(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: -)
السر المكتوم في الفرق بين المالين المحمود والمذموم القسم: مسائل فقهية
الكتاب: السر المكتوم في الفرق بين المالين المحمود والمذموم ويليه جواب في الجمع بين حديثين، هما: دعاؤه صلى الله عليه وسلم لأنس بن مالك بكثرة المال والولد، وحديث دعائه بذلك على من لم يؤمن به ويصدقه
المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد السخاوي (ت 902هـ)
قدم لهما وعلق عليهما ووثق نصوصهما وخرج أحاديثهما وآثارهما: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: مكتبة وتسجيلات دار الإمام مالك، الإمارات العربية المتحدة - أبو ظبي
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 228
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
প্রশংসিত ও নিন্দিত উভয় প্রকার সম্পদের পার্থক্যের গোপন রহস্য বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
কিতাব: প্রশংসিত ও নিন্দিত উভয় প্রকার সম্পদের পার্থক্যের গোপন রহস্য এবং এর সাথে সংযোজিত হয়েছে দুটি হাদীসের মধ্যকার সমন্বয়ের উত্তর, তা হলো: আনাস বিন মালিকের জন্য অধিক সম্পদ ও সন্তানের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’আ, এবং যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি ও তাঁকে বিশ্বাস করেনি তাদের উপর অনুরূপ বিষয়ের জন্য তাঁর দু’আর হাদীস
লেখক: শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ আল-সাখাভী (মৃত্যু ৯০২ হিজরী)
ভূমিকা, টীকা প্রদান, মূলপাঠ যাচাই এবং হাদীস ও আসারসমূহের তাখরীজ করেছেন: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: মাকতাবাত ও তাসজিলাত দারুল ইমাম মালিক, সংযুক্ত আরব আমিরাত - আবুধাবি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: -)
السِّرُ المكتومُ
في الفرق بين المالين
المحمود والمذموم
ويليه
جواب في الجمع بين حديثين، هما: دعاؤه صلى الله عليه وسلم لأنس بن مالك بكثرة المال والولد، وحديث دعائه بذلك على
من لم يؤمن به ويصدّقه
كلاهما تصنيف
الحافظ شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السَّخاوي
(831 - 902 هـ)
قدَّم لهما وعلّق عليهما ووثق نصوصهما وخرّج أحاديثهما وآثارهما
أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
গোপন রহস্য
দুই প্রকার সম্পদের পার্থক্যের বর্ণনায়
প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয়
এবং এর সাথে রয়েছে
দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয়ের উত্তর; হাদিস দুটি হলো: আনাস ইবনে মালিকের জন্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিক সম্পদ ও সন্তানের জন্য দুআ করার হাদিস, এবং যারা
তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি ও তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেনি তাদের বিরুদ্ধে অনুরূপ বদদোয়া করার হাদিস
উভয়টি রচনা করেছেন
হাফিজ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাখাভি
(৮৩১ - ৯০২ হিজরি)
উভয় গ্রন্থের ভূমিকা প্রদান, টীকা সংযোজন, পাঠ্য যাচাই এবং হাদিস ও আছারসমূহের তাখরিজ করেছেন
আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقإن الحمد لله، نحمده ونستعينُه، ونستغفرُه، ونعوذُ باللَّهِ من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّهُ؛ فلا مضل له، ومن يضلل؛ فلا هادي له، وأشهدُ أن لا إله إلا اللَّه، وحده لا شريك له، وأشهدُ أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد:
*
المال وأحكامه:فإن موضوع المال وما يتعلَّق به من أحكام وما له به من صلة، أمر متشعِّب جداً، وخُصَّ بدواوين كثيرة شهيرة، وبقي: معرفة هل المال في ذاته محمود أم مذموم، وفي النصوص (الأحاديث والآثار) ما يفيد هذا وهذا، ولذا حمله العلماء على الحالتين على حسب ما يؤول إليه الأمر.
•
متى يذم المال؟
فهو مذموم باعتبار (1) :
- أن فيه إشغالاً عما هو الأهم في الدنيا من العمل بالخيرات، وقد يكون سبباً في الصدّ عن كثير من الطاعات.
- أنه سبب في الاشتغال عن الواجبات، ووسيلة إلى الغفلة والممنوعات، لأن التمتع بالدنيا بسببه له ضراوة كضراوة الخمر، وبعضها يجرُّ إلى بعض، إلى أن تهوي بصاحبها في المهلكة -والعياذ بالله-.
- أن الشرع قد جاء بذم الدنيا، وهو من زينتها، وسبب للتمتّع بلذّاتها، كقوله -تعالى-: {أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا} [الأحقاف: 20] ، وقوله: {مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا} [هود: 15] .
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তাহক্বীকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর:
*
সম্পদ ও এর বিধানসমূহ:সম্পদের বিষয়বস্তু এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি ও সম্পর্ক অত্যন্ত বিস্তৃত। এ বিষয়ে অনেক সুপ্রসিদ্ধ বৃহৎ গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এখন অবশিষ্ট থাকল এই জ্ঞান যে: সম্পদ কি স্বীয় সত্তাগতভাবে প্রশংসনীয় নাকি নিন্দনীয়? এ সম্পর্কে বিভিন্ন নস (হাদিস ও আসার)-এ উভয় বিষয়ের পক্ষেই বর্ণনা পাওয়া যায়। এই কারণে আলেমগণ একে পরিস্থিতির পরিণতির ওপর ভিত্তি করে উভয় অবস্থার ওপর প্রয়োগ করেছেন।
•
সম্পদ কখন নিন্দনীয় হয়?সম্পদ নিন্দনীয় হওয়ার কারণগুলো হলো (১):
- এটি দুনিয়ার অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ অর্থাৎ নেক আমল থেকে মানুষকে ব্যস্ত রাখে এবং অনেক ক্ষেত্রে অনেক ইবাদত-বন্দেগি থেকে বিমুখ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- এটি ওয়াজিব কাজগুলো থেকে বিমুখ হওয়ার কারণ এবং উদাসীনতা ও নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যম। কারণ এর মাধ্যমে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের আসক্তি মদের আসক্তির মতো তীব্র, যার একটি অন্যটির দিকে টেনে নিয়ে যায়, এমনকি শেষ পর্যন্ত তা তার অধিকারীকে ধ্বংসের গহ্বরে নিক্ষেপ করে—আল্লাহর কাছে আমরা এ থেকে আশ্রয় চাই।
- শরিয়ত দুনিয়ার নিন্দা জ্ঞাপন করেছে, আর সম্পদ দুনিয়ারই সৌন্দর্য এবং এর স্বাদ আস্বাদনের মাধ্যম। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনেই তোমাদের পবিত্র বস্তুগুলো ভোগ করে শেষ করেছ} [আল-আহক্বাফ: ২০], এবং তাঁর বাণী: {যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার শোভা কামনা করে} [হুদ: ১৫]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৮)
وفي الحديث: «إنّ أخوف ما أخاف عليكم: أن تفتح عليكم الدنيا كما فُتحت على الذين من قبلكم
… » ، وفيه: «إن مما يُنبتُ الربيع ما يقتل حَبَطاً أو يُلِمّ» (1) .
وذلك كثير شهير في الكتاب والسنَّة، وسيأتي بعضه عند المصنف.
- ما فيه من التعرض لطول الحساب في الآخرة، وقد جاء: «إن حلالها حساب، وحرامها عذاب» (2) ، والعاقل يعلم أن طول الحساب نوع من العذاب، وأن سرعة الانصراف من الموقف إلى الجنة من أعظم المقاصد، وإن المال صادٌّ عن ذلك.
•
متى يمدح المال؟
ونازع آخرون في ذلك؛ وقالوا عن الوجوه المذمومة السابقة: إنها حق، وهذا النظر الذي نظرتم إليه إلى المال والدنيا هو نظر مجرد من الحكمة التي وضعت لها الدنيا، من كونها متعرفاً للحق، ومستحقاً للشكر الواضع لها، بل إنما يعتبر فيها كونها كيساً ومقتنصاً للذات، ومآلاً للشهوات، انتظاماً في سلك البهائم، وهذا ظاهر للعيان من هذه الجهة، وهو على هذا الحال، قشرٌ بلا لبٍّ، ولعب بلا جد، وباطل بلا حق؛ لأن صاحب هذا النظر لم ينل منه إلا مأكولاً، ومشروباً، وملبوساً، ومنكوحاً، ومركوباً، من غير زائد، ثم يزول عن قريب، فلا يبقى منه شيء، فذلك كأضغاث أحلام، وهذا هو نظر الكفار (3) أصالة، وأما المؤمنون فهم
--------------------------------------------
হাদিসে এসেছে: «নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো, তোমাদের সামনে দুনিয়াকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সামনে উন্মুক্ত করা হয়েছিল
… »। আর এতে আরও রয়েছে: «নিশ্চয়ই বসন্ত যা উৎপন্ন করে তার মধ্যে এমন কিছু আছে যা (অতিরিক্ত ভক্ষণে পেট ফাঁপিয়ে) মেরে ফেলে অথবা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়» (১)।
এ বিষয়টি কিতাব ও সুন্নাহতে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং এর কিছু অংশ সামনে গ্রন্থকারের আলোচনায় আসবে।
- এতে পরকালে দীর্ঘ হিসাবের সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টি রয়েছে। বর্ণিত হয়েছে: «নিশ্চয়ই দুনিয়ার হালাল বস্তুর হিসাব দিতে হবে এবং হারামের জন্য রয়েছে আযাব» (২)। আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি জানেন যে, দীর্ঘ হিসাব এক প্রকার আযাব। হাশরের ময়দান থেকে দ্রুত জান্নাতের দিকে প্রস্থান করাই হলো অন্যতম মহান লক্ষ্য, আর সম্পদ সেই পথে অন্তরায়।
•
কখন সম্পদের প্রশংসা করা হয়?
অন্যরা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন; তারা ইতিপূর্বে উল্লিখিত নিন্দনীয় দিকগুলো সম্পর্কে বলেছেন: সেগুলো তো সত্য, তবে সম্পদ ও দুনিয়ার প্রতি আপনাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি সেই হিকমত বা প্রজ্ঞাবর্জিত যার জন্য দুনিয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছে। দুনিয়াকে তো সৃষ্টি করা হয়েছিল সত্যকে চেনার এবং এর স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে। বরং সম্পদকে কেবল ভোগবিলাস ও লালসা চরিতার্থ করার উপায় এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো জীবন যাপনের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি দৃশ্যত স্পষ্ট যে, এ অবস্থায় দুনিয়া হলো সারবস্তুহীন খোসা, লক্ষ্যহীন খেলাধুলা এবং সত্যবর্জিত বাতিল। কারণ এই দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ব্যক্তি আহার, পানীয়, পোশাক, দাম্পত্য সুখ এবং বাহন ছাড়া এর থেকে অতিরিক্ত আর কিছুই পায় না, যা অচিরেই বিলীন হয়ে যায় এবং এর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। ফলে তা যেন অলীক স্বপ্নের মতো। এটি মূলত কাফিরদের দৃষ্টিভঙ্গি (৩), আর মুমিনদের ক্ষেত্রে তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৯)
يعلمون أن المال محمود من وجوه كثيرة، منها:
- إنه نعمة من الله عز وجل كسائر النعم، يجب شكرها، والواجب الانتداب إلى ذلك حسب القدرة والمكنة، وصار ذلك القشرُ محشواً لُبّاً، بل صار القشر نفسه لباً؛ لأن الجميع نعمٌ طالبة للعبد أن ينالها، فيشكر لله بها وعليها.
- إنه يستعان به على الطاعات، وهو ذريعة في بعض الأحايين إلى تحقيق بعض المأمورات والواجبات، كالمستعان به على أمر أخرويّ، ففي الحديث: «نِعْم المال الصالح للرجل الصالح» (1) ، وفي الحديث الآخر: «ذهب أهل الدثور بالأجور والدرجات العلا والنعيم المقيم....» ، إلى أن قال: «ذلك فضل الله يؤتيه من يشاء» (1) ، فجعل المال فضلاً من الله يمتنّ به على بعض عباده.
- إن ما ذكر من الحساب على المال، وأنه يؤخر الأغنياء من دخول الجنة، يقال عليه: إنه راجع إلى أمر خارج عن نفس المال، فإنه - مثلاً- من خلاله: يقع أكل كذا، وله مقدمات وشروط ولواحق لا بد من مراعاتها، فإذا رُوعيت صار ذلك وسيلة إلى العبادات والطاعات، وإن لم تُراع كان التسبب والتناول فيه قصوراً أو خلافاً على حسبه وبقدره.
•
المال كغيره من الشهوات:- وعلى الجملة؛ فالمال كغيره من الشهوات والملذات، له أحكام، وضوابط، وشروط، وموانع، ولواحق تراعى، والترك (2) في هذا كله كالفعل، فكما أنه إذا تسبب للفعل كان تسببه مسؤولاً عنه، كذلك إذا تسبب إلى الترك كان مسؤولاً عنه.
--------------------------------------------
তারা জানেন যে সম্পদ অনেক দিক থেকে প্রশংসনীয়, যার মধ্যে রয়েছে:
- এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে অন্যান্য নিআমতের মতোই একটি নিআমত, যার শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী এর জন্য সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক। এর ফলে সেই খোসাটি মজ্জায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, বরং খোসা নিজেই মজ্জায় রূপান্তরিত হয়; কারণ এই সবকিছুই এমন নিআমত যা বান্দার কাছে প্রত্যাশা করে যে সে তা অর্জন করবে এবং এর মাধ্যমে ও এর ওপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে।
- এর মাধ্যমে ইবাদত-আনুগত্যের কাজে সাহায্য লাভ করা যায়। এটি কখনো কখনো নির্দিষ্ট কিছু আদিষ্ট ও ওয়াজিব বিষয় বাস্তবায়নের মাধ্যম হয়ে থাকে, যেমন আখিরাতের কোনো বিষয়ে সাহায্যকারী হওয়া। হাদীসে এসেছে: «নেককার ব্যক্তির জন্য নেক সম্পদ কতই না চমৎকার» (১), এবং অন্য হাদীসে এসেছে: «বিপুল সম্পদের অধিকারীরা সওয়াব, সুউচ্চ মর্যাদা এবং চিরস্থায়ী নিআমত নিয়ে গেল...», শেষ পর্যন্ত তিনি বলেছেন: «এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন» (১)। ফলে তিনি সম্পদকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর কিছু বান্দার প্রতি ইহসান করেন।
- সম্পদের হিসাব সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি যে ধনীদের জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিলম্বিত করবে, সে বিষয়ে বলা যায়: এটি সম্পদের সত্তাগত বিষয়ের পরিবর্তে বরং বাহ্যিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। উদাহরণস্বরূপ, এর মাধ্যমে অমুক বিষয় ভক্ষণ করা হয়, আর এর এমন কিছু ভূমিকা, শর্ত ও অনুষঙ্গ রয়েছে যা অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হয়। যদি সেগুলো রক্ষা করা হয়, তবে তা ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে পরিণত হয়। আর যদি সেগুলো রক্ষা না করা হয়, তবে এর উপায় অবলম্বন ও গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও পরিমাণ ভেদে ত্রুটি বা বিচ্যুতি ঘটে।
•
সম্পদ অন্যান্য প্রবৃত্তির মতোই:- সংক্ষেপে বলতে গেলে; সম্পদ অন্যান্য প্রবৃত্তি ও স্বাদ-আহ্লাদের মতোই; এর কিছু বিধান, নীতিমালা, শর্ত, প্রতিবন্ধকতা এবং অনুষঙ্গ রয়েছে যা পালন করতে হয়। এই সবকিছুর ক্ষেত্রে বর্জন করা (২) কাজের মতোই গণ্য। কেননা যেভাবে কোনো কাজ করার কারণ হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে জবাবদিহি করতে হয়, তেমনি কোনো কিছু বর্জনের কারণ হওয়ার জন্যও তাকে জবাবদিহি করতে হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وتأمل حادثة سلمان وأبي الدرداء، فيما أخرج البخاري (1968، 6139) ومسلم (182) عن أبي جحيفة قال: آخى النبي صلى الله عليه وسلم بين سلمان وأبي الدرداء، فزار سلمان أبا الدرداء، فرأى أم الدرداء -وهي زوجه- متبذِّلة؛ فقال لها: ما شأنك؟ قالت: أخوك أبو الدرداء ليس له حاجة في الدنيا. فجاء أبو الدرداء فصنع له طعاماً، فقال له: كل فإني صائم. فقال: ما أنا بآكل حتى تأكل؛ فأكل. فلما كان الليل ذهب أبو الدرداء يقوم، فقال: نم. فنام، ثم ذهب ليقوم؛ فقال: نم. فلما كان آخر الليل قال سلمان: قم الآن. فصلينا فقال له سلمان: «إن لربِّك عليك حقاً، ولنفسك عليك حقاً، ولأهلك عليك حقاً، فأعط كل ذي حقٍّ حقّه» (1) . فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر له ذلك؛ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «صَدَقَ سلمان» .
يتبين لنا من هذا أن الفعل والترك يتعلق بهما الحساب، وإذا كان كذلك، فلم يبق مجالاً لذم المال من هذا الوجه.
•
فصل النزاع:والصواب في هذا الباب: أن تناول المباح، وتحصيل المال من حلِّه؛ لا يصح أن يكون صاحبه محاسباً عليه بإطلاق، وإنما يحاسب على التقصير في الشكر عليه، إما من جهة تناوله واكتسابه، وإما من جهة الاستعانة به على التكليفات، فمن حاسب نفسه في ذلك وعمل على ما أمر به، فقد شكر نعم الله، وفي ذلك قال الله -تعالى-: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ} إلى قوله: {خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ} [الأعراف: 32] (2) .
--------------------------------------------
সালমান ও আবু দারদা (রা)-এর ঘটনাটি গভীরভাবে চিন্তা করুন, যা ইমাম বুখারি (১৯৬৮, ৬১৩৯) এবং ইমাম মুসলিম (১৮২) আবু জুহাইফা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান এবং আবু দারদার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিয়েছিলেন। অতঃপর সালমান আবু দারদাকে দেখতে গেলেন। তিনি উম্মে দারদাকে—যিনি আবু দারদার স্ত্রী—অগোছালো ও মলিন বেশে দেখতে পেলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনার এই অবস্থা কেন? তিনি বললেন: আপনার ভাই আবু দারদার দুনিয়ার প্রতি কোনো প্রয়োজন বা আসক্তি নেই। এরপর আবু দারদা এলেন এবং তাঁর (সালমানের) জন্য খাবার তৈরি করলেন। তিনি তাকে বললেন: আপনি খান, কারণ আমি রোজা রেখেছি। সালমান বললেন: আপনি না খাওয়া পর্যন্ত আমি খাব না। অতঃপর তিনি (আবু দারদা) খেলেন। যখন রাত হলো, আবু দারদা ইবাদতের জন্য দাঁড়াতে চাইলেন, তখন সালমান বললেন: ঘুমান। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে তিনি আবার ইবাদতের জন্য দাঁড়াতে চাইলেন, সালমান পুনরায় বললেন: ঘুমান। যখন রাতের শেষ ভাগ হলো, তখন সালমান বললেন: এবার উঠুন। অতঃপর তাঁরা উভয়ে সালাত আদায় করলেন। তখন সালমান তাকে বললেন: «নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালকের আপনার ওপর হক রয়েছে, আপনার নিজের নফসের আপনার ওপর হক রয়েছে এবং আপনার পরিবারেরও আপনার ওপর হক রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য হক প্রদান করুন»। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «সালমান সত্য বলেছে»।
এ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, কোনো কাজ করা এবং তা বর্জন করা—উভয় বিষয়ের সাথেই হিসাব জড়িত। আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে এই দিক থেকে সম্পদের নিন্দা করার আর কোনো অবকাশ থাকে না।
•
বিরোধের মীমাংসা:এই বিষয়ে সঠিক কথা হলো: মুবাহ (বৈধ) বস্তু গ্রহণ করা এবং হালাল উপায়ে সম্পদ অর্জন করার কারণে মালিকের ওপর ঢালাওভাবে হিসাব নেওয়া সঠিক হবে না। বরং হিসাব নেওয়া হবে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অবহেলার কারণে; তা হোক সেটা অর্জন ও গ্রহণের ক্ষেত্রে, অথবা সেই সম্পদকে শরয়ি দায়িত্ব পালনে সাহায্য হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিষয়ে নিজের হিসাব নিয়েছে এবং নির্দেশিত পন্থায় আমল করেছে, সে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেছে। এই প্রসঙ্গেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?} থেকে তাঁর বাণী: {যা কিয়ামতের দিন কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত} [আল-আ’রাফ: ৩২] পর্যন্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১১)
وهذه النعم هدايا من الله للعبد، وهل يليق بالعبد عدم قبول هدية السيد؟ هذا غير لائق في محاسن العادات، ولا في مجاري الشرع، بل قصد المهدي أن تقبل هديته، وهدية الله إلى العبد ما أنعم به عليه، فليقبل، ثم ليشكر له عليها.
والخلاصة؛ إنَّ المال لا بدَّ أن يكون خادماً لأصل ضروري أو حاجي أو تكميلي، ويراعى إمساكه وتحصيله من جهة ما هو خادم له، فيكون مطلوباً ومحبوباً فعله، وذلك أن التمتع بما أحل الله عز وجل من المأكل والمشرب ونحوهما: مباح في نفسه، وإباحته بمفرداته المتعددة، خادمة لأصل ضروري، وهو إقامة الحياة (1) ، فهو معتبر ومحبوب بالنسبة إلى حقيقته الكلية، لا إلى اعتباره الجزئي، ومن هنا يصح كونه هدية يليق فيها القبول دون الرد، لا من حيث هو جزئي معين.
أما إن عاد المال لنقض أصلٍ من أصول الشرع، والاعتداء على المقاصد الكلية، بالاعتداء على العرض، أو العقل، أو البدن، أو النسل، أو الدين؛ فهذا هو المذموم، ويسمى أخذه: رغبة في الدنيا، وحباً في العاجلة، وضده هو الزهد فيها، وهو تركها من هذه الجهة، ولا شك أن ذلك مطلوب.
ولذا ف
الفصل في المسألة: أن ذم المال بإطلاق لا يستقيم، كما أن مدحه بإطلاق لا يستقيم، يوضّحه: مسألة الحجر على السفيه، الذي يضع المال في غير موضعه (2) ،
ومسألة النفقات وأحكامها، فالقاعد عن العمل معرض نفسه للمسألة،
--------------------------------------------
আর এই নিয়ামতসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি হাদিয়া (উপহার)। আর মনিবের হাদিয়া গ্রহণ না করা কি বান্দার জন্য শোভনীয়? এটি উত্তম শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং শরীয়তের বিধান অনুযায়ীও অনুচিত। বরং দাতার উদ্দেশ্য থাকে তার হাদিয়া যেন গ্রহণ করা হয়। আর বান্দার প্রতি আল্লাহর হাদিয়া হলো সেই সব নিয়ামত যা তিনি তাকে দান করেছেন। সুতরাং সে যেন তা গ্রহণ করে এবং এরপর এর জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
সারকথা এই যে, সম্পদকে অবশ্যই কোনো জরুরি (মৌলিক), হাজি (প্রয়োজনীয়) অথবা তাকমিলি (পরিপূরক) বিষয়ের সহায়ক হতে হবে। সম্পদ ধরে রাখা বা অর্জন করার ক্ষেত্রে তা যে বিষয়ের সহায়ক হচ্ছে সেই দিকটি বিবেচনা করা হয়। ফলে তা করা কাঙ্ক্ষিত ও পছন্দনীয় হয়ে দাঁড়ায়। আর তা হলো, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যা হালাল করেছেন—যেমন খাদ্য, পানীয় এবং অনুরূপ বিষয়াদি—তা ভোগ করা মূলত বৈধ। আর এর বিভিন্ন উপকরণের এই বৈধতা একটি মৌলিক প্রয়োজনের (জরুরি) সহায়ক, যা হলো জীবন রক্ষা করা (১)। সুতরাং এটি তার সামগ্রিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয়, তার আংশিক বিবেচনার প্রেক্ষিতে নয়। এখান থেকেই সম্পদ একটি হাদিয়া হওয়ার বিষয়টি সঠিক সাব্যস্ত হয়, যা গ্রহণ করা উচিত, বর্জন করা নয়; কেবল একটি নির্দিষ্ট আংশিক বিষয় হিসেবে নয়।
কিন্তু সম্পদ যদি শরীয়তের কোনো মূলনীতি লঙ্ঘনের কারণ হয় অথবা সামগ্রিক উদ্দেশ্যসমূহের (মাকাসিদ) পরিপন্থী হয়—যেমন ইজ্জত-সম্মান, বুদ্ধি-বিবেক, দেহ, বংশধারা বা দ্বীনের ওপর আঘাত হানে—তবে তা নিন্দনীয়। এমতাবস্থায় তা গ্রহণ করাকে ‘দুনিয়ার প্রতি আসক্তি’ এবং ‘পার্থিব জীবনের মোহ’ বলা হয়। আর এর বিপরীত হলো ‘যুহদ’ বা দুনিয়াবিমুখতা, যা এই দিক থেকে দুনিয়া বর্জন করাকে বোঝায়। আর নিঃসন্দেহে তা কাঙ্ক্ষিত।
তাই
এই মাসআলার মীমাংসা হলো: সম্পদকে ঢালাওভাবে নিন্দা করা যেমন সঠিক নয়, তেমনি ঢালাওভাবে প্রশংসা করাও সঠিক নয়। এটি স্পষ্ট হয় ‘নির্বোধের ওপর সম্পদ ব্যয়ের নিষেধাজ্ঞা’ (হাজর) সংক্রান্ত মাসআলার মাধ্যমে, যে ব্যক্তি সম্পদকে তার সঠিক স্থানে ব্যয় করে না (২)।
এবং ভরণপোষণ সংক্রান্ত মাসআলা ও তার বিধিবিধানের মাধ্যমে; কারণ কর্মবিমুখ ব্যক্তি নিজেকে অন্যের কাছে হাত পাতার বা প্রশ্নের সম্মুখীন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১২)
مضيِّع لمن يعول، وكفاه إثماً (1) بذلك، ومن المتفق عليه أن تركه هذا ليس مرغباً فيه، ولا هو زاهد فيه على الوجه المحمود، بل يسمى فعله سفهاً وكسلاً، وكذا مسألة التبذير والشح، فكلاهما مذموم، وهما طرفان، والعدل والخير بينهما.
•
الصحابة والمال:والذي يترجم ذلك كله على وجه فيه وسط، دون وكس ولا شطط: الصحابة خصوصاً، والسلف الصالح عموماً، فإنهم -رضوان الله عليهم- كانوا حريصين على المال، ولهم فيه بتحصيله مهن معروفة، كاسبين له من جهة كونه عوناً على
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি তার পোষ্যদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, তার জন্য এই পাপই যথেষ্ট (১)। এ বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে যে, তার এই ত্যাগ কাম্য নয় এবং প্রশংসনীয় পন্থায় সে দুনিয়াবিমুখ বা যাহিদও নয়। বরং তার এই কাজকে নির্বুদ্ধিতা ও অলসতা বলা হয়। অনুরূপভাবে অপচয় ও কৃপণতার বিষয়টিও; উভয়টিই নিন্দনীয় এবং এগুলো হলো দুটি চরম প্রান্তিক অবস্থা। আর ন্যায় ও কল্যাণ এই দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে নিহিত।
•
সাহাবায়ে কেরাম ও সম্পদ:যাঁরা এই সবকিছুর মধ্যে কোনো প্রকার ত্রুটি বা অতিরঞ্জন ছাড়াই ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, তাঁরা হলেন বিশেষভাবে সাহাবায়ে কেরাম এবং সাধারণভাবে সালাফে সালেহীন। কেননা তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—সম্পদ অর্জনের ব্যাপারে যত্নশীল ছিলেন। সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে তাঁদের সুপরিচিত পেশা ছিল এবং তাঁরা সম্পদ উপার্জন করতেন এই উদ্দেশ্যে যে, তা হলো একটি সহায়ক মাধ্যম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
شكر الله عليه، وعلى جهة اتخاذه مركباً للآخرة، وهم كانوا أزهد الناس فيه، وأورع الناس في كسبه.
فربما سمع أخبارهم في طلبه من يتوهم أنهم طالبون له من جهة ملذاته وشهواته فحسب، وهذا جهل بالاعتبار الذي طلبوه، وحاش ÷ أن يطلبوه على علاته، إنما طلبوه من جملة عباداتهم -رضوان الله عليهم، وألحقنا بهم، وحشرنا معهم، ووفقنا لما وفقهم له بمنّه وكرمه-.
فلا نعرف أحداً اجتمع له مال كما اجتمع لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فكل ما سيق إليه جعله لأصحابه، وإقامة الدين، فكأني به -بأبي وأمي صلى الله عليه وسلم مع كونه المتسبِّب يرى أن ما وصل ليده من محض الفضل، وأنه كوكيل على تصريفه فقط، وليس له منه شيء، وهذه أعلى المراتب، وكان الواحد من أصحابه كالوكيل، يأخذ منه ما احتاج، وهو أقل مرتبة من هذا.
•
مراتب الناس في حظوظهم في المال:ولا شك أن الناس في أخذ حظوظهم على مراتب، وأن الأسوة لهم في ذلك الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وكانوا يهضمون نفوسهم، ويطرحون حظوظها، بفضل قوة يقينهم بالله؛ لأنهم عالمون بصفاته، وبيده -سبحانه- ملكوت السموات والأرض، وهو حسيبهم لا يخيبهم، فصارت الشهوة والنزوة والحظوة عندهم من قبيل ما قد ينسى، ويأنف الواحد منهم إلى الالتفات إليها على وجه ما فيها مزاحمة لحق الله -تعالى-، وهذه نماذج للتدليل على ذلك:
- صح عن عائشة رضي الله عنها أن ابن الزبير بعث لها بمال في غرارتين - قال الراوي: أراه ثمانين ومئة ألف-، فدعت بطبق وهي يومئذ صائمة، فجعلت تقسمه بين الناس، فأمست وما عندها من ذلك درهم، فلما أمست قالت: «يا جارية! هلُمّي أفطري» ، فجاءتها بخبز وزيت. فقيل لها: أما استطعت فيما قسمت أن تشتري
এর জন্য আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করা এবং পরকালের বাহন হিসেবে একে গ্রহণ করা। আর তাঁরা ছিলেন দুনিয়ার প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বিমুখ এবং তা উপার্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার।
সম্ভবত তাঁদের এই সম্পদ অন্বেষণের সংবাদ শুনে কেউ এমন ভ্রান্ত ধারণা করতে পারে যে, তাঁরা কেবল ভোগ-বিলাস ও নফসের লালসার কারণেই তা অন্বেষণ করেছিলেন। এটি মূলত তাঁরা যে দৃষ্টিভঙ্গিতে তা অন্বেষণ করেছিলেন, সেই প্রেক্ষিত সম্পর্কে অজ্ঞতা। তাঁরা জাগতিক লালসার বশবর্তী হয়ে তা অন্বেষণ করবেন—এমনটা হওয়া অসম্ভব। বরং তাঁরা তাঁদের সামগ্রিক ইবাদতের অংশ হিসেবেই তা অন্বেষণ করেছিলেন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, আমাদের তাঁদের সাথে মিলিত করুন, তাঁদের সাথে আমাদের হাশর করুন এবং তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে তিনি তাঁদের যে বিষয়ের তাওফীক দান করেছিলেন, আমাদেরও সেই তাওফীক দান করুন।
আমরা এমন কাউকে জানি না যার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মতো সম্পদ একত্রিত হয়েছিল। তাঁর কাছে যা কিছু আসত, তা সবই তিনি তাঁর সাহাবীগণের কল্যাণে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যয় করতেন। আমার পিতা-মাতা তাঁর প্রতি উৎসর্গ হোন, আমি যেন তাঁকে দেখতে পাচ্ছি যে—উপলক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি মনে করতেন যে, তাঁর হাতের কাছে যা এসেছে তা নিছক আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি নিজেকে কেবল তা বিলিবণ্টনের একজন প্রতিনিধি মনে করতেন এবং এতে তাঁর নিজস্ব কিছুই নেই বলে বিশ্বাস করতেন। এটি হলো সর্বোচ্চ স্তর। তাঁর সাহাবীগণের প্রত্যেকেও প্রতিনিধির মতো ছিলেন, তাঁরা কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী তা থেকে গ্রহণ করতেন, যা এই স্তরের চেয়ে নিম্নবর্তী ছিল।
•
সম্পদে মানুষের হিস্যার স্তরসমূহ:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নিজ নিজ প্রাপ্য বা অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের আদর্শ হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ। তাঁরা নিজেদের নফসকে দমন করতেন এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ইয়াকীনের কারণে নফসের চাহিদাগুলোকে বর্জন করতেন। কারণ তাঁরা আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং জানতেন যে, আল্লাহর হাতেই—পবিত্রতা তাঁরই—আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনিই তাঁদের জন্য যথেষ্ট, তিনি তাঁদের নিরাশ করবেন না। ফলে ভোগ-বিলাস, খেয়াল-খুশি এবং ব্যক্তিগত লাভ তাঁদের নিকট বিস্মৃত হওয়ার মতো বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। তাঁদের প্রত্যেকেই আল্লাহর হকের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করে এমন কোনো কিছুর দিকে ভ্রুক্ষেপ করতে ঘৃণা বোধ করতেন। এটি প্রমাণের জন্য কিছু নমুনা নিচে দেওয়া হলো:
- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনুল যুবাইর তাঁর কাছে দুটি বড় থলেতে ভরে কিছু সম্পদ পাঠালেন—বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা সেটি ছিল এক লক্ষ আশি হাজার দিরহাম—সেদিন তিনি রোজা ছিলেন, তাই তিনি একটি বড় পাত্র আনালেন এবং মানুষের মধ্যে তা বণ্টন করতে শুরু করলেন। সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত তাঁর কাছে একটি দিরহামও অবশিষ্ট ছিল না। সন্ধ্যা হলে তিনি বললেন: «হে দাসী! এসো, ইফতার নিয়ে এসো», তখন সে তাঁর জন্য রুটি ও জয়তুনের তেল নিয়ে এল। তাঁকে বলা হলো: আপনি যা বণ্টন করেছেন, তা থেকে কি কেনা সম্ভব ছিল না যে...
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بدرهم لحماً تفطرين عليه؟ فقالت: لا تُعنِّيني، لو كنتِ ذكرتني لفعلت (1) .
- وخرَّج مالك أن مسكيناً سأل عائشة وهي صائمة وليس في بيتها إلا رغيف؛ فقالت لمولاة لها: أعطيه إياه. فقالت: ليس لك ما تُفطرين عليه. فقالت: أعطيه إياه. قالت: ففعلتُ. قالت: فلما أمسينا أهدى لنا أهلُ بيت أو إنسانٌ -ما كان يُهدي لنا- شاةً وكَفَنَها (2) ؛ فدعتني عائشة، فقالت: كُلي من هذا. هذا خير من قرْصِكِ (3) .
- وروي عنها أنها قسمت سبعين ألفاً وهي ترقع ثوبها (4) ، وباعت ما لها بمئة ألف وقسمته، ثم أفطرت على خبز الشعير (5) ، وهذا يشبه الوالي على بعض المملكة؛ فلا يأخذ إلا من المَلِك؛ لأنه قام له اليقين بقسْم الله وتدبيره مقام تدبيره لنفسه (6) ، ولا اعتراض على هذا المقام بما تقدم؛ فإن صاحبه يرى تدبير الله له خيراً
--------------------------------------------
...এক দিরহাম দিয়ে গোশত (কিনতে) যা দিয়ে আপনি ইফতার করতেন? তখন তিনি বললেন: আমাকে তিরস্কার করো না, যদি তুমি আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে তবে আমি তা-ই করতাম (১)।
- ইমাম মালিক বর্ণনা করেছেন যে, এক অভাবী ব্যক্তি আয়েশা (রা.)-এর কাছে সাহায্য চাইল যখন তিনি রোজা ছিলেন এবং তাঁর ঘরে একটি রুটি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তিনি তাঁর এক দাসীকে বললেন: তাকে এটি দিয়ে দাও। দাসী বলল: আপনার ইফতার করার মতো কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বললেন: তাকে এটি দিয়ে দাও। দাসী বলল: আমি তা-ই করলাম। সে বলল: যখন সন্ধ্যা হলো, তখন কোনো এক পরিবার বা কোনো এক ব্যক্তি—যিনি আগে আমাদের কখনো উপহার দিতেন না—আমাদের একটি বকরি এবং তার ‘কাফন’ (আটা দিয়ে মোড়ানো রান্না করা বকরি) উপহার পাঠালেন (২)। তখন আয়েশা (রা.) আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: এটি থেকে খাও। এটি তোমার সেই রুটির চেয়েও উত্তম (৩)।
- তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সত্তর হাজার (দিরহাম) দান করেছিলেন অথচ সে সময় তিনি নিজের কাপড় তালি দিচ্ছিলেন (৪)। তিনি এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে তাঁর সম্পদ বিক্রি করে তা বণ্টন করে দিলেন, তারপর বার্লির রুটি দিয়ে ইফতার করলেন (৫)। এটি সাম্রাজ্যের কোনো এক অঞ্চলের গভর্নরের মতো, যিনি বাদশাহ ছাড়া কারো থেকে কিছু গ্রহণ করেন না; কারণ আল্লাহর বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার প্রতি তাঁর সুদৃঢ় বিশ্বাস নিজের জন্য নিজের ব্যবস্থাপনার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে (৬)। আর এই মাকাম বা স্তরের বিরুদ্ধে পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা দিয়ে কোনো আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না; কারণ এই স্তরের অধিকারী ব্যক্তি মনে করেন আল্লাহর ব্যবস্থাপনাই তাঁর জন্য সর্বোত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
من تدبيره لنفسه، فإذا دبّر لنفسه، انحط عن رتبته إلى ما هو دونها.
- ومنهم من يعد نفسه كالوكيل على مال اليتيم (1) ؛ إن استغنى استعفَّ، وإن احتاج أكل بالمعروف، وما عدا ذلك صرفه كما يصرف مال اليتيم في منافعه؛ فقد يكون في الحال غنياً عنه؛ فينفقه حيث يجب الإنفاق، ويمسكه حيث يجب الإمساك، وإن احتاج أخذ منه مقدار كفايته بحسب ما أذن له من غير إسراف ولا إقتار، وهذا -أيضاً- براءة من الحظوظ في ذلك الاكتساب؛ فإنه لو أخذ بحظه لحابى نفسه دون غيره، وهو لم يفعل، بل جعل نفسه كآحاد الخلق، فكأنه قسّام في الخلق يعدُّ نفسه واحداً منهم.
وفي «الصحيح» عن أبي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الأشعَرِيِّين إذا أرمَلوا في الغَزوِ أو قلَّ طعامُ عيالهم بالمدينة، جمعوا ما كان عندهم في ثوبٍ واحدٍ ثم اقتسموه بينهم في إناء واحد؛ فهم منِّي وأنا منهم» (2) .
--------------------------------------------
নিজের জন্য নিজের ব্যবস্থাপনার অংশ; সুতরাং যখন তিনি নিজের জন্য ব্যবস্থা করেন, তখন তিনি নিজের মর্যাদা থেকে তার নিচের স্তরে নেমে যান।
- এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে এতিমের মালের অভিভাবকের মতো মনে করেন (১); যদি তিনি সচ্ছল হন তবে বিরত থাকেন, আর যদি প্রয়োজন হয় তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে গ্রহণ করেন। এ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে তিনি তা সেভাবেই ব্যয় করেন যেভাবে এতিমের সম্পদ তার কল্যাণে ব্যয় করা হয়। কখনো কখনো তিনি বর্তমানে তা থেকে অভাবমুক্ত হতে পারেন; ফলে যেখানে ব্যয় করা আবশ্যক সেখানে ব্যয় করেন এবং যেখানে আটকে রাখা প্রয়োজন সেখানে আটকে রাখেন। আর যদি প্রয়োজন হয়, তবে অপচয় বা কার্পণ্য না করে অনুমতি অনুযায়ী প্রয়োজনমাফিক গ্রহণ করেন। এটিও সেই উপার্জনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে মুক্ত থাকার একটি প্রমাণ; কারণ তিনি যদি নিজের স্বার্থ নিতেন, তবে অন্যদের বাদ দিয়ে নিজেকেই অগ্রাধিকার দিতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, বরং নিজেকে সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে তিনি যেন সৃষ্টির মাঝে একজন বণ্টনকারী, যিনি নিজেকে তাদেরই একজন হিসেবে গণ্য করেন।
আর ‘সহিহ’ গ্রন্থে আবু মুসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন যুদ্ধে খাদ্যাভাবে পড়ে অথবা মদিনায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তাদের কাছে যা থাকে তা একটি কাপড়ে জমা করে, তারপর একটি পাত্রের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে নেয়। সুতরাং তারা আমার অন্তর্ভুক্ত এবং আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত” (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي حديث المؤاخاة بين المهاجرين والأنصار هذا (1) ، وقد كان عليه الصلاة والسلام يفعل في مغازيه من هذا ما هو مشهور (2) ؛
فالإيثار بالحظوظ محمود غير مضاد لقوله عليه الصلاة والسلام: «ابدأ بنفسكَ ثم بمن تعُولُ» (3) ، بل يحمل على الاستقامة في حالتين.
فهؤلاء والذين قبلهم لم يقيدوا أنفسهم بالحظوظ العاجلة، وما أخذوا
--------------------------------------------
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের এই হাদিসে এটি বর্ণিত হয়েছে (১), এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর যুদ্ধাভিযানগুলোতেও এমনটি করতেন যা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ (২);
সুতরাং সুযোগ-সুবিধা ও পার্থিব অংশের ক্ষেত্রে আত্মত্যাগ (ঈসার) প্রশংসনীয়, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর পরিপন্থী নয়: «প্রথমে নিজের থেকে শুরু করো, এরপর তাদের থেকে যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর» (৩); বরং এটি দুটি অবস্থায় সঠিক আচরণের ওপর নির্ভরশীল।
এঁরা এবং তাঁদের পূর্ববর্তীরা নিজেদেরকে তাৎক্ষণিক পার্থিব স্বার্থে সীমাবদ্ধ রাখেননি এবং তাঁরা গ্রহণ করেননি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لأنفسهم لا يعد سعياً في الحظ؛ إذ للقصد إليه أثر ظاهر، وهو أن يؤثر الإنسان نفسه على غيره، ولم يفعل هنا ذلك، بل آثر غيره على نفسه، أو سوَّى نفسه مع غيره، وإذا ثبت ذلك كان هؤلاء بُرءاء من الحظوظ، كأنهم عدُّوا أنفسهم بمنزلة من لم يجعل له حظ، وتجدهم في الإجارات والتجارات لا يأخذون إلا بأقل ما يكون من الربح والأجرة، حتى يكون ما حاول أحدهم من ذلك كسباً لغيره لا له، ولذلك بالغوا في النصيحة فوق ما يلزمهم؛ لأنهم كانوا وكلاء للناس لا لأنفسهم؛ فأين الحظ هنا؟ بل كانوا يرون المحاباة لأنفسهم وإن جازت كالغش لغيرهم؛ فلا شك أن هؤلاء لاحقون حكماً بالقسم الأول، بإلزامهم أنفسهم لا باللزوم الشرعي الواجب ابتداءً.
- ومنهم من لم يبلغ مبلغ هؤلاء، بل أخذوا ما أذن لهم فيه من حيث الإذن، وامتنعوا مما مُنعوا منه، واقتصروا على الإنفاق في كل ما لهم إليه حاجة؛ فمثل هؤلاء بالاعتبار المتقدم أهل حظوظ، لكن مأخوذة من حيث يصح أخذها، فإن قيل في مثل هذا: إنه تجرُّدٌ عن الحظ؛ فإنما يقال من جهة أنهم لم يأخذوها بمجرد أهوائهم تحرزاً ممن يأخذها غير ملاحظ للأمر والنهي، وهذا هو الحظ المذموم، إذ لم يقف دون ما حد له، بل تجرأ كالبهيمة لا تعرف غير المشي في شهواتها، ولا كلام في هذا، وإنما الكلام في الأول، وهو لم يتصرف إلا لنفسه؛ فلا يجعل في حكم الوالي على المصالح العامة للمسلمين، بل هو وال على مصلحة نفسه، وهو من هذا الوجه ليس بوال عام، والولاية العامة هي المبرأة من الحظوظ؛ فالصواب -والله أعلم-: أن أهل هذا القسم معاملون حكماً بما قصدوا من استيفاء الحظوظ؛ فيجوز لهم ذلك بخلاف القسمين الأولين، وهما من لا يأخذ بتسبب أو يأخذ به، لكن على نسبة القسمة ونحوها.
•
أهمية التفصيل في التفضيل وثمرته:فتأمل هذا الفصل؛ فإن فيه رفع شبه كثيرة ترد على الناظر في الشريعة وفي
নিজেদের জন্য কাজ করাকে স্বার্থ অন্বেষণ হিসেবে গণ্য করা হয় না; কেননা সেই সংকল্পের একটি প্রকাশ্য প্রভাব থাকে, যা হলো মানুষ অন্যকে ছেড়ে নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। অথচ তারা এখানে তা করেনি, বরং তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দিয়েছে অথবা নিজেদের অন্যদের সমপর্যায়ে রেখেছে। আর যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন তারা স্বার্থ ও প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত বলে গণ্য হবে; যেন তারা নিজেদের এমন স্তরে বিবেচনা করেছে যেখানে তাদের কোনো প্রাপ্য নির্দিষ্ট করা হয়নি। আপনি তাদের ইজারা ও ব্যবসার ক্ষেত্রে দেখবেন যে, তারা ন্যূনতম মুনাফা বা পারিশ্রমিক ছাড়া কিছুই গ্রহণ করে না, এমনকি তাদের সেই প্রচেষ্টা নিজের জন্য নয় বরং অন্যের উপার্জনের উপায় হিসেবে পরিগণিত হয়। একারণেই তারা উপদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি আন্তরিকতা প্রদর্শন করেন; কারণ তারা ছিলেন মানুষের প্রতিনিধি, নিজেদের স্বার্থের জন্য নয়। তাহলে এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ কোথায়? বরং তারা নিজেদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করাকে—যদিও তা বৈধ—অন্যের সাথে প্রতারণা করার মতো মনে করতেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যক্তিরা বিধানগতভাবে প্রথম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যা তারা নিজেদের ওপর আবশ্যিক করে নিয়েছেন, শরয়ি কোনো মৌলিক আবশ্যকতা হিসেবে নয়।
- এবং তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছেন যারা এই উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারেননি, বরং যা করার অনুমতি তাদের দেওয়া হয়েছে তারা অনুমতির দিক থেকেই তা গ্রহণ করেছেন এবং যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থেকেছেন। তারা কেবল তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়াদিতেই ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বজায় রাখেন। পূর্বোক্ত বিবেচনার ভিত্তিতে এদেরকে স্বার্থ অন্বেষী বলা যায়, তবে তা এমন পন্থায় গ্রহণ করা হয়েছে যা বৈধ। যদি এদের সম্পর্কে বলা হয় যে, তারা স্বার্থ বা প্রবৃত্তি থেকে বিমুক্ত, তবে তা এই দিক থেকে বলা হয় যে, তারা নিছক খেয়াল-খুশির বশবর্তী হয়ে তা গ্রহণ করেনি; বরং তারা সেইসব ব্যক্তি থেকে আত্মরক্ষা করেছে যারা শরয়ি আদেশ-নিষেধ তোয়াক্কা না করে স্বার্থ হাসিল করে। আর এটাই হলো নিন্দনীয় স্বার্থপরতা, যেহেতু সে তার জন্য নির্ধারিত সীমারেখায় থেমে থাকেনি, বরং চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে যে নিজের প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা ছাড়া আর কিছু জানে না। এ ব্যাপারে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই, বরং মূল আলোচনা হলো প্রথম ব্যক্তিকে নিয়ে, যে কেবল নিজের জন্যই কোনো تصرف বা পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাই তাকে মুসলিমদের সাধারণ জনস্বার্থের অভিভাবকের হুকুমে গণ্য করা যাবে না, বরং সে নিজের স্বার্থের অভিভাবক। এই দিক থেকে সে কোনো সাধারণ অভিভাবক নয়; অথচ সাধারণ অভিভাবকত্ব হলো স্বার্থ ও প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হওয়া। সুতরাং সঠিক মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—এই শ্রেণির লোকেরা বিধানগতভাবে তাদের সেই সংকল্প অনুযায়ী বিবেচিত হবেন যার মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বার্থ বা প্রাপ্য পূর্ণ করতে চেয়েছেন। তাদের জন্য এটি জায়েয, যা প্রথম দুই শ্রেণির ক্ষেত্রে ভিন্ন; আর তারা হলো যারা কোনো জাগতিক উপায় অবলম্বন করে কিছু গ্রহণ করে না অথবা গ্রহণ করলেও তা বণ্টনের হার বা অনুরূপ নিয়মের ভিত্তিতে করে।
•
শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিশ্লেষণের গুরুত্ব ও এর ফলাফল:এই পরিচ্ছেদটি গভীরভাবে অনুধাবন করুন; কারণ এতে শরিয়ত এবং এর বিধানাবলির ওপর অনুসন্ধানকারীর মনে উদিত হওয়া অনেক সংশয় নিরসন রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أحوال أهلها، وفيه رفع مغالط تعترض للسالكين لطريق الآخرة؛ فيفهمون الزهد وترك الدنيا على غير وجهه؛ كما يفهمون طلبها على غير وجهه؛ فيمدحون ما لا يمدح شرعاً، ويذمون ما لا يذم شرعاً.
وفيه -أيضاً- من الفوائد فصل القضية بين المختلفين في مسألة الفقر والغنى، وأن ليس الفقر أفضل من الغنى بإطلاق، ولا الغنى أفضل بإطلاق، بل الأمر في ذلك يتفصل (1) ؛ فإن الغنى إذا أمال إلى إيثار العاجلة كان بالنسبة إلى صاحبه مذموماً، وكان الفقر أفضل منه، وإن أمال إلى إيثار الآجلة؛ بإنفاقه في وجهه، والاستعانة به على التزود للمعاد؛ فهو أفضل من الفقر (2) ، والله الموفق بفضله.
*
رسالة السَّخاوي «السِّر المكتوم» :•
تعريف عام (3) :
عمل السَّخاوي -رحمه الله تعالى- في رسالته هذه على إيراد النصوص المسندة -وساق بعضها بإسناده إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، في مدح المال وذمه، وقصد
--------------------------------------------
এর অধিবাসীদের অবস্থা। এতে পরকালের পথের অভিযাত্রীদের সামনে আসা বিভ্রান্তিগুলো নিরসন করা হয়েছে; কারণ তারা যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও দুনিয়া ত্যাগ করাকে তার সঠিক প্রেক্ষাপট ব্যতিরেকে বোঝে; যেমন তারা দুনিয়া অন্বেষণকেও তার সঠিক প্রেক্ষাপট ব্যতিরেকে বোঝে; ফলে তারা এমন জিনিসের প্রশংসা করে যা শরীয়ত অনুযায়ী প্রশংসনীয় নয় এবং এমন জিনিসের নিন্দা করে যা শরীয়ত অনুযায়ী নিন্দনীয় নয়।
এতে আরও একটি ফায়দা হলো দরিদ্রতা ও সচ্ছলতার মাসআলায় মতবিরোধকারীদের মাঝে বিতর্কের ফয়সালা করা; আর তা হলো, দরিদ্রতা নিরঙ্কুশভাবে সচ্ছলতার চেয়ে উত্তম নয়, আবার সচ্ছলতাও নিরঙ্কুশভাবে দরিদ্রতার চেয়ে উত্তম নয়, বরং এই বিষয়টি বিস্তারিত বিশ্লেষণসাপেক্ষ (১); কারণ সচ্ছলতা যদি পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকে ধাবিত করে, তবে তা তার অধিকারীর জন্য নিন্দনীয় এবং তখন দরিদ্রতা তার চেয়ে উত্তম। আর যদি তা পরকালকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকে ধাবিত করে—সঠিক পথে সম্পদ ব্যয় করার মাধ্যমে এবং আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে এর দ্বারা সাহায্য নেওয়ার মাধ্যমে—তবে তা দরিদ্রতার চেয়ে উত্তম (২), আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাওফিকদাতা।
*
সাখাভীর রিসালাহ ‘আস-সিররুল মাকতূম’:•
সাধারণ পরিচিতি (৩):
সাখাভী -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- তাঁর এই রিসালাহতে সনদসহ নসসমূহ (দলিলসমূহ) উপস্থাপনের কাজ করেছেন—এবং তিনি মালের (সম্পদ) প্রশংসা ও নিন্দা বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিজ সনদে কিছু বর্ণনা নিয়ে এসেছেন—এবং উদ্দেশ্য করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلى التوفيق بينهما، بإيراد عبارات العلماء، مستأنساً بفهومهم، معمّقا لشذرات كلامهم المتناثر في هذا الموضوع، على وجه فيه تأصيل مليح، واستدلال صحيح، وجمع رجيح، بعبارات وجيزة، ونقولات سلفية شهيرة، فجزاه الله عن الإسلام وأهله، والعلم وطلبته؛ خير الجزاء.
•
صحة نسبة الرسالة للمصنف:هذه الرسالة صحيحة النسبة لمؤلفها بيقين، دون أدنى ظن أو تخمين، فهو ذكرها في ترجمته المسماة «إرشاد الغاوي» (ق 64/أ، و80/أ، و157/ب، و194/أ، و227/ب) ، وكذا في مواطن من كتابه «الضوء اللامع» منها في ترجمته الشخصية عند سرد مؤلفاته (8/ 18) ، وذكرها في مواطن أخرى منه، هي:
- (1/ 289) عند ترجمته (أحمد بن حسين بن علي الشهاب المرحومي الأصل، الأشموني المولد، القاهري، المديني، المالكي) قال: «ولازمني في أشياء، حتى قرأ علي من تصانيفي «السر المكتوم»
… »
- (6/211) في ترجمته (قايتباي الجركسي المحمودي الأشرفي ثم الظاهري) نعته بقوله: «
… أحد ملوك الديار المصرية، والحادي والأربعون من ملوك الترك البهية، ويلقب بدون حصر بـ (الأشرف) أبي النضر» . وقال عنه: «وترجمته تحتمل مجلدات من الأمور الجليات والخفيات!!» . وقال بعده مباشرة: «وقد أشرتُ إليه في مقدمات عدة كتب وصلت إليه من تصانيفي
… كـ «رفع الشكوك بمفاخر الملوك» ،
… وذكر كتابين آخرين وقال: «و «السر المكتوم في الفرق بين المالين المحمود والمذموم»
… » ، وقال عن رسالتنا هذه بعد هذا بسطرين:
«وهو المرسل لي بالسؤال عما تضمنه الرابع (1) من المقال» .
قلت: أشار إلى ذلك في (ديباجة) الرسالة، بقوله: «فقد سئلت عما وقف
--------------------------------------------
উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে উলামায়ে কেরামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে, তাঁদের বোধগম্যতা থেকে সহায়তা নিয়ে, এই বিষয়ে তাঁদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন বক্তব্যকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে একটি সুন্দর ভিত্তি স্থাপন, সঠিক দলিল উপস্থাপন এবং শক্তিশালী সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বাক্যে এবং প্রসিদ্ধ সালাফী উদ্ধৃতির সাহায্যে (এই প্রয়াস চালিয়েছেন)। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে এবং ইলম ও তালিবে ইলমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
•
গ্রন্থকারের প্রতি এই রিসালার সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা:এই রিসালাটি তার লেখকের প্রতি সুনিশ্চিতভাবে সম্বন্ধযুক্ত, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ বা অনুমানের অবকাশ নেই। কারণ তিনি তাঁর 'ইরশাদুল গাভী' নামক জীবনীগ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৬৪/ক, ৮০/ক, ১৫৭/খ, ১৯৪/ক এবং ২২৭/খ) এর উল্লেখ করেছেন। তেমনিভাবে তাঁর 'আয-যাউ আল-লামি' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানেও এর উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো তাঁর নিজস্ব জীবনীতে তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর তালিকা বর্ণনার সময় (৮/১৮)। এছাড়াও তিনি এর অন্যান্য স্থানেও এটি উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:
- (১/ ২৮৯) যেখানে তিনি (আহমাদ ইবন হুসাইন ইবন আলী আশ-শিহাব আল-মারহুমী আল-আসল, আল-আশমুনি আল-মাওলিদ, আল-কাহিরাতি, আল-মাদীনী, আল-মালিকী) এর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আমার সান্নিধ্যে ছিলেন, এমনকি তিনি আমার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'আস-সিররুল মাকতুম' আমার কাছে পাঠ করেছেন
… "
- (৬/২১১) (কায়িতবে আল-জারকাসি আল-মাহমুদি আল-আশরাফি অতঃপর আজ-জহিরি) এর জীবনীতে তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: "
… তিনি মিশর ভূখণ্ডের রাজাদের একজন এবং তুর্কী রাজবংশের একচল্লিশতম রাজা। তাঁকে সীমাবদ্ধতা ছাড়াই 'আল-আশরাফ' আবু আন-নাসর লকব বা উপাধিতে ভূষিত করা হয়।" তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: "তাঁর জীবনীতে প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়গুলো নিয়ে কয়েক খণ্ড বই হতে পারে!!" এবং এর ঠিক পরেই তিনি বলেন: "আমি আমার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর দিকে ইঙ্গিত করেছি যা তাঁর কাছে পৌঁছেছে
… যেমন 'রাফউশ শুকুক বি মাফাখিরিল মুলুক',
…" অতঃপর তিনি আরও দুটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করে বলেন: "এবং 'আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম'
…" এবং এর দুই লাইন পরেই আমাদের এই রিসালাটি সম্পর্কে বলেছেন:
"তিনিই আমার কাছে সেই প্রশ্নটি পাঠিয়েছিলেন যাতে প্রবন্ধের চতুর্থ (১) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।"
আমি (সম্পাদক) বলছি: তিনি রিসালার (উপস্থাপনায়) এই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এই বলে: "আমাকে সেই সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২০)
عليه السلطان الملك الأشرف، أوحدُ الملوك، والمنفرد بما هو أدرى وأعرف، حفظه الله من جميع أركانه وجهاته، وبلّغه في الدارين النهاية من مسرّاته،
… » .
ونستفيد من هذا: أن رسالتنا هذه ألفها جواباً على سؤال ورده من الملك الأشرف -رحمه الله تعالى-.
- (9/92) في ترجمة (محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن عبد الله بن يوسف المحب بن الولوي ابن التقي بن الجمال بن هشام القاهري الشافعي) ، قال في ترجمته:
«وكان قد قرأ عليّ «السر المكتوم في الفرق بين المالين المحمود والمذموم» وتردد إليّ في غير هذا» .
- (11/66) في ترجمة (أبي بكر بن أبي الفضل بن أبي البركات القسطلاني الأصل، المكي المولد والدار، الشافعي، وهو فخر الدين بن كمال الدين ابن كمال الدين محمد بن أحمد بن أبي الخير بن حسين بن الزين) (ت 795هـ) ، وقال عنه:
«وممن يكتسب بالشهادة بباب السلام وبالنساخة لعبد المعطي وغيره» قال:
«كتب للمشار إليه من تصانيفي عدة، وقرأ عليَّ منها: «الابتهاج» ، و «السر المكتوم»
… وأجزت له» .
وذكر السَّخاوي رسالتنا هذه في كتب أخرى له، منها:
* «الأجوبة المرضية فيما سئل عنه من الأحاديث النبوية» (2/588) في جواب سؤال عن (عبد الرحمن بن عوف) وهل يدخل الجنة زحفاً؟ وبيَّن وهاء ذلك، وتعرض لمناقبه، واستطرد في سبب كثرة ماله، فقال ما نصّه:
«هذا مع أن كثرة ماله رضي الله عنه إنما كانت ببركة دعائه صلى الله عليه وسلم حيث قال له: «بارك الله لك» (1) بحيث كان يقول: «إنه لو رفع حجراً لرجا أن يصيب تحته
--------------------------------------------
তাঁর ওপর রয়েছেন সুলতান আল-মালিক আল-আশরাফ, যিনি রাজন্যবর্গের মধ্যে অনন্য এবং তিনি যা সবচেয়ে বেশি জানেন ও বোঝেন তাতে অদ্বিতীয়; আল্লাহ তাঁকে তাঁর সকল দিক ও বিভাগ থেকে রক্ষা করুন এবং উভয় জগতে তাঁকে তাঁর সকল আনন্দের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছান...।
এখান থেকে আমরা এই উপকার লাভ করি যে: আমাদের এই রিসালাটি (পুস্তিকাটি) তিনি মালিক আল-আশরাফ —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— এর পক্ষ থেকে আসা একটি প্রশ্নের উত্তর হিসেবে রচনা করেছেন।
- (৯/৯২) (মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-মুহিব ইবন আল-ওয়ালাবি ইবন আত-তাকি ইবন আল-জামাল ইবন হিশাম আল-কাহিারি আশ-শাফিঈ)-এর জীবনীতে; তিনি তাঁর জীবনীতে বলেছেন:
«তিনি আমার নিকট "আস-সিররুল মাকতূম ফি আল-ফারক বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাজমুম" (প্রশংসিত ও নিন্দিত—উভয় প্রকার সম্পদের পার্থক্যের গোপন রহস্য) পড়েছেন এবং এছাড়া অন্য বিষয়েও আমার নিকট যাতায়াত করতেন»।
- (১১/৬৬) (আবু বকর ইবন আবিল ফজল ইবন আবিল বারাকাত আল-কাসতালানি আল-আসলি, মক্কী জন্মসূত্রে ও আবাসস্থলে, আশ-শাফিঈ; যিনি ফখরুদ্দিন ইবন কামালুদ্দিন ইবন কামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন আবিল খাইর ইবন হুসাইন ইবন আজ-জাইন) (মৃত্যু: ৭৯৫ হিজরি)-এর জীবনীতে; তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
«যাঁরা বাবুস সালামে সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে এবং আবদুল মুতি ও অন্যদের জন্য পাণ্ডুলিপি প্রতিলিপি করার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন» তিনি বলেন:
«উল্লিখিত ব্যক্তি আমার বেশ কিছু কিতাব লিখেছিলেন এবং আমার কাছে সেগুলোর মধ্য থেকে: "আল-ইবতিহাজ" এবং "আস-সিররুল মাকতূম"
… পড়েছেন এবং আমি তাঁকে অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছি»।
আর আস-সাখাবি তাঁর অন্যান্য কিতাবে আমাদের এই রিসালাটির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:
* "আল-আজউিবাতুল মারদিয়্যাহ ফীমা সুইলা আনহু মিন আল-আহাদিস আন-নাবাউয়্যাহ" (২/৫৮৮), (আবদুর রহমান ইবন আউফ) এবং তিনি কি হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন?—এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে। সেখানে তিনি এই বর্ণনার দুর্বলতা বর্ণনা করেছেন, তাঁর মর্যাদাগুলো তুলে ধরেছেন এবং তাঁর প্রচুর সম্পদের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; সেখানে তিনি যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো:
«এর সাথে কথা হলো যে, তাঁর—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—প্রচুর সম্পদ মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকতে হয়েছিল, যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন" (১) পরিস্থিতি এমন ছিল যে তিনি বলতেন: "যদি তিনি একটি পাথরও তুলতেন, তবে তিনি আশা করতেন যে তার নিচে কিছু (সম্পদ) পাবেন।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ذهباً» (1) . ولكون عامة ماله من التجارة، بل ثبت عن عائشة رضي الله عنها وهي ممن أضيف إليها الحديث المسؤول عنه أنها قالت -وقد بعث إليها عبد الرحمن بمال-: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا يحنو عليكن بعدي إلا الصابرون» ، سقى الله ابن عوف سلسبيل الجنة (2) .
ونحوه عن أم سلمة رضي الله عنها أنها سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لأزواجه: «إن الذي يحنو عليكن من بعدي هو الصادق البار، اللهم اسق عبد الرحمن بن عوف من سبيل الجنة» (3) .
أخرجهما الحاكم في «مستدركه» ، وعنده -أيضاً- عن أبي هريرة رفعه: «خيركم خيركم لأهلي من بعدي» (4) .
--------------------------------------------
স্বর্ণ» (১) । এবং যেহেতু তাঁর অধিকাংশ সম্পদ ছিল ব্যবসা হতে, বরং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে এটি প্রমাণিত হয়েছে—আর তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের দিকে জিজ্ঞাসিত হাদীসটি সম্পৃক্ত করা হয়েছে—তিনি বলেন—যখন আব্দুর রহমান তাঁর নিকট কিছু সম্পদ পাঠালেন—: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আমার পরে তোমাদের প্রতি কেবল ধৈর্যশীলরাই সদয় হবে», আল্লাহ ইবনে আওফকে জান্নাতের সালসাবীল পান করান (২) ।
অনুরূপ উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই আমার পরে যে তোমাদের প্রতি সদয় হবে সে সত্যবাদী ও পুণ্যবান, হে আল্লাহ আব্দুর রহমান বিন আওফকে জান্নাতের ঝরনা হতে পান করান» (৩) ।
হাকেম তাঁর «মুস্তাদরাক»-এ উভয়টি বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর নিকট আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতেও মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «আমার পরে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে আমার পরিবারের জন্য উত্তম» (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وكذا مع ما كان يصل به أمهات المؤمنين: «أوصى لهن بحديقة بيعت بأربع مئة ألف» (1) ، إلى غير ذلك من صدقاته الفاشية وعوارفه العظيمة، حتى إنه أعتق في يوم ثلاثين عبداً، وفي عمره ثلاثين ألف نسمة، وتصدق مرة بِعِيرٍ فيها سبع مئة بَعِير، وردت عليه تحمل من كل شيء، فتصدق بها وبما عليها، وبأقتابها، وأحلاسها.
وعن معمر عن الزهري قال: تصدق ابن عوف على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم بشطر ماله أربعة آلاف، ثم تصدق بعد بأربعين ألف دينار، ثم حمل على خمس مئة فرس في سبيل الله وخمس مئة راحلة، وأوصى بعد موته بخمسين ألف دينار، وبألف فرس في سبيل الله، ولمن بقى من البدريين كل رجل بأربع مئة دينار، وكانوا مئة فأخذوها، وكان عثمان رضي الله عنه فيمن أخذ (2) .
ومن تكون الدنيا في يديه ويؤدي الحقوق منها ويتطوع بالأمور المستحبة فيها ولم تكن عائقة له عن الوصول إلى الله -تعالى-، ولا لها في قلبه مزية، ولا يفخر بها؛ خصوصاً على من دونه (3) ، ولا يكون بما في يديه منها أوثق منه بما عند الله، بحيث يحبسها عما شرع له صرفها فيه، مع التقتير على نفسه وعياله، وعدم إظهار نعمة الله عز وجل، ولا ينفقها في وجوه الباطل التي لم تشرع، ولا يبذر يكون
--------------------------------------------
তেমনিভাবে উম্মাহাতুল মুমিনীনদের (মুমিনগণের জননীগণ) প্রতি তাঁর যে সদাচরণ ছিল: "তিনি তাঁদের জন্য একটি বাগানের অসিয়ত করেছিলেন যা চার লক্ষ মুদ্রায় বিক্রি হয়েছিল" (১), এর বাইরে তাঁর অসংখ্য দান-সদকা ও মহান অনুগ্রহসমূহ রয়েছে। এমনকি তিনি একদিনে ত্রিশজন দাসকে মুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর সারাজীবনে তিনি ত্রিশ হাজার মানুষকে (দাসত্ব হতে) মুক্তি দিয়েছিলেন। একবার তিনি সাতশ উটের একটি বিশাল কাফেলা সদকা করে দিয়েছিলেন, যা সব ধরণের মালামাল নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিল। তিনি উটগুলো এবং তার উপর থাকা সমস্ত মালামাল, উটের জিন ও পালানসহ সবকিছু সদকা করে দেন।
মা'মার হতে এবং তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আওফ (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তাঁর সম্পদের অর্ধেক অর্থাৎ চার হাজার (দিরহাম) দান করেছিলেন। এরপর তিনি আরও চল্লিশ হাজার দিনার সদকা করেন। এরপর তিনি আল্লাহর পথে পাঁচশ ঘোড়া এবং পাঁচশ সওয়ারী দান করেন। মৃত্যুর পর তিনি পঞ্চাশ হাজার দিনার এবং আল্লাহর পথে এক হাজার ঘোড়ার অসিয়ত করে যান। আর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অবশিষ্ট সাহাবীদের প্রত্যেকের জন্য চারশ দিনার করে অসিয়ত করেন। তাঁরা সংখ্যায় একশ জন ছিলেন এবং তাঁরা তা গ্রহণ করেছিলেন। উসমান (রা.)-ও তাঁদের মধ্যে ছিলেন যারা এই অর্থ গ্রহণ করেছিলেন (২)।
যার হাতে দুনিয়া থাকে অথচ সে তার হক আদায় করে এবং তাতে মুস্তাহাব কাজগুলো ঐচ্ছিকভাবে সম্পাদন করে, এবং দুনিয়া তার জন্য আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের পথে প্রতিবন্ধক হয় না, আর তার অন্তরে দুনিয়ার কোনো বিশেষ মর্যাদা নেই এবং সে দুনিয়া নিয়ে গর্ব করে না—বিশেষ করে তার চেয়ে নিম্নবিত্তদের ওপর (৩)—আর তার নিজের হাতের সম্পদের ওপর আল্লাহর কাছে যা আছে তার চেয়ে বেশি ভরসা করে না, যাতে করে সে সম্পদকে শরিয়ত নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা থেকে বিরত থাকে, আবার একইসাথে নিজের ও পরিবারের ওপর কৃপণতা করে না এবং মহান আল্লাহর নেয়ামত প্রকাশ করা থেকে বিমুখ হয় না, আর তা শরিয়ত পরিপন্থী বাতিল পথে ব্যয় করে না এবং অপব্যয় করে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ذلك زيادة له في الخير، قال صلى الله عليه وسلم: «نعم المال الصالح للمرء الصالح» (1) .
وقيل فيما للطبراني في «الأوسط» عن ابن عباس: يا رسول الله! من السيد؟ قال: «يوسف بن يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم عليهم السلام» قالوا: فما في أمتك من سيد؟ قال: «بلى: رجل أعطي مالاً حلالاً، ورزق سماحة، وأدنى الفقير، وقلَّتْ شكاته من الناس» (2) .
وفي حديث مرفوع لأحمد وغيره: «لا بأس بالغنى لمن اتقى،
… » (3) .
وفي آخر: «من فارق الدنيا على الإخلاص لله وحده وعبادته لا شريك له، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة؛ مات والله عنه راض» (4) .
وقال ابن عمر رضي الله عنهما: «لو كان عندي أُحد ذهباً أعلم عدده وأخرج زكاته، ما كرهت ذلك وما خشيت أن يضرني» (5) .
وقال صلى الله عليه وسلم: «أمسك عليك بعض مالك فهو خير لك» (6) ، وقال: «ذلك فضل الله يؤتيه من يشاء» (7) . إلى غيرها مما بيَّنتُه في «السر المكتوم» ، وكم في الصحابة ممن اتصف بجميع صفات الخير التي ترغب في الإكثار لها كعثمان بن عفان، وطلحة الفياض، والزبير بن العوام، وثلاثتهم من العشرة المشهود لهم بالجنة
-أيضاً-، وسعد بن الربيع، وغيرهم من سادات المسلمين، وترك ابن مسعود سبعين ألف درهم، فيتعين استثناء هؤلاء من عموم: «يدخل فقراء المسلمين الجنة قبل
--------------------------------------------
এটি তার জন্য কল্যাণের বৃদ্ধি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নেককার ব্যক্তির জন্য পবিত্র সম্পদ কতই না চমৎকার» (১)।
তাবারানি তাঁর ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বলা হয়েছে: হে আল্লাহর রাসূল! নেতা কে? তিনি বললেন: «ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম (আলাইহিমুস সালাম)» তারা বললেন: তাহলে আপনার উম্মতের মধ্যে নেতা কে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, সেই ব্যক্তি যাকে হালাল সম্পদ দেওয়া হয়েছে, দানশীলতা দান করা হয়েছে, যে দরিদ্রকে কাছে টানে এবং মানুষের কাছে যার অভিযোগ কম» (২)।
আহমদ এবং অন্যদের বর্ণিত একটি মারফু হাদিসে রয়েছে: «যে আল্লাহকে ভয় করে তার জন্য ধনী হওয়াতে কোনো দোষ নেই,
… » (৩)।
অন্য একটি হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর প্রতি ইখলাস, তাঁর শরিকহীন ইবাদত, সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদানের ওপর দুনিয়া ত্যাগ করল; সে এমন অবস্থায় মারা গেল যে আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট» (৪)।
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: «যদি আমার নিকট উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকত যার পরিমাণ আমি জানি এবং তার জাকাত আদায় করি, তবে আমি তা অপছন্দ করতাম না এবং তা আমার কোনো ক্ষতি করবে বলে ভয়ও পেতাম না» (৫)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমার সম্পদের কিছু অংশ নিজের কাছে রাখো, তা তোমার জন্য কল্যাণকর» (৬), তিনি আরও বলেছেন: «এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন» (৭)। এ ছাড়াও অন্যান্য যা আমি ‘আস-সিররুল মাকতুম’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। সাহাবীদের মধ্যে এমন অনেকেই ছিলেন যারা কল্যাণের সকল গুণে গুণান্বিত ছিলেন যা অধিক লাভে আগ্রহী করে, যেমন উসমান বিন আফফান, তালহা আল-ফায়্যাদ এবং যুবাইর ইবনুল আওয়াম; আর এই তিনজনই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও সাদ বিন রাবি এবং মুসলমানদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ইবনে মাসউদ সত্তর হাজার দিরহাম রেখে গিয়েছিলেন। সুতরাং সাধারণ এই কথাটি থেকে তাঁদের ব্যতিক্রম গণ্য করা আবশ্যক যে: «দরিদ্র মুসলমানরা জান্নাতে প্রবেশ করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أغنيائهم بخمس مئة عام» (1) ، أو يخصّ بفقراء طبقتهم وهو أظهر» .
ونقلتُ هذا النَّصَّ بطوله للتنبيه على عناية المصنف في هذه المسألة، وله فيها أجوبة متعددة، ظفرتُ بواحد منها بخطِّه، وسأعمل على إثباته على إثر رسالتنا هذه، والله الموفق.
* وذكره في موطن آخر من «الأجوبة المرضية» (3/1002) مختصراً
-أيضاً-، مقتصراً على «السر المكتوم» دون تتمة العنوان.
* وذكره -أيضاً- في كتاب آخر له، هو «استجلاب ارتقاء الغرف بحب أقرباء الرسول صلى الله عليه وسلم وذوي الشرف» (2/ 605) . قال بعد أن أورد حديث علي: «اللهم ارزق من أبغضني وأهل بيتي كثرة المال والعيال» (2) قال: «وقد بيّنتُ -على تقدير ثبوته، مع إيراد نحوه من الأحاديث- الجمع بينهما وبين دعائه صلى الله عليه وسلم لخادمه سيدنا أنس رضي الله عنه بكثرة المال والولد (2) في كتابي: «السر المكتوم في الفرق بين المالين المحمود والمذموم»
… » .
* وذكره السخاوي كذلك في «إجازته لتلميذه شرف الدين أبي بكر بن محمد بن سلطان الحيشي» المرفقة في آخر نسخة تشستربتي من كتاب «الجواهر المكللة» ضمن (أسماء مصنفاته) التي سمعها عليه.
--------------------------------------------
তাদের ধনী ব্যক্তিদের চেয়ে পাঁচশ বছর আগে (১), অথবা এটি তাদের স্তরের দরিদ্রদের জন্য নির্দিষ্ট এবং এটাই অধিক সুস্পষ্ট।
আর আমি এই উদ্ধৃতিটি পূর্ণরূপে উল্লেখ করেছি এই বিষয়ে লেখকের গুরুত্বারোপের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। এই বিষয়ে তাঁর একাধিক উত্তর রয়েছে, যার একটি আমি তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে লাভ করেছি। আমি আমাদের এই রিসালাত বা পত্রের পরপরই তা প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করব, আর আল্লাহই তৌফিকদাতা।
* তিনি একে 'আল-আজউয়িবাতুল মারদিয়্যাহ' (৩/১০০২) এর অন্য এক স্থানেও সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন—সেখানেও—শিরোনামের বাকি অংশ বাদ দিয়ে কেবল 'আস-সিররুল মাকতূম' নামেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
* তিনি একে তাঁর অন্য এক কিতাব 'ইসতিজলাবুর রিতিকাউল গুরফ বি-হুব্বি আকরাবাইর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া যাউয়িশ শারাফ' (২/৬০৫)-এও উল্লেখ করেছেন। আলী (রা.)-এর বর্ণিত এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমাকে এবং আমার আহলে বাইতকে ঘৃণা করবে, আপনি তাকে অধিক সম্পদ ও সন্তানাদি দান করুন" (২)। তিনি বলেন: "আমি এটি সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তিতে—এই জাতীয় অন্যান্য হাদিস উল্লেখপূর্বক—এই বর্ণনাটি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর খাদেম সাইয়্যিদুনা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য অধিক সম্পদ ও সন্তানের জন্য কৃত দোয়ার (২) মধ্যকার সমন্বয় আমার কিতাব 'আস-সিররুল মাকতূম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনিল মাহমুদি ওয়াল মাযমুম'-এ বর্ণনা করেছি..."।
* সাখাবীও একইভাবে তাঁর ছাত্র "শরাফুদ্দিন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন সুলতান আল-হাইশি"-কে প্রদত্ত 'ইজাজত'-এর মধ্যে এর উল্লেখ করেছেন, যা 'আল-জাওয়াহিরুল মুকাল্লালা' কিতাবের চেস্টার বেটি পাণ্ডুলিপির শেষে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ছাত্রটি তাঁর কাছে শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وذكر إسماعيل باشا البغدادي في «إيضاح المكنون» (4/12) كتابنا هذا بإسقاط كلمة (المالين) ، بينما أثبتها في «هدية العارفين» (2/220) -وعنه صاحب «معجم الموضوعات المطروقة» (2/1075) -، بالإفراد هكذا «المال» !.
•
وصف النسخة الخطية المعتمدة في التحقيق:اعتمدتُ على نسخة خطية نفيسة وجيدة ووحيدة (1) -فيما أعلم- للكتاب، محفوظة في مكتبة أيا صوفيا، تحت رقم (1849) ، في (64) ورقة، وفيها ورقة مكررة وفي كل ورقة لوحتان، في كل لوحة تسعة أسطر، منسوخة في حياة المصنف، وذلك في سنة (880هـ) ، جاء في آخرها:
«تم الكتاب بحمد الله وعونه، وحسن توفيقه، وذلك على يد الفقير المعترف بالتقصير أبو الفضل الأعرج - غفر الله له، ولمن دعا له بالمغفرة، ولجميع المسلمين-، وكان الفراغ منه عام ثمانين وثماني مئة، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وعترته الطيبين الطاهرين، وسلم تسليماً أبداً» .
*
ترجمة الناسخ:ترجم المصنف في «الضوء اللامع» (11/129 رقم 416) للناسخ فقال:
«أبو الفضل بن عبد الوهاب بن عبد اللطيف بن علي بن عبد الكافي السنباطي القاهري الشافعي الكاتب الأعرج ويسمَّى محمداً، نشأ فقرأ القرآن، وجوَّد الخَطّ على يس، وبرع وتكسَّب بالنساخة مع التصدي للتكتيب في أيام، بل ينوب في الأشرفية وغيرها في ذلك، وربما اشتغل يسيراً عند بلديه عبد الحق وغيره، وبعد أبيه جلس في دكانه بالشرب قليلاً ثم ترك، ويجتمع مع محمد بن محمد بن عبد الرحمن السنباطي الكتبي في علي» .
--------------------------------------------
ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি 'ইদাহুল মাকনুন' (৪/১২) গ্রন্থে আমাদের এই কিতাবটির নাম 'আল-মালিন' শব্দটি বাদ দিয়ে উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে তিনি 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (২/২২০) গ্রন্থে এটি সাব্যস্ত করেছেন—এবং তার থেকে 'মুজামুল মাওদুয়াত আল-মাতরুকা' (২/১০৭৫) এর লেখক গ্রহণ করেছেন—একবচন হিসেবে এভাবে: 'আল-মাল'!.
•
তাহকিকে (সম্পাদনায়) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বিবরণ:
আমি এই কিতাবটির একটি মূল্যবান, উন্নতমানের এবং—আমার জানা মতে—একমাত্র (১) পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা আয়া সোফিয়া লাইব্রেরিতে ১৮৪৯ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি ৬৪ পৃষ্ঠার, এতে একটি পৃষ্ঠা পুনরাবৃত্ত হয়েছে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় দুটি করে পার্শ্ব রয়েছে। প্রতি পার্শ্বে নয়টি করে লাইন রয়েছে। এটি গ্রন্থকারের জীবদ্দশায় ৮৮০ হিজরি সনে অনুলিপি করা হয়েছে। এর শেষে উল্লেখ করা হয়েছে:
“আল্লাহর প্রশংসা, সাহায্য ও উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে কিতাবটি সমাপ্ত হলো। এটি নিজের ত্রুটি স্বীকারকারী অভাবী বান্দা আবুল ফজল আল-আ'রাজ এর হাতে সম্পন্ন হয়েছে—আল্লাহ তাকে, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। এটি ৮৮০ হিজরি সনে সমাপ্ত হয়েছে। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজন এবং বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।”
*
অনুলিপিকারীর জীবনী:
গ্রন্থকার 'আদ-দাওউল লামি' (১১/১২৯, নং ৪১৬) গ্রন্থে অনুলিপিকারীর জীবনী বর্ণনা করে বলেছেন:
“আবুল ফজল ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল লতিফ ইবনে আলি ইবনে আবদুল কাফি আল-সানবাতি আল-কাহিরি আল-শাফিঈ, লেখক আল-আ'রাজ, তাকে মুহাম্মদ নামেও ডাকা হতো। তিনি বেড়ে ওঠেন এবং কুরআন পাঠ করেন। তিনি ইয়াসিনের নিকট হস্তলিপিতে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন ও একে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি নির্দিষ্ট দিনগুলোতে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করতেন, এমনকি আল-আশরাফিয়া ও অন্যান্য স্থানে এর প্রতিনিধিত্ব করতেন। সম্ভবত তিনি তার স্বদেশী আবদুল হক ও অন্যদের নিকট কিছুকাল জ্ঞানচর্চা করেছেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি কিছুকাল তার পানীয়ের দোকানে বসেছিলেন, অতঃপর তা ছেড়ে দেন। তিনি আলি পর্যন্ত বংশপরম্পরায় মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-সানবাতি আল-কুতুবির সাথে মিলিত হন।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا كل ما أورده السخاوي عنه، وهو يعطي قيمة علمية لنسختنا وإن كانت وحيدة، وفيها أخطاء قليلة.
وهذه النسخة ملوكيّة، طرتها مذهّبة، أثبت عليها اسم العنوان واسم المؤلف في إطار، وهذا رسمه بحروفه:
«كتاب السر المكتوم في الفرق بين المالين المحمود والمذموم، تأليف الشيخ الإمام العالم العلامة حافظ العصر شمس الدين محمد السَّخاوي» .
وعلى الحاشية بخطٍّ مغاير:
«قد وقف هذه النسخة الجليل السلطان الأعظم، والحال المعظّم مالك الزين والخير ابن خادم الحرمين الشريفين السلطان ابن السلطان ابن السلطان المفدَّى محمود خان، وقفاً صحيحاً شرعياً لمن طالع رسائلي، أكرمه الله تعالى بالرفق والحسنى.
حرره الفقير أحمد شيخ زاده، المفتش بأوقاف الحرمين الشريفين، غفر لهما» .
وتحته ختم هكذا قرأته: «زتو (1) توفيق، يا رب، من كتب أحمد» .
وفي أعلى الصفحة ختم آخر، فيه ما رسمه:
«الحمد لله الذي هُدينا لهذا، وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله» وفي سطر تحته: «لا إله إلا الله محمد رسول الله» .
ومن ميزات هذه النسخة وهي نفيسة -ويزيد في جودتها ونفاستها- أن عليها قصاصات بخط السَّخاوي نفسه (2) ، وهي بمثابة زيادات على الأصل الذي
--------------------------------------------
এটিই সাখাবী তাঁর সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন। এটি আমাদের পাণ্ডুলিপিটির একটি তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক মান প্রদান করে, যদিও এটি একক অনুলিপি এবং এতে সামান্য কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে।
এই অনুলিপিটি রাজকীয় ঘরানার, এর প্রচ্ছদ সোনালি কারুকার্যমণ্ডিত। এর ওপর একটি ফ্রেমের ভেতরে শিরোনাম এবং লেখকের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যার হুবহু লিপি নিচে দেওয়া হলো:
«কিতাবুস সিররিল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনিল মাহমুদি ওয়াল মাজমুম (প্রশংসিত ও নিন্দিত দুই প্রকার সম্পদের পার্থক্যের গোপন রহস্য), রচনায়: শাইখ, ইমাম, আলিম, আল্লামা, যুগের হাফিজ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ আস-সাখাবী»।
এবং পার্শ্বটীকায় অন্য হাতের লেখায় রয়েছে:
«মহাসম্মানিত মহান সুলতান, মহানুভব মালিক আয-যাইন ওয়াল খাইর ইবন খাদিমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন সুলতান ইবন সুলতান ইবন সুলতান আল-মুফাদ্দা মাহমুদ খান এই অনুলিপিটি আমার রিসালাসমূহ পাঠকারীদের জন্য একটি সঠিক ও শরয়ী ওয়াকফ হিসেবে উৎসর্গ করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কোমলতা ও কল্যাণের মাধ্যমে সম্মানিত করুন।
এটি লিপিবদ্ধ করেছেন নিঃস্ব আহমাদ শাইখ জাদা, হারামাইন শারিফাইনের ওয়াকফ পরিদর্শক, আল্লাহ তাঁদের উভয়কে ক্ষমা করুন»।
এবং এর নিচে একটি সিলমোহর রয়েছে যা আমি এভাবে পড়েছি: «যুতু (১) তাওফীক, হে রব, আহমাদের লেখা থেকে»।
এবং পৃষ্ঠার উপরের অংশে অন্য একটি সিলমোহর রয়েছে, যাতে খোদাই করা আছে:
«সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা হিদায়াত পেতাম না» এবং এর নিচের লাইনে রয়েছে: «আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল»।
এই অনুলিপিটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব ও অনন্যতার কারণ হলো—এতে স্বয়ং সাখাবীর নিজ হাতের (২) চিরকুট বা অতিরিক্ত টীকা রয়েছে, যা মূল পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে গণ্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نقل منه الناسخ، ولا يبعد عندي أنه اعتمد على نسخة السخاوي نفسه، ثم لما نظر السخاوي فيها، بدت له زيادات أرفقها السخاوي -كعادته- على النسخة التي كتبها أبو الفضل الأعرج، وربما فعل ذلك للسلطان الأشرف، بسبب حسن وجودة خطه، والذي يقوي هذا الاحتمال أنه أشار بخطه إلى موضع الورقة بقوله: «ينظر الورقة» .
وهذه الإلحاقات والزيادات في رسالتنا في ثلاثة مواطن، هي:
الأول: (ق 21/أ) بحذاء السطر الثاني في الهامش أثبت: «ينظر الورقة» ، وليس فيها شيء بهذا الخصوص.
الثاني: (ق 25/ب) بحذاء السطر الرابع «ينظر الورقة» ، وفي أسفل الورقة نفسها وعلى وجه طولي طمس السطر (4-8) (1) بورقة مستقلة بخط السَّخاوي أثبت أثراً عند أبي نعيم في «الحلية» وفي آخر الورقة: «يتلوه والحاصل» ، قلت: كلمة «والحاصل» في أول السطر الخامس من (ق 25/ب) ، وهذا إلحاق مضبوط محلُّه.
الثالث: (ق 50/ب) بحذاء السطر السادس «ينظر الورقة» ، وأثبت محل آخر أربعة أسطر من (ق 50/أ) ورقة بخط السخاوي فيها (17) سطراً، ولم يتم الإلحاق، فأكمله في آخر (ق 50/ب) ، فجاء فيها تتمته في آخر خمسة أسطر، وآخر ما فيها: «يتلوه: ولكن كان سفيان» ، وهي الكلمات التي بعد إشارة الإلحاق في السطر والورقة نفسها، ومن حسن حظنا أن المصور صور الورقتين مرتين
--------------------------------------------
প্রতিলিপিকারক এটি থেকে অনুলিপি করেছেন, এবং আমার কাছে এটি অসম্ভব মনে হয় না যে তিনি স্বয়ং সাখাভীর পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন। অতঃপর সাখাভী যখন এটি পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তাঁর কাছে কিছু সংযোজনী স্পষ্ট হয় যা তিনি—তাঁর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী—আবু আল-ফাদল আল-আ’রাজ কর্তৃক লিখিত অনুলিপিটিতে যুক্ত করে দেন। সম্ভবত তিনি তাঁর হস্তাক্ষরের সৌন্দর্য ও উৎকর্ষের কারণে সুলতান আশরাফের জন্য এটি করেছিলেন। যে বিষয়টি এই সম্ভাবনাকে জোরালো করে তা হলো, তিনি পাতার অবস্থান নির্দেশ করতে গিয়ে স্বহস্তে লিখেছিলেন: «পাতাটি দেখুন»।
আমাদের এই পুস্তিকায় এই অনুবৃত্তি ও সংযোজনগুলো তিনটি স্থানে রয়েছে, তা হলো:
প্রথমত: (পৃষ্ঠা ২১/ক) এর দ্বিতীয় লাইনের সমান্তরালে পার্শ্বটীকায় লিপিবদ্ধ আছে: «পাতাটি দেখুন», তবে এই বিষয়ে সেখানে বিশেষ কিছু নেই।
দ্বিতীয়ত: (পৃষ্ঠা ২৫/খ) এর চতুর্থ লাইনের সমান্তরালে «পাতাটি দেখুন» লেখা আছে। উক্ত পাতারই নিচে লম্বালম্বিভাবে সাখাভীর হস্তাক্ষরে একটি স্বতন্ত্র পাতার মাধ্যমে ৪-৮ নম্বর লাইনগুলো (১) ঢেকে দিয়ে তাতে আবু নুআইমের «আল-হিলয়া» গ্রন্থের একটি বর্ণনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পাতার শেষে লেখা আছে: «এর পরে রয়েছে: আল-হাসিল (সারকথা)», আমি বলব: «আল-হাসিল» শব্দটি (পৃষ্ঠা ২৫/খ) এর পঞ্চম লাইনের শুরুতে রয়েছে, আর এটি একটি সুবিন্যস্ত সংযুক্তি যা তার সঠিক স্থানেই রয়েছে।
তৃতীয়ত: (পৃষ্ঠা ৫০/খ) এর ষষ্ঠ লাইনের সমান্তরালে «পাতাটি দেখুন» লেখা আছে। সেখানে (পৃষ্ঠা ৫০/ক) এর শেষ চার লাইনের পরিবর্তে সাখাভীর হস্তাক্ষরে ১৭ লাইনের একটি পাতা স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সংযুক্তিটি সম্পন্ন হয়নি, তাই তিনি (পৃষ্ঠা ৫০/খ) এর শেষে তা পূর্ণ করেছেন। ফলে শেষ পাঁচ লাইনে এর অবশিষ্টাংশ এসেছে, যার সর্বশেষ অংশ হলো: «এর পরে রয়েছে: কিন্তু সুফিয়ান ছিলেন», এগুলো সেই শব্দ যা উক্ত লাইন ও পাতায় সংযুক্তি চিহ্নের পরে রয়েছে। আমাদের সৌভাগ্য যে, আলোকচিত্রগ্রাহক পাতা দুটির ছবি দুইবার তুলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بالطمس الذي في الأصل، ويظهر فوقه الإلحاق، ومن غيره دون الإلحاق، فلم يقع نقص، ولله الحمد.
ويبقى التنويه والتنبيه على سقط وقع في (ق 16/أ) و (16/ب) في آخر أربعة أسطر منها، ولحُسن حظنا أن النقص الأول كان في لفظ أحاديث، اجتهدنا في تتميمها من دواوين السنة، بتصريح من السّخاوي في النقل الذي أوردناه سابقاً عنه -وهو في «الأجوبة المرضية» - أنها في كتابنا «السر المكتوم» ، ولا وجود لها في غير هذا الموطن فيه، والسياق يساعد على ذلك. وأما الموطن الآخر، فهو موجود بحروفه في «الأجوبة المرضية» -أيضاً-، ضمن كلام للسخاوي، أوّله وآخره مثبت في الأصل، والساقط بينهما مع التنويه على أن المثبت من كلامه بمقدار السقط، والسياق يقتضيه، والمعنى تام به، والقلب منشرح تماماً على أن سد هذا النقص بالنحو المذكور يجبر الكسر في المخطوط الوحيد -فيما نعلم- لهذا الكتاب، والحمد لله على توفيقه، واخترنا الألفاظ التي ساقها المصنف في رسالته المرفقة (1) مع كتابنا هذا، والله الموفق.
******
--------------------------------------------
মূল পাণ্ডুলিপিতে থাকা বিলোপন এবং তার উপরে দৃশ্যমান সংযোজন এবং অন্যটিতে সংযোজন ব্যতীত হওয়ার কারণে কোনো ঘাটতি ঘটেনি, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(পৃষ্ঠা ১৬/ক) এবং (১৬/খ)-এর শেষ চার লাইনে সংঘটিত একটি বাদ পড়া অংশের বিষয়ে উল্লেখ ও সতর্কতা প্রদান বাকি রয়ে গেছে। আমাদের সৌভাগ্যবশত, প্রথম ঘাটতিটি ছিল হাদিসের শব্দের ক্ষেত্রে; আমরা সুন্নাহর সংকলনগুলো থেকে সেগুলো পূর্ণ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আর এটি আস-সাখাওয়ীর একটি স্পষ্ট বক্তব্যের ভিত্তিতে, যা আমরা ইতিপূর্বে তাঁর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছি—যা তাঁর 'আল-আজরিবাতুল মারদিয়্যাহ' গ্রন্থে রয়েছে—যে এটি আমাদের গ্রন্থ 'আস-সিররুল মাকতুম'-এ রয়েছে, এবং এই স্থান ছাড়া অন্য কোথাও এর অস্তিত্ব নেই এবং শব্দপ্রবাহ বা প্রসঙ্গও এর সহায়ক। আর অন্য স্থানটির ক্ষেত্রে, সেটিও হুবহু 'আল-আজরিবাতুল মারদিয়্যাহ' গ্রন্থে বিদ্যমান—এটিও সাখাওয়ীর বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত, যার শুরু এবং শেষ মূল পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান আছে। মাঝখানের বাদ পড়া অংশটির ব্যাপারে এই উল্লেখসহ যে, তাঁর বক্তব্যের যতটুকু অংশ সাব্যস্ত আছে তা বাদ পড়া অংশের সমপরিমাণ, এবং প্রেক্ষাপটও এটি দাবি করে। এর মাধ্যমে অর্থও পূর্ণতা পায় এবং এই ব্যাপারে অন্তর সম্পূর্ণ আশ্বস্ত যে, উল্লিখিত পন্থায় এই ঘাটতি পূরণ করা এই কিতাবটির একমাত্র পাণ্ডুলিপির—যা আমাদের জানা মতে—ত্রুটি মোচন করে। আর আল্লাহর তাওফীকের জন্য সমস্ত প্রশংসা। আমরা সেই শব্দগুলোকেই নির্বাচন করেছি যা লেখক আমাদের এই গ্রন্থের সাথে সংযুক্ত তাঁর পত্রে (১) উপস্থাপন করেছেন। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
******
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
*
ترجمة المصنِّف (1) :
•
اسمه، ونسبه، ولقبه، وكنيته:هو الشيخ العلامة، الرحالة الحافظ؛ محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের জীবনী (১) :
•
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও কুনিয়াত:তিনি হলেন শায়খ, আল্লামা, দেশভ্রমণকারী হাফেজ; মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أبي بكر بن عثمان بن محمد، الملقب شمس الدين، أبو الخير وأبو عبد الله، بن الزين -أو: الجلال- أبي الفضل وأبي محمد، السَّخاوي الأصل،
--------------------------------------------
আবু বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ, উপাধি শামসুদ্দিন, আবু আল-খাইর এবং আবু আবদুল্লাহ, বিন আল-জাইন —অথবা: আল-জালাল— আবি আল-ফাদল এবং আবি মুহাম্মদ, মূলসূত্রে আস-সাখাভী,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
نسبة إلى «سخا» (1) بمصر، القاهري مولداً، الشافعي مذهباً، المصنّف.
يعرف بالسَّخاوي، وربما يقال له: ابن البارد، شهرة لجدّه، بين أناس مخصوصين، لذا لم يشتهر بها أبوه بين العامَّة ولا هو؛ بل يكرهها، كابن عُليَّة وابن المُلقن، ولا يذكره به إلا من يريد احتقاره.
ويقال له: الغزولي، والأثري، والبغدادي، وقد أفصح بذلك عن قوله في «إرشاد الغاوي» (ق 11/ب) بعد كلام: «وحينئذٍ؛ فالسخاوي نسبته الظاهرة، وربما يقال له: البغدادي -إن صح- بلا مكابرة، وهو فيهما بالنظر إلى الأصل: قاهري المولد مع الدار بلا فصل، بهائي الخطة كما بينه وضبطه، بُلقيني المجاورة، عسقلاني التتلمذ والمشاورة، الأَثَري -بفتحتين ومثلثة- من غير توقف؛ نسبة إلى الأثر، وصفه بعضهم بالغزولي؛ لظنه التنقيص به من الجاهل الفضولي، ولعمري إنها كما ستقف عليها؛ حرفة لأبيه وجده، وغيرهما من الأئمة، المصاحب كل منهما لسعده» .
•
مولده، ونشأته:ولد السَّخاوي في ربيع الأول، سنة (إحدى وثلاثين وثمان مئة) ، بحارة بهاء الدين قراقوش (2) ، علوّ الدرب المجاور لمدرسة شيخ الإسلام البلقيني، محل أبيه وجده بالقاهرة.
ثم تحول منها حين دخل في الرابعة من عمره لملكٍ اشتراه أبوه مجاور لسكن شيخه الحافظ ابن حجر، الذي كان له أبلغ الأثر في حياته -كما سيأتي-.
--------------------------------------------
মিশরের 'সাখা' (১) এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, জন্মসূত্রে কায়রোবাসী, মাযহাবগতভাবে শাফেয়ী এবং বিশিষ্ট গ্রন্থকার।
তিনি আস-সাখাভী নামে পরিচিত। বিশেষ কিছু মানুষের নিকট তাঁর দাদার খ্যাতির কারণে তাকে সম্ভবত 'ইবনে আল-বারিদ' বলা হতো। এ কারণে সাধারণ মানুষের নিকট তাঁর পিতা বা তিনি এই নামে পরিচিত ছিলেন না; বরং তিনি এই নাম অপছন্দ করতেন, যেমনটি ইবনে উলাইয়্যাহ এবং ইবনে আল-মুলাক্কিন অপছন্দ করতেন। কেবল তাকে অবজ্ঞাকারী ব্যক্তিই তাকে এই নামে উল্লেখ করে থাকে।
তাঁকে আল-গাযুলী, আল-আসারী এবং আল-বাগদাদীও বলা হয়। 'ইরশাদুল গাভী' (পৃষ্ঠা ১১/খ) গ্রন্থে কিছু আলোচনার পর তিনি তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: "সেক্ষেত্রে সাখাভী হলো তাঁর প্রকাশ্য নিসবত (সম্বন্ধ), আর জেদ না করে বলা যায়—যদি সঠিক হয়—তবে তাঁকে বাগদাদীও বলা হতে পারে। তবে উভয়ের ক্ষেত্রে মূল বিবেচনায় তিনি হলেন জন্ম এবং স্থায়ী আবাসের দিক থেকে কায়রোবাসী। বাহাউদ্দীন মহল্লায় তাঁর অবস্থান ও অবস্থান নির্ধারণ। বুলকীনী (মাদরাসার) সান্নিধ্য ও প্রতিবেশী হওয়া, আসকালানী (ইবনে হাজার)-এর নিকট ছাত্রত্ব ও পরামর্শ গ্রহণ। আল-আসারী—সন্দেহাতীতভাবে (আলিফ ও সা বর্ণে ফাতহাহ যোগে)—আসার বা হাদিসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। কেউ কেউ তাঁকে আল-গাযুলী বলে অভিহিত করেছেন; কোনো নির্বোধ অনধিকার প্রবেশকারীর পক্ষ থেকে তাঁকে খাটো করার ধারণায়। আমার জীবনের শপথ! এটি ছিল তাঁর পিতা, দাদা এবং অন্যান্য ইমামদের পেশা, যাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ সৌভাগ্যের সহযোগী ছিলেন।"
•
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:সাখাভী ৮৩১ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে কায়রোতে তাঁর পিতা ও দাদার আবাসস্থল শাইখুল ইসলাম আল-বুলকীনী মাদরাসার নিকটবর্তী বাহাউদ্দীন কারাকুশ (২) মহল্লার গলির উপরের অংশে জন্মগ্রহণ করেন।
অতঃপর যখন তিনি চার বছরে পদার্পণ করেন, তখন সেখান থেকে তাঁর পিতা কর্তৃক ক্রয়কৃত একটি সম্পত্তিতে স্থানান্তরিত হন, যা ছিল তাঁর উস্তাদ আল-হাফিজ ইবনে হাজারের বাসভবনের সন্নিকটে। তাঁর জীবনে যার গভীরতম প্রভাব ছিল—যেমনটি সামনে আলোচিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
التحق بالمكتب صغيراً عند المؤدّب الشريف: عيسى بن أحمد المقسي، فأقام عنده يسيراً، ثم تفقه على زوج أخته الفقيه الصالح البدر: حسين بن أحمد الأزهري، فقرأ عنده القرآن، وصلى به للناس التراويح في رمضان، على عادتهم في ذلك إذا أكمل الطالب حفظ القرآن الكريم.
ثم توجّه به أبوه للفقيه المجاور لسكنه الشيخ المفيد: محمد بن أحمد النحريري الضرير.
ثم توجه إلى الفقيه: محمد بن عمر الطباخ، وحفظ عنده بعض «عمدة الأحكام» .
ثم انتقل للعلامة الشهاب ابن أسد، فأكمل عنده حفظها، وحفظ «التنبيه» ، و «المنهاج» ، و «ألفية ابن مالك» ، و «النخبة» ، وتلا عليه لأبي عمرو، ثم لابن كثير، وسمع عليه غيرهما من الروايات إفراداً وجمعاً، وتدرَّب به في المطالعة والقراءة، وصار يشارك غالب من يتردَّد إليه، للتفهُّم في الفقه، والعربية، والقراءات، وغيرها.
ونستطيع أن نتبيّن بعض ملامح نشأة السَّخاوي العلمية، وكونه من عائلة ذات اهتمامات علمية، من خلال الوقوف على ترجمة جده محمد بن أبي بكر ابن عثمان (والد أبيه) - «الضوء اللامع» (7/175- 177) ، وجده الآخر - «الضوء» (4/124- 125) ، وأبيه - «الضوء» (7/205) ، وشقيقه أبي بكر بن عبد الرحمن - «الضوء» (11/44-46) ، وعمه أبي بكر بن محمد - «الضوء» (11/73) ، وأولاد أخيه -محمد بن عبد القادر (8/67) ، ومحمد عز الدين أبي اليمن بن أبي بكر (7/171) ، وزين العابدين محمد بن أبي بكر (11/172-173) -، وابنه أحمد (2/ 120) ، وعنايته المبكرة به علميّاً.
•
رحلاته، وشيوخه، وتلاميذه، وعلمه:جاب السَّخاوي البلادَ وجالَ، وجدّ في الرحلة والطلب، وارتحل إلى
তিনি ছোটবেলায় শরীফ শিক্ষক ঈসা বিন আহমাদ আল-মাকসির মক্তবে ভর্তি হন এবং সেখানে অল্প কিছুদিন অবস্থান করেন। তারপর তিনি তাঁর ভগ্নিপতি নেককার ফকীহ বদরুদ্দীন হুসাইন বিন আহমাদ আল-আযহারীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। তিনি তাঁর কাছে কুরআন পাঠ করেন এবং রমজান মাসে মানুষের তারাবীহ নামাজে ইমামতি করেন, যা সেই সময়ের প্রচলিত নিয়ম ছিল যখন কোনো ছাত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করত।
অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর বাসস্থানের নিকটবর্তী ফকীহ, প্রাজ্ঞ শায়খ মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-নাহরীরী আল-দারীরের কাছে নিয়ে যান।
এরপর তিনি ফকীহ মুহাম্মদ বিন উমর আত-তাব্বাখের নিকট গমন করেন এবং তাঁর নিকট ‘উমদাতুল আহকাম’-এর কিছু অংশ মুখস্থ করেন।
অতঃপর তিনি আল্লামা শিহাব ইবনে আসাদের নিকট স্থানান্তরিত হন এবং তাঁর নিকট এর (উমদাতুল আহকাম) হিফজ সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি ‘আত-তানবীহ’, ‘আল-মিনহাজ’, ‘আলফিয়্যা ইবনে মালিক’ এবং ‘আন-নুখবাহ’ মুখস্থ করেন। তিনি তাঁর কাছে আবু আমর এবং ইবনে কাসীরের কিরাত পাঠ করেন এবং অন্যান্য কিরাতসমূহ একক ও সম্মিলিতভাবে শ্রবণ করেন। তাঁর মাধ্যমেই তিনি অধ্যয়ন ও পাঠের প্রশিক্ষণ লাভ করেন এবং ফিকহ, আরবি ভাষা, কিরাত ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর কাছে যারা আসতেন তাদের অধিকাংশের সাথে সূক্ষ্ম আলোচনার উপযুক্ত হয়ে ওঠেন।
আমরা সাখাভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক বেড়ে ওঠার কিছু বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর পরিবার যে একটি জ্ঞানচর্চাকারী পরিবার ছিল তা অনুধাবন করতে পারি তাঁর দাদা মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন উসমান (পিতার পিতা) - ‘আদ-দাউ আল-লামি’ (৭/১৭৫-১৭৭), তাঁর অন্য দাদা - ‘আদ-দাউ’ (৪/১২৪-১২৫), তাঁর পিতা - ‘আদ-দাউ’ (৭/২০৫), তাঁর ভ্রাতা আবু বকর বিন আবদুর রহমান - ‘আদ-দাউ’ (১১/৪৪-৪৬), তাঁর চাচা আবু বকর বিন মুহাম্মদ - ‘আদ-দাউ’ (১১/৭৩), তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রগণ - মুহাম্মদ বিন আবদুল কাদির (৮/৬৭), মুহাম্মদ ইযযুদ্দীন আবু ইয়ামান বিন আবু বকর (৭/১৭১), যয়নুল আবেদীন মুহাম্মদ বিন আবু বকর (১১/১৭২-১৭৩) এবং তাঁর পুত্র আহমাদ (২/১২০)-এর জীবনী পর্যালোচনার মাধ্যমে এবং ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রতি পরিবারের জ্ঞানতাত্ত্বিক যত্নের মাধ্যমে।
•
তাঁর সফরসমূহ, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁর ইলম:সাখাভী বিভিন্ন দেশ ও জনপদ পরিভ্রমণ করেছেন, জ্ঞান অন্বেষণ ও সফরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন এবং তিনি সফর করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সিররুল মাকতুম ফিল ফারকি বাইনাল মালাইনি আল-মাহমুদ ওয়াল মাযমুম
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
حلب، ودمشق، وبيت المقدس، والخليل، ونابلس، والرملة، وحماة، وبعلبك، وحمص، ودخل وسمع في كثير من المدن والقرى التي في الطرق إليها، بحيث زاد عدد من أخذ عنهم- عن الأعلى والدُّون والمساوي- على أَلف ومئتين، وزادت الأماكن التي تحصَّل فيها من البلاد والقرى على الثمانين.
وقد سجَّل لنا السَّخاوي كثيراً من أحداث هذه الرحلات العلمية التي قام بها، فقد ألَّف «الرحلة الحلبية وتراجمها» ، و «الرحلة المكية» ، و «الرحلة السكندرية» ، إضافة إلى مصنَّفه «البلدانيات العليات» ، الذي ذكر فيه أسماء ثمانين بلدة دخلها وسمع بها، مع تخريج حديثٍ، أو أثرٍ، أو شعرٍ، أو حكايةٍ؛ عن أحد شيوخه في تلك البلدة بإسناده، أضف إلى ذلك «معجمه» الذي سجل فيه أسماء شيوخه الذين أخذ عنهم، وسماه: «بغية الراوي بمن أخذ عنه السَّخاوي» ، أو «الامتنان بشيوخ محمد ابن عبد الرحمن» ، كما سيأتي وصفه في مكانه.
كما أن الحافظ السَّخاوي رحمه الله أمضى كثيراً من سنوات عمره مجاوراً في مكة والمدينة.
وقد حاولنا من خلال إجراء مسح شامل لمصنفاته، خاصة «الضوء اللامع» ، و «التحفة اللطيفة في تاريخ المدينة الشريفة» ، تحديد أماكن ارتحاله وإقامته، فوقفنا من ذلك على ما ملخصه:
1- لم يغادر مصر طوال سنوات حياة شيخه الحافظ ابن حجر؛ حتى لا يفوته شيء من علمه، وكان أثناء ذلك يحرص أشد الحرص على لقاء الغرباء والوافدين واختبار أحوالهم - «الضوء اللامع» (1/77) .
2 - جاور في مكة خمس مرات - «الضوء» (3/118) - كانت المجاورة الأولى منها سنة (إحدى وستين وثمان مئة) - «الضوء» (10/ 170) - وكان في مكة خلال السنوات التالية:
হালাব, দামেস্ক, বাইতুল মাকদিস, আল-খালিল, নাবলুস, আর-রামলাহ, হামাত, বালবাক ও হিমস। তিনি এসকল স্থানে যাতায়াতের পথে আরও অনেক শহর ও গ্রামে প্রবেশ করেছেন এবং ইলম অর্জন করেছেন। ফলে তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা—চাই তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ, কনিষ্ঠ বা সমপর্যায়ের হোন—এক হাজার দুইশ’রও বেশি হয়েছে। আর যে সকল জনপদ ও গ্রামে তিনি অবস্থান করেছেন তার সংখ্যা আশিরও বেশি।
আস-সাখাভী তাঁর এই ইলমি সফরসমূহের অনেক ঘটনা আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তিনি ‘আর-রিহলাতুল হালাবিয়্যাহ ওয়া তারাঝিমুহা’, ‘আর-রিহলাতুল মাক্কিয়্যাহ’ এবং ‘আর-রিহলাতুল ইস্কান্দারিয়্যাহ’ রচনা করেছেন। এছাড়া তাঁর ‘আল-বুলদানিয়াতুল আলিয়্যাত’ নামক গ্রন্থটি রয়েছে, যেখানে তিনি আশিটি শহরের নাম উল্লেখ করেছেন যেগুলোতে তিনি প্রবেশ করেছেন এবং ইলম অর্জন করেছেন। সেখানে তিনি নিজ সনদে সেই শহরের কোনো একজন শাইখের নিকট থেকে প্রাপ্ত হাদীস, আসার, কবিতা বা কোনো কাহিনী উদ্ধৃত করেছেন। এর সাথে যোগ করুন তাঁর ‘মু‘জাম’, যেখানে তিনি তাঁর উস্তাদদের নাম লিপিবদ্ধ করেছেন যাদের কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন। তিনি এর নাম রেখেছেন: ‘বুগইয়াতুর রাওয়ী বি-মান আখাযা আনহুস সাখাভী’ অথবা ‘আল-ইমতিনান বি-শুয়ূখি মুহাম্মাদ ইবনু আবদির রহমান’। এর বর্ণনা যথাস্থানে আসবে।
হাফেজ আস-সাখাভী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের অনেক বছর মক্কা ও মদীনায় মুজাবির (অবস্থানকারী) হিসেবে কাটিয়েছেন।
আমরা তাঁর গ্রন্থগুলো বিশেষ করে ‘আদ-দউউল লামি‘ এবং ‘আত-তুহফাতুল লাতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাতুশ শারিফাহ’ বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁর সফর ও অবস্থানের স্থানগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি এবং এর একটি সারসংক্ষেপ আমরা পেয়েছি:
১- তিনি তাঁর উস্তাদ হাফেজ ইবনু হাজারের জীবনদ্দশায় মিসর ত্যাগ করেননি; যাতে তাঁর ইলমের কোনো অংশ অর্জন থেকে তিনি বঞ্চিত না হন। সে সময় তিনি বহিরাগত ও আগন্তুকদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং তাদের অবস্থা যাচাই করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন— ‘আদ-দউউল লামি‘ (১/৭৭)।
২ - তিনি মক্কায় পাঁচবার অবস্থান করেছেন— ‘আদ-দউউ’ (৩/১১৮)। তার মধ্যে প্রথমবার ছিল ৮৬১ হিজরীতে— ‘আদ-দউউ’ (১০/১৭০)। তিনি পরবর্তী বছরগুলোতে মক্কায় ছিলেন: