(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: -)
دلائل الإعجاز بين أبي سعيد السيرافي والجرجاني   (حسن إسماعيل عبد الرازق)

القسم: البلاغة


الكتاب: دلائل الإعجاز بين أبي سعيد السيرافي والجرجاني

المؤلف: حسن بن إسماعيل بن حسن بن عبد الرازق الجناجيُ رئيس قسم البلاغة بجامعة الأزهر (ت 1429 هـ)

الناشر: دار الطباعة المحمدية القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى، 1411 هـ - 1991 م

عدد الصفحات: 183

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1440

আবু সাঈদ আস-সিরাফী ও আল-জুরজানীর মধ্যে দালাইলুল ই'জায   (হাসান ইসমাঈল আব্দুল রাজ্জাক)

বিভাগ: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)


বই: আবু সাঈদ আস-সিরাফী ও আল-জুরজানীর মধ্যে দালাইলুল ই'জায

লেখক: হাসান বিন ইসমাঈল বিন হাসান বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-জানাজি, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিভাগের প্রধান (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক: দারুত তিবায়াতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ, কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৩

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপি প্রস্তুতকারক সমিতি), বাস্তবায়নে (মারকাযু নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দুহাইয়ান চ্যারিটেবল ওয়াকফ)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১)
الدكتور

حسن إسماعيل عبد الرازق

رئيس قسم البلاغة بكلية اللغة العربية

جامعة الأزهر - بالزقازيق

 

دلائل الإعجاز

بين أبي سعيد السيرافي وعبد القاهر الجرجاني

 

الطبعة الأولى

1411 هـ - 1991 م

حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

 

دار الطباعة المحمدية 3 درب الأتراك بالأزهر
ডক্টর

হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক

আরবি ভাষা অনুষদের বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিভাগের প্রধান

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় - জাগাজিগ

 

দালাইলুল ইজায (অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি)

আবু সাঈদ আস-সিরাফী এবং আব্দুল কাহের আল-জুরজানী-র মাঝে

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

প্রকাশনা স্বত্ব গ্রন্থকারের সংরক্ষিত

 

দারুত তিবাআতিল মুহাম্মাদিয়া, ৩ দারবুল আতরাক, আল-আযহার
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২)
الدكتور

حسن إسماعيل عبد الرازق

رئيس قسم البلاغة بكلية اللغة العربية

جامعة الأزهر - بالزقازيق

 

دلائل الإعجاز

بين أبي سعيد السيرافي وعبد القاهر الجرجاني

 

الطبعة الأولى

1411 هـ - 1991 م

حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

 

دار الطباعة المحمدية 3 درب الأتراك بالأزهر
ডক্টর

হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক

বিভাগীয় প্রধান, অলঙ্কারশাস্ত্র বিভাগ, আরবি ভাষা অনুষদ

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় - জাকাজিকে

 

দালাইলুল ই'জাজ

আবু সাঈদ আস-সিরাফী ও আব্দুল কাহির আল-জুরজানীর মধ্যে

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত

 

দারুত তিবায়াহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ, ৩ দারবুল আতরাক, আল-আজহার
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد النبي الأمي وعلى آله وأصحابه والتابعين، وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين؛ وبعد:

فقد عرف أبو سعيد الحسن بن عبد الله السيرافي المتوفي سنة 368 هـ، بإنه إمام في النحو؛ وعلوم أخرى؛ كاللغة، والشعر، والعروض، والقوافي، والقرآن، والفرائض والحديث، والكلام، والحساب، والهندسة، ولكن شهرته بالنحو كانت أكثر، فقد كان قرين أبى على الفارسي، ونظيره في النحو والصرف.

غير أن لأبي سعيد السيرافي كتاباً في صنعة البلاغة والشعر؛ ولكنه لم يصل إلينا؛ ولم ندر ما فيه؛ كما أن مناظرة قد جرت بينه، وبين متى بن يونس القنائى المنطقي في المفاضلة بين النحو والمنطق؛ ونقلها تلميذه أبو حيان التوحيدي في "الإمتاع والمؤانسة" و " المقابسات" كما نقلها ياقوت في " معجم الأدباء"؛ وفيها ظهرت بذور نظريتي " النظم" و " البيان" اللتين أدار عليهما الإمام عبد القاهر الجرجانى كتابه: " دلائل الإعجاز" ومن النظريتين تفرعت مسائل البلاغة العربية، وتنوعت إلى علومها الثلاثة: المعاني، والبيان، والبديع، ودارت حولها مباحث البلاغيين؛ من شروح وتعليقات، ومتون وتلخيصات إلى يومنا هذا.

ومن هنا يكون أبو سعيد السيرافي إماماً في البلاغة بلا جدال.

وإذا كان الوزير: أبو الفتح، الفضل بن جعفر بن الفرات، الذي جرت المناظرة بمجلسه قد قال لأبى سعيد السيرافي بعد الانتهاء من مناظرته
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও মুরসালিনদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা উম্মী নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর। অতঃপর:

আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সিরাফী (মৃত্যু ৩৬৮ হিজরি) নাহু (ব্যাকরণ) এবং অন্যান্য শাস্ত্র যেমন—ভাষা, কবিতা, আরুজ (ছন্দতত্ত্ব), কাওয়াফি (অন্ত্যমিল), কুরআন, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), হাদিস, ইলমুল কালাম, গণিত ও জ্যামিতিতে ইমাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে নাহু শাস্ত্রে তাঁর প্রসিদ্ধি ছিল সর্বাধিক। তিনি নাহু ও সরফ (শব্দতত্ত্ব) শাস্ত্রে আবু আলী আল-ফারিসীর সমকক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

তবে আবু সাঈদ আস-সিরাফীর বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও কবিতা শিল্পের ওপর একটি কিতাব ছিল; কিন্তু তা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি এবং তাতে কী ছিল তা আমাদের জানা নেই। তেমনিভাবে তাঁর এবং যুক্তিবিদ মাত্তা ইবনে ইউনুস আল-কানায়ী আল-মানতিকীর মধ্যে নাহু ও মানতিকের (যুক্তিবিদ্যা) শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে একটি মুনাযারা (বিতর্ক) অনুষ্ঠিত হয়েছিল; তাঁর ছাত্র আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী 'আল-ইমতা ওয়াল মুয়ানাসাহ' এবং 'আল-মুকাবাসাত' গ্রন্থে তা উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এই বিতর্কেই 'নাজম' (বিন্যাস) ও 'বায়ান' (প্রকাশশৈলী) তত্ত্বদ্বয়ের বীজ উন্মোচিত হয়েছিল, যার ওপর ভিত্তি করে ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানী তাঁর 'দালাইলুল ইজাজ' কিতাবটি রচনা করেছেন। এই দুটি তত্ত্ব থেকেই আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মাসআলাগুলো শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়েছে এবং এর তিনটি শাস্ত্রে বৈচিত্র্যময় রূপ নিয়েছে: মাআনী, বায়ান ও বাদী। আজ পর্যন্ত অলঙ্কারবিদদের আলোচনা—শারহ ও তালীক (ব্যাখ্যা ও টীকা) এবং মাতান ও সারসংক্ষেপসমূহ—এসব ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

আর এখান থেকেই নিসংকোচে বলা যায় যে, আবু সাঈদ আস-সিরাফী বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রে একজন ইমাম ছিলেন।

উজির আবুল ফাতহ আল-ফাদল ইবনে জাফর ইবনুল ফুরাত, যাঁর মজলিসে এই মুনাযারাটি হয়েছিল, তিনি যখন মুনাযারা শেষ হওয়ার পর আবু সাঈদ আস-সিরাফীকে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৪)
" ولقد حكت طرازاً، لا يبليه الزمان، ولا يتطرق إليه الحدثان" فإن هذا الطراز الذي قصده، إنما هو نظرية النظم التي تفرعت عنها علوم البلاغة فيما بعد.

ومع هذا فإنك تجد البلاغيين والنقاد في العصر الحديث يكادون يجمعون على أن عبد القاهر هو صاحب نظرية النظم؛ وإن كان منهم من حاول الخروج على هذا الإجماع، بأن عبد القاهر قد استقاها من القاضي عبد الجبار الأسد أبادى قاضى قضاه الدولة البوبهية والمتوفي سنة 415 هـ، ومنهم من صرح بأن أبا سعيد قد سبق عبد القاهر إلى تلك النظرية؛ دون أن يدخل في تفاصيل هذا الأمر.

ولما قرأت مناظرة أبى سعيد، وأمعنت النظر فيها، وفى دلائل الإعجاز، وقارنت ما جاء في " المناظرة" بما جاء في " الدلائل" تبين لي ما هو أكثر من ذلك بكثير؛ وهو: أن رد أبى سعيد السيرافي على متى بن يونس - في المناظرة التي جرت بينهما -كان هو الأساس الذي بنى عليه عبد القاهرة الجرجانى كتابه: " دلائل الإعجاز؛ بل إن ما قاله أبو سعيد السيرافي - في تلك المناظرة - يعد " متناً" وضعه عبد القاهر أمامه، وجعل كتابه شرحاً لهذا " المتن"؛ والدليل على ذلك ما يلي:

أولاً: أن الأفكار التي وردت في " الدلائل" هي نفس الأفكار التي وردت في المناظرة.

ثانياً: ان تلك الأفكار قد جاءت في " الدلائل" مرتبة على حسب ترتيبها في المناظرة.

ثالثاُ: أن عبد القاهر - في الدلائل - لم يكد يأتي بأفكار جديدة لم تكن في المناظرة. وإنما قام الكتاب كله على نظرية " النظم" وشرحها؛ وإقامة الدليل على صحتها بما قرأه في كتب النقاد السابقين؛ كالوساطة للقاضي على بن عبد العزيز الجرجاني، والصناعتين؛ لأبى هلال العسكري، ونقد الشعر؛ لأبى الفرج قدامة بن جعفر.
"এবং তা এমন এক শৈলী তৈরি করেছে যা কাল পরিক্রমায় জীর্ণ হয় না এবং সময়ের বিবর্তনে তাতে কোনো পরিবর্তন আসে না।" তিনি যে শৈলীর কথা বুঝিয়েছেন, তা মূলত 'নাজম' (বিন্যাস পদ্ধতি) তত্ত্ব, যা থেকে পরবর্তীতে অলঙ্কার শাস্ত্রের (বালাগাত) জ্ঞানসমূহ শাখা-প্রশাখায় বিস্তার লাভ করেছে।

তা সত্ত্বেও, আপনি দেখতে পাবেন যে আধুনিক যুগের অলঙ্কারবিদ ও সমালোচকগণ প্রায় একমত যে আব্দুল কাহের হলেন 'নাজম' তত্ত্বের প্রবর্তক; যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই সর্বসম্মতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন এই দাবি করে যে, আব্দুল কাহের তা গ্রহণ করেছেন বুওয়াইহি সালতানাতের প্রধান বিচারপতি কাজী আব্দুল জাব্বার আল-আসাদ আবাদী (মৃত্যু: ৪১৫ হিজরি) থেকে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে আবু সাইদ সেই তত্ত্বে আব্দুল কাহেরের অগ্রবর্তী ছিলেন, যদিও তারা এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশ করেননি।

যখন আমি আবু সাইদের মুনাজারা (বিতর্ক) পাঠ করলাম এবং তাতে ও 'দালায়িলুল ইজাজ' গ্রন্থে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করলাম, আর "মুনাজারা"-তে যা এসেছে এবং "দালায়িল"-এ যা রয়েছে তার মধ্যে তুলনা করলাম, তখন আমার কাছে এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু স্পষ্ট হলো। আর তা হলো: আবু সাইদ আল-সিরাফি ও মাত্তা বিন ইউনুসের মধ্যে যে বিতর্কটি হয়েছিল, তাতে আবু সাইদের উত্তরগুলোই ছিল সেই ভিত্তি যার ওপর আব্দুল কাহের আল-জুরজানি তার "দালায়িলুল ইজাজ" গ্রন্থটি রচনা করেছেন। বরং ওই মুনাজারায় আবু সাইদ যা বলেছেন, তাকে একটি 'মূল পাঠ' (মতন) হিসেবে গণ্য করা যায় যা আব্দুল কাহের তার সামনে রেখেছিলেন এবং নিজের গ্রন্থটিকে সেই 'মূল পাঠের' ব্যাখ্যা হিসেবে রূপদান করেছিলেন। এর প্রমাণগুলো হলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: 'দালায়িল' গ্রন্থে বর্ণিত ধারণাগুলো হুবহু সেই সব ধারণা যা মুনাজারা বা বিতর্কে উপস্থাপিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: সেই ধারণাগুলো 'দালায়িল' গ্রন্থে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেভাবে সেগুলো বিতর্কে বিন্যস্ত ছিল।

তৃতীয়ত: আব্দুল কাহের 'দালায়িল' গ্রন্থে প্রায় এমন কোনো নতুন ধারণা নিয়ে আসেননি যা বিতর্কে ছিল না। বরং পুরো গ্রন্থটি 'নাজম' তত্ত্ব ও তার ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং পূর্ববর্তী সমালোচকদের গ্রন্থসমূহ থেকে সংগৃহীত দলীল দ্বারা তার সত্যতা প্রমাণ করা হয়েছে; যেমন কাজী আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-জুরজানির 'আল-ওয়াসাতাহ', আবু হিলাল আল-আসকারির 'আল-সিনাআতাইন' এবং আবু আল-ফারাজ কুদামা বিন জাফরের 'নাকদুশ শির'।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৫)
رابعاً: أن طريقة الكتاب هي طريقة المناظرة؛ وليست طريقة كتاب تعد أفكاره، وتنظم، كالذي نجده في أسرار البلاغة؛ ولهذا فإنه يكثر من قوله: (فإن قلتم: كذا) (قلنا: كذا).

وهذا هو السر في أنه يقول في أوائل "الدلائل"، " وليس يتأتى لي أن أعلمك من أول الأمر - في ذلك - آخره، وان أسمى لك الفصول التي في نيتي ان احررها بمشيئة الله عز وجل حتى تكون على علم بها قبل موردها عليك، فاعمل على ان ههنا فصولا، يجئ بعضها في إثر بعض (1).

ومن الغريب حقاً: أن لا يذكر الإمام عبد القاهر مصدر فكرته - في الدلائل -، وهو: مناظرة أبى سعيد السيرافي بل إنه لم يجر ذكرا لأبى سعيد السيرافي، في الدلائل الإعجاز!

هذا: في الوقت الذي يذكر فيه أبا على الفارسي - وقد كان قرين أبى سعيد السيرافي ونظيره في النحو والصرف - ثلاث مرات في دلائل الإعجاز، وهي: قوله: " ومن ذلك ما أنشده الشيخ أبو على في الإغفال" (2) وقوله: " قال الشيخ أبو على في " الشيرازيات" (3)، وقوله: " أنشد الشيخ أبو على في التذكرة" (4).

فهو - كما ترى لا يكتفى بذكر " الشيخ أبى على " بل إنه يحدد الكتاب الذي أخذ منه، كالإغفال، والشيرازيات والتذكرة!

والأغرب من هذا: أن عبد القاهر قد رفض رأياً لأبى سعيد السيرافي - وهو يؤلف الدلائل - ولم يشر إليه إمعانا منه في إخفاء ذكره! ، وذلك عند شرح سيبوبه لقول الخنساء:
চতুর্থত: এই বইয়ের পদ্ধতি হলো বিতর্কের পদ্ধতি; এটি এমন কোনো বইয়ের পদ্ধতি নয় যেখানে চিন্তাধারাগুলোকে সাজানো এবং বিন্যস্ত করা হয়, যেমনটি আমরা 'আসরারুল বালাগাহ'-তে দেখতে পাই; আর এই কারণেই তিনি অধিকহারে এই কথাটি বলেন: (যদি আপনারা বলেন: এমন) (আমরা বলব: তেমন)।

আর এটাই হলো সেই রহস্য যে কারণে তিনি "দালায়েল" (দালায়েলুল ইজায)-এর শুরুতে বলেছেন, "আমার পক্ষে এটি সম্ভব নয় যে আমি আপনাকে এই বিষয়ের শুরুতেই এর শেষ সম্পর্কে অবগত করব, এবং আমি আপনাকে সেই পরিচ্ছেদগুলোর নাম বলব যা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় লিপিবদ্ধ করার নিয়ত করেছি, যাতে সেগুলো আপনার নিকট আসার আগেই আপনি সে সম্পর্কে জানতে পারেন। বরং আপনি এটি মনে করে কাজ শুরু করুন যে, এখানে কিছু পরিচ্ছেদ রয়েছে যা একে অপরের পরে আসবে (১)।

এটি সত্যিই বিস্ময়কর যে: ইমাম আবদুল কাহের 'দালায়েল'-এ তাঁর চিন্তাধারার উৎস উল্লেখ করেননি, যা হলো: আবু সাঈদ আস-সিরাফির বিতর্ক। বরং তিনি 'দালায়েলুল ইজায'-এ আবু সাঈদ আস-সিরাফির কোনো উল্লেখই করেননি!

অথচ: একই সময়ে তিনি আবু আলী আল-ফারিসিকে—যিনি নাহু ও সরফ শাস্ত্রে আবু সাঈদ আস-সিরাফির সমসাময়িক ও সমকক্ষ ছিলেন—'দালায়েলুল ইজায'-এ তিনবার উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো: তাঁর উক্তি: "আর এটি হলো তা যা শাইখ আবু আলী 'আল-ইগফাল'-এ আবৃত্তি করেছেন" (২), তাঁর উক্তি: "শাইখ আবু আলী 'আশ-শিরাজিয়্যাত'-এ বলেছেন" (৩), এবং তাঁর উক্তি: "শাইখ আবু আলী 'আত-তাযকিরাহ'-তে আবৃত্তি করেছেন" (৪)।

সুতরাং তিনি—যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন—কেবল 'শাইখ আবু আলী'-র নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি যে বই থেকে উদ্ধৃতি নিয়েছেন তা-ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যেমন: আল-ইগফাল, আশ-শিরাজিয়্যাত এবং আত-তাযকিরাহ!

এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো: আবদুল কাহের 'দালায়েল' রচনার সময় আবু সাঈদ আস-সিরাফির একটি মত প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর প্রতি কোনো ইঙ্গিত করেননি যাতে তাঁর নাম গোপন থাকে! আর এটি ছিল খানসা-র উক্তির ব্যাপারে সিবাওয়াইহ-এর ব্যাখ্যার সময়:
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৬)
ترعى إذا نسيت حتى إذا ادكرت … فإنما هي إقبال وإدبار

فجعل الإقبال والإدبار مجازاً على سعة الكلام، كقولك: نهارك صائم، وليلك قائم حيث يقول أبو سعيد السيرافي: في شرحه للكتاب: " يقدرون مثل هذا على تقديرين:

أحدهما: أن يقدروا مضافاً إلى المصدر ويحذفونه كما يحذفون في "واسال القرية".

والوجه الثاني: أن يكون المصدر في موضع اسم الفاعل؛ وكان الزجاج يأبى إلا الوجه الأول؛ ومما يقوى الثاني: أنك تقول: رجل ضخم وعبل؛ فتجعلهما في موضع اسم الفاعل، وليسا بمصدرين لضخم، وعبل" وعلى كلام أبى سعيد السيرافي: فالمجاز: مجاز حذف، أو مجاز مرسل علاقته التعلق بالاشتقاق (1).

ولكن عبد القاهر يرفض الوجهين كليهما؛ وينظم البيت في سلك ما أسماه بالمجاز الحكمي؛ قائلاً: إن الخنساء لم ترد بالإقبال والإدبار غير معناهما؛ فتكون قد تجوزت في نفس الكلمة؛ وإنما تجوزت في أن جعلتها؛ لكثرة ما تقبل وتدبر، ولغلبة ذاك عليها، واتصاله بها، وأنه لم يكن لها حال غيرهما؛ كأنهما قد تجسمت من الإقبال والإدبار؛ وإنما يكون المجاز في نفس الكلمة لو أنها قد استعارت الإقبال، والإدبار لمعنى غير معناهما الذي وضعا له في اللغة؛ ومعلوم: أن ليست الاستعارة مما أرادته في شيء ثم يقول: " وأعلم أن ليس بالوجه: أن يعد هذا - على الإطلاق - معد ما حذف منه المضاف، وأقيم المضاف إليه مقامه؛ مثل؛ قول الله عز وجل: " وإن كنا نراهم يذكرونه حيث يذكرون المضاف المحذوف من نحو الآية .. في سبيل ما يحذف من اللفظ
ترعى إذا نسيت حتى إذا ادكرت … فإنما هي إقبال وإدبار

এখানে ভাষার প্রশস্ততার ভিত্তিতে ‘সম্মুখপানে অগ্রসর হওয়া’ এবং ‘পশ্চাদপসরণ করা’কে রূপক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যেমন আপনার উক্তি: ‘আপনার দিনটি রোযাদার’ এবং ‘আপনার রাতটি ইবাদতে দণ্ডায়মান’। এই প্রসঙ্গে আবু সাঈদ আস-সিরাফী তার ‘কিতাব’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: "তারা এ জাতীয় বিষয়কে দুটি পদ্ধতিতে অনুমান করেন:

প্রথমত: তারা মাসদারের (ক্রিয়ামূল) পূর্বে একটি মুদাফ (সম্বন্ধপদ) ধরে নেন এবং তা বিলুপ্ত করে দেন, যেমনটি তারা ‘গ্রামবাসীকে জিজ্ঞাসা করো’ (ওয়াসআলিল ক্বরইয়াহ) বাক্যের ক্ষেত্রে বিলুপ্ত করেন।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: মাসদারটি ইসমুল ফা-ইলের (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) স্থলাভিষিক্ত হওয়া; আয-যাজ্জাজ প্রথম পদ্ধতিটি ছাড়া অন্যটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতেন। তবে দ্বিতীয় মতটিকে যা শক্তিশালী করে তা হলো আপনার এই উক্তি: ‘বিশাল ও স্থূলকায় ব্যক্তি’; এখানে আপনি শব্দ দুটিকে ইসমুল ফা-ইলের স্থলে ব্যবহার করেছেন, অথচ শব্দ দুটি বিশালত্ব ও স্থূলতার মাসদার নয়।" আবু সাঈদ আস-সিরাফীর বক্তব্য অনুযায়ী: এই রূপকটি হয় বিলুপ্তিজনিত রূপক (মাজাযে হাযফ), অথবা এটি এমন মাজাযে মুরসাল যার সম্পর্ক হলো শব্দমূলীয় উৎসের (ইশতিক্বাক্ব) সাথে সম্পৃক্ত (১)।

কিন্তু আব্দুল কাহের উভয় পদ্ধতিই প্রত্যাখ্যান করেছেন; তিনি এই কাব্যপঙক্তিটিকে সেই ধারায় বিন্যস্ত করেছেন যাকে তিনি ‘মাজাযে হুকমী’ (বিচারিক রূপক) নামে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন: আল-খানসা ‘সম্মুখপানে অগ্রসর হওয়া’ ও ‘পশ্চাদপসরণ’ দ্বারা এর মূল আভিধানিক অর্থই বুঝাতে চেয়েছেন; ফলে খোদ শব্দের মাঝে কোনো রূপক প্রয়োগ করা হয়নি। বরং তিনি রূপক অলঙ্কারটি প্রয়োগ করেছেন এইভাবে যে, প্রাণীটি অত্যধিক আসা-যাওয়া করার কারণে এবং এই অবস্থাটি তার ওপর প্রবল ও অবিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে তার আর অন্য কোনো অবস্থা অবশিষ্ট নেই; যেন সে অগ্রসর হওয়া ও পশ্চাদপসরণের মাধ্যমেই মূর্ত হয়ে উঠেছে। খোদ শব্দে রূপক কেবল তখনই হতো যদি তিনি ‘অগ্রসর হওয়া’ ও ‘পশ্চাদপসরণ’ শব্দ দুটিকে তাদের আভিধানিক অর্থ ব্যতিরেকে অন্য কোনো অর্থের জন্য ধার (ইস্তিয়ারা) নিতেন। আর এটি স্বতসিদ্ধ যে, ‘ইস্তিয়ারা’ বা রূপক অলঙ্কার এখানে তার মোটেও উদ্দেশ্য ছিল না। অতঃপর তিনি বলেন: "জেনে রেখো যে, এই উদাহরণটিকে ঢালাওভাবে সেই সব উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয় যেখানে মুদাফ বিলুপ্ত করা হয় এবং মুদাফ ইলাইহিকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ‘আর যদিও আমরা তাদের দেখতাম যে তারা তা স্মরণ করছে’, যেখানে তারা আয়াতের অনুরূপ স্থানে বিলুপ্ত মুদাফটি উল্লেখ করে থাকেন... যা শব্দ থেকে বিলুপ্ত করার ধারায় গণ্য।"
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৭)
ويراد في المعنى؛ وليس الأمر كذلك في بيت الخنساء؛ لأنا إذا جعلنا المعنى فيه كالمعنى إذا نحن قلنا: فإنما هي ذات إقبال وإدبار؛ أفسدنا الشعر على أنفسنا، وخرجنا إلى شيء مغسول وإلى كلام عاهى مرذول .. ".

فالوجه: أن يكون تقدير المضاف في هذا: على أنه لو كان الكلام قد جيء به على ظاهره، ولم يقصد به إلى الذي ذكرنا من المبالغة والاتساع، وان تجعل الناقة كأنها صارت بجملتها إقبالاً وإدباراً حتى كأنها قد تجسمت منهما. لكل حقه حينئذ أن يجاه فيه بلفظ الذات؛ فيقال، إنما هي ذات إقبال وإدبار؛ فأما أن يكون الشعر الآن موضوعاً على إرادة ذلك، وعلى تنزيله منزلة المنطوق به؛ فما لا مساغ له عند من كان صحيح المعرفة؛ نسابة للمعاني" (1)

فما الذي جعل عبد القاهر الجرجاني يذكر أبا على الفارسي في الدلائل - ثلاث مرات؛ بل ويذكر كتبه التي تقل منها؛ وهي: " الإغفال" و " الشيرازيات" و " التذكرة" ولا يذكر أبا سعيد السيرافي؛ مع أن الفكرة التي قامت عليها" الدلائل" نابعة من مناظرته؟ !

ربما كان ذلك راجعاً إلى ما يلي:

أولا: أن عبد القاهر قد أراد أن تسلم له نظرية النظم؛ فتذكر له، ويذكر بها، فلا تنسب إلى أبى سعيد السيرافي؛ ولا يذكر بها وقد كان لعبد القاهر ما أراد؛ فما من بلاغي، أو ناقد أدبي يذكر التظلم إلا ويذكر عبد القاهر أو يذكر عبد القاهر إلا ويذكر النظم!

ثانياً: أن عبد القاهر نفسه قد شرح كتاب "الإيضاح" في النحو؛ لأبى على الفارسي، في ثلاثين جزءاً؛ ثم اختصره في ثلاثة مجلدات؛ وأسماه: " المقتصد".

ثالثاً: أنه كان بين أبى سعيد السيرافي، وبين أبى على الفارسي ما بين
এবং অর্থের ক্ষেত্রে এটিই উদ্দেশ্য; কিন্তু খানসার কবিতার ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়; কারণ আমরা যদি সেখানে অর্থটিকে এমন মনে করি যেমনটি আমরা বলি: ‘সে তো কেবল অগ্রসর হওয়া এবং পশ্চাৎপসরণ করার অধিকারিণী’, তবে আমরা নিজেদের কাছে কবিতাটিকে নষ্ট করে ফেলব এবং আমরা এমন এক অন্তঃসারশূন্য ও তুচ্ছ কথার দিকে ধাবিত হব যা নিকৃষ্ট...।

অতএব সঠিক দিকটি হলো: এখানে উহ্য মুদাফ (সম্বন্ধপদ) এর অনুমান এভাবে করা যে—যদি কথাটিকে তার বাহ্যিক অর্থে আনা হতো এবং আমরা যে অতিরঞ্জন ও প্রসারের কথা উল্লেখ করেছি তা যদি উদ্দেশ্য না হতো, আর উটনীটি যেন তার পূর্ণ সত্তা দিয়েই অগ্রসর হওয়া ও পশ্চাৎপসরণে পরিণত হয়েছে—এমনকি সে যেন ওই দুটিরই মূর্ত রূপ হয়ে গেছে—তবে এমতাবস্থায় প্রত্যেকের অধিকার থাকত যে সেখানে 'জাত' (সত্তা) শব্দটি ব্যবহার করা হবে; ফলে বলা হতো, ‘সে কেবল অগ্রসর হওয়া ও পশ্চাৎপসরণ করার অধিকারিণী’। কিন্তু বর্তমান কবিতাটি সেই ইচ্ছা বা সেই উচ্চারিত বাক্যের স্তরে রাখার ওপর ভিত্তি করে রচিত—এমনটি বলা সঠিক জ্ঞানের অধিকারী এবং অর্থের নিগূঢ় রহস্য বর্ণনাকারীদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। (১)

তবে কোন বিষয়টি আব্দুল কাহের আল-জুরজানিকে প্ররোচিত করল যে তিনি 'দালাইল' গ্রন্থে আবু আলী আল-ফারিসিকে তিনবার উল্লেখ করেছেন; এমনকি তাঁর সেসব বইয়েরও নাম উল্লেখ করেছেন যা থেকে তিনি উদ্ধৃতি গ্রহণ করেন, যথা: "আল-ইগফাল", "আশ-শিরাজিয়াত" এবং "আত-তাযকিরাহ"; অথচ তিনি আবু সাঈদ আস-সিরাফির নাম উল্লেখ করেননি, যদিও 'দালাইল' যে ভাবনার ওপর প্রতিষ্ঠিত তা তাঁর (সিরাফির) বিতর্ক থেকেই উৎসারিত?!

সম্ভবত এর কারণগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: আব্দুল কাহের চেয়েছিলেন যে 'নজম' (বাক্যবিন্যাস) তত্ত্বটি যেন কেবল তাঁরই থাকে; যেন এটি তাঁর জন্যই স্মরণ করা হয় এবং এর মাধ্যমেই তিনি পরিচিতি পান, যাতে এটি আবু সাঈদ আস-সিরাফির দিকে সম্বন্ধযুক্ত না হয় এবং তিনি এর মাধ্যমে পরিচিত না হন। আর আব্দুল কাহের যা চেয়েছিলেন তা-ই হয়েছে; কেননা এমন কোনো অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ বা সাহিত্য সমালোচক নেই যিনি 'নজম' নিয়ে আলোচনা করলে আব্দুল কাহেরের নাম উল্লেখ করেন না, অথবা আব্দুল কাহেরের কথা বললে 'নজম' তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেন না!

দ্বিতীয়ত: আব্দুল কাহের নিজে আবু আলী আল-ফারিসির ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ "আল-ঈজাহ"-এর ব্যাখ্যা লিখেছিলেন ত্রিশ খণ্ডে; এরপর তিনি তা তিন খণ্ডে সংক্ষিপ্ত করেন এবং তার নামকরণ করেন "আল-মুকতাসিদ"‌।

তৃতীয়ত: আবু সাঈদ আস-সিরাফি এবং আবু আলী আল-ফারিসির মধ্যে যা বিদ্যমান ছিল তা হলো...
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৮)
العلماء من تنافس وتحاسد؛ وقد كان عبد القاهر من تابعي مدرسة أبى على الفارسي في النحو، إذ يذكر أبو حيان التوحيدي أن أبا على الفارسي قد اشتري شرح أبى سعيد السيرافي، في الأهواز عند توجيه إلى بغداد .. وأن هذا حديث شهور؛ وإن كان أصحابه يأبون الإقرار به؛ إلا من زعم أنه أراد النقض عليه، وإظهار الخطأ فيه (1)؛ كما انه يذكر - أيضاً - أن أبا على الفارسي كان غائباً عن المجلس الذي جرت فيه المناظرة بين أبى سعيد السيرافي ومتى بن يونس، فلما حدث بما كان، أصبح يكتم الحسد لأبى سعيد؛ على ما فاز به؛ من هذا الحديث المشهور، والثناء المذكور - على حد تعبيره (2).

ولهذا: فإنني قد رأيت أنه من الإنصاف للحقيقة أن أكتب هذه الصفحات؛ مرجعاً الفضل إلى أهله، ومبيناً المنابع الحقيقة التي استقى منها عبد القاهر الجرجانى أفكار كتابه: " دلائل الإعجاز" بعد ان ظلت تلك المنابع قروناً عديدة في زوايا الإهمال، وخبايا النسيان! ؛ واجباً من الله تعالى أن يوفقني فيما إليه قصدت من المشاركة في الحفاظ على تراث اللغة العربية الفصحى؛ لغة القرآن الكريم، وما توفيقي إلا بالله؛ عليه توكلت وإليه أنيب؟ .

أ. د. حسن إسماعيل عبد الرازق

رئيس قسم البلاغة بكلية اللغة العربية بالزقازيق
আলেমগণের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও ঈর্ষা বিদ্যমান ছিল; আর ব্যাকরণ শাস্ত্রে আব্দুল কাহির ছিলেন আবু আলী আল-ফারিসীর ঘরানার অনুসারী। আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী উল্লেখ করেন যে, আবু আলী আল-ফারিসী বাগদাদের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে আহওয়াজে আবু সাঈদ আস-সিরাফীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ক্রয় করেছিলেন... এবং এটি একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা; যদিও তাঁর অনুসারীরা এটি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান; কেবল তারাই এটি দাবি করেন যারা মনে করেন তিনি এটি খণ্ডন করতে এবং এতে ভুল প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন (১); যেমনটি তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আবু সাঈদ আস-সিরাফী এবং মাত্তা ইবনে ইউনুসের মধ্যে যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আবু আলী আল-ফারিসী সেই মজলিসে অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর যখন যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করা হলো, তখন তিনি আবু সাঈদের প্রতি ঈর্ষা গোপন করতে শুরু করলেন; তাঁর সেই অর্জিত সাফল্য, এই প্রসিদ্ধ ঘটনা এবং উল্লেখিত প্রশংসার কারণে - তাঁরই অভিব্যক্তি অনুযায়ী (২)।

এই কারণেই, আমি মনে করেছি যে সত্যের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শনের খাতিরে আমার এই পৃষ্ঠাগুলো লেখা উচিত; যাতে প্রকৃত হকদারকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা যায় এবং সেই মূল উৎসগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায় যেখান থেকে আব্দুল কাহির আল-জুরজানী তাঁর "দালাইলুল ইজায" গ্রন্থের ধারণাগুলো গ্রহণ করেছিলেন, অথচ সেই উৎসগুলো বহু শতাব্দী ধরে অবহেলা ও বিস্মৃতির অন্তরালে পড়ে ছিল! আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে আমার সেই উদ্দেশ্যে তাওফিক দান করেন যা আমি বিশুদ্ধ আরবি ভাষার ঐতিহ্য—যা পবিত্র কুরআনের ভাষা—সংরক্ষণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জন করতে চেয়েছি। আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই উপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাই।

প্রফেসর ড. হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক

বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিভাগের প্রধান, আরবি ভাষা অনুষদ, জাকাজিক
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌دليل الكتاب

أولاً: التمهيد.

(أ) أبو سعيد السيرافي، ومتى بن يونس.

(ب) القاضي عبد الجبار، وعبد القاهر الجرجاني.

(ج) " دلائل الإعجاز" قبل عبد القاهر.

ثانياً: " دلائل الإعجاز" بين السيرافي، والجرجاني.

القسم الأول: منابع" الدلائل" في مناظرة أبى سعيد:

1 - الفارق الزمني بين (أسرار البلاغة) و (دلائل الإعجاز)

2 - الدافع إلى تصنيف " الدلائل".

3 - مناظرة أبى سعيد السيرافي.

4 - الأفكار التي تضمنتها المناظرة.

القسم الثاني: الأسس التي قامت عليها " الدلائل"

1 - الطائفة التي زهدت في علم النحو.

2 - صحيح الكلام من سقيمه يعرف بالنظم.

3 - " المدخل إلى دلائل الإعجاز".

4 - خطوات عملية النظم.

5 - تشبيه النظم بالنسج.

القسم الثالث: إثبات النظرية لأبى سعيد السيرافى:

(أ) " دلائل الإعجاز" شرح لمناظرة أبى سعيد السيرافي.

(ب) الرد على من يثبت النظرية لعبد الجبار.

(جـ) حصيلة هذا البحث.
গ্রন্থের নির্ঘণ্ট

প্রথমত: ভূমিকা।

(ক) আবু সাঈদ আস-সিরাফী এবং মাত্তা ইবনে ইউনুস।

(খ) আল-কাদী আব্দুল জাব্বার এবং আব্দুল কাহের আল-জোরজানী।

(গ) আব্দুল কাহেরের পূর্বে "দালাইলুল ই'জায"।

দ্বিতীয়ত: সিরাফী ও জোরজানীর মাঝে "দালাইলুল ই'জায"।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আবু সাঈদের বিতর্কে "দালাইল" এর উৎসসমূহ:

১ - (আসরারুল বালাগাহ) ও (দালাইলুল ই'জায) এর মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান

২ - "দালাইল" রচনার প্রেক্ষাপট।

৩ - আবু সাঈদ আস-সিরাফীর বিতর্ক।

৪ - বিতর্কে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যেসব ভিত্তির ওপর "দালাইল" প্রতিষ্ঠিত

১ - সেই গোষ্ঠী যারা নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছিল।

২ - 'নাজম' (বাক্যবিন্যাস)-এর মাধ্যমেই বাক্যের শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা নিরূপিত হয়।

৩ - "দালাইলুল ই'জাযের ভূমিকা"।

৪ - নাজম প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ।

৫ - নাজম বা বাক্যবিন্যাসকে বুননের সাথে তুলনা করা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবু সাঈদ আস-সিরাফীর অনুকূলে মতবাদটির প্রমাণ:

(ক) "দালাইলুল ই'জায" হলো আবু সাঈদ আস-সিরাফীর বিতর্কের ব্যাখ্যা।

(খ) যারা এই মতবাদ আব্দুল জাব্বারের প্রতি সাব্যস্ত করেন, তাদের খণ্ডন।

(গ) এই গবেষণার সারসংক্ষেপ।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌التمهيد

أولاً:

(أ) السيرافي، ومتى بن يونس والمناظرة بينهما.

(ب) عبد الجبار، وعبد القاهر، وما يشبه المناظرة بينهما.

(جـ) "دلائل الاعجاز" قبل عبد القاهر.
উপক্রমণিকা

প্রথমত:

(ক) সিরাফী ও মাত্তা বিন ইউনুস এবং তাঁদের মধ্যকার বিতর্ক।

(খ) আব্দুল জাব্বার ও আব্দুল কাহির এবং তাঁদের মধ্যকার বিতর্ক সদৃশ বিষয়টি।

(গ) আব্দুল কাহিরের পূর্বে "দালাইলুল ই'জায"।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(أ) أبو سعيد السيرافي ومتى بن يونس

‌‌أما أبو سعيد السيرافي:

فهو: أبوسعيد، الحسن بن عبد الله بن المرزبان السيرافي النحوي
، وهو إمام في النحو واللغة والشعر والعروض والقوافي، والفرائض والحديث والفقه والكلام والحساب والهندسة.

وقد ولد بسيرافي سنة 280 هـ بفارس على ساحل البحر مما يلي كرمان، وبها بدأ طلبه للعلم، ثم خرج منها إلى عمان وتفقه بها، وأقام بعسكر مكرم؛ ثم انتقل إلى بغداد، وأقام بها حتى توفى سنة 368 هـ (1).

وقد كان - وهو في بغداد - مقصد الأمراء والعظماء في الأمصار المختلفة؛ يبعثون إليه يسألونه عما أشكال عليهم؛ إذ كتب إليه نوح بن نصر الساماني سنة 340 هـ كتاباً خاطبه فيه بالإمام، وسأله عن مسائل تزيد على أربعمائة؛ أغلبها ألفاظ لغوية، وأمثال يسأله فيها عن صحة نسبتها إلى العرب.

وكتب إليه الوزير البلعمي كتاباً خاطبه فيه بإمام المسلمين؛ سأله فيه عن مسائل في القرآن الكريم؛ وكتب إليه المرزبان بن محمد ملك الديلم من أذربيجان كتاباً خاطبه فيه بشخص الإسلام؛ سأله فيه عن مائة وعشرين مساله: أكثرها في القرآن وأحاديث.

وكتب إليه ابن حنزاية؛ الوزير المصري كتاباً خاطبه فيه بالشيخ الجليل، سأله فيه عن ثلاثمائة كلمة، من فنون الحديث.
‌(ক) আবু সাঈদ আস-সিরাফি এবং মাত্তা ইবনে ইউনুস

‌‌আবু সাঈদ আস-সিরাফি প্রসঙ্গে:

তিনি হলেন: আবু সাঈদ, আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল মারজুবান আস-সিরাফি আন-নাহবি (ব্যাকরণবিদ)
, এবং তিনি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা), কবিতা, আরুজ (ছন্দতত্ত্ব), কাওয়াফি (অন্ত্যমিল), ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), হাদিস, ফিকহ, কালাম (তত্ত্ববিদ্যা), হিসাব (গণিত) এবং জ্যামিতিতে একজন ইমাম ছিলেন।

তিনি ২৮০ হিজরি সনে পারস্যের সিরফ অঞ্চলে সমুদ্র উপকূলে কিরমানের নিকটবর্তী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি ইলম অন্বেষণ শুরু করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে ওমানে যান এবং সেখানে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি আসকার মুকরাম এলাকায় অবস্থান করেন; তারপর বাগদাদে স্থানান্তরিত হন এবং ৩৬৮ হিজরি সনে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেন (১)।

বাগদাদে থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের আমির এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের গন্তব্যস্থলে পরিণত হন; তারা তাদের জটিল বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে তাঁর কাছে পত্র পাঠাতেন। ৩৪০ হিজরি সনে নুহ ইবনে নাসর আস-সামানি তাঁর কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন যেখানে তাঁকে ‘ইমাম’ বলে সম্বোধন করেন এবং তাঁর কাছে চারশ’রও বেশি মাসআলা সম্পর্কে জানতে চান; যার অধিকাংশই ছিল ভাষাগত শব্দ এবং প্রবাদ-প্রবচন, যেগুলোর আরবদের সাথে সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

এবং উজির আল-বালামি তাঁর কাছে একটি পত্র লেখেন যেখানে তাঁকে ‘ইমামুল মুসলিমিন’ (মুসলিমদের ইমাম) বলে সম্বোধন করেন; সেখানে তিনি তাঁর কাছে পবিত্র কুরআনের কিছু মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। আজারবাইজানের দাইলামের রাজা মারজুবান ইবনে মুহাম্মদ তাঁর কাছে একটি পত্র লেখেন যেখানে তাঁকে ‘শাখসুল ইসলাম’ (ইসলামের ব্যক্তিত্ব) বলে সম্বোধন করেন; সেখানে তিনি তাঁর কাছে একশ বিশটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন: যার অধিকাংশই ছিল কুরআন ও হাদিস বিষয়ক।

এবং মিসরীয় উজির ইবনে হানজায়া তাঁর কাছে একটি পত্র লেখেন যেখানে তাঁকে ‘আশ-শাইখুল জলিল’ (মহিমান্বিত শাইখ) বলে সম্বোধন করেন এবং সেখানে তিনি তাঁর কাছে হাদিস শাস্ত্রের তিনশটি শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১২)
وكتب إليه أبو جعفر ملك سجستاني كتاباً؛ خاطبه فيه بالشيخ الفرد وسأله فيه عن سبعين مسألة في القرآن الكريم، ومائة كلمة في العربية، وثلاثمائة بيت من الشعر، وأربعين مسألة في الأحكام، وثلاثين مسألة في الأصول على طريق المتكلمين؛ فأجاب عنها كلها، وتقع الأسئلة والأجوبة في نحو ألف وخمسمائة ورقة (1).

وكان أبو سعيد قد ولى القضاء في بغداد على الجانب الشرقي، ثم على الجانبين؛ وأفتى في جامع الرصافة، خمسين سنة على مذهب أبى حنيفة، فما عثر له على زلة، ولا وجد له خطأ، مع دين وافر؛ وأمانة تامة (2)، وكان يميل إلى الاعتزال، وكان بينه وبين أبى الفرج الأصفهاني ما جرت العادة بمثله بين الفضلاء من التنافس (3).

وكان ورعا، زاهدا، لا يأكل إلا من كسب يده؛ فكان لا يخرج إلى مجلس الحكم، ولا إلى مجلس التدريس حتى ينسخ عشر ورقات، يأخذ أجرتها عشرة دراهم، تكون كفاية مؤونته.

وكان أبو سعيد حسن الخط، طلب إليه أن يعمل في ديوان الإنشاء، فأبى وقال: هذا أمر يحتاج إلى دربة، وأنا منها عار، وسياسة وأنا فيها غريب (4).

 

‌‌ومن تلاميذه: أبو حيان التوحيدي الذي حكى عنه مناظرة جرت بينه وبين متى بن يونس في مجلس الوزير أبى الفتح الفضل بن جعفر بن الفرات في المفاضلة بين النحو والمنطق، أدعى فيها متى أن المنطق لازم
সিজিস্তানের রাজা আবু জাফর তাঁর কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন; যাতে তিনি তাঁকে 'অদ্বিতীয় শায়খ' বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং তাতে তিনি তাঁর কাছে পবিত্র কুরআনের সত্তরটি মাসআলা, আরবির একশটি শব্দ, তিনশটি কাব্য পঙ্ক্তি, আহকামের (বিধিবিধান) চল্লিশটি মাসআলা এবং মুতাকাল্লিমদের পদ্ধতিতে উসূলের (মূলনীতি) ত্রিশটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি সেগুলোর সবগুলোর উত্তর দিয়েছিলেন, আর এই প্রশ্নোত্তরগুলো প্রায় এক হাজার পাঁচশ পৃষ্ঠা ব্যাপী বিস্তৃত (১)।

আবু সাঈদ বাগদাদের পূর্ব পার্শ্বে এবং পরবর্তীতে উভয় পার্শ্বের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি জামে আল-রুসাফায় ইমাম আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী পঞ্চাশ বছর ফতোয়া প্রদান করেন। তাঁর কোনো বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়নি এবং তাঁর কোনো ভুলও খুঁজে পাওয়া যায়নি, এর সাথে ছিল প্রচুর দ্বীনদারি ও পূর্ণ আমানতদারি (২)। তিনি মুতাজিলা মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকে ছিলেন এবং তাঁর ও আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানির মধ্যে ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সচরাচর যেমন প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে তেমন প্রতিযোগিতা বিদ্যমান ছিল (৩)।

তিনি ছিলেন মুত্তাকী ও যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ), নিজের হাতের কামাই ছাড়া অন্য কিছু খেতেন না। তিনি বিচারের মজলিসে বা পাঠদানের মজলিসে ততক্ষণ পর্যন্ত বের হতেন না যতক্ষণ না দশটি পৃষ্ঠা প্রতিলিপি করতেন, যার পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি দশ দিরহাম নিতেন, যা তাঁর ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট হতো।

আবু সাঈদ সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী ছিলেন। তাঁকে রাজকীয় সচিবালয়ে (দিওয়ানুল ইনশা) কাজ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন: এটি এমন একটি কাজ যার জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন, আর আমি তা থেকে শূন্য; এবং এটি রাজনীতির বিষয় যাতে আমি একজন অপরিচিত ব্যক্তি (৪)।

 

‌‌তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী, যিনি তাঁর থেকে উজির আবু আল-ফাতহ আল-ফজল ইবনে জাফর ইবনে আল-ফুরাতের মজলিসে তাঁর এবং মাত্তা ইবনে ইউনুসের মধ্যে ব্যাকরণ ও যুক্তিশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সংঘটিত একটি বিতর্ক বর্ণনা করেছেন, যেখানে মাত্তা দাবি করেছিলেন যে যুক্তিশাস্ত্র অপরিহার্য...
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
للنحوي، بينما المنطقي ليس بحاجة إلى النحو، ولكن أبا سعيد ما زال ينتقل به من فن إلى فن ومن مساله إلى أخرى حتى أثبت له حاجة المنطقي إلى النحو، لا حاجة النحوي ألي المنطق، وذلك من خلال رده المفحم عليه، وما زال به حتى تفوض المجلس، وأهله يتعجبون من رباطة جأش أبى سعيد وتصرف لسانه وتهلل وجهه، وتتابع فوائده، ثم قال له الوزير:

عين الله عليك أيها الشيخ، فقد فديت أكباداً، وأقرر عيوناً، وبيضت وجوها، وحكت طرازاً، لا تبلية الأزمان، ولا تطرقه الحدثان.

وكان نظير أبو سعيد، وقرينه - في النحو والصرف - أبو على الفارسي - وهو من أعلام الدولة البويهيميه، وولد بفارس، وأتى بغداد سنة 307 هـ، وأقام بها يشتغل بالعلم، ثم رحل إلى حلب، وأقام عند سيف الدولة، في حلبته. وله مه المتنبي مناظرات، ثم انتقل إلى فارس وصحب عضد الدولة، وعلت منزلته عنده وألف له أبو على كتاب" الاتضاح" و " التكملة" في النحو، ورحل إلى بلاد كثيرة، وكان يدون ما يجرى له من مناظرات في كل بلد، في كتاب، كالحليبات، والبغداديات، والشيرازيات، وهكذا، وقد وازن أبو حيان التوحيدي بين أستاذه أبى على السيرافي، وبين أبى على الفارسي ففضل أبا سعيد، لسعة عليه، وتقواه، وقال: إن أبا على كان يشرب ويتخالع، ويفارق هدى أهل العلم (1).

 

‌‌ومن مؤلفات أبى سعيد السيرافي: كتاب صنعة البلاغة والشعر، - ولم يصل إلينا - وكتاب: " شرح كتاب سيبوبه، في ثلاثة آلاف ورقة بخطة، في السلمانى، وما عمل مثله أحد، وكتاب: " المدخل إلى سيبويه" وكتاب: " شواهد كتاب سيبويه" وكتاب" الوقف والابتداء، وكتاب ألفات القطع والوصل، وكتاب أخبار النحويين البصريين، وكتاب" مقصورة ابن دريد" وكتاب " جزيرة العرب".
ব্যাকরণবিদের জন্য, যেখানে যুক্তিবিদের ব্যাকরণের কোনো প্রয়োজন নেই; কিন্তু আবু সাঈদ তাকে এক শাস্ত্র থেকে অন্য শাস্ত্রে এবং এক মাসআলা থেকে অন্য মাসআলায় ক্রমাগত নিয়ে যেতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি তার নিকট ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রতি যুক্তিবিদের মুখাপেক্ষী হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করেন, ব্যাকরণবিদের যুক্তিশাস্ত্রের মুখাপেক্ষী হওয়ার বিষয়টি নয়। এটি ছিল তার দাঁতভাঙা জবাবের মাধ্যমে। তিনি অবিরত আলোচনা চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না মজলিস ভেঙে গেল। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ আবু সাঈদের স্থিরচিত্ততা, বাকপটুতা, প্রফুল্ল মুখচ্ছবি এবং তার নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞানগর্ভ আলোচনার চমৎকারিত্বে বিস্মিত হচ্ছিলেন। অতঃপর উজির তাকে বললেন:

হে শাইখ! আল্লাহর দৃষ্টি আপনার ওপর থাকুক। আপনি অনেক কলিজাকে সতেজ করেছেন, অনেক চোখ জুড়িয়েছেন, অনেক চেহারা উজ্জ্বল করেছেন এবং এমন এক শৈল্পিক বুনন তৈরি করেছেন যা কালের আবর্তে পুরনো হবে না এবং কোনো বিপদ-আপদ তাকে স্পর্শ করবে না।

ব্যাকরণ ও সরফ শাস্ত্রে আবু সাঈদের সমকক্ষ ও সমসাময়িক ছিলেন আবু আলী আল-ফারিসি। তিনি বুওয়াইহি সালতানাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ছিলেন। তিনি পারস্যে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩০৭ হিজরিতে বাগদাদে আগমন করেন। সেখানে অবস্থান করে তিনি জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত হন। অতঃপর তিনি হালব অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সায়ফুদ দৌলার দরবারে অবস্থান করেন। সেখানে আল-মুতানাব্বির সাথে তার মুনাযারা বা বিতর্ক হয়। এরপর তিনি পারস্যে ফিরে যান এবং আদুদুদ দৌলার সহচর হন, ফলে সেখানে তার মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পায়। আবু আলী তার জন্য ব্যাকরণ শাস্ত্রে "আল-ইদাহ" এবং "আত-তাকমিলা" নামক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি অনেক দেশ ভ্রমণ করেন এবং প্রতিটি দেশে সংঘটিত তার বিতর্কগুলো একেকটি কিতাবে সংকলন করেন, যেমন: 'আল-হালবিয়্যাত', 'আল-বাগদাদিয়্যাত', 'আশ-শিরাজিয়্যাত' ইত্যাদি। আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী তার শিক্ষক আবু আলী আস-সিরাফি এবং আবু আলী আল-ফারিসির মধ্যে তুলনা করেছেন। তিনি আবু সাঈদকে তার জ্ঞানের ব্যাপকতা এবং তাকওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আলী পানাহার করতেন এবং শিষ্টাচারহীনতা প্রদর্শন করতেন, যা আহলে ইলমদের আদর্শ পরিপন্থী (১)।

 

‌‌আবু সাঈদ আস-সিরাফির রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'কিতাব সানআতিল বালাগাত ওয়াস শি’র' (অলঙ্কার ও কাব্যকলা বিষয়ক গ্রন্থ)—যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি—এবং 'শারহু কিতাবি সিবওয়াইহ' (সিবওয়াইহের কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ), যা সালমানী কাগজে তাঁর স্বহস্তে লিখিত তিন হাজার পৃষ্ঠার ছিল এবং এমন কাজ ইতিপূর্বে কেউ করেনি। এছাড়া রয়েছে 'আল-মাদখাল ইলা সিবওয়াইহ', 'শাওয়াহিদু কিতাবি সিবওয়াইহ', 'আল-ওয়াকফু ওয়াল ইবতিদা', 'কিতাবু আলফাতিল ক্বাতয়ি ওয়াল ওয়াসল', 'কিতাবু আখবারিন নাহবিয়্যিনাল বাসরিয়্যিন' (বসরাবাসী ব্যাকরণবিদদের জীবনী), 'কিতাবু মাকসুরাতি ইবনি দুরেয়দ' এবং 'কিতাবু জাজিরাতিল আরব'।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
ويذكر أبو حيان التوحيدي: أن أبا على الفارسي قد اشترى شرح أبى سعيد في الاهواز، في توجهه إلى بغداد لاحقا بالخدمة الموسومة به، والندامة الموقفة عليه بألقي درهم، وأن هذا حديث مشهور، وإن كان أصحابه بأبون الإقرار به، إلا من زعم أنه أراد النفض عليه، وإظهار الخطأ فيه (1).

ومما يؤيد تفوق أبى سعيد على أبى على الفارسي، تلك المناظرة التي أثبت فيها حاجة المنطقي إلى النحو دون حاجة النحوي إلى المنطق، مما جعل الوزير أبا الفتح، الفضل بن الفرات بقول له: ما بعد هذا البيان من مزيد، ولقد جل علم النحو عندي بهذا الاعتبار، وهذا الاسفار، وقد كان أبو على غائباً عن المجلس فلما حدث بما كان أصبح يكتم الحسد لأبى سعيد على ما فاز به من هذا الخبر المشهور، والثناء المذكور - على حد تعبير أبى حيان التوحيدي (2).

كما أن هناك مقارنة بين أبى الحسن الرماني، وأبى على الفارسي، وأبى سعيد السيرافي، في النحو لبعض أهل الأدب، ذكرها ابن الأنباري في " نزهة الألباء" (3).

يقول فيها: كنا نحضر عند ثلاثة مشايخ من النحويين، فمنهم من لا نفهم من كلامه شيئاً، ًمنهم: من نفهم بعض كلامه دون البعض، ومنهم من نفهم جميه كلامه، فأما من لا نفهم من كلامه شيئا: فأبو الحسن الرماني، وأما من نفهم بعض كلامه، دون البعض: فأبو على الفارسي، وأما من نفهم جميع كلامه: فأبو سعيد السيرافي.
আবু হাইয়ান আল-তাওহিদী উল্লেখ করেছেন যে: আবু আলী আল-ফারিসি আহওয়াজে আবু সাঈদের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দুই হাজার দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন, যখন তিনি পরবর্তীতে তাঁর নামে অভিহিত দপ্তরে যোগদানের উদ্দেশ্যে বাগদাদ অভিমুখে যাচ্ছিলেন এবং এর জন্য তাঁর অনুশোচনা নির্ধারিত ছিল। এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ কাহিনী, যদিও তাঁর অনুসারীরা তা স্বীকার করতে অসম্মতি জানান; কেবল তাঁরা ব্যতিত যারা মনে করেন যে তিনি এর ভুলত্রুটি চিহ্নিত করতে এবং এতে বিদ্যমান ভ্রান্তিগুলো প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন (১)।

আবু আলী আল-ফারিসির ওপর আবু সাঈদের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো সেই বিতর্কটি, যাতে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে ব্যাকরণবিদের যুক্তিশাস্ত্রের প্রয়োজন না থাকলেও যুক্তিবিদের ব্যাকরণশাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এর ফলে উজির আবু আল-ফাতহ ফদল বিন আল-ফুরাত তাঁকে বলেছিলেন: "এই বিবৃতির পর আর কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। এই দৃষ্টিকোণ এবং এই স্পষ্টীকরণের ফলে আমার কাছে ব্যাকরণশাস্ত্রের মর্যাদা অতিশয় বৃদ্ধি পেয়েছে।" আবু আলী সেই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না, তবে যা ঘটেছিল তা শোনার পর তিনি এই প্রসিদ্ধ সংবাদ এবং উল্লিখিত প্রশংসার কারণে আবু সাঈদের প্রতি মনে মনে ঈর্ষা পোষণ করতে থাকেন—যেমনটি আবু হাইয়ান আল-তাওহিদী বর্ণনা করেছেন (২)।

তাছাড়া ব্যাকরণশাস্ত্রে আবু আল-হাসান আল-রুম্মানী, আবু আলী আল-ফারিসি এবং আবু সাঈদ আল-সিরাফির মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা রয়েছে যা কতিপয় সাহিত্যিকের বরাতে ইবনুল আনবারী তাঁর "নুযহাতুল আলিব্বা" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (৩)।

তিনি সেখানে বলেন: আমরা ব্যাকরণশাস্ত্রের তিনজন শায়খের মজলিসে উপস্থিত হতাম; তাঁদের মধ্যে এমন একজন ছিলেন যাঁর কথা আমরা কিছুই বুঝতাম না, আবার এমন ছিলেন যাঁর কিছু কথা বুঝতাম কিন্তু কিছু অংশ বুঝতাম না, এবং এমন একজন ছিলেন যাঁর সব কথাই আমরা বুঝতে পারতাম। যাঁর কথা আমরা কিছুই বুঝতাম না তিনি হলেন আবু আল-হাসান আল-রুম্মানী; যাঁর কিছু কথা বুঝতাম আর কিছু বুঝতাম না তিনি হলেন আবু আলী আল-ফারিসি; আর যাঁর সমস্ত কথা আমরা সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারতাম তিনি হলেন আবু সাঈদ আল-সিরাফি।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌وأما متى بن يونس:

فهو: أبو بشر متى بن يونس، أو يونان القنائى، نسبة إلى ديرقنا
" وهو - كما يقول ياقوت - على بعد ستة عشر فرسخا من بغداد، وقد مات ببغداد سنة 328 هـ.

وقد كان ذا منزلة علمية مرموقة، فقد انتهت إليه رياسة المنطقيين في عصره - كما يقول صاحب الفهرست ويضيف إلى هذا قوله: " وفسر الكتب الأربعة في المنطق بأسرها، وعليها يعود الناس في القراءة، ومن كتبه: كتاب تفسير الثلاثة مقالات الأواخر من تفسير ثامسطيوس وكتاب نقل كتاب "البرهان" وكتاب: نقل كتاب السكون والفساد بتفسير الإسكندر، وكتاب: نقل "الشعر" وكتاب نقل اعتبار الحكم وتعقب المواضع لثامسطيوس، وكتاب نقل كتاب تفسير الإسكندر لكتاب السماء، وأصلحه أبو زكريا يحيى عدى، وكتاب مقالة في مقدمات صدر بها كتاب أنا لوطيقا، وكتاب المقابيس الشرطية:

 

‌‌ومن أساتذته: أبو يحيى المروزي، وقويرى ودوفيل (أوروفيل) وبفتيامين، وأبو أحمد بن كرفيب.

أما أبو يحيي فقد كان - كما يقول صاحب الفهرست - فاضلا، ولكنه سربانيا، وجميع ماله في المنطق وغيره، بالسربانية، وأما قويرى فهو: " ممن أخذ عنه علم المنطق وكان مفسراً، وكتبه مطروحة مجفوه" لأن عبارته كانت عقلية غلقه". وأما أبو أحمد بن كريب.

فقد كان من جلة المتكلمين، ويذهب مذهب الفلاسفة الطبيعيين .. وكان في نهاية الفضل والمعرفة والاضطلاع بالعلوم القديمة. وأما روفيل وبنيامين، فيظهر أنهما كانا سريانيين، ولهذا لم يترجم لهما صاحب الفهرست.

(2 - دلائل الاعجاز)
আর মত্তা বিন ইউনুস সম্পর্কে:

তিনি হলেন: আবু বিশর মত্তা বিন ইউনুস, অথবা ইউনান আল-কুন্নায়ি, যা দাইরকুন্নার সাথে সম্পর্কিত
" ইয়াকুত যেমনটি বলেন, এটি বাগদাদ থেকে ষোল ফারসাখ দূরে অবস্থিত, এবং তিনি ৩২৮ হিজরি সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর একটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থান ছিল। তাঁর যুগে যুক্তিবিদদের নেতৃত্ব তাঁর নিকটেই এসে সমাপ্ত হয়েছিল—যেমনটি আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে যোগ করে বলেছেন: "তিনি যুক্তিবিদ্যার চারটি কিতাব সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং পাঠের ক্ষেত্রে মানুষ সেগুলোর ওপরই নির্ভর করে। তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: থামিস্টিয়াসের ব্যাখ্যার শেষ তিনটি নিবন্ধের ব্যাখ্যামূলক কিতাব, 'আল-বুরহান' গ্রন্থের অনুবাদের কিতাব, আলেকজান্ডারের ব্যাখ্যাসহ 'আল-সুকুন ওয়াল ফাসাদ' গ্রন্থের অনুবাদের কিতাব, 'আল-শি'র' (কবিতা) গ্রন্থের অনুবাদের কিতাব, থামিস্টিয়াসের 'হুকুমের মূল্যায়ন ও স্থানসমূহের অনুসরণ' গ্রন্থের অনুবাদের কিতাব, আলেকজান্ডারের 'আস-সামা' গ্রন্থের ব্যাখ্যার অনুবাদের কিতাব—যা আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া আদি সংশোধন করেছিলেন, 'আনালুতিকা' গ্রন্থের মুখবন্ধ স্বরূপ একটি প্রবন্ধের কিতাব এবং 'আল-মাকাবিস আশ-শারতিয়্যাহ' নামক কিতাব:

 

‌‌তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আবু ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযি, কুওয়াইরি, রূফিল (বা উরুফিল), বানিয়ামিন এবং আবু আহমাদ বিন কারিব।

আবু ইয়াহইয়া সম্পর্কে আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থের লেখক বলেন যে তিনি একজন বিদগ্ধ ব্যক্তি ছিলেন, তবে তিনি সুরয়ানিভাষী ছিলেন এবং যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর সমস্ত কাজ সুরয়ানি ভাষায় ছিল। আর কুওয়াইরি সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের থেকে যুক্তিবিদ্যা অর্জন করা হয়েছিল এবং তিনি একজন ব্যাখ্যাকার ছিলেন, তবে তাঁর গ্রন্থগুলো অবহেলিত ও বর্জিত ছিল," কারণ তাঁর বর্ণনাভঙ্গি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও অত্যন্ত জটিল। আর আবু আহমাদ বিন কারিব সম্পর্কে বলা যায়—

তিনি ছিলেন বিশিষ্ট কালামশাস্ত্রবিদদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি প্রকৃতিবাদী দার্শনিকদের মতবাদের অনুসারী ছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞান এবং প্রাচীন বিজ্ঞানসমূহে পারদর্শিতার চূড়ান্ত শিখরে ছিলেন। রূফিল এবং বানিয়ামিন সম্পর্কে প্রতীয়মান হয় যে তারা সুরয়ানিভাষী ছিলেন, এই কারণেই আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থের লেখক তাঁদের জীবনী উল্লেখ করেননি।

(২ - দালায়েলুল ই'জায)
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
فأساتذة منى بو يونس" لم يكن منهم رجل واحد متمكن من ثقافته العربية؛ وهذه حقيقة لابد أن يظهر أثرها في أسلوب (1) "؛ فأسلوبه كان ضعيفا ركيكا؛ يدل على عدم تمكنه من اللغة العربية. والمناظرة التي جرت بينه وبين أبى سعيد السيرافي النحوي في مجلس الوزير أبى الفتح الفضل بن الفرات، وسجلها أبو حيان التوحيدي في كتابيه" الإمتاع والمؤانسة" و" القابسات" خير شاهد على هذا، فقد ذكر متى بن يونس في تلك المناظرة، أنه لا يحتاج من اللغة العربية إلا إلى معرفة الاسم والفعل والحرف.

وقد جرى بين عبد القاهر الجرجاني وبين المعتزلة الذين يقللون من شأن النحو، ويجعلون مزية الفصاحة من حسين الألفاظ، وعلى رأسهم عبد الجبار الآسد أبادى - ما يشبه المناظرة، ولهذا وجد عبد القاهر نفسه أمام قوم لهم شغب، وجدال، ومناظرة، ويعدون - في زمان أبى سعيد السيرافي.

ولهذا فإنه قد استعان بتلك المناظرة، في الرد على عبد الجبار وبقية المعتزلة، متتبعا كل فكرة، فيها بالشرح والتفسير، والتحليل، وإقامة الحجة على صحتها، مستعينا في ذلك بأقوال النحاة كابى على الفارسي، وسيبويه، وابن جنى، وأقوال النقاد، كالقاضي على بن عبد العزيز الجرجاني، وأبى الفرج قدامة بن جعفر، فكان كتابه: " دلائل الإعجاز".
মাত্তি ইবনে ইউনুসের শিক্ষকদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তিও ছিলেন না যিনি আরবি সংস্কৃতিতে পূর্ণ পারদর্শী ছিলেন; এটি এমন এক বাস্তবতা যার প্রভাব তাঁর রচনাশৈলীতে প্রকাশ পাওয়া অনিবার্য ছিল; তাঁর শৈলী ছিল দুর্বল ও অসংলগ্ন, যা আরবি ভাষায় তাঁর দক্ষতার অভাবকেই প্রমাণ করে। উজির আবুল ফাতহ আল-ফদল বিন আল-ফুরাতের মজলিসে তাঁর এবং ব্যাকরণবিদ আবু সাঈদ আল-সিরাফির মধ্যে যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং আবু হাইয়ান আল-তাওহিদি তাঁর ‘আল-ইমতা ওয়াল মুআনাসা’ ও ‘আল-কাবিসাত’ গ্রন্থদ্বয়ে যা লিপিবদ্ধ করেছেন, তা এর ওপর এক শ্রেষ্ঠ সাক্ষী। সেই বিতর্কে মাত্তি ইবনে ইউনুস উল্লেখ করেছিলেন যে, আরবি ভাষা থেকে বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয় জানা ছাড়া তাঁর আর অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই।

আবদুল কাহির আল-জুরজানি এবং ঐসব মুতাজিলাদের মধ্যে—যারা ব্যাকরণের গুরুত্বকে তুচ্ছ জ্ঞান করতেন এবং বাকপটুতার শ্রেষ্ঠত্বকে কেবল শব্দের সৌন্দর্যের ওপর নির্ভরশীল মনে করতেন এবং যাদের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল জব্বার আল-আসাদাবাদী—একটি বিতর্কের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। এই কারণেই আবদুল কাহির নিজেকে এমন এক জনগোষ্ঠীর মুখোমুখি দেখতে পান যারা ছিল কলহপ্রিয়, তার্কিক ও বিতর্ককারী এবং যাদের আবু সাঈদ আল-সিরাফির সমসাময়িক হিসেবে গণ্য করা হতো।

এ কারণে তিনি আবদুল জব্বার ও অবশিষ্ট মুতাজিলাদের মত খণ্ডন করার জন্য সেই বিতর্কের সাহায্য গ্রহণ করেন। তিনি সেখানে বিদ্যমান প্রতিটি ধারণাকে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেগুলোর নির্ভুলতার সপক্ষে দলিল উপস্থাপন করেন। এক্ষেত্রে তিনি আবু আলি আল-ফারিসি, সিবওয়াইহি ও ইবনে জিন্নি-র মতো ব্যাকরণবিদদের বক্তব্য এবং কাজি আলি বিন আবদুল আজিজ আল-জুরজানি ও আবু আল-ফারাজ কুদামা বিন জাফরের মতো সমালোচকদের বক্তব্যের সাহায্য নেন। আর এরই ফলস্বরূপ তাঁর ‘দালাইলুল ইজাজ’ গ্রন্থটি সংকলিত হয়।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌(ب) عبد الجبار: وعبد القاهر

‌‌أما عبد الجبار، فهو أبو الحسن عبد الجبار بن أحمد بن عبد الجبار ابن أحمد بن الخليل بن عبد الله الهمذانى الأسد أبادى، اتصل بالصاحب ابن عباد، وولى قضاء الرى، وأثرى ثراء واسعا واقتنى المال والعقار.

 

‌‌وكان سبب توليه القضاء: أن الصاحب إسماعيل بن عباد، أشهر وزراء بنى بوية في العراق وفارس وخراسان، والمتوفى سنة 385 هـ كان لا يرى توليه القضاء في دولته الشيعية ألا لمن كان معروفا بالاعتزال، وكان عبد الجبار قد بدأ يعرف بإمام المعتزلة في عصره، فأتصل به الصاحب واستدعاه إلى الرى، وكتب له عهدا بتوليته رئاسة القضاء في الرى وقزوين، وغيرهما من الأعمال التي كانت لفخر الدولة سنة 367 هـ. ثم أضاف إليه بعد ذلك في عهد أخر إقليمى جرجان.

وطبرستان بعد فتحهما.

 

غير أنه عزل عن القضاء عقب وفاة الصاحب بن عباد، لأنه - كما يقولون - كان قليل الوفاء للصاحب الذي قدمه وأعلى منزلته في دولة بنى بويه؛ فقد رفض القاضي عبد الجبار أن يصلى على صاحبه وقال: إنه لا يرى الترحم عليه، لأنه مات من غير التوبة حتى لا يكون حكمه الخلود في النار، فنقم عليه فخر الدولة لذلك وقبض عليه، وعزله من منصبه، وصادر أمواله.

وكان وقد سمع الحديث من أبى الحسن إبراهيم بن سلمة القطان
(খ) আবদুল জব্বার: এবং আবদুল কাহের

আবদুল জব্বার সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি হলেন আবুল হাসান আবদুল জব্বার ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল জব্বার ইবনে আহমাদ ইবনে খলিল ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হামাদানি আল-আসাদ আবাদি, তিনি সাহিব ইবনে আব্বাদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং রয় শহরের প্রধান কাজি নিযুক্ত হন। তিনি প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জন করেন এবং অর্থ ও স্থাবর সম্পত্তির মালিক হন।

 

তার কাজি নিযুক্ত হওয়ার কারণ ছিল: ইরাক, পারস্য এবং খোরাসানে বুয়াইহ বংশের অত্যন্ত প্রসিদ্ধ উজির সাহিব ইসমাইল ইবনে আব্বাদ—যিনি ৩৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন—তিনি মনে করতেন যে, তার শিয়া শাসিত রাষ্ট্রে সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কাউকে কাজি নিয়োগ করা উচিত নয় যে মুতাজিলা মতবাদের জন্য সুপরিচিত। আর আবদুল জব্বার সেই সময়ে মুতাজিলাদের ইমাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছিলেন। ফলে সাহিব তার সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাকে রয় শহরে ডেকে পাঠান। ৩৬৭ হিজরিতে তিনি তাকে রয়, কাজভিন এবং ফখরুদ দাওলার শাসনাধীন অন্যান্য অঞ্চলের প্রধান কাজি হিসেবে নিয়োগের ফরমান লিখে দেন। এরপর বিজয়ের পর অন্য এক ফরমানের মাধ্যমে তিনি এর সাথে জুরজান এবং তাবারস্তান প্রদেশ দুটিও যুক্ত করে দেন।

এবং বিজয়ের পর তাবারস্তানও এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

তবে সাহিব ইবনে আব্বাদের মৃত্যুর পরপরই তাকে কাজির পদ থেকে অপসারিত করা হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয় যে—তিনি সেই সাহিবের প্রতি অকৃতজ্ঞ ছিলেন যিনি তাকে পদোন্নতি দিয়েছিলেন এবং বুয়াইহ রাষ্ট্রে তার মর্যাদা উচ্চ করেছিলেন। কেননা কাজি আবদুল জব্বার তার পৃষ্ঠপোষকের জানাজা পড়তে অস্বীকার করেন এবং বলেন যে: তিনি তার জন্য রহমতের দোয়া করা বৈধ মনে করেন না, কারণ তিনি তওবা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করেছেন, পাছে তার বিধান জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া না হয়। ফখরুদ দাওলা এই কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে গ্রেপ্তার করে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেন ও তার সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন।

তিনি আবুল হাসান ইব্রাহিম ইবনে সালামা আল-কাত্তানের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
المتوفى سنة 345 هـ، وعبد الرحمن بن حمدان الجلاب المتوفى سنة 346 هـ، وعبد الرحمن بن جعفر فارس المتوفى سنة 346 هـ، والزبير بن عبد الواحد الأسد أبادى المتوفى سنة 347 هـ، وغيرهم، كما درس التفسير، وأصول الفقه، والحديث وغيرهما وانتهت إليه الرياسة للمعتزلة حتى صار شيخها وعالمها غير مدافع، وصار الاعتماد على كتبه التي نسخت كتب من تقدمه من المشايخ - على حد تعبير الحاكم.

ولم يتهاون القاضي عبد الجبار - وهو يؤلف أو يملى - على مذهب المعتزلة - في إقامة الدليل على بطلان مذهب خصومه من الأشاعرة وغيرهم، بل إنه فيما يتصل بالأشاعرة إمامهم أبى الحسن الأشعري رحمه الله كان يشتد في القسوة عليهم في كثير من الأحيان ولهذا فإنك تراه يقول في كتابه" شرح الأصول الخمسة - عند كلامه عن كيفية استحقاقه تعالى للصفات: " ثم نبغ الأشعري، وأطلق القول بأنه تعالى يستحق هذه الصفات لمعان قديمة، لوقاحته وقلة مبالاته بالإسلام، والمسلين، كما أنه شنع عليه كثيراً، وقال في اسمه: ابن أبى بشر المخذول (1)!

 

‌‌ومن تلاميذه: أبو رشيد النيسايورى، وأبو يوسف القزوبنى، والشريف المرتضى، وأبو الحسين البصري، محمد بن على بن الطيب، وأبو القاسم البستى، وغيرهم.

 

‌‌ومن آثاره:

1 - الأمالي في الحديث (المسمى نظم الفوائد وتقريب المراد للرائد)

2 - تثبيت دلائل نبوة سيدنا محمد.

3 - تنزيه القرآن عن المطاعن.
৩৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী, আব্দুর রহমান ইবনে হামদান আল-জাল্লাব (মৃত্যু ৩৪৬ হি.), আব্দুর রহমান ইবনে জাফর ফারিস (মৃত্যু ৩৪৬ হি.), জুবায়ের ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-আসাদ আবাদী (মৃত্যু ৩৪৭ হি.) এবং অন্যান্যদের নিকট তিনি জ্ঞানার্জন করেন। একইভাবে তিনি তাফসীর, উসূলুল ফিকহ, হাদীস ও অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং একপর্যায়ে মুতাজিলাদের নেতৃত্বের ভার তার ওপর ন্যস্ত হয়, এমনকি তিনি তাদের অবিসংবাদিত শাইখ ও আলিমে পরিণত হন। আল-হাকিমের বর্ণনা অনুযায়ী, তার কিতাবসমূহের ওপরই নির্ভরতা চলে আসে, যা তার পূর্ববর্তী শাইখদের কিতাবসমূহকে রহিত বা অপ্রচলিত করে দেয়।

কাযী আব্দুল জাব্বার মুতাজিলা মাযহাব অনুযায়ী গ্রন্থ রচনা বা শ্রুতিলিপি প্রদানের সময় আশআরি ও অন্যান্য বিরোধীদের মাযহাবের অসারতা প্রমাণে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করেননি। বরং আশআরিদের ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরি (রাহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাপারে তিনি প্রায়ই অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। এ কারণেই আপনি তাকে তার 'শারহুল উসূলিল খামসাহ' কিতাবে আল্লাহ তাআলার সিফাতসমূহের বা গুণাবলির উপযুক্ততা সম্পর্কে আলোচনার সময় বলতে দেখবেন: "অতঃপর আশআরির উদ্ভব ঘটে এবং সে তার ধৃষ্টতা ও ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি সামান্যতম ভ্রুক্ষেপ না থাকার কারণে এই মত ব্যক্ত করে যে, আল্লাহ তাআলা কতিপয় অনাদি বা প্রাচীন অর্থের কারণে এই সিফাতসমূহের অধিকারী।" এছাড়াও তিনি তার অনেক কুৎসা রটনা করেছেন এবং তার নাম সম্পর্কে বলেছেন: ইবনে আবি বিশর আল-মাখযুল (লাঞ্ছিত বা পরিত্যক্ত) (১)!

 

‌‌তার ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: আবু রশীদ আল-নিসাবুরী, আবু ইউসুফ আল-কাযওয়িনী, আশ-শরীফ আল-মুরতাজা, আবুল হুসাইন আল-বাসরী মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আত-তাইয়িব, আবুল কাসিম আল-বুস্তি এবং অন্যান্যরা।

 

‌‌তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:

১ - আল-আমালি ফিল হাদীস (যার নাম নাযমুল ফাওয়াইদ ওয়া তাকরীবুল মুরাদ লির-রায়েদ)

২ - তাসবীত দালাইল নুবুওয়াহ সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ।

৩ - তানযীহুল কুরআন আনিল মাতাঈন।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
4 - الخلاف بين الشيخين.

5 - رسالة في علم الكمياء.

6 - شرح الأصول الخمسة.

7 - فضل الاعتزال، وطبقات المعتزلة.

8 - متشابه القران.

9 - المحيط بالتكليف.

10 - المغنى في أبواب التوحيد والعدل.

 

ويلاحظ أن القاضي عبد الجبار، قد كانت له منزلة رفيعة في دولة بويه، لأنه كان قاضى القضاة بها، وأن كتبه في الاعتزال - قد نسخت كل الكتب السابقة لها، وأن المعتزلة كانت لهم في تلك الدولة منزلة لم تصل إليها منزلة الأشاعرة، بل إن الأشاعرة لم يكن لهم بها أي شأن.

كما أن عبد الجيار، لم يكن من بين مؤلفاته مؤلف واحد في النحو وإن كان قد برع في غيره من العلوم كالفقه والحديث والكلام، ومع هذا فإنه قد تناول التفسير. وتأويل القرآن، مما جعله غير موفق في تأويله للقرآن الكريم، فقد كان منهجه في التأويل معتمداً على العقل واللغة؛ ولم يتوخ في تأويله (معاني النحو) لتظهر له دقائق النظم، وخصائصه، ولطائفه.

وهذا ما حفز عبد القاهر على أن يتجرد للرد على المعتزلة في شخص عبد الجبار الأسد أبادى: ومبيناً أن هؤلاء القوم لو أنهم إذ تركوا هذا الشأن (أي علم النحو) تركوه جملة، وإذ زعموا أن قدر المفتقر إليه القليل منه اقتصروا على ذلك القليل فلم يأخذوا أنفسهم بالفتوى فيه، والتصرف فيما لم يتعلموا، ولم يخوضوا في التفسير، ولم يتعاطوا التأويل لكان البلاء واحداً. ولكنهم لم يفعلوا، فجلبوا من الداء ما أعى الطبيب وحير
৪ - দুই শাইখের মধ্যকার মতভেদ।

৫ - রসায়ন বিজ্ঞান বিষয়ক একটি পুস্তিকা।

৬ - শারহুল উসুলিল খামসাহ (পাঁচটি মূলনীতির ব্যাখ্যা)।

৭ - ফাদলুল ই’তিযাল ওয়া তাবাকাতুল মু’তাযিলা (ই’তিযালের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মু’তাযিলাদের স্তরসমূহ)।

৮ - মুতাশাবিহুল কুরআন (কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতসমূহ)।

৯ - আল-মুহিত বিত-তাকলিফ (শরয়ী দায়বদ্ধতা বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ)।

১০ - আল-মুগনি ফি আবওয়াবিত তাওহিদ ওয়াল আদল (তাওহিদ ও ইনসাফের অধ্যায়সমূহে পর্যাপ্ত আলোচনা)।

 

উল্লেখ্য যে, বুওয়াইহি রাষ্ট্রে কাজী আব্দুল জাব্বার উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, কারণ তিনি সেখানকার প্রধান বিচারপতি (কাজীউল কুদাত) ছিলেন। মু’তাযিলা মতবাদ বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ পূর্ববর্তী সকল গ্রন্থকে রহিত বা অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছিল। সেই রাষ্ট্রে মু’তাযিলাদের এমন এক অবস্থান ছিল যেখানে আশআরিরা পৌঁছাতে পারেনি; বরং সেখানে আশআরিদের কোনো গুরুত্বই ছিল না।

তেমনিভাবে, আব্দুল জাব্বারের রচনাবলির মধ্যে ব্যাকরণ (নাহু) বিষয়ে একটি গ্রন্থও ছিল না, যদিও তিনি ফিকহ, হাদিস ও ইলমুল কালামের মতো অন্যান্য বিজ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। এতদসত্ত্বেও তিনি তাফসীর ও কুরআনের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা তাঁকে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সফল হতে দেয়নি। কারণ তাঁর ব্যাখ্যার পদ্ধতি ছিল কেবল যুক্তি ও আভিধানিক ভাষার ওপর নির্ভরশীল। তিনি তাঁর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে 'ব্যাকরণিক অর্থের' (মা’আনিন নাহু) অনুসন্ধান করেননি যাতে বাক্য বিন্যাসের সূক্ষ্মতা, বৈশিষ্ট্য ও অলংকারসমূহ তাঁর কাছে প্রতিভাত হয়।

আর এটিই আব্দুল কাহিরকে আব্দুল জাব্বার আল-আসাদাবাদীর মাধ্যমে মু’তাযিলাদের খণ্ডন করার জন্য একনিষ্ঠভাবে নিয়োজিত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, এই সম্প্রদায় যদি এই বিষয়টি (অর্থাৎ ব্যাকরণ শাস্ত্র) বর্জন করত তবে তা পুরোপুরিই বর্জন করত, আর যখন তারা দাবি করল যে এর যতটুকু প্রয়োজন তা খুবই সামান্য—যদি তারা সেই সামান্যটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত এবং এ বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার ভার নিজেদের ওপর না নিত, আর যা তারা শেখেনি সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করত, তাফসীরে লিপ্ত না হতো এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে প্রবৃত্ত না হতো, তবে আপদ একরকম হতো। কিন্তু তারা তা করেনি; বরং তারা এমন ব্যাধি নিয়ে এসেছে যা চিকিৎসককে ক্লান্ত ও বিভ্রান্ত করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২০)
اللبيب.، وأن قولهم بأن المزية في الفصاحة للفظ لا للمعنى أساس البلاء، لأنه صدر عن قوم لهم نباهة وصيت، وعلو منزلة في أنواع من العلوم غير العلم الذي قالوا ذلك القول فيه، ثم وقع في الألسن، فتداولته ونشرته وفشا وظهر، وكثر الناقلون له، والمشيدون بذكره، فصار ترك النظر فيه سنة والتقليد ديناً.

 

‌‌وأما عبد القاهر: فيذكر المؤرخون أنه: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الجرجاني، وأنه من أصل فارسي، ولا يزيدون على سلسلة نسبه جدا آخر جده محمد (1).

ولكنك تقرأ في " تتمة اليتيمة" للثعالبي المتوفى سنة 429 هـ، أنه أبو بكر عبد القاهر بن محمد بن الحسن، مسقطاً ذكر أبيه عبد الرحمن ومضيفاً له جداً آخر وهو: الحسن (2).

وعلى هذا فهو: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد بن الحسن الفارسي الأصل الجرجاني المولد.

وقد وضعنا الثعالبي بصنيعه هذا، أمام هذا التساؤل: هل عبد القاهر بن محمد بن الحسن الذي ذكره الثعالبي هو نفسه إمام البلاغة عبد القاهر الجرجاني؟ وإذا كان هو نفسه فلماذا أسقط ذكر أبيه" عبد الرحمن" من نسبه؟

أما أن عبد القاهر الذي ذكره الثعالبي هو إمام البلاغة عبد القاهر الجرجاني فيؤيده أمران:

أولهما: أن الشعر الذي أورده الثعالبي لعبد القاهر، تبدو عليه مسحة أسلوب عبد القاهر، الذي نقرأه في الأسرار، والدلائل، فقد أورد الثعالبي له قوله في ابن حسنيل:
বুদ্ধিমান ব্যক্তি। আর তাদের এই কথা যে, অলঙ্কারশাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব শব্দের জন্য, অর্থের জন্য নয়—তা হলো সকল বিপত্তির মূল। কারণ এটি এমন এক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ পেয়েছে যাদের খ্যাতি ও সুখ্যাতি ছিল এবং যারা অলঙ্কারশাস্ত্র ব্যতীত অন্যান্য বিভিন্ন বিদ্যায় উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। অতঃপর তা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ তা গ্রহণ করে ও প্রচার করে এবং তা ব্যাপকতা লাভ করে ও প্রকাশ পায়। এর বর্ণনাকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রশংসাকারীরাও অনেক হয়ে যায়। ফলে এতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করা ছেড়ে দেওয়া একটি রীতিতে এবং অন্ধ অনুসরণ একটি দ্বীনে পরিণত হয়।

 

‌‌আর আব্দুল কাহির প্রসঙ্গে: ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেন যে, তিনি হলেন: আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানী এবং তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত। তারা তাঁর দাদা মুহাম্মদের পর বংশলতিকায় আর কোনো নাম যোগ করেন না (১)।

কিন্তু আপনি ৪২৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আস-সাআলিবীর "তাতিন্মাতুল ইয়াতিমাহ" গ্রন্থে পড়বেন যে, তিনি হলেন আবু বকর আব্দুল কাহির বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান। সেখানে তিনি তাঁর পিতা আব্দুর রহমানের নাম বাদ দিয়েছেন এবং তাঁর সাথে আল-হাসান নামক আরেকজন দাদাকে যুক্ত করেছেন (২)।

আর সেই অনুযায়ী তিনি হলেন: আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান, বংশসূত্রে পারসিক এবং জন্মসূত্রে জুরজানী।

আস-সাআলিবী তাঁর এই কাজের মাধ্যমে আমাদের এই প্রশ্নের সম্মুখীন করেছেন: আস-সাআলিবী যে আব্দুল কাহির বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসানের কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি কি অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানীই? আর যদি তিনি সেই ব্যক্তিই হন, তবে কেন তিনি তাঁর বংশলতিকা থেকে তাঁর পিতা "আব্দুর রহমান"-এর নাম বাদ দিলেন?

আস-সাআলিবী কর্তৃক উল্লিখিত আব্দুল কাহির যে অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানী, তার সপক্ষে দুটি বিষয় সমর্থন জোগায়:

প্রথমত: আস-সাআলিবী আব্দুল কাহিরের যে কবিতাগুলো উদ্ধৃত করেছেন, তাতে আব্দুল কাহিরের শৈলীর ছাপ স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়, যা আমরা ‘আসরার’ এবং ‘দালায়িল’ গ্রন্থে দেখতে পাই। আস-সাআলিবী ইবনে হাসনীল সম্পর্কে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন:
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২১)
أجاب ردى" وطبع الشعر" لم تجب … إذ كان ما قلته في غاية العجب

يشتم منه نسيم المسك قارئه … ويتحلى كوكب العلياء والحسب

أبدى الأنام من الأشعار رغوتها … وأنت أخرجت منها زبدة الحقب

وقد وردت عبارة " طبع الشعر" التي في أول الأبيات في أسرار البلاغة ثلاث مرات (1).

والآخر: هو أن الثعالبي لم يأت بترجمة أخرى لعبد القاهر في تتمة اليتيمة مع أنها قد صنفت في سنة 428 هـ وكان "الأسرار" قد صنف في سنة 422 - كما سيأتي - وكان عبد القاهر قد اشتهر في جرجان، فكان - كما يقول الباخرزي -قد اتفقت على إمامته الألسنه، وتجملت بمكانه وزمانه الأمكنة والأزمنة وأثنى عليه طيب العناصر، وثنيت به عقود الخناصر، فهو فرد في علمه الغزير، لا بل هو العلم في الأئمة المشاهير" (2).

 

‌‌وأما لماذا أسقط الثعالبي ذكر أبيه (عبد الرحمن) فإننا نرجع أن يكون ذلك لأمور هي كما يلي:

أولاً: أنه ربما يكون عدم ذكر أبيه قد أسقط سهوا من الناسخ.

 

ثانياً: أن الثعالبي كان من الكتاب المشغوفين بالصنعة اللفظية والاستكثار من ألوان البديع، في زمان عبد القاهر، وقد شنع عبد القاهر - في مقدمة الأسرار - على الكتاب من أهل زمانه الذين يشغفون بالصناعة اللفظية، إذ يقول: " وقد تجد - في كلام المتأخرين الآن - كلاماً حمل
আমার উত্তর এবং "কাব্যের স্বভাব" সাড়া দিয়েছে, আপনি দেননি … কেননা আপনি যা বলেছেন তা ছিল চূড়ান্ত বিস্ময়কর।

এর পাঠক এখান থেকে কস্তুরীর সুবাস পায় … এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্যের নক্ষত্র এর দ্বারা সুশোভিত হয়।

সৃষ্টিজগত কবিতার ফেনা প্রকাশ করেছে … আর আপনি তা থেকে যুগের নির্যাস বের করে এনেছেন।

কবিতার শুরুতে উল্লেখিত "কাব্যের স্বভাব" (তাবউশ শিকর) শব্দগুচ্ছটি 'আসরারুল বালাগাহ' গ্রন্থে তিনবার এসেছে (১)।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: আছ-ছা'আলিবি 'তাতিম্মাতুল ইয়াতিমাহ' গ্রন্থে আবদুল কাহিরের অন্য কোনো জীবনী উল্লেখ করেননি, যদিও এটি ৪২৮ হিজরিতে সংকলিত হয়েছিল এবং 'আল-আসরার' ৪২২ হিজরিতে সংকলিত হয়েছিল—যেমনটি সামনে আসবে—এবং আবদুল কাহির জুরজানে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। সুতরাং তিনি ছিলেন—যেমনটি আল-বাখারজি বলেছেন—"এমন এক ব্যক্তিত্ব যার নেতৃত্বের ব্যাপারে সকল জিহ্বা একমত হয়েছিল, এবং তার স্থান ও কালের মাধ্যমে সকল স্থান ও কাল সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছিল; পবিত্র বংশের মানুষেরা তাঁর প্রশংসা করেছে এবং তর্জনীসমূহ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশে জোড়া লেগেছে। তিনি তাঁর অগাধ জ্ঞানে অনন্য ছিলেন, বরং তিনি প্রখ্যাত ইমামদের মাঝে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন" (২)।

 

‌‌আর কেন আছ-ছা'আলিবি তাঁর পিতার (আবদুর রহমান) নাম উল্লেখ করা ছেড়ে দিয়েছেন, সে বিষয়ে আমরা নিম্নোক্ত কারণগুলোর সম্ভাবনা ব্যক্ত করছি:

প্রথমত: হতে পারে তাঁর পিতার নাম উল্লেখ না করাটা অনুলিপিকারীর অসতর্কতাবশত বাদ পড়ে গিয়েছে।

 

দ্বিতীয়ত: আছ-ছা'আলিবি ছিলেন আবদুল কাহিরের সময়ে শাব্দিক কারুকার্য ও বিভিন্ন প্রকার অলংকারের আধিক্যের প্রতি অতিশয় অনুরাগী লেখকদের অন্তর্ভুক্ত। অথচ আবদুল কাহির—আসরার-এর ভূমিকায়—তাঁর সমসাময়িক সেই লেখকদের নিন্দা করেছেন যারা শাব্দিক কারুকার্যের প্রতি অতিশয় অনুরাগী ছিলেন। তিনি বলেন: "এবং আপনি বর্তমানের পরবর্তী যুগের লেখকদের কথায় এমন বাক্য পাবেন যা বহন করেছে..."
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২২)
صاحبه فرط شغفه بأمور ترجع إلى ماله اسم في البديع إلى أن ينسى أنه يتكلم ليفهم، ويقول ليبين، ويخيل إليه أنه إذا جمع بين أقسام البديع في بيت فلا ضير أن يقع ما عناه في عمياه، وأن يوقع السامع من طلبه في خبط عشواه (1).

ثانيا أنه لم يكن في استطاعته مجاراة النقاد من البلاغيين في صناعة النقد؛ فلم يذكرهم في كتابه هذا بأي تقدير؛ ولهذا فإنه لم يذكر لعبد القاهر سوى الأبيات الثلاثة السابقة دون تعريف بمكانة صاحبها؛ كما أنه صنع نفس الصنيع مع أبى هلال العسكري؛ إذ يقول عنه: " ابن هلال العسكري (2) "، ولم يورد غير بيتين من الشعر.

ويرجع أن عبد القاهر قد ولد في أوائل القرن الخامس الهجري، وقد نشأ ولوعا بالعلم، محبا للآداب، متأثرا بأستاذين هما: أبو الحسين محمد بن الحسن بن عبد الوارث الفارسي النحوي نزيل جرجان المتوفي سنة 421 هـ وأبو الحسن على بن عبد العزيز الجرجاني المتوفي سنة 392 هـ.

فعلى الرغم من أن عبد القاهر لم يخرج من جرجان في طلب العلم، فإن الله تعالى أرسل إليه أبا الحسين هذا، الذي كان قد أخذ العلم عن خاله أبى على الفارسي صاحب كتاب (الإيضاح) في النحو، ولعل أبا الحسين قرأ كتاب خاله لتلميذه، فقد رأينا عبد القاهر يعنى بهذا الكتاب عناية بالغة فيضع عليه شرحا كبيرا يبلغ ثلاثين مجلدا، ويسميه: " المغنى" ثم يختصر هذا الشرح في نحو ثلاثة مجلدات، ويسمى هذا الشرح الصغير " بالمقتصد".

وأما أبو الحسن على بن عبد العزيز الجرجاني، فقد كان أديبا ممتازاً، واشتهر بكتابه" الوساطة بين المتنبي وخصومه" وقد قال ياقوت عنه:
আল-বাদি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত এমন সব বিষয়ের প্রতি তাঁর অত্যধিক আসক্তি ছিল যা তাঁকে এটিও ভুলিয়ে দিয়েছিল যে, তিনি আসলে বোঝার জন্য কথা বলছেন এবং বিষয় স্পষ্ট করার জন্য বলছেন। তিনি কল্পনা করতেন যে, যদি তিনি একটি কাব্যের চরণে বারি’ অলঙ্কারের বিভিন্ন প্রকার একত্রিত করতে পারেন, তবে তাঁর উদ্দেশ্য অস্পষ্ট থেকে যাওয়াতে কোনো ক্ষতি নেই, আর এতে শ্রোতা তাঁর উদ্দেশ্য খুঁজতে গিয়ে বিভ্রান্তির অতলে হারিয়ে গেলেও তাঁর কিছু যায় আসে না (১)।

দ্বিতীয়ত, সমালোচনা শিল্পের ক্ষেত্রে বালাগাতবিদ সমালোচকদের সাথে পাল্লা দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর ছিল না; তাই তিনি তাঁর এই গ্রন্থে তাঁদেরকে কোনো প্রকার মূল্যায়নের সাথে উল্লেখ করেননি। এই কারণেই তিনি আব্দুল কাহিরের পূর্বোক্ত তিনটি পঙক্তি ছাড়া আর কিছুই উল্লেখ করেননি এবং লেখকের মর্যাদার কোনো পরিচয়ও দেননি; একইভাবে তিনি আবু হিলাল আল-আসকারীর সাথেও একই আচরণ করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "ইবন হিলাল আল-আসকারী (২)", এবং সেখানে কবিতার মাত্র দুটি পঙক্তি উদ্ধৃত করেছেন।

ধারণা করা হয় যে, আব্দুল কাহির পঞ্চম হিজরি শতকের শুরুর দিকে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগী এবং সাহিত্যের প্রতি আসক্ত হয়ে বেড়ে ওঠেন। তিনি দুজন উস্তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন: জুরজানের অধিবাসী ব্যাকরণবিদ আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল ওয়ারিস আল-ফারিসি (মৃত্যু ৪২১ হিজরি) এবং আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-জুরজানি (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি)।

যদিও আব্দুল কাহির জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে জুরজানের বাইরে কোথাও যাননি, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে এই আবুল হুসাইনকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, যিনি তাঁর মামা আবু আলী আল-ফারিসি—যিনি ব্যাকরণ শাস্ত্রের 'আল-ঈজাহ' কিতাবের রচয়িতা—তাঁর কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। সম্ভবত আবুল হুসাইন তাঁর মামার কিতাবটি তাঁর ছাত্রকে পড়িয়েছিলেন। আমরা দেখতে পাই যে, আব্দুল কাহির এই কিতাবটির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর ওপর ত্রিশ খণ্ডের একটি বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'আল-মুগনি', এরপর তিনি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে প্রায় তিন খণ্ডে সংক্ষেপ করেছেন এবং এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নাম রেখেছেন 'আল-মুকতাসিদ'।

আর আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-জুরজানি ছিলেন একজন অনন্য সাহিত্যিক, এবং তিনি তাঁর 'আল-ওয়াসাতাহ বাইনাল মুতানাব্বি ওয়া খুসুমুহি' কিতাবের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। ইয়াকুত তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
"وكان الشيخ عبد القاهر الجرجاني قد قرأ عليه، واغترف من بحره، وكان إذا ذكره في كتبه تبخبخ به وشمخ بأنفه بالانتماء إليه" ولكن يبدو أن أخذ عبد القاهر عن القاضي كان أخذا عن كتبه، لا عن شخصه (1)، وذلك لأن الفارق الزمني بين القاضي الجرجاني المتوفى سنة 392 هـ وولادة عبد القاهر التي يرجع أنها كانت في أوائل القرن الخامس الهجري لا يسمح لعبد القاهر بالأخذ عن القاضي الجرجاني مشافهة، أضف إلى هذا أن عبد القاهر، إذا تحدث عن القاضي الجرجاني ذكره بصفته، او بكنيته، أو بهما معا، كأن يقول" وعليه يدل كلام القاضي في الوساطة" أو يقول: " قال الشيخ أبو الحسن" أو يقول: " قال القاضي أبو الحسن - رحمة الله -" ولكنه إذا تحدث عن أستاذه أبى الحسين بن عبد الوارث النحوي قال: " قال شيخنا رحمه الله" فعبارة: " قال شيخنا" تدل على أنه قد قرأ عليه، وقد كرر التعيين بقوله" شيخنا" في الأسرار والدلائل كليمهما، ولو كان له شيخ سوى ابن عبد الوارث لحدد المقصود منه. على أن عبد القاهر نفسه قد علق على قوله - في الدلائل -: " قال شيخنا -رحمة الله -" بقوله: " يعني الشيخ أبا الحسن الفارسي ابن أخت الشيخ أبى على الفارسي (2).

وإلى جانب هذين الأستاذين تتلمذ عبد القاهر على الكتب يقرؤها بفكر واع، وعقل مستنير، إذ نراه ينقل عن سيبويه، والجاحظ، والسيرافي، وأبى على الفارسي، وابن قتيبة، وقدامة، والآمدى، والقاضي الجرجاني، وأبى هلال العسكري، وأبى أحمد العسكري، وابن سنان الخفاجي، وعبد الرحمن بن عيسى الهمذاني، والمرزباني، والزجاج، وأبى الحسين إسحق بن إبراهيم بن سليمان بن وهب، وعبد الجبار الأسد أبادى.
"শেখ আবদুল কাহির আল-জুরজানি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর জ্ঞানের সমুদ্র থেকে আকণ্ঠ পান করেছিলেন। তিনি যখনই তাঁর কিতাবসমূহে তাঁর কথা উল্লেখ করতেন, তখন তাঁর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গৌরব প্রকাশ করতেন এবং তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়াকে নিজের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের কারণ মনে করতেন।" কিন্তু প্রতীয়মান হয় যে, কাজীর নিকট থেকে আবদুল কাহিরের শিক্ষালাভ ছিল মূলত তাঁর কিতাবসমূহ পাঠের মাধ্যমে, সরাসরি তাঁর সান্নিধ্যে নয় (১)। কেননা ৩৯২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী কাজী আল-জুরজানি এবং আবদুল কাহিরের জন্ম—যা পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে বলে ধারণা করা হয়—এর মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান আবদুল কাহিরকে সরাসরি কাজী আল-জুরজানির নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ দেয় না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে যে, আবদুল কাহির যখনই কাজী আল-জুরজানি সম্পর্কে আলোচনা করেন, তখন তিনি তাঁকে তাঁর গুণবাচক নাম অথবা তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) অথবা উভয়টি দ্বারাই উল্লেখ করেন। যেমন তিনি বলেন: "ওয়াসাতাহ গ্রন্থে কাজীর বক্তব্য একথাই নির্দেশ করে" অথবা তিনি বলেন: "শেখ আবুল হাসান বলেছেন" অথবা বলেন: "কাজী আবুল হাসান (রহমাতুল্লাহ) বলেছেন"। কিন্তু তিনি যখন তাঁর উস্তাদ আবুল হুসাইন বিন আবদুল ওয়ারিস আন-নাহভির কথা বলেন, তখন তিনি বলেন: "আমাদের শেখ (রহমাতুল্লাহ) বলেছেন"। সুতরাং "আমাদের শেখ বলেছেন" এই পরিভাষাটি প্রমাণ করে যে তিনি সরাসরি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি 'আসরার' এবং 'দালাইল' উভয় গ্রন্থেই "আমাদের শেখ" বলে এই সম্বোধন বারবার ব্যবহার করেছেন। যদি ইবনে আবদুল ওয়ারিস ব্যতীত তাঁর অন্য কোনো উস্তাদ থাকত, তবে তিনি অবশ্যই তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতেন। অধিকন্তু, আবদুল কাহির নিজেই 'দালাইল' গ্রন্থে তাঁর "আমাদের শেখ (রহমাতুল্লাহ) বলেছেন" উক্তির ওপর টীকা দিয়ে বলেছেন: "অর্থাৎ শেখ আবুল হাসান আল-ফারিসি, যিনি শেখ আবু আলী আল-ফারিসির ভাগ্নে (২)।"

এই দুই উস্তাদের পাশাপাশি আবদুল কাহির বিভিন্ন কিতাব পাঠের মাধ্যমেও জ্ঞান অর্জন করেছেন, যা তিনি অত্যন্ত সচেতন ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার সাথে অধ্যয়ন করতেন। কেননা আমরা তাঁকে সিবওয়াইহ, জাহিজ, সিরাফি, আবু আলী আল-ফারিসি, ইবনে কুতাইবাহ, কুদামাহ, আমিদি, কাজী আল-জুরজানি, আবু হিলাল আল-আসকারি, আবু আহমদ আল-আসকারি, ইবনে সিনান আল-খাফাজি, আবদুর রহমান বিন ঈসা আল-হামদানি, মারজুবানি, জাজ্জাজ, আবু আল-হুসাইন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন সুলাইমান বিন ওয়াহাব এবং আবদুল জাব্বার আল-আসাদ আবাদি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করতে দেখি।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد كان شافعي المذهب متكلما على طريقة الأشعري، بيد أن المادة التي غلبت عليه هي: النحو، فقد كان يلقب بالنحوي.

وتصدر بجرجان، وذاع صيته في الافاق، وشدت إليه الرحال، وقصده التلاميذ من جميع الجهات، وظل مقيماً بجرجان، يفيد الراحلين إليه، والوافدين عليه إلى أن توفى بها سنة 471 هـ.

ومع علمه الغزير، ونتاجه الوفير، فإنه لم يكن سعيداً في حياته، فقد كان فقيراً عليه في الرزق، يعيش على هبات بعض الأثرياء الذين ألف لهم كتبه (1)، كما أنه كان أشعرياً، وكان الأشاعرة يلعنون من فوق المنابر فقد كانت الأشعرية في زمانه تهمة يهمل صاحبها وينبذ من أجلها، حتى إن ياقوتا قال عن بديع الزمان الهمذاني إنه كان متهماً بمذهب الأشعرية (2) " وقد حسن الوزير عميد الملك السكندري، وزير السلاجفة للسلطان طغرل بك أن يلعن الأشاعرة من فوق المنابر فلعنوا حتى جاء نظام الملك أبو على الحسن بن على وزير السلاجفة، فأزال لعنهم في سنة 458 هـ وظهر ذلك على نفسية عبد القاهر في مقدمة " دلائل الاعجاز" (3).

 

‌‌ومن آثار عبد القاهر.

1 - أسرار البلاغة: ويبدو فيه الارتباط الوثيق بينه وبين " الوساطة" للقاضي الجرجاني، لأنه بين فيه المعايير النقدية التي على أساسها يتفاضل الشعراء، وقد صنفه فيما نعتقد سنة 422 هـ.

2 - " المختار من دواوين" المتنبي، والبحتري، وأبى تمام" وقد جمع تلك المختارات على ما يبدو - وهو يؤلف أسرار البلاغة؛ لأن أكثر
তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী এবং আশআরী পদ্ধতিতে ইলমুল কালামে পারদর্শী ছিলেন, তবে যে বিষয়টি তাঁর ওপর প্রবল ছিল তা হলো ব্যাকরণ (নাহু); তাই তাঁকে ‘নাহবী’ (ব্যাকরণবিদ) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।

তিনি জুরজানে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং দিগন্তজুড়ে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর কাছে জ্ঞান অন্বেষণে কাফেলা ছুটে আসত এবং সব দিক থেকে ছাত্ররা তাঁর নিকট আসতে থাকে। তিনি জুরজানে অবস্থান করে তাঁর কাছে আগত ও সমবেতদের জ্ঞানদান করতে থাকেন, অবশেষে ৪৭১ হিজরি সনে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর অগাধ জ্ঞান এবং প্রচুর রচনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর জীবনে সুখী ছিলেন না। তাঁর রিযিকের ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা ও অভাব ছিল; তিনি সেইসব বিত্তশালীদের উপঢৌকনের ওপর জীবন নির্বাহ করতেন যাদের জন্য তিনি তাঁর বইসমূহ রচনা করেছিলেন (১)। তদুপরি তিনি আশআরী মতাবলম্বী ছিলেন, আর সেই সময়ে মিম্বারগুলো থেকে আশআরীদের অভিশাপ দেওয়া হতো। তাঁর যুগে আশআরী মতবাদ একটি অপবাদের মতো ছিল, যার কারণে এর অনুসারীকে অবহেলা করা হতো এবং সমাজচ্যুত করা হতো। এমনকি ইয়াকুত (আল-হামাভী) বাদিউজ্জামান আল-হামাদানি সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি আশআরী মতবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন (২)। সেলজুক সুলতান তুঘরিল বেকের উজির আমিদুল মুলক আস-সাকান্দারি সুলতানকে আশআরীদের মিম্বার থেকে অভিশাপ দেওয়ার পরামর্শ দিলে তারা অভিশপ্ত হতে থাকেন, যতক্ষণ না সেলজুক উজির নিযামুল মুলক আবু আলী আল-হাসান ইবনে আলী আসেন এবং ৪৫৮ হিজরিতে এই অভিশাপ প্রথা রহিত করেন। এর প্রভাব আবদুল কাহিরের মানসিকতার ওপর তাঁর ‘দালাইলুল ইজায’-এর ভূমিকায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে (৩)।

 

‌‌আবদুল কাহিরের কিছু কর্ম ও অবদান.

১ - আসরারুল বালাগাহ: এতে কাজী জুরজানির ‘আল-ওয়াসাতাহ’-এর সাথে নিবিড় যোগসূত্র লক্ষ্য করা যায়, কারণ তিনি এতে এমন কিছু সমালোচনামূলক মানদণ্ড স্পষ্ট করেছেন যার ভিত্তিতে কবিদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপিত হয়। আমাদের ধারণা অনুযায়ী তিনি এটি ৪২২ হিজরি সনে রচনা করেছেন।

২ - মুতানাব্বি, বুহতুুরি এবং আবু তাম্মামের কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত ‘আল-মুখতার’। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ‘আসরারুল বালাগাহ’ রচনার সময় এই সংকলনগুলো সম্পন্ন করেছিলেন; কারণ অধিকাংশ...
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
ما استشهد به من شعر في الأسرار - كان من أشعار هؤلاء الشعراء الثلاثة؛ إذ كان كلما عثر على أبيات تعجبه دونها؛ حتى تجمع له قدر لا بأس به من الأشعار التي دونها في كتابه هذا.

3 - شرح مبسوط لكتاب " الإيضاح" في النحو لأبى على الفارسي في ثلاثين مجلداً أسماه " المغنى" ويبدو أنه ألفه في ثلاثين عاما؛ بدأت سنة 423 هـ وانتهت في سنه 453 هـ.

4 - ملخص لهذا الشرح أسماه " المقتصد" في ثلاثة أجزاء؛ وقد أتمه عبد القاهر في شهر رمضان سنة 454 هـ وكتبه بخطه؛ وقرأه عليه من أوله إلى آخره قراءة ضبط وتحصيل: أحمد بن محمد الشجري.

5 - كتاب " التكملة" في النحو؛ وربما كان يضيف به مسائل لم ترد في الإيضاح.

6 - كتاب أسماه " الإيجاز" اختصر به الإيضاح.

7 - " العوامل المائة" في النحو.

8 - كتاب" الجمل" وهو شرح للعوامل المائة.

9 - " التلخيص" وهو شرح لكتاب الجمل.

10 - " العمدة" في التصريف.

11 - كتاب في العروض.

12 - كتاب " شرح الفاتحة" في مجلد.

13، 14 - شرحان على إعجاز القرآن؛ لأبى عبد الله محمد بن زيد الواسطي المتوفى في سنة ست وثلاثمائة.
'আসরার' গ্রন্থে তিনি যে সমস্ত কবিতা দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, তা ছিল এই তিন কবির কবিতা থেকে; কেননা যখনই তিনি তাঁর পছন্দমতো কোনো পংক্তি পেতেন, তা লিখে রাখতেন; শেষ পর্যন্ত তাঁর এই গ্রন্থে যথেষ্ট পরিমাণ কবিতা সংগৃহীত হয়েছে যা তিনি এতে লিপিবদ্ধ করেছেন।

৩ - আবু আলী আল-ফারিসির নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থ "আল-ঈযাহ"-এর একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা ত্রিশ খণ্ডে সমাপ্ত এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন "আল-মুগনী"। প্রতীয়মান হয় যে, এটি রচনা করতে তাঁর ত্রিশ বছর সময় লেগেছিল; যা ৪২৩ হিজরিতে শুরু হয়ে ৪৫৩ হিজরিতে শেষ হয়েছে।

৪ - এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্তসার, যার নাম দিয়েছেন "আল-মুকতাসিদ", এটি তিন খণ্ডে বিভক্ত; আব্দুল কাহের ৪৫৪ হিজরির রমজান মাসে এটি সম্পন্ন করেন এবং নিজ হাতে তা লিপিবদ্ধ করেন; আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-শাজারী শুদ্ধিকরণ ও জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটি তাঁর নিকট পাঠ করেছেন।

৫ - নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থ "আত-তাকমিলা"; সম্ভবত এতে তিনি এমন কিছু মাসআলা যোগ করেছেন যা "আল-ঈযাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়নি।

৬ - "আল-ঈজায" নামক একটি গ্রন্থ, যার মাধ্যমে তিনি "আল-ঈযাহ" গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন।

৭ - নাহু শাস্ত্রের "আল-আওয়ামিলুল মিআহ"।

৮ - "আল-জুমাল" নামক গ্রন্থ, যা "আল-আওয়ামিলুল মিআহ"-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৯ - "আত-তালখীস", যা "আল-জুমাল" গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

১০ - ইলমে সরফ বা রূপতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ "আল-উমদাহ"।

১১ - ইলমে আরুয বা ছন্দতত্ত্ব বিষয়ক একটি গ্রন্থ।

১২ - এক খণ্ডে সমাপ্ত "শারহুল ফাতিহা" গ্রন্থ।

১৩, ১৪ - ৩০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন যাইদ আল-ওয়াসিতির "ইজাযুল কুরআন"-এর উপর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
15 - "الرسالة الشافية" في الإعجاز؛ وفيها يحاول أن يثبت أن القرآن الكريم معجز؛ دون أن يتعرض لأدلة الإعجاز.

16 - "دلائل الإعجاز" وهو موضوع حديثنا في هذا الكتاب؛ وقد ألفه بعد سنة 454 هـ.

17 - مسائل منثورة أثبتها في مجلد؛ وهو" كالتذكرة" له لم يستوف القول حق الاستيفاء في تلك المسائل التي سطرها - كما يقول الوزير القفطي في "إنباه الرواة" فقد تحدث عن "إعجاز القرآن" الذي يرجع أنه هو "دلائل الإعجاز" و " التذكرة" قائلاً: " ومع هذا كله فإن كلامه وغوصه جواهر هذا النوع يدل على تبحره وكثرة اطلاعه" (1).

وقد رجعنا في بحث آخر أن تكون الفصول الأخيرة من الدلائل بتحقيق السيد محمد رشيد رضا، قد زادها عبد القاهر في فترات لاحقة في أواخر حياته، وكذلك أثبت الأستاذ الجليل محمود محمد شاكر، أن تلك الفصول لم تجئ مع الكتاب في نسخة أخرى، مما يدل على أنها زيدت بعد الانتهاء من الدلائل وكان عبد القاهر عازماً على أن يرتبها في الكتاب مرة أخرى، ولكن الأجل لم يمهله (2).
১৫ - মুজিজা (অলৌকিকত্ব) বিষয়ক "আর-রিসালাতুশ শাফিয়া"; এতে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে পবিত্র কুরআন একটি মুজিজা; তবে এতে তিনি মুজিজার প্রমাণাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেননি।

১৬ - "দালাইলুল ইজায" যা এই গ্রন্থে আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু; তিনি এটি ৪৫৪ হিজরির পরে রচনা করেছেন।

১৭ - বিক্ষিপ্ত কিছু মাসআলা যা তিনি এক খণ্ডে লিপিবদ্ধ করেছেন; এটি তার জন্য একটি "স্মারক" (তাজকিরাহ) স্বরূপ যাতে তিনি তার লিখিত বিষয়গুলোতে আলোচনার পূর্ণ হক আদায় করেননি - যেমনটি উজির আল-কিফতি "ইনবাহুর রুওয়াত" গ্রন্থে বলেছেন। সেখানে তিনি "ইজাযুল কুরআন" সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যার দ্বারা সম্ভবত "দালাইলুল ইজায" এবং "আত-তাযকিরাহ" গ্রন্থদ্বয়কে বুঝানো হয়েছে। তিনি বলেন: "এতদসত্ত্বেও তার বক্তব্য এবং এই বিষয়ের মণিমুক্তা আহরণে তার গভীরতা তার অগাধ পাণ্ডিত্য ও ব্যাপক অধ্যয়নের প্রমাণ দেয়" (১)।

আমরা অন্য একটি গবেষণায় উল্লেখ করেছি যে, সায়্যিদ মুহাম্মদ রশিদ রিদা সম্পাদিত 'দালাইল' এর শেষ অধ্যায়গুলো আব্দুল কাহের তার জীবনের শেষ দিকে পরবর্তী সময়ে সংযোজন করেছিলেন। একইভাবে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির প্রমাণ করেছেন যে, সেই অধ্যায়গুলো অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে বইটির সাথে পাওয়া যায়নি, যা নির্দেশ করে যে 'দালাইল' এর কাজ সমাপ্ত করার পর সেগুলো যোগ করা হয়েছিল এবং আব্দুল কাহেরের ইচ্ছা ছিল সেগুলো বইটিতে পুনরায় বিন্যস্ত করার, কিন্তু মৃত্যু তাকে সেই অবকাশ দেয়নি (২)।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌(جـ) دلائل الإعجاز

قبل عبد القاهر الجرجاني

الدلائل: جمع دلالة؛ وهو ما يستدل به على الشيء؛ والإعجاز: الفوت والسبق؛ وأعجز الشيء فلاناً: فاته؛ ولم يدركه.

"دلائل الإعجاز"؛ هي أدلة إعجاز القرآن الكريم؛ أي إعجازه للخلق جميعاً؛ فقد تحدى العرب قاطبة - وفيهم الخطباء المصاقع، والشعراء المفلقون - أن يأتوا بسورة من مثله؛ فعجزوا عنه؛ وانقطعوا دونه.

وقد جعلها عبد القاهر عنوناً لكتابه الذي رد به على المعتزلة، واستقاها من فهمه لمناظرة أبى سعيد السيرافي وجرت على لسانه، وهو يرد عليهم في هذا الكتاب؛ إذ قال لهم: " ومن ثم لا يجوز لنا، أن نعتد في شأننا هذا بأن يكون المتكلم قد استعمل من اللغتين في الشيء ما يقال إنه أفصحهما، وبإن يكون قد تحفظ مما تخطى فيه العامة، ولا بأن يكون قد استعمل الغريب؛ لأن العلم بجميع ذلك، لا يعدو أن يكون علما باللغة وبأنفس الكلم المفردة، ومما طريقه الحفظ؛ دون ما يستعان عليه بالنظر، ويوصل إليه بإعمال الفكر. ولئن كانت العامة وأشباه العامة، لا يكادون يعرفون الفصاحة غير ذلك؛ فإن من ضعف النحيرة إخطار مثله في الفكر، وإجراءه في الذكر. وأنت تزعم أنك ناظر في" دلائل الإعجاز"؛ أي في أدلة إعجاز القرآن.

فدلائل إعجاز القرآن، ليست في اختيار الكلمات؛ من حيث أفصحها في الاستعمال، ولا في البعد من اللحن، ولا في الاستعمال الغريب؛ وإنما هي في النظم الذي تضمن دقائق وأسراراً، طريق العلم بها الروية والفكر، والطائف مشتقاها النقل؛ وهي السبب في أن عرضت المزية في الكلام،
(গ) আব্দুল কাহের আল-জুরজানির পূর্বে দালায়েলুল ইজায

দালায়েল: এটি দালালাহ শব্দের বহুবচন; আর তা হলো যা দ্বারা কোনো কিছুর ওপর প্রমাণ পেশ করা হয়। আল-ইজায: এর অর্থ হলো সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়া এবং অগ্রগামী হওয়া। বলা হয়, কোনো বস্তু অমুক ব্যক্তিকে অক্ষম করে দিয়েছে, অর্থাৎ সেটি তাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং সে তা অর্জন করতে পারেনি।

"দালায়েলুল ইজায" হলো পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি; অর্থাৎ সমস্ত সৃষ্টির সামনে এর অপরাজেয় হওয়ার প্রমাণ। কুরআন সমগ্র আরবকে চ্যালেঞ্জ করেছিল—যাদের মধ্যে ছিল বাগ্মী বক্তা ও তুখোড় কবিরা—যেন তারা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসে; কিন্তু তারা তা করতে অক্ষম হয়েছিল এবং এর মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

আব্দুল কাহের এটিকে তাঁর সেই গ্রন্থের শিরোনাম করেছেন যার মাধ্যমে তিনি মুতাজিলাদের জবাব দিয়েছেন। তিনি আবু সাইদ আস-সিরাফির বিতর্ক সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি থেকে এটি গ্রহণ করেছেন এবং এই গ্রন্থে তাদের প্রত্যুত্তর দেওয়ার সময় এটি তাঁর ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে; যেহেতু তিনি তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "আর এ কারণেই আমাদের জন্য এটি জায়েজ নয় যে, আমাদের এই বিষয়ে কেবল এটুকু গণ্য করব যে, বক্তা কোনো ক্ষেত্রে দুটি ভাষারীতির মধ্যে যা অধিকতর প্রাঞ্জল বলা হয় তা ব্যবহার করেছেন, কিংবা তিনি সাধারণ মানুষের ভুলভ্রান্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন, অথবা তিনি দুর্লভ শব্দ ব্যবহার করেছেন। কারণ এই সবকিছুর জ্ঞান কেবল ভাষা এবং একক শব্দাবলীর জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যা মুখস্থ করার পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট; এর সাথে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ বা চিন্তাশক্তির প্রয়োগের কোনো সম্পর্ক নেই। আর সাধারণ মানুষ এবং তাদের সমপর্যায়ের যারা আছে, তারা এর বাইরে সাবলীলতা সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না; অথচ এই ধরনের বিষয়কে চিন্তায় আনা বা আলোচনায় আনা হলো স্বভাবগত দুর্বলতার লক্ষণ। আর আপনি দাবি করছেন যে, আপনি 'দালায়েলুল ইজায' বা কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ করছেন।"

সুতরাং কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি কেবল শব্দ চয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—ব্যবহারের দিক থেকে যা অধিকতর প্রাঞ্জল হওয়ার নিরিখে, কিংবা ব্যাকরণগত ভুল থেকে দূরে থাকার মধ্যে, অথবা দুর্লভ শব্দের ব্যবহারের মধ্যে; বরং তা রয়েছে সেই বিন্যাস বা নাযমের মধ্যে, যা এমন সব সূক্ষ্ম ও গভীর রহস্য ধারণ করে আছে যার জ্ঞানের পথ হলো গভীর অভিনিবেশ ও চিন্তা, আর যার সূক্ষ্মতাগুলো বর্ণনার মাধ্যমে আহরিত হয়; এটিই সেই কারণ যার ফলে বাক্যের মধ্যে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৮)
ووجب أن يفضل بعضه بعضاً، وأن يبعد الشأو في ذلك، وتمتد الغاية، ويعلو المرتقى، ويعز المطلب حتى ينتهي الأمر إلى الإعجاز، وإلى أن يخرج عن طرق البشر.

فعبد القاهر - إذن - يقصد بدلائل الإعجاز: خصائص النظم، وفروقه، ودقائقه ولطائفه.

ومن أشهر الطوائف التي اهتمت بدراسة إعجاز القرآن: طائفتان هما: طائفة الأشاعرة، وطائفة المعتزلة.

أما الطائفة الأولى: وهي طائفة الأشاعرة، فقد كانت ترى أن إعجاز القرآن الكريم في نظمه، وقد مثل هذه الطائفة: أبو الحسن الأشعري، والخطابي، والباقلاني، وانضم إليهم الجاحظ الذي انشق على شيخه النظام القائل بالصرفة، أي أن العرب كان في مقدورهم الإتيان بمثل القرآن، ولكن الله تعالى صرفهم عن ذلك.

وأما الطائفة الأخرى، وهي طائفة المعتزلة، فقد كانت ترى أن إعجاز القرآن الكريم في فصاحته، وأن المزية في الفصاحة للفظ، لا للمعنى وقد مثل هذه الطائفة: أبو على الجبائي، وابنه أبو هاشم، والرماني، وعبد الجبار، وابن سنان الخفاجي القائل بالصرفة.

وقد كان السبب في أن جعل الأشاعرة النظم أساساً لمعرفة إعجاز القرآن، هو

أنهم رأوا أن القرآن الكريم عندما تحدى العرب، وعجزوا عن معارضته قالو، - تارة - أنه شعر، وتارة أخرى أنه سحر.

أما قولهم: إنه شعر فلأنهم رأوه منظوماً، ولكنه نظم مخصوص، فلا هو بالشعر، ولا هو بالنثر.

وأما قولهم: أنه سحر، فلأنهم قد وجدو له وقعاً في قلوبهم، لم يستطيعوا مغالبته، وتأثيراً في نفوسهم، لم يقدروا على الإفلات منه!
এবং এটি আবশ্যক ছিল যে, এর এক অংশ অন্য অংশের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে, এবং এর লক্ষ্য হবে সুদূরপ্রসারী, উদ্দেশ্য হবে দীর্ঘায়িত, সোপান হবে সুউচ্চ এবং এর অভীষ্ট অর্জন হবে কঠিন—যতক্ষণ না বিষয়টি অলৌকিকত্বের (ইজাজ) পর্যায়ে পৌঁছায় এবং মানুষের সক্ষমতার সীমানা অতিক্রম করে।

সুতরাং আব্দুল কাহির—তবে—'দালাইলুল ইজাজ' (অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি) দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন: বাক্যরীতি বা বিন্যাস পদ্ধতির (নাজম) বৈশিষ্ট্যসমূহ, এর পার্থক্যসমূহ এবং এর সূক্ষ্ম ও গূঢ় রহস্যসমূহ।

কুরআনের অলৌকিকত্ব গবেষণায় নিয়োজিত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো দুটি দল: আশআরী সম্প্রদায় এবং মুতাযিলী সম্প্রদায়।

প্রথম দলটি হলো আশআরী সম্প্রদায়; তারা মনে করতেন যে পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব নিহিত রয়েছে এর বাক্যরীতি বা বিন্যাস পদ্ধতির (নাজম) মধ্যে। এই মতবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আবুল হাসান আল-আশআরী, আল-খাত্তাবি এবং আল-বাকিলানি। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন আল-জাহিজ, যিনি তাঁর শিক্ষক আন-নাজ্জামের 'সারফাহ' (বিমুখকরণ) মতবাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, সারফাহ মতবাদ হলো—আরবদের পক্ষে কুরআনের মতো কিছু তৈরি করা সম্ভব ছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তা থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন।

আর অন্য দলটি হলো মুতাযিলী সম্প্রদায়; তারা মনে করতেন যে পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব নিহিত রয়েছে এর বাগ্মিতা বা বিশুদ্ধতার (ফাসাহাত) মধ্যে। তাদের মতে, বাগ্মিতার এই শ্রেষ্ঠত্ব শব্দের অলংকারে, অর্থের মধ্যে নয়। এই মতবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আবু আলী আল-জুব্বায়ী, তাঁর পুত্র আবু হাশিম, আর-রুম্মানি, আব্দুল জাব্বার এবং ইবনে সিনান আল-খাফাজি—যিনি সারফাহ মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন।

আশআরীগণ বাক্যরীতি বা বিন্যাস পদ্ধতিকে কুরআনের অলৌকিকত্ব উপলব্ধির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার কারণ ছিল এই যে—

তারা লক্ষ্য করেছিলেন, পবিত্র কুরআন যখন আরবদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল এবং তারা এর মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়েছিল, তখন তারা কখনো একে কাব্য বলেছিল, আবার কখনো একে জাদু বলেছিল।

তাদের একে কাব্য বলার কারণ ছিল এই যে, তারা একে সুশৃঙ্খল বিন্যাসযুক্ত হিসেবে দেখেছিল; তবে এটি ছিল এক বিশেষ ধরনের বিন্যাস—যা কাব্যও নয়, আবার সাধারণ গদ্যও নয়।

আর তাদের একে জাদু বলার কারণ ছিল এই যে, তারা তাদের হৃদয়ে এর এমন এক গভীর প্রভাব অনুভব করেছিল যা তারা প্রতিহত করতে পারেনি, এবং তাদের অন্তরে এর এমন এক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল যা থেকে তারা নিষ্কৃতি লাভে সক্ষম ছিল না।
(খণ্ড: ১) দালাইলুল ইজায বাইনা আবী সাঈদ আস-সিরাফী ওয়াল জুরজানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
فقد جاء في حديث أبى ذر - رضى الله عنه - في سب إسلامه - أنه قال: قال لي أخي أنيس: إن لي حاجة ألي مكة، قال: فانطلق فراث، فقلت: ما حبسك؟ قال: لقيت رجلا يقول: أن الله تعالى أرسله.

فقلت: فما يقول الناس؟ قال: يقولون شاعر، ساحر، كاهن، قال أبو ذر: وكان أنيس أحد الشعراء، فقال: تالله لقد وضعت قوله على أقراء الشعراء، فلم يلتئم على لسان أحد، ولقد سمعت الكهنة فما هو بقولهم، والله إنه لصادق، وإنهم لكاذبون!

فالقرآن الكريم ليس شعراً - وإن كان له نظم عجيب، ونغم غريب، وليس سحراً - وإن كان يأسر القلوب، ويجذب النفوس، ويعمل فيها عمل السحر! ، فقد قال تعالى فيه: " إنه لقول رسول كريم وماهوا بقول شاعر قليلا ما تؤمنون، ولا بقول كاهن قليلا ما تذكرون (1) ".

ولعل السر - أيضاً - في أن جعل المعتزلة الفصاحة أساساً لمعرفة إعجاز القرآن وأن مزيتها في اللفظ لا في المعنى هو أنهم وجدوا العرب يقولون في القرآن - عندما تحداهم وعجزوا - إنه سحر، وذلك لصلة الصور البيانية التي تنتسب المزية فيها عادة إلى اللفظ، وإن كان المراد بها ما تحدثه الألفاظ، من تلك الصور، كالتشبيه والتمثيل" والاستعارة" والكتابة، بالتأثير في النفوس، وما تحدثه تلك الصور من الأخذ بمجامع القلوب.

وقد ألف أبو عثمان عمرو بن الجاحظ كتاباً في (نظم القرآن) ولكنه ضاع من يد الزمن، فلم يصل إلينا، بيد أن الجاحظ قد وصفه في مقدمة كتابه (الحيوان) بأنه في الاحتياج لنظم القرآن وغريب تأليفه، وبديع تركيبه".
আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর ইসলাম গ্রহণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: আমার ভাই উনাইস আমাকে বলল: মক্কায় আমার একটি প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন: অতঃপর সে চলে গেল এবং ফিরতে বিলম্ব করল। আমি বললাম: কিসে তোমাকে আটকে রেখেছিল? সে বলল: আমি এমন এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেয়েছি যিনি দাবি করেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে পাঠিয়েছেন।

আমি বললাম: লোকেরা কী বলে? সে বলল: তারা বলে—তিনি একজন কবি, জাদুকর অথবা গণক। আবু যর বলেন: উনাইস নিজে একজন কবি ছিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তাঁর কথাকে কবিদের কাব্যরীতির সাথে মিলিয়ে দেখেছি, কিন্তু তা কোনো মানুষের ভাষার সাথে মেলে না। আমি গণকদের কথাও শুনেছি, কিন্তু এটি তাদের কথাও নয়। আল্লাহর কসম, তিনি অবশ্যই সত্যবাদী এবং তারা নিশ্চিতভাবেই মিথ্যাবাদী!

প্রকৃতপক্ষে কুরআন কারীম কোনো কবিতা নয়—যদিও এর বিন্যাস বিস্ময়কর এবং সুর অপূর্ব; এটি কোনো জাদুও নয়—যদিও এটি হৃদয়কে জয় করে, আত্মাকে আকৃষ্ট করে এবং জাদুর মতো প্রভাব বিস্তার করে! আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী। আর এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব সামান্যই বিশ্বাস করো। আর এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো (১)।"

সম্ভবত এর পেছনের রহস্যটিও হলো—মুতাজিলারা আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) অনুধাবনের ক্ষেত্রে ভাষাগত সাবলীলতাকে (ফাসাহাত) মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং এর বিশেষত্বকে অর্থের পরিবর্তে শব্দের মাঝে সীমাবদ্ধ রেখেছে। এর কারণ হলো, তারা লক্ষ্য করেছে যে আরবরা যখন কুরআনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় অক্ষম হয়ে পড়েছিল, তখন তারা একে 'জাদু' বলে অভিহিত করত। এর কারণ হলো সেই আলঙ্কারিক চিত্রকল্পগুলোর (সুয়ারুল বায়ান) সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক, যার শ্রেষ্ঠত্ব সাধারণত শব্দের সাথেই যুক্ত করা হয়; যদিও এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো শব্দের দ্বারা সৃষ্ট সেই চিত্রকল্পসমূহ—যেমন উপমা (তাশবিহ), দৃষ্টান্ত (তামসিল), রূপক (ইস্তিআরা) এবং লিখনশৈলী (কিতাবাহ)—যা মানুষের নফসের ওপর প্রভাব ফেলে এবং হৃদয়ের মণিকোঠাকে আবিষ্ট করে।

আবু উসমান আমর ইবনুল জাহিজ 'নাযমুল কুরআন' (কুরআনের গাঁথুনি) বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, কিন্তু কালের পরিক্রমায় তা হারিয়ে গেছে এবং আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে জাহিজ তাঁর 'আল-হায়াওয়ান' গ্রন্থের ভূমিকায় একে কুরআনের সুনিপুণ বিন্যাস, এর অপূর্ব রচনাশৈলী এবং চমৎকার কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে রচিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।