(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: -)
العدة في إعراب العمدة   (ابن فرحون، بدر الدين)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: العُدّة في إعراب العُمدَة

المؤلف: بدر الدين أبو محمد عبد الله ابن الإمام العلامة أبي عبد الله محمد بن فرحون المدني رحمةُ الله عليه

تحقيق: مكتب الهدي لتحقيق التراث (أبو عبد الرحمن عادل بن سعد)

الناشر: دار الإمام البخاري - الدوحة

الطبعة: الأولى، (بدون تاريخ)

عدد الأجزاء: 3

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 شعبان 1440

আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ   (ইবনে ফারহুন, বদর আল-দীন)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ

লেখক: বদর আল-দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনুল ইমাম আল-আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফারহুন আল-মাদানি, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক

সম্পাদনা: মাকতাবুল হুদা লি-তাহকিকিত তুরাস (আবু আবদুর রহমান আদিল বিন সাদ)

প্রকাশক: দারুল ইমাম আল-বুখারি - দোহা

সংস্করণ: প্রথম, (তারিখ বিহীন)

খণ্ড সংখ্যা: ৩

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ওয়াকফ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ শাবান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১)
العُدّة

في إعراب العُمدَة

تأليف

الشيخ الإمام العلامة بدر الدين أبي محمد عبد الله

ابن الإمام العلامة أبي عبد الله محمد

ابن فرحون المدني

رحمةُ الله عليه

تحقيق

مكتب الهدي لتحقيق التراث

أبو عبد الرحمن عادل بن سعد
আল-উদ্দাহ

উমদাহর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে

গ্রন্থনায়

শায়খ ইমাম আল্লামা বদরুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

ইবনে ইমাম আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ

ইবনে ফারহুন আল-মাদানি

তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক

সম্পাদনা ও গবেষণা

মাকতাবুল হাদি লি-তাহকীকিত তুরাস (ঐতিহ্য গবেষণা কেন্দ্র)

আবু আব্দুর রহমান আদিল বিন সাদ
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
العُدّة

في إعراب العمدة

الجزء الأول
আল-উদ্দাহ

আল-উমদাহর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে

প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولي

رقم الإيداع

الرقم الدولي (ردمك):

دار الإمام البخاري

الدوحة -قطر

الدوحة-قطر-طريق سلوي- بجوار إشارة الغانم الجديد

ص. ب 29999 - هاتف: 0097444684848 - فاكس 0097444685588

albukharibooks@gmail.com
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

জমাসংখ্যা

আন্তর্জাতিক মান পুস্তক সংখ্যা (আইএসবিএন):

দারুল ইমাম আল-বুখারী

দোহা - কাতার

দোহা-কাতার-সালওয়া রোড-নিউ আল-গানিম সিগন্যালের পাশে

পো. বক্স ২৯৯৯৯ - ফোন: ০০৯৭৪৪৪৬৮৪৮৪৮ - ফ্যাক্স: ০০৯৭৪৪৪৬৮৫৫৮৮

albukharibooks@gmail.com
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على النبي الأمي الأمين، محمد صلى الله عليه وعلى آله وصحبه والتابعين، ومن سار على دربهم إلى يوم الدين.

نحمده أن خصّ هذه الأمة بالإعراب والإسناد، وجعل لسَلفها خَلفًا ولعِلمها البقاء والامتداد.

ثم أمّا بعد:

فقد صنّف العُلماء قديمًا وحديثا فأكثروا في إعراب القرآن، ولم يتجه إلّا قلة من القُدماء إلى التصنيف في إعراب الحديث النبوي، فلا يقف المطالع إلّا على كتاب أبي البقاء العكبري (ت 616 هـ) واسمه "إعراب ما يشكل من ألفاظ الحديث النبوي" أورد فيه أحاديث من المسند وأعربها بترتيب المسانيد، وآخر لجمال الدين بن مالك (ت 672 هـ)، واسمه "شواهد التوضيح والتصحيح لمشكلات الجامع الصحيح" وهو على صحيح البخاري، وثالث لليفرني التلمساني (ت 625 هـ) واسمه "الاقتضاب في غريب الموطأ وإعرابه على الأبواب" (1)، ورابع للسيوطي (911 هـ) واسمه "عقود الزبرجد على مسند الإمام أحمد" رتبه على المسانيد.

وها هو خامس الخمسة، ضيف جديد يحلّ على مائدة إعراب الحديث، كتاب "العدة في إعراب العمدة"، وهو يتعلّق بأحاديث كتاب "عمدة الأحكام" للشيخ عبد الغني المقدسي (ت 600 هـ). صنفه الشيخ العلامة بدر الدين عبد الله بن محمد، الشهير بابن فرحون (ت 769 هـ)، عالم العربية بالحجاز.

--------------------------------------------

(1) طبع بمكتبة العبيكان، 2 مجلد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মি ও বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, তাবিঈনগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।

আমরা তাঁর প্রশংসা করি যে, তিনি এই উম্মতকে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাব) ও সনদ (সূত্রপরম্পরা) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং তাদের পূর্বসূরিদের জন্য উত্তরসূরি এবং তাদের ইলমের স্থায়িত্ব ও বিস্তার দান করেছেন।

অতঃপর:

প্রাচীন ও আধুনিক আলেমগণ পবিত্র কুরআনের ই’রাব নিয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু প্রাচীনদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই হাদিসে নববীর ই’রাব নিয়ে গ্রন্থ রচনার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। ফলে পাঠক কেবল আবু বাকা আল-উকবারী (মৃত্যু: ৬১৬ হিজরী) এর ‘ই’রাবু মা ইউশকালু মিন আলফাযিল হাদিসিন নাবাবী’ নামক গ্রন্থটিই দেখতে পান, যেখানে তিনি মুসনাদ গ্রন্থসমূহের হাদিসগুলো উল্লেখ করে সেগুলোর ই’রাব বর্ণনা করেছেন। এছাড়া জামালুদ্দীন ইবনে মালিক (মৃত্যু: ৬৭২ হিজরী) এর একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম ‘শাওয়াহিদুত তাওযিহ ওয়াত তাসহিহ লি-মুশকিলাতিল জামিইস সহিহ’, যা সহিহ বুখারীর ওপর রচিত। তৃতীয় গ্রন্থটি হলো ইফরানি তিলমিসানি (মৃত্যু: ৬২৫ হিজরী) এর ‘আল-ইকতিযাব ফি গারিবিল মুয়াত্তা ওয়া ই’রাবিহি আলাল আবওয়াব’ (১)। চতুর্থ গ্রন্থটি হলো সুয়ূতী (৯১১ হিজরী) এর ‘উকুদে যুবরজাদ আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ’, যা তিনি মুসনাদসমূহের বিন্যাসে সাজিয়েছেন।

আর এই হলো সেই পাঁচটি গ্রন্থের পঞ্চমটি, হাদিসের ই’রাবের দস্তরখানে এক নতুন মেহমান, ‘আল-উদ্দাহ ফি ই’রাবিল উমদাহ’ নামক কিতাব। এটি শায়খ আব্দুল গণী আল-মাকদিসী (মৃত্যু: ৬০০ হিজরী) এর ‘উমদাতুল আহকাম’ কিতাবের হাদিস সংশ্লিষ্ট। এটি রচনা করেছেন প্রখ্যাত আলেম আল্লামা বদরুদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, যিনি ইবনে ফারহুন (মৃত্যু: ৭৬৯ হিজরী) নামে পরিচিত, যিনি হিজাজের আরবি ভাষা ও ব্যাকরণের পণ্ডিত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ওবিকান লাইব্রেরি থেকে ২ খণ্ডে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
واعلم أنّ سبب قلة التأليف في هذا العلم وقلة الاستشهاد بالحديث النبوي هو رواية الحديث بالمعنى، ونقل الأعاجم له، ومنه ما يوافق الإعراب والفصيح وما لا يوافقه، وأكثر من استشهد بها ابن مالك، كما ذكر السيوطي وغيره (1).

هذا ولا يفوتنا أن نتقدم بالشكر لكل من ساهم في خروج هذا العمل القيم في صورته هذه، وهو نتاج تعاون من فريق العمل بالمكتب، ونخص منهم بالذكر فضيلة الشيخ نصر طه نصر، وفضيلة الشيخ عبد العزيز حامد وغيرهم.

أسأل الله أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه، وأن يجعله في ميزان حسناتنا، فإن العمل في نشر العلم النافع من أفضل القربات إلى الله.

أبو عبد الرحمن عادل بن سعد

* * *

--------------------------------------------

(1) انظر: عقود الزبرجد للسيوطي (1/ ص 67 وما بعدها).
জেনে রাখুন যে, এই শাস্ত্রে রচনার স্বল্পতা এবং নববী হাদীস দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপনের স্বল্পতার কারণ হলো অর্থের মাধ্যমে হাদীস বর্ণনা করা এবং অনারবদের মাধ্যমে তা স্থানান্তরিত হওয়া। এর মধ্যে কোনটি ব্যাকরণগত নিয়ম ও প্রাঞ্জল ভাষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল, আবার কোনটি ছিল না। ইবনে মালিক এর মাধ্যমে সর্বাধিক দলীল পেশ করেছেন, যেমনটি সুয়ূতী এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন (১)।

সেই সাথে, এই মূল্যবান কর্মটি বর্তমান রূপে প্রকাশের ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে আমরা বিস্মৃত হচ্ছি না। এটি মূলত অফিসের কর্মীবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টারই ফসল। আমরা বিশেষভাবে ফযীলাতুশ শাইখ নাসর তাহা নাসর এবং ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল আযীয হামিদ ও অন্যান্যদের কথা উল্লেখ করছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এটিকে আমাদের নেক আমলের পাল্লায় গণ্য করেন। কেননা উপকারী ইলম প্রচারের কাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

আবু আবদুর রহমান আদিল বিন সাদ

* * *

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুয়ূতীর উকুদুয যুবরজাদ (১/ পৃষ্ঠা ৬৭ এবং পরবর্তী)।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة ابن فرحون (1)

‌‌اسمه ونسبه:

هو عبد الله بن محمد بن أبي القاسم فرحون بن محمد بن فرحون، بدر الدّين أبو محمد بن أبي عبد الله بن أبي الفضل، اليعمري، [الأيدي، ثم الجبائي] (2)، التونسي الأصل، نزيل المدينة وقاضيها، المالكي ومؤرّخها، المفسر، النحوي.

أصله من تونس (3)، انتقلت أسرته إلى المدينة المنورة، وكان بيتهم بيت علم ورياسة وقضاء.

 

‌‌ولادته:

ولد الإمام في سنة 693 هـ بالمدينة المنورة، ونشأ بها، وكان أول أولاد أبيه وأمه، وهي الشريفة ابنة عبد الواحد الحسيني صالحة.

 

‌‌نشأته وتعلّمه:

نشأ الإمام في بيت عِلم -كما قدّمنا- فتلقى العلم على أبيه وبعض أعمامه،

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة: الدرر الكامنة (3/ 84)، البداية والنهاية لابن كثير (14/ 101)، والديباج المذهب في معرفة أعيان علماء المذهب (1/ 454 وما بعدها)، والتحفة اللطيفة في تاريخ المدينة الشريفة للسخاوي (2/ 80، 85 وما بعدها، 173، 309، 433)، الضوء اللامع (5/ 55)، وهدية العارفين (1/ 467)، وشجرة النور الزكية في طبقات المالكية (1/ 291)، والأعلام للزركلي (4/ 126)، الرسالة المستطرفة لبيان مشهور كتب السنة المشرفة (ص 15).

(2) هي ببعض المصادر: "الجيّاني الأصل". فهي نسبة لـ "جَيّان" من بلاد الأندلس، وبجيان بلدة تسمّى "أُبَّدَة"، فلعل "الأيدي" تصحيف. وإذا ثبت هذا: فإن أصله أندلسي جيّاني، واستقرت عائلته بتونس، ثم بالمدينة. وانظر: معجم البلدان (1/ 64).

(3) ذكر ابن حجر في "الدرر الكامنة" أن أصله أندلسي.
ইবনে ফারহুনের জীবনী (১)

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবুল কাসিম ফারহুন ইবন মুহাম্মদ ইবন ফারহুন, বদরুদ্দিন আবু মুহাম্মদ ইবন আবু আবদুল্লাহ ইবন আবুল ফজল, আল-ইয়ামুরি, [আল-আইদি, অতঃপর আল-জুবায়ি] (২), মূলে তিউনিসীয়, মদিনার অধিবাসী ও সেখানকার বিচারক, মালেকি মাজহাবের অনুসারী ও সেখানকার ঐতিহাসিক, মুফাসসির এবং ব্যাকরণবিদ।

তাঁর আদি নিবাস তিউনিসিয়ায় (৩), তাঁর পরিবার মদিনা মুনাওয়ারায় স্থানান্তরিত হয় এবং তাঁদের ঘরটি ছিল ইলম, নেতৃত্ব ও বিচারকার্য পরিচালনার কেন্দ্রস্থল।

 

তাঁর জন্ম:

ইমাম ৬৯৩ হিজরি সালে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন তাঁর পিতা ও মাতার প্রথম সন্তান। তাঁর মাতা ছিলেন পুণ্যবতী শরিফা বিনতে আবদুল ওয়াহিদ আল-হুসাইনি।

 

তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষালাভ:

ইমাম একটি ইলমি পরিবারে বেড়ে ওঠেন—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—ফলে তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর কয়েকজন চাচার নিকট ইলম অর্জন করেন,

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ: আদ-দুরারুল কামিনাহ (৩/ ৮৪), ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/ ১০১), আদ-দিবাজুল মুজাহহাব ফি মা'রিফাতি আয়ান উলামাইল মাজহাব (১/ ৪৫৪ ও পরবর্তী অংশ), সাখাওয়ির আত-তুহফাতুল লাতিফাহ ফি তারিখিল মাদিনাতিশ শরিফাহ (২/ ৮০, ৮৫ ও পরবর্তী অংশ, ১৭৩, ৩০৯, ৪৩৩), আদ-দউউল লামি' (৫/ ৫৫), হাদিয়াতুল আরিফিন (১/ ৪৬৭), শাজরাতুন নূরিয়্যাতিল জাকিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল মালিকিয়্যাহ (১/ ২৯১), আয-যিরিকলির আল-আ'লাম (৪/ ১২৬), আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ লি বায়ানি মাশহুরি কুতুবিস সুন্নাতিশ শরিফাহ (পৃ. ১৫)।

(২) কোনো কোনো উৎসে এটি "আল-জাইয়ানি আল-আসল" (মূলে জাইয়ানি)। এটি আন্দালুসের "জাইয়ান" অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত, আর জাইয়ানে "উব্বাদাহ" নামক একটি শহর রয়েছে; সম্ভবত "আল-আইদি" শব্দটি লিপিকরদের ভুল। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর মূল আন্দালুসের জাইয়ান থেকে, পরে তাঁর পরিবার তিউনিসিয়ায় এবং পরবর্তীতে মদিনায় বসতি স্থাপন করে। দেখুন: মুজামুল বুলদান (১/ ৬৪)।

(৩) ইবনে হাজার "আদ-দুরারুল কামিনাহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর মূল নিবাস আন্দালুসে।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
فأخذ علوم العربية وعلم الحديث في أوّل طلبه للعلم على أبيه الذي كان من مصابيح الدّجى وبعض أعمامه.

قال اليعمري في الديباج: سمعته يقول: "لازمتُ تفسير ابن عطية حتى كدت أحفظه".

وكان بارعًا في علم العربية، وتآليفه فيها شاهدة له بذلك.

ولما لقيه الشيخ أثير الدين أبو حيّان -شيخ عصره وإمام وقته في العربية- ووقف على كلامه في "إعراب بانت سعاد"، فقال: "ما ظننتُ أنه يوجَد بالحجاز مثل هذا الرجل"، واستعظم علمه، وأثنى عليه.

قال اليعمري في الديباج: وسمعتُه يقول: "اشتغلتُ في علم العربية وأنا ابن ثمان عشرة سنة"، وتخرّج عليه فيها جماعة فضلاء.

 

‌‌شيوخه:

قرأ الشيخ القرآن أولًا، ثم أخذ بعلم الحديث الفقه والعربية، ومن مشايخه: والده، مدرس المالكية بالمدينة، ومحمد بن حريث البلنسي، الشيخ عز الدين يوسف الزرندي، والشيخ جمال الدين محمد بن أحمد المقري، والشيخ شرف الدين الزبير الأسواني، وسراج الدين الدمنهوري. وسمع بمكّة من الشيخ رضي الدين الطبري. وغير هؤلاء.

وخرّج له الفقيه المحدّث شرف الدين بن [سكر] (1) المصري -نزيل مكة المشرفة- مشيخة كثيرة حفيلة مشتملة على ذكر شيوخه ومَروياته.

 

‌‌تلاميذه:

سمع منه وتتلمذ عليه خلق كثيرون، منهم: الحافظ العراقي، والجمال محمد

--------------------------------------------

(1) هي في بعض المراجع: "بكر"، وفي أخرى: "سكن".
তিনি তাঁর ইলম অন্বেষণের শুরুতে তাঁর পিতা—যিনি অন্ধকারের প্রদীপসমূহের অন্যতম ছিলেন—এবং তাঁর কিছু চাচার নিকট আরবী ভাষাবিজ্ঞান ও হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন।

আল-ইয়ামুরি ‘আদ-দিবাজ’ গ্রন্থে বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: “আমি ইবন আতিয়্যাহর তাফসীর এমনভাবে অধ্যয়ন করেছি যে, তা প্রায় মুখস্থ করে ফেলেছিলাম।”

তিনি আরবী ভাষাবিজ্ঞানে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁর রচনাবলী এর সাক্ষ্য প্রদান করে।

যখন শায়খ আসীরুদ্দীন আবু হাইয়ান—যিনি তাঁর যুগের আরবী ভাষার প্রধান শায়খ ও ইমাম ছিলেন—তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ‘বানাত সুয়াদ’-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (ই‘রাব) ওপর তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা প্রত্যক্ষ করেন, তখন তিনি বলেছিলেন: “আমি ভাবতেও পারিনি যে হিজাজে এই ব্যক্তির ন্যায় কারো অস্তিত্ব থাকতে পারে।” তিনি তাঁর জ্ঞানের গভীরতাকে উচ্চ মর্যাদা দেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আল-ইয়ামুরি ‘আদ-দিবাজ’ গ্রন্থে বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: “আমি আঠারো বছর বয়স থেকে আরবী ভাষাবিজ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োগ করি।” একদল বিদগ্ধ আলেম তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেন।

 

‌‌তাঁর শায়খগণ:

শায়খ প্রথমে কুরআন পাঠ করেন, অতঃপর হাদীস, ফিকহ ও আরবী ভাষাবিদ্যার জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর শায়খদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: তাঁর পিতা—যিনি মদীনার মালিকী মাযহাবের শিক্ষক ছিলেন—মুহাম্মদ বিন হুরীস আল-বালানসি, শায়খ ইযযুদ্দীন ইউসুফ আজ-যারাান্দি, শায়খ জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মুকরী, শায়খ শারাফুদ্দীন আয-যুবাইর আল-আসওয়ানি এবং সিরাজুদ্দীন আদ-দামনহুরি। তিনি মক্কায় শায়খ রাদীয়ুদ্দীন আত-তাবারির নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। এছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন।

মক্কায়ে মুকাররমায় বসবাসকারী ফকীহ ও মুহাদ্দিস শারাফুদ্দীন বিন [সুক্কার] (১) আল-মিসরি তাঁর জন্য একটি সুবৃহৎ ও তথ্যসমৃদ্ধ ‘মাশইয়াহাত’ (উস্তাদগণের তালিকা) সংকলন করেন, যা তাঁর শায়খদের পরিচিতি ও তাঁর বর্ণিত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

অগণিত মানুষ তাঁর নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ আল-ইরাকি এবং জামাল মুহাম্মদ...

--------------------------------------------

(১) কিছু তথ্যসূত্রে এটি "বাকর" এবং অন্যগুলোতে "সাকান" হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وعبد الله وعبد السلام الكازروني، وابن العجمي الشويكي.

وقد حدّث ودرّس وأفاد، وإليه انتهت الرياسة بالمدينة النبوية، وأقام مدرسًا للطائفة المالكية ومتصدرًا للاشتغال بالحرم النبوي أكثر من خمسين سنة، وانفرد في آخر عمره بعلو الإسناد، فلم يكن في المدينة أعلى سنًا وسندًا منه، وكان صبورًا على السماع والأشغال، وكان كهفًا لأهل السّنة، يذب عنهم، ويناضل الأمراء والأشراف، وانتهى بذلك إلى أن امتحن؛ فرُصد في السّحر بطريق الحرم فطعن طعنة عظيمة أريد فيها قتله، فصرف الله شرّها، وعافاه منها.

قال اليعمري: وكان عليه مَدار أمور الناس بالمدينة النبوية، وناب في القضاء نحو أربعة وعشرين سنة، وأمّ في المحراب النبوي في بعض الصلوات، ودُعي إلى أن يقوم بالخطابة والإمامة نائبًا فامتنع إعظامًا للمقام النبوي. وكان كثير التلاوة ليلًا ونهارًا، خصوصًا في آخر عمره، حتى إني شاهدته في أيام الموسم والنّاس في أشد ما هُم فيه من الاشتغال وهو مشغول بوِرْده في التّلاوة لا يقطعه عنه شيء، وكان يحيي غالبًا الثّلث الأخير من الليل بالصّلاة والتّلاوة من حَداثة سنّه إلى أن ثقل بمرض الموت رحمه الله … ولم يخرج من المدينة إلّا إلى مكة المشرّفة للحَج إلى أن مات بالمدينة. وكان ممن جمع الله تعالى له العلم والعمل والدنيا والدّين، فكان أعظم أهل المدينة يسارًا، وأكثرهم عقارًا، وأوسعهم جاهًا، وأنفذهم كلمة، وأعظمهم حُرمة، وألينهم عريكة، وأحسنهم بشاشة، صبورًا على الأذى، يجزي بالحسنة السيئة، ويسع الناس بخُلقه، ويواسي الفقراء بمعروفه، ويصل أعداءه ببره، ويحفظ من مات منهم في ذريته. وبهمّته وسياسته أزال الله تعالى أحكام الطائفة الإمامية من المدينة؛ فعُزلت قضاتهم، وانكسرت شوكتهم، وخمدت نارهم، وذلك أنه لما باشر الأحكام نيابة عن القاضي تقيّ الدّين الهوريني في سنة ست وأربعين وسبعمائة سعى في عَزل قُضاتهم؛ فنُودي في شوارع المدينة بتبطيل أحكامهم والإعراض عن حُكامهم، فكان ذلك أوّل أسباب قُوة أهل السّنة وعلو أمرهم، وكم له من حَسنات في تمهيد إعزاز السّنة
এবং আবদুল্লাহ ও আবদুস সালাম আল-কাজরুনী এবং ইবনুল আজমী আশ-শুওয়াইকী।

তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন, পাঠদান করেছেন এবং দ্বীনি উপকার সাধন করেছেন। মদীনা মুনাওয়ারায় নেতৃত্ব তাঁর কাছেই এসে পর্যবসিত হয়েছিল। তিনি পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে মালেকী মাযহাবের শিক্ষক এবং মসজিদে নববীতে জ্ঞানচর্চায় নিমগ্ন প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে অবস্থান করেন। জীবনের শেষ ভাগে তিনি 'উলুউত তরিক' বা উচ্চতর ইসনাদের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় হয়ে ওঠেন; ফলে সে সময় মদীনায় তাঁর চেয়ে অধিক বয়সের এবং উচ্চতর ইসনাদধারী আর কেউ ছিলেন না। তিনি হাদীস শ্রবণ ও জ্ঞানগত ব্যস্ততার ওপর অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন। তিনি ছিলেন আহলুস সুন্নাহর জন্য আশ্রয়স্থল; তিনি তাঁদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করতেন এবং আমীর ও আশরাফদের (অভিজাত শ্রেণি) মোকাবিলা করতেন। এর ফলে তাঁকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়; শেষ রাতে মসজিদে নববীর পথে তাঁকে ওত পেতে আক্রমণ করা হয় এবং তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রচণ্ডভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়। আল্লাহ তায়ালা সেই অনিষ্ট দূর করে দেন এবং তাঁকে আরোগ্য দান করেন।

ইয়া'মুরী বলেন: মদীনা মুনাওয়ারার মানুষের যাবতীয় বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি। তিনি প্রায় চব্বিশ বছর বিচারকের (কাজী) প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহরাবে কোনো কোনো সালাতে ইমামতি করেন। তাঁকে খতিব ও ইমামের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান করা হলেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মকামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দিন-রাত প্রচুর পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত করতেন, বিশেষ করে জীবনের শেষ দিকে। এমনকি হজের মৌসুমের দিনগুলোতেও আমি তাঁকে দেখেছি, যখন মানুষ তাদের ব্যস্ততার চরম শিখরে থাকত, তখনও তিনি তাঁর তেলাওয়াতের ওজীফায় নিমগ্ন থাকতেন, কোনো কিছুই তাঁকে তা থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। তিনি তাঁর শৈশব থেকেই সাধারণত রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ সালাত ও তেলাওয়াতের মাধ্যমে সজাগ রাখতেন, মৃত্যুশয্যায় শায়িত হওয়ার আগ পর্যন্ত—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন … তিনি হজের জন্য মক্কা মোকাররমা ব্যতীত মদীনা থেকে আর কোথাও বের হননি এবং মদীনাতেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন যার জন্য আল্লাহ তায়ালা ইলম, আমল, দুনিয়া ও দ্বীনকে একত্রিত করেছিলেন। তিনি মদীনার অধিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে সচ্ছল, সর্বাধিক ভূ-সম্পত্তির অধিকারী, সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তাঁর মর্যাদা ছিল সুউচ্চ, স্বভাব ছিল অত্যন্ত কোমল এবং তিনি ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল। তিনি কষ্টের ওপর ধৈর্যশীল ছিলেন, মন্দের বদলা ভালো দিয়ে দিতেন, তাঁর সুন্দর চরিত্র দিয়ে মানুষের মন জয় করতেন, দানের মাধ্যমে দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতেন এবং সদাচরণের মাধ্যমে শত্রুদের সাথেও সুসম্পর্ক রাখতেন, এমনকি তাঁদের মধ্যে যারা মারা যেত, তাদের সন্তানদেরও তিনি দেখাশোনা করতেন। তাঁর হিম্মত ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মদীনা থেকে ইমামীয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব ও বিধিবিধান দূর করেছিলেন। ফলে তাদের বিচারকদের বরখাস্ত করা হয়, তাদের দাপট চূর্ণ হয় এবং তাদের ফেতনার আগুন নির্বাপিত হয়। আর এটি এভাবে ঘটেছিল যে, যখন তিনি সাতশ ছেচল্লিশ হিজরীতে প্রধান বিচারক তাকিউদ্দীন আল-হাওরীনীর প্রতিনিধি হিসেবে বিচারকার্য পরিচালনা শুরু করেন, তখন তিনি ইমামীয়াদের বিচারকদের অপসারণের প্রচেষ্টা চালান। তখন মদীনার অলি-গলিতে তাদের বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত বাতিল এবং তাদের বিচারকদের বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এটিই ছিল আহলুস সুন্নাহর শক্তি সঞ্চার ও তাদের মর্যাদা সমুন্নত হওয়ার প্রথম সোপান। সুন্নাহর মর্যাদা ও পথ সুগম করতে তাঁর অনেক পুণ্যময় অবদান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وإخماد البدعة، نفعه الله بنيته، وتغمده برحمته.

 

‌‌مصنفاته:

الدر المخلص من التقصي والملخص، في الحديث. وشرحه في: كشف المغطى في شرح مختصر الموطأ، أربع مجلدات. كفاية الطلاب في شرح مختصر الجلاب. نهاية الغاية في شرح الآية. أسئلة وأجوبة على آيات من القرآن. التيسير في علمي البناء والتغيير، في النحو. المسالك الجلية في القواعد (الفوائد) العربية. شفاء الفؤاد في إعراب بانت سعاد. شرح قواعد الإعراب لابن هشام.

العدة في إعراب العمدة (وهو كتابنا هذا) في الحديث، أعربها إعرابًا جامعًا لوجوه الإعراب واللغة والاشتقاقات، وسلك فيه مسلكًا غريبًا لم يُسبق إلى مثله، وهو آخر ما ألّف، وقُرئ عليه (يسيرًا) مرارًا. وذكر البعض أنه مجلدان.

وله أيضًا: تاريخ المدينة "نصيحة المشاور وتغذية المجاور". وله نظم كثير، ختم تاريخه بعدة قصائد منه.

وكتبه كُلها في غاية الجودة والإتقان.

 

‌‌وفاته:

قال اليعمري: لما حجّ آخر حجّاته قال: "هذه حجّة الوداع"، فلما أحس بالمرض أمر بحفر قبره في بقعة مخصوصة، فظهر مقطع جص لم يدفن فيه أحد قبله، وأوصى أن يعتق عند قبره عبيد، وأن يتصدق على الفقراء بصدقة واسعة، وكتب وصيته بيده، وأخرج من ماله وصايا وتبرعات وصدقات وأوقافًا نحو ثلاثين ألفًا، ووقف على الفقراء فرنًا تُصرف غلته عليهم في كل يوم، وأعتق في حياته عدّة عبيد وإماء، وكان له خادم في الحرم تقرّب به لخدمة الضريح النبوي، وكان مطمئن النفس بلقاء الله عز وجل مُستحضرًا لما ينبغي استحضاره.

قال: ولما دخل في السياق ذكّرته؛ فقال: "ما أنا بغافل"، رحمه الله تعالى.
এবং বিদআত নির্মূল করা; আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়তের কারণে উপকৃত করুন এবং তাকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

আদ-দুররুল মুখাল্লাস মিনাত তাকাসসি ওয়াল মুখাল্লাস, হাদিস শাস্ত্রে। এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: কাশফুল মুগাত্তা ফি শারহি মুখতাসারিল মুয়াত্তা, চার খণ্ডে। কিফায়াতুত তুল্লাব ফি শারহি মুখতাসারিল জাল্লাব। নিহায়াতুল গায়া ফি শারহিল আয়াত। কুরআনের আয়াতসমূহের ওপর প্রশ্নোত্তর। আত-তায়সির ফি ইলমাই আল-বিনা ওয়া আত-তাগয়ির, নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে। আল-মাসালিকুল জালিয়া ফিল কাওয়ায়িদ (আল-ফাওয়াঈদ) আল-আরাবিয়্যাহ। শিফাউল ফুয়াদ ফি ই’রাবি বানাত সুয়াদ। ইবনে হিশামের কাওয়ায়িদুল ই’রাব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

আল-উদ্দাহ ফি ই’রাবিল উমদাহ (যা আমাদের এই বর্তমান কিতাবটি) হাদিস শাস্ত্রে; এতে তিনি বাক্য বিশ্লেষণ (ই’রাব), ভাষা ও শব্দতত্ত্বের বহুমুখী বিশ্লেষণ করেছেন এবং এতে এমন এক অনন্য পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যা তাঁর পূর্বে আর কেউ করেনি। এটি তাঁর জীবনের সর্বশেষ রচনা, যা তাঁর নিকট কয়েকবার (আংশিক) পাঠ করা হয়েছে। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে এটি দুই খণ্ডের।

তাঁর আরও রয়েছে: মদিনার ইতিহাস "নাসিহাতুল মুশাভির ওয়া তাগজিয়াতুল মুজাভির"। তাঁর প্রচুর কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, তিনি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থের সমাপ্তি টেনেছেন এর বেশ কিছু কাসিদার মাধ্যমে।

তাঁর সকল গ্রন্থই অত্যন্ত মানসম্মত এবং সুবিন্যস্ত।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

আল-ইয়া’মুরি বলেন: তিনি যখন তাঁর জীবনের শেষ হজ সম্পাদন করেন, তখন বলেছিলেন: "এটিই বিদায় হজ"। এরপর যখন তিনি অসুস্থতা অনুভব করলেন, তখন একটি বিশেষ স্থানে তাঁর কবর খননের নির্দেশ দিলেন। সেখানে চুনাপাথরের একটি খণ্ড দেখা গেল যেখানে তাঁর আগে কেউ সমাহিত হয়নি। তিনি ওসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর কবরের পাশে দাসদের মুক্ত করা হয় এবং দরিদ্রদের মাঝে ব্যাপকভাবে সদকা করা হয়। তিনি নিজ হাতে তাঁর ওসিয়তনামা লিখেছিলেন। তিনি তাঁর সম্পদ থেকে ওসিয়ত, অনুদান, সদকা ও ওয়াকফ বাবদ প্রায় ত্রিশ হাজার (মুদ্রা) বের করেন। তিনি দরিদ্রদের জন্য একটি রুটি তৈরির চুলা (তন্দুর) ওয়াকফ করেন যার উপার্জন প্রতিদিন তাদের জন্য ব্যয় করা হতো। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় বেশ কিছু দাস ও দাসীকে মুক্ত করেছিলেন। হারামে তাঁর একজন খাদেম ছিল যার মাধ্যমে তিনি নববী রওজার খেদমত করে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করতেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি প্রশান্ত চিত্ত ছিলেন এবং যা যা স্মরণ রাখা উচিত তা স্মরণ রাখতেন।

তিনি বলেন: যখন তিনি অন্তিম শয়ানে (মৃত্যু যন্ত্রণায়) ছিলেন, তখন আমি তাঁকে (আল্লাহর কথা) স্মরণ করিয়ে দিলাম; তিনি বললেন: "আমি গাফেল (অমনোযোগী) নই", আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ويشبه هذا الجواب ما وقع للشيخ تاج الدين الفاكهاني -لما حضرته الوفاة- قال صهره الفقيه ميمون: تشهدت بين يديه، ففتح الشيخ عينيه، وأنشد:

وغدا يذكرني عهودًا بالحمى … ومتى نسيت العهد حتى أذكرا؟

توفي رحمه الله يوم الجمعة عاشر ربيع الأخير سنة تسع وستين وسبعمائة. ودفن بمقبرتهم بالبقيع.

* * *
এই উত্তরটি শায়খ তাজউদ্দীন আল-ফাকিহানির ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তার অনুরূপ—যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল—তাঁর জামাতা ফকিহ মাইমুন বলেন: আমি তাঁর সম্মুখে শাহাদাহ পাঠ করছিলাম, তখন শায়খ তাঁর চোখ দুটি খুললেন এবং আবৃত্তি করলেন:

আগামীকাল তিনি আমাকে হিমার অঙ্গীকারসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবেন … অথচ আমি কখন সেই অঙ্গীকার ভুলেছিলাম যে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে?

তিনি আল্লাহ তাআলার রহমতে সাতশ ঊনসত্তর হিজরি সনের দশই রবিউস সানি শুক্রবার ইন্তেকাল করেন। এবং তাঁকে বাকী’ গোরস্তানে তাঁদের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌نبذة من ترجمه الإمام ابن قدامة (1)

هو الشيخ الإمام الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور بن رافع بن حسن بن جعفر الجماعيلي مولدًا، المقدسي مقامًا، الحنبلي مذهبًا.

ولد في عام 541 هـ، وكان سنّه في سن الإمام المشهور "الموفق بن قدامة"، وبينهما صحبة وزمالة في الدراسة، إلا أنّ "الموفق" يميل إلى الفقه، والمؤلف يميل إلى الحديث.

رحلا جميعًا إلى "بغداد" لطلب العلم، فلقيا بها أفاضل العلماء، فأخذا عنهم. ومن مشايخهما في بغداد: الشيخ "عبد القادر الجيلاني" و"ابن المنى"، وكان المترجم له رحمه الله جوالًا في طلب العلم، رحالًا إليه؛ فدخل مصر ثم أصبهان، ثم رجع إلى دمشق، ولقي في هذه البلاد كبار العلماء، فقرأ عليهم، وأخذ عنهم، وباحثهم. فلما استقر به التسيار في "دمشق" عكف على التدريس والتأليف والنّسخ والعبادة.

وقد ذكر "ابن رجب" ثناء العُلماء عليه، وحفظه لمتون الأحاديث وأسانيدها، حتى لقبه بـ "أمير المؤمنين في الحديث". ثم وصفه بالعبادة والورع وحُسن العقيدة، لاقتفائه آثار السلف الصالح.

ووصفه "الموفق" بأنه رفيقه في العبادة، فقال: "ما كنا نستبق إلى خير إلا سبقني إليه، إلا القليل".

له من المصنفات ما يزيد على أربعين مصنفًا، في الحديث، والتوحيد، والفقه، والمواعظ، والأخلاق. والأخبار، منها: الكمَال في معرفة رِجَال الكتب الستة، الجامع الصغير في الأحكام، اليَواقيت، المصباح في عيون الأحاديث الصِّحاحِ (مستخرج

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء (21/ 443)، تاريخ الإسلام (12/ 1203)، الأعلام للزركلي (4/ 34).
ইমাম ইবনে কুদামার জীবনীর একটি সংক্ষিপ্ত সার (১)

তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, হাফিজ আব্দুল গনি ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আলী ইবন সুরূর ইবন রাফে' ইবন হাসান ইবন জাফর; জন্মসূত্রে জামাঈলী, আবাসস্থলে মাকদিসী এবং মাযহাবে হাম্বলী।

তিনি ৫৪১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার বয়স ছিল প্রসিদ্ধ ইমাম "আল-মুওয়াফফাক ইবনে কুদামা"-র সমসাময়িক। তাদের মধ্যে শিক্ষা জীবনে বন্ধুত্ব ও সহপাঠী সম্পর্ক ছিল; তবে "মুওয়াফফাক" ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি এবং লেখক হাদীস শাস্ত্রের প্রতি অনুরাগী ছিলেন।

তারা দুজনেই ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে "বাগদাদ" সফর করেন এবং সেখানে শ্রেষ্ঠ আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও তাদের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করেন। বাগদাদে তাদের শাইখদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন: শাইখ "আব্দুল কাদির জিলানী" এবং "ইবনুল মুনা"। যার জীবনী বর্ণিত হচ্ছে (রহিমাহুল্লাহ), তিনি ইলম অন্বেষণে প্রচুর ভ্রমণকারী ও পর্যটক ছিলেন। তিনি মিসর এবং এরপর আসফাহানে যান, অতঃপর দামেস্কে ফিরে আসেন। এই দেশগুলোতে তিনি বড় বড় আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, তাদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাদের সাথে আলোচনা-গবেষণা করেন। যখন তার সফর দামেস্কে স্থিতু হলো, তখন তিনি অধ্যাপনা, গ্রন্থ রচনা, পাণ্ডুলিপি অনুলিপি এবং ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন।

"ইবনে রজব" তার সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা এবং হাদীসের মূল পাঠ ও সনদ মুখস্থ রাখার বিষয়ে আলোচনা করেছেন, এমনকি তাকে "হাদীস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন" উপাধিতে ভূষিত করেছেন। এরপর তিনি তাকে ইবাদতগুজার, পরহেযগার এবং সঠিক আকিদার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তিনি সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন।

"মুওয়াফফাক" তাকে ইবাদতের সাথী হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন: "আমরা যখনই কোনো কল্যাণের পথে প্রতিযোগিতায় নামতাম, খুব সামান্য ক্ষেত্র ব্যতীত তিনি সর্বদাই আমার আগে চলে যেতেন।"

হাদীস, তাওহীদ, ফিকহ, ওয়াজ-নসিহত, আখলাক এবং ইতিহাস বিষয়ে তার চল্লিশটিরও বেশি গ্রন্থ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-কামাল ফী মা'রিফাতি রিজালিল কুতুবিস সিত্তাহ, আল-জামি'উস সাগির ফিল আহকাম, আল-ইয়াওয়াকিত, আল-মিসবাহ ফী উয়ুনিল আহাদিসিস সিহাহ (মুস্তাখরাজ...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (২১/ ৪৪৩), তারিখুল ইসলাম (১২/ ১২০৩), আল-আ'লাম লিজ-যিরিকলী (৪/ ৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
على الصحيحين)، ذمّ الغِيبَة، فضائل مكَّة، الآثار المرضية في فضائل خير البرية.

وتوفي-رحمه الله يوم الاثنين، الثالث والعشرين من شهر ربيع الأوّل من سنة ستمائة، فرحم الله الشيخ رحمة واسعة، آمين.

***
সহীহদ্বয়ের উপর), পরনিন্দার নিন্দা, মক্কার ফযীলতসমূহ, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার ফযীলত বর্ণনায় সন্তোষজনক আসারসমূহ।

আর তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—ছয়শত হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের তেইশ তারিখ সোমবার ইন্তেকাল করেন। সুতরাং আল্লাহ শায়খকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন, আমীন।

***
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌وصف النسختين الخطيتين

اعتدنا في تحقيق هذا الكتاب القيم على نسختين:

 

‌‌النسخة الأولى:

وهي مصوّرة النسخة العتيقة المحفوظة بدار الكتب المصرية، مجلد، تحت رقم (395) حديث. وتقع في 238 لوحة، ومسطرتها مختلفة (27: 34) سطر، من القطع الكبير، (19) كلمة بالسطر. وتميزت بخط جميل، واستخدم المداد الأحمر للعناوين وللفظ "قوله". وقد تأثر المخطوط بعوامل الزمن وسوء الحفظ؛ فتمزق وقطع منه بعض جوانب الأوراق في أوله وفي آخره، بالإضافة لتأثره بالرطوبة والتخريم في مواضع كثيرة.

وقد خلت النسخة تقريبًا من النقط والشكل. واستعمل ناسخها الخط الأفقي المائل بالأحمر فوق الكلمة كعلامة إسقاط أو حذف، والخط الأفقي الأسود باتجاه السقط له، واستعمل "م م" كعلامة التقديم والتأخير، وكتب الكاف كاللام المائلة يسارًا، وأمال الألف بكتابتها ياء في بعض المواضع.

وهي نسخة منقولة من نسخة المصنف أو من نسخة قرئت عليه، ويتضح من الهامش أنها قوبلت على نُسخة لعلها نُسخة المصنف، وأضيف إليها ورقة كتب بها سقط بمقدارها بخط مغاير. وبرغم هذا تعاني النسخة من سقط مؤثر في مواضع. وبغلافها كتب عنوان الكتاب "العدة في إعراب العمدة"، وكتب: "وقف لله تعالى بالمدرسة الباسطية"، وكتب "45 شافعي عبد الباسط"، وكتب عليه أيضًا ترجمتين، الأولى ظن كاتبها أنها لابن فرحون، والثانية لأخيه محمد، نقلهما من "الضوء اللامع" (1)، وصدّرها كاتبها بـ "قال العم"، وبعض الترجمة وآخرها غير واضح، ثم

--------------------------------------------

(1) انظر: الضوء اللامع (5/ 55)، (9/ 127).
পাণ্ডুলিপি দুটির বর্ণনা

এই মূল্যবান গ্রন্থটির সম্পাদনায় আমরা দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

 

‌‌প্রথম পাণ্ডুলিপি:

এটি মিশরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া'-তে সংরক্ষিত প্রাচীন পাণ্ডুলিপির একটি ছায়ালিপি, যা এক খণ্ডে সমাপ্ত এবং হাদিস বিভাগে ৩৯৫ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত। এটি ২৩৮টি পাতায় বিন্যস্ত, এর পৃষ্ঠা প্রতি লাইন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন (২৭ থেকে ৩৪ লাইন), এটি বড় আকারের এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১৯টি শব্দ রয়েছে। এটি সুন্দর হস্তাক্ষরের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; শিরোনামসমূহ এবং "কওলুহু" (তাঁর বাণী) শব্দটির জন্য লাল কালি ব্যবহার করা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি সময়ের বিবর্তন ও ত্রুটিপূর্ণ সংরক্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ফলে এর শুরু ও শেষের দিকে কাগজের কিছু পাশ ছিঁড়ে ও কেটে গেছে। এর পাশাপাশি অনেক স্থানে এটি আর্দ্রতা ও ছিদ্র দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

পাণ্ডুলিপিটি প্রায় নুকতা (বিন্দু) এবং হরকত (স্বরচিহ্ন) বিহীন। এর লিপিকার কোনো শব্দ বাদ দেওয়া বা মুছে ফেলার চিহ্ন হিসেবে শব্দের উপরে লাল রঙের একটি বাঁকানো সমান্তরাল রেখা ব্যবহার করেছেন এবং বাদ পড়া অংশের দিকে নির্দেশ করতে কালো রঙের একটি সমান্তরাল রেখা ব্যবহার করেছেন। তিনি কোনো শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ (আগে-পিছে) বোঝানোর চিহ্ন হিসেবে "মিম মিম" ব্যবহার করেছেন, 'কাফ' অক্ষরটিকে বাম দিকে হেলানো 'লাম'-এর মতো লিখেছেন এবং কিছু স্থানে 'আলিফ'-কে 'ইয়া' আকারে লিখে বাঁকিয়ে দিয়েছেন।

এটি গ্রন্থকারের মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অথবা তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এমন কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে। পার্শ্বটীকা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি সম্ভবত গ্রন্থকারের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এতে একটি পৃষ্ঠা সংযুক্ত করা হয়েছে যেখানে ভিন্ন হস্তাক্ষরে সমপরিমাণ বাদ পড়া অংশ লিখে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও, পাণ্ডুলিপিটি কিছু স্থানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়ার সমস্যায় ভুগছে। এর মলাটে বইটির শিরোনাম লেখা রয়েছে "আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ", এবং আরও লেখা আছে: "আল-মাদরাসাতুল বাসিতিয়া-তে মহান আল্লাহর জন্য ওয়াকফকৃত", আরও লেখা আছে "৪৫ শাফেয়ী আব্দুল বাসিত"। এর ওপর দুটি জীবনীও লেখা রয়েছে; প্রথমটির লেখক ধারণা করেছিলেন যে এটি ইবনে ফারহুনের জীবনী, আর দ্বিতীয়টি তাঁর ভাই মুহাম্মাদের। লেখক এই দুটি জীবনী "আদ-দাও আল-লামি" (১) থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর শুরুতে "চাচা বলেছেন" কথাটি যোগ করেছেন। জীবনীর কিছু অংশ এবং এর শেষ দিকটি অস্পষ্ট, অতঃপর

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদ-দাও আল-লামি (৫/ ৫৫), (৯/ ১২৭)।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ظهر لي أن الأولى ترجمة حفيد ابن فرحون، واسمه أيضًا "عبد الله بن محمد"، والثانية لأخيه الحفيد الآخر.

ولم يتضح لنا زمن نسخ هذه النسخة، إلا أنها قديمة، وقد سجل ناسخها نقلًا عن خط ابن فرحون أنها قرئت عليه سنة 766 هـ، قرأها عليه الشيخ تاج الدين عبد الواحد بن الشيخ عمر المرحوم (الخراز) بحضور الشيخين الإمامين شمس الدين أبي عبد الله محمد بن أحمد بن علي المعروف بابن جابر الأندلسي، وشهاب الدين أبي جعفر أحمد بن يوسف بن مالك الرعيني الأندلسي.

وإذا أردنا تقريب زمان كتابتها قلنا إنّ "المدرسة الباسطية" تذكر المصادر أنه قد أنشاها ناظر الجيوش وعزيز المملكة القاضي عبد الباسط بن خليل بن إبرا هيم (ت 854 هـ) بالمدينة المنورة سنة بضع وأربعين وثمانمائة، وهي الآن "مدرسة البنات الإسلامية"، فتاريخ نَسخها مُقارب لهذا التاريخ، وتذكر المصادر أنّ له مدرسة بمكة والقدس وغيرهما أيضًا. ويؤكّد ما قلناه أن القسطلاني (ت 923 هـ، وقد جاور مرتين بمكة) (1) نقل في "إرشاد الساري" من نُسخة من "العُدّة" نظن من خلال المقارنة لمواضع السقط والخرم بين "العدة" والإرشاد أنها هي هذه النسخة.

 

‌‌النسخه الثانية:

وهي مصوّرة من النسخة المحفوظة بدار الكتب المصرية تحت رقم (19439). وتقع في مجلدين، (619) لوحة، ومسطرتها (21) سطر، (10) كلمات بالسطر. وهي بخط نسخ جيد.

وهذه النسخة نُسخت على نفقة دار الكتب المصرية، بواسطة محمد أحمد فتح

--------------------------------------------

(1) راجع فيما سبق: الضوء اللامع (2/ 103)، وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى للسمهودي (2/ 238)، البدر الطالع للشوكاني (1/ 102، 315 وما بعدها)، خطط الشام (6/ 119، 120، 131)، الأعلام (3/ 270).
আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রথমটি ইবনে ফারহুনের নাতির জীবনী, যার নামও "আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ", এবং দ্বিতীয়টি তার অন্য নাতির (ভাইয়ের)।

এই পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করার সময়কাল আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়, তবে এটি প্রাচীন। এর অনুলিপিকারক ইবনে ফারহুনের হস্তলিপি থেকে উদ্ধৃত করে লিপিবদ্ধ করেছেন যে, ৭৬৬ হিজরি সনে এটি তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল। শায়খ তাজউদ্দীন আবদুল ওয়াহিদ বিন শায়খ উমর মরহুম (আল-খাররাজ) এটি তাঁর সামনে পাঠ করেছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত ছিলেন দুই ইমাম—শামসুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আলী, যিনি ইবনে জাবির আল-আন্দালুসী নামে পরিচিত, এবং শিহাবুদ্দীন আবু জাফর আহমাদ বিন ইউসুফ বিন মালিক আল-রুয়াইনী আল-আন্দালুসী।

আমরা যদি এটি রচনার সময়কাল অনুমান করতে চাই, তবে বলব যে, সূত্রগুলোতে উল্লেখ আছে যে "মাদরাসা আল-বাসিতিয়া" প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেনাবাহিনীর পরিদর্শক এবং রাষ্ট্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কাজী আবদুল বাসিত বিন খলীল বিন ইবরাহীম (মৃত্যু ৮৫৪ হি.) মদিনা মুনাওয়ারায় আটশত চল্লিশের কোঠার কোনো এক বছরে। এটি বর্তমানে "মাদরাসাতুল বানাত আল-ইসলামিয়া" (ইসলামি বালিকা বিদ্যালয়) নামে পরিচিত। সুতরাং, এর অনুলিপি করার তারিখ এই সময়ের কাছাকাছি। সূত্রসমূহ আরও উল্লেখ করে যে, মক্কা, কুদস এবং অন্যান্য স্থানেও তাঁর মাদরাসা ছিল। আমাদের এই বক্তব্যকে আরও জোরালো করে যে, আল-কাসতাল্লানি (মৃত্যু ৯২৩ হি., যিনি মক্কায় দুইবার অবস্থান করেছিলেন) (১) তাঁর "ইরশাদুস সারী" গ্রন্থে "আল-উদ্দাহ" এর একটি পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। "আল-উদ্দাহ" এবং "ইরশাদ" এর মধ্যকার বাদ পড়া ও অসম্পূর্ণ অংশগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা মনে করি যে, এটিই সেই পাণ্ডুলিপি।

 

‌‌দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি:

এটি মিসরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-তে ১৯৪৩৯ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির একটি ছায়ালিপি। এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত, যাতে ৬১৯টি পত্র রয়েছে। এর প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি সারি এবং প্রতি সারিতে ১০টি করে শব্দ আছে। এটি চমৎকার নাসখ লিপিতে লিখিত।

এই পাণ্ডুলিপিটি 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-এর অর্থায়নে মুহাম্মদ আহমাদ ফাতহ-এর মাধ্যমে অনুলিপি করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) পূর্বে দেখুন: আদ-দাও আল-লামি (২/১০৩), আস-সামহুদীর ওফাউল ওফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা (২/২৩৮), আশ-শাওকানির আল-বাদরুত তালি (১/১০২, ৩১৫ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো), খিতাতুশ শাম (৬/১১৯, ১২০, ১৩১), আল-আ'লাম (৩/২৭০)।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الله، من النسخة الخطيّة "الأولى" المحفوظة بها، وقد استفدنا منها كثيرًا، فقد يسرت قراءة بعض المواضع؛ ذلك أنها نُسخت -نظن- قبل أن تزداد حالة النسخة الأصل سوءًا، إلا أنّ الناسخ قد أشكل عليه مواضع كثيرة أيضًا فبيض لها.

ولا بُد هنا أن ننبّه على مدى أهمية النسخ المساعدة المتمثلة في المصادر التي أخذ عنها المصنف أو أخذت عنه، ولو بدون إشارة، ومنها هنا على سبيل المثال: البحر المحيط، إحكام الأحكام، رياض الأفهام، شواهد التوضيح، النهاية، مغني اللبيب، أوضح المسالك، الصّحاح، عقود الزبرجد، إرشاد السّاري.

* * *
আল্লাহ, এতে সংরক্ষিত "প্রথম" পাণ্ডুলিপি থেকে; আমরা এটি থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি, কারণ এটি কিছু স্থানের পাঠোদ্ধার করা সহজতর করে দিয়েছে। এর কারণ হলো এটি অনুলিপি করা হয়েছিল—আমাদের ধারণা—মূল পাণ্ডুলিপির অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার পূর্বেই। তবে অনুলিপিকারীর নিকট অনেক স্থান অস্পষ্ট ঠেকেছে, ফলে তিনি সেগুলো ফাঁকা রেখে দিয়েছেন।

এখানে সহায়ক অনুলিপিগুলোর গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক, যা সেই সকল উৎসের মাঝে বিদ্যমান যেখান থেকে গ্রন্থকার গ্রহণ করেছেন অথবা যেগুলো তার থেকে গ্রহণ করেছে, যদিও কোনো উল্লেখ ছাড়াই। উদাহরণস্বরূপ এগুলোর মধ্যে রয়েছে: আল-বাহরুল মুহিত, ইহকামুল আহকাম, রিয়াযুল আফহাম, শাওয়াহিদুল তাওযীহ, আন-নিহায়াহ, মুগনী আল-লাবীব, আওযাহুল মাসালিক, আস-সিহাহ, উকুযুয যাবারজাদ, ইরশাদুস সারী।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌منهجُ العَمل في الكِتَاب

اتّبعنا في عَملنا في هذا الكِتَاب المنهج والخطوات التالية: -

1 - اعتمدنا النّسخة رقم (395) حديث أصلًا للعمل، ورَمَزنا لها بـ "الأصل". ورَمزنا للنّسخة الأخرى الحديثة رقم (19439) بالحرف (ب).

2 - قُمنا أولًا بنَسْخ النّسخة (ب)؛ لسهولة النّسْخ والقراءة منها، ثُم المُقابلة بالأصل. مع مقابلة النصوص المُقتبسة على مصادرها وكُتب أخرى.

3 - أهملنا ذكْر فروق النسخة (ب)، في غير المواضع التي يُحتاج فيها إليها؛ نظرًا لأنها منسوخة أساسًا من النسخة "الأصل".

4 - تم الضّبط بالشّكْل لما يُشكِل، وللقِراءات والأحاديث والشّعر، غالبًا.

5 - تمييز الكَلمة أو العبارة التي عَلق عليها الشّيخ ابن فرحون، مع قوسين.

6 - السّقط اليقين نُثبته بالصّلب، مع بيان مصدره.

7 - التصحيف والتحريف وما كان طَريقة ناسِخ -كما في إمالة ناسخ "الأصل" الألِف وكتابتها "ياء" في بعض المواضع- نُثبت صَوابه بالصّلب، مع التنبيه بالهامش، وذكْر المصدَر. وهذا فيما تُيقّن وقوعُ الخطأ فيه.

8 - إذا وجدت كَلمة أو أكثر مطموسة أو غير مقروءة أو غير واضحة بالأصل بالنسبة لنا، نُثبتها من النسخة (ب) إن كان لمَا فيها وجْه، وإلّا قارَبْنَا مع الاستعانة بالمصادر أو نظير المسألة بموضع آخر، وإلّا وضعنا نقاطًا بين قوسين [ … ]، مع التنبيه بالهامش في كُلّ هذه الحالات.

9 - في مواضع الخرم أو الكشط أو القَطع: إنْ تبيّن لنا من خلال النسخة (ب) أو المصادر أو النظير أو متن "عمدة الأحكام" ما يدلّ على هذا الموضع أثبتناه أو بعضه في حدود عَدَد الكَلمات المفقودة تقريبًا، وإلّا وضعنا بهذا الموضع نقاطًا بين
‌গ্রন্থে সম্পাদনার কর্মপদ্ধতি

এই গ্রন্থে আমাদের কাজের ক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত পদ্ধতি ও ধাপসমূহ অনুসরণ করেছি: -

১ - আমরা আমাদের কাজের ভিত্তি হিসেবে ৩৯৫ নম্বর (হাদীস) পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করেছি এবং সেটিকে "মূল পাণ্ডুলিপি" হিসেবে চিহ্নিত করেছি। আর ১৯৪৩৯ নম্বর আধুনিক অন্য পাণ্ডুলিপিটিকে (খ) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

২ - আমরা প্রথমে (খ) পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছি; কারণ এটি থেকে অনুলিপি করা ও পাঠ করা সহজ ছিল, এরপর সেটিকে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছি। সেই সাথে উদ্ধৃত পাঠসমূহ সেগুলোর মূল উৎস ও অন্যান্য গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

৩ - আমরা (খ) পাণ্ডুলিপির পাঠান্তরসমূহ উল্লেখ করা বর্জন করেছি, কেবল সেই স্থানগুলো ছাড়া যেখানে সেটির প্রয়োজন ছিল; যেহেতু এটি মূলত "মূল পাণ্ডুলিপি" থেকেই অনুলিপি করা হয়েছে।

৪ - অস্পষ্ট শব্দসমূহে এবং সাধারণত কিরাত, হাদীস ও কবিতার ক্ষেত্রে হরকত (যের-যবর-পেশ) প্রদান করা হয়েছে।

৫ - শায়খ ইবনুল ফারহুন যে শব্দ বা বাক্যের ওপর মন্তব্য করেছেন, সেগুলোকে বন্ধনী দিয়ে পৃথক করা হয়েছে।

৬ - নিশ্চিতভাবে বাদ পড়া অংশসমূহ আমরা মূল পাঠে স্থাপন করেছি এবং সেটির উৎস বর্ণনা করেছি।

৭ - লিপিকারের ভুল, বিকৃতি এবং লিপিকারের নিজস্ব লিখনরীতি—যেমন "মূল" পাণ্ডুলিপির লিপিকার কর্তৃক কিছু স্থানে আলিফকে ইমালা করে (বাঁকিয়ে) 'ইয়া' হিসেবে লেখা—সেক্ষেত্রে আমরা সঠিক রূপটি মূল পাঠে বহাল রেখেছি এবং টীকায় সে বিষয়ে সতর্ক করে উৎস উল্লেখ করেছি। এটি কেবল সেই সব ক্ষেত্রে করা হয়েছে যেখানে ভুল হওয়াটি নিশ্চিত।

৮ - যদি এক বা একাধিক শব্দ আমাদের নিকট মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট, অপাঠ্য বা মুছে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে (খ) পাণ্ডুলিপিতে যদি সেটি গ্রহণযোগ্য হয় তবে সেখান থেকে আমরা তা গ্রহণ করেছি। অন্যথায় উৎসসমূহ বা অন্য কোনো স্থানে অনুরূপ বিষয়ের সাহায্যে আমরা কাছাকাছি পাঠ নির্ধারণ করেছি। তা সম্ভব না হলে বন্ধনীর মাঝে ডট চিহ্ন [ … ] প্রদান করেছি এবং এই সকল ক্ষেত্রে টীকায় সতর্ক করে দিয়েছি।

৯ - পাণ্ডুলিপির ছিন্ন, ঘষামাজা বা কাটা অংশের ক্ষেত্রে: যদি (খ) পাণ্ডুলিপি, উৎসসমূহ, অনুরূপ দৃষ্টান্ত বা "উমদাতুল আহকাম"-এর মূল পাঠের মাধ্যমে সেই স্থানটি সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায়, তবে হারানো শব্দের সংখ্যার কাছাকাছি অনুমান করে আমরা তা বা তার অংশবিশেষ স্থাপন করেছি। অন্যথায় সেই স্থানে ডট চিহ্ন ব্যবহার করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
قوسين [ … ]، مع التنبيه في كُلّ هذه الحالات بالهامش، وبيان قَدْره وعَدَده.

10 - قمنا بإصلاح الأخطاء النّحوية التي ليس لها وَجْه بأصل الكتاب، مع الإشارة غالبًا. وما كَان له وَجْه أو اشتبه علينا أبقيناه مع الإشارة.

11 - التنبيه بـ "كذا بالنسخ" على المواضِع المُشكلة أو المُغلَقة، غالبًا.

12 - سقط من النسخ بعض عناوين أبواب أو كُتب أو ترقيم أحاديث، فكنا نُضيفها، مع تغيير ما يلزم من أرقام الأحاديث بعدَها، وقد سَاعدنا الفهرس الذي وضعه ابن فرحون في ضبط هذه الأمور كثيرًا، وفي استكمال الإحالات.

13 - ألحَقنا بالصُّلب أرقام لوحات النسخة "الأصل"، هكذا [ق 9] مثلًا.

14 - تم ترقيم أحاديث متن "عُمدة الأحكام" بتسلسل، مع تشكيل هذه الأحاديث بالحرَكَات، وتمييزها، وفصلها بخَط أفقي عن الشّرح والإعراب. وقد راعينا في إثبات ألفاظ المتن ما شرح عليه ابن فرحون، مع المقارنة بنُسَخ "العُمدة" المطبوعة الأخرى. وقد تمّ إثبات ما أسقَطه ابن فرحون من أحاديث أو سقط بنُسخته ولم يشرح عليه، دون أن يكون لهذا تأثير على ترقيمه للأحاديث المهم بالنسبة للإحالات، مع الإشارة بالهامش.

15 - تمّ وضع الآيات الواردة بالإعراب كقراءة، بين قوسين " "، مع تمييزها وتشكيلها، وتخريجها بالهامش، مع تخريج القراءة.

16 - تخريج الأحاديث والرّوايات والآثار باختصار، والحُكم إنْ وجد.

17 - عزو الأبيات لقائلها إنْ جُهل، وذكر بَحْرها وبَقيّتها، وبيان الغَريب والرّوايات والشّاهد أحيانًا. مع مُلاحظة أنّ بعض أبيات الرجز تتوسّط السّطر.

17 - روعي في التعليق على النصّ أن يكُون على ما يَلزَم، وبقدْر الحاجَة، وفي أضيق الحُدود، كسَهْو الشّارح وإيضاح مُجمَل.

18 - توثيق المسَائل النّحوية واللغوية من مصادرها، مع حصر جوانبها، كُلّ
বন্ধনী [ … ], এবং এই প্রতিটি ক্ষেত্রে টীকায় সতর্ক করা হয়েছে এবং এর পরিমাণ ও সংখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে।

১০ - আমরা ঐ সকল ব্যাকরণগত ভুল সংশোধন করেছি যার মূল গ্রন্থে কোনো ভিত্তি নেই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নির্দেশ করা হয়েছে। আর যেটির ভিত্তি রয়েছে বা আমাদের কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে, তা নির্দেশনাসহ বহাল রেখেছি।

১১ - অধিকাংশ ক্ষেত্রে জটিল বা অস্পষ্ট স্থানগুলোতে "পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে" বলে সতর্ক করা হয়েছে।

১২ - পাণ্ডুলিপি থেকে কিছু অধ্যায় বা কিতাবের শিরোনাম অথবা হাদিসের ক্রমিক নম্বর বাদ পড়েছিল, আমরা সেগুলো যুক্ত করেছি এবং পরবর্তী হাদিস নম্বরগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করেছি। এ বিষয়গুলো ঠিক করতে এবং উদ্ধৃতিগুলো পূর্ণ করতে ইবনে ফারহুন কর্তৃক প্রণীত সূচিপত্র আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।

১৩ - আমরা মূল পাঠের সাথে "মূল" পাণ্ডুলিপির পাতা নম্বর সংযুক্ত করেছি, যেমন: [পৃষ্ঠা ৯]।

১৪ - 'উমদাতুল আহকাম'-এর মূল পাঠের হাদিসগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে, হাদিসগুলোতে হরকত প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোকে স্বতন্ত্র করা হয়েছে এবং একটি আড়াআড়ি রেখা দ্বারা ব্যাখ্যা ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ থেকে পৃথক করা হয়েছে। মূল পাঠের শব্দগুলো সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইবনে ফারহুন যা ব্যাখ্যা করেছেন আমরা তা অনুসরণ করেছি এবং 'উমদাহ'-এর অন্যান্য মুদ্রিত কপির সাথে তুলনা করেছি। ইবনে ফারহুন যে সকল হাদিস বাদ দিয়েছেন অথবা তাঁর পাণ্ডুলিপিতে ছিল না এবং তিনি ব্যাখ্যা করেননি, সেগুলোও সাব্যস্ত করা হয়েছে; তবে তা রেফারেন্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের ক্রমিক নম্বরের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং টীকায় তা নির্দেশ করা হয়েছে।

১৫ - ব্যাকরণগত বিশ্লেষণে কিরাত হিসেবে আসা আয়াতগুলোকে উদ্ধৃতি চিহ্নের " " মাঝে রাখা হয়েছে, সেগুলোকে স্বতন্ত্র করা হয়েছে, হরকত দেওয়া হয়েছে এবং টীকায় আয়াত ও কিরাতের উৎস উল্লেখ করা হয়েছে।

১৬ - হাদিস, বর্ণনা ও আসারসমূহ সংক্ষেপে তথ্যসূত্রসহ উল্লেখ করা হয়েছে এবং হুকুম পাওয়া গেলে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৭ - কবি অজ্ঞাত থাকলে কাব্য পঙক্তিগুলো রচয়িতার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, এর ছন্দ ও অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করা হয়েছে এবং মাঝে মাঝে অপরিচিত শব্দ, বর্ণনা ও প্রমাণাদি বর্ণনা করা হয়েছে। এটিও লক্ষণীয় যে, কিছু রাজায পঙক্তি লাইনের মাঝখানে রাখা হয়েছে।

১৭ - মূল পাঠের ওপর টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যেন তা কেবল প্রয়োজনীয় বিষয় পর্যন্ত, প্রয়োজন অনুযায়ী এবং অতি সীমিত পরিসরে হয়; যেমন ব্যাখ্যাকারীর বিচ্যুতি সংশোধন বা অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা।

১৮ - ব্যাকরণগত ও ভাষাগত বিষয়গুলো তাদের মূল উৎস থেকে যাচাই করা হয়েছে এবং সেগুলোর সকল দিককে পরিবেষ্টিত করা হয়েছে, প্রতিটি
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ذلك بحسب الجهد والطّاقة. ونظرًا لتكرار بعض المسَائل: قد يُلاحِظ القَارئ التوسّع في مصادر التوثيق بمواضع، والتخفّف منها في أخرى.

19 - راعينا تقديم الأقْدَس والأهَمّ والأقْدَم غالبًا بترتيب مَراجِع الهوامش.

20 - تم عَمل فَهارس للآيات الوارِدَة بالكِتاب، ثُم لأحاديث متن "عُمدة الأحكام"، ثُم للشّعر، ثم للمَصادر، وأخيرًا للموضُوعات.

ونرجُو من الله تعالى أن نكُون قد التزمنا بهذا المنهج الموضوع، وأن يغفر لنا ما أخطأنا فيه، وأنْ يعذُرنا القارئ الكريم على التقصير. والله ولي التوفيق.

* * *
এটি প্রচেষ্টা ও সক্ষমতা অনুযায়ী করা হয়েছে। আর কিছু বিষয়ের পুনরাবৃত্তির কারণে: পাঠক কোনো কোনো স্থানে তথ্যসূত্র ও প্রামাণ্যকরণের বিস্তারিত বিবরণ এবং অন্য স্থানে এর সংক্ষিপ্ত রূপ লক্ষ্য করতে পারেন।

১৯ - আমরা পাদটীকার তথ্যসূত্র বিন্যাসের ক্ষেত্রে সাধারণত সর্বাধিক পবিত্র, গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীন বিষয়গুলোকে আগে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করেছি।

২০ - গ্রন্থে উল্লিখিত আয়াতসমূহের সূচি তৈরি করা হয়েছে, এরপর "উমদাতুল আহকাম" মূল পাঠের হাদিসসমূহ, এরপর কবিতা, এরপর উৎসগ্রন্থ এবং সবশেষে বিষয়ভিত্তিক সূচি প্রস্তুত করা হয়েছে।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট আশা করি যে, আমরা এই নির্ধারিত কর্মপদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পেরেছি। আমাদের ভুলত্রুটিগুলো যেন তিনি ক্ষমা করেন এবং সম্মানিত পাঠক যেন আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
نماذج من صور المخطوط

 

نماذج من النسخة الأصل
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহের নমুনা

 

মূল পাণ্ডুলিপির নমুনা
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
غلاف النسخة (ب) والورقة الأولي منها
পাণ্ডুলিপি (খ)-এর প্রচ্ছদ এবং এর প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم صَلِّ على سَيدنا مُحمّد وعلى آل [سَيّدنا] (1) مُحمّد وسَلِّم تسليمًا كثيرًا.

الحمْدُ لله الذي يَسَّر لهذه الأمّة المحَمَّدية هَذه القَوانين النَّحوية، وأمَدّها من السُّنة بطُول عَنانها، ومن الكتاب [العَزيز] (2) بحَدّ سنانها، ونثَر نُجُومَ سَعْدها على كُلِّ العُلوم مِن قبلها ومِن بَعْدها، فمنها يَستمِدّ كُلّ عَالم ومُجتَهِد، [وبها] (3) يستضيء كُلّ أعشى ورمد. وأُصَلّي على مُحمّد الرّفيق الشَّفيق، صَلاةً أهْتَدي بها سَواء الطّريق.

وبَعْدُ:

فهذه لَوَامِع تنفّست الصّعدَاء فأشْرَقَت، [وبالغَرَائب] (4) أبرَقَت، وبفَرائد الفَوائد أمْطَرَت، ولطالبي المَعَاني هُذّبَت وقرّبت.

ولمّا كان كتاب "العُمْدَة في الأحْكام" من المصَنّفات المبرَمَة [الأحْكام] (5)، وكَان أهْلُ زَمَاننا قد أمّوا قِبْلتها وما استقلّوا عدّتها، فلذلك شَملتهم برَكَتها، فوَصَلوا بها إلى حَقائق الاستدلال، ومَيّزوا بها ما هو حَرامٌ وحَلالٌ، أرَدْتُ أنْ أزيدهم فيها رَغْبة، وأسقيهم من عَذْب بَحْر النّحو شَرْبَة؛ فبإعْرابها تتبيّن مَعَانيها، وتتأسّس قَواعِد مَبانيها.

وقد أثبَتُّ في آخِر هَذا التأليف تنبيهاتٍ يُحتَاج إليها في جَميع الأبْوَاب، تَكُون كالمَدْخَل بين يَدَيه، وإعَانَة على الوصُول إليه، وبه يجتمِع جَميع جُمل الفَوائِد، بحَوْل الله الجميل العَوائِد.

--------------------------------------------

(1) من (ب).

(2) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(3) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(4) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(5) في (ب): "الاحترام".
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং [আমাদের নেতা] (১) মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই মুহাম্মাদী উম্মতের জন্য নাহু (ব্যাকরণ)-এর এই নিয়মাবলি সহজ করে দিয়েছেন এবং সুন্নাহর মাধ্যমে একে প্রশস্ততা দান করেছেন এবং [সম্মানিত] (২) কিতাবের মাধ্যমে একে তীক্ষ্ণতা ও শক্তি দান করেছেন। তিনি এই জ্ঞানের সৌভাগ্যের নক্ষত্রগুলোকে এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জ্ঞানের ওপর ছড়িয়ে দিয়েছেন; এখান থেকেই প্রত্যেক আলেম ও মুজতাহিদ জ্ঞান আহরণ করেন এবং [এর মাধ্যমেই] (৩) প্রত্যেক ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন ও চক্ষু রোগাক্রান্ত ব্যক্তি আলো লাভ করে। আর আমি সেই দয়ালু বন্ধু মুহাম্মাদের ওপর দরুদ পাঠ করছি—এমন দরুদ যার মাধ্যমে আমি সঠিক পথের দিশা পাব।

অতঃপর:

এগুলো হলো কিছু বিচ্ছুরিত আলোকচ্ছটা যা দীর্ঘশ্বাসের পর প্রকাশিত হয়ে উদ্ভাসিত হয়েছে, [অপূর্ব বিষয়ের] (৪) মাধ্যমে চমক দিয়েছে এবং অনন্য সব উপকারের মাধ্যমে বারিবর্ষণ করেছে; আর অর্থ অন্বেষণকারীদের জন্য একে পরিমার্জিত ও সহজবোধ্য করা হয়েছে।

যেহেতু 'উমদাতুল আহকাম' গ্রন্থটি সুসংবদ্ধ [বিধান] (৫) সম্বলিত একটি সংকলন, আর আমাদের সময়ের মানুষেরা এর দিকেই লক্ষ্য স্থির করেছে কিন্তু তারা এর পূর্ণ প্রস্তুতির হক আদায় করতে পারেনি, তাই এর বরকত তাদের শামিল করেছে। ফলে তারা এর মাধ্যমে দলীল উপস্থাপনের হাকীকত পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং এর দ্বারা তারা হারাম ও হালালকে পৃথক করতে পেরেছে। আমি চেয়েছি এতে তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করতে এবং নাহুর সুমিষ্ট সমুদ্র থেকে তাদের এক ঢোক পান করাতে; কারণ এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এর অর্থসমূহ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এবং এর কাঠামোর নিয়মাবলি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

আমি এই রচনার শেষে কিছু সতর্কবাণী যুক্ত করেছি যা সকল অধ্যায়ে প্রয়োজন হবে, যা এর জন্য একটি প্রবেশদ্বারস্বরূপ হবে এবং এর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। আর এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর অনুগ্রহে সকল উপকারী সারসংক্ষেপ একত্রিত হবে—যিনি অতি উত্তম প্রতিদানকারী।

--------------------------------------------

(১) 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে।

(২) মূলে অস্পষ্ট। 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে সাব্যস্তকৃত।

(৩) মূলে অস্পষ্ট। 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে সাব্যস্তকৃত।

(৪) মূলে অস্পষ্ট। 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে সাব্যস্তকৃত।

(৫) 'বা' পাণ্ডুলিপিতে: "সম্মান"।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولمّا [عَدّ الشيخُ] (1) تقيّ الدّين (2) الأحاديث، وضَبَطها [بذلك] (3) في أبوابها؛ بنيتُ الإعرابَ على ما [اختاره] (4) مِن عَدّها؛ تقريبًا (5) على مَن يَطلُب الحديثَ ومَا وُضِعَ عليه، أو مَن يطّلع على مسألةٍ عَزيتها إليه.

فأقْدَمْتُ مُقَدِّمًا الاستخارة، طَالبًا من الله الكَريم الإعَانَة. وسَمَّيتُه: كتاب "العُدَّة في إعْرَاب العُمْدَة". وكَان ذلك بعْد أنْ سَأَلني مَن شُرح صَدْرُه وصَحَّت نيته وصفا قلبه، وأحَقُّ مَن سَأَله العَبْدُ رَبّه، طَالبًا للثواب، مُستعينًا بالواحِد الوهّاب.

* * *

--------------------------------------------

(1) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(2) هو الشيخ عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجمَّاعيلي، ثم الدمشقي المنشأ، الصالحي، الحنبلي، أبو محمد، تَقِيّ الدين "541 هـ/ 600 هـ = 1146 م /1203 م"، إمام، عالم، صادق، قدوة، عابد، أثري، متبع، حافظ للحديث، عالم برجاله. ولد في جماعيل "قُرب نابلس"، وانتقل صغيرًا إلى دمشق. ثم رحل إلى الإسكندرية وأصبهان. وامتحن مرات. وتوفي بمصر. له: "الأحكام الكبرى" و"الصّغرى" و"الكمال في أسماء الرجال، خ"، و"الدرة المضية في السيرة النبويّة -خ" و"المصباح في عيون الأحاديث الصحاح" و"عُمدة الأحكام من كلام خير الأنام- ط" و"النصيحة في الأدعية الصحيحة- ط" و"أشراط الساعة" وغيرها. انظر: سير أعلام النبلاء (21/ 443 وما بعدها)، الأعلام للزركلي (4/ 34).

(3) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(4) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(5) أي: بغرض التقريب.
যখন [শায়খ] (১) তকিউদ্দীন (২) হাদীসসমূহ গণনা করলেন এবং সেগুলোকে [তদ্রূপ] (৩) নিজ নিজ অধ্যায়ে বিন্যস্ত করলেন; তখন আমি হাদীসসমূহ গণনার ক্ষেত্রে তাঁর [চয়নকৃত] (৪) পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই'রাব) তৈরি করেছি; যাতে হাদীস এবং এর বিন্যাস অন্বেষণকারীদের জন্য অথবা যে ব্যক্তি আমার কৃত উদ্ধৃতি অনুসারে কোনো মাসআলা সম্পর্কে অবগত হতে চায় তার জন্য বিষয়টি সহজবোধ্য (৫) হয়।

অতঃপর আমি ইস্তিখারাকে অগ্রগণ্য করে এবং মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে অগ্রসর হলাম। আমি এর নামকরণ করেছি: "আল-উদ্দাহ ফি ই'রাবিল উমদাহ" কিতাব। এটি তখনই হয়েছে যখন এমন এক ব্যক্তি আমাকে অনুরোধ করেছিলেন যার বক্ষ (জ্ঞানের জন্য) উন্মুক্ত হয়েছে, যার নিয়ত শুদ্ধ এবং যার অন্তর পরিচ্ছন্ন। আর বান্দা তার রবের কাছে যা প্রার্থনা করে তা-ই পাওয়ার অধিক যোগ্য; আমি সওয়াবের প্রত্যাশায় এবং একক ও মহান দাতার সাহায্য কামনায় এটি লিখেছি।

* * *

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

(২) তিনি হলেন শায়খ আবদুল গনি বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরুর আল-মাকদিসি আল-জাম্মায়িলি, অতঃপর দামেস্কে লালিত-পালিত, আস-সালিহি, আল-হাম্বলি, আবু মুহাম্মদ, তকিউদ্দীন "৫৪১ হিজরি/ ৬০০ হিজরি = ১১৪৬ খ্রিষ্টাব্দ / ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দ", ইমাম, আলিম, সত্যবাদী, অনুসরণীয় আদর্শ, ইবাদতকারী, আসারি, সুন্নাহর অনুসারী, হাদীস বিশারদ (হাফিজ), রিজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত। তিনি জাম্মায়িলে "নাবলুসের নিকটবর্তী" জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলাতেই দামেস্কে চলে যান। এরপর তিনি আলেকজান্দ্রিয়া ও ইসফাহান ভ্রমণ করেন। তিনি কয়েকবার কারারুদ্ধ ও পরীক্ষিত হয়েছেন। তিনি মিসরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি: "আল-আহকামুল কুবরা", "আস-সুগরা", "আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল" (পাণ্ডুলিপি), "আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফিস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ" (পাণ্ডুলিপি), "আল-মিসবাহ ফি উইউনিল আহাদিসিস সিহাহ", "উমদাতুল আহকাম মিন কালামি খাইরিল আনাম" (মুদ্রিত), "আন-নাসিহাহ ফিল আদইয়াতিল সহিহাহ" (মুদ্রিত), "আশরাতুস সায়াহ" ইত্যাদি। দ্রষ্টব্য: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (২১/ ৪৪৩ ও পরবর্তী অংশ), আল-আ'লাম লিজ জিরিকলি (৪/ ৩৪)।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

(৫) অর্থাৎ: সহজতর করার উদ্দেশ্যে।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌كتابُ الطَّهَارة

‌‌الحديثُ الأوّل:

" الكتابُ": مَصْدر، واحدُ "الكُتب"، بضمّ "التاء" وسُكونها.

و"الكَتبُ": "الفَرْضُ والحُكْم". و"الكَتبُ" أيضًا: "الجمْعُ". (1) فكأنّ المَعنى: "هذا جَمْعُ أحاديث الطّهَارة". وبهذا سُمّيت الكتابةُ "كتابة"؛ لأنّه يُجمَع بها بعضُ الحُروف إلى بعْض. (2)

ومنه: "الكتيبة"، وهي "الخيلُ المجْمُوعة". و"تكَتّب القَومُ": "تجمّعوا". (3)

ويُقال: "كتبتُ الكتابَ"، "أكتُبه"، "كَتْبًا" [و "مكتبة"] (4). (5)

فـ "كتاب": مَرفُوعٌ، على أنه خَبَر مُبتدأ مَحْذُوف.

قوله: "الحديثُ الأوّل": يحتمل أنْ يكُون "الحديث" خَبَر مُبتدأ مَحْذُوف، أي: "هَذا الحَديث"، و"الأوّل" نَعْتٌ له.

ويحتمل أنْ يَكُون "الحديث" مُبتدأ، و "الأوّل" نعْته، والخَبَر [مُتعلق] (6)

--------------------------------------------

(1) انظر: الصحّاح للجوهري (1/ 208)، مجمَل اللغة لابن فارس (ص 778)، مَقاييس اللغة لابن فارس (5/ 158، 159)، القامُوس المُحيط للفيروز آبادي (ص 128)، أنيس الفُقهاء للقُونوي (ص 5).

(2) انظر: نيل الأوطار للشوكاني (1/ 27)، شَمْس العُلوم ودواء كلام العرب من الكلوم لنشوان الحميري (9/ 5759)، لسان العرب لابن منظور (1/ 701).

(3) انظر: الصحاح للجوهري (1/ 209)، لسان العرب لابن منظور (1/ 701)، القامُوس المحيط ص (129).

(4) كذا بالنسخ.

(5) انظر: الصحاح (1/ 209)، لسان العرب (1/ 698)، أنيس الفُقهاء (ص 5).

(6) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).
পবিত্রতা অধ্যায়

‌‌প্রথম হাদিস:

"আল-কিতাব": এটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যা "আল-কুতুব" শব্দের একবচন, এখানে "তা" বর্ণটি পেশযুক্ত অথবা সুকুনযুক্ত হতে পারে।

এবং "আল-কাতব" অর্থ হলো: "নির্ধারণ করা এবং ফয়সালা করা"। এবং "আল-কাতব"-এর আরেকটি অর্থ হলো: "একত্রিত করা"। (১) সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায়: "এটি পবিত্রতা বিষয়ক হাদিসসমূহের সমষ্টি"। আর এ কারণেই লেখাকে "কিতাবাত" (লিখন) বলা হয়; কারণ এতে এক বর্ণের সাথে অন্য বর্ণকে একত্রিত করা হয়। (২)

এর থেকেই এসেছে: "আল-কাতিবাহ", যা হলো "একত্রিত অশ্বারোহী দল"। এবং "তাকাত্তাবাল ক্বাউম" অর্থ: "তারা একত্রিত হয়েছে"। (৩)

আর বলা হয়: "কাতাবতুল কিতাবা" (আমি বইটি লিখেছি), "আকতুবুহু" (আমি এটি লিখি), "কাতবান" [এবং "মাকতাবাতান"] (৪)। (৫)

এখানে "কিতাব" শব্দটি মারফু (পেশযুক্ত), এই ভিত্তিতে যে এটি একটি উহ্য মুবতাদার (উদ্দেশ্য) খবর (বিধেয়)।

তাঁর কথা: "প্রথম হাদিস": সম্ভাবনা রয়েছে যে "হাদিস" শব্দটি উহ্য মুবতাদার খবর হবে, অর্থাৎ: "এটি হলো হাদিস", আর "প্রথম" শব্দটি হবে তার বিশেষণ।

আর সম্ভাবনা রয়েছে যে "হাদিস" শব্দটি মুবতাদা হবে, এবং "প্রথম" তার বিশেষণ হবে, আর খবরটি হবে [সম্পর্কিত] (৬)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-জাওহারি কৃত আস-সিহাহ (১/২০৮), ইবনে ফারিস কৃত মুজমালুল লুগাহ (পৃ. ৭৭৮), ইবনে ফারিস কৃত মাকায়িসুল লুগাহ (৫/১৫৮, ১৫৯), আল-ফিরোজাবাদি কৃত আল-কামুসুল মুহিত (পৃ. ১২৮), আল-কুনাবি কৃত আনিসুল ফুক্বাহা (পৃ. ৫)।

(২) দেখুন: আশ-শাওকানি কৃত নাইলুল আওতার (১/২৭), নাশওয়ান আল-হিময়ারি কৃত শামসুল উলুম ওয়া দাওয়াউ কালামিল আর্যাব মিনাল কুলুম (৯/৫৭৫৯), ইবনে মানজুর কৃত লিসানুল আরব (১/৭০১)।

(৩) দেখুন: আল-জাওহারি কৃত আস-সিহাহ (১/২০৯), ইবনে মানজুর কৃত লিসানুল আরব (১/৭০১), আল-কামুসুল মুহিত (পৃ. ১২৯)।

(৪) পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই রয়েছে।

(৫) দেখুন: আস-সিহাহ (১/২০৯), লিসানুল আরব (১/৬৯৮), আনিসুল ফুক্বাহা (পৃ. ৫)।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। 'বা' সংস্করণ থেকে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بالمَجْرور، أي: "الحديثُ الأوّل ثابتٌ عن عُمَر".

ويحتمل أنّ "الحديث" مُبتدأ، و"الأوّل" نعته، والخبرُ قوله: "عن عُمر" إلى آخره. ولا يحتاجُ [إلى] (1) ما يتعلّق به حَرْف الجر [لأنه] (2) كنَّى [عنه] (3) على الحكاية. وهذا أحْسَن.

الرابع: يكُون "الحديث" مُبتدأ، والجبرُ مُقَدَّر مُتقدِّم، أي: "مما أذْكُره الحديث"، ويكُون "الأوّل" [نَعْت] (4). ولو رُوي الحديثُ [بالنصب] (5) جَاز، بتقْدير: " [اسْمَع] (6) الحديث"، أو " [أقرأ] (7) الحَديث".

إذا ثبت: [فإنّ "الحديثَ"] (8) مُفرَدُ "أحاديث"، على غير قياس. وقد [وهم] (9) بعضُ النَّاس أنّه (10) جَمعْ لـ "أُحْدوث"؛ فيكون قياسًا. (11)

ورُدَّ هذا: بأنَّ "الأُحدوثة" [تختصّ] (12) بالشّر. يُقال: "صَار فُلانٌ أُحْدوثة"، أي: " [فضيحة يتحدّث] (13) به النّاس". و"الأحاديثُ" ليست مُختصّة بذلك؛

--------------------------------------------

(1) غير واضحة بالأصل، وتظهر كأنها: "الخبر". والمثبت من (ب).

(2) كلمة غير واضحة بالأصل، وبيض لها في (ب).

(3) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(4) كذا بالنسخ.

(5) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(6) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(7) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(8) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(9) في (ب): "روى".

(10) أي: "الأحاديث".

(11) نقله "الجوهري" عن "الفراء"، كما في: لسان العرب لابن منظور (2/ 133) وتاج العروس للزبيدي (5/ 211).

(12) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(13) غير واضحة بالأصل. وفي (ب): "فضيحته يتحدث".
মাজরুর (জেরবিশিষ্ট) হিসেবে, অর্থাৎ: "প্রথম হাদিসটি উমর থেকে সাব্যস্ত।"

এবং সম্ভাবনা আছে যে, "আল-হাদিস" শব্দটি মুক্তাদা (উদ্দেশ্য), এবং "আল-আউয়াল" (প্রথম) শব্দটি তার সিফাত (গুণবাচক শব্দ), আর খবর (বিধেয়) হলো তার বক্তব্য: "উমর থেকে বর্ণিত" শেষ পর্যন্ত। আর হারফে জার যার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে তার কোনো প্রয়োজন নেই (১), কারণ তিনি এর থেকে (৩) বর্ণনাভঙ্গির অনুকরণে রূপকভাবে (২) ব্যক্ত করেছেন। আর এটিই অধিক উত্তম।

চতুর্থত: "আল-হাদিস" শব্দটি মুক্তাদা হবে, এবং খবরটি উহ্য ও অগ্রবর্তী থাকবে, অর্থাৎ: "আমি যা উল্লেখ করছি তার অন্তর্ভুক্ত হলো এই হাদিসটি," আর "আল-আউয়াল" শব্দটি সিফাত (৪) হবে। আর যদি হাদিস শব্দটি নাসব (জবর) অবস্থায় (৫) বর্ণিত হতো তবে তাও বৈধ হতো, সেক্ষেত্রে "হাদিসটি শোনো" (৬) অথবা "হাদিসটি পাঠ করো" (৭) উহ্য মানতে হতো।

যখন এটি প্রমাণিত হলো: তখন "আল-হাদিস" (৮) শব্দটি "আহাদিস" এর একবচন, যা নিয়মের বহির্ভূত। আর কোনো কোনো মানুষ ধারণা করেছেন (৯) যে এটি (১০) "উহদুস" এর বহুবচন; ফলে তা নিয়মমাফিক হতো। (১১)

আর এই মতটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই বলে যে: "উহদুসাহ" শব্দটি মন্দ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট (১২)। বলা হয়: "অমুক ব্যক্তি উহদুসাহ হয়ে গেছে," অর্থাৎ: "সে এমন এক কলঙ্কে পরিণত হয়েছে যা নিয়ে মানুষ আলোচনা করে (১৩)।" আর "আহাদিস" শব্দটির ব্যবহার কেবল এর সাথে সীমাবদ্ধ নয়;

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট, এবং "আল-খবর" এর মতো দেখাচ্ছে। (বা) অনুলিপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি অস্পষ্ট, এবং (বা) অনুলিপিতে এর জন্য খালি জায়গা রাখা হয়েছে।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) অনুলিপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৪) অনুলিপিগুলোতে এভাবেই আছে।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) অনুলিপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) অনুলিপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৭) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) অনুলিপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৮) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) অনুলিপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৯) (বা) অনুলিপিতে আছে: "বর্ণনা করেছেন"।

(১০) অর্থাৎ: "আহাদিস"।

(১১) জাওহারি এটি ফাররা থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আছে: ইবনে মানজুরের লিসানুল আরব (২/ ১৩৩) এবং জাবিদির তাজুল আরুস (৫/ ২১১)-এ।

(১২) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) অনুলিপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(১৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। আর (বা) অনুলিপিতে আছে: "তার কলঙ্ক নিয়ে মানুষ কথা বলে"।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
[لقولك] (1): "أحاديثُ الرسُول". (2)

وقيل (3): اختصاصُ "الأُحْدُوثة" بـ "الشَّر" غير مُسَلّم؛ لأنَّ العَرَبَ تقول: "انتشَرَت له أُحْدُوثة حَسَنة"، [و"فُلانٌ] (4) حَريصٌ على حُسْن الأُحْدُوثة". (5) وأنشَد المُبرّد:

وكُنْتُ إِذا مَا زُرْتُ سُعْدَى بأَرْضِهَا … أَرَى الأَرْضَ تُطْوى لي وَيدْنُو بَعِيدُهَا

مِنَ الخَفِراتِ البِيضِ وَدَّ جَلِيسُهَا … إِذَا مَا انْقَضَتْ أُحْدُوثَة لَو تُعِيدُها (6)

قالوا: فبناءُ الاسم الشَّهير الاستعمال على اسْم قَليل الاستعمال خِلافُ القياس؛ فجَمعُ "حديث" على "أحاديث" خِلافُ الشهير في الاستعمال.

إذا ثبت ذلك: فـ "أوّل" وَزْنه "أفْعَل"، فاؤه وعَيْنه واوان (7).

قال القاضي أبو بكر ابن العَربي رحمه الله: لا خِلافَ أنّ وزنه "أفعل". لكن [البصريين] (8) يقُولون: أصْلُه: "أوَل"، مِن "آل، يئُول"، إذا "رَجع". والآخَرون

--------------------------------------------

(1) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(2) انظر: العين للخليل بن أحمد الفراهيدي (3/ 177)، لسان العرب لابن منظور (2/ 133)، تاج العروس (5/ 211).

(3) قوّاه "الزبيدي" في "تاج العروس" (5/ 211).

(4) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(5) انظر: تاج العروس (5/ 211).

(6) الأبيات من البحر الطويل. ونُسبت لكُثير عزة ولذي الرمة وللحُسين بن مطير. ورجّح في "الحماسة البصرية" أنها لأبي العَوام بن كَعْب بن زُهَيْر بن أَبى سلمى. انظر: الحماسة البصرية لأبي الحسن البصري (2/ 191، 192)، الأغاني لأبي الفرج الأصفهاني (9/ 49)، اتفاق المباني وافتراق المعاني لابن بنين (ص 128)، تاج العروس (5/ 211)، المعجم المفصل في شواهد العربية لإميل يعقوب (2/ 310).

(7) انظر: المصباح المنير، للفيومي، (1/ 30)، تاج العروس (31/ 103).

(8) بالنسخ: "البصريون".
[আপনার উক্তির কারণে] (১): "রাসূলের হাদীসসমূহ"। (২)

এবং বলা হয়েছে (৩): "উহদুসাহ" শব্দটিকে কেবল "মন্দের" সাথে সুনির্দিষ্ট করা সর্বসম্মত নয়; কারণ আরবরা বলে থাকে: "তার সম্পর্কে একটি উত্তম আলোচনা (উহদুসাহ) ছড়িয়ে পড়েছে", এবং "[অমুক ব্যক্তি] (৪) উত্তম আলোচনার প্রতি আগ্রহী।" (৫) আর মুবাররাদ আবৃত্তি করেছেন:

আমি যখনই সুআদার ভূখণ্ডে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতাম... মনে হতো জমিন আমার জন্য সংকুচিত হয়ে আসছে এবং তার দূরবর্তী স্থানগুলো নিকটবর্তী হয়ে যাচ্ছে।

সেই লাজুক শ্বেতাঙ্গিনীদের একজন, যার সহচর কামনা করে যে... যদি তার একটি আলোচনা শেষ হয়ে যায় তবে সে যেন তা পুনরায় ব্যক্ত করে। (৬)

তারা বলেন: বহুল ব্যবহৃত কোনো বিশেষ্যকে অল্প ব্যবহৃত কোনো শব্দের ওজনে গঠন করা ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের পরিপন্থী; সুতরাং "হাদীস" শব্দের বহুবচন হিসেবে "আহাদিস" আসা প্রচলিত ব্যবহারের বিপরীত।

যখন এটি সাব্যস্ত হলো: তখন "আউওয়াল" শব্দের ওজন হলো "আফআলা", যার ফা-কালিমা এবং আইন-কালিমা হলো দুটি 'ওয়াও' (৭)।

কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর ওজন যে "আফআলা" এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। তবে [বসরাবাসীরা] (৮) বলেন: এর মূল হলো "আওয়ালা", যা "আ-লা, ইয়াউলু" থেকে উৎপন্ন, যখন এর অর্থ হয় "ফিরে আসা"। আর অন্যরা...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) কপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(২) দেখুন: খলিল বিন আহমদ আল-ফারাহিদি রচিত আল-আইন (৩/ ১৭৭), ইবনে মানযুর রচিত লিসানুল আরব (২/ ১৩৩), তাজুল আরুস (৫/ ২১১)।

(৩) আয-যুবাইদি "তাজুল আরুস" (৫/ ২১১) গ্রন্থে একে শক্তিশালী বলেছেন।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) কপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৫) দেখুন: তাজুল আরুস (৫/ ২১১)।

(৬) পঙক্তিগুলো বাহরে তাবীল থেকে নেওয়া। এগুলো কুসাইয়ির আজ্জাহ, যুর রুম্মাহ এবং হুসাইন বিন মুতাইরের নামেও প্রচলিত। "আল-হামাসাহ আল-বসরিয়্যাহ" গ্রন্থে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যে এগুলো আবু আল-আওয়াম বিন কাব বিন যুহাইর বিন আবি সুলমার। দেখুন: আবু আল-হাসান বসরী রচিত আল-হামাসাহ আল-বসরিয়্যাহ (২/ ১৯১, ১৯২), আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানী রচিত আল-আঘানি (৯/ ৪৯), ইবনুন বানিন রচিত ইত্তিফাকুল মাবানি ওয়া ইফতিরাকুল মাআনি (পৃ. ১২৮), তাজুল আরুস (৫/ ২১১), ইমিল ইয়াকুব রচিত আল-মুজামুল মুফাসসাল ফি সাওয়াহিদিল আরাবিয়্যাহ (২/ ৩১০)।

(৭) দেখুন: আল-ফাইয়ুমি রচিত আল-মিসবাহ আল-মুনির (১/ ৩০), তাজুল আরুস (৩১/ ১০৩)।

(৮) পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে: "আল-বসরিয়ুন"।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
يقُولون: "أوْأل" مِن "وَأل"، أي: "لجأ". (1)

قَالَ: والصّحيحُ قولُ البصريين. (2)

قلتُ: والمعنى هنا على قول البصريين: "أنه يَرجع إلى معناه ما يأتي بعده من الأحاديث". وعلى قَول غيرهم: "أنه يُلجَأ إليه". وهُو قريبٌ من المعنى الأوّل. [ومنه] (3): "الأوّل" في العَدَد، يَرجع إليه ما بعده.

وقال بعضُ النحويين: أصْلُه: "فَوْعَل". (4)

ورُدّ: بأنَّ "أوّل" أفعَلُ [التفضيل] (5)؛ لأنّه يُوصَل بـ "مَن"، يقُولون: "أوّل من كذا". ولهذا لا ينصرفُ إذا جَعَلْته صِفَة، تقُولُ: "لقيتُه عَام أوّل"، وإنْ لم تجعله صِفَة قُلتَ: "عَامًا أوّلًا". (6)

وفي الحَديث الثّاني من "بَاب القِراءَة" كَلَامٌ كالتّتمة لهذا.

وأمّا "آخِر": بكَسر "الخاء"، فهو: "الذي بَعد الأوّل مَا لمَ يَعْقُبه شَيءٌ". وهُو صِفَة. تَقُول: "جَاء آخِرًا"، أي: "أخِيرًا". والأُنثى: "آخِرَة". والجمْعُ: "أَوَاخِر". (7)

--------------------------------------------

(1) انظر: المصباح المنير (1/ 29، 30)، تاج العروس (31/ 56، 103)، اللباب في علل البناء والإعراب لأبي البقاء العكبري (2/ 235 وما بعدها)، الممتع الكبير في التصريف لابن عصفور (ص 358)، شرح شافية ابن الحاجب للرضي الإستراباذي (2/ 340)، المنصف لابن جني (ص 311).

(2) انظر: المصباح المنير (1/ 30).

(3) في (ب): "ومثله".

(4) انظر: المصباح المنير (1/ 30)، تاج العروس (31/ 56، 57، 103)، شرح الشافية للرضي (2/ 340).

(5) غير واضحة بالأصل. والمثبت من (ب).

(6) انظر: المصباح المنير للفيومي (1/ 30)، لسان العرب (11/ 717)، تاج العروس (31/ 58)، شرح الشافية للرضي (2/ 340).

(7) انظر: الصحاح للجوهري (2/ 576)، المصباح المنير (1/ 7، 8)، لسان العرب لابن =
তারা বলেন: "আউয়াল" শব্দটি "ওয়াআলা" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: "আশ্রয় গ্রহণ করা"। (১)

তিনি বলেন: আর বসরাবাসীদের (ব্যাকরণবিদদের) মতটিই সঠিক। (২)

আমি বলি: এখানে বসরাবাসীদের মতানুসারে অর্থ হলো: "এর পরে যে হাদিসগুলো আসবে সেগুলো এর অর্থের দিকেই ফিরে যাবে"। আর অন্যদের মতানুসারে: "এর দিকে আশ্রয় নেওয়া হয়"। আর এটি প্রথম অর্থের কাছাকাছি। [এর অন্তর্ভুক্ত হলো] (৩): সংখ্যার ক্ষেত্রে "প্রথম", যার দিকে পরবর্তী সংখ্যাগুলো ফিরে যায়।

কিছু ব্যাকরণবিদ বলেছেন: এর মূল রূপ হলো: "ফাওয়াল"। (৪)

এবং এটি খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে: "আউয়াল" শব্দটি মূলত "আফ'আলু" [আধিক্যবাচক বিশেষণ] ছাঁচের; কারণ এর সাথে "মিন" যুক্ত হয়, তারা বলে: "অমুক জিনিসের চেয়ে প্রথম"। একারণেই এটি গায়রে মুনসারিফ (পরিবর্তনহীন) হয় যখন আপনি এটিকে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করেন। যেমন আপনি বলবেন: "আমি তার সাথে গত বছর দেখা করেছি", আর যদি আপনি এটিকে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার না করেন তবে বলবেন: "গত এক বছরে"। (৬)

"কিরাত অধ্যায়"-এর দ্বিতীয় হাদিসে এর পরিপূরক হিসেবে কিছু আলোচনা রয়েছে।

আর "আখির" (শেষে জেরসহ) এর অর্থ হলো: "যা প্রথমের পরে আসে যতক্ষণ না এর পরে আর কিছু থাকে"। এবং এটি একটি বিশেষণ। আপনি বলবেন: "সে শেষে এসেছে"। এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো: "আখিরাহ" এবং বহুবচন হলো: "আওয়াখির"। (৭)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনির (১/ ২৯, ৩০), তাজুল আরুস (৩১/ ৫৬, ১০৩), আবু আল-বাকা আল-উকবারির আল-লুবাব ফি ইলাল আল-বিনা ওয়াল ই’রাব (২/ ২৩৫ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো), ইবনে আসফুরের আল-মুমতি আল-কাবির ফিত তাসরিফ (পৃ. ৩৫৮), রাদি আল-ইস্তারাবাধির শারহু শাফিয়াতি ইবনিল হাজিব (২/ ৩৪০), ইবনে জিন্নি-র আল-মুনসিফ (পৃ. ৩১১)।

(২) দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনির (১/ ৩০)।

(৩) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং এর উদাহরণ"।

(৪) দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনির (১/ ৩০), তাজুল আরুস (৩১/ ৫৬, ৫৭, ১০৩), রাদি-র শারহুশ শাফিয়া (২/ ৩৪০)।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে এটি গ্রহণ করা হয়েছে।

(৬) দেখুন: ফাইয়ুমির আল-মিসবাহুল মুনির (১/ ৩০), লিসানুল আরব (১১/ ৭১৭), তাজুল আরুস (৩১/ ৫৮), রাদি-র শারহুশ শাফিয়া (২/ ৩৪০)।

(৭) দেখুন: জাওহারির আস-সিহাহ (২/ ৫৭৬), আল-মিসবাহুল মুনির (১/ ৭, ৮), ইবনে মনজুরের লিসানুল আরব।
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
[1]: قوله: "عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم-تقُولُ: إنَّمَا الأَعْمالُ بِالنِّيَّاتِ -وفي رِوَايَه: بِالنِّيَّهِ- وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِيٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ الى اللهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إلى اللهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إلى مَا هَاجَرَ إلَيْهِ" (1).

 

الإعْراب:

"عَن عُمَر": حَرْفُ الجرّ تَقدّم فيه وَجْهَان. ويحتمل أنْ يتعلّق بفِعْل مَحذُوف، أي: "رَوى" أو "رُوي"، ببنائه للمَفعُول أو للفَاعِل. فإنْ بَنيتْه للمَفعُول الذي لم يُسَمّ فاعِلُه، قَدّرْت: "أنّه قَالَ"؛ ليَقُوم مَقَام المفْعُول. وإنْ بَنيتَه للفَاعِل، كَان "أنّه قال" في مَحَلّ نصْب، مَفْعُولًا به. (2) وتقديرُ "روي" أرْجَح، لأنه جَاء مُصرّحًا به في بَعْض الأحاديث. وفي السَّادس من "الجنَابة": "رُوِي عن عَائشة رضي الله عنها قَالت … " (3).

و"عُمَر": لا [ينصرَفُ] (4)؛ للعَلَمية والعَدْل. (5) (6)

--------------------------------------------

= منظور (4/ 13، 15).

(1) رواه البخاري رقم (1) في بدء الوحي، ومسلم (1907) في الإمارة.

(2) راجع: شرح قطر الندى وبل الصدى لابن هشام (ص 190)، شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك (2/ 127)، جامع الدروس العربية (2/ 246 وما بعدها).

(3) نصه هناك: "رُوي عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كُنْت أَغْسِلُ الجْنَابَةَ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهَ صلى الله عليه وسلم فَيَخْرُجُ إلَى الصَّلاةِ، وإِنَّ بُقَعَ الْمَاءِ في ثَوْبِهِ".

(4) غير واضحة بالأصل. وفي (ب): "يصرف".

(5) انظر: النهاية في غريب الحديث والأثر لابن الأثير الجزري (4/ 58)، المصباح المنير (2/ 490)، لسان العرب (2/ 564)، تاج العروس (7/ 58)، شرح شذور الذهب لابن هشام (ص 588)، شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك (3/ 335).

(6) أسبابُ منع الصرف تسعة: العَلمية، التأنيث، وزن الفعل، الوصف، العدل، الجمع، التركيب، العُجْمة في الأعلام خاصة، الألف والنون المضارعتان لألفي التأنيث، متى اجتمع في الاسم اثنان منها، أو تكرر واحد لم ينصرف، وذلك في أحد عشر اسمًا خمسة =
[১]: তাঁর উক্তি: "উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: সকল আমল কেবল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল—অন্য এক বর্ণনায়: নিয়তের দ্বারা—এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সেই লক্ষ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে" (১)।

 

ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:

"উমর থেকে": এখানে 'হরফে জার' (অব্যয়) এর ক্ষেত্রে দুটি প্রেক্ষিত পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর এটি একটি উহ্য ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া সম্ভব, অর্থাৎ: "তিনি বর্ণনা করেছেন" অথবা "বর্ণিত হয়েছে", কর্মবাচ্য বা কর্তৃবাচ্য গঠনের ভিত্তিতে। যদি আপনি একে কর্মবাচ্য হিসেবে গঠন করেন যার কর্তা উল্লেখিত নেই, তবে আপনি ধরে নেবেন: "নিশ্চয়ই তিনি বলেছেন"; যাতে এটি কর্মের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। আর যদি আপনি একে কর্তৃবাচ্য হিসেবে গঠন করেন, তবে "নিশ্চয়ই তিনি বলেছেন" অংশটি কর্ম (মাফউল বিহি) হিসেবে নসবের স্থানে থাকবে। (২) এবং "বর্ণিত হয়েছে" উহ্য ধরা অধিক প্রাধান্যযোগ্য, কারণ কিছু হাদিসে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 'জানাবাত' অধ্যায়ের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে এসেছে: "আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন..." (৩)।

এবং "উমর": এটি [রূপান্তরহীন বা গাইরে মুনসারিফ] (৪); বিশেষ্য হওয়া এবং পরিবর্তিত রূপ হওয়ার কারণে। (৫) (৬)

--------------------------------------------

= মনযূর (৪/ ১৩, ১৫)।

(১) বুখারী হাদিস নং (১) ওহীর সূচনা অধ্যায়ে এবং মুসলিম (১৯০৭) ইমারাহ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: ইবনে হিশামের 'শারহু কাত্রিন নাদা ওয়া বাল্লিস সাদা' (পৃ. ১৯০), ইবনে আকীলের 'শারহু ইবনে আকীল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক' (২/১২৭), 'জামি উদ-দুরুসিল আরাবিয়্যাহ' (২/২৪৬ এবং পরবর্তী)।

(৩) সেখানকার মূল পাঠ হলো: "আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পোশাক থেকে জানাবাতের চিহ্ন ধুয়ে ফেলতাম, অতঃপর তিনি সালাতের জন্য বের হতেন এবং তাঁর পোশাকে পানির চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যেত"।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট। (বা) কপিতে: "রূপান্তরশীল"।

(৫) দেখুন: ইবনুল আসির আল-জাযারির 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার' (৪/৫৮), 'আল-মিসবাহুল মুনীর' (২/৪৯০), 'লিসানুল আরব' (২/৫৬৪), 'তাজুল আরুস' (৭/৫৮), ইবনে হিশামের 'শারহু শুতুরিজ জাহাব' (পৃ. ৫৮৮), ইবনে আকীলের 'শারহু ইবনে আকীল আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক' (৩/৩৩৫)।

(৬) শব্দ রূপান্তরহীন হওয়ার কারণসমূহ নয়টি: বিশেষ্য হওয়া, স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া, ক্রিয়ার ওজনে হওয়া, গুণবাচক হওয়া, পরিবর্তিত রূপ (আদল), বহুবচন, যৌগিক হওয়া, বিশেষ করে নামের ক্ষেত্রে অনারব হওয়া, এবং আলিফ ও নুন যা স্ত্রীলিঙ্গের আলিফদ্বয়ের সদৃশ। যখন কোনো বিশেষ্যের মধ্যে এই নয়টির দুটি বৈশিষ্ট্য একত্রিত হবে অথবা একটির পুনরাবৃত্তি ঘটবে, তখন তা রূপান্তরহীন হবে। আর তা এগারোটি বিশেষ্যের মধ্যে হয় যার মধ্যে পাঁচটি =
(খণ্ড: ১) আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال ابنُ الخبّاز (1): من غَريب حَال "عُمَر" أنَّ [المازني] (2) تجنّب تثنيته وجَمْعَه، وقَال: أقُول: "جَاءَني رَجُلان كِلاهُما عُمَر"، أو "رجَالٌ كُلّهم عُمَر". (3)

--------------------------------------------

= حالة التنكير، وهو أفعل صفة، نحو: أحمر، وأحمد، وأصفر، ومثنى، وثلاث، ورباع، فيها العَدل والوصف، وقيل: العَدْل المكرّر؛ لأنها عدلت عن صيغها، وعن التكرير؛ لأنّ الأصل: أولي أجنحة اثنتين اثنتين، وثلاثة ثلاثة، وأربعة أربعة. وفعلان الذي مؤنثه فعلى، كعطشان وريان. وما فيه ألف التأنيث مقصورة، كحُبلى وبشرى، والدعوى، والفتوى، والفتيا. أو ممدودة، نحو: حمراء، وصحراء. والجمع الذي ليس على وزنه واحد، كمساجد، ومصابيح، ودعاوى، وفتاوى، وسراري، وعواري، ونحو: جوار، ومواش مما في آخره ياء يحذف ياؤه في الرفع، والجر، ويُنوّن الاسم لخروجه عن حد مساجد، وأما في النصب فلا يُنوّن بإثبات الياء فيه.

وأمّا الستة التي لا تُصرف في العَلمية: فهي: "الأعجمي" كإبراهيم، وإسماعيل، وما فيه "وزن الفعل" كيزيد، وأحمد "والتأنيث" لفظًا كطلحة، وحمزة، أو معنى كعاد. "والمعدول" كعُمر، وزُفر، عن عامر، وزافر "والتركيب" كمعدي كرب، وبعلبك "والألف، والنون" كمروان، وسفيان، وهذه الست إذا نكرت انصرفت. وفي نحو: لوط وهند، يجوز الصرف استحسانًا، وتركه قياسًا. وكل ما لا ينصرف إذا أضيف أو دخله حرف التعريب انجر، تقول: مررتُ بالأحمر، والحمراء، وبعُمَركم، وبعثماننا. انظر: المفصل للزمخشري (ص 35)، تاج العروس (24/ 21، 22)، المغرب في ترتيب المعرب للمطرزي (ص 519)، النحو المصفى لمحمد عيد (ص 47).

(1) هو: أحمد بن الحسين الإربلي، الموصلي، الضرير، المعروف بابن الخباز، شمس الدين. عالم في النحو، واللغة، والفقه، والعروض، والفرائض. توفي بالموصل سنة 639 هـ، وله خمسون سنة. له: "النهاية في شرح الكافية" في النحو، "توجيه اللمع" شرح اللمع لابن جني، "شرح ميزان العربية"، "الغرة المخفية في شرح الدرّة الألفية" على ألفية ابن معط، مطبوع، و"النظم الفريد في نثر التقييد". انظر: الوافي بالوفيات للصفدي (6/ 223)، تاريخ الإسلام ووفيات المشاهير وَالأعلام للذهبي/ ط دار الغرب (14/ 285)، الأعلام للزركلي (1/ 117)، معجم المؤلفين لعمر رضا كحالة (1/ 200).

(2) في (ب): "الماء".

(3) انظر: همع الهوامع في شرح جمع الجوامع للسيوطي (1/ 158).
ইবনুল খাব্বাজ (১) বলেছেন: "উমর" নামের একটি অদ্ভুত বিষয় হলো যে, [আল-মাজিনী] (২) এর দ্বিবচন ও বহুবচন রূপ পরিহার করেছেন এবং তিনি বলতেন: আমি বলব: "আমার কাছে দুইজন লোক এসেছে যাদের উভয়েই উমর", অথবা "এমন অনেক লোক এসেছে যারা সকলেই উমর"। (৩)

--------------------------------------------

= অনির্দিষ্ট অবস্থা, আর এটি 'আফআলু' ওজনের বিশেষণ, যেমন: লাল (আহমার), আহমদ, হলুদ (আসফার); এবং দুই দুই, তিন তিন ও চার চার (মাছনা, ছুলাছা ও রুবা'আ), এতে রূপান্তর (আদল) এবং গুণ (ওয়াসফ) রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি পুনরাবৃত্ত রূপান্তর; কারণ এগুলো তাদের মূল কাঠামো এবং পুনরাবৃত্তি থেকে রূপান্তরিত হয়েছে। কেননা এর মূল ছিল: দুই দুই করে ডানা বিশিষ্ট, তিন তিন করে এবং চার চার করে। এবং 'ফালানু' ওজন যার স্ত্রীলিঙ্গ 'ফা'লা' ওজনে হয়, যেমন তৃষ্ণার্থ (আতশান) ও পরিতৃপ্ত (রাইয়ান)। এবং যাতে আলিফে মাকসুরাহ রয়েছে, যেমন গর্ভবতী (হুবলা), সুসংবাদ (বুশরা), দাবি (দাওয়াহ), ফতোয়া (ফাতওয়াহ ও ফিতইয়া)। অথবা আলিফে মামদুদা, যেমন: লাল (হামরা) এবং মরুভূমি (সাহরা)। এবং এমন বহুবচন যার ওজনে কোনো একবচন নেই, যেমন মসজিদসমূহ (মাসাজিদ), প্রদীপসমূহ (মাসাবীহ), দাবিগুলো (দাওয়াহ), ফতোয়াগুলো (ফাতাওয়া), উপপত্নীগণ (সারারি), ধার করা বস্তু (আওয়ারি); এবং যা শেষ বর্ণ 'ইয়া' যুক্ত শব্দ যেমন দাসী (জাওয়ারি) ও গবাদি পশু (মাওয়াশি), যার 'ইয়া' রফ' (পেশ) ও জার (যের) অবস্থায় বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং শব্দটি তানভীন যুক্ত হয় কারণ এটি মাসাজিদ-এর ওজন থেকে বের হয়ে যায়, তবে নাসব (যবর) অবস্থায় 'ইয়া' বহাল থাকার কারণে তানভীন হয় না।

আর ঐ ছয়টি বিষয় যা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (আলামিয়্যাহ) হওয়ার কারণে অপরিবর্তনীয় (গাইরে মুনসারিফ) হয়, সেগুলো হলো: "অনারব নাম" (আ'জামি) যেমন ইবরাহীম, ইসমাঈল; যা "ক্রিয়ার ওজনে" হয় যেমন ইয়াযীদ, আহমদ; শব্দগতভাবে "স্ত্রীলিঙ্গ" (তানিস) যেমন তালহা, হামযাহ, অথবা অর্থগতভাবে যেমন আদ; "রূপান্তরিত" (মাদুল) যেমন আমির থেকে উমর এবং যাফির থেকে যুফার; "যৌগিক শব্দ" (তারকীব) যেমন মা'দী কারিব, বালবাক্ক; এবং শেষে "আলিফ ও নূন" যুক্ত নাম যেমন মারওয়ান, সুফইয়ান। এই ছয়টি বিষয় যখন অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) হয় তখন তা পরিবর্তনশীল (মুনসারিফ) হয়ে যায়। লুত এবং হিন্দ-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে উত্তম হিসেবে মুনসারিফ হওয়া এবং নিয়ম অনুযায়ী গাইরে মুনসারিফ হওয়া জায়েয। প্রত্যেক গাইরে মুনসারিফ শব্দ যখন সম্বন্ধিত (মুদাফ) হয় অথবা তাতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়, তখন তা যের (জার) গ্রহণ করে। যেমন আপনি বলবেন: আমি লাল ব্যক্তিটির পাশ দিয়ে, লাল মহিলার পাশ দিয়ে, তোমাদের উমরের পাশ দিয়ে এবং আমাদের উসমানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। দেখুন: যামাখশারীর আল-মুফাসসাল (পৃষ্ঠা ৩৫), তাজুল আরুস (২৪/ ২১, ২২), মুতাররিযীর আল-মুগরিব ফি তারতীবিল মু'রিব (পৃষ্ঠা ৫১৯), মুহাম্মদ ঈদের আন-নাহবুল মুসাফফা (পৃষ্ঠা ৪৭)।

(১) তিনি হলেন: আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-ইরবিলি, আল-মাওসিলি, দৃষ্টিহীন, ইবনুল খাব্বাজ নামে পরিচিত, শামসুদ্দীন। তিনি নাহু (ব্যাকরণ), ভাষা, ফিকহ, ছন্দশাস্ত্র (আরুয) এবং উত্তরাধিকার (ফারাইদ) শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন। তিনি ৬৩৯ হিজরিতে মসুল শহরে ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি: নাহু শাস্ত্রে "আল-নিহায়া ফি শারহিল কাফিয়া", ইবন জিন্নি-র আল-লুমা-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ "তাওজিহুল লুমা", "শারহু মীযানিল আরাবিয়্যাহ", ইবন মু'তির আল-আলফিয়া-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আল-গুররাতুল মাখফিয়্যাহ ফি শারহিদ দুররাতিল আলফিয়্যাহ" যা মুদ্রিত হয়েছে, এবং "আন-নাযমুল ফারিদ ফি নাছরিত তাকিদ"। দেখুন: আল-সাফাদীর আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (৬/ ২২৩), আল-জাহাবীর তারিখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহীর ওয়াল আ'লাম (দারুল গারব সংস্করণ) (১৪/ ২৮৫), আল-যিরিকলীর আল-আ'লাম (১/ ১১৭), উমর রিদা কাহহালার মু'জামুল মুয়াল্লিফীন (১/ ২০০)।

(২) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আল-মা" (পানি)।

(৩) দেখুন: সুয়ূতী রচিত হাম'উল হাওয়া-মি' ফি শারহি জাম'ইল জাওয়ামি' (১/ ১৫৮)।