(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: -)
النظم البلاغي بين النظرية والتطبيق   (حسن إسماعيل عبد الرازق)

القسم: البلاغة


الكتاب: النظم البلاغي بين النظرية والتطبيق

المؤلف: حسن بن إسماعيل بن حسن بن عبد الرازق الجناجيُ رئيس قسم البلاغة بجامعة الأزهر (ت 1429 هـ)

الناشر: دار الطباعة المحمدية القاهرة - مصر

الطبعة: الأولى 1403 هـ - 1983 م

عدد الصفحات: 436

ملاحظات: سقطت صـ 130، 252، 276 من الأصل المصور المعتمد عليه

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1440

তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক আঙ্গিকে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিন্যাস   (হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র


গ্রন্থ: তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক আঙ্গিকে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিন্যাস

লেখক: হাসান বিন ইসমাইল বিন হাসান বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-জানাজি, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কারশাস্ত্র বিভাগের প্রধান (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক: দারুত তিবায়াতিল মুহাম্মাদিয়া, কায়রো - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩৬

দ্রষ্টব্য: গৃহীত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে ১৩০, ২৫২ ও ২৭৬ নম্বর পৃষ্ঠাগুলো বাদ পড়েছে

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মার্কাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (ওয়াকফে আব্দুল্লাহ ইবনে তুর্কি আদ-দুহাইয়ান খায়রিয়্যাহ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১)
الدكتور

حسن إسماعيل عبد الرازق

أستاذ البلاغة المساعد

بكلية اللغة العربية بالزقازيق

 

النظم البلاغي

بين النظرية والتطبيق

 

الطبعة الأولى حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

1403 هـ - 1983 م

 

دار الطباعة المحمدية

3 درب الأتراك بالأزهر
ডক্টর

হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক

অলঙ্কারশাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক

জাগাজিগস্থ আরবি ভাষা অনুষদ

 

আলঙ্কারিক বিন্যাস

তত্ত্ব ও প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে

 

প্রথম সংস্করণ, সর্বস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত

১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুত তিবায়াতিল মুহাম্মাদিয়া

৩ দরবে আতরাক, আল-আজহার
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين؛ سيدنا محمد النبي الأمي، وعلى آله وأصحابه والتابعين، وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين:

وبعد:

فقد كانت نظرية النظم البلاغي التي اهتدى إليها إمام البلاغة عبد القاهر الجرجاني، وهو يبحث دلائل إعجاز القرآن الكريم بمثابة بزوغ شمس البلاغة العربية التي اهتدى بأنوارها الرائعة علماء البلاغة من المتأخرين فساروا في دروب البلاغة على هدى من أضوائها؛ ونسجوا من خيوطها النورانية مصنفاتهم البلاغية،

ولكنهم - لأسباب لسنا بصدد الحديث عنها - قد ابتعدوا عن هذا الأصل؛ وراحوا يدورون في فلك المدرسة السكاكية التي تمثلت في القسم الثالث من كتاب "المفتاح" والتي نبه إليها الخطيب القزويني بتلخيصه لما قاله أبو يعقوب السكاكي في المفتاح، ثم بإيضاحه لهذا التلخيص في كتاب "الإيضاح" ثم توالت الشروح والحواشي والتقريرات، مهتمة بما قاله السكاكي في مفتاحه، أو بما قاله الخطيب في تلخيصه وإيضاحه؛ دون أن يرجعوا إلى الأصل في هذا كله وهو "نظرية النظم البلاغي" عند عبد القاهر الجرجاني، التي كانت سبباً في هذا الفيض الزاخر من المصنفات.

وليتهم نظروا إلى النظم البلاغي نظرة عبد القاهر إليه؛ فقد كان
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠের প্রতি; আমাদের নেতা নিরক্ষর নবী মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীগণ, তাবেঈগণ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার প্রতি:

অতঃপর:

অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম আব্দুল কাহের আল-জুরজানি যখন পবিত্র কুরআনের মুজেজার প্রমাণসমূহ অনুসন্ধান করছিলেন, তখন তিনি অলঙ্কারিক বিন্যাসের যে তত্ত্বটি লাভ করেছিলেন, তা ছিল মূলত আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের সূর্যোদয় সদৃশ। পরবর্তী অলঙ্কারবিদগণ এর চমৎকার আলোর ছটায় পথ খুঁজে পেয়েছিলেন এবং এর আলোকচ্ছটার নির্দেশনা অনুসরণ করে অলঙ্কারশাস্ত্রের পথে অগ্রসর হয়েছিলেন; এর নূরানি সূত্রগুলো দিয়ে তারা তাদের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গ্রন্থাবলী রচনা করেছিলেন,

কিন্তু তারা—এমন কিছু কারণে যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়—এই মূল ভিত্তি থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন; এবং তারা সাক্কাকি ধারার কক্ষপথে আবর্তিত হতে থাকেন যা "আল-মিফতাহ" গ্রন্থের তৃতীয় অংশে রূপ লাভ করেছিল এবং যার প্রতি খতিব আল-কাযউইনি ইশারা করেছেন আবু ইয়াকুব আস-সাক্কাকির "আল-মিফতাহ" এর সারসংক্ষেপ করার মাধ্যমে, অতঃপর "আল-ইজাহ" গ্রন্থে সেই সারসংক্ষেপের ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে। এরপর সাক্কাকির মিফতাহ-এ যা বলা হয়েছে অথবা খতিবের সারসংক্ষেপ ও ব্যাখ্যায় যা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে একের পর এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা ও পাদটীকা রচিত হতে থাকে; অথচ তারা এই সবকিছুর মূল উৎস আব্দুল কাহের আল-জুরজানির "অলঙ্কারিক বিন্যাস তত্ত্বের" দিকে ফিরে তাকাননি, যা মূলত গ্রন্থরাজির এই বিশাল প্রবাহের মূল কারণ ছিল।

হায়! তারা যদি অলঙ্কারিক বিন্যাসকে আব্দুল কাহেরের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতেন; কারণ তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ৪)
عبد القاهر ينظر إلى النظم البلاغي على أنه قطب الدائرة للبلاغة العربية؛ ومنه تتفرع مسائل المعاني، التي عبر عنها بمعاني النحو فيما بين الكلم على حسب الأغراض التي يساق لها الكلام، ومن هذه المعاني تتكون صور البيان من تشبيه ومجاز وكناية؛ وبين هذه الصور وتلك المعاني تنتشر قيم جمالية راجعة إلى جمال المعاني، قبل أن تكون زينة للألفاظ.

ولكنهم نظروا إليه نظرة مختلفة عن نظرة عبد القاهر؛ فهم - وإن كانوا قد عرفوا البلاغة بأنها: مطابقة الكلام لمقتضى الحال مع فصاحته أخذاً من تفسير عبد القاهر في دلائل الإعجاز لمعنى النظم البلاغي - قد انشغلوا بتقسيم البلاغة إلى علوم ثلاثة هي: علم المعاني. وعلم البيان، وعلم البديع، ثم بتقسيم هذه العلوم إلى أبوابها وفصولها ومسائلها.

وليتهم - إلى جانب هذا الجهد المشكور الذي بذلوه في تقنين البلاغة - قد انشغلوا - أيضاً - بتطبيق ما توصلوا إليه من قواعد بلاغية على النصوص الأدبية التي يزخر بها أدبنا العربي من شعر، أو نثر، ولكن إمعانهم في تتبع القواعد البلاغية، وصياغتها صياغة محكمة، ومحاولة ربطها بما أتقنوه من قواعد المنطق والفلسفة قد باعد بينهم وبين هذا التطبيق؛ اللهم إلا أن يأتوا لكل قاعدة بمثال!

وكأن البلاغة قد أصبحت في نظرهم قواعد مشفوعة بأمثلة؛ شأنها شأن النحو، أو الصرف، أو العروض، بل إنهم أمعنوا في إبعاد النص الأدبي عن البلاغة العربية بمحاولتهم الاكتفاء من النص بمحل الشاهد بيتاً كان، أو شطراً من بيت، أو جملة واحدة!

ذلكم هو ما أغرى القائلين بانفصال البلاغة عن النقد الأدبي، بل وأغرى
আবদুল কাহির অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিন্যাসকে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করেন; এবং এ থেকেই অর্থের বিভিন্ন বিষয়াবলী শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়েছে, যেগুলোকে তিনি শব্দের মধ্যকার ব্যাকরণিক অর্থ হিসেবে ব্যক্ত করেছেন, যা কথা বলার উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত হয়। আর এই অর্থগুলো থেকেই উপমা, রূপক ও ইশারার মতো অলঙ্কারশৈলী গঠিত হয়; এবং এই রূপকল্প ও অর্থসমূহের মধ্যে এমন নান্দনিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে থাকে যা মূলত শব্দের অলঙ্করণ হওয়ার আগেই অর্থের সৌন্দর্যের সাথে সম্পৃক্ত।

কিন্তু তাঁরা বিষয়টিকে আবদুল কাহিরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিন্নভাবে দেখেছেন; যদিও তাঁরা অলঙ্কারশাস্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে: ‘সাবলীলতার সাথে পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী কথা বলা’—যা তাঁরা আবদুল কাহিরের ‘দালাইলুল ইজায’ গ্রন্থে বর্ণিত অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিন্যাসের ব্যাখ্যা থেকে গ্রহণ করেছেন—তথাপি তাঁরা অলঙ্কারশাস্ত্রকে তিনটি বিজ্ঞানে বিভক্ত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, সেগুলো হলো: অর্থবিজ্ঞান, রূপকবিজ্ঞান এবং শৈলীবিজ্ঞান। অতঃপর তাঁরা এই বিজ্ঞানগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ও মাসআলায় বিভক্ত করেছেন।

আফসোস! অলঙ্কারশাস্ত্রকে নিয়মাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁদের এই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি যদি তাঁরা তাঁদের উদ্ভাবিত আলঙ্কারিক নিয়মগুলোকে আমাদের আরবি সাহিত্যের কবিতা ও গদ্যের বিশাল ভাণ্ডারের ওপর প্রয়োগ করার বিষয়েও মনোনিবেশ করতেন। কিন্তু অলঙ্কারশাস্ত্রীয় নিয়মাবলি অনুসরণ, সেগুলোকে সুসংহতভাবে রূপদান এবং সেগুলোকে তাঁদের আয়ত্তাধীন যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের নিয়মের সাথে সংযুক্ত করার অতিপ্রয়াস তাঁদেরকে এই প্রায়োগিক দিক থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে; বড়জোর তাঁরা প্রতিটি নিয়মের জন্য একটি করে উদাহরণ পেশ করেছেন মাত্র!

মনে হয় যেন তাঁদের দৃষ্টিতে অলঙ্কারশাস্ত্র কেবল উদাহরণসহ কিছু নিয়মে পরিণত হয়েছে; যার অবস্থা ব্যাকরণ, রূপতত্ত্ব কিংবা ছন্দশাস্ত্রের মতো। বরং তাঁরা সাহিত্যিক পাঠকে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম সীমায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁরা সাহিত্যিক পাঠ থেকে কেবল প্রমাণের স্থলে একটি পূর্ণ কবিতা, কবিতার অংশবিশেষ কিংবা একটি মাত্র বাক্যের ওপরই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করেছেন!

এটাই সেই বিষয় যা অলঙ্কারশাস্ত্রকে সাহিত্য সমালোচনা থেকে পৃথক গণ্যকারীদের প্রলুব্ধ করেছে, এমনকি প্রলুব্ধ করেছে...
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ৫)
القائلين باستبعاد البلاغة العربية تماماً، لأنها أصبحت - في نظرهم - لا تواكب العصر! !

ومن هنا كانت فكرة دراسة النظم البلاغي بين النظرية والتطبيق؛ دراسة تتناوله من منابعه الأولى حيث عجز العرب عن معارضة القرآن الكريم؛ فوصفوه بأنه شعر؛ لأن له نظماً يعلو كل نظم؛ وحيث حاول العلماء تفسير إعجاز القرآن الكريم على أساس نظمه العجيب، وأسلوبه العالي، وتأثيره البالغ في النفوس، ثم بنضوج فكرته في ذهن إمام البلاغة عبد القاهر الجرجاني، حيث صار نظرية واضحة المعالم بينة السمات ثم بتطبيق هذه النظرية في نظر المتأخرين من البلاغيين على حسب ما رآه الخطيب القزويني في الإيضاح.

بيد أنني لم أقف عند تمثيل المتأخرين لها بأمثلتهم التقليدية التي توارثوها جيلاً بعد جيل، ولكنني حاولت تطبيقها على النصوص الأدبية التي يزخر بها أدبنا العربي مما هو ثابت مدون بديوان الحماسة لأبى تمام وجمهرة أشعار العرب في الجاهلية والإسلام؛ ومفضليات الضبي، وأصمعيات الأصمعي، محاولاً إبراز مناسبة كل نص، وأثرها في إيجاد الظروف التي أملت على الشاعر هذا النص أو ذاك، كلما وجدت إلى ذلك سبيلاً.

على أن الأمثلة التي توارثها البلاغيون قد حاولت ربطها ببقية النصوص التي اقتطعت منهما؛ ليتعرف القارئ الكريم على مدى صلة المزايا البلاغية الناتجة عن مواضعها المناسبة بإضفاء الجمال البلاغي على النص الأدبي؛ مما يكون له أكبر الأثر في إمتاع القارئ الكريم بما يتضمنه النص الأدبي من مزايا النظم وأسرار التراكيب.
যারা আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রকে (বালাগাত) পুরোপুরি বর্জন করার কথা বলেন, কারণ তাদের দৃষ্টিতে এটি আর আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না!!

এখান থেকেই অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিন্যাসের (নাজম) তত্ত্ব ও প্রয়োগের মধ্যবর্তী পঠন-পাঠনের ধারণাটি এসেছে; এটি এমন একটি অধ্যয়ন যা এর আদি উৎস থেকে বিষয়টিকে পর্যালোচনা করে, যখন আরবরা পবিত্র কুরআনের মুকাবিলা করতে অক্ষম হয়েছিল; ফলে তারা একে কাব্য বলে অভিহিত করেছিল; কারণ এর এমন এক বিন্যাস রয়েছে যা অন্য সকল বিন্যাসের ঊর্ধ্বে; এবং যেখানে আলেমগণ পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বকে (ইজাজ) এর বিস্ময়কর বিন্যাস, উচ্চাঙ্গের শৈলী এবং হৃদয়ে এর সুগভীর প্রভাবের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। অতঃপর অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানির চিন্তায় এই ধারণার পরিপক্কতা লাভের মাধ্যমে এটি একটি সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তত্ত্বে পরিণত হয়েছে; এরপর পরবর্তী যুগের অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের দৃষ্টিতে এই তত্ত্বের প্রয়োগ ঘটেছে খতীব আল-কাযউয়িনী তাঁর ‘আল-ইযাহ’ গ্রন্থে যেভাবে মূল্যায়ন করেছেন সেই অনুযায়ী।

তবে আমি পরবর্তী যুগের অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের সেই প্রথাগত উদাহরণগুলোর বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিনি যা তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছেন, বরং আমি একে আমাদের সমৃদ্ধ আরবি সাহিত্যের সাহিত্যিক নিদর্শনগুলোর ওপর প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি; যা আবু তাম্মামের ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ এবং জাহেলি ও ইসলামি যুগের ‘জামহারাতু আশআরিল আরব’, আদ-দব্বীর ‘মুফাদ্দালিয়্যাত’ ও আসমায়ীর ‘আসমায়িয়্যাত’-এ সংকলিত ও সংরক্ষিত রয়েছে। আমি প্রতিটি পাঠের প্রেক্ষাপট ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি এবং কবিকে যে পরিস্থিতি নির্দিষ্ট কোনো কাব্য রচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল তার প্রভাব স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি, যখনই আমি তার কোনো পথ খুঁজে পেয়েছি।

পাশাপাশি অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ উত্তরাধিকার সূত্রে যেসব উদাহরণ দিয়ে এসেছেন, আমি সেগুলোকে সেই মূল পাঠের অবশিষ্টাংশের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করেছি যেখান থেকে সেগুলো উদ্ধৃত করা হয়েছিল; যাতে সম্মানিত পাঠক অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বৈশিষ্ট্য ও উপযুক্ত প্রয়োগের ফলে সাহিত্যিক পাঠে যে অলঙ্কারিক সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়, তার মধ্যকার সম্পর্কের স্বরূপ অবগত হতে পারেন। এটি সাহিত্যিক পাঠের শব্দবিন্যাসের মাহাত্ম্য এবং বাক্যগঠনের নিগূঢ় রহস্যের মাধ্যমে পাঠককে আনন্দ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলবে।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ৬)
والله أسأل أن يوفقني إلى ما يحبه ويرضاه؛ إنه نعم المولى ونعم النصير.

حسن إسماعيل عبد الرازق

الزيتون في 7 من جمادى الآخرة سنة 1403 هـ

الموافق 22 من مارس سنة 1983 م
এবং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তাঁর প্রিয় ও সন্তোষজনক বিষয়ের তাওফীক দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।

হাসান ইসমাঈল আব্দুল রাযিক

আয-যাইতুন, ৭ই জুমাদাল আখিরাহ, ১৪০৩ হিজরী

মোতাবেক ২২শে মার্চ, ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تمهيد

1 - البلاغة: (أ) جهود العلماء في محاولة تحديد معناها.

(ب) مراحل البحث البلاغي.

2 - النقد الأدبي: [معنى النقد الأدبي - مناهج النقد الأدبي].

3 - مكان البلاغة من النقد:

[الفرق بين البلاغة والنقد الأدبي - آراء العلماء في صلة البلاغة بالنقد الأدبي].
ভূমিকা

১ - অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত): (ক) এর অর্থ নির্ধারণের প্রচেষ্টায় বিদ্বানগণের শ্রম।

(খ) অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার পর্যায়সমূহ।

২ - সাহিত্য সমালোচনা: [সাহিত্য সমালোচনার অর্থ - সাহিত্য সমালোচনার পদ্ধতিসমূহ]।

৩ - সমালোচনার ক্ষেত্রে অলঙ্কারশাস্ত্রের স্থান:

[অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্য সমালোচনার মধ্যে পার্থক্য - অলঙ্কারশাস্ত্রের সাথে সাহিত্য সমালোচনার সম্পর্ক বিষয়ে বিদ্বানগণের অভিমত]।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌1 - البلاغة:

‌‌(أ) جهود العلماء في محاولة تحديد معنى البلاغة:

في لسان العرب: "وبلغت المكان بلاغاً: وصلت إليه، وكذلك إذا شارفت عليه، ومنه قوله تعالى: {فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ} (1) أي قاربنه، وبلغت النخلة وغيرها من الشجر: حان إدراك ثمرها، وشيء بالغ: أي جيد، وقد بلغ في الجودة مبلغاً، ويقال: أمر الله بلغ بالفتح أي بالغ، عن قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ} (2)، وأمر بالغ وبلغ: نافذ: يبلغ أين أريد به وأمر بالغ: أي جيد. والبلاغة: الفصاحة؛ والبلغ: البليغ من الرجال؛ ورجل بليغ وبلغ من الكلام فصيحه يبلغ بعبارة لسانه كنه ما في قلبه، والجمع: بلغاء. وقد بلغ بضم اللام بلاغة: أي صار بليغاً، وقول بليغ: بالغ .. (3).

ومما تقدم نستطيع القول بما يلي:

أولاً: أن مادة كلمة (بلاغة) تدور حول معنيين اثنين لا ثالث لهما؛ وهما: الوصول والانتهاء، والإتقان والجودة.

ثانياً: أن بين المعنى اللغوي والمعنى الاصطلاحي للبلاغة صلة كبيرة نتبينها من قول ابن منظور: "ورجل بليغ وبلغ من الكلام فصيحه يبلغ بعبارة لسانه كنه ما في قلبه":

--------------------------------------------

(1) البقرة: 234 والطلاق: 2.

(2) الطلاق: 3.

(3) لسان العرب: مادة (بلغ).
১ - অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত):

(ক) বালাগাতের সংজ্ঞা নির্ধারণে আলিমগণের প্রচেষ্টা:

লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আমি স্থানে পৌঁছেছি (বালাগাতান), অর্থাৎ আমি সেখানে পৌঁছেছি। একইভাবে যখন কেউ কোনো কিছুর নিকটবর্তী হয়, তখনও এটি ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহর বাণী থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়: {অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছাবে} (১) অর্থাৎ যখন তার নিকটবর্তী হবে। খেজুর গাছ এবং অন্যান্য বৃক্ষ 'বালাগ' হওয়ার অর্থ হলো: তার ফল পাকার সময় হয়েছে। কোনো বস্তু 'বালিগ' হওয়ার অর্থ হলো: তা অত্যন্ত চমৎকার। গুণের দিক থেকে তা চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছে। বলা হয়ে থাকে: আল্লাহর নির্দেশ 'বালাগ' (লাম অক্ষরে ফাতহা যোগে), অর্থাৎ তা চূড়ান্ত ও কার্যকর। এটি মহান আল্লাহর বাণী থেকে গৃহীত: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর নির্দেশ পূর্ণ করেন} (২)। কোনো বিষয় 'বালিগ' বা 'বালাগ' হওয়ার অর্থ: তা কার্যকর; যা তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছায়। আর কোনো বিষয় 'বালিগ' হওয়ার অর্থ: তা অত্যন্ত নিপুণ। বালাগাত হলো: প্রাঞ্জলতা বা সাবলীলতা। আর 'বুল্‌গ' হলো: মানুষের মধ্যে যারা বাগ্মী (বালিগ)। 'বালিগ' বা 'বুল্‌গ' ব্যক্তি সেই, যার কথা অত্যন্ত সাবলীল এবং যে নিজ রসনার অভিব্যক্তির মাধ্যমে তার হৃদয়ের গূঢ় রহস্য ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। এর বহুবচন হলো: 'বুলাগা'। আর যখন শব্দটি লাম অক্ষরে পেশ দিয়ে (বালুগা) ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হয়: সে বাগ্মী বা সাবলীল বক্তা হয়েছে। আর কথা 'বালিগ' হওয়ার অর্থ হলো: তা চূড়ান্ত স্তরে উপনীত হওয়া... (৩)।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বলতে পারি:

প্রথমত: 'বালাগাত' শব্দের মূল ধাতু দুটি অর্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যার তৃতীয় কোনো অর্থ নেই; আর তা হলো: পৌঁছানো ও সমাপ্ত হওয়া এবং নিপুণতা ও উৎকর্ষতা লাভ করা।

দ্বিতীয়ত: বালাগাতের শাব্দিক অর্থ এবং পারিভাষিক অর্থের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান, যা আমরা ইবনুল মানজুরের উক্তি থেকে অনুধাবন করতে পারি: "বালিগ এবং বুল্‌গ ব্যক্তি সেই, যার কথা অত্যন্ত সাবলীল এবং যে তার রসনার অভিব্যক্তির মাধ্যমে হৃদয়ের গূঢ় বিষয় প্রকাশ করতে পারে।":

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারা: ২৩৪ এবং আত-তালাক: ২।

(২) আত-তালাক: ৩।

(৩) লিসানুল আরব: (বা-লাম-গাইন) অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১০)
ثالثاً: إن اللغويين حتى عصر متأخر لم يكونوا يفرقون بين البلاغة والفصاحة، شأنهم في ذلك شأن كثير من البلاغيين والنقاد الذين سوف نتعرض لآرائهم فيما بعد: والبلاغة بالمعنى الاصطلاحي والذي انتهى إليه علماء البلاغة إلى عصرنا هذا. هي: "مطابقة الكلام لمقتضى الحال مع فصاحته" (1).

وسوف نتعرف - من خلال عرض موجز - على آراء البلاغيين حول تعريف البلاغة منذ حاولوا تعريفها ذلك التعريف الذي لا يزال إلى اليوم مدار بحث البلاغيين واهتمامهم.

وأقدم محاولة لتعريف البلاغة كانت لأبى عثمان عمرو بن بحر الجاحظ (ت 255) هـ فقد وردت مصطلحات البلاغة في كتابه: "البيان والتبيين" غير أنه لم يكن يقصد بها ما قصده المتأخرون من البلاغيين فقد استعمل ألفاظ الفصاحة والبيان والبلاغة مترادفات تدل على معنى واحد؛ فإذا ما عرف "البيان" بأنه "اسم جامع لكل ما كشف لك قناع المعنى؛ وهتك الحجاب عن الضمير حتى يفضي السامع إلى حقيقة اللفظ ويهجم على محصوله كائناً ما كان" (2) فإنه يستعمل البيان بمعنى البلاغة في موضع آخر، وذلك حين يورد إجابة جعفر بن يحيى لمن سأله: ما البيان؟ فيجيب بقوله: أن يكون الاسم يحيط بمعناك، ويجلى من مغزاك وتخرجه من الشركة: ولا تستعين عليه بطول الفكرة، والذي لابد منه أن يكون سليماً من التكلف بعيداً من الصنعة، بريئاً من التعقيد، غنياً عن التأويل (3)،

--------------------------------------------

(1) الإيضاح - 8.

(2) التبيان والتبيين 1/ 88.

(3) البيان والتبيين: 1/ 106.
তৃতীয়ত: ভাষাবিদগণ পরবর্তী যুগ পর্যন্ত বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) এবং ফাসাহাত (বাকপটুতা)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না; এ বিষয়ে তাদের অবস্থা ছিল অনেক আলঙ্কারিক ও সমালোচকদের মতোই, যাদের মতামত আমরা পরবর্তীতে তুলে ধরব। আর পারিভাষিক অর্থে বালাগাত—যার ওপর বর্তমান যুগ পর্যন্ত অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ একমত হয়েছেন—তা হলো: "শব্দের সাবলীলতার (ফাসাহাত) পাশাপাশি পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটের চাহিদা অনুযায়ী কথা বলা।" (১)

আমরা একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে বালাগাতের সংজ্ঞা সম্পর্কে আলঙ্কারিকদের মতামতগুলো জানব; যে সময় থেকে তারা এটি সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন—সেই সংজ্ঞাটি আজও আলঙ্কারিকদের গবেষণা ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

বালাগাত সংজ্ঞায়িত করার প্রাচীনতম প্রচেষ্টা ছিল আবু উসমান আমর ইবন বাহর আল-জাহিজের (মৃত্যু ২৫৫ হি.), তাঁর "আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন" গ্রন্থে বালাগাত সংক্রান্ত পরিভাষাগুলো এসেছে। তবে তিনি এই পরিভাষাগুলো দ্বারা পরবর্তী আলঙ্কারিকদের ন্যায় নির্দিষ্ট অর্থ বোঝাতে চাননি; বরং তিনি ফাসাহাত, বায়ান এবং বালাগাত শব্দগুলোকে সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করেছেন যা একই অর্থ নির্দেশ করে। যখন তিনি "বায়ান"-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন যে, এটি "এমন একটি সামষ্টিক নাম যা তোমার কাছে অর্থের পর্দা উন্মোচন করে এবং মনের ভেতরের লুকায়িত চিন্তার আবরণ ছিঁড়ে ফেলে, যাতে শ্রোতা শব্দের প্রকৃত হাকীকত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং তার সারমর্ম অনুধাবন করতে পারে—তা যা-ই হোক না কেন" (২), তখন তিনি অন্য স্থানে "বায়ান" শব্দটি "বালাগাত" অর্থেই ব্যবহার করেন। আর তা হলো যখন তিনি জাফর ইবন ইয়াহইয়ার একটি উত্তর উদ্ধৃত করেন, যাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: বায়ান কী? তিনি উত্তরে বলেন: "শব্দ যেন তোমার উদ্দিষ্ট অর্থকে পরিবেষ্টন করে থাকে, তোমার লক্ষ্যকে সুস্পষ্ট করে এবং একে অস্পষ্টতা থেকে বের করে আনে; আর এর জন্য তোমাকে দীর্ঘ চিন্তার সাহায্য নিতে না হয়। আর যে বিষয়টি অপরিহার্য তা হলো—একে কৃত্রিমতামুক্ত হতে হবে, কারুকার্যের বাহুল্য থেকে দূরে থাকতে হবে, জটিলতামুক্ত হতে হবে এবং কোনো প্রকার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত হতে হবে" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-ঈজাহ - ৮।

(২) আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন ১/ ৮৮।

(৩) আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন: ১/ ১০৬।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১১)
وما نرى إجابة جعفر إلا منطبقة على معنى البلاغة ومدلولها.

على أن الجاحظ قد أورد أربعة تعاريف للبلاغة لأربعة رجال من أمم مختلفة (1)؛ ثم أورد جملة تعاريف لبعض العرب لكي يوضح لنا المعنى الذي قصده العرب من كلمة "البلاغة" إلى أن أورد تعريف ابن المقفع لها بأنها: "اسم جامع لمعاني تجري في وجوه كثيرة .. وأنها في دلالة صدر الكلام على حاجة المتكلم، وفي إعطاء كل مقام حقه" (2).

فإذا ما التقينا بإسحاق بن إبراهيم بن سليمان بن وهب في كتابه "البرهان في وجوه البيان" وجدناه يعرف البلاغة بقوله: "وحدها عندنا: أنها القول المحيط بالمعنى المقصود مع اختيار الكلام وحسن النظام وفصاحة اللسان" (3) ثم يتبع هذا التعريف بالشرح والتحليل.

على أن هذا التعريف قد خلا من "مطابقة الكلام لمقتضى الحال" التي سبق بها ابن وهب، والتي عرفناها منذ قليل في تعريف ابن المقفع.

ولعل في قوله: "واختيار الكلام" ما يغني عن تلك العبارة.

أما صاحب الصناعتين: أبو هلال العسكري (ت 395 هـ) فإنه يعتبر أول عالم من علماء البلاغة قد حدد معنى كل من الفصاحة والبلاغة تحديداً يقرب من معناه الحديث؛ إذ الكلام عنده إنما يكون فصيحاً إذ حوى الفخامة والجزالة؛ وإذا لم يحوهما لم يكن فصيحاً؛ ولو جمع نعوت الجودة؛ وإنما يكون بليغاً إذا وافق المقام.

--------------------------------------------

(1) البيان والتبيين: 1/ 88.

(2) البيان والتبيين: 1/ 115.

(3) نقد النثر ص 76.
আমরা জাফরের উত্তরকে বালাগাতের (অলঙ্কারশাস্ত্র) অর্থ ও এর তাৎপর্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবেই দেখতে পাই।

অধিকন্তু, আল-জাহিয বিভিন্ন জাতির চারজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বালাগাতের চারটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন (১); অতঃপর তিনি আরবদের থেকে কিছু সংজ্ঞা উদ্ধৃত করেছেন যাতে আমাদের কাছে সেই অর্থটি স্পষ্ট হয় যা আরবরা "বালাগাত" শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য করত। পরিশেষে তিনি ইবনে আল-মুকাফফার সংজ্ঞাটি উল্লেখ করেছেন এভাবে যে: "এটি এমন একটি ব্যাপক নাম যা বহুবিধ পন্থায় প্রবহমান অর্থসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে... এবং এটি হলো কথার শুরুতেই বক্তার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা এবং প্রতিটি প্রেক্ষাপটকে তার যথাযথ প্রাপ্য প্রদান করা" (২)।

অতঃপর যখন আমরা ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন সুলায়মান বিন ওয়াহাব-এর সাথে তাঁর "আল-বুরহান ফি উজূহিল বায়ান" কিতাবে পরিচিত হই, তখন আমরা দেখি তিনি বালাগাতকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "আমাদের নিকট এর সংজ্ঞা হলো: শব্দের সঠিক চয়ন, চমৎকার বিন্যাস এবং সাবলীল ভাষার সাথে উদ্দেশ্যকৃত অর্থকে পরিবেষ্টনকারী কথা" (৩)। এরপর তিনি এই সংজ্ঞার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন।

তবে এই সংজ্ঞাটি "পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী কথার সামঞ্জস্যতা" থেকে মুক্ত ছিল, যা ইতিপূর্বে ইবনে ওয়াহাব উল্লেখ করেছিলেন এবং যা আমরা কিছুক্ষণ আগে ইবনে আল-মুকাফফার সংজ্ঞায় জেনেছি।

সম্ভবত তাঁর উক্তি "কথার সঠিক চয়ন"-এর মধ্যেই ওই বাক্যটির প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে "আস-সিনা'আতাইনি" কিতাবের লেখক আবু হিলাল আল-আসকারি (মৃত ৩৯৫ হি.) বালাগাত শাস্ত্রের এমন একজন প্রথম আলেম হিসেবে গণ্য হন যিনি 'ফাসাহাত' (সাবলীলতা) এবং 'বালাগাত' (অলঙ্কারিতা)-এর প্রত্যেকটির অর্থকে আধুনিক সংজ্ঞার কাছাকাছি করে সুনির্দিষ্ট করেছেন। কেননা তাঁর মতে কথা তখনই ফসিহ হয় যখন তাতে গাম্ভীর্য ও শব্দগত দৃঢ়তা থাকে; আর যদি সে দুটির অভাব থাকে তবে তা ফসিহ বলে গণ্য হবে না, যদিও তাতে উৎকর্ষের অন্যান্য গুণাবলি বিদ্যমান থাকে। আর কথা বালিগ তখনই হয় যখন তা পরিস্থিতির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন: ১/৮৮।

(২) আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন: ১/১১৫।

(৩) নাকদুন নাছর পৃ. ৭৬।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১২)
غير أنه قال مرة أخرى: "البلاغة: كل ما تبلغ به المعنى قلب السامع فتمكنه في نفسه لتمكنه في نفسك مع صورة مقبولة ومعرض حسن" (1).

ولعله عندما قصر البلاغة على المعنى والفصاحة على اللفظ كان يحاول تحديد كل منهما بالمعنى الاصطلاحي وعندما قال عن البلاغة: "إنها كل ما تبلغ به قلب السامع"، كان يحاول ربط المعنى العلمي للبلاغة بالمعنى اللغوي.

وأما ابن رشيق (ت 463 هـ) فإنه يورد تعريفات للبلاغة معظمها وارد في الكتب السابقة؛ ولكنه يتبع هذا كله بتعريف آخر يقول فيه: "البلاغة: إهداء المعنى إلى القلب في أحسن صورة من اللفظ" (2).

فإذا ما وصلنا إلى إمام البلاغة عبد القاهر الجرجاني (ت 471 هـ) تلميذ القاضي أبى الحسن علي بن عبد العزيز الجرجاني (ت 392 هـ) وجدنا البلاغة عنده مازالت مرادفة للفصاحة؛ كقوله: "الفصاحة في ترتيب الألفاظ حسب المعاني" وهذا هو معنى البلاغة عنده.

وكقوله: "إذا قصرنا الفصاحة على هذه الصفة لزمنا أن نخرج الفصاحة من حيز البلاغة ومن أن تكون نظيرة لها" (3).

على أن أول من فرق بين الفصاحة والبلاغة تفريقاً لا يزال موجوداً إلى اليوم هو ابن سنان الخفاجي المتوفى سنة 466 هـ فقد قصر الفصاحة على الألفاظ والبلاغة لا تكون إلا للألفاظ مع المعاني، وعلى هذا فكل كلام بليغ فصيح وليس كل كلام فصيح يكون بليغاً.

--------------------------------------------

(1) الصناعتين ص 1.

(2) العمدة 161.

(3) دلائل الإعجاز ص 5.
তবে তিনি আরও একবার বলেছেন: "বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) হলো এমন সবকিছু যার মাধ্যমে আপনি শ্রোতার হৃদয়ে অর্থ পৌঁছে দেন এবং আপনার নিজের হৃদয়ে তা যেভাবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, সেভাবে তার হৃদয়েও তা প্রতিষ্ঠিত করেন, সাথে একটি গ্রহণযোগ্য রূপ এবং সুন্দর উপস্থাপনা থাকে" (১)।

সম্ভবত যখন তিনি বালাগাতকে অর্থের সাথে এবং ফাসাহাতকে শব্দের সাথে সীমাবদ্ধ করেছিলেন, তখন তিনি পারিভাষিক অর্থে তাদের প্রত্যেককে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করছিলেন। আর যখন তিনি বালাগাত সম্পর্কে বলেছিলেন: "এটি হলো এমন সবকিছু যার মাধ্যমে আপনি শ্রোতার হৃদয়ে [অর্থ] পৌঁছান", তখন তিনি বালাগাতের ইলমি (জ্ঞানতাত্ত্বিক) অর্থকে আভিধানিক অর্থের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

আর ইবনে রশিক (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরী) বালাগাতের এমন কিছু সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যার অধিকাংশই পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে; তবে তিনি এই সবকিছুর পরে অন্য একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যেখানে তিনি বলেন: "বালাগাত হলো শব্দের সর্বোত্তম রূপের মাধ্যমে অর্থকে হৃদয়ে উপহার দেওয়া" (২)।

অতঃপর যখন আমরা বালাগাতের ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানি (মৃত্যু: ৪৭১ হিজরী)-এর নিকট পৌঁছাই, যিনি কাজি আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আল-জুরজানি (মৃত্যু: ৩৯২ হিজরী)-এর ছাত্র ছিলেন, তখন আমরা দেখি যে তাঁর কাছে বালাগাত তখনও ফাসাহাতের সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হতো; যেমন তাঁর উক্তি: "অর্থের চাহিদা অনুযায়ী শব্দ বিন্যাস করাই হলো ফাসাহাত", আর এটিই তাঁর কাছে বালাগাতের অর্থ।

এবং যেমন তাঁর উক্তি: "যদি আমরা ফাসাহাতকে এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করি, তবে ফাসাহাতকে বালাগাতের ক্ষেত্র থেকে এবং এর সমতুল্য হওয়া থেকে বের করে দিতে হবে" (৩)।

তবে ফাসাহাত ও বালাগাতের মধ্যে প্রথম যিনি এমনভাবে পার্থক্য করেছেন যা আজও বিদ্যমান, তিনি হলেন ইবনে সিনান আল-খাফাজি (মৃত্যু: ৪৬৬ হিজরী)। তিনি ফাসাহাতকে শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন এবং বালাগাত কেবল অর্থসহ শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে বলে মনে করেন। এই ভিত্তিতে, প্রতিটি বালিগ (অলঙ্কারপূর্ণ) বাক্যই ফাসিহ (বিশুদ্ধ), কিন্তু প্রতিটি ফাসিহ বাক্য বালিগ নয়।

--------------------------------------------

(১) আস-সিনআতাইনি, পৃষ্ঠা ১।

(২) আল-উমদাহ, ১৬১।

(৩) দালাঈলুল ই'জায, পৃষ্ঠা ৫।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১৩)
أما ضياء الدين بن الأثير (ت 637 هـ) فقد جعل علم البيان شاملاً للفصاحة والبلاغة، فقد عرف موضوعه بقوله: "هو الفصاحة والبلاغة، وصاحبه يسأل عن أحوالهما اللفظية والمعنوية" (1).

ويفهم من قوله هذا أن البلاغة تغاير الفصاحة:

ولكننا عندما نصل إلى أبى يعقوب السكاكي (ت 626 هـ) فإننا نجد البلاغة عنده قد بدأت تتضح معالمها وتتميز مسائلها. إذ يجعلها شاملة لعلمي المعاني والبيان، وإليك تعريفه للبلاغة:

"البلاغة": هي بلوغ المتكلم في تأدية المعاني حداً له اختصاص بتوفية خواص التراكيب حقها، وإيراد أنواع التشبيه والمجاز، والكناية على وجهها" (2).

فقد قصر البلاغة على علمي المعاني والبيان، وأما البديع فإنه لم يدخله في البلاغة.

فإذا ما انتهينا إلى الخطيب القزويني (ت 739 هـ) وجدنا البلاغة عنده تأخذ وضعها النهائي؛ فقد فرق تفرقة واضحة بين كل من الفصاحة والبلاغة وعرف البلاغة بأنها: "مطابقة الكلام لمقتضى الحال مع فصاحته (3) ثم عقب على ذلك بقوله: "وقد علم بما ذكرناه أمران:

أحدهما: أن كل بليغ فصيح ولا عكس:

الثاني: أن البلاغة في الكلام مرجعها إلى الاحتراس عن الخطأ في تأدية المعنى المراد، وإلى تمييز الكلام الفصيح من غيره.

--------------------------------------------

(1) المثل السائر 1/ 7.

(2) المفتاح ص 220.

(3) الإيضاح ص 8.
পক্ষান্তরে জিয়াউদ্দীন ইবনুল আসির (মৃত্যু ৬৩৭ হিজরি) ইলমুল বয়ানকে ফাসাহাত ও বালাগাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি এর বিষয়বস্তুর সংজ্ঞায় বলেন: "এটি হলো ফাসাহাত ও বালাগাত, এবং এর গবেষক এ দুটির শব্দগত ও অর্থগত অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেন" (১)।

তাঁর এই উক্তি থেকে বোঝা যায় যে, বালাগাত ফাসাহাত থেকে ভিন্ন:

কিন্তু যখন আমরা আবু ইয়াকুব আস-সাককাকি (মৃত্যু ৬২৬ হিজরি) পর্যন্ত পৌঁছাই, তখন আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর নিকট বালাগাতের রূপরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে এবং এর মাসআলাসমূহ পৃথক হয়েছে। কেননা তিনি একে ইলমুল মাআনি ও ইলমুল বয়ান—উভয় শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বালাগাত সম্পর্কে তাঁর সংজ্ঞা নিম্নরূপ:

"বালাগাত: এটি হলো অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে বক্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছানো যা বাক্যের গঠনশৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহকে যথাযথভাবে প্রদান করা এবং উপমা (তাশবিহ), রূপক (মাজায) ও ইশারা (কিনায়া)-কে তাদের সঠিক পন্থায় উপস্থাপন করার সাথে সংশ্লিষ্ট" (২)।

তিনি বালাগাতকে ইলমুল মাআনি ও ইলমুল বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, আর বাদি' শাস্ত্রকে তিনি বালাগাতের অন্তর্ভুক্ত করেননি।

এরপর যখন আমরা খতিব আল-কাযউইনি (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরি) পর্যন্ত আসি, তখন আমরা দেখি যে বালাগাত তাঁর নিকট তার চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করেছে। তিনি ফাসাহাত ও বালাগাতের মধ্যে অত্যন্ত স্পষ্ট পার্থক্য করেছেন এবং বালাগাতের সংজ্ঞা দিয়েছেন এই বলে যে: "বক্তব্য প্রাঞ্জল (ফাসিহ) হওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী হওয়া (৩)। এরপর তিনি এই মন্তব্যের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন: "আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে দুটি বিষয় জানা গেল:

এক: প্রত্যেক অলঙ্কারপূর্ণ (বালিগ) ব্যক্তিই প্রাঞ্জলভাষী (ফাসিহ), কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়:

দুই: বক্তব্যের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বালাগাতের মূল ভিত্তি হলো উদ্দীষ্ট অর্থ প্রকাশে ভুল থেকে বেঁচে থাকা এবং প্রাঞ্জল বক্তব্যকে অপ্রাঞ্জল বক্তব্য থেকে পৃথক করা।

--------------------------------------------

(১) আল-মাসালুস সাইর ১/ ৭।

(২) আল-মিফতাহ পৃষ্ঠা ২২০।

(৩) আল-ইদাহ পৃষ্ঠা ৮।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১৪)
على أننا نأخذ على الخطيب القزويني، أنه أخرج المحسنات البديعية من دائرة البلاغة، فلم يجعلها أصلية فيها، وإنما جعلها ذيلاً من ذيولها، وذنباً من أذنابها، لا تجئ إلا تابعة ولا تسموا إلى آفاق الذاتية والأصالة.

فقد قال - بعد أن عرف بلاغة الكلام -: "وتتبعها وجوه أخرى تورث الكلام حسناً".

وعلق سعد الدين التفتازاني - المتوفى 792 هـ على كلامه هذا بقوله: "أي: وتتبع بلاغة الكلام وجوه أخرى سوى المطابقة والفصاحة تورث الكلام حسناً وفي قوله: (وتتبعها) إشارة إلى أن تحسين هذه الوجوه للكلام عرضي خارج عن حد البلاغة، وأن هذه إنما تعد محسنة بعد رعاية المطابقة والفصاحة" (1).

وقد توهم بعض المعاصرين (2) أن الخطيب قد جعل مصطلح البلاغة شاملاً المعاني والبيان، والبديع، وأن ذلك منه يعد ميزة اختص بها، وأنه يحمد عليها، فقال:

"من هذا كله ندرك الميزة التي يمتاز بها تعريف الخطيب للبلاغة، والتي تمثلت في أن الرجل قد جعل هذا المصطلح يشمل المعاني والبيان، والبديع".

فكيف يكون الخطيب قد جعل مصطلح البلاغة شاملاً للمعاني والبيان والبديع؛ مع أنه هو نفسه قد جعل البلاغة راجعة إل علمي المعاني والبيان ثم قال: "وتتبعها وجوه أخرى تورث الكلام حسناً"؟ ! وصحيح أن المحسنات البديعية يمكن أن تدخل تحت مطابقة الكلام لمقتضى الحال إذا

--------------------------------------------

(1) الصبغ البديعي ص 498.

(2) الصور البيانية للدكتور حفني شرف ص 19.
তবে আমরা খতিব আল-কাযউইনীকে এই বিষয়ে অভিযুক্ত করি যে, তিনি অলঙ্কারিক সৌন্দর্যসমূহকে (আল-মুহাসসিনাত আল-বাদিঈয়াহ) বালাগাতের পরিধি থেকে বের করে দিয়েছেন। তিনি এগুলোকে বালাগাতের মৌলিক বিষয় হিসেবে গণ্য করেননি, বরং একে এর একটি অনুষঙ্গ ও লেজুড় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা কেবল অনুগামী হিসেবেই আসে এবং স্বকীয়তা ও মৌলিকত্বের দিগন্তে পৌঁছাতে পারে না।

তিনি - বক্তব্যের প্রাঞ্জলতার (বালাগাতুল কালাম) সংজ্ঞা প্রদানের পর - বলেছেন: "এবং এর পরে অন্যান্য দিক অনুগামী হয় যা বক্তব্যকে সৌন্দর্য দান করে।"

এবং সাদ আদ-দীন আত-তাফতাজানী - মৃত্যু ৭৯২ হিজরী - তাঁর এই বক্তব্যের উপর মন্তব্য করে বলেছেন: "অর্থাৎ: সামঞ্জস্যতা (মুতাবাকাত) এবং সাবলীলতা (ফাসাহাত) ছাড়াও বালাগাতুল কালামের অনুগামী এমন আরও কিছু দিক রয়েছে যা বক্তব্যকে সৌন্দর্য দান করে। তাঁর 'এবং এর অনুগামী হয়' উক্তিটির মাধ্যমে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দিকগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন হলো আপতিক যা বালাগাতের সীমানার বাইরে। আর এগুলোকে তখনই সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে গণ্য করা হবে যখন সামঞ্জস্যতা এবং সাবলীলতার প্রতি লক্ষ্য রাখা হবে" (১)।

কিছু সমসাময়িক লেখক (২) ভুলবশত ধারণা করেছেন যে, খতিব 'বালাগাত' পরিভাষাটিকে মাআনি, বায়ান এবং বাদিঈ - এই তিনটিরই অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর এটি তাঁর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হয় যার জন্য তিনি প্রশংসিত। তিনি বলেছেন:

"এই সবকিছু থেকে আমরা খতিবের বালাগাতের সংজ্ঞার সেই বৈশিষ্ট্যটি উপলব্ধি করতে পারি, যা ফুটে উঠেছে এই বিষয়ের মাধ্যমে যে, তিনি এই পরিভাষাটিকে মাআনি, বায়ান এবং বাদিঈ-র অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"

তাহলে খতিব কীভাবে বালাগাত পরিভাষাটিকে মাআনি, বায়ান ও বাদিঈ-র অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন; অথচ তিনি নিজেই বালাগাতকে ইলমুল মাআনি এবং ইলমুল বায়ানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "এবং এর পরে অন্যান্য দিক অনুগামী হয় যা বক্তব্যকে সৌন্দর্য দান করে"?! আর এটি সঠিক যে, অলঙ্কারিক সৌন্দর্যসমূহকে (আল-মুহাসসিনাত আল-বাদিঈয়াহ) বক্তব্যের পরিস্থিতির দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব যদি

--------------------------------------------

(১) আস-সিবগুল বাদিঈ, পৃষ্ঠা ৪৯৮।

(২) আস-সুওয়ারুল বায়ানিয়্যাহ, ডক্টর হিফনী শরাফ, পৃষ্ঠা ১৯।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১৫)
اقتضاها المقام - ولكن الخطيب نفسه لم يكن يقصد هذه المطابقة، بدليل قوله السابق.

وعلى أية حال: فقد ظل تعريف الخطيب القزويني للبلاغة العربية أهم تعريف التف حوله الباحثون والدارسون إلى يومنا هذا.

فقد وقف منه قوم موقف الاحترام والإكبار، فلم يحاولوا الانتفاض منه أو الزيادة عليه. ووقف منه قوم آخرون موقف النقد والشك والاتهام.

أما من وقفوا منه موقف الاحترام والإكبار، فقد تناولوه بالشرح والتفسير والتوضيح والتعليق.

وأما من وقفوا منه موقف النقد: فقد ثاروا عليه، ورأوا أن يستبدل بتعريف آخر بل وأن تدرس البلاغة العربية دراسة جديدة تنظم أبحاثها وموضوعاتها تنظيماً جديداً يختلف تماماً عما تعارف عليه البلاغيون القدماء بحيث يشمل المعارف الإنسانية التي تحتاج إليها دراسة البلاغة في العصر الحديث.
পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী - কিন্তু খতিব নিজে এই সামঞ্জস্য বা সাদৃশ্য উদ্দেশ্য করেননি, যার প্রমাণ তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্য।

যাই হোক না কেন: খতিব আল-কাযউইনি কর্তৃক আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগা) যে সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, তা বর্তমান সময় পর্যন্ত গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিকট সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা হিসেবে সমাদৃত।

একদল বিশেষজ্ঞ এর প্রতি শ্রদ্ধা ও মাহাত্ম্যের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছেন, ফলে তারা এই সংজ্ঞা থেকে বিচ্যুত হওয়ার বা এতে নতুন কিছু যোগ করার চেষ্টা করেননি। পক্ষান্তরে অন্য একদল এর প্রতি সমালোচনা, সংশয় ও আপত্তির দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন।

যারা শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে এটি গ্রহণ করেছেন, তারা এর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, বিশদ বর্ণনা ও টীকা প্রণয়নে ব্যাপৃত হয়েছেন।

আর যারা সমালোচনার পথ বেছে নিয়েছেন, তারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং এই সংজ্ঞাকে অন্য কোনো সংজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। শুধু তাই নয়, তারা আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রকে এমন এক নতুন আঙ্গিকে পাঠ করার প্রস্তাব দিয়েছেন যা এর গবেষণা ও বিষয়বস্তুগুলোকে প্রাচীন অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ বিপরীতে নতুনভাবে বিন্যস্ত করবে; যাতে আধুনিক যুগে অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানবীয় জ্ঞানসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১৬)
- 1 -

‌‌(ب) مراحل البحث البلاغي:

اشتهر العرب - في جاهليتهم - بفصاحة اللسان وبلاغة القول، وجمال التعبير؛ كما اشتهروا بالإيجاز والاختصار في أقوالهم. والبعد عن فضول الكلام في أحاديثهم، حتى يكون كلامهم مؤدياً للغرض المقصود من أقرب طريق.

وقد بلغوا في إتقان أقوالهم، وتهذيب كلامهم. وتنسيق عباراتهم، مبلغاً جعل الجاحظ يدعي للعرب الفضل على الأمم (1) قاطبة في الخطابة والبلاغة، فقد كان فيهم (2) الخطباء المصانع، والشعراء المتلقون.

وقد وصفوا كلامهم في أشعارهم فجعلوها كبرود العصب، وكالحلل والمعاطف، والديباج والوشى وأشباه (3) ذلك ووصف الجاحظ كلامهم يكرم الديباجة. وعجيب الرونق، وجودة السبك والنحت، مما لا يستطيع أشعر الناس - على حد تعبيره - ولا أرفعهم في البيان أن يقول مثله إلا في اليسير النادر (4).

وهذا خالد بن صفوان يقول عنهم: كيف نجاريهم، وإنما نحكيهم، أم كيف نسابقهم وإنما نجري على ما سبق إلينا من أعراقهم (5)؟

--------------------------------------------

(1) ثلاث رسائل في إعجاز القرآن ص 117.

(2) المصدر السابق ص 22.

(3) البيان والتبيين ج 2 ص 90 (الطبعة الأولى بالمطبعة العلمية سنة 1211 هـ).

(4) ثلاث رسائل في إعجاز القرآن ص 118.

(5) نفس المصدر.
- ১ -

‌‌(খ) অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার পর্যায়সমূহ:

আরবরা—তাদের জাহিলী যুগে—ভাষার প্রাঞ্জলতা, বক্তব্যের অলঙ্কারিতা এবং অভিব্যক্তির সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত ছিল; একইভাবে তারা তাদের উক্তিতে সংক্ষিপ্ততা ও পরিমিতিবোধের জন্যও প্রসিদ্ধ ছিল। তারা তাদের কথাবার্তায় অপ্রয়োজনীয় আলাপ পরিহার করত, যাতে তাদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ততম উপায়ে উদ্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে।

তারা তাদের বক্তব্যকে নিখুঁত করা, কথাবার্তাকে পরিশীলিত করা এবং শব্দবিন্যাসকে সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে এমন এক শিখরে পৌঁছেছিল যে, আল-জাহিজ বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রে আরবদের বিশ্বের সকল জাতির (১) ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করেছেন। কেননা তাদের মধ্যে সুনিপুণ বাগ্মী এবং গভীর বোধসম্পন্ন কবিরা বিদ্যমান ছিলেন (২)।

তারা তাদের কাব্যে নিজেদের বক্তব্যকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে ইয়ামেনি নকশাদার চাদর, মহামূল্যবান রাজকীয় পোশাক, রেশমি বস্ত্র ও কারুকার্যখচিত কাপড়ের (৩) সাথে তুলনা করেছেন। আল-জাহিজ তাদের বক্তব্যকে শ্রেষ্ঠ রেশমি বস্ত্রের ন্যায় চমৎকার সূচনা, বিস্ময়কর লাবণ্য এবং শব্দশৈলী ও কাঠামোর অনন্য উৎকর্ষতার দ্বারা বর্ণনা করেছেন, যার ফলে তাঁর ভাষায়—শ্রেষ্ঠ কবি বা বাগ্মিতার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিও তার অনুরূপ কিছু বলতে সক্ষম ছিল না, অতি সামান্য এবং বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত (৪)।

আর এই খালিদ বিন সাফওয়ান তাদের সম্পর্কে বলেন: আমরা কীভাবে তাদের সমকক্ষ হব, অথচ আমরা কেবল তাদের অনুকরণ করি? অথবা কীভাবে আমরা তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় লড়ব, অথচ আমরা কেবল তাদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করেই পথ চলছি (৫)?

--------------------------------------------

(১) কুরআনের মুজিযা বিষয়ক তিনটি রিসালাহ, পৃষ্ঠা ১১৭।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২২।

(৩) আল-বায়ান ওয়াত তাবিঈন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯০ (আল-মাতবাআহ আল-ইলমিয়্যাহ কর্তৃক মুদ্রিত প্রথম সংস্করণ, ১২১১ হিজরি)।

(৪) কুরআনের মুজিযা বিষয়ক তিনটি রিসালাহ, পৃষ্ঠা ১১৮।

(৫) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد وصفهم الله تعالى بالجدل، واللدد في الخصومة؛ فقال - جل وعلا -: "ما ضربوه لك إلا جدلاً؛ بل هم قوم خصمون (1)، وقال - سبحانه -: {وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْماً لُدّاً} (2).

فإذا ما علمنا بأن البيان كان عند الجاهلين متى إمارات السيادة وشروطها، ودليلاً على اكتمال النباهة وأماراتها، علمنا بأنهم كانوا قد أوتوا حظاً من الإفصاح وقوة الإبانة لم تؤته أمة من الأمم.

فقد ذكر الجاحظ في كتاب "شرائع المروءة" أن العرب كانت تسود على أشياء .. وكان أهل المدينة لا يسودون إلا من تكاملت فيه ست خصال: السخاء، والنجدة، والصبر، والحلم، والتواضع، والبيان، وصار في الإسلام سبعاً (3).

ولعل السر في تفوق الجاهليين على غيرهم في الفصاحة والبلاغة: أنهم كانوا أميين؟ لا يقرأون ولا يكتبون، ولم يكن لهم من وسيلة تحفظ أيامهم ووقائعهم، وأخلاقهم ومكارمهم وأحسابهم، وأنسابهم إلا الذاكرة التي تعتمد اللسان أساساً في نشرها وإذاعتها، وإظهار ما خفي منها.

ولهذا فإنهم قد اجتهدوا في أن تكون كلماتهم معبرة أصدق تعبير، وأوضحه، وأجعله، عما نجيش به نفوسهم، وما تعتمل به صدورهم، وما تختزنه ذاكرتهم.

فقد كان اللسان - إذن - أداتهم الوحيدة في نقل أفكارهم وأخبارهم. والتعبير عن أمالهم وآلامهم، والتغني بما تعتمل به صدورهم من شوق وحنين إلى مرابعهم التي كانوا غالباً ما يرحلون عنها طلباً للماء والمرعى. إذا ما أجدبت، وخلت من متطلبات الحياة.

--------------------------------------------

(1) الزخرف: 580.

(2) مريم: 97.

(3) خزانة الأدب للبغدادي ج 3 ص 95.
মহান আল্লাহ তাদেরকে ঝগড়া এবং বিবাদে কঠোরতা দ্বারা বিশেষিত করেছেন; সুতরাং তিনি - মহিমান্বিত ও গরীয়ান - বলেছেন: "তারা আপনার সামনে এ উদাহরণ কেবল তর্কের উদ্দেশ্যেই পেশ করেছে; বরং তারা এক ঝগড়াটে জাতি (১)", এবং তিনি - পবিত্রতা তাঁরই - বলেছেন: {এবং যাতে আপনি এর মাধ্যমে এক কঠোর ঝগড়াটে জাতিকে সতর্ক করতে পারেন} (২)।

যখন আমরা জানতে পারি যে, জাহেলি যুগের মানুষের নিকট বাগ্মিতা ছিল নেতৃত্বের অন্যতম নিদর্শন ও শর্ত এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তার পূর্ণতা ও তার লক্ষণের প্রমাণ, তখন আমরা বুঝতে পারি যে, তাদেরকে এমন প্রকাশভঙ্গি ও সাবলীল বাগ্মিতা দান করা হয়েছিল যা অন্য কোনো জাতিকে প্রদান করা হয়নি।

আল-জাহিজ তার "শারায়েউল মুরুয়্যাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আরবরা কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে নেতৃত্ব লাভ করত... এবং মদিনাবাসীরা কেবল তাকেই নেতা বানাতো যার মধ্যে ছয়টি গুণের পূর্ণতা পাওয়া যেত: বদান্যতা, বীরত্ব, ধৈর্য, সহনশীলতা, বিনয় এবং বাগ্মিতা; যা ইসলামের যুগে সাতটিতে উন্নীত হয় (৩)।

সম্ভবত অন্যদের তুলনায় জাহেলি যুগের মানুষের ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্বের রহস্য ছিল এই যে, তারা নিরক্ষর ছিল? তারা পড়তে বা লিখতে পারত না, এবং তাদের ইতিহাস ও ঘটনাবলী, তাদের চরিত্র ও মহত্ব এবং তাদের মর্যাদা ও বংশপরিচয় সংরক্ষণের জন্য স্মৃতিশক্তি ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম ছিল না, যা প্রচার ও প্রসারে এবং অপ্রকাশিত বিষয়গুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে মূলত জিহ্বার ওপরই নির্ভর করত।

এই কারণে, তারা তাদের শব্দগুলোকে তাদের মনে যা আন্দোলিত হয়, তাদের হৃদয়ে যা উথলে ওঠে এবং তাদের স্মৃতিতে যা জমা থাকে, তার সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ, স্পষ্ট এবং কার্যকর অভিব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করত।

অতএব, তাদের চিন্তা ও সংবাদ আদান-প্রদান এবং তাদের আশা ও বেদনা প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম ছিল জিহ্বা। এছাড়া তাদের হৃদয়ে লালিত সেইসব বসতবাড়ির প্রতি অনুরাগ ও বিরহের বহিঃপ্রকাশও ছিল এর কাজ, যা থেকে তারা পানি ও তৃণভূমির সন্ধানে প্রায়ই চলে যেত, যখন চারণভূমি অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে যেত এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী হতে শূন্য হয়ে পড়ত।

--------------------------------------------

(১) আয-যুখরুফ: ৫৮।

(২) মারইয়াম: ৯৭।

(৩) বাগদাদীর খিযানাতুল আদাব, ৩য় খণ্ড, ৯৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولهذا - أيضاً - كنوا باللسان عن اللغة؛ فقال أعشى بأهلة:

إني أتتني لسان لا أسر بها … من علو لا عجب منها ولا سخر

قال ابن بري: اللسان هنا: الرسالة والمقالة؛ ومثله قول الآخر:

أتتني لسان بني عامر … أحاديثها بعد قول نكر

ومنه قول الله تعالى: {وَمِنْ آَيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ} (1).

ولهذا قالوا: رجل لسن، بين اللسن إذا كان ذا بيان وفصاحة، وقد سمى الله تعالى القرآن لساناً؛ فقال عز من قائل: {وَهَذَا كِتَابٌ مُصَدِّقٌ لِسَاناً عَرَبِيّاً} (2).

على أنهم وإن كانوا يحبون البيان والطلاقة والتحبير والبلاغة والتخلص والرشاقة - كما يقول الجاحظ - فإنهم كانوا يكرهون السلاطة والهذر والتكلف والإسهاب والإكثار؛ لما في ذلك من التزيد والمباهاة وإتباع الهوى والمنافسة في العلو والقدر كما كانوا يكرهون الفضول في البلاغة؛ لأن ذلك يدعو إلى السلاطة، والسلاطة تدعو إلى البذاء (3).

أما نقدهم فقد نظروا فيه إلى انسجام الوزن؛ كما صنع أهل يثرب مع النابغة الذبياني؛ فقد أقوى في قوله:

أمن آل مية رائح أو مغتد … عجلان ذا زاد وغير مزود

زعم البوارح أن رحلتنا غداً … وبذاك خبرنا الغراب الأسود

فلما قدم المدينة عابوا عليه ذلك، ولكنه لم يأبه لقولهم؛ حتى

--------------------------------------------

(1) الروم: 22.

(2) لسان العرب مادة (ل س ن).

(3) البيان والتبيين ج 2 ص 79.
একারণে তারা ভাষার পরিবর্তে ‘লিসান’ বা জিহ্বা শব্দটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করতেন। যেমন আ’শা বাহিলা বলেছেন:

নিশ্চয়ই আমার নিকট একটি বার্তা এসেছে যাতে আমি আনন্দিত নই … উচ্চস্থান থেকে আগত, এতে কোনো বিস্ময় বা বিদ্রূপ নেই

ইবনে বাররি বলেন: এখানে ‘লিসান’ অর্থ হলো বার্তা ও বক্তব্য। অন্য এক কবির বাণীতেও একই বিষয় দেখা যায়:

বনু আমিরের পক্ষ থেকে আমার নিকট বার্তা এসেছে … শ্রুতিকটু কথার পর তার নানা সংবাদ

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য} (১)।

একারণে তারা বলতেন: ‘ল্যাসিন’ ব্যক্তি (সুভাষী), যখন সে প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারপূর্ণ বাগ্মিতার অধিকারী হয়। আর মহান আল্লাহ কুরআনকে ‘লিসান’ (ভাষা) হিসেবে অভিহিত করেছেন; প্রতাপশালী সত্তা বলেছেন: {আর এটি একটি প্রত্যায়নকারী কিতাব, যা আরবি ভাষায়} (২)।

যদিও তারা বাগ্মিতা, বাকপটুতা, শব্দবিন্যাস, অলঙ্কারশাস্ত্র, সাবলীলতা ও লাবণ্য পছন্দ করতেন—যেমনটি আল-জাহিজ বলেছেন—তথাপি তারা বাচালতা, প্রলাপ বকা, কৃত্রিমতা, অনর্থক দীর্ঘায়ন ও বাহুল্য বর্জন করতেন। কারণ এতে অতিরঞ্জন, অহংকার, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং মর্যাদা ও সম্মানের লড়াইয়ের অবকাশ থাকে। যেমন তারা অলঙ্কারশাস্ত্রে অনর্থক বাড়াবাড়ি অপছন্দ করতেন; কেননা তা বাচালতার দিকে নিয়ে যায়, আর বাচালতা অশ্লীলতার জন্ম দেয় (৩)।

তাদের সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে তারা ছন্দের সামঞ্জস্যের দিকে লক্ষ্য রাখতেন; যেমনটি ইয়াসরিববাসীরা নাবিগা আল-জুবইয়ানির সাথে করেছিলেন। তিনি তার এই পঙ্ক্তিতে ‘ইকওয়া’ (ছন্দপতন) করেছিলেন:

মিয়্যার পরিজনদের মধ্য থেকে কেউ কি সন্ধ্যা বা ভোরে দ্রুতগামী হচ্ছে … পাথেয় নিয়ে কিংবা পাথেয়হীন অবস্থায়

অশুভ পাখির দল ধারণা করছে যে আমাদের যাত্রা হবে আগামীকাল … আর কালো দাঁড়কাক আমাদের সেই খবর দিয়েছে

যখন তিনি মদিনায় আসলেন, তারা এর ত্রুটি ধরলেন, কিন্তু তিনি তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি; যতক্ষণ না

--------------------------------------------

(১) আর-রুম: ২২।

(২) লিসানুল আরব, ‘ল-স-ন’ মূল ধাতু।

(৩) আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২য় খণ্ড, ৭৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ১৯)
أسمعوه إياه في غناء؛ وأهل القرى ألطف نظراً من أهل البدو، فقالوا للجارية: إذا صرت إلى القافية فرتلي، فلما قالت: "الغراب الأسود" بالضم مع أن القافية مكسورة، علم فانتبه، فلم يعد فيه، وقال: قدمت الحجاز وفي شعري ضعة، ورحلت عنها وأنا أشعر الناس (1).

كما أنهم نظروا إلى المعنى وصوابه، كالذي تجده في قصة طرفة مع المسيب بن علس، فقد مر المسيب بمجلس بني قيس بن ثعلبة فاستنشدوه فأنشدهم، فلما بلغ قوله:

وقد أتناسى الهم عند إدكاره … بناج عليه الصيعرية مكدم

فقال طرفة: "أستنوق الجمل".

وأساس نقد طرفة للمسيب: أنه وصف الجمل بما توصف به الناقة؛ إذا أنهم قالو للناقة: ناجية ولم يقولوا للبعير: ناج (2).

ونظروا إلى المقام وما يقتضيه من كلام، كالذي رووه من أن النابغة الذبياني كان حكم العرب في الجاهلية وكانوا يضربون له قبه من أدم بسوق عكاظ، فتأتيه الشعراء فتعرض عليه أشعارها، فيقول فيه كلمته فتسير في الناس، ولا يستطيع أحد أن ينقضها؛ قالوا: وقد جلس النابغة للفصل مرة وتقاطر عليه الشعراء ينشدون بين يديه آخر ما أحدثوه من الشعر، أو أجود ما أحدثوه. وكان فيمن أنشده: أبو بصير ميمون أعشى بني قيس، فما إن سمع قصيدته حتى قضى له، ثم جاء من بعده شعراء كثيرون فيهم حسان بن ثابت الأنصاري، فأنشدوه، وجاءت في أخريات القوم: تماضر بنت عمرو بن الشريد، الخنساء، فأنشدته رائيتها التي ترثى فيها أخاها صخراً، والتي تقول فيها:

--------------------------------------------

(1) الموشح للمرزباني ص 38.

(2) القاموس المحيط ج 4 ص 157.
তারা গান গেয়ে তাকে এটি শুনিয়েছিল; আর গ্রামবাসীগণ বেদুইনদের তুলনায় অধিকতর সূক্ষ্ম দৃষ্টির অধিকারী। তারা দাসীকে বলল: যখন তুমি অন্ত্যমিলে (কাফিয়ায়) পৌঁছাবে, তখন তা ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে পাঠ করবে। ফলে যখন সে 'আল-গুরাব আল-আসওয়াদু' পেশ (দম্মাহ্) দিয়ে পাঠ করল, অথচ অন্ত্যমিলটি ছিল জের (কাসরাহ্) যুক্ত, তখন তিনি বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং সচেতন হলেন, ফলে তিনি আর তাতে লিপ্ত হননি। তিনি বললেন: আমি যখন হিজাজে এসেছিলাম তখন আমার কবিতায় দুর্বলতা ছিল, আর যখন সেখান থেকে প্রস্থান করছি তখন আমি শ্রেষ্ঠ কবি।

তেমনিভাবে তাঁরা অর্থের দিকে এবং এর সঠিকতার দিকেও লক্ষ্য করতেন, যেমনটি আপনি মুসাইয়াব বিন আলাস-এর সাথে তারাফাহর গল্পে খুঁজে পান। মুসাইয়াব বনু কায়স বিন সা'লাবাহর মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা তাঁকে কবিতা শোনাতে অনুরোধ করল এবং তিনি তাদের শোনালেন। যখন তিনি তাঁর এই বাণীতে পৌঁছালেন:

এবং আমি উদ্বেগের কথা মনে পড়লে তা ভুলে থাকার চেষ্টা করি... একটি দ্রুতগামী উটের মাধ্যমে যার ওপর সায়আরিয়া চিহ্ন বিদ্যমান। …

তখন তারাফাহ বললেন: "পুরুষ উট উষ্ট্রী হয়ে গিয়েছে।"

মুসাইয়াব-এর প্রতি তারাফাহর সমালোচনার মূল ভিত্তি ছিল এই যে: তিনি একটি পুরুষ উটকে এমন বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন যা দ্বারা স্ত্রী উটকে (উষ্ট্রী) বিশেষিত করা হয়; কারণ তারা উষ্ট্রীকে বলত 'নাজিয়াহ' (দ্রুতগামী), কিন্তু পুরুষ উটকে 'নাজ' বলত না (২)।

এবং তাঁরা প্রেক্ষাপট এবং পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী বাক্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, যেমনটি তারা বর্ণনা করেছেন যে, নাবিগাহ আল-জুবইয়ানি জাহেলিয়াত যুগে আরবদের বিচারক ছিলেন এবং উকাযের বাজারে তাঁর জন্য চামড়ার একটি তাবু স্থাপন করা হতো। সেখানে কবিরা তাঁর কাছে আসতেন এবং তাদের কবিতাগুলো তাঁর কাছে পেশ করতেন। এরপর তিনি সে সম্পর্কে তাঁর রায় প্রদান করতেন যা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ত, এবং কেউ তা খণ্ডন করতে পারত না। তারা বর্ণনা করেন: একবার নাবিগাহ বিচারকার্যের জন্য বসলেন এবং কবিরা একে একে তাঁর সামনে তাদের নবীনতম অথবা তাদের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো আবৃত্তি করতে লাগলেন। যারা তাঁর কাছে আবৃত্তি করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন: আবু বাসীর মায়মুন আল-আ'শা, বনু কায়স গোত্রের। তিনি তার কাসিদা শোনামাত্রই তার শ্রেষ্ঠত্বের রায় দিলেন। এরপর তাঁর কাছে অনেক কবি আসলেন, যাঁদের মধ্যে হাসসান বিন সাবিত আল-আনসারিও ছিলেন, তাঁরাও আবৃত্তি করলেন। সবশেষে আসলেন: তামাদুর বিনতে আমর বিন আশ-শারীদ, যিনি আল-খানসা নামে পরিচিত। তিনি তাঁর সেই 'রা' ছন্দযুক্ত শোকগাথাটি (রাইয়াহ) পাঠ করলেন যাতে তিনি তাঁর ভাই সাখরের শোক প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন:

--------------------------------------------

(১) আল-মুওয়াশশাহ লীল মারযুবানি, পৃ. ৩৮।

(২) আল-কামুস আল-মুহিত, খণ্ড ৪, পৃ. ১৫৭।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২০)
وإن صخراً لتأتم الهداة به … كأنه علم في رأسه نار

فيروقه هذا الكلام ويأخذ بمجامعه، فيقول للخنساء لولا أن أبا بصير أنشدني آنفاً لقلت: إنك أشعر الجن والإنس، ويسمع حسان ذلك فتأخذه الغيرة ويذهب الغضب بتجلده، فيقول للنابغة: "أنا - والله - أشعر منها، ومنك، ومن أبيك: فيقبل عليه أبو إمامة، فيسأله: "حيث تقول ماذا؟ فيقول: حيث أقول:

لنا الجفنات الغر، يلمعن بالضحى … وأسيافنا يقطرن من نجدة دما

ولدنا بني العنقاء وابني محرق … فأكرم بنا خالا، وأكرم بنا ابنما

فيقبل عليه النابغة، فيقول له: "إنك شاعر، ولكنك أقللت حنانك، وسيوفك، وقلت يلمعن بالضحى، ولو قلت: "يبرقن بالدجى" لكان أبلغ في المديح، لأن الضيف في الليل أكثر، وقلت: "يقطرن من نجدة دماً" ولو قلت: "يجرين" لكان أكثر لأنصاب الدم.

كما أنهم قد رووا - أن النابغة قدم المدينة فدخل السوق، فنزل عن راحلته، ثم جثا على ركبته، ثم اعتمد على عصاه، ثم قال: ألا رجل ينشد؟ فتقدم إليه قيس بن الخطيم فجلس بين يديه وأنشده:

أتعرف رسماً كاطراد المذهب؟

فلم يزد على نصف بيت حتى قال له: أنت أشعر الناس يا ابن أخي!

هكذا حدثنا الرواة، وليس يعنينا أن تصدق هذه الروايات أو تكذب، لأن لها على أية حال دلالة صادقة على ما نريد أن نقوله هنا، وهو أن للعلماء الذين رووا شعر الجاهليين، كانوا يعرفون للعرب في جاهليتهم بصراً
আর নিশ্চয়ই সাখর এমন একজন, পথপ্রদর্শকরা যাকে অনুসরণ করে … যেন সে এমন এক পাহাড় যার চূড়ায় অগ্নি প্রজ্বলিত।

এই কথাগুলো তাকে মুগ্ধ করল এবং তার হৃদয় জয় করে নিল। অতঃপর তিনি খানসাকে বললেন: "যদি আবু বাসির (আশা) কিছুক্ষণ আগে আমাকে কবিতা না শোনাতেন, তবে আমি বলতাম: তুমি জিন ও ইনসানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি।" হাসসান তা শুনলেন এবং তার মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ জেগে উঠল, রাগের চোটে তার ধৈর্য চ্যুত হলো। তিনি নাবিগাকে বললেন: "আল্লাহর কসম! আমি তোমার চেয়ে, উনার চেয়ে এবং উনার পিতার চেয়েও বড় কবি।" তখন আবু উমামা (নাবিগা) তার দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করলেন: "তুমি কোন কবিতায় এমন বলেছ?" তিনি বললেন: "যেখানে আমি বলেছি:

আমাদের রয়েছে উজ্জ্বল বড় বড় পাত্র, যা পূর্বাহ্নের আলোতে চমকায় … আর আমাদের তরবারিগুলো বীরত্ববশত রক্ত ঝরায়।

আমরা জন্ম দিয়েছি বনী আনকা এবং মুহররিকের দুই পুত্রকে … সুতরাং আমাদের মতো মামা কতই না শ্রেষ্ঠ, এবং আমাদের মতো ভাগ্নে কতই না শ্রেষ্ঠ!

অতঃপর নাবিগা তার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "তুমি নিশ্চয়ই একজন কবি, কিন্তু তুমি তোমার পাত্র ও তরবারিগুলোর সংখ্যা কমিয়ে বলেছ। আর তুমি বলেছ সেগুলো পূর্বাহ্নের আলোতে চমকায়; যদি তুমি বলতে সেগুলো 'অন্ধকার রাতে বিদ্যুতের মতো চমকায়', তবে তা প্রশংসার ক্ষেত্রে আরও বেশি অর্থবহ হতো। কারণ রাতে মেহমান বেশি আসে। আর তুমি বলেছ 'রক্ত ঝরে', যদি তুমি বলতে 'রক্ত প্রবাহিত হয়', তবে তা অধিক রক্তপাতের বর্ণনায় শ্রেষ্ঠ হতো।

তদ্রূপ বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন যে— নাবিগা মদিনায় আসলেন এবং বাজারে প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি তার সওয়ারি থেকে নামলেন, হাঁটু গেড়ে বসলেন এবং তার লাঠির ওপর ভর দিলেন। তারপর বললেন: 'এমন কেউ আছে কি যে কবিতা আবৃত্তি করবে?' তখন কায়স ইবনুল খাতীম তার দিকে এগিয়ে আসলেন এবং তার সামনে বসে তাকে শোনালেন:

তুমি কি সেই চিহ্ন চিনতে পারো যা স্বর্ণের পাতের প্রসারণের মতো?

তিনি একটি চরণের অর্ধেকও পার করেননি, এর মধ্যেই তিনি তাকে বললেন: 'হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমিই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি!'

বর্ণনাকারীরা আমাদের এভাবেই বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনাগুলো সত্য নাকি মিথ্যা তা আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয় নয়; কারণ যাই হোক না কেন, আমরা এখানে যা বলতে চাচ্ছি তার ওপর এগুলোর একটি সত্য দিকনির্দেশনা রয়েছে। আর তা হলো, জাহেলি যুগের কবিদের কাব্য যারা বর্ণনা করেছেন সেই আলেমগণ জানতেন যে, জাহেলি আরবরা কাব্যশৈলী বিচারে অত্যন্ত বিচক্ষণ ছিল।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২১)
بالنقد، وعلماً بما تقتضيه أحوال الكلام، من القصد في القول أحياناً، والمبالغة فيه أحياناً أخرى، وكان لهم مع ذلك خبرة بما يحسن أن يستعمل من الكلام في مواطن كالفخر دون غيره، وبما يجمل بالمتكلم أن يهجره ولا يعمد إليه (1).

على أن الجاهليين في نقدهم لم يكتفوا بالنظر إلى صحة الوزن وانسجامه، وإلى المعنى وصوابه فحسب، وإنما تعدت نظرتهم إلى القصيدة بتمامها، كما يتضح لك هذا من اختيارهم للمعلقات، وإلى نتاج الشاعر جميعه، كما يتضح لك من نبذهم عدى بن ربيعة بالمهلهل لما رأوا في شعره من اختلاف واضطراب (2)، وكما يتضح لك من تلقييهم شعراءهم بألقاب تدل على مدى إحسانهم في رأيهم، كالمرقش، والمثقب، والمنخل، والمتنخل، والأفوة، والنابغة (3).

ومن هذه الروايات وأمثالها مما لم يتسع المجال لذكره، نجد أن العرب في جاهليتهم كان لهم بصر بنقد الأساليب، ومعرفة بما يجدر أن يكون عليه الكلام من مطابقة لمقتضى الحال، وملاءمة الألفاظ والمعاني، وعناية بتصوير المعاني صوراً رائعة أخاذة، واهتمام بما يجب أن يبدو فيه الأسلوب من خلال الجمال اللفظي والمعنوي.

على أننا نقرأ في تاريخ الأدب العربي أن زهيراً صاحب الحوليات، وهي القصائد التي كانت ينظمها وبعيد النظر فيها حولاً كاملاً حتى يستقيم بناؤها، ويصح نظمها، ويصبح خالياً من التعقيد، بعيداً من كل ما قد يكون مظنة القدح أو النقد.

--------------------------------------------

(1) تهذيب السعد ج 1 ص 6.

(2) محاضرات في تاريخ البلاغة العربية للدكتور/ محمد عبد الرحمن الكودي ص 9.

(3) البلاغة تطور وتاريخ د/ شوقي صيف ص 10.
সমালোচনার মাধ্যমে এবং বক্তব্যের প্রেক্ষাপট যা দাবি করে—কখনও বক্তব্যের সংক্ষিপ্ততা ও পরিমিতিবোধ, আবার কখনও তাতে অতিশয়োক্তি সম্পর্কে জ্ঞান রাখার মাধ্যমে তারা পরিচিত ছিলেন। এর পাশাপাশি কোন স্থানে কীরূপ বক্তব্য ব্যবহার করা সমীচীন—যেমন অন্য বিষয়ের তুলনায় আত্মশ্লাঘার ক্ষেত্রে—এবং বক্তার জন্য কোন বিষয়গুলো পরিহার করা শোভনীয় ও কোন দিকে ধাবিত হওয়া অনুচিত, সে সম্পর্কেও তাদের অভিজ্ঞতা ছিল (১)।

তবে জাহেলি যুগের মানুষ তাদের সমালোচনায় কেবল ছন্দের সঠিকতা ও সামঞ্জস্য এবং অর্থের শুদ্ধতার প্রতি নজর দিয়েই ক্ষান্ত হতেন না; বরং তাদের দৃষ্টি সম্পূর্ণ কাসিদার ওপর প্রসারিত ছিল, যেমনটি আপনাদের কাছে তাদের মুআল্লাকাত নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। এমনকি তা কবির সামগ্রিক সৃষ্টির ওপরও বিস্তৃত ছিল, যেমনটি স্পষ্ট হয় আদি বিন রাবিয়াহকে 'মুহালহিল' হিসেবে বর্জন করার মাধ্যমে—যখন তারা তার কবিতায় অসংলগ্নতা ও বিশৃঙ্খলা দেখতে পান (২)। এটি আরও স্পষ্ট হয় কবিদের এমন সব উপাধি প্রদানের মাধ্যমে যা তাদের দৃষ্টিতে তাদের উৎকর্ষের মাত্রা নির্দেশ করে, যেমন: আল-মুরাক্কিশ, আল-মুসাক্কাব, আল-মুনখাল, আল-মুতানাক্কিল, আল-আফওয়াহ এবং আন-নাবিগাহ (৩)।

এই সব বর্ণনা এবং এই জাতীয় আরও অনেক বর্ণনা থেকে—যা এখানে উল্লেখ করার পর্যাপ্ত অবকাশ নেই—আমরা দেখতে পাই যে, জাহেলি যুগের আরবদের শৈল্পিক সমালোচনার গভীর দৃষ্টি ছিল। পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটের দাবি অনুযায়ী বক্তব্যের সামঞ্জস্য বিধান, শব্দ ও অর্থের উপযুক্ততা, অর্থকে চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার প্রতি যত্নশীলতা এবং শব্দগত ও অর্থগত সৌন্দর্যের মাধ্যমে শৈলীকে কীভাবে উপস্থাপন করা উচিত, সে সম্পর্কে তাদের গভীর জ্ঞান ও আগ্রহ ছিল।

আমরা আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে আরও দেখতে পাই যে, জুহাইর ছিলেন হাওলিয়াত-এর রচয়িতা। এগুলো এমন সব কাসিদা যা তিনি রচনা করতেন এবং পুরো এক বছর ধরে সেগুলোর ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করতেন, যতক্ষণ না সেগুলোর গঠন সুসংগত হতো, বিন্যাস সঠিক হতো এবং তা জটিলতামুক্ত হয়ে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাত যা যেকোনো প্রকার নিন্দা বা সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকত।

--------------------------------------------

(১) তাহজিবুস সাদ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬।

(২) ড. মুহাম্মদ আবদুর রহমান আল-কুদি রচিত 'মুহাদারাত ফি তারিখিল বালাগাতিল আরাবিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ৯।

(৩) ড. শাওকি দাইফ রচিত 'আল-বালাগাতু তাতাওয়ুর ওয়া তারিখ', পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২২)
ومدرسة زهير كان أصحابها رواة، يتخرج فيها بعضهم على بعض، فالتلميذ يلزم أستاذاً له، يأخذ برواية شعره ومعرفة طريقته، وما يزال به حتى تتفتح مواهبه، ويسيل الشعر على لسانه، وحينئذ ورد عليه بعض ملاحظاته على ما ينظم، وقد يصلح له بعض نظمه (1).

فهل نقول بعد ذلك: إن معرفتهم بأحوال الكلام، وبصرهم بالنقد كان ص 22 وطبعاً؟ لا .. إن مدرسة زهير وهي التي كانت تعتني بالقصيدة حولاً كاملاً، تنقية وتثقيفاً وتهذيباً لهي خير شاهد على أن الأمر لم يكن متروكاً الطبع "وليس أدل على ذلك من أن العرب في جميع عصورهم لم يعنوا بشيء قط عنايتهم بفصاحة اللفظ وجزالته، ورقيق الأسلوب ورصانته، وقد جعلوا الإعراب واصطفاء اللفظ، والملاءمة بين الكلمة والكلمة في الجرس الذي ييسر على اللسان نطقه ويزين في الأذن وقعه أساساً لكل هذه

الخصال (2) ".

يقول ابن خلدون: "يظن كثير من المغفلين ممن لم يعرف شأن ص 22 أن الصواب للعرب في لغتهم إعراباً وبلاغة أمر طبيعي ويقول: كانت للعرب تنطق بالطبع، وليس كذلك، وإنما هي ملكة لسانية في نظم الكلام تمكنت ورسخت فظهرت في بادئ الرأي أنها جبلة وطبع وهذه الملكة كما تقدم إنما تحصل بممارسة كلام العرب وتكرره على السمع والتفطن لخواص تراكيبه .. فملكة البلاغة في اللسان تهدي البليغ إلى وجود النظم وحسن التراكيب الموافق لتراكيب العرب في لغتهم ونظم كلامهم … واستعير لهذه الملكة عندما ترسخ وتستقر اسم الذوق (3) ".

--------------------------------------------

(1) البلاغة تطور وتاريخ د/ شوقي ضيف ص 23.

(2) ألوان د/ طه حسين ص 14 دار المعارف ط 4.

(3) مقدمة ابن خلدون ص 562، ص 563.
জুহাইরের কাব্যধারার অনুসারীরা ছিলেন বর্ণনাকারী, যেখানে তারা একে অপরের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করতেন। ছাত্র তার উস্তাদের সান্নিধ্যে থাকতেন, তার কবিতা বর্ণনা করতেন এবং তার কাব্যরীতি আয়ত্ত করতেন। তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত উস্তাদের সান্নিধ্যে থাকতেন যতক্ষণ না তার প্রতিভা বিকশিত হতো এবং তার জিহ্বায় কবিতা প্রবাহিত হতো। তখন উস্তাদ তার রচিত কবিতার ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতেন এবং কখনও কখনও তার কবিতার সংশোধনও করে দিতেন (১)।

এরপরও কি আমরা বলব যে, বাক্যরীতি সম্পর্কে তাদের জ্ঞান এবং সমালোচনার ক্ষেত্রে তাদের অন্তর্দৃষ্টি ছিল পৃষ্ঠা ২২ স্বভাবজাত? না... জুহাইরের কাব্যধারা—যা একটি কাসিদাকে পরিমার্জন, সংস্কার ও সংশোধনে পূর্ণ একটি বছর ব্যয় করত—তা-ই শ্রেষ্ঠ প্রমাণ যে, বিষয়টি কেবল স্বভাবের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। "আর এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর নেই যে, সকল যুগের আরবরা শব্দের প্রাঞ্জলতা ও গাম্ভীর্য এবং শৈলীর কোমলতা ও দৃঢ়তার মতো আর কোনো কিছুর প্রতি এত যত্নশীল ছিল না। তারা ই'রাব (ব্যাকরণিক রূপান্তর), শব্দ চয়ন এবং শব্দের সাথে শব্দের শ্রুতিমধুর সামঞ্জস্য—যা জিহ্বায় উচ্চারণ সহজ করে এবং কানে ভালো শোনায়—এসব কিছুকেই এই সকল বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেছে (২)।"

ইবনে খালদুন বলেন: "অসতর্ক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই, যারা পৃষ্ঠা ২২ প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়, তারা মনে করে যে ভাষাগত ব্যাকরণ ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে আরবদের শুদ্ধতা ছিল একটি প্রাকৃতিক বিষয়। তারা বলে: আরবরা স্বভাবজাতভাবেই কথা বলত। আসলে বিষয়টি তেমন নয়; বরং এটি হলো বাক্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি ভাষাগত দক্ষতা (মালাকাহ) যা সুদৃঢ় ও প্রোথিত হয়েছে। ফলে প্রথম দর্শনে একে সৃষ্টিগত স্বভাব বা প্রকৃতি মনে হয়। আর এই দক্ষতা, যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে, আরবদের ভাষা চর্চা, বারবার তা শ্রবণ এবং তাদের বাক্যগঠনের বৈশিষ্ট্যের প্রতি গভীর দৃষ্টি দেওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। সুতরাং জিহ্বার অলঙ্কারিক দক্ষতা একজন বাগ্মীকে আরবদের ভাষা ও বাক্য বিন্যাসের অনুরূপ উত্তম বিন্যাস ও সুনিপুণ কাঠামোর সন্ধান দেয় … আর যখন এই দক্ষতা সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল হয়, তখন একে 'রুচি' (যাওক) নামে অভিহিত করা হয় (৩)।"

--------------------------------------------

(১) আল-বালাগাতু তাতাওউরু ওয়া তারিখ, ড. শাওকি দাইফ, পৃষ্ঠা ২৩।

(২) আলওয়ান, ড. তাহা হুসাইন, পৃষ্ঠা ১৪, দারুল মাআরিফ, ৪র্থ সংস্করণ।

(৩) মুকাদ্দিমাহ ইবনে খালদুন, পৃষ্ঠা ৫৬২, ৫৬৩।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولسنا بحاجة إلى إقامة دليل على أن العرب كانوا يعرفون الفن البياني الذي عرفه المتأخرون بأنه علم يعرف به إيراد المعنى الواحد بطرق مختلفة في وضوح الدلالة عليه، قائلين إن قول زهير:

ما أرانا نقول إلا معاراً … أو معاداً من قولنا مكروراً

دليل على أن العرب في الجاهلية قد عرفوا الفن البياني، وأن قول زهير يتفق وتعريف المتأخرين لعلم البيان، لأنه لا يتجاوز إعادة المعنى المعروف بألفاظ مختلفة!

ذلك لأن العرب قد عرفوا الفن البياني مراناً وممارسة بعد أن عرفوه ملكة وذوقاً، لأن ملكة البيان عندهم إنما جاءت بالممارسة، فلما رسخت هذه الملكة فيهم واستقرت سميت ذوقاً (1) - كما يقول ابن خلدون.

(2)

وانبثق فجر الإسلام، وطلعت شمس النبوة، وأشرقت الأرض بنور ربها، وتوالى نزول آيات القرآن، بلسان عربي مبين على قلب محمد صلى الله عليه وسلم فيتلوها على أصحابه، ويتلوها أصحابه على أسماع المسلمين فيحفظونها وتتردد على أسماعهم آناء الليل، وأطراف النهار.

وانبهر العرب ببلاغة القرآن الكريم، وعجزوا عن مجاراتها، وسلموا بعجزهم عن أن يجيئوا بمثل أقصر سورة من سور القرآن، وصار المعاندون ممن كفروا به وأنكروه، يقولون مرة: إنه شعر، ومرة أخرى: إنه سحر! وقد كانوا يجدون له وقعاً في القلوب، وقرعاً في النفوس، يريبهم ويحيرهم. فلم يتمالكوا أن يعترفوا به نوعاً من الاعتراف، ولهذا قال قائلهم: إن له لحلاوة، وإن عليه لطلاوة (2).

--------------------------------------------

(1) نفس المصدر.

(2) ثلاث رسائل في إعجاز القرآن ص 28.
আমাদের আরবরা অলঙ্কারশাস্ত্র (ইলমে বয়ান) সম্পর্কে জানত—এই বিষয়ের সপক্ষে দলিল উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই। এই শাস্ত্রকে পরবর্তীকালের আলেমগণ এমন এক বিদ্যা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অর্থকে প্রকাশের স্পষ্টতার পার্থক্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা যায়। তারা বলেন যে, যুহাইরের এই উক্তিটি:

আমি দেখছি আমরা যা বলি তা ধার করা ছাড়া আর কিছু নয় … অথবা তা আমাদেরই পুনরাবৃত্ত কথা মাত্র

এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, জাহেলিয়াত যুগের আরবরা অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কে অবগত ছিল এবং যুহাইরের উক্তিটি অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয়ে পরবর্তী আলিমদের সংজ্ঞার সাথে সংগতিপূর্ণ; কারণ এটি পরিচিত কোনো অর্থকে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে পুনরায় ব্যক্ত করা ছাড়া আর কিছুই নয়!

এর কারণ হলো, আরবরা অলঙ্কারশাস্ত্রকে তাদের সহজাত প্রবৃত্তি ও রুচির মাধ্যমে জানার পর নিয়মিত চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করেছিল। কেননা তাদের অলঙ্কারশৈলীর এই প্রতিভা অনুশীলনের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছিল। ইবনে খালদুন যেমনটি বলেছেন— যখন এই প্রতিভা তাদের মধ্যে বদ্ধমূল ও স্থায়ী রূপ লাভ করল, তখন তাকে 'রসবোধ' বা 'রুচি' বলা হলো।

(২)

অতঃপর ইসলামের প্রভাত উদ্ভাসিত হলো, নবুওয়তের সূর্য উদিত হলো এবং পৃথিবী তার রবের নূরে আলোকিত হলো। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয়ে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় কুরআনের আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হতে থাকল। তিনি তা তাঁর সাহাবীদের কাছে তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁর সাহাবীগণ তা মুসলিমদের সামনে পাঠ করতেন; তারা তা মুখস্থ করতেন এবং দিবারাত্রির বিভিন্ন প্রহরে তা তাদের কানে প্রতিধ্বনিত হতো।

আরবরা পবিত্র কুরআনের অলঙ্কারশৈলী দেখে অভিভূত হয়ে পড়ল এবং এর সমকক্ষ কিছু নিয়ে আসতে তারা অক্ষম হয়ে গেল। তারা কুরআনের ক্ষুদ্রতম সূরার মতো কিছু নিয়ে আসার ব্যাপারে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে নিল। আর যারা কুফরি করেছিল এবং সত্যকে অস্বীকার করেছিল, সেই জেদিরা কখনো বলতে শুরু করল: এটি কবিতা! আবার কখনো বলল: এটি জাদু! মূলত তারা তাদের অন্তরে এর এক গভীর প্রভাব এবং আত্মার গভীরে এমন করাঘাত অনুভব করত যা তাদেরকে সংশয়াচ্ছন্ন ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিত। ফলে তারা এর শ্রেষ্ঠত্বকে কোনো না কোনোভাবে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হলো। একারণেই তাদের একজন বক্তা বলেছিলেন: নিশ্চয়ই এতে এক অনন্য মিষ্টতা রয়েছে এবং এর উপর রয়েছে এক বিশেষ লাবণ্য।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস।

(২) সালাস রাসায়িল ফি ই'জাযিল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৮।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২৪)
سمع المسلمون القرآن، وقرأوه وحفظوه؛ فتمثلوا فيه جلائل المعاني، ونفائس الأفكار، وذخائر الألفاظ وروائع النظم، فعرفوا أن بلاغة القرآن الكريم فوق مقدور البشر، وهان أمر بلاغتهم أمام بلاغته، وضعف أمر فصاحتهم أما فصاحته؛ وصدق قول الله تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآَنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} (1).

فأقبل المسلمون على القرآن الكريم، يتزودون من معينه الذي لا ينضب، ويرتشفون من رحيقه العذب، ويرتوون من مائه السلسبيل، حتى رق إحساسهم، وأرهفت مشاعرهم، وسلمت أذواقهم، وعرفوا من خواص التراكيب ما لم يكونوا يعرفون، وشهدوا من مظاهر النظم وخصائصه ما لم يكونوا يشهدون!

وكانت أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم وهو الذي أعطى جوامع الكلم ولا ينطق عن الهوى - تتردد على الأسماع؛ يحرص المسلمون على سماعها حرصهم على سماع آيات القرآن الكريم، ويتناقلونها فيما بينهم في شغف ولهفة وشوق وقد وصف الجاحظ حديث النبي صلى الله عليه وسلم فقال، وهو الكلام الذي ألقى الله عليه المحبة وغشاه بالقبول وجمع له بين المهابة والحلاوة، وبين حسن الإفهام وقلة عدد الكلام، مع استغنائه عن إعادته، وقلة حاجة السامع إلى معاودته، ثم لم يسمع الناس بكلام قط أعم نفعاً، ولا أقصد لفظاً ولا أعدل وزناً ولا أجمل مذهباً، ولا أكرم مطلباً، ولا أحسن موقعاً، ولا أسهل مخرجاً، ولا أفصح معنى، ولا أبين في فحوى من كلامه صلى الله عليه وسلم (2).

--------------------------------------------

(1) الإسراء: 17.

(2) البيان والتبيين ج 2 ص 12.
মুসলমানরা কুরআন শ্রবণ করেছেন, তা তিলাওয়াত করেছেন এবং মুখস্থ করেছেন; ফলে এর মহান অর্থসমূহ, উৎকৃষ্ট চিন্তাসমূহ, শব্দৈশ্বর্য এবং রচনারীতির অনুপম মাধুর্য তাঁদের সত্তায় প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন যে পবিত্র কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র মানুষের সাধ্যাতীত। কুরআনের অলঙ্কারশৈলীর সামনে তাঁদের অলঙ্কারশাস্ত্র তুচ্ছ প্রতিপন্ন হলো এবং এর প্রাঞ্জলতার সম্মুখে তাঁদের বাগ্মিতা ম্লান হয়ে পড়ল। মহান আল্লাহর বাণী সত্য: "বলুন: যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনয়ন করার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনয়ন করতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" (১)।

অতঃপর মুসলমানরা পবিত্র কুরআনের প্রতি ধাবিত হলেন, তাঁরা এর অফুরন্ত ঝরনাধারা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করতে লাগলেন, এর সুমিষ্ট সুধা পান করতে লাগলেন এবং এর নির্মল সলীল দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করতে লাগলেন; শেষ পর্যন্ত তাঁদের অনুভূতি সূক্ষ্ম হলো, বোধশক্তি প্রখর হলো, রুচিবোধ মার্জিত হলো এবং তাঁরা বাক্য গঠনের এমন সব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হলেন যা তাঁরা ইতিপূর্বে জানতেন না। তাঁরা রচনারীতির এমন সব বহিঃপ্রকাশ ও বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করলেন যা তাঁরা আগে কখনো দেখেননি!

আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যাঁকে জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষেপে ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) দান করা হয়েছে এবং যিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না—তাঁর হাদিসসমূহ মানুষের কানে বারবার অনুরণিত হতো। মুসলমানরা পবিত্র কুরআনের আয়াত শোনার জন্য যতটা আগ্রহী ছিলেন, তাঁর হাদিস শোনার জন্যও ঠিক ততটাই আগ্রহী হতেন এবং পরম অনুরাগ, ব্যাকুলতা ও আকাঙ্ক্ষার সাথে তা একে অপরের নিকট পৌঁছে দিতেন। আল-জাহিজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি এমন এক বাণী যার ওপর আল্লাহ ভালোবাসা অর্পণ করেছেন এবং যাকে গ্রহণযোগ্যতার চাদরে আবৃত করেছেন। এতে গাম্ভীর্য ও মাধুর্যের সমন্বয় ঘটেছে, সেই সাথে তা উত্তমরূপে বোধগম্য ও সংক্ষিপ্ত। এটি পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন হয় না এবং শ্রোতারও তা পুনরায় শোনার বিশেষ দরকার পড়ে না। অতঃপর মানুষ তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর চেয়ে অধিক ব্যাপক কল্যাণকর, সুপরিমিত শব্দযুক্ত, সুষম মানদণ্ডসম্পন্ন, অধিকতর সুন্দর পথনির্দেশক, অধিকতর মহৎ লক্ষ্যসম্পন্ন, অত্যন্ত যথাযথ স্থানে প্রযুক্ত, সহজ উচ্চারণযোগ্য, অধিক প্রাঞ্জল অর্থবহ এবং অধিকতর স্পষ্ট বিষয়বস্তু সম্পন্ন কোনো কথা কখনো শোনেনি।" (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসরা: ১৭।

(২) আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ীন, ২য় খণ্ড, ১২ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد كان الصحابة - رضوان الله عليهم - يتعجبون لفصاحة النبي صلى الله عليه وسلم ويرون أنه أفصح العرب، فابن الأعرابي يحدثنا بأن رسول الله كان جالساً مع الصحابة، فسألوه عن سحابة فأجابهم، فقالوا: يا رسول الله ما أفصحك ما رأينا الذي هو أفصح منك! فقال. وما يمنعني؟ وإنما أنزل القرآن بلساني، بلسان عربي مبين (1).

وقد سئل النبي صلى الله عليه وسلم: فيم الجمال؟ فقال: في اللسان؛ يريد: البيان (2).

ومما يدل على أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعني أن أشد العناية بتخير لفظه، وانتقاء كلماته المعبرة: ما يروى من أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا يقولن أحدكم خبثت نفسي، ولكن ليقل: لقست نفسي كراهة أن يضيف المسلم الخبث إلى نفسه (3).

والخلفاء الراشدون - رضوان الله عليهم - كانوا خطباء مفوهين، وكانوا يتخيرون ألفاظهم في أحاديثهم، لتكون معبرة أصدق تعبير عما في نفوسهم، مهتدين في ذلك بهدى القرآن الكريم وحديث رسوله الكريم ومما يدل على إرهاف حسهم، ودقة شعورهم: هذه الرواية الشهيرة عن أبى بكر رضي الله عنه وهي: أنه عرض لرجل معه ثوب فقال له: أنبيع الثوب؟ فأجابه: لا، عافاك الله، فتأذى أبو بكر مما يوهمه ظاهر اللفظ، إذ قد يظن أن النفي موجه إلى الدعاء، عليه بدلاً من الدعاء له فقال له: "لقد علمتم لو كنتم تعلمون، قل: لا وعافاك الله (4).

--------------------------------------------

(1) مجالس ثعلب ص 454.

(2) الحيوان جـ 1 ص 335.

(3) الحيوان (طبعة الحلبي) جـ 1 ص 335.

(4) البيان والتبيين جـ 1 ص 261.
সাহাবীগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাগ্মিতায় বিস্মিত হতেন এবং মনে করতেন যে তিনি আরবদের মধ্যে সবচেয়ে সাবলীল। ইবনুল আরাবী আমাদের বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সাথে বসা ছিলেন, তখন তাঁরা তাঁকে মেঘ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁদের উত্তর দিলেন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কতই না সাবলীল, আপনার চেয়ে সাবলীল আর কাউকে আমরা দেখিনি! তিনি বললেন: কিসে আমাকে বাধা দেবে? অথচ কুরআন আমার ভাষায়—সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে (১)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: সৌন্দর্য কিসে? তিনি বললেন: জিহ্বায়; এর দ্বারা তিনি বাকপটুতা বুঝিয়েছেন (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শব্দ নির্বাচনে এবং অর্থবহ বাক্য চয়নে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, তার একটি প্রমাণ হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন না বলে যে, আমার আত্মা কলুষিত হয়েছে, বরং সে যেন বলে আমার আত্মা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। একজন মুসলিম নিজের প্রতি কলুষতা আরোপ করা অপছন্দ করার কারণেই তিনি এটি বলেছেন (৩)।

খুলাফায়ে রাশেদীন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন—সুদক্ষ বক্তা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের কথাবার্তায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শব্দ চয়ন করতেন, যাতে তা তাঁদের অন্তরের ভাবকে সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা পবিত্র কুরআন এবং তাঁর রাসূলের হাদীসের নির্দেশনায় পরিচালিত হতেন। তাঁদের সূক্ষ্ম অনুভূতি ও গভীর চেতনার পরিচায়ক হলো আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই বিখ্যাত বর্ণনাটি: তিনি এক ব্যক্তির কাছে একটি কাপড় দেখলেন এবং তাকে বললেন: কাপড়টি কি বিক্রি হবে? সে উত্তর দিল: না, আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন। আবু বকর শব্দের বাহ্যিক রূপ থেকে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিতে ব্যথিত হলেন; কারণ এটি ধারণা হতে পারে যে, 'না' শব্দটি লোকটির করা দোয়ার প্রতি নির্দেশিত হয়েছে। তাই তিনি তাকে বললেন: "তোমরা যদি জানতে (তবে বুঝতে পারতে), বলো: না, এবং আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন" (৪)।

--------------------------------------------

(১) মাজালিসে ছা'লাব, পৃষ্ঠা ৪৫৪।

(২) আল-হায়ওয়ান, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৫।

(৩) আল-হায়ওয়ান (হালাবী সংস্করণ), ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৫।

(৪) আল-বায়ান ওয়াত তাবিইয়ীন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৬১।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২৬)
وربما كان شيوع هذه الرواية وتردادها على ألسنة البلاغيين هو الذي حدا بهم إلى أن يفتحوا في البلاغة باباً خاصاً هو: باب "الفصل والوصل" (1).

وكان عمر رضي الله عنه فصيحاً بليغاً، فقد ضرب الرواة مثلاً لفصاحته وبلاغته؛ بأنه كان يستطيع أن يخرج الضاد من أي شدقيه شاء (2).

وعلي بن أبي طالب رضي الله عنه لم يكن يجاريه أحد في مضمار الفصاحة والبلاغة، وخير ما يثبت هذا: كتاب "نهج البلاغة" المنسوب إليه، وقد عرف هو البلاغة، فقال: "البلاغة: إيضاح الملتبسات بأسهل ما يكون من العبارات" (3).

وإلى جانب كلام الله تعالى، وحديث الرسول صلى الله عليه وسلم وخطب الخلفاء الراشدين وملاحظاتهم في نقد الكلام وبلاغته، فإن أموراً جدت بالإسلام، دعت إلى الاهتمام بصياغة القول، ونظم التراكيب، وتصوير المعاني صوراً رائعة جذابة.

ومن هذه الأمور التي جدت: الصراع حول العقيدة بين المسلمين والمشركين، وانطلاق الشعراء من المشركين في هجاء الإسلام والمسلمين، وانطلاق الشعراء من المسلمين في الرد عليهم بهجاء الشرك والمشركين.

وقد كان يمثل شعراء المشركين: عبد الله بن الزبعري، كما كان يمثل شعراء المسلمين: حسان بن ثابت الأنصاري.

--------------------------------------------

(1) … فن البلاغة د. عبد القادر حسين صـ 18.

(2) … البيان والتبيين جـ 1 صـ 62.

(3) … البيان والتبيين جـ 1 صـ 14.
সম্ভবত এই বর্ণনার ব্যাপক প্রচার এবং অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মুখে মুখে এর আবৃত্তিই তাদেরকে অলঙ্কারশাস্ত্রে একটি বিশেষ অধ্যায় খোলার প্রেরণা জুগিয়েছিল, আর তা হলো: "ফাসল ও ওয়াসল" (বিচ্ছেদ ও সংযোগ) অধ্যায় (১)।

উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও বাগ্মী ছিলেন। বর্ণনাকারীরা তাঁর প্রাঞ্জলতা ও বাগ্মিতার একটি উদাহরণ পেশ করেছেন যে, তিনি তাঁর চোয়ালের যে কোনো পাশ থেকে 'দোয়াদ' (ض) উচ্চারণ করতে সক্ষম ছিলেন (২)।

আর আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে প্রাঞ্জলতা ও বাগ্মিতার ময়দানে পাল্লা দেওয়ার মতো কেউ ছিল না। এর সর্বোত্তম প্রমাণ হলো তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত "নাহজুল বালাগাহ" গ্রন্থটি। তিনি নিজেই বালাগাত বা বাগ্মিতার সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "বাগ্মিতা হলো অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে সহজতম অভিব্যক্তির মাধ্যমে সুস্পষ্ট করা" (৩)।

মহান আল্লাহর কালাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের ভাষণ ও বক্তব্য সমালোচনা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁদের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ইসলামে এমন কিছু নতুন বিষয়ের উদ্ভব হয়েছিল, যা বক্তব্য গঠন, বাক্য বিন্যাস এবং অর্থসমূহকে চমৎকার ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছিল।

উদ্ভূত এই বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল: মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে আকিদা বা বিশ্বাসগত লড়াই, মুশরিক কবিদের পক্ষ থেকে ইসলাম ও মুসলিমদের নিন্দায় কাব্য রচনা এবং মুসলিম কবিদের পক্ষ থেকে শিরক ও মুশরিকদের নিন্দা করে তার জবাব প্রদান।

মুশরিক কবিদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনুয যিবা’রী এবং মুসলিম কবিদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন হাসসান ইবনে সাবিত আল-আনসারী।

--------------------------------------------

(১) … ফাননুল বালাগাহ, ড. আব্দুল কাদির হুসাইন, পৃষ্ঠা ১৮।

(২) … আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬২।

(৩) … আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومنها: التنافس الذي قام بين الأنصار والمهاجرين على الخلافة بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم. وقد كان كل منهما يحاول أن يؤيد رأيه بما يراه من حجج، خطباً كانت أو محاورة. أو جدلاً، مستعيناً في ذلك كله باختيار اللفظ. وإحكام الصياغة، والتأنق في العبارة. حتى تتحقق له فصاحة القول، وبلاغة التعبير للتأثير في نفوس سامعيه.

ومنها: الخلاف الذي نشب بين علي ومعاوية، ذلك الخلاف الذي أدى إلى انقسام المسلمين في ذلك الوقت إلى أحزاب ثلاثة:

حزب يؤيد علياً، ويرى أنه أحق بالخلافة من معاوية، وهو حزب الشيعة وحزب يؤيد معاوية، ويرى أنه أحق بالخلافة من علي، وهو حزب بني أمية. وحزب "ثالث" لا ينضم إلى هؤلاء، ولا إلى هؤلاء، فهو يرى أن الخلافة ليست من حق علي، وأنها ليست من حق معاوية كذلك، وإنما هي لمن يصلح لتوليها من عامة المسلمين، وهو حزب الخوارج:

واحتاج كل حزب من هذه الأحزاب الثلاثة للدفاع عما يدعو إليه من رأي، إلى بلاغة الخطباء والشعراء وفصاحتهم إلى جانب ما يحتكم إليه في ساحة القتال من حسام.

فلما كان عصر بني أمية كثرت الملاحظات البلاغية والبيانية لعوامل مختلفة:

منها: ازدهار الخطابة في هذا العصر نتيجة لأمور سياسية، ودينية، واجتماعية، لقد تنوعت الخطابة إلى: سياسية، ودينية، وحفلية.

فكان من خطباء السياسة: زياد والحجاج، وكان من خطباء الشيعة: زيد بن الحسين بن علي، وكان لسناً جدلاً يجذب الناس بحلاوة لسانه، وسهولة منطقه وعذوبة كلامه. وكان من خطباء المحافل: سحبان وائل،
এগুলোর মধ্যে রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর খিলাফত নিয়ে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে সংগঠিত প্রতিযোগিতা। তাদের প্রত্যেকেই নিজের মতের সপক্ষে এমন সব যুক্তি পেশ করার চেষ্টা করছিলেন যা তারা সঠিক মনে করতেন, হোক তা ভাষণের মাধ্যমে অথবা কথোপকথনের মাধ্যমে কিংবা বিতর্কের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে তারা শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন ও বাচনভঙ্গির চমৎকারিত্বের সাহায্য নিতেন; যাতে তাদের কথায় সাবলীলতা ও অভিব্যক্তিতে প্রাঞ্জলতা অর্জিত হয় এবং তা শ্রোতাদের অন্তরে প্রভাব ফেলতে পারে।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে উদ্ভূত বিরোধ। এই বিরোধ তৎকালীন মুসলিমদের তিনটি দলে বিভক্ত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়:

একটি দল আলীকে সমর্থন করত এবং মনে করত যে তিনি মুয়াবিয়ার চেয়ে খিলাফতের অধিক হকদার, আর সেটি হলো শিয়া দল। আরেকটি দল মুয়াবিয়াকে সমর্থন করত এবং মনে করত যে তিনি আলীর চেয়ে খিলাফতের অধিক হকদার, আর সেটি হলো উমাইয়া বংশের দল। এবং একটি "তৃতীয়" দল যারা এদের কারোর সাথেই যোগ দেয়নি; তারা মনে করত খিলাফত আলীর অধিকার নয় এবং তেমনিভাবে তা মুয়াবিয়ারও অধিকার নয়, বরং তা সাধারণ মুসলিমদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তির প্রাপ্য যিনি তা পরিচালনার যোগ্য, আর এটি হলো খারিজি দল:

এই তিনটি দলের প্রত্যেকেই তাদের দাওয়াত ও মতাদর্শের প্রতিরক্ষায় রণক্ষেত্রের তলোয়ারের পাশাপাশি বাগ্মী ও কবিদের প্রাঞ্জল ও সাবলীল বাচনভঙ্গির মুখাপেক্ষী ছিল।

অতঃপর যখন উমাইয়া যুগ এল, তখন বিভিন্ন কারণে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও বর্ণনাশৈলী সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি পেল:

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে এই যুগে বাগ্মিতার উৎকর্ষ সাধন। বাগ্মিতা রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক—এই কয়েক প্রকারে বিভক্ত হয়েছিল।

রাজনৈতিক বাগ্মীদের মধ্যে ছিলেন: জিয়াদ ও হাজ্জাজ। শিয়াদের বাগ্মীদের মধ্যে ছিলেন: জাইদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী; তিনি ছিলেন বাকপটু ও তার্কিক, যিনি তার জিহ্বার মিষ্টতা, যুক্তির সহজবোধ্যতা ও কথার মাধুর্য দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করতেন। আর সভাসমাবেশের বাগ্মীদের মধ্যে ছিলেন: সাহবান ওয়ায়েল।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২৮)
الذي خطب خطبة بين يدي معاوية سميت لحسنها باسم الشوهاء، وكان من خطباء الوعظ: غيلان الدمشقي، والحسن البصري، وواصل بن عطاء.

وقد كان خطباء الوعظ يتحلقهم تلاميذهم، ويدربونهم على حسن الإلقاء وقرع الدليل بالدليل. ودمغ الحجة بالحجة.

ومنها: أن العرب قد تحضروا، واستقروا في المدن والأمصار، وأخذوا يتجادلون في أمورهم السياسية والعقيدية.

ومنها: قيام الأسواق الأدبية على غرار سوق عكاظ في الجاهلية، فكانت سوق المربد بالبصرة، وسوق الكناسة بالكوفة يأتي إليهما الشعراء من الحضر والبوادي، فيسمعون الناس أحدث ما نظموه من شعر.

وظهر فيهما جرير والفرزدق مرتقيين بفن الهجاء، ليصبح دراسة لحقيقة الشاعرين وحقيقة قبيلتيهما، وحقيقة قيس وتميم والناس من حولهم يهتفون كلما مر بهم بيت نافذ الطعنة.

واتسع نطاق الملاحظات البلاغية في أوائل العصر العباسي نتيجة لتطور الشعر والنثر، مع تطور الحياة العقلية والحضارية والثقافية ولظهور طائفتين من المعلمين: طائفة عنيت بتعليم اللغة والشعر، وطائفة عنيت بتعليم الخطابة والمناظرة، وطائفة ثالثة هي طائفة المتكلمين الذين عنوا بمسائل البلاغة والبيان، لأنها كانت عوناً لها على ما تقوم به من الخطابة والمناظرة في مساجد البصرة والكوفة.

ولهذا كثر الحديث عن قوة الحجة، ووضوح العبارة، ودقتها، وعن جهارة الصوت، وملامح المتكلم، وملاءمته بين كلامه والمستمعين.

وتجرد الجاحظ - وهو من أئمة المعتزلة - لدراسة البيان والبلاغة، وأتحف اللغة العربية بكتابه: "البيان والتبيين".
যিনি মুয়াবিয়ার সম্মুখে এমন এক খুতবা প্রদান করেছিলেন যা তার অনবদ্য সৌন্দর্যের কারণে ‘আশ-শওহা’ নামে অভিহিত হয়েছিল। আর নসিহত বা উপদেশ প্রদানকারী খতিবদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন: গায়লান আদ-দিমাশকি, হাসান আল-বসরি এবং ওয়াসিল বিন আতা।

উপদেশ দানকারী এই খতিবদের তাঁদের ছাত্ররা পরিবেষ্টন করে রাখত এবং তাঁরা তাঁদের সুন্দর বাচনভঙ্গি, এক দলিলের বিপরীতে অন্য দলিল উপস্থাপন এবং এক যুক্তির মাধ্যমে অন্য যুক্তি খণ্ডন করার প্রশিক্ষণ দিতেন।

এর কারণসমূহের মধ্যে একটি হলো: আরবরা নাগরিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং তারা বিভিন্ন শহর ও জনপদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল। এরপর তারা তাদের রাজনৈতিক ও আকিদাগত বিষয়ে পারস্পরিক বাদানুবাদে লিপ্ত হতে শুরু করে।

এর অন্যতম কারণ ছিল: জাহেলি যুগের উকাস বাজারের আদলে সাহিত্যিক বাজারগুলোর প্রতিষ্ঠা। ফলে বসরার মিরবাদ বাজার এবং কুফার কুনাসা বাজার গড়ে ওঠে, যেখানে শহর ও মরুভূমি থেকে কবিরা আসতেন এবং তাঁরা তাঁদের রচিত সমকালীন কবিতাগুলো মানুষকে শোনাতেন।

সেই বাজারগুলোতে জারির ও ফারাজদাক আবির্ভূত হন এবং তাঁরা ব্যাঙ্গাত্মক কাব্যকলাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান, যা শেষ পর্যন্ত ওই দুই কবির প্রকৃত পরিচয়, তাঁদের গোত্রদ্বয়ের বাস্তবতা এবং কায়স ও তামিম গোত্রের স্বরূপ উন্মোচনের এক গবেষণায় পরিণত হয়। যখনই তাঁদের কোনো মর্মভেদী বিদ্রূপাত্মক পঙক্তি উচ্চারিত হতো, চারপাশের মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়ত।

আব্বাসীয় যুগের প্রারম্ভে কবিতা ও গদ্যের উৎকর্ষের ফলে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পর্যালোচনার পরিধি বিস্তৃত হয়। এর পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক, সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক জীবনের বিকাশ ঘটে এবং শিক্ষকদের দুটি শ্রেণির উদ্ভব হয়: এক শ্রেণি যারা ভাষা ও কবিতা শিক্ষাদানে নিয়োজিত ছিলেন, অন্য এক শ্রেণি যারা বাগ্মিতা ও বিতর্কবিদ্যা শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করেছিলেন এবং তৃতীয় একটি শ্রেণি ছিল মুতাকাল্লিম বা কালামশাস্ত্রবিদগণের, যাঁরা অলঙ্কারশাস্ত্র ও বর্ণনাভঙ্গির বিষয়াবলির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। কারণ এই জ্ঞান তাঁদের বসরা ও কুফার মসজিদগুলোতে পরিচালিত বাগ্মিতা ও বিতর্ক অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সহায়তা করত।

এ কারণে প্রমাণের বলিষ্ঠতা, বাক্যের স্পষ্টতা ও সূক্ষ্মতা, কণ্ঠস্বরের গাম্ভীর্য, বক্তার শারীরিক ভঙ্গি এবং শ্রোতাদের অবস্থা অনুযায়ী বক্তব্যের সামঞ্জস্য বিধান নিয়ে আলোচনার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়।

আর আল-জাহিয—যিনি মুতাজিলা ইমামদের অন্যতম ছিলেন—তিনি বর্ণনাশৈলী ও অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নে নিমগ্ন হন এবং তাঁর ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন’ নামক গ্রন্থের মাধ্যমে আরবি ভাষাকে এক অমূল্য উপহার প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد جمع فيه ملاحظات السابقين من العلماء في البلاغة، مضيفاً إليها ملاحظات غير العرب، وكثيراً من ملاحظات معاصريه.

وتحتدم المعركة النقدية بين المحافظين والمجددين في الشعر، فينتج عن هذه الخصومة نشاط بلاغي خصب يؤدي إلى وضع كتاب "البديع" لعبد الله بن المعتز الذي دافع به عن المحافظين، ورد هجمات المتفلسفة الذين يجرون وراء مقاييس البلاغة اليونانية.

ويتجرد قدامة بن جعفر، ويصنف كتابه "نقد الشعر" تحدياً لابن المعتز وغيره ممن يتبعون أثره في الرد على المتفلسفة.

ويكثر المتكلمون من مباحثهم حول إعجاز القرآن الكريم، من حيث بلاغته وبيانه، فتكتمل بذلك أولى مراحل البحث في البلاغة، وهي مرحلة: النشأة والنمو.

(3)

ويأتي القرن الرابع الهجري، وتكون البلاغة العربية قد نمت نمواً جعل النقاد من الأدباء يأخذون في تطبيقها على النصوص الأدبية، ويأخذ النقد الأدبي دوره من خلال البلاغة العربية الأصيلة، فتؤتي ثمارها، وتطبق تطبيقاً عملياً في كل من "عيار الشعر"، لابن طباطبا المتوفى سنة 322 هـ و"الموازنة بين أبي تمام والبحتري" للآمدي، المتوفى سنة 371 هـ و"الوساطة بين المتنبي وخصومه" لعلي بن عبد العزيز الجرجاني المتوفى سنة 392 هـ.

ولكن فريقاً آخر من الأدباء والشعراء يتجردون للبحث في البلاغة، مهيئين بذلك لانفصال البلاغة عن النقد الأدبي، ويتجهون بها وجهة علمية بحتة. وإن كانوا قد اتفقوا على الإكثار من التمثيل بتراث هائل من الشعر العربي الجاهلي والإسلامي، ومن الأحاديث النبوية الشريفة،
এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের পূর্ববর্তী আলেমদের পর্যবেক্ষণসমূহ সংকলন করা হয়েছে এবং এর সাথে অনারবদের পর্যবেক্ষণ ও তাঁর সমসাময়িকদের অনেক পর্যবেক্ষণ যুক্ত করা হয়েছে।

কবিতায় রক্ষণশীল ও আধুনিকতাবাদীদের মধ্যে সমালোচনামূলক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে। এই বিরোধের ফলে এক উর্বর আলঙ্কারিক তৎপরতার উদ্ভব ঘটে, যা আবদুল্লাহ ইবনুল মু'তাযকে তাঁর "আল-বাদী" গ্রন্থটি রচনায় উদ্বুদ্ধ করে। এর মাধ্যমে তিনি রক্ষণশীলদের পক্ষ সমর্থন করেন এবং গ্রিক অলঙ্কারশাস্ত্রের মাপকাঠির অনুসারী দার্শনিকদের আক্রমণ প্রতিহত করেন।

এরপর কুদামা বিন জাফর অগ্রসর হন এবং ইবনুল মু'তায ও দার্শনিকদের খণ্ডনে তাঁর পদাঙ্ক অনুসারীদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর "নাকদুশ শির" গ্রন্থটি সংকলন করেন।

আর কালাম শাস্ত্রবিদগণ পবিত্র কুরআনের অলঙ্কার ও প্রাঞ্জলতার দিক থেকে এর অলৌকিকতা নিয়ে প্রচুর আলোচনা করেন। এর মাধ্যমেই অলঙ্কারশাস্ত্র গবেষণার প্রথম ধাপটি সম্পন্ন হয়, যা হলো: উৎপত্তি ও বিকাশকাল।

(৩)

চতুর্থ হিজরি শতাব্দী আগমনের পর আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন উন্নতি সাধিত হয় যে, সাহিত্যিক সমালোচকগণ একে সাহিত্যিক পাঠ্যসমূহে প্রয়োগ করতে শুরু করেন। এভাবে বিশুদ্ধ আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মাধ্যমে সাহিত্য সমালোচনা তার ভূমিকা পালন করতে থাকে এবং তা ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। এর ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখা যায় ৩২২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে তাবাতাবার "ইয়ারুশ শির", ৩৭১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আমেদীর "আল-মুওয়াজানা বাইনা আবি তাম্মাম ওয়াল বুহুতুরি" এবং ৩৯২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আলী বিন আবদুল আজিজ জুরজানীর "আল-ওয়াসাতা বাইনাল মুতানাব্বি ওয়া খুসুমিহি" গ্রন্থগুলোতে।

তবে অন্য একদল সাহিত্যিক ও কবি অলঙ্কারশাস্ত্র গবেষণায় নিবেদিত হন, যা সাহিত্য সমালোচনা থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের পৃথক হওয়ার পথ প্রশস্ত করে এবং তাঁরা একে একটি বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক ধারায় পরিচালিত করেন। যদিও তাঁরা জাহেলি ও ইসলামী যুগের আরবি কবিতার বিশাল ঐতিহ্য এবং হাদিসে নববী থেকে প্রচুর উদাহরণ পেশ করার ব্যাপারে একমত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومن كلام الفصحاء، وخطبهم وأمثالهم وحكمهم، إلى جانب ما أوردوه من آيات القرآن الكريم، فنجد "سر الصناعتين" لأبي هلال العسكري المتوفى سنة 395 هـ.

و"العمدة في صناعة الشعر ونقده" لابن رشيق القيرواني المتوفى سنة 463 هـ.

و"سر الفصاحة" لابن سنان الخفاجي المتوفى سنة 466 هـ.

ولأن البحث البلاغي في هذه المرحلة الخصبة الغنية بتحليل النصوص الأدبية ونقدها قد تناوله الأدباء والشعراء من النقاد، فإن هذه المرحلة جديرة بأن تسمى "مرحلة البحث البلاغي في ظلال الأدب".

بيد أن هذه المرحلة من مراحل البحث في البلاغة، لم تصل إلى الدرجة التي يمكن أن يقال عنها إنها قد وفت النص الأدبي حقه، ذلك لأن البلاغة فيها قد طبقت في حدود ما توصل إليه البلاغيون آنئذ، ولم تكن البلاغة العربية قد اكتمل نظامها بعد، بل لم تكن قد تعمقت في الغوص إلى معاني النص الأدبي، واستخراج دررها الغالية من بحارها العميقة.

(4)

وهنا يأتي عبد القاهر الجرجاني المتوفى سنة 471 هـ بعقليته النادرة، وبصيرته الواعية، وأسلوبه الرشيق، فيتحف البلاغة العربية بكتابيه "دلائل الإعجاز" و"أسرار البلاغة"، متعمقاً في فهم فكرة النظم التي تلقفها من سابقيه، ويجعلها نظرية يدير عليها علم البلاغة الذي يقوم على المعاني المستوحاة من نظم الكلام وعلى الصورة المعبرة عما في نفس المتكلم، والموضحة لما يقصد إليه من أغراض، متضمناً قيماً جمالية نابعة
বিশুদ্ধভাষীদের বক্তব্য, তাদের ভাষণ, প্রবাদ এবং হিকমত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর পাশাপাশি পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহকে উদ্ধৃত করার মাধ্যমে আমরা হিজরি ৩৯৫ সালে ইন্তেকালকারী আবু হিলাল আল-আসকারির "সিররুস সিনাআতাইন" (দুই শিল্পের রহস্য) গ্রন্থটি পাই।

এবং হিজরি ৪৬৩ সালে ইন্তেকালকারী ইবনে রাশিক আল-কায়রাওয়ানির "আল-উমদাহ ফি সিনাআতিশ শি'রি ওয়া নাকদিহি" (কাব্যকলা ও তার সমালোচনায় মূল ভিত্তি)।

এবং হিজরি ৪৬৬ সালে ইন্তেকালকারী ইবনে সিনান আল-খাফাজির "সিররুল ফাসাহাহ" (সাবলীলতার রহস্য)।

যেহেতু এই উর্বর ও সমৃদ্ধ পর্যায়ে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণা সাহিত্যিক পাঠ বিশ্লেষণ ও সমালোচনার মাধ্যমে সমালোচক সাহিত্যিক এবং কবিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, তাই এই পর্যায়টিকে "সাহিত্যের ছায়ায় অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার পর্যায়" বলে অভিহিত করা সঙ্গত।

তবে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার এই পর্যায়টি এমন স্তরে পৌঁছাতে পারেনি যাকে সাহিত্যিক পাঠের যথাযথ হক আদায়কারী বলা যায়। এর কারণ হলো, তখন অলঙ্কারশাস্ত্র তখনকার আলঙ্কারিকদের আবিষ্কৃত সীমানার মধ্যেই প্রয়োগ করা হতো এবং তখন পর্যন্ত আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের পদ্ধতি পূর্ণতা পায়নি। বরং এটি সাহিত্যিক পাঠের অর্থের গভীরতায় প্রবেশ করে তার সুগভীর সমুদ্র থেকে মূল্যবান মুক্তো আহরণ করার মতো গভীরতা লাভ করেনি।

(৪)

আর এখানেই হিজরি ৪৭১ সালে ইন্তেকালকারী আব্দুল কাহের আল-জুরজানি তার বিরল মেধা, সচেতন অন্তর্দৃষ্টি এবং সাবলীল শৈলী নিয়ে হাজির হন। তিনি তার "দালাইলুল ই'জায" এবং "আসরারুল বালাগাহ" গ্রন্থদ্বয়ের মাধ্যমে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রকে এক অনন্য উপহার প্রদান করেন। তিনি তার পূর্বসূরিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত 'নাজম' বা বাক্যগঠন রীতির ধারণার গভীর উপলব্ধি অর্জন করেন এবং একে এমন একটি তত্ত্বে রূপান্তর করেন যার ওপর ভিত্তি করে অলঙ্কারশাস্ত্র পরিচালিত হয়। এই শাস্ত্রটি গড়ে ওঠে শব্দের সুশৃঙ্খল বিন্যাস থেকে উৎসারিত অর্থ এবং বক্তার মনের ভাব প্রকাশকারী ও উদ্দিষ্ট উদ্দেশ্য সুস্পষ্টকারী রূপকল্পের ওপর ভিত্তি করে, যা অন্তর্নিহিত নান্দনিক মূল্যবোধকে ধারণ করে।
(খণ্ড: ১) আন-নাযমুল বালাগী বাইন আন-নাযারিয়্যাতি ওয়াত তাতবীক (পৃষ্ঠা: ৩১)
من جمال المعاني قبل أن تكون زينة للألفاظ، فيقيم بهذا صرح البلاغة العربية على أسس متينة.

ويتلوه جار الله الزمخشري، فيطبق آراءه تطبيقاً عملياً - في كشافه ص 31 - على آيات القرآن الكريم، مضيفاً إليها ما عن له من خواطر وإضافات.

ولأن هذه الرحلة قد وضعت فيها أسس البلاغة النهائية، واكتمل فيها بنيان البحث البلاغي فإنها تعد بحق: "مرحلة ازدهار البحث البلاغي".

(5)

ولكن البلاغة العربية - بعد هذين الإمامين - قد بدأت تنحدر من حالق انحداراً أخذ في الازدياد شيئاً فشيئاً حتى ارتطمت بمنطق السكاكي المتوفى سنة 626 وفلسفته، وظلت حبيستهما قروناً طويلة، وأجيالاً عديدة.

ومُني الشعر العربي منذ المائة السابعة حتى العصر الحديث بطائفة من الشعراء كل عتادها ألوان من البديع محفوظة، فإذا ما قالوا شعراً سلكوا به مسالك التكلف والتصنع، ووجهوا عنايتهم إلى رص ألوان البديع فيما عرف باسم البديعيات، وهي في حقيقتها عبث ظاهر أضعف من متانة الشعر وهد من قوته، وأورده موارد التكلف الثقيل.

ثم هي من ناحية أخرى قد شعبت ألوان البديع وفرعته حتى ظن بعضهم أنها لا تحصى عدداً، كما أنها قد خلطت الغث بالثمين، فعدت في البديع ما هو جدير بأن يكون مقبحاً لا محسناً! .

ولأن هذه المرحلة المظلمة من مراحل البحث البلاغي قد وقعت بين منطق العلماء وفلسفتهم من جهة، وبين صنعة الشعراء وتكلفهم من جهة أخرى فإنها "مرحلة البحث البلاغي بين المنطق والتكلف".
শব্দালংকারের আগে এটি অর্থের সৌন্দর্য থেকে উদ্ভূত, যার মাধ্যমে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রাসাদ মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

এর পরে আসেন জারুল্লাহ আল-জামাশারি, তিনি তাঁর অভিমতগুলো ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটান—তাঁর কাশশাফ-এর ৩১ পৃষ্ঠায়—পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের ওপর, যেখানে তিনি তাঁর মনে আসা চিন্তা ও সংযোজনসমূহ যোগ করেন।

যেহেতু এই যাত্রায় অলঙ্কারশাস্ত্রের চূড়ান্ত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে এবং আলঙ্কারিক গবেষণার কাঠামো পূর্ণতা লাভ করেছে, তাই এটি যথাযথভাবেই "আলঙ্কারিক গবেষণার সমৃদ্ধির যুগ" হিসেবে বিবেচিত হয়।

(৫)

কিন্তু এই দুই ইমামের পর, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র এক উচ্চ শিখর থেকে নিচে নামতে শুরু করে, যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরিশেষে এটি ৬২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী সাক্কাকির যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের কবলে পড়ে এবং দীর্ঘ শতাব্দী ও বহু প্রজন্ম ধরে এগুলোর মধ্যেই বন্দি হয়ে থাকে।

সপ্তম শতাব্দী থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত আরবি কবিতা একদল কবির কবলে পড়ে যাদের একমাত্র সম্বল ছিল মুখস্থ করা কিছু বাদি' (শব্দালঙ্কার)। যখনই তারা কবিতা রচনা করতেন, তারা কৃত্রিমতা ও আড়ষ্টতার পথে হাঁটতেন। তারা তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করতেন বাদি'-এর বিভিন্ন প্রকার সাজানোর দিকে, যা "বাদি'ইয়াত" নামে পরিচিত হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল এক সুস্পষ্ট নিরর্থকতা, যা কবিতার মজবুত ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়, এর শক্তি ধূলিসাৎ করে দেয় এবং একে দুর্বোধ্য কৃত্রিমতার পথে নিয়ে যায়।

অতঃপর এটি অন্য দিক থেকে বাদি'-এর প্রকারগুলোকে এমনভাবে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত করেছে যে কেউ কেউ মনে করতে শুরু করেছিলেন যে এগুলো গণনা করা অসম্ভব। এছাড়াও এটি অসার বস্তুকে মূল্যবান বস্তুর সাথে মিশিয়ে ফেলেছিল, ফলে বাদি'-এর অন্তর্ভুক্ত এমন কিছুকেও অলঙ্কার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে কুৎসিত করারই যোগ্য ছিল, সৌন্দর্যমণ্ডিত করার নয়!

যেহেতু আলঙ্কারিক গবেষণার এই অন্ধকার যুগটি একদিকে আলেমদের যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের মাঝে এবং অন্যদিকে কবিদের কারিগরি দক্ষতা ও কৃত্রিমতার মাঝে নিপতিত হয়েছিল, তাই এটি হলো "যুক্তিবিদ্যা ও কৃত্রিমতার মাঝে আলঙ্কারিক গবেষণার যুগ"।