(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: -)
الإعراب المفصل لكتاب الله المرتل   (بهجت عبد الواحد صالح)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الإعراب المفصل لكتاب الله المرتل

المؤلف: بهجت عبد الواحد صالح

الناشر: دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع، عمان

الطبعة: الثانية، 1418 هـ

عدد الأجزاء: 12

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 شعبان 1440

আল্লাহর পঠিত কিতাবের বিস্তারিত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ   (বাহজাত আব্দুল ওয়াহিদ সালিহ)

বিভাগ: নাহু (ব্যাকরণ) ও সারফ (রূপতত্ত্ব)


বই: আল্লাহর পঠিত কিতাবের বিস্তারিত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ

লেখক: বাহজাত আব্দুল ওয়াহিদ সালিহ

প্রকাশক: দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, আম্মান

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৮ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সংঘ), বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজিহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ শাবান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: -)
الإعراب المفصل لكتاب الله المرتل

 

تأليف

بهجت عبد الواحد صالح

 

«من سورة الفاتحة إلى نهاية سورة البقرة»

 

[المجلد الأول]
আল্লাহর পঠিত কিতাবের বিস্তারিত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ

 

রচনায়

বাহজাত আব্দুল ওয়াহিদ সালিহ

 

«সূরা আল-ফাতিহা থেকে সূরা আল-বাকারার শেষ পর্যন্ত»

 

[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله ربّ العالمين والصلاة والسّلام على رسوله الكريم الأمين محمد بن عبد الله خاتم الرسل والنبيّينّ وعلى صحبه وآله أجمعين إلى يوم الدين.

وبعد، فقد منّ الله تعالى علّي بتوفيقه وهو من يعمّ خلقه بألطافه وعونه أن يسّر لي السبيل وأعانني على تحقيق ما كنت أصبو إليه من خدمة تجاه لغتنا العربية عن طريق تناول أسمى الكتب وأعلاها منزلة وأجلها مرتبة ألا هو كتاب الله المبين وكشف أسرار إعجازه بالإيضاح والتبيين واعراب آياته الكريمة التي تضمّنتها سوره الشريفة بأسلوب بسيط مبسّط حتى يتسنّى الفهم والاستيعاب لمن يهمّه الوقوف على علوم هذه اللغة التي كرّمها الله تعالى وشّرفها بأن أنزل كتابه المعجزة بها على نّبي الرحمة والانسانية الرسول الكريم محمد صلى الله عليه وسلم الذي حاجج به المشركين الذين أعجزتهم فصاحته وكثرة معانيه وحسنه ونظمه ورصفه فهو منار الهداية في شريعة الاسلام السمحة يستضاء بمعانيه ومفرداته وأساليبه البلاغية لأنه المعين الذي لا يمكن لأيّ باحث الاستغناء عن النّهل من هذا المنبع الصافي الطاهر الذي كان له الفضل الكبير في ازدهار الثقافة العربية والاسلامية ..

ولأنّ اللغة العربية هي أكرم اللغات تلك التي شّرفها الله بانزال كتابه الكريم بها على نبيّه الكريم الذي كان أفصح من نطق بالضاد على الرغم من كونه أميا لا يقرأ ولا يكتب وقد أنزل القرآن بلغة أهل الحجاز الذين كانوا يختارون من اللغات أفصحها ومن الألفاظ أعذبها ولهذا نزل بلغتهم وكان منهم أفصح العرب لأن فصاحة القرآن وحكمه البالغة وآياته الباهرة زادتهم فصاحة وبلاغة لأنه أثّر فيهم وفي نشأة علم البلاغة تأثيرا كبيرا بل وفي علوم اللغة عموما لذلك سخّر العلماء طاقاتهم الخلاقة وأساليبهم المبدعة لتبيان أساليبه البلاغية وتعداد صوره البيانية وكشف جمال نظمه ودقة تعبيره .. وقد سار رجال هذه الأمة العريقة الذين أوتوا العلم والمعرفة والكفاءة والمقدرة على
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত ও আমানতদার রাসূল, রাসূল ও নবীগণের মোহর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সকল সঙ্গী ও পরিজনের ওপর।

অতঃপর, মহান আল্লাহ তাঁর তাওফিকের মাধ্যমে আমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন—আর তিনিই তাঁর সৃষ্টিজগতকে স্বীয় কৃপা ও সাহায্যের মাধ্যমে পরিবেষ্টন করে রাখেন—যাতে তিনি আমার জন্য পথ সুগম করে দিয়েছেন এবং আমাদের আরবি ভাষার সেবায় আমি যা প্রত্যাশা করেছিলাম তা অর্জনে আমাকে সাহায্য করেছেন। আর তা হলো মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট কিতাব নিয়ে কাজ করা, যা সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ও অত্যন্ত মহিমান্বিত গ্রন্থ। তাঁর এই গ্রন্থের অলৌকিকত্বের (ই’জায) রহস্যসমূহ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে উন্মোচন করা এবং এর সম্মানিত সূরাগুলোতে বিদ্যমান আয়াতসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাব) একটি সহজ ও সরল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা; যাতে এই ভাষার জ্ঞান অর্জন করতে আগ্রহীদের জন্য তা অনুধাবন ও আত্মস্থ করা সহজ হয়। আল্লাহ তাআলা এই ভাষাকে সম্মানিত ও মর্যাদা দান করেছেন রহমত ও মানবতার নবী, সম্মানিত রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর তাঁর অলৌকিক কিতাব এই ভাষায় অবতীর্ণ করার মাধ্যমে। তিনি এর মাধ্যমে সেই মুশরিকদের সাথে বিতর্ক করেছিলেন যাদেরকে এই কিতাবের বাগ্মিতা, অর্থের প্রাচুর্য, সৌন্দর্য, বিন্যাস ও গঠনশৈলী কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছিল। এটি ইসলামের উদার শরিয়তের হিদায়াতের মিনার, যার অর্থ, শব্দভাণ্ডার ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শৈলী থেকে আলো গ্রহণ করা হয়। কারণ এটি এমন এক ঝরনাধারা যা থেকে কোনো গবেষকের পক্ষেই এই নির্মল ও পবিত্র উৎস হতে জ্ঞান আহরণ না করে থাকা সম্ভব নয়, যা আরবি ও ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

যেহেতু আরবি ভাষা হলো সবচেয়ে সম্মানিত ভাষা, যাকে আল্লাহ তাঁর সম্মানিত নবীর ওপর স্বীয় মহিমান্বিত কিতাব অবতীর্ণ করে সম্মানিত করেছেন—যিনি নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও, অর্থাৎ পড়া ও লেখা না জানা সত্ত্বেও ছিলেন বিশুদ্ধতম আরবি ভাষী। আর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে হিজাজবাসীদের ভাষায়, যারা বিভিন্ন উপভাষার মধ্যে সবচেয়ে প্রাঞ্জলটি এবং শব্দাবলির মধ্যে সবচেয়ে সুমিষ্টটি গ্রহণ করত। এই কারণেই কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাদের মাঝেই ছিলেন আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাগ্মীগণ। কেননা কুরআনের প্রাঞ্জলতা, এর প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশাবলি এবং এর উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ তাদের বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় দক্ষতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। কারণ এটি তাদের ওপর এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) উৎপত্তিতে, এমনকি সাধারণভাবে ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। এ কারণেই উলামায়ে কেরাম তাদের সৃজনশীল শক্তি ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি উৎসর্গ করেছেন এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শৈলী বর্ণনা করতে, এর আলঙ্কারিক রূপসমূহ গণনা করতে এবং এর বিন্যাসের সৌন্দর্য ও প্রকাশের সূক্ষ্মতা উন্মোচন করতে। আর এই সুপ্রাচীন উম্মতের সেই ব্যক্তিবর্গ, যাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, যোগ্যতা ও দক্ষতা দান করা হয়েছে, তাঁরা অগ্রসর হয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ৬)
نهج قواعد هذا القرآن فدّونوا قواعد هذه اللغة الخالدة على مرّ العصور والأزمنة بمؤلفاتهم الجليلة القيمة آخذين بنظر الاعتبار كلمات العرب ولهجاتهم المتعددة. وكان كتاب الله العظيم باعثا قويا في تطوير علوم اللغة العربية وباعثا على نشأة علومها وتطويرها وهو ما دفع إلى اهتمام علماء التفسير الذين كان هدفهم كشف أسرار اعجازه وشرح مفرداته التي اتصفت بالفصاحة والبيان وسحر الألفاظ التي خلبت الألباب وحيرّت العقول لأنه المعجزة التي اختارها الله للخلود ومنذ نزول هذا الكتاب الكريم منذ ألف وأربعمائة عام ونيف وفي هذه القرون المتطاولة ظهر أعلام الشعراء وأعاظم البلغاء وكبار الفصحاء ولكن هيهات أن يقارن كل ما نظموه من الشعر وما دبجّوه من النثر الرفيع مع آية من آيات القرآن الكريم وهم فرسان البلاغة والفصاحة إلّا أنهم وقفوا عاجزين عن أن يأتوا بسورة من مثله.

وبما أنّ هذه النصوص القرآنية قد تناولها المفسرون- وما أكثرهم! - بالشرح والتفصيل والتفسير والتبيين إلّا انني وجدت افتقار جلّ المكتبات من كتب مماثلة لكتب التفسير عددا أو دونها تتناول إعراب تلك النصوص الكريمة فتملكني طموح بأن أساهم مع المساهمين- على قلتّهم- في خوض هذا الغمار المشّرف بأسلوب مختلف يتصف بالبساطة والسهولة والتركيز على إعراب اللفظة مبتعدا عن المعاني والصرف لأنّ مجال ذلك في كتب أخرى تناولته بالافاضة وأنا انهمك في إعراب سور القرآن الكريم آية آية ولفظة فلفظة وحرفا فحرفا كنت أهدف من ذلك العمل الذي أخذ من الوقت أكثر من خمس سنوات نيل مرضاة الله عز وجل وخدمة لغة كتابه الجليل مستعينا بعد الله تعالى بكتب التفسير لفهم المقصود من وراء القول الكريم قبل القيام بإعرابه وبمراجع الكتب اللغوية المتيسرة سائلا الله جلّت قدرته الهداية والعناية والتوفيق.

فالحمد لله على الدوام والصلاة على نبيّه الكريم خاتم الرسل الكرام.

 

المؤلف
এই কুরআনের নিয়মনীতি অনুসরণ করে তাঁরা যুগ যুগ ধরে তাঁদের মহৎ ও মূল্যবান রচনাবলির মাধ্যমে এই শাশ্বত ভাষার ব্যাকরণ লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে আরবের শব্দাবলি এবং তাঁদের বহুবিধ উপভাষাকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আল্লাহর মহান কিতাব ছিল আরবি ভাষার জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে এক শক্তিশালী প্রভাবক এবং এর শাখাগুলোর উৎপত্তি ও বিকাশের প্রেরণা। এটি মুফাসসিরগণের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, যাঁদের উদ্দেশ্য ছিল এর অলৌকিকত্বের রহস্য উন্মোচন করা এবং এর শব্দাবলির ব্যাখ্যা করা, যা সাবলীলতা, স্পষ্টতা এবং শব্দের এমন জাদুতে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিল যা হৃদয়কে জয় করেছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিকে স্তম্ভিত করেছে। কারণ এটি এমন এক মুজিজা যা আল্লাহ চিরস্থায়িত্বের জন্য নির্বাচন করেছেন। চৌদ্দশত বছরেরও অধিক সময় আগে এই সম্মানীত কিতাব নাজিল হওয়ার পর থেকে এই সুদীর্ঘ শতাব্দীগুলোতে বহু প্রথিতযশা কবি, শ্রেষ্ঠ বাগ্মী এবং বড় বড় অলংকারবিদদের আবির্ভাব ঘটেছে। কিন্তু তাঁদের রচিত সমস্ত কবিতা এবং তাঁদের অলংকৃত উচ্চাঙ্গের গদ্যকে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের সাথে তুলনা করা অসম্ভব। তাঁরা অলংকারশাস্ত্র ও সাবলীলতার অশ্বারোহী হওয়া সত্ত্বেও এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসতে অপারগ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

যেহেতু মুফাসসিরগণ—যাঁদের সংখ্যা অনেক!—এই কুরআনিক পাঠ্যগুলোকে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও বিশদ বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন, তবুও আমি লক্ষ্য করেছি যে অধিকাংশ লাইব্রেরিগুলোতে তাফসিরের কিতাবগুলোর সমসংখ্যক বা তার কাছাকাছি এমন বইয়ের অভাব রয়েছে যা এই পবিত্র পাঠ্যগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই'রাব) নিয়ে আলোচনা করে। তাই আমার মাঝে এই আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হলো যে, আমি এই সম্মানজনক ক্ষেত্রে অল্পসংখ্যক অবদানকারীদের সাথে এক ভিন্ন পদ্ধতিতে শামিল হব, যা হবে সরলতা ও সহজবোধ্যতায় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এবং এতে শব্দের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমি অর্থ ও রূপতত্ত্ব থেকে দূরে থেকেছি, কারণ সেগুলোর ক্ষেত্র অন্য বইগুলোতে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। আমি যখন পবিত্র কুরআনের সূরাগুলোর আয়াত প্রতি আয়াত, শব্দ প্রতি শব্দ এবং অক্ষর প্রতি অক্ষরের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে নিবিষ্ট ছিলাম, তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল—যে কাজে পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ব্যয় হয়েছে—আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর মহিমান্বিত কিতাবের ভাষার সেবা করা। এ ক্ষেত্রে আমি আল্লাহ তাআলার সাহায্যের পর তাফসিরের কিতাবগুলোর সহায়তা নিয়েছি যাতে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের পূর্বে পবিত্র বাণীর প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায়, এবং সহজলভ্য ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থসমূহের রেফারেন্স গ্রহণ করেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি—যাঁর ক্ষমতা সুমহান—হেদায়েত, যত্ন ও তাওফিকের জন্য।

সুতরাং সর্বদা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং দরুদ তাঁর সম্মানীত নবী, রাসূলগণের মোহরের ওপর।

 

লেখক
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌إعراب البسملة

[سورة الفاتحة (1): آية 1]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (1)

• بِسْمِ: الباء: حرف جرّ .. وقد اختلف العلماء حول تسميته .. فهو حرف للاستعانة عند بعض منهم ولدى بعضهم الآخر هو باء السببية .. وسمّاه سيبويه باء الالصاق .. ولم يجوّز غيرهم اطلاق لفظ الاستعانة على الله عز وجل .. وقيل: هو حرف جرّ زائد. أماّ «اسم»: فهو اسم مجرور بالباء وعلامة جره الكسرة وهو مضاف واسقطت الف «اسم» اختصارا من الخط وهي ألف وصل ساقطة في اللّفظ وسبب الاختصار أنّ أصل الكلمة كثر على ألسنة العرب عند الأكل والشرب والقيام والقعود. وفي حالة ذكر اسم من اسماء الله تعالى بعد اضافة «اسم» إليه لا تحذف الألف وذلك لقلة الاستعمال نحو: باسم الرّبّ .. باسم العزيز وتثبت الألف أيضا في قولنا:

لاسم الله وقع كبير في نفوس المؤمنين .. باسم الرحمن .. اقرأ باسم ربّك الذي خلق. وشبه الجملة «الجار والمجرور» باسم: في محل نصب بفعل مضمر تقديره: أبدأبسم الله .. أو في محل رفع خبر مبتدأ محذوف بتقدير:

بدئي بسم الله.

• اللَّهِ: لفظ الجلالة: مضاف إليه مجرور للتعظيم بالاضافة وعلامة الجرّ:

الكسرة. والأصل: «الإله» فحذوفت الهمزة اختصارا وأدغمت اللام في اللام فجاء التشديد.

وقيل: الأصل: لاه. والألف للوصل. ولفظ الجلالة «اللَّهِ»: اسم غير مشتقّ من شيء بل هو علم اتّصل به الألف واللام. وذكر سيبويه أنّ أصله: إلاه فدخلت عليه «أل» فبقي الإله ثم نقلت حركة الهمزة الى اللام
বিসমিল্লাহর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ

[সূরা আল-ফাতিহা (১): আয়াত ১]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)

• বিসম: 'বা' বর্ণটি হলো হরফে জার (অব্যয়)। এর নামকরণ নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কারো কারো মতে এটি সাহায্য প্রার্থনার (ইস্তিয়ানাহ) জন্য, আবার অন্যদের মতে এটি কারণ দর্শানোর (সাবাবিয়্যাহ) জন্য ব্যবহৃত 'বা'। সিবওয়াইহি একে সংলগ্ন করার (ইলসাাক) 'বা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্য আলেমগণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র ক্ষেত্রে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিয়ানাহ) শব্দটি প্রয়োগ করা বৈধ মনে করেননি। কেউ কেউ বলেছেন এটি একটি অতিরিক্ত (যায়েদ) হরফে জার। আর 'ইসম' শব্দটি 'বা' দ্বারা মাজরুর (পদান্বয়ী অব্যয়যুক্ত শব্দ) এবং এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো কাসরা (জের)। এটি একটি মুদাফ (সম্বন্ধপদ)। লেখার সময় সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে 'ইসম' শব্দের 'আলিফ' বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এটি মূলত একটি আলিফ-ওয়াসল যা উচ্চারণেও বিলুপ্ত হয়। সংক্ষেপ করার কারণ হলো, আরবদের মুখে পানাহার, দাঁড়ানো এবং বসার সময় এই শব্দটির অত্যধিক ব্যবহার। তবে আল্লাহ তাআলার কোনো নামের পূর্বে যখন 'ইসম' শব্দটিকে যুক্ত করা হয়, তখন ব্যবহারের স্বল্পতার কারণে আলিফ বিলুপ্ত হয় না। যেমন: রবের নামে, মহাপরাক্রমশালীর নামে। এছাড়া আমাদের এই কথাগুলোতেও আলিফ বহাল থাকে:

আল্লাহর নামের মুমিনদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব রয়েছে; রহমানের নামে; পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। 'বিসম' নামক শব্দগুচ্ছটি (জার ও মাজরুর) একটি উহ্য বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (ফেলে মুদমার) স্থলে হওয়ার কারণে মানসুব অবস্থায় রয়েছে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো: আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি। অথবা এটি একটি উহ্য মুবতাদার (উদ্দেশ্য) খবর (বিধেয়) হিসেবে মারফু অবস্থায় রয়েছে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো:

আমার শুরু আল্লাহর নামে।

• আল্লাহ: এই মহান শব্দটি (লফজে জালালাহ) এখানে মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধী পদ) এবং সম্মানের খাতিরে সম্বন্ধের কারণে এটি মাজরুর। এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো:

কাসরা (জের)। এর মূল রূপ ছিল 'আল-ইলাহ'। সংক্ষেপ করার জন্য হামযা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং 'লাম' বর্ণটিকে পরবর্তী 'লাম' বর্ণের সাথে সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে, ফলে তাসদিদ (দ্বিত্ব উচ্চারণ) সৃষ্টি হয়েছে।

কেউ কেউ বলেন: এর মূল রূপ ছিল 'লাহ' এবং আলিফটি যুক্ত হয়েছে সংযোগের জন্য। 'আল্লাহ' শব্দটি অন্য কোনো কিছু থেকে নির্গত (মুশতাক) নয়, বরং এটি একটি মৌলিক বিশেষ্য (আলাম) যার সাথে আলিফ ও লাম যুক্ত হয়েছে। সিবওয়াইহি উল্লেখ করেছেন যে, এর মূল রূপ ছিল 'ইলাহ', অতঃপর তাতে 'আল' যুক্ত হয়ে 'আল-ইলাহ' হয়েছে। এরপর হামযার স্বরচিহ্ন (হরকত) লামের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ৮)
فسقطت فبقي أللاه فأسكنت اللام الأولى وأدغمت وفخّم تعظيما .. ولكنه يرقق «أي تخفّف اللام» مع كسر ما قبله نحو: بالله العظيم .. بفضل الله ..

يهدي الله من يشاء … قل الله.

• الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ: صفتان «نعتان» للفظ الجلالة «اللَّهِ» مجروران مثله- لأن الصفة تتبع الموصوف- وعلامة جرّهما: الكسرة الظاهرة .. وشدّدت الراء فيهما لقلب اللام راء أو ادغام اللام بالراء .. ولكون الراء فيهما حرفاً شمسيا. وقدّم «الرَّحْمنِ» وهو الصفة الأولى على «الرَّحِيمِ» وهو الصفة الثانية لأن الرحمن اسم خاصّ لله عز وجل و «الرَّحِيمِ» اسم مشترك يقال:

هذا رجل رحيم ولا يقال: هذا رجل رحمن .. فقدّم الخاصّ على العامّ لمنزلته .. وقيل: ان الكلمتين «الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ»: هما اسمان رقيقان أحدهما أرقّ من الآخر .. وقيل: «الرَّحْمنِ» أمدح و «الرَّحِيمِ» أرقّ.

وبالتالي فهما اسمان يفيدان المدح.
...বিলুপ্ত হয়ে গেল এবং 'আল্লাহ' শব্দটি অবশিষ্ট থাকল। ফলে প্রথম 'লাম' বর্ণটিকে সুকুনযুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী বর্ণের সাথে মিলিয়ে (ইদগাম) পড়া হয়েছে এবং সম্মান প্রদর্শনার্থে একে মোটা বা পূর্ণ স্বরে উচ্চারণ করা হয়। তবে যখন এর পূর্ববর্তী অক্ষরে কাসরা বা জের থাকে তখন একে পাতলা বা হালকা স্বরে পড়া হয়, যেমন: মহান আল্লাহর কসম... আল্লাহর অনুগ্রহে...

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন … বলুন, আল্লাহ।

• আর-রাহমান আর-রাহিম: এই শব্দ দুটি 'আল্লাহ' নামক মহিমান্বিত শব্দের জন্য দুটি বিশেষণ, যা বিশেষিত শব্দের অনুসারী হওয়ার কারণে জেরযুক্ত হয়েছে। এদের জের হওয়ার চিহ্ন হলো প্রকাশ্য কাসরা। এই শব্দ দুটিতে 'রা' বর্ণটির ওপর তাশদিদ দেওয়া হয়েছে কারণ 'লাম' বর্ণটিকে 'রা' বর্ণে পরিবর্তন করা হয়েছে অথবা 'লাম'-কে 'রা'-এর সাথে মিলিয়ে পড়া হয়েছে। এর কারণ হলো 'রা' একটি শামসি বর্ণ। এবং প্রথম বিশেষণ 'আর-রাহমান' শব্দটিকে দ্বিতীয় বিশেষণ 'আর-রাহিম'-এর পূর্বে আনা হয়েছে, কারণ 'আর-রাহমান' শব্দটি মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট একটি বিশেষ নাম, আর 'আর-রাহিম' একটি সাধারণ বা অংশীদারযোগ্য নাম; যেমন বলা হয়:

'এটি একজন দয়ালু ব্যক্তি', কিন্তু বলা হয় না: 'এটি একজন রাহমান ব্যক্তি'। সুতরাং এর বিশেষ মর্যাদার কারণে সাধারণের আগে বিশেষটিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে: 'আর-রাহমান' ও 'আর-রাহিম' শব্দ দুটি অত্যন্ত কোমল ও দয়া প্রকাশক নাম, যার একটি অন্যটির চেয়ে অধিক গভীর। আবার বলা হয়েছে: 'আর-রাহমান' শব্দটিতে অধিক প্রশংসা এবং 'আর-রাহিম' শব্দটিতে অধিক মমতা ও কোমলতা প্রকাশ পায়।

ফলশ্রুতিতে, এই উভয় নামই প্রশংসা প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌إعراب سورة الفاتحة

[سورة الفاتحة (1): آية 2]

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ (2)

• الْحَمْدُ لِلَّهِ: مبتدأ مرفوع بالضمة. اللام حرف جرّ وهي لام التخصيص أي متخصصة بالله سبحانه. الله: لفظ الجلالة: اسم مجرور للتعظيم باللام وعلامة الجرّ: الكسرة الظاهرة. والجارّ والمجرور متعلق بخبر المبتدأ.

التقدير: الحمد مختصّ لله. ويطلق على دعاء «الْحَمْدُ لِلَّهِ»: الحمد له.

• رَبِّ الْعالَمِينَ: صفة لله أو بدل منه مجرور مثله بالكسرة الظاهرة. العالمين:

مضاف إليه مجرور بالاضافة وعلامة جرّه: الياء لأنه ملحق بجمع المذكر السالم. وقيل: علامة الجرّ: الياء لأنهّا من جنس الكسرة. والنون عوض عن تنوين المفرد وحركته.

[سورة الفاتحة (1): آية 3]

الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (3)

• الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ: صفتان- نعتان- للفظ الجلالة وهما نعتان للمدح.

مجروران علامة جرّهما: الكسرة.

[سورة الفاتحة (1): آية 4]

مالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (4)

• مالِكِ يَوْمِ الدِّينِ: صفة ثالثة للفظ الجلالة مجرور بالكسرة. يوم: مضاف إليه مجرور بالاضافة وعلامة جرّه: الكسرة وهو مضاف. الدين: مضاف إليه مجرور بالاضافة وعلامة جرّه الكسرة وهو من اضافة اسم الفاعل «مالِكِ» الى مفعوله «يَوْمِ».
সূরা আল-ফাতিহার ইরাব

[সূরা আল-ফাতিহা (১): আয়াত ২]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের রব (২)

• আল-হামদু লিল্লাহ: যম্মাহ (পেশ) দ্বারা মারফু মুবতাদা। 'লাম' হরফে জর এবং এটি নির্দিষ্টকরণের জন্য (লামুত তাখসিস), অর্থাৎ এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য নির্দিষ্ট। আল্লাহ: লফজুল জালালাহ: সম্মানের খাতিরে 'লাম' দ্বারা মাজরুর ইসম এবং জরের আলামত হলো প্রকাশ্য কাসরাহ (জের)। জার এবং মাজরুর মুবতাদার খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট।

সম্ভাব্য অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। এবং 'আল-হামদু লিল্লাহ' দোয়াকে 'তাঁর প্রশংসা' হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

• রাব্বিল আলামিন: আল্লাহর জন্য সিফাত (গুণবাচক শব্দ) অথবা তাঁর বদল, যা তাঁর মতোই প্রকাশ্য কাসরাহ দ্বারা মাজরুর। আলামিন:

ইজাফতের কারণে মাজরুর মুদাফ ইলাইহি এবং জরের আলামত হলো 'ইয়া', কারণ এটি জমু মুজাক্কার সালিমের সাথে সংযুক্ত (মুলহাক)। এবং কেউ কেউ বলেন: জরের আলামত হলো 'ইয়া', কারণ এটি কাসরাহ গোত্রীয়। আর 'নুন' হলো একবচনের তানউইন ও তার হারাকাতের স্থলাভিষিক্ত।

[সূরা আল-ফাতিহা (১): আয়াত ৩]

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু (৩)

• আর-রাহমানির রাহিম: লফজুল জালালার জন্য দুটি সিফাত বা গুণবাচক শব্দ এবং এ দুটি প্রশংসামূলক গুণ।

উভয়টি মাজরুর, তাদের জরের আলামত হলো কাসরাহ।

[সূরা আল-ফাতিহা (১): আয়াত ৪]

বিচার দিবসের মালিক (৪)

• মালিকি ইয়াওমিদ দ্বীন: লফজুল জালালার জন্য তৃতীয় সিফাত যা কাসরাহ দ্বারা মাজরুর। ইয়াওম: ইজাফতের কারণে মাজরুর মুদাফ ইলাইহি এবং জরের আলামত কাসরাহ, আর এটি মুদাফ। দ্বীন: ইজাফতের কারণে মাজরুর মুদাফ ইলাইহি এবং জরের আলামত কাসরাহ। এটি ইসমুল ফায়েল 'মালিক'-কে তার মাফউল 'ইয়াওম'-এর দিকে ইজাফত করার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১০)
[سورة الفاتحة (1): آية 5]

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5)

• إِيَّاكَ نَعْبُدُ: ضمير منفصل مبني على السكون في محل نصب مفعول به مقدّم لفعل «نَعْبُدُ» والكاف حرف جرّ بالاضافة أو حرف خطاب لا محلّ له.

نعبد: فعل مضارع مرفوع بالضمة والفاعل ضمير مستقر فيه وجوبا تقديره:

نحن. أو تكون «إِيَّاكَ» اسما بأكمله في محل نصب بالفعل.

• وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ: الواو: حرف نسق- عطف. إياك نستعين: معطوفة على «إِيَّاكَ نَعْبُدُ» وتعرب اعرابها.

[سورة الفاتحة (1): آية 6]

اهْدِنَا الصِّراطَ الْمُسْتَقِيمَ (6)

• اهْدِنَا: فعل تضرع ودعاء لفظه لفظ الطلب مبني على حذف الياء- حرف العلّة- والفاعل ضمير مستتر فيه وجوبا تقديره أنت. و «نا» ضمير متصل- ضمير المتكلمين- مبني على السكون في محل نصب مفعول به أول. وقد عدّي الفعل «اهد» هنا بنفسه الى مفعولين.

• الصِّراطَ الْمُسْتَقِيمَ: مفعول به ثان منصوب بالفتحة. المستقيم: صفة- نعت- للطراط منصوبة مثله بالفتحة.

[سورة الفاتحة (1): آية 6]

اهْدِنَا الصِّراطَ الْمُسْتَقِيمَ (6)

• صِراطَ الَّذِينَ: بدل من المبدل منه «الصِّراطَ» الأولى منصوب بالفتحة.

الذين: اسم موصول مبني على الفتح في محل جر بالاضافة.

• أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ: فعل ماض مبني على السكون لاتصاله بضمير الرفع المتحرك والتاء: ضمير متصل مبني على الفتح في محل رفع فاعل وجملة «أَنْعَمْتَ» صلة الموصول لا محل لها من الاعراب على: حرف جرّ وكتبت بالياء لأنّ ألفها المقصورة اتصل بها ضمير فصارت ياء. ومثلها: عليك ..

إليك .. لديك .. وعند مجيئها مع الاسم الظاهر تكتب ألفا نحو: على
[সূরা আল-ফাতিহা (১): আয়াত ৫]

আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি (৫)

• ইয়্যাকা নাবুদু: পৃথক সর্বনাম যা সুকুন ভিত্তিক মাবনি এবং ‘নাবুদু’ ক্রিয়ার অগ্রবর্তী কর্ম হিসেবে নসবের স্থানে অবস্থিত। আর ‘কাফ’ হলো সম্বন্ধসূচক হরফ অথবা সম্বোধনসূচক হরফ যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

নাবুদু: পেশ দ্বারা রফ প্রাপ্ত বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া এবং এর কর্তা হলো এর মধ্যে আবশ্যিকভাবে উহ্য থাকা সর্বনাম যার অনুমিত রূপ হলো:

নাহনু (আমরা)। অথবা ‘ইয়্যাকা’ পুরো শব্দটিই ক্রিয়া দ্বারা নসবের স্থানে অবস্থিত একটি বিশেষ্য হতে পারে।

• ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন: ওয়াও: সংযোগকারী অব্যয়। ইয়্যাকা নাস্তাঈন: এটি ‘ইয়্যাকা নাবুদু’-এর ওপর সমম্বিত হয়েছে এবং এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ পূর্বের অংশের মতোই হবে।

[সূরা আল-ফাতিহা (১): আয়াত ৬]

আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন (৬)

• ইহদিনা: এটি বিনয় ও দোয়াসূচক ক্রিয়া, যার শব্দগত রূপ নির্দেশসূচক; এটি ‘ইয়া’ নামক দুর্বল বর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে মাবনি হয়েছে। এর কর্তা হলো এর মধ্যে আবশ্যিকভাবে উহ্য থাকা সর্বনাম যার অনুমিত রূপ হলো ‘আনতা’ (আপনি)। আর ‘না’ হলো বক্তাদের নির্দেশক সংযুক্ত সর্বনাম যা সুকুন ভিত্তিক মাবনি এবং প্রথম কর্ম হিসেবে নসবের স্থানে অবস্থিত। এখানে ‘ইহদি’ ক্রিয়াটি সরাসরি দুটি কর্মের দিকে ধাবিত হয়েছে।

• আস-সিরাত আল-মুস্তাকীম: ফাতহা দ্বারা নসব প্রাপ্ত দ্বিতীয় কর্ম। আল-মুস্তাকীম: ‘সিরাত’-এর বিশেষণ যা তার অনুকরণে ফাতহা দ্বারা নসব প্রাপ্ত।

[সূরা আল-ফাতিহা (১): আয়াত ৬]

তাদের পথ, যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন (৬/৭)

• সিরাতাল্লাজিনা: এটি প্রথম ‘আস-সিরাত’ থেকে স্থলাভিষিক্ত (বদল) হিসেবে ফাতহা দ্বারা নসব প্রাপ্ত।

আল্লাজিনা: ফাতহা ভিত্তিক মাবনি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য যা সম্বন্ধ পদ হিসেবে জরের স্থানে অবস্থিত।

• আনআমতা আলাইহিম: রফ নির্দেশক গতিশীল সর্বনাম যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুন ভিত্তিক মাবনি অতীতকালীন ক্রিয়া এবং ‘তা’ হলো ফাতহা ভিত্তিক মাবনি সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্তা হিসেবে রফ-এর স্থানে অবস্থিত। ‘আনআমতা’ বাক্যটি সম্বন্ধবাচক বাক্যাংশ (সিলাতুল মাউসুল) যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। ‘আলা’ হলো অব্যয় এবং এটি ‘ইয়া’ দিয়ে লেখা হয়েছে কারণ এর আলিফে মাকসুরা যখন সর্বনামের সাথে যুক্ত হয় তখন তা ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত হয়। যেমন: আলাইকা, ইলাইকা, লাদাইকা। তবে যখন এটি স্পষ্ট বিশেষ্যের সাথে আসে তখন আলিফ রূপে লেখা হয়, যেমন: আলা।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১১)
زيد .. إلى أحمد .. لدى محمود .. و «هم» ضمير الغائبين مبني على السكون في محل جرّ بعلى والجارّ والمجرور متعلق بأنعمت وكسرت هاء «هم» لمجاورتها الياء.

[سورة الفاتحة (1): آية 7]

صِراطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ (7)

• غَيْرِ: صفة- نعت- للموصوف- الذين- مجرور بالكسرة أو يكون بدلا من ضمير الغائبين «هم» في «عَلَيْهِمْ» الأولى. وقد وصف الاسم الموصول «الَّذِينَ» وهو معرفة بالصفة «غَيْرِ» وهي معرفة أيضا لأنها أشبهت المعرفة باضافتها الى المعرفة- المغضوب- فعوملت معاملتها. وقيل: الاضافة هنا ليست للتعريف بل للتخصيص مثل «سوى» و «حسب» فانهّا تضاف للتخصيص ولا تدخلها «أل» التعريف. وقيل أيضا: إنّ «غَيْرِ» اسم مبهم وانّما أعرب للزوم الاضافة. وقيل: «غَيْرِ» هنا صفة إلى معرفة قريبة من النكرة لأنّه لم يقصد به- أي بالّذين- قوم بأعيانهم. و «غَيْرِ الْمَغْضُوبِ» قريبة من المعرفة بالتخصيص الحاصل لها بالاضافة .. فكلّ واحد منهما فيه إبهام من وجه واختصاص من وجه. واذا وقعت «غير» بين متضادّين وكانا معرفتين تعرّفت بالاضافة … نحو: عجبت من الحركة غير السكون.

وكذلك الأمر هنا لأنّ المنعم عليه والمغضوب عليه متضادان.

• الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ: مضاف إليه مجرور بالاضافة وعلامة جرّه الكسرة. على حرف جرّ و «هم» ضمير متصل- ضمير الغائبين- مبني على السكون في محل جرّ بعلى. وشبه الجملة- الجارّ والمجرور- في محل رفع نائب فاعل لاسم المفعول «الْمَغْضُوبِ» أو لفعله بتقدير: غضب عليهم.

• وَلَا الضَّالِّينَ: الواو: عاطفة. لا: صلة أو تكون زائدة بتقدير والضّالين.

ويجوز أن تكون تاكيدا للنّفي أو بمعنى «غَيْرِ» الضّالّين: معطوف على كلمة «الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ» أو في محل جرّ بالاضافة وعلامة جرّه الياء لأنّه جمع مذكّر سالم. والنون عوض عن التنوين والحركة في الاسم المفرد.
যাইদ .. আহমদ এর প্রতি .. মাহমুদ এর নিকট .. এবং "হুম" হলো নামপুরুষ বহুবচনের সর্বনাম যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং "আলা" এর কারণে যার স্থান হচ্ছে মাজরুর (সম্বন্ধ পদ)। জার এবং মাজরুর 'আনআমতা' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। "হুম" এর 'হা' বর্ণটিতে কাসরা (জের) প্রদান করা হয়েছে কারণ এটি 'ইয়া' বর্ণের নিকটবর্তী।

[সূরা আল-ফাতিহা (১): আয়াত ৭]

সেই সমস্ত লোকেদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাদের পথ নয় যারা ক্রোধভাজন হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (৭)

• গাইরি: এটি গুণবাচক শব্দ বা বিশেষণ (সিফাত বা নাত)—যা বিশেষ্য (মাউসুফ) 'আল্লাযীনা' এর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে—এবং এটি কাসরা (জের) দ্বারা মাজরুর। অথবা এটি প্রথম 'আলাইহিম' এর মধ্যে থাকা নামপুরুষ বহুবচনের সর্বনাম 'হুম' এর বদল (পরিবর্তক) হতে পারে। এখানে সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য 'আল্লাযীনা' (যা নির্দিষ্ট বা মারেফা) এর বিশেষণ হিসেবে 'গাইরি' ব্যবহৃত হয়েছে, যা নিজেও নির্দিষ্ট (মারেফা)। কারণ এটি আরেকটি নির্দিষ্ট পদের (আল-মাগদুব) সাথে সম্বন্ধযুক্ত (ইযাফাত) হওয়ার কারণে নির্দিষ্টের সদৃশ হয়ে গিয়েছে; ফলে এর সাথে নির্দিষ্ট পদের ন্যায় আচরণ করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: এখানে সম্বন্ধযুক্ত হওয়াটি (ইযাফাত) নির্দিষ্ট করার (তা'রিফ) জন্য নয় বরং বিশেষিত করার (তাখসিস) জন্য, যেমন 'সিওয়া' এবং 'হাসবু' এর ক্ষেত্রে হয়; এগুলো বিশেষিত করার জন্য সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং এগুলোতে নির্দিষ্টকারী 'আলিফ-লাম' যুক্ত হয় না। আরও বলা হয়েছে: 'গাইরি' একটি অস্পষ্ট বিশেষ্য (ইসম মুবহাম) এবং এটি কেবল ইযাফাতের আবশ্যকতা রক্ষার জন্য রূপান্তরশীল (মু'রাব) হয়েছে। অন্য মতে: এখানে 'গাইরি' এমন একটি নির্দিষ্ট পদের (মারেফা) বিশেষণ যা অনির্দিষ্টের (নাকেরা) কাছাকাছি, কারণ এখানে 'আল্লাযীনা' বলতে নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়নি। আর 'গাইরিল মাগদুব' পদটি ইযাফাতের মাধ্যমে অর্জিত বিশেষত্বের (তাখসিস) কারণে নির্দিষ্ট পদের (মারেফা) নিকটবর্তী। অতএব এগুলোর প্রত্যেকটির মধ্যে এক দিক থেকে অস্পষ্টতা এবং অন্য দিক থেকে বিশেষত্ব বিদ্যমান। আর যখন 'গাইর' শব্দটি দুটি বিপরীতার্থক শব্দের মাঝে আসে এবং উভয়ই নির্দিষ্ট হয়, তখন এটি ইযাফাতের মাধ্যমে নির্দিষ্টতা লাভ করে … যেমন: আমি স্থিরতা ব্যতীত নড়াচড়া দেখে বিস্মিত হলাম।

এখানকার বিষয়টিও তদ্রূপ, কারণ যাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে এবং যারা ক্রোধভাজন হয়েছে তারা পরস্পর বিপরীতমুখী।

• আল-মাগদুবি আলাইহিম: এটি সম্বন্ধযুক্ত পদ (মুদাফ ইলাইহি) যা সম্বন্ধের কারণে মাজরুর এবং এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো কাসরা (জের)। 'আলা' হলো অব্যয় (হরফে জার) এবং 'হুম' হলো যুক্ত সর্বনাম (দমিরে মুত্তাসিল)—নামপুরুষ বহুবচন—যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং 'আলা' এর কারণে মাজরুর এর স্থলাভিষিক্ত। জার এবং মাজরুর এর সমন্বয়ে গঠিত এই খণ্ডবাক্যটি (শিবহুল জুমলা) কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসম মাফউল) 'আল-মাগদুব' অথবা এর উহ্য ক্রিয়া 'গদিবা আলাইহিম' এর কর্মবাচ্যের কর্তা (নায়েবে ফায়েল) হিসেবে মারফু-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

• ওয়া লাদ-দাল্লীন: ওয়া হলো সংযোগকারী অব্যয় (হরফে আতিফ)। 'লা' হলো সংযোগকারী (সিলাহ) অথবা এটি অতিরিক্ত হতে পারে যার অর্থ হবে 'এবং যারা পথভ্রষ্ট'।

এটি নেতিবাচকতাকে জোর প্রদানের জন্য হতে পারে অথবা 'গাইরি' এর অর্থেও হতে পারে। আদ-দাল্লীন: এটি 'আল-মাগদুবি আলাইহিম' শব্দটির সাথে যুক্ত (মাতুফ) অথবা ইযাফাতের কারণে মাজরুর এর অবস্থানে রয়েছে এবং এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো 'ইয়া', কারণ এটি পুরুষবাচক ও নিয়মিত বহুবচন (জামআ মুযাক্কার সালিম)। আর নুন বর্ণটি একবচন বিশেষ্যের তানভীন ও স্বরচিহ্নের পরিবর্তে এসেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌إعراب سورة البقرة

[سورة البقرة (2): آية 1]

بسم الله الرحمن الرحيم

الم (1)

• الم: هذه الأحرف من الأسرار المحجوبة أو هي إشارة لابتداء كلام وانتهاء كلام وأثير حولها جدل بين العلماء … فمنهم من يراها أسماء لله تعالى أو أيمان لله عز وجل .. وذهب الاكثرون إلى أنهّا أسماء لسور القرآن الكريم.

أماّ موضع إعرابها ففيه عدّة أوجه .. إن جعلت اسما للسورة فتكون «الم» مبتدأ و «ذلِكَ» مبتدأ ثانيا و «الْكِتابُ» خبره .. والجملة الاسمية: خبر المبتدأ الأول والعائد فيها هو اسم الإشارة القائم مقام الضمير ومعناه: انّ ذلك هو الكتاب. أدخل ضمير الفصل «هو» بين المبتدأ والخبر. وثمة وجه آخر هو كون «الم» خبرا لمبتدأ محذوف تقديره هذه ألم ويكون «ذلِكَ» خبرا ثانيا أو بدلا على أنّ «الْكِتابُ» صفة أو تكون «الم» مجرورة على القسم وحرف القسم محذوف وبقي عمله بعد الحذف لأنه مراد فهو كالملفوظ به. كما يقال: الله لأفعلن. ويجوز أن تكون «الم» مفعولا به لفعل محذوف تقديره: أتل «الم».

[سورة البقرة (2): آية 2]

ذلِكَ الْكِتابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدىً لِلْمُتَّقِينَ (2)

• ذلِكَ الْكِتابُ: اسم إشارة مبني على السكون في محل رفع مبتدأ أو يكون في محل رفع خبرا لمبتدأ محذوف بتقدير هذا ذلك. اللام للبعد والكاف للخطاب. الكتاب صفة أو بدل من «ذلِكَ» مرفوع بالضمة.

• لا رَيْبَ فِيهِ: أداة نافيه للجنس. ريب: اسم «لا» مبني على الفتح في محل نصب فيه: جار ومجرور متعلق بخبر «لا» المحذوف وجوبا في محل رفع. لأن «لا» النافية للجنس تعمل عمل «أن» ويجوز أن يعرب شبة الجملة «فِيهِ» خبرا مقدما و «هُدىً» مبتدأ مؤخرا والجملة في محل نصب حالا مؤكدا.
সূরা আল-বাকারার ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ)

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আলিফ-লাম-মীম (১)

• আলিফ-লাম-মীম: এই অক্ষরগুলো গোপন রহস্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত অথবা এগুলো কথা শুরু ও শেষ হওয়ার সংকেত এবং এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে... তাদের কেউ কেউ এগুলোকে মহান আল্লাহর নাম অথবা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর শপথ হিসেবে গণ্য করেন। তবে অধিকাংশের মতে এগুলো পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহের নাম।

এর ব্যাকরণিক অবস্থানের (ইরাব) ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি দিক রয়েছে। যদি একে সূরার নাম ধরা হয়, তবে «আলিফ-লাম-মীম» হবে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং «যালিকা» হবে দ্বিতীয় মুবতাদা আর «আল-কিতাব» হবে তার খবর (বিধেয়)। এই জুমলা ইসমিয়া (নামবাচক বাক্যটি) প্রথম মুবতাদার খবর হবে এবং এতে প্রত্যাবর্তিত বিষয়টি হলো ইশারা বা ইঙ্গিতসূচক বিশেষ্য যা সর্বনামের স্থলাভিষিক্ত এবং এর অর্থ হলো: নিশ্চয়ই এটিই সেই কিতাব। এখানে মুবতাদা ও খবরের মাঝে «হুয়া» (এটি) নামক যমীরুল ফাসল বা বিভাজক সর্বনাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরেকটি মত হলো, «আলিফ-লাম-মীম» একটি উহ্য মুবতাদার খবর যার সম্ভাব্য রূপ ‘এটি আলিফ-লাম-মীম’। সে ক্ষেত্রে «যালিকা» হবে দ্বিতীয় খবর অথবা বদল (পরিবর্তক), যেখানে «আল-কিতাব» একটি সিফাত (গুণবাচক শব্দ)। অথবা «আলিফ-লাম-মীম» শপথের কারণে মাজরুর হতে পারে যেখানে শপথের অব্যয়টি উহ্য, তবে উহ্য থাকলেও এর অর্থগত উদ্দেশ্য বজায় থাকায় এটি উচ্চারিত শব্দের মতোই আমল করছে। যেমন বলা হয়: আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এটি করব। আবার এমনটিও হতে পারে যে, «আলিফ-লাম-মীম» একটি উহ্য ক্রিয়ার মাফউল বিহি (কর্ম), যার সম্ভাব্য রূপ: ‘আমি পাঠ করছি আলিফ-লাম-মীম’।

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ২]

এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক। (২)

• যালিকা আল-কিতাব: «যালিকা» হলো সুকুন যুক্ত ইশারা বা ইঙ্গিতসূচক বিশেষ্য যা রাফা-এর স্থলে মুবতাদা হিসেবে আছে অথবা এটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর যা রাফা-এর স্থলে আছে, যার সম্ভাব্য রূপ ‘এটি ওইটি’। ‘লাম’ অক্ষরটি দূরবর্তী অর্থ প্রকাশের জন্য এবং ‘কাফ’ অক্ষরটি সম্বোধনের জন্য। «আল-কিতাব» শব্দটি «যালিকা»-এর সিফাত অথবা বদল হিসেবে দম্মাহ দ্বারা মারফু হয়েছে।

• লা রাইবা ফীহি: «লা» হলো জাতীয় নেতিবাচক অব্যয় (নাফিয়া লিল জিনস)। «রাইবা» হলো «লা»-এর ইসম যা ফাতহা যুক্ত হয়ে নাসব-এর স্থলে আছে। «ফীহি» হলো জার-মাজরুর যা «লা»-এর আবশ্যিকভাবে উহ্য খবরের সাথে সম্পর্কিত এবং রাফা-এর স্থলে আছে। কেননা জাতীয় নেতিবাচক «লা», «ইন্না»-এর মতো আমল করে। এটিও সম্ভব যে, «ফীহি» নামক বাক্যখণ্ডটি খবর মুকাদ্দাম (অগ্রবর্তী বিধেয়) এবং «হুদাম» মুবতাদা মুয়াখখার (পরবর্তী উদ্দেশ্য) হিসেবে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করা হবে এবং পুরো বাক্যটি হাল হিসেবে নাসব-এর স্থলে থাকবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১৩)
• هُدىً لِلْمُتَّقِينَ: خبر للمبتدأ «ذلِكَ» مرفوع بالضمة المقدرة على الالف للتعذر. للمتقين جار ومجرور متعلق بهدى أو بصفة محذوفة من «هُدىً» وعلامة جر الاسم الياء لأنه جمع مذكر سالم والنون عوض عن تنوين المفرد وحركته.

[سورة البقرة (2): آية 3]

الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْناهُمْ يُنْفِقُونَ (3)

• الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ: اسم موصول مبني على الفتح في محل جر صفة للمتقين. ويجوز أن يكون خبرا لمبتدأ محذوف تقديره: هم الذين. يؤمنون:

الجملة صلة الموصول لا محل لها من الاعراب وهو فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الافعال الخمسة. والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل.

بالغيب: جار ومجرور متعلق بيؤمنون.

• وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ: معطوفة بالواو على «يُؤْمِنُونَ» وتعرب إعرابها.

الصلاة: مفعول به منصوب بالفتحة.

• وَمِمَّا رَزَقْناهُمْ يُنْفِقُونَ: الواو: استئنافية. مما: جار ومجرور متعلق بينفقون. وأصلها: من: حرف جر و «ما» اسم موصول مبني أدغم به حرف الجر «من» مبني على السكون في محل جر بمن. رزقناهم: فعل ماض مبني على السكون لاتصاله بضمير الرفع و «نا» ضمير متصل مبني على السكون في محل رفع فاعل. والهاء: ضمير متصل في محل نصب مفعول به والميم علامة جمع الذكور.

وجملة «رَزَقْناهُمْ» صلة الموصول لا محل لها من الإعراب. ينفقون: تعرب إعراب «يُؤْمِنُونَ» ويجوز أن تكون «من» للتبعيض.

[سورة البقرة (2): آية 4]

وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِما أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَما أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ (4)

• وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِما: الواو: عاطفة. الذين يؤمنون: معطوفة على «الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ» في الآية السابقة وتعرب إعرابها. بما: جار ومجرور متعلق
মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত: এটি ‘যালিকা’ মুক্তাদার (উদ্দেশ্য) খবর (বিধেয়), যা আলিফের ওপর অসম্ভবতার কারণে উহ্য পেশ (দম্মাহ) দ্বারা রফ‘ অবস্থায় রয়েছে। ‘মুত্তাকীদের জন্য’ অংশটি যার-মাজরুর (অব্যয় ও বিশেষ্য) যা ‘হিদায়াত’ শব্দের সাথে অথবা ‘হিদায়াত’ থেকে উহ্য থাকা কোনো গুণের (সিফাত) সাথে সম্পৃক্ত। এখানে বিশেষ্যটির যের (জার) হওয়ার চিহ্ন হলো ‘ইয়া’, কারণ এটি ‘জামা মুযাক্কার সালিম’ (অক্ষত পুরুষবাচক বহুবচন) এবং ‘নুন’ হলো একবচনের তানউইন ও হারাকাতের পরিবর্তে।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ৩]

যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে (৩)

• যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে: এটি একটি ইসমে মাওসুল (সংযোজক বিশেষ্য) যা ‘ফাতহ’ (যবর) এর ওপর স্থির এবং ‘মুত্তাকীন’ শব্দের গুণ (সিফাত) হিসেবে ‘জার’ (যের) এর স্থানে রয়েছে। এটি একটি উহ্য মুক্তাদার খবর হওয়াও জায়েয, যার উহ্য রূপ হলো: ‘তারা হলো সেই সমস্ত লোক যারা...’। তারা ঈমান আনে/বিশ্বাস করে:

এই বাক্যটি সিলাতুল মাওসুল (সংযোজক অংশ) যার ব্যাকরণিক কোনো অবস্থান নেই। এটি একটি ‘ফে’লে মুদারি’ (বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল বাচক ক্রিয়া), যা ‘নুন’ অক্ষরের স্থায়িত্বের মাধ্যমে রফ (পেশ) অবস্থায় রয়েছে; কারণ এটি ‘আফ‘আলে খামসাহ’ (পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়া রূপের একটি)। এখানে ‘ওয়াও’ হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্তা (ফায়েল) হিসেবে রফ এর স্থানে রয়েছে।

অদৃশ্যে: এটি যার এবং মাজরুর যা ‘তারা বিশ্বাস করে’ (ইউ’মিনুন) ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত।

• এবং তারা সালাত কায়েম করে: এটি ‘ওয়াও’ অব্যয়ের মাধ্যমে ‘তারা বিশ্বাস করে’ (ইউ’মিনুন) শব্দের ওপর সংযোজিত (আতফ) হয়েছে এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণও অনুরূপ হবে।

সালাত: এটি ‘মাফঊল বিহি’ (কর্মপদ) যা ফাতহাহ (যবর) দ্বারা নসব অবস্থায় রয়েছে।

• এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে: এখানে ‘ওয়াও’ হলো প্রারম্ভিক অব্যয়। ‘তা থেকে’ (মিম্মা): এটি যার-মাজরুর যা ‘তারা ব্যয় করে’ (ইউনফিকুন) এর সাথে সম্পৃক্ত। এর মূল রূপ হলো: ‘মিন’ (হতে/থেকে) যা একটি অব্যয় (হারফে জার) এবং ‘মা’ (যা) যা একটি ইসমে মাওসুল (সংযোজক বিশেষ্য), যা সুকুনের ওপর স্থির এবং ‘মিন’ এর কারণে জার-এর স্থানে অবস্থিত; এখানে ‘মিন’ এর নুন-কে ‘মা’ এর সাথে সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে। আমি তাদেরকে রিযিক দিয়েছি (রযাকনাহুম): এটি ‘ফে’লে মাদী’ (অতীতকাল বাচক ক্রিয়া) যা রফ-এর সর্বনামের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুনের ওপর স্থির এবং ‘না’ হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্তা (ফায়েল) হিসেবে রফ-এর স্থানে রয়েছে। ‘হা’ হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্ম (মাফঊল বিহি) হিসেবে নসব-এর স্থানে রয়েছে এবং ‘মীম’ হলো পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন।

‘আমি তাদেরকে রিযিক দিয়েছি’ বাক্যটি সিলাতুল মাওসুল, যার ব্যাকরণিক কোনো অবস্থান নেই। তারা ব্যয় করে (ইউনফিকুন): এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ‘তারা বিশ্বাস করে’ (ইউ’মিনুন) এর মতোই। আর এখানে ‘মিন’ অব্যয়টি ‘তাব‘ঈয’ (অংশবিশেষ বুঝাতে) এর জন্য হওয়াও সম্ভব।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ৪]

আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর, এবং তারা আখেরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে (৪)

• আর যারা তাতে বিশ্বাস করে: এখানে ‘ওয়াও’ হলো সংযোজক অব্যয়। ‘যারা বিশ্বাস করে’: এটি পূর্ববর্তী আয়াতের ‘যারা বিশ্বাস করে’ অংশটির ওপর সংযোজিত হয়েছে এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণও অনুরূপ হবে। ‘তাতে’ (বিমা): এটি যার এবং মাজরুর যা সম্পৃক্ত...
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১৪)
بيؤمنون: و «ما»: اسم موصول بمعنى «الذي» مبني على السكون في محل جر بالباء.

• أُنْزِلَ إِلَيْكَ: فعل ماض مبني على الفتح مبني للمجهول ونائب الفاعل ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو. وجملة «أُنْزِلَ» صلة الموصول لا محل لها من الإعراب. إليك: جار ومجرور متعلق بأنزل. والأصل: إلاك أبدلت الألف ياء لا تصل لها بالضمير.

• وَما أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ: الواو: عاطفة. ما أنزل: معطوفة على «ما أُنْزِلَ» السابقة وتعرب إعرابها. من قبلك: جار ومجرور متعلق بأنزل. والكاف:

ضمير متصل في محل جر بالاضافة.

• وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ: الواو: استئنافية. بالآخرة: جار ومجرور. هم:

ضمير رفع منفصل مبني في محل رفع مبتدأ ويوقنون: تعرب إعراب «يُؤْمِنُونَ» والجملة الفعلية «يُوقِنُونَ» في محل رفع خبر «هُمْ» والجملة الاسمية «هُمْ يُوقِنُونَ» في محل نصب حال. والجار والمجرور بالآخرة متعلق بيوقنون.

[سورة البقرة (2): آية 5]

أُولئِكَ عَلى هُدىً مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (5)

• أُولئِكَ عَلى هُدىً: أولاء: اسم إشارة مبني على الكسر في محل رفع مبتدأ والكاف: للخطاب. على هدى: جار ومجرور وعلامة جرّ الاسم الكسرة المقدرة على الألف للتعذر. ونكّر الاسم ليفيد ضربا مبهما لا يبلغ كنهه.

• مِنْ رَبِّهِمْ: جار ومجرور متعلق بهدى أو بصفة محذوفة من «هُدىً» و «هم» ضمير الغائبين مبني على السكون في محل جر بالاضافة. والجار والمجرور «عَلى هُدىً» متعلق بخبر «أُولئِكَ» المحذوف. ويجوز أن تكون «مِنْ» لابتداء الغاية على تقدير من هدى ربهم.

• وَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ: الواو: عاطفة. أولئك: معطوفة على «أُولئِكَ» الأولى وتعرب إعرابها. هم: مبتدأ ثان. ضمير منفصل مبني في محل رفع.

المفلحون: خبر «هُمُ» مرفوع بالواو لأنه جمع مذكر سالم. والنون تعويض عن
তারা বিশ্বাস করে: এবং 'যা': এটি একটি সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (ইসমে মাউসুল) যা 'যা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এটি সুকুনের ওপর অপরিবর্তনীয় (মাবনি) এবং 'বা' অব্যয়ের কারণে যার (জের) এর স্থলে অবস্থিত।

• আপনার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে: এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতহার ওপর অপরিবর্তনীয় এবং এটি কর্মবাচ্য (মাজহুল)। এর কর্তার স্থলাভিষিক্ত (নায়েবে ফায়েল) হলো একটি উহ্য সর্বনাম যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'তা'। 'অবতীর্ণ করা হয়েছে' বাক্যটি সম্বন্ধসূচক বিশেষ্যের পরের অংশ (সিলাতুল মাউসুল), যার ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই। আপনার প্রতি: এটি অব্যয় ও তদানুসারী বিশেষ্য (যার ও মাজরুর) যা 'অবতীর্ণ করা হয়েছে' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। এর মূল রূপ ছিল 'আপনার দিকে', যেখানে সর্বনামের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে আলিফকে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে।

• এবং যা আপনার পূর্বে অবতীর্ণ করা হয়েছে: এখানে 'ওয়াও' হলো সংযোজক অব্যয় (আতিফাহ)। যা অবতীর্ণ হয়েছে: এটি পূর্ববর্তী 'যা অবতীর্ণ হয়েছে' অংশের সাথে সংযুক্ত এবং এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণও পূর্বের অনুরূপ। আপনার পূর্ব থেকে: এটি অব্যয় ও তদানুসারী বিশেষ্য যা 'অবতীর্ণ করা হয়েছে' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। আর কাফ হলো:

একটি সংযুক্ত সর্বনাম যা সম্বন্ধ পদ (ইযাফত) হিসেবে যার (জের) এর স্থলে অবস্থিত।

• এবং আখেরাতের প্রতি তারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে: এখানে 'ওয়াও' হলো প্রারম্ভিক অব্যয়। আখেরাতের প্রতি: এটি অব্যয় ও তদানুসারী বিশেষ্য। তারা:

একটি পৃথক কর্তৃবাচক সর্বনাম যা উদ্দেশ্য (মুবতাদা) হিসেবে রাফ (পেশ) এর স্থলে অপরিবর্তনীয়। আর 'তারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে': এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ 'তারা বিশ্বাস করে' এর মতোই। এই ক্রিয়াভিত্তিক বাক্যটি 'তারা' এর বিধেয় (খবর) হিসেবে রাফ এর স্থলে রয়েছে। আর এই সম্পূর্ণ বিশেষ্যভিত্তিক বাক্যটি 'তারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে' অবস্থা (হাল) হিসেবে নাসাব (যবর) এর স্থলে রয়েছে। আর 'আখেরাতের প্রতি' অংশটি 'নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ৫]

তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম (৫)

• তারাই হিদায়াতের ওপর: তারাই: এটি একটি ইঙ্গিতসূচক বিশেষ্য (ইসমে ইশারা) যা কাসরার ওপর অপরিবর্তনীয় এবং উদ্দেশ্য হিসেবে রাফ এর স্থলে অবস্থিত। আর কাফ হলো সম্বোধনের জন্য। হিদায়াতের ওপর: এটি অব্যয় ও তদানুসারী বিশেষ্য, এবং এই বিশেষ্যটির যার (জের) এর চিহ্ন হলো আলিফের ওপর উহ্য থাকা কাসরা যা উচ্চারণ করা অসম্ভব। শব্দটিকে অনির্দিষ্ট (নাকিরা) করা হয়েছে এমন এক বিশেষ ও মহান হিদায়াত বোঝাতে যার প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা দুঃসাধ্য।

• তাদের রবের পক্ষ থেকে: এটি অব্যয় ও তদানুসারী বিশেষ্য যা 'হিদায়াত' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা 'হিদায়াত' এর কোনো উহ্য গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর 'তারা/তাদের' হলো নাম পুরুষের বহুবচন সর্বনাম যা সুকুনের ওপর অপরিবর্তনীয় এবং সম্বন্ধ পদ হিসেবে যার (জের) এর স্থলে অবস্থিত। আর 'হিদায়াতের ওপর' অংশটি 'তারাই' এর উহ্য খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এটিও সম্ভব যে 'থেকে' অব্যয়টি সীমার প্রারম্ভ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যা 'তাদের রবের হিদায়াত থেকে প্রাপ্ত' এর অর্থ প্রদান করে।

• এবং তারাই সফলকাম: এখানে 'ওয়াও' হলো সংযোজক অব্যয়। তারাই: এটি প্রথম 'তারাই' শব্দের সাথে সংযুক্ত এবং এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণও অনুরূপ। তারা: এটি দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, যা রাফ এর স্থলে অপরিবর্তনীয় একটি পৃথক সর্বনাম।

সফলকামগণ: এটি 'তারা' এর বিধেয় (খবর), যা 'ওয়াও' এর মাধ্যমে রাফ প্রাপ্ত কারণ এটি সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচন। আর এখানে নুন হলো একবচন বিশেষ্যের তানভীনের পরিবর্তে ব্যবহৃত...
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১৫)
تنوين المفرد. والجملة الاسمية «هُمُ الْمُفْلِحُونَ» في محل رفع خبر المبتدأ الأول «أُولئِكَ» ويجوز إعراب «هُمُ» ضمير فصل لا محل له أو عمادا وتكون «الْمُفْلِحُونَ» خبر «أُولئِكَ» وحركت الميم في «هُمُ» بالضم للاشباع أو لالتقاء الساكنين.

[سورة البقرة (2): آية 6]

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَواءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لا يُؤْمِنُونَ (6)

• إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا: إنّ: حرف مشبه بالفعل ينصب الاسم ويرفع الخبر.

الذين: اسم موصول مبني على الفتح في محل نصب اسم «إِنَّ». كفروا:

فعل ماض مبني على الضم لاتصاله بواو الجماعة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة. وجملة «كَفَرُوا» صلة الموصول لا محل لها.

• سَواءٌ عَلَيْهِمْ: خبر مقدم مرفوع بالضمة. عليهم: جار ومجرور متعلق بسواء و «هم» ضمير الغائبين في محل جرّ بعلى.

• أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ: الهمزة: همزة التسوية. أنذرتهم: فعل ماض مبني على السكون لاتصاله بضمير المخاطب والتاء: ضمير متصل مبني على الفتح في محل رفع فاعل. الهاء: ضمير متصل في محل نصب مفعول به. والميم علامة الجمع. والجملة بتأويل مصدر في محل رفع مبتدأ مؤخر. أم: حرف عطف للتسوية. لم: حرف جزم وقلب ونفي.

• تُنْذِرْهُمْ: فعل مضارع مجزوم بلم وعلامة جزمه السكون. وفاعله ضمير مستتر وجوبا تقديره أنت. الهاء ضمير متصل في محل نصب مفعول به والميم علامة الجمع. والجملة بتأويل مصدر في محل رفع معطوف على المصدر المؤول من الجملة الأولى. والتقدير: إنذارك وعدم إنذارك سواء عليهم.

• لا يُؤْمِنُونَ: لا: نافية لا عمل لها. يؤمنون: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الأفعال الخمسة. والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل.

والجملة الفعلية «لا يُؤْمِنُونَ» في محل رفع خبر «إِنَّ».
একবচন তানউইন। আর ইসমিয়াহ বাক্য 'হুমুল মুফলিহুন' প্রথম মুবতাদা 'উলাইকা' এর খবর হিসেবে রাফা এর স্থানে রয়েছে এবং 'হুম' শব্দটিকে যমিরে ফাসল হিসেবেও ইরাব করা বৈধ যার কোনো স্থান নেই অথবা একে ইমাদ বলা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে 'আল-মুফলিহুন' হবে 'উলাইকা' এর খবর। আর 'হুম' এর মীম বর্ণটিতে দম্মা দেওয়া হয়েছে ইশবাই অথবা দুই সাকিনের মিলনের কারণে।

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ৬]

নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন, উভয়ই তাদের জন্য সমান; তারা ঈমান আনবে না (৬)

• নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে: ইন্না: হারফে মুশাব্বাহ বিল ফিল যা ইসমকে নাসব এবং খবরকে রাফা প্রদান করে।

আল্লাযিনা: ইসম মাউসুল যা ফাতহার ওপর মাবনি এবং 'ইন্না' এর ইসম হিসেবে নাসব এর স্থানে রয়েছে। কাফারু:

অতীতকালীন ক্রিয়া যা দম্মার ওপর মাবনি কারণ এতে ওয়াও জামাআত যুক্ত হয়েছে। ওয়াও: যমিরে মুত্তাসিল যা কর্তা হিসেবে রাফা এর স্থানে রয়েছে এবং আলিফটি পার্থক্যকারী। আর 'কাফারু' বাক্যটি সিলাতুল মাউসুল যার কোনো স্থান নেই।

• তাদের জন্য সমান: খবর মুকাদ্দাম যা দম্মা দ্বারা মারফু। আলাইহিম: জার এবং মাজরুর যা 'সাওয়াউন' এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং 'হুম' হলো অনুপস্থিত বহুবচনের সর্বনাম যা 'আলা' এর কারণে মাজরুর এর স্থানে রয়েছে।

• আপনি কি তাদের সতর্ক করেছেন অথবা না: হামযা: সমতার হামযা। আনযারতাহুম: অতীতকালীন ক্রিয়া যা সুকুনের ওপর মাবনি কারণ এটি সম্বোধনসূচক সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়েছে এবং 'তা': যমিরে মুত্তাসিল যা ফাতহার ওপর মাবনি এবং কর্তা হিসেবে রাফা এর স্থানে রয়েছে। 'হা': যমিরে মুত্তাসিল যা কর্ম হিসেবে নাসব এর স্থানে রয়েছে। মীম হলো বহুবচনের চিহ্ন। আর বাক্যটি ক্রিয়ামূলের ব্যাখ্যায় হয়ে মুবতাদা মুয়াখখার হিসেবে রাফা এর স্থানে রয়েছে। আম: সমতার জন্য সংযোজক অব্যয়। লাম: জাযম, রূপান্তর এবং না-বোধক অব্যয়।

• তাদের সতর্ক করছেন: বর্তমানকালীন ক্রিয়া যা 'লাম' এর কারণে জাযমপ্রাপ্ত এবং এর জাযমের চিহ্ন হলো সুকুন। এর কর্তা হলো উহ্য সর্বনাম 'আনতা'। 'হা' যমিরে মুত্তাসিল যা কর্ম হিসেবে নাসব এর স্থানে রয়েছে এবং মীম বহুবচনের চিহ্ন। এই বাক্যটি ক্রিয়ামূলের ব্যাখ্যায় হয়ে প্রথম বাক্যের ক্রিয়ামূলের ওপর সমতাপ্রাপ্ত হয়ে রাফা এর স্থানে রয়েছে। এর সারসংক্ষেপ হলো: আপনার সতর্ক করা এবং না করা তাদের কাছে সমান।

• তারা ঈমান আনবে না: লা: না-বোধক অব্যয় যার কোনো আমল নেই। ইউ'মিনুন: বর্তমানকালীন ক্রিয়া যা নুন বহাল থাকার মাধ্যমে মারফু, কারণ এটি আফআলে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। আর ওয়াও: যমিরে মুত্তাসিল যা কর্তা হিসেবে রাফা এর স্থানে রয়েছে।

আর ক্রিয়াবাচক বাক্য 'লা ইউ'মিনুন' হলো 'ইন্না' এর খবর হিসেবে রাফা এর স্থানে।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১৬)
[سورة البقرة (2): آية 7]

خَتَمَ اللَّهُ عَلى قُلُوبِهِمْ وَعَلى سَمْعِهِمْ وَعَلى أَبْصارِهِمْ غِشاوَةٌ وَلَهُمْ عَذابٌ عَظِيمٌ (7)

• خَتَمَ اللَّهُ: فعل ماض مبني على الفتح. الله لفظ الجلالة: فاعل مرفوع بالضمة.

• عَلى قُلُوبِهِمْ: جار ومجرور متعلق بختم. والهاء: ضمير متصل في محل جرّ بعلى. والميم علامة جمع الذكور أو تكون «هم» ضميرا للغائبين في محل جرّ بعلى.

• وَعَلى سَمْعِهِمْ: معطوفة بالواو على «عَلى قُلُوبِهِمْ» وتعرب إعرابها.

و«سَمْعِهِمْ» مصدر بمعنى الجمع. أو بتقدير مضاف محذوف أي على حواسّ سمعهم.

• وَعَلى أَبْصارِهِمْ غِشاوَةٌ: الواو: استئنافية. على أبصارهم: تعرب إعراب «عَلى قُلُوبِهِمْ» و «عَلى أَبْصارِهِمْ» في محل رفع خبر مقدم. غشاوة:

مبتدأ مؤخر مرفوع بالضمة. وفي تكرار «عَلى» دليل على شدّة الختم.

• وَلَهُمْ عَذابٌ عَظِيمٌ: الواو: استئنافية. لهم: جار ومجرور متعلقان بخبر مقدم والميم علامة الجمع. عذاب: مبتدأ مؤخر مرفوع بالضمة. عظيم:

صفة لعذاب مرفوعة مثله بالضمة.

[سورة البقرة (2): آية 8]

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَما هُمْ بِمُؤْمِنِينَ (8)

• وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ: الواو: استئنافية. من الناس: جار ومجرور متعلقان بخبر مقدم. من: اسم موصول بمعنى «الذي» مبني على السكون في محل رفع مبتدأ مؤخر. يقول: فعل مضارع مرفوع بالضمة وفاعله:

ضمير مستتر جوازا تقديره: هو. وجملة «يَقُولُ» صلة الموصول.
[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ৭]

আল্লাহ তাদের হৃদয়ে এবং তাদের কানের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর রয়েছে আবরণ; আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি (৭)

• আল্লাহ মোহর মেরেছেন: এটি ফাতহাহ-র ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (ফেল মাজী)। আল্লাহ শব্দটি হলো 'লাফযুল জালালাহ' (মর্যাদাপূর্ণ শব্দ): যা পেশ (যাম্মাহ) যোগে মারফু অবস্থায় থাকা কর্তা (ফায়েল)।

• তাদের হৃদয়ের ওপর: এটি জার ও মাজরুর যা 'খাতামা' (মোহর মারা) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে 'হা' হলো সংযুক্ত সর্বনাম (যমীরে মুত্তাসিল) যা 'আলা' অব্যয়ের কারণে মাজরুর অবস্থানে আছে। আর 'মীম' হলো পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন অথবা 'হুম' হলো পরোক্ষ সর্বনাম যা 'আলা' দ্বারা মাজরুর হয়েছে।

• এবং তাদের কানের ওপর: এটি 'ওয়া' অব্যয় দ্বারা 'তাদের হৃদয়ের ওপর' অংশের সাথে সংযুক্ত (আতফ) হয়েছে এবং এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণও একই রকম।

'তাদের শ্রবণ' (সাময়িহিম) শব্দটি এখানে সমষ্টির অর্থে ব্যবহৃত একটি ক্রিয়ামূল (মাসদার)। অথবা এখানে একটি ঊহ্য শব্দ (মুযাফ) রয়েছে বলে ধরে নিতে হবে, যার অর্থ হলো: তাদের শ্রবণেন্দ্রিয়সমূহের ওপর।

• এবং তাদের চোখের ওপর রয়েছে আবরণ: এখানে 'ওয়া' হলো বাক্য সূচনাকারী (ইস্তিনাফিয়াহ)। 'তাদের চোখের ওপর' অংশের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ 'তাদের হৃদয়ের ওপর' অংশের মতোই এবং এটি অগ্রবর্তী বিধেয় (খবর মুকাদ্দাম) হিসেবে মারফু অবস্থানে আছে। আবরণ:

এটি পরবর্তী উদ্দেশ্য (মুবতাদা মুয়াখখার) যা পেশের (যাম্মাহ) মাধ্যমে মারফু হয়েছে। এখানে 'আলা' শব্দের পুনরাবৃত্তি মোহর লাগানোর তীব্রতা নির্দেশ করে।

• আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি: 'ওয়া' হলো বাক্য সূচনাকারী (ইস্তিনাফিয়াহ)। 'তাদের জন্য' হলো জার ও মাজরুর যা অগ্রবর্তী বিধেয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং 'মীম' হলো বহুবচনের চিহ্ন। শাস্তি: এটি পরবর্তী উদ্দেশ্য (মুবতাদা মুয়াখখার) যা পেশ যোগে মারফু। মহাশাস্তি:

এটি 'শাস্তি' শব্দের গুণবাচক শব্দ (সিফাত) যা একইভাবে পেশ যোগে মারফু হয়েছে।

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ৮]

আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর ওপর এবং শেষ দিবসের ওপর ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয় (৮)

• আর মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে: 'ওয়া' হলো বাক্য সূচনাকারী (ইস্তিনাফিয়াহ)। 'মানুষের মধ্যে' হলো জার ও মাজরুর যা অগ্রবর্তী বিধেয়ের (খবর মুকাদ্দাম) সাথে সংশ্লিষ্ট। 'মান' হলো এমন একটি সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (ইসমে মাউসুল) যা 'যিনি/যারা' অর্থে ব্যবহৃত, এটি সুকুন ভিত্তিক এবং পরবর্তী উদ্দেশ্য (মুবতাদা মুয়াখখার) হিসেবে মারফু অবস্থানে আছে। 'বলে' (ইয়াকুলু) হলো বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (ফেল মুযারে) যা পেশের (যাম্মাহ) মাধ্যমে মারফু এবং এর কর্তা (ফায়েল):

হলো একটি সম্ভাব্য ঊহ্য সর্বনাম (যমীর মুসতাতিন) যার অর্থ 'সে' (হুয়া)। আর 'বলে' বাক্যটি হলো সম্বন্ধসূচক বিশেষ্যের পরবর্তী বাক্য (সিলাতুল মাউসুল)।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১৭)
• آمَنَّا بِاللَّهِ: فعل ماض مبني على السكون لاتصاله بضمير المتكلمين. و «نا» ضمير متصل في محل رفع فاعل وجملة «آمَنَّا» في محل نصب مفعول به «مقول القول» الباء: حرف جر. الله لفظ الجلالة: اسم مجرور للتعظيم بالباء وعلامة الجر الكسرة والجار والمجرور متعلق بآمنّا.

• وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ: الواو: عاطفة. باليوم: جار ومجرور متعلق بآمنا.

الآخر: صفة- نعت- لليوم مجرورة أيضا وعلامة جرها الكسرة.

• وَما هُمْ بِمُؤْمِنِينَ: الواو: حالية. ما: نافية لا عمل لها عند بني تميم أو بمنزلة «ليس» عند الحجازيين. هم: ضمير رفع منفصل في محل رفع مبتدأ أو اسم «ما» الباء حرف جرّ زائد لتأكيد معنى النفي. مؤمنين: اسم مجرور لفظا وعلامة جره: الياء لأنه جمع مذكر سالم منصوب محلا على أنه خبر «ما» والجملة الاسمية «ما هُمْ بِمُؤْمِنِينَ» في محل نصب حال.

[سورة البقرة (2): آية 9]

يُخادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَما يَخْدَعُونَ إِلَاّ أَنْفُسَهُمْ وَما يَشْعُرُونَ (9)

• يُخادِعُونَ اللَّهَ: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الافعال الخمسة.

والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل. الله لفظ الجلالة: مفعول به للتعظيم منصوب بالفتحة. بمعنى يخادعون أولياء الله. محذوف المضاف المنصوب وحلّ المضاف إليه للتعظيم لفظ الجلالة محله.

• وَالَّذِينَ آمَنُوا: الواو: عاطفة. الذين: اسم موصول معطوف على لفظ الجلالة مبني على الفتح في محل نصب. و «آمَنُوا» فعل ماض مبني على الضم لاتصاله بواو الجماعة. والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل. والألف:

فارقة بين الاسماء والافعال. جملة «آمَنُوا» صلة الموصول لا محل لها.

• وَما يَخْدَعُونَ إِلَّا: الواو: استئنافية. ما: نافية. يخدعون: تعرب إعراب «يُخادِعُونَ». إلّا: أداة حصر لا محل لها.

• أَنْفُسَهُمْ: مفعول به منصوب بالفتحة. الهاء: ضمير متصل في محل جر بالاضافة. والميم علامة الجمع.

• আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি: অতীতকালীন ক্রিয়া (ফেলে মাযী), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তিহীন (মাবনি), কারণ এটি উত্তম পুরুষের বহুবচন সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়েছে। এবং 'না' হলো একটি সংলগ্ন সর্বনাম (দামীর মুত্তাসিল), যা কর্তার (ফায়েল) স্থলে মারফু অবস্থায় আছে। আর 'আমান্না' বাক্যটি 'মাকুলুল কাওল' (উক্তি) হিসেবে কর্মের (মাফউল বিহি) স্থলে মানসুব অবস্থায় আছে। বা: অব্যয় (হারফে জার)। আল্লাহ মহান সত্তার নাম: এটি সম্মনার্থে 'বা' অব্যয় দ্বারা মাজরুর হয়েছে এবং এর যার (জের) হওয়ার চিহ্ন হলো কাসরা। জার এবং মাজরুর 'আমান্না' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট (মুতাআল্লিক)।

• এবং শেষ দিবসের প্রতি: ওয়াও: সংযোজক অব্যয় (আতিফাহ)। শেষ দিবসের প্রতি: জার এবং মাজরুর, যা 'আমান্না' এর সাথে সংশ্লিষ্ট।

শেষ: এটি 'দিবস' শব্দের বিশেষণ (সিফাত বা নাত), এটিও মাজরুর এবং এর যার (জের) হওয়ার চিহ্ন হলো কাসরা।

• অথচ তারা মুমিন নয়: ওয়াও: অবস্থা প্রকাশক (হালিয়্যাহ)। মা: না-বোধক অব্যয় (নাফিয়াহ), বনী তামীম গোত্রের নিকট এর কোনো আমল নেই অথবা হিজাযীদের নিকট এটি 'লায়সা' এর মতো আমল করে। তারা: পৃথক সর্বনাম (দামীর মুনফাসিল), যা মুক্তাদা অথবা 'মা' এর ইসম হিসেবে রাফা-র স্থলে মারফু অবস্থায় আছে। বা: অতিরিক্ত অব্যয় (হারফে জার যায়েদ), যা না-বোধক অর্থকে দৃঢ় করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। মুমিনগণ: এটি শব্দগতভাবে মাজরুর এবং এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো 'ইয়া', কারণ এটি জমা মুযাক্কার সালেম। তবে এটি 'মা' এর খবর হিসেবে স্থানগতভাবে (মাহাল্লান) মানসুব। আর 'তারা মুমিন নয়' এই নামবাচক বাক্যটি (জুমলা ইসমিয়্যাহ) 'হাল' হিসেবে নসবের স্থলে মানসুব অবস্থায় আছে।

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ৯]

তারা আল্লাহকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে এবং তারা তা অনুভব করতে পারে না। (৯)

• তারা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়: বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (ফেলে মুযারে), যা 'নুন' বহাল থাকার মাধ্যমে মারফু হয়েছে, কারণ এটি 'আফআলুল খামসাহ' এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং ওয়াও: সংলগ্ন সর্বনাম (দামীর মুত্তাসিল), যা কর্তার (ফায়েল) স্থলে মারফু অবস্থায় আছে। আল্লাহ মহান সত্তার নাম: সম্মনার্থে এটি কর্ম (মাফউল বিহি) হিসেবে ফাতহা দ্বারা মানসুব হয়েছে। এর অর্থ হলো: তারা আল্লাহর বন্ধুদের ধোঁকা দেয়। এখানে মানসুব অবস্থায় থাকা মুদাফটি উহ্য রয়েছে এবং মহান সত্তার নাম 'আল্লাহ' যা মুদাফ ইলাইহি ছিল, তা সম্মনার্থে সেই স্থানে স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

• এবং যারা ঈমান এনেছে: ওয়াও: সংযোজক অব্যয় (আতিফাহ)। যারা: এটি একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (ইসম মওসুল), যা মহান সত্তার নামের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে এবং ফাতহা-র ওপর ভিত্তিহীন (মাবনি) হয়ে নসবের স্থলে মানসুব অবস্থায় আছে। আর 'তারা ঈমান এনেছে' এটি অতীতকালীন ক্রিয়া (ফেলে মাযী), যা বহুবচনের ওয়াও (ওয়াও আল-জামাআহ) যুক্ত হওয়ার কারণে যম্মাহ-র ওপর ভিত্তিহীন (মাবনি) হয়েছে। এবং ওয়াও: সংলগ্ন সর্বনাম (দামীর মুত্তাসিল), যা কর্তার (ফায়েল) স্থলে মারফু অবস্থায় আছে। এবং আলিফ:

বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্যকারী (আলিফে ফারেকাহ)। 'তারা ঈমান এনেছে' বাক্যটি সিলাতুল মওসুল, যার কোনো এরাবী অবস্থান নেই।

• অথচ তারা ধোঁকা দেয় না কেবল: ওয়াও: প্রারম্ভিক অব্যয় (ইস্তিনাফিয়্যাহ)। মা: না-বোধক অব্যয় (নাফিয়াহ)। তারা ধোঁকা দেয়: এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ পূর্বের 'তারা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়' এর অনুরূপ। কেবল: সীমাবদ্ধকারী অব্যয় (আদাতুল হাসর), যার কোনো এরাবী অবস্থান নেই।

• নিজেদের: এটি কর্ম (মাফউল বিহি), যা ফাতহা দ্বারা মানসুব। হা: সংলগ্ন সর্বনাম (দামীর মুত্তাসিল), যা সম্বন্ধের (ইযাফত) কারণে মাজরুর। এবং মীম হলো বহুবচনের চিহ্ন।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১৮)
• وَما يَشْعُرُونَ: الواو: حالية. ما يشعرون: في محل نصب حال. وتعرب إعراب «ما يَخْدَعُونَ».

[سورة البقرة (2): آية 10]

فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزادَهُمُ اللَّهُ مَرَضاً وَلَهُمْ عَذابٌ أَلِيمٌ بِما كانُوا يَكْذِبُونَ (10)

• فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ: جار ومجرور متعلقان بخبر مقدم. الهاء: ضمير متصل في محل جر بالاضافة والميم علامة الجمع. مرض: مبتدأ مؤخر مرفوع.

• فَزادَهُمُ: الفاء: استئنافية. زادهم: فعل ماض مبني على الفتح. الهاء:

ضمير متصل في محل نصب مفعول به أول. والميم علامة الجمع.

• اللَّهُ مَرَضاً: لفظ الجلالة: فاعل مرفوع بالضمة. مرضا: مفعول به ثان منصوب بالفتحة. ويجوز إعرابه تمييزا والأصوب على المفعولية.

• وَلَهُمْ عَذابٌ أَلِيمٌ: الواو: استئنافية. لهم: جار ومجرور متعلقان بخبر مقدم والميم علامة الجمع. عذاب: مبتدأ مؤخر مرفوع بالضمة و «أَلِيمٌ» صفة- نعت- لعذاب مرفوعة مثلها بالضمة. والقول مثل قولهم: جدّ جدّه.

والألم في الحقيقة للمؤلم كما أن الجدّ للجاد.

• بِما كانُوا: الباء: حرف جر. ما: اسم موصول مبني على السكون في محل جر بالباء. كانوا: فعل ماض ناقص مبني على الضم لاتصاله بواو الجماعة. الواو: ضمير متصل في محل رفع اسم «كان» والألف: فارقة.

وجملة «كانُوا» صلة الموصول لا محل لها و «بِما» متعلق بيكذبون.

• يَكْذِبُونَ: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الافعال الخمسة والواو:

ضمير متصل في محل رفع فاعل. والجملة الفعلية «يَكْذِبُونَ» في محل نصب خبر «كان».
• এবং তারা অনুভব করে না: ওয়াও: হাল-প্রকাশক অব্যয়। ‘তারা অনুভব করে না’ অংশটি নাসব-এর স্থলে হাল হিসেবে রয়েছে। এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ‘তারা ধোঁকা দেয় না’ এর বিশ্লেষণের অনুরূপ।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১০]

তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা মিথ্যা বলত (১০)।

• তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে: জার ও মাজরুর (অব্যয় ও বিশেষ্য) পরবর্তী খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট। হা: ইদাফাহ (সম্বন্ধ) হওয়ার কারণে ‘জার’-এর স্থানে অবস্থিত সংযুক্ত সর্বনাম এবং মীম বহুবচনের চিহ্ন। ব্যাধি: পরবর্তী মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যা মারফু (পেশযুক্ত)।

• অতঃপর তাদের বাড়িয়ে দিলেন: ফা: প্রারম্ভিক অব্যয়। জাদাহুম: ফাতহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত মাদি (অতীতকাল) ক্রিয়া। হা:

নাসব-এর স্থানে অবস্থিত প্রথম মাফউল বিহি (কর্ম) হিসেবে সংযুক্ত সর্বনাম। আর মীম বহুবচনের চিহ্ন।

• আল্লাহ ব্যাধি: আল্লাহ শব্দটি: ফায়িল (কর্তা), যা দম্মাহর মাধ্যমে মারফু। ব্যাধি: ফাতহাহর মাধ্যমে মানসুব হওয়া দ্বিতীয় মাফউল বিহি (কর্ম)। এটিকে তাময়ীয হিসেবেও বিশ্লেষণ করা সম্ভব, তবে মাফউল হিসেবে ধরা অধিকতর সঠিক।

• আর তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি: ওয়াও: প্রারম্ভিক অব্যয়। তাদের জন্য: জার ও মাজরুর, যা পূর্ববর্তী খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং মীম বহুবচনের চিহ্ন। শাস্তি: দম্মাহর মাধ্যমে মারফু হওয়া পরবর্তী মুবতাদা এবং ‘যন্ত্রণাদায়ক’ শব্দটি ‘শাস্তি’-এর গুণবাচক শব্দ (সিফাত/নাত), যা অনুরূপভাবে দম্মাহর মাধ্যমে মারফু। এই উক্তিটি আরবদের ‘চেষ্টা প্রচেষ্টাশীল হয়েছে’ উক্তির ন্যায়।

আর মূলত যন্ত্রণা হচ্ছে ব্যথাদানকারীর জন্য, যেমন প্রচেষ্টা হচ্ছে প্রচেষ্টাকারীর জন্য।

• যেহেতু তারা ছিল: বা: হরফে জার (অব্যয়)। মা: সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত ইসমে মাওসুল (সংযোজক বিশেষ্য), যা বা-এর কারণে জার-এর স্থানে অবস্থিত। তারা ছিল: জমা মুজাক্কার ওয়াও-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে দম্মাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত মাদি নাকেস (অপূর্ণ ক্রিয়া)। ওয়াও: ‘কানা’-এর ইসম হিসেবে রাফা-র স্থানে অবস্থিত সংযুক্ত সর্বনাম এবং আলিফ: পার্থক্যকারী আলিফ।

আর ‘তারা ছিল’ বাক্যটি সিলাতুল মাওসুল হওয়ায় এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই এবং ‘যেহেতু’ অংশটি ‘মিথ্যা বলত’ ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।

• তারা মিথ্যা বলত: মুযারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) ক্রিয়া, যা নূন বহাল থাকার মাধ্যমে মারফু হয়েছে; কারণ এটি আফআলে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। আর ওয়াও:

রাফা-র স্থানে অবস্থিত ফায়িল (কর্তা) হিসেবে সংযুক্ত সর্বনাম। ‘তারা মিথ্যা বলত’ ক্রিয়া-বাচক বাক্যটি ‘কানা’-এর খবর হিসেবে নাসব-এর স্থানে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ১৯)
[سورة البقرة (2): آية 11]

وَإِذا قِيلَ لَهُمْ لا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قالُوا إِنَّما نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11)

• وَإِذا قِيلَ لَهُمْ: الواو: استئنافية. إذا: ظرف لما يستقبل من الزمان خافض لشرطة متعلق بجوابه مبني على السكون متضمن معنى الشرط. قيل: فعل ماض مبني للمجهول مبني على الفتح. لهم: جار ومجرور متعلق بقيل و «هم» ضمير الغائبين في محل جرّ باللام.

• لا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ: لا: ناهية جازمة. تفسدوا: فعل مضارع مجزوم بلا وعلامة جزمه حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة. الواو ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة. في الأرض: جار ومجرور متعلق بتفسدوا وجملة «لا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ»: في محل رفع نائب فاعل لفعل «قِيلَ».

• قالُوا: فعل ماض مبني على الضم لاتصاله بواو الجماعة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة. وجملة «قالُوا» جواب شرط غير جازم لا محل لها. جملة «قيل وما بعدها» في محل جر بالاضافة.

• إِنَّما نَحْنُ مُصْلِحُونَ: إنما: كافة ومكفوفة. نحن: ضمير رفع منفصل مبني على الضم في محل رفع مبتدأ. مصلحون: خبر مرفوع بالواو لأنه جمع مذكر سالم والنون عوض عن تنوين المفرد وجملة «إِنَّما نَحْنُ مُصْلِحُونَ» في محل نصب مفعول به «مقول القول».

[سورة البقرة (2): آية 12]

أَلا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلكِنْ لا يَشْعُرُونَ (12)

• أَلا إِنَّهُمْ: ألا: حرف استفتاح وتنبيه. إنّهم: إنّ: حرف مشبه بالفعل الهاء:

ضمير متصل في محل نصب اسم «إن» والميم: علامة جمع الذكور.

وكسرت همزة «إن» لأنها مسبوقة بألا.

• هُمُ الْمُفْسِدُونَ: هم: ضمير منفصل في محل رفع مبتدأ. المفسدون: خبر «هُمُ» أو خبر «إن» اذا اعتبرت «هُمُ» ضمير فصل او عمادا والكلمة مرفوعة بالواو لأنها جمع مذكر سالم والنون عوض عن التنوين والحركة في المفرد
[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১১]

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, "তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ করো না," তারা বলে, "আমরা তো কেবল সংশোধনকারী।" (১১)

• আর যখন তাদেরকে বলা হয়: ওয়াও: প্রারম্ভিক। ইযা: ভবিষ্যৎ সময়ের জন্য ব্যবহৃত কালবাচক অব্যয় (যরফ), যা তার শর্তবাক্যকে পরবর্তী জওয়াবের সাথে যুক্ত করে, সুকুনযুক্ত এবং শর্তের অর্থ প্রদানকারী। কীলা: কর্মবাচ্যীয় অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতহা বিশিষ্ট। লাহুম: যার ও মাজরুর (অব্যয় ও সর্বনাম), যা 'কীলা' ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং ‘হুম’ হলো নামপুরুষের বহুবচনবাচক সর্বনাম যা ‘লাম’ অব্যয়ের কারণে মাজরুর অবস্থায় রয়েছে।

• তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ করো না: লা: নিষেধবাচক অব্যয়। তুফসিদূ: ‘লা’ এর কারণে ‘জজম’ প্রাপ্ত বর্তমানকালীন ক্রিয়া এবং এর জজমের চিহ্ন হলো ‘নুন’ বিলুপ্ত হওয়া, কারণ এটি ‘আফ’আলুল খামসাহ’ (পঞ্চক্রিয়া)-এর অন্তর্ভুক্ত। ‘ওয়াও’ হলো এখানে কর্তাবাচক সর্বনাম এবং ‘আলিফ’টি পৃথককারী। ফিল আরদ: যার ও মাজরুর, যা ‘তুফসিদূ’ ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং ‘তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ করো না’ বাক্যটি ‘কীলা’ ক্রিয়ার ‘নায়েবে ফায়েল’ বা কর্মবাচ্যীয় কর্তা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত।

• তারা বলে: অতীতকালীন ক্রিয়া যা ‘ওয়াও জামায়াত’ যুক্ত হওয়ার কারণে যম্মাহ (পেশ) বিশিষ্ট। ‘ওয়াও’ হলো এখানে কর্তাবাচক সর্বনাম এবং ‘আলিফ’টি পৃথককারী। ‘তারা বলে’ বাক্যটি শর্তের জওয়াব যা জজম প্রদান করে না। ‘বলা হলো এবং তার পরবর্তী অংশ’ বাক্যটি মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাজরুর।

• আমরা তো কেবল সংশোধনকারী: ইন্নামা: সীমাবদ্ধকারী অব্যয়। নাহনু: পৃথক কর্তাবাচক সর্বনাম যা যম্মাহ বিশিষ্ট এবং মুবতাদা বা উদ্দেশ্য হিসেবে স্থলাভিষিক্ত। মুসলিহূন: খবর বা বিধেয় যা ‘ওয়াও’ দ্বারা মারফু (পেশযুক্ত), কারণ এটি ‘জমা মুযাক্কার সালেম’ (পুরুষবাচক নিয়মিত বহুবচন) এবং ‘নুন’ হলো একবচনের তানভীনের স্থলাভিষিক্ত। ‘আমরা তো কেবল সংশোধনকারী’ বাক্যটি কর্ম (মাফউল বিহি) বা ‘উক্ত বাক্য’ হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১২]

সাবধান! নিশ্চয় তারাই ফাসাদকারী, কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না। (১২)

• সাবধান! নিশ্চয়ই তারা: আলা: প্রারম্ভিক ও সতর্কীকরণ অব্যয়। ইন্নাহুম: ইন্না হলো ক্রিয়াসদৃশ অব্যয়, আর হা হলো:

ইন্না-এর ইসিম বা বিশেষ্য হিসেবে নসব প্রাপ্ত সর্বনাম এবং ‘মীম’ হলো পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন।

‘ইন্না’-এর হামজাতে কাসরা (যের) হয়েছে কারণ এটি ‘আলা’-এর পরে এসেছে।

• তারাই ফাসাদকারী: হুম: পৃথক সর্বনাম যা মুবতাদা (উদ্দেশ্য) হিসেবে মারফু বা পেশযুক্ত। মুফসিদূন: ‘হুম’-এর খবর (বিধেয়), অথবা ‘ইন্না’-এর খবর যদি ‘হুম’-কে পৃথককারী বা সহায়ক সর্বনাম হিসেবে গণ্য করা হয়। শব্দটি ‘ওয়াও’ দ্বারা মারফু (পেশযুক্ত), কারণ এটি ‘জমা মুযাক্কার সালেম’ এবং ‘নুন’ হলো তানভীনের স্থলাভিষিক্ত ও একবচনের হরকতের পরিবর্তন।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২০)
والجملة الاسمية «هُمُ الْمُفْسِدُونَ» في محل رفع خبر «إن» ويجوز أن يكون «هُمُ» في محل نصب توكيد «هُمُ» في إنهم و «الْمُفْسِدُونَ»: خبر «إن».

• وَلكِنْ لا يَشْعُرُونَ: الواو: حرف زائد. لكن: حرف استدراك أو عطف مهمل لأنه محفف. لا: نافية لا عمل لها. يشعرون: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الافعال الخمسة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل.

[سورة البقرة (2): آية 13]

وَإِذا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَما آمَنَ النَّاسُ قالُوا أَنُؤْمِنُ كَما آمَنَ السُّفَهاءُ أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهاءُ وَلكِنْ لا يَعْلَمُونَ (13)

• وَإِذا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا: الواو: عاطفة. وما بعده معطوف على «إِذا قِيلَ لَهُمْ لا تُفْسِدُوا» في الآيه الكريمة الحادية عشرة ويعرب إعرابها. والفعل آمنوا:

فعل أمر مبني على حذف النون لان مضارعه من الأفعال الخمسة. الواو:

ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة.

• كَما آمَنَ النَّاسُ: كما: حرف جر. ما: مصدرية. آمن: فعل ماض مبني على الفتح. الناس: فاعل مرفوع بالضمة و «ما» المصدرية وما بعدها بتأويل مصدر في محل جر بالكاف. والجار والمجرور متعلقان بمفعول مطلق محذوف. التقدير: آمنوا إيمانا كإيمان الناس. وجملة «آمَنَ النَّاسُ» صلة «ما» المصدرية لا محل لها. ويجوز إعراب الكاف اسما بمعنى «مثل» في محل نصب حالا. وما بعدها في محل جر بالاضافة. والأصح أن تكون نائبة عن المصدر أو في محل نصب لمصدر محذوف تقديره إيمانا كإيمان الناس.

• قالُوا: فعل ماض مبني على الضم لاتصاله بواو الجماعة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة. وجملة «قالُوا» جواب شرط غير جازم لا محل لها.

• أَنُؤْمِنُ: الهمزة: همزة استفهام تفيد الانكار. نؤمن: فعل مضارع مرفوع
এবং বিশেষ্য পদগুচ্ছ «তারা ফাসাদকারী» এটি «ইন্না»-এর খবর হিসেবে 'রাফা'র স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর এটিও জায়েয আছে যে, «তারা» শব্দটি «ইন্নাহুম»-এর মধ্যকার «তাদের» এর তাকিদ (দৃঢ়তাসূচক) হিসেবে 'নসব'-এর স্থলাভিষিক্ত হবে এবং «ফাসাদকারীগণ» হবে «ইন্না»-এর খবর।

• কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না: ওয়াও: অতিরিক্ত অব্যয়। লাকিন: সংশোধক অব্যয় অথবা অব্যবহৃত সংযোজক অব্যয় কারণ এটি বিলুপ্ত স্বরবিশিষ্ট। লা: না-বোধক অব্যয় যার কোনো আমল নেই। ইয়াশউগুন: বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, নুন অক্ষরের উপস্থিতির মাধ্যমে 'রাফা' প্রাপ্ত হয়েছে কারণ এটি আফয়ালে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও: সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্তার স্থলে 'রাফা'র স্থলাভিষিক্ত।

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১৩]

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা ঈমান আনো যেমন লোকেরা ঈমান এনেছে, তারা বলে, আমরা কি ঈমান আনব যেমন নির্বোধরা ঈমান এনেছে? জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা জানে না। (১৩)

• আর যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা ঈমান আনো: ওয়াও: সংযোজক অব্যয়। এবং পরবর্তী অংশ পবিত্র কুরআনের একাদশ আয়াতে উল্লিখিত «যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা ফাসাদ করো না» অংশের ওপর সংযোজিত এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ অনুরূপ হবে। এবং «ঈমান আনো» ক্রিয়াটি:

অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়া, যা নুন বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত, কারণ এর বর্তমানকালীন রূপটি আফয়ালে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও:

সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্তার স্থলে 'রাফা'র স্থলাভিষিক্ত এবং আলিফটি পার্থক্যকারী।

• যেমন লোকেরা ঈমান এনেছে: কামা: 'কাফ' অব্যয়টি হরফে জর। মা: মাসদারিয়া। আমানা: অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতহার ওপর মাবনি। আন-নাসু: দম্মা দ্বারা 'রাফা' প্রাপ্ত কর্তা এবং 'মা' মাসদারিয়া ও তার পরবর্তী অংশ মাসদারের ব্যাখ্যায় 'কাফ' হরফের কারণে 'জর'-এর স্থলাভিষিক্ত। জার এবং মাজরুর একটি উহ্য মাফউলে মুতলাকের সাথে সম্পৃক্ত। এর মূল রূপ হবে: তোমরা ঈমান আনো তেমন ঈমান যেমন লোকেরা ঈমান এনেছে। এবং «লোকেরা ঈমান এনেছে» বাক্যটি 'মা' মাসদারিয়ার মিলা বা সিলাহ, যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই। আর 'কাফ' শব্দটিকে «মত» অর্থে বিশেষ্য হিসেবে 'হাল' হিসেবে 'নসব'-এর স্থলাভিষিক্ত করাও জায়েয আছে। এবং এর পরবর্তী অংশ এজাফতের কারণে 'জর' অবস্থায় থাকবে। তবে অধিকতর সঠিক হলো এটি মাসদারের স্থলাভিষিক্ত হওয়া অথবা একটি উহ্য মাসদারের কারণে 'নসব' হওয়া, যার মূল রূপ হলো: ঈমান আনো এমন ঈমান যেমন লোকদের ঈমান।

• তারা বলল: অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ওয়াও জামায়াতের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে দম্মার ওপর মাবনি। ওয়াও: সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্তার স্থলে 'রাফা'র স্থলাভিষিক্ত এবং আলিফটি পার্থক্যকারী। এবং «তারা বলল» বাক্যটি শর্তহীন উত্তরের বাক্য হওয়ায় এর কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই।

• আমরা কি ঈমান আনব: হামজাহ: প্রশ্নবোধক হামজাহ যা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। নু’মিনু: বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যা 'রাফা' প্রাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২১)
بالضمة وفاعله: ضمير مستتر وجوبا تقديره: نحن. وجملة «أَنُؤْمِنُ» وما بعدها في محل نصب مفعول به «مقول القول»

• كَما آمَنَ السُّفَهاءُ: تعرب إعراب «كَما آمَنَ النَّاسُ».

• أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهاءُ وَلكِنْ لا يَعْلَمُونَ: تعرب إعراب «أَلا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلكِنْ لا يَشْعُرُونَ» الواردة في الآية الكريمة السابقة و «السُّفَهاءُ» خبر مرفوع بالضمة.

[سورة البقرة (2): آية 14]

وَإِذا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قالُوا آمَنَّا وَإِذا خَلَوْا إِلى شَياطِينِهِمْ قالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّما نَحْنُ مُسْتَهْزِؤُنَ (14)

• وَإِذا لَقُوا: الواو: عاطفة. إذا: ظرف لما يستقبل من الزمان خافض لشرطه منصوب بجوابه. لقوا: فعل ماض مبني على الضم الظاهر على الياء المحذوفة لاتصاله بواو الجماعة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة. وحذفت الياء لالتقائها ساكنة مع الواو. وجملة «لَقُوا» في محل جر بالاضافة.

• الَّذِينَ آمَنُوا: اسم موصول مبني على الفتح في محل نصب مفعول به آمنوا تعرب إعراب «لَقُوا» والجملة صلة الموصول.

• قالُوا آمَنَّا: قالوا: تعرب إعراب «آمَنُوا» وجملة «قالُوا» جواب شرط غير جازم لا محل لها. آمنا: فعل ماض مبني على السكون لاتصاله بضمير المتكلمين. و «نا» ضمير متصل في محل رفع فاعل وجملة «آمَنَّا» في محل نصب مفعول به «مقول القول».

• وَإِذا خَلَوْا إِلى شَياطِينِهِمْ: الواو: عاطفة. إذا خلوا: تعرب إعراب «إِذا لَقُوا». إلى شياطينهم: جار ومجرور متعلق بخلوا و «هم» ضمير الغائبين في محل جرّ بالاضافة. أي انصرفوا أو ذهبوا إلى شياطينهم. وقيل: إلى:

بمعنى الباء أو بمعنى «مع».
যম্মাহ (পেশ) দ্বারা এবং এর ফায়িল (কর্তা): আবশ্যিকভাবে উহ্য থাকা সর্বনাম যার অনুমিত রূপ হলো: নাহনু (আমরা)। এবং «আ-নু’মিনু» বাক্যটি এবং এর পরবর্তী অংশ মফউল বিহি (কর্মপদ) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত, যা «মাকুলুল কাওল» (উক্তি)।

• কামা আ-মানাস সুফাহা-উ: এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ «কামা আ-মানান না-সু» এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের মতো হবে।

• আলা ইন্নাহুম হুমুস সুফাহা-উ ওয়ালা-কিন লা ইয়া’লামূন: এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত «আলা ইন্নাহুম হুমুল মুফসিদূনা ওয়ালা-কিন লা ইয়াশ’উরূন» এর মতো হবে এবং «আস-সুফাহা-উ» শব্দটি যম্মাহ (পেশ) দ্বারা মারফু হয়ে খবর (বিধেয়) হয়েছে।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৪]

এবং যখন তারা মুমিনদের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন তারা বলে: আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন তারা তাদের শয়তানদের (নেতৃবৃন্দের) সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে: নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথেই আছি, আমরা তো কেবল উপহাসকারী। (১৪)

• ওয়া ইযা লাকু: ওয়াও: আতিফাহ (সংযোজক অব্যয়)। ইযা: ভবিষ্যৎকাল জ্ঞাপক অব্যয় যা তার শর্তকে মাজরুর করে এবং তার জাওয়াব (প্রতিদান) দ্বারা মানসুব হয়। লাকু: মাঝি (অতীতকাল) ক্রিয়া যা বিলুপ্ত ইয়া-এর ওপর দৃশ্যমান যম্মাহর (পেশ) ভিত্তিতে গঠিত, কারণ এটি ওয়াও-এর (জামাআহ) সাথে যুক্ত হয়েছে। ওয়াও: সংযুক্ত সর্বনাম যা ফায়িল (কর্তা) হিসেবে রাফ-এর স্থলাভিষিক্ত এবং আলিফটি পার্থক্যকারী। আর ইয়া-টি বিলুপ্ত হয়েছে ওয়াও-এর সাথে দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে। এবং «লাকু» বাক্যটি ইদাফাতের কারণে জারের স্থলাভিষিক্ত।

• আল্লাযীনা আ-মানূ: ইসমুল মাওসুল যা ফাতহার (যবর) ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং মফউল বিহি (কর্মপদ) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত। আ-মানূ-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ «লাকু»-এর মতো হবে এবং এই বাক্যটি সিলাতুল মাওসুল।

• কালূ আ-মান্না: কালূ: এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ «আ-মানূ»-এর মতো হবে এবং «কালূ» বাক্যটি অ-জাযেম (শর্তহীন) শর্তের উত্তর, যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই। আ-মান্না: মাঝি (অতীতকাল) ক্রিয়া যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, কারণ এটি উত্তম পুরুষ বহুবচনের সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়েছে। এবং «না» হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা ফায়িল (কর্তা) হিসেবে রাফ-এর স্থলাভিষিক্ত। আর «আ-মান্না» বাক্যটি মফউল বিহি (উক্তি) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত।

• ওয়া ইযা খালাও ইলা শায়াতীনিহিম: ওয়াও: আতিফাহ (সংযোজক অব্যয়)। ইযা খালাও: এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ «ইযা লাকু»-এর মতো হবে। ইলা শায়াতীনিহিম: জার এবং মাজরুর যা ‘খালাও’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং «হুম» হলো নাম পুরুষ বহুবচনের সর্বনাম যা ইদাফাতের কারণে জারের স্থলাভিষিক্ত। অর্থাৎ তারা ফিরে গেল বা চলে গেল তাদের শয়তানদের (নেতৃবৃন্দের) কাছে। আর বলা হয়েছে: ‘ইলা’ এখানে ‘বা’ অথবা ‘মা’আ’ (সাথে) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২২)
• قالُوا إِنَّا مَعَكُمْ: قالوا: تعرب إعراب «قالُوا» الاولى. إنّا: إنّ:

حرف مشبه بالفعل و «نا» ضمير متصل في محل نصب اسم «إن».

معكم: ظرف مكان يدل على المصاحبة والاجتماع متعلق بخبر «إن» الكاف ضمير متصل- ضمير المخاطبين- في محل جر بالاضافة والميم علامة جمع الذكور والجملة «إِنَّا مَعَكُمْ» في محل نصب مفعول به مقول القول.

• إِنَّما نَحْنُ مُسْتَهْزِؤُنَ: إنّما: كافة ومكفوفة. نحن: ضمير رفع منفصل مبني على الضم في محل رفع مبتدأ. مستهزئون: خبر المبتدأ «نَحْنُ» مرفوع بالواو لأنه جمع مذكر سالم والنون عوض عن التنوين والحركة. في المفرد. ويجوز ان تعرب «مع» منصوبة على الظرفية والضمير بعدها في محل جر بالاضافة.

[سورة البقرة (2): آية 15]

اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيانِهِمْ يَعْمَهُونَ (15)

• اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ: الله لفظ الجلالة: مبتدأ مرفوع بالضمة. يستهزئ:

فعل مضارع مرفوع بالضمة وفاعله: ضمير مستتر جوازا تقديره: هو.

والجملة الفعلية «يَسْتَهْزِئُ» في محل رفع خبر المبتدأ. بهم: جار ومجرور متعلق بيستهزئ و «هم» ضمير الغائبين في محل جر بالباء.

• وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيانِهِمْ: الواو: عاطفة. يمدهم: معطوفة على «يَسْتَهْزِئُ» وتعرب إعرابها. والهاء: ضمير متصل في محل نصب مفعول به والميم علامة الجمع. في طغيانهم: جار ومجرور متعلق بيمدهم. والهاء: ضمير متصل في محل جر بالاضافة. والميم: علامة جمع الذكور.

• يَعْمَهُونَ: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الأفعال الخمسة.

والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والجملة الفعلية- يعهمون- في محل نصب حال.
• তারা বলল "নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সাথে আছি": 'ক্বলু' (তারা বলল): এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ প্রথম 'ক্বলু'-এর অনুরূপ হবে। 'ইন্না': 'ইন্না' হলো:

ক্রিয়াসদৃশ অব্যয় এবং 'না' হলো 'ইন্না'-এর বিশেষ্য (ইসিম) হিসেবে নসবের স্থানে থাকা একটি সংলগ্ন সর্বনাম।

মা'আকুম: এটি একটি স্থানবাচক অব্যয় (জরফ) যা সাহচর্য ও একত্র হওয়া বোঝায় এবং এটি 'ইন্না'-এর সংবাদের (খবর) সাথে সংশ্লিষ্ট। 'কাফ' হলো সম্বোধনসূচক সংলগ্ন সর্বনাম যা সম্বন্ধসূচক (ইজাফত) হওয়ার কারণে জারের স্থানে রয়েছে এবং 'মিম' হলো পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন। আর "নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সাথে আছি" বাক্যটি উক্ত কথার বিষয়বস্তু (মাক্বলুল ক্বওল) হিসেবে নসবের স্থানে কর্মপদ (মাফউলে বিহি) হিসেবে রয়েছে।

• "নিশ্চয়ই আমরা পরিহাসকারী": 'ইন্নামা': কার্যকারিতা রহিতকারী ও রহিতকৃত অব্যয় (কাফফাহ ও মাকফুফাহ)। 'নাহনু' (আমরা): এটি পেশ (জম্মা) দ্বারা গঠিত পৃথক রফ'সূচক সর্বনাম যা উদ্দেশ্য (মুক্তাদা) হিসেবে রফ'-এর স্থানে রয়েছে। 'মুস্তাহজিউন' (পরিহাসকারীগণ): এটি 'নাহনু' মুক্তাদা-এর সংবাদ (খবর); যা 'ওয়াও' দ্বারা রফ' প্রাপ্ত কারণ এটি সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচন (জমা মুজাক্কার সালিম) এবং 'নুন' হলো একবচন অবস্থার তানউইন ও হারাকাতের স্থলাভিষিক্ত। আর 'মা'আ' শব্দটিকে স্থানবাচকতা (জরফিয়াত) হিসেবে নসব প্রদান করা এবং এর পরবর্তী সর্বনামটিকে ইজাফত হিসেবে জারের স্থানে গণ্য করাও বৈধ।

[সুরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৫]

আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় তাদের বিভ্রান্ত হয়ে ঘোরার অবকাশ দেন (১৫)

• আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন: 'আল্লাহ' মহান রবের মহিমান্বিত নাম: এটি পেশ (জম্মা) দ্বারা রফ' প্রাপ্ত উদ্দেশ্য (মুক্তাদা)। 'ইয়াস্তাহজিউ' (উপহাস করেন):

এটি পেশ দ্বারা রফ' প্রাপ্ত বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (ফে'লে মুজারে) এবং এর কর্তা (ফায়েল) হলো একটি সম্ভাব্য উহ্য সর্বনাম যা 'তিনি' (হুয়া) হিসেবে অনুমিত।

আর 'ইয়াস্তাহজিউ' ক্রিয়াবাচক বাক্যটি মুক্তাদা-এর খবর হিসেবে রফ'-এর স্থানে রয়েছে। 'বিহিম': অব্যয় ও অব্যয়-সংলগ্ন বিশেষ্য (জার ও মাজরুর) যা 'ইয়াস্তাহজিউ' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং 'হুম' হলো নামপুরুষের সংলগ্ন সর্বনাম যা 'বা' অব্যয়ের কারণে জারের স্থানে রয়েছে।

• এবং তাদের অবাধ্যতায় তাদের বিভ্রান্ত হয়ে ঘোরার অবকাশ দেন: 'ওয়াও': সংযোজক অব্যয়। 'ইয়ামুদ্দুহুম': এটি 'ইয়াস্তাহজিউ' শব্দের ওপর সমিল (আতফ) হয়েছে এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণও অনুরূপ হবে। আর 'হা' হলো কর্মপদ (মাফউলে বিহি) হিসেবে নসবের স্থানে থাকা সংলগ্ন সর্বনাম এবং 'মিম' হলো বহুবচনের চিহ্ন। 'ফি তুগইয়ানিহিম': জার ও মাজরুর যা 'ইয়ামুদ্দুহুম' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর 'হা' হলো ইজাফত হিসেবে জারের স্থানে থাকা সংলগ্ন সর্বনাম এবং 'মিম' হলো পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন।

• তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়: এটি একটি বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (ফে'লে মুজারে) যা 'নুন' অক্ষরের স্থিতিশীলতার মাধ্যমে রফ' প্রাপ্ত হয়েছে, কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ারূপের (আফ'আলে খামসাহ) অন্তর্ভুক্ত।

আর 'ওয়াও' হলো কর্তা (ফায়েল) হিসেবে রফ'-এর স্থানে থাকা সংলগ্ন সর্বনাম এবং 'ইয়ামাহুন' ক্রিয়াবাচক বাক্যটি অবস্থা (হাল) হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২৩)
[سورة البقرة (2): آية 16]

أُولئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلالَةَ بِالْهُدى فَما رَبِحَتْ تِجارَتُهُمْ وَما كانُوا مُهْتَدِينَ (16)

• أُولئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا: أولاء: اسم إشارة مبني على الكسر في محل رفع مبتدأ والكاف: للخطاب. الذين: اسم موصول مبني على الفتح في محل رفع صفة للمبتدأ ويجوز أن يكون بدلا من أولئك أو خبر أولئك. اشتروا: فعل ماض مبني على الفتح المقدّر على الألف المحذوفة لاتصاله بواو الجماعة.

الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل. والألف فارقة. وجملة «اشْتَرَوُا» صلة الموصول.

• الضَّلالَةَ بِالْهُدى: مفعول به منصوب بالفتحة. بالهدى: جار ومجرور متعلق باشتروا. وعلامة جر الاسم الكسرة المقدرة للتعذر.

• فَما رَبِحَتْ تِجارَتُهُمْ: الفاء: استئنافية. ما ربحت: ما: نافية لا عمل لها. ربحت: فعل ماض مبني على الفتح. والتاء: تاء التأنيث الساكنة. تجارتهم: فاعل مرفوع بالضمة. الهاء: ضمير متصل في محل جر بالاضافة والميم: علامة جمع الذكور.

• وَما كانُوا: الواو: عاطفة. ما: نافية لا عمل لها. كانوا: فعل ماض ناقص مبني على الضم لاتصاله بواو الجماعة. الواو: ضمير متصل في محل رفع اسم «كان» والألف: فارقة.

• مُهْتَدِينَ: خبر «كان» منصوب بالياء لأنه جمع مذكر سالم والنون عوض عن تنوين المفرد وحركته.

[سورة البقرة (2): آية 17]

مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ ناراً فَلَمَّا أَضاءَتْ ما حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُماتٍ لا يُبْصِرُونَ (17)

• مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ: مبتدأ ثان مرفوع بالضمة. الهاء: ضمير متصل في محل جر
[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৬]

এরাই তারা যারা হিদায়াতের বিনিময়ে পথভ্রষ্টতা ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত ছিল না। (১৬)

• উলাইকাল্লাযিনাশতারাউ: 'উলা' (أولاء): ইশারাসূচক বিশেষ্য (ইসমে ইশারা), কাসরার ওপর ভিত্তি করে মাবনি, মুবতাদা হিসেবে মারফু হওয়ার স্থানে রয়েছে। 'কাফ': সম্বোধনের জন্য। 'আল্লাযিনা': সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (ইসমে মাউসুল), ফাতহার ওপর ভিত্তি করে মাবনি, মুবতাদার গুণ (সিফাত) হিসেবে মারফু হওয়ার স্থানে রয়েছে; এটি 'উলাইকা' এর বদল অথবা খবর হওয়াও জায়েজ। 'ইশতারাউ': অতীতকালীন ক্রিয়া (ফে’লে মাজি), ওয়াও জামা’আ যুক্ত হওয়ার কারণে বিলুপ্ত আলফের ওপর ফাতহা মুকাদ্দারা হিসেবে মাবনি।

'ওয়াও': সংযুক্ত সর্বনাম (জমিরে মুত্তাসিল), কর্তা (ফা’য়েল) হিসেবে মারফু হওয়ার স্থানে রয়েছে। আলিফ: বিভেদকারী (আলিফে ফারেকাহ)। আর 'ইশতারাউ' বাক্যটি হলো সম্বন্ধের অংশ (সিলাতুল মাউসুল)।

• আদ-দালালাতা বিল-হুদা: কর্ম (মাফউলে বিহি), ফাতহার কারণে মানসুব। 'বিল-হুদা': অব্যয় ও সম্বন্ধীয় পদ (জার ও মাজরুর), যা 'ইশতারাউ' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। উচ্চারণে অক্ষমতার (তা'আযযুর) কারণে এই বিশেষ্যটির যার-এর চিহ্ন হলো ফাতহা মুকাদ্দারা।

• ফামা রাবিহাত তিজারাতুহুম: 'ফা': প্রারম্ভিক (ইসতি’নাফিয়া)। 'মা রাবিহাত': 'মা' না-বোধক (নাফিয়া), এর কোনো আমল নেই। 'রাবিহাত': অতীতকালীন ক্রিয়া (ফে’লে মাজি), ফাতহার ওপর মাবনি। 'তা': সাকিনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্ন। 'তিজারাতুহুম': কর্তা (ফা’য়েল), দাম্মার কারণে মারফু। 'হা': সংযুক্ত সর্বনাম, সম্বন্ধের কারণে (ইদাফাত) মাজরুর হওয়ার স্থানে রয়েছে। 'মিম': পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন।

• অমা কানু: 'ওয়াও': সংযোজক (আতিফাহ)। 'মা': না-বোধক (নাফিয়া), এর কোনো আমল নেই। 'কানু': অসম্পূর্ণ অতীতকালীন ক্রিয়া (ফে’লে মাজি নাকেস), ওয়াও জামা’আ যুক্ত হওয়ার কারণে দাম্মার ওপর মাবনি। 'ওয়াও': সংযুক্ত সর্বনাম, 'কানা' এর বিশেষ্য (ইসমে কানা) হিসেবে মারফু হওয়ার স্থানে রয়েছে। 'আলিফ': বিভেদকারী (আলিফে ফারেকাহ)।

• মুহ্তাদিন: 'কানা' এর খবর, ইয়া-এর কারণে মানসুব, কারণ এটি পুরুষবাচক নিরাপদ বহুবচন (জমা মুযাক্কার সালেম)। আর 'নুন' একবচনের তানউইন ও তার হারাকাতের স্থলাভিষিক্ত।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৭]

তাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালিয়েছে; অতঃপর যখন আগুন তার চারপাশ আলোকিত করল, আল্লাহ তাদের নূর (জ্যোতি) নিয়ে গেলেন এবং তাদেরকে অন্ধকার সমূহে ছেড়ে দিলেন, এমতাবস্থায় যে তারা কিছুই দেখতে পায় না। (১৭)

• মাসালুহুম কামাসালি: এটি দ্বিতীয় মুবতাদা, যা দাম্মার কারণে মারফু। 'হা': সংযুক্ত সর্বনাম, সম্বন্ধের কারণে (ইদাফাত) মাজরুর হওয়ার স্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২৪)
بالاضافة. والميم علامة الجمع. كمثل: جار ومجرور متعلقان بخبر المبتدأ الثاني. والجملة الاسمية «مَثَلُهُمْ وما بعدها» في محل رفع خبر المبتدأ الاول «أُولئِكَ» ويجوز ان يكون «مَثَلُهُمْ» مبتدأ أول. والكاف للتشبيه في محل رفع خبره وهي بمعنى «مثل».

• الَّذِي اسْتَوْقَدَ ناراً: الذي: اسم موصول مبني على السكون في محل جر بالاضافة. استوقد: فعل ماض مبني على الفتح والفاعل: ضمير مستتر جوازا تقديره: هو. وجملة «اسْتَوْقَدَ» لا محل لها لانها صلة الموصول. نارا مفعول به منصوب بالفتحة.

• فَلَمَّا أَضاءَتْ: الفاء: استئنافية. لمّا: اسم شرط غير جازم مبني على السكون في محل نصب على الظرفية الزمانية. أضاءت: فعل ماض مبني على الفتح والتاء: تاء التأنيث الساكنة لا محل لها. والفاعل: ضمير مستتر جوازا تقديره: هي. وجملة «أَضاءَتْ» في محل جر مضاف إليه. وهي جملة فعل الشرط.

• ما حَوْلَهُ: ما: اسم موصول مبني على السكون في محل نصب مفعول به.

حوله: ظرف مكان منصوب بالفتحة. والهاء: ضمير متصل في محل جر بالاضافة. والظرف متعلق بصلة الموصول والتقدير: ما هو كائن حوله.

• ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ: ذهب: فعل ماض مبني على الفتح. الله لفظ الجلالة:

فاعل مرفوع بالضمة. وجملة «ذَهَبَ اللَّهُ» جواب شرط غير جازم لا محل لها. بنور: جار ومجرور متعلق بذهب و «هم» ضمير الغائبين في محل جر بالاضافة. التقدير: «أذهب الله نورهم» وحلت الباء محل الهمزة في الفعل الرباعي لأنّ «ذَهَبَ» فعل لازم.

• وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُماتٍ: الواو: عاطفة. تركهم: فعل ماض مبني على الفتح والفاعل: ضمير مستتر جوازا تقديره: هو: و «هم» ضمير الغائبين في محل نصب مفعول به. في ظلمات: جار ومجرور متعلق بتركهم أو بمفعول به ثان لأن المعنى «وصيّرهم».
ইদাফাত (সম্বন্ধ) হিসেবে। এবং 'মিম' হলো বহুবচনের চিহ্ন। 'কামাসালি' (যেমন): জার ও মাজরুর (অব্যয় ও অব্যয়যুক্ত বিশেষ্য) দ্বিতীয় মুবতাদার (উদ্দেশ্য) খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর ইসমিয়াহ জুমলা (বিশেষ্যমূলক বাক্য) 'মাছালুহুম' এবং এর পরবর্তী অংশটি প্রথম মুবতাদা 'উলাইকা'-এর খবরের স্থলাভিষিক্ত হয়ে 'রাফ' (পেশ) অবস্থায় রয়েছে। এবং এটিও বৈধ যে 'মাছালুহুম' শব্দটিকে প্রথম মুবতাদা ধরা হবে। আর 'কাফ' অক্ষরটি সাদৃশ্য বুঝানোর জন্য এবং তার খবরের স্থলাভিষিক্ত হয়ে 'রাফ' অবস্থায় রয়েছে, যা 'মাছাল' (মতো) অর্থে ব্যবহৃত।

• 'আল্লাযী ইস্তাওকাদা নারান': 'আল্লাযী': ইসম মাউসুল (সংযোজক সর্বনাম), যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং ইদাফাতের কারণে 'জার' (জের) অবস্থায় রয়েছে। 'ইস্তাওকাদা': ফে'লে মাজী (অতীতকালবাচক ক্রিয়া), যা ফাতহার (যবর) ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং এর ফায়েল (কর্তা) হলো একটি উহ্য জমির (সর্বনাম), যা 'হুয়া' (সে)। আর 'ইস্তাওকাদা' বাক্যটির কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই কারণ এটি সিলাতুল মাউসুল (সংযোজক বাক্যাংশ)। 'নারান': মাফউলে বিহ (কর্মকারক), যা ফাতহা দ্বারা 'নাসব' (যবর) অবস্থায় রয়েছে।

• 'ফালাম্মা আদআত': 'ফা': ইস্তিনাফিয়াহ (প্রারম্ভিক)। 'লাম্মা': ইসম শারত গাইরে জাযিম (শর্তবাচক শব্দ যা পরবর্তী ক্রিয়াকে জযম দেয় না), যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং সময়ের পাত্র (যরফে যামান) হিসেবে 'নাসব' অবস্থায় রয়েছে। 'আদআত': ফে'লে মাজী, যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং 'তা' অক্ষরটি হলো স্ত্রীলিঙ্গ বাচক সুকুনযুক্ত বর্ণ যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই। এর ফায়েল হলো একটি উহ্য জমির, যা 'হিয়া' (সে)। আর 'আদআত' বাক্যটি মুদাফ ইলাইহি হিসেবে 'জার' অবস্থায় রয়েছে। এবং এটি জুমলাতুল ফে'লিশ শারত (শর্তবাচক ক্রিয়াযুক্ত বাক্য)।

• 'মা হাওলাহু': 'মা': ইসম মাউসুল, যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং মাফউলে বিহ হিসেবে 'নাসব' অবস্থায় রয়েছে।

হাওলাহু: যরফে মাকান (স্থানবাচক অব্যয়), যা ফাতহা দ্বারা 'নাসব' অবস্থায় রয়েছে। এবং 'হা' হলো যমিরে মুত্তাসিল (সংযুক্ত সর্বনাম), যা ইদাফাতের কারণে 'জার' অবস্থায় রয়েছে। আর যরফটি সিলাতুল মাউসুলের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর উহ্য বিশ্লেষণ হলো: যা তার চারপাশে বিদ্যমান।

• 'যাহাবাল্লাহু বিনুরিহিম': 'যাহাবা': ফে'লে মাজী, যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। আল্লাহ মহান শব্দ: যাম্মা (পেশ) দ্বারা রাফ প্রাপ্ত ফায়েল। আর 'যাহাবাল্লাহু' বাক্যটি জওয়াবে শারত গাইরে জাযিম (শর্তের উত্তর) হওয়ার কারণে এর কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই। 'বিনুরি': জার ও মাজরুর, যা 'যাহাবা' এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং 'হুম' হলো নামপুরুষের বহুবচনবাচক জমির যা ইদাফাতের কারণে 'জার' অবস্থায় রয়েছে। এর বিশ্লেষণ হলো: "আল্লাহ তাদের নূর ছিনিয়ে নিলেন" এবং এখানে 'বা' অক্ষরটি চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার হামযার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কারণ 'যাহাবা' একটি ফে'লে লাযিম (অকর্মক ক্রিয়া)।

• 'ওয়াতারা কাহুম ফী যুলুমাতিন': 'ওয়াও': আতিফাহ (সংযোজক)। 'তারাকাহুম': ফে'লে মাজী যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং এর ফায়েল হলো একটি উহ্য জমির যা 'হুয়া' (সে); এবং 'হুম' হলো নামপুরুষের বহুবচনবাচক জমির যা মাফউলে বিহ হিসেবে 'নাসব' অবস্থায় রয়েছে। 'ফী যুলুমাতিন': জার ও মাজরুর, যা 'তারাকাহুম' এর সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা দ্বিতীয় মাফউলের সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ এর অর্থ হলো "তাদেরকে এই অবস্থায় উপনীত করলেন"।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২৫)
• لا يُبْصِرُونَ: لا: نافية لا عمل لها. يبصرون: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الأفعال الخمسة. والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والجملة الفعلية «لا يُبْصِرُونَ» في محل نصب حال.

[سورة البقرة (2): آية 18]

صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لا يَرْجِعُونَ (18)

• صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ: صم: خبر لمبتدأ محذوف تقديره: «هم». مرفوع بالضمة.

بكم عمي: خبران آخران للمبتدأ مرفوعان بالضمة.

• فَهُمْ لا يَرْجِعُونَ: الفاء: حرف عطف. هم: ضمير رفع منفصل معطوف على المبتدأ المحذوف «هم» في محل رفع مبتدأ. لا: نافية يرجعون:

فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الافعال الخمسة. والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل. والجملة الفعلية «لا يَرْجِعُونَ» في محل رفع خبر المبتدأ «هم».

[سورة البقرة (2): آية 19]

أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّماءِ فِيهِ ظُلُماتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصابِعَهُمْ فِي آذانِهِمْ مِنَ الصَّواعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكافِرِينَ (19)

• أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّماءِ: أو: للتخيير عاطفة. الكاف: اسم مبني على الفتح للتشبيه. صيّب: مضاف إليه مجرور بالكسرة. من السماء جار ومجرور.

متعلق بصفة محذوفة من «صيب» و «كَصَيِّبٍ» معطوفة على «كَمَثَلِ» وتعرب إعرابها» أي مثلهم كمثل الذي استوقد نارا أو كمثل صيّب.

• فِيهِ ظُلُماتٌ: فيه: جار ومجرور متعلقان بخبر مقدم. ظلمات: مبتدأ مؤخر مرفوع بالضمة. وجملة «فِيهِ ظُلُماتٌ» في محل جر صفة لصيّب. وهو من الصوب وهو النزول يطلق على المطر والسحاب.

• وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ: الواو: عاطفة. رعد: اسم معطوف على «ظُلُماتٌ» مرفوع مثله بالضمة. وبرق: تعرب إعراب «وَرَعْدٌ» وإفراد الكلمتين أبلغ من جمعها لانهما مصدران.
• তারা দেখতে পায় না: لا (লা): না-বোধক অব্যয় যার কোনো আমল নেই। يبصرون (ইউবসিরুন): ফে'লে মুদারে, 'নুন' স্থির থাকার মাধ্যমে মারফু হয়েছে কারণ এটি আফ'আলুল খামসাহ (পঞ্চক্রিয়া)-এর অন্তর্ভুক্ত। এবং الواو (ওয়াও): যমিরে মুত্তাসিল যা ফায়েল (কর্তা) হিসেবে মহল্লে রাফ-এ রয়েছে এবং «لا يُبْصِرُونَ» ফে'লিয়া জুমলাটি (ক্রিয়া বাচ্যটি) হাল হিসেবে মহল্লে নাসব-এ রয়েছে।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৮]

তারা বধির, বোবা ও অন্ধ, তাই তারা ফিরে আসবে না (১৮)

• صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ: صم (সুম্মুন): একটি উহ্য মুবতাদা-র (উদ্দেশ্য) খবর (বিধেয়), যার সম্ভাব্য রূপ হলো: «هم» (হুম)। এটি দম্মা দ্বারা মারফু হয়েছে।

بكم عمي (বুকমুন উমইউন): মুবতাদার আরও দুটি খবর যা দম্মা দ্বারা মারফু হয়েছে।

• فَهُمْ لا يَرْجِعُونَ: الفاء (ফা): হারফে আতফ (সংযোজক অব্যয়)। هم (হুম): যমিরে রাফ মুনফাসিল যা উহ্য মুবতাদা «هم»-এর ওপর আতফ হয়েছে এবং মুবতাদা হিসেবে মহল্লে রাফ-এ রয়েছে। لا (লা): না-বোধক। يرجعون (ইয়ারজিউন):

ফে'লে মুদারে, 'নুন' স্থির থাকার মাধ্যমে মারফু হয়েছে কারণ এটি আফ'আলুল খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। এবং الواو (ওয়াও): যমিরে মুত্তাসিল যা ফায়েল হিসেবে মহল্লে রাফ-এ রয়েছে। এবং «لا يَرْجِعُونَ» ফে'লিয়া জুমলাটি মুবতাদা «هم»-এর খবর হিসেবে মহল্লে রাফ-এ রয়েছে।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৯]

অথবা আকাশের বৃষ্টিধারার ন্যায়, যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক। তারা বজ্রধ্বনি থেকে মৃত্যুভয়ে তাদের কানে আঙ্গুল দিয়ে থাকে। আর আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন (১৯)

• أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّماءِ: أو (আও): নির্বাচনের (তাকয়ীর) জন্য ব্যবহৃত হারফে আতফ। الكاف (কাফ): সদৃশতা বুঝানোর জন্য ফাতহা-র ওপর ভিত্তি করে গঠিত ইসিম। صيّب (সাইয়িব): মুদাফ ইলাইহি যা কাসরা দ্বারা মাজরুর। من السماء (মিনাস সামায়ি): জার ও মাজরুর।

এটি «صيب»-এর একটি উহ্য সিফাতের (গুণবাচক শব্দ) সাথে মুতাআল্লিল। এবং «كَصَيِّبٍ» শব্দগুচ্ছটি «كَمَثَلِ»-এর ওপর আতফ হয়েছে এবং তার অনুরূপ ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ: তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির উদাহরণের মতো যে আগুন জ্বালাল অথবা একটি বৃষ্টিধারার ন্যায়।

• فِيهِ ظُلُماتٌ: فيه (ফীহি): জার ও মাজরুর যা খবর মুকাদ্দামের সাথে মুতাআল্লিল। ظلمات (যুলুমাতুন): মুবতাদা মুয়াখখার যা দম্মা দ্বারা মারফু। এবং «فِيهِ ظُلُماتٌ» জুমলাটি «صيّب»-এর সিফাত হিসেবে মহল্লে জার-এ রয়েছে। এটি 'সওব' শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ অবতরণ করা; এটি বৃষ্টি ও মেঘমালার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

• وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ: الواو (ওয়াও): হারফে আতফ। رعد (রাদুন): «ظُلُماتٌ»-এর ওপর আতফ হওয়া ইসিম যা তার মতোই দম্মা দ্বারা মারফু। وبرق (বারকুন): এর ইরাব «وَرَعْدٌ»-এর অনুরূপ। শব্দ দুটিকে একবচনে ব্যবহার করা বহুবচনে ব্যবহারের চেয়ে অধিক অলংকারপূর্ণ, কারণ উভয়টি মাসদার (ক্রিয়ামূল)।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২৬)
• يَجْعَلُونَ: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الافعال الخمسة.

والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل ويجوز ان تكون الجملة في محل نصب حالا من الضمير المجرور في «فِيهِ».

• أَصابِعَهُمْ: مفعول به منصوب بالفتحة. الهاء: ضمير متصل في محل جر بالاضافة. والميم علامة الجمع.

• فِي آذانِهِمْ: جار ومجرور متعلق بيجعلون. و «هم» ضمير الغائبين في محل جر بالاضافة يعود الى أصحاب الصيّب.

• مِنَ الصَّواعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ: جار ومجرور متعلق بمفعول له محذوف.

حذر: معفول لأجله منصوب بالفتحة وهو من المصادر و «مِنَ» هنا:

لابتداء الغاية أو بمعنى اللام تفيد التعليل. الموت: مضاف إليه مجرور بالكسرة.

• وَاللَّهُ مُحِيطٌ: الواو: استئنافية. الله لفظ الجلالة: مبتدأ مرفوع بالضمة.

محيط: خبر مرفوع بالضمة.

• بِالْكافِرِينَ: جار ومجرور متعلق بمحيط وعلامة جر الاسم: الياء لأنه جمع مذكر سالم. والنون عوض عن تنوين المفرد وحركته.

[سورة البقرة (2): آية 20]

يَكادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصارَهُمْ كُلَّما أَضاءَ لَهُمْ مَشَوْا فِيهِ وَإِذا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قامُوا وَلَوْ شاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (20)

• يَكادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ: يكاد: فعل مضارع ناقص مرفوع بالضمة. البرق:

اسمها مرفوع بالضمة الظاهرة. يخطف: فعل مضارع مرفوع بالضمة وفاعله: ضمير مستتر جوازا تقديره: هو وجملة «يَخْطَفُ» في محل نصب خبر «يَكادُ».

• أَبْصارَهُمْ: مفعول به منصوب بالفتحة. الهاء: ضمير متصل في محل جر بالاضافة والميم علامة الجمع.
• তারা স্থাপন করে: এটি 'নুন' স্থির থাকার মাধ্যমে রফাযুক্ত (মারফু) ফেলে মুজারে, কারণ এটি আফয়ালে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত।

ওয়াও: এটি কর্তা (ফায়েল) হিসেবে রফাযুক্ত স্থানে (মাহাল্লে রাফা) থাকা একটি সংযুক্ত সর্বনাম। এবং এই বাক্যটি 'ফীহি' এর মাজরুর সর্বনাম থেকে অবস্থা (হাল) হিসেবে নসবযুক্ত স্থানে হওয়া বৈধ।

• তাদের আঙ্গুলসমূহ: এটি কর্ম (মাফউলে বিহি), যা ফাতহা দ্বারা নসবযুক্ত (মানসুব)। হা: এটি সম্বন্ধ (ইদাফত) হওয়ার কারণে যারযুক্ত স্থানে (মাহাল্লে জার) থাকা একটি সংযুক্ত সর্বনাম। এবং মীম হলো বহুবচনের চিহ্ন।

• তাদের কানসমূহের মধ্যে: এটি অব্যয় ও বিশেষ্য (যার-মাজরুর), যা 'তারা স্থাপন করে' (ইয়াজআলুনা) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। এবং 'হুম' হলো নামপুরুষ বহুবচনের সর্বনাম, যা সম্বন্ধ (ইদাফত) হওয়ার কারণে যারযুক্ত স্থানে আছে; এটি মেঘের সাথীদের (আসহাবুস সায়্যিব) দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে।

• বজ্রধ্বনির কারণে মৃত্যুর ভয়ে: এটি অব্যয় ও বিশেষ্য (যার-মাজরুর), যা একটি উহ্য 'উদ্দেশ্যমূলক কর্ম' (মাফউলে লাহু)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।

ভয়ে: এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক কর্ম (মাফউলে লাহু), যা ফাতহা দ্বারা নসবযুক্ত এবং এটি একটি ক্রিয়ামূল (মাসদার)। আর এখানে 'হতে' (মিন) অব্যয়টি:

গন্তব্যের প্রারম্ভ বুঝাতে অথবা 'লাম' অব্যয়ের অর্থে কারণ দর্শাতে ব্যবহৃত হয়েছে। মৃত্যু: এটি সম্বন্ধপদ (মুদাফ ইলাইহি), যা কাসরা দ্বারা যারযুক্ত (মাজরুর)।

• আর আল্লাহ পরিবেষ্টনকারী: ওয়াও: প্রারম্ভিক (ইস্তিনাফিয়্যাহ)। আল্লাহ (লফজুল জালালাহ): উদ্দেশ্য (মুবতাদা), যা দম্মা দ্বারা রফাযুক্ত।

পরিবেষ্টনকারী: বিধেয় (খবর), যা দম্মা দ্বারা রফাযুক্ত।

• কাফিরদেরকে: এটি অব্যয় ও বিশেষ্য (যার-মাজরুর), যা 'পরিবেষ্টনকারী' (মুহিত) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং বিশেষ্যটির যারযুক্ত হওয়ার চিহ্ন হলো 'ইয়া', কারণ এটি সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচন (জামা মুযাক্কার সালেম)। আর 'নুন' হলো একবচনের তানউইন ও তার হারাকাতের স্থলাভিষিক্ত।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ২০]

বিজলি তাদের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ছিনিয়ে নেয়; যখনই তা তাদের জন্য আলোকোজ্জ্বল হয়, তারা তাতে চলতে থাকে এবং যখন তাদের ওপর অন্ধকার ছেয়ে যায়, তারা দাঁড়িয়ে পড়ে। আর আল্লাহ যদি চাইতেন তবে অবশ্যই তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি হরণ করতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান (২০)।

• বিজলি প্রায় ছিনিয়ে নেয়: 'প্রায়' (ইয়াকাদু): এটি একটি অসম্পূর্ণ বর্তমানকালীন ক্রিয়া (ফেলে মুজারে নাকিস), যা দম্মা দ্বারা রফাযুক্ত। বিজলি:

এটি তার বিশেষ্য (ইসম), যা প্রকাশ্য দম্মা দ্বারা রফাযুক্ত। ছিনিয়ে নেয় (ইয়াখতাফু): এটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া (ফেলে মুজারে), যা দম্মা দ্বারা রফাযুক্ত এবং এর কর্তা (ফায়েল) হলো একটি উহ্য সর্বনাম 'হুয়া' (সে)। আর 'ছিনিয়ে নেয়' (ইয়াখতাফু) বাক্যটি 'প্রায়' (ইয়াকাদু) ক্রিয়ার বিধেয় (খবর) হিসেবে নসবযুক্ত স্থানে রয়েছে।

• তাদের দৃষ্টিশক্তি: এটি কর্ম (মাফউলে বিহি), যা ফাতহা দ্বারা নসবযুক্ত। হা: এটি সম্বন্ধ (ইদাফত) হওয়ার কারণে যারযুক্ত স্থানে থাকা একটি সংযুক্ত সর্বনাম এবং মীম হলো বহুবচনের চিহ্ন।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২৭)
• كُلَّما: كلّ: اسم منصوب على نيابة الظرفية الزمانية وهو مضاف. و «ما» مصدرية وما بعدها بتأويل مصدر في محل جر بالاضافة.

• أَضاءَ لَهُمْ: فعل ماض مبني على الفتح وفاعله ضمير مستتر فيه جوازا تقديره هو. لهم: جار ومجرور متعلق بأضاء والميم علامة جمع الذكور.

• مَشَوْا فِيهِ: فعل ماض مبني على الضم المقدر للتعذر على الألف المحذوفة لاتصاله بواو الجماعة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة. وجملة «أَضاءَ» مصدرية. وجملة «مَشَوْا» مشبهة لجواب الشرط لا محل لها. فيه: جار ومجرور متعلق بمشوا.

• وَإِذا أَظْلَمَ: الواو: استئنافية. إذا: ظرف لما يستقبل من الزمان خافض لشرطه منصوب بجوابه. أظلم: فعل ماض مبني على الفتح وفاعله:

ضمير مستتر جوازا تقديره: هو. وجملة «أَظْلَمَ» في محل جر بالاضافة لوقوعها بعد إذا.

• عَلَيْهِمْ قامُوا: جار ومجرور متعلق بأظلم. قاموا: تعرب إعراب «مَشَوْا» والميم في «عَلَيْهِمْ» علامة جمع الذكور.

• وَلَوْ شاءَ: الواو: استئنافية. لو: حرف شرط غير جازم. حرف امتناع لامتناع شاء فعل ماض مبني على الفتح.

• اللَّهُ لَذَهَبَ: لفظ الجلالة: فاعل مرفوع بالضمة. اللام: واقعة في جواب «لَوْ». ذهب: فعل ماض مبني على الفتح والفاعل ضمير مستتر جوازا تقديره هو عائد على لفظ الجلالة.

• بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصارِهِمْ: جار ومجرور متعلق بذهب و «هم» ضمير الغائبين في محل جر بالاضافة. وابصارهم: معطوفة بالواو على «سمعهم» وتعرب إعرابها. والباء: باء التعدية وهي المعاقبة للهمزة في تصيير الفاعل مفعولا.

وحذف مفعول «شاءَ» لدلالة الجواب عليه أي لو شاء أن يذهب بسمعهم.
• কুল্লামা: কুল্ল: কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে নসবপ্রাপ্ত ইসিম এবং এটি মুদাফ। আর 'মা' হলো মাসদারিয়াহ এবং এর পরবর্তী অংশটি মাসদারের ব্যাখ্যায় মুদাফ ইলাইহি হিসেবে যার-এর মহলে রয়েছে।

• আদ্বাআ লাহুম: ফাতাহর ওপর ভিত্তি করে মাবনি হওয়া অতীতকালীন ক্রিয়া এবং এর ফায়িল বা কর্তা এর মধ্যে উহ্য থাকা জায়েয এমন সর্বনাম যার তাকদীর হলো 'হুয়া'। লাহুম: হরফে জার এবং মাজরুর যা ‘আদ্বাআ’ ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং মিম হলো পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন।

• মাশাও ফীহি: ওয়াও আল-জামাআহ এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে বিলুপ্ত আলিফের ওপর উহ্য থাকা যম্মাহর ওপর ভিত্তি করে মাবনি হওয়া অতীতকালীন ক্রিয়া। ওয়াও: রাফ-এর মহলে ফায়িল হিসেবে যুক্ত সর্বনাম এবং আলিফটি হলো পার্থক্যকারী। ‘আদ্বাআ’ বাক্যটি মাসদারিয়াহ। আর ‘মাশাও’ বাক্যটি শর্তের জওয়াবের সদৃশ যার কোনো আমলি অবস্থান নেই। ফীহি: জার ও মাজরুর যা ‘মাশাও’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট।

• ওয়া ইযা আযলামা: ওয়াও: প্রারম্ভিক। ইযা: ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ যা তার পরবর্তী শর্তের বাক্যকে যার প্রদান করে এবং নিজের জওয়াব দ্বারা নসবপ্রাপ্ত হয়। আযলামা: ফাতাহর ওপর মাবনি হওয়া অতীতকালীন ক্রিয়া এবং এর ফায়িল:

এর মধ্যে উহ্য থাকা জায়েয এমন সর্বনাম যার তাকদীর হলো: ‘হুয়া’। ‘আযলামা’ বাক্যটি ইযা-এর পরে আসার কারণে মুদাফ ইলাইহি হিসেবে যার-এর মহলে অবস্থিত।

• আলাইহিম কামূ: জার ও মাজরুর যা ‘আযলামা’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট। কামূ: এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ‘মাশাও’-এর ন্যায় এবং ‘আলাইহিম’-এর মিম হলো পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন।

• ওয়া লাও শা-আ: ওয়াও: প্রারম্ভিক। লাও: অ-কর্তৃত্ববাচক শর্তের অব্যয়; যা মূলত ‘একটি বিষয় না ঘটার কারণে অন্যটি না ঘটা’ বোঝায়। শা-আ: ফাতাহর ওপর মাবনি হওয়া অতীতকালীন ক্রিয়া।

• আল্লাহু লাযাহাবা: মহান আল্লাহ্‌র নাম: যম্মাহ দ্বারা মারফূ হওয়া ফায়িল। লাম: এটি ‘লাও’-এর জওয়াবে অবস্থিত। যাহাবা: ফাতাহর ওপর মাবনি হওয়া অতীতকালীন ক্রিয়া এবং এর ফায়িল হলো এর মধ্যে উহ্য থাকা জায়েয এমন সর্বনাম যার তাকদীর হলো ‘হুয়া’, যা আল্লাহ্‌র নামের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

• বিসাম-ই-হিম ওয়া আবসারিহিম: জার ও মাজরুর যা ‘যাহাবা’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ‘হুম’ হলো নামপুরুষের বহুবচনের সর্বনাম যা মুদাফ ইলাইহি হিসেবে যার-এর মহলে রয়েছে। ‘ওয়া আবসারিহিম’ অংশটি ওয়াও-এর মাধ্যমে ‘সাম-ই-হিম’-এর ওপর অন্বয় করা হয়েছে এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণও তদ্রূপ। আর ‘বা’ বর্ণটি হলো ক্রিয়াকে সকর্মককারী অব্যয় যা ফায়িলকে মাফউল বা কর্মে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে হামযাহ-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

এখানে ‘শা-আ’ ক্রিয়ার মাফউলকে বিলুপ্ত করা হয়েছে কারণ জওয়াবটি এর ওপর ইঙ্গিত প্রদান করে; অর্থাৎ, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তাদের শ্রবণশক্তি ছিনিয়ে নিতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২৮)
• إِنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ: إن: حرف مشبه بالفعل ينصب الاول ويرفع الثاني. الله لفظ الجلالة: اسم «إِنَّ» منصوب للتعظيم بالفتحة. على كل: جار ومجرور متعلق بقدير. شيء: مضاف إليه مجرور بالاضافة وعلامة جرّه الكسرة. قدير: خبر «إِنَّ» مرفوع بالضمة.

[سورة البقرة (2): آية 21]

يا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (21)

• يا أَيُّهَا النَّاسُ: يا: أداة نداء: أيّ: منادى مبني على الضم في محل نصب. ها: للتنبيه زائدة. الناس: صفة- نعت ل «أي» وقيل ان «ها» عوض عن الاضافة ويجوز أن تكون الناس بدلا من أي.

• اعْبُدُوا: فعل أمر مبني على حذف النون لأن مضارعة من الافعال الخمسة.

الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة.

• رَبَّكُمُ: مفعول به منصوب بالفتحة. الكاف: ضمير متصل في محل جر بالاضافة. والميم: علامة جمع الذكور.

• الَّذِي خَلَقَكُمْ: اسم موصول مبني على السكون في محل نصب صفة لربكم.

خلقكم: فعل ماض مبني على الفتح. الفاعل: ضمير مستتر جوازا تقديره: هو. الكاف: ضمير متصل في محل نصب مفعول به. والميم:

علامة جمع الذكور. وجملة «خَلَقَكُمْ» صلة الموصول.

• وَالَّذِينَ: الواو: عاطفة. الذين: اسم موصول مبني على الفتح في محل نصب لأنه معطوف على منصوب وهو الضمير كم.

• مِنْ قَبْلِكُمْ: جار ومجرور. الكاف: ضمير متصل في محل جر بالاضافة.

والميم: علامة الجمع. والجار والمجرور متعلقان بصلة الموصول المحذوفة.

والتقدير: هم كائنون من قبلكم أو الذين وجدوا من قبلكم.

• لَعَلَّكُمْ: لعل: حرف مشبه بالفعل. الكاف: ضمير متصل مبني على الضم في محل نصب اسم «لعل» والميم: علامة جمع الذكور.

• تَتَّقُونَ: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الأفعال الخمسة. الواو:

ضمير متصل في محل رفع فاعل. وجملة «تَتَّقُونَ» في محل رفع خبر «لعل» و «لعل» هنا تفيد التعليل. أي لتتقوه. أو لعلكم تتقون النار. وحذف المفعول اختصارا.
নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান: ইন্না: হরফে মুসাব্বাহ বিল ফেইল যা প্রথমটিকে নসব এবং দ্বিতীয়টিকে রফ প্রদান করে। আল্লাহ মহান শব্দ: ‘ইন্না’-এর ইসিম, যা সম্মানার্থে ফাতহা দ্বারা মানসুব। আলা কুল্লি: জার ও মাজরুর ‘কাদীর’ শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। শাইয়িন: মুদাফ ইলাইহি, যা ইদাফাতের কারণে মাজরুর এবং এর যার হওয়ার চিহ্ন হলো কাসরা। কাদীর: ‘ইন্না’-এর খবর, যা দম্মা দ্বারা মারফু।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ২১]

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো (২১)।

• হে মানবজাতি: ইয়া: নিদার অব্যয়। আইয়ু: মুনাদা, যা দম্মার ওপর মাবনি এবং নসবের মহলে অবস্থিত। হা: সতর্কীকরণের জন্য অতিরিক্ত বর্ণ। আন-নাসু: ‘আইয়ু’-এর সিফাত বা নাত। কেউ কেউ বলেছেন যে, ‘হা’ শব্দটি ইদাফাতের পরিবর্তে এসেছে এবং ‘আন-নাসু’ শব্দটি ‘আইয়ু’ থেকে বদল হওয়াও জায়েজ।

• ইবাদত করো: ফে’লে আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া), যা নূন বিলুপ্ত হওয়ার ওপর মাবনি; কারণ এর মুদারি ‘আফ’আলুল খামসাহ’-এর অন্তর্ভুক্ত।

ওয়াও: দমিরে মুত্তাসিল, যা রাফা’র মহলে ফায়েল হিসেবে আছে এবং আলিফটি পার্থক্যকারী আলিফ (আলিফ ফারেকাহ)।

• তোমাদের রবকে: মাফ’উলে বিহি, যা ফাতহা দ্বারা মানসুব। কাফ: দমিরে মুত্তাসিল, যা ইদাফাতের কারণে জারের মহলে অবস্থিত। মিম: পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন।

• যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন: ইসমে মাউসুল, যা সুকুনের ওপর মাবনি এবং ‘রাব্বাকুম’-এর সিফাত হিসেবে নসবের মহলে অবস্থিত।

খালাকাকুম: ফে’লে মাজি (অতীতকালীন ক্রিয়া), যা ফাতহার ওপর মাবনি। ফায়েল: দমিরে মুস্তাতিরে জাওয়াজি, যা ‘হুয়া’ (তিনি) উহ্য আছে। কাফ: দমিরে মুত্তাসিল, যা নসবের মহলে মাফ’উলে বিহি। মিম:

পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন। আর ‘খালাকাকুম’ বাক্যটি সিলাতুল মাউসুল।

• এবং যারা: ওয়াও: আতিফাহ (সংযোজক)। আল্লাজিনা: ইসমে মাউসুল, যা ফাতহার ওপর মাবনি এবং নসবের মহলে অবস্থিত; কারণ এটি একটি মানসুব শব্দের ওপর আতফ হয়েছে, যা হলো ‘কুম’ দমিরটি।

• তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে: জার ও মাজরুর। কাফ: দমিরে মুত্তাসিল, যা ইদাফাতের কারণে জারের মহলে অবস্থিত।

মিম: বহুবচনের চিহ্ন। জার ও মাজরুর এখানে একটি উহ্য সিলাতুল মাউসুলের সাথে সংশ্লিষ্ট।

আর এর সম্ভাব্য বিশ্লেষণ হলো: যারা তোমাদের পূর্বে বিদ্যমান ছিল অথবা যারা তোমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

• যেন তোমরা: লাআল্লা: হরফে মুসাব্বাহ বিল ফেইল। কাফ: দমিরে মুত্তাসিল, যা দম্মার ওপর মাবনি এবং ‘লাআল্লা’-এর ইসিম হিসেবে নসবের মহলে অবস্থিত। মিম: পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন।

• তাকওয়া অবলম্বন করো: ফে’লে মুদারি, যা নূন স্থির থাকার মাধ্যমে মারফু; কারণ এটি ‘আফ’আলুল খামসাহ’-এর অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও:

দমিরে মুত্তাসিল, যা রাফা’র মহলে ফায়েল হিসেবে আছে। ‘তাত্তাকুন’ বাক্যটি ‘লাআল্লা’-এর খবর হিসেবে রাফা’র মহলে অবস্থিত। এখানে ‘লাআল্লা’ অব্যয়টি কারণ দর্শানোর (তালীল) অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ যাতে তোমরা তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করো, অথবা যেন তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে পারো। এখানে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে মাফ’উলকে উহ্য রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ২৯)
[سورة البقرة (2): آية 22]

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِراشاً وَالسَّماءَ بِناءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّماءِ ماءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَراتِ رِزْقاً لَكُمْ فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْداداً وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (22)

• الَّذِي: اسم موصول مبني على السكون في محل رفع خبر لمبتدأ محذوف تقديره:

هو. ويجوز إعرابها في محل نصب بدلا من «الَّذِي» في الآية الكريمة السابقة وقد كررت الكلمة للتأكيد أو صفة لربكم.

• جَعَلَ: فعل ماض مبني على الفتح وفاعله: ضمير مستتر جوازا تقديره: هو.

وجملة «جَعَلَ» صلة الموصول.

• لَكُمُ الْأَرْضَ: جار ومجرور متعلق بجعل والميم علامة جمع الذكور. الارض:

مفعول به أول لفعل «جَعَلَ» منصوب بالفتحة.

• فِراشاً وَالسَّماءَ بِناءً: فراشا: مفعول به ثان منصوب بالفتحة. الواو:

عاطفة. السماء بناء: معطوفة على «الْأَرْضَ فِراشاً» وتعرب إعرابها.

• وَأَنْزَلَ مِنَ السَّماءِ ماءً: الواو: عاطفة أنزل: معطوفة على «جَعَلَ» وتعرب إعرابها. من السماء جار ومجرور متعلق بأنزل. ماء: مفعول به منصوب بالفتحة.

• فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَراتِ: معطوفة بالفاء على «أَنْزَلَ مِنَ السَّماءِ» وتعرب إعرابها. من: حرف جر زائد للتبعيض. الثمرات: جار ومجرور متعلق بمفعول أخرج.

• رِزْقاً لَكُمْ: مفعول به منصوب بالفتحة ويجوز إعرابه مفعولا لأجله اذا كانت «مِنَ» للتبعيض أي بعضا من الثمرات. لكم: جار ومجرور متعلق بصفة محذوفة من «رِزْقاً» والميم علامة جمع الذكور.

• فَلا تَجْعَلُوا: الفاء: استئنافية. لا: أداة ناهية جازمة. تجعلوا: فعل مضارع مجزوم بلا وعلامة جزمه حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة.

الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف: فارقة.
[সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ২২]

যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকা হিসেবে ফলমূল উৎপাদন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ নির্ধারণ করো না। (২২)

• আল্লাযি (যিনি): ইসমে মাউসুল, সুকুনযুক্ত মাবনি, উহ্য মুবতাদার খবর হিসেবে রাফ-এর অবস্থায় রয়েছে, যার অনুমিত রূপ হলো:

তিনি। আর পূর্ববর্তী আয়াতে উল্লিখিত «আল্লাযি» এর বদল হিসেবে একে নাসব-এর অবস্থায় ধরাও জায়েয এবং শব্দটি তাকিদ (দৃঢ়তা) অথবা তোমাদের রবের সিফাত (গুণ) হিসেবে পুনরায় ব্যবহৃত হয়েছে।

• জায়ালা (বানিয়েছেন): ফে’লে মাজি, ফাতাহযুক্ত মাবনি এবং এর ফায়েল (কর্তা): উহ্য জমির যা অনুমিত, যার রূপ হলো: তিনি।

এবং «জায়ালা» জুমলাটি সিলাতুল মাউসুল।

• লাকুমুল আরযা (তোমাদের জন্য জমিনকে): জার এবং মাজরুর যা ‘জায়ালা’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং মিম হলো পুরুষবাচক বহুবচনের আলামত। আল-আরদ:

«জায়ালা» ফে’লের প্রথম মাফউল বিহি, যা ফাতাহ দ্বারা নাসব হয়েছে।

• ফিরাশান ওয়াস-সামা’আ বিনায়া (বিছানা এবং আকাশকে ছাদ): ফিরাশান: দ্বিতীয় মাফউল বিহি যা ফাতাহ দ্বারা নাসব হয়েছে। ওয়াও:

আতিফা (সংযোজক)। আস-সামা’আ বিনায়া: এটি «আল-আরযা ফিরাশান» এর ওপর আতফ হয়েছে এবং তার মতোই এর ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) হবে।

• ওয়া আনজালা মিনাস সামা’ই মা’আ (এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন): ওয়াও: আতিফা। আনজালা: এটি «জায়ালা» এর ওপর আতফ হয়েছে এবং তার মতোই এর ইরাব হবে। মিনাস সামা’ই: জার এবং মাজরুর যা ‘আনজালা’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট। মা’আ: মাফউল বিহি যা ফাতাহ দ্বারা নাসব হয়েছে।

• ফা আখরাজা বিহি মিনাছ ছামারাতি (অতঃপর তা দ্বারা ফলমূল উৎপাদন করেছেন): এটি ফা-এর মাধ্যমে «আনজালা মিনাস সামা’ই» এর ওপর আতফ হয়েছে এবং তার মতোই এর ইরাব হবে। মিন: আংশিকতা বুঝানোর জন্য অতিরিক্ত হরফে জার। আস-সামারাত: জার এবং মাজরুর যা ‘আখরাজা’ এর মাফউলের সাথে সংশ্লিষ্ট।

• রিজকান লাকুম (তোমাদের জন্য জীবিকা হিসেবে): মাফউল বিহি যা ফাতাহ দ্বারা নাসব হয়েছে। আবার যদি «মিন» হরফটি আংশিকতা বুঝানোর জন্য হয়, তবে একে মাফউল লাহু হিসেবে ইরাব করাও জায়েয, অর্থাৎ ফলমূলের কিছু অংশ। লাকুম: জার এবং মাজরুর যা «রিজকান» এর উহ্য সিফাতের (গুণ) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং মিম হলো পুরুষবাচক বহুবচনের আলামত।

• ফালা তাজআলু (সুতরাং তোমরা নির্ধারণ করো না): ফা: ইস্তিনাফিয়্যাহ (প্রারম্ভিক)। লা: নাহি বা নিষেধবাচক জাজিম (জজম প্রদানকারী)। তাজআলু: ফে’লে মুযারে যা ‘লা’ এর কারণে মাজজুম হয়েছে এবং এর জজম-এর আলামত হলো ‘নুন’ বিলুপ্ত হওয়া, কারণ এটি আফআলে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত।

ওয়াও: দমিরে মুত্তাসিল (সংযুক্ত সর্বনাম) যা রাফ-এর অবস্থায় ফায়েল এবং আলিফ: ফারিকা (পার্থক্যকারী)।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ৩০)
• لِلَّهِ أَنْداداً: جار ومجرور للتعظيم متعلق بتجعلوا أو في محل نصب حال لأنه متعلق بصفة محذوفة من «أَنْداداً» مقدمة عليها. أندادا: مفعول به منصوب بالفتحة. ويجوز أن يتعلق الجار والمجرور بمفعول «تَجْعَلُوا» الثاني.

• وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ: الواو: حالية. أنتم: ضمير رفع منفصل مبني في محل رفع مبتدأ. تعلمون: فعل مضارع مرفوع بثبوت النون لأنه من الأفعال الخمسة.

والواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل. والجملة الفعلية «تَعْلَمُونَ» في محل رفع خبر المبتدأ. والجملة الاسمية «أَنْتُمْ تَعْلَمُونَ» في محل نصب حال.

[سورة البقرة (2): آية 23]

وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (23)

• وَإِنْ كُنْتُمْ: الواو: استئنافية. إن اداة شرط جازمة. كنتم: فعل ماض ناقص مبني على السكون لاتصاله بضمير الرفع المتحرك. التاء: ضمير متصل في محل رفع اسم «كان» والميم علامة الجمع. والفعل في محل جزم فعل الشرط.

• فِي رَيْبٍ مِمَّا: جار ومجرور متعلق بخبر «كُنْتُمْ» المحذوف ممّا مكونة من «من» حرف جرّ و «ما» اسم موصول بمعنى «الذي» مبني على السكون في محل جر بمن والجار والمجرور متعلق بريب أو بصفة محذوفة منها. و «رَيْبٍ» بمعنى «شك».

• نَزَّلْنا: فعل ماض مبني على السكون لاتصاله بضمير الواحد المطاع و «نا» ضمير متصل في محل رفع فاعل. وجملة «نَزَّلْنا» صلة الموصول.

• عَلى عَبْدِنا: جار ومجرور متعلق بنزلنا و «نا» ضمير متصل مبني على السكون في محل جر بالاضافة والعائد محذوف في محل نصب مفعول به التقدير نزلناه.
• আল্লাহর জন্য সমকক্ষসমূহ: মহানুভবতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে জার ও মাজরুর (অব্যয় ও বিশেষ্য) যা 'তাজআলূ' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা এটি 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে নসবের মহলে রয়েছে; কারণ এটি 'আন্দাদান' থেকে বিলুপ্ত একটি গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট যা তার পূর্বে এসেছে। 'আন্দাদান': ফাতহা দ্বারা মানসুব অবস্থায় মাফউলে বিহি (কর্মপদ)। আর এটিও বৈধ যে, জার-মাজরুরটি 'তাজআলূ' এর দ্বিতীয় মাফউলের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে।

• আর তোমরা জানো: এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'হালিয়া' (অবস্থা প্রকাশক)। 'আনতুম': পৃথক রাফ-বোধক সর্বনাম যা মুবতাদা হিসেবে রাফ-এর মহলে স্থিত। 'তা'লামুন': মুদারে ক্রিয়াপদ যা 'নুন' বর্ণটি স্থির থাকার মাধ্যমে মারফু হয়েছে, কারণ এটি 'আফআলে খামসাহ' (পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়াপদ) এর অন্তর্ভুক্ত।

আর 'ওয়াও' বর্ণটি হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা ফায়েল (কর্তা) হিসেবে রাফ-এর মহলে রয়েছে। 'তা'লামুন' ক্রিয়াপদযুক্ত বাক্যটি (জুমলা ফে'লিয়া) মুবতাদার সংবাদ বা 'খবর' হিসেবে রাফ-এর মহলে অবস্থিত। আর 'আনতুম তা'লামুন' বিশেষ্যমূলক বাক্যটি (জুমলা ইসমিয়া) 'হাল' হিসেবে নসবের মহলে রয়েছে।

[সুরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ২৩]

আর আমরা আমাদের দাসের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার মতো একটি সুরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (২৩)

• আর যদি তোমরা হও: 'ওয়াও' বর্ণটি প্রারম্ভিক (ইস্তিনাফিয়্যাহ)। 'ইন' হলো জাজম প্রদানকারী শর্তবাচক অব্যয়। 'কুনতুম': এটি একটি অপূর্ণ অতীতকালীন ক্রিয়া (ফে'লে মাজি নাকিস) যা চলনশীল রাফ-বোধক সর্বনাম যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুন-এর উপর ভিত্তি করে গঠিত। 'তা': সংযুক্ত সর্বনাম যা 'কানা' এর বিশেষ্য (ইসম) হিসেবে রাফ-এর মহলে রয়েছে এবং 'মিম' বর্ণটি বহুবচনের আলামত। আর ক্রিয়াটি শর্তের ক্রিয়া (ফে'লে শার্ত) হিসেবে জাজম-এর মহলে রয়েছে।

• সন্দেহের মধ্যে যা থেকে: জার ও মাজরুর (অব্যয় ও বিশেষ্য) যা 'কুনতুম' এর বিলুপ্ত খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট। 'মিম্মা' শব্দটি 'মিন' নামক হরফে জার এবং 'মা' নামক ইসমে মাউসুল (অন্বয়ী সর্বনাম) দ্বারা গঠিত, যা 'আল্লাজি' অর্থে ব্যবহৃত এবং সুকুন-এর উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়ে 'মিন' এর কারণে জারের মহলে রয়েছে। আর জার ও মাজরুরটি 'রাইব' এর সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা তার থেকে বিলুপ্ত কোনো গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর 'রাইব' শব্দের অর্থ হলো 'শাক' বা সন্দেহ।

• আমরা অবতীর্ণ করেছি: অতীতকালীন ক্রিয়া (ফে'লে মাজি) যা একক আজ্ঞাবহ সর্বনামের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুন-এর উপর ভিত্তি করে গঠিত এবং 'না' হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা ফায়েল (কর্তা) হিসেবে রাফ-এর মহলে রয়েছে। আর 'নায্যালনা' বাক্যটি হলো সিলাতুল মাউসুল (অন্বয়ী বাক্যাংশ)।

• আমাদের দাসের প্রতি: জার ও মাজরুর 'নায্যালনা' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং 'না' হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা সুকুন-এর উপর ভিত্তি করে গঠিত এবং সম্বন্ধপদ (ইদাফাত) হিসেবে জারের মহলে রয়েছে। আর প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামটি (আইদ) এখানে বিলুপ্ত যা মাফউলে বিহি (কর্মপদ) হিসেবে নসবের মহলে রয়েছে; যার পূর্ণরূপ হলো 'নায্যালনাহু' (আমরা তা অবতীর্ণ করেছি)।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ৩১)
• فَأْتُوا: الفاء: مقترنة بجملة الشرط الطلبية الجوابية. أئتوا: فعل أمر مبني على حذف النون لأنّ مضارعه من الأفعال الخمسة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف فارقة. وجملة «أئتوا» جواب شرط جازم مقترن بالفاء في محل جزم.

• بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ: جار ومجرور متعلق بأئتوا. والجار والمجرور «مِنْ مِثْلِهِ» متعلق بصفة محذوفة من «سورة» والهاء ضمير متصل في محل جر بالإضافة.

• وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ: الواو: حرف عطف. ادعوا: معطوفة على «أئتوا» وتعرب إعرابها. شهداءكم: مفعول به منصوب بالفتحة. الكاف: ضمير متصل في محل جر بالاضافة. والميم: علامة جمع الذكور.

• مِنْ دُونِ اللَّهِ: جار ومجرور متعلق بحال محذوفة للشهداء. الله: اسم مجرور للتعظيم بالاضافة وعلامة الجر: الكسرة.

• إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ: ان كنتم: تعرب إعراب «إِنْ كُنْتُمْ» في مستهل الآية.

صادقين: خبر «كان» منصوب بالياء لأنه جمع مذكر سالم والميم علامة الجمع في الفعل «كُنْتُمْ» والنون في «صادِقِينَ» عوض عن تنوين المفرد. وجواب الشرط محذوف لتقدم معناه والتقدير: ان كنتم صادقين فأتوا بسورة من مثله.

[سورة البقرة (2): آية 24]

فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكافِرِينَ (24)

• فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا: الفاء: استئنافية. إن: أداة شرط جازمة لم: أداة نفي وجزم وقلب تفعلوا: فعل مضارع مجزوم بلم وعلامة جزمه: حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف:

فارقة. وجملة «لَمْ تَفْعَلُوا» في محل جزم لأنها فعل الشرط بمعنى ان تجاوزتم الفعل.
• অতএব তোমরা নিয়ে আসো: ফা: শর্তযুক্ত তলবিয়া জওয়াবিয়া বাক্যের সাথে যুক্ত। ইতু: ফে’লে আমর, যা নূন বিলুপ্ত হওয়ার ভিত্তিতে মাবনি, যেহেতু এর মুজারে আফয়ালে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও: ফায়িল হিসেবে মাহাল্লে রাফ-এ জমিরে মুত্তাসিল এবং আলিফটি ফারেকাহ। আর ‘ইতু’ বাক্যটি ফা-যুক্ত জাজেম শর্তের জওয়াব হিসেবে মাহাল্লে জজম-এ অবস্থিত।

• এর সদৃশ একটি সূরা: জার ও মাজরুর ‘ইতু’ এর সাথে মুতাআল্লিক। ‘এর সদৃশ’ জার ও মাজরুরটি ‘সূরা’ এর একটি উহ্য সিফাতের সাথে মুতাআল্লিক এবং হা হলো মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাহাল্লে জারে থাকা জমিরে মুত্তাসিল।

• এবং তোমাদের সাক্ষীদের ডাকো: ওয়াও: আতিফাহ। উদউ: ‘ইতু’ এর উপর আতফ এবং এর ইরাবও তদ্রূপ। শুহাদাউকুম: ফাতাহ দ্বারা মানসুব মাফউলে বিহি। কাফ: মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাহাল্লে জারে থাকা জমিরে মুত্তাসিল। এবং মীম: বহুবচন পুংলিঙ্গের আলামত।

• আল্লাহ ছাড়া: জার ও মাজরুর ‘শুহাদা’ এর একটি উহ্য হালের সাথে মুতাআল্লিক। আল্লাহ: সম্মানার্থে মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাজরুর এবং জরের আলামত হলো কাসরা।

• যদি তোমরা সত্যবাদী হও: ইন কুনতুম: এর ইরাব আয়াতের শুরুতে থাকা ‘ইন কুনতুম’ এর মতোই।

সাদিকীন: ‘কানা’ এর খবর যা ইয়া দ্বারা মানসুব কারণ এটি জামা মুজাক্কার সালেম এবং ‘কুনতুম’ ফে’লে মীম হলো বহুবচনের আলামত এবং ‘সাদিকীন’ এর নূনটি একবচনের তানউইনের স্থলাভিষিক্ত। শর্তের জওয়াবটি উহ্য রয়েছে কারণ ইতিপূর্বেই এর অর্থ অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এর তাকদীর বা উহ্য রূপ হলো: যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে এর সদৃশ একটি সূরা নিয়ে আসো।

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ২৪]

অতঃপর যদি তোমরা না করো—আর তোমরা কখনোই করতে পারবে না—তবে তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। (২৪)

• অতঃপর যদি তোমরা না করো: ফা: ইস্তিনায়াফিয়্যাহ। ইন: জাজেম শর্তের অব্যয়। লাম: নাফি, জজম ও কলব এর অব্যয়। তাফআলু: মুজারে ফে’ল যা লাম দ্বারা মাজরুম এবং এর জজমের আলামত হলো নূন বিলুপ্ত হওয়া কারণ এটি আফয়ালে খামসাহ এর অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও: ফায়িল হিসেবে মাহাল্লে রাফ-এ জমিরে মুত্তাসিল এবং আলিফ:

ফারেকাহ। এবং ‘লাম তাফআলু’ বাক্যটি মাহাল্লে জজম-এ রয়েছে যেহেতু এটি শর্তের ফে’ল, যার অর্থ যদি তোমরা কাজটি করতে অক্ষম হও।
(খণ্ড: ১) আল-ইরাবুল মুফাসসাল লিকিতাবিল্লাহিল মুরাত্তাল (পৃষ্ঠা: ৩২)
• وَلَنْ تَفْعَلُوا: الواو: اعتراضية أو للاستدراك. لن: حرف نصب وتوكيد ونفي للمستقبل. تفعلوا: فعل مضارع منصوب بلن وعلامة نصبه:

حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف: فارقة. وجملة «لَنْ تَفْعَلُوا» جملة اعتراضية لا محل لها.

• فَاتَّقُوا النَّارَ: الفاء: مقترنة بجملة الشرط الطلبية الجوابية اتقوا: فعل أمر مبني على حذف النون لأنّ مضارعه من الأفعال الخمسة. الواو: ضمير متصل في محل رفع فاعل والألف: فارقة. النار: مفعول به منصوب بالفتحة. وجملة «اتقوا» جواب شرط جازم مقترن بالفاء في محل جزم.

• الَّتِي وَقُودُهَا: اسم موصول مبني على السكون في محل نصب صفة للنار.

وقودها: مبتدأ مرفوع بالضمة. و «ها» ضمير متصل في محل جر بالاضافة.

والجملة الاسمية «وَقُودُهَا النَّاسُ» متعلقة بصلة- موصول لا محل لها.

• النَّاسُ وَالْحِجارَةُ: خبر للمبتدأ مرفوع بالضمة. الواو: عاطفة.

الحجارة: اسم معطوف على «النَّاسُ» مرفوع بالضمة.

• أُعِدَّتْ لِلْكافِرِينَ: فعل ماض مبني على الفتح، مبني للمجهول. والتاء:

تاء التأنيث الساكنة ونائب الفاعل او اسم ما لم يسمّ فاعله ضمير مستتر جوازا تقديره: هي والجملة الفعلية «أُعِدَّتْ لِلْكافِرِينَ» في محل نصب حال من النار.

للكافرين: جار ومجرور متعلق بأعدت. وعلامة جر الاسم: الياء لأنه جمع مذكر سالم والنون عوض عن تنوين المفرد.

[سورة البقرة (2): آية 25]

وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهارُ كُلَّما رُزِقُوا مِنْها مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقاً قالُوا هذَا الَّذِي رُزِقْنا مِنْ قَبْلُ وَأُتُوا بِهِ مُتَشابِهاً وَلَهُمْ فِيها أَزْواجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيها خالِدُونَ (25)

• وَبَشِّرِ: الواو: استئنافية. بشر: فعل أمر مبني على السكون وقد كسر لالتقاء الساكنين وفاعله: ضمير مستتر وجوبا تقديره: أنت.
• এবং তোমরা কখনোই তা করবে না: ওয়াও: বাক্যান্তর্গত বা অর্থ বিশদকারী। লান: নসব প্রদানকারী, তাকীদ এবং ভবিষ্যৎকালবাচক নেতিবাচক অব্যয়। তাফআলু: লান-এর কারণে নসবপ্রাপ্ত বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া এবং এর নসবের চিহ্ন হলো:

নুন বিলুপ্ত হওয়া, কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার (আল-আফআলুল খামসাহ) অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও: কর্তার স্থানে সংযুক্ত সর্বনাম এবং আলিফ: পার্থক্যকারী। ‘এবং তোমরা কখনোই তা করবে না’ বাক্যটি একটি বাক্যান্তর্গত বাক্য যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

• সুতরাং তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো: ফা: শর্তযুক্ত ও প্রার্থনামূলক উত্তরসূচক বাক্যের সাথে যুক্ত। ইত্তাকু: আদেশসূচক ক্রিয়া যা নুন বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত, কারণ এর বর্তমানকালীন রূপটি পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও: কর্তার স্থানে সংযুক্ত সর্বনাম এবং আলিফ: পার্থক্যকারী। আগুন: জবর (ফাতহা) দ্বারা নসবপ্রাপ্ত কর্মপদ। ‘ইত্তাকু’ বাক্যটি ফা-যুক্ত জাযম প্রদানকারী শর্তের উত্তর হিসেবে জাযমের স্থানে রয়েছে।

• যা (আগুন), যার জ্বালানি: সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং আগুনের বিশেষণ হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে।

ওয়াকুদুহা: পেশ (দাম্মা) দ্বারা মারফূ হওয়া উদ্দেশ্য (মুবতাদা)। এবং ‘হা’ হলো সম্বন্ধবাচক সংযুক্তি হিসেবে যেরের (জার) স্থানে থাকা একটি সংযুক্ত সর্বনাম।

এবং ‘যার জ্বালানি মানুষ’ এই নামবাচক বাক্যটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যের অংশ (সিলাতুল মাওসুল) যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

• মানুষ এবং পাথর: উদ্দেশ্য বা মুবতাদার খবর যা পেশ (দাম্মা) দ্বারা মারফূ। ওয়াও: সংযোজক অব্যয়।

পাথর: ‘মানুষ’ পদের সাথে সংযোজিত এবং পেশ (দাম্মা) দ্বারা মারফূ।

• যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে: জবর (ফাতহা) দ্বারা গঠিত অতীতকালীন ক্রিয়া, যা কর্মবাচ্যের (মাজহুল)। এবং তা:

স্থির স্ত্রীবাচক তা এবং কর্মবাচ্যের কর্তা বা প্রতিনিধি কর্তা এখানে উজ্জ্ব রয়েছে যার উদ্দেশ্য হলো: ‘সে’ (আগুন)। এবং ‘যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে’ এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি আগুনের অবস্থা (হাল) হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে।

কাফিরদের জন্য: অব্যয় ও অব্যয়জাত পদ যা ‘প্রস্তুত করা হয়েছে’ ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। বিশেষ্যটির যেরের (জার) চিহ্ন হলো: ইয়া, কারণ এটি পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন এবং নুনটি একবচনের তানবীনের পরিবর্তে এসেছে।

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ২৫]

আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আপনি তাদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। যখনই তাদের সেখান থেকে কোনো ফল রিযিক হিসেবে দেওয়া হবে, তারা বলবে, ‘এটিই তো সেই রিযিক যা আমাদের ইতিপূর্বে দেওয়া হয়েছিল।’ আর তাদের তা সাদৃশ্যপূর্ণ করে দেওয়া হবে। এবং তাদের জন্য সেখানে থাকবে পবিত্র সহধর্মিনীগণ এবং তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। (২৫)

• আর আপনি সুসংবাদ দিন: ওয়াও: প্রারম্ভিক অব্যয়। বাশশির: আদেশসূচক ক্রিয়া যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, তবে দুটি সুকুন একত্রিত হওয়ার কারণে এতে যের (কাসরা) প্রদান করা হয়েছে এবং এর কর্তা হলো: বাধ্যতামূলকভাবে উজ্জ্ব সর্বনাম যার উদ্দেশ্য হলো: ‘আপনি’।