(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: -)
النصيحة بالتحذير من تخريب «ابن عبد المنان» لكتب الأئمة الرجيحة وتضعيفه لمئات الأحاديث الصحيحة القسم: الفرق والردود
الكتاب: النصيحة بالتحذير من تخريب (ابن عبد المنان) لكتب الأئمة الرجيحة وتضعيفه لمئات الأحاديث الصحيحة
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: دار ابن عفان للنشر والتوزيع، الجيزة - جمهورية مصر العربية
الطبعة: الثانية، 1421 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 274
أعده للشاملة: محمد المنصور m_almansour@yahoo.com
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 رمضان 1440
নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কিতাবসমূহে ‘ইবনে আবদিল মান্নান’ কর্তৃক বিকৃতি সাধন এবং শত শত সহীহ হাদীসকে যয়ীফ সাব্যস্ত করার বিরুদ্ধে সতর্কীকরণমূলক নসীহত বিভাগ: ফেরকা এবং প্রতিবাদ
গ্রন্থ: নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কিতাবসমূহে (ইবনে আবদিল মান্নান) কর্তৃক বিকৃতি সাধন এবং শত শত সহীহ হাদীসকে যয়ীফ সাব্যস্ত করার বিরুদ্ধে সতর্কীকরণমূলক নসীহত
লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
প্রকাশক: দার ইবনে আফফান পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, গিজা - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২১ হিজরী - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৪
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-মানসুর m_almansour@yahoo.com
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রমজান ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
النصيحة
بالتحذير من تخريب (ابن عبد المنان) لكتب الأئمة الرجيحة وتضعيفه لمئات الأحاديث الصحيحة
بقلم
محمد ناصر الدين الألباني
دار ابن عفان
للنشر والتوزيع
উপদেশ
আইম্মায়ে কিরামের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলীতে (ইবনে আব্দুল মান্নান) কৃত বিকৃতি এবং শত শত সহীহ হাদীসকে যয়ীফ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
রচনায়
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
দার ইবনে আফফান
প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الثانية
1421 هـ - 2000 م
دار ابن عفان
للنشر والتوزيع
الجيزة - ت: 3255820 - ص. ب: 8 بين السرايات
هاتف محمول: 0101583626
جمهورية مصر العربية
E.mail: ebnaffan@hotmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
দার ইবনে আফফান
প্রকাশনা ও বিতরণ
গিজা - টেলিফোন: ৩২৫৫৮২০ - পোস্ট বক্স: ৮ বাইন আস-সারায়াত
মোবাইল ফোন: ০১০১৫৮৩৬২৬
আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
ইমেইল: ebnaffan@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
النَّصِيحَة
بالتحذير مِن تخريب (ابن عَبد المنان) لكتب الأئمّة الرّجَيحَة
وتضعيفه لمئَات الأحاديث الصَّحِيحة
উপদেশ
বরেণ্য ইমামগণের প্রামাণিক গ্রন্থাবলীতে (ইবনে আবদিল মান্নান)-এর বিকৃতি সম্পর্কে সতর্কীকরণ
এবং তাঁর কর্তৃক শত শত সহীহ হাদীসকে দুর্বল প্রতিপন্ন করার বিষয়ে
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مُقَدِّمةإِنَّ الحمدَ لله؛ نحمدُهُ ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذُ بالله مِن شرور أنفسِنا ومن سيِّئات أعمالنا، مَن يهده الله فلا مُضِلَّ له، ومَن يضلل فلا هاديَ له. وأشهدُ أنْ لا إِله إلا الله - وحده لا شريكَ له -. وأشهدُ أنَّ محمداً عبدُه ورسولُه.
أمّا بعد:
فبين يَدَيكَ - أيها القارئُ الكريم - كتابي "النّصيحة
… "؛ وهو بحوثٌ علميَّةٌ نقديَّةٌ حديثيةٌ؛ مبنيّةٌ على القواعد الصحيحة، ومُؤسَّسةٌ على الأُصول الصَّريحة؛ سَيْرَاً على ما خَلَّفَهُ أئمّةُ الإسلام - حُفَّاظُ السُّنَّةِ الأعلام - لِمَن بَعْدَهم مِن أَتباعهم؛ السائرين - بحقِّ - على مَنْهَجِهم، والسَّالكينَ - بصدقٍ - دَرْبَهم وطريقَهم.
وأصلُ هذه البُحُوثِ ردودٌ على (غُمْرٍ) من أَغمار الشباب (1)؛ تصدّى لِمَا
--------------------------------------------
উপস্থাপনানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা যাঞ্চা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ পরিণাম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই—তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর:
হে সম্মানিত পাঠক, আপনার সম্মুখে বিদ্যমান আমার এই গ্রন্থ 'আন-নাসিহা
… '; এটি মূলত হাদিসশাস্ত্রীয় কিছু তাত্ত্বিক ও সমালোচনাধর্মী গবেষণার সংকলন; যা সঠিক নিয়মনীতির ওপর ভিত্তি করে এবং সুস্পষ্ট মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি ইসলামের মহান ইমামগণ—সুন্নাহর প্রথিতযশা হাফেজগণ—পরবর্তী অনুসারীদের জন্য যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তার যথাযথ অনুসরণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের প্রদর্শিত পথ ও পদ্ধতিরই এক প্রতিফলন।
মূলত এই গবেষণাসমূহ হলো জনৈক অনভিজ্ঞ যুবকের (১) ওপর লিখিত এক প্রতিবাদলিপি; যে এমন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
لا يُحْسِن، و (فَسْلٍ) من جَهَلةِ المُتعالمين؛ تطاول برأْسهِ بين الكُبَراءِ - وعليهم -؛ فحقّق (! ) كُتُباً! وخرّج (! ) أحاديثَ! وسوّد تعليقاتٍ! وتكلّم - بجرأة بالِغَةٍ - فيما لا قِبَلَ له به من دقائق علم المصطلح، وأُصول الجرح والتعديل! ! !
فجاءَ منه فسادٌ كبيرٌ عريض، وَصَدَرَ عنه قولٌ كثيرٌ مريض؛ لا يعلمُ حقيقةَ مُنتهاه إلا ربُّه ومولاه - جلّ في عُلاه -.
ولقد كنتُ رَدَدْتُ عليه - قَبْلُ - في مواضعَ متعدّدةٍ من كُتُبي - وبخاصّة "سلسلة الأحاديث الصحيحة"- لمناسباتٍ تَعْرِضُ؛ كشفتُ فيها جهلَه، وَأَبَنْتُ بها عن حقيقتهِ؛ حيث ظهر لي - بكُلِّ وضوحٍ - أنّه للسُّنَّة (هدّام)، ومُتَعَدٍّ على الحق هجّام.
فهو يتعدّى على الأحاديث الصحيحة بالظَّنِّ والجهلِ والإفسادِ والتخريب؛ بما يُوافقُ هواه، ويلتقي ما يراه - بدعوى التحقيق والتخريج! -
…ولقد رأيتُ له - منذ مدّةٍ - تحقيقاً - بل تَخْريباً - لكتاب "إغاثة اللهفان من مصايد الشيطان" للإمام ابن قَيِّم الجوزيّة، تلميذ شيخ الإسلام ابن تيميّة
--------------------------------------------
তিনি সক্ষম নন, বরং তিনি জ্ঞানপাপী মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত এক অপদার্থ ব্যক্তি; যিনি বড় বড় আলেমদের মাঝে—এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধেও—মাথা উঁচু করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। তিনি বই 'সম্পাদনা' (!) করেছেন, হাদিস 'তাজরিজ' (!) করেছেন এবং টীকা লিখে পাতা কালো করেছেন! তিনি চরম ধৃষ্টতার সাথে হাদিস বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম পরিভাষা এবং 'জারহ ও তা’দিল' (হাদিস বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণ) এর মূলনীতিসমূহ নিয়ে কথা বলেছেন, অথচ এসব বিষয়ে তাঁর ন্যূনতম কোনো জ্ঞান বা সক্ষমতা নেই! ! !
এর ফলে তাঁর পক্ষ থেকে এক বিশাল ও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁর থেকে বহু রুগ্ন ও ত্রুটিপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে; যার পরিণতির বাস্তবতা তাঁর প্রতিপালক ও অভিভাবক—যিনি সুউচ্চ ও মহান—ব্যতীত আর কেউ জানেন না।
ইতিপূর্বে আমার বিভিন্ন কিতাবে—বিশেষ করে 'সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহা'-তে—প্রাসঙ্গিকভাবে বিভিন্ন স্থানে আমি তাঁর প্রতিবাদ করেছি। সেখানে আমি তাঁর অজ্ঞতাকে উন্মোচন করেছি এবং তাঁর আসল রূপ প্রকাশ করে দিয়েছি; কারণ আমার কাছে এটি পূর্ণ স্পষ্টতার সাথে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তিনি সুন্নাহর একজন 'বিধ্বংসী' এবং হকের ওপর চড়াও হওয়া এক সীমালঙ্ঘনকারী।
তিনি ধারণা-অনুমান, মূর্খতা, বিকৃতি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সহিহ হাদিসসমূহের ওপর সীমালঙ্ঘন করেন; যা তাঁর প্রবৃত্তির অনুকূল হয় এবং তাঁর মনগড়া মতের সাথে মিলে যায়—আর এসবই করেন তাহকিক ও তাখরিজের দোহাই দিয়ে! …
কিছুকাল আগে আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ছাত্র ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর 'ইগাসাতুল লাহফান মিন মাসায়িদিশ শায়তান' কিতাবটির ওপর তাঁর করা একটি তাহকিক—বরং বিকৃতি—দেখেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
- رحمهما الله تعالى -؛ ظهر فيه - بجلاءٍ بَيِّنٍ - جهلُهُ الواضح، وتعالُمُه الفاضح؛ فرأيتُ أداءً لواجب النَّصيحةِ، وحِرْصاً على مكانة العلم، ومُحافظةً على السُّنَّة النبوية: أنْ أُفردَ بهِ هذا الكتاب؛ ردّاً على جهالاتِه، وكشفاً لسوءِ حالاتِه
… {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ}.
وإنّي لأعلمُ أنَّ بعضاً من إخواننا دُعاة السُّنَّةِ - أو الحريصين عليها - (قد) يقولون في أنفسهم: أليس في هذا الردِّ إشهارٌ لهذا الجاهل، وتعريفٌ بهذا (الهدَّام)؟ ! !
فأقولُ: فكان مَاذَا؟ ! أَلَيْسَ واجباً كشفُ جهلِ الجاهل للتحذير منه؟ ! أليس هذا - نفسُهُ - طريقَ عُلماءِ الإسلام - منذ قديم الزمان - لنقضِ كُلِّ منحرفٍ هَجّام، ونقدِ كُلِّ متطاولٍ هَدّام؟ !
ثم، أليس السكوتُ عن مثلِهِ سبيلاً يُغَرَّرُ بهِ العامّةُ والدَّهْماء، والهَمَجُ الرَّعَاع؟ ! فَلْيَكُن - إذاً - ما كان؛ فالنّصيحةُ أُسُّ الدين، وكشفُ المُبْطِلِ صيانةٌ للحقِّ المُبين؛ {وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ
… }؛ ولو بعد حِين
…وما حالُ سَلَفِ هذا (الهدّام) - ذاك (السَّقَّاف) - وما آلَ إليهِ - والحمدُ لله - عن عارفي الحقِّ ودُعاتهِ ببعيدٍ
…وختاماً؛ فلو كان عند هذا (الهَدّام) شيءٌ من الإنصاف: لكانَ منه - ولو قليلاً - تطبيقٌ وامتثالٌ لِمَا قاله بعضُ كبار أهل العلمِ - نصحاً وتوجيهاً -: "لا ينبغي لرجلٍ أن يرى نفسَه أهلاً لشيءٍ؛ حتّى يَسأل مَن كان أعلمَ منه (1) "!
ولكن؛ هيهات، هيهات؛ فالغُرورُ قتّالٌ، وحُبُّ الظهور يقصمُ الظهور
… وَمعَ هذا كُلِّه؛ فإنِّي أسألُ الله - سُبحانه - له الهدايةَ إلى الحقِّ، والرجوعَ
--------------------------------------------
-আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন-; এতে স্পষ্টভাবে তার প্রকট মূর্খতা ও জঘন্য মেকি পাণ্ডিত্য প্রস্ফুটিত হয়েছে। তাই আমি নসিহতের ওয়াজিব পালন, ইলমের মর্যাদার প্রতি অনুরাগ এবং সুন্নাহে নববীর হেফাযতের লক্ষ্যে এই গ্রন্থটিকে পৃথকভাবে প্রস্তুত করা সমীচীন মনে করেছি; এটি তার অজ্ঞতার এক দাঁতভাঙ্গা জবাব এবং তার মন্দ অবস্থার মুখোশ উন্মোচন
… {আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ কিতাবধারীদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না}।
আমি অবশ্যই জানি যে, আমাদের সুন্নাহর দাওয়াতদানকারী কোনো কোনো ভাই -কিংবা যারা সুন্নাহর প্রতি অতিশয় অনুরাগী- তারা মনে মনে বলতে পারেন: এই খণ্ডনমূলক লেখার মাধ্যমে কি এই জাহেল ব্যক্তির প্রচারণা এবং এই (বিধ্বংসী) ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরা হচ্ছে না? ! !
জবাবে আমি বলব: তাতে কী হয়েছে? ! মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কোনো মূর্খ ব্যক্তির অজ্ঞতা প্রকাশ করে দেওয়া কি ওয়াজিব নয়? ! প্রতিটি আক্রমণকারী বিচ্যুত ব্যক্তিকে খণ্ডন করতে এবং প্রতিটি সীমালঙ্ঘনকারী বিধ্বংসী ব্যক্তির সমালোচনা করতে এটিই কি -অনাদিকাল থেকে- ইসলামের উলামায়ে কেরামের অনুসৃত পথ নয়? !
তাছাড়া, তার মতো ব্যক্তিদের বিষয়ে নীরব থাকা কি সাধারণ মানুষ ও নির্বোধ মূর্খদের বিভ্রান্ত হওয়ার পথ নয়? ! সুতরাং যা হওয়ার তা-ই হোক; কেননা নসিহত বা সদুপদেশ হলো দীনের মূল ভিত্তি, আর বাতিলপন্থীকে উন্মোচন করা হলো সুস্পষ্ট সত্যের সুরক্ষা; {আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাঁর (দীনের) সাহায্য করে
… }; যদিও তা কিছুকাল পরেই হোক না কেন
…আর এই (বিধ্বংসী) ব্যক্তির পূর্বসূরি -সেই (সাক্কাফ)- এর অবস্থা এবং তার শেষ পরিণতি কী হয়েছে -সকল প্রশংসা আল্লাহর- তা সত্যের সন্ধানী ও সত্যের দায়ীদের নিকট অজানা নয়
…পরিশেষে; এই (বিধ্বংসী) ব্যক্তির মধ্যে যদি ন্যূনতম ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠা থাকত, তবে উলামায়ে কেরামের নসিহত ও দিকনির্দেশনামূলক এই বাণীর কিঞ্চিৎ প্রয়োগ ও অনুসরণ তার মধ্যে দেখা যেত: "কোনো ব্যক্তির উচিত নয় নিজেকে কোনো বিষয়ের যোগ্য মনে করা, যতক্ষণ না সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞাসা করে নেয় (১)!"
কিন্তু হায়, তা কতই না সুদূরপরাহত; কারণ অহংকার হলো প্রাণঘাতী, আর প্রসিদ্ধি বা আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়
… এতদসত্ত্বেও, আমি মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য সত্যের পথে হিদায়াত এবং প্রত্যাবর্তনের প্রার্থনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الصوابِ، والاستقامةَ على نهج السّنّةِ وأهلِها
… وَبَعْدُ:
فإنّ هذا الكتاب قد مضى عليه - اليومَ - مخطوطاً - أكثرُ من خمس سنوات؛ ولقد رأيتُ - بعدَ مُشاورةٍ مع بعض إخواننا مِن طلاّب العلم - لُزومَ نشرهِ على الناس؛ إحقاقاً للحقِّ، ونُصرةً لِحُمَاتِهِ، وردّاً للباطلِ، وكَبْتاً لِدُعاتِهِ.
وجزى الله خيراً كُلَّ مَن كان له يَدٌ في إخراج هذا الكتابِ؛ وبخاصّةٍ ناشِرَهُ (دار ابن عفّان/ القاهرة)، داعِياً الله - سُبحانَه - لهم بمزيدٍ من التوفيقِ.
فالحمدُ لله على نَعْمائِه، وأسألُهُ - سُبحانَه - المزيدَ من عَطائِه. وسُبحانك اللهمَّ وبحمدك، أشهدُ أنْ لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك.
عمان
18/ محرّم/ 1420 هـ
وكتب
محمد ناصر الدين الألباني
أبو عبد الرحمن
সঠিক পথ এবং সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের পথের ওপর অটল থাকা
… অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে আজ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছে; আর আমি ইলম অন্বেষণকারী আমাদের কতিপয় ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করার পর—সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে, সত্যের অনুসারীদের সাহায্য করতে, বাতিলকে প্রতিহত করতে এবং এর আহ্বানকারীদের দমিত করার লক্ষ্যে—এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা আবশ্যক বলে মনে করেছি।
আল্লাহ তাদের প্রত্যেককে উত্তম প্রতিদান দান করুন যারা এই গ্রন্থটি প্রকাশের পেছনে শ্রম দিয়েছেন; বিশেষ করে এর প্রকাশক (দার ইবন আফফান/ কায়রো)-কে। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট তাদের জন্য উত্তরোত্তর তাওফীক কামনা করছি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অগণিত নেয়ামতের কারণে, এবং আমি তাঁর পবিত্র সত্তার নিকট তাঁর আরও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছেই তওবা করছি।
আম্মান
১৮ই মুহাররম, ১৪২০ হিজরী
লিখেছেন
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
আবু আবদুর রহমান
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مَدْخلٌالنَّاظِر في تَسْويدات هذا الجاهل (الهَدَّام) يلحظُ قضايا كلِّيةً جامعةً؛ ينكشفُ له - بها - (منهجُهُ) الّذي هو في حقيقتهِ ومآلهِ: لا منهج؛ إلاّ الجهلُ! والهَدْمُ والتطاوُلُ بغير علمٍ! !
* فأوّل هذه القضايا الكلية: أنّ تخريجاته - بل تخريباته - في الغالب مختصرةٌ لا تروي؛ وذلك لأنها على ثلاثة أقسام: الأول: ما يَعْزوهُ للشيخين أو أحدهما، فإنَّه لا يلزمُ أَنَّهُ صحيح عنْدَه، فَإِنَّهُ معروفٌ بأَنَّه لا يُقيمُ وَزْناً لهما ولا لغيرهما من عَشَرات الحفاظ؛ إذا خالفوا رأيه! فَكَم من حديثٍ صحيحٍ أخرَجاهُ وصَحَّحاه، ضَعَّفَه هو من عنده بجهلٍ بالغٍ في هذا التخريج، وفي تعليقه على طبعَتِه لِكِتابِ "رياضِ الصَّالِحين"! - وبِخاصةٍ فيما ذَيَّلَهُ عليهِ - أمثلةٌ عِدّةٌ، وقد بينت شيئاً منها في آخرِ المُجَلَّدِ الثَّاني من "الصَّحيحَة" الطَّبْعَةِ الجديدة، فانظر مثلاً: الاستدراك (6).
فإِذا أَطلق العزو إِليْهِما أو إلى أحَدِهِما، فليسَ يَعني بالضَروةِ أنَّهُ صَحيح عنده، فينبغي أَنْ لا يُغتَرَّ به، وقدْ رأَيْته في تعليقه على "مجموعة رسائلِ الشيخ محمد نَسيب الرفاعي رحمه الله" (ص 125) قد عزا حديثاً لمُسْلم مقيَّداً بقوله: "بإِسنادٍ قوي"! وهذا يُلْزِمُهُ أن يُبَيِّن للقراء ما هو الأصل عنده فيما رواه الشيخان أو أحدهما!
الثاني: ما يعزوه لغيرهما من أصحاب "السُّنن" و"المسانيد" وغيرها، فهو
উপোদ্ঘাতএই জাহেল (বিধ্বংসী) ব্যক্তির পাণ্ডুলিপিসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী কিছু সামগ্রিক ও মৌলিক বিষয় লক্ষ্য করবেন; যার মাধ্যমে তার নিকট ঐ ব্যক্তির (মানহাজ বা কর্মপন্থা) উন্মোচিত হবে, যা প্রকৃতপক্ষে এবং পরিণতির বিচারে কোনো মানহাজই নয়; বরং কেবল অজ্ঞতা! জ্ঞানহীনভাবে ধ্বংস করা এবং ঔদ্ধত্য প্রদর্শন ছাড়া আর কিছু নয়!!
* এই সামগ্রিক বিষয়গুলোর প্রথমটি হলো: তার হাদিস বিশ্লেষণগুলো—বরং তার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডগুলো—অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত এবং অতৃপ্তিকর; আর তা এ কারণে যে, সেগুলো তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথমত: যা কিছু সে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তাদের কোনো একজনের দিকে সম্বন্ধ করে; এটি আবশ্যিক নয় যে তা তার নিকট সহিহ হবে। কেননা সে এ বিষয়ে পরিচিত যে, সে তাদের দুজনকে কিংবা অন্য কোনো হাফিজে হাদিসকে কোনো মূল্যায়নই করে না যখন তারা তার মতের বিরোধিতা করেন! কত সহিহ হাদিস যা তারা বর্ণনা করেছেন এবং সহিহ সাব্যস্ত করেছেন, অথচ সে তার চরম মূর্খতার কারণে স্বীয় বিশ্লেষণে সেটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছে। তার সম্পাদিত "রিয়াদুস সালিহীন" গ্রন্থের টীকাভাষ্যে—বিশেষ করে যা সে পরিশিষ্ট হিসেবে যোগ করেছে—এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। আমি এগুলোর কিছু অংশ "আস-সহিহা" গ্রন্থের নতুন সংস্করণের দ্বিতীয় খণ্ডের শেষে বর্ণনা করেছি; উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ইস্তিদরাক (৬)।
সুতরাং যখন সে সাধারণভাবে তাদের দুজনের দিকে বা কোনো একজনের দিকে হাদিসের উদ্ধৃতি প্রদান করে, তখন এর মানে এই নয় যে তা তার নিকট সহিহ। তাই এ বিষয়ে প্রতারিত হওয়া উচিত নয়। আমি শাইখ মুহাম্মদ নাসিব আল-রিফায়ি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "মাজমুআতু রাসায়িল" গ্রন্থের টীকায় (পৃষ্ঠা ১২৫) দেখেছি যে, সে ইমাম মুসলিমের বর্ণিত একটি হাদিসকে "শক্তিশালী সনদে" উক্তিটি দ্বারা সীমাবদ্ধ করে উল্লেখ করেছে! এটি তাকে বাধ্য করে পাঠকদের নিকট স্পষ্ট করতে যে, শাইখাইন বা তাদের কোনো একজনের বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে তার মূলনীতি আসলে কী!
দ্বিতীয়ত: যা কিছু সে তাদের ব্যতীত অন্যদের দিকে অর্থাৎ "সুনান", "মুসনাদ" ও অন্যান্য গ্রন্থকারদের দিকে সম্বন্ধ করে, তবে তা হলো...
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
يسكت عنها، ونادراً ما يُصَرِّح بصِحَّةِ شيءٍ منها أو تحسينها، وأحياناً يتقَصَّد تعميَةَ صحَّتها؛ إِما بكتمان بيان من صَحَّحها من الأئمة أو الحفّاظ - وقد يكونون ممَّن خرَّجوا الحديث -، وإما بقوله: "رجاله ثقات"، وهذا ليس نصّاً في التصحيح - كما هو معروف عند العلماء -.
الثالث: ما يُضَعِّفه منها؛ فهنا يختلف أسلوبه من الاختصار المُخِلِّ، إلى البَسْطِ المُضِرِّ، فتجدُهُ يصولُ ويجولُ (! )، ويَتَوَسَّع في الكلام على طرق الحديثا، والطعن في الرّواة، ويطيل النّفَس في ذلك جداً - في عدَّةِ صفحات، وبالحرف الصغير! - متظاهراً بأَنَّهُ بحَّاثٌ محقِّق، وهو في أكثر الأحيان يكون مُبطلاً ومتجنِّياً على العلم، ومضعِّفاً لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم بغير حُجَّةٍ، ومخالفاً لجَمَاهير الحُفَّاظ والأَئِمَّةِ المتَقَدِّمين، والعلماء المحقِّقين، حتى ليَغلب على الظَّن أنَّه ما قام بالتَّخريج على هذه الصورة - المختصرة من جهة، والمبسوطة من جهة أخرى! - إلا لهدم السُّنَّةِ، وتضعيف أحاديثها، وبخاصَّةٍ ما كان منها في الحضِّ على التَّمسك بالسُّنّة، وما كان عليه السلف الصالح رضي الله عنهم.
وهو في هذا - كُلِّه - إمّا متَّبعٌ لهواه، أو مقَلِّدٌ لأَمثالِه من أهل الأَهواءِ الَّذينَ لا يتبعون أصولَ العُلَماءِ وقَواعِدَهم الحديثيَّة والفِقهِيَّة، كما كنت أظنّ به هذا في أوَّل اطِّلاعي على بعض تخريجاته، ثم عند مناقشتي إياه في داري - في رمضان سنة (1412) - تضعيفَه لحديث العِرْباض بن سارِيَةَ - المرفوع -: "عليكم بسُنّتي وسُنّة الخُلفاء
… "، مع كثرة طرُقه، وتصحيح الجَمِّ الغفير من الحفَّاظ والعلماء - له -.
ثم تأَكَّدت من ذلك بعد أن وقفت على تضعيفات أخرى كثيرة - له -
তিনি এগুলোর ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেন এবং খুব কমই এগুলোর কোনোটির বিশুদ্ধতা (সহীহ) বা গ্রহণযোগ্যতা (হাসান) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন। কখনো কখনো তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেগুলোর বিশুদ্ধতাকে অস্পষ্ট করে রাখেন; হয় ঐ সমস্ত ইমাম বা হাফেজদের (হাদীস বিশারদ) বক্তব্য গোপন করার মাধ্যমে যারা হাদীসগুলোকে সহীহ বলেছেন—অথচ তারা হয়তো হাদীসটির সংকলনকারীও হতে পারেন—অথবা এই কথা বলার মাধ্যমে যে: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (রেজালুহু সিকা)"। আর এটি বিশুদ্ধতা প্রমাণের কোনো অকাট্য উক্তি নয়—যেমনটি আলেমদের নিকট সুবিদিত।
তৃতীয়ত: যে হাদীসগুলোকে তিনি যয়ীফ (দুর্বল) সাব্যস্ত করেন; এক্ষেত্রে তার পদ্ধতি ক্ষতিকর সংক্ষিপ্তকরণ থেকে শুরু করে বিভ্রান্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা পর্যন্ত বিচিত্র হয়ে থাকে। আপনি তাকে দেখবেন যে তিনি [যথেচ্ছভাবে] দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন (!), এবং হাদীসের বিভিন্ন সূত্র ও বর্ণনাকারীদের ওপর আপত্তিমূলক দীর্ঘ আলোচনা করছেন। তিনি এক্ষেত্রে অত্যন্ত দীর্ঘ পরিসর গ্রহণ করেন—অনেক পৃষ্ঠা জুড়ে এবং ক্ষুদ্রাক্ষরে!—নিজে একজন গভীর গবেষক ও মুহাক্কিক হিসেবে জাহির করেন। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি অসত্যের আশ্রয় গ্রহণকারী এবং জ্ঞানের প্রতি অবিচারকারী হিসেবে প্রতীয়মান হন। তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসকে যয়ীফ সাব্যস্ত করেন এবং পূর্ববর্তী হাফেজ ও ইমামগণ এবং সত্যনিষ্ঠ আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের বিরোধিতা করেন। এমনকি প্রবল ধারণা জন্মে যে, তিনি এভাবে তাহরীজ বা হাদীস বিশ্লেষণের কাজ—যা একদিকে অতি সংক্ষিপ্ত এবং অন্যদিকে অতি দীর্ঘ!—কেবল সুন্নাহর ভিত্তি দুর্বল করার জন্য এবং এর হাদীসসমূহকে যয়ীফ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই করেছেন; বিশেষ করে ঐ সকল হাদীস যা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এবং সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আদর্শের ওপর অটল থাকার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে।
আর এই সবকিছুর মূলে তিনি হয় নিজের খেয়ালখুশির অনুসারী, অথবা তার মতো প্রবৃত্তিপূজারীদের অনুকরণকারী, যারা আলেমদের মূলনীতি এবং হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের নিয়মাবলি অনুসরণ করে না। শুরুতে যখন আমি তার কিছু তাহরীজ (হাদীস বিশ্লেষণ) দেখেছিলাম, তখন তার ব্যাপারে আমার ধারণা এমনই ছিল। অতঃপর ১৪১২ হিজরীর রমজান মাসে আমার নিজগৃহে তার সাথে আলোচনা চলাকালে—ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রা.) বর্ণিত মারফূ' হাদীস: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো
... " সম্পর্কে তার যয়ীফ বলার বিষয়টি সামনে আসে। অথচ হাদীসটির অনেকগুলো সূত্র রয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক হাফেজ ও আলেম একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন।
এরপর আমি যখন তার আরও অনেক হাদীসকে যয়ীফ সাব্যস্ত করার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম, তখন এ ব্যাপারে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
لأحاديثَ صحيحةٍ بطرق ملتوية غير عليية، وبآراء شخصيَّة هزيلة، لا يعجز عنها كلّ مثقف ثقافة عامّة، جاهل بهذا العلم، مغرور! !
* أمّا ثاني قضاياه؛ فإنّه - مع قِلَّةِ في يُصَحِّح أو يحسِّن - فهو يُجمِل الكلام ولا يُفَصِّلُ ولا يبيِّن سبب ذلك؛ بلِ يقول: "صحيح"، أو: "حسن"، ثم يمشي! وعلى القراء أن يُسَلِّموا له تسليماً، لأنَّه (حَذَامِ)!
ولا يخفى أن بيان الحقِّ في ذلك يكون إمّا بالنَّقلِ عن العلماء - إذا كان ليس منهم - كما هو واقِعُهُ -، أو بِبَيانه هو - إذا كان أَهلاً لذلك - كما يدَّعي هذا المغرورُ بنفسهِ لنفسه -.
وآكد ما ينبغي بيانه إذا حسَّنه ولم يُصحِّحهُ؛ لأنَّ التَّحسين يعني أن في بعض رواتِه ضعفاً، فينبغي الكَشفُ عنه، وعن سبب الضَّعف، حتّى يكون القارئ على بصيرةٍ من أمره.
وأوجب من ذلك كلّه بيان ما إذا كان صحيحاً لغيره، أو حسناً لغيره، وهذا يستوجب من الباحِث - إِذا كان عالماً حقاً ومخلصاً صدقاً - أن يتتبَّع الطرق والشواهد التي ترفع الحديث إلى درجة الصحَّهِ إذا كثرت، أو الحسن إِذا قلّت، وكلّ هذا مما لا يعرِّجُ عليه الرَّجل!
ولا أجدُ لذلك وجهاً إلاّ أحد أمرين:
أحدهما: أنَّه لا يتبنى - حقيقةً - ما عليه العلماء في علم المصطلح من تقسيم الحديث الثابت إلى قسمين: صحيح وحسن، أي: لذاته، ثم تقسيمهما إلى صحيح وحسن - لغيره -.
والآخر: أنَّه يتبنى ذلك، ولكنّه لا يستطيع القيام به، أو لا يريد القيام به، لأنَّه تخصَّص في تضعيفِ الأحاديحا الصحيحة بأوهى الحُجَجِ، ولا يهتمُّ
বিশুদ্ধ হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে কুটিল ও অশাস্ত্রীয় পন্থায় এবং অত্যন্ত দুর্বল ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে (আক্রমণ শাণানো হয়েছে), যা করতে সাধারণ শিক্ষিত অথচ এ শাস্ত্রে অজ্ঞ ও অহংকারী যে কেউই সক্ষম!
* আর তাঁর দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো, যদিও তিনি খুব অল্প সংখ্যক হাদিসকেই সহিহ বা হাসান বলেন, তথাপি তিনি কথা সংক্ষেপে বলেন; এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন না এবং এর কারণও স্পষ্ট করেন না। বরং তিনি কেবল "সহিহ" বা "হাসান" বলেই ক্ষান্ত হন! আর পাঠকদের তাঁর কথা বিনাবাক্যে মেনে নিতে হয়, যেন তিনিই চূড়ান্ত ফয়সালাকারী!
এটা অস্পষ্ট নয় যে, এ বিষয়ে সত্য উদঘাটন করা হয় হয়তো পূর্ববর্তী আলিমদের থেকে বর্ণনার মাধ্যমে —যদি সে নিজে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত না হয়, যেমনটি তার ক্ষেত্রে ঘটেছে— অথবা তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যার মাধ্যমে —যদি সে তার উপযুক্ত হয়, যেমনটি এই আত্মম্ভরী ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে দাবি করে থাকে—।
আর যখন তিনি কোনো হাদিসকে 'হাসান' বলেন কিন্তু 'সহিহ' বলেন না, তখন তার কারণ বর্ণনা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কেননা 'হাসান' হওয়ার অর্থ হলো এর কোনো কোনো বর্ণনাকারীর মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে; তাই সেই বর্ণনাকারী এবং তার দুর্বলতার কারণ উন্মোচন করা আবশ্যক, যাতে পাঠক বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারেন।
আর এসবের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো হাদিসটি 'সহিহ লি-গাইরিহি' নাকি 'হাসান লি-গাইরিহি' তা স্পষ্ট করা। আর একজন গবেষক যদি প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত আলিম এবং একনিষ্ঠ সত্যসন্ধানী হন, তবে এটি তাঁর নিকট দাবি রাখে যে, তিনি সেই সকল সূত্র ও সাক্ষ্য (শাওয়াহিদ) অনুসন্ধান করবেন যা হাদিসকে সংখ্যাধিক্য হলে 'সহিহ' স্তরে অথবা সংখ্যায় কম হলে 'হাসান' স্তরে উন্নীত করে। অথচ এই লোকটির এসবে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই!
আর আমি এর পেছনে দুটি কারণ ছাড়া অন্য কিছু দেখি না:
প্রথমত: উসুলে হাদিস বা পরিভাষা শাস্ত্রের আলিমগণ সাব্যস্ত (প্রমাণিত) হাদিসকে যেভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন —অর্থাৎ সহিহ ও হাসান (লি-যাতিহি), এবং পরবর্তীতে এ দুই প্রকারকে পুনরায় সহিহ ও হাসান (লি-গাইরিহি) হিসেবে বিভক্ত করা— তিনি প্রকৃতপক্ষে তা মনে-প্রাণে গ্রহণ করেন না।
দ্বিতীয়ত: হতে পারে তিনি তা গ্রহণ করেন, কিন্তু তা সম্পাদন করার সামর্থ্য রাখেন না অথবা তা করতে চান না। কারণ তিনি বিশুদ্ধ হাদিসসমূহকে অত্যন্ত দুর্বল যুক্তির ভিত্তিতে 'যয়িফ' (দুর্বল) সাব্যস্ত করার কাজেই পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং তিনি গুরুত্ব দেন না...
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
لتقوية الأحاديث الضعيفة بالمتابعات والشواهد، التي من ثمارها الحديث الصحيح لغيره والحسن لغيره عند العلماء، - كما سبق -.
وهذا الأخير هو الذي تدُلّ عليه بعض تخريجاته، أي: أَنَّهُ لا يريد تتبّع الأحاديث الصحيحة أو الحسنة لغيرها - كما ذكرت -. يضاف إلى ذلك؛ أن تحقيق ذلك يتطلّب بحثاً وجهداً مُضْنِياً في كثير من الأحاديث، كيف وهو يضِنُّ ويبخل أحياناً بأن يصرِّح بصحَّةِ إِسناد بعض الأحاديث التي لا تُوافِقُ هواه، ويكتفي فيها بقوله: "رجال إِسناده ثقات"! وحقُّهُ أن يقول: "إسناده صحيح، رجاله ثقات ".
أمّا التقسيم الأول: صحيح وحسن، فهو يستعمله في بعض الأحاديث، على قلَّةٍ - كما تقدَّم -، وبدون بيان، لكنَّه يشَكِّكُ في بعضها أحياناً بقرنه ذلك بقوله: "إن شاء الله تعالى"! - كما سترى -؛ فلا تدري أذلك منه تحقيقاً أم تعليقاً؟ ! وهذا الآخر هو الأظهر! !
ويعود سبب عدم بيانه لما ذكرنا - من التصحيح والتحسين - فيما تبيّن لي من تتبُّعي لتخريجاته -؛ أن لا يكشف عن منهجه في ذلك، وأنَّه لو فعل لكان (كالباحث عن حتفه بظِلْفِهِ) كما يقال
…وَلْنُقَرِّبْ ذلك للقراء بمثال: ما صَحَّحَه من الأحاديث أو حسَّنه، لو أنَّه بيَّن السبب للزمه تصحيح أو تحسين أحاديث ضعَّفها هو! فقد تقدَّم أن الحديث الحسن إنما نزل من مرتبة الصِّحَّةِ؛ لأن في بعض رواته ضعفاً، فلو أنَه بيَّن الرّاوي الذي يرميه بالضعف للزمه أن يُحَسِّنَ أحاديثه الأخرى، فهو من أجل ذلك يكتم ولا يبيِّن، ولا سيَّما وهو في كثير من الأحاديث التي يضعِّفها لا يزيد في بيان سبب الضعف على قوله: "فيه فلان وفيه ضعف" - وقد لا
দুর্বল হাদীসসমূহকে 'মুতাবায়াত' (সমর্থনমূলক বর্ণনা) এবং 'শাওয়াহিদ' (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) এর মাধ্যমে শক্তিশালী করার জন্য, যার ফলাফল আলেমগণের নিকট 'সহীহ লি-গাইরিহি' এবং 'হাসান লি-গাইরিহি' হাদীস হিসেবে গণ্য হয় — যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
আর এই শেষের বিষয়টিই তার কিছু 'তাখরিজ' (হাদীসের উৎস অনুসন্ধান) নির্দেশ করে; অর্থাৎ, যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি—তিনি 'সহীহ' বা 'হাসান লি-গাইরিহি' হাদীসগুলো অনুসরণ করতে চান না। এর সাথে যোগ করা প্রয়োজন যে, অনেক হাদীসের ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত করার জন্য গভীর গবেষণা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়; এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে তা করবেন, যেখানে তিনি কখনও কখনও এমন হাদীসের সনদের বিশুদ্ধতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে কার্পণ্য ও দ্বিধা করেন যা তার খেয়াল-খুশির অনুকূল নয়? এমতাবস্থায় তিনি কেবল এই কথাটুকু বলেই ক্ষান্ত হন যে: "এর সনদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য"! অথচ তার উচিত ছিল বলা: "এর সনদ সহীহ, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।"
পক্ষান্তরে প্রথম প্রকার বিভাগ: 'সহীহ' এবং 'হাসান', এটি তিনি কিছু হাদীসের ক্ষেত্রে অল্প পরিসরে ব্যবহার করেছেন—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—এবং কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই। তবে কখনও কখনও তিনি এগুলোর কয়েকটিতে সন্দেহ পোষণ করেন এর সাথে "ইনশাআল্লাহ তা'আলা" কথাটি যুক্ত করার মাধ্যমে—যেমনটি আপনি সামনে দেখতে পাবেন। ফলে আপনি বুঝতে পারবেন না যে, তার এই মন্তব্যটি কি নিশ্চিতকরণের জন্য নাকি শর্তারোপের জন্য? আর এই শেষোক্ত বিষয়টিই অধিকতর স্পষ্ট!!
আর আমাদের উল্লিখিত 'সহীহ' ও 'হাসান' নির্ধারণের বিষয়টি তার স্পষ্ট না করার কারণ—যা তার তাখরিজসমূহ অনুসরণের মাধ্যমে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে—তাহলো তিনি যেন এই বিষয়ে তার কর্মপদ্ধতি প্রকাশ না করেন। তিনি যদি তা করতেন, তবে তার অবস্থা হতো সেই প্রবাদের মতো যে "নিজের খুর দিয়ে নিজের মৃত্যু খনন করে"...
…পাঠকদের কাছে বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যাক: তিনি যেসব হাদীসকে সহীহ বা হাসান বলেছেন, যদি তিনি তার কারণ বর্ণনা করতেন, তবে তার জন্য এমন অনেক হাদীসকে সহীহ বা হাসান বলা আবশ্যক হয়ে পড়ত যেগুলোকে তিনি নিজেই ইতিপূর্বে দুর্বল বলেছিলেন! কারণ এটি আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাসান হাদীস কেবল তখনই সহীহ-এর স্তর থেকে নিচে নেমে আসে যখন তার কোনো কোনো বর্ণনাকারীর মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা থাকে। সুতরাং তিনি যদি সেই বর্ণনাকারীকে চিহ্নিত করে তাকে দুর্বল বলতেন, তবে সেই বর্ণনাকারীর বর্ণিত অন্যান্য হাদীসগুলোকেও হাসান বলা তার জন্য আবশ্যক হয়ে যেত। এই কারণেই তিনি সত্য গোপন করেন এবং তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন না। বিশেষ করে অনেক হাদীসের ক্ষেত্রে যেগুলোকে তিনি দুর্বল বলেন, সেখানে দুর্বলতার কারণ বর্ণনায় কেবল এতটুকুই বলেন: "এতে অমুক ব্যক্তি রয়েছেন এবং তার মাঝে দুর্বলতা আছে" — এমনকি কখনও হয়তো...
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يُسَمِّيه! -، فقوله: "فيه ضعف" - وهذا إذا كان يعني ما يقول - يساوي قول القائل: "وإِسناده حسن؛ لأن فلاناً فيه ضعف"، فلو أنَّه سَمّى الراوي الذي حسّن حديثه لانفضح، وتبيَّن أنَّه لا يلتزم القواعد العلميّة الحديثيّة، وهذا عندي يقين؛ {وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ}!
وكذلك يقال إذا بيّن أن الحديثَ صحيح لغيره، أو حسن لغيره، فإِنَّه يُلْزَمُ بتصحيح أو تحسين كثير من الأحاديث التي ضعَّفها بعد أن ساق طرقها الكثيرة، وأقرب مثال على ذلك حديث العِرباض، ومع ذلك؛ فإِنَّه لمٍ يتوَرَّع من تضعيفه - كما لمشرى في ردّي عليه رقم (2) -، وتجد تحته مثالا آخر؛ وهو تضعيفه لحديثْ "اقتدوا باللَّذين بعدي
… "، مع أنَّه خَرَّجَهُ من أربعة طرق، وقد قَوّاه جمع، فلم يلتفت إلى ذلك كلّه! الأمر الذي يُشعر الباحثَ أنَّه لا يعتَدّ بقاعدة تقوية الحديث بكثرة الطرق المعتبرة عند العلماء كافّةً - ومنهم شيخ الإسلام ابن تيميّة رحمه الله؛ وله بحث عظيم في تأييدها وشرحها، نقلته في رسالتي في "الرّد على ابن حزم في إباحته لآلات الطرب وعلى مقلديه" (1) - ومنهم (الهدّام) هذا، كما سترى تحت الحديث (79) -.
ولذلك لا تكاد تجد له حديثاً يقوّيه اعتماداً على هذه القاعدةِ، ومثله في هذا بعض الناشئين الجهلة، ولعلَّ منهم مؤلف رسالة: "بذل الجهد في تحقيق حديثي السوق والزهد"؛ فإنَّه ضعّف حديث السوق - وقد خرّجه من سبعة طرق، وأكثرها ليس فيها متّهم -، وقد رددت عليه في بعضِها مِمّا حسن إسناده الحافظ في "الصحيحة" (3139).
* وأمّا ثالثُ فواقِرِ هذا (الهدَّام): فإنَّهُ حين يتتبَّعُ طُردا الحديث الذي خطَّط لتضعيفه، ويُخَرِّجها - عازياً إلى المصادر بأرقام أجزائها وصفحاتها -:
--------------------------------------------
...নামকরণ করেন! -, সুতরাং তাঁর কথা: "এতে দুর্বলতা আছে" - এবং এটি যদি তিনি যা বলছেন তা-ই বুঝিয়ে থাকেন - তবে তা কোনো বক্তার এই কথার সমান: "এর সনদ হাসান (উত্তম); কারণ অমুকের মধ্যে দুর্বলতা আছে।" যদি তিনি সেই বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করতেন যার হাদীসকে তিনি হাসান বলেছেন, তবে তিনি অপদস্থ হতেন এবং এটি স্পষ্ট হয়ে যেত যে, তিনি হাদীস শাস্ত্রের বৈজ্ঞানিক নীতিমালা মেনে চলছেন না। এটি আমার কাছে নিশ্চিত সত্য; "আর কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির মতো কেউ আপনাকে সংবাদ দেবে না"!
একইভাবে বলা যায়, যদি তিনি স্পষ্ট করেন যে হাদীসটি 'সহীহ লি-গাইরিহি' (অন্যান্য সূত্রের কারণে সহীহ) অথবা 'হাসান লি-গাইরিহি' (অন্যান্য সূত্রের কারণে হাসান), তবে তিনি এমন অনেক হাদীসকে সহীহ বা হাসান বলতে বাধ্য হবেন যেগুলোকে তিনি ইতোপূর্বে অনেকগুলো সূত্র উল্লেখ করার পরও দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। এর নিকটতম উদাহরণ হলো ইরবাযের হাদীস, তা সত্ত্বেও তিনি একে দুর্বল বলতে দ্বিধাবোধ করেননি - যেমনটি তাঁর প্রতি আমার ২ নম্বর উত্তরে আলোচিত হয়েছে -। এর নিচে আপনি আরেকটি উদাহরণ পাবেন; আর তা হলো "আমার পরের দুইজনের অনুসরণ করো..." হাদীসটিকে তাঁর দুর্বল বলা, যদিও তিনি এর চারটি সূত্র বের করেছেন এবং একদল আলেম এটিকে শক্তিশালী বলেছেন, কিন্তু তিনি তার কোনোটির দিকেই ভ্রুক্ষেপ করেননি! বিষয়টি একজন গবেষককে অনুভব করায় যে, তিনি সমস্ত আলেমদের নিকট স্বীকৃত 'একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে হাদীস শক্তিশালী হওয়া'র নীতিটিকে গুরুত্ব দেন না - যাদের মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অন্যতম; এই নীতি সমর্থন ও ব্যাখ্যায় তাঁর একটি মহান গবেষণা রয়েছে, যা আমি "বাদ্যযন্ত্র বৈধ করার বিষয়ে ইবনে হাজম ও তাঁর অনুসারীদের খণ্ডন" (১) শীর্ষক আমার পুস্তিকায় উদ্ধৃত করেছি - এবং এই (ধ্বংসকারী) ব্যক্তিও তাদের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আপনি ৭৯ নম্বর হাদীসের অধীনে দেখতে পাবেন -।
একারণেই আপনি এই নীতির ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী করা হয়েছে এমন কোনো হাদীস তাঁর কাছে প্রায় পাবেনই না। তাঁর মতো অবস্থা কিছু অজ্ঞ নবীনদেরও, সম্ভবত তাদের মধ্যে একজন "বাজার ও যুহদ সংক্রান্ত হাদীসদ্বয়ের তাহকীকে শ্রম ব্যয়" নামক পুস্তিকার লেখক; কারণ তিনি বাজারের হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন - অথচ তিনি এর সাতটি সূত্র বের করেছেন এবং সেগুলোর অধিকাংশ বর্ণনাকারী অভিযুক্ত নন -। আমি তাঁর কিছু বিষয়ের প্রতিবাদ করেছি যার সনদ হাফেজ "আস-সহীহাহ" (৩১৩৯)-তে হাসান বলেছেন।
* আর এই (ধ্বংসকারী) ব্যক্তির তৃতীয় বিপর্যয় হলো: তিনি যখন কোনো হাদীসের সূত্রগুলো অনুসন্ধান করেন যা তিনি দুর্বল করার পরিকল্পনা করেছেন এবং সেগুলো বের করেন - খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ মূল উৎসের উদ্ধৃতি দিয়ে -:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يتظاهرُ أن ذلك من كدِّه واستخراجِه منها! وإِنَّما هو - حقيقةً - ممن تقدَّمه من المُخَرِّجين من السابقين أو اللاحقين، وقد يضيف شيئاً جديداً - مصدراً، أو رَقْماً - ستراً لسرقته، ولكن الأمر كما قيل: "من أسَرَّ سريرةً أَلبَسَهُ الله رداءها"، وكما قال الشاعر:
ومهما تكن عند امرئٍ من خليقةٍ
… وإنْ خالها تخفى على الناسِ تُعلمِ
وأَكثرُ تخاريجه المُطَوَّلة من هذا القَبيل - في هذا الكتاب وغيره -، ثم هو يسلِّط عليها آراءه الخاصّة في نقدها، مخالفاً في ذلك قواعد أهل الحديث والعلم - كما تقدَّمَت الإشارة إلى ذلك -، وترى تفصيل ذلك فيما يأْتي.
وإِن مما يؤكِّد ما ذكرت أمرينِ:
أَحدهما: أَنَّه من النادر جداً أن يستدرك على من أشرنا إليه من المخرِّجين طريقاً أو متابعاً أو شاهداً لم يذكروه، لأنَّ ذلك ينافي تخطيط (الهدَّام) المذكورِ! بل قد يكتم بعض ما ذكروا من الطرق، وبخاصَّةٍ إذا كانت من تخريج الألباني، وبصورةٍ أخصَّ ما كان منها معزوّاً لبعض المخطوطات التي لم ترها عينه، والأمثلة أمامك.
والآخر: أَنَّه قد يقع في نفس الخطإ الذي كنت وقعت أنا فيه - قديماً - سواءً ما كان منه حديثيّاً أو مطبعيّاً - "ركوناً منه إلى السرقةِ، أو التقليد، وتماشياً مع الهدم الذي نذر نفسه له.
والأمثلة في ذلك كثيرة، ويحضرني الآن مثالان:
أ - حديث: "إن كنت تحبني فأَعِدَّ للفقر تِجفافاً
… "؛ فقد كنت قديماً ضَعَّفته في مُقَدِّمَة تخريجي لأحاديث "رياض الصالحين" (ص: هـ طبعة
তিনি ভান করেন যে তা তাঁর নিজস্ব পরিশ্রম এবং গবেষণা থেকে প্রাপ্ত! অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি তাঁর পূর্ববর্তী বা পরবর্তী হাদীস বিশারদদের (মুখাররিজীন) গবেষণালব্ধ কাজ; হয়তো তিনি তাঁর এই চৌর্যবৃত্তি ঢাকার জন্য নতুন কিছু—যেমন কোনো উৎস বা নম্বর—যুক্ত করে থাকেন। তবে বিষয়টি যেমন বলা হয়ে থাকে: "কেউ যদি কোনো গোপন বিষয় লুকিয়ে রাখে, আল্লাহ তাকে সেই বিষয়েরই পোশাক পরিয়ে দেন", এবং যেমনটি কবি বলেছেন:
মানুষের মধ্যে যাই কোনো স্বভাব থাকুক না কেন
… যদিও সে ধারণা করে যে তা মানুষের নিকট গোপন থাকবে, তবুও তা জানাজানি হয়ে যাবে।
তাঁর অধিকাংশ দীর্ঘ হাদীস পর্যালোচনা (তাখরিজ) এই গোত্রেরই—এই কিতাবে এবং অন্যান্য কিতাবেও—অতঃপর তিনি সেগুলোর সমালোচনার ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত মতামত চাপিয়ে দেন, যা হাদীস বিশারদ ও জ্ঞানীদের মূলনীতির পরিপন্থী—যেমনটি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে—আর এর বিস্তারিত বিবরণ সামনে দেখতে পাবেন।
আমি যা উল্লেখ করেছি, তা নিম্নোক্ত দুটি বিষয় দ্বারা সুনিশ্চিত হয়:
প্রথমত: আমি যেসব হাদীস বিশারদদের দিকে ইঙ্গিত করেছি, তাঁদের অনুল্লেখিত কোনো সূত্র (তরিক), মুতাবিক (সমর্থক সূত্র) কিংবা শাহিদ (সাক্ষ্য প্রদানকারী হাদীস) তিনি খুব কমই সংযোজন করতে পারেন; কারণ এটি উল্লিখিত (ধ্বংসাত্মক) পরিকল্পনার পরিপন্থী! বরং তাঁরা যেসব সূত্র উল্লেখ করেছেন, তিনি তার কিছু অংশ গোপন করে থাকেন; বিশেষ করে যখন তা আলবানীর 'তাখরিজ' থেকে হয়, এবং আরও সুনির্দিষ্টভাবে যদি তা এমন কোনো পাণ্ডুলিপির উদ্ধৃতিতে হয় যা তিনি স্বচক্ষে দেখেননি। এর উদাহরণগুলো আপনার সামনেই আছে।
দ্বিতীয়ত: অতীতে আমি নিজে যেসব ভুলের শিকার হয়েছিলাম—তা হাদীস বিষয়ক হোক বা মুদ্রণজনিত—তিনি হুবহু সেই একই ভুল করে থাকেন। এটি তাঁর চৌর্যবৃত্তি কিংবা অন্ধ অনুকরণে লিপ্ত হওয়ার কারণে এবং সেই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় যা তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে উদাহরণ অনেক, এই মুহূর্তে আমার কাছে দুটি উদাহরণ উপস্থিত আছে:
ক - হাদীস: "তুমি যদি আমাকে ভালোবেসে থাকো, তবে দারিদ্র্যের জন্য বর্ম প্রস্তুত করো
…"; আমি অনেক আগে 'রিয়াযুস সালিহীন'-এর হাদীসসমূহের 'তাখরিজ'-এর ভূমিকায় এটিকে দুর্বল (যয়ীফ) বলেছিলাম (পৃষ্ঠা: ৫, সংস্করণ:
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المكتب الإِسلامي الأولى سنة (1399 هـ) (1)، وأَحَلْتُ في بيانه على "سلسلة الأحاديث الضعيفة" (1681) - وقد طُبع في مكتبة المعارف سنة (1408) -، فوجدها (الهدَّام) لقمة سائغة، فتلقّفها، ولخّص كلامي فيه في سطرين - فقط -، وأودع ذلك في "ضعيفته" التي جعلها في آخر طبعته لى "الرياض "! متفاخراً بقوله: "وافقني على تضعيفه الشيخ شعيب"، ودون أن يقول: وسبقنا إلى ذلك الشيخ ناصر! فهل يقول: ولَخّصته من كتاب الشيخ ناصر؟ !
ولكني أحمد الله - تعالى - وأشكره على أن هداني ووفّقني للرجوع عن خَطإِي، وذلك بعد أن يسَّر لي الوقوفَ على بعض الشواهد الصحيحة له، فبادرت، فخرّجته، وأودعته في المجلّد السادس من "الصحيحة" برقم (2827)، وهو مطبوعٌ - بحمد الله تعالى -.
ب- حديث: "اللهم اكْفِني بحلالك عن حرامك
… " الحديث، كنت قد خرّجته في "الصحيحة" برقم (266) وعزوته للترمذي والحاكم وأحمد (1/ 153)، فأَخذها لقمة جاهزة - أيضاً -، ويشاء الله - تعالى - أن يفضحه ويكشف سِتْرَه، وسرقته، فقدَّر - سبحانه - علي أن أُخطئ في عزوي إياه
--------------------------------------------
আল-মাকতাবুল ইসলামীর প্রথম সংস্করণ (১৩৯৯ হিজরি) (১), এবং এর বর্ণনায় আমি "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ" (১৬৮১)-এর প্রতি নির্দেশ করেছিলাম—যা মাকতাবাতুল মাআরিফ থেকে (১৪০৮ হিজরি)-তে মুদ্রিত হয়েছে—তখন (আল-হাদ্দাম) এটিকে একটি সহজ সুযোগ হিসেবে পেল এবং তা লুফে নিল। সে সেখানে আমার বক্তব্যকে মাত্র দুই লাইনে সারসংক্ষেপ করল এবং তা তার সেই "দায়িফাহ" অংশে সন্নিবেশ করল যা সে তার সম্পাদিত "রিয়াজ"-এর শেষে যুক্ত করেছিল। সে দম্ভোক্তি করে বলেছিল: "শাইখ শুআইব এই হাদিসটিকে দুর্বল বলার ক্ষেত্রে আমার সাথে একমত হয়েছেন", অথচ সে একথা বলেনি যে: "শাইখ নাসির আমাদের আগে এটি করেছেন!" সে কি একথা বলবে যে: "আমি এটি শাইখ নাসিরের কিতাব থেকে সংক্ষিপ্ত করেছি?"
কিন্তু আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করছি যে, তিনি আমাকে আমার ভুল থেকে ফিরে আসার হিদায়াত ও তাওফিক দান করেছেন। এটি সম্ভব হয়েছে যখন তিনি আমার জন্য উক্ত হাদিসের কিছু সহিহ শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) পাওয়া সহজ করে দিলেন। ফলে আমি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এর তাখরিজ করলাম এবং "আস-সহিহাহ" এর ষষ্ঠ খণ্ডে ২৮২৭ নম্বরে তা অন্তর্ভুক্ত করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, এটি বর্তমানে মুদ্রিত অবস্থায় রয়েছে।
খ- হাদিস: "হে আল্লাহ! আপনার হারামের পরিবর্তে আপনার হালাল দ্বারা আমাকে তুষ্ট করুন
… " (পুরো হাদিস), আমি "আস-সহিহাহ" এর ২৬৬ নম্বরে এর তাখরিজ করেছিলাম এবং একে তিরমিজি, হাকীম ও আহমাদ (১/১৫৩)-এর দিকে নিসবত করেছিলাম। সে এটিকেও একটি প্রস্তুত গ্রাস হিসেবে গ্রহণ করল। কিন্তু মহান আল্লাহ চাইলেন তাকে অপদস্থ করতে এবং তার গোপনীয়তা ও চৌর্যবৃত্তি ফাঁস করে দিতে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমার তাকদিরে লিখেছিলেন যে, এই নিসবত করার ক্ষেত্রে আমি ভুল করব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لأحمد، والصواب (عبد الله بن أحمد)
…وهذا قُلٌّ من جُلّ من سرقاته وتشبّعه بما لم يُعْطَ، يعرف ذلك كل من له مشاركة في هذا العلم، ومعرفة بطريقة تخريجه للأحاديث - وبخاصَةٍ في "ضعيفته"-.
ومن جنايته على هذا الحديث، وخيانته للعلم، أنَّه ضَعَّفَهُ بادِّعاء أنَّ راويَه (عبد الرحمن بن إسحاق) هو (الواسطي) - المجمع على ضعفه -، والواقع أنَّه (القرشي) - كما وقع في رواية (عبد الله بن أحمد)؛ خلافاً لرواية التِّرمذي فليس فيها هذه النِّسبةُ -، فظنَّ بعض شراحه أنَّه (الواسطي)، وبيَّنت سبب ذلك في "الصحيحة"؛ فتجاهل (الهدَّام) ذلك كلَّه - مشاكسةً ومعاندةً للحق -، كما تجاهل تحسين التِّرمذي للحديث، وتصحيح الحاكم والذهبي إيَّاه.
ثم رأَيت نسبة (القرشي) قد وقعت في رواية البيهقي- أيضاً- في "الدعوات الكبير" (134/ 177)، كما رأيت إقرار الحافظ العراقي في "تخريج الإحياء" (1/ 324) التِّرمذي على تحسينه، والحاكم على تصحيحه.
وقد شرحت الرَّد عليه وعلى من سبقه إلى هذا التضعيفِ والتوهّم - كالشيخ شعيب وتلامذته - في الاستدراك (8) في ذيل المجلّد الأوّل من "الصحيحة" (ص 927 - 932).
* أمّا ملحظُنا الرابعُ؛ فإنَّ الرجل لا يحمل العِلْمَ ولا يدريه، ولا أدَلَّ على ذلك من عزوه بعض الأحاديث إلى غير مصادرها من الأمهات المعروفة، وقد يكون في "الصحيحين" أو أحدهما، بل قد يعتمد في العزو على بعض المتأخرين؛ كصاحب "كنز العمال" والأمثلة كثيرة، تأتي، فانظُر مثالين برقم (18)، وانظر (رقم 21 و 32 و، و 56 و 58 و 59).
আহমাদ-এর প্রতি [সম্পর্কিত করা হয়েছে], অথচ সঠিক হলো (আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ)
…এটি তার চুরি এবং যা তাকে প্রদান করা হয়নি তা নিয়ে তৃপ্তিবোধ করার (প্রতারণার) বহু উদাহরণের মাঝে সামান্য কিছু মাত্র। এই বিদ্যায় যাদের সামান্যতম অংশগ্রহণ রয়েছে এবং তার হাদিস তাখরিজের পদ্ধতি সম্পর্কে—বিশেষ করে তার 'যঈফাহ' গ্রন্থে—যাদের জ্ঞান আছে, তারা সকলেই তা অবগত।
এই হাদিসের ওপর তার অপরাধ এবং ইলমের সাথে তার খেয়ানতের একটি দিক হলো যে, সে একে এই দাবিতে যঈফ (দুর্বল) বলেছে যে এর রাবী (আবদুর রহমান ইবন ইসহাক) হলেন (ওয়াসিতী)—যিনি সর্বসম্মতিক্রমে যঈফ। অথচ বাস্তবতা হলো তিনি (কুরাইশী)—যেমনটি (আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ)-এর বর্ণনায় এসেছে; তিরমিযীর বর্ণনার বিপরীতে যেখানে এই নিসবতটি (উপাধিটি) নেই। এর ফলে তার কতিপয় ব্যাখ্যাকার মনে করেছেন যে তিনি (ওয়াসিতী)। আমি 'সহীহাহ' গ্রন্থে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছি। কিন্তু (ধ্বংসকারী) সত্যের প্রতি বিদ্বেষ ও একগুয়েমীবশত এই সবকিছুকেই উপেক্ষা করেছে, যেভাবে সে তিরমিযীর হাদিসটিকে 'হাসান' বলা এবং হাকিম ও যাহাবীর একে 'সহীহ' বলার বিষয়টিও উপেক্ষা করেছে।
এরপর আমি দেখেছি যে, বায়হাকীর 'আদ-দাওয়াতুল কাবীর' (১৩৪/ ১৭৭) গ্রন্থেও (কুরাইশী) নিসবতটি এসেছে। একইভাবে আমি হাফেজ ইরাকীর 'তাখরিজুল ইহয়া' (১/ ৩২৪) গ্রন্থে ইমাম তিরমিযীর 'হাসান' বলা এবং হাকিমের 'সহীহ' বলার সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন দেখেছি।
আমি তার ওপর এবং তার পূর্বে যারা এই ভুল ধারণা ও একে যঈফ বলার দিকে গিয়েছেন—যেমন শেখ শুআইব ও তাঁর ছাত্ররা—তাদের খণ্ডন 'সহীহাহ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের পরিশিষ্টে 'ইসতিদরাক (৮)' (পৃষ্ঠা ৯২৭-৯৩২)-এ বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
* আমাদের চতুর্থ পর্যবেক্ষণ হলো; এই ব্যক্তি ইলম বহন করেন না এবং তা বোঝেনও না। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে যে, তিনি কিছু হাদিসকে সুপরিচিত মূল উৎসগ্রন্থগুলোর পরিবর্তে অন্য উৎসের দিকে সম্পর্কিত করেন, অথচ সেগুলো হয়তো 'সহীহাইন' বা তার কোনো একটিতে বিদ্যমান। এমনকি অনেক সময় তিনি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে পরবর্তীকালের আলিমদের ওপর নির্ভর করেন; যেমন 'কানযুল উম্মাল'-এর লেখক। এর উদাহরণ অনেক, যা সামনে আসবে। উদাহরণস্বরূপ ১৮ নম্বর ক্রমিকের দুটি উদাহরণ এবং ২১, ৩২, ৫৬, ৫৮ ও ৫৯ নম্বর ক্রমিকগুলো দেখুন।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
* وأمّا خامسُ طامّاتهِ؛ فإنّه يتبنى بعض الأقوال التي يظن هو أنَّها (قاعدة) - أو يتظاهر بذلك -؛ لأنَّها تساعده في المخالفة لسبيل المؤمنين، وتضعيف الأحاديث الصحيحة، وهي في الواقع تُنافي القاعدة الحقيقيَّة التي عليها استقر قول العلماء، وجرى العمل بها، وهي: الاكتفاء بالمعاصرة في إثبات الاتصال من غير المدلّس:
قال الرجل في رسالته "الحوار" (ص 66):
"وقاعدة جمهور المتقدمين من النقَّاد أن الرّواية تقتضي الاتصال وتدلُّ عليه، إِذا ثبت اللقاء بين المعنعِن والمعنعَن عنه، ولو مرَّة واحدة، وكان الرّاوي بريئاً من تهمة التدليس، وهذا هو الذي عليه رأي الحذَّاق كابن المديني، والإمام البخاري، وأكثر الأئمة".
والرَّد عليه من وجوه:
الأول: قوله: "قاعدة"، و"أكثر الأئمة"! من مبالغاته وتدليساته التي لا تنفكُّ عنه - أو لا ينفكُّ هو عنها -! فليس هناك (قاعدة) بالمعنى المعروف، وإنما هو (رأي) - كما قال أخيراً - لبعض من ذكر، خولف فيه - كما يأتي -، ومن أكثر الأئمة، - خلافاً لزعمه! -، فقد استقر رأي جماهيرهم - كما سيأتي في نص الإمام النووي - على ما قدّمت من الاكتفاءِ بالمعاصَرةِ بالشرط المذكور.
وكانت الأقوال قبل الاستقرار أربعة:
1 - المعاصرة.
2 - اللقاء.
3 - السماع.
4 - طول الصحبة.
আর তার পঞ্চম মহাবিপত্তি হলো; তিনি এমন কিছু বক্তব্য গ্রহণ করেন যেগুলোকে তিনি (নিয়ম বা উসুল) বলে মনে করেন - অথবা তা প্রকাশ করেন -; কারণ এগুলো তাকে মুমিনদের পথ পরিপন্থী অবস্থানে যেতে এবং সহীহ হাদীসগুলোকে দুর্বল প্রমাণ করতে সাহায্য করে। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সেই প্রকৃত নিয়মের বিপরীত যার ওপর আলেমদের সিদ্ধান্ত স্থির হয়েছে এবং যার ওপর আমল জারি রয়েছে, আর তা হলো: মুদাল্লিস (তাদলীসকারী) নয় এমন রাবীর ক্ষেত্রে বর্ণনার সংযোগ বা ইত্তেসাল প্রমাণের জন্য কেবল সমসাময়িক হওয়াই যথেষ্ট:
উক্ত ব্যক্তি তার "আল-হিওয়ার" নামক পুস্তিকায় (পৃষ্ঠা ৬৬) বলেছেন:
"পূর্বসূরী (মুতাকাদ্দিমীন) হাদীস সমালোচকদের অধিকাংশের নিয়ম হলো, রেওয়াত বা বর্ণনা তখনই নিরবচ্ছিন্নতা দাবি করে এবং তার ওপর প্রমাণ বহন করে, যখন 'আন' যোগে বর্ণনাকারী ও যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে অন্তত একবার সাক্ষাৎ প্রমাণিত হয়, এবং রাবী যদি তাদলীসের অভিযোগ থেকে মুক্ত থাকেন। আর ইবনুল মাদীনী, ইমাম বুখারী ও অধিকাংশ ইমামদের ন্যায় বিশেষজ্ঞগণের অভিমত এমনই।"
এর উত্তরে কয়েকটি দিক লক্ষণীয়:
প্রথমত: তার "নিয়ম" এবং "অধিকাংশ ইমাম" বলাটা তার সেই অতিরঞ্জন ও প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত যা তার থেকে অবিচ্ছেদ্য - অথবা সে তা থেকে পৃথক হতে পারে না -! এখানে প্রচলিত অর্থে কোনো (নিয়ম) নেই, বরং এটি কেবল একটি (অভিমত) - যা তিনি শেষে নিজেও স্বীকার করেছেন - যা উল্লেখিত কতিপয় আলেমের। এর বিপরীতে মতভেদ রয়েছে - যা সামনে আলোচিত হবে - এবং অধিকাংশ ইমামদের পক্ষ থেকেই তা এসেছে, যা তার দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত! ইমাম নববীর বক্তব্যে যা সামনে আসবে সে অনুযায়ী জমহুর বা অধিকাংশ ইমামদের সিদ্ধান্ত সেই বিষয়ের ওপরই স্থির হয়েছে যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষে কেবল সমসাময়িক হওয়াই যথেষ্ট।
সিদ্ধান্ত স্থির হওয়ার পূর্বে এ বিষয়ে চারটি অভিমত ছিল:
১ - সমসাময়িক হওয়া।
২ - সাক্ষাৎ হওয়া।
৩ - সরাসরি শ্রবণ করা।
৪ - দীর্ঘ সাহচর্য।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهي مذكورةٌ في كتب المصطلح، وبخاصة الشروح منها، وقد بَسط الكلامَ عليها الحافظُ السيوطيُّ في "تدريب الراوي" (1/ 216)، فمن شاء التفصيل رجع إليه.
ولكنْ؛ لا بُدّ من ذكر نص الإمام النووي؛ لأهميّتهِ وكثرة فائدته؛ ليكون القرَّاء على بيّنة من الأمر: قال رحمه الله في "التقريب" (1/ 214 - 215 - بشرح "التدريب")، وأصلِهِ "إرشاد طلاب الحقائق" (1/ 185 - 186):
"الإسناد المعنعن - وهو فلان عن فلان -، قيل: إِنه مرسل؛ والصحيح الذي عليه العمل - وقاله الجماهير من أصحاب الحديث والفقه والأصول -: أنَّه متصل بشرط أن لايكون المعنعِن مدلِّساً، وبشرط إمكان لقاء بعضهم بعضاً.
وفي اشتراط ثبوت اللقاء وطول الصحبة ومعرفته بالرواية عنه خلاف؛ منهم من لم يشترط شيئاً من ذلك - وهو مذهب مسلم بن الحجاج؛ وادّعى الإجماع فيه -".
وفي هذا النصِّ من الإمام النووي ما يُشعر أنَّه كان هناك اختلاف شديد بين العلماء في شرط الاتصال بين الراويين، ثم استقرَّ رأيهم وعملهم على الاكتفاء بالمعاصرة، وأنَّه شرط أساس، وأنَّ ما سوى ذلك شرط كمال، فإِن وجد فالحمد لله، وإلاّ ففي (المعاصرة) بشرطها خيرٌ وبركةٌ؛ وعلى هذا أصحاب "الصحاح" و"السنن" وغيرهم.
وهذا التفصيل هو الذي قال به الحفاظ من بعدهم؛ فهذا الإمام الذهبي يقوِّي مذهب مسلم حين تعرّض لذكر الخلاف بينَه وبين البخاري بقوله في "السير" (12/ 573): "وقول الإمام البخاري وشيخه علي بن المديني؛ هو الأصوب الأقوى".
এগুলো মুসতালাহ (হাদিস পরিভাষা) শাস্ত্রের কিতাবসমূহে, বিশেষ করে সেগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে আলোচিত হয়েছে। হাফেজ সুয়ূতী 'তাদরীবুর রাবী' (১/২১৬) গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; সুতরাং কেউ বিস্তারিত জানতে চাইলে সেখানে দেখতে পারেন।
তবে এর গুরুত্ব এবং অধিক উপযোগিতার কারণে ইমাম নববীর বক্তব্যটি উদ্ধৃত করা আবশ্যক, যাতে পাঠকদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আত-তাকরীব' (১/২১৪-২১৫, 'তাদরীব' এর ব্যাখ্যাসহ) এবং এর মূল গ্রন্থ 'ইরশাদু তুল্লাবিল হাকাইক' (১/১৮৫-১৮৬) এ বলেছেন:
"মুআনআন সনদ—অর্থাৎ 'অমুক হতে অমুক'—সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি মুরসাল। কিন্তু সহীহ ও কর্মযোগ্য মত—যা অধিকাংশ মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং উসূলে ফিকহ বিশেষজ্ঞগণ পোষণ করেন—হলো: এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) বলে গণ্য হবে, যদি এই মুআনআন বর্ণনাকারী মুদাল্লিস না হন এবং একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ সম্ভব হওয়ার শর্ত বিদ্যমান থাকে।
আর সাক্ষাতের প্রমাণ থাকা, দীর্ঘ সাহচর্য এবং তাঁর থেকে বর্ণনার মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার শর্তারোপের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এর কোনোটিই শর্ত হিসেবে গণ্য করেননি—এটিই মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের মাযহাব এবং তিনি এ বিষয়ে ইজমার (ঐক্যমত্য) দাবি করেছেন।"
ইমাম নববীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে অনুভূত হয় যে, দুই রাবীর মধ্যবর্তী সংযোগের (ইত্তেসাল) শর্ত নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মাঝে প্রবল মতভেদ ছিল। পরবর্তীকালে সমসাময়িকতা বা মুআসারাত-কে যথেষ্ট মনে করার ওপর তাঁদের অভিমত ও কর্মপন্থা স্থির হয়। এটিই মূল শর্ত হিসেবে গৃহীত হয় এবং এর অতিরিক্ত বিষয়গুলো পূর্ণতার শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি তা পাওয়া যায় তবে আলহামদুলিল্লাহ; অন্যথায় শর্তসাপেক্ষে 'মুআসারাত'-এর মধ্যেই কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। 'সিহাহ' ও 'সুনান' গ্রন্থকারগণ এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম এই নীতির ওপরই অটল ছিলেন।
পরবর্তী হাফেজগণও এই বিশ্লেষণের পক্ষেই মত দিয়েছেন। যেমন ইমাম জাহাবী যখন ইমাম মুসলিম ও বুখারীর মধ্যবর্তী মতভেদের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছেন, তখন ইমাম মুসলিমের মাযহাবকে শক্তিশালী করেছেন এবং 'আস-সিয়ার' (১২/৫৭৩) গ্রন্থে বলেছেন: "ইমাম বুখারী ও তাঁর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনীর বক্তব্যই অধিক সঠিক ও শক্তিশালী।"
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فهذا - منه - كالنِّصِّ على مذهب مسلم صواب وقوي، كما لا يخفى. ونحوه قول خاتمة الحفاظ الإمام ابن حجر العسقلاني - رحمه الله تعالى - في "النكت على ابن الصلاح" (1/ 289):
"لأنَّا وإن سلّمنا بما ذكره مسلم من الحكم بالاتصال؛ فلا يخفى أنَّ شرط للبخاري أوضح في الاتصال".
ونحوه في كتبه الأخرى، مثل "مقدِّمة الفتح" و"نزهة النظر"، وعلى ذلك كتب التخريج قاطبةً، لايكاد الباحث يجد فيها حافظاً إلاّ مكتفياً في التصحيح بالمعاصرة؛ كما سترى فيما يأتي من الأحاديث التي صَحَّحُوها، وعاكسهم (الهدَّام) فضعَّفها - بناءً على قاعدته التي ادَّعاها! -.
على أنني كنت وقفت على قولٍ لبعضهم في شروح المصطلح: أنَّ شرط اللقاء عند البخاري إنَّما هو في "صحيحه" فقط، وكنت متوقِّفاً عنه بُرهةً من الزمن؛ حتى رأيت التِّرمذي قد نقل عنه في "سُنَنِه" (128) تحسينَ سند حديثٍ؛ فيه مَنْ لا يمكن إثبات لقائه للراوي عنه.
تم رأيتُهُ في "العِلَل الكبير" (1/ 188 - بترتيب القاضي)؛ وفيه قوله: "هو حديثٌ حسنٌ، إلا أنّ إبرأهيم بن محمد بن طلحة هو قديمٌ، ولا أدري: سمع منه عبد الله بن محمد بن عَقِيل، أم لا؟ ! وكان أحمد بن حنبل يقول: هو حديثٌ صحيحٌ".
وفي ظنِّي أنَّه من الممكن أن يجد الباحث فيه أمثلةً أخرى عند التتبُّع، لكثرة الأحاديث التي يذكر فيه عنه تحسينها أو تصحيحها؛ فَقَوِيَ الظنّ. عندي أنَّه شرط كمال عنده، وليس شرط صِحَّةٍ.
وازداد ظنِّي قوَّةً حين رأيت (أبا حاتم الرّازي) في "العلل" يحسِّن إسناد
এটি তাঁর পক্ষ থেকে ইমাম মুসলিমের মাযহাব সঠিক এবং শক্তিশালী হওয়ার স্বপক্ষে একটি সুস্পষ্ট ভাষ্যের মতো, যা অত্যন্ত স্পষ্ট। অনুরূপ একটি বক্তব্য হাফেজদের শিরোমণি ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর "আন-নুকালাত আলা ইবনে আস-সালাহ" (১/২৮৯) গ্রন্থে প্রদান করেছেন:
"কেননা, ইমাম মুসলিম নিরবচ্ছিন্নতা (ইত্তিসাল) সম্পর্কে যে হুকুম দিয়েছেন তা যদি আমরা মেনেও নেই, তবুও এটি স্পষ্ট যে ইমাম বুখারীর শর্ত নিরবচ্ছিন্নতার ক্ষেত্রে অধিকতর সুস্পষ্ট।"
অনুরূপ কথা তাঁর অন্যান্য গ্রন্থেও রয়েছে, যেমন "মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ" এবং "নুজহাতুন নাযার"। আর সমস্ত তাখরীজ গ্রন্থাবলি সামগ্রিকভাবে এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত; গবেষক সেখানে এমন কোনো হাফেজ পাবেন না যিনি সহীহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল সমসাময়িকতাকে (মুআসারাহ) যথেষ্ট মনে করেননি। যেমনটি আপনি সামনে আগত হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন, যেগুলোকে তাঁরা সহীহ বলেছেন অথচ (বিধ্বংসী) ব্যক্তিটি তার দাবিকৃত উসূলের ভিত্তিতে সেগুলোকে যঈফ বলেছেন!
তা সত্ত্বেও আমি মুসতালাহ (হাদীসতত্ত্বের পরিভাষা) এর কোনো কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থে কারো কারো এমন একটি বক্তব্য পেয়েছিলাম যে: ইমাম বুখারীর নিকট সাক্ষাতের (লিকা) শর্তটি কেবল তাঁর "সহীহ" গ্রন্থেই সীমাবদ্ধ। আমি এ বিষয়ে কিছুকাল সংশয়ে ছিলাম; যতক্ষণ না আমি দেখলাম ইমাম তিরমিযী তাঁর "সুনান" (১২৮) গ্রন্থে তাঁর থেকে একটি হাদীসের সনদকে 'হাসান' হওয়ার উদ্ধৃতি দিয়েছেন; অথচ সেই সনদে এমন একজন রাবী রয়েছেন যাঁর সাথে তাঁর উস্তাদের সাক্ষাত প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
অতঃপর আমি এটি "আল-ইলালুল কাবীর" (১/১৮৮ - কাজী বিন্যস্ত) গ্রন্থে দেখেছি; সেখানে তাঁর বক্তব্য হলো: "এটি একটি হাসান হাদীস, তবে ইব্রাহীম বিন মুহাম্মদ বিন তালহা হলেন প্রাচীন (তবকার), আর আমি জানি না আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকীল তাঁর থেকে হাদীস শুনেছেন কি না?! আর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলতেন: এটি একটি সহীহ হাদীস।"
আমার ধারণা এই যে, অনুসন্ধানের সময় গবেষক সেখানে আরও অনেক উদাহরণ পেতে পারেন, কারণ সেই গ্রন্থে ইমাম বুখারী কর্তৃক হাসান বা সহীহ বলা হাদীসের সংখ্যা প্রচুর। ফলে আমার নিকট এই প্রবল ধারণা জন্মেছে যে, লিকা বা সাক্ষাতের বিষয়টি তাঁর নিকট একটি পূর্ণতার শর্ত (শরতে কামাল), শুদ্ধতার অপরিহার্য শর্ত (শরতে সেহহাত) নয়।
আমার এই ধারণা আরও জোরালো হয় যখন আমি দেখলাম (আবু হাতিম আর-রাযী) "আল-ইলাল" গ্রন্থে একটি সনদকে হাসান বলছেন...
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
حديث تابعيٍّ عن صحابي بحجَّةِ أنَّه أدركه ولم يَلْقَهُ، ولذلك لم يُصَحِّحْهُ، فكان هذا منبِّهاً قويّاً على أنَّ إعلاله - هو وأمثاله - لبعض الأحاديثِ لعدم اللقاء؛ إنَّما هو لنفي الصِّحَّةِ، لا الحُسْنِ، فثبت بذلك عندي أن (اللقاء) شرط كمال، في بحثٍ أودعتُهُ في "سلسلة الأحاديث الضعيفة" (6546).
ولهذا؛ فإِني أسأل (الهدَّام): لِمَ تَبنَّيْتَ شرط (اللقاء) كشرط أساس تُضَعِّفُ به الأحاديث؛ لجهلك بتحقُّقِه فيها؟ !
فإِن قال: لأنَّه أحوط وأقوى!
قلنا: هذا قد يُسَلَّم، ولكن ذلك لا ينفي قوَّة شرط (المعاصرة) - كما تقدّم بيانه من نصوص الحفّاظ - هذا أوّلاً -.
وثانياً: يلزمك أن تتبَنّى - أيضاً - الشرطين الآخرين: (السماع) و (طول الصحبة)، فإِنَّهما - بلا شك - "أحوط وأقوى"! !
أما نحن: فنلتزم هذه الشروط كُلَّها، مع التفريق بين ما هو شرط صِحَّةٍ - وهو (المعاصرة) -، وما سواه - وهو شرطُ كمالٍ -، ممّا قد تفيد ملاحظتها عند التعارض والترجيح.
ومن حُجَّتنا على هذا (الهدَّام) أمران هامّان جداً:
أحدهما: أن من المتفق عليه بين علماء المسلمين كافّةً لثبوت الحديث
- شرطيّة (المعاصرة وإمكان اللقاء) مع السلامة من التدليس - كما تقدم -؛ فمن
زاد على هذا شرطاً آخر؛ قيل له: {هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ}.
و(الهدَّام) حين تبنّى شرط اللقاء، وضعّف به حديث: "عليكم بسنَّتي وسُنَّة الخلفاء الراشدين" - الذي اتَّفق العلماء قاطبةً على صحَّته، مع تعدُّد طرقه - ضعَّفها هو كُلّها بأساليبه الملتوية؛ منها زعمه أنَّه لم يتَحقَّق فيه شرط
একজন তাবিঈর সাহাবী থেকে বর্ণিত হাদীস, এই যুক্তিতে যে তিনি তাকে পেয়েছিলেন কিন্তু তার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি। এ কারণেই তিনি একে সহীহ (বিশুদ্ধ) বলেননি। আর এটি একটি শক্তিশালী সংকেত ছিল যে, সাক্ষাতের অভাবের কারণে তাঁর—এবং তাঁর মতো অন্যদের—কিছু হাদীসকে ত্রুটিপূর্ণ (ই'লাল) সাব্যস্ত করা কেবল বিশুদ্ধতা (সিহাহ) অস্বীকার করার জন্য, তা হাসান (উত্তম) হওয়াকে অস্বীকার করার জন্য নয়। ফলে আমার কাছে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, 'সাক্ষাৎ' (লিকা) হলো একটি পূর্ণতার শর্ত (শর্তে কামাল), যা আমি 'সিলসিলাতুল আহাদীস আদ-দঈফাহ' (৬৫৪৬) গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
একারণেই আমি সেই 'বিধ্বংসী' (আল-হাদ্দাম)-কে জিজ্ঞেস করি: কেন আপনি 'সাক্ষাৎ' হওয়ার শর্তটিকে একটি মৌলিক শর্ত হিসেবে গ্রহণ করেছেন যার মাধ্যমে আপনি হাদীসসমূহকে যঈফ (দুর্বল) সাব্যস্ত করেন, যেখানে আপনি হাদীসটিতে তা বাস্তবায়িত হওয়া সম্পর্কে অজ্ঞ?!
যদি তিনি বলেন: কারণ এটি অধিক সতর্কতা ও শক্তিশালী হওয়ার পরিচায়ক!
আমরা বলবো: এটি মেনে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তা 'সমসাময়িকতা' (মু’আসারাহ)-র শর্তটির শক্তিকে নাকচ করে না—যেমনটি হাফিজগণের উক্তি থেকে ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে—এটি প্রথমত।
দ্বিতীয়ত: আপনার ওপর আবশ্যক হয়ে পড়ে অন্য আরও দুটি শর্তও গ্রহণ করা: 'শ্রবণ' (সামা') এবং 'দীর্ঘ সাহচর্য' (তূলুস সুহবাহ); কেননা নি:সন্দেহে এই দুটিও "অধিকতর সতর্কতা ও শক্তিশালী হওয়ার পরিচায়ক"!!
আর আমরা এই সমস্ত শর্তই মেনে চলি, তবে যা বিশুদ্ধতার (সিহাহ) শর্ত—অর্থাৎ 'সমসাময়িকতা' (মু’আসারাহ)—এবং যা এছাড়া অন্য কিছু—অর্থাৎ 'পূর্ণতার শর্ত'—তার মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখি। বিরোধ ও প্রাধান্য (তারজীহ) নির্ণয়ের সময় এগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উপকারী হতে পারে।
আর এই 'বিধ্বংসী'র বিরুদ্ধে আমাদের প্রমাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় রয়েছে:
প্রথমটি হলো: হাদীস সাব্যস্ত হওয়ার জন্য মুসলিম বিশ্বের সমস্ত আলেমদের মাঝে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে—তাদলিস (বর্ণনাগত ত্রুটি) থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি—'সমসাময়িকতা ও সাক্ষাতের সম্ভাবনা' শর্ত হিসেবে গণ্য হবে; যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এর অতিরিক্ত অন্য কোনো শর্ত আরোপ করবে, তাকে বলা হবে: {তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের দলিল পেশ করো}।
আর সেই 'বিধ্বংসী' যখন সাক্ষাতের শর্তটি গ্রহণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে "তোমরা আমার সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো" হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন—যে হাদীসটির বিশুদ্ধতার ওপর এর অসংখ্য সনদ থাকা সত্ত্বেও সমস্ত ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন—সে তার কুটিল পন্থার মাধ্যমে এই সমস্ত সনদকেই দুর্বল প্রতিপন্ন করেছেন; এর মধ্যে একটি হলো তার এই দাবি যে, এতে সেই শর্তটি বাস্তবায়িত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
اللقاء! مع أنَّ في بعض طرقه تصريحَ الرّواي بالتحديث؛ فكابر وأعلّه به -.
والمقصود أنَّه حين تبنَّى (اللقاء) لم يذكر أي دليل على أنَّه شرط صِحَّةٍ، إلاّ تقليده لبعض الأقوال، ثُمَّ هو يتّهم غيرَه بالتقليد!
والأمثلة الكثيرة التي ذكرها في رُسيِّلته "حوار
… " (ص 66 - 75)، كان أكثرها مُعَلاًّ بالإرسال والانقطاع؛ لأسباب أخرى غير عدم الاعتداد بشرط (المعاصرة) - كالتدليس في (حبيب بن أبي ثابت) (ص 67)، و (الحسن البصري) (68، 5)، و (زيد بن أسلم) (69/ 7) و (قتادة) (69/ 11)، و (أبي قلابة) (70/ 14) -، فهؤلاء إنَّما أُعلّت رواياتهم بسبب التدليس، وليس لعدم الاعتداد بالمعاصرة؛ فتنبّه.
فهكذا الرجل يتشبَّع بما لم يُعْطَ، ويدلِّس على القراء، ويقلِبُ عليهم الحقائق.
ومن هذا القبيل مثاله (8): "أبو حاتم قال في خالد بن مَعدان: أدرك أبا هريرة، ولا يُذكر له سماع"؛ فهذا لا يدُلّ على شرط اللقاء، وإنَّما على عدم إمكان اللقاء، وذلك لاختلاف البلد، فأبو هريرة مدني، وخالد حمصي.
ومثله المثال (6)؛ فإنَّه من رواية كوفي عن شامي.
وقد أفصح الإمام أحمد رحمه الله عن هذا السبب في بعض التراجم؛ فقال - كما في "مراسيل العلائي" (213/ 196) -: "ما أحسب لقي (زُرارة) (تميماً)، تميم كان بالشام، وزرارة بصريٌّ كان قاضياً".
وإذا كان أحمد يحتجُّ بالمرسَل في بعض الروايات عنه، موافقاً في ذلك لمالك وغيره - كما في "جامع التحصيل"-؛ فكيف لا يحتجّ بالمسند من
সাক্ষাৎ! যদিও এর কিছু সূত্রে বর্ণনাকারীর সরাসরি শ্রবণের (তাহদীস) সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে; তথাপি তিনি হঠকারিতা করেছেন এবং একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন।
উদ্দেশ্য হলো, তিনি যখন (সাক্ষাতের শর্তটি) গ্রহণ করেছেন, তখন এটি সহীহ হওয়ার শর্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ উল্লেখ করেননি, বরং কেবল কিছু মতামতের অন্ধ অনুসরণ (তাকলীদ) করেছেন; অথচ তিনি নিজেই আবার অন্যকে অন্ধ অনুকরণের দায়ে অভিযুক্ত করেন!
তিনি তার ক্ষুদ্র পুস্তিকা "হিওয়ার
..." (পৃষ্ঠা ৬৬-৭৫)-এ যে অসংখ্য উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর অধিকাংশকেই 'ইরসাল' ও 'ইনকিতা' (সূত্রবিচ্ছিন্নতা)-এর কারণে ত্রুটিপূর্ণ গণ্য করা হয়েছে; যা (সমসাময়িকতা)-এর শর্তকে আমলে না নেওয়ার পরিবর্তে অন্য সব কারণে হয়েছে—যেমন: হাবীব ইবনে আবি সাবিত (পৃষ্ঠা ৬৭), হাসান বসরী (৬৮, ৫), যায়দ ইবনে আসলাম (৬৯/ ৭), কাতাদাহ (৬৯/ ১১) এবং আবু কিলাবাহ (৭০/ ১৪)-এর বর্ণনায় 'তাদলীস'। সুতরাং, এই বর্ণনাকারীদের বর্ণনা মূলত তাদলীসের কারণেই ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত হয়েছে, সমসাময়িকতাকে আমলে না নেওয়ার কারণে নয়; তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
এভাবেই লোককটি যা তাকে দেওয়া হয়নি তা নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন, পাঠকদের প্রতারিত করেন এবং তাদের সামনে সত্যকে উল্টে দেন।
এরই একটি উদাহরণ হলো (৮): "আবু হাতিম খালিদ ইবনে মা’দান সম্পর্কে বলেছেন: তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-কে পেয়েছেন, তবে তার পক্ষ থেকে কোনো শ্রবণের কথা উল্লেখ নেই"; এটি সাক্ষাতের শর্তের প্রমাণ দেয় না, বরং সাক্ষাতের অসম্ভবতার প্রতি ইঙ্গিত করে। আর তা ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে, কেননা আবু হুরায়রা (রা.) ছিলেন মদিনার অধিবাসী এবং খালিদ ছিলেন হিমসের বাসিন্দা।
অনুরূপ উদাহরণ (৬); কেননা সেটি একজন কুফাবাসীর একজন সিরিয়াবাসীর থেকে বর্ণনা।
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) কোনো কোনো জীবনী বর্ণনায় এই কারণটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; তিনি বলেছেন—যেমনটি "মারাসীলুল আলাইয়ী" (২১৩/ ১৯৬)-তে বর্ণিত হয়েছে—: "আমি মনে করি না যে যুরারা তামীমের দেখা পেয়েছেন; তামীম ছিলেন সিরিয়ায় এবং যুরারা ছিলেন বসরার একজন বিচারক।"
আর ইমাম আহমাদ যখন তার বর্ণিত কিছু মত অনুযায়ী 'মুরসাল' হাদীসকেও দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন—এক্ষেত্রে তিনি ইমাম মালিক ও অন্যদের সাথে একমত, যা "জামেউত তাহসীল"-এ উল্লিখিত হয়েছে—তবে তিনি কীভাবে সেই 'মুসনাদ' হাদীসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করবেন না যা...
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
معاصر لصحابي، والمعاصر غير مُدَلس؟ (1) فما نسبه (الهدَّام) لأحمد في المثال (5) هو من تدليسه وتضليله للقراء! لأنّه في المدلِّس! ومثل قول أحمد - المتقدم - قول أبي حاتم في (ابن سيرين): "ما أظنّهُ سمع من أبي الدرداء، ذاك بالشام وهذا بالبصرة" (2).
ولم يكتف (الهدَّام) بهذه الأمثلة المضلِّلة التي لا علاقة لها بدعواه، بل ذكر أمثلَةً أخرى تدور على بعض التابعين المجهولين - كما في رقم (6) -؛ فعبدُ الحميد بن سالم، عن أبي هريرة؛ فهذا مجهولٌ، - ومثله: (12) - وفيه عن بعضهم: "لا يعرف سماع سلامة الكِندي عن علي، والحديث مرسل".
قلت: فسلامة هذا مجهول، وله حديث ضعيفط خَرَّجته في "الضعيفة" تحت الحديث (6545).
ولم يقف عند هذا التضليل؛ بل ذكر في المثال (3) عن الواقدي؛ قال: "عبد الرحمن بن صبيحة التميمي، لم يُذكر له سماع ولا صحبة".
والواقدي متروك متّهم؛ وليس من أئمَّة الجرح والتعديل، ولكن المضلِّل يتعلَّقُ - كالغريق - ولو بخيوط القمر، ولو كان الواقديُّ ثقةً ومن الأئمة؛ فهو كتلك الأمثلة المتقدمة؛ ليس لها علاقةٌ مطلقاً بموضوع اللقاء والمعاصرة، وإنَّما بـ (المراسيل).
--------------------------------------------
তিনি একজন সাহাবীর সমসাময়িক ছিলেন, আর এই সমসাময়িক ব্যক্তি কি মুদাল্লিস (প্রতারক) নন? (১) সুতরাং উদাহরণ (৫)-এ আহমাদ-এর দিকে ‘আল-হাদ্দাম’ যা নিসবত করেছেন, তা মূলত পাঠকদের প্রতি তার প্রতারণা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো! কারণ এটি একজন মুদাল্লিস (তাদলীসকারী) সম্পর্কে! আর ইমাম আহমাদ-এর পূর্বোক্ত উক্তির অনুরূপ হলো ইবনে সিরীন সম্পর্কে আবু হাতিমের উক্তি: "আমি মনে করি না যে তিনি আবু দারদা থেকে শুনেছেন; তিনি ছিলেন শামে আর ইনি ছিলেন বসরায়" (২)।
‘আল-হাদ্দাম’ এই বিভ্রান্তিকর উদাহরণগুলোতেই ক্ষান্ত হননি যেগুলোর সাথে তার দাবির কোনো সম্পর্ক নেই, বরং তিনি এমন আরও কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা কিছু অজ্ঞাত (মাজহুল) তাবিঈর ওপর আবর্তিত—যেমনটি ৬ নম্বর উদাহরণে রয়েছে—যেমন আবু হুরায়রা থেকে আব্দুল হামীদ ইবনে সালিমের বর্ণনা; এই রাবী অজ্ঞাত। এর অনুরূপ হলো উদাহরণ (১২); এতে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আলী (রা.) থেকে সালামাহ আল-কিনদীর শ্রবণ (সামা') প্রমাণিত নয় এবং হাদীসটি মুরসাল"।
আমি বলছি: এই সালামাহ তো অজ্ঞাত, এবং তার একটি যঈফ (দুর্বল) হাদীস রয়েছে যা আমি ‘আদ-দাঈফাহ’ গ্রন্থে ৬৫৪৫ নম্বর হাদীসের অধীনে তাখরীজ করেছি।
তিনি এই বিভ্রান্তি ছড়ানোর মধ্যেই থেমে থাকেননি; বরং উদাহরণ (৩)-এ ওয়াকিদী থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আব্দুর রহমান ইবনে সাবিহাহ আত-তামীমী সম্পর্কে কোনো শ্রবণ (সামা') বা সাহাবী হওয়ার কথা উল্লেখ নেই"।
অথচ ওয়াকিদী হলেন মাতরুক (বর্জনীয়) ও অভিযুক্ত; তিনি জারহ-তাদীলের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত নন। কিন্তু বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ব্যক্তি—ডুবন্ত মানুষের মতো—চাঁদের সুতোর ন্যায় অতি দুর্বল অবলম্বনকেও আঁকড়ে ধরে। এমনকি যদি ওয়াকিদী সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) এবং ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হতেন, তবুও এটি পূর্বোক্ত উদাহরণগুলোর মতোই হতো; এগুলোর সাথে সাক্ষাৎ (লিকা) এবং সমসাময়িকতা (মুআসারাহ)-এর বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এগুলো ‘মুরসাল’ (মরাসীল) সংক্রান্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولهذا لا يجوز نسبة القول إلى هؤلاء الحفّاظ أنَّهم يشترطون اللقاء ولا يكتفون بالمعاصرة، ولو لم يوجد سببٌ مانعٌ من ذلك من تلك الأسباب ونحوها، فإن لهم - لسعة حفظهم وقوّة إدراكهم - ملاحظاتٍ وتعليلاتٍ قد تخفى على الكثيرين؛ وبخاصّةٍ المتأخِّرين من أمثالنا، فتكون ملاحظاتهم سبباً مانعاً من الاحتجاج بالمعاصرة أحياناً، كما هو الشأن عند القائلين بها، الذين اشترطوا إمكان اللقاء مع السلامة من التدليس، فإِذا انتفى سببٌ من الأسباب المانعة، احتجَّ المحققون بالمعاصرة مع إمكان اللقاء، وإليك بعضَ الأمثلة:
1 - مجاهد عن عائشة: أنكر غير واحد سماعه منها، كما رواه ابن أبي حاتم في "المراسيل" (ص 125)، وأجاب العلائي (336/ 736) بقولِهِ: "قلت: وحديثه عنها في "الصحيحين"، وقد صرَّح في غير حديث بسماعه منها" (1).
وأقول: أحدها في "الصحيحّين" (1776 - خ)، (4/ 61 - م)، وليس هذا هو اليقصودَ هنا، وإِنَّما هو قول ابن حبّان عَقِبَ حديثما مجاهد عن عائشة مرفوعاً: "لا تسبّوا الأموات، فإِنَّهم أفضَوا إلى ما قدَّموا" - ورواه البخاري (1393 و 6516) -، قال ابن حبان (7/ 291):
"ماتت عائشة سنة سبع وخمسين، وولد مجاهد سنة إحدى وعشرين في خلافة عمر، فَدَلّك هذا على أنَّ من زعم أنَّ مجاهداً لم يسمع من عائشة؛ كان واهياً في قوله ذلك".
2 - يعقوب مولى الحُرَقة، قال: قال عمر بن الخطاب
… فذكر أثراً له أخرجه التِّرمذي، وقالما (487):
"حسن غريب
… ، ويعقوب - جد العلاء -؛ من كبار التابعين، قد أدرك عمر بن الخطاب، وروى عنه".
--------------------------------------------
এ কারণে এই হাফেজদের (হাদিস বিশারদগণের) প্রতি এই মতটি আরোপ করা বৈধ নয় যে, তাঁরা সাক্ষাতের শর্তারোপ করেন এবং কেবলমাত্র সমসাময়িকতাকে যথেষ্ট মনে করেন না—যদি না সেই সকল কারণ বা তদ্রূপ কোনো প্রতিবন্ধক বিদ্যমান থাকে। কেননা তাঁদের মুখস্থশক্তির বিশালতা এবং প্রখর উপলব্ধির কারণে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ ও সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা থাকে যা অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থেকে যায়; বিশেষ করে আমাদের মতো পরবর্তী যুগের লোকেদের কাছে। ফলে তাঁদের সেই পর্যবেক্ষণগুলো কখনও কখনও সমসাময়িকতাকে দলিল হিসেবে পেশ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, যেমনটি তাঁদের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে যাঁরা সমসাময়িকতার প্রবক্তা কিন্তু তাঁরা 'তাদলিস' (তথ্য গোপন) থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকার শর্তারোপ করেছেন। সুতরাং যখন প্রতিবন্ধক কারণগুলোর কোনোটি দূরীভূত হয়, তখন গবেষকগণ সাক্ষাতের সম্ভাবনার সাথে সমসাময়িকতাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন। নিচে এর কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
১ - আয়েশা (রা.) থেকে মুজাহিদ: তাঁর থেকে মুজাহিদের হাদিস শোনার বিষয়টি একাধিক ইমাম অস্বীকার করেছেন, যেমনটি ইবনে আবি হাতেম তাঁর 'আল-মারাসিল' (পৃ. ১২৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আল-আলায়ী (৩৩৬/ ৭৩৬) এর উত্তরে বলেছেন: "আমি বলছি: তাঁর (আয়েশা) থেকে বর্ণিত তাঁর (মুজাহিদ) হাদিসগুলো 'সহিহাইন'-এ (বুখারি ও মুসলিম) রয়েছে এবং একাধিক হাদিসে তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনার কথা সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।" (১)।
এবং আমি বলছি: এর মধ্যে একটি 'সহিহাইন'-এ রয়েছে (১৭৭৬ - বুখারি), (৪/ ৬১ - মুসলিম), তবে এখানে এটি উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি হলো আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত মুজাহিদের 'মারফু' হাদিসটির পর ইবনে হিব্বানের বক্তব্য: "তোমরা মৃতদের গালি দিও না, কেননা তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তার কাছে তারা পৌঁছে গেছে" - এটি বুখারি (১৩৯৩ ও ৬৫১৬) বর্ণনা করেছেন -। ইবনে হিব্বান (৭/ ২৯১) বলেন:
"আয়েশা (রা.) সাতান্ন হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং মুজাহিদ উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে একুশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। এটি আপনাকে একথাই প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি দাবি করে যে মুজাহিদ আয়েশা (রা.) থেকে হাদিস শুনেননি, সে তার এই বক্তব্যে দুর্বল।"
২ - হুরকাহর আযাদকৃত দাস ইয়াকুব বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন
… এরপর তিনি তাঁর একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা তিরমিযি সংকলন করেছেন এবং তিনি (৪৮৭) বলেছেন:
"হাসান গারিব
… , এবং ইয়াকুব -যিনি আল-আলার দাদা- প্রবীণ তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে পেয়েছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
3 - سعيد بن المسيَّب، قال: قال أنس
… فذكر حديثاً مرفوعاً، أخرجه التِّرمذي (2685)، وقال:
"حديث حسن غريب من هذا الوجه (1)، قال شعبة: "ولا نعرف لسعيد عن أنس إلاّ هذا"، ومات أنس سنة (93)، وسعيد (95) " (2).
قلت: وهذا اعتدادٌ صريحٌ بالمعاصرة، خلافاً لما يُعزى لشيخه البخاري، وليس كذلك إذا تذكَّرت التفصيل - المتقدم - في شرط البخاري، وأنَّه خاصٌّ بـ"صحيحه"، وأنَّه شيخه في مثل هذا التحسين، فتذكّر.
4 - حُميد بن عبد الرحمن، قال أبو زُرعة: "عن علي وأبي بكر: مرسل". ذكره ابن أبي حاتم في "المراسيل" (37)، وَالعلائي (202/ 145)، إِلاّ أن هذا تعقّبه بقوله:
"قلت: قد سمع من أبيه وعثمان رضي الله عنهما؛ فكيف يكون عن علي مرسلاً وهو معه في المدينة؟ ! نعم، روى عن عمر رضي الله عنه، وكأنَّه مرسل".
وأقول: ليت أبا زُرعة وغيره من حُفَّاظنا كانوا يتحفَّظون في نفيهم السماع والجزم بالإرسال كما تحفّظ العلائي بقوله: "كأنَّه مرسل"؛ فإِنَّ النفي في الغالب يكون مساوياً لقوله: "لا أعلم"؛ فيكون هذا التعبيرُ أقربَ إلى الصواب
--------------------------------------------
৩ - সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, তিনি বলেন: আনাস (রা.) বলেছেন... এরপর তিনি একটি মারফু হাদিস উল্লেখ করেন, যা তিরমিযী (২৬৮৫) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন:
"এই সূত্রের প্রেক্ষিতে হাদিসটি হাসান গারীব (১), শু'বাহ বলেন: 'আনাস থেকে সাঈদের সূত্রে এই একটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস আমরা জানি না', আর আনাস (রা.) ৯৩ হিজরিতে এবং সাঈদ ৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন" (২)।
আমি বলছি: এটি সমসাময়িকতার (মুয়াসারাত) প্রতি একটি সুস্পষ্ট নির্ভরতা, যা তাঁর উস্তাদ বুখারীর প্রতি যা নিসবত করা হয় তার বিপরীত। তবে বিষয়টি তেমন নয় যদি আপনি বুখারীর শর্ত সম্পর্কে পূর্বে বর্ণিত বিস্তারিত বিবরণ স্মরণ করেন—যেটি শুধুমাত্র তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের জন্য খাস। আর এই ধরনের হাসান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তিরমিযী তাঁর (বুখারীর) ছাত্র, সুতরাং এটি স্মরণে রাখুন।
৪ - হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান; আবু যুরআ বলেন: "আলী ও আবু বকর (রা.) থেকে তাঁর বর্ণনা মুরসাল।" ইবনে আবি হাতিম 'আল-মারাসীল' (৩৭) গ্রন্থে এবং আল-আলাঈ (২০২/ ১৪৫) এটি উল্লেখ করেছেন; তবে তিনি (আলাঈ) নিম্নোক্ত মন্তব্যের মাধ্যমে এর পর্যালোচনা করেছেন:
"আমি বলছি: তিনি তাঁর পিতা এবং উসমান (রা.) থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন; এমতাবস্থায় আলী (রা.) থেকে তাঁর বর্ণনা কীভাবে মুরসাল হতে পারে অথচ তিনি তাঁর সাথেই মদিনায় ছিলেন?! হ্যাঁ, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যা সম্ভবত মুরসাল।"
আর আমি বলছি: আফসোস! আবু যুরআ এবং আমাদের অন্যান্য হাফেজে হাদিসগণ যদি শ্রবণ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে এবং মুরসাল হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতেন, যেমনটি আল-আলাঈ তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন: "সম্ভবত মুরসাল"; কারণ (শ্রবণ) অস্বীকার করাটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে "আমি জানি না" বলার সমান হয়ে থাকে। সুতরাং এই অভিব্যক্তিটিই সঠিকের অধিকতর নিকটবর্তী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من الجزم المذكور؛ لما يترتَّب عليه من إعلال الأحاديث بغير حُجَّةٍ بيِّنة، ثم
استغلال ذلك من أهل الأهواء والجهلة.
لقد أعجبني تحفّظ العلائي؛ لأنَّه ثبت أنه لقي عمر أيضاً، فقد روى ابن سعد (5/ 154) بسنده الصحيح عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف، قال: رأيت عمر وعثمان يُصَلِّيان المغرب في رمضان إِذانظرا إلى الليل الأسود، ثم يُفطران بعد.
ولذلك ذكرهما الحافظ المزي في جملة من روى عنهم حميد، وإن كان يحتمل أن يكون يومئذٍ صغيراً، ويقوِّي هذا الاحتمالَ - إن صَحَّ - ما ذكروه في تاريخ وفاته، وعلى كلّ حال فليس المقصودُ الآن تحقيقَ سماعه عن الخليفتين، وإِنَّما بيان اعتماد العلائي على (المعاصرة) في ردّه على أبي زرعة؛ فتنبَّه.
ومن هذا القَبيلِ المثالُ الآتي:
5 - قيس بن أبي حاتم، ذكر العلائي أنَّه سمع من العشرة المبشَّرين بالجنَّة، إلَّا عبد الرحمن بن عوف، ولم يعز الاستثناء لأحد، وهو لأبي داود وغيره، وذكر عن ابن المديني أنه: "لم يسمع من أبي الدرداء وسلمان، وروى عن بلال ولم يلقه
… "، ثم تعقَّبه بقوله:
"في هذا القول نظر، فإِن قيساً لم يكن مدلِّساً، وقد ورد المدينة عقب وفاة النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة فيها مجتمعون، فإِذا روى عن أحدٍ [منهم، فـ] الظاهر سماعه منه"
وإن في هذه الأمثلة لَغايةَ البيان على أنَّ عمل حفّاظ الأُمَّة قد جرى على الاحتجاج بالمعاصرة - إذا لم يكن هناك مانعٌ من تدليس، أو عدم إمكان اللقاء -، على أنَّ هذا غير مُطَّرِد، فقد تكون الرواية أحياناً مراسلةً ومكاتبةً بين
উল্লিখিত দৃঢ়নিশ্চয়তা থেকে; কারণ এর ফলে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই হাদিসগুলোকে ত্রুটিযুক্ত গণ্য করার অবকাশ তৈরি হয়, এবং পরবর্তীতে প্রবৃত্তি পূজারী ও অজ্ঞ লোকেরা এর অপব্যবহার করে।
আল-আলাইয়্যির সতর্কতা আমাকে মুগ্ধ করেছে; কেননা এটি প্রমাণিত যে তিনি ওমরের সাথেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। ইবনে সাদ (৫/ ১৫৪) তাঁর সহিহ সনদে হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ওমর ও উসমানকে রমজান মাসে মাগরিবের নামাজ পড়তে দেখেছি যখন তাঁরা রাতের অন্ধকার লক্ষ্য করতেন, অতঃপর তাঁরা ইফতার করতেন।"
এই কারণেই হাফিজ আল-মিজ্জি সেই ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁদের উল্লেখ করেছেন যাঁদের থেকে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, যদিও সম্ভাবনা আছে যে সে সময় তিনি অল্পবয়স্ক ছিলেন। যদি এটি সঠিক হয়, তবে তাঁর মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন তা এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে। যাই হোক, বর্তমানে উদ্দেশ্য দুই খলিফার নিকট থেকে তাঁর সরাসরি শ্রবণের সত্যতা যাচাই করা নয়, বরং আবু যুরআর প্রতি উত্তরে আল-আলাইয়্যির 'সমসাময়িকতা'র (মুআসারাত) ওপর নির্ভর করার বিষয়টি স্পষ্ট করা; সুতরাং লক্ষ্য করুন।
এই পর্যায়ের পরবর্তী উদাহরণটি হলো:
৫ - কায়েস বিন আবি হাতেম। আল-আলাইয়্যি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন, কেবল আবদুর রহমান বিন আউফ ব্যতীত। তিনি এই ব্যতিক্রমের বিষয়টি কারো দিকে সম্বন্ধ করেননি, অথচ এটি আবু দাউদ ও অন্যদের অভিমত। ইবনুল মাদিনি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: "তিনি আবু দারদা ও সালমান থেকে কিছু শোনেননি, এবং বেলালের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন অথচ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেননি
… ", অতঃপর তিনি এই মন্তব্যের পর্যালোচনা করে বলেন:
"এই উক্তিটি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কেননা কায়েস মুদাল্লিস ছিলেন না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের অব্যবহিত পরেই মদিনায় আগমন করেছিলেন যখন সাহাবায়ে কেরাম সেখানে সমবেত ছিলেন। সুতরাং যখন তিনি তাঁদের মধ্য থেকে কারো পক্ষ হতে বর্ণনা করেন, তখন বাহ্যত এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন।"
এই উদাহরণগুলো এই বিষয়ে চূড়ান্ত স্পষ্টতা প্রদান করে যে, উম্মাহর হাফিজগণের কর্মপন্থা 'সমসাময়িকতা'র মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ওপর পরিচালিত হয়েছে—যদি সেখানে তাদলিস বা সাক্ষাতের অসম্ভবতার মতো কোনো প্রতিবন্ধক না থাকে। যদিও এটি সর্বদা ধ্রুব নয়; কেননা কখনো কখনো বর্ণনাটি পত্রবিনিময় বা লিখিত যোগাযোগের মাধ্যমে হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اثنين لم يلتقيا، ومع ذلك فهي حُجَّةٌ محمولةٌ على الاتصال عند العلماء كافّةً، فانظر "مراسيل العلائي" (ص 199 و 218 و 320 و 372).
وبهذا ينتهي بنا الكلام في حُجَّتنا الأولى على ذاك (الهدَّام).
وأمَّا الحُجّة الأخرى عليه، فهي:
أنَّ أهل الأهواء وأعداء السنَّة قد يتَّخذون اشتراط اللقاء سُلَّماً للطعن في الأحاديث الصحيحة، حتى ما كان منها متَّفَقاً عليه بين الشيخين وغيرهما، وبخاصَّةٍ إِذا كان هناك (قِيلٌ) بعدم السماع من الرّاوي عن المروي عنه - كما تقدم في المثال الأوّل -، ولذلك؛ فإِنَّه يجب تبنّي قول جماهير العلماء بالاكتفاء بالمعاصرة؛ من باب (سدِّ الذريعة) - أيضاً -؛ الذي هو من القواعد الهامّة في الشريعة.
وما لنا نذهب بعيداً، فهذا هو (الهدَّام) قد استغلَّ هذا الشرط استغلالاً سيِّئاً جداً وتوسَّع فيه؛ حتى فيما ثبت فيه اللقاء، ولم يصرِّح الرّاوي بالسماع وليس مُدَلِّساً، فضعَّف في "ضعيفته - "رياض الصالحين"" حديث البخاري عن أبي هريرة مرفوعاً: "صدقك وهو كذوب"، فقد خرّجه من طريق ابن سيرين عنه، وأعلَّه بقوله: "لعلَّ البخاري
… ولعلّ البخاري
… "! ! بما لا مجال الآن للرّد عليه، ثم عزَاه للنسائي من طريق أبي المتوكّل الناجي، عن أبي هريرة، بقوله في "ضعيفتِه" (ص 535):
"أرى أن أبا المتوكِّل لم يسمع من أبي هريرة"!
وهذا ممّا لم يقله عالمٌ من قبل؛ كما يشير هو إلى ذلك بقوله: "أرى" دونما أي خجل! وقد رددت عليه في "الصحيحة" تحت الحديث (3162). وكذلك ضَعَّف - فيها - (ص 559 - 560) حديثين من رواية عبد الله بن
দুইজন একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করেননি, তবুও সকল ওলামায়ে কেরামের নিকট এটি সংযুক্ততা বা 'ইত্তিসাল'-এর ওপর নির্ভরশীল একটি দলিল হিসেবে গণ্য হয়; দেখুন: "মারাসিলুল আলায়ী" (পৃষ্ঠা ১৯৯, ২১৮, ৩জে০ এবং ৩৭২)।
এর মাধ্যমেই সেই (ধ্বংসকারী)-র বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম দলিলের আলোচনা সমাপ্ত হলো।
আর তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দলিলটি হলো:
প্রবৃত্তি পূজারী এবং সুন্নাহর শত্রুরা সহীহ হাদীসসমূহের সমালোচনা করার মাধ্যম হিসেবে 'সাক্ষাতের শর্ত' করাকে একটি সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এমনকি শায়খায়ন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যদের মাঝে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন হাদীসের ক্ষেত্রেও তারা এটি করতে পারে; বিশেষ করে যখন বর্ণনাকারী এবং যার থেকে বর্ণিত হয়েছে—তাদের মাঝে হাদীস সরাসরি শোনার অনুপস্থিতি সম্পর্কে কোনো 'উক্তি' থাকে, যেমনটি প্রথম উদাহরণে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণেই, 'সাদদুয যারীয়াহ' বা অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করার নীতি অনুযায়ী—যা শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি—জমহুর ওলামায়ে কেরামের সেই মতটি গ্রহণ করা অপরিহার্য, যা কেবল 'সমসাময়িকতা' বা 'মুয়াসারাহ'-কেই যথেষ্ট মনে করে।
আমাদের খুব দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, এই সেই (ধ্বংসকারী), যে এই শর্তটির অত্যন্ত অপব্যবহার করেছে এবং এর পরিধিকে অহেতুক প্রশস্ত করেছে; এমনকি যে ক্ষেত্রে সাক্ষাৎ প্রমাণিত হয়েছে এবং বর্ণনাকারী স্পষ্টভাবে শোনার কথা উল্লেখ না করলেও তিনি 'মুদাল্লিস' বা তথ্য গোপনকারী নন, সেখানেও সে এটি প্রয়োগ করেছে। সে তার "যয়ীফাতু রিয়াদিস সালিহীন"-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত বুখারীর মারফূ হাদীস: "সে তোমার কাছে সত্য বলেছে, অথচ সে চরম মিথ্যাবাদী"-কে দুর্বল বলে গণ্য করেছে। সে হাদীসটি ইবনে সীরীনের সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছে এবং এই বলে সেটিকে ত্রুটিযুক্ত বলেছে যে: "সম্ভবত বুখারী
... এবং সম্ভবত বুখারী
..."! ! যা নিয়ে এখন বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই। এরপর সে এটি নাসায়ী’র উদ্ধৃতিতে আবুল মুতাওয়াক্কিল আন-নাজী’র সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করে তার "যয়ীফা" (পৃষ্ঠা ৫৩৫)-তে বলেছে:
"আমি মনে করি যে, আবুল মুতাওয়াক্কিল আবু হুরায়রা থেকে সরাসরি শোনেননি"!
এটি এমন এক কথা যা ইতিপূর্বে কোনো আলেম বলেননি; যেমনটি সে কোনো প্রকার লজ্জা ছাড়াই তার "আমি মনে করি" শব্দটির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছে! আমি তার এই উক্তির জবাব "আস-সহীহা"-তে ৩১ Rome হাদীসের অধীনে দিয়েছি। অনুরূপভাবে সে সেখানে (পৃষ্ঠা ৫৫৯-৫৬০) আবদুল্লাহ ইবনে...-এর বর্ণনা থেকে আরও দুটি হাদীসকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بريدة، عن أبيه - مرفوعاً -، أعلَّهما أيضاً بالانقطاع بين عبد الله وأبيه، مع أنَّ سماعه عنه ثابت في عِدَّةِ أحاديث، واحتجَّ الشيخان أيضاً بروايَته عن أبيه! ! والحديث الأوّل مخرَّج في "الصحيحة" (94)، والآخر في "الإرواء" (2576)، وصحَّحهما جَمْعٌ من العلماء، فراجعهما إن شئت.
وعلى هذا النَّمَط من الاستغلال السيِّئ والانحراف عن الحق؛ جرى (الهدَّام) في تخرِيجه لأحاديثَ كثيرةٍ في الكتب التي سوّد عليها تعليقاتهِ! ! وحسبك الآن مثالاً الحديثُ الآتي برقم (30)؛ فإِنَّه ضعَّف إسناده بقوله: "
… فإِنَّ سالماً لم يصرح بالسماع منه".
وانظر الرَّدَّ عليه هناك.
وإنَّ من لوازم هذا عدمَ الاعتماد على الأسانيد الصحيحة المعنعنة مطلقاً، حتى التي يصحِّحُها الذين اشترطوا اللقاء مع السلامة من التدليس، فإِنَّهم لم يشترطوا السماع.
ولعلَّه مِن أجلِ هذا: لَمّا ذَكَرَ المحقق ابن دقيق العيد شرطَ السلامة من التدليس استصعبه جداً؛ حيثُ قال في كتابه القيم "الاقتراح" (ص 208) معقباً عليه:
"إلاّ إن الجَرْيَ عليه في تصرُّفات المحدِّثين وتخريجاتهم صعب عسير، يوجب اطِّراح كثير من الأحاديث التي صحَّحوها؛ إذ يتعَذَّر علينا إثبات سماع المدَلِّس فيها من شيخه، اللهم إلاّ أن يَدَّعيَ مُدَّعٍ أن الأوَّلين اطَّلعوا على ذلك ولم نطَّلِع نحن عليه! وفي ذلك نَظَرُ".
قلت: ولعلَّه من أجل تفادي الطرح المذكور؛ جعلوا المدَلِّسين طبقات، منهم من يُعْتفَرُ تدليسه لِقِلَّتِهِ، وتُقبل عنعنتهم كالثقات الذين في حفظهم
বুরাইদাহ তার পিতা থেকে—মারফু হিসেবে—বর্ণনা করেছেন; তিনি (সমালোচক) আব্দুল্লাহ ও তার পিতার মধ্যকার বিচ্ছিন্নতার কারণে এ দুটিকেও ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, অথচ বেশ কিছু হাদীসে তার থেকে শ্রবণ সাব্যস্ত রয়েছে এবং শায়খাইনও (বুখারী ও মুসলিম) তার পিতার সূত্রে তার বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন! প্রথম হাদীসটি ‘আস-সহীহাহ’ (৯৪) গ্রন্থে এবং অন্যটি ‘আল-ইরওয়া’ (২৫৭৬) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে এবং একদল আলেম এ দুটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং আপনি চাইলে সেগুলো দেখে নিতে পারেন।
মন্দ অপব্যবহার এবং সত্য থেকে বিচ্যুতিমূলক এই ধারাতেই ‘আল-হাদ্দাম’ (বিধ্বংসী) সেসব গ্রন্থের বহু হাদীসের তাহরীজে অগ্রসর হয়েছেন—যেগুলোতে তিনি তার টীকা লিখে পৃষ্ঠাকে কলঙ্কিত করেছেন! আপনার জন্য এখন উদাহরণ হিসেবে ৩০ নম্বর হাদীসটিই যথেষ্ট; কেননা তিনি এই বলে এর সনদকে যয়ীফ বলেছেন যে: “
… নিশ্চয়ই সালিম তার থেকে শ্রবণ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।”
সেখানে তার ওপর আপত্তির জবাবটি দেখে নিন।
এর অনিবার্য পরিণতি হলো কোনোভাবেই সহীহ ‘মুআনআন’ সনদগুলোর ওপর নির্ভর না করা, এমনকি সেই সনদগুলোর ওপরও নয় যেগুলোকে তারা সহীহ বলেছেন যারা ‘তাদলীস’ থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি সাক্ষাতের (লিকা) শর্তারোপ করেছেন; কারণ তারা (প্রতিটি বর্ণনায়) সরাসরি শ্রবণের (সামা‘) শর্তারোপ করেননি।
সম্ভবত এই কারণেই যখন মুহাক্কিক ইবনে দাকীক আল-ঈদ ‘তাদলীস’ থেকে মুক্ত থাকার শর্তটি উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি এটিকে অত্যন্ত কঠিন মনে করেছেন; যেমনটি তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘আল-ইকতিরাহ’ (পৃষ্ঠা ২০৮)-এ এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:
“তবে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি ও তাহরীজের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ অত্যন্ত কঠিন ও দুঃসাধ্য, যা তাদের সহীহ বলা অনেক হাদীস বর্জন করাকে অনিবার্য করে তোলে; কারণ মুদাল্লিস রাবী তার উস্তাদ থেকে শুনেছেন কি না, তা প্রমাণ করা আমাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। অবশ্য যদি কেউ দাবি করেন যে, পূর্বসূরিগণ এ বিষয়ে অবগত হয়েছিলেন কিন্তু আমরা হইনি—তবে সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা! তবে এ বিষয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।”
আমি (লেখক) বলি: সম্ভবত উল্লিখিত বর্জন পরিহার করার উদ্দেশ্যেই তারা মুদাল্লিসদের বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন; তাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যাদের তাদলীস স্বল্পতার কারণে ক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচিত হয় এবং তাদের ‘আনআনা’ গ্রহণযোগ্য হয়, যেমনটি সেই সব বিশ্বস্ত রাবীদের ক্ষেত্রে হয় যাদের হিফয বা মুখস্থের ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ضعف؛ فهؤلاء يُقبل حديثهم، على تفصيلٍ ذكره الحافظ العلائي في "مراسيله" (129 - 131)، ولبيان ذلك أَلَّفَ الحافظ ابنُ حَجَرٍ كتابه "طبقات المدَلِّسين"؛ وهو معروفٌ.
إذا عُرف هذا؛ فما عسى أن تكون نسبة الأحاديث الصحيحة التي سيطرحها هذا الأفينُ إِذا التزم إعلالها بعدم السماع؛ فضلاً عن غيره من العلل التي يختلقها، ويتجاهل موقف العلماء منها، وتصحيحهم للأحاديث التي يضعِّفها هو بها؟ !
عامله الله بما يستحقُّ.
* وأمّا سادسُ جهالاتهِ؛ فإنّك تراه كثيراً ما يضعّف بعض الأحاديث الصحيحة بناءً على الطرق الضعيفة التي وجدها مخرَّجة عند غيره وبخاصةٍ الألباني، ثم يعمل فيها هدماً، مُعْرِضاً عن قاعدةِ تقويةِ الحديث بكثرةِ الطرق - كما تقدم -، ولا يبحث مطلقاً عن طريق آخر له، أو شاهدٍ يقوّيه به، قد يكون فات من قبله لسبب أو آخر، وهذا أمثلته كثيرة.
* سابعاً: يتجاهل بعض الطرق والشواهد الصحيحة، ويتشبَّث بالطريق المرسل، وهي بين يديه! كما سترى في الحديث (49) - وغيره -.
* ثامناً: يعمّي على القراء صِحَّةَ إسناد الحديث الذي لا غبار عليه بقوله. "رجاله ثقات"! مكان قوله: "إِسناده صحيح"؛ معاكسةً منه للألباني!
وقد يذكر أحياناً عن بعض الحفّاظ تقويته، بعد أن يكون هو أعلَّه بما لا يقدح، وفي الغالب يكتم التقوية!
وقد يصحِّح متن الحديث دون السند، ولايبيّن السبب! ! وكثيراً ما يضَعِّف ولا يبيِّن السبب، ويُحيل به إلى موضع لا يسمِّيه! !
দুর্বলতা; তবে তাদের বর্ণিত হাদিস গ্রহণ করা হয়, যার বিস্তারিত বিবরণ হাফেজ আলায়ী তাঁর 'মারাসিল' (১২৯-১৩১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন' রচনা করেছেন।
এটি যখন জানা গেল, তখন এই নির্বোধ ব্যক্তি যদি কেবল শ্রবণের অভাবের (বিচ্ছিন্নতা) দোহাই দিয়ে সহিহ হাদিসসমূহ বর্জন করার নীতি অবলম্বন করে, তবে তার পরিত্যক্ত সহিহ হাদিসের অনুপাত কতই না বিশাল হবে! তদুপরি সে আরও নানা অজুহাত উদ্ভাবন করে এবং এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের অবস্থান ও তাঁদের পক্ষ থেকে সেই হাদিসগুলোর সত্যায়নকে উপেক্ষা করে, যেগুলোকে সে দুর্বল সাব্যস্ত করতে চায়।
আল্লাহ তাকে তার প্রাপ্য প্রতিফল প্রদান করুন।
* তার ষষ্ঠ মূর্খতা হলো: আপনি তাকে প্রায়ই দেখবেন যে সে কিছু সহিহ হাদিসকে দুর্বল বলে আখ্যা দিচ্ছে অন্যের (বিশেষ করে আলবানী) কিতাবে সংকলিত দুর্বল সূত্রগুলোর ওপর ভিত্তি করে। এরপর সে সেগুলোকে নাকচ করতে প্রবৃত্ত হয় এবং একাধিক সূত্রের মাধ্যমে হাদিস শক্তিশালী হওয়ার যে মূলনীতি—যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে—তা থেকে বিমুখ থাকে। সে ওই হাদিসের অন্য কোনো সূত্র বা সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) খোঁজার চেষ্টাও করে না যা দ্বারা হাদিসটি শক্তিশালী হতে পারত, যা হয়তো কোনো কারণে পূর্ববর্তীদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এর উদাহরণ ভুরি ভুরি।
* সপ্তম: সে কিছু বিশুদ্ধ সূত্র ও সাক্ষ্যমূলক বর্ণনাকে (শাওয়াহিদ) উপেক্ষা করে এবং 'মুরসাল' সূত্রের ওপরই জেদ ধরে থাকে, অথচ সেগুলো তার নাগালেই ছিল! যেমনটি আপনি ৪৯ নম্বর হাদিসসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন।
* অষ্টম: সে পাঠকদের কাছে সন্দেহাতীতভাবে সহিহ সনদের বিশুদ্ধতাকে আড়াল করার জন্য 'সনদটি সহিহ' বলার পরিবর্তে 'এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য' বলে থাকে; যা সে কেবল আলবানীর বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যেই করে!
কখনও কখনও সে হাদিসটিকে এমন কোনো ত্রুটি দ্বারা দুর্বল সাব্যস্ত করার পর কোনো হাফেজে হাদিসের পক্ষ থেকে সেটির সমর্থনের কথা উল্লেখ করে যা প্রকৃতপক্ষে কোনো দোষই নয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সে সেই সমর্থন বা শক্তিশালীকরণের বিষয়টি গোপন করে যায়!
আবার কখনও সে সনদের উল্লেখ ছাড়াই কেবল হাদিসের মূল পাঠ (মাতন) সহিহ বলে দেয়, কিন্তু তার কারণ দর্শায় না! অনেক ক্ষেত্রে সে হাদিস দুর্বল বলে দেয় কিন্তু তার কারণ স্পষ্ট করে না, বরং এমন কোনো অস্পষ্ট জায়গার উদ্ধৃতি দেয় যার নাম সে উল্লেখ করে না!
(খণ্ড: ১)
আন-নাসীহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীব ইবনু আবদিল মান্নান লিকুতুবিল আইম্মতির রাজীহাহ ওয়া তাদঈফিহী লি-মিআতিল আহাদীসিস সহীহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
* تاسعاً: تعميته على القراء كونَ الراوي ثقةً عند الأئمة بقوله فيه: "وليس بالمشهور" ونحوه؛ انظر الحديث (89 و 81 و 83 و 96 و 100).
* عاشراً: تجاوزه تخريج جملة من الأحاديث الصحيحة الّتي يذكرها - أو يُشير إليها - مصنِّفو الكتب التي يسوّد عليها تعليقاتهِ؛ كمثل ما أورده الإمام ابن القيم رحمه الله في كتابهِ "إغاثة اللهفان" من أحاديثِ النهي عن التشبُّهِ بالكفار، وخروج المهدي، ونزول عيسى عليه السلام؛ ولا وجه لإعراضه عنها، إلاّ أنَّه قد لا يؤمن بها! أو أنَّه - على الأقلّ - بشكِّكُ في
صحَّتها! ! فانظر الحديث (0103 و 153).
وقد يتجاوز الحديث لجهله به أنَّه في حكم المرفوع - إِذا أحسنَّا الظَّن به -؛ وإلاّ فالظاهر أنَّه لا يعرفه مطلقاً، مع أنَّه في "صحيح البخاري"! لأنّه قد خرَّج بعض الأحاديث الموقوفة، كحديث ابن مسعود الآتي عنده (1/ 30)، وحديث عثمان (1/ 79)، وهما خارج "الكتب السِّتَّة"، فما باله لا يخَرِّج حديث البخاري الآتي برقم (59) وهو في أم "الستة": "البخاري"، لولا الجهل بما فيه من الكنوز؟ !
وله أمثلةٌ أخرى تدُلُّ على جهله بما في "الصحيحين"، تقدّم الإشارة إِلى بعضها في (المقدِّمة) فقرة (4)، بل إنَّه عزا حديث علي الموقوف - الآتي برقم (18) - للدِّينَوَرِيِّ وغيره بواسطة "الكنز"! وفي هذا العزو بلايا تدلّ على جهله - كما سترى -؛ منها ضعف سنده، وإهماله عزوه للبخاري!
* حادي عَشَرَ: وله أساليب عجيبة غريبة في التمويه وتضليل القرّاء عن الاستفادة مما يعزوه لـ"للصحيحين" أو أحدهما، فمثلاً الحديث (154)؛ فإِنَّه عزا طرفه الأول للشيخين، وبيَّض للأخير منه! وعزا ما بينهما للطبري وضعّفه، والحديث بتمامه عند الشيخين؛ وقد صوّرت الصَّفحة التي فيها هذا
নবম: কোনো বর্ণনাকারী ইমামগণের নিকট নির্ভরযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পাঠকদের নিকট তা অস্পষ্ট রাখা, এক্ষেত্রে তার উক্তি হলো: "তিনি প্রসিদ্ধ নন" বা এই জাতীয় কিছু; দেখুন হাদিস নং (৮৯, ৮১, ৮৩, ৯৬ ও ১০০)।
দশম: যেসব গ্রন্থের ওপর তিনি টীকা লিখছেন, সেই মূল গ্রন্থকারগণ কর্তৃক উল্লিখিত বা ইঙ্গিতকৃত একগুচ্ছ সহিহ হাদিসের তাখরিজ (সূত্রনির্দেশ) এড়িয়ে যাওয়া; যেমন ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "ইগাছাতুল লাহফান" গ্রন্থে কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন নিষিদ্ধকরণ, মাহদির আত্মপ্রকাশ এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণ সংক্রান্ত যেসব হাদিস উল্লেখ করেছেন। এসব হাদিস থেকে তাঁর বিমুখ থাকার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই, কেবল এটি ছাড়া যে—সম্ভবত তিনি এগুলোতে বিশ্বাস করেন না! অথবা অন্ততপক্ষে তিনি এগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেন!! দেখুন হাদিস নং (০১০৩ ও ১৫৩)।
কোনো হাদিস 'হুকমান মারফু' (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উক্তির সমপর্যায়ভুক্ত) হওয়া সত্ত্বেও অজ্ঞতাবশত তিনি তা এড়িয়ে যান—যদি আমরা তাঁর সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করি—; অন্যথায় প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এটি আদৌ জানেন না, অথচ এটি "সহিহ বুখারি"-তে বিদ্যমান! কেননা তিনি কিছু 'মাওকুফ' (সাহাবিদের উক্তি) হাদিসের তাখরিজ করেছেন, যেমন সামনে আগত ইবনে মাসউদের হাদিস (১/৩০) এবং উসমানের হাদিস (১/৭৯), অথচ এই দুটিই "কুতুবুস সিত্তা"-র (ছয়টি মূল হাদিসগ্রন্থের) বহির্ভূত। তাহলে কেন তিনি সামনে আগত ৫৯ নম্বর হাদিসটির তাখরিজ করলেন না যা "কুতুবুস সিত্তা"-র জননী বা মূল গ্রন্থ "বুখারি"-তে রয়েছে? এটি কি এর ভেতরকার মণি-মাণিক্য সম্পর্কে অজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছু?!
"সহিহাইন" (বুখারি ও মুসলিম)-এ যা রয়েছে সে সম্পর্কে তাঁর অজ্ঞতার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যার কয়েকটির দিকে (মুকাদ্দিমা) বা ভূমিকার ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বরং তিনি আলীর মাওকুফ হাদিসটিকে—যা ১৮ নম্বরে আসছে—"আল-কানজ"-এর মাধ্যমে আদ-দিনাওয়ারি ও অন্যদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন! এই নিসবত বা সম্বন্ধ করার মধ্যে এমন অনেক বিপদ রয়েছে যা তাঁর অজ্ঞতাকেই প্রমাণ করে—যেমনটি আপনি সামনে দেখতে পাবেন—; যার মধ্যে অন্যতম হলো এর সনদের দুর্বলতা এবং বুখারির দিকে এটি নিসবত করার ক্ষেত্রে তাঁর চরম অবহেলা!
একাদশ: "সহিহাইন" বা এই দুটির কোনো একটির দিকে তিনি যা সম্বন্ধ করেন, তা থেকে পাঠকদের উপকৃত হওয়া বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের বিভ্রান্ত করতে তাঁর অদ্ভুত ও বিস্ময়কর সব কৌশল রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৫৪ নম্বর হাদিসটি; তিনি এর প্রথম অংশটিকে 'শাইখাইন' (বুখারি ও মুসলিম)-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং শেষ অংশটির জন্য জায়গা খালি রেখেছেন! আর এর মধ্যবর্তী অংশটিকে তাবারির দিকে সম্বন্ধ করে সেটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন, অথচ সম্পূর্ণ হাদিসটিই 'শাইখাইন'-এর নিকট বিদ্যমান; আর যে পৃষ্ঠায় এটি রয়েছে, আমি তার ছবি তুলে রেখেছি।