(খণ্ড: ১)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: -)
ري الظمآن بتراجم شيوخ ابن حبان القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: ري الظمآن بتراجم شيوخ ابن حبان
المؤلف: أبو إدريس شريف بن صالح التشادي المصري
علق على بعضه: محمد عمرو بن عبد اللطيف رحمه الله [ت 1429 هـ]
قرأه وعلق عليه وقدم له: أبو الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني
الناشر: دار المودة للنشر والتوزيع، المنصورة - مصر
الطبعة: الأولى، 2009 م - 1430 هـ
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 صفر 1446
রেউল জামআন বি-তরাজিম শুয়ুখ ইবনে হিব্বান (ইবনে হিব্বানের শিক্ষকগণের জীবনচরিতের মাধ্যমে তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা নিবারণ) বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: রেউল জামআন বি-তরাজিম শুয়ুখ ইবনে হিব্বান
লেখক: আবু ইদ্রিস শরিফ বিন সালিহ আত-তশাদি আল-মিসরি
কিছু অংশের ওপর টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মদ আমর বিন আব্দুল লতিফ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) [মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি]
পাঠ করেছেন, টীকা প্রদান করেছেন এবং ভূমিকা লিখেছেন: আবু হাসান মুস্তফা বিন ইসমাইল আস-সুলাইমানি
প্রকাশক: দারুল মাওয়াদ্দাহ প্রকাশনা ও বিতরণ, মানসুরা - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ - ১৪৩০ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ক্রমিক সংখ্যায় বিন্যস্ত)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৫ সফর ১৪৪৬ হিজরি
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٦)
مقدمة الشيخ أبي الحسن السليماني حفظه اللهبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد:
• فقد اطلعتُ على مقدمة كتاب "ري الظمآن بتراجم شيوخ ابن حبان" وشيء من تراجمه، لأخينا المبارك أبي إدريس شريف بن صالح التشادي المصري.
• وسَرَّني ما رأيتُ فيه من همة عالية، ونَفَس حديثي، وحِرْص على الإلمام بعلوم الحديث، التي ضعُفت كثير من الهمم عن تحصيلها، واقتصر كثير من الباحثين بالوقوف على أبوابها، دون التجول في أفنائها، والغوْص في أعماقها، والتذوق لمعانيها ومدلولاتها، والتفقه في قواعدها، والإدراك لشواذ مسائلها، حتى اكتفى كثير من الكُتَّاب بمجرد النظر في الإسناد من خلال المختصرات، فالله المستعان.
• وإن مما ينبغي الإشادة به اهتمام عدد من طلاب العلم الأفذاذ بترجمة شيوخ ورجال المصنِّفين الذين نزلتْ طبقاتهم، فإنه لا يخفى كم
শায়খ আবু হাসান আস-সুলাইমানী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট। আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
• আমি আমাদের বরকতময় ভাই আবু ইদ্রিস শরীফ বিন সালেহ আত-শাদী আল-মিসরী রচিত "রায়্যুজ যামআন বি-তারাজিমি শুয়ুখি ইবনে হিব্বান" গ্রন্থের ভূমিকা এবং এর কিছু জীবনী পর্যালোচনা করেছি।
• এতে আমি যে উচ্চ সংকল্প, হাদীস শাস্ত্রীয় প্রজ্ঞা এবং উলূমুল হাদীসের ওপর ব্যুৎপত্তি অর্জনের যে গভীর আগ্রহ দেখেছি, তা আমাকে আনন্দিত করেছে। বর্তমানে এই ইলম হাসিল করার ক্ষেত্রে অনেকের হিম্মত ও সংকল্প দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেক গবেষকই কেবল এর প্রবেশদ্বারে অবস্থান করেই ক্ষান্ত হয়েছেন; তাঁরা এর প্রাঙ্গণে বিচরণ করেননি, এর গভীরে ডুব দেননি, এর অর্থ ও তাৎপর্য আস্বাদন করেননি, এর মূলনীতিগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেননি এবং এর জটিল ও সূক্ষ্ম মাসআলাগুলো উপলব্ধি করেননি। এমনকি অনেক লেখক তো কেবল সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থগুলোর মাধ্যমে সনদের ওপর ভাসা ভাসা দৃষ্টি দিয়েই সন্তুষ্ট থাকছেন। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
• যা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে তা হলো—কতিপয় অসামান্য তালিবে ইলমের ঐসব গ্রন্থকারদের শায়খ ও বর্ণনাকারীদের জীবনী সংকলনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া, যাদের স্তর অনেকটা নিচের দিকে (অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্মের মুসান্নিফগণ)। কেননা এটি কারো অজানা নয় যে কত...
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٧)
يستفيد الباحثون من هذه الجهود، وكم ينتفع طلاب الحديث من الأوقات التي تُبذل في تقريب ما بعُد، ونظْم ما ندَّ وشذَّ في موضع واحد، فعلي الله أجر هؤلاء المصنفين، والله دَرُّهم.
• وإن كتاب أخينا أبي إدريس - حفظه الله تعالي - لؤلؤة في هذا العِقْد الثمين، ولبنة في هذا البناء المتين - ولا أزكيه على الله تعالى - فيما أرجوه بمشيئة الله عز وجل.
• وفي أثناء اطلاعي على ما سبق ذِكْره من هذا الكتاب المبارك؛ جاءني نبأ وفاة صاحب الفضيلة والعالم الخفي، والمحدث النقي التقي الشيخ محمد عمرو بن عبد اللطيف - أفسح الله في قبره، وجعله من أهل الفردوس الأعلى - وذلك في يوم الرابع عشر من شهر محرم سنة تسع وعشرين وأربعمائة بعد الألف من هجرة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وبموته فقد فَقَدَ العالم الإسلامي ومصر - على وجه الخصوص - علَمًا فذًّا في علم الحديث، وركنًا ركينًا، ومعرفة ثاقبة - ونقدًا متينًا - على قلة أو صغر المؤلفات التى بلغتني عنه رحمه الله فأحسن الله عزاءنا جميعًا فيه، وأحسن الله عزاء المؤلف في شيخه وقدوته وبوَّابته إلى هذا العلم الشريف، وجعل الله فيه وفي أمثاله العِوض الصالح، والخلف المبارك، وإنا لله وإنا إليه راجعون.
• هذا، وإنني لأسأل الله عز وجل أن ينفع بهذا الكتاب، وأن يبارك في مؤلفه، وأن يستعمله في طاعته، وأن يدفع عنه الشواغل
গবেষকগণ এই প্রচেষ্টাগুলো থেকে উপকৃত হন এবং হাদীসের ছাত্রগণ সেই সময়গুলো থেকে কতই না লাভবান হন যা দূরবর্তী বিষয়কে নিকটে আনতে এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ও বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে একস্থানে সুবিন্যস্ত করতে ব্যয় করা হয়। সুতরাং এই গ্রন্থকারদের প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায় এবং আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।
• আর আমাদের ভাই আবু ইদ্রিস - আল্লাহ তাআলা তাঁকে রক্ষা করুন - এর এই কিতাবটি এই মূল্যবান হারের মাঝে একটি মুক্তো স্বরূপ এবং এই সুদৃঢ় ইমারতের একটি ইট স্বরূপ - আমি আল্লাহর নিকট কারো পবিত্রতা বর্ণনা করি না - আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ইচ্ছায় আমি এটাই আশা করি।
• এই বরকতময় কিতাবটির পূর্বোল্লিখিত অংশগুলো পাঠ করার সময় আমার কাছে ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, প্রচারবিমুখ আলেম এবং পরিচ্ছন্ন ও পরহেযগার মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ আমর ইবনে আব্দুল লতিফ - আল্লাহ তাঁর কবরের প্রশস্ততা বাড়িয়ে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী করুন - এর ইন্তেকালের সংবাদ আসে। আর তা ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের চৌদ্দশত ঊনত্রিশ হিজরী সনের মহররম মাসের চৌদ্দ তারিখ।
তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষ করে মিশর - হাদীস শাস্ত্রের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, এক শক্তিশালী স্তম্ভ, তীক্ষ্ণ প্রজ্ঞা এবং সুদৃঢ় সমালোচনা জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিকে হারালো - যদিও তাঁর যে সকল রচনার কথা আমি জানতে পেরেছি সেগুলো সংখ্যায় অল্প বা কলেবরে ছোট, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর বিষয়ে আমাদের সকলকে উত্তম ধৈর্য ও সান্ত্বনা দান করুন, এবং লেখকের উস্তাদ, আদর্শ ও এই মহান ইলমের প্রবেশদ্বার হিসেবে তাঁর বিয়োগব্যথায় লেখককে উত্তম সান্ত্বনা দান করুন। আল্লাহ তাঁর মাঝে ও তাঁর ন্যায় অন্যদের মাঝে উত্তম বিকল্প ও বরকতময় উত্তরসূরি দান করুন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
• পরিশেষে, আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কিতাব দ্বারা উপকার দান করেন, এর লেখকের ওপর বরকত নাযিল করেন, তাঁকে তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখেন এবং তাঁর থেকে সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেন।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٨)
والمشاكل، والعلائق والعوائق التى تحول بينه وبين التألُّق والبروز في هذا الفن وغيره من العلوم النافعة، إنه أعظم مسؤل، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.
كتبه أبو الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني
القائم على دار الحديث بمأرب
6/ 2/ 1429 هـ
এবং সমস্যাবলি, সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি ও প্রতিবন্ধকতাসমূহ যা তার এবং এই শিল্প ও অন্যান্য উপকারী জ্ঞানরাজিতে উজ্জ্বল ও শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়; নিশ্চয়ই তিনি মহানতম যাচিত সত্তা এবং শ্রেষ্ঠ আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন আবুল হাসান মুস্তাফা ইবনে ইসমাঈল আস-সুলাইমানি
মা’রিবের দারুল হাদীসের পরিচালক
৬/ ২/ ১৪২৯ হিজরি
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدمة إنَّ الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].
* أما بعد:
فإنَّ خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]।
* অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ, আর নিকৃষ্টতম...
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة
(1).
--------------------------------------------
বিষয়সমূহের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো (সবচেয়ে মন্দ), আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١١)
* أما بعد:
فإنَّ مما لا شك فيه ولا يختلف عليه اثنان، أنَّ علم الحديث من أجلِّ وأشرف العلوم، إذ هو يتعلق بأقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله، وتقريراته، وسيرته، وكفى به شرفًا، وهذه الأقوال والأفعال وما بعدها، لها طريقٌ موصل إليها وهو ما يسمى بالإسناد الذي هو عمود هذه الأقوال وبه وصلت إلينا، وهذا الإسناد يشتمل على رواة، هؤلاء الرواة هم قوام الإسناد وعموده، فبثقتهم يُصحَّح، وبضعفهم يُضَعَّف.
وقد قيَّض الله لنا علماءَ جهابذة نقلوا لنا حال هؤلاء الرواة، بعد عملية شاقة تُسمَّى بالسَبْر، وهي أن يقوم هذا الإمام الجهبذ بجمع مرويات هذا الراوي، ثم يقوم بعرضها علي أحاديث الرواة من أهل طبقته، ثمَّ يقوم بالمقارنة بينهم، فيتبيَّن له من خلال هذه المقارنة قدر الموافقة والاستقامة من المخالفة، ثمَّ يَصدُر عنه حُكمٌ هو نتاج هذه العملية الشَّاقة، فلِلَّه درُّهم وعلى الله أجرهم.
ثمَّ قيَّض الله تعالى لهم تلامذة نجباء أوفياء علماء حفظوا لنا علمهم ونقلوه لنا بإتقان أيما إتقان، وأحسنوا إلينا أيما إحسان، فلله درّهم وعلى الله أجرهم، وهذا النقل أودع في كتب وسمها العلماء بكتب "السؤالات"، كـ"سؤالات أبي داود للإمام أحمد"، و"سؤالات ابن مُحرز لابن معين"، وغيرها كثير، ثمَّ بدأ الأمر يتسع شيئًا فشيئًا، حتى
অতঃপর:
নিসন্দেহে এবং যে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই তা হলো, ইলমে হাদিস বা হাদিস শাস্ত্র অন্যতম মহান ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান। যেহেতু এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম, মৌনসম্মতি ও জীবনীর সাথে সম্পৃক্ত, আর মর্যাদার জন্য এটিই যথেষ্ট। এই সকল বাণী, কর্ম এবং অন্যান্য বিষয়ের নিকট পৌঁছানোর একটি মাধ্যম রয়েছে, যাকে 'ইসনাদ' (বর্ণনাসূত্র) বলা হয়। এটিই হলো এই বাণীবলির স্তম্ভ এবং এর মাধ্যমেই তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই ইসনাদ বর্ণনাকারীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়; এই বর্ণনাকারীরাই হলেন ইসনাদের ভিত্তি ও স্তম্ভ। তাঁদের নির্ভরযোগ্যতার কারণে হাদিস সহিহ বা শুদ্ধ বলে গণ্য হয় এবং তাঁদের দুর্বলতার কারণে তা দুর্বল সাব্যস্ত হয়।
মহান আল্লাহ আমাদের জন্য এমন কিছু প্রাজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ আলেম নির্ধারণ করেছেন যারা 'সাবর' (পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই) নামক একটি কঠিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের নিকট এই বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। পদ্ধতিটি হলো, এই বিশেষজ্ঞ ইমাম সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীর সকল বর্ণনা সংগ্রহ করেন, এরপর সেগুলোকে তাঁর সমপর্যায়ের অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদিসসমূহের সাথে উপস্থাপন করেন এবং তাঁদের মধ্যে তুলনা করেন। এই তুলনার মাধ্যমে তাঁর নিকট বর্ণনার বৈসাদৃশ্যের বিপরীতে সামঞ্জস্য ও সঠিকতার মাত্রা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অতঃপর তিনি একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যা এই কঠোর পরিশ্রমেরই ফসল। মহান আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদের পুরস্কার আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত।
এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁদের জন্য এমন মেধাবী, অনুগত ও বিজ্ঞ ছাত্র নির্ধারণ করেছেন যারা অত্যন্ত নিপুণভাবে তাঁদের সেই ইলম বা জ্ঞানকে সংরক্ষণ করেছেন এবং আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরা আমাদের প্রতি পরম অনুগ্রহ করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁদের কল্যাণ দান করুন এবং তাঁদের পুরস্কার আল্লাহর নিকট নিহিত। এই বর্ণনাগুলো এমন সব কিতাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যেগুলোকে আলেমগণ 'সুয়ালাত' (জিজ্ঞাসাবলি) গ্রন্থ হিসেবে অভিহিত করেছেন; যেমন— 'ইমাম আহমদের প্রতি আবু দাউদের জিজ্ঞাসাবলি', 'ইবনে মাঈনের প্রতি ইবনে মুহরিজের জিজ্ঞাসাবলি' এবং এ জাতীয় আরও অনেক। এরপর বিষয়টি ক্রমান্বয়ে আরও বিস্তৃত হতে থাকে, এমনকি
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
صنَّف العلماء كتبًا تسمى بكتب "الجرح والتعديل"، إمَّا بهذا الاسم صراحة كـ "الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم، و"التجريح والتعديل" لأبي الوليد البَاجيِّ، أو بأسماءٍ أخرى ولكن لها نفس المضمون والمحتوى، كـ "التاريخ الكبير" للبخاريِّ ونحوه، ومنهم من اقتصر على ذكر الثقات فحسب، كـ "الثقات" لكلٍّ من (العِجْليِّ، وابن حِبَّان، وابن شاهين، وابن قطلوبُغَا)، ومنهم من اقتصر في تأليفه علي الضعفاء فحسب كـ "الضعفاء بالعلل" لابن حِبَّان المشهور بالمجروحين، و"الضعفاء الكبير" لأبي جعفر العُقَيْلِيِّ، "والكامل" لأبي أحمد بن عَدِي، وغيرهم كثير.
وكذلك كتب تواريخ البلدان كـ"تاريخ جرجان" للسَّهْمِيِّ، و"تاريخ دمشق" لأبي القاسم بن عساكر، و"تاريخ بغداد" للخطيب البغداديِّ، وحوى كل ذلك، أو غالبه "تاريخ الإسلام" لشمس الدين الذَّهَبِيِّ رحمهم الله جميعًا -.
وفي الحقيقة أني لست بصدد الكلام على تدوين علم الجرح والتعديل، ولكنَّ الشيء بالشيء يُذكر.
يقول الإمام الذَّهَبِيُّ رحمه الله في مقدمة كتابه "ميزان الاعتدال في نقد الرجال" (1/ 2): "وقد ألَّف الحفاظ مصنَّفات جمة في الجرح والتعديل، ما بين اختصار وتطويل، فأوَّل من جُمع كلامه في ذلك الإمام الذي قال فيه أحمد بن حنبل: "ما رأيتُ بعيني مثل يحيى بن
আলিমগণ "জারহ ও তাদিল" (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) বিষয়ক অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন; হয় এই নামে স্পষ্টভাবে যেমন ইবনে আবি হাতিমের "আল-জারহ ওয়াত তাদিল" এবং আবুল ওয়ালিদ আল-বাজির "আত-তাজরিহ ওয়াত তাদিল", অথবা ভিন্ন নামে কিন্তু একই বিষয়বস্তু ও সারসংক্ষেপ সম্বলিত গ্রন্থ যেমন বুখারির "আত-তারিখুল কাবির" এবং এই জাতীয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যেমন (ইজলি, ইবনে হিব্বান, ইবনে শাহিন এবং ইবনে কুতলুবুগা)-এর প্রত্যেকের "আস-সিকাত" গ্রন্থসমূহ। আবার কেউ কেউ তাদের রচনায় কেবল দুর্বল বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন, যেমন ইবনে হিব্বানের "আদ-দুয়াফা বিল ইলাল" যা "আল-মাজরুহিন" নামে প্রসিদ্ধ, আবু জাফর আল-উকাইলির "আদ-দুয়াফাউল কাবির", আবু আহমাদ ইবনে আদির "আল-কামিল" এবং আরও অনেকে।
অনুরূপভাবে বিভিন্ন শহরের ইতিহাসের ওপর রচিত গ্রন্থসমূহ, যেমন সাহমির "তারিখে জুরজান", আবুল কাসিম ইবনে আসাকিরের "তারিখে দামেশক" এবং খতিব আল-বাগদাদির "তারিখে বাগদাদ"। আর শামসুদ্দিন আদ-যাহাবির "তারিখুল ইসলাম" এই সবকিছুর অধিকাংশ বা পুরোটাই অন্তর্ভুক্ত করেছে - আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন।
প্রকৃতপক্ষে আমি জারহ ও তাদিল শাস্ত্রের সংকলন নিয়ে আলোচনা করার পর্যায়ে নেই, তবে একটি প্রসঙ্গের অবতারণায় অন্যটি চলে এসেছে।
ইমাম যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "মিজানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল" (১/২) গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "হাফিজগণ জারহ ও তাদিল বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ বিষয়ে যাঁর বক্তব্য প্রথম সংগ্রহ করা হয়েছে তিনি হলেন সেই ইমাম, যাঁর সম্পর্কে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: 'আমি নিজের চোখে ইয়াহইয়া ইবনে... এর মতো কাউকে দেখিনি'।"
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
سعيد القطَّان"، وتكلَّم في ذلك بعده تلامذته: يحيى بن معين، وعلي بن المدينّي، وأحمد بن حنبل، وعمرو بن علي الفلَّاس، وأبو خيثمة، وتلامذتهم، كأبي زرعة، وأبي حاتم، والبخاريّ، ومسلم، وأبي إسحاق الجُوزْجَانيّ السَّعديّ، وخلق من بعدهم، مثل: النَّسائيّ، وابن خُزيمة، والتِّرمذيّ، والدَّولابيّ، والعُقَيليّ، - وله مصنَّفٌ مفيدٌ في معرفة الضعفاء -.
ولأبي حاتم ابن حِبَّان كتاب كبير عندي في ذلك، ولأبي أحمد بن عَدِي كتاب "الكامل"، هو أكمل الكتب وأجلها في ذلك، وكتاب أبي الفتح الأزديّ، وكتاب أبي محمد بن أبي حاتم في "الجرح والتعديل"، و"الضعفاء" للدَّارَقُطْنِيِّ، و"الضعفاء" للحاكم، وغير ذلك.
وقد ذيَّل ابن طاهر المَقْدسيُّ على "الكامل" لابن عدي بكتاب لم أره، وصنَّف أبو الفرج بن الجَوْزِيِّ كتابًا كبيرًا في ذلك
… " اهـ.
وكُلنا يعلم ما للكتب الستة من أهمية بالغة بين كتب السُّنَّة، وعلى رأسها الصحيحان، اللذان أطبق العلماء على أنهما أصح كتابين بعد كتاب الله تعالى، وقد قام علماء جهابذة بالاعتناء بهذه الكتب الستة دراسة وتحليلًا وشرحًا، واهتموا برواتها أيما اهتمام فصنَّفوا فيهم كتبًا كثيرة، وبيَّنوا أحوالهم، وجرَّحوا وعدَّلوا، فمنهم من اهتم برجال البخاريّ وحده كـ "رجال صحيح البخاريّ" لأبي الوليد البَاجيِّ،
সাঈদ আল-কাত্তান", এবং এরপর এ বিষয়ে কথা বলেছেন তাঁর ছাত্ররা: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলি ইবনুল মাদিনি, আহমাদ ইবনে হানবাল, আমর ইবনে আলি আল-ফাল্লাস, আবু খাইসামা এবং তাঁদের ছাত্ররা যেমন—আবু যুরআহ, আবু হাতিম, বুখারি, মুসলিম, আবু ইসহাক আল-জুযজানি আস-সাদি এবং তাঁদের পরবর্তী এক বিরাট দল, যেমন: নাসায়ি, ইবনে খুযাইমা, তিরমিযি, দাওলাবি এবং উকাইলি—দুর্বল বর্ণনাকারীদের পরিচয় বিষয়ে তাঁর একটি উপকারী গ্রন্থ রয়েছে।
আবু হাতিম ইবনে হিব্বানের এ বিষয়ে আমার নিকট একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে, এবং আবু আহমাদ ইবনে আদির কিতাব ‘আল-কামিল’ রয়েছে, যা এ বিষয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও মহান গ্রন্থ। এছাড়া আবু আল-ফাতহ আল-আযদির গ্রন্থ, ‘জারহ ওয়া তাদিল’ বিষয়ে আবু মুহাম্মদ ইবনে আবু হাতিমের গ্রন্থ, দারা কুতনির ‘আদ-দুয়াফা’, হাকিমের ‘আদ-দুয়াফা’ এবং আরও অন্যান্য কিতাব।
ইবনে তাহির আল-মাকদিসি ইবনে আদির ‘আল-কামিল’ গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন যা আমি দেখিনি। আর আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি এ বিষয়ে একটি বৃহৎ গ্রন্থ সংকলন করেছেন
… " উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
আমরা সবাই জানি সুন্নাহর গ্রন্থরাজির মধ্যে ছয়টি কিতাবের (কুতুবুস সিত্তা) গুরুত্ব কতখানি। এগুলোর শীর্ষে রয়েছে সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম), যাদের ব্যাপারে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহর কিতাবের পর এ দুটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ। বিজ্ঞ আলেমগণ এই ছয়টি কিতাবের প্রতি যত্নবান হয়ে এগুলোর অধ্যয়ন, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁরা এই কিতাবগুলোর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তাঁদের সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ সংকলন করেছেন। তাঁরা বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন এবং জারহ ও তাদিল (দোষ-গুণ বিচার) করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল বুখারির বর্ণনাকারীদের নিয়ে কাজ করেছেন, যেমন আবুল ওয়ালিদ আল-বাজির ‘রিজালু সহীহিল বুখারি’।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ومنهم من اهتم برجال مسلم وحده كـ"رجال صحيح مسلم" لابن منجويه وغيره، ومنهم من جمع بين رجال الصحيحين كـ"المدخل لمعرفة رجال الصحيحين" لأبي عبد الله الحاكم، ومنهم من جمع رجال الكتب الستة في مصنَّفٍ مستقل، وعلى رأسهم عبد الغني المقدسي صاحب كتاب "الكمال"، الذي هذَّبه المزيّ في كتابه الماتع الموسوم بـ "تهذيب الكمال"، ثمَّ جاء بعد المزي من اختصر كتابه، أو هذبه، أو استدرك عليه، أو غير ذلك، كما هو معلومٌ لأهل هذا الشأن.
ثمَّ إنَّ هناك كتبًا في السنة لا تقل أهمية عن تلك الكتب الستة، لعلو شأن مؤلفيها، ومنهجهم فيها، إذ اشترطوا الصحة، وإن لم يوفوا بذلك، وأخُص بالذكر صحيحي ابن خُزيمة وتلميذه ابن حِبَّان، لما حوياه من أحاديث الغالب عليها الاستقامة، ومع هذا كله فلا تكاد تجد شارحًا لها ولا مختصِرًا، ولا معارضًا لها ولا منتصِرًا، ولا مهذبًا لها ولا مستدركًا عليها، ولا مهتمًّا برجالها توثيقًا وتضعيفًا، والناظر في شيوخ ابن حِبَّان مثلًا يجد منهم من له ترجمة في كتب قريبة معروفة سهل تناولها كأن يترجم له الذَّهَبيُّ في "تاريخ الإسلام" أو "سير أعلام النبلاء" مثلًا، ومنهم من لا تجد لهم ترجمة إلا في كتاب بعيد لا يعرفه إلا أهل التخصص، كـ "بغية الطلب في تاريخ حلب" لابن العَدِيم، و"التدوين في أخبار قزوين" للرَّافعيِّ، ونحو ذلك، ومنهم من لا تجد له ترجمة مستقلة، وإنما فيه توثيق أو تضعيف ضمن ترجمة أخرى، أو في إسناد من أسانيد أحد الكتب - أي في غير المظنة -،
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শুধুমাত্র ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমন ইবনে মানজুয়াইহ ও অন্যদের রচিত "রিজালু সহীহ মুসলিম"। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দুই সহীহ (বুখারী ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারীদের একত্রে সংকলন করেছেন, যেমন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের "আল-মাদখাল লি-মা'রিফাতি রিজালিস সহীহাইন"। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একটি স্বতন্ত্র সংকলনে ছয়টি গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের একত্র করেছেন, যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন "আল-কামাল" গ্রন্থের লেখক আব্দুল গনি আল-মাকদিসি, যেটিকে আল-মিযযি তাঁর "তাহযীবুল কামাল" নামক চমৎকার গ্রন্থে পরিমার্জন করেছেন। অতঃপর মিযযির পরে এমন অনেকে এসেছেন যাঁরা তাঁর গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন, অথবা পরিমার্জন করেছেন, কিংবা এর ওপর সংযোজনী লিখেছেন অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু করেছেন, যেমনটি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট সুপরিচিত।
অতঃপর সুন্নাহর এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা সেই ছয়টি গ্রন্থের চেয়ে গুরুত্বে কম নয়, এর লেখকদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং এতে তাঁদের অনুসৃত পদ্ধতির কারণে। কেননা তাঁরা এতে বিশুদ্ধতার শর্তারোপ করেছিলেন, যদিও তাঁরা তা পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেননি। আমি বিশেষভাবে ইবনে খুযাইমা ও তাঁর ছাত্র ইবনে হিব্বানের 'সহীহ' গ্রন্থদ্বয়ের কথা উল্লেখ করছি, কারণ এগুলোতে এমন সব হাদিস রয়েছে যার অধিকাংশেরই বর্ণনাধারা সঠিক ও সুদৃঢ়। আর এত সব সত্ত্বেও এগুলোর কোনো ব্যাখ্যাকারী বা সংক্ষেপকারী, কিংবা কোনো বিরোধিতাকারী বা সমর্থনকারী, অথবা পরিমার্জনকারী বা সংযোজনকারী যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ে গুরুত্বারোপকারীও তেমন দেখা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে হিব্বানের শিক্ষকদের জীবনীর দিকে দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি এমন কাউকে পাবেন যাঁদের জীবনী নিকটবর্তী ও পরিচিত গ্রন্থগুলোতে রয়েছে যা সহজেই পাওয়া যায়; যেমন ইমাম আয-যাহাবী তাঁর "তারিখুল ইসলাম" বা "সিয়ারু আলামিন নুবালা" গ্রন্থে তাঁদের জীবনী উল্লেখ করেছেন। আবার তাঁদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যাঁদের জীবনী কোনো দুর্লভ গ্রন্থ ছাড়া পাওয়া যায় না যা বিশেষজ্ঞগণ ব্যতীত অন্য কেউ চেনে না; যেমন ইবনুল আদিমের "বুগয়াতুত তলাব ফি তারিখি হালাব" এবং আর-রাফিয়ীর "আত-তাদওয়িন ফি আখবারি কাযউইন" এবং এই জাতীয় অন্যান্য গ্রন্থ। আবার তাঁদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যাঁদের কোনো স্বতন্ত্র জীবনী পাওয়া যায় না, বরং অন্য কারো জীবনীর অধীনে কিংবা কোনো গ্রন্থের কোনো একটি সনদ বা বর্ণনাপরম্পরার মধ্যে—অর্থাৎ যেখানে পাওয়ার কথা নয় এমন স্থানে—তাঁদের নির্ভরযোগ্যতা বা দুর্বলতা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
أو أخرج له من اشترط الصحة كالضياء المقدسي في كتابه "المختارة"، أو اشترط شرطًا في الرواة الذين أودعهم كتابه كالإسماعيليّ في "معجمه"، ومنهم من لا تقف فيه على شيء من ذلك، فأنشأت له ترجمة ليكون كتابي هذا مرجعًا لهؤلاء الرواة، ولله الحمد والمنة والفضل.
قال عبد العزيز بن عمر بن فهد الملكيُّ الهَاشميُّ في تذكرته التي سماها "نزهة الأبصار لما تألف من الأفكار" ما نصه: "إنَّ الاشتغال بنشر أخبار فضلاء العصر ولو بتواريخهم؛ من علامات سعادة الدنيا والآخرة، إذ هم شهود الله تعالى في أرضه" اهـ. نقلًا عن "خلاصة الأثر في أعيان القرن الحادي عشر" للمحبِّي (ص 2).
فمن أجل ذلك وغيره استعنت بالله على أن أترجم لشيوخ هذا الإمام العَلَم، وآثرته على شيخه لأمورٍ منها:
1 - بُعد تراجم شيوخ ابن حِبَّان، فمن خلال الترجمة لهم لم أقف على أحد منهم قد تُرجم له في كتاب التهذيب، ولذا فإنَّ الترجمة لهم تحتاج إلى شيء من العناء والمشقة لجمع كل ما قيل فيهم في مكان واحد يُرجع إليه، بخلاف شيخه ابن خُزيمة فإنه لعلو سنده فتجد غالب شيوخه قد ترجم له صاحب التهذيب.
2 - توافر كتب ابن حِبَّان مقارنةً بكتب شيخه ابن خُزيمة، بل إنَّ صحيح ابن حبَّان موجودٌ بكامله، بخلاف صحيح ابن خُزيمة، فإنَّ
অথবা যার জন্য এমন ব্যক্তিরা হাদীস বর্ণনা করেছেন যারা বিশুদ্ধতার শর্তারোপ করেছেন, যেমন যিয়া আল-মাকদিসি তাঁর "আল-মুখতারা" গ্রন্থে, অথবা যারা বর্ণনাকারীদের বিষয়ে এমন কোনো শর্তারোপ করেছেন যাদের তিনি তাঁর গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমন আল-ইসমাঈলি তাঁর "মু'জাম" গ্রন্থে। তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যাঁদের সম্পর্কে আপনি এ জাতীয় কিছুর খোঁজ পাবেন না; তাই আমি তাঁদের জন্য জীবনী প্রস্তুত করেছি যাতে আমার এই গ্রন্থটি ঐ সকল বর্ণনাকারীদের জন্য একটি তথ্যসূত্র হতে পারে। সমস্ত প্রশংসা, অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব কেবল আল্লাহরই জন্য।
আব্দুল আজিজ বিন উমর বিন ফাহদ আল-মাক্কি আল-হাশেমি তাঁর স্মারক গ্রন্থে, যার নাম তিনি দিয়েছেন "নুযহাতুল আবসার লিমা তাআল্লাফা মিনাল আফকার", তাতে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: "সমকালীন গুণী ব্যক্তিদের সংবাদ প্রচারের কাজে ব্যাপৃত থাকা—এমনকি তাঁদের জীবনকাল বা ইতিহাস আলোচনার মাধ্যমে হলেও—তা ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের লক্ষণ; কেননা তাঁরা পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার সাক্ষী।" সমাপ্ত। আল-মুহিব্বি রচিত "খুলাসাতুল আসার ফি আইয়ানিল করনিল হাদি আশার" (পৃষ্ঠা ২) থেকে উদ্ধৃত।
এই কারণে এবং আরও অন্যান্য কারণে আমি এই প্রখ্যাত ইমামের শিক্ষকদের জীবনী সংকলনের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি। আমি নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য তাঁর শিক্ষকের পরিবর্তে তাঁকে (ইবনে হিব্বানকে) অগ্রাধিকার দিয়েছি:
১ - ইবনে হিব্বানের শিক্ষকদের জীবনীর দুষ্প্রাপ্যতা; তাঁদের জীবনী প্রস্তুত করতে গিয়ে আমি এমন কাউকে পাইনি যাঁর জীবনী "আত-তাহযিব" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং তাঁদের সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা এক জায়গায় সংকলন করার জন্য কিছুটা কষ্ট ও পরিশ্রমের প্রয়োজন, যাতে তা একটি তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে তাঁর শিক্ষক ইবনে খুযাইমার বিষয়টি ভিন্ন; তাঁর সনদের উচ্চমর্যাদার কারণে আপনি দেখবেন যে তাঁর অধিকাংশ শিক্ষকের জীবনীই "তাহযিব"-এর লেখক উল্লেখ করেছেন।
২ - তাঁর শিক্ষক ইবনে খুযাইমার কিতাবসমূহের তুলনায় ইবনে হিব্বানের কিতাবসমূহের অধিক সহজলভ্যতা। এমনকি সহীহ ইবনে হিব্বান পূর্ণাঙ্গরূপে বিদ্যমান রয়েছে, যা সহীহ ইবনে খুযাইমার ক্ষেত্রে নয়; কেননা...
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الموجود منه بعضه، كما نصَّ على ذلك المحققون من أهل العلم.
3 - وجود كتابين في الرِّجال لابن حِبَّان هما "الثقات"، و"الضعفاء بالعلل" المشهور بالمجروحين، فتجده في الثاني ينقل أقوالًا في الجرح والتعديل عن أئمة تقدَّموه في الزمن يسوق أقوالهم بإسناده إليهم، وأحيانًا تجد أنَّ شيخه في هذا الإسناد، لم يرو عنه إلا في تلك المواضع، والفائدة من إثارة هذه النقطة، أنَّ شيخ ابن حِبَّان هذا لو كان ضعيفًا أو مجهولًا، لكان في قبول قول ذلك الإمام نظر، لا سيما إذا كان معارَضًا بقول له آخر، أو مخالفًا لجمهور أهل العلم، لا سيما من كان من أهل طبقته منهم، والتأكد من صحة الإسناد المنقول به الجرح والتعديل، ضابطٌ مهمٌّ من ضوابط هذا العلم.
فهذه الأمور الثلاثة، مما جعلني أُترجِم لشيوخ هذا الإمام الجهبذ رحمه الله.
ثمَّ إنَّ هذا الكتاب مما أعتز به اعتزازًا شديدًا، وقد بذلتُ فيه من الجهد والوقت ما لا يعلمه إلا الله سبحانه وتعالى، وذلك محض توفيق وفضل منه سبحانه وتعالى.
ومن أسباب هذا الاعتزاز الشديد، أنَّه قد عرَّفَنِي بثلاثة من العلماء الأفاضل:
1 - محدِّث أهل مصر شيخنا العلَّامة الجهبذ محمد عمرو بن عبد
এর কিছু অংশ বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি ইলম অন্বেষী মুহাক্কিকগণ উল্লেখ করেছেন।
৩ - ইবনে হিব্বানের রিজাল শাস্ত্রের (বর্ণনাকারী বিষয়ক) ওপর দুটি কিতাব বিদ্যমান, সেগুলো হলো "আস-সিকাত" এবং "আদ-দুয়াফা বিল-ইলাল", যা "আল-মাজরুহিন" নামে প্রসিদ্ধ। ফলে আপনি দ্বিতীয় কিতাবটিতে দেখতে পাবেন যে, তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ইমামগণের পক্ষ থেকে জারাহ ও তাদিল (সমালোচনা ও গুণকীর্তন) বিষয়ক বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন যা তিনি তাঁদের পর্যন্ত স্বীয় সনদে পৌঁছে দিয়েছেন। কখনো কখনো দেখা যায় যে, এই সনদে তাঁর উস্তাদ কেবল ওই স্থানগুলোতেই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়টি উত্থাপন করার উপকারিতা হলো— ইবনে হিব্বানের এই উস্তাদ যদি দুর্বল বা অপরিচিত হন, তবে সেই ইমামের উক্তিটি গ্রহণ করার বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে, বিশেষ করে যদি তা তাঁরই অন্য কোনো বক্তব্যের বিরোধী হয়, কিংবা জমহুর আলেমদের পরিপন্থী হয়, বিশেষত যারা তাঁর সমসাময়িক স্তরের ছিলেন। আর জারাহ ও তাদিল যে সনদে বর্ণিত হয়েছে তার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা এই শাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি।
এই তিনটি বিষয়ই আমাকে এই বিদগ্ধ ইমামের (রহিমাহুল্লাহ) উস্তাদগণের জীবনী সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
অতঃপর, এই কিতাবটি এমন কিছু যা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্ববোধ করি। এতে আমি যে পরিমাণ শ্রম ও সময় ব্যয় করেছি তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত আর কেউ জানেন না; আর এটি কেবল তাঁরই পক্ষ থেকে তাওফিক এবং ফজল (অনুগ্রহ)।
এই তীব্র গর্ববোধের অন্যতম কারণ হলো, এটি আমাকে তিনজন মহৎ আলেমের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে:
১ - মিসরের মুহাদ্দিস, আমাদের উস্তাদ আল্লামা জাহবায মুহাম্মাদ আমরু বিন আবদ
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
اللطيف رحمه الله.
2 - محدِّث الأزاهرة، وصاحب المؤلفات الباهرة، شيخنا العلَّامة المحدِّث أحمد معبد عبد الكريم - حفظه الله تعالى -، وأمد في عمره، وأحسن عمله -.
3 - شيخنا المحدِّث المهذِّب، القائم على دار الحديث بمأرب، أبي الحسن مصطفى بن إسماعيل السُّليمانيّ - حفظه الله تعالى، وأمد في عمره، وأحسن عمله -.
أمَّا عن الأول منهم فحدِّث ولا حرج، وإنِّي والله لا أدري ماذا أكتب وأسطِّر، لسعة علم هذا الشيخ، وحسن خلقه وأدبه، فهو كما وصفه أحد الأفاضل بقوله: "إنه قذيفةٌ أُطلقت من القرون الثلاثة الأولى"، وذلك القول نتاجٌ لحسن خلقه وسمته، وسعة علمه، بل وزهده وعبادته، فكان فيهما على شيءٍ عظيم، يلمسه من عرفه وقَرُبَ منه، وهأنا ذا أسوق ترجمته التي كتبها أخي الحبيب خالد الأزهري ليطَّلع عليها القاصي والدَّاني.
* * *
লতিফ, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
২ - আজহারীদের মুহাদ্দিস এবং উজ্জ্বল গ্রন্থসমূহের প্রণেতা, আমাদের শাইখ, আল্লামা মুহাদ্দিস আহমাদ মাবাদ আব্দুল কারীম - আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন, তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর আমলসমূহকে সুন্দর করুন -।
৩ - আমাদের শাইখ, সুসংস্কৃত মুহাদ্দিস, মা’রিবের দারুল হাদিসের দায়িত্বে নিয়োজিত, আবুল হাসান মুস্তফা ইবনে ইসমাইল আস-সুলাইমানি - আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন, তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর আমলসমূহকে সুন্দর করুন -।
তাদের মধ্যে প্রথমজনের ব্যাপারে কোনো সংকোচ ছাড়াই আলোচনা করা যায়। আল্লাহর কসম, আমি জানি না কী লিখব এবং কী লিপিবদ্ধ করব, এই শাইখের ইলমের বিশালতা এবং তাঁর উত্তম চরিত্র ও শিষ্টাচারের কারণে। তিনি তেমনই যেমনটি জনৈক গুণী ব্যক্তি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি প্রথম তিন শতাব্দী থেকে নিক্ষিপ্ত এক গোলক সদৃশ।" আর এই উক্তিটি তাঁর উন্নত চরিত্র, আচার-আচরণ ও ইলমের প্রশস্ততা, এমনকি তাঁর দুনিয়াবিমুখতা ও ইবাদতেরই প্রতিফলন; কেননা এই উভয় ক্ষেত্রে তিনি এক সুমহান স্তরে ছিলেন, যা তাঁর পরিচিতজন ও ঘনিষ্ঠজনরা অনুভব করতে পারতেন। আর আমি এখানে তাঁর সেই জীবনীটি তুলে ধরছি যা আমার প্রিয় ভাই খালিদ আল-আজহারী লিখেছেন, যাতে কাছের ও দূরের সকলেই তা অবগত হতে পারে।
* * *
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
[ترجمة الشيخ محمد عمرو بن عبد اللطيف رحمه الله]* ملحوظتان:
1 - ما كان باللون الأسود الثقيل فهو نص كلام الشيخ رحمه الله من شريط مسجّل أفادنا به بعض تلامذته.
2 - تم عرض هذه الترجمة كاملة قبل نشرها على أولاد الشيخ رحمه الله، وزوجه أم عبد الرحمن بنت النوبيّ، فأقروها.
• هو الشيخ العلَّامة المحَدِّثُ، البحَّاثة النقَّاد، ذو العقل الوقَّاد، صاحب التحريرات النافعة، والتحقيقات الناصعة، الصالح الورع، عالم مصر ودرّة محدِّثيها، وحافظ الكنانة ونابغها، فريد الورع والصلاح والدّيانة، نحسبه كذلك والله حسيبه ولا نزكيه على الله.
1 - اسمه ونسبه: محمد عمرو بن عبد اللطيف بن محمد بن عبد القادر بن رضوان بن سليمان بن مفتاح بن شاهين الشِّنْقِيطِيُّ. فـ (محمد عمرو) اسمٌ مركب، وترجع أصول الشيخ إلى شنقيط، فقد جاء بعض أجداده إلى مصر قديمًا فرارًا من التجنيد واستقر بها.
2 - مولده ونشأته: ولد الشيخ رحمه الله وطيَّب ثراه - في حي مصر الجديدة من محافظة القاهرة، عاصمة مصر، في الحادي عشر من شهر رمضان المبارك عام 1374 هـ الموافق 5/ 2/ 1955 م.
[শাইখ মুহাম্মাদ আমর ইবন আব্দুল লতিফ রহ.-এর জীবনী]* দুটি দ্রষ্টব্য:
১ - যা গাঢ় কালো রঙে রয়েছে তা শাইখ রহ.-এর একটি রেকর্ডকৃত অডিওর বক্তব্য, যা তাঁর কিছু ছাত্র আমাদের সরবরাহ করেছেন।
২ - এই জীবনীটি প্রকাশের পূর্বে শাইখ রহ.-এর সন্তানগণ এবং তাঁর সহধর্মিণী উম্মু আব্দুর রহমান বিনতে আন-নুবী-এর নিকট সম্পূর্ণ পেশ করা হয়েছে এবং তাঁরা তা অনুমোদন করেছেন।
• তিনি হলেন আল্লামা শাইখ, মুহাদ্দিস, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক ও সমালোচক, প্রখর মেধার অধিকারী, বহু উপকারী সম্পাদনা ও উজ্জ্বল গবেষণার রচয়িতা, সৎ ও খোদাভীরু, মিসরের আলিম ও তার মুহাদ্দিসগণের মধ্যমণি, কিনানার (মিসরের) হাফিজ ও তার ক্ষণজন্মা প্রতিভা, তাকওয়া, সততা ও দ্বীনদারিতে অনন্য; আমরা তাঁকে এমনই মনে করি, আর আল্লাহই তাঁর প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারী এবং আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে আমরা কাউকে পবিত্র ঘোষণা করি না।
১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়: মুহাম্মাদ আমর ইবন আব্দুল লতিফ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল কাদির ইবন রিজওয়ান ইবন সুলাইমান ইবন মিফতাহ ইবন শাহীন আশ-শিনকীতি। ‘মুহাম্মাদ আমর’ একটি যৌগিক নাম। শাইখের বংশমূল শিনকীতের (মৌরিতানিয়া) সাথে সম্পৃক্ত; তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষ বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়াতে বহু আগে মিসরে চলে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
২ - তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা: শাইখ রহ. মিসরের রাজধানী কায়রো প্রদেশের হেলিওপলিস (মাসরুল জাদিদাহ) এলাকায় ১৩৭৪ হিজরির ১১ই রমজানুল মুবারক, মোতাবেক ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর সমাধিকে শান্তিময় করুন।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
واستقر الشيخ منذ صغره مع عائلته المكونة من ستة أفراد - هو أصغرها - في منطقة المعادي، وفي بعض مدارسها تلقي الشيخ تعليمه الابتدائي والإعدادي ثمَّ الثانوي، ثمَّ أجبره والده على دخول القسم العلمي رغم ميوله الأدبية، فحصل في الثانوية على مجموع التحق به الشيخ بمعهد (السكرتارية) بمنطقة (مَنْيَل الرَّوضَة).
وحين وصل إلى السنة الثالثة من الدِّراسة في (معهد السكرتارية) تقرر تحويل المعهد إلى (كلية التجارة وإدارة الأعمال) التابعة لجامعة حلوان، كما تم نقل موضعه أيضًا من الموضع السابق إلى منطقة (الزمالك)، في الموضع الحالي.
3 - اتجاهه إلى طلب العلم وأهم شيوخه: لفت بعض أصحاب الشيخ نظره إلى قراءة بعض كتب العقيدة السلفية، يوم كان عمر الشيخ نحو (17 - 18) عامًا، ويبدو أنَّ الشيخَ تأثر بهذه الكتب أشد ما يكون التأثر، فبدأ يسلك الطريق، ويترسم الخُطا. ولعلَّ من نعم الله عز وجل على عبده (محمد عمرو) رحمه الله، أنه اتجه للحديث، وأقبل عليه، وأحبه، وهو في سن مبكرة؛ لم يكن الشيخ حينها قد بلغ العشرين من عمره.
ويخبر الشيخ رحمه الله عن هذه النقلة المهمة فيقول: "كان عندنا كتاب "الترغيب والترهيب" للمنذريِّ رحمه الله ضبط وشرح الشيخ: محمد خليل هراس رحمه الله فقرأتُ تعليق الشيخ عند حديث دعاء حفظ القرآن
শায়খ শৈশব থেকেই তাঁর ছয় সদস্যের পরিবারের সাথে—যাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট—আল-মাআদি অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। সেখানকার কিছু স্কুলে তিনি তাঁর প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর তাঁর সাহিত্যিক ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও তাঁর পিতা তাঁকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে বাধ্য করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে তিনি এমন নম্বর পান যার মাধ্যমে শায়খ (মানিয়াল আর-রওজাহ) অঞ্চলের (সেক্রেটারিয়েট) ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।
যখন তিনি (সেক্রেটারিয়েট ইনস্টিটিউটে) পড়াশোনার তৃতীয় বর্ষে পৌঁছালেন, তখন ইনস্টিটিউটটিকে হেলওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ (বাণিজ্য ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে) রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি এর অবস্থানও পূর্বের স্থান থেকে বর্তমানের (জামালিক) অঞ্চলে স্থানান্তরিত করা হয়।
৩ - ইলম অর্জনের দিকে তাঁর ঝোঁক এবং তাঁর প্রধান শায়খগণ: শায়খের বয়স যখন প্রায় (১৭ - ১৮) বছর, তখন তাঁর কিছু বন্ধু তাঁকে সালাফী আকিদার কিছু বই পড়ার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মনে হয় শায়খ এই বইগুলো দ্বারা অত্যন্ত গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, ফলে তিনি এই পথে চলতে শুরু করেন এবং এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। সম্ভবত মহান আল্লাহর তাঁর বান্দা (মুহাম্মদ আমর) রহিমাহুল্লাহ-এর ওপর একটি বিশেষ অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি হাদীস শাস্ত্রের দিকে মনোনিবেশ করেন, এর প্রতি ধাবিত হন এবং এটিকে ভালোবাসেন, আর তা ছিল তাঁর অল্প বয়সেই; শায়খ তখন বিশ বছর বয়সেও পদার্পণ করেননি।
শায়খ রহিমাহুল্লাহ এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: "আমাদের কাছে আল-মুনযিরি রহিমাহুল্লাহ রচিত 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' বইটি ছিল, যার পরিমার্জন ও ব্যাখ্যা করেছিলেন শায়খ মুহাম্মদ খলীল হাররাস রহিমাহুল্লাহ। সেখানে কুরআন মুখস্থ করার দু'আ সংক্রান্ত হাদীসের ওপর শায়খের করা মন্তব্য আমি পাঠ করি।"
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الذي رواه الترمذيُّ والحاكم فقال فيه عند قول الترمذي (حسن غريب): (وأي حسن فيه يا علَّامة ترمذ؟ وهل نصدقك بعد هذا فيما تحسِّن أو تصحِّح من حديث؟).
وقال معلقًا على قول الحاكم: "صحيح على شرطهما" (ثمَّ تأمل تبجح الحاكم وقوله صحيح على شرطهما، لا والله ما هو على شرطهما، ولو رواه أحدهما لسقط كتابه في الميزان كما سقط مستدركك أيها الحاكم).
يقول الشيخ محمد عمرو: "وكان يُسَمِّي المستدرك: المستترك، أي: الذي يستحق الترك. فكان له تأثير كبير عليَّ في حب هذا العلم، كما أنَّ المنذريَّ في آخر كتابه سرد أسماء الرواة المختلف فيهم الذين مر ذكرهم أثناء الكتاب فهذا أيضًا مما أثر فيَّ وحبَّب إليَّ علم الرجال، وكان بجوار المعهد (المكتبة السلفية بالمنيل) فاشتريت منها الأدب المفرد، وموارد الظمآن، وبعض الكتب في العقيدة مثل: صيانة الإنسان عن وسوسة الشيخ دحلان، للسهسوانيِّ، والأخير يتميز بجو حديثي، فهذه من أوائل الكتب التي تأثرت بما فيها".
كان هذا هو بعض ما حبب الشيخ في علم الحديث، لكن تبقى معالم مهمة في حياة الشيخ (محمد عمرو) الحديثية، لا يسعنا أن نغفل الإشارة إليها ونحن نسوق بعض العلامات التي أثرت في الشيخ "حديثيًّا":
যা তিরমিযী ও হাকেম বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিরমিযীর (হাসান গরিব) উক্তির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন: (হে আল্লামা তিরমিযী! এর মধ্যে হাসান বা সৌন্দর্যের কী অবশিষ্ট আছে? এর পরে আপনি যে হাদিসকে হাসান বা সহিহ বলবেন, সে ব্যাপারে কি আমরা আপনাকে বিশ্বাস করব?)।
এবং তিনি হাকেমের উক্তি "উভয় ইমামের শর্তানুযায়ী সহিহ" এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: (অতঃপর হাকেমের আস্ফালন এবং তার এই উক্তি 'উভয় ইমামের শর্তানুযায়ী সহিহ' লক্ষ্য করুন; আল্লাহর কসম, এটি তাদের শর্তানুযায়ী নয়। যদি তাদের কেউ এটি বর্ণনা করতেন, তবে মানদণ্ডে তার কিতাবটি নিচে পড়ে যেত, হে হাকেম! যেভাবে আপনার মুসতাদরাক নিচে পড়ে গেছে)।
শায়খ মুহাম্মাদ আমর বলেন: "তিনি মুসতাদরাক-কে 'মুসতাতরাক' বলতেন, অর্থাৎ: যা বর্জন করার যোগ্য। এই শাস্ত্রের প্রতি অনুরাগের ক্ষেত্রে আমার ওপর তার ব্যাপক প্রভাব ছিল। যেমনভাবে মুনযিরী তার কিতাবের শেষে ওই সকল বিতর্কিত বর্ণনাকারীদের নামের তালিকা উল্লেখ করেছেন যাদের আলোচনা কিতাবের ভেতরে এসেছে; এটিও আমার ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং 'ইলমুর রিজাল' বা বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞানকে আমার নিকট প্রিয় করে তুলেছে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই ছিল 'আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ বিল মানিয়াল', সেখান থেকে আমি আল-আদাবুল মুফরাদ, মাওয়ারিদুজ জামআন এবং আকিদা বিষয়ক কিছু কিতাব যেমন: সাহসুওয়ানী রচিত 'সিয়ানাতুল ইনসান আন ওয়াসওয়াসাতুশ শায়খ দাহলান' ক্রয় করেছিলাম। শেষোক্ত কিতাবটি হাদিসতাত্ত্বিক মেজাজে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এগুলো ছিল সেই প্রাথমিক কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর বিষয়বস্তু দ্বারা আমি প্রভাবিত হয়েছিলাম।"
হাদিস শাস্ত্রের প্রতি শায়খকে আগ্রহী করে তোলার পেছনে এগুলো ছিল কিছু কারণ, তবে শায়খ (মুহাম্মাদ আমর)-এর হাদিসতাত্ত্বিক জীবনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়ে গেছে, যেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় যখন আমরা শায়খের ওপর 'হাদিসতাত্ত্বিকভাবে' প্রভাব বিস্তারকারী কিছু চিহ্নের বর্ণনা দিচ্ছি:
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
* الشيخ الإمام: محمد ناصر الدين الألبانيُّ، قال الشيخ محمد عمرو رحمه الله: "كنتُ متجهًا إلى مسجد أنصار السنة بعابدين، حين رأيت رجلًا أبيض مشربًا بحمرة، له لحية بيضاء، الناس مجتمعون حوله، وهو يتكلم عن حديث السبعين ألفًا، فقال: (وفي رواية: "الذين لا يرقون ولا يسترقون" وزيادة لا يرقون شاذة، والشذوذ من سعيد بن منصور رحمه الله
… ".
يقول الشيخ أيضًا: "وبعدها بمدة عرفت أنَّ هذا الكلام لشيخ الإسلام، أنه حكم على زيادة يرقون بالشذوذ. وكانت هذه هي المرة الأولى والأخيرة التي أرى فيها الشيخ، والطريف أنني رأيته ثمَّ بعد ذلك عرفت أنَّ هذا هو الشيخ الألبانيُّ .. كان عمري حينها (20 أو 21) ".
لقاءٌ واحدٌ؟! نعم هو كذلك، وكان عمر الشيخ محمد يومها عشرين عامًا أو واحدًا وعشرين .. لكن العلاقة بين الشيخين لم تكن هكذا فقط .. فإنه ليس بمقدور أحد أن ينكر استفادة أهل العلم وطلبته، خاصة أهل الحديث، من كتب وتحقيقات الشيخ الألبانيّ رحمه الله.
والشيخ محمد عمرو رحمه الله قد أكثر من مطالعة كتب الشيخ رحمه الله ودراستها، وكان رحمه الله يجل الشيخ الألبانيّ ويوقره، ويسمّيه أحيانًا "الشيخ الكبير".
শেখ ইমাম: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী। শেখ মুহাম্মদ আমর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমি আবেদীনস্থ আনসারুস সুন্নাহ মসজিদের দিকে যাচ্ছিলাম, এমন সময় আমি লালচে-সাদা বর্ণের একজন ব্যক্তিকে দেখলাম, যাঁর দাড়ি ছিল সাদা। মানুষ তাঁর চারপাশে সমবেত হয়েছিল। তিনি সত্তর হাজার (জান্নাতী ব্যক্তি) সংক্রান্ত হাদিস নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বললেন: (এক বর্ণনায় এসেছে: "যারা রুকইয়াহ করে না এবং যারা রুকইয়াহ প্রার্থনা করে না" এবং 'যারা রুকইয়াহ করে না' অতিরিক্ত অংশটি শায বা বিচ্যুৎ, আর এই বিচ্যুতি ঘটেছে সাঈদ ইবনে মানসুর (রহিমাহুল্লাহ) থেকে
… "।
শেখ আরও বলেন: "এর কিছুদিন পর আমি জানতে পারলাম যে, এই বক্তব্যটি শাইখুল ইসলামের; তিনি 'রুকইয়াহ করা' শব্দের আধিক্যকে শায বা বিচ্যুৎ হিসেবে গণ্য করেছেন। এটিই ছিল প্রথম এবং শেষবার যখন আমি শেখকে দেখেছিলাম। মজার বিষয় হলো, আমি তাঁকে দেখার পর জানতে পেরেছিলাম যে তিনিই শেখ আলবানী... তখন আমার বয়স ছিল ২০ বা ২১ বছর।"
একটিমাত্র সাক্ষাৎ?! হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই ছিল এবং সেদিন শেখ মুহাম্মদের বয়স ছিল বিশ বা একুশ বছর। তবে এই দুই শেখের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল এতটুকুই ছিল না। কেননা ইলমের অধিকারী ও জ্ঞানান্বেষীগণ, বিশেষত আহলে হাদিসগণ, শেখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর গ্রন্থাবলি ও তাঁর গবেষণালব্ধ কাজ (তাহকিকাত) থেকে যে পরিমাণ উপকৃত হয়েছেন, তা অস্বীকার করার উপায় কারো নেই।
শেখ মুহাম্মদ আমর (রহিমাহুল্লাহ) শেখ (আলবানী)-এর কিতাবসমূহ অধিক মাত্রায় পাঠ ও অধ্যয়ন করতেন। তিনি শেখ আলবানীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মহিমা প্রদর্শন করতেন এবং কখনো কখনো তাঁকে "বড় শেখ" বলে অভিহিত করতেন।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ولكن قد يخالف الشيخُ محمد عمرو الشيخَ الألبانيّ - رَحِمَهَما الله - في أشياء، وأهل السنة بعضهم لبعض كاليدين، تغسل إحداهما الأخرى، وليس ثَمَّ عالمٌ إلا وهو مستدرك عليه، والشيخ الألبانيّ نفسه هو الذي علَّمنا أنه (كم ترك الأول للآخر).
* الشيخ محمد نجيب المطيعيُّ (صاحب تكملة المجموع) يقول الشيخ محمد عمرو: "بالطبع تأثرت بالشيخ المطيعيّ رحمه الله ودروسه في مسجد الفتح بالمعاديّ، وكانت بينا بعض مساجلات أذكر منها أنه مرة قال: (لا دليل أنَّ الله سبحانه وتعالى يوصف بالقديم) [هذا هو الصواب بلا ريب وهو معتقد الشيخ محمد عمرو رحمه الله] فانصرف ذهني إلى حديث أبي داود. لكن شيخ أبي داود في هذا الحديث كان يرمي بالقدر، ووجدت له مصيبة أخرى في العقيدة، واسمه إسماعيل بن بشر بن منصور، ومع أنه صدوقٌ إلَّا أنَّ له حديثًا آخر متعلقًا بالعقيدة؛ ففي صدري من هذا الرجل. المقصود أنني ذكرت للشيخ حديثه في سنن أبي داود وهو حديث: "كان إذا دخل المسجد قال: أعوذ بالله العظيم، وبوجهه الكريم وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم
… " الحديث، فقال الشيخ كلامًا في محاولة تأويل هذا.
ثمَّ في يوم الجمعة التي تليها، قال الشيخ: (يا شيخ عمرو، هذه سنن أبي داود، هات الحديث الذي نخعته)، وكان معه سنن أبي داود، وجلس على المنبر وأنا أمامه، ففتحت الكتاب واستخرجت له
কিন্তু শায়খ মুহাম্মাদ আমরু হয়তো শায়খ আলবানীর - আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন - সাথে কোনো কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আর আহলে সুন্নাতের অনুসারীরা একে অপরের জন্য দুই হাতের মতো, যার একটি অপরটিকে ধৌত করে। এমন কোনো আলেম নেই যাঁর ভুল বা বিচ্যুতি ধরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়; আর শায়খ আলবানী নিজেই আমাদের শিখিয়েছেন যে, (পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন)।
* শায়খ মুহাম্মাদ নাজীব আল-মুতিয়ী (তাকমিলাতুল মাজমু'-এর লেখক) সম্পর্কে শায়খ মুহাম্মাদ আমরু বলেন: "অবশ্যই আমি শায়খ মুতিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) এবং আল-মা'আদির ফাতহ মসজিদে তাঁর দরস দ্বারা প্রভাবিত হয়েছি। আমাদের মধ্যে কিছু আলোচনা-বিতর্ক হতো, যার মধ্যে একটি আমার মনে আছে যে, একবার তিনি বললেন: (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে 'কাদিম' বা অনাদি হিসেবে গুণান্বিত করার কোনো দলীল নেই) [এটিই নিঃসন্দেহে সঠিক এবং এটিই শায়খ মুহাম্মাদ আমরু রহিমাহুল্লাহ-এর আকিদা]। তখন আমার মন আবু দাউদের একটি হাদিসের দিকে গেল। কিন্তু এই হাদিসে আবু দাউদের উস্তাদ কাদারিয়া মতবাদের দোষে অভিযুক্ত ছিলেন এবং আমি আকিদার ক্ষেত্রে তাঁর অন্য একটি বিপর্যয় খুঁজে পেলাম; তাঁর নাম ইসমাইল বিন বিশর বিন মানসুর। যদিও তিনি সত্যবাদী (সদুক), তবে আকিদা সংক্রান্ত তাঁর অন্য একটি হাদিস রয়েছে; তাই এই লোকটির ব্যাপারে আমার মনে সংশয় আছে। মূল উদ্দেশ্য হলো, আমি শায়খের কাছে সুনানে আবু দাউদ থেকে হাদিসটি উল্লেখ করলাম, আর হাদিসটি হলো: 'তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: আমি মহান আল্লাহর কাছে, তাঁর সম্মানিত চেহারার মাধ্যমে এবং তাঁর অনাদি রাজত্বের মাধ্যমে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই...' হাদিস। তখন শায়খ এর ব্যাখ্যার প্রচেষ্টায় কিছু কথা বললেন।
অতঃপর পরবর্তী জুমু'আর দিন শায়খ বললেন: (হে শায়খ আমরু, এই যে সুনানে আবু দাউদ, আপনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছিলেন তা নিয়ে আসুন)। তাঁর কাছে সুনানে আবু দাউদ ছিল, তিনি মিম্বরের ওপর বসলেন আর আমি তাঁর সামনে বসলাম। এরপর আমি কিতাবটি খুললাম এবং তাঁর জন্য সেটি বের করলাম।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الحديث فقال الشيخ: (ظننتك تقول دعاء دخول المنزل وليس دعاء دخول المسجد) وكان الشيخ يثق في، مع أنني لم أخالطه كثيرًا، ولم ألزمه كما يدعي البعض.
وكان يقول في أثناء بعض دروسه: (لا أثق إلَّا في محمد عمرو، ومحمد الصَّوَّاف) في جملة الطلبة الذين يحضرون له هذه المجالس. ثمَّ بعد مدة أعطاني الإجازة دون أن أطلبها منه، فقال: اذهب إلى الجزء الثالث عشر من المجموع، وخذ الإجازتين، إحداهما إلى النووي، والأخرى إلى البخاري [إسناد المُعَمَّرين]).
وبعد هذا الاستطراد نقول: تخرج الشيخ (محمد عمرو) من كلية التجارة وإدارة الأعمال)، ثمَّ عُيِّن موظفًا بمديرية القوى العاملة في مجمع التحرير براتب شهري (38) جنيهًا لكن الشيخ لم يستمر في الوظيفة الحكومية سوى شهرين فقط! بل تورع الشيخ رحمه الله عن أخذ مرتب الشهر الثاني، لما في العمل من اختلاط بين الرجال والنِّساء، وما فيه من متبرِّجات. ثمَّ تركها واستمر في القراءة والطلب .. ومنذ كان عمر الشيخ 22 عامًا إلى أن أصبح عمره 32 عامًا وعلى مدار هذه السنوات العشر، مر الشيخ بأحداث كثيرة يمكننا أن نوجزها في الآتي:
* اعتقل الشيخ في الفترة من 14/ 12 / 1981 م إلى 1/ 1/ 1983 م في أحداث أوائل الثمانينيات الشهيرة.
হাদিস প্রসঙ্গে শায়খ বললেন: (আমি ভেবেছিলাম তুমি ঘরে প্রবেশের দোয়া বলছ, মসজিদে প্রবেশের দোয়া নয়)। শায়খ আমার ওপর ভরসা করতেন, যদিও আমি তাঁর সাথে খুব বেশি মেলামেশা করিনি এবং কেউ কেউ যেমনটি দাবি করে, আমি সর্বদা তাঁর সাথে ছায়ার মতো লেগেও থাকতাম না।
তিনি তাঁর কিছু পাঠদানের সময় বলতেন: (আমি মুহাম্মদ আমরু এবং মুহাম্মদ আস-সাওয়াফ ব্যতীত আর কারো ওপর ভরসা করি না)—যারা তাঁর এই মজলিসগুলোতে উপস্থিত হতো সেই ছাত্রদের মধ্য থেকে। তারপর কিছুকাল পর তিনি আমাকে কোনো আবেদন ছাড়াই ইজাজত প্রদান করেন। তিনি বললেন: আল-মাজমু-এর ত্রয়োদশ খণ্ডে যাও এবং দুটি ইজাজত গ্রহণ করো; যার একটি ইমাম নববী পর্যন্ত এবং অন্যটি ইমাম বুখারি পর্যন্ত [দীর্ঘজীবী বর্ণনাকারীদের সনদ])।
এই প্রাসঙ্গিক আলোচনার পর আমরা বলছি: শায়খ (মুহাম্মদ আমরু) বাণিজ্য ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তাহরির কমপ্লেক্সের শ্রম অধিদপ্তর বিভাগে মাসিক ৩৮ পাউন্ড বেতনে একজন কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু শায়খ সরকারি চাকরিতে মাত্র দুই মাসের বেশি স্থায়ী হননি! বরং শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) দ্বিতীয় মাসের বেতন গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন, কারণ সেই কর্মস্থলে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং পর্দাহীন নারীদের উপস্থিতি ছিল। অতঃপর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং পড়াশোনা ও জ্ঞান অন্বেষণ অব্যাহত রাখেন। শায়খের ২২ বছর বয়স থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত—এই দশ বছরে তিনি অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন, যা আমরা নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করতে পারি:
* শায়খ ১৪/ ১২ / ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১/ ১/ ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত আশির দশকের শুরুর দিকের সেই বিখ্যাত ঘটনাবলির সময় কারারুদ্ধ ছিলেন।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
* كان لا بد للشيخ أن يعمل، فهو أحيانًا يقف أمام عربة "فِشار" ليبيع الفِشار في شارع بجوار بيته.
يقول الشيخ محمد عمرو: "وعملت مرَّةً في تخريج الأحاديث بالساعة"، ويذكر الشيخُ أنَّ بعض الإخوة دفع إليه بكتاب "عمل اليوم والليلة" لابن السنيّ ليقوم بتخريجه، لكن العمل لم ينجز لسبب أو آخر.
* وأولى ما يشار إليه من أحداث خلال هذه الحقبة من حياة الشيخ، أنَّه أصدر فيها عدة مؤلفات حين كان عمره ما بين (27 - 32) عامًا. وهي كل الكتب التي لا يرضى الشيخ عن منهجه فيها، وليس في هذه الحقبة كتاب واحد إلا وتراجع الشيخ عن بعض ما فيه، وسيأتي تفصيل ذلك في الكلام على مؤلفات الشيخ إن شاء الله.
* 4 - بعض تلامذة الشيخ:
* الشيخ: أبو معاذ طارق بن عوض الله بن محمد، صاحب التصانيف التي راجت وفاح عطرها.
* الشيخ: أبو تراب عادل بن محمد بن أحمد، مدير دار التأصيل بمصر، سابقًا.
وهذان من أنجب من استفاد من الشيخ، بل إنَّ الشيخ كان يكثر الثناء عليهما، وكان ربما يستشيرهما في بعض النواحي العلمية،
* শাইখের জন্য কাজ করা অনিবার্য ছিল, তাই তিনি মাঝে মাঝে তাঁর বাড়ির পাশের রাস্তায় একটি "পপকর্ন" বিক্রির গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পপকর্ন বিক্রি করতেন।
শাইখ মুহাম্মাদ আমরু বলেন: "আমি একবার ঘণ্টা চুক্তিতে হাদীসের তাখরীজ (উৎস ও মান নির্ণয়) করার কাজ করেছি"। শাইখ আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু ভাই ইবনুস সুন্নীর "আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ" কিতাবটি তাঁর কাছে তাখরীজ করার জন্য দিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো না কোনো কারণে কাজটি শেষ হয়নি।
* শাইখের জীবনের এই সময়ের ঘটনাবলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি এই সময়ে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল ২৭ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। এগুলো সেই সব কিতাব যেগুলোর মানহাজের (পদ্ধতি) ব্যাপারে শাইখ সন্তুষ্ট নন। এই সময়ের একটি কিতাবও এমন নেই যার কোনো না কোনো অংশ থেকে শাইখ পরবর্তীতে ফিরে আসেননি। শাইখের গ্রন্থাবলি সম্পর্কে আলোচনার সময় ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
* ৪ - শাইখের কয়েকজন ছাত্র:
* শাইখ আবু মুআয তারিক বিন আওয়াদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ, বহু প্রচলিত ও সুবাসিত গ্রন্থাবলির লেখক।
* শাইখ আবু তুরাব আদিল বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, মিশরের ‘দারুত তাআসীল’-এর প্রাক্তন পরিচালক।
এঁরা দুজন শাইখের কাছ থেকে উপকৃত হওয়া ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী ছিলেন; বরং শাইখ প্রায়ই তাঁদের প্রশংসা করতেন এবং কখনো কখনো কিছু ইলমী বিষয়ে তাঁদের সাথে পরামর্শও করতেন।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وكثيرًا ما أحال على دروسهما العلمية.
وأما غير هذين ممن استفاد من الشيخ فكثير، منهم:
* الشيخ: خليل بن محمد العربي، صاحب "الفرائد على مجمع الزوائد"، وله اعتناء بكتب الإمام الذَّهبيّ، فله كتابٌ من جزءين جمع فيه أقوال الذَّهبي في الجرح والتعديل.
* الشيخ: إبراهيم القاضي (ممن قام بتحقيق فتح الباري لابن رجب، ط. الحرمين).
* الشيخ: السيد محمود إسماعيل (قام بتحقيق الإتحاف للبوصيريِّ).
* الشيخ: أبو ذر صبري عبد الخالق الشَّافعيّ (قام بتحقيق مختصر زوائد مسند البزار على الكتب الستة ومسند أحمد لابن حجر ط. مؤسسة الكتب الثقافية).
* 5 - سرد مؤلفات الشيخ المطبوعة والمخطوطة:
* أما المطبوع منها فهو قسمان:
الأول: قديمٌ ألَّفه الشيخ في المعادي، وكان الشيخ رحمه الله لا يرضى عنه، بل ينقده بنفسه، وهو أقل انتشارًا إلى حدٍّ ما من الثاني، وهذا كان على الطريقة الأولى في التفكير، التي يسميها الشيخ "مرحلة
এবং তিনি প্রায়শই তাঁদের ইলমি দরস বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পাঠের রেফারেন্স দিতেন।
আর এই দুজন ব্যতীত যাঁরা শাইখের কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন তাঁরা সংখ্যায় অনেক, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
* শাইখ: খলিল ইবনে মুহাম্মদ আল-আরাবি, "আল-ফাওয়াইদ আলা মাজমাউয যাওয়াইদ"-এর রচয়িতা। ইমাম যাহাবির গ্রন্থাবলির প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল; তাঁর দুই খণ্ডের একটি গ্রন্থ রয়েছে যাতে তিনি 'জারহ ওয়া তাদীল' (সমালোচনা ও যাচাইকরণ) বিষয়ে যাহাবির উক্তিগুলো সংকলন করেছেন।
* শাইখ: ইব্রাহিম আল-কাদি (যিনি ইবনে রজবের 'ফাতহুল বারি'র তাহকীক বা সম্পাদনা করেছেন, হারামাইন সংস্করণ)।
* শাইখ: সাইয়্যেদ মাহমুদ ইসমাইল (যিনি বুসিরির 'আল-ইতিহাফ'-এর তাহকীক করেছেন)।
* শাইখ: আবু যার সাবরি আব্দুল খালিক আশ-শাফিয়ি (যিনি ইবনে হাজারের 'মুখতাসার যাওয়াইদ মুসনাদ আল-বাযযার আলাল কুতুব আস-সিত্তা ওয়া মুসনাদ আহমাদ'-এর তাহকীক করেছেন, মুআসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়াহ সংস্করণ)।
* ৫ - শাইখের মুদ্রিত এবং পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা রচনাবলির তালিকা:
* সেগুলোর মধ্যে মুদ্রিত অংশটি দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি: প্রাচীন, যা শাইখ আল-মা'আদিতে থাকাকালীন রচনা করেছিলেন। শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) এর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না, বরং তিনি নিজেই এর সমালোচনা করতেন। দ্বিতীয় ভাগের তুলনায় এটি কিছুটা কম প্রচারিত। এটি ছিল চিন্তাধারার প্রথম পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে, যাকে শাইখ বলতেন "পর্যায়...
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
التقليد" لذا لا يرضى الشيخ عنه الآن، فهي مؤلفات على منهج المتأخرين الذين يوصفون بالتساهل، والاغترار بظواهر الأسانيد، وإغفال التفتيش الدقيق عن العلل. لذلك غالبًا لا يرضى الشيخ عن حكمه النهائي على الأحاديث في هذه المؤلفات، لكنها كتب حوت علمًا كثيرًا، وفوائد جمَّة.
الثاني: متأخر نسبيًّا، ألَّفه الشيخ في مدينة نصر، وهو مرضيٌّ عنه في الجملة) ويتميز بالتأني، والتعمق في البحث والتحليل، وترسم خُطا الأئمة النقاد في التصحيح والتضعيف والتحسين والإعلال، ويسمي الشيخ هذه المرحلة "مرحلة الاتباع". والشيخ لا يختلجه الآن شك في خطإ منهجه القديم وبعده عن الصواب.
ويمكن حصر المصنَّفات التي لا يرضى الشيخ عن حكمه النهائي على الأحاديث فيها (مؤلفات المعادي) في الآتي:.
1 - أخذ الجُنَّة بحسن حديث الرَّتع في رياض الجنة، ومعه الأذكار الصِّحَاح والحِسَان في الصباح والمساء وبعد الصلاة.
2 - القِسْطَاس في تصحيح حديث الأكياس.
3 - آداب حملة القرآن للآجريّ، الذي طبع زورًا باسم: أخلاق أهل القرآن.
4 - البدائل المستحسنة لضعيف ما اشتهر على الألسنة، الجزء
"তাকলীদ" (অন্ধ অনুসরণ); তাই শায়খ এখন এর ওপর সন্তুষ্ট নন। এগুলো মূলত পরবর্তী যুগের আলিমদের মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর রচিত, যারা শিথিলতা প্রদর্শন, সনদের বাহ্যিক অবস্থার দ্বারা প্রতারিত হওয়া এবং সুক্ষ্ম ইল্লত বা ত্রুটিসমূহ অনুসন্ধানে অবহেলার জন্য পরিচিত। এই কারণে শায়খ সাধারণত এই গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে সন্তুষ্ট নন; তবে এগুলো এমন কিতাব যা প্রচুর ইলম ও অগাধ উপকারিতা ধারণ করে আছে।
দ্বিতীয়: এটি তুলনামূলকভাবে পরবর্তী সময়ের, যা শায়খ মাদিনাতুন নাসর-এ থাকাকালীন সংকলন করেছেন এবং এটি সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক। এটি ধীরস্থিরতা, গবেষণা ও বিশ্লেষণে গভীরতা এবং হাদিস সহিহ, যঈফ, হাসান সাব্যস্ত করা ও ত্রুটি (ইল্লত) চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সমালোচক ইমামগণের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। শায়খ এই স্তরটিকে "ইত্তিবা-এর স্তর" (অনুসরণের স্তর) বলে অভিহিত করেন। শায়খের মনে এখন তাঁর পূর্ববর্তী মানহাজের ভুল হওয়া এবং সঠিক পথ থেকে তার দূরবর্তী হওয়ার বিষয়ে কোনো সংশয় নেই।
আর যে সকল কিতাবে হাদিসের ওপর শায়খের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন (মা'আদি-তে থাকাকালীন রচিত গ্রন্থসমূহ), সেগুলো নিম্নোক্তভাবে সীমাবদ্ধ করা যায়:.
১ - আখযুল জুন্নাহ বি-হুসনি হাদিসির রাত'ই ফী রিয়াদিল জান্নাহ; আর এর সাথে রয়েছে সকাল, সন্ধ্যা ও সালাত পরবর্তী সহিহ ও হাসান যিকিরসমূহ।
২ - আল-কিসতাস ফী তাসহিহি হাদিসিল আকইয়াস।
৩ - আল-আজুরি রচিত আদাবু হামালাতিল কুরআন, যা জালিয়াতি করে 'আখলাকু আহলিল কুরআন' নামে মুদ্রিত হয়েছে।
৪ - আল-বাদাইলুল মুস্তাহসানাহ লি-দঈফি মা ইশতাহারা আলাল আলসিনাহ, খণ্ড...
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الأول.
كما يمكن أن نحصر المصنفات التي يرضى الشيخ عنها فيما يأتي:
1 - "حديث (ما من عبد مؤمن إلا وله ذنب يعتاده الفينة بعد الفينة
… ) في الميزان"، وهو آخر ما طبع للشيخ رحمه الله.
حديث (قلب القرآن يس) في الميزان". وقد طبع هذا الجزء مرتين، والمعتمد هو الطبعة الثانية المطبوعة مع الجزء السابق "الفَينَة" في مجلَّد.
2 - تبييض الصحيفة بأصول الأحاديث الضعيفة (1، 2) (100 حديث على جزئين).
3 - تكميل النفع بما لم يثبت به وقفٌ ولا رفع (جزءٌ واحدٌ فيه 25 حديثا).
4 - تخريج أحاديث الحقوق (حقوق دعت إليها الفطرة وقررتها الشريعة للشيخ ابن عثيمين).
5 - تخريج أحاديث كتاب: (الذل والانكسار للعزيز الجبار) لابن رجب الحنبليِّ.
6 - تعليقات على كتاب: (إماطة الجهل بحال حديثَي "ما خير للنساء" و "عقدة الحبل") جمع وتنسيق زوجِه: أم عبد الرحمن بنت
প্রথম।
অনুরূপভাবে শেখ যে সকল রচনার ব্যাপারে সন্তুষ্ট ছিলেন সেগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে:
১ - "এমন কোনো মুমিন বান্দা নেই যার কোনো গুনাহ নেই যা সে মাঝে মাঝে করে থাকে
… " হাদীসটি পর্যালোচনার মানদণ্ডে, আর এটিই শেখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মুদ্রিত সর্বশেষ রচনা।
"কুরআনের হৃৎপিণ্ড হলো ইয়াসিন" হাদীসটি পর্যালোচনার মানদণ্ডে। এই অংশটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে, আর নির্ভরযোগ্য হলো দ্বিতীয় সংস্করণ যা পূর্ববর্তী খণ্ড "আল-ফাইনা"-এর সাথে এক ভলিউমে মুদ্রিত হয়েছে।
২ - দুর্বল হাদীসের মূলনীতির আলোকে সহীফা পরিচ্ছন্নকরণ (১, ২) (দুই খণ্ডে ১০০টি হাদীস)।
৩ - মাউকুফ বা মারফু হিসেবে যা সাব্যস্ত হয়নি তার মাধ্যমে উপকারের পূর্ণতা বিধান (এক খণ্ডে ২৫টি হাদীস)।
৪ - অধিকার সংক্রান্ত হাদীসসমূহের তাখরীজ (প্রকৃতি যে অধিকারগুলোর দিকে আহ্বান জানিয়েছে এবং শরীয়ত যা নির্ধারণ করেছে - শেখ ইবনে উসাইমীন)।
৫ - ইবনে রজব আল-হাম্বালী রচিত: (মহা পরাক্রমশালী ও প্রবল প্রতাপশালীর সামনে হীনতা ও বিনয়) গ্রন্থের হাদীসসমূহের তাখরীজ।
৬ - 'নারীদের জন্য সর্বোত্তম কী' এবং 'রজ্জুর গিট' সংক্রান্ত হাদীসদ্বয়ের অবস্থা বিষয়ক অজ্ঞতা দূরীকরণ গ্রন্থের ওপর টীকা; যা তাঁর সহধর্মিণী উম্মে আবদুর রহমান বিনতে কর্তৃক সংকলিত ও বিন্যস্ত।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
النوبيِّ.
* وأما إنتاج الشيخ المخطوط فهو على القسمين السابقين أيضًا، وأرى أن نعرض عن ذكر القسم الذي لا يرضى الشيخ عنه إذ لا فائدة من ذكره. ويبقى قسم يرضى الشيخ عنه، أرجو أن يرى النور قريبًا، ويمكن حصره فيما يأتي:
1 - أحاديث وروايات فاتت أئمة وسادات (مسودة) وهذا يسميه الشيخ مشروع العمر، والعمل فيه منذ سنوات وسنوات.
2 - جزء في تخريج حديث: "ما السماوات السبع
… " (مسودة).
3 - جزء في تخريج حديث: "ثلاث جدُّهن جد
… " (مسودة).
4 - "الدَّراري الفاذة في الأحاديث المعلة والمتون الشاذة" (مسودة).
5 - "الهجر الجميل لأوهام المؤمل بن إسماعيل" أو "المعجم المعلل لشيوخ العدوي مؤمَّل" (مسودة).
6 - حديث "لا يدخل الجنة عجوز" في الميزان (مسودة).
7 - جزء فيه زيادة "ونستهديه" في خطبة الحاجة (مسودة).
আন-নুবী।
* আর শাইখের পাণ্ডুলিপিগত রচনার বিষয়টিও পূর্ববর্তী দুই প্রকারের ন্যায়। আমি মনে করি যে অংশটি নিয়ে শাইখ সন্তুষ্ট নন তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়, কারণ তা উল্লেখ করায় কোনো ফায়দা নেই। আর যে অংশটি নিয়ে শাইখ সন্তুষ্ট তা অবশিষ্ট রইল, যা আশা করি শীঘ্রই আলোর মুখ দেখবে। একে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে:
১ - এমন কিছু হাদিস ও বর্ণনা যা বড় বড় ইমাম ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে (খসড়া); শাইখ একে তাঁর জীবনের প্রধান প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেন এবং এতে দীর্ঘ বহু বছর যাবৎ কাজ চলছে।
২ - "সাত আসমান নয়..." এই হাদিসটির তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) বিষয়ক একটি খণ্ড (খসড়া)।
৩ - "তিনটি বিষয় যার গুরুত্বই গুরুত্ব..." এই হাদিসটির তাখরিজ বিষয়ক একটি খণ্ড (খসড়া)।
৪ - "ত্রুটিযুক্ত হাদিস ও বিচ্ছিন্ন মূলপাঠসমূহের ক্ষেত্রে বিরল উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি" (খসড়া)।
৫ - "মুআম্মিল ইবনে ইসমাইল-এর বিভ্রমসমূহের উত্তম বর্জন" অথবা "আদ-দাওয়ীর উস্তাদ মুআম্মিলের ত্রুটিযুক্ত অভিধান" (খসড়া)।
৬ - "কোনো বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না" - তুলাদণ্ডে এই হাদিসটি (খসড়া)।
৭ - খুতবাতুল হাজাহ-তে "এবং আমরা তাঁর নিকট হিদায়াত চাই" শব্দটির সংযোজন বিষয়ক একটি খণ্ড (খসড়া)।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
8 - جزءٌ فيه حديث دعاء بعد الوضوء "اللهم اجعلني من التوابين
… " (مسودة).
9 - "مختصر فضل ذي الجلال بتقييد ما فات العلَّامة الألبانيّ من الرِّجال" (مسودة).
وقد قرأ الشيخ بعض ما بيَّضه في هذا الكتاب الأخير، وسجل ذلك في بعض الأشرطة.
* 6 - ثناء بعض أهل العلم على الشيخ:
فلتعلم أخي القارئ أنَّ الشيخ لم يكن له نشاط - تقريبًا - في الخطب والدروس العامة إنما درسه لطلبة الحديث خاصة، وأيضًا قد منع منذ عام (1995) أو (1996) من إلقاء هذه الدروس؛ كما أجمع من عرف الشيخ رحمه الله أنه كان كارهًا للشهرة والصيت، محبًّا للخمول، حِرصًا على قلبه من الكبر وعلى عمله من الرياء. فكل ذلك ساعد على عدم معرفة طلبة العلم بالشيخ بما يتناسب مع مستواه العلمي، لكنَّ أهل العلم والدعاة في مصر عرفوه وخبروه، وأثنَوا عليه وعرفوا فضله وتقدمه على أقرانه وصرَّحوا بذلك. وممن أثنى على الشيخ (محمد عمرو) رحمه الله:
1 - الشيخ الإمام الألبانيُّ: أخبرَ الشيخُ محمد عمرو أنه سمع في بعض الأشرطة المسجلة بين الشيخ أبي إسحق والشيخ الألبانيّ،
৮ - একটি খণ্ড যাতে ওযুর পরের দোয়ার হাদিস রয়েছে: "হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন
... " (খসড়া)।
৯ - "আল্লামা আলবানি যেসব বর্ণনাকারীর বিবরণ ছেড়ে গেছেন তাদের লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে ফাদলু যিল জালাল গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার" (খসড়া)।
শায়খ এই শেষোক্ত বইটির কিছু পরিমার্জিত অংশ পাঠ করেছেন এবং তা কিছু অডিও ক্যাসেটে রেকর্ড করা হয়েছে।
* ৬ - শায়খের ব্যাপারে কিছু আহলে ইলমের প্রশংসা:
হে পাঠক ভাই! আপনার জানা উচিত যে, শায়খের সাধারণ খুতবা বা দরস প্রদানে তেমন কোনো তৎপরতা ছিল না বললেই চলে; বরং তাঁর দরস ছিল বিশেষভাবে হাদিসের ছাত্রদের জন্য। তদুপরি ১৯৯৫ বা ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁকে এই দরসগুলো প্রদান করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল; তেমনিভাবে যারা শায়খ (রহ.)-কে চিনতেন তারা এ বিষয়ে একমত যে, তিনি প্রসিদ্ধি ও সুখ্যাতি অপছন্দ করতেন, নিভৃতচারিতা পছন্দ করতেন; নিজের অন্তরকে অহংকার থেকে এবং আমলকে লোকদেখানো ভাব (রিয়া) থেকে রক্ষা করার ঐকান্তিক আগ্রহ থেকেই তিনি এমনটি করতেন। এসব কারণেই তাঁর ইলমি স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট শায়খ পরিচিতি পাননি। কিন্তু মিসরের আহলে ইলম ও দাঈগণ তাঁকে জানতেন এবং তাঁর সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাঁরা তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর মর্যাদা ও সমসাময়িকদের তুলনায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন এবং তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। শায়খ মুহাম্মাদ আমর (রহ.)-এর প্রশংসা যারা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - শায়খ ইমাম আলবানি: শায়খ মুহাম্মাদ আমর জানিয়েছেন যে, তিনি শায়খ আবু ইসহাক ও শায়খ আলবানির মধ্যে কথোপকথনের কিছু রেকর্ডকৃত অডিওতে শুনেছেন,
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
والشيخ أبو إسحق يسأله عن كتاب: (القسطاس في تصحيح حديث الأكياس) للشيخ محمد عمرو فقال الشيخ الألبانيّ: باحثٌ جيدٌ له مستقبلٌ جيد في اعتقادي (أو نحو ذلك). وهذا الكتاب من كتب الشيخ القديمة التي لا يرضى عنها.
2 - الشيخ العلَّامة المحدِّث مقبل بن هادي الوادعيُّ: لما زار الشيخ مصر، وفي مسجد الكحال قال: (أعلم أهل مصر بالحديث محمد عمرو عبد اللطيف).
وكان الشيخ محمد عمرو قد نبَّه الشيخ مقبلًا على علة حديث، وأشار الشيخ مقبل إلى ذلك في كتابه: "أحاديث معلّة ظاهرها الصحة" تحت الحديث رقم (395) صفحة: (258 ط). مكتبة ابن عباس بالمنصورة: "سجد وجهي للذي خلقه وشق سمعه وبصره بحوله وقوته" ما نصّه: (الحديث إذا نظرت في رجاله قلت: على شرط الشيخين، ولكنه منقطع: خالد الحذاء لم يسمع من أبي العالية؛ أفادني بهذا الأخ محمد بن عمرو المصري؛ فرجعت إلى تهذيب التهذيب فوجدته كما يقول حفظه الله) ا هـ.
وقد سبق أنَّ اسم الشيخ مركبٌ: (محمد عمرو). وأخبرَ الشيخُ محمد عمرو أنَّ الشيخَ مقبلًا لما زار مصر وألقى بعض الدروس في مسجد عقبة بن نافع، وقبل أن ينصرف استخلفه للجلوس مكانه وإلقاء الدروس بعده.
এবং শায়খ আবু ইসহাক তাঁকে শায়খ মুহাম্মাদ আমরের লিখিত কিতাব: (আল-কিসতাস ফি তাসহিহ হাদিসিল আকইয়াস) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন শায়খ আলবানী বললেন: "আমার বিশ্বাস অনুযায়ী (বা এই জাতীয় শব্দ) তিনি একজন উত্তম গবেষক যার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।" আর এই কিতাবটি শায়খের সেই পুরনো কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ব্যাপারে তিনি সন্তুষ্ট নন।
২ - শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ী: যখন শায়খ মিশর সফর করেন এবং আল-কাহহাল মসজিদে অবস্থান করেন, তখন তিনি বলেছিলেন: (মিশরবাসীদের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি হলেন মুহাম্মাদ আমর আব্দুল লতিফ।)
শায়খ মুহাম্মাদ আমর একটি হাদিসের ইল্লত বা সূক্ষ্ম ত্রুটির ব্যাপারে শায়খ মুকবিলকে অবহিত করেছিলেন। শায়খ মুকবিল তাঁর 'আহাদিসু মুআল্লাতুন জহিরুহাস সিহহাহ' কিতাবের ৩৯৫ নম্বর হাদিসের অধীনে ২৫৮ পৃষ্ঠায় (মানসুরাহ-এর মাকতাবাতু ইবনু আব্বাস সংস্করণ) সেদিকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন: "আমার চেহারা সেই সত্তার জন্য সিজদাবনত হলো যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যে এর শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি উন্মুক্ত করেছেন।" এর পাঠ হলো: (হাদিসটির বর্ণনাকারীদের দিকে তাকালে আপনি বলবেন যে এটি শায়খাইনের [বুখারি ও মুসলিম] শর্তানুযায়ী সহিহ, কিন্তু এটি মুনকাতি [বিচ্ছিন্ন]: খালিদ আল-হাজ্জা আবুল আলিয়া থেকে শ্রবণ করেননি; আমাকে ভাই মুহাম্মাদ বিন আমর আল-মিসরি এ বিষয়ে উপকৃত করেছেন। অতঃপর আমি 'তাহজিবুত তাহজিব' কিতাবটি পর্যালোচনা করলাম এবং সেটিকে তেমনই পেলাম যেমনটি তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন।) সমাপ্ত।
ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শায়খের নামটি একটি যৌগিক নাম: (মুহাম্মাদ আমর)। শায়খ মুহাম্মাদ আমর জানিয়েছেন যে, শায়খ মুকবিল যখন মিশর সফর করেন এবং উকবা বিন নাফি মসজিদে কিছু দরস প্রদান করেন, তখন প্রস্থান করার পূর্বে তিনি তাঁকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে যান যাতে তিনি তাঁর আসনে বসে দরস প্রদান করেন।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٣١)
3 - الشيخ العلَّامة محمد بن عبد المقصود العفيفيُّ: قال الشيخ العلامة محمد بن عبد المقصود العفيفي في رسالته "بحث في صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم مع الراجح من أقوال العلماء في الآراء الخلافية" (صفحة 17): "وقد ذكر العلامة محمد عمرو عبد اللطيف حفظه الله في كتابه "تبييض الصحيفة" أنه قد انفرد بها زائدة بن قدامة
… " إلخ.
وقال في الشريط رقم (17) ضمن سلسلة فقه العبادات (وعنوانه: مدَّة الطهر من الحيض) (عند الدقيقة: 51): "يا إخواننا شيخنا وأستاذنا المحدِّث الفاضل البارع الشيخ محمد عمرو عبد اللطيف مرض مرضًا شديدًا فإن شاء الله نبتهل له بالدعاء
… " ا هـ. ثمَّ شرع حفظه الله في الدعاء له.
وقد سئل الشيخ محمد عمرو رحمه الله عن قول بعض الإخوة إنَّ الشيخ محمد عبد المقصود كان يحضر دروسه في الحديث؛ فقال: رأيته مرَّة.
4 - الشيخ المحدِّث أبو إسحاق الحويني: كثيرًا ما يذكر الشيخ حجازي بن محمد بن شريف في دروسه أو لقاءاته تقديمه للشيخ محمد عمرو على نفسه في الحديث، ولا عجب، فقد تقارب الشيخان بدار التأصيل لفترة ليست بالقصيرة في البداية.
وقد طالعنا الشيخ أبا إسحاق حفظه الله بعد موت الشيخ محمد
৩ - শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল মাকসুদ আল-আফিফী: শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল মাকসুদ আল-আফিফী তাঁর "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের বৈশিষ্ট্য এবং মতভেদপূর্ণ বিষয়ে আলেমদের প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতামতের ওপর গবেষণা" নামক পুস্তিকায় (পৃষ্ঠা ১৭) বলেছেন: "আল্লামা মুহাম্মাদ আমরু আবদুল লতিফ—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—তাঁর 'তাবয়িজুস সাহিফাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, জাইদাহ ইবনে কুদামা এই বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন
… " ইত্যাদি।
তিনি 'ফিকহুল ইবাদাত' (ইবাদতের ফিকহ) সিরিজের ১৭ নম্বর অডিও ক্যাসেটে (যার শিরোনাম: ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতার সময়কাল) (৫১তম মিনিটে) বলেছেন: "হে আমাদের ভাইয়েরা, আমাদের শাইখ এবং শিক্ষক, গুণী ও দক্ষ মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মাদ আমরু আবদুল লতিফ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা তাঁর জন্য কায়মনোবাক্যে দোয়া করব
… " সমাপ্ত। এরপর তিনি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) তাঁর জন্য দোয়া করতে শুরু করেন।
শাইখ মুহাম্মাদ আমরু (রহিমাহুল্লাহ)-কে কিছু ভাইয়ের এই কথা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, শাইখ মুহাম্মাদ আবদিল মাকসুদ কি তাঁর হাদিসের পাঠদানগুলোতে উপস্থিত হতেন? তিনি বললেন: "আমি তাঁকে একবার দেখেছি।"
৪ - শাইখ মুহাদ্দিস আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী: শাইখ হিজাজী বিন মুহাম্মাদ বিন শরীফ (আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী) প্রায়শই তাঁর পাঠদান বা সাক্ষাৎকারগুলোতে হাদিসের ক্ষেত্রে শাইখ মুহাম্মাদ আমরুকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ শুরুর দিকে এই দুই শাইখ দীর্ঘ সময় ধরে 'দারুত তাসীল'-এ পরস্পরের সান্নিধ্যে ছিলেন।
শাইখ মুহাম্মাদের মৃত্যুর পর শাইখ আবু ইসহাক (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) আমাদের সামনে যা তুলে ধরেছেন...
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
عمرو رحمه الله على القنوات الإسلامية كيف يذكر الشيخ بسعة العلم، وحسن الخلق.
5 - الشيخ الفاضل حسن أبو الأشبال الزُّهيريُّ: وهو من مشايخ مصر ودعاتها المشهورين المشتغلين بالحديث وله تحقيقات وأعمال يكتب عليها: أبو الأشبال الزُّهيريُّ.
قال الشيخ حسن حفظه الله في تقديمه لمحاضرة للشيخ محمد بن عبد المقصود بمسجد العزيز بالله: "الشيخ محمد عمرو بن عبد اللطيف إمام المحدِّثين في مصر بلا منازع لا نقدم عليه أحدًا". وقد أهدى الشيخ حسن أبو الأشبال للشيخ محمد عمرو رحمه الله نسخة من تحقيقه لكتاب "جامع بيان العلم وفضله" لابن عبد البر، وكتب على أول صفحات الكتاب: "إهداء إلى شيخنا المحدِّث العالم الرباني الداعية السلفيّ خاتمة المحققين الشيخ محمد عمرو بن عبد اللطيف شمله الله بلطفه ورعايته وأحسن مثوبته في الدارين، برجاء القبول والنصح. تلميذكم أبو الأشبال الزهيريّ ذو الحجة 1414 هـ".
* 7 - رد بعض ما أثير حول الشيخ:
ينقسم ما أثير حول الشيخ رحمه الله إلى قسمين، وهما طرفا نقيض! والإنصاف أن نرد الشبهات جميعًا، وهذا هو منهج أهل السنة كما سبق وأشرتُ. فأما القسم الأول: على سبيل التنقص والذم، والقسم الثاني: على سبيل الإطراء والمدح الكاذب.
আমর (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে ইসলামী চ্যানেলগুলোতে কীভাবে শাইখের অগাধ জ্ঞান এবং সুন্দর চরিত্রের কথা উল্লেখ করা হয়।
৫ - সম্মানিত শাইখ হাসান আবু আল-আশবাল আল-জুহাইরি: তিনি মিশরের বিখ্যাত শাইখ এবং দাঈদের একজন যারা হাদিস শাস্ত্র নিয়ে কাজ করেন। তাঁর বিভিন্ন তাহকীক ও কাজ রয়েছে যাতে তিনি নাম লেখেন: আবু আল-আশবাল আল-জুহাইরি।
শাইখ হাসান (হাফিযাহুল্লাহ) মাসজিদে আযীয বিল্লাহ-তে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দিল মাকসুদের একটি লেকচারের ভূমিকায় বলেছিলেন: "শাইখ মুহাম্মাদ আমর বিন আব্দুল লতিফ হলেন মিশরে মুহাদ্দিসদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম, আমরা তাঁর আগে কাউকে স্থান দেই না।" শাইখ হাসান আবু আল-আশবাল শাইখ মুহাম্মাদ আমর (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ইবনে আব্দিল বার-এর "জামে বায়ানি ইলমি ওয়া ফাদলিহি" কিতাবের তাঁর করা তাহকীককৃত একটি কপি উপহার দিয়েছিলেন এবং কিতাবের প্রথম পৃষ্ঠায় লিখেছিলেন: "আমাদের শাইখ, মুহাদ্দিস, আলিমে রাব্বানী, সালাফী দাঈ, মুহাক্কিকদের শেষ উত্তরসূরী শাইখ মুহাম্মাদ আমর বিন আব্দুল লতিফের প্রতি উপহার; আল্লাহ তাঁকে তাঁর অনুগ্রহ ও হেফাযতে শামিল করুন এবং উভয় জাহানে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। এটি কবুল করার এবং উপদেশের প্রত্যাশায়। আপনাদের ছাত্র আবু আল-আশবাল আল-জুহাইরি, যুল হিজ্জাহ ১৪১৪ হিজরী।"
* ৭ - শাইখের ব্যাপারে উত্থাপিত কিছু বিষয়ের খণ্ডন:
শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে যা কিছু উত্থাপিত হয়েছে তা দুই ভাগে বিভক্ত, যা একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত! ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতার দাবি হলো আমরা সকল সংশয় খণ্ডন করব, আর এটাই হলো আহলে সুন্নাতের মানহাজ যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি। প্রথম ভাগটি হলো: মানহানি ও নিন্দার ছলে, আর দ্বিতীয় ভাগটি হলো: অতিরঞ্জন ও মিথ্যা প্রশংসার ছলে।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
فأما التي على سبيل القدح في الشيخ فهي:
* ظن البعض أنَّ الشيخ قد غير اسم كتاب الآجري "آداب حملة القرآن" فجعله (أخلاق أهل القرآن). وأنا أعني بهذا البعض الشيخ الفاضل عبد العزيز القاري - حفظه الله - في عمله على الكتاب نفسه. والحقيقة أنَّ الشيخ القاري في ذلك معذور، فإنَّ الكتاب قد طبع بهذا الاسم المزور، وعليه اسم الشيخ محمد عمرو والحق أنَّ المتصرف في ذلك الناشر - هداه الله، وأنَّ الشيخ بريء من ذلك، قال الشيخ محمد عمرو في "تكميل النفع" (ص 14): "فمن كتب على طُّرة كتاب "آداب حملة القرآن" للإمام الآجريِّ رحمه الله محوِّلًا اسمه إلى (أخلاق أهل القرآن) -: (حقَّقه وخرج أحاديثه الشيخ محمد عمرو عبد اللطيف) - وما حققته ولا رأي مخطوطته قطّ بل نقلها غيري - أقول: من كتبَ ذلك، فقد غلط عليَّ" ا هـ.
* الشيخ محمد عمرو يُسقط كل ما في السلسة الصحيحة: وهذا ينفيه الشيخ عن نفسه وكفى بذلك. ويكفي عند كل ذي عينين أنَّ الشيخ يذكر الشيخ الألبانيّ بالخير ويعرف له قدره، ويسميه كثيرًا بـ "الشيخ الكبير". ومن أراد الزيادة فليرجع إلى ما سبق وكتب عند تأثر الشيخ محمد عمرو بالشيخ الألبانيّ، وليس معنى هذا - ولا ينبغي أن يُفهم - أنَّ الشيخ محمد عمرو لا يخالف الشيخَ الألبانيّ في شيء، فمن ظنَّ أن مخالفةَ الشيخ الألبانيّ نوع تنقص فالعيب في فهمه،
পক্ষান্তরে শায়খের সমালোচনা বা কুৎসা রটনার উদ্দেশ্যে যা বলা হয়, তা হলো:
* কেউ কেউ মনে করেন যে, শায়খ আল-আজুররীর গ্রন্থ 'আদাবু হামালাতিল কুরআন'-এর নাম পরিবর্তন করে 'আখলাকু আহলিল কুরআন' রেখেছেন। আমি 'কেউ কেউ' বলতে এখানে ফজিলতপূর্ণ শায়খ আবদুল আজিজ আল-ক্বারি—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—উদ্দেশ্য করছি, যিনি এই একই গ্রন্থের ওপর কাজ করেছেন। আর বাস্তবতা হলো শায়খ আল-ক্বারি এ ক্ষেত্রে ওজরগ্রস্ত, কারণ গ্রন্থটি এই বিকৃত নামেই মুদ্রিত হয়েছিল এবং এর ওপর শায়খ মুহাম্মদ আমরের নাম ছিল। অথচ প্রকৃত সত্য এই যে, প্রকাশকই—আল্লাহ তাকে হেদায়েত দিন—এই পরিবর্তন করেছেন এবং শায়খ এ থেকে নির্দোষ। শায়খ মুহাম্মদ আমর 'তাকমিলুন নাফ' (পৃষ্ঠা ১৪) গ্রন্থে বলেছেন: "ইমাম আল-আজুররী (রহিমাহুল্লাহ)-এর গ্রন্থ 'আদাবু হামালাতিল কুরআন'-এর প্রচ্ছদে এর নাম পরিবর্তন করে 'আখলাকু আহলিল কুরআন' লিখে যে ব্যক্তি উল্লেখ করেছে: (শায়খ মুহাম্মদ আমর আবদুল লতিফ এটি সম্পাদনা ও হাদিস যাচাই করেছেন)—অথচ আমি এটি সম্পাদনা করিনি এবং কখনো এর পাণ্ডুলিপিও দেখিনি, বরং অন্য কেউ তা নকল করেছে—আমি বলছি: যে এটি লিখেছে, সে আমার ব্যাপারে ভুল করেছে।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
* শায়খ মুহাম্মদ আমর 'সিলসিলাতুস সহিহা'-এর সবকিছুই প্রত্যাখ্যান করেন: শায়খ নিজেই এই অভিযোগ নাকচ করেছেন এবং এটাই যথেষ্ট। আর যেকোনো চক্ষুষ্মান ব্যক্তির জন্য এটিই যথেষ্ট যে, শায়খ (মুহাম্মদ আমর) শায়খ আলবানীকে কল্যাণের সাথে স্মরণ করেন এবং তাঁর মর্যাদা স্বীকার করেন। তিনি প্রায়শই তাঁকে "বড় শায়খ" বলে সম্বোধন করতেন। আর যারা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা শায়খ মুহাম্মদ আমরের ওপর শায়খ আলবানীর প্রভাব সম্পর্কে পূর্বে যা লেখা হয়েছে সেদিকে ফিরে যেতে পারেন। এর অর্থ এই নয়—এবং এমনটি বোঝাও উচিত নয়—যে শায়খ মুহাম্মদ আমর কোনো বিষয়েই শায়খ আলবানীর বিরোধিতা করেন না। কারণ কেউ যদি মনে করে যে শায়খ আলবানীর বিরোধিতা করা এক প্রকার অবমাননা, তবে তার বুঝ বা উপলব্ধিতেই ত্রুটি রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
রাইয়ুয যামআন বিতারা জিমি শুয়ুখি ইবনি হিব্বান
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
والخطأ من عنده، ولا نُحيلُه إلا على الشيخ الألبانيّ نفسه، وهو الذي كان يذم التقليد، ويحث على البحث.
* الشيخ غير راض عن كل كتبه التي ألفها!!: ومن مارس الحديث، وخبر الفرق بين منهج المتقدِّمين والمتأخرين، علم زيف هذا الكلام، وقد مرَّ تفصيلُ ما يرضى عنه الشيخ مما لا يرضى عنه منذ قليل، فراجعه إن شئت. بل إنَّ الشيخ رحمه الله قام بمراجعة جزء "قلب القرآن يس" فنقَّحه وأعاد طبعه قبل موته بسنتين أو ثلاث، وكان الشيخ عازمًا على فعل ذلك في بعض مؤلفاته الأخرى كـ "تبييض الصحيفة" و "تكميل النفع" بعد إثبات زياداته وتصحيحاته على هذه الكتب.
وأما ما أشيع عن الشيخ على سبيل المدح والإطراء الكاذب فمنها:
* الشيخ محمد عمرو يستحضر كل رجال التهذيب.
وهذا يكذِّبه الشيخ، ولا يقره، فهو من المبالغة والإطراء الزائد عن الحد الذي لا يرضاه الشيخ، ولا يقر مثله، بل لا يعلم أحدًا في هذه الأعصار لديه هذه الملكة. لكن لا يمنع هذا من أن نقول إنَّ الشيخ محمد عمرو كان يستحضر كثيرًا جدًّا من أحوال الرواة بحيث يظنّ طلبته به ذلك.
আর ভুলটি তাঁর পক্ষ থেকেই হয়েছে, এবং আমরা এটি স্বয়ং শাইখ আলবানীর দিকেই সম্বন্ধ করছি, আর তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি তাকলীদ (অন্ধ অনুসরণ)-এর নিন্দা করতেন এবং গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করতেন।
* শাইখ তাঁর রচিত সকল কিতাবের প্রতি সন্তুষ্ট নন!!: আর যে ব্যক্তি হাদীস চর্চা করেছে এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণের মানহাজের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ হয়েছে, সে এই কথার অসারতা বুঝতে পারবে। শাইখ কোন বিষয়গুলোর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন আর কোনগুলোর প্রতি ছিলেন না, তার বিস্তারিত আলোচনা কিছুক্ষণ পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন। বরং শাইখ রহিমানুল্লাহ ‘কালবুল কুরআন ইয়াসীন’ খণ্ডটি পুনঃনিরীক্ষণ করেছিলেন এবং তা পরিমার্জন করে তাঁর মৃত্যুর দুই বা তিন বছর আগে পুনরায় ছাপিয়েছিলেন। শাইখ তাঁর অন্যান্য কিছু রচনা যেমন ‘তাবয়ীদুস সহীফাহ’ এবং ‘তাকমীলুন নাফ’ এর ক্ষেত্রেও তাঁর সংযোজন ও সংশোধনগুলো কিতাবগুলোতে প্রমাণ করার পর অনুরূপ করার সংকল্প করেছিলেন।
আর শাইখ সম্পর্কে প্রশংসা ও মিথ্যা স্তুতির ছলে যা রটানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
* শাইখ মুহাম্মদ আমর ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থের সকল রাবীকে মুখস্থ রাখতেন।
আর শাইখ স্বয়ং এটিকে অস্বীকার করেছেন এবং তিনি এটি সমর্থন করেন না। এটি অতিশয়োক্তি এবং সীমালঙ্ঘনকারী প্রশংসার অন্তর্ভুক্ত যা শাইখ পছন্দ করতেন না এবং অনুরূপ কথাকে তিনি সমর্থন করতেন না। বরং বর্তমান যুগে এমন যোগ্যতাসম্পন্ন কাউকে তিনি চিনতেন না। তবে এটি আমাদের এ কথা বলা থেকে বিরত রাখে না যে, শাইখ মুহাম্মদ আমর রাবীদের অবস্থা সম্পর্কে এত অধিক পরিমাণে স্মরণ রাখতেন যে, তাঁর ছাত্ররা তাঁর সম্পর্কে তেমনটিই ধারণা করত।