(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: -)
سلاسل الذهب القسم: أصول الفقه
الكتاب: سلاسل الذهب
المؤلف: بدر الدين الزركشي (745 - 794 هـ)
تحقيق ودراسة: محمد المختار بن محمد الأمين الشنقيطي
تحقيق الكتاب: رسالة لنيل الشهادة العالمية العالية «الدكتوراه» نوقشت فى 16/ 8/ 1404 هـ ونالت مرتبة الشرف الأولى
تقديم: د. عمر عبد العزيز محمد - الشيخ عطية محمد سالم
الناشر: المحقق، المدينة المنورة
الطبعة: الثانية، 1423 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 479
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 شعبان 1440
সালাসিলুয যাহাব বিভাগ: উসূলে ফিকহ
বই: সালাসিলুয যাহাব
লেখক: বদরুদ্দীন আয-যারকাশী (৭৪৫ - ৭৯৪ হিজরি)
তাহকীক ও গবেষণা: মুহাম্মদ আল-মুখতার বিন মুহাম্মদ আল-আমীন আশ-শানকীতী
গ্রন্থের তাহকীক: উচ্চতর আন্তর্জাতিক ডিগ্রি «পিএইচডি» অর্জনের লক্ষ্যে উপস্থাপিত একটি থিসিস, যা ১৬/ ৮/ ১৪০৪ হিজরিতে আলোচিত হয়েছে এবং প্রথম শ্রেণির সম্মান লাভ করেছে
উপস্থাপনা: ড. উমর আব্দুল আযীয মুহাম্মদ - শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিম
প্রকাশক: মুহাক্কিক (গবেষক), মদীনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৯
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সমিতি), বাস্তবায়নে (মারকাযুল নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং সৌজন্যে (আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল এন্ডোমেন্টস)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ শাবান ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১)
سلاسل الذهب
للإمام بدر الدين الزركشي
745 - 794 هـ
تحقيق ودراسة محمد المختار بن محمد الأمين الشنقيطي
تقديم
د. عمر عبدالعزيز محمد. . . الشيخ عطية محمد سالم
সালাসিলুদ দাহাব
ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশীর
৭৪৫ - ৭৯৪ হিজরি
সম্পাদনা ও গবেষণা: মুহাম্মদ আল-মুখতার বিন মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী
উপস্থাপনা
ড. ওমর আব্দুল আজিজ মুহাম্মদ. . . শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিম
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الثانية
1423 هـ - 2002 م
تحقيق الكتاب
هذه الرسالة لنيل الشهادة العالمية العالية "الدكتوراه" نوقشت فى 16/ 8/ 1404 هـ ونالت مرتبة الشرف الأولى
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
গ্রন্থের সম্পাদনা (তাহকিক)
এই অভিসন্দর্ভটি উচ্চতর আন্তর্জাতিক ডিগ্রি "ডক্টরেট" অর্জনের লক্ষ্যে ১৬/ ০৮/ ১৪০৪ হিজরি তারিখে পর্যালোচিত হয়েছে এবং প্রথম শ্রেণির সম্মাননা লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
بقلم فضيلة الدكتور عمر عبد العزيز الأستاذ فى قسم الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الحمد للَّه رب العالمين. وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. وأصلى وأسلم على نبينا وإمامنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. وبعد.
فإن من مهمات الغايات المتغياة فى التحقيق، والأهداف البارزة المتوخاة فيه، ثبيت النص صحيحا، وتضويئه، وتيسير فهمه بإذن اللَّه، وتسهيل الاستفادة منه بتوفيق اللَّه.
وهذا فى نظرى قد تحقق فى تحقيق فضيلة الأخ الدكتور محمد المختار بن محمد الأمين الشنقيطى رئيس قسم أصول الفقه بكلية الشريعة بالجامعة الإسلامية فى المدينة المنورة لكتاب من مهمات كتب أصول الفقه، هو كتاب "سلاسل الذهب" للعلامة بدر الدين محمد بن بهادر الزركشى المتوفى 794 هـ، وتأتى ثمرة لجهده المبذول فى سبيله، وجاء نتيجة لعمله الذى قام به.
وإذا كان ذلك قد تطلب إمكانات علمية من شأنها بتوفيق اللَّه أن يصعد بالمحقق إلى مستوى هذا العمل، وأن تتوفر لديه أوليات علم أصول الفقه من علوم اللغة العربية وغيرها فى شتى العلوم فإنى أعتقد أن اللَّه عز وجل قد وهب محققنا الفاضل هذه الأوليات، ومنحه تلك الإمكانات، فأجاد فى عمله، وأجاد فيه.
ونظرة واحدة فى أى مسألة من مسائلة المهمة تعطى صورة واضحة لما بذله المحقق من جهد، وما يملكه من رصيد علمى.
جزاه اللَّه خيرًا ووفقه وإيانا لما يحبه ويرضاه.
وصلى اللَّه على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
عمر بن عبد العزيز
فى 24/ 11/ 1410 هـ
بالمدينة المنورة
পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক শ্রদ্ধেয় ডক্টর উমর আব্দুল আজীজের লেখনীতে
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমাদের নবী ও ইমাম মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকীক) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য এবং এর পেছনে থাকা প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর একটি হলো মূল পাঠকে নির্ভুলভাবে প্রতিষ্ঠিত করা, একে আলোকিত করা, আল্লাহর অনুমতিক্রমে এর অনুধাবন সহজ করা এবং আল্লাহর তাওফীকে এর থেকে উপকৃত হওয়ার পথ সুগম করা।
আমার দৃষ্টিতে এটি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের উসূলে ফিকহ বিভাগের প্রধান শ্রদ্ধেয় ভাই ডক্টর মুহাম্মাদ আল-মুখতার ইবনে মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতী কর্তৃক উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ আল্লামা বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে বাহাদুর আয-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরী) রচিত "সালাসিলুয যাহাব" গ্রন্থের সম্পাদনার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। এটি তাঁর উৎসর্গকৃত প্রচেষ্টার ফসল এবং তাঁর সম্পাদিত কর্মের সার্থক ফলাফল।
যেহেতু এই ধরনের কাজ আল্লাহর তাওফীকে এমন ইলমী সক্ষমতা দাবি করে যা একজন মুহাক্কিককে এই কাজের স্তরে উন্নীত করতে পারে এবং তাঁর মধ্যে উসূলে ফিকহ, আরবি ভাষা ও অন্যান্য বিবিধ বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক; তাই আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাদের শ্রদ্ধেয় মুহাক্কিককে এই মৌলিক জ্ঞানসমূহ দান করেছেন এবং তাঁকে সেই সক্ষমতা প্রদান করেছেন, ফলে তিনি তাঁর কাজে অত্যন্ত দক্ষতা ও উৎকর্ষ প্রদর্শন করেছেন।
এই গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোর যেকোনো একটির ওপর সামান্য দৃষ্টিপাত করলেই মুহাক্কিকের শ্রম এবং তাঁর ইলমী গভীরতা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে ও আমাদের সেই তাওফীক দান করুন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
উমর বিন আব্দুল আজীজ
২৪/ ১১/ ১৪১০ হিজরী
মদীনাতুল মুনাওয়ারাহ।
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
كلمة بقلم صاحب الفضيلة الشيخ عطية محمد سالم قاضى تميز بالمحكمة الكبرى بالمدينة المنورةبسم الله الرحمن الرحيم
والصلاة والسلام على سيدنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم
بيد الشكر والعرفان وعين الرضا والإحسان تلقيت من فضيلة الأخ الدكتور. محمد المختار بن والدنا وشيخنا بل وعوض والدى العلامة الشيخ محمد الأمين بن محمد المختار الشنقيطى الذى نشأت فى ظله وأولانى جل عنايته رحمه الله مما أورثنى عنه مننا عظيمة وأيادٍ كريمة. رحمه الله رحمة واسعة. وجعل فى أبنائه أحسن خلف لخير سلف وهذا ولده الأكبر الذى كساه اللَّه حلل العلم ووقاره وجمال الآداب ومكارم الأخلاق مما تميز به عن أقرانه. قد التزم جادة والده ونسج على منواله وجد واجتهد فحصل بفضل اللَّه على شهادات الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية مع ما كان حريصا عليه من التزود والنهل من بحار علوم والده.
وهذه رسالة الدكتوراه قد شرفنى بنسخة منها. وعلمت باعتزامه على طبعها وقد أحسن الظن لى وكرمنى بإتاحة الفرصة لى بعمل تقريظ لها. فجزاه اللَّه أحسن الجزاء.
وقبل البداءة بذلك فهنا اعتذار. وتبرير اعتذار إليه أنى لم أكن ممن وصلوا إلى مستوى تقريظ رسائل رفيعة المستوى كهذه. واعتذار إلى القراء الأفاضل أن أكتب عمن له على مثل هذا الحق.
ولكن المبرر لذلك هو ارتفاع صوت الحق من صميم عمله العلمى إذ أن ميزان العلم لا يتأثر بالعواطف. ولا يترجح بالرغبات.
মদীনা মুনাওয়ারার উচ্চ আদালতের বিশিষ্ট বিচারক ফযীলাতুশ শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিমের কলমে একটি বাণীপরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে
এবং আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক
শোকর ও কৃতজ্ঞতার হাত এবং সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহের দৃষ্টি নিয়ে আমি শ্রদ্ধেয় ভাই ডক্টর মুহাম্মদ আল-মুখতার ইবনে আমাদের পিতা ও শায়খ, বরং আমার পিতার স্থলাভিষিক্ত আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন ইবনে মুহাম্মদ আল-মুখতার আশ-শানকিতীর নিকট থেকে (একটি পাণ্ডুলিপি) গ্রহণ করেছি। আমি তাঁর ছায়াতলে বেড়ে উঠেছি এবং তিনি আমাকে তাঁর পূর্ণ যত্ন প্রদান করেছেন—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন। এর মাধ্যমে তিনি আমাকে অনেক বড় বড় অনুগ্রহ ও দয়া দান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন এবং তাঁর সন্তানদেরকে সর্বোত্তম পূর্বসূরির জন্য সর্বোত্তম উত্তরসূরি বানান। আর এটি তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান, যাকে আল্লাহ ইলমের পোশাক, গাম্ভীর্য, আদব-কায়দার সৌন্দর্য এবং উন্নত চারিত্রিক গুণাবলি দ্বারা ভূষিত করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে বিশিষ্টতা অর্জন করেছেন। তিনি তাঁর পিতার পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর আদর্শের ভিত্তিতে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। তিনি চেষ্টা ও সাধনা করেছেন, ফলে আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষার সনদসমূহ অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর পিতার ইলমের সমুদ্র থেকে আহরণ ও সমৃদ্ধ হতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
এটি তাঁর ডক্টরেট থিসিস, যার একটি কপি দিয়ে তিনি আমাকে সম্মানিত করেছেন। আমি জানতে পেরেছি যে তিনি এটি ছাপানোর ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তিনি আমার প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং আমাকে এর একটি ভূমিকা লেখার সুযোগ দিয়ে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
তবে এটি শুরু করার আগে একটি ক্ষমা প্রার্থনা রয়েছে। তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার কারণ হলো, আমি এই মানের উচ্চপর্যায়ের গবেষণাপত্রের ভূমিকা লেখার যোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত নই। আর বিজ্ঞ পাঠকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা হলো যে, আমি এমন একজনের সম্পর্কে লিখছি যাঁর আমার ওপর অনেক অধিকার রয়েছে।
কিন্তু এর সপক্ষে যুক্তি হলো তাঁর ইলমী কাজের গভীর থেকে সত্যের আওয়াজ উঠে আসা; কেননা ইলমের মানদণ্ড আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং কোনো ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার দ্বারা ঝুঁকে পড়ে না।
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومعلوم أن شرف ورفعة العلم من شرف ورفعة المعلوم. وموضوع هذه الرسالة وهو "أصول الفقه" يجمع العلماء على رفعة شأنه وعلو منزلته فهو بقواعد الأحكام أساسها. وهو لجميع العلوم ميزانها. ومما سمعت من والدنا الشيخ محمد الأمين رحمه الله أن علم الأصول يتناول جميع العلوم فمن علوم القرآن العام والخاص والمطلق والمقيد والناسخ والمنسوخ وأسباب النزول والمكى والمدنى.
ومن علوم الحديث كذلك وطرق الترجيح وأحوال الرواة وأحوال المجتهدين ومناهج الاجتهاد وولات الأوامر والنواهى وما إلى ذلك.
ومن علوم العربية متن اللغة وتصريف الكلمة ومبنى الأساليب فى علوم البلاغة ومن علوم البحث والجدل ترتيب الأدلة وميزان الترجيح. وكل ذلك خدمة ووسيلة لمعرفة واستخراج الأحكام الفرعية من عمومات أدلتها الإجمالية مما لا غنى لطالب علم عنه حتى قالوا جهلة الأصول عوام العلماء.
وهذا الكتاب الذى قدمه الباحث يعتبر فى هذا العلم قمة شامخة وشمسا مشرقة وبحرًا رائغًا. جاء فى عهد متأخر فاستوعب كل عمل متقدم. وقد يتميز بارتكازه على أسس ثلاثة أساسية الأصول الفقه: علم الكلام وعلوم العربية. والفقه. مع اختصاص مؤلفه بسعة علومه وإمامته فى عديد من العلوم. ظهرت آثار ذلك فى هذا الكتاب حيث زادت مراجعه فيه على ما فوق مائة مرجع.
وهذا مما يلزم الباحث أن يشمر عن ساعد الجد ويركب متن الصدق وقف العزم ليرتفع إلى هذا المستوى العلمى. ويساير هذا الإمام فى هذا العمل الجليل. وقد كان كذلك وللَّه الحمد.
وقد ظهرت آثار ذلك بفضل اللَّه وتوفيقه فى عمله فى القسمين القسم الدراسى حيث أبرز حقائق حياة المؤلف وأوضح معالم المجتمع الذى نشأ وعاش فيه والعصر الذى شهد أحداثه تتلاطم فيه تيارات السياسة الغامضة والحياة المضطربة وكيف كانت المؤثرات حول المؤلف من إيجابيات وسلبيات ودون هذا التراث أكثر من ثلاثين مؤلفًا فى العديد من الفنون والعلوم وفى القسم التحقيقى ساهم فى المنهج
এটা সুবিদিত যে, ইলমের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে জ্ঞাত বিষয়ের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের ওপর। আর এই নিবন্ধের বিষয়বস্তু হলো "উসূলে ফিকহ", যার উচ্চমর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থানের ব্যাপারে আলিমগণ একমত। এটি বিধিবিধানের মূলনীতিসমূহের ভিত্তি। এটি সকল ইলমের জন্য একটি মানদণ্ড। আমি আমাদের পিতা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট যা শুনেছি তা হলো, উসূল শাস্ত্র সকল ইলমকেই শামিল করে। কুরআনের উলূম (জ্ঞান) থেকে এটি আম (সাধারণ), খাস (বিশেষ), মুতলাক (নিঃশর্ত), মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত), নাসিখ (রহিতকারী), মানসূখ (রহিত), আসবাবুন নুযুল (নাজিলের প্রেক্ষাপট), মক্কী ও মাদানী বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করে।
একইভাবে হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান, তারজীহ (অগ্রাধিকার প্রদানের) পদ্ধতিসমূহ, রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) অবস্থা, মুজতাহিদগণের অবস্থা, ইজতিহাদের পদ্ধতিসমূহ, আদেশ ও নিষেধের প্রবর্তকগণ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত।
আর আরবী ভাষা সংক্রান্ত জ্ঞান থেকে এটি শব্দের মূল উপাদান, শব্দের রূপান্তর, বালাগাত শাস্ত্রের বাক্যগঠন শৈলী এবং গবেষণা ও বিতর্ক শাস্ত্র থেকে দলীল বিন্যাস ও তারজীহর মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করে। এই সব কিছুই হলো সামগ্রিক দলীলসমূহ থেকে শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিধানাবলি জানা ও আহরণ করার একটি মাধ্যম ও খিদমত, যা ছাড়া একজন ইলম অন্বেষণকারীর কোনো গত্যন্তর নেই। এমনকি বিজ্ঞজনরা বলেছেন, উসূল সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরা আলিমদের মধ্যে সাধারণ মানুষের মতো।
গবেষক কর্তৃক উপস্থাপিত এই গ্রন্থটি এই শাস্ত্রে এক সুউচ্চ শিখর, একটি উজ্জ্বল সূর্য এবং একটি তরঙ্গায়িত সমুদ্র হিসেবে বিবেচিত। এটি পরবর্তী যুগে রচিত হওয়ায় পূর্ববর্তী সকল কাজকে এতে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এটি উসূলে ফিকহের তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, আর তা হলো: ইলমুল কালাম, আরবী ভাষা সংক্রান্ত জ্ঞান এবং ফিকহ। এর পাশাপাশি গ্রন্থকারের ইলমের প্রশস্ততা এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর ইমামত ও পারদর্শিতাও ফুটে উঠেছে। এই গ্রন্থে তার প্রভাব সুস্পষ্ট, যেখানে এর তথ্যসূত্র একশতেরও অধিক।
এটি গবেষকের জন্য আবশ্যক করে দেয় যে, তিনি যেন কঠোর পরিশ্রমের জন্য কোমর বেঁধে নামেন এবং এই ইলমী স্তরে উন্নীত হওয়ার জন্য সততা ও দৃঢ় সংকল্পের বাহনে আরোহণ করেন। আর এই মহান কাজে এই ইমামের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। আর আলহামদুলিল্লাহ, বাস্তবে তা-ই হয়েছে।
আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফীকে তাঁর কাজের উভয় অংশে—গবেষণামূলক অংশ এবং তাহকীক (সম্পাদনা) অংশ—এর প্রভাব প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণামূলক অংশে তিনি গ্রন্থকারের জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন এবং তিনি যে সমাজে বেড়ে উঠেছেন ও বসবাস করেছেন তার বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করেছেন। এছাড়া সেই যুগের পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন যেখানে রহস্যময় রাজনীতির স্রোত এবং অস্থির জীবনযাত্রা বিরাজমান ছিল। গ্রন্থকারের ওপর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবসমূহ কেমন ছিল এবং কীভাবে তিনি বিভিন্ন শিল্প ও শাস্ত্রে ত্রিশটিরও বেশি গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন, তাও তুলে ধরেছেন। আর তাহকীক বা সম্পাদনা অংশে তিনি মানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
العلمى. فقام بتعريفات تركها المؤلف وبتفصيل ما أجمل. حين يورد المؤلف قوله: وفى المسألة خلاف أو أقوال ولم يعرض صور الخلاف ولا يسوق الأقوال فيكملها الباحث بل ويساعد الطالب عندما يواجه عقبات الخلاف ويقف فى حيرة مترجح ما يراه راجحًا وقد يقتصر المؤلف فى بعض المسائل على عرضها من بعض جوانبها وتبقى فى حاجة تجلية بغير الجوانب فيكمل الباحث تلك الجوانب وكذلك شرحه للمصطلحات العلمية وخاصة فى علم الكلام مما ليس لكثير من الطلبة إلمامًا بها.
وهذا العمل كله بمثابة أضواء كاشفة على الكتاب تظهر أسراره وتكشف أستاره وتشع أنواره وهى كذلك مما يبرز شخصية الباحث. وهو لذلك أهل ولقد عرفته حفظه اللَّه منذ نشأته حيث حفظ كتاب اللَّه فى صغره وتلقى علوم الرسم والتجويد فى مسقط رأسه. ولما قدم إلى والده رحمه الله هو وفضيلة أخيه الدكتور عبد اللَّه حصلا على الشهادة الدراسية الأولى فى العلم الأول ثم التحقا بالمعهد العلمى التابع لجامعة الإمام محمد بن سعود بالمدينة. فحصلا على ثانوية المعهد وليسانس الجامعة ثم الدراسات العليا وحازا شهادة الليسانس ثم الدكتوراه. مع ملازمتهما دورس والدهما رحمه الله ومن ظواهر ما اكتسباه من منهجية والدهما رحمه الله أن أحدهما اتجه إلى الأصول وهو الدكتور المختار صاحب هذه الرسالة، والآخر اتجه إلى التفسير وهما المادتان اللتان كان رحمه الله يوليهما عنايته ولكنهما بهذه المنهجية أكمل بعضهما بعضًا فى مواصلة حياة والدهما العلمية وإنهما بحق عندى ليمثلان الشخصية المثالية فى طلب العلم والمثابرة عليه وباللَّه التوفيق.
عطية محمد سالم
2/ 12/ 1410 هـ
বৈজ্ঞানিক। তিনি এমন সব সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যা লেখক বাদ দিয়েছিলেন এবং সংক্ষেপে বলা বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। লেখক যখন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন: "এই বিষয়ে মতভেদ বা একাধিক অভিমত রয়েছে" কিন্তু মতভেদের ধরন তুলে ধরেন না কিংবা অভিমতগুলো বর্ণনা করেন না, তখন গবেষক সেগুলো পূর্ণ করেন। বরং তিনি শিক্ষার্থীকে সাহায্য করেন যখন সে মতভেদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় এবং কোনটিকে প্রাধান্য দেবে তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে, তখন তিনি যা অগ্রগণ্য মনে করেন তা তুলে ধরেন। লেখক হয়তো কোনো কোনো মাসআলায় কেবল কিছু দিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন এবং অন্য দিকগুলো স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা থেকে যায়, তখন গবেষক সেই দিকগুলো পূর্ণ করেন। পাশাপাশি তিনি বৈজ্ঞানিক পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করেছেন, বিশেষ করে ইলমুল কালামের (ধর্মতত্ত্ব) ক্ষেত্রে, যে বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থীর পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই।
এই পুরো কাজটি বইটির ওপর এমন এক আলোকবর্তিকা স্বরূপ যা এর রহস্যগুলোকে প্রকাশ করে, এর আবরণ উন্মোচন করে এবং এর নূর বিকিরণ করে। এটি গবেষকের ব্যক্তিত্বকেও ফুটিয়ে তোলে। তিনি এর উপযুক্ত। আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন, আমি তাকে তার বেড়ে ওঠার সময় থেকেই চিনি, যখন তিনি শৈশবেই আল্লাহর কিতাব হিফজ করেছিলেন এবং নিজ জন্মভূমিতে ইলমে রাসম ও তাজবিদ শিক্ষা লাভ করেছিলেন। যখন তিনি ও তার সম্মানিত ভাই ডক্টর আব্দুল্লাহ তাদের পিতার (আল্লাহ তাকে রহম করুন) কাছে আসলেন, তখন তারা প্রাথমিক জ্ঞানসমূহে প্রথম স্তরের শিক্ষা সনদ লাভ করেন। এরপর তারা মদিনায় অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বৈজ্ঞানিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তারা ইনস্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিস্যান্স সম্পন্ন করেন, এরপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করে লিস্যান্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পাশাপাশি তারা নিয়মিত তাদের পিতার (আল্লাহ তাকে রহম করুন) দরসে অংশ নিতেন। তাদের পিতার মানহাজ থেকে তারা যা অর্জন করেছেন তার অন্যতম নিদর্শন হলো এই যে, তাদের একজন উসূলের দিকে মনোনিবেশ করেছেন—তিনি হলেন ডক্টর আল-মুখতার, এই গবেষণাপত্রের লেখক—এবং অন্যজন তাফসিরের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। এই দুটি বিষয়ের প্রতিই তাদের পিতা (আল্লাহ তাকে রহম করুন) বিশেষ যত্নবান ছিলেন। তবে এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা তাদের পিতার ইলমি জিন্দেগি অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক হয়েছেন। তারা উভয়েই আমার কাছে জ্ঞান অন্বেষণ ও তাতে অধ্যবসায়ের ক্ষেত্রে যথার্থই আদর্শ ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি। আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
আতিয়াহ মুহাম্মদ সালিম
২/ ১২/ ১৪১০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
شكر وتقديرالحمد للَّه رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين محمد عبد اللَّه ورسوله وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا. وبعد:
فأتقدم بجزيل الشكر والامتنان والتقدير لأستاذى الفاضل العلامة المتواضع فضيلة الدكتور عمر بن عبد العزيز محمد الذى كان لى الشرف فى إشرافه على هذه الرسالة، فبذل جهده ووقته فى توجيهى، وأمدنى بملاحظاته المفيدة وتوجيهاته القيمة السديدة، فكان له الفضل بعد اللَّه تعالى فى إخراجها إلى حيز الوجود، وبهذا المستوى، فجزاه اللَّه خير الجزاء وأمدّ فى عمره، ونفع المسلمين بعلمه.
كما أشكر لكل من ساعد فى إنجاز هذه الرسالة وخاصة القائمين على مكتبة الدراسات العليا بالجامعة.
كما أشكر للجامعة الإِسلامية والقائمين عليها سائلًا المولى عز وجل أن يوفقهم لما فيه صلاح هذه الجامعة دنيا وأخرى.
* * *
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূল আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীদের ওপর, প্রচুর পরিমাণে সালাম। অতঃপর:
আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, বিনয়ী আল্লামা ডক্টর উমর বিন আব্দুল আজিজ মুহাম্মাদ-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, যাঁর তত্ত্বাবধানে এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তিনি আমাকে দিকনির্দেশনা প্রদানে তাঁর শ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন এবং আমাকে উপকারী পর্যবেক্ষণ ও সঠিক মূল্যবান নির্দেশনা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ তাআলার পর এই গবেষণাপত্রটি আলোর মুখ দেখা এবং এই মানে পৌঁছানোর পেছনে তাঁরই অবদান। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন।
আমি আরও ধন্যবাদ জানাই যারা এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা লাইব্রেরির দায়িত্বশীলদের।
সেই সাথে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, মহান প্রভুর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহকালীন ও পরকালীন মঙ্গলের কাজে তাওফিক দান করেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
سبب اختيار الموضوعبدافع الرغبة فى إحياء تراثنا العظيم أخذت أبحث فى المخطوطات فوقع اختيارى على كتاب "سلاسل الذهب" للإمام بدر الدين الزركشى رحمه الله وذلك للأسباب الآتية:
1 - أهمية الكتاب، فإنه بَحَثَ الأصول من ناحية لم يُبحث منها من قبل حيث ركز بحثه على ثلاثة علوم ذكر أنها مادة أصول الفقه، وهى علم الكلام، والعربية، والفقه.
2 - لكونه من المخطوطات النادرة ولم يسبق نشره.
3 - لأن مؤلفه يعد من الأئمة الأعلام فى جميع الفنون وخاصة أصول الفقه.
4 - لأنى أريد أن يكون بحثى شاملًا لجميع مواضيع أصول الفقه، ولا يمكن ذلك إلا بتحقيق مخطوطة مختصرة مثل هذا الكتاب.
5 - أن المكتبة الإسلامية أحوج إلى نشر التراث منها إلى كتابة الرسائل فى بحوث جزئية.
6 - حسن الأسلوب، وكثرة الجمع مع صغر حجم الكتاب، وحسن خطه، ووضوحه.
* * *
বিষয় নির্বাচনের কারণআমাদের মহান ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার বাসনা থেকে আমি পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হই এবং ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'সালাসিলুজ জাহাব' গ্রন্থটি নির্বাচন করি; যার কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১ - কিতাবটির গুরুত্ব; কেননা এটি উসূল (নীতিশাস্ত্র) সম্পর্কে এমন এক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছে যা আগে আলোচিত হয়নি। তিনি তাঁর আলোচনাকে তিনটি ইলমের ওপর কেন্দ্রীভূত করেছেন যেগুলোকে তিনি উসূলে ফিকহের মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর সেগুলো হলো: ইলমুল কালাম, আরবি ভাষা এবং ফিকহ।
২ - এটি একটি বিরল পাণ্ডুলিপি হওয়ার কারণে এবং ইতিপূর্বে এটি প্রকাশিত না হওয়ার কারণে।
৩ - কারণ এর লেখক সকল জ্ঞানশাখায়, বিশেষ করে উসূলে ফিকহের ক্ষেত্রে একজন প্রথিতযশা ইমাম হিসেবে গণ্য।
৪ - যেহেতু আমি চাই আমার গবেষণা উসূলে ফিকহের সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করুক, আর এই কিতাবটির মতো সংক্ষিপ্ত পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ব্যতীত তা সম্ভব নয়।
৫ - ইসলামী পাঠাগারের জন্য আংশিক গবেষণার ওপর প্রবন্ধ রচনার চেয়ে ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপিগুলো প্রকাশ করা অধিক জরুরি।
৬ - কিতাবটির চমৎকার শৈলী, ক্ষুদ্র কলেবরে প্রচুর তথ্যের সমাবেশ এবং এর সুন্দর ও স্পষ্ট হস্তলিপি।
* * *
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة التحقيقوهى مرتبة على أربعة فصول:
الفصل الأول: وفيه تمهيد وثلاثة مباحث:
المبحث الأول: الحالة السياسية فى عصر الإمام الزركشى، ومدى تأثره بالحالة السياسية.
المبحث الثانى: الحالة الاجتماعية فى عصره، ومدى تأثره بها.
المبحث الثالث: الحالة العلمية فى عصره، ومدى تأثره بها.
الفصل الثانى: ويشتمل على مبحثين:
المبحث الأول: اسمه، ولقبه، وكنيته، وولادته، ونشأته.
المبحث الثانى: مكانته، وأخلاقه.
الفصل الثالث: ويشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: طلبه للعلم، ورحلته لطلبه، وشيوخه، وتلاميذه.
المبحث الثانى: مؤلفاته.
المبحث الثالث: وفاته، وأقوال الأئمة والمؤرخين فيه.
الفصل الرابع: ويشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بالكتاب، ونسبته إلى المؤلف، وموضوعاته.
المبحث الثانى: مصادر المؤلف فى هذا الكتاب.
المبحث الثالث: وصف مخطوطة الكتاب ومنهجى فى التحقيق.
* * *
সম্পাদনার ভূমিকাএটি চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত:
প্রথম অধ্যায়: এতে রয়েছে একটি প্রারম্ভিকা এবং তিনটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম যারকাশীর যুগের রাজনৈতিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক অবস্থার দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়ার মাত্রা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগের সামাজিক অবস্থা এবং এর দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়ার মাত্রা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগের ইলমী বা জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা এবং এর দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়ার মাত্রা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, উপাধি (লকব), কুনিয়াত, জন্ম এবং লালন-পালন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা এবং চরিত্র।
তৃতীয় অধ্যায়: এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর সফরসমূহ, তাঁর উস্তাদগণ এবং তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল এবং তাঁর সম্পর্কে ইমাম ও ঐতিহাসিকগণের উক্তি।
চতুর্থ অধ্যায়: এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিতাবটির পরিচিতি, লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধ এবং এর বিষয়বস্তুসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই কিতাবে লেখকের ব্যবহৃত উৎসসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবটির পাণ্ডুলিপির বিবরণ এবং সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি।
* * *
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول فى أحوال الزركشىويشتمل على تمهيد وثلاثة مباحث
المبحث الأول: الحالة السياسية فى عصر الزركشى.
المبحث الثانى: الحالة الاجتماعية فى عصره.
المبحث الثالث: الحالة العلمية فى عصره.
* * *
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম যারকাশীর অবস্থা ও জীবনবৃত্তান্ত প্রসঙ্গেএটি একটি ভূমিকা ও তিনটি আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে গঠিত
প্রথম আলোচনা: যারকাশীর যুগের রাজনৈতিক অবস্থা।
দ্বিতীয় আলোচনা: তাঁর যুগের সামাজিক অবস্থা।
তৃতীয় আলোচনা: তাঁর যুগের ইলমী বা জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা।
* * *
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
تمهيدتعتبر تراجم الرجال بمثابة المدارس للأجيال، ولذا كانت محل عناية العلماء والأدباء والكاتبين لاسيما كبار العلماء والزعماء وكل من قدم للأمة خدمات دينية أو دنيوية، ولذا يتحتم على من يريد الكتابة عن أى شخصية من هؤلاء أن يدرس الظروف المحيطة به، والوسط الذى عاش فيه منذ نعومة أظفاره حتى اشتد عوده ونضج فكره ليقف على الأسباب المؤثرة فى نبوغه والتى جعلته أحد العظماء؛ لأن تأثير البيئة فى الإنسان من المحسوسات الضرورية مثل تأثير الأبوين على الابن، والمدرسة والزملاء، والمعارف التى يتلقفها، وتأثير المعلم عليه، والكتب التى يطالعها، بالإضافة إلى الأحوال السياسية والاقتصادية والاجتماعية التى تحدث عند الإنسان رد فعل سلبى أو إيجابى من حيث يدرى أو لا يدرى، وكل ذلك عوامل واقعية لها أثرها فى تكوين الشخصية، وتجعلنا نتناولها من قريب وتعيننا على فهم منهجها وطرقها فى الحياة.
وكل مجتمع يحمل عناصر خير وعناصر شر، وكل عنصر من هذين العنصرين يدعو الإنسان لاتباعه، والتكلم باسمه، فترى الناس على مشارب مختلفة فمنهم من يكون عنصر خير يدافع ويجاهد فى سبيله، ومنهم من يكون عنصر شر ينهمك فى الفساد والفجور، وكل منهم ميسر لما خلق له، وحينما ندرس حياة الإمام الزركشى مثلًا أو أى عظيم من العظماء المسلمين نجده متأثرًا بمجتمعه تأثرًا إيجابيًا أخذ خيره وعمل على نشره، ونهى عن الفساد، وعمل على كسره.
* * *
ভূমিকামণীষীদের জীবনীসমূহ প্রজন্মগুলোর জন্য শিক্ষা নিকেতন স্বরূপ বিবেচিত। তাই আলেম, সাহিত্যিক এবং লেখকদের নিকট এগুলো বিশেষ গুরুত্বের বিষয় হিসেবে গণ্য হয়েছে; বিশেষত বড় আলেম, নেতৃবৃন্দ এবং উম্মাহর জন্য ধর্মীয় বা জাগতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের জীবনীসমূহ। সুতরাং, এই সকল ব্যক্তিত্বের মধ্য থেকে কারো সম্পর্কে যিনি লিখতে চান, তার জন্য অপরিহার্য হলো—সেই ব্যক্তির পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং শৈশব থেকে শুরু করে তার শক্তিমত্তা ও চিন্তার পরিপক্বতা অর্জন পর্যন্ত তিনি যে পরিবেশে বসবাস করেছেন তা অধ্যয়ন করা; যাতে তার প্রতিভার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী কারণগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, যা তাকে মহৎ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। কেননা মানুষের ওপর পরিবেশের প্রভাব একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়; যেমন সন্তানের ওপর পিতামাতার প্রভাব, বিদ্যালয় ও সহপাঠীদের প্রভাব, তার অর্জিত জ্ঞানসমূহ, তার ওপর শিক্ষকের প্রভাব এবং তার পঠিত বইসমূহের প্রভাব। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি—যা মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, চাই সে তা বুঝতে পারুক বা না পারুক। আর এসবই হলো বাস্তবধর্মী উপাদান যা ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে, যা আমাদেরকে সেই ব্যক্তিত্বকে নিকট থেকে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে এবং জীবনে তার কর্মপন্থা ও পথগুলো বুঝতে সহায়তা করে।
প্রতিটি সমাজই কল্যাণ ও অকল্যাণের উপাদান ধারণ করে। এই উভয় উপাদানের প্রতিটিই মানুষকে তার অনুসরণ করতে এবং তার পক্ষে কথা বলতে আহ্বান করে। ফলে আপনি মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন স্বভাবের দেখতে পান; তাদের কেউ কল্যাণের পথ বেছে নেয়, তার পক্ষে প্রতিরক্ষা করে এবং সে পথেই প্রচেষ্টা চালায়। আবার কেউ অকল্যাণের পথ বেছে নেয় এবং ফাসাদ ও পাপাচারে নিমগ্ন থাকে। আর তাদের প্রত্যেকেই যার জন্য সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সেই পথকে সহজ করে দেওয়া হয়েছে। আর যখন আমরা উদাহরণস্বরূপ ইমাম যারকাশী অথবা মুসলিম মণীষীদের মধ্য থেকে কোনো মহৎ ব্যক্তির জীবনী অধ্যয়ন করি, তখন তাকে তার সমাজ দ্বারা ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত দেখতে পাই; তিনি সমাজের কল্যাণকর বিষয়গুলো গ্রহণ করেছেন এবং তা প্রসারে সচেষ্ট হয়েছেন, আর মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন এবং তা নির্মূলে কাজ করেছেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأول الحالة السياسية فى عصر الإمام الزركشىلقد عاش الزركشى من سنة 745 هـ إلى سنة 794 هـ، وعاصر فترتين من حكم المماليك.
الفترة الأولى: المماليك البحرية.
الفترة الثانية: المماليك الجراكسة أو الشراكسة (1).
أما فترة المماليك البحرية والتى تبدأ من سنة 648 هـ حتى سنة 784 هـ فقد قامت دولتهم بعد انتهاء دولة بنى أيوب بقتل آخر ملوكها نجم الدين أيوب الملك الصالح سنة 648 هـ (2).
وأول سلاطين المماليك البحرية عز الدين أيبك التركمانى الصالحى الذى تولى عام 648 هـ، وقتل عام 655 هـ، ثم جاء بعده ابنه المنصور نور الدين، ثم خلفه بعد سنتين الملك المظفر (يوسف بن قطز) ووقعت بينه وبين هلاكوا التترى موقعة عين جالوت سنة 658 هـ التى انتصر فيها المسلمون وقتل فيها قائد المغول، واستخلص المسلمون منهم الشام بعد استيلائهم عليه، وتدميرهم المساجد، وإفسادهم فى الأرض بقتل النساء والأطفال والشيوخ، ثم وحد المظفر بين مصر والشام (3) وجعل عليه أحد ملوك الترك، ثم قتل الملك المظفر على يد بيبرس بعد انتصاره على التتار سنة 658 هـ، ثم تولى بيبرس الأيوبى على الديار المصرية
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম যারকাশীর যুগের রাজনৈতিক অবস্থাইমাম যারকাশী ৭৪৫ হিজরী থেকে ৭৯৪ হিজরী পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং তিনি মামলুক শাসনের দুটি পর্যায় প্রত্যক্ষ করেছেন।
প্রথম পর্যায়: বাহরী মামলুক।
দ্বিতীয় পর্যায়: চেরকাসীয় বা সারকাসীয় মামলুক (১)।
বাহরী মামলুকদের শাসনকাল ৬৪৮ হিজরী থেকে ৭৮৪ হিজরী পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। আইয়ুবী রাজবংশের শাসনের অবসানের পর তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬৪৮ হিজরীতে আইয়ুবী বংশের শেষ সুলতান নাজমুদ্দিন আইয়ুব আল-মালিকুস সালিহ-এর হত্যার মাধ্যমে এই বংশের সমাপ্তি ঘটে (২)।
বাহরী মামলুকদের প্রথম সুলতান ছিলেন ইজ্জুদ্দিন আইবাক আল-তুর্কমানী আল-সালিহী, যিনি ৬৪৮ হিজরীতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ৬৫৫ হিজরীতে নিহত হন। এরপর তাঁর পুত্র আল-মানসুর নূরুদ্দিন ক্ষমতায় আসেন। তার দুই বছর পর আল-মালিকুল মুযাফফর (ইউসুফ বিন কুতুয) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর ও তাতার নেতা হালাকু খানের বাহিনীর মধ্যে ৬৫৮ হিজরীতে আইন জালুতের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যাতে মুসলিমরা বিজয় লাভ করেন এবং মঙ্গোল সেনাপতি নিহত হয়। তাতাররা সিরিয়া দখল করার পর সেখানে মসজিদসমূহ ধ্বংস করে এবং নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করে যমীনে যে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল, মুসলিমরা তাদের হাত থেকে সিরিয়াকে উদ্ধার করেন। এরপর আল-মুযাফফর মিশর ও সিরিয়াকে একত্রিত করেন (৩) এবং সেখানে একজন তুর্কি শাসক নিযুক্ত করেন। তাতারদের বিরুদ্ধে বিজয়ের পর ৬৫৮ হিজরীতেই বাইবার্সের হাতে আল-মালিকুল মুযাফফর নিহত হন। অতঃপর বাইবার্স আল-আইয়ুবী মিশর ভূখণ্ডের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والشام والحجاز سنة 658 هـ، ثم توالى الملوك بعده، وصار بعضهم يقتل بعضًا، وقامت الحروب بين المسلمين، واستمر وضعهم فى حالة يرثى لها إلى أن تولى الملك الناصر بن قلاوون حيث حكم وعُزل عدة مرات، كان آخرها عزله عام 741 هـ.
والذى يهمنا من أحداث هذه الفترة لدراسة حياة الإمام الزركشى ما كان فى مطلع القرن الثامن الهجرى من إرادة التتار غزو بلاد الشام ومصر بعد أن استولى الملك الناصر محمد بن قلاوون على الحكم بقليل فاستعد لقتال التتار، وزحف بجيوشه إلى الشام، ووقعت بينه وبين التتار معركة كانت الدائرة فيها على الملك الناصر وجيشه، فبالغ التتار فى التخريب والسلب والنهب والقتل إلا أن الناصر أخذ يعد العدة لملاقات أعدائه، وأعاد الكرة، فزحف إليهم ثانية عام 702 هـ، ووقعت بينهم موقعة (مرج راهط) وانتصر فيها المسلمون انتصارًا حاسمًا، وقُضى على التتار قضاء مبرمًا، وخضعت بلاد الشام ثانية لسلطان مصر، ثم عاد الناصر إلى مصر، وبقى فى منصبه حتى ساءت العلاقة بينه وبين الظاهر بيبرس فرحل إلى الحج، ولكنه عندما وصل إلى الكرك خلع نفسه من السلطنة عام 708 هـ بعد أن حكم فى هذه المدة قريبًا من تسع سنوات ونصف (1).
وتولى بعده السلطان الملك المظفر ركن الدين بيبرس الجاشنكير، وفى زمنه تفشت الأمراض، وعم الوباء، وارتفع سعر القمح وغيره من المواد وتشاءم الناس بطلعة المظفر بيبرس، ووقعت الوحشة بينه وبين عامة المصريين واضطربت الأوضاع، ووقعت المواجهة بينه وبين الناصر بن قلاوون حتى كانت نهاية المظفر على يد الناصر عام 709 هـ (2).
وهكذا ابتدأ القرن الثامن بالاضطرابات والفتن والحرص على السلطة والملك والحروب الطاحنة التى ذهب ضحيتها نفوس كثيرة، وأريقت دماء غزيرة، ولم
--------------------------------------------
এবং সিরিয়া ও হিজায ৬৫৮ হিজরি সনে। এরপর একের পর এক রাজন্যবর্গ ক্ষমতায় আসেন, তাদের একে অপরকে হত্যা করতে শুরু করেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহ শুরু হয়। তাদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ পর্যায়ে উপনীত হয় যতক্ষণ না মালিক আল-নাসির ইবনে কালাউন শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি কয়েকবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ও অপসারিত হন, যার সর্বশেষটি ছিল ৭৪১ হিজরি সনে।
ইমাম যারকাশির জীবন পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই সময়ের ঘটনাবলির মধ্যে আমাদের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো অষ্টম হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে তাতারদের সিরিয়া ও মিসর আক্রমণের ইচ্ছা। মালিক আল-নাসির মুহাম্মদ ইবনে কালাউন ক্ষমতায় আসার অল্পকাল পরেই তাতারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং সেনাবাহিনী নিয়ে সিরিয়ার অভিমুখে যাত্রা করেন। তার ও তাতারদের মধ্যে এক যুদ্ধ সংঘটিত হয় যাতে মালিক আল-নাসির ও তার বাহিনীর ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। তাতাররা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ ও হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠে। তবে আল-নাসির পুনরায় শত্রুর মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন এবং আবার আক্রমণ করেন। ৭০২ হিজরি সনে তিনি দ্বিতীয়বার তাদের দিকে অগ্রসর হন এবং তাদের মধ্যে (মারজ রাহিত) নামক স্থানে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে মুসলিমরা চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে এবং তাতারদের সমূলে বিনাশ করা হয়। সিরিয়া অঞ্চল পুনরায় মিসরের সুলতানের শাসনাধীনে আসে। এরপর আল-নাসির মিসরে ফিরে আসেন এবং স্বপদে বহাল থাকেন যতক্ষণ না আল-জাহির বাইবারসের সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অতঃপর তিনি হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, কিন্তু কারাক পৌঁছালে ৭০৮ হিজরি সনে সুলতানাত থেকে ইস্তফা দেন। এই মেয়াদে তিনি প্রায় সাড়ে নয় বছর শাসন করেছিলেন (১)।
তার পরে সুলতান মালিক আল-মুজাফফর রুকনুদ্দিন বাইবারস আল-জাশনাকির ক্ষমতাসীন হন। তার আমলে বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে, মহামারি ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং গমসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষ মুজাফফর বাইবারসের শাসনকে অশুভ মনে করতে শুরু করে। তার সাথে সাধারণ মিসরীয়দের দূরত্ব তৈরি হয় এবং পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। অবশেষে আল-নাসির ইবনে কালাউনের সাথে তার মুখোমুখি সংঘাত শুরু হয় এবং ৭০৯ হিজরি সনে আল-নাসিরের হাতেই মুজাফফরের শাসনের অবসান ঘটে (২)।
এভাবেই অষ্টম হিজরি শতাব্দীর সূচনা হয়েছিল গোলযোগ, ফিতনা-ফ্যাসাদ, ক্ষমতার লিপ্সা এবং সেই ভয়াবহ যুদ্ধের মাধ্যমে যাতে বহু প্রাণ ঝরে গিয়েছিল এবং প্রচুর রক্তপাত হয়েছিল। এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يكن ذلك خاصًا بمصر والشام، بل كان الحال فى المغرب والأندلس أسوء منه فى مصر والشام، ثم عاد الملك الناصر إلى ملك مصر مرة ثالثة واستمر من عام 709 هـ إلى عام 741 هـ كما تقدم، وعندما عاد هذه المرة استبد بالأمر، وقام بالإصلاح، ورد المظالم، وأبطل المكوس حتى توفى عام 741 هـ (1). وكان عصره من أحسن عصور المماليك، واتسع أقصى الاتساع بعد أن نجح فى قهر التتار والصليبيين من الشام، واستطاع أن يثبت جدارته بحسن تصريف شؤون الدولة.
ولما توفى الناصر بن قلاوون دخلت دولة المماليك مرحلة جديدة فى تاريخها، وهى مرحلة عصر أبناء الناصر وأحفاده، واستمرت إلى نهاية المماليك البحرية وقيام دولة الشراكسة، واستمر حكم أولاد الناصر إلى عام 762 هـ، وانتقل الحكم إلى أحفاده.
وأهم ما سجل التاريخ فى هذا العصر هو زيادة نفوذ الأمراء وتعاقب عدد كبير من أبناء الناصر وأحفاده من الأحداث فى منصب السلطنة، مما جعل الأمراء يتلاعبون بعقولهم، وعاش أهل مصر والشام فى أوضاع وتيارات داخلية متضاربة ومؤامرات متلاحقة بين الأفراد (2).
بالإضافة إلى شدة الصراع بين السلاطين والذى أودى بالبلاد إلى حالة من الفوضى لا مثيل لها، وكثر الانحلال الخلقى حتى تحرك الصليبيون بحملة إلى الأسكندرية خربتها، وأغاروا على طرابلس بالشام، وقد فشلت محاولاتهم بفضل اللَّه، وهذا مما يدل على عدم هيبة دولة المماليك فى هذا العصر وضعفها (3).
--------------------------------------------
এটি কেবল মিশর ও শামের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মাগরিব এবং আন্দালুসে পরিস্থিতি মিশর ও শামের চেয়েও শোচনীয় ছিল। অতঃপর সুলতান আন-নাসির তৃতীয়বারের মতো মিশরের ক্ষমতায় ফিরে আসেন এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত তথ্যানুসারে ৭০৯ হিজরি থেকে ৭৪১ হিজরি পর্যন্ত ক্ষমতায় বহাল থাকেন। এবার ফিরে আসার পর তিনি একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হন, সংস্কার কাজ পরিচালনা করেন, জুলুম-অবিচার দূর করেন এবং অবৈধ কর বাতিল করেন; পরিশেষে ৭৪১ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (১)। তাঁর যুগটি ছিল মামলুকদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। শাম (সিরিয়া) থেকে তাতার ও ক্রুসেডারদের পরাজিত করার পর সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বোচ্চ বিস্তার লাভ করেছিল এবং তিনি রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
নাসির ইবনে কালাউন যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন মামলুক সালতানাত তার ইতিহাসের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল। আর তা হলো নাসিরের পুত্র ও নাতিদের শাসনকাল। এটি বাহরি মামলুকদের শেষ সময় এবং সারকাসীয় শাসনের উত্থান পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। নাসিরের সন্তানদের শাসন ৭৬২ হিজরি পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং এরপর ক্ষমতা তাঁর নাতিদের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
এই যুগের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমীরদের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়া এবং সুলতান পদে নাসিরের পুত্র ও নাতিদের মধ্য থেকে একের পর এক অল্পবয়সীদের অভিষেক হওয়া। এর ফলে আমীররা তাঁদেরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পান। এমতাবস্থায় মিশর ও শামের জনগণ অভ্যন্তরীণ সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিনাতিপাত করেন (২)।
এর সাথে যুক্ত হয়েছিল সুলতানদের মধ্যকার তীব্র কোন্দল, যা দেশকে এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। নৈতিক অবক্ষয় এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, ক্রুসেডাররা আলেকজান্দ্রিয়া অভিমুখে এক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে তা ধ্বংস করে দেয় এবং শামের ত্রিপোলিতে অতর্কিত হামলা চালায়। আল্লাহর অনুগ্রহে তাদের এই প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়। এটি এই যুগে মামলুক রাষ্ট্রের দুর্বলতা এবং তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি হ্রাসেরই পরিচয় দেয় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
دولة المماليك الجراكسة (1)
من عام 784 - 984 هـ
قامت دولة المماليك الجراكسة على أنقاض دولة المماليك البحرية وأول سلاطينها السلطان الملك الظاهر أبو سعيد برقوق، تسلطن عام 784 هـ، فبدأ بقتل رجال الدولة حتى أفناهم، واستكثر من استجلاب الجراكسة، فثار عليه الأمير يلبغا الناصرى عام 791 هـ، وأعيد الملك حاجى الذى كان آخر المماليك البحرية، وبعث برقوق إلى السجن، وبعد ذلك جهز البرقوق جيشًا فى الكرك وحارب به حتى استولى به وعاد إلى مصر، واستبد بالسلطة عام 792 هـ، وبقى بها حتى مات عام 801 هـ، وفى هذه الفترة هلك خلق كثر بالطاعون والسيف من جراء الحروب المدمرة التى فتت فى عضد المسلمين، وكان ذلك من ميزات القرن الثامن الهجرى، هذا بالنسبة إلى مصر.
أما بلاد الشام التى رحل إليها الإمام الزركشى ودرس فيها فلم تكن أحسن حالًا فى هذا العهد من غيرها، بل كان أهلها مغلوبين على أمرهم محرومين من المشاركة فى الحكم، وفى أى أمر من أمور بلادهم (2).
وهكدا ظل سلطان المماليك هو القوة الكبرى المسيطرة على مصر والشام وإن كان ما ذكرناه فى هذا العصر يعد من مساوئ الحكم المماليكى إلا أننا لا يمكننا أن ننكر أن المماليك كان لهم فضل كبير فى رد كيد التتار فى نحورهم وإراحة المسلمين من شرورهم وكذلك فى طرد الصليبيين وإبعادهم - فهم بذلك يكونون قد أزالوا خطرًا عظيمًا كان محدقًا بأهل الشام (3).
--------------------------------------------
সারকাসীয় মামলুক সালতানাত (১)৭৮৪ - ৯৮৪ হিজরী পর্যন্ত
বাহরী মামলুক সালতানাতের ধ্বংসাবশেষের উপর সারকাসীয় মামলুক সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর প্রথম সুলতান ছিলেন সুলতান আল-মালিকুজ জাহির আবু সাঈদ বারকুক। তিনি ৭৮৪ হিজরীতে সিংহাসনে আরোহণ করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যার মাধ্যমে তাদের নির্মূল করা শুরু করেন এবং প্রচুর পরিমাণে সারকাসীয় মামলুক সংগ্রহ করতে থাকেন। ফলে ৭৯১ হিজরীতে আমীর ইয়ালবুগা আন-নাসিরী তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং বাহরী মামলুকদের শেষ সুলতান মালিক হাজ্জীকে পুনরায় ক্ষমতায় আসীন করা হয় এবং বারকুককে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর বারকুক কারাক অঞ্চলে একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেন এবং তার মাধ্যমে যুদ্ধ করে ক্ষমতা দখল করে পুনরায় মিশরে ফিরে আসেন। তিনি ৭৯২ হিজরীতে একচ্ছত্র ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ৮০১ হিজরীতে মৃত্যু পর্যন্ত ক্ষমতায় আসীন থাকেন। এই সময়কালে বিধ্বংসী যুদ্ধবিগ্রহের ফলে প্লেগ মহামারী ও তরবারির আঘাতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়, যা মুসলিমদের শক্তিকে খর্ব করে দিয়েছিল; এটি ছিল মিশরের ক্ষেত্রে হিজরী অষ্টম শতাব্দীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আর শামের (সিরিয়া) অবস্থা, যেখানে ইমাম যারকাশী সফর করেছিলেন এবং পড়াশোনা করেছিলেন, সেই যুগে সেখানকার পরিস্থিতিও অন্য স্থানের চেয়ে ভালো ছিল না। বরং সেখানকার অধিবাসীরা নিজেদের বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এবং শাসনকাজ বা তাদের দেশের কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত ছিল (২)।
এভাবেই মামলুক সুলতানগণ মিশর ও শামের ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী প্রধান শক্তিতে পরিণত হন। যদিও এই যুগে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা মামলুক শাসনের ত্রুটি হিসেবে গণ্য করা হয়, তবুও আমরা এটি অস্বীকার করতে পারি না যে, তাতারদের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে এবং মুসলিমদের তাদের অনিষ্ট থেকে মুক্তি দিতে মামলুকদের বিশাল অবদান ছিল। একইভাবে ক্রুসেডারদের বিতাড়িত ও দূর করার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য—এর মাধ্যমে তারা শামবাসীর ওপর ঘনিয়ে আসা এক মহাবিপদ দূর করেছিলেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تأثر الإمام الزركشى بالحالة السياسيةمما لا شك فيه أن استقرار الأوضاع والأمن من أكبر النعم على البشرية، وأى عالم يعيش فى مجتمع مضطرب تتنازعه الأهواء والفتن يتأثر بمجتمعه ويحزن له، وقد يثبط ذلك من عزمه ويقلل من حزمه، فيؤثر على تفكيره تأثيرًا مباشرًا، وهذا التأثر كما يكون سلبيًا بقلة العطاء والفت فى العضد يكون إيجابيًا كذلك من ناحية أخرى؛ لأن الغيورين على الدين وخاصة العلماء يشمرون عن ساعد الجد ليخدموا المجتمع الذى يعيشون فيه، فيزداد نشاطهم فيكتبون وينصحون ويرشدون، ونرى أن الزركشى تأثر هذا التأثر الإيجابى فنشط للكتابة والتصانيف ونفع الأمة، ومما ساعده على ذلك زهده وابتعاده عن المناصب فلم يعرف عنه أنه تقلد القضاء ولا استوزر، بل كان طريقه الوحيد التعلم والتعليم والتصنيف، ولم يشغله شاغل، ولم يمنعه مانع من طلب العلم رغم الاضطراب السياسى والحروب المدمرة الموجهة ضد الإسلام والمسلمين.
* * *
রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাধ্যমে ইমাম যারকাশীর প্রভাবিত হওয়াএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা মানবজাতির জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আর যে কোনো আলেম যদি এমন এক অশান্ত সমাজে বসবাস করেন যেখানে প্রবৃত্তি ও ফিতনা-ফ্যাসাদ পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত, তবে তিনি তাঁর সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তার জন্য ব্যথিত হন। আর এটি সম্ভবত তাঁর সংকল্পকে স্তিমিত করে দেয় এবং তাঁর দৃঢ়তাকে হ্রাস করে, ফলে তাঁর চিন্তাধারার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। আর এই প্রভাব যেমন কর্মতৎপরতার স্বল্পতা এবং মনোবল ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে নেতিবাচক হতে পারে, তেমনি অন্যদিকে এটি ইতিবাচকও হতে পারে; কারণ দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ, বিশেষ করে উলামায়ে কেরাম, যে সমাজে তাঁরা বসবাস করেন তার সেবা করার জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। ফলে তাঁদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁরা লেখালেখি করেন, নসিহত প্রদান করেন ও পথপ্রদর্শন করেন। আর আমরা দেখি যে, ইমাম যারকাশী এই ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, যার ফলে তিনি লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনায় সক্রিয় হন এবং উম্মাহর উপকার করেন। এ কাজে তাঁকে যা সাহায্য করেছিল তা হলো তাঁর দুনিয়াবিমুখতা এবং পদমর্যাদা থেকে দূরে থাকা; তাঁর সম্পর্কে এটি জানা যায় না যে তিনি বিচারপতির পদ গ্রহণ করেছেন বা মন্ত্রীত্ব লাভ করেছেন। বরং তাঁর একমাত্র পথ ছিল শিক্ষা অর্জন করা, শিক্ষা দান করা এবং গ্রন্থ সংকলন করা। ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ বিগ্রহ সত্ত্বেও কোনো ব্যস্ততা তাঁকে জ্ঞান অন্বেষণ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি এবং কোনো বাধাই তাঁকে বিরত রাখতে পারেনি।
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثانى الحالة الاجتماعية فى عصرهكانت الأحوال الاجتماعية فى عصر المماليك مضطربة، ومُرة، فالحروب المدمرة والمجاعات من جهة، والأمراض الفتاكة والطبقية التى تسود المجتمع من جهة أخرى، كل هذا يجعل الإنسان فى ضيق من العيش، وقلة هناء، وقلق دائم، وكان المجتمع إذ ذاك يتألف من طبقات:
الطبقة الأولى: وهى طبقة السلاطين: وكانت هذه الطبقة متميزة عن غيرها منفردة بالحكم وتنظيم شئون الحروب، وكانت ترى أن بقية الناس أقل منها شأنا فينبغى ألا يشاركوا فى تنظيم الحياة الحربية، وينبغى ألا يكون لهم نصيب فى الحكم إلا فى بعض شئونه التى ليس لها كبير فائدة (1).
وكان السلاطين بيدهم مقاليد الأمور وإليهم يرجع الناس جميعًا، وكان بعض السلاطين يستبد بالأمور كالسلطان محمد بن قلاوون فى فترته الثالثة المتقدمة بعد أن ذاق المرارة من الأمراء فى فترته الأولى والثانية من سلطنته، وكان أكثر السلاطين يتأثر بالأمراء فى هذا العصر مما كان له السبب فى إساءة كثير من الأمور (2).
الطبقة الثانية: المماليك: وقد حرص السلاطين عليهم حرصًا بالغ الأهمية، وكانوا طبقة منفصلة، حيث إنهم حرس السلطان وخاصته، فربوهم تربية سليمة، إما عسكرية، أو دينية، أو ثقافية، ويأتونهم بالعلماء فى مساكنهم ليعلموهم (3).
وكان السلاطين ينظرون إليهم نظرة أبوة وحنان، وكان عامة الناس يرى من هؤلاء المماليك سوء المعاشرة والهوان ويكلفونهم المغارم (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগের সামাজিক অবস্থামামলুক যুগে সামাজিক অবস্থা ছিল অশান্ত এবং তিক্ত। একদিকে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ, অন্যদিকে মহামারী ও সমাজে বিরাজমান শ্রেণিবিভাগ—এই সবকিছুই মানুষের জীবনকে সংকীর্ণ, আনন্দহীন এবং নিরন্তর উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তৎকালীন সমাজ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল:
প্রথম শ্রেণি: সুলতানদের শ্রেণি: এই শ্রেণিটি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র ছিল এবং শাসনকার্য ও যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি পরিচালনায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখত। তারা মনে করত যে, অন্য সব মানুষ তাদের চেয়ে নিচু মর্যাদার, তাই যুদ্ধবিগ্রহ পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ করা উচিত নয় এবং শাসনের ক্ষেত্রেও তাদের কোনো অংশ থাকা উচিত নয়, কেবল গুরুত্বহীন কিছু বিষয় ছাড়া (১)।
সুলতানদের হাতেই ছিল ক্ষমতার চাবিকাঠি এবং সকল মানুষ তাঁদেরই মুখাপেক্ষী হতো। কিছু সুলতান স্বৈরাচারীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন, যেমন সুলতান মুহাম্মদ ইবনে কালাউন তাঁর রাজত্বের পূর্বোক্ত তৃতীয় পর্যায়ে; এটি ছিল তাঁর শাসনের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আমিরদের পক্ষ থেকে তিক্ততা আস্বাদনের পরবর্তী অবস্থা। এই যুগের অধিকাংশ সুলতান আমিরদের দ্বারা প্রভাবিত হতেন, যা অনেক বিষয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল (২)।
দ্বিতীয় শ্রেণি: মামলুকগণ: সুলতানগণ তাঁদের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তাঁরা ছিলেন একটি স্বতন্ত্র শ্রেণি, যেহেতু তাঁরা সুলতানের দেহরক্ষী এবং বিশেষ পারিষদ ছিলেন। তাই সুলতানগণ তাঁদেরকে যথাযথভাবে সামরিক, ধর্মীয় অথবা সাংস্কৃতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতেন এবং তাঁদেরকে শিক্ষা প্রদানের জন্য তাঁদের আবাসে আলেমদের নিয়ে আসতেন (৩)।
সুলতানগণ তাঁদেরকে পিতৃসুলভ ও স্নেহমাখা দৃষ্টিতে দেখতেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এই মামলুকদের পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনার শিকার হতো এবং তারা সাধারণ মানুষের ওপর জরিমানার বোঝা চাপিয়ে দিত (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الطبقة الثالثة: طبقة العلماء والقضاة: وتشمل أرباب الوظائف الديوانية والفقهاء والعلماء والأدباء والكتاب، ولهم مميزات معينة، إلا أنهم يتعرضون بين الحين والآخر أو بعضهم للمهانة والاحتقار، فالغرض من التعامل مع هؤلاء هو الدفاع عن المماليك وإبعاد سخط العامة عليهم لما فى قلوب المجتمع من تعظيم أهل العلم (1).
والعلماء فى هذا العصر كغيره من العصور كانوا على قسمين، فمنهم من كان مجاهدًا فى سبيل اللَّه، لا تأخذه لومة لائم فى الحق، فهؤلاء يجددون الدين ويقيمونه، وكان من هؤلاء العظماء القاضى شمس الدين الحريرى المتوفى عام 728 هـ، حُكى عن ابن قلاوون أنه قال: "إنى لا أخاف أحدًا إلا شمس الدين الحريرى".
ومنهم من كان يتملق للسلاطين ويتقرب منهم ابتغاء مرضاتهم والنفع الدنيوى على حساب دينهم والعياذ باللَّه من حال هؤلاء.
الطبقة الرابعة: التجار: وكانوا مقربين أحيانًا إلى السلاطين لأنهم يمدونهم بالمال فى أوقات الحرج والشدة، وهم يجمعون أموالًا كثيرة إلا أنهم تحت سطوة السلاطين. ورحمتهم، فأحيانًا يصادرون أموالهم، وأحيانًا يثقلونهم بالرسوم والضرائب الباهظة.
الطبقة الخامسة: العمال والصناع والسوقة والسقائين والمُكَارين والمعدمين: وقد عاش أفراد هذه الطبقة فى ضيق وعسر بالنسبة إلى المماليك وغيرهم من الطبقات، وقد يدفعهم هذا الذى عاشوه من الضيق إلى السلب والنهب والتسول والخداع والغش فى أوقات الاضطرابات.
الطبقة السادسة: الفلاحون: وهم السواد الأعظم من السكان، وكان نصيبهم فى عصر المماليك الإهمال والاحتقار مع إثقالهم بالمغارم وتسلط الأعراب عليهم ونهب محاصيلهم ومواشيهم.
--------------------------------------------
তৃতীয় স্তর: আলেম ও বিচারক শ্রেণী: এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন দিওয়ানি পদাধিকারীগণ, ফকিহগণ, আলেমগণ, সাহিত্যিকগণ এবং লেখকগণ। তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ-সুবিধা ছিল, তবে তা সত্ত্বেও তাঁরা মাঝে মাঝে অথবা তাঁদের কেউ কেউ লাঞ্ছনা ও অবজ্ঞার শিকার হতেন। তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার উদ্দেশ্য ছিল মামলুকদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের প্রতি জনগণের অসন্তোষ দূর করা; কেননা সমাজের হৃদয়ে আলেমদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা বিদ্যমান ছিল (১)।
অন্যান্য যুগের মতো এই যুগের আলেমগণও দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একদল ছিলেন আল্লাহর পথে মুজাহিদ, সত্যের পথে তাঁরা কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না। তাঁরাই দ্বীনকে পুনর্জীবিত করতেন এবং তা প্রতিষ্ঠিত করতেন। এই মহান ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাজী শামসুদ্দিন আল-হারিরি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)। ইবনে কালাউন সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: "আমি শামসুদ্দিন আল-হারিরি ব্যতীত আর কাউকে ভয় পাই না।"
আর তাঁদের মধ্যে অপর একদল ছিল যারা সুলতানদের চাটুকারিতা করত এবং তাঁদের সন্তুষ্টি ও দুনিয়াবি স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে দ্বীনের বিনিময়ে তাঁদের নৈকট্য তালাশ করত। এই ধরণের লোকদের অবস্থা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।
চতুর্থ স্তর: ব্যবসায়ীগণ: তাঁরা মাঝেমধ্যে সুলতানদের নিকটবর্তী হতেন, কারণ তাঁরা সংকটের সময় সুলতানদের অর্থ দিয়ে সহায়তা করতেন। তাঁরা প্রচুর অর্থ সঞ্চয় করতেন, তবে তাঁরা সুলতানদের ক্ষমতা ও দয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কখনো কখনো তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতো, আবার কখনো তাঁদের ওপর অত্যধিক মাশুল ও করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হতো।
পঞ্চম স্তর: শ্রমিক, কারিগর, সাধারণ বাজারী মানুষ, পানি সরবরাহকারী, পশু ভাড়া প্রদানকারী এবং সহায়-সম্বলহীন মানুষ: এই স্তরের ব্যক্তিগণ মামলুক ও অন্যান্য স্তরের তুলনায় অত্যন্ত সংকীর্ণতা ও কষ্টের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতেন। এই কষ্টের জীবন বিশৃঙ্খলার সময়ে তাঁদেরকে ছিনতাই, লুণ্ঠন, ভিক্ষাবৃত্তি, প্রতারণা ও জালিয়াতির দিকে ঠেলে দিত।
ষষ্ঠ স্তর: কৃষক সম্প্রদায়: তাঁরা ছিলেন জনসংখ্যার বিশাল অংশ। মামলুক যুগে তাঁদের ভাগ্য ছিল অবহেলা ও অবজ্ঞা, সেইসাথে তাঁদের ওপর ঋণের বোঝা চাপানো হতো এবং বেদুঈনরা তাঁদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করত ও তাঁদের ফসল ও গবাদি পশু লুণ্ঠন করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
ورغم هذا كانت الأمراض والأوبئة والفيضانات تودى بحياة الكثيرين وتعطل أجسام آخرين عن العمل.
فذكر فى حسن المحاضرة: أن فى سنة 702 هـ حصل بالديار المصرية مرض كثير قل أن سلمت منه دار. . . . ولكن كان المرض سليمًا، والموت قليلًا، وفي سنة 721 هـ كان بالقاهرة حريق كبير دام أيامًا فى أماكن وأحرق جامع ابن طولون وما حوله بأسره، وفى سنة 724 هـ رسم السلطان بإبطال الملاهى مما يدل على أن الفساد انتشر وضرب أطنابه، وفى سنة 744 هـ شدد والى القاهرة على إراقة الخمور وعاقب عليها، وفى سنة 761 هـ وقع الوباء بالديار المصرية، وفى سنة 767 هـ أخذ الفرنج مدينة الأسكندرية، وقتلوا وأسروا، فخرج السلطان لقتالهم ففروا، وفى سنة 776 هـ وقع الفناء بالديار المصرية، وأشتد الغلاء، وفى سنة 783 هـ ابتأد الطاعون، وفى سنة 784 هـ وقع الغلاء بمصر (1).
* * *
--------------------------------------------
এতদসত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাধি, মহামারি এবং বন্যা অনেকের জীবন কেড়ে নিত এবং অন্যদের শারীরিক সক্ষমতা নষ্ট করে দিত।
'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: ৭০২ হিজরি সালে মিশরীয় জনপদে বহু রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল, যা থেকে খুব কম ঘরই রক্ষা পেয়েছিল। . . . তবে রোগটি ছিল সহনীয় এবং মৃত্যুহার ছিল কম। আর ৭২১ হিজরি সালে কায়রোতে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল যা কয়েক দিন যাবত বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ছিল এবং ইবনে তুলুন জামে মসজিদ ও এর আশপাশের সম্পূর্ণ এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছিল। ৭২৪ হিজরি সালে সুলতান আমোদ-প্রমোদ নিষিদ্ধ করার ফরমান জারি করেন, যা প্রমাণ করে যে ফাসাদ বা অনাচার ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তার শিকড় গেঁড়ে বসেছিল। ৭৪৪ হিজরি সালে কায়রোর গভর্নর মদ ঢেলে ফেলার বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেন এবং এর জন্য শাস্তি প্রদান করেন। ৭৬১ হিজরি সালে মিশরীয় জনপদে মহামারি দেখা দেয়। ৭৬৭ হিজরি সালে ইউরোপীয়রা আলেকজান্দ্রিয়া শহর দখল করে নেয়, তারা হত্যাকাণ্ড চালায় ও লোকজনকে বন্দি করে; অতঃপর সুলতান তাদের সাথে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলে তারা পলায়ন করে। ৭৭৬ হিজরি সালে মিশর ভূখণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে এবং দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। ৭৮৩ হিজরি সালে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে এবং ৭৮৪ হিজরি সালে মিশরে দুর্ভিক্ষ বা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয় (১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
تأثر الإمام الزركشى بالحالة الاجتماعيةإن الإنسان الذى يسعى لأن يكون كريمًا فى مجتمعه وله مكانة مرموقة فيه لابد وأن يتأثر بتأثر هذا المجتمع، ويفكر فى المشاكل التى تحيط به ويحدد موقفه منها، وقد تقدم أن الناحية الاجتماعية فى القرن الثامن الهجرى تنازعتها مؤثرات كثيرة من جهل ومرض وفقر وحروب مدمرة، كل ذلك يؤثر فى أى شخص يعايشه بغض النظر عن كونه عالمًا أو جاهلًا، لذا فإن الناحية الاجتماعية قد أثرت فى نشأة الزركشى وتكوينه، فتعلم أول أمره صنعة الزركشى التى هى صنعة آبائه ومن يعرفهم، ثم لما تعرف على العلماء تراه ترك الدنيا واتجه إلى العلم ينهل منه حتى أصبح من العلماء البارزين فى القرن الثامن، ومن حبه للعلم ترك كل عمل غيره حتى كان ينفق عليه بعض أقاربه ويكفيه مؤنته، وقطع نفسه فى سبيله، ولعل هذا من الأسباب التى جعلته قليل التأثر بالحياة الاجتماعية العامة، لأن عدم المسئولية وعدم الحقوق على الإنسان يجعله فى راحة أكثر وتفرغ أكثر فائدة - فاللَّه يرحمنا ووالدينا ويرحمه.
* * *
সামাজিক অবস্থার দ্বারা ইমাম যারকাশীর প্রভাবিত হওয়ানিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তার সমাজে সম্মানিত হতে এবং তাতে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করতে সচেষ্ট হন, তাকে অবশ্যই সেই সমাজের পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। তিনি তার চারপাশের সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করেন এবং সেগুলোর প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান নির্দিষ্ট করেন। ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, অষ্টম হিজরী শতাব্দীতে সামাজিক প্রেক্ষাপট অজ্ঞতা, ব্যাধি, দারিদ্র্য এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধবিগ্রহের মতো নানাবিধ প্রতিকূল প্রভাবের দ্বারা বিপর্যস্ত ছিল। যে ব্যক্তিই এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন, চাই তিনি আলেম হোন বা মূর্খ, এই বিষয়গুলো তাকে প্রভাবিত করবেই। তাই সামাজিক প্রেক্ষাপট ইমাম যারকাশীর বেড়ে ওঠা এবং গঠনেও প্রভাব বিস্তার করেছিল। জীবনের শুরুতে তিনি 'যারকাাশী' শিল্প (স্বর্ণতন্তুর কারুকাজ) শিক্ষা করেন, যা ছিল তাঁর পূর্বপুরুষ ও পরিচিতদের পেশা। অতঃপর যখন তিনি ওলামায়ে কেরামের সান্নিধ্য লাভ করেন, তখন তিনি পার্থিব মোহ ত্যাগ করে ইলমের দিকে ধাবিত হন এবং তা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে থাকেন, যার ফলে তিনি অষ্টম শতাব্দীর অন্যতম প্রথিতযশা আলেম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ইলমের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কারণে তিনি অন্য সকল কাজ ত্যাগ করেছিলেন, এমনকি তাঁর কতিপয় আত্মীয় তাঁর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতেন এবং তাঁর প্রয়োজন মিটিয়ে দিতেন। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ইলমের তরে উৎসর্গ করেছিলেন। সম্ভবত এটিই ছিল সাধারণ সামাজিক জীবনের দ্বারা তাঁর কম প্রভাবিত হওয়ার অন্যতম কারণ; কেননা, বৈষয়িক দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত থাকা একজন মানুষকে অধিকতর প্রশান্তি এবং অধিকতর ফলপ্রসূ জ্ঞানচর্চার সুযোগ করে দেয়। আল্লাহ আমাদের ওপর, আমাদের পিতা-মাতার ওপর এবং তাঁর ওপর রহম করুন।
* * *
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثالث الحالة العلمية فى عصر الإمام الزركشىيعد هذا العصر من الناحية العلمية عصرًا مجيدًا حيث قامت فيه حركة التأليف والتدريس وبناء المساجد والمدارس العلمية، ونشطت فيه نشاطًا كبيرًا بسبب المنافسة بين الأمراء والحكام، فهو يعتبر بحق عصر النشاط العلمى والتأليف لما جُمع فيه من العلوم فى فنون مختلفة مثل التاريخ واللغة وجميع فروع العلم الشرعى وفيها علوم القرآن من تفسير وأحكام تلاوة وإعراب وغير ذلك، وعلم الحديث رواية ودراية وما يتعلق بذلك من معرفة الرجال والتواريخ والطبقات، وكذلك علم الفقه وأصوله وغير ذلك من الفروع. وبالرغم من هذه الحركة الواسعة فى التأليف والتصنيف فقد كان أكثر علماء هذا العصر عاكفين على ما وصلهم من تراث السابقين، يفهمونه ويفيدون منه، ويشرحونه أحيانًا وأحيانًا، يختصرونه، فكانت حركتهم فى التأليف قاصرة على اختصار المطولات، وشرح المختصرات وجمع المتفرقات مع التقيد بأفكار وآراء السابقين لهم من الفقهاء والمتكلمين. وكان من نتيجة ذلك الاقتصار على المذاهب الأربعة فى الفقه تقليدًا منهم لمن قال بسد باب الاجتهاد فى القرن الرابع، ولم يظهر طابع الاستقلال بالرأى وإظهار الاجتهاد والتجديد والترجيح إلا فى تأليف نفر قليل على رأسهم شيخ الإسلام ابن تيمية المتوفى عام 728 هـ، وأبو إسحق الشاطبى المتوفى عام 790 هـ (1).
وقد انتشر التصوف فى هذا العصر، حيث تكاثر مشايخ الصوفية، فبثوا تعاليمهم فى مصر، حيث وجدوا فيها تربة خصبة لنشر مبادئهم، وكثر المشعوذون
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম যারকাশীর যুগের জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থাজ্ঞানতাত্ত্বিক দিক থেকে এই যুগটি একটি গৌরবময় যুগ হিসেবে বিবেচিত, কারণ এই সময়ে গ্রন্থ রচনা, শিক্ষাদান এবং মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছিল। আমীর ও শাসকদের মধ্যকার প্রতিযোগিতার ফলে এই তৎপরতা অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি প্রকৃতপক্ষে জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড ও গ্রন্থ রচনার এক স্বর্ণযুগ হিসেবে গণ্য, কেননা এই সময়ে ইতিহাস, ভাষা এবং শরয়ী বিজ্ঞানের সকল শাখা—যেমন তাফসীর, তিলাওয়াতের নিয়মাবলি, বাক্য বিশ্লেষণ (ই'রাব) ও অন্যান্য শাস্ত্রসহ কুরআনের বিভিন্ন জ্ঞান; রেওয়ায়েত ও দেরায়েতসহ হাদীস শাস্ত্র এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীদের পরিচয় (রিজাল), ইতিহাস ও স্তরবিন্যাস (তাবাকাত) বিষয়ক জ্ঞান; তেমনিভাবে ফিকহ, উসূলে ফিকহ এবং অন্যান্য শাখায় প্রচুর জ্ঞান সঞ্চিত হয়েছিল। গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের এই ব্যাপক জোয়ার সত্ত্বেও, এই যুগের অধিকাংশ আলেম তাঁদের নিকট পৌঁছানো পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের ওপরই নিবিষ্ট ছিলেন; তাঁরা সেগুলো বুঝতেন, তা থেকে উপকৃত হতেন এবং কখনো তার ব্যাখ্যা করতেন, আবার কখনো তা সংক্ষেপ করতেন। ফলে গ্রন্থ রচনায় তাঁদের পদচারণা মূলত দীর্ঘ গ্রন্থগুলোকে সংক্ষিপ্ত করা, সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা এবং বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পাশাপাশি তাঁরা তাঁদের পূর্ববর্তী ফকীহ ও কালামশাস্ত্রবিদদের চিন্তা ও মতামতের প্রতি অনুগত ছিলেন। এর ফলে ফিকহ শাস্ত্রে কেবল চারটি মাযহাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং চতুর্থ শতাব্দীতে ইজতিহাদের দ্বার রুদ্ধ হওয়ার প্রবক্তাদের অন্ধ অনুসরণের (তাকলীদ) প্রবণতা তৈরি হয়। স্বতন্ত্র রায় প্রকাশ এবং ইজতিহাদ, সংস্কার ও সঠিক মতকে প্রাধান্য দেওয়ার (তারজীহ) বৈশিষ্ট্য কেবল গুটিকয়েক ব্যক্তির রচনার মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছিল, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু ৭২৮ হি.) এবং আবু ইসহাক আল-শাতিবী (মৃত্যু ৭৯০ হি.)। (১)
এই যুগে তাসাউফ ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল এবং সূফী মাশায়েখদের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাঁরা মিশরে তাঁদের শিক্ষা প্রচার করেন, যেখানে তাঁরা তাঁদের আদর্শ প্রসারের জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছিলেন। একই সাথে ভণ্ড ও জাদুকরদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فأضلوا الناس حيث جعلوهم قبلة لهم فى أذكارهم، وقضاء حوائجهم (1). وصرف حقوق اللَّه تعالى المحضة للمخلوق والعياذ باللَّه.
وقد لخص لنا الأستاذ محمد أبو الفضل فى مقدمة الإتقان للسيوطى حالة هذا العصر بقوله بعد أن ذكر حال البلاد وما تعرضت له من فتن واضطرابات وبعد سقوط الخلافة العباسية ببغداد: "ولكن لأمر أراده اللَّه لحفظ كتابه وحماية دينه قامت مصر والشام فحملتا لواء الزعامة الإِسلامية، وأخذتا بزمام الحركة العلمية والأدبية، وأصبحتا الملجأ الوحيد لأبناء هذا اللسان فى مملكة واحدة حاضرتها القاهرة، ولغتها العربية، وغايتها حماية الدين والملة، فوجدوا فيها الحرم الآمن، والظل الوارف، والمورد العذب، ولم يجد الملوك والأمراء من المماليك ما يوطد سلطانهم ويمكن لحكمهم إلا أن يعظموا الدين وأهله، ويأخذوا بيد العلم والعلماء، ويرفعوا من قدرهم، فأسسوا المدارس والمعاهد، وأقاموا الربط والخوانق، وأرصدوا الأموال والضياع لطلاب العلم والمعرفة، وأنشأوا دور الكتب، وجلبو إليها أنفس الكتب والمصنفات، وأصبحت القاهرة، والأسكندرية، وأسيوط، وقوص، ودمشق، وحلب، وحمص تموج بأعيان العلماء من الفقهاء والأدباء والمؤرخين والشعراء وأصحاب المعاجم ومؤلفى الموسوعات" (2).
ومن هذه المدارس التى أسست فى هذا العصر:
المدرسة المنصورية، والقبة، بناهما الملك المنصور بن قلاوون، ونظم بهما دروسًا أربعة على المذاهب الفقهية الأربعة، ودرسًا للطب، ودروسًا للحديث النبوى، ودرسًا للتفسير، وكان لا يتولى هذه الدروس إلا جلة العلماء (3).
والمدرسة الكاملية (دار الحديث الكاملية) أنشأها السلطان ناصر الدين الكامل، ووقفها على المشتغلين بالحديث، ثم من بعدهم فقهاء الشافعية،
--------------------------------------------
ফলে তারা মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে, কারণ তারা তাদের যিকির এবং প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে তাদেরকেই কিবলা বানিয়ে নিয়েছে (১)। আর আল্লাহ তাআলার একান্ত প্রাপ্য অধিকারসমূহ মাখলুকের প্রতি নিবেদন করেছে, যা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
উস্তাদ মুহাম্মদ আবু আল-ফদল আস-সুয়ূতী রহ.-এর আল-ইতকান গ্রন্থের ভূমিকায় এই যুগের অবস্থা আমাদের কাছে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। দেশসমূহের পরিস্থিতি এবং সেগুলোতে আপতিত ফিতনা ও অস্থিরতার কথা উল্লেখ করার পর এবং বাগদাদে আব্বাসীয় খিলাফতের পতনের পর তিনি বলেছেন: "কিন্তু তাঁর কিতাব সংরক্ষণ এবং তাঁর দ্বীনকে রক্ষার জন্য আল্লাহর এক ইচ্ছা অনুযায়ী মিশর ও সিরিয়া জেগে উঠেছিল। ফলে তারা ইসলামী নেতৃত্বের ঝাণ্ডা ধারণ করেছিল এবং ইলমী ও সাহিত্যিক আন্দোলনের লাগাম হাতে নিয়েছিল। তারা কায়রোকে রাজধানী করে এক রাজ্যের অধীনে এই ভাষার অধিকারীদের জন্য একমাত্র আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল, যার ভাষা ছিল আরবি এবং লক্ষ্য ছিল দ্বীন ও মিল্লাতের সুরক্ষা। ফলে তারা সেখানে এক নিরাপদ হারাম, সুশীতল ছায়া এবং নির্মল জলাধার খুঁজে পেয়েছিল। মামলুক বাদশাহ ও আমীরগণ তাদের রাজত্বকে সুসংহত করার এবং তাদের শাসনকে শক্তিশালী করার জন্য দ্বীন ও দ্বীনদারদের সম্মান করা, ইলম ও উলামাদের সহায়তা করা এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে পাননি। ফলে তারা মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, রিবাত ও খানকাহসমূহ নির্মাণ করেছিলেন, এবং ইলম ও জ্ঞানের অন্বেষণকারীদের জন্য অর্থ ও ভূসম্পত্তি বরাদ্দ করেছিলেন। তারা কুতুবখানা বা গ্রন্থাগারসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানে সবচেয়ে মূল্যবান কিতাব ও সংকলনসমূহ নিয়ে এসেছিলেন। কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, আসইউত, কুস, দামেস্ক, আলেপ্পো এবং হিমস শহরসমূহ ফকীহ, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, কবি, অভিধানপ্রণেতা এবং বিশ্বকোষ রচয়িতাদের মতো বরেণ্য আলিমদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছিল" (২)।
এই যুগে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
আল-মানসুরিয়াহ মাদরাসা এবং আল-কুব্বাহ। এগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাদশাহ আল-মানসুর বিন কালাউন। তিনি সেখানে ফিকহের চারটি মাযহাবের ওপর চারটি দরস (পাঠদান), চিকিৎসার একটি দরস, নববী হাদীসের দরস এবং তাফসীরের একটি দরস প্রবর্তন করেছিলেন। বরেণ্য আলিমগণ ছাড়া আর কেউ এই দরসগুলোর দায়িত্ব পালন করতেন না (৩)।
আর আল-কামিলিয়াহ মাদরাসা (দারুল হাদীস আল-কামিলিয়াহ); এটি সুলতান নাসিরুদ্দিন আল-কামিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং যারা হাদীস চর্চায় নিয়োজিত তাদের জন্য এটি ওয়াকফ করেছিলেন, এরপর শাফিঈ ফকীহদের জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والمدرسة الحجازية أنشأتها ابنة السلطان الملك الناصر بن قلاوون.
والمدرسة الناصرية أنشأها الملك الناصر بن قلاوون سنة 703 هـ، وكان بها إمام يؤم الناس فى الصلوات الخمس، وبها خزانة كتب عظيمة (1).
وهذا نموذج من النشاط العلمى فى هذا العصر، وفى وسط هذا الجو، وفى هذا العصر الزاخر بالعلم والعلماء نشأ الإمام الزركشى، وعاش حياته العلمية، وتثقف بثقافة عصره، ونهل من علمه، حتى صار علمًا من الأعلام، واستطاع فى مدة حياته القصيرة أن يترك الأثر الطيب، والعلم النافع للمسلمين، وبهذا لم ينقطع عمله، لحديث النبى -صلى اللَّه عليه وعلى آله وسلم-: "إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاث، إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له" (2).
* * *
--------------------------------------------
আল-মাদরাসা আল-হিজাজিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সুলতান আল-মালিক আন-নাসির বিন কালাউনের কন্যা।
আর আল-মাদরাসা আন-নাসিরিয়া ৭০৩ হিজরি সালে সুলতান আল-মালিক আন-নাসির বিন কালাউন প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে একজন ইমাম ছিলেন যিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে মানুষের ইমামতি করতেন এবং সেখানে একটি বিশাল কুতুবখানা ছিল (১)।
এটি সেই যুগের জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতার একটি নমুনা। এই পরিবেশের মাঝে এবং ইলম ও উলামায় সমৃদ্ধ এই যুগে ইমাম আজ-যারকাশি বেড়ে ওঠেন, তিনি তাঁর ইলমি জীবন অতিবাহিত করেন, তাঁর যুগের সংস্কৃতিতে শিক্ষিত হন এবং এর ইলম থেকে পান করেন, এমনকি তিনি এক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তিনি তাঁর স্বল্পকালীন জীবনে মুসলমানদের জন্য উত্তম প্রভাব এবং কল্যাণকর ইলম রেখে যেতে সক্ষম হন। এর মাধ্যমে তাঁর আমল বন্ধ হয়ে যায়নি, কারণ নবী -আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন- এর হাদিস: "মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে" (২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الثانى فى اسمه، وولادته، ونشأته، ومكانته، وأخلاقهويشتمل على مبحثين
المبحث الأول: اسمه، ولقبه، وكنيته، وولادته ونشأته.
المبحث الثانى: مكانته وأخلاقه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, জন্ম, বেড়ে ওঠা, মর্যাদা ও চরিত্র প্রসঙ্গেএটি দুটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, উপাধি, উপনাম (কুনিয়াত), জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা ও চরিত্র।
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الأول اسمه ولقبه وكنيته، وولادته ونشأتهأما اسمه: فمحمد بلا خلاف بين المترجمين له فى كتبهم، وإنما وقع الخلاف فى اسم والده هل هو: عبد اللَّه، أو هو: بهادر بن عبد اللَّه، وقد ذكر ابن حجر، وابن العماد الحنبلى، والمقريزى أن اسمه: "محمد بن بهادر بن عبد اللَّه بدر الدين الزركشى".
وذكر الداودى والسيوطى أن اسمه: "محمد بن عبد اللَّه بن بهادر الزركشى" (1).
والأقرب إلى الصواب من هذه الأسماء ما ذكره ابنه، لأنه أقرب الناس إليه وأعلمهم به.
أما سبب الخلاف فيرجع إلى منهج كل من العلماء الذين ترجموا له، فقد يقدم الواحد منهم لقبه، وقد يؤخره الآخر، وقد يذكر أحدهم الاسم كاملًا مع اللقب والكنية، وقد يختصر بعضهم فيحذف بعض الألقاب أو الكنى، وعلى كل حال فالخلاف فى هذا يسير. كما يحتمل أن يكون الابن اختصر من أسماء أجداده بعض الأسماء، وذكر الأشهر منهم عنده أو ذكر أحب الأسماء إليه.
أما لقبه: فيقال له: بدر الدين، المفتى، المنهاجى، المصنف.
أما كنيته: فهو أبو عبد اللَّه، واشتهر بالزركشى، كما اشتهر بالمنهاجى، لأنه
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, উপাধি, উপনাম এবং তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠাতাঁর নামের ক্ষেত্রে: জীবনীকারদের মধ্যে তাঁদের কিতাবসমূহে কোনো মতভেদ নেই যে তাঁর নাম 'মুহাম্মদ'। তবে তাঁর পিতার নামের ব্যাপারে মতভেদ দেখা দিয়েছে যে, সেটি কি 'আবদুল্লাহ', নাকি 'বাহাদুর ইবনে আবদুল্লাহ'। ইবনে হাজার, ইবনুল ইমাদ আল-হানবালি এবং আল-মাকরিজি উল্লেখ করেছেন যে তাঁর নাম হলো: "মুহাম্মদ ইবনে বাহাদুর ইবনে আবদুল্লাহ বদরুদ্দিন আয-যারকাশি"।
আদ-দাউদি এবং আস-সুয়ূতি উল্লেখ করেছেন যে তাঁর নাম হলো: "মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাহাদুর আয-যারকাশি" (১)।
এই নামগুলোর মধ্যে সঠিকের অধিক নিকটবর্তী হলো তা, যা তাঁর পুত্র উল্লেখ করেছেন। কারণ তিনি তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ এবং তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।
আর মতভেদের কারণটি সেই সমস্ত আলেমদের মানহাজ বা পদ্ধতির দিকে ফিরে যায় যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন। তাঁদের কেউ হয়তো তাঁর উপাধিকে আগে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ হয়তো পরে। কেউ হয়তো উপাধি ও উপনামসহ পূর্ণ নাম উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে কিছু উপাধি বা উপনাম বাদ দিয়েছেন। যা-ই হোক না কেন, এ বিষয়ে মতভেদ সামান্যই। আবার এও হতে পারে যে, তাঁর পুত্র তাঁর পূর্বপুরুষদের নাম থেকে কিছু নাম সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং তাঁর কাছে যা অধিক প্রসিদ্ধ তা উল্লেখ করেছেন অথবা তাঁর প্রিয় নামগুলো উল্লেখ করেছেন।
তাঁর উপাধির ক্ষেত্রে: তাঁকে বলা হয়: বদরুদ্দিন, আল-মুফতি, আল-মিনহাজি, আল-মুসান্নিফ।
তাঁর উপনামের ক্ষেত্রে: তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ। তিনি আয-যারকাশি নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, যেমনটি তিনি আল-মিনহাজি নামেও প্রসিদ্ধ ছিলেন, কারণ তিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كان يحفظ كتاب المنهاج فى الفروع للإمام النووى. واتفق جميع المترجمين له أنه من أصل تركى، وأنه مصرى المولد والدار (1).
* * *
--------------------------------------------
তিনি ইমাম নববীর রচিত ফুরু (শাখা ফিকহ) বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-মিনহাজ’ মুখস্থ রাখতেন। তাঁর সকল জীবনীকার এ বিষয়ে একমত যে, তিনি মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত ছিলেন এবং তাঁর জন্ম ও আবাসস্থল ছিল মিশরে (১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولادته ونشأتهولد الإمام الزركشى عام 745 هـ -ذكر ابن حجر أنه رآه بخطه (1) - بالقاهرة، ونشأ بها حيث كانت فى ذلك الزمن مغمورة بالمدارس، غاصة بالفضلاء وحملة العلم، زاخرة بدور الكتب الخاصة والعامة، والمساجد الحافلة بطلاب العلم والمعرفة، والوافدين من شتى أنحاء العالم الإسلامى، كما تقدم فى الكلام على الحالة العلمية فى عصره (2).
وكان من عائلة متوسطة الحال، فتعلم فى صغره صنعة الزركشى، إلا أنه كان مولعًا بحب العلم منذ صغره، فلذلك نراه وهو لم يتجاوز سن الحداثة بعد قد انتظم فى حلقات الدرس، وتفقه بمذهب الشافعى، وحفظ كتاب المنهاج فى الفروع كما تقدم، وتتبع مجالس الفقهاء والعلماء والمحدثين حتى صار إمامًا، وأصبح أهلًا للفتى والتدريس، وقد شهد له الجميع بالفضل والسبق، كما شهدوا له بحسن الخلق والتواضع والزهد فى الدنيا، والإقبال على العلم، ومما ساعده على ذلك عزلته وانقطاعه فى منزله وكفاية أقربائه له مؤنة الحياة، ذلك كان له أكبر الأثر فى حياته العلمية، وتنمية مواهبه، وإشباع رغبته من طلب العلم، ومواصلة الدرس والبحث طول وقته فى الكتب، وهذا البحث والانقطاع واضح من تلك المؤلفات الكثيرة والقيمة التى صنفها فى مدة حياته القصيرة، والتى جمع فيها جمعًا لم يتوافر لغيره من أكابر العلماء، ولم تقف همته العالية عند حدّ معين، ولم يقتصر على فن من فنون المعرفة، بل خاض فى جميع الفنون، وكان له الباع الطويل فيها، لأنه كان يتطلع دائمًا إلى المزيد من العلم بالقراءة والتدريس والتأليف مهما كلفه ذلك من جهد ومشقة واغتراب عن الأهل والوطن، وكان يزاحم العلماء ويحضر
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠাইমাম যারকাশি ৭৪৫ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন—ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি ইমাম যারকাশির স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপিতে দেখেছেন (১)—এবং সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন। তৎকালীন কায়রো মাদরাসায় পরিব্যাপ্ত ছিল, যা গুণীজন ও ইলম বহনকারীদের পদচারণায় মুখরিত এবং সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগারে সমৃদ্ধ ছিল। সে সময়কার মসজিদগুলো মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইলম ও প্রজ্ঞা অন্বেষী তালিবে ইলমদের ভিড়ে ঠাসা থাকত, যেমনটি তাঁর যুগের ইলমি পরিস্থিতির বর্ণনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (২)।
তিনি এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শৈশবে তিনি ‘যারকাশি’ (জরির কারুকাজ) শিল্প আয়ত্ত করেন, তবে ছোটবেলা থেকেই ইলমের প্রতি তাঁর প্রবল অনুরাগ ছিল। তাই দেখা যায়, কিশোর বয়স পার হওয়ার আগেই তিনি দরসের হালকাসমূহে নিয়মিত উপস্থিত হতে শুরু করেন এবং শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী ফিকহশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি ফুরু বা শাখা মাসআলা বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-মিনহাজ’ মুখস্থ করেন (যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) এবং ফকিহ, আলিম ও মুহাদ্দিসগণের মজলিসসমূহ অনুসরণ করতে থাকেন, যতক্ষণ না তিনি একজন ইমামে পরিণত হন এবং ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের যোগ্য হয়ে ওঠেন। সকলেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতার সাক্ষ্য দিয়েছেন, যেমনটি তাঁরা তাঁর উন্নত চরিত্র, বিনয়, যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা এবং ইলমের প্রতি একাগ্রতারও সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ কাজে তাঁকে যা সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল তা হলো তাঁর নির্জনতা ও নিজ গৃহে অবস্থান এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক তাঁর জীবনধারণের প্রয়োজনীয় ব্যয়নির্বাহের দায়িত্ব গ্রহণ। এটি তাঁর ইলমি জীবনে, প্রতিভার বিকাশে, ইলম অর্জনের তৃষ্ণা মেটাতে এবং সারাক্ষণ কিতাবাদি অধ্যয়ন ও গবেষণায় মগ্ন থাকতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর এই নিরলস গবেষণা ও একাগ্রতা তাঁর রচিত অসংখ্য ও মূল্যবান গ্রন্থাবলি থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনকালেই রচনা করেছেন। এসকল গ্রন্থে তিনি এমন সব তথ্য ও জ্ঞান একত্রিত করেছেন যা বড় বড় আলিমদের ক্ষেত্রেও সচরাচর সম্ভব হয়নি। তাঁর সুউচ্চ হিম্মত কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় থমকে যায়নি এবং তিনি কেবল নির্দিষ্ট কোনো জ্ঞান-শাখায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সকল শাস্ত্রে বিচরণ করেছেন এবং তাতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন। কারণ তিনি পঠন-পাঠন ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে সর্বদা অধিক ইলম হাসিলের অন্বেষণে থাকতেন, চাই তাতে যত শ্রম, কষ্ট বা পরিবার ও স্বদেশ থেকে বিচ্ছিন্নতাই বরণ করতে হোক না কেন। তিনি সবসময় আলিমদের সাহচর্যে থাকতেন এবং উপস্থিত হতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مجالس الفضلاء من طبقة شيوخه مما يدل على علو شأنه ورفعة قدره ومنزلته عند أشياخه، وكان أكثر اشتغاله بالفقه وأصوله، وعلوم الحديث والقرآن والتفسير، وقد ترك بها مصنفات كثيرة (1).
ولم تقتصر ثقافته على العلوم الإِسلامية، بل كان له باع فى الأدب وإحاطة بلغة العرب مع رقة فى الطبع، واتساع فى مجال الفكر، وكان لذلك أثره فى فهمه لكتاب اللَّه، والوقوف على بعض أسراره.
قال فى كتابه البرهان: "وإنما يفهم بعض معانيه ويطلع على أسراره ومبانيه من قوى نظره، واتسع مجاله فى الفكر، وتدبره، وامتد باعه، ورقت طباعه، وامتد فى فنون الأدب وأحاط بلغة العرب" (2).
ولهذا كان اشتغاله بهذه الفنون إنما كان لقصد محاولة فهم بعض معانى القرآن، لأن هذه العلوم أدوات ووسائل لابد منها لمن يتصدى للتفسير، وغيره من العلوم الشرعية، وقد شهد له الجميع بأنه كان محررا مصنفًا، وكان يكتب مصنفاته بنفسه، كما كان خطه ضعيفًا جدًا قل من يحسن استخراجه.
وبالجملة فقد عاش حياة عادية، لم ينقطع انقطاعًا تامًا عن الحياة بل كان على سنة رسول اللَّه -صلى اللَّه عليه وعلى آله وسلم- فقد تزوج، وكان له أسرة صالحة بنون وبنات، فمن البنين محمد، وله ذيل على كتاب اللآلىء المنثورة، وأبو الحسن على، وأحمد ويدعى عبد الوهاب وكان فى الثانية من عمره فى سنة وفاة والده. ومن البنات: عائشة، وفاطمة، وقد أجاز لهم جميع مؤلفاته (3) - رحمه اللَّه تعالى.
* * *
--------------------------------------------
গুণীজনদের মজলিসে তাঁর উস্তাদদের স্তরের সাথে তাঁর উপস্থিতি তাঁর উচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর উস্তাদদের কাছে তাঁর বিশেষ অবস্থানের প্রমাণ দেয়। তিনি ফিকহ, উসূলে ফিকহ, হাদিস শাস্ত্র, কুরআন ও তাফসীর শাস্ত্রে অধিক নিমগ্ন থাকতেন এবং এ বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রেখে গেছেন (১)।
তাঁর জ্ঞান কেবল ইসলামি শাস্ত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সাহিত্যেও তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য এবং আরবি ভাষার ওপর পূর্ণ দখল ছিল। সেই সঙ্গে তাঁর স্বভাব ছিল কোমল এবং চিন্তার পরিধি ছিল সুদূরপ্রসারী। আল্লাহর কিতাব বুঝার ক্ষেত্রে এবং এর কিছু নিগূঢ় রহস্য উদঘাটনে এর বিশেষ প্রভাব পড়েছিল।
তিনি তাঁর 'আল-বুরহান' কিতাবে বলেছেন: "এর কিছু অর্থ কেবল তারাই বুঝতে পারে এবং এর রহস্য ও কাঠামো সম্পর্কে তারাই অবগত হতে পারে যাদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা প্রবল, চিন্তার পরিধি ব্যাপক, যারা গভীরভাবে চিন্তা করে, যাদের পাণ্ডিত্য সুদূরপ্রসারী, স্বভাব কোমল এবং যারা সাহিত্যের নানা শাখায় পারদর্শী ও আরবি ভাষায় পূর্ণ দখল রাখে" (২)।
এ কারণেই এই শাস্ত্রগুলোতে তাঁর নিমগ্ন থাকা মূলত কুরআনের কিছু মর্মার্থ বুঝার উদ্দেশ্যেই ছিল। কারণ এই বিদ্যাগুলো এমন সব অপরিহার্য হাতিয়ার ও মাধ্যম যা তাফসীর বা অন্যান্য শরয়ী শাস্ত্র নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য আবশ্যক। সকলেই সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি একজন দক্ষ লেখক ও গ্রন্থকার ছিলেন এবং তিনি নিজ হাতেই তাঁর গ্রন্থগুলো লিখতেন। তবে তাঁর হাতের লেখা ছিল অত্যন্ত অস্পষ্ট, খুব কম লোকই তা পড়তে বা উদ্ধার করতে পারত।
সারকথা হলো, তিনি এক সাধারণ জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি দুনিয়াবি জীবন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাননি, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুসরণ করতেন। তিনি বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁর একটি নেককার পরিবার ছিল যেখানে পুত্র ও কন্যারা ছিল। পুত্রদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদ (যিনি 'আল-লাআলিল মানসূরা' কিতাবের পরিশিষ্ট লিখেছেন), আবুল হাসান আলী এবং আহমদ (যাকে আব্দুল ওয়াহাব বলে ডাকা হতো এবং পিতার মৃত্যুর বছর তাঁর বয়স ছিল মাত্র দুই বছর)। কন্যাদের মধ্যে ছিলেন আয়েশা ও ফাতিমা। তিনি তাঁর সমস্ত রচনার জন্য তাদের অনুমতি দিয়ে গেছেন (৩) - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাসিলুয যাহাব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المبحث الثانى مكانته وأخلاقهكان رحمه الله إمامًا من الأئمة الأفذاذ، له الباع الطويل فى مختلف العلوم الإِسلامية حيث كان أصوليًا، فقيهًا، محدثًا، مفسرًا، أدبيًا، فاضلًا، رضى الخلق، محمود الخصال، عذب الشمائل، متواضعًا رقيقًا، يلبس الخلق بن الثياب، ويرضى بالقليل من الزاد، لا يشغله عن العلم شىء من مطالب الدنيا.
قال ابن حجر: "كان منقطعًا فى منزله لا يتردد إلى أحد إلا إلى سوق الكتب، وإذا حضره لا يشترى شيئًا، وإنما يطالع فى حانوت الكتبى طول نهاره، ومعه ظهور أوراق يعلق فيها ما يعجبه، ثم يرجع فينقله إلى مصنفاته (1).
قال رحمه الله فى كتابه البرهان: "اعلم أن بعض الناس يفتخر ويقول: كتبت هذا وما طالعت شيئًا من الكتب، ويظن أنه فخر، ولا يعلم أن ذلك غاية النقص، فإنه لا يعلم مزية ما قاله على ما قيل ولا مزية ما قيل على ما قاله، فبماذا يفتخر؟ ومع هذا ما كتبت شيئًا إلا خائفًا من اللَّه تعالى مستعينًا به، معتمدًا عليه، فما كان حسنًا فمن اللَّه وفضله، وما كان ضعيفًا فمن النفس الأمارة بالسوء" (2).
ولا يتردد من قرأ فى كتبه فى أنه أشعرى العقيدة، شافعى المذهب.
* * *
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা ও চরিত্রতিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন এক অনন্য ইমাম। বিভিন্ন ইসলামি বিদ্যায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল; কেননা তিনি ছিলেন একাধারে উসুলবিদ, ফকিহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, সাহিত্যিক ও গুণীজন। তিনি ছিলেন সন্তোষজনক চরিত্রের অধিকারী, প্রশংসনীয় গুণাবলি ও মাধুর্যপূর্ণ স্বভাবের মালিক, বিনয়ী এবং কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি সাধারণ জীর্ণ পোশাক পরিধান করতেন এবং সামান্য আহার্যে তুষ্ট থাকতেন। দুনিয়াবি কোনো প্রয়োজনই তাঁকে জ্ঞানার্জন থেকে বিমুখ করতে পারত না।
ইবনে হাজার বলেন: "তিনি তাঁর ঘরে নিভৃতবাসী ছিলেন। বইয়ের বাজার ছাড়া অন্য কারো কাছে যেতেন না। সেখানে গেলেও তিনি কিছু কিনতেন না, বরং সারাদিন বই বিক্রেতার দোকানে বসে পড়াশোনা করতেন। তাঁর সাথে কাগজের টুকরো থাকত যাতে তিনি পছন্দনীয় বিষয়গুলো টুকে নিতেন। এরপর ফিরে এসে সেগুলো তাঁর গ্রন্থসমূহে সংকলন করতেন (১)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-বুরহান' গ্রন্থে বলেছেন: "জেনে রেখো, কিছু মানুষ গর্ব করে বলে: 'আমি কোনো কিতাব না পড়েই এটি লিখেছি'। সে মনে করে এটি একটি গর্বের বিষয়, অথচ সে জানে না যে এটি চূড়ান্ত অপূর্ণতা। কেননা সে জানে না যে, যা বলা হয়েছে তার তুলনায় নিজের বক্তব্যের বিশেষত্ব কী, অথবা নিজের বক্তব্যের তুলনায় পূর্ববর্তীদের বক্তব্যের বিশেষত্ব কী। তাহলে সে কী নিয়ে গর্ব করে? এ সত্ত্বেও আমি যা কিছু লিখেছি তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর ওপর ভরসা করেই লিখেছি। সুতরাং যা কিছু সুন্দর ও সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁরই অনুগ্রহ, আর যা কিছু দুর্বল তা কুপ্ররোচনাকারী নফসের পক্ষ থেকে" (২)।
তাঁর কিতাবসমূহ পাঠকারী ব্যক্তির মনে এ বিষয়ে কোনো সংশয় থাকে না যে, তিনি আকিদাগতভাবে আশআরি এবং মাযহাবগতভাবে শাফিয়ি ছিলেন।
* * *
--------------------------------------------