(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: -)
الإنباه فى ذكر القبائل الرواة - ت التركي   (ابن عبد البر)

القسم: الأنساب


الكتاب: الإنباه في ذكر قبائل الرواة

[مطبوع في صدر الجزء الأول من كتاب الاستيعاب]

المؤلف: أبو عمر يوسف بن عبد الله بن محمد بن عبد البر (ت 463 هـ)

المحقق: عبد الله بن عبد المحسن التركى

الناشر: مركز هجر للبحوث والدراسات العربية والإسلامية - مصر

الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م

عدد الصفحات: 176

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1446

বর্ণনাকারী গোত্রসমূহের আলোচনায় সতর্কতা - আল-তুর্কির সম্পাদনা   (ইবনে আব্দুল বার)

বিভাগ: বংশবিদ্যা


গ্রন্থ: আল-ইনবাহ ফি জিকরিল কাবায়িলির রুওয়াত (বর্ণনাকারী গোত্রসমূহের আলোচনায় সতর্কতা)

[আল-ইসতিআব গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের শুরুতে মুদ্রিত]

লেখক: আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আল-তুর্কি

প্রকাশক: হাজার সেন্টার ফর অ্যারাবিক অ্যান্ড ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ - মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الإنباه على قبائل الرواه [*]

--------------------------------------------

[*] تعليق الشاملة: هذا الكتاب مطبوع في صدر كتاب «الاستيعاب في معرفة الأصحاب» بتحقيق د عبد الله بن عبد المحسن التركي

 

وجاء في مقدمة التحقيق (ص 21):

«الإنباه على قبائل الرواه»، وهو مدخل لكتاب «الاستيعاب»، طُبع في مكتبة القدسي عام 1350 هـ مع كتاب «القصد والأمم»، ونشرته دار الكتاب العربي بتحقيق إبراهيم الأبياري عام 1985 م، قال المصنف عن كتاب «الإنباه»: «وقد ذكرنا أنساب القبائل من الرواة من قريش والأنصار وسائر العرب في كتاب «الإنباه على القبائل الرواة»، وجعلناه مدخل هذا الكتاب ليغنينا عن الرفع في الأنساب، ويعيننا على ما شرطناه من الاختصار والتقريب».

وقال -المصنف- أيضًا: «وهو مضاف إلى هذا الكتاب».

ولذلك أُلحق بتحقيق كتاب «الاستيعاب» وجعل تقدمة له.

 

وجاء في مقدمة التحقيق أيضا (ص 43):

وصف النسخ الخطية لكتاب «الإنباه»

1 - نسخة آيا صوفيا:

وهي النسخة الكاملة لكتاب «الإنباه» وتقع في إحدى عشرة لوحة من القطع الكبير، وقد قمنا بنسخها كاملة ووضعنا عليها فروق النسخ الأخرى، وسيأتي الكلام عن النسخة في وصف نسخ «الاستيعاب».

 

2 - نسخة حلب:

نسخة محفوظة في مكتبة الأسد الوطنية ضمن مجموع برقم 13581 تقع في 42 ورقة من القطع المتوسط ومسطرتها 26 سطرًا، كتبت بقلم نسخي جيد، دون سنة نسخ، أشير إليها بالرمز (ح).

على وجه الورقة الأولى منها «كتاب الإنباه في قبائل الرواة".

أولها: «بسم الله الرحمن الرحيم، اللهم صل على سيدنا محمد وسلم، قال الشيخ الإمام أبو عمر يوسف. . . .».

آخرها: «تم بحمد الله تعالى وحسن توفيقه».

 

3 - نسخة اسكوريال:

محفوظة برقم 1704، تقع في 51 ورقة من القطع المتوسط ومسطرتها 17 سطرًا، كتبت بقلم نسخي جيد دون سنة نسخ ولعلها كتبت في القرن الخامس أو السادس الهجري، وأشير إليها بالرمز (س)، وهي نسخة مقابلة عليها مقابلات وتصحيحات.

على وجه الورقة الأولى منها: "كتاب الإنباه في ذكر أصول القبائل الرواة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بما يضاف إلى ذلك من علم أصول الأنساب، وهو المدخل إلى كتاب الاستيعاب في معرفة الأصحاب رضي الله عنهم، تأليف الإمام أبي عمر يوسف بن عبد البر النمري، رحمه الله".

أولها: «بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله ذي القدرة والآلاء، والعظمة والكبرياء. . . . .».

وآخرها: «تم كتاب الإنباه، والحمد لله حق حمده، وصلى الله على سيدنا محمد نبيه وعبده، وعلى أهله وأصحابه من بعده».
বর্ণনাকারীদের গোত্রসমূহের পরিচয়[*]

--------------------------------------------

[*] শামিলাহ এর টীকা: এই বইটি ড. আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কীর সম্পাদনায় 'আল-ইস্তিআব ফি মারিফাতিল আসহাব' গ্রন্থের শুরুতে মুদ্রিত হয়েছে।

 

সম্পাদনার ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ২১) এসেছে:

‘আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত’, যা ‘আল-ইস্তিআব’ গ্রন্থের একটি প্রবেশিকা, ১৩৫০ হিজরিতে ‘আল-কাসদ ওয়াল আমাম’ গ্রন্থের সাথে মাকতাবাতুল কুদসিতে মুদ্রিত হয়েছে এবং ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম আল-আবিয়ারির সম্পাদনায় দারুল কিতাব আল-আরাবি এটি প্রকাশ করেছে। লেখক ‘আল-ইনবাহ’ গ্রন্থ সম্পর্কে বলেছেন: “আমরা ‘আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত’ গ্রন্থে কুরাইশ, আনসার এবং অবশিষ্ট আরবদের মধ্য থেকে বর্ণনাকারীদের বংশপরিচয় উল্লেখ করেছি এবং এটিকে এই গ্রন্থের প্রবেশিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি যাতে বংশপরিচয়ের পুনরুল্লেখ থেকে আমাদের বিমুখ রাখে এবং সংক্ষেপণ ও সহজীকরণের যে শর্ত আমরা দিয়েছিলাম তাতে আমাদের সহায়তা করে।”

লেখক আরও বলেছেন: “এটি এই গ্রন্থের সাথে সংযুক্ত।”

এই কারণে এটি ‘আল-ইস্তিআব’ গ্রন্থের সম্পাদনার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এর ভূমিকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

 

সম্পাদনার ভূমিকায় আরও (পৃষ্ঠা ৪৩) এসেছে:

‘আল-ইনবাহ’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহের বর্ণনা

১ - আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপি:

এটি ‘আল-ইনবাহ’ গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি এবং এটি বড় আকারের এগারোটি পত্রে অবস্থিত। আমরা এটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিলিপি করেছি এবং এতে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির পাঠভেদ উল্লেখ করেছি। পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ‘আল-ইস্তিআব’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি বর্ণনায় আসবে।

 

২ - আলেপ্পো পাণ্ডুলিপি:

আসাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ১৩৫৮১ নম্বর সংকলনের অধীনে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি। এটি মাঝারি আকারের ৪২টি পৃষ্ঠায় অবস্থিত এবং এর বিন্যাস ২৬ লাইনের। এটি সুন্দর নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে, লিপিকালের উল্লেখ নেই। এটিকে (হা) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা আছে: “বর্ণনাকারীদের গোত্রসমূহের পরিচয় বিষয়ক গ্রন্থ”।

এর শুরু: “পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। ইমাম আবু উমর ইউসুফ রহ. বলেন...”।

এর শেষ: “আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা এবং তাঁর সুন্দর তাওফিকের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো।”

 

৩ - এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপি:

১৭০৪ নম্বরে সংরক্ষিত, মাঝারি আকারের ৫১টি পৃষ্ঠায় অবস্থিত এবং এর বিন্যাস ১৭ লাইনের। এটি সুন্দর নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে, লিপিকালের উল্লেখ নেই; সম্ভবত এটি হিজরি পঞ্চম বা ষষ্ঠ শতাব্দীতে লেখা হয়েছিল। এটিকে (সিন) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি একটি পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপি যাতে পাঠ-পর্যালোচনা ও সংশোধন রয়েছে।

এর প্রথম পৃষ্ঠায় আছে: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনাকারী গোত্রসমূহের মূল পরিচয় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বংশবিদ্যার মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থ আল-ইনবাহ, যা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পরিচিতি বিষয়ক আল-ইস্তিআব গ্রন্থের প্রবেশিকা; ইমাম আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল বার আল-নামারি রাহিমাহুল্লাহ-এর রচনা।”

এর শুরু: “পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সক্ষমতা, নেয়ামত, মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী...”।

এবং এর শেষ: “আল-ইনবাহ গ্রন্থটি সমাপ্ত হলো। আল্লাহর জন্য তাঁর প্রাপ্য প্রশংসা, এবং আল্লাহ তাঁর নবী ও বান্দা আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরবর্তী তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।”
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

[وبه أستعينُ، وعليه توكُّلي

أخبَرنا الشيخُ الإمامُ الأديبُ أبو الفضلِ محمدُ بنُ بُنَيْمانَ بن يوسفَ بن أبي بكرٍ رحمه الله وأثابه الجنةَ قراءةً منِّي عليه في دارِه في شَوَّالٍ من سنةِ إحدى وسبْعين وخمسِمائةٍ، قلتُ له: أخبْرَكم الحافظُ أبو عبدِ اللهِ محمدُ بنُ أبي نَصْرٍ الحميديُّ رحمه الله فيما كَتَب إليك، قال: أخبرنا الشيخُ الجليلُ الحافظُ أبو عمرَ يوسفُ بنُ عبدِ اللهِ بن محمدِ بن عبدِ البرِ النَّمَريُّ إذنًا، قال الفقيهُ أبو عمرَ يوسفُ بنُ عبدِ اللهِ بن عبدِ البرِّ النَّمَرِيُّ](1):

الحَمدُ للهِ ذي القُدرَةِ والآلاءِ، والعَظَمَةِ والكبرياءِ، فاطرِ الأرضِ والسَّماءِ، الذي خلَقَنا من نفسٍ واحِدةٍ، وخَلَقَ مِنها زوجَهَا وَبَثَّ مِنهما رجالًا كثيرًا ونساءً، وجعَلَهم شُعوبًا وقبائلَ، وبايَنَ بينَهم بالفضائلِ، وتعبَّدَهم بالأقوالِ والأعمالِ؛ ليبلُوَهم أيكفُرونَ أم يشكُرُونَ؟ لا لحاجَةٍ إليهم، {إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [العنكبوت: 6].

وصلَّى الله علَى محمدٍ خاتَمِ النبيينَ(2)، أمَّا بعدُ:

--------------------------------------------

(1) ليس فيّ: س، وفي ح، م: "قال الشيخ الإمام أبو عمر يوسف بن عبد الله بن محمد بن عبد البر النمري رحمه الله".

(2) بعده في ح، س: "وعلى آله أجمعين".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

[এবং তাঁরই নিকট আমি সাহায্য প্রার্থনা করি ও তাঁরই ওপর আমার ভরসা।

শাইখ, ইমাম, সাহিত্যিক আবুল ফজল মুহাম্মাদ বিন বুনাইমান বিন ইউসুফ বিন আবু বকর (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন এবং জান্নাত দান করুন) পাঁচশত একাত্তর হিজরি সালের শাওয়াল মাসে তাঁর গৃহে আমার তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আমি তাঁকে বললাম: হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু নাসর আল-হুমাইদি (আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন) আপনার নিকট যা লিখেছেন তাতে কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বললেন: মহান শাইখ, হাফেজ আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বার আন-নামারি অনুমতিক্রমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ফকিহ আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল বার আন-নামারি বলেন](১):

সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সক্ষমতা ও নেয়ামতসমূহের অধিকারী, এবং মহত্ত্ব ও গরিমান্বিত, পৃথিবী ও আকাশের স্রষ্টা; যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা হতে এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন, আর তাঁদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং তাঁদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে পার্থক্য করে দিয়েছেন; এবং তিনি তাঁদের কথা ও কাজের মাধ্যমে ইবাদতে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তিনি তাঁদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, তাঁরা কি অকৃতজ্ঞ হয় নাকি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে? তাঁদের প্রতি কোনো মুখাপেক্ষিতার কারণে নয়, “নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগত থেকে অমুখাপেক্ষী” [আনকাবুত: ৬]।

এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদের ওপর(২), অতঃপর:

--------------------------------------------

(১) 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই, এবং 'হা' ও 'মীম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "শাইখ ইমাম আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বার আন-নামারি আল্লাহ তাঁকে রহমত করুন বলেছেন।"

(২) 'হা' ও 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে এর পরে রয়েছে: "এবং তাঁর সকল পরিবারের ওপর।"
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৬)
فإِنِّي ذكَرْتُ في كتابي هذا أُمَّهاتِ القبائلِ التي روَت عن رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وقرَّبْتُ ذلك واختصَرْتُه وبيَّنْتُه، وجعَلْتُه دليلًا علَى أصولِ الأنسابِ، ومَدخلًا إلى كتابي في مَعْرفةِ(1) الصَّحابةِ رضي الله عنهم؛ ليكونَ عونًا للناظِر فيه، ومُنَبِّهًا على ما يُحتاجُ إليه من معرفةِ الأنسابِ، فإنَّه علمٌ لا يليقُ جهلُه بذوِي(2) الهِممِ والآدابِ؛ لمَا فيه مِن صلَةِ الأرحامِ، والوقوفِ إلَى(3) ما ندَبَ إليه النبيُّ صلى الله عليه وسلم بقولِه(4) صلى الله عليه وسلم: "تعلَّمُوا مِن أنسابِكم ما تصِلُونَ به أرحامَكم".

روَى أَنسُ بنُ عياضٍ، عن عبدِ المَلِكِ بن عيسَى الثَّقفيِّ، عن عبدِ اللهِ بن يزيدَ مولَى المُنبعِثِ، عن أبي هريرةَ، عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قالَ: "تعلَّمُوا مِن أنسابِكم ما تصِلُونَ به أرحامَكم؛ فإِنَّ صِلَةَ الرَّحِم محبَّةٌ في الأهلِ، مَثراةٌ(5) في المالِ، مَنسأةٌ في الأجَلِ"(6).

وقالَ عمرُ بنُ الخطَّابِ رضي الله عنه: تعلَّمُوا(7) أنسابَكم؛ تصِلُوا بها(8)

--------------------------------------------

(1) سقط من: ح، س.

(2) في س: "بذي".

(3) في ح، س، م: "على"، والمثبت من: ص، وصحح فوقها.

(4) في س: "لقوله".

(5) مثراة، مفعلة من الثراء: الكثرة، النهاية 1/ 210.

(6) أخرجه البغوي في شرح السنة (3430) من طريق أنس بن عياض به، وأخرجه أحمد 14/ 456 (8868)، والترمذيّ (1979)، والبزار (8220)، وابن أبي الدنيا في مكارم الأخلاق (252)، والحاكم 4/ 161 من طريق عبد الملك بن عيسى به.

(7) بعده في س: "من".

(8) سقط من: ح، س، م.
নিশ্চয়ই আমি আমার এই গ্রন্থে সেই প্রধান গোত্রগুলোর কথা উল্লেখ করেছি যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি বিষয়টিকে নিকটবর্তী, সংক্ষিপ্ত ও সুস্পষ্ট করেছি এবং একে বংশবিদ্যার মূলনীতির প্রমাণস্বরূপ ও সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে জানার বিষয়ে আমার গ্রন্থের প্রবেশিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি; যেন এটি পাঠকারীর জন্য সহায়ক হয় এবং বংশবিদ্যার প্রয়োজনীয় জ্ঞানের ব্যাপারে সতর্ককারী হয়। কেননা এটি এমন এক বিদ্যা যার অজ্ঞতা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও শিষ্টাচারী ব্যক্তিদের জন্য শোভনীয় নয়; কারণ এতে রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে যেদিকে উৎসাহিত করেছেন তা অনুধাবন করা: "তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে ততটুকু জ্ঞান অর্জন করো যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে।"

আনাস বিন আইয়াজ বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন ঈসা আস-সাকাফী থেকে, তিনি আল-মুনবাইস-এর মুক্তদাস আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে ততটুকু জ্ঞান অর্জন করো যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে; কারণ আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা পরিবারে ভালোবাসা বৃদ্ধি করে, সম্পদে প্রাচুর্য আনে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।"(৬)।

আর উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: তোমরা তোমাদের বংশপরিচয় শিক্ষা করো; এর মাধ্যমে তোমরা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে পারবে(৮)

--------------------------------------------

(১) 'হা' ও 'সিন' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "বিযি"।

(৩) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আলা", আর যা মূল পাঠে রাখা হয়েছে তা 'সদ' পাণ্ডুলিপি থেকে এবং তার উপরে সংশোধন করা হয়েছে।

(৪) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "লি-কাওলিহি"।

(৫) মাসরাহ, এটি সরাহ থেকে মাফআলাহ এর ওজনে: যার অর্থ প্রাচুর্য, আন-নিহায়া ১/২১০।

(৬) এটি ইমাম বাগাওয়ী 'শারহুস সুন্নাহ' (৩৪৩৩) গ্রন্থে আনাস ইবনে আইয়াজের সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইমাম আহমাদ ১৪/৪৫৬ (৮৮৬৮), তিরমিযী (১৯৭৯), বাযযার (৮২২০), ইবনে আবিদ দুনিয়া 'মাকারিমুল আখলাক' (২৫২) এবং হাকেম ৪/১৬১ গ্রন্থে আব্দুল মালিক বিন ঈসার সূত্র ধরে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৭) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে এরপরে "মিন" শব্দ রয়েছে।

(৮) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৭)
أرحامَكم، ولا تكونُوا كنَبَطِ السَّوادِ إذا سُئل أحَدُهم: مِمَّن أنت؟ قالَ: من قريةِ كذا، فواللهِ إنَّه لَيكونُ بينَ الرَّجُلِ وبينَ أخيهِ الشيءُ، لو يعلَمُ الذي بينَه وبينَه مِن دُخْلَةِ الرَّحِمِ(1) لوزَعَه(2) ذلك منِ(3) انتهاكِه(4).

ولعمرِي ما أنصَفَ القائلُ: إِنَّ عِلمَ النَّسَبِ علمٌ لا يَنفَعُ، وجَهالةٌ لا تضُرُّ؛ لأنَّه بيِّنٌ نفعُه؛ لِما قدَّمْنا ذِكرَه، ولما [يُرْوَى عن النبيِّ](5) صلى الله عليه وسلم أنَّه قالَ: "كُفرٌ باللهِ تبرُّؤٌ مِن نَسَبٍ وإِن دَقَّ، وكفرٌ باللهِ ادِّعاءٌ إلى نَسَبٍ لا يُعرَفُ"(6)، ورُوِيَ عن أبي بكرٍ الصِّديقِ رضي الله عنه مِثلُه(7)، وقالَ صلى الله عليه وسلم: "مَن ادَّعَى إلى غيرِ أبيهِ، أو انتمَى إلى غيرِ مَواليه، فعلَيه لعنةُ اللهِ والملائكةِ والنَّاسِ أجمَعينَ، لا يقبَلُ اللهُ مِنه صَرفًا ولا عَدلًا"(8).

--------------------------------------------

(1) في ص: "النسب"، ودخلة الرحم: يريد الخاصة والقرابة، وتضم الدال وتكسر، النهاية 2/ 108.

(2) في م: "لردعه".

(3) في ح، س، م: "عن".

(4) الأدب المفرد (72)، ومسند الشاميين (3202).

(5) في ح، س: "يروى عن رسول الله"، وفي م: "روي عن النبيّ".

(6) أخرجه أحمد 11/ 592 (7019)، وابن ماجه (2744)، والطبراني في المعجم الصغير (1072) من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما.

(7) أخرجه الدارمي (2905)، والحارث بن أبي أسامة (25 بغية)، والبزار (70)، والمروزي في مسند أبي بكر (90)، والطبراني في المعجم الأوسط (2818، 8575)، وفي الدعاء (2143) مرفوعًا، وأخرجه ابن وهب في جامعه (20)، وعبد الرزاق (16315)، وابن أبي شيبة (26512)، والدارمي (2903)، وابن المقرئ في معجمه (579) موقوفًا.

(8) الصرف: التوبة، وقيل: النافلة، والعدل: الفدية، وقيل: الفريضة، النهاية 3/ 24. =
...আপনাদের আত্মীয়তার বন্ধনসমূহ; আর তোমরা নাবাতুস সাওয়াদের (ইরাকের অনারব কৃষক) মতো হয়ো না, যাদের কাউকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়: "আপনি কার বংশের?" সে বলে: "আমি অমুক গ্রামের।" আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই একজন ব্যক্তি এবং তার ভাইয়ের মাঝে এমন কিছু ঘটে, যদি সে তাদের মধ্যকার আত্মীয়তার ঘনিষ্ঠতা(১) সম্পর্কে জানত, তবে তা তাকে অন্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করা(৪) থেকে(৩) বিরত রাখত(২)।

আমার জীবনের কসম! সেই বক্তা ইনসাফ করেনি যে বলে: "বংশবিদ্যার জ্ঞান এমন জ্ঞান যা কোনো উপকারে আসে না, আর এর অজ্ঞতা কোনো ক্ষতি করে না।" কারণ এর উপকারিতা সুস্পষ্ট; যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং যেহেতু [নবী থেকে বর্ণিত হয়েছে](৫) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহর সাথে কুফরি হলো বংশপরিচয় অস্বীকার করা যদিও তা সূক্ষ্ম (দূরবর্তী) হয়, আর আল্লাহর সাথে কুফরি হলো এমন বংশের দাবি করা যা পরিচিত নয়"(৬)। আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে(৭)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, অথবা নিজের প্রকৃত অভিভাবক ছাড়া অন্য কারো প্রতি নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত করে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না"(৮)।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি 'সাদ'-এ রয়েছে: "বংশপরিচয়", আর 'দাখলাতুর রাহিম' বলতে ঘনিষ্ঠতা ও আত্মীয়তা বোঝানো হয়েছে, এটি 'দাল' বর্ণে পেশ অথবা যের যোগে পড়া যায়, আন-নিহায়া ২/১০৮।

(২) পাণ্ডুলিপি 'মিম'-এ রয়েছে: "তাকে ফিরিয়ে রাখত"।

(৩) পাণ্ডুলিপি 'হা', 'সিন' ও 'মিম'-এ রয়েছে: "থেকে"।

(৪) আল-আদাবুল মুফরাদ (৭২), এবং মুসনাদুশ শামিয়্যিন (৩২০২)।

(৫) পাণ্ডুলিপি 'হা' ও 'সিন'-এ রয়েছে: "আল্লাহর রাসূল থেকে বর্ণিত", এবং 'মিম'-এ রয়েছে: "নবী থেকে বর্ণিত"।

(৬) আহমদ ১১/৫৯২ (৭০১৯), ইবনে মাজাহ (২৭৪৪), এবং তাবারানি আল-মু'জামুস সাগির (১০৭২)-এ আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৭) দারিমি (২৯০৫), আল-হারিস বিন আবি উসামাহ (২৫ বুগইয়াহ), বাজার (৭০), মারওয়াজি মুসনাদে আবু বকর (৯০), তাবারানি আল-মু'জামুল আওসাত (২৮১৮, ৮৫৭৫), এবং আদ-দুআ (২১৪৩)-তে মারফু (রাসূলের বাণী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে ওয়াহাব তাঁর জামে-তে (২০), আবদুর রাজ্জাক (১৬৩১৫), ইবনে আবি শাইবাহ (২৬৫১২), দারিমি (২৯০৩), ইবনে মুকরি তাঁর মু'জামে (৫৭৯) মাওকুফ (সাহাবীর বাণী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(৮) সারফ: তওবা, মতান্তরে: নফল ইবাদত; আদল: বিনিময় বা মুক্তিপণ, মতান্তরে: ফরজ ইবাদত, আন-নিহায়া ৩/২৪। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৮)
ولو كانَ لا منفعةَ فيه لما اشتغَلَ العُلماءُ به، فهذا أبو بكرٍ الصِّديقُ رضي الله عنه، كانَ أعلَمَ الناسِ بالنَّسبِ(1)، وكذلك جُبيرُ بنُ مُطْعِمٍ، وابنُ عباسٍ [بذلك مِن أعلَمِ الناسِ](2).

وهو علمُ العَربِ الذي به كانوا يتفاضَلُون، وإليه ينتسبُون(3)، وقد ذكَرَ ابن وهبٍ، عن مالكِ بن أنسٍ، أنَّه قالَ: كانَ ابْنُ شِهَابٍ مِن أَعلَمٍ الناسِ بالأنسابِ، وكانَ أَخَذَ ذلك مِن عبدِ اللهِ ثَعْلَبَةَ بن بن صُعَيرٍ وغيرِه، قالَ: فبينا هو يومًا جالسٌ عندَ عبدِ اللهِ بن ثَعلَبةَ يتعلَّمُ مِنه الأنساب، إذ سأله عن شيءٍ مِنَ الفقه، فقال له: إن كنتَ تُريدُ هذا الشأنَ فعلَيك بهذا الشيخِ، يعنِي سعيدَ بنَ المُسيَّبِ(4).

قالَ: وسمِعْتُ مالكًا يقولُ: لم يكُنْ معَ ابن شِهابٍ كتابٌ إِلَّا كتابٌ فيه نسَبُ قومِه، يعنِي قُريشًا(5).

وقد رُوِيَ عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الوجوه الصِّحاحِ ما يدُلُّ علَى علمِه

--------------------------------------------

= والحديث أخرجه أحمد 2/ 51 (615)، ومسلم 2/ 994 (1370/ 467)، والترمذي (2127) من حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه.

(1) بعده في ح، م، س: "نسب قريش وسائر العرب".

(2) في ح، س، م: "وعقيل بن أبي طالب من أعلم الناس بذلك".

(3) في س: "ينتصبون".

(4) أخرجه البخاري في التاريخ الأوسط (43)، ويعقوب الفسوي في المعرفة والتاريخ 1/ 359، 472 من طريق ابن وهب به.

(5) جامع بيان العلم وفضله للمصنف (342).
যদি এতে কোনো উপকার না থাকত, তবে আলেমগণ এটি নিয়ে ব্যস্ত হতেন না। এই যে আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বংশবিদ্যা বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন(১)। অনুরূপভাবে জুবায়ের বিন মুতঈম এবং ইবনে আব্বাসও [এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে অধিক জ্ঞানী ছিলেন](২)।

এটি আরবদের এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে তারা একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করত এবং এর মাধ্যমেই তারা বংশীয় পরিচয় প্রদান করত(৩)। ইবনে ওয়াহাব ইমাম মালেক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ইবনে শিহাব (যুহরী) বংশবিদ্যা বিষয়ে মানুষের মধ্যে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। তিনি এই বিদ্যা আব্দুল্লাহ বিন সা'লাবা বিন সুআইর ও অন্যদের থেকে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন: একদিন তিনি আব্দুল্লাহ বিন সা'লাবার নিকট বসে বংশবিদ্যা শিখছিলেন, এমন সময় তিনি তাকে ফিকহ্ শাস্ত্রের কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি যদি এই শাস্ত্রটি অর্জন করতে চাও, তবে এই শায়খের নিকট যাও; অর্থাৎ সাঈদ ইবনে মুসাইয়িবের কাছে(৪)।

তিনি বলেন: আমি মালেককে বলতে শুনেছি: ইবনে শিহাবের নিকট তার কওম অর্থাৎ কুরাইশ বংশের নসবনামা সম্বলিত একটি কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব ছিল না(৫)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যা তাঁর এ বিষয়ক জ্ঞানের প্রমাণ দেয়।

--------------------------------------------

= হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২/৫১ (৬১৫), মুসলিম ২/৯৯৪ (১৩৭০/৪৬৭) এবং তিরমিযী (২১২৭); যা আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

(১) হ, ম এবং স পাণ্ডুলিপিতে এরপর রয়েছে: "কুরাইশ ও অন্যান্য আরবদের বংশবিদ্যা"।

(২) হ, স এবং ম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং আকীল ইবনে আবী তালিব এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে অধিক জ্ঞানী ছিলেন"।

(৩) স পাণ্ডুলিপিতে "য়ান্তাসিবুন" (বানানভেদে) রয়েছে।

(৪) ইমাম বুখারী এটি 'আত-তারীখুল আওসাত' (৪৩) গ্রন্থে এবং ইয়াকুব আল-ফাসাবী 'আল-মা'রিফাতু ওয়াত-তারীখ' ১/৩৫৯, ৪৭২ গ্রন্থে ইবনে ওয়াহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৫) গ্রন্থকারের 'জামে বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' (৩৪২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৯)
بأنسابِ العَربِ، مِنها [ما روَاه معمرٌ وغيرُه، عن أيوبَ، عن ابن سيرينَ، عن أبي هريرةَ، قال: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: "أسلمُ وغِفارٌ وشيءٌ من جهينةَ ومُزينةَ خيرٌ عندَ الله تعالى يومَ القِيامةِ مِن تميم وأسدٍ وخُزيمةَ وهَوازِنَ وعَطَفَانَ"(1)، والآثارُ في مثلِ ذلك عنه كثيرةٌ](2).

أخبَرَنا عبدُ [الوارثِ بنُ سفيانَ](3)، قال: حدّثنا قاسمُ بنُ أصبغَ، قالَ: حدثنا أحمدُ بنُ زُهيرٍ، قالَ: حدّثنا منصورُ بنُ أبي مُزاحِمٍ، قالَ: حدّثنا أبو بكرِ بنُ عيَّاشٍ، عن أبي حَصِينٍ، عن سعيدِ بن جُبَيرٍ، عن ابن عباسٍ في قولِه عز وجل: {وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ} [الحجرات: 13]، قالَ: الشعوبُ البُطُونُ الجُمّاعُ(4)، والقبائلُ الأفخاذُ(5).

قالَ أحمدُ بنُ زُهَيْرٍ(6): وحدَّثنا(7) محمدُ بنُ بكَّارٍ، قالَ: حدّثنا أبو

--------------------------------------------

(1) جامع معمر (19877) ومن طريقه أحمد 15/ 262 (9442)، والبغوي في شرح السنة (3855).

(2) في ح، س، م: "الحديث الذي قدمناه في هذا الباب وغيره".

(3) في ح، م: "الوهاب".

(4) الجماع: مجتمع أصل كل شيء؛ أراد منشأ النسب وأصل المولد، وقيل: أراد به الفرق المختلفة من الناس، النهاية 1/ 295.

(5) تاريخ ابن أبي خيثمة 1/ 54، 2/ 711 دون: الجُمّاع، وأخرجه البخاري (3489)، وابن جرير في تفسيره 21/ 384، وعند البخاريّ بلفظ: "الشعوب القبائل العظام، والقبائل البطون".

(6) تاريخ ابن أبي خيثمة 2/ 712، وعزاه السيوطي في الدر المنثور 14/ 694 إلى ابن المنذر.

(7) في م: "وأما".
আরবদের বংশপরম্পরা সম্পর্কে, তার মধ্যে [মা'মার ও অন্যরা আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আসলাম, গিফার এবং জুহাইনা ও মুজাইনার কিছু লোক কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর কাছে তামীম, আসাদ, খুজাইমা, হাওয়াজিন এবং গাতাফানের চেয়ে উত্তম"(১), এবং এই বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত আসার (বর্ণনা) অনেক](২)।

আবদুল [ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান](৩) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাসিম ইবনে আসবাগ, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে জুহাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মানসুর ইবনে আবু মুজাহিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হাসীন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {এবং আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি} [আল-হুজুরাত: ১৩], তিনি বলেন: 'শুউব' (জাতি) হলো বংশের সম্মিলিত মূল ধারা(৪), আর 'কাবাইল' (গোত্র) হলো উপশাখা বা ক্ষুদ্রতর গোষ্ঠী(৫)।

আহমদ ইবনে জুহাইর(৬) বলেছেন: এবং আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন(৭) মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু

--------------------------------------------

(১) জামে মা'মার (১৯৮৭৭) এবং তাঁর সূত্রে আহমদ ১৫/ ২৬২ (৯৪৪২), এবং বাগাভী 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে (৩৮৫৫)।

(২) পাণ্ডুলিপি হা, সিন, মিম-এ রয়েছে: "আমরা এই অনুচ্ছেদে এবং অন্যগুলোতে যে হাদীসটি আগে পেশ করেছি"।

(৩) পাণ্ডুলিপি হা, মিম-এ রয়েছে: "আল-ওয়াহহাব"।

(৪) আল-জুম্মা: প্রতিটি জিনিসের মূল মিলনস্থল; তিনি এর দ্বারা বংশের উৎস ও জন্মের মূল বুঝিয়েছেন, আবার বলা হয়েছে: এর দ্বারা মানুষের বিভিন্ন দল বুঝানো হয়েছে, আন-নিহায়া ১/ ২৯৫।

(৫) তারিখ ইবনে আবি খাইসামা ১/ ৫৪, ২/ ৭১১, 'আল-জুম্মা' শব্দ ব্যতীত; ইমাম বুখারী (৩৪৮৯) এবং ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে ২১/ ৩৮৪-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী শব্দগুলো হলো: "শুউব হলো বড় গোত্রসমূহ, আর কাবাইল হলো উপশাখা বা ছোট গোত্র"।

(৬) তারিখ ইবনে আবি খাইসামা ২/ ৭১২, সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' ১৪/ ৬৯৪-এ একে ইবনে মুনজিরের দিকে নিসবত করেছেন।

(৭) পাণ্ডুলিপি মিম-এ রয়েছে: "আর যা"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১০)
مَعشَرٍ، عن محمدِ بن كَعبٍ(1): {وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ} [المعارج: 13] قال(2): قبيلَتُه التي يُنسَبُ إليها.

قالَ(3): وَحدَّثنا منصورُ بنُ أبي مُزاحِمٍ ويحيَى بْنُ مَعِينٍ، قالا: حدَّثنا سُفيانُ بنُ عُيَيْنَةَ، عن ابن أبي نَجيحٍ، عن مُجاهدٍ(4): {وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ} [الزخرف: 44]، قالَ: يُقالُ: مِمَّن الرَّجُلُ؟ فيُقال: مِنَ العَربِ، فيُقالُ: مِن أيِّ العَربِ؟ فيُقالُ: مِن قُرَيشٍ.

وأخبَرَنا عبدُ الوارثِ بنُ سُفيانَ، قالَ: حدّثنا قاسمُ بنُ أصبَغَ، قالَ: حدَّثنا محمدُ بنُ عبدِ السلام الخُشَنِيُّ، قالَ: حدَّثنا نصرُ بنُ علِيٍّ الجَهِضَمِيُّ، قال: حدَّثنا الأصمَعِيُّ، قالَ: حدَّثنا [إسحاقُ بنُ](5) يحيَى بن طلحةَ، قال: جئْتُ سعيدَ بنَ المُسيَّبِ، فسلَّمْتُ عليه فرَدَّ عليَّ، فقلْتُ: علِّمْنِي النَّسَب، فقالَ: أنت تُريدُ أن تُسابَّ الناسَ، ثمَّ قالَ لي: مَن أنت؟ فقلتُ: أنا ابن(6) يحيَى بن طلحةَ، فضمَّنِي إليه، وقالَ:

--------------------------------------------

(1) بعده في ح، س، م: "في قول الله تعالى".

(2) سقط من: ح، س، م.

(3) تاريخ ابن أبي خيثمة 2/ 714، وأخرجه الشافعي في الرسالة 1/ 13، وعبد الرزاق في تفسيره 2/ 199، وابن أبي شيبة (32222)، وابن جرير في تفسيره 20/ 603، وأبو نعيم في حلية الأولياء 9/ 65، والبيهقي في الشعب (1395) من طريق سفيان بن عيينة به، وعزاه السيوطي في الدر المنثور 13/ 212 إلى عبد بن حميد وابن المنذر وابن أبي حاتم.

(4) بعده في ح، س، م: "في".

(5) سقط من: ح، س، م.

(6) سقط من: م.
মা'শার থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনে কাব(১) থেকে: {এবং তার গোষ্ঠী যারা তাকে আশ্রয় দান করত} [আল-মাআরিজ: ১৩] তিনি বলেন(২): তার সেই গোত্র যার সাথে তাকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন(৩): মানসুর ইবনে আবি মুজাহিম এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ(৪) থেকে: {আর এটি অবশ্যই আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য এক উপদেশ ও মর্যাদা} [আজ-জুখরুফ: ৪৪], তিনি বলেন: বলা হয়: লোকটি কোত্থেকে? তখন বলা হয়: আরব থেকে। তারপর বলা হয়: আরবদের কোন গোত্র থেকে? তখন বলা হয়: কুরাইশ থেকে।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে আসবাগ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুস সালাম আল-খুশানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসর ইবনে আলি আল-জাহদামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসমায়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [ইসহাক ইবনে](৫) ইয়াহইয়া ইবনে তালহা, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়্যিবের নিকট আসলাম এবং তাকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন। আমি বললাম: আমাকে বংশবিদ্যা শিক্ষা দিন। তখন তিনি বললেন: তুমি তো মানুষকে গালিগালাজ করতে চাও। তারপর তিনি আমাকে বললেন: তুমি কে? আমি বললাম: আমি(৬) ইয়াহইয়া ইবনে তালহার পুত্র। তখন তিনি আমাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলেন এবং বললেন:

--------------------------------------------

(১) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে এর পরে রয়েছে: "আল্লাহ তাআলার বাণীতে"।

(২) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) তারিখ ইবনে আবি খাইসামাহ ২/৭১৪; শাফেয়ী এটি 'আল-রিসালাহ' ১/১৩-এ বর্ণনা করেছেন; এবং আব্দুর রাজ্জাক তাঁর তাফসিরে ২/১৯৯-এ; ইবনে আবি শাইবাহ (৩২২২২); ইবনে জারির তাঁর তাফসিরে ২০/৬০৩-এ; আবু নুয়াইম 'হিলয়াতুল আউলিয়া' ৯/৬৫-এ; বাইহাকি 'আশ-শুয়াব' (১৩৯৫)-এ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; এবং সুয়ুতী 'আদ-দুররুল মানসুর' ১৩/২১২-এ এটিকে আবদ বিন হুমাইদ, ইবনুল মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিমের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

(৪) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে এর পরে রয়েছে: "বিষয়ে"।

(৫) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৬) 'মিম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১১)
ائتِ محمدًا ابني؛ فإنَّ عنده ما عندي، إنَّما هي شعوبٌ وقبائلُ وبطونٌ وعمائرُ وأفخاذٌ وفصائلُ(1).

وقال(2) الخَليلُ(3): العِمارةُ أكثرُ(4) مِنَ القَبيلة، قال(5): والفَصيلةُ فخِذُ الرَّجُلِ وقومُه.

وَقالَ المُفسِّرونَ في قولِ اللهِ تعالى: {وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ}: عشيرَتُه الأدْنَونَ(6).

وقالَ أهلُ النَّسب: الشعوبُ الجماهيرُ والجراثيمُ التي تفرَّقَت منها العَربُ، ثمَّ تفرَّقَتِ القبائلُ مِنَ الشعوب، ثمَّ تفرَّقَتِ العمائرُ مِنَ القبائل، ثمَّ تفرَّقَتِ البطونُ مِنَ العمائر، ثمَّ تفرَّقَتِ الأفخاذُ مِنَ البطونِ، ثمَّ تفرَّقَتِ الفصائلُ مِنَ الأفخاذِ، وليس دونَ الفصائلِ شيءٌ.

فصيلةُ الرَّجُل: رَهْطُه الأدنَى وبنو أبيهِ، وقد قيلَ: بعدَ الفصيلة العشيرةُ، وليس بعدَ العشيرةِ شيءٌ، فهي عندَهم شعوبٌ وقبائلُ، ثمَّ ما

--------------------------------------------

(1) ذكره الجاحظ في البيان والتبيين 1/ 304 مختصرًا عن إسحاق بن يحيى بن طلحة، قال: قلت لسعيد بن المسيب: علمني النسب، قال: أنت رجل تريد أن تساب الناس، وذكره البريّ في الجوهرة في نسب النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه العشرة 1/ 85 عن محمد بن عبد السلام الخشني به.

(2) في ح، س، م: "وقال أبو عمر، قال".

(3) العين 2/ 137.

(4) في ح، س، م: "أكبر".

(5) العين 7/ 126.

(6) التفسير البسيط 22/ 217، والكشاف 4/ 158، وتقدم الصفحة السابقة.
আমার পুত্র মুহাম্মাদের কাছে যাও; কেননা আমার কাছে যা আছে তা তার কাছেও আছে। এগুলো কেবল শুয়ুব (বৃহৎ জাতি), কাবাইল (গোত্র), বুতুন (বংশ), আমাঈর (উপ-গোত্র), আফখাজ (শাখা-গোত্র) এবং ফাসাইল (নিকটতম আত্মীয়-পরিজন)(১)।

এবং আল-খলীল(৩) বলেছেন(২): 'ইমারাহ' হলো 'কবিলা' (গোত্র) অপেক্ষা বড়(৪)। তিনি আরও বলেছেন(৫): 'ফাসিলা' হলো কোনো ব্যক্তির নিকটতম আত্মীয় (ফখিজ) এবং তার সম্প্রদায়।

মুফাসসিরগণ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তার স্বগোত্র যারা তাকে আশ্রয় দান করত} এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: তার নিকটতম আত্মীয়-পরিজন(৬)।

বংশবিদগণ বলেন: 'শুয়ুব' হলো সেই বিশাল জনগোষ্ঠী এবং মূল শেকড় যেখান থেকে আরবদের বিস্তৃতি ঘটেছে। অতঃপর শুয়ুব থেকে কাবাইল (গোত্রসমূহ) পৃথক হয়েছে। এরপর কাবাইল থেকে আমাঈর (উপ-গোত্রসমূহ) পৃথক হয়েছে। এরপর আমাঈর থেকে বুতুন (বংশসমূহ) পৃথক হয়েছে। এরপর বুতুন থেকে আফখাজ (শাখা-গোত্রসমূহ) পৃথক হয়েছে। এরপর আফখাজ থেকে ফাসাইল (নিকটতম আত্মীয়-পরিজন) পৃথক হয়েছে। আর ফাসাইলের নিচে আর কোনো স্তর নেই।

কোনো ব্যক্তির ফাসিলা হলো: তার নিকটতম আত্মীয় এবং তার পিতৃগোষ্ঠী। কেউ কেউ বলেছেন: ফাসিলার পরে হলো 'আশিরা' (গোষ্ঠী), আর আশিরার পরে আর কিছু নেই। সুতরাং তাদের নিকট এগুলো হলো শুয়ুব ও কাবাইল, অতঃপর যা...

--------------------------------------------

(১) আল-জাহিয একে 'আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ীন' ১/৩০৪-এ ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে তালহা থেকে সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে বললাম: আমাকে বংশবিদ্যা শেখান। তিনি বললেন: তুমি এমন একজন লোক যে মানুষের সাথে বংশ নিয়ে বিবাদ করতে চাও। আল-বেরী একে 'আল-জাওহারা ফী নাসাবিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া আসহাবিহিল আশারা' ১/৮৫-এ মুহাম্মদ ইবনে আবদুস সালাম আল-খুশানি থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) 'হা', 'সিন', 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং আবু উমর বলেছেন, তিনি বলেছেন"।

(৩) আল-আইন ২/১৩৭।

(৪) 'হা', 'সিন', 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "বৃহত্তর"।

(৫) আল-আইন ৭/১২৬।

(৬) আত-তাফসিরুল বাসিত ২২/২১৭, এবং আল-কাশশাফ ৪/১৫৮, এবং এটি পূর্ববর্তী পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১২)
دونَ القبائلِ عمائرُ وبطونٌ، ثمَّ ما دونَ البطونِ أفخاذٌ وفصائلُ(1).

وفي قولِ اللهِ تعالى: {شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا} [الحجرات: 13]، دليلٌ واضحٌ على تعلُّمِ الأنسابِ، واللهُ الموِّفقُ للصواب.

 

قالَ أبو عمرَ: هذا كتابٌ أخذْتُه مِن أُمَّهاتِ كتُبِ أهلِ(2) العلمِ بالنَّسَبِ وأيام العَربِ بعدَ مُطالَعتِي لها، ووقوفي على أغراضِها، فمِن ذلك: كتابُ أبي بكرٍ محمدِ بنِ إسحاقَ(3)، وكتابُ أبي المُنذِرِ هشام ابن محمدِ بنِ السَّائبِ الكَلبِيِّ(4)، وكتابُ أبي عُبيدَةَ مَعْمَرِ بن المُثَنَّى(5)، وكتابُ محمدِ بنِ عَبْدة بنِ سُليمانَ(6)، وكتابُ محمدِ بنِ حبيبٍ(7)، وكتابُ أبي عبدِ اللهِ أحمدَ بنِ محمدِ بنِ حُميدٍ(8) العَدَويِّ في نسَبِ قُريشٍ، وكتابُ الزُّبير بن بكَّارٍ(9) في نسَبِ قُريشٍ، وكتابُ

--------------------------------------------

(1) في م: "قبائل".

(2) سقط من: م.

(3) ستأتي ترجمته في الاستيعاب ص 40.

(4) ستأتي ترجمته في الاستيعاب ص 74.

(5) ستأتي ترجمته في الاستيعاب ص 308.

(6) محمد بن عبدة واسمه عبد الرحمن بن سليمان بن حاجب العبدي، يكنى أبا بكر، وهو أحد النسابين الثقات، حسن المعرفة بالمآثر والمثالب والأخبار وأيام العرب، له كتاب "النسب الكبير" يشتمل على نسب عدنان وقحطان، و"مختصر أسماء القبائل"، وغيرهما، مات قبل الثلاثمائة، الوافي بالوفيات 3/ 190.

(7) ستأتي ترجمته في الاستيعاب ص 63.

(8) في ح، س، م: "عبيد"، وستأتي ترجمته في الاستيعاب في 2/ 121.

(9) ستأتي ترجمته في الاستيعاب ص 43.
কাবিলাহ (গোত্র)-এর নিচে রয়েছে আমায়ির ও বুতুন, অতঃপর বুতুনের নিচে রয়েছে আফখায ও ফাসাইল(১)।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো} [আল-হুজুরাত: ১৩], এতে বংশবিদ্যা শেখার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলীল রয়েছে। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফীকদাতা।

 

আবু উমর বলেন: এটি এমন একটি কিতাব যা আমি বংশবিদ্যা ও আরবদের ইতিহাস (আইয়ামুল আরব) বিষয়ক বিদগ্ধ পণ্ডিতদের(২) মৌলিক গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করার পর এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়ে সংকলন করেছি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের কিতাব(৩), আবুল মুনযির হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িব আল-কালবীর কিতাব(৪), আবু উবায়দাহ মা'মার ইবনুল মুসান্নার কিতাব(৫), মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ ইবনে সুলায়মানের কিতাব(৬), মুহাম্মদ ইবনে হাবীবের কিতাব(৭), কুরাইশদের বংশপরিচয় বিষয়ে আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ(৮) আল-আদাভীর কিতাব এবং কুরাইশদের বংশপরিচয় বিষয়ে যুবাইর ইবনে বাক্কারের কিতাব(৯)।

--------------------------------------------

(১) 'মীম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "কাবাইল"।

(২) 'মীম' পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ পড়েছে।

(৩) তাঁর জীবনী আল-ইস্তিআব-এর ৪০ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৪) তাঁর জীবনী আল-ইস্তিআব-এর ৭৪ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৫) তাঁর জীবনী আল-ইস্তিআব-এর ৩০৮ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৬) মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ, তাঁর নাম আব্দুর রহমান ইবনে সুলায়মান ইবনে হাজিব আল-আবদী, তাঁর উপনাম আবু বকর। তিনি নির্ভরযোগ্য বংশবিদদের একজন। আরবদের ইতিহাস, গৌরবগাথা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে তাঁর উত্তম জ্ঞান ছিল। তাঁর রচিত "আন-নাসাবুল কাবীর" নামক কিতাব রয়েছে যা আদনান ও কাহতান গোত্রের বংশধারা সংবলিত, এছাড়াও তাঁর "মুখতাসার আসমাইল কাবাইল" সহ অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ৩০০ হিজরির পূর্বে ইন্তেকাল করেন। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৩/১৯০।

(৭) তাঁর জীবনী আল-ইস্তিআব-এর ৬৩ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৮) 'হা', 'সীন' ও 'মীম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "উবাইদ"। তাঁর জীবনী আল-ইস্তিআব-এর ২/১২১ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৯) তাঁর জীবনী আল-ইস্তিআব-এর ৪৩ পৃষ্ঠায় আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১৩)
عمِّه مُصْعَبِ بنِ عبدِ اللهِ الزُّبيريِّ(1) في ذلك، وكتابُ عليِّ بنِ كَيسان الكوفيِّ(2) في أنساب العَرب قاطبةً، وكتابُ عليِّ بن عبد العزيز الجُرجانِيِّ(3)، وكتابُ عبدِ الملك بن حبيبٍ الأندلُسيِّ(4)، إلَى فِقَرٍ قيَّدْتُها مِنَ الحديثِ والآثارِ(5)، ونوادرَ اقتطَعْتُها(6) مِن كُتبِ أهل الأخبار، وأخَذْتُ مِن ذلك كلِّه عيونَه، وما يجِبُ الوقوفُ عليه، ويجملُ بأهلِ الأدَبِ والكمالِ معرفَتُه والانتسابُ إليه، واللهُ المُعينُ لا شريك له، وهو حسبِي ونِعمَ الوكِيلُ.

--------------------------------------------

(1) ستأتي ترجمته في الاستيعاب ص 43.

(2) في ح، س: "الكرخي".

(3) ستأتي ترجمته في الاستيعاب 8/ 13.

(4) سقط من: ص، وهو عبد الملك بن حبيب بن سليمان حفيد الصحابي عباس بن مرداس، العباسي الأندلسي، كان فقيهًا نحويًّا نسابة، له "الواضحة"، و"غريب الحديث"، توفي سنة (238 هـ) أو (239 هـ)، سير أعلام النبلاء 12/ 102.

(5) في س: "الأمثال".

(6) في م: "اقتطفتها".
তাঁর চাচা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-যুবাইরী(১) এর এই বিষয়ক রচনা, এবং সমস্ত আরবদের বংশপরিচয় বিষয়ে আলী ইবনে কায়সান আল-কুফী(২) এর কিতাব, এবং আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আল-জুরজানী(৩) এর কিতাব, এবং আব্দুল মালিক ইবনে হাবীব আল-আন্দালুসী(৪) এর কিতাব, এছাড়াও হাদিস ও আসার(৫) থেকে সংগ্রহ করা কিছু অনুচ্ছেদ, এবং ইতিহাসবিদদের কিতাবসমূহ থেকে চয়ন করা(৬) কিছু দুর্লভ তথ্যাবলি; আমি সেই সমস্ত কিছু থেকে এর নির্যাস এবং যা অবগত হওয়া আবশ্যক তা গ্রহণ করেছি, আর যা আদব ও পূর্ণতার অধিকারীদের জন্য জানা এবং তার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া শোভনীয়। আর আল্লাহই সাহায্যকারী, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী সামনে আল-ইসতিয়াব গ্রন্থের ৪৩ পৃষ্ঠায় আসবে।

(২) 'হা' ও 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আল-কারখী"।

(৩) তাঁর জীবনী সামনে আল-ইসতিয়াব গ্রন্থের ৮/১৩ তে আসবে।

(৪) 'সাদ' পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ পড়েছে; তিনি হলেন আব্দুল মালিক ইবনে হাবীব ইবনে সুলাইমান, সাহাবী আব্বাস ইবনে মিরদাস-এর পৌত্র, আল-আব্বাসী আল-আন্দালুসী। তিনি একজন ফকিহ, ব্যাকরণবিদ ও বংশপরিচয় বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তাঁর "আল-ওয়াদিহাহ" ও "গারীবুল হাদিস" নামক গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ২৩৮ হিজরি অথবা ২৩৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/১০২।

(৫) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আল-আমসাল"।

(৬) 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমি চয়ন করেছি"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال محمدُ بنُ عبدَةَ بن سُليمانَ النَّسَّابةُ(1): أجمَعَ النَّسابونَ جميعًا -العدنانيَّةُ والقحطانيَّةُ والأعاجمُ- على أنَّ إبراهيمَ خليلَ الله عليه السلام مِن ولَدِ عابَرَ بن شالَخَ بن أرفخشَذَ بنِ سَامِ بنِ نوحٍ(2).

 

‌‌عدنانُ

قال محمدُ بنُ عبدَةَ: وأجمَعُوا أنَّ عدنانَ مِن ولَدِ إسماعيل بن إبراهيمَ عليهما السلام، إلَّا أنَّهم اختلَفُوا فيما بين عدنانَ وإسماعيلَ مِنَ الآباءِ، فذُكِرَ عن طائفةٍ سبعةُ آباءٍ بينَهما، و(3) عن طائفةٍ مثلُ ذلك إلَّا أنَّها خالَفَتها في بعضِ الأسماءِ، وعن طائفةٍ تسعةُ(4) آباءٍ مُخالِفةً أيضًا في بعضِ الأسماءِ، وعن طائفةٍ خمسة عشَرَ أبًا بين عدنانَ وإسماعيل.

ثمَّ قال: وأمَّا الذين جعَلُوا بينَ عدنانَ وبينَ إسماعيلَ أربعين أبًا، فإنَّهم استخرَجُوا ذلك مِن كتابِ رخْيَا، وهو يُورخُ كاتبُ أَرْمِيَا النبيِّ(5) عليه السلام، وكانا قد حمَلا(6) مَعَدَّ بن عدنانَ مِن جزيرة

--------------------------------------------

(1) بعده في ح، س، م: "في كتابه".

(2) نقله المزي في: تهذيب الكمال 1/ 174 عن المصنف.

(3) في ح، س: "وذكر".

(4) في س: "ثمانية".

(5) سقط من: ح، س، م.

(6) الضمير في قوله: وكانا قد حملا معد بن عدنان. يعود إلى أرميا عليه السلام وكاتبه يورخ، وقد نقل المزي في تهذيب الكمال 1/ 175 النص عن محمد بن عبدة النسابة، كما نقله المصنف رحمه الله عنه، وفي تاريخ ابن جرير 2/ 271: "فخرج أرميا وبرخيا فحملا معدًّا، فلما سكنت الحرب رداه إلى مكة".
মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ ইবনে সুলাইমান আন-নাসসাবাহ(১) বলেন: আদনানি, কাহতানি এবং অনারব—সকল বংশবিদ এই ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহর খলিল ইবরাহিম আলাইহিস সালাম হলেন আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ-এর বংশধর(২)।

 

‌‌আদনান

মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ বলেন: তাঁরা এই ব্যাপারেও একমত যে, আদনান হলেন ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আলাইহিমাস সালাম-এর বংশধর। তবে তাঁরা আদনান এবং ইসমাইলের মধ্যবর্তী পিতৃপুরুষদের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যবর্তী সংখ্যা সম্পর্কে এক দল সাতজন পিতৃপুরুষের কথা উল্লেখ করেছেন, এবং(৩) অন্য একটি দলও অনুরূপ সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, তবে তারা কিছু নামের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আবার অন্য একটি দল নয়জন(৪) পিতৃপুরুষের কথা উল্লেখ করেছেন যাঁরা নামের ক্ষেত্রেও ভিন্ন। আর অন্য এক দল আদনান ও ইসমাইলের মাঝে পনেরোজন পিতৃপুরুষের কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন: আর যাঁরা আদনান ও ইসমাইলের মাঝে চল্লিশজন পিতৃপুরুষ নির্ধারণ করেছেন, তাঁরা তা রাখিয়া-এর কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন; আর তিনি হলেন নবী ইরমিয়া(৫) আলাইহিস সালাম-এর লেখক ইউরিখ। এবং তাঁরা উভয়েই(৬) মা'আদ ইবনে আদনানকে জাজিরা (উপদ্বীপ) থেকে বহন করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে এর পরে রয়েছে: "তাঁর কিতাবে"।

(২) আল-মিযযি এটি 'তাহযিবুল কামাল' ১/১৭৪-এ লেখকের সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন।

(৩) 'হা' ও 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং উল্লেখ করেছেন"।

(৪) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আটজন"।

(৫) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ পড়েছে।

(৬) তাঁর কথা "তাঁরা উভয়েই মা'আদ ইবনে আদনানকে বহন করেছিলেন"-এর সর্বনামটি নবী ইরমিয়া আলাইহিস সালাম এবং তাঁর লেখক ইউরিখের দিকে নির্দেশ করে। আল-মিযযি 'তাহযিবুল কামাল' ১/১৭৫-এ মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ আন-নাসসাবাহ থেকে এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তারীখে ইবনে জারির ২/২৭১-এ বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর ইরমিয়া ও বারখিয়া বের হলেন এবং মা'আদকে বহন করলেন; এরপর যখন যুদ্ধ থেমে গেল, তখন তাঁরা তাঁকে মক্কায় ফিরিয়ে দিলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১৫)
العَربِ ليالِيَ(1) بُخْتَنصَّرَ، فأثبَتَ رَخْيَا في كتُبِه نسبةَ عدنانَ، فهو معروفٌ عندَ أحبارِ أهلِ الكتاب وعُلمائِهم، مُثبتٌ في أسفارهم.

قال: وقد وجَدْنا طائفةٌ مِن عُلماء العَربِ تحفَظُ لَمَعَدٍّ أربعينَ أبًا بالعربيَّةِ إلى إسماعيلَ عليه السلام، وتحتَجُّ في أسمائِهم بالشِّعرِ مِن شعر أُمَيَّةَ بن أبي الصَّلتِ وغيره من عُلماءِ الشُّعراء(2) بأمر الجاهليَّةِ، ومُطالعة الكتُبِ، وكلُّ الطَّوائف تقولُ: عدنانُ بنُ أُدَدَ، إِلَّا طائفةً قالت(3): عدنانُ بنُ أدِّ بن أُدَدَ(4).

قال أبو عمر: الاختلافُ فيما بينَ عدنانَ وإسماعيلَ عليه السلام من عددِ الآباء كثيرٌ جدًّا، نذكُرُ مِنه في كتابِنا هذا ما يقِفُ به النَّاظِرُ فِيهِ على البُغيةِ منه، وحسْبُه أن يَعلَمَ أنَّه لا خلافَ بين جماعةِ أهلِ العلمِ بالنَّسب وأيَّام العَربِ أنَّ عدنانَ مِن ولَدِ إسماعيلَ بن إبراهيم عليهما السلام، وإنَّمَا اختلفُوا في قحطانَ، وسنذكُرُ الاختلاف في قحطانَ في موضعِه مِن هذا الكتابِ(5).

وقد روى موسى بنُ يعقُوبَ بنِ عبدِ اللهِ بن وهبِ بنِ زَمْعةَ الزَّمْعِيُّ، عن عمَّتِه، عن أمِّ سَلَمَةَ، قالت: سَمِعْتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم يقولُ:

--------------------------------------------

(1) في م: "ليلا إلى".

(2) في م: "الشعر".

(3) في م: "قالوا".

(4) نقل المزي في تهذيب الكمال 1/ 174، 175 هذا الفصل كله عن المصنف.

(5) سيأتي ص 29.
আরবদের বুখতানাসসারের(১) দিনগুলোতে, তাই রাখিয়া তার কিতাবসমূহে আদনানের বংশলতিকা সাব্যস্ত করেছেন। ফলে তিনি আহলে কিতাবের পণ্ডিত ও আলেমদের নিকট পরিচিত এবং তাদের কিতাবসমূহে তা লিপিবদ্ধ আছে।

তিনি বলেন: আমরা আরব আলেমদের এমন এক দলকে পেয়েছি যারা মা’দ-এর জন্য ইসমাইল আলাইহিস সালাম পর্যন্ত চল্লিশজন পিতার নাম আরবিতে মুখস্থ রাখেন। তারা জাহেলিয়াত আমলের বিষয়াবলি ও কিতাবসমূহ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে উমাইয়া ইবনে আবিস সালত ও অন্যান্য আলেম কবিদের(২) কবিতা থেকে এ নামগুলোর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেন। সকল দলই বলে: আদনান ইবনে উদাদ; কেবল একটি দল বলেছে(৩): আদনান ইবনে আদ্দ ইবনে উদাদ(৪)।

আবু ওমর বলেন: আদনান এবং ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর মধ্যবর্তী পিতৃপুরুষের সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ অনেক বেশি। আমরা আমাদের এই কিতাবে তা থেকে ততটুকুই উল্লেখ করব যা দ্বারা পাঠক তার উদ্দিষ্ট বিষয়ে অবগত হতে পারে। তার জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, নসববিদ এবং আরবদের ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলেমদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে আদনান হলেন ইব্রাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালাম-এর বংশধর। তারা কেবল কাহতানের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। আমরা এই কিতাবের নির্দিষ্ট স্থানে কাহতানের ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করব(৫)।

আর মুসা ইবনে ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ইবনে জামআহ আল-জাময়ি তার ফুফু থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:

--------------------------------------------

(১) পান্ডুলিপি 'মীম'-এ আছে: "লাইলান ইলা"।

(২) পান্ডুলিপি 'মীম'-এ আছে: "আশ-শি'র"।

(৩) পান্ডুলিপি 'মীম'-এ আছে: "তারা বলেছে"।

(৪) মিযযি 'তাহযিবুল কামাল' ১/ ১৭৪, ১৭৫-এ এই পুরো পরিচ্ছেদটি লেখক থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

(৫) এটি সামনে ২৯ পৃষ্ঠায় আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১৬)
"مَعَدُّ بنُ عدنانَ بنِ أُدَدَ بنِ زَبَدِ(1) بنِ يَرَا(2) بنِ أعراقِ الثَّرَى"، قالَت أمُّ سلَمةَ: فَزَبَدٌ(3) هو الهَمَيْسَعُ، ويَرَا (2) هو نبتٌ، وأعراقُ الثَّرَى هو إسماعيلُ بنُ إبراهيمَ عليهما السلام(4).

فهذا أرفَعُ ما رُوِيَ في ذلك وأولى ما قيلَ(5) فيه، فاللهُ أعلَمُ.

ورُوِيَ عن داودَ بن أبي هندٍ أنَّه قالَ: حفِظَتِ العَربُ أنسابَها إلى أُدَدَ(6).

ورُوِيَ عنِ(7) ابن لهيعَةَ، عن أبي الأسودِ، أنَّه سمِعَ عروة بنَ الزُّبيرِ يقولُ: ما وجَدْنا أَحَدًا يعرِفُ ما وراءَ مَعَدِّ بنِ عدنانَ(8).

--------------------------------------------

(1) في م: "زيد"، ودون نقط في س، و ح، والمثبت من: ص، وفوقه: "صح"، وفي الحاشية: "وصوابه: زند".

(2) في س، ح: "برا"، وفي م: "براء"، وينظر: أخبار المصحفين ص 62، والمؤتلف والمختلف للدارقطني 3/ 1137، وتوضيح المشتبه 4/ 335.

(3) في م: "فزيد"، وغير منقوطة في س، ح، ب.

(4) أخرجه ابن جرير في تاريخه 2/ 271، وابن عساكر في تاريخ دمشق 3/ 53 من طريق موسي ابن يعقوب به، وأخرجه الطبراني في المعجم الصغير (946)، والحاكم 2/ 465، والبيهقي في دلائل النبوة 1/ 177، 178 من طريق موسى بن يعقوب، عن عمه الحارث ابن عبد الله بن أبي ربيعة، عن أبيه، عن أم سلمة به.

(5) بعده في ح، س، م: "به".

(6) أخرجه البلاذري في أنساب الأشراف 1/ 17 من طريق داود بن أبي هند عن الشعبي.

(7) سقط من: ح، س، م.

(8) أخرجه ابن وهب في جامعه (6)، ومن طريقه ابن سعد في الطبقات 1/ 40، وابن أبي حاتم في تفسيره 8/ 2697، وابن عساكر في تاريخ دمشق 3/ 52، وخليفة في الطبقات 1/ 6، والمزي في تهذيب الكمال 1/ 175 من طريق ابن لهيعة به.
"মাদ ইবনে আদনান ইবনে উদাদ ইবনে যাবাদ(১) ইবনে ইয়ারা(২) ইবনে আওরাকুস সারা", উম্মু সালামাহ বলেন: যাবাদ(৩) হলো হামাইসা, ইয়ারা (২) হলো একটি উদ্ভিদ, আর আওরাকুস সারা হলেন ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আলাইহিমাস সালাম(৪)।

এই বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ এবং যা বলা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য(৫), আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আরবরা তাদের বংশতালিকা উদাদ(৬) পর্যন্ত মুখস্থ রেখেছে।

ইবনে লাহিয়াহ থেকে বর্ণিত(৭), তিনি আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবাইরকে বলতে শুনেছেন: আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি মাদ ইবনে আদনানের পরবর্তী (পূর্বপুরুষদের) পরিচয় জানেন(৮)।

--------------------------------------------

(১) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "যাইদ", 'স' ও 'হ' পাণ্ডুলিপিতে নুকতাহীন, আর 'সদ' পাণ্ডুলিপি থেকে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তার উপরে "সহীহ" লেখা আছে, এবং টীকাতে রয়েছে: "এর সঠিক রূপ হলো: যানদ"।

(২) 'স' ও 'হ' পাণ্ডুলিপিতে: "বারা", 'ম' পাণ্ডুলিপিতে: "বারাউ", দ্রষ্টব্য: আখবারুল মুসহিফীন পৃ. ৬২, দারাকুতনির আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ ৩/১১৩৭, তাওদিহুল মুশতাবিহ ৪/৩৩৫।

(৩) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ফাযাইদ", এবং 'স', 'হ' ও 'ব' পাণ্ডুলিপিতে নুকতাহীন।

(৪) ইবনে জারীর তার তারিখ (২/২৭১) গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির তারিখু দিমাশক (৩/৫৩) গ্রন্থে মূসা ইবনে ইয়াকুবের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তাবারানি আল-মুজামুস সাগীর (৯৪৬), হাকেম ২/৪৬৫, বায়হাকী দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ ১/১৭৭, ১৭৮ গ্রন্থে মূসা ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি তার চাচা হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবিয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৫) 'হ', 'স' ও 'ম' পাণ্ডুলিপিতে এরপর "বিহি" শব্দটি রয়েছে।

(৬) বালাজুরি আনসাবুল আশরাফ (১/১৭) গ্রন্থে দাউদ ইবনে আবি হিন্দের সূত্রে শাবী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৭) 'হ', 'স' ও 'ম' পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ পড়েছে।

(৮) ইবনে ওয়াহাব তার জামি' (৬) গ্রন্থে এবং তার সূত্রে ইবনে সাদ তাবাকাত (১/৪০) গ্রন্থে, ইবনে আবি হাতেম তার তাফসীর (৮/২৬৯৭) গ্রন্থে, ইবনে আসাকির তারিখু দিমাশক (৩/৫২) গ্রন্থে, খলীফা তাবাকাত (১/৬) গ্রন্থে এবং মিযযী তাহযীবুল কামাল (১/১৭৫) গ্রন্থে ইবনে লাহিয়াহর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১৭)
قالَ: وقالَت عائشةُ رضي الله عنها: ما وجَدْنا أحَدًا يعرفُ ما وراءَ(1) عدنانَ، ولا وراءَ قحطانَ إِلَّا تخرُّصًا(2).

وقال أبو الأسود يتيمُ عروةَ: سمِعْتُ أبا بكرِ بنَ(3) سُليمانَ بن أبي حثْمَةَ -وكان أعلَمَ قُريشٍ بأشعارِهم وأنسابِهم- يقولُ: ما وجَدْنا أَحَدًا يعلمُ ما وراءَ مَعَدِّ بنِ عدنانَ في شعرِ شاعرٍ، ولا علمِ عالمٍ(4).

وروى أبو الأسودِ أيضًا عن عروةَ وغيرِه، أنَّ عمرَ بنَ الخطَّابِ رضي الله عنه قالَ: النَّسَبُ(5) إِلَى عدنانَ، وما بعدَه(6) لا أدري ما هو(7).

وقالَ العَدويُّ: لا أعلَمُ أَحَدًا مِنَ الشُّعراء بلَغَ في شعرِه عدنانَ، إلا لبيدَ بنَ ربيعةَ وعباسَ بنَ مِرداسٍ السُّلَميَّ؛ قالَ لبيدٌ(8):

فَإِنْ لَمْ تَجِدْ مِن دُونِ عَدنانَ والدًا … ودُونَ مَعَدٍّ فلتزَعْكَ العَواذِلُ

وقال عباسُ بنُ مِرداسٍ(9):

--------------------------------------------

(1) بعده في م: "معد بن".

(2) الجوهرة في نسب النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه العشرة 1/ 23.

(3) بعده في ح: "أبي".

(4) أخرجه ابن سعد في الطبقات 1/ 40، والبلاذري في أنساب الأشراف 1/ 17، وخليفة في الطبقات 1/ 6، وابن عساكر في تاريخ دمشق 3/ 52، والمزي في تهذيب الكمال 1/ 175 من طريق أبي الأسود به.

(5) في ح، س، م: "إنما ننتسب".

(6) في ح، س، م: "وراء ذلك".

(7) أخرجه خليفة بن خياط 1/ 6 من طريق أبي الأسود به، وسيأتي في الاستيعاب ص 51.

(8) شرح ديوانه ص 255، وهو في الشعر والشعراء 1/ 279، والمعاني الكبير 3/ 1211.

(9) البيت في سيرة ابن هشام 1/ 9، وأنساب الأشراف للبلاذري 1/ 14.
তিনি বলেন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: আমরা কাউকে আদনানের ঊর্ধ্বে(১) কিংবা কাহতানের ঊর্ধ্বে (বংশধারা সম্পর্কে) কোনো কিছু অনুমান(২) ছাড়া জানতে পাইনি।

আর উরওয়ার পালকপুত্র আবুল আসওয়াদ বলেন: আমি আবু বকর বিন(৩) সুলায়মান বিন আবি হাসমাহকে বলতে শুনেছি—আর তিনি ছিলেন কুরাইশদের কাব্য ও বংশধারা সম্পর্কে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী—তিনি বলেন: আমরা কোনো কবির কবিতায় কিংবা কোনো জ্ঞানীর জ্ঞানে মা'দ বিন আদনানের ঊর্ধ্বের (বংশধারা সম্পর্কে) অবগত কাউকে পাইনি(৪)।

আবুল আসওয়াদ উরওয়া ও অন্যদের থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: বংশপরিচয়(৫) আদনান পর্যন্তই, আর এর পরের(৬) বিষয় সম্পর্কে আমি জানি না তা কী(৭)।

আদাউয়ী বলেন: আমি কবিদের মধ্যে এমন কাউকে জানি না যে তার কবিতায় আদনান পর্যন্ত পৌঁছেছে, লাবীদ বিন রাবিয়াহ এবং আব্বাস বিন মিরদাস আস-সুলামী ব্যতীত; লাবীদ বলেছেন(৮):

যদি তুমি আদনানের নিচে কোনো পিতা খুঁজে না পাও … এবং মা'দ-এর নিচে, তবে তিরস্কারকারীরা যেন তোমাকে নিবৃত করে।

এবং আব্বাস বিন মিরদাস বলেছেন(৯):

--------------------------------------------

(১) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে এর পরে আছে: "মা'দ বিন"।

(২) আল-জাওহারা ফি নাসাবিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ ১/২৩।

(৩) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে এর পরে আছে: "আবি"।

(৪) এটি ইবনে সাদ 'আত-তবাকাত' ১/৪০, বালাজুরী 'আনসাবুল আশরাফ' ১/১৭, খলিফা 'আত-তবাকাত' ১/৬, ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেস্ক' ৩/৫২ এবং মিযযী 'তাহযীবুল কামাল' ১/১৭৫-এ আবুল আসওয়াদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৫) 'হা', 'সিন' ও 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমরা তো কেবল বংশপরম্পরা বর্ণনা করি"।

(৬) 'হা', 'সিন' ও 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তার ঊর্ধ্বে"।

(৭) এটি খলিফা বিন খইয়াত ১/৬-এ আবুল আসওয়াদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সামনে 'আল-ইসতিআব' ৫১ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৮) তার দিওয়ানের ব্যাখ্যা পৃ. ২৫৫; এটি 'আশ-শি'র ওয়াশ-শুয়ারা' ১/২৭৯ এবং 'আল-মাআনী আল-কাবীর' ৩/১২১১-এ রয়েছে।

(৯) কবিতাটি ইবনে হিশামের সীরাত ১/৯ এবং বালাজুরীর 'আনসাবুল আশরাফ' ১/১৪-তে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১৮)
وعَكُّ بنُ عدْنانَ الَّذِينَ تَلَعَّبُوا(1) … بغسَّانَ حَتَّى طُرِّدُوا كُلَّ مَطْرَدِ

قال ابنُ هشامٍ(2): غسَّانُ ماءٌ بسدِّ مأربَ باليمن(3)، كان [شِرْبًا لولدِ](4) مازن بن الأزد بن الغَوثِ(5) فسُمُّوا به، ويُقالُ: غسَّانُ ماءٌ بالمُشلَّلِ(6) قريبٌ مِنَ الجُحفَةِ(7)، والذين شرِبُوا مِنه فسمُّوا به قبائلُ مِن وَلَدِ مازن بن الأزدِ.

قالَ أبو عمرَ: يشهَدُ لهذا قولُ حسانَ بنِ ثابتٍ(8):

إمَّا سَألْتِ(9) فإنَّا مَعشَرٌ نُجُبٌ … الأزْدُ نسبَتُنا والمَاءُ غَسَّانُ

وقالَ قيسُ بنُ الخَطيمِ(10):

ويَوْمَ بُعَاثٍ(11) أَسْلَمَتنَا سُيُوفُنَا … إِلَى نَسَبٍ فِي جِذْمِ غَسَّانَ ثَاقبِ(12)

--------------------------------------------

(1) في م: "تلقبوا".

(2) سيرة ابن هشام 1/ 9، وستأتي ترجمة ابن هشام في الاستيعاب ص 393.

(3) في ح، س، م: "في اليمن".

(4) في ح، س، م: "بنو".

(5) بعده في ح، س، م: "نزلوا عليه".

(6) المشلل: ثنية أسفل قديد من الشمال إذا كنت في بلدة صغير بين رابغ والقضيمة، معجم المعاجم الجغرافية الواردة في السيرة النبوية ص 298.

(7) الجحفة قرية جامعة على طريق المدينة من مكة، وهي ميقات أهل مصر والشام إن لم يمروا على المدينة، معجم البلدان 2/ 35، وتوجد اليوم آثارها شرق مدينة رابغ بحوالي (22) كيلا، معجم المعالم الجغرافية الواردة في السيرة النبوية ص 80.

(8) ديوانه ص 279، وهو في نسب معد واليمن الكبير 1/ 363، والعقد الفريد 3/ 334.

(9) ضبطت في ص بفتح التاء.

(10) ديوانه ص 42، وهو في الكامل للمبرد 1/ 603.

(11) يوم بعاث: كانت فيه وقعة عظيمة قتل فيها خلق عظيم من أشراف الأوس والخزرج، وبعاث: موضع بالمدينة، معجم ما استعجم 1/ 259، والبداية والنهاية 4/ 368.

(12) في ح، س: "ثابت".
আদনানের পুত্র আক্ক, যারা গাসসানের সাথে খেলত(১) ... পরিশেষে তারা পুরোপুরি বিতাড়িত হয়েছিল।

ইবনে হিশাম বলেন(২): গাসসান হলো ইয়ামেনের মারেব বাঁধের নিকটবর্তী একটি পানির আধার, যা আল-গাওসের পুত্র আল-আজদের পুত্র মাজিনের সন্তানদের [পানীয় জল](৪) ছিল(৫), ফলে তারা এর নামে নামাঙ্কিত হয়। আবার বলা হয়: গাসসান হলো আল-মুশাল্লাল নামক স্থানের একটি পানি(৬) যা আল-জুহফার নিকটবর্তী(৭); যারা তা থেকে পান করেছিল, তারা এর নামে নামাঙ্কিত হয়েছিল এবং তারা আল-আজদের পুত্র মাজিনের বংশধরদের গোত্রসমূহ।

আবু উমর বলেন: হাসসান বিন সাবিতের(৮) এই উক্তিটি এর সাক্ষ্য দেয়:

যদি তুমি জিজ্ঞাসা করো(৯), তবে আমরা হলাম এক অভিজাত সম্প্রদায় ... আল-আজদ হলো আমাদের বংশীয় পরিচয় আর গাসসান হলো আমাদের পানি।

কায়েস বিন আল-খাতীম(১০) বলেছেন:

আর বুআসের দিন(১১) আমাদের তলোয়ারগুলো আমাদের অর্পণ করেছিল ... গাসসানের মূলে এক উজ্জ্বল বংশপরিচয়ের কাছে(১২)।

--------------------------------------------

(১) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তালকাব্বু" (উপাধি দেওয়া হয়েছিল)।

(২) সীরাত ইবনে হিশাম ১/৯; ইবনে হিশামের জীবনী আল-ইসতিয়াব ৩৯৩ পৃষ্ঠায় সামনে আসবে।

(৩) 'হা', 'সিন' ও 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ইয়ামেনে"।

(৪) 'হা', 'সিন' ও 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সন্তানগণ"।

(৫) এরপর 'হা', 'সিন' ও 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তারা সেখানে অবতরণ করেছিল"।

(৬) আল-মুশাল্লাল: কুদাইদের নিম্নাঞ্চলের একটি গিরিপথ, যা রাবিগ ও আল-কুদাইমাহর মধ্যবর্তী ছোট একটি শহরের উত্তরে অবস্থিত; মুজামুল মাআজিম আল-জুগরাফিয়াহ আল-ওয়ারিদাহ ফিস সীরাত আন-নববিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৯৮।

(৭) আল-জুহফা হলো মক্কা থেকে মদিনার পথে অবস্থিত একটি সমৃদ্ধ গ্রাম, যা মিশর ও সিরিয়াবাসীদের মীকাত যদি তারা মদিনা হয়ে না আসে; মুজামুল বুলদান ২/৩৫। বর্তমানে এর ধ্বংসাবশেষ রাবিগ শহরের পূর্বে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত; মুজামুল মাআলিম আল-জুগরাফিয়াহ আল-ওয়ারিদাহ ফিস সীরাত আন-নববিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৮০।

(৮) তাঁর দিওয়ান, পৃষ্ঠা ২৭৯; এটি নাসাব মাআদ ওয়াল ইয়ামান আল-কাবীর ১/৩৬৩ এবং আল-ইকদ আল-ফারীদ ৩/৩৩৪-এ রয়েছে।

(৯) 'সাদ' পাণ্ডুলিপিতে 'তা' বর্ণটি জবর (ফাতহা) দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

(১০) তাঁর দিওয়ান, পৃষ্ঠা ৪২; এটি মুবাররাদের আল-কামিল ১/৬০৩-এ রয়েছে।

(১১) বুআসের দিন: এটি ছিল একটি ভয়াবহ যুদ্ধ যাতে আওস ও খাজরাজ গোত্রের অনেক অভিজাত লোক নিহত হয়েছিল। বুআস হলো মদিনার একটি স্থান; মুজাম মা ইসতাজাম ১/২৫৯ এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/৩৬৮।

(১২) 'হা' ও 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সাবিত" (সুদৃঢ়)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ১৯)
وسيأتي ذكرُ مَن انتسَبَ إِلَى غسَّانَ مِن بني جَفنَةَ وغيرِهم عندَ ذكرِ الأنصارِ في موضعِه مِن هذا الكتابِ إن شاء اللهُ(1).

وقد روَى الكَلبِيُّ، عن أبي صالحٍ، عن ابنِ عباسٍ، قال: كانَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم إذا انتهَى في النَّسَبِ إلى معدِّ بن عدنانَ، قال: "كذَبَ النَّسابونَ؛ قالَ اللهُ عز وجل: {وَقُرُونًا بَيْنَ ذَلِكَ كَثِيرًا} "(2) [الفرقان: 38]، وليس هذا الإسنادُ بالقويِّ.

وقال آخرون: لم يتجاوز النبيُّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّسَبِ النَّضرَ بنَ كِنانةَ.

وهذا لو صحَّ كانَ معناه في نسبةِ قريشٍ خاصَّةً، لا في علمِه بأنسابِ العَربِ، وقد جاءَ عنه صلى الله عليه وسلم مِن وجوهٍ ما يدُلُّ على ما تأوَّلناه عليه في ذلك.

وكانَ قومٌ مِنَ السَّلفِ؛ مِنهم عبدُ الله بنُ مسعودٍ، وَعَمرُو بنُ ميمونٍ الأوديُّ، ومحمدُ بنُ كعبٍ القُرَظيُّ إذا تلَوا: {وَالَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ لَا يَعْلَمُهُمْ إِلَّا اللَّهُ} [إبراهيم: 9] قالوا: كذَبَ النَّسابونَ(3).

ومعنى الآية(4) عندنا علَى غيرِ ما ذهَبُوا إليه، وإنَّما المعنى فيها -

--------------------------------------------

(1) سيأتي ص 141 - 143.

(2) أخرجه ابن سعد في الطبقات 1/ 238، والبلاذري في أنساب الأشراف 1/ 12، وابن عساكر في تاريخ دمشق 3/ 52، 59 من طريق الكلبي به.

(3) طبقات ابن سعد 1/ 38، وتفسير ابن جرير 13/ 604، والدر المنثور 8/ 495.

(4) في ح، س، م: "هذا".
বনু জাফনা এবং অন্যদের মধ্য থেকে যারা গাসসানের বংশোদ্ভূত, তাদের আলোচনা এই কিতাবের যথাযথ স্থানে আনসারদের আলোচনার সময় আসবে, ইনশাআল্লাহ(১)।

কালবী আবু সালিহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বংশপরম্পরা বর্ণনায় মাআদ বিন আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন, তখন বলতেন: "বংশবিদগণ মিথ্যা বলেছে; আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: {এবং এর মধ্যবর্তী সময়ে অনেক প্রজন্ম (অতিবাহিত হয়েছে)}।"(২) [আল-ফুরকান: ৩৮], তবে এই সনদটি শক্তিশালী নয়।

অন্যান্যরা বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরম্পরা বর্ণনায় নাযর বিন কিনানাহকে অতিক্রম করতেন না।

এটি যদি সহীহ হয়ে থাকে, তবে এর অর্থ হবে কেবল কুরাইশদের বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে, আরবদের বংশপরম্পরা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের ক্ষেত্রে নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু বর্ণনা এসেছে যা এ বিষয়ে আমাদের এই ব্যাখ্যার স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করে।

সালাফদের একদল; যাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আমর বিন মাইমুন আল-আওদী এবং মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাযী, তারা যখন পাঠ করতেন: {এবং তাদের পরবর্তী যারা আছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না} [ইবরাহীম: ৯], তখন বলতেন: বংশবিদগণ মিথ্যা বলেছে(৩)।

আমাদের নিকট এই আয়াতের(৪) অর্থ তারা যা গ্রহণ করেছেন তার বিপরীত, বরং এর অর্থ হলো -

--------------------------------------------

(১) সামনে আসবে ১৪১ - ১৪৩ পৃষ্ঠায়।

(২) ইবনে সাদ এটি বর্ণনা করেছেন 'আত-তাবাকাত' ১/২৩৮-এ, বালাযুরী 'আনসাবুল আশরাফ' ১/১২-এ এবং ইবনে আসাকির 'তারীখে দামেস্ক' ৩/৫২, ৫৯-এ কালবীর মাধ্যমে।

(৩) তাবাকাত ইবনে সাদ ১/৩৮, তাফসীরে ইবনে জারীর ১৩/৬০৪ এবং আদ-দুররুল মানসুর ৮/৪৯৫।

(৪) হা, সিন, মিম পাণ্ডুলিপিতে: "এটি"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২০)
والله أعلَمُ- تكذيبُ مَن ادَّعَى إحصاءَ بني آدَمَ، [والإعلامُ بأنَّ الذي خلَقَهم أحْصاهم عددًا](1)، وحدَه لا شريك له، واللهُ أعلمُ.

 

وأمَّا أنسابُ العَربِ فإنَّ أهلَ العلم بأيامِها وأنسابِها قد وعوا وحفِظُوا جماهيرَها وأُمَّهاتِ قبائلها، واختلَفُوا في بعضِ فروع ذلك، وسترَى في كتابِنا هذا ما أجمَعُوا علَيه، وكثيرًا ممَّا اختلَفُوا فيه إن شاء الله.

والذي عليه أئمَّةُ هذا الشَّأنِ(2) في نسَب عدنانَ، قالوا: عدنانُ بنُ أُدَدَ بنِ مُقوَّم بنِ ناحورَ بنِ تَيْرَحَ بن يعرُبَ بنِ يشجُبَ بن نابتِ(3) بنِ إسماعيلَ بن إبراهيمَ خليلِ الرَّحْمَنِ بنِ تارَحَ -وهو آزَرُ(4) - بن ناحورَ بنِ ساروحَ(5) بنِ راغُو(6) بن فالَخَ(7) بنِ عَيْبَرَ بنِ شَالَخَ بنِ أرفخشَذَ بنِ سَامِ ابن نوح بن لامِكَ(8) بنِ مُتَوَشْلِخَ بنِ خَنُوخَ -وهو إدريسُ النبيُّ صلى الله عليه وسلم فيما يزعُمُون والله أعلَمُ، وكانَ أَوَّلَ نبيٍّ أُعطي النبوة(9)، وخطَّ بالقلم-

--------------------------------------------

(1) في ح، س، م: "فإنه لا يحصيهم إلا الذي خلقهم فإنه هو الذي أحصاهم".

(2) فوقها في ص: "الأنساب".

(3) في س: "ثابت".

(4) في س: "أدد".

(5) في س: "ساروع".

(6) في ح، س، م: "أرغو".

(7) في م: "فالغ"، وفي حاشية ص: "ويروى: فالغ بالغين".

(8) في حاشية ص: "لمك".

(9) بعده في ح، س، م: "بعد آدم وسيث".
আর আল্লাহই ভালো জানেন—বনী আদমের (আদম সন্তানদের) সংখ্যা নিরূপণের দাবিদারকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা, [এবং এ সংবাদ প্রদান করা যে, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের সংখ্যা গণনা করেছেন](১), তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

আর আরবদের বংশপরম্পরার ব্যাপারে কথা হলো, তাদের ইতিহাস ও বংশবিদ্যা বিশারদগণ তাদের মূল জনসমষ্টি ও গোত্রসমূহের উৎসগুলো আয়ত্ত করেছেন ও সংরক্ষণ করেছেন। তবে তারা এর কিছু শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাদের এই কিতাবে তাদের ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়গুলো এবং তাদের মতভেদের অনেক বিষয় দেখতে পাবেন।

আদনানের বংশপরম্পরার ব্যাপারে এই শাস্ত্রের ইমামগণ(২) যা ব্যক্ত করেছেন তা হলো, তারা বলেন: আদনান বিন উদাদ বিন মুকাউওয়িম বিন নাহুর বিন তাইরাহ বিন ইয়ারুব বিন ইয়াশজুব বিন নাবিত(৩) বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম খলিলুর রহমান বিন তারাহ —যিনি হলেন আজর(৪)— বিন নাহুর বিন সারুহ(৫) বিন রাগু(৬) বিন ফালাখ(৭) বিন আইবার বিন শালাখ বিন আরফাখশাদ বিন সাম বিন নুহ বিন লমিক(৮) বিন মুতাওয়াশলিহা বিন খানুখ —যিনি হলেন নবী ইদ্রিস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ভাষ্যমতে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি ছিলেন প্রথম নবী যাকে নবুওয়াত দান করা হয়েছিল(৯) এবং যিনি কলম দিয়ে লিখেছিলেন—

--------------------------------------------

(১) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "কেননা যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ তাদের গণনা করতে পারে না, নিশ্চয়ই তিনিই তাদের সংখ্যা গণনা করেছেন।"

(২) 'সদ' পাণ্ডুলিপিতে এর উপরে রয়েছে: "বংশবিদ্যা"।

(৩) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সাবিত"।

(৪) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "উদাদ"।

(৫) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সারু'"।

(৬) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আরগু"।

(৭) 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ফালগ", এবং 'সদ' পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: "বর্ণিত আছে: গইন সহযোগে 'ফালগ'"।

(৮) 'সদ' পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: "লামক"।

(৯) এরপর 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আদম ও শীস-এর পরে"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২১)
ابن يَرْدِ بنِ مَهْليلَ بنِ قَيْنانَ(1) بن يانُشَ بنِ شيثَ بن آدَمَ صلى الله عليه وسلم.

قالَ ابنُ هشامٍ(2): حدَّثَنا زيادُ بنُ عبدِ اللهِ البكَّائيُّ، عن محمدِ بنِ إسحاقَ المُطَّلِبِيِّ، بهذا الذي ذكَرْتُ مِن نَسَبِ عدنان إلَى آدَمَ، وما فيه مِن حديث إدريسَ وغيرِه.

قالَ ابنُ هشامٍ(3): وحدَّثنا خلَّادُ بنُ قُرَّةَ بن خالدٍ السَّدوسيُّ، عن شيبانَ بنِ زُهيرِ بنِ شقيقِ بنِ ثورٍ، عن قَتادةَ بنِ دِعامةَ أنَّه قال: إسماعيلُ ابنُ إبراهيمَ خليلِ اللهِ بنِ تارَحَ -وهو آزَرُ- بنِ ناحورَ بنِ أَشْوَعَ(4) بنِ أرغُوَ بنِ فالِحَ(5) بنِ عابَرَ بن شالِحَ(6) بنِ الْفَخْشَدَ(7) بنِ سامِ بنِ نوحِ بنِ لامِكَ بنِ مُتَوَشْلِخَ بنِ أَهَيْجَ(8) بنِ يَرْدِ بنِ مَهْلَائِلَ(9) بن قاين(10) بن أنوشَ بنِ شيثَ بنِ آدمَ.

وقالَ خَليفَةُ بنُ خَيَّاطٍ(11) عنِ ابنِ الكَلبيِّ، عن أبيهِ، عن أبي

--------------------------------------------

(1) في ح، س: "قينن".

(2) سيرة ابن هشام 1/ 2، 3.

(3) سيرة ابن هشام 1/ 3، 4.

(4) في ح، س، م: "أشرع".

(5) في ح: "فارع"، وفي س، وسيرة ابن هشام: "فالخ"، وفي م: "فالغ".

(6) في ح، س، م: "شالخ".

(7) في ح، س، م: "أرفخشذ"، والمثبت من ص، وفي الحاشية: "كذا ضبطه أبو علي"، وفي سيرة ابن هشام: "الفخشذ".

(8) في ح: "أهيخ"، وفي س: "أهنح"، وفي م: "أخنوخ".

(9) في ح، س، م: "مهلائيل".

(10) في م: "قينان".

(11) طبقات خليفة 1/ 6.
ইয়ারদ-এর পুত্র মাহলীল, তিনি কায়নান-এর পুত্র(১), তিনি ইয়ানুশ-এর পুত্র, তিনি শীষ-এর পুত্র, তিনি আদম-এর পুত্র (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)।

ইবনে হিশাম(২) বলেন: যিয়াদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-মুত্তালিবী থেকে, আদনান থেকে আদম পর্যন্ত যে বংশপরম্পরা আমি উল্লেখ করেছি এবং তাতে ইদ্রিস ও অন্যদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে সে সম্পর্কে।

ইবনে হিশাম(৩) বলেন: খাল্লাদ বিন কুররাহ বিন খালিদ আস-সাদুসী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শায়বান বিন যুহায়ের বিন শাকিক বিন সাওর থেকে, তিনি কাতাদাহ বিন দি’য়ামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম (আল্লাহর খলীল) ইবনে তারাহ—যিনি আজর—ইবনে নাহুর ইবনে আশওয়া(৪) ইবনে আরগু ইবনে ফালিহ(৫) ইবনে আবির ইবনে শালিহ(৬) ইবনে আল-ফাখশাদ(৭) ইবনে সাম ইবনে নূহ ইবনে লামিক ইবনে মুতাওয়াশলিখ ইবনে আহাইজ(৮) ইবনে ইয়ারদ ইবনে মাহলাইল(৯) ইবনে কাইন(১০) ইবনে আনুশ ইবনে শীষ ইবনে আদম।

এবং খলিফা বিন খাইয়াত(১১) ইবনে আল-কালবী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর পিতার থেকে (বর্ণনা করেছেন)...

--------------------------------------------

(১) 'হা' ও 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "কাইনুন"।

(২) সীরাত ইবনে হিশাম ১/ ২, ৩।

(৩) সীরাত ইবনে হিশাম ১/ ৩, ৪।

(৪) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আশরা'"।

(৫) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে: "ফারি'", এবং 'সিন' ও সীরাত ইবনে হিশাম-এ: "ফালিখ", এবং 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে: "ফালিগ"।

(৬) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "শালিখ"।

(৭) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আরফাখশায", এবং 'সাদ' থেকে এটি সাব্যস্ত করা হয়েছে; টীকায় রয়েছে: "আবু আলী একে এভাবেই বিন্যস্ত করেছেন", এবং সীরাত ইবনে হিশাম-এ রয়েছে: "আল-ফাখশায"।

(৮) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে: "আহিখ", 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে: "আহনাহ", এবং 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে: "আখনুখ"।

(৯) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "মাহলাইল"।

(১০) 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "কায়নান"।

(১১) তাবাকাত খলিফা ১/ ৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২২)
صالحٍ، عن ابن عباسٍ، قال: بينَ مَعَدِّ بن عدنانَ إلى إسماعيلَ عليه السلام ثلاثونَ أبًا.

وبإسنادِه عن ابن عباسٍ، قالَ: كانَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم إذا انتهَى إلى عدنانَ أمسَكَ، ثمَّ يقولُ: "كذَبَ النَّسابونَ؛ قالَ اللهُ عز وجل: {وَقُرُونًا بَيْنَ ذَلِكَ كَثِيرًا} " [الفرقان: 38](1).

وقالَ ابنُ جُريجٍ، عنِ القاسم بن أبي بَزَّةَ، عن عِكرمةَ(2): أضلَّت نِزارٌ نسبَها مِن عدنانَ(3).

ومن أحسَنِ ما جاءَ في ذلك أيضًا ما نظَمَه أبو العباس عبدُ اللهِ بنُ محمدٍ الناشِئُ في قصيدةٍ يمدَحُ بها رسولَ الله صلى الله عليه وسلم، وهي(4) قولُه(5):

مدَحْتُ رسولَ اللهِ أبغِي بمَدْحِه … وفُورَ حُظوظي من كريم المَآوِبِ(6)

مدَحْتُ امرأً فاتَ المديحَ مُوَحَّدًا … بأوصافِهِ من(7) مُبعِدٍ أو مُقارِبِ

نَبِيًّا تسامَى في المَشارِقِ نورُهُ … فلاحَتْ هَوادِيهِ لأَهلِ المَغارِبِ

أتَتْنا بهِ الأنباءُ قبلَ مَجِيئِهِ … وشاعَتْ بِهِ الأخبارُ في(8) كُلِّ جَانِبِ

وأَصْبَحَتِ الكُهَّانُ تَهتِفُ باسمِهِ … وتَنْفِي بهِ رَجْمَ الظُّنونِ الكَواذِبِ

--------------------------------------------

(1) طبقات خليفة 1/ 8، وتقدم ص 19.

(2) بعده في ح، س، م: "قال".

(3) طبقات خليفة 1/ 6، وسيأتي في الاستيعاب ص 51.

(4) في حاشية ص: "وهو".

(5) تهذيب الكمال 1/ 177 - 180، والبداية والنهاية 3/ 207 - 214.

(6) في ح، س: "المآرب".

(7) في ح، س، م: "عن".

(8) في س: "من".
সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মাআদ ইবনে আদনান থেকে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম পর্যন্ত ত্রিশজন পূর্বপুরুষ রয়েছেন।

এবং ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন তখন থেমে যেতেন, তারপর বলতেন: "বংশলতিকাবিদগণ মিথ্যা বলেছেন; আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এবং এর অন্তর্বর্তীকালে অনেক প্রজন্ম} [আল-ফুরকান: ৩৮]"(১)।

ইবনে জুরাইজ আল-কাসিম ইবনে আবি বায্যাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন(২): নিযার ইবনে মাআদ আদনান পর্যন্ত তাদের বংশ পরিচয় হারিয়ে ফেলেছিল(৩)।

এই বিষয়ে বর্ণিত সর্বোত্তম বিষয়গুলোর মধ্যে আবু আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আন-নাশি-এর সেই কাসিদা অন্যতম, যাতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা করেছেন। সেটি(৪) হলো তাঁর এই(৫) উক্তি:

আমি আল্লাহর রাসূলের প্রশংসা করেছি, তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে আমি উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থলে আমার ভাগ্যের পূর্ণতা কামনা করি(৬)

আমি এমন এক ব্যক্তির প্রশংসা করেছি যিনি অনন্য সত্তা হিসেবে প্রশংসার ঊর্ধ্বে, তাঁর গুণাবলির বর্ণনায় দূরবর্তী(৭) কিংবা নিকটবর্তী কেউই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না

তিনি এমন এক নবী যার নূর প্রাচ্যে সমুন্নত হয়েছে, আর তাঁর হিদায়াতের আলো প্রতীচ্যের অধিবাসীদের কাছে প্রকাশিত হয়েছে

তাঁর আগমনের পূর্বেই তাঁর সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং তাঁর খবর সব(৮) দিকে ছড়িয়ে পড়েছে

গণকরা উচ্চস্বরে তাঁর নাম ধরে ডাকতে শুরু করেছে এবং তাঁর মাধ্যমে তারা মিথ্যা ধারণাপ্রসূত অনুমানগুলোকে দূর করছে

--------------------------------------------

(১) তাবাকাত খলিফা ১/ ৮, এবং পূর্বে ১৯ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে এরপর: "তিনি বলেন" শব্দটুকু আছে।

(৩) তাবাকাত খলিফা ১/ ৬, এবং সামনে আল-ইসতিআব-এর ৫১ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৪) 'সোয়াদ' পাণ্ডুলিপির টীকা অনুসারে: "এবং সেটি"।

(৫) তাহযিবুল কামাল ১/ ১৭৭ - ১৮০, এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/ ২০৭ - ২১৪।

(৬) 'হা' ও 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে: "আকাঙ্ক্ষা পূরণের"।

(৭) 'হা', 'সিন' ও 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে: "হতে"।

(৮) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে: "থেকে"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأُنطِقَتِ الأصنامُ نُطْقًا تَبرَّأتْ … إلَى اللهِ فيهِ مِن مَقالِ الأَكاذِبِ

وقَالَتْ لأهل الكُفْرِ قَولًا مُبيِّنًا … أتَاكُم نبيٌّ من لُؤَيِّ بن غالِبِ

ورامَ اسْتِراقَ السَّمْع جِنٌّ فَزِيَّلَتْ … مقاعدَهم مِنهَا رُجُومُ الكَواكِبِ

هَدانا إِلَى مَا لَم نَكُنْ نَهْتِدِي لَهُ … لطُولِ العَمَى مِن واضحاتِ المَذاهِبِ

وجَاءَ بآياتٍ تُبَيِّنُ أَنَّهَا … دلائِلُ جَبَّارٍ مُثِيبٍ مُعاقِبِ

فَمِنهَا انشِقَاقُ البَدْرِ حِينَ تَعَمَّمَتْ … شُعُوبَ الضِّيا مِنْهُ رُءُوسَ الأخاشِبِ(1)

ومِنهَا نُبُوعُ المَاءِ بَينَ بَنانِهِ … وقد عَدِمَ الوُرَّادُ قُرْبَ المَشارِبِ

فرَوَّى بهِ جَمًّا غَفِيرًا وأسهَلَتْ … بأعناقه طَوْعًا أَكُفُّ المَذَانِبِ(2)

وبئرٌ طَفَتْ(3) بِالمَاءِ مِن مَسِّ سَهْمه … ومِن قَبْلُ لم تسمَحْ بِمَذْقَةِ(4) شارِبِ

وضَرْعٌ مَرَاهُ فَاستَدَرَّ ولَمْ تكُنْ … به دِرَّهٌ(5) تُصغَى إِلَى كَفِّ حالِبِ

ونُطْقٌ فَصِيحٌ مِن ذِرَاعٍ مُبِينَةٍ … لكَيْدِ عَدُوٍّ للعَداوة ناصِبِ

وإخبارُه بالأمرِ مِن قَبْلِ كَوْنِه … وعندَ بوادِيه بما في العَواقِبِ

--------------------------------------------

(1) الأخاشب: جبال مكة، فالجبلان اللذان عن يمين المسجد الحرام ويساره يقال لهما: الأخشبان، وهما قيقعان وأبو قبيس، ويقال لجبلي منى أيضًا: الأخشبان، والجبلان اللذان يمر الحاج بينهما ليلة النفر من عرفة أخشبان أيضًا، وهما حد المزدلفة مما يلي عرفة، تاج العروس 1/ 461 (خ ش ب).

(2) أسهلت: إذا صارت إلى السهل من الأرض، أراد أنه صار إلى بطن الوادي، والمذانب، جمع المِذنَب: مسيل الماء إلى الأرض، لسان العرب 1/ 391، 11/ 349 (ذ ن ب، س هـ ل).

(3) في ح، م: "طغت".

(4) المذقة: الشربة من اللبن الممزوج، النهاية 4/ 311.

(5) مري: مسح ضرع الناقة للدرة، والدِّرة؛ بالكسر: كثرة اللبن وسيلانه، لسان العرب 4/ 279، 15/ 276 (د ر ر، م ر ي).
প্রতিমাগুলোকে বাকশক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং তারা আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদীদের কথা হতে নিজেদের নির্দোষ ঘোষণা করেছিল …

তারা কুফরি অবলম্বনকারীদের উদ্দেশ্যে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছিল … লুআই বিন গালিবের বংশ থেকে এক নবী তোমাদের নিকট এসেছেন

আর জিনেরা আড়ি পেতে সংবাদ শোনার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু নক্ষত্রের পতন (উল্কাপিণ্ড) … তাদের বসার স্থানগুলো থেকে তাদের বিতাড়িত করেছিল

তিনি আমাদের এমন বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন, দীর্ঘকালীন অন্ধত্বের কারণে যার সুস্পষ্ট পথগুলোর সন্ধান আমরা পেতাম না …

তিনি এমন সব নিদর্শন নিয়ে এসেছেন যা স্পষ্ট করে দেয় যে, এগুলো … মহা প্রতাপশালী, পুরস্কার দানকারী ও শাস্তি প্রদানকারী সত্তার প্রমাণ

সেসব নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া, যখন তার জ্যোতির বিচ্ছুরণ … আখাশিব পাহাড়ের চূড়াগুলোকে আবৃত করেছিল(১)

আরও রয়েছে তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানির প্রস্রবণ প্রবাহিত হওয়া … অথচ পিপাসার্তরা পানস্থলের সন্নিকটে কোনো পানি পাচ্ছিল না

তিনি এর মাধ্যমে এক বিশাল বাহিনীকে তৃপ্ত করেছিলেন এবং পানির নালাগুলো … স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের দিকে প্রবাহিত হয়েছিল(২)

আর একটি কূপ তাঁর তীরের স্পর্শে পানিতে ভরে উপচে পড়েছিল(৩) … যা এর আগে পানকারীর জন্য এক চুমুক পানীয়(৪) দিতেও কার্পণ্য করত

আর পশুর ওলান, যা তিনি মর্দন করেছিলেন ফলে তা দুধে ভরে গিয়েছিল, অথচ এর আগে … দোহনকারীর হাতের জন্য তাতে দুধের সামান্য ধারাও(৫) ছিল না

আর বিষ মিশ্রিত পশুর বাহু (পা) হতে সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল কথা … শত্রুতা পোষণকারী শত্রুর চক্রান্ত ফাঁস করে দেওয়ার জন্য

এবং কোনো বিষয় ঘটার পূর্বেই সে সম্পর্কে তাঁর সংবাদ দান … এবং কোনো বিষয়ের সূচনালগ্নেই তার পরিণাম সম্পর্কে অবহিত করা

--------------------------------------------

(১) আখাশিব: মক্কার পাহাড়সমূহ; মাসজিদুল হারামের ডানে এবং বামে অবস্থিত পাহাড় দুটিকে আখাশাবাইন বলা হয়, সেগুলো হলো কায়কায়ান এবং আবু কুবাইস। মিনার পাহাড় দুটিকেও আখাশাবাইন বলা হয়। আরাফা থেকে ফেরার রাতে হাজিগণ যে দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে যান সেগুলোকেও আখাশিব বলা হয়, যা আরাফার দিক থেকে মুজদালিফার সীমানা। তাজুল আরূস ১/৪৬১ (খ শ ব)।

(২) আসহালাত: যখন কোনো কিছু সমতল ভূমিতে পৌঁছে। উদ্দেশ্য হলো উপত্যকার গর্ভে পৌঁছানো। আর আল-মাযানিবি হলো আল-মিযনাব-এর বহুবচন: জমিনে পানি যাওয়ার পথ। লিসানুল আরব ১/৩৯১, ১১/৩৪৯ (য ন ব, স হ ল)।

(৩) 'হা' এবং 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে: "তাগাত"।

(৪) আল-মাযকাহ: মিশ্রিত দুধের এক চুমুক পানীয়। আন-নিহায়া ৪/৩১১।

(৫) মারি: দুধ বের করার জন্য উটনীর ওলান মর্দন করা। আর আদ-দিররাহ; নিচে কাসরা যোগে: দুধের আধিক্য ও প্রবাহ। লিসানুল আরব ৪/২৭৯, ১৫/২৭৬ (দ র র, ম র ই)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومِن تِلْكُمُ الآيَاتِ وَحْيٌ أَتَى بِهِ … قريبُ المآتي مُسْتَجِمُّ(1) العَجائِبِ

تَقاصَرَتِ الأفكارُ عنهُ فَلم يُطِعْ … بليغًا ولم يَخْطُرْ عَلَى قَلبِ خاطِبِ

حَوَى كلَّ عِلْمٍ وَاحْتَوَى كُلَّ حِكمةٍ … وفاتَ مَرامَ المُسْتَمِرِّ المُوارِبِ(2)

أَتَانَا بِهِ لَا عَن رَوِيَّةِ مُرْتَئٍ … ولَا صُحْفِ مُسْتَمْلٍ وَلَا وَصْفِ كَاتِبِ

يُواتيهِ طَوْرًا في إجَابَةِ سَائلٍ … وإفتاءِ مُسْتَفْتٍ ووَعْظِ مُخاطَبِ

وإتيانِ بُرْهانٍ وفَرْضِ شَرائعٍ … وقَصِّ أحاديثٍ ونَصِّ مآرِبِ

وتَصريفِ أمثالٍ وتَثْبيتِ حُجَّةٍ … وتَعرِيفِ ذِي جَحْدٍ وتَوقِيفِ كاذِبِ

وفي مَجْمَعِ النَّادِي وفِي حَوْمَةِ الوَغَى … وعندَ حُدُوثِ المُعْضِلاتِ الغَرائِبِ

فَيَأتي على مَا شِئْتَ مِن طُرُقاتِه … قَويمَ المعَانِي مُسْتَدِرَّ الضَّرائِبِ(3)

يُصدِّقُ مِنْهُ البَعْضُ بَعْضًا كَأَنَّمَا … يُلاحَظُ مَعناهُ بعَيْنِ المُراقِبِ

وعَجْزُ الوَرَى عن أن يَجِيئُوا بِمِثْلِ مَا … وصَفْنَاهُ مَعْلُومٌ بطُولِ التَّجارِبِ

تَأَبَّى بِعَبْدِ اللهِ أَكْرَمِ والدٍ … تَبَلَّجَ مِنْهُ عَن كَريمِ المَناسِبِ

وشَيْبَةَ ذِي الحَمْدِ الذي فَخَرَتْ بِهِ … قُرَيشٌ على أهلِ العُلا والمَناصِبِ

ومَن كَانَ يُسْتَسْقَى الغَمامُ بوجهِهِ … ويُصْدَرُ عن آرائِهِ في النَّوائِبِ

وهاشمٍ الباني مَشِيدَ افتخارِهِ … بغُرِّ المَساعِي وَامْتِنانِ المَواهِبِ

وعبدِ مَنَافٍ وَهْوَ عَلَّمَ قومَه اشْـ … ـتِطاطَ الأمَانِي واحْتِكامَ الرَّغائِبِ

وإنّ قُصَيًّا مِن كريم غِرَاسَةٍ … لفِي مَنْهَلٍ لم يَدْنُ مِن كَفِّ قَاضِبٍ(4)

--------------------------------------------

(1) المستجم: الكثير من كل شيء، تاج العروس 16/ 117 (ج م م).

(2) المستمر: المحكم القوي، والمواربة: المداهاة والمخاتلة، تاج العروس 4/ 341، 14/ 114 (و ر ب).

(3) الضرائب: الأشكال والأمثال، لسان العرب 1/ 548، 550 (ض ر ب).

(4) سيف قاضب وقضيب: قطاع، الصحاح 1/ 203 (ق ض ب).
আর সেসব নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ওহী, যা তিনি নিয়ে এসেছেন … যার নিকটবর্তী আগমন বিস্ময়ে ভরপুর(১)।

চিন্তা ও গবেষণা এর উচ্চতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে এটি কোনো … বাগ্মী ব্যক্তির বশীভূত হয়নি এবং কোনো বক্তার হৃদয়েও উদিত হয়নি।

এটি সমস্ত জ্ঞান ধারণ করেছে এবং সমস্ত প্রজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছে … আর এটি সুদৃঢ় ও ধূর্ত ব্যক্তির লক্ষ্যকেও ছাড়িয়ে গেছে(২)।

তিনি এটি আমাদের নিকট নিয়ে এসেছেন, যা কোনো চিন্তাবিদের ভাবনাপ্রসূত নয় … কোনো শ্রুতিলিখকের পাণ্ডুলিপি নয় এবং কোনো লেখকের বর্ণনাও নয়।

এটি কখনো প্রশ্নকারীর উত্তরের ক্ষেত্রে তাঁর নিকট আসে … আবার কখনো ফতোয়া অন্বেষণকারীর সমাধান এবং সম্বোধিত ব্যক্তির উপদেশের সময়।

কখনো প্রমাণ উপস্থাপন এবং শরীয়তের বিধান প্রবর্তনের সময় … আবার কখনো কাহিনী বর্ণনা এবং উদ্দেশ্যের বিবরণের সময়।

কখনো উপমা পরিবর্তন ও যুক্তি সুদৃঢ়করণের সময় … আবার কখনো অস্বীকারকারীর পরিচয় প্রদান ও মিথ্যাবাদীকে থামিয়ে দেওয়ার সময়।

সভার সমাবেশে এবং যুদ্ধের ময়দানে … এমনকি অদ্ভুত ও জটিল সমস্যাবলি সৃষ্টির সময়ও (এটি অবতীর্ণ হয়)।

এটি তাঁর যে কোনো পথ দিয়ে আপনার অভীষ্ট অনুযায়ী আসে … যার অর্থসমূহ সুদৃঢ় এবং যার ধরনসমূহ প্রবাহমান(৩)।

এর একাংশ অপর অংশকে সত্যায়ন করে, যেন … এর অর্থ কোনো পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষিত হচ্ছে।

আমরা যা বর্ণনা করেছি, তার অনুরূপ কিছু আনতে সৃষ্টির অক্ষমতা … দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সুপরিচিত।

তিনি আবদুল্লাহর মাধ্যমে মহিমান্বিত হয়েছেন, যিনি অত্যন্ত সম্মানিত পিতা … যাঁর থেকে তিনি এক অভিজাত বংশধারায় প্রকাশিত হয়েছেন।

এবং শায়বাহর (আবদুল মুত্তালিব) মাধ্যমে, যিনি প্রশংসার অধিকারী, যাঁর কারণে … কুরাইশগণ উচ্চ মর্যাদা ও পদের অধিকারীদের ওপর গর্ব করত।

এবং যাঁর চেহারার উসিলায় মেঘের কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করা হতো … এবং যাঁর মতামতের ভিত্তিতে বিপদাপদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো।

এবং হাশেমের মাধ্যমে, যিনি স্বীয় গৌরবের প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন … মহৎ প্রচেষ্টা এবং অঢেল দান-দক্ষিণা দ্বারা।

এবং আবদে মানাফের মাধ্যমে, যিনি তাঁর কওমকে শিখিয়েছেন … সুউচ্চ আকাঙ্ক্ষা ও কামনা-বাসনার নিয়ন্ত্রণ।

আর নিশ্চয়ই কুসাই এক সম্মানজনক রোপণ থেকে উদ্ভূত … তিনি এমন এক প্রস্রবণে আছেন যেখানে কোনো কর্তনকারীর হাত পৌঁছাতে পারেনি(৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুস্তাজিম্ম: সবকিছুর আধিক্য, তাজুল আরুস ১৬/১১৭ (জ ম ম)।

(২) আল-মুস্তামির: সুদৃঢ় ও শক্তিশালী, এবং আল-মুয়ারাবাহ: প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা, তাজুল আরুস ৪/৩৪১, ১৪/১১৪ (ও র ব)।

(৩) আদ-দারাইব: রূপ ও উদাহরণসমূহ, লিসানুল আরব ১/৫৪৮, ৫৫০ (জ র ব)।

(৪) সাইফে কদিব এবং কদিব: কর্তনকারী, আস-সিহাহ ১/২০৩ (ক জ ব)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২৫)
به جَمَعَ اللهُ القَبَائِلَ بعدَما … تَقَسَّمَها نَهْبُ الأكُفِّ السَّوالِبِ

وحَلَّ كِلابٌ مِن ذُرَى المَجْدِ مَعْقِلًا … تَقاصَرَ عنهُ كلُّ دانٍ وغائِبِ(1)

ومُرَّةُ لم يَحْلُلْ مَرِيرَةَ(2) عَزْمِهِ … سفاهُ سَفِيهٍ أو [مَحُوبةُ حائِبِ](3)

وكَعْبٌ عَلا عن طَالب المَجدِ كَعْبُهُ … فنالَ بأدْنَى السَّعْي أعلَى المَراتِبِ

وألْوَى لُؤَيٌّ بالعُداةِ فَطُوِّعَتْ … لَهُ هِمَمُ الشُّمِّ الأُنوفِ الأغالِبِ

وفي غالبٍ بَأْسٌ أَبَى البَأسُ دُونَهمْ … يُدافِعُ عنهُم كُلَّ قِرْنٍ مُغالِبِ

وكَانَتْ لفِهْرٍ فِي قُريشٍ خَطَابَةٌ … يَعُوذُ(4) بهَا عِندَ اشْتِجارِ المَخَاطِبِ(5)

ومَازَالَ مِنهم مالِكٌ خيرَ مَالكٍ … وأَكْرَمَ مَصْحُوبٍ وأَكرَمَ صَاحِبِ

وللنَّضْرِ طَوْلٌ يَقْصُرُ الطَّرْفُ دونَه … بحيثُ الْتَقَى ضَوءُ النُّجومِ الثَّواقِبِ

وعَمْرِي(6) لقد أَبْدَى كِنانَةُ بعده(7) … محاسِنَ تأبَى أن تَطُوعَ لغَالِبِ

ومِن قَبْلِهِ أبْقَى خُزَيْمَةُ حَمْدَهُ … تَلِيدَ تُراثٍ عن حَميدِ الأقارِبِ

ومُدْرِكَةٌ لم يُدْرِكِ النَّاسُ مِثْلَه … أعَفَّ وأعْلَى عن دَنِيءِ المَكَاسِبِ

وإلياسُ كَانَ اليَأْسُ مِنْهُ مُقارِنًا … لأعدائِهِ قَبْلَ اعْتِدَادِ(8) الكتائِبِ

--------------------------------------------

(1) في س: "غالب".

(2) المريرة: العزيمة، الصحاح 2/ 814 (م ر ر).

(3) في ح: "مخونة خانب"، والحائب: الآثم، تاج العروس 2/ 323 (ح و ب).

(4) في ص: "يعود".

(5) المخاطب: الخُطب، جمع على غير قياس، جمع مخطبة، والمخطبة: الخطبة، لسان العرب 1/ 361 (خ ط ب).

(6) في م: "لعمري".

(7) في م: "قبله".

(8) في ص: "اعتذار".
তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ গোত্রসমূহকে একত্রিত করেছেন, যখন … লুটেরা হস্তের লুণ্ঠন তাদের বিভক্ত করে দিয়েছিল।

এবং কিলাব গৌরবের শিখরে এমন এক আশ্রয়স্থলে অবস্থান নিলেন, … যার কাছে পৌঁছাতে নিকটবর্তী বা দূরবর্তী সকলেই ব্যর্থ হয়।(১)

আর মুররার সংকল্পের দৃঢ়তাকে(২) কোনো … মূর্খের মূর্খতা বা কোনো [পাপাচারীর পাপবোধ] টলাতে পারেনি।(৩)

এবং কা’ব-এর মর্যাদা গৌরব অন্বেষণকারীদের চেয়ে ঊর্ধ্বে উঠে গেল, … ফলে তিনি অতি সামান্য প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ পদমর্যাদা লাভ করলেন।

লুআই শত্রুদের পরাস্ত করেছিলেন, ফলে উচ্চাভিলাষী, … আত্মমর্যাদাবান ও বিজয়ী বীরদের সংকল্প তাঁর অনুগত হয়ে পড়েছিল।

আর গালিবের মধ্যে এমন বিক্রম ছিল যা তাদের ছাড়া অন্য কোথাও থাকতে অস্বীকার করত, … তা তাদের পক্ষ হয়ে প্রত্যেক প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিহত করত।

কুরাইশ বংশে ফিহরের এমন এক বাগ্মিতা ছিল, … বক্তৃতার বিবাদকালে যার আশ্রয় নেওয়া হতো।(৪)(৫)

আর তাদের মধ্যে মালিক সর্বদা শ্রেষ্ঠ অধিপতি, … শ্রেষ্ঠ সঙ্গী এবং শ্রেষ্ঠ সহচর হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন।

আন-নাদরের এমন শ্রেষ্ঠত্ব ছিল যার নাগাল পেতে দৃষ্টি ব্যর্থ হয়, … যেখানে উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির আলো মিলিত হয়।

আমার জীবনের কসম!(৬) কিনানা তাঁর পরে(৭) এমন সব … গুণাবলি প্রকাশ করেছেন যা কোনো বিজয়ীর কাছে নতি স্বীকার করতে অস্বীকার করে।

তাঁর পূর্বে খুযাইমাহ তাঁর প্রশংসা রেখে গিয়েছেন, … যা তাঁর প্রশংসিত আত্মীয়দের পক্ষ থেকে পাওয়া এক প্রাচীন উত্তরাধিকার।

আর মুদরিকা—মানুষ তাঁর মতো কাউকে পায়নি; … তিনি ছিলেন অত্যন্ত পবিত্র এবং নীচ উপার্জন থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।

ইলিয়াসের শত্রুদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে হতাশা অবধারিত ছিল, … এমনকি বাহিনীসমূহ গণনা করার(৮) পূর্বেই।

--------------------------------------------

(১) ‘স’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "গালিব"।

(২) আল-মারীরাহ: সংকল্প বা দৃঢ়তা, আস-সিহাহ ২/৮১৪ (ম-র-র)।

(৩) ‘হ’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "মাখওয়ানাতু খানিবি", আর আল-হাইব: পাপাচারী, তাজুল আরূস ২/৩২৩ (হ-ও-ব)।

(৪) ‘স’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ইয়াউদু" (ফিরে আসা)।

(৫) আল-মাখাতিব: খুতবা বা ভাষণসমূহ, এটি নিয়মের বাইরে ‘মাখতাবাহ’ এর বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; আর মাখতাবাহ: ভাষণ বা খুতবা, লিসানুল আরব ১/৩৬১ (খ-ত-ব)।

(৬) ‘ম’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "লা-আমরি"।

(৭) ‘ম’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তাঁর পূর্বে"।

(৮) ‘স’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ই’তিযার" (ওজর পেশ করা)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২৬)
وفي مُضَرٍ يَسْتَجْمِعُ الفَخرُ كلُّه … إذا اعْتَرَكَتْ يَومًا زحُوفُ المقانِبِ(1)

وحَلَّ نِزارٌ مِن رِياسةِ أهلِهِ … مَحَلًّا تسَامَى عن عُيُونِ الرَّواقِبِ

وكانَ مَعَدٌّ عُدَّةً لولِيِّه … إذا خَافَ مِن كَيدِ العَدوِّ المُحارِبِ

ومَازَالَ عَدْنانُ إذا عُدَّ فَضْلُهُ … تَوَحَّدَ فِيهِ عَن قَرِينٍ وَصَاحِبِ

وأُدٌّ تأدَّى الفضلُ مِنْهُ بِغَايَةٍ … وَإِرْثٍ حَوَاهُ عَن قُرُومٍ(2) أَشايِبِ

وفي أُدَدٍ حِلْمٌ تَزَيَّنَ بالحِجَا … إذا الحِلْمُ أزْهاهُ قُطوبُ الحَواجِبِ(3)

ومَا زَالَ يَسْتَعْلِي هَمَيْسَعُ بالعُلا … ويَتْبَعُ(4) آمالَ البَعيدِ المراغِبِ

ونَبْتٌ بَنَتْهُ دَوحَةُ العِزِّ وابتَنَى … معاقِلَه في مُشْمَخِرِّ(5) الأهاضِبِ

وحيزَتْ لقيذارٍ سَمَاحةُ حَاتِمٍ … وحِكمَةُ لُقْمَانٍ وهِمَّةُ حاجِبِ

همُ نَسْلُ إِسْمَاعِيلَ صَادِقِ وَعْدِهِ … فَمَا بَعْدَهُ فِي الفَخْرِ مَسْعًى لذاهِبِ

وكان خليل اللهِ أَكْرَمَ مَن عَنَتْ … لَهُ الأرضُ مِن ماشٍ عَلَيها وراكِبِ

وتارَحُ ما زالَتْ لَهُ أَرْيَحِيَّةٌ … تُبَيِّنُ مِنه عن حَمِيدِ الضَّرائب(6)

وناحُورُ نَحَّارُ العِدَى حُفِظَتْ لَهُ … مآثِرُ لمَّا يُحْصِها عَدُّ حَاسِبِ

وأَشْرَعُ(7) في الهَيْجاءِ ضَيْغَمُ غابةٍ … يَقُدُّ الطُّلَى بالمُرْهَفاتِ القَواضِبِ

--------------------------------------------

(1) المقانب جمع المقنب؛ بالكسر: جماعة الخيل والفرسان، وقيل: هي دون المائة، لسان العرب 1/ 690 (ق ن ب).

(2) القروم؛ جمع القرم: السيد المعظم، لسان العرب 12/ 473 (ق ر م).

(3) قطوب الحواجب: تَزَوِّي ما بين العينين عند العُبوس، لسان العرب 1/ 680 (ق ط ب).

(4) في ح: "يبلع".

(5) المشمخر: الطويل من الجبال، لسان العرب 4/ 429 (شمخر).

(6) في م: "المضارب"، والضرائب، جمع الضريبة: الطبيعة، يقال: إنه لكريم الضرائب، تهذيب اللغة 12/ 21.

(7) في حاشية ص: "كذا ضبط أبو علي هنا: أشرع بالراء، وتقدم بالواو قبل الشعر"، وتقدم ص 21.
মুদারের মধ্যে সকল গৌরব পুঞ্জীভূত হয়েছে … যখন কোনো একদিন ধাবমান অশ্বারোহী দলগুলো যুদ্ধে লিপ্ত হয়।(১)

নিজার তাঁর স্বজনদের মাঝে নেতৃত্বের এমন এক আসনে … আসীন হলেন যা পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টির অনেক ঊর্ধ্বে।

মাআদ ছিলেন তাঁর বন্ধুর জন্য এক বড় অবলম্বন … যখন সে যুদ্ধরত শত্রুর ষড়যন্ত্রের ভয় পেত।

আদনানের শ্রেষ্ঠত্ব যখনই গণনা করা হয়, তিনি সর্বদা … সমকক্ষ ও সঙ্গীহীনভাবে তাতে অনন্য হয়ে থাকেন।

আর উদ্দ, যাঁর মাধ্যমে চরম উৎকর্ষ অর্জিত হয়েছে … এবং এমন এক উত্তরাধিকার তিনি লাভ করেছেন যা মহান প্রবীণ সর্দারদের থেকে প্রাপ্ত।(২)

উদাদের মধ্যে ছিল প্রজ্ঞা-শোভিত ধৈর্য … এমনকি যখন ভ্রূকুটির কাঠিন্য সেই ধৈর্যকে বিচলিত করতে চায়।(৩)

হামাইসা সর্বদা মর্যাদার উচ্চশিখরে আরোহণ করতেন … এবং সুদূরপ্রসারী সব আকাঙ্ক্ষার অনুসরণ করতেন।(৪)

আর নাবত, যাঁকে গড়েছে সম্মানের এক বিশাল বৃক্ষ, এবং তিনি নির্মাণ করেছেন … তাঁর দুর্ভেদ্য দুর্গগুলো সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গে।(৫)

কাইদারের জন্য হাতেমের বদান্যতা যেন একত্র করা হয়েছে … সাথে লোকমানের হিকমত এবং হাজিবের সুউচ্চ সংকল্প।

তাঁরাই হলেন প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যনিষ্ঠ ইসমাইলের বংশধর … তাঁর পরে গৌরবের আর কোনো লক্ষ্য অবশিষ্ট নেই।

আল্লাহর খলীল (ইবরাহিম) ছিলেন জমিনের বুকে বিচরণকারী … সকল পদব্রজী ও আরোহীর মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।

আর তারাহ, যাঁর মধ্যে সর্বদা বিদ্যমান ছিল এক স্বতঃস্ফূর্ত দানশীলতা … যা তাঁর প্রশংসনীয় স্বভাবের পরিচয় দিত।(৬)

আর নাহূর ছিলেন শত্রুদের সংহারকারী, যাঁর জন্য সংরক্ষিত রয়েছে … এমন সব কীর্তিগাঁথা যা কোনো গণনাকারী গুণে শেষ করতে পারবে না।

আর আশরা(৭) ছিলেন রণক্ষেত্রে অরণ্যের এক সিংহ সদৃশ … যিনি ধারালো তরবারি দিয়ে গর্দান উড়িয়ে দিতেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মাকানিব হলো আল-মিকনাব-এর বহুবচন; কাসরা (জের) দিয়ে: অশ্বারোহী ও বীরদের দল, বলা হয়: এটি একশ’র কম সদস্যের দল, লিসানুল আরব ১/৬৯০ (ক্ব-ন-ব)।

(২) আল-কুরুম; আল-কারম-এর বহুবচন: মহান ও সম্মানিত সর্দার, লিসানুল আরব ১২/৪৭৩ (ক্ব-র-ম)।

(৩) কুতুবুল হাওয়াজিব: রাগের সময় দুই ভ্রূর মাঝখানের অংশ সংকুচিত করা, লিসানুল আরব ১/৬৮০ (ক্ব-ত-ব)।

(৪) ‘হা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: “পৌঁছানো”।

(৫) আল-মুশমাখির: সুউচ্চ পর্বত, লিসানুল আরব ৪/৪২৯ (শ-ম-খ-র)।

(৬) ‘মীম’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: “আল-মাদারিব”; আর আয-যারাইব হলো আয-যারীবাহ-এর বহুবচন: স্বভাব বা প্রকৃতি, বলা হয়: নিশ্চয়ই তিনি উত্তম স্বভাবের অধিকারী, তাহযীবুল লুগাহ ১২/২১।

(৭) ‘সোয়াদ’ পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: “আবু আলী এখানে এভাবেই ‘রা’ বর্ণ দিয়ে ‘আশরা’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছেন, আর কবিতার আগে এটি ‘ওয়াও’ বর্ণ দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে”, যা ২১ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأَرْغُو فنابٌ في الحُروب مُحكَّمٌ … ضنِينٌ علَى نَفْسِ المُشِحِّ المُغالِبِ

وما فالَغٌ فى فَضْلِهِ تِلْوَ قَوْمِهِ … ولا عَابَرٌ مِن دُونِهِمْ في المَراتِبِ

وشالَخْ وأرفَخْشَذْ وسامٌ نَمَتْ(1) بهمْ … سَجايَا حَمَتْهُمْ كُلَّ زارٍ وعائِبِ

ومَازَالَ نوحٌ عِندَ ذِي العَرشِ فَاضِلًا … يُعَدِّدُه في المُصطَفَيْنَ الأطايِبِ

ولَمْكٌ(2) أبوهُ كَانَ في الرَّوْع رائعًا … جريئًا على نفسِ الكَمِيِّ(3) المُضَارِبِ

ومن قبْلِ لَمكٍ لم يَزَلْ مُتَوَشْلِخٌ … يَذُودُ العِدَى بالذَّائداتِ الشَّوازِب(4)

وكَانَتْ لإدْرِيسَ النَّبِيِّ مَنَازِلٌ … مِنَ اللهِ لم تُقْرَنْ بِهِمَّةِ راغِبِ

ويارَدُ بَحرٌ عِندَ أَهْلِ سَرَاتِهِ … أبيُّ الخَزايا مُسْتَدِقُّ المَآرِبِ

وكَانَتْ لِمهلائيلَ فيهم فضائلٌ … مُهَذَّبةٌ من فاحشاتِ المَثالِبِ

وقَيْنانُ مِن قَبْلُ اقْتَنَى مَجْدَ قَومِهِ … وفات بِشَأْوِ الفَضلِ وَخْدَ(5) الرَّكَائِبِ

وكَانَ أَنُوشٌ نَاشَ للمَجْدِ نَفْسَهُ … ونَزَّهَها عن مُردِياتِ المَطالِبِ

ومَازَالَ شِيثٌ بالفَضائلِ فَاضلًا … شريفًا بَرِيئًا مِن ذَميم المعايبِ

وكُلُّهمُ مِن نُورِ آدَمَ أُقْبِسُوا … وَعَن عُودِهِ اُجْنُوا ثِمَارَ المَناقِبِ

وكَانَ رَسُولُ اللهِ أَكرَمَ مُنْجَبٍ … جَرَى في ظُهُورِ الطَّيِّبِينَ المَناجِبِ

مُقابَلَةٌ آبَاؤُهُ أُمّهاتِه … مُبَرَّأةٌ مِنْ فاضحاتِ المَثالِبِ

عَلَيهِ سَلامُ اللهِ فِي كُلِّ شَارِقٍ … ألاحَ لنا ضَوْءًا وفى كلِّ غارِبِ(6)

--------------------------------------------

(1) في ح، م: "سمت".

(2) في حاشية ح: "يقال في لامِك: لملك".

(3) الكمي: اللابس السلاح، لسان العرب 15/ 232 (ك م ى).

(4) في ح، س، م: "الشوارب"، والشوزرب: الخيل المضمرات، لسان العرب 1/ 494 (ش ز ب).

(5) الوخد: ضرب من سير الإبل سريع، لسان العرب 3/ 453 (و خ د).

(6) بعده في س: "تم القصيد في مدح رسول الله صلى الله عليه وسلم".
এবং আরগু ছিলেন যুদ্ধে এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব … কৃপণ বিজয়ী শত্রুর বিরুদ্ধে নিজ সত্তার একনিষ্ঠ রক্ষক।

আর ফালাগ স্বীয় সম্প্রদায়ের মাঝে মর্যাদায় পিছিয়ে ছিলেন না … আর না আবার তাদের চেয়ে মর্যাদার স্তরে নিচে ছিলেন।

আর শালাখ, আরফাখশায এবং সাম, তাদের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে … এমন স্বভাব যা তাদের রক্ষা করেছে সকল নিন্দুক ও ত্রুটি অন্বেষণকারী থেকে।(১)

এবং নূহ আরশের অধিপতির নিকট সর্বদা মর্যাদাবান ছিলেন … তিনি তাকে গণ্য করেন মনোনীত পবিত্র বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে।

আর লামক(২) ছিলেন তাঁর পিতা, যিনি রণক্ষেত্রে ছিলেন বিস্ময়কর … যুদ্ধরত অস্ত্রধারী বীর যোদ্ধার(৩) বিরুদ্ধে অত্যন্ত সাহসী।

আর লামকের পূর্বে মুতাওয়াশলিখ সর্বদা ছিলেন এমন … যিনি শত্রুদের বিতাড়িত করতেন দ্রুতগামী শীর্ণকায় ঘোড়ার(৪) সাহায্যে।

আর নবী ইদ্রিসের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন উচ্চ মর্যাদা ছিল … যা কোনো সাধারণ উচ্চাকাঙ্ক্ষীর সংকল্পের সাথে তুলনীয় নয়।

আর ইয়ারাদ ছিলেন তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানদের নিকট এক সমুদ্রতুল্য দানশীল … তিনি ছিলেন লজ্জাজনক কাজ থেকে বিমুখ এবং সূক্ষ্ম উদ্দেশ্য সম্পন্ন।

আর মাহলায়ীলের মাঝে ছিল অনেক মহিমা … যা ছিল অশ্লীল ও নিন্দনীয় ত্রুটিসমূহ থেকে পরিমার্জিত।

আর কায়নান তার পূর্বেই স্বীয় সম্প্রদায়ের গৌরব অর্জন করেছিলেন … এবং শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে দ্রুতগামী উটের(৫) গতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।

আর আনুশ মর্যাদার জন্য নিজের সত্তাকে নিয়োজিত করেছিলেন … এবং নিজেকে রক্ষা করেছিলেন ধ্বংসাত্মক লক্ষ্যসমূহ থেকে।

এবং শীস সর্বদা শ্রেষ্ঠত্বের গুণে গুণান্বিত ছিলেন … তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত এবং সকল নিন্দনীয় দোষ থেকে মুক্ত।

আর তারা সকলেই আদমের নূর থেকে আলো গ্রহণ করেছেন … এবং তাঁর বংশধারা থেকে উত্তম গুণাবলির ফল আহরণ করেছেন।

আর আল্লাহর রাসূল ছিলেন সর্বাধিক সম্মানিত সন্তান … যিনি পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষদের পৃষ্ঠদেশ থেকে অতিবাহিত হয়ে এসেছেন।

তাঁর পিতৃপুরুষগণ এবং মাতৃগণ ছিলেন সমমর্যাদাসম্পন্ন … এবং তারা ছিলেন লজ্জাজনক সকল ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক প্রত্যেক সূর্যোদয়ে … যা আমাদের জন্য আলো বিচ্ছুরিত করে, এবং প্রত্যেক সূর্যাস্তে।(৬)

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি 'হা' ও 'মীম'-এ রয়েছে: "সামাত"।

(২) পাণ্ডুলিপি 'হা'-এর টীকায় রয়েছে: "লামিক-কে লমক-ও বলা হয়"।

(৩) আল-কামীয়: অস্ত্র পরিহিত ব্যক্তি, লিসানুল আরব ১৫/২৩২ (কা ম ইয়া)।

(৪) পাণ্ডুলিপি 'হা', 'সীন', 'মীম'-এ রয়েছে: "আশ-শওয়ারিব", আর আশ-শাওরিব (শাউরব) অর্থ: শীর্ণকায় ঘোড়া, লিসানুল আরব ১/৪৯৪ (শা যা বা)।

(৫) আল-ওয়াখদ: উটের এক প্রকার দ্রুত চলন, লিসানুল আরব ৩/৪৫৩ (ওয়া খা দাল)।

(৬) পাণ্ডুলিপি 'সীন'-এ এরপর রয়েছে: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় কবিতাটি সমাপ্ত হলো"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২৮)
[أخبَرنا أحمدُ بنُ عبدِ اللهِ، أَخبرنا مَسْلَمةُ بنُ قاسمٍ، حدَّثنا جعفرُ ابنُ محمدِ بنِ الحسنِ الأصبهانيُّ، حدَّثنا يونسُ بنُ حبيبِ بنِ عبدِ القاهرِ الزبيريُّ، حدَّثنا أبو داودَ الطيالسيُّ، قال: حدَّثنا أبو عوانةَ، عن المغيرة، عن أبي الضحَى، عن مسروقٍ، عن عبدِ اللهِ، قال: انشقَّ القمرُ على عهدِ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالت قريشٌ: هذا سحرُ ابن أبي كَبْشَةَ، قال: فقال: انظروا ما يأتيكم به المسافرون، فإنَّ محمدًا لا يستطيعُ أن يَسْحَرَ الناسَ كلَّهم، قال: فجاء المسافرون فقالوا ذلك(1).

وروى ابنُ عيينةَ، عن ابن أبي نجيحٍ، عن مجاهدٍ، عن أبي معمرٍ، عن ابن مسعودٍ، قال: انشق القمرُ على عهدِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم شقين، فقال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: "اشْهَدُوا"(2).

ومن حديث قتادةَ، عن أنسٍ، أنَّ أهلَ مكة سألوا رسولَ الله صلى الله عليه وسلم أن يُريَهم آيةً، فأراهُمُ انشِقاقَ القمر(3).

ومن حديث جعفرِ بن ربيعةَ، عن عراكِ بنِ مالكٍ، عن عبيدِ اللهِ بنِ](4)

--------------------------------------------

(1) الطيالسي (293) ومن طريقه البيهقي في الدلائل 2/ 266، وأخرجه البزار (1971)، والطبري في تفسيره 22/ 106، والبيهقي في الدلائل 2/ 266 من طريق أبي عوانة به.

(2) أخرجه البخاري (3636)، ومسلم (2800)، والبيهقي في الدلائل 2/ 264 من طريق ابن عيينة به.

(3) أخرجه عبد الرزاق في تفسيره 2/ 257، وعبد بن حميد (1182)، والبخاري (3637، 3868)، والترمذي (3286)، واللالكائي في شرح أصول الاعتقاد (1463)، وابن جرير في تفسيره 22/ 103 - 105، والبيهقي في الدلائل 2/ 263 من طريق قتادة به.

(4) سقط من: ح، س، م.
[আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাসলামা ইবনে কাসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-আসবাহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে হাবিব ইবনে আব্দুল কাহির আজ-জুবায়রি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুগিরাহ থেকে, তিনি আবুল দুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। তখন কুরাইশরা বলল: এটি ইবনে আবি কাবশার জাদু। তিনি বলেন: তখন তারা বলল: মুসাফিররা তোমাদের কাছে কী খবর নিয়ে আসে তা দেখ, কারণ মুহাম্মদ সমস্ত মানুষকে জাদু করতে সক্ষম নয়। তিনি বলেন: অতঃপর মুসাফিররা এল এবং তারা সেই একই কথা বলল(১).

এবং ইবনে উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু মা’মার থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা সাক্ষী থাকো"(২).

এবং কাতাদাহর হাদিস থেকে আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত যে, মক্কাবাসী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোনো নিদর্শন দেখানোর আবেদন করেছিল, তখন তিনি তাদের চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া দেখান(৩).

এবং জাফর ইবনে রবিয়াহর হাদিস থেকে, ইরাক ইবনে মালিক থেকে, উবায়দুল্লাহ ইবনে এর সূত্রে](৪)

--------------------------------------------

(১) আত-তায়ালিসি (২৯৩) এবং তাঁর সূত্রে বায়হাকি 'আদ-দালাইল' ২/২৬৬-এ; আল-বাজজার (১৯৭১), তবারি তাঁর তাফসিরে ২২/১০৬ এবং বায়হাকি 'আদ-দালাইল' ২/২৬৬-এ আবু আওয়ানার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি বুখারি (৩৬৩৬), মুসলিম (২৮০০) এবং বায়হাকি 'আদ-দালাইল' ২/২৬৪-এ ইবনে উইয়াইনাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি আব্দুর রাজ্জাক তাঁর তাফসিরে ২/২৫৭-এ, আব্দ ইবনে হুমাইদ (১১৮২), বুখারি (৩৬৩৭, ৩৮৬৮), তিরমিযি (৩২৮৬), লালকায়ি 'শারহু উসুলিল ই'তিকাদ' (১৪৬৩)-এ, ইবনে জারির তাঁর তাফসিরে ২২/১০৩-১০৫ এবং বায়হাকি 'আদ-দালাইল' ২/২৬৩-এ কাতাদাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি হ, স, ম পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ২৯)
[عبدِ اللهِ، عن ابنِ عباسٍ، أنَّ القمرَ انشقّ في زمانِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم(1)](2).

قالَ أبو عمرَ: الذي أجمَعُوا علَيه من ولَدِ عدنانَ مَعَدٌّ، وكثيرٌ مِنهم يقُولُون(3): وعكٌّ، واختلَفُوا فيما سواهُما، وأمَّا مَعَدٌّ فَذَكَرَ له بعضُهم ثمانيةً مِنَ الولَدِ؛ مِنهُم قُضاعةُ، وإيادٌ، وحَيدانُ أبو مَهْرَةَ، وقَنَصُ بنُ مَعَدٍّ، ونِزارُ بنُ مَعَدٍّ، وأنكَرَ أكثرُ أهلِ العلمِ أن يكونَ لمَعَدٍّ ولَدٌ غيرُ نِزارٍ، وأجمَعُوا كلُّهم على أنَّ كلَّ مَعَدِّيٍّ وعدنانيٍّ اليومَ نِزارِيٌّ، ولا يعلَمُونَ لَمَعَدٍّ ولدًا غيرَ نِزارٍ، فنِزارٌ صريحُ ولَدِ مَعَدِّ بن عدنانَ بإجماعٍ، وغيرُ ذلك مُختلَفٌ فيه علَى ما نذكُرُه بعدُ إِن شاءَ اللهُ تعالَى(4).

 

‌‌قحطانُ

وأمَّا قحطانُ، فالاختلافُ فيه كثيرٌ على ما أَصِفُ لك إن شاءَ اللهُ؛ قال محمدُ بنُ عَبدَةَ بن سُليمانَ النَّسَّابَةُ: اختلَفَ النَّسَّابونَ جميعًا في نِسبَةِ قحطانَ علَى ثلاثِ مَقالاتٍ، تفرَّقَ أهلُ كُلِّ مَقالَةٍ مِنها عَلَى ثلاثِ مَقالاتٍ، فنسَبَته طائفةٌ إِلَى إِرَمَ بن سام بنِ نوحٍ، وقالَت فيه ثلاثَ مَقالاتٍ، ونسَبَته طائفةٌ(5) إلى إسماعيلَ بن إبراهيمَ عليهما

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (4866)، ومسلم (2803)، وابن جرير في تفسيره 22/ 109، والبيهقي في الدلائل 2/ 267 من طريق جعفر به.

(2) سقط من: ح، س، م.

(3) في ح، س، م: "يقول".

(4) سيأتي ص 45.

(5) بعده في ح، م: "إلى عابر بن شالخ بن سام بن نوح، وقالت فيه ثلاث مقالات، ونسبته طائفة".
[আব্দুল্লাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল(১)](২).

আবু উমর বলেন: আদনানের সন্তানদের মধ্য থেকে যাঁর ব্যাপারে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন তিনি হলেন মা'আদ, এবং তাঁদের অনেকেই বলেন(৩): এবং আক্ক। তাঁরা এই দুইজন ব্যতীত অন্যদের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তবে মা'আদ সম্পর্কে কেউ কেউ তাঁর আটজন সন্তানের কথা উল্লেখ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কুযা'আহ, ইয়াদ, হাইদান—যিনি আবু মাহরাহ-এর পিতা, কানাস ইবনে মা'আদ এবং নিযার ইবনে মা'আদ। অধিকাংশ আলিম মা'আদের নিযার ব্যতীত অন্য কোনো সন্তান থাকাকে অস্বীকার করেছেন। তাঁরা সকলে এ বিষয়ে একমত যে, বর্তমানে সকল মা'আদ ও আদনান বংশীয় লোকই নিযার বংশীয়, এবং তাঁরা নিযার ছাড়া মা'আদের অন্য কোনো সন্তান সম্পর্কে জানেন না। সুতরাং ঐকমত্য অনুযায়ী নিযার হলেন মা'আদ ইবনে আদনানের স্পষ্ট সন্তান, এবং বাকিদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরে উল্লেখ করব(৪)।

 

‌‌কাহতান

আর কাহতান সম্পর্কে অনেক মতভেদ রয়েছে, যা আমি আপনার কাছে ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব; বংশবিদ মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ ইবনে সুলাইমান বলেন: বংশবিদগণ সকলে কাহতানের বংশপরিচয় সম্পর্কে তিনটি মতের ওপর ভিত্তি করে মতভেদ করেছেন, এবং প্রতিটি মতের অনুসারীরা আবার তিনটি করে উপ-মতে বিভক্ত হয়েছেন। একদল তাকে নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র সামের পুত্র ইরামের বংশধর বলেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁরা তিনটি মত দিয়েছেন। আরেক দল(৫) তাঁকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৪৮৬৬), মুসলিম (২৮০৩), ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে ২২/১০৯ এবং বায়হাকী দালায়িলুন নুবুওয়াহ গ্রন্থে ২/২৬৭-এ জাফরের সনদে।

(২) পাণ্ডুলিপি হা, সিন, মীম থেকে এটি বিলুপ্ত।

(৩) পাণ্ডুলিপি হা, সিন, মীম-এ রয়েছে: "তিনি বলেন"।

(৪) সামনে ৪৫ নং পৃষ্ঠায় আসবে।

(৫) পাণ্ডুলিপি হা এবং মীম-এ এর পরে রয়েছে: "আবির ইবনে শালেখ ইবনে সাম ইবনে নূহ-এর দিকে এবং এ বিষয়ে তাঁরা তিনটি মত ব্যক্ত করেছেন, আর একটি দল তাঁকে সম্পৃক্ত করেছেন"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৩০)
السَّلامُ وقالت في ذلك ثلاثَ مَقالاتٍ، [ونسبته طائفةٌ إلى عابَر، وقالت في ذلك ثلاثَ مقالاتٍ](1).

فأمَّا الذين نسَبُوه إِلَى إِرَمَ؛ فقالَتِ الفرقةُ الأولى منهم: هو قحطانُ بنُ هودِ بن عبدِ اللهِ بنِ الجَلُودِ بنِ [عَادِ بنِ](2) عُوصِ بنِ إِرَمَ ابن سَامِ بن نوحٍ، وقالَتِ الفِرقةُ الثَّانيةُ مِنهم: هو قحطانُ بنُ هودِ بنِ عبدِ اللهِ بنِ ريَاحِ بنِ الجَلُودِ بنِ عَادِ بنِ عُوصَ بنِ إِرَمَ بنِ سامِ ابنِ نوحٍ.

وقالَتِ الفرقةُ الثَّالثةُ مِنهم: هو قحطانُ بنُ هُمَيْسَعَ بنِ تَيْمَنَ بنِ قحطانَ بنِ هودِ بنِ تَيْمَنَ بنِ إِرَم بن سامِ بن نوحٍ.

ولا أظنُّ هذه الفِرقةَ صنَعَت شيئًا.

وأمَّا الذين نسَبُوه إلَى عَابَرَ؛ فقالَتِ الطَّائفة الأولى منهم، وهم جُلُّ أهلِ اليَمَنِ(3): قحطانُ هو يقطانُ، وهو يقطونُ، وهُو يَقْطِينُ، ويَقْطُنُ، ابنُ عَابَرَ، وهُو هودٌ نبيُّ اللهِ، بن شالَخَ بنِ أَرْفَخَشَذَ بنِ سَامِ بنِ نوحٍ.

وقال الزبيرُ بنُ بكَارٍ: قحطانُ بالعربيَّة، وهو يقطُنُ بالعِبْرانيَّةِ، ويقطانُ بالسُّريانيَّةِ بنُ نبتِ -وهو نابتٌ- بنِ عَابَرَ بنِ شَالَخَ بنِ أرفخشَذَ ابنِ سامِ بنِ نوحِ بنِ لمْكِ، وهو لامَكُ، بنِ مُتَوَشْلِخَ بن أخنُوخ، وهو

--------------------------------------------

(1) سقط من: ح، س، م.

(2) سقط من: ص.

(3) بعده في ح، م: "اليوم".
সালাম এবং এ বিষয়ে তারা তিনটি মত ব্যক্ত করেছে, [এবং একদল তাকে আ’বিরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, আর এ বিষয়ে তারা তিনটি মত ব্যক্ত করেছেন](১)।

অতঃপর যারা তাকে ইরামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন; তাদের প্রথম দলটি বলেছে: তিনি হলেন কাহতান ইবনে হুদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জালুদ ইবনে [আদ ইবনে](২) আউস ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহ।

এবং তাদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় দলটি বলেছে: তিনি হলেন কাহতান ইবনে হুদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে রিয়াহ ইবনে জালুদ ইবনে আদ ইবনে আউস ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহ।

এবং তাদের মধ্য থেকে তৃতীয় দলটি বলেছে: তিনি হলেন কাহতান ইবনে হুমাইসা ইবনে তাইমান ইবনে কাহতান ইবনে হুদ ইবনে তাইমান ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহ।

আর আমি মনে করি না যে এই দলটি সঠিক কোনো কিছু পেশ করেছে।

আর যারা তাকে আ’বিরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন; তাদের মধ্য থেকে প্রথম দলটি—যারা ইয়ামেনের অধিকাংশ অধিবাসী(৩)—বলেছে: কাহতান হলেন ইয়াকতান, তিনিই ইয়াকতুন, তিনিই ইয়াকতিন এবং ইয়াকতুন; আ’বিরের পুত্র, আর তিনি হলেন আল্লাহর নবী হুদ, ইবনে শালাখ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ।

এবং জুবাইর ইবনে বাক্কার বলেছেন: কাহতান আরবি ভাষায়, হিব্রু ভাষায় তিনি ইয়াকতুন এবং সুরয়ানি ভাষায় ইয়াকতান; তিনি নাবত—যিনি নাবিত—ইবনে আ’বির ইবনে শালাখ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ ইবনে লামক—যিনি লামাক—ইবনে মুতাউশালিদ ইবনে আখনুখ, এবং তিনি...

--------------------------------------------

(১) হা, সিন, মিম পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) সদ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) হা ও মিম পাণ্ডুলিপিতে এর পরে 'আজ' শব্দটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৩১)
إدريسُ، بن يارَدَ -وهو يرْدٌ- بنِ قَينَ -وهو قَيْنانُ- بن أنوشَ بنِ شَثَّ(1) بالعربيَّةِ، وهُو شاثٌ بالسُّريانيَّةِ، وشيثُ بالعبرانيَّةِ، وهو هبةُ اللهِ، بنِ آدَمَ، وإليه أوصى آدَمُ صلى الله عليه وسلم.

قال عليُّ بنُ كَيسانَ: أنوشُ بنُ شِيثَ هو بالعربيَّةِ أنسُ بنُ شِيثَ.

وقالت الطَّائفةُ الثَّانيةُ: قحطانُ ويقطانُ أخوانِ، وهما ابنا عَابَرَ، وهو هودٌ نبيُّ اللهِ - بن شالَخَ بنِ أرفخشَذَ بن سَامِ بنِ نوحٍ.

وقالَت الطَّائفةُ الثَّالثةُ: قحطانُ بنُ هُمَيْسَعَ بنِ تَيْمَنَ بنِ يقطانَ بنِ عَابَرَ -وهو هودٌ- بن شالخَ بنِ أرفخشَذَ بن سامِ بنِ نوحٍ.

وأمَّا الذين نسَبُوه إلى إسماعيلَ بن إبراهيمَ عليهما السلام: فقالَت الطَّائفةُ الأولى مِنهم: قحطانُ بنُ هُمَيْسَعَ بنِ تَيْمَنَ بنِ نبتِ -وهو نابتٌ- بن إسماعيلَ بنِ إبراهيمَ عليهما السلام، وقالَت الطَّائفةُ الثَّانيةُ: قحطانُ بنُ هَمَيْسَعَ بن يَمْنَ(2) -وبه سُمِّيت اليمنُ- بن نابتِ بن إسماعيل.

قال أبو عمرَ: يشْهَدُ لقَولِ مَن جعَلَ قحطانَ وسائرَ العَربِ مِن ولَدِ إسماعيلَ قولُ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لقومٍ مِن أسلَمَ والأنصارِ: "ارمُو يا(3) بني إسماعيلَ؛ فإنَّ أباكُم كانَ راميًا"(4)، وقولُ المُنذِرِ بنِ حرامٍ جَدِّ حسانَ

--------------------------------------------

(1) في ح، س، م: "شيث"، والمثبت من: ص، وفوقها: "صح"، وهو كذلك في طبقات ابن سعد 1/ 21، وتاريخ ابن جرير 1/ 155، والمنتظم لابن الجوزي 1/ 218.

(2) في ح، س، م: "قيمن".

(3) سقط من: ح، م.

(4) أخرجه أحمد 27/ 58 (16528)، والبخاري، (2899، 3373، 3507)، وغيرهما =
ইদ্রিস ইবনে ইয়ারাদ—যিনি ইয়ার্দ—ইবনে কাইন—যিনি কাইনান—ইবনে আনুশ ইবনে শাস(১) আরবিতে, সিরিয়াক ভাষায় তিনি শাছ, হিব্রু ভাষায় তিনি শিস, এবং তিনি হলেন হিবাতুল্লাহ—ইবনে আদম। আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছেই ওসিয়ত করেছিলেন।

আলী ইবনে কায়সান বলেছেন: শিসের পুত্র আনুশ হলেন আরবিতে শিসের পুত্র আনাস।

দ্বিতীয় দলটি বলেছে: কাহতান ও ইয়াকতান দুই ভাই, তাঁরা উভয়েই আবেরের পুত্র—যিনি আল্লাহর নবি হুদ—ইবনে শালাখ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ।

তৃতীয় দলটি বলেছে: কাহতান ইবনে হুমাইসা ইবনে তাইমান ইবনে ইয়াকতান ইবনে আবের—যিনি হুদ—ইবনে শালাখ ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ।

আর যারা তাকে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাইলের বংশধর বলেছেন: তাদের মধ্যে প্রথম দলটি বলেছে: কাহতান ইবনে হুমাইসা ইবনে তাইমান ইবনে নাবিত—যিনি নাবিত—ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আলাইহিমা সালাম। দ্বিতীয় দলটি বলেছে: কাহতান ইবনে হামাইসা ইবনে ইয়ামনা(২)—যার নামানুসারে ইয়ামানের নামকরণ করা হয়েছে—ইবনে নাবিত ইবনে ইসমাইল।

আবু উমর বলেছেন: যারা কাহতান ও অবশিষ্ট আরবদের ইসমাইলের বংশধর হিসেবে গণ্য করেন, তাদের বক্তব্যের সপক্ষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আসলাম ও আনসার গোত্রের একদল লোককে বলা এই কথাটি সাক্ষ্য দেয়: "হে(৩) ইসমাইলের বংশধরেরা, তোমরা তীর নিক্ষেপ করো; কারণ তোমাদের পিতাও একজন তীরন্দাজ ছিলেন"(৪), এবং হাস্সানের দাদা মুনজির ইবনে হারামের বক্তব্য...

--------------------------------------------

(১) হা, সিন, মিম পাণ্ডুলিপিতে: "শিস", এবং যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা সদ থেকে, আর তার উপরে রয়েছে: "সহ" (সঠিক); অনুরূপভাবে এটি ইবনে সা'দের তাবাকাত ১/২১, ইবনে জারীরের তারিখ ১/১৫৫ এবং ইবনে জাওযির আল-মুনতাজাম ১/২১৮-তে রয়েছে।

(২) হা, সিন, মিম পাণ্ডুলিপিতে: "কাইমান"।

(৩) হা এবং মিম পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৪) এটি আহমদ ২৭/৫৮ (১৬৫২৮), বুখারি (২৮৯৯, ৩৩৭৩, ৩৫০৭) এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনবাহ ফী যিক্রিল কাবায়িলির রুওয়াত - ত আত-তুর্কি (পৃষ্ঠা: ৩২)
ابنِ ثابتٍ حيثُ يقولُ(1):

ورِثْنا مِنَ البُهْلولِ عَمْرِو بنِ عامرٍ … وحَارثةَ الغِطريفِ مَجْدًا مُؤثَّلَا

مآثِرَ مِن نَبْتِ بن نَبْتِ بن مَالِكٍ … ونَبْتِ بنِ إِسْمَاعِيلَ مَا إِنْ تَحوَّلَا

وقالَت الطَّائفةُ الثَّالثةُ: قحطانُ بنُ هَمَيْسَعَ بنِ أَصافِ بنِ هودِ بنِ شَروانَ بنِ الميثانِ بنِ العَامِلِ بنِ مهرانَ بنِ بحيرِ بنِ يقطان(2) بنِ نباوُتَ -وهو نابتٌ- بن تيمنَ بنِ النَّبيتِ بن إسماعيلَ بنِ إبراهيم عليهما السلام.

وأمَّا الذين قالُوا هذه المقالةَ التَّاسعةَ فهم الذين جعَلُوا بينَ عدنانَ وبينَ(3) إسماعيلَ نيِّفًا وثلاثينَ أبًا.

قال: ووجَدْتُ أكثرَ أهلِ اليمنِ(4) يقولُون: قحطانُ بنُ عَابَرَ -وهو هودٌ- بنِ شالخَ بنِ أرفخشَذَ بن سامِ بن نوحٍ، ويقولون: نحن العَربُ العاربةُ، نحن أقدَمُ مِن إبراهيمَ عليه السلام.

وقالَ الزبيرُ: طَسْمٌ وأَميمٌ وعِمْليقٌ بنو لَوذِ بنِ سامِ بنِ نوحٍ، وجديسُ وثمودُ ابنا جَاثِرِ بنِ إِرَمَ بنِ سامِ بنِ نوحٍ(5).

--------------------------------------------

= من حديث سلمة بن الأكوع.

(1) البيتان في الجامع لابن وهب ص 82، والتيجان في ملوك حمير ص 273، والبدء والتاريخ 4/ 123، ونزهة الألباء ص 173.

(2) في ح، س، م: "يقظان".

(3) سقط من: ح، س، م.

(4) في ص، م: "العلم".

(5) جمهرة أنساب العرب 1/ 462.
ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত, যেখানে তিনি বলেছেন(১):

আমরা বুহলুল আমর বিন আমির... এবং হারিসা আল-গিতরিফ থেকে বংশপরম্পরায় গৌরব উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি

নাবিত বিন নাবিত বিন মালিক... এবং নাবিত বিন ইসমাইলের স্মৃতিচিহ্নসমূহ যা কখনও পরিবর্তিত হয়নি

এবং তৃতীয় দলটি বলেছে: কাহতান বিন হামাইসা বিন আসাফ বিন হুদ বিন শারওয়ান বিন আল-মায়সান বিন আল-আমিল বিন মেহরান বিন বুহাইর বিন ইয়াকতান(২) বিন নাবাউত —যিনি নাবিত— বিন তাইমান বিন আন-নাবিত বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম)।

আর যারা এই নবম মতটি ব্যক্ত করেছেন, তারা আদনান এবং ইসমাইলের মধ্যে(৩) ত্রিশের অধিক পিতৃপুরুষকে স্থান দিয়েছেন।

তিনি বলেন: আমি ইয়েমেনের অধিকাংশ মানুষকে(৪) বলতে শুনেছি: কাহতান বিন আবার —যিনি হুদ— বিন শালাখ বিন আরফাখশাদ বিন সাম বিন নূহ; এবং তারা বলে: আমরাই প্রকৃত আরব, আমরা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর চেয়েও প্রাচীন।

জুবাইর বলেন: তাসম, আমীম এবং ইমলিক হলো লাউজ বিন সাম বিন নূহ-এর সন্তান; আর জাদিস এবং সামুদ হলো জাসির বিন ইরাম বিন সাম বিন নূহ-এর পুত্র(৫)।

--------------------------------------------

= সালামাহ বিন আল-আকওয়া এর হাদিস থেকে।

(১) কবিতা দু'টি ইবনে ওয়াহাব-এর 'আল-জামি' পৃষ্ঠা ৮২, 'আত-তিজান ফি মুলুক হিমইয়ার' পৃষ্ঠা ২৭৩, 'আল-বাদউ ওয়াত তারিখ' ৪/১২৩ এবং 'নুজহাতুল আলিব্বা' পৃষ্ঠা ১৭৩-এ রয়েছে।

(২) 'হা', 'সিন' এবং 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে: "ইয়াকজান"।

(৩) 'হা', 'সিন' এবং 'মিম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৪) 'সোয়াদ' এবং 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে: "আল-ইলম" (জ্ঞানীরা)।

(৫) জামহারাতু আনসাবিল আরব ১/৪৬২।