(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: -)
محمد بن عبد الوهاب مصلح مظلوم ومفترى عليه   (مسعود الندوي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: محمد بن عبد الوهاب مصلح مظلوم ومفترى عليه

المؤلف: مسعود الندوي

الناشر: إدارة الثقافة والنشر بالجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: 1404 هـ/1984 م

عدد الصفحات: 217

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব: একজন মজলুম ও অপবাদগ্রস্ত সংস্কারক   (মাসউদ নদভী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি


বই: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব: একজন মজলুম ও অপবাদগ্রস্ত সংস্কারক

লেখক: মাসউদ নদভী

প্রকাশক: সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিভাগ, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: ১৪০৪ হিজরি/১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৭

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣)
محمد بن عبد الوهاب مصلح مظلوم ومفترى عليه

تأليف:الأستاذ مسعود الندوي

‌‌مقدمة

بقلم معالي الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي مدير الجامعة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه.. وبعد:

فلم تحظ دعوة من الدعوات الإصلاحية، وخاصة في الوقت القريب بما حظيت به دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب- رحمه الله السلفية الإصلاحية التي أشرقت شمسها في سماء الجزيرة فجلت كل ما هو موجود بأرضها من الضلالات والبدع، وأخلصت الدعوة للواحد الأحد، وأخذت تنتشر في بقاع العالم، ويرحب بها ويسير على نهجها كثير من علماء المسلمين ودعاتهم في أماكن مختلفة من البلاد الإسلامية.

وقد كانت الدولة السعودية- منذ حكمها الميمون لهذه الجزيرة ولا تزال- السند الأهم، والأقوى لهذه الدعوة السلفية المباركة، حيث الحكم المطلق لشرع الله المطهر، وتطبيقه في جميع شؤون الدولة والرعية، فكانت بحق دولة الإسلام وتطبيق شريعته.

وقد تناول هذه الدعوة المؤرخون والمفكرون والباحثون والكتاب في جميع أنحاء العالم على تعدد لغاتهم، واختلاف ميولهم ومذاهبهم بالتحقيق والتحليل والتمحيص والنقد، فمنهم من وفقه الله لقول الحق دون تحيز أو تعصب، ومنهم من اتبع هواه فألصق بالدعوة والقائمين عليها التهم الباطلة، ونسبوا إلى الشيخ الكثير من الأقوال التي لم تصدر عنه.. وعلى الرغم من كثرة الافتراءات التي وجهت إلى الشيخ وإلى دعوته من أعداء الإسلام حينا، ومن أهل الإسلام الذين استمرءوا البدع والخرافات أحيانا أخرى، فقد قيض الله من يتصدى لهذه الافتراءات والأكاذيب ويكشف زيفها وضلالها بالحجة الدامغة والقول الفصل..

ولعل من أهم الكتب التي تصدت لهذه المزاعم، وكشفت كل الدعاوى والأكاذيب، الموجهة إليها كتاب الأستاذ الفاضل الشيخ/ مسعود عالم الندوي- رحمه الله والذي ألفه باللغة الأردية، وجمع فيه الكثير من المسائل التي أثيرت حول الشيخ ودعوته في الكثير من الكتب وبلغات مختلفة، وقد ناقشها مناقشة العالم المنصف من غير تحيز ولا تعصب، واستطاع بما حباه الله به
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব: একজন মজলুম ও অপবাদগ্রস্ত সংস্কারক

রচনা: উস্তাদ মাসউদ আন-নাদভী

‌‌ভূমিকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর মহামান্য ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কির পক্ষ থেকে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁর আনুগত্য করেছে তাদের ওপর। অতঃপর:

শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সালাফি সংস্কারবাদী দাওয়াতের মতো সাম্প্রতিক সময়ের কোনো সংস্কারবাদী দাওয়াত এতোটা গুরুত্ব ও মর্যাদা লাভ করেনি। এই দাওয়াতের সূর্য আরব উপদ্বীপের আকাশে উদিত হয়ে এই ভূমিতে বিদ্যমান সকল ভ্রষ্টতা ও বিদআতকে দূরীভূত করেছে। এটি একমাত্র অদ্বিতীয় আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে ইবাদতের ডাক দিয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মুসলিম আলেম ও দাঈ একে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর পথ অনুসরণ করেছেন।

সৌদি রাষ্ট্র—এই উপদ্বীপে তার বরকতময় শাসনের সূচনা থেকেই—এই বরকতময় সালাফি দাওয়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে কাজ করে আসছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। যেখানে আল্লাহর পবিত্র শরীয়তের নিরঙ্কুশ শাসন এবং রাষ্ট্র ও জনগণের সকল বিষয়ে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এটি সত্যিকার অর্থেই ইসলামের রাষ্ট্র এবং তার শরীয়ত বাস্তবায়নের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

সারা বিশ্বের ইতিহাসবিদ, চিন্তাবিদ, গবেষক এবং লেখকরা তাঁদের ভাষার বৈচিত্র্য এবং ঝোঁক ও মাযহাবের ভিন্নতা সত্ত্বেও এই দাওয়াতকে গবেষণা, বিশ্লেষণ, যাচাই-বাছাই ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ কোনো পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামি ছাড়াই সত্য কথা বলার তাওফিক দিয়েছেন, আবার কেউ নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এই দাওয়াত ও এর ধারকদের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছেন। তাঁরা শেখের প্রতি এমন অনেক উক্তি আরোপ করেছেন যা প্রকৃতপক্ষে তাঁর নয়। যদিও ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে এবং কখনো কখনো বিদআত ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন মুসলমানদের পক্ষ থেকে শেখ এবং তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে অনেক অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তবুও আল্লাহ এমন ব্যক্তিদের মনোনীত করেছেন যারা এই সমস্ত অপবাদ ও মিথ্যার মোকাবিলা করেছেন এবং অকাট্য দলিল ও চূড়ান্ত বক্তব্যের মাধ্যমে এর অসারতা ও ভ্রষ্টতাকে উন্মোচন করেছেন।

সম্ভবত এই সমস্ত অমূলক দাবি ও মিথ্যার মোকাবিলা করার এবং সকল অভিযোগ উন্মোচন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর একটি হলো শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শেখ মাসউদ আলম আন-নাদভী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এর এই বইটি। তিনি এটি উর্দু ভাষায় রচনা করেছিলেন এবং এতে শেখ ও তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে বিভিন্ন ভাষায় রচিত অনেক বইয়ে উত্থাপিত অনেকগুলো অমূলক বিষয় সংগ্রহ করেছেন। তিনি কোনো পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামি ছাড়াই একজন ন্যায়নিষ্ঠ আলেমের মতো সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তাঁকে যে মেধা ও সক্ষমতা দান করেছেন তার মাধ্যমে তিনি সক্ষম হয়েছেন...
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٤)
من العلم وسعة الاطلاع أن يفند الافتراءات الموجهة لها والأكاذيب المختلفة حولها مدعما نفيه بالبراهين القاطعة، وبشهادات شهود العيان من المسلمين وغير المسلمين.

ولأهمية اطلاع قراء اللغة العربية وغيرهم على هذا السفر العظيم، فقد قام الشيخ/ عبد العليم بن عبد العظيم البستوي ببذل الجهود الكبيرة لترجمته إلى اللغة العربية؛ لتعم فائدته جميع طلاب العلم والباحثين عن الحق والحقيقة، وليعرف دعاة اليوم أن طريق الهدى والحق طريق واحد يتحمس في الدفاع عنه كل مخلص لدينه من أبناء الإسلام في كل زمان ومكان، وبكل لسان دون النظر إلى رابطة غير رابطة العقيدة والدين، ودون انتظار أجر أو مكافأة، وإنما نصرا للحق، وأداء للواجب، وانتظارا للجزاء من الله سبحانه وتعالى.

وقد راجع الكتاب وقدم له عند صدوره عام 1397 هـ فضيلة الدكتور/ محمد تقي الدين الهلالي جزاه الله خير الجزاء.

وبعد أن مضت مدة طويلة على صدور الكتاب بطبعته الأولى رأت الجامعة أن مثل هذا الكتاب جدير بالاهتمام، وإعادة النشر بعد أن يتم تصويب بعض الملاحظات التي فاتت على المؤلف والمترجم. فأحيل الكتاب إلى كل من فضيلة الشيخ/ إسماعيل الأنصاري- وفضيلة الشيخ عبد العزيز الرومي، وقاما مشكورين بمراجعته، والتنبيه على بعض الهفوات التي ظهرت في الطبعة الأولى. أثابهما الله على ما بذلاه من جهود؛ ليخرج الكتاب بصورة تناسب أهميته العلمية الكبيرة.

والجامعة إذ تقدم الكتاب في طبعته الجديدة وفاء لصاحب الدعوة، وإسهاما في القيام بالواجب المناط بها باعتبار أنها مؤسسة علمية كبرى تعنى بالدعوة الإسلامية، وتعمل لإعداد الدعاة إلى الله تعالى ترجو من الله العلي القدير أن يجعل عملها خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به عموم المسلمين إنه سميع مجيب.

والله ولينا ونعم المولى ونعم النصير.

مدير جامعة

الإمام محمد بن سعود الإسلامية

د. عبد الله بن عبد المحسن التركي
এটি জ্ঞান ও ব্যাপক পাণ্ডিত্যের পরিচায়ক যে, তিনি এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত মিথ্যা অপবাদ ও বিভিন্ন মিথ্যাচারকে অকাট্য প্রমাণাদি এবং মুসলিম ও অমুসলিম প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন।

আরবি ভাষাভাষী পাঠক এবং অন্যদের জন্য এই মহান গ্রন্থটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার গুরুত্ব বিবেচনা করে, শায়খ আব্দুল আলিম বিন আব্দুল আজিম আল-বস্তভী এটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন; যাতে এর উপকারিতা সকল ইলম অন্বেষণকারী এবং সত্য ও বাস্তবতা সন্ধানীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এবং যেন বর্তমান সময়ের দাওয়াতদানকারীরা জানতে পারেন যে, হিদায়াত ও সত্যের পথ একটাই, যার প্রতিরক্ষায় প্রতিটি যুগ ও স্থানে এবং প্রতিটি ভাষায় ইসলামের একনিষ্ঠ সন্তানরা আকিদা ও দ্বীনের বন্ধন ছাড়া অন্য কোনো বন্ধনের তোয়াক্কা না করে এবং কোনো পারিশ্রমিক বা পুরস্কারের অপেক্ষা না করে বরং কেবল সত্যের বিজয়, দায়িত্ব পালন এবং মহান আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশায় উৎসুক থাকেন।

১৩৯৭ হিজরি সালে বইটি যখন প্রথম প্রকাশিত হয়, তখন এটি পর্যালোচনা করেছেন এবং এর ভূমিকা লিখেছেন ফযীলাতুশ শায়খ ড. মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালী, আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় মনে করেছে যে, এই ধরনের বই বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার এবং লেখক ও অনুবাদকের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া কিছু বিষয় সংশোধন করে এটি পুনরায় প্রকাশ করা প্রয়োজন। অতঃপর বইটি ফযীলাতুশ শায়খ ইসমাইল আল-আনসারী এবং ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল আজিজ আল-রুমীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। তাঁরা কৃতজ্ঞতার সাথে এটি পর্যালোচনা করেন এবং প্রথম সংস্করণে প্রকাশ পাওয়া কিছু ত্রুটির ব্যাপারে সতর্ক করেন। আল্লাহ তাঁদের প্রচেষ্টার জন্য তাঁদেরকে পুরস্কৃত করুন; যাতে বইটি তার মহান বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপে প্রকাশিত হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় যখন বইটির এই নতুন সংস্করণ পেশ করছে, তখন এটি দাওয়াতের আহ্বায়কের প্রতি আনুগত্য এবং একটি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই করছে, যারা ইসলামি দাওয়াতের প্রতি যত্নশীল এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতদানকারীদের প্রস্তুত করতে কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয় মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে যেন তিনি এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

আল্লাহই আমাদের অভিভাবক, আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

রেক্টর

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আল-তুর্কি
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة

بقلم العلامة الأديب الدكتور محمد تقي الدين الهلالي

الحمد لله الذي نصر نبيه، وخليله محمدا صلى الله عليه وسلم بالرعب مسيرة شهر، وجعل النصر حليف من اتبعه إلى آخر الدهر. وصل اللهم على محمد وآله وصحبه وسلم صلاة وسلاما بلا حصر.

أما بعد: فيقول العبد الفقير إلى رحمة ربه المتعالي محمد تقي الدين الهلالي: لا يخفى أن الإمام الرباني الأواب محمد بن عبد الوهاب، قام بدعوة حنيفية جددت عهد الرسول الكريم والأصحاب. وأسس دولة ذكرت الناس بدولة الخلفاء الراشدين وقهرت الشياطين.

وأحيت ما اندثر من علوم كتاب الله وسنة النبي الكريم. ولا شك أن معرفة أخبار هذه الدعوة وصاحبها تهم كل طالب علم من الموافقين والمخالفين، بل من المسلمين والكافرين وكذلك وقع، فإن المؤلفين في تاريخ هذه الدعوة المباركة لا يحصون كثرة من جميع أجناس بني آدم على اختلاف لغاتهم وميولهم وأذواقهم ما بين قادح ومادح ومتوقف محايد.

ومع كثرة التآليف التي صنفت في هذا الباب منها المطول الذي يستغرق مجلدات، ومنها المتوسط، ومنها المختصر، لا تكاد تجد من بينها كتابا جامعا لأشتات المباحث مع المقابلة والنقد والتحقيق والتمحيص.

ويصعب على طالب العلم أن يقرأ كل ما ألف في ذلك، وأن يحيط بما هنالك، ولو فرضنا أنه استطاع قراءة ذلك لشقت عليه المقابلة، واستخراج الحقيقة من بين تلك الآراء المتضاربة. فبقي طلاب الحقيقة والتلخيص في حاجة إلى من يستخلص لهم زبدة أخبار هذه الدعوة وخلاصتها بدون تحيز ولا تعصب. وهذا نادر ولا نقول إنه معدوم.

وقد وفق الله تلميذي البر الأستاذ الأديب مسعود عالم الندوي إلى القيام بهذا العمل الشاق، فبلغ فيه ذروة النجاح، وأفلح فيه غاية الفلاح بعد ما طالع بإمعان وتحقيق
ভূমিকা

আল্লামা সাহিত্যিক ডক্টর মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালীর কলমে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নবী ও বন্ধু মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর অনুসারীদের কালান্তকাল পর্যন্ত বিজয়ের সাথী করেছেন। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের উপর অফুরন্ত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর, তাঁর মহান প্রতিপালকের রহমতের ভিখারি বান্দা মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালী বলছেন: এটা গোপন নয় যে, রব্বানী ইমাম, অত্যন্ত বিনয়ী মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব এমন এক হানিফী দাওয়াত নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যা সম্মানিত রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের যুগের নবায়ন ঘটিয়েছিল। এবং তিনি এমন এক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা মানুষকে খুলাফায়ে রাশেদীনের রাষ্ট্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল এবং শয়তানদের পরাভূত করেছিল।

এবং তিনি আল্লাহর কিতাব ও সম্মানিত নবীর সুন্নাহর যে সমস্ত ইলম বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তা পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দাওয়াত এবং এর প্রতিষ্ঠাতার সংবাদ জানা একমত পোষণকারী বা বিরোধী—উভয় পক্ষের প্রত্যেক জ্ঞানপিপাসুর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সবার জন্যই। বাস্তবেও এমনটিই ঘটেছে; কেননা এই বরকতময় দাওয়াতের ইতিহাস রচনায় মানবজাতির সকল শ্রেণির লেখকগণ তাদের বিভিন্ন ভাষা, প্রবণতা ও রুচিভেদে অগণিত সংখ্যায় এগিয়ে এসেছেন, যাদের মধ্যে নিন্দুক, প্রশংসাকারী এবং নিরপেক্ষ অবস্থানকারী সকলেই রয়েছেন।

এই বিষয়ে রচিত অসংখ্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে কোনটি বহু খণ্ডে বিস্তৃত দীর্ঘায়িত, কোনটি মধ্যম মানের, আবার কোনটি সংক্ষিপ্ত; তবে এগুলোর মধ্যে এমন কোনো বই খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যা বিভিন্ন আলোচনার সারাংশকে তুলনা, সমালোচনা, গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সাথে সুসমন্বিত করেছে।

একজন জ্ঞানপিপাসুর পক্ষে এই বিষয়ে রচিত সব কিছু পড়া এবং সেখানে যা আছে তা পুরোপুরি আয়ত্ত করা কঠিন। যদি আমরা ধরি যে তিনি তা পড়তে সক্ষম হলেন, তবুও তাঁর জন্য ভিন্ন ভিন্ন মতামতের মধ্যে তুলনা করা এবং প্রকৃত সত্য বের করে আনা অত্যন্ত দুঃসাধ্য হতো। ফলে সত্য ও সারসংক্ষেপ অনুসন্ধানকারীরা এমন একজনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন, যিনি কোনো পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামি ছাড়াই এই দাওয়াতের খবরের নির্যাস ও সারাংশ তাদের সামনে পেশ করবেন। আর এটি অত্যন্ত বিরল, তবে আমরা বলছি না যে এটি একেবারেই অস্তিত্বহীন।

আল্লাহ তাআলা আমার সুযোগ্য ছাত্র, পন্ডিত সাহিত্যিক মাসউদ আলম নদভীকে এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন। তিনি এতে সফলতার শীর্ষে পৌঁছেছেন এবং গভীর মনোযোগ ও গবেষণার পর চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٦)
أكثر من سبعين كتابا بلغات مختلفة، واستخرج منها المسائل المهمة في العقيدة، والتاريخ تاريخ الدعوة، وتاريخ ملوك آل سعود من أولهم إلى يومنا هذا، وما جرى بينهم وبين خصومهم من حروب ومهادنات باختصار غير مخل، وأسلوب غير ممل. فوضع بين أيدينا تاريخ دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، وما نتج عنها من فتوح دينية ودنيوية، ووضع المسائل التي اختلف فيها المؤرخون في ميزان الذهب حتى حققها غاية التحقيق، ونفي افتراء الأعداء، وأكاذيبهم بالبراهين القاطعة، وبشهادات شهود العيان من المسلمين وغير المسلمين.

… ومليحة شهدت لها ضراتها …

... والفضل ما شهدت به الأعداء …

وكنت عالما أن تلميذي الأستاذ مسعود عالم الندوي ألف هذا الكتاب، وسماه "محمد بن عبد الوهاب" المصلح المفتري عليه، ولكن لما كان بلغة اردو لم أقرأه. وما كنت أظن أنه بلغ في العلم والتحقيق وسعة الاطلاع إلى هذا الحد الذي رأيته فبهرني "ذلك فضل الله يؤتيه من يشاء".

وقد أتحف مسعود عالم بهذه التحفة قراء لغة "أردو" منذ زمان، وحرم منها غيرهم مع أن جميع طلاب الحقيقة في أشد الحاجة إلى هذا الكتاب. إذ يصعب بل يستحيل أن يجدوا هذه المسائل محققة كما هي، مجتمعة في كتاب واحد لا تزيد صفحاته على مائتين. فالفضل لله سبحانه وتعالى في إخراج هذا الكتاب، ثم لمسعود عالم الندوي، وقد كان أفضل تلامذتي في كلية ندوة العلماء التي دعاني إلى التدريس فيها بل إلى رئاسة أساتذة الأدب العربي فيها، الأستاذان الجليلان: السيد سليمان الندوي، والدكتور عبد العلي - رحمة الله - عليهما. فأقمت فيها من أول سنة 1349 هـ إلى شعبان من سنة 1352 هـ، وما رأيت في الاجتهاد والتحصيل مثل مسعود عالم. وكان كذلك مخلصا أيضا في دينه، وذا أخلاق كريمة وشجاعة لا يخاف في الحق لومة لائم.

ولم يقتصر على ما حصله على يدي في تلك المدة، بل سافر من الهند إلى بغداد، وأقام عندي سنة وبصحبة الأستاذ عاصم الحداد. فلازم دروسي في المسجد والبيت، ولم أر فيه نقصا إلا التعصب للمذهب الحنفي. فقد كان يخالفني في هذا الباب مع شدة احترامه لي.
সত্তরটিরও অধিক বিভিন্ন ভাষার বই এবং তা থেকে তিনি আকিদা, দাওয়াতের ইতিহাস এবং প্রথম থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আল সৌদ বংশের রাজাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বের করেছেন; তাদের ও তাদের শত্রুদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ ও সন্ধিগুলো অত্যন্ত সংক্ষেপে অথচ পূর্ণাঙ্গভাবে এবং সাবলীল শৈলীতে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমাদের সম্মুখে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের ইতিহাস এবং এর ফলে অর্জিত ধর্মীয় ও পার্থিব বিজয়সমূহ তুলে ধরেছেন। ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এমন বিষয়গুলোকে তিনি ন্যায়বিচারের সুক্ষ্ম মানদণ্ডে মেপেছেন এবং তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাচাই করেছেন। শত্রুদের অপবাদ ও মিথ্যাচারসমূহ তিনি অকাট্য প্রমাণ এবং মুসলিম ও অমুসলিম প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন।

… এবং এমন রূপবতী যার রূপের সাক্ষ্য তার সতীনরাও দিয়েছে …

... আর শ্রেষ্ঠত্ব তাই, যার সাক্ষ্য শত্রুরাও প্রদান করে …

আমি জানতাম যে আমার ছাত্র উস্তাদ মাসউদ আলম নদভী এই বইটি রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন "মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব: এক মজলুম সংস্কারক", কিন্তু এটি উর্দু ভাষায় হওয়ায় আমি তা পড়িনি। আমি ভাবতেও পারিনি যে তিনি ইলম, তাহকীক এবং গভীর পর্যালোচনার এই স্তরে পৌঁছেছেন যা আমি দেখতে পেলাম এবং আমাকে অভিভূত করল। "এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।"

মাসউদ আলম অনেক আগে থেকেই উর্দু ভাষার পাঠকদের জন্য এই চমৎকার উপহারটি পেশ করেছিলেন, কিন্তু অন্য ভাষার পাঠকরা এটি থেকে বঞ্চিত ছিল; অথচ সত্যের সকল সন্ধানীরই এই বইটির অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ এই বিষয়গুলো যেভাবে এখানে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, তা অন্য কোথাও একত্রে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন বরং অসম্ভব, বিশেষ করে এমন এক কিতাবে যার পৃষ্ঠা সংখ্যা দুইশ’র অধিক নয়। সুতরাং এই কিতাবটি প্রকাশের জন্য সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, তারপর মাসউদ আলম নদভীর। তিনি নদওয়াতুল উলামা কলেজের আমার শ্রেষ্ঠ ছাত্রদের একজন ছিলেন, যেখানে দুই মহান উস্তাদ—সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী এবং ডক্টর আব্দুল আলী (আল্লাহ তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)—আমাকে পাঠদানের জন্য বরং আরবি সাহিত্যের প্রধান উস্তাদ হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি সেখানে ১৩৪৯ হিজরীর শুরু থেকে ১৩৫২ হিজরীর শাবান মাস পর্যন্ত অবস্থান করেছি এবং জ্ঞান অর্জন ও একাগ্রতায় মাসউদ আলমের মতো কাউকে দেখিনি। তদুপরি তিনি দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত একনিষ্ঠ ছিলেন এবং মহৎ চরিত্র ও সাহসিকতার অধিকারী ছিলেন; সত্যের পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না।

তিনি কেবল সেই সময়ে আমার কাছে যা অর্জন করেছিলেন তাতে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং ভারত থেকে বাগদাদে সফর করেন এবং উস্তাদ আসিম আল-হাদ্দাদের সাথে আমার সান্নিধ্যে এক বছর অবস্থান করেন। তিনি মসজিদে এবং বাড়িতে আমার পাঠদানসমূহে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। আমি তাঁর মধ্যে হানাফি মাযহাবের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ব্যতীত কোনো ত্রুটি দেখিনি। তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হওয়া সত্ত্বেও এই বিষয়ে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٧)
ولما ورد بغداد قال له أحد كبار علماء الحنفية كيف تصاحب هذا الرجل وهو يطعن في مذهب أبى حنيفة رحمه الله، وقد انتقده أستاذنا الكوثري؟ فقال له مسعود عالم رحمه الله! إليك عنى أنا أعلم به منك ومن الكوثري.

ولكن هذا النقص أبى الله إلا أن يرفعه عنه قبل وفاته، فإنه كان رحمه الله أحد رؤوساء الجماعة الإسلامية التي يرأسها الأستاذ الزعيم المودودي. فلما قبضت الحكومة الباكستانية على المودودي قبضت عليه، وبقي سنين في السجن، فلم يجد سبيلا إلى التأليف، فعكف على نيل الأوطار للشوكاني، فتبين له أن التعصب للمذهب لا يرضاه الله تعالى، ولا يرضاه السلف الصالح، ومنهم الإمام أبو حنيفة نفسه، فرجع عن التعصب واتبع الكتاب والسنة ومات على ذلك. رحمة الله عليه.

وأما قول ذلك العالم الحنفي: أنني أطعن في مذهب أبي حنيفة فهو فرية بلا مرية. فإنني لا اختلف مع أبي حنيفة رحمه الله حتى أطعن فيه؛ لأن الاختلاف الذي يوجب العداوة إنما يكون في العقائد لا في الفروع، وأبو حنيفة رحمه الله لا يخالف عقيدة السلف من الصحابة والتابعين، وسائر الأئمة المجتهدين مثقال ذرة. فأنا لا أطعن في مذهبه أبدا. أما مخالفته في الفروع فإن كانت تعد طعنا فأول طاعن في مذهبه محمد وأبو يوسف، فقد خالفاه في ثلث المذهب، وقيل: في ثلثي المذهب.

وإذا كان الفضل في إخراج هذه الدرة الثمينة يرجع إلى تلميذي مسعود عالم الندوي، فإن الفضل في إخراجها من عالم العجمية إلى عالم العربية يرجع إلى تلميذي عبد العليم بن عبد العظيم المتخرج في الجامعة الإسلامية في السنة الماضية. وهو الأول من بين تلامذة الجامعة كلهم، وهو الآن من طلاب الدراسات العليا في جامعة الملك عبد العزيز بمكة. فقد ترجم ترجمة فصيحة طيبة، وأطلعني عليها، وقرأها من أولها إلى آخرها، فأشرت عليه بتحسين بعض الألفاظ، فجاء هذا الكتاب جوهرة نفيسة، وتحفة لا تقدر بثمن، خصوصا وقد زينه المترجم بحواشي عديدة، تكملة لبحث ناقص، وإيضاحا لشيء غامض، وأنا أقترح على سماحة رئيسنا الجليل الأستاذ عبد العزيز بن باز أطال الله بقاءه، وأدام في سماء المعالي ارتقاءه أن يقرأ هذا الكتاب، وأن يأمر بطبعه ونشره لتعم فائدته جميع طلاب العلم من المسلمين وغيرهم.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

أملاه ضحوة يوم الجمعة الحادي والعشرين من صفر سنة 1394 هـ.
যখন তিনি বাগদাদ আগমন করলেন, তখন হানাফী মাযহাবের জনৈক প্রবীণ আলেম তাঁকে বললেন, "আপনি কীভাবে এই লোকটির সাহচর্য গ্রহণ করেন অথচ তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের সমালোচনা করেন এবং আমাদের উস্তাদ কাওসারীও তাঁর সমালোচনা করেছেন?" তখন মাসউদ আলম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁকে বললেন, "আমার থেকে দূরে থাকুন! আমি আপনার এবং কাওসারীর চেয়েও তাঁর সম্পর্কে বেশি জানি।"

কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যুর পূর্বেই তাঁর থেকে এই ত্রুটি দূর করে দেওয়া পছন্দ করলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা ছিলেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন নেতা উস্তাদ মওদুদী। যখন পাকিস্তান সরকার মওদুদীকে গ্রেপ্তার করল, তখন তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি কয়েক বছর কারাগারে থাকলেন এবং সেখানে গ্রন্থ রচনার কোনো সুযোগ পাননি। তখন তিনি শাওকানী রচিত 'নাইলুল আওতার' গভীর মনোযোগ দিয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। ফলে তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মাযহাবের প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না এবং সালাফে সালেহীনও তা পছন্দ করতেন না, এমনকি ইমাম আবু হানিফা নিজেও তা অপছন্দ করতেন। এরপর তিনি অন্ধ গোঁড়ামি ত্যাগ করে কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ শুরু করেন এবং সেই অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

আর সেই হানাফী আলেমের কথা যে, আমি ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের সমালোচনা করি, তা নিঃসন্দেহে একটি অপবাদ। আমি ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে এমন কোনো বিষয়ে দ্বিমত করি না যার কারণে তাঁর সমালোচনা করতে হয়; কেননা যে মতভেদ শত্রুতা সৃষ্টি করে তা কেবল আকিদার ক্ষেত্রে হয়, ফিকহের শাখা-প্রশাখার (ফুরু) ক্ষেত্রে নয়। আর ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) সাহাবী, তাবিঈ এবং অন্যান্য মুজতাহিদ ইমামগণের আকিদার সাথে অণু পরিমাণও বিরোধিতা করেননি। সুতরাং আমি তাঁর মাযহাবের সমালোচনা কখনোই করি না। আর ফিকহের শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করাকে যদি সমালোচনা ধরা হয়, তবে তাঁর মাযহাবের প্রথম সমালোচক হলেন মুহাম্মদ ও আবু ইউসুফ; কেননা তাঁরা মাযহাবের এক-তৃতীয়াংশ মাসআলায় তাঁর বিরোধিতা করেছেন, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে দুই-তৃতীয়াংশ মাসআলায় তাঁরা ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

এই মূল্যবান রত্নটি প্রকাশের কৃতিত্ব যদি আমার ছাত্র মাসউদ আলম নদভীর হয়, তবে একে অনারব জগত থেকে আরব জগতের সামনে নিয়ে আসার কৃতিত্ব আমার ছাত্র আব্দুল আলীম বিন আব্দুল আজীমের, যিনি গত বছর জামিয়া ইসলামিয়া থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী এবং বর্তমানে মক্কার কিং আব্দুল আজীজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণায় রত আছেন। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও চমৎকার অনুবাদ করেছেন এবং তা আমাকে দেখিয়েছেন। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটি আমাকে পড়ে শুনিয়েছেন। আমি তাঁকে কিছু শব্দ পরিমার্জনের পরামর্শ দিয়েছি। ফলে এই বইটি একটি মূল্যবান মুক্তা ও অমূল্য উপহারে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে অনুবাদক এতে অনেক টিকা যুক্ত করেছেন যা অসম্পূর্ণ আলোচনার পূর্ণতা দান করেছে এবং অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করেছে। আমি আমাদের সম্মানীয় প্রধান উস্তাদ আব্দুল আজীজ বিন বাজ—আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন এবং মর্যাদার শিখরে তাঁর অবস্থান অটুট রাখুন—এর নিকট প্রস্তাব করছি যে, তিনি যেন এই বইটি পড়েন এবং এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের নির্দেশ দেন, যাতে মুসলিম ও অমুসলিম সকল জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি ১৩৯৪ হিজরি সনের ২১শে সফর, শুক্রবার পূর্বাহ্ণে শ্রুতিলিখন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٨)
3. إنه اطلع على كثير مما كتبه السائحون والمؤرخون الأوربيون في هذه الدعوة وصاحبها، وعرف موقفهم منها حسب مصالحهم المادية والسياسية، ففتح بابا جديدا للبحث والتحقيق، ودخل فيه، فأتى بمعلومات لا تكاد توجد لدى غيره. وكانت هذه هي المميزات- وكثير غيرها- التي دعتني إلى أن أقدم هذا السفر القيم إلى القارئ العربي. فاستعنت بالله العلي العظيم، وبدأت أترجم الكتاب بالعربية رويدا رويدا حتى أكملته بفضل الله وكرمه.

وسيجد القارئ الكريم في هذا الكتاب سيرة الشيخ محمد بن عبد الوهاب ودعوته، وأنها سيرة إسلامية مثالية، ودعوة إسلامية خالصة.

إنها دعوة تحاول أن تعود بالمسلمين إلى الرقي والمجد والازدهار، كما كانوا في القرون الأولى. إنها دعوة دعا إليها جميع الأنبياء والمرسلين وإن محمد بن عبد الوهاب لم يبتدع شيئا من عنده، ولا خرج عن عقيدة المسلمين، التي اتفق عليها أئمة الإسلام كلهم.

نعم- قد كانت هناك شبهات أثيرت حول الدعوة والداعية في أيامها الأولى من قبل ذوي الأهواء والمضلين. وكانت هذه الشبهات والافتراءات قد أضلت كثيرا من المسلمين في البلدان الإسلامية، فوقعوا في شك وارتياب من هذه الدعوة الكريمة.

لكن- والحمد لله- سحب الافتراءات قد تقشعت والظلمات قد تبددت. وقد وضحت الدعوة جلية نقية لكل ذي عينين، وانتشرت رسائلها وكتبها في جميع أنحاء العالم. فما بال بعض الناس لا يزالون يرددون ما ورثوا عن آبائهم ومشايخهم، وقد تبين زيفه وخطؤه.

وأنا أدعو كل من يحمل في قلبه غيرة على الإسلام والمسلمين أن يدرس هذه الدعوة الكريمة التي أيقظت المسلمين، وأن يدفع كل الشوائب العالقة بأفكاره عن هذه الحركة الإسلامية الخالصة. فإن الجهل والضلال لا زالا فاشيين في كثير من طوائف المسلمين. ولا يخفى أن الأمة الإسلامية تمر الآن بمرحلة خطيرة جدا في تاريخها، ونحن بجهلنا وانحرافنا واختلاف كلمتنا نساعد الأعداء أكثر من مكايدهم ومكرهم عرفنا أم لم نعرف. فلنستيقظ من سباتنا ولنراجع أفكارنا ونصححها مستنيرين بنور الكتاب الكريم
৩. তিনি এই দাওয়াত এবং এর উদ্যোক্তার বিষয়ে ইউরোপীয় পর্যটক ও ঐতিহাসিকদের অনেক লেখনী অধ্যয়ন করেছেন এবং তাদের বস্তুগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী তাদের অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়েছেন। ফলে তিনি গবেষণা ও পর্যালোচনার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন এবং তাতে অবগাহন করেছেন। তিনি এমন সব তথ্য পরিবেশন করেছেন যা অন্য কারও কাছে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই বৈশিষ্ট্যগুলো—এবং আরও অনেক কিছু—আমাকে এই মূল্যবান গ্রন্থটি আরবি পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। অতঃপর আমি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং ধীরে ধীরে গ্রন্থটি আরবিতে অনুবাদ করতে শুরু করেছি, পরিশেষে আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় তা সম্পন্ন করেছি।

সম্মানিত পাঠক এই গ্রন্থে শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের জীবনী ও তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটি যে একটি আদর্শ ইসলামী জীবনচরিত এবং একনিষ্ঠ ইসলামী দাওয়াত তাও স্পষ্ট হবে।

এটি এমন এক দাওয়াত যা মুসলমানদের সেই উন্নতি, গৌরব ও সমৃদ্ধির দিকে ফিরিয়ে নিতে সচেষ্ট, যেমনটি তারা ইসলামের প্রথম শতাব্দীগুলোতে ছিল। এটি সেই দাওয়াত যার দিকে সমস্ত নবী ও রাসূলগণ আহ্বান জানিয়েছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব নিজের পক্ষ থেকে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেননি এবং তিনি মুসলমানদের সেই আকিদা থেকেও বিচ্যুত হননি যার ওপর ইসলামের সকল ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

হ্যাঁ—এই দাওয়াত এবং দাঈর প্রাথমিক যুগে প্রবৃত্তি পূজারী ও বিভ্রান্তকারীদের পক্ষ থেকে কিছু সংশয় উত্থাপন করা হয়েছিল। এই সংশয় ও অপবাদগুলো মুসলিম বিশ্বের অনেক মুসলমানকে বিভ্রান্ত করেছিল, ফলে তারা এই মহান দাওয়াত সম্পর্কে সন্দেহ ও সংশয়ে নিপতিত হয়েছিল।

কিন্তু—সকল প্রশংসা আল্লাহর—অপবাদের সেই মেঘমালা আজ অপসারিত হয়েছে এবং অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে। এই দাওয়াত এখন প্রত্যেকের চোখের সামনে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ হয়ে প্রতিভাত হয়েছে এবং এর পত্রাবলি ও গ্রন্থসমূহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সেই সব লোকদের কী হলো, যারা এখনও তাদের পিতৃপুরুষ ও মাশায়েখদের থেকে প্রাপ্ত সেই পুরনো কথারই পুনরাবৃত্তি করে চলেছে, যার অসারতা ও ভুল ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে?

আমি সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে আহ্বান জানাই যার হৃদয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য সামান্যতম দরদ ও আত্মমর্যাদাবোধ রয়েছে, তারা যেন এই মহান দাওয়াতটি অধ্যয়ন করেন যা মুসলমানদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছিল। তারা যেন এই বিশুদ্ধ ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে তাদের মনে গেঁথে থাকা সমস্ত কলুষতা ঝেড়ে ফেলেন। কেননা অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি এখনও মুসলমানদের অনেক দলের মাঝে জেঁকে বসে আছে। এটি আজ আর গোপন নেই যে, মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে তাদের ইতিহাসের এক অত্যন্ত সংকটপূর্ণ মুহূর্ত অতিক্রম করছে। আমাদের অজ্ঞতা, বিচ্যুতি এবং অনৈক্যের কারণে আমরা শত্রুদের তাদের চক্রান্ত ও কৌশলের চেয়েও বেশি সাহায্য করছি, চাই আমরা তা বুঝি বা না বুঝি। তাই আসুন আমরা আমাদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা থেকে জেগে উঠি, আমাদের চিন্তাধারা পর্যালোচনা করি এবং পবিত্র কিতাবের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে তা সংশোধন করি।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٩)
والسنة النبوية، ثم ندعو إليها سائر الناس. ولا نجاة للمسلمين إلا بهذا. ولا وحدة للمسلمين إلا بهذا. فلنتمسك بكتاب الله، ولنسر على السنة النبوية، ونسأل الله التوفيق والسداد.

تنبيهات:

1. إن المؤلف رحمه الله نقل كثيرا من النصوص والاقتباسات من المراجع العربية والإنجليزية. أما النصوص العربية فقد رجعت إلى مصادرها في الغالب، وأثبتها بحروفها في الترجمة. ولكن النصوص الإنجليزية لم أظفر بمصادرها إلا قليلا ولذلك اضطررت إلى أن أترجم المعاني التي أوردها المؤلف في الأصل.

2. للمؤلف تعليقات كثيرة، وقد ترجمتها كما كانت، وقد أضفت بعض التعليقات من عندي حينما اقتضى الأمر. وكتبت كلمة "المترجم" في نهايتها وبهذا يمكن التفريق بين تعليقاتي وتعليقات المؤلف رحمه الله.

3. لقد أثبتّ أرقام الصفحات والسنين كما وجدتها مكتوبة في الأصل إلا ما تبين لي أنه تصحيف في الطبع- وهو نادر جدا-؛ وذلك لأنه من المستحيل تقريبا أن يعود المترجم إلى كل المصادر التي ذكرها المؤلف، وفي الطبعات نفسها، ويقابل عدد الصفحات والسنين، ولكن أرجو من القارئ الكريم أن ينبهني إذا عثر على خطأ من هذا القبيل وله جزيل الشكر.

وختاما- أشكر جميع أساتذتي ورفقائي الذين ساعدوني في إنجاز هذا العمل المتواضع، وأخص بالذكر منهم أستاذي العلامة الدكتور محمد تقي الدين الهلالي الذي قد أنفق كثيرا من أوقاته الثمينة، واستمع إلى الترجمة من أولها إلى آخرها، وأفادني بكثير من الفوائد المهمة التي لا تكاد توجد عند غيره. فجزاه الله عني وعن المسلمين كل خير.

قسم الدراسات العليا الشرعية عبد العليم البستوي

جامعة الملك عبد العزيز بمكة25 -صفر سنة 1394 هـ
এবং সুন্নাহে নববী, এরপর আমরা এই দিকেই সকল মানুষকে আহ্বান করি। আর এর মাধ্যমেই কেবল মুসলিমদের মুক্তি সম্ভব। আর এর মাধ্যমেই কেবল মুসলিমদের ঐক্য সম্ভব। সুতরাং আসুন আমরা আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরি এবং সুন্নাহে নববীর ওপর পরিচালিত হই। আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রার্থনা করছি।

সতর্কীকরণসমূহ:

১. লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) আরবি ও ইংরেজি উৎস থেকে অনেক পাঠ্য ও উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। আরবি পাঠ্যগুলোর ক্ষেত্রে আমি সাধারণত সেগুলোর মূল উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি এবং অনুবাদে সেগুলোর মূল শব্দাবলি বজায় রেখেছি। কিন্তু ইংরেজি পাঠ্যগুলোর মূল উৎস আমি খুব সামান্যই পেয়েছি, তাই মূল গ্রন্থে লেখক যে অর্থ ও মর্ম বর্ণনা করেছেন, আমি তা অনুবাদ করতে বাধ্য হয়েছি।

২. লেখকের অনেক টীকা রয়েছে এবং আমি সেগুলো যেভাবে ছিল ঠিক সেভাবেই অনুবাদ করেছি। প্রয়োজন অনুযায়ী আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছু টীকা যোগ করেছি এবং সেগুলোর শেষে "অনুবাদক" শব্দটি লিখে দিয়েছি। এর মাধ্যমে আমার টীকা এবং লেখক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর টীকার মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হবে।

৩. আমি পৃষ্ঠা নম্বর এবং বছরগুলো মূল গ্রন্থে যেভাবে লিখিত পেয়েছি সেভাবেই বহাল রেখেছি, কেবল সেই স্থানগুলো ব্যতীত যেখানে আমার কাছে মুদ্রণজনিত ভুল প্রকাশ পেয়েছে—যা অত্যন্ত বিরল। কারণ অনুবাদকের পক্ষে লেখকের উল্লেখ করা প্রতিটি উৎসে এবং একই সংস্করণে ফিরে গিয়ে পৃষ্ঠা নম্বর ও বছর মিলিয়ে দেখা প্রায় অসম্ভব। তবে আমি সম্মানিত পাঠকের কাছে অনুরোধ করছি, যদি তারা এই জাতীয় কোনো ভুল লক্ষ্য করেন তবে যেন আমাকে অবহিত করেন, এর জন্য তাদের প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা।

পরিশেষে—আমি আমার সকল শিক্ষক ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে এই বিনম্র কাজটি সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছেন। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমার উস্তাদ আল্লামা ডক্টর মুহাম্মদ তকীউদ্দীন আল-হিলালী সাহেবের কথা, যিনি তাঁর অনেক মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুবাদটি শুনেছেন। তিনি আমাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক জ্ঞান ও উপকার দান করেছেন যা অন্য কারো কাছে পাওয়া দুষ্কর। আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

উচ্চতর শরয়ি শিক্ষা বিভাগ, আব্দুল আলীম আল-বস্তবী

কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা, ২৫ সফর, ১৩৯৪ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٢)
كلمة المترجم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله المرتضى، ونبيه المجتبى محمد وآله وأصحابه الطاهرين، وعلى من اتبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد:- فإن من نعم الله على الناس أنه لم يتركهم بعد ما خلقهم حيارى يتيهون في ظلمات البر والبحر بدون هدي ولا كتاب منير، بل أرسل إليهم من أنفسهم رسلا ليرشدوهم إلى الحق، وينقذوهم من الضلال. وكان آخرهم رسولنا المصطفى محمد صلى الله عليه وسلم، وقد أكمل الله به الدين ورضي الإسلام دينا إلى يوم القيامة، وانتقل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى بعد ما تركهم على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك.

وضمن الله تعالى حفظ الإسلام ورعايته إلى يوم القيامة، فخلق علماء جهابذة في كل عصر يتبعون سنة النبي الكريم، ويحيون ما اندرس منها، ويبينون للناس معالم الهدى والرشد، ويردونهم إلى السنة النبوية بعد ما غفلوا وجهلوا، فقد قال الله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إن الله يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها دينها" 23.

ومازال علماء الحق ودعاة الرشد يبذلون جهودهم لحماية عقيدة الإسلام وشريعته إلى يومنا هذا، فيردون كيد الكائدين وانحراف الزائغين، ويذكرون الغافلين. وكان من هؤلاء المجددين المجاهدين الإمام شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب التميمي رحمه الله فقد ولد في عصر انتشرت فيه الضلالات، ونسيت العقيدة الإسلامية الصحيحة. ولما رأى محمد بن عبد الوهاب أن الشر قد اشتدت شوكته، وضعف أهل الحق وجبنوا، قام بتوفيق من الله سبحانه وتعالى يرد على الضلالات، وينير مصابيح الهدى

--------------------------------------------

1 سورة الحجر آية: 9.

2 أبو داود: الملاحم (4291) .

3 سنن أبي داود مع شرحه عون المعبود 11 / 385.
অনুবাদকের কথা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত রাসূল, তাঁর নির্বাচিত নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও তাঁর পবিত্র সাহাবীগণের উপর, আর যারা ইহসানের সাথে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবে।

অতঃপর:- মানুষের প্রতি আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো এই যে, তিনি তাদেরকে সৃষ্টির পর হিদায়েত বা উজ্জ্বল কিতাব ব্যতীত স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে দিশেহারা ও উদ্দেশ্যহীন অবস্থায় ছেড়ে দেননি। বরং তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন যাতে তাঁরা তাদেরকে সত্যের দিকে পরিচালিত করেন এবং তাদেরকে গোমরাহি থেকে রক্ষা করেন। আর তাঁদের সর্বশেষ ছিলেন আমাদের মনোনীত রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আল্লাহ যাঁর মাধ্যমে দীনকে পূর্ণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামকে দীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে এক স্বচ্ছ শুভ্র পথের উপর রেখে রফীকে আ'লার (মহা বন্ধুর) সান্নিধ্যে চলে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল, ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।

আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামকে হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন। তাই তিনি প্রতিটি যুগে এমন একদল বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ আলিম সৃষ্টি করেছেন যারা সম্মানিত নবীর সুন্নাহ অনুসরণ করেন, সুন্নাহর যা কিছু বিলীন হয়ে গিয়েছিল তা পুনরুজ্জীবিত করেন, মানুষের জন্য হিদায়েত ও সঠিক পথের নিদর্শনাবলী স্পষ্ট করেন এবং গাফিলতি ও মূর্খতার পর তাদেরকে পুনরায় নববী সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে আনেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমিই যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর হিফাযতকারী} ১, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি একশত বছরের মাথায় এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দীনকে সংস্কার করবেন" ২৩।

সত্যের আলিমগণ এবং সঠিক পথের আহ্বানকারীগণ আজ পর্যন্ত ইসলামের আকীদা ও শরীয়ত রক্ষায় তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁরা ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত ও বিচ্যুতদের বিভ্রান্তি প্রতিহত করেন এবং গাফেলদের সতর্ক করেন। এই সংস্কারক মুজাহিদগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ইমাম শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আত-তামিমী (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি এমন এক যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন গোমরাহি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সঠিক ইসলামী আকীদা বিস্মৃত হয়েছিল। যখন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দেখলেন যে মন্দের শক্তি প্রবল হয়েছে এবং হকের অনুসারীরা দুর্বল ও ভীত হয়ে পড়েছে, তখন তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার তাওফীকে গোমরাহির প্রতিবাদ করতে এবং হিদায়েতের প্রদীপ প্রজ্বলিত করতে দণ্ডায়মান হন।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হিজর আয়াত: ৯।

২ আবু দাউদ: আল-মালাহিম (৪২৯১)।

৩ সুনানে আবু দাউদ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল মাবুদ ১১ / ৩৮৫।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٣)
في دياجير الظلمات. ولكن الأمة الإسلامية التي كانت قد خرجت ترفع لواء التوحيد في يوم من الأيام، قد نسيت رسالته الخالدة فحاربته وقاومته عن جهل وضلال.

ولقد أوذي محمد بن عبد الوهاب أشد الإيذاء، وعانى أشد المصائب والمحن، ولكن مازال يستمر قدما في طريقه غير مبال بمخالفة ذوي الأهواء، واستفزازات أهل المطامع حتى تبين الحق وتجلى. ورجع عدد كبير من الناس إلى تلك المحجة البيضاء التي تركهم عليها الرسول العظيم صلى الله عليه وسلم، وعم في العالم الإسلامي نور الهدى والرشد، واستيقظ المسلمون من سباتهم. حتى بدت تباشير النهضة الإسلامية الشاملة التي نشاهدها في العالم الإسلامي، وحتى قامت تلك الدولة الإسلامية التي طبقت الشريعة الإسلامية في هذا العصر، وأصبحت نموذجا للآخرين، وردت عمليا على كثير من الأوهام والشبهات التي كانت تثار الفينة بعد الفينة من أعداء الإسلام. ولما كانت دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب هكذا.

ولما كانت نتائج هذه الحركة الإسلامية تبلغ هذا المدى، كان حقا على المسلمين عامة، وعلى طلبة العلم خاصة أن يعرفوها ويقدروها حق قدرها، ويقدموها لسائر الناس، ويدفعوا عنها التهم والافتراءات التي مازالت تثار من جهة بعض الطامعين في الجاه والمال من العلماء والجهال. وكانت هذه هي العوامل التي حفزتني إلى دراسة سيرة هذا الداعية المجاهد، وحركتني إلى معرفة رسالته وطريقته في الدعوة والإصلاح.

ولقد درست الكثير من الكتب التي ألفت للبحث في سيرته ودعوته، فرأيت أن كتاب الأستاذ مسعود عالم الندوي رحمه الله يمتاز من بين هذه الكتب بعدة مزايا:-

1. إن المؤلف لا تربطه بالدعوة وأصحابها أي رابطة وطن أو نسب، فقد ألفه نصرا للحق وأداء للواجب بعيدا عن مركز الدعوة ونائيا عن أصحابها، ملتزما التجرد والإنصاف في كل القضايا التي ناقشها وبحثها.

2. إنه اطلع على كثير من الكتب التي ألفت في الرد على الشيخ محمد بن عبد الوهاب، والطعن في سيرته ودعوته، وكذلك درس الكثير مما كتب في الرد على الكتب المذكورة وفي الدفاع عن الدعوة وصاحبها. وهكذا تمكن من تكوين آراء صائبة وسديدة، وقلما يتسنى ذلك لغيره.
অন্ধকারের ঘোর অমানিশায়। কিন্তু মুসলিম উম্মাহ যারা একদিন তাওহীদের পতাকা উত্তোলন করে বের হয়েছিল, তারা তার শাশ্বত বাণী ভুলে গিয়েছিল, ফলে অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার কারণে তারা এর বিরোধিতা ও প্রতিরোধ করেছিল।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবকে চরমভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি কঠোর মুসিবত ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি প্রবৃত্তি পূজারীদের বিরোধিতা এবং লোভী ব্যক্তিদের উস্কানিকে পরোয়া না করে নিজের পথে অগ্রসর হতে থাকেন, যতক্ষণ না সত্য সুস্পষ্ট ও উদ্ভাসিত হলো। বহু মানুষ সেই উজ্জ্বল রাজপথে ফিরে এল যার ওপর মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের রেখে গিয়েছিলেন। মুসলিম বিশ্বে হিদায়াত ও সঠিক পথের আলো ছড়িয়ে পড়ল এবং মুসলিমরা তাদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা থেকে জেগে উঠল। এমনকি সামগ্রিক ইসলামী রেনেসাঁ বা জাগরণের শুভ লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করল যা আমরা বর্তমান মুসলিম বিশ্বে প্রত্যক্ষ করছি। এমনকি সেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো যা এই যুগে ইসলামী শরীয়াহ বাস্তবায়ন করেছে এবং অন্যদের জন্য মডেলে পরিণত হয়েছে। এটি ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে উত্থাপিত অনেক বিভ্রান্তি ও সংশয়ের ব্যবহারিক জবাব দিয়েছে। আর যেহেতু শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত ছিল ঠিক এমন।

যেহেতু এই ইসলামী আন্দোলনের ফলাফল এই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাই সাধারণ মুসলিমদের ওপর এবং বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য আবশ্যক হলো একে জানা এবং এর যথাযোগ্য মূল্যায়ন করা, একে সর্বস্তরের মানুষের কাছে উপস্থাপন করা এবং আলেম ও জাহেলদের মধ্যকার পদমর্যাদা ও সম্পদের লোভীদের পক্ষ থেকে এখনও যেসব অপবাদ ও মিথ্যাচার করা হচ্ছে তা খণ্ডন করা। এই কারণগুলোই আমাকে এই মুজাহিদ দাঈর জীবনী অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং তাঁর দাওয়াত ও সংস্কারের বার্তা ও পদ্ধতি জানার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করেছে।

আমি তাঁর জীবনী ও দাওয়াত নিয়ে গবেষণার জন্য রচিত বহু কিতাব অধ্যয়ন করেছি। আমি দেখেছি যে উস্তাদ মাসউদ আলম নদভী রহমতুল্লাহি আলাইহির কিতাবটি এই কিতাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য:-

১. লেখকের সাথে এই দাওয়াত বা দাওয়াত প্রদানকারীদের দেশীয় বা বংশীয় কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি দাওয়াতের কেন্দ্র থেকে দূরে এবং এর ধারকদের থেকে পৃথক থেকেও কেবল সত্যের বিজয় ও দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে এটি রচনা করেছেন। তিনি তাঁর আলোচিত ও গবেষণালব্ধ প্রতিটি বিষয়ে নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ বজায় রেখেছেন।

২. তিনি শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের খণ্ডনে এবং তাঁর জীবনী ও দাওয়াতের সমালোচনায় রচিত বহু কিতাব পর্যবেক্ষণ করেছেন। একইভাবে তিনি সেই খণ্ডনমূলক কিতাবগুলোর জবাবে এবং এই দাওয়াত ও এর প্রবক্তার সমর্থনে রচিত অনেক লেখা অধ্যয়ন করেছেন। এভাবে তিনি সঠিক ও সুদৃঢ় মতামতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, যা অন্যের পক্ষে খুব কমই সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٧)
محمد بن عبد الوهاب بمصلح مظلوم ومُفترى عليه

بسم الله الرحمن الرحيم

(1)

ما أعجب صنع الله في هذا الكون. لقد أراد الكاتب أن يكتب في حركة التجديد والإمامة التي قام بها السيد أحمد الشهيد رحمه الله وأحوال المتبعين لخطواته ولكن ظهرت سيرة شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب.

وبيان هذا الحادث العجيب أن طالبين من دار العلوم لندوة العلماء أرادا (سنة 1935) أن يرتبا تاريخ حركة التجديد والإمامة التي قام بها الشهيدان أحمد البريلوي وإسماعيل الدهلوي -رحمهما الله تعالى- رحمة الأبرار الصالحين المجاهدين من عباده- فتصدى أحدهما لسيرة السيد أحمد، وأراد الآخر أن يبدأ عمله من مشهد بالاكوت. لقد بدأ كل منهما في عمله. فأما المجتهد الجريء والمخلص المجاهد فقد ألف سيرة الشهيد البريلوي (سنة 1939 م) ، وأعنى بهذا صديقي المخلص الأستاذ السيد أبا الحسن على الحسني الندوي- أستاذ التفسير والأدب في دار العلوم ندوة العلماء، وقد وصل كتابه إلى أيدي أولي الفضل، وصدرت له طبعتان في مدة قصيرة1.

وأما الثاني (المؤلف) فقد وجد عقبات في كل خطوة. فقد كانت المعالم قد اختفت.. والذين رأوا أو عرفوا كانوا قد ناموا نومة سرمدية. والذين سمعوا مازالوا يهابون حتى الآن. لكن القلم المسافر لم ينس منزله، فقد ظهرت نماذج البحث الأولية في مجلة "الضياء" (شعبان سنة 54 هـ) بعنوان "الحركة الوهابية السياسية"2 وفي مجلة "الهلال"

--------------------------------------------

1 وهو في لغة أردو. (المترجم) .

2 يقصد السياسة الشرعية الإسلامية كما كانت في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم وخلفائه الراشدين، والحمد لله فإن الدولة السعودية منذ عصر الشيخ رحمه الله وحتى يومنا هذا ما زالت تحكم بشريعة الله، دستورها هو كتاب الله وسنة رسوله، وستظل على هذا المنهج بإذن الله تعالى، ونسأل الله أن يمدها بالتوفيق والتأييد. (المترجم) .
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব একজন মজলুম সংস্কারক এবং তাঁর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

(১)

এই মহাবিশ্বে আল্লাহর কর্ম কতই না বিস্ময়কর! লেখক সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পরিচালিত সংস্কার ও ইমামত আন্দোলন এবং যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাদের অবস্থা নিয়ে লিখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু (তার পরিবর্তে) শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর জীবনী প্রকাশিত হলো।

এই বিস্ময়কর ঘটনার ব্যাখ্যা হলো যে, ১৯৩৫ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার দুইজন ছাত্র দুই শহীদ আহমদ বেরলভী এবং ইসমাইল দেহলভী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি তাঁর নেককার, সৎকর্মশীল এবং মুজাহিদ বান্দাদের মতো রহমত বর্ষণ করুন)-এর পরিচালিত সংস্কার ও ইমামত আন্দোলনের ইতিহাস সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করেন। তাঁদের একজন সাইয়্যেদ আহমদের জীবনী রচনার দায়িত্ব নিলেন এবং অন্যজন বালাকোটের ময়দান থেকে কাজ শুরু করতে চাইলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজ শুরু করলেন। সাহসী ও একনিষ্ঠ মুজাহিদ গবেষক ১৯৩৯ সালে শহীদ বেরলভীর জীবনী রচনা সম্পন্ন করেন। আমি আমার পরম বন্ধু অধ্যাপক সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী আল-হাসানী নদভী—দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার তাফসির ও সাহিত্যের অধ্যাপক—এর কথা বলছি। তাঁর বইটি গুণীজনদের হাতে পৌঁছেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর দুইটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।১

আর দ্বিতীয়জন (লেখক) প্রতিটি পদক্ষেপে বাধার সম্মুখীন হলেন। নিদর্শনগুলো বিলীন হয়ে গিয়েছিল... যারা দেখেছিলেন বা জানতেন তারা চিরনিদ্রায় শায়িত ছিলেন। আর যারা শুনেছিলেন তারা এখনো ভয় পাচ্ছিলেন। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ কলম তার গন্তব্য ভুলে যায়নি। গবেষণার প্রাথমিক নমুনাগুলো "আদ-দিয়া" পত্রিকায় (শাবান ১৩৫৪ হিজরি) "রাজনৈতিক ওয়াহাবি আন্দোলন"২ শিরোনামে এবং "আল-হিলাল" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

--------------------------------------------

১. এটি উর্দু ভাষায়। (অনুবাদক)।

২. এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইসলামি শরয়ি রাজনীতি, যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, শায়খের (রহিমাহুল্লাহ) সময় থেকে আজ পর্যন্ত সৌদি রাষ্ট্র আল্লাহর শরিয়ত অনুযায়ী শাসন কাজ পরিচালনা করে আসছে। এর সংবিধান হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং আল্লাহর ইচ্ছায় এটি এই পথেই অবিচল থাকবে। আমরা আল্লাহর কাছে এর জন্য তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি। (অনুবাদক)।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٨)
الصادرة في بتنة بعنوان "الوهابية: حركة دينية وسياسية"، وحظيت بالقبول والرضا في المحافل المختصة.

وفي خلال البحث مر ذكر الحركة الوهابية- كما يقال في الغالب- في نجد أكثر من مرة. وعثرت على افتراءات واتهامات لم أستطع أن أصبر عليها. وأكبر خطأ وقع فيه الصديق والعدو هو الزعم بأن حركة التجديد والإمامة للشهيد أحمد إنما هي فرع للحركة الوهابية في نجد.

لا شك أن مأخذ الحركتين واحد، وهدفهما واحد، والذين قاموا بهما كانوا من رافعي لواء الكتاب والسنة. وكل منهما كان مجاهدا متحمسا، ولكن هذه حقيقة لا تجحد أن أحدهما ليست له أي علاقة- بعيدة أو قريبة بالآخر أعني أن أحدهما لم يستفد من آراء الآخر. فقد كانت تلكما الدعوتان كل منهما بعيدة عن الأخرى، وفي أحوال خاصة نشأت وترعرعت.

ومع اتحادهما في الأصل- أي دعوة الرجوع إلى الكتاب والسنة- تظهر انطباعات محلية خاصة في كل من الدعوتين، وتختلف كل منهما عن الأخرى في كثير من الأمور الفرعية.

وقد قلت آنفا إني قد مررت على افتراءات حول دعوة التجديد النجدية فلم استطع أن أصبر.

وهكذا اضطر هذا العاجز أن يرتب الكتاب على قسمين. وأن هذه الصفحات في سيرة شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب النجدي، ودعوته هي المجلد الأول لذلك الكتاب المقترح. والمجلد الثاني سيكون في حركة التجديد والإمامة في الهند من استشهاد السيد أحمد (1831 م- 1246 هـ) إلى سنة 1871 م، واستعرض فيه الأعمال والجهود والخدمات استعراضا دقيقا.

(2)

وهنا أريد أن أوضح أمرا وهو أنني لا أقصد حينما أدون تاريخ الوهابية النجدية أو الوهابية الهندية أن أشعر الناس أن الحق قد انحصر في اتباع أحد هاتين الجماعتين، أو أني أرى هاتين الجماعتين مدرسة خاصة، أو مذهبا خاصا كالمدارس الفكرية الأخرى - دينية كانت أو أدبية - يمكن أن يزعم هذا بعض الدعاة الخاملين أو الأتباع المتشددين، ولكنني أرى أن التحزب يلحق بالإسلام والمسلمين أشد الضرر، والحق عندي هو
পাটনায় "ওয়াহাবিবাদ: একটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলন" শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি সংশ্লিষ্ট মহলে গ্রহণযোগ্যতা ও সন্তুষ্টি অর্জন করেছিল।

গবেষণার সময় নজদের ওয়াহাবি আন্দোলনের কথা—যেমনটি সাধারণত বলা হয়—একাধিকবার উঠে এসেছে। সেখানে আমি এমন কিছু অপবাদ ও অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছি যা আমি সহ্য করতে পারিনি। বন্ধু এবং শত্রু উভয়ের পক্ষ থেকেই করা সবচেয়ে বড় ভুলটি হলো এই দাবি করা যে, শহীদ আহমদের সংস্কার ও ইমামতের আন্দোলন মূলত নজদের ওয়াহাবি আন্দোলনেরই একটি শাখা।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উভয় আন্দোলনের উৎস এক এবং লক্ষ্যও অভিন্ন; আর যারা এই আন্দোলনগুলো পরিচালনা করেছেন তারা ছিলেন কিতাব ও সুন্নাহর পতাকাবাহী। তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন একনিষ্ঠ মুজাহিদ। তবে এটি অনস্বীকার্য সত্য যে, একটির সাথে অন্যটির দূরবর্তী বা নিকটবর্তী কোনো সম্পর্ক ছিল না—অর্থাৎ একটি অন্যটির মতামত থেকে কোনো ফায়দা গ্রহণ করেনি। এই দুটি দাওয়াত বা আন্দোলন একে অপরের থেকে অনেক দূরে স্বতন্ত্রভাবে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে উদ্ভূত ও বিকশিত হয়েছিল।

মূলে এক হওয়া সত্ত্বেও—অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে—উভয় আন্দোলনের মধ্যেই নিজস্ব স্থানীয় প্রভাব বিদ্যমান এবং অনেক গৌণ বিষয়ে তারা একে অপরের থেকে ভিন্ন।

আমি আগেই বলেছি যে, নজদি সংস্কার আন্দোলনের ব্যাপারে কিছু অপবাদ আমার নজরে এসেছে যা আমি সহ্য করতে পারিনি।

তাই এই অধম বইটিকে দুই ভাগে বিন্যস্ত করতে বাধ্য হয়েছে। শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব নজদির জীবনী এবং তাঁর দাওয়াতের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত এই পৃষ্ঠাগুলো হলো প্রস্তাবিত বইটির প্রথম খণ্ড। আর দ্বিতীয় খণ্ডটি হবে ভারতে সংস্কার ও ইমামতের আন্দোলনের ওপর, যা সাইয়্যেদ আহমদের শাহাদাত (১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দ - ১২৪৬ হিজরি) থেকে ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করবে; সেখানে আমি তাঁদের কাজ, প্রচেষ্টা এবং খিদমতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করব।

(২)

এখানে আমি একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই যে, নজদি ওয়াহাবি বা ভারতীয় ওয়াহাবিদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার সময় আমার উদ্দেশ্য এটি নয় যে, মানুষকে এই ধারণা দেওয়া যে সত্য কেবল এই দুই দলের কোনো একটির অনুসরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিংবা আমি এই দুটি দলকে অন্য কোনো ধর্মীয় বা সাহিত্যিক চিন্তাধারার মতো কোনো বিশেষ ঘরানা বা স্বতন্ত্র মাযহাব হিসেবেও দেখি না—যা হয়তো কিছু অখ্যাত প্রচারক বা কট্টর অনুসারীরা দাবি করতে পারে। বরং আমি মনে করি যে, দলপ্রীতি বা দলাদলি ইসলাম ও মুসলমানদের চরম ক্ষতিসাধন করে। আমার কাছে সত্য হলো...
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٩)
اتباع الكتاب والسنة فقط. فلا أرى الرشد والهداية ملكا لجماعة فقهية أو مدرسية1 أو وطنية.

إن الحق ليس ملك يمين نجد ولا الهند اشترته، فإن تعاليم الله ورسوله صلى الله عليه وسلم واضحة جلية، والذي يتبعها اتباعا صحيحا يفوز بالرشد والفلاح.. وإني حينما أرتب تاريخ هذه الجماعات في نجد أو في الهند، وأبرز معالمهما الدارسة أقصد فقط أن أقدم سيرة مصلحين شهيرين في القرن الثاني عشر والثالث عشر وأتباعهما، ولا أرى أيضا أن هناك مصلحين فقط في هذه القرون. ففي الهند الشاه ولي الله الدهلوي (1114- 1176هـ) ، وفي طرابلس محمد بن على السنوسي (1202هـ - 1787 م) لهما شأن عظيم في التجديد والإصلاح.

قد يقول قائل: أن حركة السيد أحمد كانت صدى لدعوة الشاه ولى الله، ولكن حتى بعد تسليم هذه الفكرة، فإن الطابع الخاص والتفردات الخاصة للسيد أحمد لا تزال باقية. وكذلك جمال الدين الأفغاني، والأمير عبد القادر الجزائري هما موضع حب لجماعة كبيرة- وبحق- في لون آخر من الإصلاح والتجديد.

وكذلك لا أرى أن هاتين الجماعتين في نجد أو في الهند معصومتان عن كل خطأ أو زلل. أما الغلو والتشدد في أهل نجد فحتى الأصدقاء يشكون منهما2، وكل ما أقول إنهما كانتا جماعتين مخلصتين قامتا لله، ولم تألوا جهدا في سبيل إعلاء كلمة الله في حدود المساعي البشرية، فعلينا أن ندرس أعمالهما، أما مجرد الاقتناع بما يسمع، أو بدعاية الأعداء والمشايخ الجهال والمتصوفة، فإنه ليس من شيمة طلاب الحق.

وإني قد اجتنبت- قدر الإمكان- إبداء رأي في الكتاب. وقد حاولت أن أرتب الأحوال والأفكار على أساس من المراجع المعتمدة بما يمكن من البحث والتحقيق.

فإن نجحت فبتوفيق من الله، وإلا فلا يستبعد من طالب حقير أن يقع في بعض

--------------------------------------------

1 أي أنني لا أرى الحق محصورا في تقليد الأئمة الأربعة، ولا في اتباع شيوخ ديوبند أو الأزهر أو الندوة، ولا أرى القيادة وراثة لبيت أو بلد.

2 قصده بالتشدد والغلو تشددهم في التوحيد، وهم في ذلك على حق؛ لأن الإسلام الذي بعث الله به نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم هو أشد الأديان في العقيدة، وأسهلها وأيسرها في الشرائع. ولا يحسن أن يسمى ذلك غلوا وتشددا. (المترجم) .

শুধুমাত্র কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ। তাই আমি সঠিক পথ ও হেদায়াতকে কোনো ফিকহী, প্রাতিষ্ঠানিক বা জাতীয় গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করি না।

নিশ্চয়ই সত্য নজদের অধিকারভুক্ত নয় এবং ভারতও তা ক্রয় করেনি। কেননা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিক্ষা সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল; আর যে ব্যক্তি সঠিকভাবে সেগুলোর অনুসরণ করবে, সে-ই সঠিক পথ ও সফলতা লাভ করবে। আমি যখন নজদ বা ভারতের এই গোষ্ঠীগুলোর ইতিহাস বিন্যস্ত করি এবং তাদের বিলুপ্তপ্রায় নিদর্শনসমূহ ফুটিয়ে তুলি, তখন আমার উদ্দেশ্য কেবল দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ সংস্কারক এবং তাঁদের অনুসারীদের জীবনী উপস্থাপন করা। আমি এমনটিও মনে করি না যে, এই শতাব্দীগুলোতে কেবল এই সংস্কারকগণই ছিলেন। বরং ভারতে শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (১১১৪- ১১৭৬ হিজরী) এবং ত্রিপোলিতে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আস-সানুসী (১২০২ হিজরী - ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দ)-এর সংস্কার ও পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রে মহান মর্যাদা রয়েছে।

কেউ বলতে পারেন: সাইয়্যেদ আহমদের আন্দোলন ছিল শাহ ওয়ালীউল্লাহর দাওয়াতেরই প্রতিধ্বনি। কিন্তু এই ধারণা মেনে নেওয়ার পরেও সাইয়্যেদ আহমদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকে। একইভাবে জামালুদ্দীন আফগানী এবং আমীর আব্দুল কাদির আল-জাযায়েরী এক বিশাল গোষ্ঠীর ভালোবাসার পাত্র—এবং যথার্থভাবেই—সংস্কার ও পুনর্জাগরণের ভিন্ন এক ধারায়।

তদ্রূপ আমি নজদ বা ভারতের এই দুই গোষ্ঠীকে সকল ভুল বা বিচ্যুতি থেকে মুক্ত মনে করি না। নজদবাসীদের মধ্যে অতিরঞ্জন ও কঠোরতার বিষয়ে খোদ তাদের বন্ধুরাই অভিযোগ করেন। আমি কেবল এটুকুই বলি যে, তারা ছিল দুটি মুখলিস দল যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দাঁড়িয়েছিল এবং মানুষের সাধ্যাতীত চেষ্টার সীমানায় আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করতে কোনো ত্রুটি করেনি। সুতরাং আমাদের উচিত তাদের কার্যাবলি অধ্যয়ন করা। কেবল যা শোনা যায় তাতে তুষ্ট হওয়া অথবা শত্রু, জাহেল মাশায়েখ ও সূফীদের অপপ্রচারে প্রভাবিত হওয়া সত্যের সন্ধানী ছাত্রদের স্বভাব নয়।

আমি বইটিতে মতামত প্রকাশ থেকে যথাসম্ভব বিরত রয়েছি। আমি নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের ভিত্তিতে ঘটনাবলি ও চিন্তাধারাকে বিন্যস্ত করার চেষ্টা করেছি, যাতে গবেষণা ও যাচাই করা সম্ভব হয়।

যদি আমি সফল হই তবে তা আল্লাহর তাওফীকে, অন্যথায় একজন নগণ্য ছাত্রের পক্ষে কিছু ভুলের মধ্যে নিপতিত হওয়া বিচিত্র নয়...

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ আমি সত্যকে চার ইমামের তাকলীদ কিংবা দেওবন্দ, আযহার বা নদওয়ার মাশায়েখদের অনুসরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করি না। আমি নেতৃত্বকে কোনো নির্দিষ্ট পরিবার বা ভূখণ্ডের উত্তরাধিকার হিসেবেও দেখি না।

২ কঠোরতা ও অতিরঞ্জন বলতে লেখক তাওহীদের ক্ষেত্রে তাদের কঠোরতাকে বুঝিয়েছেন, আর এ ক্ষেত্রে তারা সত্যের ওপরই রয়েছেন; কারণ আল্লাহ যে ইসলাম দিয়ে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পাঠিয়েছেন, তা আকিদাহর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর এবং শরীয়তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ ও সাবলীল। তাই একে অতিরঞ্জন বা কঠোরতা বলা সমীচীন নয়। (অনুবাদক)
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الأخطاء والأوهام. وفي الأخير ابتهل إلى الله أن يرزقني الإخلاص في النية والعمل ويشرفني بقبول هذا العمل المتواضع1.

(3)

لقد بدأت في ترتيب الكتاب الذي بين يديك في شوال سنة 1359 هـ (نوفمبر سنة 1940 م) إلا أن الأشغال لم تسمح لي أن أخصص له وقتا كثيرا، ولكن العمل مازال مستمرا رويدا، وتم مخطط الكتاب في نوفمبر سنة 1941 م. ولكن لم اجترئ على أن أكمل المسودة بسبب القلة في المراجع، وكلما كتبت شيئا ثم اطلعت على مصادر أخرى اضطررت إلى كثير من الإصلاح والتغيير، ولكن مع ذلك، ومع كثير من البحث والتحقيق لم أعثر على بعض الكتب المهمة واللازمة من المراجع وسأذكرها في باب المصادر.

وأقدم جزيل الشكر من أعماق قلبي إلى أولئك الأصدقاء والأكابر الذين ساعدوني بالأخبار عن المراجع، أو تهيئتها، وأخص بالذكر منهم، الدكتور عظيم الدين ببتنه، والبروفسور حسن عسكري ببتنه، والأستاذ عبد الرحمن الكاشغري بكلكتا، والأستاذ محمد داود الغزنوي بلاهور، والدكتور الشيخ محمد عناية الله بلاهور، والدكتور محمد حميد الله بحيدر آباد، والأستاذ شرف الدين وأولاده ببومباي، والأستاذ عبد المجيد الحريري ببنارس، والبروفسور محمد أكبر الندوي بجامعة كلكتا. والحكيم الحافظ يوسف حسن خان ببتنه، اشكرهم جزيل الشكر، وأراه واجبا علي، فلولا مساعدة هؤلاء الأكابر كان من الصعب علي الحصول على كثير من الكتب النادرة أو المفقودة.

ومن الضروري أن أذكر هنا عالما نجديا قد أرسل إليّ سلام المحبة حينما سمع عن هذا الكتاب في بومباي، ثم تجشم السفر إلى بتنه بطريق بنارس وشرف بيتي بنزوله

--------------------------------------------

1 انتهت هنا مقدمة المؤلف، وما بعده كان في صورة تنبيهات زائدة على المقدمة، ولكنني جعلته مع المقدمة لعلاقته بها (المترجم) .
ভুলভ্রান্তি ও অমূলক ধারণা থেকে। পরিশেষে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে নিয়ত ও আমলের ইখলাস দান করেন এবং আমার এই বিনীত কর্মটি কবুল করে আমাকে ধন্য করেন।১।

(৩)

আপনার সম্মুখে উপস্থিত এই কিতাবটি বিন্যস্ত করার কাজ আমি ১৩৫৯ হিজরির শাওয়াল মাসে (নভেম্বর ১৯৪০ খ্রি.) শুরু করেছিলাম। তবে ব্যস্ততা আমাকে এর জন্য অধিক সময় দেওয়ার সুযোগ দেয়নি, তবুও কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলতে থাকে এবং ১৯৪১ সালের নভেম্বরে গ্রন্থটির পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়। কিন্তু তথ্যসূত্রের স্বল্পতার কারণে আমি পাণ্ডুলিপিটি সম্পন্ন করার সাহস পাচ্ছিলাম না। যখনই কিছু লিখতাম এবং এরপর নতুন কোনো উৎসের সন্ধান পেতাম, তখনই ব্যাপক সংশোধন ও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিত। এতদসত্ত্বেও অনেক অনুসন্ধান ও গবেষণার পরেও আমি তথ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কিতাবের সন্ধান পাইনি; আমি সেগুলো তথ্যসূত্র অধ্যায়ে উল্লেখ করব।

আমি আমার অন্তরের গভীর থেকে সেই সকল সুহৃদ ও মনীষীদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা আমাকে তথ্যসূত্রের সংবাদ দিয়ে অথবা তা সংগ্রহ করে দিয়ে সহায়তা করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন— পাটনার ডক্টর আজিমুদ্দিন, পাটনার প্রফেসর হাসান আসকারী, কলকাতার উস্তাদ আবদুর রহমান কাশগরী, লাহোরের উস্তাদ মুহাম্মদ দাউদ গজনবী, লাহোরের ডক্টর শাইখ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ, হায়দ্রাবাদের ডক্টর মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ, বোম্বের উস্তাদ শরফুদ্দীন ও তাঁর সন্তানগণ, বেনারসের উস্তাদ আবদুল মাজীদ হারীরি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মুহাম্মদ আকবর নদভী। এছাড়া পাটনার হাকীম হাফেজ ইউসুফ হাসান খান; আমি তাঁদের সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং এটি আমার জন্য কর্তব্য বলে মনে করি। কারণ, এই বিজ্ঞজনদের সাহায্য না পেলে অনেক বিরল ও দুষ্প্রাপ্য কিতাব সংগ্রহ করা আমার জন্য দুঃসাধ্য ছিল।

এখানে নজদের একজন বিজ্ঞ আলেমের কথা উল্লেখ করা আবশ্যক যিনি বোম্বেতে এই কিতাবের কথা শুনে আমার কাছে প্রীতিপূর্ণ সালাম পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি বেনারস হয়ে পাটনা সফরের কষ্ট স্বীকার করেন এবং আমার আবাসে অবস্থান করে আমাকে ধন্য করেন...

--------------------------------------------

১। এখানে লেখকের ভূমিকা সমাপ্ত হয়েছে, আর এর পরবর্তী অংশটি ছিল ভূমিকার অতিরিক্ত টীকা স্বরূপ, তবে বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে আমি একে ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত করেছি (অনুবাদক)।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢١)
مدة يومين، وهو الشيخ محمد عمران بن محمد عمران من سكان الرياض بنجد، وكان رجلا متعلما من المتوسطين، إلا أنه من الذين تربوا بتعاليم الشيخ محمد بن عبد الوهاب، ومن نجد فنفس الاتباع للسنة والتقوى والحماس والعمل الذي كنا نسمع أنه من مميزات هذه الجماعة. وعلى أقل تقدير ففي الهند نادرا ما رأيت مثله.. وقد استفدت منه كثيرا، وخاصة في تعيين سني وفاة علماء نجد المتأخرين عن ذاكرته وبجزم تام، إلا أنني قد بينت ما اعتمدت فيه على روايته في مواضعه.

وأرجو من القارئ الكريم أن تكون الأمور التالية على بال منه أثناء مطالعة الكتاب وسأكون شاكرا:

1. قد اكتفيت بذكر اسم المصنف أحيانا، وذلك اجتنابا من التطويل بذكر المصادر، ويمكن تعيين الكتب في باب المراجع.

2. قد حاولت قدر الإمكان التوفيق بين التواريخ الهجرية والميلادية، ولكن اكتفيت بذكر السنة الميلادية مع السنة الهجرية حينما رأيت صعوبة في تعيين اليوم والشهر.

3. حينما أذكر كلمة "شيخ الإسلام" أو "الشيخ" بدون اسم خاص فالمراد منه هو الشيخ محمد بن عبد الوهاب، وكذلك من آل الشيخ أولاده وأحفاده مع أن كتب الجماعة تستعمل لقب شيخ الإسلام للإمام ابن تيمية رحمه الله.

4. لم ألتزم الحرفية في الترجمة من العربية أو الإنجليزية، إلا أنني حاولت أن أعبر عن المفهوم صحيحا كاملا عن الأصل.

5. من الممكن الوهم أو الخطأ في نطق الأعلام الإنجليزية، فإن وجد خطأ من هذا القبيل فأرجو التنبيه، وإن أي تصحيح من أي نوع كان أقبله بشكر.

مسعود عالم الندوي

بتنه: 8 جمادى الأولى 1361 هـ
দুই দিন সময় ধরে, আর তিনি হলেন নজদের রিয়াদের বাসিন্দা শেখ মুহাম্মদ ইমরান বিন মুহাম্মদ ইমরান। তিনি একজন মধ্যম সারির শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন, তবে তিনি ছিলেন সেইসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের শিক্ষায় বেড়ে উঠেছেন। নজদের অধিবাসী হওয়ার কারণে তাঁর মধ্যে সুন্নাহর অনুসরণ, তাকওয়া, উদ্দীপনা এবং কর্মতৎপরতা বিদ্যমান ছিল, যা আমরা এই জামাতের বৈশিষ্ট্য হিসেবে শুনে আসছি। অন্ততপক্ষে, ভারতে আমি তাঁর মতো লোক খুব কমই দেখেছি। আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি, বিশেষ করে তাঁর স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে নজদের পরবর্তী আলেমদের মৃত্যুর সাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে। তবে আমি যেখানে যেখানে তাঁর বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছি, তা যথাস্থানে উল্লেখ করেছি।

আমি সম্মানিত পাঠকের কাছে আশা করি যে, বইটি পড়ার সময় নিচের বিষয়গুলো তাদের স্মরণে থাকবে এবং আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ থাকব:

১. আমি কখনো কখনো শুধু লেখকের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি, যাতে উৎস বা সূত্রগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে লেখা দীর্ঘ না হয়। গ্রন্থপঞ্জি অংশে বইগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব।

২. আমি হিজরি ও ঈসায়ি তারিখের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু যখন দিন ও মাস নির্ধারণ করা কঠিন মনে হয়েছে, তখন হিজরি সালের সাথে কেবল ঈসায়ি সাল উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।

৩. যখন আমি কোনো নির্দিষ্ট নাম ছাড়াই "শায়খুল ইসলাম" বা "আশ-শায়খ" শব্দ ব্যবহার করি, তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব। একইভাবে 'আলে শেখ' বলতে তাঁর সন্তান ও নাতি-পুতিদের বোঝানো হয়েছে, যদিও এই জামাতের বইপত্রে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর জন্য 'শায়খুল ইসলাম' উপাধি ব্যবহার করা হয়।

৪. আমি আরবি বা ইংরেজি থেকে অনুবাদের ক্ষেত্রে আক্ষরিক অনুবাদের বাধ্যবাধকতা মানিনি, তবে আমি মূল পাঠের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ভাব প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।

৫. ইংরেজি নামগুলোর উচ্চারণে বিভ্রান্তি বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই ধরণের কোনো ভুল পাওয়া যায়, তবে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ করছি। যেকোনো ধরনের সংশোধন আমি কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করব।

মাসউদ আলম নদভী

পাটনা: ৮ জুমাদাল উলা ১৩৬১ হিজরি
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌الداعية: حياته وخدماته

‌‌الجزيرة العربية أيام ازدهاد المسلين

…

الجزيرة العربية أيام ازدهار المسلمين

"لقد شاهدت الصحراء العربية آلافا من تقلبات الليل والنهار، ولكن لم تكن هناك حادثة أهم من هذه الحادثة، حيث بهرت هذه الرمال المظلمة عيون العالم بأجمعه بعدما استنارت بنور شمس ساطعة (أي البعثة النبوية) ، وأقامت معالم النور في جميع أنحاء الدنيا، ولكن بمجرد ما فرغت من تنوير الجبال والصحاري، وإضاءة البر والبحر، اختفت من عيون الناس وذهب وارءها، لماذا؟

لأن الأمم التي اقتبست من هذه الأنوار زعمت أن بريقها ولألاءها لا يمكن أن يبهر عيون العالم أمام لمع هذه الرمال الصحراوية، فخير لها أن تبقى مظلمة خامدة"1 كان الحجاز قد فقد مكانته القيادية في عصر بني أمية، فقد جعله ساسة دمشق زاوية للسدنة، وأبناء المشايخ، وعلى أثر ذلك قضى سيف أبي مسلم الخراساني على نصيب العرب السياسي (132 هـ) والحكومة العباسية التي قامت على هذا الأساس تحولت إلى ملكية عجمية درجة بعد درجة.

ظهرت قوة الأتراك في عصر المعتصم (218-227 هـ/ 833- 882 م) حتى اعتلوا على العرش وامتلكوا الدولة. سادت عشرات من الدويلات بعيدا وقريبا ثم بادت. ولكن الرجل العربي المسكين لم يكن له أي نصيب في هذه التقلبات. وفي عصر ازدهار المسلمين هذا أسست مدارس العلم في بغداد وقرطبة، نبعت ينابيع الرشد والهدى في جوامع الأزهر والزيتونة والقرويين، فتح الأتراك قسطنطينية، وزلزل سليمان الأعظم (926- 974 هـ/ 1520- 1566 م) أسوازفينا، دوخ المغول أرض الهند، ولكن الجمال العربي مازال يتنعم بنوم لذيذ في صحرائه.

--------------------------------------------

1 السيد سليمان الندوي، مجلة معارف عدد نوفمبر سنة 1924 م.
দাঈ: তাঁর জীবন ও খিদমত

মুসলমানদের সমৃদ্ধির যুগে আরব উপদ্বীপ

…

মুসলমানদের সমৃদ্ধির যুগে আরব উপদ্বীপ

"আরব মরুভূমি দিবা-রাত্রির হাজারো আবর্তন প্রত্যক্ষ করেছে, কিন্তু এই ঘটনার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা আর ঘটেনি, যখন এই অন্ধকার বালুরাশি এক উজ্জ্বল সূর্যের (অর্থাৎ নবুওয়াতী মিশন) আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার পর সমগ্র বিশ্বের চক্ষু ধাঁধিয়ে দিয়েছিল এবং পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে আলোকবর্তিকা স্থাপন করেছিল। কিন্তু পাহাড় ও মরুভূমিকে আলোকিত করা এবং জল ও স্থলকে জ্যোতির্ময় করার কাজ সমাপ্ত করার সাথে সাথেই তা মানুষের দৃষ্টি থেকে অন্তর্হিত হয়ে গেল এবং তার পিছনে চলে গেল। কেন?

কারণ যে জাতিগুলো এই নূর থেকে আলোকপ্রাপ্ত হয়েছিল, তারা ধারণা করেছিল যে, এই মরু বালুকার ঔজ্জ্বল্যের সামনে তাদের জৌলুস ও চাকচিক্য বিশ্ববাসীর চোখকে ধাঁধিয়ে দিতে পারবে না; তাই এটি অন্ধকার ও নিস্তেজ থাকাই তাদের জন্য শ্রেয়।"১ হিজাজ উমাইয়া যুগে তার নেতৃত্বের মর্যাদা হারিয়েছিল। দামেস্কের রাজনীতিকরা একে খাদেম ও মাশায়েখ-পুত্রদের একটি কোণে পরিণত করেছিলেন। এরই ফলশ্রুতিতে আবু মুসলিম খোরাসানির তলোয়ার আরবদের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটায় (১৩২ হিজরি) এবং এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত আব্বাসীয় সরকার ধাপে ধাপে অনারব রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়।

মুতাসিমের যুগে (২১৮-২২৭ হিজরি/ ৮৩৩- ৮৮২ খ্রি.) তুর্কিদের শক্তি প্রকাশ পায়, এমনকি তারা সিংহাসনে আরোহণ করে এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব লাভ করে। অগণিত ছোট ছোট রাষ্ট্র কাছে ও দূরে আধিপত্য বিস্তার করল এবং অতঃপর বিলুপ্ত হয়ে গেল। কিন্তু এই সকল ওলটপালটে বেচারা আরব ব্যক্তির কোনো অংশ ছিল না। মুসলমানদের এই সমৃদ্ধির যুগে বাগদাদ ও কর্ডোভায় ইলমি বিদ্যাপীঠসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আজহার, যাইতুনা ও কাইরাওয়াইন জামে মসজিদসমূহ থেকে হিদায়াত ও সঠিক পথের ঝরনাধারা উৎসারিত হয়েছিল। তুর্কিরা কনস্টান্টিনোপল বিজয় করেছিল, সুলাইমান আল-আজম (৯২৬-৯৭৪ হিজরি/ ১৫২০-১৫৬৬ খ্রি.) ভিয়েনার প্রাচীর প্রকম্পিত করেছিলেন, মুঘলরা হিন্দুস্তান পদানত করেছিল; কিন্তু আরবের উটগুলো তখনও তাদের মরুভূমিতে সুখনিদ্রায় বিভোর ছিল।

--------------------------------------------

১ সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী, মাআরিফ সাময়িকী, নভেম্বর ১৯২৪ সংখ্যা।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
حكم. الأتراك العثمانيون قرونا على الحجاز، وقدموا قرابين تبلغ الآلاف والملايين، وخصص القسم الأكبر من محاصيل مصر لخدمة الحرمين، عينت رواتب كبيرة للسدنة، ولكن لم يفض أي نبع للعلم في وادي العرب الذي هو غير ذي زرع، وراجت اللغة التركية في المكاتب.

الله أكبر! حكومة خليفة المسلمين، وتسيطر في مهبط الوحي لغة لا تمت إلى لغة القرآن بصلة، إن في ذلك لعبرة.

وما أكثر أعاجيب هذه الدنيا، وما أكثر ألاعيب الملك والسيادة، نعم! بقيت اللغة التركية هي اللغة الرسمية والضباط هم أتراك. أما العرب فلم يبق لهم شغل إلا سدانة القبور والاستجداء، أو قطع الطرق على غرار أيام الجاهلية الأولى.

محمد بن عبد الوهاب:

وأخيرا لما غشي الظلام العالم مرة أخرى، ترك المسلمون كتاب الله وسنة رسوله، واتخذوا مئات من الآلهة دون الله الواحد، وصاروا ينادون ويدعون البدوي والرفاعي في مصر، وعبد القادر الجيلاني في العراق والهند، وابن عباس في مكة والطائف، وابن علوان في اليمن1، وأصبحوا يخضعون ويتذللون أمام الأشجار والأحجار.

عندما وصل الأمر إلى هذا الحد طلعت شمس الهدى والرشد من واد غير ذي زرع، ورمال الأرض العربية التي كانت قد اشتهرت بطيب العرار والخزامي2، قد فاح فيها طيب التوحيد، وكلمة الحق حتى عطرت العالم بأسره. وأريد بهذا شيخ الإسلام محمد ابن عبد الوهاب- رحمه الله ونور ضريحه- الذي أعاد إلى الأذهان دروس التوحيد- التي

--------------------------------------------

1 تطهير الاعتقاد من أدران الإلحاد للصنعاني ص: 2- 5.

2 ورد ذكر العرار والخزامي، بكثرة في الكلام العربي. وقد ذكر محمود شكري الألوسي (م 1342 هـ) عدة أبيات من هذا القبيل في تاريخ نجد ص: 8- 9.
অটোমান তুর্কিরা হিজাজে শত শত বছর শাসন করেছিল এবং তারা হাজার হাজার ও লক্ষ লক্ষ উপঢৌকন পেশ করেছিল। মিশরের ফসলের সিংহভাগ হারমাইনের সেবার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল, খাদেমদের জন্য উচ্চ বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল; কিন্তু আরবের এই অনাবাদী উপত্যকায় ইলমের কোনো ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়নি এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে তুর্কি ভাষার প্রচলন ঘটেছিল।

আল্লাহু আকবার! মুসলিম খলিফার সরকার, অথচ ওহী অবতীর্ণ হওয়ার ভূমিতে এমন এক ভাষা আধিপত্য বিস্তার করছে যার সাথে কুরআনের ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই; নিশ্চয়ই এতে শিক্ষা রয়েছে।

এই জগতের বিস্ময়কর বিষয় কতই না বেশি এবং রাজত্ব ও কর্তৃত্বের কতই না খেল-তামাশা! হ্যাঁ! তুর্কি ভাষা সরকারি ভাষা হিসেবে রয়ে গেল এবং অফিসাররা ছিলেন তুর্কি। আর আরবদের জন্য কবরের খাদেমগিরি ও ভিক্ষাবৃত্তি অথবা জাহেলি যুগের ন্যায় দস্যুবৃত্তি ছাড়া আর কোনো কাজ বাকি রইল না।

মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব:

পরিশেষে যখন পুনরায় পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল, তখন মুসলিমরা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ বর্জন করল এবং এক আল্লাহকে ছেড়ে শত শত ইলাহ গ্রহণ করল। তারা মিশরে বাদাবী ও রিফায়ীকে, ইরাক ও ভারতে আব্দুল কাদির জিলানীকে, মক্কা ও তায়েফে ইবনে আব্বাসকে এবং ইয়েমেনে ইবনে আলওয়ানকে ডাকতে ও তাদের কাছে প্রার্থনা করতে শুরু করল১ এবং তারা গাছপালা ও পাথরের সামনে মস্তক অবনত ও বিনয়ী হতে লাগল।

পরিস্থিতি যখন এই পর্যায়ে পৌঁছাল, তখন এক অনাবাদী উপত্যকা থেকে হিদায়াত ও সঠিক পথের সূর্য উদিত হলো। আরবের সেই বালুভূমি যা আরার ও খুজামী সুগন্ধির জন্য প্রসিদ্ধ ছিল, সেখানে তাওহীদ ও সত্যের বাণী এমন সুবাস ছড়াল যে তা সমগ্র বিশ্বকে সুবাসিত করল। আমি এর মাধ্যমে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবকে—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর কবরকে নূরে আলোকিত করুন—উদ্দেশ্য করছি, যিনি তাওহীদের সেই পাঠগুলো পুনরায় মানুষের মনে জাগ্রত করেছেন যা—

--------------------------------------------

১ সানআনী রচিত ‘তাতহীরুল ইতিকাদ মিন আদরানিল ইলহাদ’, পৃষ্ঠা: ২-৫।

২ আরবি সাহিত্যে আরার ও খুজামী সুগন্ধির উল্লেখ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (মৃত্যু ১৩৪২ হিজরি) ‘তারিখে নজদ’-এর ৮-৯ পৃষ্ঠায় এ সংক্রান্ত বেশ কিছু কবিতা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٧)
كانت قد نسيت- بجهده المتواصل وعمله الدائم، وبلغ رسالة الحق والصدق إلى حيث وصل صوت هذا الرجل المجاهد.

العالم الإسلامي عند ولادة ابن عبد الوهاب

بلغ العالم الإسلامي إلى دركه الأخير في الانحطاط الفكري عند نهاية القرن الثامن الهجري، فقد كانت أبواب الاجتهاد والفكر قد أغلقت منذ زمان، وكان العلماء يتدارسون متون المتأخرين وحواشيهم وكانت الحالة في الناحية العملية أسوأ وأسوأ، ولكن بلغ هذا الانحطاط في بداية القرن الثاني عشر الهجري إلى حد يتأسف منه الكفار، ويتحيرون حينما يقارنون بين حالتهم وحالة المسلمين في عصر الصحابة. قال الكاتب الأمريكي استودارد (lothrop Stoddard) :-

"أما الدين فقد غشيته غاشية سوداء. فألبست الوحدانية التي علمها صاحب الرسالة سجفا من الخرافات وقشورا من الصوفية، وخلت المساجد من أرباب الصلوات، وكثر عدد الأدعياء الجهلاء، وطوائف الفقراء والمساكين يخرجون من مكان إلى مكان يحملون في أعناقهم التمائم والتعاويذ والسبحات، ويوهمون الناس بالباطل والشبهات، ويرغبونهم في الحج إلى قبور الأولياء، ويزينون للناس التماس الشفاعة من دفناء القبور، وغابت عن الناس فضائل القرآن، فصار يشرب الخمر والأفيون في كل مكان، وانتشرت الرذائل، وهتك ستر المحرمات على غير خشية ولا استحياء.

ونال مكة المكرمة والمدينة المنورة ما نال غيرهما من سائر مدن الإسلام، فصار الحج المقدس الذي فرضه الله على من استطاعه ضربا من المستهزءات.

وعلى الجملة، فقد بدل المسلمون غير المسلمين، وهبطوا مهبطا بعيد القرار، فلو عاد صاحب الرسالة إلى الأرض في ذلك العصر، ورأى ما كان يدهى الإسلام لغضب، وأطلق اللعنة على من استحقها من المسلمين كما يلعن المرتدون وعبدة الأوثان1.

--------------------------------------------

1 حاضر العالم الإسلامي (ترجمة عجاج نويهض) ص: 34.
...যা বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিল- তাঁর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ও অবিরাম কর্মতৎপরতার মাধ্যমে, এবং তিনি সত্য ও সততার বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন সেই সমস্ত স্থানে যেখানে এই মুজাহিদ ব্যক্তির কণ্ঠস্বর পৌঁছেছিল।

ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের জন্মের সময় মুসলিম বিশ্ব

অষ্টম হিজরি শতাব্দীর শেষে মুসলিম বিশ্ব বুদ্ধিবৃত্তিক অধঃপতনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দীর্ঘকাল ধরে ইজতিহাদ ও চিন্তার দুয়ার রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর ওলামায়ে কেরাম পরবর্তী যুগের আলেমদের মূল পাঠ (মুতুন) ও টীকা (হাওয়াশি) অধ্যয়ন করছিলেন। আমলি বা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে অবস্থা ছিল আরও শোচনীয়। কিন্তু দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীর শুরুতে এই অধঃপতন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কাফেররাও এর জন্য আক্ষেপ করত এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগের মুসলিমদের অবস্থার সাথে তাদের অবস্থার তুলনা করে তারা বিস্মিত হতো। আমেরিকান লেখক লোথ্রপ স্টোডার্ড (Lothrop Stoddard) বলেন:-

"ধর্মের ক্ষেত্রে বলা যায়, একে একটি কালো অন্ধকার আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। রাসুল (সা.) যে তাওহীদ বা একত্ববাদ শিক্ষা দিয়েছিলেন, তাকে কুসংস্কারের পর্দা এবং সুফীবাদের বহিরাবরণ দ্বারা ঢেকে ফেলা হয়েছিল। মসজিদগুলো মুসল্লিদের থেকে শূন্য হয়ে পড়েছিল। মূর্খ দাবিদারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। একদল ফকীর ও মিসকীন গলায় তাবীজ, কবজ ও তসবিহ ঝুলিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত। তারা মানুষকে মিথ্যা ও সংশয়ের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করত এবং তাদের আউলিয়াদের কবরে হজ্জ করার প্রতি আগ্রহী করত। তারা কবরস্থ ব্যক্তিদের নিকট শাফায়াত বা সুপারিশ চাওয়ার বিষয়টিকে মানুষের কাছে সুশোভিত করে তুলেছিল। মানুষের মাঝ থেকে কুরআনের ফজিলত বিদায় নিয়েছিল। ফলে সর্বত্র মদ ও আফিম পান হতে শুরু করল, অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ল এবং কোনো প্রকার ভয় বা লজ্জা ছাড়াই হারাম কাজের সীমা লঙ্ঘন করা হতে লাগল।

মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাও ইসলামের অন্যান্য শহরের মতো একই অবস্থায় পতিত হয়েছিল। ফলে পবিত্র হজ্জ, যা আল্লাহ সামর্থ্যবানদের ওপর ফরজ করেছেন, তা এক প্রকার বিদ্রূপের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

মোটকথা, মুসলিমরা অমুসলিমদের মতো হয়ে গিয়েছিল এবং তারা এক গভীর অতলে পতিত হয়েছিল। যদি রাসুল (সা.) সেই যুগে পুনরায় পৃথিবীতে আসতেন এবং ইসলামের এই দুর্দশা দেখতেন, তবে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হতেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা অভিশাপের যোগ্য ছিল, তাদের ওপর লানত দিতেন, যেভাবে মুরতাদ ও মূর্তিপূজারীদের ওপর লানত দেওয়া হয়।"১

--------------------------------------------

১. হাদিরুল আলম আল-ইসলামি (আজজাজ নুওয়াইহিদ অনূদিত) পৃষ্ঠা: ৩৪।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
هذه صورة صورها معلق كافر، ولكن الخطوط والآثار التي تظهر في هذه الصورة للمسلمين أليست صحيحة اليوم إلى حد كبير؟ وكما يرى الأمير شكيب أرسلان "لو أن فيلسوفا نقريسيا من فلاسفة الإسلام، أو مؤرخا عبقريا بصيرا بجميع أمراضه الاجتماعية، أراد تشخيص حالته في هذه القرون الأخيرة ما أمكنه أن يصيب المحز، وأن يطبق المفصل تطبيق هذا الكاتب الأمريكي استودارد"1.

وإن لم يثقل عليك طول الكلام فاسمع حكاية أخرى لشقاءك بلسان معلق غربي آخر: "قد بردت عواطف المسلمين في القرن الثامن عشر، وما يسمى بالخليفة كان قد فقد قوته، حتى إن أهل النواحي الجنوبية ما كانوا يعترفون بسيادته، وأهل اليمن كانوا قد خلعوا نيره منذ قرون. وأشراف مكة كانوا متحمسين لمخالفة رئيسهم أكثر من النصارى. أما وحدة الاتجاه التي ترى الآن ما كانت يشعر بها في تلك الأيام إلا قليلا. المركز الروحي في مكة كان واقعا في حبل التنعم والتلذذ المادي، وتستطيع أن تجد عطفا وشفقة على كل شيء إلا على الزهد والورع، مع أنهم كانوا يشاهدون فتح النصارى للهند بأعينهم، وكانت الجيوش الكافرة تطوي فراش الأتراك، ولكن العرب قليلا ما يشعرون بهذه الحوادث. أما الغضب والنقمة الموجودان اليوم على فرنسا وبريطانية وروسيا، فقد كانا مفقودين بتاتا في تلك الأيام، وإذا عدم الغضب انعدم الحماس فكيف بالدعوة إلى الإسلام.

وخلاصة القول أن الإسلام كان متجها إلى الانحطاط. أما النهضة التي وصلت تياراتها إلى أفريقيا والصين في القرن التاسع عشر المسيحي، فقد كان من المستحيل أن يتوقعها أحد في ذلك الوقت2.

نَجْد قبل ابن عبد الوهاب:

لقد رأيت لمحة قصيرة لحالة العالم الإسلامي، والديار المقدسة بالحكايات التي

--------------------------------------------

1 أيضا.

2 هوغارث penetration of arabia وقد ألف الكتاب في سنة 1904 م.
এটি একজন অমুসলিম ভাষ্যকারের অঙ্কিত একটি চিত্র, কিন্তু এই চিত্রে মুসলমানদের যে রূপরেখা ও চিহ্নসমূহ ফুটে উঠেছে, তা কি আজ অনেকাংশেই সত্য নয়? আমীর শাকিব আরসালান যেমন মনে করেন: "যদি ইসলামের দার্শনিকদের মধ্য হতে কোনো সূক্ষ্মদর্শী দার্শনিক অথবা সমাজবিদ্যার সকল রোগ সম্পর্কে সম্যক অবহিত কোনো প্রতিভাবান ঐতিহাসিক এই শেষ শতাব্দীগুলোতে মুসলমানদের অবস্থা নির্ণয় করতে চাইতেন, তবে তার পক্ষে এই মার্কিন লেখক স্টোডার্ডের মতো এত নিখুঁতভাবে সমস্যার মূলে পৌঁছানো এবং যথাযথ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতো না।"১।

দীর্ঘ আলোচনায় আপনার কষ্ট না হলে, অন্য একজন পশ্চিমা ভাষ্যকারের ভাষায় আপনার দুর্ভাগ্যের আরেকটি কাহিনী শুনুন: "আঠারো শতকে মুসলমানদের আবেগ শীতল হয়ে পড়েছিল এবং যাকে খলিফা বলা হতো তিনি তার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা তার আধিপত্য স্বীকার করত না। ইয়েমেনের অধিবাসীরা বহু শতাব্দী আগেই তার শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল। মক্কার শরীফগণ তাদের প্রধানের বিরোধিতা করার জন্য খ্রিস্টানদের চেয়েও বেশি উৎসাহী ছিলেন। বর্তমানে যে ঐক্য লক্ষ্য করা যায়, সেই দিনগুলোতে তা খুব সামান্যই অনুভূত হতো। মক্কার আধ্যাত্মিক কেন্দ্রটি পার্থিব ভোগবিলাস ও আরাম-আয়েশের জালে আটকা পড়েছিল। আপনি সেখানে কৃচ্ছ্রসাধন ও তাকওয়া ব্যতীত অন্য সবকিছুর প্রতি সহানুভূতি ও মমতা খুঁজে পেতেন। অথচ তারা নিজেদের চোখে ভারতের ওপর খ্রিস্টানদের বিজয় দেখছিল এবং কাফের বাহিনী তুর্কিদের সাম্রাজ্য সংকুচিত করে আনছিল, কিন্তু আরবরা এই ঘটনাগুলো খুব কমই অনুভব করছিল। বর্তমানে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ ও আক্রোশ বিদ্যমান, সেই দিনগুলোতে তা একেবারেই অনুপস্থিত ছিল। আর যদি ক্ষোভ না থাকে তবে উদ্দীপনাও থাকে না, তাহলে ইসলামের দাওয়াতের কথা তো অবান্তর।

সারকথা হলো, ইসলাম পতনের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। আর উনবিংশ শতাব্দীতে আফ্রিকা ও চীনে যে রেনেসাঁ বা নবজাগরণের স্রোত পৌঁছেছিল, সেই সময়ে কারো পক্ষেই তা প্রত্যাশা করা অসম্ভব ছিল।২।

ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের পূর্বে নজদ:

আপনি ওপরের বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব ও পবিত্র ভূমির অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেখতে পেয়েছেন

--------------------------------------------

১। প্রাগুক্ত।

২। হোগার্থ, 'পেনিট্রেশন অব অ্যারাবিয়া'; বইটি ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে রচিত।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
سبقت، ولكن حالة نجد- قلب الجزيرة العربية- كانت أسوأ وأسوأ. وأقل ما يمكن أن يقال إن أهل نجد كانوا قد جاوزوا الحد في الانحطاط الخلقي، فلم يكن عندهم أي اعتبار للخير والشر في مجتمعهم، وكانت العقائد الوثنية قد تمكنت في القلوب بمر القرون، حتى أن كثيرا من الناس كانوا يظنون هذه الخرافات نموذجا صحيحا للدين، وما كان عندهم أي استعداد للتزحزح عما وجدوا عليه آباءهم خطأ أو صوابا.

وفي الجبيلة (وادي حنيفة) ، كان يعبد قبر زيد بن الخطاب، وفي الدرعية كانت توجد بعض القبور والقباب، وتنسب إلى بعض الصحابة، وكانت مراكز للتعبد الجاهلي من الدهماء، وفي وادي غبيرة كانت قبة ضرار بن الأزور سوقا للبدع والأوهام. والقلم قاصر عن بيان ما كان يعمل الشباب والفتيات مع شجرة قديمة في بليدة الفداء، فقد كانت النساء العاقرات يباشرن هذه الشجرة لطلب الأولاد، وكان غار على مقربة من الدرعية ترتكب عنده أكبر الفواحش المخزية وهلم جرا1.

كل هذا كان باسم الدين، والأشخاص المعدودون الذين كانوا يملكون بعض النصيب من الفقه والحديث، ما كانوا يجدون في أنفسهم قوة تحدوهم إلى الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وهل كانت أغلبية علماء نجد خارجة عن عداد علماء العالم الآخرين-!!

أما الحالة السياسية فقد كانت أفسد وأسوأ. كانت نار الحرب الأهلية متأججة في جميع أنحاء نجد. كان بنو خالد مسيطرين على شمالي نجد (جبل شمر) في قبيلة طي

--------------------------------------------

1 ورد ذكر البدع السائدة في نجد في جميع الكتب التي ألفت في تاريخه، ومن أراد التوسع فليراجع الكتب التالية:- 1- روضة الأفكار والأفهام لمرتاد حال الإمام وتعدد غزوات ذوي الإسلام تأليف الشيخ حسين بن غنام (م 1225 هـ) ص: 7-16. 2- عنوان المجد في تاريخ نجد تأليف عثمان بن بشر النجدي (م 1288 هـ) ص: 6 وهذان الكتابان هما الأم والأصل في تاريخ نجد. 3- الهدية السنية والتحفة الوهابية النجدية لسليمان بن سحمان ص: 9- 47 وأيضا تبرئه الشيخين الإمامين له ص 161- 163. 4- arabia لفلبي ص: 4- 5. ومرجع فلبي وابن سحمان هو كتاب ابن غنام.
ইতিপূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে, তবে নজদ—যা আরব উপদ্বীপের প্রাণকেন্দ্র—তার অবস্থা ছিল আরও শোচনীয়। নজদবাসীদের সম্পর্কে নূন্যতম যা বলা যায় তা হলো, তারা নৈতিক অবক্ষয়ের চরম সীমায় পৌঁছেছিল। তাদের সমাজে ভালো ও মন্দের কোনো বিচার-বিবেচনা অবশিষ্ট ছিল না। কয়েক শতাব্দী ধরে পৌত্তলিক বিশ্বাস মানুষের অন্তরে এমনভাবে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল যে, এমনকি অনেক লোক এই কুসংস্কারগুলোকেই দ্বীনের সঠিক আদর্শ বলে মনে করত। নিজেদের পিতৃপুরুষদের ভুল বা সঠিক যে পথের ওপর তারা পেয়েছে, তা থেকে সরে আসার কোনো প্রস্তুতিই তাদের ছিল না।

আল-জুবায়লায় (ওয়াদি হানিফা) যায়িদ ইবনে আল-খাত্তাবের কবরের উপাসনা করা হতো। আদ-দিরইয়াহ অঞ্চলে কিছু কবর ও গম্বুজ ছিল যেগুলোকে কয়েকজন সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হতো; আর সেগুলো ছিল সাধারণ মানুষের জাহেলি উপাসনার কেন্দ্রস্থল। ওয়াদি গুবাইরায় দিরার ইবনে আল-আযওয়ারের গম্বুজটি ছিল বিদআত ও কুসংস্কারের আড্ডাখানা। আল-ফিদা নামক জনপদের একটি প্রাচীন গাছকে কেন্দ্র করে যুবক ও যুবতীরা যা করত, তা বর্ণনা করার শক্তি কলমের নেই। বন্ধ্যা নারীরা সন্তান লাভের কামনায় সেই গাছটিকে আঁকড়ে ধরত। আদ-দিরইয়াহর অদূরে একটি গুহা ছিল যেখানে অত্যন্ত লজ্জাজনক ও জঘন্য অশ্লীল কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো; এভাবেই সবকিছু চলতে থাকত।

এসব কিছুই চলত ধর্মের নামে। ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে সামান্য জ্ঞানসম্পন্ন হাতেগোনা যে কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, তারা নিজেদের মধ্যে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করার মতো কোনো অনুপ্রেরণা বা শক্তি খুঁজে পেতেন না। আর নজদের অধিকাংশ আলেমের অবস্থা কি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের চেয়ে ভিন্ন কিছু ছিল!!

অন্যদিকে রাজনৈতিক অবস্থা ছিল আরও কলুষিত ও শোচনীয়। নজদের সর্বত্র গৃহযুদ্ধের আগুন জ্বলছিল। নজদের উত্তরাঞ্চলে (জাবাল শাম্মার) তাঈ গোত্রের ওপর বনু খালিদ গোত্র আধিপত্য বিস্তার করে ছিল।

--------------------------------------------

১. নজদে প্রচলিত বিদআতসমূহের বিবরণ এই অঞ্চলের ইতিহাস বিষয়ে রচিত সকল কিতাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। যারা বিস্তারিত জানতে চান তারা নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখতে পারেন: ১- রওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম লি মুরতাদি হালি আল-ইমাম ওয়া তাআদ্দুদি গাযওয়াতি যাউইল ইসলাম, লেখক: শেখ হুসাইন ইবনে গাননাম (মৃত্যু: ১২২৫ হিজরি) পৃষ্ঠা: ৭-১৬। ২- উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নজদ, লেখক: উসমান ইবনে বিশর আন-নজদি (মৃত্যু: ১২৮৮ হিজরি) পৃষ্ঠা: ৬। এই দুটি কিতাব নজদের ইতিহাসের মূল উৎস। ৩- আল-হাদিয়্যাতুস সানিয়্যাহ ওয়াত তুহফাতুল ওয়াহ্হাবিয়্যাতুন নজদিয়্যাহ, সুলায়মান ইবনে সাহমান প্রণীত পৃষ্ঠা: ৯-৪৭, এবং একই লেখকের 'তাবরিআতুশ শায়খাইন আল-ইমামাইন', পৃষ্ঠা: ১৬১-১৬৩। ৪- ফিলবির রচিত 'অ্যারাবিয়া', পৃষ্ঠা: ৪-৫। উল্লেখ্য যে, ফিলবি এবং ইবনে সাহমানের সূত্রের মূল উৎস হলো ইবনে গাননামের কিতাব।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٠)
والحسا والذي يظهر أن إمارة العيينة كانت تعترف بسلطان بني خالد. وفي الدرعية كانت قبيلة عنزة ترسخ أقدامها، وفي منفوحة على قرب من الدرعية قامت أمارة دواس. ونجد مع صغره وضيق أطرافه كان مفرقا بين دويلات وإمارات صغيرة عديدة1.

ولادة محمد بن عبد الوهاب:

في هذه الأيام المظلمة والأحوال السيئة فتح محمد بن عبد الوهاب عينيه، وولد في بيت معروف بالعلم في مدينة العيينة2. وذلك في سنة 1115 هـ (1703 م) 3 فكان جده سليمان بن على بن مشرف من أشهر العلماء في عصره، وكان مركزا ومرجعا للعلماء

--------------------------------------------

1 فلبي ص: 4- 6. وليس من السهل فهم جغرافية العرب، وخاصة نجد؛ لأنه لا يوجد هناك تقسيم بالولايات والمديريات كما يوجد في بلادنا، وحتى قبل هذا العصر ما كانت توجد هناك وحدة سياسية تذكر، وبالإجمال فإن بلاد نجد منقسمة إلى ثلاث نواح كبيرة. 1- الناحية الشمالية الغربية وتسمى شمر ومن مدنها الشهيرة حائل والقصر. 2- الناحية الشمالية الشرقية وتسمى القصيم، ومن مدنها الشهيرة عنيزة وبريدة. 3- الناحية الجنوبية وتسمى العارض، ومن أشهر بلادها الرياض. وهي الآن عاصمة المملكة العربية السعودية، وتسمى ناحية العارض "بجبل اليمامة" أيضا. وهذا في الأصل اسم الجبل والناحية التي تقع حولها تسمى "وادي حنيفة" أو "اليمامة"، وتقع مدينة العيينة مسقط رأس شيخ الإسلام "والدرعية" مركز دعوته في هذا الوادي، وهما كالقلب في نجد. وللتوسع براجع دائرة المعارف الإسلامية كلمة "arabia" (المجلد الأول ص: 371) أو "نجد nejd" (المجلد الثالث ص: 893- 896) . (*) لا تعرف مدينة تسمى "القصر" وأما القصيم فيقع في الناحية الشمالية الغربية (المترجم) .

2 العيينة بضم العين وهو تصغير للعين ويقال لها الآن أيضا "بار الشيخ".

3 ابن غنام 1 / 30 وابن بشر 1 / 138 ، ومن الكتاب المتأخرين ذكر أحمد زيني دحلان تاريخ الولادة سنة 1111 هـ (الدرر السنية ص: 138) خلاصة الكلام ص: 229) وذكر الأمير شكيب أرسلان (حاضر العالم الإسلامي 4 / 161) 1116 هـ وكلاهما خطأ وهكذا هيوجس (huges في كتابه "dictionary of islam" (ص: 659) وولفر ولفرد في "a piligrimage to najd" (ملحق ص: 125) وزويمر في كتابه "thecradlo of islam arabia" وغيرهم قد ذكروا ولادته في سنة 1691 م وهو غلط فاحش. وقد أخطأ هوغارث أيضا إذ ذكرها في سنة 1696 م. وإتباعا لهذه المراجع قد يخطئ أصحابنا أيضا.
আল-হাসা এবং দৃশ্যত যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, আল-উয়ায়না ইমারত বনু খালিদের কর্তৃত্ব স্বীকার করত। আর দিরইয়ায় আনযা গোত্র তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করছিল, এবং দিরইয়ার নিকটবর্তী মানফুহায় দাওয়াস ইমারত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নজদ তার ক্ষুদ্র আয়তন ও সংকীর্ণ সীমান্ত সত্ত্বেও অনেকগুলো ছোট ছোট রাষ্ট্র ও ইমারতে বিভক্ত ছিল১।

মুhammad বিন আব্দুল ওয়াহাবের জন্ম:

এই অন্ধকার দিন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব চোখ মেলেন, এবং তিনি আল-উয়ায়না শহরের একটি ইলম বা জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন২। আর তা ছিল ১১১৫ হিজরি (১৭০৩ খ্রিস্টাব্দ) সনে৩। তাঁর দাদা সুলাইমান বিন আলী বিন মুশরাফ ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম প্রসিদ্ধ আলেম, এবং তিনি ছিলেন আলেমদের কেন্দ্রবিন্দু ও আশ্রয়স্থল।

--------------------------------------------

১ ফিলবি, পৃষ্ঠা: ৪-৬। আরবদের ভূগোল বোঝা সহজ নয়, বিশেষ করে নজদের; কারণ সেখানে আমাদের দেশের মতো প্রদেশ বা প্রশাসনিক বিভাগে কোনো বিভাজন নেই। এমনকি এই যুগের আগেও সেখানে উল্লেখ করার মতো কোনো রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। সারসংক্ষেপে, নজদ ভূখণ্ড তিনটি বড় অঞ্চলে বিভক্ত: ১- উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল, যাকে শাম্মার বলা হয় এবং এর বিখ্যাত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে হায়েল ও আল-কাসর। ২- উত্তর-পূর্ব অঞ্চল, যাকে কাসিম বলা হয় এবং এর বিখ্যাত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে উনায়জাহ ও বুরায়দাহ। ৩- দক্ষিণ অঞ্চল, যাকে আল-আরিদ বলা হয় এবং এর সবচেয়ে বিখ্যাত শহর হলো রিয়াদ। এটি বর্তমানে সৌদি আরব রাজ্যের রাজধানী। আল-আরিদ অঞ্চলকে "জাবাল ইয়ামামা"ও বলা হয়। মূলত এটি পাহাড়ের নাম এবং এর চারপাশের অঞ্চলকে "ওয়াদি হানিফা" বা "ইয়ামামা" বলা হয়। শাইখুল ইসলামের জন্মস্থান আল-উয়ায়না এবং তাঁর দাওয়াতী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র দিরইয়াহ এই উপত্যকাতেই অবস্থিত, যা নজদের হৃদপিণ্ড স্বরূপ। বিস্তারিত জানতে দেখুন 'দায়িরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া' বা এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম, "arabia" শব্দ (প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৭১) অথবা "nejd" (তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৯৩-৮৯৬)। (*) "আল-কাসর" নামে কোনো শহরের কথা জানা নেই, আর কাসিম উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত (অনুবাদক)।

২ আল-উয়ায়না শব্দটি 'আইন' বর্ণে পেশ (যম্মা) দিয়ে গঠিত, এটি 'আইন' শব্দের ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ। বর্তমানে একে "বারুশ শাইখ"ও বলা হয়।

৩ ইবনে গাননাম ১/৩০ এবং ইবনে বিশর ১/১৩৮। পরবর্তী লেখকদের মধ্যে আহমদ জাইনি দাহলান জন্মের তারিখ ১১১১ হিজরি উল্লেখ করেছেন (আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১৩৮; খুলাসাতুল কালাম, পৃষ্ঠা: ২২৯)। আমির শাকিব আরসালান (হাদিরুল আলমিল ইসলামি ৪/১৬১) ১১১৬ হিজরি উল্লেখ করেছেন, আর এ দুটিই ভুল। একইভাবে হিউজেস (huges) তাঁর "dictionary of islam" (পৃষ্ঠা: ৬৫৯) বইয়ে, উইলফ্রেড (wilfrid) "a pilgrimage to nejd" (পরিশিষ্ট, পৃষ্ঠা: ১২৫) বইয়ে, জুইমার (zwemer) তাঁর "the cradle of islam arabia" বইয়ে এবং আরও অনেকে তাঁর জন্ম ১৬৯১ খ্রিস্টাব্দে উল্লেখ করেছেন, যা একটি চরম ভুল। হোগার্থও ভুল করেছেন যখন তিনি ১৬৯৬ খ্রিস্টাব্দের কথা উল্লেখ করেছেন। এই সূত্রগুলো অনুসরণ করে আমাদের দেশের লোকেরাও ভুল করতে পারে।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣١)
وله كتاب مشهور في المناسك، وذكر صاحب السحب الوابلة أن الحنابلة في الغالب يعتمدون على هذا الكتاب في باب المناسك1.

وكان عمه إبراهيم بن سليمان عالما جليلا أيضا، وابنه عبد الرحمن (م 1256 هـ) كان فقيها وأديبا، ووالد الشيخ وهو عبد الوهاب بن سليمان (م 1153 هـ) ، كان ذا باع طويل في الفقه، وبقي قاضيا مدة طويلة في العيينة وحريملاء.

وسليمان بن عبد الوهاب (م 1208 هـ) ، كان صاحب علم عظيم وكذلك كان ولده عبد العزيز (م 1263 هـ) وكان موجودا في حريملاء عند الغارة المصرية في سنة 1236 هـ، وحبس وذاق أنواعا من المصائب، وأحرقت مكتبته ونهبت أمواله2.

نشأته:

كان محمد بن عبد الوهاب منذ نعومة أظفاره بارزا متفوقا في الذكاء وقوة الحفظ، وقد حفظ القرآن الكريم وعمره أقل من عشر سنين. ثم درس كتب الفقه الحنبلي على والده، وطالع كتب الحديث والتفسير بكثرة في صغره.

وقد أعجب والده عبد الوهاب بذكاء هذا الولد الطامح ومواهبه، ويقول: إنه قد استفاد من ذكاء ابنه البارع، وسعة اطلاعه أيام تدريسه. وكان الشيخ عبد الوهاب متأثرا جدا بولده حتى أنه كان يقدمه

--------------------------------------------

1 ونسبه الكامل هكذا: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد بن بريد بن مشرف إلخ وتوجد تراجم عدة أشخاص من هذا البيت في كتاب "السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة "مخطوط في المكتبة الشرقية ببتنه" وهم: 1- سليمان بن علي بن مشرف ص: 103. 2- إبراهيم بن سليمان بن علي ص: 8 ، 9. 3- عبد الوهاب بن سليمان بن علي وسليمان بن عبد الوهاب وعبد العزيز بن سليمان (م 1263 هـ) ص: 171 ، 172. 4- عبد الوهاب بن عبد الله بن عبد الوهاب بن مشرف (م 1125 هـ) ص: 172.

2 عنوان المجد 1 / 236.
হজ পালনের নিয়মাবলি (মানাসিক) বিষয়ে তাঁর একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রয়েছে এবং আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, হাম্বলিগণ সাধারণত মানাসিক অধ্যায়ে এই গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেন।

তাঁর চাচা ইবরাহিম ইবনে সুলাইমানও একজন মহান আলেম ছিলেন এবং তাঁর পুত্র আব্দুর রহমান (মৃত্যু: ১২৫৬ হিজরি) একজন ফকিহ ও সাহিত্যিক ছিলেন। আর শাইখের পিতা আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে সুলাইমান (মৃত্যু: ১১৫৩ হিজরি) ফিকহ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং দীর্ঘকাল উয়াইনা ও হারিমলায় কাজি হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

সুলাইমান ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (মৃত্যু: ১২০৮ হিজরি) মহান ইলমের অধিকারী ছিলেন এবং একইভাবে তাঁর পুত্র আব্দুল আজিজও (মৃত্যু: ১২৬৩ হিজরি)। ১২৩৬ হিজরিতে মিশরের আক্রমণের সময় তিনি হারিমলায় উপস্থিত ছিলেন; তাঁকে বন্দি করা হয় এবং তিনি নানা প্রকার বিপদের স্বাদ গ্রহণ করেন। তাঁর পাঠাগার পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর ধন-সম্পদ লুট করা হয়।

তাঁর বেড়ে ওঠা:

মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব শৈশব থেকেই মেধা ও মুখস্থশক্তির প্রখরতায় অনন্য ও শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি দশ বছরের কম বয়সেই পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তাঁর পিতার কাছে হাম্বলি ফিকহের গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন করেন এবং ছোটবেলাতেই প্রচুর পরিমাণে হাদিস ও তাফসিরের কিতাবসমূহ পাঠ করেন।

তাঁর পিতা আব্দুল ওয়াহহাব এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী বালকের মেধা ও প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং বলতেন যে, তিনি তাঁর পাঠদানের দিনগুলোতে তাঁর পুত্রের তীক্ষ্ণ মেধা ও ব্যাপক পড়াশোনা থেকে উপকৃত হয়েছেন। শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর পুত্রের দ্বারা এতটাই প্রভাবিত ছিলেন যে, এমনকি তিনি তাঁকে অগ্রাধিকার দিতেন।

--------------------------------------------

১ তাঁর পূর্ণ বংশলতিকা হলো: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে সুলাইমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে রাশিদ ইবনে বারীদ ইবনে মুশাররাফ ইত্যাদি। পাটনার ওরিয়েন্টাল লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত "আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দরাইহিল হানাবিলাহ" গ্রন্থে এই বংশের বেশ কয়েকজন ব্যক্তির জীবনী পাওয়া যায়, তাঁরা হলেন: ১- সুলাইমান ইবনে আলী ইবনে মুশাররাফ, পৃষ্ঠা: ১০৩। ২- ইবরাহিম ইবনে সুলাইমান ইবনে আলী, পৃষ্ঠা: ৮, ৯। ৩- আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে সুলাইমান ইবনে আলী, সুলাইমান ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং আব্দুল আজিজ ইবনে সুলাইমান (মৃত্যু: ১২৬৩ হিজরি), পৃষ্ঠা: ১৭১, ১৭২। ৪- আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মুশাররাফ (মৃত্যু: ১১২৫ হিজরি), পৃষ্ঠা: ১৭২।

২ উনওয়ানুল মাজদ ১ / ২৩৬।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٢)
للإمامة مع صغره. تزوج وهو صغير السن، ثم أدى فريضة الحج، وأقام شهرين في المدينة المنورة، ثم رجع إلى العيينة، واشتغل في طلب العلم من والده، ونسخ المذكرات والكتب العلمية حتى إنه كان يكتب عشرين صفحة في جلسة واحدة1.

في سبيل العلم:

كانت القدرة الإلهية قد وهبت ابن عبد الوهاب قلبا مرهف الحس شديد التأثر، وكان يتألم أشد الألم لما يرى حوله من الحالة البائسة للقرى والمدن في نجد، وكان العلماء في حالة سيئة فضلا عن العوام. وقد أخذ محمد عن والده عبد الوهاب كل ما كان يستطيع، وكان والده من كبار علماء نجد، ولم يأل جهدا في تعليم ولده، ولكن كيف يمكن لمجدد المستقبل ومصلحه أن يرتوي غرفتين من الماء.

وكان قد تشرف بحج بيت الله الحرام، وكانت مركزية الحجاز قد أثرت في نفسه، وحينما فكر في طلب العلم قصد الحجاز، وحينما كان الشاب الطامح في العشرين من عمره خرج يجول ويصول في الفيافي طلبا لليلى العلم وتوجه إلى الحجاز2.

حج بيت الله وزار المسجد النبوي مرة ثانية، ثم حضر مجالس العلماء، وانقطع لطلب العلم واستفاد بالخصوص بصحبة الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف، أحد العلماء المشهورين من المجمعة في بلاد نجد، وكان قد سكن في جوار الرسول عليه الصلاة والسلام3.

وتستطيع أن تعرف جلالة قدر الشيخ عبد الله بن إبراهيم النجدي ثم المدني وإخلاصه من هذه الرواية التي رواها الشيخ محمد بن عبد الوهاب. قال:

--------------------------------------------

1 ابن غنام: 1 / 30.

2 هذه قصة سنة 1135 هـ تقريبا.

3 كان الشيخ عبد الله بن إبراهيم من الفقهاء المشهورين في زمانه. سافر إلى الشام واستفاد بعالمه الحنبلي الشهير الشيخ أبو المواهب الحنبلي (م 1126 هـ) ، وكان ابنه إبراهيم بن عبد الله بن إبراهيم (م 1185 هـ) من العلماء المعروفين أيضا وكتابه "العذب الفائض في شرح ألفية الفرائض" من الكتب المشهورة. (السحب الوابلة- ص 11 ، 12) .
ইমামতের জন্য তার অল্প বয়স সত্ত্বেও। তিনি অল্প বয়সেই বিবাহ করেন, এরপর হজ্জের ফরজ আদায় করেন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় দুই মাস অবস্থান করেন। তারপর তিনি উয়াইনাহ-তে ফিরে আসেন এবং তার পিতার নিকট ইলম অর্জনে মশগুল হন। তিনি নোট এবং ইলমী কিতাবাদি অনুলিপি করতেন, এমনকি তিনি এক বসায় বিশ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লিখতেন।১

ইলমের পথে:

ঐশ্বরিক ক্ষমতা ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গভীরভাবে প্রভাবিত হওয়ার মতো হৃদয় দান করেছিলেন। তিনি নজদের গ্রাম ও শহরগুলোর শোচনীয় অবস্থা দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হতেন। সাধারণ মানুষের কথা তো বলাই বাহুল্য, আলেমদের অবস্থাও ছিল অত্যন্ত খারাপ। মুহাম্মদ তার পিতা আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট থেকে যতটুকু সম্ভব জ্ঞান আহরণ করেন। তার পিতা ছিলেন নজদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম এবং তিনি তার পুত্রকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি। কিন্তু ভবিষ্যতের একজন মুজাদ্দিদ ও সংস্কারক কীভাবে মাত্র দু-এক আঁজলা পানি পান করে তৃপ্ত হতে পারেন?

তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ্জ করার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন এবং হিজাজের কেন্দ্রীয় অবস্থান তার অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। যখন তিনি ইলম অর্জনের চিন্তা করলেন, তখন তিনি হিজাজ অভিমুখে গমনের সংকল্প করলেন। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই যুবক যখন বিশ বছর বয়সে পদার্পণ করলেন, তখন তিনি ইলম রূপী লায়লার সন্ধানে মরুভূমি ও প্রান্তরসমূহ অতিক্রম করতে বেরিয়ে পড়লেন এবং হিজাজের দিকে অগ্রসর হলেন।২

তিনি আল্লাহর ঘরের হজ্জ পালন করলেন এবং দ্বিতীয়বারের মতো মসজিদে নববী যিয়ারত করলেন। এরপর তিনি আলেমদের মজলিসে উপস্থিত হলেন এবং নিজেকে ইলম অর্জনের জন্য সপে দিলেন। তিনি বিশেষ করে নজদ ভূখণ্ডের মাজমাআ শহরের অন্যতম প্রসিদ্ধ আলেম শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহীম বিন সাইফ-এর সাহচর্য থেকে উপকৃত হন, যিনি রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সান্নিধ্যে বসবাস করতেন।৩

আপনি শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহীম নজদী অতঃপর মাদানীর উচ্চ মর্যাদা ও ইখলাস সম্পর্কে শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের বর্ণিত এই বর্ণনা থেকে জানতে পারবেন। তিনি বলেন:

--------------------------------------------

১ ইবনে গান্নাম: ১ / ৩০।

২ এটি আনুমানিক ১১৩৫ হিজরী সালের ঘটনা।

৩ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহীম তার সময়ের একজন প্রসিদ্ধ ফকীহ ছিলেন। তিনি শাম সফর করেন এবং সেখানকার বিখ্যাত হাম্বলী আলেম শাইখ আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১১২৬ হিজরী) থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তার পুত্র ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহীম (মৃত্যু ১১৮৫ হিজরী)-ও একজন পরিচিত আলেম ছিলেন এবং তার রচিত কিতাব "আল-আযব আল-ফাইদ ফি শারহ আলফিয়্যাত আল-ফারাইদ" একটি প্রসিদ্ধ কিতাব। (আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ- পৃষ্ঠা ১১, ১২)।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٣)
"كنت عنده يوما فقال لي: تريد أن أريك سلاحا أعددته للمجمعة؟ قلت: نعم.

فأدخلني منزلا عنده فيه كتب كثيرة وقال: هذا الذي أعددنا لها1. وتعرف بالشيخ محمد حياة السندي (م 1165 هـ) بوساطة الشيخ عبد الله بن إبراهيم نفسه، وكان من أساتذة الحديث المعتمدين في المدينة، وصار ابن عبد الوهاب من تلامذته الخواص، ومكث عنده زمنا طويلا2.

ويذكر في هذا الصدد تتلمذ ابن عبد الوهاب على العالم الشامي الشهير الشيخ علي الداغستاني (م 1199 هـ) ولكن العقل يستبعده3 وكذلك ورد في بعض الكتب ذكر استفادته من المحدث الكبير محمد بن سليمان الكردي المدني (م 1194 هـ) إلا أن السنين والأحوال تشهد بعكس هذا بالإضافة إلى سكوت التواريخ المعتمدة المعاصرة4.

وقد ذكر الأستاذ المحترم السيد سليمان الندوي أن الشاه ولي الله الدهلوي (م 1176 هـ) وشيخ الإسلام - رحمهما الله - قد استفادا من منبع واحد أي: المسجد النبوي5.

--------------------------------------------

1 عنوان المجد 1 / 7.

2 عنوان المجد 1 / 25 وسلك الدرر 4 / 34.

3 كان الشيخ علي الداغستاني يحتل مكانا عاليا في علماء دمشق. أقام مدة في المدينة وروى عن الشيخ محمد حياة السندي، واستفاد منه عشرات من الناس. ولد في سنة 1125 هـ، ورحل إلى المدينة النبوية، وطلب العلم ومكث مدة ثم رجع سنة 1150 هـ (سلك الدرر 3 / 215) ، وعلى هذا فيكون صغيرا جدا أثناء إقامة الشيخ في المدينة، ولذلك استبعد استفادة الشيخ منه. وقد ذكر هذا من المعاصرين محب الدين الخطيب (الزهراء رجب 45 هـ) ومحمد حامد الفقي (أثر الدعوة الوهابية في الإصلاح الديني ص: 47) .

4 لم يذكر ابن غنام ولا ابن بشر تتلمذه على الشيخ سليمان الكردي، وتفرد بذكره أحمد زيني دحلان فقط. (الدرر السنية ص: 35- 42) وبكل قوة. ولكن كتابه هذا -وكذلك كتابه خلاصة الكلام في أمراء البلد الحرام- مليء بالأخطاء، بل الافتراءات حتى أن القلب لا يرضى أن يقبل هذه الرواية التي لا تضر شيئا، ثم إن السنين تشهد بخلافه. فمحمد بن سليمان الكردي توفي سنة 1194 هـ عن عمر سبع وستين سنة (سلك الدرر 4 / 111 ، 112) ، وهكذا تكون ولادته في سنة 1127 هـ تقريبا، ويكون صغير السن أيام طلب الشيخ وتتلمذه عليه بعيد.

5 مذهب سلاطين نجد معارف نوفمبر سنة 24.
আমি একদিন তাঁর নিকট ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: "তুমি কি সেই অস্ত্র দেখতে চাও যা আমি মাজমাআহ্‌র জন্য প্রস্তুত করেছি?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।"

অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর নিকটস্থ একটি ঘরে নিয়ে গেলেন যেখানে প্রচুর কিতাব ছিল এবং বললেন: "এটাই আমরা সেটির জন্য প্রস্তুত করেছি ১।" আর তিনি শেখ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিমের মাধ্যমেই শেখ মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধী (মৃত্যু ১১৬৫ হিজরী)-এর সাথে পরিচিত হন, যিনি মদিনার নির্ভরযোগ্য হাদীস শাস্ত্রের শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন এবং ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর বিশেষ ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করেন ২।

এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত শামী আলেম শেখ আলী দাগেস্তানী (মৃত্যু ১১৯৯ হিজরী)-এর নিকট ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের শিষ্যত্ব গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়, কিন্তু যুক্তি এটাকে অসম্ভব মনে করে ৩। একইভাবে কোনো কোনো কিতাবে মহান মুহাদ্দিস মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-কুর্দি আল-মাদানী (মৃত্যু ১১৯৪ হিজরী) থেকে তাঁর জ্ঞান অর্জনের কথা বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সমসাময়িক নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থসমূহের নীরবতার পাশাপাশি বছর এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা এর বিপরীতে সাক্ষ্য দেয় ৪।

শ্রদ্ধেয় উস্তাদ সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী উল্লেখ করেছেন যে, শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (মৃত্যু ১১৭৬ হিজরী) এবং শায়খুল ইসলাম - আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন - উভয়ই একই উৎস থেকে উপকৃত হয়েছেন, অর্থাৎ: মসজিদে নববী ৫।

--------------------------------------------

১ উনওয়ানুল মাজদ ১/৭।

২ উনওয়ানুল মাজদ ১/২৫ এবং সিলকুদ দুরার ৪/৩৪।

৩ শেখ আলী দাগেস্তানী দামেস্কের আলেমদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি মদিনায় কিছুকাল অবস্থান করেন এবং শেখ মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধী থেকে বর্ণনা করেন এবং বহু মানুষ তাঁর থেকে উপকৃত হন। তিনি ১১২৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মদিনা নববীতে গমন করে ইলম অর্জন করেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করে ১১৫০ হিজরীতে ফিরে যান (সিলকুদ দুরার ৩/২১৫)। এ অনুযায়ী, মদিনায় শেখের অবস্থানের সময় তিনি অত্যন্ত অল্পবয়সী ছিলেন, এজন্যই শেখের তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা লাভের বিষয়টি অসম্ভব মনে করা হয়। সমসাময়িকদের মধ্যে মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব (আয-যাহরা, রজব ১৩৪৫ হিজরী) এবং মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি (আসারুদ দাওয়াহ আল-ওয়াহহাবিয়া ফিল ইসলাহ আদ-দীনি, পৃষ্ঠা: ৪৭) এটি উল্লেখ করেছেন।

৪ ইবনে গান্নাম বা ইবনে বিশর শেখ সুলাইমান আল-কুর্দীর কাছে তাঁর ছাত্রত্বের কথা উল্লেখ করেননি, এবং শুধুমাত্র আহমদ যাইনি দাহলান এককভাবে এটি অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন (আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৩৫-৪২)। কিন্তু তাঁর এই কিতাবটি - এবং তেমনিভাবে তাঁর 'খুলাসাতুল কালাম ফি উমারাইল বালাদিল হারাম' কিতাবটি - ভুলে ভরা, বরং মিথ্যাচারে পূর্ণ, এমনকি মন এই বর্ণনাটি গ্রহণ করতে সায় দেয় না যা কোনো ক্ষতিই করে না; উপরন্তু বছরসমূহ এর বিপরীতে সাক্ষ্য দেয়। মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-কুর্দি ৬৭ বছর বয়সে ১১৯৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (সিলকুদ দুরার ৪/১১১, ১১২)। সে হিসেবে তাঁর জন্ম ১১২৭ হিজরীর কাছাকাছি হয় এবং শেখের ইলম অন্বেষণের দিনগুলোতে তাঁর বয়স কম হওয়া তাঁর নিকট থেকে ছাত্রত্ব গ্রহণ করাকে সুদূরপরাহত করে দেয়।

৫ মাজহাব সালাতিন নাজদ, মাআরিফ, নভেম্বর ১৯২৪ সাল।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٤)
ولا شك في وحدة المدرسة (المسجد النبوي) مع وحدة المصدر الحقيق أي: الكتاب والسنة إلا أننا لا نعلم وحدة الأساتذة.

ذكر لبيب البتنوني طلبه العلم في مكة المكرمة لكن لا تؤيده أي رواية صحيحة معتمدة. توجه الشيخ من المدينة النبوية إلى البصرة، ودرس على الشيخ محمد المجموعي الحديث واللغة ولازم صحبته. ويروي ابن بشر عن أستاذه عثمان بن منصور الناصري أن أولاد الشيخ محمد المجموعي أيضا كانوا ذوي باع طويل في العلم1.

وكان يريد الشام أيضا2، لكن قلة الزاد حالت دون همه هذا فرجع إلى حريملاء (نجد) بطريق الأحساء حيث انتقل والده في سنة 1139 هـ/ 1726 م من العيينة.

في ميدان الدعوة:

كان ابن عبد الوهاب مولعا بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر منذ صغر سنه، وصارت البدع تقلق باله منذ دراسته الابتدائية في الفقه والحديث في العيينة. وكلما وجد عملا يخالف أصول الدين حاول أداء فريضة النهي عن المنكر.

توجه إلى الحديث بعد ما استفاد في المدينة النبوية من محمد حياة السندي، وعبد الله بن إبراهيم بن سيف النجدي، ثم رفع بصره ونظر حواليه، فرأى العالم مغطى في رداء أسود من الضلال، وحسبما عرفنا أن الشيخ أول ما رفع صوته بإنكار الاستغاثة كان في تلك الأيام وعيل صبره حينما رأى أعمال الجهلة عند قبر الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم. وذات

--------------------------------------------

1 عنوان المجد ص 1 / 8.

2 أما مرغليوث فقد تجاوز الحد (دائرة المعارف الإسلامية 4: 1086 ، 1089) في الافتراءات والأكاذيب، حيث يقول: تزوج في بغداد وقد ماتت وتركت ألفين.. زار كردستان وهمذان، وقم، وأصفهان وأقام هناك. كذلك برائجس abrief history of wahhaby p.7) وهيوجز (ص: 659) وزويمر (ص: 192) وبالغريف (4: 363) ذكر بعضهم أنه سافر إلى بغداد، وبعضهم ذكر سفره إلى دمشق، وبعضهم جمع بينهما. ولكن الحقيقة أن شيخ الإسلام لم يجد فرصة التجاوز عن البصرة، ولا نجد دليلا على سفره إلى بغداد أو الشام أو مصر.
প্রকৃত উৎসের অভিন্নতার সাথে সাথে অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মসজিদে নববী) অভিন্নতার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই; তবে আমরা শিক্ষকদের অভিন্নতার বিষয়ে জানি না।

লাবীব আল-বাতনুনী মক্কা মুকাররামায় তাঁর ইলম অর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু কোনো সহীহ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনা একে সমর্থন করে না। শায়খ মদীনা নববী থেকে বসরার অভিমুখে যাত্রা করেন এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ীর কাছে হাদীস ও ভাষা শিক্ষা করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করেন। ইবনে বিশর তাঁর শিক্ষক উসমান বিন মনসুর আন-নাসিরীর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, শায়খ মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ীর সন্তানরাও ইলমের ক্ষেত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।১

তিনি শামের (সিরিয়া অঞ্চল) দিকেও যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন২, কিন্তু পাথেয়র স্বল্পতা তাঁর এই সংকল্পের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তিনি আল-আহসা হয়ে হুরয়মিলায় (নজদ) ফিরে আসেন, যেখানে তাঁর পিতা ১১৩৯ হিজরী/১৭২৬ খ্রিস্টাব্দে উয়াইনা থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।

দাওয়াতের ময়দানে:

ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ছোটবেলা থেকেই সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। উয়াইনায় ফিকহ ও হাদীসের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সময় থেকেই বিদআতসমূহ তাঁকে বিচলিত করতে শুরু করে। যখনই তিনি দ্বীনের মূলনীতির পরিপন্থী কোনো কাজ দেখতেন, তখনই তিনি অসৎ কাজের নিষেধের (নাহি আনিল মুনকার) আবশ্যিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতেন।

মদীনা নববীতে মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধী এবং আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহীম বিন সাইফ আন-নাজদী থেকে উপকৃত হওয়ার পর তিনি হাদীস শাস্ত্রের দিকে মনোনিবেশ করেন। এরপর তিনি দৃষ্টি প্রসারিত করে তাঁর চারপাশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং দেখতে পান যে বিশ্ব বিভ্রান্তির কালো চাদরে আবৃত। আমরা যতটুকু জানি, শায়খ সেই সময়েই সর্বপ্রথম ইস্তিগাসাহর (গায়রুল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা) প্রতিবাদে তাঁর কণ্ঠ সোচ্চার করেন এবং সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের নিকট জাহেল বা অজ্ঞ লোকদের কর্মকাণ্ড দেখে তাঁর ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে। আর একদিন

--------------------------------------------

১ উনওয়ানুল মাজদ, পৃষ্ঠা ১/৮।

২ অন্যদিকে মারগোলিউথ (দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ৪: ১০৮৬, ১০৮৯) অপবাদ ও মিথ্যাচারের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন: তিনি বাগদাদে বিবাহ করেছিলেন এবং সেই স্ত্রী দুই হাজার মুদ্রা রেখে মারা যান। তিনি কুর্দিস্তান, হামদান, কুম এবং ইসফাহান সফর করেন এবং সেখানে অবস্থান করেন। একইভাবে ব্রিজেস (এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব ওহাবী, পৃষ্ঠা ৭), হিউজেস (পৃষ্ঠা: ৬৫৯), জুইমার (পৃষ্ঠা: ১৯২) এবং পালগ্রেভ (৪: ৩৬৩)-এর ক্ষেত্রেও তাই; তাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে তিনি বাগদাদ সফর করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর দামেস্ক সফরের কথা উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ উভয়টিরই উল্লেখ করেছেন। তবে প্রকৃত সত্য এই যে, শায়খুল ইসলাম বসরার বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাননি এবং বাগদাদ, শাম বা মিশরে তাঁর ভ্রমণের কোনো প্রমাণ আমরা পাই না।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٥)
مرة كان واقفا عند الحجرة النبوية، وكانت سوق البدع نافقة أمامه إذ مر عليه أستاذه الشيخ محمد حياة السندي، فسأله الشيخ: ماذا تقول في هؤلاء؟

فأجاب الأستاذ: ((إنّ هؤلاء متبّر مّا هم فيه وباطلٌ ما كانوا يعملون)) 1. وازداد هذا الشعور في البصرة فصار ينهى عن المنكر بلا خوف، ونتيجة لذلك عانى أنواعا من المشقات، وفي الأخير اضطر إلى أن يترك البصرة. وزيادة على ذلك عذب الشيخ محمد المجموعي أيضا لأجل صلته به وعطفه عليه.

طرده الأشقياء في وقت الظهيرة، وكان يتقدم في هذه الحالة النكدة إلى الزبير2 حتى جف حلقه من شدة العطش إلى أن جاءه رجل صالح (وكان يملك حميرا يكريها) يسمى أبا حميدان، فساعده وسقاه وأركبه على حماره حتى أوصله إلى الزبير3. وكانت هذه مراحل أولية وأعمالا تمهيدية للدعوة الأساسية. فلما رجع إلى حريملاء صمم على استئصال البدع، ونشر التوحيد والأخلاق، وأسس دعوته على تحقيق التوحيد، وركز على إخلاص العبودية لله تعالى فقط أيا كان نوعها. وكان شعاره إعلاء كلمة الله.

وليس من لعب الأطفال التصدي لإصلاح أخلاق فسدت من القرون الطويلة، وكان يريد أن يوجد عواطف الصلاح والشفقة في البدو بدلا من عادات السرقة وقطع الطرق والخداع والنهب.. كانت غايته إصلاح عقيدة الجهال، وإقامتهم بباب الإله الحقيقي بدلا من الآلهة الباطلة والقبور والقباب. ولا يتجرأ على هذا كل من هب ودب. هذا عمل يقتضي الإيمان الخالص والعزيمة الصادقة، ويظهر من خلال تلك المصائب الشديدة التي عاناها الشيخ في هذا السبيل، والمشقات التي استقبلها صابرا ضاحكا مبتسما إنه كان متحليا بهذه الأوصاف حق التحلي.

--------------------------------------------

1 عنوان المجد 1: 7.

2 الزبير: قرية كبيرة قرب البصرة عمرت باسم الزبير بن العوام رضي الله عنه. وأهل هذه القرية معروفون باتباع السنه حتي الآن.

3 عنوان المجد 1: 8.
একবার তিনি নববী কক্ষের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর তাঁর সামনে বিদআতের বাজার সরগরম ছিল। এমন সময় তাঁর শিক্ষক শেখ মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধি তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেখ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "এদের ব্যাপারে তুমি কী বলো?"

উস্তাদ উত্তর দিলেন: "এরা যা করছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা করছিল তা বাতিল।" ১। বসরায় এই অনুভূতি আরও বৃদ্ধি পেল এবং তিনি নিৰ্ভয়ে অন্যায় কাজে বাধা দিতে শুরু করলেন। এর ফলে তাঁকে নানা ধরণের কষ্টের সম্মুখীন হতে হলো এবং অবশেষে তিনি বসরা ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। অধিকন্তু, শেখ মুহাম্মদ আল-মাজমুয়িকেও তাঁর সাথে সম্পর্ক এবং তাঁর প্রতি সহমর্মিতার কারণে নির্যাতন করা হয়েছিল।

পাপিষ্ঠরা তাঁকে দুপুরের তীব্র রোদে তাড়িয়ে দিল। এই শোচনীয় অবস্থায় তিনি যুবাইরের ২ দিকে এগোচ্ছিলেন, এমনকি প্রচণ্ড তৃষ্ণায় তাঁর কণ্ঠ শুকিয়ে গিয়েছিল। অবশেষে আবু হুমাইদান নামক একজন নেককার লোক (যিনি গাধা ভাড়া দিতেন) তাঁর কাছে আসলেন। তিনি তাঁকে সাহায্য করলেন, পানি পান করালেন এবং নিজের গাধায় চড়িয়ে তাঁকে যুবাইর ৩ পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। আর এগুলো ছিল মূল দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায় এবং প্রস্তুতিমূলক কাজ। যখন তিনি হুরয়মিলায় ফিরে এলেন, তখন তিনি বিদআত নির্মূল এবং তাওহীদ ও নৈতিকতা প্রচারের সংকল্প করলেন। তিনি তাওহীদ প্রতিষ্ঠার ওপর তাঁর দাওয়াতের ভিত্তি স্থাপন করলেন এবং যে কোনো ধরণের ইবাদত কেবলমাত্র মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন। আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করাই ছিল তাঁর স্লোগান।

দীর্ঘ শতাব্দী ধরে কলুষিত হয়ে থাকা নৈতিকতা সংস্কার করা কোনো ছেলেখেলা নয়। তিনি বেদুইনদের মাঝে চুরি, রাহাজানি, প্রতারণা ও লুণ্ঠনের অভ্যাসের পরিবর্তে নেক আমল ও সহমর্মিতার আবেগ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল মূর্খদের আকিদা সংস্কার করা এবং তাদের বাতিল উপাস্য, কবর ও গম্বুজসমূহের পরিবর্তে সত্য মাবুদের দুয়ারে উপস্থিত করা। যে কেউ চাইলেই এমন কাজে সাহসী হতে পারে না। এই কাজের জন্য প্রয়োজন খাঁটি ঈমান ও অটল সংকল্প। এই পথে শেখ যে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং যে সব কষ্ট তিনি ধৈর্য ও হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছিলেন, তা থেকেই স্পষ্ট হয় যে তিনি সত্যিই এই গুণাবলিতে ভূষিত ছিলেন।

--------------------------------------------

১ উনওয়ানুল মাজদ ১: ৭।

২ যুবাইর: বসরার নিকটবর্তী একটি বড় গ্রাম, যা যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নামে আবাদ করা হয়েছে। এই গ্রামের অধিবাসীরা এখন পর্যন্ত সুন্নাহর অনুসরণের জন্য পরিচিত।

৩ উনওয়ানুল মাজদ ১: ৮।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٦)
دعا إلى التوحيد وحاول النهي عن الخضوع لغير الله والاستغاثة بالقبور والأولياء، واتخاذ عباد الله الصالحين آلهة يعبدون. واتخذ خطوات عملية للقضاء على البدع التي دخلت في الطريقة المسنونة في زيارة القبور- ولا تسأل بعد هذا-، فقد تدفقت سيول المخالفات وبدأ الأعزاء والأقرباء يؤذونه حتى إن الوالد نفسه ما أعجبه هذا الصنيع. وكان الشيخ يراعي كل المراعاة أدب الوالد واحترام الأستاذ ولكن الخطوات المتقدمة لم تتراجع. تجاوز الإيذاء كل الحدود ولكن جبل الصبر والعزيمة لم يتزحزح عن مكانه. ومع كل العقبات والموانع مازال يستمر في دعوته، واشتهر أمره في جميع مدن العارض وحريملاء والعيينة والدرعية والرياض وغيرها، وبدأت تعاليمه تنتشر.

كانت الدعوة مستمرة- ولكن سيرها كان بطيئا - بسبب برودة الوالد1 وتوفي الوالد في سنة 1153 هـ/ 1740 م فاشتدت الدعوة. وبدأ يدعو الناس إلى اتباع السنة ونبذ البدع جهرا على رؤوس الأشهاد، وتأثر به بعض أهل حريملاء، فصاروا من أشد مناصريه ومساعديه، وبدءوا يحضرون دروس الشيخ ويستفيدون من مواعظه، وألف الشيخ "كتاب التوحيد" في هذه المدة2.

في العيينة سنة 1157 هـ/ 1744 م

خطت الدعوة خطواتها الأولى وحينذاك أحس الشيخ أنه من الصعب نجاح الدعوة في حالة الفوضى هذه. ففي كل ناحية أمير3 حتى في حريملاء نفسها قبيلتان تتناحران للرئاسة4، وفي مثل هذه الأحوال كان من الصعب اتخاذ أي خطوة مؤثرة.

--------------------------------------------

1 ذكر محمد حامد الفقي (ص: 51) أن الشيخ عبد الوهاب كان محايدا.

2 روضة الأفكار: 1 / 36.

3 نظرا للسهولة في الأمور الإدارية كانت البلاد تقسم في أربعة أقسام في العصر العثماني ولاية ولواء وقضاء وناحية. وكانت العارض من النواحي ذكرها الآلوسي باسم "ناحية العارض".

4 ذكرت في عنوان المجد (1: 9) فتنة بعض العبيد الذين كانوا يريدون قتل الشيخ. والكتب الأخرى التي ذكرت هذه القصة مأخذها في الغالب هو هذا.
তিনি তাওহীদের দাওয়াত দিলেন এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের সামনে মস্তক অবনত করা, কবর ও ওলীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করার পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করলেন। কবর যিয়ারতের সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে যেসব বিদআত প্রবেশ করেছিল, তা নির্মূল করার জন্য তিনি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন—এর পরের অবস্থা আর জিজ্ঞাসা করবেন না—বিরোধিতার প্রবল জোয়ার বইতে শুরু করল এবং নিকটজন ও আত্মীয়-স্বজন তাকে কষ্ট দিতে লাগল, এমনকি স্বয়ং পিতা এই কাজ পছন্দ করেননি। শায়েখ পিতার আদব এবং শিক্ষকের সম্মানের প্রতি পূর্ণ লক্ষ্য রাখতেন, কিন্তু তার দাওয়াতি পদক্ষেপসমূহ বিন্দুমাত্র পিছিয়ে যায়নি। নির্যাতনের মাত্রা সকল সীমা অতিক্রম করেছিল, কিন্তু ধৈর্য ও সংকল্পের পাহাড় নিজ স্থান থেকে নড়েনি। সকল বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও তিনি তার দাওয়াত অব্যাহত রাখেন এবং আল-আরিদ, হুরয়মিলা, আল-উয়ায়না, দিরইয়াহ, রিয়াদসহ অন্যান্য সকল শহরে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তার শিক্ষা প্রসারিত হতে শুরু করে।

দাওয়াত অব্যাহত ছিল—তবে পিতার শীতল মনোভাবের কারণে এর গতি ছিল ধীর। ১১৫৩ হিজরি/১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে পিতার ইন্তেকাল হয় এবং দাওয়াতী তৎপরতা আরও বেগবান হয়। তিনি প্রকাশ্যে জনসমক্ষে মানুষকে সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিদআত বর্জনের আহ্বান জানাতে শুরু করেন। হুরয়মিলার কিছু লোক তার দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তারা তার প্রবল সমর্থক ও সাহায্যকারীতে পরিণত হন। তারা শায়েখের দরসে উপস্থিত হতে শুরু করেন এবং তার উপদেশাবলী থেকে উপকৃত হন। শায়েখ এই সময়েই "কিতাবুত তাওহীদ" রচনা করেন।

১১৫৭ হিজরি/১৭৪৪ খ্রিস্টাব্দে আল-উয়ায়নায়

দাওয়াত তার প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছিল, তখন শায়েখ অনুভব করলেন যে, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে দাওয়াত সফল হওয়া কঠিন। কারণ প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে আমির ছিল, এমনকি হুরয়মিলাতেই দুটি গোত্র নেতৃত্বের জন্য পরস্পর লড়াই করছিল। এহেন পরিস্থিতিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছিল দুরূহ।

--------------------------------------------

১. মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৫১) উল্লেখ করেছেন যে, শায়েখ আবদুল ওয়াহাব নিরপেক্ষ ছিলেন।

২. রওজাতুল আফকার: ১ / ৩৬।

৩. প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য উসমানীয় যুগে দেশ চারটি ভাগে বিভক্ত ছিল: বিলায়ত, লিওয়া, কাজা ও নাহিয়াহ। আরিদ ছিল নাহিয়াহগুলোর অন্তর্ভুক্ত, আলূসী একে "নাহিয়াতুল আরিদ" নামে উল্লেখ করেছেন।

৪. 'উনওয়ানুল মাজদ' (১: ৯) গ্রন্থে কিছু ক্রীতদাসের ফিতনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যারা শায়েখকে হত্যা করতে চেয়েছিল। অন্যান্য যেসব বইয়ে এই কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর উৎস মূলত এটিই।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٧)
فصمم العزم على توحيد بلاد نجد كلها تحت راية واحدة، وكان يعرف كل المعرفة أنه ليس من السهل نشر الدعوة في البلاد القاصية والدانية في مدة قصيرة إلا بحماية أمير ذي قوى ونفوذ1، وهذه هي الأفكار التي دعته إلى مكاتبة أمير العيينة عثمان بن معمر.

ولما وجد الأمير مستعدا لقبول الحق انتقل بنفسه إلى العيينة، فأكرمه الأمير كل الإكرام وعظمه كل التعظيم، وتزوج الشيخ بجوهرة بنت عبد الله بن معمر فتوطدت العلاقات أكثر في الظاهر، ولكن الشيخ كان يحمل غاية وهدفا معينا ومحددا، فالعلاقات الشخصية والقبلية قد تكون وسيلة للوصول إلى ذلك الهدف والغاية، ولكنها ليست غاية. عرض الشيخ دعوته على أمير العيينة، وفسر له معنى التوحيد وطلب منه العون والمساعدة في هذه المهمة الجليلة.

وكلمات الشيخ هذه جديرة بأن تحفظ وتذكر:

"إني لأرجو إن أنت قمت بنصر لا إله إلا الله أن يظهرك الله تعالى، وتملك نجدا وأعرابها." 2 قدم هذا العرض إلى عثمان بكل صدق وإخلاص، ولكن مع الأسف لم يستطع أن يثبت على هذا فذاق عاقبته الوخيمة، وأخيرا انتقلت هذه النعمة من العيينة إلى الدرعية.

وعلى كل حال فقد وعد عثمان بن معمر بالمساعدة والنصر، واعتمادا على نصرته بدأ

--------------------------------------------

1 ولا يخفى على العاقل البصير أن القوة المادية لها أهمية عظيمة في نشر الدعوات والأفكار مع القوة المعنوية والحجج والبراهين. فإن أي دعوة إذا لم تكن لديها من القوة ما يحميها، ويذود عنها سرعان ما تتكالب عليها قوى الشر والطغيان حتى تستأصل خضراءها، وتظهر هذه الأهمية من قوله تعالى: {لقد أرسلنا رسلنا بالبينات وأنزلنا معهم الكتاب والميزان ليقوم الناس بالقسط وأنزلنا الحديد فيه بأس شديد ومنافع للناس وليعلم الله من ينصره ورسله بالغيب إن الله قوي عزيز.} سورة الحديد: 25. وكذلك قوله تعالى: {وقل رب أدخلني مدخل صدق وأخرجني مخرج صدق واجعل لي من لدنك سلطانا نصيرا} . (الإسراء: 81) قال قتادة: فيها أن نبي الله صلى الله عليه وسلم لا طاقة له بهذا الأمر إلا بسلطان، فسأل سلطانا نصيرا لكتاب الله ولحدود الله، ولفرائض الله، ولإقامة دين الله، فإن السلطان رحمة من الله جعله بين أظهر عباده، ولولا ذلك لأغار بعضهم على بعض، فأكل شديدهم ضعيفهم، قال ابن كثير: وهو الأرجح، لأنه لا بد مع الحق من قهر من عاداه وناوأه.. وفي الحديث: "إن الله ليزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن" (تفسير ابن كثير 2: 64) "مترجم".
তিনি সমগ্র নজদ ভূখণ্ডকে একটি পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ করার দৃঢ় সংকল্প করলেন। তিনি খুব ভালোভাবেই জানতেন যে, কোনো শক্তিশালী ও প্রভাবশালী আমিরের আশ্রয় ছাড়া স্বল্প সময়ের মধ্যে দূর-দূরান্তের জনপদে দাওয়াত প্রচার করা সহজ নয় ১, এই চিন্তাভাবনাই তাকে উয়াইনার আমির উসমান ইবনে মুয়াম্মারের কাছে পত্র লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

যখন তিনি দেখলেন আমির সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত, তখন তিনি নিজেই উয়াইনায় চলে গেলেন। আমির তাকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করলেন। শেখ আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াম্মারের কন্যা জাওহারাকে বিবাহ করলেন, যার ফলে বাহ্যিকভাবে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হলো। কিন্তু শেখের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল; ব্যক্তিগত ও গোত্রীয় সম্পর্ক সেই লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু তা নিজেই লক্ষ্য নয়। শেখ উয়াইনার আমিরের কাছে দাওয়াত পেশ করলেন, তার সামনে তাওহীদের মর্ম ব্যাখ্যা করলেন এবং এই মহান কাজে তার সাহায্য ও সহযোগিতা চাইলেন।

শেখের এই কথাগুলো মুখস্থ রাখার এবং স্মরণ করার যোগ্য:

"আমি আশা করি যে, আপনি যদি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাহায্যে এগিয়ে আসেন, তবে আল্লাহ তাআলা আপনাকে জয়যুক্ত করবেন এবং আপনি নজদ ও এর বেদুইন অঞ্চলের মালিক হবেন।" ২ উসমানের কাছে তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তিনি এর ওপর অটল থাকতে পারেননি এবং এর অশুভ পরিণাম ভোগ করেছিলেন। অবশেষে এই নেয়ামত উয়াইনা থেকে দিরিয়ায় স্থানান্তরিত হয়।

যা-ই হোক, উসমান ইবনে মুয়াম্মার সাহায্য ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তার সাহায্যের ওপর ভিত্তি করেই তিনি শুরু করেছিলেন...

--------------------------------------------

১ কোনো বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী ব্যক্তির কাছে এটি গোপন নয় যে, আদর্শ ও দাওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে নৈতিক শক্তি, যুক্তি ও প্রমাণের পাশাপাশি বস্তুগত শক্তিরও বিশাল গুরুত্ব রয়েছে। কারণ কোনো দাওয়াতের যদি আত্মরক্ষার মতো শক্তি না থাকে, তবে অচিরেই অশুভ ও জালিম শক্তিগুলো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে সমূলে উৎপাটন করে ফেলে। এই গুরুত্ব মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে সুস্পষ্ট হয়: {আমি অবশ্যই আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ইনসাফ কায়েম করে। আর আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু কল্যাণ। আর যাতে আল্লাহ জেনে নেন কে তাকে ও তার রাসূলগণকে না দেখে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।} (সূরা আল-হাদীদ: ২৫)। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর বলুন: হে আমার রব! আমাকে প্রবেশ করান কল্যাণের প্রবেশস্থলে এবং আমাকে বের করুন কল্যাণের বহির্গমন পথ দিয়ে; আর আপনার পক্ষ থেকে আমাকে দান করুন সাহায্যকারী শক্তি।} (সূরা আল-ইসরা: ৮০)। কাতাদাহ বলেন: এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহর নবীর (সা.) এই কাজের জন্য শক্তির প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর বিধান, আল্লাহর ফরজসমূহ এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সাহায্যকারী শক্তি চেয়েছিলেন। কারণ ক্ষমতা হলো আল্লাহর একটি রহমত যা তিনি তাঁর বান্দাদের মাঝে স্থাপন করেছেন। এটি না থাকলে মানুষ একে অপরের ওপর চড়াও হতো এবং তাদের মধ্যে শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করে ফেলত। ইবনে কাসীর বলেন: এটিই অধিকতর সঠিক মত; কারণ হকের সাথে এমন শক্তি থাকা আবশ্যক যা বিরোধিতাকারী ও শত্রুদের দমন করবে। হাদীসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমতার মাধ্যমে যা দমন করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে করেন না।" (তাফসীরে ইবনে কাসীর ২: ৬৪)। "অনুবাদক"।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٨)
الشيخ يصدع بدعوته والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وآن لأهل العيينة أن تخشع قلوبهم لقبول الحق رويدا رويدا.

وفي هذه المدة تصدى الشيخ للقضاء على بعض مراكز البدع، ونجح في مهمته هذه، فقد كانت هناك بعض الأشجار تعظم في هذه الناحية فقلعها من أساسها1. وكان يوجد قبر باسم زيد بن الخطاب رضي الله عنه2 كان استشهد يوم اليمامة كان هذا القبر في الجبيلة، وعليه قبة فهدمها ولم يكن هذا أمرا هينا حينذاك. ويذكر ابن بشر قصة هدم القبة فيقول:

"فقال لعثمان: دعنا نهدم هذه القبة التي وضعت على الباطل، وضل بها الناس عن الهدى. فقال: دونكها فاهدمها.

فقال الشيخ: أخاف من أهل الجبيلة أن يوقعوا بنا، ولا أستطيع هدمها إلا وأنت معي.

--------------------------------------------

1 كانت في بلاد نجد عدة أشجار تعبد من دون الله. وذكر الأستاذ أحمد عبد الغفور عطار نقلا عن ابن غنام: كان في بليدة القداء ذكر النخل المعروف بالفحال يقصده الرجال والنساء، ويفعلون عنده من المنكر ما يأباه الدين والذوق والعقل، ويعملون بين يديه من أعمال العبادة ما لا يصلح عمله إلا لله وحده. فالرجل المضيق عليه في الرزق والمكروب والمريض يطلبون إلى الفحال أن يوسع الرزق ويفرج الكرب ويشفي المرض. والمرأة التي لم يتقدم إليها خاطب تتوسل إليه في خضوع وتقول له: "يا فحل الفحول ارزقني زوجا قبل الحول" فإذا أتمت ابتهالها إليه انصرفت إلى الشبان تغريهم، فإذا تزوجت أحدهم خيل إليها أن ذلك من عمل فحل الفحول. وكذلك قدسوا "شجرة الطرفية" تقديسا كبيرا، فإذا ولدت المرأة ذكرا علقت عليها حبلا أو قطعة من نسيج رجاء أن تطيل الطرفية عمره، فكان الرائي إذا أبصرها لا يكاد يبصر الأغصان والأوراق والساق، بل يظن الرائي أول وهلة أن ما يرى ليس إلا كومة من الحبال وقطع النسيج لكثرتها. (محمد بن عبد الوهاب لأحمد عبد الغفور عطار ص: 20- 21 الطبعة الثانية) "المترجم".

2 زيد بن الخطاب هذا هو أخو عمر بن الخطاب رضي الله عنهما، وكان من جملة الشهداء الذين استشهدوا في معركة اليمامة في قتال مسيلمة الكذاب سنة 12 هـ. وكانت هذه القبة إحدى مراكز البدع والوثنية تشد إليها الرحال للاستغاثة والنذر والذبح وغير ذلك "المترجم".
শেখ তাঁর দাওয়াত, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের বাণী উচ্চকিত করলেন এবং উয়ায়নাবাসীদের অন্তরের জন্য সত্যের সামনে ধীরে ধীরে অবনত হওয়ার সময় সমাগত হলো।

এই সময়কালে শেখ বিদআতের কিছু আস্তানা নির্মূল করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং স্বীয় লক্ষ্য অর্জনে সফল হন। এই অঞ্চলে এমন কিছু গাছ ছিল যেগুলোকে অতিশয় সম্মান করা হতো, তিনি সেগুলোকে সমূলে উৎপাটন করেন।১ সেখানে জাইদ ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নামে একটি কবর বিদ্যমান ছিল২, যিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। এই কবরটি জুবাইলায় অবস্থিত ছিল এবং এর উপর একটি গম্বুজ নির্মিত ছিল; তিনি সেটি ধূলিসাৎ করেন। সে যুগে এটি কোনো সহজসাধ্য কাজ ছিল না। ইবনে বিশর এই গম্বুজ ধ্বংসের কাহিনী বর্ণনা করে বলেন:

"তিনি উসমানকে বললেন: আমাদের এই গম্বুজটি ধ্বংস করার সুযোগ দিন যা বাতিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার কারণে মানুষ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গোমরাহিতে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বললেন: আপনি অগ্রসর হোন এবং এটি ধ্বংস করুন।

শেখ বললেন: আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে জুবাইলার অধিবাসীরা আমাদের ওপর চড়াও হতে পারে, আর আপনি সাথে না থাকলে আমি এটি ধ্বংস করতে সক্ষম হব না।

--------------------------------------------

১ নজদ ভূখণ্ডে এমন বেশ কিছু গাছ ছিল যেগুলোকে আল্লাহ ব্যতীত উপাসনা করা হতো। উস্তাদ আহমদ আবদুল গফুর আত্তার ইবনে গান্নামের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন: আল-কাদা নামক জনপদে 'ফাহল' (পুরুষ খেজুর গাছ) নামে পরিচিত একটি বৃক্ষ ছিল যার কাছে নারী-পুরুষরা যাতায়াত করত। সেখানে তারা এমন সব গর্হিত কাজে লিপ্ত হতো যা ধর্ম, সুরুচি ও বিবেক বর্জন করে। তারা এর সম্মুখে এমন সব ইবাদত করত যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো প্রাপ্য নয়। যে ব্যক্তির জীবিকা সংকুচিত হতো অথবা যে বিপন্ন বা অসুস্থ হতো, তারা সেই ফাহল গাছের নিকট রিজিক প্রশস্ত করা, বিপদ মোচন এবং আরোগ্য প্রার্থনা করত। যে নারীর বিয়ের প্রস্তাব আসত না, সে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উক্ত বৃক্ষের নিকট আরজি পেশ করে বলত: "হে পুরুষদের শ্রেষ্ঠ পুরুষ! বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই আমাকে একজন পতি দান করো।" তার প্রার্থনা শেষ করে সে যুবকদের প্রলুব্ধ করতে প্রবৃত্ত হতো। অতঃপর যখন সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতো, তখন সে মনে করত এটি ফাহলুল ফুহুলেরই অনুগ্রহ। অনুরূপভাবে তারা "শাজারাতুত তারফিয়া" গাছকেও অত্যন্ত পবিত্র জ্ঞান করত। কোনো নারী পুত্রসন্তান প্রসব করলে উক্ত বৃক্ষের ডালে রশি বা কাপড়ের টুকরো ঝুলিয়ে দিত এই আশায় যে, তারফিয়া গাছটি তার সন্তানের হায়াত দীর্ঘ করবে। কোনো পরিদর্শক যখন তা দেখত, তখন অতিশয় আধিক্যের কারণে সে গাছের ডালপালা বা কাণ্ড দেখতে পেত না, বরং প্রথম দৃষ্টিতে মনে হতো এটি দড়ি ও কাপড়ের একটি স্তূপ। (আহমদ আবদুল গফুর আত্তার রচিত 'মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব', পৃষ্ঠা: ২০-২১, দ্বিতীয় সংস্করণ) "অনুবাদক"।

২ এই জাইদ ইবনুল খাত্তাব হলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর ভ্রাতা। তিনি ১২ হিজরি সনে ভণ্ড নবী মুসাইলামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই গম্বুজটি বিদআত ও পৌত্তলিকতার অন্যতম কেন্দ্র ছিল যেখানে সাহায্য প্রার্থনা, মানত এবং পশু জবেহসহ নানাবিধ শিরকি কাজের উদ্দেশ্যে সফর করা হতো। "অনুবাদক"।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুসলিহুন মাযলুমুন ওয়ামুফতারান আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٩)
فساعده عثمان بنحو ستمائة رجل، فلما قربوا منها ظهر عليهم أهل الجبيلة يريدون أن يمنعوهم، فلما رآهم عثمان علم ما هموا به فتأهب لحربهم، وأمر جموعه أن تتعزل للحرب، فلما رأوا ذلك كفوا عن الحرب وخلوا بينهم وبينها.

ذكر لي أن عثمان لما أتاها قال للشيخ: نحن لا نتعرضها. فقال: أعطوني الفأس فهدمها الشيخ بيده حتى ساواها، ثم رجعوا فانتظر تلك الليلة جهال البدو وسفهاءهم ما يحدث بسبب هدمها فأصبح في أحسن حال1.

هذا بيان حادثة واحدة، ولكن كانت هناك عقبات على كل خطوة فالجهال والعلماء والمشايخ كلهم كانوا منغمسين في ظلمات البدع. كان صوت محمد بن عبد الوهاب وجهده هو الذي رفع لواء الحق بعد ظلمات وضلالات دامت قرونا طويلة، وعرفت البشرية تعاليم الإسلام الصحيحة.

أمر الشيخ عثمان بن معمر بإحياء الصلوات مع الجماعة، وعينت عقوبات للمتخلفين، وكان الأمراء يأخذون أنواعا من الضرائب والرسوم، فرفعها الشيخ ونفذ الزكاة فقط، وكان هذان عملين جيدين عملهما عثمان بن معمر وتسبب فيهما الشيخ، إلا أن الأعداء يطعنون فيهما أيضا ويبغونهما عوجا. وفي العيينة بدأ الشيخ يؤلف رسائل الدعوة المتسلسلة التي استمرت إلى وفاته، وصار له بعض الأنصار في الدرعية، فكان يرشدهم ويوجههم من العيينة2.

الدعوة تنفى من العيينة:

كادت الدعوة أن تتكلل بالنجاح في العيينة وكادت مهمة الإصلاح أن تكتمل، ولكن ظهرت بادرة شر- وما قدر كان- إلا أن آلافا من الخيرات كانت مختفية وراءها. "أتت امرأة إلى الشيخ واعترفت عنده بالزنا والإحصان، وتكرر منها الإقرار فسأل عن عقلها فإذا هي صحيحة العقل وقال: لعلك مغصوبة. فأقرت واعترفت بما

--------------------------------------------

1 عنوان المجد 1: 9 ، 10.

2 روضة الأفكار 1: 200.
অতঃপর উসমান তাকে প্রায় ছয়শ লোক দিয়ে সাহায্য করলেন। যখন তারা তার নিকটবর্তী হলেন, তখন জুবাইলার অধিবাসীরা তাদের বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আবির্ভূত হলো। উসমান যখন তাদের দেখলেন, তখন তিনি তাদের সংকল্প বুঝতে পারলেন এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিলেন। তিনি তার বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য পৃথক হতে নির্দেশ দিলেন। তারা যখন তা দেখল, তখন তারা যুদ্ধ থেকে বিরত রইল এবং তাদের ও সেটির মাঝখান থেকে সরে দাঁড়াল।

আমার কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উসমান যখন সেখানে পৌঁছালেন, তখন তিনি শায়খকে বললেন: "আমরা এর কোনো ক্ষতি করব না।" তখন শায়খ বললেন: "আমাকে কুড়াল দাও।" এরপর শায়খ নিজ হাতে সেটি ভেঙে মাটির সমান করে দিলেন। তারপর তারা ফিরে এলেন। সেই রাতে মূর্খ বেদুইন এবং নির্বোধরা সেটি ধ্বংস করার কারণে কী ঘটে তার অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু তিনি সর্বোত্তম অবস্থায় সকালে উপনীত হলেন ১।

এটি মাত্র একটি ঘটনার বিবরণ, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিবন্ধকতা ছিল। মূর্খ লোক, আলিম এবং মাশায়েখ—সকলেই বিদআতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের কণ্ঠস্বর এবং প্রচেষ্টাই ছিল সেই শক্তি যা দীর্ঘ কয়েক শতাব্দীর অন্ধকার ও গোমরাহীর পর সত্যের ঝাণ্ডা সমুন্নত করেছিল এবং মানবজাতি ইসলামের সঠিক শিক্ষা সম্পর্কে জানতে পেরেছিল।

শায়খ উসমান বিন মুয়াম্মারকে জামাআতের সাথে সালাত পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দিলেন এবং যারা অনুপস্থিত থাকত তাদের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করা হলো। তৎকালীন আমীররা বিভিন্ন ধরনের কর ও মাশুল আদায় করত; শায়খ সেগুলো বাতিল করলেন এবং কেবল যাকাত কার্যকর করলেন। উসমান বিন মুয়াম্মারের করা এই কাজ দুটি অত্যন্ত উত্তম ছিল এবং শায়খই এর মূল কারণ ছিলেন। তবুও শত্রুরা এগুলোতেও দোষারোপ করে এবং এগুলোর বক্রতা কামনা করে। উয়াইনাহ অবস্থানকালেই শায়খ দাওয়াতের ধারাবাহিক পত্রাবলি রচনা শুরু করেন যা তার মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিরঈয়াহতেও তার কিছু সাহায্যকারী তৈরি হয়েছিল, তিনি উয়াইনাহ থেকেই তাদের পথনির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা দিতেন ২।

উয়াইনাহ থেকে দাওয়াতের নির্বাসন:

উয়াইনাহতে দাওয়াত প্রায় সফলতার মুকুট পরিধান করতে যাচ্ছিল এবং সংস্কারের কাজ প্রায় সম্পন্ন হতে চলেছিল, কিন্তু মন্দের এক নিদর্শন প্রকাশ পেল—আর যা নির্ধারিত ছিল তা-ই ঘটল—তবে এর পেছনে হাজারো কল্যাণ নিহিত ছিল। "এক মহিলা শায়খের কাছে এসে ব্যভিচারের এবং সে বিবাহিতা হওয়ার স্বীকারোক্তি দিল। বারবার সে স্বীকারোক্তি দিতে থাকলে তিনি তার বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। দেখা গেল সে সুস্থ মস্তিষ্কের। তিনি বললেন: 'হয়তো তোমাকে বাধ্য করা হয়েছে?' তখন সে আবারও স্বীকারোক্তি দিল..."

--------------------------------------------

১ উনওয়ানুল মাজদ ১: ৯, ১০।

২ রওজাতুল আফকার ১: ২০০।