(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
ذوو الاحتياجات الخاصة في ضوء القرآن والسنة   (صهيب فايز عزام)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: ذوو الاحتياجات الخاصة في ضوء القرآن والسنة

إعداد: صهيب فايز عزام

إشراف: الدكتور خضر سوندك

قدمت هذه الأطروحة: استكمالا لمتطلبات الحصول على درجة الماجستير في أصول الدين بكلية الدراسات العليا في جامعة النجاح الوطنية، نابلس.

العام الجامعي: 2014

عدد الصفحات: 172

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 شعبان 1440

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ   (সুহাইব ফায়েজ আজ্জাম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ

প্রস্তুতিতে: সুহাইব ফায়েজ আজ্জাম

তত্ত্বাবধানে: ডক্টর খিজির সুন্দাক

এই গবেষণাপত্রটি পেশ করা হয়েছে: নাবলুসের আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদে উসুলুদ দ্বীন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা পূরণের অংশ হিসেবে।

শিক্ষাবর্ষ: ২০১৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ শাবান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১)
جامعة النجاح الوطنية

كلية الدراسات العليا

 

ذوو الاحتياجات الخاصة في ضوء القرآن والسنة

 

إعداد

صهيب فايز سعيد عزام

 

إشراف

الدكتور خضر سوندك

 

قدمت هذه الأطروحة استكمالا لمتطلبات الحصول على درجة الماجستير في أصول الدين بكلية الدراسات العليا في جامعة النجاح الوطنية، نابلس.

2014
আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ফ্যাকাল্টি অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ

 

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ

 

প্রস্তুতকারী

সুহাইব ফায়েজ সাঈদ আজ্জাম

 

তত্ত্বাবধায়ক

ডক্টর খিজির সুন্দাক

 

এই অভিসন্দর্ভটি নাবলাসের আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধীনে উসুল আদ-দীন (ধর্মতত্ত্ব) বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণের অংশ হিসেবে পেশ করা হয়েছে।

২০১৪
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ذوو الاحتياجات الخاصة في ضوء القرآن والسنة

 

إعداد

 

صهيب فايز عزام

 

نوقشت هذه الأطروحة بتاريخ: 11/ 12/2014 م، وأجيزت

أعضاء لجنة المناقشة … التوقيع

‌‌1 - الدكتور خضر سوندك … مشرف ورئيسا

‌‌2 - الدكتور مدين القرم … ممتحناً خارجياً

‌‌3 - الدكتور خالد علوان … ممتحناً داخلياً
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ

 

প্রস্তুতকারক

 

সোহাইব ফায়েজ আজজাম

 

এই গবেষণাপত্রটি ১১/১২/২০১৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে পর্যালোচিত হয়েছে এবং অনুমোদিত হয়েছে

পর্যালোচনা কমিটির সদস্যবৃন্দ … স্বাক্ষর

‌‌১ - ডক্টর খিজির সুনদুক … তত্ত্বাবধায়ক ও সভাপতি

‌‌২ - ডক্টর মাদইয়ান আল-কুরম … বহিঃপরীক্ষক

‌‌৩ - ডক্টর খালিদ আলওয়ান … অন্তঃপরীক্ষক
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌إهداء

إلى أُمي وأَبي …

اللذين لهما الفضل بعد الله عز وجل

في تربيتي ونجاحي

هما اللذان يُكثِران لي من الدعاء

فَلهُما مني كلَّ الشُكر والثناء

إلى زوجتي …

والى أبنائنا يحيى وأحمد وبسمله وتسبيح

الذين وقفوا إلى جانبي في مسيرتي التعليمية

إلى كل مسلم ومسلمة

والى ذوي الاحتياجات الخاصة

 

الباحث

صهيب فايز عزام
উৎসর্গ

আমার মাতা ও পিতার প্রতি …

মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পর আমার লালন-পালন ও সফলতার ক্ষেত্রে যাঁদের অবদান অপরিসীম

তাঁরাই সেই দুইজন, যাঁরা আমার জন্য অধিক পরিমাণে দোয়া করেন

তাঁদের প্রতি আমার সকল কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা

আমার স্ত্রীর প্রতি …

এবং আমাদের সন্তান—ইয়াহইয়া, আহমাদ, বাসমালা ও তাসবীহ-এর প্রতি

যাঁরা আমার শিক্ষা জীবনের দীর্ঘ পথচলায় আমার পাশে থেকেছেন

প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর প্রতি

এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি

 

গবেষক

সুহাইব ফয়েজ আজ্জাম
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌شكر وتقدير

الحمد لله رب العالمين، وله الشكر والثناء أن وفقني لإعداد هذه الرسالة وإتمامها، والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسول الله الذي دلنا على الخير وأمرنا بإتباعه، وعلمنا أن من لا يشكر الناس لا يشكر الله.

وأقدر عالياً جهود أستاذي الدكتور خضر سوندك، أستاذ العقيدة والمذاهب المعاصرة في كلية الشريعة بجامعة النجاح الوطنية، الذي تفضل بالإشراف على هذه الرسالة، فله مني جزيل الشكر والعرفان على ما قدمه لي من توجيه وإرشاد، لكي تخرج هذه الرسالة في أحسن صورة.

وأتقدم بجزيل شكري وعرفاني إلى السادة أعضاء لجنة المناقشة على تفضلهم بمناقشة هذه الرسالة وهم:

د. خضر سوندك

د. خالد علوان

د. مدين القرم

والشكر موصول لوالدي أطال الله بقائهما ومتعهما متاع الصالحين فلم يفتأى بالدعاء لي آناء الليل وأطراف النهار بالتوفيق والسداد.

وأقدر عالياً جهود زوجتي الوفية أم يحيى التي وقفت إلى جانبي طوال مسيرتي التعليمية، فكانت عيني التي أبصر بها في دراستي ورسالتي، فلها مني جزيل الشكر والثناء.

كما أتقدم بالشكر لمعلمي مربي الأجيال الأستاذ إبراهيم عبد الكريم (أبو لؤي) الذي تفضل بتدقيق هذه الرسالة لُغَوياً.

كما وأشكر جميع من ساهم في إنجاز وإتمام هذا العمل وأخص بالذكر أخي م. راغب زيد (أبو أحمد) على جهوده، وأسأل الله أن يتقبل هذا العمل، وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به الإسلام والمسلمين.

الباحث

صهيب فايز عزام
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁরই সকল কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা যে তিনি আমাকে এই অভিসন্দর্ভটি প্রস্তুত ও সম্পন্ন করার তৌফিক দান করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি আমাদের কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের তা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন; আর আমাদের শিখিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

আমি আমার শিক্ষক ডক্টর খিদার সুনদাক, আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শরীয়াহ অনুষদের আকীদাহ ও সমকালীন মতবাদ বিভাগের অধ্যাপক-এর প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত উচ্চমূল্য দিচ্ছি, যিনি সদয় হয়ে এই অভিসন্দর্ভটির তত্ত্বাবধান করেছেন। এই অভিসন্দর্ভটি যেন সর্বোত্তম অবয়বে সম্পন্ন হয়, সেজন্য তিনি আমাকে যে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেছেন, তার জন্য আমি তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি।

আমি অভিসন্দর্ভ মূল্যায়ন কমিটির সম্মানিত সদস্যদের প্রতিও আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি পেশ করছি, যারা সদয় হয়ে এই অভিসন্দর্ভটির মূল্যায়ন করেছেন। তাঁরা হলেন:

ড. খিদার সুনদাক

ড. খালিদ আলওয়ান

ড. মাদীন আল-কুরম

আর আমার কৃতজ্ঞতা পৌঁছে যাক আমার পিতামাতার প্রতি; আল্লাহ তাঁদের দীর্ঘজীবী করুন এবং নেককার বান্দাদের ন্যায় তাঁদের নেয়ামত দান করুন। কারণ তাঁরা দিন-রাত অবিরত আমার সফলতা ও সঠিক পথের জন্য দোয়া করে গেছেন।

আমি আমার বিশ্বস্ত সহধর্মিণী উম্মু ইয়াহইয়া-এর প্রচেষ্টাকে উচ্চ মূল্যায়ন করছি, যিনি আমার সমগ্র শিক্ষাজীবনে আমার পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। তিনি ছিলেন আমার পড়াশোনা ও অভিসন্দর্ভের কাজে আমার সহায়ক দৃষ্টির মতো; তাঁর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা।

সেই সাথে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রজন্ম গড়ার কারিগর আমার শিক্ষক জনাব ইব্রাহিম আব্দুল কারীম (আবু লুয়ায়)-এর প্রতি, যিনি সদয় হয়ে এই অভিসন্দর্ভটির ভাষাগত সম্পাদনা করে দিয়েছেন।

এছাড়াও আমি এই কাজটি সম্পাদন ও সম্পন্ন করতে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি; বিশেষ করে ভাই প্রকৌশলী রাগেব যায়েদ (আবু আহমাদ)-এর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমল কবুল করেন এবং একে একান্তভাবে তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন এবং এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন।

গবেষক

সুহাইব ফায়েজ আজ্জাম
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌إقرار

 

انا الموقع أدناه، مقدم الرسالة التي تحمل العنوان:

ذوو الاحتياجات الخاصة في ضوء القرآن والسنة

 

أقر بأن ما اشتملت عليه هذه الرسالة إنما هو نتاج جهدي الخاص، باستثناء ما تمت الإشارة إليه حيثما ورد، وأن هذه الرسالة لم تقدم من قبل لنيل أي درجة أو لقب علمي أو بحثي لدى أي مؤسسة تعليمية أو بحثية أخرى.

 

Declaration

 

The work provided in this thesis، unless otherwise referenced، is the researcher's own work، and has not been submitted elsewhere for any other degree or qualification.

اسم الطالب: … Student's Name:

التوقيع: … Signature:

التاريخ: … Date:
অঙ্গীকারনামা

 

আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী, নিম্নোক্ত শিরোনামের গবেষণাপত্রটি পেশ করছি:

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ

 

আমি অঙ্গীকার করছি যে, এই গবেষণাপত্রটি যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছে তা আমার নিজস্ব শ্রমের ফসল, তবে যেখানেই সূত্রের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা ব্যতীত। আমি আরও স্বীকার করছি যে, এই গবেষণাপত্রটি ইতোপূর্বে অন্য কোনো শিক্ষা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষা ডিগ্রি বা গবেষণা পদবি অর্জনের জন্য পেশ করা হয়নি।

 

ঘোষণা

 

এই থিসিস বা গবেষণাপত্রে প্রদত্ত কাজসমূহ, অন্য কোনো উৎসের উদ্ধৃতি দেওয়া না থাকলে, তা গবেষকের নিজস্ব কাজ এবং এটি অন্য কোনো ডিগ্রি বা যোগ্যতার জন্য অন্য কোথাও জমা দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীর নাম: … শিক্ষার্থীর নাম:

স্বাক্ষর: … স্বাক্ষর:

তারিখ: … তারিখ:
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ذوو الاحتياجات الخاصة في ضوء القرآن والسنة

إعداد

صهيب فايز عزام

إشراف

د. خضر سوندك

‌‌الملخص

لقد خَلُصَ الباحث إلى أن ذوي الاحتياجات الخاصة، إذا ما قورنوا بغيرهم من أهل العافية، فسيظهر عندهم نقص كلي أو جزئي في أطرافهم، أو عقولهم، أو حواسهم، بسبب عامل وراثي أو بيئي مكتسب، فبذلك تكون لهم قدرات وإمكانات تختلف عن أهل العافية في التعلم والعمل واكتساب المهارات والخبرات، لأنهم يفتقرون الى بعض الاحتياجات، وتتمثل هذه الاحتياجات في برامج أو أجهزة أو تعديلات بيئية.

ومصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة هو أفضل المصطلحات للتعريف بهذه الفئة من الناس، ولقد استخدم القرآن الكريم مصطلحات للدلالة على هذه الفئة، فمنها ما جاء صريحاً فسمي باسمه، ومنها ما جاء كناية وعبر عنه بوصفه.

فالإسلام قد كرم ذوي الاحتياجات الخاصة، ورفع من قدرهم وشأنهم وقدَّم لهم كامل الرعاية، فالقرآن دعا للمساواة بينهم وبين غيرهم من الناس، وجعل التفاضل بناء على التقوى والإيمان، لا على الأشكال والألوان، وبين أن المصيبة في الإيمان أعظم من مصائب الأبدان، وأن ما أصاب ذوي الاحتياجات الخاصة فبقدر الله سبحانه، وبشّرهم لصبرهم على ما أصابهم بالأجر العظيم وبجنات النعيم، ولقد خَلَّد القرآن الكريم مواقف وقصصاً لأنبياء ورسل وصحابة من ذوي الاحتياجات الخاصة، كان لهم دور عظيم في خدمة الدين وتبليغ رسالة رب العالمين، فالقرآن اعتنى بذوي الاحتياجات الخاصة، فدعا لاحترامهم ودمجهم في المجتمع وتلبية مطالبهم والتخفيف عنهم، وأنزل بحقهم قرآناً يتلى، فنالوا حقوقا كاملة ورعاية حانية، وخلص إلى أن السُنَّة النبوية دعت في أحاديث كثيرة إلى تقدير واحترام ذوي الاحتياجات الخاصة وتقديم العون لهم، فالرحمة بهم سبب لنيل رحمة الله، وهم سبب من أسباب الرزق والنصر، ودعتهم للصبر والرضا لتُرفع درجاتهم، ولينالوا بعد ذلك رحمة الله ويدخلوا الجنة.

وخَلُصَ الباحث إلى أن ذوي الاحتياجات الخاصة، قد نَعِموا في المجتمع الإسلامي بعيشة كريمة، حيث المودة والرحمة والتعاون والإخاء والعدالة والمساواة، كما أن لهم دوراً كبيراً في نصرة الدين وتقديم الخير لأفراد المسلمين، وخَلُصَ إلى أن ذوي الاحتياجات الخاصة قد تَمَيَّز منهم الكثير
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ

উপস্থাপনায়

সুহাইব ফায়িজ আজ্জাম

তত্ত্বাবধানে

ড. খিজির সুন্দক

‌সারসংক্ষেপ

গবেষক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যদি সুস্থ-স্বাভাবিক ব্যক্তিদের সাথে তুলনা করা হয়, তবে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, মস্তিষ্ক কিংবা ইন্দ্রিয়সমূহে বংশগত কিংবা পরিবেশগত অর্জিত কারণে পূর্ণাঙ্গ অথবা আংশিক ঘাটতি পরিলক্ষিত হবে। ফলশ্রুতিতে শিক্ষা গ্রহণ, কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে ভিন্ন হয়; কারণ তাদের বিশেষ কিছু চাহিদার প্রয়োজন পড়ে। এই চাহিদাগুলো বিভিন্ন বিশেষায়িত কর্মসূচি, উপকরণ কিংবা পরিবেশগত বিন্যাসের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

মানুষের এই শ্রেণিকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য 'বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি' পরিভাষাটিই সর্বোত্তম শব্দ। পবিত্র কুরআন এই শ্রেণিটিকে নির্দেশ করার জন্য বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করেছে; যার কোনটি সরাসরি নাম উল্লেখ করে এসেছে, আবার কোনটি পরোক্ষ বর্ণনার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

ইসলাম বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্মানিত করেছে, তাদের মর্যাদা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ যত্নের নিশ্চয়তা দিয়েছে। কুরআন তাদের ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমতার আহ্বান জানিয়েছে এবং শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হিসেবে রূপ কিংবা বর্ণের পরিবর্তে তাকওয়া ও ঈমানকে নির্ধারণ করেছে। এটি স্পষ্ট করেছে যে, ঈমানের ক্ষেত্রে কোনো বিপর্যয় শারীরিক বিপত্তির চেয়েও ভয়াবহ। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ফয়সালা অনুযায়ী ঘটে থাকে। তাদের এই কষ্টের ওপর ধৈর্যের বিনিময়ে মহান প্রতিদান ও জান্নাতুন নাঈমের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নবী, রাসূল ও সাহাবীগণের অবস্থান ও ঘটনাবলিকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে, যারা দ্বীনের খেদমত এবং বিশ্বজগতের রবের বাণী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক মহান ভূমিকা পালন করেছিলেন। কুরআন বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের প্রতি প্রভূত যত্ন নিয়েছে; এটি তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সমাজে তাদের একীভূতকরণ, তাদের দাবি পূরণ এবং তাদের কষ্ট লাঘবের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ব্যাপারে এমন কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে যা সর্বদা তিলাওয়াত করা হয়, ফলে তারা লাভ করেছে পূর্ণাঙ্গ অধিকার ও মমতাঘন পরিচর্যা। পরিশেষে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সুন্নাহর বহু হাদিসে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের সহায়তা করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন আল্লাহর দয়া লাভের মাধ্যম এবং তারা রিযিক ও বিজয় প্রাপ্তির অন্যতম কারণ। সুন্নাহ তাদের ধৈর্য ও সন্তুষ্টির প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে যেন তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তারা আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।

গবেষক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ ইসলামী সমাজে এক সম্মানজনক জীবন উপভোগ করেছেন, যেখানে হৃদ্যতা, দয়া, সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সমতা বিদ্যমান ছিল। তদ্রূপ দ্বীনকে বিজয়ী করতে এবং মুসলিমদের কল্যাণ সাধনে তাদের বিশাল অবদান ছিল। গবেষক আরও দেখিয়েছেন যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে অনেকেই অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وبرزوا في معظم المجالات، فمنهم القارئ والمفسر والمحدّث والفقيه والشاعر الأديب وغير ذلك. وخَلُصَ إلى عدة نتائج منها:

‌‌1 - أن الإسلام دين الرحمة، فبالقرآن والسنة آيات وأحاديث كثيرة تدعو لاحترام ذوي الاحتياجات الخاصة وتقديم كامل الرعاية لهم.

‌‌2 - العناية بالضعفاء وتكريمهم عامل من عوامل الخروج من حالة الوهن التي تعيشها الأمة.

‌‌3 - أن ذوي الاحتياجات الخاصة يمتلكون قدرات وطاقات كامنة تفوق أحياناً قدرات أهل العافية وهذه القدرات والطاقات لم تستثمر وتوجه في الوقت الحاضر بالشكل الصحيح.
এবং তাঁরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পারদর্শিতা অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ক্বারী, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, কবি, সাহিত্যিক এবং আরও অনেকে। তিনি বেশ কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌1 - ইসলাম হলো রহমতের ধর্ম। কুরআন ও সুন্নাহতে এমন অনেক আয়াত ও হাদিস রয়েছে যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তাঁদের পূর্ণ সেবা প্রদানের আহ্বান জানায়।

‌‌2 - দুর্বলদের যত্ন নেওয়া এবং তাঁদের সম্মান করা উম্মাহ বর্তমানে যে দুর্বল অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে তা থেকে উত্তরণের অন্যতম একটি মাধ্যম।

‌‌3 - বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এমন কিছু সুপ্ত ক্ষমতা ও শক্তি রয়েছে যা কখনো কখনো সুস্থ ব্যক্তিদের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যায়। বর্তমান সময়ে এই ক্ষমতা ও শক্তিগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো বা সঠিক পথে পরিচালিত করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
ذوو الاحتياجات الخاصة في ضوء القرآن والسنة   (صهيب فايز عزام)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: ذوو الاحتياجات الخاصة في ضوء القرآن والسنة

إعداد: صهيب فايز عزام

إشراف: الدكتور خضر سوندك

قدمت هذه الأطروحة: استكمالا لمتطلبات الحصول على درجة الماجستير في أصول الدين بكلية الدراسات العليا في جامعة النجاح الوطنية، نابلس.

العام الجامعي: 2014

عدد الصفحات: 172

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 شعبان 1440

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ   (সুহাইব ফায়েয আযযাম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ

প্রস্তুতকারী: সুহাইব ফায়েয আযযাম

তত্ত্বাবধানে: ডক্টর খিজির সুন্দাক

এই অভিসন্দর্ভটি পেশ করা হয়েছে: নাবলুসের আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অফ গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজে উসুলুদ্দীন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণার্থে।

শিক্ষাবর্ষ: ২০১৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ শাবান ১৪৪০

(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، الحمد لله مسبب الأسباب وخالق الإنسان من تراب، الحمد لله الحكيم العليم الذي بدأ خلق الإنسان من طين، وصوره وهو في قرار مكين، ونفخ فيه من روحه فكرمه أحسن تكريم، ثم جعل خلقه في أحسن تقويم، الحمد لله الذي جعل التفاضل بين الناس بناء على التقوى والإيمان، لا على الأشكال والألوان، والصلاة والسلام على خير الأنام … محمد عليه الصلاة والسلام وعلى آل بيته الكرام وعلى أصحابه ومن تبعهم بإحسان، أما بعد:

فقد اهتم الإسلام بكل فئات المجتمع، ولا سيما ذوو الاحتياجات الخاصة الذين أولاهم عناية خاصة فحث المسلمين على الرعاية الكاملة لهم، وعليه جاءت الآيات الكريمة في كتاب الله تعالى، والأحاديث النبوية، لتؤكد للجميع أن الله تعالى يحث على نصرة الضعيف وإعانته قدر الاستطاعة، قال تعالى: {لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (91)} [التوبة: 91]

وإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد بين أن هؤلاء الضعفاء سببٌ من أسباب النصر والرزق، فعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (ابغوني الضعفاء، فإنما ترزقون وتنصرون بضعفائكم). (1)

فلقد بلغت رعاية الإسلام لذوي الاحتياجات الخاصة حداً بالغاً من السمو والرفعة، ولا أدل على ذلك من قصة الصحابي الجليل ابن أم مكتوم الذي نزلت من أجله آيات كريمة:

{عَبَسَ وَتَوَلَّى (1) أَن جَاءَهُ الْأَعْمَى (2) وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى (3) أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ الذِّكْرَى (4) أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى (5) فَأَنتَ لَهُ تَصَدَّى (6)} [عبس: 6]، ففي هذه الآيات عاتب الله سبحانه وتعالى نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم، وهو أفضل خلقه، والنموذج الفريد في الرحمة والتعاطف والإنسانية، وهي السمات التي أكدها القرآن الكريم بقوله: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ (128)} [التوبة: 128].

ومنذ ذلك التاريخ وتقدير واحترام ذوي الاحتياجات الخاصة توجه إسلامي، وقيمة دينية كبرى حظي في ظلالها هؤلاء الضعفاء بكل مساندة ودعم وتقدير، حتى وصل بعضهم إلى درجات كبيرة من العلم والمجد والنبوغ.

ومن خلال تتبعي لآيات الذكر الحكيم، والأحاديث النبوية الشريفة المتعلقة بهذا الموضوع تبين لي حقائق مهمة، وضوابط للتصورات والقيم لا غنى للمسلم المعاصر عنها، وهو يعيش ويعايش مجتمعا أعمى أنظاره عن مسؤولياته تجاه هذه الفئة من المجتمع.

--------------------------------------------

(1) - أبو داود، سليمان بن الأشعث السجستاني الأزدي، سنن أبي داود، (توفي: 275 هـ)، ، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، بيروت- صيدا، المكتبة العصرية، كتاب الجهاد، باب في الانتصار برذل الخيل والضعفة، ج 3، ص 32، حديث رقم: 2594، حكم الألباني صحيح.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি সকল কারণের উদ্দীপক এবং মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। সকল প্রশংসা সেই প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর জন্য, যিনি কাদা থেকে মানুষের সৃষ্টি শুরু করেছেন এবং তাকে এক নিরাপদ আধারে আকৃতি দান করেছেন। তিনি তার মধ্যে নিজ রূহ থেকে ফুঁক দিয়েছেন এবং তাকে সর্বোত্তম সম্মানে সম্মানিত করেছেন, অতঃপর তার গঠনকে করেছেন সর্বোত্তম অবয়বে। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি করেছেন তাকওয়া ও ঈমানকে, চেহারা বা গায়ের রঙকে নয়। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির সেরা মানবের ওপর... মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইসলাম সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে, বিশেষ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি, যাদের প্রতি ইসলাম বিশেষ যত্ন প্রদান করেছে এবং মুসলিমদেরকে তাদের পূর্ণ তত্ত্বাবধানের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। এর ওপর ভিত্তি করেই মহান আল্লাহর কিতাব এবং নববী হাদীসসমূহে বিভিন্ন আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যা সকলের কাছে এটি নিশ্চিত করে যে, মহান আল্লাহ সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্বলদের সাহায্য ও সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করেন। মহান আল্লাহ বলেন: "দুর্বলদের ওপর, রুগ্নদের ওপর এবং যারা ব্যয় করার মতো কিছু পায় না তাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকে। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে (অভিযোগের) কোনো পথ নেই। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" [আত-তাওবাহ: ৯১]

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্ট করেছেন যে, এই দুর্বল মানুষেরাই বিজয় এবং রিযিক লাভের অন্যতম কারণ। আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমরা দুর্বলদের মাঝে আমাকে খুঁজো। কেননা তোমাদের দুর্বলদের কারণেই তোমরা রিযিকপ্রাপ্ত হও এবং সাহায্যপ্রাপ্ত হও।" (১)

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি ইসলামের যত্ন ও মমতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না যে, মহান সাহাবী ইবনে উম্মে মাকতুমের জন্য পবিত্র কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে:

"সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। কারণ তার কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি এল। তুমি কী জানো, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো? অথবা সে উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। পক্ষান্তরে যে বেপরোয়া, তুমি তার প্রতি মনোযোগ দিলে।" [আবাসা: ১-৬]। এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনুযোগ করেছেন, যিনি কি না তাঁর সৃষ্টির সেরা এবং দয়া, সহানুভূতি ও মানবিকতার এক অনন্য আদর্শ। এই গুণাবলিই পবিত্র কুরআন নিশ্চিত করে বলেছে: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, যাঁর কাছে তোমাদের কষ্টদায়ক বিষয়গুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণে অতি আগ্রহী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত মমতাশীল ও দয়ালু।" [আত-তাওবাহ: ১২৮]

সেই সময় থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মূল্যায়ন ও সম্মান করা একটি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি এবং মহান ধর্মীয় মূল্যবোধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। এর ছায়াতলে এই দুর্বল মানুষেরা সর্বাত্মক সমর্থন, সহযোগিতা ও সম্মান লাভ করেছেন। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ জ্ঞান-বিজ্ঞান, মর্যাদা ও প্রতিভায় অনেক বড় উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং এই বিষয় সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সত্য এবং চিন্তা ও মূল্যবোধের এমন কিছু মূলনীতি স্পষ্ট হয়েছে যা বর্তমান যুগের একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। কারণ সে এমন এক সমাজে বসবাস করছে যা সমাজের এই শ্রেণীর প্রতি নিজেদের দায়িত্বের ব্যাপারে অন্ধ হয়ে আছে।

--------------------------------------------

(১) - আবু দাউদ, সুলাইমান ইবনুল আশআছ আস-সিজিস্তানি আল-আযদি, সুনান আবু দাউদ, (মৃত্যু: ২৭৫ হিজরি), তাহকীক: মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ, বৈরুত-সাইদা, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, কিতাবুল জিহাদ, দুর্বল ঘোড়া ও দুর্বলদের মাধ্যমে বিজয় লাভ অধ্যায়, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩২, হাদীস নং: ২৫৯৪, আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ودراستي هذه تتركز على الآيات والأحاديث النبوية التي تناولت هذا الموضوع، وعلى سير العظماء من ذوي الاحتياجات الخاصة ممن ورد ذكرهم في القران والسنة، الذين قهرت همتهم ألم مصابهم، فكانت آثارهم حبرا يكتب به صفحات التاريخ، فسوف أركز على هذه المحاور، من خلال دراستها دراسة موضوعية متأنية ومتعمقة، والإفادة منها في كل المناحي، في التصورات والقيم والسلوك وفي العقيدة والشريعة وفي الحكم والسياسة.

وإني مقر أن هذا الجهد الذي قمت به هو جهد المُقِل، ولكنها محاولة للوقوف والتأمل والتدبر والاستنباط، فإن كان صوابا فمن الله تعالى فله الحمد والمنة، وإن كان الثاني فمني، ومن الشيطان واستغفر الله وأتوب إليه، مع رجوعي إلى الحق والتزامي به أنّى كان.

 

‌‌الدراسات السابقة

بعد البحث والتقصي، تبين للباحث عدم وجود دراسات إسلامية، تناولت الموضوع على نحو هذه الدراسة، علما بأن مفردات الموضوع متناثرة في بطون الكتب، وهذا من قبيل الثقافة الإسلامية، كما أن بعض الباحثين قد تناولوا بعض الجوانب المتعلقة بذوي الاحتياجات الخاصة، إلا أنهم قصروا بحوثهم على جانب من هذه الجوانب، كالحقوق أوالتربية أو الدمج ونحو ذلك، … ومن هذه الدراسات:

‌‌1. حقوق المعاقين في التربية الإسلامية، لعلي إبراهيم الزهراني، دارالبخاري، وقد تطرقت إلى حقوق ذوي الاحتياجات الخاصة من الناحية الفقهية والقانونية.

‌‌2. رؤية الإسلام لذوي الاحتياجات الخاصة، بحث مقدم من الباحث الدكتور رواب عمار، في جامعة الخضير بالجزائر، وهو بحث مختصر، تحدث فيه باحثه عن تكريم الإسلام لذوي الاحتياجات الخاصة.

‌‌3. حقوق المعاق في الشريعة الاسلامية، للدكتور مروان القدومي، بحث مقدم في مجلة جامعة النجاح الوطنية - نابلس، للعام 2004، كان هدف الباحث من بحثه التعريف على مشكلة الإعاقة في التاريخ الاسلامي، وبيان أقوال الفقهاء فيهم، مشيرا إلى فكرة التكافل، والضمان الاجتماعي.

‌‌4. المعاق في الفكر الاسلامي، مقدم من الدكتور: ماهر الحولي، في الجامعة الاسلامية بغزة، للعام الدراسي 2007، وهي رسالة فكرية أكثر من كونها تعريفا بظاهرة الاحتياجات الخاصة، تحدث فيها عن روعة الفكر الاسلامي في تعامله مع ذوي الاحتياجات الخاصة، وتكريمه لهم، وحرصه على الرقي بهم.

‌‌5. رعاية المعاقين في الفكر التربوي الإسلامي في ضوء المشكلات التي يواجهونها، للباحث رائد أبو الكاس، وهي رسالة ماجستير في التربية الاسلامية، في الجامعة الاسلامية بغزة، للعام
আমার এই গবেষণা ঐ সকল আয়াত ও নববী হাদিসের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে যা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে, এবং সেই সকল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মহান ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে যাদের কথা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের দৃঢ় সংকল্প তাঁদের কষ্টের যন্ত্রণাকে জয় করেছে এবং যাঁদের কর্ম ও প্রভাব ইতিহাসের পাতায় কালি হয়ে লিপিবদ্ধ হয়েছে। আমি এই সকল অক্ষের ওপর গুরুত্ব প্রদান করব, বস্তুনিষ্ঠ, ধীরস্থির ও গভীর অধ্যয়নের মাধ্যমে এবং এর মাধ্যমে সকল ক্ষেত্রে তথা দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ, আচরণ, আকীদা, শরীয়াহ এবং শাসন ও রাজনীতিতে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করব।

আমি স্বীকার করি যে, আমার এই প্রচেষ্টা যৎসামান্যই, তবে এটি থামা, চিন্তা করা, গভীরভাবে অনুধাবন করা এবং সারমর্ম বের করার একটি প্রয়াস মাত্র। যদি এটি সঠিক হয় তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য। আর যদি অন্য কিছু হয় তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই তওবা করছি। পাশাপাশি সত্যের দিকে ফিরে আসা এবং যেখানেই তা থাকুক না কেন তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিচ্ছি।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ

অনুসন্ধান ও তদন্তের পর গবেষকের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এমন কোনো ইসলামি গবেষণা নেই যা এই গবেষণার মতো করে বিষয়টি আলোচনা করেছে। যদিও এই বিষয়ের বিভিন্ন উপাদানসমূহ বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যা ইসলামি সংস্কৃতির অংশ। তেমনি কিছু গবেষক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে তাঁরা তাঁদের গবেষণাকে কেবল এই দিকগুলোর কোনো একটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, যেমন অধিকার অথবা শিক্ষা অথবা মূলধারায় সম্পৃক্তকরণ ইত্যাদি... এবং এই সকল গবেষণার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১. ইসলামি শিক্ষায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার, লেখক: আলী ইবরাহিম আল-জাহরানি, দারুল বুখারি; এতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে ফিকহি ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করা হয়েছে।

‌‌২. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি, আলজেরিয়ার আল-খুদাইর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডক্টর রাওয়াব আম্মার কর্তৃক উপস্থাপিত একটি গবেষণা। এটি একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা, যাতে গবেষক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি ইসলামের সম্মান প্রদর্শন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

‌‌৩. ইসলামি শরীয়াহতে প্রতিবন্ধীদের অধিকার, লেখক: ডক্টর মারওয়ান আল-কুদুমি, ২০০৪ সালে নাবলুসের আন-নাজাহ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি জার্নালে উপস্থাপিত একটি গবেষণা। গবেষকের লক্ষ্য ছিল ইসলামি ইতিহাসে প্রতিবন্ধকতার সমস্যাকে পরিচিত করা এবং তাদের বিষয়ে ফকিহগণের অভিমত বর্ণনা করা, সেই সাথে সামাজিক সংহতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ধারণার প্রতি ইঙ্গিত করা।

‌‌৪. ইসলামি চিন্তাধারায় প্রতিবন্ধী, ২০০৭ শিক্ষাবর্ষে গাজার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর মাহের আল-হুলি কর্তৃক উপস্থাপিত। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্নতার সংজ্ঞায়নের চেয়েও একটি বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণাপত্র বেশি, যেখানে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামি চিন্তাধারার চমৎকারিত্ব, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের উন্নয়নে ইসলামের গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

‌‌৫. প্রতিবন্ধীদের মোকাবিলা করা সমস্যাবলীর আলোকে ইসলামি শিক্ষা চিন্তায় তাদের যত্ন, গবেষক: রায়েদ আবু আল-কাস, এটি গাজার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি শিক্ষায় একটি মাস্টার্স থিসিস, বছরের জন্য...
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
(1429 هـ - 2008 م)، باشراف الدكتور: محمود أبو دف، تحدثت هذه الرسالة عن عناية الاسلام بالمعاقين، والمتطلبات التربوية لرعاية المعاقين في الفكر الاسلامي.

‌‌6. الدمج الاجتماعي الشامل لذوي الاعاقة في المجتمع العربي الاسلامي، بحث مقدم من الدكتور إبراهيم النقيثان، في جامعة الملك سعود، بالمملكة العربية السعودية، للعام (1433 هـ-2012 م) وهو بحث يركز على الجانب التربوي الاجتماعي أكثر منه على الجانب الاسلامي الفكري. المعاق أوالمَعُوق بين الإسلام ومدارس أخرى.

‌‌7. بحث مقدم من الاستاذ المحامي: هيثم المالح، في سورية، وهو بحث في المقارنة بين القانون الاسلامي، وقوانين وضعية أخرى.

‌‌8. حقوف المعوقين في الشريعة الاسلامية، د. موسى البسيط.

‌‌9. وقد صدرت مؤخرا، رسالة ماجستير في الجامعة الإسلامية بغزة، تحت عنوان: "ذوو الاحتياجات الخاصة في القرآن الكريم، دراسة موضوعية"، وأشرف عليها الدكتور: عصام العبد زهد، ولم أجد أي معلومات تتعلق باسم المؤلف أو سنة النشر، وتناول الباحث في هذه الرسالة موضوع ذوي الاحتياجات الخاصة، ونظرة القرآن الكريم لهم، مقارنة مع نظرة غيرهم من العرب قبل الاسلام، ومن الغرب في الوقت الحاضر، مشيرا إلى حقوقهم في الإسلام.

إلا أن هذه الرسالة لم تتناول موضوع ذوي الاحتياجات الخاصة على النحو الذي ستتناوله هذه الدراسة، ذلك لأن الباحث قَصَرَ رسالته على نظرة القرآن الكريم والمجتمع الإسلامي فقط لذوي الاحتياجات الخاصة دون توسع، ودون أن يتعداه إلى السنة النبوية، وَذِكر نماذج من رعاية القرآن الكريم والسنة النبوية لتلك الفئة، وهذا ما سوف نفصله ــ بإذن الله ــ في هذه الدراسة.

كما أن الرسالة السابقة قد أدخلت ضمن ذوي الاحتياجات الخاصة اليتامى، والأسرى، والمجرمين، إلا أن دراستي سوف تتركز على فئة محددة، هم ذوي الاحتياجات الخاصة الذين أصيبوا في أجسامهم، سواء كانت إصابتهم حركيةَ أو حسية أو عقلية.

ومن الدراسات السابقة بحث تقدمت به عام 2010 م كمشروع تخرج لاستكمال تخصص التربية الإسلامية من جامعة القدس المفتوحة، بعنوان رعاية الإسلام لذوي الحاجات الخاصة، وقد أشرف عليه الدكتور أحمد عزام، وقد أوصاني هو وغيره أن أجعله أساساً لرسالة ماجستير. كما تقدمت ببحث في مرحلة الماجستير بعنوان "ذوو الحاجات الخاصة ممن خدموا السنة" استكمالاً لمادة الحديث وعلومه وقد أشرف عليه الدكتور خالد علوان، فجعلت هذين البحثين نواة لهذه الدراسة.
(১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ), ডক্টর মাহমুদ আবু দাফের তত্ত্বাবধানে; এই থিসিসটিতে প্রতিবন্ধীদের প্রতি ইসলামের যত্ন এবং ইসলামি চিন্তাধারায় প্রতিবন্ধীদের পরিচর্যার শিক্ষামূলক প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

‌‌৬. আরব ইসলামি সমাজে প্রতিবন্ধীদের পূর্ণাঙ্গ সামাজিক একীভূতকরণ, সৌদি আরবের বাদশাহ সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টর ইব্রাহিম আল-নুকাইসান কর্তৃক উপস্থাপিত একটি গবেষণা (১৪৩৩ হিজরি-২০১২ খ্রিস্টাব্দ)। এই গবেষণাটি ইসলামি তাত্ত্বিক দিকের চেয়ে শিক্ষামূলক ও সামাজিক দিকের ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করে। ইসলাম ও অন্যান্য মতাদর্শের মাঝে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

‌‌৭. সিরিয়ার আইনজীবী অধ্যাপক হাইসাম আল-মালেহ কর্তৃক উপস্থাপিত একটি গবেষণা; এটি ইসলামি আইন এবং অন্যান্য মানবীয় আইনের মধ্যে একটি তুলনামূলক গবেষণা।

‌‌৮. ইসলামি শরিয়তে প্রতিবন্ধীদের অধিকার, ড. মুসা আল-বাসিত।

‌‌৯. সম্প্রতি গাজার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে "আল-কুরআনুল কারীমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি: একটি বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়ন" শিরোনামে একটি মাস্টার্স থিসিস প্রকাশিত হয়েছে। এটি ডক্টর ইসাম আল-আবদ যুহদ-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। আমি এর লেখকের নাম বা প্রকাশের বছর সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাইনি। গবেষক এই থিসিসে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিষয় এবং তাদের প্রতি কুরআনুল কারীমের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা ইসলামের পূর্ববর্তী আরবদের এবং বর্তমান সময়ের পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে তুলনা করা হয়েছে। এতে ইসলামে তাদের অধিকারের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তবে এই থিসিসটিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিষয়টি বর্তমান গবেষণার মতো করে আলোচনা করা হয়নি। কারণ, গবেষক তার আলোচনাকে কেবল কুরআনুল কারীম এবং ইসলামি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, একে সুন্নাহ পর্যন্ত বিস্তৃত করেননি। এছাড়াও কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহর আলোকে সেই শ্রেণির পরিচর্যার উদাহরণগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেননি। ইনশাআল্লাহ, বর্তমান গবেষণায় আমি এগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

তাছাড়া পূর্ববর্তী থিসিসটিতে এতিম, যুদ্ধবন্দী এবং অপরাধীদেরও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আমার গবেষণাটি কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির ওপর কেন্দ্রীভূত হবে, তারা হলেন সেই সব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, চাই তা চলনবিষয়ক, ইন্দ্রিয়গত কিংবা মানসিক হোক না কেন।

পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহের মধ্যে ২০১০ সালে আল-কুদস ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামি শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য আমার জমা দেওয়া একটি গবেষণা প্রকল্পও রয়েছে, যার শিরোনাম ছিল "বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি ইসলামের যত্ন"। ডক্টর আহমদ আয্যাম এটি তত্ত্বাবধান করেছিলেন এবং তিনিসহ অন্যান্যরা আমাকে এটি একটি মাস্টার্স থিসিসের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এছাড়াও মাস্টার্স পর্যায়ে আমি "সুন্নাহর সেবা করেছেন এমন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ" শিরোনামে একটি গবেষণা জমা দিয়েছিলাম, যা হাদিস ও এর বিজ্ঞান (উলুমুল হাদিস) বিষয়ের পরিপূরক ছিল এবং এটি ডক্টর খালিদ আলওয়ানের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল। আমি এই দুটি গবেষণাকে বর্তমান গবেষণার মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌أهمية الدراسة

تكتسب هذه الدراسة أهميتها من طبيعة الموضوع الذي تعالجه، فهي تعالج قضية محورية ومركزية وشاملة في جوانب الإسلام المختلفة، سواء في التصورات أو العقيدة أو السلوك أو التشريع، ويمكن إجمال أهمية هذه الدراسة في الآتي:

- أنها جاءت خدمة لكتاب الله تعالى، وسنة رسوله الكريم عليه الصلاة والسلام.

- رفع معنويات ذوي الاحتياجات الخاصة، عندما يعلمون مدى اهتمام القرآن الكريم والسنة النبوية بهم، فيصبروا ويحتسبوا أمرهم إلى الله تعالى.

- بيان مدى اهتمام القرآن والسنة بهذه الشريحة المجتمعية.

- تنبع أهمية الدراسة من أن فصولها وبحوثها قد رتّبت من خلال تجربة واقعية عاشها الباحث، حيث أنه يعاني من كف البصر.

- حاجة المكتبة الإسلامية عامة، والدراسات الإسلامية خاصة إلى مثل هذه الدراسة.

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع

إن اختيار هذا الموضوع كان الدافع له الآتي:

‌‌1. أهمية هذا الموضوع لتعلقه بالقرآن والسنة.

‌‌2. حتى أُجَلّي هذا الموضوع في دراسة يسهل على قارئها تناوله والإلمام به.

‌‌3. لأبين اهتمام الإسلام بذوي الاحتياجات الخاصة وعنايته بهم.

‌‌4. التجربة الواقعية التي أعيشها، من خلال إصابتي بكف البصر.

‌‌5. ونظرا لكثرة ذوي الاحتياجات الخاصة وأعدادهم المتزايدة نتيجة الحروب والحوادث والعوامل الوراثية أردت أن أبين مكانة هؤلاء وكيفية رعايتهم.

‌‌6. بيان وتوضيح للناس كيف رفع الله من قيمتهم في المجتمع.

‌‌7. عدم توافر كتب متخصصة بهذا الموضوع في المكتبة الإسلامية نحو هذه الدراسة.
গবেষণার গুরুত্ব

এই গবেষণাটি তার আলোচিত বিষয়ের প্রকৃতির মাধ্যমেই গুরুত্ব অর্জন করেছে। এটি ইসলামের বিভিন্ন দিক—চাই তা ধারণা, আকিদাহ, আচরণ বা শরিয়ত সংক্রান্ত যাই হোক না কেন—সব ক্ষেত্রে একটি মৌলিক, কেন্দ্রীয় এবং ব্যাপক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এই গবেষণার গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে:

- এটি মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর সম্মানিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর খিদমতে নিবেদিত।

- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মনোবল বৃদ্ধি করা; যখন তারা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে তাদের প্রতি কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা জানতে পারবে, তখন তারা ধৈর্য ধারণ করবে এবং তাদের বিষয়াদি মহান আল্লাহর সোপর্দ করবে।

- সমাজের এই বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রতি কুরআন ও সুন্নাহর গুরুত্বের মাত্রা স্পষ্ট করা।

- এই গবেষণার গুরুত্ব এখান থেকেও নিহিত যে, এর অধ্যায় এবং অনুসন্ধানগুলো গবেষকের একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যেহেতু তিনি নিজেই দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন।

- সাধারণ ইসলামি লাইব্রেরি এবং বিশেষভাবে ইসলামি গবেষণার ক্ষেত্রে এই জাতীয় গবেষণার প্রয়োজনীয়তা।

 

‌‌বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ

এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে:

‌‌১. কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ততার কারণে এই বিষয়টির গুরুত্ব।

‌‌২. যাতে আমি এই বিষয়টি এমন একটি গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করতে পারি যা পাঠকের জন্য গ্রহণ ও অনুধাবন করা সহজ হয়।

‌‌৩. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি ইসলামের গুরুত্ব ও যত্নের বিষয়টি তুলে ধরা।

‌‌৪. দৃষ্টিহীনতার শিকার হওয়ার মাধ্যমে আমার যে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে তা।

‌‌৫. যুদ্ধ, দুর্ঘটনা এবং বংশগত বিভিন্ন কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিবেচনা করে আমি তাদের মর্যাদা এবং তাদের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করতে চেয়েছি।

‌‌৬. আল্লাহ তাআলা সমাজে তাদের মর্যাদা কীভাবে বৃদ্ধি করেছেন তা মানুষের নিকট বর্ণনা ও স্পষ্ট করা।

‌‌৭. ইসলামি লাইব্রেরিতে এই গবেষণার ন্যায় এই বিষয়ে কোনো বিশেষায়িত গ্রন্থের অভাব।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مشكلة الدراسة

تحاول هذه الدراسة الإجابة عن الأسئلة التالية:

- ما معنى ذوي الاحتياجات الخاصة لغة واصطلاحا؟ وما دلالة ذلك في سياق القرآن والسنة؟

- ما مدى اهتمام القرآن الكريم والسنة النبوية بذوي الاحتياجات الخاصة، وتكريمهم؟

- ما مدى المساحة التي حاز عليها ذوو الاحتياجات الخاصة في المجتمع؟

- كيف عُولجت هذه القضية بكل جوانبها المتعددة في القرآن والسنة؟

- كيف عالج القران والسنة الآثار المترتبة على تهميشهم؟

- ما الوسائل والطرق التي استخدمت في القرآن الكريم والسنة النبوية في التحذير من الإساءة لهم؟

- ما هي حقوق هذه الفئة، وما هي واجباتهم؟

- هل ضرب التاريخ لنا نماذج مشرفة لآثار أناس من ذوي الاحتياجات الخاصة، خدموا كتاب ربهم، وسنة نبيهم، وشرّفوا أمتهم؟

 

‌‌أهداف الدراسة

تتلخص أهداف هذه الدراسة بالآتي:

- لفت الأنظار إلى اهتمام القرآن الكريم والسنة النبوية بذوي الاحتياجات الخاصة.

- بيان الكيفية التي اتُّبِعت في القرآن الكريم والسنة النبوية في الحديث عنهم.

- الإفادة من هذه الآيات والأحاديث في حياة المسلم المعاصر من خلال ما يعيشه من أوضاع وتصورات ومسلكيات تناقض نظرة الشارع تجاههم.

- التحذير من الداء العضال والسلوك المشين، والمتمثل في قلب الصورة تجاههم.

 

‌‌منهجية الدراسة

المنهج المتبع في هذه الدراسة استقرائي تحليلي، وذلك من خلال تتبع الآيات القرآنية والأحاديث النبوية المتعلقة بموضوع البحث، ثم جمع هذه الآيات والأحاديث ودراستها وترتيبها، فبدأت بالآيات القرآنية وفسرتها من كتب التفاسير القديمة والحديثة، فجمعت بين المصادر والمراجع.
অধ্যয়নের সমস্যা

এই অধ্যয়নটি নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহের উত্তর প্রদানের প্রয়াস চালায়:

- আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অর্থ কী? এবং কুরআন ও সুন্নাহর প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য কী?

- পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং তাদের সম্মান প্রদানের ব্যাপ্তি কতটুকু?

- সমাজে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা কতটুকু স্থান লাভ করেছেন?

- কুরআন ও সুন্নাহে এই বিষয়টি তার বহুমুখী দিকসহ কীভাবে সমাধান করা হয়েছে?

- কুরআন ও সুন্নাহ তাদের প্রান্তিককরণের ফলে সৃষ্ট প্রভাবসমূহ কীভাবে মোকাবিলা করেছে?

- পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহে তাদের প্রতি অসদাচরণ করার বিরুদ্ধে সতর্ক করতে কী কী মাধ্যম ও পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে?

- এই শ্রেণির অধিকারসমূহ কী কী এবং তাদের কর্তব্যসমূহ কী কী?

- ইতিহাস কি আমাদের কাছে এমন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্মানজনক আদর্শ উপস্থাপন করেছে, যারা তাদের রবের কিতাব ও নবীর সুন্নাহর সেবা করেছেন এবং উম্মতকে সম্মানিত করেছেন?

 

‌অধ্যয়নের লক্ষ্যসমূহ

এই অধ্যয়নের লক্ষ্যসমূহ নিম্নরূপে সংক্ষেপিত করা যায়:

- পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি প্রদত্ত গুরুত্বের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

- পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহে তাদের সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করা।

- সমকালীন মুসলিমদের জীবনে এই সকল আয়াত ও হাদীস থেকে উপকার গ্রহণ করা; বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তারা এমন সব পরিস্থিতি, ধ্যান-ধারণা এবং আচরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে যা তাদের প্রতি শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গির পরিপন্থী।

- দুরারোগ্য ব্যাধি এবং নিন্দনীয় আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করা, যা তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিকৃতির মাধ্যমে ফুটে ওঠে।

 

‌অধ্যয়ন পদ্ধতি

এই অধ্যয়নে অনুসৃত পদ্ধতি হলো আরোহী ও বিশ্লেষণধর্মী। গবেষণার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহ অনুসরণের মাধ্যমে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। এরপর এই আয়াত ও হাদীসসমূহ সংগ্রহ, অধ্যয়ন এবং বিন্যস্ত করা হয়েছে। আমি কুরআনের আয়াত দিয়ে শুরু করেছি এবং প্রাচীন ও আধুনিক তাফসীর গ্রন্থসমূহ থেকে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি; এভাবে এখানে মৌলিক উৎস ও অন্যান্য সহায়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
فمن المصادر: جامع البيان في تأويل آي القرآن لشيخ المفسرين الإمام الطبري، والوسيط في تفسير القرآن المجيد للواحدي، وتفسير القرآن العظيم لابن كثير، وجامع الأحكام للإمام القرطبي.

ومن المراجع: التحرير والتنوير لطاهر بن عاشور، والمنار لمحمد رشيد رضا، وفي ظلال القرآن لسيد قطب، وصفوة التفاسير للصابوني.

كما وقفت على أسباب نزول الآيات للتعرف على الأمور المتعلقة بها وذلك بالرجوع الى كتب هذا العلم ككتاب أسباب النزول للواحدي، ولباب النقول في أسباب النزول للسيوطي.

وبعد ذلك جمعت الأحاديث المتعلقة بذوي الاحتياجات الخاصة، والتي بينت فضلهم ومكانتهم، وما لهم وما عليهم، وعَنوَنتُ لها ورتبتها، واستخرجت بعض الفوائد منها، وجمعتها من أمهات كتب الحديث، كصحيح البخاري ومسلم ومسند الإمام أحمد وغيرها، وبينت معانيها من كتب شروح الحديث، كفتح الباري شرح صحيح البخاري لإبن حجر، وشرح النووي على صحيح مسلم، ومرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح للقاري وغيرها، وما بحثت عنه ولم أجده في الكتاب والسنة، بحثت عنه في الكتب الأخرى ككتب الفقه والسِّيَر والتاريخ وغيرها، فبينت مكانتهم في القرآن والسنة، وكيف أن الإسلام استطاع أن يؤهل ذوي الاحتياجات الخاصة ويرفع من قدرهم ومكانتهم، فلقد أنجَبَتْ الحضارة الإسلامية من هؤلاء أئمة ومفكرين وعلماء، حملوا مشعلها وَمَشَوْا بها عبر العصور والقرون، وجعلت في دراستي بعض القصص عن هؤلاء، لِمَا للقصص من أثر في نفس القارئ، فإن القصص تحيي القلوب وترفع من همم النفوس، ويمكن إجمال المنهج فيما يلي:

‌‌1. اتبع الباحث في كتابته للرسالة المنهج الاستنباطي الاستقرائي أولا، من خلال جمع النصوص المتعلقة بهذا الموضوع من القرآن والسنة.

‌‌2. الالتزام بترقيم الآيات الكريمة مضبوطة بالحركات وكتابتها بالرسم العثماني، وعزوها إلى سورها في جميع مواطن الرسالة وتوثيقها.

‌‌3. الالتزام بتخريج الاحاديث والحكم عليها قدر الإمكان، متمثلا بأقوال العلماء في ذلك.

‌‌4. الرجوع إلى المصادر والمراجع الأصيلة قديمها وحديثها.

‌‌5. إعداد فهارس البحث: فهرس الآيات القرآنية، الأحاديث النبوية، الأعلام المترجم لهم، المصادر والمراجع، فهرس الموضوعات.

‌‌6. تفصيل كل فئة على حده، ثم ربط كل فئة من ذوي الاحتياجات الخاصة بعضها ببعض.

‌‌7. بيان غريب المفردات والغامض من العبارات الواردة، بالرجوع إلى معاجم اللغة العربية.
উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে: ইমামুল মুফাসসিরিন ইমাম তাবারির ‘জামেউল বায়ান ফি তাউইলি আয়িল কুরআন’, ওয়াহিদির ‘আল-ওয়াসিত ফি তাফসিরিল কুরআনিল মাজিদ’, ইবনে কাসিরের ‘তাফসিরুল কুরআনিল আজিম’ এবং ইমাম কুরতুবির ‘জামেউল আহকাম’।

আর তথ্যসূত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে: তাহের বিন আশুরের ‘আত-তাহরির ওয়াত-তানভির’, মুহাম্মদ রশিদ রিদার ‘আল-মানার’, সাইয়্যেদ কুতুবের ‘ফি জিলালিল কুরআন’ এবং সাবুনির ‘সাফওয়াতুত তাফাসির’।

একইভাবে আয়াতসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানার জন্য আমি আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট বা শানে নুযূলের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি। এ লক্ষ্যে আমি এই শাস্ত্রের কিতাবসমূহের সাহায্য নিয়েছি, যেমন ওয়াহিদির ‘আসবাবুন নুযূল’ এবং সুয়ূতির ‘লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুযূল’।

এরপর আমি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্কিত হাদিসসমূহ সংগ্রহ করেছি, যা তাদের মর্যাদা ও অবস্থান এবং তাদের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ বর্ণনা করে। আমি এগুলোর শিরোনাম প্রদান করেছি, বিন্যস্ত করেছি এবং তা থেকে কিছু শিক্ষা আহরণ করেছি। আমি এসব হাদিস হাদিসের মূল কিতাবসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি, যেমন সহিহ বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে ইমাম আহমদ ইত্যাদি। আর হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে সেগুলোর অর্থ স্পষ্ট করেছি, যেমন ইবনে হাজারের ‘ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি’, সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং মোল্লা আলী কারীর ‘মিরকাতুল মাফাতিহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ’ ইত্যাদি। যেসব বিষয় আমি কুরআন ও সুন্নাহতে অনুসন্ধান করে পাইনি, সেগুলো ফিকহ, সিরাত, ইতিহাস ও অন্যান্য কিতাবে খুঁজেছি। ফলে আমি কুরআন ও সুন্নাহতে তাদের অবস্থান এবং ইসলাম কীভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যোগ্য করে গড়ে তুলেছে এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে তা বর্ণনা করেছি। ইসলামী সভ্যতা এমন অনেক ইমাম, চিন্তাবিদ এবং আলেম তৈরি করেছে যারা শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের আলো বহন করেছেন এবং যুগ যুগ ধরে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। পাঠকের মনে গল্পের প্রভাবের কথা বিবেচনা করে আমি আমার গবেষণায় তাদের সম্পর্কে কিছু কাহিনী অন্তর্ভুক্ত করেছি। কেননা কাহিনী অন্তরকে পুনর্জীবিত করে এবং মনের মনোবল বৃদ্ধি করে। গবেষণার পদ্ধতি সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:

‌‌১. গবেষক গবেষণাপত্রটি লেখার ক্ষেত্রে প্রথমেই কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এই বিষয়ক পাঠসমূহ সংগ্রহের মাধ্যমে আরোহী ও অবরোহী পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

‌‌২. পবিত্র আয়াতসমূহ হরকতসহ নির্ভুলভাবে উসমানি লিপিতে লেখা, সেগুলোর নম্বর প্রদান এবং গবেষণাপত্রের প্রতিটি স্থানে সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে যুক্ত করে তথ্যসূত্র নিশ্চিত করার নিয়ম রক্ষা করা হয়েছে।

‌‌৩. হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ করা এবং উলামায়ে কেরামের বক্তব্য অনুযায়ী যথাসম্ভব সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‌‌৪. প্রাচীন ও আধুনিক মৌলিক উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের ওপর নির্ভর করা হয়েছে।

‌‌৫. গবেষণার নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র তৈরি করা: কুরআনের আয়াত, হাদিস, জীবনীকারদের নাম, উৎস ও তথ্যসূত্র এবং বিষয়ভিত্তিক সূচিপত্র।

‌‌৬. প্রতিটি শ্রেণিকে পৃথকভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা এবং পরবর্তীতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতিটি শ্রেণির সাথে একে অপরের যোগসূত্র স্থাপন করা।

‌‌৭. আরবি অভিধানের সহায়তায় ব্যবহৃত শব্দাবলির মধ্য থেকে অপরিচিত ও অস্পষ্ট শব্দ ও বাক্যাংশের ব্যাখ্যা প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌خطة البحث

قمت بتقسيم الدراسة إلى مقدمه، وأربعة فصول، وخاتمة شاملة لأهم النتائج والتوصيات، ويتفرع عن كل فصل عدة مباحث، ويتفرع عن بعض المباحث مطالب فرعية، على النحو التالي:

الفصل الأول: مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة في اللغة والاصطلاح ومعانٍ ذات دلالة لمصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة.

المبحث الأول: مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة في اللغة.

المبحث الثاني: مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة في الاصطلاح.

المبحث الثالث: معانٍ ذات دلالة لمصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة.

الفصل الثاني: أنواع الإصابة وأسبابها عند ذوي الاحتياجات الخاصة.

المبحث الأول: أنواع الإصابة عند ذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الأول: الإصابة الحركية.

- المطلب الثاني: الإصابة الحسية.

- المطلب الثالث: الإصابة العقلية.

- المطلب الرابع: الإصابة التواصلية.

المبحث الثاني: أسباب الإصابة عند ذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الأول: الإصابة بسبب عامل وراثي.

- المطلب الثاني: إصابة الجنين أثناء الحمل أو الولادة.

- المطلب الثالث: الإصابة بسبب التعرض للحوادث.

- المطلب الرابع: الإصابة بسبب الإعتداء.

- المطلب الخامس: الإصابة بسبب القصاص في الجنايات.

- المطلب السادس: الإصابة بسبب ما ينتج عن الأمراض العضوية أو النفسية.

الفصل الثالث: ذوو الاحتياجات الخاصة في القرآن الكريم.

المبحث الأول: المصطلحات التي استخدمها القرآن الكريم للدلالة على ذوي الاحتياجات الخاصة.

المبحث الثاني: توجيه القرآن الكريم لذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الأول: هداية القرآن الكريم الى الطريق القويم.

- المطلب الثاني: أسس المجتمع الإسلامي في القرآن الكريم وعلاقتها بذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الثالث: المصيبة في الإيمان أعظم من مصائب الأبدان.

- المطلب الرابع: التقوى والإيمان أساس المفاضلة في القرآن الكريم.

- المطلب الخامس: ما أصاب ذوي الاحتياجات الخاصة فبقدر الله عزوجل.
গবেষণার রূপরেখা

আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশ সম্বলিত একটি বিস্তৃত উপসংহারে বিভক্ত করেছি। প্রতিটি অধ্যায় কয়েকটি পরিচ্ছেদে এবং কিছু পরিচ্ছেদ উপ-অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

প্রথম অধ্যায়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির ধারণা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি পরিভাষাটির তাৎপর্যপূর্ণ অর্থসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির ধারণা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি পরিভাষাটির তাৎপর্যপূর্ণ অর্থসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার ধরন ও তার কারণসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার ধরনসমূহ।

- প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: শারীরিক অক্ষমতা।

- দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ইন্দ্রিয়গত অক্ষমতা।

- তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: মানসিক অক্ষমতা।

- চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: যোগাযোগমূলক অক্ষমতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার কারণসমূহ।

- প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: বংশগত উপাদানের কারণে অক্ষমতা।

- দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: গর্ভাবস্থায় বা প্রসবকালীন সময়ে ভ্রূণের অক্ষমতা।

- তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার কারণে অক্ষমতা।

- চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: আক্রমণের শিকার হওয়ার কারণে অক্ষমতা।

- পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: ফৌজদারি অপরাধে কিসাস বা প্রতিবিধানমূলক শাস্তির কারণে অক্ষমতা।

- ষষ্ঠ উপ-অনুচ্ছেদ: শারীরিক বা মানসিক রোগ থেকে সৃষ্ট অক্ষমতা।

তৃতীয় অধ্যায়: পবিত্র কুরআনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বোঝাতে পবিত্র কুরআনে ব্যবহৃত পরিভাষাসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা।

- প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: সঠিক পথের দিকে পবিত্র কুরআনের হেদায়েত।

- দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ইসলামি সমাজের ভিত্তি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে তার সম্পর্ক।

- তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ঈমানের ক্ষেত্রে বিপদ শারীরিক বিপদের চেয়ে অনেক বড়।

- চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে শ্রেষ্ঠত্বের মূলভিত্তি হলো তাকওয়া ও ঈমান।

- পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যা কিছু ঘটে, তা মহান আল্লাহর নির্ধারণ অনুযায়ী হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
- المطلب السادس: عظم أجر الصابرين عند الله تعالى.

المبحث الثالث: مواقف خلدها القرآن الكريم لأناس من ذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الأول: موقف أيوب عليه السلام وصبره على الإبتلاء في جسده.

- المطلب الثاني: موقف يعقوب عليه السلام وصبره على الإبتلاء في بصره.

- المطلب الثالث: موقف شعيب عليه السلام وصبره على الإبتلاء بالعمى.

- المطلب الرابع: موقف موسى عليه السلام وصبره على الإبتلاء بعقدة اللسان.

- المطلب الخامس: موقف ضمرة بن العيص وصبره على الإبتلاء في بصره.

- المطلب السادس: موقف عمرو بن الجموح وصبره على الإبتلاء بالعرج.

- المطلب السابع: موقف عبد الله بن أُم مكتوم وصبره على الإبتلاء بالعمى.

- المطلب الثامن: موقف ثابت بن قيس وصبره على الإبتلاء بالصمم.

- المطلب التاسع: موقف معاذُ بْن جَبَلِ وصبره على الإبتلاء بالعرج.

- المطلب العاشر: موقف عبد الرحمن بن عوف وصبره على الإبتلاء بالعرج.

- المطلب الحادي عشر: موقف طلحة بن عبيد الله وصبره على الإبتلاء بشل يده.

المبحث الرابع: عناية القرآن الكريم بذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الأول: دمج ذوي الاحتياجات الخاصة في المجتمع وعدم النفور منهم.

- المطلب الثاني: احترام وتقدير ذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الثالث: حسن معاملة ذوي الاحتياجات الخاصة وتلبية مطالبهم.

- المطلب الرابع: استثناء القرآن الكريم لذوي الاحتياجات الخاصة من بعض التكاليف.

- المطلب الخامس: نزول قرآن بحق ذوي الاحتياجات الخاصة.

المبحث الخامس: حقوق ذوي الاحتياجات الخاصة في القرآن الكريم.

- المطلب الأول: حقهم في الحياة.

- المطلب الثاني: حقهم في الكرامة.

- المطلب الثالث: حقهم في الحرية.

- المطلب الرابع: حقهم في التعلم والتعليم.

- المطلب الخامس: حقهم في الكسب والتصرف والتملك.

- المطلب السادس: حقهم في العمل.

- المطلب السابع: حقهم المالي من مصارف الزكاة.

- المطلب الثامن: حقهم في الزواج والإنجاب.

الفصل الرابع: ذوو الاحتياجات الخاصة في السنة النبوية.

المبحث الأول: مكانة ذوي الاحتياجات الخاصة في السنة النبوية.
- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর নিকট ধৈর্যশীলদের পুরস্কারের মহিমা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের এমন কিছু অবস্থান যা পবিত্র কুরআন অমর করে রেখেছে।

- প্রথম পরিচ্ছেদ: আইয়ুব আলাইহিস সালামের অবস্থান এবং তাঁর শারীরিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইয়াকুব আলাইহিস সালামের অবস্থান এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শুয়াইব আলাইহিস সালামের অবস্থান এবং তাঁর অন্ধত্বের পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুসা আলাইহিস সালামের অবস্থান এবং তাঁর জিহ্বার জড়তার পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: দামরা ইবনুল আইস-এর অবস্থান এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: আমর ইবনুল জামুহ-এর অবস্থান এবং তাঁর ল্যাংড়াত্বের পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- সপ্তম পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম-এর অবস্থান এবং তাঁর অন্ধত্বের পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- অষ্টম পরিচ্ছেদ: সাবিত ইবনে কায়স-এর অবস্থান এবং তাঁর বধিরতার পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- নবম পরিচ্ছেদ: মুয়াজ ইবনে জাবাল-এর অবস্থান এবং তাঁর ল্যাংড়াত্বের পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- দশম পরিচ্ছেদ: আবদুর রহমান ইবনে আউফ-এর অবস্থান এবং তাঁর ল্যাংড়াত্বের পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

- একাদশ পরিচ্ছেদ: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ-এর অবস্থান এবং তাঁর হাত অবশ হওয়ার পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি পবিত্র কুরআনের যত্ন ও মনোযোগ।

- প্রথম পরিচ্ছেদ: সমাজে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং তাদের প্রতি অনীহা প্রদর্শন না করা।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে উত্তম আচরণ এবং তাদের দাবি পূরণ।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন কর্তৃক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের কিছু বিধিবিধান থেকে অব্যাহতি।

- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ে কুরআন নাজিল হওয়া।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার।

- প্রথম পরিচ্ছেদ: তাদের জীবনের অধিকার।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের মর্যাদার অধিকার।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের স্বাধীনতার অধিকার।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদের শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের অধিকার।

- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাদের উপার্জন, ব্যবস্থাপনা ও মালিকানার অধিকার।

- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাদের কর্মসংস্থানের অধিকার।

- সপ্তম পরিচ্ছেদ: জাকাতের খাতসমূহ থেকে তাদের আর্থিক অধিকার।

- অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাদের বিবাহ ও সন্তান লাভের অধিকার।

চতুর্থ অধ্যায়: সুন্নাহে নববীতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: সুন্নাহে নববীতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
- المطلب الأول: عناية الرسول صلى الله عليه وسلم بذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الثاني: مراعاة الرسول صلى الله عليه وسلم لقدرات الضعفاء.

- المطلب الثالث: رحمة النبي صلى الله عليه وسلم بذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الرابع: الرسول صلى الله عليه وسلم يوصي بذوي الاحتياجات الخاصة.

المبحث الثاني: توجيهات السنة النبوية لذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الأول: بشرى النبي صلى الله عليه وسلم لذوي الاحتياجات الخاصة.

- المطلب الثاني: العبرة بسلامة القلوب والسرائر لا بسلامة الأجساد والمظاهر.

- المطلب الثالث: توجيه السنة لذوي الاحتياجات الخاصة للإندماج في المجتمع.

- المطلب الرابع: البلاء يكشف عن معادن الرجال.

المبحث الثالث: شخصيات ذوو احتياجات خاصة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم خلدتهم السنة النبوية.

خاتمة البحث: وفيها أهم النتائج والتوصيات.
- প্রথম অনুচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ যত্ন।

- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দুর্বলদের সক্ষমতার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবেচনা।

- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রহমত।

- চতুর্থ অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যাপারে প্রদত্ত বিশেষ নির্দেশনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সুন্নাহর দিকনির্দেশনাসমূহ।

- প্রথম অনুচ্ছেদ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে সুসংবাদ।

- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মূল বিবেচ্য বিষয় হলো অন্তর ও অন্তরাত্মার বিশুদ্ধতা, দেহের সুস্থতা কিংবা বাহ্যিক অবয়ব নয়।

- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সমাজিক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি সুন্নাহর দিকনির্দেশনা।

- চতুর্থ অনুচ্ছেদ: বিপদ-আপদ মানুষের প্রকৃত গুণাগুণ উন্মোচন করে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে সেই সকল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, সুন্নাহ যাঁদের চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

গবেষণার উপসংহার: এতে রয়েছে প্রধান ফলাফলসমূহ এবং সুপারিশমালা।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الفصل الأول

مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة

في اللغة والاصطلاح

ومعانٍ ذات دلالة لمصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة

 

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

 

المبحث الأول - مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة في اللغة.

المبحث الثاني - مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة في الاصطلاح.

المبحث الثالث - معانٍ ذات دلالة لمصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة.
প্রথম অধ্যায়

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ধারণা

আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে

এবং 'বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি' পরিভাষাটির তাৎপর্যপূর্ণ অর্থসমূহ

 

এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ - আভিধানিক অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - পারিভাষিক অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ধারণা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ - 'বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি' পরিভাষাটির তাৎপর্যপূর্ণ অর্থসমূহ।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة

في اللغة والاصطلاح ومعانٍ ذات دلالة لمصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة

ما من مجتمع من المجتمعات قديما أو حديثا إلا وظهرت فيه مجموعة أو مجموعات من بني البشر، ابتلاهم الله سبحانه وتعالى بنقص أو ضعف في أجسادهم أو عقولهم أو حواسهم، ابتلاءً لهم من جهةٍ وليختبر بهم غيرهم من جهة أخرى، فلا بد للمجتمع من رعاية هذه الفئة الضعيفة ومعرفة قدرها، ولقد أُفردت في القرآن الكريم والسنة النبوية نصوصٌ بَيَّنت قَدر ومكانة هذه الفئة وما لها وما عليها، ونظراً لِأهمية هذا الموضوع فقد رأيت أن أُلقي الضوء عليه من خلال هذه الدراسة، والتي لا بد أن أمهد لها ببيان مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة في اللغة والاصطلاح، فجاء هذا الفصل في مباحث ثلاثة:

•‌‌ المبحث الأول- مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة في اللغة:

لكل كلمة من كلمات اللغة العربية أصلٌ في اللغة، فلا بد من الرجوع الى معاجم اللغة للتعرف على اصلها وإستيضاح مدلولها، وفي هذا المبحث نستوضح معنى ذوي الاحتياجات الخاصة في اللغة.

ذوو بمعنى أصحاب، مفردها "ذو الذي بمعنى صاحِبٍ"، (1) فذوو الاحتياجات، أي أصحاب الاحتياجات، والاحتياجات جمع إحتياج كما جاء في معجم مقاييس اللغة: وهو ما يفتقر اليه الإنسان ويطلبه. (2)

وجاء في قاموس اللغة العربية المعاصر: "أحوجَ يُحوج، إحواجًا، فهو مُحوِج، والمفعول مُحوَج "للمتعدِّي"، أحوج الشَّخصُ: افتَقَر وصار ذا حاجة "أحوج بعد يُسرٍ"، أحوج الأمرُ فلانًا إلى كذا: أحوج الأمرُ فلانًا لكذا: جعله مفتقرًا إليه". (3)

وجاء في المعجم الوسيط: الاحتياجات جمع حاجة، يقال حاج حوجاً أي افتقر، ويقال أحوج إليه أي جعله محتاجا إليه، وتحوّج أي طلب الحاجة.

وأما كلمة الخاصة: الخاصة: هم خلاف العامة، والذي تخصه لنفسك، وخاصة الشيء أي ما يختص به دون غيره، ويقال اختص أي افتقر إلى شيء. (4)

بناء على ما سبق من المعاني اللغوية يتبين ان ذوي الاحتياجات الخاصة فئة من الناس يفتقرون الى بعض الامور فيطلبونها، أو تطلب لهم ليحققوا ما يحتاجون اليه.

--------------------------------------------

(1) - الجوهري، ابو نصر اسماعيل بن حماد الجوهري، (توفي: 393 هـ)، الصحاح تاج اللغة وصحاح العربية، تحقيق احمد عبد الغفور عطار، بيروت، دار العلم للملايين، ط 4، 1467 هـ-1987 م، ج 6، ص 2551.

‌‌(2) - انظر؛ ابن فارس، أبو الحسين أحمد بن زكرياء القزويني الرازي، (توفي: 395 هـ)، معجم مقاييس اللغة، تحقيق عبد السلام محمد هارون، دار الفكر، ج 1، ص 577.

‌‌(3) - عمر، د أحمد مختار عبد الحميد، (توفي: 1424 هـ) بمساعدة فريق عمل، معجم اللغة العربية المعاصر، عالم الكتب، ط 1، 1429 هـ - 2008 م ج 1، ص 577.

‌‌(4) - انظر؛ أنيس، إبراهيم، ومؤلفون، المعجم الوسيط، بيروت، دار إحياء التراث العربي، ط 2، ج 1، ص 204، 230.
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ধারণা

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি পরিভাষাটির শাব্দিক, পারিভাষিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ অর্থসমূহ

প্রাচীন বা আধুনিক কোনো সমাজই এমন নয় যেখানে এক বা একাধিক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেনি, যাদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের শরীর, বুদ্ধি বা ইন্দ্রিয়গত কোনো ত্রুটি বা দুর্বলতার মাধ্যমে পরীক্ষা করেছেন। এটি একদিকে তাদের জন্য পরীক্ষা এবং অন্যদিকে তাদের মাধ্যমে অন্যদের যাচাই করা। তাই সমাজের উচিত এই দুর্বল শ্রেণির যত্ন নেওয়া এবং তাদের গুরুত্ব অনুধাবন করা। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যা এই শ্রেণির মর্যাদা, অবস্থান এবং তাদের অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্ট করেছে। এই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে এর ওপর আলোকপাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর উপক্রমণিকা হিসেবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের শাব্দিক ও পারিভাষিক ধারণা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাই এই অধ্যায়টি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে:

•‌‌ প্রথম পরিচ্ছেদ- বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের শাব্দিক ধারণা:

আরবি ভাষার প্রতিটি শব্দেরই একটি ভাষাগত মূল রয়েছে। এর মূল উৎস এবং অর্থ স্পষ্টভাবে জানার জন্য অভিধানের সাহায্য নেওয়া অপরিহার্য। এই পরিচ্ছেদে আমরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের শাব্দিক অর্থ বিশ্লেষণ করব।

'যাউ' (ذوو) অর্থ অধিকারী বা মালিক, এর একবচন হলো 'যু' (ذو), যার অর্থ অধিকারী। (১) সুতরাং বিশেষ চাহিদার অধিকারী বা 'যাউল ইহতিয়াজাত' অর্থ অভাবী বা প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি। 'ইহতিয়াজাত' শব্দটি 'ইহতিয়াজ' এর বহুবচন, যেমনটি 'মাকায়িসুল লুগাহ' অভিধানে এসেছে: এটি এমন বিষয় যা মানুষের প্রয়োজন হয় এবং সে তা অনুসন্ধান করে। (২)

আধুনিক আরবি ভাষার অভিধানে (মু’জামুল লুগাতিল আরাবিয়্যাতিল মুআসির) বলা হয়েছে: "আহওয়াজা-ইউহউইজু-ইহওয়াজান", তিনি অভাবী এবং যাকে অভাবী করা হয়েছে। 'আহওয়াজাশ শাখসু' অর্থ ব্যক্তিটি দরিদ্র হয়েছে এবং অভাবী হয়ে পড়েছে। 'আহওয়াজাল আমরু ফুলানান ইলা কাযা' অর্থ বিষয়টি অমুক ব্যক্তিকে অমুক জিনিসের অভাবী করে তুলেছে। (৩)

'আল-মু’জামুল ওয়াসিত'-এ এসেছে: 'ইহতিয়াজাত' হলো 'হাজাহ' শব্দের বহুবচন। বলা হয় 'হাজা-হাওজান' অর্থাৎ সে অভাবী হয়েছে। আর 'আহওয়াজা ইলাইহি' অর্থ তাকে তার মুখাপেক্ষী করে তুলেছে। 'তাহাওওয়াজা' অর্থ প্রয়োজন তালাশ করা।

আর 'খাসসাহ' (الخاصة) শব্দটি 'আম্মাহ' (সাধারণ) এর বিপরীত। যা আপনি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেন। কোনো বিষয়ের 'খাসসাহ' হলো সেই বৈশিষ্ট্য যা অন্য কিছুর মধ্যে নেই। 'ইখতাসসা' অর্থ কোনো বিষয়ের মুখাপেক্ষী হওয়া। (৪)

উপরের ভাষাগত অর্থসমূহের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট হয় যে, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা হলেন মানুষের এমন একটি গোষ্ঠী যারা কিছু বিষয়ের অভাব বোধ করেন এবং সেগুলো অনুসন্ধান করেন, অথবা তাদের পক্ষ থেকে সেগুলো চাওয়া হয় যাতে তারা তাদের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) - আল-জাওহারি, আবু নাসর ইসমাইল বিন হাম্মাদ আল-জাওহারি, (মৃত্যু: ৩৯৩ হিজরি), আস-সিহাহ তাজুল লুগাহ ওয়া সিহাহুল আরাবিয়্যাহ, তাহকিক: আহমদ আব্দুল গফুর আত্তার, বৈরুত, দারুল ইলম লিল-মালাঈন, ৪র্থ সংস্করণ, ১৪৬৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৫৫১।

‌‌(২) - দেখুন; ইবনে ফারিস, আবুল হুসাইন আহমদ বিন জাকারিয়া আল-কাযউইনি আর-রাজি, (মৃত্যু: ৩৯৫ হিজরি), মু’জামু মাকায়িসিল লুগাহ, তাহকিক: আব্দুস সালাম মুহাম্মদ হারুন, দারুল ফিকর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৭৭।

‌‌(৩) - উমর, ড. আহমদ মুখতার আব্দুল হামিদ, (মৃত্যু: ১৪২৪ হিজরি) এবং একটি গবেষক দল, মু’জামুল লুগাতিল আরাবিয়্যাতিল মুআসির, আলমুল কুতুব, ১ম সংস্করণ, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৭৭।

‌‌(৪) - দেখুন; আনিস, ইব্রাহিম ও অন্যান্য লেখকবৃন্দ, আল-মু’জামুল ওয়াসিত, বৈরুত, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, ২য় সংস্করণ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৪, ২৩০।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
•‌‌ المبحث الثاني- مفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة في الاصطلاح.

بعد أن عَرَفنا مصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة في اللغة بقي أن نتعرف على مدلوله من جهة الاصطلاح.

هناك علاقة بين المعنى اللغوي والاصطلاحي لمفهوم ذوي الاحتياجات الخاصة، فهم مجموعات من أفراد المجتمع يُقصِّرون عن مستوى الأفراد العاديين، الأمر الذي يتطلب الرعاية الخاصة بهم بما يتناسب مع قدراتهم وإمكاناتهم وظروفهم الخاصة، حتى يمكن الوصول بهم إلى مستوى أفضل من التوافق الشخصي، أو النفسي، أو الاجتماعي. (1)

فذوو الاحتياجات الخاصة: "هم أفراد يعانون نتيجة عوامل وراثية أو بيئية مكتسبة، من قصور القدرة على تَعلُّم أو اكتساب خبرات أو مهارات وأداء أعمال، يقوم بها الفرد العادي السليم المماثل لهم في العمر.

وهناك تعريف آخر لذوي الاحتياجات الخاصة: وهو يعني أن في المجتمع أفرادا لهم احتياجات خاصة تختلف عن احتياجات باقي أفراد المجتمع، وتتمثل هذه الاحتياجات في برامج أو خدمات أو أجهزة أو تعديلات، وتحدد طبيعة هذه الاحتياجات، الخصائص التي يتسم بها كل فرد منهم". (2)

" وقد اتفق المشاركون في المؤتمر القومي الأول للتربية الخاصة عام (1995 م) على استخدام مصطلح الاطفال ذوي الاحتياجات الخاصة، ويقصد به الفرد الذي يحتاج طوال حياته أو خلال فترة من حياته الى صفات خاصة، كي ينمو أو يتعلم أو يتدرب أو يتوافق مع متطلبات حياته، اليومية أو الأسرية أو الوظيفية أو المهنية.

يمكن تعريف ذوي الاحتياجات الخاصة على أنهم الافراد الذين يعانون من اضطرابات خاصة، يمكن تشخيصها بأساليب علمية، في مرحلة المهد والطفولة والمراهقة". (3)

بناء على ما سبق من التعريفات اللغوية والاصطلاحية يتبين ان ذوي الاحتياجات الخاصة، اذا ما قورنوا بغيرهم من أهل العافية، فسيظهر عندهم نقص كلي أو جزئي في أطرافهم، أو عقولهم، أو حواسهم، بسبب عامل وراثي أو بيئي مكتسب، فهم بذلك تكون لهم قدرات وإمكانات تختلف عن أهل العافية في التعليم والعمل واكتساب المهارات والخبرات، لأنهم يفتقرون الى بعض الاحتياجات، وتتمثل هذه الاحتياجات في برامج أو أجهزة أو تعديلات بيئية.

--------------------------------------------

(1) - انظر؛ غباري، محمد سلامه، رعاية الفئات الخاصة، الإسكندرية، المكتب الجامعي الحديث، 2003 م، ص 13.

‌‌(2) - http://ejabat.google.com

‌‌(3) - ابراهيم، د. مجدي عزيز، مناهج تعليم ذوي الاحتياجات الخاصة، القاهرة، مكتبة الانجلو المصرية، ص 63، 64.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ- পারিভাষিক অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ধারণা.

আভিধানিক অর্থে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি পরিভাষাটি জানার পর, এখন পারিভাষিক দিক থেকে এর তাৎপর্য জানা বাকি রয়েছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ধারণার আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে; তারা সমাজের এমন একদল ব্যক্তি যারা সাধারণ ব্যক্তিদের মান থেকে পিছিয়ে রয়েছে, যার ফলে তাদের সক্ষমতা, সম্ভাবনা ও বিশেষ পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়, যাতে তাদেরকে ব্যক্তিগত, মানসিক বা সামাজিক অভিযোজনের একটি উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। (১)

সুতরাং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হলেন: "এমন ব্যক্তি যারা বংশগত কারণ বা অর্জিত পরিবেশগত প্রভাবের ফলে শিক্ষা গ্রহণ, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা অর্জন এবং এমন কাজ সম্পাদনে অক্ষমতায় ভোগেন, যা তাদের সমবয়সী একজন সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি অনায়াসেই করতে পারে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আরও একটি সংজ্ঞা রয়েছে: এর অর্থ হলো সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যাদের বিশেষ কিছু প্রয়োজন রয়েছে যা সমাজের অন্যান্য সদস্যদের প্রয়োজন থেকে ভিন্ন। এই প্রয়োজনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি, সেবা, সরঞ্জাম বা সংস্কারের মাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং এই প্রয়োজনগুলোর প্রকৃতিই তাদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দেয়"। (২)

"১৯৯৫ সালে বিশেষ শিক্ষার প্রথম জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা 'বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু' পরিভাষাটি ব্যবহারের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এর দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যার সারা জীবন অথবা জীবনের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে বিকাশ লাভ, শিক্ষা গ্রহণ, প্রশিক্ষণ গ্রহণ অথবা তার দৈনিক, পারিবারিক, দাপ্তরিক বা পেশাগত জীবনের চাহিদার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন হয়।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এভাবেও সংজ্ঞায়িত করা যায় যে, তারা এমন ব্যক্তি যারা বিশেষ কিছু ব্যাধিতে আক্রান্ত, যা শৈশব, বাল্যকাল ও কৈশোরের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব"। (৩)

উপরোক্ত আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞাসমূহের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট হয় যে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যদি সুস্থ ব্যক্তিদের সাথে তুলনা করা হয়, তবে বংশগত বা পরিবেশগত কারণে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বুদ্ধি বা ইন্দ্রিয়শক্তিতে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ঘাটতি পরিলক্ষিত হবে। ফলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সুস্থ ব্যক্তিদের চেয়ে ভিন্নতর হয়; কারণ তাদের কিছু বিশেষ চাহিদার প্রয়োজন থাকে এবং এই চাহিদাগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি, সরঞ্জাম বা পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

--------------------------------------------

(১) - দেখুন; গুবরি, মুহাম্মদ সালামাহ, রিআয়াতুল ফিয়াতিল খাসসাহ (বিশেষ শ্রেণির যত্ন), আলেকজান্দ্রিয়া, আল-মাকতাবুল জামিয়ুল হাদিস, ২০০৩ খ্রি., পৃ. ১৩।

‌‌(২) - http://ejabat.google.com

‌‌(৩) - ইবরাহিম, ড. মাজদি আজিজ, মানাহিজু তালীমি যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ (বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষাক্রম), কায়রো, মাকতাবাতুল আংলো আল-মিসরিয়্যাহ, পৃ. ৬৩, ৬৪।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
•‌‌ المبحث الثالث- معانٍ ذاتُ دلالة لمصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة.

لا شك أن مصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة، هو أفضل المصطلحات المستخدمة للتعريف بهذه الفئة من الناس، لأنه لا يترك أثراً سلبياً على نفسية صاحب الحاجة الخاصة، ومن يحيط به عند استخدامه، بخلاف المصطلحات الأخرى، التي درجت بين الناس كالمعاق، والعاجز، وأصحاب العاهات، فإنها تترك أثرَاً سلبيا على نفسية صاحب الحاجة الخاصة، أو من يحيط به، وهذا يخالف مقاصد الشريعة الإسلامية التي من مقاصدها حفظ النفس، فبناءً عليه لا يصح إيذاؤها بفعل أو كلمة أو إشارة.

ونجد القرآن الكريم قد راعى هذا الجانب النفسي، قال تعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ (155) الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ (156)} [البقرة: (156)]

والصبر على ثلاثة أنواع، صبر على الطاعة، وصبر عن المعصية، وصبر على الابتلاء.

" فالصبر ترك الشكوى، والصبر حَدُّهُ ألا تعترض على التقدير، فأما إظهار البلوى على غير وجه الشكوى فلا ينافي الصبر". (1)

وقوله تعالى: {مُّصِيبَةٌ} أي كل ما يؤذي المؤمن ويصيبه، فتضمنت الآيتين الكريمتين ثناءَ الله تعالى على أصحاب الاحتياجات الخاصة "المصابين"، وامتَدَحهُم بصفة الصبر إن هم سَلَّموا أمرهم الى الله تعالى واسترجعوا، ولم يذكر صفة تؤذيهم في مشاعرهم وأحاسيسهم، مع أن مِنْ بينهم مَنْ فَقَدَ رِجله أو يده أو سمعه أو بصره، وقد أكد الله تعالى على هذا المعنى في آيات كثيرة، وفي السنة النبوية ما يدل على هذا المعنى:

"فعن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم رجع من غزوة تبوك فدنا من المدينة فقال: (إن بالمدينة أقواما ما سرتم مسيرا ولا قطعتم واديا إلا كانوا معكم قالوا يا رسول الله وهم بالمدينة؟ ، قال وهم بالمدينة حبسهم العذر). (2) فنجد النبي صلى الله عليه وسلم قد أطلق عليهم مصطلح أصحاب الأعذار ولم يسمهم بتسمية سلبية كمصطلح العجزة، فالعاجز من أَتبع نفسه هواها وإن كانت اعضاؤه وحواسه سليمه، وجسمه قوي، فهذا هو العاجز الذي عجز أمام هواه، ولم يطلق عليهم المعاقين أو المُعَوَّقين فالمُعاق بالحقيقة من أعاقه عقله عن اتباع الحق والهدى.

--------------------------------------------

(1) - القرطبي، أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين (توفى: 671 هـ)، الجامع لأحكام القرآن، تحقيق: أحمد البردوني وإبراهيم أطفيش، القاهرة، دار الكتب المصرية، ط 2، 1384 هـ-1964 م، ج 2، ص 174.

‌‌(2) - البخاري، محمد بن إسماعيل أبو عبدالله الجعفي، صحيح البخاري، (الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه)، تخقيق محمد زهير بن ناصر الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، ط 1، 1422 هـ، كتاب المغازي، باب، ج 6، ص 8، حديث رقم 4423.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি পরিভাষাটির তাৎপর্যপূর্ণ অর্থসমূহ.

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি' পরিভাষাটি এই শ্রেণীর লোকদের পরিচিতি প্রদানের জন্য ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম। কারণ, এটি ব্যবহারের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তার চারপাশের লোকদের মানসিকতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। পক্ষান্তরে মানুষের মাঝে প্রচলিত অন্যান্য পরিভাষা যেমন— পঙ্গু, অক্ষম ও বিকলাঙ্গ— এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার আশপাশের লোকদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি ইসলামী শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপন্থী; যার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জান বা প্রাণের সুরক্ষা। সুতরাং, সেই অনুযায়ী কোনো কাজ, কথা বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে তাদের কষ্ট দেওয়া বৈধ নয়।

আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র কুরআন এই মনস্তাত্ত্বিক দিকটি বিবেচনা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। (১৫৫) যারা তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে বলে, ‘নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’ (১৫৬)" [সূরা আল-বাকারাহ: ১৫৬]

ধৈর্য তিন প্রকার: আনুগত্যের ওপর ধৈর্য, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ওপর ধৈর্য এবং পরীক্ষার ওপর ধৈর্য।

"ধৈর্য হলো অভিযোগ বর্জন করা। ধৈর্যের সীমা হলো তাকদীরের ওপর কোনো আপত্তি না করা। তবে অভিযোগের উদ্দেশ্য ছাড়া বিপদের কথা প্রকাশ করা ধৈর্যের পরিপন্থী নয়।" (১)

আল্লাহ তাআলার বাণী: {বিপদ} অর্থাৎ মুমিনকে কষ্ট দেয় এবং তার ওপর আপতিত হয় এমন সবকিছু। সুতরাং এই পবিত্র আয়াত দুটিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের (বিপদগ্রস্তদের) প্রতি মহান আল্লাহর প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তারা যদি তাদের বিষয়গুলো আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে এবং ইন্নালিল্লাহ পাঠ করে, তবে আল্লাহ তাদের ধৈর্যের গুণের প্রশংসা করেছেন। তিনি এমন কোনো গুণের কথা উল্লেখ করেননি যা তাদের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত দেয়, যদিও তাদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারে যে তার পা বা হাত অথবা শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। মহান আল্লাহ অনেক আয়াতে এই অর্থের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সুন্নাতে নববীতেও এমন বিষয় রয়েছে যা এই অর্থের প্রমাণ দেয়:

"আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে মদীনার নিকটবর্তী হলেন, তখন বললেন: (মদীনায় এমন কিছু লোক আছে, তোমরা যে পথেই চলেছ এবং যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছ, তারা তোমাদের সাথেই ছিল। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি মদীনায় থাকা সত্ত্বেও? তিনি বললেন, তারা মদীনায় থাকা সত্ত্বেও; ওজর বা সংগত কারণ তাদের আটকে রেখেছিল)। (২) এখানে আমরা দেখি যে, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের 'ওজরওয়ালা' পরিভাষাটি দিয়েছেন এবং 'অক্ষম' বা 'নিঃস্ব'-এর মতো কোনো নেতিবাচক নামে ডাকেননি। প্রকৃতপক্ষে অক্ষম তো সেই ব্যক্তি যে তার কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, যদিও তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়সমূহ সুস্থ এবং শরীর শক্তিশালী হয়। সেই হলো প্রকৃত অক্ষম যে তার প্রবৃত্তির কাছে হার মেনেছে। তিনি তাদের 'প্রতিবন্ধী' বা 'বাধাপ্রাপ্ত' বলেননি; কারণ প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী তো সেই ব্যক্তি যার বিবেক তাকে সত্য ও হেদায়েত অনুসরণ থেকে বাধা প্রদান করে।"

--------------------------------------------

(১) - কুরতুবী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবি বকর বিন ফারাহ আল-আনসারী আল-খাজরাজী শামসুদ্দিন (মৃত্যু: ৬৭১ হিজরী), আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, সম্পাদনা: আহমদ আল-বারদুনি ও ইব্রাহিম আতফিশ, কায়রো, দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ, ২য় সংস্করণ, ১৩৮৪ হিজরী-১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ, ২য় খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা।

‌‌(২) - বুখারী, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আবু আব্দুল্লাহ আল-জুফি, সহীহ বুখারী, (আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহীহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি), সম্পাদনা: মুহাম্মদ যুহাইর বিন নাসের আন-নাসের, দার তুউন নাজাত (সুলতানিয়া সংস্করণের প্রতিলিপি, মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর নম্বর সংযোজনসহ), ১ম সংস্করণ, ১৪২২ হিজরী, কিতাবুল মাগাযী, অনুচ্ছেদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নম্বর ৪৪২৩।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال تَعَالَى: {لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا … (79)} [الأعراف: 179]، قال ابن كثير: يعني: ليس ينتفعون بشيءٍ مِن هذه الجوارح الَّتي جعلها الله سببا للهداية.

وكما قال تعالى في آية أُخرى: {وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَأَبْصَارًا وَأَفْئِدَةً فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَا أَبْصَارُهُمْ وَلَا أَفْئِدَتُهُم مِّن شَيْءٍ إِذْ كَانُوا يَجْحَدُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِءُونَ (26)} [الْأَحْقَافِ: 26]

وَقَالَ تَعَالَى: {صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ (18)} [البقرة: 18] هذا في حقِّ المُنافقين، وقال في حقِّ الكافرِين: { … صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ (171)} [الْبَقَرَةِ: 171] ولم يكونوا صما بُكما عُميا إِلا عن الهدى، كما قال تعالى: {وَلَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِيهِمْ خَيْرًا لَّأَسْمَعَهُمْ وَلَوْ أَسْمَعَهُمْ لَتَوَلَّوا وَّهُم مُّعْرِضُونَ (23)} [الأنفال: 23] ". (1)

وأرى أنه*:

ما فاقدُ السَّمعِ والإبصارِ نَحسبُهُ … بين المعاقين أو مِنْ فَقْدِ أطرافِ

إن المُعاقَ الذي ضاعت بَصيرته … مع الإرادة والله هو الكافي

 

وقد أُطلق مصطلح المعاقين على ذوي الاحتياجات الخاصة، من بعض أُناس من ذوي العافية والصحة دون أن يقدِّروا أبعاد هذا المصطلح على من أطلقوه عليه، ولو أن أحداً من هؤلاء الذين أَطلَقوا هذا المصطلح أُصيب في أحد أطرافه، أو إحدى حواسه، ثم أُطلِق عليه هذا المصطلح فإنه لا يرضى بذلك.

وأما كلمة "المعوِقين" التي وردت في القرآن الكريم، واحتج بها بعض مَنْ تَبَنّوا إطلاق مصطلح المعاقين على ذوي الاحتياجات الخاصة، فهذا فهم غير صحيح، فقد جاءت بصيغة الذم للمثبطين عن القتال.

قال تعالى: {قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنكُمْ وَالْقَائِلِينَ لِإِخْوَانِهِمْ هَلُمَّ إِلَيْنَا وَلَا يَأْتُونَ الْبَأْسَ إِلَّا قَلِيلًا (18)} [الأحزاب: 18].

"والمُعوِّقين جمع مُعَوِّق، وهو من يَكثر منه العَوْق وهو المنع من العمل والحيلولة دونه، والصيغة صيغة مبالغة نحو طوّف وسمّع، فالمعوِقين أي المثبطين عن القتال والمُخَذِّلين، بما يقولونه سرا في صفوف المؤمنين كالطابور الخامس في الحروب". (2)

--------------------------------------------

(1) - ابن كثير، اأبي الفدا إسماعيل بن عمر ابن كثير الدمشقي، (توفي 774 هـ)، تفسير القرآن العظيم، تحقيق محمد حسين شمس الدين، بيروت، دار الكتب العلمية، ط 1، 1419 هـ، ج 3، 463 - 464.

* صياغة: الأستاذ أحمد أبو الوفا، شاعر ومدرس متقاعد من بلدة السيلة الحارثية قضاء جنين.

‌‌(2) - أبو بكر الجزائري، جابر، أيسر التفاسير لكلام العلي الكبير، بيروت، دار الفكر، 1996 م، ج 4، ص 254.
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের হৃদয় রয়েছে যা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ রয়েছে যা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান রয়েছে যা দিয়ে তারা শোনে না … (১৭৯)} [আল-আরাফ: ১৭৯], ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ: তারা সেই সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করে না যা আল্লাহ হেদায়েতের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

যেমনটি আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেছেন: {এবং আমি তাদের দিয়েছিলাম কান, চোখ ও হৃদয়; কিন্তু তাদের কান, চোখ ও হৃদয় তাদের কোনো কাজে আসেনি যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছিল এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করত তা-ই তাদেরকে পরিবেষ্টন করল (২৬)} [আল-আহকাফ: ২৬]

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা বধির, মূক ও অন্ধ, তাই তারা ফিরে আসবে না (১৮)} [আল-বাকারাহ: ১৮] এটি মুনাফিকদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আর কাফিরদের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: { … বধির, মূক ও অন্ধ, তাই তারা বোঝে না (১৭১)} [আল-বাকারাহ: ১৭১]। তারা কেবল হেদায়েতের পথ থেকেই বধির, মূক ও অন্ধ ছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ জানতেন তবে অবশ্যই তাদেরকে শোনাতেন, আর যদি তিনি তাদেরকে শোনাতেন তবুও তারা মুখ ফিরিয়ে নিত এবং বিমুখ হয়ে থাকত (২৩)} [আল-আনফাল: ২৩]।" (১)

আর আমি মনে করি যে*:

শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিহীন ব্যক্তিকে আমরা প্রতিবন্ধী বা অঙ্গ হারানোদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি না …

প্রকৃত প্রতিবন্ধী তো সেই যার সদিচ্ছার সাথে অন্তর্দৃষ্টিও বিলুপ্ত হয়েছে, আর আল্লাহই (সহায় হিসেবে) যথেষ্ট …

 

সুস্থ ও সবল কিছু মানুষ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওপর 'প্রতিবন্ধী' পরিভাষাটি প্রয়োগ করেছেন, এই শব্দের ব্যাপ্তি তাদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা বিবেচনা না করেই। অথচ এই পরিভাষা যারা ব্যবহার করেন তাদের কেউ যদি নিজে কোনো অঙ্গে বা ইন্দ্রিয়শক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হতেন এবং তারপর তাকে এই নামে ডাকা হতো, তবে তিনি তা কখনোই মেনে নিতেন না।

আর পবিত্র কুরআনে যে "মুআউউইকীন" শব্দটি এসেছে, যার মাধ্যমে কেউ কেউ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের 'প্রতিবন্ধী' ডাকার পক্ষে যুক্তি দেন, তাদের এই বুঝ সঠিক নয়। কারণ এটি যুদ্ধে নিরুৎসাহিতকারীদের নিন্দাস্বরূপ এসেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে তাদের যারা বাধা প্রদানকারী এবং যারা তাদের ভাইদের বলে, 'আমাদের কাছে এসো'। তারা সামান্যই যুদ্ধে লিপ্ত হয় (১৮)} [আল-আহজাব: ১৮]।

"'মুআউউইকীন' হলো 'মুআউউইক'-এর বহুবচন, এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার থেকে অধিক পরিমাণে 'আওক' বা কাজে বাধা প্রদান ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কাজ প্রকাশ পায়। এটি আধিক্যবোধক রূপ, যেমন 'তাওয়াফ' ও 'সাম্মা'। সুতরাং 'মুআউউইকীন' অর্থ হলো যুদ্ধে নিরুৎসাহিতকারী ও মনোবল বিনষ্টকারী, যারা যুদ্ধের ময়দানে মুমিনদের কাতারে গোপনে পঞ্চম বাহিনীর ন্যায় বিভ্রান্তিকর কথা ছড়িয়ে দেয়।" (২)

--------------------------------------------

(১) - ইবনে কাসীর, আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী, (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি), তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, তাহকীক: মুহাম্মদ হুসাইন শামসুদ্দিন, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি, খণ্ড ৩, ৪৬৩ - ৪৬৪।

* কাব্যরূপ: উস্তাদ আহমদ আবু আল-ওয়াফা, কবি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সিলাতুল হারিসিয়া, জেনিন।

‌‌(২) - আবু বকর আল-জাযায়েরি, জাবের, আইসারুত তাফাসীর লি কালামিল আলিয়্যিল কাবীর, বৈরুত, দারুল ফিকর, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৫৪।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
"إن مصطلح ذوي الاحتياجات الخاصة أو الفئات الخاصة* هو أفضل وأعم من مصطلح المعاقين، لأن مصطلح معاقين يدل على الإعاقة الاجتماعية لفئات مثل: المجرمين الكبار، والمسجونين، والأحداث، المشردين، والمجانين، والمدمنين". (1)

والأولى بنا أن نختار المصطلحات والأسماء التي لها معان حسنة وآثار ايجابية، كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعل ذلك، كما في اطلاق اسم المدينة المنورة على يثرب.

"عن ابي هريرةَ رضي الله عنه قال: قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أُمرتُ بقرية تأكلُ القُرى*، يقولونَ يثرِب، وهي المدينة، تنفي الناس كما ينفي الكير خبث الحديد) ". (2) فرسول الله صلى الله عليه وسلم غيَّر اسم يثرب الى اسم المدينة لأن اسم يثرب يعطي معنى سلبيا فيثرب من التثريب وهو الملامة والتوبيخ.

(فروي عن عائشة رضي الله عنها، أَن النبي صلى الله عليه وسلم، كان يغير الاسم القبيح). (3)

" (وعن أُسامة بن أَخدري، أَن رجلا من بني شَقِرة يقال له أَصْرَمُ، كان في النفر الذين أتو النبي صلى الله عليه وسلم، فأتاه بغلام له حبشي اشتراه بتلك البلاد، فقال يا رسول الله اني اشتريت هذا فأحببت أن تسميه وتدعو له بالبركة، قال: ما اسمك؟ قال: أَصْرَمُ. قال: أنت زرعة) ". (4)

قلت: إِنما غير اسم الأصرم، لأَن معنى الصرم القطيعة، فكره لهذا، وغير النبي صلى الله عليه وسلم اسم العاص وعزيزا وعتلة وشيطانا والحكم وغرابا وحبابا وشهابا، فَسماهُ هشاما، وسمى حَربًا سلما، وسمى المضطجع المنبعث، وأَرض تسمى عفره سماها خضره، وشعب الضلالة سماهم بني الرشد، وسمى بني مغواه بني رشد. (5)

 

ومما اشتهر بين أفراد المجتمع الإسلامي، أنهم كانوا ينادون أصحاب الاحتياجات الخاصة بنقيض ما أصيبوا به مراعاة لمشاعرهم وأحاسيسهم، فيقولون عن الأعمى: فلان البصير، قال تعالى: { … فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِن تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ (46)} [الحج: 46]

--------------------------------------------

(1) - أبو النصر، مدحت محمد، تأهيل ورعاية متحدي الإعاقة، مصر الجديدة، ايترك للنشر والتوزيع، ط 1، 2004 م، ص 8.

*- ورد مصطلح الفئات الخاصة بدل ذوي الاحتياجات الخاصة في كتاب الإعاقة الجسمية للمؤلف ننفسه.

‌‌(2) - البخاري، صحيح البخاري، (الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه)، كتاب فضائل المدينة، باب فضل المدينة وأنها تنفي الناس، ج 3، ص 20، حديث رقم 18071.

‌‌(3) - الترمذي، ابو عيسى محمد بن عيسى بن سورة بن موسى بن الضحاك، (توفي: 279 هـ)، سنن الترمذي، تحقيق: أحمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وابراهيم عطوة عوض، مصر، شركة مكتبة ومطبعة مصطفي البابي الحلبي، ط 2، 1395 هـ-1975 م، أبواب الأدب، باب ما جاء في تغيير الأسماء، ج 5، ص 135، حديث رقم 2839، حكم الألباني صحيح.

*"أمرت بقرية": أي أمرت بالهجرة الى المدينة، "تأكل القُرى": أي تغلبها وتظهر عليها. (المباركفوري، أبو الحسن عبد الله بن محمد عبد السلام بن خان، (توفي: 1414 هـ)، مراعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، بنارس-الهند، ادارة البحوث العلمية والدعوة والاقتناء-الجامعة السلفية، ط 3، 1404 هـ-1948 م، ج 9، ص 529.)

‌‌(4) - الحاكم، أبو عبد الله الحاكم محمد بن عبد الله بن محمد بن حمدويه بن نُعيم بن الحكم الضبي الطهماني النيسابوري، (توفى: 405 هـ)، المستدرك على الصحيحين، تحقيق مصطفى عبد القادر عطا، بيروت، دار الكتب العلمية، ط 1، 1411 هـ-1990 م، كتاب الأدب، باب وأما حديث سالم بن عبيد النخعي في هذا الباب، ج 4، ص 307، حديث رقم 7729، تعليق الذهبي عل الحديث صحيح.

‌‌(5) - انظر؛ البغوي، أبو محمد الحسين بن مسعود بن محمد بن الفراء، (توفي: 516 هـ)، شرح السنة، كتاب الاستئذان، باب تغيير الأسماء، تحقيق شعيب الأرنؤوط، ومحمد زهير الشاويش، دمشق، وبيروت، المكتب الإسلامي للنشر، ط 2، 1403 هـ - 1983 م، ج 12، ص 343.
"বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি বা বিশেষ শ্রেণি পরিভাষাটি প্রতিবন্ধী পরিভাষার চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক। কারণ প্রতিবন্ধী পরিভাষাটি বড় অপরাধী, কারাবন্দী, কিশোর অপরাধী, ছিন্নমূল, উন্মাদ এবং মাদকাসক্তদের মতো শ্রেণির সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকেও নির্দেশ করে।" (১)

এবং আমাদের জন্য এমন পরিভাষা ও নাম নির্বাচন করা অধিক সমীচীন যার অর্থ সুন্দর ও প্রভাব ইতিবাচক। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন, যেমন ইয়াসরিবের নাম পরিবর্তন করে মদীনা মুনাওয়ারা রাখা।

"আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমাকে এমন এক জনপদের হিজরত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা অন্যান্য জনপদকে গ্রাস করবে*, মানুষ তাকে ইয়াসরিব বলে থাকে, অথচ তা হলো মদীনা; তা মানুষকে সেভাবেই পরিচ্ছন্ন করে যেভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে)।" (২) সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াসরিবের নাম পরিবর্তন করে মদীনা রেখেছিলেন কারণ ইয়াসরিব শব্দটি নেতিবাচক অর্থ বহন করে। ইয়াসরিব শব্দটি 'তাসরীব' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ তিরস্কার ও ভর্ৎসনা।

(আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ নাম পরিবর্তন করে দিতেন)। (৩)

" (উসামা বিন আখদারী থেকে বর্ণিত যে, বনী শাকুরা গোত্রের আসরাম নামক এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমনকারী দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি নবীজির কাছে তার নিজের এক হাবশী গোলামকে নিয়ে আসলেন যাকে তিনি সেই অঞ্চলে কিনেছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি একে ক্রয় করেছি এবং চাচ্ছি যে আপনি তার একটি নাম রাখবেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করবেন। নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমার নাম কী? সে বলল: আসরাম। নবীজি বললেন: তুমি বরং যুরআ)।" (৪)

আমি বলছি: আসরামের নাম পরিবর্তনের কারণ হলো 'সারাম' শব্দের অর্থ বিচ্ছেদ বা ছিন্ন হওয়া, তাই তিনি এটি অপছন্দ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আস, আযীয, আতলাহ, শয়তান, হাকাম, গুরাব, হুবাব এবং শিহাব নামগুলো পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি শিহাবের নাম পরিবর্তন করে হিশাম রেখেছিলেন, হারব (যুদ্ধ) নাম পরিবর্তন করে সালম (শান্তি) রেখেছিলেন, মুজতাজি' (শায়িত) নাম পরিবর্তন করে মুনবাইস (জাগ্রত) রেখেছিলেন। আফরাহ নামক একটি ভূমির নাম রেখেছিলেন খাদরাহ (সবুজ)। শ'বে দলালাহ (পথভ্রষ্টতার উপত্যকা) নাম পরিবর্তন করে বনী রুশদ রেখেছিলেন এবং বনী মাগওয়াহ এর নাম পরিবর্তন করে বনী রুশদ রেখেছিলেন। (৫)

 

ইসলামী সমাজের সদস্যদের মধ্যে এটি প্রসিদ্ধ ছিল যে, তারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য রেখে তাদের অসুস্থতা বা অক্ষমতার বিপরীত নামে ডাকতেন। যেমন অন্ধ ব্যক্তিকে তারা বলতেন: অমুক 'আল-বাসির' (দৃষ্টিমান)। মহান আল্লাহ বলেন: { … নিশ্চয়ই চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়। (৪৬)} [আল-হাজ্জ: ৪৬]

--------------------------------------------

(১) - আবু নাসর, মিদহাত মুহাম্মাদ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের পুনর্বাসন ও যত্ন, মিসরে জাদিদাহ, ইতরুক পাবলিকেশন্স, ১ম সংস্করণ, ২০০৪ ইং, পৃ. ৮।

*- একই লেখকের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বিষয়ক বইয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির পরিবর্তে বিশেষ শ্রেণি পরিভাষাটি এসেছে।

‌‌(২) - বুখারী, সহীহ বুখারী, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়াদি, সুন্নাত ও ঘটনাবলীর সংক্ষিপ্ত সহীহ মুসনাদ সংকলন), মদীনার ফযীলত অধ্যায়, মদীনার শ্রেষ্ঠত্ব এবং তা মানুষকে পরিচ্ছন্ন করে অনুচ্ছেদ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২০, হাদীস নং ১৮০৭১।

‌‌(৩) - তিরমিযী, আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মুসা ইবনে দাহহাক, (মৃত্যু: ২৭৯ হিজরী), সুনানে তিরমিযী, তাহকীক: আহমাদ শাকির, মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী ও ইব্রাহীম আতওয়া আওয়াদ, মিশর, শিরকাত মাকতাবাত ওয়া মাতবাআত মুস্তাফা আল-বাবী আল-হালাবী, ২য় সংস্করণ, ১৩৯৫ হি.-১৯৭৫ ইং, আদব অধ্যায়, নাম পরিবর্তন বিষয়ক অনুচ্ছেদ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১৩৫, হাদীস নং ২৮৩৯, আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ।

*"আমাকে একটি জনপদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে": অর্থাৎ আমাকে মদীনার দিকে হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। "যা অন্য সব জনপদকে গ্রাস করবে": অর্থাৎ তা সেগুলোর ওপর বিজয়ী হবে এবং সেগুলোর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে। (মুবারকপুরী, আবুল হাসান আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আব্দুস সালাম ইবনে খান, (মৃত্যু: ১৪১৪ হিজরী), মিরাতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতিল মাসাবীহ, বেনারস-ভারত, ইদারাতুল বুহুসিল ইলমিয়্যাহ, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৪ হি.-১৯৪৮ ইং, ৯ম খণ্ড, পৃ. ৫২৯।)

‌‌(৪) - হাকিম, আবু আব্দুল্লাহ হাকিম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হামদুয়াহ ইবনে নুয়াইম ইবনে হাকাম আদ-দব্বী আত-তহমানী আন-নিশাপুরী, (মৃত্যু: ৪০৫ হিজরী), আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, তাহকীক: মুস্তাফা আব্দুল কাদির আতা, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১১ হি.-১৯৯০ ইং, আদব অধ্যায়, এই বিষয়ে সালিম ইবনে উবাইদ আন-নাখয়ী-এর হাদীস অনুচ্ছেদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩০৭, হাদীস নং ৭৭২৯, যাহাবীর মন্তব্য অনুসারে হাদীসটি সহীহ।

‌‌(৫) - দেখুন; বাগভী, আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফারা, (মৃত্যু: ৫১৬ হিজরী), শারহুস সুন্নাহ, অনুমতি প্রার্থনা অধ্যায়, নাম পরিবর্তন অনুচ্ছেদ, তাহকীক: শুআইব আল-আরনাউত ও মুহাম্মাদ যুহাইর আশ-শাভীশ, দামেস্ক ও বৈরুত, আল-মাকতাব আল-ইসলামী, ২য় সংস্করণ, ১৪০৩ হি. - ১৯৮৩ ইং, ১২তম খণ্ড, পৃ. ৩৪৩।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولا زالت بعض البلاد العربية كالعراق مثلا تستخدم كلمة البصير للدلالة على الكفيف. وفي هذا الاستعمال ما يوحي بأن الناس يستعملونها بقصد الايماء بأن الكفيف رغم أنه فقد بصره، فبصيرته متفتحة (1).

وينادون المشلول يا غلام، أي: يا صاحب النشاط والحركة كالغلام، " ويُقَال لمن لدغه ذَوَات السمُوم سليم على معنى التفاؤل بسلامته" (2).

وكان العرب قبل الاسلام يحرصون على الأسماء التي فيها التفاؤل ويبتعدون عن الأسماء السلبية، قال الأصمعيّ: "إِنما سُمِّي اللّديغ سَليماً لأنهم تَطَيَّروا من اللّدِيغ، فقلبوا المعنى، كما قالوا للحبَشي: أَبو البيضاء، وكما قالوا للفلاة: مَفازَة، تفاءلوا بالفوز وهي مَهلَكة". (3)

ولا زال مِن المسلمين مَن يستخدم هذه المصطلحات، فَيُسمون المراكز والمؤسسات التي تُعنى برعاية هذه الفئة من الناس أسماء ايجابية، فالمركز الذي يرعى الجانب الحركي يطلقون عليه مركز الإرادة، ومركز النور لرعاية الجانب البصري، ومركز الأمل للأمراض المستعصية، وذلك دعما لمعنوياتهم، ورفعا لهممهم، وتفاؤلا بمعافاتهم.

فهذا أطيب لقلوبهم وأزكى لنفوسهم، فهم بذلك يدركون أن من حولهم يقدرون ذواتهم التي خلقها الله، وصورها كيفما شاء، قال تعالى: {هُوَ الَّذِي يُصَوِّرُكُمْ فِي الْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (6)} [آل. عمران: 6].

وقال تعالى: {الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ (7) فِي أَيِّ صُورَةٍ مَّا شَاءَ رَكَّبَكَ (8)} [الانفطار: 8]

--------------------------------------------

(1) - انظر؛ ابراهيم، د. مجدي عزيز، مناهج تعليم ذوى الاحتياجات الخاصة، القاهره، مكتبة الأنجلو المصرية، 2003 م، ص 489.

‌‌(2) - أبو الفضل، عياض بن موسى بن عياض بن عمرو اليحصبي السبتي، (توفي: 544 هـ)، مشارق الأنوار على صحاح الآثار، المكتبة العتيقة ودار التراث، ج 2، ص 218.

‌‌(3) - الأزهري، أبو منصور محمد بن أحمد، (توفي: 370 هـ)، تهذيب اللغة، تحقيق محمد عوض مرعب، بيروت، دار إحياء التراث العربي، ط 1، 2001 م، ج 12، ص 311.
ইরাকের মতো কিছু আরব দেশে এখনও অন্ধ ব্যক্তিকে বোঝাতে 'আল-বাসীর' (দৃষ্টিসম্পন্ন) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ইঙ্গিত করা হয় যে, একজন অন্ধ ব্যক্তি তার দৃষ্টিশক্তি হারালেও তার অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত (১)।

তারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে 'ইয়া গোলাম' (হে কিশোর) বলে সম্বোধন করে, অর্থাৎ: কিশোরের মতো প্রাণশক্তি ও চঞ্চলতার অধিকারী। আবার বিষধর প্রাণীর দংশন পাওয়া ব্যক্তিকে তার সুস্থতার শুভ কামনায় 'সালীম' (সুস্থ) বলা হয় (২)।

ইসলামপূর্ব আরবরা শুভ কামনামূলক নামের প্রতি আগ্রহী ছিল এবং নেতিবাচক নাম পরিহার করত। আসমায়ি বলেন: "দংশিত ব্যক্তিকে 'সালীম' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা দংশিত হওয়ার বিষয়টিকে অশুভ মনে করত, তাই তারা অর্থটিকে উল্টে দিয়েছে। যেমন তারা হাবশীকে (কৃষ্ণাঙ্গ) 'আবু আল-বায়দা' (শ্বেতপিতার অধিকারী) বলত এবং নির্জন মরুপ্রান্তরকে 'মাফাযাহ' (সাফল্যের স্থান) বলত। তারা একে ধ্বংসের স্থান হওয়া সত্ত্বেও সাফল্যের আশা করে এই নামকরণ করেছিল" (৩)।

এখনও মুসলমানদের মধ্যে অনেকে এই পরিভাষাগুলো ব্যবহার করেন। তারা এই শ্রেণীর মানুষের সেবায় নিয়োজিত কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক নামকরণ করেন। শারীরিক চলনশক্তি বিষয়ক কেন্দ্রকে তারা 'মারকাযুল ইরাদাহ' (ইচ্ছাশক্তি কেন্দ্র), দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক কেন্দ্রকে 'মারকাযুন নূর' (আলোর কেন্দ্র) এবং দুরারোগ্য ব্যাধির কেন্দ্রকে 'মারকাযুল আমাল' (আশার কেন্দ্র) বলে অভিহিত করেন। এটি করা হয় তাদের মনোবল বৃদ্ধি, হিম্মত বাড়ানো এবং তাদের সুস্থতার ব্যাপারে শুভাশা ব্যক্ত করার জন্য।

এটি তাদের হৃদয়ের জন্য অধিক প্রীতিকর এবং তাদের আত্মার জন্য অধিক পবিত্র। এর মাধ্যমে তারা উপলব্ধি করতে পারে যে, তাদের চারপাশের মানুষ তাদের সেই সত্তাকে মূল্যায়ন করছে যাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং যেভাবে চেয়েছেন আকৃতি দান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে যেভাবে ইচ্ছা আকৃতি দান করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৬)} [আলে ইমরান: ৬]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন (৭)। তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামতো যেকোনো আকৃতিতে গঠন করেছেন (৮)} [আল-ইনফিতার: ৭-৮]

--------------------------------------------

(১) - দেখুন; ইব্রাহিম, ড. মাজদি আজিজ, মানাহিজু তালীমি যাউয়িল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ (বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের শিক্ষাদান পদ্ধতি), কায়রো, মাকতাবাতুল আংলো আল-মিসরিয়্যাহ, ২০০৩ খ্রি., পৃ. ৪৮৯।

‌‌(২) - আবুল ফজল, আইয়াদ বিন মুসা বিন আইয়াদ বিন আমর আল-ইয়াহসুবি আস-সাবতি, (মৃত্যু: ৫৪৪ হি.), মাশারিকুল আনোয়ার আলা সিহাহিল আসার, আল-মাকতাবাতুল আতিকাহ ওয়া দারুত তুরাস, খণ্ড ২, পৃ. ২১৮।

‌‌(৩) - আল-আজহারি, আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন আহমদ, (মৃত্যু: ৩৭০ হি.), তাহযিবুল লুগাহ, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আওয়াদ মুরাব, বৈরুত, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, ১ম সংস্করণ, ২০০১ খ্রি., খণ্ড ১২, পৃ. ৩১১।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الثاني

 

أنواع الإصابة وأسبابها عند ذوي الاحتياجات الخاصة

 

ويشتمل على مبحثين:

 

• المبحث الأول- أنواع الاصابة عند ذوي الاحتياجات الخاصة.

 

• المبحث الثاني- أسباب الاصابة عند ذوي الاحتياجات الخاصة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার ধরন ও তার কারণসমূহ

 

এটি দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

 

• প্রথম অনুচ্ছেদ- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার ধরন।

 

• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার কারণসমূহ।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أنواع الإصابة وأسبابها عند ذوي الاحتياجات الخاصة

يختلف تصنيف الإصابة عند ذوي الاحتياجات الخاصة باختلاف نوعها، إذ هم يختلفون فيما بينهم في كثير من النواحي، فهم ليسوا مجموعة واحدة متجانسة، وفي هذا الفصل أُبين اختلاف ذوي الاحتياجات الخاصة فيما يتعلق بالإصابة وأسبابها، وأسوقها في مبحثين:

•‌‌ المبحث الأول- أنواع الإصابة عند ذوي الاحتياجات الخاصة.

ما من فرد من أفراد ذوي الاحتياجات الخاصة، إلا ويعاني من إصابة ما، وفي هذا المبحث أبين هذه الاصابات وأنواعها في مطالب أربعة:

‌‌المطلب الأول- الاصابة الحركية.

المطلب الثاني- الاصابة الحسية.

المطلب الثالث- الاصابة العقلية.

المطلب االرابع- الاصابة التواصلية

• المطلب الأول الإصابة الحركية:

الاصابة الحركية عند ذوي الاحتياجات الخاصة يمكن إجمالها بأربعة فئات:

أ. … المُقعَدين، و"المُقعَد: هو الذي لا يقدر على القيام، لزمانة* بِه، كأَنه قد أُلزم القعود"، (1) ويعاني المُقعَدون من عيوب خَلْقِية أو مكتسبة تعجز فيها العضلات أو العظام أو المفاصل عن القيام بوظيفتها الطبيعية، وتؤثر في استخدامه لأطرافه وعضلاته، ومن أسباب هذه الإصابة شلل الأطفال، والشلل التشنجي، والإصابات الخلقية، وأمراض القلب، والحوادث وغيرها (2).

ب. … مبتوري الاطراف أو بعضها، يقال بتَر عضوًا: قطعه، استأصله، نزعه (3). والبتر إما أن يكون في الأطراف الأربعة، أو في بعضها كبتر ثلاثة أطراف أو طرفين أو طرف أو جزءا من طرف.

ج. الأقزام، والقزم هو ضئيل الْجِسْمْ قصير الْقَامَة (4)، ولا يصل طول الفرد الى 90 سم مهما كان عمره الزمني، ويتميز أفراد هذه الفئة ببعض الصفات منها تخلف عقلي أحياناً، حيث أن بعضهم لا يزيد مستوى الذكاء عنده عن مستوى البلهاء والمعتوهين، ويتميزون كذلك بالكسل والخمول، وتأخر في الحركة والجلوس. (5)

--------------------------------------------

(1) - ابن الأثير، مجد الدين أبو السعادات المبارك بن محمد بن محمد بن عبد الكريم الشيباني الجزري، (توفي: 606 هـ)، النهاية في غريب الحديث والأثر، تحقيق طاهر أحمد الزاوى ومحمود محمد الطناحي، بيروت، المكتبة العلمية، 1399 هـ -1979 م، ج 4، ص 86.

* وَرَجُلٌ زَمِنٌ أَي مُبْتَلىً بَيِّنُ الزَّمانة. والزَّمانة: الْعَاهَةُ. (ابن منظور، أبو الفضل جمال الدين محمد بن مكرم الانصاري الرويفعي الافريقي، (توفي: 711)، لسان العرب، بيروت، دار صادر، ط 3، 1414 هـ لسان العرب، ج 13، ص 199).

‌‌(2) - انظر؛ رشوان، د. حسين عبد الحميد احمد، الاعاقة والمعوقون، المكتب الجامعي الحديث، 2009 م، ص 105.

‌‌(3) - انظر؛ د. احمد مختار، معجم اللغة العربية المعاصر، ج 1، ص 157.

‌‌(4) - مصطفى، ابراهيم، والزيات، أحمد، وآخرون (مجمع اللغة العربية)، المعجم الوسيط، القاهرة، دار الدعوة، ج 2، ص 733.

‌‌(5) - انظر؛ رشوان، د. حسين عبد الحميد، الاعاقة والمعوقون، ص 126.
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার ধরণ ও এর কারণসমূহ

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ তাদের ধরণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়, কারণ তারা নিজেদের মধ্যে অনেক দিক থেকেই একে অপরের চেয়ে আলাদা। তারা কোনো একটি সুসংহত বা একজাতীয় গোষ্ঠী নয়। এই পরিচ্ছেদে আমি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতা ও এর কারণসমূহের ভিন্নতা তুলে ধরব এবং তা দুটি অনুচ্ছেদে বর্ণনা করব:

•‌‌ প্রথম অনুচ্ছেদ- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অক্ষমতার ধরণসমূহ।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যে কোনো না কোনো অক্ষমতায় ভুগছে না। এই অনুচ্ছেদে আমি এই অক্ষমতা ও তার ধরণগুলো চারটি উপ-অনুচ্ছেদে বর্ণনা করব:

‌‌প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ- শারীরিক অক্ষমতা।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ- ইন্দ্রিয়গত অক্ষমতা।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ- মানসিক অক্ষমতা।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ- যোগাযোগমূলক অক্ষমতা।

• প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: শারীরিক অক্ষমতা:

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শারীরিক অক্ষমতাকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

ক. … পঙ্গু: "পঙ্গু (আল-মু'কাদ) হলো সেই ব্যক্তি, যে দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে দাঁড়াতে অক্ষম, যেন তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে"। (১) পঙ্গু ব্যক্তিরা জন্মগত বা অর্জিত ত্রুটিতে ভোগেন, যার ফলে পেশি, হাড় বা জয়েন্টগুলো তাদের স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না এবং এটি তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও পেশি ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলে। এই অক্ষমতার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পোলিও, স্পাস্টিক পক্ষাঘাত, জন্মগত ত্রুটি, হৃদরোগ, দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য। (২)

খ. … হাত-পা বা এর অংশবিশেষ বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি: বলা হয় কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা মানে তা কেটে ফেলা, উপড়ে ফেলা বা অপসারণ করা (৩)। এই বিচ্ছিন্নকরণ চার হাত-পায়ের ক্ষেত্রে হতে পারে, অথবা কিছু অংশের ক্ষেত্রে হতে পারে, যেমন তিনটি অঙ্গ বা দুটি অঙ্গ বা একটি অঙ্গ অথবা কোনো একটি অঙ্গের অংশবিশেষ বিচ্ছিন্ন হওয়া।

গ. বামন বা খর্বাকৃতি: বামন হলো এমন ব্যক্তি যার শরীর খুবই ছোট এবং উচ্চতা কম (৪)। কালানুক্রমিক বয়স যাই হোক না কেন, এই শ্রেণির ব্যক্তির উচ্চতা ৯০ সেন্টিমিটারের বেশি হয় না। এই শ্রেণির ব্যক্তিদের কিছু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে কখনো কখনো মানসিক প্রতিবন্ধকতা, কারণ তাদের কারো কারো বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর নির্বোধ বা জড়বুদ্ধিসম্পন্নদের স্তরের চেয়ে বেশি হয় না। তারা অলসতা ও অসারতা এবং চলাফেরা ও বসার ক্ষেত্রে ধীরগতির জন্যও পরিচিত। (৫)

--------------------------------------------

(১) - ইবনুল আসীর, মাজদুদ্দীন আবুল সা'দাত আল-মুবারক বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারিম আশ-শাইবানি আল-জাজারি, (মৃত্যু: ৬০৬ হিজরি), আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, তাহকিক: তাহের আহমদ আজ-জাভি ও মাহমুদ মুহাম্মাদ আত-তানাহি, বৈরুত, আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ, ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮৬।

* দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি। আর 'যামানাহ' হলো শারীরিক ত্রুটি বা ব্যাধি। (ইবনে মঞ্জুর, আবুল ফজল জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন মাকরাম আল-আনসারি আল-রুয়াইফি আল-ইফ্রিকি, (মৃত্যু: ৭১১), লিসানুল আরব, বৈরুত, দারু সাদির, ৩য় সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি, লিসানুল আরব, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ১৯৯)।

‌‌(২) - দেখুন; রাশওয়ান, ড. হুসাইন আব্দুল হামিদ আহমদ, আল-ইআকাহ ওয়াল মুআক্কুন (অক্ষমতা ও প্রতিবন্ধী), আল-মাকতাব আল-জামি' আল-হাদিস, ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১০৫।

‌‌(৩) - দেখুন; ড. আহমদ মুখতার, মু'জামুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ আল-মুআসির, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৭।

‌‌(৪) - মুস্তফা, ইব্রাহিম, এবং আয-যায়্যাত, আহমদ ও অন্যান্য (মাজমাউল লুগাতিল আরবিয়্যাহ), আল-মু'জামুল ওয়াসিত, কায়রো, দারুদ দাওয়াহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৩৩।

‌‌(৫) - দেখুন; রাশওয়ান, ড. হুসাইন আব্দুল হামিদ, আল-ইআকাহ ওয়াল মুআক্কুন, পৃষ্ঠা ১২৬।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
د. … الشلل الدماغي وهو "خلل ناتج عادة من تلف دماغيّ يحدث قبل الولادة أو أثناءَها، يتّسم بإصابة عضليَّة، وعدم القدرة على الضَّبط والتَّحكُّم في وظائف المخّ. (1)

" وتصنف حالات الشلل طبقا للطرف المصاب، وتشمل:

‌‌1 - الشلل المنفرد أو الأحادي، ويكون في طرف واحد.

‌‌2 - الشلل النصفي "شلل الجانب الواحد"، وهو يصيب جانباً واحداً من الجسم.

‌‌3 - الشلل الثلاثي: وهو يصيب ثلاثة أطراف، عادة الساقان وأحد الذراعين.

‌‌4 - الشلل الكلي النصفي: وفيه تتأثر الأطراف الأربعة، وتكون الساقين أشد.

‌‌5 - الشلل النصفي: وتحدث الإصابة في الساقين فقط.

‌‌6 - الشلل المزدوج الرباعي: في الاطراف الأربعة إلا أن الإصابة في أحد جانبي الجسم تكون أشد من الجانب الآخر". (2)

 

•‌‌ المطلب الثاني الإصابة الحسية:

وهي إصابة حاستي السمع أو البصر، كأن يصاب السمع بالصمم وهو "انسداد الأذن وثقل السمع" (3).

ويغطي مصطلح القصور السمعي مدى واسعاً من درجات فقدان السمع، يتراوح بين الصمم او الفقدان الشديد الذي يحد من عملية تعلم الكلام واللغة، والفقدان الخفيف الذي لا يحد من استخدام الاذن في السمع وتعلم الكلام واللغة (4).

وصنف العلماء الصمم الى ثلاثة أنواع، وهي:

- الصمم الفطري الولادي: وهم الذين وُلِدوا صُمّاً.

- الصمم المكتسب: وهم الذين فقدوا حاسة السمع بسبب حادث او مرض.

- ضعاف السمع او المصابين بصعوبة في السمع: وهم الذين لديهم إحساس سمعي ناقص قد يكتمل وظيفته باستخدام السماعة (5).

وأما اصابة حاسة البصر، إما أن يكون بالعمى او بالضعف، فالعمى هو "ذهاب البصر من العينين كلتيهما" (6).

أما الضعف البصري فيعني ببساطة: الرؤية الأقل من الرؤية العادية، والتشخيص الذي يعده طبيب العيون أو الاخصائي في أمراض العيون، يؤكد ان الرؤية العادية توصف بـ"20\ 20"،

--------------------------------------------

(1) انظر؛ د أحمد مختار، معجم اللغة العربية المعاصرة، ج 1، ص 769.

‌‌(2) - رشوان، د. حسين عبد الحميد، الاعاقة والمعوقون ص 104.

‌‌(3) - الزبيدي، محمد بن محمد بن عبد الرزاق الحسيني، (الملقب بمرتضى الزبيدي، توفي: 205 هـ) تاج العروس من جواهر القاموس، تحقيق مجموعة من المحققين، دار الهداية، ج 32، ص 523.

‌‌(4) - انظر؛ عبد الغفار، أ. د. أحلام رجب، الرعاية التربوية لذوي الاحتياجات الخاصة، دار الفجر للنشر والتوزيع، ط 1، 2003 م، ص 111.

‌‌(5) - انظر؛ رشوان، د. حسين عبد الحميد، الاعاقة والمعوقون، ص 115.

‌‌(6) - ابن فارس، معجم مقاييس اللغة، ج 4، ص 136.
ড. … সেলেব্রাল পালসি বা মস্তিস্কের পক্ষাঘাত হলো "সাধারণত জন্মপূর্ববর্তী বা প্রসবকালীন মস্তিস্কের কোনো ক্ষতির ফলে সৃষ্ট একটি ত্রুটি, যা পেশির আঘাত এবং মস্তিস্কের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় অক্ষমতা দ্বারা চিহ্নিত হয়। (১)

" আক্রান্ত অঙ্গের ওপর ভিত্তি করে পক্ষাঘাতের অবস্থাকে নিম্নোক্তভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়:

‌‌১ - একক বা মনোপ্লেজিয়া, যা শরীরের একটি অঙ্গে হয়ে থাকে।

‌‌২ - হেমিপ্লেজিয়া বা "শরীরের অর্ধাংশের পক্ষাঘাত", এটি শরীরের এক পাশের অংশকে আক্রান্ত করে।

‌‌৩ - ট্রিপ্লেজিয়া: এটি তিনটি অঙ্গকে আক্রান্ত করে, সাধারণত দুই পা এবং একটি হাত।

‌‌৪ - সর্বাঙ্গীণ হেমিপ্লেজিয়া: এতে চারটি অঙ্গই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পায়ে এর তীব্রতা বেশি থাকে।

‌‌৫ - প্যারা প্লেজিয়া: এতে কেবল দুই পা আক্রান্ত হয়।

‌‌৬ - ডাবল হেমিপ্লেজিয়া বা দ্বৈত চতুর্ভুজ পক্ষাঘাত: এতে চারটি অঙ্গই আক্রান্ত হয়, তবে শরীরের এক পাশের আঘাত অন্য পাশের চেয়ে বেশি তীব্র হয়।" (২)

 

•‌‌ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইন্দ্রিয়গত আঘাত বা ত্রুটি:

এটি হলো শ্রবণ বা দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি, যেমন শ্রবণশক্তি বধিরতার শিকার হওয়া, যার অর্থ হলো "কানের ছিদ্র বন্ধ হওয়া এবং শ্রবণে ভারী অনুভব করা" (৩)।

শ্রবণশক্তির স্বল্পতা বা ত্রুটি শব্দটি শ্রবণশক্তি হারানোর বিভিন্ন মাত্রাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা পূর্ণ বধিরতা বা গুরুতর শ্রবণহানি (যা কথা বলা ও ভাষা শেখার প্রক্রিয়াকে সীমিত করে) থেকে শুরু করে মৃদু শ্রবণহানি (যা কানে শ্রবণ এবং কথা ও ভাষা শেখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে না) পর্যন্ত বিস্তৃত (৪)।

বিজ্ঞানীরা বধিরতাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো:

- জন্মগত বধিরতা: যারা বধির হয়ে জন্মগ্রহণ করেছে।

- অর্জিত বধিরতা: যারা কোনো দুর্ঘটনা বা রোগের কারণে শ্রবণশক্তি হারিয়েছে।

- শ্রবণ প্রতিবন্ধী বা শ্রবণে জটিলতায় আক্রান্ত: যাদের শ্রবণ অনুভূতি অপূর্ণ, যা হিয়ারিং এইড বা শ্রবণযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পূর্ণতা পেতে পারে (৫)।

আর দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি হয় অন্ধত্ব অথবা দৃষ্টির ক্ষীণতার মাধ্যমে। অন্ধত্ব হলো "উভয় চোখ থেকেই দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়া" (৬)।

আর দৃষ্টির ক্ষীণতা বলতে সহজভাবে বোঝায়: সাধারণ দৃষ্টিশক্তির চেয়ে কম দেখা। চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা চক্ষু রোগের বিশেষজ্ঞের দেওয়া রোগনির্ণয় অনুযায়ী স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তিকে "২০\ ২০" হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন; ড. আহমদ মুখতার, মু'জামুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ আল-মু'আসিরাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৬৯।

‌‌(২) - রশওয়ান, ড. হুসাইন আবদুল হামিদ, আল-ই'আকাহ ওয়াল মু'আক্কুন (প্রতিবন্ধিতা ও প্রতিবন্ধী), পৃষ্ঠা ১০৪।

‌‌(৩) - আয-যাবীদী, মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রাজ্জাক আল-হুসাইনী, (মৃত্যু: ২০৫ হিজরি) তাজুল আরূস মিন জাওয়াহিরিল কামূস, একদল গবেষক কর্তৃক সম্পাদিত, দারুল হিদায়াহ, খণ্ড ৩২, পৃষ্ঠা ৫২৩।

‌‌(৪) - দেখুন; অধ্যাপক ড. আহলাম রাজাব আবদুল গাফফার, আর-রি'আইয়াতুত তারবিওয়্যাহ লিযাবিল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ (বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষাগত যত্ন), দারুল ফজর প্রকাশনী, ১ম সংস্করণ, ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১১১।

‌‌(৫) - দেখুন; রশওয়ান, ড. হুসাইন আবদুল হামিদ, আল-ই'আকাহ ওয়াল মু'আক্কুন, পৃষ্ঠা ১১৫।

‌‌(৬) - ইবনে ফারিস, মু'জামু মাকাইয়িসিল লুগাহ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩৬।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وهذا مقياس لحدة الرؤية، يعني ان الفرد يستطيع أن يرى جيدا عند 20 قدما، فاذا كان الشخص لديه حدة بصر "20\ 40" فإن ذلك يعبر عن ضعف متوسط في الرؤية، وهذا الفرد يستطيع أن يرى عند 20 قدما ما يعتاد ان يرى عند 40 قدما، أما ضعف الرؤية الملحوظ فيكون "20\ 200" فالشخص الذي لديه مثل هذه الرؤية الضعيفة يعتبر كفيفا.

ومجال الرؤية المحدودة هو نوع آخر من الضعف البصري، فعند النظر أماما يكون لدى معظم الناس اقصى رؤية في مجال 180 درجة، وإذا أدّى سبب ما الى تقليل مجال الرؤية الى (20) فإن الشخص في هذه الحالة يعد كفيفا، ولكن لا يزال لديه بعض الرؤية، وإذا كان الشخص لا يرى على الإطلاق فسوف يعتبر كفيفا بشكل كلي (1)، جاء في معجم اللغة العربية المعاصر "كُفَّ بَصرُه: كَفَّ، فقد حاسّةَ الإبصار". (2)

 

•‌‌ المطلب الثالث الاصابة العقلية: وهي على ثلاثة انواع:

النوع الاول الجنون.

النوع الثاني السفه.

النوع الثالث العته.

أما الجنون فهو إصابة العقل، جاء في معجم اللغة العربية المعاصر: "يقال جُنَّ الرجلُ: زال عقله" (3)، والجنون قسمان جنون مطبق وجنون غير مطبق، فالمطبق هو الملازم الممتد وأما غير المطبق فهو الطارئ غير الملازم (4)، وأما السفه فيكون لمن كان في عقله شيء، جاء في معجم تاج العروس، "السفيه: خفيف العقل"، (5) وأما العته فجاء في الموسوعة الفقهية الكويتية " آفة توجِبُ خللاً في العقل، فيصير صاحبها مختلط الكلام، فيُشبِه بعضُ كلامه كلامَ العقلاءِ، وبعضه كلام المجانينِ" (6).

وتَستخدم الجهات المعنية مصطلحات متعددة للدلالة على التخلف العقلي كمصطلح النقص العقلي أو الاعاقة العقلية، وتفضل منظمة الصحة العالمية* استخدام مصطلح التخلف العقلي، ويشير الى الانحرافات العقلية الناتجة عن صعوبات في القدرة على التعلم، هذا الى جانب بعض المصطلحات الاخرى المستخدمة في هذا المجال، مثل ضعف العقل، أو دون السوي عقليا،

--------------------------------------------

(1) - انظر؛ بوشيل وآخرون، ترجمة الدكتورة كريمان بدير، الاطفال ذوو الاحتياجات الخاصة، القاهرة، عالم الكتب، ط 1، 1424 هـ-2004 م، ص 127 - 128.

‌‌(2) - د. أحمد مختار، معجم اللغة العربية المعاصرة، ج 3، ص 1944.

‌‌(3) - د. أحمد مختار، معجم اللغة العربية المعاصرة، ج 1، ص 207.

‌‌(4) - انظر؛ وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية، الموسوعة الفقهية الكويتية، الكويت، دارالسلاسل، ط 2، 1404 - 1427 هـ، ج 16، ص 101.

‌‌(5) - الزبيدي، تاج العروس من جواهر القاموس، ج 36، ص 400.

‌‌(6) - الموسوعة الفقهية الكويتية، ج 7، ص 162.
এটি দৃষ্টির প্রখরতার একটি মানদণ্ড, এর অর্থ হলো একজন ব্যক্তি ২০ ফুট দূরত্ব থেকে ভালোভাবে দেখতে পায়। যদি কোনো ব্যক্তির দৃষ্টির প্রখরতা "২০/৪০" হয়, তবে তা দৃষ্টির মাঝারি ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ করে। এই ব্যক্তি ২০ ফুট দূরত্ব থেকে তা-ই দেখতে পায় যা সাধারণত ৪০ ফুট দূরত্ব থেকে দেখা সম্ভব হয়। আর দৃষ্টির উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা হলো "২০/২০০", তাই যার দৃষ্টিশক্তি এমন দুর্বল তাকে অন্ধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

দৃষ্টির সীমাবদ্ধ পরিধি হলো চাক্ষুষ দুর্বলতার আরেকটি ধরন। সাধারণত সামনের দিকে তাকানোর সময় অধিকাংশ মানুষের দৃষ্টির সর্বোচ্চ পরিধি থাকে ১৮০ ডিগ্রি। যদি কোনো কারণে এই দৃষ্টির পরিধি কমে ২০ ডিগ্রিতে নেমে আসে, তবে সেই ব্যক্তিকেও এই অবস্থায় অন্ধ ধরা হয়, যদিও তার কিছু দৃষ্টি অবশিষ্ট থাকে। আর যদি ব্যক্তি একেবারেই দেখতে না পায়, তবে তাকে পূর্ণাঙ্গ অন্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে (১)। আধুনিক আরবি অভিধানে এসেছে: "তার দৃষ্টি রুদ্ধ হয়েছে: অর্থাৎ সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।" (২)

 

•‌‌ তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মানসিক আক্রান্ত হওয়া: এটি তিন প্রকার:

প্রথম প্রকার: উন্মাদনা (জুনুন)।

দ্বিতীয় প্রকার: নির্বুদ্ধিতা (সাফাহ)।

তৃতীয় প্রকার: জড়বুদ্ধিতা (আতাহ)।

উন্মাদনা হলো বিবেকের বিকৃতি। আধুনিক আরবি অভিধানে এসেছে: "বলা হয় লোকটি উন্মাদ হয়েছে: অর্থাৎ তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে" (৩)। উন্মাদনা দুই প্রকার: স্থায়ী উন্মাদনা এবং অস্থায়ী উন্মাদনা। স্থায়ী হলো যা দীর্ঘকাল নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকে, আর অস্থায়ী হলো যা আকস্মিক ঘটে এবং সর্বদা লেগে থাকে না (৪)। নির্বুদ্ধিতা হলো যার বিবেকের মধ্যে কোনো ত্রুটি থাকে। তাজুল আরুস অভিধানে এসেছে: "নির্বোধ: স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন" (৫)। আর জড়বুদ্ধিতা সম্পর্কে কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষে এসেছে: "এটি এমন একটি রোগ যা বিবেকের মধ্যে ত্রুটি সৃষ্টি করে, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি এলোমেলো কথা বলে; তার কিছু কথা বুদ্ধিমানদের মতো এবং কিছু কথা উন্মাদদের মতো হয়" (৬)।

সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মানসিক অনগ্রসরতা বোঝাতে বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করে, যেমন মানসিক স্বল্পতা বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা* 'মানসিক অনগ্রসরতা' পরিভাষাটি ব্যবহার করতে পছন্দ করে, যা শিখন সক্ষমতায় সমস্যার ফলে সৃষ্ট মানসিক বিচ্যুতিকে নির্দেশ করে। এছাড়া এই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আরও কিছু পরিভাষা হলো হীনবুদ্ধি বা মানসিকভাবে গড় মানের নিচে থাকা।

--------------------------------------------

(১) - দেখুন; বুশেল ও অন্যান্য, অনুবাদ: ড. কারীমান বদির, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু, কায়রো, আলমুল কুতুব, ১ম প্রকাশ, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১২৭ - ১২৮।

‌‌(২) - ড. আহমদ মুখতার, আধুনিক আরবি ভাষার অভিধান, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৯৪৪।

‌‌(৩) - ড. আহমদ মুখতার, আধুনিক আরবি ভাষার অভিধান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৭।

‌‌(৪) - দেখুন; ধর্মবিষয়ক ও ইসলামি মন্ত্রণালয়, কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষ, কুয়েত, দারুস সালাসিল, ২য় প্রকাশ, ১৪০৪ - ১৪২৭ হিজরি, খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ১০১।

‌‌(৫) - জাবিদি, তাজুল আরুস মিন জাওয়াহিরিল কামুস, খণ্ড ৩৬, পৃষ্ঠা ৪০০।

‌‌(৬) - কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৬২।
(খণ্ড: ১) যাউইল ইহতিয়াজাতিল খাসসাহ ফী দাউইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أو غير الأسوياء، أو غير العاديين، وينطوي استخدام مصطلح التخلف العقلي على عنصرين أساسيين هما:

- أداء ذهني أقل من المتوسط.

- خلل ملحوظ في قدرة الشخص على التكيف مع المتطلبات اليومية للبيئة الاجتماعية (1).

•‌‌ المطلب الرابع الاصابة التواصلية:

وهي إصابة في النطق والكلام، بحيث لا يظهر المتكلم كلامه إلا بعد جهد ومشقة، وفي القرآن الكريم ما حكاه الله عز وجل على لسان موسى، قال تعالى {وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي (27) يَفْقَهُوا قَوْلِي (28)} [طه: 28]، فكانت عقدة اللسان مأخذا من فرعون على موسى فقال الله تعالى ما حكاه فرعون: {أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلَا يَكَادُ يُبِينُ (52)} [الزخرف: 52]، جاء في معجم الكليات " (لا يكاد يبين) اي يبطئ في التكلم ولا يتكلم إلا بعد الجهد والمشقة" (2).

ويتمثل الاتصال قي القدرة على فهم وتفسير ونقل الرسالة بين طرفي الاتصال، وتشتمل اضطرابات الاتصال على كل العوامل المؤثرة على النمو اللغوي والقدرة على تبادل المعلومات اللفظية وغير اللفظية، وتعرف المشكلة اللفظية بأنها الاضطرابات المرتبطة بعملية نطق الألفاظ، بداية من الخلل الذي يصيب الأصوات أو التلعثم والاضطرابات اللغوية، مما يؤدي الى صعوبة في عملية الاتصال، وهي تنتج عن عوامل عضوية وغير عضوية (3).

وتشمل هذه الإصابة فئات القصور الكلي عن الكلام، أو القصور الجزئي، أو فقدان القدرة على النطق بدرجاته المتفاوتة، مثل: الكلام التشنجي، والتأتأة* والفأفأة*، واللجلجة، وهي التردد بالكلام (4).

وخلاصة هذا المبحث أن ذوي الاحتياجات الخاصة منهم من أُصيب إصابة حركية، أو إصابة حسية، أو إصابة عقلية، أو إصابة تواصلية، وقد تكون بعض الحالات إصابة مزدوجة أي أن الفرد مصاب بأكثر من إصابة في وقت واحد.

--------------------------------------------

(1) - انظر؛ أ. د. أحلام رجب، الرعاية التربوية لذوي الاحتياجات الخاصة، ص 14.

* منظمة الصّحة العالمية: هي واحدة من عدة وكالات تابعة للأمم المتحدة متخصصة في مجال الصحة، وقد أنشئت عام 1948، ومقرها الحالي في جنيف- سويسرا، (ويكيبيديا الموسوعة الحرة، www.Wikipedia.org) .

‌‌(2) - ابو البقاء الحنفي، ايوب بن موسى الحسيني القريمي الكفوي، (توفي: 1094)، الكليات معجم في المصطلحات والفروق اللغوية، تحقيق عدنان درويش ومحمد المصري، بيروت، مؤسسة الرسالة، ج 1، ص 750.

‌‌(3) - انظر؛ بوشيل وآخرون، الاطفال ذوو الاحتياجات الخاصة، ص 143.

‌‌(4) - انظر؛ رشوان، د. حسين عبد الحميد، الاعاقة والمعوقون، ص 115 - 116.

* تأتأ الشَّخصُ: ردَّد التَّاءَ عند التّكلُّم لِعَيبٍ في نطقه. (د. أحمد مختار، معجم اللغة العربية المعاصرة)، ج 1، ص 279.

* الفَأْفأَةُ: حُبسة في اللِّسان وغلبة الفاء على الكلام. (ابن ا، لسان العرب، ج 1، ص 119).
অথবা অস্বাভাবিক বা সাধারণ নয় এমন ব্যক্তি। 'মানসিক প্রতিবন্ধকতা' পরিভাষাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা হলো:

- গড়ের চেয়ে নিম্নমানের বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকারিতা।

- সামাজিক পরিবেশের প্রাত্যহিক চাহিদার সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির সক্ষমতায় লক্ষণীয় ত্রুটি (১)।

•‌‌ চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যোগাযোগগত অক্ষমতা:

এটি উচ্চারণ ও বাকশক্তির একটি অক্ষমতা, যেখানে বক্তা অনেক প্রচেষ্টা ও কষ্ট ছাড়া তার কথা ব্যক্ত করতে পারে না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর জবানে যা বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন (২৭), যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে (২৮)" [ত্বহা: ২৭-২৮]। জিহ্বার এই জড়তা ছিল ফেরাউনের পক্ষ থেকে মুসা (আ.)-এর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ। তাই আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের উক্তি বর্ণনা করে বলেন: "নাকি আমিই শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি অপেক্ষা, যে হীন এবং যে স্পষ্টভাবে কথা বলতেও সক্ষম নয়? (৫২)" [জুখরুফ: ৫২]। 'মু'জামুল কুল্লিয়াত'-এ এসেছে: "(সে স্পষ্টভাবে কথা বলতে সক্ষম নয়) অর্থাৎ সে কথা বলতে ধীরগতিসম্পন্ন এবং প্রচেষ্টা ও কষ্ট ছাড়া কথা বলতে পারে না" (২)।

যোগাযোগ বলতে যোগাযোগের দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা বোঝা, ব্যাখ্যা করা এবং আদান-প্রদান করার ক্ষমতাকে বোঝায়। যোগাযোগ সংক্রান্ত ব্যাধি বলতে ভাষাগত বিকাশ এবং মৌখিক ও অমৌখিক তথ্য বিনিময়ের ক্ষমতাকে প্রভাবিতকারী সকল উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করে। মৌখিক সমস্যাকে শব্দ উচ্চারণের প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত ব্যাধি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যার শুরু হয় শব্দের উচ্চারণে ত্রুটি বা তোতলামি এবং ভাষাগত ব্যাধি থেকে, যা যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় অসুবিধার সৃষ্টি করে। এটি শারীরিক বা অ-শারীরিক কারণে হতে পারে (৩)।

এই অক্ষমতার মধ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ অক্ষমতা, আংশিক অক্ষমতা অথবা বিভিন্ন মাত্রার বাকশক্তি হারানো অন্তর্ভুক্ত, যেমন: আক্ষেপযুক্ত কথা বলা, তোতলামি (তাতাআ), তোতলামি (ফাফআ) এবং কথা বলতে জড়তা বা ইতস্তত বোধ করা (৪)।

এই আলোচনার সারকথা হলো, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ শারীরিক অক্ষমতা, কেউ ইন্দ্রিয়গত অক্ষমতা, কেউ মানসিক অক্ষমতা অথবা কেউ যোগাযোগগত অক্ষমতায় আক্রান্ত। আবার কিছু ক্ষেত্রে দ্বৈত অক্ষমতা থাকতে পারে, অর্থাৎ একজন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) - দেখুন: অধ্যাপক ড. আহলাম রজব, 'রেআয়া আত-তারবিয়্যাহ লি-যাবিল ইহতিয়াজাত আল-খাসসাহ' (বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষাগত যত্ন), পৃ. ১৪।

* বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO): এটি জাতিসংঘের অন্যতম বিশেষায়িত সংস্থা যা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করে। এটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর বর্তমান সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত (উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ, www.Wikipedia.org)।

‌‌(২) - আবু আল-বাকা আল-হানাফি, আইয়ুব বিন মুসা আল-হুসাইনি আল-কুরিমি আল-কাফাউই (মৃত্যু: ১০৯৪), 'আল-কুল্লিয়াত: মুজাম ফিল মুসতালাহাত ওয়াল ফুরূক আল-লুগাবিয়্যাহ' (পরিভাষা ও ভাষাগত পার্থক্যের অভিধান), আদনান দারবিশ ও মুহাম্মদ আল-মাসরি সম্পাদিত, বৈরুত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, খণ্ড ১, পৃ. ৭৫০।

‌‌(৩) - দেখুন: বুশেল ও অন্যান্য, 'আল-আতফাল যাবু আল-ইহতিয়াজাত আল-খাসসাহ' (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু), পৃ. ১৪৩।

‌‌(৪) - দেখুন: রাশওয়ান, ড. হোসেন আব্দুল হামিদ, 'আল-ই'য়াকাহ ওয়াল মু'আক্কুন' (প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিবন্ধী), পৃ. ১১৫-১১৬।

* তোতলামি (তাতাআ): কথা বলার সময় উচ্চারণে ত্রুটির কারণে 'ত' বর্ণের পুনরাবৃত্তি করা (ড. আহমদ মুখতার, সমকালীন আরবি ভাষার অভিধান, খণ্ড ১, পৃ. ২৭৯)।

* তোতলামি (ফাফআ): জিহ্বার জড়তা এবং কথা বলার সময় 'ফ' বর্ণের আধিক্য (ইবনে মানজুর, লিসানুল আরব, খণ্ড ১, পৃ. ১১৯)।