(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: -)
ديوان أبي الأسود الدؤلي   (أبو سعيد السكري)

القسم: الشعر ودواوينه


الكتاب: ديوان أبي الأسود الدؤلي

صنعه: أبو سعيد الحسن السكري (ت 290 هـ)

تحقيق: محمد حسن آل ياسين

الناشر: دار ومكتبة الهلال - بيروت، لبنان

الطبعة: الثانية، 1998 م - 1418 هـ

عدد الصفحات: 427

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 23 رجب 1440

দিওয়ান আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি   (আবু সাঈদ আস-সুক্কারি)

বিভাগ: কবিতা ও কাব্যগ্রন্থসমূহ


কিতাব: দিওয়ান আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি

সংকলক: আবু সাঈদ আল-হাসান আস-সুক্কারি (মৃত্যু ২৯০ হিজরি)

সম্পাদনা: মুহাম্মদ হাসান আল-ইয়াসিন

প্রকাশক: দার ওয়া মাকতাবাতুল হিলাল - বৈরুত, লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ - ১৪১৮ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৭

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (মুয়াসসাসাত সুলাইমান আল-রাজিহি আল-খাইরিয়্যাহ)

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৩ রজব ১৪৪০

(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
[1 / أ]

شعر أبي الأسود الدؤلي ثم الليثي

صنعه

أبي سعيد الحسن بن الحسين السكري

رواية

أبي القاسم عبيد الله بن عثمان بن يحيى بن زكريا الدقاق

عن

أبي الخطاب العباس بن أحمد بن محمد بن الفرات

عن السكري

سماع

للعباس بن أحمد بن موسى بن أبي مواس.
[১ / আলিফ]

আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি অতঃপর আল-লায়সির কবিতা

সংকলন করেছেন

আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আল-হুসাইন আস-সুক্কারি

বর্ণনা করেছেন

আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আদ-দাক্কাক

থেকে

আবু আল-খাত্তাব আল-আব্বাস ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফুরাত

আস-সুক্কারি থেকে

শ্রবণ করেছেন

আল-আব্বাস ইবনে আহমাদ ইবনে মুসা ইবনে আবি মাওয়াস।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
[1 / ب]

بسم الله الرحمن الرحيم

عونك يا الله

أخبرنا أبو القاسم عبيد الله بن عثمان بن يحيى بن زكريا الدقاق قراءة عليه ببغداد في المسجد الجامع بمدينة المنصورة في يوم الجمعة بعد الصلاة لثلاث عشرة ليلة خلت من صفر سنة ست وثمانين وثلاثمائة قال:

أخبرنا أبو الخطاب العباس بن أحمد بن محمد بن الفرات اجازة قال:

أخبرنا أبو سعيدالحسن بن الحسين السكري وقرأته عليه في المحرم سنة ثمان وثمانين ومائتين قال:

أخبرني محمد بن حبيب عن أبي عمرو وابن
[১ / খ]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

হে আল্লাহ! আপনার সাহায্য কামনা করি

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া আদ-দাক্কাক, বাগদাদের মানসুরা শহরের জামে মসজিদে ৩৮৬ হিজরি সনের সফর মাসের তেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিন নামাজের শেষে তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খাত্তাব আব্বাস ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফুরাত ইজাযাহ সূত্রে। তিনি বলেন:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ হাসান ইবনুল হুসাইন আস-সুক্কারি; আমি তাঁর নিকট ২৮৮ হিজরি সনের মহররম মাসে এটি পাঠ করেছি। তিনি বলেন:

আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে হাবিব, তিনি আবু আমর এবং ইবনে থেকে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الأعرابي.

قال:

وقد قرأته أيضا علي أحمد بن أبي علي ثعلب وعارضت كتابه.

وعارضت كتاب أبي عمرو الشيباني من كتاب محمد بن الحسن بن السري - مولى للطائيين من أهل بادوريا - وكان رواية:

قال أبو عمرو:
আল-আ'রাবি।

তিনি বললেন:

এবং আমি এটি আহমাদ বিন আবি আলি ছা’লাবের নিকটও পাঠ করেছি এবং তাঁর পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখেছি।

এবং আমি আবু আমর আশ-শায়বানির কিতাবটি মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আস-সাররির—যিনি বাদুরিয়ার অধিবাসী এবং তাইয়ি গোত্রের আযাদকৃত দাস ছিলেন—পাণ্ডুলিপি থেকে মিলিয়ে দেখেছি; এবং এটি ছিল একটি বর্ণনা:

আবু আমর বললেন:
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৩৯)
[1]

كان من حديث أبي الأسود - واسمه: ظالم بن عمرو بن سفيان بن جندل بن يعمر بن حلس بن نفاثة بن عدي بن الدئل بن بكر بن عبد مناة بن كنانة بن خزيمة، فيما زعم لي غير واحد من الثقات

انه لما أسن وكبر كان يكثر الركوب إلي المسجد الجامع والسوق، ويزور صديقه، فقال له رجل: يا أبا الأسود، أراك تكثر الركوب وقد رققت وكبرت ولا أحسب لزومك لمنزلك إلا أودع لك فقال أبو الأسود: صدقت ولكن الركوب يشد بضعتي، وأسمع من الخبر ما لا أسمع في بيتي، وأستنشي الريح وألقى الإخوان، ولو جلست في بيتي اعتر بي أهلي - أي: سقطت هيبتي - واستأنس بي الصبي، واجترأت علي الخدام، وكلمني من أهلي ما يهاب كلامي، لألفهم إياي وجلوسي عندهم، حتى لعل العنز أن تبول علي فلا يقول لها احد: هس.

وكان أدراجه وطريقه الذي يسلك إلى المسجد والسوق في دور
[১]

আবু আল-আসওয়াদ সম্পর্কিত বর্ণনা ছিল—তার নাম হলো: জালিম ইবনে আমর ইবনে সুফিয়ান ইবনে জানদাল ইবনে ইয়া’মুর ইবনে হিসল ইবনে নুফাসা ইবনে আদি ইবনে আদ-দিল ইবনে বকর ইবনে আবদে মানাত ইবনে কিনানা ইবনে খুযাইমা—যেমনটি আমার কাছে একের অধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে

যখন তিনি বৃদ্ধ ও বয়োঃজ্যেষ্ঠ হলেন, তখন তিনি জামে মসজিদ ও বাজারের দিকে অধিক যাতায়াত করতেন এবং তার বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। এক ব্যক্তি তাকে বলল: হে আবু আল-আসওয়াদ, আমি আপনাকে প্রচুর যাতায়াত করতে দেখছি, অথচ আপনি দুর্বল ও বৃদ্ধ হয়ে গেছেন; আমি মনে করি আপনার ঘরে অবস্থান করাই আপনার জন্য অধিকতর স্বস্তিদায়ক হতো। তখন আবু আল-আসওয়াদ বললেন: তুমি সত্য বলেছ, কিন্তু যাতায়াত আমার শরীরকে সবল রাখে, আর আমি এমন সব সংবাদ শুনতে পাই যা ঘরে বসে পাই না, আমি নির্মল বায়ু গ্রহণ করি এবং ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ করি। আর আমি যদি ঘরে বসে থাকতাম তবে আমার পরিবার আমাকে তুচ্ছজ্ঞান করত—অর্থাৎ: আমার গাম্ভীর্য নষ্ট হতো—শিশুরা আমার সাথে অতিরিক্ত প্রগলভতা করত, ভৃত্যরা আমার ওপর দুঃসাহস দেখাত এবং পরিবারের যারা আমার সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করত তারা আমার সাথে (বেপরোয়াভাবে) কথা বলত, তাদের সাথে আমার দীর্ঘ অবস্থানের অভ্যস্ততার কারণে; এমনকি অবস্থা এমন হতো যে, হয়তো কোনো ছাগল আমার ওপর পেশাব করে দিত আর কেউ তাকে তাড়ানোর জন্য 'হিশ' শব্দও করত না।

আর তার চলাচলের পথ যা দিয়ে তিনি মসজিদ ও বাজারে যাতায়াত করতেন, তা ছিল ঘরবাড়ির মধ্য দিয়ে...
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪০)
بني تيم اللات بن ثعلبة، وكان فيهم رجل متفحش يكثر الاستهزاء بمن مر به، فمر به أبو الأسود في بعض ما كان يمر، فلما رآه التيمي قال: كأن وجه أبي [2 / أ] الأسود وجه عجوز راحت إلى أهلها بطلاق.

فأضحك القوم، واعرض عنه أبو الأسود، فقال أبو الأسود، حين رجع إلى أهله:

الطويل

1 - وَأَهوَجَ مِلجاجٍ تَصامَمتُ قيلَهُ … أَن اِسمَعَهُ وَما بِسَمعيَ مِن باسِ

الذي يركب رأسه جهلا.

2 - وَلَو شِئتُ ما أَعرَضتُ حَتّى أَصَبتُهُ … عَلى أَنفِهِ خَدباءَ تَعضِلُ بِالآسي

خدباء: ضربة قاطعة.

3 - فَإِنَّ الِلسانَ لَيسَ أَهوَنُ وَقعِهِ … بِأَصغَرَ آثاراً مِنَ النَحتِ بِالفاسِ

4 - وَذي إِحنَّةٍ لَم يُبدِها غَيرَ أَنَّهُ … كَذي الخَبلِ تَأبى نَفسُهُ غَيرَ وَسواسِ

5 - صَفَحتُ لَهُ صَفحاً طَويلاً كَصَفحِهِ … وَعَيني وَلا يَدري عَليهِ وَأَحراسي

6 - وَعندي لَهُ إِن ثار فَوَّارُ صَدرِهِ … فَحاً جَبَلِيٌّ لا يَعودُ لَهُ الحاسي
বনু তাইম আল-লাত বিন সালাবা গোত্রের মধ্যে জনৈক অশালীন ব্যক্তি ছিল, যে তার পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রচুর উপহাস করত। আবু আল-আসওয়াদ একদিন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তায়মি ব্যক্তিটি তাকে দেখে বলল: আবু আল-আসওয়াদের [২/অ] চেহারা যেন এমন এক বৃদ্ধার চেহারা, যে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।

এতে উপস্থিত লোকেরা হেসে উঠল, আর আবু আল-আসওয়াদ তাকে উপেক্ষা করে চলে গেলেন। অতঃপর আবু আল-আসওয়াদ যখন নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসলেন, তখন বললেন:

তবিল ছন্দ

১ - কতই না নির্বোধ জেদি ব্যক্তি, যার কথা শোনার ব্যাপারে আমি বধির সেজেছি, যদিও আমার শ্রবণে কোনো ত্রুটি ছিল না।

যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত হঠকারিতা করে।

২ - আমি যদি চাইতাম, তবে তাকে উপেক্ষা করতাম না যতক্ষণ না তার নাকে এমন এক গভীর আঘাত হানতাম, যা চিকিৎসকের জন্য দুরারোগ্য হতো।

খাদবা: একটি কর্তনকারী আঘাত।

৩ - কেননা জিহ্বার আঘাতের প্রভাব কুঠারের আঘাতের ক্ষত থেকে কোনো অংশে ক্ষুদ্রতর নয়।

৪ - আর এমন এক বিদ্বেষী ব্যক্তি, যে তার বিদ্বেষ প্রকাশ করেনি, তবে সে বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির ন্যায় যার আত্মা কুমন্ত্রণা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

৫ - আমি তার প্রতি দীর্ঘকাল ক্ষমা প্রদর্শন করেছি, অথচ সে জানত না যে আমার চোখ এবং আমার রক্ষীরা তার উপর সদা সতর্ক ছিল।

৬ - আর আমার নিকট তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে—যদি তার হৃদয়ের উত্তেজনা উথলে ওঠে—পাহাড়ী সাপের ন্যায় এমন বিষাক্ত ছোবল, যার আস্বাদনকারী আর বেঁচে ফেরে না।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪১)
الفحا: الأبزار، الفلفل وما أشبهه.

7 - تَنَقَّيتُهُ مِن كُلِّ مُرٍّ فَمِزتُهُ … لِكُلِّ عُضاليٍّ مِنَ الداءِ نَكّاسِ

مزته: انتقيت بعضه من بعض، يقال: مز هذا من هذا أي أنتقه وتخيره. والعضالي: الشديد.

والنكاس: الذي ينتكس فيه صاحبه مرة بعد مرة

8 - شِفاءً وَتنجيزاً مَتى يَلتَبِس بِهِ … يُعالِجُ بَرءً لا يُريبكَ أَو ياسِ

التنجيز: إنفاذ الأمور.

9 - وَخَبٍّ لُحومُ الناسِ أَكثَرُ زادِهِ … كَثيرِ الخَنى بَعدَ المَحالَةِ هَمّاسِ

الخب: الخبيث. و" لحوم الناس أكثر زاده" يقول: هو يقع في الناس. والخنى: كلام السوء. والمحالة: أن يمحل به عند السلطان حتى يشيط بدمه. الماحل: النمام. والهماس: الذي ينالني منه ما أكره، قال ابن حبيب: الهمس الفعل الخفي.

10 - تَرَكتُ لَهُ لَحمي وَأَبقَيتُ لَحمَهُ … لِمَن نابَهُ مِن حاضِر الجِنِّ والناسِ

11 - [2 / ب] فَكَدَّ قَليلاً ثُمَ صَدَّ كَأَنَّما … يَعُضُّ بِصُمٍّ مِن سَدى جَبَلٍ راسي
ফুহা: মশলাপাতি, গোলমরিচ এবং এই জাতীয় বস্তু।

৭ - আমি একে প্রতিটি তিক্ততা থেকে পরিচ্ছন্ন করেছি ও পৃথক করেছি … প্রতিটি কঠিন ও পুনরাবৃত্তিময় রোগের জন্য

মেজতুহু: আমি এর এক অংশকে অন্য অংশ থেকে পৃথক করেছি। বলা হয়: এটি থেকে এটি পৃথক করো, অর্থাৎ বাছাই করো এবং নির্বাচন করো। আর আল-উদালি: অত্যন্ত কঠিন।

আর আন-নাক্কাস: যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি বারবার পর্যুদস্ত হয়।

৮ - আরোগ্য ও দ্রুত বাস্তবায়ন হিসেবে যখনই কেউ এতে সংশ্লিষ্ট হয় … সে এমন সুস্থতা লাভ করে যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে না কিংবা নিরাশ করে না

আত-তানজিজ: বিষয়াদি কার্যকর করা।

৯ - আর এমন এক ধূর্ত ব্যক্তি মানুষের গোশতই যার প্রধান পাথেয় … যে ষড়যন্ত্রের পর অধিক মন্দ কথা বলে এবং গোপনে অনিষ্ট সাধন করে

আল-খব্বু: মন্দ বা খবীস। আর "মানুষের গোশতই তার প্রধান পাথেয়" দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন: সে মানুষের গীবত করে। আল-খনা: মন্দ কথা। আল-মহালহ্: সুলতানের কাছে কারও বিরুদ্ধে এমন চক্রান্ত করা যাতে তার রক্ত ঝরানো যায়। আল-মাহিল: চোগলখোর। আর আল-হাম্মাস: যার নিকট থেকে আমার কাছে অপ্রীতিকর কিছু পৌঁছে। ইবনে হাবিব বলেন: আল-হামস হলো গোপন কাজ।

১০ - আমি তার জন্য আমার গোশত ত্যাগ করেছি এবং তার গোশত অবশিষ্ট রেখেছি … উপস্থিত জ্বিন ও মানুষের মাঝে যারা বিপদে পড়ে তাদের জন্য

১১ - [২ / খ] সে সামান্য চেষ্টা করল অতপর মুখ ফিরিয়ে নিল যেন সে … সুদৃঢ় পর্বতের কাঠামোর কোনো কঠিন অংশে কামড় বসাল।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪২)
كد: عمل. والسدى - ها هنا - الحجارة الملساء التي في منبتها نتوء عن الجبل، والسدي: البلح. والرواسي: الثابت.

ثم إن أبا الأسود مر عليهم أيضا بعد ذلك، والرجل في القوم فقال: كأن غضون قفا أبي الأسود الفقاح. فأقبل عليه فقال: هل تعرف فقحة أمك فيهن؟ . فأفحم الرجل فلم يعد له بشيء.
কাদ: পরিশ্রম। আস-সুদা — এখানে — সেই মসৃণ পাথর যার মূলে পাহাড় থেকে সামান্য উঁচু অংশ থাকে; আস-সাদ্দি: কাঁচা খেজুর। আর আর-রাওয়াসি: সুদৃঢ়।

অতঃপর আবু আল-আসওয়াদ পুনরায় তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং সেই ব্যক্তিটিও লোকজনের মাঝে ছিল, এমতাবস্থায় সে বলল: আবু আল-আসওয়াদের ঘাড়ের ভাঁজগুলো যেন মলদ্বার। তখন তিনি তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন: তুমি কি এগুলোর মাঝে তোমার মায়ের মলদ্বার চিনতে পারছ? এতে লোকটি নির্বাক হয়ে গেল এবং সে আর কিছুই বলতে পারল না।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪৩)
[2]

كان أبو الأسود خطب امرأة من عبد القيس يقال لها: أسماء بنت زياد بن غنيم فأسر أمرها إلى صديق له من الأسد يقال له الهيثم بن زياد. وكان ابن عم لأسماء يخطبها، ولها مال عند ابن عم لها، فكانت تريد قبضه ثم تزوج ابا الأسود. وإن الهيثم بن زياد ذكر أمر أبي الأسود لامرأته، فشهدت مأتما في عبد القيس فحدثت عن خطبة أبي الأسود أسماء، فنما الحديث حتى بلغ بني عمها، فضاروها وحالوا بينها وبين مالها

واسم الأزد: دراء وإنما سمي الأسد لأنه لم يكن يفد عليه أحد إلا أسدى إليه معروفا فإذا سئل قال: أسدى إلي دراء يدا فسمي الأسد بذلك.

فقال أبو الأسود في ذلك:

الطويل

1 - لَعَمري لَقَد أَفشَيتُ يَوماً فَخانَني … إِلى بَعضِ مَن لَم أَخشَ سِرّاً مُمَنَّعا
[২]

আবু আল-আসওয়াদ আবদ আল-কায়স গোত্রের আসমা বিনতে জিয়াদ বিন গুনাইম নাম্নী এক রমণীকে বিবাহের প্রস্তাব প্রদান করেন। তিনি বিষয়টি আসাদ গোত্রের আল-হাইসাম বিন জিয়াদ নামক তাঁর এক বন্ধুর নিকট গোপনে ব্যক্ত করেন। আসমার এক চাচাতো ভাইও তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিচ্ছিল। আসমার কিছু সম্পদ তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের নিকট গচ্ছিত ছিল; তিনি তা হস্তগত করে অতঃপর আবু আল-আসওয়াদকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আল-হাইসাম বিন জিয়াদ আবু আল-আসওয়াদের বিষয়টি তাঁর স্ত্রীর নিকট উল্লেখ করেন। অতঃপর তাঁর স্ত্রী আবদ আল-কায়স গোত্রের এক শোকসভায় উপস্থিত হয়ে আসমার প্রতি আবু আল-আসওয়াদের বিবাহের প্রস্তাবের কথা আলোচনা করেন। ফলে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আসমার চাচাতো ভাইদের নিকট পৌঁছে যায়। তখন তারা তাঁর ক্ষতিসাধন করে এবং তাঁর ও তাঁর সম্পদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

আর আযদ-এর নাম ছিল দারাআ। তাঁকে ‘আসাদ’ নামকরণ করার কারণ হলো, তাঁর নিকট যে-ই আসত তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ (আসদা) প্রদর্শন করতেন। অতঃপর সেই ব্যক্তিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হতো, সে বলত: ‘দারাআ আমার প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন।’ এ কারণেই তাঁকে আসাদ নামে অভিহিত করা হয়।

এই প্রসঙ্গে আবু আল-আসওয়াদ বলেন:

তওয়ীল

১ - আমার জীবনের শপথ! আমি একদিন একটি গোপন বিষয় প্রকাশ করেছিলাম, কিন্তু সে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল... এমন এক ব্যক্তির নিকট যার থেকে আমি সুরক্ষিত গোপন বিষয় ফাঁসের কোনো আশঙ্কা করিনি।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪৪)
2 - فَمَزَّقَهُ مَزقَ العَما وَهوَ غافِلٌ … وَنادى بِما أَخفَيتُ مِنهُ فَأَسمَعا

العماء: المطر يقود السحاب قال العلماء من السحاب: الرقيق

3 - فَقُلتُ وَلَم أَفحَش لَعاً لَكَ عالياً … وَقَد يَعثرُ الساعي إِذا كانَ مُسرِعاً

4 - فَلَستُ بِجازيكَ المَلامَةَ إِنَني … أَرى العَفوَ أَدنى لِلسَّداد وَأَوسَعا

5 - وَلَكِن تَعلَّم إِنها عَهدُ بَينِنا … فَبِن غَيرِ مَذمومٍ وَلَكِن مودَّعا

أي: هي آخر العهد، أي ودعت صحبتك تركتها يقول انقطع مني على مجاملة غير مذموم أي قبل أن أذمك على تضييع سري.

6 - حَديثاً أَضَعناهُ كِلانا فَلَن أُرى … وَأَنتَ نَجيّاً آخِرَ الدَهرِ أَجمَعا

يقول: لن يراني الناس وإياك نتناجى آخر الدهر بعد تضييعك سري، والمناجاة: المسارة.

7 - وَكُنتَ إِذا ضَيَّعتَ سِرَّك لَم تَجِد … سِواكَ لَهُ إِلّا أَشَتَّ وَأَضيَعا
২ - তিনি এটাকে ছিন্নভিন্ন করেছেন যেমন অন্ধ ছিন্নভিন্ন করে যখন সে উদাসীন থাকে … আর আমি যা গোপন রেখেছিলাম তিনি তা উচ্চস্বরে ঘোষণা করে শুনিয়ে দিলেন।

আল-আমা: বৃষ্টি যা মেঘমালাকে পরিচালিত করে। আলেমগণ মেঘের ক্ষেত্রে বলেছেন: যা পাতলা মেঘ।

৩ - আমি বললাম—আর আমি কোনো অশ্লীল কথা বলিনি—তোমার জন্য উচ্চ মর্যাদা কামনা করছি … কেননা দ্রুতগামী ব্যক্তি কখনো কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ে।

৪ - আমি তোমাকে তিরস্কার দিয়ে প্রতিদান দেব না, কেননা আমি মনে করি … ক্ষমা করাই সঠিকতার নিকটতর এবং অধিক প্রশস্ত।

৫ - কিন্তু জেনে রেখো, এটিই আমাদের মধ্যকার শেষ অঙ্গীকার … সুতরাং নিন্দিত না হয়ে বিদায় নাও, তবে বিদায়ী হিসেবে।

অর্থাৎ: এটিই শেষ অঙ্গীকার, অর্থাৎ আমি তোমার সাহচর্য ত্যাগ করে বিদায় জানিয়েছি। তিনি বলছেন: আমার পক্ষ থেকে শিষ্টাচারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হলো নিন্দিত না হয়েই, অর্থাৎ আমার গোপন তথ্য ফাঁস করার জন্য তোমাকে নিন্দা করার পূর্বেই।

৬ - এমন এক আলোচনা যা আমরা উভয়েই বিনষ্ট করেছি, তাই অনন্তকাল ধরে … আমাকে আর তোমার সাথে নিভৃতে আলাপ করতে দেখা যাবে না।

তিনি বলছেন: তোমার পক্ষ থেকে আমার গোপন কথা ফাঁস করার পর মানুষ আমাকে ও তোমাকে যুগের শেষ অবধি আর কখনো নিভৃতে আলাপ করতে দেখবে না। আর 'মুনাজাত' (নিভৃতে আলাপ) অর্থ হলো: কানে কানে কথা বলা।

৭ - আর তুমি যখন নিজের গোপন কথা নিজেই রক্ষা করতে পারলে না, তখন … নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে তা অধিক বিস্রস্তকারী ও বিনষ্টকারী হিসেবে পাবে না।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪৫)
[3]

وقال أبو الأسود في ذلك أيضا:

الطويل

1 - أَمِنتُ عَلى السِرِّ امرَءً غَيرَ حازِمٍ … وَلَكِنَّهُ في النُصحِ غَيرُ مَريبِ

2 - أَذاعَ بِهِ في الناسِ حَتّى كَأَنَّهُ … بِعَلياءَ نارٌ أُوقِدَت لِثقوبِ

يقال: ثقبت النار: إذا طرحت عليها الحطب ليرتفع لهبها.

3 - وَكُنتَ مَتى لا تَرعَ سِرَّكَ تَنتِشر … فَوارِعُهُ مِن مُخطىءٍ وَمُصيبِ

فوارعه: أعاليه

4 - فَما كُلُّ ذي لُبٍّ بِمؤتيكَ نُصحَهُ … وَما كُلُّ مؤتٍ نَصحَهُ بِلبيبِ

5 - وَلَكِن إِذا ما استَجمَعا عِندَ واحِدٍ … فَحقٌّ لَهُ مِن طاعَةٍ بِنَصيبِ
[৩]

এবং আবু আল-আসওয়াদ এই বিষয়ে আরও বলেছেন:

ত্ববিল ছন্দ

১ - আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট গোপন বিষয় আমানত রেখেছিলাম যে দৃঢ়চেতা ছিল না... কিন্তু সে উপদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ছিল সন্দেহাতীত।

২ - সে তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিল, যেন তা কোনো উচ্চস্থানে শিখা বৃদ্ধির জন্য প্রজ্বলিত অগ্নি।

বলা হয়: আগুন উজ্জ্বল হয়েছে: যখন তাতে কাঠ নিক্ষেপ করা হয় যাতে তার শিখা উপরে উঠে।

৩ - আপনি যখনই আপনার গোপন কথা রক্ষা করবেন না, তখন তার উচ্চ অংশগুলো ভুলকারী ও সঠিককারী সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়বে।

ফাওয়ারি'উহু: এর উচ্চ অংশসমূহ

৪ - কেননা প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই আপনাকে উপদেশ দেয় না... আর প্রত্যেক উপদেশ দানকারী বুদ্ধিমান হয় না।

৫ - কিন্তু যখন এই দুটি গুণ কোনো একজনের মাঝে একত্রিত হয়... তখন তার আনুগত্যের একটি অংশ পাওয়া তার প্রাপ্য হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪৬)
6 - وَإِنَّ امرَءً قَد جَرَّبَ الناسَ لَم يَخف … تَقَلُّبَ عَصرَيهِ لَغَيرُ لَبيبِ

7 - فَلا تَيأَسَنَّ الدَهرَ مِن ودِّ كاشِحٍ … وَلا تَأمَنَنَّ الدَهرَ صَرمَ حَبيبِ

8 - إِذا المَرءُ أَعيا رَهطَهُ في شبابِهِ … فَلا تَرجُ مِنهُ الخَيرَ عِندَ مَشيبِ
6 - নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষকে পরীক্ষা করেছে এবং ভয় পায় না … সময়ের আবর্তনকে, সে বুদ্ধিমান নয়।

7 - সুতরাং কখনো কোনো শত্রুর সৌহার্দ্যের ব্যাপারে নিরাশ হয়ো না … আর কখনো কোনো বন্ধুর বিচ্ছেদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থেকো না।

8 - যখন কোনো ব্যক্তি তার যৌবনকালে নিজ পরিজনকে অতিষ্ঠ করে তোলে … তবে বার্ধক্যে তার কাছে কোনো কল্যাণের আশা করো না।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪৭)
[4]

كان لأبي الأسود صديق من بني تميم ثم أحد بني سعد يقال له: مالك بن الأصرم، وكانت بينه وبين ابن عم له خصومة في دار له. وأنهما اجتمعا عند أبي الأسود فحكماه بينهما، فقال له خصم صديق أبي الأسود: إني قد عرفت الذي يبينك وبين هذا وأرجو أن لا يحملك ذلك على أن تحيف علي بشيء. وكان الرجل محقا فقضى له أبو الأسود على صديقه فقال صديقه والله ما بورك لي في عملك وفقهك حين تقضي علي. فقال أبو الأسود في ذلك:

الطويل

1 - إِذا كُنتَ مَظلوماً فَلا تُلفَ راضياً … عَن القَومِ حَتّى تَأَخُذَ النِصفَ واغضَبِ

2 - [3 / ب] فَإِن كُنتَ أَنتَ الظالِمَ القَوم فاطَّرِح … مَقالَتَهُم وَاشغَب بِهِم كُلَّ مَشغبِ

أي: دعهم وما يقولونه واعمل أنت ما تحب.

3 - وَقارِب بِذي جَهلٍ وَباعِد بِعالِمٍ … جَلوبٍ عَلَيكَ الحَقَّ مِن كُلِّ مَجلَبِ
[৪]

আবু আসওয়াদের বনু তামীম গোত্রের, অতঃপর বনু সাদ শাখার মালিক ইবনুল আসরাম নামে এক বন্ধু ছিল। তার এবং তার এক চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে একটি বাড়ি নিয়ে বিবাদ চলছিল। তারা উভয়ই আবু আসওয়াদের নিকট একত্রিত হয়ে তাকে তাদের মধ্যকার বিবাদের বিচারক নিযুক্ত করল। তখন আবু আসওয়াদের বন্ধুর প্রতিপক্ষ তাকে বলল: "আপনার এবং এই ব্যক্তির মধ্যকার সম্পর্কের কথা আমি জানি এবং আমি আশা করি যে, এটি আপনাকে আমার প্রতি কোনো অন্যায় করতে প্ররোচিত করবে না।" ওই ব্যক্তিটিই ন্যায়ের ওপর ছিল, ফলে আবু আসওয়াদ তার বন্ধুর বিপক্ষে তার অনুকূলে ফয়সালা প্রদান করলেন। তখন তার বন্ধু বলল: "আল্লাহর কসম, আমার জন্য আপনার কর্ম ও ফিকহে (আইনি জ্ঞানে) কোনো বরকত নেই যখন আপনি আমার বিরুদ্ধেই ফয়সালা দেন।" তখন আবু আসওয়াদ এ প্রসঙ্গে বললেন:

আত-তওয়ীল

১ - যদি তুমি মজলুম হও, তবে লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট থেকো না … যতক্ষণ না তুমি তোমার পূর্ণ অধিকার আদায় করো এবং ক্রোধ প্রকাশ করো।

২ - [৩ / খ] আর যদি তুমিই মানুষের প্রতি জালেম হও, তবে তাদের কথা উপেক্ষা করো … এবং তাদের সাথে সর্বতোভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করো।

অর্থাৎ: তারা যা বলে তা বলতে দাও এবং তুমি যা পছন্দ করো তা-ই করো।

৩ - তুমি মূর্খ ব্যক্তির নিকটবর্তী হও এবং ওই জ্ঞানী ব্যক্তি থেকে দূরে থাকো … যে সবদিক থেকে তোমার বিরুদ্ধে হককে টেনে নিয়ে আসে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪৮)
4 - فَإِن حَدَبوا فاقعَس وَإِن هُم تَقاعَسوا … ليَستمكِنوا مِمّا وَراءَكَ فاحدَبِ

الحدب: الإشفاق. والتقاعس: التأني عن فعل الشيء ومنه سمي "مقاعس" لأنه تقاعس عن بني سعد ولم يحضر الصلح.

وأحدب: أشفق أي أشفق أن يخرج من يدك شيء.

5 - وَلا تَدعُني لِلجورِ واصبِر عَلى الَّتي … بِها كُنتُ أَقضي لِلبَعيدِ عَلى أَبي

6 - فَإِنّي اِمرؤٌ أَخشى إِلَهي وَأَتَّقي … مَعادي وَقَد جَرَّبتُ ما لَم تُجَرِّبِ
৪ - যদি তারা সদয় হয় তবে তুমি নিবৃত্ত হও, আর যদি তারা নিবৃত্ত হয় … তবে তুমি সদয় হও যাতে তারা তোমার পশ্চাদবর্তী বিষয়ের ওপর সামর্থ্য লাভ করতে পারে।

আল-হাদাব: মমতা বা দয়া প্রদর্শন। আত-তাকায়ুস: কোনো কাজ থেকে পিছিয়ে থাকা বা বিলম্ব করা; আর এ থেকেই 'মুকায়িস' নাম রাখা হয়েছে কারণ সে বনু সা’দ থেকে পিছিয়ে গিয়েছিল এবং সন্ধিতে উপস্থিত হয়নি।

আর 'আহদাব': মমতা প্রদর্শন করো অর্থাৎ তোমার হাত থেকে যেন কোনো কিছু বের হয়ে না যায় সে বিষয়ে শঙ্কিত হও।

৫ - আমাকে জুলুমের দিকে ডেকো না এবং সেই বিষয়ের ওপর ধৈর্য ধারণ করো … যার মাধ্যমে আমি অপরিচিত ব্যক্তির অনুকূলে আমার পিতার বিরুদ্ধে ফয়সালা করতাম।

৬ - নিশ্চয়ই আমি এমন এক ব্যক্তি যে আমার ইলাহকে ভয় করে এবং আমার পরকালের ব্যাপারে সতর্ক থাকে … আর আমি এমন সব বিষয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি যা তুমি করোনি।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৪৯)
[5]

كان أبو الأسود أراد الشخوص إلى فارس في قبل الشتاء وذلك مع خروج ابن الزبير فقال له بعض إخوانه: لا تشخص يومك هذا فإنك شات وقد ترى أمر الناس وفساد سبيلهم فأقم حتى ترى من رأيك ويبلغك عن الطريق صلاح وينصرم الشتاء فإني أخشى عليك خصالا غير واحدة فقال أبو الأسود:

الطويل

1 - إِذا كُنتَ مَعنيّاً بِأَمرٍ تُريدُهُ … فَما لِلمَضاءِ وَالتَوكُّل مِن مِثلِ

2 - تَوكَّل وَحَمِّل أَمرَكَ اللَهَ إِنَّ ما … يُرادُ لَهُ آتيكَ أَنتَ لَهُ مُخلِ

أي: خلو لا شيء يحول بينه وبينك.

3 - فَلا تَحسَبنَّ السَيرَ أَقرَبَ لِلرَدى … مِنَ الخَفضِ في دارِ المُقامَةِ والثَملِ

الثمل: بقايا الطعام في البطن، والثمل: العيش، والثميلة من هذا يقول: لا تحسب أن السير يقرب الموت فالأجل له مدة عنده يأتيك الموت، وإن كنت في نعمة من عيشك ومطعم ومشرب فهو
[৫]

আবু আল-আসওয়াদ শীতের প্রাক্কালে পারস্য অভিমুখে যাত্রা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, আর তা ছিল ইবনে আল-যুবাইরের বহির্গমনের প্রাক্কালে। তাঁর জনৈক ভাই তাঁকে বললেন: "আপনি আজ যাত্রা করবেন না, কারণ আপনি শীতের কবলে আছেন। আপনি তো মানুষের অবস্থা এবং পথঘাটের বিশৃঙ্খলা প্রত্যক্ষ করছেন। সুতরাং আপনি অবস্থান করুন যতক্ষণ না আপনার সিদ্ধান্ত সুসংহত হয়, পথের নিরাপত্তার খবর আপনার কাছে পৌঁছায় এবং শীতকাল অতিবাহিত হয়। কেননা আমি আপনার ব্যাপারে একের অধিক বিপদের আশঙ্কা করছি।" তখন আবু আল-আসওয়াদ বললেন:

আত-তউয়িল ছন্দ

১ - আপনি যখন কোনো বিষয়ে মনস্থির করেন যা আপনি সম্পন্ন করতে চান … তবে সংকল্প ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের তুল্য কোনো কিছু নেই।

২ - আল্লাহর ওপর ভরসা করুন এবং আপনার যাবতীয় বিষয় আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করুন; কারণ যা … আপনার জন্য নির্ধারিত তা আপনার নিকট পৌঁছাবেই, আর আপনি তার জন্য মুক্ত।

অর্থাৎ: মুক্ত; আপনার এবং সেই বিষয়ের মাঝে কোনো কিছুই অন্তরায় হবে না।

৩ - আপনি সফরকে ধ্বংসের অধিক নিকটবর্তী মনে করবেন না … আবাসে অবস্থান করে আয়েশ ও উদরপূর্তি করার চেয়ে।

আস-সামাল: উদরস্থ খাদ্যের অবশিষ্টাংশ। আস-সামাল: জীবনযাপন। আস-সামিলা শব্দটি এখান থেকেই এসেছে। তিনি বলছেন: আপনি মনে করবেন না যে সফর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে; বরং মৃত্যুর জন্য আল্লাহর নিকট একটি সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে। মৃত্যু আপনার নিকট আসবেই, যদিও আপনি আপনার জীবনযাত্রা ও পানাহারের নিআমতের মধ্যে নিমগ্ন থাকেন, তবে তা...
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫০)
آتيك حيث كنت مقيما كنت أو مسافرا في الوقت المقدر لك

4 - وَلا تَحبِسَنّي عَن طَريقٍ أُريدُهُ … بِظَنِّكَ إِنَّ الظَنَّ يَكذِبُ ذا العَقلِ

5 - [4 /أ] فَإِنّي مُلاقٍ ما قَضى اللَهُ أَنَّني … مُلاقٍ فَلا تَجعَل لَكَ العِلمَ كَالجَهلِ

6 - فَإِنَّكَ لا تَدري وَإِن كُنتَ مُشفِقاً … عَليَّ أَبَعدي ما تُحاذِرُ أَم قَبلي

7 - وَكائِن تَرى مِن حاذِرٍ مُتَحَفِّظٍ … أُصيبَ وَأَلفَتهُ المَنيَّةُ في الأَهلِ
আমি তোমার কাছে আসব যেখানেই তুমি থাকো, চাই তুমি অবস্থানরত থাকো বা মুসাফির অবস্থায় থাকো, তোমার জন্য নির্ধারিত সময়ে।

৪ - আর তোমার ধারণার বশবর্তী হয়ে তুমি আমাকে আমার কাঙ্ক্ষিত পথ থেকে আটকে রেখো না … নিশ্চয়ই ধারণা বুদ্ধিমান ব্যক্তিকেও প্রতারিত করে।

৫ - [৪ /ক] কেননা আল্লাহ আমার জন্য যা ফয়সালা করেছেন আমি অবশ্যই তার সম্মুখীন হব … সম্মুখীন হব; সুতরাং তুমি তোমার জ্ঞানকে অজ্ঞতার মতো করো না।

৬ - কেননা তুমি জানো না, যদিও তুমি আমার প্রতি দয়াশীল হও … আমার ব্যাপারে তুমি যা ভয় পাচ্ছ তা কি আমার পরে ঘটবে নাকি আমার আগে।

৭ - আর তুমি কতই না সতর্ক ও আত্মরক্ষাকারী ব্যক্তিকে দেখতে পাও … যে বিপদে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু তাকে তার পরিবারের মধ্যেই গ্রাস করেছে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫১)
[6]

كان رجل من بني سليم بن منصور يقال له: نسيب بن حميد كان يغشى أبا الأسود في منزله ويتحدث إليه في المسجد إذا جلس فكان نسيب يقول لأبي الأسود كثيرا: ما أحد من قومي ولا من غيرهم بآثر عندي منك وربما طلب الحاجة فيركب معه أبو الأسود فيها. فأصاب نسيب مستقة أصبهانية مخملة فذكرها لأبي الأسود وقال قد حدثت نفسي ببيعها فقال له أبو الأسود: أرسل بها إلي أنظر إليها. فأرسل بها نسيب إليه فأعجبت أبا الأسود فقال: بعنيها بقيمتها قال لا بل أكسوكها فأبى أبو الأسود أن يقبلها فأراها فقيل له: ثمن مائتي درهم وخمسين درهما فقال أبو الأسود: ما أظن بها غلاء وإنها لمن حاجتي فأبى وقال: خذها - إذا - هبة فقال أبو الأسود في ذلك:

الكامل

1 - بِعني نُسَيبُ وَلا تَهَب لي إِنَّني … لا أَستَثيبُ وَلا أُثيبُ الواهِبا

2 - إِنَّ العَطيَّةَ خَيرُ ما وَجَّهتَها … وَحَسِبتَها حَمداً وَأَجراً واجِبا
[৬]

বনু সুলাইম ইবনে মানসুর গোত্রের নুসায়েব ইবনে হুমাইদ নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আবু আল-আসওয়াদ-এর বাড়িতে তাঁর নিকট যাতায়াত করতেন এবং যখন তিনি মসজিদে বসতেন তখন তাঁর সাথে আলাপচারিতা করতেন। নুসায়েব প্রায়ই আবু আল-আসওয়াদকে বলতেন: "আমার স্বজাতির বা অন্যদের মধ্যে আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় আমার নিকট আর কেউ নেই।" অনেক সময় তিনি কোনো প্রয়োজনে সাহায্য প্রার্থনা করলে আবু আল-আসওয়াদ তাঁর সাথে সওয়ার হয়ে সেই কাজে যেতেন। অতঃপর নুসায়েব একটি ইসফাহানি পশমি দীর্ঘ পোশাক (মুস্তাকাহ) লাভ করেন এবং সেটি আবু আল-আসওয়াদ-এর কাছে উল্লেখ করে বললেন, "আমি এটি বিক্রি করার কথা মনে মনে ভাবছি।" তখন আবু আল-আসওয়াদ তাঁকে বললেন, "এটি আমার কাছে পাঠিয়ে দাও যাতে আমি তা দেখতে পারি।" নুসায়েব সেটি তাঁর কাছে পাঠালেন এবং তা আবু আল-আসওয়াদ-এর পছন্দ হলো। তিনি বললেন, "এর ন্যায্য মূল্যে এটি আমার কাছে বিক্রি করো।" নুসায়েব বললেন, "বরং আমি আপনাকে এটি উপহার হিসেবে পরিধান করাব।" আবু আল-আসওয়াদ তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর পোশাকটি অন্যকে দেখানো হলে তাঁকে বলা হলো: "এর মূল্য দুইশত পঞ্চাশ দিরহাম।" আবু আল-আসওয়াদ বললেন, "আমি মনে করি না এটি মহার্ঘ এবং এটি আমার বিশেষ প্রয়োজনও মেটাবে।" কিন্তু নুসায়েব (বিক্রি করতে) অস্বীকার করলেন এবং বললেন, "তাহলে এটি উপহার হিসেবেই গ্রহণ করুন।" তখন আবু আল-আসওয়াদ এ বিষয়ে বললেন:

আল-কামিল

১ - হে নুসায়েব! আমার নিকট এটি বিক্রি করো এবং আমাকে দান করো না; কারণ আমি (উপহার নিয়ে) কোনো প্রতিদান খুঁজি না এবং দাতাকে প্রতিদানও দেই না।

২ - নিশ্চয়ই দান হলো সর্বোত্তম বিষয় যা তুমি কোনো দিকে পরিচালিত করো; এবং তুমি তাকে প্রশংসা ও অবধারিত সওয়াব হিসেবে গণ্য করো।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫২)
3 - وَمِنَ العَطيَّةِ ما يَعودُ غَرامَةً … وَمَلامَةً تَبقى وَمَنّاً كاذِبا

4 - وَبَلوتُ أَخلاقَ الرِجالِ وَفِعلَهُم … فَشَبِعتُ عِلماً مِنهُمُ وَتَجارِبا

5 - فَأَخَذتُ مِنها ما رَضيتُ بِأَخذِهِ … وَتَرَكتُ أَكثَرَ ما هُنالِكَ جانِبا

6 - فَإِذا وَعَدتُ الوَعدَ كُنتُ كَغارِمٍ … دَيناً أَقَرَّ بِهِ وَأَحضَرَ كاتِبا

7 - حَتّى أُنَفِّذَهُ كَما وَجَّهتُهُ … وَكَفى عَليَّ لَهُ بِنَفسي طالِبا

8 - وَإِذا فَعَلتُ فَعَلتُ غَيرَ مُحاسَبٍ … وَكَفى بِرَبِّكَ جازياً وَمُحاسِبا

[4 / ب] أي لا أحاسب على ذلك والحساب من الله عز وجل في هذا الموضع: جزاء

9 - وَإِذا مَنَعتُ مَنَعتُ مَنعاً بَيِّناً … وَأَرَحتُ مِن طولِ العَناءِ الراغِبا

10 - لا أَشتَري الحَمدَ القَليلَ بَقاؤُهُ … يَوماً بِذَمِّ الدَهرِ أَجمَعَ واصِبا
3 - আর কিছু দান এমন যা দণ্ডস্বরূপ হয়ে ফিরে আসে … এবং যা স্থায়ী তিরস্কার ও মিথ্যা খোটা প্রদানের কারণ হয়।

4 - আর আমি পুরুষদের চরিত্র ও কর্মসমূহ পরীক্ষা করেছি … ফলে আমি তাদের বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় পরিতৃপ্ত হয়েছি।

5 - সুতরাং তা থেকে যা গ্রহণ করতে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম তা-ই গ্রহণ করেছি … আর সেখানে বিদ্যমান অধিকাংশ বিষয়কেই আমি একপাশে বর্জন করেছি।

6 - আর আমি যখন কোনো প্রতিশ্রুতি প্রদান করি, তখন আমি সেই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির মতো হই … যে ঋণ স্বীকার করে নিয়েছে এবং তার স্বপক্ষে একজন লেখক উপস্থিত করেছে।

7 - যতক্ষণ না আমি তা সেভাবেই বাস্তবায়ন করি যেভাবে আমি মনস্থির করেছিলাম … আর নিজের বিরুদ্ধে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের তলবকারী হিসেবে আমি নিজেই যথেষ্ট।

8 - আর যখন আমি কোনো কাজ করি, তখন আমি তা প্রতিদান বা হিসেবের প্রত্যাশা ছাড়াই করি … আর প্রতিদানদাতা ও হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আপনার প্রতিপালকই যথেষ্ট।

[4 / খ] অর্থাৎ আমি এর ওপর কোনো হিসাব গ্রহণ করি না; আর এই স্থানে মহান প্রতাপশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে 'হিসাব' অর্থ হলো: প্রতিদান।

9 - আর যখন আমি কাউকে বঞ্চিত করি, তখন স্পষ্টভাবে বঞ্চিত করি … আর এর মাধ্যমে আমি কোনো কিছু প্রত্যাশাকারীকে দীর্ঘ কষ্টের হাত থেকে নিষ্কৃতি প্রদান করি।

10 - আমি এমন প্রশংসা ক্রয় করি না যার স্থায়িত্ব অতি সামান্য … কোনো একদিন চিরস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন নিন্দার বিনিময়ে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫৩)
[7]

وإن أبا الأسود لقي نسيبا فأنشده هذه القصيدة فتضاحك لها وقال: لو كنت بائعها من أحد من الناس بعتكها يا أبا الأسود فقال أبو الأسود في ذلك أيضا:

المتقارب

1 - أَرَيتَ امرَءً كُنتُ لَم أَبلُهُ … أَتاني فَقالَ اِتَّخِذني خَليلا

2 - فَخالَلتُهُ ثُمَ أَكرَمتُهُ … فَلَم أَستَفِد مِن لَدُنهُ فَتيلا

3 - وَأَلفَيتُهُ حينَ جَرَّبتُهُ … كَذوبَ الحَديثِ سَؤولاً بَخيلا

4 - فَذَكَّرتُهُ ثُمَّ عاتَبتُهُ … عِتاباً رَفيقاً وَقولاً جَميلا
[৭]

আবু আল-আসওয়াদ নুসাইবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাকে এই কবিতাটি পাঠ করে শুনালেন। তিনি এটি শুনে হেসে উঠলেন এবং বললেন: "হে আবু আল-আসওয়াদ, আমি যদি মানুষের মধ্যে কারো কাছে এটি বিক্রি করতাম, তবে তোমার কাছেই বিক্রি করতাম।" এতে আবু আল-আসওয়াদ আরও বললেন:

আল-মুতাকারিব ছন্দ

১ - তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ যাকে আমি ইতিপূর্বে পরীক্ষা করিনি … সে আমার কাছে এসে বলল: "আমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো।"

২ - অতঃপর আমি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলাম এবং তাকে সম্মানিত করলাম … কিন্তু তার পক্ষ থেকে আমি অতি সামান্য পরিমাণ (খেজুরের আঁটির সুতোর ন্যায়) উপকারও লাভ করতে পারিনি।

৩ - আর যখন আমি তাকে যাচাই করলাম, তখন তাকে পেলাম … চরম মিথ্যুক, অধিক যাঞ্চাকারী এবং কৃপণ হিসেবে।

৪ - অতঃপর আমি তাকে নসিহত করলাম এবং তাকে ভর্ৎসনা করলাম … অত্যন্ত কোমল ভর্ৎসনা এবং সুন্দর বাণীর মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫৪)
5 - فَأَلفَيتُهُ غَيرَ مُستَعتِبٍ … وَلا ذاكِرَ اللَهَ إِلّا قَليلا

6 - أَلَستُ حَقيقاً بِتَوديعِهِ … وَإِتباعِ ذَلِكَ صَرماً طَويلاً
৫ - অতঃপর আমি তাকে পেলাম এমন অবস্থায় যে, সে কোনো অনুযোগ মোচনকারী নয় … এবং সে আল্লাহকে সামান্যই স্মরণ করে।

৬ - আমি কি তাকে বিদায় জানানোর … এবং তার অনুগামী হিসেবে দীর্ঘ বিচ্ছেদ অবলম্বন করার উপযুক্ত নই?
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫৫)
[8]

كان علي بن أبي طالب - صلوات الله عليه - استعمل أبا الأسود على البصرة واستعمل زياد بن أبي سفيان على الديوان والخراج. وإن زيادا جعل يسبع أبا الأسود عند علي وينعى عليه فلما بلغ ذلك أبا الأسود قال:

الطويل

1 - رَأَيتُ زِياداً يَجتَويني بِشَرِّهِ … وَأُعرِضُ عَنهُ وَهوَ بادٍ مَقاتِلُه

أي يطلب من شرا

2 - وَكُلُّ امرىءٍ واللَهُ بِالناس عالِمٌ … لَهُ عادَةٌ قامَت عَلَيها شَمائِلُهُ

3 - تَعَوَّدَها فيما مَضى مِن شَبابِهِ … كَذَلِكَ يَدعو كُلَّ أَمرٍ أَوائِلُه

4 - وَيُعجِبُهُ صَفحي لَهُ وَتَحمُّلي … وَذو الجَهلِ يُحذي الفُحشَ مَن لا يُعاجِلُه

يعطيه ابتداء
[৮]

আলী ইবনে আবু তালিব - তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক - আবুল আসওয়াদকে বসরার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন এবং জিয়াদ ইবনে আবু সুফিয়ানকে দেওয়ান ও রাজস্ব বিভাগের দায়িত্বে নিযুক্ত করেছিলেন। আর জিয়াদ আলীর নিকট আবুল আসওয়াদের গীবত করতে এবং তাঁর নিন্দা গাইতে শুরু করলেন। যখন আবুল আসওয়াদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন:

আল-তাবীল

১ - আমি জিয়াদকে দেখেছি যে সে তার মন্দ দ্বারা আমাকে গ্রাস করতে চায় … অথচ আমি তার থেকে বিমুখ থাকছি যখন তার মরণঘাতি দুর্বলতাগুলো প্রকাশমান।

অর্থাৎ আমার অনিষ্ট কামনা করছে।

২ - আর প্রত্যেক ব্যক্তি—এবং আল্লাহ মানুষের ব্যাপারে সর্বজ্ঞ—তার একটি অভ্যাস থাকে যার ওপর তার স্বভাব-চরিত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

৩ - সে তার গত হওয়া যৌবনে এতে অভ্যস্ত হয়েছিল … এভাবেই প্রতিটি বিষয়ের সূচনা তার পরিণতির দিকে আহ্বান জানায়।

৪ - তার প্রতি আমার ক্ষমা প্রদর্শন ও সহনশীলতা তাকে বিস্মিত করে … আর মূর্খ ব্যক্তি তাকেই অশ্লীলতা উপহার দেয় যে তার বিরুদ্ধে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।

তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫৬)
5 - فَقُلتُ لَهُ ذَرني وَشَأنيَ إِنَّنا … كِلانا عَليهِ مَعمَلٌ فَهوَ عامِلُه

[5 / أ] أي: علينا عمل غير هذا

6 - فَلَولا الَّذي قَد يُرتَجى مِن رَجائِهِ … لَجَرَّبتَ مِنّي بَعضَ ما أَنتَ جاهِلُه

7 - لَجَرَّبتَ أَنّي أَجلِبُ الغَيَّ مَن غَوى … عَليَّ وَأَجزي ما جَزى وَأُطاوِلُه

8 - كَما كُنتَ لَو آخَيتَني لَوَجَدتَني … أُكارِمُ مَن آخَيتُهُ وَأُباذِلُه

9 - وَذو خَطلٍ في القَولِ ما يَعتَرِض لَهُ … مِنَ القَولِ مِن ذي إِربَةٍ فَهوَ قَائِلُه

10 - ونَمٍّ ظَنونٍ مُستَظَنٍّ مُلَعَّنٍ … لُحومُ الصَديقِ لَهوُهُ وَمآكِلُه

11 - تَجاوَزتُ عَمّا قالَ لي واحتَسَبتُهُ … وَكانَ مِنَ الذَنبِ الَّذي هوَ نائِلُه

أي: تركته وطبت نفسا عنه.

12 - فَقُلتُ لِنَفسي والتَذَكُّرُ كَالنُهى … أَتَسخَطُ ما يَأَتي بِهِ وَتُماثِلُه

تماتله: تفعل به مثل ما يفعل بك.
5 - অতঃপর আমি তাকে বললাম, "আমাকে এবং আমার অবস্থা ছেড়ে দাও; আমাদের... উভয়েরই ওপর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে যা সে পালন করছে।"

[৫ / অ] অর্থাৎ: আমাদের ওপর এটি ব্যতীত অন্য কাজ (দায়িত্ব) রয়েছে।

6 - যার নিকট থেকে প্রত্যাশা করা হয় তার অনুগ্রহের আশা যদি না থাকত, তবে তুমি আমার পক্ষ থেকে এমন কিছুর মুখোমুখি হতে যা সম্পর্কে তুমি অজ্ঞ ছিলে।

7 - তুমি দেখতে পেতে যে, যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে গোমরাহির পথে চলে তাকে আমি সেদিকেই টেনে নিয়ে যাই এবং সে যেরূপ আচরণ করে আমি তার অনুরূপ প্রতিদান দেই এবং তার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করি।

8 - তুমি যদি আমার সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করতে, তবে আমাকে দেখতে পেতে যে, আমি যার সাথে ভ্রাতৃত্ব করি তার প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করি এবং অকাতরে দান করি।

9 - আর কথায় ভুল করা কোনো ব্যক্তির নিকট যখন কোনো বুদ্ধিমান লোকের কথা উপস্থাপিত হয়, তখন সে তা-ই বলে বেড়ায়।

10 - এবং এমন এক কুচক্রী সন্দেহপ্রবণ ও অভিশপ্ত ব্যক্তি, বন্ধুর মাংস (গীবত) ভক্ষণ করাই যার আমোদ ও আহার।

11 - সে আমার বিরুদ্ধে যা বলেছে আমি তা উপেক্ষা করেছি এবং তা সওয়াবের আশায় ছেড়ে দিয়েছি; অথচ এটি ছিল এমন পাপ যা তাকে স্পর্শ করবে।

অর্থাৎ: আমি তা বর্জন করেছি এবং তার প্রতি মনকে বিদ্বেষমুক্ত রেখেছি।

12 - আমি আমার মনকে বললাম—আর স্মরণ করা হলো বুদ্ধির ন্যায়—সে যা নিয়ে এসেছে তুমি কি তাতে অসন্তুষ্ট হবে এবং তার অনুরূপ আচরণ করবে?

তুমাছিলুহু: সে তোমার সাথে যা করে তুমিও তার সাথে অনুরূপ আচরণ করা।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫৭)
13 - فَكَدَّ قَليلاً ثُمَ صَدَّ وَقَد بَنَت … عَلى كُرهِهِ أَنيابُهُ وَأَنامِلُه

14 - فَما إِن تَراني ضَرَّني إِذ تَرَكتُهُ … بِظَهري وَأَشقى الناسِ بِالشَرِّ فاعِلُه

15 - وَمُؤتَمَنٍ بِالسِرِّ أَوثَقتُ سِرَّهُ … مَع القَلبِ مَقروناً بِهِ لا يُزايِلُه

16 - وَأَسمَعتُ مَن أَخشى عَليهِ مَغازِلَ ال … حَديثِ وَأَحراسُ الحَديثِ مَغازِلُه

أي: غزل الحديث وهو حسنه

17 - وَصاحِبَ صِدقٍ ذي حَياءٍ وَجُرأَةٍ … يَنالُ الصَديقَ نَصرُهُ وَفواضِلُه

18 - كَريمٍ حَليمٍ يَكسِبُ الحَمدَ والنَدى … إِذا الوَرَعُ الهَيّابُ قَلَّت نَوافِلُه

19 - مَدَدتُ بِحَبلِ الودِّ بَيني وَبينَهُ … كِلانا مُجِدٌّ ما يَليهِ وَواصِلُه

20 - وَغَيثٌ مِن الوَسمِيِّ حُوٌّ تِلاعُهُ … تَمَنَّعَ زَهواً نَبتُهُ وَسَوابِلُه

أي: لكثرة الحرب عليه. الغيث: المطر، والغيث: العشب.
13 - সে সামান্য প্রয়াস চালাল অতঃপর মুখ ফিরিয়ে নিল, অথচ তার দাঁত ও আঙুলসমূহ তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাতে লিপ্ত ছিল।

14 - সুতরাং আমি যখন তাকে পশ্চাতে ফেলে এসেছি, তখন তুমি আমাকে দেখবে যে তা আমার কোনো ক্ষতি করেনি; আর মন্দের কারণে সর্বাধিক হতভাগ্য সেই ব্যক্তি যে তা সম্পাদন করে।

15 - আর এমন এক গোপনীয়তার আমানতদার যার রহস্যকে আমি হৃদয়ের সাথে গেঁথে দিয়েছি, যা কখনোই তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।

16 - আর আমি যাকে নিয়ে আশঙ্কা করি তাকে বাণীর মাধুর্য শুনিয়েছি; আর বাণীর প্রহরী তো তার মাধুর্যই।

অর্থাৎ: বাণীর বুনন, আর তা-ই এর সৌন্দর্য।

17 - আর এমন এক সত্যনিষ্ঠ সঙ্গী যে লজ্জাশীল ও সাহসী; যার সাহায্য ও অনুগ্রহ বন্ধু লাভ করে থাকে।

18 - সে মহৎ ও সহনশীল, যে প্রশংসা ও বদান্যতা অর্জন করে; যখন ভীরু ও অতি-সতর্ক ব্যক্তির অতিরিক্ত দানসমূহ কমে যায়।

19 - আমি আমার ও তার মাঝে সৌহার্দ্যের রজ্জু প্রসারিত করেছি; আমাদের উভয়েই নিজ নিজ অবস্থানে দৃঢ় এবং সম্পর্ক রক্ষাকারী।

20 - আর প্রারম্ভিক বর্ষায় সিক্ত এমন এক ভূমি যার টিলাগুলো শ্যামলবর্ণ ধারণ করেছে; যার উদ্ভিদ ও শস্যমঞ্জরি সগৌরবে সুরক্ষিত হয়েছে।

অর্থাৎ: তার ওপর অধিক যুদ্ধের কারণে। গায়স: বৃষ্টি, আর গায়স: ঘাস।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫৮)
أيضا. والوسمي: أول [5 / ب] مطر يسم الأرض والذي يجيء بعده: الولي. والحو: من الأحوى وهو سواد إلى الخضرة قال ابو جعفر: الحوة سواد الشفتين واللثة. والتلاع: مجاري الماء من أعالي الأودية إلى بطونها. وزهو كل شيء: نضارته وحسنه يقال زها فلان إذا دخله العجب والتيه، وزهاء كل شيء: قدره.

21 - كَأَنَّ الظِباءَ الأُدمَ في حُجُراتِهِ … وَجُونَ النَعامِ شاجِنٌ وَجَمائِلُه

الأدم: البيض من الظباء وهي أطولها أعناقا وأشدها عدوا. وجحراته: نواحيه. والجون: السود -ها هنا-. وشاجن: واد، شبه الظباء والنعام فيه -في نواحي هذا الغيث ترعاد بهذا الوادي- بالإبل التي ترعى فيه، ويقال: هو واد كثير العشب كثير الحمض والسعدان ترعى فيه الإبل

22 - هَبَطتُ إِذا ما الآلُ آضَ كَأَنَّهُ … عِضاهٌ تَرَدّى بِالمُلاءِ أُطاوِلُه

الآل: السراب. وآض: صار.

يقول: هبطت هذا الغيث في وقت نزو السراب واضطرابه على الآكام والأعلام كأنه شجر العضاه قد جللها كالملاء عليها. وواحد العضاه: عضه.
আরও। আল-ওয়াসমি: প্রথম [৫ / খ] বৃষ্টি যা ভূমিকে চিহ্নিত করে এবং এর পরে যা আসে তা হলো: আল-ওয়ালী। আর আল-হাও: আল-আহওয়া শব্দ থেকে আগত, যা সবুজাভ কালো বর্ণ। আবু জাফর বলেন: আল-হুওয়াহ হলো ঠোঁট এবং মাড়ির কৃষ্ণাভ বর্ণ। আর আত-তিলা': উপত্যকার উপরিভাগ থেকে তলদেশের দিকে প্রবাহিত জলধারা। আর কোনো কিছুর যাহউ: তার সতেজতা ও সৌন্দর্য; বলা হয় অমুক ব্যক্তি 'যাহা' (অহংকার করেছে) যখন তার মধ্যে আত্মমুগ্ধতা ও দম্ভ প্রবেশ করে। আর কোনো কিছুর যাহাউ: তার পরিমাণ।

২১ - মনে হয় যেন এর প্রান্তভাগগুলোতে সাদাটে হরিণ এবং কালো উটপাখিগুলো সাজেন উপত্যকায় বিচরণরত উটের পালের মতো।

আল-আদম: হরিণদের মধ্যে শ্বেতবর্ণের হরিণ, এগুলো দীর্ঘ গ্রীবা বিশিষ্ট এবং অত্যন্ত দ্রুতগামী। আর হুজুরাতুহু: এর প্রান্তসমূহ। আর আল-জাওন: কালো —এখানে এই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে—। আর সাজেন: একটি উপত্যকা; তিনি এখানে হরিণ এবং উটপাখিকে —এই বৃষ্টির প্রভাবে এই উপত্যকার প্রান্তসমূহে যা বিচরণ করে— সেখানে চরে বেড়ানো উটের সাথে তুলনা করেছেন। বলা হয়: এটি এমন এক উপত্যকা যেখানে প্রচুর ঘাস এবং হাময ও সা'দান জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে যাতে উট চরে বেড়ায়।

২২ - আমি তখন অবতরণ করলাম যখন মরীচিকা এমনভাবে রূপান্তরিত হলো যেন তা দীর্ঘাকার ইযাহ বৃক্ষ যা চাদর দ্বারা আবৃত।

আল-আল: মরীচিকা। আর আ-যা: পরিণত হওয়া বা হওয়া।

তিনি বলছেন: আমি এই বৃষ্টিস্নাত ভূমিতে সেই সময় অবতরণ করেছি যখন টিলা ও পাহাড়গুলোর চূড়ায় মরীচিকা এমনভাবে স্পন্দিত ও আন্দোলিত হচ্ছিল যেন তা ইযাহ বৃক্ষ যাকে চাদরের ন্যায় আবৃত করে রাখা হয়েছে। আর ইযাহ-এর একবচন হলো ইযাহ্।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৫৯)
23 - تَسَمَّعتُ وَاستَوضَحتُ ثُمَّ استَجَزتُهُ … بِأَبيَضَ مَلحوبٍ قَواءٍ مَنازِلُه

الاستيضاح: النظر والتبين. واستجزته: جزته. والأبيض: الطريق. والملحوب: الذي قد لحبته السابلة وهو المشقوق واللحب: الشق في الأرض وهو -ها هنا- شرك الطريق. والقواء: القفر لا أهل له.

24 - عَلى ذاتِ لَوثٍ أَو بِأَهوَجَ وَشوَشٍ … صَنيعٍ نَبيلٍ يَملأُ الرحلَ كاهِلُه

[اللوث و] الليث: القوة. والأهوج: الذي في سيره تلفت وسرعة. والوشوش: الخفيف السريع في سيره، ويروى: "سهوق" و "سوهق". والصنيع: الذي قد قيم عليه وأحسن إليه، أي صنع للرحلة. والكاهل: هو للإنسان، إلا أن القافية اضطرته [6 / أ] واستعاره فجعله للبعير، وهو الحارك من البعير، ومن الفرس المنسج ومن الحمار السيساء.

25 - لِأُدرِكَ نُجحاً أَو أُسلّيَ حاجَةً … وَهَمُّ القَصيرِ الباعِ داءٌ يُماطِلُه

26 - يَهُمُّ وَلا يَمضي وَيرتَدُّ أَمرُهُ … إِذا قامَ ناهيهِ عَليهِ وَعاذِلُه
২৩ - আমি মন দিয়ে শুনলাম এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইলাম, অতঃপর আমি তা অতিক্রম করলাম... এমন এক শুভ্র চিহ্নযুক্ত পথ দিয়ে যার আবাসস্থলগুলো জনশূন্য।

আল-ইস্তিযাহ: দেখা এবং স্পষ্ট হওয়া। 'ইস্তাজাযতুহু': আমি তা অতিক্রম করেছি। 'আল-আবইয়াদ': পথ। 'আল-মালহুব': যাকে পথচারীরা পদদলিত করে চিহ্নিত করেছে, আর তা হলো বিদীর্ণ পথ। 'আল-লাহব': ভূমিতে বিদীর্ণ হওয়া, আর এখানে এর অর্থ হলো পথের মূল রেখা বা চিহ্ন। 'আল-কাওয়া': এমন জনমানবহীন প্রান্তর যেখানে কোনো অধিবাসী নেই।

২৪ - এক শক্তিশালী উষ্ট্রীর পিঠে অথবা দ্রুতগামী চঞ্চল উটের পিঠে... যে সুঠাম ও উন্নত জাতের, যার স্কন্ধদেশ শিবিকা পূর্ণ করে দেয়।

[আল-লাওস এবং] আল-লাইস: শক্তি। 'আল-আহওয়াজ': যার চলাফেরায় দ্রুততা ও এদিক-ওদিক তাকানোর প্রবণতা আছে। 'আল-ওয়াশওয়াশ': ক্ষিপ্র ও দ্রুতগামী; আর বর্ণান্তরে "সাহওয়াক" এবং "সাওয়াক" শব্দও এসেছে। 'আল-সানি'': যার বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে এবং যাকে সুপুষ্ট করা হয়েছে, অর্থাৎ সফরের জন্য তাকে তৈরি করা হয়েছে। 'আল-কাহিল': এটি মূলত মানুষের অঙ্গের নাম, তবে অন্ত্যমিলের প্রয়োজনে তিনি [৬ / ক] একে রূপক হিসেবে উটের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন; এটি উটের কুঁজের অগ্রভাগ, ঘোড়ার ক্ষেত্রে ঘাড়ের উপরিভাগ এবং গাধার ক্ষেত্রে পিঠের হাড়।

২৫ - যাতে আমি সফলতা অর্জন করি অথবা কোনো প্রয়োজন ভুলে থাকতে পারি... আর স্বল্প সামর্থ্যবানের দুশ্চিন্তা হলো এমন এক ব্যাধি যা তাকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দেয়।

২৬ - সে সংকল্প করে কিন্তু অগ্রসর হয় না এবং তার সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়... যখন তার নিষেধকারী ও তিরস্কারকারী তার সামনে এসে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৬০)
[9]

وقال أبو الأسود لزياد أيضاً في ذلك:

البسيط

1 - نُبِّئتُ أَنَّ زياداً ظَلَّ يَشتُمَني … والقَولُ يُكتَبُ عِندَ اللَهِ والعَمَلُ

2 - وَقَد لَقِيتُ زياداً ثُمَّ قُلتُ لَهُ … وَقبلَ ذَلِكَ ما خَبَّت بِهِ الرُسُلُ

3 - حَتّى ما تَسرقُني في كُلِّ مجمَعَةٍ … عَرضي وَأَنتَ إِذا ما شِئتَ مُنتَقِلُ

ومنتقل: أي ينتقل مما قاله: يجحده.

4 - وَمُكفِلُ اللَهَ بِالعُتبى وَمُعتَرِفٌ … أَن قَد ظُلِمتُ وَمُستَعِفٍ وَمُعتَذِلُ

كأنه يجعل الله كفيلا على ما يعاتبه عليه، أي: مقر لا أنكر العذل.

5 - ثُمَّ اِنثَنيتَ وَنَفسي ما تواثِقُني … وَالغَدرُ بِالمَوثِقِ النِسيانُ وَالعَجَلُ
[৯]

আবু আল-আসওয়াদ এ বিষয়ে যিয়াদকেও উদ্দেশ্য করে বলেছেন:

বাসীত

১ - আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, যিয়াদ অনবরত আমাকে গালিগালাজ করছে … অথচ কথা এবং কাজ আল্লাহর নিকট লিপিবদ্ধ করা হয়।

২ - আমি যিয়াদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাকে বলেছি … আর এর পূর্বে রাসুলগণ যা নিয়ে দ্রুত চলেছেন (বা আনয়ন করেছেন)।

৩ - যেন তুমি প্রতিটি মজলিসে আমার সম্মান হরণ না করো … অথচ তুমি যখন ইচ্ছা করো (নিজের কথা থেকে) সরে যাও।

‘মুনতাকিল’ (সরে যাওয়া): অর্থাৎ সে যা বলেছে তা থেকে সরে যায়: তা অস্বীকার করে।

৪ - আর আল্লাহকে সন্তুষ্টির জামিনদার করা এবং স্বীকার করা … যে আমি অত্যাচারিত হয়েছি, এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও সম্পর্ক ছিন্ন করছি।

যেন সে আল্লাহকে সেই বিষয়ের জামিন বানাচ্ছে যার জন্য সে তাকে তিরস্কার করছে, অর্থাৎ: সে স্বীকারকারী, তিরস্কার অস্বীকারকারী নয়।

৫ - অতঃপর তুমি ফিরে গেলে এমতাবস্থায় যে আমার মন তোমাকে আশ্বস্ত করছিল না … আর অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হলো বিস্মৃতি ও তাড়াহুড়া।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৬১)
ويروى: ثمت تعود ونفسي.

6 - كُلُّ امرىءٍ صائِرٌ يَوماً لِشِيمَتِهِ … في كُلِّ مَنزِلَةٍ يُبلى بِها الرَجُلُ

7 - وَلَو تَلَبَّثَ عَنها غَيرَ تارِكِها … إِلّا إِلَيها قَريباً ثُمَّ يَنتَقِلُ

8 - إِذا أَرادَ لَها تَركاً تَقَعَّدَهُ … كَما تَقَعَّدَ ساقَ الموثَقِ الطِوَلُ

ويروى: "شأو الموثق". تقعده: حبسه ذلك كما حبس الموثق الحبل عن شأوه، والشأو: السبق.
এবং বর্ণিত আছে: অতঃপর আমার আত্মা ফিরে আসে।

৬ - প্রত্যেক ব্যক্তি একদিন তার সহজাত স্বভাবের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে … প্রতিটি অবস্থানে যেখানে মানুষকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়।

৭ - যদিও সে তা ত্যাগ না করে তা থেকে কিছুটা বিলম্ব করে … অচিরেই তার দিকে ফিরে আসে, অতঃপর স্থানান্তরিত হয়।

৮ - যদি সে তা ত্যাগ করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে তা তাকে আটকে ফেলে … যেমন দীর্ঘ রশি কোনো আবদ্ধ ব্যক্তির পা-কে আটকে রাখে।

এবং বর্ণিত আছে: "আবদ্ধ ব্যক্তির গতি"। তাকা'আদাহু: তাকে সেটি আবদ্ধ করেছে, যেভাবে রশি কোনো আবদ্ধ ব্যক্তিকে তার গতি থেকে আটকে রাখে। আর আল-শাও: এর অর্থ হলো অগ্রগামিতা বা গতি।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৬২)
[10]

وقال أبو الأسود يعاتب زيادا في الذي كان منه:

الطويل

1 - أَلا أَبلِغا عَنّي زياداً مآلِكاً … رَسولاً إِلَيهِ حَيثُ ما كانَ مِن أَرضِ

المآلك: الرسائل واحدها مألكة.

2 - فَما لَكَ مَسهوماً إِذا ما لقيتَني … تُقَطِّعُ دوني طَرفَ عَينيكَ كَالمُغضي

أي: أصابه سهام وهو داء. ويروى: "طرف عينيك بالغمض" [6 / ب]

3 - وَمالي إِذا ما أَخلَقَ الوُدُّ بَينَنا … أُمِرُّ القُوى مِنهُ وَتَعمَلُ في النَقضِ

أمر: أفتل يقال أمر الحبل وأحصده وشزره: إذا أجاد فتله. والقوى: طاقات الحبل واحدتها قوة.

4 - أَلَم تَرَ أَنّي لا أُلَوِّنُ شيمَتي … تَلَوُّنَ غولِ اللَيلِ بِالبَلَدِ المُفضي

أي: لا أتلون خلق كذا وخلق كذا.
[১০]

এবং আবু আল-আসওয়াদ যিয়াদকে তার পক্ষ থেকে যা ঘটেছিল সে বিষয়ে তিরস্কার করে বলেন:

আত-তওয়ীল

১ - হে তোমরা দুজন, আমার পক্ষ থেকে যিয়াদের নিকট বার্তা পৌঁছে দাও... তার কাছে একজন বার্তাবাহক পাঠাও, সে জমিনের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন।

আল-মআলিক: অর্থ বার্তাসমূহ, এর একবচন হলো ‘মআলকাহ’।

২ - তোমার কী হয়েছে যে তুমি যখন আমার সাথে সাক্ষাৎ করো তখন তোমাকে বিবর্ণ দেখায়... আমার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নাও এমনভাবে যেন তুমি চোখ বন্ধ করে আছো।

অর্থাৎ: সে ‘সিহাম’ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, যা একটি রোগ। বর্ণিত আছে: "চোখের পলক বন্ধ করার মাধ্যমে।" [৬ / খ]

৩ - আমার কী হয়েছে যে যখন আমাদের মধ্যকার ভালোবাসা জীর্ণ হয়ে যায়... তখন আমি এর রজ্জুকে মজবুত করি আর তুমি তা ছিন্ন করার কাজ করো।

আমিররু: অর্থ আমি পাকাই বা মজবুত করি। বলা হয়—সে রশি পাকিয়েছে, তাকে সুদৃঢ় করেছে এবং শক্ত করে পাকিয়েছে: যখন সে এর পাকানোকে নিখুঁত করে। আর আল-কুওয়া: রশির পাকসমূহ, এর একবচন হলো ‘কুওয়াহ’।

৪ - তুমি কি দেখনি যে আমি আমার স্বভাব পরিবর্তন করি না... যেমন উন্মুক্ত প্রান্তরে রাতের দানবের (ঘুল) রূপ পরিবর্তন ঘটে।

অর্থাৎ: আমি এক চরিত্র থেকে অন্য চরিত্রে রঙ বদলাই না।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৬৩)
5 - وَلَستُ بِناموسٍ سَبوتٍ دَلَهمَسٍ … كَحُمّى هُلاعٍ لا تَبوخُ وَلا يَقضي

الناموس: ذو الغش الخبيث الظن. والسبوت: السكون، يسكن مرة ويهيج أخرى. والدلهمس: الجريء. وحمى هلاع: هي أشد النافض. وتبوخ: تذل يقال باخه يبوخه بوخا: أي أذله.

6 - وَلَستُ بِرَشّاشٍ رَشيقٍ مُلَهوَقٍ … جَوادٍ بِمَكذوبِ المَواعِدِ وَالقَرضِ

الرشاش: الذي يبدي يبدي لك غير ما في قلبه. والملهوق: الكذوب يقال: لهوق في حديثه إذا كذب

7 - وَلَستُ كَماءِ القاعِ يُحسَب رَيَّةً … وَيُدرَك ضَحلاً بَعدَ مَظمَإِهِ الدَحضِ

القاع من الأرض: ما كان فيه ماء وطين. رية: يروي من يظنه. والضحل: الضحضاح الماء القليل يريد السراب. ومظمإه: من الظمإ وهو العطش. والدحض: الزلق يقال: موضع دحض إذا كان متصوبا لا يثبت عليه شيء وكذلك حصاة زلقة.

8 - فَسَل بي وَلا تَستَحي مِنّي فَإِنَّهُ … كَذَلِكَ بَعضُ الناسِ يَسأَلُ عَن بَعضِ
৫ - আমি কোনো প্রতারক, ক্ষণস্থায়ী শান্ত বা অতি সাহসী ব্যক্তি নই... যেমন তীব্র কম্পনজ্বর, যা প্রশমিত হয় না এবং শেষও হয় না।

নামূস: মন্দ ধারণাসম্পন্ন প্রতারক। সাবূত: প্রশান্তি, যা একবার শান্ত হয় এবং অন্যবার উত্তেজিত হয়। দালহামাস: সাহসী। হুম্মা হুলা': অত্যন্ত তীব্র কম্পনজ্বর। তাবূখু: নিস্তেজ হওয়া বা দমিত হওয়া। বলা হয় 'বাখাহু ইয়াবূখুহু বাওখান' অর্থাৎ সে তাকে দমিত করেছে বা অপমানিত করেছে।

৬ - আমি কোনো কপট, চাটুকার বা মিথ্যাবাদী নই... যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং ঋণের ক্ষেত্রে খুব দানশীল।

রাশশাশ: যে ব্যক্তি তোমার সামনে অন্তরের বিপরীত কিছু প্রকাশ করে। মুলাহওয়াক: মিথ্যাবাদী। বলা হয়: 'লাহওয়াকা ফী হাদীছিহী' যখন সে তার কথায় মিথ্যা বলে।

৭ - আর আমি নিচু ভূমির সেই পানির ন্যায় নই যা তৃষ্ণা নিবারক মনে করা হয়... অথচ চরম তৃষ্ণার পর তাকে অগভীর পিচ্ছিল কাদা হিসেবে পাওয়া যায়।

আল-কা': ভূমির ঐ অংশ যেখানে পানি ও কাদা থাকে। রিয়্যাহ: যে ব্যক্তি একে তৃষ্ণা নিবারণকারী মনে করে। যাহল: অগভীর পানি, এখানে মরীচিকা উদ্দেশ্য। মাযমা'আহি: 'যামা' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ তৃষ্ণা। দাহদ: পিচ্ছিল স্থান। বলা হয়: 'মাওদিউ দাহদিন' যদি স্থানটি ঢালু হয় যেখানে কোনো কিছু স্থির থাকে না, অনুরূপভাবে পিচ্ছিল পাথরকেও দাহদ বলা হয়।

৮ - সুতরাং আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো এবং আমার কাছে লজ্জা পেয়ো না, কেননা... এভাবেই মানুষ একে অপরের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে থাকে।
(খণ্ড: ১) দিওয়ানু আবিল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (পৃষ্ঠা: ৬৪)
[11]

فلما كان من أمر زياد ومعاوية الذي كان واستعمل معاوية زيادا على العراق جعل أبو الأسود يأتيه ويطلبه الحاجة تكون فربما قضى زياد له حاجته وربنا ثناه عن ذلك ما يعرف من هواه في علي بن أبي طالب عليه السلام وما كان دخل بينهما وهما عاملان لعلي. فجعل أبو الأسود يترضاه بما استطاع ويتقيه [7 / أ] فقال أبو الأسود في ذلك:

الطويل

1 - رَأَيتُ زِياداً صَدَّ عَنّي وَرَدَّني … وَما كانَ خَيّاباً مِنَ القَومِ سائِلُه

2 - يُنَفِّذُ حاجاتِ الرِجالِ وَحاجَتي … كَداءِ الجَوى في جَوفِهِ لا يُزايلُه

3 - فَلا أَنا ناسٍ ما نَسيتُ فَيائِسٌ … وَلا أَنتَ راءٍ ما أُريكَ فَفاعِلُه

4 - وَفي اليأسِ حَزمٌ لِلقَويِّ وَراحَةٌ … مِنَ الأَمرِ لا يُنسى وَلا المَرءُ نائِلُه
[১১]

যখন যিয়াদ ও মুয়াবিয়ার সেই ঘটনাটি ঘটল এবং মুয়াবিয়া যিয়াদকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করলেন, তখন আবু আল-আসওয়াদ তার নিকট যাতায়াত করতেন এবং নিজের প্রয়োজনের কথা পেশ করতেন। কখনও যিয়াদ তার প্রয়োজন পূরণ করতেন, আবার কখনও আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি তার গভীর অনুরাগের কারণে এবং আলীর অধীনে আমিল থাকাকালীন তাদের মধ্যকার অতীত সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে তাকে বিমুখ করতেন। আবু আল-আসওয়াদ সাধ্যমতো তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতেন এবং তার থেকে আত্মরক্ষা করতেন [৭ / ক]। এ প্রসঙ্গে আবু আল-আসওয়াদ নিম্নোক্ত কবিতা পাঠ করেন:

তবীল ছন্দ

১ - আমি দেখলাম যিয়াদ আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং আমাকে ফিরিয়ে দিল, অথচ তার কাছে যাচনা করে কেউ সাধারণত বিফল হয় না।

২ - সে অন্যান্যদের প্রয়োজন পূরণ করে, কিন্তু আমার প্রয়োজনটি তার অন্তরে প্রবিষ্ট এমন এক ব্যথার মতো যা তাকে ছেড়ে যায় না।

৩ - আমি যা ভুলে গেছি তা ভুলে গিয়ে হতাশ হওয়ার পাত্র নই, আর আমি তোমাকে যা দেখাচ্ছি তুমি তা প্রত্যক্ষ করেও তা সম্পাদন করছ না।

৪ - নিরাশার মাঝে শক্তিমানদের জন্য রয়েছে সংকল্পের দৃঢ়তা এবং এমন বিষয় থেকে পরিত্রাণ যা ভোলা যায় না এবং মানুষ যা লাভেও সমর্থ হয় না।