(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: -)
فتح الكبير المتعال إعراب المعلقات العشر الطوال   (محمد علي طه الدرة)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: فتح الكبير المتعال إعراب المعلقات العشر الطوال

المؤلف: محمد علي طه الدرة

الناشر: مكتبة السوادي جدة - السعودية

الطبعة: الثانية، 1409 هـ- 1989 م

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1440

ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ই'রাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল   (মুহাম্মদ আলী তাহা আদ-দুররাহ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ই'রাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল

লেখক: মুহাম্মদ আলী তাহা আদ-দুররাহ

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাওয়াদী জিদ্দা - সৌদি আরব

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৯ হিজরী- ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ، বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১)
فتح الكبير المتعال

إعراب

المعلقات العشر الطوال

القسم الأول

معلقة أمرئ القيس معلقة عمرو بن كلثوم التغلبي

معلقة طرفة بن العنبر معلقة الحارث بن حلزة البشكري

تأليف

الشيخ محمد علي طه الدرة
ফাতহুল কাবীর আল-মুতাআল

ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ

দশটি দীর্ঘ মুআল্লাকা

প্রথম খণ্ড

ইমরাউল কায়েসের মুআল্লাকা ও আমর বিন কুলসুম আত-তাগলিবি-র মুআল্লাকা

তারাফা বিন আল-আনবারের মুআল্লাকা ও আল-হারিস বিন হিল্লিজা আল-বাশকারি-র মুআল্লাকা

রচনায়

শায়খ মুহাম্মাদ আলী ত্বহা আদ-দুররাহ
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ৩)
فتح الكبير المتعال

إعراب

المعلقات العشر الطوال

القسم الأول
মহান সুউচ্চ সত্তার পক্ষ হতে বিজয়

ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ

দশটি দীর্ঘ ঝুলন্ত কাব্যগাঁথা

প্রথম অংশ
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة للناشر

الطبعة الثانية

جدة 1409 هـ- 1989 مـ

الناشر

مكتبة السوادي للتوزيع

ص. ب-4898 جدة 21412 - ت: 6884212

فاكس 6878664
সর্বস্বত্ব প্রকাশকের সংরক্ষিত

দ্বিতীয় সংস্করণ

জেদ্দা ১৪০৯ হিজরি- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

প্রকাশক

মাকতাবাতুস সওয়াদি লিত-তাওজি‘

পো. বক্স-৪৮৯৮ জেদ্দা ২১৪১২ - টেলিফোন: ৬৮৮৪২১২

ফ্যাক্স ৬৮৭৮৬৬৪
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وأفضل الصلاة، وأتم التسليم على من أرسله الله رحمة للناس أجمعين، محمد الصادق الوعد الأمين، وعلى آله الطيبين الطاهرين، وأصحابه الغر الميامين، وعلى التابعين، وتابع التابعين، ومن نهج نهجهم، وسلك طريقهم إلى يوم الدين.

وبعد فإن المعلقات العشر، وبالأحرى السبع المتفق عليها غنية عن التعريف بها، والإشادة بذكرها، فإن الناس لا يزالون يتداولونها في الجاهلية والإسلام، وقد أخذ الناس منذ العصور الوسطى، يحفظها وتداولها على الألسن ثم بشرحها، وإعراب بعض الكلمات منها، ولما كانت أبياتها لم تعرب بشكل مفصل ومرتب، رغم انتشارها انتشارًا واسعًا، وكانت الحاجة ماسة إلى ذلك، كيف لا؟ والفاروق عمر بن الخطاب رضي الله عنه قد قال على المنبر: أيها الناس عليكم بديوانكم لا تصلوا، قالوا: وما ديواننا؟ قال: شعر الجاهلية فإن فيه تفسير كتابكم، ومعاني كلامكم، قمت بجمع شروحها ومعاني أبياتها، ثم بإعرابها إعرابًا واضحًا ومفصلًا، بعد أن استخرت الله تعالى كعادتي في جميع أموري، وسميت ما صنعت (فتح الكبير المتعال، إعراب المعلقات العشر الطوال) مستمدًا من الله المعونة والتأييد، والمزيد من التوفيق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাকে আল্লাহ সকল মানুষের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন—অর্থাৎ সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত অঙ্গীকার পালনকারী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজন, তাঁর অত্যন্ত মর্যাদাবান ও বরকতময় সাহাবীগণ, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসৃত নীতি ও পথ অবলম্বন করবেন তাঁদের ওপর।

অতঃপর, নিশ্চয় দশটি মুআল্লাকা—অথবা অধিকতর সঠিকভাবে বলতে গেলে সর্বসম্মত সাতটি মুআল্লাকা—পরিচয় প্রদান বা প্রশংসার মুখাপেক্ষী নয়। জাহেলিয়াত এবং ইসলাম উভয় যুগেই মানুষ এগুলো নিরন্তর চর্চা করে আসছে। মধ্যযুগ থেকেই মানুষ এগুলো মুখস্থ করা, মুখে মুখে আদান-প্রদান করা এবং পরবর্তীতে এর ব্যাখ্যা প্রদান ও কিছু শব্দের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাব) শুরু করেছে। যেহেতু এগুলোর পঙক্তিগুলো ব্যাপক প্রচলিত হওয়া সত্ত্বেও বিস্তারিত ও সুশৃঙ্খলভাবে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করা হয়নি, অথচ এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম—আর কেনই বা হবে না? যেখানে ফারুক উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: "হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের দিওয়ান (কাব্য সংকলন) আঁকড়ে ধরো, তবেই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না।" তারা জিজ্ঞেস করল: "আমাদের দিওয়ান কোনটি?" তিনি বললেন: "জাহেলিয়াতের কাব্য; কারণ তাতে তোমাদের কিতাবের (কুরআনের) ব্যাখ্যা এবং তোমাদের কথার অর্থ নিহিত রয়েছে।" তাই আমি আমার সকল বিষয়ের ন্যায় আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা (সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা) করার পর এগুলোর ব্যাখ্যা ও পঙক্তিগুলোর অর্থ সংগ্রহ করেছি এবং সুস্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করেছি। আমি এই কর্মটির নামকরণ করেছি 'ফাতহুল কাবিরুল মুতাআল, ই’রাবুল মুআল্লাকাতিল আশরুত তিওয়াল' (মহান ও সুউচ্চ সত্তার পক্ষ হতে বিজয়: দীর্ঘ দশটি মুআল্লাকার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ)। আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য, সমর্থন এবং অধিকতর তাওফীক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد جريت في عملي هذا على نسق ما أنتجت من مؤلفات، كانت قرة عين لكل من قرأها واقتناها، وقد انتهيت من تبيضها يوم الخميس الواقع في -23 - جمادي الأولى عام 1394 هجرية الموافق -13 - حزيران 1974 ميلادية.

وبما أنني لا أملك مالًا يكفي لطبعها ونشرها أخذت ألتمس ذلك من الناشرين، ومن المكتبات الشهيرة، فكل يعتذر عن ذلك رغم الإلحاح الشديد من الناس بطبعها ونشرها لأنني أعلنت عن كتابتها وتأليفها على صفحات كتبي التي صدرت فيما مضى، ثم أرسلت المخطوط بكامله إلى وزارة الثقافة والإرشاد في دمشق والتمست منها طبعه ونشره فاعتذرت الوزارة عن ذلك بأنه ليس من مهمتها ولا من مخصصاتها.

وختامًا، فإني ألتمس كعادتي فيما أنتجت ممن عثر على هفوة في هذا الكتاب أن ينبهني ويرشدني إليها في المستقبل، فنكون قد أدينا الأمانة العلمية التي كلفنا بها، مع العلم أنني أتقبل بصدر رحب، ونفس كلها رضا وشكر كل إشارة إلى خطأ تأتيني من أي فرد، من أيه ملة، من أية نحلة، من أي صقع عملًا بقول سيدنا الأعظم محمد صلى الله عليه وسلم (خذ الحكمة، ولا يضرك من أي وعاء خرجت، الحكمة ضالة المؤمن يلتقطها حيث وجدها).

ومن أراد غير ذلك فحسبي الله ونعم الوكيل، نعم المولى ونعم النصير عليه توكلت وهو رب العرش العظيم، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

والله أسأل أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم وأن ينفع به كل من قرأه من الناس أجمعين فإنه خير مسئول وهو على كل شيء قدير وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم والحمد لله رب العالمين.

 

الفقير إلى عفوه تعالى

محمد علي طه الدرة
আমি আমার এই কাজে আমার পূর্ববর্তী রচনাসমূহের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যা পাঠকারী ও সংগ্রহকারী প্রত্যেকের জন্য চক্ষুশীতলকারী ছিল। আমি এটি পরিমার্জিত করার কাজ সম্পন্ন করেছি ২৩শে জুমাদাল উলা, ১৩৯৪ হিজরি মোতাবেক ১৩ই জুন, ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার।

যেহেতু এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের জন্য আমার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নেই, তাই আমি প্রকাশকদের এবং বিখ্যাত লাইব্রেরিগুলোর কাছে এর জন্য অনুরোধ করতে থাকি। কিন্তু মানুষের প্রবল আগ্রহ ও এটি প্রকাশের জন্য বারবার তাগাদা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেকেই অসম্মতি জানায়। কারণ আমি ইতোপূর্বে প্রকাশিত আমার বইগুলোর পাতায় এর রচনার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছিলাম। এরপর আমি সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপিটি দামেস্কের সংস্কৃতি ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয় এই বলে অসম্মতি প্রকাশ করে যে, এটি তাদের দায়িত্ব বা বরাদ্দের অন্তর্ভুক্ত নয়।

পরিশেষে, আমার অন্যান্য রচনার ন্যায় এই কিতাবেও যদি কেউ কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে আমি তার কাছে অনুরোধ করছি যেন তিনি আমাকে সে বিষয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক করেন এবং দিকনির্দেশনা দেন। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের অর্পিত ইলমী আমানত আদায় করতে সক্ষম হবো। অবগত করছি যে, আমি অত্যন্ত উদার মনে এবং সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার সাথে যেকোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসা ভুলের নির্দেশনার প্রতি সাড়া দেব—চাই তিনি যেকোনো জাতি, ধর্ম, মতাদর্শ বা অঞ্চলের হোন না কেন। এটি আমাদের মহান নেতা মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর বাণীর অনুসরণস্বরূপ: (তুমি প্রজ্ঞা গ্রহণ করো, তা যে পাত্র থেকেই নির্গত হোক না কেন তা তোমার ক্ষতি করবে না; প্রজ্ঞা মুমিনের হারানো সম্পদ, যেখানেই সে তা পাবে, কুড়িয়ে নেবে)।

আর যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কিছু কামনা করে, তবে আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক; কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব। সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো পক্ষ থেকে কোনো উপায় বা শক্তি নেই।

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সকল পাঠকারীকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

মহান আল্লাহর ক্ষমার মুখাপেক্ষী

মুহাম্মদ আলী ত্বহা আদ-দুররাহ
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌(1) معلقة امرئ القيس
(১) ইমরুল কায়েসের মুআল্লাকা
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ৯)
فهرست أبيات معلقة امرئ القيس

1 - قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل … بسقط اللوى بين الدخول فحومل

2 - فتوضح فالمقراة لم يعف رسمها … لما نسجتها من جنوب وشمأل

3 - رخاء تسح الريح في جنباتها … كساها الصبا سحق الملاء المذيل

4 - ترى بعر الأرام في عرصاتها … وقيعانها كأنه حب فلفل

5 - كأني غداة البين يوم تحملوا … لدى سمرات الحي ناقف حنظل

6 - وقوفًا بها صحبي علي مطيهم … يقولون: لا تهلك أسى وتجمل

7 - فدع عنك شيئًا، قد مضى لسبيله … ولكن على ما غالك اليوم أقبل

8 - وقفت بها حتى إذا ما ترددت … عماية محزون بشوق موكل

9 - وإن شفائي عبرة إن سفحتها … وهل عند رسم دارس من معول

10 - كدأبك من أم الحويرث قبلها … وجارتها أم الرباب بمأسل

11 - إذا قامتا تضوع المسك منهما … نسيم الصبا جاءت بريا القرنفل

12 - ففاضت دموع العين مني صبابة … على النحر حتى بل دمعي محملي

13 - ألا رب يوم لك منهن صالح … ولا سيما يوم بدارة جلجل

14 - ويوم عقرت للعذارى مطيتي … فيا عجبا من رحلها المتحمل

15 - ويا عجبًا من حلها بعد رحلها … ويا عجبا للجازر المتبذل

16 - فظل العذارى يرتمين بلحمها … وشحم كهداب الدمقس المفتل

17 - تدار علينا بالسديف صحافنا … ويؤتى إلينا بالعبيط المثمل

18 - ويوم دخلت الخدر خدر عنيزة … فقالت: لك الويلات، إنك مرجلي

19 - تقول، وقد مال الغبيط بنا معا … عقرت بعيري، يا امرأ القيس، فانزل

20 - فقلت لها سيري وأرخي زمامه … ولا تبعديني من جناك المعلل

21 - دعي البكر، لا ترثي له من ردافنا … وهاتي أذيقينا جناة القرنفل

22 - بثغر كمثل الأقحوان منورٍ … نقي الثنايا أشنب غير أثعل

23 - فمثلك حبلى قد طرقت ومرضعٍ … فألهيتها عن ذي تمائم محول

24 - إذا ما بكى من خلفها انصرفت له … بشق وتحتي شقها لم يحول
ইমরুল কায়েসের মুয়াল্লাকার পঙক্তিগুলোর সূচি

১ - থামো, চলো কাঁদি প্রিয়ার স্মৃতি এবং সেই আস্তানা স্মরণ করে, যা দাকুল ও হাওমালের মধ্যবর্তী বালুকারাশি সিকতুল লিওয়া-তে অবস্থিত …

২ - তুজিহ ও মিকরাতের মাঝে তার চিহ্নগুলো এখনো মুছে যায়নি, কারণ দক্ষিণ ও উত্তরের বায়ু তাতে বিচরণ করেছে …

৩ - এক কোমল বায়ু তার প্রাঙ্গণে ধুলো উড়িয়ে বয়ে যায়, পুবালি বাতাস তাকে ঢেকে দিয়েছে জীর্ণ বস্ত্রের মতো …

৪ - তুমি সেখানে হরিণের বিষ্ঠা ছড়িয়ে থাকতে দেখবে, তার প্রাঙ্গণে এবং নিম্নভূমিতে; যা যেন গোলমরিচের দানার মতো …

৫ - বিচ্ছেদের সেই প্রভাতে, যেদিন তারা চলে গেল, জনপদের বাবুল গাছের পাশে আমি যেন ছিলাম তিতকুঁড়ো ফল ছিন্নকারী এক বিষণ্ণ পথিক …

৬ - আমার সাথীরা সেখানে তাদের আরোহীগুলো নিয়ে থেমে দাঁড়াল, তারা বলছিল: "শোকে নিজেকে ধ্বংস করো না, ধৈর্য ধরো।" …

৭ - সুতরাং যা চলে গেছে তা ছেড়ে দাও, তা তো আপন পথেই চলে গেছে; বরং আজ যা তোমার উপর আপতিত হয়েছে সেদিকে মনোযোগ দাও …

৮ - আমি সেখানে থামলাম যতক্ষণ না এক বিরহকাতর শোকাতুর ব্যক্তির ব্যাকুলতা আমাকে আচ্ছন্ন করল …

৯ - নিশ্চয়ই আমার আরোগ্য নিহিত অশ্রু বিসর্জনে, যদি তা ঝরাতে পারি; কিন্তু বিলীন নিশানার সামনে বিলাপ করে কি কোনো লাভ আছে? …

১০ - তোমার অবস্থা এখন তেমনই, যেমন হয়েছিল ইতিপূর্বে উম্মুল হুয়াইরিস এবং মাসাল-এর তার প্রতিবেশী উম্মুর রাবাবের সাথে …

১১ - যখন তারা দুজন উঠে দাঁড়াত, তাদের থেকে কস্তুরীর সুবাস ছড়িয়ে পড়ত; যেন পুবালি হাওয়া লবঙ্গের ঘ্রাণ নিয়ে এসেছে …

১২ - অনুরাগে আমার দুচোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে বক্ষদেশে পড়ল, এমনকি আমার অশ্রু তলোয়ারের বেল্ট ভিজিয়ে দিল …

১৩ - ওহে, তাদের সাথে তোমার অনেক ভালো দিন কেটেছে; বিশেষ করে দারাতে জুলজুলের দিনটি ছিল অনন্য …

১৪ - আর সেই দিনটির কথা ভাবো, যেদিন আমি কুমারী মেয়েদের জন্য আমার সওয়ারিটি জবাই করেছিলাম; তখন তার পালান বহন করার দৃশ্যটি কতই না বিস্ময়কর ছিল! …

১৫ - আর বিস্ময় তার সাজসজ্জা খোলার দৃশ্য দেখে, আর বিস্ময় সেই কসাইয়ের জন্য যে দ্রুততার সাথে কাজ করছিল …

১৬ - কুমারী মেয়েরা তার মাংস একে অপরের দিকে ছুড়ে খেলছিল, আর চর্বিগুলো ছিল পাকানো রেশমি ঝালরের মতো …

১৭ - কুঁজের মাংসপূর্ণ পাত্রগুলো আমাদের মাঝে ঘুরছিল, আর আমাদের সামনে আনা হচ্ছিল সুস্বাদু টাটকা গোশত …

১৮ - আর সেই দিনের কথা যখন আমি উনাইজার হাওদায় প্রবেশ করলাম; সে বলল: "তোমার ধ্বংস হোক! তুমি তো আমাকে পায়ে হাঁটাবে।" …

১৯ - সে বলছিল, আর তখন হাওদাটি আমাদের ভারে হেলে পড়েছিল: "ওহে ইমরুল কায়েস! তুমি আমার উটটিকে জখম করছ, নামো!" …

২০ - আমি তাকে বললাম: "তুমি চলো এবং উটের লাগাম আলগা করে দাও, আর তোমার সেই বারবার আস্বাদযোগ্য প্রেমসুখ থেকে আমাকে বঞ্চিত করো না।" …

২১ - "এই তরুণ উটটির কথা বাদ দাও, আমাদের ডবল সওয়ারির জন্য ওর জন্য শোক কোরো না; বরং এগিয়ে এসো এবং আমাকে সেই লবঙ্গের সুগন্ধিযুক্ত ফলের আস্বাদ দাও।" …

২২ - তার মুখগহ্বর ছিল প্রস্ফুটিত ডেইজি ফুলের মতো শুভ্র, যার দাঁতগুলো ছিল স্বচ্ছ ও সুন্দর সারিবদ্ধ …

২৩ - তোমার মতো অনেক গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীর কাছে আমি রাতে এসেছি এবং তাকে তার এক বছর বয়সী কবচ পরিহিত সন্তান থেকে বিমুখ করে রেখেছি …

২৪ - যখন তার পেছন থেকে শিশুটি কেঁদে উঠত, সে তার শরীরের অর্ধেক অংশ দিয়ে সেদিকে ফিরত, কিন্তু তার শরীরের বাকি অর্ধেক আমার নিচ থেকে সরাত না

(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১০)
25 - ويومًا على ظهر الكثيب تعذرت … علي، وآلت حلفة لم تحلل

26 - أفاطم مهلا بعض هذا التدلل … وإن كنت قد أزمعت صرمي فأجملي

27 - وإن كنت قد ساءتك مني خليقة … فسلي ثيابي من ثيابك تنسل

28 - أغرك مني أن حبك قاتلي … وأنك مهما تأمري القلب يفعل؟

29 - وأنك قسمت الفؤاد، فنصفه … قتيل، ونصف بالحديد مكبل

30 - وما ذرفت عيناك إلا لتقدحي … بسهميك في أعشار قلب مقتل

31 - وبيضة خدر لا يرام خباؤها … تمتعت من لهو بها غير معجل

32 - تجاوزت أحراسًا إليها، ومعشرًا … علي حراص لو يسترون مقتلي

33 - إذا ما الثريا في السماء تعرضت … تعرض أثناء الوشاح المفصل

34 - فجئت، وقد نضت لنوم ثيابها … لدى الستر إلا لبسة المتفضل

35 - فقالت: يمين الله ما لك حيلة … وما إن أرى عنك العماية تنجلي

36 - خرجت بها تمشي تجر وراءنا … على أثرينا ذيل مرط مرحل

37 - فلما أجزنا ساحة الحي وانتحى … بنا بطن حقف ذي ركام عقنقل

38 - هصرت بفودي رأسها، فتمايلت … علي هضيم الكشح ريًا المخلخل

39 - إذا التفتت نحوي تضوع ريحها … نسيم الصبا جاءت بريًا القرنفل

40 - إذا قلت: هاتي نوليني تمايلت … علي هضيم الكشح ريا المخلخل

41 - مهفهفة بيضاء غير مفاضة … ترائبها مصقولة كالسجنجل

42 - كبكر المقاناة البياض بصفرة … غذاها نمير الماء غير محلل

43 - تصد وتبدي عن أسيل وتتقي … بناظرة من وحش وجرة مطفل

44 - وجيد كجيد الرئم ليس بفاحش … إذا هي نصته ولا بمعطل

45 - وفرع يغشي المتن أسود فاحم … أثيث كقنو النخلة المتعثكل

46 - غدائره مستشزرات إلى العلا … تضل العقاص في مثنى ومرسل

47 - وكشح لطيف كالجديل مخصر … وساق كأنبوب السقي المذلل

48 - ويضحي فتيت المسك فوق فراشها … نؤوم الضحى، لم تنتطق عن تفضل
২৫ - আর একদিন সেই বালিয়াড়ির পিঠে সে আমার প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করল … এবং এমন এক কঠিন শপথ করল যা ভঙ্গ হওয়ার নয়।

২৬ - হে ফাতিমা! এই অবহেলা কিছুটা ক্ষান্ত করো … আর যদি তুমি আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকো, তবে তা সুন্দরভাবে করো।

২৭ - যদি আমার কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তোমাকে কষ্ট দিয়ে থাকে … তবে আমার বস্ত্র তোমার বস্ত্র থেকে আলাদা করে নাও, তা সহজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

২৮ - তোমাকে কি এই বিষয়টি প্রলুব্ধ করেছে যে, তোমার প্রতি ভালোবাসা আমাকে মেরে ফেলছে … আর তুমি আমার হৃদয়কে যা-ই আদেশ করো, সে তা-ই পালন করে?

২৯ - আর তুমি আমার হৃদয়কে দ্বিখণ্ডিত করেছ; যার এক অর্ধাংশ … নিহত, আর অন্য অর্ধাংশ লৌহশৃঙ্খলে বন্দী।

৩০ - তোমার নয়নদ্বয় কেবল এই জন্যই অশ্রু বিসর্জন করেছে, যাতে তুমি তোমার দুই তীরের (দৃষ্টির) আঘাতে … আমার এই ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের দশটি অংশে বিদ্ধ করতে পারো।

৩১ - পর্দানশীন সুন্দরী এবং অসূর্যম্পশ্যা নারী, যার তাঁবুতে প্রবেশের কল্পনাও কেউ করে না … আমি কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই তার সান্নিধ্য ও আমোদ-প্রমোদ উপভোগ করেছি।

৩২ - আমি প্রহরীদের পাশ কাটিয়ে তার কাছে পৌঁছেছি, এবং এমন এক স্বজনবেষ্টিত সম্প্রদায়কে অতিক্রম করেছি … যারা আমার রক্তপাতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল।

৩৩ - যখন আকাশে সুরাইয়া (কৃত্তিকা নক্ষত্র) উদিত হলো … যেমন মণি-মুক্তা খচিত কোমরবন্ধের ভাঁজগুলো দৃশ্যমান হয়।

৩৪ - অতঃপর আমি এলাম, যখন সে ঘুমের জন্য তার পরিধেয় পোশাক ত্যাগ করেছে … পর্দার আড়ালে কেবল তার পাতলা অন্তর্বাসটিই অবশিষ্ট ছিল।

৩৫ - সে বলল: "আল্লাহর শপথ! তোমার তো কোনো নিস্তার নেই … আর আমি দেখছি না যে তোমার এই পথভ্রষ্টতা তোমার থেকে দূর হবে।"

৩৬ - আমি তাকে নিয়ে বের হলাম, সে আমাদের পদচিহ্ন মুছে ফেলার জন্য … আমাদের পিছনে তার কারুকার্যখচিত চাদরের আঁচল টেনে নিয়ে আসছিল।

৩৭ - যখন আমরা জনপদ অতিক্রম করলাম এবং আমাদের পথ … বালিয়াড়ির উঁচু-নিচু বালির ঢিবির আড়ালে নিয়ে গেল।

৩৮ - আমি তার কানের দুই ধারের চুল ধরে তাকে আলতো করে আকর্ষণ করলাম, তখন সে হেলে পড়ল … আমার দিকে; সে ক্ষীণকটি ও মাংসল চরণে নূপুর-শোভিতা সুন্দরী।

৩৯ - সে যখনই আমার দিকে ফিরছিল, তার সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল … যেন পুবালী সমীরণ লবঙ্গের সুবাস নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।

৪০ - যখন আমি বললাম: 'দাও, আমাকে কিছু দান করো', তখন সে হেলে পড়ল … আমার দিকে; সে ক্ষীণকটি ও মাংসল চরণে নূপুর-শোভিতা।

৪১ - সে তন্বী, শুভ্রবর্ণা এবং মেদহীন … তার বক্ষদেশ পালিশ করা আয়নার মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল।

৪২ - সে যেন উটপাখির প্রথম পাড়া ডিম, যার শুভ্রতা কিছুটা পীত আভাযুক্ত … যা জনমানবহীন স্থানের স্বচ্ছ পানি পানে সজীব হয়েছে।

৪৩ - সে বিমুখ হয় এবং তার মসৃণ গাল প্রদর্শন করে, আর সে আত্মরক্ষা করে … 'ওয়াজরা' বনের শাবকবিশিষ্ট হরিণীর সচকিত নেত্রপল্লব দিয়ে।

৪৪ - আর তার ঘাড় সাদা হরিণীর ঘাড়ের মতো, যখন সে তা উঁচিয়ে ধরে … তখন তা কুৎসিত লাগে না এবং তা অলঙ্কারহীনও নয়।

৪৫ - আর তার একগুচ্ছ কালো কুচকুচে চুল তার পিঠ ঢেকে রেখেছে … যা খেজুর গাছের ঘন কাঁদির মতো সুবিন্যস্ত।

৪৬ - তার চুলের বেণীগুলো উর্ধ্বমুখী করে বিন্যস্ত … তার সুবিন্যস্ত ও আলুলায়িত কেশের মাঝে চুলের বন্ধনীগুলো হারিয়ে যায়।

৪৭ - তার কটিদেশ পাকানো রশির মতো সূক্ষ্ম ও ক্ষীণ … আর তার জঙ্ঘা যেন সুবিন্যস্তভাবে সিঞ্চিত নলখাগড়া।

৪৮ - প্রভাতে তার বিছানায় চূর্ণীকৃত কস্তুরীর সুবাস থাকে … সে বেলা অবধি নিদ্রা যায়, আরাম-আয়েশের কারণে তাকে কাজ করার জন্য কোমর বাঁধতে হয় না।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১১)
49 - وتعطو برخص غير شثن كأنه … أساريع ظبي أو مساويك إسحل

50 - تضيء الظلام بالعشاء كأنها … منارة ممسى راهب متبتل

51 - إلى مثلها يرنو الحليم صبابة … إذا ما اسبكرت بين درع ومجول

52 - تسلت عميات الرجال عن الصبا … وليس فؤادي عن هواك بمنسل

53 - ألا رب خصم فيك ألوى رددته … نصيح على تعذاله غير مؤتلي

54 - وليل كموج البحر أرخى سدوله … علي بأنواع الهموم ليبتلى

55 - فقلت له لما تمطى بصلبه … وأردف أعجازًا، وناء بكلكل

56 - ألا أيها الليل الطويل، ألا انجلي … بصبح وما الإصباح منك بأمثل

57 - فيا لك من ليل كان نجومه … بكل مغار الفتل شدت بيذبل

58 - كأن الثريا علقت في مصامها … بأمراس كتان إلى صم جندل

59 - وقربة أقوام جعلت عصامها … على كاهل مني ذلول مرحل

60 - وواد كجوف العير قفر قطعته … به الذئب يعوي كالخليع المعيل

61 - فقلت له لما عوى إن شأننا … قليل الغنى إن كنت لما تمول

62 - كلانا إذا ما نال شيئًا أفاته … ومن يحترث حرثي وحرثك يهزل

63 - وقد أغتدي والطير في وكناتها … بمنجرد قيد الأوابد هيكل

64 - مكر، مفر مقبل، مدبر، معًا … كجلمود صخر خطه السيل من غل

65 - كميت يزل اللبد عن حال متنه … كما زلت الصفواء بالمتنزل

66 - على الذبل جياش كان اهتزامه … إذا جاش فيه حميه غلي مرجل

67 - مسح إذا ما السابحات على الونى … أثرن غبارا بالكديد المركل

68 - يزل الغلام الخف عن صهواته … ويلوي بأثواب العنيف المثقل

69 - درير كخذروف الوليد أمره … تتابع كفيه بخيط موصل

70 - له أيطلا ظبي، وساقا نعامة … وإرخاء سرحان وتقريب تنفل
৪৯ - আর সে দান করে এমন কোমল হাত দিয়ে যা খসখসে নয়, যেন তা জাবি অঞ্চলের বালুচরের নরম পোকা অথবা ইসহিল গাছের মেসওয়াক।

৫০ - সে সন্ধ্যার অন্ধকারে এমনভাবে আলো ছড়ায় যেন সে নিভৃতচারী সন্ন্যাসীর মঠের প্রদীপ।

৫১ - তার মতো রূপসীর দিকে অতি ধৈর্যশীল ব্যক্তিও অনুরাগের সাথে তাকায়, যখন সে দীর্ঘাঙ্গী হয়ে তার বর্ম ও অন্তর্বাসের মাঝে দণ্ডায়মান হয়।

৫২ - অন্য পুরুষদের মোহ যৌবনের অন্ধ আবেগ থেকে মুক্ত হয়েছে, কিন্তু তোমার প্রতি আমার হৃদয়ের ভালোবাসা কখনো দূরীভূত হবার নয়।

৫৩ - সাবধান! তোমার ব্যাপারে কত জেদি বিবাদকারীকে আমি ফিরিয়ে দিয়েছি, যে হিতাকাঙ্ক্ষী সেজে আমাকে তিরস্কার করতে কোনো ত্রুটি করেনি।

৫৪ - আর কত রাত সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তার অন্ধকার পর্দাগুলো আমার ওপর ঝুলিয়ে দিয়েছে, আমাকে নানা প্রকার দুঃখ-বেদনা দিয়ে পরীক্ষা করার জন্য।

৫৫ - তখন আমি সেই রাতকে বললাম, যখন সে তার মেরুদণ্ড দীর্ঘ করল, তার পশ্চাদ্ভাগ প্রসারিত করল এবং তার বুক দিয়ে সজোরে চেপে বসল—

৫৬ - হে দীর্ঘ রাত! তুমি প্রভাতের আগমনে দূরীভূত হও, যদিও প্রভাত তোমার চেয়ে খুব একটা উত্তম নয়।

৫৭ - হায় রাত! তোমার কী অবস্থা! মনে হয় যেন তোমার নক্ষত্রগুলো মজবুত রশি দিয়ে 'ইয়াযবুল' পাহাড়ের সাথে শক্ত করে বাঁধা রয়েছে।

৫৮ - যেন সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ তার স্বস্থানে শণের রশি দিয়ে শক্ত পাথরের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৫৯ - আর কত কওমের পানির মশক আমি আমার সেই কাঁধে বহন করেছি, যা ভার বহনে অভ্যস্ত ও অনুগত।

৬০ - আর কত বিজন উপত্যকা, যা বুনো গাধার পেটের মতো শূন্য, আমি তা পাড়ি দিয়েছি; যেখানে নেকড়ে এমনভাবে আর্তনাদ করে যেন সে পরিবার পরিজনহীন এক নিঃস্ব জুয়াড়ি।

৬১ - যখন নেকড়েটি আর্তনাদ করল, আমি তাকে বললাম: আমাদের উভয়ের অবস্থাই তথৈবচ, যদি তুমিও সম্পদশালী না হও।

৬২ - আমরা দুজনেই যখন কিছু পাই তা নষ্ট করে ফেলি, আর যে আমার ও তোমার মতো জীবন যাপন করে সে তো কৃশকায়ই হবে।

৬৩ - আমি খুব ভোরে বেরিয়ে পড়ি যখন পাখিরা তাদের নীড়েই থাকে, এমন এক দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ে যা বুনো পশুদের জন্য শিকারি স্বরূপ এবং যার দেহ সুগঠিত।

৬৪ - সে একাধারে আক্রমণকারী, পলায়নপর, অগ্রসরমান ও পশ্চাদপসরণকারী; যেন সে এক বিশাল পাথরখণ্ড যা প্রবল স্রোত ওপর থেকে নিচে নামিয়ে এনেছে।

৬৫ - লালাভ পিঙ্গল বর্ণের এই ঘোড়া, যার পিঠের মধ্যভাগ থেকে জিনের গদি পিছলে পড়ে যায়, যেমন মসৃণ পাথর থেকে বৃষ্টির পানি পিছলে যায়।

৬৬ - কৃশ হওয়া সত্ত্বেও সে তেজি ও চঞ্চল; তার হ্রেষাধ্বনি যখন তীব্র হয় তখন মনে হয় ডেকচিতে পানি টগবগ করে ফুটছে।

৬৭ - সে অবলীলায় দ্রুত দৌড়ায় যখন অন্যান্য দ্রুতগামী ঘোড়াগুলো ক্লান্ত হয়ে শক্ত ভূমিতে ধুলো উড়ায়।

৬৮ - হালকা ওজনের বালক তার পিঠ থেকে ছিটকে পড়ে এবং শক্তিশালী ও ভারী সওয়ারির কাপড়ও সে বেসামাল করে ফেলে।

৬৯ - সে বালকের লাটিমের মতো দ্রুত ঘূর্ণনশীল, যাকে অবিরাম হাতের টানে সুতো দিয়ে ঘোরানো হয়।

৭০ - তার কোমর হরিণের মতো, পা উটপাখির মতো, তার চলার ভঙ্গি নেকড়ের মতো এবং দ্রুত দৌড় খেঁকশিয়ালের মতো।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১২)
71 - ضليع إذا استدبرته سد فرجه … بضاف فويق الأرض ليس بأعزل

72 - كأن على المتنين منه إذا انتحى … مداك عروس، أو صلاية حنظل

73 - كأن دماء الهاديات بنحره … عصارة حناء بشيب مرجل

74 - فعن لنا سرب كأن نعاجه … عذارى دوار في ملاء مذيل

75 - فأدبرن كالجزع المفصل بينه … بجيد معم في العشيرة مخول

76 - فألحقنا بالهاديات ودونه … جواحرها في صرة لم تزيل

77 - فعادى عداء بين ثور ونعجة … دراكًا ولم ينضح بماء فيغسل

78 - فظل طهاة اللحم من بين منضج … صفيف شواء أو قدير معجل

79 - ورحنا يكاد الطرف يقصر دونه … متى ما ترق العين فيه تسهل

80 - فبات عليه سرجه ولجامه … وبات بعيني قائمًا غير مرسل

81 - أصاح ترى برقا أريك وميضه … كلمع اليدين في حبي مكلل؟

82 - يضيء سناه أو مصابيح راهب … أمال السليط بالذبال المفتل

83 - قعدت له وصحبتي بين حامر … وبين إكام بعد ما متأمل

84 - علا قطنا بالشيم أيمن صوبه … وأيسره على الستار فيذبل

85 - فأضحى يسح الماء حول كتيفة … يكب على الأذقان دوح الكنهبل

86 - ومر على القنان من نفيانه … فأنزل منه العصم من كل منزل

87 - وتيماء لم يترك بها جذع نخلة … ولا أجما إلا مشيدًا بجندل

88 - كأن ثبيرا في عرانين وبله … كبير أناس في بجاد مزمل

89 - كأن ذرى رأس المجيمر غدوة … من السيل والاغثاء فلكة مغزل

90 - وألقى بصحراء الغبيط بعاعه … نزول اليماني ذي العياب المخول

91 - كأن مكاكي الجواء غدية … صبحن سلافا من رحيق مفلفل

92 - كأن السباع فيه غرقى عشية … بأرجائه القصوى أنابيش عنصل
71 - সে চওড়া পাজরবিশিষ্ট, যখন তুমি তাকে পেছন থেকে দেখবে তখন তার ঘন ও দীর্ঘ লেজ দুই পেছনের পায়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান ঢেকে রাখে; লেজটি মাটির কিছুটা উপরে ঝুলে থাকে, সে ভারসাম্যহীন নয়।

72 - তার পিঠের দুই পাশ যখন সে দ্রুত ধাবিত হয়, তখন মনে হয় যেন কনের প্রসাধন পেষার মসৃণ পাথর অথবা তিতকুঁড়ো ফলের বীজ পেষার পাথর।

73 - অগ্রগামী শিকার করা পশুদের রক্ত তার স্কন্ধে এমনভাবে লেগে আছে, যেন চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানো পাকা চুলে মেহেদির নির্যাস মাখানো হয়েছে।

74 - অতঃপর আমাদের সামনে একপাল বুনো গরু ভেসে উঠল, যাদের মাদীগুলো যেন লম্বা ঝুলওয়ালা চাদর পরিহিত এবং মূর্তির চারপাশে প্রদক্ষিণরত কুমারী।

75 - তারা পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করল যেন ছিদ্রযুক্ত বিচিত্র বর্ণের মণি-মুক্তার মালা, যা পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয় দিক থেকে উচ্চবংশীয় বালকের গ্রীবায় সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে।

76 - অতঃপর ঘোড়াটি আমাদেরকে অগ্রগামী পশুগুলোর সাথে মিলিয়ে দিল, তখনো পেছনে থাকা পশুগুলো একটি জমাটবদ্ধ দলে ছিল এবং বিচ্ছিন্ন হয়নি।

77 - সে বিরতিহীনভাবে একটি পুরুষ বুনো গরু এবং একটি মাদী বুনো গরুর ওপর আক্রমণ চালাল, অথচ সে ঘর্মাক্ত হয়নি যে তাকে পানি দিয়ে ধুতে হবে।

78 - তখন গোশত রন্ধনকারীরা ব্যস্ত হয়ে পড়ল; কেউ কয়লায় গোশত ঝলসাচ্ছিল, আর কেউবা হাঁড়িতে দ্রুত পাক করছিল।

79 - আমরা যখন ফিরে এলাম, তখন চোখের দৃষ্টি তার রূপমাধুর্য পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারছিল না; চোখ যখন তার ওপরের অংশে উঠে, সেখান থেকে সহজেই নিচের দিকে নেমে আসে।

80 - সে রাত কাটাল তার পিঠে জীন ও মুখে লাগাম পরিহিত অবস্থায়; সে আমার চোখের সামনে দণ্ডায়মান ছিল, তাকে চারণভূমির জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

81 - হে বন্ধু! তুমি কি ওই বিজলি দেখেছ? আমি তোমাকে তার চমক দেখাচ্ছি যা স্তরে স্তরে সজ্জিত মেঘমালার মাঝে দুই হাতের নাড়াচাড়ার মতো ঝিলিক দিচ্ছে।

82 - তার আলো এমনভাবে উদ্ভাসিত হচ্ছে যেন কোনো পাদ্রীর প্রদীপ, যে সলতের ওপর প্রচুর পরিমাণ তেল ঢেলে দিয়েছে।

83 - আমি আমার সঙ্গীদের সাথে 'হামির' ও 'ইকাম' নামক স্থানের মাঝে বসে দীর্ঘ সময় দেখার পর তার প্রতীক্ষায় রইলাম।

84 - বৃষ্টির ডান দিকটি 'ক্বাতান' পাহাড়ের ওপর বর্ষিত হলো, আর তার বাম দিকটি 'সিতার' ও 'ইয়াযবুল' পাহাড়ের ওপর গিয়ে পড়ল।

85 - সকাল বেলা তা 'কুতাইফা'র চারপাশে সজোরে পানি ঢালতে লাগল এবং বিশালাকার কানাহবাল গাছগুলোকে উপুড় করে ধরাশায়ী করতে লাগল।

86 - বৃষ্টির ঝাপটা 'ক্বানান' পাহাড়ের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় সব আশ্রয়স্থল থেকে সাদা পা-বিশিষ্ট পাহাড়ি ছাগলগুলোকে নিচে নামিয়ে দিল।

87 - তা 'তয়মা' এলাকায় কোনো খেজুর গাছের কাণ্ড অবশিষ্ট রাখেনি এবং পাথর দিয়ে নির্মিত সুদৃঢ় দালান ছাড়া আর কিছুই বাকি রাখেনি।

88 - বৃষ্টির শুরুতে 'সুবাইর' পাহাড়কে এমন দেখাচ্ছিল যেন নকশা করা চাদর মুড়ি দিয়ে থাকা কোনো গোত্রপতি।

89 - ভোরবেলা 'মুজায়মির' পাহাড়ের চূড়া ঢল ও আবর্জনার মাঝে চরকার গোল চাকতির মতো মনে হচ্ছিল।

90 - মেঘ 'গাবীত' মরুভূমিতে তার ভারী বোঝা নামিয়ে দিল, যেমন কোনো ইয়েমেনি ব্যবসায়ী তার সিন্দুক ও ব্যাগ ভর্তি মালপত্র নামিয়ে রাখে।

91 - 'জওয়া' উপত্যকার ছোট পাখিগুলোকে ভোরে এমন মনে হচ্ছিল যেন তারা মশলাযুক্ত উৎকৃষ্ট সুরা পান করে মাতাল হয়ে আছে।

92 - আর সন্ধ্যাবেলা বনের হিংস্র পশুগুলো উপত্যকার দূরবর্তী প্রান্তে ডুবে মরে ভেসে আছে, যেন উপড়ানো বুনো পেঁয়াজের মূল।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌معلقة امرئ القيس

‌‌نسبه:

هو‌‌ أمرؤ القيس بن حجر بن الحارث الملك، بن عمرو المقصور -الذي اقتصر على ملك أبيه- بن حجر بن آكل المرار بن عمرو بن معاوية بن الحارث بن معاوية بن مرتع، وقال قوم: ابن معاوية بن ثور بن مرتع، وإنما سمي مرتعًا لأنه كان من أتاه من قوه رتعه، أي جعل له مرتعًا لماشيته، وهو عمرو بن معاوية بن ثور، وهو كندة بن عفير، وإنما سمي كندة لأنه كفر أباه نعمته، ابن عدي بن الحارث بن مرة بن أدد زيد بن كهلان بن سبأ، بن يعرب بن قحطان بن عابر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح النبي عليه الصلاة والسلام، والله أعلم بصلة ذلك.

هذا وكندة التي ينسب إليها أمرؤ القيس قبيلة يمنية، ويكني أمرؤ القيس أبا وهبن وأبا زيدن وأبا الحارث، وكان يقال له: الملك الضليل، كما قيل له: ذو القروح لقوله:

وبدلت قرحًا داميًأ بعد صحة … لعل منايانا تحولن أبؤسا

ولم يعقب ولدًا ذكرًا، بل أناثًا، وقيل: اسمه حندج، ولقبه أمرؤ القيس.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ইমরুল কায়েসের মুয়াল্লাকা

‌‌তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন‌‌ ইমরুল কায়েস ইবনে হুজর ইবনুল হারিস আল-মালিক, ইবনে আমর আল-মাকসুর—যিনি কেবল তাঁর পিতার রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন—ইবনে হুজর ইবনে আকিল আল-মুরার ইবনে আমর ইবনে মুআবিয়া ইবনুল হারিস ইবনে মুআবিয়া ইবনে মুরতা। একদল লোক বলেছেন: তিনি ইবনে মুআবিয়া ইবনে সাওর ইবনে মুরতা। তাঁকে 'মুরতা' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাঁর গোত্রের যে কেউ তাঁর নিকট আসত, তিনি তাকে চারণভূমি দান করতেন, অর্থাৎ তার গবাদি পশুর জন্য চারণক্ষেত্রের ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি হলেন আমর ইবনে মুআবিয়া ইবনে সাওর, যিনি কিন্দা ইবনে উফাইর নামে পরিচিত। তাঁকে 'কিন্দা' বলা হতো কারণ তিনি তাঁর পিতার অনুগ্রহ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি ইবনে আদি ইবনুল হারিস ইবনে মুররা ইবনে আদাদ যাইদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা ইবনে ইয়া'রুব ইবনে কাহতান ইবনে শালিখ ইবনে আরফাকশাদ ইবনে সাম ইবনে নূহ নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। আর আল্লাহ তাআলাই এই বংশপরম্পরার সূত্র সম্পর্কে সম্যক অবগত।

এই কিন্দা গোত্র, যার দিকে ইমরুল কায়েসকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, সেটি একটি ইয়ামেনি গোত্র। ইমরুল কায়েসের উপনাম ছিল আবু ওয়াহব, আবু যাইদ এবং আবু আল-হারিস। তাঁকে 'আল-মালিক আদ-দাললীল' (পথভ্রষ্ট রাজা) বলা হতো, যেমনটি তাঁকে 'যু আল-কুরুহ' (ক্ষতবিক্ষত ব্যক্তি) বলা হতো তাঁর এই উক্তির কারণে:

সুস্বাস্থ্যের পর আমি রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পরিবর্তিত হয়েছি … সম্ভবত আমাদের মৃত্যুগুলো দুর্দশায় রূপান্তরিত হয়েছে

তিনি কোনো পুত্রসন্তান রেখে যাননি, বরং তাঁর কেবল কন্যাসন্তান ছিল। বলা হয়ে থাকে যে তাঁর নাম ছিল হুনদুজ এবং তাঁর উপাধি ছিল ইমরুল কায়েস।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا وقد اختلف في آكل المرار، هل هو الحارث جده الأول ابن عمرو بن حجر بن عمرو بن معاوية، أو هو حجر جده الثاني، أي جد جده، الأكثر على أنه الأول، وإنما سمي بآكل المرار لأن عمرو بن الهبولة الغساني أغار عليهم، وكان الحارث غائبًا فغنم وسبى، وكان فيمن سبي أم أناس بنت عوف، بن محلم السيباني امرأة الحارث، فقالت لعمرو بن الهبولة في مسيره: لكأني برجل أدلم أسود، كأن مشافره مشافر بعير آكل المرار قد أخذ برقبتك، تعني الحارث، فسمي آكل المرار، ثم تبعه الحارث في بكر بن وائلـ فلحقه وقتله، واستنقذ امرأته، وما كان أصاب، وقيل: إنما سمي آكل المرار، لأنه كان إذا غضب غضبة لأمر بلغه جعل يأكل المرار، وهو لا يعلم بمرارته، ولا يحس بها لشدة غضبه، والمرار نبت شديد المرارة تأكله الإبل، وإذا أكلته تقلصت مشافرها، هذا وإن أم امرئ القيس من بني تغلب، أخت كليب ومهلهل ابني ربيعة.

 

‌‌طبقته في الشعراء:

يعد أمرؤ القيس في طليعة شعراء الجاهلية، ورأس الطبقة الأولى، ولا أدل على ذلك من قول النبي صلى الله عليه وسلم فيه (ذاك رجل مذكور في الدنيا، شريف فيها، منسي في الآخرة، خامل فيها، يجئ يوم القيامة ومعه لواء الشعراء إلى النار، وروي يتدهدى بهم في النار، وروي أيضًا قوله صلى الله عليه وسلم رفيع في الدنيا، خاملق في الآخرة، شريف في الدنيا، وضيعٌ في الآخرة، هو قائد الشعراء إلى النار).

 

‌‌حال أمرئ القيس في ريعان شبابه:

ولما نشأ أمرؤ القيس طرده أبوه، واختلف في سبب ذلك، فقيل: إنه لما ترعرع علق النساء، وأكثر الذكر لهن، والميل لهن، فكره ذلكمنه وطرده، وقيل: إن سبب طرد أبيه له أنه كان يتعشق امرأته، وهذا غير معروف
এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যে ‘আকিল আল-মুরার’ (তিক্ত লতা ভক্ষণকারী) কে ছিলেন? তিনি কি তাঁর প্রপিতামহ হারিস ইবনে আমর ইবনে হুজর ইবনে আমর ইবনে মুয়াবিয়া, নাকি তাঁর দ্বিতীয় পিতামহ অর্থাৎ পিতামহের পিতা হুজর? অধিকাংশের মতে তিনি প্রথমজন। তাঁকে ‘আকিল আল-মুরার’ নামকরণ করার কারণ হলো, আমর ইবনুল হাবুলা আল-গাসসানি তাঁদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলেন। হারিস তখন অনুপস্থিত ছিলেন, ফলে আমর গনিমত ও বন্দি নিয়ে যান। বন্দিদের মধ্যে হারিসের স্ত্রী উম্মু উনাস বিনতে আউফ ইবনে মুহাল্লিম আশ-শাইবানিও ছিলেন। তিনি পথিমধ্যে আমর ইবনুল হাবুলাকে বলেছিলেন: ‘আমি যেন এক কৃষ্ণবর্ণের পুরুষকে দেখছি, যার ঠোঁটগুলো যেন মুরার ভক্ষণকারী উটের ঠোঁটের মতো, সে তোমার ঘাড় চেপে ধরেছে’—তিনি এর মাধ্যমে হারিসকে বুঝিয়েছিলেন। ফলে হারিসের নাম হয়ে যায় ‘আকিল আল-মুরার’। এরপর হারিস বকর ইবনে ওয়ায়েলের সাথে তাকে ধাওয়া করেন এবং তাকে ধরে হত্যা করেন এবং তাঁর স্ত্রী ও অপহৃত সম্পদ উদ্ধার করেন। আবার কেউ বলেন, তাঁকে ‘আকিল আল-মুরার’ বলা হতো কারণ কোনো সংবাদ পেয়ে ক্রোধান্বিত হলে তিনি ‘মুরার’ ভক্ষণ করতে শুরু করতেন এবং তীব্র রাগের কারণে তিনি এর তিক্ততা অনুভব করতেন না। ‘মুরার’ হলো অত্যন্ত তিক্ত একটি উদ্ভিদ যা উট খেয়ে থাকে এবং এটি খেলে উটের ঠোঁট কুঁচকে যায়। উল্লেখ্য যে, ইমরুল কায়েসের মা ছিলেন বনু তাগলিব গোত্রের, যিনি রাবিয়ার দুই পুত্র কুলাইব ও মুহালহিলের বোন ছিলেন।

 

‌‌কবিদের মাঝে তাঁর মর্যাদা:

ইমরুল কায়েসকে জাহিলি যুগের কবিদের অগ্রদূত এবং প্রথম স্তরের শীর্ষস্থানীয় মনে করা হয়। এর বড় প্রমাণ হলো তাঁর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (সে দুনিয়াতে সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তি, কিন্তু আখেরাতে বিস্মৃত ও অবহেলিত। কিয়ামতের দিন সে কবিদের পতাকাবাহী হিসেবে জাহান্নামের দিকে আসবে। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে—সে তাদের নিয়ে জাহান্নামে গড়িয়ে পড়বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেকটি বাণীও বর্ণিত হয়েছে—সে দুনিয়াতে উচ্চমর্যাদাবান কিন্তু আখেরাতে অখ্যাত; দুনিয়াতে সম্মানিত কিন্তু আখেরাতে লাঞ্ছিত। সে কবিদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার অগ্রনায়ক।)

 

‌‌যৌবনের শুরুতে ইমরুল কায়েসের অবস্থা:

যখন ইমরুল কায়েস বেড়ে উঠলেন, তখন তাঁর পিতা তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এর কারণ নিয়ে মতভেদ আছে। বলা হয় যে, তিনি যখন বড় হলেন, তখন নারীদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন এবং তাদের নিয়ে অনেক বেশি কবিতা ও আলোচনা করতে শুরু করেন; তাঁর পিতা এটি অপছন্দ করে তাঁকে তাড়িয়ে দেন। আবার বলা হয়, তাঁর পিতার তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়ার কারণ ছিল এই যে, তিনি তাঁর পিতার স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হয়েছিলেন—তবে এটি তেমন পরিচিত কোনো মত নয়।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৫)
من أخلاق العرب، وغاية ما في ذلك أن الأب إذا مات استولى على امرأته أكبر أولاده من غيرها، فإن شاء تزوجها من غير صداق، اكتفاءً بصداق أبيه، وإن شاء زوجها من غيره، وأخذ صداقها، وإن شاء منعها من الزواج حتى تفدي نفسها بمال، وقد حرم الله تبارك وتعالى ذلك، فقال جل ذكره: {يا أيها الذين آمنوا لا يحل لكم أن ترثوا النساء كرهًا، ولا تعضلوهن لتذهبوا ببعض ما آتيتموهن} وقال جل شأنه: {ولا تنكحوا ما نكح أباؤكم من النساء إلا ما قد سلف، إنه كان فاحشة، ومقتًا، وساء سبيلًا}.

 

‌‌مقتل حجر والد أمرئ القيس:

وكان من حديثه أن الحارث الملك جده، كان قد فرق ولده في قبائل العرب، وملكهم عليهم، فجعل حجرًا وهو أبو أمرئ القيس على بني أسد وغطفان، وجعل شرحبيل على بني بكر بن وائل، وهو قتيل الكلاب الأول، وعلى بني حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم، وجعل معد يكرب، وهو غلفاء -وإنما سمي غلفاء لأنه كان يغلف رأسه- على بني تغلب، والنمر بن قاسط، وسعد بن زيد مناة، وطوائف من بني دارم بن حنظلة والصنائع، وجعل عبد الله على عبد القيس، وسلمة على قيس، فلما هلك الحارث أو قتل، وقد اختلف في ذلك، تفرق أمر ولده وتشتت، واختلفت كلمتهم، ووثب بنو أسد على حجر والد امرئ القيس فقتلوه.

 

‌‌خبر أمرئ القيس بعد مقتل أبيه:

قيل: إن حجرًا والد امرئ القيس لما قتله بنو أسد في قصة طويلة، وكان قد طعنه علباء بن الحارث أحد بني كاهل، ولم يجهز عليه، أوصى ودفع وصيته إلى رجل، وقال له: انطلق إلى ابني نافع، وكان أكبر ولده،
এটি ছিল আরবদের আচরণের অন্তর্ভুক্ত। এর চরম অবস্থা ছিল এই যে, কোনো পিতা মারা গেলে তার অন্য স্ত্রীর বড় পুত্র সেই মহিলার ওপর দখলদারিত্ব লাভ করত। সে চাইলে কোনো মোহরানা ছাড়াই তাকে বিবাহ করে ফেলত, তার পিতার দেওয়া মোহরানাকেই যথেষ্ট মনে করে। আবার চাইলে তাকে অন্যের কাছে বিবাহ দিয়ে দিত এবং তার মোহরানা নিজে গ্রহণ করত। আর চাইলে তাকে বিবাহ করা থেকে বাধা প্রদান করত যতক্ষণ না সে অর্থ দিয়ে নিজেকে মুক্ত করত। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এটি হারাম করেছেন। তাঁর মহান যিকির ঘোষণা করে: "হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে। আর তোমরা তাদেরকে আটকে রাখবে না তাদের দেওয়া মালের কিছু অংশ নিয়ে নেওয়ার জন্য।" এবং তাঁর মহান শান ঘোষণা করে: "তোমাদের পিতারা যে নারীদের বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না, অতীতে যা হয়ে গেছে তা ব্যতিত। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীলতা, ঘৃণ্য কাজ এবং অতি নিকৃষ্ট পথ।"

 

‌‌ইমরুল কায়েসের পিতা হুজরের হত্যাকাণ্ড:

তার বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত এই যে, বাদশাহ হারিস—যিনি ছিলেন তাঁর দাদা—তিনি তাঁর সন্তানদের আরব গোত্রগুলোর মধ্যে বিভক্ত করে দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর তাদের শাসক বানিয়েছিলেন। তিনি ইমরুল কায়েসের পিতা হুজরকে বনু আসাদ ও গাতফানের ওপর নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি শুরাহবিলকে বনু বকর ইবনে ওয়াইল এবং বনু হানজালা ইবনে মালিক ইবনে জায়েদ মানাত ইবনে তামীমের ওপর নিযুক্ত করেছিলেন; সে ছিল প্রথম কুলাবের যুদ্ধে নিহত ব্যক্তি। তিনি মা’দী কারিবকে—যিনি গালফা নামে পরিচিত ছিলেন, আর তাকে গালফা বলা হতো কারণ তিনি তাঁর মাথায় সুগন্ধি লেপন করতেন—বনু তাগলিব, নামির ইবনে কাসিত, সাদ ইবনে জায়েদ মানাত এবং বনু দারিম ইবনে হানজালার কিছু গোষ্ঠী ও অনুসারীদের ওপর নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি আবদুল্লাহকে আবদ কায়েসের ওপর এবং সালামাহকে কায়েসের ওপর নিযুক্ত করেছিলেন। অতঃপর যখন হারিস মৃত্যুবরণ করলেন অথবা নিহত হলেন—এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে—তখন তাঁর সন্তানদের ক্ষমতা ও শৃঙ্খলা বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় বনু আসাদ ইমরুল কায়েসের পিতা হুজরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে হত্যা করে।

 

‌‌পিতা নিহত হওয়ার পর ইমরুল কায়েসের সংবাদ:

বলা হয়ে থাকে: যখন বনু আসাদ ইমরুল কায়েসের পিতা হুজরকে একটি দীর্ঘ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হত্যা করেছিল, তখন বনু কাহিলের জনৈক ইলবা ইবনুল হারিস তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করেছিল কিন্তু সাথে সাথেই তার প্রাণ সংহার করতে পারেনি। তখন হুজর অসিয়ত করলেন এবং তাঁর অসিয়তনামা এক ব্যক্তির হাতে দিয়ে তাকে বললেন: আমার পুত্র নাফে’র কাছে যাও—যে ছিল তাঁর বড় সন্তান—
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৬)
فإن بكى وجزع، فاله عنه، واستقرهم واحدًا واحدًا حتى تأتي امرأ القيس، وكان أصغرهم فأيهم لهم يجزع، فادفع إليه سلاحي وخيلي وقدوري ووصيتي، وكان قد بين في وصيته من قتله، وكيف كان خبره، فانطلق الرجل بوصيته إلى نافع ابنه، فأخذ التراب، فوضعه على رأسه، ثم استقرأهم واحدًا واحدًا، فلكهم فعل ذلك حتى أتى امرأ القيس، فوجده مع نديم له يشرب الخمر، ويلاعبه بالنرد، فقال له: قتل حجر، فلم يلتفت إلى قوله، وأمسك نديمه، فقال له أمرؤ القيس: اضرب، فضرب حتى إذا فرغ، قال: ما كنت لأفسد عليك دستك، ثم سأل الرسول عن أمر أبيه فأخبره، فقال: الخمر والنساء علي حرم حتى أقتل من بني أسد مائة، وأجز نواصي مائة، ويروى أنه قال: ضيعني صغيرًا، وحملني ثأره كبيرًا، لا صحو اليوم، ولا سكر غدًا، اليوم خمر وغدًا أمرٌ، فذهب كلمته هذه مثلا، أي يشغلنا اليوم خمر، وغدًا يشغلنا أمر، يعني أمر الحرب، ثم شرب سبعة أيام، ثم قال:

أتأني، وأصحابي على رأس صليع … حديث أطار النوم عني وأنعما

وقلت لعجلي بعيد ما به … تبين، وبين لي الحديث المجمجما

فقال: أبيت اللعن عمرو وكاهلٌ … أبا حواحمى حجر، فأصبح مسلمًا

وأراد بقوله العجلي رجلا من بني عجل، يقال له عامر الأعور، فهو الذي نقل له الخبر، وله في ذلك أشعار كثيرة منها:

والله لا يذهب شيخي باطلًا … حتى أبير مالكًا وكاهلًا

القاتلين الملك الحلاحلا … خير معد حسبًأ ونائلًا
"যদি সে কাঁদে এবং অস্থিরতা প্রকাশ করে, তবে তাকে উপেক্ষা করো; আর একে একে সবার কাছে যাও যতক্ষণ না তুমি ইমরুল কায়সের নিকট পৌঁছাও। সে ছিল তাদের মধ্যে কনিষ্ঠতম। তাদের মধ্যে যে অস্থির হবে না, তাকেই আমার অস্ত্রশস্ত্র, অশ্বরাজি, পাত্রসমূহ এবং অসিয়তনামা হস্তান্তর করো। তিনি তাঁর অসিয়তনামায় স্পষ্ট করেছিলেন কে তাঁকে হত্যা করেছে এবং তাঁর সংবাদটি কেমন ছিল। অতঃপর সেই ব্যক্তি তাঁর অসিয়তনামা নিয়ে তাঁর পুত্র নাফে’-এর নিকট গেল। সে (নাফে’) মাটি নিল এবং তা নিজের মাথায় রাখল। অতঃপর সে একে একে সবার নিকট গেল এবং তারা সকলেই অনুরূপ করল। অবশেষে সে ইমরুল কায়সের নিকট পৌঁছাল এবং তাকে তাঁর এক সহচরের সাথে মদ্যপান ও পাশা খেলায় রত অবস্থায় পেল। সে তাকে বলল: হুজর নিহত হয়েছেন। সে তার কথায় কর্ণপাত করল না এবং নিজের সহচরকে থামিয়ে রাখল। ইমরুল কায়স তাকে বলল: চাল দাও। সে চাল দিল এবং খেলা শেষ হলে সে বলল: আমি তোমার কিস্তি বা দান নষ্ট করতে চাইনি। অতঃপর সে বার্তাবাহকের নিকট তাঁর পিতার বিষয় জানতে চাইল এবং সে তাকে বিস্তারিত অবহিত করল। তখন সে বলল: মদ এবং নারী আমার জন্য হারাম, যতক্ষণ না আমি বনু আসাদের একশত ব্যক্তিকে হত্যা করি এবং একশত জনের ললাটের কেশগুচ্ছ কর্তন করি। বর্ণিত আছে যে সে বলেছিল: তিনি আমাকে শৈশবে লক্ষ্যচ্যুত করেছেন আর বার্ধক্যে তাঁর প্রতিশোধের ভার আমার ওপর চাপিয়েছেন। আজ কোনো সচেতনতা নেই, আর কাল কোনো মত্ততা থাকবে না; আজ সুরা পান, আর কাল রণ-অভিযান। তার এই কথাটি প্রবাদে পরিণত হয়েছে, অর্থাৎ আজ আমাদের মদ্যপানে মগ্ন থাকতে দাও এবং কাল আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ (যুদ্ধ) ব্যস্ত রাখবে। অর্থাৎ যুদ্ধের বিষয়। অতঃপর সে সাত দিন মদ্যপান করল এবং তারপর বলল:

আমার কাছে সংবাদ এলো, যখন আমি ও আমার সঙ্গীরা সালী’র চূড়ায় ছিলাম … এমন এক সংবাদ যা আমার নিদ্রা ও সুখ বিদায় করে দিল।

আমি সেই আজলি ব্যক্তিকে তার ঘটনার অব্যবহিত পরেই বললাম … বিষয়টি পরিষ্কার করো এবং আমার কাছে অস্পষ্ট সংবাদটি স্পষ্ট করে বলো।

সে বলল: হে মহারাজ, আমর ও কাহিল গোত্র … হুজরের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে হানা দিয়েছে এবং তিনি নিহত অবস্থায় ভোর অতিবাহিত করেছেন।

এখানে 'আজলি' বলতে তিনি বনু আজল গোত্রের আমের আল-আওয়ার নামক এক ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন, যে তাকে সংবাদটি পৌঁছে দিয়েছিল। এ বিষয়ে তাঁর আরও অনেক কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

আল্লাহর কসম, আমার পিতার রক্ত বৃথা যাবে না … যতক্ষণ না আমি মালিক ও কাহিল গোত্রকে সমূলে বিনাশ করি।

যারা সেই মহান রাজাকে হত্যা করেছে … যিনি বংশগৌরব ও বদান্যতায় মাআদ বংশের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌خبره مع بني أسد:

ثم أخذ أمرؤ القيس يستعد لقتال بني أسد، فبلغهم ذلك، فأوفدوا إليه رجالًا من ساداتهم، فأكرك منزلهم، واحتجب عنهم ثلاثة أيامن ثم خرج عليهم في قباء وخف وعمامةٍ سوداء إشعارًا بأنه طالب بثأر بأبيه، فلما لقيهم بدروه بالثناء عليه، وعلى أبيه، وقالوا له: إن الواجب عليك أن ترضى منا بأحد خلال نسميها لك: إما أن تختار من بني أسد أشرفها بيتًا، وأعلاها في بناء المكرمات صوتًا، فقدنا إليك من اخترته بنسعه فتذبحهن وإما أن ترضى منا بفداء بالغٍ ما بلغ فأديناه إليك من نعمنا، فترد القضب، أي السيوف إلى أجفانها، وإما أن توادعنا حتى تضع الحوامل، وتتأهب للحرب، فبكى أمرؤ القيس ساعة، ثم رفع رأسه، وقال: لقد علمت العرب أن لا كفء لحجر، وأني لن أعتاض به جملًا ولا ناقة، فأكتسب بذلك مسبة، وكانت العرب تتذمم من ذلك، قال شاعرهم يخاطب امرأته:

أكلت دمًا، إن لم أرعك بضرةٍ … بعيدة مهوى القرط طيبة النشر

ثم قال لهم: وأما النظرة فقد أوجبتها الأجنة في بطون أمهاتها، وستعرفون طلائع كندة بعد ذلك، ثم ارتحل حتى نزل بكرًا وتغلب، وعليهم أخواه شرحبيل ومعد يكرب، فاستنصرهما على بني أسد فنصراه وأوقع فيهم مقتلة عظيمة حتى كثرت القتلى والجرحى، وحجز الليل بينهم فهرب بنو أسد، فلما أسفر الصبح أراد أن يتبعهم، فامتنعت بكر وتغلب، وقالوا: قد أصبت ثأرك، فقال: والله ما فعلت، ولا أصبت من بني كاهل أحدًا، فلما امتنعوا من المسير معه استنصر مرثد الخير، وهو من أقيال حمير، فأمده بخمسمائة رجل من حمير، ومات مرثد قبل رحيل امرئ القيس، فأنفذ له ذلك قرمل الذي جلس في مكان مرثد، واستأجر كثيرًا من صعاليك العرب، فسار إلى بني أسد، ومر في طريقه على ذلك الخلصة، وهو صنم كانت العرب تعظمه، فاستقسم عنده بقداحه، وهي ثلاثة: الآمر
বনু আসাদের সাথে তার ঘটনা:

অতঃপর ইমরুল কায়েস বনু আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। তারা এ খবর জানতে পেরে তাদের নেতৃস্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে তার নিকট পাঠাল। তিনি তাদের আতিথেয়তার ব্যবস্থা করলেন, তবে তিন দিন পর্যন্ত তাদের থেকে নিজেকে আড়ালে রাখলেন। এরপর তিনি তাদের সামনে একটি কাবা (বিশেষ আলখাল্লা), মোজা এবং একটি কালো পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় বের হলেন, যা দ্বারা তিনি এই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যে তিনি তার পিতার রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারী। তারা যখন তার দেখা পেল, তখন তারা তার এবং তার পিতার প্রশংসা করতে শুরু করল এবং তাকে বলল: আপনার জন্য এটাই উচিত যে, আপনি আমাদের পক্ষ থেকে পেশ করা এই তিনটি প্রস্তাবের যেকোনো একটি গ্রহণ করবেন: হয় বনু আসাদের মধ্যে বংশীয়ভাবে সবচেয়ে সম্মানিত এবং উচ্চ মর্যাদার কাউকে বেছে নেবেন, যাকে আমরা দড়ি দিয়ে বেঁধে আপনার নিকট সোপর্দ করব এবং আপনি তাকে হত্যা করবেন; অথবা আপনি আমাদের কাছ থেকে যতো ইচ্ছা ততো রক্তপণ গ্রহণ করবেন, যা আমরা আমাদের পশু সম্পদ থেকে আপনাকে আদায় করে দেব, যার বিনিময়ে আপনি তরবারিগুলো কোষবদ্ধ করবেন; অথবা আমাদের গর্ভবতী মহিলারা সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করা পর্যন্ত আপনি আমাদের অবকাশ দেবেন। ইমরুল কায়েস কিছুক্ষণ কাঁদলেন, তারপর মাথা উঁচু করে বললেন: আরবরা জানে যে হুজর-এর সমকক্ষ কেউ নেই, আর আমি কখনোই তার বিনিময়ে উট গ্রহণ করব না, যাতে আমাকে অপবাদ সইতে হয়। আরবরা এই ধরণের বিষয়কে অত্যন্ত লজ্জাজনক মনে করত। তাদের এক কবি তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:

আমি যেন রক্ত পান করেছি, যদি আমি তোমাকে এমন এক সতীন দ্বারা ভীত না করি … যার কানের দুলের দোলন অত্যন্ত দীর্ঘ এবং সুগন্ধি অত্যন্ত চমৎকার।

অতঃপর তিনি তাদের বললেন: অবকাশের বিষয়টি মায়েদের গর্ভে থাকা ভ্রূণদের খাতিরে আমি মঞ্জুর করলাম, তবে শীঘ্রই তোমরা এর পরে কিনদাহ গোত্রের অগ্রবর্তী বাহিনীকে দেখতে পাবে। এরপর তিনি প্রস্থান করলেন এবং বকর ও তাগলিব গোত্রে গিয়ে অবস্থান করলেন, সেখানে তার দুই ভাই শারাহবিল এবং মা'দী কারিব নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বনু আসাদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য প্রার্থনা করলেন। তারা তাকে সাহায্য করল এবং বনু আসাদের উপর এক ভয়াবহ আক্রমণ পরিচালনা করল, যাতে প্রচুর লোক হতাহত হলো। রাতের অন্ধকার তাদের মধ্যে আড়াল হয়ে দাঁড়ালো এবং বনু আসাদ পালিয়ে গেল। যখন ভোর হলো, তিনি তাদের পিছু নিতে চাইলেন, কিন্তু বকর ও তাগলিব গোত্র অসম্মতি জানাল এবং বলল: আপনি তো আপনার প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি এখনো তা করিনি এবং বনু কাহিল গোত্রের কাউকেও আমি এখনো পাইনি। যখন তারা তার সাথে যাত্রা করতে অস্বীকার করল, তখন তিনি হিমইয়ারের অন্যতম নেতা মারসাদ আল-খায়র-এর সাহায্য চাইলেন। তিনি তাকে হিমইয়ারের পাঁচশ সৈন্য দিয়ে সাহায্য করলেন। ইমরুল কায়েসের যাত্রার পূর্বেই মারসাদ মারা যান, ফলে কারমাল—যিনি মারসাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন—সেই সাহায্য কার্যকর করেন। তিনি অনেক আরব যাযাবর দস্যুকেও ভাড়া করলেন। অতঃপর তিনি বনু আসাদের দিকে অগ্রসর হলেন এবং পথিমধ্যে 'জু আল-খালাসা'র নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন। এটি ছিল একটি মূর্তি যাকে আরবরা শ্রদ্ধা করত। তিনি সেখানে তার ভাগ্যনির্ধারক তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করলেন, যা ছিল তিনটি: আদেশ প্রদানকারী...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৮)
والناهي والمتربص، فأجالها فخرج الناهي ثلاث مرات، وكلما أجالها يخرج الناهي، فجمعها وكسرها وضرب بها وجه الصنم، وقال: لو كان المقتول أباك ما عقتني، ثم خرج فظفر ببني أسد أيضًا.

 

‌‌مطاردة المنذر له وخبر موته:

وعند التحقيق تجد أن الذي طارده إنما هو عمرو بن المنذر لا المنذر نفسه. ثم إن المنذر بن ماء السماء حارب امرأ القيس، وألب عليه العرب، وأمده كسرى أنو شروان بجيش من الأساورة، فسرحهم في طلبه، فانفضت جموعه عنه، ونجا مع عصبة من بني آكل المرار حتى نزل بالحارث بن شهاب من بني يربوع بن حنظلة، ومعه أدرعه الخمس، وهي الفضفاضة والضيافة والمحصنة والخريق وأم الذيول، وكانت هذه الأدرع يتوارثها بنو آكل المرار ملكًا عن ملك، فلما بلغ المنذر أن امرأ القيس استقر عند الحارث المذكور بعث إليه يتهدده، إن لم يسلم إليه بني آكل المرار، فسلمهم إليه، ونجا أمرؤ القيس بما قدر على أخذه معه من المال والسلاح والأدرع المذكورة، فلجأ إلى السموءل بن عاديا الغساني، ثم اليهودي مذهبًا، وكان معه فزاري يدعى الربيع، فقال له: امدح السموءل فإن الشعر يعجبه، فنزل به، وأنشده مديحه فيه، فأكرم مثواه، وترك عنده ابنته هندًا، وكتب له كتابًا إلى الحارث بن أبي شمر الغساني، وأمره أن يوصله إلى قيصر، ففعل، ولما وصل إلى قيصر قبله وأكرمه، وأمده بجيش كثيف، وفيهم جماعة من أبناء الملوك، وكان رجل من بني أسد، يقال له: الطماح واجدًا على امرئ القيس لأنه قتل أخاه فيمن قتل، فاندس إلى قيصر، وقال له: إن امرأ القيس عاهر، وإنه لا انصرف عنك ذكر أن ابنتك عشقته، وأنه كان يواصلها، وهو قائل في ذلك شعرًا، يشهرها به في العرب ويفضحها، فبعث إليه حينئذ بحلة منسوجة بالذهب، وأودعها سمًا قاتلًا، وكتب إليه: إني أرسلت إليك حلتي التي كنت ألبسها تكرمة لك، فإذا وصلت فالبسها باليمين والبركة، واكتب إلي
এবং নিষেধকারী ও সুযোগ সন্ধানকারী; এরপর তিনি সেগুলো নাড়াচাড়া করলেন, তখন তিনবারই নিষেধকারী তীরটি বের হয়ে এল। যতবারই তিনি সেগুলো নাড়াচাড়া করলেন, নিষেধকারী তীরটিই বের হতে থাকল। তখন তিনি তীরগুলো একত্র করে ভেঙে ফেললেন এবং সেগুলো দিয়ে মূর্তির মুখে আঘাত করলেন। তিনি বললেন: "নিহত ব্যক্তিটি যদি তোমার পিতা হতো, তবে তুমি আমাকে বাধা দিতে না।" এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং বনু আসাদ গোত্রের ওপর পুনরায় বিজয় লাভ করলেন।

 

‌‌মুনযিরের তাকে তাড়া করা এবং তার মৃত্যুর সংবাদ:

গবেষণায় দেখা যায় যে, যিনি তাকে তাড়া করেছিলেন তিনি ছিলেন আমর ইবনুল মুনযির, স্বয়ং মুনযির নন। অতঃপর মুনযির ইবনে মাউস সামা ইমরুল কায়সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং আরবদেরকে তার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করেন। কিসরা আনুশিরওয়ান তাকে পারস্যের অশ্বারোহী বাহিনীর একটি সেনাবাহিনী দিয়ে সাহায্য করেন এবং তিনি তাদের ইমরুল কায়সের তালাশে পাঠান। ফলে ইমরুল কায়সের সঙ্গীরা তাকে ত্যাগ করে এবং তিনি বনু আকিলুল মুররা গোত্রের একদল লোকের সাথে পলায়ন করে বনু ইয়ারবু ইবনে হানযালার হারিস ইবনে শিহাবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করেন। সে সময় তার নিকট পাঁচটি বর্ম ছিল; সেগুলো হলো: আল-ফাদফাদাহ, আদ-দিয়াফাহ, আল-মুহসিনাহ, আল-খারিদ এবং উম্মুয যুয়ুল। এই বর্মগুলো বনু আকিলুল মুররা গোত্রের রাজারা বংশপরম্পরায় উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে আসছিলেন। যখন মুনযির জানতে পারলেন যে ইমরুল কায়স উল্লিখিত হারিসের নিকট অবস্থান করছেন, তখন তিনি তাকে এই মর্মে হুমকি দিলেন যে, যদি তিনি বনু আকিলুল মুররাকে তার হাতে সমর্পণ না করেন (তবে তা ভয়াবহ হবে)। তখন হারিস তাদেরকে তার কাছে সোপর্দ করলেন। আর ইমরুল কায়স তার যতটুকু ধনসম্পদ, অস্ত্রশস্ত্র এবং উল্লিখিত বর্মসমূহ সাথে নিতে পেরেছিলেন তা নিয়ে পালিয়ে সামাওয়াল ইবনে আদিয়া আল-গাসসানীর নিকট আশ্রয় নিলেন, যিনি ইয়াহুদি ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তার সঙ্গে রবী নামক ফাজারা গোত্রের এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাকে বললেন: "আপনি সামাওয়ালের প্রশংসা করুন, কারণ তিনি কবিতা পছন্দ করেন।" অতঃপর তিনি তার নিকট অবতরণ করলেন এবং তার প্রশংসায় কাব্য পাঠ করলেন। ফলে তিনি তাকে সমাদর করলেন এবং ইমরুল কায়স তার নিকট নিজ কন্যা হিন্দকে আমানত হিসেবে রেখে গেলেন। সামাওয়াল তার জন্য হারিস ইবনে আবি শামির আল-গাসসানীর নিকট একটি পত্র লিখে দিলেন এবং তাকে আদেশ করলেন যেন সেটি কায়সারের নিকট পৌঁছানো হয়। তিনি তাই করলেন। যখন তিনি কায়সারের দরবারে পৌঁছালেন, কায়সার তাকে সাদরে গ্রহণ করলেন ও সম্মানিত করলেন এবং তাকে একটি বিশাল সৈন্যবাহিনী দিয়ে সাহায্য করলেন, যাদের মধ্যে বহু রাজপুত্রও ছিল। বনু আসাদ গোত্রের আত-তাম্মাহ নামক এক ব্যক্তি ইমরুল কায়সের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিল, কারণ ইমরুল কায়স যাদের হত্যা করেছিলেন তাদের মধ্যে তার ভাইও ছিল। সে কায়সারের নিকট গিয়ে গোপনে কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল: "নিশ্চয়ই ইমরুল কায়স একজন লম্পট; সে আপনার নিকট থেকে ফিরে যাওয়ার পর প্রচার করবে যে আপনার কন্যা তার প্রেমে মগ্ন ছিল এবং সে তার সাথে মেলামেশা করত। সে এই বিষয়ে কবিতা রচনা করেছে যার মাধ্যমে সে তাকে আরবদের মাঝে আলোচিত করবে এবং তাকে কলঙ্কিত করবে।" তখন কায়সার তার নিকট স্বর্ণখচিত একটি রাজপোশাক পাঠালেন এবং তাতে প্রাণঘাতী বিষ মাখিয়ে দিলেন। তিনি তাকে লিখে পাঠালেন: "তোমার প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ আমি আমার পরিহিত রাজপোশাকটি তোমার নিকট পাঠালাম। এটি যখন তোমার কাছে পৌঁছাবে, তখন তুমি বরকত ও মঙ্গলের সাথে এটি পরিধান করো এবং আমাকে পত্র লিখো।"
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ১৯)
بخبرك من منزل إلى منزل، فلما وصلت إليه لبسها، واشتد سروره بها، فأسرع فيه السم، وسقط جله، فلذلك سمي (ذا القروح) وعلم أن الطماح هو سبب ذلك، فقال سينيته التي منها:

لقد طمح الطماح من بعد أرضه … ليلبسني من دائه ما تلبسا

ومنها قوله:

وبدلت قرحًا داميًا بعد صحةٍ … لعل منايانا تحولن أبؤسا

فلما وصل إلى بلاد الروم يقال لها أنقرة، واحتضر بها، قال: رب طعنةٍ مثعنجرة، وخطبةٍ مسحنفرة تبقى غدًا بأنقرة، ويروى في هذه الكلمات غير ذلك، وقال ابن الكلبي، هذا آخر شيء تكلم به، ثم مات.

قيل: رأى قبر امرأة ماتت هناك، وهي غريبة، فدفنت في سفح جبل يقال له: عسيب، فسأل عنها، فأخبر بقصتها فقال:

أجارتنا إن المزار قريب … وإني مقيم ما أقام عسيب

أجارتنا إنا غريبان ههنا … وكل غريبٍ للغريب نسيب

ثم مات، ودفن إلى جنب المرأة، فقبره هناك، كذا قال أبو الفرج الأصبهاني، وهو غلط محض، لأن عسبًا جبل بعالية نجد، وأنقرة في بلاد الروم، ولا يدل ضربه المثل بإقامة عسيب على أنه دفن به، أهـ من الديوان بحروفه.

 

‌‌شيء من سيرته:

روي أن امرأ القيس آلى ألا يتزوج امرأة حتى يسألها عن ثمانية وأربعة واثنتين، فجعل يخطب النساء، فإذا سألهم عن هذا قلن: أربعة عشر، فبينا هو يسير في جوف الليل إذ هو برجل يحمل ابنة له صغيرة كأنها البدر تمامه،
এক মনজিল থেকে অন্য মনজিলের সংবাদ নিয়ে আপনার কাছে আসলাম। যখন সেটি তার কাছে পৌঁছাল, তিনি সেটি পরিধান করলেন এবং এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তখন বিষ তার শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং তার গায়ের চামড়া খসে পড়তে লাগল। এ কারণেই তাকে ‘যুল কুরুহ’ (ক্ষতবিক্ষত দেহবিশিষ্ট) বলা হয়। তিনি বুঝতে পারলেন যে তিম্মাহ-ই এর কারণ। তখন তিনি তার ‘সিন’ অন্ত্যমিলের কাসিদাটি আবৃত্তি করেন, যার মধ্যে রয়েছে:

নিশ্চয়ই তিম্মাহ তার দূরবর্তী ভূমি থেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছে … যেন সে তার রোগ আমাকে পরিধান করায় যা সে নিজে পরিধান করেছিল

এর মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর কথা:

আর সুস্থতার পরিবর্তে আমি রক্তক্ষরণকারী ক্ষত দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছি … সম্ভবত আমাদের মৃত্যুগুলো দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে

যখন তিনি রোমানদের দেশে পৌঁছালেন যা আঙ্কারা নামে পরিচিত এবং সেখানে তাঁর মুমূর্ষু অবস্থা হলো, তখন তিনি বললেন: কতই না রক্তক্ষরণকারী আঘাত এবং কতই না বিস্তৃত ভাষণ যা আগামীকাল আঙ্কারায় রয়ে যাবে। এই কথাগুলো সম্পর্কে অন্যান্য বর্ণনাও রয়েছে। ইবনুল কালবি বলেন, এটিই ছিল তাঁর বলা শেষ কথা, তারপর তিনি মারা যান।

বলা হয়ে থাকে: তিনি সেখানে মৃত এক মহিলার কবর দেখতে পেলেন, যিনি ছিলেন একজন প্রবাসী। তাঁকে আসীব নামক পাহাড়ের পাদদেশে সমাহিত করা হয়েছিল। তিনি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাঁর কাহিনী জানতে পেরে বললেন:

হে আমার প্রতিবেশিনী, নিশ্চয়ই সাক্ষাতের স্থান অতি নিকটে … আর আসীব পাহাড় যতকাল থাকবে, আমিও ততকাল অবস্থান করব

হে আমার প্রতিবেশিনী, আমরা এখানে দুজনেই প্রবাসী … আর প্রত্যেক প্রবাসীই অন্য প্রবাসীর আত্মীয়

তারপর তিনি মারা গেলেন এবং সেই মহিলার পাশে তাঁকে সমাহিত করা হলো, তাঁর কবর সেখানেই। আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানি এমনই বলেছেন, তবে এটি একটি স্পষ্ট ভুল। কারণ আসীব হলো নজদের উচ্চভূমিতে অবস্থিত একটি পাহাড়, আর আঙ্কারা হলো রোমানদের দেশে। আসীবের অবস্থানের উদাহরণ দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি সেখানেই সমাহিত হয়েছেন। দিওয়ান থেকে হুবহু উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

 

‌‌তাঁর জীবনী থেকে কিছু অংশ:

বর্ণিত আছে যে, ইমরুল কায়েস কসম করেছিলেন যে তিনি কোনো নারীকে বিবাহ করবেন না যতক্ষণ না তাকে আট, চার এবং দুই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। তিনি নারীদের বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকলেন, কিন্তু যখনই তাদের এই প্রশ্ন করতেন, তারা উত্তর দিত: চৌদ্দ। এমতাবস্থায় একদিন তিনি মাঝরাতে পথ চলছিলেন, তখন এক ব্যক্তির দেখা পেলেন যে তার এক ছোট কন্যাকে বহন করছিল, যে দেখতে যেন পূর্ণিমার চাঁদ।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২০)
فأعجبته، فقال لها: يا جارية ما ثمانية وأربعة واثنتان؟ فقالت: أما ثمانية فأطباء الكلبة، وأما أربعة فأخلاف الناقة، وأما اثنتان فثديا المرأة؟ فخطبها إلى أبيها فزوجه إياها، وشرطت عليه أن تسأله ليلة بنائه بها عن ثلاث خصال، فجعل لها ذلك على أن يسوق لها من المهر مائة من الإبل، وعشرة أعبد، وعشر وصائف، وثلاثة أفراس، ففعل ذلك، ثم إنه بعث عبدًا له إلى المرأة، وأهدى إليها نحيًا من سمن ونحيًا من عسل، وحلة من عصب (ضرب من البرود) فنزل العبد ببعض المياه، فنشر الحلة ولبسها فتعلقت بعشرة فانشقت، وفتح النحيين فأطعم أهل الماء منهما، فنقصا، ثم قدم على حي المرأة وهو غياب، فسألها عن أبيها وأمها وأخيها، ودفع إليها هديتها.

فقالت له: أعلم مولاك أن أبي ذهب يقرب بعيدًا ويبعد قريبًا، وأن أمي ذهبت تشق النفس نفسين، وأن أخي يراعي الشمس، وأن سماءكم انشقت، وأن وعائيكما نضبا، فقدم الغلام على مولاه، فأخبره فقال: أما قولها: إن أبي ذهب يقرب بعيدًا، ويبعد قريبًا، فإن أباها ذهب يحالف قومًا على قومه، وأما قولها: ذهبت أمي تشق النفس نفسين، فإن أمها ذهبت تقبل امرأة نفساء، وأما قولها: إن أخي يراعي الشمس، فإن أخاها في سرح له، وفهم الأخريين، فسأل العبد فاعترف بما كان منه.

وكان أمرؤ القيس مفركًا لا تحبه النساء، ولا تكاد امرأة تصبر معه، فتزوج امرأة من طيء تسمى أم جندب، فابتنى بها، فأبغضته من ليلتها، وكرهت مكانها معه، فجعلت تقول: يا خير الفتيان أصبحت، فيرفع رأسه، فينظر فإذا الليل كما هو، فتقول: أصبح ليل، فلما أصبح قال لها: قد علمت ما صنعت الليلة، وقد علمت أن ما صنعت من كراهية مكاني في نفسك، فما الذي كرهت مني؟ فقالت: ما كرهتك، فلم يزل حتى قالت: كرهتك لأنك ثقيل الصدر خفيف العجز، بطيء الإفاقة سريع الإراقة، وذهب قولها (أصبح ليل) مثلًا يضرب في
সেটি তাকে মুগ্ধ করল, তখন তিনি তাকে বললেন: হে বালিকা, আট, চার ও দুই কী? সে বলল: আটের ক্ষেত্রে তা হলো কুকুরীর ওলানসমূহ, চারের ক্ষেত্রে তা হলো উষ্ট্রীর ওলানসমূহ এবং দুইয়ের ক্ষেত্রে তা হলো নারীর দুই স্তন। এরপর তিনি তার পিতার নিকট তার বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং তিনি তার সাথে তাকে বিয়ে দিলেন। তিনি (নারী) শর্তারোপ করলেন যে, বাসর রাতে তিনি তাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। তিনি তা মেনে নিলেন এই শর্তে যে, তিনি মোহর হিসেবে তাকে একশত উট, দশজন দাস, দশজন দাসী এবং তিনটি ঘোড়া প্রদান করবেন। তিনি তা করলেন। অতঃপর তিনি তার এক গোলামকে ঐ মহিলার নিকট পাঠালেন এবং তার নিকট এক মশক ঘি, এক মশক মধু এবং একটি আসব (এক প্রকারের কারুকাজ করা চাদর) উপহার পাঠালেন। গোলামটি পথিমধ্যে একটি জলাশয়ের নিকট অবতরণ করল, চাদরটি বিছাল এবং তা পরিধান করল। সেটি কাঁটায় আটকে গেল এবং ছিঁড়ে গেল। সে মশক দুটি খুলল এবং জলাশয়ের লোকদের তা থেকে খাওয়াল, ফলে সেগুলো কমে গেল। অতঃপর সে মহিলার গোত্রে উপস্থিত হলো যখন তারা অনুপস্থিত ছিল। সে তার পিতা, মাতা এবং ভাই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল এবং তার উপহার তাকে প্রদান করল।

তখন সে তাকে বলল: তোমার মনিবকে অবহিত করো যে, আমার পিতা দূরের ব্যক্তিকে নিকটবর্তী করতে এবং নিকটবর্তী ব্যক্তিকে দূরে সরাতে গিয়েছেন। আর আমার মাতা একটি প্রাণকে দুই প্রাণে বিভক্ত করতে গিয়েছেন। আর আমার ভাই সূর্যের প্রতীক্ষা করছে। আর তোমাদের আকাশ বিদীর্ণ হয়েছে এবং তোমাদের পাত্রদ্বয় শুকিয়ে গিয়েছে। অতঃপর গোলামটি তার মনিবের নিকট ফিরে এসে তাকে সংবাদ দিল। তিনি বললেন: তার কথা 'আমার পিতা দূরের ব্যক্তিকে নিকটবর্তী করতে এবং নিকটবর্তী ব্যক্তিকে দূরে সরাতে গিয়েছেন'—এর অর্থ তার পিতা এক জাতির বিরুদ্ধে অন্য জাতির সাথে মৈত্রী চুক্তি করতে গিয়েছেন। আর তার কথা 'আমার মাতা একটি প্রাণকে দুই প্রাণে বিভক্ত করতে গিয়েছেন'—এর অর্থ তার মাতা এক প্রসূতি নারীর সন্তান প্রসব করাতে গিয়েছেন। আর তার কথা 'আমার ভাই সূর্যের প্রতীক্ষা করছে'—এর অর্থ তার ভাই পশু চারণভূমিতে আছে। আর তিনি অন্য দুটি কথার অর্থও বুঝে ফেললেন। এরপর তিনি গোলামকে জিজ্ঞেস করলে সে যা করেছিল তা স্বীকার করল।

ইমরুল কায়েস এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যার প্রতি স্ত্রীরা অনুরাগী হতো না এবং কোনো নারীই তার সাথে ধৈর্য ধরতে পারত না। তিনি তায়্যি গোত্রের উম্মে জুনদুব নাম্নী এক নারীকে বিয়ে করলেন এবং তার সাথে বাসর যাপন করলেন। কিন্তু বাসর রাত থেকেই সে তাকে ঘৃণা করতে লাগল এবং তার সান্নিধ্য অপছন্দ করল। সে বলতে শুরু করল: হে শ্রেষ্ঠ যুবক, ভোর হয়ে গিয়েছে। তিনি মাথা তুলে তাকালেন এবং দেখলেন রাত আগের মতোই আছে। সে বলল: রাতই ভোর হয়ে গিয়েছে। যখন সকাল হলো, তিনি তাকে বললেন: তুমি রাতে যা করেছ তা আমি বুঝতে পেরেছি এবং আমি এটাও জানি যে আমার সান্নিধ্য অপছন্দ করার কারণেই তুমি এমনটি করেছ। তুমি আমার মাঝে কী অপছন্দ করেছ? সে বলল: আমি আপনাকে অপছন্দ করিনি। তিনি তাকে ছাড়লেন না যতক্ষণ না সে বলল: আমি আপনাকে অপছন্দ করি কারণ আপনি বক্ষদেশের দিকে ভারী কিন্তু কটিদেশের দিকে হালকা; মিলনের অবসাদ কাটতে আপনার দেরি হয় কিন্তু বীর্যপাত দ্রুত ঘটে। আর তার কথা 'রাত ভোর হয়ে গিয়েছে' একটি প্রবাদে পরিণত হয়েছে যা ব্যবহৃত হয়...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২১)
الليلة الشديدة التي يطول فيها الشر، وروي أنه لما جاور في طيء نزل به علقمة بن عبدة التميمي، فتذاكر الشعر، فقال كل واحد منهما لصاحبه: أنا أشعر منك، فقال له علقمة: قل شعرًا تمدح فيه فرسك والصيد، وأقول مثلهن وهذه الحكم بيني وبينك، فقال أمرؤ القيس قصيدته التي مطلعها:

خليلي مرا بي على أم جندب … لتقضى لبانات الفؤاد المعذب

حتى مر بقوله:

فللساق ألهوب، وللسوط درة … وللزجر منه وقع أهوج منعب

وأنشد علقمة:

ذهبت من الهجران في غير مذهب … ولم يك حقًا كل هذا التجنب

حتى انتهى إلى قوله:

فأدركهن ثانيًا من عنانه … يمر كغيثٍ رائحٍ متحلب

فقالت له: علقمة أشعر منك، فقال: وكيف" قالت: لأنك زجرت فرسك، وحركته بساقك، وضربته بسوطك، وإنه أردك الصيد ثانيًا من عنان فرسك، فغضب أمرؤ القيس، وقال: ليس كما قلت، ولكنك هويته، فطلقها، فتزوجها علقمة، وبهذا لقب علقمة الفحل، أهـ من الديون بحروفه.

تنيه: بحر معلقة امرئ القيس هو البحر الطويل.

تنبيه: معنى المعلقة: كان العرب في الجاهلية يقول الواحد منهم الشعر في أقصى الأرض، فلا يؤبه له، ولا ينشده أحد حتى يأتي مكة المكرمة في موسم الحج، فيعرضه على أندية قريش، فإن استحسنوه روي، وافتخر به قائله وعلق على ركن من أركان الكعبة حتى يراه الناس، وإن لم يستحسنوه
সেই ভয়াবহ রাত যাতে অকল্যাণ দীর্ঘায়িত হয়। বর্ণিত আছে যে, ইমরুল কায়েস যখন তাই (গোত্রের এলাকা)-তে অবস্থান করছিলেন, তখন আলকামা বিন আবদাহ আত-তামিমী তাঁর নিকট আগমন করলেন। তাঁরা কবিতা নিয়ে আলোচনা করলেন এবং একে অপরকে বললেন, "আমি আপনার চেয়ে বড় কবি।" তখন আলকামা তাকে বললেন, "আপনি এমন কিছু কবিতা বলুন যাতে আপনি আপনার ঘোড়া এবং শিকারের প্রশংসা করবেন, আমিও অনুরূপ বলব। আর এই নারী আমাদের মাঝে বিচারক হবেন।" তখন ইমরুল কায়েস তাঁর সেই কাসিদাটি আবৃত্তি করলেন যার সূচনা হলো:

হে আমার দুই বন্ধু! আমাকে উম্মু জুনদুবের কাছে নিয়ে চলো … যাতে এই ব্যথিত হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।

পরিশেষে তিনি তাঁর এই পংক্তি পর্যন্ত পৌঁছালেন:

পা-এর ইশারায় ঘোড়াটি তেজদীপ্ত হয়, চাবুকের আঘাতে তা দ্রুত ধাবিত হয় … আর ধমক দিলে তা ক্ষিপ্র গতিতে ধাবমান হয়।

আর আলকামা আবৃত্তি করলেন:

বিচ্ছেদের কারণে তুমি এমন পথে গিয়েছ যা সঠিক নয় … আর এই সম্পূর্ণ বিমুখতা মোটেও সংগত ছিল না।

পরিশেষে তিনি তাঁর এই পংক্তি পর্যন্ত পৌঁছালেন:

সে লাগাম ধরে রাখা অবস্থাতেই তাদের ধরে ফেলল … সে এমনভাবে ধাবিত হচ্ছিল যেন বারিবর্ষণকারী দ্রুতগামী মেঘমালা।

তখন তিনি (উম্মু জুনদুব) তাকে বললেন, "আলকামা আপনার চেয়ে বড় কবি।" ইমরুল কায়েস বললেন, "সেটা কীভাবে?" তিনি বললেন, "কারণ আপনি আপনার ঘোড়াকে ধমক দিয়েছেন, পা দিয়ে তাকে উত্তেজিত করেছেন এবং চাবুক দিয়ে আঘাত করেছেন। অথচ সে (আলকামা) ঘোড়ার লাগাম আলগা রাখা অবস্থাতেই শিকার ধরে ফেলেছে।" এতে ইমরুল কায়েস রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, "বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি আপনি বলেছেন, বরং আপনি তার প্রতি আসক্ত হয়েছেন।" অতঃপর তিনি তাকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং আলকামা তাকে বিবাহ করলেন। আর এই কারণেই আলকামাকে 'আলকামা আল-ফাহল' (সেরা আলকামা) উপাধি দেওয়া হয়। দীওয়ান থেকে অবিকল উদ্ধৃত।

সতর্কবার্তা: ইমরুল কায়েসের মুআল্লাকার ছন্দ হলো 'বহরে তবিল'।

সতর্কবার্তা: মুআল্লাকার অর্থ: জাহেলী যুগে আরবরা যখন পৃথিবীর কোনো প্রান্তে কবিতা রচনা করত, তখন কেউ তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করত না এবং কেউ তা আবৃত্তি করত না যতক্ষণ না সে হজের মৌসুমে মক্কাতুল মোকাররমায় আসত। অতঃপর সে তা কুরাইশদের মজলিসগুলোতে পেশ করত। যদি তারা তা পছন্দ করত, তবে তা বর্ণিত হতো এবং এর কবি তা নিয়ে গর্ব বোধ করত। আর তা কাবার কোনো এক কোণে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো যাতে মানুষ তা দেখতে পায়। আর যদি তারা তা পছন্দ না করত...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২২)
طرح ولم يعبأ به، وأول من علق شعره في الكعبة أمرؤ القيس، وبعده علقت الشعراء، وعدد من علق شعره سبعة، ثانيهم طرقة بن العبد، ثالثهم زهير بن أبي سلمى، رابعهم لبيد بن ربيعة، خامسهم عمرو بن كلثوم، سادسهم الحارث بن حلزة، سابعهم عنترة بن شداد.

وروي أن أبا عبيدة قال: أصحاب السبع التي تسمى السمط، أمرؤ القيس، وزهير، والنابغة، والأعشى، ولبيد، وعمرو، وطرفة، قال: وقال المفضل: من زعم أن في السبع التي تسمى السمط لأحد غير هؤلاء فقد أبطل، فأسقط من أصحاب المغلقات عنترة والحارث بن حزة، وأثبتا الأعشى والنابغة، وكانت المعلقات تسمى المذهبات، وذلك أنها اختيرت من سائر الشعر، فكتبت في القباطي بماء الذهب، وعلقت على الكعبة، فلذلك يقال: مذهبة فلان، إذا كان أجود شعره، وذكره ذلك غير واحد من العلماء، وقيل: بل كان الملك إذا اسجيدت قصيدة يقول: علقوا لنا هذه لتكون في خزانته، ولم يكن للعرب ملوك سوى المناذرة الذين كانوا يملكون الحيرة في جنوب العراق تحت سيطرة الفرس، والغساسنة الذين كانوا يملكون حوران في جنوب الشام تحت سيطرة الروم، والمناذرة أشهر وأقوى من الغساسنة.

 

‌‌تنبيه: لم يذكر أحد معلقة عبيد بن الأبرص في المعلقات مع اختلاف العلماء كما رأيت في عدها وذكر أصحابها، وقد جمع التبريزي المعلقات التسع، وأضاف إليهن معلقة عبيد بن الأبرص، فصارت عشرًا، وعندما تطلع على معلقة عبيد بن الأبرص، وترى ما فيها من اختلال الوزن في كثير من أبياتها، وعدم الرونق والجمال في إنشادها توافق معي أنها لا تستحق أن تسمى معلقة من المعلقات بالمعنى الصحيح، تأمل وتدبر والله أعلى وأعلم، وأجل وأكرم.
এটি বর্জন করা হয়েছে এবং এর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়নি। কাবাগৃহে সর্বপ্রথম যাঁর কবিতা ঝুলানো হয়েছিল তিনি হলেন ইমরুল কায়েস। এরপর অন্যান্য কবিগণ তাঁদের কবিতা ঝুলিয়েছিলেন। যাদের কবিতা ঝুলানো হয়েছিল তাঁদের সংখ্যা সাতজন। তাঁদের দ্বিতীয়জন হলেন তরফা বিন আল-আবদ, তৃতীয়জন যুহাইর বিন আবি সুলমা, চতুর্থজন লাবিদ বিন রাবিআহ, পঞ্চমজন আমর বিন কুলসুম, ষষ্ঠজন আল-হারিস বিন হিল্লিজাহ এবং সপ্তমজন হলেন আনতারা বিন শাদ্দাদ।

বর্ণিত আছে যে আবু উবাইদাহ বলেছেন: 'আস-সিমত' নামে পরিচিত সাতটি কবিতার রচয়িতাগণ হলেন: ইমরুল কায়েস, যুহাইর, আন-নাবিগাহ, আল-আশা, লাবিদ, আমর এবং তরফা। তিনি আরও বলেন: আল-মুফাদদাল বলেছেন, যারা ধারণা করে যে 'আস-সিমত' নামে পরিচিত এই সাতটি কবিতার মধ্যে এদের বাইরে অন্য কেউ আছে, তারা ভুল বলেছে। ফলে তিনি মুআল্লাকাহর কবিদের তালিকা থেকে আনতারা এবং আল-হারিস বিন হিল্লিজাহকে বাদ দিয়েছেন এবং আল-আশা ও আন-নাবিগাহকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মুআল্লাকাহসমূহকে 'আল-মুজাহ্হাবাত' (স্বর্ণাক্ষরে লিখিত) বলা হতো, কারণ তা অন্যান্য কবিতা থেকে নির্বাচন করে কুবতি কাপড়ে সোনার পানি দিয়ে লেখা হয়েছিল এবং কাবা ঘরে ঝুলানো হয়েছিল। এই কারণেই বলা হয়: 'অমুকের মুজাহ্হাবাহ', যখন তা তার শ্রেষ্ঠ কবিতা হয়। একাধিক আলেম এটি উল্লেখ করেছেন। আবার বলা হয়েছে: বরং রাজা যখন কোনো কাসিদাহ বা কবিতা পছন্দ করতেন তখন বলতেন: এটি আমাদের জন্য ঝুলিয়ে দাও যাতে তা তাঁর কোষাগারে সংরক্ষিত থাকে। আরবদের কোনো রাজা ছিল না কেবল মানাদিরা ছাড়া, যারা পারসিকদের অধীনে দক্ষিণ ইরাকের আল-হিরা অঞ্চল শাসন করত, এবং গাসসানিরা যারা রোমানদের অধীনে দক্ষিণ শামের হাউরান অঞ্চল শাসন করত। আর মানাদিরা ছিল গাসসানিদের চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ ও শক্তিশালী।

 

‌‌সতর্কতা: উবাইদ বিন আল-আবরাসের মুআল্লাকাহ কেউ মুআল্লাকাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেননি, যদিও আলেমদের মধ্যে এর সংখ্যা গণনা ও রচয়িতাদের নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে যা আপনি লক্ষ্য করেছেন। আত-তাবরিজি নয়টি মুআল্লাকাহ একত্রিত করেছেন এবং তাতে উবাইদ বিন আল-আবরাসের মুআল্লাকাহ যোগ করেছেন, ফলে তা দশটি হয়েছে। আপনি যখন উবাইদ বিন আল-আবরাসের মুআল্লাকাহটি দেখবেন এবং এর অনেক পঙক্তিতে ছন্দের বিচ্যুতি লক্ষ্য করবেন, আর এটি আবৃত্তিতে মাধুর্য ও সৌন্দর্যের অভাব দেখবেন, তখন আপনি আমার সাথে একমত হবেন যে, এটি প্রকৃত অর্থে মুআল্লাকাহ সমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য নয়। বিষয়টি চিন্তা ও অনুধাবন করুন। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত ও জ্ঞানী, এবং সর্বাপেক্ষা মহান ও সম্মানিত।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌1 - قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل … بسقط اللوى بين الدخول فحومل

المفردات: قفا: أمر من الوقوف خاطب به اثنين كانا يسيران معه، أو خاطب به واحدًا، فنزله منزلة اثنين على عادة العرب أن تكون الرفقة ثلاثة فما فوق، قال الله تبارك وتعالى مخاطبًا مالكًا خازن النار: {ألقيا في جهنم كل كفارٍ عنيد} فثنى، وإنما يخاطب واحدًا، وقال سويد بن كراع العكلي:

فإن تزجراني، يا ابن عفان أنزجر … وإن تدعاني أحم عرضًا ممنعًا

وما أكثر الشواهد على ذلك، فيكون كلامه قد جرى على ما قد ألف من خطابه لصاحبيه ألا ترى أن الشعراء كثيرًا ما يقولون: يا صاحبي - يا خليلين أو خاطب به واحدًا، وهذه الألف ليست ضميرًا، وإنما هي منقلبة عن نون التوكيد الخفيفة، إجراء للوصل مجرى الوقف، وأكثر ما يكون هذا في الوقف، قال الأعشى:

وصل على حين العشيات والضحى … ولا تحمد المثرين، والله فاحمدا

أراد فاحمن، ويقال: إنما ثنى لأنه أراد: قف قف بتكرير الأمر، ثم جمعهما في لفظة واحدة، كما قال أبو عثمان المازني في قوله تعالى: {قال رب ارجعون} المراد به: أرجعني أرجعني أرجعني، جعلت الواو علمًا مشعرًا بأن المعنى تكرير للفظ مرارًا. وقفا فعل أمر، ماضيه وقف، ومضارعه يقف، وأصل الأمر فيه أوقف، فحذفت الواو من مضارعه وأمره، وتلتها الألف في الأمر، وهذا احذف قياسي في كل فعل مثال واوي مكسور عين المضارع، مثل يعد ويزن وعد وزن، فتحذف الواو في المضارع لوقوعها بين عدوتيها، وهما الياء والكسرة، وحذفت من الأمر مع الألف للتخفيف. بنك: فعل مضارع من البكاء بالمد والقصر، قال الخليل: كم قصر البكا ذهب به إلى معنى الحزن، ومن مده ذهب به إلى معنى رفع الصوت، هذا قوله وإن شئت قلت: البكا بالقصر إسالة الدمع من غير رفع صوت، وبالمد إسالة
‌১ - থামো, এসো আমরা কাঁদি প্রিয়তমা ও আবাসের স্মরণে... সিকতুত লিওয়া নামক স্থানে যা দাখুল ও হাওমালের মাঝে অবস্থিত।

শব্দার্থ: কিফা (থামো): এটি 'থামা' অর্থবোধক একটি নির্দেশসূচক শব্দ (আমর)। কবি এর মাধ্যমে তাঁর সাথে ভ্রমণকারী দুই সঙ্গীকে সম্বোধন করেছেন; অথবা তিনি একজনকে সম্বোধন করেছেন কিন্তু আরবদের রীতি অনুযায়ী তাকে দুইজনের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। কারণ আরবদের প্রথা হলো সফরসঙ্গী তিনজন বা তার বেশি হওয়া। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা জাহান্নামের রক্ষক মালেককে সম্বোধন করে বলেছেন: {তোমরা উভয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো প্রত্যেক অবাধ্য কাফিরকে}। এখানে তিনি দ্বিবচন ব্যবহার করেছেন অথচ সম্বোধন করছেন একজনকে। সুওয়াইদ ইবন কুরা আল-আকলী বলেছেন:

হে ইবনে আফফান, যদি তোমরা উভয়ে আমাকে ধমক দাও তবে আমি ধমক খাব … আর যদি তোমরা উভয়ে আমাকে ছেড়ে দাও তবে আমি এক দুর্ভেদ্য সম্মান রক্ষা করব।

এর স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে। সুতরাং কবির কথাটি তাঁর দুই সঙ্গীকে সম্বোধন করার সেই পরিচিত রীতিরূপেই এসেছে যা তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। আপনি কি দেখেন না যে কবিরা প্রায়ই বলে থাকেন: হে আমার দুই বন্ধু— হে দুই অন্তরঙ্গ বন্ধু? অথবা কবি একজনকে সম্বোধন করেছেন এবং এই 'আলিফ'টি (কিফা শব্দের শেষে) দ্বিবচনের সর্বনাম নয়, বরং এটি হালকা তাকিদসূচক 'নুন' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, যা সন্ধির ক্ষেত্রে বিরতির (ওয়াকফ) নিয়ম অনুসরণ করেছে। আর এটি বিরতির স্থলেই বেশি ঘটে থাকে। আল-আ'শা বলেছেন:

সন্ধ্যা ও ভোরের সময়গুলোতে সালাত আদায় করো … আর ধনীদের প্রশংসা করো না, বরং আল্লাহরই প্রশংসা করো।

তিনি 'ফাহমাদান' (অবশ্যই প্রশংসা করো) বুঝাতে চেয়েছেন। কেউ কেউ বলেন যে, কবি দ্বিবচন ব্যবহার করেছেন কারণ তিনি 'কিফ কিফ' (থামো থামো) বলে আদেশটির পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছেন এবং পরে শব্দ দুটিকে এক শব্দে জমা করেছেন। যেমনটি আবু উসমান আল-মাযিনী আল্লাহ তাআলার বাণী {সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে ফেরত পাঠান} সম্পর্কে বলেছেন: এর অর্থ হলো আমাকে ফেরত পাঠান, আমাকে ফেরত পাঠান, আমাকে ফেরত পাঠান। এখানে 'ওয়াও' অক্ষরটিকে একটি চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যা বুঝায় যে শব্দটির অর্থ বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। 'কিফা' একটি নির্দেশসূচক ক্রিয়া (আমর), যার অতীতকাল (মাযি) হলো 'ওয়াকাফা' এবং বর্তমান/ভবিষ্যতকাল (মুযারি) হলো 'ইয়াকিফু'। এর আমরের মূল রূপ ছিল 'আওকিফ', কিন্তু এর মুযারি ও আমর থেকে 'ওয়াও' অক্ষরটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং আমরের শেষে 'আলিফ' যুক্ত হয়েছে। এটি একটি নিয়মিত (কিয়াসি) বিলুপ্তি যা এমন প্রতিটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ঘটে যা 'মিসালে ওয়াবী' এবং যার মুযারির দ্বিতীয় মূল অক্ষর (আইন কালিমা) কাসরাযুক্ত হয়; যেমন: 'ইয়া-ই-দু' ও 'ইয়া-যি-নু' (মূল: ওয়াদা ও ওয়াযানা)। মুযারিতে 'ওয়াও' বিলুপ্ত হয় কারণ এটি তার দুই শত্রু অর্থাৎ 'ইয়া' এবং 'কাসরা'-র মাঝে পড়ে যায়। আর সহজীকরণের জন্য আমরের আলিফের সাথে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা হয়েছে। 'নাবকি' (আমরা কাঁদি): এটি 'আল-বুকা' (কান্না) থেকে উৎপন্ন একটি মুযারি ক্রিয়া, যা দীর্ঘস্বর (মাদ) ও হ্রস্বস্বর (কাসর) উভয়ভাবেই পড়া যায়। খলিল ইবনে আহমদ বলেছেন: যে ব্যক্তি 'বুকা'কে হ্রস্বস্বরে পড়ে সে এর দ্বারা শোকের অর্থ গ্রহণ করে, আর যে একে দীর্ঘস্বরে পড়ে সে এর দ্বারা উচ্চস্বরে কাঁদার অর্থ গ্রহণ করে। এটিই তাঁর অভিমত। আর আপনি চাইলে বলতে পারেন: হ্রস্বস্বরে 'বুকা' মানে শব্দহীন অশ্রু বিসর্জন, আর দীর্ঘস্বরে মানে অশ্রু বিসর্জন করা...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৪)
الدمع معه، قال كعب بن مالك الأنصاري رضي الله عنه:

بكت عيني، وحق لها بكاها … وما يغني البكاء، ولا العويل

ذكرى: مصدر بمعنى التذكر، حبيبك هو اسم مفعول بمعنى محبوب، يستوي فيه المذكر والمؤنث. سقط: بتثليث السين منقطع الرمل حيث يستدق طرفه، والسقط أيضًا ما يتطاير من النار، والسقط أيضًا المولود لغير تمام مدة الحمل. اللوى: المكان الذي يكون رمله مستدقًا، وقيل: هو رمل يتلوى وينحني. الدخول وحومل: الأول بفتح الدال على زنة فعول، والثاني بزنة فوعل: موضعان شرقي اليمامة، قال صاحب الدرر اللوامع: والصحيح أن التي يعني أمرؤ القيس مواضع ما بين إمرة وأسود العين، وكان الأصمعي يرويه (بين الدخول وحومل) أي بالواو، ويقول: لا يقال المال بين زيد وعمرو، وأجيب بأن التقدير: بين مواضع الدخول فمواضع حومل، وإن أردت الزيادة فانظر الشاهد 293 من كتابنا فتح القريب المجيب، ففيه الكلام كافٍ شافٍ.

المعنى يقول: يا صاحبي قفا وأعيناني على البكاء عند تذكري حبيبًا فارقته، ومنزلًا خرجت منه، وذلك الحبيب، وذلك المنزل يقعان بين هذين الموضعين اللذين هما الدخول وحومل.

الإعراب: قفا: فعل أمر مبني على حذف النون لاتصاله بألف الاثنين، والألف ضمير متصل في محل رفع فاعل، أو هو فعل أمر مبني على الفتح لاتصاله بنون التوكيد الخفيفة المنقلبة ألفًا، إجراء للوصل مجرى الوقف، ويكون الفاعل ضميرًا مستترًا فيه وجوبًا تقديره أنت. نبك: فعل مضارع مجزوم بجواب الأمر، وعند الجمهور مجزوم بشرط محذوف، التقدير: قفا، إن تقفا نبك، والمشهور الأول، وهو أقل تلفًا، وعلامة
অশ্রু তার সাথে ছিল, কাব বিন মালিক আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:

আমার চক্ষু কেঁদেছে, আর তার জন্য কান্নাই সংগত … এবং কান্না বা বিলাপ কোনো উপকারে আসে না।

স্মরণ: এটি স্মরণ করা অর্থে একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), তোমার প্রিয়তম: এটি ইসমে মাফউল যা প্রিয় বা প্রিয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়, এতে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই সমান। সিকত: সীন বর্ণে তিন প্রকার হারাকাত (যবর, যের, পেশ) যোগে পড়া যায়, এর অর্থ বালিয়াড়ির প্রান্তভাগ যেখানে বালু সরু হয়ে মিশে যায়। 'সিকত' বলতে আগুন থেকে বিচ্ছুরিত স্ফুলিঙ্গকেও বোঝায়। আবার গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার আগে ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানকেও 'সিকত' বলা হয়। আল-লিওয়া: এমন স্থান যেখানে বালু সরু হয়ে থাকে। আবার বলা হয়েছে, এটি এমন বালিয়াড়ি যা আঁকাবাঁকা ও ঢালু হয়ে থাকে। আদ-দুখুল ও হাওমাল: প্রথমটি দাল বর্ণে ফাতহাহ (যবর) যোগে 'ফাউল' ওজনে, আর দ্বিতীয়টি 'ফাওআল' ওজনে: এগুলো ইয়ামামার পূর্বদিকের দুটি স্থানের নাম। আদ-দুরারুল লাওয়ামি গ্রন্থের লেখক বলেন: সঠিক মত হলো ইমরুল কায়েস যেসব স্থানের কথা বুঝিয়েছেন সেগুলো ইমরা এবং আসওয়াদুল আইনের মধ্যবর্তী স্থান। আসমায়ী এটি (আদ-দুখুল ও হাওমালের মাঝে) অর্থাৎ 'এবং' অব্যয় সহকারে বর্ণনা করতেন এবং বলতেন: 'সম্পদ যায়েদ ও আমরের মাঝে' এভাবে বলা হয় না। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো: আদ-দুখুলের স্থানসমূহ ও হাওমালের স্থানসমূহের মাঝে। আপনি যদি বিস্তারিত জানতে চান তবে আমাদের কিতাব 'ফাতহুল কারিবিল মুজীব'-এর ২৯৩ নং উদ্ধৃতিটি দেখুন, সেখানে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক আলোচনা রয়েছে।

ভাবার্থ: কবি বলছেন: হে আমার দুই বন্ধু, তোমরা থামো এবং আমাকে কাঁদতে সাহায্য করো যখন আমি আমার বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া প্রিয়া এবং যে ঘর ছেড়ে এসেছি তার কথা স্মরণ করি। সেই প্রিয়া এবং সেই ঘর এই দুই স্থান তথা আদ-দুখুল এবং হাওমালের মাঝে অবস্থিত।

ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ: কিফা: এটি একটি আদেশসূচক ক্রিয়া (ফে’লে আমর) যা দ্বিবচনবোধক আলিফ যুক্ত হওয়ার কারণে 'নূন' বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি। আর আলিফটি হলো কর্তা (ফায়েল) হিসেবে মহাল্লান মারফু মুত্তাসিল জমির। অথবা এটি একটি আদেশসূচক ক্রিয়া যা ফাতহাহর ওপর মাবনি, কারণ এতে তাকিদসূচক হালকা নূন (নূনে তাকিদে খফিফাহ) যুক্ত হয়েছিল যা পরবর্তীতে আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে, মিলিয়ে পড়ার সময়কে থামার অবস্থার ন্যায় গণ্য করে। এমতাবস্থায় এর কর্তা হবে এর ভেতরে থাকা আবশ্যকীয়ভাবে উহ্য সর্বনাম (জমিরে মুসতাতিন) যার মূল রূপ হলো 'তুমি'। নাবকি: এটি একটি বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (ফে’লে মুযারে) যা আদেশের উত্তর (জাওয়াবে আমর) হিসেবে মাজযুম হয়েছে। জমহুর আলেমদের মতে এটি একটি উহ্য শর্তের কারণে মাজযুম। বাক্যটির মূল রূপ হবে: তোমরা থামো, যদি তোমরা থামো তবে আমরা কাঁদব। তবে প্রথম মতটিই প্রসিদ্ধ এবং এতে ব্যাকরণিক জটিলতা কম। আর এর আলামত (চিহ্ন) হলো...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫)
جزمه حذف حرف العلة من آخره، وهو الياء، والكسرة قبلها دليل عليها، والفاعل ضمير مستتر فيه وجوبًا تقديره نحن، والجملة العلية لا محل لها من الإعراب، سواء اعتبرت الجازم الأمر، أم الشرط المحذوف المقدر، من: حرف جر. ذكرى: اسم مجرور بمن، وعلامة جره كسرة مقدرة على الألف للتعذر، والجار والمجرور متعلقان بالفعل بنك، وذكرى مضاف وحبيب مضاف إليه من إضافة المصدر لمفعوله، وفاعله محذوف، إذ التقدير: من تذكرنا حبيبًا … ألخ. الواو: حرف عطف، منزل: معطوف على سابقه مجرور مثله، وهو في التقدير منصوب. بسقط: جار ومجرور متعلقان بمحذوف صفة منزل، أو بالفعل قفا، أو بالفعل نبك، وسقط مضاف واللوى مضاف ليه مجرور، وعلامة جره كسرة مقدرة على الألف للتعذر. بين: ظرف مكان منصوب متعلق بما تعلق به قوله (بسقط) وهذا يعني إبدال الظرف من الجار والمجرور، وإن علقته بمحذوف صفة سقط اللوى، فالمعنى لا يأباه، وبين مضاف والدخول مضاف إليه. فحومل: معطوف على الدخول بالفاء العاطفة، وقد صرف لضرورة الشعر، إذ حقه المنع للعلمية والعجمة.

 

‌‌2 - فتوضح فالمقراة لم يعف رسمها … لما نسجتها من جنوب وشمأل

المفردات: توضح والمقراة: موضعان قريبان من الدخول وحومل، والمقراة في غير هذا الموضع الغدير الذي يجتمع فيه الماء، من قولهم: قريت الماء في الحوض إذا جمعته. لم يعف: لم ينمح أثرها ولم يدرس، بسبب الريحين فقط، بل بتعاور الأمطار لها ومرور الأزمنة عليها. من قولك: عفا المنزل يعفو عفاءً، إذا انمحت آثاره، وذهبت معالمه، ولا تنس إتيانه من العفو والصفح، وهو كثير في القرآن الكريم كثرة لا تعد ولا تحصى، كما يأتي عفا يعفو بمعنى الكثرة، قال تعالى: {ثم بدلنا مكان السيئة الحسنة حتى
এটির জজম হলো এর শেষ হতে হরফে ইল্লত তথা ‘ইয়া’ বিলোপ হওয়া, এবং এর পূর্বের কাসরা (জের) সেই বিলোপের প্রমাণ। এর ফায়েল (কর্তা) হলো এর মধ্যে উহ্য থাকা আবশ্যিক সর্বনাম, যার প্রাক্কলিত রূপ হলো ‘আমরা’ (নাহনু)। আর উক্ত বাক্যটির কোনো এ’রাবি অবস্থান নেই; চাই আপনি জাযেমকে আমরের (আদেশসূচক) মনে করেন অথবা উহ্য থাকা প্রাক্কলিত শর্তের। ‘মিন’: হরফে জর। ‘জিকরা’: ‘মিন’ এর কারণে মাজরুর ইসম, এর জরের চিহ্ন হলো আলিফের ওপর অপারগতার কারণে প্রাক্কলিত কাসরা। আর জার ও মাজরুর ‘নাবকি’ ফেলের (ক্রিয়া) সাথে সংশ্লিষ্ট। ‘জিকরা’ মুদাফ এবং ‘হাবীব’ মুদাফ ইলাইহি; এটি মাসদারকে তার মাফউলের দিকে মুদাফ করার উদাহরণ, আর এর ফায়েল উহ্য, কারণ এর প্রাক্কলিত রূপ হলো: ‘আমাদের প্রিয়জনকে স্মরণ করা হতে’... ইত্যাদি। ‘ওয়াও’: হরফে আতিফ। ‘মানযিল’: তার পূর্ববর্তীর ওপর আতফ হওয়ার কারণে মাজরুর, তবে প্রাক্কলনে এটি মানসুব। ‘বি-সিকতি’: জার ও মাজরুর ‘মানযিল’-এর উহ্য সিফাতের (গুণবাচক শব্দ) সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা ‘কিফা’ ফেলের সাথে, অথবা ‘নাবকি’ ফেলের সাথে সংশ্লিষ্ট। ‘সিকত’ মুদাফ এবং ‘আল-লিওয়া’ মাজরুর মুদাফ ইলাইহি; এর জরের চিহ্ন হলো আলিফের ওপর অপারগতার কারণে প্রাক্কলিত কাসরা। ‘বাইনা’: মানসুব যরফে মাকান (স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ), যা ‘বি-সিকতি’ যেটির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে তার সাথেই সংশ্লিষ্ট। এর অর্থ হলো জার-মাজরুর হতে যরফের বদল হওয়া। আর যদি আপনি একে ‘সিকত আল-লিওয়া’ এর উহ্য সিফাতের সাথে সংশ্লিষ্ট করেন, তবে অর্থ তাতে বাধা দেয় না। ‘বাইনা’ মুদাফ এবং ‘আদ-দাখুল’ মুদাফ ইলাইহি। ‘ফা-হাওমাল’: ‘ফা’ আতিফার মাধ্যমে ‘আদ-দাখুল’-এর ওপর আতফ হয়েছে। কাব্যের প্রয়োজনে এতে তানউইন প্রদান করে মানসারিফ করা হয়েছে, যদিও আলম (নাম) এবং আজমি (অনারব) হওয়ার কারণে এটি গাইরে মানসারিফ হওয়ার উপযুক্ত ছিল।

 

‌‌২ - অতপর তুজিহ ও মকরাত; তাদের চিহ্ন মুছে যায়নি... কারণ দক্ষিণ ও উত্তরের বায়ু তাদের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

শব্দার্থ: তুজিহ ও মকরাত: এগুলো দাখুল ও হাওমালের নিকটবর্তী দুটি স্থানের নাম। মকরাত শব্দটি এই স্থান ব্যতিরেকে অন্য ক্ষেত্রে এমন জলাশয়কে বোঝায় যেখানে পানি জমা হয়; যেমন তাদের প্রবাদ: ‘আমি হাউজে পানি জমা করেছি’ যখন আপনি তা একত্রিত করেন। ‘লাম ইয়া’ফু’: এর চিহ্ন মুছে যায়নি এবং বিলীন হয়নি কেবল উক্ত দুই বায়ুর কারণে নয়, বরং বৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক ধারা এবং কালের পরিক্রমায়। যেমন বলা হয়: ‘বাড়ির চিহ্ন মুছে গেছে’ যখন এর নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ভুলে যাবেন না যে এটি ক্ষমা ও মার্জনা (আফউ) অর্থ থেকেও আসে; পবিত্র কুরআনে এটি এতো অধিকবার এসেছে যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। যেমন ‘আফা-ইয়া’ফু’ আধিক্য বা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাওয়া অর্থেও আসে, মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আমরা মন্দের স্থলে ভালকে পরিবর্তন করে দিলাম, এমনকি তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল এবং...}
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬)
عفوا} أي حتى كثروا ونموا في أنفسهم وأموالهم، من قولهم: عفا النبات وعفا الشحم والوبر إذا كثر كل منهن، والعافي طالب المعروف والإحسان، قال الأعشى:

تطوف العفاة بأبوابه … كطوف النصارى ببيت الوثن

فالعفاة جمع عاف، وقال عروة بن الورد:

وأني أمرؤ عافي إنائي شركة … وأنت أمرؤ عافي إنائك واحد

الرسم: هو ما لصق بالأرض من آثار الدار، مثل البعر والرماد وغيرهما، وجمعه أرسم ورسوم، كما يقال: أبحر وبحور، في جمع البحر، وقال: رسمها، ولم يقل رسومها اكتفاءً بالواحد عن الجميع كما قال الآخر:

بها جنيف السحرى، فأما عظامها … فبيض، وأما جلدها فصليب

والضمير المتصل برسمها ونسخها يعود إلى الأمكنة المذكورة في هذا البيت وسابقه، ونسج الريحين الدار اختلافهما عليها، فهذه تستر آثار الدار بالتراب، والأخرى تزيله عنها، فلا يذهب الأثر. جنوب: أراد ريح الجنوب. شمأل: أراد ريح الشمال، وفي الشمال لغات، يقال: شمال وشمأل وشأمل وشمل وشمل وشمول.

وأذكر أن الرياح الأصول أربع: إحداها الشمال، وتأتي من ناحية الشام، وهي شمال من استقبل مطلع الشمس، وهو بمكة المكرمة، وهذه الريح حارة في الصيف، باردة في الشتاء، والثانية الجنوب مقابلتها، وهي الريح اليمانية، والثالثة الصبا بفتح الصاد، وتأتي من مطلع الشمس، وتسمى القبول أيضًا، والرابعة الدبور، وتأتي من جهة المغرب، قال نبينا صلى الله عليه وسلم: (نصرت بالصبا، وأهلكت عاد بالدبور).
তারা সংখ্যায় ও সম্পদে বৃদ্ধি পেল} অর্থাৎ যতক্ষণ না তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল এবং তাদের জান ও মালে সমৃদ্ধি লাভ করল। এটি তাদের কথা থেকে নেওয়া হয়েছে: উদ্ভিদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চর্বি ও পশম বৃদ্ধি পেয়েছে যখন সেগুলো পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। আর 'আল-আফি' হলো সেই ব্যক্তি যে অনুগ্রহ ও দয়া প্রত্যাশা করে। আল-আশা বলেছেন:

সাহায্যপ্রার্থীরা তার দরজায় ঘুরে বেড়ায় … যেমন খ্রিস্টানরা মূর্তিগৃহে ঘুরে বেড়ায়

এখানে 'আল-উফাহ' শব্দটি 'আফি' এর বহুবচন। উরওয়া বিন আল-ওয়ারদ বলেছেন:

আমি এমন এক ব্যক্তি যার পাত্রের খাবার অংশীদারদের জন্য অবারিত … আর আপনি এমন এক ব্যক্তি যার পাত্রের ভক্ষক মাত্র একজন

'আর-রাসম' হলো ঘরের সেইসব চিহ্ন যা মাটির সাথে মিশে থাকে, যেমন গোবর, ছাই ইত্যাদি। এর বহুবচন হলো আরসুম ও রুসুম, যেমন 'বাহর' (সমুদ্র) থেকে 'আবহুর' ও 'বুহুর' বলা হয়। তিনি এখানে 'রসামাহা' (একবচন) বলেছেন, 'রুসুমাহা' (বহুবচন) বলেননি, কারণ একবচন ব্যবহারের মাধ্যমে বহুবচনের অর্থ প্রকাশ করা হয়েছে, যেমনটি অন্য কবি বলেছেন:

সেখানে সকালবেলার শুভ্রতা রয়েছে; আর তার হাড়গুলো সাদা … এবং তার চামড়া শক্ত

'রসামাহা' ও 'নাসখাহা' শব্দের সাথে যুক্ত সর্বনামগুলো এই পঙক্তি এবং এর পূর্ববর্তী পঙক্তিতে উল্লিখিত স্থানগুলোর দিকে ফিরেছে। আর দুই বাতাসের ঘর বোনা বলতে তাদের পারস্পরিক ভিন্নতাকে বোঝানো হয়েছে। একটি বাতাস ঘরের চিহ্নগুলোকে ধুলিকণা দিয়ে ঢেকে দেয়, আর অন্যটি তা সরিয়ে দেয়, ফলে চিহ্নগুলো একেবারে মুছে যায় না। 'জানুব' বলতে দক্ষিণ হাওয়া বোঝানো হয়েছে। 'শামআল' বলতে উত্তর হাওয়া বোঝানো হয়েছে। উত্তর হাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শব্দরূপ রয়েছে, যেমন: শামাল, শামআল, শাআমিল, শিমল, শিম্ল এবং শামুল।

আমি উল্লেখ করছি যে, মৌলিক বায়ু চারটি: প্রথমটি হলো উত্তর হাওয়া (শামাল), যা শামের দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এটি সেই ব্যক্তির বাম দিকে থাকে যে উদীয়মান সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়েছে, আর সে মক্কাতুল মুকাররমায় অবস্থান করছে। এই বাতাস গ্রীষ্মকালে উত্তপ্ত এবং শীতকালে শীতল হয়। দ্বিতীয়টি হলো দক্ষিণ হাওয়া (জানুব), যা এর বিপরীত এবং ইয়ামানের দিক থেকে প্রবাহিত হয়। তৃতীয়টি হলো পূর্ব হাওয়া (সাবা), যা সূর্যোদয়ের দিক থেকে আসে, একে 'কবুল'ও বলা হয়। চতুর্থটি হলো পশ্চিম হাওয়া (দাবুর), যা পশ্চিম দিক থেকে আসে। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি পূর্ব হাওয়ার মাধ্যমে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছি, আর আদ জাতিকে পশ্চিম হাওয়ার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهذا كله بالنسبة لمكة المكرمة، وما أتى منها من بين تلك الجهات، يقال لها: النكباء، ثم إن خرجت من بين الجنوب والشرق قيل لها: أزيب بفتح الهمزة وسكون الجيم وفتح الياء، وإن خرجت من بين الشمال والغرب قيل لها: جِرْبيا بكسر الجيم وسكون الراء وكسر الباء، وإن خرجت من بين الشمال والشرق، قيل لها: صابية، وإن خرجت من بين الجنوب والغرب، قيل لها: هيف بفتح الهاء، وسكون الياء، وقد جمع النواحي الثمانية بقوله:

صبا ودبور، والجنوب وشمأل … بشرقٍ وغربٍ والتيمن والضد

ومن بينها النكباء، أزيب جربيا … وصابية، والهيف خاتمة العد

والريح الهواء المسخر بين السماء والأرض، واصله الروح، قلبت الواو ياء لانكسار ما قبلها، والجمع أرواح ورياح، وأصل رياح رواح فعل به كما فعل بأصل الريح، والأكثر في الريح التأنيث، وقد تذكر على معنى الهواء.

ولا تنس أن الريح تأتي بمعنى الدولة والقوة، قال تعالى: {ولا تنازعوا فتفشلوا، وتذهب ريحكم} أي دولتكم وقوتكم، شبهت في نفوذ أمرها وتمشيه بالريح وهبوبها، يقال: هبت ريح بني فلان إذا دالت لهم الدولة، ونفذ أمرهم.

المعنى يقول: لم تنمح آثار تلك الديار، لأنها كلما غطتها رياح الجنوب بالتراب، كشفته رياح الشمال عنها، أو بالعكس، وهكذا دواليك، وقد شبه فعل الريحين المتقابلتين بالنسج، وقيل: بل معناه لم يقتصر سبب محوها على نسج الريحين، بل كان له أسباب أخر منها هذا السبب، وهو مر السنين وتساقط الأمطار وغيرها، وقيل: بل معناه لم يعف رسم حبها من قلبي، وإن تعاقبت عليها الريحان، والمعنيان الأولان أظهر من الثالث، أهـ زوزني.
এই সবকিছুই মক্কা মুকাররমার সাপেক্ষে; আর সেই দিকগুলোর মধ্যবর্তী স্থান থেকে যা প্রবাহিত হয়, তাকে বলা হয় 'নাকবা'। এরপর যদি বাতাস দক্ষিণ ও পূর্বের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বের হয়, তবে তাকে বলা হয় 'আযইয়াব'—হামযাহ-তে ফাতহাহ, জীম-এ সুকুন এবং ইয়া-তে ফাতহাহ যোগে। আর যদি তা উত্তর ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বের হয়, তবে তাকে বলা হয় 'জিরবিয়া'—জীম-এ কাসরাহ, রা-তে সুকুন এবং বা-তে কাসরাহ যোগে। আর যদি তা উত্তর ও পূর্বের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বের হয়, তবে তাকে বলা হয় 'সাবিয়া'। আর যদি তা দক্ষিণ ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বের হয়, তবে তাকে বলা হয় 'হায়িফ'—হা-তে ফাতহাহ এবং ইয়া-তে সুকুন যোগে। তিনি আটটি দিককে তাঁর এই কবিতায় একত্রিত করেছেন:

সাবা ও দাবুর, এবং দক্ষিণ ও উত্তর … পূর্ব ও পশ্চিম এবং ডান দিক ও তার বিপরীত

আর এগুলোর মধ্যবর্তী হলো নাকবা, আযইয়াব, জিরবিয়া … এবং সাবিয়া, আর হায়িফ হলো গণনার সমাপ্তি

বাতাস হলো আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী বশীভূত বায়ু, যার মূল উৎস হলো 'রুহ' (আত্মা); এর পূর্ববর্তী বর্ণ কাসরাহ হওয়ায় 'ওয়াও' বর্ণটি 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে। এর বহুবচন হলো আরওয়াহ ও রিয়াহ। আর 'রিয়াহ'-এর মূল হলো 'রিওয়াহ'; এর সাথে তেমনটিই করা হয়েছে যেমনটি 'রিহ'-এর মূলের সাথে করা হয়েছিল। বাতাস শব্দটির ক্ষেত্রে সাধারণত স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহৃত হয়, তবে কখনো কখনো 'হাওয়া' (বায়ু) অর্থে এটি পুংলিঙ্গ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

ভুলে যাবেন না যে, বাতাস শব্দটি রাষ্ট্র ও শক্তির অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তোমরা বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, নতুবা তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের বাতাস (শক্তি) বিলুপ্ত হবে} অর্থাৎ তোমাদের রাষ্ট্র ও ক্ষমতা। এর নির্দেশাবলীর কার্যকারিতা ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে একে বাতাসের প্রবাহের সাথে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে: 'অমুক গোত্রের বাতাস বইছে', যখন তাদের অনুকূলে রাষ্ট্রের পরিবর্তন ঘটে এবং তাদের নির্দেশ কার্যকর হয়।

অর্থের বর্ণনায় বলা হয়েছে: সেই আবাসস্থলগুলোর চিহ্ন মুছে যায়নি, কারণ যখনই দক্ষিণা বাতাস সেগুলোকে ধূলিকণা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে, উত্তরের বাতাস তা উন্মুক্ত করে দিয়েছে, অথবা এর বিপরীতটি ঘটেছে; আর এভাবেই পর্যায়ক্রমে চলেছে। একে অপরের বিপরীতমুখী দুটি বাতাসের এই কাজকে বুননের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: বরং এর অর্থ হলো, তা মুছে যাওয়ার কারণ কেবল বাতাসের বুননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর আরও অন্যান্য কারণ ছিল, যার মধ্যে এটিও একটি কারণ; আর তা হলো বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়া, বৃষ্টিপাত এবং অন্যান্য বিষয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং এর অর্থ হলো, আমার হৃদয় থেকে তার ভালোবাসার চিহ্ন মুছে যায়নি, যদিও তার ওপর দিয়ে বাতাসের পর্যায়ক্রমিক প্রবাহ বয়ে গেছে। তৃতীয় অর্থের চেয়ে প্রথম দুটি অর্থই অধিক স্পষ্ট। ইতি—যাওযানী।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإعراب: فتوضح: معطوف على الدخول وحومل في البيت السابق بالفاء العاطفة مجرور مثلهما، وعلامة جره الفتحة نيابة عن الكسرة، لأنه ممنوع من الصر للعلمية والعجمية، وقيل للعلمية والتأنيث، فالمقراة: معطوف على ما قبله بالفاء العاطفة مجرور أيضًا. لم: حرف نفي وقلب وجزم، يعف: فعل مضارع مجزوم بلم، وعلامة جزمه حذف حرف العلة من آخره، وهو الواو، والضمة قبلها دليل عليها. رسمها: فاعله، وها: ضمير متصل في محل جر بالإضافة، والجملة الفعلية (لم يعف رسمها) في محل نصب حال من المقراة والأسماء قبله، لأنها أعلام على أمكنة معروفة، والرابط الضمير فقط، وجاز وقوع الحال من المضاف إليه لأن المضاف جزؤه (لما) اللام: حرف جر وتعليل. ما: اسم موصول مبني على السكون في محل جر باللام، والجار والمجرور متعلقان بالفعل (يعف) نسجتها: فعل ماض، والتاء للتأنيث، وها: ضمير متصل في محل نصب مفعول به، والفاعل ضمير مستتر فيه تقديره هي يعود إلى (ما) المفسرة بالمؤنث، وهو ريح الجنوب والشمال، وهو العائد، والجملة الفعلية صلة الموصول لا محل لها من الإعراب. ويجوز أن تكون (من) زائد في الإيجاب على قول أبي الحسن الأخفش، وجنوب فاعل مجرور لفظًا مرفوع محلًا، من جنوب: جار ومجرور متعلقان بمحذوف حال من الضمير المستتر في (نسج) ومن بيان وتفسير لما أبهم في ما، وشمأل: معطوف على سابقه بواو العطف، هذا وجوز بعضهم أن تكون (ما) مصرية تؤول مع الفعل نسج بمصدر، التقدير: لنسجها الريح، ثم أتى بمن مفسرة، فقال: من جنوب وشمأل، ففي (نسجت) ذكر الريح، لأنها لما ذكرت المواضع والسم والنسج دلت على الريح، فكنى عنها لدلالة المعنى، قال تعالى: {والنهار إذا جلاها} أراد إذا جلى الظلمة، فكنى عن الظلمة، ولم يتقدم لها ذكر لذلك المعنى، وانظر الشاهد 190، 191 من كتابنا فتح رب البرية تجد ما يسرك، هذا ولم

পদবিশ্লেষণ: "ফাতৌদিহ" শব্দটি পূর্ববর্তী চরণের "আদ-দুখুল" ও "হাওমাল" শব্দদ্বয়ের ওপর 'ফা' আতিফাহ (সংযোজক অব্যয়) দ্বারা সংযোজিত এবং সেগুলোর মতোই 'জর' (জের) বিশিষ্ট। এর 'জর'-এর চিহ্ন হলো 'কাসরা'র পরিবর্তে 'ফাতহা', কারণ শব্দটি নামবাচক বিশেষ্য ও অনারব হওয়ার কারণে 'রূপান্তরহীন' (মানউ মিনাস সারফ)। কারো মতে এটি নামবাচক ও স্ত্রীবাচক হওয়ার কারণে এমন হয়েছে। "ফাল-মিকরাহ" শব্দটি 'ফা' আতিফাহ দ্বারা তার পূর্ববর্তী শব্দের ওপর সংযোজিত এবং এটিও 'জর' বিশিষ্ট। "লাম" হলো না-বোধক, অর্থ পরিবর্তনকারী ও জযম প্রদানকারী অব্যয়। "ইয়া'ফু" হলো "লাম" দ্বারা জযম প্রাপ্ত 'মুদারে' (বর্তমান/ভবিষ্যৎকালসূচক) ক্রিয়া; এর জযমের চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষর থেকে 'ইল্লত' বর্ণ বা দুর্বল বর্ণ 'ওয়াও' বিলুপ্ত হওয়া, আর পূর্ববর্তী 'যম্মাহ' (পেশ) সেই বিলুপ্ত বর্ণের প্রমাণ। "রাসমুহা" এর 'রাসমু' অংশটি উক্ত ক্রিয়ার কর্তা (ফায়েল), এবং 'হা' হলো সংলগ্ন সর্বনাম যা সম্বন্ধ পদ (ইদাফাত) হিসেবে 'জর'-এর স্থানে রয়েছে। "লাম ইয়া'ফু রাসহুহা" এই ক্রিয়াধর্মী বাক্যটি "আল-মিকরাহ" এবং তার পূর্ববর্তী নামবাচক শব্দগুলোর জন্য 'হাল' (অবস্থাবাচক পদ) হিসেবে 'নসব'-এর স্থানে রয়েছে, কারণ এগুলো সুপরিচিত স্থানের নাম। এখানে কেবল সর্বনামটিই যোগসূত্র। সম্বন্ধিত পদের (মুদাফ ইলাইহি) 'হাল' হওয়া বৈধ, যেহেতু সম্বন্ধ পদটি (মুদাফ) তারই অংশ। "লি-মা" এর 'লাম' হলো অব্যয় ও কারণবাচক। "মা" হলো সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (ইসম মাওসুল) যা সুকুন অবস্থায় 'লাম'-এর কারণে 'জর'-এর স্থানে রয়েছে। এই জার-মাজরুর "ইয়া'ফু" ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। "নাসাজাত-হা" হলো অতীতকালীন ক্রিয়া, 'তা' বর্ণটি স্ত্রীবাচক এবং 'হা' হলো সংলগ্ন সর্বনাম যা কর্ম (মাফউল বিহি) হিসেবে 'নসব'-এর স্থানে রয়েছে। এর কর্তা হলো একটি উহ্য সর্বনাম 'হিয়া', যা স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যাখ্যাত "মা"-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করছে—আর তা হলো দক্ষিণ ও উত্তর বায়ু; এটিই হলো প্রত্যাবর্তক সর্বনাম (আয়িদ)। এই ক্রিয়াধর্মী বাক্যটি 'সিলাতুল মাওসুল' যার ব্যাকরণিক কোনো অবস্থান নেই। আবু আল-হাসান আল-আখফাশ-এর মতানুসারে ইতিবাচক বাক্যে "মিন" অতিরিক্ত হওয়া বৈধ; সেক্ষেত্রে 'জানুব' শব্দটি শব্দগতভাবে 'জর' বিশিষ্ট হলেও অবস্থানগতভাবে 'রাফা' বা কর্তৃকারক। "মিন জানুব" জার-মাজরুর অংশটি "নাসাজা" ক্রিয়ার উহ্য কর্তার 'হাল' হিসেবে সংশ্লিষ্ট। আর "মিন" শব্দটি "মা"-এর অস্পষ্টতাকে স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করার জন্য এসেছে। "শামআল" শব্দটি 'ওয়াও' অব্যয় দ্বারা তার পূর্ববর্তীর সাথে সংযোজিত। কেউ কেউ মত দিয়েছেন যে "মা" শব্দটি 'মাসদারিয়্যাহ' হতে পারে যা ক্রিয়ার সাথে মিলে ক্রিয়ামূলের (মাসদার) অর্থ প্রদান করবে; তখন এর প্রাক্কলিত রূপ হবে: 'বাতাস কর্তৃক তা বুনন করার কারণে'। অতঃপর তিনি ব্যাখ্যামূলক "মিন" যোগ করে বলেছেন: 'মিন জানুবিন ওয়া শামআল'। এখানে "নাসাজাত" (বুনন করেছে) ক্রিয়ায় বাতাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ যখন স্থান, চিহ্ন ও বুননের কথা বলা হয়েছে, তখন তা বাতাসের দিকেই ইঙ্গিত করে। তাই অর্থের স্পষ্টতার কারণে এখানে বাতাসের পরিবর্তে সর্বনামের মাধ্যমে পরোক্ষ উল্লেখ (কিনায়াহ) করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {শপথ দিবসের, যখন সে তাকে প্রকাশিত করে}। এখানে তিনি অন্ধকারকে প্রকাশিত করার কথা বুঝিয়েছেন, তাই অন্ধকারের পরিবর্তে সর্বনাম ব্যবহার করেছেন অথচ পূর্বে অন্ধকারের উল্লেখ ছিল না—সেটি প্রসঙ্গের কারণেই করা হয়েছে। আমাদের 'ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ' গ্রন্থের ১৯০ ও ১৯১ নম্বর প্রমাণগুলো দেখুন, আপনি কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের সন্ধান পাবেন। এটি, আর এখনো...

(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৯)
يجز أبو العباس أحمد بن يحيى أن تكون (ما) مصدرية، قال: لأن الفعل يبقى بلا صاحب: كأنه لم يجزأ أن يكون في (نسجت) ضمير الريح، ويجوز ذلك على اعتبار (من) زائدة، واعتبار جنوب فاعلًا كما رأيت سابقًا.

 

‌‌3 - رخاء تسح الريح في جنباتها … كساها الصبا سحق الملاء المذيل

هذا البيت لم يذكره أحد من شراح المعلقة، ووجدته في الديوان بعد البيت السابق، وذكره الدكتور فخر الدين قباوة في تعليقه على شرح التبريزي نقلًا عن الجمهرة.

المفردات: رخاء: لينة طيبة، قال تعالى: {فسخرنا له الريح تجري بأمره رخاء حيث أصاب}، تسح: منسح الماء صبه، وسح الماء بنفسه سال من فوق، وكذا المطر والدمع، وبابهما رد، وأراد تجري الريح وتسير، وانظر شرح الريح في البيت السابق، جنباتها: جمع جنبة، وهي الناحية، وانظر (عرصاتها) في البيت التالي فهو مثله. الصبا: أراد ريح الصبا، انظر البيت السابق. سحق: بفتح السين الثوب البالي، وهو بضم السين البعد والطرد والهلاك، الملاء المذيل: أراد الثوب الطويل الذيل.

المعنى يقول: إن الأمكنة المذكورة في البيتين السابقين تجري الرياح في جنباتها ونواحيها لينة طيبة هادئة، حتى جعلتها مثل الثوب الطويل الذيل البالي، وخص الصبا بالذكر لأنها أكثر هبوبًا من غيرها في تلك الأمكنة.

الإعراب: رخاء: حال من الريح، تقدم على عامله وصاحبه. تسح: فعل مضارع. الريح: فاعله. في جنباتها: جار ومجرور متعلقان بالفعل قبلهما، وها: ضمير متصل في محل جر بالإضافة، والجملة الفعلية (تسح الريح … إلخ) في محل نصب حال ثانية من الأمكنة المذكورة في البيتين السابقين، والرباط الضمير المجرور محلًا بالإضافة، والاستئناف
আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া (মা) বর্ণটি মাসদারিয়া (ক্রিয়ামূলীয়) হওয়ার অনুমতি দেননি। তিনি বলেন: কারণ এর ফলে ক্রিয়াটি কোনো কর্তা ছাড়াই থেকে যায়। যেন তিনি 'নাসাজাত' (বুনেছে) ক্রিয়ার মধ্যে 'রিহ' (বাতাস)-এর সর্বনাম থাকাকে বৈধ মনে করেননি। তবে 'মিন'-কে অতিরিক্ত (যায়িদা) ধরে এবং 'জানুব'-কে কর্তা (ফায়িল) হিসেবে গণ্য করে এটি জায়েজ হতে পারে, যেমনটি আপনি আগে দেখেছেন।

 

‌‌৩ - মৃদু বাতাস যার প্রান্তগুলোতে প্রবাহিত হয় … পূর্বদেশীয় বাতাস তাকে দীর্ঘ আঁচলবিশিষ্ট জীর্ণ কাপড়ের মতো আবৃত করে দিয়েছে।

মুয়াল্লাকার ব্যাখ্যাকারদের মধ্যে কেউই এই পঙক্তিটি উল্লেখ করেননি। আমি এটি দিওয়ানে আগের পঙক্তির পরে পেয়েছি এবং ডক্টর ফখর উদ্দিন কাবাওয়াহ আত-তাবরিজির ব্যাখ্যার ওপর তার টীকায় 'আল-জামহারা' থেকে উদ্ধৃত করে এটি উল্লেখ করেছেন।

শব্দার্থ: রুখা: কোমল ও মনোরম। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আমি বাতাসকে তার অনুগত করে দিলাম, যা তার আদেশে যেখানে তিনি চাইতেন সেখানে মৃদুভাবে প্রবাহিত হতো}। তাসুহহু: 'মানসাহহুল মা' অর্থ পানি ঢালা। পানি যখন নিজে থেকে উপর থেকে গড়িয়ে পড়ে তখন তাকে 'সাহহা' বলা হয়। বৃষ্টি এবং চোখের পানির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এগুলোর মূল রূপ হলো 'রাদ্দা' (ক্রিয়ামূলের অধ্যায়)। এখানে বাতাসের প্রবাহিত ও চালিত হওয়া বুঝিয়েছেন। পূর্ববর্তী পঙক্তিতে 'বাতাস' (রিহ)-এর ব্যাখ্যা দেখুন। জানাবাতুহা: 'জানাবাহ' এর বহুবচন, যার অর্থ হলো দিক বা পার্শ্ব। পরবর্তী পঙক্তিতে 'আরাসাতুহা' শব্দটি দেখুন, কারণ এটিও অনুরূপ। আস-সবা: তিনি পূর্বদিকের বাতাস বুঝিয়েছেন। পূর্ববর্তী পঙক্তি দেখুন। সাহক: সিন বর্ণে ফাতহা (যবর) সহ এর অর্থ হলো জীর্ণ বস্ত্র। আর সিন বর্ণে পেশ (দাম্মাহ) সহ এর অর্থ হলো দূরত্ব, বিতাড়ন এবং ধ্বংস। আল-মুলা আল-মুযায়্যাল: দীর্ঘ আঁচলবিশিষ্ট পোশাক।

ভাবার্থ: কবি বলছেন যে, পূর্ববর্তী দুই পঙক্তিতে বর্ণিত স্থানগুলোর পাশ দিয়ে এবং প্রান্তগুলো দিয়ে বাতাস মৃদু, মনোরম ও শান্তভাবে প্রবাহিত হয়, এমনকি এটি সেগুলোকে দীর্ঘ আঁচলবিশিষ্ট জীর্ণ বস্ত্রের মতো করে ফেলেছে। তিনি বিশেষভাবে 'সবা' (পূর্বদিকের বাতাস) উল্লেখ করেছেন কারণ ওই স্থানগুলোতে অন্যান্য বাতাসের তুলনায় এটিই বেশি প্রবাহিত হয়।

ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব): রুখা: এটি রিহ (বাতাস) থেকে হাল (অবস্থা), যা তার আমিল (ক্রিয়া) এবং সাহিব (কর্তা)-এর আগে এসেছে। তাসুহহু: ফে’ল মুদারি (বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)। আর-রিহ: এর ফায়িল (কর্তা)। ফী জানাবাতুহা: জার-মাজরুর যা তার পূর্ববর্তী ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। 'হা' হলো মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাজরুর (জের) এর স্থানে থাকা মুত্তাসিল (সংযুক্ত) সর্বনাম। আর ক্রিয়াগত বাক্যটি (বাতাস প্রবাহিত হয় … ইত্যাদি) পূর্ববর্তী দুই পঙক্তিতে বর্ণিত স্থানগুলোর দ্বিতীয় 'হাল' হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে। এর সংযোগকারী হলো মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাজরুর অবস্থানে থাকা সর্বনামটি এবং বাক্যটি প্রারম্ভিক (ইস্তিনাফ)।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাবীরিল মুতাআল ইরাবুল মুআল্লাকাতিল আশরিত তিওয়াল (পৃষ্ঠা: ৩০)
ممكن بالإعراض عن البيتين السابقين. كساها: فعل مضارع مبني على الفتح المقدر على الألف للتعذر، وها: ضمير متصل في محل نصب مفعول به أول. الصبا: فاعل كسا مرفوع، وعلامة رفعه ضمة مقدرة على الألف للتعذر، ولم يؤنث الفعل كسا لأن المراد بالصبا الهواء كما رأيت في البيت السابق. سحق: مفعول به ثان للفعل كسا، وهو مضاف والملاء مضاف إليه من إضافة الصفة للموصوف، المذيل: صفة الملاء، وجملة (كساها الصبا … إلخ) يقال فيها: ما قيل بالجملة السابقة، واعتبارها في محل نصب حال من الضمير المجرور محلًا بالإضافة جيد معنى.

 

‌‌4 - ترى بعر الأرام في عرصاتها … وقيعانها كأنه حب فلفل

المفردات: ترى: تبصر، الأرم: جمع ريم وريمة، ويروى الأرام على أنه جمع رئم ورئة، وكلاهما الظباء البيض الخالصة البياض، ورواية الديوان (الصيران) على أنه جمع صوار، وهو القطيع من بقر الوحش أو الظباء. العرصات: جمع عرضة بفتح العين وسكون الراء، وهي ساحة الدار، وكل بقعة واسعة ليس فيها بناء، وسميت ساحة الدار عرضة لأن الصبيان يعرصون فيها، أي يلعبون ويمرحون، وقد فتحت الراء في الجمع على القاعدة في جمع الاسم الثلاثي الصحيح العين الساكنها المؤنث المختوم بالتاء، مثل سجدة وسجدات، وركعة وركعات، وتمرة وتمرات، وإن أردت الزيادة فانظر الشاهد 115 و 116 من كتابنا فتح رب البرية، كما يجمع العرصة على عراص، مثل كلبة وكلاب. القيعان: جمع قاع، وهو المستوى من الأرض الفلاة، ويجمع القاع على أقواع وأقوع وقيعة، قال تعالى: {والذين كفروا أعمالهم كسراب بقيعة يحسبه الظمآن ماء} الفلفل: بفاءين معروف، ويروى (حب قلقل) بقافين، وهو شجر يشبه الرمان،
পূর্ববর্তী দুটি পংক্তি পরিহার করা সম্ভব। 'কাসাহা': আলিফের ওপর (হরকত) প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব হওয়ার কারণে উজ্জ্ব ফাতাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এটি একটি মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন) ক্রিয়া, এবং 'হা': এটি এটি একটি সংযুক্ত সর্বনাম যা প্রথম কর্ম (মাফউল বিহি) হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে। 'আস-সবা': এটি 'কাসা' ক্রিয়ার কর্তা (ফায়েল) যা রফ-এর অবস্থায় রয়েছে এবং এর রফ হওয়ার চিহ্ন হলো আলিফের ওপর উজ্জ্ব পেশ (জম্মা) যা প্রকাশ করা অসম্ভব। আর 'কাসা' ক্রিয়াটিকে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়নি কারণ 'সবা' দ্বারা বাতাস উদ্দেশ্য, যেমনটি আপনি পূর্ববর্তী পংক্তিতে দেখেছেন। 'সাহকু': এটি 'কাসা' ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম এবং এটি মুদাফ, আর 'আল-মুলা' হলো মুদাফ ইলাইহি যা গুণবাচক শব্দকে বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ করার অন্তর্ভুক্ত। 'আল-মুজায়্যাল': এটি 'আল-মুলা'-এর বিশেষণ। আর (কাসাহাস সবা … ইত্যাদি) বাক্যটির ক্ষেত্রে তা-ই বলা হবে যা পূর্ববর্তী বাক্যের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। আর বাক্যটিকে সম্বন্ধযুক্ত মাজরুর সর্বনাম থেকে 'হাল' হিসেবে নসবের স্থানে গণ্য করা অর্থগতভাবে চমৎকার।

 

‌‌৪ - তুমি এর প্রাঙ্গণগুলোতে হরিণের বিষ্ঠা দেখতে পাবে … এবং এর সমতল ভূমিগুলোতে, যেন সেগুলো গোলমরিচের দানা।

শব্দার্থ: 'তরা': তুমি দেখবে। 'আল-আরাম': এটি 'রীম' এবং 'রীমাহ'-এর বহুবচন। এটি 'আরাম' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে যা 'রি'ম' এবং 'রি'আহ'-এর বহুবচন। এই উভয়টি দ্বারাই ধবধবে সাদা হরিণ বোঝানো হয়। কাব্যসংগ্রহের (দেওয়ান) বর্ণনায় 'আস-সাইরান' এসেছে যা 'সুওয়ার'-এর বহুবচন; এর অর্থ হলো বন্য গরু বা হরিণের পাল। 'আল-আরাসাত': এটি 'আরসাহ'-এর বহুবচন (আইন বর্ণে জবর এবং রা বর্ণে জজমসহ)। এর অর্থ হলো বাড়ির আঙিনা এবং এমন সব প্রশস্ত ভূখণ্ড যেখানে কোনো দালানকোঠা নেই। বাড়ির আঙিনাকে 'আরসাহ' বলা হয় কারণ সেখানে শিশুরা খেলাধুলা ও আনন্দ-উল্লাস করে। বহুবচনের ক্ষেত্রে 'রা' বর্ণে জবর দেওয়া হয়েছে সেই নিয়ম অনুযায়ী যেখানে তিন অক্ষরবিশিষ্ট সহিহ মধ্যাক্ষর (আইন) এবং জজমযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ যা 'তা' দ্বারা শেষ হয়েছে তাকে বহুবচন করা হয়; যেমন: সাজদাহ থেকে সাজদাত, রাকাআহ থেকে রাকাআত এবং তামরাহ থেকে তামরাত। আপনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান তবে আমাদের 'ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ' কিতাবের ১১৫ ও ১১৬ নং উদ্ধৃতিটি দেখুন। এছাড়াও 'আরসাহ'-এর বহুবচন 'ইরাস'ও হয়, যেমন 'কালবাহ' থেকে 'কিলাব'। 'আল-কী'আন': এটি 'কা'আ'-এর বহুবচন। এর অর্থ মরুভূমির সমতল ভূমি। 'কা'আ'-এর বহুবচন 'আকওয়া', 'আকু' এবং 'কীআহ'ও হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যারা কুফরি করে, তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার ন্যায়, তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে।" 'ফালফাল': এটি দুই 'ফা' বর্ণ সহযোগে গঠিত একটি সুপরিচিত শব্দ। এটি 'হাব্বে কালকাল' হিসেবেও (দুই 'কাফ' বর্ণযোগে) বর্ণিত হয়েছে, যা ডালিম সদৃশ একটি গাছ।