(খণ্ড: ১)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: -)
أخبار القضاة القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أخبار القضاة
المؤلف: وكيع، محمد بن خلف بن حيّان [ت 306 هـ]
صححه وعلق عليه وخرّج أحاديثه: عبد العزيز مصطفى المراغي
الناشر: المكتبة التجارية الكبرى، بشارع محمد علي بمصر لصاحبها مصطفى محمد
الطبعة: الأولى، 1366 هـ - 1947 م
(صورتها عالم الكتب - بيروت، ومكتبة المدائن - الرياض)
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিচারকদের বৃত্তান্ত (আখবারুল কুদাত) বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: বিচারকদের বৃত্তান্ত (আখবারুল কুদাত)
লেখক: ওয়াকি، মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন হাইয়ান [মৃত্যু ৩০৬ হিজরি]
সম্পাদনা, টীকা প্রদান ও হাদিস বিন্যাস করেছেন: আবদুল আজিজ মুস্তফা আল-মারাগি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়াতুল কুবরা، মুহাম্মদ আলী সড়ক, মিসর; স্বত্বাধিকারী: মুস্তফা মুহাম্মদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৩৬৬ হিজরি - ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ
(পুনর্মুদ্রণ: আলম আল-কুতুব - বৈরুত، এবং মাকতাবাতুল মাদায়েন - রিয়াদ)
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١)
الجزء الأول
1/ 1
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله خالق الخلق، والقاضي بالحق، والمثيب على الصدق، ورب كل شيء، وفاصل الأمور، العالم بما يكون، محصل ما في الصدور، لا شيء مثله، العلي العظيم.
وصلى الله على عَبْده ورسوله سيد النبيين، وإمام المتقين، مُحَمَّد خاتم المرسلين، وعلى جميع أنبيائه ورسله وملائكته المقربين.
[الحكم بين الناس أرفع الأشياء وأجلها خطراً]
أما بعد!
فإن الله عز وجل بإقامته الحق بين عباده، جعل الحكم بينهم أرفع الأشياء، وأجلها خطراً، واستخلف الخلفاء في الأرض ليقيموا حكمه، وينصفوا من عباده، ويقوموا بأمره، فَقَالَ: عز وجل: {يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ [ص:26}.
فاستخلفه في أرضه لإقامة حكمه، واتباع سبيله، وحذره اتباع الهوى، والضلالة عَن القصد، وأوعده على ذلك الوعيد الذي قصه عليه.
وقَالَ: لنبيه مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم: {إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللهُ وَلَا تَكُن لِّلْخَآئِنِينَ خَصِيماً [النِّسَاء:05}.
فلم يفوض إليه؛ بل قَالَ لَهُ: {لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللهُ.
প্রথম খণ্ড
১/ ১
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টির স্রষ্টা, সত্যের সাথে ফয়সালাকারী, সত্যবাদিতার জন্য প্রতিদান প্রদানকারী, সবকিছুর রব (প্রতিপালক), সব বিষয়ের মীমাংসাকারী, যা ঘটবে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত, অন্তরে যা আছে তার উন্মোচনকারী; তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, তিনি সুউচ্চ, সুমহান।
আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, নবীদের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম, শেষ রাসূল মুহাম্মাদের উপর এবং তাঁর সমস্ত নবী, রাসূল ও নিকটবর্তী ফেরেশতাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন।
[মানুষের মাঝে বিচার ফয়সালা করা সর্বোচ্চ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়]
অতঃপর!
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের মাঝে সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের মধ্যকার বিচারকার্যকে সর্বোচ্চ বিষয় এবং গুরুত্বের দিক থেকে সুমহান করেছেন। তিনি পৃথিবীতে খলিফাদের (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করেছেন যাতে তারা তাঁর বিধান কায়েম করে, তাঁর বান্দাদের প্রতি ইনসাফ করে এবং তাঁর আদেশ পালন করে। অতঃপর তিনি মহিয়ান ও গরিয়ান বলেছেন: “হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা করেছি, অতএব তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়ের সাথে বিচার করো এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি, যেহেতু তারা বিচার দিবসকে ভুলে গিয়েছে।” [সোয়াদ: ২৬]।
অতএব তিনি তাঁর বিচার কায়েম ও তাঁর পথ অনুসরণের জন্য তাঁকে তাঁর পৃথিবীতে খলিফা করেছেন, আর তাঁকে খেয়াল-খুশির অনুসরণ ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে সতর্ক করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁকে সেই শাস্তির হুমকি দিয়েছেন যা তিনি তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছি, যাতে তুমি মানুষের মাঝে বিচার করো যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন। আর তুমি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে বিতর্ককারী হয়ো না।” [আন-নিসা: ১০৫]।
সুতারং বিষয়টি তাঁর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং তাঁকে বলা হয়েছে: “যাতে তুমি মানুষের মাঝে বিচার করো যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন।”
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢)
وقَالَ تبارك اسمه: " وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءهُمْ عَمَّا جَاءكَ مِنَ الْحَقِّ [المائدة: 48] ".
وقَالَ: تقدس اسمه لعباده: " إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّواْ الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُواْ بِالْعَدْلِ إِنَّ اللهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ [النِّسَاء: 58] "
في آي كثيرة يأمر فيها باتباع أمره ويحذر أن يحاد عَن ذلك بهوىً، أو اتباع مطمع، ويذم من فعل ذلك فذلك إِذ يقول عز وجل: " فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِندِ اللهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا يَكْسِبُونَ [البقرة: 79] ".
وقَالَ: تعالى: "وَلَا تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَناً قَلِيلاً وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ [البقرة: 41] ".
وقَالَ: في موضع آخر: " وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَباً [الجن: 15] ".
والقاسط الجائر الظالم فيما:
حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن مُحَمَّد القرني: قال: حَدَّثَنَا أَبُو حذيفة: قال: حَدَّثَنَا شبل، عَن ابن أبي نجيح، عَن مجاهد، قال: القاسط الظالم الجائر.
وَحَدَّثَنَا الْحَسَن بْن أبي الربيع الجرجاني: قال: أَخْبَرَنَا عَبْد الرزاق عن
এবং তাঁর নাম বরকতময়, তিনি বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী ও সেগুলোর তদারককারী। অতএব আপনি তাদের মাঝে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সত্য এসেছে তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না [আল-মায়িদাহ: ৪৮]।"
এবং তাঁর নাম পবিত্র, তিনি তাঁর বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মাঝে বিচার করবে, তখন ন্যায়ের সাথে বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছেন তা কতই না চমৎকার [আন-নিসা: ৫৮]"
অনেক আয়াতে তিনি তাঁর নির্দেশ অনুসরণের আদেশ দিয়েছেন এবং প্রবৃত্তি বা লোভের বশবর্তী হয়ে তা থেকে বিচ্যুত হওয়া সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আর যারা এরূপ করে তিনি তাদের নিন্দা করেছেন; মহান আল্লাহ বলেন: "সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে তারপর বলে, 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে', যাতে তারা এর বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ করতে পারে। অতএব ধ্বংস তাদের জন্য যা তাদের হাত লিখেছে এবং ধ্বংস তাদের জন্য যা তারা উপার্জন করছে [আল-বাকারাহ: ৭৯]।"
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না এবং কেবল আমাকেই ভয় করো [আল-বাকারাহ: ৪১]।"
এবং তিনি অন্য স্থানে বলেন: "আর যারা সত্যবিচ্যুত, তারা তো জাহান্নামের জ্বালানি [আল-জিন: ১৫]।"
আর 'কাসিত' হলো সত্যবিচ্যুত ও জালিম, যা বর্ণিত হয়েছে:
আমাদের নিকট আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কুরানি বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হুজাইফাহ বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আমাদের নিকট শিবল বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (মুজাহিদ) বলেন: 'কাসিত' হলো জালিম ও সত্যবিচ্যুত।
এবং আমাদের নিকট হাসান বিন আবি রাবি আল-জুরজানি বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক সংবাদ দিয়েছেন... থেকে
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٣)
مَعْمَر عَن قتادة قال: القاسط الظالم.
[أجر القسط]
ومن كلام العرب: قَسَطَ إِذَا جار بغير ألف فهو قاسط؛ قَالَ: الله عز وجل: {وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَباً [الجن:15}.
وأقسط إِذَا عدل بألف فهو مقسط؛ قَالَ: الله عز وجل: {وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِن بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِن فَاءتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ [الحجرات: 9}.فالمقسط العادل في الحكم هو من الذين:
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عز وجل وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ
মা'মার কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কাসিত অর্থ হলো যালিম।
[ন্যায়বিচারের প্রতিদান]
আরবদের ভাষ্যমতে: যখন কেউ যুলুম করে তখন আলিফ ব্যতীত ‘কাসাতা’ বলা হয় এবং সে হলো ‘কাসিত’; আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "আর যারা যালিম, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন" [আল-জিন: ১৫]।
আর যখন কেউ ন্যায়বিচার করে তখন আলিফসহ ‘আকসাতা’ বলা হয় এবং সে হলো ‘মুকসিত’; আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "আর যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমরা সেই দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা চড়াও হয়েছে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। এরপর যদি তারা ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগভাবে মীমাংসা করে দাও এবং সুবিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন" [আল-হুজুরাত: ৯]। সুতরাং ফয়সালা প্রদানে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারকগণ আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরসমূহের ওপর রহমানের ডান দিকে অবস্থান করবেন, আর আল্লাহর উভয় হাতই ডান হাত।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٤)
الَّذِينَ يَعْدِلُونَ فِي حُكْمِهِمْ [وَأَهْلِيهِمْ] وَمَا وَلُوا.
كذلك حَدَّثَنَا إبراهيم بْن راشد الآدمي قال: حَدَّثَنَا داود بْن مهران قال: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو عَن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أنه قَالَ: ذلك.
وأظن أن علي بْن عَمْرو حَدَّثَنَاه عَن ابن عيينة سمعه عنه، والذي أتقنه عَن إبراهيم بْن راشد.
وَحَدَّثَنَا أَحْمَد بْن منصور الرمادي قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ سَعِيْد بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: الْمُقْسِطُونَ فِي الدُّنْيَا عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُوْرٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بَيْنَ يَدَيْ الرَّحْمَنِ عز وجل بِمَا أَقْسَطُوا فِي الدُّنْيَا.
… فأعلمك بهَذَا الحديث أن المقسط العادل أرفع الناس منزلةً يوم القيامة، وأن ضده بضد ذلك عند الله.
[أخبار القضاة]
… وقد جمعت كتاباً في أخبار قضاة الأمصار من عهد رَسُوْل اللهِ صَلَّى اللَّهُ
যারা তাদের বিচারে, [তাদের পরিবার-পরিজনের ক্ষেত্রে] এবং যে দায়িত্ব তারা লাভ করেছে তাতে ন্যায়বিচার করে।
অনুরূপভাবে ইব্রাহিম বিন রাশিদ আল-আদামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ বিন মিহরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট আমর বিন দীনার থেকে, তিনি আমর বিন আওস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি এটি বলেছেন।
আর আমি মনে করি যে আলী বিন আমর আমাদের নিকট ইবনে উয়াইনা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যিনি এটি তাঁর থেকে শুনেছেন; তবে আমি ইব্রাহিম বিন রাশিদ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার ব্যাপারে অধিক নিশ্চিত।
এবং আহমদ বিন মানসুর আল-রামানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা’মার আমাদের জুহরি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: দুনিয়ায় যারা ন্যায়বিচারকারী ছিল, তারা কিয়ামতের দিন দয়াময় আল্লাহর দুই হাতের সামনে নূরের মিম্বরসমূহের উপর অবস্থান করবে, যেহেতু তারা দুনিয়ায় ইনসাফ করেছিল।
… সুতরাং এই হাদিসের মাধ্যমে আমি আপনাকে জানাচ্ছি যে, কিয়ামতের দিন ন্যায়পরায়ণ ইনসাফকারী ব্যক্তি মানুষের মাঝে মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ স্তরে থাকবে, আর তার বিপরীত ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তার বিপরীত অবস্থানে থাকবে।
[বিচারকদের ইতিহাস]
… আর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপদের বিচারকদের সংবাদ সংবলিত একটি গ্রন্থ সংকলন করেছি।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٥)
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى زماننا هَذَا على قدر ما انتهى إلي من أخبارهم، وأحكامهم، ومذاهبهم في ولايتهم، ومعرفة أنسابهم وقبائلهم وطرائقهم.
[نهج المؤلف في كتابه]
… ومن روى عنه الحديث منهم ذكرت من حديثه طرفاً؛ فإن كان مكثراً مشهوراً استغنيت بشهرته عَن ذكر حديثه، وروايته؛ كعلي بْن أبي طالب رضي الله عنه؛ وهو أجل القضاة؛ إِذ كان رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم استعمله على القضاء في حياته، ومعاذ بْن جبل، وأبي موسى الأشعري؛ لم أذكر رواياتهم لكثرة ذلك؛ وكعَبْد اللهِ بْن مسعود. ومن بعده، مثل الشعبي، والْحَسَن، وأمثالهما اقتصرت على ذكر أخبارهم في مدة ولايتهم القضاء، واستغنيت بشهرتهم عَن ذكر رواياتهم.
وكذلك من كان منتشر الفقه منهم لم أذكر فقهه كله؛ واقتصرت على قضاياه.
… ومن كان منهم مقلا ذكرت روايته، وكذلك فقهه وأحكامه؛ إِذ كان فقهه وأحكامه جرى في أيام ولايته كشريح القاضي، وعَبْد اللهِ بْن شُبْرُمَةَ، ومن جرى مجراهما؛ فقصيت بما بلغني عنهم.
… وبدأت في هَذَا الكتاب بما روى عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعن الصحابة والتابعين رحمهم الله في التشديد في القضاء، والكراهة له، والفرار منه،
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে আমার কাছে যতটুকু সংবাদ, তাদের বিচারিক সিদ্ধান্ত, তাদের শাসনকালে তাদের মাযহাব এবং তাদের বংশপরিচয়, গোত্র ও কর্মপন্থা সম্পর্কে পৌঁছেছে তার ভিত্তিতে।
[গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি]
… তাদের মধ্যে যারা হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমি তাদের হাদিসের কিছু অংশ উল্লেখ করেছি। আর যদি তিনি হাদিস বর্ণনায় আধিক্যকারী ও সুপ্রসিদ্ধ হন, তবে তার প্রসিদ্ধির কারণে আমি তার হাদিস ও বর্ণনা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি; যেমন আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি ছিলেন বিচারকদের মধ্যে অত্যন্ত মহান; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় তাঁকে বিচারকার্যে নিযুক্ত করেছিলেন। অনুরূপভাবে মুয়াজ ইবনে জাবাল ও আবু মুসা আল-আশআরী; তাদের বর্ণনার আধিক্যের কারণে আমি তা উল্লেখ করিনি; এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদও। আর তাদের পরবর্তীগণ, যেমন শাবি, হাসান এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ—আমি কেবল তাদের বিচারিক কার্যকালের সংবাদ বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং তাদের প্রসিদ্ধির কারণে তাদের বর্ণনা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি।
অনুরূপভাবে তাদের মধ্যে যাদের ফিকহ বা আইনতত্ত্ব ব্যাপকভাবে বিস্তৃত, আমি তাদের সম্পূর্ণ ফিকহ উল্লেখ করিনি; বরং কেবল তাদের বিচারিক ফয়সালাসমূহ উল্লেখের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
… আর তাদের মধ্যে যারা অল্প হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমি তাদের বর্ণনা এবং একইভাবে তাদের ফিকহ ও বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ উল্লেখ করেছি; যেহেতু তাদের ফিকহ ও সিদ্ধান্তসমূহ তাদের বিচারিক দায়িত্ব পালনের দিনগুলোতে কার্যকর ছিল, যেমন বিচারক শুরাইহ, আবদুল্লাহ ইবনে শুবরুমা এবং যারা তাদের সমগোত্রীয় ছিলেন; সুতরাং আমি তাদের সম্পর্কে যা কিছু আমার কাছে পৌঁছেছে তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
… আর আমি এই গ্রন্থে সেই সকল বর্ণনা দিয়ে শুরু করেছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) থেকে বিচারকার্য পরিচালনার বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন, এর প্রতি অনীহা প্রকাশ এবং তা থেকে পলায়ন বা দূরে থাকা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٦)
والجزع من التقدم عليه، ثم ذكرت ما روى فيمن قضى بالحق، ومن قضى بالجور، ومن قضى بما لا يعلم، ومن ارتشى في الحكم، وصفة القاضي، ومن ينبغي أن يقلد القضاء والحكم، وما جاء فيمن سأل القضاء واستشفع عليه، وما جاء في ألا يقضى أحد بين اثنين وهو غضبان، والتعديل بين الخصوم، وأشباه ذلك، وما يقاربه.
… ثم بدأت بذكر قضاة رَسُوْل اللهِ صلى الله عليه وسلم في حياته، والمواضع التي ولوها، وذكر قضاياهم في هذه المدة، ولم أذكر قضاء من قضى منهم بعد ذلك وإن كان إماماً لأني إنما قصدت ذكر القضاة، وما كان من أحوالها في حال ولايتها القضاء، ثم ذكرت قضاة أبي بكر، وعُمَر، وعثمان، وعلي، رضي الله عنهم، ثم قضاة الخلفاء في البلدان المختلفة، وأتيت على كثير من أخبارهم في هذه الحال. ونسأل الله السلامة، وحسن التوفيق بقدرته وعونه إنه قريب مجيب.
এবং এর দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারে ভীতি; অতঃপর আমি উল্লেখ করেছি সত্য অনুযায়ী ফয়সালাকারী, অবিচারকারী, না জেনে ফয়সালাকারী এবং বিচারে ঘুষ গ্রহণকারী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা। আরও উল্লেখ করেছি বিচারকের গুণাবলি, এবং কাদের নিকট বিচার ও শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত সেই প্রসঙ্গ। এছাড়া বিচারকের পদ প্রার্থনা করা ও এর জন্য সুপারিশ করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং রাগান্বিত অবস্থায় কেউ যেন দুই ব্যক্তির মধ্যে ফয়সালা না করে সেই নির্দেশনা, বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং এই জাতীয় ও এর কাছাকাছি বিষয়সমূহ আলোচনা করেছি।
... অতঃপর আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় তাঁর নিযুক্ত বিচারকগণ, তাঁদের কর্মস্থল এবং উক্ত সময়ে তাঁদের বিচার বিভাগীয় ঘটনাবলি বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছি। তাঁদের মধ্যে যারা পরবর্তীতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সেই বিচারকার্যের কথা আমি এখানে উল্লেখ করিনি—যদিও তারা ইমাম ছিলেন—কেননা আমার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র বিচারকদের সম্পর্কে এবং বিচারকার্য পরিচালনার সময়কালীন তাদের অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করা। এরপর আমি আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সময়ের বিচারকদের কথা এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জনপদে খলিফাদের নিযুক্ত বিচারকদের কথা উল্লেখ করেছি এবং বিচারক থাকাকালীন তাদের অনেক সংবাদ ও বিবরণ তুলে ধরেছি। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা এবং তাঁর ক্ষমতা ও সাহায্যের মাধ্যমে উত্তম তাওফিক প্রার্থনা করি; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, দুআ কবুলকারী।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
ذكر ما جاء في التشديد فيمن ولي القضاء بين الناس وأن من وليه فقد ذبح بغير سكين
[مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ]
حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن يحيى بْن أبي الربيع الجرجان يُقَالُ: أَخْبَرَنَا أَبُو عامر العقدي قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن جعفر المخرَمِيُّ عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي عَنْ عَبْدِ الرحمن الأعرج عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أن النبي صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
حَدَّثَنَا عيسى بْن جعفر الوراق؛ قال: حَدَّثَنَا منصور بْن سلم أَبُو سلمة الخزاعي؛ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ الْأَعْرَجِ وَالْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণকারীর বিষয়ে যে কঠোরতা বর্ণিত হয়েছে তার বর্ণনা এবং যে ব্যক্তি এর দায়িত্বপ্রাপ্ত হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হলো।
[যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছে, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হয়েছে]
হাসান বিন ইয়াহইয়া বিন আবু আল-রাবি আল-জোরজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বলা হয়: আবু আমির আল-আকাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন জাফর আল-মাখরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি আবদুর রহমান আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছে, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হয়েছে।
ঈসা বিন জাফর আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মনসুর বিন সালাম আবু সালামা আল-খুজায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আল-আরাজ ও আল-মাকবুরি থেকে, তারা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যাকে মানুষের মাঝে বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছে, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٨)
حَدَّثَنَا العباس بْن مُحَمَّد بْن حاتم الدوري؛ قال: حَدَّثَنَا هشام بْن عبيد الله الرازي؛ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن جعفر بْن عَبْد الرحمن بْن المسور ابن مخرمة، عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد، عَن الأعرج، والمقبري، عَن أبي هريرة قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
حَدَّثَنَا إسحاق بْن الْحَسَن، عَن هشام الرازي؛ فخلط في إسناده؛ قال: حَدَّثَنَا هشام بْن عبيد الله بْن بلال الرازي؛ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن جعفر المخرمي، عَن مُحَمَّد بْن إبراهيم قَالَ: أحسبه: عَن المقبري، والأعرج، عَن أبي هريرة عَن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم مثله. قوله: مُحَمَّد بْن إبراهيم غلط والقول ما قاله الدوري.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن جعفر بْن مصعب بْن عَبْد اللهِ الزبيري قال: حَدَّثَنِي جدي قال: حَدَّثَنِي المغيرة بْن عَبْد الرحمن، عَنْ عَبْدِ اللهِ يعني ابن سعيد ابن أبي هند عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي عَن سعيد المقبري عَن أبي هريرة
আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাতিম আদ-দাওরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: হিশাম ইবনে উবায়দুল্লাহ আর-রাজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আল-আরাজ এবং আল-মাকবুরি থেকে, তারা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যাকে মানুষের মধ্যে বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছে, তাকে ছুরি ছাড়াই যবেহ করা হয়েছে।"
ইসহাক ইবনুল হাসান আমাদের কাছে হিশাম আর-রাজি থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি এর সনদে সংমিশ্রণ করেছেন; তিনি বলেছেন: হিশাম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে বিলাল আর-রাজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আল-মাখরামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি বলেন: আমি মনে করি তিনি আল-মাকবুরি এবং আল-আরাজ থেকে, তারা আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তার এই বক্তব্য: "মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম" ভুল, এবং সঠিক কথা হলো যা আদ-দাওরি বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে মুসআব ইবনে আবদুল্লাহ আজ-জুবাইরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার দাদা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুগিরা ইবনে আবদুর রহমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ থেকে—অর্থাৎ ইবনে সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ—তিনি উসমান ইবনে মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٩)
أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قال: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
حَدَّثَنَا إسماعيل بْن إسحاق القاضي؛ قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أبي بكر المقدمي؛ قال: حَدَّثَنَا حميد بْن الأسود، وصفوان بْن عيسى، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْن سعيد ابن أبي هند، عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي، عَن المقبري، عَن أبي هريرة عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
حَدَّثَنَا إسماعيل بْن إسحاق؛ قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أبي بكر؛ قال: حَدَّثَنَا بشار بْن عيسى؛ قال: حَدَّثَنَا ابن أبي ذئب، عَن عُثْمَان الأخنسي، عَن المقبري، عَن أبي هريرة، عَن النبي صلى الله عليه وسلم؛ قال: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
حَدَّثَنَاه أَبُو جعفر مُحَمَّد بْن عَبْد الرحمن بْن نافع الصيرفي رحمه الله؛ قال: حَدَّثَنَا معن بْن عيسى، عَن ابن أبي ذئب عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي عَن سعيد بْن المسيب كذا؛ قال: عَن أبي هريرة عَن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
حَدَّثَنَا عباس بْن مُحَمَّد الدوري؛ قال: حَدَّثَنَا أَبُو علي الحنفي عبيد الله بْن عَبْد الحميد، وَحَدَّثَنَا إسماعيل بْن إسحاق القاضي؛ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن مسلمة القعنبي قالا: حَدَّثَنَا ابن أبي ذئب قَالَ: الحنفي: حَدَّثَنِي عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي، عَن سعيد، عَن أبي هريرة قال: قَالَ النبي صلى الله عليه وسلم: مَنْ جُعِلَ عَلَى الْقَضَاءِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যাকে মানুষের মধ্যে বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো।
আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আল-কাজী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মুকাদ্দামী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুমাইদ ইবনুল আসওয়াদ এবং সাফওয়ান ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি উসমান ইবনে মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যাকে মানুষের মধ্যে বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো।
আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বাশশার ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে আবু যিব বর্ণনা করেছেন, উসমান আল-আখনাসি থেকে, তিনি আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: যাকে মানুষের মধ্যে বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো।
আমাদের নিকট আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে নাফি আস-সায়রাফি (রহিমাহুল্লাহ) এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট মা'ন ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবু যিব থেকে, তিনি উসমান ইবনে মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে এভাবে; তিনি বলেন: আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো।
আমাদের নিকট আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাওরি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আলী আল-হানাফী উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন, এবং আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আল-কাজী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল-কা'নাবি বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট ইবনে আবু যিব বর্ণনা করেছেন। আল-হানাফী বলেছেন: আমার নিকট উসমান ইবনে মুহাম্মদ আল-আখনাসি বর্ণনা করেছেন, সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যাকে বিচারকার্যের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وقَالَ: الدوري: ذبح بالسكين ها هنا. هكذا عَن سعيد ولم ينسبه؛ فأظنه فر من أن يقول: ابن المسيب لأنه غلط.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن أيوب؛ قال: حَدَّثَنَا روح قال: حَدَّثَنَا ابن أبي ذئب، عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي، عَن ابن المسيب، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قال: مَنْ وَلِيَ القَضَاءَ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
حَدَّثَنِي أَبُو بكر جعفر بْن مُحَمَّد، حَدَّثَنَا قتيبة بْن سعيد؛ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن نافع، عَن ابن أبي ذئب، عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي، عَن سعيد بْن المسيب، قال: إِذَا جعل الرجل قاضياً فقد ذبح بغير سكين. قال: أَبُو بكر لم يجاوز به سعيداً ولم يرفعه.
وحَدَّثَنَاه أَحْمَد بْن إسماعيل بْن مُحَمَّد بْن نبيه أَبُو حذافة السهمي قديماً من كتاب؛ قال: حَدَّثَنِي أَبُو ضمرة أيسر بْن عياض، عَن عُثْمَان وهو ابن الضحاك، عَن ابن المسيب، عَن النبي صلى الله عليه وسلم؛ قال: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
كذا قَالَ: لنا أَبُو حذافة، عَن ابن المسيب، فحَدَّثَنِيه مُحَمَّد بْن المطلب الخزاعي، قال: حَدَّثَنَا إبراهيم بْن المنذر الحزامي، وحَدَّثَنِي جعفر بْن الْحَسَن، قالا: حَدَّثَنَا دحيم عَبْد الرحمن بْن إبراهيم، قالا: حَدَّثَنَا أَبُو ضمرة، قال: حَدَّثَنِي عُثْمَان بْن الضحاك، عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي، عَن سعيد، عَن أبي هريرة، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بمثله.
اتفق المخرمي، وعَبْد اللهِ بْن سعيد بْن أبي هند، ورواية بشار بْن عيسى عن
আর আদ-দাওরী বলেন: এখানে 'ছুরি দিয়ে জবাই করা হয়েছে' বলা হয়েছে। সাঈদ থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি তাঁর বংশপরিচয় উল্লেখ করেননি; আমার মনে হয় তিনি 'ইবনুল মুসাইয়্যিব' বলা থেকে বিরত থেকেছেন কারণ সেটি ভুল।
আবদুল্লাহ বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাওহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি যিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যাকে বিচারকের দায়িত্ব প্রদান করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো।"
আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন নাফে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি যিব থেকে, তিনি উসমান বিন মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তিকে বিচারক বানানো হয়, তখন তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো।" আবু বকর বলেন: তিনি এটিকে সাঈদ পর্যন্তই রেখেছেন এবং মারফু হিসেবে (রাসূল পর্যন্ত) বর্ণনা করেননি।
আর আহমাদ বিন ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন নাবিহ আবু হুযাফা আস-সাহমী অনেক আগে একটি কিতাব থেকে আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু দামরা আইসার বিন ইয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান থেকে—আর তিনি হলেন ইবনুদ দাহহাক—তিনি ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: "যাকে বিচারক বানানো হয়েছে, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হয়েছে।"
আবু হুযাফা আমাদের নিকট ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। এরপর মুহাম্মদ বিন আল-মুত্তালিব আল-খুযাঈ আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন আল-মুনযির আল-হিযামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং জাফর বিন আল-হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: দুহাইম আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু দামরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান বিন আদ-দাহহাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আল-মাখরামী এবং আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবি হিন্দ একমত হয়েছেন, আর বাশশার বিন ঈসার বর্ণনাটি... থেকে।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١١)
ابن أبي ذئب، عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي، عَن المقبري، وروى معن عَن ابن أبي ذؤيب، وأَبُو ضمرة، عَن عُثْمَان بْن الضحاك، عَن الأخنسي، وقالوا: عَن ابن المسيب، وفر من فر أن يقول: ابن فلان فقال: عَن سعيد، عَن أبي هريرة؛ وهو القعنبي، عَن أبي ذئب، ومن روى عَن أبي ضمرة، عَن الخزاعي، ودحيم وقال: ابن نافع عَن ابن أبي ذئب، عَن الأخنسي، عَن سعيد بْن المسيب، قال: من جعل قاضياً".
لم يرفعه ولم يجاوز به قال: روح عَن ابن أبي ذئب، عَن الأخنسي، عَن ابن المسيب أن النبي قال: فلعل الأخنسي سمعه من المقبري، عَن أبي هريرة، وسمعه من سعيد بْن المسيب من قوله فاختلط على بعض من حمله عنه. على أن روح بْن عبادة قال: عَن ابن المسيب، عَن النبي صلى الله عليه وسلم، فهَذَا يدل على أن ابن أبي ذئب أوهم في قوله: ابن المسيب إن كان على ما قَالَ: روح بْن عبادة. ولا أعلم أن أحداً روى هَذَا الكلام عَن سعيد بْن المسيب. وله عَن المقبري أصل من غير رواية الأخنسي؛ فالقول قول من قال: عَن المقبري، عَن أبي هريرة.
حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن مُحَمَّد الزعفراني، قال: حَدَّثَنَا بكر بْن بكار قال: حَدَّثَنَا سُفْيَان الثوري، عَن زيد بْن أسلم، عَن سعيد، وأبي سعيد، عَن أبي هريرة عَن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم قال: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
هكذا قَالَ: لنا الزعفراني: عَن سعيد، أو أبي سعيد، فشك فيه.
فحَدَّثَنَاه
ইবনে আবি যি'ব, উসমান বিন মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে; এবং মা'ন ইবনে আবি যি'ব থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আবু দামরা উসমান বিন দাহহাক থেকে, তিনি আখনাসি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে; আর যে এড়িয়ে যাওয়ার সে এড়িয়ে গিয়ে বলেছে: অমুকের পুত্র, অতঃপর সে বলেছে: সাইদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে; আর তিনি হলেন আল-কা'নাবি, আবু যি'ব থেকে; এবং যারা আবু দামরা থেকে, আল-খুযাই থেকে এবং দুহাইম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে নাফি' ইবনে আবি যি'ব থেকে, আখনাসি থেকে, সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করে বলেন: "যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছে"।
তিনি একে মারফু (রাসূল পর্যন্ত উন্নীত) করেননি এবং এর ঊর্ধ্বে নিয়ে যাননি। রাওহ্ ইবনে আবি যি'ব থেকে, আখনাসি থেকে, ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী বলেছেন: সম্ভবত আখনাসি এটি মাকবুরি থেকে শুনেছেন, তিনি আবু হুরায়রা থেকে; আবার তিনি সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে শুনেছেন, ফলে যারা তাঁর কাছ থেকে হাদীসটি গ্রহণ করেছেন তাদের কারো কারো নিকট এটি সংমিশ্রিত হয়ে গেছে। এই ভিত্তিতে যে রাওহ্ বিন উবাদাহ বলেছেন: ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে; এটি নির্দেশ করে যে ইবনে আবি যি'ব 'ইবনুল মুসাইয়্যিব' বলার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছেন যদি বিষয়টি তেমন হয় যেমনটি রাওহ্ বিন উবাদাহ বলেছেন। আর আমি জানি না যে অন্য কেউ সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে এই কথাটি বর্ণনা করেছেন। মাকবুরির সূত্রে আখনাসির বর্ণনা ছাড়াই এর মূল ভিত্তি রয়েছে; সুতরাং সঠিক বক্তব্য হলো তাদের যারা বলেছেন: মাকবুরি থেকে, আবু হুরায়রা থেকে।
আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আজ-জা'ফরানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বকর বিন বাক্কার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি সাইদ এবং আবু সাইদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছে, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হয়েছে।"
জা'ফরানি আমাদের কাছে এভাবেই বর্ণনা করেছেন: সাইদ অথবা আবু সাইদ থেকে, তিনি এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন।
অতঃপর তিনি এটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٢)
صرد بْن خمار بْن سالم أَبُو سهل الجهبذ من أصل كتابه، قال: حَدَّثَنَا بكر بْن بكار، قال: حَدَّثَنَا سُفْيَان الثوري، عَن زيد بْن أسلم، عَن أبي سعيد المقبري، عَن أبي هريرة عَن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
وأَخْبَرَنِي الحارث بْن أبي أسامة، قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ العزيز بْن أبان، قال: حَدَّثَنَا سُفْيَان الثوري، عَن ابن غزية، عَن سعيد المقبري، عَن أبي هريرة؛ قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ. قَالَ: أَبُو بكر: وهَذَا خطأ من عَبْد العزيز بْن أبان؛ الحديث حديث بكر بْن بكار.
وحَدَّثَنَا إبراهيم بْن إسماعيل البزار، قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن معاوية الزبيري، وَحَدَّثَنَا يوسف بْن يعقوب بْن إسماعيل، قال: حَدَّثَنَا نصر بْن علي قال: حَدَّثَنَا الفضل بْن سليمان، عَن عَمْرو بْن أبي عَمْرو، عَن المقبري، عَن أبي هريرة أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال: مَنْ وَلِيَ القَضَاءَ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
حَدَّثَنَا إسماعيل بْن إسحاق بْن إسماعيل؛ قال: حَدَّثَنَا يحيى بْن عَبْد الحميد، قال: حَدَّثَنَا داود بْن خالد العطار، عَن سعيد بْن أبي سعيد، عَن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم بمثله. فهذه شواهد لمن قَالَ: في رواية الأخنسي عَن المقبري.
সুরদ বিন খিমার বিন সালিম আবু সাহল আল-জাহবাজ তাঁর মূল কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বকর বিন বাক্কার হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান আস-সাওরী হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি জায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হলো।"
হারিস বিন আবু উসামা আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ বিন আবান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান আস-সাওরী হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে গাজিয়াহ থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হলো।" আবু বকর বলেন: এটি আব্দুল আজিজ বিন আবানের একটি ভুল; সঠিক হাদিসটি হলো বকর বিন বাক্কারের হাদিসটি।
আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন ইসমাইল আল-বাযযার হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন মুয়াবিয়া আজ-জুবাইরি হাদিস বর্ণনা করেছেন; এবং আমাদের নিকট ইউসুফ বিন ইয়াকুব বিন ইসমাইল হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নাসর বিন আলী হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ফজল বিন সুলাইমান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর বিন আবু আমর থেকে, তিনি আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বিচারকার্য গ্রহণ করল তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হলো।"
আমাদের নিকট ইসমাইল বিন ইসহাক বিন ইসমাইল হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন আব্দুল হামিদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাউদ বিন খালিদ আল-আত্তার হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ বিন আবু সাঈদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এগুলো হলো তাদের জন্য সাক্ষী (শাওয়াহিদ), যারা আল-মাকবুরী থেকে আল-আখনাসীর বর্ণনায় কথাটি বলেছেন।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٣)
حَدَّثَنَا القاسم بْن هاشم بْن سعيد السمسار؛ قَالَ: حَدَّثَنَا يحيى بْن نصر ابن حاجب، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن سعيد بْن أبي هند، عَن أبيه، عَن ابن أبي موسى الأشعري قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
قَالَ: أَبُو بكر: لا أعلم أحداً روى هَذَا الحديث هكذا غير يحيى بْن نصر ابن حاجب؛ ويحيى بْن نصر في حديثه لين، وقد روى هَذَا الحديث عَبْد اللهِ عَن سعيد بْن أبي هند، عَن عُثْمَان بْن مُحَمَّد الأخنسي، عَن المقبري، عَن أبي هريرة، فلعله أراد ذلك فغلط والقاسم بْن هاشم السمسار ثقة.
حَدَّثَنَا محمود بْن مُحَمَّد بْن أبي المضاء الحلبي؛ قَالَ: حَدَّثَنَا العباس بْن الفرج المصيصي قال: حَدَّثَنَا داود بْن الزبرقان، عَن عطاء بْن السائب، عَن سعيد ابن جبير، عَن ابْن عَبَّاس، أن النبي صلى الله عليه وسلم: مَنْ اسْتُقْضِيَ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ.
التشديد في القضاءما روى في أن القضاة ثلاثة فقاضيان في النار وقاض في الجنة
[القضاة ثلاثة]
حَدَّثَنَا عبيد الله بْن سعد بْن إبراهيم بْن سعد؛ قال: حَدَّثَنَا عمي يعقوب ابن إبراهيم بْن سعد؛ قال: حَدَّثَنَا شريك، وَحَدَّثَنَا العباس بْن مُحَمَّد بْن حاتم، وعَبْد الملك بْن مُحَمَّد الرقشي؛ قالا: حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن بشر قال: حَدَّثَنَا
কাসেম বিন হাশেম বিন সাঈদ আস-সিমসার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন নাসর ইবনুল হাজিব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবি হিন্দ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আবি মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যাকে মানুষের মধ্যে বিচারক নিযুক্ত করা হয়েছে, তাকে ছুরি ছাড়াই জবাই করা হয়েছে।"
আবু বকর বলেছেন: আমি জানি না ইয়াহইয়া বিন নাসর ইবনুল হাজিব ছাড়া আর কেউ হাদীসটি এভাবে বর্ণনা করেছেন কি না; আর ইয়াহইয়া বিন নাসর তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিল (লাইয়িন)। এই হাদীসটি আবদুল্লাহ সাঈদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি উসমান বিন মুহাম্মদ আল-আখনাসি থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; সম্ভবত তিনি সেটিই বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু ভুল করেছেন। তবে কাসেম বিন হাশেম আস-সিমসার নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।
মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-মাদা আল-হালাবি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আব্বাস বিন আল-ফারাজ আল-মাসিসি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ বিন আয-যিবরিকান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যাকে বিচারকের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তাকে ছুরি ছাড়াই জবাই করা হয়েছে।"
বিচারকার্যের ক্ষেত্রে কঠোরতাবিচারকগণ তিন প্রকার— দুই প্রকার জাহান্নামে এবং এক প্রকার জান্নাতে— এই মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে
[বিচারক তিন প্রকার]
উবায়দুল্লাহ বিন সাদ বিন ইবরাহিম বিন সাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমার চাচা ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন সাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: শারিক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। এবং আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন হাতিম ও আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ আর-রাকাশশি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তারা দুজনে বলেছেন: হাসান বিন বিশর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٤)
شريك بْن عَبْد اللهِ عَن الأعمش، عَن سعد بْن عبيدة، عَن ابن بريدة، عَن أبيه، عَن النبي صلى الله عليه وسلم؛ قال: القضاة ثلاثة فقاضيان في النار، وقاض في الجنة فأما الذي في الجنة فرجل عرف الحق فقضى به، وأما اللذان في النار فرجل عرف الحق فجار في الحكم، ورجل قضى على جهل؛ فهما في النار.
حَدَّثَنَا عَبْدُ الملك بْن مُحَمَّد الرقاشي؛ قال: حَدَّثَنَا علي بْن عَبْد اللهِ قال: حَدَّثَنَا خلف بْن خليفة، عَن أبي هاشم الرماني، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْن بريدة،
শারীক বিন আবদুল্লাহ আ'মাশ থেকে, তিনি সা'দ বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: "বিচারকগণ তিন প্রকার; দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামে এবং এক প্রকার জান্নাতে। জান্নাতি বিচারক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সত্যকে জেনেছেন এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা করেছেন। আর জাহান্নামী দুই প্রকার বিচারক হলো—সেই ব্যক্তি যে সত্য জেনেও বিচারে জুলুম করেছে এবং সেই ব্যক্তি যে অজ্ঞতাবশত ফয়সালা করেছে; তারা উভয়েই জাহান্নামে যাবে।"
আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ আর-রাকাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আলী বিন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: খালাফ বিন খলিফা আমাদের নিকট আবু হাশিম আর-রুমানি থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ বিন বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٥)
عن أبيه قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: القضاة ثلاثة فذكر نحوه.
أَخْبَرَنَا إسحاق بْن إبراهيم بْن عَبْد الرحمن لؤلؤ، قَالَ: أَخْبَرَنَا داود ابن عَبْد الحميد، قال: حَدَّثَنَا يونس بْن خباب أَبُو حمزة، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْن بريدة عَن أبيه بريدة قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: القضاة ثلاثة فرجل علم فقضى على علم فجار فِيْهِ واعتدى؛ فذاك في النار، ورجل جهل فقضى على الناس فأتلف حقوقهم وأهلكها بجهله فذاك في النار، ورجل علم فقضى بما علم فوافق ذلك الحق فهو في الجنة.
وحَدَّثَنِي أَبُو جعفر مُحَمَّد بْن صالح قال: حَدَّثَنَا جبارة قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن بكير قال: حَدَّثَنِي حكيم بْن جبير، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْن بريدة قال: أراد يزيد بْن المهلب أن يستعملني على قضاء خراسان؛ فألح علي فقلت: لا والله؛ قد حَدَّثَنِي أبي عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في القضاة ثلاثة؛ اثنان في النار، وواحد في الجنة؛ قاض علم فقضى به فهو من أهل الجنة، وقاض علم الحق فجار متعمداً فهو من أهل النار، وقاض قضى بغير علم واستحيا أن يقول: لا أعلم فهو من أهل النار.
حَدَّثَنِي الفضل بْن يوسف الجعفي، قَالَ: حَدَّثَنَا إبراهيم بْن الحكم بْن ظهير قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن فرات الجرمي، عَن محارب، عَن ابن عُمَر، قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: القضاة ثلاثة؛ قاضيان في النار، وقاض في الجنة قاض قضى بغير ما أنزل الله فهو النار، وقاض قضى بالهوى فهو في النار، وقاض قضى بما أنزل الله فهو في الجنة.
তাঁর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার..." এরপর তিনি তদ্রূপ উল্লেখ করেন।
ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন আবদুর রহমান লু'লু' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবন আবদুল হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস বিন খাব্বাব আবু হামযা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন বুরাইদাহ হতে, তিনি তাঁর পিতা বুরাইদাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার: এক ব্যক্তি যে সত্য জানে এবং সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে বিচার করে কিন্তু তাতে অবিচার ও সীমালঙ্ঘন করে; সে জাহান্নামী। আর এক ব্যক্তি যে অজ্ঞ এবং মানুষের মাঝে বিচার কার্য পরিচালনা করে তাদের অধিকার নষ্ট ও ধ্বংস করে ফেলে তার মূর্খতার কারণে; সেও জাহান্নামী। আর এক ব্যক্তি যে সত্য জানে এবং সে তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী বিচার করে যা সত্যের অনুকূলে হয়; সে জান্নাতী।"
আবু জাফর মুহাম্মদ বিন সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুব্বারাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাকীম বিন জুবাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন বুরাইদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ বিন মুহাল্লাব আমাকে খোরাসানের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন; তিনি আমার ওপর অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করলেন, তখন আমি বললাম: "না, আল্লাহর কসম; আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বিচারকদের সম্পর্কে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তারা তিন প্রকার; দুইজন জাহান্নামী আর একজন জান্নাতী। যে বিচারক সত্য জানে এবং সে অনুযায়ী বিচার করে, সে জান্নাতবাসী। আর যে বিচারক সত্য জানা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে অবিচার করে, সে জাহান্নামবাসী। আর যে বিচারক ইলম ছাড়া ফয়সালা করে এবং 'আমি জানি না' বলতে লজ্জা বোধ করে, সেও জাহান্নামবাসী।"
ফাদল বিন ইউসুফ আল-জু'ফী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন আল-হাকাম বিন জাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ফুরাত আল-জারমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহারিব হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার; দুই প্রকার জাহান্নামী এবং এক প্রকার জান্নাতী। যে বিচারক আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা ব্যতিরেকে ফয়সালা করে, সে জাহান্নামী। যে বিচারক খেয়াল-খুশি বা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে বিচার করে, সে জাহান্নামী। আর যে বিচারক আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করে, সে জান্নাতী।"
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٦)
حَدَّثَنِي الفضل بْن يوسف، قال: حَدَّثَنِي إبراهيم بْن الحكم بْن ظهير، قال: حَدَّثَنَا أبي، عَن السدي، عَنْ عَبْدِ خير، عَن علي رضي الله عنه قال: القضاة ثلاثة فذكر نحوه.
حَدَّثَنِي مُحَمَّد بْن بشر بْن مطر؛ قَالَ: حَدَّثَنَا إسماعيل بْن بهرام؛ قال: حَدَّثَنَا الأشجعي، عَن سُفْيَان، عَن علقمة بْن مرثد، عَن ابن بريدة، عَن كعب؛ قَالَ: القضاة ثلاثة فذكر نحوه.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن مُحَمَّد بْن أيوب بْن صبح؛ قَالَ: حَدَّثَنَا روح بْن عبادة، قَالَ: حَدَّثَنَا الأخضر بْن عجلان التيمي؛ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرحمن بْن عتبة ابن عَبْد اللهِ بْن مسعود، عَن أبيه، عَن كعب، قال: بعث عُمَر إِلَى كعب إني جاعلك قاضياً قال: لا تفعل يا أمير المؤمنين. قال: لم يا كعب ? قال: إن القضاة ثلاثة؛ فقاضيان في النار وقاض في الجنة؛ قاض علم وترك علمه فقضى بجور، وقاض لم يعلم فقضى بجهالة فهو معه في النار، وقاض قضى بعلمه ومضى عليه فهو من أهل الجنة. فقال: يا كعب فإنك قد علمت؛ تقضى بعلم وتمضى عليه؛ قال: يا أمير المؤمنين أختار لنفسي أحب إلي من أن أخاطر بها.
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْن زكريا بْن يحيى، قال: حَدَّثَنِي ابن وكيع؛ قال: حَدَّثَنَا ابن فضيل عَن أبيه عَن محارب بْن دثار، عَن ابن عُمَر،- وفي كتاب آخر لم يذكر ابن عُمَر- قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: القضاة
আল-ফজল ইবনে ইউসুফ আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে আল-হাকাম ইবনে জুহাইর আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আস-সুদ্দী থেকে, তিনি আবদ খাইর থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বিচারক তিন প্রকার... অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
মুহাম্মদ ইবনে বিশর ইবনে মাতার আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে বাহরাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আল-আশজায়ি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: বিচারক তিন প্রকার... অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে সুবহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাওহ ইবনে উবাদাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আল-আখদার ইবনে আজলান আত-তাইমি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে উতবাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওমর (রা.) কাবের নিকট লোক পাঠালেন যে, ‘আমি আপনাকে বিচারক নিযুক্ত করতে চাই’। তিনি বললেন: ‘হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি এটি করবেন না।’ তিনি বললেন: ‘কেন হে কাব?’ তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই বিচারক তিন প্রকার; দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামে এবং এক প্রকার জান্নাতে। যে বিচারক (হক) জানল কিন্তু তা ছেড়ে দিল এবং অন্যায়ভাবে বিচার করল; আর যে বিচারক না জেনে অজ্ঞতাবশত বিচার করল—সেও তার সাথে জাহান্নামে যাবে। আর যে বিচারক নিজ জ্ঞান অনুযায়ী বিচার করল এবং সেটার উপর অটল থাকল, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ ওমর (রা.) বললেন: ‘হে কাব, আপনি তো জানেনই; আপনি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী ফয়সালা করবেন এবং তার উপর অটল থাকবেন।’ তিনি বললেন: ‘হে আমিরুল মুমিনীন, আমি নিজের জন্য যা পছন্দ করি তা (এই পদের ঝুঁকি নিয়ে) নিজেকে বিপদে ফেলার চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয়।’
আবদুল্লাহ ইবনে জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াকি আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইবনে ফুদাইল তাঁর পিতা থেকে, তিনি মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, তিনি ইবনে ওমর (রা.) থেকে—আর অন্য একটি কিতাবে ইবনে ওমরের নাম উল্লেখ করা হয়নি—তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: বিচারকগণ...
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ثلاثة؛ قاضيان في النار وقاض في الجنة؛ قاض قضى بالحق فهو في الجنة، وقاض قضى بالهوى فهو في النار، وقاض قضى بغير علم فهو في النار.
حَدَّثَنَا عَبْدُ الملك بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الملك الرقاشي؛ قال: حَدَّثَنِي أبي قال: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الملك بْن أبي جميلة، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ؛ قال: قَالَ: عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانُ لِابْنِ عُمَرَ: اذْهَبْ فَاقْضِ بَيْنَ النَّاسِ؛
বিচারক তিন প্রকার; দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামে এবং এক প্রকার জান্নাতে; যে বিচারক সত্য অনুযায়ী ফয়সালা করেন তিনি জান্নাতে, আর যে বিচারক প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে ফয়সালা করেন তিনি জাহান্নামে, এবং যে বিচারক জ্ঞান ছাড়াই ফয়সালা করেন তিনি জাহান্নামে।
আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আর-রাকাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতামির বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন আবু জামিলা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাওহাব হতে; তিনি বলেন: উসমান বিন আফফান ইবনে উমরকে বললেন: তুমি যাও এবং মানুষের মাঝে বিচার ফয়সালা করো;
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٨)
فَقَالَ: أَوَ تُعَافِينِي يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: عَزَمْتُ عَلَيْكَ؛ قال: فَقَالَ: ابن عُمَر: أما سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقول: مَنْ اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ فَأَعِيذُوهُ؟! وأنا أعوذ بالله أن أكون على القضاء؛ فَقَالَ: عثمان: ما يمنعك أن تكون على القضاء وَقَدْ كَانَ أَبُوكَ يَقْضِي؟! قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: مَنْ كَانَ قَاضِيًا فَقَضَى بٍالْجَوْرِ فَهُوَ فِي النَّارِ، وَمَنْ قَضَى فَأخْطَأَ فَهُوَ فِي النَّارِ وَمَنْ فَضَى فَأَصَاب الْحَقَّ فَبِالْحَرِيِّ أَنْ يَنْجُوَ، فما راحتي إِلَى ذلك ?
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن مُحَمَّد بْن أيوب؛ قال: حَدَّثَنَا روح بْن عبادة؛ قال: حَدَّثَنَا شعبة؛ قال: سمعت قتادة قال: سمعت رفيعاً أبا العالية الرياحي قال: قَالَ: علي رضي الله عنه: القضاة ثلاثة؛ فقاضيان في النار، وقاض في الجنة؛ وأما اللذان في النار فرجل عرف الحق فجار فهو في النار، وقاض قضى فأخطأ فهو في النار، وقاض قضى فأصاب فهو في الجنة؛ قلت لأبي العالية: كيف يكون في النار وقد اجتهد رأيه ? قال: قوله: إِذَا لم يحسن ألا يقعد قاضيا.
حَدَّثَنَاه أَبُو قلابة؛ قال: حَدَّثَنَا أَبُو عاصم؛ قال: حَدَّثَنَا همام، عَن قتادة، عَن أبي العالية؛ قال: قَالَ: علي: القضاة ثلاثة. فذكر مثله ولم يذكر كلام أبي العالية.
তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি কি আমাকে অব্যাহতি দেবেন? তিনি বললেন: আমি আপনার ওপর তা আবশ্যক করে দিয়েছি। ইবনে উমর বললেন: আপনি কি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেননি যে, "যে ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাকে আশ্রয় দাও"? আমি বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন উসমান বললেন: বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করতে আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে, অথচ আপনার পিতা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি বিচারক হলো এবং অন্যায়ভাবে বিচার করল, সে জাহান্নামে যাবে। আর যে বিচার করল এবং ভুল করল, সেও জাহান্নামে যাবে। আর যে বিচার করল এবং সত্যে উপনীত হলো, তার জন্য কোনোমতে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।" সুতরাং এতে আমার জন্য স্বস্তি কোথায়?
আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট রুহ বিন উবাদাহ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রুফাই' আবু আল-আলিয়া আল-রিয়াহিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: বিচারক তিন প্রকার; দুই প্রকারের বিচারক জাহান্নামে এবং এক প্রকারের বিচারক জান্নাতে। জাহান্নামী দুজন হলো: সেই ব্যক্তি যে সত্য জেনেও অবিচার করেছে, সে জাহান্নামে যাবে; আর সেই বিচারক যে বিচার করতে গিয়ে ভুল করেছে, সেও জাহান্নামে যাবে। আর যে বিচারক বিচার করে সত্যে উপনীত হয়েছে, সে জান্নাতে যাবে। আমি আবু আল-আলিয়াকে বললাম: সে কেন জাহান্নামে যাবে অথচ সে তার বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের আপ্রাণ চেষ্টা করেছে? তিনি বললেন: তার বক্তব্য হলো: যদি সে পারদর্শী না হয়, তবে বিচারকের আসনে বসা তার উচিত নয়।
আমাদের নিকট আবু কিলাবাহ এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাম বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু আল-আলিয়া থেকে; তিনি বলেন: আলী বলেছেন: বিচারক তিন প্রকার। এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন, তবে আবু আল-আলিয়ার কথাটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ١٩)
أَخْبَرَنِي علي بْن العباس الخمري؛ قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن مروان القطان؛ قال: حَدَّثَنَا إبراهيم بْن الحكم بْن ظهير، عَن أبيه، عَن السدي، عَنْ عَبْدِ خير، عَن علي رضي الله عنه؛ قال: القضاة ثلاثة فذكر نحوه.
باب في التشديد[جزاء الحاكم بين الناس]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن عُمَر بْن بشر الوراق؛ قال: حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن عُمَر، أن الأخنسي قال: سألت يحيى بْن سعيد القطان فحَدَّثَنِي، وَحَدَّثَنَا يوسف بْن يعقوب قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن أبي بكر المقدمي؛ قال: حَدَّثَنَا يحيى بْن سعيد؛ قال: حَدَّثَنَا مجالد، عَن الشعبي، عَن مسروق، عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَن النبي صلى الله عليه وسلم-وقال: مُحَمَّد بْن أبي بكر ربما ذكر النبي فصلى عليه- قال: ما من حكم يحكم بين الناس إِلَّا أُتي به يوم القيامة وملك آخذ بقفاه فيوثقه على شاطئ جهنم ثم يرفع رأسه؛ فإن قيل له ألقه ألقاه في مهواة يهوى فيها أربعين خريفا.
حَدَّثَنِي أَبُو بكر جعفر بْن الْحَسَن؛ قال: حَدَّثَنَا إسحاق بْن راهويه؛ قال: أَخْبَرَنَا بقية بْن الوليد؛ قال: حَدَّثَنَا صفوان بْن عَمْرو؛ قال: حَدَّثَنِي شريح ابن عبيد، وفلان بْن مسروق، عَن معاذ بْن جبل، عَن رسول الله صلى الله
আলী ইবনুল আব্বাস আল-খুমরী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনুল হাকাম ইবনে জুহাইর তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে, তিনি আবদে খাইর থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: বিচারক তিন প্রকার, এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
কঠোরতা সম্পর্কিত অধ্যায়[মানুষের মাঝে বিচারকের প্রতিদান প্রসঙ্গে]
আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে বিশর আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আহমদ ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল-আখনাসী বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন; এবং ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মুকাদ্দামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুজালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শা'বী থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন—এবং মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সম্ভবত নবীর নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর উপর দরুদ পাঠ করেছেন—তিনি বলেন: এমন কোনো বিচারক নেই যে মানুষের মধ্যে বিচার করে, যাকে কিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে না এমতাবস্থায় যে একজন ফেরেশতা তার ঘাড় ধরে থাকবে, অতঃপর তাকে জাহান্নামের কিনারায় আটকে রাখবে এবং এরপর তার মাথা উত্তোলন করবে; যদি তাকে বলা হয় ‘তাকে নিক্ষেপ করো’, তবে সে তাকে এমন এক গভীর গর্তে নিক্ষেপ করবে যাতে সে চল্লিশ বছর ধরে নিচে পড়তে থাকবে।
আবু বকর জাফর ইবনুল হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে রাহওয়াই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: সাফওয়ান ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: শুরাইহ ইবনে উবাইদ এবং অমুক ইবনে মাসরুক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
عليه وسلم؛ قال: القاضي ليزل في مزلقة أبعد من عدن في جهنم.
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْن شبيب؛ قال: حَدَّثَنِي إسماعيل بْن أبي أويس؛ قال: حَدَّثَنِي يحيى بْن يزيد بْن عَبْد الملك النوفلي، عَن أبيه، عَن صفوان بْن سليم، عَن الأعرج، عَن أبي هريرة؛ قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: ليس أحد من خلق الله يحكم بين ثلاثة إِلَّا جئ به يوم القيامة م غُلُوْل ةً يداه إِلَى عنقه فكه العدل أو سلمه.
حَدَّثَنَا عَبْدُ الملك بْن مُحَمَّد الرقاشي؛ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصمد بْن عَبْد الوارث، وَحَدَّثَنَا جعفر بْن مكرم؛ قال: حَدَّثَنَا أَبُو الوليد وأَبُو سلمة؛ قالوا: حَدَّثَنَا عُمَر بْن العلاء، وهو حوز أَبُو العلاء؛ قَالَ: حَدَّثَنِي صالح بْن سرح،
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম); তিনি বলেছেন: বিচারক অবশ্যই জাহান্নামের এমন এক পিচ্ছিল স্থানে বিচ্যুত হতে থাকেন যা আদন অপেক্ষা অধিক দূরবর্তী।
আবদুল্লাহ ইবনে শাবিব আমাকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস আমাকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আবদুল মালিক আল-নওফালি তার পিতা থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তিনজনের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করে, যাকে কিয়ামতের দিন তার হাত দুটি ঘাড়ের সাথে শিকলবদ্ধ অবস্থায় উপস্থিত করা হবে না; অতঃপর তার ন্যায়বিচার তাকে মুক্ত করবে অথবা তাকে সোপর্দ করবে।
আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আল-রাকাশি আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস আমাদের বর্ণনা করেছেন; এবং জাফর ইবনে মুকরিম আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবু ওয়ালিদ ও আবু সালামাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন; তারা বলেছেন: ওমর ইবনে আল-আলা আমাদের বর্ণনা করেছেন, যিনি আবু আল-আলা আল-হাউজ; তিনি বলেছেন: সালেহ ইবনে সারহ আমাকে বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢١)
عن عِمْرَان بْن حطان، عَن عَائِشَة؛ قالت: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: يجاء بالقاضي العدل يوم القيامة فيلقى من شدة الحساب ما يتمنى أنه لم يقض بين اثنين.
[نصيحة الرسول صلى الله عليه وسلم لأبي ذر]
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرحمن بْن الأزهر؛ قال: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْد الرحمن المقرئ قال: حَدَّثَنَا سعيد بْن أبي أيوب، عَن عبيد الله بْن أبي جعفر القرشي، عَن سالم بْن أبي سالم الجيشاني، عَن أبيه، عَن أبي ذر قال: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: يا أبا ذر إني لأراك ضعيفاً، وأني لأحب لك ما أحب لنفسي؛ لا تأمرن على اثنين، ولا تتولين مال يتيم.
[رأي علي في القضاء]
حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن علي بْن الوليد؛ قال: حَدَّثَنِي خلف بْن عَبْد الحميد السرخسي؛ قال: حَدَّثَنِي أَبُو الصباح عَبْد الغفور بْن سعيد، عَن أبي هاشم الرماني، عَن زاذان، عَن علي بْن أبي طالب رضي الله عنه؛ قال: لو يعلم الناس ما في القضاء ما قضوا في ثمن بعرة! ولكن لا بد للناس من القضاء، ومن إمرة برة أو فاجرة.
ইমরান ইবন হিত্তান থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামতের দিন ন্যায়পরায়ণ বিচারককে উপস্থিত করা হবে, তখন সে হিসাবের কঠোরতার কারণে এমন আকাঙ্ক্ষা করবে যে, সে যদি কখনো দুই ব্যক্তির মাঝেও বিচার না করত!
[আবু যর (রা.)-এর প্রতি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নসিহত]
আব্দুর রহমান ইবনুল আযহার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু আব্দুর রহমান আল-মুক্রি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: সাঈদ ইবন আবি আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আবি জাফর আল-কুরাশি থেকে, তিনি সালিম ইবন আবি সালিম আল-জায়শানি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু যর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: হে আবু যর, আমি তোমাকে দুর্বল হিসেবে দেখছি, আর আমি নিজের জন্য যা পছন্দ করি, তোমার জন্যও তাই পছন্দ করি; তুমি কখনো দুই ব্যক্তির ওপর নেতৃত্ব গ্রহণ করো না এবং কখনো এতিমের সম্পদের দায়িত্ব নিয়ো না।
[বিচারকার্য সম্পর্কে আলী (রা.)-এর অভিমত]
হাসান ইবন আলী ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: খালাফ ইবন আব্দুল হামিদ আস-সারাকসি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবুস সাবাহ আব্দুল গফুর ইবন সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হাশিম আর-রুমমানি থেকে, তিনি যাযান থেকে, তিনি আলী ইবন আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: বিচারকার্যের মধ্যে কী ভয়াবহতা রয়েছে তা যদি মানুষ জানত, তবে তারা একটি গোবরের মূল্যের বিষয়েও বিচার করত না! কিন্তু মানুষের জন্য বিচারব্যবস্থা এবং নেতৃত্ব অপরিহার্য, তা নেককার হোক কিংবা পাপাচারী।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
[أول من يدعي يوم القيامة للحساب: القضاة]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن مُحَمَّد بْن أيوب؛ قال: حَدَّثَنَا روح بْن عبادة؛ قال: حَدَّثَنَا حماد بْن زيد، وحَدَّثَنِي أَحْمَد بْن زياد؛ قال: حَدَّثَنِي أسود بْن سالم، قال: حَدَّثَنَا حماد الأبح، عَن مُحَمَّد بْن واسع، قَالَ: بلغني أن أول من يدعي يوم القيامة إِلَى الحساب القضاة.
[ما أخذ على القضاة من عهد]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن مُحَمَّد بْن أيوب، قال: حَدَّثَنَا يحيى بْن أبي بكير؛ قال: حَدَّثَنَا أَبُو جعفر الرازي، عَن يونس، عَن الْحَسَنِ؛ قال: أخذ على القضاة ثلاث؛ ألا يشتروا به ثمناً، ولا يتبعوا به هوىً، ولا يخشوا فِيْهِ أحداً.
[قول ابن عتبة وقد دعي للقضاء]
حَدَّثَنَا إسماعيل بْن إسحاق القاضي؛ قال: حَدَّثَنَا سليمان بْن حرب؛ قال: حَدَّثَنَا حماد بْن زيد، عَن أيوب، عَن مُحَمَّد؛ قال: كنت عند عَبْد اللهِ بْن عتبة، وبين يديه كانون فِيْهِ نار؛ فجاء رجل فجلس معه على فراشه فساره بشيء ما ندري ما هو؛ فَقَالَ لَهُ ابن عتبة ضع لي إصبعك في هذه النار؛ فَقَالَ: الرجل: سبحان الله! تأمرني أن أضع لك إصبعي في النار! فَقَالَ لَهُ: أتبخل علي بإصبع من أصابعك في نار الدنيا، وتسألني أن أضع جسدي كله في نار جهنم! فظننا أنه دعاه إِلَى القضاء.
[رأي جابر بن زيد في تولية القضاء]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن مُحَمَّد بْن أيوب؛ قال: حَدَّثَنَا روح بْن عبادة؛ قال: حَدَّثَنَا ابن عيينة، عَن عَمْرو بْن دينار، عَن جابر بْن زيد؛ قال: كتب الحكم بْن أيوب نفرا على القضاء فكتبني فيهم؛ فلو ابتليت بذلك لركبت
[কিয়ামতের দিন হিসাবের জন্য সর্বপ্রথম যাদের ডাকা হবে: বিচারকগণ]
আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: রুহ বিন উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: হাম্মাদ বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আহমদ বিন যিয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আসওয়াদ বিন সালিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাম্মাদ আল-আবাত্ত মুহাম্মদ বিন ওয়াসি’ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, কিয়ামতের দিন হিসাবের জন্য সর্বপ্রথম যাদের ডাকা হবে তারা হলো বিচারকগণ।
[বিচারকদের কাছ থেকে যে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে]
আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবু জাফর আর-রাজি ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: বিচারকদের নিকট থেকে তিনটি বিষয়ে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে; তারা যেন এর বিনিময়ে কোনো মূল্য গ্রহণ না করে, যেন এতে খেয়াল-খুশির অনুসরণ না করে এবং এতে কাউকে ভয় না পায়।
[ইবনে উতবার বক্তব্য যখন তাকে বিচারকার্যের জন্য ডাকা হয়েছিল]
ইসমাইল বিন ইসহাক আল-কাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: সুলাইমান বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: হাম্মাদ বিন যায়েদ আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন উতবার নিকট ছিলাম, আর তার সামনে আগুনের একটি চুলা ছিল। তখন এক ব্যক্তি এসে তার সাথে তার বিছানায় বসল এবং তাকে কানে কানে কিছু বলল যা আমরা জানি না; তখন ইবনে উতবা তাকে বললেন: আমার জন্য তোমার একটি আঙুল এই আগুনের মধ্যে রাখো; তখন লোকটি বলল: সুবহানাল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার জন্য আগুনের মধ্যে আঙুল রাখতে আদেশ করছেন! তিনি তাকে বললেন: তুমি দুনিয়ার আগুনের ব্যাপারে তোমার একটি আঙুলের ক্ষেত্রে আমার প্রতি কৃপণতা করছ, অথচ তুমি আমাকে আমার পুরো শরীরকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করতে বলছ! তখন আমরা ধারণা করলাম যে, সে তাকে বিচারকার্যের জন্য আহ্বান জানিয়েছিল।
[বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে জাবির বিন যায়েদের অভিমত]
আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: রুহ বিন উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ইবনে উয়ায়না আমর বিন দিনার থেকে, তিনি জাবির বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: হাকাম বিন আইয়ুব বিচারকার্যের জন্য কয়েকজনের নাম লিখেছিলেন এবং তাদের মধ্যে আমার নামও লিখেছিলেন; যদি আমি এই পরীক্ষায় নিক্ষিপ্ত হতাম তবে আমি সওয়ার হতাম...
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
حماري أو قال: راحلتي ثم ذهبت في الأرض، قال: وقَالَ لي: جابر بْن زيد: وما أملك إِلَّا حماراً.
[أعلمهم بالقضاء أشدهم كراهة له]
حَدَّثَنَا إسماعيل ابن إسحاق؛ قال: حَدَّثَنَا سليمان بْن أيوب صاحب البصري؛ قال: حَدَّثَنَا حماد بْن زيد؛ قال: سمعت أيوب يقول: رأيت أعلم الناس بالقضاء أشدهم له كراهةً، وما رأيت أحداً كان أعلم بالقضاء من أبي قلابة، وما أدري ما مُحَمَّد لو أكره عليه.
[قول أبي قلابة لما دعي للقضاء]
فأَخْبَرَنِي علي بْن عَبْد العزيز الوراق؛ قال: حَدَّثَنَا معلى بْن مهدي؛ قال: حَدَّثَنَا حاتم بْن وردان؛ قال: حَدَّثَنَا أيوب؛ قال: طلب أَبُو قلابة للقضاء فلحق بالشام؛ فأقام زماناً ثم قدم؛ قال: فقلت: لو وليت قضاء المسلمين فعدلت بينهم كان لك بذلك أجر قال: يا أيوب، السابح إِذَا وقع في البحر كم عسى أن يسبح ?.
[رأي رجاء بن حيوة في ولاية القضاء]
أَخْبَرَنِي مُحَمَّد بْن أَحْمَد اللحياني، قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن سماعة الرملي؛ قال: حَدَّثَنَا ضمرة، عَن رجاء بْن أبي سلمة، عَن المعلى بْن روبة؛ قال: قَالَ لي رجاء بْن حيوة: ولي الأمير اليوم عَبْد اللهِ بْن موهب القضاء، ولو اخترت بين أن أحمل إِلَى حفرتي وبين ما ولي ابن موهب لاخترت أن أحمل إِلَى حفرتي؛ فقلت له: فإن الناس يتحدثون أنك أنت أشرت به؛ قال:
...আমার গাধা অথবা তিনি বলেছেন: আমার সওয়ারি, অতঃপর তা জমিনে চলে গেল। তিনি বললেন: জাবির বিন যায়েদ আমাকে বলেছেন: আমার কাছে একটি গাধা ছাড়া আর কিছুই নেই।
[বিচারকার্য সম্পর্কে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ব্যক্তিই বিচারকার্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনীহা পোষণকারী]
আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বাসরার অধিবাসী সুলাইমান ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমি আইয়ুবকে বলতে শুনেছি: আমি বিচারকার্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ব্যক্তিকে সেটির প্রতি সবচেয়ে বেশি অনীহা পোষণকারী হিসেবে দেখেছি। আর আমি আবু কিলাবার চেয়ে বিচারকার্য সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি। আর আমি জানি না মুহাম্মাদ সম্পর্কে কী হতো যদি তাকে এর জন্য বাধ্য করা হতো।
[বিচারকার্যের জন্য যখন আবু কিলাবাকে ডাকা হলো তখন তার উক্তি]
আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আল-ওয়াররাক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: মুআল্লা ইবনে মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: হাতিম ইবনে ওয়ারদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আইয়ুব বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আবু কিলাবাকে বিচারকার্যের জন্য তলব করা হয়েছিল, তখন তিনি শামে চলে যান; সেখানে কিছুকাল অবস্থান করে অতঃপর ফিরে আসেন। তিনি (আইয়ুব) বললেন: আমি বললাম: আপনি যদি মুসলিমদের বিচারকার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করতেন এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতেন, তবে তাতে আপনার জন্য পুরস্কার থাকত। তিনি বললেন: হে আইয়ুব, একজন সাঁতারু যখন সমুদ্রে পড়ে যায়, সে কতক্ষণ সাঁতরাতে পারে?
[বিচারকার্যের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে রাজা ইবনে হাইওয়ার অভিমত]
মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-লিহয়ানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে সামাআহ আর-রামলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: দামরাহ রাজা ইবনে আবি সালামাহ থেকে, তিনি মুআল্লা ইবনে রওবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: রাজা ইবনে হাইওয়াহ আমাকে বললেন: আমির আজ আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাবকে বিচারকার্যের দায়িত্ব দিয়েছেন। যদি আমাকে আমার কবরের দিকে বয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ইবনে মাওহাব যে দায়িত্ব পেয়েছেন তার মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বলা হতো, তবে আমি আমার কবরের দিকে বয়ে নিয়ে যাওয়াকেই বেছে নিতাম। আমি তাকে বললাম: মানুষ তো বলাবলি করছে যে, আপনিই তাকে এই পদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বললেন:
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
صدقوا لأني نظرت للعامة ولم أنظر له.
حَدَّثَنَا أَبُو الأحوص مُحَمَّد بْن الهيثم؛ قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن كثير، عَن الأوزاعي، عَن مكحول؛ قال: لأن أقدم فتضرب عنقي أحب إِلَى من أن ألى القضاء.
[رأي مكحول في القضاء]
حَدَّثَنَا أَبُو الوليد مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن الوليد بْن برد الأنطاكي؛ قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن عيسى؛ قال: حَدَّثَنَا عبيد بْن الوليد الدمشقي؛ قال: أَخْبَرَنِي أبي؛ قال: أخذ بيدي مكحول فقال: ما أحرصك يا ابن أبي مالك على القضاء! لو خيرت بين القضاء وبين ضرب عنقي لاخترت ضرب عنقي.
[رأي المسيب في القضاء]
أَخْبَرَنِي أَبُو بكر جعفر بْن مُحَمَّد؛ قال: حَدَّثَنَا قتيبة بْن سعيد؛ قال: حَدَّثَنَا معن بْن عيسى، عَن إسحاق بْن يحيى، عَن المسيب عَن رافع، أن عُمَر بْن هبيرة دعاه ليوليه القضاء؛ فقال: ما يسرني أني وليت القضاء، وأن سواري مسجدكم هَذَا لي ذهباً.
[نصيحة الفضيل بن عياض لمن ولي القضاء]
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْن المفضل قال: حَدَّثَنِي أبي قال: حَدَّثَنِي أَبُو علي التاجر؛ قال: قَالَ: الفضيل بْن عياض: إِذَا ولي الرجل القضاء فليجعل للقضاء يوماً وللبكاء يوماً.
[نصيحة ابن شبرمة]
حَدَّثَنِي أَبُو بكر بْن حبش؛ قال: حَدَّثَنَا عُثْمَان بْن مُحَمَّد؛ قال: حَدَّثَنَا جرير؛ عَن ابن شُبْرُمَةَ قال: لا تجترئ على القضاء حتى تجري على السيف.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن الهيثم العَبْدي؛ قال: حَدَّثَنَا الأصمعي؛ قال: حَدَّثَنَا
তারা সত্য বলেছে কারণ আমি সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করেছি এবং তার কথা বিবেচনা করিনি।
আবু আল-আহওয়াস মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন কাসীর আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আওযাঈ থেকে, তিনি মাকহুল থেকে; তিনি (মাকহুল) বলেছেন: আমাকে সামনে নিয়ে গিয়ে আমার ঘাড় কেটে ফেলা আমার নিকট বিচারকার্য পরিচালনা করার চেয়ে অধিক প্রিয়।
[বিচারকার্য সম্পর্কে মাকহুলের অভিমত]
আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন বুরদ আল-আনতাকি আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ঈসা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: উবায়দ বিন আল-ওয়ালিদ আদ-দিমাশকী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: মাকহুল আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: হে ইবনে আবি মালিক! বিচারকার্যের প্রতি তুমি কতই না লালায়িত! যদি আমাকে বিচারকার্য এবং আমার ঘাড় কেটে ফেলার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হতো, তবে আমি ঘাড় কেটে ফেলাকেই বেছে নিতাম।
[বিচারকার্য সম্পর্কে মুসাইয়িবের অভিমত]
আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: কুতায়বা বিন সাঈদ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: মা’ন বিন ঈসা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মুসাইয়িব থেকে এবং তিনি রাফে থেকে যে, উমর বিন হুবায়রা তাকে বিচারকার্যের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ডেকেছিলেন; তখন তিনি বললেন: আমি বিচারকার্য পরিচালনা করব আর বিনিময়ে তোমাদের এই মসজিদের স্তম্ভগুলো আমার জন্য স্বর্ণের হয়ে যাবে—এটা আমাকে আনন্দিত করবে না।
[যিনি বিচারকার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তার প্রতি ফুদাইল বিন আইয়াজের নসিহত]
আবদুল্লাহ বিন আল-মুফাদদ্বাল আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু আলী আত-তাজির আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ফুদাইল বিন আইয়াজ বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যখন বিচারকার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে, সে যেন বিচারকার্যের জন্য একদিন এবং কান্নাকাটির জন্য একদিন নির্ধারণ করে।
[ইবনে শুবরুমার নসিহত]
আবু বকর বিন হাবাশ আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: উসমান বিন মুহাম্মদ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: জারীর ইবনে শুবরুমা থেকে আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তলোয়ারের ওপর দিয়ে (বিপদের মুখে) চলে যাওয়ার সাহস অর্জন না করা পর্যন্ত বিচারকার্য পরিচালনার দুঃসাহস দেখিও না।
আবদুল্লাহ বিন আল-হাইসাম আল-আবদি আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আল-আসমাঈ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
سوار.
ورواه شجاع بْن الوليد، عَن حريش بْن أبي الحريش؛ قال: طلب رجل للقضاء؛ فتجان، وتحامق، وركب قصبة، واتبعه الصبيان.
[حيلة رجل للتخلص من القضاء]
قال: وكان رجل حلف ألا يتزوج حتى يستشير أول من يلقاه، فلقيه فاستشاره؛ فقال: البكر لك ولا عليك، والثيب لك وعليك، وذات الجلاوز عليك ولا لك؛ خل سبيل الجواد؛ فَقَالَ لَهُ: ما قصتك ? قال: إن هؤلاء أرادوني على ذهاب ديني فاخترت ذهاب عقلي، امض لسبيلك.
[امتناع ابن حبيب السهمي عن قضاء الأبلة]
أَخْبَرَنِي إبراهيم بْن أبي عثمان، عَن سليمان بْن منصور، قال: حَدَّثَنَا أَبُو عُمَر الخطابي؛ قال: عرض سوار بْن عَبْد اللهِ على عَبْد اللهِ بْن بكر ابن حبيب السهمي أن يوليه قضاء الأبلة؛ فأبى؛ فَقَالَ لَهُ سوار: أترفع نفسك عَن قضاء الأبلة ? قال: لا ولكن أرفع علمي عَن القضاء.
أَخْبَرَنِي الْحَسَن مُحَمَّد بْن مصعب البجلي؛ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن سعيد؛
সুওয়ার।
এবং শুজা ইবনুল ওয়ালিদ, হুরয়িশ ইবনে আবিল হুরয়িশ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: এক ব্যক্তিকে বিচারক পদের জন্য খোঁজা হয়েছিল; তখন সে পাগলামির ভান করল, বোকামি প্রদর্শন করল এবং একটি নলখাগড়ার ওপর সওয়ার হলো, আর শিশুরা তার পিছু নিল।
[বিচারক পদ থেকে নিষ্কৃতি পেতে এক ব্যক্তির কৌশল]
তিনি বলেন: এক ব্যক্তি শপথ করেছিলেন যে, তিনি যার সাথে প্রথম দেখা হবে তার পরামর্শ না নেওয়া পর্যন্ত বিবাহ করবেন না। অতঃপর তিনি তার (সেই ব্যক্তির) সাক্ষাৎ পেলেন এবং তার নিকট পরামর্শ চাইলেন; তিনি বললেন: "কুমারী তোমার অনুকূলে কিন্তু প্রতিকূলে নয়, বিধবা তোমার অনুকূলে এবং প্রতিকূলে, আর যার প্রহরীরা (পূর্বের সন্তানাদি) আছে সে তোমার প্রতিকূলে কিন্তু অনুকূলে নয়; ঘোড়াটির পথ ছেড়ে দাও।" তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনার বিষয়টি কী?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তারা আমার দ্বীন ধ্বংস করার ইচ্ছা করেছিল, তাই আমি আমার বিবেক বিসর্জন দেওয়াকে বেছে নিয়েছি; আপনি আপনার পথে চলুন।"
[ইবনে হাবিব আস-সাহমী কর্তৃক উবুল্লার বিচারক পদ প্রত্যাখ্যান]
আমাকে ইব্রাহিম ইবনে আবি উসমান সংবাদ দিয়েছেন, সুলায়মান ইবনে মানসুর থেকে, তিনি বলেন: আবু উমর আল-খাত্তাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: সুওয়ার ইবনে আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে বকর ইবনে হাবিব আস-সাহমীর নিকট তাকে উবুল্লার বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করার প্রস্তাব পেশ করেন; কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন সুওয়ার তাকে বললেন: "আপনি কি নিজেকে উবুল্লার বিচারক পদের চেয়ে উচ্চতর মনে করেন?" তিনি বললেন: "না, বরং আমি আমার ইলমকে বিচার কার্য থেকে ঊর্ধ্বে রাখি।"
আমাকে হাসান মুহাম্মদ ইবনে মুসআব আল-বাজালী সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন;
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قال: حَدَّثَنَا عباد بْن كثير الأسدي؛ قال: أَخْبَرَنِي حماد أخي؛ قال: رأيت القاسم بْن الوليد الهمداني وأرسل إليه يوسف بْن عُمَر يوليه القضاء فرأيته يكحل عينيه بالزيت، ويجز لحيته؛ فلما دخل على يوسف قال: هَذَا مجنون! أخرجوه.
[امتناع أبي حنيفة عن تولي القضاء]
أَخْبَرَنِي أَبُو الأحوص؛ قال: حَدَّثَنِي سعيد بْن عفير؛ قال: حَدَّثَنِي علي ابن معَبْد، عَن أبي يوسف أن ابن هبيرة ضرب أبا حنيفة نحواً من مائة سوط مفرقةً على أن يلي قضاء الكوفة فأبى؛ فخلف ابن هبيرة ألا يتركه حتى يلي، فكلمه رجال أهل الكوفة؛ فلم يزالوا به حتى قَالَ: أَبُوْحَنِيْفَةَ: أنا ألى له عدد ما يدخل الكوفة من أحمال التين والعنب؛ ففعل وخلي عنه.
أَخْبَرَنَا سهل بْن أَحْمَد التمار؛ قال: سمعت عَمْرو بْن علي يحدث عن
তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্বাদ ইবনে কাসীর আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমার ভাই হাম্মাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আমি কাসিম ইবনে ওয়ালিদ আল-হামদানিকে দেখেছি যে, ইউসুফ ইবনে উমর তাকে বিচারকের পদ প্রদানের জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন। তখন আমি তাকে (কাসিমকে) চোখে তেল দিয়ে সুরমা মাখতে এবং নিজের দাড়ি কেটে ফেলতে দেখলাম। অতঃপর তিনি যখন ইউসুফের নিকট প্রবেশ করলেন, তখন সে বলল: “এ তো এক পাগল! একে বের করে দাও।”
[আবু হানিফার বিচারকের পদ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি]
আবুল আহওয়াস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে উফাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আলী ইবনে মাবাদ আবু ইউসুফের সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে হুবায়রা কুফার বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ইমাম আবু হানিফাকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় একশত দোররা মেরেছিলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তখন ইবনে হুবায়রা শপথ করলেন যে, বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি তাকে ছাড়বেন না। এরপর কুফাবাসীদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তার সাথে কথা বললেন। তারা অনবরত তাকে অনুরোধ করতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত আবু হানিফা বললেন: “আমি তার জন্য কুফায় আমদানিকৃত ডুমুর ও আঙুরের বোঝার সংখ্যা গণনার দায়িত্ব পালন করব।” তখন তিনি (ইবনে হুবায়রা) তাই করলেন এবং তাকে মুক্তি দিলেন।
সাহল ইবনে আহমাদ আত-তাম্মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আমি আমর ইবনে আলীকে বলতে শুনেছি যে...
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
[إباء خالد بن أبي عمران عن ولاية القضاء]
أبي عاصم؛ قال: جئ بخالد بْن أبي عِمْرَان إِلَى أبي جعفر ليوليه القضاء؛ فامتنع عليه؛ فتهدده وأشمعه؛ وقال: أنت عاص؛ فَقَالَ لَهُ خالد إن الله يقول: {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا [الأحزاب: 72} فلم يسمهن عصاةً حَيْثُ أبين حمل الأمانة، وقال: {وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُوماً جَهُولاً [الأحزاب: 72} فقال: اخرج فلا ترى مني خيراً؛ فلما أصحر إِذَا هو برجل حسن الوجه والثوب، طيب الريح؛ فَقَالَ لَهُ خالد: ساءك ما خاطبك به هَذَا ? قال: نعم؛ قال: أما علمت أن العَبْد إِذَا لم يكن لله فِيْهِ حاجة نبذه إليهم.
[دعوة الرشيد ثلاثة من العلماء ليوليهم القضاء]
سمعت حميد بْن الربيع يقول لنا: جئ بعَبْد اللهِ بْن إدريس، وحفص ابن غياث، ووكيع بْن الجراح إِلَى هارون الرشيد؛ دخلوا ليوليهم القضاء؛ فأما ابن إدريس فقال: السلام عليكم وطرح نفسه كأنه مفلوج؛ فَقَالَ: هارون: خذوا بيد الشيخ: لا فضل في هَذَا، وأما وكيع فقال: والله يا أمير المؤمنين ما أبصرت بها منذ سنة، ووضع إصبعه على عينه وعنىَ إصبعه: فأعفاه هارون؛ وأما حفص فقال: لولا غلبة الدين والعيال ما وليت.
وزعم عُمَر بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الملك، عَن أبي السكين؛ قال: حَدَّثَنِي موسى بْن سعيد بْن سالم؛ قال: لقد رأيت في سجننا هَذَا يعني سجن
[বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণে খালিদ বিন আবি ইমরানের অস্বীকৃতি]
আবু আসিম বলেন: বিচারকের দায়িত্ব প্রদানের জন্য খালিদ বিন আবি ইমরানকে আবু জাফরের কাছে আনা হলো। তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন। এতে আবু জাফর তাকে হুমকি দিলেন এবং রূঢ় কথা শোনালেন। তিনি বললেন: "তুমি একজন অবাধ্য।" তখন খালিদ তাকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: "আমি আসমান, জমিন ও পাহাড়ের সামনে আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এ ব্যাপারে ভীত হলো" [আল-আহজাব: ৭২]। সুতরাং আমানত গ্রহণে অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ তাদের অবাধ্য বলেননি। তিনি আরও বলেন: "আর মানুষ তা বহন করল; নিশ্চয়ই সে অত্যন্ত জালেম ও মূর্খ" [আল-আহজাব: ৭২]। তখন আবু জাফর বললেন: "বেরিয়ে যাও, তুমি আমার কাছ থেকে কোনো কল্যাণ পাবে না।" অতঃপর তিনি যখন উন্মুক্ত প্রান্তরে বের হলেন, তখন সুন্দর চেহারা, সুন্দর পোশাক ও সুগন্ধিযুক্ত এক ব্যক্তির দেখা পেলেন। সেই ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "এই ব্যক্তি তোমাকে যা বলেছে তা কি তোমাকে ব্যথিত করেছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তখন ওই ব্যক্তি বললেন: "তুমি কি জান না যে, যখন কোনো বান্দার প্রতি আল্লাহর (বিশেষ রহমতের) কোনো প্রয়োজন থাকে না, তখন তিনি তাকে তাদের (শাসকদের) কাছে সঁপে দেন?"
[বিচারকের দায়িত্ব প্রদানের জন্য রশিদের তিনজন আলেমকে আহ্বান]
আমি হুমাইদ বিন রাবি'কে বলতে শুনেছি: আবদুল্লাহ বিন ইদ্রিস, হাফস ইবনে গিয়াস এবং ওয়াকি বিন জাররাহকে হারুনুর রশিদের কাছে নিয়ে আসা হলো। তারা প্রবেশ করলেন যেন তিনি তাদের বিচারক নিয়োগ দিতে পারেন। ইবনে ইদ্রিস প্রবেশ করে বললেন: "আসসালামু আলাইকুম", এরপর তিনি নিজেকে এমনভাবে লুটিয়ে দিলেন যেন তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত। হারুন বললেন: "এই বৃদ্ধের হাত ধরো, তার মধ্যে কোনো কর্মক্ষমতা নেই।" আর ওয়াকি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহর কসম, এক বছর যাবৎ আমি এটা দিয়ে দেখতে পাই না", এই বলে তিনি নিজের চোখের ওপর একটি আঙুল রাখলেন—তার উদ্দেশ্য ছিল সেই আঙুলটি। ফলে হারুন তাকে অব্যাহতি দিলেন। আর হাফস বললেন: "ঋণের বোঝা এবং পরিবার-পরিজনের চাপ না থাকলে আমি কখনোই এই দায়িত্ব গ্রহণ করতাম না।"
ওমর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক, আবুস সাকিন থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুসা বিন সাঈদ বিন সালিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "আমি আমাদের এই কারাগারে অর্থাৎ... কারাগারে দেখেছি"
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
[قصة رجل سجن في الشطارة ثم سجن لامتناعه عن القضاء]
البصرة رجلاً محبوساً في أمرين متفاوتين؛ رأيته محبوساً في الشطارة، ثم رأيته محبوساً في أن أبى أن يلي القضاء.
[جلد ابن الدراوردي لامتناعه عن القضاء]
أَخْبَرَنِي عَبْد اللهِ بْن جعفر بْن مصعب الزبيري عَن جده؛ قال: جلد إسحاق بْن سليمان وهو والي المدينة ابن الدراوردي خمسةً وثمانين سوطاً، وذلك أنه دعاه أن يلي له فأبى.
[قصة قاضٍ من بني إسرائيل]
حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إسحاق الصغاني؛ قال: حَدَّثَنَا سعيد بْن كثير بْن عفير؛ قال: حَدَّثَنَا يحيى بْن أيوب، عَن سهل بْن بلال؛ قال: سمعت عطاءً الخراساني يقول: استقضى رجل من بني إسرائيل أربعين سنةً؛ فلما حضرته الوفاة قال: إني أراني هالكاً في مرضي هَذَا، فإن هلكت فاحبسوني عندكم أربعة أيام، أو خمسة، فإن رابكم مني شيء فلينادني رجل منكم، فلما قضى جعل في تابوت فلما كان ثلاثة أيام إِذَا هم بريحه فناداه رجل منهم؛ ما هذه الريح ? فأذن الله فتكلم؛ فقال: وليت القضاء فيكم أربعين سنةً فما رابني إِلَّا أن رجلين أتياني، فكان لي في أحدهما هوىً؛ فكنت أسمع منه بأذني التي تليه أكثر مما أسمع بالأخرى، فهَذَا الريح؛ وضرب الله على أذنه فمات.
[চাতুর্যের দায়ে এবং বিচারকার্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে কারাবন্দী এক ব্যক্তির কাহিনী]
বসরার এক ব্যক্তিকে দুটি ভিন্ন কারণে কারাবন্দী হতে দেখা গেছে; আমি তাকে চাতুর্যের (অপরাধের) দায়ে কারাবন্দী দেখেছি, আবার বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেও তাকে কারাবন্দী দেখেছি।
[বিচারকার্য পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ইবনুল দারাওয়ার্দিকে বেত্রাঘাতের কাহিনী]
আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে মুসআব আল-যুবায়রী তাঁর দাদা থেকে আমাকে অবহিত করেছেন; তিনি বলেন: মদীনার গভর্নর ইসহাক ইবনে সুলাইমান ইবনুল দারাওয়ার্দিকে পঁচাশিটি বেত্রাঘাত করেছিলেন। এর কারণ ছিল যে, তিনি তাঁকে বিচারকের দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
[বনী ইসরায়েলের একজন বিচারপতির কাহিনী]
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-সাগানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: সাঈদ ইবনে কাসীর ইবনে উফাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট সাহল ইবনে বিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমি আতা আল-খুরাসানীকে বলতে শুনেছি: বনী ইসরায়েলের এক ব্যক্তি চল্লিশ বছর যাবৎ বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি বললেন: আমি দেখছি যে আমি আমার এই অসুস্থতায় মারা যাচ্ছি। সুতরাং আমি যদি মারা যাই, তবে তোমরা আমাকে তোমাদের নিকট চার বা পাঁচ দিন রেখে দিও। যদি তোমরা আমার থেকে অপ্রীতিকর কিছু অনুভব করো, তবে তোমাদের মধ্য থেকে একজন যেন আমাকে সম্বোধন করে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি প্রাণত্যাগ করলেন, তখন তাঁকে একটি কফিনে রাখা হলো। তিন দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তারা তাঁর শরীর থেকে দুর্গন্ধ পেল। তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল: এই দুর্গন্ধ কিসের? তখন আল্লাহ অনুমতি দিলেন এবং তিনি কথা বলে উঠলেন; তিনি বললেন: আমি তোমাদের মধ্যে চল্লিশ বছর বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার বিচারকার্যে কোনো ত্রুটি ছিল না, কেবল একবার দুই ব্যক্তি আমার নিকট বিচার নিয়ে এসেছিল যাদের একজনের প্রতি আমার কিছুটা অনুরাগ ছিল। ফলে আমি তার কথা সেই কান দিয়ে অধিক মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলাম যা তার দিকে ছিল, যা অন্য কানের তুলনায় অধিক ছিল। এই দুর্গন্ধ সেই কারণেই। অতঃপর আল্লাহ তাঁর কানে আঘাত করলেন এবং তিনি মারা গেলেন।
(খণ্ড: ١)
আখবারুল কুদাত
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
[رأي ابن عباس في قوله: وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَداً]
أَخْبَرَنِي جعفر بْن الْحَسَن؛ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْن مُحَمَّد بْن يوسف؛ قال: حَدَّثَنَا أبي، عَن سُفْيَان، عَن الأعمش، عَن المنهال بْن عَمْرو، عَن سعيد بْن جبير، عَن ابْن عَبَّاس في قوله: {وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَداً ثُمَّ أَنَابَ [ص: 34} قال: هو الشيطان الذي كان على كرسيه يقضي بين الناس أربعين يوماً.
[قصة امرأة سليمان عليه السلام]
وكانت لسليمان امرأة يُقَالُ لها: جرادة؛ فكان بين بعض أهلها وبين قوم خصومة؛ فقضى بينهم بالحق إِلَّا أنه ود أن الحق كان لأهلها؛ فأوحى الله إليه أنه سيصيبك بلاء؛ فكان لا يدري يأتيه من الأرض أو من السماء.
[قصة قاضٍ من بني إسرائيل]
حَدَّثَنِي أَبُو بكر بْن الْحَسَن؛ قال: حَدَّثَنَا وهب بْن بقية؛ قال: أَخْبَرَنَا خالد عَن بيان، عَن طلحة النامي، قال: كان قاض في بني إسرائيل؛
[তাঁর বাণী: "এবং আমি তাঁর কুরসীর ওপর একটি দেহ নিক্ষেপ করলাম" সম্পর্কে ইবনে আব্বাসের অভিমত]
জাফর বিন হাসান আমাকে অবহিত করেছেন; তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মিনহাল বিন আমর থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {এবং আমি তাঁর কুরসীর ওপর একটি দেহ নিক্ষেপ করলাম, অতঃপর সে ফিরে এল [সোয়াদ: ৩৪]}। তিনি বলেন: সেটি ছিল শয়তান, যে তাঁর কুরসীর ওপর বসে চল্লিশ দিন যাবৎ মানুষের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করছিল।
[সুলাইমান আলাইহিস সালামের স্ত্রীর কাহিনী]
সুলাইমানের এক স্ত্রী ছিলেন যাকে জারাদাহ বলা হতো; তাঁর পরিবারের কিছু লোক এবং অপর এক গোত্রের মধ্যে বিবাদ ছিল; তিনি তাঁদের মধ্যে ন্যায়ের ভিত্তিতে ফয়সালা করেন, তবে তিনি মনে মনে চেয়েছিলেন যে সত্য যেন তাঁর স্ত্রীর পরিবারের পক্ষেই থাকে। তখন আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন যে, শীঘ্রই তোমার ওপর এক পরীক্ষা (বিপদ) আসবে; তিনি জানতেন না যে তা জমিন থেকে আসবে নাকি আসমান থেকে।
[বনী ইসরাঈলের এক বিচারকের কাহিনী]
আবু বকর বিন হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ওহাব বিন বাকিয়্যাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: খালেদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বায়ান থেকে, তিনি তালহা আন-নামি থেকে, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলের মধ্যে একজন বিচারক ছিলেন;