লেখা হয়েছে।

এবং তিনি 'আসরার'-এর শুরুতে আব্দুল কাহিরের একটি বক্তব্যের ওপর করা তাঁর মন্তব্যে আরও যা উল্লেখ করেছেন— "এই মূলনীতির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে, এই শব্দগুলো যে অর্থের জন্য একটি কবিতার চরণে বা কোনো সুষ্পষ্ট ভাষণে ব্যবহৃত হয়েছিল, তা হলো একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সেগুলোর বিন্যাস এবং বিশেষ এক রচনার রূপ লাভ করা। এই বিধান—অর্থাৎ বিন্যাসের বৈশিষ্ট্য—অন্তরে সাজানো এবং বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির ভিত্তিতে বিন্যস্ত অর্থসমূহের ওপর নির্ভরশীল। শব্দের ক্ষেত্রে আগে আসা বা পরে আসার আবশ্যকতা কিংবা বিন্যাস ও উপস্থাপনার বিশেষত্ব (অর্থ ব্যতিরেকে) কল্পনা করা যায় না। এর ওপর ভিত্তি করেই যৌগিক বাক্য এবং লিপিবদ্ধ কালামের প্রকারভেদে বিভিন্ন স্তর ও অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বলা হয়: অমুকের অধিকার হলো অমুকের আগে আসা, আর এখানে যা রয়েছে তার বিধান হলো সেখানে অবস্থান করা। যেমনটি মুক্তাদা ও খবর, মাফউল ও ফায়েলের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, এমনকি নির্দিষ্ট প্রকারের বাক্যে কোনোটিকে কেবল আগে আসাকে আবশ্যক করা হয়েছে এবং অন্যটির ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, সেটি অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে তার পরে আসবে। যেমন আমাদের বক্তব্য: প্রশ্নবোধক অব্যয় বাক্যের শুরুতে আসে এবং বিশেষণ (সিফাত) বিশেষ্যের (মাওসুফ) আগে আসে না, যদি না অন্যান্য বিধানের কারণে তা গুণবাচক বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত হয়।"

ডক্টর মুহাম্মদ আবু মুসা বলেন, "এই কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের লক্ষ্য করা উচিত যে, শাইখ (আব্দুল কাহির) এই সত্যটি 'আসরারুল বালাগাহ' কিতাবের শুরুতেই উপস্থাপন করেছেন, যা ধারণা করা হয় যে তিনি 'দালাইলুল ইজায'-এর পূর্বে লিখেছিলেন। এর মাধ্যমে এটি তাঁর উভয় কিতাবের আলোচনার একটি উপক্রমনিকা এবং তাঁর নিজের মধ্যে বিদ্যমান একটি পূর্বকল্পনা হিসেবে সাব্যস্ত হয় যখন তিনি কালামের অবস্থা, বৈশিষ্ট্য এবং এর শ্রেষ্ঠত্বের উৎসগুলো নিয়ে তাঁর গবেষণামূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করছিলেন। এটি নির্দেশ করে..."
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৬)
إلى طبيعة النظر في هذا الحقل، ويوجه قارئ عبد القاهر من أول الطريق إلى تطلب أشياء وراء الذي يقول ثم أنه في هذا النص يقودنا إلى مسالك في البحث اللغوي يكون فيها أشبه بالبحث في الجنس والمزاج والأحوال النفسية والروحية، وهذا يجعل خصائص تراكيب لغوية، لأنه كما يقول:

لا يتصور في الألفاظ وجوب تقديم وتأخير، وتخصيص في ترتيب وتنزيل، وإنما هي خصائص أفكار وخواطر يتصور فيها وجوب ترتيب".

ثم يقول: "وهذا بين إلى أي مدى عجز المخالفون عن تمثل هذا الدرس بطريقته التي أرشد إليها هذا الشيخ منذ ثمانية قرون وأن هذا الذي نقدمه ليس إلا قشوراً بجانب اللباب الذي ينتظر نقاباً نابهاً يبحث عنه. (1)

وهكذا تنبه الدكتور محمد أبو موسى إلى أن عبد القاهر إنما وضع أرضية قوية بالغة الأهمية لدراسة كتابيه، وهو يبدأ تجربته في دراسة البلاغة إذ بها يستطيع قارئ عبد القاهر أن يتفهم ما يريد، من بين كلماته، ويلمح ما يوحي إليه من خلال عباراته ويصل إلى الغاية التي يتطلبها، والطلبة التي ينشدها، فلا يحيد عن جادة الطريق التي رسمها، ولا يضل ضلال أولئك الذين عجزوا عن تمثل هذا الدرس بطريقته التي لأرشد إليهما عبد القاهر منذ ثمانية قرون!

--------------------------------------------

(1) خصائص التراكيب صـ 4، صـ 5
এই ক্ষেত্রের পর্যবেক্ষণের প্রকৃতির প্রতি, এবং এটি আব্দুল কাহিরের পাঠককে পথের শুরু থেকেই তিনি যা বলছেন তার অতিরিক্ত কিছু অন্বেষণ করার দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অতঃপর তিনি এই পাঠ্যে আমাদের ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার এমন কিছু পথে নিয়ে যান যা লিঙ্গ, মেজাজ এবং মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থার গবেষণার সদৃশ। এটি ভাষাগত গঠনের বৈশিষ্ট্যসমূহ তৈরি করে, কারণ তিনি যেমনটি বলেন:

"শব্দাবলিতে অগ্রবর্তিতা ও পশ্চাদবর্তিতার আবশ্যকতা কিংবা বিন্যাস ও অবতরণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টতা কল্পনা করা যায় না; বরং এগুলো হলো চিন্তা ও ভাবনার বৈশিষ্ট্য, যার ক্ষেত্রে বিন্যাসের আবশ্যকতা কল্পনা করা যায়।"

অতঃপর তিনি বলেন: "এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বিরোধীরা আট শতাব্দী আগে এই শাইখের নির্দেশিত পদ্ধতিতে এই পাঠকে গ্রহণ করতে কতখানি অক্ষম ছিল। আমরা যা পেশ করছি তা সেই মজ্জার তুলনায় কেবল খোসা মাত্র, যা কোনো বিজ্ঞ গবেষকের অন্বেষণের অপেক্ষায় রয়েছে। (১)

এভাবেই ড. মুহাম্মদ আবু মুসা লক্ষ্য করেছেন যে, আব্দুল কাহির তাঁর গ্রন্থদ্বয় অধ্যয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদৃঢ় একটি ভিত্তি স্থাপন করেছেন। অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নে তিনি যখন তাঁর অভিজ্ঞতা শুরু করেন, তখন এর মাধ্যমেই আব্দুল কাহিরের পাঠক তাঁর শব্দের অন্তরালে তিনি যা চান তা বুঝতে সক্ষম হন এবং তাঁর বাচনভঙ্গির মাধ্যমে ইঙ্গিতকৃত বিষয়সমূহ অনুধাবন করতে পারেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এবং অভীষ্ট বস্তুতে পৌঁছাতে পারেন; ফলে তিনি তাঁর অঙ্কিত মূল পথ থেকে বিচ্যুত হন না এবং তাদের মতো পথভ্রষ্ট হন না যারা আট শতাব্দী আগে আব্দুল কাহিরের নির্দেশিত পদ্ধতিতে এই পাঠকে গ্রহণ করতে অক্ষম হয়েছিল!

--------------------------------------------

(১) খাসায়িসুত তরাকিব, পৃষ্ঠা ৪, পৃষ্ঠা ৫
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৭)
وتسوق إليك ما تلاحظه هذه الدراسة من أن عبد القاهر يتحدث عن التمثيل في "الأسرار" ويدخل فيه الأمثال كقولهم:

"أخذ القوس بإربها" وقولهم" ومازال يفتل له في الذروة والغارب حتى بلغ منه ما أراد" (1) ولكنه يعدل عن هذه التسمية في الدلائل، ويسمى هذا النمط من القول" تمثيلاً - على حد الاستعارة" بعد أن أدرك أن المثل من قبيل المجاز.

كما أنه لم يورد الكتابة" ذكراً في "الأسرار" مع أنها أحد أعمدة البيان، ويقول في مقدمته" وأول ذلك وأولاه وأحقه بأن يستزفيه النظر ويتقصاه: القول على التشبيه والتمثيل (يقصد التشبيه التمثيلي) والاستعارة، فإن هذه أصول كثيرة كأن جل محاسن الكلام - أن لم نقل كلها - متفرعة "عنها وراجمة إليها" وكأنها أقطاب" تدور عليها المعاني في متصرفاتها، وأقطار" تحيط بها من جهاتها (2).

ولكنه يعدل عن هذا التصور في الدلائل فيقول - في فصل (في اللفظ يطلق والمراد بغير ظاهره): " وأعلم أن لهذا الضرب أتساعاً وتفنناً لا إلى غاية، إلا أنه على أتساعه يدور في الأمر الأعم على شيئين: الكتابة، والمجاز"ثم يقول" وأما المجاز

--------------------------------------------

(1) راجع أسرار البلاغة من صـ 77 إلى صـ 80 (طبعة صبيح)

(2) الأسرار صـ 18 (طبعة صبيح) ..
এই গবেষণা আপনার নিকট তা-ই উপস্থাপন করছে যা এটি লক্ষ্য করেছে যে, আব্দুল কাহির 'আল-আসরার'-এ 'তামসিল' (প্রতিনিধিত্বমূলক উপমা) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এর মধ্যে প্রবাদগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমন তাদের কথা:

"সে ধনুকটিকে তার দক্ষতাসহ ধারণ করেছে" এবং তাদের কথা "সে তার জন্য কুঁজ ও ঘাড়ের পশম পাকাতেই থাকল যতক্ষণ না সে তার থেকে যা চাইল তা হাসিল করল" (১) কিন্তু তিনি 'আদ-দালায়িল'-এ এই নামকরণ থেকে সরে এসেছেন এবং এই ধরনের বক্তব্যকে "তামসিল—ইস্তিআরার (রূপক) আদলে" বলে অভিহিত করেছেন, যখন তিনি উপলব্ধি করলেন যে প্রবাদ মূলত মাজায (অলঙ্কারিক প্রয়োগ)-এর অন্তর্ভুক্ত।

তেমনিভাবে তিনি 'আল-আসরার'-এ 'কিনায়াহ' (ইঙ্গিতময় বর্ণনা)-এর কোনো উল্লেখ করেননি, যদিও তা ইলমে বয়ানের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তিনি এর ভূমিকায় বলেন, "এর মধ্যে সর্বপ্রথম, প্রধান এবং সূক্ষ্ম দৃষ্টি ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার সবচেয়ে বেশি হকদার হলো: তাশবিহ (উপমা), তামসিল (প্রতিনিধিত্বমূলক উপমা—তিনি এখানে আল-তাশবিহ আল-তামসিলি বুঝিয়েছেন) এবং ইস্তিআরা (রূপক) সংক্রান্ত আলোচনা। কারণ এগুলো এমন বহুবিধ মূলনীতি যে, কথার সৌন্দর্যরাজির অধিকাংশ—যদি সবটুকু না-ও বলি—এগুলো থেকেই উৎসারিত এবং এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। এগুলো যেন এমন মেরু যার ওপর ভিত্তি করে অর্থসমূহ তাদের বিচরণক্ষেত্রে আবর্তিত হয়, এবং এমন দিগন্ত যা সব দিক থেকে তাকে বেষ্টন করে রাখে" (২)।

কিন্তু তিনি 'আদ-দালায়িল'-এ এই ধারণা থেকে সরে এসেছেন এবং বলেছেন—'যে শব্দ উচ্চারণ করা হয় কিন্তু তার বাহ্যিক অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থ উদ্দেশ্য থাকে' শীর্ষক অধ্যায়ে: "জেনে রেখো যে, এই প্রকারের এমন প্রশস্ততা ও বৈচিত্র্য রয়েছে যার কোনো শেষ নেই। তবে এর প্রশস্ততা সত্ত্বেও সাধারণ ক্ষেত্রে তা দুটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়: 'কিনায়াহ' (ইঙ্গিতময় বর্ণনা) এবং 'মাজায' (অলঙ্কারিক প্রয়োগ)।" এরপর তিনি বলেন, "আর মাজাযের ক্ষেত্রে..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন 'আসরারুল বালাগাহ', পৃষ্ঠা ৭৭ থেকে ৮০ (সাবিহ সংস্করণ)

(২) 'আল-আসরার', পৃষ্ঠা ১৮ (সাবিহ সংস্করণ) ..
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৮)
فقد عول الناس في حده على النقل، وأن كل لفظ نقل عن موضوعه فهو مجاز، والكلام في ذلك يطول وقد ذكرت ما هو الصحيح من ذلك في موضع آخر (يقصد أسرار البلاغة) وأنا نقتصر ههنا على ذكر ما هو أشهر منه واظهر، والاسم والأشهر فيه لشيئين: الاستعارة، والتمثيل، وإنما يكون التمثيل مجازاً إذا جاء على حد الاستعارة" (1)

وفي هذا الذي قال عبد القاهر من الأهمية بمكان.

فقد ألف عبد القاهر" أسرار البلاغة" في مرحلة فكرية مبكرة من حياته، ولهذا فإن بعض أفكاره البلاغية لم تكن ناضجة موجهاً في الدلائل، ولهذا فإنه قد ذكر - في الأسرار - أن ما هو أحق باسم التمثيل: ما كان منتزعاً من هيئات مركبة، ومثل له بأمثلة جمع فيها بين ما كان تشبيهاً فقط، وبين ما كان استعارة دون أن يتنبه إلى هذا الخلط، ولكنه عندما نضجت أفكاره البلاغية وضحت له الرؤية، وتميزت لديه أنماط التعبير، ووصل إلى مرحلة فكرية متأخرة من حياته - وهو يكتب الدلائل - أدرك أن من التمثيل أن يكون تمثيلاً فقط، ومنه ما يكون تمثيلاً على حد الاستعارة، وتنوع لتمثيل أمام ناظريه إلى هذين النوعين، وقد سمى المتأخرون النوع الأول تشبيهاً تمثيلياً، والنوع الآخر استعارة تمثيلية.

--------------------------------------------

(1) تا الدلائل صـ 44، صـ 45
মানুষ এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বর্ণনার (নকল) ওপর নির্ভর করেছে এবং এটিই যে, প্রতিটি শব্দ যা তার মূল প্রয়োগস্থল থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে তাই রূপক (মাজায)। এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ, এবং আমি অন্য এক স্থানে (তিনি আসরারুল বালাগাহ বুঝিয়েছেন) এ বিষয়ে যা সঠিক তা উল্লেখ করেছি। আমরা এখানে কেবল যা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও স্পষ্ট তা উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম দুটি হলো: ইসতিয়ারা এবং তামসীল। আর তামসীল কেবল তখনই রূপক হয় যখন তা ইসতিয়ারার রীতিতে আসে। (১)

আবদুল কাহের যা বলেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ববহ।

আবদুল কাহের তাঁর জীবনের প্রাথমিক বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ে "আসরারুল বালাগাহ" রচনা করেছিলেন, এ কারণে তাঁর কিছু আলঙ্কারিক ধারণা "দালাইলুল ইজায"-এর মতো পরিপক্ক ছিল না। এজন্যই তিনি আসরার-এ উল্লেখ করেছেন যে, 'তামসীল' নামের অধিক যোগ্য হলো তা-ই, যা কোনো যৌগিক অবস্থা থেকে গৃহীত। তিনি এর জন্য এমন কিছু উদাহরণ পেশ করেছেন যেখানে তিনি কেবল 'তাশবিহ' (উপমা) এবং 'ইসতিয়ারা' (রূপক)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য না করেই উভয়কে একত্রে মিলিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু যখন তাঁর আলঙ্কারিক চিন্তাচেতনা পরিপক্ক হলো, তখন তাঁর নিকট বিষয়টি সুস্পষ্ট হলো এবং অভিব্যক্তির ধরণগুলো তাঁর কাছে স্বতন্ত্র হয়ে উঠল। জীবনের শেষদিকের বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যখন তিনি "দালাইল" লিখছিলেন, তখন তিনি উপলব্ধি করলেন যে, তামসীলের মধ্যে এমন কিছু আছে যা কেবল তামসীল এবং কিছু আছে যা ইসতিয়ারার আদলে তামসীল। এভাবে তাঁর দৃষ্টিতে তামসীল এই দুই প্রকারে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠল। পরবর্তী আলিমগণ প্রথম প্রকারের নাম দিয়েছেন 'তাশবিহ তামসীলি' এবং অন্য প্রকারের নাম দিয়েছেন 'ইসতিয়ারা তামসীলিয়া'।

--------------------------------------------

(১) দালাইলুল ইজায, পৃষ্ঠা ৪৪, ৪৫
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৯)
ولأن عبد القاهر وهو يكتب الأسرار كان في مرحلة فكرية مبكرة من حياته فإنه لم يكن وقتها على ذكر من أن الكتابة هي أحد أعمدة البيان، لأن فكرته عن نظرية البيان إنما استلهمها من كتاب" نقد الشعر" لقدامة، (1) وعبد القاهر - وهو يكتب الأسرار - لم يكن قد أطلع على كتاب "نقد الشعر" لقدامه، لأنه في تلك المرحلة المبكرة من حياته لم يكن قد أتيح له الحصول على ما كان يريد قراءته من كتب، وقد أجمع المؤرخون على أنه قد أقام بجرجان ولم يبرحها، (2) فربما كانت الظروف السياسية التي كانت سائدة في تلك الفترة قد حالت بينه وبين أن يقصد بغداد بحثاً عن كتاب قدامه وقد كان العصر الذي عاش فيه عبد القاهر عصر حروب ومغامرات بين طلاب الملك والسلطان في الرقعة الواسعة التي كانت الدولة العباسية تحكمها، وتاريخ تلك الفترة مصبوغ بالدماء - كما يقولون - فلعله آثر الحياة الهادئة في ظلال العلم فعكف عليها وأخلص لها (3)

وربما كان السبب في عدم استطاعته الحصول على كتاب نقد الشعر في مقتبل عمره، هو ضيق ذات اليد، فقد كان عبد القاهر مقتراً عليه في الرزق ولم يكن يحيا حياة سعيدة، وما خلفه لنا من شعر ينبض بالسخط على حظ العلماء في هذه الحياة. (4)

--------------------------------------------

(1) راجع نظرية البيان بين عبد القاهر والمتأخرين للمؤلف من صـ 52.

(2) أنباء الرواة جـ 2 صـ 189.

(3) عبد القاهر الجرجاني للدكتور أحمد بدوي صـ 19 صـ 20 (أعلام العرب).

(4) شذرات الذهب جـ 3 صـ 340 وابن مكتوم صـ 112 وطبقات الشافعية جـ 3 صـ 242 وبغية الرعاة صـ 113 وفوات الوفيات جـ 1 صـ 259.
যেহেতু আব্দুল ক্বাহির যখন 'আসরার' লিখছিলেন তখন তিনি তাঁর জীবনের একটি প্রাথমিক বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ে ছিলেন, তাই সেই সময়ে তাঁর স্মরণে ছিল না যে লিখনশৈলী হচ্ছে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বয়ান) অন্যতম স্তম্ভ। কারণ, অলঙ্কারশাস্ত্রের তত্ত্ব সম্পর্কে তাঁর ধারণা কুদামার 'নকদ আশ-শির' গ্রন্থ থেকে অনুপ্রাণিত ছিল। (১) আর আব্দুল ক্বাহির—যখন তিনি 'আসরার' লিখছিলেন—তখনও কুদামার 'নকদ আশ-শির' গ্রন্থটি দেখার সুযোগ পাননি; কেননা জীবনের সেই প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর কাঙ্ক্ষিত গ্রন্থগুলো সংগ্রহ করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ইতিহাসবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তিনি জুরজানেই বসবাস করতেন এবং সেখান থেকে কোথাও যাননি। (২) সম্ভবত তৎকালীন বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে কুদামার বইয়ের সন্ধানে বাগদাদ অভিমুখে যাত্রা করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আব্দুল ক্বাহির যে যুগে বসবাস করতেন, তা ছিল আব্বাসীয় খেলাফত শাসিত বিশাল ভূখণ্ডে ক্ষমতা ও রাজত্বের দাবিদারদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং হঠকারিতার যুগ। সেই সময়ের ইতিহাস—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—রক্তে রঞ্জিত। তাই সম্ভবত তিনি ইলমের ছায়ায় শান্ত জীবন যাপন করাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন এবং এর জন্য নিজেকে নিবেদিত ও একনিষ্ঠ করেছিলেন। (৩)

সম্ভবত তাঁর জীবনের প্রারম্ভে 'নকদ আশ-শির' গ্রন্থটি সংগ্রহ করতে না পারার কারণ ছিল আর্থিক অসচ্ছলতা। আব্দুল ক্বাহিরের রিজিকে সংকীর্ণতা ছিল এবং তিনি সুখকর জীবন অতিবাহিত করেননি। তিনি আমাদের জন্য যে কাব্যধারা রেখে গেছেন, তা এই জীবনে আলেমদের ভাগ্যের প্রতি অসন্তোষে স্পন্দিত। (৪)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লেখকের 'নাজারিয়াতুল বায়ান বাইনা আব্দুল ক্বাহির ওয়াল মুতাআখখিরিন', পৃষ্ঠা ৫২ থেকে।

(২) ইনবাউল রুওয়াত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৮৯।

(৩) ড. আহমদ বাদাউয়ি রচিত 'আব্দুল ক্বাহির আল-জুরজানি', পৃষ্ঠা ১৯, পৃষ্ঠা ২০ (আ'লামুল আরব)।

(৪) শাজারাতুয যাহাব, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৪০; ইবনে মাকতুম, পৃষ্ঠা ১১২; তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪২; বুগয়াতুর রুয়াত, পৃষ্ঠা ১১৩; ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৯।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১০)
ولسنا ندري مورد رزق عبد القاهر، فلعله هبات بعض الأثرياء الذين أهدى إليهم كتبه، (1) ولعله لم يستطع أن يحصل على كتاب قدامه إلا في فترة متأخرة بعد أن استقرت الحياة السياسية التي كانت مضطربة، وبعد أن أهدى إلى بعض الأثرياء بعض كتبه، ولعله هو نظام الملك أبو الحسن بن علي وزير السلاجقة، إذ ليس بين أيدينا شعر "مدح به أحداً سوى هذا الوزير الذي أسس المدرسة النظامية ببغداد سنة تسع وخمسين وأربعمائة. (2) وأزال لعن الأشعرية من المنابر وقد كان عبد القاهر أشعرياً، ولعل نظام الملك قد أنعم عليه فأهداه بعض الكتب التي كانت ببغداد، وكان من بينها كتاب "نقد الشعر" لقدامه بن جعفر، إذ كان نظام الملك مجا للعلماء، مقدراً لمكانتهم. (3)

ولهذا فإنه من المرجح أن يكون حصول عبد القاهر على كتاب نقد الشعر، ومن ثم بداية تأليفه "الدلائل" قد كانت بعد سنة 459 هـ لأنه الوقت الذي هيئت له فيه الظروف للاطلاع على ما فيه من قضايا بلاغية ونقدية كان لها أثرها في تكوين فكرته عن نظرية البيان التي لاحت عند قدامه متمثلة في الإرداف (أي الكتابة)

--------------------------------------------

(1) عبد القاهر الجرجاني د/ احمد بدري صـ 9 وأنباه الرواة صـ 190.

(2) وفيات الأعيان جـ 1 صـ 143 وتاريخ الأمم الإسلامية صـ 426 ..

(3) تاريخ الأمم الإسلامية (الدولة العباسية) صـ 428.
আমরা আব্দুল কাহিরের জীবিকার উৎস সম্পর্কে জানি না; সম্ভবত তা ছিল সেইসব বিত্তবানদের উপঢৌকন, যাদের নিকট তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহ উপহার হিসেবে পাঠাতেন। (১) সম্ভবত তিনি কুদামার বইটি এমন এক পরবর্তী সময়ে সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন যখন অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছিল, এবং তিনি কিছু বিত্তবানদের নিকট তাঁর কিছু গ্রন্থ উপহার হিসেবে পাঠানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। আর সম্ভবত তিনি (সেই ব্যক্তিত্ব) হলেন সেলজুকদের উজির নিজামুল মুলক আবুল হাসান বিন আলী; কারণ আমাদের নিকট এমন কোনো কবিতা নেই যাতে তিনি এই উজির ছাড়া অন্য কারো প্রশংসা করেছেন, যিনি ৪৫৯ হিজরি সনে বাগদাদে নিযামিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। (২) তিনি মিম্বরসমূহ থেকে আশআরিদের প্রতি অভিশাপ দেওয়া বন্ধ করেছিলেন, অথচ আব্দুল কাহির নিজেও একজন আশআরি ছিলেন। সম্ভবত নিজামুল মুলক তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন এবং বাগদাদে সংরক্ষিত কিছু গ্রন্থ তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন, যার মধ্যে কুদামা ইবনে জাফরের 'নাকদুশ শির' (কবিতার সমালোচনা) গ্রন্থটি ছিল; যেহেতু নিজামুল মুলক আলেমদের অনুরাগী ও তাঁদের মর্যাদার মূল্যায়নকারী ছিলেন। (৩)

এই কারণে এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত যে, আব্দুল কাহিরের 'নাকদুশ শির' গ্রন্থটি লাভ করা এবং ফলশ্রুতিতে তাঁর 'দালাইল' গ্রন্থ রচনার সূচনা ৪৫৯ হিজরির পরেই হয়েছিল। কারণ এটিই সেই সময় যখন তাঁর জন্য উক্ত গ্রন্থের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও সমালোচনামূলক বিষয়গুলো পর্যালোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা তাঁর 'বয়ান' (প্রকাশশৈলী) তত্ত্বের ধারণা গঠনে প্রভাব বিস্তার করেছিল; যে তত্ত্বটি কুদামার নিকট 'ইরদাফ' (অর্থাৎ পরোক্ষ প্রকাশ বা কিনায়া) হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল কাহির আল-জুরজানি, ড. আহমদ বাদরি, পৃষ্ঠা ৯ এবং আনবাহুর রুওয়াত, পৃষ্ঠা ১৯০।

(২) ওফাইয়াতুল আইয়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৩ এবং তারিখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪২৬।

(৩) তারিখুল উমামিল ইসলামিয়্যাহ (আব্বাসীয় খিলাফত), পৃষ্ঠা ৪২৮।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১১)
والتمثيل (أي الاستعارة التمثيلية)، فالتقطها عبد القاهر، وصاغ منها نظرية البيان التي لخصها في عبارته الوجيزة الشهيرة (المعنى ومعنى المعنى) ومعنى ذلك: أن عبد القاهر قد ألف كتابه "دلائل الإعجاز" في العقد السابع من حياته، وهي مرحلة متأخرة من عمره الذي أمتد إلى سنة 471 هـ.

وهذا التوقيت موافق لقوله في "دلائل الإعجاز" هذه مسألة كنت قد عملتها قديماً، وقد كتبتها ههنا، لأن لها اتصالاً بهذا الذي صار بنا القول إليه: قوله تعالى: " إنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ" أي لمن كان أعمل قلبه فيما خلق القلب له من التدبر والتفكر والنظر فيما ينبغي أن ينظر فيه." (1)

فإذا ما تصفحنا "أسرار البلاغة" وجدنا هذه المسألة ذاتها، إذ يقول "ومثل من توقف في التفات هذه الأسامي إلى معانيها الأولى وظن أنها مقطوعة" عنها قطعاً يرفع الصلة بينها وبين ما جازت إليه، مثل من نظر في قوله تعالى: (إنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ) فرأى أن المعنى على الفهم والعقل، أخذه ساذجاً، وقبله غفلاً، وقال: القلب ههنا بمعنى العقل، وترك أن يأخذه من جهته، ويدخل إلى المعنى من طريق المثل، فيقول: أنه حين لم ينتفع بقلبه ولم يفهم بعد أن كان القلب للفهم جمل كأنه عدم القلب جملة وخلع من صدره خلعاً كما جعل الذي لا يعي الحكمة ولا يعمل الفكر فيما تدركه

--------------------------------------------

(1) دلائل الإعجاز صـ 198 ..
এবং উপমা (অর্থাৎ প্রতিনিধিত্বমূলক রূপক), যা আব্দুল কাহির গ্রহণ করেছেন এবং এ থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বায়ান) সেই তত্ত্বটি গঠন করেছেন যা তিনি তাঁর বিখ্যাত সংক্ষিপ্ত উক্তি "অর্থ এবং অর্থের অর্থ"-এ সারসংক্ষেপ করেছেন। এর তাৎপর্য হলো: আব্দুল কাহির তাঁর "দালায়িলুল ইজায" গ্রন্থটি তাঁর জীবনের সপ্তম দশকে রচনা করেছেন, যা তাঁর ৪৭১ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ জীবনের একটি শেষ পর্যায় ছিল।

এবং এই সময়কালটি "দালায়িলুল ইজায"-এ তাঁর এই উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি অনেক আগে কাজ করেছিলাম এবং আমি তা এখানে লিপিবদ্ধ করেছি, কারণ আমরা এখন যে আলোচনার দিকে উপনীত হয়েছি তার সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে: মহান আল্লাহর বাণী: 'নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার অন্তর আছে' অর্থাৎ ঐ ব্যক্তির জন্য যে তার অন্তরকে সেই কাজে নিয়োজিত করেছে যার উদ্দেশ্যে অন্তর সৃষ্টি করা হয়েছে; যেমন অনুধাবন, গভীর চিন্তা-গবেষণা এবং যা পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক তাতে দৃষ্টিপাত করা।" (১)

আমরা যদি "আসরারুল বালাগাহ" গ্রন্থটি পর্যালোচনা করি, তবে আমরা এই একই মাসয়ালাটি খুঁজে পাই, যেখানে তিনি বলেন: "আর ঐ ব্যক্তির উদাহরণ যে এই নামগুলোর তাদের মূল অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ধারণা করেছে যে তা তাদের থেকে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যা তাদের এবং যার দিকে তারা রূপকার্থে স্থানান্তরিত হয়েছে তার মধ্যকার যোগসূত্রকে ছিন্ন করে দেয়—তা ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয় এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার অন্তর আছে) এর দিকে লক্ষ্য করেছে এবং দেখেছে যে এর অর্থ হলো বোধশক্তি ও বুদ্ধি, ফলে সে বিষয়টিকে স্থূলভাবে গ্রহণ করেছে এবং অসতর্কভাবে মেনে নিয়েছে এবং বলেছে: এখানে 'অন্তর' মানে হলো 'বুদ্ধি'। সে বিষয়টিকে তার সঠিক প্রেক্ষিত থেকে গ্রহণ করা বর্জন করেছে এবং রূপকের পথ ধরে অর্থের গভীরে প্রবেশ করেনি। অথচ তাকে বলা উচিত ছিল যে: যখন সে তার অন্তর দ্বারা উপকৃত হয়নি এবং বুঝতে সক্ষম হয়নি—অথচ অন্তর সৃষ্টিই হয়েছিল বোঝার জন্য—তখন তাকে এমনভাবে গণ্য করা হয়েছে যেন সে সম্পূর্ণ অন্তরহীন এবং তার বক্ষ থেকে তা সমূলে উপড়ে ফেলা হয়েছে; যেমনটি করা হয় এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে প্রজ্ঞা উপলব্ধি করে না এবং যা সে প্রত্যক্ষ করে তাতে চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে না।"

--------------------------------------------

(১) দালায়িলুল ইজায, পৃষ্ঠা ১৯৮।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১২)
عينه وتسمعه أذنه كأنه عادم للسمع والبصر، وداخل في العمى والصم، ويذهب عن أن الرجل إذا قال: قد غاب عني قلبي وليس يحضر لي قلبي فإنه يريد أن يخيل إلى السامع أنه قد فقد قلبه دون أن يقول: غاب عني علمي وعزب عقلي، وأن كان المرجع عند التحصيل إلى ذلك، كما أنه إذا قال: لم أكن ههنا: يريد شدة غفلته عن الشيء فهو يضع كلامه على تخييل أنه كان غاب هكذا بجملته وبذاته دون أن يريد الرجل الأخبار بأن علمه لم يكن هناك". (1)

فقوله: (كنت قد عملتها قديماً) أشارة واضحة إلى قدم عهده بتأليف الأسرار الذي من المرجح أن يكون قد ألفه في مقتبل حياته الفكرية، وبداية عهده بالتأليف في البلاغة، في الوقت الذي لم تمكنه الظروف الاجتماعية والسياسية والاقتصادية من الحصول على كتاب نقد الشعر لقدامه، للاطلاع على ما فيه من أفكار نقدية بلاغية، فجاء كتابه "الأسرار" - وهو الذي يبحث فيه موضوعات البيان - خالياً من الكتابة، ومن الاستعارة التمثيلية - وهما الموضوعان اللذان بنى عليهما عبد القاهر نظرية البيان في "دلائل الإعجاز".

وقريب من هذا الذي تراه: ما لاحظه الدكتور غنيمي هلال (2) من أن عبد القاهر - وهو يكتب الأسرار - لم تكن قد نضجت عنده بصفة حاسمة نظرية النظم، إذ رأى عبد القاهر - في الأسرار - يقسم الكلام إلى

--------------------------------------------

(1) أسرار البلاغة صـ 290 (طبعة صبيح) ..

(2) النقد الأدبي الحديث صـ 281 ..
তাঁর চোখ এবং তাঁর কান তাকে এমনভাবে শোনায় যেন সে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিহীন এবং অন্ধত্ব ও বধিরতার অন্তর্ভুক্ত। সে এ কথা ভুলে যায় যে, একজন মানুষ যখন বলে: "আমার অন্তর আমার কাছ থেকে অনুপস্থিত হয়ে গেছে এবং আমার অন্তর আমার কাছে হাজির নেই", তখন সে শ্রোতার মনে এই ধারণা দিতে চায় যে সে তার সশরীরে বিদ্যমান অন্তরটিই হারিয়ে ফেলেছে; সে এ কথা বলে না যে: "আমার জ্ঞান অনুপস্থিত হয়ে গেছে এবং আমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে", যদিও সারকথা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিষয়টি তা-ই। যেমন সে যখন বলে: "আমি এখানে ছিলাম না", তখন সে কোনো বিষয়ে তার চরম গাফিলতি বা অসতর্কতা বোঝাতে চায়। ফলে সে তার কথাকে এমন এক কল্পনার ওপর স্থাপন করে যেন সে সশরীরে ও সামগ্রিকভাবে সেখান থেকে অনুপস্থিত ছিল, অথচ সে এই সংবাদ দিতে চায় না যে তার জ্ঞান সেখানে উপস্থিত ছিল না। (১)

সুতরাং তাঁর এই উক্তি: (আমি এটি প্রাচীনকালে রচনা করেছি) এটি 'আসরার' রচনার প্রাচীনতার প্রতি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা সম্ভবত তিনি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের শুরুতে এবং অলঙ্কারশাস্ত্র রচনার সূচনা লগ্নে রচনা করেছিলেন। এমন এক সময়ে যখন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাঁর জন্য কুদামার 'নাকদুশ শির' (কবিতা সমালোচনা) গ্রন্থটি সংগ্রহ করে তার মধ্যকার সমালোচনামূলক ও আলঙ্কারিক ধারণাগুলো অবগত হওয়া সম্ভব করেনি। ফলে তাঁর 'আসরার' গ্রন্থটি—যাতে তিনি ইলমে বয়ানের বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করেছেন—'কিতাবাত' (লিখনশৈলী) এবং 'আল-ইস্তিআরাহ আত-তামসিলিয়্যাহ' (উপমামূলক রূপক) থেকে শূন্য রয়ে গেছে; অথচ এই দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই আব্দুল কাহির 'দালাইলুল ইজায'-এ তাঁর বয়ান তত্ত্ব নির্মাণ করেছেন।

আপনি যা দেখছেন তার কাছাকাছি হলো ড. গুনাইমি হিলাল (২) যা লক্ষ্য করেছেন, তা হলো: আব্দুল কাহির যখন 'আসরার' লিখছিলেন, তখন তাঁর কাছে 'নাজম' (বিন্যাস) তত্ত্বটি চূড়ান্তভাবে পরিপক্ক হয়নি। কারণ আব্দুল কাহির 'আসরার'-এ কথাকে বিভক্ত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আসরারুল বালাগাহ, পৃষ্ঠা ২৯০ (সাবিহ সংস্করণ)।

(২) আন-নাকদুল আদাবি আল-হাদিস, পৃষ্ঠা ২৮১।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
ما هو شريف في جوهره، وما هو شريف بصنعته (1) ولكنه في نظرية النظم - وهو يكتب الدلائل - قد أولى الصورة الأدبية كل حصن ولم يعتد بالكلام الذي لا يتآزر لتتم هذه الصورة، وقسم الكلام إلى حسن للنظم ومعناه، وحسن لنظمه. (2)

فإذا ما أضفنا إلى هذا إلى هذا أن عبارة "توخي معاني النحو فيما بين الكلم" - وهي الصيغة التي ارتضاها عبد القاهر ترجمة أمينة لنظرية النظم - لم ترد أصلاً في الأسرار علمنا بأن هذه الصيغة لم يكن قد توصل إليها وهو يكتب الأسرار.

هذه الدراسة شيقة ممتعة حقاً، لأنها تفتح لنا آفاقاً جديدة لدراسة التراث البلاغي والنقدي لعبد القاهر الجرجاني، وتتيح لنا الاستمتاع برؤية حقيقية لأفكاره، وآرائه واتجاهاته، وتهيئ لنا الجو الصحي الذي تفهم فيه عباراته فهماً طبيعياً، لا فهماً متكلفاً، ونرى فيه معالم نظرياته الأدبية والنقدية عن كثب، دون أن تحجبها عن عقولنا دياجير الغيب، وأستار الإهمال!

والأمر الثالث: هو دراسة التصور العام للبلاغة في ذهن عبد القاهر والأطر العامة التي تصورها ممثلة لخصائص النظم، وصور البيان وقيم الجمال.

--------------------------------------------

(1) أسرار البلاغة صـ 19، صـ 20.

(2) دلائل الإعجاز صـ 77 إلى صـ 79. .
যা স্বীয় সারবস্তুর দিক থেকে মর্যাদাপূর্ণ এবং যা তার শৈল্পিক নির্মাণের দিক থেকে মর্যাদাপূর্ণ (১); তবে তিনি 'নাজম' (বিন্যাস) তত্ত্বে — যখন তিনি 'দালাইল' লিখছিলেন — সাহিত্যিক রূপকল্পকে পূর্ণ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং এমন কোনো কথাকে ধর্তব্যে নেননি যা এই রূপকল্প পূর্ণ করতে পরস্পর সহযোগিতা করে না। তিনি কথাকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: যা বিন্যাস ও অর্থ উভয়ের দিক থেকে উত্তম, এবং যা কেবল বিন্যাসের দিক থেকে উত্তম। (২)

আমরা যদি এর সাথে আরও যুক্ত করি যে, "শব্দসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাকরণিক অর্থের অনুসরণ করা" — যা আব্দুল কাহের জুরজানি 'নাজম' তত্ত্বের একটি বিশ্বস্ত ভাষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন — এই বাক্যাংশটি 'আসরার' গ্রন্থে আদৌ উল্লেখিত হয়নি; তবে আমরা জানতে পারি যে, 'আসরার' রচনার সময় তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

এই গবেষণাটি সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য, কারণ এটি আব্দুল কাহের জুরজানির অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও সমালোচনা-তত্ত্বের ঐতিহ্য পর্যালোচনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করে। এটি আমাদের তাঁর চিন্তা, মতামত ও ঝোঁকসমূহকে প্রকৃতরূপে দেখার সুযোগ করে দেয় এবং এমন এক সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে যেখানে তাঁর বক্তব্যসমূহ স্বাভাবিকভাবে বোঝা সম্ভব হয়, কৃত্রিমভাবে নয়। এতে আমরা তাঁর সাহিত্য ও সমালোচনা তত্ত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ খুব কাছ থেকে দেখতে পাই, যা অজানার অন্ধকার কিংবা অবহেলার পর্দা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি থেকে আড়াল করতে পারে না!

তৃতীয় বিষয়টি হলো: আব্দুল কাহেরের মানসপটে অলঙ্কারশাস্ত্রের সাধারণ ধারণা এবং সেই সাধারণ কাঠামোগুলোর পর্যালোচনা, যা তিনি 'নাজম'-এর বৈশিষ্ট্য, বর্ণনাশৈলীর রূপকল্প এবং সৌন্দর্যের মানদণ্ড হিসেবে কল্পনা করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আসরারুল বালাগাহ, পৃষ্ঠা ১৯, ২০।

(২) দালাইলুল ই'জাজ, পৃষ্ঠা ৭৭ থেকে পৃষ্ঠা ৭৯।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهذه الدراسة التي نقدمها بين يديك الآن تجمع بين هذه الأمور الثلاثة، فهي لم تأل جهداً في تتبع البذور النقدية التي كان لها شأن في إلهام عبد القاهر أسس نظرية النظم وإرجاعها إلى مظانها من تراث سابقيه.

ثم أنها قد تتبعت أفكاره البلاغية والنقدية عن هذه النظرية وتطورت معها من بداية عهده بالتأليف في البلاغة حتى نهاية اكتمالها في عقله وفكره، ومن ثم بداية تطبيقها تطبيقاً عملياً على التراكيب العربية. كما أنها قد حاولت ما وسعتها المحاولة إبراز الصورة الحقيقية التي كان عبد القاهر يتمثلها للبلاغة في عقله وفكره ومن ثم مقارنتها بما صنعه المتأخرون بهذه النظرية إذ صاغوها في تعريفات ثلاثة لعلوم: المعاني، والبيان والبديع.

على أن هذه المحاولة إنما هي ثمرة جهود أساتذتنا الإجلاء، الذين بثوا في أرواحنا من عزائمهم الصادقة ما جعلنا نستمسك بتراثنا العربي في البلاغة والنقد، لكي نستقي من منابعها الأصلية الصحيحة فنروي ظمأ عقولنا، ونطفئ غلة نفوسنا.

وأرجوا من الله تعالى أن يوفقني لما إليه قصدت، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب."

حسن إسماعيل عبد الرازق

الزيتون في يوم الجمعة غرة صفر سنة 1402 هـ

الموافق 27/ 11/1981.
আপনার সম্মুখে পেশকৃত এই গবেষণাটি এই তিনটি বিষয়কে একত্রিত করেছে। এটি আব্দুল কাহেরকে 'নাজম' বা বিন্যাস তত্ত্বের ভিত্তি নির্মাণে অনুপ্রাণিতকারী সেই সমালোচনামূলক বীজসমূহ অন্বেষণে এবং তার পূর্বসূরিদের ঐতিহ্যে বিদ্যমান সেগুলোর মূল উৎসের দিকে সেগুলোকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে কোনো কার্পণ্য করেনি।

অতঃপর এটি এই তত্ত্ব সম্পর্কে তার অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও সমালোচনামূলক চিন্তাধারাকে অনুসরণ করেছে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে তার রচনার সূচনা লগ্ন থেকে শুরু করে তার বুদ্ধি ও চিন্তায় এটি পূর্ণতা পাওয়া পর্যন্ত তার সাথে সাথে অগ্রসর হয়েছে, এবং পরবর্তীতে আরবি বাক্যগঠনশৈলীর ওপর এর ব্যবহারিক প্রয়োগের সূচনা পর্যন্ত অনুধাবন করেছে। পাশাপাশি এটি সাধ্যমতো সেই প্রকৃত চিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে, যা আব্দুল কাহের তাঁর বুদ্ধি ও চিন্তায় অলঙ্কারশাস্ত্রের জন্য কল্পনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে পরবর্তীকালের পণ্ডিতগণ এই তত্ত্ব নিয়ে যা করেছেন—অর্থাৎ তাঁরা যখন একে ইলমুল মাআনি, ইলমুল বায়ান এবং ইলমুল বাদি -এই তিন শাস্ত্রের সংজ্ঞায় রূপ দান করেছেন—তার সাথে এর তুলনা পেশ করেছে।

তবে এই প্রচেষ্টাটি মূলত আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদগণের শ্রমের ফসল, যাঁরা আমাদের অন্তরে তাঁদের সত্যনিষ্ঠ সংকল্পের মাধ্যমে এমন চেতনা জাগ্রত করেছেন যা আমাদের অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনা বিষয়ক আরবি ঐতিহ্যের সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে আমরা এর মূল ও সঠিক উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারি এবং এর মাধ্যমে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পিপাসা মেটাতে পারি ও অন্তরের তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে আমার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাওফিক দান করেন। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।

হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক

আয-যাইতুন, শুক্রবার, ১লা সফর, ১৪০২ হিজরি

২৭/ ১১/ ১৯৮১ ইংরেজি তারিখের সাথে সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الفصل الأول

(قضية النظم)

ويشتمل على ما يأتي:

(1) المنابع التي أستقى منها عبد القاهر فكرة النظم.

(2) نظرية النظم عند عبد القاهر:

أ- الأسس التي قامت عليها النظرية

ب- درجات النظم عند عبد القاهر

جـ- صنيع المتأخرين بهذه النظرية
‌প্রথম অধ্যায়

(বিন্যাস তত্ত্বের বিষয়টি)

এবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

(১) যে উৎসসমূহ হতে আব্দুল কাহির বিন্যাস তত্ত্বের ধারণা গ্রহণ করেছেন।

(২) আব্দুল কাহিরের নিকট বিন্যাস তত্ত্ব:

ক- যে ভিত্তিগুলোর ওপর এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত

খ- আব্দুল কাহিরের নিকট বিন্যাসের স্তরসমূহ

গ- এই তত্ত্ব নিয়ে পরবর্তী উত্তরসূরিদের কর্মতৎপরতা
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المنابع التي أستقى منها عبد القاهر فكرة المنظم

 

عندما تحدى القرآن الكريم العرب أن يأتوا ولو بمثل أقصر سورة منه، وعجزوا عن ذلك ضاع صوابهم، وضربوا أخماساً في أسداساً من حيراتهم، لأنهم لم يستطيعوا مجاراة القرآن الكريم في بلاغته، وهم أرباب الفصاحة وفرسان البلاغة، وسادة الكلام! ووصفوا القرآن تارة بأنه شعر، وتارة أخرى بأنه سحر.

أما أنه شعر: فلأنهم رأوه منظوماً، ولكنه نظم خاص، فلا هو بالشعر، وفيهم الشعراء المغلقون، ولا هو بالنثر وفيهم الخطباء المفوهون! .

وأما أنه سحر: فلأنهم وجدوا له وقعاً في قلوبهم لم يستطيعوا مغالبته، وتأثيراً في نفوسهم لم يقدروا على التخلص منه.

على أنه أحد خصوم الرسول الألداء - ويقال أنه الوليد بن المغيرة المخزومي - قد استمع إلى النبي صلى الله عليه وسلم -وهو يتلو بعض أي القرآن الكريم: فقال: " والله لقد سمعت من محمد كلاماً ما هو من كلام الأنس، ولا هو من كلام الجن " وأن له لحلاوة وأن عليه لطلاوة" (1)

--------------------------------------------

(1) تفسير الزمخشري في سورة المدثر.
যে উৎসসমূহ থেকে আব্দুল কাহির 'নাজম' (বিন্যাস)-এর ধারণা গ্রহণ করেছেন

 

যখন পবিত্র কুরআন আরবদেরকে এর ক্ষুদ্রতম একটি সূরার মতো কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল এবং তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন তাদের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছিল এবং তারা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছিল। কারণ তারা পবিত্র কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শ্রেষ্ঠত্বের মোকাবিলা করতে সক্ষম ছিল না, অথচ তারাই ছিল ভাষাশৈলীর অধিপতি, অলঙ্কারশাস্ত্রের বীর এবং বাক্যের সম্রাট! তারা কুরআনকে কখনো কবিতা হিসেবে, আবার কখনো যাদু হিসেবে অভিহিত করেছিল।

কবিতা বলার কারণ: তারা একে সুবিন্যস্ত দেখেছিল, তবে এটি ছিল এক বিশেষ ধরনের বিন্যাস; এটি যেমন কবিতা ছিল না (যদিও তাদের মধ্যে দক্ষ কবি বিদ্যমান ছিল), তেমনি এটি গদ্যও ছিল না (যদিও তাদের মধ্যে প্রাজ্ঞ বাগ্মী ও বক্তা বিদ্যমান ছিল)!

যাদু বলার কারণ: তারা তাদের অন্তরে এর এমন এক প্রভাব অনুভব করেছিল যা তারা প্রতিহত করতে পারেনি এবং তাদের মনের ওপর এমন এক ক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছিল যা থেকে তারা নিষ্কৃতি পেতে সক্ষম ছিল না।

এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম কট্টর শত্রু—বলা হয়ে থাকে তিনি ছিলেন ওয়ালিদ বিন মুগীরা মাখযূমী—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতে শোনেন এবং বলেন: "আল্লাহর কসম, আমি মুহাম্মাদের কাছ থেকে এমন বাণী শুনেছি যা মানুষের বাণী নয়, জিনের বাণীও নয়। নিশ্চয়ই এতে এক অনন্য মিষ্টতা রয়েছে এবং এর ওপর রয়েছে অপূর্ব লাবণ্য।" (১)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মুদ্দাসসির-এর অধীনে তাফসীরে যামাখশারী।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد جاء في حديث أبي ذر - في سبب أسلامه - أنه قال - قال لي أخي أنيس: أن لي حاجة إلى مكة، فأنطلق فراث فقلت: ما حبسك؟ قال: لقيت رجلاً يقول أن الله تعالى أرسله: فقلت: فما يقول الناس؟ قال: يقولون: شاعر، ساحر، كاهن، قال أبا ذر: وكان أنيس أحد الشعراء فقال: تالله لقد وضعت قوله على أقراء الشعراء فلم يلتئم على لسان أحد، ولقد سمعت الكهنة فما هو بقولهم، والله أنه لصادق، وأنهم لكاذبون. (1)

والحق أن القرآن الكريم ليس شعراً، وليس سحراً، فقد أقسم الله تعالى للعوب في محكم كتابه قائلاً لهم: فَلا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ (38) ومَا لا تُبْصِرُونَ (39) إنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ (40) ومَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلاً مَّا تُؤْمِنُونَ (41) ولا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ" (2)

ولما بحث العلماء مسألة الإعجاز القرآني، لم تغب عن أذهانهم فكرة النظم القرآني - على الرغم من أن منهم من ذهب إلى أن القرآن الكريم معجزة لتضمنه أخباراً غيبية، كالأخبار عن الأمم السابقة، وكالأخبار عما سيحدث في المستقبل ومنهم من ذهب إلى أن الله تعالى قد صرف العرب عن معارضة القرآن الكريم - وأن كانت في مقدورهم - ألا أن فكرة النظم هي التي انتصرت في النهاية كسر

--------------------------------------------

(1) ثلاث رسائل في إعجاز القرآن الكريم صـ 124، صـ 125.

(2) الحاقة (38 - 42) ..
আবু যর-এর ইসলাম গ্রহণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন- আমার ভাই উনাইস আমাকে বললেন: "মক্কায় আমার একটি প্রয়োজন আছে।" অতঃপর তিনি সেখানে গেলেন এবং ফিরতে বিলম্ব করলেন। আমি বললাম: "আপনাকে কিসে আটকে রেখেছিল?" তিনি বললেন: "আমি এমন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছি যিনি বলেন যে মহান আল্লাহ তাঁকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন।" আমি বললাম: "লোকেরা কী বলে?" তিনি বললেন: "তারা বলে—তিনি কবি, জাদুকর বা গণক।" আবু যর বলেন: উনাইস নিজেও একজন কবি ছিলেন, তাই তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! আমি তাঁর কথাগুলোকে কাব্যরীতির বিভিন্ন ছন্দের সাথে মিলিয়ে দেখেছি, কিন্তু তা কারো মুখের ভাষার সাথেই মেলে না। আমি গণকদের কথাও শুনেছি, কিন্তু তাঁর কথা তাদের কথার মতো নয়। আল্লাহর কসম! তিনি অবশ্যই সত্যবাদী এবং তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।" (১)

আর প্রকৃত সত্য হলো কুরআন কারীম কোনো কবিতা নয় এবং কোনো জাদুও নয়। মহান আল্লাহ তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে আরবদের লক্ষ্য করে শপথ করে বলেছেন: "অতএব আমি শপথ করছি যা তোমরা দেখতে পাও (৩৮) এবং যা তোমরা দেখতে পাও না (৩৯) নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী (৪০) আর এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব সামান্যই বিশ্বাস করো (৪১) এবং এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।" (২)

আলিমগণ যখন কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তখন কুরআনের শব্দবিন্যাস ও রচনারীতির (নাজম) বিষয়টি তাঁদের দৃষ্টির আড়ালে ছিল না—যদিও তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, কুরআন কারীম একটি মুজিজা কারণ এতে অদৃশ্যের সংবাদ রয়েছে, যেমন পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে সেই সংক্রান্ত সংবাদ। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, মহান আল্লাহ আরবদেরকে কুরআন কারীমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন—যদিও তা তাদের সাধ্যের মধ্যে ছিল—তবে শেষ পর্যন্ত রচনারীতির ধারণাই চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সালাস রাসায়িল ফি ইজাযিল কুরআন কারীম, পৃ. ১২৪, ১২৫।

(২) আল-হাক্কাহ (৩৮ - ৪২) ..
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
عظيم لإعجاز القرآن الكريم.

فها هو أبو عثمان عمرو بن بحر الجاحظ المتوفى سنة 255 هـ يؤديه إحساسه العميق بروعة النظم، وما يكسبه الكلام من الماء والرونق والحيوية والنضرة والروعة إلى أن يصيح في معاصريه: أن أعجاز القرآن الكريم في نظمه، ويؤلف في ذلك كتاباً، ولكنه يسقط من يد الزمن، (1) ولكنه يكرر هذا المعنى في كتاباته، كقوله" في كتابنا المنزل الذي يدلنا على أنه صدق نظمه البديع الذي لا يقدر على مثله

العباد. (2)

وها هو الأديب اللغوي المحدث أبو سليمان حمد بن محمد بن إبراهيم الخطابي البستي المولود في سنة 319 هـ، والمتوفى سنة 388 هـ يصنف رسالة في " بيان إعجاز القرآن".

وفي هذه الرسالة يقرر أن الناس قديماً وحديثاً قد ذهبوا في هذا الموضوع من القول كل مذهب، ولكنهم لم يصدروا عن رى ثم يناقش فكرة الصرفة، ويد حصنها ولا يرتضيها، ثم يناقش فكرة تضمن القرآن الكريم للأخبار المستقبلة، ولكنه لا يرتضيها شرحاً لأسرار الإعجاز.

--------------------------------------------

(1) البلاغة تطور وتاريخ صـ 52.

(2) الحيوان جـ 4 صـ 90 ..
পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের জন্য এক মহান নিদর্শন।

এই তো আবু উসমান আমর ইবনে বাহর আল-জাহিজ (মৃত্যু ২৫৫ হিজরি), শৈল্পিক বিন্যাসের চমৎকারিত্ব সম্পর্কে যাঁর গভীর অনুভূতি এবং বাক্য যা লালিত্য, জৌলুস, প্রাণবন্ততা, সজীবতা ও মহিমা অর্জন করে, তা তাঁকে তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যে: পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব নিহিত এর বিন্যাসের মধ্যে। তিনি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, কিন্তু কালের গর্ভে তা হারিয়ে যায়, (১) তবে তিনি তাঁর অন্যান্য লেখায় এই অর্থটি পুনরাবৃত্তি করেছেন, যেমন তাঁর উক্তি: "আমাদের অবতীর্ণ কিতাবে যা আমাদের কাছে এর সত্যতার প্রমাণ দেয়, তা হলো এর অপূর্ব বিন্যাস, যার সমতুল্য কিছু সৃষ্টি করতে

বান্দারা সক্ষম নয়। (২)

আর এই তো সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও মুহাদ্দিস আবু সুলাইমান হামদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-খাত্তাবি আল-বুস্তি (জন্ম ৩১৯ হিজরি, মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি), যিনি "বিয়ানু ই’জাজিল কুরআন" বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।

এই পুস্তিকায় তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রাচীন ও আধুনিককালের মানুষ এই বিষয়ে প্রতিটি মতাদর্শই অবলম্বন করেছেন, কিন্তু তাঁরা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি। এরপর তিনি সারফাহ (বিমুখীকরণ) মতবাদ নিয়ে আলোচনা করেন এবং এর ভিত্তি দুর্বল করে দেন ও তা গ্রহণ করেননি। অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআনে ভবিষ্যৎ সংবাদ অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন, তবে অলৌকিকত্বের রহস্যের ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি এতে সন্তুষ্ট হননি।

--------------------------------------------

(১) আল-বালাগাতু তাতাওউরু ওয়া তারিখ, পৃষ্ঠা ৫২।

(২) আল-হায়াওয়ান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯০।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وأما القول بأن السر في إعجاز القرآن الكريم إنما هو بلاغته التي أعجزت العرب، فهو رأي صحيح، غير إن أصحاب هذا الرأي - وهم الغالبية العظمى - لم يحاولوا أن يتبينوا مرجع هذه البلاغة قائلين: قد يخفى سببه عن البحث، ويظهر أثره في النفس، لأنك تجد كلامين: أحدهما يهزك ويطريك وتنتشي له، والآخر لا يهزك ولا يطريك، وهما معاً فصيحان، ثم لا يوقف لشيء من ذلك على علة!

ومثل هذا القول لا يقنع في مثل هذا العلم، ولا يشفي من داء الجهل به، وقد أستشهد بعضهم على هذا بمثل ما فعل ذو الرمة وجرير:

فقد ذكرت الرواة أن جريراً مر بذي الرمة وقد عمل قصيدته التي

أولها: نبت عيناك عن طلل بحزوى … عفتة الريح وامتننح القطارا

فقال: ألا أنجدك بأبيات تزيد فيها! ، فقال: نعم، فقال:

يعد الناسبون بني تميم … بيوت المجد أوسمة كباراً

يعدون الرباب وآل تميم … وسعداً ثم حنظلة الخيارا

ويذهب بينها المرئي لغوا … كما ألغيت في الدية الحوارا

فوضعها ذو الرمة في قصيدته، ثم مر به الفرزدق، فسأله عما أحدث من الشعر، فأنشد القصيدة، فلما بلغ هذه الأبيات
আর কুরআনুল কারীমের মুজিজার (অলৌকিকত্ব) রহস্য যে কেবল তার বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রে নিহিত যা আরবদের অক্ষম করে দিয়েছিল—এই মতটি সঠিক। তবে এই মতের অনুসারীরা—যারা বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ—এই বালাগাতের উৎস বা ভিত্তি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেননি। তারা বলেন: এর কারণ হয়তো গবেষণার আড়ালে থেকে যায়, কিন্তু এর প্রভাব অন্তরে প্রকাশ পায়। কারণ আপনি একই ধরণের দুটি বক্তব্য পাবেন: যার একটি আপনাকে আলোড়িত করবে, মুগ্ধ করবে এবং আপনি তাতে পুলকিত হবেন; আর অন্যটি আপনাকে আলোড়িত বা মুগ্ধ করবে না, অথচ উভয়ই সমানভাবে সাবলীল ও প্রাঞ্জল। এরপরও এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না!

এই ধরণের কথা এই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সন্তোষজনক নয় এবং এটি এ বিষয়ক অজ্ঞতার ব্যাধি নিরাময় করে না। কেউ কেউ এর স্বপক্ষে উদাহরণ হিসেবে যুর রুম্মাহ এবং জারীরের কৃতকর্মটি উল্লেখ করেছেন:

বর্ণনাকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, জারীর একদা যুর রুম্মাহ-র পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি (যুর রুম্মাহ) তার সেই কাসিদাটি রচনা করেছিলেন যার

শুরু ছিল: হাযওয়ার ধ্বংসাবশেষ থেকে তোমার চোখ দুটি বিমুখ হলো … যাকে বাতাস মিটিয়ে দিয়েছে এবং বৃষ্টিধারা সিক্ত করেছে

তখন জারীর বললেন: আমি কি তোমাকে এমন কিছু পঙ্ক্তি দিয়ে সাহায্য করব না যা তুমি এতে যোগ করবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন জারীর বললেন:

বংশবিদগণ বনু তামীমকে গণনা করেন … মর্যাদার ঘরসমূহের বড় বড় নিদর্শন হিসেবে

তারা রিবাব এবং তামীম পরিবারকে গণনা করেন … এবং সা'দ ও অতঃপর শ্রেষ্ঠ হানযালাকে

আর এদের মাঝে আল-মারয়ি বংশ তুচ্ছ হিসেবে হারিয়ে যায় … যেমন রক্তপণের উটের ক্ষেত্রে এক বছরের কম বয়সী উটশাবককে বাদ দেওয়া হয়

অতঃপর যুর রুম্মাহ এই পঙ্ক্তিগুলো তার কাসিদায় অন্তর্ভুক্ত করলেন। এরপর ফারাজদাক তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে তার নতুন কবিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি কাসিদাটি আবৃত্তি করলেন। যখন তিনি এই পঙ্ক্তিগুলোতে পৌঁছালেন
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২০)
قال: ليس هذا من بحرك: مضغها أشد لحين منك! قال: فاستدركها بطبعه، وفطن لها بلطف ذهنه. (1)

فلابد - أذن - من سبب لاستحسان كلام دون آخر: وبحث عن السبب فوجده، ولم يتعد هذا السبب النظم.

فالسبب الحقيقي - في رأي الخطابي - إن أجناس الكلام مختلفة فمنها البليغ الرصين الجزل، ومنها: الفصيح القريب السهل، ومنها الجائز الطلق الرسل.

والقسم الأول: هو أعلى طبقات الكلام وأرفعه، والقسم الثاني هو أوسط الكلام وأقصده، والقسم الثالث: هو أدناه وأقربه.

وقد حازت بلاغة القرآن الكريم من كل هذه الأقسام الثلاثة حصة، وأخذت من كل نوع من أنواعها شعبة، فانتظم بامتزاج هذه الأوصاف الثلاثة نمط من الكلام يجمع بين الفخامة والعذوبة، فكان اجتماع هذين الأمرين الفخامة والعذوبة - في نظمه - مع نبو كل واحد منهما عن الآخر فضيلة خص بها القرآن الكريم.

ولا تقوم أجزاء الكلام إلا على هذه الأمور الثلاثة: (لفظ حامل، ومعنى قائم، ورباط لهما ناظم).

--------------------------------------------

(1) ثلاثة رسائل في إعجاز القرآن صـ 25 ..
তিনি বললেন: "এটি তোমার সমুদ্রের (জ্ঞানের পরিধির) বিষয় নয়; এর চর্বণ তোমার চোয়ালের চেয়েও শক্ত (অর্থাৎ এটি তোমার পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন)!" তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আপন স্বভাবজাত রুচিবোধ দ্বারা তা উপলব্ধি করলেন এবং স্বীয় মেধার সূক্ষ্মতায় তা বুঝতে পারলেন। (১)

সুতরাং একটি বক্তব্যের চেয়ে অন্যটি শ্রেষ্ঠ হওয়ার পিছনে অবশ্যই কোনো কারণ থাকতে হবে। তিনি সেই কারণটি সন্ধান করলেন এবং তা খুঁজে পেলেন; আর এই কারণটি 'নাজম' বা বিন্যাস পদ্ধতি ছাড়া অন্য কিছু নয়।

আল-খাত্তাবীর মতে প্রকৃত কারণ হলো—বক্তব্যের প্রকারভেদ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে কোনটি অত্যন্ত প্রাঞ্জল, সুদৃঢ় ও শক্তিশালী; কোনটি প্রাঞ্জল, সহজবোধ্য ও সাবলীল; আবার কোনটি সাধারণ ও গতানুগতিক।

প্রথম প্রকারটি হলো বক্তব্যের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ স্তর; দ্বিতীয় প্রকারটি মধ্যম ও পরিমিত স্তরের; এবং তৃতীয় প্রকারটি হলো সর্বনিম্ন ও নিকটতম স্তরের।

কুরআনুল কারীমের অলঙ্কারশাস্ত্র এই তিনটি স্তরের প্রতিটিরই অংশ লাভ করেছে এবং এর প্রতিটি প্রকার থেকে একটি শাখা গ্রহণ করেছে। এই তিনটি গুণের সংমিশ্রণে এমন এক পদ্ধতির বাকরীতি সুবিন্যস্ত হয়েছে যা গাম্ভীর্য ও মাধুর্যের সমন্বয় ঘটায়। কুরআনের এই বিন্যাসে গাম্ভীর্য ও মাধুর্য—এই উভয় বিষয়ের একত্রীকরণ ছিল এমন এক অনন্য বৈশিষ্ট্য যা কেবল কুরআনুল কারীমের জন্যই নির্ধারিত, যদিও সাধারণত এই গুণ দুটি একটি অন্যটি থেকে বিমুখ থাকে।

আর বক্তব্যের উপাদানসমূহ কেবল এই তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত হয়: (একটি বাহক শব্দ, একটি বিদ্যমান অর্থ এবং এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয়কারী এক বিন্যাস-বন্ধন)।

--------------------------------------------

(১) সালাসা রাসায়িল ফি ই'জাযিল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৫।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২১)
ومن هنا كانت فكرة النظم - كما نرى - وهي الفكرة التي أستقى منها عبد القاهر الجرجاني، ومن كتابات أخرى تالية لها حتى نضجت في ذهنه فكرة النظم، وأصبحت نظرية متكاملة واضحة المعالم والخطوط في كتابه "دلائل الإعجاز".

وأما أن النظم هو أساس صور البيان - كما يتضح عند الحديث عن النظم عند عبد القاهر - فقد استقاها عبد القاهر من قول الخطابى:

" وأما رسوم النظم فالحاجة إلى الثقافة والحذق فيها أكثر، لأنها لجام الألفاظ، وزمام المعاني، وبه تنتظم أجزاء الكلام ويلتئم بعضه ببعض، فتقوم له صورة في النفس يتشكل بها البيان". (1)

على أن الخطابي قد وجد لإعجاز القرآن وجهاً آخر: وهو صنيعة بالقلوب وتأثيره في النفوس، فإنك لا تسمع كلاما غير القرآن منظوماً ولا منثوراً إذا قرع السمع خلص له إلى القلب من اللذة والحلاوة في حال، ومن الروعة والمهابة في أخرى ما يخلص منه إليه، تستبشر به النفوس، وتنشرح له الصدور، حتى إذا أخذت حظها منه عادت مرتاعة، قد عراها الوجيب والقلق، وتغشاها الخوف والغرق، تقشعر منه الجلود، وتنتزع له القلوب، يجول بين النفس ومضمراتها وعقائدها الراسخة فيها، فكم من عدو للرسول صلى الله عليه وسلم من رجال العرب وفتاكها أقبلوا يريدون اغتياله وقتله، فسمعوا آيات

--------------------------------------------

(1) ثلاث رسائل في إعجاز القرآن صـ 36.
এখান থেকেই 'নাযম' (শব্দবিন্যাস)-এর ধারণার উৎপত্তি - যেমনটি আমরা দেখছি - এবং এটিই সেই ধারণা যা থেকে আবদুল কাহের আল-জুরজানি এবং পরবর্তী অন্যান্য রচনাবলি থেকে উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন, যতক্ষণ না তার মস্তিস্কে এই 'নাযম'-এর ধারণাটি পরিপক্কতা লাভ করে এবং তার "দালাইলুল ইজায" গ্রন্থে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট রূপরেখাসম্পন্ন তত্ত্বে পরিণত হয়।

আর 'নাযম' বা শব্দবিন্যাসই যে অলঙ্কারশাস্ত্রের রূপকল্পের ভিত্তি - যা আবদুল কাহেরের 'নাযম' সংক্রান্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় - তা তিনি আল-খাত্তাবীর এই উক্তি থেকে গ্রহণ করেছেন:

"আর শব্দবিন্যাসের পদ্ধতির ক্ষেত্রে পাণ্ডিত্য ও দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি, কারণ তা হলো শব্দের লাগাম এবং অর্থের নিয়ন্ত্রণকারী; এর মাধ্যমেই বাক্যের অংশগুলো সুশৃঙ্খল হয় এবং একটির সাথে অন্যটি সংলগ্ন হয়, ফলে অন্তরে এমন এক প্রতিকৃতি তৈরি হয় যার মাধ্যমে অলঙ্কারশাস্ত্র বা বর্ণনাভঙ্গি রূপ লাভ করে।" (১)

তবে আল-খাত্তাবী কুরআনের অলৌকিকত্বের অন্য একটি দিকও খুঁজে পেয়েছেন: আর তা হলো হৃদয়ের ওপর এর ক্রিয়া এবং আত্মার ওপর এর প্রভাব। কেননা কুরআন ছাড়া অন্য কোনো কথা, তা কাব্যময় হোক বা গদ্য, যখন কানে প্রবেশ করে তখন তা হৃদয়ে এমন স্বাদ ও মিষ্টতা পৌঁছে দেয় না, আবার কখনও এমন গাম্ভীর্য ও ভীতি সঞ্চার করে না যা কুরআন করে। এতে আত্মা আনন্দিত হয় এবং বক্ষ প্রশস্ত হয়, এমনকি যখন আত্মা তার পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে তখন তা ভীত হয়ে ফিরে আসে, এর ওপর কম্পন ও উদ্বেগ ভর করে এবং ভয় ও নিমজ্জন তাকে আচ্ছন্ন করে। এতে শরীরের চামড়া শিউরে ওঠে এবং অন্তর বিচলিত হয়। এটি মানুষের আত্মা এবং তার অন্তরের নিগূঢ় রহস্য ও সুদৃঢ় বিশ্বাসের মাঝে বিচরণ করে। আরবের কত বীর ও দুঃসাহসী শত্রু যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গুপ্তহত্যা বা প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এসেছিল, কিন্তু যখন তারা আয়াতগুলো শুনল...

--------------------------------------------

(১) সালাসু রাসায়িল ফি ইজাযিল কুরআন, পৃষ্ঠা ৩৬।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২২)
من القرآن الكريم، فلم يلبثوا حين وقعت في مسامعهم أن يتحولوا عن رأيهم الأول، وأن يركنوا إلى مسالمته، ويدخلوا في دينه وصارت عداوته موالاة، وكفرهم إيماناً "وقصة إسلام عمر بن الخطاب رضي الله عنه خير شاهد على هذا. (1)

ولعلك لاحظت أن الخطابي قد ركز على أمرين لبيان أعجاز القرآن الكريم، وهما: النظم وتأثير القرآن في النفوس، وأن هذين الأمرين قد لاحظهما هو بدوره من وصف العرب للقرآن الكريم حين تحداهم - تارة بأنه شعر، لأنهم رأوه منظوماً (2) - على حد تعبير الخطابي نفسه - وتارة بأنه سحر وذلك لتأثيره في نفوسهم تأثيراً لم يستطيعوا دفعه عنها.

ولعلك تلاحظ - أيضاً - أن هذين الأمرين هما اللذان أدار عليها عبد القاهر كتابيه: دلائل الإعجاز وأسرار البلاغة، فقد أراد أولهما على نظرية النظم، وأدار الثاني على مدى تأثير صور البيان في النفوس ويمضي في نفس الطريق أبو بكر محمد بن الطيب الباقلاني المتوفى سنة ×××× وهو من المتكلمين على مذهب الأشاعرة - في كتابه "إعجاز القرآن"، فيرد على مطاعن الملاحدة على أسلوب القرآن الكريم، مبيناً أن الحاجة

--------------------------------------------

(1) ثلاث رسائل صـ 70، صـ 71.

(2) ثلاث رسائل صـ 28.
পবিত্র কুরআন থেকে; ফলে যখনই তা তাদের কর্ণগোচর হলো, তারা তাদের পূর্বের মত পরিবর্তন করতে এবং এর সামনে আত্মসমর্পণ করতে দেরি করেনি, এবং তারা তার দ্বীনে প্রবেশ করল। ফলে তাদের শত্রুতা বন্ধুত্বের এবং তাদের কুফরি ঈমানে রূপান্তরিত হলো। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী এর সর্বোত্তম সাক্ষী। (১)

আর সম্ভবত আপনি লক্ষ্য করেছেন যে, আল-খাত্তাবি পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) বর্ণনায় দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, আর তা হলো: নাজম (সুশৃঙ্খল গঠন) এবং মানুষের অন্তরে কুরআনের প্রভাব। তিনি নিজেও এই দুটি বিষয় লক্ষ্য করেছেন আরবরা যখন পবিত্র কুরআন দ্বারা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল তখন তাদের বর্ণনা থেকে—কখনও তারা একে কবিতা বলেছিল, কারণ তারা একে সুবিন্যস্ত দেখেছিল (২) —স্বয়ং খাত্তাবির নিজস্ব অভিব্যক্তি অনুযায়ী—এবং কখনও তারা একে জাদু বলেছিল, আর তা ছিল তাদের অন্তরে এমন এক প্রভাবের কারণে যা তারা নিজেদের থেকে দূর করতে সক্ষম হয়নি।

সম্ভবত আপনি আরও লক্ষ্য করবেন যে, এই দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই আব্দুল কাহির তার দুটি কিতাব: ‘দালাইলুল ইজায’ এবং ‘আসরারুল বালাগাহ’ পরিচালনা করেছেন। তিনি প্রথমটিকে নাজম (সুসংগতি) তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন, আর দ্বিতীয়টিকে অন্তরে অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রভাবের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত করেছেন। একই পথে অগ্রসর হয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-তয়্যিব আল-বাকিল্লানি (মৃত্যু ৪ শতক)—যিনি আশআরি মাযহাবের একজন কালামশাস্ত্রবিদ—তার ‘ইজাযুল কুরআন’ গ্রন্থে। সেখানে তিনি পবিত্র কুরআনের শৈলীর ওপর নাস্তিকদের করা অভিযোগের খণ্ডন করেছেন, এবং দেখিয়েছেন যে এর প্রয়োজনীয়তা...

--------------------------------------------

(১) সালাসু রাসায়িল, পৃষ্ঠা ৭০, ৭১।

(২) সালাসু রাসায়িল, পৃষ্ঠা ২৮।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
إلى الحديث عن إعجاز القرآن أمس من الحاجة إلى البحوث اللغوية والنحوية، وأن الجاحظ قد صنف في نظم القرآن كتاباً، غير أنه لم يزد فيه على ما قاله المتكلمون من قبله، أما هو فيصرح بأنه سيضيف إلى من سبقوه ما يجب وصفه من طرق البلاغة وسبل البراعة.

وفي أول فصل من كتابه يبين أن القرآن الكريم معجز ببلاغته ثم يعقد فصلاً ثانياً يرد على القائلين بفكرة الصرفة، كالنظام والرمانى.

وفي فصل أخر يبين وجوه الإعجاز القرآني - في رأيه ورأي أصحابه الأشعريين - فيرجعها إلى أمور ثلاثة:

أولهما: ما تضمنه القرآن الكريم من الأخبار عن الغيوب وثانيهما: ما تضمنه من القصص الديني وسير الأنبياء، مع أن الرسول صلى الله عليه وسلم كان أمياً، لا يقرأ ولا يكتب. وثالثهما: بلاغته. وهنا يتحدث عن نظرية الإعجاز القرآني، فيقول عن القرآن الكريم "أنه بديع النظم عجيب التأليف، متناه في البلاغة إلى الحد الذي يعلم عجز الخلق عنه.

ولا يزيد على هذا القدر في رويته لفكرة النظم، ولم يتعمق في الوقوف على خصائص النظم - كما فعل عبد القاهر من بعده - اللهم إلا أن يقرر أن القرآن الكريم لا تتفاوت آية ولا تتباين، بخلاف كلام الفصحاء فأنه يتفاوت من موضوع إلى موضوع. وأن القرآن الكريم يخرج في
কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজাজ) সংক্রান্ত আলোচনা ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণগত গবেষণার চেয়েও অধিক প্রয়োজনীয়। আল-জাহিজ কুরআনের বিন্যাস (নাজম) নিয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন, তবে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী কালাম শাস্ত্রবিদদের বক্তব্যের অতিরিক্ত কিছু সেখানে বর্ণনা করেননি। তবে তিনি (লেখক) ঘোষণা করছেন যে, তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের আলোচনার সাথে অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন সব পদ্ধতি ও শৈল্পিক উৎকর্ষের পথসমূহ যুক্ত করবেন যা বর্ণনা করা অপরিহার্য।

তাঁর কিতাবের প্রথম পরিচ্ছেদে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আল-কুরআন তার অলঙ্কারশৈলীর (বালাগাত) কারণেই অলৌকিক। এরপর তিনি দ্বিতীয় একটি পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত করেন যেখানে তিনি 'সারফাহ' মতবাদে বিশ্বাসীদের—যেমন আন-নাজ্জাম এবং আর-রুমমানী—বক্তব্য খণ্ডন করেন।

অন্য একটি পরিচ্ছেদে তিনি কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকগুলো—তাঁর নিজের এবং তাঁর আশআরি অনুসারীদের মতানুসারে—স্পষ্ট করেন এবং সেগুলোকে তিনটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেন:

প্রথমটি: পবিত্র কুরআনে বিদ্যমান অদৃশ্য জগতের (গায়েবি) সংবাদসমূহ। দ্বিতীয়টি: এতে বর্ণিত ধর্মীয় কাহিনী এবং নবীদের জীবনচরিত, যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মী ছিলেন, তিনি পড়তে বা লিখতে জানতেন না। তৃতীয়টি: এর অলঙ্কারশৈলী। এখানে তিনি কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আল-কুরআন সম্পর্কে বলেন, "এটি অপূর্ব বিন্যাস ও বিস্ময়কর রচনার অধিকারী, এবং এর অলঙ্কারশৈলী এমন এক চরম সীমায় পৌঁছেছে যার ফলে সৃষ্টির অক্ষমতা সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়।"

বিন্যাস (নাজম) সংক্রান্ত তাঁর চিন্তাধারায় তিনি এই সীমার অতিরিক্ত কিছু বলেননি এবং বিন্যাসের গূঢ় বৈশিষ্ট্যসমূহ উদঘাটনে তিনি খুব একটা গভীরতা স্পর্শ করেননি—যেমনটি পরবর্তীতে আবদুল কাহের করেছিলেন—তবে তিনি এতটুকু সুনিশ্চিত করেছেন যে, পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো তারতম্য বা বৈসাদৃশ্য নেই। অথচ বাগ্মীদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তা বিষয়ভেদে বিভিন্ন স্তরের বা অসম হয়ে থাকে। আর পবিত্র কুরআন এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
بلاغة صياغته عن طوق الأنس والجن.

ثم يذكر أنه مما يبين لك روعة القرآن الكريم: أن الكلمة منه إذا ذكرت في تضاعيف كلام فإنهما تتألق بين جاراتها تألقاً، وأنه قد وضع في أوائل بعض صوره حروفاً مجموعها: أربعة عشر حرفاً هي نصف حروف المعجم، ليبين بذلك أن كلامه منتظم من نفس الحروف التي يستخدمها العرب، ومع ذلك فأنهم قد عجزوا عن معارضته.

هذا إلى أنه قد خلا من الغريب الوحشي المستكره، ومن الصنعة المتكلفة السقوتة.

وبهذا فإن الباقلاني لم يخرج عن قوله: أن القرآن الكريم معجز ببلاغته، وأن بلاغته ترجع إلى نظمه الفريد، ولم يستطع الولوج إلى نظرية النظم لبيان أسرارها وخصائصها.

غير أن أدبياً معاصراً له هو القاضي على بن عبد العزيز الجرجاني المتوفى سنة 312 هـ قد تحدث عن النظم في كتابه " الوساطة بين المتنبي وخصومه" واستطاع أن يزيل شيئاً من الغموض الذي كان يحيط بنظرية النظم، وأن يزيح الستار قليلاً عن بعض جوانبها، وأن يلهم تلميذه، عبد القاهر من بعده كيفية الوصول إلى معالمها، وأن يعطيه النبراس الذي يهتدي به للوقوف على أسرارها.

ومع أن القاضي الجرجاني لم يكن يتعرض لنظرية الإعجاز القرآني
এর রচনার অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গভীরতা মানুষ ও জিনের সাধ্যাতীত।

অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন যে, পবিত্র কুরআনের চমৎকারিত্ব প্রকাশকারী বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো: এর কোনো শব্দ যখন কোনো আলোচনার মাঝখানে উল্লেখ করা হয়, তখন সেটি তার পার্শ্ববর্তী শব্দরাজির মধ্যে উজ্জ্বলভাবে ভাস্বর হয়ে ওঠে। আর তিনি (আল্লাহ) এর কিছু সূরার শুরুতে এমন কিছু বর্ণ স্থাপন করেছেন যার মোট সংখ্যা চৌদ্দটি; যা বর্ণমালার অর্ধেক। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর বাণী সেই বর্ণগুলো দিয়েই গঠিত যা আরবরা ব্যবহার করে, তা সত্ত্বেও তারা এর মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়েছে।

এর পাশাপাশি এটি শ্রুতিকটু ও দুর্বোধ্য সংকর শব্দ এবং কৃত্রিম ও নিম্নমানের অলঙ্করণ থেকে মুক্ত।

এর মাধ্যমে আল-বাকিল্লানি তাঁর এই বক্তব্য থেকে বিচ্যুত হননি যে: পবিত্র কুরআন তার অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শৈলীর কারণে মুজিজা (অলৌকিক), আর এর অলঙ্কার সেই অনন্য বাচনভঙ্গি বা 'নাজম'-এর ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি 'নাজম তত্ত্বে' প্রবেশ করে এর রহস্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হননি।

তবে তাঁর সমসাময়িক একজন সাহিত্যিক, কাজি আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-জুরজানি (মৃত্যু: ৩১২ হিজরি), তাঁর 'আল-ওয়াসাতাহ বাইনাল মুতানাব্বি ওয়া খুসুমিহি' গ্রন্থে 'নাজম' সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি নাজম তত্ত্বকে ঘিরে থাকা অস্পষ্টতা কিছুটা দূর করতে সক্ষম হন এবং এর কিছু দিকের ওপর থেকে পর্দা সামান্য উন্মোচন করেন। তিনি তাঁর পরবর্তী ছাত্র আব্দুল কাহিরকে এর স্বরূপ অনুধাবনের পথ দেখান এবং তাঁকে এমন এক আলোকবর্তিকা দান করেন যার সাহায্যে তিনি এর রহস্যগুলো উদঘাটন করতে সক্ষম হন।

যদিও কাজি আল-জুরজানি কুরআনের অলৌকিকত্ব বা ইজাজ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করছিলেন না।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াল বালাগাত ওয়ান নাকদ ইনদা আব্দুল কাদির আল-জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
في كتابه هذا، إلا أنه قد تحدث عن النظم باعتباره معياراً من معاييره البلاغية في وساطته بين المتنبي وخصومه.

أورد القاضي الجرجاني - في وساطته - كلمة "النظم" كثيراً، كقوله "فما هذا من المعاني التي يضيع لها حلاوة اللفظ، وبهاء الطبع ورونق الاستهلال - ويشيح عنها حتى يهلهل لأجلها النسج ويفسد النظم" (1) وكقوله: وهو يعيب على قول أبي تمام:

بدى لمن شاء رهن لم يذق جرعاً من راحتيك درى ما الصاب والعسل

فحذف عمدة الكلام وأخل بالنظم" (2) وكقوله "وهلا بلغ أقصى ما يحتمله الوزن وأكثر ما يمكنه النظم" (3) وكقوله: ومنها ما خانه السبك، فساء ترتيبه، وأخل نظمه" (4) وكقوله: "وبين الكلامين في صحة النظم وعذوبة المنطق ما تراه" (5) وكقوله: " وتتبين تفاوتها في سوء الترتيب واختلال النظم" (6).

--------------------------------------------

(1) الوساطة صـ 98.

(2) الوساطة صـ 79.

(3) الوساطة صـ 99.

(4) الوساطة صـ 100.

(5) الوساطة صـ 192.

(6) الوساطة صـ 417.
তাঁর এই কিতাবে, তবে তিনি বিন্যাসকে মুতানাব্বি এবং তাঁর বিরোধীদের মধ্যে তাঁর মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে তাঁর অলঙ্কারিক মানদণ্ডগুলোর একটি হিসেবে আলোচনা করেছেন।

কাযী আল-জুরজানী - তাঁর ওয়াসাতাহ গ্রন্থে - "নাজম" (বিন্যাস) শব্দটি অনেকবার উল্লেখ করেছেন, যেমন তাঁর উক্তি: "এটি এমন কোনো অর্থের অন্তর্ভুক্ত নয় যার জন্য শব্দের মাধুর্য, স্বভাবজাত সৌন্দর্য এবং সূচনার জৌলুস হারিয়ে যায় - এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয় যতক্ষণ না তার কারণে বুনন শিথিল হয়ে যায় এবং বিন্যাস নষ্ট হয়ে যায়" (১) এবং তাঁর উক্তি, যেখানে তিনি আবু তাম্মামের বক্তব্যের সমালোচনা করছেন:

"সে তার কাছে আবির্ভূত হয়েছে যে চায় এমন এক বন্ধক হিসেবে যে কোনো চুমুক পান করেনি, আপনার দুই হাতের তালু হতে সে জেনেছে তিতকুটে গাছ ও মধু কী।"

অতঃপর তিনি বাক্যের প্রধান অংশ বিলুপ্ত করেছেন এবং বিন্যাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন" (২) এবং তাঁর উক্তি "কেন তিনি ছন্দের ধারণক্ষমতার শেষ সীমানায় এবং বিন্যাসের সর্বোচ্চ সম্ভব পর্যায়ে পৌঁছালেন না" (৩) এবং তাঁর উক্তি: "এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যেখানে শৈল্পিক গাঁথুনি তাকে সঙ্গ দেয়নি, ফলে এর বিন্যাস ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে এবং এর শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়েছে" (৪) এবং তাঁর উক্তি: "বিন্যাসের শুদ্ধতা এবং বাচনভঙ্গির মিষ্টতার দিক থেকে উভয় বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা আপনি দেখতেই পাচ্ছেন" (৫) এবং তাঁর উক্তি: "এবং বিন্যাসের ত্রুটি ও শৃঙ্খলার বিচ্যুতির ক্ষেত্রে এগুলোর পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে" (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াসাতাহ, পৃ. ৯৮।

(২) আল-ওয়াসাতাহ, পৃ. ৭৯।

(৩) আল-ওয়াসাতাহ, পৃ. ৯৯।

(৪) আল-ওয়াসাতাহ, পৃ. ১০০।

(৫) আল-ওয়াসাতাহ, পৃ. ১৯২।

(৬) আল-ওয়াসাতাহ, পৃ. ৪১৭।