(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
ديوان عمرو بن قميئة (عمرو بن قميئة)
القسم: الشعر ودواوينه
الكتاب: ديوان عمرو بن قميئة
عني بتحقيقه وشرحه: د خليل إبراهيم العطية [ت 1419 هـ]
الناشر: دار صادر - بيروت، لبنان
الطبعة: الثانية، 1994 م
عدد الصفحات: 82
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 رجب 1440
আমর ইবনে কামিয়াহ-এর দিওয়ান (আমর ইবনে কামিয়াহ)
বিভাগ: কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ
গ্রন্থ: আমর ইবনে কামিয়াহ-এর দিওয়ান
সম্পাদনা ও ব্যাখ্যায়: ড. খলিল ইব্রাহিম আল-আতিয়্যাহ [মৃ. ১৪১৯ হি.]
প্রকাশক: দার সাদির - বৈরুত, লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৯৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং সৌজন্যে (সুলাইমান আল-রাজি খয়রাতি সংস্থা)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ রজব ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الديوان
দিওয়ান
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم[1]قال عمرو بن قميئة بن سعد بن مالك:الطويل1 خَليلَيَّ لا تَستَعجِلا أَن تَزَوَّدا … وَأَن تَجمَعا شَملي وَتَنتَظِرا غَدا2 فَما لَبَثٌ يَوماً بِسابِقٍ مَغنَمٍ … وَلا سُرعَتي يَوماً بِسابِقَةِ الرَدى3 وَإِن تُنظِراني اليَومَ أَقضِ لُبانَةً … وَتَستَوجِبا مَنّاً عَلَيَّ وَتُحمَدا4 لَعَمرُكَ ما نَفسٌ بِجِدٍ رَشيدَةٍ … تُؤامِرُني سِرّاً لِأَصرِمَ مَرثَدا5 وَإِن ظَهَرَت مِنهُ قَوارِصُ جَمَّةٌ … وَأَفرَعَ في لَومي مِراراً وَأَصعَدا6 عَلى غَيرِ ذَنبٍ أَن أَكونَ جَنَيتُهُ … سِوى قَولِ باغٍ كادَني فَتَجَهَّدا7 لَعَمري لَنِعمَ المَرءُ تَدعو بِحَبلِهِ … إِذا ما المُنادي في المَقامَةِ نَدَّدا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।[১]আমর ইবনে কামিয়াহ ইবনে সাদ ইবনে মালিক বলেছেন:আত-তাবীল ছন্দ১ হে আমার দুই বন্ধু, তোমরা পাথেয় সংগ্রহে তাড়াহুড়া করো না … আর আমার অবস্থা গুছিয়ে নিতে এবং আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বিলম্ব করো না।২ কেননা একদিনের অবস্থান কোনো অর্জনকে হাতছাড়া করে দেয় না … আর আমার দ্রুততা মৃত্যুকে ত্বরান্বিত বা এড়াতে পারে না।৩ আর যদি তোমরা আজ আমাকে অবকাশ দাও, তবে আমি আমার প্রয়োজন পূর্ণ করতে পারব … এবং তোমরা আমার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার দাবিদার হবে।৪ তোমার জীবনের শপথ, সেই আত্মা সঠিক পথে নেই … যে আমাকে গোপনে মারসাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার কুমন্ত্রণা দেয়।৫ যদিও তার পক্ষ থেকে অনেক কটু কথা প্রকাশ পেয়েছে … এবং সে আমাকে তিরস্কার করার ক্ষেত্রে বারবার সীমা লঙ্ঘন করেছে।৬ অথচ আমি কোনো অপরাধই করিনি … কেবল এক অনিষ্টকারীর কথা ছাড়া, যে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে।৭ আমার জীবনের শপথ, সে কতই না উত্তম ব্যক্তি যার আশ্রয়ের দিকে তুমি ডাকবে … যখন কোনো ঘোষক জনসমাবেশে উচ্চস্বরে আহ্বান জানায়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
8 عَظيمُ رَمادِ القِدرِ لا مُتَعَبِّسٌ … وَلا مُؤيِسٌ مِنها إِذا هُوَ أَوقَدا9 وَإِن صَرَّحَت كَحلٌ وَهَبَّت عَرِيَّةٌ … مِنَ الريحِ لَم تَترُك لِذي المالِ مِرفَدا10 صَبَرتُ عَلى وَطءِ المَوالي وَحَطمِهِم … إِذا ضَنَّ ذو القُربى عَلَيهِم وَأَخمَدا11 وَلم يَحمِ فَرجَ الحَيِّ إِلّا مُحافِظٌ … كَريمُ المُحَيّا ماجِدٌ غَيرُ أَحرَدا
8. তিনি বিশাল ডেকচির ছাই বিশিষ্ট (অত্যন্ত দানশীল), তিনি বিমর্ষ নন … আর যখন তিনি আগুন প্রজ্বলন করেন, তখন তা থেকে কেউ নিরাশ হয় না।9. আর যখন দুর্ভিক্ষ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় এবং এমন হিমেল হাওয়া বয়ে যায় … যা সম্পদশালীর নিকট কোনো অবলম্বন অবশিষ্ট রাখে না।10. আমি আত্মীয়-স্বজনের রূঢ় আচরণ ও তাদের উৎপীড়নের ওপর ধৈর্য ধারণ করেছি … যখন নিকটজনরা তাদের প্রতি কৃপণতা করত এবং (সাহায্যের আগুন) নির্বাপিত করে দিত।11. জনপদ বা গোত্রের সীমান্ত কেবল সেই রক্ষণাবেক্ষণকারীই রক্ষা করে … যে উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, মর্যাদাবান এবং সংকীর্ণমনা নয়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[2]وقال عمرو بن قميئة:الطويل1 أَرى جارَتي خَفَّت وَخَفَّ نَصيحُها … وَحُبَّ بِها لَولا النَوى وَطُموحُها
[২]এবং আমর ইবনে কামিয়াহ বলেন:আত-তাবিল১ আমি আমার প্রতিবেশিনীকে দেখছি সে দ্রুত বিদায় নিয়েছে এবং তার হিতাকাঙ্ক্ষীও ক্ষিপ্র হয়েছে … বিচ্ছেদ এবং তার উচ্চাভিলাষ না থাকলে সে কতই না প্রিয়তমা হতো!
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
2 فَبيني على نَجمٍ شَخيسٍ نُحوسُهُ … وَأَشأَمُ طَيرِ الزاجِرينَ سَنيحُها3 فَإِن تَشغَبي فَالشَغَبُ مِنّي سَجِيَّةٌ … إِذا شيمَتي لَم يُؤتَ مِنها سَجيحُها4 أُقارِضُ أَقواماً فَأوفي قُروضَهُم … وَعَفٌّ إِذا أَردى النُفوسَ شَحيحُها5 عَلى أَنَّ قَومي أَشَقَذوني فَأَصبَحَت … دِياري بِأَرضٍ غَيرِ دانٍ نُبوحُها6 تَنَفَّذَ مِنهُم نافِذاتٌ فَسُؤنَني … وَأَضمَرَ أَضغاناً عَلَيَّ كُشوحُها7 فَقُلتُ فِراقُ الدارِ أَجمَلُ بَينَنا … وَقَد يَنتَئي عَن دارِ سَوءٍ نَزيحُها8 عَلى أَنَّني قَد أَدَّعي بِأَبيهِمِ … إِذا عَمَّتِ الدَعوى وَثابَ صَريحُهاثاب صريحها: كثر النداء بالصريح وذهب الذين ليسوا صرحاء.
2 সুতরাং তুমি এক দুর্ভাগা নক্ষত্রের অশুভ লগ্নে পৃথক হয়ে যাও … আর শুভাশুভ নির্ণয়কারীদের নিকট ডান দিক থেকে বাম দিকে উড্ডয়নকারী পাখিই সবচেয়ে অশুভ।3 তুমি যদি বিবাদে লিপ্ত হও তবে বিবাদ করা আমার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য … যখন আমার চারিত্রিক মাধুর্য থেকে কোনো নমনীয়তা প্রকাশ পায় না।4 আমি বিভিন্ন গোত্রকে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেই এবং তাদের ঋণের পূর্ণ প্রতিদান দেই … আর যখন লালসা বা কৃপণতা মানুষকে ধ্বংস করে তখন আমি পবিত্রতা ও সংযম অবলম্বন করি।5 যদিও আমার স্বগোত্রীয়রা আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে আমার আবাসস্থল এখন এমন এক দূরবর্তী ভূমিতে যেখানে কুকুরের ডাকও পৌঁছায় না।6 তাদের পক্ষ থেকে বিদ্ধকারী বাক্যসমূহ আমার নিকট পৌঁছে আমাকে মর্মাহত করেছে … আর তাদের অন্তরসমূহ আমার বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষ পোষণ করে রেখেছে।7 তখন আমি বললাম, আমাদের মাঝে এই বসতি ত্যাগ করাই অধিকতর সুন্দর … আর প্রবাসী ব্যক্তি মন্দ বসতি থেকে দূরেই অবস্থান করে।8 তা সত্ত্বেও আমি তাদের পিতৃপুরুষের সাথে আমার সম্পর্কের দাবি করি … যখন আহ্বান ব্যাপক হয় এবং প্রকৃত বংশোদ্ভূতরা একত্রিত হয়।প্রকৃত বংশোদ্ভূতরা একত্রিত হওয়া: এর অর্থ হলো যখন খাঁটি বংশীয়দের ডাক বৃদ্ধি পায় এবং যারা খাঁটি নয় তারা চলে যায়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
9 وَأَنّي أَرى ديني يُوافِقُ دينَهُم … إِذا نَسَكوا أَفراعُها وَذَبيحُهاويروى: نسكت وهو أجود. وأفراع: جمع فرع وهو حوار صغير يذبح في أول النتاج ويلبس جلده آخر وكذلك [كانوا] يفعلون في أول النتاج.10 وَمَنزِلَةٍ بِالحَجِّ أُخرى عَرَفتُها … لَها بُقَعَةٌ لا يُستَطاعُ بُروحُهابقعة: يعني المشعر، كانت ربيعة تقف به ليس لهم غيره.11 بِوُدِّكِ ما قَومي عَلى أَن تَرَكتِهِم … سُلَيمى إِذا هَبَّت شَمالٌ وَريحُهاأي على ودك قومي وما زائدة. وأذم ما يكون الشمال عندهم في الجدب وحينئذ يحبون أهل الاطعام والايسار.12 إِذا النَجمُ أَمسى مَغرِبَ الشَمسِ رائِباً … وَلَم يَكُ بَرقٌ في السَماءِ يُليحُهايليحها: يحملها على أن تلوح.
৯ এবং আমি দেখছি যে আমার ধর্ম তাদের ধর্মের সাথে মিলে যায় … যখন তারা তাদের প্রথম শাবক ও যবেহকৃত পশুকে কুরবানি করে।বর্ণিত আছে: 'নাসাকতু' (আমি কুরবানি করেছি), আর এটিই অধিকতর উত্তম। আর 'আফরা' হলো 'ফার'-এর বহুবচন, যা উটের এমন এক ছোট শাবককে বোঝায় যা প্রথম প্রসবের সময় যবেহ করা হয় এবং তার চামড়া অন্য শাবককে পরানো হয়; তারা প্রথম প্রসবের ক্ষেত্রে এমনই করত।১০ এবং হজের অন্য একটি স্থান যা আমি চিনেছি … যার একটি বিশেষ ভূখণ্ড রয়েছে যেখান থেকে প্রস্থান করা সম্ভব নয়।ভূখণ্ড: অর্থাৎ পবিত্র স্থান (মাশ'আর), রাবিয়াহ গোত্র সেখানে অবস্থান করত এবং তাদের জন্য এটি ছাড়া অন্য কোনো স্থান ছিল না।১১ তোমার ভালোবাসার কসম, আমার কওম এমন নয় যে আমি তাদের ছেড়ে এসেছি … হে সুলাইমা! যখন উত্তুরে হাওয়া ও তার বাতাস প্রবাহিত হয়।অর্থাৎ তোমার ভালোবাসার কসম আমার কওম, আর এখানে 'মা' শব্দটি অতিরিক্ত। তাদের কাছে দুর্ভিক্ষের সময় উত্তুরে হাওয়া সবচেয়ে নিন্দনীয় বা কষ্টদায়ক হয় এবং সেই সময়ে তারা খাদ্যদানকারী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের পছন্দ করে।১২ যখন সন্ধ্যাবেলায় নক্ষত্র পশ্চিম দিগন্তে অস্তগামী সূর্যের স্থানে স্থির হয়ে যায় … এবং আকাশে এমন কোনো বিদ্যুৎ থাকে না যা তাকে উজ্জ্বল করে তোলে।ইউলিহুহা: তাকে উজ্জ্বল বা দৃশ্যমান হতে বাধ্য করে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
13 وَغابَ شُعاعُ الشَمسِ في غَيرِ جُلبَةٍ … وَلا غَمرَةٍ إِلّا وَشيكاً مُصوحُها14 وَهاجَ عَماءٌ مُقشَعِرٌ كَأَنَّهُ … نَقيلَةُ نَعلٍ بانَ مِنها سَريحُها15 إِذا عُدِمَ المَحلوبُ عادَت عَلَيهِمُ … قُدورٌ كَثيرٌ في القِصاعِ قَديحُها16 يَثوبُ إِلَيها كُلُّ ضَيفٍ وَجانِبٍ … كَما رَدَّ دَهداهَ القِلاصِ نَضيحُها17 بِأَيديهِمُ مَقرومَةٌ وَمَغالِقٌ … يَعودُ بِأَرزاقِ العِيالِ مَنيحُها
13 সূর্যের কিরণ কোনো শোরগোল ছাড়াই অদৃশ্য হয়ে গেল … এবং এমন কোনো প্লাবন নেই যার অবসান অতি আসন্ন নয়।14 আর একটি রোমাঞ্চিত মেঘমালা উত্থিত হলো যেন সেটি … জুতার তলার তালি, যা থেকে তার চামড়ার ফিতাটি ছিঁড়ে গেছে।15 যখন দুগ্ধবতী পশুরা নিঃশেষ হয়ে যায়, তখন তাদের কাছে ফিরে আসে … বহু ডেকচি, বড় পেয়ালায় যেগুলোর খাদ্য পরিবেশন করা হয়।16 সেখানে প্রত্যেক মেহমান ও আগন্তুক ফিরে আসে … যেমন পানি ছিটানো ব্যক্তি বা রাখাল বিক্ষিপ্ত উষ্ট্রীগুলোকে ফিরিয়ে আনে।17 তাদের হাতে রয়েছে চিহ্নিত তীর এবং লটারির সরঞ্জাম … যার দানগুলো পরিবারের সদস্যদের রিযিক নিয়ে ফিরে আসে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
18 وَمَلمومَةٍ لا يَخرِقُ الطَرفُ عَرضَها … لَها كَوكَبٌ فَخمٌ شَديدٌ وُضوحُها19 تَسيرُ وَتُزجي السَمَّ تَحتَ نُحورِها … كَريهٌ إِلى مَن فاجَأَتهُ صَبوحُها20 عَلى مُقذَحِرّاتٍ وَهُنُّ عَوابِسٌ … ضَبائِرُ مَوتٍ لا يُراحُ مُريحُها21 نَبَذنا إِلَيهِم دَعوَةً يالَ مالِكٍ … لَها إِربَةٌ إِن لَم تَجِد مَن يُريحُها22 فَسُرنا عَلَيهِم سَورَةً ثَعلَبِيَّةً … وَأَسيافُنا يَجري عَلَيهِم نُضوحُها23 وَأَرماحُنا يَنهَزنَهُم نَهزَ جُمَّةٍ … يَعودُ عَلَيهِم وِردُنا فَنَميحُهانهز جمة: أي انتزاع ما فيها. يقول: كلما وردناها عدنا إليها.
১৮ এবং এমন এক সুসংহত সেনাদল, দৃষ্টি যার প্রশস্ততা ভেদ করতে পারে না … যার রয়েছে এক বিশাল ও অত্যন্ত উজ্জ্বল অগ্রবর্তী বাহিনী।১৯ তা অগ্রসর হয় এবং তাদের বক্ষতলে বিষ (মৃত্যু) চালিত করে … যার প্রভাতী আক্রমণ তার নিকট অত্যন্ত অপ্রীতিকর, যাকে তা অতর্কিতে গ্রাস করে।২০ এমন সব ক্ষিপ্র ও ক্রুদ্ধ অশ্বের ওপর সওয়ার হয়ে … যারা মৃত্যুর এক একটি দল, যাদের চালনাকারী কোনো বিশ্রাম পায় না।২১ আমরা তাদের প্রতি 'হে মালিকের বংশধর' বলে এক আহ্বান ছুঁড়ে দিয়েছি … যার একটি লক্ষ্য রয়েছে, যদি না তা বাস্তবায়নকারী কাউকে খুঁজে পায়।২২ অতঃপর আমরা তাদের ওপর অতর্কিতে ক্ষিপ্রগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম … এমতাবস্থায় যে আমাদের তলোয়ারসমূহ থেকে তাদের রক্ত চুইয়ে পড়ছিল।২৩ এবং আমাদের বর্শাগুলো তাদের বিদ্ধ করছিল কূয়া থেকে পানি সেঁচে তোলার ন্যায় … আমাদের আক্রমণের ধারা তাদের ওপর বারবার ফিরে আসছিল এবং আমরা তাদের বিনাশ সাধন করছিলাম।কূয়ার গভীর থেকে পানি সেঁচে তোলা: অর্থাৎ তার ভেতরে যা আছে তা বের করে আনা। তিনি বলছেন: যখনই আমরা তাদের নিকট যুদ্ধে উপনীত হই, আমরা পুনরায় তাদের ওপর আক্রমণ করার জন্য ফিরে আসি।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
24 فَدارَت رَحانا ساعَةً وَرَحاهُمُ … وَدَرَّت طِباقاً بَعدَ بَكُءٍ لُقوحُها25 فَما أَتلَفَت أَيديهُمُ مِن نُفوسِنا … وَإِن كَرُمَت فَإِنَّنا لا نَنوحُها26 فَقُلنا هِيَ النُهبى وَحَلَّ حَرامُها … وَكانَت حِمى ما قَبلَنا فَنُبيحُها27 فَأُبنا وَآبوا كُلَّنا بِمَضيضَةٍ … مُهَمَّلَةٍ أَجراحُنا وَجُروحُهابمضيضة أي قد أمضتنا الجراح.مهملة أهملن فلا يطلبن.28 وَكُنّا إِذا أَحلامُ قَومٍ تَغَيَّبَت … نَشِحُّ عَلى أَحلامِنا فَنُريحُها
24 আমাদের যুদ্ধের যাঁতাকল এবং তাদের যুদ্ধের যাঁতাকল কিছু সময় আবর্তিত হলো … আর তাদের উটগুলো দীর্ঘকাল দুগ্ধহীন থাকার পর প্রচুর পরিমাণে দুধ বর্ষণ করল।25 তারা আমাদের যে প্রাণগুলো হরণ করেছে … সেগুলো যদি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদারও হয়ে থাকে, তবুও আমরা তাদের জন্য শোকবিলাপ করি না।26 আমরা বললাম: এটি লুণ্ঠিত সম্পদ এবং এর নিষিদ্ধতা এখন দূরীভূত হয়েছে … আমাদের পূর্বে যা সংরক্ষিত চারণভূমি ছিল, এখন আমরা তা (আমাদের জন্য) উন্মুক্ত ও বৈধ করে নিয়েছি।27 আমরাও ফিরলাম এবং তারাও ফিরল দহনকারী যন্ত্রণার সাথে … আমাদের এবং তাদের ক্ষতগুলো ছিল অবেহেলিত ও উপেক্ষিত।দহনকারী যন্ত্রণার সাথে— অর্থাৎ ক্ষতসমূহ আমাদের যন্ত্রণাবিদ্ধ করেছে।উপেক্ষিত— অর্থাৎ সেগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে, ফলে সেগুলোর প্রতিশোধ চাওয়া হয়নি।28 আর যখন কোনো কওমের ধৈর্য ও বুদ্ধি লোপ পেত … তখন আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে সযত্নে আগলে রাখতাম এবং তাকে প্রশান্তিতে রাখতাম।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
[3]وقال عمرو بن قميئة: :الطويل1 إن أَكُ قَد أَقصَرتُ عَن طولِ رِحلَةٍ … فَيا رُبَّ أَصحابٍ بَعَثتُ كِرامِ
[৩]আমর ইবনে কামিআহ বলেছেন:তওয়িল ছন্দ১. যদি আমি দীর্ঘ সফর থেকে বিরত হয়ে থাকি … তবে ওহে! কতই না সম্মানিত সঙ্গীদের আমি জাগিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
2 فَقُلتُ لَهُم سيروا فِدىً خالَتي لَكُم … أَما تَجِدونَ الريحَ ذاتَ سَهامِ3 فَقاموا إِلى عيسٍ قَدِ اِنضَمَّ لَحمُها … مُوَقَّفَةٍ أَرساغُها بِخَدام4 وَقُمتُ إِلى وَجناءَ كَالفَحلِ جَبلَةٍ … تُجاوِبُ شَدِّيَ نِسعَها بِبُغام5 فَأُدلِجُ حَتّى تَطلُعَ الشَمسُ قاصِداً … وَلَو خُلِطَت ظَلماؤُها بِقَتامِ6 فَأَورَدتُهُم ماءً عَلى حينٍ وِردِهِ … عَلَيه خَليطٌ مِن قَطاً وَحَمامِ7 وَأَهوَنُ كَفٍّ لا تَضيرُكَ ضَيرَةً … يَدٌ بَينَ أَيدٍ في إِناءِ طَعامِ8 يَدٌ مِن بَعيدٍ أَو قَريبٍ أَتَت بِهِ … شَآمِيَّةٌ غَبَراءُ ذاتُ قَتامِ9 كَأَنّي وَقَد جاوَزتُ تِسعينَ حِجَّةً … خَلَعتُ بِها يَوماً عِذارِ لِجامي
2 আমি তাদের বললাম, তোমরা এগিয়ে চলো, আমার খালা তোমাদের জন্য উৎসর্গ হোক … তোমরা কি এই বায়ুকে তীব্র উত্তাপযুক্ত অনুভব করছ না?3 অতঃপর তারা এমন লালচে-সাদা উটের পানে এগিয়ে গেল যাদের মাংস শুকিয়ে হাড়ের সাথে মিশে গেছে … যাদের পায়ের নলিগুলো রশি দিয়ে সুচিহ্নিত।4 আর আমি এক মাংসল উষ্ট্রীর দিকে গেলাম যা দৈহিক গড়নে পুরুষ উটের ন্যায় … আমি তার পিঠের রশি শক্ত করে বাঁধার সময় সে মৃদু আওয়াযে সাড়া দেয়।5 আমি রাতের শেষভাগে পথ চলি যতক্ষণ না সূর্য উদিত হয়, লক্ষ্যপানে অবিচল … যদিও সেই রাতের অন্ধকার ধূলিকণার সাথে মিশ্রিত থাকে।6 অতঃপর আমি তাদের পানির নিকট নিয়ে এলাম যখন পানি পানের উপযুক্ত সময় … যেখানে কাতা পাখি ও কবুতরের ভিড় জমে আছে।7 আর সবচেয়ে সহজ হাত যা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না … তা হলো খাবারের পাত্রে থাকা অনেকগুলো হাতের মধ্যে একটি হাত।8 কোনো দূর বা নিকট থেকে আসা একটি হাত একে নিয়ে এসেছে … যা ধূলিময় সিরীয় বায়ু, ধূলিকণায় আচ্ছন্ন।9 মনে হয় যেন আমি নব্বই বছর অতিবাহিত করার পর … কোনো একদিন আমার লাগামের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
10 عَلى الراحَتَينِ مَرَّةً وَعَلى العَصا … أَنوءُ ثَلاثاً بَعدَهُنَّ قِيامي11 رَمَتني بَناتُ الدَهرِ مِن حَيثُ لا أَرى … فَكَيفَ بِمَن يُرمى وَلَيسَ بِرامِ12 فَلَو أَنَّها نَبلٌ إِذاً لَاِتَّقَيتُها … وَلَكِنَّني أُرمى بِغَيرِ سِهامِ13 إِذا ما رَآني الناسُ قالوا أَلَم تَكُن … حَديثاً جَديدَ البَزِّ غَيرَ كَهامِ14 وَأَفنى وَما أُفني مِنَ الدَهرِ لَيلَةً … وَلَم يُغنِ ما أَفنَيتُ سِلكَ نِظامِ15 وَأَهلَكَني تَأميلُ يَومٍ وَلَيلَةٍ … وَتَأميلُ عامٍ بَعدَ ذاكَ وَعامِ
10 কখনো দুই হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে, আবার কখনো লাঠির ওপর … তিনবার কষ্টে নুয়ে পড়ার পর আমি সোজা হয়ে দাঁড়াই।11 কালের দুর্যোগসমূহ আমাকে এমন এক স্থান থেকে লক্ষ্যভেদ করেছে যা আমি দেখতে পাই না … তবে তার অবস্থা কী হবে যাকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয় অথচ সে নিজে কোনো নিক্ষেপকারী নয়?12 সেগুলো যদি তীর হতো তবে অবশ্যই আমি তা থেকে আত্মরক্ষা করতাম … কিন্তু আমাকে এমন কিছু দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে যা তীর নয়।13 মানুষ যখন আমাকে দেখে তখন তারা বলে, তুমি কি এমন নও যে … নিকট অতীতেও সতেজ, নতুন পোশাকে সুসজ্জিত এবং তেজোদীপ্ত ছিলে?14 আমি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছি অথচ আমি মহাকালের একটি রাতকেও ক্ষয় করতে পারিনি … আর আমি যা অতিবাহিত করেছি তা সুতোর প্রান্তের মতো সামান্যতমও আমার কোনো উপকারে আসেনি।15 একটি দিন ও একটি রাতের আশা আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে … এবং তার পরের এক বছর ও আরও এক বছরের দীর্ঘ আশা।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
[4]وقال عمرو بن قميئة:المنسرح1 يا لَهفَ نَفسي عَلى الشَبابِ وَلَم … أَفقِد بِهِ إِذ فَقَدتُهُ أَمَما2 قَد كُنتُ في مَيعَةٍ أُسَرُّ بِها … أَمنَعُ ضَيمي وَأُهبِط العُصُماالميعة: الشباب والعصم: الوعول.
[৪]আমর ইবনে কামিয়াহ বলেছেন:আল-মুনসারিহ ছন্দ১. হায়, যৌবনের জন্য আমার প্রাণের আক্ষেপ! যখন আমি তা হারিয়েছি, তখন কোনো সামান্য বা তুচ্ছ জিনিস হারাইনি। … ২. আমি যৌবনের পূর্ণ প্রাবল্যে ছিলাম যাতে আমি আনন্দিত হতাম; আমি আমার ওপর কৃত অন্যায় প্রতিহত করতাম এবং পাহাড়ি ছাগলদের (পাহাড় থেকে) নিচে নামিয়ে আনতাম। … আল-মিয়া’আ: যৌবন এবং আল-উসুম: পাহাড়ি ছাগল।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
3 وَأَسحَبُ الرَيطَ وَالبُرودَ إِلى … أَدنى تِجاري وَأَنفُضُ اللِمَما4 لا تَغبِطِ المَرءَ أَن يُقالَ لَهُ … أَمسى فَلانٌ لِعُمرِهِ حَكَماأي لا يكون حكما إلا بعد أن يشيخ قال مرقش:يأتي الشباب الأقورين ولا تغبط أخاك أن يقال حكم5 إِن سَرَّهُ طولُ عَيشِهِ فَلَقَد … أَضحى عَلى الوَجهِ طولُ ما سَلِما6 إِنَّ مِنَ القَومِ مَن يُعاشُ بِهِ … وَمِنهُمُ مَن تَرى بِهِ دَسَما
৩ আমি পাতলা চাদর ও ডোরাকাটা চাদর টেনে নিয়ে যাই … আমার নিম্নস্থ ব্যবসায়ীদের নিকট এবং আমি আমার কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল ঝেড়ে ফেলি।৪ কোনো ব্যক্তিকে দেখে ঈর্ষা করো না যখন তার সম্পর্কে বলা হয় যে … অমুক ব্যক্তি তার বয়সের কারণে বিজ্ঞ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে।অর্থাৎ বৃদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত কেউ বিজ্ঞ বিচারক হতে পারে না। মুরক্কিশ বলেছেন:যৌবন তার পূর্ণ শক্তিতে আসে, আর তোমার ভাইকে দেখে ঈর্ষা করো না যখন তাকে বিজ্ঞ বলা হয়।৫ দীর্ঘ জীবন যদি তাকে আনন্দিত করে, তবে দীর্ঘকাল নিরাপদ থাকাটা … তার চেহারার ওপর (বার্ধক্যের চিহ্ন হিসেবে) প্রকাশিত হয়ে পড়ে।৬ নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে যার আশ্রয়ে অন্যেরা জীবন অতিবাহিত করে … আর তাদের মধ্যে এমনও আছে যার মধ্যে তুমি কেবল মেদ বা প্রাচুর্যই দেখতে পাও।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
[5]وقال عمرو بن قميئة:المتقارب1 تَحِنُّ حَنيناً إِلى مالِكٍ … فَحِنّي حَنينَكِ إِنّي مُعالي2 إِلى دار قَومٍ حِسانِ الوُجوهِ … عِظامِ القِبابِ طِوالِ العَوال3 فَوَجَّهتُهُنَّ عَلى مَهمَهٍ … قَليلِ الوَغى غَيرَ صَوتِ الرِئالِ4 سِراعاً دَوائِبَ ما يَنثَني … نَ حَتّى اِحتَلَلنَ بِحَيِّ حِلالِ5 بِسَعدِ بنِ ثَعلَبَةَ الأَكرَمي … نَ أَهلِ الفِضالِ وَأَهلِ النَوالِ6 لَيالِيَ يَحبونَني وُدَّهُم … وَيَحبونَ قِدرَكَ غُرَّ المَحالِ7 فَتُصبِحُ في المَحلِ مُحوَرَّةً … لِفَيءِ إِهالَتِها كَالظِلالِ
[৫]আমর ইবনে কামিআহ বলেছেন:মুতাকারিব ছন্দ১ তুমি মালিকের জন্য বিরহকাতর হয়ে রোদন করছ … সুতরাং তুমি তোমার রোদন চালিয়ে যাও, নিশ্চয়ই আমি উচ্চতর লক্ষ্যের পানে সফর করছি।২ এমন এক সম্প্রদায়ের বাসস্থানের দিকে যাদের চেহারা অত্যন্ত সুন্দর … যাদের তাঁবুর গম্বুজসমূহ বিশাল এবং বল্লমগুলো সুদীর্ঘ।৩ অতঃপর আমি সেগুলোকে (উটগুলোকে) এক বিস্তীর্ণ মরুভূমির পথে পরিচালিত করলাম … যেখানে উটপাখির ছানার ডাক ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ নেই।৪ দ্রুতগতিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেগুলো চলছিল, তারা মোটেও ফিরে তাকায়নি … যতক্ষণ না তারা এক অতি মর্যাদাবান জনপদে উপনীত হলো।৫ পরম সম্মানিত সাদ বিন সা'লাবার গোত্রে … যারা মহানুভবতা ও দানশীলতার অধিকারী।৬ সেই রাতগুলোতে তারা আমাকে তাদের ভালোবাসা উপহার দিচ্ছিল … এবং তোমার রান্নার ডেকচিতে দিচ্ছিল উটের কুঁজের শুভ্র চর্বিযুক্ত অংশ।৭ ফলে দুর্ভিক্ষের কালেও অধিক চর্বির কারণে ডেকচিটি ধবধবে সাদা হয়ে থাকে … তার গলিত চর্বির প্রাচুর্য যেন ছায়ার মতো দেখায়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
8 فَإِن كُنتِ ساقِيَةً مَعشَراً … كِرامَ الضَرائِبِ في كُلِّ حالِ9 عَلى كَرَمٍ وَعَلى نَجَدَةٍ … رَحيقاً بِماءٍ نِطافٍ زُلالِ10 فَكوني أُولَئِكَ تَسقينَها … فِدىً لِأُولَئِكَ عَمي وَخالي11 أَلَيسوا الفَوارِسَ يَومَ الفُراتِ … وَالخَيلُ بِالقَومِ مِثلُ السَعالي12 وَهُم مَا هُمُ عِندَ تِلكَ الهَناتِ … إِذا زَعزَعَ الطَلحَ ريحُ الشَمالِ13 بِدُهمٍ ضَوامِنَ لِلمُعتَفي … نَ أَن يَمنَحوهُنَّ قَبلَ العِيالِ
8 তুমি যদি কোনো দলকে পান করাতে চাও … যারা সর্বাবস্থায় অতিশয় মহৎ চরিত্রের অধিকারী।9 যারা মহানুভবতা ও বীরত্বের গুণে ভূষিত … তাদের পান করাও নির্মল স্বচ্ছ পানির সাথে মিশ্রিত বিশুদ্ধ সুধা।10 অতএব তুমি তাদেরকেই পান করাও … তাদের জন্য আমার চাচা এবং মামা উৎসর্গিত হোন।11 তারা কি ফোরাত তীরের সেই অশ্বারোহী নয়? … যখন ঘোড়াগুলো সওয়ারিদের নিয়ে বন্য প্রাণীর ন্যায় ক্ষিপ্রগতিতে ধাবমান ছিল।12 আর তারা সেই কঠিন বিপদের মুহূর্তেও অটল … যখন উত্তরের ঝোড়ো হাওয়া তালহ বৃক্ষকে প্রকম্পিত করে তোলে।13 সেই সব কৃষ্ণবর্ণের উষ্ট্রীর মালিক যারা সাহায্যপ্রার্থ … ীদের এই নিশ্চয়তা দেয় যে, তারা নিজেদের পরিবারের পূর্বেই তাদের দান করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
[6]وقال عمرو بن قميئة:الخفيف1 إِنَّ قَلبي عَن تُكتَمٍ غَيرُ سالِ … تَيَّمَتني وَما أَرادَت وِصالي2 هَل تَرى عيرَها تُجيزُ سِراعاً … كَالعَدَولِيِّ رائِحاً مِن أُوالِأوال: جزيرة بالبحرين. تجيز: تقطع3 نَزَلوا مِن سُوَيقَةِ الماءِ ظُهراً … ثُمَّ راحوا لِلنَعفِ نَعفِ مَطالِ4 ثُمَّ أَضحَوا عَلى الدَثينَةِ لا يَألونَ … أَن يَرفَعوا صُدورَ الجِمالِ5 ثُمَّ كانَ الحِساءُ مِنهُم مُصيفاً … ضارِباتِ الخُدورِ تَحتَ الهَدالِ
[৬]আমর ইবনে কামিআহ বলেছেন:আল-খাফিফ১. নিশ্চয়ই তুকতামের প্রেম থেকে আমার হৃদয় বিস্মৃত নয় … সে আমাকে মোহাচ্ছন্ন করেছে, অথচ সে আমার সাথে মিলনের আকাঙ্ক্ষা করেনি।২. তুমি কি তার উটের কাফেলাকে দ্রুতগতিতে পথ অতিক্রম করতে দেখছ … যা উওয়াল থেকে ফিরে আসা আদাওলি জাহাজের মতো?উওয়াল: বাহরাইনের একটি দ্বীপ। তুজিজু: অতিক্রম করা বা পাড়ি দেওয়া।৩. তারা দ্বিপ্রহরে সুওয়াইকাতুল মা নামক স্থানে অবতরণ করল … অতঃপর অপরাহ্নে তারা মাতাল পর্বতের পাদদেশের ঢালু ভূমির দিকে যাত্রা করল।৪. অতঃপর তারা পূর্বাহ্নে দাসিনাতে পৌঁছাল, তারা কোনো ত্রুটি করল না … উটগুলোর বক্ষদেশ উন্নত করতে (অর্থাৎ দ্রুত গতিতে চালাতে)।৫. অতঃপর আল-হিসা ছিল তাদের গ্রীষ্মকালীন আবাস … যেখানে তারা নুয়ে পড়া ডালপালার নিচে পর্দা (তাঁবু) খাটিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
6 فَزِعَت تُكتَمُ وَقالَت عَجيباً … أَن رَأَتني تَغَيَّرَ اليَومَ حالي7 يا اِبنَةَ الخَيرِ إِنَّما نَحنُ رَهنٌ … لِصُروفِ الأَيّامِ بَعدَ اللَيالي8 جَلَّحَ الدَهرُ وَاِنتَحى لي وَقِدماً … كانَ يُنحي القُوى عَلى أَمثالي9 أَقصَدَتني سِهامُهُ إِذ رَأَتني … وَتَوَلَّت عَنهُ سُلَيمى نِبالي10 لا عَجيبٌ فيما رَأَيتِ وَلَكِن … عَجَبٌ مِن تَفَرُّطِ الآجالِ11 تُدرِكُ التِمسَحَ المُوَلَّعَ في اللـ … ـجَةِ وَالعُصمَ في رُؤوسِ الجِبالِيقال: تمسح وتماسح والمولع: الذي به توليع.[وهي] نقط تخالف سائر لونه.12 وَالفَريدَ المُسَفَّعَ الوَجهِ ذا الجُدَّ … ةِ يَختارُ آمِناتِ الرِمالِالفريد: الثور. والمسفع: الذي في وجهه سفعة.13 وَتَصَدّى لِتَصرَعَ البَطَلَ الأَر … وَعَ بَينَ العَلهاءِ وَالسِربالِ
৬ তুকতাম আতঙ্কিত হলো এবং বিস্ময় প্রকাশ করল … যখন সে দেখল আজ আমার অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে গেছে।৭ হে কল্যাণের কন্যা, আমরা তো কেবল রজনীর পর দিনসমূহের … আবর্তনের নিকট দায়বদ্ধ।৮ কাল দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে এবং আমার দিকে ধাবিত হয়েছে, অথচ অতীতেও … সে আমার মতো শক্তিশালী বীরদের শক্তি চূর্ণ করত।৯ তার তীরসমূহ আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে যখনই সে আমাকে দেখেছে … আর হে সুলায়মা, আমার তীরসমূহ তার থেকে বিমুখ হয়েছে।১০ তুমি যা দেখেছ তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই, বরং … বিস্ময় হলো আয়ু দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার মধ্যে।১১ তা গভীর সমুদ্রের চিত্রল কুমিরকে … এবং পাহাড়ের চূড়ায় থাকা সাদা পা বিশিষ্ট বনছাগলকেও পাকড়াও করে।বলা হয়: তিমসাহ ও তামাসিহ; আর মুলা' হলো: যার শরীরে তিল বা দাগ রয়েছে।[সেগুলো হলো] এমন কিছু বিন্দু যা শরীরের মূল রঙের চেয়ে ভিন্ন।১২ আর কালচে মুখমন্ডল ও পিঠের কালো রেখাবিশিষ্ট সেই নিঃসঙ্গ বন্য ষাঁড়টিকেও, যে … বালুকাময় নিরাপদ ভূমিকে পছন্দ করে।আল-ফারিদ: বন্য ষাঁড়। আর আল-মুসাফফা: যার মুখে কালচে রঙের ছাপ রয়েছে।১৩ এবং সে উদ্যত হয়েছে সেই অকুতোভয় বীরকে ভূপাতিত করতে … যে বর্ম ও পোশাকের অন্তরালে সুরক্ষিত।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
[7]وقال عمرو بن قميئة:الطويل1 أَمِن طَلَلٍ قَفرٍ وَمِن مَنزِلٍ عافِ … عَفَتهُ رِياحٌ مِن مَشاتٍ وَأَصيافِ2 وَمَبرَكِ أَذوادٍ وَمَربَطِ عانَةٍ … مِنَ الخَيلِ يَحرُثنَ الدِيارَ بِتَطوافِ3 وَمَجمَعِ أَحطابٍ وَمَلقى أَياصِرٍ … إِذا هَزهَزَتهُ الريحُ قامَ لَهُ نافِالأيصر: الحشيس المجموع. ناف: أي شيء قد نفته الريح.4 بَكَيتَ وَأَنتَ اليَومَ شَيخٌ مُجَرِّبٌ … عَلى رَأسِهِ شَرخانِ مِن لَونِ أَصنافِ5 سَوادٌ وَشَيبٌ كُلُّ ذَلِكَ شامِلٌ … إِذا ما صَبا شَيخٌ فَلَيسَ لَهُ شافِ6 وَحَيٍّ مِنَ الأَحياءِ عَودٍ عَرَمرَمٍ … مُدِلٍّ فَلا يَخشَونَ مِن غَيبِ أَخيافِ7 سَمَونا لَهُم مِن أَرضِنا وَسَمائِنا … نُغاوِرُهُم مِن بَعدِ أَرضٍ بِإيجافِ
[৭]আমর ইবনুল কামিআহ বলেছেন:তওয়ীল ছন্দ১. কোনো বিজন ধ্বংসাবশেষ ও বিলুপ্ত গৃহের স্মরণে কি এই রোদন … যাকে শীত ও গ্রীষ্মের বায়ুপ্রবাহ মুছে ফেলেছে?২. এবং উটের বসার স্থান ও পশুর আস্তাবল … সেই ঘোড়াগুলো যা বিচরণ করে গৃহগুলোকে পদদলিত করছে।৩. আর কাঠ সংগ্রহের স্থান ও ঘাসের আঁটি ফেলার জায়গা … যখন বায়ু তাকে আন্দোলিত করে, তখন তার ধূলিকণা উড়তে থাকে।আয়াসির: সংগৃহীত ঘাস। নাফ: এমন কিছু যা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে গেছে।৪. তুমি রোদন করলে, অথচ আজ তুমি এক অভিজ্ঞ বৃদ্ধ … যার মস্তকে দুই বর্ণের চুলের মিশ্রণ ঘটেছে।৫. কৃষ্ণবর্ণ ও শ্বেতবর্ণ—সবই তাকে পরিব্যাপ্ত করেছে … যখন কোনো বৃদ্ধ লালসায় মত্ত হয়, তখন তার কোনো আরোগ্যকারী থাকে না।৬. আর এক বিশাল ও পরাক্রমশালী গোত্র … যারা আত্মমর্যাদাপূর্ণ, তাই তারা ভিন্ন বংশোদ্ভূত শত্রুদের অতর্কিত হামলাকে ভয় পায় না।৭. আমরা আমাদের ভূমি ও আকাশ থেকে তাদের দিকে উন্নত হয়েছি … আমরা দ্রুতগতিতে দূরবর্তী ভূমি অতিক্রম করে তাদের ওপর আক্রমণ করি।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
8 عَلى كُلِّ مَعرونٍ وَذاتِ خِزامَةٍ … مَصاعيبَ لَم يُذلَلنَ قَبلي بِتَوقافِ9 أُولَئِكَ قَومي آلُ سَعدِ بنِ مالِكٍ … فَمالوا عَلى ضَغنٍ عَلَيَّ وَإِلغافِألغف عليه: إذا أكثر عليه من الكلام القبيح.10 أَكَنَّوا خُطوباً قَد بَدَت صَفَحاتُها … وَأَفئِدَةً لَيسَت عَلَيَّ بِأَرآفِ11 وَكُلُّ أُناسٍ أَقرَبُ اليَومَ مِنُهمُ … إِلَيَّ وَإِن كانوا عُمانَ أُولي اِلغافِالغاف: نبت نحو من الينبوت إلآ أنه أعظم منه.
8 প্রত্যেক চিহ্নিত এবং নাসারন্ধ্রে ছিদ্রযুক্ত উষ্ট্রীর ওপর … এমন সব অবাধ্য উষ্ট্রী যাদের আমার আগে বশীভূত করা বা থামানো হয়নি।9 তারাই আমার কওম সা’দ বিন মালিকের বংশধর … তারা বিদ্বেষবশত আমার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে এবং আমার প্রতি কটূক্তি করেছে।‘আলগাফা আলাইহি’: যখন কারো প্রতি কটু বা অশ্লীল বাক্যের আধিক্য ঘটানো হয়।10 তারা এমন সব আপদ লুকিয়ে রেখেছিল যার দিকগুলো ইতোমধ্যেই প্রকাশ পেয়ে গেছে … আর তাদের হৃদয়গুলো আমার প্রতি বিন্দুমাত্র দয়ালু নয়।11 আজ অন্য সব মানুষই তাদের তুলনায় আমার কাছে অধিকতর নিকটবর্তী … যদিও তারা ওমানের ‘গাফ’ বৃক্ষশোভিত অঞ্চলের অধিবাসী হয়।‘আল-গাফ’: এটি ইয়ানবুত সদৃশ এক প্রকার উদ্ভিদ, তবে এটি আকারে তার চেয়ে বড়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
[8]وقال عمرو بن قميئة:الطويل1 وَمَولى ضَعيفِ النَصرِ ناءٍ مَحَلُّهُ … جَشِمتُ لَهُ ما لَيسَ مِنّي جاشِمُه2 إِذا ما رَآني مُقبِلاً شَدَّ صَوتَهُ … عَلى القِرنِ وَاِعلَولى عَلى مَن يُخاصِمُه3 وَأَجرَدَ مَيّاحٍ وَهَبتُ بِسِرجِهِ … لِمُختَبِطٍ أوذي دَلالٍ أُكارِمُه4 عَلى أَنَّ قَومي أَسلَموني وَعُرَّتي … وَقَومُ الفَتى أَظفارُهُ وَدَعائِمُه
[৮]এবং আমর ইবনে কামিয়াহ বলেছেন:আত-তাবিল১ এমন এক মিত্র, যার সাহায্য দুর্বল এবং যার আবাসস্থল দূরবর্তী … আমি তার জন্য এমন কষ্ট সহ্য করেছি যা আমার মতো অন্য কেউ সহ্য করত না২ যখন সে আমাকে আসতে দেখে, তখন সে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হয় … এবং তার বিবাদকারীর ওপর প্রবল হয়ে ওঠে৩ এবং বহু হ্রস্বলোমবিশিষ্ট তেজস্বী ঘোড়া আমি তার জিনসহ দান করেছি … কোনো যাঞ্চাকারী অথবা কোনো প্রিয়জনকে যাকে আমি সম্মান করি৪ যদিও আমার গোত্র ও স্বজনরা আমাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছে … অথচ কোনো ব্যক্তির গোত্রই তো তার নখর এবং তার স্তম্ভস্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
[9]وقال عمرو بن قميئة:الخفيف1 هَل عَرَفتَ الدِيارَ عَن أَحقابِ … دارِساً آيُها كَخَطِّ الكِتابِ2 وَكَأَنّي لَمّا عَرَفتُ دِيارَ ال … حَيِّ بِالسَفحِ عَن يَمينِ الحُبابِ3 يَسَرٌ حارَضَ الرِبابَةَ حَتّى … راحَ قَصراً وَضيمَ في الأَندابِحارص: لزم، والأنداب: الأخطار الواحد ندب.4 جَزَعاً مِنكَ يَاِبنَ سَعدٍ وَقَد أَخـ … ـلَقَ مِنكَ المَشيبُ ثَوبَ الشَبابِ
[৯]আমর বিন কামিআহ বলেছেন:আল-খাফিফ১ দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হওয়ার পর তুমি কি এই বসতিকে চিনতে পেরেছ? … এর চিহ্নগুলো মুছে গিয়েছে কিতাবের লিখনের ন্যায়।২ আল-হুবাবের ডান দিকে পাদদেশে যখন আমি গোত্রের বসতি … চিনতে পারলাম, তখন আমার অবস্থা এমন হয়েছিল যে—৩ যেন এক জুয়াড়ি, যে তীরের থলিতে লেগে ছিল, পরিশেষে … সে রিক্তহস্তে ফিরল এবং বাজিতে ক্ষতিগ্রস্ত হল।হারিদ: লেগে থাকা; আল-আন্দাব: ঝুঁকি বা বিপদসমূহ, এর একবচন হলো ‘নাদাব’।৪ হে ইবনে সাদ! তোমার দুঃখে আমি শোকার্ত, অথচ বার্ধক্য … তোমার যৌবনের পোশাককে জীর্ণ করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
[10]وقال عمرو بن قميئة:الطويل1 هَل لا يُهَيِّجُ شَوقُكَ الطَلَلُ … أَم لا يُفَرِّطُ شَيخَكَ الغَزَلُ2 أَم ذا القَطينَ أَصابَ مَقتَلَهُ … مِنهُ وَخانوهُ إِذا اِحتَمَلواالقطين: أهل الدار، والقطين: الحشم.3 وَرَأَيتَ ظُعنَهُمُ مُقَفِّيَةً … تَعلو المَخارِمَ سَيرُها رَمَلُ4 قَنَأَ العُهونَ عَلى حَوامِلِها … وَعَلى الرُهاوِيّاتِ وَالكِلَلُ
[১০]এবং আমর বিন কামিয়াহ বলেছেন:আত-তওয়ীল১. বাস্তুভিটার ধ্বংসাবশেষ কি তোমার ব্যাকুলতাকে জাগ্রত করে না? … নাকি প্রেমলাপ তোমার বার্ধক্যকে বশীভূত করে না?২. নাকি এই গৃহবাসীরা তার মরণমর্ম বিদ্ধ করেছে, … এবং তারা যখন প্রস্থানের জন্য বোঝা চাপাল তখন তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল?আল-কাতীন: গৃহের অধিবাসী; আল-কাতীন: সেবক ও অনুসারীবৃন্দ।৩. আর তুমি তাদের শিবিকাগুলো প্রস্থান করতে দেখলে, … গিরিপথগুলো অতিক্রমকালে তাদের চলন ছিল দ্রুতগতির।৪. বাহনগুলোর ওপর রঙিন পশম গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করেছে, … এবং রুহাভি উট ও হাওদাগুলোর আবরণের ওপরও।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
قنأ: اشتدت حمرتها.5 وَكَأَنَّ غِزلانَ الصَريمِ بِها … تَحتَ الخُدورِ يُظِلُّها الظُلَلُالصريم: جمع صريمة، وهي رمال تنقطع من معظم الرمل.6 تامَت فُؤادَكَ يَومَ بَينِهِمُ … عِندَ التَفَرُّقِ ظَبيَةٌ عُطُلُتامت: ضللته وأفسدت عقله.والعطل: التي لا حلي عليها.7 شَنِفَت إِلى رَشَأٍ تُرَبِّبُه … وَلَها بِذاتِ الحاذِ مُعتَزَلُ8 ظِلٌ إِذا ضَحِيَت وَمُرَتَقَبُ … وَلا يَكونُ لِلَيلِها دَغَلُضحيت: برزت، يقال: ضحي يضحي إذا برز للشمس.9 فَسَقى مَنازِلَها وَحِلَّتَها … قِردُ الرَبابِ لِصَوتِهِ زَجَلُ10 أَبدى مَحاسِنَهُ لِناظِرِهِ … ذاتَ العِشاءِ مُهَلَّبٌ خَضِلُ
কানাআ: এর লাল বর্ণ তীব্র হয়েছে।৫. যেন সারিমের হরিণরা সেখানে … পর্দার অন্তরালে মেঘমালা তাদের ছায়া দিচ্ছে।সারিম: সারিমাহ-এর বহুবচন, আর তা হলো বালুরাশি যা প্রধান বালুকাস্তূপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।৬. বিচ্ছেদের দিন তাদের মাঝে এক অলঙ্কারহীনা হরিণী তোমার হৃদয়কে মোহাচ্ছন্ন করেছে … যখন তারা পৃথক হচ্ছিল।তামাত: তাকে বিভ্রান্ত করেছে এবং তার বুদ্ধি বিকল করে দিয়েছে।আর আল-উতুল: যার শরীরে কোনো অলঙ্কার নেই।৭. সে এমন এক হরিণ শাবকের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যাকে সে লালন-পালন করে … এবং যাতুল হাজ নামক স্থানে তার নির্জন বাসের জায়গা রয়েছে।৮. যখন সে রোদে বের হয় তখন তার জন্য ছায়া ও এক পর্যবেক্ষণস্থল রয়েছে … আর তার রাতের বেলা কোনো বিপদসঙ্কুল বন নেই।দাহিয়াত: সে প্রকাশিত হয়েছে; বলা হয়: দাহিয়া ইয়াদহা, যখন কেউ সূর্যের আলোর সামনে বের হয়।৯. অতঃপর সাদা মেঘমালা তার আবাসস্থল ও জনবসতিকে সিক্ত করেছে … যার গর্জনের ধ্বনিতে উচ্চ শব্দ রয়েছে।১০. সন্ধ্যার সময় বারিবর্ষণে সিক্ত সতেজ ভূমি … দর্শকের নিকট তার সৌন্দর্য প্রকাশ করেছে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
ذات العشاء: الساعة التي فيها العشاء.ومهلب: كأن له هلبا من هيدبه،والهيدب: الذي يتدلى ويدنو مثل هدب القطيفة.11 مُتَحَلِّبٌ تَهوي الجَنوبُ بِهِ … فَتَكادُ تَعدِلُهُ وَيَنجَفِلُمتحلب: يتحلب المطر، وينجفل: يتقلع.12 وَضَعَت لَدى الأَصناعِ ضاحِيَةً … فَوَهى السُيوبُ وَحُطَّتِ العِجَلُالأصناع: مكان. ضاحية: ظاهرة.السيوب: مجاري الماء واحدها سيب.والعجل: جمع عجلة وهي المزاد.13 فَسَقى اِمرِأَ القَيسِ بنِ عَمَرَةَ إِنَّ … الأَكرَمينَ لِذِكرِهِم نَبَلُ14 كَم طَعنَةٍ لَكَ غَيرِ طائِشَةٍ … ما إِن يَكونُ لِجُرحِها خَلَلُ15 فَطَعَنتَها وَضَرَبتَ ثانِيَةً … أُخرى وَتَنزِلُ إِن هُمُ نَزَلوا16 يَهَبُ المَخاضَ عَلى غَوارِبِها … زَبَدُ الفُحولِ مَعانُها بَقِلُمعانها: الموضع الذي ترى به.
এশার সময়: সেই সময় যাতে এশা সংঘটিত হয়।এবং মুহাল্লাব: যেন এর প্রান্তদেশ থেকে চুল ঝুলছে,আর হাইদাব: যা মখমলের ঝালরের ন্যায় ঝুলে থাকে এবং নিকটবর্তী হয়।১১ ক্ষরণশীল বৃষ্টি যা দক্ষিণ বায়ু বয়ে আনে … ফলে তা যেন সোজা হয়ে যায় এবং দ্রুত ধাবিত হয়।মুতাহাল্লিব: যখন বৃষ্টি ঝরে পড়ে, এবং ইয়ানজাফিল: যখন দ্রুত অপসারিত হয়।১২ এটি আসনা’ নামক স্থানে দিবালোকে বর্ষিত হলো … ফলে জলধারা প্রবাহিত হলো এবং মশকগুলো নামিয়ে রাখা হলো।আসনা’: একটি স্থানের নাম। দ্বাহিয়াহ: প্রকাশ্য বা দিবালোক।সুয়ুব: পানির প্রবাহপথ, এর একবচন হলো সীব।আজল: আজলাহ-এর বহুবচন, যার অর্থ পানির মশক।১৩ অতঃপর এটি ইমরুল কায়স বিন আমারাকে পান করালো, নিশ্চয়ই … সেই মহান ব্যক্তিদের স্মরণে রয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব।১৪ তোমার কতই না লক্ষ্যভেদী আঘাত রয়েছে … যার ক্ষতস্থানে কোনো শিথিলতা থাকে না।১৫ তুমি তাকে বিদ্ধ করলে এবং দ্বিতীয়বার আঘাত করলে … পুনরায়, এবং তারা অবতরণ করলে তুমিও অবতরণ করো।১৬ তিনি এমন গর্ভবতী উষ্ট্রী দান করেন যার কুঁজের ওপর … শক্তিশালী পুং-উটের ফেনা লেগে থাকে এবং যার বিচরণস্থল তৃণলতায় পূর্ণ।মা’আনুহা: সেই স্থান যেখানে তাকে দেখা যায়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
بقل: فيه بقل.قوله: زبد الفحول على غواربها أي: يقرعهاالفحول، وهي هوائج، فيبقى زبدها على غواربها.17 وَعِشارُها بَعدَ المَخاضِ وَقَد … صافَت وَعَمَّ رِباعَها النَفَلُالرباع: جمع ربع.يقول: يهب عشارها أحسن ما كانت 018 وَإِذا المُجَزِّىءُ حانَ مَشرَبُهُ … عِندَ المَصيفِ وَسَرَّهُ النَهَلُالمجزيء: الذي كان يجزأ إبله بالرطب إذا اشتد عليه الحر حان مشربه.19 رَشفُ الذِنابِ عَلى جَماجِمِها … ما إِن يَكونُ لِحَوضِها سَمَلُ
শাকসবজি: এতে শাকসবজি আছে।তাঁর উক্তি: পুরুষ উটের ফেনা তাদের কুঁজের ওপর। অর্থাৎ: কামোত্তেজিত পুরুষ উটগুলো যখন একে অপরকে প্রহার করে, তখন তাদের মুখের ফেনা কুঁজের ওপর লেগে থাকে।১৭. তাদের দশ মাসের গর্ভবতী উটগুলো প্রসবের পর, যখন সেগুলো গ্রীষ্মকাল পার করল এবং বসন্তকালীন উটশাবকগুলো দানে ভরে গেল …রিবা‘: এটি রুবু‘-এর বহুবচন।তিনি বলছেন: তিনি তার গর্ভবতী উটগুলোকে তাদের সর্বোত্তম অবস্থায় দান করেন।১৮. আর যখন সেই ব্যক্তির পান করার সময় উপস্থিত হলো যে কাঁচা ঘাস খাইয়ে উটের পানির অভাব পূরণ করত … গ্রীষ্মকালে, আর প্রথমবার পানি পান করানো তাকে আনন্দিত করল।আল-মুজজিই: যে ব্যক্তি প্রচণ্ড গরমের সময় তার উটগুলোকে কাঁচা ঘাস খাইয়ে পানির প্রয়োজন মিটিয়ে দেয়, তার পান করার সময় উপস্থিত হলো।১৯. তাদের মাথার খুলির ওপর থেকে শেষ অবশিষ্ট পানির ঢোক গেলা … যখন তাদের হাউজে সামান্য তলানিও অবশিষ্ট নেই।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
[11]وقال عمرو بن قميئة:المتقارب1 نَأَتكَ أُمامَةُ إِلّا سُؤالاً … وَإِلّا خَيالاً يُوافي خَيالا2 يُوافي مَع اللَيلِ ميعادُها … وَيَأبى مَعَ الصُبحِ إِلّا زِيالا3 فَذَلِكَ تَبذُلُ مِن وُدِّها … وَلَو شَهِدَت لَم تُواتِ النَوالا
[১১]এবং আমর ইবনে কামিয়াহ বলেন:আল-মুতাওয়ারিব ছন্দ১ উমামা তোমার থেকে বিমুখ হয়েছে কেবল সংবাদ জিজ্ঞাসা ব্যতীত … এবং এক কল্পনা ব্যতিরেকে যা অন্য এক কল্পনার সাথে মিলিত হয়।২ রাতের সাথে সাথে তার সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয় … আর প্রভাতের আগমনে তা প্রস্থান ছাড়া আর কিছুই করতে চায় না।৩ এটিই সে তার ভালোবাসা থেকে বিলিয়ে দেয় … অথচ সে উপস্থিত থাকলে এই দান প্রদানে অনুকূল হতো না।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
4 وَقَد ريعَ قَلبي إِذ أَعلَنوا … وَقيلَ أَجَدَّ الخَليطُ اِحتِمالا5 وَحَثَّ بِها الحادِيانِ النَجاءَ … مَعَ الصُبحِ لَمّا اِستَشاروا الجِمالا6 بَوازِلَ تُحدى بِأَحداجِها … وَيُحذَينَ بَعدَ نِعالٍ نِعالا7 فَلَمّا نَأَوا سَبَقَت عَبرَتي … وَأَذرَت لَها بَعدَ سَجلٍ سِجالا8 تَراها إِذا اِحتَثَّها الحادِيا … نِ بِالخَبتِ يُرقِلنَ سَيراً عِجالا9 فَبِالظِلِّ بُدِّلنَ بَعدَ الهَجيرِ … وَبَعدَ الحِجالِ أَلِفنَ الرِحالا10 وَفيهِنَّ خَولَةُ زَينُ النِسا … ءِ زادَت عَلى الناسِ طُرّاً جَمالا11 لَها عَينُ حَوراءَ في رَوضَةٍ … وَتَقرو مَعَ النَبتِ أَرطىً طِوالا12 وَتُجري السِواكَ عَلى بارِدٍ … يُخالُ السَيالَ وَلَيسَ السَيالا
4 আমার হৃদয় আতঙ্কিত হয়ে উঠল যখন তারা ঘোষণা করল … এবং বলা হলো যে সফরসঙ্গীরা প্রস্থানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।5 দুই উষ্ট্রচালক তাদের দ্রুত চলার জন্য তাগিদ দিচ্ছিল … যখন প্রত্যুষে তারা উটগুলোকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত করল।6 পূর্ণবয়স্ক উটগুলো তাদের হাওদাসহ চালিত হচ্ছে … এবং সেগুলোকে একের পর এক খুর-আবরণ পরানো হয়েছে।7 যখন তারা দূরে চলে গেল, আমার অশ্রু আমার পূর্বেই প্রবাহিত হলো … এবং বালতির পর বালতি প্লাবনের মতো ঝরতে লাগল।8 তুমি যখন দেখবে উষ্ট্রচালকদ্বয় তাদের তাগিদ দিচ্ছে … তখন তারা নিচু ভূমিতে দ্রুত গতিতে ধাবমান হয়।9 দ্বিপ্রহরের প্রচণ্ড উত্তাপের পরিবর্তে তারা ছায়া লাভ করল … আর অন্তঃপুরের পর্দার পরিবর্তে তারা উটের পিঠের জিনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠল।10 তাদের মাঝে রয়েছে খাওলা, যে নারীজাতির শ্রেষ্ঠ অলংকার … সে সৌন্দর্যে জগতের সকল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।11 তার চক্ষুদ্বয় যেন কোনো চারণভূমির প্রশস্ত নয়না হরিণীর মতো … যে তৃণলতার সাথে দীর্ঘ আরতা বৃক্ষের পাতা অন্বেষণ করে।12 সে তার শীতল দন্তরাজির ওপর মিসওয়াক চালনা করে … যা শুভ্রতায় সায়াল পুষ্পের ন্যায় মনে হয়, যদিও তা সায়াল নয়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ান আমর ইবনে কামিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
13 كَأَنَّ المُدامَ بُعَيدَ المَنامِ … عَلَيها وَتَسقيكَ عَذباً زُلالا14 كَأَنَّ الذَوائِبَ في فَرعِها … حِبالٌ تُوَصِّلُ فيها حِبالا15 وَوَجهٌ يَحارُ لَهُ الناظِرونَ … يَخالونَهُم قَد أَهَلّوا هِلالاأي كأنهم قد رأوا برؤية وجهها هلالا.16 إِلى كَفَلٍ مِثلِ دِعصِ النَقا … وَكَفٍّ تُقَلِّبُ بيضاً طِفالا17 فَبانَت وَما نِلتُ مِن وُدِّها … قِبالاً وَلا ما يُساوي قِبالا18 وَكَيفَ تَبُتّينَ حَبلَ الصَفا … ءِ مِن ماجِدٍ لا يُريدُ اِعتِزالا19 أَرادَ النَوالَ فَمَنَّيتِهِ … وَأَضحى الَّذي قُلتِ فيهِ ضَلالا20 فَتىً يَبتَني المَجدَ مِثلُ الحُسا … مِ أَخلَصَهُ القَينُ يَوماً صِقالاً21 يَقودُ الكُماةَ لِيَلقى الكُماةَ … يُنازِلُ ما إِن أَرادوا النِزالا22 تُشَبِّهُ فُرسانَهُم في اللِقاءِ … إِذا ما رَحى المَوتِ دارَت حِيالا
১৩ যেন ঘুমের অব্যবহিত পরে তার ওপরে সুরা ছিটানো হয়েছে … এবং সে তোমাকে সুপেয় স্বচ্ছ পানীয় পান করাচ্ছে।১৪ তার কেশগুচ্ছের বেণীগুলো যেন লম্বা শাখার মাঝে … এমন দড়ি যা অন্য দড়ির সাথে যুক্ত হয়েছে।১৫ এমন এক মুখমণ্ডল যার দর্শনে দর্শকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে … তারা মনে করে যেন তারা নতুন চাঁদ উদিত হতে দেখেছে।অর্থাৎ তারা যেন তার মুখমণ্ডল দেখার মাধ্যমে নতুন চাঁদ দেখেছে।১৬ শুভ্র বালুস্তূপের ন্যায় নিতম্বের দিকে … এবং এমন এক হাতের তালু যা কোমল শুভ্র আঙুলগুলো চালনা করে।১৭ সে বিদায় নিয়েছে অথচ আমি তার ভালোবাসা থেকে কিছুই পাইনি … জুতোর ফিতা বা তার সমমূল্যের কিছুই না।১৮ আর তুমি কীভাবে সেই মহৎ ব্যক্তির সাথে আন্তরিকতার রজ্জু ছিঁড়ে ফেললে … যে কখনো বিচ্ছেদ চায়নি?১৯ সে সান্নিধ্য চেয়েছিল এবং তুমি তাকে আশা দিয়েছিলে … কিন্তু তুমি যা বলেছিলে তা এখন ভ্রান্তিতে পর্যবসিত হয়েছে।২০ এমন এক যুবক যে সম্মান ও মর্যাদা গড়ে তোলে সেই তলোয়ারের মতো … যাকে কামার একদিন অতি নিপুণভাবে মার্জিত ও ধারালো করেছে।২১ সে বীর যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেয় অন্য বীরদের মোকাবিলা করতে … যখনই তারা যুদ্ধের আহ্বান জানায়, সে তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।২২ যুদ্ধের ময়দানে তাদের অশ্বারোহীদের অবস্থা এমনই মনে হয় … যখন মৃত্যুর যাঁতাকল তাদের সামনে ঘুরতে থাকে।