(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: -)
مع الاثنى عشرية في الأصول والفروع   (علي السالوس)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: مع الاثنى عشرية في الأصول والفروع [موسوعة شاملة]

وملحق بها السنة بيان الله تعالى على لسان الرسول - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -

المؤلف: د علي بن أحمد علي السالوس

الناشر: دار الفضيلة بالرياض، دار الثقافة بقطر، مكتبة دار القرآن بمصر

الطبعة: السابعة، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 1187

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দ্বাদশী শিয়াদের সাথে মূলনীতি ও উপশাখা প্রসঙ্গে   (আলী আস-সালুস)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডনসমূহ


গ্রন্থ: দ্বাদশী শিয়াদের সাথে মূলনীতি ও উপশাখা প্রসঙ্গে [একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ]

এবং এর সাথে সংযুক্ত আছে ‘সুন্নাহ: রাসূলুল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর পবিত্র মুখনিঃসৃত মহান আল্লাহর বাণী’

লেখক: ড. আলী বিন আহমদ আলী আস-সালুস

প্রকাশক: দারুল ফাদিলাহ, রিয়াদ، দারুস সাকাফাহ, কাতার، মাকতাবাতু দারিল কুরআন, মিশর

সংস্করণ: সপ্তম، ১৪২৪ হিজরী - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৮৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مع الاثنى عشرية في الأصول والفروع - موسوعة شاملة]ـ

وملحق بها السنة بيان الله تعالى على لسان الرسول صلى الله عليه وسلم

المؤلف: ا. د. علي أحمد السالوس

الناشر: دار الفضيلة بالرياض، دار الثقافة بقطر، مكتبة دار القرآن بمصر

الطبعة: السابعة، 1424 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[মূলনীতি ও উপ-শাখাসমূহ প্রসঙ্গে ইসনা আশারিয়াদের সাথে - একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ]

এবং এর সাথে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত হয়েছে সুন্নাহ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জবানীতে বর্ণিত মহান আল্লাহর ব্যাখ্যা

লেখক: প্রফেসর ড. আলী আহমদ আস-সালুস

প্রকাশক: দারুল ফাদিলাহ (রিয়াদ), দারুস সাকাফাহ (কাতার), মাকতাবাতু দারিল কুরআন (মিশর)

সংস্করণ: সপ্তম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تمهيد

إن الحمد كله لله نحمده سبحانه وتعالي ونستهديه، ونستعينه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، ونسأله عز وجل أن يجنبنا الزلل في القول والعمل. ونصلى ونسلم على رسله الكرام، وعلى أولهم خاتم الأنبياء والمرسلين، ومن اهتدى بهديه واتبع سنته إلى يوم الدين.

أما بعد:

فمنذ نحو أربعين سنة بدأت الاطلاع على كتب الشيعة الجعفرية الاثنى عشرية، والاتصال ببعض علمائهم. وشجعني على هذا أستاذي المرحوم الشيخ محمد المدني، أحد دعاة التقريب بين المذاهب الخمسة، حيث اعتبروا المذهب الشيعي هذا مذهباً خامساً، ولذلك كانت رسالتي للماجستير في الفقه المقارن بين الشيعة الإمامية - أي الجعفرية الاثنى عشرية - والمذاهب الأربعة.

غير أنني عندما بدأت الدراسة، ثم قرأت كثيراً من كتبهم، وجدت الأمر على خلاف ما تصوره دعاة التقريب، حيث إن عقيدتهم في الإمامة، وما ينبنى عليها، تمنع التقريب وتحول دونه، فإن هذه العقيدة لا تصح إلا بالطعن في خير أمة أخرجت للناس، حيث يعتبر باقي الصحابة - وحاشاهم - مقرين للمعصية، راضين عنها.

وإذا كانت مسألة الإمامة في ذمة التاريخ، فلا حاجة لإثارتها، وخلاف الأمس لا يمنع تقريب اليوم، ومن هنا كانت رسالتي للدكتوراه عن أثر الإمامة في الفقه الجعفرى وأصوله، وللأسف الشديد أنني وجدت هذه العقيدة الباطلة قد أفسدت الكثير من أصول الفقه. فكيف تكون دعوة التقريب؟

إن قلنا للشيعة: دعوا مسألة الإمامة في مجال العقيدة، ولا تجعلوا لها أثراً في التشريع وأصوله حتى تصبحوا كأي مذهب من مذاهب أهل السنة والجماعة، أفيقبلون؟
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য ও হিদায়াত প্রার্থনা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট ও মন্দ আমল থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কথা ও কাজে ভুল-ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেন। আমরা তাঁর সম্মানিত রাসুলগণের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করছি, বিশেষ করে তাঁদের প্রথমজন থেকে শুরু করে নবী ও রাসুলগণের সর্বশেষ ধারক এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াত ও সুন্নাহর অনুসরণ করবে তাদের প্রতি।

অতঃপর:

আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে আমি শিয়া জাফরিয়া ইসনা আশারিয়াদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন এবং তাদের কিছু আলিমের সাথে যোগাযোগ শুরু করি। এ কাজে আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন আমার উস্তাদ মরহুম শায়খ মুহাম্মদ আল-মাদানি, যিনি পাঁচটি মাযহাবের মধ্যে সমন্বয় বা ঐক্যের অন্যতম আহ্বানকারী ছিলেন; যেহেতু তারা এই শিয়া মাযহাবকে পঞ্চম মাযহাব হিসেবে গণ্য করতেন। একারণেই আমার মাস্টার্সের গবেষণাপত্রটি ছিল শিয়া ইমামিয়া—অর্থাৎ জাফরিয়া ইসনা আশারিয়া—এবং চার মাযহাবের মধ্যবর্তী তুলনামূলক ফিকহ বিষয়ে।

তবে আমি যখন বিস্তারিত অধ্যয়ন শুরু করলাম এবং তাদের প্রচুর কিতাব পাঠ করলাম, তখন দেখলাম বিষয়টি ঐক্যের আহ্বানকারীদের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা তাদের ‘ইমামত’ সংক্রান্ত আকিদা এবং এর ওপর ভিত্তি করে যা কিছু গড়ে উঠেছে, তা মূলত ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বাধা প্রদান করে এবং এর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, এই আকিদা ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হয় না যতক্ষণ না মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মতের প্রতি অপবাদ আরোপ করা হয়; কেননা তাদের মতে—আল্লাহ তাদের রক্ষা করুন—অন্যান্য সাহাবাগণ অন্যায়কে স্বীকৃতি দানকারী এবং তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন।

যদি ইমামতের বিষয়টি ইতিহাসের গর্ভে বিলীন থাকতো, তবে তা পুনরায় উত্থাপন করার প্রয়োজন ছিল না; এবং অতীতের বিরোধ বর্তমানের ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়াত না। এখান থেকেই আমার পিএইচডি গবেষণার সূত্রপাত হয়েছিল ‘জাফরি ফিকহ ও তার উসুলের ওপর ইমামতের প্রভাব’ বিষয়ে। অত্যন্ত পরিতাপের সাথে আমি লক্ষ্য করলাম যে, এই ভ্রান্ত আকিদাটি তাদের ফিকহশাস্ত্রের অনেক মূলনীতিকে কলুষিত করেছে। এমতাবস্থায় ঐক্যের ডাক কীভাবে সফল হতে পারে?

আমরা যদি শিয়াদের বলি: আপনারা ইমামতের বিষয়টি কেবল আকিদার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখুন এবং একে শরিয়ত ও ফিকহি উসুলের মধ্যে টেনে আনবেন না, যাতে আপনারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্য যেকোনো মাযহাবের মতো হয়ে যেতে পারেন—তবে তারা কি তা গ্রহণ করবে?
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ৬)
وإذا كانوا لا يقبلون، بل لم توجه لهم هذه الدعوة، أفنؤمن نحن بعقيدتهم الباطلة؟

لهذا يجب أن تكون دعوة التقريب على هدى وبصيرة. ولذا رأيت أن أجعل بين أيدي المسلمين، ودعاة التقريب منهم، بعض الكتب التي تبين الفوارق بين السنة والشيعة في مجالات مختلفة، ليفكروا في هذه الفوارق، ولنحدد كيف تكون دعوة التقريب، ومن الذي يجب أن يترك رأيه ويقترب من الآخر.

وكنت جمعت المادة العلمية منذ عدة سنوات، ثم توقفت بضعة أعوام عندما شغلت بالاقتصاد الإسلامي، والمعاملات المعاصرة، وتم بحمد الله تعالي وفضله تأليف بعض الكتب والأبحاث، غير أن البحث في المعاملات المعاصرة أمر متجدد لا ينتهي، فرأيت ألا أجعل الوقت كله له، وأن أعود إلى ما جمعت من مادة للدراسة المقارنة حتى أخرج الكتب التي أريدها، مستعيناً بالله عز وجل.

وتوطئة لهذه الدراسة صدر كتابى الأول تحت عنوان:

" عقيدة الإمامة عند الشيعة الاثنى عشرية- دراسة في ضوء الكتاب والسنة - هل كان شيخ الأزهر البشرى شيعياً؟ ! "

وانتهت الدراسة إلي أن عقيدتهم لا تستند إلى كتاب ولا إلى سنة، بل باطلة تصطدم بالكتاب والسنة، وأظهرت الدراسة كثيراً من الأخطاء، وكشفت عن مفتريات وأباطيل، ونزهت الشيخ البشرى مما نسبه إليه المفترى الكذّاب صاحب كتاب المراجعات.

ورأيت أن تكون الدراسة التالية للكتاب السابق تتعلق بكتاب الله العزيز، المصدر الأول للعقيدة والشريعة. فكان الكتاب الثانى في التفسير المقارن وأصوله بين أهل السنة والشيعة الاثنى عشرية، وقسمته قسمين: -

القسم الأول: للحديث عن التفسير وأصوله عند أهل السنة.

القسم الثانى: للتفسير وأصوله عند الشيعة الاثنى عشرية.
তারা যদি তা গ্রহণ না করে, বরং তাদের প্রতি এই আহ্বান জানানোই না হয়, তবে কি আমরা তাদের বাতিল আকিদায় বিশ্বাস স্থাপন করব?

এই কারণেই ঐক্যের আহ্বান হিদায়াত ও দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া আবশ্যক। তাই আমি মুসলিমদের এবং তাদের মধ্যকার যারা ঐক্যের আহ্বানকারী, তাদের সামনে এমন কিছু গ্রন্থ উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছি যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ স্পষ্ট করে; যাতে তারা এই পার্থক্যগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারেন এবং আমরা নির্ধারণ করতে পারি যে, ঐক্যের আহ্বান কেমন হওয়া উচিত এবং কার নিজের মত ত্যাগ করে অপরের নিকটবর্তী হওয়া উচিত।

আমি কয়েক বছর আগেই এই জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদানগুলো সংগ্রহ করেছিলাম, অতঃপর কয়েক বছর বিরতি নিয়েছিলাম যখন আমি ইসলামি অর্থনীতি ও সমকালীন লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। মহান আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর অনুগ্রহে কিছু গ্রন্থ ও গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। তবে সমকালীন লেনদেন সংক্রান্ত গবেষণা একটি চলমান প্রক্রিয়া যা শেষ হওয়ার নয়, তাই আমি মনে করলাম পুরো সময়টা এর পেছনে ব্যয় না করে আমার সংগৃহীত তুলনামূলক অধ্যয়নমূলক উপাদানের দিকে ফিরে আসি, যেন মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে আমার কাঙ্ক্ষিত গ্রন্থগুলো প্রকাশ করতে পারি।

এই অধ্যয়নের ভূমিকা স্বরূপ আমার প্রথম গ্রন্থটি এই শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে:

"বারো ইমামপন্থী শিয়াদের নিকট ইমামত আকিদা - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি পর্যালোচনা - শায়খুল আজহার আল-বিশরী কি শিয়া ছিলেন?!"

এই গবেষণার সারমর্ম হলো, তাদের আকিদা কুরআন বা সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং তা বাতিল এবং কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। এই গবেষণা বহু ভুলভ্রান্তি উন্মোচন করেছে এবং বহু মিথ্যাচার ও অসারতা প্রকাশ করেছে। এছাড়া 'আল-মুরাজাআত' কিতাবের মিথ্যাবাদী রচয়িতা শায়খ আল-বিশরীয়ের প্রতি যা আরোপ করেছিল, তা থেকে তাঁকে মুক্ত ও পবিত্র ঘোষণা করেছে।

আমি পূর্ববর্তী গ্রন্থের পরবর্তী আলোচনাটি মহান আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাব সংক্রান্ত হওয়া সমীচীন মনে করেছি, যা আকিদা ও শরীয়তের প্রথম উৎস। সুতরাং দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো আহলে সুন্নাত ও বারো ইমামপন্থী শিয়াদের মধ্যকার 'তুলনামূলক তাফসির ও এর মূলনীতি' বিষয়ক। আমি একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি: -

প্রথম অংশ: আহলে সুন্নাতের নিকট তাফসির ও এর মূলনীতি সংক্রান্ত আলোচনা।

দ্বিতীয় অংশ: বারো ইমামপন্থী শিয়াদের নিকট তাফসির ও এর মূলনীতি সংক্রান্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ৭)
ومن يقرأ ما احتواه القسمان يدرك الفوارق البينة الظاهرة بين التفسيرين، وأصول كل منهما. ويتأكد من أن مسألة الإمامة ليست نظرية بحتة تاريخية، بل لها أثرها في كتبهم خلال جميع العصور، ولهذا وجدنا الغالين الضالين من الشيعة يحرفون القرآن نصا ومعنى، ويطعنون في الصحابة الكرام، ويجعلون أئمتهم هم المراد من كلمات الله حتى وصل بعضهم إلى تأليه الأئمة، ووجدنا المعتدلين منهم يقعون في تناقض بين، وهذه نتيجة حتمية، فكيف يجمع بين هذه العقيدة والاعتدال؟! وكيف يجمع بين توثيقهم وإجلالهم لأكبر كبار علمائهم كالقمى والعياشى والكلينى، وهم رءوس الغلو والضلال، وحملة لواء التشكيك والتضليل، وتحريف القرآن المجيد، وتكفير خير أمة أخرجت للناس؟! كيف يجمع بين هذا كله وبين شيء من الاعتدال؟! والمهم أن ما أنسبه إليهم هنا منقول من كتبهم وليس مما كتب عنهم، وبذلك يكون الحكم دقيقاً غير جائر.

 

وانتهيت من الكتاب الثانى سنة 1409 هـ (1989م) ، وفى أواخر ذلك العام كانت الطامة حيث صدر البيان المشهور عن دار الإفتاء المصرية الذي أحل بعض المعاملات التي أجمعت المجامع الفقهية كلها وجميع دور الإفتاء على أنها من الربا المحرم، وتبع البيان بعد ذلك تحليل صور أخرى من المعاملات الربوية حتى وصل الأمر إلى القول بأن البنوك في جميع بقاع الأرض تستثمر بالطرق التي أحلها الله تعالي!!

فشغلت بالرد على البيان، وعلى ما صدر بعد ذلك من الفتاوى الباطلة، فكتبت عشرات المقالات، وبضعة كتب وأبحاث، ووقفت عند الكتاب الثانى بين الشيعة والسنة.

ومنذ سنوات طلبت منى إحدى الجهات العلمية البارزة كتابة رد على كتاب المراجعات لعبد الحسين شرف الدين الموسوي، ثم تكرر الطلب حتى استحييت، وكنت كتبت بعض الملاحظات حول الكتاب استعداداً للرد قبل هذا الطلب، فأعدت
এই দুই খণ্ডে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা পাঠ করলে যে কেউ উভয় তাফসিরের মধ্যকার সুস্পষ্ট পার্থক্য এবং উভয়ের মূলনীতিসমূহ উপলব্ধি করতে পারবেন। আর তিনি নিশ্চিত হবেন যে, ইমামতের বিষয়টি কেবল একটি তাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক বিষয় নয়, বরং যুগের পর যুগ তাদের কিতাবসমূহে এর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে। এই কারণেই আমরা শিয়াদের মধ্য থেকে সেই সব চরমপন্থী পথভ্রষ্টদের দেখতে পাই, যারা পবিত্র কুরআনের শব্দ ও অর্থ বিকৃত করে এবং সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা ও নিন্দা করে। তারা আল্লাহর বাণীসমূহের উদ্দেশ্য হিসেবে কেবল তাদের ইমামদেরই সাব্যস্ত করে, এমনকি তাদের কেউ কেউ ইমামদের উপাস্য বা খোদায়িত্বের আসনে বসানো পর্যন্ত পৌঁছেছে। আবার তাদের মধ্যে যারা মধ্যপন্থী বলে পরিচিত, তাদেরও আমরা স্পষ্ট স্ববিরোধিতার মধ্যে নিপতিত দেখতে পাই। আর এটিই অনিবার্য ফলাফল; কারণ এমন আকিদার সাথে মধ্যপন্থার সমন্বয় কীভাবে সম্ভব?! তদুপরি, আল-কুম্মী, আল-আইয়াশী এবং আল-কুলায়িনীর মতো তাদের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান ও সম্মান প্রদর্শন—যারা চরমপন্থা ও পথভ্রষ্টতার মূল হোতা, সংশয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির পতাকাবাহী, পবিত্র কুরআনের বিকৃতি সাধনকারী এবং মানুষের জন্য প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতকে কাফির সাব্যস্তকারী—এসবের সাথে মধ্যপন্থার সমন্বয় কীভাবে হতে পারে?! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি এখানে তাদের প্রতি যা কিছু আরোপ করেছি, তা তাদের নিজস্ব কিতাবসমূহ থেকেই উদ্ধৃত, তাদের সম্পর্কে অন্যের লেখা থেকে নয়। ফলে এই বিচার বা সিদ্ধান্ত হবে নির্ভুল ও ন্যায়সংগত।

 

আমি ১৪০৯ হিজরি (১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ) সনে দ্বিতীয় কিতাবটির কাজ সমাপ্ত করি। ওই বছরের শেষের দিকে এক বড় বিপর্যয় দেখা দেয়, যখন মিসরের ‘দারুল ইফতা’ থেকে সেই প্রসিদ্ধ বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়, যেখানে এমন কিছু লেনদেনকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলোকে সমস্ত ফিকহ একাডেমি এবং ফতোয়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ সর্বসম্মতভাবে হারাম সুদ হিসেবে গণ্য করেছিল। সেই বিবৃতির পর একে একে সুদী লেনদেনের আরও বিভিন্ন রূপকে বৈধ করার ধারা অব্যাহত থাকে, এমনকি বিষয়টি এই পর্যায়ে গড়ায় যে—সারা বিশ্বের ব্যাংকগুলো নাকি আল্লাহ তাআলার নির্দেশিত হালাল পন্থায় বিনিয়োগ করে যাচ্ছে!!

ফলশ্রুতিতে, আমি সেই বিবৃতি এবং পরবর্তীতে প্রদানকৃত বাতিল ফতোয়াসমূহের খণ্ডন ও জবাব প্রদানে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এ বিষয়ে আমি বহু প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু কিতাব ও গবেষণা গ্রন্থ রচনা করি। ফলে শিয়া ও সুন্নি বিষয়ক আমার দ্বিতীয় কিতাবটির কাজ ওখানেই থেমে যায়।

কয়েক বছর আগে একটি বিশিষ্ট জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান আমার কাছে আব্দুল হুসাইন শরফুদ্দিন আল-মুসাভী রচিত ‘আল-মুরাজাআত’ কিতাবটির একটি জবাব লেখার অনুরোধ জানায়। এরপর বারবার এই অনুরোধ আসতে থাকে, এমনকি বিষয়টি আমার জন্য সংকোচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই অনুরোধ আসার পূর্বেই আমি উক্ত কিতাবটির জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে কিছু পর্যবেক্ষণ লিখে রেখেছিলাম। তাই আমি পুনরায়...
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ৮)
النظر فيما كتبت، واستعنت بالله عز وجل، وبذلت أقصى ما أستطيع حتى انتهيت بحمد الله عز وجل وفضله وكرمه - من كتاب " المراجعات المفتراة على شيخ الأزهر البشرى "، حيث أثبت يقينا براءة شيخ الأزهر مما نسب إليه، وأن عبد الحسين هو وحده صاحب هذه المراجعات المفتراة. والقارئ يجد هذا الأمر واضحاً جلياً، وسيعجب كل العجب من جرأة هذا الرافضي لا على الكذب والافتراء فقط، ولكن أيضا على تصوير شيخ الأزهر وشيخ المالكية وقد جاوز الثمانين عاما في صورة جاهل لا يدرى ما في كتب في التفسير والحديث عند أهل السنة أنفسهم، وما يدرس منها لطلاب الأزهر، فبدا كأنه أقل علماً من هؤلاء الطلاب، إلى أن جاء هذا الشاب الرافضي الطريد الذي لجأ إلى مصر ليعلم شيخ الأزهر نفسه ما في هذه الكتب، ويصور الرافضي نفسه في صورة من أخرج شيخ الأزهر من ظلمات الجهل إلى نور العلم، وجعله يسلم بصحة عقيدة الرافضة وشريعتهم وبطلان ما عليه أمة الإسلام منذ الصحابة الكرام البررة إلى عصرنا!!

وقد ناقشت الرافضي مناقشة علمية مستفيضة، نسأل الله تعالى أن يتقبلها منا فهو سبحانه وتعالى يعلم السر وأخفى.

 

وبعد أن انتهيت من كتاب المراجعات رأيت أن أستكمل الموضوع الذي بدأته بالكتابين اللذين أشرت إليهما من قبل، ولكن بدا لي أن أقدم للمسلمين موسوعة شاملة في هذا الموضوع تبين حقيقة الشيعة والرافضة في الماضي والحاضر في ضوء الكتاب والسنة، وكل ما أنسبه إليهم منقول من كتبهم هم أنفسهم، وليس مما كتب عنهم، وبذلك يكون الحكم دقيقا غير جائر. وهذه الموسوعة يضمها كتاب في أربعة أجزاء:

الجزء الأول في العقائد.

الجزء الثانى في التفسير وكتبه ورجاله.

الجزء الثالث في الحديث وعلومه وكتبه ورجاله.
আমি যা লিখেছি তা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মহামহিম আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি, যতক্ষণ না আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর করুণা ও দয়াগুণে "আল-মুরাজাআত আল-মুফতারা আলা শাইখিল আজহার আল-বিশরী" (শাইখুল আজহার আল-বিশরীয়ের প্রতি আরোপিত বানোয়াট কথোপকথন) নামক কিতাবটি সমাপ্ত করেছি। এই কিতাবে আমি শাইখুল আজহারের প্রতি যা কিছু আরোপ করা হয়েছে তা থেকে তাঁর নির্দোষিতা অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছি এবং এটিও প্রমাণ করেছি যে, আব্দুল হুসাইনই এই বানোয়াট কথোপকথনের একমাত্র রচয়িতা। পাঠক বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারবেন এবং এই রাফেজীর ধৃষ্টতা দেখে চরম বিস্মিত হবেন—কেবল তার মিথ্যাচার ও অপবাদের কারণেই নয়, বরং শাইখুল আজহার এবং মালিকী মাযহাবের প্রধান শাইখ—যাঁর বয়স আশি বছর অতিক্রান্ত হয়েছিল—তাঁকে এমন এক অজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করার জন্য, যিনি খোদ আহলে সুন্নাতের তাফসির ও হাদিসের কিতাবসমূহে কী আছে এবং আজহারের ছাত্রদের কী পড়ানো হয় সে সম্পর্কেও অবগত নন! ফলে তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি ওই ছাত্রদের চেয়েও কম জ্ঞানী। পরিশেষে এই বিতাড়িত রাফেজী যুবকটি এলো, যে মিশরে আশ্রয় নিয়েছিল খোদ শাইখুল আজহারকে এই কিতাবগুলোর বিষয়বস্তু শেখানোর জন্য! এই রাফেজী নিজেকে এমন এক রূপে চিত্রায়িত করেছে, যেন সে-ই শাইখুল আজহারকে মূর্খতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোতে বের করে এনেছে এবং তাকে রাফেজীদের আকিদা ও শরীয়তের বিশুদ্ধতা এবং সম্মানিত পুণ্যবান সাহাবীগণের যুগ থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত উম্মতে মুসলিমাহ যা অনুসরণ করে আসছে তার অসারতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য করেছে!!

আমি রাফেজীর সাথে অত্যন্ত বিস্তারিত ও তাত্ত্বিক আলোচনা করেছি। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই প্রচেষ্টা কবুল করেন, কেননা তিনি গোপন ও অতিগোপন সকল বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।

 

মুরাজাআত কিতাবটি সমাপ্ত করার পর আমি চিন্তা করলাম যে, পূর্বে উল্লিখিত দুটি কিতাবের মাধ্যমে যে বিষয়ের সূচনা করেছিলাম তা সম্পূর্ণ করি। তবে আমার কাছে এটাই সমীচীন মনে হলো যে, মুসলিম উম্মাহর জন্য এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ পেশ করি, যা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে অতীত ও বর্তমানে শিয়া ও রাফেজীদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করবে। তাদের সম্পর্কে আমি যা কিছু বর্ণনা করেছি তা তাদের নিজস্ব কিতাবসমূহ থেকেই উদ্ধৃত করেছি, তাদের বিপক্ষে অন্যের লেখা থেকে নয়; যাতে করে সিদ্ধান্তটি সূক্ষ্ম ও ন্যায়সঙ্গত হয়। এই বিশ্বকোষটি চার খণ্ডের একটি কিতাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম খণ্ড: আকিদা বা বিশ্বাসমালা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় খণ্ড: তাফসির, এর কিতাবসমূহ ও রচয়িতাগণ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় খণ্ড: হাদিস, এর শাস্ত্রসমূহ, কিতাবসমূহ ও বর্ণনাকারীগণ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ৯)
والجزء الرابع في أصول الفقه والفقه.

وكل جزء له مقدمة تخصه وتناسبه.

وكتبت بحثا عنوانه " السنة بيان الله تعالى على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم "، فرأيت من المناسب أن ألحقه بالجزء الثالث الخاص بالسنة المشرفة.

وقبل أن أنتقل إلى مقدمة الجزء الأول أحب أن أذكر بما يأتي: -

 

أولا: لماذا كثر ما كتبت عن الشيعة؟

بعد أن تخرجت في كلية دار العلوم سنة 1376 هـ (1957م) ، والتحقت بالدراسات العليا، كان ممن درس لنا أستاذنا الجليل / محمد المدني - رحمه الله تعالى - وهو من الأعضاء البارزين لدار التقريب بين المذاهب في القاهرة، وكثيراً ما كان يحدّثنا عن الشيعة، وفقههم وأنهم لا يختلفون كثيراً عن المذاهب الأربعة، ويمكن اعتبارهم مذهبا خامسا.

والشيعة يزيدون على سبعين فرقة، لكنه كان يقصد الشيعة الإمامية الجعفرية الاثنى عشرية بالذات، فهى صاحبة دار التقريب فكرة وتنفيذا.

ونتيجة فهمى لما سمعته منه سجلت رسالة الماجستير تحت عنوان … " فقه الشيعة الإمامية ومواضع الخلاف بينه وبين المذاهب الأربعة " وأردت أن أحدد مواضع الخلاف فقط، أي ما ينفردون به دون أي مذهب من المذاهب الأربعة، ثم أناقش هذه المواضع باعتبارهم مذهبا خامسا من باب التقريب.

 

غير أننى عندما بدأت البحث، واطلعت على مراجعهم الأصلية وجدت الأمر يختلف عما سمعت تماما. ورأيت أن عقيدة الإمامة عندهم، التي جعلوها
এবং চতুর্থ খণ্ডটি হলো উসূলে ফিকহ এবং ফিকহ শাস্ত্রের ওপর।

আর প্রতিটি খণ্ডেরই একটি নিজস্ব এবং বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আমি "সুন্নাহ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানীতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা" শিরোনামে একটি গবেষণা লিখেছিলাম; তাই আমি বিষয়টির সাথে সঙ্গতি রেখে সেটিকে পবিত্র সুন্নাহর জন্য নির্ধারিত তৃতীয় খণ্ডের সাথে যুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি।

প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় যাওয়ার আগে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই: -

 

প্রথমত: শিয়াদের সম্পর্কে আমার লেখার আধিক্য কেন?

১৩৭৬ হিজরি (১৯৫৭ খ্রি.) সালে দারুল উলুম কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর আমি যখন উচ্চতর গবেষণায় ভর্তি হই, তখন আমাদের পাঠদানকারী শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মুহাম্মদ আল-মাদানি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি কায়রোতে অবস্থিত 'দারুত তাকরিব বাইনাল মাজাহিব' (মাজহাবসমূহের মধ্যে সমন্বয় কেন্দ্র)-এর একজন বিশিষ্ট সদস্য ছিলেন। তিনি প্রায়ই আমাদের কাছে শিয়া সম্প্রদায় ও তাদের ফিকহ শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতেন এবং বলতেন যে, তারা চার মাজহাবের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়, বরং তাদেরকে পঞ্চম একটি মাজহাব হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

শিয়ারা সত্তরটিরও বেশি উপদলে বিভক্ত, তবে তিনি বিশেষভাবে 'শিয়াহ ইমামিয়া জাফরিয়া ইসনা আশারিয়া' (বারো ইমামি শিয়া)-দেরই বুঝাতেন। কারণ ধারণা ও বাস্তবায়ন উভয় দিক থেকেই তারাই ছিল এই 'দারুত তাকরিব'-এর প্রধান উদ্যোক্তা।

তাঁর কাছে শোনা বিষয়গুলো থেকে আমার যে উপলব্ধি হয়েছিল, তার ভিত্তিতে আমি আমার মাস্টার্স থিসিসটি এই শিরোনামে নিবন্ধন করি: … "শিয়াহ ইমামিয়া ফিকহ এবং চার মাজহাবের সাথে এর মতভেদের ক্ষেত্রসমূহ"। আমি কেবল মতভেদের ক্ষেত্রগুলো নির্দিষ্ট করতে চেয়েছিলাম; অর্থাৎ তারা চার মাজহাবের বাইরে এককভাবে কোন বিষয়গুলো ধারণ করে। অতঃপর সমন্বয়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাদেরকে পঞ্চম মাজহাব হিসেবে গণ্য করে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম।

 

তবে যখন আমি গবেষণা শুরু করলাম এবং তাদের মূল উৎসগ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করলাম, তখন দেখলাম বিষয়টি আমি যা শুনেছিলাম তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি দেখলাম যে, তাদের নিকট ইমামত সংক্রান্ত আকিদা বা বিশ্বাস, যেটিকে তারা...
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১০)
أصلا من أصول الدين، أثرت في مصادر الشريعة، وجميع أبواب الفقه، ولذلك جعلت رسالة الدكتوراه عنوانها " أثر الإمامة في الفقه الجعفرى وأصوله".

فدراستى إذن بدأت بتوجيه من الشيخ المدني من أجل التقريب. ولكن الدراسة العلمية لها طابعها الذي لا يخضع للأهواء والرغبات.

وكان طبيعيا ألا أقف عند الماجستير والدكتوراه، وأن يظهر هذا التخصص في دراسات أخرى، ولهذا قمت بتأليف عدة كتب في سلسلة دراسات في الفرق.

 

من هذا التوضيح يعرف سبب كثرة ما كتبت في هذا المجال، وما أكتبه ليس من أهدافه الحوار مع الشيعة والرافضة، وإنما أوجه كتابتى لأهل السنة والجماعة وجمهور المسلمين في ضوء المصادر المعتمدة التي تلقتها الأمة بالقبول، والمنهج العلمي الذي اتفق عليه جمهور المسلمين.

 

ثانيا: الشيعة ليسوا سواء

الشيعة الاثنا عشرية ليسوا سواء، فمنهم الغلاة الذين نرى فيما كتبوا الكفر والزندقة، ومنهم من ينشد الاعتدال، ويتصدى لبعض هؤلاء الغلاة، ومنهم من يجمع بين الغلو والاعتدال. فعلى سبيل المثال.

ظهر في القرن الثالث الهجرى ثلاثة كتب في التفسير هي التفسير المنسوب للإمام الحسن العسكري، وتفسير العياشى، وتفسير القمي. وهذه الثلاثة كلها زيغ وضلال وزندقة: تكفر الصحابة رضي الله تعالي عنهم، وعلى الأخص الخلفاء الراشدين قبل الإمام على، ومن بايعوهم، وتحرف القرآن الكريم نصا ومعنى وتغلو في الأئمة الاثنى عشر إلى درجة الشرك بالله عز وجل.
দ্বীনের একটি মূলনীতি হিসেবে এটি শরীয়তের উৎসসমূহ এবং ফিকহের সকল অধ্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেছে। এই কারণেই আমি আমার পিএইচডি থিসিসের শিরোনাম রেখেছি "জাফরি ফিকহ ও এর উসূলের ওপর ইমামতের প্রভাব"।

সুতরাং আমার এই অধ্যয়ন শুরু হয়েছিল শায়খ আল-মাদানীর নির্দেশনায় ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিজস্ব ধরণ রয়েছে যা খেয়ালখুশি বা ব্যক্তিগত কামনার বশবর্তী হয় না।

আর এটিই স্বাভাবিক ছিল যে, আমি কেবল মাস্টার্স এবং পিএইচডিতেই থেমে থাকব না, বরং এই বিশেষায়িত জ্ঞান অন্যান্য গবেষণাতেও প্রতিফলিত হবে। এই উদ্দেশ্যেই আমি 'বিভিন্ন ফেরকা সংক্রান্ত অধ্যয়ন' ধারাবাহিকে বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছি।

 

এই স্পষ্টীকরণ থেকে এই বিষয়ে আমার অধিক রচনার কারণ জানা যায়। আমার এই লেখাগুলোর উদ্দেশ্য শিয়া ও রাফেজীদের সাথে সংলাপ করা নয়; বরং আমি আমার এই রচনাগুলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এবং সাধারণ মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে পেশ করছি—উম্মাহ কর্তৃক স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ এবং মুসলিম জনসমষ্টির ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আলোকে।

 

দ্বিতীয়ত: শিয়ারা সবাই এক নয়

ইসনা আশারিয়া শিয়ারা সবাই এক নয়; তাদের মধ্যে কিছু আছে চরমপন্থী, যাদের লেখনীতে আমরা কুফর ও যিন্দিকপনা দেখতে পাই। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে চান এবং এই চরমপন্থীদের অনেকের বিরোধিতা করেন। আবার কেউ কেউ চরমপন্থা ও মধ্যপন্থার সংমিশ্রণ ঘটান। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়:

হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে তাফসীরের তিনটি কিতাব প্রকাশিত হয়। সেগুলো হলো—ইমাম হাসান আল-আসকারীর দিকে নিসবতকৃত তাফসীর, তাফসীরে আইয়াশী এবং তাফসীরে কুম্মী। এই তিনটি কিতাবের সবই ভ্রষ্টতা, পথভ্রষ্টতা এবং যিন্দিকপনায় পূর্ণ: এগুলো সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম)-কে কাফের সাব্যস্ত করে—বিশেষ করে আলী (রা.)-এর পূর্ববর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন এবং যারা তাদের হাতে বায়াত গ্রহণ করেছিলেন তাদের। তারা পবিত্র কুরআনের শব্দ ও অর্থে বিকৃতি সাধন করে এবং বারোজন ইমামের ব্যাপারে এমন অতিরঞ্জন করে যা মহান আল্লাহর সাথে শিরকের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১১)
وفى القرن الرابع الهجرى يؤلف الكلينى ـ وهو تلميذ القمي ـ كتابه الكافى، الكتاب الأول في الحديث عندهم، وقد ضل ضلالا بعيداً، ونهج منهج التفاسير الثلاثة وزاد عليها كفراً وضلالا.

وفى القرن الخامس يؤلف الطوسي كتابه التبيان في التفسير، وينهج منهجا فيه شيء من الاعتدال، ويتصدى لحركة التشكيك والتضليل التي سبقته، ويحاول جاهدا صيانة كتاب الله العزيز نصا ومعنى، وإن تأثر بعقيدته في بعض معانى الآيات الكريمة.

والإمامية الاثنا عشرية بعد هذا منهم من سار في ظلمات الضالين الغلاة ومنهم من اقترب من شيخ الطائفة الطوسي، ومنهم من أخذ من كل نصيبا. وقد بينت هذا بالتفصيل في كتابى " أثر الإمامة في الفقه الجعفرى وأصوله "، وفى هذا الكتاب بأجزائه الأربعة.

وعبد الحسين في كتابه " المراجعات " الذي أشرت إليه من قبل لم ينقل إلا عن الغلاة الضالين، وأضاف إليهم ما هو أشد كفرا وضلالا، ولم ينقل شيئا عن التبيان للطوسى شيخ طائفتهم وصاحب كتابين من كتب الحديث الأربعة.

ولذلك فهو يعد من أشد الروافض غلوا وزندقة وكفرا.

وأرجو أن يكون واضحا أن ما نراه في كتب الغلاة الرافضة، وما نصمهم به نتيجة ما قدمت أيديهم، لا ينطبق على المعتدلين من الطائفة.

والذى تعجب له هو موقف المعتدلين الغلاة من الشيعة، حيث نرى تناقضا واضحا: -

فهم يثنون على الصحابة الكرام، ويقولون بأن القرآن الكريم الذي بين أيدى المسلمين هو كما أنزله الله عز وجل، وأن أي خبر يتعارض مع هذا سواء أكان في الكافى أو غيره، يضرب به عرض الحائط، وكذلك ما يتصل بفرية علم الأئمة للغيب.
চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে আল-কুম্মীর ছাত্র আল-কুলাইনী তাদের প্রধান হাদীস গ্রন্থ 'আল-কাফি' সংকলন করেন। তিনি চরম বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং পূর্ববর্তী তিনটি তাফসীরের পথ অনুসরণ করেছিলেন, বরং কুফর ও গোমরাহির ক্ষেত্রে সেগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।

পঞ্চম শতাব্দীতে আত-তূসী 'আত-তিবইয়ান ফি তাফসীর' গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এতে তিনি কিছুটা মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী সংশয়বাদ ও বিভ্রান্তির ধারার মোকাবিলা করেন এবং আল্লাহর সুমহান কিতাবের শব্দ ও অর্থগত পবিত্রতা রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেন, যদিও কিছু আয়াতের অর্থ বর্ণনায় তিনি নিজ আকিদা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

এর পরবর্তী সময়ে ইসনা আশারিয়া ইমামিয়াদের একদল চরমপন্থী বিভ্রান্তদের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়, অন্য একদল তাদের শাইখুত তায়িফা আত-তূসীর নিকটবর্তী থাকে, আবার কেউ কেউ উভয় ধারা থেকেই কিছু অংশ গ্রহণ করে। আমি আমার গ্রন্থ 'আসারুল ইমামাহ ফিল ফিকহিল জা'ফারি ওয়া উসুলিহি' এবং এই বর্তমান গ্রন্থের চারটি খণ্ডে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।

আব্দুল হুসাইন তাঁর 'আল-মুরাজাআত' গ্রন্থে—যার কথা আমি আগেই উল্লেখ করেছি—কেবল চরমপন্থী বিভ্রান্তদের থেকেই উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তাদের বক্তব্যের সাথে আরও ঘোরতর কুফরি ও গোমরাহি যোগ করেছেন। অথচ তিনি তাদের সম্প্রদায়ের প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং চারটি মৌলিক হাদীস গ্রন্থের দুটির লেখক আত-তূসীর 'আত-তিবইয়ান' থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি।

একারণেই তাকে রাফেযীদের মধ্যে চরমপন্থী, ধর্মদ্রোহী ও কাফের হিসেবে গণ্য করা হয়।

আমি আশা করি এটি স্পষ্ট হবে যে, চরমপন্থী রাফেযীদের কিতাবসমূহে আমরা যা দেখি এবং তাদের কৃতকর্মের ফলে আমরা তাদের যেভাবে অভিহিত করি, তা এই সম্প্রদায়ের মধ্যপন্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তবে যা বিস্ময়কর তা হলো শিয়াদের মধ্যে তথাকথিত মধ্যপন্থী চরমপন্থীদের অবস্থান, যেখানে আমরা স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখতে পাই: -

তারা সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, মুসলমানদের কাছে বিদ্যমান পবিত্র কুরআন ঠিক তেমনই যেমনটি আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন। তারা আরও বলেন যে, এর পরিপন্থী কোনো বর্ণনা—তা আল-কাফিতে থাকুক বা অন্য কোথাও—তা বর্জনীয়। একইভাবে ইমামদের গায়েব বা অদৃশ্য বিষয় জানার যে মিথ্যা দাবি, সেটির ক্ষেত্রেও তারা একই অবস্থান পোষণ করেন।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১২)
والتناقض يأتي في الإشادة بكتب الغلاة كالمراجعات، وهو الذي يتعارض مع كل ما سبق كما يظهر عند عرضه ومناقشته، وبيان ما فيه من البلايا والرزايا.

وكذلك القول بأن كل ما في تفسير على بن إبراهيم القمي صحيح، وهو الذي كفر الصحابة وقال بالتحريف تنزيلاً وتأويلاً، وعلم الأئمة لما كان وما يكون إلى يوم القيامة.

تناقض واضح جلى بلا شك!! ولذلك فهم جمعوا بين الاعتدال والغلو!!

ووجدنا طائفة من معتدلي الشيعة لم تقع في مثل هذا التناقض، وظهرت لهم كتب تفضح وترد على غلاة الشيعة، وذلك مثل كتاب تحطيم الصنم، والمقصود بالصنم كتاب الكافى، وكتاب لله ثم للتاريخ، وفيه تبرئة الأئمة الأطهار مما نسب إليهم من الغلو، وما كتبه أحمد الكاتب، وموسى الموسوي، وغيرهم. … فالشيعة إذن ليسوا سواء.

 

ثالثا: منهج الرافضة في محاولة هدم الإسلام

عبد الحسين الذي افترى كتاب المراجعات، أراد أن يبين أن علامة أهل السنة وشيخ أزهرهم، والذى جاوز الثمانين من عمره، جاهل بالكتاب والسنة … معا، حتى بالكتب التي تدرس لطلاب الأزهر، ويسلم بكل ما يقوله هذا الرافضي الشاب الطريد الذي لجأ إلي مصر، فلا ينتهى الكتاب المفترى حتى ينطق ويشهد شيخ الأزهر- وحاشاه ثم حاشاه - بما ينطق به غلاة الروافض! وإذا كان هذا هو حال الإمام الأكبر فعلى الباقين جميعا أن يسلموا تسليماً، وأن يعود الأزهر شيعيا كما بدأ! هكذا زين الشيطان للرافضى!
আর বৈপরীত্যটি পরিলক্ষিত হয় চরমপন্থীদের কিতাবসমূহ যেমন 'আল-মুরাজাআত'-এর প্রশংসার ক্ষেত্রে; এটি ইতিপূর্বে আলোচিত সকল বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক, যা এর পর্যালোচনা ও আলোচনার মাধ্যমে এবং এতে বিদ্যমান বিপর্যয় ও ভয়াবহ ত্রুটিসমূহ প্রকাশের ফলে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।

তদ্রূপ আলী বিন ইব্রাহিম আল-কুম্মীর তাফসীরে বর্ণিত সবকিছুকে সহীহ বা সঠিক বলে দাবি করাও একটি বৈপরীত্য; অথচ তিনি সাহাবায়ে কেরামকে কাফের আখ্যায়িত করেছেন এবং কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রেই বিকৃতির (তাহরীফ) প্রবক্তা ছিলেন, সেইসাথে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে এবং যা কিছু হবে—সে সম্পর্কে ইমামগণের অলৌকিক জ্ঞানের দাবি করেছেন।

এটি নিঃসন্দেহে একটি স্পষ্ট ও প্রকট বৈপরীত্য!! একারণেই তারা মধ্যপন্থা ও চরমপন্থার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে!!

আমরা শিয়াদের মধ্যে এমন একটি মধ্যপন্থী দল পেয়েছি যারা এই ধরণের বৈপরীত্যে নিপতিত হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু কিতাব প্রকাশিত হয়েছে যা চরমপন্থী শিয়াদের মুখোশ উন্মোচন করে এবং তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়; যেমন ‘তাহতীম আল-সানাম’ (মূর্তি চূর্ণকরণ) কিতাবটি—যেখানে ‘মূর্তি’ দ্বারা ‘আল-কাফী’ কিতাবকে বুঝানো হয়েছে—এবং ‘লিল্লাহ সুম্মা লিত-তারিখ’ (আল্লাহর জন্য অতপর ইতিহাসের জন্য) কিতাবটি, যাতে পবিত্র ইমামগণকে তাদের প্রতি আরোপিত চরমপন্থা থেকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও আহমদ আল-কাতিব, মুসা আল-মুসাভী ও অন্যান্যদের রচনাবলী এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। … সুতরাং বোঝা যায়, সকল শিয়া সমান নয়।

 

তৃতীয়ত: ইসলামকে ধ্বংস করার অপপ্রয়াসে রাফেযীদের কর্মপন্থা

আব্দুল হুসাইন, যে ‘আল-মুরাজাআত’ নামক কিতাবটি মিথ্যাচার করে রচনা করেছে, সে এটা দেখাতে চেয়েছিল যে, আহলে সুন্নাতের বিশিষ্ট আলেম এবং আল-আযহারের শায়খ—যাঁর বয়স আশি বছর অতিক্রম করেছিল—তিনি কুরআন ও সুন্নাহ উভয় বিষয়েই অজ্ঞ ছিলেন, এমনকি আল-আযহারের ছাত্রদেরকে যেসব কিতাব পড়ানো হয় সে সম্পর্কেও তিনি জানতেন না। সে এটি বুঝাতে চেয়েছে যে, মিসরে আশ্রয় নেওয়া এই বিতাড়িত যুবক রাফেযী যা বলছে শায়খুল আযহার নির্বিচারে তা মেনে নিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত সেই বানোয়াট কিতাবটি এমনভাবে শেষ হয় যেখানে শায়খুল আযহার—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—চরমপন্থী রাফেযীদের মতই বক্তব্য প্রদান ও সাক্ষ্য দান করেন! যদি ‘ইমামুল আকবার’-এর অবস্থাই এমন হয়, তবে অন্যদের তো নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করা উচিত এবং আল-আযহারের উচিত সেই সূচনালগ্নের মতো পুনরায় শিয়া মতবাদে ফিরে যাওয়া! এভাবেই শয়তান সেই রাফেযীর নিকট তার অপকর্মকে শোভনীয় করে তুলেছিল!
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأراد شيطان الرافضة أن يبين أنه صاحب ذلك الكتاب لا ريب فيه، وبه نور الظلم، وأنقذ شيخ الأزهر من ظلمات الجهل … هكذا دون أدنى خجل أو حياء من الله عز وجل، أو من الناس.

وما ذكر في مقدمة كتاب المراجعات عن عبد الحسين فهو من باب ما قاله الإمام الشافعى " أشهد الناس بالزور الرافضة ".

وأحب أن أنبه إلى أمر هام وهو منهج الرافضة في هدم الإسلام من الداخل ونشر عقائدهم الباطلة.

رأيت كتابا لعبد الحسين هذا عنوانه " الفصول المهمة في تأليف الأمة "، ومن الذي لا يريد تأليف أمة الإسلام؟ فلما نظرت في الكتاب وجدته ينتهى إلى أن التأليف إنما يكون باعتناق عقيدة الرافضة وترك ما عليه أهل السنة والجماعة، وهذا هو ما انتهى إليه في كتاب المراجعات، بعد أن بدأه بالتحذير من الفرقة، ووجوب اجتماع الكلمة، أي أننا يجب أن نجتمع، على الكفر والزندقة، لا على سنة الرسول صلى الله عليه وسلم، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعده، التي أمرنا أن نعض عليها بالنواجذ.

فيجب أن نتنبه إلى هذا المنهج الخبيث، وإلى أنهم في سبيل تصدير الثورة التي نادى بها الخمينى، أي عقيدة الرافضة وشريعتهم، يغرون بالمال الوفير، وبالنساء عن طريق زواج المتعة عندهم.

 

رابعا: عبد الله بن سبأ

صاحب فكرة الوصي بعد النبي صلى الله عليه وسلم

عبد الله بن سبأ كان يهودياً ثم أعلن إسلامه، ووالي على بن أبى طالب - رضي الله تعالى عنه - وكان يقول وهو على يهوديته في يوشع بن نون بالغلو،
আর রাফেযিদের শয়তান এটা প্রকাশ করতে চেয়েছিল যে, সে-ই সেই কিতাবের রচয়িতা যাতে কোনো সন্দেহ নেই, আর এতে রয়েছে অন্ধকারের আলো, এবং সে আল-আজহারের শাইখকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেছে … এভাবেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কিংবা মানুষের প্রতি ন্যূনতম লজ্জা বা সংকোচ ছাড়াই সে এসব বলেছে।

‘আল-মুরাজাআত’ কিতাবের ভূমিকায় আব্দুল হুসাইন সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা ইমাম শাফেয়ীর সেই উক্তিরই অন্তর্ভুক্ত যেখানে তিনি বলেছিলেন: "মানুষের মধ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে রাফেযিরাই সবচেয়ে জঘন্য।"

আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই, আর তা হলো ভেতর থেকে ইসলাম ধ্বংস করা এবং তাদের বাতিল আকিদা প্রচারের ক্ষেত্রে রাফেযিদের অনুসৃত কর্মপন্থা।

আমি এই আব্দুল হুসাইনের একটি বই দেখেছি যার শিরোনাম "আল-ফুসুলুল মুহিম্মাহ ফি তালিফিল উম্মাহ" (উম্মাহর ঐক্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়সমূহ)। উম্মাহর ঐক্য কে না চায়? কিন্তু যখন আমি কিতাবটি পর্যালোনা করলাম, তখন দেখতে পেলাম যে এটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে—ঐক্য কেবল রাফেযি আকিদা গ্রহণ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পথ বর্জনের মাধ্যমেই সম্ভব। ‘আল-মুরাজাআত’ কিতাবেও সে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে; যদিও সে বিভেদ সম্পর্কে সতর্কবাণী এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবশ্যকতা দিয়ে লেখাটি শুরু করেছিল। অর্থাৎ আমাদের কুফর ও যিনদিকীর (ধর্মহীনতার) ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং তাঁর পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর ওপর নয়, যা আমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং এই খবিস পদ্ধতির ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। তারা খোমেনী ঘোষিত বিপ্লব অর্থাৎ রাফেযি আকিদা ও শরীয়ত ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রচুর অর্থ এবং তাদের কাছে প্রচলিত ‘মুতআ’ বিবাহের মাধ্যমে নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে থাকে।

 

চতুর্থত: আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর ‘অছি’ (স্থলাভিষিক্ত) ধারণার প্রবর্তক

আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা একজন ইহুদি ছিল, অতঃপর সে ইসলাম প্রকাশের ভান করে এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)-এর প্রতি আনুগত্য দেখায়। সে যখন ইহুদি ধর্মে ছিল, তখন ইউশা ইবনে নুন সম্পর্কে অতিরঞ্জন ও চরমপন্থী কথা বলত,
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فقال في إسلامه بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم في أبى الحسن مثل ذلك. وهو صاحب فكرة أن علياً هو وصى النبي صلى الله عليه وسلم.

جاء في كتاب فرق الشيعة للحسن بن موسى النوبختي، وسعد بن عبد الله القمي، وهما من علماء الشيعة في القرن الثالث الهجرى:

" عبد الله بن سبأ أول من شهر القول بفرض إمامة على رضي الله عنه، وأظهر البراءة من أعدائه، وكاشف مخالفيه وكفرهم، فمن هاهنا قال من خالف الشيعة: إن أصل الرفض مأخوذ من اليهودية ". (ص 32:33 وانظر هذا أيضا في ترجمة ابن سبأ في تنقيح المقال للماماقانى 2/184، والأنوار النعمانية للسيد نعمة الله الموسوي الجزائري ص 234. وكلها مراجع شيعية) .

ونتيجة لدور ابن سبأ في تأسيس عقيدة الرافضة، ولرفع هذه التهمة الثابتة، ألف مرتضى العسكري الشيعي كتابا عن عبد الله بن سبأ، وقال: إنه شخصية خرافية لا وجود لها، وإن قصته وضعها سيف بن عمر، واشتهرت عن طريق تاريخ الطبري.

وما قاله هذا الشيعي غير صحيح، بل جرأة عجيبة على إنكار ما هو ثابت مشتهر، فما أكثر ما جاء عن ابن سبأ من غير طريق سيف بن عمر، وما نقلته من كتاب فرق الشيعة وغيره ليس فيه سيف بن عمر، وليس منقولا عن طريق الطبري، وأضيف إليه بعض المراجع الشيعية الأخرى التي ذكرت ابن سبأ، وليس في سندها سيف بن عمر:

فانظر على سبيل المثال لأصحاب كتب الحديث الأربعة عند الشيعة:

الكافى للكلينى 1/545، وللصدوق: فقيه من لا يحضره الفقيه 1/213، وعلل الشرائع ص 344، والخصال 638، وللطوسى: تهذيب الأحكام 2/322، واختيار معرفة الرجال 2/108، والأمالى 1/234.

وراجع أيضا: وسائل الشيعة 18/554، ورجال الكشّى، وغيرها من مراجع الشيعة أنفسهم، إلى جانب مراجع الجمهور التي يطول ذكرها. ويمكن أن يكون
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁর ইসলাম গ্রহণের বর্ণনায় আবুল হাসান (আলী রা.) সম্পর্কে অনুরূপ কথা বলা হয়েছে। তিনিই এই ধারণার প্রবর্তক যে, আলী (রা.) হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াসি (মনোনীত উত্তরসূরি)।

তৃতীয় হিজরি শতকের শিয়া আলেম হাসান বিন মুসা আল-নাওবাখতি এবং সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কুম্মি রচিত 'ফিরাকুশ শিয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে:

"আব্দুল্লাহ বিন সাবা-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইমামত ফরজ হওয়ার কথা প্রচার করেন, তাঁর শত্রুদের থেকে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেন এবং তাঁর বিরোধীদের প্রকাশ্যে সমালোচনা ও কাফের আখ্যা দেন। এই কারণেই শিয়াদের বিরোধীরা বলে থাকেন যে: রাফেজি মতবাদের মূল উৎস ইয়াহুদিবাদ থেকে গৃহীত।" (পৃষ্ঠা: ৩২-৩৩; আরও দেখুন: মামাকানি রচিত 'তানকিহুল মাকাল' ২/১৮৪ এবং সাইয়্যেদ নি'মাতুল্লাহ আল-মুসাভি আল-জাজায়েরি রচিত 'আল-আনওয়ারুন নু'মানিয়্যাহ' পৃষ্ঠা ২৩৪। এ সবই শিয়াদের নির্ভরযোগ্য উৎস)।

রাফেজি আকিদা প্রতিষ্ঠায় ইবনে সাবার ভূমিকার প্রেক্ষিতে এবং এই প্রমাণিত অভিযোগটি খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে শিয়া লেখক মুরতাজা আল-আসকারি আব্দুল্লাহ বিন সাবা সম্পর্কে একটি বই রচনা করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, সে (ইবনে সাবা) একটি কাল্পনিক চরিত্র যার কোনো অস্তিত্ব নেই এবং তার কাহিনীটি সাইফ বিন উমর কর্তৃক উদ্ভাবিত যা তারিখুত তাবারির মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

এই শিয়া লেখকের বক্তব্য সঠিক নয়, বরং এটি একটি অকাট্য ও প্রসিদ্ধ সত্য অস্বীকার করার এক অদ্ভুত দুঃসাহস মাত্র। কেননা সাইফ বিন উমরের বর্ণনা ছাড়াও ইবনে সাবা সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা বিদ্যমান। আমি 'ফিরাকুশ শিয়া' ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে যা উদ্ধৃত করেছি তার কোনোটিতেই সাইফ বিন উমর নেই এবং তা তারিখুত তাবারির মাধ্যমেও বর্ণিত হয়নি। আমি আরও কিছু শিয়া সূত্রের উল্লেখ করছি যেখানে ইবনে সাবার কথা বর্ণিত হয়েছে এবং সেগুলোর সনদে সাইফ বিন উমরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই:

উদাহরণস্বরূপ শিয়াদের হাদিসশাস্ত্রের প্রধান চারটি কিতাবের রচয়িতাদের বর্ণনাগুলো দেখুন:

কুলাইনি রচিত 'আল-কাফি' ১/৫৪৫; সাদুক রচিত: 'মান লা ইয়াহদুরুহুল ফাকিহ' ১/২১৩, 'ইলালুশ শারায়ি' পৃষ্ঠা ৩৪৪, 'আল-খিসাল' পৃষ্ঠা ৬৩৮; এবং তুসি রচিত: 'তাহজিবুল আহকাম' ২/৩২২, 'ইখতিয়ারু মা'রিফাতির রিজাল' ২/১০৮ ও 'আল-আমালি' ১/২৩৪।

আরও দেখুন: 'ওয়াসায়িলুশ শিয়া' ১৮/৫৫৪, 'রিজালুল কাশশি' এবং শিয়াদের নিজস্ব অন্যান্য উৎসসমূহ, পাশাপাশি জমহুর বা সুন্নিদের অসংখ্য উৎস যা উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হবে। আর হতে পারে...
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১৫)
هذا الموضوع بحثا موسعا نثبت به أخطاء مرتضى العسكري وغيره، ولكن أكتفى بذكر نموذج لأحد الشيعة المشهورين بالاعتدال إلى حد ما وهو السيد أبو القاسم الخوئى، الذي كان المرجع الأعلى للشيعة في العراق. جاء في كتابه معجم رجال الحديث في ترجمة عبد الله بن سبأ ما نصه:

الذي رجع إلى الكفر وأظهر الغلوّ: من أصحاب على رضي الله عنه رجال الشيخ (76) .

وقال الكشّى (48) : " حدثني محمد بن قولويه القمي، قال: حدثني سعد بن عبد الله بن أبى خلف القمي، قال: حدثني محمد بن عثمان العبدى، عن يونس بن عبد الرحمان، عن عبد الله بن سنان، قال: حدثني أبى عن أبى جعفررضي الله عنه: أنّ عبد الله بن سبأ كان يدعى النبوة ويزعم أن أمير المؤمنين رضي الله عنه هو الله!! تعالى عن ذلك علوّاً كبيراً فبلغ ذلك أمير المؤمنين رضي الله عنه، فدعاه وسأله فأقرّ بذلك، وقال: نعم أنت هو وقد كان ألقى في روعى أنك أنت الله وأنىّ نبي!! فقال له أمير المؤمنين رضي الله عنه: ويلك قد سخر منك الشيطان فارجع عن هذا ثكلتك أمك وتب، فأبى فحبسه واستتابه ثلاثة أيام فلم يتب فأحرقه بالنار". وقال: إنّ الشيطان استهواه فكان يأتيه ويلقى في روعه ذلك.

حدثني محمد بن قولويه، قال: حدثني سعد بن عبد الله، قال: حدّثنا يعقوب ابن يزيد ومحمد بن عيسى، عن ابن أبى عمير، عن هشام بن سالم، قال: سمعت أبا عبد الله يقول وهو يحدث أصحابه بحديث عبد الله بن سبأ، وما ادّعى من الربوبية في أمير المؤمنين على بن أبى طالب رضي الله عنه، فقال: إنه لما ادّعى ذلك فيه استتابه أمير المؤمنين رضي الله عنه فأبى أن يتوب فأحرقه بالنار.

حدثني محمد بن قولويه: قال: حدثني سعد بن عبد الله، قال: حدّثنا يعقوب بن يزيد، ومحمد بن عيسى، عن على بن مهزيار، عن فضالة بن أيوب الأرذى عن أبان بن عثمان، قال: سمعت أبا عبد الله رضي الله عنه يقول: لعن الله عبد الله بن سبأ إنه ادّعى الربوبية في أمير المؤمنين رضي الله عنه، وكان والله أمير المؤمنين رضي الله عنه عبد الله طائعاً، الويل لمن كذب علينا وإن قوما يقولون فينا ما لانقوله في أنفسنا، نبرأ إلى الله منهم. نبرأ إلى الله منهم.

وبهذا الإسناد عن يعقوب بن يزيد، عن ابن أبى عمير، وأحمد بن محمد بن عيسى، عن أبيه، والحسين بن سعيد، عن ابن أبى عمير، عن هشام بن سالم، عن أبى حمزة الثمالى، قال: قال على بن الحسين صلوات الله عليهما: لعن الله
এই বিষয়টি একটি বিস্তৃত গবেষণার দাবি রাখে, যার মাধ্যমে আমরা মুরতাজা আল-আসকারী এবং অন্যদের ভুলসমূহ প্রমাণ করি। তবে আমি এখানে শিয়াদের মধ্যে কিছুটা মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত একজনের উদাহরণ প্রদান করেই ক্ষান্ত হচ্ছি, তিনি হলেন সাইয়্যেদ আবু আল-কাসিম আল-খুয়ি, যিনি ইরাকে শিয়াদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় মারজা (কর্তৃত্ব) ছিলেন। তার রচিত 'মু’জামু রিজালিল হাদিস' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন সাবার জীবনী আলোচনায় নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এসেছে:

যিনি কুফরের দিকে ফিরে গিয়েছিলেন এবং চরমপন্থা (গুলুউ) প্রকাশ করেছিলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সঙ্গীদের মধ্য হতে, রিজালুশ শাইখ (৭৬)।

আল-কাশশী (৪৮) বলেন: "মুহাম্মদ বিন কুলাওয়াইহ আল-কুম্মী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সা’দ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি খালাফ আল-কুম্মী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন উসমান আল-আবদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সিনান থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট আবু জাফর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: আব্দুল্লাহ বিন সাবা নবুওয়াতের দাবি করত এবং ধারণা করত যে আমীরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্বয়ং আল্লাহ!! আল্লাহ তাআলা তাদের এই দাবি থেকে বহুগুণ ঊর্ধ্বে। এই সংবাদ আমীরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি তাকে ডেকে পাঠান এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। সে তা স্বীকার করে বলল: 'হ্যাঁ, আপনিই তিনি; আমার অন্তরে উদিত হয়েছে যে আপনিই আল্লাহ এবং আমি একজন নবী!!' তখন আমীরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: 'তোমার ধ্বংস হোক! শয়তান তোমাকে নিয়ে উপহাস করেছে, সুতরাং তুমি এই পথ পরিহার করো—তোমার মা তোমাকে হারাক—এবং তওবা করো।' কিন্তু সে অস্বীকার করল, ফলে তিনি তাকে কারারুদ্ধ করেন এবং তিন দিন পর্যন্ত তাকে তওবা করতে বলেন। কিন্তু সে তওবা না করায় তিনি তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেন।" তিনি আরও বলেন: শয়তান তাকে প্রলুব্ধ করেছিল, সে তার নিকট আসত এবং তার অন্তরে এসব কথা ঢেলে দিত।

মুহাম্মদ বিন কুলাওয়াইহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সা’দ বিন আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব বিন ইয়াজিদ এবং মুহাম্মদ বিন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উমায়ের থেকে, তিনি হিশাম বিন সালিম থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে তাঁর সঙ্গীদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন সাবার কাহিনী এবং আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে তার প্রভুত্বের দাবি সম্পর্কে বলতে শুনেছি। তিনি বললেন: "সে যখন তাঁর ব্যাপারে এই দাবি করল, তখন আমীরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে তওবা করতে বললেন, কিন্তু সে তওবা করতে অস্বীকার করায় তিনি তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেন।"

মুহাম্মদ বিন কুলাওয়াইহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: সা’দ বিন আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব বিন ইয়াজিদ এবং মুহাম্মদ বিন ঈসা আমাদের নিকট আলী বিন মাহজিয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ফাদালা বিন আইয়ুব আল-আরজি থেকে, তিনি আবান বিন উসমান থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ আব্দুল্লাহ বিন সাবার ওপর অভিসম্পাত করুন। সে আমীরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে প্রভুত্বের দাবি করেছিল; অথচ আল্লাহর কসম, আমীরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন আল্লাহর একজন অনুগত বান্দা। ধ্বংস তাদের জন্য যারা আমাদের ওপর মিথ্যা আরোপ করে! নিশ্চয়ই কিছু লোক আমাদের সম্পর্কে এমন কথা বলে যা আমরা নিজেদের সম্পর্কে বলি না; আমরা আল্লাহর নিকট তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছি। আমরা আল্লাহর নিকট তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছি।"

এবং এই একই সনদসূত্রে ইয়াকুব বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে আবি উমায়ের থেকে, এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা তাঁর পিতা থেকে, এবং হুসাইন বিন সাঈদ ইবনে আবি উমায়ের থেকে, তিনি হিশাম বিন সালিম থেকে, তিনি আবু হামযা আস-সুমালি থেকে, তিনি বলেন: আলী বিন আল-হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম) বলেছেন: "আল্লাহর অভিসম্পাত..."
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১৬)
من كذب علينا إنى ذكرت عبد الله بن سبأ فقامت كل شعرة في جسدى، لقد ادّعى أمراً عظيماً! ما له لعنه الله، كان على رضي الله عنه والله عبداً لله صالحاً، أخا رسول الله، ما نال الكرامة من الله إلا بطاعته لله ولرسوله، وما نال رسول الله صلى الله عليه وآله الكرامة من الله إلا بطاعته لله.

وبهذا الإسناد: عن محمد بن خالد الطيالسى، عن ابن أبى نجران، عن عبد الله (بن سنان) ، قال: قال أبو عبد الله رضي الله عنه: إنّا أهل بيت صديقون لا نخلو من كذّاب يكذب علينا ويسقط صدقنا بكذبه علينا عند الناس، كان رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَوآله أصدق الناس لهجة وأصدق البرية كلّها، وكان مسيلمة يكذب عليه، وكان أمير المؤمنين رضي الله عنه أصدق من برأ الله بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان الذي يكذب عليه ويعمل في تكذيب صدقه ويفترى على الله الكذب عبد الله بن سبأ.

أقول ـ أي الخوئى: وتأتى هذه الرواية الأخيرة في ترجمة محمد بن أبى زينب وفى سندها ابن سنان، بدل عبد الله.

وقال الكشّى: " ذكر بعض أن عبد الله بن سبأ كان يهودياً فأسلم ووالى عليا رضي الله عنه، وكان يقول وهو على يهوديته في يوشع بن نون وصى موسى بالغلو! فقال في إسلامه بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في على رضي الله عنه مثل ذلك، وكان أول من شهر بالقول بفرض إمامة على!! وأظهر البراءة من أعدائه وكاشف مخالفيه
যে ব্যক্তি আমাদের নামে মিথ্যাচার করে—আমি যখনই আবদুল্লাহ বিন সাবার কথা স্মরণ করি, আমার শরীরের প্রতিটি লোম খাড়া হয়ে যায়। সে এক ভয়াবহ দাবি করেছিল! তার কী হয়েছে যে আল্লাহ তাকে লানত করেছেন! আল্লাহর শপথ, আলী (রা.) ছিলেন আল্লাহর এক নেককার বান্দা এবং আল্লাহর রাসুলের ভাই। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান লাভ করেছেন কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমেই। আর আল্লাহর রাসুল (সা.)-ও আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান পেয়েছেন কেবল আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে।

এবং এই সনদে: মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আত-তয়ালিসি থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজরান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (ইবনে সিনান) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ (রা.) বলেছেন: 'আমরা এমন এক সত্যবাদী পরিবার যে, আমাদের মধ্যে কোনো না কোনো মিথ্যাবাদী থেকে যায় যারা আমাদের নামে মিথ্যাচার করে এবং আমাদের নামে মিথ্যা বলে মানুষের কাছে আমাদের সত্যনিষ্ঠাকে ক্ষুণ্ণ করে। আল্লাহর রাসুল (সা.) ছিলেন কথাবার্তায় মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সত্যবাদী এবং সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি, অথচ মুসাইলিমা তাঁর নামে মিথ্যা রটাত। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পর আমিরুল মুমিনিন (রা.) ছিলেন আল্লাহর সৃষ্টি জগতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সত্যবাদী, আর যে ব্যক্তি তাঁর নামে মিথ্যাচার করত, তাঁর সত্যনিষ্ঠাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাত এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করত, সে ছিল আবদুল্লাহ বিন সাবা।'

আমি (অর্থাৎ আল-খুই) বলছি: এই শেষোক্ত বর্ণনাটি মুহাম্মদ ইবনে আবি জয়নাবের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর সনদে আবদুল্লাহর পরিবর্তে ইবনে সিনান নাম এসেছে।

আল-কাশশি বলেন: 'কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন সাবা ইহুদি ছিল, পরে সে ইসলাম গ্রহণ করে এবং আলী (রা.)-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। সে যখন ইহুদি ধর্মে ছিল, তখন মুসা (আ.)-এর স্থলাভিষিক্ত ইউশা ইবনে নুন সম্পর্কে অতিশয়োক্তি করত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর ইসলাম গ্রহণের পর সে আলী (রা.) সম্পর্কেও একই ধরনের উক্তি করে। সে-ই সর্বপ্রথম আলীর ইমামত ফরজ হওয়ার মতবাদটি জনসমক্ষে প্রচার করে এবং তাঁর শত্রুদের থেকে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করে ও তাঁর বিরোধীদের প্রকাশ্যে মোকাবিলা শুরু করে।'
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأكفرهم، فمن ها هنا قال من خالف الشيعة: أصل التشيع والرفض مأخوذ من اليهودية!! ".

أقول: بطلان قول من خالف الشيعة واضح ناشئ عن العصبية العمياء، فإن أصل التشيع والرفض مأخوذ من الله عز وجل حيث قال سبحانه وتعالى:

" إنما وليكم لله ورسوله والذين آمنوا … " والرسول الأعظم صلوات الله عليه وآله حيث قال في الغدير: " من كنتٌ مولاه فهذا على مولاه، اللهم وال من … والاه … " وأما عبد الله بن سبأ فعلى فرض وجوده فهذه الروايات تدل على أنه كفر وادّعى الألوهيّة في على رضي الله عنه لا أنه قائل بفرض إمامته رضي الله عنه، مضافاً إلى أن أسطورة عبد الله بن سبأ وقصص مشاغباته الهائلة موضوعة مختلفة اختلقها سيف بن عمر الوضاع الكذّاب، ولا يسعنا المقام الإطالة في ذلك والتدليل عليه، وقد أغنانا العلامة الجليل والباحث المحقق السيد مرتضى العسكري في ما قدم من دراسات عميقة دقيقة في هذه القصص الخرافية وعن سيف وموضوعاته في مجلّدين ضخمين طبعا باسم (عبد الله بن سبأ) وفى كتابه الآخر (خمسون ومائة صحابي مختلق) صلى الله عليه وسلم (11/205: 207) . انتهت الترجمة.

ونلاحظ هنا أن الخوئى نقل الترجمة من مراجع شيعية فقط، وذكر الأخبار بأسانيدها وليس في أي منها سيف بن عمر، ومع ذلك يقول: أسطورة عبد الله بن سبأ، ويثنى على مرتضى العسكري! وعلى دراساته! أين ذهب عقل الخوئى وهو يكتب هذا؟!

ثم لا يكتفى بالافتراء على الله تعالى وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم بالنسبة لأصل التشيع، بل يلحق به الرفض الذي يعنى الطعن في أبى بكر وعمر، خير البشر بعد الرسول صلى الله عليه وسلم.
...এবং তাদের মধ্যে অধিক কুফরি লিপ্ত। এখান থেকেই শিয়া বিরোধীরা বলেছে: শিয়া মতবাদ ও রাফজের মূল ইহুদি ধর্ম হতে গৃহীত!!

আমি বলছি: শিয়া বিরোধীদের বক্তব্যের অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তা অন্ধ গোঁড়ামি থেকে উদ্ভূত। কেননা শিয়া মতবাদ ও রাফজের মূল উৎস মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত, যেখানে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:

"নিশ্চয়ই তোমাদের অভিভাবক হচ্ছেন আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং যারা ঈমান এনেছে …" এবং মহান রাসূল (তাঁর ও তাঁর বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) গাদীরের ময়দানে বলেছিলেন: "আমি যার মাওলা, এই আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ, আপনি তাকে ভালোবাসুন যে তাকে ভালোবাসে …"। আর আবদুল্লাহ ইবনে সাবার ব্যাপারে বলা যায় যে, তার অস্তিত্ব যদি ধরেও নেওয়া হয়, তবে এই বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে সে কুফরি করেছিল এবং আলী (রা.)-এর ক্ষেত্রে খোদায়িত্বের দাবি করেছিল; সে তার ইমামত বাধ্যতামূলক হওয়ার প্রবক্তা ছিল না। অধিকন্তু, আবদুল্লাহ ইবনে সাবার উপকথা এবং তার বিশাল উপদ্রবের কাহিনীগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন, যা চরম মিথ্যাবাদী ও জাল হাদিস রচয়িতা সাইফ ইবনে উমর কর্তৃক উদ্ভাবিত। এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও প্রমাণ উপস্থাপনের অবকাশ এখানে নেই। মহান আল্লামা ও অনুসন্ধানী গবেষক সাইয়্যেদ মুর্তজা আল-আসকারী এই কাল্পনিক কাহিনীগুলো এবং সাইফ ও তার জাল বর্ণনাসমূহ সম্পর্কে যে গভীর ও সূক্ষ্ম গবেষণা উপস্থাপন করেছেন, তা আমাদের জন্য যথেষ্ট। যা (আবদুল্লাহ ইবনে সাবা) নামে দুই বিশাল খণ্ডে এবং তাঁর অন্য গ্রন্থ (একশত পঞ্চাশজন কাল্পনিক সাহাবী)-তে মুদ্রিত হয়েছে (১১/২০৫: ২০৭)। অনুবাদ সমাপ্ত।

আমরা এখানে লক্ষ্য করি যে, খুয়ী এই অনুবাদটি শুধুমাত্র শিয়া সূত্রসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং বর্ণনাগুলো সনদসহ উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর কোনোটিতেই সাইফ ইবনে উমর নেই; তা সত্ত্বেও তিনি বলছেন: আবদুল্লাহ ইবনে সাবার উপকথা! এবং তিনি মুর্তজা আল-আসকারী ও তাঁর গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করছেন! এটি লেখার সময় খুয়ীর হিতাহিত জ্ঞান কোথায় লোপ পেয়েছিল?

অতঃপর তিনি শিয়া মতবাদের মূল উৎস সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং এর সাথে 'রাফজ'কেও যুক্ত করেছেন—যার অর্থ হলো রাসূল (সা.)-এর পর মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব আবু বকর ও উমর (রা.)-এর প্রতি বিদ্রূপ ও নিন্দা জ্ঞাপন করা।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وفى الأمة الإسلامية كلها التي بايعت كلا منهما. والخوئى مشهور بالاعتدال النسبى، فماذا ننتظر من غلاة الرافضة وزنادقتهم؟! (1)

أما من عرف بالاعتدال وعدم الغلو والتطرف من الشيعة فقد وجدنا منهم من يكتب عن عبد الله بن سبأ ويثبت وجوده، ويرد على مرتضى العسكري ومن أيده، ففي كتاب كشف الأسرار وتبرئة الأئمة الأطهار لعالم شيعي من علماء النجف وهو السيد حسين الموسوي نجد سبعة نصوص تؤيد وجود عبد الله بن سبأ، ثم يقول المؤلف بعد ذكر هذه النصوص ما يأتي:

فهذه سبعة نصوص من مصادر معتبرة ومتنوعة، بعضها في الرجال وبعضها في الفقه والفرق، وتركنا النقل عن مصادر كثيرة لئلا نطيل، كلها تثبت وجود شخصية اسمها عبد الله بن سبأ، فلا يمكننا بعد نفي وجودها خصوصاً وأن أمير المؤمنين رضي الله عنه قد أنزل بابن سبأ عقاباً على قوله فيه، بأنه إله، وهذا يعنى أن أمير المؤمنين رضي الله عنه قد التقى عبد الله بن سبأ، وكفى بأمير المؤمنين بحجة، فلا يمكن بعد ذلك إنكار وجوده.

نستفيد من النصوص المتقدمة ما يأتي: -

ـ إثبات وجود شخصية ابن سبأ، ووجود فرقة تناصره وتنادى بقوله، وهذه الفرقة تعرف بالسبئية.

ـ أن ابن سبأ هذا كان يهودياً فأظهر الإسلام، وهو وإن أظهر الإسلام إلا أن الحقيقة أنه بقى على يهوديته وأخذ يبث سمومه من خلال ذلك.

ـ أنه هو الذي أظهر الطعن في أبى بكر وعمر وعثمان والصحابة، وكان أول من قال بذلك، وهو أول من قال بإمامة أمير المؤمنين رضي الله عنه، وهو

--------------------------------------------

(1) استدلال الخوئى هنا على أصل التشيع والرفض يأتي أثناء ذكر الأدلة ومناقشتها في هذا الجزء الأول.
এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যারা তাদের উভয়ের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছিল। আর আল-খুই আপেক্ষিক মধ্যপন্থার জন্য পরিচিত, তাহলে রাফেজিদের চরমপন্থী এবং তাদের জিন্দিকদের (ধর্মদ্রোহীদের) কাছ থেকে আমরা আর কী আশা করতে পারি?! (১)

পক্ষান্তরে শিয়াদের মধ্যে যারা মধ্যপন্থা এবং চরমপন্থা ও উগ্রপন্থা পরিহারের জন্য পরিচিত, আমরা তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের পেয়েছি যারা আবদুল্লাহ ইবনে সাবা সম্পর্কে লিখেছেন এবং তার অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন। তারা মর্তুজা আল-আসকারি এবং যারা তাকে সমর্থন করেছেন তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নাজাফের অন্যতম শিয়া আলেম সাইয়্যেদ হুসাইন আল-মুসাওয়ীর 'কাশফ আল-আসরার ওয়া তিবরিআত আল-আইম্মাহ আল-আতাহার' গ্রন্থে আমরা আবদুল্লাহ ইবনে সাবার অস্তিত্বের সমর্থনে সাতটি উদ্ধৃতি পাই। অতঃপর লেখক এই উদ্ধৃতিগুলো উল্লেখ করার পর নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেন:

এগুলো নির্ভরযোগ্য ও বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে সংগৃহীত সাতটি উদ্ধৃতি, যার কিছু রিজাল (জীবনীশাস্ত্র), কিছু ফিকহ (ইসলামী আইনশাস্ত্র) এবং কিছু ফিরকাহ (উপদল) বিষয়ক গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা আরও অনেক উৎস থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া বাদ দিয়েছি। এ সবই আবদুল্লাহ ইবনে সাবা নামক এক ব্যক্তির অস্তিত্ব প্রমাণ করে। তাই এরপর তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, বিশেষ করে যখন আমিরুল মুমিনীন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইবনে সাবাকে তার সম্পর্কে এই দাবির কারণে শাস্তি দিয়েছিলেন যে, তিনি (আলী) উপাস্য। এর অর্থ হলো আমিরুল মুমিনীন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবদুল্লাহ ইবনে সাবার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং আমিরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই প্রমাণই যথেষ্ট। সুতরাং এরপর তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা অসম্ভব।

উপরোক্ত উদ্ধৃতিসমূহ থেকে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লাভ করি: -

— ইবনে সাবার অস্তিত্বের প্রমাণ এবং তাকে সমর্থনকারী ও তার মতবাদের প্রচারকারী একটি দলের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া, আর এই দলটি 'সাবায়িয়া' নামে পরিচিত।

— এই ইবনে সাবা একজন ইহুদি ছিল এবং সে ইসলাম গ্রহণের ভান করেছিল। যদিও সে ইসলাম প্রকাশ করেছিল, কিন্তু বাস্তবতা হলো সে তার ইহুদি ধর্মেই অবিচল ছিল এবং এর মাধ্যমেই সে তার বিষ ছড়াতে শুরু করেছিল।

— সে-ই প্রথম আবু বকর, উমর, উসমান ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতি নিন্দা প্রকাশ করেছিল এবং সে-ই প্রথম এ কথা বলেছিল। এছাড়া সে-ই আমিরুল মুমিনীন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামতের প্রবক্তা এবং সে...

--------------------------------------------

(১) এখানে শিয়া মতবাদ ও রাফজ-এর মূল ভিত্তির ওপর আল-খুয়ীর যুক্তিপ্রদর্শন এই প্রথম খণ্ডে দলিলসমূহ উল্লেখ ও আলোচনার সময় এসেছে।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الذي قال بأنه رضي الله عنه وصى النبي محمد صلى الله عليه وآله، وأنه نقل هذا القول عن اليهودية؟ وأنه ما قال هذا إلا محبة لأهل البيت ودعوة لولايتهم، والتبرؤ من أعدائهم ـ وهم الصحابة ومن والاهم بزعمه.

إذن شخصية عبد الله بن سبأ حقيقة لا يمكن تجاهلها أو إنكارها، ولهذا ورد التنصيص عليها وعلى وجودها في كتبنا ومصادرنا المعتبرة، وللاستزادة في معرفة هذه الشخصية، انظر المصادر التالية:

" الغارات للثقفى، " رجال الطوسي "، " الرجال " للحلي، " قاموس الرجال " للتستري، " دائرة المعارف " المسماة بـ " مقتبس الأثر " للأعلمى الحائري، " الكنى والألقاب " لعباس القمي، " حل الإشكال " لأحمد بن طاووس المتوفى سنة (673 هـ) ، " الرجال " لابن داود، " التحرير " للطاوسي، " مجمع الرجال " للقهبانى، " نقد الرجال " للتفرشى، " جامع الرواة " للمقدسى الأردبيلى، " مناقب آل أبى طالب " لابن شهر أشوب، " مرآة الأنوار " لمحمد بن طاهر العاملي.

فهذه على سبيل المثال لا الحصر، أكثر من عشرين مصدراً من مصادرنا تنص كلها على وجود ابن سبأ، فالعجب كل العجب من فقهائنا أمثال المرتضى العسكري، والسيد محمد جواد مغنية، وغيرهما … في نفى وجود هذه … الشخصية، ولا شك أن قولهم ليس فيه شيء من الصحة.

انتهى كلام السبد حسين الموسوي، العالم الشيعي النجفي، ومصادره كلها شيعية كما ذكر
যিনি বলেছিলেন যে, তিনি (আলী) রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের স্থলাভিষিক্ত বা ওয়াসি ছিলেন, এবং তিনি এই কথাটি ইহুদি ধর্ম থেকে গ্রহণ করেছিলেন? আর তিনি এটি কেবলমাত্র আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা, তাদের বেলায়েতের দাওয়াত এবং তাদের শত্রুদের থেকে সম্পর্ক ছিন্নের উদ্দেশ্যেই বলেছিলেন—যাদেরকে তিনি তার দাবি অনুযায়ী সাহাবী এবং তাদের অনুসারী বলে অভিহিত করেছেন।

সুতরাং আবদুল্লাহ ইবনে সাবার ব্যক্তিত্ব এমন এক বাস্তবতা যা উপেক্ষা করা বা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। এই কারণেই আমাদের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও উৎসসমূহে তার সম্পর্কে এবং তার অস্তিত্বের বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। এই ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নিম্নোক্ত উৎসসমূহ দেখুন:

আস-সাকাফীর "আল-গারাত", "রিজালুত তুসী", আল-হিল্লীর "আর-রিজাল", আত-তুস্তাশীর "কামুসুর রিজাল", আল-আলামী আল-হায়েবীর "মুকতাবাসুল আসার" নামক "দাইরাতুল মাআরিফ" (বিশ্বকোষ), আব্বাস আল-কুম্মীর "আল-কুনা ওয়াল আলকাব", আহমাদ বিন তাউস (মৃত্যু ৬৭৩ হিজরি) রচিত "হাল্লুল ইশকাল", ইবনে দাউদের "আর-রিজাল", আত-তাউসীর "আত-তাহরীর", আল-কাহবানীর "মাজমাউর রিজাল", আত-তাফরিশীর "নাকদুর রিজাল", আল-মাকদিসী আল-আরদাবিলীর "জামেউর রুওয়াত", ইবনে শাহর আশুবের "মানাকিব আলে আবি তালিব" এবং মুহাম্মদ বিন তাহের আল-আমিলীর "মিরআতুল আনোয়ার"।

এগুলো নিছক উদাহরণস্বরূপ, সীমাবদ্ধ নয়; আমাদের এমন বিশটিরও বেশি উৎস রয়েছে যেগুলোর সবগুলোই ইবনে সাবার অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করে। তাই আমাদের ফকীহদের মধ্যে যারা এই ব্যক্তিত্বের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন, যেমন আল-মুরতাজা আল-আসকারী, সাইয়্যেদ মুহাম্মদ জাওয়াদ মুগনিয়া এবং অন্যান্যরা … তাদের বিষয়ে অত্যন্ত বিস্ময় জাগে। নিঃসন্দেহে এই ব্যক্তিত্বের … অস্তিত্ব অস্বীকার করার বিষয়ে তাদের বক্তব্যের কোনো সত্যতা নেই।

নাজাফের শিয়া আলেম সাইয়্যেদ হুসাইন আল-মুসাবীর বক্তব্য এখানে শেষ হলো, এবং তার উল্লিখিত সকল উৎসই শিয়া মাযহাবের।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الجزء الأول في العقائد:

‌‌مقدمة

بعد أن انتهينا من التمهيد للكتاب كله بأجزائه الأربعة ننتقل إلى مقدمة هذا الجزء الأول، فأقول مستعينا بالله سبحانه وتعالى:

لا شك أن الإمامة قد حظيت بكثير من الدراسة والبحث، ولا غرو فأعظم خلاف وقع بين المسلمين إنما كان بسببها.

والشيعة الإمامية الجعفرية الاثنا عشرية أكبر الفرق الإسلامية المعاصرة وإليها اتجهت دعوة التقريب، لذا رأيت أن أبين عقيدة الإمامة عندهم كما جاءت في كتبهم هم أنفسهم، دون اعتماد على شيء مما كتب عنهم، فبعض من كتبوا عنهم خلطوا بينهم وبين فرق شيعية أخرى.

والإسلام - عقيدة وشريعة - إنما يستمد أصلاً من الوحي الذي أنزله الله عز وجل في كتابه المجيد، وما بينه على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم في السنة المطهرة.

وصحة عقيدة الجعفرية أو بطلانها لا يثبت إذن إلا بالكتاب والسنة. لهذا رأيت أن أحدد أهم أدلتهم التي تستند إلى القرآن الكريم، وأبين وجهة نظرهم، وأناقشهم فيما ذهبوا إليه.

وإذا كان من اليسير أن نحدد أدلتهم التي تستند إلى القرآن الكريم، فمن العسير تعيين أدلتهم التي تستند إلى السنة النبوية الشريفة، لأن السنة مجال واسع رحب، ودور الكذّابين والوضاعين معروف. والجعفرية معنيون كل عناية بالحديث عن الإمامة، ومحاولة إثبات صحة مذهبهم بالأدلة النقلية والعقلية، ولهم في القديم والحديث مئات المؤلفات، بل عشرات المئات، فقلما نجد عالماً من علمائهم لم يدل بدلوه في هذا الميدان. وفى مؤلفاتهم نرى الميل إلى الإكثار الزائد من النقل والجدل، مثال هذا أنهم يستدلون على صحة الإمامة بأحد الأحاديث، فجاء كاتب من كتابهم وألف كتاباً في ستة عشر مجلداً ليثبت به صحة هذا الحديث وشهرته، ومن قبله يقرون كتب غيره كتاب الألفين - أي من الأدلة - في إمامة أمير المؤمنين؟!
প্রথম খণ্ড: আকাইদ প্রসঙ্গে:

ভূমিকা

চারটি খণ্ড সম্বলিত সম্পূর্ণ গ্রন্থটির প্রারম্ভিক আলোচনা শেষ করে এখন আমরা এই প্রথম খণ্ডের ভূমিকার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে আমি বলছি:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ‘ইমামত’ বিষয়টি ব্যাপক গবেষণা ও পর্যালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ মুসলিমদের মধ্যে সংঘটিত সর্ববৃহৎ মতভেদ মূলত একে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বের শিয়াদের মধ্যে ‘ইমামিয়া জাফরিয়া ইসনা আশারিয়া’ সর্ববৃহৎ উপদল এবং তাদের সাথে ‘তাক্বরীব’ বা নৈকট্য ও ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়েছে। একারণে আমি অন্য কারো লেখনীর ওপর নির্ভর না করে তাদের নিজস্ব নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে বর্ণিত তাদের ইমামত সংক্রান্ত আকীদা ব্যাখ্যা করা সমীচীন মনে করেছি। কারণ তাদের সম্পর্কে যারা লিখেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই শিয়াদের এই উপদলটির সাথে অন্য উপদলগুলোকে গুলিয়ে ফেলেছেন।

ইসলামের আকীদা ও শরীয়তের মূল উৎস হলো মহান আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁর সুমহান কিতাবে অবতীর্ণ ওহী এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমে প্রদত্ত ব্যাখ্যা।

সুতরাং জাফরিয়াদের আকীদার বিশুদ্ধতা কিংবা অসারতা কেবল কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমেই যাচাই করা সম্ভব। একারণে আমি কুরআনুল কারীমের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত তাদের প্রধান দলিলসমূহ চিহ্নিত করার, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরার এবং তাদের মতবাদসমূহ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কুরআনুল কারীম থেকে তাদের দলিলসমূহ খুঁজে বের করা সহজসাধ্য হলেও সুন্নাহর উৎস থেকে তাদের দলিলগুলো চিহ্নিত করা বেশ কঠিন। কারণ সুন্নাহর ক্ষেত্র অত্যন্ত সুবিস্তৃত এবং এক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী ও হাদীস জালিয়াতদের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। জাফরিয়ারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ইমামতের বিষয়টিকে আলোচনা করে থাকে এবং যৌক্তিক ও উদ্ধৃতিমূলক প্রমাণের মাধ্যমে তাদের মাযহাবের সত্যতা প্রমাণের প্রয়াস চালায়। প্রাচীন ও আধুনিক যুগে এ বিষয়ে তাদের শত শত—বরং হাজার হাজার—রচনা রয়েছে। তাদের এমন কোনো আলেম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যিনি এই বিষয়ে তার লেখনী পরিচালনা করেননি। তাদের গ্রন্থসমূহে উদ্ধৃতি ও তর্কের এক অতিশয় আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, তারা ইমামতের সপক্ষে কোনো একটি হাদীসকে দলিল হিসেবে পেশ করে, আর তাদের কোনো একজন লেখক কেবল সেই হাদীসটির বিশুদ্ধতা ও প্রসিদ্ধি প্রমাণের জন্য ষোল খণ্ডে একটি বিশাল কিতাব রচনা করেছেন! এর আগে তারা অন্য একজনের ‘কিতাবুল আলফাইন’ (দুই হাজার দলিল)—অর্থাৎ আমীরুল মুমিনীনের ইমামতের সপক্ষে দুই হাজার প্রমাণের কিতাবকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২১)
وأمام هذا الفيض الزاخر رأيت أن اعتمد أساساً على ثمانية كتب من كتب السنة هي: الموطأ ومسند الإمام أحمد، والصحيحان، وكتب السنن الأربعة، ثم جمعت كل ما جاء فيها متصلاً بالإمامة سواء أأيد رأيهم أم عارضه، وناقشت ما جمعت سنداً ومتناً لنتبين دلالة السنة.

أما كتب السنة عند الجعفرية فلم أعتمد عليها لأننى عندما اطلعت عليها رأيت أنها ما وضعت إلا من أجل عقيدتهم وما يتصل بها. على أن كتب الجعفرية التي ينشرونها في الأوساط المختلفة وتتعرض لعقيدتهم في الإمامة، تذكر أن هذه العقيدة تؤيدها كتب السنة عند جمهور المسلمين، ويذكرون أخباراً كثيرة ينسبونها لهذه الكتب ويحتجون بها. وجمعنا لما جاء في الكتب الثمانية المذكورة آنفاً ومناقشة ما جمع يغنى عن مناقشة ما جاء في كل كتاب من مئات الكتب الجعفرية.

غير أننى لم أكتف بهذا، بل رأيت تخصيص فصل لأدلتهم التي يذكرونها، مع مناقشتها، وهى تعتمد على تحريف القرآن الكريم نصاً ومعنى، وعلى الأحاديث الموضوعة المفتراة.

وهذه الأدلة نرى معظمها في كتابين من كتبهم.

أولهما: كتاب منهاج الكرامة لابن المطهر الحلى، ورد عليه شيخ الإسلام ابن تيمية بكتابة منهاج السنة النبوية.

والكتاب الثانى هو: المراجعات لعبد الحسين شرف الدين الموسوي، ورددت عليه بكتابي: المراجعات المفتراة على شيخ الأزهر البشرى.

 

فتناولت في الفصل شيئاً من كتابى ابن المطهر وعبد الحسين، والرد عليهما، وبينت بعض ما جاء فيهما من الباطل والضلال.
এই সুবিশাল জ্ঞান-প্রবাহের সম্মুখে আমি সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্য হতে প্রধানত আটটি কিতাবের ওপর নির্ভর করা সমীচীন মনে করেছি, সেগুলো হলো: আল-মুয়াত্তা, মুসনাদে ইমাম আহমাদ, সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং সুনান চতুষ্টয়। অতঃপর আমি এসকল কিতাবে ইমামত সংশ্লিষ্ট যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংগ্রহ করেছি—চাই তা তাদের মতের স্বপক্ষে হোক বা বিপক্ষে। সুন্নাহর মর্মার্থ অনুধাবনের লক্ষ্যে সংগৃহীত বর্ণনাসমূহ আমি সনদ (সূত্র) ও মতন (মূল পাঠ) উভয় দিক থেকে পর্যালোচনা করেছি।

আর জাফরিয়াদের সুন্নাহ বিষয়ক কিতাবসমূহের ওপর আমি নির্ভর করিনি; কারণ সেগুলো পর্যালোচনার সময় আমি দেখেছি যে, সেগুলো কেবল তাদের আকিদা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি প্রমাণের উদ্দেশ্যেই সংকলিত হয়েছে। তবে জাফরিয়ারা বিভিন্ন মহলে তাদের যেসব কিতাব প্রচার করে এবং যেগুলোতে তাদের ইমামত বিষয়ক আকিদা আলোচিত হয়, সেখানে তারা উল্লেখ করে যে—সাধারণ মুসলিমদের নিকট স্বীকৃত সুন্নাহর কিতাবসমূহ তাদের এই আকিদাকে সমর্থন করে। তারা এমন অনেক বর্ণনা উল্লেখ করে যেগুলো তারা এই কিতাবগুলোর দিকে নিসবত (আরোপ) করে এবং সেগুলোকে দলিল হিসেবে পেশ করে। পূর্বে উল্লেখিত আটটি কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তা সংকলন এবং পর্যালোচনাই জাফরিয়াদের শত শত কিতাবের প্রতিটি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন ঘুচিয়ে দেবে।

তবে আমি কেবল এতেই ক্ষান্ত হইনি, বরং তাদের উপস্থাপিত দলীলসমূহের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করা এবং সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা সমীচীন মনে করেছি। তাদের সেই দলীলসমূহ পবিত্র কুরআনের শব্দ ও অর্থের বিকৃতি এবং জাল ও মনগড়া হাদিসের ওপর নির্ভরশীল।

আর এই দলীলগুলোর অধিকাংশ আমরা তাদের দুটি কিতাবে দেখতে পাই।

প্রথমটি হলো: ইবনুল মুতাহহার আল-হিল্লীর ‘মিনহাজুল কারামাহ’; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যার প্রত্যুত্তরে ‘মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ’ কিতাবটি রচনা করেছেন।

আর দ্বিতীয় কিতাবটি হলো: আবদুল হুসাইন শরফুদ্দিন আল-মুসাভীর ‘আল-মুরাজাআত’। আমি এর জবাবে আমার কিতাব— ‘আল-মুরাজাআত আল-মুফতারা আলা শাইখিল আজহার আল-বিশরী’ (শাইখুল আজহার আল-বিশরীর নামে চালিয়ে দেওয়া জাল মুরাজাআত) রচনা করেছি।

 

সুতরাং আমি এই অধ্যায়ে ইবনুল মুতাহহার ও আবদুল হুসাইনের কিতাবদ্বয়ের কিছু অংশ এবং সেগুলোর খণ্ডন নিয়ে আলোচনা করেছি; একইসাথে আমি উক্ত কিতাবদ্বয়ে বিদ্যমান কিছু বাতিল ও ভ্রান্ত বিষয় স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২২)
وبعد الحديث عن عقيدة الإمامة، والمناقشة ختمت الجزء بفصل عن العقائد التابعة لعقيدة الإمامة وأهمها: عصمة الأئمة، والبداء، والرجعة، والتقية. فهذا الجزء يقع في خمسة فصول: -

الفصل الأول … : - الإمامة عند الجمهور والفرق المختلفة.

الفصل الثانى … : - أدلة الإمامة من القرآن العظيم.

الفصل الثالث … : - الإمامة في ضوء السنة.

الفصل الرابع … : - الاستدلال بالتحريف والوضع.

الفصل الخامس: - عقائد تابعة.

نسأل الله تعالى أن يهدينا جميعاً سواء السبيل، إنه نعم المولي ونعم … النصير، وهو المستعان.

" رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ"، " سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلَامٌ علَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ"
ইমামত সংক্রান্ত আকিদা এবং এর পর্যালোচনার আলোচনার পর, আমি এই খণ্ডটি ইমামত সংশ্লিষ্ট কতিপয় আকিদা আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: ইমামগণের নিষ্পাপ হওয়া (ইসমত), বাদা, রাজ’আত এবং তাকিয়া। সুতরাং এই খণ্ডটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত: -

প্রথম অধ্যায় … : - জমহুর এবং বিভিন্ন ফিরকার নিকট ইমামত।

দ্বিতীয় অধ্যায় … : - মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে ইমামতের দলীলসমূহ।

তৃতীয় অধ্যায় … : - সুন্নাহর আলোকে ইমামত।

চতুর্থ অধ্যায় … : - বিকৃতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে দলীল উপস্থাপন।

পঞ্চম অধ্যায়: - সংশ্লিষ্ট আকিদাসমূহ।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকলকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম … সাহায্যকারী, আর তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়।

"হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে দিন এবং আপনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী", "আপনার প্রতিপালক—যিনি সকল মর্যাদার অধিকারী—তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।"
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الأول

الإمامة عند الجمهور والفرق المختلفة

‌‌أولا: الإمامة والخلافة

الإمامة لغة التقدم، نقول: أمّ القوم وبهم: تقدمهم. والإمام: ما ائتم به الناس من رئيس أو غيره: هادياً كان أو ضالاً، ويطلق لفظ الإمام على الخليفة، وهو السلطان الأعظم وإمام الرعية ورئيسهم.

وأممت القوم في الصلاة إمامة، وائتم به أي اقتدى.

ويطلق لفظ الإمام كذلك على القرآن الكريم، فهو إمام المسلمين، وعلى الرسول صلى الله عليه وسلم، فهو إمام الأئمة بأئمتها، وعليهم جميعاً الائتمام بسنته التي نص عليها.

ويطلق على قيم الأمر المصلح له، وعلى قائد الجند، وقد يذكر ويراد به غير هذه المعاني (1) .

ولم يرد لفظ الإمامة في القرآن الكريم، وإنما ورد لفظ إمام وأئمة، قال تعالى: -

" قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ " (2) أي جاعلك قدوة يؤتم به، وقال سبحانه: " وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا " (3)

--------------------------------------------

(1) من بينها مثلا: أمة يؤمه إذا قصده كما جاء في الآية الكريمة الثانية من سورة المائدة

{ولا آمين البيت الحرام} انظر مادة " أمم " في لسان العرب والقاموس المحيط.

(2) البقرة: 124.

(3) الأنبياء: 73.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

জুমহুর এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইমামত

‌‌প্রথমত: ইমামত ও খিলাফত

শাব্দিক অর্থে ইমামত হলো অগ্রগমন বা সম্মুখে থাকা। আমরা বলি: ‘আম্মাল কাওমা’ (তিনি কওমের ইমামতি করেছেন) অর্থাৎ তিনি তাদের সামনে ছিলেন বা নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর ইমাম হলেন তিনি, যাঁর অনুসরণ মানুষ করে থাকে, চাই তিনি কোনো প্রধান হোন বা অন্য কেউ; তিনি সুপথগামী হোন কিংবা পথভ্রষ্ট। ইমাম শব্দটি খলিফার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যিনি হলেন মহান সুলতান এবং প্রজাসাধারণের ইমাম ও তাদের প্রধান।

আমি সালাতে কওমের ইমামতি করেছি, আর সে তাঁর অনুসরণ করেছে অর্থাৎ ইকতিদা করেছে।

অনুরূপভাবে ইমাম শব্দটি পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, কারণ কুরআন হলো মুসলিমদের ইমাম। আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও এটি প্রযুক্ত হয়, কারণ তিনি হলেন সকল ইমামদের ইমাম; আর তাঁদের সকলের কর্তব্য হলো তাঁর বর্ণিত সুন্নাহর অনুসরণ করা।

ইমাম শব্দটি কোনো বিষয়ের সংস্কারক বা তত্ত্বাবধায়ক এবং সেনাপতির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। কখনো কখনো এই অর্থগুলো ছাড়াও অন্য অর্থে ইমাম শব্দের ব্যবহার দেখা যায় (১)।

পবিত্র কুরআনে 'ইমামত' শব্দটি সরাসরি আসেনি, বরং 'ইমাম' ও 'আইম্মাহ' শব্দ দুটি এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন:-

"তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানুষের জন্য ইমাম বানাচ্ছি। তিনি বললেন, এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও? তিনি বললেন, জালিমরা আমার প্রতিশ্রুতি লাভ করবে না" (২)। অর্থাৎ তোমাকে এমন এক আদর্শ হিসেবে মনোনীত করছি যাঁর অনুসরণ করা হবে। এবং মহান আল্লাহ বলেন: "এবং আমি তাঁদেরকে ইমাম বা নেতা বানিয়েছিলাম যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত" (৩)

--------------------------------------------

(১) তার মধ্যে উদাহরণস্বরূপ: ‘আম্মাহু ইয়াউম্মুহু’ অর্থাৎ যখন কেউ কোনো কিছুর উদ্দেশ্য বা সংকল্প করে, যেমনটি সূরা আল-মায়িদাহর দ্বিতীয় আয়াতে এসেছে:

“এবং পবিত্র গৃহের (কাবার) সংকল্পকারীদের জন্য নয়”। ‘লিসানুল আরব’ এবং ‘আল-কামুস আল-মুহিত’-এ ‘আ-মা-মা’ মূলধাতু দ্রষ্টব্য।

(২) আল-বাকারা: ১২৪।

(৩) আল-আম্বিয়া: ৭৩।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال عز وجل "فَقَاتِلُواْ أَئِمَّةَ الْكُفْرِ " (1) أي قاتلوا رؤساء الكفر وقادتهم الذين صار ضعفاؤهم تبعاً لهم. وقال تعالى: "وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ " (2) ، أي من تبعهم فهو في النار يوم … القيامة.

ومن المفهوم اللغوى لكلمة إمام نستطيع أن ندرك سبب إطلاق هذا الاسم على حاكم المسلمين، كما وجدنا ترادفاً بين الإمامة والخلافة. ويفسر هذا أستاذنا الشيخ أبو زهرة رحمه الله فيقول: " سميت خلافة لأن الذي يتولاها ويكون الحاكم الأعظم للمسلمين يخلف النبي صلى الله عليه وسلم في إدارة شئون المسلمين، وتسمى الإمامة لأن الخليفة كان يسمى إماماً، ولأن طاعته واجبة، ولأن الناس يسيرون وراءه كما يصلون وراء من يؤمهم للصلاة " (3) .

وأعظم خلاف بين الأمة - كما يقول الشهر ستانى - خلاف الإمامة، إذ ما سل سيف في الإسلام على قاعدة دينية مثل ما سل على الإمامة في كل زمان (4)

وبالطبع ما كان الخلاف ليجد مكانا بين المسلمين وفيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم يحسم الخلاف، ويصلح النفوس ويهدى إلى صراط مستقيم

"فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا" (5)

--------------------------------------------

(1) التوبة 12

(2) القصص:41

(3) تاريخ المذاهب الإسلامية 1/21. والمعروف أن الخليفة الأول رضي الله عنه خلف النبي صلى الله عليه وسلم، وبعده كل خليفة يخلف من سبقه.

(4) الملل والنحل 1/24.

(5) - سورة النساء: الآية 65.
এবং মহান আল্লাহ বলেন, "অতঃপর কুফরের নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো" (১)। অর্থাৎ কুফরের প্রধান ও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যাদের অনুসারী হয়েছে তাদের দুর্বল শ্রেণি। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আমি তাদের এমন নেতা বানিয়েছিলাম যারা জাহান্নামের দিকে আহ্বান করে" (২), অর্থাৎ যারা তাদের অনুসরণ করবে তারা কিয়ামত দিবসে … জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

'ইমাম' শব্দটির ভাষাগত অর্থ থেকে আমরা মুসলিমদের শাসকের ক্ষেত্রে এই নামটি ব্যবহারের কারণ উপলব্ধি করতে পারি, যেমনটি আমরা ইমামত ও খিলাফতের মধ্যে সমার্থকতা দেখতে পাই। আমাদের শিক্ষক শায়খ আবু জাহরা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এটি ব্যাখ্যা করে বলেন: "একে খিলাফত বলা হয় কারণ যিনি এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মুসলিমদের প্রধান শাসক হন, তিনি মুসলিমদের বিষয়াদি পরিচালনার ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্থলাভিষিক্ত হন। আর একে ইমামত বলা হয় কারণ খলিফাকে ইমাম বলা হতো, কেননা তার আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং মানুষ তার অনুসরণ করে ঠিক যেমন তারা নামাজে তাদের ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে" (৩)।

উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য—যেমনটি শাহরাস্তানি বলেন—হলো ইমামত সংক্রান্ত মতপার্থক্য। কেননা ইসলামের ইতিহাসে কোনো ধর্মীয় মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তলোয়ার এতটা কোষমুক্ত হয়নি যতটা সব যুগে ইমামতের প্রশ্নে হয়েছে (৪)।

আর স্বভাবতই মুসলিমদের মাঝে কোনো মতভেদের অবকাশ ছিল না যতক্ষণ তাদের মাঝে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদ্যমান ছিলেন, যিনি বিবাদ মীমাংসা করতেন, আত্মশুদ্ধি করতেন এবং সরল পথের দিশা দিতেন।

"কিন্তু না, তোমার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নেয়, অতঃপর তোমার মীমাংসার বিষয়ে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়" (৫)

--------------------------------------------

(১) আত-তাওবাহ ১২

(২) আল-কাসাস: ৪১

(৩) তারিখুল মাজাহিব আল-ইসলামিয়্যাহ ১/২১। এটি সুবিদিত যে, প্রথম খলিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন এবং এরপর থেকে প্রত্যেক খলিফা তার পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

(৪) আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল ১/২৪।

(৫) - সূরা আন-নিসা: আয়াত ৬৫।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌ثانيا: التفكير في الإمامة وبيعة الصديق

أكان المسلمون يفكرون فيمن يخلف الرسول الكريم في إمامتهم وعلى وجه الخصوص عندما اشتد مرضه الأخير؟

وردت روايات صحيحة الإسناد تفيد وجود مثل هذا التفكير، منها ما جاء عن ابن عباس أن على بن أبى طالب خرج من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم في وجعه الذي توفى فيه، فقال الناس: يا أبا حسن، كيف أصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال: أصبح بحمد الله بارئاً، قال ابن عباس: فأخذ بيده عباس بن عبد المطلب فقال: ألا ترى أنت؟ والله إنى أعرف وجوه بنى عبد المطلب عند الموت، فاذهب بنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فلنسأله فيمن هذا الأمر؟ فإن كان فينا علمنا ذلك، وإن كان في غيرنا كلمناه فأوصى بنا، فقال على: والله لئن سألناها رسول الله صلى الله عليه وسلم فمنعناها لا يعطيناها الناس أبداً، فوالله لا أسأله أبداً (1) .

وجاء عن على - كرم الله وجهه - قال: " قيل: يا رسول الله، من يؤمر بعدك؟ قال: إن تؤمروا أبا بكر تجدوه أميناً زاهداً في الدنيا راغباً في الآخرة، وإن تؤمروا عمر تجدوه أميناً لا يخاف في الله لومة لائم، وإن تؤمروا علياً، ولا أراكم فاعلين، تجدوه هادياً مهدياً يأخذ بكم الطريق المستقيم " (2)

معنى هذا أن التفكير في الإمامة نبت على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكن الخلاف لم ينشأ إلا بعد انتقاله إلى الرفيق الأعلى حيث كان اجتماع السقيفة المشهور الذي انتهى بالبيعة للخليفة الأول، وتحدث الخليفة الثانى في إحدى خطبه عن ذلك الاجتماع فقال: " بلغنى أن قائلاً منكم يقول: والله لو مات عمر بايعت

--------------------------------------------

(1) انظر الرواية رقم 2374 بالجزء الرابع من مسند الإمام أحمد تحقيق وتخريج الشيخ أحمد شاكر. وانظر هذه الرواية بسند صحيح آخر رقم 299 ج 5 من المسند.

(2) المرجع السابق ج3 رواية رقم 859 وهى صحيحة الإسناد.
দ্বিতীয়ত: ইমামত এবং সিদ্দীকের বায়আত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেষ অসুস্থতা যখন তীব্রতর হয়েছিল, তখন কি মুসলমানরা তাঁদের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন তা নিয়ে ভাবছিলেন?

সহীহ সনদে বর্ণিত এমন কিছু বর্ণনা রয়েছে যা এই জাতীয় চিন্তার অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত রয়েছে যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই অসুস্থতার সময় তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে আসলেন যাতে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। তখন লোকেরা জিজ্ঞাসা করল: হে আবুল হাসান, আল্লাহর রাসুল (সা.) কেমন আছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর প্রশংসায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তখন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.) তাঁর হাত ধরলেন এবং বললেন: তুমি কি দেখছো না? আল্লাহর কসম, মৃত্যুর সময় আব্দুল মুত্তালিবের বংশধরদের চেহারা কেমন হয় তা আমি চিনি। চলো আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট যাই এবং জিজ্ঞাসা করি এই দায়িত্ব কার ওপর ন্যস্ত হবে? যদি তা আমাদের মধ্যে নির্ধারিত থাকে তবে আমরা তা জানতে পারব। আর যদি অন্য কারো জন্য হয় তবে আমরা তাঁর সাথে কথা বলব যেন তিনি আমাদের ব্যাপারে অসিয়ত করে যান। তখন আলী (রা.) বললেন: আল্লাহর কসম, আমরা যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এটি চাই আর তিনি আমাদের তা দিতে অস্বীকার করেন, তবে মানুষ আর কখনো তা আমাদের দিবে না। আল্লাহর কসম, আমি কখনো তাঁর কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব না (১)।

আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার পরে কাকে আমির নিযুক্ত করা হবে? তিনি বললেন: তোমরা যদি আবু বকরকে আমির নিযুক্ত করো, তবে তাঁকে আমানতদার, দুনিয়াবিমুখ এবং আখিরাতমুখী হিসেবে পাবে। আর যদি ওমরকে আমির নিযুক্ত করো, তবে তাঁকে শক্তিশালী ও আমানতদার পাবে, যে আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করে না। আর যদি আলীকে আমির নিযুক্ত করো—যদিও আমি মনে করি না যে তোমরা তা করবে—তবে তাঁকে হেদায়েতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শক হিসেবে পাবে, যে তোমাদের সরল ও সঠিক পথে পরিচালিত করবে" (২)।

এর অর্থ হলো ইমামত বা নেতৃত্ব সংক্রান্ত চিন্তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই শুরু হয়েছিল, তবে মতভেদ কেবল তাঁর মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার পরেই সৃষ্টি হয়েছিল। তখনই সাকীফার সেই বিখ্যাত সভা অনুষ্ঠিত হয় যা প্রথম খলিফার বায়আতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় খলিফা তাঁর এক খুতবায় সেই সভার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমাদের মধ্যে কেউ একজন বলছে: আল্লাহর কসম, ওমরের মৃত্যু হলে আমি বায়আত গ্রহণ করব...

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমদের মুসনাদ, চতুর্থ খণ্ড, বর্ণনা নম্বর ২৩৭৪ দেখুন (তাহকীক ও তাখরীজ: শেখ আহমদ শাকির)। এছাড়া মুসনাদ-এর পঞ্চম খণ্ডের ২৯৯ নম্বর সহীহ বর্ণনাটি দেখুন।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, তৃতীয় খণ্ড, বর্ণনা নম্বর ৮৫৯; এর সনদ সহীহ।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فلانا، فلا يغترن امرؤ أن يقول: إنما كانت بيعة أبى بكر فلتة، وتمت، ألا وإنها قد كانت كذلك ولكن الله وقى شرها، وليس منكم من تقطع الأعناق إليه مثل أبى بكر. من بايع رجلاً عن غير مشورة من المسلمين فلا يبايع هو ولا الذي بايعه تغرة أن يقتلا، وإنه قد كان من خبرنا حين توفى الله نبيه صلى الله عليه وسلم إلا أن الأنصار خالفونا واجتمعوا بأسرهم في سقيفة بنى ساعدة، وخالف عنا على والزبير ومن معهما، واجتمع المهاجرون إلى أبى بكر، فقلت لأبى بكر: يا أبا بكر انطلق بنا إلى إخواننا هؤلاء من الأنصار، فانطلقنا نريدهم، فلما دنونا منهم لقينا منهم رجلان صالحان، فذكرا ما تمالى عليه القوم، فقالا: لا عليكم أن تقربوهم، اقضوا أمركم، فقلت: ماله؟ قالوا: يوعك، فلما جلسنا قليلاً تشهد خطيبهم، فأثنى على الله بما هو أهله، ثم قال: أما بعد فنحن أنصار الله وكتيبة الإسلام، وأنتم معشر المهاجرين رهط، وقد دفت دافة من قومكم، فإذا هم يريدون أن يختزلونا من أصلنا وأن يحضنونا من الأمر، فلما سكت أردت أن أتكلم، وكنت زورت مقالة أعجبتنى أريد أن أقدمها بين يدى أبى بكر، وكنت أدارى منه بعض الحد، فلما أردت أن أتكلم قال أبو بكر: على رسلك، فكرهت أن أغضبه، فتكلم أبوبكر فكان هو أعلم منى وأوقر.

والله ما ترك من كلمة أعجبتنى من تزويرى إلا قال في بديهته مثلها أو أفضل منها حتى سكت، فقال: ما ذكرتم فيكم من خير فأنتم له أهل، ولن يعرف هذا الأمر إلا لهذا الحى من قريش، هم أوسط العرب نسباً وداراً، وقد رضيت لكم أحد هذين الرجلين، فبايعوا أيهما شئتم، فأخذ بيدى وبيد أبى عبيدة بن الجراح وهو جالس بيننا، فلم أكره مما قال غيرها، كان والله أن أقدم فتضرب عنقى، ولا يقربنى ذلك من إثم، أحب إلى من أن أتأمر على قوم فيهم أبو بكر، اللهم إلا أن تسول إلى نفسى عند الموت شيئاً لا أجده الآن. فقال قائل من الأنصار: أنا جذيلها المحكك وعذيقها المرجب، منا أمير ومنكم أمير يا معشر قريش. فكثر اللغط، وارتفعت الأصوات حتى فرقت من الاختلاف، فقلت: أبسط يدك يا أبا بكر، فبسط يده فبايعته وبايعه المهاجرون، ثم بايعته
অমুক ব্যক্তি, সে যেন এই বলে প্রবঞ্চিত না হয় যে: ‘আবু বকরের বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) ছিল একটি আকস্মিক ঘটনা এবং তা সম্পন্ন হয়ে গেছে।’ সাবধান! বিষয়টি অবশ্যই তেমনই ছিল, কিন্তু আল্লাহ এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। আর তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যার প্রতি আবু বকরের ন্যায় গ্রীবাসমূহ (শ্রদ্ধা ও নেতৃত্বের প্রত্যাশায়) প্রসারিত হতে পারে। যে ব্যক্তি মুসলমানদের পরামর্শ ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তির নিকট আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করবে, তবে সেই ব্যক্তি এবং যার নিকট আনুগত্য প্রকাশ করা হয়েছে তাদের কাউকেই অনুসরণ করা যাবে না; অন্যথায় তারা উভয়েই নিজেদের প্রাণনাশের ঝুঁকিতে ফেলবে। আর আমাদের সংবাদ এই যে, যখন আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাত ঘটালেন, তখন আনসারগণ আমাদের বিরোধিতা করলেন এবং তারা সকলে সাকীফাহ বনী সাঈদায় সমবেত হলেন। এদিকে আলী, যুবাইর এবং তাদের সাথে যারা ছিলেন তারা আমাদের থেকে পৃথক থাকলেন, আর মুহাজিরগণ আবু বকরের নিকট সমবেত হলেন। তখন আমি আবু বকরকে বললাম: ‘হে আবু বকর, আমাদের এই আনসার ভাইদের কাছে নিয়ে চলুন।’ অতঃপর আমরা তাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। যখন আমরা তাদের নিকটবর্তী হলাম, তখন তাদের মধ্যকার দুই নেককার ব্যক্তির সাথে আমাদের দেখা হলো। তারা আমাদের কাছে ব্যক্ত করলেন যে, কওম কোন বিষয়ে একমত হয়েছে। তারা বললেন: ‘তাদের নিকট যেতে আপনাদের কোনো বাধা নেই, আপনারা আপনাদের কাজ সম্পন্ন করুন।’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ‘তাঁর (সা’দ ইবনে উবাদাহর) কী হয়েছে?’ তারা বললেন: ‘তিনি অসুস্থ।’ অতঃপর যখন আমরা কিছুক্ষণ বসলাম, তখন তাদের বক্তা কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন এবং আল্লাহর উপযুক্ত প্রশংসা করলেন। এরপর তিনি বললেন: ‘অতঃপর, আমরা হলাম আল্লাহর আনসার (সাহায্যকারী) এবং ইসলামের সেনাদল। আর হে মুহাজির সম্প্রদায়! তোমরা হলে একটি ক্ষুদ্র দল। তোমাদের কওমের একটি দল আগমণ করেছে, যারা চাচ্ছে আমাদের মূল ভিত্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং এই নেতৃত্ব থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে।’ যখন তিনি নীরব হলেন, আমি কথা বলতে চাইলাম। আমি মনে মনে একটি বক্তব্য সাজিয়ে রেখেছিলাম যা আমার বেশ পছন্দ হয়েছিল এবং আমি তা আবু বকরের বক্তব্যের আগে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলাম। আমি তাঁর কিঞ্চিৎ কঠোরতা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু যখন আমি কথা বলতে উদ্যত হলাম, আবু বকর বললেন: ‘স্থির হও।’ আমি তাঁকে অসন্তুষ্ট করা অপছন্দ করলাম। অতঃপর আবু বকর কথা বললেন; তিনি আমার চেয়ে অধিক প্রজ্ঞাবান ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিলেন।

আল্লাহর কসম! আমি মনে মনে যে চমৎকার বাক্যগুলো সাজিয়ে রেখেছিলাম, তার প্রতিটিই তিনি উপস্থিত বুদ্ধিতে ব্যক্ত করলেন অথবা তার চেয়েও উত্তম কিছু বললেন, যে পর্যন্ত না তিনি নীরব হলেন। তিনি বললেন: ‘তোমরা নিজেদের সম্পর্কে যে কল্যাণের কথা উল্লেখ করেছ, তোমরা অবশ্যই তার যোগ্য। তবে এই নেতৃত্ব কুরাইশদের এই বংশ ব্যতীত অন্য কারো জন্য স্বীকৃত হবে না। বংশমর্যাদা ও বাসস্থানের দিক থেকে তারা আরবের শ্রেষ্ঠ। আমি তোমাদের জন্য এই দুই ব্যক্তির একজনকে পছন্দ করেছি, তোমরা তাদের যার ইচ্ছা আনুগত্যের শপথ প্রদান করো।’ অতঃপর তিনি আমার এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর হাত ধরলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি আমাদের মাঝখানে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে কেবল এই বিষয়টি (আমার মনোনয়ন) ব্যতিরেকে আমি অন্য কিছু অপছন্দ করিনি। আল্লাহর কসম! আমাকে সামনে এনে আমার শিরচ্ছেদ করা হবে অথচ তা আমাকে কোনো পাপের নিকটবর্তী করবে না—এটি আমার কাছে এমন এক জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে অধিকতর প্রিয় ছিল যার মধ্যে আবু বকর বিদ্যমান রয়েছেন। তবে আল্লাহ না করুন, মৃত্যুকালে আমার মন যদি এমন কিছু প্ররোচনা দেয় যা আমি এখন অনুভব করছি না। তখন আনসারদের মধ্য হতে একজন বলে উঠলেন: ‘আমি এই সমস্যার অভিজ্ঞ সমাধানকারী এবং আমি এর সুদৃঢ় খুঁটি। হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আমাদের মধ্য হতে একজন আমির থাকবে এবং তোমাদের মধ্য হতে একজন আমির থাকবে।’ এতে হট্টগোল বেড়ে গেল এবং উচ্চস্বর হতে লাগল, এমনকি আমি অনৈক্যের আশঙ্কা করলাম। তখন আমি বললাম: ‘হে আবু বকর! আপনার হাত প্রসারিত করুন।’ তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং আমি তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করলাম। অতঃপর মুহাজিরগণ তাঁর নিকট বাইয়াত হলেন, এরপর...
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الأنصار، ونزونا على سعد بن عبادة، قال عمر: وإنّا والله ما وجدنا فيما حضرنا من أمر أقوى من مبايعة أبى بكر، خشينا إن فارقنا القوم ولم تكن بيعة أن يبايعوا … رجلاً منهم بعدنا، فإما بايعناهم على ما لا نرضى، وإما نخالفهم فيكون فساد، فمن بايع رجلاً على غير مشورة من المسلمين فلا يتابع هو ولا الذي بايعه تغرة أن يقتلا " (1) .

‌‌ثالثاً: الإمامة عند الجمهور

مما ذكره الفاروق نلاحظ ما يأتي: -

أولاً: لا خلاف حول وجوب إقامة خليفة، وإنما كان الخلاف بشأن من يخلف الرسول صلى الله عليه وسلم. وإلى هذا انتهى جمهور السنة، فلا يستقيم أمر الأمة بغير حاكم.

 

ثانياً: أن الخلافة في قريش: " لن يعرف هذا الأمر إلا لهذا الحى من قريش " ولم يأخذ الأنصار بهذا أول الأمر، ولكن ما أسرع أن بايعوا قريشاً ما عدا سعد عبادة فلم يبايع، ويؤيد ما ذكره الصديق أحاديث صحيحة: فالبخارى - في كتاب الأحكام من صحيحه -جعل باباً بعنوان " الأمراء من قريش "، ومما آخرجه هنا

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري - كتاب المحاربين - باب رجم الحبلى، وراجع المسند تحقيق شاكر ج1 رواية رقم 391 قوله: تغرة أن يقتلا: أي خوف وقوعهما في القتل. يحضوننا: يخرجوننا: زورت: هيأت وحسنت والتزوير: إصلاح الشيء، وكلام مزور: أي محسن. جذيلها المحكك: الجذيل تصغير جذل، وهو العود الذي ينصب للإبل الجربى لتحتك به، وهو تصغير تعظيم، أي أنا ممن يستشفى برأيه كما تستشفى الإبل الجربى بالاحتكاك بهذا العود، وقيل: أراد أنه شديد البأس صلب المكسر. المرجب من الترجيب، وهو أن تعمد النخلة الكريمة ببناء إذا خيف عليها - لطولها وكثرة حملها - أن تقع. (انظر المسند ففيه المزيد) ..
আনসারগণ, এবং আমরা সা'দ ইবন উবাদাহর দিকে অগ্রসর হলাম। উমর বলেন: আল্লাহর শপথ, আমাদের উপস্থিতিতে সংঘটিত বিষয়াবলির মধ্যে আবু বকরের বাইয়াতের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কোনো বিষয় আমরা পাইনি। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম যে, যদি আমরা এই জনসমষ্টিকে ছেড়ে চলে যাই আর কোনো বাইয়াত সম্পন্ন না হয়, তবে আমাদের পরে তারা তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে বাইয়াত দিয়ে ফেলতে পারে। এমতাবস্থায় হয় আমরা তাদের এমন বিষয়ের ওপর বাইয়াত দেব যা আমাদের কাছে পছন্দনীয় নয়, অথবা আমরা তাদের বিরোধিতা করব এবং ফলে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি মুসলমানদের পরামর্শ ব্যতীত কারো হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে, তবে তার অনুসরণ করা যাবে না এবং যার হাতে বাইয়াত দেওয়া হয়েছে তারও নয়; এই আশঙ্কায় যে তারা উভয়েই নিহত হতে পারে। (১) ।

‌‌তৃতীয়ত: জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলিমদের মতে ইমামত

ফারুক (রা.) যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য করি: -

প্রথমত: খলিফা নিয়োগের আবশ্যকতা সম্পর্কে কোনো মতভেদ নেই, বরং মতভেদ ছিল কেবল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা নিয়ে। আহলুস সুন্নাহর জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলিমগণ এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন যে, শাসক ব্যতীত উম্মাহর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

 

দ্বিতীয়ত: খিলাফত কুরাইশদের মধ্যে সীমাবদ্ধ: "এই বিষয়টি কুরাইশদের এই গোত্র ব্যতীত অন্য কারো জন্য স্বীকৃত হবে না।" আনসারগণ শুরুতে এটি গ্রহণ করেননি, কিন্তু খুব দ্রুতই তারা কুরাইশদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন, কেবল সা'দ ইবন উবাদাহ ব্যতীত, তিনি বাইয়াত দেননি। সিদ্দীক (রা.) যা উল্লেখ করেছেন তা সহীহ হাদীসসমূহ দ্বারা সমর্থিত: ইমাম বুখারী — তাঁর সহীহ গ্রন্থের কিতাবুল আহকাম-এ — "কুরাইশ বংশীয় আমিরগণ" শিরোনামে একটি অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন এবং এখানে যা বর্ণনা করেছেন তা হলো—

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী - কিতাবুল মুহারিবীন - অনুচ্ছেদ: গর্ভবতী নারীর রজম; এবং দেখুন মুসনাদে আহমাদ, শাকেরের তাহকীক, ১ম খণ্ড, বর্ণনা নম্বর ৩৯১। তাঁর উক্তি: ‘তুগরাতা আন ইয়ুকতালা’ অর্থাৎ তাদের উভয়ের হত্যার শিকার হওয়ার আশঙ্কা। ‘ইউহাদ্দুনা’ অর্থ: আমাদের বের করে দেওয়া। ‘যাওওয়ারতু’ অর্থ: আমি প্রস্তুত ও সুন্দর করেছি, আর ‘তাযবীর’ মানে কোনো কিছু সংশোধন করা; ‘কালামুন মুযাওওয়ার’ অর্থ সুশোভিত কথা। ‘জুযাইলুহা আল-মুহাককাক’: ‘জুযাইল’ শব্দটি ‘জাযল’-এর তাসগীর বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, এটি সেই কাঠ যা খোস-পাঁচড়া আক্রান্ত উটের ঘর্ষণের জন্য পুঁতে রাখা হয়। এটি সম্মানার্থে ক্ষুদ্রার্থবোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো—আমি এমন একজন ব্যক্তি যার পরামর্শে রোগমুক্তি বা সমাধান মেলে, যেমনটি আক্রান্ত উট এই কাষ্ঠখণ্ডে ঘর্ষণের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করে। আবার কেউ বলেছেন: এর দ্বারা তিনি নিজের কঠোরতা ও দৃঢ়তা বুঝিয়েছেন। ‘আল-মুরাজজাব’ শব্দটি ‘তারজীব’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো—মর্যাদাপূর্ণ খেজুর গাছকে যখন তার দৈর্ঘ্য ও ফলের আধিক্যের কারণে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়, তখন তাকে খুঁটি বা দেয়াল দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা। (অধিক বিবরণের জন্য মুসনাদ দেখুন)।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قول الرسول صلى الله عليه وسلم: " إن هذا الأمر في قريش لا يعاديهم أحد إلا كبه الله على وجهه ما أقاموا الدين " وقوله صلوات الله عليه: " لا يزال هذا الأمر في قريش ما بقى منهم اثنان ".

وفى كتاب الإمارة من صحيح مسلم نجد " باب الناس تبع لقريش والخلافة في قريش "، ومما جاء في هذا الباب قول الرسول الكريم " الناس تبع لقريش في هذا الشأن " وقوله صلى الله عليه وسلم: " لا يزال هذا الأمر في قريش مابقى من الناس اثنان ".

وأخرج أحمد في مسنده روايات كثيرة صحيحة الإسناد تؤيد هذا، منها قول الرسول صلى الله عليه وسلم: " أما بعد، يا معشر قريش، فإنكم أهل هذا الأمر، ما لم تعصوا الله، فإذا عصيتموه بعث إليكم من يلحاكم كما يلحى هذا القضيب - لقضيب في يده - ثم لحا قضية، فإذا هو أبيض يصلد " (1)

ثالثاً: لا يكون خليفة إلا بالبيعة " قد رضيت لكم أحد هذين الرجلين فبايعوا أيهما شئتم ". " فقلت ابسط يدك ياأبا بكر، فبسط يده فبايعته وبايعه المهاجرون، ثم بايعته الأنصار ".

فإذا تمت البيعة وجب الوفاء بها، ولهذا قال " خشينا إن فارقنا القوم ولم تكن بيعة أن يبايعوا رجلاً منهم بعدنا فإما بايعناهم على مالا نرضى، وإما نخالفهم فيكون فساد " وجاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: " من بايع إماماً فأعطاه صفقة يده وثمرة قلبه فليطعه إن استطاع فإن جاء آخر ينازعه فاضربوا عنق الآخر" (2) 2) وقال أيضا: " من أتاكم وأمركم جميع على رجل واحد، يريد أن يشق عصاكم أو يفرق جماعتكم فاقتلوه ". (3)

--------------------------------------------

(1) المسند ج6 رواية رقم 4380، وانظر كذلك ج7 رواية رقم 4832، ج8 الروايتين 5677، 6121، ج13 الروايتين 7304، 7547.

(2) في فتح البارى بعد الحديث عن الرواية السابقة قال ابن حجر: قد صحح ابن حبان وغيره من حديث أبى سعيد الخدري رضي الله عنه أن علياً بايع أبا بكر في أول الأمر. وأما ما وقع في مسلم عن الزهرى أن رجلاً قال له: لم يبايع على أبا بكر حتى ماتت فاطمة رضي الله عنها قال: لا ولا أحد من بنى هاشم. فقد ضعفه البيهقي بأن الزهرى لم يسنده، وأن الرواية الموصولة عن أبى سعيد أصح. وجمع غيره بأنه بايعه بيعة ثانية مؤكدة للأولى لإزالة ما كان وقع بسبب الميراث. وحينئذ يحمل قول الزهرى لم يبايعه على في تلك الأيام على إرادة الملازمة له والحضور عنده، وما أشبه ذلك، فإن في انقطاع مثله عن مثله يوهم من لا يعرف باطن الأمر أنه بسبب عدم الرضا بخلافته، فأطلق من أطلق ذلك، وبسبب ذلك أظهر على المبايعة التي بعد موت فاطمة لإزالة هذه الشبهة.

(3)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই এই শাসনকর্তৃত্ব কুরাইশদের মধ্যে থাকবে; যতক্ষণ তারা দ্বীন প্রতিষ্ঠা করবে, ততক্ষণ যে কেউ তাদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে অধঃপতিত করবেন।" এবং তাঁর (দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বাণী: "এই কর্তৃত্ব কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতক্ষণ তাদের মধ্য থেকে দুইজন লোকও অবশিষ্ট থাকে।"

সহীহ মুসলিমের 'কিতাবুল ইমারাহ' (নেতৃত্ব অধ্যায়)-তে আমরা পাই: "মানুষ কুরাইশদের অনুসারী এবং খিলাফত কুরাইশদের মধ্যে" শীর্ষক পরিচ্ছেদ। এই পরিচ্ছেদে বর্ণিত মহান রাসূলের বাণীসমূহের মধ্যে রয়েছে: "মানুষ এই বিষয়ে কুরাইশদের অনুসারী" এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "এই কর্তৃত্ব কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে, যতক্ষণ মানুষের মধ্য থেকে দুইজন লোকও অবশিষ্ট থাকে।"

ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে অনেক সহীহ সানাদবিশিষ্ট বর্ণনা সংকলন করেছেন যা এটিকে সমর্থন করে। তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি অন্যতম: "অতঃপর হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরাই এই কর্তৃত্বের অধিকারী, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর অবাধ্য হও। যদি তোমরা তাঁর অবাধ্য হও, তবে তিনি তোমাদের কাছে এমন কাউকে পাঠাবেন যারা তোমাদের ছাল ছাড়িয়ে দেবে, যেভাবে এই ডালটির ছাল ছাড়ানো হয়—তখন তাঁর হাতে একটি ডাল ছিল—অতঃপর তিনি ডালটির ছাল ছাড়ালেন, ফলে তা সাদা ও মসৃণ হয়ে গেল।" (১)

তৃতীয়ত: বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) ব্যতীত কেউ খলিফা হতে পারে না। "আমি তোমাদের জন্য এই দুই ব্যক্তির একজনকে পছন্দ করেছি, তাই তোমরা তাদের মধ্যে যার ইচ্ছা বাইয়াত গ্রহণ করো।" "অতঃপর আমি বললাম: হে আবু বকর, আপনার হাত প্রসারিত করুন। তখন তিনি হাত প্রসারিত করলেন এবং আমি তাঁর হাতে বাইয়াত হলাম, মুহাজিরগণও তাঁর বাইয়াত গ্রহণ করলেন, এরপর আনসারগণ তাঁর বাইয়াত গ্রহণ করলেন।"

যখন বাইয়াত সম্পন্ন হয়, তখন তা পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। একারণেই তিনি বলেছিলেন, "আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে, যদি আমরা বাইয়াত সম্পন্ন না করেই কওমকে ত্যাগ করি, তবে আমাদের পরে তারা তাদের মধ্য থেকে কোনো একজনের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে; তখন হয়তো আমাদের অপছন্দনীয় কারোর হাতে বাইয়াত হতে হতো অথবা তাদের বিরোধিতা করতে হতো, যার ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ইমামের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে এবং তাকে নিজের হাতের স্পর্শ ও হৃদয়ের একাগ্রতা দান করে, সে যেন সাধ্যমতো তার আনুগত্য করে। অতঃপর যদি অন্য কেউ এসে তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়, তবে সেই দ্বিতীয় ব্যক্তির গর্দান উড়িয়ে দাও।" (২) ২) তিনি আরও বলেছেন: "যখন তোমরা কোনো এক ব্যক্তির ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকো, এমতাবস্থায় যদি কেউ তোমাদের কাছে এসে তোমাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে চায় কিংবা তোমাদের জামাতে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তবে তাকে হত্যা করো।" (৩)

--------------------------------------------

(১) আল-মুসনাদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদিস নং ৪৩৮০; আরও দেখুন ৭ম খণ্ড, হাদিস নং ৪৮৩২; ৮ম খণ্ড, হাদিস নং ৫৬৭৭, ৬১২১; ১৩তম খণ্ড, হাদিস নং ৭৩০৪, ৭৫৪৭।

(২) 'ফাতহুল বারী'তে পূর্বোক্ত বর্ণনার আলোচনার পর ইবনে হাজার বলেন: ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসকে সহীহ বলে গণ্য করেছেন যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রথম দিকেই আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে বাইয়াত হয়েছিলেন। আর সহীহ মুসলিমে যুহরী থেকে যে বর্ণনা এসেছে যে, এক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিল: ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত আলী আবু বকরকে বাইয়াত করেননি। যুহরী বলেছিলেন: না, বনু হাশেমের কেউই তা করেনি। এ বর্ণনাটিকে ইমাম বায়হাকী যঈফ বা দুর্বল বলেছেন, কারণ যুহরী এর কোনো সানাদ উল্লেখ করেননি, আর আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত নিরবচ্ছিন্ন (মাওসুল) বর্ণনাটি অধিকতর সহীহ। অন্যান্যরা একে এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, মিরাস বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল তা দূর করার জন্য তিনি প্রথম বাইয়াতের পর দ্বিতীয়বার একটি দৃঢ়তাসূচক বাইয়াত করেছিলেন। সে ক্ষেত্রে যুহরীর বক্তব্য—যে 'আলী সেই দিনগুলোতে বাইয়াত করেননি'—দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক লেগে থাকা বা উপস্থিত থাকা থেকে বিরত থাকা; কারণ সমপর্যায়ের ব্যক্তিত্বদের থেকে বিচ্ছেদ ঘটলে যারা বিষয়ের অভ্যন্তরীণ রহস্য জানে না তারা ধারণা করতে পারে যে খিলাফতের ওপর অসন্তুষ্টির কারণে এমনটি হচ্ছে। একারণে যারা এমন কথা বলেছেন তারা অবাধে তা বলেছেন। আর ফাতিমার ইন্তেকালের পর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জনসম্মুখে বাইয়াত প্রকাশ করেছিলেন যাতে এই সংশয় দূর হয়ে যায়।

(৩)
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ২৯)
رابعا: ما دام الواجب الوفاء بالبيعة فلا بيعة إلا بمشورة المسلمين " فمن بايع رجلاً على غير مشورة من المسلمين فلا يتابع هو ولا الذي بايعه تغرة أن يقتلا " والشورى مبدأ معروف في الإسلام فمن المقطوع به أن الحكم في الإسلام ينبنى على مبدأين أساسيين هما العدالة والشورى، قال تعالى: -

" وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُواْ بِالْعَدْلِ " (1) . وقال جل شأنه: -" وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ " (2) " وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ"َ (3)

 

خامساً: -أن البيعة تمت لأبى بكر بهذه السرعة، بغير تدبير سابق وإنما كانت فلتة نظراً لمكانته. " ليس منكم من تقطع الأعناق إليه مثل أبى بكر " (...... " كان والله أن أقوم فتضرب عنقى - لا يقربنى ذلك من إثم - أحب إلى من أن أتأمر على قوم فيهم أبو بكر ".

بعد هذه الملاحظات نقول: إنه في ضوء ما سبق وغيره اشترط … الجمهور للخلافة الراشدة، خلافة النبوة، أن تكون لقرشى عادل عن طريق البيعة والشورى، على خلاف في بعض الأمور مثل تحديد من تنعقد بهم البيعة (4) .

ورأي الأنصار في أحقيتهم للخلافة انتهى بالبيعة، ولم يطل على التاريخ من جديد، ولكن أولئك القرشيين الذي امتنعوا عن البيعة أول الأمر، ثم ما لبثوا أن بايعوا كان لهم شأن آخر في تاريخ الأمة الإسلامية. والمشهور أن هؤلاء لم يبايعوا لأنهم يرون أن الإمامة ليست في قريش بصفة عامة، وإنما هي في أهل

--------------------------------------------

(1) سورة النساء - الآية 58.

(2) سورة الشورى: الآية 38.

(3) آل عمران - الآية 159.

(4) انظر تاريخ المذاهب الإسلامية 1/93: 109، والفرق بين الفرق ص 210 -212.
চতুর্থত: যেহেতু বাইআত (আনুগত্যের শপথ) রক্ষা করা ওয়াজিব, সেহেতু মুসলিমদের পরামর্শ ব্যতীত কোনো বাইআত হতে পারে না। "যে ব্যক্তি মুসলিমদের পরামর্শ ছাড়া কারো হাতে বাইআত গ্রহণ করে, তবে তার এবং যার হাতে সে বাইআত হয়েছে তাদের কারো অনুসরণ করা যাবে না; এ আশঙ্কায় যে তাদের উভয়কে হত্যা করা হতে পারে।" ইসলামে শূরা (পরামর্শ) একটি সুপরিচিত মূলনীতি। এটি সুনিশ্চিত যে, ইসলামের শাসনব্যবস্থা দুটি মৌলিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা হলো ইনসাফ (ন্যায়বিচার) ও শূরা। আল্লাহ তাআলা বলেন: -

"এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ইনসাফের সাথে বিচার করবে।" (১)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: -"আর তাদের কার্যাবলি তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।" (২) "এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।" (৩)

 

পঞ্চমত: -আবু বকর (রা.)-এর বাইআত অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়েছিল, কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই; বরং তাঁর উচ্চমর্যাদার কারণে তা ছিল একটি আকস্মিক ঘটনা। "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার প্রতি মানুষের ঘাড় (শ্রদ্ধায়) আবু বকরের মতো নুয়ে পড়ে।" (...... "আল্লাহর কসম, আমাকে সামনে এগিয়ে দিয়ে আমার ঘাড় উড়িয়ে দেওয়া—যা আমাকে কোনো পাপের নিকটবর্তী করবে না—আমার কাছে অধিক প্রিয় সেই কওমের ওপর নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে যাদের মধ্যে আবু বকর বিদ্যমান।"

এই পর্যবেক্ষণগুলোর পর আমরা বলতে পারি: পূর্বোক্ত বিষয়াদির আলোকে জমহুর (অধিকাংশ আলেম) খুলাফায়ে রাশেদিন তথা নবুওয়াতের খিলাফতের জন্য শর্ত আরোপ করেছেন যে, খলিফাকে কুরাইশ বংশীয় ও ন্যায়পরায়ণ হতে হবে এবং তা বাইআত ও শূরার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে হবে; যদিও বাইআত সম্পন্ন হওয়ার জন্য কতজন সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন—এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে (৪)।

খিলাফতের যোগ্যতার বিষয়ে আনসারদের দাবির বিষয়টি বাইআতের মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়ে যায় এবং ইতিহাসে তা পুনরায় দেখা দেয়নি। তবে কুরাইশদের মধ্যে যারা শুরুতে বাইআত গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে বাইআত করেছিলেন, ইসলামি উম্মাহর ইতিহাসে তাদের ভিন্ন একটি ভূমিকা ছিল। প্রসিদ্ধ মত হলো, তারা শুরুতে বাইআত করেননি কারণ তারা মনে করতেন যে ইমামত বা নেতৃত্ব সাধারণভাবে সকল কুরাইশের জন্য নয়, বরং তা কেবল আহলে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা - আয়াত ৫৮।

(২) সূরা আশ-শূরা: আয়াত ৩৮।

(৩) সূরা আল-ইমরান - আয়াত ১৫৯।

(৪) দেখুন: তারিখুল মাজাহিব আল-ইসলামিয়্যাহ ১/৯৩: ১০৯, এবং আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক পৃষ্ঠা ২১০-২১২।
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ৩০)
بيت النبوة وللإمام على بصفة خاصة. وهؤلاء قلة يذكر لنا التاريخ منهم بعض الصحابة من غير بنى هاشم كالمقداد بن الأسود، وسلمان الفارسى، وأبى ذر الغفارى رضي الله تعالى عنهم أجمعين، ولكنهم جميعاً لم يتعرضوا للخليفة بتكفير أو تجريح. وعرض أبوسفيان البيعة على الإمام على ولكنه أبى لقوة دينه وفرط ذكائه.

*****

 

‌‌رابعاً: على وبيعة من سبقه

إذا كان المشهور يدل غالباً على واقع الأمر. فإن من الأمور ما يشتهر مخالفاً للحقيقة. فمما اشتهر أن الإمام علياً لم يبايع لأنه كان يرى أحقيته بالإمامة من غيره. ولكن الثابت من أقواله يدل على أنه كان يرى ألا يقضى مثل هذا الأمر دون أن يكون له فيه رأي، مع اعترافه بأفضلية الصديق، وعدم إنكار … أحقيته لإمامة المسلمين: روى البخاري أن الإمام علياً عندما أراد مبايعة … الصديق رضي الله عنهما أرسل إليه فجاءه، فتشهد على فقال: " إنّا قد … عرفنا فضلك وما أعطاك الله، ولم ننفس عليك خيراً ساقه الله إليك، ولكنك استبددت علينا بالأمر، وكنا نرى لقرابتنا من رسول الله صلى الله عليه وسلم نصيباً، حتى فاضت عينا أبى بكر. فلما تكلم أبو بكر قال: والذى نفسى بيده لقرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم أحب إلى أن أصل من قرابتى، وأما الذي شجر بينى وبينكم من هذه الأموال فلم آل فيها عن الخير، ولم أترك أمراً رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصنعه فيها إلا صنعته. فقال على لأبى بكر: موعدك العشية للبيعة. فلما صلى أبو بكر … الظهر رقى على المنبر فتشهد، وذكر شأن على وتخلفه عن البيعة، وعذره بالذى اعتذر إليه، ثم استغفر وتشهد على فعظم حق أبى بكر، وحدث أنه لم يحمله على الذي صنع نفاسة على أبى بكر ولا إنكارا للذى فضله الله به، ولكنا نرى لنا في هذا الأمر نصيباً، فاستبد علينا، فوجدنا في أنفسنا، فسر بذلك المسلمون …
নবুওয়াতের পরিবার এবং বিশেষত ইমাম আলীর প্রতি। তাঁরা সংখ্যায় অতি নগণ্য ছিলেন যাদের কথা ইতিহাস আমাদের কাছে উল্লেখ করে; তাঁদের মধ্যে বনু হাশিম গোত্রের বাইরের কিছু সাহাবীও ছিলেন যেমন মিকদাদ বিন আসওয়াদ, সালমান আল-ফারসী এবং আবু যার আল-গিফারী (আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তবে তাঁদের কেউই খলিফাকে কাফের সাব্যস্ত করেননি কিংবা তাঁর প্রতি কোনো কটু উক্তি বা মানহানি করেননি। আবু সুফিয়ান ইমাম আলীর নিকট আনুগত্যের শপথ বা বায়াতের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর দ্বীনদারীর দৃঢ়তা এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

*****

 

‌‌চতুর্থ: আলী এবং তাঁর পূর্বসূরীদের প্রতি আনুগত্যের শপথ

প্রসিদ্ধ কোনো বিষয় সাধারণত বাস্তব অবস্থারই ইঙ্গিতবাহী হয়। তবে এমন অনেক বিষয় আছে যা সত্যের বিপরীতে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তেমনি একটি প্রসিদ্ধ ধারণা হলো ইমাম আলী বায়াত প্রদান করেননি কারণ তিনি মনে করতেন অন্যদের চেয়ে ইমামতের ক্ষেত্রে তিনিই অধিক হকদার। কিন্তু তাঁর পক্ষ থেকে প্রমাণিত বক্তব্যসমূহ নির্দেশ করে যে, তিনি মনে করতেন তাঁর মতামত গ্রহণ ব্যতীত এ জাতীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সংগত নয়; অথচ তিনি সিদ্দীক (আবু বকর)-এর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেন এবং মুসলিমদের ইমামতের ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতাকে অস্বীকার … করেননি: ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম আলী যখন সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর নিকট বায়াত … গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে লোক পাঠালেন। আবু বকর তাঁর নিকট আসলেন এবং আলী (রা.) তাওহীদের সাক্ষ্য পাঠ করে বললেন: "নিশ্চয়ই আমরা … আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ আপনাকে যা দান করেছেন তা জানি। আল্লাহ আপনাকে যে কল্যাণ দান করেছেন সে বিষয়ে আমরা আপনার প্রতি কোনো ঈর্ষা পোষণ করি না। তবে আপনি আমাদের মতামত না নিয়েই এ বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমাদের আত্মীয়তার কারণে আমরা মনে করতাম যে, এ বিষয়ে আমাদেরও একটি অংশ (পরামর্শের অধিকার) রয়েছে।" এ কথা শুনে আবু বকরের দু’চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো। এরপর আবু বকর যখন কথা বললেন, তখন তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমার নিজের আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রাখার চেয়েও অধিক প্রিয়। আর এই ধন-সম্পদ নিয়ে আমার ও আপনাদের মধ্যে যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমি মঙ্গলের পথ থেকে বিচ্যুত হইনি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে যা করতে দেখেছি, আমি তা পালন করা বিন্দুমাত্র বর্জন করিনি।" তখন আলী (রা.) আবু বকরকে বললেন: "আজ সন্ধ্যায় বায়াতের জন্য আপনার সাথে ওয়াদা রইল।" অতঃপর আবু বকর (রা.) যখন … যোহরের সালাত আদায় করলেন, তিনি মিম্বরে আরোহণ করে আল্লাহর মহিমা বর্ণনা ও সাক্ষ্য পাঠ করলেন এবং আলীর বিষয়টি ও তাঁর বায়াত গ্রহণে বিলম্বের কথা উল্লেখ করলেন এবং আলী যে ওজর পেশ করেছেন তাও বর্ণনা করলেন। এরপর আলী (রা.) আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইলেন এবং সাক্ষ্য পাঠ করে আবু বকরের হক ও মর্যাদাকে সুমহান করলেন। তিনি বর্ণনা করলেন যে, তিনি যা করেছেন তা আবু বকরের প্রতি কোনো বিদ্বেষ বা আল্লাহ তাঁকে যে মর্যাদা দিয়েছেন তার অস্বীকৃতি স্বরূপ করেননি। বরং তিনি বললেন, "আমরা মনে করতাম এই বিষয়ে আমাদের একটি অংশ রয়েছে, কিন্তু আমাদের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাই আমরা অন্তরে কিছুটা দুঃখ পেয়েছিলাম।" এতে মুসলিমগণ অত্যন্ত আনন্দিত হলেন …
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقالوا: أصبت. وكان المسلمون إلى على قريباً حين راجع الأمر بالمعروف … " (كتاب المغازي باب غزوة خيبر) . وروى مسلم أكثر من رواية تفيد … ما سبق، وفى إحدى رواياته " ثم قام على فعظم من حق … أبى بكر، وذكر فضيلته وسابقته، ثم مضى إلى أبى بكر فبايعه، فأقبل الناس إلى على فقالوا: أصبت وأحسنت " (كتاب الجهاد - باب قول النبي صلى الله عليه وسلم لا نورث ماتركنا فهو صداقة) .

واستبد بالأمر: إذا انفرد به غير مشارك له فيه، وقول الإمام: ولكنك استبددت علينا بالأمر: أي لم تشاورنا في أمر الخلافة.

 

ومن المشهور كذلك أن الإمام علياً لم يبايع إلا بعد وفاة السيدة فاطمة … رضي الله عنهما، ولكن يوجد ما يدل على أنه لم يتآخر هذه الفترة.

 

وقبل انتهاء فترة الخلافة الأولى القصيرة - التي بارك الله تعالى فيها أيما بركة - كان الصديق قد استقر رأيه على استخلاف عمر بعد تعرفه على آراء كثير من الصحابة الكرام. على أن بعض هؤلاء قد تخوف من خلافة الفاروق لما
এবং তারা বলল: আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর মুসলমানগণ আলীর নিকটবর্তী হলেন যখন তিনি পরিচিত ন্যায়নিষ্ঠ পন্থায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করলেন … " (কিতাবুল মাগাজি, খায়বার যুদ্ধের অধ্যায়)। এবং মুসলিম একাধিক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যা পূর্বোক্ত বিষয়কেই সমর্থন করে … তাঁর একটি বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর আলী দাঁড়ালেন এবং আবু বকরের অধিকারের মহত্ত্ব বর্ণনা করলেন … তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রবর্তিতার কথা উল্লেখ করলেন, তারপর তিনি আবু বকরের নিকট গিয়ে তাঁর হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করলেন। তখন লোকেরা আলীর দিকে এগিয়ে এসে বলল: আপনি সঠিক ও অতি উত্তম কাজ করেছেন।" (কিতাবুল জিহাদ - অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসেবে গণ্য হয়)।

কর্তৃত্ব একচ্ছত্র করা (ইসতিবদাদ): যখন কোনো ব্যক্তি অন্যের অংশীদারিত্ব ছাড়াই এককভাবে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর ইমামের উক্তি: "কিন্তু আপনি আমাদের ওপর কর্তৃত্ব একচ্ছত্র করেছেন" এর অর্থ হলো: আপনি খিলাফতের বিষয়ে আমাদের সাথে পরামর্শ করেননি।

 

অনুরূপভাবে এটিও প্রসিদ্ধ যে, ইমাম আলী সায়্যিদা ফাতিমা … (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন)-এর ইন্তেকালের আগে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেননি, তবে এমন প্রমাণও বিদ্যমান যা নির্দেশ করে যে তিনি এই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করেননি।

 

এবং প্রথম খিলাফতের সেই সংক্ষিপ্ত সময়কাল শেষ হওয়ার আগে - যাতে মহান আল্লাহ তায়ালা অশেষ বরকত দান করেছিলেন - সিদ্দিক তাঁর সিদ্ধান্তে স্থির হয়েছিলেন যে ওমরকে স্থলাভিষিক্ত করবেন, যখন তিনি অনেক সম্মানিত সাহাবীর মতামত গ্রহণ করেছিলেন। যদিও তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ফারুকের খিলাফতের ব্যাপারে কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন কারণ...
(খণ্ড: ১) মাআল ইসনা আশারিয়্যাহ ফিল উসূলি ওয়াল ফুরূ (পৃষ্ঠা: ৩২)
اشتهر به من الشدة، وقالوا لأبى بكر: قد وليت علينا فظاً غليظاً، … فقال: لو سألنى ربى يوم القيامة لقلت: وليت عليهم خيرهم (1) .

وعندما أخذ رأي المسلمين في البيعة لمن ذكر في كتاب الخليفة الأول قالوا: نسمع ونطيع، غير أن على بن أبى طالب انفرد بقوله: " لا نرضى إلا أن يكون عمر " (2) .

ولم يتأخر أحد عن بيعة عمر بن الخطاب إلا سعد بن عبادة. ومرت الخلافة العمرية الراشدة، وانتهى الأمر إلى الستة (3) ليختاروا واحدا منهم، ثم انحصرت الخلافة في ثلاثة، فاثنين هما عثمان بن عفان وعلى بن أبى طالب، ثم كانت البيعة الجماعية لذى النورين، فلماذا انتهت إليه؟

روى البخاري بسنده عن المسور بن مخرمة " أن الرهط الذين ولاهم عمر اجتمعوا فتشاوروا، قال لهم عبد الرحمن: لست بالذى أنافسكم على هذا الأمر، ولكنكم إن شئتم اخترت لكم منكم، فجعلوا ذلك إلى عبد الرحمن، فلما ولوا عبد الرحمن أمرهم، فمال الناس على عبد الرحمن حتى ما أرى أحداً من الناس يتبع أولئك الرهط ولا يطأ عقبه، ومال الناس على عبد الرحمن يشاورونه تلك الليالى، حتى إذا كانت الليلة التي أصبحنا منها فبايعنا عثمان قال المسور: طرقنى عبد الرحمن بعد هجع من الليل فضرب الباب حتى استيقظت، فقال: أراك نائماً،

--------------------------------------------

(1) انظر الملل والنحل 1/25، وجاء في كتاب الاستخلاف " إني استعملت عليكم عمر بن الخطاب، فإن بر وعدل فذلك علمى به ورأيى فيه، وإن جار وبدل فلا علم لي بالغيب، والخير أردت. ولكل امرئ ما اكتسب. وسيعلم الذي ظلموا أي منقلب ينقلبون " (الكامل للمبرد 1/8) .

(2) عبقرية الصديق ص 164.

(3) الستة هم: على وعثمان والزبير وطلحة وسعد بن أبى وقاص وعبد الرحمن بن عوف. قال عبد الرحمن: اجعلوا أمركم إلى ثلاثة منكم. فقال الزبير: قد جعلت أمرى إلى على. فقال طلحة: قد جعلت أمرى إلى عثمان. وقال سعد: قد جعلت أمرى إلى عبد الرحمن بن عوف.
তিনি কঠোরতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তারা আবু বকরকে বললেন: আপনি আমাদের ওপর একজন রূঢ় ও কঠোর ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছেন, ... তখন তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন যদি আমার পালনকর্তা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তবে আমি বলব: আমি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে তাদের ওপর নিযুক্ত করেছি (১)।

প্রথম খলিফার দলিলে যার নাম উল্লেখ ছিল, তার প্রতি আনুগত্যের (বাইয়াত) বিষয়ে যখন মুসলমানদের মতামত নেওয়া হলো, তখন তারা বললেন: আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। তবে আলী বিন আবু তালিব স্বতন্ত্রভাবে বললেন: "আমরা ওমর ছাড়া অন্য কারো প্রতি সন্তুষ্ট নই" (২)।

সাদ বিন উবাদাহ ছাড়া আর কেউই ওমর ইবনুল খাত্তাবের বাইয়াত থেকে পিছিয়ে থাকেননি। ওমরের ন্যায়নিষ্ঠ খিলাফতের অবসান হলো এবং বিষয়টি ছয়জনের (৩) ওপর ন্যস্ত হলো যেন তারা তাদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করেন। এরপর খিলাফতের বিষয়টি তিনজনে, অতঃপর দুইজনে—উসমান বিন আফফান ও আলী বিন আবু তালিবে সীমাবদ্ধ হলো। এরপর যুন-নুরাইনের প্রতি গণ-বাইয়াত সম্পন্ন হলো। কিন্তু কেন বিষয়টি তার ওপরই শেষ হলো?

ইমাম বুখারি তাঁর সনদে মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "ওমর যাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেই দলটি একত্রিত হয়ে পরামর্শ করলেন। আব্দুর রহমান তাদের বললেন: আমি এই বিষয়ে আপনাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে আসিনি; তবে আপনারা চাইলে আমি আপনাদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করে দিতে পারি। তারা বিষয়টি আব্দুর রহমানের ওপর ন্যস্ত করলেন। যখন তারা আব্দুর রহমানকে তাদের বিষয়ের দায়িত্ব দিলেন, তখন মানুষ আব্দুর রহমানের দিকে এমনভাবে ঝুঁকে পড়ল যে, আমি দেখলাম না কেউ সেই দলের অন্য কারো অনুসরণ করছে বা তাদের পিছু নিচ্ছে। মানুষ সেই রাতগুলোতে পরামর্শের জন্য আব্দুর রহমানের দিকেই ঝুঁকে রইল। অবশেষে সেই রাত এলো যার সকালে আমরা উসমানের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলাম। মিসওয়ার বলেন: রাতের এক প্রহর অতিবাহিত হওয়ার পর আব্দুর রহমান আমার দরজায় করাঘাত করলেন, এমনকি আমি জেগে উঠলাম। তিনি বললেন: আমি দেখছি তুমি ঘুমাচ্ছ,"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/২৫। 'কিতাবুল ইসতিখলাফ'-এ এসেছে: "আমি তোমাদের ওপর ওমর ইবনুল খাত্তাবকে নিযুক্ত করেছি। সে যদি পুণ্য ও ন্যায়বিচার করে, তবে তার সম্পর্কে এটিই আমার জ্ঞান ও অভিমত। আর যদি সে জুলুম করে ও পরিবর্তন করে ফেলে, তবে অদৃশ্যের জ্ঞান আমার নেই। আমি কেবল কল্যাণই চেয়েছি। প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করেছে তা-ই সে পাবে। আর যারা জুলুম করেছে তারা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন পরিণতির দিকে তারা ফিরে যাচ্ছে।" (আল-কামিল লিল-মুবররাদ ১/৮)।

(২) আবকারিইয়াতুস সিদ্দিক, পৃষ্ঠা ১৬৪।

(৩) সেই ছয়জন হলেন: আলী, উসমান, যুবাইর, তালহা, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং আব্দুর রহমান বিন আউফ। আব্দুর রহমান বললেন: আপনারা আপনাদের বিষয়টি আপনাদের তিনজনের ওপর ন্যস্ত করুন। তখন যুবাইর বললেন: আমি আমার বিষয়টি আলীর ওপর ন্যস্ত করলাম। তালহা বললেন: আমি আমার বিষয়টি উসমানের ওপর ন্যস্ত করলাম। আর সাদ বললেন: আমি আমার বিষয়টি আব্দুর রহমান বিন আউফের ওপর ন্যস্ত করলাম।