(খণ্ড: ১)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: -)
تكملة فتح القدير نتائج الأفكار في كشف الرموز والأسرار القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: نتائج الأفكار في كشف الرموز والأسرار
وهو: تكملة «فتح القدير، شرح الهداية» للكمال ابن الهمام، ومطبوع بآخره
المؤلف: شمس الدين، أحمد بن قودر، المعروف بقاضي زاده أفندي، قاضي عسكر رومللي (ت 988 هـ)
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الأولى، 1389 هـ - 1970 م
الأجزاء: 8 - 10 بعد «فتح القدير، شرح الهداية»
وصَوّرتْها: دار الفكر، بيروت
[تنبيه]: بأعلى الصفحة كتاب «الهداية» للمرغيناني، يليه -مفصولا بفاصل- تكملة شرحه «نتائج الأفكار» لقاضي زاده
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 رمضان 1445
তাকমিলা ফাতহুল কাদির: নাতায়িজুল আফকার ফি কাশফির রুমুয ওয়াল আসরার বিভাগ: হানাফি ফিকহ
গ্রন্থ: নাতায়িজুল আফকার ফি কাশফির রুমুয ওয়াল আসরার
এটি হলো: কামাল ইবনুল হুমামের «ফাতহুল কাদির, শারহুল হিদায়াহ»-এর পরিশিষ্ট এবং এটি এর শেষে মুদ্রিত হয়েছে
লেখক: শামসুদ্দিন আহমদ ইবনে কাওদার, যিনি কাদি জাদা এফেন্দি নামে পরিচিত, রুমেলির কাজি আসকার (মৃত্যু ৯৮৮ হিজরি)
প্রকাশক: শিরকাত মাকতাবাত ওয়া মাতবাআত মুস্তাফা আল-বাবি আল-হালাবি ওয়া আওলাদুহু, মিসর
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৮৯ হিজরি - ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ডসমূহ: ৮ - ১০, «ফাতহুল কাদির, শারহুল হিদায়াহ»-এর পরবর্তী অংশ
এবং এর প্রতিলিপি করেছে: দারুল ফিকর, বৈরুত
[সতর্কবার্তা]: পৃষ্ঠার উপরিভাগে মারগিনানির গ্রন্থ «আল-হিদায়াহ» রয়েছে, এরপর—একটি বিভাজক দ্বারা পৃথক করা অবস্থায়—কাদি জাদা রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের পরিশিষ্ট «নাতায়িজুল আফকার» রয়েছে
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রমজান ১৪৪৫
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
بسم الله الرحمن الرحيم كِتَابُ الْوَكَالَةِلَمَّا فَرَغَ مِنْ بَيَانِ أَحْكَامِ الشَّهَادَاتِ بِأَنْوَاعِهَا وَمَا يَتْبَعُهَا مِنْ الرُّجُوعِ عَنْهَا شَرَعَ فِي بَيَانِ أَحْكَامِ الْوَكَالَةِ، إمَّا لِمُنَاسِبَةِ أَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْ الشَّهَادَةِ وَالْوَكَالَةِ صِفَةٌ مِنْ صِفَاتِ اللَّهِ تَعَالَى لِقَوْلِهِ تَعَالَى {ثُمَّ اللَّهُ شَهِيدٌ عَلَى مَا يَفْعَلُونَ} وقَوْله تَعَالَى حِكَايَةً حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، وَإِمَّا؛ لِأَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا إيصَالُ النَّفْعِ إلَى الْغَيْرِ بِالْإِعَانَةِ فِي حَقِّهِ، وَإِمَّا؛ لِأَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا يَصْلُح سَبَبًا لِاكْتِسَابِ الثَّوَابِ وَالصِّيَانَةِ عَنْ الْعِقَابِ فِي الْمُعَامَلَاتِ، كَذَا فِي النِّهَايَةِ. قَالَ صَاحِب الْعِنَايَةِ عَقِبَ الشَّهَادَةِ بِالْوَكَالَةِ لِأَنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ مَدَنِيًّا بِالطَّبْعِ يَحْتَاج فِي مَعَاشِهِ إلَى تَعَاضُدٍ وَتَعَاوُضٍ، وَالشَّهَادَةُ مِنْ التَّعَاضُدِ وَالْوَكَالَةِ مِنْهُ؛ وَقَدْ يَكُونُ فِيهَا التَّعَاوُضُ أَيْضًا فَصَارَتْ كَالْمُرَكَّبِ مِنْ الْمُفْرَدِ فَآثَرَ تَأْخِيرَهَا انْتَهَى. وَقَالَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ فِي بَيَانِ قَوْلِهِ وَقَدْ يَكُونُ فِيهَا التَّعَاوُضُ أَيْضًا كَمَا إذَا كَانَ وَكِيلًا بِالْبَيْعِ أَوْ الشِّرَاءِ مَثَلًا انْتَهَى.أَقُولُ: هَذَا سَهْوٌ ظَاهِرٌ؛ لِأَنَّ التَّعَاوُضَ فِيمَا ذَكَرَهُ مِنْ الْمِثَالِ إنَّمَا هُوَ فِي مُتَعَلَّقِ الْوَكَالَةِ، أَعْنِي الْمُوَكَّلَ بِهِ، وَهُوَ الْبَيْعُ أَوْ الشِّرَاءُ لَا نَفْسُ الْوَكَالَةِ، وَالْكَلَامُ فِيهَا لَا فِي الْأَوَّلِ، وَإِلَّا فَقَدْ يَكُونُ التَّعَاوُضُ فِي مُتَعَلَّقِ الشَّهَادَةِ أَيْضًا كَمَا إذَا شَهِدَ بِالْبَيْعِ أَوْ الشِّرَاءِ مَثَلًا.وَالصَّوَابُ أَنَّ مُرَادَ صَاحِبِ الْعِنَايَةِ هُوَ أَنَّهُ قَدْ يَكُونُ فِي نَفْسِ الْوَكَالَةِ التَّعَاوُضُ كَمَا إذَا أَخَذَ الْوَكِيلُ الْأُجْرَةَ لِإِقَامَةِ الْوَكَالَةِ فَإِنَّهُ غَيْرُ مَمْنُوعٍ شَرْعًا، إذْ الْوَكَالَةُ عَقْدٌ جَائِزٌ لَا يَجِبُ عَلَى الْوَكِيلِ إقَامَتُهَا فَيَجُوزُ أَخْذُ الْأُجْرَةِ فِيهَا، بِخِلَافِ الشَّهَادَةِ فَإِنَّهَا فَرْضٌ يَجِبُ عَلَى الشَّاهِدِ أَدَاؤُهَا فَلَا يَجُوزُ فِيهَا التَّعَاوُضُ أَصْلًا. ثُمَّ إنَّ مَحَاسِنَ شَرْعِيَّةِ الْوَكَالَةِ ظَاهِرَةٌ، إذْ فِيهَا قَضَاءُ حَوَائِجِ الْمُحْتَاجِينَ إلَى مُبَاشَرَةِ أَفْعَالٍ لَا يَقْدِرُونَ عَلَيْهَا بِأَنْفُسِهِمْ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الْخَلَائِقَ عَلَى هِمَمٍ شَتَّى وَطَبَائِعَ مُخْتَلِفَةٍ وَأَقْوِيَاءَ وَضُعَفَاءَ، وَلَيْسَ كُلُّ أَحَدٍ يَرْضَى أَنْ يُبَاشِرَ الْأَعْمَالَ بِنَفْسِهِ، وَلَا كُلُّ أَحَدٍ يَهْتَدِي إلَى الْمُعَامَلَاتِ، فَمَسَّتْ الْحَاجَةُ إلَى شَرْعِيَّةِ الْوَكَالَةِ، فَنَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم بَاشَرَ بَعْضَ الْأُمُورِ بِنَفْسِهِ الْكَرِيمَةِ تَعْلِيمًا لِسُنَّةِ التَّوَاضُعِ، وَفَوَّضَ بَعْضَهَا إلَى غَيْرِهِ تَرْفِيهًا لِأَصْحَابِ الْمُرُوءَاتِ. ثُمَّ إنَّ هَاهُنَا أُمُورًا يُحْتَاجُ إلَى مَعْرِفَتِهَا تَفْسِيرًا لِلْوَكَالَةِ لُغَةً وَشَرْعًا. وَدَلِيلُ جَوَازِهَا وَسَبَبِهَا وَرُكْنِهَا وَشَرْطِهَا وَصِفَتِهَا وَحُكْمِهَا.أَمَّا تَفْسِيرُهَا لُغَةً: فَالْوَكَالَةُ بِفَتْحِ الْوَاوِ وَكَسْرِهَا اسْمٌ لِلتَّوْكِيلِ، مِنْ وَكَّلَهُ بِكَذَا إذَا فَوَّضَ إلَيْهِ ذَلِكَ. وَالْوَكِيلُ هُوَ الْقَائِمُ بِمَا فُوِّضَ إلَيْهِ، وَالْجَمْعُ الْوُكَلَاءُ كَأَنَّهُ فَعِيلٌ بِمَعْنَى مَفْعُولٍ؛ لِأَنَّهُ مَوْكُولٌ إلَيْهِ الْأَمْرُ: أَيْ مُفَوَّضٌ إلَيْهِ. وَأَمَّا شَرْعًا: فَهِيَ عِبَارَةٌ عَنْ إقَامَةِ الْإِنْسَانِ غَيْرَهُ مَقَامَ نَفْسِهِ فِي تَصَرُّفٍ مَعْلُومٍ. وَأَمَّا دَلِيلُ جَوَازِهَا فَالْكِتَابُ وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هَذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ}
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। ওকালত (প্রতিনিধিত্ব) অধ্যায়যখন তিনি সাক্ষ্যদানের (শাহাদাত) বিভিন্ন প্রকারের বিধান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য প্রত্যাহার সংক্রান্ত আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিনি ওকালতের বিধানাবলি বর্ণনা করতে শুরু করলেন। এর কারণ হতে পারে এই যে, সাক্ষ্যদান ও ওকালত উভয়ই আল্লাহ তাআলার সিফাত বা গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত; যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, "অতঃপর তারা যা করে আল্লাহ তার ওপর সাক্ষী।" এবং আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম (আ.)-এর উক্তি উদ্ধৃত করে বলেছেন, "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক (ওয়াকিল)।" অথবা এর কারণ হতে পারে এই যে, এদের প্রত্যেকটিই অন্যের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার মাধ্যমে তার কাছে কল্যাণ পৌঁছে দেয়। অথবা এর কারণ হতে পারে এই যে, এদের প্রতিটিই লেনদেনের ক্ষেত্রে সওয়াব অর্জন এবং শাস্তি থেকে বাঁচার মাধ্যম হওয়ার যোগ্য। 'নিহায়া' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। 'ইনায়া'র লেখক সাক্ষ্যদানের অধ্যায়ের পর ওকালত উল্লেখ করার কারণ হিসেবে বলেছেন যে, মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক জীব, তার জীবন যাপনের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময়ের প্রয়োজন হয়। আর সাক্ষ্যদান ও ওকালত উভয়ই সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। ওকালতের মধ্যে কখনও বিনিময়ের দিকটিও থাকে, তাই ওকালত একক বিষয়সমূহের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগিক বিষয়ের মতো হয়েছে, ফলে একে পরে উল্লেখ করাকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। কোনো কোনো বিদগ্ধ আলিম তার এই কথা—"এর মধ্যে বিনিময়ের দিকটিও থাকে"—এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, যেমন কেউ যখন ক্রয় বা বিক্রয়ের উকিল বা প্রতিনিধি হয়। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।আমি বলব: এটি একটি সুস্পষ্ট ভুল; কেননা তিনি যে উদাহরণ দিয়েছেন তাতে বিনিময় হলো ওকালতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অর্থাৎ যা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (বেচাকেনা), খোদ ওকালত চুক্তিতে নয়। অথচ আলোচনা এখানে ওকালত নিয়ে, সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নয়। অন্যথায় সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিনিময় হতে পারে, যেমন কেউ যখন ক্রয় বা বিক্রয়ের সাক্ষ্য দেয়।সঠিক কথা হলো 'ইনায়া'র লেখকের উদ্দেশ্য এই যে, খোদ ওকালত চুক্তিতেই বিনিময় থাকতে পারে, যেমন উকিল বা প্রতিনিধি ওকালত সম্পাদনের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করল। কারণ শরিয়তে এটি নিষিদ্ধ নয়, যেহেতু ওকালত একটি ঐচ্ছিক চুক্তি যা সম্পন্ন করা উকিলের ওপর অপরিহার্য নয়, তাই এতে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ। পক্ষান্তরে সাক্ষ্যদান একটি ফরজ কাজ যা আদায় করা সাক্ষীর ওপর আবশ্যক, তাই এতে কোনোভাবেই বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ নয়। অতঃপর ওকালত বিধিবদ্ধ হওয়ার সৌন্দর্য ও উপকারিতা সুস্পষ্ট। কারণ এর মাধ্যমে অভাবী মানুষের প্রয়োজন পূর্ণ হয় এমন কাজ সম্পাদনের দ্বারা যা তারা নিজে করতে সক্ষম নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা এবং ভিন্ন ভিন্ন স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং কাউকে শক্তিশালী ও কাউকে দুর্বল বানিয়েছেন। প্রত্যেকে নিজে সরাসরি সব কাজ করতে পছন্দ করে না, আবার সবাই লেনদেনের সঠিক পদ্ধতিও জানে না। তাই ওকালত বিধিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সুতরাং আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিনয় ও নম্রতার সুন্নত শিক্ষা দেওয়ার জন্য কিছু কাজ নিজের পবিত্র সত্তার মাধ্যমে আঞ্জাম দিয়েছেন, আবার মর্যাদাবান ব্যক্তিদের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কিছু কাজ অন্যের ওপর ন্যস্ত করেছেন। এরপর এখানে ওকালতের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা এবং এর বৈধতার দলীল, কারণ, রুকন (মূল উপাদান), শর্ত, বৈশিষ্ট্য ও বিধান সংক্রান্ত কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন।শাব্দিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে: ওকালত (ওয়াও অক্ষরে ফাতহা বা কাসরাসহ) হলো দায়িত্ব অর্পণ করার নাম; যা কাউকে কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া থেকে উদ্ভূত যখন তার ওপর তা ন্যস্ত করা হয়। আর 'ওয়াকীল' হলো সেই ব্যক্তি যে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। এর বহুবচন হলো 'উকালা'। এটি কর্মবাচ্যের অর্থে ব্যবহৃত; কারণ তার ওপর বিষয়টি সোপর্দ করা হয়েছে অর্থাৎ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। পারিভাষিক সংজ্ঞায়: ওকালত হলো কোনো সুনির্দিষ্ট কাজে কোনো ব্যক্তির নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্যকে নিযুক্ত করা। এর বৈধতার দলীল হলো আল্লাহর কিতাব; আর তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতএব তোমরা তোমাদের এই রূপা (মুদ্রা) সহ তোমাদের একজনকে শহরে পাঠাও।"
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
لِأَنَّ ذَاكَ كَانَ تَوْكِيلًا وَقَدْ قَصَّهُ اللَّهُ تَعَالَى عَنْ أَصْحَابِ الْكَهْفِ بِلَا نَكِيرٍ فَكَانَ شَرِيعَةً لَنَا.وَالسُّنَّةُ وَهِيَ مَا رُوِيَ «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَّلَ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ بِشِرَاءِ الْأُضْحِيَّةِ وَعُرْوَةَ الْبَارِقِيَّ بِهِ أَيْضًا، وَوَكَّلَ عُمَرَ بْنَ أُمِّ سَلَمَةَ بِالتَّزْوِيجِ».وَالْإِجْمَاعُ فَإِنَّ الْأُمَّةَ أَجْمَعَتْ عَلَى جَوَازِهَا مِنْ لَدُنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إلَى يَوْمِنَا هَذَا، وَكَذَا الْمَعْقُولُ يَدُلُّ عَلَيْهِ عَلَى مَا سَيَأْتِي فِي الْكِتَابِ.وَأَمَّا سَبَبُهَا فَتَعَلُّقُ الْبَقَاءِ الْمُقَدَّرِ بِتَعَاطِيهَا كَمَا فِي سَائِرِ الْمُعَامَلَاتِ. وَأَمَّا رُكْنُهَا: فَالْأَلْفَاظُ الَّتِي تَثْبُتُ بِهَا الْوَكَالَةُ كَلَفْظِ وَكَّلْت وَأَشْبَاهِهِ. رَوَى بِشْرُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله: إذَا قَالَ الرَّجُلُ لِغَيْرِهِ أَحْبَبْت أَنْ تَبِيعَ عَبْدِي هَذَا أَوْ هَوَيْت أَوْ رَضِيت أَوْ شِئْت أَوْ أَرَدْت فَذَاكَ تَوْكِيلٌ وَأَمْرٌ بِالْبَيْعِ. وَأَمَّا شَرْطُهَا: فَأَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مِمَّنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ وَتَلْزَمُهُ الْأَحْكَامُ كَمَا سَيَأْتِي فِي الْكِتَابِ، وَسَتَعْرِفُهُ مَشْرُوحًا. وَأَمَّا صِفَتُهَا: فَهِيَ أَنَّهَا عَقْدٌ جَائِزٌ غَيْرُ لَازِمٍ حَتَّى يَمْلِكَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ الْمُوَكِّلِ وَالْوَكِيلِ الْعَزْلَ بِدُونِ رِضَا صَاحِبِهِ. وَأَمَّا حُكْمُهَا: فَجَوَازُ مُبَاشَرَةِ الْوَكِيلِ مَا فُوِّضَ إلَيْهِ (قَالَ) أَيْ الْقُدُورِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - فِي مُخْتَصَرِهِ (كُلُّ عَقْدٍ جَازَ أَنْ يَعْقِدَهُ الْإِنْسَانُ بِنَفْسِهِ جَازَ أَنْ يُوَكِّلَ بِهِ غَيْرَهُ) هَذِهِ ضَابِطَةٌ يَتَبَيَّنُ بِهَا مَا يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِهِ لِأَحَدٍ، فَلَا يُرَدُّ عَلَيْهَا أَنَّ الْمُسْلِمَ لَا يَجُوزُ لَهُ عَقْدُ بَيْعِ الْخَمْرِ وَشِرَائِهَا بِنَفْسِهِ. وَلَوْ وَكَّلَ ذِمِّيًّا بِذَلِكَ جَازَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله؛ لِأَنَّ إبْطَالَ الْقَوَاعِدِ بِإِبْطَالِ الطَّرْدِ لَا الْعَكْسِ عَلَى مَا نَصُّوا عَلَيْهِ. وَالْعَجَبُ هَاهُنَا أَنَّ صَاحِبَ الْعِنَايَةِ مَعَ اعْتِرَافِهِ بِذَلِكَ حَيْثُ أَجَابَ عَنْ الِاعْتِرَاضِ بِالصُّورَةِ الْمَذْكُورَةِ بِأَنَّ الْعَكْسَ غَيْرُ لَازِمٍ وَلَيْسَ بِمَقْصُودٍ.قَالَ فِي شَرْحِ هَذَا الْمَقَامِ: هَذِهِ ضَابِطَةٌ يَتَبَيَّنُ بِهَا مَا يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِهِ وَمَا لَا يَجُوزُ انْتَهَى، فَإِنَّ الْعَكْسَ إذَا لَمْ يَكُنْ لَازِمًا وَلَا مَقْصُودًا فِي الضَّوَابِطِ كَيْفَ يَتَبَيَّنُ بِهَذِهِ الضَّابِطَةِ مَا لَا يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِهِ، وَقَدْ اُعْتُرِضَ عَلَى طَرْدِ هَذِهِ الضَّابِطَةِ بِوُجُوهٍ:الْأَوَّلُ: أَنَّ الْوَكِيلَ جَازَ لَهُ أَنْ يَعْقِدَ بِنَفْسِهِ، وَإِذَا وَكَّلَ غَيْرَهُ وَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ فِي ذَلِكَ لَا يَجُوزُ.وَالثَّانِي: أَنَّ الْإِنْسَانَ جَازَ لَهُ أَنْ يَسْتَقْرِضَ بِنَفْسِهِ، وَلَوْ وَكَّلَ غَيْرَهُ بِالِاسْتِقْرَاضِ لَا يَجُوزُ.وَالثَّالِثُ: أَنَّ الذِّمِّيَّ يَمْلِكُ بَيْعَ الْخَمْرِ بِنَفْسِهِ، وَلَا يَجُوزُ لَهُ أَنْ يُوَكِّلَ الْمُسْلِمَ بِبَيْعِهَا.وَأُجِيبَ عَنْ الْأَوَّلِ بِأَنَّ الْمُرَادَ بِقَوْلِهِ يَعْقِدُهُ الْإِنْسَانُ بِنَفْسِهِ هُوَ أَنْ يَكُونَ مُسْتَبِدًّا بِهِ وَالْوَكِيلُ لَيْسَ كَذَلِكَ.وَعَنْ الثَّانِي بِأَنَّ مَحَلَّ الْعَقْدِ مِنْ شُرُوطِهِ لِكَوْنِ الْمَحَالِّ شُرُوطًا عَلَى مَا عُرِفَ، وَذَاكَ لَيْسَ بِمَوْجُودٍ فِي التَّوْكِيلِ بِالِاسْتِقْرَاضِ؛ لِأَنَّ الدَّرَاهِمَ الَّتِي اسْتَقْرَضَهَا الْوَكِيلُ مِلْكَ الْمُقْرِضِ وَالْأَمْرُ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ بَاطِلٌ، وَرُدَّ هَذَا بِأَنَّهُ مُقَرِّرٌ لِلنَّقْضِ لَا دَافِعٌ. وَدُفِعَ بِأَنَّهُ مِنْ بَابِ التَّخَلُّفِ لِمَانِعٍ، وَقَيْدُ عَدَمِ الْمَانِعِ فِي الْأَحْكَامِ الْكُلِّيَّةِ غَيْرُ لَازِمٍ، وَنُقِضَ بِالتَّوْكِيلِ بِالشِّرَاءِ فَإِنَّهُ جَائِزٌ وَمَا ذَكَرْتُمْ مَوْجُودٌ فِيهِ. وَفُرِّقَ بِأَنَّ مَحَلَّ عَقْدِ الْوَكَالَةِ فِي الشِّرَاءِ هُوَ الثَّمَنُ وَهُوَ مِلْكُ الْمُوَكِّلِ، وَفِي الِاسْتِقْرَاضِ الدَّرَاهِمُ الْمُسْتَقْرَضَةُ وَهِيَ لَيْسَتْ مِلْكَهُ.وَقِيلَ: هَلَّا جَعَلْتُمْ الْمَحَلَّ فِيهِ بَدَلَهَا وَهُوَ مِلْكُ الْمُوَكِّلِ؟ وَدُفِعَ بِأَنَّ ذَاكَ مَحَلُّ التَّوْكِيلِ بِإِيفَاءِ الْقَرْضِ لَا بِالِاسْتِقْرَاضِ، هَذَا نِهَايَةُ مَا فِي الْعِنَايَةِ. أَقُولُ: وَلِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ كَمَا أَنَّ الْأَمْرَ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ بَاطِلٌ كَذَلِكَ التَّصَرُّفُ بِنَفْسِهِ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ بَاطِلٌ فَيَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الِاسْتِقْرَاضُ بِنَفْسِهِ أَيْضًا بَاطِلًا بِنَاءً عَلَى هَذَا، وَلَيْسَ كَذَلِكَ. ثُمَّ أَقُولُ: يُمْكِنُ أَنْ يُدْفَعَ ذَلِكَ بِأَنَّ الْمُسْتَقْرِضَ بِنَفْسِهِ مُتَصَرِّفٌ فِي مِلْكِ نَفْسِهِ وَهُوَ عِبَارَتُهُ دُونَ مِلْكِ غَيْرِهِ وَهُوَ الدَّرَاهِمُ الْمُسْتَقْرَضَةُ. وَأَمَّا الْمَأْمُورُ بِالِاسْتِقْرَاضِ فَإِنْ تَصَرَّفَ فِي عِبَارَةِ نَفْسِهِ بِأَنْ قَالَ لِلْمُقْرِضِ مَثَلًا أَقْرِضْنِي عَشَرَةَ دَرَاهِمَ كَانَ الِاسْتِقْرَاضُ لِنَفْسِهِ لَا لِلْآمِرِ فَلَهُ أَنْ يَمْنَعَ الْعَشَرَةَ مِنْ الْآمِرِ كَمَا صَرَّحُوا بِهِ، وَإِنْ تَصَرَّفَ فِي عِبَارَةِ الْآمِرِ بِأَنْ قَالَ مَثَلًا: إنَّ فُلَانًا يَسْتَقْرِضُ مِنْك عَشَرَةَ دَرَاهِمَ فَفَعَلَ الْمُقْرِضُ كَانَتْ الْعَشَرَةُ لِلْآمِرِ، وَلَكِنَّ الْمَأْمُورَ يَصِيرُ فِي هَذِهِ الصُّورَةِ رَسُولًا لَا وَكِيلًا، وَالْبَاطِلُ هُوَ الْوَكَالَةُ فِي الِاسْتِقْرَاضِ دُونَ الرِّسَالَةِ فِيهِ، فَإِنَّ الرِّسَالَةَ مَوْضُوعَةٌ لِنَقْلِ عِبَارَةِ الْمُرْسِلِ، فَالرَّسُولُ مُعَبِّرٌ وَالْعِبَارَةُ مِلْكُ الْمُرْسِلِ، فَقَدْ أَمَرَهُ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِهِ بِاعْتِبَارِ الْعِبَارَةِ فَيَصِحُّ فِيمَا هُوَ حَقُّهُ.وَأَمَّا الْوَكَالَةُ فَغَيْرُ مَوْضُوعَةٍ لِنَقْلِ عِبَارَةِ الْمُوَكِّلِ بَلْ الْعِبَارَةُ لِلْوَكِيلِ فَلَا يُمْكِنُنَا تَصْحِيحُ هَذَا الْأَمْرِ بِاعْتِبَارِ الْعِبَارَةِ كَمَا نُصَّ عَلَيْهِ فِي الذَّخِيرَةِ. بَقِيَ هَاهُنَا شَيْءٌ وَهُوَ أَنَّ مَا ذُكِرَ مَنْقُوضٌ بِجَوَازِ التَّوْكِيلِ بِالِاسْتِيهَابِ وَالِاسْتِعَارَةِ؛ وَسَيَأْتِي تَمَامُ بَحْثِهِ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى. وَأُجِيبَ عَنْ الثَّالِثِ بِأَنَّ الذِّمِّيَّ كَمَا يَمْلِكُ بَيْعَ الْخَمْرِ بِنَفْسِهِ يَمْلِكُ تَوْكِيلَ غَيْرِهِ بِبَيْعِهَا أَيْضًا، حَتَّى أَنَّهُ لَوْ وَكَّلَ ذِمِّيًّا آخَرَ بِبَيْعِهَا يَجُوزُ، وَإِنَّمَا لَمْ يَجُزْ تَوْكِيلُ الْمُسْلِمِ هَاهُنَا لِمَعْنًى فِي الْمُسْلِمِ، وَهُوَ أَنَّهُ مَأْمُورٌ بِالِاجْتِنَابِ عَنْهَا وَفِي جَوَازِ التَّوْكِيلِ بِبَيْعِهَا اقْتِرَابُهَا فَكَانَ ذَلِكَ أَمْرًا عَارِضًا فِي الْوَكِيلِ، وَالْعَوَارِضُ لَا تَقْدَحُ فِي الْقَوَاعِدِ، حَتَّى أَنَّ قَائِلًا لَوْ قَالَ: كُلُّ مَنْ تَزَوَّجَ امْرَأَةً بِنِكَاحٍ صَحِيحٍ حَلَّ لَهُ وَطْؤُهَا لَا يَرِدُ عَلَيْهِ الْحَائِضُ وَالْمُحَرَّمَةُ، هَذَا زُبْدَةُ مَا فِي أَكْثَرِ الشُّرُوحِ. وَأَجَابَ عَنْهُ صَاحِبُ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
কারণ সেটি ছিল ওকালত (প্রতিনিধিত্ব প্রদান), আর আল্লাহ তাআলা কোনো আপত্তি ছাড়াই আসহাবে কাহাফের ঘটনা বর্ণনা করেছেন, ফলে তা আমাদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য হয়েছে।আর সুন্নাহ হচ্ছে যা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরবানির পশু ক্রয়ের জন্য হাকিম ইবনে হিযামকে এবং উরওয়াহ আল-বারকিকেও অনুরূপ কাজের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন, আর উম্মে সালামাহর সাথে বিবাহের জন্য উমর ইবনে উম্মে সালামাহকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন।আর ইজমা (ঐক্যমত) হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকে আমাদের বর্তমান দিন পর্যন্ত উম্মত এর বৈধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে। অনুরূপভাবে যৌক্তিক দলিলও এর প্রমাণ দেয়, যা কিতাবের সামনে আলোচিত হবে।আর এর কারণ (সবব) হলো অন্যান্য লেনদেনের মতো এর ব্যবহারের সাথে নির্ধারিত অস্তিত্বের বা টিকে থাকার সংশ্লিষ্টতা। আর এর রুকন হলো: সেই শব্দাবলি যার মাধ্যমে ওকালত সাব্যস্ত হয়, যেমন "আমি তোমাকে উকিল বানালাম" এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ। বিশর ইবনে গিয়াস ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে, "আমি পছন্দ করি যে তুমি আমার এই দাসটি বিক্রি করো" অথবা "আমি ভালোবেসেছি" অথবা "আমি সন্তুষ্ট হয়েছি" অথবা "আমি চেয়েছি" অথবা "আমি ইচ্ছা করেছি", তবে তা প্রতিনিধিত্ব প্রদান এবং বিক্রির আদেশ হিসেবে গণ্য হবে। আর এর শর্ত হলো: মুওয়াক্কিল (প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারী) এমন ব্যক্তি হতে হবে যে উক্ত কাজে হস্তক্ষেপ করার মালিক এবং যার ওপর বিধানসমূহ কার্যকর হয়, যেমনটি কিতাবের সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে এবং আপনি তা জানতে পারবেন। আর এর বৈশিষ্ট্য হলো: এটি একটি জায়িয বা ঐচ্ছিক চুক্তি যা অলঙ্ঘনীয় নয়, যাতে মুওয়াক্কিল এবং উকিল উভয়েই তাদের সঙ্গীর সম্মতি ছাড়াই চুক্তি বাতিলের অধিকার রাখে। আর এর হুকুম হলো: উকিলের জন্য তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা বৈধ হওয়া। ইমাম কুদুরী (রহ.) তাঁর মুখতাসারে বলেছেন, (প্রত্যেক এমন চুক্তি যা মানুষ নিজে সম্পাদন করতে পারে, তাতে অন্যকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করাও তার জন্য বৈধ)। এটি একটি মূলনীতি যার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে কিসের ওকালত বৈধ। এর ওপর এমন কোনো আপত্তি আসবে না যে, একজন মুসলমানের জন্য নিজে মদ্য কেনা-বেচার চুক্তি করা বৈধ নয়, কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে সে যদি এর জন্য কোনো যিম্মিকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে তবে তা বৈধ হবে; কারণ মূলনীতি বাতিল হয় এর প্রত্যক্ষ প্রয়োগ (তর্দ) বাতিল হওয়ার কারণে, বিপরীতটা (অকস) বাতিল হওয়ার কারণে নয়—যেমনটি ফকীহগণ বর্ণনা করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ‘ইনায়া’ গ্রন্থের লেখক বিষয়টি স্বীকার করা সত্ত্বেও এবং উল্লিখিত আপত্তির জবাবে তিনি বলেছিলেন যে বিপরীতটা হওয়া আবশ্যক নয় এবং তা উদ্দেশ্যও নয়—তিনি এই স্থানের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এটি একটি মূলনীতি যার মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করা যা বৈধ এবং যা বৈধ নয়—উভয়টিই স্পষ্ট হয়। (উদ্ধৃতি শেষ)। অথচ যখন মূলনীতির ক্ষেত্রে বিপরীতটি (অকস) আবশ্যক ও উদ্দেশ্য নয়, তখন এই মূলনীতির মাধ্যমে কী করে সেটি স্পষ্ট হবে যাতে ওকালত বৈধ নয়? এই মূলনীতির প্রত্যক্ষ প্রয়োগের (তর্দ) ওপর কয়েকটি দিক থেকে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:প্রথম: উকিলের জন্য নিজে চুক্তি সম্পাদন করা বৈধ, কিন্তু সে যদি অন্যকে উকিল বানায় এবং তাকে সে বিষয়ে অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে তা বৈধ নয়।দ্বিতীয়: মানুষের জন্য নিজে ঋণ গ্রহণ করা বৈধ, কিন্তু সে যদি অন্যকে ঋণ গ্রহণের জন্য উকিল বানায়, তবে তা বৈধ নয়।তৃতীয়: যিম্মি নিজে মদ বিক্রি করার মালিকানা রাখে, কিন্তু তার জন্য কোনো মুসলমানকে তা বিক্রির প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ নয়।প্রথমটির উত্তর হলো, ‘মানুষ নিজে সম্পাদন করবে’—একথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে যেন তাতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহীতা হয়, অথচ উকিল তেমন নয়।দ্বিতীয়টির উত্তর হলো, চুক্তির শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো চুক্তির স্থান বা ক্ষেত্র, কারণ ক্ষেত্রসমূহ শর্ত হিসেবে গণ্য—যেমনটি পরিচিত। আর ঋণ গ্রহণের ওকালতে সেটি বিদ্যমান নেই; কারণ উকিল যে দিরহাম ঋণ নেয় তা ঋণদাতার মালিকানাধীন থাকে, আর অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপের আদেশ দেওয়া বাতিল। তবে এই উত্তরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই বলে যে, এটি আপত্তির সমর্থনকারী, নিরসনকারী নয়। একে আবার এই বলে প্রতিহত করা হয়েছে যে, এটি কোনো বাধার কারণে পিছিয়ে পড়ার অন্তর্ভুক্ত, আর সামগ্রিক বিধিবিধানের ক্ষেত্রে বাধার অনুপস্থিতির শর্তটি সবসময় আবশ্যক নয়। একে আবার ক্রয়ের ওকালত দ্বারা খণ্ডন করা হয়েছে, কারণ তা বৈধ অথচ আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তা সেখানেও বিদ্যমান। এতে পার্থক্য করা হয়েছে যে, ক্রয়ের ক্ষেত্রে ওকালত চুক্তির ক্ষেত্র হলো মূল্য (সামান), যা মুওয়াক্কিলের মালিকানাধীন। আর ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চুক্তির ক্ষেত্র হলো ঋণকৃত দিরহাম, যা তার মালিকানাধীন নয়।বলা হয়েছে: আপনারা কেন এর স্থলাভিষিক্তকে (বদল) ক্ষেত্র বানাচ্ছেন না যা মুওয়াক্কিলের মালিকানাধীন? এর প্রতিউত্তরে বলা হয়েছে যে, তা ঋণ পরিশোধের ওকালতের ক্ষেত্র, ঋণ গ্রহণের নয়। এটিই ইনায়া গ্রন্থের আলোচনার সারসংক্ষেপ। আমি (গ্রন্থকার) বলি: কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারেন যে, যেমন অন্যের মালিকানাধীন বস্তুতে হস্তক্ষেপের আদেশ দেওয়া বাতিল, তেমনি অন্যের মালিকানাধীন বস্তুতে নিজে হস্তক্ষেপ করাও বাতিল। সুতরাং এই ভিত্তিতে নিজে ঋণ গ্রহণ করাও বাতিল হওয়া আবশ্যক, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। এরপর আমি বলব: একে এভাবে প্রতিহত করা সম্ভব যে, ঋণ গ্রহণকারী যখন নিজে ঋণ নেয় তখন সে নিজের মালিকানাধীন বিষয়েই হস্তক্ষেপ করে আর তা হলো তার বক্তব্য (ইবারাত), অন্যের মালিকানাধীন দিরহামে নয়। পক্ষান্তরে যাকে ঋণ গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে, সে যদি নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করে যেমন ঋণদাতাকে বলল, "আমাকে দশ দিরহাম ঋণ দিন", তবে সেই ঋণ গ্রহণ তার নিজের জন্য হবে, আদেশদাতার জন্য নয়। ফলে সে আদেশদাতার থেকে সেই দশ দিরহাম আটকে রাখার অধিকার রাখে যেমন ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন। আর সে যদি আদেশদাতার বক্তব্যের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করে যেমন বলল, "অমুক ব্যক্তি আপনার থেকে দশ দিরহাম ঋণ চাচ্ছে", আর ঋণদাতা তা প্রদান করল, তবে সেই দশ দিরহাম আদেশদাতার হবে। কিন্তু এই সুরতে আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি একজন রাসূল (বার্তাবাহক) হবে, উকিল নয়। আর বাতিল হলো ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ওকালত, রেসালাত (বার্তা বহন) নয়। কারণ রেসালাত হলো প্রেরকের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাব্যস্ত, সুতরাং রাসূল কেবল ব্যক্তকারী আর বক্তব্যটি প্রেরকের মালিকানাধীন। সেহেতু সে তাকে বক্তব্যের বিচারে তার মালিকানাধীন বিষয়েই হস্তক্ষেপের আদেশ দিয়েছে, তাই যা তার অধিকারভুক্ত তাতে তা শুদ্ধ হবে।আর ওকালত মুওয়াক্কিলের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাব্যস্ত নয়, বরং বক্তব্যটি উকিলের নিজের। ফলে আমরা বক্তব্যের বিচারে এই বিষয়টি শুদ্ধ করতে পারি না, যেমনটি ‘যাখিরা’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এখানে একটি বিষয় বাকি রয়ে গেল, আর তা হলো যা উল্লেখ করা হয়েছে তা উপহার গ্রহণ (ইস্তিহহাব) এবং ধার গ্রহণের (ইস্তিআরাহ) ওকালত বৈধ হওয়ার মাধ্যমে খণ্ডিত হয়; আল্লাহ চাহেন তো এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সামনে আসবে। তৃতীয় আপত্তির উত্তর হলো, যিম্মি যেমন নিজে মদ বিক্রি করতে পারে, তেমনি সে অন্যকে মদ বিক্রির উকিল বানানোরও মালিকানা রাখে। এমনকি সে যদি অন্য কোনো যিম্মিকে তা বিক্রির উকিল বানায় তবে তা বৈধ। এখানে মুসলমানকে উকিল বানানো কেবল মুসলমানের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি কারণে বৈধ হয়নি, আর তা হলো তাকে মদ থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা বিক্রির ওকালত গ্রহণ করার মধ্যে তার সাথে সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়। সুতরাং এটি উকিলের ক্ষেত্রে একটি আপতিক বিষয়, আর আপতিক বিষয়সমূহ মূলনীতির কোনো ক্ষতি করে না। এমনকি কেউ যদি বলে: যে ব্যক্তি কোনো নারীকে সহিহ নিকাহর মাধ্যমে বিবাহ করবে তার জন্য তার সাথে সহবাস হালাল, তবে তার ওপর ঋতুস্রাব বা ইহরাম অবস্থায় থাকা নারী দ্বারা আপত্তি আসবে না। এটিই অধিকাংশ ভাষ্যগ্রন্থের সারকথা। এর উত্তর দিয়েছেন...
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
الْعِنَايَةِ بِوَجْهٍ آخَرَ حَيْثُ قَالَ: وَالذِّمِّيُّ جَازَ لَهُ تَوْكِيلُ الْمُسْلِمِ وَالْمُمْتَنِعُ تَوَكُّلُ الْمُسْلِمِ عَنْهُ، وَلَيْسَ كَلَامُنَا فِي ذَلِكَ لِجَوَازِ أَنْ يَمْنَعَ مَانِعٌ عَنْ التَّوَكُّلِ وَإِنْ صَحَّ التَّوْكِيلُ، وَقَدْ وُجِدَ الْمَانِعُ وَهُوَ حُرْمَةُ اقْتِرَابِهِ مِنْهَا انْتَهَى. وَقَالَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ: هَذَا عَلَى تَقْدِيرِ صِحَّتِهِ يَكُونُ جَوَابًا عَنْ النَّقْضِ بِالِاسْتِقْرَاضِ أَيْضًا، إلَّا أَنَّهُ لَمَّا كَانَ مُخَالِفًا لِمَا سَيَجِيءُ مِنْ الْمُصَنِّفِ مِنْ أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ بَاطِلٌ لَمْ يَذْكُرْهُ الشَّارِحُ فِي مَعْرِضِ الْجَوَابِ، وَلَمْ يُجِبْ بِمَا أَجَابَ بِهِ غَيْرُهُ مِنْ الشُّرَّاحِ لِذَلِكَ أَيْضًا انْتَهَى. أَقُولُ: لَيْسَ هَذَا بِسَدِيدٍ، أَمَّا أَوَّلًا فَلِأَنَّ مَا ذَكَرَهُ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ هَاهُنَا لَا يَكَادُ يَكُونُ جَوَابًا عَنْ النَّقْضِ بِالِاسْتِقْرَاضِ؛ لِأَنَّ الْمَانِعَ هُنَاكَ فِي نَفْسِ التَّوْكِيلِ وَهُوَ بُطْلَانُ الْأَمْرِ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ، وَالْمَانِعُ هَاهُنَا عَلَى رَأْيِهِ إنَّمَا هُوَ حَقُّ التَّوَكُّلِ وَهُوَ حُرْمَةُ اقْتِرَابِ الْمُسْلِمِ مِنْ الْخَمْرِ فَأَيْنَ هَذَا مِنْ ذَاكَ.وَأَمَّا ثَانِيًا فَلِأَنَّهُ لَا مَعْنَى لِقَوْلِهِ وَلَمْ يُجِبْ بِمَا أَجَابَ بِهِ غَيْرُهُ مِنْ الشُّرَّاحِ عَلَى مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ قَبْلُ وَلَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ مُنَافٍ لِمَا سَيَجِيءُ مِنْ الْمُصَنِّفِ رحمه الله مِنْ أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ بَاطِلٌ كَمَا لَا يَخْفَى عَلَى الْفَطِنِ، فَلَا وَجْهَ لِدَرْجِ قَوْلِهِ الْمَذْكُورِ فِي حَيِّزِ جَوَابٍ لِمَا فِي قَوْلِهِ إلَّا أَنَّهُ لَمَّا كَانَ مُخَالِفًا لِمَا سَيَجِيءُ مِنْ الْمُصَنِّفِ إلَخْ. ثُمَّ قَالَ ذَلِكَ الْقَائِلُ: بَقِيَ فِيهِ بَحْثٌ، إذْ التَّوْكِيلُ وَالتَّوَكُّلُ كَالْكَسْرِ وَالِانْكِسَارِ، ثُمَّ لَيْتَ شِعْرِي مَا مَعْنَى جَوَازِهِ انْتَهَى. أَقُولُ: هَذَا سَاقِطٌ جِدًّا، إذْ لَا يَذْهَبُ عَلَى ذِي مُسْكَةٍ أَنَّ الِانْكِسَارَ مُطَاوِعُ الْكَسْرِ فَلَا يَتَحَقَّقُ أَحَدُهُمَا بِدُونِ الْآخَرِ، بِخِلَافِ التَّوْكِيلِ وَالتَّوَكُّلِ، فَإِنَّ التَّوْكِيلَ تَفْوِيضُ الْأَمْرِ إلَى الْغَيْرِ، وَالتَّوَكُّلُ قَبُولُ الْوَكَالَةِ عَلَى مَا صَرَّحُوا بِهِ، وَلَا شَكَّ فِي جَوَازِ تَحَقُّقِ الْأَوَّلِ بِدُونِ الثَّانِي، ثُمَّ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُتَوَهَّمَ لُزُومُ مُطَاوِعٍ لِكُلِّ فِعْلٍ مُتَعَدٍّ، أَلَا يَرَى إلَى صِحَّةِ قَوْلِك خَيَّرْته فَلَمْ يَخْتَرْ، وَصِحَّةُ قَوْلِك نَبَّهْته فَلَمْ يَتَنَبَّهْ وَمَا أَشْبَهَهُمَا، فَمِنْ ذَلِكَ قَوْلُك وَكَّلْته فَلَمْ يَتَوَكَّلْ فَلَا إشْكَالَ أَصْلًا. قَالَ الْمُصَنِّفُ رحمه الله فِي تَعْلِيلِ جَوَازِ الْوَكَالَةِ فِيمَا ذَكَرَهُ (لِأَنَّ الْإِنْسَانَ قَدْ يَعْجِزُ عَنْ الْمُبَاشَرَةِ بِنَفْسِهِ عَلَى اعْتِبَارِ بَعْضِ الْأَحْوَالِ) بِأَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ شَيْخًا فَانِيًا أَوْ رَجُلًا ذَا وَجَاهَةٍ لَا يَتَوَلَّى الْأُمُورَ بِنَفْسِهِ (فَيَحْتَاجُ إلَى أَنْ يُوَكِّلَ غَيْرَهُ) فَلَوْ لَمْ يَجُزْ التَّوْكِيلُ لَزِمَ الْحَرَجُ وَهُوَ مُنْتَفٍ بِالنَّصِّ (فَيَكُونُ) أَيْ الْإِنْسَانُ (بِسَبِيلٍ مِنْهُ) أَيْ مِنْ التَّوْكِيلِ (دَفْعًا لِحَاجَتِهِ) وَنَفْيًا لِلْحَرَجِ. وَاعْتُرِضَ عَلَى هَذَا بِأَنَّهُ دَلِيلٌ أَخَصُّ مِنْ الْمَدْلُولِ وَهُوَ جَوَازُ الْوَكَالَةِ فَإِنَّهَا جَائِزَةٌ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ثَمَّةَ عَجْزٌ أَصْلًا. وَأُجِيبَ بِأَنَّ ذَلِكَ بَيَانُ حِكْمَةِ الْحُكْمِ وَهِيَ تُرَاعَى فِي الْجِنْسِ لَا فِي الْأَفْرَادِ. قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ بَعْدَ ذِكْرِ ذَلِكَ الِاعْتِرَاضِ مَعَ جَوَابِهِ الْمَزْبُورِ: وَيَجُوزُ أَنْ يُقَالَ ذَكَرَ الْخَاصَّ وَأَرَادَ الْعَامَّ، وَهُوَ الْحَاجَةُ؛ لِأَنَّ الْحَاجَةَ لِلْعَجْزِ حَاجَةٌ خَاصَّةٌ وَهُوَ مَجَازٌ شَائِعٌ، وَحِينَئِذٍ يَكُونُ الْمَنَاطُ هُوَ الْحَاجَةُ وَقَدْ تُوجَدُ بِلَا عَجْزٍ انْتَهَى.أَقُولُ: وُجُودُ الْحَاجَةِ بِدُونِ الْعَجْزِ فِي بَابِ الْوَكَالَةِ مَمْنُوعٌ، فَإِنَّهُمْ صَرَّحُوا وَمِنْهُمْ الشَّارِحُ ابْنُ الْهُمَامِ بِأَنَّ الْوَكَالَةَ أَبَدًا إمَّا لِلْعَجْزِ وَإِمَّا لِلتَّرَفُّهِ، وَالظَّاهِرُ أَنَّ لَيْسَ فِي صُورَةِ التَّرَفُّهِ حَاجَةً فَتَأَمَّلْ (وَقَدْ صَحَّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَّلَ بِالشِّرَاءِ) أَيْ بِشِرَاءِ الْأُضْحِيَّةِ (حَكِيمَ بْنِ حِزَامٍ) وَيُكَنَّى أَبَا خَالِدٍ. وُلِدَ قَبْلَ الْفِيلِ بِثَلَاثَ عَشَرَةَ سَنَةً أَوْ بِاثْنَتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً عَلَى اخْتِلَافِ الرِّوَايَتَيْنِ، أَسْلَمَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَشَهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْلِمًا، وَكَانَ مِنْ وُجُوهِ قُرَيْشٍ وَأَشْرَافِهَا، وَعَاشَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ سِتِّينَ سَنَةً وَفِي الْإِسْلَامِ سِتِّينَ سَنَةً، وَمَاتَ بِالْمَدِينَةِ فِي خِلَافَةِ مُعَاوِيَةَ رضي الله عنه سَنَةَ أَرْبَعٍ وَخَمْسِينَ وَهُوَ ابْنُ مِائَةٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً، كَذَا ذَكَرَهُ ابْنُ شَاهِينِ فِي كِتَابِ الْمُعْجَمِ.وَقَالَ الْكَرْخِيُّ فِي أَوَّلِ كِتَابِ الْوَكَالَةِ فِي مُخْتَصَرِهِ: حَدَّثَنَا إبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الْجَوْزِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبْزَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ عَنْ شَيْخٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ «عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهُ دِينَارًا يَشْتَرِي لَهُ بِهِ أُضْحِيَّةً، فَاشْتَرَى لَهُ أُضْحِيَّةً بِدِينَارٍ فَبَاعَهَا بِدِينَارَيْنِ، ثُمَّ اشْتَرَى أُضْحِيَّةً بِدِينَارٍ فَجَاءَهُ بِدِينَارٍ وَأُضْحِيَّةٍ، فَتَصَدَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالدِّينَارِ وَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ» (وَبِالتَّزْوِيجِ عُمَرَ بْنَ أُمِّ سَلَمَةَ) أَيْ وَكَّلَهُ بِتَزْوِيجِ أُمِّهِ أُمِّ سَلَمَةَ مِنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَذَا فِي الشُّرُوحِ. قَالَ صَاحِبُ غَايَةِ الْبَيَانِ: وَلَنَا فِي تَوْكِيلِ عُمَرَ بْنِ أُمِّ سَلَمَةَ نَظَرٌ؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ أُمَّ سَلَمَةَ بَعْدَ وَقْعَةِ بَدْرٍ فِي سَنَةِ اثْنَتَيْنِ، كَذَا قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ مَعْمَرُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَكَانَ عُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ يَوْمَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْنَ تِسْعِ سِنِينَ، قَالَهُ الْوَاقِدِيُّ. وَيَكُونُ عَلَى هَذَا الْحِسَابِ سِنُّ عُمَرَ بْنِ أُمِّ سَلَمَةَ يَوْمَ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُمَّهُ سَنَةً وَاحِدَةً فَكَيْفَ يُوَكِّلُهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ طِفْلٌ لَا يَعْقِلُ؟ انْتَهَى. وَقَدْ سَبَقَهُ إلَى هَذَا النَّظَرِ ابْنُ الْجَوْزِيِّ حَيْثُ قَالَ: فِي هَذَا الْحَدِيثِ نَظَرٌ؛ لِأَنَّ عُمَرَ بْنَ أُمِّ سَلَمَةَ كَانَ لَهُ مِنْ الْعُمْرِ يَوْمَ تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثُ سِنِينَ، وَكَيْفَ يُقَالُ لِمِثْلِ هَذَا زَوْجٌ. بَيَانُهُ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام
আল-ইনায়াহ গ্রন্থে বিষয়টি ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: জিম্মি ব্যক্তির জন্য কোনো মুসলিমকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা বৈধ, তবে মুসলিমের জন্য তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। আমাদের আলোচনা এই বিষয়ে নয়; কারণ প্রতিনিধি নিয়োগ (ওকালত) শুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কোনো বাহ্যিক প্রতিবন্ধক প্রতিনিধিত্ব গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এখানে সেই প্রতিবন্ধক বিদ্যমান, আর তা হলো মদের নিকটবর্তী হওয়া মুসলিমের জন্য হারাম। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। জনৈক পণ্ডিত ব্যক্তি বলেন: এই ব্যাখ্যাটি যদি সঠিক ধরে নেওয়া হয়, তবে এটি ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ওকালত বাতিল হওয়ার আপত্তিরও উত্তর হতে পারে। তবে যেহেতু এটি গ্রন্থকারের সামনে আগত বক্তব্যের বিরোধী—যেখানে তিনি বলবেন যে ঋণ গ্রহণের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা বাতিল—তাই ব্যাখ্যাকার এটিকে উত্তর হিসেবে উল্লেখ করেননি। এবং অন্য ব্যাখ্যাকারগণ যে উত্তর দিয়েছেন, তিনিও একই কারণে সেই উত্তর প্রদান করেননি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলি: এই বক্তব্যটি সঠিক নয়। প্রথমত, আল-ইনায়াহর লেখক এখানে যা উল্লেখ করেছেন তা ঋণ গ্রহণের আপত্তির উত্তর হতে পারে না; কারণ সেখানে প্রতিবন্ধকতা স্বয়ং ওকালতের মধ্যেই বিদ্যমান, আর তা হলো অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপের নির্দেশের অসারতা। অথচ এখানে তাঁর মতে প্রতিবন্ধকতা হলো ওকালত পালন করার ক্ষেত্রে, যা হলো মুসলিমের জন্য মদের নিকটবর্তী হওয়ার অবৈধতা। সুতরাং একটির সাথে অন্যটির তুলনা চলে না।দ্বিতীয়ত, 'অন্য ব্যাখ্যাকারগণ যে উত্তর দিয়েছেন তিনি তা দেননি'—একথাটি অর্থহীন, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। এতে গ্রন্থকারের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সামনে আগত সেই বক্তব্যের কোনো বিরোধ নেই যে, ঋণ গ্রহণের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা বাতিল, যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে গোপন নয়। সুতরাং তাঁর এই উক্তিকে উত্তরের পর্যায়ভুক্ত করার কোনো যুক্তি নেই যেখানে তিনি বলেছেন: 'তবে যেহেতু এটি গ্রন্থকারের সামনে আগত বক্তব্যের বিরোধী ইত্যাদি'। এরপর সেই বক্তা বলেন: এতে আরও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ ওকালত প্রদান (তাওকিল) এবং ওকালত গ্রহণ (তাওয়াক্কুল) হলো ভাঙা এবং ভেঙে যাওয়ার মতো (একটি অপরটির পরিপূরক)। হায়! আমি যদি জানতাম এর বৈধতার অর্থ কী! (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলি: এই দাবিটি অত্যন্ত অসার; কারণ সামান্য কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও এটি অজানা নয় যে, 'ভেঙে যাওয়া' হলো 'ভাঙার' একটি অনুগামী ক্রিয়া (মুতাবি'), ফলে একটি ছাড়া অন্যটি সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ওকালত প্রদান ও ওকালত গ্রহণ বিষয়টি তেমন নয়। কেননা ওকালত প্রদান হলো অন্যের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করা, আর ওকালত গ্রহণ হলো সেই দায়িত্ব গ্রহণ করা—যেমনটি ফকিহগণ স্পষ্ট করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দ্বিতীয়টি (গ্রহণ) ছাড়াও প্রথমটি (অর্পণ) সংঘটিত হওয়া সম্ভব। অধিকন্তু, প্রতিটি সকর্মক ক্রিয়ার (মুতাআদ্দী) জন্য একটি অনুগামী ক্রিয়া (মুতাবি') আবশ্যক—এমন ধারণা করাও ঠিক নয়। আপনি কি দেখেন না, আপনার এ কথা বলা সঠিক যে, 'আমি তাকে পছন্দ করার সুযোগ দিয়েছি কিন্তু সে পছন্দ করেনি' অথবা 'আমি তাকে সতর্ক করেছি কিন্তু সে সতর্ক হয়নি' এবং এই জাতীয় বাক্যগুলো শুদ্ধ। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আপনার এই কথা বলা যে, 'আমি তাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছি কিন্তু সে প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করেনি'। সুতরাং এখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই। গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ওকালত জায়েজ হওয়ার কারণ বর্ণনায় বলেছেন: (কেননা মানুষ কখনো কোনো বিশেষ অবস্থায় নিজে কোনো কাজ সম্পাদন করতে অক্ষম হতে পারে), যেমন সে অসুস্থ হতে পারে, অথবা অতি বৃদ্ধ হতে পারে, কিংবা এমন কোনো মর্যাদাবান ব্যক্তি হতে পারে যে নিজে সব কাজ পরিচালনা করে না; (ফলে সে অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করার প্রয়োজন অনুভব করে)। যদি ওকালত জায়েজ না হতো তবে মানুষের জন্য সংকীর্ণতা তৈরি হতো, যা শরয়ি দলিলের মাধ্যমে অপসারিত। (ফলে মানুষ ওকালত করার সুযোগ পায় নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য) এবং সংকীর্ণতা দূর করার জন্য। এর ওপর এই আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এই দলিলটি দাবির তুলনায় অধিক খাস বা সংকীর্ণ; কারণ ওকালত তো কোনো অক্ষমতা না থাকলেও বৈধ। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি হলো বিধানের অন্তর্নিহিত নিগূঢ় রহস্য (হিকমত) বর্ণনা করা, আর হিকমত সাধারণত সামগ্রিক বিষয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়, প্রতিটি একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয়। আল-ইনায়াহর লেখক উক্ত আপত্তি ও তার উত্তর উল্লেখ করার পর বলেন: এটিও বলা সম্ভব যে, এখানে বিশেষ (খাস) বিষয় উল্লেখ করে সাধারণ (আম) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, আর তা হলো 'প্রয়োজন'। কারণ অক্ষমতাজনিত প্রয়োজন একটি বিশেষ প্রয়োজন, আর এটি একটি প্রচলিত রূপক ব্যবহার। এমতাবস্থায় মূল ভিত্তি হবে 'প্রয়োজন', যা কখনো অক্ষমতা ছাড়াও বিদ্যমান থাকতে পারে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।আমি বলি: ওকালতের ক্ষেত্রে অক্ষমতা ছাড়া 'প্রয়োজন' বিদ্যমান থাকাটি অসিদ্ধ। কারণ ফকিহগণ—যাদের মধ্যে ব্যাখ্যাকার ইবনুল হুমামও রয়েছেন—স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ওকালত সর্বদা হয় অক্ষমতার কারণে নতুবা আয়েশ বা স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে। আর এটি স্পষ্ট যে, স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রে কোনো 'প্রয়োজন' থাকে না। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন। (এবং এটি সহিহভাবে প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রয়ের জন্য), অর্থাৎ কুরবানির পশু ক্রয়ের জন্য (হাকিম ইবনে হিজামকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন)। তাঁর উপনাম ছিল আবু খালিদ। তিনি হস্তীবর্ষের তেরো বছর অথবা বারো বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন (বর্ণনার ভিন্নতা অনুযায়ী)। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মুসলিম হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কুরাইশদের গণ্যমান্য ও অভিজাত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি জাহেলি যুগে ষাট বছর এবং ইসলামে ষাট বছর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি চুয়ান্ন হিজরিতে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফতকালে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল একশ বিশ বছর। ইবনে শাহীন কিতাবুল মু’জাম-এ এভাবেই উল্লেখ করেছেন।ইমাম কারখী তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থের ওকালত অধ্যায়ের শুরুতে বলেন: আমাদের কাছে ইব্রাহিম ইবনে মুসা আল-জাওযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইয়াকুব আদ-দাওরাকী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুর রহমান ইবনে আবযা সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি মদীনার একজন শায়খ থেকে, তিনি হাকিম ইবনে হিজাম থেকে বর্ণনা করেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে একটি দিনার দিলেন তাঁর জন্য একটি কুরবানির পশু ক্রয় করার জন্য। তিনি সেটি দিয়ে একটি পশু ক্রয় করলেন এবং সেটি দুই দিনারে বিক্রি করে দিলেন। এরপর তিনি এক দিনার দিয়ে পুনরায় একটি পশু ক্রয় করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটি পশু ও এক দিনার নিয়ে আসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই দিনারটি সদকা করে দিলেন এবং তাঁর জন্য বরকতের দোয়া করলেন।» (এবং বিয়ের জন্য উমর ইবনে উম্মে সালামাহকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন), অর্থাৎ তাঁকে প্রতিনিধি করেছিলেন তাঁর মা উম্মে সালামাহকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য—ব্যাখ্যাগুলোতে এমনই এসেছে। 'গاياتুল বয়ান' প্রণেতা বলেন: উমর ইবনে উম্মে সালামাহকে প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে; কারণ আবু উবায়দাহ মা’মার ইবনে মুসান্না বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরি দ্বিতীয় সনে বদর যুদ্ধের পর উম্মে সালামাহকে বিয়ে করেছিলেন। আর ওয়াকিদী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন তখন উমর ইবনে আবু সালামাহর বয়স ছিল নয় বছর। এই হিসাব অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর মাকে বিয়ে করেন তখন উমর ইবনে উম্মে সালামাহর বয়স ছিল মাত্র এক বছর। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে তাঁকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবেন যখন সে এক অবুঝ শিশু? (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইবনে জাওযীও তাঁর আগে এই পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন: এই হাদিসটি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উম্মে সালামাহকে বিয়ে করেন তখন উমরের বয়স ছিল তিন বছর। এমন শিশুকে কীভাবে বিয়ের কর্তা বা প্রতিনিধি বলা যেতে পারে? এর ব্যাখ্যা হলো তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
تَزَوَّجَهَا فِي سَنَةِ أَرْبَعٍ، وَمَاتَ عليه الصلاة والسلام وَلِعُمَرَ تِسْعُ سِنِينَ انْتَهَى. وَقَالَ ابْنُ عَبْدِ الْهَادِي صَاحِبُ التَّنْقِيحِ: قَوْلُهُ إنَّهُ عليه الصلاة والسلام مَاتَ وَلِعُمَرَ تِسْعُ سِنِينَ بَعِيدٌ وَإِنْ كَانَ قَدْ قَالَهُ الْكَلَابَاذِيُّ وَغَيْرُهُ. وَقَالَ: قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: إنَّهُ وُلِدَ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ مِنْ الْهِجْرَةِ إلَى الْحَبَشَةِ. وَيُقَوِّي هَذَا مَا أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ «عَنْ عُمَرَ بْنِ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ فَقَالَ عليه الصلاة والسلام: سَلْ هَذِهِ، فَأَخْبَرَتْهُ أُمُّهُ أُمُّ سَلَمَةَ أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام يَصْنَعُ ذَلِكَ، فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَك مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِك وَمَا تَأَخَّرَ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: أَمَا وَاَللَّهِ إنِّي لَأَتْقَاكُمْ لِلَّهِ تَعَالَى وَأَخْشَاكُمْ» وَظَاهِرُ هَذَا أَنَّهُ كَانَ كَبِيرًا.وَأَقُولُ: ظَاهِرُ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ رحمه الله وَقَدْ صَحَّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَّلَ إلَخْ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ ذِكْرُ الدَّلِيلِ النَّقْلِيِّ عَلَى قَوْلِهِ كُلُّ عَقْدٍ جَازَ أَنْ يَعْقِدَهُ الْإِنْسَانُ بِنَفْسِهِ جَازَ أَنْ يُوَكِّلَ بِهِ غَيْرَهُ بَعْدَ أَنْ ذَكَرَ دَلِيلًا عَقْلِيًّا عَلَيْهِ، فَيُتَّجَهُ عَلَى ذَلِكَ أَنَّ تَوْكِيلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَادَّتَيْنِ الْمَخْصُوصَتَيْنِ لَا يَدُلُّ عَلَى مَا فِي الدَّعْوَى الْمَذْكُورَةِ مِنْ الْكُلِّيَّةِ، فَلَعَلَّ الْوَجْهَ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِهِ مُجَرَّدَ تَأْيِيدِ مَا تَقَدَّمَ مِنْ التَّعْلِيلِ الْعَقْلِيِّ الَّذِي مَبْنَاهُ دَفْعُ الْحَاجَةِ بِوُقُوعِ التَّوْكِيلِ عِنْدَ الْحَاجَةِ مِنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَا إقَامَةُ دَلِيلٍ مُسْتَقِلٍّ عَلَى دَعْوَى الْكُلِّيَّةِ السَّابِقَةِ، وَكَأَنَّهُ عَنْ هَذَا قَالَ: وَقَدْ صَحَّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَّلَ إلَخْ، وَلَمْ يَقُلْ وَلِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَّلَ إلَخْ (قَالَ) أَيْ الْقُدُورِيُّ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - فِي مُخْتَصَرِهِ: (وَتَجُوزُ الْوَكَالَةُ بِالْخُصُومَةِ فِي سَائِرِ الْحُقُوقِ) أَيْ فِي جَمِيعِهَا (لِمَا قَدَّمْنَا مِنْ الْحَاجَةِ) يُشِيرُ إلَى قَوْلِهِ؛ لِأَنَّ الْإِنْسَانَ قَدْ يَعْجِزُ عَنْ الْمُبَاشَرَةِ بِنَفْسِهِ عَلَى اعْتِبَارِ بَعْضِ الْأَحْوَالِ فَيَحْتَاجُ إلَى أَنْ يُوَكِّلَ غَيْرَهُ (إذْ لَيْسَ كُلُّ أَحَدٍ يَهْتَدِي إلَى وُجُوهِ الْخُصُومَاتِ) تَعْلِيلٌ لِجَرَيَانِ مَا قَدَّمَهُ هَاهُنَا. قَالَ صَاحِبُ غَايَةِ الْبَيَانِ: أَمَّا التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ فِي سَائِرِ الْحُقُوقِ فَإِنَّمَا جَازَ لِمَا رَوَيْنَا قَبْلَ هَذَا «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَّلَ فِي الشِّرَاءِ»، فَإِذَا جَازَ التَّوْكِيلُ فِيهِ جَازَ فِي غَيْرِهِ؛ لِأَنَّ كُلَّ عَقْدٍ يَجُوزُ أَنْ يَتَوَلَّاهُ الْمُوَكِّلُ بِنَفْسِهِ جَازَ أَنْ يُوَكِّلَ غَيْرَهُ كَالْبَيْعِ، وَلِأَنَّ الْإِنْسَانَ قَدْ يَعْجِزُ عَنْ الْمُبَاشَرَةِ بِنَفْسِهِ فَجَازَ أَنْ يُوَكِّلَ غَيْرَهُ، وَهُوَ الْمُرَادُ مِنْ قَوْلِهِ لِمَا قَدَّمْنَا انْتَهَى. أَقُولُ: تَعْلِيلُهُ الثَّانِي الَّذِي هُوَ مُرَادُ الْمُصَنِّفِ رحمه الله بِقَوْلِهِ لِمَا قَدَّمْنَا صَحِيحٌ لَا رَيْبَ فِيهِ، وَأَمَّا تَعْلِيلُهُ الْأَوَّلُ فَغَيْرُ صَحِيحٍ؛ لِأَنَّ الْكَلَامَ هَاهُنَا فِي التَّوْكِيلِ بِالْخُصُومَاتِ لَا فِي التَّوْكِيلِ فِي الْعُقُودِ، وَمَا ذَكَرَهُ فِي تَعْلِيلِهِ الْأَوَّلِ إنَّمَا يَتَمَشَّى فِي الْعُقُودِ دُونَ الْخُصُومَاتِ، وَلِذَلِكَ قَالَ الْمُصَنِّفُ رحمه الله (وَقَدْ صَحَّ أَنَّ عَلِيًّا - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ - وَكَّلَ عَقِيلًا) أَيْ وَكَّلَهُ فِي الْخُصُومَاتِ، وَإِنَّمَا كَانَ يَخْتَارُ عَقِيلًا؛ لِأَنَّهُ كَانَ ذَكِيًّا حَاضِرَ الْجَوَابِ؛ حَتَّى حُكِيَ أَنَّ عَلِيًّا رضي الله عنه اسْتَقْبَلَهُ يَوْمًا وَمَعَهُ عَنْزٌ فَقَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه عَلَى سَبِيلِ الدُّعَابَةِ أَحَدُ الثَّلَاثَةِ أَحْمَقُ، فَقَالَ عَقِيلٌ: أَمَّا أَنَا وَعَنْزِي فَعَاقِلَانِ (وَبَعْدَمَا أَسَنَّ عَقِيلٌ وَكَّلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ) الطَّيَّارَ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ -، إمَّا؛ لِأَنَّهُ وَقَّرَ عَقِيلًا رضي الله عنه لِكِبَرِ سِنِّهِ، أَوْ لِأَنَّهُ انْتَقَصَ ذِهْنَهُ فَوَكَّلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ رضي الله عنه وَكَانَ شَابًّا ذَكِيًّا، كَذَا فِي الْمَبْسُوطِ.أَخْرَجَ الْبَيْهَقِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: كَانَ عَلِيٌّ رضي الله عنه يَكْرَهُ الْخُصُومَةَ، وَكَانَ إذَا كَانَتْ لَهُ خُصُومَةٌ وَكَّلَ فِيهَا عَقِيلَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَلَمَّا كَبِرَ عَقِيلٌ وَكَّلَنِي. وَأُخْرِجَ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه أَنَّهُ كَانَ وَكَّلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ بِالْخُصُومَةِ. وَقَالَ الْخَصَّافُ فِي أَدَبِ الْقَاضِي: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ أَسَدٍ الْخُرَاسَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ جَهْمِ بْنِ أَبِي الْجَهْمِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ أَنَّ عَلِيًّا رضي الله عنه كَانَ لَا يَحْضُرُ الْخُصُومَةَ وَكَانَ يَقُولُ: إنَّ لَهَا قُحَمًا تَحْضُرُهَا الشَّيَاطِينُ، فَجَعَلَ عَلِيٌّ رضي الله عنه الْخُصُومَةَ إلَى عَقِيلٍ، فَلَمَّا كَبِرَ وَرَقَّ حَوَّلَهَا إلَيَّ، فَكَانَ عَلِيٌّ رضي الله عنه يَقُولُ: مَا قُضِيَ لِوَكِيلِي فَلِي وَمَا قُضِيَ عَلَى وَكِيلِي فَعَلَيَّ انْتَهَى. وَقَالَ الزَّمَخْشَرِيُّ فِي الْفَائِقِ: إنَّ عَلِيًّا رضي الله عنه وَكَّلَ أَخَاهُ عَقِيلًا بِالْخُصُومَةِ، ثُمَّ وَكَّلَ بَعْدَهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ رضي الله عنه، وَكَانَ لَا يَحْضُرُ الْخُصُومَةَ وَيَقُولُ: إنَّ لَهَا لَقُحَمًا، وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ تَحْضُرُهَا: أَيْ مَهَالِكَ وَشَدَائِدَ. وَقُحَمُ الطَّرِيقِ مَا صَعُبَ مِنْهُ وَشَقَّ عَلَى سَالِكِهِ انْتَهَى. وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ دَلِيلٌ عَلَى جَوَازِ التَّوْكِيلِ بِالْخُصُومَةِ. وَفِيهِ دَلِيلٌ أَيْضًا عَلَى أَنْ لَا يَحْضُرَ مَجْلِسَ الْخُصُومَةِ بِنَفْسِهِ، وَهُوَ مَذْهَبُنَا وَمَذْهَبُ عَامَّةِ الْعُلَمَاءِ لِصُنْعِ عَلِيٍّ رضي الله عنه.وَقَالَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ: الْأَوْلَى أَنْ يَحْضُرَ بِنَفْسِهِ؛ لِأَنَّ الِامْتِنَاعَ مِنْ الْحُضُورِ إلَى مَجْلِسِ الْقَاضِي مِنْ عَلَامَاتِ الْمُنَافِقِينَ، وَقَدْ وَرَدَ الذَّمُّ عَلَى ذَلِكَ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ مُعْرِضُونَ}، {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا} وَجَوَابُهُ أَنَّ تَأْوِيلَ الْآيَةِ الرَّدُّ مِنْ الْمُنَافِقِ وَالْإِجَابَةُ مِنْ الْمُؤْمِنِ اعْتِقَادًا، كَذَا فِي شَرْحِ أَدَبِ الْقَاضِي. وَذُكِرَ فِي
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
তিনি তাকে হিজরি চতুর্থ বর্ষে বিবাহ করেন এবং যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন, তখন উমরের বয়স ছিল নয় বছর। সমাপ্ত। আত-তানকিহ্ গ্রন্থের লেখক ইবনে আব্দুল হাদি বলেন: তাঁর (সা.) ইন্তেকালের সময় উমরের বয়স নয় বছর ছিল—এই উক্তিটি বাস্তবসম্মত নয়, যদিও আল-কাল্লাবাদি ও অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে আব্দুল বার বলেছেন, তিনি হাবশায় হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে জন্মগ্রহণ করেন। একে শক্তিশালী করে ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে উমর ইবনে আবি সালামাহ থেকে যা বর্ণনা করেছেন: তিনি রোজা পালনকারীর চুম্বনের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: একে (উম্মে সালামাহকে) জিজ্ঞাসা করো। তখন তাঁর মা উম্মে সালামাহ তাকে জানালেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনটি করতেন। তখন উমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তো আপনার পূর্বাপর সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহ তাআলাকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।" এর বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে তিনি তখন প্রাপ্তবয়স্ক বা বড় ছিলেন।আমি বলছি: গ্রন্থকারের (রহ.) এই উক্তির বাহ্যিক দিক যে "এটি সহিহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন... ইত্যাদি" তা নির্দেশ করে যে, এর উদ্দেশ্য হলো তাঁর এই উক্তির স্বপক্ষে দলীল (নকলী) উপস্থাপন করা যে—মানুষ নিজে যে সকল চুক্তি সম্পাদন করতে সক্ষম, সেগুলোতে অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করাও তার জন্য বৈধ; আর এটি তিনি এর পক্ষে একটি যৌক্তিক দলীল উপস্থাপনের পর উল্লেখ করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ দুটি ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ করা পূর্বোক্ত দাবির ব্যাপকতার ওপর (যে কোনো কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ) দলীল হিসেবে যথেষ্ট নয়। সম্ভবত এর উদ্দেশ্য হলো কেবল পূর্বে বর্ণিত যৌক্তিক কারণকে সমর্থন করা, যার মূল ভিত্তি হলো প্রয়োজনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা; পূর্বোক্ত ব্যাপক দাবির ওপর কোনো স্বতন্ত্র দলীল প্রতিষ্ঠা করা নয়। আর এ কারণেই সম্ভবত তিনি বলেছেন: "এটি সহিহভাবে প্রমাণিত যে নবী (সা.) প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন...", তিনি এটি বলেননি যে "কেননা নবী (সা.) প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন..."। (তিনি বলেন) অর্থাৎ ইমাম কুদুরি (রহ.) তাঁর মুখতাসার গ্রন্থে বলেন: (এবং সকল প্রকার হকের ক্ষেত্রে বিবাদের মীমাংসায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ) অর্থাৎ সেগুলোর সবকটিতেই, (যেহেতু ইতিপূর্বে আমরা প্রয়োজনে প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেছি) এর মাধ্যমে তিনি তাঁর সেই উক্তির দিকে ইঙ্গিত করছেন যে: মানুষ কখনও কোনো কোনো অবস্থায় নিজে কাজ করতে অক্ষম হয়, ফলে সে অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করার প্রয়োজন বোধ করে, (কেননা প্রত্যেকেই বিবাদের মারপ্যাঁচ বা পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত থাকে না)—এটি ইতিপূর্বে বর্ণিত বিষয়টির যৌক্তিক কারণ হিসেবে এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। 'গায়াতুল বায়ান' গ্রন্থের লেখক বলেন: সকল প্রকার হকের বিবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ জায়েজ হওয়ার কারণ হলো আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করেছি যে "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্রয় করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন"। সুতরাং যখন এতে প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ, তখন অন্য ক্ষেত্রেও তা বৈধ হবে। কারণ, যে সকল চুক্তি মুয়াক্কিল (নিয়োগকারী) নিজে করতে সক্ষম, সেগুলোতে অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করাও বৈধ, যেমন ক্রয়-বিক্রয়। আর যেহেতু মানুষ নিজে সরাসরি কাজ করতে অনেক সময় অক্ষম হয়, তাই অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ। আর তাঁর উক্তি "পূর্বে আমরা যা বর্ণনা করেছি" এর মাধ্যমে এটাই উদ্দেশ্য। সমাপ্ত। আমি বলছি: গ্রন্থকারের (রহ.) উদ্দেশ্য অনুযায়ী তাঁর দ্বিতীয় যুক্তিটি সঠিক এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর প্রথম যুক্তিটি সঠিক নয়; কারণ এখানকার আলোচনা বিবাদের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে, চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে নয়। আর তিনি তাঁর প্রথম যুক্তিতে যা উল্লেখ করেছেন তা কেবল চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বিবাদের ক্ষেত্রে নয়। এ কারণেই গ্রন্থকার (রহ.) বলেছেন (এবং এটি সহিহভাবে প্রমাণিত যে আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আকিলকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন) অর্থাৎ বিবাদের ক্ষেত্রে তাকে প্রতিনিধি বানিয়েছিলেন। তিনি আকিলকে পছন্দ করতেন কারণ তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও প্রত্যুৎপন্নমতি ছিলেন; এমনকি বর্ণিত আছে যে, একদিন আলী (রা.)-এর সাথে তাঁর দেখা হলো এবং তাঁর সাথে একটি ছাগল ছিল, আলী (রা.) রসিকতা করে বললেন: এই তিনজনের মধ্যে একজন আহমক। তখন আকিল বললেন: আমি এবং আমার ছাগল তো বুদ্ধিমান। (এবং আকিল যখন বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, তখন তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন) অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আত-তাইয়ার (রা.)-কে। এর কারণ হতে পারে যে তিনি আকিলের বার্ধক্যের কারণে তাঁকে সম্মান করতে চেয়েছিলেন, অথবা বার্ধক্যের কারণে আকিলের বুদ্ধিবৃত্তিক তীক্ষ্ণতা কিছুটা কমে গিয়েছিল বলে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.)-কে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন, যিনি ছিলেন তরুণ ও বুদ্ধিমান। 'মাবসুত' গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে।ইমাম বায়হাকি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (রা.) বিবাদ অপছন্দ করতেন। তাঁর কোনো বিবাদ দেখা দিলে তিনি সেখানে আকিল ইবনে আবি তালিবকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতেন। যখন আকিল বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, তখন তিনি আমাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরকে বিবাদের মীমাংসায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন। আল-খাসসাফ 'আদাবুল কাজি' গ্রন্থে বলেন: মুয়ায ইবনে আসাদ আল-খুরাসানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি জাহম ইবনে আবি জাহম থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রা.) নিজে বিবাদের মজলিসে উপস্থিত হতেন না এবং বলতেন: "বিবাদের কিছু কঠিন দিক রয়েছে যেখানে শয়তান উপস্থিত হয়।" ফলে আলী (রা.) বিবাদের দায়িত্ব আকিলের ওপর অর্পণ করেছিলেন। যখন তিনি বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়লেন, তখন সেই দায়িত্ব আমার কাছে হস্তান্তর করলেন। তখন আলী (রা.) বলতেন: "আমার প্রতিনিধির পক্ষে যা ফয়সালা হবে তা আমারই প্রাপ্তি, আর আমার প্রতিনিধির বিপক্ষে যা ফয়সালা হবে তা আমার ওপরই বর্তাবে।" সমাপ্ত। আল-জামাখশারি 'আল-ফাইক' গ্রন্থে বলেন: আলী (রা.) তাঁর ভাই আকিলকে বিবাদের প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন, অতঃপর তাঁর পরে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.)-কে নিযুক্ত করেন। তিনি বিবাদের মজলিসে উপস্থিত হতেন না এবং বলতেন: "নিশ্চয়ই বিবাদে ধ্বংস ও কঠোরতা রয়েছে এবং শয়তান সেখানে উপস্থিত হয়।" অর্থাৎ ধ্বংসাত্মক ও কঠিন পরিস্থিতি। রাস্তার 'কুহাম' বলতে সেই অংশকে বোঝায় যা দুর্গম এবং পথচারীর জন্য কষ্টকর। সমাপ্ত। এই হাদিসে বিবাদের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ হওয়ার দলীল রয়েছে। এতে আরও দলীল পাওয়া যায় যে বিবাদের মজলিসে নিজের উপস্থিত না হওয়াও জায়েজ, যা আলী (রা.)-এর আমলের কারণে আমাদের এবং সাধারণ উলামায়ে কেরামের মাযহাব।কিছু আলেম বলেছেন: নিজে উপস্থিত হওয়াই উত্তম; কারণ কাজির মজলিসে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানানো মুনাফিকদের লক্ষণ, এবং এ বিষয়ে নিন্দা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেন, তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়।" এবং "মুমিনদের কথা তো এই যে, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেন, তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম।" এর উত্তর হলো—এই আয়াতের ব্যাখ্যা হলো অন্তরের বিশ্বাসগত দিক থেকে মুনাফিকের প্রত্যাখ্যান এবং মুমিনের আনুগত্য। 'শرح আদাবুল কাজি' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। এবং উল্লেখ করা হয়েছে
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
غَايَةِ الْبَيَانِ (وَكَذَا بِإِيفَائِهَا وَاسْتِيفَائِهَا) أَيْ وَكَذَا تَجُوزُ الْوَكَالَةُ بِإِيفَاءِ الْحُقُوقِ وَاسْتِيفَائِهَا لِمَا مَرَّ مِنْ دَفْعِ الْحَاجَةِ (إلَّا فِي الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ فَإِنَّ الْوَكَالَةَ لَا تَصِحُّ بِاسْتِيفَائِهَا) أَيْ بِاسْتِيفَاءِ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ (مَعَ غَيْبَةِ الْمُوَكِّلِ عَنْ الْمَجْلِسِ) وَأَمَّا الْوَكَالَةُ بِإِيفَاءِ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ فَعَدَمُ صِحَّتِهَا مُطْلَقًا: أَيْ مَعَ غَيْبَةِ الْمُوَكِّلِ وَمَعَ حُضُورِهِ أَمْرٌ بَيِّنٌ؛ لِأَنَّ إيفَاءَهَا إنَّمَا يَكُونُ بِتَسْلِيمِ النَّفْسِ أَوْ الْبَدَنِ لِإِقَامَةِ الْعُقُوبَةِ الْوَاجِبَةِ، وَهَذَا لَا يَصِحُّ إلَّا مِنْ الْجَانِي، إذْ إقَامَةُ الْعُقُوبَةِ عَلَى غَيْرِ الْجَانِي ظُلْمٌ صَرِيحٌ. فَلِذَلِكَ اكْتَفَى الْمُصَنِّفُ رحمه الله بِنَفْيِ صِحَّةِ الْوَكَالَةِ بِاسْتِيفَائِهَا مَعَ غَيْبَةِ الْمُوَكِّلِ، وَقَالَ فِي تَعْلِيلِهِ (لِأَنَّهَا) أَيْ الْحُدُودَ وَالْقِصَاصَ (تَنْدَرِئُ بِالشُّبُهَاتِ) فَلَا تُسْتَوْفَى بِمَنْ يَقُومُ مَقَامَ الْغَيْرِ لِمَا فِي ذَلِكَ مِنْ ضَرْبِ شُبْهَةٍ كَمَا فِي كِتَابِ الْقَاضِي إلَى الْقَاضِي وَالشَّهَادَةِ عَلَى الشَّهَادَةِ وَشَهَادَةِ النِّسَاءِ مَعَ الرِّجَالِ (وَشُبْهَةُ الْعَفْوِ ثَابِتَةٌ حَالَ غَيْبَتِهِ) أَيْ غَيْبَةِ الْمُوَكِّلِ، وَهَذَا الْوَجْهُ مَخْصُوصٌ بِالْقِصَاصِ، إذْ الْحُدُودُ لَا يُعْفَى عَنْهَا، فَالْمُرَادُ أَنَّ فِي الْقِصَاصِ ثُبُوتَ شُبْهَةٍ أُخْرَى حَالَ غَيْبَةِ الْمُوَكِّلِ وَهِيَ شُبْهَةُ الْعَفْوِ لِجَوَازِ أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ قَدْ عَفَا وَلَمْ يَشْعُرْ بِهِ الْوَكِيلُ (بَلْ هُوَ الظَّاهِرُ) أَيْ بَلْ الْعَفْوُ هُوَ الظَّاهِرُ (لِلنَّدْبِ الشَّرْعِيِّ) لِقَوْلِهِ {وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} وَفِي الْقِصَاصِ خِلَافُ الشَّافِعِيِّ رحمه الله فَإِنَّهُ يَقُولُ: هُوَ خَالِصُ حَقِّ الْعَبْدِ فَيُسْتَوْفَى بِالتَّوْكِيلِ كَسَائِرِ حُقُوقِهِ دَفْعًا لِلضَّرَرِ عَنْ نَفْسِهِ، وَلَكِنَّا نَقُولُ: هَذِهِ عُقُوبَةٌ تَنْدَرِئُ بِالشُّبُهَاتِ، بِخِلَافِ سَائِرِ حُقُوقِهِ فَافْتَرَقَا (بِخِلَافِ غَيْبَةِ الشَّاهِدِ) حَيْثُ يَسْتَوْفِيَ الْحُدُودَ وَالْقِصَاصَ عِنْدَ غَيْبَتِهِ (لِأَنَّ الظَّاهِرَ عَدَمُ الرُّجُوعِ) يَعْنِي أَنَّ الشُّبْهَةَ فِي حَقِّ الشَّاهِدِ هِيَ الرُّجُوعُ وَالظَّاهِرُ فِي حَقِّهِ عَدَمُ الرُّجُوعِ، إذْ الصِّدْقُ هُوَ الْأَصْلُ لَا سِيَّمَا فِي الْعُدُولِ فَلَمْ يَعْتَبِرْ مِثْلَ هَاتَيْكَ الشُّبْهَةِ.أَقُولُ: يُرَدُّ عَلَيْهِ أَنَّ الرَّجْمَ مِنْ الْحُدُودِ وَلَا يُسْتَوْفَى عِنْدَ غَيْبَةِ الشُّهُودِ فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ كَمَا مَرَّ فِي كِتَابِ الْحُدُودِ، وَيَقْتَضِي ذَلِكَ اعْتِبَارَ شُبْهَةِ الرُّجُوعِ فِي حَقِّ الشُّهُودِ هُنَاكَ، اللَّهُمَّ إلَّا أَنْ يُقَالَ: عَدَمُ اسْتِيفَاءِ الْحَدِّ إذْ ذَاكَ لِفَوَاتِ الشَّرْطِ وَهُوَ بُدَاءَةُ الشُّهُودِ بِالرَّجْمِ لَا بِمُجَرَّدِ شُبْهَةِ الرُّجُوعِ فَتَأَمَّلْ (وَبِخِلَافِ حَالَةِ الْحَضْرَةِ) أَيْ حَضْرَةِ الْمُوَكِّلِ فِي الْمَجْلِسِ حَيْثُ يُسْتَوْفَى ذَلِكَ عِنْدَهَا (لِانْتِفَاءِ هَذِهِ الشُّبْهَةِ) أَيْ شُبْهَةِ الْعَفْوِ، فَإِنَّ الْعَفْوَ عِنْدَ حُضُورِ الْمُوَكِّلِ مِمَّا لَا يَخْفَى فَلَا شُبْهَةَ، أَقُولُ: لِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ إنَّ انْتِفَاءَ الشُّبْهَةِ الْمُعَيَّنَةِ لَا يَقْتَضِي انْتِفَاءَ الشُّبْهَةِ مُطْلَقًا، وَالْحُدُودُ وَالْقِصَاصُ تَنْدَرِئُ بِمُطْلَقِ الشُّبُهَاتِ فَلَا يَتِمُّ التَّقْرِيبُ عَلَى أَنَّ شُبْهَةَ الْعَفْوِ مَخْصُوصَةٌ بِالْقِصَاصِ، فَلَمْ يَظْهَرْ الْفَرْقُ بَيْنَ الْحَضْرَةِ وَالْغَيْبَةِ فِي اسْتِيفَاءِ الْحُدُودِ أَصْلًا. وَلَمَا اُسْتُشْعِرَ أَنْ يُقَالَ إذَا كَانَ الْمُوَكِّلُ حَاضِرًا لَمْ يَحْتَجْ إلَى التَّوْكِيلِ بِالِاسْتِيفَاءِ رَأْسًا إذْ هُوَ يَسْتَوْفِيهِ بِنَفْسِهِ أَجَابَ بِقَوْلِهِ (وَلَيْسَ كُلُّ أَحَدٍ يُحْسِنُ الِاسْتِيفَاءَ) إمَّا لِقِلَّةِ هِدَايَتِهِ، أَوْ لِأَنَّ قَلْبَهُ لَا يَتَحَمَّلُ ذَلِكَ (فَلَوْ مُنِعَ عَنْهُ) أَيْ عَنْ التَّوْكِيلِ بِالِاسْتِيفَاءِ (يَنْسَدُّ بَابُ الِاسْتِيفَاءِ أَصْلًا) أَيْ يَنْسَدُّ بَابُهُ بِالنِّسْبَةِ إلَيْهِ بِالْكُلِّيَّةِ فَجَازَ التَّوْكِيلُ بِالِاسْتِيفَاءِ عِنْدَ حُضُورِهِ اسْتِحْسَانًا لِئَلَّا يَنْسَدَّ بَابُهُ.قَالَ الْمُصَنِّفُ رحمه الله (وَهَذَا الَّذِي ذَكَرْنَاهُ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله) وَقَالَ جُمْهُورُ الشُّرَّاحِ فِي تَفْسِيرِ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ: هَذَا أَيْ جَوَازُ التَّوْكِيلِ بِإِثْبَاتِ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله. وَقَالُوا فِي تَوْجِيهِ تَفْسِيرِهِمْ إيَّاهُ بِهَذَا الْمَعْنَى: لِأَنَّهُ لَمَّا قَالَ وَتَجُوزُ الْوَكَالَةُ بِالْخُصُومَةِ فِي سَائِرِ الْحُقُوقِ: أَيْ جَمِيعِهَا وَبِإِيفَائِهَا وَاسْتِيفَائِهَا، وَاسْتَثْنَى إيفَاءَ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ وَاسْتِيفَاءَهَا بَقِيَتْ الْخُصُومَةُ بِالْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ دَاخِلَةً فِي قَوْلِهِ بِالْخُصُومَةِ فِي سَائِرِ الْحُقُوقِ فَقَالَ: هَذَا الَّذِي ذَكَرْنَاهُ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله. أَقُولُ: لَا يَذْهَبُ عَلَى ذِي فِطْرَةٍ سَلِيمَةٍ أَنَّ هَذَا الَّذِي ارْتَكَبُوهُ فِي حِلِّ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ رحمه الله هَاهُنَا تَكَلُّفٌ بَارِدٌ وَتَعَسُّفٌ شَارِدٌ، حَيْثُ جَعَلُوا الْبَعْضَ الْغَيْرَ الْمُعَيَّنَ فِي الْكَلَامِ السَّابِقِ بَلْ الدَّاخِلَ فِي مُجَرَّدِ كُلِّيَّتِهِ مُشَارًا إلَيْهِ بِلَفْظِ هَذَا الَّذِي يُشَارُ بِهِ إلَى الْمَحْسُوسِ الْمُشَاهَدِ، أَوْ إلَى مَا هُوَ بِمَنْزِلَةِ الْمَحْسُوسِ الْمُشَاهَدِ. ثُمَّ إنَّ هَاهُنَا لَمَنْدُوحَةٌ عَنْ ذَلِكَ بِحَمْلِ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ رحمه الله عَلَى مَعْنًى ظَاهِرٍ مِنْهُ، وَهُوَ أَنَّ هَذَا الَّذِي ذَكَرْنَاهُ صَرِيحًا فِيمَا مَرَّ آنِفًا مِنْ قَوْلِنَا وَتَجُوزُ الْوَكَالَةُ بِالْخُصُومَةِ فِي سَائِرِ الْحُقُوقِ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله.(وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ رحمه الله: لَا تَجُوزُ الْوَكَالَةُ بِإِثْبَاتِ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ بِإِقَامَةِ الشُّهُودِ أَيْضًا) أَيْ قَالَ أَبُو يُوسُفَ رحمه الله: لَا تَجُوزُ الْوَكَالَةُ بِالْخُصُومَةِ فِي بَعْضٍ مِنْ تِلْكَ الْحُقُوقِ وَهُوَ إثْبَاتُ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ أَيْضًا: أَيْ كَمَا لَا تَجُوزُ الْوَكَالَةُ بِإِيفَاءِ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ وَاسْتِيفَائِهَا بِالِاتِّفَاقِ. (وَقَوْلُ مُحَمَّدٍ مَعَ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى، وَقِيلَ مَعَ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله) يَعْنِي أَنَّ قَوْلَ مُحَمَّدٍ مُضْطَرِبٌ يُذْكَرُ تَارَةً مَعَ أَبِي حَنِيفَةَ وَتَارَةً مَعَ أَبِي يُوسُفَ، وَلَكِنَّ الظَّاهِرَ مِنْ تَحْرِيرِ الْمُصَنِّفِ تَرْجِيحُ الْأَوَّلِ كَمَا لَا يَخْفَى عَلَى الْفَطِنِ. قَالَ فِي الْكَافِي بَعْدَ قَوْلِهِ وَقَوْلُ مُحَمَّدٍ مُضْطَرِبٌ: وَالْأَظْهَرُ أَنَّهُ مَعَ أَبِي حَنِيفَةَ (وَقِيلَ هَذَا الِاخْتِلَافُ) بَيْنَ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ (فِي غَيْبَتِهِ) أَيْ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
গায়াতুল বায়ান (অনুরূপভাবে অধিকার প্রদান এবং তা আদায় বা উসুল করার ক্ষেত্রেও) অর্থাৎ, পূর্বে বর্ণিত প্রয়োজন পূরণের তাগিদে যেভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রে ওকালাত বৈধ, তেমনি অধিকারসমূহ আদায় করা এবং তা প্রদান করার ক্ষেত্রেও ওকালাত বা প্রতিনিধিত্ব করা বৈধ। (তবে হুদুদ ও কিসাসের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়; কেননা মক্কেল মজলিসে অনুপস্থিত থাকলে তা আদায়ের জন্য ওকালাত সহীহ হয় না) অর্থাৎ মক্কেল বা প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারী মজলিসে উপস্থিত না থাকলে হুদুদ এবং কিসাস কার্যকর করার ক্ষেত্রে ওকালাত সহীহ হবে না। আর হুদুদ ও কিসাস প্রদানের ক্ষেত্রে ওকালাত সহীহ না হওয়া একটি সুস্পষ্ট বিষয়, চাই মক্কেল উপস্থিত থাকুক বা অনুপস্থিত থাকুক। কারণ, হুদুদ বা কিসাস প্রদান করার অর্থ হলো নির্ধারিত দণ্ড কার্যকর করার জন্য নিজেকে বা নিজের দেহকে সঁপে দেওয়া। আর এটি অপরাধী ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে সহীহ হতে পারে না; কারণ অপরাধী ছাড়া অন্য কারো ওপর দণ্ড প্রয়োগ করা সুস্পষ্ট জুলুম। এ কারণেই গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মক্কেলের অনুপস্থিতিতে হুদুদ ও কিসাস আদায়ের ওকালাত সহীহ না হওয়ার কথা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। আর এর কারণ বর্ণনায় তিনি বলেন, (কেননা এগুলো) অর্থাৎ হুদুদ ও কিসাস (সংশয়ের কারণে রহিত হয়ে যায়)। সুতরাং এমন ব্যক্তির মাধ্যমে এটি আদায় করা যাবে না যে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করে, কারণ এতে সংশয় সৃষ্টি হয়। যেমনটি বিচারকের কাছে বিচারকের পত্র প্রেরণের ক্ষেত্রে, সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে এবং পুরুষদের সাথে নারীদের সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। (আর মক্কেলের অনুপস্থিতিতে ক্ষমার সংশয় বিদ্যমান থাকে) অর্থাৎ যখন মক্কেল উপস্থিত থাকে না, তখন এই সংশয়টি থাকে। এই বিষয়টি কিসাসের সাথে সুনির্দিষ্ট, কারণ হুদুদ বা আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডে ক্ষমা করার সুযোগ নেই। সুতরাং উদ্দেশ্য হলো, মক্কেলের অনুপস্থিতিতে কিসাসের ক্ষেত্রে আরেকটি সংশয় যুক্ত হয়, আর তা হলো ক্ষমার সংশয়। কারণ এমনটি হতে পারে যে, মক্কেল হয়তো ক্ষমা করে দিয়েছেন অথচ প্রতিনিধি বা উকিল তা জানেন না। (বরং এটিই প্রবল ধারণা) অর্থাৎ ক্ষমা করে দেওয়াটাই প্রবল ধারণা (শরয়ী মুস্তাহাব বা সুপারিশের কারণে)। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আর তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়াটাই তাকওয়ার নিকটতর।" কিসাসের ক্ষেত্রে ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন: এটি বান্দার নিছক একটি অধিকার, তাই তার অন্যান্য অধিকারের মতোই নিজের ক্ষতি দূর করার জন্য প্রতিনিধির মাধ্যমে তা আদায় করা যাবে। কিন্তু আমরা বলি: এটি এমন একটি শাস্তি যা সংশয়ের কারণে রহিত হয়ে যায়, যা তার অন্যান্য অধিকারের মতো নয়; সুতরাং এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। (সাক্ষীর অনুপস্থিতির বিষয়টি এর ব্যতিক্রম) অর্থাৎ যখন সাক্ষী অনুপস্থিত থাকে, তখন হুদুদ ও কিসাস কার্যকর করা যায়। (কেননা সাক্ষ্য থেকে ফিরে না আসার বিষয়টিই প্রবল) অর্থাৎ সাক্ষীর ক্ষেত্রে সংশয় হলো সাক্ষ্য থেকে ফিরে আসা, কিন্তু তার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা হলো ফিরে না আসা। কারণ সত্যবাদিতাই হলো মূল ভিত্তি, বিশেষ করে ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষীদের ক্ষেত্রে; তাই এ জাতীয় সংশয় বিবেচনা করা হয়নি।আমি বলি: এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে যে, রজম হলো হুদুদ বা নির্ধারিত দণ্ডসমূহের অন্তর্ভুক্ত, অথচ নির্ভরযোগ্য বর্ণনা (জাহিরুর রিওয়ায়াহ) অনুযায়ী সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে রজম কার্যকর করা যায় না, যেমনটি হুদুদ অধ্যায়ে গত হয়েছে। এটি দাবি করে যে, সেখানে সাক্ষীদের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য থেকে ফিরে আসার সংশয়কে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে এর উত্তর এভাবে দেওয়া যেতে পারে যে: সেই সময় দণ্ড কার্যকর না করার কারণ হলো দণ্ড কার্যকরের শর্ত অনুপস্থিত থাকা, আর তা হলো সাক্ষীদের মাধ্যমে রজম শুরু করা। এটি নিছক সাক্ষ্য থেকে ফিরে আসার সংশয়ের কারণে নয়। বিষয়টি অনুধাবন করুন। (আর উপস্থিত থাকাকালীন অবস্থা এর ব্যতিক্রম) অর্থাৎ মজলিসে মক্কেলের উপস্থিত থাকাবস্থায় ওকালাত কার্যকর হবে। (কেননা সেই সংশয় তখন দূরীভূত হয়ে যায়) অর্থাৎ ক্ষমার সংশয় তখন থাকে না। কারণ মক্কেলের উপস্থিতিতে ক্ষমার বিষয়টি অস্পষ্ট থাকার সুযোগ নেই, তাই কোনো সংশয়ও থাকে না। আমি বলি: কেউ বলতে পারেন যে, একটি নির্দিষ্ট সংশয় দূর হওয়া মানেই সকল সংশয় দূর হওয়া নয়। আর হুদুদ ও কিসাস যেকোনো সংশয় দ্বারাই রহিত হয়ে যায়, তাই এই যুক্তিটি পূর্ণাঙ্গ নয়। তাছাড়া ক্ষমার সংশয় তো কিসাসের সাথে সুনির্দিষ্ট, ফলে হুদুদ আদায়ের ক্ষেত্রে উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির মাঝে কোনো পার্থক্যই স্পষ্ট হয় না। আর যখন এমনটি ধারণা করা হয় যে, মক্কেল উপস্থিত থাকলে তো তার প্রতিনিধির আর প্রয়োজনই নেই, কারণ তিনি নিজেই তা আদায় করতে পারেন; তখন গ্রন্থকার এর উত্তরে বলেন— (এবং প্রত্যেকেই সঠিকভাবে দণ্ড কার্যকর করতে পারদর্শী নয়) হয় তার সঠিক নির্দেশনার অভাবের কারণে, অথবা তার হৃদয়ে সে কঠোরতা নেই যা এই কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন। (কাজেই যদি তাকে ওকালাত থেকে বাধা দেওয়া হয়) অর্থাৎ প্রতিনিধি নিয়োগ করে দণ্ড কার্যকর করতে নিষেধ করা হয়, (তবে দণ্ড কার্যকর করার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাবে) অর্থাৎ তার জন্য এই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ইহতিসান বা উত্তম পন্থা হিসেবে উপস্থিত থাকাবস্থায় প্রতিনিধির মাধ্যমে দণ্ড কার্যকর করা জায়েজ রাখা হয়েছে যাতে এই পথ রুদ্ধ না হয়।গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন, (আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ইমাম আবু হানিফার রহমতুল্লাহি আলাইহির অভিমত)। অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার গ্রন্থকারের কথার ব্যাখ্যায় বলেন: হুদুদ ও কিসাস সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ওকালাত জায়েজ হওয়া ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মত। তারা এই ব্যাখ্যার কারণ হিসেবে বলেন: যেহেতু গ্রন্থকার বলেছেন 'অন্যান্য সকল অধিকারের ক্ষেত্রে বিবাদের জন্য ওকালাত জায়েজ' অর্থাৎ সকল অধিকারের ক্ষেত্রে, এবং এরপর হুদুদ ও কিসাস আদায় ও প্রদানের বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাই হুদুদ ও কিসাসের বিবাদ বা মামলা লড়ার বিষয়টি 'অন্যান্য সকল অধিকারের ক্ষেত্রে বিবাদের' অন্তর্ভুক্ত থেকে যায়। তাই তিনি বলেছেন: আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মত। আমি বলি: সুস্থ বিচারসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির কাছে এটি গোপন নয় যে, গ্রন্থকারের কালামের এই সমাধানে তারা যে পন্থা অবলম্বন করেছেন তাতে অনেক কৃত্রিমতা ও কষ্টকল্পনা রয়েছে। কারণ তারা পূর্ববর্তী কালামের একটি অনির্দিষ্ট অংশকে, যা কেবল একটি সাধারণ নিয়ম হিসেবে এসেছিল, তাকে 'এই যা উল্লেখ করেছি' (হাজা) ইশারা সূচক শব্দ দিয়ে ইঙ্গিত করেছেন, যা সাধারণত দৃশ্যমান বা অনুভূত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অথচ এখানে গ্রন্থকারের কালামকে এর জাহির বা প্রকাশ্য অর্থের ওপর রাখার সুযোগ ছিল, আর তা হলো: ইতিপূর্বে আমরা স্পষ্টভাবে যা উল্লেখ করেছি যে অন্যান্য সকল অধিকারের ক্ষেত্রে বিবাদের জন্য ওকালাত জায়েজ, সেটিই ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মত।(ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: সাক্ষী উপস্থিত করার মাধ্যমে হুদুদ ও কিসাস সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রেও ওকালাত জায়েজ নয়) অর্থাৎ আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন: সেই অধিকারগুলোর কোনোটির ক্ষেত্রেই বিবাদের জন্য ওকালাত জায়েজ নয়, আর তা হলো হুদুদ ও কিসাস সাব্যস্ত করা; (ঠিক যেভাবে সর্বসম্মতিক্রমে হুদুদ ও কিসাস আদায় ও প্রদানের ক্ষেত্রে ওকালাত জায়েজ নয়)। (ইমাম মুহাম্মদের মত আবু হানিফার সাথেই, তবে বলা হয়ে থাকে যে তিনি আবু ইউসুফের সাথে) অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মদের মতের ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়; কখনো তা আবু হানিফার সাথে এবং কখনো আবু ইউসুফের সাথে উল্লেখ করা হয়। তবে গ্রন্থকারের উপস্থাপনা থেকে প্রথমটিই অগ্রগণ্য বলে প্রতীয়মান হয়, যা বুদ্ধিমানদের কাছে গোপন নয়। আল-কাফী গ্রন্থে 'ইমাম মুহাম্মদের মত অস্পষ্ট' এ কথার পর বলা হয়েছে: অধিক স্পষ্ট হলো তিনি ইমাম আবু হানিফার সাথে আছেন। (বলা হয়ে থাকে যে, আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের মধ্যকার এই মতভেদটি কেবল মক্কেলের অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে) অর্থাৎ
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
غَيْبَةِ الْمُوَكِّلِ (دُونَ حَضْرَتِهِ) أَيْ هُوَ جَائِزٌ فِي حَضْرَتِهِ بِالِاتِّفَاقِ (لِأَنَّ كَلَامَ الْوَكِيلِ يَنْتَقِلُ إلَى الْمُوَكِّلِ عِنْدَ حُضُورِهِ) فَصَارَ كَأَنَّهُ مُتَكَلِّمٌ بِنَفْسِهِ. (لَهُ) أَيْ لِأَبِي يُوسُفَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - (أَنَّ التَّوْكِيلَ إنَابَةٌ) وَالْإِنَابَةُ فِيهَا شُبْهَةٌ لَا مَحَالَةَ (وَشُبْهَةُ النِّيَابَةِ يُتَحَرَّزُ عَنْهَا فِي هَذَا الْبَابِ) أَيْ فِي بَابِ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ؛ لِأَنَّهُ مِمَّا يَنْدَرِئُ بِالشُّبُهَاتِ (كَمَا فِي الشَّهَادَةِ عَلَى الشَّهَادَةِ) أَيْ كَالشُّبْهَةِ الَّتِي فِي الشَّهَادَةِ عَلَى الشَّهَادَةِ حَتَّى لَا يَثْبُتَ بِهَا الْحُدُودُ وَالْقِصَاصُ بِالِاتِّفَاقِ، كَمَا لَا يَثْبُتُ بِشَهَادَةِ النِّسَاءِ مَعَ الرِّجَالِ وَلَا بِكِتَابِ الْقَاضِي إلَى الْقَاضِي (وَكَمَا فِي الِاسْتِيفَاءِ) أَيْ وَكَالشُّبْهَةِ الَّتِي فِي التَّوْكِيلِ بِاسْتِيفَاءِ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ عِنْدَ غَيْبَةِ الْمُوَكِّلِ فَإِنَّهَا مَانِعَةٌ لِصِحَّةِ التَّوْكِيلِ بِالِاتِّفَاقِ (وَلِأَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله أَنَّ الْخُصُومَةَ شَرْطٌ مَحْضٌ) أَيْ لَا حَظَّ لَهَا فِي الْوُجُوبِ وَلَا فِي الظُّهُورِ (لِأَنَّ الْوُجُوبَ مُضَافٌ إلَى الْجِنَايَةِ وَالظُّهُورَ إلَى الشَّهَادَةِ) وَالشَّرْطُ الْمَحْضُ حَقٌّ مِنْ الْحُقُوقِ يَجُوزُ لِلْمُوَكِّلِ مُبَاشَرَتُهُ بِنَفْسِهِ (فَيَجْرِي فِيهِ التَّوْكِيلُ كَمَا فِي سَائِرِ الْحُقُوقِ) أَيْ بَاقِيهَا لِقِيَامِ الْمُقْتَضَى وَانْتِفَاءِ الْمَانِعِ. لَا يُقَالُ: الْمَانِعُ مَوْجُودٌ وَهُوَ الشُّبْهَةُ كَمَا فِي الِاسْتِيفَاءِ وَالشَّهَادَةُ عَلَى الشَّهَادَةِ عَلَى مَا مَرَّ؛ لِأَنَّا نَقُولُ: الشُّبْهَةُ فِي الشَّرْطِ لَا تَصْلُحُ لِلْمَنْعِ، إذْ لَا يَتَعَلَّقُ بِهِ الْوُجُوبُ وَلَا الْوُجُودُ وَلَا الظُّهُورُ، بِخِلَافِ الِاسْتِيفَاءِ فَإِنَّهُ يَتَعَلَّقُ بِهِ الْوُجُودُ بِخِلَافِ الشَّهَادَةِ عَلَى الشَّهَادَةِ فَإِنَّهَا يَتَعَلَّقُ بِهَا الظُّهُورُ (وَعَلَى هَذَا خِلَافُ) الْمَذْكُورِ (التَّوْكِيلُ بِالْجَوَابِ مِنْ جَانِبِ مَنْ عَلَيْهِ) أَيْ مِنْ جِهَةِ مَنْ عَلَيْهِ (الْحَدُّ) أَوْ الْقِصَاصُ؛ فَأَجَازَهُ أَبُو حَنِيفَةَ وَمَنَعَهُ أَبُو يُوسُفَ وَقَوْلُ مُحَمَّدٍ مُضْطَرِبٌ. قَالَ الْمُصَنِّفُ (وَكَلَامُ أَبِي حَنِيفَةَ فِيهِ) أَيْ فِي التَّوْكِيلِ بِالْجَوَابِ (أَظْهَرُ؛ لِأَنَّ الشُّبْهَةَ لَا تَمْنَعُ الدَّفْعَ) يَعْنِي أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالْجَوَابِ إنَّمَا يَكُونُ لِلدَّفْعِ، وَدَفْعُ الْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ يَثْبُتُ بِالشُّبُهَاتِ حَتَّى يَثْبُتَ الْعَفْوُ عَنْ الْقِصَاصِ بِالشَّهَادَةِ عَلَى الشَّهَادَةِ وَبِشَهَادَةِ النِّسَاءِ مَعَ الرِّجَالِ، فَالشُّبْهَةُ الَّتِي ذُكِرَتْ فِي دَلِيلِ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله عَلَى تَقْدِيرِ كَوْنِهَا مُعْتَبَرَةً لَا تُمْنَعُ هَاهُنَا (غَيْرَ أَنَّ إقْرَارَ الْوَكِيلِ غَيْرُ مَقْبُولٍ عَلَيْهِ) أَيْ عَلَى مُوَكِّلِهِ: يَعْنِي لَوْ أَقَرَّ الْوَكِيلُ فِي مَجْلِسِ الْقَضَاءِ بِوُجُوبِ الْحَدِّ وَالْقِصَاصِ عَلَى مُوَكِّلِهِ لَمْ يُقْبَلْ إقْرَارُهُ اسْتِحْسَانًا (لِمَا فِيهِ) أَيْ لِمَا فِي إقْرَارِهِ (مِنْ شُبْهَةِ عَدَمِ الْأَمْرِ بِهِ) فَلَمْ يُعْتَبَرْ فِيمَا يَنْدَرِئُ بِالشُّبُهَاتِ. وَالْقِيَاسُ أَنْ يُقْبَلَ إقْرَارُهُ لِقِيَامِهِ مَقَامَ مُوَكِّلِهِ بَعْدَ صِحَّةِ التَّوْكِيلِ كَمَا فِي الْإِقْرَارِ بِسَائِرِ الْحُقُوقِ. وَوَجْهُ الِاسْتِحْسَانِ مَا ذَكَرَهُ الْمُصَنِّفُ رحمه الله. وَتَوْضِيحُهُ أَنَّا حَمَلْنَا التَّوْكِيلَ بِالْخُصُومَةِ عَلَى الْجَوَابِ؛ لِأَنَّ جَوَابَ الْخَصْمِ مِنْ الْخُصُومَةِ، وَلَكِنَّ هَذَا نَوْعٌ مِنْ الْمَجَازِ، فَأَمَّا فِي الْحَقِيقَةِ فَالْإِقْرَارُ ضِدُّ الْخُصُومَةِ، وَالْمَجَازِ وَإِنْ اُعْتُبِرَ لِقِيَامِ الدَّلِيلِ فَالْحَقِيقَةُ شُبْهَةٌ مُعْتَبَرَةٌ فِيمَا يَنْدَرِئُ بِالشُّبُهَاتِ دُونَ مَا يَثْبُتُ مَعَ الشُّبُهَاتِ. كَذَا فِي الْمَبْسُوطِ، وَذُكِرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ الشُّرُوحِ.وَاعْلَمْ أَنَّ جَوَازَ التَّوْكِيلِ بِإِثْبَاتِ الْحُدُودِ عِنْدَ مَنْ جَوَّزَهُ إنَّمَا هُوَ فِي حَدِّ الْقَذْفِ وَحْدِ السَّرِقَةِ. وَأَمَّا التَّوْكِيلُ بِإِثْبَاتِ حَدِّ الزِّنَا وَحَدِّ الشُّرْبِ فَلَا يَصِحُّ اتِّفَاقًا؛ لِأَنَّهُ لَا حَقَّ فِيهِمَا لِأَحَدٍ مِنْ الْعِبَادِ، وَإِنَّمَا تُقَامُ الْبَيِّنَةُ عَلَى وَجْهِ الْحِسْبَةِ، فَإِذَا كَانَ أَجْنَبِيًّا عَنْهُ لَا يَصِحُّ تَوْكِيلُهُ بِهِ، نُصَّ عَلَيْهِ فِي الْكَافِي وَالتَّبْيِينِ (وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: لَا يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ) سَوَاءٌ كَانَ التَّوْكِيلُ مِنْ قِبَلِ الطَّالِبِ أَوْ مِنْ قِبَلِ الْمَطْلُوبِ (بِغَيْرِ رِضَا الْخَصْمِ) وَيَسْتَوِي فِيهِ الشَّرِيفُ وَالْوَضِيعُ وَالرَّجُلُ وَالْمَرْأَةُ وَالْبِكْرُ وَالثَّيِّبُ، كَذَا فِي الشُّرُوحِ وَالْفَتَاوَى (إلَّا أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مَرِيضًا أَوْ غَائِبًا مَسِيرَةَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا) يَعْنِي إلَّا أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مَعْذُورًا بِعُذْرِ الْمَرَضِ أَوْ السَّفَرِ فَحِينَئِذٍ يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ بِدُونِ رِضَا الْخَصْمِ عِنْدَهُ أَيْضًا (وَقَالَا) أَيْ أَبُو يُوسُفَ وَمُحَمَّدٌ (يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِغَيْرِ رِضَا الْخَصْمِ) أَيْ يَجُوزُ ذَلِكَ عِنْدَهُمَا فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ سَوَاءٌ رَضِيَ الْخَصْمُ أَمْ لَا، وَسَوَاءٌ كَانَ الْمُوَكِّلُ مَعْذُورًا أَمْ لَا، وَكَانَ أَبُو يُوسُفَ يَقُولُ: أَوْ لَا يُقْبَلُ ذَلِكَ مِنْ النِّسَاءِ دُونَ الرِّجَالِ، ثُمَّ رَجَعَ عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ: يُقْبَلُ مِنْ النِّسَاءِ وَالرِّجَالِ جَمِيعًا (وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ رحمه الله) أَيْضًا، وَفِي الْخُلَاصَةِ: وَالْفَقِيهُ أَبُو اللَّيْثِ يُفْتِي بِقَوْلِهِمَا.وَفِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ. وَبِهِ أَخَذَ أَبُو الْقَاسِمِ الصَّفَّارُ. وَقَالَ: شَمْسُ الْأَئِمَّةِ السَّرَخْسِيُّ: الصَّحِيحُ عِنْدِي أَنَّ الْقَاضِيَ إذَا عَلِمَ بِالْمُدَّعِي التَّعَنُّتَ فِي إبَاءِ الْوَكِيلِ يَقْبَلُ التَّوْكِيلَ وَلَا يَلْتَفِتُ إلَيْهِ، وَإِنْ عَلِمَ مِنْ الْمُوَكِّلِ الْقَصْدَ إلَى الْإِضْرَارِ بِالْمُدَّعِي لِيَشْتَغِلَ الْوَكِيلُ بِالْحِيَلِ وَالْأَبَاطِيلِ وَالتَّلْبِيسِ لَا يَقْبَلُ مِنْهُ التَّوْكِيلَ.وَذَكَرَ شَمْسُ الْأَئِمَّةِ الْحَلْوَانِيُّ أَنَّ ذَلِكَ يُفَوَّضُ إلَى رَأْيِ الْقَاضِي، وَهَذَا قَرِيبٌ مِنْ الْأَوَّلِ انْتَهَى. قَالَ الْمُصَنِّفُ رحمه الله (وَلَا خِلَافَ فِي الْجَوَازِ) أَيْ لَا خِلَافَ بَيْنَ أَبِي حَنِيفَةَ وَبَيْنَ صَاحِبَيْهِ وَالشَّافِعِيِّ رحمهم الله فِي الْجَوَازِ، حَتَّى إذَا وَكَّلَ فَرَضِيَ الْخَصْمُ لَا يَحْتَاجُ فِي سَمَاعِ خُصُومَةِ الْوَكِيلِ إلَى تَجْدِيدِ وَكَالَةٍ (إنَّمَا الْخِلَافُ فِي اللُّزُومِ) مَعْنَاهُ إذَا وَكَّلَ مِنْ غَيْرِ رِضَا الْخَصْمِ هَلْ يَرْتَدُّ بِرَدِّهِ أَمْ لَا؟ عِنْدَهُ يَرْتَدُّ خِلَافًا لَهُمْ، فَعَلَى هَذَا التَّأْوِيلِ يَكُونُ مَعْنَى قَوْلِ الْقُدُورِيِّ. قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: لَا يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ إلَّا
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
মক্কেলের (প্রতিনিধিত্ব দানকারীর) অনুপস্থিতিতে (তার উপস্থিতিতে নয়)। অর্থাৎ, তার উপস্থিতিতে এটি সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ। কারণ, মক্কেলের উপস্থিতিতে উকিলের (প্রতিনিধির) কথা মক্কেলের দিকেই স্থানান্তরিত হয়, ফলে মনে হয় যেন তিনি নিজেই কথা বলছেন। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর দলিল হলো এই যে, প্রতিনিধিত্ব প্রদান করা একটি স্থলাভিষিক্তকরণ (ইনাবেত)। আর স্থলাভিষিক্তকরণের ক্ষেত্রে অনিবার্যভাবে একটি সংশয় (শুবহাহ) থাকে। এই অধ্যায়ে (অর্থাৎ হুদুদ ও কিসাসের অধ্যায়ে) প্রতিনিধিত্বের সংশয় পরিহার করা আবশ্যক; কারণ হুদুদ ও কিসাস সংশয়ের মাধ্যমে রহিত হয়ে যায়। যেমনটি সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্যদানের (শাহাদাত আলা শাহাদাত) ক্ষেত্রে হয়; অর্থাৎ যেমন সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে সংশয় থাকে, যার ফলে সর্বসম্মতিক্রমে এর দ্বারা হুদুদ ও কিসাস সাব্যস্ত হয় না। একইভাবে পুরুষের সাথে নারীর সাক্ষ্য কিংবা এক বিচারকের নিকট হতে অন্য বিচারকের নিকট লিখিত পত্রের মাধ্যমেও তা সাব্যস্ত হয় না। এবং যেমন দণ্ড কার্যকর করার (ইস্তিফা) ক্ষেত্রে হয়; অর্থাৎ মক্কেলের অনুপস্থিতিতে হুদুদ ও কিসাস কার্যকর করার প্রতিনিধিত্বের মধ্যে যে সংশয় থাকে, তা সর্বসম্মতিক্রমে ওকালতের বৈধতার পথে প্রতিবন্ধক। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর দলিল হলো এই যে, মামলা পরিচালনা (খুসুমাত) কেবল একটি শর্ত মাত্র। অর্থাৎ দণ্ড ওয়াজিব হওয়া বা তা প্রকাশ পাওয়ার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই। কারণ ওয়াজিব হওয়া অপরাধের (জিনায়াত) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং প্রকাশ পাওয়া সাক্ষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর নিছক শর্ত হলো এমন একটি অধিকার যা মক্কেল নিজেই সরাসরি সম্পাদন করতে পারেন। সুতরাং অন্যান্য অধিকারের মতো এখানেও প্রতিনিধিত্ব চলবে। কারণ এখানে প্রয়োজক বিদ্যমান এবং কোনো প্রতিবন্ধক নেই। এমনটি বলা যাবে না যে, প্রতিবন্ধক বিদ্যমান আর তা হলো সংশয়—যেমনটি ইস্তিফা এবং সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ আমরা বলি: শর্তের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংশয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির যোগ্য নয়, যেহেতু এর সাথে ওয়াজিব হওয়া, অস্তিত্ব লাভ করা বা প্রকাশ পাওয়া কোনোটাই জড়িত নয়। পক্ষান্তরে ইস্তিফার বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এর সাথে দণ্ডের অস্তিত্ব লাভ করা জড়িত। আবার সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্যদানের বিষয়টিও ভিন্ন, কারণ এর সাথে দণ্ড প্রকাশ পাওয়া জড়িত। আর এর ওপরই উল্লেখিত মতভেদটি রয়েছে। যার ওপর হদ বা কিসাস বর্তায়, তার পক্ষ থেকে জবাব প্রদানের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা। ইমাম আবু হানিফা একে বৈধ বলেছেন এবং ইমাম আবু ইউসুফ একে অবৈধ বলেছেন, আর ইমাম মুহাম্মদের অভিমত এক্ষেত্রে অস্থির। গ্রন্থকার বলেন, জবাব প্রদানের ওকালতের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার বক্তব্য অধিক স্পষ্ট; কারণ সংশয় কখনো আত্মরক্ষা বা প্রতিরোধকে বাধাগ্রস্ত করে না। এর অর্থ হলো, জবাব প্রদানের প্রতিনিধিত্ব কেবল আত্মরক্ষার জন্যই হয়, আর হুদুদ ও কিসাসের প্রতিরোধ সংশয়ের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। এমনকি সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্যদান এবং পুরুষের সাথে নারীর সাক্ষ্যের মাধ্যমেও কিসাস ক্ষমা করার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়। সুতরাং ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর দলিলে যে সংশয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা যদি বিবেচনাযোগ্যও হয় তবুও তা এখানে প্রতিবন্ধক হবে না। তবে উকিলের (প্রতিনিধির) স্বীকারোক্তি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য হবে না। অর্থাৎ, উকিল যদি আদালত কক্ষে তার মক্কেলের ওপর হদ বা কিসাস ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেয়, তবে ইসতিহসান (আইনগত সূক্ষ্মতা) অনুযায়ী তার স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা হবে না। কারণ তার স্বীকারোক্তির মধ্যে এই সংশয় রয়েছে যে, তাকে হয়তো এই স্বীকারোক্তি দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়নি। সুতরাং যেসব বিষয় সংশয়ের কারণে রহিত হয়, সেসব ক্ষেত্রে এই স্বীকারোক্তি ধর্তব্য হবে না। কিয়াস হলো তার স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত, কারণ ওকালত শুদ্ধ হওয়ার পর সে মক্কেলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যেমনটি অন্যান্য অধিকারের ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তির বেলায় ঘটে থাকে। ইসতিহসানের ভিত্তি হলো তাই যা গ্রন্থকার (রহ.) উল্লেখ করেছেন। এর ব্যাখ্যা হলো, আমরা মামলা পরিচালনার ওকালতকে জবাব প্রদানের ওকালত হিসেবে গণ্য করেছি; কারণ বিবাদীর জবাব দেওয়াও মামলা পরিচালনার অংশ। কিন্তু এটি এক প্রকার রূপক (মাজায)। আর প্রকৃত অর্থে, স্বীকারোক্তি হলো মামলা পরিচালনার বিপরীত। রূপক বা মাজায দলিলের ভিত্তিতে ধর্তব্য হলেও, প্রকৃত বিষয়টি এমন একটি সংশয় যা হুদুদ ও কিসাসের ক্ষেত্রে (যা সংশয়ের দ্বারা রহিত হয়) বিবেচনাযোগ্য, কিন্তু সাধারণ বিষয়গুলোতে (যা সংশয়ের সাথেও সাব্যস্ত হয়) নয়। 'মাবসুত' এবং অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।জেনে রাখুন যে, যারা হুদুদ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ওকালত বৈধ বলেছেন, তাদের মতে এটি কেবল অপবাদের দণ্ড এবং চুরির দণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে যিনা ও মদ্যপানের হদ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ওকালত প্রদান করা সর্বসম্মতিক্রমে সহিহ নয়। কারণ এই দুটি বিষয়ে কোনো বান্দার হক নেই, বরং সাক্ষ্য প্রদান করা হয় কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য (হিসবাহ)। সুতরাং যদি বিবাদী বা বাদী থেকে সে সম্পূর্ণ ভিন্ন কেউ হয়, তবে তাকে ওকালত প্রদান করা সহিহ হবে না। এটি 'কাফি' এবং 'তাবয়িন' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, বিবাদীর (প্রতিপক্ষের) সম্মতি ছাড়া মামলা পরিচালনার প্রতিনিধিত্ব জায়েজ নয়; প্রতিনিধি নিয়োগকারী ব্যক্তি দাবিদার হোক বা যার বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে সে হোক। এক্ষেত্রে উচ্চবংশীয়, সাধারণ মানুষ, পুরুষ, নারী, কুমারী বা বিবাহিতা নারী—সবাই সমান। ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ফতোয়াগুলোতে এমনই রয়েছে। তবে যদি মক্কেল অসুস্থ হয় অথবা তিন দিন বা তার অধিক দূরত্বের সফরে থাকে, তবে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ, মক্কেল যদি অসুস্থতা বা সফরের ওজরের কারণে অপারগ হয়, তখন তার মতেও প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়াই প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ। সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ) বলেন, প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়াই প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ। অর্থাৎ তাদের মতে সব অবস্থাতেই এটি জায়েজ, প্রতিপক্ষ সন্তুষ্ট হোক বা না হোক, এবং মক্কেল অপারগ হোক বা না হোক। ইমাম আবু ইউসুফ বলতেন, এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হলেও নারীদের ক্ষেত্রে নয়; কিন্তু পরবর্তীতে তিনি এই মত থেকে ফিরে আসেন এবং বলেন যে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এটি গ্রহণযোগ্য। এটি ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এরও অভিমত। 'খুলাসাত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ফকিহ আবুল লাইস সাহেবাইনের মতানুসারে ফতোয়া প্রদান করতেন।ফাতাওয়া কাজিখানে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু কাসিম সাফফার এই মতটি গ্রহণ করেছেন। শামসুল আইম্মাহ সারাখসি বলেন, আমার নিকট সঠিক হলো এই যে, যখন বিচারক জানবেন যে বিবাদী কেবল প্রতিনিধিকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমেই হঠকারিতা করছে, তখন তিনি ওকালত গ্রহণ করবেন এবং প্রতিপক্ষের অসম্মতির দিকে ভ্রূক্ষেপ করবেন না। আর যদি তিনি জানেন যে মক্কেলের উদ্দেশ্য হলো দাবিদারের ক্ষতি করা, যাতে উকিল বিভিন্ন কূটকৌশল, অসারতা ও প্রতারণায় লিপ্ত হয়, তবে তিনি তার থেকে ওকালত গ্রহণ করবেন না। শামসুল আইম্মাহ হালওয়ানি উল্লেখ করেছেন যে, বিষয়টি বিচারকের বিবেচনার ওপর ন্যস্ত থাকবে। এটি প্রথম মতের কাছাকাছি। গ্রন্থকার (রহ.) বলেন, এর বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফা, সাহেবাইন এবং ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মধ্যে এর বৈধতার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। এমনকি কেউ যদি প্রতিনিধি নিয়োগ করে এবং প্রতিপক্ষ তাতে রাজি হয়, তবে উকিলের বক্তব্য শোনার জন্য নতুন করে ওকালতনামা তৈরি করার প্রয়োজন নেই। মতভেদ কেবল এর অপরিহার্যতা (লুযুম) নিয়ে। এর অর্থ হলো, প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়া যদি কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়, তবে প্রতিপক্ষের প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তা বাতিল হয়ে যাবে কি না? ইমাম আবু হানিফার মতে তা বাতিল হয়ে যাবে, যা সাহেবাইনের মতের বিপরীত। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী কুদুরি (রহ.)-এর উক্তির অর্থ দাঁড়াবে: ইমাম আবু হানিফা বলেন, মামলা পরিচালনার ওকালত জায়েজ হবে না কেবল
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
بِرِضَا الْخَصْمِ: أَيْ لَا يَلْزَمُ ذِكْرُ الْجَوَازِ، وَأَرَادَ اللُّزُومَ؛ لِأَنَّ الْجَوَازَ مِنْ لَوَازِمِ اللُّزُومِ فَيَجُوزُ ذِكْرُ اللَّازِمِ وَإِرَادَةُ الْمَلْزُومِ، كَذَا فِي الشُّرُوحِ. وَقَدْ تَصَرَّفَ فِيهِ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ تَحْرِيرًا وَإِيرَادًا حَيْثُ قَالَ: فَعَلَى هَذَا يَكُونُ قَوْلُهُ لَا يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ إلَّا بِرِضَا الْخَصْمِ مَجَازًا لِقَوْلِهِ وَلَا يَلْزَمُ ذِكْرُ الْجَوَازِ، وَأَرَادَ اللُّزُومَ فَإِنَّ الْجَوَازَ لَازِمُ اللُّزُومِ فَيَكُونُ مِنْ ذِكْرِ اللَّازِمِ وَإِرَادَةِ الْمَلْزُومِ، وَقَالَ: فِيهِ نَظَرٌ؛ لِأَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ الْجَوَازَ لَازِمُ اللُّزُومِ عُرِفَ ذَلِكَ فِي أُصُولِ الْفِقْهِ. سَلَّمْنَا لَكِنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِمَجَازٍ انْتَهَى.أَقُولُ: الظَّاهِرُ أَنَّ مُرَادَهُ بِقَوْلِهِ لَكِنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِمَجَازٍ الرَّدُّ عَلَى قَوْلِهِ مَجَازًا بِأَنَّ مَا ذَكَرَهُ لَيْسَ مِنْ قَبِيلِ الْمَجَازِ بَلْ هُوَ مِنْ قَبِيلِ الْكِنَايَةِ بِنَاءً عَلَى مَا ذَهَبَ إلَيْهِ الْكَاكِيُّ مِنْ أَنَّ الِانْتِقَالَ فِي الْمَجَازِ مِنْ الْمَلْزُومِ إلَى اللَّازِمِ، وَفِي الْكِنَايَةِ مِنْ اللَّازِمِ إلَى الْمَلْزُومِ لَكِنَّهُ لَيْسَ بِشَيْءٍ. أَمَّا أَوَّلًا فَلِأَنَّ لَفْظَ الْمَجَازِ لَمْ يُذْكَرْ فِي تَحْرِيرِ غَيْرِهِ مِنْ الشُّرَّاحِ وَلَا يَتَوَقَّفُ عَلَيْهِ صِحَّةُ التَّأْوِيلِ الْمَذْكُورِ فَإِنَّهُ يَصِحُّ سَوَاءٌ كَانَ بِطَرِيقِ الْمَجَازِ أَوْ بِطَرِيقِ الْكِنَايَةِ فَكَانَ مَدَارُ رَدِّهِ الْمَزْبُورَ عَلَى لَفْظٍ زَادَهُ مِنْ عِنْدِ نَفْسِهِ فِي بَيَانِ التَّأْوِيلِ الْمَذْكُورِ. وَأَمَّا ثَانِيًا فَلِأَنَّهُمْ حَقَّقُوا أَنَّ الِانْتِقَالَ فِي الْمَجَازِ وَالْكِنَايَةِ كِلَيْهِمَا مِنْ الْمَلْزُومِ إلَى اللَّازِمِ. وَرَدُّوا مَا ذَهَبَ إلَيْهِ الْكَاكِيُّ بِأَنَّ اللَّازِمَ مَا لَمْ يَكُنْ مَلْزُومًا لَمْ يُنْتَقَلْ مِنْهُ إلَى الْمَلْزُومِ، وَجَعَلُوا الْعُمْدَةَ فِي الْفَرْقِ بَيْنَهُمَا جَوَازَ إرَادَةِ الْمَعْنَى الْمَوْضُوعِ لَهُ وَعَدَمَ جَوَازِهَا، فَحِينَئِذٍ يَجُوزُ أَنْ يُجْعَلَ لَفْظُ يَجُوزُ فِيمَا نَحْنُ فِيهِ مَجَازًا عَنْ مَعْنًى يَلْزَمُ بِلَا مَحْذُورٍ أَصْلًا.ثُمَّ قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: وَالْحَقُّ أَنَّ قَوْلَهُ لَا يَجُوزُ لَهُ التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ إلَّا بِرِضَا الْخَصْمِ فِي قُوَّةِ قَوْلِنَا: التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ غَيْرُ لَازِمٍ، بَلْ إنْ رَضِيَ بِهِ الْخَصْمُ وَإِلَّا فَلَا فَلَا حَاجَةَ إلَى قَوْلِهِ وَلَا خِلَافَ فِي الْجَوَازِ وَإِلَى التَّوْجِيهِ بِجَعْلِهِ مَجَازًا انْتَهَى. أَقُولُ: لَا يَخْفَى عَلَى الْفَطِنِ أَنَّ هَذَا كَلَامٌ خَالٍ عَنْ التَّحْصِيلِ؛ لِأَنَّهُ إنْ أَرَادَ بِقَوْلِهِ إنَّ قَوْلَهُ لَا يَجُوزُ التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ إلَّا بِرِضَا الْخَصْمِ فِي قُوَّةِ قَوْلِنَا التَّوْكِيلُ بِالْخُصُومَةِ غَيْرُ لَازِمٍ أَنَّ مَعْنَى الْأَوَّلِ مِنْ حَيْثُ الْحَقِيقَةُ هُوَ مَعْنَى الثَّانِي بِعَيْنِهِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ إذْ لَا شَكَّ أَنَّ مَعْنَى الْجَوَازِ مِنْ حَيْثُ الْحَقِيقَةُ يُغَايِرُ مَعْنَى اللُّزُومِ، فَنَفْيُ الْأَوَّلِ يُغَايِرُ نَفْيَ الثَّانِي قَطْعًا، وَإِنْ أَرَادَ بِذَلِكَ أَنَّ الثَّانِيَ هُوَ الْمُرَادُ مِنْ الْأَوَّلِ مَجَازًا أَوْ كِنَايَةً فَلَا وَجْهَ لِقَوْلِهِ فَلَا حَاجَةَ إلَى قَوْلِهِ وَلَا خِلَافَ فِي الْجَوَازِ، فَإِنَّ الْمُتَبَادَرَ مِنْ الْأَلْفَاظِ مَعَانِيهَا الْحَقِيقِيَّةُ فَيَتَبَادَرُ إلَى ذِهْنِ النَّاظِرِ فِي مَسْأَلَتِنَا هَذِهِ أَنْ يَكُونَ الْخِلَافُ الْمَذْكُورُ فِي نَفْسِ الْجَوَازِ، فَدَفَعَ الْمُصَنِّفُ ذَلِكَ بِقَوْلِهِ وَلَا خِلَافَ فِي الْجَوَازِ إنَّمَا الْخِلَافُ فِي اللُّزُومِ فَهَذَا الْكَلَامُ لَا غُبَارَ عَلَيْهِ. ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّ الْمُصَنِّفَ رحمه الله لَيْسَ بِأَوَّلِ مَنْ حَمَلَ الْخِلَافَ الْمَذْكُورَ عَلَى اللُّزُومِ، بَلْ سَبَقَهُ إلَى ذَلِكَ كَثِيرٌ مِنْ الْمَشَايِخِ مِنْهُمْ الْإِمَامُ شَمْسُ الْأَئِمَّةِ السَّرَخْسِيُّ حَيْثُ قَالَ فِي شَرْحِ أَدَبِ الْقَاضِي: إنَّ التَّوْكِيلَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ بِغَيْرِ رِضَا الْخَصْمِ صَحِيحٌ، وَلَكِنَّ لِلْخَصْمِ أَنْ يُطَالِبَ الْمُوَكِّلَ بِأَنْ يَحْضُرَ بِنَفْسِهِ وَيُجِيبَ، وَمِنْهُمْ الْإِمَامُ عَلَاءُ الدِّينِ الْعَالِمُ حَيْثُ قَالَ فِي طَرِيقَةِ الْخِلَافِ: التَّوْكِيلُ بِغَيْرِ رِضَا الْخَصْمِ لَا يَقَعُ لَازِمًا. وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ وَمُحَمَّدٌ وَالشَّافِعِيُّ رحمهم الله: يَقَعُ لَازِمًا. وَذُكِرَ فِي الْمُحِيطِ الْبُرْهَانِيِّ أَنَّ رِضَا الْخَصْمِ لَيْسَ بِشَرْطٍ لِصِحَّةِ التَّوْكِيلِ وَلُزُومِهِ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ.وَقَدْ اخْتَلَفَ الْمَشَايِخُ عَلَى قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ. بَعْضُهُمْ قَالُوا: رِضَا الْخَصْمِ عِنْدَهُ لَيْسَ بِشَرْطِ صِحَّةِ التَّوْكِيلِ بَلْ هُوَ شَرْطُ لُزُومِهِ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا بَلْ رِضَا الْخَصْمِ عِنْدَهُ شَرْطُ صِحَّةِ التَّوْكِيلِ، وَإِنَّمَا اخْتَلَفُوا بِاخْتِلَافِ أَلْفَاظِ الْكِتَابِ. ذُكِرَ فِي شُفْعَةِ الْأَصْلِ أَنَّ التَّوْكِيلَ بِغَيْرِ رِضَا الْخَصْمِ بَاطِلٌ فِي قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله، وَذُكِرَ فِي وَكَالَةِ الْأَصْلِ: لَا يُقْبَلُ التَّوْكِيلُ بِغَيْرِ رِضَا الْخَصْمِ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ. وَالصَّحِيحُ أَنَّ التَّوْكِيلَ عِنْدَهُ صَحِيحٌ غَيْرُ لَازِمٍ حَتَّى لَا يَلْزَمَ الْخَصْمَ الْحُضُورُ. وَالْجَوَابُ لِخُصُومَةِ الْوَكِيلِ إلَّا أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مَرِيضًا مَرَضًا لَا يُمْكِنُهُ الْحُضُورُ بِنَفْسِهِ مَجْلِسَ الْحُكْمِ، أَوْ غَائِبًا مَسِيرَةَ سَفَرٍ فَحِينَئِذٍ يَلْزَمُ عِنْدَهُ انْتَهَى.وَهَكَذَا ذُكِرَ فِي الذَّخِيرَةِ أَيْضًا (لَهُمَا) أَيْ لِأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ (أَنَّ التَّوْكِيلَ تَصَرُّفٌ فِي خَالِصِ حَقِّهِ) أَيْ فِي خَالِصِ حَقِّ الْمُوَكِّلِ، وَهَذَا؛ لِأَنَّهُ إمَّا أَنْ يُوَكِّلَهُ بِالْخُصُومَةِ أَوْ بِالْجَوَابِ وَكِلَاهُمَا مِنْ خَالِصِ حَقِّهِ. أَمَّا الْخُصُومَةُ فَلِأَنَّهَا الدَّعْوَى وَهِيَ خَالِصُ حَقِّ الْمُدَّعِي حَتَّى لَا يُجْبَرَ عَلَيْهَا. وَأَمَّا الْجَوَابُ فَلِأَنَّهُ إمَّا إنْكَارٌ أَوْ إقْرَارٌ، وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا خَالِصُ حَقِّ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ، وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ (فَلَا يَتَوَقَّفُ عَلَى رِضَا غَيْرِهِ) فَصَارَ (كَالتَّوْكِيلِ بِتَقَاضِي الدُّيُونِ) وَقَبْضِهَا وَإِيفَائِهَا (وَلَهُ) أَيْ لِأَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله (أَنَّ الْجَوَابَ مُسْتَحَقٌّ عَلَى الْخَصْمِ) يَعْنِي أَنَّ الْجَوَابَ حَقٌّ وَاجِبٌ لِلْمُدَّعِي عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ (وَلِهَذَا يَسْتَحْضِرُهُ) أَيْ يَسْتَحْضِرُ الْمُدَّعِي الْخَصْمَ فِي مَجْلِسِ الْقَاضِي قَبْلَ أَنْ يَثْبُتَ لَهُ عَلَيْهِ شَيْءٌ لِيُجِيبَهُ عَمَّا يَدَّعِيهِ عَلَيْهِ، وَغَايَةُ مَا فِي الْبَابِ أَنْ يَكُونَ التَّوْكِيلُ تَصَرُّفًا فِي خَالِصِ حَقِّ الْمُوَكِّلِ، لَكِنَّ تَصَرُّفَ الْإِنْسَانِ فِي خَالِصِ حَقِّهِ إنَّمَا يَنْفُذُ إذَا لَمْ يَتَعَدَّ إلَى الْإِضْرَارِ بِالْغَيْرِ (وَ) هَاهُنَا لَيْسَ كَذَلِكَ، إذْ لَا شَكَّ أَنَّ (النَّاسَ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
প্রতিপক্ষের সম্মতিতে: অর্থাৎ বৈধতা উল্লেখ করা জরুরি নয়, এবং তিনি আবদ্ধকর হওয়া (লুযুম) উদ্দেশ্য নিয়েছেন; কারণ বৈধতা হলো আবদ্ধকর হওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ (লাযিম)। সুতরাং অনুষঙ্গ উল্লেখ করে অনিবার্য বিষয় (মালযুম) উদ্দেশ্য নেওয়া বৈধ। ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে এমনই রয়েছে। আল-ইনায়াহ গ্রন্থের লেখক এ বিষয়ে পরিমার্জন ও আপত্তির সাথে আলোচনা করেছেন যেখানে তিনি বলেন: এই ভিত্তিতে, 'প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়া বিবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ নয়'—তার এই উক্তিটি রূপক (মাজায) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ তিনি বলেছেন বৈধতা উল্লেখ করা জরুরি নয় এবং তিনি আবদ্ধকর হওয়া উদ্দেশ্য নিয়েছেন। যেহেতু বৈধতা হলো আবদ্ধকর হওয়ার অনুষঙ্গ, তাই এটি অনুষঙ্গ (লাযিম) উল্লেখ করে অনিবার্য বিষয় (মালযুম) উদ্দেশ্য নেওয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি আরও বলেন: এতে আপত্তির অবকাশ আছে; কারণ আমরা স্বীকার করি না যে বৈধতা হলো আবদ্ধকর হওয়ার অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ, যা উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে পরিচিত। তর্কের খাতিরে যদি আমরা মেনেও নেই, তবুও এটি রূপক (মাজায) নয়—উক্তি সমাপ্ত।আমি বলি: স্পষ্টত তার উদ্দেশ্য হলো 'কিন্তু এটি মাজায নয়' কথাটি দ্বারা তার 'মাজায' বলার প্রতিবাদ করা, এই যুক্তিতে যে এটি মাজাযের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং কিনায়াহ (ইঙ্গিত) এর অন্তর্ভুক্ত। এটি আল-কাকি যে মত পোষণ করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে যে, মাজাযের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে মালযুম থেকে লাযিমের দিকে, আর কিনায়াহর ক্ষেত্রে লাযিম থেকে মালযুমের দিকে। তবে এটি কোনো ধর্তব্য বিষয় নয়। প্রথমত এই কারণে যে, 'মাজায' শব্দটি অন্য কোনো ব্যাখ্যাকারের পরিমার্জনে উল্লেখ করা হয়নি এবং উল্লিখিত ব্যাখ্যার সঠিকতা এর ওপর নির্ভরশীল নয়। কারণ মাজায বা কিনায়াহ যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন, তা সঠিক হবে। সুতরাং তার এই প্রতিবাদের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি শব্দ যা তিনি নিজে ওই ব্যাখ্যার বিবরণে অতিরিক্ত যোগ করেছেন। দ্বিতীয়ত এই কারণে যে, গবেষকগণ নিশ্চিত করেছেন যে মাজায এবং কিনায়াহ উভয় ক্ষেত্রেই স্থানান্তর হয় মালযুম থেকে লাযিমের দিকে। তাঁরা আল-কাকির মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, কোনো লাযিম যতক্ষণ না স্বয়ং মালযুম হয়, ততক্ষণ তা থেকে মালযুমের দিকে যাওয়া যায় না। তাঁরা এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যের মূল ভিত্তি বানিয়েছেন শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়ার বৈধতা ও অবৈধতাকে। এমতাবস্থায়, আমাদের এই আলোচ্য বিষয়ে 'যাওয়াজ' (বৈধতা) শব্দটিকে কোনো অসুবিধা ছাড়াই 'লুযুম' (আবদ্ধকর হওয়া) অর্থের মাজায হিসেবে গণ্য করা সম্ভব।অতঃপর ইনায়াহর লেখক বলেন: সঠিক কথা হলো, তার উক্তি—'প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়া বিবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ তার জন্য বৈধ নয়'—আমাদের এই কথারই নামান্তর যে, 'বিবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ আবদ্ধকর (লাযেম) নয়, বরং প্রতিপক্ষ সম্মত হলে কার্যকর হবে নতুবা নয়'। সুতরাং 'বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই'—এ কথা বলার এবং একে মাজায হিসেবে ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই।—উক্তি সমাপ্ত। আমি বলি: বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, এটি নিরর্থক কথা। কারণ, তিনি যদি তার কথা—'প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়া বিবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ নয়'—বলতে আমাদের এই কথা উদ্দেশ্য নেন যে 'বিবাদে প্রতিনিধি নিয়োগ আবদ্ধকর নয়', তবে এর প্রথমটির প্রকৃত অর্থ এবং দ্বিতীয়টির প্রকৃত অর্থ হুবহু এক নয়। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাকীকত বা প্রকৃত অর্থের বিচারে বৈধতা এবং আবদ্ধকর হওয়া ভিন্ন বিষয়। ফলে প্রথমটির নাভাচক অর্থ এবং দ্বিতীয়টির নাভাচক অর্থ নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন। আর তিনি যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেন যে দ্বিতীয়টি প্রথমটি থেকে মাজায বা কিনায়াহ হিসেবে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, তবে 'বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই'—তার এই উক্তিটির কোনো ভিত্তি থাকে না। কারণ শব্দ থেকে সাধারণত তার হাকীকী বা প্রকৃত অর্থই প্রথমে বোধগম্য হয়। ফলে আমাদের এই মাসআলার ক্ষেত্রে পাঠকের মনে এই ধারণা আসতে পারে যে, মতভেদটি হয়তো খোদ বৈধতার বিষয়েই। তাই গ্রন্থকার তা নিরসন করেছেন এই বলে যে, 'বৈধতার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই, মতভেদ কেবল আবদ্ধকর হওয়ার বিষয়ে'। সুতরাং এই বক্তব্যে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আরও জেনে রাখুন যে, গ্রন্থকার (রহ.)-ই প্রথম ব্যক্তি নন যিনি উক্ত মতভেদকে আবদ্ধকর হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন, বরং তাঁর আগে বহু মাশায়েখ এমনটি করেছেন। তাঁদের মধ্যে ইমাম শামসুল আইম্মাহ আস-সারাখসী অন্যতম, তিনি 'শারহু আদাবিল কাযী' গ্রন্থে বলেন: আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়াই প্রতিনিধি নিয়োগ করা সহীহ, তবে প্রতিপক্ষের অধিকার আছে মূল মক্কেলকে নিজে উপস্থিত হয়ে উত্তর দেওয়ার দাবি করার। তাঁদের মধ্যে ইমাম আলাউদ্দীন আল-আলিমও রয়েছেন, তিনি 'তারীকাতুল খিলাফ' গ্রন্থে বলেন: প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ আবদ্ধকর (লাযেম) হিসেবে গণ্য হয় না। আর আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং শাফিঈ (রহ.) বলেন: তা লাযেম বা আবদ্ধকর হিসেবেই গণ্য হয়। 'মুহিতুল বুরহানী' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের মতে প্রতিনিধি নিয়োগ সহীহ ও আবদ্ধকর হওয়ার জন্য প্রতিপক্ষের সম্মতি শর্ত নয়।ইমাম আবু হানিফার মতের ব্যাপারে মাশায়েখগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: তাঁর নিকট প্রতিপক্ষের সম্মতি প্রতিনিধি নিয়োগ সহীহ হওয়ার শর্ত নয় বরং তা আবদ্ধকর হওয়ার শর্ত। আবার কেউ কেউ বলেছেন: না, বরং তাঁর নিকট প্রতিপক্ষের সম্মতি প্রতিনিধি নিয়োগ সহীহ হওয়ারই শর্ত। এই মতভেদের কারণ হলো কিতাবের শব্দাবলির ভিন্নতা। 'শুফআতুল আসল' গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ বাতিল। আবার 'ওয়াকালাতুল আসল' গ্রন্থে উল্লেখ আছে: আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। সঠিক মত হলো এই যে, তাঁর নিকট প্রতিনিধি নিয়োগ সহীহ কিন্তু তা আবদ্ধকর নয়, যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ প্রতিনিধির বিবাদে উপস্থিত হওয়া ও উত্তর প্রদান মেনে নিতে বাধ্য হয়; তবে যদি মক্কেল এমন অসুস্থ হয় যে বিচারকের মজলিসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়, অথবা যদি সে সফর সমপরিমাণ দূরত্বে অবস্থান করে, তবে তাঁর মতেও এটি আবদ্ধকর হবে।—উক্তি সমাপ্ত।অনুরূপভাবে 'যখীরা' গ্রন্থেও উল্লেখ করা হয়েছে। (তাঁদের দুজনের মতে) অর্থাৎ আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে (প্রতিনিধি নিয়োগ করা তার নিছক নিজস্ব অধিকারের মধ্যে হস্তক্ষেপ) অর্থাৎ মক্কেলের একান্ত নিজস্ব অধিকার। এর কারণ হলো, সে তাকে হয় বিবাদের জন্য প্রতিনিধি বানাবে অথবা উত্তর দেওয়ার জন্য, আর এ দুটিই তার একান্ত নিজস্ব অধিকার। বিবাদের বিষয়টি এই কারণে যে, তা হলো দাবি (দাওয়া), আর এটি বাদীর একান্ত নিজস্ব অধিকার, এমনকি তাকে এর জন্য বাধ্য করা যায় না। আর উত্তরের বিষয়টি এই কারণে যে, এটি হয় অস্বীকার নতুবা স্বীকৃতি, আর এর প্রতিটিই বিবাদীর একান্ত নিজস্ব অধিকার। আর যখন বিষয়টি এমন, (তখন তা অন্যের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল হবে না)। ফলে এটি (ঋণ দাবি করা), তা উসুল করা এবং পরিশোধ করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগের মতো হলো। (আর তাঁর মতে) অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে (প্রতিপক্ষের নিকট উত্তর পাওয়া একটি পাওনা হক) অর্থাৎ উত্তর প্রদান করা হলো বাদীর জন্য বিবাদীর ওপর একটি ওয়াজিব হক। (এই কারণেই সে তাকে উপস্থিত করে) অর্থাৎ বাদী প্রতিপক্ষকে বিচারকের মজলিসে উপস্থিত করে তার বিরুদ্ধে কোনো কিছু সাব্যস্ত হওয়ার আগেই, যাতে সে তার দাবির উত্তর প্রদান করে। এই বিষয়ের সারকথা হলো এই যে, প্রতিনিধি নিয়োগ করা মক্কেলের একান্ত নিজস্ব অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, কিন্তু মানুষের নিজস্ব অধিকারে হস্তক্ষেপ তখনই কার্যকর হয় যখন তা অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়। (আর) এখানে বিষয়টি তেমন নয়, কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে (মানুষ
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
مُتَفَاوِتُونَ فِي الْخُصُومَةِ) أَيْ مِنْ جِهَةِ الدَّعْوَى وَالْإِثْبَاتِ، وَمِنْ جِهَةِ الدَّفْعِ وَالْجَوَابِ. فَرُبَّ إنْسَانٍ يُصَوِّرُ الْبَاطِلَ فِي صُورَةِ الْحَقِّ، وَرُبَّ إنْسَانٍ لَا يُمْكِنُهُ تَمْشِيَةُ الْحَقِّ عَلَى وَجْهِهِ، وَقَدْ دَلَّ عَلَيْهِ قَوْلُهُ عليه الصلاة والسلام «إنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إلَيَّ وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَلْحَنُ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ. فَمَنْ قَضَيْت لَهُ بِشَيْءٍ مِنْ مَالِ أَخِيهِ فَلَا يَأْخُذْهُ فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنْ نَارٍ» ذَكَرَهُ فِي أَدَبِ الْقَاضِي وَالْأَسْرَارِ، وَمَعْلُومٌ أَنَّهُ لَا يُوَكَّلُ عَادَةً إلَّا مَنْ هُوَ أَلَدُّ وَأَشَدُّ فِي الْخُصُومَاتِ لِيَغْلِبَ عَلَى الْخَصْمِ (فَلَوْ قُلْنَا بِلُزُومِهِ) أَيْ بِلُزُومِ التَّوْكِيلِ بِالْخُصُومَةِ بِلَا رِضَا الْخَصْمِ (يَتَضَرَّرُ بِهِ) أَيْ يَتَضَرَّرُ الْخَصْمُ بِهِ (فَيَتَوَقَّفُ عَلَى رِضَاهُ) فَصَارَ (كَالْعَبْدِ الْمُشْتَرَكِ إذَا كَاتَبَهُ أَحَدُهُمَا) أَيْ أَحَدُ الشَّرِيكَيْنِ (يَتَخَيَّرُ الْآخَرُ) أَيْ يَتَخَيَّرُ الشَّرِيكُ الْآخَرُ بَيْنَ إمْضَاءِ الْكِتَابَةِ وَفَسْخِهَا، فَكَانَ تَصَرُّفُ أَحَدِهِمَا مُتَوَقِّفًا عَلَى رِضَا الْآخَرِ، وَإِنْ كَانَ تَصَرُّفًا فِي خَالِصِ حَقِّهِ لِمَكَانِ ضَرَرِ شَرِيكِهِ.قَالَ صَاحِبُ النِّهَايَةِ فِي شَرْحِ الدَّلِيلِ الْمَذْكُورِ مِنْ قِبَلِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله: وَمَعْنَى هَذَا الْكَلَامِ أَنَّ الْحُضُورَ وَالْجَوَابَ مُسْتَحَقٌّ عَلَيْهِ بِدَلِيلِ أَنَّ الْقَاضِيَ يَقْطَعُهُ عَنْ أَشْغَالِهِ وَيُحْضِرُهُ لِيُجِيبَ خَصْمَهُ، وَالنَّاسُ يَتَفَاوَتُونَ فِي هَذَا الْجَوَابِ؛ فَرُبَّ إنْكَارٍ يَكُونُ أَشَدَّ دَفْعًا لِلْمُدَّعِي مِنْ إنْكَارٍ. وَالظَّاهِرُ أَنَّ الْمُوَكِّلَ إنَّمَا يَطْلُبُ مِنْ الْوَكِيلِ ذَلِكَ الْأَشَدَّ، فَإِنَّ النَّاسَ إنَّمَا يَقْصِدُونَ بِهَذَا التَّوْكِيلِ أَنْ يَشْتَغِلَ الْوَكِيلُ بِالْحِيَلِ وَالْأَبَاطِيلِ لِيَدْفَعَ حَقَّ الْخَصْمِ عَنْ الْمُوَكِّلِ وَفِيهِ إضْرَارٌ بِالْخَصْمِ، وَأَكْثَرُ مَا فِي هَذَا الْبَابِ أَنْ يَكُونَ تَوْكِيلُهُ بِمَا هُوَ مِنْ خَالِصِ حَقِّهِ، وَلَكِنْ لَمَّا كَانَ يَتَّصِلُ بِهِ ضَرَرٌ بِالْغَيْرِ مِنْ الْوَجْهِ الَّذِي قُلْنَا لَا يُمْلَكُ بِدُونِ رِضَاهُ انْتَهَى. كَلَامُهُ.وَعَلَى هَذَا الْمِنْوَالِ سَبَقَ الدَّلِيلُ الْمَزْبُورُ فِي الْكَافِي وَمِعْرَاجِ الدِّرَايَةِ أَيْضًا. أَقُولُ: فِيهِ نَظَرٌ؛ لِأَنَّ أَصْلَ هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ عَامٌّ لِصُورَةِ التَّوْكِيلِ مِنْ جَانِبِ الْمُدَّعِي، وَلِصُورَةِ التَّوْكِيلِ مِنْ جَانِبِ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ كَمَا أَفْصَحَ عَنْهُ الشُّرَّاحُ قَاطِبَةً فِي صَدْرِ هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ وَصُرِّحَ بِهِ فِي عَامَّةِ كُتُبِ الْفَتَاوَى أَيْضًا. وَفِي تَقْرِيرِ الدَّلِيلِ الْمَزْبُورِ عَلَى الْوَجْهِ الَّذِي ذَكَرَهُ هَؤُلَاءِ الشُّرَّاحِ تَخْصِيصُ ذَلِكَ بِصُورَةِ التَّوْكِيلِ مِنْ جَانِبِ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ كَمَا تَرَى فَكَانَ تَقْصِيرًا مِنْهُمْ لِتَحَمُّلِهِ التَّقْرِيرَ بِوَجْهٍ يَعُمُّ الصُّورَتَيْنِ مَعًا كَمَا ذَكَرْنَاهُ فِي شَرْحِنَا. وَقَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ فِي شَرْحِ هَذَا الْمَقَامِ: وَلِأَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله أَنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّهُ تَصَرُّفٌ فِي خَالِصِ حَقِّهِ، فَإِنَّ الْجَوَابَ مُسْتَحَقٌّ عَلَى الْخَصْمِ وَلِهَذَا يَسْتَحْضِرُهُ فِي مَجْلِسِ الْقَاضِي، وَالْمُسْتَحَقُّ لِلْغَيْرِ لَا يَكُونُ خَالِصًا لَهُ. سَلَّمْنَا خُلُوصَهُ لَهُ لَكِنَّ تَصَرُّفَ الْإِنْسَانِ فِي خَالِصِ حَقِّهِ إنَّمَا يَصِحُّ إذَا لَمْ يَتَضَرَّرْ بِهِ غَيْرُهُ، وَهَا هُنَا لَيْسَ كَذَلِكَ؛ لِأَنَّ النَّاسَ يَتَفَاوَتُونَ فِي الْخُصُومَةِ، فَلَوْ قُلْنَا بِلُزُومِهِ لَتَضَرَّرَ بِهِ فَيَتَوَقَّفُ عَلَى رِضَاهُ انْتَهَى. أَقُولُ: فِيهِ أَيْضًا نَظَرٌ؛ لِأَنَّهُ جَعَلَ مَا ذُكِرَ فِي الْكِتَابِ مِنْ قِبَلِ أَبِي حَنِيفَةَ دَلِيلَيْنِ:أَحَدُهُمَا: مَنْعِيٌّ لِمَا قَالَاهُ، وَالْآخَرُ: تَسْلِيمِيٌّ لَهُ، فَيَرِدُ حِينَئِذٍ عَلَى الدَّلِيلِ الْأَوَّلِ مَا يَرِدُ عَلَى تَقْرِيرِ صَاحِبِ النِّهَايَةِ وَغَيْرِهِ مِنْ كَوْنِ الدَّلِيلِ مَخْصُوصًا بِإِحْدَى صُورَتَيْ الْمَسْأَلَةِ الْعَامَّةِ الْمُدَّعَاةِ تَأَمَّلْ تَقِفُ.فَالْوَجْهُ أَنْ يُجْعَلَ الْمَجْمُوعُ دَلِيلًا وَاحِدًا وَيُقَرَّرَ بِوَجْهٍ يَعُمُّ الصُّورَتَيْنِ مَعًا كَمَا فَعَلْنَاهُ فِي شَرْحِنَا، لَكِنَّ الْإِنْصَافَ أَنَّ تَأْثِيرَ الْمُقَدِّمَةِ الْقَائِلَةِ إنَّ الْجَوَابَ مُسْتَحَقٌّ عَلَى الْخَصْمِ إنَّمَا هُوَ فِي صُورَةِ التَّوْكِيلِ مِنْ جَانِبِ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ كَمَا لَا يَخْفَى عَلَى الْفَطِنِ الْمُتَأَمِّلِ (بِخِلَافِ الْمَرِيضِ وَالْمُسَافِرِ) مُتَّصِلٌ بِقَوْلِهِ إلَّا أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مَرِيضًا أَوْ غَائِبًا، وَالْمُرَادُ بَيَانُ وَجْهِ مُخَالَفَةِ الْمُسْتَثْنَى لِلْمُسْتَثْنَى مِنْهُ وَذَلِكَ (لِأَنَّ الْجَوَابَ غَيْرُ مُسْتَحَقٍّ) أَيْ غَيْرُ وَاجِبٍ (عَلَيْهِمَا) أَيْ عَلَى الْمَرِيضِ وَالْمُسَافِرِ (هُنَالِكَ) أَيْ فِيمَا إذَا كَانَ الْمُوَكِّلُ مَرِيضًا أَوْ مُسَافِرًا لِعَجْزِ الْمَرِيضِ بِالْمَرَضِ وَعَجْزِ الْمُسَافِرِ بِالْغَيْبَةِ، فَلَوْ لَمْ يَسْقُطْ عَنْهُمَا الْجَوَابُ لَزِمَ الْحَرَجُ وَهُوَ مُنْتَفٍ بِالنَّصِّ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} أَقُولُ: هَاهُنَا شَيْءٌ، وَهُوَ أَنَّ مَا ذَكَرَهُ الْمُصَنِّفُ مِنْ الْفَرْقِ إنَّمَا يَنْفُذُ فِي صُورَةِ إنْ كَانَ التَّوْكِيلُ مِنْ جَانِبِ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ، وَأَمَّا فِي صُورَةِ إنْ كَانَ مِنْ جَانِبِ الْمُدَّعِي فَلَا؛ لِأَنَّ الْجَوَابَ غَيْرُ مُسْتَحَقٍّ عَلَى الْمُدَّعِي سَوَاءٌ كَانَ صَحِيحًا مُقِيمًا أَوْ مَرِيضًا مُسَافِرًا، فَإِنَّ الْجَوَابَ إنَّمَا يَجِبُ عَلَى مَنْ يُجْبَرُ عَلَى الْخُصُومَةِ لَا عَلَى مَنْ لَا يُجْبَرُ عَلَيْهَا، مَعَ أَنَّ الْمَسْأَلَةَ عَامَّةٌ لِلصُّورَتَيْنِ مَعًا كَمَا تَحَقَّقْته، فَكَانَ يَنْبَغِي أَنْ يُزَادَ عَلَيْهِ أَنْ يُقَالَ: إنَّ تَوَقُّعَ الضَّرَرِ اللَّازِمِ بِالْمَرَضِ وَالسَّفَرِ مِنْ الْمَوْتِ وَآفَاتِ التَّأْخِيرِ أَشَدُّ مِنْ الضَّرَرِ اللَّازِمِ بِتَفَاوُتِ النَّاسِ فِي الْخُصُومَةِ فَيُتَحَمَّلُ الْأَدْنَى دُونَ الْأَعْلَى.وَفِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ: وَأَجْمَعُوا عَلَى أَنَّ الْمُوَكِّلَ لَوْ كَانَ غَائِبًا أَدْنَى مُدَّةِ السَّفَرِ أَوْ كَانَ مَرِيضًا فِي الْمِصْرِ لَا يَقْدِرُ أَنْ يَمْشِيَ عَلَى قَدَمَيْهِ إلَى بَابِ الْقَاضِي كَانَ لَهُ أَنْ يُوَكِّلَ مُدَّعِيًا كَانَ أَوْ مُدَّعًى عَلَيْهِ، وَإِنْ كَانَ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَمْشِيَ عَلَى قَدَمَيْهِ وَلَكِنَّهُ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَمْشِيَ عَلَى ظَهْرِ دَابَّةٍ أَوْ ظَهْرِ إنْسَانٍ، فَإِنْ ازْدَادَ مَرَضُهُ بِذَلِكَ صَحَّ التَّوْكِيلُ، وَإِنْ كَانَ لَا يَزْدَادُ اخْتَلَفُوا فِيهِ، قَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ عَلَى الْخِلَافِ أَيْضًا، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَهُ أَنْ يُوَكِّلَ وَهُوَ الصَّحِيحُ انْتَهَى (ثُمَّ كَمَا يَلْزَمُ التَّوْكِيلُ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(মানুষ বিবাদ-তর্কে পরস্পর ভিন্ন পর্যায়ের হয়ে থাকে) অর্থাৎ দাবি ও প্রমাণের দিক থেকে এবং খণ্ডন ও জবাবের দিক থেকে। কারণ, অনেক সময় কোনো মানুষ বাতিলকে হকের রূপে উপস্থাপন করে, আবার অনেক সময় কোনো মানুষ হককে তার সঠিক রূপে পরিচালনা করতে সক্ষম হয় না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী এর ওপর প্রমাণ পেশ করে: "তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো, সম্ভবত তোমাদের কেউ কেউ অন্যের তুলনায় তার দলীল উপস্থাপনে অধিক পটু। সুতরাং আমি যদি তাকে তার ভাইয়ের সম্পদের কোনো অংশ প্রদানের ফয়সালা করে দিই, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে; কারণ আমি তার জন্য আগুনের একটি টুকরোই কেটে দিচ্ছি।" এটি 'আদাবুল কাজী' ও 'আল-আসরার' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি জানাই আছে যে, সাধারণত তাকেই প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় যে বিবাদ-তর্কে অধিক কঠোর ও কটুভাষী, যাতে সে প্রতিপক্ষের ওপর জয়ী হতে পারে। (সুতরাং আমরা যদি একে বাধ্যতামূলক বলি) অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়াই বিবাদের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগকে কার্যকর বলি, (তবে প্রতিপক্ষ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে)। (ফলে এটি তার মর্জির ওপর স্থগিত থাকবে)। সুতরাং এটি (সেই অংশীদারী দাসের মতো হলো যখন তাদের একজন তাকে কিতাবত বা মুক্তিচুক্তি করে দেয়), অর্থাৎ দুই অংশীদারের একজন, (তবে অন্যজন ইখতিয়ার বা সুযোগ লাভ করবে), অর্থাৎ অপর অংশীদার কিতাবত কার্যকর করা বা বাতিল করার মধ্যে ইখতিয়ার লাভ করবে। সুতরাং তাদের একজনের পদক্ষেপ অপরের মর্জির ওপর স্থগিত থাকল, যদিও সেটি তার একান্ত নিজস্ব অধিকারের ক্ষেত্রে ছিল, তবুও তার অংশীদারের ক্ষতির আশঙ্কার কারণে এমনটি হয়েছে।নিহায়া গ্রন্থকার ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর উল্লিখিত দলীলের ব্যাখ্যায় বলেন: "এই কথার মর্ম হলো, উপস্থিতি ও জবাব প্রদান তার ওপর অর্পিত একটি পাওনা, যার প্রমাণ হলো বিচারক তাকে তার কাজ থেকে বিরত করেন এবং প্রতিপক্ষের জবাব দেওয়ার জন্য তাকে উপস্থিত করেন। আর মানুষ এই জবাব প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। অনেক সময় কোনো অস্বীকারকারীর অস্বীকার করা দাবিদারের জন্য অন্য কারো অস্বীকারের চেয়ে অধিক জোরালো বাধার কারণ হয়। আর এটি স্পষ্ট যে, মক্কেল বা প্রতিনিধি নিয়োগকারী প্রতিনিধির কাছ থেকে সেই কঠোরতাটুকুই কামনা করে। কারণ মানুষ এই প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে এই উদ্দেশ্যই রাখে যে, প্রতিনিধি যেন বিভিন্ন কৌশল ও অনর্থক কথার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের হককে মক্কেলের কাছ থেকে সরিয়ে দেয়, আর এতে প্রতিপক্ষের ক্ষতি সাধন হয়। এই অধ্যায়ের সারকথা হলো, তার প্রতিনিধি নিয়োগ যদিও তার একান্ত নিজস্ব অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু যেহেতু এতে আমরা যেভাবে বললাম সেভাবে অন্যের ক্ষতি জড়িত হচ্ছে, তাই প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়া সে এর মালিক হবে না।" তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।এই পদ্ধতিতেই 'কাফী' এবং 'মি'রাজুদ দিরায়া' গ্রন্থেও উক্ত দলীল বর্ণিত হয়েছে। আমি বলছি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ এই মাসআলার মূল ভিত্তি দাবিদার (মুদদাঈ) এবং যার বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে (মুদদাআ আলাইহি)—উভয় পক্ষের প্রতিনিধি নিয়োগের সুরতকেই শামিল করে, যেমনটি সকল ব্যাখ্যাকার এই মাসআলার শুরুতে স্পষ্টভাবে বলেছেন এবং ফাতাওয়া গ্রন্থসমূহেও এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর এই ব্যাখ্যাকারগণ যেভাবে দলীলটি উপস্থাপন করেছেন, তাতে এটি কেবল 'বিবাদী' বা 'যার বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে' তার সুরতের সাথে নির্দিষ্ট হয়ে যায়, যেমনটি আপনি দেখছেন। সুতরাং এটি তাদের পক্ষ থেকে এক প্রকার অসম্পূর্ণতা ছিল; কারণ এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল যা উভয় সুরতকেই শামিল করে, যেমনটি আমরা আমাদের ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। 'ইনায়াহ' গ্রন্থকার এই স্থানের ব্যাখ্যায় বলেন: ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর পক্ষ থেকে যুক্তি হলো—আমরা এটি স্বীকার করি না যে এটি তার একান্ত নিজস্ব অধিকারের কোনো পদক্ষেপ। কারণ জবাব দেওয়া প্রতিপক্ষের ওপর একটি পাওনা, আর এই কারণেই বিচারক তাকে বিচারালয়ে উপস্থিত করেন; আর অন্যের প্রাপ্য হক কারো একান্ত নিজস্ব বিষয় হতে পারে না। আমরা যদি মেনেও নিই যে এটি তার একান্ত নিজস্ব বিষয়, তবুও মানুষের নিজ অধিকারের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ তখনই সঠিক হয় যখন তার দ্বারা অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অথচ এখানে বিষয়টি তেমন নয়; কারণ মানুষ বিবাদ-তর্কে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের হয়। সুতরাং আমরা যদি এটি বাধ্যতামূলক বলি, তবে এর দ্বারা প্রতিপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ফলে এটি তার মর্জির ওপর স্থগিত থাকবে। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। আমি বলছি: এখানেও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ তিনি কিতাবে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর পক্ষ থেকে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেটিকে দুটি দলীল হিসেবে গণ্য করেছেন:প্রথমটি: যা তাঁরা (সাহেবাইন) বলেছেন তা অস্বীকার করা। আর দ্বিতীয়টি: তা মেনে নিয়ে যুক্তি দেওয়া। এমতাবস্থায় প্রথম দলীলের ওপর সেই আপত্তিই আসবে যা নিহায়া গ্রন্থকার ও অন্যদের বর্ণনার ওপর এসেছিল, অর্থাৎ দলীলটি দাবিকৃত সাধারণ মাসআলার দুটি সুরতের মধ্যে একটির সাথে নির্দিষ্ট হয়ে যাওয়া। গভীরভাবে চিন্তা করলে আপনি এটি বুঝতে পারবেন।সুতরাং সঠিক পথ হলো পুরো বিষয়টিকে একটি দলীল হিসেবে গণ্য করা এবং এমনভাবে উপস্থাপন করা যা উভয় সুরতকেই শামিল করে, যেমনটি আমরা আমাদের ব্যাখ্যায় করেছি। তবে ইনসাফের কথা হলো, 'প্রতিপক্ষের ওপর জবাব দেওয়া পাওনা বা ওয়াজিব'—এই ভূমিকার প্রভাব কেবল বিবাদীর (মুদদাআ আলাইহি) পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগের সুরতেই খাটে, যা একজন মনোযোগী বুদ্ধিমানের কাছে গোপন নয়। (অসুস্থ এবং মুসাফিরের বিষয়টি এর বিপরীত) এটি লেখকের এই কথার সাথে যুক্ত যে—"তবে যদি প্রতিনিধি নিয়োগকারী অসুস্থ বা অনুপস্থিত হয়"। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যতিক্রমকৃত বিষয়ের সাথে মূল বিষয়ের পার্থক্যের দিকটি স্পষ্ট করা। আর তা হলো (কারণ জবাব দেওয়া পাওনা নয়) অর্থাৎ ওয়াজিব নয় (তাদের দুজনের ওপর) অর্থাৎ অসুস্থ ও মুসাফিরের ওপর (সে ক্ষেত্রে), অর্থাৎ যখন প্রতিনিধি নিয়োগকারী অসুস্থ বা মুসাফির হয়। অসুস্থ ব্যক্তি তার অসুস্থতার কারণে এবং মুসাফির তার অনুপস্থিতির কারণে অপারগ। সুতরাং তাদের ওপর থেকে যদি জবাব দেওয়ার আবশ্যকতা না উঠত, তবে সংকীর্ণতা বা কষ্টের সৃষ্টি হতো, যা কুরআনের নস দ্বারা অপসারিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি}। আমি বলছি: এখানে একটি বিষয় আছে, আর তা হলো—মুসান্নিফ (লেখক) যে পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন তা কেবল বিবাদীর (মুদদাআ আলাইহি) পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর দাবিদারের (মুদদাঈ) পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে তা নয়; কারণ দাবিদারের ওপর জবাব দেওয়া পাওনা নয়, সে সুস্থ ও মুকীম হোক বা অসুস্থ ও মুসাফির। কারণ জবাব কেবল তার ওপরই ওয়াজিব হয় যাকে বিবাদে বাধ্য করা হয়, তার ওপর নয় যাকে বিবাদে বাধ্য করা যায় না। অথচ মাসআলাটি উভয় সুরতকেই শামিল করে যেমনটি আপনি নিশ্চিত হয়েছেন। সুতরাং এখানে অতিরিক্ত এটি বলা উচিত ছিল যে: অসুস্থতা ও সফরের কারণে মৃত্যুভয় বা বিলম্বের কারণে যে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তা মানুষের বিবাদ-তর্কে পারদর্শিতার পার্থক্যের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি। সুতরাং বৃহত্তর ক্ষতি এড়াতে ক্ষুদ্রতর ক্ষতি মেনে নেওয়া হয়েছে।'ফাতাওয়া কাজী খান'-এ আছে: "ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, প্রতিনিধি নিয়োগকারী যদি সফর সমপরিমাণ দূরত্বের চেয়ে কম দূরত্বেও অনুপস্থিত থাকে অথবা শহরে অসুস্থ থাকে এমতাবস্থায় যে সে পায়ে হেঁটে বিচারকের দরজা পর্যন্ত যেতে সক্ষম নয়, তবে সে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে—চাই সে দাবিদার হোক বা বিবাদী। আর যদি সে পায়ে হেঁটে যেতে সক্ষম না হয় কিন্তু কোনো পশুর পিঠে চড়ে বা মানুষের কাঁধে চড়ে যেতে সক্ষম হয়, তবে এমতাবস্থায় যদি তাতে তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পায় তবে প্রতিনিধি নিয়োগ সহীহ হবে। আর যদি অসুস্থতা বৃদ্ধি না পায় তবে এ ব্যাপারে ওলামাগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন: এটিও মতভেদের ওপরই থাকবে, আবার কেউ বলেছেন: সে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে এবং এটিই বিশুদ্ধ।" তাঁর কথা সমাপ্ত। (অতঃপর প্রতিনিধি নিয়োগ যেভাবে আবশ্যক হয়
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
عِنْدَهُ) أَيْ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ (مِنْ الْمُسَافِرِ يَلْزَمُ إذَا أَرَادَ السَّفَرَ لِتَحَقُّقِ الضَّرُورَةِ) إذْ لَوْ لَمْ يَلْزَمْ يَلْحَقُهُ الْحَرَجُ بِالِانْقِطَاعِ عَنْ مَصَالِحِهِ. وَفِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ: وَكَمَا يَجُوزُ لِلْمُسَافِرِ أَدْنَى مُدَّةِ السَّفَرِ أَنْ يُوَكِّلَ بِغَيْرِ رِضَا الْخَصْمِ يَجُوزُ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ إلَى السَّفَرِ لَكِنْ لَا يُصَدَّقُ أَنَّهُ يُرِيدُ السَّفَرَ، وَلَكِنَّ الْقَاضِيَ يَنْظُرُ إلَى زِيِّهِ وَعِدَّةِ سَفَرِهِ أَوْ يَسْأَلُ عَمَّنْ يُرِيدُ أَنْ يَخْرُجَ مَعَهُ فَيَسْأَلُ عَنْ رُفَقَائِهِ كَمَا فِي فَسْخِ الْإِجَارَةِ انْتَهَى (وَلَوْ كَانَتْ الْمَرْأَةُ مُخَدَّرَةً) اخْتَلَفَتْ عِبَارَاتُ الْمَشَايِخِ فِي تَفْسِيرِ الْمُخَدَّرَةِ؛ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هِيَ الَّتِي لَمْ تَجْرِ عَادَتُهَا بِالْبُرُوزِ وَحُضُورِ الْمَجْلِسِ الْقَاضِي. وَقَالَ الْإِمَامُ الْبَزْدَوِيُّ: هِيَ الَّتِي لَا يَرَاهَا غَيْرُ الْمَحَارِمِ، وَأَمَّا الَّتِي جَلَسَتْ عَلَى الْمِنَصَّةِ فَرَآهَا الْأَجَانِبُ لَا تَكُونُ مُخَدَّرَةً، فَاخْتَارَ الْمُصَنِّفُ التَّفْسِيرَ الْأَوَّلَ حَيْثُ قَالَ (لَمْ تَجْرِ عَادَتُهَا بِالْبُرُوزِ وَحُضُورِ مَجْلِسِ الْحَاكِمِ) فَإِنَّ هَذَا صِفَةٌ كَاشِفَةٌ لِمُخَدَّرَةٍ جَارِيَةٍ مَجْرَى التَّفْسِيرِ لَهَا (قَالَ الرَّازِيّ) أَرَادَ بِهِ الْإِمَامَ أَبَا بَكْرٍ الْجَصَّاصَ أَحْمَدَ بْنَ عَلِيٍّ الرَّازِيّ صَاحِبَ التَّصَانِيفِ الْكَثِيرَةِ فِي الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ وَأَحْكَامِ الْقُرْآنِ، وَإِلَيْهِ انْتَهَتْ رِيَاسَةُ أَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ بِبَغْدَادَ بَعْدَ الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ الْكَرْخِيِّ، وَكَانَتْ وِلَادَتُهُ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلَثِمِائَةٍ وَمَاتَ سَنَةَ سَبْعِينَ وَثَلَثِمِائَةٍ (يَلْزَمُ التَّوْكِيلُ) أَيْ يَلْزَمُ التَّوْكِيلُ مِنْهَا بِلَا رِضَا الْخَصْمِ وَبِدُونِ عُذْرِ الْمَرَضِ وَالسَّفَرِ (لِأَنَّهَا لَوْ حَضَرَتْ لَا يُمْكِنُهَا أَنْ تَنْطِقَ بِحَقِّهَا لِحَيَائِهَا فَيَلْزَمُ تَوْكِيلُهَا) دَفْعًا لِلْحَرَجِ، فَلَوْ وَكَّلَتْ بِالْخُصُومَةِ فَوَجَبَ عَلَيْهَا الْيَمِينُ وَهِيَ لَا تُعْرَفُ بِالْخُرُوجِ وَمُخَالَطَةِ الرِّجَالِ فِي الْحَوَائِجِ يَبْعَثُ إلَيْهَا الْحَاكِمُ ثَلَاثَةً مِنْ الْعُدُولِ يَسْتَحْلِفُهَا أَحَدُهُمْ وَيَشْهَدُ الْآخَرَانِ عَلَى حَلِفِهَا، وَكَذَا فِي الْمَرِيضَةِ إذَا وَجَبَ عَلَيْهَا يَمِينٌ؛ لِأَنَّ النِّيَابَةَ لَا تَجْرِي فِي الْأَيْمَانِ، هَكَذَا ذَكَرَ الصَّدْرُ الشَّهِيدُ فِي أَدَبِ الْقَاضِي، وَذَكَرَ فِيهِ وَإِنْ كَانَ يَبْعَثُ إلَى الْمُخَدَّرَةِ وَالْمَرِيضَةِ أَوْ إلَى الْمَرِيضِ خَلِيفَةً فَيَفْصِلُ الْخُصُومَةَ هُنَالِكَ يَجُوزُ؛ لِأَنَّ مَجْلِسَ الْخَلِيفَةِ كَمَجْلِسِهِ كَذَا فِي مِعْرَاجِ الدِّرَايَةِ وَغَيْرِهِ (قَالَ رضي الله عنه) أَيْ قَالَ الْمُصَنِّفُ (وَهَذَا) أَيْ مَا قَالَهُ الرَّازِيّ (شَيْءٌ اسْتَحْسَنَهُ الْمُتَأَخِّرُونَ) وَفِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ: وَيَجُوزُ لِلْمَرْأَةِ الْمُخَدَّرَةِ أَنْ تُوَكِّلَ وَهِيَ الَّتِي لَمْ تُخَالِطْ الرِّجَالَ بِكْرًا كَانَتْ أَوْ ثَيِّبًا، كَذَا ذَكَرَهُ أَبُو بَكْرٍ الرَّازِيّ. وَقَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْمَعْرُوفُ بِخُوَاهَرْ زَادَهْ: ظَاهِرُ الْمَذْهَبِ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهَا عَلَى الِاخْتِلَافِ أَيْضًا، وَعَامَّةُ الْمَشَايِخِ أَخَذُوا بِمَا ذَكَرَهُ أَبُو بَكْرٍ الرَّازِيّ وَعَلَيْهِ الْفَتْوَى انْتَهَى (قَالَ) أَيْ الْقُدُورِيُّ فِي مُخْتَصَرِهِ (وَمِنْ شَرْطِ الْوَكَالَةِ أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مِمَّنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ) قِيلَ هَذَا عَلَى قَوْلِ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ، فَأَمَّا عَلَى قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ فَالشَّرْطُ أَنْ يَكُونَ التَّوْكِيلُ حَاصِلًا بِمَا يَمْلِكُهُ الْوَكِيلُ، فَأَمَّا كَوْنُ الْمُوَكِّلِ مَالِكًا لِلتَّصَرُّفِ فَلَيْسَ بِشَرْطٍ حَتَّى يَجُوزَ عِنْدَهُ تَوْكِيلُ الْمُسْلِمِ الذِّمِّيَّ بِشِرَاءِ الْخَمْرِ وَالْخِنْزِيرِ وَتَوْكِيلُ الْمُحْرِمِ الْحَلَالَ بِبَيْعِ الصَّيْدِ.وَقِيلَ الْمُرَادُ بِهِ أَنْ يَكُونَ مَالِكًا لِلتَّصَرُّفِ نَظَرًا إلَى أَصْلِ التَّصَرُّفِ وَإِنْ امْتَنَعَ لِعَارِضٍ، وَبَيْعُ الْخَمْرِ يَجُوزُ لِلْمُسْلِمِ فِي الْأَصْلِ، وَإِنَّمَا امْتَنَعَ بِعَارِضِ النَّهْيِ، كَذَا فِي الْكَافِي وَالْكِفَايَةِ وَالتَّبْيِينِ. قَالَ صَاحِبُ النِّهَايَةِ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ مِمَّنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ: أَيْ مِمَّنْ يَمْلِكُ ذَلِكَ التَّصَرُّفَ الَّذِي وَكَّلَ الْوَكِيلَ بِهِ، وَقَالَ: قَدْ ذَكَرْنَا فِي أَوَائِلِ كِتَابِ الْوَكَالَةِ مِنْ رِوَايَةِ الذَّخِيرَةِ أَنَّ هَذَا الْقَيْدَ وَقَعَ عَلَى قَوْلِ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ. وَأَمَّا عَلَى قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ فَمِنْ شَرْطِ الْوَكَالَةِ كَوْنُ التَّوْكِيلِ حَاصِلًا بِمَا يَمْلِكُهُ الْوَكِيلُ، فَأَمَّا كَوْنُ الْمُوَكِّلِ مَالِكًا لِذَلِكَ التَّصَرُّفِ الَّذِي وَكَّلَ الْوَكِيلَ بِهِ فَلَيْسَ بِشَرْطٍ، ثُمَّ قَالَ: فَإِنْ قُلْت: يُشْكِلُ عَلَى مَا ذَكَرْنَاهُ فِي الْكِتَابِ مَا ذَكَرَهُ فِي الذَّخِيرَةِ بِقَوْلِهِ وَإِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِغَيْرِهِ خُذْ عَبْدِي هَذَا وَبِعْهُ بِعَبْدٍ أَوْ قَالَ اشْتَرِ لِي بِهِ عَبْدًا صَحَّ التَّوْكِيلُ بِهَذَا، وَإِنْ لَمْ يَصِحَّ مُبَاشَرَةُ الْمُوَكِّلِ فِي مِثْلِ هَذَا التَّصَرُّفِ، فَإِنَّ مَنْ قَالَ لِغَيْرِهِ بِعْتُك هَذَا الْعَبْدَ بِعَبْدٍ أَوْ قَالَ اشْتَرَيْت مِنْك بِهَذَا الْعَبْدِ عَبْدًا لَا يَجُوزُ. قُلْت: إنَّمَا جَازَ ذَلِكَ فِي التَّوْكِيلِ بِهَذَا وَلَمْ يَجُزْ فِي مُبَاشَرَةِ نَفْسِهِ لِوُجُودِ الْمَعْنَى الْفَارِقِ بَيْنَهُمَا وَهُوَ أَنَّ الْجَهَالَةَ إنَّمَا تَمْنَعُ عَنْ الْجَوَازِ لِإِفْضَائِهَا إلَى الْمُنَازَعَةِ.وَأَمَّا إذَا لَمْ تُؤَدِّ إلَيْهَا فَلَا تَمْنَعُ كَمَا فِي بَيْعِ قَفِيزٍ مِنْ صُبْرَةِ طَعَامٍ أَوْ شِرَائِهِ ثُمَّ جَهَالَةُ الْوَصْفِ فِي التَّوْكِيلِ لَا تُفْضِي إلَى الْمُنَازَعَةِ؛ لِأَنَّ التَّوْكِيلَ لَيْسَ بِأَمْرٍ لَازِمٍ، وَلَا كَذَلِكَ الْمُبَاشَرَةُ؛ لِأَنَّهَا لَازِمَةٌ فَتُفْضِي إلَى الْمُنَازَعَةِ، وَالْمَانِعُ مِنْ الصِّحَّةِ الْمُنَازَعَةُ لَا نَفْسُ الْجَهَالَةِ انْتَهَى كَلَامُهُ. أَقُولُ: فِي جَوَابِهِ بَحْثٌ؛ لِأَنَّ الْفَارِقَ الْمَذْكُورَ فِيهِ إنَّمَا أَفَادَ كَمِّيَّةَ صِحَّةِ التَّوْكِيلِ فِي مَسْأَلَةِ الذَّخِيرَةِ وَعَدَمِ صِحَّةِ الْمُبَاشَرَةِ بِنَفْسِهِ فِي مِثْلِهَا، وَهَذَا الْقَدْرُ لَا يَدْفَعُ السُّؤَالَ الْمَذْكُورَ بَلْ يُقَوِّيهِ؛ لِأَنَّهُ حَاصِلُهُ أَنَّ مَا ذُكِرَ فِي الْكِتَابِ مِنْ شَرْطِ الْوَكَالَةِ غَيْرُ مُتَحَقِّقٍ فِي مَسْأَلَةِ الذَّخِيرَةِ مَعَ تَحَقُّقِ الْمَشْرُوطِ فِيهَا. وَالْفَارِقُ الْمَذْكُورُ يُقَرِّرُ هَذَا الْمَعْنَى كَمَا لَا يَخْفَى. وَقَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: قَالَ صَاحِبُ النِّهَايَةِ: إنَّ هَذَا الْقَيْدَ وَقَعَ عَلَى قَوْلِ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ. وَأَمَّا عَلَى قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ فَمِنْ شَرْطِهَا أَنْ يَكُونَ الْوَكِيلُ مِمَّنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ؛ لِأَنَّ الْمُسْلِمَ لَا يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ فِي الْخَمْرِ، وَلَوْ وَكَّلَ بِهِ جَازَ عِنْدَهُ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
তার (অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফার) নিকট মুসাফিরের পক্ষ থেকে (প্রতিনিধি নিয়োগ) আবশ্যক হয়ে যায় যখন সে সফরের সংকল্প করে, কারণ তখন প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়। কেননা যদি এটি আবশ্যক না হয়, তবে সে তার প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করতে না পেরে সংকটের সম্মুখীন হবে। ফাতাওয়া কাজিখানে বর্ণিত হয়েছে: সফরের সর্বনিম্ন দূরত্বের উদ্দেশ্যে গমনকারী মুসাফিরের জন্য যেমন প্রতিপক্ষের সম্মতি ছাড়াই প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ, তেমনিভাবে যে ব্যক্তি সফরের ইচ্ছা করেছে তার জন্যও তা জায়েজ। তবে তার সফরের নিছক দাবি বিশ্বাস করা হবে না; বরং বিচারক (কাজি) তার পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সফরের আসবাবপত্রের দিকে লক্ষ করবেন অথবা সে কার সাথে সফরে যেতে চায় সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং তার সফরসঙ্গীদের সম্পর্কে খোঁজ নেবেন, যেমনটি ইজারা বা ভাড়া চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে করা হয়। সমাপ্ত। (যদি নারী পর্দাশীল হয়) ‘মুখাদ্দারা’ বা পর্দাশীল নারীর সংজ্ঞায় মাশায়েখদের বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: মুখাদ্দারা হলেন সেই নারী, যার জনসম্মুখে আসা এবং বিচারকের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার অভ্যাস নেই। ইমাম পজদভী বলেছেন: তিনি হলেন সেই নারী, যাকে মাহরাম (রক্ত সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়) ব্যতীত অন্য কেউ দেখে না। পক্ষান্তরে যে নারী উচ্চাসনে বসেন এবং পরপুরুষরা তাকে দেখে, তিনি মুখাদ্দারা হিসেবে গণ্য হবেন না। গ্রন্থকার (মুসান্নিফ) প্রথম সংজ্ঞাটিই গ্রহণ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন (যার জনসম্মুখে আসা এবং বিচারকের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার অভ্যাস নেই)। কারণ এটি মুখাদ্দারা বা পর্দাশীল নারীর এমন একটি গুণ যা তার সংজ্ঞার স্থলাভিষিক্ত। (রাজি বলেছেন) এর দ্বারা তিনি ইমাম আবু বকর আল-জাসসাস আহমদ ইবনে আলী আর-রাজিকে বুঝিয়েছেন, যিনি উসুল, ফুরু এবং আহকামুল কুরআন বিষয়ে বহু গ্রন্থের রচয়িতা। শায়খ আবু হাসান আল-কারখীর পর বাগদাদে ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের নেতৃত্ব তার কাছেই এসে শেষ হয়েছিল। তার জন্ম হয়েছিল তিনশ পাঁচ হিজরিতে এবং মৃত্যু হয়েছিল তিনশ সত্তর হিজরিতে। (প্রতিনিধি নিয়োগ করা আবশ্যক হয়) অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সন্তুষ্টি এবং অসুস্থতা বা সফরের ওজর ছাড়াই তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা আবশ্যক হয়। (কেননা তিনি যদি উপস্থিত হন, তবে লজ্জার কারণে নিজের হকের কথা বলতে পারবেন না, তাই তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ আবশ্যক) যাতে তার সংকট দূর হয়। সুতরাং তিনি যদি মামলার বিষয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করেন এবং তার ওপর কসম করা ওয়াজিব হয়, অথচ তিনি বাইরে বের হওয়া এবং প্রয়োজন মেটাতে পুরুষদের সাথে মেলামেশায় পরিচিত নন, তবে বিচারক তার কাছে তিনজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি পাঠাবেন; তাদের একজন তাকে কসম করাবেন এবং অপর দুজন তার কসমের সাক্ষ্য দেবেন। একইভাবে অসুস্থ নারীর ক্ষেত্রেও যদি তার ওপর কসম ওয়াজিব হয়, তবে অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে; কারণ কসমের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব চলে না। সদরুশ শহীদ ‘আদাবুল কাজি’ গ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে আরও উল্লেখ করেছেন যে, যদি পর্দাশীল নারী, অসুস্থ নারী বা অসুস্থ পুরুষের কাছে বিচারক কোনো প্রতিনিধি পাঠান এবং সেখানে মামলার ফয়সালা করা হয়, তবে তা জায়েজ হবে। কারণ বিচারকের প্রতিনিধির মজলিস বিচারকের মজলিসের মতোই গণ্য। ‘মিরাজুদ দিরায়া’ এবং অন্যান্য গ্রন্থে এমনই রয়েছে। (তিনি [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বলেছেন) অর্থাৎ গ্রন্থকার বলেছেন (এটি) অর্থাৎ রাজি যা বলেছেন (এমন একটি বিষয় যা পরবর্তী ওলামায়ে কেরাম উত্তম মনে করেছেন)। ফাতাওয়া কাজিখানে বর্ণিত হয়েছে: পর্দাশীল নারীর জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ, আর তিনি হলেন সেই নারী যিনি পুরুষদের সাথে মেলামেশা করেন না, তিনি কুমারী হন বা বিবাহিতা—এমনটিই আবু বকর রাজি উল্লেখ করেছেন। শায়খ ইমাম ‘খাওয়াহের জাদাহ’ নামে পরিচিত আলেম বলেছেন: ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত মাযহাবের প্রকাশ্য বর্ণনা (জাহিরুর রেওয়ায়াত) হলো যে, এটিও মতভেদের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাধারণ মাশায়েখগণ আবু বকর রাজি যা উল্লেখ করেছেন তা-ই গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপরই ফতোয়া। সমাপ্ত। (তিনি বলেছেন) অর্থাৎ কুদুরী তার ‘মুখতাসার’ গ্রন্থে বলেছেন (ওকালতের শর্তের অন্তর্ভুক্ত হলো মুয়াক্কিল বা প্রতিনিধি নিয়োগকারীকে এমন হতে হবে যার কার্যে হস্তক্ষেপ বা লেনদেন করার অধিকার রয়েছে)। বলা হয়েছে যে, এটি ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মাদের অভিমত। আর ইমাম আবু হানিফার মতে শর্ত হলো—ওকালত বা প্রতিনিধি নিয়োগ এমন বিষয়ে হতে হবে যা করার ক্ষমতা প্রতিনিধির (ওয়াকিল) রয়েছে। মুয়াক্কিলের কার্যে হস্তক্ষেপের অধিকার থাকা শর্ত নয়, এমনকি তার নিকট জনৈক মুসলিম ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো জিম্মিকে মদ ও শুকর ক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা এবং ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইহরামমুক্ত ব্যক্তিকে শিকার করা জন্তু বিক্রির জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ।আরও বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো মূল কার্যে হস্তক্ষেপের অধিকার থাকা, যদিও কোনো আপতিক কারণে তা নিষিদ্ধ হয়। যেমন মদ বিক্রি করা মূলত একজন মুসলিমের জন্য সম্ভব, তবে তা নিষিদ্ধ হয়েছে ‘নাহি’ বা নিষেধাজ্ঞার কারণে। ‘আল-কাফি’, ‘আল-কিফায়া’ এবং ‘আত-তাবয়ীন’ গ্রন্থে এমনই রয়েছে। ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থের লেখক ‘যার কার্যে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে’—এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ মুয়াক্কিল যে কার্যের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করছে, সেই নির্দিষ্ট কার্যটি করার অধিকার তার থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন: আমরা ওকালত অধ্যায়ের শুরুতে ‘আয-যাখিরা’ এর বর্ণনা থেকে উল্লেখ করেছি যে, এই শর্তটি ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মাদের অভিমত অনুযায়ী। আর ইমাম আবু হানিফার মতে, ওকালতের শর্ত হলো প্রতিনিধি নিয়োগ এমন বিষয়ে হতে হবে যা করার ক্ষমতা প্রতিনিধির রয়েছে। পক্ষান্তরে মুয়াক্কিলের সেই কার্যে হস্তক্ষেপের অধিকার থাকা শর্ত নয় যার জন্য সে প্রতিনিধি নিয়োগ করছে। অতঃপর তিনি বলেন: যদি আপনি বলেন যে, আমরা কিতাবে যা উল্লেখ করেছি তার সাথে আয-যাখিরায় বর্ণিত মাসআলাটির অসংগতি দেখা দেয়, যেখানে বলা হয়েছে: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে, ‘আমার এই গোলামটি ধরো এবং একে একটি গোলামের বিনিময়ে বিক্রি করো’ অথবা বলল, ‘এর বিনিময়ে আমার জন্য একটি গোলাম ক্রয় করো’, তবে এই ওকালত সহিহ হবে, যদিও মুয়াক্কিল নিজে সরাসরি এই ধরনের লেনদেন করতে সক্ষম নয়। কারণ কেউ যদি অন্যকে বলে, ‘আমি তোমার কাছে এই গোলামটি একটি গোলামের বিনিময়ে বিক্রি করলাম’ অথবা বলল, ‘আমি তোমার কাছ থেকে এই গোলামের বিনিময়ে একটি গোলাম ক্রয় করলাম’, তবে তা জায়েজ হয় না। আমি বলব: এটি প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জায়েজ হয়েছে কিন্তু নিজে সরাসরি করার ক্ষেত্রে জায়েজ হয়নি তাদের উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যমূলক অর্থের কারণে; আর তা হলো—অজ্ঞতা বা অস্পষ্টতা (জাহালাত) তখনই কেবল বৈধতায় বাধা দেয় যখন তা বিবাদের দিকে নিয়ে যায়।কিন্তু যদি তা বিবাদের দিকে নিয়ে না যায়, তবে তা বাধা সৃষ্টি করে না; যেমন স্তূপকৃত খাদ্যশস্য থেকে এক কাফিজ (এক বিশেষ মাপ) পরিমাণ খাদ্য বিক্রি বা ক্রয় করার ক্ষেত্রে হয়। ওকালত বা প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে গুণের অস্পষ্টতা বিবাদের দিকে নিয়ে যায় না, কারণ ওকালত কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। কিন্তু নিজে সরাসরি লেনদেন করা এমন নয়; কারণ তা বাধ্যতামূলক এবং বিবাদের দিকে নিয়ে যায়। আর বৈধতা বা সহিহ হওয়ার পথে বাধা হলো বিবাদ, স্বয়ং অস্পষ্টতা নয়। তার আলোচনা সমাপ্ত হলো। আমি বলব: তার এই উত্তরে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ এখানে যে পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে তা কেবল ‘আয-যাখিরা’ এর মাসআলায় প্রতিনিধি নিয়োগ সহিহ হওয়া এবং নিজে সরাসরি করা সহিহ না হওয়ার কারণটিই স্পষ্ট করে। এইটুকু আলোচনা উক্ত প্রশ্নটিকে খণ্ডন করে না বরং তাকে আরও শক্তিশালী করে। কারণ এর সারকথা হলো, কিতাবে ওকালতের যে শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে তা ‘আয-যাখিরা’ এর মাসআলায় পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ সেখানে ওকালত সহিহ হচ্ছে। আর এই পার্থক্যটি এই বিষয়টিকেই প্রতিষ্ঠিত করে, যা গোপন নয়। ‘আল-ইনায়া’ গ্রন্থের লেখক বলেছেন: ‘আন-নিহায়া’ এর লেখক বলেছেন যে, এই শর্তটি ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মাদের অভিমত অনুযায়ী। আর ইমাম আবু হানিফার মতে শর্ত হলো প্রতিনিধিকে এমন হতে হবে যার কার্যে হস্তক্ষেপের অধিকার রয়েছে; কারণ একজন মুসলিম মদের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের অধিকার রাখে না, অথচ সে যদি এর জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করে তবে তার নিকট তা জায়েজ।
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
وَمَنْشَأُ هَذَا التَّوَهُّمِ أَنَّهُ جَعَلَ اللَّامَ فِي قَوْلِهِ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ لِلْعَهْدِ: أَيْ لَا يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ الَّذِي وَكَّلَ بِهِ، وَأَمَّا إذَا جُعِلَتْ لِلْجِنْسِ حَتَّى يَكُونَ مَعْنَاهُ يَمْلِكُ جِنْسَ التَّصَرُّفِ احْتِرَازًا عَنْ الصَّبِيِّ وَالْمَجْنُونِ فَيَكُونُ عَلَى مَذْهَبِ الْكُلِّ، وَهُوَ الْمُرَادُ بِدَلِيلِ قَوْلِهِ مِمَّنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ حَيْثُ لَمْ يَقُلْ أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ فَإِنَّ الْأَنْسَبَ لِكَلِمَةِ " مَنْ " جِنْسُ التَّصَرُّفِ انْتَهَى. وَأَوْرَدَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ عَلَى قَوْلِهِ فَإِنَّ الْأَنْسَبَ لِكَلِمَةِ " مَنْ " جِنْسُ التَّصَرُّفِ، وَأَجَابَ حَيْثُ قَالَ: لَا يَخْفَى عَلَيْك أَنَّ مَدْخُولَ كَلِمَةِ " مَنْ " هُوَ قَوْلُهُ مَنْ يَمْلِكُ دُونَ التَّصَرُّفِ. وَالْجَوَابُ أَنَّ مُرَادَهُ أَنَّ الْمَالِكَ لِلتَّصَرُّفِ الْمَخْصُوصِ لَا يَتَعَدَّدُ حَتَّى يَسْتَقِيمَ إدْخَالُ " مَنْ " فِي مَنْ يَمْلِكُ انْتَهَى.أَقُولُ: لَيْسَ الْأَمْرُ كَمَا زَعَمَهُ، فَإِنَّا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ الْمَالِكَ لِلتَّصَرُّفِ الْمَخْصُوصِ لَا يَتَعَدَّدُ، أَلَا يَرَى إلَى الْحُقُوقِ الْمُشْتَرَكَةِ مَالًا كَانَتْ أَوْ غَيْرَهُ، فَإِنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِنَا يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ فِيهَا تَصَرُّفًا مَخْصُوصًا، وَإِنْ وَصَلَ مَبْلَغُهُمْ فِي التَّعَدُّدِ إلَى الْأَلْفِ، مَثَلًا إذَا كَانَتْ دَارٌ مُشْتَرَكَةٌ بَيْنَ كَثِيرِينَ فَلَا شَكَّ أَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ فِيهَا بِسُكْنَى أَوْ غَيْرِهِ. وَلَئِنْ سَلَّمْنَا ذَلِكَ فَلَا نُسَلِّمُ عَدَمَ اسْتِقَامَةِ إدْخَالِ " مَنْ " حِينَئِذٍ فِي مَنْ يَمْلِكُ، فَإِنَّ ذَلِكَ إنَّمَا يُتَوَهَّمُ لَوْ كَانَتْ كَلِمَةُ " مَنْ " هَاهُنَا لِلتَّبْعِيضِ، وَأَمَّا إذَا كَانَتْ لِلتَّبْيِينِ كَمَا هُوَ الظَّاهِرُ فِي الْمَقَامِ فَيَسْتَقِيمُ جِدًّا كَمَا لَا يَخْفَى. ثُمَّ إنَّ مَا ذَكَرَهُ كُلَّهُ مَبْنِيٌّ عَلَى فَهْمِ أَنْ يَكُونَ مُرَادُ صَاحِبِ الْعِنَايَةِ بِكَلِمَةِ " مَنْ " فِي قَوْلِهِ فَإِنَّ الْأَنْسَبَ لِكَلِمَةِ " مَنْ " جِنْسُ التَّصَرُّفِ حَرْفُ الْجَرِّ الدَّاخِلَةُ عَلَى الِاسْمِ الْمَوْصُولِ. وَالظَّاهِرُ أَنَّ مُرَادَهُ بِهَا نَفْسُ الِاسْمِ الْمَوْصُولِ بِدَلِيلِ قَوْلِهِ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ فِي قَوْلِهِ حَيْثُ لَمْ يَقُلْ أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ. إذْ لَوْ كَانَ مَدَارُ كَلَامِهِ زِيَادَةَ حَرْفِ الْجَرِّ لَقَالَ حَيْثُ لَمْ يَقُلْ أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مَنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ بِحَذْفِ حَرْفِ الْجَرِّ فَقَطْ، فَوَجْهُ الْأَنْسَبِيَّةِ حِينَئِذٍ أَنَّ الِاسْمَ الْمَذْكُورَ مِنْ مُبْهَمَاتِ الْمَعَارِفِ عَلَى مَا عُرِفَ فِي النَّحْوِ وَمِنْ أَلْفَاظِ الْعَامِّ عَلَى مَا عُرِفَ فِي الْأُصُولِ، فَيَكُونُ الْمُرَادُ بِهِ جِنْسَ الْمَالِكِ لَا الْفَرْدَ الْمُعَيَّنَ مِنْهُ، وَلَا شَكَّ أَنَّ الَّذِي يَمْلِكُهُ جِنْسُ الْمَالِكِ هُوَ جِنْسُ التَّصَرُّفِ دُونَ التَّصَرُّفِ الْمَعْهُودِ، ثُمَّ قَالَ ذَلِكَ الْبَعْضُ: إنَّ الْأَنْسَبِيَّةَ قَدْ فَاتَتْ فِي قَوْلِهِ وَيَقْصِدُهُ كَمَا لَا يَخْفَى.أَقُولُ: هَذَا أَيْضًا لَيْسَ بِسَدِيدٍ، فَإِنَّ قَوْلَهُ وَيَقْصِدُهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَقْرُونًا بِكَلِمَةِ مَنْ صَرَاحَةً لَكِنَّهُ مَقْرُونٌ بِهَا حُكْمًا فَإِنَّهُ مَعْطُوفٌ عَلَى مَا هُوَ فِي حَيِّزِ كَلِمَةِ مَنْ وَهُوَ قَوْلُهُ يَعْقِلُ الْعَقْدَ فِي قَوْلِهِ مِمَّنْ يَعْقِلُ الْعَقْدَ. وَلَا شَكَّ أَنَّ الْمَعْطُوفَ فِي حُكْمِ الْمَعْطُوفِ عَلَيْهِ بِالنَّظَرِ إلَى مَا قَبْلَهُ عَلَى مَا تَقَرَّرَ فِي عِلْمِ الْأَدَبِ، فَقَدْ حَصَلَتْ الْأَنْسَبِيَّةُ الْمَذْكُورَةُ هُنَاكَ أَيْضًا. ثُمَّ إنَّ حَمْلَ التَّصَرُّفِ فِي قَوْلِ الْقُدُورِيِّ: وَمِنْ شَرْطِ الْوَكَالَةِ أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مِمَّنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ عَلَى جِنْسِ التَّصَرُّفِ دُونَ التَّصَرُّفِ الَّذِي وَكَّلَ بِهِ مِمَّا سَبَقَ إلَيْهِ صَاحِبُ غَايَةِ الْبَيَانِ حَيْثُ قَالَ: قِيلَ لَا يَسْتَقِيمُ هَذَا الشَّرْطُ إلَّا عَلَى مَذْهَبِ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ؛ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ شَرْطُ الْوَكَالَةِ أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مَالِكًا لِلتَّصَرُّفِ عَلَى مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ لَمْ يَجُزْ أَنْ يُوَكِّلَ الْمُسْلِمُ الذِّمِّيَّ بِبَيْعِ الْخَمْرِ وَشِرَائِهَا، وَهُوَ جَائِزٌ عَلَى مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ مَعَ أَنَّ الْمُسْلِمَ لَا يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ بِنَفْسِهِ. فَعُلِمَ أَنَّهُ لَيْسَ بِشَرْطٍ عَلَى مَذْهَبِهِ، بَلْ الشَّرْطُ عِنْدَهُ أَنْ يَكُونَ الْوَكِيلُ مَالِكًا لِذَلِكَ التَّصَرُّفِ الَّذِي وُكِّلَ بِهِ.ثُمَّ قَالَ: قُلْت هَذَا الشَّرْطُ الَّذِي شَرَطَهُ الْقُدُورِيُّ يَسْتَقِيمُ عَلَى مَذْهَبِ الْكُلِّ، وَإِنَّمَا خَصَّ هَذَا الْقَائِلُ الِاسْتِقَامَةَ عَلَى مَذْهَبِهِمَا؛ لِأَنَّهُ لَا يُدْرِكُ كُنْهَ كَلَامِ الْقُدُورِيِّ، إذْ مَضْمُونُ كَلَامِهِ أَنَّ الْوَكَالَةَ لَهَا شَرْطٌ فِي الْمُوَكِّلِ وَشَرْطٌ فِي الْوَكِيلِ.فَالْأَوَّلُ: أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مِمَّنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ وَيَلْزَمُهُ الْأَحْكَامُ.وَالثَّانِي: أَنْ يَكُونَ الْوَكِيلُ مِمَّنْ يَعْقِلُ الْعَقْدَ وَيَقْصِدُهُ، وَمَعْنَى قَوْلِهِ أَنْ يَكُونَ مِمَّنْ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ أَنْ يَكُونَ لَهُ وِلَايَةٌ شَرْعًا فِي جِنْسِ التَّصَرُّفِ بِأَهْلِيَّةِ نَفْسِهِ بِأَنْ يَكُونَ بَالِغًا عَاقِلًا عَلَى وَجْهٍ يُلْزِمُهُ حُكْمَ التَّصَرُّفِ، وَهَذَا الْمَعْنَى حَاصِلٌ فِي تَوْكِيلِ الْمُسْلِمِ الذِّمِّيَّ فِي الْخَمْرِ وَالْخِنْزِيرِ بَيْعًا وَشِرَاءً؛ لِأَنَّ الْمُسْلِمَ الْمُوَكِّلَ عَاقِلٌ بَالِغٌ لَهُ وِلَايَةٌ شَرْعًا فِي جِنْسِ التَّصَرُّفِ عَلَى وَجْهٍ يُلْزِمُهُ حُكْمُ التَّصَرُّفِ فِيمَا تَصَرَّفَ بِوِلَايَتِهِ.وَالشَّرْطُ الْآخَرُ وَهُوَ أَنْ يَعْقِلَ الْعَقْدَ وَيَقْصِدَهُ حَاصِلٌ فِي الْوَكِيلِ أَيْضًا وَهُوَ الذِّمِّيُّ؛ لِأَنَّهُ يَعْقِلُ مَعْنَى الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ وَيَقْصِدُهُ، فَصَحَّ الشَّرْطُ إذَنْ عَلَى مَذْهَبِ الْكُلِّ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ، إلَى هُنَا كَلَامُهُ.وَرَدَّ عَلَيْهِ الشَّارِحُ ابْنُ الْهُمَامِ حَيْثُ قَالَ: قِيلَ إنَّمَا يَسْتَقِيمُ الشَّرْطُ الْأَوَّلُ عَلَى قَوْلِهِمَا أَمَّا عَلَى قَوْلِهِ فَلَا؛ لِأَنَّهُ يُجِيزُ تَوْكِيلَ الْمُسْلِمِ الذِّمِّيَّ بِبَيْعِ خَمْرٍ وَشِرَائِهَا وَالْمُسْلِمُ لَا يَمْلِكُهُ. أَجَابَ بَعْضُهُمْ بِأَنَّ الْمُرَادَ بِمُلْكِهِ التَّصَرُّفَ أَنْ يَكُونَ لَهُ وِلَايَةٌ شَرْعِيَّةٌ فِي جِنْسِ التَّصَرُّفِ بِأَهْلِيَّةِ نَفْسِهِ بِأَنْ يَكُونَ عَاقِلًا بَالِغًا، وَهَذَا حَاصِلٌ فِي تَوْكِيلِ الْمُسْلِمِ الذِّمِّيَّ بِبَيْعِ خَمْرٍ وَشِرَائِهَا، ثُمَّ حَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاهُ لِذَلِكَ، وَهُوَ خَطَأٌ إذْ يَقْتَضِي أَنْ لَا يَصِحَّ تَوْكِيلُ الصَّبِيِّ الْمَأْذُونِ لِعَدَمِ الْبُلُوغِ وَلَيْسَ بِصَحِيحٍ، بَلْ إذَا وَكَّلَ الصَّبِيُّ الْمَأْذُونَ يَصِحُّ بَعْدَ أَنْ يَعْقِلَ مَعْنَى الْبَيْعِ انْتَهَى كَلَامُهُ. أَقُولُ: مَا ذَهَبَ إلَيْهِ
এই ভ্রান্ত ধারণার উৎস হলো এই যে, তিনি 'ইয়ামলিকুত তাসাররুফ' (পরিচালনার অধিকার রাখে) বাক্যে 'লাম' বর্ণটিকে 'আহদ' (নির্দিষ্ট অর্থ) এর জন্য নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ সে ওই নির্দিষ্ট পরিচালনার অধিকার রাখে না যার জন্য সে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছে। পক্ষান্তরে যদি একে 'জিনস' (শ্রেণি বা সাধারণ অর্থ) এর জন্য ধরা হয়, যাতে এর অর্থ হয় সে পরিচালনার সাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন—অপ্রাপ্তবয়স্ক ও উন্মাদ থেকে বাঁচার জন্য—তবে তা সকলের মাযহাব অনুযায়ী সঠিক হবে। আর 'মিম্ম্যান ইয়ামলিকুত তাসাররুফ' (যে পরিচালনার অধিকার রাখে এমন ব্যক্তি থেকে) একথার মাধ্যমেই এটি উদ্দেশ্য বলে প্রমাণিত হয়, কারণ তিনি বলেননি যে 'মুওয়াক্কিল' (প্রতিনিধি নিয়োগকারী) যেন সেই নির্দিষ্ট পরিচালনার অধিকার রাখে। কেননা 'মান' (যে বা যারা) শব্দের সাথে পরিচালনার সাধারণ যোগ্যতাই (জিনসুত তাসাররুফ) অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমাপ্ত। জনৈক বিজ্ঞ আলিম তার " 'মান' শব্দের সাথে পরিচালনার সাধারণ যোগ্যতা অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ" এই উক্তির ওপর আপত্তি উত্থাপন করেছেন এবং উত্তরও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, 'মান' শব্দের আওতাভুক্ত হলো 'ইয়ামলিকু' (অধিকার রাখে) অংশটি, 'তাসাররুফ' (পরিচলনা) নয়। এর উত্তর হলো: তার উদ্দেশ্য হলো—সেই নির্দিষ্ট পরিচালনার মালিক একাধিক হয় না যার ফলে 'মান ইয়ামলিকু' বাক্যে 'মান' শব্দটিকে অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিযুক্ত হবে। সমাপ্ত।আমি বলি: বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি ধারণা করেছেন। কেননা আমরা এটি স্বীকার করি না যে, নির্দিষ্ট পরিচালনার মালিক একাধিক হয় না। আপনি কি যৌথ অধিকারের বিষয়গুলো দেখেন না, চাই তা সম্পদ হোক বা অন্য কিছু? আমাদের সঙ্গীদের প্রত্যেকেই তাতে নির্দিষ্টভাবে পরিচালনার অধিকার রাখেন, যদিও তাদের সংখ্যা সহস্রাধিক হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি বাড়ি অনেকের মাঝে যৌথ মালিকানাধীন থাকে, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাদের প্রত্যেকেই সেখানে বসবাস বা অন্য কোনোভাবে পরিচালনার অধিকার রাখেন। আর যদি আমরা এটি মেনেও নিই, তবুও আমরা এটি স্বীকার করি না যে এমতাবস্থায় 'মান ইয়ামলিকু' বাক্যে 'মান' শব্দটির অন্তর্ভুক্তি যুক্তিযুক্ত হবে না। কারণ এটি কেবল তখনই ধারণা করা যেত যদি এখানে 'মান' শব্দটি 'তাবয়িয' (আংশিকতা) বুঝানোর জন্য হতো। কিন্তু এটি যখন 'তাবয়িন' (বর্ণনা) করার জন্য হয়—যেমনটি এখানে প্রকাশ্য—তখন এটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত হবে, যা অস্পষ্ট নয়। অতঃপর তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার পুরোটাই এই উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে যে, 'আল-ইনায়াহ' গ্রন্থের লেখকের উদ্দেশ্য 'মান' শব্দটি দ্বারা সেই হরফে জার যা ইসম মাওসুলের ওপর প্রবেশ করেছে। আর প্রকাশ্য বিষয় হলো, এটি দ্বারা তার উদ্দেশ্য খোদ ইসম মাওসুলই। এর প্রমাণ হলো তার বক্তব্য 'ইয়ামলিকুত তাসাররুফ' যেখানে তিনি 'মুওয়াক্কিল যেন পরিচালনার অধিকার রাখে' বলেননি। যদি তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হরফে জার অতিরিক্ত হওয়া হতো, তবে তিনি কেবল হরফে জার বাদ দিয়ে বলতেন 'মুওয়াক্কিল যেন পরিচালনার অধিকারী হয়'। সুতরাং সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো, উল্লেখিত ইসমটি ব্যাকরণ শাস্ত্র অনুযায়ী 'মুবহামাতুল মাআরিফ' (অস্পষ্ট পরিচিতি) এর অন্তর্ভুক্ত এবং উসুল শাস্ত্র অনুযায়ী 'আম' (সাধারণ) শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এটি দ্বারা মালিকের শ্রেণি উদ্দেশ্য হবে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মালিকের শ্রেণির জন্য যা প্রযোজ্য তা হলো পরিচালনার সাধারণ যোগ্যতা, নির্দিষ্ট কোনো পরিচালনা নয়। অতঃপর উক্ত আলিম বলেছেন: 'ওয়া ইয়াকসিদুহু' (এবং সেটির সংকল্প করে) বাক্যে সেই সামঞ্জস্যতা হারিয়ে গেছে, যা অস্পষ্ট নয়।আমি বলি: এটিও সঠিক নয়। কেননা তার উক্তি 'ওয়া ইয়াকসিদুহু' যদিও স্পষ্টভাবে 'মান' শব্দের সাথে যুক্ত নয়, তবে তা বিধানগতভাবে যুক্ত। কারণ এটি 'মান' শব্দের আওতাভুক্ত বিষয়ের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে, যা হলো 'মম্ম্যান ইয়া'কিলুল আকদ' (চুক্তি বোঝার যোগ্যতা রাখে এমন ব্যক্তি থেকে) বাক্যের 'ইয়া'কিলুল আকদ' অংশটি। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাহিত্যের নিয়ম অনুযায়ী মা'তুফ (সংযুক্ত পদ) পূর্ববর্তী পদের বিচারে মা'তুফ আলাইহি (যার সাথে যুক্ত করা হয়েছে) এর বিধানভুক্ত হয়। সুতরাং সেই সামঞ্জস্যতা এখানেও অর্জিত হয়েছে। অধিকন্তু ইমাম কুদুরী রহ.-এর বক্তব্য "প্রতিনিধি নিয়োগের শর্ত হলো মুওয়াক্কিল যেন পরিচালনার অধিকার রাখে"—এখানে পরিচালনার অধিকারকে নির্দিষ্ট ওকালাতের পরিবর্তে পরিচালনার সাধারণ যোগ্যতার ওপর প্রয়োগ করার বিষয়টি 'গায়াতুল বায়ান' প্রণেতা পূর্বেই উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, এই শর্তটি কেবল ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর মাযহাব অনুযায়ীই সঠিক হতে পারে। কারণ ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মাযহাব অনুযায়ী যদি মুওয়াক্কিলের পরিচালনার মালিক হওয়া ওকালাতের শর্ত হতো, তবে কোনো মুসলমানের জন্য মদ কেনাবেচার জন্য কোনো জিম্মিকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ হতো না। অথচ ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মাযহাব অনুযায়ী এটি জায়েজ, যদিও মুসলমান ব্যক্তি নিজে সেটির পরিচালনার অধিকার রাখে না। সুতরাং বোঝা গেল যে, এটি তার মাযহাব অনুযায়ী শর্ত নয়; বরং তার নিকট শর্ত হলো প্রতিনিধিকে সেই পরিচালনার মালিক হতে হবে যার প্রতিনিধি তাকে বানানো হয়েছে।অতঃপর তিনি বলেন: আমি বলছি, কুদুরী রহ. যে শর্তটির কথা উল্লেখ করেছেন তা সকলের মাযহাব মতেই সঠিক। আর যে ব্যক্তি একে কেবল তাদের দুই জনের মাযহাবের সাথে খাস করেছেন, তিনি কুদুরী রহ.-এর বক্তব্যের গূঢ় রহস্য অনুধাবন করতে পারেননি। কারণ তার বক্তব্যের সারমর্ম হলো, ওকালাতের ক্ষেত্রে মুওয়াক্কিলের জন্যও শর্ত রয়েছে এবং ওয়াকিলের জন্যও শর্ত রয়েছে।প্রথমটি হলো: মুওয়াক্কিলকে পরিচালনার অধিকার সম্পন্ন ব্যক্তি হতে হবে এবং তার ওপর বিধান কার্যকর হতে হবে।দ্বিতীয়টি হলো: ওয়াকিলকে চুক্তি বোঝার ও সংকল্প করার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। 'পরিচালনার অধিকার সম্পন্ন' হওয়ার অর্থ হলো, নিজের যোগ্যতাবলে সাধারণ পরিচালনার ক্ষেত্রে তার শরয়ী কর্তৃত্ব থাকতে হবে, অর্থাৎ তাকে প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হতে হবে এমনভাবে যাতে তার ওপর পরিচালনার বিধান আবশ্যক হয়। আর এই অর্থটি মুসলমান কর্তৃক জিম্মিকে মদ ও শুকর কেনাবেচায় প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। কারণ মুসলমান মুওয়াক্কিল বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক এবং সাধারণ পরিচালনার ক্ষেত্রে তার শরয়ী কর্তৃত্ব রয়েছে এমনভাবে যা তার কর্তৃত্বাধীন পরিচালনার বিধানকে তার জন্য আবশ্যক করে।আর দ্বিতীয় শর্তটি—অর্থাৎ চুক্তি বোঝা ও সংকল্প করা—তা ওয়াকিল অর্থাৎ জিম্মির মধ্যেও বিদ্যমান। কারণ সে কেনাবেচার অর্থ বোঝে এবং সেটির সংকল্প করে। সুতরাং এমতাবস্থায় শর্তটি সকলের মাযহাব মতেই সঠিক প্রতিপন্ন হলো। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথ দেখিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা পথ পেতাম না। তার বক্তব্য এখানেই শেষ।ব্যাখ্যাকার ইবনুল হুমাম রহ. তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, প্রথম শর্তটি কেবল তাদের দুইজনের মতেই সঠিক হয়; কিন্তু ইমাম সাহেবের মতে নয়। কারণ তিনি মুসলমানের জন্য জিম্মিকে মদ কেনাবেচার প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ মনে করেন, অথচ মুসলমান নিজে এর মালিক নয়। এর উত্তরে কেউ কেউ বলেছেন যে, পরিচালনার মালিক হওয়ার অর্থ হলো নিজের যোগ্যতাবলে সাধারণ পরিচালনার ক্ষেত্রে তার শরয়ী কর্তৃত্ব থাকা, অর্থাৎ তাকে বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। আর এই বৈশিষ্ট্যটি মুসলমান কর্তৃক জিম্মিকে মদ কেনাবেচার প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। অতঃপর তিনি এর দিশা পাওয়ার কারণে আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। কিন্তু এটি ভুল, কারণ এর দাবি হলো অনুমতিপ্রাপ্ত নাবালকের প্রতিনিধি নিয়োগ করা সহীহ হবে না কারণ সে প্রাপ্তবয়স্ক নয়, অথচ বিষয়টি সঠিক নয়। বরং অনুমতিপ্রাপ্ত নাবালক যখন প্রতিনিধি নিয়োগ করে, তখন কেনাবেচার অর্থ বুঝতে পারার পর তা সহীহ হয়। তার বক্তব্য এখানেই শেষ। আমি বলি: তিনি যে মত গ্রহণ করেছেন...
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
صَاحِبُ الْغَايَةِ هَاهُنَا لَيْسَ بِمَثَابَةِ أَنْ يُقَالَ لَهُ هُوَ خَطَأٌ بِمُجَرَّدِ مَا ذَكَرَهُ ابْنُ الْهُمَامِ، فَإِنَّ الَّذِي يُهِمُّهُ فِي تَوْجِيهِ الْمَقَامِ هُوَ قَوْلُهُ الْمُرَادُ بِمِلْكِهِ التَّصَرُّفَ أَنْ يَكُونَ لَهُ وِلَايَةٌ شَرْعِيَّةٌ فِي جِنْسِ التَّصَرُّفِ بِأَهْلِيَّةِ نَفْسِهِ، وَهَذَا لَا يَقْتَضِي أَنْ لَا يَصِحَّ تَوْكِيلُ الصَّبِيِّ الْمَأْذُونِ كَمَا لَا يَخْفَى عَلَى الْعَارِفِ بِحُكْمِ الصَّبِيِّ الْمَأْذُونِ عَلَى مَذْهَبِنَا فِي فَصْلِهِ.وَأَمَّا قَوْلُهُ بِأَنْ يَكُونَ بَالِغًا عَاقِلًا فَفَضْلَةٌ مِنْ التَّوْجِيهِ ذَكَرَهُ لِبَيَانِ أَنَّ الْمَقْصُودَ بِالشَّرْطِ الْمَذْكُورِ هُوَ الِاحْتِرَازُ مِنْ الْمَجْنُونِ وَالصَّبِيِّ الْمَحْجُورِ. وَأَمَّا الصَّبِيُّ الْمَأْذُونُ فَكَوْنُهُ بِمَنْزِلَةِ الْبَالِغِ فِي عَامَّةِ التَّصَرُّفَاتِ مَعْلُومٌ فِي مَحَلِّهِ فَهُوَ فِي حُكْمِ الْمُسْتَثْنَى، وَعَنْ هَذَا تَرَى الْفُقَهَاءَ فِي كُلِّ عَقْدٍ جَعَلُوا الْعَقْلَ وَالْبُلُوغَ شَرْطًا فِيهِ وَقَصَدُوا بِهِ الِاحْتِرَازَ عَنْ الصَّبِيِّ وَالْمَجْنُونِ لَمْ يَسْتَثْنُوا الصَّبِيَّ الْمَأْذُونَ عَنْهُ صَرَاحَةً (وَتَلْزَمُهُ الْأَحْكَامُ) قِيلَ هَذَا احْتِرَازٌ عَنْ الْوَكِيلِ فَإِنَّ الْوَكِيلَ مِمَّنْ لَا يَثْبُتُ لَهُ حُكْمُ تَصَرُّفِهِ وَهُوَ الْمِلْكُ؛ لِأَنَّ الْوَكِيلَ بِالشِّرَاءِ لَا يَمْلِكُ الْمَبِيعَ وَالْوَكِيلُ بِالْبَيْعِ لَا يَمْلِكُ الثَّمَنَ فَلِذَلِكَ لَا يَصِحُّ تَوْكِيلُ الْوَكِيلِ غَيْرَهُ.وَقِيلَ هُوَ احْتِرَازٌ عَنْ الصَّبِيِّ وَالْعَبْدِ الْمَحْجُورَيْنِ؛ فَإِنَّهُمَا لَوْ اشْتَرَيَا شَيْئًا لَا يَمْلِكَانِهِ فَلِذَلِكَ لَمْ يَصِحَّ تَوْكِيلُهُمَا، كَذَا فِي أَكْثَرِ الشُّرُوحِ. قَالَ صَاحِبُ غَايَةِ الْبَيَانِ لِلْقِيلِ الثَّانِي: وَهَذَا هُوَ الْأَصَحُّ مِنْ الْأَوَّلِ وَلَمْ يُبَيِّنْ وَجْهَهُ.وَقَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: قَوْلُهُ وَيَلْزَمُهُ الْأَحْكَامُ يَحْتَمِلُ أَحْكَامَ ذَلِكَ التَّصَرُّفِ وَجِنْسَ الْأَحْكَامِ. فَالْأَوَّلُ احْتِرَازٌ عَنْ الْوَكِيلِ إذَا وَكَّلَ فَإِنَّهُ يَمْلِكُ ذَلِكَ التَّصَرُّفَ دُونَ التَّوْكِيلِ بِهِ؛ لِأَنَّهُ لَمْ تَلْزَمْهُ الْأَحْكَامُ، وَعَلَى هَذَا يَكُونُ فِي الْكَلَامِ شَرْطَانِ. وَالثَّانِي: احْتِرَازٌ عَنْ الصَّبِيِّ وَالْمَجْنُونِ وَيَكُونُ مِلْكُ التَّصَرُّفِ وَلُزُومُ الْأَحْكَامِ شَرْطًا وَاحِدًا، وَهَذَا أَصَحُّ؛ لِأَنَّ الْوَكِيلَ إذَا أُذِنَ لَهُ بِالتَّوْكِيلِ صَحَّ وَلَمْ يَلْزَمْهُ أَحْكَامُ ذَلِكَ التَّصَرُّفِ. فَإِنْ قُلْت: إذَا جَعَلْتهمَا شَرْطًا وَاحِدًا لَزِمَك الْوَكِيلُ فَإِنَّهُ مِمَّنْ يَمْلِكُ جِنْسَ التَّصَرُّفِ وَيَلْزَمُهُ جِنْسُ الْأَحْكَامِ وَلَا يَجُوزُ تَوْكِيلُهُ قُلْت: غَلَطٌ؛ لِأَنَّ وُجُودَ الشَّرْطِ لَا يَسْتَلْزِمُ وُجُودَ الْمَشْرُوطِ لَا سِيَّمَا مَعَ وُجُودِ الْمَانِعِ وَهُوَ فَوَاتُ رَأْيِهِ انْتَهَى كَلَامُهُ (لِأَنَّ الْوَكِيلَ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ مِنْ جِهَةِ الْمُوَكِّلِ) تَعْلِيلٌ لِاشْتِرَاطِ مَا شُرِطَتْ الْوَكَالَةُ بِهِ: يَعْنِي أَنَّ الْوَكِيلَ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ مِنْ جِهَةِ الْمُوَكِّلِ لِكَوْنِهِ نَائِبًا عَنْهُ فَيَكُونُ التَّوْكِيلُ تَمْلِيكَ التَّصَرُّفِ وَتَمْلِيكُ التَّصَرُّفِ مِمَّنْ لَا يَمْلِكُهُ مُحَالٌ (فَلَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ الْمُوَكِّلُ مَالِكًا) أَيْ لِلتَّصَرُّفِ (لِيَمْلِكَهُ مِنْ غَيْرِهِ) قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: وَلِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ: الْوَكِيلُ يَمْلِكُ جِنْسَ التَّصَرُّفِ مِنْ جِهَةِ الْمُوَكِّلِ أَوْ التَّصَرُّفَ الَّذِي وُكِّلَ فِيهِ، وَالثَّانِي مُسْلِمٌ وَيَنْتَقِضُ بِتَوْكِيلِ الْمُسْلِمِ الذِّمِّيَّ بِبَيْعِ الْخَمْرِ، وَالْأَوَّلُ مَمْنُوعٌ فَإِنَّهُ يَمْلِكُهُ بِأَهْلِيَّتِهِ وَلِهَذَا لَوْ تَصَرَّفَ لِنَفْسِهِ صَحَّ. وَالْجَوَابُ أَنَّ الْوَكِيلَ مِنْ حَيْثُ هُوَ وَكِيلٌ يَمْلِكُ جِنْسَ التَّصَرُّفِ مِنْ جِهَةِ الْمُوَكِّلِ عَلَى أَنَّ الْمَالِكَ يَثْبُتُ لَهُ خِلَافَةٌ عَنْ الْمُوَكِّلِ فِيمَا تَصَرَّفَ فِيهِ بِطَرِيقِ الْوَكَالَةِ. وَتَصَرُّفُهُ لِنَفْسِهِ لَيْسَ بِطَرِيقِ الْوَكَالَةِ وَلَا الْكَلَامِ فِيهِ، وَلَا يُنَافِيهِ أَيْضًا لِجَوَازِ ثُبُوتِ شَيْءٍ بِأَمْرَيْنِ عَلَى الْبَدَلِ انْتَهَى أَقُولُ: فِي جَوَابِهِ نَظَرٌ؛ لِأَنَّ كَوْنَ الْوَكِيلِ مِنْ حَيْثُ هُوَ وَكِيلٌ مَالِكًا لِجِنْسِ التَّصَرُّفِ مِنْ جِهَةِ الْمُوَكِّلِ إنَّمَا يُتَوَهَّمُ فِي التَّوْكِيلِ بِتَصَرُّفٍ لَا بِعَيْنِهِ بِأَنْ قَالَ: اصْنَعْ مَا شِئْت أَوْ اعْمَلْ بِرَأْيِك، وَأَمَّا فِي التَّوْكِيلِ بِتَصَرُّفٍ بِعَيْنِهِ كَمَا فِيمَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ مَادَّةِ النَّقْضِ بِتَوْكِيلِ مُسْلِمٍ ذِمِّيًّا بِبَيْعِ خَمْرٍ فَلَا يُتَصَوَّرُ ذَلِكَ قَطْعًا، إذْ لَا شَكَّ أَنَّ الْوَكِيلَ هُنَاكَ إنَّمَا يَمْلِكُ مِنْ جِهَةِ الْمُوَكِّلِ التَّصَرُّفَ الْمُعَيَّنَ الْمَعْهُودَ الَّذِي وُكِّلَ بِهِ وَهُوَ بَيْعُ الْخَمْرِ لَا جِنْسُ التَّصَرُّفِ مُطْلَقًا وَإِلَّا لَصَحَّ لَهُ أَنْ يَتَصَرَّفَ هُنَاكَ بِتَصَرُّفٍ آخَرَ، كَأَنْ يَهَبَ الْخَمْرَ الَّتِي وُكِّلَ بِبَيْعِهَا لِذِمِّيٍّ أَوْ يَشْتَرِيَ بِهَا مِنْهُ شَيْئًا أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ مِنْ جِنْسِ التَّصَرُّفَاتِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ قَطْعًا. وَالْحَقُّ عِنْدِي فِي الْجَوَابِ أَنْ يَخْتَارَ الشِّقَّ الثَّانِيَ وَهُوَ أَنَّ الْوَكِيلَ يَمْلِكُ التَّصَرُّفَ الَّذِي وُكِّلَ بِهِ مِنْ جِهَةِ الْمُوَكِّلِ.وَيُدْفَعُ النَّقْضُ الْمَذْكُورُ بِحَمْلِ مَا فِي الْكِتَابِ عَلَى قَوْلِ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ أَوْ بِنَاءِ ذَلِكَ عَلَى الْأَصْلِ فَإِنَّ بَيْعَ الْخَمْرِ جَائِزٌ لِلْمُسْلِمِ فِي الْأَصْلِ. وَإِنَّمَا امْتَنَعَ بِعَارِضِ النَّهْيِ، وَقَدْ ذَكَرْنَا كِلَا الْوَجْهَيْنِ فِي صَدْرِ الْكَلَامِ نَقْلًا عَنْ الْكُتُبِ الْمُعْتَبَرَةِ (وَيُشْتَرَطُ أَنْ يَكُونَ الْوَكِيلُ مِمَّنْ يَعْقِلُ الْعَقْدَ) بِأَنْ يَعْرِفَ مَثَلًا أَنَّ الْبَيْعَ سَالِبٌ وَالشِّرَاءَ جَالِبٌ وَيَعْرِفَ الْغَبْنَ الْيَسِيرَ مِنْ الْغَبْنِ الْفَاحِشِ، كَذَا ذَكَرَهُ فِي مَأْذُونِ الذَّخِيرَةِ وَفِي أَكْثَرِ الْمُعْتَبَرَاتِ، وَهُوَ احْتِرَازٌ عَنْ الصَّبِيِّ الَّذِي لَمْ يَعْقِلْ وَالْمَجْنُونِ (وَيَقْصِدُهُ) أَيْ يَقْصِدُ الْعَقْدَ، وَالْمُرَادُ أَنْ لَا يَكُونَ هَازِلًا فِيهِ، كَذَا رَأَى جُمْهُورُ الشُّرَّاحِ. وَرَدَّ عَلَيْهِمْ الشَّارِحُ ابْنُ الْهُمَامِ حَيْثُ قَالَ بَعْدَ نَقْلِ قَوْلِهِمْ: أَيُّ ارْتِبَاطٍ بَيْنَ صِحَّةِ الْوَكَالَةِ وَكَوْنِ الْوَكِيلِ هَازِلًا فِي الْبَيْعِ وَلَوْ كَانَ فِي بَيْعِ مَا وُكِّلَ بِبَيْعِهِ غَايَتُهُ أَنْ لَا يَصِحَّ ذَلِكَ الْبَيْعُ وَالْوَكَالَةُ صَحِيحَةٌ انْتَهَى.أَقُولُ: يَخْرُجُ الْجَوَابُ عَنْهُ مِمَّا ذَكَرَهُ الشَّارِحُ تَاجُ الشَّرِيعَةِ هَاهُنَا حَيْثُ قَالَ: الْقَصْدُ شَرْطٌ فِي وُقُوعِ الْعَقْدِ عَنْ الْآمِرِ، حَتَّى لَوْ تَصَرَّفَ هَازِلًا لَا يَقَعُ عَنْهُ انْتَهَى فَتَأَمَّلْ، وَإِنَّمَا اُشْتُرِطَ ذَلِكَ فِي الْوَكِيلِ (لِأَنَّهُ يَقُومُ مَقَامَ الْمُوَكِّلِ فِي الْعِبَارَةِ فَلَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ مِنْ أَهْلِ الْعِبَارَةِ) وَأَهْلِيَّةُ الْعِبَارَةِ لَا تَكُونُ إلَّا بِالْعَقْلِ وَالتَّمْيِيزِ؛ لِأَنَّ كَلَامَ غَيْرِ الْمُمَيِّزِ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
এখানে 'গয়াতুল বয়ান' প্রণেতার বক্তব্যকে ইবনুল হুমাম যা উল্লেখ করেছেন কেবল তার ভিত্তিতে ভুল বলা সংগত নয়। কেননা প্রসঙ্গের ব্যাখ্যায় তার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো তার এই কথা: লেনদেনের মালিকানা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো লেনদেনের প্রকারে নিজের যোগ্যতাবলে তার শরয়ী কর্তৃত্ব থাকা। আর এটি আমাদের মাযহাবের সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে অনুমোদিত শিশুর বিধান সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে যেমনটি স্পষ্ট, সে অনুযায়ী অনুমোদিত শিশুর প্রতিনিধি নিযুক্ত করা সহীহ না হওয়ার বিষয়টিকে আবশ্যক করে না।আর তার এই উক্তি—'প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হওয়া'—এটি ব্যাখ্যার একটি অতিরিক্ত অংশ, যা তিনি এটি স্পষ্ট করার জন্য উল্লেখ করেছেন যে, উল্লিখিত শর্তের উদ্দেশ্য হলো পাগল এবং পরাধীন শিশু থেকে বেঁচে থাকা। আর অনুমোদিত শিশুর ক্ষেত্রে অধিকাংশ লেনদেনে প্রাপ্তবয়স্কের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তার নিজ স্থানেই সুপরিজ্ঞাত, তাই সে ব্যতিক্রমী হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই আপনি দেখবেন যে ফকীহগণ প্রতিটি চুক্তিতে যেখানে আকল (বুদ্ধি) এবং বুলুগ (প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া)-কে শর্ত করেছেন এবং এর মাধ্যমে শিশু ও পাগল থেকে বেঁচে থাকার সংকল্প করেছেন, সেখানে তারা অনুমোদিত শিশুর কথা স্পষ্টভাবে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেননি। (এবং তার উপর বিধিবিধান অবধারিত হওয়া) বলা হয়েছে যে, এটি প্রতিনিধি থেকে বেঁচে থাকার জন্য; কারণ প্রতিনিধি এমন ব্যক্তি যার ক্ষেত্রে তার সম্পাদিত লেনদেনের হুকুম সাব্যস্ত হয় না, আর তা হলো মালিকানা। কারণ ক্রয়ের প্রতিনিধি ক্রীত বস্তুর মালিক হয় না এবং বিক্রয়ের প্রতিনিধি মূল্যের মালিক হয় না; এই কারণেই প্রতিনিধির জন্য অন্য কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা সহীহ নয়।আবার কেউ বলেছেন, এটি পরাধীন শিশু এবং দাস থেকে বেঁচে থাকার জন্য; কারণ তারা যদি কিছু ক্রয় করে তবে তারা তার মালিক হয় না, আর এই কারণেই তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ সহীহ হয় না। অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। 'গয়াতুল বয়ান' প্রণেতা দ্বিতীয় মতটি সম্পর্কে বলেছেন: এটিই প্রথমটির চেয়ে বেশি সঠিক, তবে তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করেননি।'আল-ইনায়া' প্রণেতা বলেছেন: তার উক্তি 'তার উপর বিধিবিধান অবধারিত হওয়া' দ্বারা সেই বিশেষ লেনদেনের বিধিবিধান অথবা সাধারণ প্রকারের বিধিবিধান—উভয়টিই উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। প্রথমটি হলো প্রতিনিধির জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করার বিষয়টি থেকে বেঁচে থাকার জন্য; কারণ সে সেই লেনদেনের মালিক হয় ঠিকই কিন্তু প্রতিনিধি নিয়োগের মালিক হয় না, কারণ তার ওপর বিধিবিধান অবধারিত হয় না। এই ভিত্তিতে বক্তব্যে দুটি শর্ত থাকবে। আর দ্বিতীয়টি হলো: শিশু ও পাগল থেকে বেঁচে থাকার জন্য, আর তখন লেনদেনের মালিকানা এবং বিধিবিধান অবধারিত হওয়া একটি শর্ত হিসেবে গণ্য হবে। আর এটিই অধিকতর সঠিক; কারণ প্রতিনিধিকে যখন প্রতিনিধি নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়, তখন তা সহীহ হয় অথচ সেই লেনদেনের বিধান তার ওপর অবধারিত হয় না। আপনি যদি বলেন: যদি আপনি এই দুটিকে একটি শর্ত বানান, তবে প্রতিনিধির ক্ষেত্রে আপনার ওপর আপত্তি আসবে, কারণ সে সাধারণ লেনদেনের মালিক এবং তার ওপর সাধারণ বিধিবিধানও কার্যকর হয়, অথচ তাকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ নয়। আমি বলব: এটি ভুল; কারণ শর্তের উপস্থিতি শর্তযুক্ত বিষয়ের উপস্থিতিকে অনিবার্য করে না, বিশেষ করে যেখানে প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান থাকে; আর তা হলো তার নিজস্ব মতামতের অনুপস্থিতি। তার বক্তব্য এখানেই শেষ। (কারণ প্রতিনিধি মক্কেলের পক্ষ থেকে লেনদেনের মালিকানা লাভ করে) এটি ওকালত যে বিষয়ের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে তার কারণ বর্ণনা: অর্থাৎ প্রতিনিধি মক্কেলের পক্ষ থেকে লেনদেনের মালিকানা লাভ করে তার প্রতিনিধি হওয়ার কারণে, সুতরাং প্রতিনিধি নিয়োগ করা হলো লেনদেনের মালিকানা প্রদান করা; আর যে ব্যক্তি নিজেই মালিক নয় তার পক্ষ থেকে মালিকানা প্রদান করা অসম্ভব। (তাই মক্কেলকে মালিক হতে হবে) অর্থাৎ লেনদেনের মালিক হতে হবে (যাতে সে অন্যের পক্ষ থেকে তার মালিক হতে পারে)। 'আল-ইনায়া' প্রণেতা বলেন: কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারেন যে, প্রতিনিধি মক্কেলের পক্ষ থেকে লেনদেনের প্রকারের মালিক হয় অথবা সেই বিশেষ লেনদেনের মালিক হয় যাতে তাকে প্রতিনিধি করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি স্বীকৃত এবং এটি একজন মুসলিম কর্তৃক কোনো জিম্মিকে মদ বিক্রির জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করার মাধ্যমে খণ্ডিত হয়। আর প্রথমটি অস্বীকৃত, কারণ সে তার নিজস্ব যোগ্যতাবলে এর মালিক হয়, এই কারণেই সে যদি নিজের জন্য লেনদেন করে তবে তা সহীহ হয়। এর উত্তর হলো, প্রতিনিধি প্রতিনিধি হিসেবেই মক্কেলের পক্ষ থেকে সাধারণ লেনদেনের মালিক হয়, এই ভিত্তিতে যে মালিকের জন্য মক্কেলের পক্ষ থেকে স্থলাভিষিক্ততা সাব্যস্ত হয় সেই ক্ষেত্রে যা সে ওকালত হিসেবে লেনদেন করে। আর তার নিজের জন্য লেনদেন করা ওকালত পদ্ধতিতে নয় এবং তা আলোচনার বিষয়ও নয়। আর এটি তাকে নাকচও করে না, কারণ কোনো কিছু বিকল্প হিসেবে দুটি উপায়ে সাব্যস্ত হওয়া বৈধ। আমি বলব: তার এই উত্তরে পর্যালোচনার অবকাশ আছে; কারণ প্রতিনিধি প্রতিনিধি হিসেবে মক্কেলের পক্ষ থেকে সাধারণ লেনদেনের মালিক হওয়া কেবল তখনই ধারণা করা যায় যখন কোনো অনির্দিষ্ট লেনদেনের প্রতিনিধি বানানো হয়, যেমন সে বলল: 'তুমি যা ইচ্ছা করো' বা 'তোমার মতামত অনুযায়ী কাজ করো'। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো লেনদেনের প্রতিনিধির ক্ষেত্রে—যেমনটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ে একজন মুসলিম কর্তৃক জিম্মিকে মদ বিক্রির প্রতিনিধি নিযুক্ত করার দ্বারা খণ্ডন করা হয়েছে—সেটি নিশ্চিতভাবেই ধারণা করা যায় না। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রতিনিধি সেখানে মক্কেলের পক্ষ থেকে সেই নির্দিষ্ট ও পরিচিত লেনদেনেরই মালিকানা লাভ করে যার জন্য তাকে প্রতিনিধি করা হয়েছে, আর তা হলো মদ বিক্রি, সাধারণ লেনদেনের মালিকানা নয়। অন্যথায় সেখানে তার জন্য অন্য কোনো লেনদেন করাও সহীহ হতো, যেমন যে মদ বিক্রির জন্য তাকে প্রতিনিধি করা হয়েছে তা কোনো জিম্মিকে দান করে দেওয়া অথবা তার বিনিময়ে তার থেকে কিছু কেনা বা এই জাতীয় সাধারণ লেনদেন করা; অথচ এটি নিশ্চিতভাবেই সঠিক নয়। আমার মতে সঠিক উত্তর হলো দ্বিতীয় দিকটি বেছে নেওয়া, আর তা হলো প্রতিনিধি মক্কেলের পক্ষ থেকে সেই লেনদেনেরই মালিক হয় যার জন্য তাকে প্রতিনিধি করা হয়েছে।আর উল্লিখিত খণ্ডনটিকে কিতাবের বক্তব্যকে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতের ওপর প্রয়োগ করার মাধ্যমে অথবা বিষয়টিকে মূলনীতির ওপর ভিত্তি করার মাধ্যমে নিরসন করা যায়; কারণ মদ বিক্রি মূলগতভাবে একজন মুসলিমের জন্য বৈধ ছিল। এটি কেবল বাহ্যিক নিষেধাজ্ঞার কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে। আর আমরা নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে আলোচনার শুরুতে উভয় দিকই উল্লেখ করেছি। (এবং শর্ত হলো প্রতিনিধি এমন ব্যক্তি হতে হবে যে চুক্তি বোঝে) যেমন সে জানবে যে বিক্রয় হলো মালিকানা চলে যাওয়া এবং ক্রয় হলো মালিকানা আসা এবং সামান্য লোকসান ও চরম লোকসানের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে। 'মা'যুন' অধ্যায়ে 'যাখিরা' এবং অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য কিতাবে এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি অবুঝ শিশু এবং পাগল থেকে বেঁচে থাকার জন্য। (এবং সেটির ইচ্ছা পোষণ করে) অর্থাৎ চুক্তির সংকল্প করে। এর উদ্দেশ্য হলো সে যেন এতে উপহাসকারী না হয়, অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার এমনটিই মনে করেছেন। কিন্তু ব্যাখ্যাকার ইবনুল হুমাম তাদের এই মত প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে তিনি তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: ওকালত সহীহ হওয়া এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিনিধির উপহাসকারী হওয়ার মধ্যে কী সম্পর্ক? এমনকি যদি সে সেই বস্তুর বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উপহাসকারী হয় যার জন্য তাকে প্রতিনিধি করা হয়েছে, তবে সর্বোচ্চ এটি হতে পারে যে সেই বিক্রয় সহীহ হবে না, কিন্তু ওকালত তো সহীহ। তার বক্তব্য শেষ।আমি বলব: এর উত্তর ব্যাখ্যাকার তাজুশ শরীয়াহ এখানে যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে স্পষ্ট হয়, যেখানে তিনি বলেছেন: নির্দেশদাতার পক্ষ থেকে চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য সংকল্প একটি শর্ত, এমনকি সে যদি উপহাসচ্ছলে লেনদেন করে তবে তা তার পক্ষ থেকে কার্যকর হবে না। সুতরাং চিন্তা করুন। আর প্রতিনিধির ক্ষেত্রে এটি কেবল এই জন্য শর্ত করা হয়েছে যে, (সে বাচনিক প্রকাশে মক্কেলের স্থলাভিষিক্ত হয়, তাই তাকে বাচনিক প্রকাশের যোগ্য হতে হবে) আর প্রকাশের যোগ্যতা বুদ্ধি এবং বিবেচনাবোধ ছাড়া সম্ভব নয়; কারণ বিবেকবুদ্ধিহীন ব্যক্তির কথা
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
كَأَلْحَانِ الطُّيُورِ (حَتَّى لَوْ كَانَ) أَيْ الْوَكِيلُ (صَبِيًّا لَا يَعْقِلُ أَوْ مَجْنُونًا كَانَ التَّوْكِيلُ بَاطِلًا) إذْ لَيْسَ لَهُمَا أَهْلِيَّةُ الْعِبَارَةِ فَلَا يَتَعَلَّقُ بِقَوْلِهِمَا حُكْمٌ. قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: وَهَذَا يُشِيرُ إلَى أَنَّ مَعْرِفَةَ الْغَبْنِ الْيَسِيرِ مِنْ الْفَاحِشِ لَيْسَ بِشَرْطٍ فِي صِحَّةِ التَّوْكِيلِ، لَكِنْ ذُكِرَ فِي الْكِتَابِ أَنَّ ذَلِكَ شَرْطٌ، وَهُوَ مُشْكِلٌ؛ لِأَنَّهُمْ اتَّفَقُوا عَلَى أَنَّ تَوْكِيلَ الصَّبِيِّ الْعَاقِلِ صَحِيحٌ، وَمَعْرِفَةُ مَا زَادَ عَلَى " ده نيم " فِي الْمَتَاعِ وَ " ده يازده " فِي الْحَيَوَانِ وَ " ده دوازده " فِي الْعَقَارِ، أَوْ مَا يَدْخُلُ تَحْتَ تَقْوِيمِ الْمُقَوِّمِينَ مِمَّا لَا يَطَّلِعُ عَلَيْهِ أَحَدٌ إلَّا بَعْدَ الِاشْتِغَالِ بِعِلْمِ الْفِقْهِ. انْتَهَى.أَقُولُ: فِيهِ بَحْثٌ؛ لِأَنَّهُ إنْ أَرَادَ أَنَّ مَعْرِفَةَ نَفْسِ الْغَبْنِ الْفَاحِشِ الدَّاخِلِ تَحْتَ أَحَدِ التَّفْسِيرَيْنِ الْمَذْكُورَيْنِ مِمَّا لَا يَطَّلِعُ عَلَيْهِ أَحَدٌ إلَّا بَعْدَ الِاشْتِغَالِ بِعِلْمِ الْفِقْهِ فَمَمْنُوعٌ، إذْ لَا شَكَّ أَنَّ مَنْ لَا يُمَارِسُ الْعِلْمَ أَصْلًا فَضْلًا عَنْ الِاشْتِغَالِ بِعِلْمِ الْفِقْهِ يُعْرَفُ بِاخْتِلَاطِهِ بِالنَّاسِ وَتَعَامُلِهِ مَعَهُمْ أَنَّ مَا زَادَ عَلَى مَا يَدْخُلُ تَحْتَ تَقْوِيمِ الْمُقَوِّمِينَ أَوْ مَا زَادَ عَلَى " ده نيم " فِي الْمَتَاعِ وَ " ده يازده " فِي الْحَيَوَانِ، وَ " ده دوازده " فِي الْعَقَارِ غَبْنٌ فَاحِشٌ، وَمَا دُونَ ذَلِكَ غَبْنٌ يَسِيرٌ كَمَا هُوَ حَالُ أَكْثَرِ أَهْلِ السُّوقِ. وَإِنْ أَرَادَ أَنَّ مَعْرِفَةَ عِبَارَاتِ أَهْلِ الشَّرْعِ فِي الْغَبْنِ الْفَاحِشِ وَالْيَسِيرِ وَاصْطِلَاحَاتِهِمْ فِيهِ مِمَّا لَا يَطَّلِعُ عَلَيْهِ أَحَدٌ إلَّا بَعْدَ الِاشْتِغَالِ بِعِلْمِ الْفِقْهِ فَمُسَلَّمٌ، لَكِنْ لَا يُجْدِي ذَلِكَ شَيْئًا، إذْ لَا يَخْفَى أَنَّ الْمُرَادَ بِمَا ذُكِرَ فِي الْكِتَابِ مَعْرِفَةُ الْغَبْنِ الْيَسِيرِ مِنْ الْفَاحِشِ عَلَى الْوَجْهِ الْأَوَّلِ دُونَ الثَّانِي (وَإِذَا وَكَّلَ الْحُرُّ الْبَالِغُ أَوْ الْمَأْذُونُ مِثْلَهُمَا جَازَ) هَذَا لَفْظُ الْقُدُورِيِّ فِي مُخْتَصَرِهِ، وَكَانَ يَنْبَغِي أَنْ يُقَيَّدَ بِالْعَاقِلِ أَيْضًا؛ لِأَنَّ الْمَجْنُونَ إذَا وَكَّلَ غَيْرَهُ لَا يَجُوزُ، وَكَأَنَّهُ إنَّمَا لَمْ يُقَيَّدْ بِذَلِكَ بِنَاءً عَلَى الْغَالِبِ؛ لِأَنَّ غَالِبَ أَحْوَالِ الْإِنْسَانِ أَنْ يَكُونَ عَاقِلًا، أَوْ بِنَاءً عَلَى أَنَّ اشْتِرَاطَ الْعَقْلِ مِمَّا يَعْرِفُهُ كُلُّ أَحَدٍ، وَإِنَّمَا أُطْلِقَ الْمَأْذُونُ لِيَشْمَلَ الْعَبْدَ وَالصَّبِيَّ الْمَأْذُونَ، فَإِنَّ تَوْكِيلَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا غَيْرَهُ جَائِزٌ كَسَائِرِ تَصَرُّفَاتِهِمَا. ثُمَّ إنَّ هَذَا غَيْرُ مُنْحَصِرٍ فِي الْمِثْلِيَّةِ فِي صِفَةِ الْحُرِّيَّةِ وَالرِّقِّيَّةِ، بَلْ يَجُوزُ لِلْمُوَكِّلِ أَنْ يُوَكِّلَ مَنْ فَوْقَهُ كَتَوْكِيلِ الْعَبْدِ الْمَأْذُونِ الْحُرَّ أَوْ مَنْ دُونَهُ كَتَوْكِيلِ الْحُرِّ الْعَبْدَ الْمَأْذُونَ؛ أَلَا يُرَى أَنَّ التَّعْلِيلَ بِقَوْلِهِ (لِأَنَّ الْمُوَكِّلَ مَالِكٌ لِلتَّصَرُّفِ وَالْوَكِيلَ مِنْ أَهْلِ الْعِبَارَةِ) يَشْمَلُ الْأَوْجُهَ الثَّلَاثَةَ مِنْ الْمِثْلِيَّةِ وَالْفَوْقِيَّةِ وَالدُّونِيَّةِ كَمَا ذُكِرَ فِي النِّهَايَةِ وَمِعْرَاجِ الدِّرَايَةِ، وَعَنْ هَذَا قَالَ صَدْرُ الشَّرِيعَةِ فِي شَرْحِ الْوِقَايَةِ: وَلَوْ قَالَ كُلًّا مِنْهُمَا كَانَ أَشْمَلَ لِتَنَاوُلِهِ تَوْكِيلَ الْحُرِّ الْبَالِغِ مِثْلَهُ أَوْ الْمَأْذُونَ، وَتَوْكِيلُ الْمَأْذُونِ مِثْلَهُ أَوْ الْحُرَّ الْبَالِغَ انْتَهَى. وَصَاحِبُ الْعِنَايَةِ قَدْ رَامَ تَوْجِيهَ الْكَلَامِ فِي هَذَا الْمَقَامِ حَيْثُ قَالَ: وَيُفْهَمُ مِنْ قَوْلِهِ مِثْلَهُمَا جَوَازُ تَوْكِيلِ مَنْ كَانَ فَوْقَهُمَا بِطَرِيقِ الْأَوْلَى. أَقُولُ: لَا يَذْهَبُ عَلَيْك أَنَّهُ لَا يُجْدِي كَثِيرٌ طَائِلٌ، إذْ يَبْقَى حِينَئِذٍ جَوَازُ تَوْكِيلِ مَنْ كَانَ دُونَ الْمُوَكِّلِ مَحَلًّا لِلْكَلَامِ، عَلَى أَنَّ قَوْلَهُ مَنْ كَانَ فَوْقَهُمَا لَا يَخْلُو عَنْ سَمَاجَةٍ إذْ لَا أَحَدَ فَوْقَ الْحُرِّ الْبَالِغِ (وَإِنْ وَكَّلَ) أَيْ الْحُرُّ الْبَالِغُ أَوْ الْمَأْذُونُ (صَبِيًّا مَحْجُورًا يَعْقِلُ الْبَيْعَ وَالشِّرَاءَ أَوْ عَبْدًا مَحْجُورًا عَلَيْهِ جَازَ) خِلَافًا لِلشَّافِعِيِّ رحمه الله (وَلَا يَتَعَلَّقُ بِهِمَا الْحُقُوقُ) أَيْ حُقُوقُ مَا بَاشَرَاهُ مِنْ الْعَقْدِ كَالْقَاضِي وَأَمِينِهِ حَيْثُ لَا عُهْدَةَ عَلَيْهِمَا فِيمَا فَعَلَاهُ (وَتَتَعَلَّقُ بِمُوَكَّلِهِمَا) وَإِنَّمَا جَازَ تَوْكِيلُهُمَا عِنْدَنَا لِانْتِفَاءِ مَا يَمْنَعُهُ، أَمَّا مِنْ جَانِبِ الْمُوَكِّلِ فَظَاهِرٌ، وَأَمَّا مِنْ جَانِبِ الْوَكِيلِ فَلِمَا ذَكَرَهُ بِقَوْلِهِ (لِأَنَّ الصَّبِيَّ مِنْ أَهْلِ الْعِبَارَةِ؛ أَلَا يُرَى أَنَّهُ يَنْفُذُ تَصَرُّفُهُ بِإِذْنِ وَلِيِّهِ وَالْعَبْدُ مِنْ أَهْلِ التَّصَرُّفِ عَلَى نَفْسِهِ مَالِكٌ لَهُ) أَيْ لِلتَّصَرُّفِ عَلَى نَفْسِهِ وَلِهَذَا صَحَّ طَلَاقُهُ وَإِقْرَارُهُ بِالْحُدُودِ وَالْقِصَاصِ (وَإِنَّمَا لَا يَمْلِكُهُ) أَيْ التَّصَرُّفَ (فِي حَقِّ الْمَوْلَى) دَفْعًا لِلضَّرَرِ عَنْهُ (وَالتَّوْكِيلُ لَيْسَ تَصَرُّفًا فِي حَقِّهِ) أَيْ فِي حَقِّ الْمَوْلَى؛ لِأَنَّ صِحَّةَ التَّوْكِيلِ تَتَعَلَّقُ بِصِحَّةِ الْعِبَارَةِ وَالْعَبْدُ بَاقٍ عَلَى أَصْلِ الْحُرِّيَّةِ فِي حَقِّ صِحَّةِ الْعِبَارَةِ، فَإِنَّ صِحَّتَهَا بِكَوْنِهِ آدَمِيًّا (إلَّا أَنَّهُ لَا يَصِحُّ مِنْهُمَا) أَيْ مِنْ الصَّبِيِّ وَالْعَبْدِ الْمَحْجُورِ (الْتِزَامُ الْعُهْدَةِ، أَمَّا الصَّبِيُّ لِقُصُورِ أَهْلِيَّتِهِ) أَيْ أَمَّا الصَّبِيُّ الْمَحْجُورُ عَلَيْهِ فَلِقُصُورِ أَهْلِيَّتِهِ بِعَدَمِ الْبُلُوغِ (وَالْعَبْدُ لِحَقِّ سَيِّدِهِ) أَيْ وَأَمَّا الْعَبْدُ الْمَحْجُورُ عَلَيْهِ فَلِثُبُوتِ حَقِّ سَيِّدِهِ فِي مَالِيَّتِهِ، فَلَوْ لَزِمَهُ الْعُهْدَةُ لَتَضَرَّرَ بِهِ الْمَوْلَى، وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ (فَتَلْزَمُ) أَيْ الْعُهْدَةُ (الْمُوَكِّلَ)؛ لِأَنَّهُ أَقْرَبُ النَّاسِ إلَيْهِمَا حَيْثُ انْتَفَعَ بِتَصَرُّفِهِمَا.وَيُفْهَمُ مِنْ هَذَا التَّعْلِيلِ أَنَّ الْعَبْدَ إذَا أُعْتِقَ لَزِمَهُ الْعُهْدَةُ؛ لِأَنَّ الْمَانِعَ مِنْ لُزُومِهَا كَانَ حَقَّ الْمَوْلَى وَقَدْ زَالَ ذَلِكَ بِالْعِتْقِ، وَأَنَّ الصَّبِيَّ إذَا بَلَغَ لَمْ يَلْزَمْهُ الْعُهْدَةُ؛ لِأَنَّ الْمَانِعَ مِنْ لُزُومِهَا كَانَ قُصُورَ أَهْلِيَّتِهِ حَيْثُ لَمْ يَكُنْ قَوْلُهُ مُلْزِمًا فِي حَقِّ نَفْسِهِ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ فَلَمْ تَلْزَمْهُ بَعْدَ الْبُلُوغِ أَيْضًا.وَالْفَرْقُ بَيْنَهُمَا بِهَذَا الْوَجْهِ مِمَّا ذُكِرَ صَرِيحًا فِي الْمَبْسُوطِ وَشَرْحِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ لِلْإِمَامِ قَاضِي خَانْ. ثُمَّ إنَّ فِي تَقْيِيدِ الصَّبِيِّ وَالْعَبْدِ بِقَوْلِهِ مَحْجُورًا عَلَيْهِ إشَارَةً إلَى أَنَّهُمَا لَوْ كَانَا مَأْذُونَيْنِ تَعَلَّقُ الْحُقُوقُ بِهِمَا لَكِنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِمُطْلَقٍ بَلْ فِيهِ تَفْصِيلٌ ذُكِرَ فِي الذَّخِيرَةِ. وَهُوَ أَنَّ الصَّبِيَّ الْمَأْذُونَ إذَا وُكِّلَ بِالْبَيْعِ فَبَاعَ لَزِمَهُ الْعُهْدَةُ سَوَاءٌ كَانَ الثَّمَنُ حَالًّا أَوْ مُؤَجَّلًا وَإِذَا وَكَّلَ بِالشِّرَاءِ؛ فَإِنْ وَكَّلَ بِالشِّرَاءِ بِثَمَنٍ مُؤَجَّلٍ لَمْ تَلْزَمْهُ الْعُهْدَةُ قِيَاسًا وَاسْتِحْسَانًا بَلْ تَكُون الْعُهْدَةُ عَلَى
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
পাখির কূজনের মতো। (এমনকি যদি হয়) অর্থাৎ প্রতিনিধি (এমন শিশু যে ভালো-মন্দ বোঝে না অথবা পাগল হয়, তবে প্রতিনিধিত্ব প্রদান বাতিল হবে)। কারণ তাদের কথা বলার (আইনি) যোগ্যতা নেই, তাই তাদের কথার সাথে কোনো বিধান যুক্ত হবে না। 'ইনায়া' গ্রন্থকার বলেন: এটি ইঙ্গিত করে যে, সামান্য লোকসান (গাবনে ইয়াসির) ও অতিরিক্ত লোকসানের (গাবনে ফাহিশ) মধ্যে পার্থক্য করতে পারা প্রতিনিধিত্ব শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত নয়। তবে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি শর্ত, যা কিছুটা সমস্যাজনক; কারণ ফকীহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, বুদ্ধিমান শিশুর প্রতিনিধিত্ব প্রদান শুদ্ধ। আর পণ্যের ক্ষেত্রে 'দশ-সাড়ে দশ' (৫%), পশুর ক্ষেত্রে 'দশ-এগারো' (১০%) এবং স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে 'দশ-বারো' (২০%) এর অতিরিক্ত যা হয় তা জানার বিষয়টি, অথবা বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ণকারীদের মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি—যা ফিকহ শাস্ত্র চর্চা ব্যতীত কেউ জানতে পারে না—তাও শর্ত নয়। সমাপ্ত।আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ তিনি যদি উদ্দেশ্য করে থাকেন যে, উল্লিখিত দুই ব্যাখ্যার কোনো একটির অধীনে পড়া অতিরিক্ত লোকসান (গাবনে ফাহিশ) স্বয়ং জানা এমন বিষয় যা ফিকহ শাস্ত্র চর্চা ছাড়া কেউ জানতে পারে না, তবে তা অগ্রহণযোগ্য। কারণ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিনি জ্ঞানচর্চা করেন না, এমনকি ফিকহ চর্চাও করেন না, তিনিও মানুষের সাথে মেলামেশা ও লেনদেনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, মূল্যায়ণকারীদের মূল্যায়নের অতিরিক্ত অথবা পণ্যে ৫%, পশুতে ১০% এবং স্থাবর সম্পত্তিতে ২০% এর অতিরিক্ত যা হয়, তা অতিরিক্ত লোকসান (গাবনে ফাহিশ), আর এর চেয়ে কম হলে তা সামান্য লোকসান (গাবনে ইয়াসির); যেমনটি বাজারের অধিকাংশ মানুষের অবস্থা। আর তিনি যদি উদ্দেশ্য করে থাকেন যে, শরীয়তবিদদের পরিভাষা ও তাদের রীতিনীতি অনুযায়ী সামান্য ও অতিরিক্ত লোকসানের বর্ণনা জানা ফিকহ শাস্ত্র চর্চা ছাড়া সম্ভব নয়, তবে তা স্বীকৃত। কিন্তু এটি কোনো উপকারে আসে না; কারণ এটি স্পষ্ট যে, কিতাবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার উদ্দেশ্য হলো প্রথম পদ্ধতিতে সামান্য ও অতিরিক্ত লোকসানের পার্থক্য জানা, দ্বিতীয় পদ্ধতিতে নয়। (এবং যখন কোনো স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অথবা অনুমতিপ্রাপ্ত দাস তাদের মতোই কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, তবে তা জায়েজ হবে)। এটি ইমাম কুদুরী রহ.-এর তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থের শব্দ। তবে এখানে 'বিচক্ষণ' (আকিল) হওয়ার শর্তটিও যুক্ত করা উচিত ছিল; কারণ পাগল ব্যক্তি কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করলে তা জায়েজ হয় না। সম্ভবত তিনি অধিকাংশ অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই শর্তটি উল্লেখ করেননি; কারণ মানুষের সাধারণ অবস্থা হলো বুদ্ধিমান হওয়া। অথবা এই ভিত্তিতে যে, বুদ্ধির শর্তটি সকলেরই জানা। আর 'অনুমতিপ্রাপ্ত' শব্দটি সাধারণভাবে বলা হয়েছে যাতে ব্যবসায় অনুমতিপ্রাপ্ত দাস ও শিশু উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়। কেননা তাদের প্রত্যেকের অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ, যেমন তাদের অন্যান্য লেনদেন জায়েজ। তারপর এটি কেবল সমপর্যায়ের (স্বাধীনতা বা দাসত্বের গুণে) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং নিয়োগকারীর জন্য তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদার কাউকে প্রতিনিধি করা জায়েজ; যেমন অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের কোনো স্বাধীন ব্যক্তিকে প্রতিনিধি করা, অথবা তার চেয়ে নিম্ন মর্যাদার কাউকে করা; যেমন স্বাধীন ব্যক্তির কোনো অনুমতিপ্রাপ্ত দাসকে প্রতিনিধি করা। আপনি কি দেখছেন না যে, "কেননা নিয়োগকারী লেনদেনের মালিক এবং প্রতিনিধি কথা বলার যোগ্যতাসম্পন্ন" - এই যুক্তিটি সমপর্যায়ের হওয়া, উচ্চতর হওয়া বা নিম্নতর হওয়া এই তিন প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে। যেমনটি 'নিহায়া' ও 'মিরাজুদ দিরায়া' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণেই সদরুশ শরীআহ 'শরহুল বিকায়া'-তে বলেছেন: তিনি যদি বলতেন "তাদের প্রত্যেককে" তবে তা অধিক ব্যাপক হতো, কারণ তাতে স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তার মতো কাউকে বা অনুমতিপ্রাপ্ত কাউকে প্রতিনিধি করা, এবং অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার মতো কাউকে বা স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে প্রতিনিধি করার বিষয়টি শামিল হতো। সমাপ্ত। আর 'ইনায়া' গ্রন্থকার এই স্থানে বক্তব্যটির সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন এই বলে: "তাদের মতো" কথাটি থেকে তাদের চেয়ে উচ্চতর কাউকে প্রতিনিধি করার বৈধতা শ্রেষ্ঠতর পন্থায় (আওলা) বোঝা যায়। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আপনার কাছে যেন এটি অস্পষ্ট না থাকে যে, এটি খুব একটা ফলপ্রসূ নয়। কারণ সেক্ষেত্রে নিয়োগকারীর চেয়ে নিম্নমর্যাদার কাউকে প্রতিনিধি করার বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। তাছাড়া "তাদের চেয়ে উচ্চতর" কথাটি কিছুটা শ্রুতিকটু, কারণ স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপরে আর কেউ নেই। (আর যদি প্রতিনিধি নিয়োগ করে) অর্থাৎ স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বা অনুমতিপ্রাপ্ত দাস (এমন সীমাবদ্ধ শিশুকে যে ক্রয়-বিক্রয় বোঝে, অথবা এমন সীমাবদ্ধ দাসকে যাকে লেনদেনে বাধা দেওয়া হয়েছে, তবে তা জায়েজ হবে)। এটি ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর মতের ভিন্নতায়। (এবং তাদের সাথে কোনো দায়বদ্ধতা বা অধিকার যুক্ত হবে না) অর্থাৎ তারা যে চুক্তি সম্পাদন করেছে তার দায়বদ্ধতা বা আনুষঙ্গিক অধিকার তাদের ওপর বর্তাবে না, যেমন বিচারক ও তার আমিনের ক্ষেত্রে হয় যে, তাদের কাজের জন্য তাদের ওপর কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। (এবং তা তাদের নিয়োগকারীর সাথে যুক্ত হবে)। আমাদের নিকট তাদের প্রতিনিধি করা জায়েজ হওয়ার কারণ হলো, যা একে বাধা দেয় এমন কিছুর অনুপস্থিতি। নিয়োগকারীর পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। আর প্রতিনিধির পক্ষ থেকে যে কারণ রয়েছে তা তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: (কেননা শিশু কথা বলার যোগ্যতাসম্পন্ন; আপনি কি দেখেন না যে, তার অভিভাবকের অনুমতিতে তার লেনদেন কার্যকর হয়? আর দাস নিজের ওপর লেনদেন করার যোগ্যতাসম্পন্ন এবং সে এর মালিক)। অর্থাৎ নিজের ওপর লেনদেনের মালিক, আর একারণেই তার তালাক প্রদান এবং হদ ও কিসাস সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি শুদ্ধ হয়। (আর সে কেবল মালিক হয় না) অর্থাৎ লেনদেনের (মালিকের হকের ক্ষেত্রে) তার মনিবের ক্ষতি এড়ানোর জন্য। (আর প্রতিনিধি হওয়া মনিবের হকের ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ নয়); কারণ প্রতিনিধিত্বের শুদ্ধতা কথার শুদ্ধতার ওপর নির্ভর করে, আর কথার শুদ্ধতার ক্ষেত্রে দাস মূল স্বাধীনতার ওপরই বহাল থাকে। কারণ কথা শুদ্ধ হওয়ার ভিত্তি হলো মানুষ হওয়া। (তবে তাদের থেকে) অর্থাৎ সীমাবদ্ধ শিশু ও দাসের থেকে (চুক্তির দায়বদ্ধতা গ্রহণ করা শুদ্ধ নয়। শিশুর ক্ষেত্রে তার যোগ্যতার ঘাটতির কারণে) অর্থাৎ সীমাবদ্ধ শিশুর যোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে তার নাবালগ হওয়ার কারণে। (আর দাসের ক্ষেত্রে তার মনিবের হকের কারণে) অর্থাৎ সীমাবদ্ধ দাসের ক্ষেত্রে তার আর্থিক মূল্যে তার মনিবের হক সাব্যস্ত থাকার কারণে। সুতরাং যদি দায়বদ্ধতা তার ওপর আবশ্যক হতো তবে মনিব ক্ষতিগ্রস্ত হতো। আর বিষয়টি যখন এমন, তখন (আবশ্যক হবে) অর্থাৎ দায়বদ্ধতা (নিয়োগকারীর ওপর); কারণ সেই তাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি যেহেতু সে তাদের লেনদেনের দ্বারা উপকৃত হয়েছে।এই যুক্তি থেকে বোঝা যায় যে, দাস যখন স্বাধীন হবে তখন তার ওপর দায়বদ্ধতা আবশ্যক হবে; কারণ এটি আবশ্যক হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা ছিল মনিবের হক, যা স্বাধীনতার মাধ্যমে অপসারিত হয়েছে। আর শিশু যখন প্রাপ্তবয়স্ক হবে তখন তার ওপর দায়বদ্ধতা আবশ্যক হবে না; কারণ এটি আবশ্যক হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা ছিল তার যোগ্যতার ঘাটতি, যেহেতু সেই সময় তার কথা নিজের ওপর দায়বদ্ধতা সৃষ্টিকারী ছিল না, তাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তা তার ওপর আবশ্যক হবে না।এই দিক দিয়ে উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য 'মাবসুত' এবং ইমাম কাজিখান-এর 'শরহুল জামিউস সাগির'-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর শিশু ও দাসকে 'সীমাবদ্ধ' (মাহজুর) শব্দ দ্বারা বিশেষিত করার মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, তারা যদি অনুমতিপ্রাপ্ত হতো তবে দায়বদ্ধতা তাদের সাথেই যুক্ত হতো। কিন্তু এটি নিঃশর্ত নয় বরং এতে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যা 'জখীরা' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো: অনুমতিপ্রাপ্ত শিশু যখন বিক্রয় করার প্রতিনিধি হয় এবং সে বিক্রয় করে, তবে দায়বদ্ধতা তার ওপরই বর্তাবে, মূল্য নগদ হোক বা বাকী। আর যখন ক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি হয়; তখন যদি বাকী মূল্যে ক্রয়ের প্রতিনিধি করা হয় তবে কিয়াস ও ইস্তিহসান অনুযায়ী তার ওপর দায়বদ্ধতা বর্তাবে না, বরং দায়বদ্ধতা হবে
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قَالَ (وَالْعَقْدُ الَّذِي يَعْقِدُهُ الْوُكَلَاءُ عَلَى ضَرْبَيْنِ): كُلُّ عَقْدٍ يُضِيفُهُ الْوَكِيلُ إلَى نَفْسِهِ كَالْبَيْعِ وَالْإِجَارَةِ فَحُقُوقُهُ تَتَعَلَّقُ بِالْوَكِيلِ دُونَ الْمُوَكِّلِ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله: تَتَعَلَّقُ بِالْمُوَكِّلِ؛ لِأَنَّ الْحُقُوقَ تَابِعَةٌ لِحُكْمِ التَّصَرُّفِ، وَالْحُكْمُ وَهُوَ الْمِلْكُ يَتَعَلَّقُ بِالْمُوَكِّلِ، فَكَذَا تَوَابِعُهُ وَصَارَ كَالرَّسُولِ وَالْوَكِيلِ بِالنِّكَاحِ.
الْآمِرِ حَتَّى إنَّ الْبَائِعَ يُطَالِبُ الْآمِرَ بِالثَّمَنِ؛ لِأَنَّ مَا يَلْزَمُهُ مِنْ الْعُهْدَةِ ضَمَانُ كَفَالَةٍ لَا ضَمَانُ ثَمَنٍ؛ لِأَنَّ ضَمَانَ الثَّمَنِ مَا يُفِيدُ الْمِلْكَ لِلضَّامِنِ فِي الْمُشْتَرِي، وَهَذَا لَيْسَ كَذَلِكَ إنَّمَا هَذَا الْتَزَمَ مَالًا فِي ذِمَّتِهِ اسْتَوْجَبَ مِثْلَ ذَلِكَ عَلَى مُوَكِّلِهِ وَهَذَا هُوَ مَعْنَى الْكَفَالَةِ، وَالصَّبِيُّ الْمَأْذُونُ يَلْزَمُهُ ضَمَانُ الثَّمَنِ لَا ضَمَانُ الْكَفَالَةِ.وَأَمَّا إذَا وُكِّلَ بِالشِّرَاءِ بِثَمَنٍ حَالٍّ فَالْقِيَاسُ أَنْ لَا يَلْزَمَهُ الْعُهْدَةُ. وَفِي الِاسْتِحْسَانِ يَلْزَمُهُ؛ لِأَنَّ مَا الْتَزَمَهُ ضَمَانُ ثَمَنٍ حَيْثُ مَلَّكَ الْمُشْتَرِيَ مِنْ حَيْثُ الْحُكْمُ فَإِنَّهُ يَحْبِسُهُ بِالثَّمَنِ حَتَّى يَسْتَوْفِيَ مِنْ الْمُوَكِّلِ، كَمَا لَوْ اشْتَرَى لِنَفْسِهِ ثُمَّ بَاعَ مِنْهُ وَالصَّبِيُّ الْمَأْذُونُ مِنْ أَهْلِ ذَلِكَ، بِخِلَافِ مَا إذَا كَانَ الثَّمَنُ مُؤَجَّلًا؛ لِأَنَّهُ بِمَا يَضْمَنُ مِنْ الثَّمَنِ لَا يُمَلِّكُ الْمُشْتَرِيَ لَا مِنْ حَيْثُ الْحَقِيقَةُ وَلَا مِنْ حَيْثُ الْحُكْمُ؛ لِأَنَّهُ لَا يَمْلِكُ حَبْسَهُ بِذَلِكَ فَكَانَ ضَمَانَ كَفَالَةٍ مِنْ حَيْثُ الْمَعْنَى. وَالْجَوَابُ فِي الْعَبْدِ الْمَأْذُونِ إذَا وُكِّلَ بِالْبَيْعِ أَوْ الشِّرَاءِ عَلَى هَذَا التَّفْصِيلِ. ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّ الصَّبِيَّ وَالْعَبْدَ الْمَحْجُورَيْنِ وَإِنْ لَمْ يَتَعَلَّقْ بِهِمَا الْحُقُوقُ فَلِقَبْضِهِمَا الثَّمَنَ وَتَسْلِيمِهِمَا الْمَبِيعَ اعْتِبَارٌ لِمَا ذُكِرَ فِي الْكِتَابِ مِنْ بَعْدُ فِي فَصْلِ الشِّرَاءِ فِي التَّوْكِيلِ بِعَقْدِ السَّلَمِ حَيْثُ قَالَ: وَالْمُسْتَحَقُّ بِالْعَقْدِ قَبْضُ الْعَاقِدِ وَهُوَ الْوَكِيلُ فَيَصِحُّ قَبْضُهُ وَإِنْ كَانَ لَا يَتَعَلَّقُ بِهِ الْحُقُوقُ كَالصَّبِيِّ وَالْعَبْدِ الْمَحْجُورِ عَلَيْهِ انْتَهَى.(وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ أَنَّ الْمُشْتَرِيَ إذَا لَمْ يَعْلَمْ بِحَالِ الْبَائِعِ ثُمَّ عَلِمَ أَنَّهُ صَبِيٌّ أَوْ عَبْدٌ مَحْجُورٌ) وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ: أَوْ مَجْنُونٌ، فَقِيلَ الْمُرَادُ بِهِ مَنْ يُجَنُّ وَيُفِيقُ، وَقِيلَ عَلَى حَاشِيَةِ نُسْخَةِ الْمُصَنِّفِ مَحْجُورٌ مَقَامَ مَجْنُونٍ. قَالَ صَاحِبُ الْكِفَايَةِ عِنْدَ نَقْلِ هَذَيْنِ الْقَوْلَيْنِ: وَفِي الْكَافِي لِلْعَلَّامَةِ النَّسَفِيِّ: ثُمَّ عُلِمَ أَنَّهُ صَبِيٌّ مَحْجُورٌ أَوْ عَبْدٌ مَحْجُورٌ فَالظَّاهِرُ أَنَّ قَوْلَهُ مَجْنُونٌ تَصْحِيفٌ انْتَهَى (لَهُ خِيَارُ الْفَسْخِ) أَيْ لِلْمُشْتَرِي خِيَارُ الْفَسْخِ فِي هَذِهِ الصُّورَةِ (لِأَنَّهُ) أَيْ؛ لِأَنَّ الْمُشْتَرِيَ (دَخَلَ فِي الْعَقْدِ عَلَى) ظَنِّ (أَنَّ حُقُوقَهُ تَتَعَلَّقُ بِالْعَاقِدِ) يَعْنِي أَنَّ الْمُشْتَرِيَ مَا رَضِيَ بِالْعَقْدِ إلَّا عَلَى اعْتِقَادِ أَنَّ حُقُوقَهُ تَتَعَلَّقُ بِالْعَاقِدِ (فَإِذَا ظَهَرَ خِلَافُهُ يَتَخَيَّرُ)؛ لِأَنَّهُ فَاتَ عَنْهُ وَصْفٌ مَرْغُوبٌ فِيهِ، فَصَارَ (كَمَا إذَا عَثَرَ) أَيْ اطَّلَعَ (عَلَى عَيْبٍ) أَيْ عَلَى عَيْبٍ لَمْ يَرْضَ بِهِ وَالْجَامِعُ بَيْنَهُمَا عَدَمُ الرِّضَا. وَفِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ لَا خِيَارَ لِلْمُشْتَرِي وَلَا لِلْبَائِعِ ذَكَرَهُ تَاجُ الشَّرِيعَةِ. (قَالَ) أَيْ الْقُدُورِيُّ فِي مُخْتَصَرِهِ (وَالْعُقُودُ الَّتِي يَعْقِدُهَا الْوُكَلَاءُ عَلَى ضَرْبَيْنِ) وَقَالَ فِي بَعْضِ نُسَخِهِ: وَالْعَقْدُ الَّذِي يَعْقِدُهُ الْوُكَلَاءُ: أَيْ جِنْسُ الْعَقْدِ كَذَا فِي غَايَةِ الْبَيَانِ (كُلُّ عَقْدٍ يُضِيفُهُ الْوَكِيلُ إلَى نَفْسِهِ) أَيْ تَصِحُّ إضَافَتُهُ إلَى نَفْسِهِ وَيُسْتَغْنَى عَنْ إضَافَتِهِ إلَى الْمُوَكِّلِ (كَالْبَيْعِ وَالْإِجَارَةِ فَحُقُوقُهُ تَتَعَلَّقُ بِالْوَكِيلِ دُونَ الْمُوَكِّلِ) أَقُولُ: هَذِهِ الْكُلِّيَّةُ تَنْتَقِضُ بِمَا إذَا كَانَ الْوَكِيلُ صَبِيًّا مَحْجُورًا عَلَيْهِ أَوْ عَبْدًا مَحْجُورًا عَلَيْهِ، فَإِنَّ حُقُوقَ عَقْدِهِمَا تَتَعَلَّقُ بِالْمُوَكِّلِ وَإِنْ كَانَ الْعَقْدُ مِمَّا يُضِيفُهُ الْوَكِيلُ إلَى نَفْسِهِ كَمَا عَرَفْته فِيمَا مَرَّ.(وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: تَتَعَلَّقُ بِالْمُوَكِّلِ) وَبِهِ قَالَ مَالِكٌ وَأَحْمَدُ (لِأَنَّ الْحُقُوقَ تَابِعَةٌ لِحُكْمِ التَّصَرُّفِ وَالْحُكْمُ وَهُوَ الْمِلْكُ يَتَعَلَّقُ بِالْمُوَكِّلِ فَكَذَا تَوَابِعُهُ وَصَارَ) أَيْ صَارَ الْوَكِيلُ فِي هَذَا الضَّرْبِ (كَالرَّسُولِ) فَإِنْ قَالَ رَجُلٌ لِآخَرَ: كُنْ رَسُولِي فِي بَيْعِ عَبْدِي وَحُقُوقُ الْعَقْدِ لَا تَتَعَلَّقُ بِالرَّسُولِ بِلَا خِلَافٍ (وَالْوَكِيلِ بِالنِّكَاحِ) أَيْ وَصَارَ كَالْوَكِيلِ بِالنِّكَاحِ مِنْ الضَّرْبِ الثَّانِي فَإِنَّ حُقُوقَ عَقْدِ النِّكَاحِ تَتَعَلَّقُ بِالْمُوَكِّلِ اتِّفَاقًا كَمَا سَيَجِيءُ
তিনি বলেছেন (প্রতিনিধিগণ যে চুক্তি সম্পাদন করেন তা দুই প্রকার): যে সকল চুক্তি প্রতিনিধি নিজের দিকে সম্বন্ধ করেন, যেমন ক্রয়-বিক্রয় ও ইজারা, সেগুলোর দায়-দায়িত্ব প্রতিনিধির সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, মক্কেল বা নিয়োগদাতার সাথে নয়। ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন: এগুলো মক্কেলের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে; কারণ দায়-দায়িত্ব হলো লেনদেনের বিধানের অনুগামী, আর বিধান অর্থাৎ মালিকানা মক্কেলের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, সুতরাং তার অনুগামী বিষয়গুলোও অনুরূপ হবে এবং সে বার্তাবাহক ও বিবাহের প্রতিনিধির ন্যায় গণ্য হবে।
আদেশদাতার প্রতি, এমনকি বিক্রেতা আদেশদাতার নিকট মূল্য দাবি করতে পারবে; কারণ তার ওপর যে দায় বর্তায় তা হলো জামিনদারিত্বের দায়, মূল্যের দায় নয়। কারণ মূল্যের দায় এমন বিষয় যা ক্রেতার ওপর জামিনদারের মালিকানা সাব্যস্ত করে, অথচ এখানে বিষয়টি সেরকম নয়। বরং সে তার জিম্মায় এমন সম্পদ গ্রহণ করেছে যার সমপরিমাণ সে তার মক্কেলের ওপর প্রাপ্য হয়, আর এটাই হলো জামিনদারিত্বের অর্থ। আর অনুমতিপ্রাপ্ত শিশুর ওপর মূল্যের দায় বর্তায়, জামিনদারিত্বের দায় নয়।আর যখন নগদ মূল্যে ক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়, তখন কিয়াস বা পদ্ধতিগত অনুমান হলো তার ওপর কোনো দায় বর্তাবে না। তবে ইসতিহসান বা আইনি সূক্ষ্মবিবেচনা অনুযায়ী তার ওপর দায় বর্তাবে; কারণ সে যা গ্রহণ করেছে তা মূল্যের জামিনদারিত্ব, যেখানে বিধানগতভাবে সে ক্রেতাকে মালিক বানিয়ে দিয়েছে। কেননা সে মক্কেলের নিকট থেকে মূল্য আদায় না করা পর্যন্ত পণ্যটি আটকে রাখতে পারে, যেন সে নিজের জন্য ক্রয় করে পুনরায় তার কাছে বিক্রি করেছে। আর অনুমতিপ্রাপ্ত শিশু এই বিষয়ের যোগ্য। পক্ষান্তরে যখন মূল্যটি বাকিতে পরিশোধের শর্ত থাকে, তখন বিষয়টি ভিন্ন; কারণ সে মূল্যের যে জামিনদারিত্ব গ্রহণ করছে তার মাধ্যমে সে ক্রেতাকে মালিক বানাচ্ছে না—বাস্তবিকভাবেও নয়, বিধানগতভাবেও নয়। কারণ এর বিনিময়ে সে পণ্য আটকে রাখার মালিক হয় না, তাই এটি অর্থগতভাবে জামিনদারিত্বের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের ক্ষেত্রেও ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হলে এই বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী উত্তর হবে। এরপর জেনে রাখুন যে, সীমাবদ্ধ শিশু ও দাস—যদিও তাদের সাথে দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হয় না—তবুও তাদের মূল্য গ্রহণ এবং বিক্রিত পণ্য অর্পণের বিষয়টি ধর্তব্য হবে, যেমনটি কিতাবে পরবর্তীতে ক্রয় পরিচ্ছেদে সালাম চুক্তির প্রতিনিধিত্ব অংশে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে: চুক্তির মাধ্যমে যা প্রাপ্য হয় তা হলো চুক্তি সম্পাদনকারীর অর্থাৎ প্রতিনিধির হস্তগত করা। সুতরাং তার হস্তগত করা বৈধ হবে, যদিও তার সাথে দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হয় না, যেমন সীমাবদ্ধ শিশু ও দাসের ক্ষেত্রে। সমাপ্ত।(ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত যে, ক্রেতা যদি বিক্রেতার অবস্থা না জানে, অতঃপর জানতে পারে যে সে একজন শিশু অথবা সীমাবদ্ধ দাস) এবং কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে আছে: অথবা পাগল। বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তি যে মাঝে মাঝে পাগল হয় এবং মাঝে মাঝে সুস্থ থাকে। আবার মূল লেখকের কপির টীকায় বলা হয়েছে যে, ‘মাজনুন’ (পাগল) শব্দের স্থলে ‘মাহজুর’ (সীমাবদ্ধ) হবে। কিফায়াহ গ্রন্থের লেখক এই দুটি উক্তি উল্লেখ করে বলেন: আল্লামা নাসাফীর ‘কাফী’ গ্রন্থে রয়েছে: ‘অতঃপর জানা গেল যে সে সীমাবদ্ধ শিশু বা সীমাবদ্ধ দাস’; সুতরাং স্পষ্টত বুঝা যায় যে ‘মাজনুন’ শব্দটি বর্ণনার ভুল। সমাপ্ত। (ক্রেতার জন্য চুক্তি বাতিলের অধিকার থাকবে) অর্থাৎ এই অবস্থায় ক্রেতার জন্য চুক্তি বাতিলের ইখতিয়ার থাকবে। (কেননা সে) অর্থাৎ ক্রেতা (চুক্তিতে প্রবেশ করেছিল এই ধারণার ভিত্তিতে) যে (তার দায়-দায়িত্ব চুক্তি সম্পাদনকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট হবে)। অর্থাৎ ক্রেতা এই বিশ্বাস ছাড়া চুক্তিতে সম্মত হয়নি যে, চুক্তির পাওনা বা দাবিগুলো চুক্তি সম্পাদনকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। (সুতরাং যখন এর বিপরীত প্রকাশ পাবে, তখন সে ইখতিয়ার লাভ করবে); কারণ তার একটি কাঙ্ক্ষিত গুণ হাতছাড়া হয়েছে। ফলে এটি (এমন হবে যেন সে অবগত হয়েছে) অর্থাৎ জানতে পেরেছে (কোনো ত্রুটির বিষয়ে), অর্থাৎ এমন ত্রুটি যাতে সে সন্তুষ্ট ছিল না। আর উভয়ের মধ্যে সাধারণ যোগসূত্র হলো সন্তুষ্টির অভাব। যাহিরুর রিওয়ায়াহ অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতা কারও জন্যই কোনো ইখতিয়ার থাকবে না—তাজুশ শারীআহ এটি উল্লেখ করেছেন। (তিনি বলেছেন) অর্থাৎ ইমাম কুদুরী তাঁর মুখতাসার গ্রন্থে (প্রতিনিধিগণ যে সকল চুক্তি সম্পাদন করেন তা দুই প্রকার)। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘আর ঐ চুক্তি যা প্রতিনিধিগণ সম্পাদন করেন’ অর্থাৎ চুক্তির প্রকার বুঝানো হয়েছে—গায়াতুল বয়ানে এমনটিই বলা হয়েছে। (প্রতিটি এমন চুক্তি যা প্রতিনিধি নিজের দিকে সম্বন্ধ করেন) অর্থাৎ যা নিজের দিকে সম্বন্ধ করা বৈধ এবং মক্কেলের দিকে সম্বন্ধ করা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায়, (যেমন ক্রয়-বিক্রয় ও ইজারা; এগুলোর দায়-দায়িত্ব প্রতিনিধির সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, মক্কেলের সাথে নয়)। আমি বলছি: এই সাধারণ নিয়মটি তখন ভেঙে যায় যখন প্রতিনিধি এমন এক শিশু বা দাস হয় যে লেনদেনে সীমাবদ্ধ। কেননা তাদের চুক্তির দায়-দায়িত্ব মক্কেলের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যদিও চুক্তিটি এমন হয় যা প্রতিনিধি নিজের দিকে সম্বন্ধ করে থাকেন, যেমনটি আপনি পূর্বে জেনেছেন।(ইমাম শাফিঈ বলেছেন: এগুলো মক্কেলের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে।) ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদও একই কথা বলেছেন। (কারণ দায়-দায়িত্ব হলো লেনদেনের বিধানের অনুগামী, আর বিধান অর্থাৎ মালিকানা মক্কেলের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, সুতরাং তার অনুগামী বিষয়গুলোও অনুরূপ হবে। আর প্রতিনিধি এই প্রকারের চুক্তিতে) অর্থাৎ এই প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে (বার্তাবাহকের ন্যায় হয়ে যায়।) যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে: আমার দাস বিক্রির ক্ষেত্রে তুমি আমার বার্তাবাহক হও, তবে সেই চুক্তির দায়-দায়িত্ব বার্তাবাহকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় না—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। (এবং বিবাহের প্রতিনিধির মতো) অর্থাৎ সে দ্বিতীয় প্রকারের বিবাহের প্রতিনিধির মতো হয়ে যায়, কারণ বিবাহের চুক্তির দায়-দায়িত্ব সর্বসম্মতভাবে মক্কেলের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমনটি সামনে আসবে।
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَلَنَا أَنَّ الْوَكِيلَ هُوَ الْعَاقِدُ حَقِيقَةً؛ لِأَنَّ الْعَقْدَ يَقُومُ بِالْكَلَامِ، وَصِحَّةُ عِبَارَتِهِ لِكَوْنِهِ آدَمِيًّا وَكَذَا حُكْمًا؛ لِأَنَّهُ يَسْتَغْنِي عَنْ إضَافَةِ الْعَقْدِ إلَى الْمُوَكِّلِ، وَلَوْ كَانَ سَفِيرًا عَنْهُ لَمَا اسْتَغْنَى عَنْ ذَلِكَ كَالرَّسُولِ، وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ كَانَ أَصِيلًا فِي الْحُقُوقِ فَتَتَعَلَّقُ بِهِ وَلِهَذَا قَالَ فِي الْكِتَابِ (يُسَلِّمُ الْمَبِيعَ وَيَقْبِضُ الثَّمَنَ وَيُطَالِبُ بِالثَّمَنِ إذَا اشْتَرَى، وَيَقْبِضُ الْمَبِيعَ وَيُخَاصِمُ فِي الْعَيْبِ وَيُخَاصِمُ فِيهِ)؛ لِأَنَّ كُلَّ ذَلِكَ مِنْ الْحُقُوقِ وَالْمِلْكُ يَثْبُتُ لِلْمُوَكِّلِ خِلَافَةً عَنْهُ،
وَلَنَا أَنَّ الْوَكِيلَ هُوَ الْعَاقِدُ) يَعْنِي أَنَّ الْوَكِيلَ فِي هَذَا الضَّرْبِ هُوَ الْعَاقِدُ (حَقِيقَةً) أَيْ مِنْ حَيْثُ الْحَقِيقَةُ (لِأَنَّ الْعَقْدَ يَقُومُ بِالْكَلَامِ وَصِحَّةُ عِبَارَتِهِ) أَيْ وَصِحَّةُ عِبَارَةِ الْعَاقِدِ: أَيْ صِحَّةُ كَلَامِهِ (لِكَوْنِهِ آدَمِيًّا لَهُ أَهْلِيَّةُ الْإِيجَابِ وَالِاسْتِيجَابِ لَا لِكَوْنِهِ وَكِيلًا)، فَكَانَ الْعَقْدُ الْوَاقِعُ مِنْهُ وَلِغَيْرِهِ سَوَاءً.وَفِي الْكَافِي: فَقَضِيَّتُهُ تَسْتَدْعِي أَنْ يَكُونَ الْحَاصِلُ بِالتَّصَرُّفِ وَاقِعًا لَهُ غَيْرَ أَنَّ الْمُوَكِّلَ لَمَّا اسْتَنَابَهُ فِي تَحْصِيلِ الْحُكْمِ جَعَلْنَاهُ نَائِبًا فِي حَقِّ الْحُكْمِ وَرَاعَيْنَا الْأَصْلَ فِي حَقِّ الْحُقُوقِ (وَكَذَا حُكْمًا) أَيْ وَكَذَا الْوَكِيلُ فِي هَذَا الضَّرْبِ هُوَ الْعَاقِدُ مِنْ حَيْثُ الْحُكْمُ (لِأَنَّهُ) أَيْ الْوَكِيلَ (يَسْتَغْنِي عَنْ إضَافَةِ الْعَقْدِ إلَى الْمُوَكِّلِ لَوْ كَانَ سَفِيرًا) عَنْهُ (لَمَا اسْتَغْنَى عَنْ ذَلِكَ) أَيْ عَنْ إضَافَةِ الْعَقْدِ إلَى الْمُوَكِّلِ (كَالرَّسُولِ) وَالْوَكِيلِ بِالنِّكَاحِ فَإِنَّهُمَا لَا يَسْتَغْنِيَانِ عَنْ الْإِضَافَةِ إلَيْهِ (وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ) أَيْ إذَا كَانَ الْوَكِيلُ فِي هَذَا الضَّرْبِ هُوَ الْعَاقِدُ حَقِيقَةً وَحُكْمًا (كَانَ أَصِيلًا فِي الْحُقُوقِ فَتَتَعَلَّقُ) حُقُوقُ الْعَقْدِ (بِهِ) أَيْ تَتَعَلَّقُ الْحُقُوقُ بِالْوَكِيلِ دُونَ الْمُوَكِّلِ (فَلِهَذَا) أَيْ فَلِكَوْنِ الْوَكِيلِ فِي هَذَا الضَّرْبِ أَصْلًا فِي الْحُقُوقِ (قَالَ فِي الْكِتَابِ) أَيْ قَالَ الْقُدُورِيُّ فِي الْمُخْتَصَرِ. وَقِيلَ: أَيْ قَالَ مُحَمَّدٌ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - فِي الْجَامِعِ الصَّغِيرِ أَوْ الْمَبْسُوطِ (يُسَلِّمُ الْمَبِيعَ) أَيْ يُسَلِّمُ الْوَكِيلُ الْمَبِيعَ (وَيَقْبِضُ الثَّمَنَ) إذَا بَاعَ (وَيُطَالَبُ) بِصِيغَةِ الْمَجْهُولِ: أَيْ يُطَالَبُ الْوَكِيلُ (بِالثَّمَنِ إذَا اشْتَرَى وَيَقْبِضُ الْمَبِيعَ) أَيْ وَيَقْبِضُ الْمَبِيعَ إذَا اشْتَرَى (وَيُخَاصَمُ فِي الْعَيْبِ وَيُخَاصِمُ فِيهِ) بِفَتْحِ الصَّادِ فِي الْأَوَّلِ وَكَسْرِهَا فِي الثَّانِي، فَالْأَوَّلُ فِيمَا إذَا بَاعَ، وَالثَّانِي فِيمَا إذَا اشْتَرَى عَلَى التَّرْتِيبِ السَّابِقِ.وَاعْلَمْ أَنَّ هَاهُنَا فَائِدَةً جَلِيلَةً يَجِبُ التَّنَبُّهُ لَهَا قَدْ ذَكَرَهَا صَدْرُ الشَّرِيعَةِ فِي شَرْحِ الْوِقَايَةِ حَيْثُ قَالَ: يَجِبُ أَنْ يُعْلَمَ أَنَّ الْحُقُوقَ نَوْعَانِ: حَقٌّ يَكُونُ لِلْوَكِيلِ، وَحَقٌّ يَكُونُ عَلَى الْوَكِيلِ. فَالْأَوَّلُ كَقَبْضِ الْمَبِيعِ وَمُطَالَبَةِ ثَمَنِ الْمُشْتَرِي وَالْمُخَاصَمَةِ فِي الْعَيْبِ وَالرُّجُوعِ بِثَمَنٍ مُسْتَحَقٍّ. فَفِي هَذَا النَّوْعِ لِلْوَكِيلِ وِلَايَةُ هَذِهِ الْأُمُورِ لَكِنْ لَا تَجِبُ عَلَيْهِ، فَإِنْ امْتَنَعَ لَا يُجْبِرُهُ الْمُوَكِّلُ عَلَى هَذِهِ الْأَفْعَالِ؛ لِأَنَّهُ مُتَبَرِّعٌ فِي الْعَمَلِ بَلْ يُوَكِّلُ الْمُوَكِّلُ بِهَذِهِ الْأَفْعَالِ، وَسَيَأْتِي فِي كِتَابِ الْمُضَارَبَةِ بَعْضُ هَذَا، وَإِنْ مَاتَ الْوَكِيلُ فَوِلَايَةُ هَذِهِ الْأَفْعَالِ لِوَرَثَتِهِ، فَإِنْ امْتَنَعُوا وَكَّلُوا مُوَكِّلَ مُورِثِهِمْ. وَعِنْدَ الشَّافِعِيِّ لِلْمُوَكَّلِ وِلَايَةُ هَذِهِ الْأَفْعَالِ بِلَا تَوْكِيلٍ مِنْ الْوَكِيلِ أَوْ وَارِثِهِ. وَفِي النَّوْعِ الْآخَرِ يَكُونُ الْوَكِيلُ مُدَّعًى عَلَيْهِ فَلِلْمُدَّعِي أَنْ يُجْبِرَ الْوَكِيلَ عَلَى تَسْلِيمِ الْمَبِيعِ وَتَسْلِيمِ الثَّمَنِ وَأَخَوَاتِهِمَا إلَى هُنَا كَلَامُهُ (وَالْمِلْكُ يَثْبُتُ لِلْمُوَكِّلِ خِلَافَةً عَنْهُ) أَيْ عَنْ الْوَكِيلِ، هَذَا جَوَابٌ عَمَّا قَالَهُ الشَّافِعِيُّ إنَّ الْحُقُوقَ تَابِعَةٌ لِحُكْمِ التَّصَرُّفِ، وَالْحُكْمُ وَهُوَ الْمِلْكُ يَتَعَلَّقُ
আমাদের দলিল হলো এই যে, উকিল বা প্রতিনিধিই প্রকৃতপক্ষে চুক্তি সম্পাদনকারী; কেননা চুক্তি বা আকদ কথার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার বক্তব্যের বৈধতা সে একজন মানুষ হওয়ার কারণেই—এবং বিধানগতভাবেও (তিনিই চুক্তি সম্পাদনকারী); কেননা তিনি চুক্তিটিকে মুওয়াক্কিল বা নিয়োগকর্তার দিকে সম্বন্ধ করা থেকে অমুখাপেক্ষী থাকেন। আর যদি তিনি কেবল তার পক্ষ হতে একজন দূত বা বার্তাবাহক হতেন, তবে রাসূলের ন্যায় তিনি তা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারতেন না। আর যখন বিষয়টি এমনই, তখন তিনি চুক্তির আনুষঙ্গিক অধিকারগুলোর (হুকুক) ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবেন, ফলে তা তার সাথেই সংশ্লিষ্ট হবে। এই কারণেই কিতাবে (মুখতাসারুল কুদুরী) বলা হয়েছে: (তিনি বিক্রিত পণ্য অর্পণ করবেন, মূল্য গ্রহণ করবেন এবং কেনাকাটার ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধের দাবি করবেন; পণ্য গ্রহণ করবেন এবং ত্রুটির ক্ষেত্রে বিবাদে লিপ্ত হবেন এবং তার বিরুদ্ধে বিবাদ করা হবে); কেননা এই সব কিছুই চুক্তির আনুষঙ্গিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, আর মালিকানা মুওয়াক্কিলের জন্য সাব্যস্ত হয় তার (উকিলের) স্থলাভিষিক্ত হিসেবে।
(আমাদের দলিল হলো যে, উকিলই চুক্তি সম্পাদনকারী) অর্থাৎ এই প্রকারের ক্ষেত্রে উকিলই হলেন চুক্তি সম্পাদনকারী (প্রকৃতপক্ষে), অর্থাৎ বাস্তবতার দিক থেকে; (কেননা চুক্তি কথার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার বক্তব্যের বিশুদ্ধতা) অর্থাৎ চুক্তি সম্পাদনকারীর বক্তব্যের সঠিকতা তথা তার কথার বৈধতা (সে একজন মানুষ হওয়ার কারণে এবং তার ইজাব ও কবুল তথা প্রস্তাব ও গ্রহণের যোগ্যতা থাকার কারণে, উকিল হওয়ার কারণে নয়)। সুতরাং তার নিজের জন্য কৃত চুক্তি এবং অন্যের জন্য কৃত চুক্তি সমান বলে গণ্য হবে।‘আল-কাফী’ গ্রন্থে রয়েছে: এর দাবি হলো যে, লেনদেনের মাধ্যমে যা অর্জিত হবে তা যেন তার (উকিলের) জন্যই হয়, তবে মুওয়াক্কিল যেহেতু তাকে বিধানগত বিষয় অর্জনের ক্ষেত্রে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, তাই আমরা তাকে বিধানের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি বানিয়েছি এবং অধিকারের ক্ষেত্রে মূল মূলনীতিকে বিবেচনা করেছি। (এবং তদ্রূপ বিধানগতভাবেও) অর্থাৎ একইভাবে উকিল এই প্রকারের ক্ষেত্রে বিধানের দিক থেকেও চুক্তি সম্পাদনকারী। (কেননা তিনি) অর্থাৎ উকিল (চুক্তিটিকে মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধ করা থেকে অমুখাপেক্ষী থাকেন। যদি তিনি কেবল একজন দূত হতেন) তার পক্ষ হতে, তবে (তিনি তা থেকে অমুখাপেক্ষী হতেন না) অর্থাৎ মুওয়াক্কিলের দিকে চুক্তিটিকে সম্বন্ধ করা থেকে তিনি মুক্ত হতে পারতেন না (যেমন রাসূল) এবং নিকাহ বা বিয়ের উকিল; কেননা তারা উভয়েই মূল ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না। (আর যখন বিষয়টি এমন হয়) অর্থাৎ যখন এই প্রকারের উকিলই প্রকৃতপক্ষে এবং বিধানগতভাবে চুক্তি সম্পাদনকারী হন, (তখন তিনি অধিকারের ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হন, ফলে সংশ্লিষ্ট হয়) চুক্তির আনুষঙ্গিক অধিকারসমূহ (তার সাথে) অর্থাৎ অধিকারগুলো মুওয়াক্কিলের পরিবর্তে উকিলের সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়। (এই কারণেই) অর্থাৎ এই প্রকারের ক্ষেত্রে উকিল অধিকারসমূহের মূল ব্যক্তি হওয়ার কারণে (কিতাবে বলা হয়েছে) অর্থাৎ ইমাম কুদুরী রহ. তাঁর ‘মুখতাসার’ গ্রন্থে বলেছেন। মতান্তরে বলা হয়েছে: ইমাম মুহাম্মদ রহ. ‘জামেউস সাগীর’ অথবা ‘মাবসূত’ গ্রন্থে বলেছেন— (তিনি বিক্রিত পণ্য অর্পণ করবেন) অর্থাৎ উকিল বিক্রিত পণ্য সোপর্দ করবেন (এবং মূল্য গ্রহণ করবেন) যখন তিনি বিক্রি করবেন। (এবং তলব করা হবে) মাজহুল বা কর্মবাচ্যের রূপে: অর্থাৎ (উকিলের কাছে মূল্য তলব করা হবে যখন তিনি ক্রয় করবেন এবং পণ্য গ্রহণ করবেন) অর্থাৎ যখন তিনি ক্রয় করবেন তখন পণ্য বুঝে নেবেন। (এবং ত্রুটি নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হবেন এবং তার বিরুদ্ধে বিবাদ করা হবে) এখানে প্রথম শব্দটিতে ‘সোয়াদ’ বর্ণে যবর এবং দ্বিতীয়টিতে ‘যের’ দিয়ে পড়তে হবে; প্রথমটি হলো যখন তিনি বিক্রি করেন এবং দ্বিতীয়টি হলো যখন তিনি ক্রয় করেন—সেই পূর্ববর্তী ধারাবাহিকতা অনুযায়ী।জেনে রাখুন, এখানে একটি মহান শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে যা লক্ষ্য করা আবশ্যক; সদরুশ শরীআহ রহ. ‘শারহুল বিকায়া’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি জানা আবশ্যক যে অধিকারসমূহ (হুকুক) দুই প্রকার: এমন অধিকার যা উকিলের জন্য সাব্যস্ত হয় এবং এমন অধিকার যা উকিলের ওপর বর্তায়। প্রথম প্রকারটি হলো যেমন পণ্য গ্রহণ করা, ক্রেতার কাছে মূল্য দাবি করা, ত্রুটির কারণে বিবাদ করা এবং প্রাপ্য মূল্যের জন্য প্রত্যাবর্তন করা। এই প্রকারের ক্ষেত্রে উকিলের জন্য এই বিষয়গুলোর কর্তৃত্ব রয়েছে, তবে তা তার ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। সুতরাং তিনি যদি এগুলো করতে অসম্মতি জানান, তবে মুওয়াক্কিল তাকে এই কাজগুলো করতে বাধ্য করতে পারবেন না; কেননা তিনি এই কাজে একজন স্বেচ্ছাসেবী। বরং মুওয়াক্কিল নিজেই এই কাজগুলোর জন্য অন্য কাউকে উকিল নিযুক্ত করবেন। ‘কিতাবুল মুদারাবাহ’-তে এর কিছু অংশ সামনে আসবে। আর যদি উকিল মারা যান, তবে এই কাজগুলোর কর্তৃত্ব তার ওয়ারিশদের জন্য সাব্যস্ত হবে। তারা যদি অস্বীকার করে, তবে তারা তাদের মৃত ব্যক্তির মুওয়াক্কিলকে (মূল নিয়োগকর্তাকে) উকিল বানিয়ে দেবে। ইমাম শাফিঈ রহ.-এর মতে, উকিল বা তার ওয়ারিশদের পক্ষ হতে নিয়োগ ছাড়াও মুওয়াক্কিলের এই কাজগুলো করার সরাসরি কর্তৃত্ব রয়েছে। আর অন্য প্রকারটি হলো যেখানে উকিল বিবাদী হন; সেক্ষেত্রে দাবিদারের অধিকার রয়েছে উকিলকে বিক্রিত পণ্য সোপর্দ করতে এবং মূল্য পরিশোধ করতে ও এই জাতীয় অন্যান্য কাজগুলো সম্পন্ন করতে বাধ্য করা। এখান পর্যন্ত তাঁর আলোচনা। (আর মালিকানা মুওয়াক্কিলের জন্য সাব্যস্ত হয় তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে) অর্থাৎ উকিলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে। এটি ইমাম শাফিঈ রহ.-এর সেই বক্তব্যের জবাব যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, অধিকারগুলো লেনদেনের বিধানের অনুগামী হয়, আর বিধান হলো মালিকানা, যা সংশ্লিষ্ট হয়—
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
اعْتِبَارًا لِلتَّوْكِيلِ السَّابِقِ كَالْعَبْدِ يُتَّهَبُ وَيُصْطَادُ هُوَ الصَّحِيحُ.
بِالْمُوَكِّلِ فَكَذَا تَوَابِعُهُ. تَقْرِيرُهُ أَنَّ الْمِلْكَ يَثْبُتُ لِلْمُوَكِّلِ ابْتِدَاءً، لَكِنْ لَا أَصَالَةَ حَتَّى يَثْبُتَ لَهُ تَوَابِعُهُ أَيْضًا بَلْ خِلَافَةٌ عَنْ الْوَكِيلِ، وَمَعْنَى الْخِلَافِ أَنْ يَثْبُتَ الْمِلْكُ لِلْمُوَكِّلِ ابْتِدَاءً وَيَنْعَقِدَ السَّبَبُ مُوجِبًا حُكْمَهُ لِلْوَكِيلِ فَكَانَ الْمُوَكِّلُ قَائِمًا مَقَامَ الْوَكِيلِ فِي ثُبُوتِ الْمِلْكِ (اعْتِبَارًا لِلتَّوْكِيلِ السَّابِقِ) وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْوَكِيلَ خَلَفٌ عَنْ الْمُوَكِّلِ فِي حَقِّ اسْتِفَادَةِ التَّصَرُّفِ وَالْمُوَكِّلَ خَلَفٌ عَنْ الْوَكِيلِ فِي حَقِّ ثُبُوتِ الْمِلْكِ (كَالْعَبْدِ يُتَّهَبُ وَيُصْطَادُ) فَإِنَّهُ إذَا اُتُّهِبَ: أَيْ قَبِلَ الْهِبَةَ وَاصْطَادَ يَثْبُتُ الْمِلْكُ لِلْمَوْلَى ابْتِدَاءً خِلَافَةً عَنْ الْعَبْدِ، فَإِنْ وَلَّاهُ يَقُومُ مَقَامَهُ فِي الْمِلْكِ بِذَلِكَ السَّبَبِ كَمَا ذُكِرَ فِي الْمَبْسُوطِ.وَتَحْقِيقُ الْمَسْأَلَةِ أَنَّ لِتَصَرُّفِ الْوَكِيلِ جِهَتَيْنِ: جِهَةُ حُصُولِهِ بِعِبَارَتِهِ وَجِهَةُ نِيَابَتِهِ، وَإِعْمَالُهُمَا وَلَوْ بِوَجْهٍ أَوْلَى مِنْ إهْمَالِ أَحَدِهِمَا، فَلَوْ أَثْبَتْنَا الْمِلْكَ وَالْحُقُوقَ لِلْوَكِيلِ عَلَى مَا هُوَ مُقْتَضَى الْقِيَاسِ لِحُصُولِهِمَا بِعِبَارَتِهِمْ وَأَهْلِيَّتِهِ بَطَلَ تَوْكِيلُ الْمُوَكِّلِ، وَلَوْ أَثْبَتْنَاهُمَا لِلْمُوَكِّلِ بَطَلَ عِبَارَةُ الْوَكِيلِ. فَأَثْبَتْنَا الْمِلْكَ لِلْمُوَكِّلِ؛ لِأَنَّهُ الْغَرَضُ مِنْ التَّوْكِيلِ، وَإِلَيْهِ أَشَارَ الْمُصَنِّفُ بِقَوْلِهِ اعْتِبَارًا لِلتَّوْكِيلِ السَّابِقِ فَتُعَيَّنُ الْحُقُوقُ لِلْوَكِيلِ، وَيَجُوزُ أَنْ يَثْبُتَ الْحُكْمُ لِغَيْرِ مَنْ انْعَقَدَ لَهُ السَّبَبُ كَالْعَبْدِ يَقْبَلُ الْهِبَةَ وَالصَّدَقَةَ وَيَصْطَادُ فَإِنَّ مَوْلَاهُ يَقُومُ مَقَامَهُ فِي الْمِلْكِ بِذَلِكَ السَّبَبِ، كَذَا فِي الْعِنَايَةِ. ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّ هَذَا الْمِلْكَ طَرِيقَةُ أَبِي طَاهِرٍ الدَّبَّاسِ وَإِلَيْهِ ذَهَبَ جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِنَا.قَالَ شَمْسُ الْأَئِمَّةِ السَّرَخْسِيُّ: قَوْلُ أَبِي طَاهِرٍ أَصَحُّ. وَقَالَ الْمُصَنِّفُ (هُوَ الصَّحِيحُ) وَاحْتُرِزَ بِهِ عَنْ طَرِيقَةِ أَبِي الْحَسَنِ الْكَرْخِيِّ وَهِيَ أَنَّ الْمِلْكَ يَثْبُتُ لِلْوَكِيلِ أَوَّلًا ثُمَّ يَنْتَقِلُ إلَى الْمُوَكِّلِ، وَإِلَيْهَا ذَهَبَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَهِيَ اخْتِيَارُ الْإِمَامِ قَاضِي خَانْ كَمَا ذُكِرَ فِي التَّحْرِيرِ، وَإِنَّمَا قَالَ هُوَ الصَّحِيحُ؛ لِأَنَّ الْوَكِيلَ إذَا اشْتَرَى مَنْكُوحَتَهُ أَوْ قَرِيبَهُ لَا يَفْسُدُ النِّكَاحُ وَلَا يُعْتَقُ عَلَيْهِ، وَلَوْ لَمْ يَثْبُتْ لَهُ الْمِلْكُ لَمَا كَانَ كَذَلِكَ. قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: وَجَوَابُهُ أَنَّ نُفُوذَ الْعِتْقِ يَحْتَاجُ إلَى مِلْكٍ مُسْتَقِرٍّ دَائِمٍ وَمِلْكُ الْوَكِيلِ غَيْرُ مُسْتَقِرٍّ وَلَا دَائِمٍ فِيهِ بَلْ يَزُولُ عَنْهُ فِي ثَانِي الْحَالِ وَيَنْتَقِلُ إلَى الْمُوَكِّلِ بِاعْتِبَارِ الْوَكَالَةِ السَّابِقَةِ.قَالَ فِي الزِّيَادَاتِ فِيمَنْ تَزَوَّجَ أَمَةً ثُمَّ حُرَّةً عَلَى رَقَبَتِهَا فَأَجَازَ مَوْلَاهَا فَإِنَّهُ تَصِيرُ الْأَمَةُ مَهْرًا لِلْحُرَّةِ وَلَا يَفْسُدُ النِّكَاحُ وَإِنْ ثَبَتَ الْمِلْكُ لِلزَّوْجِ فِيهَا؛ لِأَنَّ مِلْكَهُ غَيْرُ مُسْتَقَرٍّ حَيْثُ يَنْتَقِلُ مِنْهُ إلَى الْحُرَّةِ فَكَذَلِكَ هَاهُنَا انْتَهَى. قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ بَعْدَ ذِكْرِ هَذَا الْجَوَابِ: وَفِيهِ نَظَرٌ؛ لِأَنَّهُ يُخَالِفُ إطْلَاقَ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ مَلَكَ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ مِنْهُ عَتَقَ عَلَيْهِ الْحَدِيثَ انْتَهَى. أَقُولُ: الْجَوَابُ عَنْ هَذَا النَّظَرِ
পূর্ববর্তী ওকালাতের (প্রতিনিধিত্বের) বিবেচনায়, যেমন দাসের ক্ষেত্রে যাকে কোনো কিছু দান করা হয় বা যে শিকার করে। এটাই বিশুদ্ধ মত।
মুওয়াক্কিলের ক্ষেত্রে যেমন, তার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোও তেমনি। এর ব্যাখ্যা হলো: মালিকানা প্রাথমিকভাবে মুওয়াক্কিলের জন্যই সাব্যস্ত হয়, তবে তা মৌলিকভাবে নয় যে তার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোও তার জন্য সাব্যস্ত হবে, বরং এটি উকিলের স্থলাভিষিক্ততা হিসেবে গণ্য। স্থলাভিষিক্ততার অর্থ হলো, মালিকানা প্রাথমিকভাবে মুওয়াক্কিলের জন্য সাব্যস্ত হওয়া এবং উকিলের অনুকূলে তার বিধানকে আবশ্যিককারী কারণটি সংঘটিত হওয়া। সুতরাং মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে মুওয়াক্কিল উকিলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য (পূর্ববর্তী ওকালাতের বিবেচনায়)। সারকথা হলো, উকিল হলো মুওয়াক্কিলের স্থলাভিষিক্ত কাজ করার অধিকার লাভের ক্ষেত্রে, আর মুওয়াক্কিল হলো উকিলের স্থলাভিষিক্ত মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে (যেমন দাসের ক্ষেত্রে যাকে দান করা হয় বা যে শিকার করে)। কেননা তাকে যখন দান করা হয়—অর্থাৎ সে দান গ্রহণ করে—এবং শিকার করে, তখন মালিকানা প্রাথমিকভাবে মনিবের জন্য সাব্যস্ত হয় দাসের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে। সুতরাং সে তাকে দায়িত্ব দিলে ওই কারণের ভিত্তিতে সে মালিকানায় তার স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমনটি ‘মাবসুত’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।মাসআলাটির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো, উকিলের কাজের দুটি দিক রয়েছে: তার অভিব্যক্তির মাধ্যমে তা অর্জিত হওয়া এবং তার প্রতিনিধিত্বের দিক। এই উভয় দিককে কোনো না কোনোভাবে কার্যকর করা একটিকে বর্জন করার চেয়ে উত্তম। সুতরাং আমরা যদি কিয়াসের দাবি অনুযায়ী উকিলের জন্যই মালিকানা ও আনুষঙ্গিক অধিকারগুলো সাব্যস্ত করতাম—যেহেতু সেগুলো তাদের উক্তি ও যোগ্যতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে—তবে মুওয়াক্কিলের ওকালাত বাতিল হয়ে যেত। আর যদি আমরা উভয়টিই মুওয়াক্কিলের জন্য সাব্যস্ত করতাম, তবে উকিলের অভিব্যক্তির কার্যকারিতা বাতিল হয়ে যেত। তাই আমরা মালিকানা মুওয়াক্কিলের জন্য সাব্যস্ত করেছি; কারণ ওকালাতের উদ্দেশ্যই এটি। গ্রন্থকার তার ‘পূর্ববর্তী ওকালাতের বিবেচনায়’ উক্তির মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। ফলে আনুষঙ্গিক অধিকারগুলো উকিলের জন্য নির্দিষ্ট হয়। আর যার অনুকূলে কারণ সংঘটিত হয়েছে, সে ছাড়া অন্য কারও জন্য বিধান সাব্যস্ত হওয়া জায়েজ, যেমন দাসের ক্ষেত্রে যে দান ও সদকা গ্রহণ করে এবং শিকার করে, কারণ তার মনিব ওই কারণের ভিত্তিতে মালিকানায় তার স্থলাভিষিক্ত হয়। ‘ইনায়াহ’ গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। এরপর জেনে রাখুন যে, মালিকানার এই পদ্ধতিটি আবু তাহির আদ-দাব্বাসের, এবং আমাদের একদল ফকিহ এই মত গ্রহণ করেছেন।শামসুল আইম্মাহ আস-সারাখসি বলেছেন: আবু তাহিরের উক্তিটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। আর গ্রন্থকার বলেছেন: (এটাই বিশুদ্ধ), এর মাধ্যমে তিনি আবুল হাসান আল-কারখির পদ্ধতি থেকে সতর্ক করেছেন। কারখির পদ্ধতি হলো: মালিকানা প্রথমে উকিলের জন্য সাব্যস্ত হয়, এরপর তা মুওয়াক্কিলের দিকে স্থানান্তরিত হয়। আমাদের কোনো কোনো ফকিহ এই মতের দিকে গিয়েছেন এবং ইমাম কাজিখান এটিই পছন্দ করেছেন, যেমনটি ‘তাহরির’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আর গ্রন্থকার ‘এটাই বিশুদ্ধ’ বলেছেন কারণ উকিল যখন তার বিবাহিতা স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়কে ক্রয় করে, তখন বিবাহ নষ্ট হয় না এবং সে তার ওপর মুক্তও হয় না। যদি তার জন্য মালিকানা সাব্যস্ত হতো, তবে অবস্থা এমন হতো না। ‘ইনায়াহ’র লেখক বলেন: এর উত্তর হলো, দাস মুক্তির কার্যকারিতার জন্য স্থিতিশীল ও স্থায়ী মালিকানা প্রয়োজন, অথচ উকিলের মালিকানা স্থিতিশীল বা স্থায়ী নয়, বরং পরক্ষণেই তা তার থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং পূর্ববর্তী ওকালাতের বিবেচনায় মুওয়াক্কিলের দিকে স্থানান্তরিত হয়।‘যিয়াদাত’ গ্রন্থে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হয়েছে যে জনৈক দাসীকে বিয়ে করল, এরপর তার ওপর একজন স্বাধীন নারীকে বিয়ে করল, অতঃপর তার মনিব অনুমতি দিল; সেক্ষেত্রে দাসীটি ওই স্বাধীন নারীর মোহর হয়ে যাবে এবং বিবাহ নষ্ট হবে না, যদিও স্বামীর জন্য তাতে মালিকানা সাব্যস্ত হয়। কারণ তার মালিকানা অস্থিতিশীল, যেহেতু তা তার থেকে ওই স্বাধীন নারীর দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। ‘ইনায়াহ’র লেখক এই উত্তরটি উল্লেখ করার পর বলেন: এতে আপত্তির অবকাশ আছে; কারণ এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই সাধারণ বাণীর পরিপন্থী—‘যে ব্যক্তি তার কোনো মাহরাম আত্মীয়ের মালিক হবে, সে তার পক্ষ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে’ (হাদিস)। আমি বলছি: এই আপত্তির উত্তর হলো
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالَ الْعَبْدُ الضَّعِيفُ: وَفِي مَسْأَلَةِ الْعَيْبِ تَفْصِيلٌ نَذْكُرُهُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
قَالَ (وَكُلُّ عَقْدٍ يُضِيفُهُ إلَى مُوَكِّلِهِ كَالنِّكَاحِ وَالْخُلْعِ وَالصُّلْحِ عَنْ دَمِ الْعَمْدِ فَإِنَّ حُقُوقَهُ تَتَعَلَّقُ بِالْمُوَكِّلِ دُونَ الْوَكِيلِ فَلَا يُطَالَبُ وَكِيلُ الزَّوْجِ بِالْمَهْرِ وَلَا يَلْزَمُ وَكِيلَ الْمَرْأَةِ تَسْلِيمُهَا)؛ لِأَنَّ الْوَكِيلَ فِيهَا سَفِيرٌ مَحْضٌ؛ أَلَا يُرَى أَنَّهُ لَا يُسْتَغْنَى عَنْ إضَافَةِ الْعَقْدِ إلَى الْمُوَكِّلِ، وَلَوْ أَضَافَهُ إلَى نَفْسِهِ كَانَ النِّكَاحُ لَهُ فَصَارَ كَالرَّسُولِ،
ظَاهِرٌ، إذْ قَدْ تَقَرَّرَ عِنْدَهُمْ أَنَّ الْمُطْلَقَ يَنْصَرِفُ إلَى الْكَامِلِ، وَلَا شَكَّ أَنَّ الْمِلْكَ الْكَامِلَ هُوَ الْمِلْكُ الْمُسْتَقِرُّ فَلَا مُخَالَفَةَ. قَالَ الصَّدْرُ الشَّهِيدُ: إنَّ الْقَاضِيَ أَبَا زَيْدٍ خَالَفَهُمَا وَقَالَ: الْوَكِيلُ نَائِبٌ فِي حَقِّ الْحُكْمِ أَصِيلٌ فِي حَقِّ الْحُقُوقِ، فَإِنَّ الْحُقُوقَ تَثْبُتُ لَهُ ثُمَّ تَنْتَقِلُ إلَى الْمُوَكِّلِ مِنْ قِبَلِهِ فَوَافَقَ أَبَا الْحَسَنِ فِي حَقِّ الْحُقُوقِ، وَوَافَقَ أَبَا طَاهِرٍ فِي حَقِّ الْحُكْمِ وَهَذَا حَسَنٌ، كَذَا ذُكِرَ فِي الْإِيضَاحِ وَالْفَتَاوَى الصُّغْرَى (قَالَ رضي الله عنه) أَيْ قَالَ الْمُصَنِّفُ رحمه الله (وَفِي مَسْأَلَةِ الْعَيْبِ تَفْصِيلٌ نَذْكُرُهُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى) أَرَادَ بِهِ مَا ذَكَرَهُ فِي بَابِ الْوَكَالَةِ بِالْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ بِقَوْلِهِ: وَإِذَا اشْتَرَى الْوَكِيلُ ثُمَّ اطَّلَعَ عَلَى عَيْبٍ فَلَهُ أَنْ يَرُدَّهُ بِالْعَيْبِ مَا دَامَ الْمَبِيعُ فِي يَدِهِ، وَإِنْ سَلَّمَهُ إلَى الْمُوَكِّلِ لَمْ يَرُدَّهُ إلَّا بِإِذْنِهِ، كَذَا فِي عَامَّةِ الشُّرُوحِ.قَالَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ: الْقَصْرُ عَلَيْهِ قُصُورٌ بَلْ الظَّاهِرُ عُمُومُ الْحَوَالَةِ لِمَا يَذْكُرُهُ فِي فَصْلٍ فِي الْبَيْعِ بِقَوْلِهِ وَمَنْ أَمَرَ رَجُلًا بِبَيْعِ عَبْدِهِ فَبَاعَهُ وَقَبَضَ الثَّمَنَ أَوْ لَمْ يَقْبِضْ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ الْمُشْتَرِي بِعَيْبٍ إلَخْ. أَقُولُ: الَّذِي يَتَعَلَّقُ بِمَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ تَعَلُّقِ حُقُوقِ الْعَقْدِ بِالْوَكِيلِ دُونَ الْمُوَكِّلِ مِنْ الْمَسَائِلِ الْآتِيَةِ فِي الْكِتَابِ إنَّمَا هُوَ الَّذِي ذَكَرَهُ الشُّرَّاحُ هَاهُنَا، فَإِنَّ الْوَكِيلَ إذَا اشْتَرَى شَيْئًا ثُمَّ اطَّلَعَ عَلَى عَيْبٍ فَلَهُ أَنْ يَرُدَّهُ عَلَى بَائِعِهِ بِمُقْتَضَى تَعَلُّقِ حُقُوقِ عَقْدِ الشِّرَاءِ بِالْوَكِيلِ. ثُمَّ بَعْدَ هَذَا إنْ بَقِيَ الْمَبِيعُ فِي يَدِهِ يَبْقَى حَقُّ الرَّدِّ لَهُ، وَإِنْ لَمْ يَبْقَ فِي يَدِهِ بَلْ كَانَ سَلَّمَهُ إلَى الْمُوَكِّلِ يَسْقُطُ ذَلِكَ الْحَقُّ عَنْهُ لِانْتِهَاءِ حُكْمِ الْوَكَالَةِ بِالتَّسْلِيمِ فَيَتَوَقَّفُ الرَّدُّ عَلَى إذْنِ الْمُوَكِّلِ. وَلَمَّا لَمْ يُعْلَمْ هَذَا التَّفْصِيلُ هَاهُنَا وَكَانَ مِمَّا يُحْتَاجُ إلَى بَيَانِهِ أَحَالَهُ الْمُصَنِّفُ رحمه الله عَلَى مَا سَيَذْكُرُهُ فِي فَصْلِ الْوَكَالَةِ بِالشِّرَاءِ مِنْ بَابِ الْوَكَالَةِ بِالْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ.وَأَمَّا الَّذِي يَذْكُرُهُ فِي فَصْلِ الْوَكَالَةِ بِالْبَيْعِ بِقَوْلِهِ وَمَنْ أَمَرَ رَجُلًا بِبَيْعِ عَبْدِهِ فَبَاعَهُ وَقَبَضَ الثَّمَنَ أَوْ لَمْ يَقْبِضْ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ الْمُشْتَرِي بِعَيْبٍ إلَخْ فَمِمَّا لَا مِسَاسَ لَهُ بِمَا نَحْنُ فِيهِ، فَإِنَّ حَاصِلَ ذَلِكَ أَنَّهُ إذَا رُدَّ الْعَبْدُ عَلَى الْوَكِيلِ بِالْبَيْعِ بِعَيْبٍ فَإِنْ رُدَّ عَلَيْهِ بِحُجَّةٍ كَامِلَةٍ يَرُدُّهُ عَلَى الْمُوَكِّلِ، وَإِنْ رُدَّ عَلَيْهِ بِحُجَّةٍ قَاصِرَةٍ لَا يَرُدُّهُ عَلَيْهِ، وَهَذَا أَمْرٌ وَرَاءَ تَعَلُّقِ حُقُوقِ الْعَقْدِ بِالْوَكِيلِ يَجْرِي بَيْنَ الْمُوَكِّلِ وَالْوَكِيلِ، وَلَا شَكَّ أَنَّ الْمَقْصُودَ بِالْحَوَالَةِ مَا يَتَعَلَّقُ بِمَا نَحْنُ فِيهِ لَا مَا يَتَعَلَّقُ بِمُجَرَّدِ الْعَيْبِ، فَلِهَذَا لَمْ يُعَمِّمْهَا الشُّرَّاحُ كَمَا تَوَهَّمَهُ ذَلِكَ الْقَائِلُ (قَالَ) أَيْ الْقُدُورِيُّ فِي مُخْتَصَرِهِ (وَكُلُّ عَقْدٍ يُضِيفُهُ) أَيْ يُضِيفُهُ الْوَكِيلُ (إلَى مُوَكِّلِهِ) هَذِهِ ضَابِطَةُ الضَّرْبِ الثَّانِي: أَيْ كُلُّ عَقْدٍ لَا يَسْتَغْنِي الْوَكِيلُ فِيهِ عَنْ الْإِضَافَةِ إلَى الْمُوَكِّلِ (كَالنِّكَاحِ وَالْخُلْعِ وَالصُّلْحِ عَنْ دَمِ الْعَمْدِ فَإِنَّ حُقُوقَهُ تَتَعَلَّقُ بِالْمُوَكِّلِ دُونَ الْوَكِيلِ) فَفَرَّعَ عَلَى ذَلِكَ بِقَوْلِهِ (فَلَا يُطَالَبُ) بِصِيغَةِ الْمَجْهُولِ (وَكِيلُ الزَّوْجِ بِالْمَهْرِ وَلَا يَلْزَمُ وَكِيلَ الْمَرْأَةِ تَسْلِيمُهَا) أَيْ تَسْلِيمُ الْمَرْأَةِ إلَى زَوْجِهَا (لِأَنَّ الْوَكِيلَ فِيهَا) أَيْ فِي هَذِهِ الْعُقُودِ (سَفِيرٌ مَحْضٌ) أَيْ مُعَبِّرٌ مَحْضٌ حَاكٍ قَوْلَ الْمُوَكِّلِ، وَمَنْ حَكَى قَوْلَ الْغَيْرِ لَا يَلْزَمُهُ حُكْمُ قَوْلِ ذَلِكَ الْغَيْرِ (أَلَا يُرَى أَنَّهُ) أَيْ الْوَكِيلَ (لَا يَسْتَغْنِي عَنْ إضَافَةِ الْعَقْدِ إلَى الْمُوَكِّلِ) كَيْفَ (وَلَوْ أَضَافَهُ إلَى نَفْسِهِ كَانَ النِّكَاحُ) مَثَلًا (لَهُ) أَيْ لِلْوَكِيلِ نَفْسِهِ فَيَخْرُجُ عَنْ حُكْمِ الْوَكَالَةِ وَالْكَلَامِ فِيهِ (فَصَارَ كَالرَّسُولِ) يَعْنِي إذَا كَانَ الْوَكِيلُ فِي هَذَا الضَّرْبِ سَفِيرًا مَحْضًا فَقَدْ صَارَ كَالرَّسُولِ فِي بَابِ الْبَيْعِ وَنَحْوِهِ، وَلَا شَكَّ أَنَّ الْحُكْمَ
এই অক্ষম বান্দা বলেন: ত্রুটি (আইব) সংক্রান্ত মাসআলায় বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, যা আমরা আল্লাহ তাআলা চাইলে আলোচনা করব।
তিনি (ইমাম কুদুরি) বলেছেন: (এবং প্রতিটি চুক্তি যা উকিল তার মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে, যেমন—নিকাহ, খুলা এবং ইচ্ছাকৃত হত্যার রক্তের বিনিময়ে সন্ধি করা; তবে সেগুলোর অধিকার বা দায়বদ্ধতাসমূহ মুওয়াক্কিলের সাথেই সংশ্লিষ্ট হবে, উকিলের সাথে নয়। সুতরাং বরের উকিলের কাছে মোহর দাবি করা যাবে না এবং কনের উকিলের ওপর তাকে সমর্পণ করা আবশ্যক হবে না।) কারণ এসব চুক্তিতে উকিল নিছক একজন দূত (সাফির) মাত্র। আপনি কি দেখছেন না যে, চুক্তিটিকে মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধ করা ছাড়া উকিলের কোনো গত্যন্তর নেই? আর যদি সে চুক্তিটি নিজের দিকে সম্বন্ধ করত, তবে নিকাহটি তার নিজের জন্যই কার্যকর হতো। ফলে সে একজন বার্তারাহকের (রাসুল) ন্যায় হয়ে গেল।
এটি সুস্পষ্ট, কেননা তাঁদের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত যে, কোনো শব্দ নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হলে তা পূর্ণাঙ্গ অর্থের দিকেই ধাবিত হয়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পূর্ণাঙ্গ মালিকানা হলো সুস্থিত মালিকানা, তাই এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই। সদরুশ শহীদ বলেন: কাজী আবু যায়েদ তাঁদের উভয়ের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন—উকিল হুকুমের (বিধান) ক্ষেত্রে প্রতিনিধি, কিন্তু হুকুনের (অধিকার) ক্ষেত্রে সে-ই আসল। কেননা অধিকারগুলো প্রথমে তার জন্যই সাব্যস্ত হয়, অতঃপর তার পক্ষ থেকে তা মুওয়াক্কিলের দিকে স্থানান্তরিত হয়। ফলে তিনি অধিকারের ক্ষেত্রে আবুল হাসানের সাথে একমত হয়েছেন এবং বিধানের ক্ষেত্রে আবু তাহিরের সাথে একমত হয়েছেন। আর এটিই উত্তম, যেমনটি ‘আল-ঈজাহ’ এবং ‘ফাতাওয়া সুগরা’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। (তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন) অর্থাৎ মুসান্নিফ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, (এবং ত্রুটির মাসআলায় বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা উল্লেখ করব)। এর দ্বারা তিনি ক্রয়-বিক্রয়ের ওকালাত অধ্যায়ে তাঁর এই উক্তি দ্বারা যা উল্লেখ করেছেন তা বুঝিয়েছেন: “যখন উকিল কোনো কিছু ক্রয় করে এবং পরে তাতে কোনো ত্রুটি দেখতে পায়, তবে পণ্যটি তার হাতে থাকা অবস্থায় ত্রুটির কারণে তা ফেরত দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে। আর যদি সে তা মুওয়াক্কিলের নিকট সোপর্দ করে দেয়, তবে মুওয়াক্কিলের অনুমতি ছাড়া সে তা ফেরত দিতে পারবে না।” অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থে এভাবেই রয়েছে।কিছু বিদ্বান বলেছেন: কেবল এর ওপর সীমাবদ্ধ রাখা একটি অপূর্ণতা, বরং স্পষ্ট বিষয় হলো উদ্ধৃতির ব্যাপকতা; যা তিনি ক্রয়-বিক্রয় পরিচ্ছেদে তাঁর এই উক্তি দ্বারা উল্লেখ করবেন: “যে ব্যক্তি কোনো লোককে তার গোলাম বিক্রির আদেশ দিল, অতঃপর সে তা বিক্রি করল এবং মূল্য হস্তগত করল অথবা হস্তগত করল না, অতঃপর ক্রেতা ত্রুটির কারণে তা তার নিকট ফেরত দিল... ইত্যাদি।” আমি (ভাষ্যকার) বলব: আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের সাথে অর্থাৎ চুক্তির অধিকার মুওয়াক্কিলের পরিবর্তে উকিলের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়ে কিতাবের পরবর্তী মাসআলাগুলোর মধ্যে কেবল সেটিই সংশ্লিষ্ট যা ব্যাখ্যাকারগণ এখানে উল্লেখ করেছেন। কেননা উকিল যখন কোনো কিছু ক্রয় করে এবং পরে ত্রুটি দেখতে পায়, তখন ক্রয় চুক্তির অধিকার উকিলের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার দাবি অনুযায়ী বিক্রেতার কাছে তা ফেরত দেওয়ার অধিকার তার থাকে। অতঃপর যদি পণ্যটি তার হাতে অবশিষ্ট থাকে তবে তার ফেরত দেওয়ার অধিকার বহাল থাকে। আর যদি তার হাতে অবশিষ্ট না থাকে বরং সে তা মুওয়াক্কিলের কাছে সোপর্দ করে দেয়, তবে সোপর্দ করার মাধ্যমে ওকালাতের বিধান সমাপ্ত হওয়ার কারণে তার সেই অধিকার রহিত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় ফেরত দেওয়াটি মুওয়াক্কিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়। যেহেতু এই বিস্তারিত বিবরণটি এখানে জানা ছিল না অথচ এটি বর্ণনার প্রয়োজন ছিল, তাই মুসান্নিফ রাহিমাহুল্লাহ একে ক্রয়-বিক্রয়ের ওকালাত অধ্যায়ের অন্তর্গত ক্রয় পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করবেন তার দিকে ন্যস্ত করেছেন।আর বিক্রয় পরিচ্ছেদে তিনি যা উল্লেখ করবেন: “যে ব্যক্তি কোনো লোককে তার গোলাম বিক্রির আদেশ দিল, অতঃপর সে তা বিক্রি করল এবং মূল্য হস্তগত করল অথবা হস্তগত করল না, অতঃপর ক্রেতা ত্রুটির কারণে তা তার নিকট ফেরত দিল... ইত্যাদি”, সেটির সাথে আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। কেননা এর সারকথা হলো, বিক্রয়ের উকিলের নিকট যখন গোলামটি ত্রুটির কারণে ফেরত দেওয়া হয়, তখন যদি তা পূর্ণাঙ্গ দলিলের ভিত্তিতে ফেরত দেওয়া হয় তবে সে তা মুওয়াক্কিলের নিকট ফেরত দেবে। আর যদি তা অপূর্ণাঙ্গ দলিলের ভিত্তিতে ফেরত দেওয়া হয় তবে সে তা মুওয়াক্কিলের নিকট ফেরত দেবে না। আর এটি হলো উকিলের সাথে চুক্তির অধিকার সংশ্লিষ্ট হওয়ার অতিরিক্ত একটি বিষয় যা মুওয়াক্কিল ও উকিলের মাঝে সংঘটিত হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এখানে উদ্ধৃতি প্রদানের উদ্দেশ্য হলো আমাদের বর্তমান বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়, কেবল ত্রুটির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়। এই কারণেই ব্যাখ্যাকারগণ বিষয়টিকে ব্যাপক করেননি, যেমনটি সেই বক্তা ধারণা করেছিলেন। (তিনি বলেন) অর্থাৎ কুদুরি তাঁর মুখতাসার গ্রন্থে বলেছেন: (এবং প্রতিটি চুক্তি যা সে সম্বন্ধ করে) অর্থাৎ উকিল সম্বন্ধ করে (তার মুওয়াক্কিলের দিকে) এটি দ্বিতীয় প্রকারের মূলনীতি: অর্থাৎ এমন প্রতিটি চুক্তি যাতে উকিল চুক্তিটিকে মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধ করা ছাড়া বিমুখ থাকতে পারে না (যেমন নিকাহ, খুলা এবং ইচ্ছাকৃত হত্যার রক্তের বিনিময়ে সন্ধি করা; তবে সেগুলোর অধিকার বা দায়বদ্ধতাসমূহ মুওয়াক্কিলের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, উকিলের সাথে নয়)। অতঃপর তিনি এর ওপর ভিত্তি করে তাঁর এই উক্তি উল্লেখ করেছেন: (সুতরাং দাবি করা হবে না) কর্মবাচ্যের রূপে (স্বামীর উকিলের নিকট মোহর এবং স্ত্রীর উকিলের ওপর আবশ্যক হবে না তাকে সোপর্দ করা) অর্থাৎ স্ত্রীকে তার স্বামীর নিকট সোপর্দ করা। (কারণ এসকল চুক্তিতে উকিল) অর্থাৎ এই চুক্তিগুলোতে (নিছক একজন দূত মাত্র) অর্থাৎ কেবল একজন বক্তা মাত্র যে মুওয়াক্কিলের কথা বর্ণনা করে। আর যে ব্যক্তি অন্যের কথা বর্ণনা করে, সেই অন্যের কথার বিধান তার ওপর আবশ্যক হয় না। (আপনি কি দেখছেন না যে সে) অর্থাৎ উকিল (চুক্তিটিকে মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধ করা ছাড়া নিরুপায়) কেন নয়, (আর যদি সে তা নিজের দিকে সম্বন্ধ করত তবে নিকাহটি) উদাহরণস্বরূপ (তার নিজের জন্যই হতো) অর্থাৎ খোদ উকিলের জন্য হতো; ফলে তা ওকালাতের বিধান থেকে বের হয়ে যেত। (ফলে সে একজন বার্তারাহকের মতো হয়ে গেল) অর্থাৎ যখন উকিল এই প্রকারে নিছক একজন দূত হিসেবে গণ্য হলো, তখন সে ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদির ক্ষেত্রে একজন বার্তারাহকের মতো হয়ে গেল। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এর বিধান...
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَهَذَا؛ لِأَنَّ الْحُكْمَ فِيهَا لَا يَقْبَلُ الْفَصْلَ عَنْ السَّبَبِ؛ لِأَنَّهُ إسْقَاطٌ فَيَتَلَاشَى فَلَا يُتَصَوَّرُ صُدُورُهُ مِنْ شَخْصٍ وَثُبُوتُ حُكْمِهِ لِغَيْرِهِ فَكَانَ سَفِيرًا.
وَالضَّرْبُ الثَّانِي مِنْ أَخَوَاتِهِ الْعِتْقُ عَلَى مَالٍ
فِي الرِّسَالَةِ يَرْجِعُ إلَى الْمُرْسِلِ دُونَ الرَّسُولِ (وَهَذَا) يَعْنِي كَوْنَ الْحُقُوقِ فِي هَذِهِ الْعُقُودِ مُتَعَلِّقَةً بِالْمُوَكِّلِ دُونَ الْوَكِيلِ، وَهَذَا عَلَى مَا هُوَ دَأْبُ الْمُصَنِّفِ رحمه الله فِي كِتَابِهِ هَذَا مِنْ أَنَّهُ يَقُولُ بَعْدَ ذِكْرِ دَلِيلٍ عَلَى مُدَّعٍ: وَهَذَا؛ لِأَنَّ إلَخْ، وَيُرِيدُ بِهِ بِذِكْرِ دَلِيلٍ آخَرَ لَمِّيٍّ بَعْدَ أَنْ ذَكَرَ دَلِيلًا إنِّيًّا فَهَاهُنَا لَمَّا بَيَّنَ إنِّيَّةَ كَوْنِ الْحُقُوقِ فِي هَذِهِ الْعُقُودِ مُتَعَلِّقَةً بِالْمُوَكِّلِ دُونَ الْوَكِيلِ بِكَوْنِ الْوَكِيلِ فِيهَا سَفِيرًا مَحْضًا غَيْرَ مُسْتَغْنٍ عَنْ إضَافَةِ الْعَقْدِ إلَى الْمُوَكِّلِ أَرَادَ أَنْ يُبَيِّنَ لَمِّيَّتَهُ أَيْضًا بِقَوْلِهِ (لِأَنَّ الْحُكْمَ فِيهَا) أَيْ فِي هَذِهِ الْعُقُودِ (لَا يَقْبَلُ الْفَصْلَ عَنْ السَّبَبِ) حَتَّى لَمْ يَدْخُلْ فِيهَا خِيَارُ الشَّرْطِ، إذْ الْخِيَارُ يَدْخُلُ عَلَى الْحُكْمِ فَيُوجِبُ تَرَاخِيَهُ عَنْ السَّبَبِ، وَهَذِهِ الْعُقُودُ لَا تَقْبَلُ ذَلِكَ (لِأَنَّهُ) أَيْ لِأَنَّ السَّبَبَ فِي هَذِهِ الْعُقُودِ (إسْقَاطٌ) أَيْ مِنْ قَبِيلِ الْإِسْقَاطَاتِ.أَمَّا فِي غَيْرِ النِّكَاحِ فَظَاهِرٌ، وَأَمَّا فِي النِّكَاحِ فَلِأَنَّ مَحَلَّ النِّكَاحِ الْأُنْثَى مِنْ بَنَاتِ آدَمَ، وَهُنَّ فِي الْأَصْلِ خُلِقْنَ حَرَائِرَ وَالْحُرِّيَّةُ تَسْتَدْعِي انْتِفَاءَ وُرُودِ الْمِلْكِ عَلَى مَنْ اتَّصَفَ بِهَا، إلَّا أَنَّ الشَّارِعَ أَثْبَتَ نَوْعَ مِلْكٍ عَلَى الْحُرِّيَّةِ بِالنِّكَاحِ تَحْقِيقًا لِمَعْنَى النَّسْلِ، فَكَانَ ذَلِكَ إسْقَاطًا لِمَعْنَى الْمَالِكِيَّةِ الَّذِي كَانَ ثَابِتًا لِلْحُرِّيَّةِ بِطَرِيقِ الْأَصَالَةِ، كَذَا نُقِلَ عَنْ الْعَلَّامَةِ شَمْسِ الدِّينِ الْكُرْدِيِّ، وَلِأَنَّ الْأَصْلَ فِي الْأَبْضَاعِ الْحُرْمَةُ فَكَانَ النِّكَاحُ إسْقَاطًا لِلْحُرْمَةِ نَظَرًا إلَى الْأَصْلِ كَذَا ذُكِرَ فِي الْكَافِي. وَإِذَا كَانَ السَّبَبُ فِي هَذِهِ الْعُقُودِ إسْقَاطًا (فَيَتَلَاشَى) أَيْ فَيَضْمَحِلُّ (فَلَا يُتَصَوَّرُ صُدُورُهُ) أَيْ صُدُورُ السَّبَبِ بِطَرِيقِ الْأَصَالَةِ (مِنْ شَخْصٍ وَثُبُوتُ حُكْمِهِ لِغَيْرِهِ) كَمَا فِي الضَّرْبِ الْأَوَّلِ (فَكَانَ سَفِيرًا) أَيْ فَكَانَ الْوَكِيلُ فِيمَا نَحْنُ فِيهِ سَفِيرًا مَحْضًا.فَإِنْ قُلْت: لَيْسَ الْكَلَامُ فِي الْحُكْمِ بَلْ فِي الْحُقُوقِ فَمَا فَائِدَةُ قَوْلِهِ؛ لِأَنَّ الْحُكْمَ فِيمَا لَا يَقْبَلُ الْفَصْلَ عَنْ السَّبَبِ؟ قُلْت: إنَّهُمْ قَالُوا فِي الضَّرْبِ الْأَوَّلِ إنَّ الْحُكْمَ يَثْبُتُ لِلْمُوَكِّلِ خِلَافَةً عَنْ الْوَكِيلِ اعْتِبَارًا لِلتَّوْكِيلِ السَّابِقِ، وَتَتَعَلَّقُ الْحُقُوقُ بِالْوَكِيلِ اعْتِبَارًا لِعِبَارَتِهِ، وَهَا هُنَا إذَا لَمْ يَنْفَصِلْ الْحُكْمُ عَنْ الْعِبَارَةِ لِكَوْنِهَا لِلْإِسْقَاطِ، فَإِمَّا أَنْ يَثْبُتَ الْحُكْمُ لِلْوَكِيلِ أَوْ تَنْتَقِلَ الْعِبَارَةُ إلَى الْمُوَكِّلِ، وَالْأَوَّلُ بَاطِلٌ؛ لِأَنَّهُ يُبْطِلُ التَّوْكِيلَ وَيُنَافِي الْإِضَافَةَ إلَى الْمُوَكِّلِ فَتَعَيَّنَ الثَّانِي، وَإِلَيْهِ أَشَارَ بِقَوْلِهِ فَكَانَ سَفِيرًا (وَالضَّرْبُ الثَّانِي) وَهُوَ كُلُّ عَقْدٍ يُضِيفُهُ الْوَكِيلُ إلَى مُوَكِّلِهِ (مِنْ أَخَوَاتِهِ) أَيْ مِنْ أَفْرَادِهِ الَّتِي بَيْنَهُنَّ أُخُوَّةٌ: أَيْ مُشَارَكَةٌ فِي الْحُكْمِ (الْعِتْقُ عَلَى مَالٍ).
এবং এটি এই কারণে যে, এগুলোতে বিধান তার কারণ থেকে পৃথক হওয়া গ্রহণ করে না; কেননা এটি হলো বিলোপকরণ, ফলে তা বিলীন হয়ে যায়। তাই কোনো এক ব্যক্তি থেকে এটি প্রকাশ পাওয়া এবং তার বিধান অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত হওয়া কল্পনাতীত। ফলে সে ছিল একজন দূত মাত্র।
এবং এর সদৃশ বিষয়াবলির দ্বিতীয় প্রকার হলো মালের বিনিময়ে দাসমুক্তি।
দূত প্রেরণের ক্ষেত্রে তা প্রেরকের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, দূতের দিকে নয়। (এবং এটি) অর্থাৎ এই চুক্তিগুলোতে অধিকারসমূহ মুওয়াক্কিল (মক্কেল)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া, উকিল (প্রতিনিধি)-এর সাথে নয়। আর এটি গ্রন্থকারের (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এই কিতাবের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী যে, তিনি কোনো দাবির দলিল উল্লেখ করার পর বলেন: 'এবং এটি; এই কারণে যে... ইত্যাদি'। এর মাধ্যমে তিনি একটি 'ইন্নী' (কার্যগত) দলিল উল্লেখ করার পর আরেকটি 'লাম্মী' (কারণগত) দলিল উল্লেখ করতে চান। এখানে যখন তিনি এই চুক্তিগুলোতে অধিকারসমূহ উকিল ব্যতীত মুওয়াক্কিলের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার ইন্নী দিকটি এই বলে বর্ণনা করলেন যে, উকিল এখানে নিছক একজন দূত মাত্র এবং চুক্তিটিকে মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা ছাড়া সে নিরুপায়; তখন তিনি এর লাম্মী বা কারণগত দিকটিও তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করতে চাইলেন যে, (কেননা এগুলোতে বিধান) অর্থাৎ এই চুক্তিগুলোতে (তার কারণ থেকে পৃথক হওয়া গ্রহণ করে না)। এমনকি এতে শর্তযুক্ত ইখতিয়ার (খিয়ারে শর্ত) প্রবেশ করে না। কেননা ইখতিয়ার বিধানের ওপর আপতিত হয় এবং তা কারণ থেকে বিধান পিছিয়ে যাওয়াকে অবধারিত করে, অথচ এই চুক্তিগুলো তা গ্রহণ করে না। (কেননা এটি) অর্থাৎ যেহেতু এই চুক্তিগুলোতে কারণটি (বিলোপকরণ) অর্থাৎ এটি বিলোপকরণ বা অধিকার ত্যাগের পর্যায়ভুক্ত।বিয়ে ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট। আর বিয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো এই যে, বিয়ের ক্ষেত্র হলো আদম সন্তান নারীগণ। তারা মূলত স্বাধীন হিসেবেই সৃষ্টি হয়েছে। আর স্বাধীনতা তার ওপর মালিকানা আসার পরিপন্থী। তবে শারী'আত প্রদাতা বংশধারা রক্ষার তাগিদে বিয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার ওপর এক প্রকার মালিকানা সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং এটি মালিকানা সত্তার সেই বিলোপকরণ যা স্বাধীনতার জন্য মৌলিকভাবে সাব্যস্ত ছিল—আল্লামা শামসুদ্দীন আল-কুর্দী থেকে এমনই বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া লজ্জাস্থানসমূহের ক্ষেত্রে মূল হলো হারাম হওয়া, তাই মূলের দিকে লক্ষ রেখে বিয়ে হলো সেই হারামের বিলোপকরণ—যেমনটি 'কাফী' কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আর যখন এই চুক্তিগুলোতে কারণটি বিলোপকরণ, (তখন তা বিলীন হয়ে যায়) অর্থাৎ নিঃশেষ হয়ে যায়। (তাই তা প্রকাশ পাওয়া কল্পনাতীত) অর্থাৎ মৌলিকভাবে কারণটি প্রকাশ পাওয়া (এক ব্যক্তি থেকে এবং তার বিধান অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত হওয়া) যেমনটি প্রথম প্রকারে হয়ে থাকে। (ফলে সে ছিল একজন দূত) অর্থাৎ আলোচ্য ক্ষেত্রে উকিল ছিল নিছক একজন দূত মাত্র।যদি আপনি বলেন: এখানে আলোচনা বিধান নিয়ে নয় বরং অধিকারসমূহ নিয়ে, তবে তাঁর এই কথার ফায়দা কী যে—'কেননা বিধান এতে কারণ থেকে পৃথক হওয়া গ্রহণ করে না'? আমি বলব: তাঁরা প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, পূর্ববর্তী উকিল নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিধান উকিলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মুওয়াক্কিলের জন্য সাব্যস্ত হয়। আর উকিলের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে অধিকারসমূহ উকিলের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। কিন্তু এখানে যখন বিধানটি বক্তব্য থেকে পৃথক হয় না যেহেতু তা বিলোপকরণের জন্য, তাই হয় বিধানটি উকিলের জন্য সাব্যস্ত হবে অথবা বক্তব্যটি মুওয়াক্কিলের দিকে স্থানান্তরিত হবে। প্রথমটি বাতিল; কেননা তা ওকালতিকে বাতিল করে দেয় এবং মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার পরিপন্থী। তাই দ্বিতীয়টি নির্ধারিত হলো। আর এরই দিকে তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন—'ফলে সে ছিল একজন দূত মাত্র'। (দ্বিতীয় প্রকার) আর তা হলো এমন প্রতিটি চুক্তি যা উকিল তার মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে (তার সদৃশ বিষয়াবলির মধ্য থেকে) অর্থাৎ এমন সব বিষয়ের মধ্য থেকে যাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে: অর্থাৎ বিধানের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব রয়েছে, (তা হলো মালের বিনিময়ে দাসমুক্তি)।
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَالْكِتَابَةُ وَالصُّلْحُ عَلَى الْإِنْكَارِ. فَأَمَّا الصُّلْحُ الَّذِي هُوَ جَارٍ مَجْرَى الْبَيْعِ فَهُوَ مِنْ الضَّرْبِ الْأَوَّلِ، وَالْوَكِيلُ بِالْهِبَةِ وَالتَّصَدُّقِ وَالْإِعَارَةِ وَالْإِيدَاعِ وَالرَّهْنِ وَالْإِقْرَاضِ سَفِيرٌ أَيْضًا؛ لِأَنَّ الْحُكْمَ فِيمَا يَثْبُتُ بِالْقَبْضِ،
قَوْلُهُ وَالضَّرْبُ الثَّانِي مُبْتَدَأٌ مَوْصُوفٌ. وَقَوْلُهُ مِنْ أَخَوَاتِهِ خَبَرٌ مُقَدَّمٌ لِمُبْتَدَإٍ ثَانٍ وَهُوَ قَوْلُهُ الْعِتْقُ عَلَى مَالٍ. وَالْجُمْلَةُ أَعْنِي الْمُبْتَدَأَ الثَّانِيَ مَعَ خَبَرِهِ خَبَرٌ لِلْمُبْتَدَأِ الْأَوَّلِ، فَحَاصِلُ الْمَعْنَى وَمِنْ أَخَوَاتِ الضَّرْبِ الثَّانِي الْعِتْقُ عَلَى مَالٍ.قَالَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ فِي تَفْسِيرِ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ هَاهُنَا: أَيْ الْعُقُودُ الَّتِي ذُكِرَتْ فِي الضَّرْبِ الثَّانِي مِنْ أَخَوَاتِهَا الْعِتْقُ عَلَى مَالٍ، وَقَالَ: إنَّمَا فَسَّرْنَا بِهِ؛ لِأَنَّ الْعِتْقَ عَلَى مَالٍ وَأَخَوَاتِهِ مِنْ مَشْمُولَاتِ الضَّرْبِ الثَّانِي لَا مِنْ أَخَوَاتِهِ. أَقُولُ: لَا يَذْهَبُ عَلَى ذِي مُسْكَةٍ أَنَّ التَّفْسِيرَ الَّذِي ذَكَرَهُ ذَلِكَ الْقَائِلُ مِمَّا لَا يُسَاعِدُهُ التَّرْكِيبُ مِنْ حَيْثُ الْعَرَبِيَّةُ أَصْلًا فَكَيْفَ يُحْمَلُ الْمَعْنَى عَلَيْهِ، وَأَمَّا كَوْنُ الْعِتْقِ عَلَى مَالٍ وَأَخَوَاتِهِ مِنْ مَشْمُولَاتِ الضَّرْبِ الثَّانِي لَا مِنْ أَخَوَاتِهِ فَإِنَّمَا يُنَافِي اعْتِبَارَ الْأُخُوَّةِ بَيْنَ الضَّرْبِ الثَّانِي وَمَشْمُولَاتِهِ، وَلَيْسَ ذَلِكَ مِنْ ضَرُورَاتِ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ هَاهُنَا؛ لِأَنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ إضَافَةُ الْأَخَوَاتِ إلَى ضَمِيرِ الضَّرْبِ الثَّانِي لِكَوْنِهَا مِنْ أَفْرَادِهِ، وَيَكُونُ التَّعْبِيرُ عَنْهَا بِالْأَخَوَاتِ لِلتَّنْبِيهِ عَلَى مُشَارَكَتِهَا فِي الْحُكْمِ كَمَا أَشَرْنَا إلَيْهِ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ مِنْ أَخَوَاتِهِ. نَعَمْ الْمُتَبَادَرُ مِنْ الْإِضَافَةِ اعْتِبَارُ الْأُخُوَّةِ بَيْنَ الْمُضَافِ وَالْمُضَافِ إلَيْهِ كَمَا فِي نَظَائِرِهِ، لَكِنَّ قَرِينَةَ الْمَقَامِ صَارِفَةٌ عَنْهُ إلَى مَا قُلْنَا فَتَدَبَّرْ (وَالْكِتَابَةُ) عَطْفٌ عَلَى الْعِتْقِ عَلَى مَالٍ دَاخِلٍ فِي حُكْمِ الْكَلَامِ السَّابِقِ؛ وَكَذَا قَوْلُهُ (وَالصُّلْحُ عَلَى الْإِنْكَارِ) وَإِنَّمَا جَعَلَ هَذِهِ الْعُقُودَ مِنْ قَبِيلِ الضَّرْبِ الثَّانِي؛ لِأَنَّهَا مِنْ الْإِسْقَاطَاتِ دُونَ الْمُعَاوَضَاتِ.أَمَّا الْعِتْقُ عَلَى مَالٍ وَالْكِتَابَةُ فَلِأَنَّ الْبَدَلَ فِيهِمَا بِمُقَابَلَةِ إزَالَةِ الرِّقِّ وَفَكِّ الْحَجْرِ. وَأَمَّا الصُّلْحُ عَلَى الْإِنْكَارِ فَلِأَنَّ الْبَدَلَ فِيهِ بِمُقَابَلَةِ دَفْعِ الْخُصُومَةِ وَافْتِدَاءِ الْيَمِينِ فِي حَقِّ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ (فَأَمَّا الصُّلْحُ الَّذِي هُوَ جَارٍ مَجْرَى الْبَيْعِ فَهُوَ مِنْ الضَّرْبِ الْأَوَّلِ) أَرَادَ بِالصُّلْحِ الَّذِي هُوَ جَارٍ مَجْرَى الْبَيْعِ الصُّلْحَ عَنْ إقْرَارٍ فِيمَا إذَا كَانَ عَنْ مَالٍ بِمَالٍ فَإِنَّهُ مُبَادَلَةُ مَالٍ بِمَالٍ فَكَانَ بِمَنْزِلَةِ الْبَيْعِ، وَأَمَّا إذَا كَانَ الصُّلْحُ عَنْ دَمِ الْعَمْدِ أَوْ كَانَ عَلَى بَعْضِ مَا يَدَّعِيهِ مِنْ الدَّيْنِ فَهُوَ مِنْ الضَّرْبِ الثَّانِي وَإِنْ كَانَ عَنْ إقْرَارٍ؛ لِأَنَّهُ إسْقَاطٌ مَحْضٌ فَكَانَ الْوَكِيلُ فِيهِ سَفِيرًا مَحْضًا كَمَا صَرَّحَ بِهِ الْمُصَنِّفُ رحمه الله فِي بَابِ التَّبَرُّعِ بِالصُّلْحِ وَالتَّوْكِيلُ مِنْ كِتَابِ الصُّلْحِ.أَقُولُ: فَبِهَذَا ظَهَرَ أَنَّ مَا وَقَعَ هَاهُنَا فِي الشُّرُوحِ مِنْ تَفْسِيرِ الصُّلْحِ الَّذِي هُوَ جَارٍ مَجْرَى الْبَيْعِ بِالصُّلْحِ عَنْ إقْرَارٍ مِنْ غَيْرِ تَقْيِيدٍ بِمَا ذَكَرْنَاهُ تَقْصِيرٌ فِي تَعْيِينِ الْمَرَامِ وَتَحْقِيقِ الْمَقَامِ، كَيْفَ وَلَوْ كَانَ ذَلِكَ كَافِيًا هَاهُنَا لَمَا بَدَّلَ الْمُصَنِّفُ اللَّفْظَ الْيَسِيرَ بِاللَّفْظِ الْكَثِيرِ (وَالْوَكِيلُ بِالْهِبَةِ وَالتَّصَدُّقِ وَالْإِعَارَةِ وَالْإِيدَاعِ وَالرَّهْنِ وَالْإِقْرَاضِ سَفِيرٌ أَيْضًا) وَتَفْسِيرُ هَذَا مَا ذَكَرَهُ فِي الْإِيضَاحِ حَيْثُ قَالَ: وَلَوْ وَكَّلَ وَكِيلًا بِأَنْ يَهَبَ عَبْدَهُ لِفُلَانٍ أَوْ يَتَصَدَّقَ بِهِ عَلَيْهِ أَوْ يُعِيرَهُ إيَّاهُ أَوْ يُودِعَهُ أَوْ يُرْهِنَهُ فَقَبَضَ الْوَكِيلُ وَفَعَلَ مَا أَمَرَهُ فَهُوَ جَائِزٌ عَلَى الْمُوَكِّلِ، وَلَيْسَ لِلْوَكِيلِ الْمُطَالَبَةُ بِرَدِّ شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ إلَى يَدِهِ، وَلَا أَنْ يَقْبِضَ الْوَدِيعَةَ وَالْعَارِيَّةَ وَلَا الرَّهْنَ وَلَا الْقَرْضَ مِمَّنْ عَلَيْهِ؛ لِأَنَّ أَحْكَامَ هَذِهِ الْعُقُودِ إنَّمَا تَثْبُتُ بِالْقَبْضِ فَلَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْوَكِيلُ فِيهِ أَصِيلًا؛ لِأَنَّهُ أَجْنَبِيٌّ عَنْ الْمَحَلِّ الَّذِي يُلَاقِيهِ الْقَبْضُ فَكَانَ سَفِيرًا وَمُعَبِّرًا عَنْ الْمَالِكِ انْتَهَى. وَأَشَارَ الْمُصَنِّفُ رحمه الله إلَى التَّعْلِيلِ الْمَذْكُورِ فِيهِ أَيْضًا بِقَوْلِهِ (لِأَنَّ الْحُكْمَ فِيهَا) أَيْ فِي الْعُقُودِ الْمَذْكُورَةِ (يَثْبُتُ بِالْقَبْضِ) أَيْ
এবং কিতাবাত (মুক্তির চুক্তি) ও অস্বীকারের ভিত্তিতে সন্ধি। আর যে সন্ধি বিক্রয়ের পর্যায়ে পড়ে, তা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। আর দান, সদকা, ধার দেওয়া (ইআরাহ), আমানত রাখা (ইদা'), বন্ধক রাখা এবং ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিও একজন দূত হিসেবে গণ্য; কারণ, যে ক্ষেত্রে দখল (কবছা) দ্বারা বিধান সাব্যস্ত হয়,
তাঁর উক্তি "দ্বিতীয় প্রকার" হলো একটি বিশেষায়িত উদ্দেশ্য (মুবতাদা মাউসুফ)। এবং তাঁর উক্তি "এর সমগোত্রীয়গুলো থেকে" হলো একটি অগ্রবর্তী বিধেয় (খবর মুকাদ্দাম) যা একটি দ্বিতীয় উদ্দেশ্যের (মুবতাদা) জন্য, আর তা হলো তাঁর উক্তি "অর্থের বিনিময়ে মুক্তি প্রদান"। এবং এই বাক্যটি অর্থাৎ দ্বিতীয় উদ্দেশ্য তার বিধেয়সহ প্রথম উদ্দেশ্যের বিধেয়। সুতরাং সারকথা হলো: দ্বিতীয় প্রকারের সমগোত্রীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থের বিনিময়ে মুক্তি প্রদান।এখানকার লেখকের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় জনৈক বিশিষ্ট আলিম বলেছেন: অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রকারে যে সকল চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থের বিনিময়ে মুক্তি প্রদান সেগুলোরই সমগোত্রীয়। তিনি বলেছেন: আমরা এই ব্যাখ্যা দিয়েছি কারণ অর্থের বিনিময়ে মুক্তি প্রদান এবং তার সমগোত্রীয় বিষয়গুলো দ্বিতীয় প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত বিষয়, তার সমগোত্রীয় নয়। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বিবেকসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, উক্ত প্রবক্তা যে ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন আরবি ভাষার বাক্যবিন্যাস মোটেও তার সমর্থন করে না, সুতরাং অর্থকে সেদিকে কীভাবে ধাবিত করা যায়? আর অর্থের বিনিময়ে মুক্তি প্রদান ও তার সমগোত্রীয় বিষয়গুলো দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং এর সমগোত্রীয় না হওয়া প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এটি কেবল দ্বিতীয় প্রকার ও তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে সমগোত্রীয়তার বিবেচনার পরিপন্থী। কিন্তু এখানকার লেখকের বক্তব্যের জন্য এটি অপরিহার্য নয়; কারণ, সমগোত্রীয় শব্দটিকে দ্বিতীয় প্রকারের সর্বনামের দিকে সম্বন্ধ (ইদাফাত) করা বৈধ এই কারণে যে সেটি তার ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত। আর এগুলোকে 'সমগোত্রীয়' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে এদের বিধানগত অংশীদারিত্বের ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য, যেমনটি আমি 'এর সমগোত্রীয়গুলো থেকে' উক্তির ব্যাখ্যায় ইশারা করেছি। হ্যাঁ, সম্বন্ধ (ইদাফাত) থেকে সাধারণত যা বুঝে আসে তা হলো মুদাফ ও মুদাফ ইলাইহ-এর মধ্যে সমজাতীয়তা বিবেচনা করা, যেমনটি এর সদৃশ বিষয়গুলোতে দেখা যায়। কিন্তু প্রসঙ্গের আলামত একে সেই অর্থ থেকে সরিয়ে আমাদের উল্লেখিত অর্থের দিকে ফিরিয়ে দেয়; সুতরাং চিন্তা করুন। (এবং কিতাবাত) শব্দটি 'অর্থের বিনিময়ে মুক্তি প্রদান' এর ওপর সংযুক্ত (আতফ), যা পূর্ববর্তী বক্তব্যের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে তাঁর উক্তি (এবং অস্বীকারের ভিত্তিতে সন্ধি)। এই চুক্তিগুলোকে দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কারণ এগুলো হলো অধিকার রহিতকরণ (ইসকাতাত), বিনিময়মূলক চুক্তি (মুয়াওয়াদাত) নয়।অর্থের বিনিময়ে মুক্তি প্রদান এবং কিতাবাতের কারণ হলো, এই উভয় ক্ষেত্রে বিনিময় প্রদান করা হয় দাসত্ব বিলোপ এবং আইনি বাধা অপসারণের বিপরীতে। আর অস্বীকারের ভিত্তিতে সন্ধির কারণ হলো, এতে বিনিময় প্রদান করা হয় বিবাদ দূর করা এবং বিবাদী পক্ষের কসম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার বিপরীতে। (আর যে সন্ধি বিক্রয়ের পর্যায়ে পড়ে, তা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত) এখানে 'বিক্রয়ের পর্যায়ে পড়া সন্ধি' দ্বারা তিনি স্বীকৃতিভিত্তিক সন্ধি বুঝিয়েছেন, যখন তা মালের বিনিময়ে মাল হয়। কেননা এটি মালের বিনিময়ে মালের বিনিময়, ফলে তা বিক্রয়তুল্য। কিন্তু সন্ধি যদি ইচ্ছাকৃত হত্যার রক্তের বিনিময়ে হয় অথবা দাবিকৃত ঋণের অংশবিশেষের ওপর হয়, তবে তা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে—যদিও তা স্বীকৃতির ভিত্তিতে হয়; কারণ তা বিশুদ্ধ রহিতকরণ (ইসকাত), ফলে এক্ষেত্রে প্রতিনিধি বা ওয়াকিল কেবল একজন দূত (সাফীর) হিসেবে গণ্য হবেন, যেমনটি লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) 'কিতাবুস সুলহ'-এর 'স্বেচ্ছায় সন্ধি এবং প্রতিনিধি নিয়োগ' পরিচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।আমি বলছি: এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, এখানে ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে (শরহ) 'বিক্রয়ের পর্যায়ে পড়া সন্ধি'র ব্যাখ্যায় আমাদের উল্লেখিত শর্ত ছাড়া কেবল 'স্বীকৃতিভিত্তিক সন্ধি' বলা হয়েছে, তা উদ্দেশ্য নির্ধারণ ও প্রকৃত অবস্থা উদ্ঘাটনে অপূর্ণতা। এটি কীভাবে যথেষ্ট হতে পারে, অথচ যদি এটিই এখানে যথেষ্ট হতো তবে লেখক কেন সংক্ষিপ্ত শব্দের পরিবর্তে দীর্ঘ শব্দ ব্যবহার করবেন? (এবং দান, সদকা, ধার দেওয়া, আমানত রাখা, বন্ধক রাখা এবং ঋণ প্রদানের প্রতিনিধিও একজন দূত) এর ব্যাখ্যা হলো যা 'আল-ঈজাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: যদি কেউ তার গোলামকে অমুক ব্যক্তিকে দান করা, তাকে সদকা করা, তাকে ধার দেওয়া, তার কাছে আমানত রাখা অথবা তার নিকট বন্ধক রাখার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, অতঃপর প্রতিনিধি তা গ্রহণ করে এবং নির্দেশিত কাজ সম্পন্ন করে, তবে তা নিয়োগদাতার পক্ষ থেকে জায়েয হবে। প্রতিনিধির জন্য এর কোনো কিছু নিজের অধিকারে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করার অধিকার নেই। আর যার কাছে গচ্ছিত আছে তার থেকে আমানত, ধার দেওয়া বস্তু, বন্ধক বা ঋণ গ্রহণ করার অধিকারও তার নেই; কারণ এই চুক্তিগুলোর বিধান কেবল দখল (কবছা) দ্বারা সাব্যস্ত হয়, তাই এতে প্রতিনিধি 'আসল' বা মূল পক্ষ হওয়া জায়েয নয়; কারণ দখলকৃত বিষয়ের সাথে তার কোনো প্রত্যক্ষ মালিকানা সম্পর্ক নেই, সে তো কেবল মালিকের পক্ষ থেকে একজন দূত এবং মুখপাত্র মাত্র—সমাপ্ত। লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উক্ত দলীলের দিকে ইশারা করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে (কেননা এগুলোর বিধান) অর্থাৎ উল্লিখিত চুক্তিগুলোর বিধান (দখল দ্বারা সাব্যস্ত হয়) অর্থাৎ
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَأَنَّهُ يُلَاقِي مَحَلًّا مَمْلُوكًا لِلْغَيْرِ فَلَا يُجْعَلُ أَصِيلًا، وَكَذَا إذَا كَانَ الْوَكِيلُ مِنْ جَانِبِ الْمُلْتَمِسِ، وَكَذَا الشَّرِكَةُ وَالْمُضَارَبَةُ، إلَّا أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ بَاطِلٌ حَتَّى لَا يَثْبُتَ الْمِلْكُ لِلْمُوَكِّلِ
بِقَبْضِ الْمَوْهُوبِ لَهُ وَالْمُتَصَدَّقِ عَلَيْهِ وَنَظَائِرِهِمَا (وَأَنَّهُ) أَيْ الْقَبْضَ (يُلَاقِي مَحَلًّا مَمْلُوكًا لِلْغَيْرِ) أَيْ لِغَيْرِ الْوَكِيلِ، فَالْحُكْمُ أَيْضًا يُلَاقِي مَحَلًّا مَمْلُوكًا لِغَيْرِ الْوَكِيلِ وَهُوَ الْمُوَكِّلُ (فَلَا يُجْعَلُ) أَيْ الْوَكِيلُ (أَصِيلًا) لِكَوْنِهِ أَجْنَبِيًّا عَنْ ذَلِكَ الْمَحَلِّ، بِخِلَافِ التَّصَرُّفَاتِ الَّتِي تَقُومُ بِالْقَبُولِ وَلَا تَتَوَقَّفُ عَلَى الْقَبْضِ كَالْبَيْعِ وَغَيْرِهِ، فَإِنَّ الْوَكِيلَ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ أَصِيلًا فِيهَا؛ لِأَنَّهُ أَصْلٌ فِي التَّكَلُّمِ وَكَلَامُهُ مَمْلُوكٌ لَهُ. قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: فَقَوْلُهُ فَلَا يُجْعَلُ أَصِيلًا مُقْتَضَاهُ أَصِيلًا فِي الْحُكْمِ وَلَيْسَ الْكَلَامُ فِيهِ. وَيَدْفَعُ ذَلِكَ بِأَنَّ الْحُكْمَ إذَا لَاقَى مَحَلًّا مَمْلُوكًا لِغَيْرِ الْوَكِيلِ كَانَ ثَابِتًا لِمَنْ لَهُ الْمَحَلُّ وَالْحُقُوقُ فِيمَا يُثْبِتُ الْحُكْمَ بِالْعِبَارَةِ وَحْدَهَا فِيمَا لَا يَقْبَلُ الْحُكْمُ الِانْفِصَالَ عَنْهَا انْتَقَلَتْ إلَى الْمُوَكِّلِ بِجَعْلِ الْعِبَارَةِ سِفَارَةً فَفِيمَا احْتَاجَ إلَى الْقَبْضِ أَوْلَى لِضَعْفِهَا فِي الْعَلِيَّةِ انْتَهَى.أَقُولُ: مَا اسْتِشْكَالُهُ بِشَيْءٍ وَلَا دَفْعُهُ. أَمَّا الْأَوَّلُ فَلِأَنَّهُ إذَا ثَبَتَ أَنَّ الْوَكِيلَ فِي هَذِهِ الْعُقُودِ لَمْ يُجْعَلْ أَصِيلًا فِي الْحُكْمِ ثَبَتَ أَيْضًا مَا فِيهِ الْكَلَامُ وَهُوَ عَدَمُ تَعَلُّقِ الْحُقُوقِ بِالْوَكِيلِ فِي هَذِهِ الْعُقُودِ، إذْ قَدْ كَانَ مَبْنَى تَعَلُّقِ الْحُقُوقِ بِالْوَكِيلِ فِي الضَّرْبِ الْأَوَّلِ ثُبُوتَ الْحُكْمِ الَّذِي هُوَ الْمِلْكُ لِلْمُوَكِّلِ خِلَافَةً عَنْ الْوَكِيلِ، وَهَذَا إنَّمَا يَكُونُ بِأَنْ يُجْعَلَ الْوَكِيلُ أَصِيلًا فِي الْحُكْمِ، فَإِذَا لَمْ يُجْعَلْ فِي الْعُقُودِ الْمَذْكُورَةِ أَصِيلًا فِيهِ تَعَيَّنَ عَدَمُ تَعَلُّقِ الْحُقُوقِ بِهِ فِيهَا. وَأَمَّا الثَّانِي فَلِأَنَّ الْبَاعِثَ عَلَى انْتِقَالِ الْحُقُوقِ إلَى الْمُوَكِّلِ فِيمَا لَا يَقْبَلُ الْحُكْمُ الِانْفِصَالَ عَنْ الْعِبَارَةِ لَيْسَ إلَّا كَوْنُ السَّبَبِ إسْقَاطًا مُتَلَاشِيًا، وَالسَّبَبُ فِيمَا نَحْنُ فِيهِ لَيْسَ مِنْ قَبِيلِ الْإِسْقَاطَاتِ كَمَا لَا يَخْفَى فَلَا مُسَاوَاةَ فَضْلًا عَنْ الْأَوْلَوِيَّةِ. وَأَمَّا الضَّعْفُ فِي الْعَلِيَّةِ فَإِنْ كَانَ لَهُ مَدْخَلٌ فَإِنَّمَا هُوَ فِي حَقِّ نَفْسِ ثُبُوتِ الْحُكْمِ لَا فِي حَقِّ الِانْتِقَالِ فَتَأَمَّلْ.(وَكَذَا إذَا كَانَ الْوَكِيلُ مِنْ جَانِبِ الْمُلْتَمِسِ) يَعْنِي إذَا كَانَ الْوَكِيلُ مِنْ جَانِبِ الْمُلْتَمِسِ لِلتَّصَرُّفَاتِ الْمَذْكُورَةِ بِأَنْ وَكَّلَهُ بِالِاسْتِيهَابِ أَوْ الِاسْتِعَارَةِ أَوْ الِارْتِهَانِ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ يَكُونُ الْوَكِيلُ سَفِيرًا أَيْضًا فَيَتَعَلَّقُ الْحُكْمُ وَالْحُقُوقُ كُلُّهَا بِالْمُوَكِّلِ دُونَ الْوَكِيلِ؛ لِأَنَّهُ يُضِيفُ الْعَقْدَ إلَى مُوَكِّلِهِ. وَفِي الْعِنَايَةِ: أَمَّا إذَا قَبَضَ الْمُوَكِّلُ فَلَا إشْكَالَ، وَأَمَّا إذَا قَبَضَ الْوَكِيلُ فَالْوَاجِبُ أَنْ يَثْبُتَ الْحُكْمُ لِلْمُوَكِّلِ، وَتَتَعَلَّقُ الْحُقُوقُ بِالْوَكِيلِ لِاجْتِمَاعِ الْقَوْلِ وَالْقَبْضِ. وَيُدْفَعُ بِأَنَّهُ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ إضَافَةِ الْعَقْدِ إلَى مُوَكِّلِهِ وَهِيَ تَجْعَلُ الْقَبْضَ لَهُ فَصَارَ كَمَا إذَا قَبَضَهُ بِنَفْسِهِ انْتَهَى (وَكَذَا الشَّرِكَةُ وَالْمُضَارَبَةُ) يَعْنِي إذَا وَكَّلَ بِعَقْدِ الشَّرِكَةِ أَوْ الْمُضَارَبَةِ يَكُونُ الْوَكِيلُ سَفِيرًا أَيْضًا وَتَتَعَلَّقُ حُقُوقُ الْعَقْدِ بِالْمُوَكِّلِ دُونَ الْوَكِيلِ، إذْ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ إضَافَةِ الْعَقْدِ إلَى مُوَكِّلِهِ، حَتَّى لَوْ أَضَافَهُ إلَى نَفْسِهِ يَقَعُ عَنْهُ لَا عَنْ مُوَكِّلِهِ (إلَّا أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ بَاطِلٌ) اسْتِثْنَاءً مِنْ قَوْلِهِ: " وَكَذَا إذَا كَانَ الْوَكِيلُ مِنْ جَانِبِ الْمُلْتَمِسِ " (حَتَّى لَا يَثْبُتَ الْمِلْكُ لِلْمُوَكِّلِ) فَلِلْوَكِيلِ أَنْ يَمْنَعَ الَّذِي اسْتَقْرَضَهُ مِنْ الْآمِرِ، وَلَوْ هَلَكَ هَلَكَ مِنْ
এবং এটি অন্যের মালিকানাধীন একটি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তাই তাকে মূল পক্ষ হিসেবে গণ্য করা হবে না। অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে যখন প্রতিনিধি আবেদনকারীর পক্ষ থেকে হবে। অংশীদারিত্ব এবং মুদারাবার ক্ষেত্রেও একই কথা। তবে ঋণ গ্রহণের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা বাতিল, এমনকি মুওয়াক্কিলের জন্য মালিকানা সাব্যস্ত হয় না।
দান গ্রহীতা ও সদকা গ্রহীতা এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিদের দখলের মাধ্যমে। (এবং এটি) অর্থাৎ দখল (অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়) অর্থাৎ প্রতিনিধির বহির্ভূত ব্যক্তির। সুতরাং বিধানটিও প্রতিনিধির বহির্ভূত অর্থাৎ মুওয়াক্কিলের মালিকানাধীন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়। (তাই তাকে) অর্থাৎ প্রতিনিধিকে (মূল পক্ষ হিসেবে গণ্য করা হবে না) কারণ সে উক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে একজন অপরিচিত ব্যক্তি। তবে যেসব লেনদেন সম্মতির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় এবং দখলের ওপর নির্ভর করে না, যেমন ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিনিধিকে অবশ্যই মূল পক্ষ হতে হয়; কারণ সে কথা বলার ক্ষেত্রে মূল এবং তার কথা তার নিজস্ব মালিকানাধীন। ইনায়াহ গ্রন্থের লেখক বলেন: তার উক্তি "তাকে মূল পক্ষ হিসেবে গণ্য করা হবে না" এর দাবি হলো বিধানের ক্ষেত্রে মূল হওয়া, অথচ আলোচনা সে সম্পর্কে নয়। এর উত্তর হলো, বিধান যখন প্রতিনিধির বহির্ভূত ব্যক্তির মালিকানাধীন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তখন তা সেই ব্যক্তির জন্যই সাব্যস্ত হয় যার মালিকানায় ওই বিষয়টি রয়েছে। আর যেসব ক্ষেত্রে বিধান কেবল কথার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয় এবং বিধানটি সেই কথা থেকে পৃথক হওয়া গ্রহণ করে না, সেখানে কথাকে দূত হিসেবে গণ্য করার মাধ্যমে তা মুওয়াক্কিলের দিকে স্থানান্তরিত হয়। সুতরাং যে ক্ষেত্রে দখলের প্রয়োজন হয়, সেখানে দুর্বল কার্যকারিতার কারণে এটি (মুওয়াক্কিলের দিকে স্থানান্তরিত হওয়া) আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। কথা সমাপ্ত।আমি বলি: তার আপত্তিটিও কোনো বিষয় নয় এবং এর উত্তরটিও নয়। প্রথমটির কারণ হলো, যখন এটি সাব্যস্ত হলো যে এসব চুক্তিতে প্রতিনিধিকে বিধানের ক্ষেত্রে মূল পক্ষ করা হয়নি, তখন আলোচনার মূল বিষয় অর্থাৎ এসব চুক্তিতে প্রতিনিধির সাথে অধিকারসমূহ সংশ্লিষ্ট না হওয়াও সাব্যস্ত হয়ে গেল। কারণ, প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধির সাথে অধিকার সংশ্লিষ্ট হওয়ার ভিত্তি ছিল মুওয়াক্কিলের জন্য প্রতিনিধির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বিধান তথা মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন প্রতিনিধিকে বিধানের ক্ষেত্রে মূল পক্ষ করা হয়। সুতরাং যখন উল্লিখিত চুক্তিগুলোতে তাকে মূল করা হয়নি, তখন সেগুলোর ক্ষেত্রে তার সাথে অধিকার সংশ্লিষ্ট না হওয়া অবধারিত হয়ে গেল। আর দ্বিতীয়টির কারণ হলো, যে ক্ষেত্রে বিধান কথা থেকে পৃথক হওয়া গ্রহণ করে না, সেখানে মুওয়াক্কিলের দিকে অধিকার স্থানান্তরিত হওয়ার কারণ কেবল এই যে, মূল কারণটি একটি বিলুপ্ত অধিকার পরিত্যাগের পর্যায়ে। অথচ আমাদের আলোচ্য বিষয়ে কারণটি অধিকার পরিত্যাগের পর্যায়ভুক্ত নয়, যেমনটি স্পষ্ট। সুতরাং এখানে সমতা নেই, অগ্রাধিকার তো দূরের কথা। আর কার্যকারিতার দুর্বলতার যদি কোনো প্রভাব থাকে, তবে তা বিধান সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে, স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নয়। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন।(অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে যখন প্রতিনিধি আবেদনকারীর পক্ষ থেকে হবে) অর্থাৎ উল্লিখিত লেনদেনসমূহে যখন প্রতিনিধি আবেদনকারীর পক্ষ থেকে হবে, যেমন তাকে দান গ্রহণের জন্য, ধার গ্রহণের জন্য, বন্ধক রাখার জন্য বা এ জাতীয় অন্য কিছুর জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়, তখনও প্রতিনিধি কেবল একজন দূত হিসেবে গণ্য হবে। ফলে বিধান ও অধিকারসমূহ প্রতিনিধির পরিবর্তে মুওয়াক্কিলের সাথেই সংশ্লিষ্ট হবে; কারণ সে চুক্তিটিকে তার মুওয়াক্কিলের দিকে সম্পৃক্ত করে। ইনায়াহ গ্রন্থে রয়েছে: মুওয়াক্কিল নিজে দখল করলে কোনো অস্পষ্টতা নেই, কিন্তু প্রতিনিধি দখল করলে বাঞ্ছনীয় হলো মুওয়াক্কিলের জন্য বিধান সাব্যস্ত হওয়া এবং কথা ও দখল একত্রিত হওয়ার কারণে প্রতিনিধির সাথে অধিকার সংশ্লিষ্ট হওয়া। এর উত্তর হলো, তার জন্য চুক্তিটিকে মুওয়াক্কিলের দিকে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক, আর এই সম্পৃক্তকরণ দখলকেও মুওয়াক্কিলের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। ফলে এটি এমন হয়ে গেল যেন মুওয়াক্কিল নিজেই তা দখল করেছে। কথা সমাপ্ত।(অংশীদারিত্ব এবং মুদারাবার ক্ষেত্রেও একই কথা) অর্থাৎ যখন অংশীদারিত্বের চুক্তি বা মুদারাবার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়, তখনও প্রতিনিধি একজন দূত হিসেবে গণ্য হবে এবং চুক্তির অধিকারসমূহ প্রতিনিধির পরিবর্তে মুওয়াক্কিলের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। কেননা তার জন্য চুক্তিটি মুওয়াক্কিলের দিকে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। এমনকি সে যদি এটি নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে, তবে তা তার পক্ষ থেকেই গণ্য হবে, মুওয়াক্কিলের পক্ষ থেকে নয়।(তবে ঋণ গ্রহণের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা বাতিল) এটি তার উক্তি "অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে যখন প্রতিনিধি আবেদনকারীর পক্ষ থেকে হবে"-এর একটি ব্যতিক্রম। (এমনকি মুওয়াক্কিলের জন্য মালিকানা সাব্যস্ত হয় না) তাই যে ব্যক্তি নির্দেশদাতার পক্ষ থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে, তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার প্রতিনিধির রয়েছে। আর এটি যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তা ধ্বংস হবে...
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
مَالِهِ. قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: وَاعْلَمْ أَنِّي أُعِيدُ لَك هَاهُنَا مَا ذَكَرْته فِي أَوَّلِ كِتَابِ الْوَكَالَةِ وَأَزِيدُك مَا يَسَّرَ اللَّهُ تَعَالَى ذِكْرَهُ لِكَوْنِ الْمَقَامِ مِنْ مَعَارِكِ الْآرَاءِ، فَإِنْ ظَهَرَ لَك فَاحْمَدْ اللَّهَ تَعَالَى، وَإِنْ سَمَحَ ذِهْنُك بِخِلَافِهِ فَلَا مَلُومَةَ فَإِنَّ جَهْدَ الْمُقِلِّ دُمُوعُهُ: التَّوْكِيلُ بِالِاسْتِقْرَاضِ لَا يَصِحُّ؛ لِأَنَّهُ أَمْرٌ بِالتَّصَرُّفِ فِي مَالِ الْغَيْرِ وَأَنَّهُ لَا يَجُوزُ. وَرُدَّ بِالتَّوْكِيلِ بِالشِّرَاءِ فَإِنَّهُ أَمْرٌ بِقَبْضِ الْمَبِيعِ وَهُوَ مِلْكُ الْغَيْرِ. وَأُجِيبَ بِأَنَّ مَحَلَّهُ هُوَ الثَّمَنُ فِي ذِمَّةِ الْمُوَكِّلِ وَهُوَ مِلْكُهُ. وَأُورِدَ بِأَنَّهُ هَلَّا جُعِلَ مَحَلُّهُ فِي الِاسْتِقْرَاضِ الْبَدَلَ فِي ذِمَّةِ الْمُوَكِّلِ. وَأُجِيبَ بِأَنَّ ذَلِكَ مَحَلُّ إيفَاءِ الْقَرْضِ لَا الِاسْتِقْرَاضِ. وَأُورِدَ التَّوْكِيلُ بِالِاتِّهَابِ وَالِاسْتِعَارَةِ فَإِنَّهُ صَحِيحٌ وَلَا مَحَلَّ لَهُ سِوَى الْمُسْتَعَارِ وَالْمَوْهُوبِ إذْ لَيْسَ ثَمَّةَ بَدَلٌ عَلَى الْمُسْتَعِيرِ وَالْمَوْهُوبِ لَهُ فَيُجْعَلُ مَحَلًّا لِلتَّوْكِيلِ.وَالْجَوَابُ أَنَّ الْمُسْتَعَارَ وَالْمَوْهُوبَ مَحَلُّ التَّوْكِيلِ بِالْإِعَارَةِ وَالْهِبَةِ لَا الِاسْتِعَارَةُ وَالِاتِّهَابُ، وَإِنَّمَا مَحَلُّهُ فِيهِمَا عِبَارَةُ الْمُوَكِّلِ فَإِنَّهُ يَتَصَرَّفُ فِيهَا بِجَعْلِهَا مُوجِبَةً لِلْمِلْكِ عِنْدَ الْقَبْضِ بِإِقَامَةِ الْمُوَكِّلِ مَقَامَ نَفْسِهِ. فَإِنْ قِيلَ: فَلْيَكُنْ فِي الِاسْتِقْرَاضِ كَذَلِكَ. فَالْجَوَابُ أَنَّا اعْتَبَرْنَا الْعِبَارَةَ مَحَلًّا لِلتَّوْكِيلِ فِي الِاسْتِعَارَةِ وَنَحْوِهَا ضَرُورَةَ صِحَّةِ الْعَقْدِ خَلَفًا عَنْ بَدَلٍ يَلْزَمُ فِي الذِّمَّةِ إذَا لَمْ يَكُنْ فِيهَا بَدَلٌ فِي الذِّمَّةِ، فَلَوْ اعْتَبَرْنَاهَا مَحَلًّا لَهُ فِي الِاسْتِقْرَاضِ وَفِيهِ بَدَلٌ مُعْتَبَرٌ لِلْإِيفَاءِ فِي الذِّمَّةِ لَزِمَ اجْتِمَاعُ الْأَصْلِ وَالْخَلَفِ فِي شَخْصٍ وَاحِدٍ مِنْ جِهَةِ عَقْدٍ وَاحِدٍ، وَاَللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ، وَإِلَى هُنَا كَلَامُهُ. أَقُولُ: فِيهِ بَحْثٌ أَمَّا أَوَّلًا فَلِأَنَّ الدَّلِيلَ الَّذِي ذَكَرَهُ لِبُطْلَانِ التَّوْكِيلِ بِالِاسْتِقْرَاضِ وَهُوَ الدَّلِيلُ الْمَأْخُوذُ مِنْ الذَّخِيرَةِ وَمُخْتَارِ جُمْهُورِ الشُّرَّاحِ عَلَى مَا ذَكَرُوا فِي صَدْرِ كِتَابِ الْوَكَالَةِ لَيْسَ بِتَامٍّ عِنْدِي؛ لِأَنَّ التَّصَرُّفَ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ وَالْأَمْرَ بِهِ إنَّمَا لَا يَجُوزُ لَوْ كَانَ بِغَيْرِ إذْنِ الْمَالِكِ وَرِضَاهُ، كَمَا لَوْ غَصَبَ مِلْكَ الْغَيْرِ أَوْ أَمَرَ بِغَصْبِهِ.وَأَمَّا إذَا كَانَ بِإِذْنِهِ وَرِضَاهُ فَيَجُوزُ قَطْعًا؛ أَلَا يُرَى أَنَّ الْمُسْتَقْرِضَ لِنَفْسِهِ يَقْبِضُ الْمَالَ الْمُسْتَقْرَضَ الَّذِي هُوَ مِلْكُ الْمُقْرِضِ وَيَتَصَرَّفُ فِيهِ، وَكَذَا الْمُسْتَعِيرُ يَقْبِضُ الْمُسْتَعَارَ الَّذِي هُوَ مِلْكُ الْمُعِيرِ وَيَسْتَعْمِلُهُ، وَلَا خِلَافَ لِأَحَدٍ فِي جَوَازِ ذَلِكَ، وَالظَّاهِرُ أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ إنَّمَا هُوَ الْأَمْرُ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِ الْمُقْرِضِ بِإِذْنِهِ وَرِضَاهُ لَا بِالْجَبْرِ وَالْغَصْبِ فَيَنْبَغِي أَنْ يَجُوزَ أَيْضًا. وَأَمَّا ثَانِيًا فَلِأَنَّ مَا ذَكَرَهُ فِي الرَّدِّ لَهُ بِالتَّوْكِيلِ فِي الشِّرَاءِ مِنْ أَنَّهُ أَمْرٌ بِقَبْضِ الْمَبِيعِ وَهُوَ مِلْكُ الْغَيْرِ لَيْسَ بِصَحِيحٍ، إذْ لَا نُسَلِّمُ أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالشِّرَاءِ أَمْرٌ بِقَبْضِ الْمَبِيعِ بَلْ هُوَ أَمْرٌ بِإِيجَادِ الْعَقْدِ، وَقَبْضُ الْمَبِيعِ مِنْ مُتَفَرِّعَاتِ الْعَقْدِ غَيْرُ دَاخِلٍ فِيهِ فَلَا يَكُونُ الْأَمْرُ بِالشِّرَاءِ أَمْرًا بِقَبْضِ الْمَبِيعِ. سَلَّمْنَا أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالشِّرَاءِ أَمْرٌ بِقَبْضِ الْمَبِيعِ أَيْضًا لَكِنَّهُ أَمْرٌ بِهِ بَعْدَ إيجَادِ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
তার সম্পদ। ইনায়া গ্রন্থের লেখক বলেন: জেনে রাখুন যে, আমি এখানে আপনার জন্য তা-ই পুনরাবৃত্তি করছি যা আমি ওকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছি এবং আল্লাহ তাআলা যা সহজ করেছেন আমি তাতে আরও কিছু যোগ করছি; কারণ এই বিষয়টি মতভেদের একটি ক্ষেত্র। যদি বিষয়টি আপনার কাছে স্পষ্ট হয় তবে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করুন, আর যদি আপনার মেধা এর বিপরীতে কিছু গ্রহণ করে তবে কোনো তিরস্কার নেই, কারণ সামর্থ্যহীনের প্রচেষ্টাই তার অশ্রু: ঋণ গ্রহণের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা সহীহ নয়; কারণ এটি অন্যের সম্পদের ওপর হস্তক্ষেপ করার নির্দেশ প্রদান, যা বৈধ নয়। এর বিপরীতে ক্রয়ের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে যে, সেটিও তো বিক্রিত বস্তু হস্তগত করার নির্দেশ, অথচ তা অন্যের মালিকানা। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, ক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো মুওয়াক্কিলের (প্রতিনিধি নিয়োগকারী) জিম্মায় থাকা মূল্য, যা তার নিজস্ব মালিকানা। পুনরায় আপত্তি তোলা হয়েছে যে, তবে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও কেন মুওয়াক্কিলের জিম্মায় থাকা বিনিময়কে (পরিশোধ্য অর্থ) প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করা হবে না? এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, সেটি তো ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্র, ঋণ গ্রহণের নয়। দান গ্রহণ এবং কোনো বস্তু ব্যবহারের জন্য ধার নেওয়ার প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়েছে যে, এটি সহীহ অথচ ধার করা বা দান করা বস্তু ছাড়া এখানে অন্য কোনো ক্ষেত্র নেই; যেহেতু সেখানে গ্রহীতার ওপর কোনো বিনিময় আবশ্যক হয় না যাকে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র বানানো যায়।এর উত্তর হলো, ধার দেওয়া বা দান করা বস্তু হলো মূলত 'ধার প্রদান' (ইআরাহ) এবং 'দান প্রদান' (হিবা) সংক্রান্ত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র, 'ধার গ্রহণ' (ইস্তিআরাহ) বা 'দান গ্রহণ' (ইত্তিহাব) এর ক্ষেত্র নয়। বরং এই দুই ক্ষেত্রে (গ্রহণের ক্ষেত্রে) মূল ক্ষেত্র হলো মুওয়াক্কিলের বক্তব্য; কারণ তিনি নিজেকে প্রতিনিধির স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে সেই বক্তব্যকে হস্তগত করার সময় মালিকানা সাব্যস্তকারী হিসেবে ব্যবহারের অধিকার প্রয়োগ করেন। যদি বলা হয়: তবে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই হওয়া উচিত। উত্তর হলো: আমরা ধার গ্রহণ এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র হিসেবে মুওয়াক্কিলের বক্তব্যকে বিবেচনা করেছি চুক্তির বৈধতার প্রয়োজনে—জিম্মায় আবশ্যিক হওয়া বিনিময়ের বিকল্প হিসেবে যখন সেখানে জিম্মায় কোনো বিনিময় থাকে না। কিন্তু আমরা যদি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও বক্তব্যকে ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করি—অথচ সেখানে জিম্মায় পরিশোধের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিনিময় বিদ্যমান রয়েছে—তবে একই চুক্তির প্রেক্ষিতে একই ব্যক্তির মধ্যে মূল এবং বিকল্পের সমাবেশ ঘটা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলাই সঠিকটি সবচেয়ে ভালো জানেন। তার বক্তব্য এখানেই শেষ। আমি বলছি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; প্রথমত, ঋণ গ্রহণের প্রতিনিধিত্ব বাতিল হওয়ার সপক্ষে তিনি যে দলীল উল্লেখ করেছেন—যা জাখিরাহ এবং অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারদের মনোনীত দলীল হিসেবে ওকালাহ অধ্যায়ের শুরুতে তারা উল্লেখ করেছেন—তা আমার নিকট পূর্ণাঙ্গ নয়। কারণ অন্যের মালিকানাধীন সম্পদে হস্তক্ষেপ করা বা তার নির্দেশ দেওয়া কেবল তখনই অবৈধ হয় যখন তা মালিকের অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতীত হয়, যেমন অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা বা আত্মসাতের নির্দেশ দেওয়া।কিন্তু যখন তা মালিকের অনুমতি ও সন্তুষ্টির সাথে হয়, তখন তা নিশ্চিতভাবেই বৈধ; আপনি কি দেখেন না যে, যে ব্যক্তি নিজের জন্য ঋণ গ্রহণ করে, সে ঋণদাতার মালিকানাধীন ঋণকৃত অর্থ হস্তগত করে এবং তাতে হস্তক্ষেপ করে? একইভাবে ধার গ্রহণকারী ব্যক্তি ধারদাতার মালিকানাধীন বস্তু হস্তগত করে এবং তা ব্যবহার করে? এর বৈধতার ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। আর এটা স্পষ্ট যে, ঋণ গ্রহণের প্রতিনিধিত্ব মূলত ঋণদাতার অনুমতি ও সন্তুষ্টির ভিত্তিতে তার সম্পদে হস্তক্ষেপ করার নির্দেশ, জোরপূর্বক বা আত্মসাৎ করে নয়। সুতরাং এটিও বৈধ হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, ক্রয় করার প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এর যে প্রতিবাদ তিনি করেছেন—অর্থাৎ এটি বিক্রিত বস্তু হস্তগত করার নির্দেশ যা অন্যের মালিকানা—তা সঠিক নয়। কারণ আমরা এটি স্বীকার করি না যে, ক্রয়ের প্রতিনিধিত্ব মানেই বিক্রিত বস্তু হস্তগত করার নির্দেশ; বরং এটি হলো চুক্তি সম্পাদনের নির্দেশ। আর বিক্রিত বস্তু হস্তগত করা চুক্তির আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা চুক্তির মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং ক্রয়ের নির্দেশ মানেই হস্তগত করার নির্দেশ নয়। আমরা যদি মেনেও নেই যে ক্রয়ের প্রতিনিধিত্ব হস্তগত করারও নির্দেশ, কিন্তু সেটি তো চুক্তি সম্পাদনের পর...
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
الْعَقْدِ لَا قَبْلَهُ كَمَا لَا يَخْفَى، وَالْمَبِيعُ بَعْدَ إيجَادِ الْعَقْدِ مِلْكُ الْمُشْتَرِي لَا مِلْكُ الْغَيْرِ، بِخِلَافِ الِاسْتِقْرَاضِ فَإِنَّ الْمُسْتَقْرَضَ لَا يَكُونُ مِلْكَ الْمُسْتَقْرِضِ بِمُجَرَّدِ الْعَقْدِ بَلْ بِالْقَبْضِ عَلَى مَا صَرَّحُوا بِهِ. فَالصَّوَابُ فِي تَمْشِيَةِ النَّقْضِ بِالتَّوْكِيلِ بِالشِّرَاءِ أَنْ يُقَالَ: إنَّهُ أَمْرٌ بِتَمَلُّكِ الْمَبِيعِ الَّذِي هُوَ مِلْكُ الْغَيْرِ كَمَا ذُكِرَ فِي الذَّخِيرَةِ وَغَيْرِهَا. وَأَمَّا ثَالِثًا فَلِأَنَّهُ إنْ أَرَادَ بِقَوْلِهِ فِي الْجَوَابِ عَنْ النَّقْضِ الْمَذْكُورِ إنَّ مَحَلَّهُ هُوَ الثَّمَنُ فِي ذِمَّةِ الْمُوَكِّلِ أَنَّ مَحَلَّ التَّوْكِيلِ بِالشِّرَاءِ هُوَ نَفْسُ الثَّمَنِ فَلَا نُسَلِّمُ ذَلِكَ؛ لِأَنَّ نَفْسَ الثَّمَنِ إنَّمَا هُوَ مَحَلُّ التَّوْكِيلِ بِإِيفَاءِ الثَّمَنِ بَعْدَ تَمَامِ عَقْدِ الشِّرَاءِ لَا مَحَلُّ التَّوْكِيلِ بِالشِّرَاءِ نَفْسِهِ، وَإِنْ أَرَادَ بِذَلِكَ أَنَّ مَحَلَّهُ هُوَ إيجَابُ الثَّمَنِ فِي ذِمَّةِ الْمُوَكِّلِ كَمَا هُوَ الظَّاهِرُ مِنْ قَوْلِهِ فِي ذِمَّةِ الْمُوَكِّلِ وَالْمُصَرَّحُ بِهِ فِي الذَّخِيرَةِ وَغَيْرِهَا فَهُوَ مُسَلَّمٌ، لَكِنْ لَا يَتِمُّ حِينَئِذٍ جَوَابُهُ عَنْ الْإِيرَادِ الْآتِي فَإِنَّ مَعْنَاهُ حِينَئِذٍ هُوَ أَنَّهُ هَلَّا جُعِلَ مَحَلُّهُ فِي الِاسْتِقْرَاضِ أَيْضًا إيجَابَ الْبَدَلِ فِي ذِمَّةِ الْمُوَكِّلِ، وَلَا يَتَيَسَّرُ الْجَوَابُ عَنْهُ بِأَنَّ ذَلِكَ مَحَلُّ إيفَاءِ الْقَرْضِ؛ لِأَنَّ مَحَلَّ إيفَائِهِ هُوَ نَفْسُ الْبَدَلِ لَا إيجَابُهُ فِي ذِمَّةِ الْمُوَكِّلِ.بَلْ الْجَوَابُ الصَّحِيحُ عَنْهُ مَا ذُكِرَ فِي الذَّخِيرَةِ وَغَيْرِهَا مِنْ أَنَّ الْبَدَلَ فِي بَابِ الْقَرْضِ إنَّمَا يَجِبُ فِي ذِمَّةِ الْمُسْتَقْرِضِ بِالْقَبْضِ لَا بِعَقْدِ الْقَرْضِ، فَلَا بُدَّ مِنْ تَصْحِيحِ الْأَمْرِ بِالْقَبْضِ أَوَّلًا حَتَّى يَسْتَقِيمَ الْأَمْرُ بِإِيجَابِ الْمِثْلِ فِي ذِمَّتِهِ، وَالْأَمْرُ بِالْقَبْضِ لَمْ يَصِحَّ بَعْدُ لِكَوْنِ الْمَقْبُوضِ مِلْكَ الْغَيْرِ. وَأَمَّا رَابِعًا فَلِأَنَّ قَوْلَهُ فِي الْجَوَابِ عَنْ النَّقْضِ بِالِاتِّهَابِ وَالِاسْتِعَارَةِ: إنَّ الْمُسْتَعَارَ وَالْمَوْهُوبَ مَحَلُّ التَّوْكِيلِ بِالْإِعَارَةِ وَالْهِبَةِ لَا الِاسْتِعَارَةِ وَالِاتِّهَابِ، وَإِنَّمَا مَحَلُّهُ فِيهِمَا عِبَارَةُ الْمُوَكِّلِ غَيْرُ تَامٍّ، فَإِنَّهُ إنْ قَالَ الْوَكِيلُ بِالِاسْتِعَارَةِ: إنَّ فُلَانًا أَرْسَلَنِي إلَيْك يَسْتَعِيرُ مِنْك كَذَا، وَقَالَ الْوَكِيلُ بِالِاتِّهَابِ: إنَّ فُلَانًا أَرْسَلَنِي إلَيْك يَتَّهِبُ مِنْك كَذَا، فَإِنَّهُمَا فِي هَذِهِ الصُّورَةِ كَانَا مُتَصَرِّفَيْنِ فِي عِبَارَةِ الْمُوَكِّلِ وَلَكِنَّهُمَا لَمْ يُخْرِجَا الْكَلَامَ حِينَئِذٍ مَخْرَجَ الْوَكَالَةِ بَلْ أَخْرَجَاهُ مَخْرَجَ الرِّسَالَةِ، وَالْكَلَامُ هُنَا فِي حُكْمِ الْوَكَالَةِ دُونَ الرِّسَالَةِ، فَإِنَّ الرِّسَالَةَ صَحِيحَةٌ فِي الِاسْتِقْرَاضِ أَيْضًا حَتَّى أَنَّ الْوَكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ لَوْ أَخْرَجَ كَلَامَهُ مَخْرَجَ الرِّسَالَةِ فَقَالَ إنَّ فُلَانًا أَرْسَلَنِي إلَيْك يَسْتَقْرِضُ مِنْك كَذَا كَانَ مَا اسْتَقْرَضَهُ لِلْمُوَكِّلِ، وَلَا يَكُونُ لِلْوَكِيلِ أَنْ يَمْنَعَ ذَلِكَ مِنْهُ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي الذَّخِيرَةِ وَغَيْرِهَا.وَإِنْ قَالَ الْوَكِيلُ بِالِاسْتِعَارَةِ: أَسْتَعِيرُ مِنْك كَذَا لِفُلَانٍ الْمُوَكِّلِ، وَقَالَ الْوَكِيلُ بِالِاتِّهَابِ أَتَّهِبُ مِنْك كَذَا لِفُلَانٍ الْمُوَكِّلِ، فَإِنَّمَا فِي هَاتِيكَ الصُّورَةِ جَرْيًا عَلَى حُكْمِ وَكَالَتِهِمَا وَلَكِنَّهُمَا لَمْ يَكُونَا مُتَصَرِّفَيْنِ فِي عِبَارَةِ الْمُوَكِّلِ أَصْلًا حَيْثُ لَمْ يَحْكِيَا عَنْهُ كَلَامًا، بَلْ إنَّمَا تَكَلَّمَا بِكَلَامِ أَنْفُسِهِمَا إلَّا أَنَّهُمَا أَضَافَا الْعَقْدَ إلَى مُوَكِّلِهِمَا كَمَا فِي سَائِرِ صُوَرِ الضَّرْبِ الثَّانِي، فَأَيْنَ يَتَمَشَّى الْقَوْلُ بِأَنَّ مَحَلَّ التَّوْكِيلِ فِيهِمَا عِبَارَةُ الْمُوَكِّلِ، عَلَى أَنَّ ذَلِكَ الْقَوْلَ مِنْهُ يُخَالِفُ صَرِيحَ مَا ذُكِرَ فِي الذَّخِيرَةِ وَارْتَضَاهُ كِبَارُ الشُّرَّاحِ فِي صَدْرِ كِتَابِ الْوَكَالَةِ مِنْ أَنَّ الْمَوْضُوعَ لِنَقْلِ الْعِبَارَةِ إنَّمَا هُوَ الرِّسَالَةُ، فَإِنَّ الرَّسُولَ مُعَبِّرٌ وَالْعِبَارَةُ مِلْكُ الْمُرْسِلِ فَقَدْ أَمَرَهُ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِهِ بِاعْتِبَارِ الْعِبَارَةِ.وَأَمَّا الْوَكَالَةُ فَغَيْرُ مَوْضُوعَةٍ لِنَقْلِ عِبَارَةِ الْمُوَكِّلِ فَإِنَّ الْعِبَارَةَ فِيهَا لِلْوَكِيلِ. وَأَمَّا خَامِسًا فَلِأَنَّ قَوْلَهُ فَالْجَوَابُ إنَّا اعْتَبَرْنَا الْعِبَارَةَ مَحَلًّا لِلتَّوْكِيلِ فِي الِاسْتِعَارَةِ وَنَحْوِهَا ضَرُورَةَ صِحَّةِ الْعَقْدِ خَلَفًا عَنْ بَدَلٍ يَلْزَمُ فِي الذِّمَّةِ إلَخْ لَيْسَ بِشَيْءٍ؛ لِأَنَّ اعْتِبَارَ الْخَلَفِ عَنْ الْبَدَلِ عَلَى تَقْدِيرِ لُزُومِهِ إنَّمَا يُتَصَوَّرُ فِي التَّصَرُّفَاتِ الَّتِي هِيَ مِنْ قَبِيلِ الْمُعَاوَضَاتِ، وَأَمَّا فِي التَّصَرُّفَاتِ الَّتِي هِيَ مِنْ قَبِيلِ التَّبَرُّعَاتِ فَلَا، وَمَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ الِاسْتِعَارَةِ وَنَحْوِهَا مِنْ قَبِيلِ الثَّانِيَةِ فَلَا مَعْنَى لِحَدِيثِ الْخَلْفِيَّةِ هَاهُنَا.وَأَيْضًا اسْتِحَالَةُ اجْتِمَاعِ الْأَصْلِ وَالْخَلَفِ إنَّمَا تَقْتَضِي عَدَمَ جَوَازِ اعْتِبَارِ الْعِبَارَةِ فِي الِاسْتِقْرَاضِ خَلَفًا عَنْ بَدَلٍ لَا عَدَمَ جَوَازِ اعْتِبَارِهَا مُطْلَقًا، فَلِمَ لَا يَجُوزُ أَنْ تُعْتَبَرَ مَحَلًّا لِلتَّوْكِيلِ فِي الِاسْتِقْرَاضِ أَيْضًا لِضَرُورَةِ صِحَّةِ الْعَقْدِ وَإِنْ لَمْ تُجْعَلْ خَلَفًا عَنْ بَدَلٍ؟ أَلَا يُرَى أَنَّهَا اُعْتُبِرَتْ مَحَلًّا لِلرِّسَالَةِ فِي الِاسْتِقْرَاضِ وَلِهَذَا صَحَّتْ الرِّسَالَةُ فِيهِ تَأَمُّلٌ. وَقَالَ صَاحِبُ غَايَةِ الْبَيَانِ: قَالَ بَعْضُهُمْ فِي بَيَانِ بُطْلَانِ اسْتِقْرَاضِ الْوَكِيلِ: إنَّ الْعِبَارَةَ لِلْوَكِيلِ وَالْمَحَلَّ الَّذِي أَمَرَهُ بِالتَّصَرُّفِ مِلْكُ الْغَيْرِ، فَإِنَّ الدَّرَاهِمَ الَّتِي يَسْتَقْرِضُهَا الْوَكِيلُ مِلْكَ الْمُقْرِضِ، وَالْأَمْرُ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ بَاطِلٌ.قُلْت: هَذَا الَّذِي قَالَ يَبْطُلُ بِالتَّوْكِيلِ بِالِاسْتِعَارَةِ، فَإِنَّهُ صَحِيحٌ مَعَ أَنَّ الْمُوَكِّلَ أَمَرَهُ بِالتَّصَرُّفِ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ، وَلَيْسَ مَعْنَى كَلَامِ الْمُصَنِّفِ مَا فَهِمَهُ هَذَا الْقَائِلُ، بَلْ مَعْنَاهُ أَنَّ الْوَكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ إذَا أَضَافَ الْعَقْدَ إلَى نَفْسِهِ، وَقَالَ أَقْرِضْنِي كَانَ التَّوْكِيلُ بَاطِلًا حَتَّى لَا يَكُونَ الْقَرْضُ لِلْمُوَكِّلِ بَلْ يَكُونُ لِلْوَكِيلِ، إلَّا إذَا أَضَافَ الْعَقْدَ إلَى الْمُوَكِّلِ وَبَلَّغَ
চুক্তির পরেই মালিকানা অর্জিত হয়, তার আগে নয় যেমনটি অস্পষ্ট নয়। আর চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বিক্রিত বস্তু ক্রেতার মালিকানাধীন হয়ে যায়, অন্যের মালিকানাধীন থাকে না। পক্ষান্তরে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ কেবল চুক্তির মাধ্যমে ঋণকৃত বস্তু ঋণগ্রহীতার মালিকানাধীন হয় না, বরং হস্তগত করার (কাবজ) মাধ্যমে হয়, যেমনটি ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ক্রয় করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগের (ওয়াকালাহ বিশ-শিরা) ক্ষেত্রে আপত্তির সমাধানের সঠিক দিকটি হলো এটি বলা যে: এটি অন্যের মালিকানাধীন বিক্রিত বস্তুর মালিকানা অর্জনের একটি নির্দেশ, যেমনটি 'যাখিরা' ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তৃতীয়ত, কারণ তিনি যদি উক্ত আপত্তির উত্তরে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে—যে এর محل (ক্ষেত্র) হলো মক্কেলের জিম্মায় থাকা মূল্য—এটি বুঝাতে চান যে ক্রয় সংক্রান্ত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রটি খোদ মূল্যই, তবে আমরা তা স্বীকার করব না। কারণ খোদ মূল্য হলো ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্য পরিশোধের (ইফাউত-সামান) প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র, স্বয়ং ক্রয় করার প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র নয়। আর যদি তিনি এর মাধ্যমে এটি বুঝাতে চান যে, এর ক্ষেত্র হলো মক্কেলের জিম্মায় মূল্য সাব্যস্ত করা (ইজাবুস সামান), যেমনটি তাঁর বক্তব্য 'মক্কেলের জিম্মায়' থেকে প্রকাশ পায় এবং 'যাখিরা' ও অন্যান্য গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা স্বীকৃত। কিন্তু এমতাবস্থায় পরবর্তী আপত্তির উত্তর পূর্ণাঙ্গ হয় না। কারণ তখন এর অর্থ দাঁড়াবে এই যে, ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও কেন মক্কেলের জিম্মায় বিনিময় সাব্যস্ত করাকে এর ক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করা হলো না? অথচ এর উত্তরে এটি বলা সম্ভব নয় যে, তা ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্র; কারণ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্র হলো স্বয়ং বিনিময় বস্তু, মক্কেলের জিম্মায় তা সাব্যস্ত করা নয়।বরং এর সঠিক উত্তর হলো সেটি যা 'যাখিরা' ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঋণের ক্ষেত্রে বিনিময় কেবল হস্তগত করার (কাবজ) মাধ্যমেই ঋণগ্রহীতার জিম্মায় ওয়াজিব হয়, ঋণ চুক্তির মাধ্যমে নয়। সুতরাং প্রথমে হস্তগত করার বিষয়টি বৈধ হওয়া আবশ্যক যাতে করে তার জিম্মায় অনুরূপ বস্তু সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি সঠিক হয়। অথচ হস্তগত করার বিষয়টি এখনও সঠিক হয়নি যেহেতু যা হস্তগত করা হচ্ছে তা অন্যের মালিকানাধীন। আর চতুর্থত, কারণ দান গ্রহণ (ইতিহাব) ও ধার গ্রহণের (ইস্তিআরাত) মাধ্যমে উত্থাপিত আপত্তির উত্তরে তাঁর এই বক্তব্য: 'ধার দেওয়া ও দান করার প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র হলো ধারকৃত ও দানকৃত বস্তু, ধার নেওয়া ও দান গ্রহণের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র তা নয়; বরং এ দুটির ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের বিষয় হলো মক্কেলের বক্তব্য (ইবারাত)'—এটি অসম্পূর্ণ। কারণ ধার নেওয়ার প্রতিনিধি যদি বলে: 'অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন আপনার থেকে অমুক বস্তু ধার নেওয়ার জন্য', অথবা দান গ্রহণের প্রতিনিধি যদি বলে: 'অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন আপনার থেকে অমুক বস্তু উপহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য', তবে এই সুরতে তারা মক্কেলের বক্তব্য ব্যবহারকারী হিসেবে গণ্য হবে, কিন্তু তখন তারা কথাটিকে প্রতিনিধিত্বের (ওয়াকালাহ) আদলে পেশ করেনি বরং বার্তাবাহকের (রিসালাত) আদলে পেশ করেছে। আর এখানে আলোচনা হচ্ছে প্রতিনিধিত্বের বিধান নিয়ে, বার্তাবাহক হওয়া নিয়ে নয়। কারণ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বার্তাবাহক হওয়া (রিসালাত) বৈধ, এমনকি ঋণ গ্রহণের প্রতিনিধিও যদি তার কথাকে বার্তাবাহকের আদলে পেশ করে বলে যে: 'অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন আপনার থেকে এত পরিমাণ ঋণ নেওয়ার জন্য', তবে যা ঋণ নেওয়া হবে তা মক্কেলের জন্যই হবে। এক্ষেত্রে প্রতিনিধির জন্য তা মক্কেলকে দিতে অস্বীকার করার অধিকার থাকবে না, যেমনটি 'যাখিরা' ও অন্যান্য গ্রন্থে স্পষ্ট করা হয়েছে।আর যদি ধার নেওয়ার প্রতিনিধি বলে: 'আমি মক্কেল অমুকের জন্য আপনার নিকট থেকে অমুক বস্তু ধার নিচ্ছি', অথবা দান গ্রহণের প্রতিনিধি বলে: 'আমি মক্কেল অমুকের জন্য আপনার নিকট থেকে অমুক বস্তু দান হিসেবে গ্রহণ করছি', তবে এই সুরতে তাদের প্রতিনিধিত্বের বিধান অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হবে। কিন্তু তারা মক্কেলের বক্তব্যের ব্যবহারকারী হিসেবে গণ্য হবে না, যেহেতু তারা মক্কেলের পক্ষ থেকে কোনো কথা উদ্ধৃত করেনি; বরং তারা নিজেদের ভাষায় কথা বলেছে, কেবল চুক্তিটিকে তাদের মক্কেলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে যেমনটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সুতরাং এমতাবস্থায় এই দাবি কীভাবে খাটে যে, এ দুটির ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র হলো মক্কেলের বক্তব্য? তদুপরি তাঁর এই বক্তব্য 'যাখিরা'য় বর্ণিত এবং প্রতিনিধিত্ব অধ্যায়ের শুরুতে বড় বড় ব্যাখ্যাকারগণ কর্তৃক অনুমোদিত সেই স্পষ্ট বর্ণনার পরিপন্থী যে, বক্তব্য স্থানান্তরের জন্য কেবল 'রিসালাত' (বার্তাবাহক হওয়া) নির্ধারিত। কেননা বার্তাবাহক কেবল প্রকাশকারী মাত্র এবং বক্তব্যটি মূলত প্রেরণকারীর মালিকানা; সুতরাং তিনি তাকে তার মালিকানাধীন বক্তব্য ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।আর প্রতিনিধিত্বের (ওয়াকালাহ) বিষয়টি মক্কেলের বক্তব্য স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত নয়, কারণ এক্ষেত্রে বক্তব্যটি প্রতিনিধির নিজস্ব। পঞ্চমত, কারণ তাঁর এই বক্তব্য—'উত্তর হলো আমরা ধার নেওয়া ও অনুরূপ ক্ষেত্রে মক্কেলের বক্তব্যকে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করেছি চুক্তির সঠিকতার প্রয়োজনে, যা জিম্মায় অবধারিত বিনিময়ের স্থলাভিষিক্ত ইত্যাদি'—এটি সঠিক নয়। কারণ বিনিময়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়টি (বিনিময় অবধারিত হওয়ার তকদীরে) কেবল সেই সব লেনদেনের ক্ষেত্রে কল্পনা করা যায় যা বিনিময়মূলক (মুয়াওয়াদাত); কিন্তু যে সব লেনদেন দান বা অনুগ্রহমূলক (তাবররুআত), সেগুলোর ক্ষেত্রে নয়। আর আমাদের আলোচ্য ধার নেওয়া (ইস্তিআরাত) ও অনুরূপ বিষয়গুলো দ্বিতীয় প্রকারের (অনুগ্রহমূলক) অন্তর্ভুক্ত, তাই এখানে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার আলোচনার কোনো অর্থ নেই।আমি বলি: তাঁর এই বক্তব্য ধার নেওয়ার (ইস্তিআরাত) প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায়; কারণ তা সঠিক অথচ মক্কেল তাকে অন্যের মালিকানাধীন বস্তুতে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। মূল লেখকের বক্তব্যের উদ্দেশ্য সেটি নয় যা এই প্রবক্তা বুঝেছেন, বরং এর উদ্দেশ্য হলো: ঋণ গ্রহণের প্রতিনিধি যখন চুক্তিটি নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং বলে 'আমাকে ঋণ দিন', তখন প্রতিনিধিত্বটি বাতিল হয়ে যায় যাতে সেই ঋণ মক্কেলের জন্য না হয়ে প্রতিনিধির জন্য হয়; যদি না সে চুক্তিটিকে মক্কেলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং তা পৌঁছে দেয়...
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بِخِلَافِ الرِّسَالَةِ فِيهِ.
قَالَ (وَإِذَا طَالَبَ الْمُوَكِّلُ الْمُشْتَرِيَ بِالثَّمَنِ فَلَهُ أَنْ يَمْنَعَهُ إيَّاهُ)؛ لِأَنَّهُ أَجْنَبِيٌّ عَنْ الْعَقْدِ وَحُقُوقِهِ لِمَا أَنَّ الْحُقُوقَ إلَى الْعَاقِدِ (فَإِنْ دَفَعَهُ إلَيْهِ جَازَ وَلَمْ يَكُنْ لِلْوَكِيلِ أَنْ يُطَالِبَهُ بِهِ ثَانِيًا)؛ لِأَنَّ نَفْسَ الثَّمَنِ الْمَقْبُوضِ حَقُّهُ وَقَدْ وَصَلَ إلَيْهِ،
عَلَى وَجْهِ الرِّسَالَةِ فَقَالَ: أَرْسَلَنِي فُلَانٌ إلَيْك يَسْتَقْرِضُ كَذَا فَحِينَئِذٍ يَصِحُّ الِاسْتِقْرَاضُ وَيَقَعُ الْقَرْضُ لِلْمُوَكِّلِ، وَلَيْسَ لِلْوَكِيلِ أَنْ يَمْنَعَ الْمُوَكِّلَ عَنْهُ فَافْهَمْهُ فَفِيهِ غِنًى عَنْ تَطْوِيلٍ لَا طَائِلَ تَحْتَهُ، انْتَهَى كَلَامُهُ.أَقُولُ: وَفِيهِ بَحْثٌ، إذْ لَا شَكَّ أَنَّ مَعْنَى قَوْلِ الْمُصَنِّفِ وَكَذَا إذَا كَانَ الْوَكِيلُ مِنْ جَانِبِ الْمُلْتَمِسِ أَنَّ الْوَكِيلَ هَاهُنَا سَفِيرٌ أَيْضًا لَا تَتَعَلَّقُ حُقُوقُ الْعَقْدِ بِهِ بَلْ بِمُوَكِّلِهِ لِإِضَافَتِهِ الْعَقْدَ إلَى مُوَكِّلِهِ دُونَ نَفْسِهِ، وَإِنَّ قَوْلَهُ إلَّا أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ بَاطِلٌ اسْتِثْنَاءٌ مِنْ قَوْلِهِ وَكَذَا إذَا كَانَ التَّوْكِيلُ مِنْ جَانِبِ الْمُلْتَمِسِ كَمَا صَرَّحَ بِهِ الشُّرَّاحُ قَاطِبَةً، وَمِنْهُمْ هَذَا الشَّارِحُ، وَلَوْ كَانَ مَعْنَى كَلَامِ الْمُصَنِّفِ هَاهُنَا مَا فَهِمَهُ هَذَا الشَّارِحُ لَمَا كَانَ لِتَخْصِيصِ الِاسْتِثْنَاءِ بِبُطْلَانِ صُورَةِ التَّوْكِيلِ بِالِاسْتِقْرَاضِ مَعْنًى، إذْ عَلَى ذَلِكَ التَّقْدِيرِ يَصِيرُ الْحُكْمُ كَذَلِكَ فِي جَمِيعِ صُوَرِ مَا إذَا كَانَ الْوَكِيلُ مِنْ جَانِبِ الْمُلْتَمِسِ، فَإِنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْ الْمُسْتَعِيرِ وَالْمُسْتَوْهِبِ وَالْمُرْتَهِنِ وَنَحْوِ ذَلِكَ إذَا أَضَافَ الْعَقْدَ إلَى نَفْسِهِ لَا إلَى الْمُوَكِّلِ تَبْطُلُ الْوَكَالَةُ وَيَكُونُ مَا أَخَذَهُ لِنَفْسِهِ لَا لِمُوَكِّلِهِ؛ لِأَنَّ هَذِهِ الْعُقُودَ كُلَّهَا مِنْ الضَّرْبِ الثَّانِي، وَمِنْ شَرْطِ هَذَا الضَّرْبِ أَنْ يُضِيفَ الْوَكِيلُ الْعَقْدَ إلَى مُوَكِّلِهِ، فَإِذَا انْتَفَى بَطَلَتْ الْوَكَالَةُ قَطْعًا، وَلَعَمْرِي إنَّ هَذَا الشَّارِحَ قَدْ هَرَبَ هَاهُنَا عَنْ وَرْطَةٍ وَوَقَعَ فِي وَرْطَةٍ أُخْرَى أَشَدَّ مِنْ الْأُولَى حَتَّى أَفْسَدَ مَعْنَى كَلَامِ الْمُصَنِّفِ بِالْكُلِّيَّةِ.قَالَ الْمُصَنِّفُ (بِخِلَافِ الرِّسَالَةِ فِيهِ) أَيْ فِي الِاسْتِقْرَاضِ فَإِنَّهَا تَصِحُّ. قَالَ فِي الْإِيضَاحِ: التَّوْكِيلُ بِالِاسْتِقْرَاضِ لَا يَصِحُّ، وَلَا يُثْبِتُ الْمِلْكَ فِيمَا إذَا اسْتَقْرَضَ لِلْآمِرِ إلَّا إذَا بَلَّغَ عَلَى سَبِيلِ الرِّسَالَةِ فَيَقُولُ أَرْسَلَنِي إلَيْك فُلَانٌ يَسْتَقْرِضُ مِنْك فَحِينَئِذٍ يَثْبُتُ الْمِلْكُ لِلْمُسْتَقْرِضِ: أَيْ الْمُرْسِلِ. وَقَالَ الْإِمَامُ الزَّيْلَعِيُّ فِي التَّبْيِينِ: وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالِاسْتِقْرَاضِ جَائِزٌ (قَالَ) أَيْ الْقُدُورِيُّ فِي مُخْتَصَرِهِ (وَإِذَا طَالَبَ الْمُوَكِّلُ الْمُشْتَرِيَ بِالثَّمَنِ فَلَهُ أَنْ يَمْنَعَهُ إيَّاهُ) أَيْ فَلِلْمُشْتَرِي أَنْ يَمْنَعَ الثَّمَنَ مِنْ الْمُوَكِّلِ (لِأَنَّهُ) أَيْ الْمُوَكِّلَ (أَجْنَبِيٌّ عَنْ الْعَقْدِ وَحُقُوقِهِ، لِمَا) تَقَدَّمَ (أَنَّ الْحُقُوقَ تَعُودُ إلَى الْعَاقِدِ) فِي الْبَيْعِ وَأَمْثَالِهِ، وَلِهَذَا إذَا نَهَاهُ الْوَكِيلُ عَنْ قَبْضِ الثَّمَنِ وَنَحْوِهِ صَحَّ، وَإِنْ نَهَاهُ الْمُوَكِّلُ عَنْ ذَلِكَ لَا يَصِحُّ.وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ لَمْ يَجُزْ مُطَالَبَةُ الْمُوَكِّلِ إلَّا بِإِذْنِ الْوَكِيلِ (فَإِنْ دَفَعَهُ إلَيْهِ) أَيْ إنْ دَفَعَ الْمُشْتَرِي الثَّمَنَ إلَى الْمُوَكِّلِ (جَازَ) يَعْنِي وَمَعَ ذَلِكَ لَوْ دَفَعَ الْمُشْتَرِي الثَّمَنَ إلَى الْمُوَكِّلِ جَازَ دَفْعُهُ إلَيْهِ اسْتِحْسَانًا.فَالْفَاءُ فِي قَوْلِهِ فَإِنْ دَفَعَهُ لِلْعَطْفِ لَا لِلسَّبَبِيَّةِ، وَلَكِنْ لَوْ بُدِّلَتْ بِالْوَاوِ لَكَانَ أَحْسَنَ كَمَا لَا يَخْفَى (وَلَمْ يَكُنْ لِلْوَكِيلِ أَنْ يُطَالِبَهُ بِهِ) أَيْ بِالثَّمَنِ (ثَانِيًا؛ لِأَنَّ نَفْسَ الثَّمَنِ الْمَقْبُوضِ حَقُّهُ) أَيْ حَقُّ الْمُوَكِّلِ وَإِنْ كَانَتْ مُطَالَبَتُهُ حَقَّ الْوَكِيلِ (وَقَدْ وَصَلَ إلَيْهِ)
এতে বার্তার (রিসালাত) বিষয়টি ভিন্ন।
তিনি বলেন, (আর যখন মুওয়াক্কিল ক্রেতার নিকট মূল্য দাবি করে, তখন ক্রেতার অধিকার রয়েছে তাকে তা প্রদান করতে অস্বীকার করার); কারণ সে চুক্তির বিষয়বস্তু এবং এর অধিকারসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন, যেহেতু অধিকারসমূহ চুক্তিকারীর ওপরই বর্তায়। (অতঃপর যদি ক্রেতা তাকে তা প্রদান করে দেয়, তবে তা জায়েজ হবে এবং উকিলের জন্য দ্বিতীয়বার তা দাবি করার অধিকার থাকবে না); কারণ হস্তগত হওয়া মূল অর্থটি তারই প্রাপ্য এবং তা তার নিকট পৌঁছে গেছে।
বার্তার (রিসালাত) তরিকায় সে বলল: "অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন এই মর্মে যে, তিনি আপনার নিকট থেকে এই পরিমাণ ঋণ চাচ্ছেন।" এমতাবস্থায় ঋণ গ্রহণ করা সঠিক হবে এবং ঋণটি মুওয়াক্কিলের জন্য সাব্যস্ত হবে। আর উকিলের জন্য মুওয়াক্কিলকে তা থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই। সুতরাং এটি অনুধাবন করুন, কারণ এতেই নিরর্থক দীর্ঘ আলোচনা পরিহারের যথেষ্ট খোরাক রয়েছে। তার বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।আমি বলি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, গ্রন্থকারের উক্তি—"তদ্রূপ যখন উকিল আবেদনকারীর পক্ষ থেকে হবে"—এর অর্থ হলো এখানে উকিল একজন দূত (সাফির) মাত্র, যার সাথে চুক্তির অধিকারসমূহ সংশ্লিষ্ট নয়; বরং তা তার মুওয়াক্কিলের সাথে সংশ্লিষ্ট। কারণ সে চুক্তিটিকে নিজের দিকে নয়, বরং মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে। আর তার উক্তি—"তবে ঋণ গ্রহণের উকিল নিয়োগ বাতিল"—এটি তার পূর্বোক্ত উক্তি "তদ্রূপ যখন উকিল আবেদনকারীর পক্ষ থেকে হবে" থেকে একটি ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা), যেমনটি সকল ব্যাখ্যাকার স্পষ্ট করেছেন এবং তাদের মধ্যে এই ব্যাখ্যাকারও রয়েছেন। যদি এখানে গ্রন্থকারের বক্তব্যের উদ্দেশ্য তাই হতো যা এই ব্যাখ্যাকার বুঝেছেন, তবে ঋণ গ্রহণের ওকালত বাতিল হওয়ার সুরতের সাথে এই ব্যতিক্রমকে খাস করার কোনো অর্থ থাকত না। কারণ সেই ধারণা অনুযায়ী, আবেদনকারীর পক্ষ থেকে উকিল হওয়ার সকল সুরতেই হুকুম একই হবে। কেননা প্রত্যেক ধার গ্রহণকারী (মুসতা’ঈর), উপহার গ্রহণকারী (মুসতাওহিব), বন্ধক গ্রহণকারী (মুরতাহিন) এবং এই জাতীয় ব্যক্তি যখন চুক্তিটিকে নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে, মুওয়াক্কিলের দিকে নয়, তখন ওকালত বাতিল হয়ে যায় এবং সে যা গ্রহণ করে তা তার নিজের জন্য সাব্যস্ত হয়, মুওয়াক্কিলের জন্য নয়। কারণ এই সকল চুক্তি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, আর এই প্রকারের শর্ত হলো উকিল চুক্তিটিকে তার মুওয়াক্কিলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করবে। যখন তা অনুপস্থিত থাকবে, তখন ওকালত নিশ্চিতভাবে বাতিল হয়ে যাবে। আমার জীবনের শপথ! এই ব্যাখ্যাকার এখানে এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে তার চেয়েও বড় বিপদে পড়েছেন, এমনকি তিনি গ্রন্থকারের বক্তব্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে বিকৃত করে ফেলেছেন।গ্রন্থকার বলেন, (এতে বার্তার বিষয়টি ভিন্ন) অর্থাৎ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বার্তার বিষয়টি সঠিক হয়। 'আল-ইজাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ঋণ গ্রহণের ওকালত সঠিক নয় এবং এটি মালিকানা সাব্যস্ত করে না যখন সে আমিরের জন্য ঋণ গ্রহণ করে, যদি না সে বার্তার মাধ্যমে তা পৌঁছায়। এমতাবস্থায় সে বলবে: "অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন যাতে তিনি আপনার থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারেন।" তখন ঋণ গ্রহণকারীর অর্থাৎ প্রেরণকারীর মালিকানা সাব্যস্ত হবে। ইমাম যাইলায়ী 'তাবিঈন' গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম আবু ইউসুফ (র.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ঋণ গ্রহণের ওকালত জায়েজ। (তিনি বলেন) অর্থাৎ কুদুরী তার 'মুখতাসার' গ্রন্থে বলেন, (আর যখন মুওয়াক্কিল ক্রেতার নিকট মূল্য দাবি করে, তখন ক্রেতার অধিকার রয়েছে তাকে তা প্রদান করতে অস্বীকার করার) অর্থাৎ ক্রেতা মুওয়াক্কিলকে মূল্য প্রদান থেকে বিরত রাখতে পারবে। (কারণ সে) অর্থাৎ মুওয়াক্কিল (চুক্তির বিষয়বস্তু এবং এর অধিকারসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন, যেহেতু) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে (অধিকারসমূহ চুক্তিকারীর দিকেই ফিরে যায়) বিক্রয় ও তদ্রূপ চুক্তির ক্ষেত্রে। এই কারণেই উকিল যদি তাকে মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করে তবে তা কার্যকর হয়, আর মুওয়াক্কিল যদি নিষেধ করে তবে তা কার্যকর হয় না।বিষয়টি যখন এমন, তখন উকিলের অনুমতি ব্যতীত মুওয়াক্কিলের জন্য দাবি করা বৈধ নয়। (অতঃপর যদি সে তাকে তা প্রদান করে) অর্থাৎ ক্রেতা যদি মুওয়াক্কিলকে মূল্য প্রদান করে দেয় (তবে তা জায়েজ হবে)। অর্থাৎ তা সত্ত্বেও যদি ক্রেতা মুওয়াক্কিলকে মূল্য পরিশোধ করে, তবে ইসতিহসান বা সঙ্গত কারণে তা জায়েজ হবে।সুতরাং তার উক্তি "ফা-ইন দাফা’আহু" এর মধ্যে 'ফা' বর্ণটি সংযোগের (আতিফ) জন্য এসেছে, কারণ দর্শানোর (সাবাবিয়্যাহ) জন্য নয়। তবে একে যদি 'ওয়াও' (এবং) দ্বারা পরিবর্তন করা হতো তবে তা আরও সুন্দর হতো, যা স্পষ্ট। (আর উকিলের জন্য দ্বিতীয়বার তা দাবি করার অধিকার থাকবে না) অর্থাৎ সেই মূল্যের জন্য; (কারণ হস্তগত হওয়া মূল অর্থটি তারই প্রাপ্য) অর্থাৎ মুওয়াক্কিলের অধিকার, যদিও তা দাবি করা উকিলের অধিকার ছিল, (এবং তা তার নিকট পৌঁছে গেছে)।
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَا فَائِدَةَ فِي الْأَخْذِ مِنْهُ ثُمَّ الدَّفْعِ إلَيْهِ، وَلِهَذَا لَوْ كَانَ لِلْمُشْتَرِي عَلَى الْمُوَكِّلِ دَيْنٌ يَقَعُ الْمُقَاصَّةُ، وَلَوْ كَانَ لَهُ عَلَيْهِمَا دَيْنٌ يَقَعُ الْمُقَاصَّةُ بِدَيْنِ الْمُوَكِّلِ أَيْضًا دُونَ دَيْنِ الْوَكِيلِ وَبِدَيْنِ الْوَكِيلِ إذَا كَانَ وَحْدَهُ إنْ كَانَ يَقَعُ الْمُقَاصَّةُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ لِمَا أَنَّهُ يَمْلِكُ الْإِبْرَاءَ عَنْهُ عِنْدَهُمَا وَلَكِنَّهُ يَضْمَنُهُ لِلْمُوَكِّلِ فِي الْفَصْلَيْنِ.
وَقَدْ وَصَلَ حَقُّ الْمُوَكِّلِ إلَى نَفْسِهِ (فَلَا فَائِدَةَ فِي الْأَخْذِ مِنْهُ) أَيْ مِنْ الْمُوَكِّلِ (ثُمَّ فِي الدَّفْعِ إلَيْهِ) أَيْ إلَى الْوَكِيلِ. وَاعْلَمْ أَنَّ هَذَا فِي غَيْرِ الصَّرْفِ، وَأَمَّا فِي الصَّرْفِ فَقَبْضُ الْمُوَكِّلِ لَا يَصِحُّ؛ لِأَنَّ جَوَازَ الْبَيْعِ فِي الصَّرْفِ بِالْقَبْضِ فَكَانَ الْقَبْضُ فِيهِ بِمَنْزِلَةِ الْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ؛ وَلَوْ ثَبَتَ لِلْوَكِيلِ حَقُّ الْقَبُولِ وَقَبِلَ الْمُوَكِّلُ لَمْ يَجُزْ. فَكَذَا إذَا ثَبَتَ لَهُ حَقُّ الْقَبْضِ وَقَبَضَ الْمُوَكِّلُ، أُشِيرَ إلَى هَذَا فِي الذَّخِيرَةِ وَذُكِرَ فِي الشُّرُوحِ (وَلِهَذَا) أَيْ وَلِكَوْنِ نَفْسِ الثَّمَنِ الْمَقْبُوضِ حَقَّ الْمُوَكِّلِ (لَوْ كَانَ لِلْمُشْتَرِي عَلَى الْمُوَكِّلِ دَيْنٌ تَقَعُ الْمُقَاصَّةُ، وَلَوْ كَانَ لَهُ عَلَيْهِمَا دَيْنٌ تَقَعُ الْمُقَاصَّةُ بِدَيْنِ الْمُوَكِّلِ أَيْضًا دُونَ دَيْنِ الْوَكِيلِ) حَتَّى لَا يَرْجِعَ الْمُوَكِّلُ عَلَى الْوَكِيلِ بِشَيْءٍ مِنْ الثَّمَنِ، وَهَذَا؛ لِأَنَّ الْمُقَاصَّةَ إبْرَاءٌ بِعِوَضٍ فَتُعْتَبَرُ بِالْإِبْرَاءِ بِغَيْرِ عِوَضٍ، وَلَوْ أَبْرَآهُ جَمِيعًا بِغَيْرِ عِوَضٍ وَخَرَجَ الْكَلَامَانِ مَعًا بَرِئَ الْمُشْتَرِي بِإِبْرَاءِ الْمُوَكِّلِ دُونَ الْوَكِيلِ حَتَّى لَا يَرْجِعَ الْمُوَكِّلُ عَلَى الْوَكِيلِ بِشَيْءٍ فَكَذَا هَاهُنَا، وَلِأَنَّا لَوْ جَعَلْنَاهُ قِصَاصًا بِدَيْنِ الْوَكِيلِ احْتَجْنَا إلَى قَضَاءٍ آخَرَ فَإِنَّ الْوَكِيلَ يَقْضِي لِلْمُوَكِّلِ، وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قِصَاصًا بِدَيْنِ الْمُوَكِّلِ لَمْ نَحْتَجْ إلَى قَضَاءٍ آخَرَ فَجَعَلْنَاهُ قِصَاصًا بِدَيْنِ الْمُوَكِّلِ قَصْرًا لِلْمَسَافَةِ فَقَدْ أَثْبَتْنَا حُكْمًا مُجْمَعًا عَلَيْهِ، فَإِنَّ الْمُوَكِّلَ يَمْلِكُ إسْقَاطَ الثَّمَنِ عَنْ الْمُشْتَرِي بِالْإِجْمَاعِ، وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قِصَاصًا بِدَيْنِ الْوَكِيلِ لَأَثْبَتْنَا حُكْمًا مُخْتَلَفًا فِيهِ فَكَانَ مَا قُلْنَاهُ أَوْلَى، كَذَا ذَكَرَهُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ الْمَعْرُوفُ بِخُوَاهَرْ زَادَهْ. وَلَمَا اُسْتُشْعِرَ أَنْ يُقَالَ الْمُقَاصَّةُ لَا تَدُلُّ عَلَى كَوْنِ نَفْسِ الثَّمَنِ حَقًّا لِلْمُوَكِّلِ دُونَ الْوَكِيلِ فَإِنَّهَا تَقَعُ بِدَيْنِ الْوَكِيلِ إذَا كَانَ لِلْمُشْتَرِي دَيْنٌ عَلَى الْوَكِيلِ وَحْدَهُ.أَجَابَ بِقَوْلِهِ (وَبِدَيْنِ الْوَكِيلِ إذَا كَانَ وَحْدَهُ) إنْ كَانَ (تَقَعُ الْمُقَاصَّةُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ لِمَا أَنَّهُ) أَيْ الْوَكِيلَ (يَمْلِكُ الْإِبْرَاءَ عَنْهُ) أَيْ عَنْ الْمُشْتَرِي (عِنْدَهُمَا) أَيْ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ: يَعْنِي أَنَّهُ إنْ كَانَ تَقَعُ الْمُقَاصَّةُ عِنْدَهُمَا بِدَيْنِ الْوَكِيلِ وَحْدَهُ لِعِلَّةِ أَنَّ الْوَكِيلَ يَمْلِكُ الْإِبْرَاءَ بِغَيْرِ عِوَضٍ عَنْ الْمُشْتَرِي عِنْدَهُمَا فَيَمْلِكُ الْمُقَاصَّةَ أَيْضًا؛ لِأَنَّهَا إبْرَاءٌ بِعِوَضٍ فَتُعْتَبَرُ بِالْإِبْرَاءِ بِغَيْرِ عِوَضٍ (وَلَكِنَّهُ يَضْمَنُهُ) أَيْ وَلَكِنَّ الْوَكِيلَ يَضْمَنُ الثَّمَنَ (لِلْمُوَكِّلِ فِي الْفَصْلَيْنِ) أَيْ فِي فَصْلِ الْإِبْرَاءِ وَالْمُقَاصَّةِ، بِخِلَافِ الْمُوَكِّلِ فَإِنَّهُ لَا يَضْمَنُ لِأَحَدٍ فِي شَيْءٍ
তার কাছ থেকে গ্রহণ করে পুনরায় তাকে প্রদান করার কোনো ফায়দা নেই। এই কারণেই যদি ক্রেতার কাছে মুওয়াক্কিলের কোনো ঋণ পাওনা থাকে, তবে মুকাসসা (ঋণ সমন্বয়) সম্পন্ন হয়ে যাবে। আর যদি ক্রেতার নিকট তাদের উভয়ের (মুওয়াক্কিল ও ওয়াকিল) ঋণ পাওনা থাকে, তবে ওয়াকিলের ঋণের পরিবর্তে মুওয়াক্কিলের ঋণের মাধ্যমেই মুকাসসা সম্পন্ন হবে। আর যদি ওয়াকিল একাকী হয়, তবে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে মুকাসসা হবে; কারণ তাদের নিকট সে (ওয়াকিল) ক্রেতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার মালিক। তবে উভয় অবস্থাতেই সে মুওয়াক্কিলের নিকট এই মূল্যের জামিন বা দায়বদ্ধ থাকবে।
মুওয়াক্কিলের প্রাপ্য হক তার নিজের কাছে পৌঁছে গেছে। (সুতরাং তার কাছ থেকে গ্রহণ করার কোনো ফায়দা নেই) অর্থাৎ মুওয়াক্কিলের কাছ থেকে, (অতঃপর তাকে প্রদান করার মাঝে) অর্থাৎ ওয়াকিলকে। জেনে রাখুন যে, এটি সারফ (মুদ্রা বিনিময়) ব্যতীত অন্য লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর সারফ-এর ক্ষেত্রে মুওয়াক্কিলের কবজ (দখল) সহীহ হবে না; কারণ সারফ-এ কবজ বা হস্তগত করার মাধ্যমেই বিক্রয় বৈধ হয়, তাই সেখানে কবজ করা ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) এর স্থলাভিষিক্ত। যদি ওয়াকিলের কবুল করার অধিকার সাব্যস্ত থাকে আর মুওয়াক্কিল কবুল করে, তবে তা জায়েজ হয় না। তদ্রূপ যখন তার কবজ করার অধিকার সাব্যস্ত থাকে আর মুওয়াক্কিল কবজ করে (তখনও তা জায়েজ হবে না)। 'আদ-যাখিরা' গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং শরাহসমূহে (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) এটি উল্লেখ করা হয়েছে। (আর এই কারণে) অর্থাৎ হস্তগত মূল্যটি স্বয়ং মুওয়াক্কিলের প্রাপ্য হওয়ার কারণে, (যদি ক্রেতার নিকট মুওয়াক্কিলের ঋণ থাকে তবে মুকাসসা হয়ে যাবে। আর যদি ক্রেতার নিকট তাদের উভয়ের ঋণ থাকে তবে ওয়াকিলের ঋণের পরিবর্তে মুওয়াক্কিলের ঋণের মাধ্যমেই মুকাসসা সম্পন্ন হবে) যাতে মুওয়াক্কিল মূল্যের কোনো কিছুর জন্য ওয়াকিলের মুখাপেক্ষী না হয়। এটি এই কারণে যে, মুকাসসা হলো বিনিময়যুক্ত দায়মুক্তি (ইবরা), তাই একে বিনিময়হীন দায়মুক্তির বিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদি তারা উভয়েই বিনিময় ছাড়া তাকে (ক্রেতাকে) দায়মুক্তি দিয়ে দেয় এবং উভয়ের বক্তব্য একসাথে নির্গত হয়, তবে মুওয়াক্কিলের দায়মুক্তির কারণে ক্রেতা দায়মুক্ত হবে, ওয়াকিলের কারণে নয়; যাতে মুওয়াক্কিলকে কোনো কিছুর জন্য ওয়াকিলের নিকট ফিরে যেতে না হয়। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। তাছাড়া যদি আমরা একে ওয়াকিলের ঋণের মাধ্যমে সমন্বয় (কিসাস) করি, তবে আমাদের অন্য একটি পরিশোধ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে, কারণ তখন ওয়াকিল মুওয়াক্কিলের প্রাপ্য পরিশোধ করবে। কিন্তু যদি আমরা একে মুওয়াক্কিলের ঋণের মাধ্যমে সমন্বয় করি, তবে অন্য কোনো পরিশোধ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। সুতরাং পর্যায় সংক্ষিপ্ত করার স্বার্থে আমরা একে মুওয়াক্কিলের ঋণের মাধ্যমে সমন্বয় হিসেবে গণ্য করব। এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি বিধান সাব্যস্ত করলাম যা সর্বসম্মত; কেননা মুওয়াক্কিল সর্বসম্মতভাবে ক্রেতার কাছ থেকে মূল্য রহিত করার মালিক। কিন্তু যদি আমরা একে ওয়াকিলের ঋণের মাধ্যমে সমন্বয় করতাম, তবে আমরা এমন একটি বিধান সাব্যস্ত করতাম যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং আমরা যা বলেছি তা-ই অধিক উত্তম। শাইখুল ইসলাম, যিনি 'খওয়াহের জাদাহ' নামে পরিচিত, এটি এভাবেই উল্লেখ করেছেন। যখন এমন ধারণা হতে পারে যে, মুকাসসা হওয়া এটি প্রমাণ করে না যে খোদ মূল্যটি ওয়াকিলের পরিবর্তে মুওয়াক্কিলের প্রাপ্য, কেননা যদি ক্রেতার নিকট কেবল ওয়াকিলের ঋণ থাকে তবে ওয়াকিলের ঋণের মাধ্যমেই মুকাসসা সম্পন্ন হয়।তিনি এর উত্তরে বলেছেন (আর ওয়াকিলের ঋণের মাধ্যমে মুকাসসা হবে যখন সে একাকী হবে) যদি (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ-এর মতে মুকাসসা সম্পন্ন হয়, কেননা সে) অর্থাৎ ওয়াকিল (তাদের উভয়ের মতে ক্রেতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার মালিক)। অর্থাৎ তাদের নিকট কেবল ওয়াকিলের ঋণের মাধ্যমে মুকাসসা সম্পন্ন হয় এই কারণে যে, ওয়াকিল তাদের মতে বিনিময় ছাড়াই ক্রেতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার অধিকার রাখে। সুতরাং সে মুকাসসারও অধিকার রাখবে; কারণ মুকাসসা হলো বিনিময়যুক্ত দায়মুক্তি, যা বিনিময়হীন দায়মুক্তির বিধানভুক্ত। (কিন্তু সে এর জামিন হবে) অর্থাৎ ওয়াকিল মূল্যের জামিন বা দায়বদ্ধ হবে (মুওয়াক্কিলের নিকট উভয় সূরতে) অর্থাৎ দায়মুক্তি ও মুকাসসা উভয় ক্ষেত্রে। মুওয়াক্কিলের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম, কারণ সে কারো নিকট দায়বদ্ধ থাকে না।
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(بَابُ الْوَكَالَةِ فِي الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ)(فَصْلٌ فِي الشِّرَاءِ)
مِنْ الْفَصْلَيْنِ فَافْتَرَقَا. وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ: لَا يَجُوزُ إبْرَاءُ الْوَكِيلِ اسْتِحْسَانًا؛ لِأَنَّ الثَّمَنَ فِي ذِمَّةِ الْمُشْتَرِي مِلْكُ الْمُوَكِّلِ، فَإِبْرَاءُ الْوَكِيلِ تَصَرُّفٌ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ عَلَى خِلَافِ مَا أَمَرَ بِهِ فَلَا يَنْفُذُ، كَمَا لَوْ قَبَضَ الثَّمَنَ ثُمَّ وَهَبَهُ لِلْمُشْتَرِي. وَحُجَّةُ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ أَنَّ الْإِبْرَاءَ إسْقَاطٌ لِحَقِّ الْقَبْضِ، وَالْقَبْضُ خَالِصُ حَقِّ الْوَكِيلِ؛ أَلَا تَرَى أَنَّ الْمُوَكِّلَ لَا يَمْنَعُهُ عَنْ ذَلِكَ، وَلَوْ أَرَادَ أَنْ يَقْبِضَ بِنَفْسِهِ لَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ فَكَانَ هُوَ فِي الْإِبْرَاءِ عَنْ الْقَبْضِ مُسْقِطًا حَقَّ نَفْسِهِ فَيَصِحُّ مِنْهُ.ثُمَّ أَنَّهُ لَمَّا أُسْقِطَ حَقُّ الْقَبْضِ انْسَدَّ عَلَى الْمُوَكِّلِ بَابُ الِاسْتِيفَاءِ إذْ لَيْسَ لَهُ حَقُّ الْقَبْضِ فَصَارَ ضَامِنًا لَهُ بِمَنْزِلَةِ الرَّاهِنِ يَعْتِقُ الْمَرْهُونَ يَنْفُذُ إعْتَاقُهُ لِمُصَادَفَتِهِ مِلْكَهُ وَلَكِنْ يَضْمَنُ لِلْمُرْتَهِنِ لِانْسِدَادِ بَابِ الِاسْتِيفَاءِ مِنْ مَالِيَّةِ الْعَبْدِ عَلَيْهِ، كَذَا فِي الْمَبْسُوطِ. فَإِنْ قِيلَ: يَنْبَغِي أَنْ لَا يَجُوزَ مِنْ الْوَكِيلِ بِالْبَيْعِ مِثْلُ هَذَا الْبَيْعِ الَّذِي يُوجِبُ مُقَاصَّةَ ثَمَنِ الْمَبِيعِ بِدَيْنِ الْمُوَكِّلِ؛ لِأَنَّهُ خَالَفَ الْمُوَكِّلَ؛ لِأَنَّهُ إنَّمَا وَكَّلَهُ بِبَيْعٍ يَصِلُ إلَيْهِ ثَمَنُهُ وَهَا هُنَا لَا يَصِلُ. قُلْت: إنْ لَمْ يَصِلْ إلَيْهِ الثَّمَنُ بَعْدَ الْبَيْعِ فَقَدْ وَصَلَ إلَيْهِ قَبْلَ الْبَيْعِ فَيَصِيرُ الثَّمَنُ قِصَاصًا بِدَيْنِ الْآمِرِ عِنْدَهُمْ جَمِيعًا؛ لِأَنَّ الْآمِرَ يَمْلِكُ إبْرَاءَ الْمُشْتَرِي عَنْ الثَّمَنِ بِغَيْرِ عِوَضٍ عِنْدَهُمْ فَيَمْلِكُ الْإِبْرَاءَ بِعِوَضٍ بِطَرِيقِ الْأَوْلَى. كَذَا فِي الذَّخِيرَةِ. (بَابُ الْوَكَالَةِ بِالْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ)(فَصْلٌ فِي الشِّرَاءِ)قَدَّمَ مِنْ أَبْوَابِ الْوَكَالَةِ مَا هُوَ أَكْثَرُ وُقُوعًا وَأَمَسُّ حَاجَةً وَهُوَ الْوَكَالَةُ بِالْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ، وَقَدَّمَ فَصْلَ الشِّرَاءِ؛ لِأَنَّهُ يُنْبِئُ عَنْ إثْبَاتِ الْمِلْكِ. وَالْبَيْعُ يُنْبِئُ عَنْ إزَالَتِهِ، وَالْإِزَالَةُ بَعْدَ الْإِثْبَاتِ كَذَا فِي الشُّرُوحِ. أَقُولُ: هَذَا الَّذِي ذَكَرُوهُ لِتَقْدِيمِ فَصْلِ الشِّرَاءِ
(ক্রয় ও বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিনিধিত্বের অধ্যায়)(ক্রয় সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)
দুই পরিচ্ছেদ থেকে, অতঃপর তারা পৃথক হয়ে গেল। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন: ইস্তিহসান (সূক্ষ্ম বিচার) অনুযায়ী প্রতিনিধির পক্ষ থেকে ঋণমুক্তি প্রদান (ইবরা) করা বৈধ নয়; কারণ ক্রেতার জিম্মায় যে মূল্য রয়েছে তা মুওয়াক্কিল (নিয়োগদাতা)-এর মালিকানা। সুতরাং প্রতিনিধির পক্ষ থেকে ঋণমুক্তি প্রদান করা অন্যের মালিকানায় তার আদেশের পরিপন্থী হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে, ফলে তা কার্যকর হবে না। যেমন সে যদি মূল্য উসুল করে এরপর তা ক্রেতাকে দান করে দেয় (তবে যেমন কার্যকর হয় না, এটিও তদ্রূপ)। ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর দলিল হলো এই যে, ঋণমুক্তি প্রদান করা মূলত উসুল করার (কবজ) অধিকার রহিত করা। আর উসুল করা হলো নিছক প্রতিনিধির অধিকার। আপনি কি দেখছেন না যে, মুওয়াক্কিল তাকে তা থেকে বাধা দিতে পারে না? এমনকি মুওয়াক্কিল যদি নিজেই তা উসুল করতে চায়, তবে তার সেই অধিকার থাকে না। সুতরাং প্রতিনিধি উসুল করার অধিকার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে মূলত নিজের অধিকারই রহিত করছে, তাই এটি তার পক্ষ থেকে শুদ্ধ হবে।অতঃপর, যখন উসুল করার অধিকার রহিত হয়ে গেল, তখন মুওয়াক্কিলের জন্য পাওনা আদায়ের পথ রুদ্ধ হয়ে গেল, যেহেতু তার নিজের উসুল করার অধিকার নেই। ফলে প্রতিনিধি মুওয়াক্কিলের জন্য সেই মূল্যের জামিনদার হয়ে গেল। এটি সেই বন্ধকদাতার মতো, যে বন্ধককৃত গোলামকে মুক্ত করে দেয়; তার মুক্ত করে দেওয়া কার্যকর হয়ে যায় যেহেতু তা তার মালিকানাভুক্ত, কিন্তু বন্ধকগ্রহীতার কাছে সে দায়বদ্ধ হয় গোলামের আর্থিক মূল্য থেকে পাওনা আদায়ের পথ রুদ্ধ করার কারণে। আল-মাবসুত গ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ আছে। যদি বলা হয়: বিক্রয় প্রতিনিধির জন্য এমন বিক্রয় করা বৈধ হওয়া উচিত নয় যা বিক্রয়মূল্যের সাথে মুওয়াক্কিলের ঋণের সমন্বয় করাকে আবশ্যক করে; কারণ সে মুওয়াক্কিলের নির্দেশের খেলাফ করেছে; কেননা মুওয়াক্কিল তাকে এমন বিক্রয়ের প্রতিনিধি বানিয়েছিলেন যার মূল্য তার হস্তগত হবে, কিন্তু এখানে তা হস্তগত হচ্ছে না। আমি বলব: বিক্রয়ের পরে যদি মূল্য তার কাছে না পৌঁছে থাকে, তবে বিক্রয়ের আগেই তা তার কাছে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে তাঁদের (ইমামদের) সকলের মতেই মূল্যটি আদেশদাতার ঋণের বিপরীতে বিনিময়যোগ্য হয়ে যাবে; কারণ আদেশদাতা ক্রেতাকে কোনো বিনিময় ছাড়াই মূল্য থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অধিকার রাখেন, সুতরাং বিনিময়ের মাধ্যমে অব্যাহতি দেওয়ার অধিকার তিনি আরও জোরালোভাবে রাখেন। আয-যাখিরা গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। (ক্রয় ও বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিনিধিত্বের অধ্যায়)(ক্রয় সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)প্রতিনিধিত্বের অধ্যায়গুলোর মধ্যে যা অধিকতর সংঘটিত হয় এবং যার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি, তিনি তাকেই প্রথমে নিয়ে এসেছেন; আর তা হলো ক্রয় ও বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিনিধিত্ব। তিনি ক্রয়ের পরিচ্ছেদকে আগে নিয়ে এসেছেন; কারণ ক্রয় মালিকানা সাব্যস্ত করার বিষয়টি প্রকাশ করে। আর বিক্রয় মালিকানা বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। আর বিলুপ্তি ঘটে সাব্যস্ত হওয়ার পরে—ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আমি বলব: ক্রয়ের পরিচ্ছেদকে আগে উপস্থাপনের ব্যাপারে তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন—
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(قَالَ: وَمَنْ وَكَّلَ رَجُلًا بِشِرَاءِ شَيْءٍ فَلَا بُدَّ مِنْ تَسْمِيَةِ جِنْسِهِ وَصِفَتِهِ
ضَعِيفُ جِدًّا، بَلْ هُوَ أَمْرٌ وَهْمِيٌّ لَا تَحْقِيقِيٌّ؛ لِأَنَّ الشِّرَاءَ كَمَا يُنْبِئُ عَنْ إثْبَاتِ الْمِلْكِ فِي الْمَبِيعِ يُنْبِئُ أَيْضًا عَنْ إزَالَةِ الْمِلْكِ عَنْ الثَّمَنِ، وَإِنَّ الْبَيْعَ كَمَا يُنْبِئُ عَنْ إزَالَةِ الْمِلْكِ عَنْ الْمَبِيعِ يُنْبِئُ أَيْضًا عَنْ إثْبَاتِ الْمِلْكِ فِي الثَّمَنِ، وَعَنْ هَذَا قَالُوا إنَّ الشِّرَاءَ جَالِبٌ لِلْمَبِيعِ سَالِبٌ لِلثَّمَنِ وَالْبَيْعُ عَلَى عَكْسِهِ، فَهُمَا سِيَّانِ فِي الْإِنْبَاءِ عَنْ الْإِثْبَاتِ وَالْإِزَالَةِ.وَإِنْ وُجِّهَ بِأَنَّ الْأَصْلَ وَالْعُمْدَةَ فِي عَقْدِ الْمُبَايَعَةِ هُوَ الْمَبِيعُ فَيَكْفِي إنْبَاءُ الشِّرَاءِ عَنْ الْإِثْبَاتِ وَالْبَيْعِ عَنْ الْإِزَالَةِ بِالنَّظَرِ إلَيْهِ. قُلْنَا: لَا شَكَّ أَنَّ ثُبُوتَ مِلْكِ الْمُشْتَرِي فِي الْمَبِيعِ لَيْسَ بِمُقَدَّمٍ عَلَى زَوَالِ مِلْكِ الْبَائِعِ عَنْهُ، وَإِلَّا يَلْزَمُ أَنْ يَجْتَمِعَ فِي كُلِّ مَبِيعٍ فِي آنٍ وَاحِدٍ هُوَ قَبْلَ زَوَالِ مِلْكِ الْبَائِعِ عَنْهُ مِلْكَانِ مُسْتَقِلَّانِ لِلْبَائِعِ وَالْمُشْتَرِي وَلَا يَخْفَى بُطْلَانُهُ، فَتَعَيَّنَ أَنَّ ثُبُوتَ الْمِلْكِ وَزَوَالَهُ فِي الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ إنَّمَا يَتَحَقَّقَانِ مَعًا بِالنِّسْبَةِ إلَى الشَّخْصَيْنِ. وَأَمَّا قَضِيَّةُ كَوْنِ الْإِزَالَةِ بَعْدَ الْإِثْبَاتِ فَإِنَّمَا تُجْرَى فِي مَحَلٍّ وَاحِدٍ بِالنِّسْبَةِ إلَى شَخْصٍ وَاحِدٍ فَهِيَ بِمَعْزِلٍ عَمَّا نَحْنُ فِيهِ. فَالْأَظْهَرُ أَنَّ الْوَجْهَ فِي تَقْدِيمِ فَصْلِ الشِّرَاءِ عَلَى فَصْلِ الْبَيْعِ مَا هُوَ الْوَجْهُ فِي تَقْدِيمِ بَابِ الْوَكَالَةِ بِالْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ عَلَى سَائِرِ أَبْوَابِ الْوَكَالَةِ مِنْ كَوْنِهِ أَكْثَرَ وُقُوعًا وَأَمَسَّ حَاجَةً، فَإِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ يُوَكِّلُ الْآخَرَ بِالشِّرَاءِ فِي مَأْكِلِهِ وَمَشَارِبِهِ وَمَلَابِسِهِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْأُمُورِ الْمُهِمَّةِ الَّتِي قَلَّمَا يَخْلُو الْإِنْسَانُ فِي أَوْقَاتِهِ مِنْ الِاحْتِيَاجِ إلَيْهَا، وَقَلَّمَا يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يَتَوَلَّى شِرَاءَهَا بِنَفْسِهِ.بِخِلَافِ التَّوْكِيلِ فِي بَابِ الْبَيْعِ كَمَا لَا يَخْفَى (قَالَ) أَيْ الْقُدُورِيُّ فِي مُخْتَصَرِهِ (وَمَنْ وَكَّلَ رَجُلًا بِشِرَاءِ شَيْءٍ أَيِّ شَيْءٍ غَيْرِ مُعَيَّنٍ؛ لِأَنَّ فِي الْعَيْنِ لَا يَحْتَاجُ إلَى تَسْمِيَةِ الْجِنْسِ وَالصِّفَةِ) كَذَا فِي الشُّرُوحِ (فَلَا بُدَّ مِنْ تَسْمِيَةِ جِنْسِهِ) كَالْعَبْدِ وَالْجَارِيَةِ، فَإِنَّ الْعَبْدَ جِنْسٌ عِنْدَ أَهْلِ الشَّرْعِ، وَكَذَا الْجَارِيَةُ بِاعْتِبَارِ اخْتِلَافِ الْأَحْكَامِ (وَصِفَتُهُ) أَيْ نَوْعُهُ عَلَى مَا سَيَأْتِي فِي كَلَامِ الْمُصَنِّفِ كَالتُّرْكِيِّ وَالْهِنْدِيِّ. قَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: فَيَحْتَاجُ إلَى تَعْرِيفِ الْجِنْسِ وَالنَّوْعِ، فَقِيلَ الْجِنْسُ هُوَ مَا يَدْخُلُ تَحْتَهُ أَنْوَاعٌ مُتَغَايِرَةٌ، وَالنَّوْعُ اسْمٌ لِأَحَدِ مَا يَدْخُلُ تَحْتَ اسْمٍ فَوْقَهُ. وَذَكَرَ فِي الْفَوَائِدِ الظَّهِيرِيَّةِ مُحَالًا إلَى أَهْلِ الْمَنْطِقِ: الْجِنْسُ اسْمٌ دَالٌّ عَلَى كَثِيرِينَ مُخْتَلِفِينَ بِالنَّوْعِ، وَالنَّوْعُ اسْمٌ دَالٌّ عَلَى كَثِيرِينَ مُخْتَلِفِينَ بِالشَّخْصِ انْتَهَى.أَقُولُ: لَا يَذْهَبُ عَلَى ذِي فِطْرَةٍ سَلِيمَةٍ أَنَّهُ لَمْ يَأْتِ بِشَيْءٍ يُعَرِّفُ بِهِ مَا هُوَ الْمُرَادُ بِالْجِنْسِ وَالنَّوْعِ هَاهُنَا؛ لِأَنَّ الَّذِي ذَكَرَهُ أَوَّلًا لَا حَاصِلَ لَهُ بَلْ هُوَ أَمْرٌ مُبْهَمٌ مُتَنَاوِلٌ لِأُمُورٍ كَثِيرَةٍ غَيْرِ مُرَادَةٍ بِالْجِنْسِ وَالنَّوْعِ هَاهُنَا قَطْعًا. وَاَلَّذِي ذَكَرَهُ ثَانِيًا لَا يُطَابِقُ مُرَادَ الْفُقَهَاءِ وَيَشْهَدُ بِذَلِكَ قَطْعًا مَا ذَكَرُوهُ مِنْ أَمْثِلَةِ الْجِنْسِ وَالنَّوْعِ. وَقَالَ صَاحِبُ الْغَايَةِ: وَأَرَادَ بِالْجِنْسِ النَّوْعَ لَا مُصْطَلَحَ أَهْلِ الْمَنْطِقِ وَهُوَ الْكُلِّيُّ الْمَقُولُ عَلَى كَثِيرِينَ مُخْتَلِفِينَ بِالنَّوْعِ فِي جَوَابِ مَا هُوَ، وَالنَّوْعُ هُوَ الْمَقُولُ عَلَى كَثِيرِينَ مُخْتَلِفِينَ بِالْعَدَدِ فِي جَوَابِ مَا هُوَ، أَوْ أَرَادَ مُصْطَلَحَ أَهْلِ النَّحْوِ وَهُوَ مَا عُلِّقَ عَلَى شَيْءٍ وَعَلَى كُلِّ مَا أَشْبَهَهُ، وَيَجُوزُ أَنْ يُرِيدَ بِالْجِنْسِ مَا يَنْدَرِجُ تَحْتَهُ أَشْخَاصٌ، وَقَدْ مَرَّ بَيَانُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ النِّكَاحِ فِي بَابِ الْمَهْرِ انْتَهَى.أَقُولُ: كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ الْمَعَانِي الثَّلَاثَةِ الَّتِي جَوَّزَ كَوْنَهَا مُرَادَةً بِالْجِنْسِ هَاهُنَا مَنْظُورٌ فِيهِ. أَمَّا الْأَوَّلُ فَلِأَنَّهُ إنْ أَرَادَ بِالنَّوْعِ فِي قَوْلِهِ وَأَرَادَ بِالْجِنْسِ النَّوْعَ الْمَنْطِقِيَّ كَمَا هُوَ الْمُتَبَادَرُ مِنْ سِيَاقِ كَلَامِهِ يُرَدُّ عَلَيْهِ أَنَّ مِنْ الْأَجْنَاسِ الشَّرْعِيَّةِ مَا لَيْسَ بِنَوْعٍ عِنْدَ أَهْلِ الْمَنْطِقِ كَالْعَبْدِ وَالْجَارِيَةِ فَإِنَّهُمَا لَيْسَا بِنَوْعَيْنِ عِنْدَهُمْ بَلْ هُمَا عِنْدَهُمْ مِنْ أَصْنَافِ نَوْعِ الْإِنْسَانِ، وَإِنْ أَرَادَ بِذَلِكَ النَّوْعَ اللُّغَوِيَّ بِمَعْنَى الْقِسْمِ يَلْزَمُ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ جَمِيعُ الْأَنْوَاعِ الشَّرْعِيَّةِ بَلْ أَصْنَافُهَا أَيْضًا، فَإِنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهَا قِسْمٌ مِمَّا هُوَ الْأَعَمُّ مِنْهُ، فَلَا يَتَمَيَّزُ الْجِنْسُ الشَّرْعِيُّ عَنْ النَّوْعِ الشَّرْعِيِّ وَمَا دُونَهُ فَيُخْتَلَ مَعْنَى الْمَقَامِ. وَأَمَّا الثَّانِي فَلِأَنَّ ذَلِكَ الْمَعْنَى الَّذِي هُوَ مُصْطَلَحُ أَهْلِ النَّحْوِ فِي اسْمِ الْجِنْسِ. وَحَاصِلُهُ مَا عُلِّقَ عَلَى شَيْءٍ لَا بِعَيْنِهِ كَمَا ذَكَرَهُ فِي بَابِ الْمَهْرِ مِنْ كِتَابِ النِّكَاحِ يَصْدُقُ عَلَى مَا فَرَّقَ الْأَجْنَاسَ الشَّرْعِيَّةَ كَالدَّابَّةِ وَالثَّوْبِ وَالرَّقِيقِ، فَإِنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهَا مِمَّا يَجْمَعُ الْأَجْنَاسَ الشَّرْعِيَّةَ كَمَا صَرَّحُوا بِهِ، وَيَصْدُقُ أَيْضًا عَلَى مَا تَحْتَ الْأَجْنَاسِ الشَّرْعِيَّةِ مِنْ الْأَنْوَاعِ الشَّرْعِيَّةِ وَمَا دُونَهَا، فَلَا يَتَمَيَّزُ الْجِنْسُ الشَّرْعِيُّ حِينَئِذٍ مِنْ غَيْرِهِ فَيَخْتَلُّ مَعْنَى
(তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো কিছু ক্রয়ের জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, তবে অবশ্যই তার শ্রেণি ও গুণাগুণ উল্লেখ করতে হবে)
এটি অত্যন্ত দুর্বল, বরং এটি একটি কাল্পনিক বিষয়, কোনো সুনিশ্চিত বিষয় নয়; কারণ ক্রয় যেমন বিক্রিত বস্তুর ওপর মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার কথা জানায়, তেমনি মূল্য থেকে মালিকানা অপসারিত হওয়ার কথাও জানায়। আবার বিক্রয় যেমন বিক্রিত বস্তু থেকে মালিকানা অপসারিত হওয়ার কথা জানায়, তেমনি মূল্যের ওপর মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ার কথাও জানায়। এই কারণে ফকিহগণ বলেছেন, ক্রয় হলো বিক্রিত বস্তুকে আনয়নকারী এবং মূল্যকে হরণকারী, আর বিক্রয় হলো এর বিপরীত। সুতরাং সাব্যস্ত হওয়া এবং অপসারিত হওয়া—উভয়টি জানানোর ক্ষেত্রে এই দুটি সমান।আর যদি এভাবে যুক্তি দেওয়া হয় যে, কেনা-বেচার চুক্তিতে আসল ও মূল লক্ষ্য হলো বিক্রিত বস্তু, সুতরাং বিক্রিত বস্তুর দিকে লক্ষ্য রেখে ক্রয় মালিকানা সাব্যস্ত করার এবং বিক্রয় মালিকানা অপসারিত করার সংবাদ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট—তবে আমরা বলব: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিক্রিত বস্তুর ওপর ক্রেতার মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া বিক্রেতার মালিকানা অপসারিত হওয়ার আগে নয়। অন্যথায় আবশ্যক হয়ে পড়বে যে, বিক্রেতার মালিকানা বিলুপ্ত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে একই বিক্রিত বস্তুর ওপর বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের দুটি স্বতন্ত্র মালিকানা একই সময়ে বিদ্যমান থাকবে, যার অসারতা কারো কাছে গোপন নয়। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে, ক্রয় ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মালিকানার সাব্যস্ত হওয়া এবং বিলুপ্তি উভয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই সাথে কার্যকর হয়। আর সাব্যস্ত হওয়ার পর বিলুপ্তি ঘটার বিষয়টি কেবল এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই স্থানে প্রযোজ্য হতে পারে, যা আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয় থেকে ভিন্ন। সুতরাং অধিকতর স্পষ্ট বিষয় হলো, বিক্রয়ের পরিচ্ছেদের আগে ক্রয়ের পরিচ্ছেদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ তাই, যা অন্যান্য ওকালতের পরিচ্ছেদের ওপর ক্রয়-বিক্রয়ের ওকালতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ; আর তা হলো এটি অধিকহারে সংঘটিত হওয়া এবং এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি হওয়া। কেননা অধিকাংশ মানুষ তাদের আহার্য, পানীয়, পোশাক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্যকে ক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করে থাকে, যা থেকে মানুষ খুব কম সময়ই অভাবমুক্ত থাকে এবং অনেক সময় সে নিজে তা ক্রয় করতে সক্ষম হয় না।বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিযুক্ত করার বিষয়টি এর বিপরীত, যা স্পষ্ট। (তিনি বলেছেন) অর্থাৎ ইমাম কুদুরী রহ. তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থে বলেছেন, (আর যে ব্যক্তি কোনো কিছু ক্রয়ের জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, অর্থাৎ এমন কিছু যা নির্দিষ্ট নয়; কারণ নির্দিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রে শ্রেণি ও গুণাগুণ উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না)—ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে এমনই রয়েছে—(তবে অবশ্যই তার শ্রেণি উল্লেখ করতে হবে) যেমন দাস বা দাসী। কারণ শরীয়তবিদদের নিকট 'দাস' একটি শ্রেণি এবং বিধানের ভিন্নতার কারণে 'দাসী'ও একটি শ্রেণি। (এবং তার গুণাগুণ) অর্থাৎ তার প্রকার, যেমনটি সামনে লেখকের বক্তব্যে আসবে, যেমন তুর্কি বা হিন্দি (ভারতীয়)। 'ইনায়াহ' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এক্ষেত্রে শ্রেণি ও প্রকারের পরিচয় জানা প্রয়োজন। বলা হয়েছে, শ্রেণি (জিনস) হলো এমন বিষয় যার অধীনে ভিন্ন ভিন্ন প্রকার অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর প্রকার (নাউ') হলো এমন নাম যা তার ঊর্ধ্বস্থিত কোনো নামের অধীনে দাখিল হওয়া বিষয়গুলোর কোনো একটির নাম। 'ফাওয়াইদুজ জাহিরিয়্যাহ' গ্রন্থে যুক্তিবিদদের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে: শ্রেণি হলো এমন একটি নাম যা এমন অনেক বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হয় যাদের প্রকার ভিন্ন ভিন্ন, আর প্রকার হলো এমন নাম যা এমন অনেক বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হয় যাদের ব্যক্তি বা সত্তা ভিন্ন ভিন্ন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)আমি বলি: সুস্থ স্বভাবসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, তিনি এখানে শ্রেণি ও প্রকার দ্বারা কী উদ্দেশ্য, তা বুঝাতে নতুন কিছু আনেননি। কারণ তিনি প্রথমে যা উল্লেখ করেছেন তার কোনো সারসংক্ষেপ নেই, বরং সেটি একটি অস্পষ্ট বিষয় যা এমন অনেক বিষয়কে শামিল করে যা এখানে শ্রেণি ও প্রকার হিসেবে নিশ্চিতভাবেই উদ্দেশ্য নয়। আর দ্বিতীয়ত তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা ফকিহগণের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং শ্রেণি ও প্রকারের যে উদাহরণসমূহ তাঁরা উল্লেখ করেছেন, তা নিশ্চিতভাবেই এর সাক্ষ্য দেয়। 'গায়াহ' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: শ্রেণি দ্বারা তিনি প্রকার উদ্দেশ্য নিয়েছেন, যুক্তিবিদদের পরিভাষা নয়; যা হলো সেই সমষ্টিগত বিষয় যা 'এটি কী' এর উত্তরে এমন অনেক বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হয় যাদের প্রকার ভিন্ন ভিন্ন। আর প্রকার হলো তা যা 'এটি কী' এর উত্তরে এমন অনেক বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হয় যাদের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। অথবা তিনি ব্যাকরণবিদদের পরিভাষা উদ্দেশ্য নিয়েছেন, যা হলো এমন কিছু যা কোনো বিষয়ের ওপর এবং তার সদৃশ সবকিছুর ওপর প্রযুক্ত হয়। অথবা শ্রেণি দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য নেওয়া হতে পারে যার অধীনে অনেক ব্যক্তি বা সত্তা অন্তর্ভুক্ত থাকে, এবং এর বর্ণনা কিতাবুন নিকাহ-এর মোহর পরিচ্ছেদে গত হয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)আমি বলি: এখানে শ্রেণি দ্বারা যে তিনটি অর্থ উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা তিনি ব্যক্ত করেছেন, তার প্রত্যেকটিই পর্যালোচনার যোগ্য। প্রথমটির ক্ষেত্রে আপত্তি হলো, তিনি যদি 'শ্রেণি দ্বারা প্রকার উদ্দেশ্য' বলতে যুক্তিবিদদের 'প্রকার' বুঝিয়ে থাকেন—যেমনটি তাঁর কথার ধারা থেকে বুঝা যায়—তবে তার ওপর আপত্তি আসবে যে, শরয়ী শ্রেণিগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যা যুক্তিবিদদের নিকট প্রকার নয়, যেমন দাস ও দাসী; কারণ তাদের নিকট এই দুটি প্রকার নয় বরং মানব জাতির দুটি শ্রেণীবিভাগ মাত্র। আর যদি তিনি এর দ্বারা শাব্দিক অর্থ তথা 'অংশ' বা 'বিভাগ' বুঝিয়ে থাকেন, তবে এতে সমস্ত শরয়ী প্রকার এমনকি উপ-শ্রেণিগুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে; কারণ এর প্রত্যেকটিই তার চেয়ে ব্যাপকতর বিষয়ের একটি বিভাগ। ফলে শরয়ী 'শ্রেণি' এবং শরয়ী 'প্রকার' ও তার নিম্নস্তরের বিষয়গুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না, যা এই প্রসঙ্গের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আপত্তি হলো, ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় 'জিনস' বা শ্রেণি নামের যে অর্থ করা হয়েছে এবং যার সারকথা হলো যা অনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হয়—যেমনটি তিনি কিতাবুন নিকাহ-এর মোহর পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন—তা এমন সব বিষয়ের ওপরও সত্য হয় যা শরয়ী শ্রেণিগুলোর মাঝে পার্থক্য করে, যেমন চতুষ্পদ জন্তু, কাপড় এবং দাস; কারণ এর প্রত্যেকটিই একাধিক শরয়ী শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করে যেমনটি ফকিহগণ স্পষ্ট করেছেন। আবার এটি শরয়ী শ্রেণির অধীনে থাকা শরয়ী প্রকার এবং তার নিম্নস্তরের বিষয়গুলোর ওপরও সত্য হয়। এমতাবস্থায় শরয়ী শ্রেণিকে অন্য বিষয় থেকে আলাদা করা যাবে না, ফলে অর্থ ব্যাহত হবে।
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أَوْ جِنْسِهِ وَمَبْلَغِ ثَمَنِهِ) لِيَصِيرَ الْفِعْلُ الْمُوَكَّلُ بِهِ مَعْلُومًا فَيُمْكِنُهُ الِائْتِمَارُ،
الْمَقَامِ. وَأَمَّا الثَّالِثُ فَلِأَنَّ ذَلِكَ الْمَعْنَى الَّذِي هُوَ مُصْطَلَحُ حُكَمَاءِ الْيُونَانِ فِي الْجِنْسِ عَلَى مَا نُقِلَ عَنْ أَبِي عَلِيِّ بْنِ سِينَا يَصْدُقُ عَلَى كُلِّ مَفْهُومٍ كُلِّيٍّ يَنْدَرِجُ تَحْتَهُ أَشْخَاصٌ فَيَعُمُّ مَا فَوْقَ الْأَجْنَاسِ الشَّرْعِيَّةِ وَمَا تَحْتَهَا مِنْ الْأَنْوَاعِ الشَّرْعِيَّةِ وَأَصْنَافِهَا، فَلَا يَتَمَيَّزُ الْجِنْسُ الشَّرْعِيُّ حِينَئِذٍ مِنْ غَيْرِهِ أَيْضًا فَيَخْتَلُّ مَعْنَى الْمَقَامِ. وَقَالَ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ: وَالْمُرَادُ بِالْجِنْسِ وَالنَّوْعِ هَاهُنَا غَيْرُ مَا اصْطَلَحَ عَلَيْهِ أَهْلُ الْمَنْطِقِ، فَإِنَّ الْجِنْسَ عِنْدَهُمْ هُوَ الْمَقُولُ عَلَى كَثِيرِينَ مُخْتَلِفِينَ بِالْحَقِيقَةِ فِي جَوَابِ مَا هُوَ كَالْحَيَوَانِ، وَالنَّوْعُ هُوَ الْمَقُولُ عَلَى كَثِيرِينَ مُتَّفِقِينَ بِالْحَقِيقَةِ فِي جَوَابِ مَا هُوَ كَالْإِنْسَانِ مَثَلًا، وَالصِّنْفُ هُوَ النَّوْعُ الْمُقَيَّدُ بِقَيْدٍ عَرَضِيٍّ كَالتُّرْكِيِّ وَالْهِنْدِيِّ، وَالْمُرَادُ هَاهُنَا بِالْجِنْسِ مَا يَشْمَلُ أَصْنَافًا عَلَى اصْطِلَاحِ أُولَئِكَ وَبِالنَّوْعِ الصِّنْفُ انْتَهَى.أَقُولُ: لَا يَخْفَى عَلَى الْعَارِفِ بِالْفِقْهِ أَنَّ مَا قَالَهُ صَاحِبُ الْعِنَايَةِ أَقْرَبُ إلَى ضَبْطِ مَا هُوَ الْمُرَادُ مِنْ الْجِنْسِ وَالنَّوْعِ عِنْدَ أَهْلِ الشَّرْعِ، لَكِنَّ فِيهِ أَيْضًا إشْكَالٌ؛ لِأَنَّهُ إنْ أَرَادَ بِالصِّنْفِ فِي قَوْلِهِ وَبِالنَّوْعِ الصِّنْفِ الصِّنْفَ الْمَنْطِقِيَّ كَمَا هُوَ الْمُتَبَادَرُ مِنْ سِيَاقِ كَلَامِهِ، يُرَدُّ عَلَيْهِ أَنَّ الْحِمَارَ نَوْعٌ عِنْدَ أَهْلِ الشَّرْعِ عَلَى مَا سَيَجِيءُ فِي الْكِتَابِ مَعَ أَنَّهُ لَيْسَ بِصِنْفٍ مَنْطِقِيٍّ، بَلْ هُوَ نَوْعٌ عِنْدَ أَهْلِ الْمَنْطِقِ أَيْضًا، وَإِنْ أَرَادَ بِذَلِكَ الصِّنْفَ اللُّغَوِيَّ بِمَعْنَى الضَّرْبِ وَالْقِسْمِ يُرَدُّ عَلَيْهِ أَنَّ الرَّقِيقَ مَثَلًا صِنْفٌ بِهَذَا الْمَعْنَى؛ لِأَنَّهُ ضَرْبٌ مِنْ الْإِنْسَانِ وَلَيْسَ بِنَوْعٍ عِنْدَ أَهْلِ الشَّرْعِ، بَلْ هُوَ عِنْدَهُمْ مِمَّا يَجْمَعُ الْأَجْنَاسَ الشَّرْعِيَّةَ كَالْعَبْدِ وَالْجَارِيَةِ عَلَى مَا صَرَّحُوا بِهِ، وَإِنَّ الْعَبْدَ وَالْجَارِيَةَ مَثَلًا صِنْفَانِ بِالْمَعْنَى الْمَذْكُورِ وَلَيْسَا بِنَوْعَيْنِ عِنْدَهُمْ بَلْ هُمَا عِنْدَهُمْ جِنْسَانِ كَمَا نَصُّوا عَلَيْهِ (أَوْ جِنْسِهِ وَمَبْلَغِ ثَمَنِهِ) أَيْ أَوْ تَسْمِيَةِ جِنْسِهِ وَمِقْدَارِ ثَمَنِهِ (لِيَصِيرَ الْفِعْلُ الْمُوَكَّلُ بِهِ مَعْلُومًا فَيُمْكِنُهُ الِائْتِمَارُ) أَيْ فَيُمْكِنُ الْوَكِيلُ الِامْتِثَالَ لِأَمْرِ الْمُوَكِّلِ، فَإِنَّ ذِكْرَ الْجِنْسِ مُجَرَّدًا عَنْ الصِّفَةِ أَوْ الثَّمَنِ لَا يُفِيدُ الْمَعْرِفَةَ فَلَا يَتَمَكَّنُ الْوَكِيلُ مِنْ الْإِتْيَانِ بِمَا أَمَرَهُ الْمُوَكِّلُ بِهِ. وَاعْتَرَضَ عَلَى قَوْلِهِ لِيَصِيرَ الْفِعْلُ الْمُوَكَّلُ بِهِ مَعْلُومًا بِأَنَّ الْفِعْلَ الْمُوَكَّلَ بِهِ مَعْلُومٌ وَهُوَ الشِّرَاءُ.وَالْجَوَابُ: إنَّ الْفِعْلَ الْمُوَكَّلَ بِهِ فِي هَذَا الْقِسْمِ لَيْسَ هُوَ الشِّرَاءَ، بَلْ هُوَ شِرَاءُ نَوْعٍ مِنْ جِنْسٍ، وَإِذَا لَمْ يُعْلَمْ النَّوْعُ لَمْ يُعْلَمْ الْفِعْلُ الْمُضَافُ إلَيْهِ كَذَا فِي الْعِنَايَةِ. أَقُولُ: لِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ: إنْ أَرَادَ أَنَّ الْفِعْلَ الْمُوَكَّلَ بِهِ فِي هَذَا الْقِسْمِ شِرَاءُ نَوْعٍ مُعَيَّنٍ مِنْ جِنْسٍ فَهُوَ مَمْنُوعٌ، كَيْفَ وَمَعْنَى الدَّلِيلِ الْمَذْكُورِ أَنَّهُ لَوْ لَمْ يُسَمِّ الْمُوَكِّلُ بِشِرَاءِ شَيْءٍ نَوْعَهُ مَعَ جِنْسِهِ أَوْ مَبْلَغَ ثَمَنِهِ مَعَ جِنْسِهِ لَمْ يَصِرْ الْفِعْلُ الْمُوَكَّلُ بِهِ مَعْلُومًا فَلَمْ يُمْكِنْ لِلْوَكِيلِ الِائْتِمَارُ بِمَا أَمَرَ بِهِ، وَعَلَى هَذَا لَا يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ الْفِعْلُ الْمُوَكَّلُ بِهِ شِرَاءَ نَوْعٍ مُعَيَّنٍ لِكَوْنِهِ خِلَافَ الْمَفْرُوضِ.وَإِنْ أَرَادَ أَنَّ الْفِعْلَ الْمُوَكَّلَ بِهِ فِي هَذَا الْقِسْمِ شِرَاءُ نَوْعٍ مَا مِنْ أَنْوَاعِ جِنْسٍ فَهُوَ مُسَلَّمٌ، لَكِنْ يُرَدُّ عَلَيْهِ الِاعْتِرَاضُ بِأَنَّ الْفِعْلَ الْمُوَكَّلَ بِهِ حِينَئِذٍ مَعْلُومٌ، وَهُوَ شِرَاءُ نَوْعٍ مَا مِنْ جِنْسٍ، فَإِذَا اشْتَرَى الْوَكِيلُ أَيَّ نَوْعٍ كَانَ مِنْ ذَلِكَ الْجِنْسِ يَصِيرُ مُؤْتَمَرًا بِمَا أُمِرَ بِهِ. وَيُمْكِنُ الْجَوَابُ بِأَنَّ الْفِعْلَ الْمُوَكَّلَ بِهِ حِينَئِذٍ وَإِنْ كَانَ شِرَاءَ نَوْعٍ مُطْلَقٍ مِنْ جِنْسٍ نَظَرًا إلَى ظَاهِرِ لَفْظِ الْمُوَكِّلِ لَكِنْ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مُرَادُ الْمُوَكِّلِ شِرَاءَ نَوْعٍ مَخْصُوصٍ مِنْ ذَلِكَ الْجِنْسِ، فَإِذَا لَمْ يُعْلَمْ ذَلِكَ النَّوْعُ الْمُرَادُ لَمْ يُمْكِنْ لِلْوَكِيلِ
(অথবা তার প্রকার এবং তার মূল্যের পরিমাণ) যাতে যে কাজের জন্য উকিল নিয়োগ করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট হয় এবং তার পক্ষে আদেশ পালন করা সম্ভব হয়।
এই স্থান। আর তৃতীয়ত এজন্য যে, আবু আলী ইবনে সিনা থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সেই অনুযায়ী সাধারণ শ্রেণীর (জিনস) ক্ষেত্রে গ্রিক দার্শনিকদের পরিভাষা অনুযায়ী ওই অর্থের প্রয়োগ প্রত্যেক এমন সামগ্রিক ধারণার ওপর সত্য হয় যার অধীনে ব্যক্তিবিশেষ অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে তা শরয়ী সাধারণ শ্রেণীর উপরের স্তর এবং তার নিচের শরয়ী উপশ্রেণী (নও) ও তার প্রকারভেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। এমতাবস্থায় শরয়ী সাধারণ শ্রেণী অন্যটি থেকে পৃথক করা সম্ভব হয় না, ফলে প্রসঙ্গের অর্থ বিঘ্নিত হয়। আল-ইনায়াহ গ্রন্থকার বলেছেন: এখানে সাধারণ শ্রেণী (জিনস) ও উপশ্রেণী (নও) দ্বারা উদ্দেশ্য যুক্তিবিদদের পরিভাষা নয়। কেননা তাদের নিকট সাধারণ শ্রেণী হলো এমন বিষয় যা 'এটি কী?' এর উত্তরে এমন অনেকের ওপর প্রযোজ্য হয় যাদের সত্তাগত বাস্তবতা ভিন্ন, যেমন: প্রাণী। আর উপশ্রেণী হলো এমন বিষয় যা 'এটি কী?' এর উত্তরে এমন অনেকের ওপর প্রযোজ্য হয় যাদের সত্তাগত বাস্তবতা অভিন্ন, যেমন: মানুষ। আর শ্রেণী (সিনফ) হলো এমন উপশ্রেণী যা কোনো বাহ্যিক গুণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ, যেমন: তুর্কি বা ভারতীয়। আর এখানে সাধারণ শ্রেণী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন বিষয় যা তাদের পরিভাষা অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর উপশ্রেণী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শ্রেণী। সমাপ্ত।আমি বলছি: ফিকহ শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, আল-ইনায়াহ গ্রন্থকার যা বলেছেন তা শরীয়তবিদদের নিকট সাধারণ শ্রেণী ও উপশ্রেণীর উদ্দেশ্য নির্ধারণের অধিক নিকটবর্তী। তবে এতেও কিছুটা জটিলতা রয়েছে; কারণ তিনি যদি 'উপশ্রেণী দ্বারা উদ্দেশ্য শ্রেণী' কথাটি দ্বারা যুক্তিবিদদের পরিভাষার শ্রেণী উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন—যেমনটি তাঁর আলোচনার প্রেক্ষাপট থেকে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়—তবে তার ওপর আপত্তি আসবে যে, শরীয়তবিদদের নিকট 'গাধা' একটি উপশ্রেণী হিসেবে গণ্য, যা কিতাবের সামনে আসবে; অথচ এটি যুক্তিবিদদের মতে শ্রেণী নয় বরং যুক্তিবিদদের নিকটও এটি উপশ্রেণী। আর তিনি যদি এর দ্বারা শাব্দিক অর্থের শ্রেণী উদ্দেশ্য নেন যার অর্থ হলো প্রকার বা ভাগ, তবে তার ওপর আপত্তি আসবে যে, উদাহরণস্বরূপ 'দাস' এই অর্থে একটি শ্রেণী; কারণ এটি মানুষের একটি প্রকার, কিন্তু শরীয়তবিদদের নিকট এটি উপশ্রেণী নয়। বরং তাদের নিকট এটি এমন বিষয় যা শরয়ী সাধারণ শ্রেণীসমূহকে একত্রিত করে, যেমন: গোলাম ও বাঁদী, যেমনটি তারা স্পষ্ট করেছেন। আর গোলাম ও বাঁদী উক্ত অর্থ অনুযায়ী দুটি শ্রেণী কিন্তু তাদের নিকট এ দুটি উপশ্রেণী নয় বরং তাদের নিকট এ দুটি হলো সাধারণ শ্রেণী, যেমনটি তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। (অথবা তার প্রকার এবং তার মূল্যের পরিমাণ) অর্থাৎ তার প্রকারের নামকরণ এবং তার মূল্যের পরিমাণ উল্লেখ করা (যাতে যে কাজের জন্য উকিল নিয়োগ করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট হয় এবং তার পক্ষে আদেশ পালন করা সম্ভব হয়) অর্থাৎ উকিলের পক্ষে নিয়োগদাতার আদেশ পালন করা সম্ভব হয়। কেননা গুনাগুন বা মূল্য উল্লেখ করা ব্যতীত শুধু সাধারণ শ্রেণীর উল্লেখ করা পূর্ণ পরিচয় প্রদান করে না, ফলে উকিল নিয়োগদাতার আদেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় না। তাঁর বক্তব্য 'যাতে যে কাজের জন্য উকিল নিয়োগ করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট হয়' এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে, যে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা তো জানাই আছে, আর তা হলো ক্রয় করা।এর উত্তর হলো: এই পরিচ্ছেদে যে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা কেবল ক্রয় করা নয়, বরং তা হলো কোনো সাধারণ শ্রেণীর মধ্য হতে একটি উপশ্রেণীর ক্রয়। আর যখন উপশ্রেণীটি জানা থাকবে না, তখন তার সাথে সংশ্লিষ্ট কাজটিও জানা থাকবে না। আল-ইনায়াহ গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। আমি বলছি: কেউ বলতে পারেন যে, তিনি যদি উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন যে এই পরিচ্ছেদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ হলো কোনো সাধারণ শ্রেণীর মধ্য হতে একটি নির্দিষ্ট উপশ্রেণী ক্রয় করা, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কীভাবে সম্ভব যখন উল্লিখিত দলিলের অর্থ হলো—নিয়োগদাতা যদি কোনো কিছু ক্রয়ের নির্দেশের সময় তার সাধারণ শ্রেণীর সাথে উপশ্রেণী উল্লেখ না করে অথবা সাধারণ শ্রেণীর সাথে মূল্যের পরিমাণ উল্লেখ না করে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ নির্দিষ্ট হবে না, ফলে উকিলের পক্ষে আদিষ্ট কাজ পালন করা সম্ভব হবে না। এমতাবস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ কোনো নির্দিষ্ট উপশ্রেণী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, কারণ এটি অনুমিত বিষয়ের পরিপন্থী।আর যদি তিনি উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন যে এই পরিচ্ছেদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ হলো কোনো সাধারণ শ্রেণীর উপশ্রেণীসমূহ হতে যেকোনো একটি উপশ্রেণী ক্রয় করা, তবে তা স্বীকৃত। কিন্তু এমতাবস্থায় সেই আপত্তিটি ফিরে আসবে যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ তখন সুনির্দিষ্টই আছে, আর তা হলো কোনো সাধারণ শ্রেণীর যেকোনো একটি উপশ্রেণী ক্রয় করা। এমতাবস্থায় উকিল যদি ওই সাধারণ শ্রেণীর যেকোনো উপশ্রেণী ক্রয় করে তবেই সে আদিষ্ট কাজ পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে। এর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, নিয়োগদাতার শব্দের বাহ্যিক দিক বিবেচনায় এমতাবস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ যদিও কোনো সাধারণ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত অনির্দিষ্ট উপশ্রেণী ক্রয় করা বুঝায়, কিন্তু হতে পারে নিয়োগদাতার উদ্দেশ্য ওই সাধারণ শ্রেণীর বিশেষ কোনো উপশ্রেণী ক্রয় করা। সুতরাং যখন সেই উদ্দিষ্ট উপশ্রেণীটি জানা থাকবে না, তখন উকিলের পক্ষে সম্ভব হবে না
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(إلَّا أَنْ يُوَكِّلَهُ وَكَالَةً عَامَّةً فَيَقُولَ: ابْتَعْ لِي مَا رَأَيْت)؛ لِأَنَّهُ فَوَّضَ الْأَمْرَ إلَى رَأْيِهِ، فَأَيُّ شَيْءٍ يَشْتَرِيهِ يَكُونُ مُمْتَثِلًا. وَالْأَصْلُ فِيهِ أَنَّ الْجَهَالَةَ الْيَسِيرَةَ تَتَحَمَّلُ فِي الْوَكَالَةِ كَجَهَالَةِ الْوَصْفِ اسْتِحْسَانًا،
الِائْتِمَارُ بِأَمْرِهِ عَلَى وَفْقِ مُرَادِهِ، فَمَعْنَى كَلَامِ الْمُصَنِّفِ لِيَصِيرَ الْفِعْلُ الْمُوَكَّلُ بِهِ مَعْلُومًا عَلَى وَفْقِ مُرَادِ الْمُوَكِّلِ فَيُمَكِّنُ لِلْوَكِيلِ الِائْتِمَارُ بِأَمْرِهِ عَلَى وَفْقِ ذَلِكَ وَيُرْشِدُ إلَيْهِ قَوْلُهُ فِيمَا سَيَأْتِي فَلَا يَدْرِي مُرَادَ الْآمِرِ لِتَفَاحُشِ الْجَهَالَةِ (إلَّا أَنْ يُوَكِّلَهُ وَكَالَةً عَامَّةً) اسْتِثْنَاءٌ مِنْ قَوْلِهِ فَلَا بُدَّ مِنْ تَسْمِيَةِ جِنْسِهِ وَصِفَتِهِ أَوْ جِنْسِهِ وَمَبْلَغِ ثَمَنِهِ: يَعْنِي إذَا وَكَّلَهُ وَكَالَةً عَامَّةً (فَيَقُولُ ابْتَعْ لِي مَا رَأَيْت) فَلَا يَحْتَاجُ إلَى ذِكْرِ شَيْءٍ مِنْهَا (لِأَنَّهُ) أَيْ الْمُوَكِّلَ فِي هَذِهِ الصُّورَةِ (فَوَّضَ الْأَمْرَ إلَى رَأْيِهِ) أَيْ إلَى رَأْيِ الْوَكِيلِ (فَأَيَّ شَيْءٍ يَشْتَرِيهِ يَكُونُ مُمْتَثِلًا) لِأَمْرِ الْمُوَكِّلِ فَيَقَعُ عَنْهُ. أَعْلَمْ أَنَّ الْجَهَالَةَ ثَلَاثَةُ أَنْوَاعٍ: فَاحِشَةٌ وَهِيَ جَهَالَةُ الْجِنْسِ كَالتَّوْكِيلِ بِشِرَاءِ الثَّوْبِ وَالدَّابَّةِ وَالرَّقِيقِ وَهِيَ تَمْنَعُ صِحَّةَ الْوَكَالَةِ وَإِنْ بَيَّنَ الثَّمَنَ؛ لِأَنَّ الْوَكِيلَ لَا يَقْدِرُ عَلَى الِامْتِثَالِ. وَيَسِيرَةٌ وَهِيَ جَهَالَةُ النَّوْعِ كَالتَّوْكِيلِ بِشِرَاءِ الْحِمَارِ وَالْفَرَسِ وَالْبَغْلِ وَالثَّوْبِ الْهَرَوِيِّ وَالْمَرْوِيِّ فَإِنَّهَا لَا تَمْنَعُ صِحَّةَ الْوَكَالَةِ وَإِنْ لَمْ يُبَيِّنْ الثَّمَنَ.وَقَالَ بِشْرُ بْنُ غِيَاثٍ: لَا تَصِحُّ الْوَكَالَةُ؛ لِأَنَّ التَّوْكِيلَ بِالْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ مُعْتَبَرٌ بِنَفْسِ الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ فَلَا يَصِحُّ إلَّا بِبَيَانِ وَصْفِ الْمَعْقُودِ عَلَيْهِ. وَلَنَا «أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام وَكَّلَ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ بِشِرَاءِ شَاةٍ لِلْأُضْحِيَّةِ» وَلَمْ يُبَيِّنْ صِفَتَهَا. وَمَبْنَى الْوَكَالَةِ عَلَى التَّوَسُّعِ لِكَوْنِهَا اسْتِعَانَةً فَيَتَحَمَّلُ فِيهَا الْجَهَالَةُ الْيَسِيرَةُ اسْتِحْسَانًا. وَفِي اشْتِرَاطِ بَيَانِ الْوَصْفِ بَعْضُ الْحَرَجِ فَسَقَطَ اعْتِبَارُهُ، وَجَهَالَةٌ مُتَوَسِّطَةٌ وَهِيَ بَيْنَ النَّوْعِ وَالْجِنْسِ كَالتَّوْكِيلِ بِشِرَاءِ عَبْدٍ أَوْ شِرَاءِ أَمَةٍ أَوْ دَارٍ، فَإِنْ بَيَّنَ الثَّمَنَ أَوْ النَّوْعَ وَيُجْعَلُ مُلْحَقًا بِجَهَالَةِ النَّوْعِ، وَإِنْ لَمْ يُبَيِّنْ الثَّمَنَ أَوْ النَّوْعَ لَا يَصِحُّ وَيُلْحَقُ بِجَهَالَةِ الْجِنْسِ؛ لِأَنَّهُ يَمْنَعُ الِامْتِثَالَ.كَذَا ذَكَرَ فِي الْكَافِي أَخْذًا مِنْ الْمَبَاسِيطِ وَالْجَوَامِعِ. فَأَرَادَ الْمُصَنِّفُ أَنْ يُشِيرَ إلَى هَذِهِ الْأَنْوَاعِ الثَّلَاثَةِ مِنْ الْجَهَالَةِ، وَأَنْ يُبَيِّنَ حُكْمَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهَا فِي بَابِ الْوَكَالَةِ. فَقَالَ (وَالْأَصْلُ فِيهِ أَنَّ الْجَهَالَةَ الْيَسِيرَةَ تَتَحَمَّلُ فِي الْوَكَالَةِ كَجَهَالَةِ الْوَصْفِ اسْتِحْسَانًا) هَذَا بَيَانٌ لِحُكْمِ الْجَهَالَةِ الْيَسِيرَةِ، وَإِنَّمَا قُيِّدَ بِالِاسْتِحْسَانِ؛ لِأَنَّ الْقِيَاسَ أَنْ لَا تَتَحَمَّلَ الْجَهَالَةُ فِي الْوَكَالَةِ وَإِنْ قَلَّتْ بِنَاءً عَلَى أَنَّ التَّوْكِيلَ بِالْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ مُعْتَبَرٌ بِنَفْسِ الْبَيْعِ أَوْ الشِّرَاءِ؛ أَلَا يَرَى أَنَّا نَجْعَلُ الْوَكِيلَ كَالْمُشْتَرِي لِنَفْسِهِ ثُمَّ كَالْبَائِعِ مِنْ
(ব্যতিক্রম হলো যদি সে তাকে সাধারণ ওকালতি বা প্রতিনিধিত্ব প্রদান করে এবং বলে: 'তোমার কাছে যা সমীচীন মনে হয় তা আমার জন্য ক্রয় করো'); কারণ সে বিষয়টি তার মতামতের ওপর ন্যস্ত করেছে, ফলে সে যা কিছু ক্রয় করবে তা নির্দেশ পালনের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এর মূলনীতি হলো, প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সামান্য অস্পষ্টতা (জাহালাত) ক্ষমারযোগ্য, যেমন ইস্তিহসান বা সূক্ষ্ম তুলনার ভিত্তিতে গুণের অস্পষ্টতা গৃহীত হয়।
তার ইচ্ছানুযায়ী তার নির্দেশ পালন করা; সুতরাং গ্রন্থকারের বক্তব্যের অর্থ হলো যাতে যে কাজের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে তা নিয়োগকর্তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট হয়, ফলে প্রতিনিধির পক্ষে সেই অনুযায়ী নির্দেশ পালন করা সম্ভব হয়। এর প্রতি ইঙ্গিত করে পরবর্তী বক্তব্য—অস্পষ্টতা অতিরিক্ত হওয়ার কারণে সে নির্দেশদাতার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে না। (ব্যতিক্রম হলো যদি সে তাকে সাধারণ প্রতিনিধিত্ব প্রদান করে) এটি তার পূর্বোক্ত বক্তব্য—'অবশ্যই পণ্যের প্রকার ও গুণ অথবা প্রকার ও মূল্যের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে'—এর থেকে একটি ব্যতিক্রম। অর্থাৎ, যখন সে তাকে সাধারণ প্রতিনিধিত্ব প্রদান করে এবং (বলে যে, আমার জন্য তোমার পছন্দ অনুযায়ী ক্রয় করো), তখন এগুলোর কোনোটি উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না। (কেননা সে) অর্থাৎ এই সুরতে নিয়োগকর্তা (বিষয়টিকে তার মতামতের ওপর অর্পণ করেছে) অর্থাৎ প্রতিনিধির মতামতের ওপর। (ফলে সে যা কিছুই ক্রয় করবে তা নির্দেশ পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে) অর্থাৎ নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে নির্দেশ পালিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। জেনে রাখুন যে, অস্পষ্টতা (জাহালাত) তিন প্রকার: অত্যধিক অস্পষ্টতা (ফাহিশাহ্), আর তা হলো পণ্যের মূল শ্রেণি বা প্রকার অজ্ঞাত থাকা, যেমন কাপড়, পশু অথবা দাস ক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি বানানো; এটি প্রতিনিধিত্বের বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে, যদিও মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়; কারণ প্রতিনিধি নির্দেশ পালনে সক্ষম হয় না। আর সামান্য অস্পষ্টতা (ইয়াসিরাহ্), যা হলো প্রকারের অস্পষ্টতা, যেমন গাধা, ঘোড়া, খচ্চর অথবা হারওয়ী বা মারওয়ী কাপড় ক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি বানানো; এটি প্রতিনিধিত্বের বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে না, যদিও মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া না হয়।বিশর ইবনে গিয়াস বলেন: প্রতিনিধিত্ব সহীহ হবে না; কারণ ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিনিধি নিয়োগ করাকে স্বয়ং ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর কিয়াস করা হয়, তাই চুক্তিকৃত বস্তুর গুণের বর্ণনা ব্যতীত তা শুদ্ধ হবে না। আমাদের দলিল হলো—"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাকিম ইবনে হিযামকে কুরবানীর জন্য একটি বকরী কেনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন" অথচ তিনি সেটির গুণ বর্ণনা করেননি। ওকালত বা প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি হলো প্রশস্ততার ওপর, যেহেতু এটি একটি সহযোগিতা; তাই ইস্তিহসানের ভিত্তিতে এতে সামান্য অস্পষ্টতা ক্ষমা করা হয়। আর গুণের বর্ণনার শর্তারোপ করার মধ্যে কিছুটা সংকীর্ণতা রয়েছে, তাই এর আবশ্যকতা রহিত হয়ে গেছে। আর মধ্যম পর্যায়ের অস্পষ্টতা (মুতাওয়াসসিতাহ্), যা প্রকার ও শ্রেণির মাঝামাঝি, যেমন কোনো গোলাম, দাসী অথবা বাড়ি ক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি বানানো। যদি মূল্য অথবা প্রকার বর্ণনা করা হয়, তবে তাকে সামান্য অস্পষ্টতার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যদি মূল্য অথবা প্রকার বর্ণনা না করা হয়, তবে তা সহীহ হবে না এবং তাকে অত্যধিক অস্পষ্টতার অন্তর্ভুক্ত করা হবে; কারণ এটি নির্দেশ পালনে বাধা সৃষ্টি করে।আল-কাফী গ্রন্থে মাবাসীত ও জাওয়ামে'র উদ্ধৃতিতে এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং গ্রন্থকার অস্পষ্টতার এই তিন প্রকারের দিকে ইঙ্গিত করতে এবং প্রতিনিধিত্বের অধ্যায়ে এগুলোর প্রত্যেকটির বিধান বর্ণনা করতে চেয়েছেন। তাই তিনি বলেছেন: (আর এর মূলনীতি হলো প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সামান্য অস্পষ্টতা ক্ষমারযোগ্য, যেমন ইস্তিহসানের ভিত্তিতে গুণের অস্পষ্টতা গৃহীত হয়)। এটি সামান্য অস্পষ্টতার বিধানের বর্ণনা। আর একে ইস্তিহসানের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে; কারণ কিয়াস বা যুক্তির দাবি হলো প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা গ্রহণ না করা, যদিও তা সামান্য হয়। এর ভিত্তি হলো ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিনিধি নিয়োগ করাকে স্বয়ং ক্রয় বা বিক্রয়ের মতোই গণ্য করা হয়; আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা প্রতিনিধিকে এমন মনে করি যে সে প্রথমে নিজের জন্য ক্রেতা এবং পরবর্তীতে নিয়োগকর্তার কাছে বিক্রেতা।
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لِأَنَّ مَبْنَى التَّوْكِيلِ عَلَى التَّوَسُّعَةِ؛ لِأَنَّهُ اسْتِعَانَةٌ. وَفِي اعْتِبَارِ هَذَا الشَّرْطِ بَعْضُ الْحَرَجِ وَهُوَ مَدْفُوعٌ
(ثُمَّ إنْ كَانَ اللَّفْظُ يَجْمَعُ أَجْنَاسًا أَوْ مَا هُوَ فِي مَعْنَى الْأَجْنَاسِ لَا يَصِحُّ التَّوْكِيلُ وَإِنْ بَيَّنَ الثَّمَنَ)؛ لِأَنَّ بِذَلِكَ الثَّمَنِ يُوجَدُ مِنْ كُلِّ جِنْسٍ فَلَا يُدْرَى مُرَادُ الْآمِرِ لِتَفَاحُشِ الْجَهَالَةِ (وَإِنْ كَانَ جِنْسًا يَجْمَعُ أَنْوَاعًا لَا يَصِحُّ إلَّا بِبَيَانِ الثَّمَنِ أَوْ النَّوْعِ)؛ لِأَنَّهُ بِتَقْدِيرِ الثَّمَنِ يَصِيرُ النَّوْعُ مَعْلُومًا، وَبِذِكْرِ النَّوْعِ تَقِلُّ الْجَهَالَةُ فَلَا تَمْنَعُ الِامْتِثَالَ. مِثَالُهُ: إذَا وَكَّلَهُ بِشِرَاءِ عَبْدٍ أَوْ جَارِيَةٍ لَا يَصِحُّ؛ لِأَنَّهُ يَشْمَلُ أَنْوَاعًا فَإِنْ بَيَّنَ النَّوْعَ كَالتُّرْكِيِّ وَالْحَبَشِيِّ أَوْ الْهِنْدِيِّ أَوْ السِّنْدِيِّ أَوْ الْمُوَلِّدِ جَازَ، وَكَذَا إذَا بَيَّنَ الثَّمَنَ لِمَا ذَكَرْنَاهُ، وَلَوْ بَيَّنَ النَّوْعَ أَوْ الثَّمَنَ وَلَمْ يُبَيِّنْ الصِّفَةَ وَالْجَوْدَةَ وَالرَّدَاءَةَ وَالسِّطَةَ جَازَ؛ لِأَنَّهُ جَهَالَةٌ مُسْتَدْرَكَةٌ، وَمُرَادُهُ مِنْ الصِّفَةِ الْمَذْكُورَةِ فِي الْكِتَابِ النَّوْعُ
(وَفِي الْجَامِعِ الصَّغِيرِ: وَمَنْ قَالَ لِآخَرَ اشْتَرِ لِي ثَوْبًا أَوْ دَابَّةً أَوْ دَارًا فَالْوَكَالَةُ بَاطِلَةٌ) لِلْجَهَالَةِ الْفَاحِشَةِ، فَإِنَّ الدَّابَّةَ فِي حَقِيقَةِ اللُّغَةِ اسْمٌ لِمَا يَدِبُّ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ. وَفِي الْعُرْفِ يُطْلَقُ عَلَى الْخَيْلِ
الْمُوَكِّلِ فَلَا يَجُوزُ إلَّا بِبَيَانِ وَصْفِ الْمَعْقُودِ عَلَيْهِ. وَجْهُ الِاسْتِحْسَانِ مَا ذَكَرَهُ قَوْلُهُ (لِأَنَّ مَبْنَى التَّوْكِيلِ عَلَى التَّوَسُّعَةِ؛ لِأَنَّهُ اسْتِعَانَةٌ وَفِي اعْتِبَارِ هَذَا الشَّرْطِ) يَعْنِي اشْتِرَاطُ بَيَانِ الْوَصْفِ أَوْ اشْتِرَاطُ عَدَمِ الْجَهَالَةِ الْيَسِيرَةِ (بَعْضُ الْحَرَجِ وَهُوَ مَدْفُوعٌ) شَرْعًا بِالنَّصِّ (ثُمَّ إنْ كَانَ اللَّفْظُ) أَيْ لَفْظُ الْمُوَكِّلِ (يَجْمَعُ أَجْنَاسًا) كَالدَّابَّةِ وَالثَّوْبِ (أَوْ مَا هُوَ فِي مَعْنَى الْأَجْنَاسِ) كَالدَّارِ وَالرَّقِيقِ (لَا يَصِحُّ التَّوْكِيلُ وَإِنْ بَيَّنَ الثَّمَنَ) هَذَا بَيَانٌ لِحُكْمِ الْجَهَالَةِ الْفَاحِشَةِ، وَإِنَّمَا كَانَ الْحُكْمُ فِيهَا كَذَلِكَ (لِأَنَّ بِذَلِكَ الثَّمَنِ يُوجَدُ مِنْ كُلِّ جِنْسٍ) أَيْ يُوجَدُ فَرْدٌ مِنْ كُلِّ جِنْسٍ (فَلَا يُدْرَى مُرَادُ الْآمِرِ لِتَفَاحُشِ الْجَهَالَةِ) فَالْوَكِيلُ لَا يَقْدِرُ عَلَى الِامْتِثَالِ (وَإِنْ كَانَ) أَيْ اللَّفْظُ (جِنْسًا يَجْمَعُ أَنْوَاعًا) كَالْعَبْدِ وَالْأَمَةِ (لَا يَصِحُّ) أَيْ التَّوْكِيلُ (إلَّا بِبَيَانِ الثَّمَنِ أَوْ النَّوْعِ) هَذَا بَيَانٌ لِحُكْمِ الْجَهَالَةِ الْمُتَوَسِّطَةِ وَإِنَّمَا كَانَ الْحُكْمُ فِيهَا كَذَلِكَ (لِأَنَّهُ بِتَقْدِيرِ الثَّمَنِ يَصِيرُ النَّوْعُ مَعْلُومًا وَبِذِكْرِ النَّوْعِ تَقِلُّ الْجَهَالَةُ فَلَا يَمْنَعُ الِامْتِثَالَ) أَيْ امْتِثَالَ أَمْرِ الْآمِرِ (مِثَالُهُ) أَيْ مِثَالُ هَذَا النَّوْعِ مِنْ أَنْوَاعِ الْجَهَالَةِ، وَإِنَّمَا ذَكَرَ الْمِثَالَ لِهَذَا النَّوْعِ دُونَ النَّوْعَيْنِ السَّابِقَيْنِ؛ لِأَنَّ مِثَالَ ذَيْنِك النَّوْعَيْنِ سَيَأْتِي فِي أَثْنَاءِ مَسْأَلَةِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ، بِخِلَافِ هَذَا النَّوْعِ وَهَذَا سِرٌّ تَفَرَّدْت بِبَيَانِهِ.(إذَا وَكَّلَهُ) أَيْ إذَا وَكَّلَ رَجُلٌ رَجُلًا (بِشِرَاءِ عَبْدٍ أَوْ جَارِيَةٍ لَا يَصِحُّ) أَيْ لَا يَصِحُّ التَّوْكِيلُ بِمُجَرَّدِ هَذَا اللَّفْظِ (لِأَنَّهُ يَشْمَلُ أَنْوَاعًا) أَيْ لِأَنَّ هَذَا اللَّفْظَ: يَعْنِي اللَّفْظَ عَبْدٌ وَجَارِيَةٌ يَشْمَلُ أَنْوَاعًا فَلَا يُدْرَى الْمُرَادُ (فَإِنْ بَيَّنَ النَّوْعَ كَالتُّرْكِيِّ أَوْ الْحَبَشِيِّ أَوْ الْهِنْدِيِّ أَوْ السِّنْدِيِّ أَوْ الْمُوَلَّدِ) وَفِي الْمُغْرِبِ: " الْمُوَلَّدَةُ الَّتِي وُلِدَتْ بِبِلَادِ الْإِسْلَامِ " (جَازَ) أَيْ التَّوْكِيلُ وَكَذَا إذَا بَيَّنَ الثَّمَنَ (لِمَا ذَكَرْنَاهُ) أَرَادَ بِهِ قَوْلَهُ؛ لِأَنَّ بِتَقْدِيرِ الثَّمَنِ يَصِيرُ النَّوْعُ مَعْلُومًا قَالَ بَعْضُ الْمَشَايِخِ: إنْ كَانَ يُوجَدُ بِمَا سَمَّى مِنْ الثَّمَنِ مِنْ كُلِّ نَوْعٍ لَا يَصِحُّ بِبَيَانِ الثَّمَنِ مَا لَمْ يُبَيِّنْ النَّوْعَ كَذَا فِي الذَّخِيرَةِ (وَلَوْ بَيَّنَ النَّوْعَ أَوْ الثَّمَنَ وَلَمْ يُبَيِّنْ الصِّفَةَ) وَهِيَ (الْجَوْدَةُ وَالرَّدَاءَةُ وَالسِّطَةُ) أَيْ الْوَسَطُ، السِّطَةُ مَعَ الْوَسَطِ كَالْعِدَّةِ مَعَ الْوَعْدِ وَالْعِظَةِ مَعَ الْوَعْظِ فِي أَنَّ التَّاءَ فِي آخِرِهَا عُوِّضَتْ عَنْ الْوَاوِ السَّاقِطَةِ مِنْ أَوَّلِهَا فِي الْمَصْدَرِ وَالْفِعْلُ مِنْ حَدِّ ضَرَبَ (جَازَ) أَيْ التَّوْكِيلُ (لِأَنَّهُ) أَيْ هَذَا الْقَدْرَ مِنْ الْجَهَالَةِ (جَهَالَةٌ مُسْتَدْرَكَةٌ) أَيْ يَسِيرَةٌ فَلَا يُبَالِي بِهَا (وَمُرَادُهُ) أَيْ مُرَادُ الْقُدُورِيِّ (مِنْ الصِّفَةِ الْمَذْكُورَةِ فِي الْكِتَابِ) أَيْ فِي مُخْتَصَرِهِ (النَّوْعُ) لِيُوَافِقَ كَلَامُهُ الْقَاعِدَةَ الشَّرْعِيَّةَ وَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي كُتُبِ سَائِرِ الْمَشَايِخِ (وَفِي الْجَامِعِ الصَّغِيرِ: وَمَنْ قَالَ لِآخَرَ: اشْتَرِ لِي ثَوْبًا أَوْ دَابَّةً أَوْ دَارًا فَالْوَكَالَةُ بَاطِلَةٌ) أَيْ وَإِنْ بَيَّنَ الثَّمَنَ كَمَا ذَكَرَ فِيمَا مَرَّ، وَلَمَّا بَطَلَتْ الْوَكَالَةُ كَانَ الشِّرَاءُ وَاقِعًا عَلَى الْوَكِيلِ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي نُسَخِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ فَقَالَ: رَجُلٌ أَمَرَ رَجُلًا أَنْ يَشْتَرِيَ لَهُ ثَوْبًا أَوْ دَابَّةً فَاشْتَرَى فَهُوَ مُشْتَرٍ لِنَفْسِهِ وَالْوَكَالَةُ بَاطِلَةٌ (لِلْجَهَالَةِ الْفَاحِشَةِ، فَإِنَّ الدَّابَّةَ فِي حَقِيقَةِ اللُّغَةِ اسْمٌ لِمَا يَدُبُّ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ. وَفِي الْعُرْفِ عَلَى الْخَيْلِ
কারণ প্রতিনিধিত্বের (ওয়াকালাত) ভিত্তি হলো প্রশস্ততার ওপর; কেননা এটি একটি সাহায্য কামনা। আর এই শর্ত বিবেচনা করার মধ্যে কিছুটা সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য রয়েছে, যা অপসারিত।
(অতঃপর যদি শব্দটি বিভিন্ন প্রকারের জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে অথবা এমন কিছু হয় যা জাতির অর্থ প্রদান করে, তবে মূল্য উল্লেখ করলেও প্রতিনিধিত্ব সঠিক হবে না); কারণ সেই মূল্যে প্রতিটি জাতির অন্তর্ভুক্ত বস্তু পাওয়া সম্ভব, ফলে অত্যধিক অস্পষ্টতার (জাহালাতে ফাহিশা) কারণে আদেশদাতার উদ্দেশ্য জানা যায় না। (আর যদি এটি এমন একটি জাতি হয় যা বিভিন্ন প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে মূল্য অথবা প্রকারের বর্ণনা ব্যতীত প্রতিনিধিত্ব সঠিক হবে না); কারণ মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রকারটি জানা হয়ে যায় এবং প্রকারের বর্ণনার মাধ্যমে অস্পষ্টতা কমে যায়, ফলে তা আদেশ পালনে বাধা সৃষ্টি করে না। এর উদাহরণ: যখন কেউ কাউকে একজন দাস বা দাসী ক্রয় করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করে, তখন তা সঠিক হবে না; কারণ এটি বিভিন্ন প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। যদি সে প্রকার স্পষ্ট করে দেয়, যেমন তুর্কি, হাবশি, ইন্ডি বা সিন্ধি অথবা মুওয়াল্লাদ (ইসলামি ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া), তবে তা বৈধ হবে। অনুরূপভাবে মূল্য স্পষ্ট করলেও বৈধ হবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার কারণে। আর যদি সে প্রকার অথবা মূল্য স্পষ্ট করে দেয় কিন্তু গুণাগুণ, শ্রেষ্ঠত্ব, নিম্নমান বা মধ্যম মানের কথা উল্লেখ না করে, তবে তা বৈধ হবে; কারণ এটি এমন অস্পষ্টতা যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আর কিতাবে (কুদুরিতে) উল্লিখিত 'গুণাগুণ' (সিফাত) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'প্রকার' (নাউ')।
(জামেউস সাগির-এ আছে: যে ব্যক্তি অন্যকে বলল, আমার জন্য একটি কাপড় বা একটি পশু অথবা একটি ঘর ক্রয় করো, তবে সেই প্রতিনিধিত্ব বাতিল) অত্যধিক অস্পষ্টতার কারণে। কারণ আভিধানিক প্রকৃত অর্থে 'পশু' (দাব্বাহ) বলতে ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল সকল প্রাণীকে বোঝায়। আর লোকব্যবহারে (উরফ) এটি ঘোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিনিধি নিয়োগকারীর পক্ষ থেকে, তাই চুক্তিবদ্ধ বস্তুর গুণের বর্ণনা ব্যতীত এটি বৈধ হবে না। ইস্তিহসানের (আইনগত সূক্ষ্মতা) দিক সেটিই যা তিনি উল্লেখ করেছেন: (কারণ প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি হলো প্রশস্ততার ওপর; কেননা এটি একটি সাহায্য কামনা। আর এই শর্ত বিবেচনা করার মধ্যে) অর্থাৎ গুণের বর্ণনার শর্ত করা অথবা সামান্য অস্পষ্টতা না থাকার শর্ত করার মধ্যে (কিছুটা সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য রয়েছে, যা) শরিয়ত কর্তৃক নসের (দলিল) মাধ্যমে (অপসারিত)। (অতঃপর যদি শব্দটি) অর্থাৎ প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারীর শব্দ (বিভিন্ন প্রকারের জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে) যেমন পশু বা কাপড় (অথবা এমন কিছু হয় যা জাতির অর্থ প্রদান করে) যেমন ঘর বা দাস (তবে মূল্য উল্লেখ করলেও প্রতিনিধিত্ব সঠিক হবে না)। এটি অত্যধিক অস্পষ্টতার (জাহালাতে ফাহিশা) বিধানের বর্ণনা। আর এতে বিধান এমন হওয়ার কারণ হলো (কারণ সেই মূল্যে প্রতিটি জাতির অন্তর্ভুক্ত বস্তু পাওয়া সম্ভব) অর্থাৎ প্রতিটি জাতির একজন সদস্য পাওয়া যায় (ফলে অত্যধিক অস্পষ্টতার কারণে আদেশদাতার উদ্দেশ্য জানা যায় না) ফলে প্রতিনিধি আদেশ পালনে সক্ষম হয় না। (আর যদি) শব্দটি (এমন একটি জাতি হয় যা বিভিন্ন প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে) যেমন দাস বা দাসী (তবে প্রতিনিধিত্ব সঠিক হবে না) (মূল্য অথবা প্রকারের বর্ণনা ব্যতীত)। এটি মাঝারি ধরনের অস্পষ্টতার বিধানের বর্ণনা। আর এতে বিধান এমন হওয়ার কারণ হলো (কারণ মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রকারটি জানা হয়ে যায় এবং প্রকারের বর্ণনার মাধ্যমে অস্পষ্টতা কমে যায়, ফলে তা আদেশ পালনে বাধা সৃষ্টি করে না) অর্থাৎ আদেশদাতার আদেশ পালনে বাধা দেয় না। (এর উদাহরণ) অর্থাৎ এই প্রকারের অস্পষ্টতার উদাহরণ। তিনি পূর্ববর্তী দুই প্রকারের পরিবর্তে এই প্রকারের উদাহরণ উল্লেখ করেছেন; কারণ ওই দুই প্রকারের উদাহরণ সামনে জামেউস সাগিরের মাসআলার মধ্যে আসবে, যা এই প্রকারের ব্যতিক্রম। আর এটি একটি রহস্য যা বর্ণনায় আমি একক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।(যখন কেউ কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে) অর্থাৎ যখন কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে প্রতিনিধি বানায় (একজন দাস বা দাসী ক্রয় করার জন্য, তখন তা সঠিক হবে না) অর্থাৎ কেবল এই শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব সঠিক হবে না (কারণ এটি বিভিন্ন প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে) অর্থাৎ দাস ও দাসী শব্দটি বিভিন্ন প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে উদ্দেশ্য জানা যায় না। (ফাইনবাইয়ানান নাউ') অর্থাৎ (যদি সে প্রকার স্পষ্ট করে দেয়, যেমন তুর্কি, হাবশি, ইন্ডি বা সিন্ধি অথবা মুওয়াল্লাদ)। মুগরিব-এ আছে: "মুওয়াল্লাদাহ হলো সেই দাসী যে ইসলামি ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেছে" (তবে তা বৈধ হবে) অর্থাৎ প্রতিনিধিত্ব বৈধ হবে। অনুরূপভাবে মূল্য স্পষ্ট করলেও বৈধ হবে (আমরা যা উল্লেখ করেছি তার কারণে)। এটি দ্বারা তিনি তার এই উক্তিটি বুঝিয়েছেন: "কারণ মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রকারটি জানা হয়ে যায়"। কিছু মাশায়েখ বলেছেন: যদি নির্ধারিত মূল্যে প্রতিটি প্রকারের বস্তু পাওয়া যায়, তবে প্রকার বর্ণনা না করা পর্যন্ত কেবল মূল্য বর্ণনার মাধ্যমে তা সঠিক হবে না; যা জাখিরা-তে রয়েছে। (আর যদি সে প্রকার অথবা মূল্য স্পষ্ট করে দেয় কিন্তু গুণের বর্ণনা না দেয়) আর তা হলো (শ্রেষ্ঠত্ব, নিম্নমান বা মধ্যম মান) অর্থাৎ মাঝারি। 'সিতাহ' শব্দটি 'ওয়াসাত' এর সাথে যুক্ত, যেমন 'ইদাহ' শব্দ 'ওয়াদ' এর সাথে এবং 'ইজাহ' শব্দ 'ওয়াজ' এর সাথে; এর শেষে 'তা' অক্ষরটি মূল শব্দের শুরুতে পড়ে যাওয়া 'ওয়াও' এর পরিবর্তে এসেছে এবং ক্রিয়াটি 'দারাবা' এর বাব থেকে। (তবে প্রতিনিধিত্ব বৈধ হবে) (কারণ এটি) অর্থাৎ এই পরিমাণ অস্পষ্টতা (এমন অস্পষ্টতা যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব) অর্থাৎ সামান্য অস্পষ্টতা, তাই এর পরোয়া করা হয় না। (আর তার উদ্দেশ্য) অর্থাৎ কুদুরি রহ.-এর উদ্দেশ্য (কিতাবে অর্থাৎ তার মুখতাসারে উল্লিখিত 'গুণাগুণ' (সিফাত) দ্বারা) হলো (প্রকার) যাতে তার বক্তব্য শরিয়তের মূলনীতি এবং অন্যান্য মাশায়েখের কিতাবে যা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। (জামেউস সাগির-এ আছে: যে ব্যক্তি অন্যকে বলল: আমার জন্য একটি কাপড় বা একটি পশু অথবা একটি ঘর ক্রয় করো, তবে সেই প্রতিনিধিত্ব বাতিল) অর্থাৎ যদিও সে মূল্য বর্ণনা করে দেয় যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যখন প্রতিনিধিত্ব বাতিল হয়ে গেল, তখন ক্রয় প্রতিনিধির ওপর বর্তাবে যেমনটি জামেউস সাগিরের কপিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি অপরকে একটি কাপড় বা পশু কেনার আদেশ দিল, অতঃপর সে তা ক্রয় করল, তবে সে নিজের জন্যই ক্রেতা হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রতিনিধিত্ব বাতিল হবে (অত্যধিক অস্পষ্টতার কারণে। কারণ আভিধানিক প্রকৃত অর্থে পশু বলতে ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল সকল প্রাণীকে বোঝায়। আর লোকব্যবহারে এটি ঘোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়)।
(খণ্ড: ৮)
তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর নাতায়িজুল আফকার ফী কাশফির রুমূযি ওয়াল আসরার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَالْحِمَارِ وَالْبَغْلِ فَقَدْ جَمَعَ أَجْنَاسًا، وَكَذَا الثَّوْبُ؛ لِأَنَّهُ يَتَنَاوَلُ الْمَلْبُوسَ مِنْ الْأَطْلَسِ إلَى الْكِسَاءِ وَلِهَذَا لَا يَصِحُّ تَسْمِيَتُهُ مَهْرًا وَكَذَا الدَّارُ تَشْمَلُ مَا هُوَ فِي مَعْنَى الْأَجْنَاسِ؛ لِأَنَّهَا تَخْتَلِفُ اخْتِلَافًا فَاحِشًا بِاخْتِلَافِ الْأَغْرَاضِ وَالْجِيرَانِ وَالْمَرَافِقِ وَالْمَحَالِّ وَالْبُلْدَانِ فَيَتَعَذَّرُ الِامْتِثَالُ (قَالَ: وَإِنْ سَمَّى ثَمَنَ الدَّارِ وَوَصَفَ جِنْسَ الدَّارِ وَالثَّوْبِ جَازَ) مَعْنَاهُ نَوْعُهُ، وَكَذَا إذَا سَمَّى نَوْعَ الدَّابَّةِ بِأَنْ قَالَ حِمَارًا أَوْ نَحْوَهُ.
وَالْحِمَارِ وَالْبَغْلِ فَقَدْ جَمَعَ أَجْنَاسًا) يَعْنِي أَنَّ لَفْظَ الدَّابَّةِ سَوَاءٌ حُمِلَ عَلَى اللُّغَةِ أَوْ عَلَى الْعُرْفِ قَدْ جَمَعَ أَجْنَاسًا فَكَانَتْ الْجَهَالَةُ فِيهِ فَاحِشَةً (وَكَذَا الثَّوْبُ) أَيْ هُوَ أَيْضًا يَجْمَعُ أَجْنَاسًا (لِأَنَّهُ يَتَنَاوَلُ الْمَلْبُوسَ مِنْ الْأَطْلَسِ إلَى الْكِسَاءِ) أَيْ مِنْ الْأَعْلَى إلَى الْأَدْنَى فَكَانَتْ الْجَهَالَةُ فِيهِ أَيْضًا فَاحِشَةً (وَلِهَذَا لَا يَصِحُّ تَسْمِيَتُهُ) أَيْ تَسْمِيَةُ الثَّوْبِ (مَهْرًا) فَإِنَّ الْجَهَالَةَ الْفَاحِشَةَ تُبْطِلُ التَّسْمِيَةَ فِي بَابِ الْمَهْرِ أَيْضًا (وَكَذَا الدَّارُ تَشْمَلُ مَا هُوَ فِي مَعْنَى الْأَجْنَاسِ) يَعْنِي أَنَّ الدَّارَ وَإِنْ لَمْ تَجْمَعْ أَجْنَاسًا حَقِيقَةً إلَّا أَنَّهَا تَجْمَعُ مَا هُوَ فِي مَعْنَى الْأَجْنَاسِ (لِأَنَّهَا تَخْتَلِفُ اخْتِلَافًا فَاحِشًا بِاخْتِلَافِ الْأَغْرَاضِ وَالْجِيرَانِ وَالْمَرَافِقِ وَالْمَحَالِّ وَالْبُلْدَانِ فَيَتَعَذَّرُ الِامْتِثَالُ) أَيْ يَتَعَذَّرُ الِامْتِثَالُ لِأَمْرِ الْآمِرِ بِشِرَاءِ الْأَشْيَاءِ الْمَذْكُورَةِ لِتَفَاحُشِ الْجَهَالَةِ. قَالَ (وَإِنْ سَمَّى ثَمَنَ الدَّارِ وَوَصَفَ جِنْسَ الدَّارِ وَالثَّوْبِ جَازَ) أَيْ التَّوْكِيلُ هَذَا لَفْظُ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ. قَالَ الْمُصَنِّفُ (مَعْنَاهُ) يَعْنِي مَعْنَى جِنْسِ الدَّارِ فِي قَوْلِهِ وَوَصَفَ جِنْسَ الدَّارِ (نَوْعُهُ) فَحِينَئِذٍ تَلْتَحِقُ بِجَهَالَةِ النَّوْعِ وَهِيَ جَهَالَةٌ يَسِيرَةٌ لَا تَمْنَعُ صِحَّةَ الْوَكَالَةِ كَمَا مَرَّ. قَالَ صَاحِبُ النِّهَايَةِ: وَتَقْيِيدُهُ بِذِكْرِ نَوْعِ الدَّارِ مُخَالِفٌ لِرِوَايَةِ الْمَبْسُوطِ فَقَالَ فِيهِ: وَإِنْ وَكَّلَهُ بِأَنْ يَشْتَرِيَ لَهُ دَارًا وَلَمْ يُسَمِّ ثَمَنًا لَمْ يَجُزْ ذَلِكَ، ثُمَّ قَالَ: وَإِنْ سَمَّى الثَّمَنَ جَازَ؛ لِأَنَّ بِتَسْمِيَةِ الثَّمَنِ تَصِيرُ مَعْلُومَةً عَادَةً، وَإِنْ بَقِيَتْ جَهَالَةٌ فَهِيَ يَسِيرَةٌ مُسْتَدْرَكَةٌ. وَالْمُتَأَخِّرُونَ مِنْ مَشَايِخِنَا يَقُولُونَ فِي دِيَارِنَا لَا يَجُوزُ إلَّا بِبَيَانِ الْمَحَلَّةِ انْتَهَى.وَاقْتَفَى أَثَرَهُ صَاحِبُ مِعْرَاجِ الدِّرَايَةِ كَمَا هُوَ دَأْبُهُ فِي أَكْثَرِ الْمَوَاضِعِ. وَأَنَا أَقُولُ: فِي تَحْقِيقِ الْمَقَامِ: إنَّمَا حَمَلَ الْمُصَنِّفُ الْجِنْسَ الْوَاقِعَ فِي عِبَارَةِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ هَاهُنَا عَلَى النَّوْعِ لِئَلَّا يَخْتَلَّ مَعْنَى الْمَقَامِ، فَإِنْ لَوْ أَجْرَى الْجِنْسَ هَاهُنَا عَلَى مَعْنَاهُ الظَّاهِرِيِّ كَانَ ذِكْرُ وَصْفِ الْجِنْسِ مُسْتَدْرَكًا بِالنَّظَرِ إلَى مَسْأَلَةِ الدَّارِ وَمُخِلًّا بِالنَّظَرِ إلَى مَسْأَلَةِ الثَّوْبِ. وَأَمَّا الْأَوَّلُ فَلِأَنَّ الْمُوَكِّلَ إذَا سَمَّى ثَمَنَ الدَّارِ يَلْغُو هُنَاكَ وَصْفُ جِنْسِهَا، إذْ لَا مَدْخَلَ لِوَصْفِ جِنْسِ الْجِنْسِ فِي رَفْعِ الْجَهَالَةِ، وَإِنَّمَا تَرْتَفِعُ الْجَهَالَةُ بِتَسْمِيَةِ الثَّمَنِ أَوْ بِبَيَانِ النَّوْعِ كَمَا تَقَرَّرَ فِيمَا مَرَّ قَبْلُ. وَأَمَّا الثَّانِي فَلِأَنَّ الثَّوْبَ مَعْطُوفٌ عَلَى الدَّارِ فَيَصِيرُ الْمَعْنَى: إنْ وَصَفَ الْمُوَكِّلُ جِنْسَ الثَّوْبِ جَازَ التَّوْكِيلُ، وَلَا صِحَّةَ لَهُ عَلَى تَقْدِيرٍ إنْ كَانَ الْجِنْسُ يَجْرِي عَلَى مَعْنَاهُ الظَّاهِرِيِّ؛ لِأَنَّ الثَّوْبَ مِنْ قَبِيلِ مَا يَجْمَعُ أَجْنَاسًا فَالْجَهَالَةُ فِيهِ فَاحِشَةٌ وَهِيَ لَا تَرْتَفِعُ. وَإِنْ بَيَّنَ الثَّمَنَ، فَكَيْفَ يُتَصَوَّرُ ارْتِفَاعُهَا بِمُجَرَّدِ وَصْفِ الْجِنْسِ.وَأَمَّا إذَا حُمِلَ عَلَى مَعْنَى النَّوْعِ فَيَصِحُّ الْمَعْنَى فِي مَسْأَلَةِ الثَّوْبِ بِلَا غُبَارٍ، إذْ بِبَيَانِ النَّوْعِ تَرْتَفِعُ الْجَهَالَةُ الَّتِي تَمْنَعُ صِحَّةَ الْوَكَالَةِ قَطْعًا، وَإِنَّمَا يَبْقَى الْكَلَامُ فِي مَسْأَلَةِ الدَّارِ فَإِنَّهَا تَصِيرُ حِينَئِذٍ مُقَيَّدَةً بِتَسْمِيَةِ الثَّمَنِ وَوَصْفِ النَّوْعِ، مَعَ أَنَّ تَسْمِيَةَ الثَّمَنِ كَافِيَةٌ فِيهَا عَلَى مَا وَقَعَ فِي رِوَايَةِ الْمَبْسُوطِ، بَلْ فِي رِوَايَةِ عَامَّةِ الْكُتُبِ، فَتَصِيرُ رِوَايَةُ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ مُخَالِفَةً لِرِوَايَةِ تِلْكَ الْكُتُبِ، وَلَكِنَّ وُقُوعَ الرِّوَايَتَيْنِ لَيْسَ بِعَزِيزٍ فِي الْمَسَائِلِ الشَّرْعِيَّةِ، فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْأَمْرُ هَاهُنَا أَيْضًا كَذَلِكَ، فَيَكُونُ مَدَارُ رِوَايَةِ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ عَلَى أَنَّ الْجَهَالَةَ فِي الدَّارِ فَاحِشَةٌ كَمَا بَيَّنَهُ الْمُصَنِّفُ، وَمَدَارُ رِوَايَةِ تِلْكَ الْكُتُبِ عَلَى أَنَّ الْجَهَالَةَ فِيهَا مُتَوَسِّطَةٌ كَمَا صَرَّحُوا بِهِ. ثُمَّ إنَّا إنْ جَعَلْنَا وَصْف النَّوْعِ فِي حَقِّ الدَّارِ بَيَانَ الْمَحَلَّةِ صَارَ مَا ذَكَرَهُ فِي الْجَامِعِ الصَّغِيرِ عَيْنَ مَا قَالَهُ الْمُتَأَخِّرُونَ مِنْ مَشَايِخِنَا وَكَانَ مُوَافِقًا لِمَا ذُكِرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ الْكُتُبِ فَتَأَمَّلْ.قَالَ الْمُصَنِّفُ (وَكَذَا إذَا سَمَّى نَوْعَ الدَّابَّةِ بِأَنْ قَالَ حِمَارًا وَنَحْوَهُ) أَيْ يَصِحُّ التَّوْكِيلُ بِشِرَاءِ الْحِمَارِ وَنَحْوِهِ وَإِنْ لَمْ يُبَيِّنْ الثَّمَنَ، وَبِهِ صَرَّحَ فِي الْمَبْسُوطِ؛ لِأَنَّ الْجِنْسَ صَارَ مَعْلُومًا
গাধা এবং খচ্চর; এর ফলে সে বিভিন্ন শ্রেণীকে একত্রিত করেছে। অনুরূপভাবে কাপড়ও; কারণ এটি আটলাস থেকে শুরু করে সাধারণ চাদর পর্যন্ত পরিধেয় সবকিছুর অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই একে মোহর হিসেবে নির্ধারণ করা বৈধ নয়। তেমনিভাবে ঘরও এমন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে যা অর্থগতভাবে বিভিন্ন শ্রেণীর পর্যায়ের; কারণ এটি উদ্দেশ্য, প্রতিবেশী, সুযোগ-সুবিধা, স্থান এবং শহরের ভিন্নতার কারণে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করে। ফলে নির্দেশ পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। (তিনি বলেন: যদি সে ঘরের মূল্য উল্লেখ করে এবং ঘর ও কাপড়ের শ্রেণীর বর্ণনা দেয়, তবে তা জায়েয) এর অর্থ হলো তার প্রকার। অনুরূপভাবে যদি সে পশুর প্রকার উল্লেখ করে এই বলে যে, গাধা বা এর অনুরূপ কিছু।
গাধা এবং খচ্চর; অর্থাৎ 'পশু' শব্দটি আভিধানিক বা প্রথাগত যে অর্থেই নেওয়া হোক না কেন, তা বিভিন্ন শ্রেণীকে একত্রিত করে, ফলে এতে বিদ্যমান অজ্ঞতা হবে চরম। (অনুরূপভাবে কাপড়ও) অর্থাৎ এটিও বিভিন্ন শ্রেণীকে একত্রিত করে। (কারণ এটি আটলাস থেকে শুরু করে চাদর পর্যন্ত পরিধেয়কে অন্তর্ভুক্ত করে) অর্থাৎ সর্বোত্তম থেকে সর্বনিম্ন পর্যন্ত, ফলে এতে বিদ্যমান অজ্ঞতাও চরম। (এই কারণেই তার নামকরণ সঠিক নয়) অর্থাৎ ওকালতির চুক্তিতে কাপড়কে মোহর হিসেবে নির্ধারণ করা সহীহ নয়। কারণ চরম অজ্ঞতা মোহরের ক্ষেত্রেও নামকরণকে বাতিল করে দেয়। (তেমনিভাবে ঘরও এমন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা অর্থগতভাবে বিভিন্ন শ্রেণীর পর্যায়ের) অর্থাৎ ঘর যদিও বাস্তবে বিভিন্ন শ্রেণীকে একত্রিত করে না, তবে এটি এমন বিষয়কে একত্রিত করে যা অর্থগতভাবে বিভিন্ন শ্রেণীর মতো। (কারণ এটি উদ্দেশ্য, প্রতিবেশী, সুযোগ-সুবিধা, স্থান এবং শহরের ভিন্নতার কারণে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করে, ফলে নির্দেশ পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে) অর্থাৎ অজ্ঞতা চরম হওয়ার কারণে উল্লেখিত বস্তুসমূহ ক্রয় করার জন্য আদেশদাতার আদেশ পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি বলেন (যদি সে ঘরের মূল্য উল্লেখ করে এবং ঘর ও কাপড়ের শ্রেণীর বর্ণনা দেয়, তবে তা জায়েয) অর্থাৎ ওকালতি জায়েয। এটি জামেউস সগীরের শব্দাবলী। গ্রন্থকার বলেন (এর অর্থ) অর্থাৎ তার বক্তব্যে ঘরের শ্রেণী বর্ণনা করার অর্থ হলো (তার প্রকার)। এমতাবস্থায় এটি প্রকারের অজ্ঞতার সাথে যুক্ত হবে, আর এটি হলো সামান্য অজ্ঞতা যা ওকালত সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। নিহায়া গ্রন্থের লেখক বলেন: ঘরকে তার প্রকার বর্ণনার সাথে শর্তযুক্ত করা মাবসুত-এর বর্ণনার বিপরীত। সেখানে বলা হয়েছে: যদি কেউ তাকে একটি ঘর কেনার জন্য উকিল নিয়োগ করে এবং মূল্য উল্লেখ না করে, তবে তা জায়েয হবে না। এরপর তিনি বলেন: যদি সে মূল্য উল্লেখ করে তবে তা জায়েয; কারণ মূল্য উল্লেখ করার মাধ্যমে তা সাধারণত জ্ঞাত হয়ে যায়, যদিও কিছু অজ্ঞতা বাকি থাকে তবে তা সামান্য এবং ক্ষমারযোগ্য। আমাদের মাশায়েখদের মধ্যে পরবর্তীগণ বলেন: আমাদের এলাকায় মহল্লা বা এলাকা বর্ণনা করা ছাড়া এটি জায়েয নয়। সমাপ্ত।মেরাজুদ দিরায়া-র লেখকও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যেমনটি তিনি অধিকাংশ স্থানে করে থাকেন। আমি এই প্রসঙ্গের বিশ্লেষণে বলব: গ্রন্থকার জামেউস সগীরের ইবারতে এখানে 'জেন্স' (শ্রেণী) শব্দটিকে 'নও' (প্রকার) অর্থে গ্রহণ করেছেন যাতে প্রসঙ্গের অর্থ ব্যাহত না হয়। কারণ যদি তিনি এখানে 'জেন্স' শব্দটিকে তার প্রকাশ্য অর্থে রাখতেন, তবে ঘরের মাসআলার ক্ষেত্রে শ্রেণীর গুণের উল্লেখটি অনর্থক হতো এবং কাপড়ের মাসআলার ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ হতো। প্রথম কারণটি হলো, মুওয়াক্কিল যখন ঘরের মূল্য উল্লেখ করে দেন, তখন সেখানে তার শ্রেণীর গুণের বর্ণনাটি নিরর্থক হয়ে যায়, কারণ অজ্ঞতা দূর করার ক্ষেত্রে শ্রেণীর বর্ণনার কোনো ভূমিকা নেই। বরং অজ্ঞতা দূর হয় মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে অথবা প্রকার বর্ণনার মাধ্যমে, যেমনটি পূর্বে স্থির হয়েছে। আর দ্বিতীয় কারণটি হলো, কাপড় শব্দটি ঘরের ওপর যুক্ত হয়েছে, ফলে অর্থ দাঁড়ায়: যদি মুওয়াক্কিল কাপড়ের শ্রেণী বর্ণনা করে তবে ওকালত জায়েয হবে। কিন্তু যদি শ্রেণী শব্দটি তার প্রকাশ্য অর্থে নেওয়া হয় তবে এর কোনো সঠিকতা থাকে না; কারণ কাপড় এমন জিনিসের অন্তর্ভুক্ত যা বিভিন্ন শ্রেণীকে একত্রিত করে, ফলে এতে অজ্ঞতা চরম এবং তা কেবল মূল্য বর্ণনার দ্বারা দূর হয় না। এমতাবস্থায় কেবল শ্রেণীর বর্ণনার মাধ্যমে সেই অজ্ঞতা দূর হওয়া কীভাবে কল্পনা করা যায়?পক্ষান্তরে যখন একে প্রকার অর্থে গ্রহণ করা হবে, তখন কাপড়ের মাসআলার অর্থ কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই সঠিক হয়ে যাবে। কারণ প্রকার বর্ণনার মাধ্যমে সেই অজ্ঞতা নিশ্চিতভাবে দূর হয়ে যায় যা ওকালত সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। এখন কেবল ঘরের মাসআলা নিয়ে আলোচনা বাকি থাকে, কারণ সেটি তখন মূল্য উল্লেখ করা এবং প্রকার বর্ণনা করার সাথে শর্তযুক্ত হয়ে যায়, অথচ মাবসুত-এর বর্ণনা অনুযায়ী—বরং সাধারণ কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী—সেখানে কেবল মূল্য উল্লেখ করাই যথেষ্ট। ফলে জামেউস সগীরের বর্ণনাটি ঐসব কিতাবের বর্ণনার বিপরীত হয়ে যায়। কিন্তু শরয়ী মাসআলায় দু’ধরনের বর্ণনা থাকা বিরল নয়, সুতরাং এখানেও বিষয়টি তেমন হতে পারে। ফলে জামেউস সগীরের বর্ণনার ভিত্তি হলো ঘরে অজ্ঞতা চরম হওয়া, যেমনটি গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন। আর ঐসব কিতাবের বর্ণনার ভিত্তি হলো ঘরে অজ্ঞতা মাঝারি পর্যায়ের হওয়া, যেমনটি তারা স্পষ্ট করেছেন। এরপর আমরা যদি ঘরের ক্ষেত্রে প্রকারের বর্ণনা বলতে মহল্লা বা এলাকা বর্ণনা করাকে উদ্দেশ্য নিই, তবে জামেউস সগীরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা আমাদের পরবর্তী মাশায়েখদের বক্তব্যের অনুরূপ হয়ে যাবে এবং অনেক কিতাবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথেও সংগতিপূর্ণ হবে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন।গ্রন্থকার বলেন (অনুরূপভাবে যদি সে পশুর প্রকার উল্লেখ করে এই বলে যে, গাধা এবং এর অনুরূপ কিছু) অর্থাৎ গাধা বা এর অনুরূপ কিছু কেনার জন্য ওকালত সহীহ হবে যদিও সে মূল্য বর্ণনা না করে। মাবসুত-এ এটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে; কারণ তখন শ্রেণীটি পরিচিত হয়ে যায়।