(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: -)
البلاغة الصافية في المعاني والبيان والبديع   (حسن إسماعيل عبد الرازق)

القسم: البلاغة


الكتاب: البلاغة الصافية في المعاني والبيان والبديع

المؤلف: حسن بن إسماعيل بن حسن بن عبد الرازق الجناجيُ رئيس قسم البلاغة بجامعة الأزهر (ت 1429 هـ)

الناشر: المكتبة الأزهرية للتراث القاهرة - مصر

الطبعة: سنة 2006 م

عدد الصفحات: 367

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 رمضان 1440

আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মা'আনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী'   (হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)


বই: আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মা'আনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী'

লেখক: হাসান বিন ইসমাইল বিন হাসান বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-জানাজি, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিভাগের প্রধান (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আযহারিয়্যাহ লিত-তুরাস, কায়রো - মিশর

সংস্করণ: ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৭

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং সৌজন্যে (আওকাফ আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দুহায়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রমজান ১৪৪০ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১)
البلاغة الصافية

في

المعاني والبيان والبديع

 

تأليف

الأستاذ الدكتور حسن إسماعيل عبد الرازق

أستاذ البلاغة بكلية اللغة بالعربية بالزقازيق

 

الناشر

المكتبة الأزهرية للتراث

9 درب الأتراك خلف الجامع الأزهر الشريف
আল-বালাগাতুস সাফিয়্যাহ

বিষয়ক

মাআনি, বায়ান ও বাদি শাস্ত্র

 

রচনা

প্রফেসর ডক্টর হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজিক

জাগাজিগ আরবি ভাষা অনুষদের অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যাপক

 

প্রকাশক

আল-মাকতাবাতুল আজহারিয়্যাহ লিত-তুরাস

৯ দরবুল আতরাক, আল-আযহার আশ-শরীফ মসজিদের পিছনে।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২)
بطاقة فهرسة

فهرسة أثناء النشر

إعداد الهيئة العامة لدار الكتب والوثائق القومية

إدارة الشئون الفنية

 

عبد الرازق، حسن إسماعيل

البلاغة الصافية في المعاني

والبيان والبديع

تأليف حسن إسماعيل

عبد الرازق. ط 1. - القاهرة

المكتبة الأزهرية للتراث، 2006

376 ص، 17 × 24 سم

2239/ 315/977

1 - البلاغة العربية أ- العنوان

رقم الإيداع

13576/ 2006
ক্যাটালগ কার্ড

প্রকাশনা কালীন ক্যাটালগিং

ন্যাশনাল লাইব্রেরি ও আর্কাইভস জেনারেল অথরিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত

কারিগরি বিষয়ক বিভাগ

 

আব্দুর রাজিক, হাসান ইসমাইল

মাআনী, বায়ান এবং

বাদী শাস্ত্রের বিশুদ্ধ অলঙ্কারশাস্ত্র

রচনায় হাসান ইসমাইল

আব্দুর রাজিক। ১ম সংস্করণ - কায়রো

আল-মাকতাবাতুল আজহারিয়া লিত-তুরাস, ২০০৬

৩৭৬ পৃষ্ঠা, ১৭ × ২৪ সে.মি.

২২৩৯/ ৩১৫/৯৭৭

১ - আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র ক- শিরোনাম

জমাদান নম্বর

১৩৫৭৬/ ২০০৬
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد النبي الأمين وعلى آله وأصحابه والتابعين، وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين .. وبعد:

فهذه هي البلاغة الصافية، قد استقيت أفكارها من نبع البلاغة العربية الصافي متمثلاً في مصادرها العربية الأصلية.

والحق يقال: إن علماء البلاغة الأقدمين، قد أرسوا دعائمها، وأقاموا بنيانها، على أسس قوية، وعمد متينة، فلم يتركوا ميداناً لمجتهد، ولا مجالاً لمعترض وقد كان خاتمتهم "بلا منازع" هو: أبو عبد الله محمد بن عبد الرحمن الخطيب القزويني.

وليس ثمة مجال لباحث في القرن العشرين أن يدعى أنه صاحب منة على البلاغة العربية، بعد أولئك الأعلام الذين لم يدخروا جهداً في سبيل إقامة صرحها الشامخ وحصنها المنيع.

ولهذا: فليست أدعى أنني قد أتيت بالجديد الذي لم أسبق إليه، ولا بالطريف الذي لن ألحق فيه.

وإن يكن من جهد متواضع أقدمه الآن فهو أنني أحاول نفض غبار القرون التي تعاقبت على البلاغة العربية في العهود المظلمة حتى تاه في دروبها عشاقها، وظن بها أعداء اللغة العربية الظنون!

فحاولت عرضها عرضاً شيقاً، آثرت فيه أن تكون الأفكار واضحة جليلة، وأن يكون الأسلوب سهلاً رقيقاً، تزينه إشراقة العبارة، وتجليه عذوبة الألفاظ، حتى يقبل عليها القارئ وكأنه يستمتع بأوقات جميلة، يتفيأ ظلالها الوارفة، ويستنشق
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমানতদার নবী আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর:

এটি হলো স্বচ্ছ অলঙ্কারশাস্ত্র, যার ভাবধারা আমি আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রের স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা থেকে আহরণ করেছি যা এর মৌলিক আরবী উৎসসমূহে প্রতিফলিত হয়েছে।

সত্য কথা এই যে, প্রাচীন অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং একে সুদৃঢ় মূল ও মজবুত স্তম্ভের ওপর নির্মাণ করেছেন। ফলে তাঁরা কোনো পরিশ্রমী গবেষকের জন্য নতুন কোনো ক্ষেত্র বা কোনো প্রতিবাদীর জন্য কোনো অবকাশ অবশিষ্ট রাখেননি। আর তাঁদের মধ্যে অবিসংবাদিতভাবে সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-খাতিব আল-কাযভিনি।

বিংশ শতাব্দীর কোনো গবেষকের পক্ষে এটি দাবি করার সুযোগ নেই যে, আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর তাঁর কোনো অবদান বা অনুগ্রহ রয়েছে, বিশেষ করে সেই সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের পর যাঁরা এই শাস্ত্রের সুউচ্চ প্রাসাদ ও দুর্ভেদ্য দুর্গ নির্মাণে বিন্দুমাত্র প্রচেষ্টায় ত্রুটি করেননি।

একারণে, আমি এমন দাবি করছি না যে আমি নতুন কিছু নিয়ে এসেছি যা আমার আগে কেউ আনেনি, কিংবা এমন কোনো অভিনব কিছু যা অন্য কেউ করতে পারবে না।

বর্তমানে আমি যে বিনম্র প্রচেষ্টা পেশ করছি তা হলো সেই শতাব্দীগুলোর ধুলিকণা ঝেড়ে ফেলার একটি প্রচেষ্টা যা অন্ধকার যুগগুলোতে আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর জমেছিল, যার ফলে এর অনুরাগীগণও এর পথে বিভ্রান্ত হয়েছিল এবং আরবী ভাষার শত্রুরা একে নিয়ে নানা কুধারণা পোষণ করেছিল!

তাই আমি একে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি, যেখানে আমি বিষয়গুলো স্পষ্ট ও মহৎ করতে অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং এর শৈলীকে সহজ ও সাবলীল রাখতে সচেষ্ট হয়েছি, যা বাচনভঙ্গির দীপ্তিতে সুশোভিত এবং শব্দের মাধুর্যে উজ্জ্বল; যাতে পাঠক এর প্রতি এমনভাবে আগ্রহী হয় যেন সে এক মনোরম সময় উপভোগ করছে, এর সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে এবং শ্বাস গ্রহণ করছে...
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৪)
أريجها العطر ويغذي روحه من ثمارها اليانعة، ويروى ظمأ عقله ووجدانه من نبعها الصافي، وكوثرها السلسبيل ورحيقها المختوم.

والله أرجو أن يكون عملي هذا خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفع به طلاب العلم، وأن يكون سبيلاً ميسراً إلى خدمة اللغة العربية، لغة القرآن الكريم، إنه سميع مجيب.

 

أ. د حسن إسماعيل عبد الرازق

أستاذ البلاغة بكلية اللغة العربية

جامعة الزقازيق
এর সুগন্ধি ঘ্রাণ এবং এর সুপক্ব ফল থেকে তার রূহ খোরাক লাভ করে, এবং তার বিবেক ও হৃদয়ের তৃষ্ণা এর স্বচ্ছ ঝরনা, সুপেয় কাউসার এবং মোহরকৃত সুধা থেকে মিটিয়ে থাকে।

আর আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, আমার এই আমলটি যেন একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হয়, এবং এর দ্বারা যেন ইলম অন্বেষণকারীরা উপকৃত হয়, আর এটি যেন পবিত্র কুরআনের ভাষা—আরবি ভাষার খিদমতে একটি সহজ পথ হয়; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

 

প্রফেসর ড. হাসান ইসমাইল আব্দুল রাজ্জাক

বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিভাগের অধ্যাপক, আরবি ভাষা অনুষদ

জাকাজীক বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌نشأة علوم البلاغة

عرف العرب - في جاهليتهم - بفصاحة اللسان، وبلاغة القول، وجمال التعبير كما اشتهروا بالإيجاز والبعد عن فضول الكلام، ولم يكن ذلك عن علم درسوه، ولا عن قواعد تعلموها وإنما كان ذلك كله سليقة وطبعاً.

بيد أنهم كانت لهم ملاحظات نقدية على بعض الشعراء، تداولتها كتب الأدب والنقد فيما بعد كالذي رووه من أن النابغة الذبياني كان حكم العرب في الجاهلية وكانوا يضربون له قبة من أدم بسوق عكاظ، فتأتيه الشعراء، فتعرض عليه أشعارها، فيقول فيها كلمته فتسير في الناس ولا يستطيع أحد أن ينقضها، قالوا: وقد جلس النابغة للفصل مرة وتقاطر عليه الشعراء ينشدون بين يديه آخر ما أحدثوه من الشعر، أو أجود ما أحدثوه، وكان فيمن أنشده: أبو بصير ميمون أعشى بني قيس، فما إن سمع قصيدته حتى قضى له، ثم جاء من بعده شعراء كثيرون فيهم حسان بن ثابت الأنصاري فأنشدوه، وجاءت في أخريات القوم: تماضر بنت عمرو بن الشريد الخنساء، فأنشدته رائبتها التي ترثى فيها أخاها صخراً، والتي تقول فيها:

وإن صخراً لنأتم الهداة به … كأنه علم في رأسه نار

 

فيروقه هذا الكلام ويأخذ بمجامعه فيقول للخنساء: لولا أن أبا بصير أنشدني آنفاً لقلت: إنك أشعر الجن والإنس! ويسمع حسان ذلك فتأخذه الغيرة ويذهب الغضب بتجلده، فيقول للنابغة: "أنا - والله - أشعر منها، ومنك، ومن أبيك! ! ".

فيقبل عليه أبو أمامة، فيسأله: حيث تقول ماذا؟ ، فيقول: حيث أقول:

لنا الجفنات الغر يلممن بالضحى … وأسيافنا يقطرن من نجدة دما

ولدنا بني العنقاء وابني محرق … فأكرم بنا خالاً وأكرم بنا ابنما

 

فيقبل عليه النابغة، فيقول: "إنك شاعر" ولكنك أقللت جفانك وسيوفك وقلت: "يلمعن بالضحى" ولو قلت: "يبرقن بالدجى" لكان أبلغ في المديح، لأن
বালাগাত শাস্ত্রের উৎপত্তি

আরবরা তাদের জাহেলী যুগে জিহ্বার প্রাঞ্জলতা, বক্তব্যের বাগ্মিতা এবং অভিব্যক্তির সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত ছিল। তেমনি তারা সংক্ষেপণ এবং অনর্থক কথা পরিহার করার জন্যও প্রসিদ্ধ ছিল। এটি তাদের কোনো পাঠ্য বিদ্যা বা শেখা নিয়মনীতির মাধ্যমে ছিল না, বরং এ সবই ছিল তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং সহজাত প্রকৃতি।

তবে কিছু কবির বিষয়ে তাদের মধ্যে সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ বিদ্যমান ছিল, যা পরবর্তীতে সাহিত্য ও সমালোচনা বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে স্থান পেয়েছে। যেমন তারা বর্ণনা করেছে যে, নাবিগা আল-জুবইয়ানি জাহেলী যুগে আরবদের বিচারক ছিলেন। ওকাজ বাজারে তার জন্য চামড়ার তৈরি একটি তাবু স্থাপন করা হতো এবং কবিরা তার কাছে আসতেন। তারা তার সামনে তাদের কবিতাগুলো পেশ করতেন এবং তিনি সে বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত দিতেন। তার সেই কথা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ত এবং কেউ তা খণ্ডন করতে পারত না। তারা বলেন: নাবিগা একবার বিচারের জন্য বসলেন এবং কবিরা একে একে তাদের সাম্প্রতিকতম বা শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো আবৃত্তি করার জন্য তার সামনে আসতে লাগলেন। যারা আবৃত্তি করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন আবু বাসির মায়মুন আল-আ'শা (বনু কায়েস গোত্রের)। নাবিগা তার কাসিদা শোনামাত্রই তার পক্ষে রায় দিলেন। এরপর হাসান বিন সাবিত আল-আনসারিসহ আরও অনেক কবি আসলেন এবং আবৃত্তি করলেন। সবশেষে আসলেন উমর বিন আল-শারীদের কন্যা তামা জুর আল-খানসা। তিনি তার সেই শ্রেষ্ঠ শোকগাথা আবৃত্তি করলেন যা তিনি তার ভাই সাখরের বিয়োগব্যথায় রচনা করেছিলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন:

আর নিশ্চয়ই সাখর এমন একজন যাকে পথপ্রদর্শকরা অনুসরণ করে থাকে … যেন সে এমন এক পাহাড় যার মাথায় আগুন জ্বলছে।

 

এই কথাটি তাকে মুগ্ধ করে এবং তার মন জয় করে নেয়। তখন তিনি আল-খানসাকে বললেন: "যদি আবু বাসির আমার কাছে কিছুক্ষণ আগে আবৃত্তি না করত, তবে আমি অবশ্যই বলতাম যে, তুমিই জিন ও ইনসানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি!" হাসান এটি শুনে ঈর্ষান্বিত হলেন এবং ক্রোধে তার ধৈর্য হারিয়ে ফেললেন। তিনি নাবিগাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তার চেয়ে, আপনার চেয়ে এবং আপনার পিতার চেয়েও বড় কবি!!"

তখন আবু উমামা (নাবিগা) তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমার কোন কবিতার ভিত্তিতে তুমি এ কথা বলছ?" তিনি বললেন: "যেখানে আমি বলেছি:

আমাদের রয়েছে সাদা উজ্জ্বল বড় পাত্রসমূহ যা পূর্বাহ্নে সমবেত করা হয় … আর আমাদের তরবারিগুলো বীরত্ববশত রক্ত ঝরায়।

আমরা আনকা এর সন্তানদের এবং মুহররিকের দুই সন্তানকে জন্ম দিয়েছি … অতএব মামা হিসেবে এবং সন্তান হিসেবে আমরা কতই না শ্রেষ্ঠ।

 

তখন নাবিগা তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন: "তুমি অবশ্যই একজন কবি," কিন্তু তুমি তোমার পাত্র এবং তরবারির সংখ্যা কমিয়ে বলেছ। আর তুমি বলেছ: "তারা পূর্বাহ্নে চমকায়", অথচ তুমি যদি বলতে: "তারা গভীর অন্ধকারে চমকায়" তবে তা প্রশংসার ক্ষেত্রে আরও বেশি বাগ্মিতাপূর্ণ হতো, কারণ...
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৬)
الضيف في الليل أكثر، وقلت: "يقطرن من نجدة دماً" ولو قلت: "يجرين" لكان أكثر لإنصباب الدم.

وهم بذلك يكونون قد نظروا إلى المقام وما يقتضيه من كلام، كما أن لهم ملاحظات أخرى أثرت عنهم تبين أنهم قد نظروا إلى صحة الوزن وانسجامه وإلى المعنى وصوابه، بل تذكر أنهم قد نظروا إلى القصيدة بتمامها، وإلى نتاج الشاعر جميعه، كما يبدو ذلك من اختيارهم المعلقات، ومن نبذهم عدي بن ربيعة بالمهلهل، لما رأو في شعر، من اختلاف واضطراب وكما يبدو من تلقيبهم شعراءهم بألقاب تدل على مدى إحسانهم، كالنابغة، والأفوه، والمرقش، والمثقب، والمنخل، والمتنخل.

وانبثق فجر الإسلام، وطلعت شمس النبوة، وتوالى نزول آيات القرآن بلسان عربي مبين على قلب محمد صلى الله عليه وسلم، فيتلوها على أصحابه، ويتلوها أصحابه على أسماع المسلمين فيحفظونها، وتتردد على أسماعهم آناء الليل وأطراف النهار، وينبهر العرب ببلاغة القرآن الكريم ويعجزون عن مجاراتها، ويسلمون بعجزهم عن أن يجيئوا بمثل أقصر سورة من القرآن، وصار المعاندون ممن كفروا به وأنكروه يقولون مرة: إنه شعر، ومرة أخرى: إنه سحر، وقد كانوا يجدون له وقعاص في القلوب وقرعاً في النفوس يريهم ويحيرهم، فلم يتمالكوا أن يعترفوا به نوعاً من الاعتراف، ولهذا قال قائلهم: إن له لحلاوة، وإن عليه لطلاوة.

أقبل المسلمون على القرآن الكريم؛ يتزودون من معينه الذي لا ينضب ويرتشفون من رحيقه العذب ويرتوون من مائه السلسبيل حتى رق إحساسهم وأرهفت مشاعرهم، وسلمت أذواقهم، وعرفوا من خواص التراكيب ما لم يكونوا يعرفون، وشهدوا من مظاهر النظم وخصائصه ما لم يكونوا يشهدون!

وكانت أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم وهو الذي أعطى جوامع الكلم ولا ينطق عن الهوى تتردد على الأسماع، والخلفاء الراشدون - رضوان الله عليهم - كانوا خطباء مفوهين، وكانت لهم ملاحظات في نقد الكلام وبلاغته.
রাতে মেহমানদের সংখ্যা অধিক হয়। আর আপনি বলেছিলেন: "বীরত্বের কারণে তারা রক্ত ঝরাচ্ছে", কিন্তু যদি আপনি "প্রবাহিত করছে" বলতেন তবে তা রক্ত ঝরানোর আধিক্য বুঝাতে আরও বেশি কার্যকর হতো।

এভাবে তারা প্রেক্ষাপট এবং পরিস্থিতির চাহিদানুযায়ী বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করেছেন। অনুরূপভাবে তাদের থেকে বর্ণিত অন্যান্য পর্যবেক্ষণগুলো প্রকাশ করে যে, তারা ছন্দের বিশুদ্ধতা ও সামঞ্জস্য এবং অর্থের সঠিকতা ও যথার্থতার প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন। এমনকি এটিও উল্লেখ করা হয় যে, তারা পুরো কাসিদা এবং কবির সামগ্রিক সৃষ্টির প্রতিও নজর দিয়েছেন। যেমনটি তাদের 'মুআল্লাকাত' নির্বাচন থেকে এবং আদি বিন রাবিআহ-কে 'মুহালহিল' উপাধি দেওয়ার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়, যখন তারা তার কবিতায় বৈসাদৃশ্য ও অস্থিরতা লক্ষ্য করেছেন। আরও যেমনটি বোঝা যায় তাদের কবিদের এমন সব উপাধিতে ভূষিত করার মাধ্যমে যা তাদের উৎকর্ষের মাত্রাকে নির্দেশ করে, যেমন: আন-নাবিগাহ, আল-আফওয়াহ, আল-মুরাক্কিশ, আল-মুসাক্কিব, আল-মুনানখাল এবং আল-মুতানানখিল।

অতঃপর ইসলামের প্রভাত উদ্ভাসিত হলো, নবুওয়তের সূর্য উদিত হলো এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়া শুরু হলো। তিনি তা তাঁর সাহাবীদের কাছে তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁর সাহাবীগণ তা মুসলমানদের কানে পৌঁছে দিতেন। ফলে তারা তা মুখস্থ করতেন এবং তা রাত-দিন তাদের কর্ণকুহরে প্রতিধ্বনিত হতো। আরবরা কুরআনে কারীমের অলঙ্কারশাস্ত্রে মুগ্ধ হয়ে পড়ল এবং তারা এর সমকক্ষ কিছু আনতে অক্ষম হয়ে গেল। তারা কুরআনের ক্ষুদ্রতম সূরার মতো কিছু নিয়ে আসার ব্যাপারেও নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে নিল। যারা কুফরি করেছিল এবং একে অস্বীকার করেছিল, সেই জেদিরা কখনো বলতে লাগল: "এটি কবিতা", আবার কখনো বলল: "এটি যাদু"। অথচ তারা তাদের হৃদয়ে এর প্রভাব এবং অন্তরে এর স্পন্দন অনুভব করছিল, যা তাদের বিস্মিত ও হতবাক করে দিচ্ছিল। ফলে তারা এক প্রকার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল। এ কারণেই তাদের জনৈক বক্তা বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই এর মাঝে মিষ্টতা রয়েছে এবং এর উপরে রয়েছে লাবণ্য"

মুসলমানরা কুরআনে কারীমের দিকে ধাবিত হলো; তারা এর অফুরন্ত ঝরনাধারা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করতে লাগল, এর সুমিষ্ট সুধা পান করতে লাগল এবং এর সালসাবিল পানি দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত তাদের অনুভূতি সূক্ষ্ম হলো, সংবেদনশীলতা প্রখর হলো এবং তাদের রুচিবোধ পরিশুদ্ধ হলো। তারা বাক্যের কাঠামোগত এমন সব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানল যা আগে জানত না এবং ছন্দশৈলীর এমন সব রূপ ও বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করল যা তারা আগে দেখেনি!

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহ—যাঁকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য (জাওয়ামিউল কালিম) দান করা হয়েছিল এবং যিনি নিজ খেয়ালখুশি থেকে কথা বলেন না—মানুষের কানে প্রতিধ্বনিত হতো। আর খুলাফায়ে রাশেদীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন অত্যন্ত বাগ্মী ও সুবক্তা; কথা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সমালোচনায় তাদের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৭)
وإلى جانب كلام الله تعالى، وحديث الرسول صلى الله عليه وسلم وخطب الخلفاء الراشدين وملاحظاتهم فإن أموراً أخرى جدت بالإسلام دعت إلى الاهتمام بصياغة القول ونظم التراكيب وتصوير المعاني صوراً رائعة جذابة، كالصراع بين الأنصار والمهاجرين على الخلافة، والخلاف الذي نشب بين علي ومعاوية رضي الله عنهما.

فلما كان عصر بني أمية كثرت الملاحظات البلاغية، لازدهار الخطابة وتنوعها في هذا العصر، ولأن العرب كانوا قد تحضروا، واستقروا في المدن والأمصار وقامت الأسواق الأدبية على غرار سوق عكاظ في الجاهلية.

وقد كانت تلك الملاحظات البلاغية أساساً للدراسات البلاغية، التي بدأ تدوينها في العصر العباسي وقد كان أول علم يصنف فيه من علوم البلاغة الثلاثة: "المعاني، والبيان، والبديع"، هو علم البيان، فقد صنف أبو عبيدة معمر بن المثنى المتوفي سنة 206 هـ كتابه "مجاز القرآن" بعد سؤال وجه إليه في مجلس الفضل ابن الربيع والي البصرة للمأمون بن هارون الرشيد عن معنى قول الله تعالى - في شجرة الزقوم: {طَلْعُهَا كَأَنَّهُ رُءُوسُ الشَّيَاطِينِ} [الصافات: 65] وكيف شبه الطلق برءوس الشياطين وهي لم تعرف بعد، وينبغي التشبيه بشيء معروف، حتى يتبين المشبه ويتضح فأجاب أبو عبيدة، بأنه على حد قول امرئ القيس:

أيقتلني والمشرفي مضاجعي … ومسنونة زرق كأنياب أغوال

 

فالمشبه به هنا - أيضاً - غير معروف، والقصد من هذا التشبيه هو تصوير المشبه بصورة مخيفة.

ورجع أبو عبيدة من فوره، فتقصى ما ورد في القرآن الكريم من ألفاظ قصد بها غير معانيها الموضوعة لها في اللغة، وضمنها كتابه "مجاز القرآن" وتابعه العلماء من بعده يكتبون في صور التشبيه والاستعارة، والكناية.

أما علم المعاني فإننا نجد لمسائله أثراً في كتاب سيبويه المتوفي سنة 180 هـ وفي "البيان والتبيين" للجاحظ المتوفي سنة 255 هـ، وفي "الصناعتين" لأبي هلال العسكري المتوفي سنة 395 هـ. ولكن يأتي عبد القاهر الجرجاني المتوفي سنة 471 هـ بعقليته النادرة، وبصيرته الواعية وأسلوبه الرشيق، فيتحف البلاغة العربية بكتابيه "دلائل الإعجاز" و"أسرار البلاغة"، ويضمنها نظريتيه في علمي: المعاني، والبيان.
মহান আল্লাহর বাণী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস, খোলাফায়ে রাশেদীনের ভাষণ ও তাঁদের পর্যবেক্ষণসমূহের পাশাপাশি ইসলামে এমন কিছু নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটেছিল যা বক্তব্যের বিন্যাস, বাক্য গঠন এবং অর্থকে চমৎকার ও আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলার প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ্য করেছিল; যেমন খিলাফত নিয়ে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যকার সংঘাত এবং আলী ও মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুমার মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ।

অতঃপর উমাইয়া যুগে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (বালাগাত) পর্যবেক্ষণসমূহ বৃদ্ধি পায়; কারণ এই যুগে বাগ্মিতা বা বক্তৃতাকলার চরম বিকাশ ও বৈচিত্র্য ঘটেছিল এবং আরবরা তখন সভ্য হয়ে উঠেছিল, তারা বড় বড় জনপদ ও শহরগুলোতে স্থায়ী বসবাস শুরু করেছিল এবং জাহেলি যুগের উকায মেলার আদলে বিভিন্ন সাহিত্যিক বাজার গড়ে উঠেছিল।

এই অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পর্যবেক্ষণগুলোই ছিল অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার ভিত্তি, যা আব্বাসীয় যুগে সংকলিত হতে শুরু করে। অলঙ্কারশাস্ত্রের তিনটি শাখা— 'মাআনি', 'বায়ান' ও 'বাদি'— এর মধ্যে সর্বপ্রথম যে শাস্ত্রটি বিন্যস্ত হয়েছিল তা হলো 'ইলমুল বায়ান'। ২০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু উবায়দাহ মুয়াম্মার ইবনুল মুসান্না তাঁর 'মাজাযুল কুরআন' গ্রন্থটি রচনা করেন। এটি তিনি রচনা করেছিলেন হারুনুর রশীদের পুত্র মামুনের পক্ষ থেকে বসরার গভর্নর ফজল ইবনুর রাবী'র মজলিসে তাঁকে করা একটি প্রশ্নের জবাবে। প্রশ্নটি ছিল যাক্কুম গাছ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {তার মোচাগুলো যেন শয়তানদের মাথা} [আস-সাফফাত: ৬৫]—এর অর্থ নিয়ে। প্রশ্ন করা হয়েছিল, ফলের মোচাকে কীভাবে শয়তানদের মাথার সাথে তুলনা করা হলো অথচ তা মানুষের অজানা? অথচ তুলনা তো সুপরিচিত জিনিসের সাথে হওয়া উচিত যাতে করে যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে তা স্পষ্ট ও পরিষ্কার হয়। উত্তরে আবু উবায়দাহ বলেছিলেন যে, এটি ইমরুল কায়েসের এই কবিতার শৈলী অনুযায়ী হয়েছে:

সে কি আমাকে হত্যা করবে? অথচ মাশরাফী তলোয়ার আমার শয্যাসঙ্গী … এবং নীল রঙের ধারালো তীরফলক যেন অশুভ প্রেতাত্মার দাঁত

 

এখানেও যার সাথে তুলনা করা হয়েছে (মুশাব্বাহ বিহি) তা অজানা; আর এই তুলনার উদ্দেশ্য হলো যা তুলনা করা হচ্ছে (মুশাব্বাহ) তাকে একটি ভয়াবহ রূপে চিত্রায়িত করা।

আবু উবায়দাহ সাথে সাথেই ফিরে গেলেন এবং পবিত্র কুরআনে বর্ণিত এমন শব্দগুলো অনুসন্ধান করলেন যা ভাষায় ব্যবহৃত আভিধানিক অর্থ ছাড়া অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এরপর তিনি সেগুলো তাঁর 'মাজাযুল কুরআন' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করলেন। পরবর্তী উলামায়ে কেরাম তাঁর অনুসরণ করে উপমা (তাশবীহ), রূপক (ইস্তিয়ারা) ও পরোক্ষ উক্তি (কিনায়াহ) নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন।

পক্ষান্তরে 'ইলমুল মাআনি'র বিষয়বস্তুসমূহের প্রভাব আমরা ১৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী সীবওয়াইহ-এর গ্রন্থে, ২৫৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী জাহিজের 'আল-বায়ান ওয়াত তাবিইয়ীন'-এ এবং ৩৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু হিলাল আল-আসকারীর 'আস-সিনাআতাইন' গ্রন্থে খুঁজে পাই। কিন্তু ৪৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আব্দুল কাহির আল-জুরজানী তাঁর অনন্য মেধা, সজাগ অন্তর্দৃষ্টি ও সাবলীল শৈলী নিয়ে আবির্ভূত হন। তিনি তাঁর 'দালাইলুল ইজায' ও 'আসরারুল বালাগাত' গ্রন্থদ্বয়ের মাধ্যমে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করেন এবং এই বই দুটিতে তিনি 'মাআনি' ও 'বায়ান' শাস্ত্রের ওপর নিজের তত্ত্বগুলো সন্নিবেশিত করেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৮)
وأما علم البديع فإن أول من ألف فيه هو عبد الله بن المعتز، المتوفي سنة 296 هـ، فقد رأى الشعراء من قبله يهتمون في أشعارهم بالبديع، كبشار بن برد، ومسلم بن الوليد، وأبي تمام وغيرهم، فجمع من أنواعه سبعة عشر نوعاً، وزاد معاصره قدامة بن جعفر المتوفي سنة 337 هـ عشرين نوعاً اتفق معه في سبعة منها، فكان جملة ما زاده ثلاثة عشر، فكمل ما جمعه ثلاثين نوعاً، ثم أوصلها أبو هلال العسكري في كتابه "الصناعتين" إلى خمسة وثلاثين، وجمع ابن رشيق المتوفي سنة 463 هـ في كتابه "العمدة" مثلها.

ولما جاء أبو يعقوب السكاكي المتوفي سنة 626 هـ نظم علوم البلاغة في القسم الثالث من كتابه "مفتاح العلوم" وفصل أبوابها، ورتب مسائلها، وكل من جاء بعده من البلاغيين قد اعتمدوا على ما قاله السكاكي في كتابه هذا.

 

‌‌وجه الحاجة إلى هذه العلوم:

إن أعظم فائدة تعود على المرء من دراسة علوم البلاغة والإحاطة بها هي معرفة أسرار اللغة العربية، والإحاطة بخصائص أسلوبها، للإطلاع على أسرار إعجاز القرآن الكريم والاستعانة بها على فهم معانيه، ومعرفة أغراضه ومقاصده.

كما أن دراسة هذه العلوم، تطلعنا على أهم جانب من جوانب النقد في اللغة العربية شعرها ونثرها، وهو الجانب البلاغي الذي يهتم بمعرفة أسرار التراكيب وتصوير المعاني والأفكار، وعرض الأساليب في ألوان جمالية بديعة.
আর ইলমুল বাদী সম্পর্কে কথা হলো, এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন আল-মুতায, যিনি ২৯৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে, তার পূর্ববর্তী কবিগণ যেমন বাশার বিন বুরদ, মুসলিম বিন আল-ওয়ালিদ, আবু তাম্মাম এবং অন্যান্যরা তাদের কবিতায় 'বাদী'র প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। ফলে তিনি এর প্রকারভেদ থেকে সতেরটি প্রকার সংকলন করেন। অতঃপর তার সমসাময়িক কুদামা বিন জাফর (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি) বিশটি প্রকার যোগ করেন, যার মধ্যে সাতটি প্রকারের ক্ষেত্রে তিনি ইবনে আল-মুতাযের সাথে একমত হন; ফলে তার নতুন সংযোজিত প্রকার ছিল তেরটি এবং তার সংকলিত মোট প্রকার সংখ্যা দাঁড়ায় ত্রিশটি। এরপর আবু হিলাল আল-আসকারি তার "আস-সিনাআতাইনি" গ্রন্থে একে পঁয়ত্রিশে উন্নীত করেন এবং ইবনে রাশিক (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) তার "আল-উমদাহ" গ্রন্থে অনুরুপ সংখ্যা সংকলন করেন।

অতঃপর যখন আবু ইয়াকুব আস-সাককাকি (মৃত্যু ৬২৬ হিজরি) আসলেন, তিনি তার "মিফতাহুল উলূম" গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে অলঙ্কারশাস্ত্রসমূহ বিন্যস্ত করেন এবং এর অধ্যায়গুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন ও এর মাসআলাগুলো সাজান। তার পরবর্তী সকল অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ সাককাকি তার এই গ্রন্থে যা বলেছেন তার ওপরই নির্ভর করেছেন।

 

‌‌এই বিদ্যাসমূহের প্রয়োজনীয়তা:

অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) অধ্যয়ন এবং এতে ব্যুৎপত্তি অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির যে সর্বশ্রেষ্ঠ উপকার লাভ হয় তা হলো আরবি ভাষার রহস্যগুলো জানা এবং এর শৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহ আয়ত্ত করা, যাতে পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের রহস্যসমূহ অবলোকন করা যায় এবং এর অর্থ অনুধাবন ও এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে সহায়তা লাভ করা যায়।

অনুরূপভাবে, এই বিদ্যাসমূহ অধ্যয়ন আমাদের আরবি ভাষার কবিতা ও গদ্যের সমালোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সম্পর্কে অবগত করে, আর তা হলো অলঙ্কারশাস্ত্রীয় দিক; যা বাক্যের গঠন-রহস্য, ভাব ও চিন্তার চিত্রায়ন এবং অত্যন্ত চমৎকার ও নান্দনিক রূপে প্রকাশভঙ্গি উপস্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أشهر رجال البلاغة ومؤلفاتهم

‌‌(1) أبو هلال العسكري

هو‌‌ أبو هلال، الحسن بن عبد الله بن سهل بن سعيد بن يحيى بن مهران العسكري، والعسكري نسبة إلى بلد يسمى (عسكر مكرم) من نواحي خوزستان.

وقد تلقى العلم في بغداد، والبصرة، وأصبهان، وتتلمذ على يد خاله: أبي أحمد العسكري المتوفي سنة 382 هـ، والذي يشترك معه في اسمه واسم أبيه، فكلاهما يسمى: الحسن بن عبد الله.

وقد كان أبو هلال عالماً فاضلاً، وشاعراً مجيداً، مقتراً عليه في الرزق، ولهذا فإنه كان يتبزز - أي يبيع البز من الثياب - احترازاً من الطمع والدناءة والتبذل يقول أبو هلال:

جلوسي في سوق أبيع وأشتري … دليل على أن الأنام قرود

ولا خير في قوم تذل كرامهم … ويعظم فيهم نذلهم ويسود

وتهجوهم عني رثاثة كسوتي … هجاءً قبيحاً ما عليه مزيد

 

ومما ينبئ عن بؤسه وشقائه - على الرغم من علمه وأدبه وفضله - قوله:

إذا كان مالي مال من يلفظ العجم … وجالي فيكم حال من حاك أو حجم

فأين انتفاعي بالأصالة والحجا … وما ربحت كفي على العلم والحكم

ومن ذا الذي يبصر في الناس حالتي … فلا يلعن القرطاس والحبر والقلم؟ ! !

 

وقد توفى أبو هلال العسكري في عام 395 هـ.

وله مصنفات كثيرة تدل على غزارة علمه، وسمو قدره، وعلو همته، يقول فيها بعض الشعراء:

وأحسن ما قرأت على كتاب … بخط العسكري أبي هلال

فلو أني جعلت أمير جيش … لما قاتلت إلا بالسؤال
অলঙ্কার শাস্ত্রের প্রখ্যাত মনীষী ও তাঁদের রচনাবলি

(১) আবু হিলাল আল-আসকারী

তিনি হলেন আবু হিলাল, আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাহল ইবনে সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মিহরান আল-আসকারী। 'আসকারী' শব্দটি খুজিস্তানের পার্শ্ববর্তী 'আসকার মুকরাম' নামক একটি শহরের দিকে সম্পৃক্ত.

তিনি বাগদাদ, বসরা এবং ইসফাহানে জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাঁর মামা আবু আহমাদ আল-আসকারী (মৃত্যু ৩৮২ হিজরি)-র নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, যাঁর সাথে তাঁর নিজের এবং তাঁর পিতার নামের মিল রয়েছে; কেননা উভয়ের নামই ছিল: হাসান ইবনে আবদুল্লাহ।

আবু হিলাল ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলিম এবং উচ্চমানের কবি, তবে তাঁর রিযিক বা জীবিকা ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। এ কারণে তিনি লোভ, হীনতা ও লাঞ্ছনা থেকে বাঁচার জন্য কাপড়ের ব্যবসা করতেন (অর্থাৎ তিনি কাপড়ের থান বিক্রি করতেন)। আবু হিলাল বলেন:

বাজারে বসে আমার এই কেনাবেচা ... প্রমাণ করে যে মানুষ আজ বানরে পরিণত হয়েছে

সেই জাতির মাঝে কোনো কল্যাণ নেই যাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা লাঞ্ছিত হয় ... আর তাদের হীন ও নীচ ব্যক্তিরা সম্মানিত ও নেতা হয়

আমার জীর্ণ পোশাকই আমার পক্ষ হতে তাদের প্রতি বিদ্রূপ ছুড়ে দেয় ... এমন এক কদর্য বিদ্রূপ যার ওপরে আর কিছু হতে পারে না

 

তাঁর জ্ঞান, সাহিত্যবোধ ও শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও তাঁর দুর্দশা ও কষ্টের কথা ফুটে ওঠে তাঁর এই বাণীতে:

যদি আমার সম্পদ সেই অনারবদের বর্জন করা সম্পদের মতো হয় ... আর তোমাদের মাঝে আমার অবস্থান যদি কোনো তাঁতি বা রক্তমোক্ষণকারীর মতো হয়

তবে আভিজাত্য ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আমার লাভ কী ... আর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে আমার হাতই বা কী অর্জন করল?

এমন কে আছে যে মানুষের মাঝে আমার এই করুণ দশা দেখে ... কাগজ, কালি আর কলমকে অভিশাপ দেবে না? ! !

 

আবু হিলাল আল-আসকারী ৩৯৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর অনেকগুলো সংকলিত গ্রন্থ রয়েছে যা তাঁর জ্ঞানের গভীরতা, মর্যাদার উচ্চতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিচয় দেয়। এই প্রসঙ্গে জনৈক কবি বলেন:

আবু হিলাল আল-আসকারীর হাতের লেখায় কোনো কিতাবে আমি যা পড়েছি ... তার চেয়ে সুন্দর আর কিছুই নেই

যদি আমাকে কোনো সেনাবাহিনীর সেনাপতি করা হতো ... তবে আমি সওয়াল (জিজ্ঞাসা) ছাড়া আর কিছু দিয়ে যুদ্ধ করতাম না
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১০)
فإن الناس ينهزمون منه … وقد ثبتوا لأطراف العوالي

 

وأهم مصنفاته هو:‌‌ كتاب "الصناعتين": الكتابة والشعر الذي اشتهر به، واقترن باسمه.

 

كتاب الصناعتين:

ذكر أبو هلال العسكري في مستهل كتابه هذا أن الذي دعاه إلى تصنيفه هو أنه وجد الإبانة عن حدود البلاغة وأقسام البيان والفصاحة مبثوثة في تضاعيف كتاب "البيان والتبيين" للجاحظ، ضالة بين أمثلته، ولا توجد إلا بالتأمل الطويل والتصفح الكثير مع أنه أكبر الكتب المؤلفة في علم البلاغة وأشهرها، فرأى أن يصنف كتابه هذا، مشتملاً على جميع ما يحتاج إليه في صنعة الكلام نثره ونظمه من غير تقصير وإخلال، وإسهاب وإهذار.

ولعل السر في تسميته بالصناعتين: أنه وجد لخالد أبي أحمد العسكري كتاباً بعنوان "صناعة الشعر" فألهمه ذلك أن يصنف كتاباً، لا في صناعة الشعر فحسب، ولا في صناعة النثر فحسب، بل في "الصناعتين" معاً: الشعر والنثر على حد سواء.

وقد رسم أبو هلال - في مقدمة كتابه - المنهج الذي سار عليه في دراسته لصناعتي الشعر والنثر، فبين أن الكتاب عشرة أبواب اشتملت على ثلاثة وخمسين فصلاً.

فالباب الأول: في الإبانة عن موضوع البلاغة وحدودها وما جاء فيها من أقوال العلماء.

والباب الثاني: في تمييز الكلام، جيده من رديئه، ومحموده من مذمومه.

والباب الثالث: في معرفة صنعة الكلام وترتيب الألفاظ.

والباب الرابع: في البيان عن حسن السبك وجودة الرصف.

والباب الخامس: في الإيجاز والإطناب.

والباب السادس: في حسن الأخذ وقبحه وجودته ورداءته.
কেননা মানুষ তার সামনে পরাজিত হয় … অথচ তারা সুউচ্চ বর্শার অগ্রভাগেও অবিচল থাকতো।

 

এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের অন্যতম হলো:‌‌ কিতাব ‘আস-সিনাআতাইন’: লিখনশৈলী ও কাব্য, যার মাধ্যমে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং যা তাঁর নামের সাথে জড়িয়ে গেছে।

 

কিতাবুস সিনাআতাইন:

আবু হিলাল আল-আসকারি তাঁর এই গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি রচনার পেছনে তাঁকে যা উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো—তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের সংজ্ঞা এবং বায়ান ও ফাসাহাতের প্রকারভেদসমূহ আল-জাহিযের ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন’ গ্রন্থের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন, যা এর উদাহরণসমূহের মধ্যে হারিয়ে গেছে। গভীর চিন্তা এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যম ছাড়া তা খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, যদিও সেটি অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর রচিত সর্ববৃহৎ এবং সুপ্রসিদ্ধ কিতাব। ফলে তিনি তাঁর এই গ্রন্থটি সংকলন করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কোনো রূপ ঘাটতি, ত্রুটি, বাহুল্য কিংবা অসারতা ছাড়াই গদ্য ও পদ্যের মাধ্যমে বাক্য তৈরির শৈলীর প্রয়োজনীয় সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।

সম্ভবত একে ‘আস-সিনাআতাইন’ বা ‘দুই শিল্প’ নামকরণের রহস্য হলো: তিনি খালিদ আবি আহমদ আল-আসকারির ‘সিনাআতুশ শির’ (কাব্যের শিল্প) শিরোনামের একটি গ্রন্থ পেয়েছিলেন। এটিই তাঁকে এমন একটি কিতাব রচনার অনুপ্রেরণা দেয় যা কেবল কাব্যশিল্পের ওপর নয়, আবার কেবল গদ্যশিল্পের ওপরও নয়, বরং সমানভাবে পদ্য ও গদ্য—উভয় ‘শিল্পের’ ওপরই রচিত হবে।

আবু হিলাল তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় গদ্য ও পদ্য উভয় শিল্পের ওপর গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কিতাবটি দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত যা তিপ্পান্নটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত।

প্রথম অধ্যায়: অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয়বস্তু, এর সংজ্ঞা এবং এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য বর্ণনা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বাক্যের উৎকর্ষ ও অপকর্ষ এবং এর প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় দিকের পার্থক্য নিরূপণ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: বাক্য নির্মাণের শিল্প এবং শব্দ বিন্যাস পদ্ধতি অনুধাবন প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: বাক্যের শৈল্পিক গাঁথুনি এবং শব্দের সুনিপুণ বিন্যাস বর্ণনা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: সংক্ষেপণ (ইজায) এবং প্রসারণ (ইতনাব) প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: অন্যের ভাব গ্রহণের সৌন্দর্য ও কদর্যতা এবং এর উৎকর্ষ ও অপকর্ষ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১১)
والباب السابع: في التشبيه.

والباب الثامن: في السجع والازدواج.

والباب التاسع: في شرح البديع والإبانة عن وجوهه، وحصر أبوابه وفنونه.

والباب العاشر: في حسن مقاطع الكلام ومبادئه والخروج من النسيب إلى المديح وغيره.

وقد استقصى أبو هلال العسكري بمنهجه هذا صور البيان والبديع التي سجلها النقاد والبلاغيون حتى عصره، وقد سلك - في تأليفه - طريقة صناع الكلام من الكتاب والشعراء. ونبذ سلوك مذهب المتكلمين - كما يقول في أول الكتاب - ومضى على طريقة ابن المعتز يكثر من الأمثلة والنصوص من القرآن والحديث وكلام الصحابة والعرب، وأشعار المتقدمين والمحدثين.

 

‌‌(2) عبد القاهر الجرجاني

هو:‌‌ عبد القاهر، أبو بكر بن عبد الرحمن بن محمد الجرجاني، من أسرة فارسية رقيقة الحال، ولكنه نشأ ولوعاً بالعلم محباً للثقافة، فأقبل على الكتب يلتهمها وبخاصة كتب النحو والأدب لاقتفائه أثر أساتذيه: أبي الحسين محمد بن الحسن ابن عبد الوارث الفارسي النحوي نزيل جرجان، وأبي الحسن علي بن عبد العزيز الجرجاني، فعلى الرغم من أن عبد القاهر لم يخرج من جرجان في طلب العلم أرسل إليه أبا الحسين هذا، وكان قد أخذ العلم عن خاله أبي علي الفارسي صاحب كتاب الإيضاح في النحو. وأما أبو الحسن علي بن عبد العزيز الجرجاني فقد كان أديباً ممتازاً، واشتهر "بالوساطة بين المتنبي وخصومه" قال ياقوت: "وكان الشيخ عبد القاهر الجرجاني قد قرأ عليه، واغترف من بحره، وكان إذا ذكره في كتبه تبخبخ به، وشمخ بأنفه بالانتماء عليه".

ولكن عبد القاهر قد تتلمذ بعد ذلك على الكتب، فقرأها بفكر واع، وعقل متريث، ولهذا تراه ينقل في كتابه عن سيبويه، والجاحظ، وأبي علي الفارسي، وابن قتيبة، والآمدي، والقاضي الجرجاني، وأبي هلال العسكري، وأبي أحمد العسكري، وعبد الرحمن بن عيسى الهمذاني، والمرزباني، والزجاج.
সপ্তম পরিচ্ছেদ: উপমা (তশবিহ) প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: অন্ত্যমিল (সাজ') এবং দ্বিত্ববিন্যাস (ইজদিওয়াজ) প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বাদি')-এর ব্যাখ্যা, এর দিকসমূহ বর্ণনা এবং এর শাখা ও শিল্পকলাসমূহ নিরূপণ প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ: বক্তব্যের উত্তম সমাপ্তি ও প্রারম্ভ, এবং প্রেমগাথা (নাসিব) থেকে প্রশংসাগীতি (মাদিহ) ও অন্যান্য বিষয়ে উত্তরণ প্রসঙ্গে।

আবু হিলাল আল-আসকারি তাঁর এই পদ্ধতির মাধ্যমে বর্ণনাভঙ্গি (বায়ান) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে (বাদি') সেইসব রূপ নিখুঁতভাবে অনুসন্ধান করেছেন যা তাঁর সময় পর্যন্ত সমালোচক ও অলঙ্কারবিদগণ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি তাঁর গ্রন্থ রচনায় লেখক ও কবিদের মতো বাগ্মীদের পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি কালামশাস্ত্রবিদদের পথ বর্জন করেছেন—যেমনটি তিনি গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন—এবং ইবনুল মু'তায-এর পদ্ধতি অনুসরণ করে কুরআন, হাদিস, সাহাবিদের বক্তব্য, আরবদের বচন এবং প্রাচীন ও আধুনিক কবিদের কবিতা থেকে প্রচুর উদাহরণ ও পাঠ উপস্থাপন করেছেন।

 

‌‌(২) আবদুল কাহির আল-জুরজানি

তিনি হলেন:‌‌ আবদুল কাহির, আবু বকর বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানি। তিনি একটি সাধারণ পারসিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু শৈশব থেকেই জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতি প্রবল অনুরাগী ছিলেন। তিনি বই পড়ার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন, বিশেষ করে ব্যাকরণ (নাহু) ও সাহিত্যের বইগুলো তিনি গভীরভাবে অধ্যয়ন করতেন। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর শিক্ষকদ্বয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন: জুরজানে বসবাসকারী ব্যাকরণবিদ আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন হাসান ইবনে আবদুল ওয়ারিস আল-ফারসি এবং আবুল হাসান আলি বিন আবদুল আজিজ আল-জুরজানি। যদিও আবদুল কাহির জ্ঞানার্জনের জন্য জুরজানের বাইরে যাননি, তবুও এই আবুল হুসাইনকে তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছিল, যিনি তাঁর মামা আবু আলি আল-ফারসি (নাহু শাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আল-ইজাহ-এর লেখক) এর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। আর আবুল হাসান আলি বিন আবদুল আজিজ আল-জুরজানি ছিলেন একজন অনন্য সাহিত্যিক এবং তিনি "মুতানাব্বি ও তাঁর বিরোধীদের মধ্যে মধ্যস্থতা" বিষয়ক রচনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। ইয়াকুত আল-হামাউয়ি বলেন: "শাইখ আবদুল কাহির আল-জুরজানি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর জ্ঞানের সমুদ্র থেকে আহরণ করেছিলেন। যখনই তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে তাঁর কথা উল্লেখ করতেন, তখন অত্যন্ত গৌরবের সাথে এবং তাঁর প্রতি নিজের নিসবত বা সম্বন্ধের কারণে গর্বিত হয়ে তাঁর গুণগান করতেন।"

তবে আবদুল কাহির পরবর্তীকালে গ্রন্থরাজির মাধ্যমে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন; তিনি সেগুলো অত্যন্ত সচেতন চিন্তা ও ধীরস্থির বুদ্ধির সাথে পাঠ করতেন। এজন্য দেখা যায় যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে সিবওয়াইহি, আল-জাহিজ, আবু আলি আল-ফারসি, ইবনে কুতাইবা, আল-আমিদি, আল-কাদি আল-জুরজানি, আবু হিলাল আল-আসকারি, আবু আহমদ আল-আসকারি, আবদুর রহমান বিন ঈসা আল-হামদানি, আল-মারজুবানি এবং আজ-জাজ্জাজ-এর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد كان عبد القاهر يلقب بالنحوي، وعد من أئمة النحاة، كما أنه بعد من أئمة البلاغة، فعلى معاني النحو بنى نظريته في البلاغة والبيان، وتصدر بجرجان وذاع صيته في الآفاق، وشدت إليه الرحال، وظل مقيماً بجرجان يفيد الراحلين إليه والوافدين عليه، وقضى عمره في مدينة جرجان لم يفارقها طول حياته، وتوفى سنة 471 هـ.

وكان من تلاميذه المذكورين الواردين على العراق والمتصدرين ببغداد: على بن زيد الفصيحي، وقد تثقف على يديه جماعة كثيرة وأخذوا عنه ما آخذه هو من عبد القاهر.

 

‌‌وقد خلف عبد القاهر آثاراً كثيرة في النحو والصرف والبلاغة، وأهم هذه الآثار وأعلاها قدراً كتابان في البلاغة هما: "‌‌دلائل الإعجاز" و"أسرار البلاغة".

 

"دلائل الإعجاز" و"أسرار البلاغة":

كانت المرحلة التي سبقت عبد القاهر حافلة بدراسة صور البيان وألوان البديع وبنظرات متفرقة عن المعاني، غير أن صور البيان كانت في حاجة إلى من ينظمها في عقد يجمعها، ويسلكها في نظرية تستنظمها، كما أن تلك النظرات المتفرقة عن علم المعاني كانت هي الأخرى في حاجة ماسة إلى نظرية واضحة المعالم، تحدد صوره، وتعدد مسائله وتبين شواهده وأمثلته.

ومن يمن الطالع أن ينجرد لهذه المهمة الجليلة إمام البلاغة أبو بكر عبد القاهر ابن عبد الرحمن الجرجاني المتوفي سنة 471 هـ، فيتحف اللغة العربية بمؤلفين عظيمين هما: "دلائل الإعجاز" و"أسرار البلاغة" مؤسساً بأولهما علم المعاني ومستخرجاً مكنوناته، ومعدداً صوره ومحدداً مسائله، وذلك من خلال تطبيق نظرية النظم التي كانت من قبله فكرة غير واضحة المعالم، وجامعاً بثانيهما صور البيان في إطار محدد، بعد أن أشبعها دراسة وبحثاً واستشهاداً وتمثيلاً.

وقد تضمن (دلائل الإعجاز) ما يلي:

أولاً: مقدمة ذكر فيها الحاجة إلى علم النحو، وفضل علم البيان، وإقامة الحجة على من زهد في رواية الشعر وحفظه، ثم تناول الكلام في النحو وتزهيد الناس فيه.
আব্দুল কাহের 'নাহবি' (ব্যাকরণবিদ) উপাধিতে ভূষিত ছিলেন এবং তাকে ব্যাকরণবিদদের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো, যেমনটি তাকে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) ইমামদের অন্তর্ভুক্তও মনে করা হয়। তিনি ব্যাকরণের অর্থের ওপর ভিত্তি করেই অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাগ্মিতার ক্ষেত্রে তার তত্ত্ব গড়ে তুলেছেন। তিনি জুরজানে অধ্যাপনা ও নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হন এবং দিগ্বিদিকে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার সন্ধানে সফর করত। তিনি জুরজানেই অবস্থান করতেন এবং সেখানে আগত ও তার কাছে আসা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান করতেন। তিনি তার জীবনের পুরোটা সময় জুরজান শহরেই অতিবাহিত করেন, সারা জীবনে কখনো তা ছেড়ে কোথাও যাননি। তিনি ৪৭১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

তার উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের মধ্যে যারা ইরাকে গিয়েছিলেন এবং বাগদাদে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তারা হলেন: আলী বিন যায়েদ আল-ফাসিহি। তার হাতে বহু লোক শিক্ষিত হয়েছে এবং তারা তার কাছ থেকে সেই জ্ঞান অর্জন করেছে যা তিনি আব্দুল কাহেরের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন।

 

‌‌আব্দুল কাহের নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব) এবং বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ে অসংখ্য অমর কৃতি রেখে গেছেন, আর এই রচনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর রচিত দুটি গ্রন্থ: "‌‌দালাইলুল ই'জায" এবং "আসরারুল বালাগাহ"।

 

"দালাইলুল ই'জায" ও "আসরারুল বালাগাহ":

আব্দুল কাহেরের পূর্ববর্তী যুগটি বয়ান (বাগ্মিতা) ও বদি' (শৈল্পিক অলঙ্কার) এর বিভিন্ন রূপ নিয়ে পড়াশোনা এবং 'মা'আনি' (অর্থতত্ত্ব) সম্পর্কে বিক্ষিপ্ত কিছু দৃষ্টিভঙ্গিতে ভরপুর ছিল। তবে সেই বয়ানের রূপগুলোর এমন একজনের প্রয়োজন ছিল যিনি সেগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল সূত্রে গেঁথে দেবেন এবং একটি নিয়মতান্ত্রিক তত্ত্বে বিন্যস্ত করবেন। তেমনিভাবে 'ইলমুল মা'আনি' সম্পর্কে সেই বিক্ষিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গিগুলোরও এমন একটি সুস্পষ্ট তত্ত্বে রূপান্তরের একান্ত প্রয়োজন ছিল, যা এর রূপরেখা নির্ধারণ করবে, এর মাসআলা বা বিষয়বস্তুগুলোকে সুবিন্যস্ত করবে এবং এর দলিল ও উদাহরণগুলো স্পষ্ট করবে।

এটি ছিল সৌভাগ্যের বিষয় যে, এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য এগিয়ে আসেন অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম আবু বকর আব্দুল কাহের ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরজানি (মৃত্যু ৪৭১ হি.)। তিনি আরবি ভাষাকে দুটি মহান গ্রন্থ উপহার দেন: "দালাইলুল ই'জায" এবং "আসরারুল বালাগাহ"। প্রথমটির মাধ্যমে তিনি 'ইলমুল মা'আনি'র ভিত্তি স্থাপন করেন, এর নিগুঢ় রহস্যগুলো উন্মোচন করেন এবং এর প্রকারভেদ ও মাসআলাগুলো নির্ধারণ করেন। আর এটি তিনি করেন 'নজম' (বাক্যবিন্যাস) তত্ত্ব প্রয়োগের মাধ্যমে, যা তার আগে একটি অস্পষ্ট রূপরেখা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। দ্বিতীয় গ্রন্থটির মাধ্যমে তিনি বাগ্মিতার (বয়ান) রূপগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করেন, দীর্ঘকাল পড়াশোনা, গবেষণা, দলিল উপস্থাপন ও উদাহরণের মাধ্যমে সেগুলোকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার পর।

"দালাইলুল ই'জায" গ্রন্থে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

প্রথমত: একটি ভূমিকা, যাতে তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং 'ইলমুল বয়ান' (অলঙ্কারশাস্ত্র) এর শ্রেষ্ঠত্ব উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও যারা কবিতা বর্ণনা ও মুখস্থ করার প্রতি বিমুখতা প্রকাশ করে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি নাহু শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং যারা মানুষের মধ্যে এর প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে তাদের প্রসঙ্গ টেনেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثانياً: تمهيد تكلم فيه عن الفصاحة والبلاغة.

ثالثاً: إعجاز القرآن الكريم.

رابعاً: نظرية النظم.

خامساً: تطبيق هذه النظرية من خلال:

1 - التقديم والتأخير. 2 - الحذف.

3 - فروق في الخبر. 4 - الفصل والوصل.

5 - مزايا (إن). 6 - مسائل (إنما).

سادساً: تطبيق نظرية النظم على المحسنات البديعية.

 

‌‌أما أسرار البلاغة:

فقد ضمنه عبد القاهر أسرار بلاغة الأساليب، وهو يرى أنها كامنة في معانيها لا في ألفاظها، كما يرى أن جمال الألفاظ تابع لجمال المعاني، ولهذا فإنه يقدم لموضوعات (الأسرار) بمقدمات تؤكد هذا المعنى، وقد ذكر فيها أن السجع والحشو وغيرها مما يظن أن الحسن والقبح فيها راجع إلى الألفاظ إنما مرجع الحسن والقبح فيها إلى المعاني، ولهذا فإنك لا تجد تجنيساً مقبولاً ولا سجعاً حسناً حتى يكون المعنى هو الذي طلبه واستدعاه، وكذلك الشأن في التطبيق والاستعارة، ولم يكن غرضه من تلك المقدمات التي ذكرها إلا لكي يتوصل إلى أمر المعاني كيف تتفق وتختلف، ومن أين تجتمع وتفترق، ويبين أجناسها وأنواعها، ويتبع خاصها ومشاعها، ويذكر أحوالها، وقد رأى أن أول ذلك وأحقه بأن يستوفيه ويتقصاه هو التشبيه والتمثيل والاستعارة، وقد رأى أنه إذا ما تتبع الترتيب المنطقي لهذه الموضوعات فإنه سيبدأ بالقول في الحقيقة والمجاز، ثم يتبعه القول في التشبيه والتمثيل، ثم يرتب عليها الاستعارة، غير أنه عدل عن هذا الترتيب، فبدأ بالاستعارة لأهميتها في البلاغة فبين طرفاً منها، ونبه على طريق الانقسام فيها حتى إذا ما عرض ما يكشف ويبين سعة مجالها عطف عنان الشرح إلى الفصلين الآخرين فوفى حقهما وبين فروقهما، ثم انصرف إلى استفصاء القول في الاستعارة.
দ্বিতীয়ত: একটি ভূমিকা যাতে তিনি প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব।

চতুর্থত: বিন্যাসতত্ত্ব (নাজম তত্ত্ব)।

পঞ্চমত: নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে এই তত্ত্বের প্রয়োগ:

১ - শব্দের অগ্র-পশ্চাত বিন্যাস। ২ - বিলোপন (উহ্যকরণ)।

৩ - সংবাদ (খবর) প্রদানের ক্ষেত্রে পার্থক্যসমূহ। ৪ - যতি ও সংযোগ (ফাসল ও ওয়াসল)।

৫ - (ইন্না)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ। ৬ - (ইন্নামা) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

ষষ্ঠত: অলঙ্কারিক সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিষয়গুলোর (মুহাসসিনাতে বাদী'আহ) ওপর বিন্যাসতত্ত্বের প্রয়োগ।

 

‌‌আসরারুল বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্য) প্রসঙ্গে:

আব্দুল কাহির এতে রচনাশৈলীর অলঙ্কারিক রহস্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন যে, এই রহস্যগুলো মূলত অর্থের মধ্যে নিহিত থাকে, শব্দের মধ্যে নয়; যেমন তিনি মনে করেন যে, শব্দের সৌন্দর্য হলো অর্থের সৌন্দর্যের অনুগামী। এই কারণে তিনি 'আসরার' (রহস্যসমূহ)-এর বিষয়বস্তুগুলোর আগে এমন কিছু ভূমিকা প্রদান করেছেন যা এই বক্তব্যকে সুসংহত করে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অন্তঃমিল (সাজউ), বাহুল্য (হাশাউ) এবং অন্যান্য বিষয়—যেগুলোর সৌন্দর্য বা কদর্যতা শব্দের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করা হয়—সেগুলোর সৌন্দর্য ও কদর্যতার প্রকৃত উৎস হলো অর্থ। এই কারণেই আপনি কোনো গ্রহণযোগ্য অনুপ্রাস (তাজনীস) বা সুন্দর অন্তঃমিল খুঁজে পাবেন না যতক্ষণ না অর্থই স্বয়ং তা দাবি করে এবং অন্বেষণ করে। উপমা ও রূপকের (ইসতি'আরাহ) প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। এই ভূমিকাগুলো উল্লেখ করার পেছনে তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল অর্থের প্রকৃতি অনুধাবন করা—কীভাবে তারা একমত হয় ও ভিন্ন হয়, এবং কোথা থেকে তারা একত্রিত হয় ও পৃথক হয়; এবং তিনি এগুলোর প্রকার ও ধরণ বর্ণনা করেছেন, এগুলোর বিশেষ ও সাধারণ দিকগুলো অনুসরণ করেছেন এবং এগুলোর অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেছেন যে, এগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে যা আলোচনা করা উচিত তা হলো উপমা (তাশবীহ), দৃষ্টান্ত (তামসীল) এবং রূপক (ইসতি'আরাহ)। তিনি মনে করেছিলেন যে, যদি তিনি এই বিষয়গুলোর যৌক্তিক ক্রমানুসরণ করতেন, তবে তিনি প্রকৃত ও রূপক (হাকীকত ও মাজায) দিয়ে আলোচনা শুরু করতেন, এরপর উপমা ও দৃষ্টান্ত আলোচনা করতেন এবং তারপর রূপক সাজাতেন। কিন্তু তিনি এই ধারাবাহিকতা পরিবর্তন করেছেন; অলঙ্কারশাস্ত্রে রূপকের গুরুত্বের কারণে তিনি রূপক (ইসতি'আরাহ) দিয়ে শুরু করেছেন এবং এর একটি অংশ বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে বিভাজনের পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, এমনকি যখন তিনি এর পরিধির ব্যাপকতা স্পষ্টকারী বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন, তখন তিনি ব্যাখ্যার মোড় অন্য দুটি পরিচ্ছেদের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং সেগুলোর যথাযথ হক আদায় করে তাদের পার্থক্যগুলো বর্ণনা করেন। এরপর তিনি পুনরায় রূপকের (ইসতি'আরাহ) বিস্তারিত আলোচনার দিকে মনোনিবেশ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌(3) أبو يعقوب السكاكي

هو سراج الدين أبو يعقوب بن أبي بكر السكاكي الخوارزمي، إمام من أئمة العربية، وهو فقيه متكلم، متفنن في علوم شتى، سارت بذكره الركبان واشتهر علمه في كل مكان، وفيه وفي الزمخشري يقولون: لولا الأعرجان لضاعت بلاغة القرآن.

وقد أخذ العلم عن علماء أجلاء، منهم: سديد الدين بن محمد الخياطي، ومحمود بن ساعد بن محمود الحارثي، وبرهان الأئمة محمد بن عبد الكريم التركستاني، وكان يجيد اللغتين التركية والفارسية إلى جانب اللغة العربية.

ومن العلوم التي برع فيها: البلاغة، وعلم الكلام، والفقه، والكيمياء، وعلم خواص الأرض، وكان حنفياً، معتزلياً، توفي في خوارزم سنة 626 هـ.

وصف كتباً كثيرة في علوم شتى، ومن أشهرها كتاب "‌‌مفتاح العلوم".

 

مفتاح العلوم:

هو الكتاب الذي اشتهر به السكاكي، وضمنه إثنى عشر علماً من علوم العربية، وقسمه إلى ثلاثة أقسام: القسم الأول في علم الصرف، والقسم الثاني في علم النحو، والقسم الثالث في علوم البلاغة: المعاني والبيان والبديع، واختتمه بما به يكمل علم المعاني وهو تتبع خواص تراكيب الكلام في الاستدلال وهو علم المنطق، ثم بما به ينم الغرض من علم المعاني وهو الكلام في الشعر، وأنهاه بخاتمة أخرى في إرشاد الضلال بدفع ما يطعنون به في كلام رب العزة.

وقد نال هذا الكتاب من عناية علماء البلاغة ما لم ينله كتاب آخر شرحاً وتلخيصاً، وتلخيصاً للشح، وشرحاً للتلخيص.

ومن أظهر شروحه: مفتاح المفتاح للشيرازي، وتلخيص المفتاح للخطيب القزويني، ومفتاح تلخيص المفتاح وشرح تلخيص المفتاح للتفتازاني.

وقد اعتبره البلاغيون من بعده الصيغة النهائية لقواعد البلاغة ومسائلها وأقسامها وتعريفاتها، ولهذا فإنهم قد عكفوا عليه وأوسعوه شرحاً وإيضاحاً وتقريراً وتلخيصاً، ثم وضعوا عليه الحواشي تلو الحواشي!
‌(৩) আবু ইয়াকুব আস-সাক্কাকি

তিনি হলেন সিরাজউদ্দীন আবু ইয়াকুব বিন আবি বকর আস-সাক্কাকি আল-খাওয়ারিজমি। তিনি আরবি ভাষার অন্যতম ইমাম, একজন ফকিহ ও মুতাকাল্লিম এবং বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। দূর-দূরান্তের যাত্রীদল তার সুখ্যাতির বার্তা বহন করে নিয়ে যেত এবং তার ইলম সর্বত্র প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। তার এবং যামাখশারির ব্যাপারে বলা হয়: "যদি এই দুই খুঁড়িয়ে চলা ব্যক্তি না থাকতেন, তবে কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) হারিয়ে যেত।"

তিনি অনেক মহান আলিমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: সাদিদুদ্দীন বিন মুহাম্মদ আল-খাইয়াতি, মাহমুদ বিন সাঈদ বিন মাহমুদ আল-হারিসি এবং বুরহানুল আইম্মাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আত-তুর্কিস্তানি। তিনি আরবি ভাষার পাশাপাশি তুর্কি ও ফারসি ভাষাতেও অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।

তিনি যেসব শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন সেগুলো হলো: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), ইলমুল কালাম, ফিকহ, রসায়ন এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান। তিনি হানাফি মাযহাবের অনুসারী এবং মুতাযিলি আকিদার ছিলেন। তিনি ৬২৬ হিজরিতে খাওয়ারিজমে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে অনেক কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো "‌‌মিফতাহুল উলুম"।

 

মিফতাহুল উলুম:

এটি সেই কিতাব যার মাধ্যমে সাক্কাকি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। এতে তিনি আরবি ভাষার বারোটি শাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং কিতাবটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রথম ভাগ ইলমুস সরফ (শব্দতত্ত্ব), দ্বিতীয় ভাগ ইলমুন নাহু (বাক্যতত্ত্ব) এবং তৃতীয় ভাগ ইলমুল বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র): মাআনি, বয়ান ও বদিউ। কিতাবটির শেষে তিনি সেই বিষয়টি যুক্ত করেছেন যা দ্বারা ইলমুল মাআনি পূর্ণতা পায়, আর তা হলো যুক্তিপ্রমাণের ক্ষেত্রে বাক্যের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের অনুসরণ তথা ইলমুল মানতিক (তর্কশাস্ত্র)। এরপর তিনি ইলমুল মাআনির উদ্দেশ্য তথা কাব্যতত্ত্ব আলোচনা করেছেন। সবশেষে তিনি মহান রব্বুল ইজ্জতের কালামের প্রতি যারা কটাক্ষ করে তাদের খণ্ডন করার মাধ্যমে পথভ্রষ্টদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য একটি পরিশিষ্ট দ্বারা কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন।

বালাগাত শাস্ত্রের আলিমগণ এই কিতাবটির প্রতি যতটা গুরুত্বারোপ করেছেন, অন্য কোনো কিতাবের ওপর ততটা করেননি—তা সেটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ), সারসংক্ষেপ (তালখিস), ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ কিংবা সারসংক্ষেপের ব্যাখ্যা যে আকারেই হোক না কেন।

এর উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: শিরাজির 'মিফতাহুল মিফতাহ', খতিব আল-কাযউয়িনির 'তালখিসুল মিফতাহ' এবং তাফতাজানির 'মিফতাহু তালখিসিল মিফতাহ' ও 'শারহু তালখিসিল মিফতাহ'।

পরবর্তীকালের বালাগাতবিদগণ এই কিতাবটিকে বালাগাতের নিয়ম-নীতি, মাসআলা, শ্রেণিবিভাগ ও সংজ্ঞার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে গণ্য করেছেন। এ কারণেই তারা এই কিতাবটির প্রতি একনিষ্ঠ হয়েছেন এবং এর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত প্রদান ও সারসংক্ষেপের কাজ ব্যাপকভাবে করেছেন। এমনকি তারা এর ওপর একের পর এক হাশিয়া (টীকা) সংযোজন করেছেন!
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌علم البيان

تدور مادة البيان في اللغة حول معنيين اثنين هما: الفصاحة واللسن، والكشف والإيضاح، فيقال: فلان أبين من فلان، أي: أفصح منه وأوضح كلاماً، وكلام بين أي فصيح، وإذا ما دققت في هذين المعنيين وجدت صلة قوية بينهما، فأنت إذا ما كنت فصيحاً لسناً كان في استطاعتك أن تعبر عما في نفسك من أفكار، فتكشفها وتوضحها، ولهذا فإن في استطاعتك أن تقول: إن البيان في اللغة هو الكشف والإيضاح.

واما في اصطلاح البلاغيين فإنه "علم يعرف به إيراد المعنى الواحد بطرق مختلفة في وضوح الدلالة عليه".

وهم يريدون "بالعلم" الملكة التي يقتدر بها على إدراكات جزئية، أو نفس القواعد والأصول المعلومة، ويريدون "بالمعنى": كل معنى واحد يدخل تحت قصد المتكلم، كالكرم، والشجاعة، والإيمان، "فأل" في لفظ "المعنى" للاستغراق العرفي، وليست للاستغراق الحقيقي، لأن استحضار جميع المعاني - وهي غير متناهية - فوق مقدور البشر.

وقيدوا المعنى بـ "الواحد" ليحترزوا به عن المعاني المتعددة التي تؤدي بطرق متفاوتة في وضوح الدلالة على معانيها، وذلك كأن يكون تركيب في معناه أوضح دلالة من تركيب آخر في معناه، كأن تعبر عن معنى "الكرم" بقولك: "محمد كالبحر في العطاء"، ثم تعبر عن معنى الشجاعة بقولك: "استمعت إلى أسد يخطب"، فالتركيب الأول - في معناه - وهو: (الكرم) أوضح دلالة من الثاني - في معناه - وهو: (الشجاعة)، وهذا ليس من علم البيان في شيء؛ لأن المعنى في العبارتين مختلف، والشرط أن يكون المعنى في عبارتين واحداً.

ومعنى "إيراد المعنى الواحد بطرق مختلفة في الوضوح"، أن يعبر عنه بجملة من التراكيب، بعضها أوضح دلالة عليه من بعض، سواء أكانت هذه التراكيب من قبيل التشبيه، أو من قبيل المجاز، أو من قبيل الكناية، فالمعنى الواحد كالكرم -
ইলমুল বয়ান

ভাষাতাত্ত্বিকভাবে 'বয়ান' বিষয়টি দুটি অর্থের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়। সেগুলো হলো: বাগ্মিতা ও বাকপটুতা এবং উন্মোচন ও সুস্পষ্টকরণ। তাই বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুকের চেয়ে বেশি স্পষ্টভাষী, অর্থাৎ সে তার চেয়ে অধিক বাগ্মী এবং তার কথাবার্তা অধিক স্পষ্ট। আর স্পষ্ট বক্তব্য মানেই প্রাঞ্জল বক্তব্য। আপনি যদি এই দুটি অর্থের গভীরে দৃষ্টিপাত করেন, তবে তাদের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক খুঁজে পাবেন। কেননা আপনি যদি বাগ্মী ও বাকপটু হন, তবেই আপনি আপনার মনের ভাব ও চিন্তাগুলোকে প্রকাশ করতে সক্ষম হবেন এবং সেগুলোকে উন্মোচিত ও স্পষ্ট করতে পারবেন। একারণেই আপনি বলতে পারেন যে, আভিধানিক অর্থে 'বয়ান' হলো উন্মোচন করা এবং স্পষ্ট করা।

আর অলঙ্কার শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় এটি হলো এমন এক "বিদ্যা যার মাধ্যমে একটি মাত্র অর্থকে সেটি বুঝানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাত্রার স্পষ্ট পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা যায়।"

এখানে "বিদ্যা" বা জ্ঞান দ্বারা তারা এমন এক বিশেষ যোগ্যতা উদ্দেশ্য নিয়েছেন যার মাধ্যমে খণ্ড খণ্ড বিষয়গুলো উপলব্ধি করার সামর্থ্য অর্জিত হয়, অথবা এটি দ্বারা সুনির্ধারিত নিয়ম ও মূলনীতিগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। আর "অর্থ" বলতে তারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন: বক্তার সংকল্পের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি একক বিষয়কে, যেমন: বদান্যতা, বীরত্ব এবং ঈমান। "অর্থ" শব্দটির শুরুতে যুক্ত নির্দিষ্টকারী অব্যয়টি ব্যবহারিক ব্যাপকতার জন্য এসেছে, প্রকৃত ব্যাপকতার জন্য নয়। কারণ সমস্ত অর্থকে—যা কি না অসীম—উপস্থিত করা মানুষের সাধ্যাতীত।

তারা অর্থকে "একক" শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন যাতে একাধিক অর্থ থেকে বেঁচে থাকা যায়, যা নিজ নিজ অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার স্পষ্ট পদ্ধতিতে উপস্থাপিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো একটি বাক্য গঠনের মাধ্যমে তার অর্থ প্রকাশ অন্য একটি বাক্য গঠনের মাধ্যমে তার অর্থ প্রকাশের চেয়ে অধিক স্পষ্ট হওয়া; যেমন আপনি বদান্যতার অর্থ প্রকাশ করতে গিয়ে বললেন: "মুহাম্মদ দানের ক্ষেত্রে সমুদ্রের ন্যায়", অতঃপর বীরত্বের অর্থ প্রকাশ করতে গিয়ে বললেন: "আমি একটি সিংহকে ভাষণ দিতে শুনেছি"। এখানে প্রথম বাক্য গঠনটি তার নিজ অর্থে (বদান্যতা) দ্বিতীয় বাক্য গঠনের নিজ অর্থের (বীরত্ব) চেয়ে অধিক স্পষ্ট। কিন্তু এটি "ইলমুল বয়ান"-এর কোনো অংশ নয়; কারণ বাক্য দুটির অর্থ ভিন্ন ভিন্ন, অথচ শর্ত হলো বাক্য দুটির অর্থ এক হতে হবে।

আর "একটি মাত্র অর্থকে বিভিন্ন স্পষ্ট পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা"-এর অর্থ হলো—এমন কতগুলো বাক্য গঠনের মাধ্যমে কোনো একটি বিষয়কে প্রকাশ করা যার কোনো কোনোটি অন্যগুলোর চেয়ে অধিক স্পষ্ট। চাই সেই বাক্য গঠনগুলো উপমা, রূপক কিংবা পরোক্ষ বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হোক না কেন। সুতরাং বদান্যতার মতো একটি একক অর্থ—
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
مثلاً - يمكن أن تعبر عنه بطرق مختلفة في وضوح الدلالة عليه، فتارة تعبر عنه بطريق التشبيه فتقول: (محمد كالبحر في العطاء)، وتقول: (محمد كالبحر) وتقول: (محمد بحر)، فتلك ثلاثة تراكيب دلت على معنى الكرم، وبعضها أوضح في الدلالة عليه من بعض، فأوضحها: ما صرح فيه بوجه الشبه والأداة جميعاً - كما في المثال الأول - ويليه في الوضوح: ما صرح فيه بأحدهما - كما في المثال الثاني - وأقلها وضوحاً ما لم يصرح فيه بواحد منهما - كما في المثال الثالث -.

وتارة تعبر عنه بطريق المجاز، فتقول: (رأيت بحراً في منزلنا) تريد: محمداً - مثلاً - فتشبهه بالبحر، ثم تستعير له لفظ "البحر".

ونقول: (لجة محمد تتلاطم بالأمواج) فاللجة والتلاطم بالأمواج من أوصاف البحر، وهذا دليل على أنك قد شبهت محمداً بالبحر.

وتقول: (غمر محمد بفضله الأنام)، فالغمر من أوصاف البحر، مما يدل - أيضاً - على أنك قد شبهت محمداً بالبحر.

والمثالان الأخيران من قبيل الاستعارة المكنية.

وأوضح هذه الطرق: الأول، ويليه وضوحاً: الثاني، وأقلها وضوحاً: الثالث.

أما أن الأول أوضحها فلظهور التجوز فيه بسبب التصريح باسم المشبه به، وأما الثاني والثالث فلخفاء التجوز فيهما لعدم التصريح باسم المشبه به، غير أن الثاني أوضح دلالة من الثالث لاشتماله على وصفين للمشبه به، واشتمال الثالث على وصف واحد ..

وتارة أخرى تعبر عنه بطريق الكناية، فتقول: (محمد كثير الرماد) و (هو مهزول الفصيل) و (هو جبان الكلب).

فتلك ثلاثة تراكيب قد دلت على معنى الكرم، وذلك لأن كثرة الرماد إنما تكون من كثرة إحراق الحطب للطبخ للضيفان، وهزال الفصيل إنما يكون بإعطاء لبن أمه للضيوف، أو بذبح أمه لهم، وجبن الكلب إنما يكون من كثرة الواردين عليه من الضيوف.
উদাহরণস্বরূপ - আপনি বিষয়টিকে অর্থ প্রকাশের স্পষ্টতার দিক থেকে বিভিন্ন উপায়ে ব্যক্ত করতে পারেন। কখনও আপনি তা উপমার (তাশবীহ) পদ্ধতিতে ব্যক্ত করবেন এবং বলবেন: (মুহাম্মদ দানশীলতায় সমুদ্রের মতো), অথবা বলবেন: (মুহাম্মদ সমুদ্রের মতো), অথবা বলবেন: (মুহাম্মদ একটি সমুদ্র)। এই তিনটি বাক্যই দানশীলতার অর্থ প্রকাশ করেছে, তবে এগুলোর কোনোটি অন্যটির চেয়ে অধিক স্পষ্ট। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক স্পষ্ট হলো: যাতে উপমার দিক এবং উপমার উপকরণ উভয়টিই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে - যেমনটি প্রথম উদাহরণে দেখা যায়। স্পষ্টতার দিক থেকে এর পরেই রয়েছে: যাতে কেবল যে কোনো একটির উল্লেখ রয়েছে - যেমনটি দ্বিতীয় উদাহরণে দেখা যায়। আর এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম স্পষ্ট হলো সেটি যাতে কোনোটিরই উল্লেখ নেই - যেমনটি তৃতীয় উদাহরণে দেখা যায়।

কখনও আপনি তা রূপকের (মাজায) মাধ্যমে ব্যক্ত করেন এবং বলেন: (আমি আমাদের বাড়িতে একটি সমুদ্র দেখেছি), এর মাধ্যমে আপনি - উদাহরণস্বরূপ - মুহাম্মদকে বুঝাতে চেয়েছেন। ফলে আপনি তাকে সমুদ্রের সাথে তুলনা করেছেন এবং পরবর্তীতে তার জন্য "সমুদ্র" শব্দটি ধার করেছেন।

আমরা আরও বলি: (মুহাম্মদের অগাধ জলরাশি ঢেউয়ের আঘাতে আছড়ে পড়ছে)। এখানে অগাধ জলরাশি এবং ঢেউয়ের আছড়ে পড়া হলো সমুদ্রের বৈশিষ্ট্য। আর এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, আপনি মুহাম্মদকে সমুদ্রের সাথে তুলনা করেছেন।

আবার আপনি বলেন: (মুহাম্মদ তার অনুগ্রহ দ্বারা সৃষ্টিজগতকে প্লাবিত করেছেন)। এখানে প্লাবিত করা সমুদ্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা একথারই প্রমাণ বহন করে যে আপনি মুহাম্মদকে সমুদ্রের সাথে তুলনা করেছেন।

শেষোক্ত দুটি উদাহরণ পরোক্ষ রূপকের (ইস্তি‘আরা মাকনিয়্যাহ) অন্তর্ভুক্ত।

এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক স্পষ্ট হলো প্রথমটি, এরপর দ্বিতীয়টি এবং সবচেয়ে কম স্পষ্ট হলো তৃতীয়টি।

প্রথমটি সর্বাধিক স্পষ্ট হওয়ার কারণ হলো, এতে যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে (মুশাব্বাহ বিহি) তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার কারণে রূপক ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্য। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয়টিতে রূপকের বিষয়টি কিছুটা অস্পষ্ট হওয়ার কারণ হলো, এতে যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে দ্বিতীয়টি তৃতীয়টির তুলনায় অধিক স্পষ্ট অর্থ বহন করে, কারণ এতে উপমিত বস্তুর দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, পক্ষান্তরে তৃতীয়টিতে কেবল একটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

আবার কখনও আপনি তা লক্ষণা বা পরোক্ষ সংকেতের (কিনায়াহ) মাধ্যমে ব্যক্ত করেন এবং বলেন: (মুহাম্মদের ছাই অনেক বেশি) এবং (সে জীর্ণশীর্ণ উটশাবকের মালিক) এবং (সে ভীতু কুকুরের মালিক)।

এই তিনটি বাক্যই দানশীলতার অর্থ প্রদান করেছে। কারণ ছাইয়ের আধিক্য কেবল মেহমানদের রান্নার জন্য অধিক জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর কারণেই হয়ে থাকে। আর উটশাবকের শীর্ণতা কেবল তার মায়ের দুধ মেহমানদের পান করতে দেওয়া অথবা মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য তার মাকে যবেহ করার কারণেই হয়। আর কুকুরের ভীরুতা তৈরি হয় মেহমানদের আগমনের আধিক্যের কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
والمثال الأول أوضح هذه الطرق في الدلالة على الكرم، ويليه الثاني فالثالث.

وقيدوا الاختلاف "بوضوح" الدلالة، ليحترزوا به عن الاختلاف في مجرد اللفظ، لا في وضوح الدلالة، وذلك كما إذا أوردت معنى واحد في تركيبين مترادفين، وأنت عالم بمدلولات الألفاظ فيهما، كأن تقول - مثلاً - (نشر فم محمد كنفح الطيب) ثم نقول: (رائحة ثغر محمد كأريج العطر) فمثل هذا - أيضاً - ليس من مباحث علم البيان لتماثل التركيبين في وضوح الدلالة على المعنى المراد، والاختلاف إنما هو اللفظ والعبارة فقط مع أن الشرط هو أن يكون الاختلاف في وضوح الدلالة على المعنى.

 

‌‌صور البيان

اللفظ المستعمل في غير ما وضع له، إن قامت قرينة مانعة من إرادة معناه الأصلي كان مجازاً، وإن لم تقم قرينة مانعة من إرادة المعنى الأصلي كان اللفظ كناية.

ثم إن المجاز: إن كانت علاقته المشابهة، كان اللفظ استعارة، وإن كانت علاقته غير المشابهة، كان اللفظ مجازاً مرسلاً.

ولما كانت الاستعارة قائمة على‌‌ التشبيه، كان من الضروري دراسة التشبيه أولاً، ولهذا انحصرت أبواب علم البيان في ثلاثة الأبواب التالية:

(أ) التشبيه (ب) المجاز (ج) الكناية.

 

التشبيه

التشبيه في اللغة هو: التمثيل، وأما معناه في اصطلاح البلاغيين فهو: (الدلالة على مشاركة أمر لأمر في معنى بإحدى أدوات التشبيه لفظاً أو تقديراً).

والأمر الأول هو: المشبه، والأمر الثاني هو: المشبه به، ويسميان طرفي التشبيه، والمعنى المشترك بينهما هو ما يسمى: (وجه الشبه).

وذلك كأن تقول: (خالد كالأسد في الشجاعة)، ففي هذا المثال: دلالة على مشاركة أمر هو: خالد، لأمر هو: الأسد، في معنى هو: الشجاعة، بإحدى أدوات التشبيه وهي: الكاف.
বদান্যতা প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রথম উদাহরণটি এসব পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট, এরপর দ্বিতীয়টি এবং তারপর তৃতীয়টি।

তারা পার্থক্যের শর্ত হিসেবে অর্থ প্রকাশের "স্পষ্টতা" যুক্ত করেছেন, যাতে কেবল শব্দের পার্থক্যের মাধ্যমে সৃষ্ট ভিন্নতা থেকে বেঁচে থাকা যায়, যা অর্থের স্পষ্টতার সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি যেমন আপনি যদি দুটি সমার্থক বাক্যে একটিই অর্থ প্রকাশ করেন, অথচ আপনি শব্দগুলোর অর্থের ব্যাপারে অবগত থাকেন। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি বলেন— (মুহাম্মাদের মুখের সুবাস সুগন্ধি ছড়ানোর মতো), এরপর আপনি বললেন— (মুহাম্মাদের দন্তপাটির ঘ্রাণ সুগন্ধি আতরের মতো)। এ ধরনের উদাহরণও ইলমুল বয়ানের (অলংকারশাস্ত্রের) আলোচ্য বিষয় নয়, কারণ কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশের স্পষ্টতার দিক থেকে উভয় বাক্যই সমান। এখানে পার্থক্য কেবল শব্দ ও বাকভঙ্গির ক্ষেত্রে, অথচ শর্ত হলো পার্থক্য হতে হবে অর্থ প্রকাশের স্পষ্টতার ক্ষেত্রে।

 

‌‌বয়ানের প্রকারভেদসমূহ

কোনো শব্দকে যখন তার মূল অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহার করা হয়, যদি সেখানে মূল অর্থ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধাদানকারী সূত্র (কারিনা) বিদ্যমান থাকে, তবে তা হলো মাজায (রূপক)। আর যদি মূল অর্থ গ্রহণে কোনো বাধাদানকারী সূত্র বিদ্যমান না থাকে, তবে সেই শব্দটি হবে কিনায়া (পরোক্ষ উক্তি)।

অতঃপর এই মাজাযের সম্পর্ক যদি সাদৃশ্যমূলক হয়, তবে সেই শব্দটিকে ইস্তিআরা (উপমা) বলা হয়। আর যদি সম্পর্কটি সাদৃশ্যমূলক না হয়, তবে সেই শব্দটি মাজাযে মুরসাল (সাধারণ রূপক) হিসেবে গণ্য হবে।

যেহেতু ইস্তিআরা তাশবিহ বা তুলনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, তাই সর্বপ্রথম তাশবিহ অধ্যয়ন করা আবশ্যক। এ কারণে ইলমুল বয়ানের অধ্যায়সমূহকে নিম্নোক্ত তিনটি ভাগে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে:

(ক) তাশবিহ (খ) মাজায (গ) কিনায়া।

 

তাশবিহ (তুলনা)

আভিধানিক অর্থে তাশবিহ হলো: সাদৃশ্য প্রদান বা তুলনা করা। আর অলংকারশাস্ত্রবিদদের পারিভাষিক অর্থে তা হলো: (কোনো বিশেষ অর্থে একটি বিষয়কে অন্য বিষয়ের সাথে অংশীদারিত্বের প্রমাণ দেওয়া, যা কোনো তাশবিহের অব্যয় বা তুলনামূলক শব্দের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বা উহ্যভাবে উল্লেখ করা হয়)।

প্রথম বিষয়টি হলো: মুসাব্বাহ (যাকে তুলনা করা হয়), এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: মুসাব্বাহ বিহি (যার সাথে তুলনা করা হয়)। এই দুইটিকে বলা হয় তাশবিহের দুই প্রান্ত। আর তাদের মধ্যে বিদ্যমান সাধারণ অর্থটিকে বলা হয়: ওয়াজহুশ শিবহ (সাদৃশ্যের ভিত্তি)।

যেমন আপনি যদি বলেন: (খালিদ বীরত্বে সিংহের মতো)। এই উদাহরণে: একটি বিষয় অর্থাৎ খালিদ, অন্য একটি বিষয় অর্থাৎ সিংহ-এর সাথে একটি বিশেষ গুণ অর্থাৎ বীরত্ব-এর ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে, যা একটি তুলনামূলক অব্যয় অর্থাৎ ‘মতো’-এর মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
فأركان التشبيه هي: (المشبه) و (المشبه به)، ويسميان: طرفي التشبيه، و (وجه الشبه)، وهو المعنى المشترك بينهما، و (أداة التشبيه).

 

‌‌أدوات التشبيه:

أداة التشبيه: هي كل لفظ يدل على معنى التشبيه، وهي إما أن تكون حرفاً وإما أن تكون فعلاً، وإما أن تكون اسماً.

فالحرف: كالكاف، وكأن، غير أن الكاف يليها المشبه به مثل: حكمه كالسيف مضاء. وقلبه كالحجر قسوة، أما "كأن" فيليها المشبه، مثل: كأن الطائرة نسر عظيم، وكأن البحر مرآة صافية، وكأن كلامه الشهد حلاوة.

والفعل: كماثل يماثل، وشابه يشابه، وحاكى يحاكى، تقول: ليلى ماثلت البدر إشراقاً، ورائحتها تماثل العطر نفحاً، ومحمد حاكى السحاب فيضاً، وعلى يحاكي النجم علواً، وخالد شابه الأسد إقداماً، وهو يشابه الجبل رسوخاً.

والاسم: نحو: "مثل" و"شبه" اسمين، كقولك: ليلى مثل الغزال، ومحمد شبه الغمام، وكذلك الوصف المشتق المفيد لمعنى التشبيه، كمماثل، ومشابه، ومحاك، تقول: ليلى مماثلة البدر في بهائه، وهند مشابهة الغصن في ليونته، ومحاكية الحرير في نعومته.

 

‌‌من أغراض التشبيه

أغراض التشبيه: هي البواعث التي تحمل المتكلم على أن يعقد شبهاً بين شيئين وهي كثيرة، منها ما يعود على المشبه، ومنها ما يعود على المشبه به، وسنكتفي هنا بغرضين من الأغراض التي تعود على المشبه، تاركين ما يعود على المشبه به.

أما الغرضان فهما:

‌‌(1) بيان حال المشبه: والمقصود به هو بيان وصفه الذي هو عليه، إذا كان غير معروف الصفة التي يراد إثباتها له، فالمخاطب يجهل حال ذلك المشبه، ولهذا فإنه يلحقه بمشبه به معروف عنده لبيان تلك الحال، وذلك كأن تقول لمن يعرف شجر؟ ؟ ؟ ؟ ؟ لا يعرف شجر النارنج: (شجر النارنج كشجر البرتقال)، وكأن تقول لمن
উপমার স্তম্ভসমূহ হলো: (উপমেয়) এবং (উপমান), যাদের উপমার দুই পক্ষ বলা হয়, এবং (উপমার সাধারণ গুণ), যা উভয়ের মাঝে বিদ্যমান সাধারণ বৈশিষ্ট্য, এবং (উপমার উপকরণ)।

 

‌‌উপমার উপকরণসমূহ:

উপমার উপকরণ: এটি হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা উপমার অর্থ নির্দেশ করে। এটি হয় কোনো অব্যয় হবে, নতুবা কোনো ক্রিয়া হবে, অথবা কোনো বিশেষ্য হবে।

অব্যয় হলো: যেমন 'কাফ' এবং 'কাআন্না', তবে পার্থক্য হলো 'কাফ'-এর পরে উপমান আসে, যেমন: "তার সিদ্ধান্ত তীক্ষ্ণতায় তলোয়ারের মতো"। এবং "তার হৃদয় কঠোরতায় পাথরের মতো"। আর 'কাআন্না'-এর পরে উপমেয় আসে, যেমন: "বিমানটি যেন এক বিশাল ঈগল", "সমুদ্রটি যেন এক স্বচ্ছ আয়না" এবং "তার কথা যেন মিষ্টতায় মধু"।

ক্রিয়া হলো: যেমন সদৃশ হওয়া, মিল থাকা, অনুকরণ করা। আপনি বলবেন: "লায়লা উজ্জ্বলতায় পূর্ণিমার চাঁদের সদৃশ হয়েছে", "তার সুগন্ধি বিচ্ছুরণে আতরের সদৃশ", "মুহাম্মদ দানশীলতায় মেঘের অনুকরণ করেছে", "আলী উচ্চতায় নক্ষত্রের অনুকরণ করে", "খালেদ সাহসিকতায় সিংহের সদৃশ হয়েছে" এবং "সে দৃঢ়তায় পাহাড়ের সদৃশ"।

বিশেষ্য হলো: যেমন "মতো" এবং "সদৃশ" বিশেষ্য দুটি। যেমন আপনার উক্তি: "লায়লা হরিণীর মতো", "মুহাম্মদ মেঘের সদৃশ"। অনুরূপভাবে উপমার অর্থ প্রদানকারী উদ্ভূত বিশেষণসমূহ, যেমন সদৃশ, অনুরূপ, অনুকরণকারী। আপনি বলবেন: "লায়লা তার সৌন্দর্যে পূর্ণিমার চাঁদের সদৃশ", "হিন্দ কোমলতায় গাছের ডালের অনুরূপ" এবং "কোমলতায় রেশমের অনুকরণকারী"।

 

‌‌উপমার উদ্দেশ্যসমূহ হতে

উপমার উদ্দেশ্যসমূহ: এগুলো হলো সেই সব কারণ যা বক্তাকে দুটি জিনিসের মধ্যে সাদৃশ্য তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করে। এগুলো সংখ্যায় অনেক, যার কিছু উপমেয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কিছু উপমানের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমরা এখানে উপমেয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব এবং উপমানের সাথে সংশ্লিষ্টগুলো ছেড়ে দেব।

উদ্দেশ্য দুটি হলো:

‌‌(১) উপমেয়ের অবস্থা বর্ণনা করা: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উপমেয়টি যে অবস্থায় আছে তার বর্ণনা দেওয়া, যখন তার মাঝে যে গুণটি সাব্যস্ত করার ইচ্ছা করা হয়েছে তা অপরিচিত থাকে। ফলে শ্রোতা সেই উপমেয়ের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকে না, একারণে বক্তা সেই অবস্থাটি স্পষ্ট করার জন্য তাকে শ্রোতার নিকট পরিচিত একটি উপমানের সাথে যুক্ত করে দেয়। যেমন, যে ব্যক্তি নারেঞ্জ গাছ চেনে না তাকে আপনার বলা: "নারেঞ্জ গাছ কমলা গাছের মতো", এবং যেমন আপনার বলা সেই ব্যক্তির উদ্দেশ্যে যে...
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
يعرف بيض العصفور ولا يعرف بيض الثعبان: (بيض الثعبان كبيض العصفور). وكأن تشبه ثوباً آخر، في بياضه (أو سواده).

وكما في قول امرئ القيس:

كأن قلوب الطير رطباً ويابساً … لدى وكرها العناب والحشف البالي

فقد شبه الشاعر الرطب من قلوب الطير واليابس منها بالعناب والحشف البالي لبيان حالها وما عليها من الأوصاف كالشكل والمقدار، واللون وكما في قول النابغة الذبياني يمدح النعمان بن المنذر:

 

كأنك شمس والملوك كواكب … إذا طلعت لم يبد منهن كوكب

 

فقد شبه الشاعر النعمان بن المنذر بين سائر الملوك بالشمس بين كواكب ووجه الشبه: هو الهيئة الحاصلة من الشيء الحقير يتلاشى ويختفي عند وجود الشيء الخطير.

والغرض هنا هو بيان حال النعمان مع سائر الملوك، وأنه إذا ظهر بينهم تضاءلوا أمامه وطغى أمره على أمرهم.

 

‌‌(2) بيان إمكان الشبه: والمقصود به هو: بيان أن وجود المشبه ممكن، وذلك في كل أمر غريب يمكن أن يخالف فيه، ويدعي أنه غير ممكن، كقول أبي الطيب المتنبي من قصيدة يرثى بها والدة سيف الدولة الحمداني:

رأيتك في الذين أرى ملوكاً … كأنك مستقيم في محال

فإن تفق الأنام وأنت منهم … فإن المسك بعض دم الغزال

 

فقد أراد أبو الطيب أن يقول: إن سيف الدولة قد فاق الناس بحيث لم يبق بينه وبينهم مشابهة، بل صار أصلاً برأسه وجنساً بمفرده، وهذا في الظاهر ممتنع لاستبعاد أن تتناهى بعض آحاد النوع في الفضائل الخاصة بذلك النوع إلى أن يصير كأنه ليس منها، فاحتج لهذه الدعوى وبين إمكانها بأن شبه حاله بحال المسك الذي هو الطيب الغالي النفيس الذي أصله نوع من الدماء، ومع أنه لا يعدو منها لما فيه
চড়ুই পাখির ডিম চেনা যায় কিন্তু সাপের ডিম চেনা যায় না: (সাপের ডিম চড়ুই পাখির ডিমের মতো)। এবং যেমন আপনি একটি কাপড়কে অন্য একটি কাপড়ের সাথে তুলনা করেন তার শুভ্রতায় (বা কালো রঙে)।

আর যেমন ইমরুল কায়েসের উক্তিতে:

যেন পাখির তাজা ও শুকনো হৃদপিণ্ডগুলো … তার বাসার কাছে লাল আন্নাব ফল এবং পচা খোরমার মতো

কবি এখানে পাখির তাজা ও শুকনো হৃদপিণ্ডগুলোকে আন্নাব ফল ও শুষ্ক পচা খোরমার সাথে তুলনা করেছেন তাদের অবস্থা এবং আকার, পরিমাণ ও রঙের মতো গুণাবলি বর্ণনা করার জন্য। আর যেমন নাবিগা আজ-জুবইয়ানির উক্তিতে যখন তিনি নুমান বিন মুনজিরের প্রশংসা করছিলেন:

 

আপনি যেন সূর্য এবং অন্য রাজারা হলো নক্ষত্র … যখন আপনি উদিত হন, তখন তাদের কোনো নক্ষত্রই আর দেখা যায় না

 

কবি এখানে অন্যান্য রাজাদের মাঝে নুমান বিন মুনজিরকে নক্ষত্ররাজির মাঝে সূর্যের সাথে তুলনা করেছেন। আর তুলনার দিক (ওয়াজহুশ শিবেহ) হলো: এমন এক অবস্থা যা প্রকাশ পায় যখন কোনো নগণ্য বস্তু মহিমান্বিত বস্তুর উপস্থিতিতে বিলীন ও অদৃশ্য হয়ে যায়।

এখানে উদ্দেশ্য হলো অন্যান্য রাজাদের সাথে নুমানের অবস্থা বর্ণনা করা; অর্থাৎ তিনি যখন তাদের মাঝে উপস্থিত হন, তখন তারা তার সামনে তুচ্ছ হয়ে যায় এবং তার প্রতাপ তাদের প্রতাপকে ছাপিয়ে যায়।

 

‌‌(২) উপমার সম্ভাব্যতা বর্ণনা করা: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এটি বর্ণনা করা যে, মুসাব্বাহ (যাকে তুলনা করা হচ্ছে) এর অস্তিত্ব সম্ভব। এটি এমন প্রতিটি অদ্ভুত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে দ্বিমত পোষণ করা হতে পারে এবং দাবি করা হতে পারে যে এটি অসম্ভব। যেমন আবু তৈয়ব আল-মুতানাব্বির সেই কাসিদা থেকে যা তিনি সাইফুদ দাওলা আল-হামদানির মাতার শোকগাথা হিসেবে রচনা করেছিলেন:

আমি আপনাকে তাদের মাঝে দেখেছি যাদের আমি রাজা মনে করি … যেন আপনি অসম্ভব বা অবাস্তব কিছুর মাঝে এক পরম সত্য

আপনি যদি মানুষের অন্তর্ভুক্ত হয়েও তাদের ছাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন … তবে (তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই), কারণ কস্তুরিও তো হরিণের রক্তের অংশবিশেষ

 

আবু তৈয়ব এখানে বলতে চেয়েছেন যে: সাইফুদ দাওলা মানুষকে এমনভাবে ছাড়িয়ে গেছেন যে তার ও তাদের মাঝে আর কোনো সাদৃশ্য অবশিষ্ট নেই, বরং তিনি নিজে একটি স্বতন্ত্র মূলে এবং একাকী একটি স্বতন্ত্র শ্রেণিতে পরিণত হয়েছেন। এটি আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হতে পারে, কারণ একই প্রজাতির কোনো ব্যক্তির পক্ষে সেই প্রজাতির নির্দিষ্ট গুণাবলিতে এতদূর পৌঁছে যাওয়া সুদূরপরাহত যে মনে হয় তিনি আর সেই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নন। তাই তিনি এই দাবির সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন এবং এর সম্ভাব্যতা বর্ণনা করেছেন তার অবস্থাকে কস্তুরির অবস্থার সাথে তুলনা করে। কস্তুরি হলো একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও উৎকৃষ্ট সুগন্ধি যার মূল উৎস হলো এক প্রকার রক্ত, যদিও তার বৈশিষ্ট্যের কারণে সেটিকে আর সাধারণ রক্ত হিসেবে গণ্য করা হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২০)
من الأوصاف الشريفة التي لا توجد في الدم، ويسمى مثل هذا التشبيه: تشبيهاً ضمنياً، لدلالة البيت عليه ضمناً.

ومثله قول عبد الصمد بن بابك:

تقاعس عنك الفاخرون فأحجموا … وخيل المغالي غير خيل المواكب

فإن زعم الأملاك أنك منهم … فخارا، فإن الشمس بعض الكواكب

 

وقول التهامي:

لقد شرف الرحمن قدرك في الورى … كما في الليالي شرفت ليلة القدر

وإن كنت من جنس البرايا وفقتهم … فللمسك نشر ليس يوجد في العطر!

 

‌‌القيمة البلاغية للتشبيه

التشبيه - كما يقول الإمام عبد القاهر الجرجاني - يكسو المعاني أبهة، ويكسبها شرفاً، ويرفع من أقدارها، ويضاعف قواها في تحريك النفوس لها، ويستميل القلوب إليها، ويستنير لها من أقاصي الأفئدة صبابة وكلفاً، ويجبر الطباع على أن تعطيها محبة وشغفاً.

فإن كان مدحاً كان أبهى وأفخم، وإن كان ذماً كان مسه أوجع، وإن كان حجاجاً كان برهانه أنور، وإن كان افتخاراً كان شأوه أبعد، وإن كان اعتذاراً كان إلى القبول أقرب.

ولهذا فإنه إذا جاء في أعقاب المعاني فإنه يضاعف قواها في تحريك النفوس إلى المقصود بها، والسر في هذا التأثير القوي للتشبيه في النفوس: هو أن الصورة في التشبيه تبرز المعنى الخفي في صورة محسوسة واضحة جلية تطمئن إليها النفس وتأنس لها، لأنها بذلك قد خرجت من الخفي إلى الجلي، ومن المعقول إلى المحسوس، ومما تعلمه إلى ما هي به أعلم، بل ومما لم تألفه إلى ما ألفته، فمهما عبرت عن المعنى بعبارة تؤديه وتبالغ فيه فإنك لن تبلغ به ما يبلغه عن طريق التشبيه، فلو حاولت وصف يوم - مثلاً - بالقصر، فقلت: "يوم كأقصر ما يتصور"، فإن السامع لن يجد في هذه المبالغة ما يجده في قول الشاعر:

ظللنا عند باب أبي نعيم يوم مثل سالفة الذباب
সেই সব সম্মানিত গুণাবলির মধ্যে হতে যা রক্তের মধ্যে পাওয়া যায় না। এই ধরনের উপমাকে বলা হয়: 'তাসবিহে দিমনি' বা উহ্য উপমা; কেননা কবিতার চরণে এটি পরোক্ষ বা উহ্যভাবে নির্দেশিত হয়েছে।

আর এর অনুরূপ হলো আবদুস সামাদ ইবনে বাবাক-এর উক্তি:

অহংকারীরা আপনার থেকে দূরে সরে গেল এবং পিছপা হলো … আর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীর ঘোড়া সাধারণ কাফেলার ঘোড়ার মতো নয়।

যদি রাজন্যবর্গ গর্বভরে দাবি করে যে আপনি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত … তবে সূর্যও তো নক্ষত্ররাজিরই একটি অংশ।

 

এবং আল-তুহামি-র উক্তি:

দয়াময় রহমান সৃষ্টিজগতের মাঝে আপনার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন … ঠিক যেমন রাতসমূহের মাঝে লাইলাতুল কদরকে সম্মানিত করা হয়েছে।

যদিও আপনি মানবজাতিরই অন্তর্ভুক্ত, তবুও আপনি তাদের ছাড়িয়ে গেছেন … কেননা কস্তুরীর এমন সুগন্ধ রয়েছে যা অন্য কোনো সুবাসে পাওয়া যায় না!

 

‌‌উপমার আলঙ্কারিক গুরুত্ব

উপমা—যেমনটি ইমাম আবদুল কাহের আল-জুরজানি বলেন—অর্থের মাঝে গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে, তাকে মর্যাদা দান করে, তার গুরুত্ব বৃদ্ধি করে এবং মানুষের আত্মাকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তার শক্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এটি অন্তরসমূহকে তার দিকে আকৃষ্ট করে, হৃদয়ের গহীন কোণ থেকে ভালোবাসা ও অনুরাগের আলো বিচ্ছুরিত করে এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিগুলোকে তার প্রতি প্রীতি ও অনুরাগ প্রকাশ করতে বাধ্য করে।

যদি তা প্রশংসা হয়, তবে তা অধিকতর দীপ্তিময় ও মহিমান্বিত হয়; যদি তা নিন্দা হয়, তবে তার আঘাত হয় অধিকতর যন্ত্রণাদায়ক; যদি তা যুক্তি-তর্ক হয়, তবে তার প্রমাণ হয় উজ্জ্বলতর; যদি তা আত্মগৌরব হয়, তবে তার লক্ষ্য হয় সুদূরপ্রসারী; আর যদি তা ক্ষমা প্রার্থনা হয়, তবে তা কবুল হওয়ার অধিক নিকটবর্তী হয়।

এই কারণে, যখন এটি কোনো অর্থের পর পর আসে, তখন তা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে আত্মাকে ধাবিত করার শক্তিকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে। মানুষের অন্তরে উপমার এই শক্তিশালী প্রভাবের রহস্য হলো: উপমার চিত্রকল্পটি একটি গোপন বা বিমূর্ত অর্থকে একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান রূপে ফুটিয়ে তোলে, যাতে আত্মা আশ্বস্ত হয় এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কারণ এর মাধ্যমে অর্থটি অস্পষ্টতা থেকে স্পষ্টতায়, বুদ্ধিগ্রাহ্য থেকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতায় এবং যা সে জানে তা থেকে যা সে আরও ভালোভাবে জানে তার দিকে ধাবিত হয়; এমনকি যা অপরিচিত তা থেকে পরিচিত বিষয়ের দিকে উপনীত হয়। সুতরাং, আপনি কোনো অর্থ প্রকাশ করার জন্য যতই শব্দ ব্যবহার করুন এবং তাতে অতিশয়োক্তি করুন না কেন, উপমার মাধ্যমে যে উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব তা অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি দিনকে সংক্ষিপ্ত হিসেবে বর্ণনা করতে চান এবং বলেন: "একটি দিন কল্পনাতীত সংক্ষিপ্ত", তবে শ্রোতা এই অতিশয়োক্তিতে সেই গভীরতা পাবে না যা কবির এই উক্তিতে পাওয়া যায়:

আমরা আবু নুয়াইমের দরজায় অবস্থান করেছি এমন এক দিন, যা একটি মাছির ঘাড়ের (দৈর্ঘ্যের) মতো।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২১)
وكذلك إذا كنت مع صاحب لك يسعى في أمر، وأنت تريد أن تقرر له أنه لا يحصل من سعيه على طائل، فأدخلت يدك في الماء ثم قلت له: انظر هل حصل في كفي من الماء شيء؟ فكذلك أنت في أمرك، كان لذلك ضرب من التأثير في النفس وتمكين للمعنى في القلب زائد على القول المجرد من التشبيه. وعلى الجملة فإن من بلاغة التشبيه: أنه يبرز المعنى في صورة واضحة جلية محسوسة مألوفة للنفس في عبارة موجزة قوية مؤكدة.
তদ্রূপ, আপনি যখন আপনার এমন কোনো সঙ্গীর সাথে থাকেন যিনি কোনো বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছেন এবং আপনি তাকে এটি নিশ্চিতভাবে বুঝিয়ে দিতে চান যে, তার এই প্রচেষ্টা থেকে কোনো সুফল অর্জিত হবে না; এমতাবস্থায় আপনি আপনার হাত পানিতে প্রবেশ করালেন এবং তাকে বললেন: "দেখুন, আমার হাতের তালুতে কি কোনো পানি অবশিষ্ট আছে? আপনার বিষয়টির অবস্থাও ঠিক অনুরূপ।" তবে তা অন্তরে এমন এক প্রকার প্রভাব বিস্তার করবে এবং হৃদয়ে বিষয়বস্তুর অর্থকে এমনভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে যা উপমাবিহীন নিছক সাধারণ বক্তব্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি কার্যকর। মোটের ওপর, উপমার অলঙ্কারশৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এটি অর্থকে একটি স্পষ্ট, উজ্জ্বল, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও মনের পরিচিত অবয়বে উপস্থাপন করে, যা সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী ও জোরালো অভিব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌تمرينات على التشبيه

(1)

بين كل تشبيه في الأبيات التالية، ووضح أركانه:

1 - قول رشيد الدين الوطواط:

فوجهك كالنار في ضوئها وقلبي كالنار في حرها

2 - وقال- أيضاً-:

كأن الثريا هودج فوق ناقة بحث بها حاد إلى الغرب مزعج

وقد لمعت حتى كأن بريقها قوارير فيها زئبق يترجرج

3 - وقال آخر يصف جيشاً:

وجيش كمثل الليل هولاً وهيبة وإن زانه ما فيه من أنجم زهر

(2)

اكتب الأبيات التالية نثراً بأسلوبك"

1 - قال صفي الدين الحلى:

الورد في أعلى الغصون كأنه ملكٌ تحف به سراة جنوده

وانظر لنرجسه الشهي كأنه طرفٌ تنبه بعد طول هجوده

2 - وقال آخر:

كأن الأقحوان وقد تبدت محاسنه فراقت كل عين

عماد زبرجدٍ، وقباب تبر تحف بها شرفات اللجين

3 - وقال آخر:

فجرى النهر وهو يشبه سيفاً في رياض كأنها أجفان

4 - وقال غيره:

والشمس من مشرقها قد بدت مشرقة ليس لها حاجب
উপমা (তাশবিহ) সংক্রান্ত অনুশীলনসমূহ

(১)

নিচে বর্ণিত পঙক্তিগুলোর প্রতিটি উপমা নির্দেশ করুন এবং এর উপাদানসমূহ (রুকনসমূহ) বর্ণনা করুন:

১ - রাশিদুদ্দীন আল-ওয়াতওয়াতের উক্তি:

আপনার চেহারা উজ্জ্বলতার দিক থেকে আগুনের মতো, আর আমার অন্তর উত্তাপের দিক থেকে আগুনের মতো।

২ - তিনি আরও বলেছেন:

সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ যেন উটের পিঠের ওপর রাখা একটি হাওদা, যাকে একজন অস্থির উষ্ট্রচালক পশ্চিম দিকে দ্রুত তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সেটি এমনভাবে উজ্জ্বল হয়েছে যে, তার দ্যুতি যেন পারদভর্তি কাঁচের পাত্র যা টলমল করছে।

৩ - অন্য একজন একটি সেনাবাহিনীর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:

এমন এক বাহিনী যা ভয়াবহতা ও গাম্ভীর্যের দিক থেকে রাতের মতো, যদিও তার মধ্যকার উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি তাকে সুশোভিত করেছে।

(২)

নিচে বর্ণিত পঙক্তিগুলো আপনার নিজস্ব শৈলীতে গদ্যে লিখুন:

১ - সাফিউদ্দীন আল-হিল্লি বলেন:

শাখার শীর্ষে গোলাপটি যেন এমন এক রাজা, যাকে তার শ্রেষ্ঠ সৈন্যরা পরিবেষ্টন করে রেখেছে।

আর মনোরম নার্গিস ফুলের দিকে তাকান, সেটি যেন দীর্ঘ নিদ্রার পর জেগে ওঠা কোনো চোখ।

২ - অন্য একজন বলেন:

আকহুয়ান ফুল যখন তার সৌন্দর্য প্রকাশ করে সব চোখকে মুগ্ধ করে, তখন সেটি যেন জাবারজাদ পাথরের স্তম্ভ এবং স্বর্ণের গম্বুজ, যা রূপার কারুকাজখচিত অলঙ্কার দ্বারা পরিবেষ্টিত।

৩ - অন্য একজন বলেন:

নদীটি প্রবাহিত হচ্ছিল এমন অবস্থায় যে, সেটি বাগানের মাঝে একটি তলোয়ারের মতো ছিল, আর বাগানগুলো যেন চোখের পল্লব।

৪ - অন্য কেউ বলেন:

সূর্য তার উদয়স্থল থেকে উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশ পেয়েছে, যার সামনে কোনো আড়ালকারী বা মেঘের পর্দা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
كأنها بوتقة أحميت يجول فيها ذهب ذائب

5 - وقال آخر:

وكأن أجرام النجوم لوامعا دررٌ نثرن على بساطٍ أزرق

(3)

عين كل تشبيه في الأبيات التالية، وبين أركانه، ثم انثر الأبيات مستعملاً أداة تشبيه غير التي استعملها الشاعر:

1 - قال عبد الله بن المعتز:

انظر إلى حسن هلال بدا يهتك من أنواره الجندسا

كمنجل قد صيغ من فضةٍ يحصد من زهر الدجى نرجساً

2 - وقال:

والنجم في الليل البهيم تخاله عيناً تخالس غفلة الرقباء

والصبح من تحت الظلام كأنه شيب بدا في لمة سوداء

3 - وقال البحتري:

يمشون في زعف كأن متونها في كل معركة منون بهاء

بيض تسيل على الكماة بصولها سيل السراب بقفرة بيداء

فإذا الأسنة خالطتها خلتها فيها خيال كواكب في الماء

4 - وقال جميل بن معمر:

غراء مبسام كأن حديثها درٌّ تحدر نظمه منثور

5 - وقال بعض الشعراء في يوم من أيام الربيع:

هذي البسيطة كاعب أبرادها حلل الربيع وحليها النوار

وكأن هذا الجو فيها مغرم به قد شفه التعذيب والأجزار

فإذا شكا فالبرق قلب خافق وإذا بكى فدموعه الأمطار
এটি যেন একটি উত্তপ্ত চুল্লি যার মধ্যে বিগলিত স্বর্ণ আবর্তিত হচ্ছে।

৫ - অন্য একজন কবি বলেছেন:

আর উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জ যেন নীল গালিচার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তোমালা।

(৩)

নিচের কবিতাগুলোতে প্রতিটি উপমা চিহ্নিত করো এবং এর উপাদানসমূহ (রুকন) বর্ণনা করো, অতঃপর কবি যে উপমাবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন তা ব্যতীত অন্য শব্দ ব্যবহার করে কবিতাগুলোর গদ্যরূপ পেশ করো:

১ - আবদুল্লাহ ইবনুল মু’তায বলেছেন:

উদিত হওয়া বাঁকা চাঁদের সৌন্দর্যের দিকে তাকাও যা তার জ্যোতি দিয়ে অন্ধকারকে বিদীর্ণ করছে।

যেন এটি রূপা দিয়ে নির্মিত একটি কাস্তে যা অন্ধকারের পুষ্পরাজি থেকে নার্গিস ফুল আহরণ করছে।

২ - তিনি বলেছেন:

নিবিড় অন্ধকার রাতে নক্ষত্রকে তোমার এমন এক চোখ মনে হবে যা প্রহরীদের অসতর্কতার সুযোগে আড়চোখে তাকাচ্ছে।

আর অন্ধকারের নিচ থেকে ভোরের আলো যেন একগুচ্ছ কালো চুলের মধ্যে দৃশ্যমান শুভ্র কেশ।

৩ - বুহতারি বলেছেন:

তারা এমন সূক্ষ্ম বর্ম পরিধান করে পথ চলে যার উপরিভাগ প্রতিটি সমরাঙ্গনে উজ্জ্বল মৃত্যুর মতো।

শুভ্র তলোয়ারগুলো বীর যোদ্ধাদের ওপর দিয়ে তাদের আক্রমণে এমনভাবে বয়ে যায় যেন জনমানবহীন মরুপ্রান্তরে মরীচিকার প্রবাহ।

যখন বর্শার ফলকগুলো তার সাথে মিলিত হয়, তখন তোমার মনে হবে তাতে যেন পানির ওপর নক্ষত্ররাজির প্রতিবিম্ব দৃশ্যমান।

৪ - জামিল বিন মুয়াম্মার বলেছেন:

তিনি উজ্জ্বল চেহারার হাস্যোজ্জ্বল এক নারী, যাঁর বাক্যালাপ যেন সুতো ছিঁড়ে বিচ্ছুরিত হওয়া মুক্তোদানা।

৫ - বসন্তের দিনগুলোর কোনো একদিন সম্পর্কে জনৈক কবি বলেছেন:

এই বিস্তীর্ণ পৃথিবী যেন এক যুবতী নারী, বসন্তের রেশমি বস্ত্র যার ভূষণ আর প্রস্ফুটিত কলি যার অলঙ্কার।

আর এর বায়ুমণ্ডল যেন তার প্রেমে বিভোর এক প্রেমিক যাকে যাতনা ও বিরহ জীর্ণ করে ফেলেছে।

সে যখন আর্তনাদ করে তখন বিদ্যুৎ হলো তার স্পন্দিত হৃদয়, আর সে যখন অশ্রুপাত করে তখন বৃষ্টি হলো তার নয়নজল।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الإجابة على تمرينات التشبيه

الإجابة على تمرين (1)

1 - التشبيه في قول الشاعر: فوجهك كالنار في ضوئها

أركان التشبيه هي:

أ- المشبه: وجهك.

ب- المشبه به: النار.

جـ- أداة التشبيه: الكاف.

د- وجه الشبه: في ضوئها.

فقد شبه الوجه بالنار في ضوئه وإشراقه، وكذلك هناك تشبيه آخر في الشطر الثاني من قول الوطواط في قوله: وقلبي كالنار في حرها.

أركان التشبيه:

أ- المشبه: قلبي.

ب- المشبه به: النار.

جـ- أداة التشبيه: الكاف.

د- وجه الشبه: في حرها.

فقد شبه شدة الشوق وحرارته في قلبه بالنار في شدة حرارتها وقوة لهيبها فالشوق يحرق قلبه كما تحرق النار الوقود.

2 - التشبيه في قوله: "كأن الثريا هودج فوق ناقة يحث بها حاد … ".

أركان التشبيه هي:

أ- المشبه: الثريا.
উপমা (তাশবিহ) সংক্রান্ত অনুশীলনীসমূহের সমাধান

(১) নং সংশোধনীর উত্তর

১ - কবির বাণীতে উপমা: "আপনার মুখমণ্ডল যেন উজ্জ্বলতায় আগুনের ন্যায়"

উপমার রুকনসমূহ (অঙ্গসমূহ) হলো:

ক- মুসাব্বাহ (যাকে তুলনা করা হয়েছে): আপনার মুখমণ্ডল।

খ- মুসাব্বাহ বিহি (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে): আগুন।

গ- আদাতুত তাশবিহ (উপমাবাচক শব্দ): কাফ (ন্যায়)।

ঘ- ওয়াজহুশ শাবহ্ (উপমার সাধারণ গুণ): এর উজ্জ্বলতার ক্ষেত্রে।

এখানে মুখমণ্ডলকে তার আলো ও দীপ্তির দিক থেকে আগুনের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে আল-ওয়াতওয়াত-এর বাণীর দ্বিতীয় চরণেও আরেকটি উপমা রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: "এবং আমার অন্তর তার উত্তাপে আগুনের ন্যায়।"

উপমার রুকনসমূহ:

ক- মুসাব্বাহ: আমার অন্তর।

খ- মুসাব্বাহ বিহি: আগুন।

গ- আদাতুত তাশবিহ: কাফ (ন্যায়)।

ঘ- ওয়াজহুশ শাবহ্: এর উত্তাপের ক্ষেত্রে।

এখানে তিনি তার অন্তরের তীব্র ব্যাকুলতা ও উত্তাপকে আগুনের প্রচণ্ড তাপ ও লেলিহান শিখার শক্তির সাথে তুলনা করেছেন; কেননা সেই ব্যাকুলতা তার অন্তরকে সেভাবেই দগ্ধ করে যেভাবে আগুন জ্বালানিকে ভস্মীভূত করে।

২ - তাঁর বাণীতে উপমা: "যেন সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ উষ্ট্রীর পিঠের ওপর রক্ষিত হাওদা, যাকে কোনো চালক তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে … "।

উপমার রুকনসমূহ হলো:

ক- মুসাব্বাহ: সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
ب- المشبه به: هودج فوق ناقة .... ".

جـ- أداة التشبيه: كأن.

د- وجه الشبه: محذوف، وتقديره: الاستدارة والسير على هدى في الظلام فالثريا تحث على السير في الظلام كما يحث الحداء في الهودج الناقة على السير في الليل.

وجاء تشبيه آخر في البيت الثاني في قوله: كأن بريقها قوارير زئبق بترجرج.

أركان التشبيه هي:

أ- المشبه: بريقها.

ب- المشبه به: قوارير فيها زئبق يترجرج.

جـ- أداة التشبيه: كأن.

د- وجه الشبه: اللمعان والحركة.

فهو يشبه أشعة الثريا اللامعة المتحركة بصفاء القوارير الزجاجية يتحرك فيها الزئبق الذي لا يثبت على حال.

3 - التشبيه في قوله: "وجيش كمثل الليل … ".

أركان التشبيه هي:

أ- المشبه: الجيش.

ب- المشبه به: الليل.

جـ- أداة التشبيه: مثل.

د- وجه الشبه: ضخم كثيف تلمع فيه الأضواء.

فالشاعر يشبه كثافة الجيش وضخامته تلمع فيه السيوف والأسلحة مثل كثافة الليل البهيم تلمع فيه النجوم والشهب.
খ- উপমান: উটের পিঠে স্থাপিত হাউদা .... ".

গ- উপমা বাচক শব্দ: যেন।

ঘ- সাদৃশ্যপূর্ণ দিক: এটি উহ্য রয়েছে, যার অনুমিত রূপ হলো: গোলাকার হওয়া এবং অন্ধকারের মধ্যে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়া। সুতরাং সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ অন্ধকারে পথ চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যেমনটি হাউদার মধ্যকার উটচালকের গান রাতের বেলা উটকে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।

দ্বিতীয় চরণে তাঁর নিম্নোক্ত উক্তিতে আরেকটি উপমা এসেছে: "যেন তার উজ্জ্বলতা থরথর করে কম্পমান পারদপূর্ণ কাঁচপাত্র।"

উপমার রুকনগুলো হলো:

ক- উপমেয়: তার উজ্জ্বলতা।

খ- উপমান: কাঁচের পাত্র যাতে পারদ নড়াচড়া করছে।

গ- উপমা বাচক শব্দ: যেন।

ঘ- সাদৃশ্যপূর্ণ দিক: উজ্জ্বলতা ও গতিশীলতা।

তিনি সুরাইয়ার উজ্জ্বল ও গতিশীল রশ্মিকে স্বচ্ছ কাঁচপাত্রের সাথে তুলনা করেছেন যাতে পারদ নড়াচড়া করছে, যা কোনো অবস্থায় স্থির থাকে না।

৩ - তাঁর নিম্নোক্ত উক্তিতে বিদ্যমান উপমা: "আর এক বিশাল বাহিনী যা রজনীর ন্যায় ..."

উপমার রুকনগুলো হলো:

ক- উপমেয়: সেনাবাহিনী।

খ- উপমান: রাত্রি।

গ- উপমা বাচক শব্দ: ন্যায়/মতো।

ঘ- সাদৃশ্যপূর্ণ দিক: বিশালতা, ঘনত্ব এবং যার মাঝে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে।

কবি সেনাবাহিনীর ঘনত্ব ও বিশালতাকে—যাতে তলোয়ার ও অস্ত্রশস্ত্রের চমক রয়েছে—পিচঢালা অন্ধকারের ঘনত্বের সাথে তুলনা করেছেন যাতে নক্ষত্র ও উল্কাপিণ্ড চমক দিচ্ছে।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
الإجابة على تمرين (2)

1 - معنى قول صفي الدين الحلى في بيتيه:

فالشاعر في البيت الأول يشبه الورد في أعلى الأغصان التي تلتف حولها الأوراق والأشواك والبراعم والفروع مثل الملك في سلطانه وتاجه على عرشه وحول الحاشية والجنود، والسراة والفقراء والطلاب والمسئولون.

والشاعر في البيت الثاني يشبه النرجس حول الورد بالعيون اليواقظ التي تبرق بعد يوم طويل وراحة تامة، فكأنها تراقب ما حوله رعايةً وإعجاباً.

2 - يشبه الشاعر الأقحوان بعد أن سحرت محاسنه العيون الجميلة الحوراء بالزبرجد في نفاسته وسحره وجماله، أو بالقباب الذهبية وهي تنعكس على سطحها أشعة بيضاء ناصعة كالفضة تحفها من كل جانب كالشمس تحيط بها أشعتها الصافية التي تخطف الأبصار.

3 - يشبه الشاعر النهري الجاري في نبعه الصافي بالسيف اللامع وسط رياض كثيف الأشجار والخضرة والورود والأزهار تلتف كالأكفان حول السيف الذي يشبه في لمعانه وسحره العين الحوراء الشديدة البياض والسواد بالبوتقة الشديدة الاحمرار المملوءة ذهباً يجول فيها ويتحرك ويتقد من شدة النار التي أحميت تحتها ومن حولها بجامع الاحمرار الشديد والحركة المتقدة في كل من المشبه والمشبه به.

4 - يشبه الشاعر الشمس حين تبدو مشرقة متوهجة اللهيب تختفي حولها السحب والأجرام الأخرى.

5 - يشبه الشاعر النجوم وهي تلمع منثورة في أديم السماء القاتم كأنها حبات در من ذهب وفضة منثورة على بساط جميل قاتم بجامع اللمعان والصفاء منثوراً على مساحة قاتمة تزيدها لمعاناً وظهوراً.

الإجابة على تمرين (3)

1 - التشبيه في قول عبد الله بن المعتز: فقد شبه الشاعر الهلال وهو يبدد الظلام من حوله بمنجل من فضة يحصد النرجس في جوف الليل.
অনুশীলনী (২) এর উত্তর

১ - তার দুই পংক্তিতে সফিউদ্দীন আল-হিল্লির বক্তব্যের অর্থ:

প্রথম পংক্তিতে কবি ডালপালার শীর্ষে থাকা গোলাপকে—যার চারপাশে পাতা, কাঁটা, কুঁড়ি ও শাখা-প্রশাখা জড়িয়ে আছে—এমন এক রাজার সাথে তুলনা করেছেন যিনি তার রাজকীয় ক্ষমতা ও মুকুট নিয়ে তার আরশের উপর রয়েছেন এবং যার চারপাশে পারিষদবর্গ, সৈন্যদল, অভিজাত শ্রেণি, দরিদ্র জনতা, শিক্ষার্থী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ঘিরে আছে।

দ্বিতীয় পংক্তিতে কবি গোলাপের চারপাশের নার্গিস ফুলকে সেই সজাগ চোখের সাথে তুলনা করেছেন যা দীর্ঘ দিন ও পূর্ণ বিশ্রামের পর উজ্জ্বল হয়ে ওঠে; যেন তা যত্ন ও মুগ্ধতার সাথে তার চারপাশের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে।

২ - কবি চন্দ্রমল্লিকা ফুলকে—যার সৌন্দর্য ডাগর চোখের সুন্দরীদের মুগ্ধ করেছে—তার বহুমূল্যবান বৈশিষ্ট্য, আকর্ষণ ও সৌন্দর্যের দিক থেকে জাবারজাদ (মরকত) পাথরের সাথে তুলনা করেছেন; অথবা এমন স্বর্ণালী গম্বুজের সাথে তুলনা করেছেন যার উপরিভাগে রূপার মতো ধবধবে সাদা রশ্মি প্রতিফলিত হয় এবং যা সবদিক থেকে সূর্যের নির্মল কিরণ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, যা দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

৩ - কবি তার স্বচ্ছ উৎস থেকে প্রবাহিত নদীকে ঘন গাছপালা ও পুষ্পরাজিশোভিত উদ্যানের মাঝে একটি দীপ্তিময় তরবারির সাথে তুলনা করেছেন যা কাফনের কাপড়ের মতো একে ঘিরে আছে। এই তরবারি তার ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্যের দিক থেকে এমন এক ডাগর চোখের মতো যার সাদা ও কালো অংশ অত্যন্ত প্রকট। একে আবার স্বর্ণে পূর্ণ তীব্র লাল রঙের মুচির সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে স্বর্ণ প্রজ্বলিত আগুনের তাপে বিচরণ করে ও নড়াচড়া করে; এখানে অত্যধিক লাল আভা ও প্রদীপ্ত গতির দিক থেকে উপমেয় ও উপমানের মাঝে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

৪ - কবি সূর্যকে তখন চিত্রিত করেছেন যখন তা প্রদীপ্ত শিখাসহ উজ্জ্বলভাবে উদিত হয় এবং তার প্রভাবে চারপাশের মেঘ ও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক অদৃশ্য হয়ে যায়।

৫ - কবি অন্ধকার আকাশের গায়ে ছড়িয়ে থাকা উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোকে একটি সুন্দর কালো গালিচার ওপর ছড়িয়ে থাকা সোনা ও রূপার মুক্তোদানার সাথে তুলনা করেছেন; এখানে উজ্জ্বলতা ও স্বচ্ছতা এবং অন্ধকার পটভূমিতে ছড়িয়ে থাকার বিষয়টি তাদের দ্যুতি ও প্রকাশকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অনুশীলনী (৩) এর উত্তর

১ - আব্দুল্লাহ ইবনুল মুতায-এর উক্তির উপমা: এখানে কবি চারপাশের অন্ধকার দূরকারী অর্ধচন্দ্রকে একটি রূপালী কাস্তের সাথে তুলনা করেছেন যা গভীর রজনীতে নার্গিস ফুল কর্তন করছে।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
أركان التشبيه هي:

أ- المشبه: الهلال وسط الظلام.

ب- المشبه به: المنجل من فضة في حديقة النرجس ليلاً.

جـ- أداة التشبيه: الكاف.

د- وجه الشبه: الضوء اللامع يبدد القتام من حوله.

استعمال أداة أخرى غير الكاف:

كأن الهلال اللامع وهو يبدد الظلام بأنواره من حوله ويهتك أستار القتام منجل مصنوع من فضة كالسيف يحصد أزهار النرجس في وسط حديقة كثيفة اشتمل عليها ظلام الليل من كل جانب.

2 - يشبه الشاعر النجم وهو يلمع في الليل البهيم بالعين التي تختلس النظرات بين حين وآخر حين يغفل الرقيب من وقت لآخر.

كما يشبه الصبح يتنفس من بين غياهب الظلام بالشعر الأبيض الذي يسري في سواد الشعر أثناء المشيب.

أركان التشبيه هي:

في البيت الأول

أ- المشبه: النجم في الليل البهيم.

ب- المشبه به: عينا تخالس الرقباء.

جـ- أداة التشبيه: تخاله.

د- وجه الشبه: الشيء يظهر حيناً ويغفو حيناً.

في البيت الثاني:

أ- المشبه: الصبح تحت الظلام.

ب- المشبه به: الشيب.

جـ- أداة التشبيه: كأنه.
উপমার স্তম্ভসমূহ হলো:

ক- উপমেয়: অন্ধকারের মাঝে উদিত বাঁকা চাঁদ।

খ- উপমান: রাতে নার্গিস ফুলের বাগানে রূপার তৈরি কাস্তে।

গ- উপমাবাচক শব্দ: কাফ (সদৃশ)।

ঘ- উপমার সাধারণ গুণ: উজ্জ্বল আলো যা তার চারপাশের অন্ধকারকে বিদূরিত করে।

'কাফ' ব্যতিরেকে অন্য শব্দের ব্যবহার:

উজ্জ্বল বাঁকা চাঁদ যখন তার আলো দিয়ে চারপাশের অন্ধকার দূর করে এবং গাঢ় আঁধারের পর্দা বিদীর্ণ করে, তখন তাকে এমন মনে হয় যেন রূপার তৈরি একটি তলোয়ার সদৃশ কাস্তে, যা চারপাশ থেকে রাতের আঁধারে ঘেরা এক ঘন বাগানের নার্গিস ফুলগুলো কর্তন করছে।

২ - কবি অন্ধকার রাতে উজ্জ্বল নক্ষত্রকে এমন একটি চোখের সাথে তুলনা করেছেন, যা প্রহরীর অসতর্কতার সুযোগে মাঝে মাঝে আড়চোখে তাকায়।

তেমনিভাবে তিনি অন্ধকারের গভীরতা থেকে উঁকি দেওয়া প্রভাতকে সেই সাদা চুলের সাথে তুলনা করেছেন, যা বার্ধক্যের সময় কালো চুলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

উপমার স্তম্ভসমূহ হলো:

প্রথম চরণে

ক- উপমেয়: ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতের নক্ষত্র।

খ- উপমান: প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আড়চোখে তাকানো চোখ।

গ- উপমাবাচক শব্দ: তুমি তাকে মনে করো।

ঘ- উপমার সাধারণ গুণ: কোনো বস্তুর ক্ষণে ক্ষণে দৃশ্যমান হওয়া এবং ক্ষণে ক্ষণে ঝিমিয়ে পড়া।

দ্বিতীয় চরণে:

ক- উপমেয়: অন্ধকারের নিচের প্রভাত।

খ- উপমান: বার্ধক্যের সাদা চুল।

গ- উপমাবাচক শব্দ: যেন।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
د- وجه الشبه: البياض ينتشر بين السواد.

استعمال أداة غير (تخال)، (كأن).

والنجم في الليل البهيم كأنه عيناً تخالص غفلة الرقباء

والصبح من تحت الظلام تخاله شيب بدا في لمة سوداء

3 - التشبيه في البيت الأول: كأن متونها في كل معركة منون بهاء، وفي البيت الثاني بيض تسيل كسيل السراب.

وفي البيت الثالث: الأسئلة المتحركة خلتها خيال كواكب في الماء.

أركان التشبيه هي:

في البيت الأول:

أ- المشبه: المتون.

ب- المشبه به: منون بهاء.

جـ- أداة التشبيه: كأنه.

د- وجه الشبه: اتصال الشيء وتماسكه وترابطه ترابطاً شديداً كترابط وتلاحم المتون واتصال أيام الدهر بعضها ببعض.

في البيت الثاني:

أ- المشبه: بيض تسيل.

ب- المشبه به: سيل السراب.

جـ- أداة التشبيه: محذوفة، وتقديره "كسيل السراب" "الكاف".

د- وجه الشبه: تعاقب ظهور الشيء واختفائه من حين لآخر كالسراب الذي يظهر ويختفي "وهو تشبيه بليغ".

في البيت الثالث:

أ- المشبه: الأسنة المختلطة بعضها ببعض.
ঘ- সাদৃশ্যের ভিত্তি: কালোর মাঝে সাদার বিস্তৃতি।

(মনে করা), (যেন) ব্যতীত অন্য অব্যয়ের ব্যবহার।

আর ঘোর অন্ধকার রাতে নক্ষত্রটি যেন এমন এক চক্ষু যা পাহারাদারদের অসতর্কতার সুযোগ নিচ্ছে।

আর অন্ধকারের নিচ থেকে আসা প্রভাতকে তোমার কাছে মনে হবে যেন কালো কেশগুচ্ছের মাঝে প্রকটিত শুভ্র কেশ।

৩ - প্রথম চরণের উপমা: যেন প্রতিটি যুদ্ধে তাদের পিঠগুলো কালের বিড়ম্বনা স্বরূপ, আর দ্বিতীয় চরণে: শুভ্র তলোয়ারসমূহ যা মরীচিকার স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়।

আর তৃতীয় চরণে: প্রকম্পিত বর্শাফলকগুলোকে আমি পানির ওপর নক্ষত্রের প্রতিবিম্ব বলে মনে করেছি।

উপমার উপাদানসমূহ হলো:

প্রথম চরণে:

ক- মুশাব্বাহ (যাকে তুলনা করা হয়েছে): পিঠসমূহ।

খ- মুশাব্বাহ বিহি (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে): কালের বিড়ম্বনা।

গ- উপমার অব্যয়: যেন।

ঘ- সাদৃশ্যের ভিত্তি: বস্তুর নিরবচ্ছিন্নতা, সংহতি এবং অত্যন্ত সুদৃঢ় বন্ধন; যেমন পিঠগুলোর সংহতি এবং কালের দিনগুলোর একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্য সংযোগ।

দ্বিতীয় চরণে:

ক- মুশাব্বাহ (যাকে তুলনা করা হয়েছে): প্রবাহমান শুভ্র তলোয়ারসমূহ।

খ- মুশাব্বাহ বিহি (যার সাথে তুলনা করা হয়েছে): মরীচিকার প্রবাহ।

গ- উপমার অব্যয়: উহ্য রয়েছে, আর এর সম্ভাব্য রূপ হলো "মরীচিকার প্রবাহের মতো" (কাফ)।

ঘ- সাদৃশ্যের ভিত্তি: ক্ষণে ক্ষণে বস্তুর আবির্ভাব ও তিরোধানের পর্যায়ক্রম, যেমন মরীচিকা যা দৃশ্যমান হয় আবার অদৃশ্য হয়ে যায় "এটি একটি তাসবিহে বালিগ (সুনিপুণ উপমা)"।

তৃতীয় চরণে:

ক- মুশাব্বাহ (যাকে তুলনা করা হয়েছে): একে অপরের সাথে মিশে থাকা বর্শাফলকসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-বালাগাতুস সাফিয়াহ ফিল মাআনী ওয়াল বায়ানি ওয়াল বাদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
ب- المشبه به: خيال كواكب في الماء.

جـ- أداة التشبيه: خلتها.

د- وجه الشبه: حركة الشيء اللامع واختلاطه.

استعمال أداة أخرى في كل بيت:

يمشون في زعف تخال متونها منون بهاء، في كل معركة.

بيض تسيل على الكماة مثل سيل السراب في صحراء قاحلة.

ترى الأسنة المتحركة كأنها خيال الكواكب في الماء.

4 - التشبيه في بيت جميل بن معمر يكون في حديثها كالدر المنثور يتحدر من فمها.

أركان التشبيه هي:

أ- المشبه: حديثها.

ب- المشبه به: الدر المنثور.

جـ- أداة التشبيه: كأن.

د- وجه الشبه: السيولة والتناسق الإيقاعي العذب الجميل.

استعمال أداة أخرى في البيت.

حديث حبيبته كالدر المنثور الذي ينساب من فمها في نغم إيقاعي ساحر وموسيقى شجية عذبة.

5 - التشبيه في التمرين الخامس والأخير يقوم على تشبيه الطبيعة الجميلة في فصل الربيع بالفاتنة الحسناء الكاعبة حين تتزينا (ص 29) بحلل من الرياض والزهور وتضع على جيدها عقد من النوار.

لذلك أصبح جو الطبيعة الفاتنة في الربيع كالعاشق الذي شفه إقبال الحبيب تارة والإعراض عنه تارة أخرى، وفي الإقبال والإعراض الفتنة والجمال.

وأصبحت شكوى العاشق كالبرق الخافق، ودموعه كالأمطار الغزيرة.
খ- উপমান: পানিতে নক্ষত্রপুঞ্জের প্রতিবিম্ব।

গ- উপমা সরঞ্জাম: আমি মনে করলাম।

ঘ- সাদৃশ্যমূলক গুণ: উজ্জ্বল বস্তুর নড়াচড়া এবং সংমিশ্রণ।

প্রতিটি চরণে অন্য একটি উপমা সরঞ্জামের ব্যবহার:

তারা সূক্ষ্ম বর্ম পরিধান করে পথ চলে, যার উপরিভাগকে প্রতিটি রণক্ষেত্রে দীপ্তিময় মনে হয়।

বীর যোদ্ধাদের দেহ বেয়ে শুভ্র তলোয়ারগুলো এমনভাবে বয়ে যায়, যেন ধূ ধূ মরুভূমিতে মরীচিকার প্রবাহ।

আপনি গতিশীল বর্শার ফলকগুলোকে এমনভাবে দেখেন, যেন সেগুলো পানিতে নক্ষত্রপুঞ্জের প্রতিবিম্ব।

৪ - জামিল ইবনে মা'মারের চরণে উপমাটি তার প্রেমিকার কথার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে, যা যেন তার মুখ থেকে ঝরে পড়া বিকীর্ণ মুক্তামালা।

উপমার স্তম্ভগুলো হলো:

ক- উপমেয়: তার কথা।

খ- উপমান: বিকীর্ণ মুক্তামালা।

গ- উপমা সরঞ্জাম: যেন।

ঘ- সাদৃশ্যমূলক গুণ: সাবলীলতা এবং সুমিষ্ট ও সুন্দর ছন্দময় সামঞ্জস্য।

চরণটিতে অন্য একটি উপমা সরঞ্জামের ব্যবহার:

তার প্রিয়তমার কথাগুলো বিকীর্ণ মুক্তার মতো, যা একটি মোহনীয় ছন্দময় সুর এবং সুমধুর করুণ সংগীতের মূর্ছনায় তার মুখ থেকে নিঃসৃত হয়।

৫ - পঞ্চম ও শেষ অনুশীলনের উপমাটি বসন্তকালের মনোরম প্রকৃতিকে একজন লাবণ্যময়ী ও সুন্দরী রূপসীর সাথে তুলনা করার ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যখন সে (পৃষ্ঠা ২৯) উদ্যান ও পুষ্পরাজি দিয়ে নিজেকে সুসজ্জিত করে এবং গ্রীবায় ফুলের মালা পরিধান করে।

ফলে বসন্তের মুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ সেই প্রেমিকের মতো হয়ে ওঠে, যাকে প্রিয়তমার কখনো সান্নিধ্য আবার কখনো বিমুখতা কাতর করে তোলে; আর এই সান্নিধ্য ও বিমুখতার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মুগ্ধতা ও সৌন্দর্য।

আর প্রেমিকের দীর্ঘশ্বাস চমকানো বিদ্যুতের মতো এবং তার অশ্রু প্রবল বর্ষণের মতো হয়ে ওঠে।