(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: -)
ديوان ابن الخياط القسم: الشعر ودواوينه
الكتاب: ديوان ابن الخياط
المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن محمد بن علي التغلبي المعروف بابن الخياط الدمشقي (450 - 517)
رواية تلميذه: أبي عبد الله محمد بن نصر بن صغير الخالدي القيسراني (478 - 548)
عني بتحقيقه: خليل مردم بك (رئيس المجمع العلمي العربي)
الناشر: المجمع العلمي العربي بدمشق
عام النشر: 1377 هـ - 1958 هـ
عدد الصفحات: 332
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 23 رجب 1440
ইবনে আল-খাইয়াতের দীওয়ান বিভাগ: কবিতা ও কাব্যগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইবনে আল-খাইয়াতের দীওয়ান
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আত-তাগলিবী, যিনি ইবনে আল-খাইয়াত আদ-দিমাশকী নামে পরিচিত (৪৫০ - ৫১৭)
তাঁর ছাত্রের বর্ণনা: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন নাসর বিন সাগীর আল-খালিদী আল-কায়সারানী (৪৭৮ - ৫৪৮)
সম্পাদনায়: খলিল মারদাম বেক (আরব সায়েন্টিফিক একাডেমির সভাপতি)
প্রকাশক: দামেস্কের আরব সায়েন্টিফিক একাডেমি
প্রকাশকাল: ১৩৭৭ হিজরি - ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩২
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নাসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুল নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণলিপি অনুযায়ী]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৩ রজব ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
1
قال الشيخ الأجل أبو عبد الله احمد بن محمد الخياط التغلبي الدمشقي يمدح الأمير ناصر الدين أبا القوام وثاب بن محمود بن نصر بن صالح، وأنشده إياها بحماة سنة أربع وسبعين وأربع مائة:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
১
অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খাইয়াত আত-তাগলিবী আদ-দিমাশকী আমীর নাসিরুদ্দীন আবুল ক্বাওয়াম ওয়াসসাব বিন মাহমুদ বিন নাসর বিন সলিহ-এর প্রশংসায় বলেছেন, এবং তিনি এটি তাঁর সম্মুখে চারশত চুয়াত্তর হিজরি সনে হামাহ-তে পাঠ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২)
الوافر
عَتَادُكَ أَنْ تَشُنَّ بِها مُغَارا
… فَقُدْها شُزَّباً قُبّاً تَبَارى
كَأَنَّ أَهِلَّةً قَذَفَتْ نُجُوماً
… إِذا قَدَحَتْ سَنابِكُها شَرارا
وَهَلْ مَنْ ضَمَّرَ الْجُرْدَ المَذَاكي
… كَمَنْ جَعَلَ الطِّرادَ لَها ضِمارا
كَأَنَّ اللَّيْلَ مَوْتُورٌ حَرِيبٌ
… يحاوِلُ عِنْدَ ضَوْءِ الصُّبْحِ ثَارا
فَلَيْسَ يَحِيدُ عَنْها مُسْتَجِيشا
… عَلَى الإِصْباحِ عِثْيَرَها الْمُثارا
আল-ওয়াফির
আপনার যুদ্ধের সরঞ্জাম হলো তাদের নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ করা
… সুতরাং আপনি চালিত করুন তাদের কৃশতনু ও সরু-উদর প্রতিযোগীদের ন্যায়।
মনে হয় যেন অর্ধচন্দ্রসমূহ নক্ষত্র নিক্ষেপ করছে
… যখন তাদের ক্ষুরগুলো আগুনের স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত করে।
আর যে ব্যক্তি তেজস্বী ও দ্রুতগামী ঘোড়াগুলোকে প্রশিক্ষিত করে কৃশ করেছে
… সে কি ওই ব্যক্তির মতো যে লড়াইকেই তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যম বানিয়েছে?
মনে হয় যেন রাত্রি এক শোকার্ত ও সর্বস্বান্ত সত্তা
… যে ভোরের আলোর আগমনে তার প্রতিশোধ নিতে সচেষ্ট।
সুতরাং সে সাহায্যপ্রার্থী হয়ে তা থেকে বিচ্যুত হয় না
… প্রভাতকালের ওপর তার সেই উত্থিত ধূলিকণা নিয়ে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
أَخَذْنَ بِثَأْرِهِ عَنَقاً وَرَكْضاً
… مَدَدْنَ عَلَى الصَّبَاحِ بِهِ إِزارا
وَقَدْ هَبَّتْ سُيُوفُكَ لامِعَاتٍ
… تُفَرِّقُ في دُجُنَّتِهِ نَهارا
أَمَا وَالسَّابِقاتِ لَقَدْ أَبَاحَتْ
… لَكَ الشَّرَفَ الْمُمَنَّعَ وَالْفَخَارا
فَزُرْ حَلَباً بِكُلِّ أَقَبَّ نَهْدٍ
… فَقَدْ تُدْنِي لَكَ الْخَيْلُ الْمَزَار
وَكَلِّفْ رَدَّها إِنْ شِئْتَ قَسْراً
… عَزائِمَ تَسْتَرِدُّ الْمُسْتَعارا
فَأَجْدِرْ بِالْممَالِكِ أَنْ تَراها
… لِمَنْ كانَتْ مَمَالِكَهُ مِرارا
وَإِنْ وَلَدَتْ لَكَ الآمالُ حَظَّاً
… فَما زالَتْ مَواعِدُها عِشَارا
إِذا عَايَنْتَ مِنْ عُودٍ دُخاناً
… فَأَوْشِكْ أَنْ تُعايِنَ مِنْهُ نارا
وَيَأْبى اللهُ إِنْ أَبَتِ الأَعادي
… لِنَاصِرِ دينِهِ إِلَاّ انْتِصارا
وَمَا كَبُرَتْ عَلَيْكَ أُمُورُ مَجْدٍ
… إِذا أَصْدَقْتَها الْهِمَمَ الْكِبارا
তারা দীর্ঘ পদক্ষেপে এবং দ্রুত ধাবিত হয়ে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে
… তারা এর দ্বারা সকালের ওপর একটি চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।
আপনার তলোয়ারগুলো উজ্জ্বল হয়ে ঝিলিক দিয়ে উঠেছে
… যা এর ঘোর অন্ধকারের মাঝে দিনের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সাবধান! সেই অগ্রগামী অশ্বরাজির শপথ, তারা আপনার জন্য
… সেই দুর্ভেদ্য মর্যাদা ও গৌরবকে সহজলভ্য করে দিয়েছে।
সুতরাং প্রতিটি ক্ষীণকটি ও উন্নত বক্ষবিশিষ্ট ঘোড়া নিয়ে আলেপ্পো ভ্রমণ করুন
… কেননা ঘোড়াই আপনার জন্য গন্তব্যস্থলকে নিকটবর্তী করে দেয়।
আপনি চাইলে সেগুলোকে বলপ্রয়োগে ফিরিয়ে আনার আদেশ দিন
… এমন সংকল্পের সাথে যা ধার করা বস্তুকে পুনরুদ্ধার করে।
সুতরাং রাজ্যগুলোর জন্য এটাই সমীচীন যে, আপনি সেগুলোকে তাদেরই জন্য দেখবেন
… ইতিপূর্বে যাদের অধীনে এই রাজ্যগুলো বারবার ছিল।
আর যদি আশা-আকাঙ্ক্ষা আপনার জন্য সৌভাগ্যের জন্ম দেয়
… তবে তার প্রতিশ্রুতিগুলো সর্বদা দশ মাসের গর্ভবতী উটনীর ন্যায় ফলপ্রসূ থাকে।
যখন আপনি কোনো কাষ্ঠখণ্ড থেকে ধোঁয়া নির্গত হতে দেখবেন
… তখন শীঘ্রই আপনি তা থেকে অগ্নিশিখাও প্রত্যক্ষ করবেন।
শত্রুরা অস্বীকার করলেও আল্লাহ তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারীর জন্য
… বিজয় ব্যতীত অন্য কিছু দিতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন।
মর্যাদার বিষয়গুলো আপনার নিকট দুঃসাধ্য নয়
… যখন আপনি সেগুলোর মোকাবিলায় সুউচ্চ সংকল্প প্রদর্শন করেন।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
وَمَا هِمَمُ الْفَتى إِلَاّ غُصُونٌ
… تَكُونُ لَها مَطالِبُهُ ثِمارا
أَلَسْتَ ابْنَ الَّذي هَطَلَتْ يَداهُ
… نَدىً سَرَفاً لِمَنْ نَطَقَ اخْتِصارا
وَأَعْطى الأَلْفَ لَمْ تُعْقَرْ بِنَقْصٍ
… وَما غُنِّي وَلا شَرِبَ الْعُقارا
وَأَشْبَعَ جُودُهُ غَرْثى الأَمَانِي
… وَرَوَّى بَأُسُهُ الأَسَلَ الْحِرارا
وَقَادَ إِلى الأَعَادِي كُلَّ جَيْشٍ
… تَقُودُ إِلَيْهِ رَهْبَتُهُ الدِّيارا
একজন যুবকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা শাখা-প্রশাখা ভিন্ন আর কিছুই নয়
… যার ফলশ্রুতি হয় তার অভীষ্ট লক্ষ্যসমূহ।
আপনি কি তাঁরই পুত্র নন, যাঁর দুই হাত অজস্র বদান্যতা বর্ষণ করেছে
… অতি সংক্ষেপে আবেদনকারীর তরে?
তিনি কোনো প্রকার হ্রাস পাওয়া ছাড়াই সহস্র দান করেছেন
… অথচ তিনি গানও শোনেননি এবং মদ্যপানও করেননি।
তাঁর বদান্যতা আকাঙ্ক্ষার বুভুক্ষুকে পরিতৃপ্ত করেছে
… এবং তাঁর বীরত্ব উত্তপ্ত বর্শাসমূহকে সিক্ত করেছে।
তিনি শত্রুদের অভিমুখে প্রতিটি সৈন্যবাহিনীকে পরিচালনা করেছেন
… যাঁর প্রতাপ জনপদসমূহকে তাঁর সমীপে বশীভূত করেছে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَلَوْ قُلْتُ ابْنُ مَحْمُودٍ كَفَتْنِي
… صِفَاتُ عُلاكَ فَضْلاً وَاشْتِهار
وَهَلْ يَخْفَى عَلَى السَّارِينَ نَهْجٌ
… إِذا ما الْبَدْرُ في الأُفُقِ اسْتَنارا
مِنَ الْقَوْمِ الأُولى جَادُوا سِرارا
… وَعَادَوْا كُلَّ مَنْ عَادَوْا جِهارا
وَمَا كَتَمُوا النَّدى إِلَاّ لِيَخْفَى
… وَيَأْبى الْغيْثُ أَنْ يَخْفى انْهِمارا
بُدُورُ الأَرْضِ ضَاحِيَةً عَلَيْها
… وَأَطْيَبُ مَنْ ثَوى فِيها نُجِارا
إِذا ما زُلْزِلتْ كانوا جِبالاً
… وَإِنْ هِيَ أَمْحَلَتْ كانوا بِحارا
وَأَنْتَ أَشَدُّهُمْ بَأْساً وَأَنْدَا
… هُمُ كَفّاً وَأَكْثَرُهُمْ فَخارا
وَأَوْفَاهُمْ إِذا عَقَدُوا ذِماماً
… وَأَحْمَاهُمْ إِذا حَامَوْا ذِمارا
وَأَمْرَعُهُمْ لِمُرْتَادٍ جَنَاباً
… وَأَمْنعُهُمْ لِمَطْلُوبٍ جِوَارا
لَقَدْ لَبِسَتْ بِكَ الدُّنْيَا جَمالاً
… فَلَوْ كَانَتْ يَداً كنْتَ السِّوَارا
يُضِيءُ جَبِينُكَ الْوَضَّاحُ فيها
… إِذا ما الرَّكْبُ في الظُّلْمآءِ حَارا
আর যদি আমি বলি ‘ইবনে মাহমুদ’, তবে আপনার সুউচ্চ গুণাবলি শ্রেষ্ঠত্ব ও সুখ্যাতির বিচারে আমার জন্য যথেষ্ট হতো
…।
আর যখন দিগন্তে পূর্ণিমা চাঁদ দীপ্তিমান হয়, তখন কি নৈশ পথচারীদের নিকট কোনো পথ গোপন থাকতে পারে?
…।
… এবং যাদের তারা শত্রু গণ্য করেন তাদের সাথে প্রকাশ্যে শত্রুতা করেন।
তারা তাদের বদান্যতাকে কেবল তা গোপন রাখার জন্যই লুকিয়ে রাখতেন
… কিন্তু প্রবল বর্ষণ কি তার ধারাকে গোপন রাখতে অস্বীকার করে না?
তারা জমিনের উপরে উজ্জ্বল পূর্ণিমা সদৃশ
… এবং যারা সেখানে বসবাস করেছে তাদের মধ্যে তারা বংশগতভাবে পবিত্রতম।
যখন পৃথিবী প্রকম্পিত হয় তখন তারা পাহাড়ের ন্যায় অটল থাকেন
… আর যখন পৃথিবী দুর্ভিক্ষপীড়িত হয় তখন তারা দানশীলতায় সমুদ্র হয়ে যান।
আর আপনি তাদের মধ্যে বীরত্বে কঠোরতম এবং হস্তের দানে সর্বাধিক বদান্য
… আর গৌরবের দিক থেকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম।
তারা যখন কোনো প্রতিশ্রুতি দেন তখন আপনি তাদের মধ্যে অধিক পূর্ণকারী
… আর যখন তারা পবিত্র আমানত রক্ষা করেন তখন আপনি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হিফাজতকারী।
আপনার সান্নিধ্য অন্বেষণকারীর জন্য আপনি সর্বাধিক সমৃদ্ধিশালী
… আর আশ্রয়প্রার্থীর আশ্রয়ের জন্য আপনি দুর্ভেদ্য ঢাল।
নিশ্চয়ই আপনার মাধ্যমে পৃথিবী সৌন্দর্য পরিধান করেছে
… পৃথিবী যদি একটি হাত হতো তবে আপনি হতেন তার হাতের চুড়ি।
আপনার উজ্জ্বল ললাট পৃথিবীর মাঝে আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলে
… যখনই কাফেলা ঘুটঘুটে অন্ধকারে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
فَما يدْرِي أَنَارُ قِراكَ لاحَتْ
… لَهُ أَمْ بَرْقٌ غَيْثِكَ قَدْ أَنَارا
تَمَلَّ أَبا الْقِوامِ شَرِيفَ حَمْدٍ
… رَفَعْتُ بِهِ عَلَى الدُّنْيا مَنارا
ثَناءُ ما حَدَاهُ الْفِكْرُ إِلَاّ
… أَقَامَ بِكُلِّ مَنْزِلَةٍ وَسَارا
إِذا أُثْنِي بِحَمْدِكَ قَالَ قَوْمٌ
… بِحَقِّ الرَّوْضِ أَنْ حَمِدَ الْقُطارا
غَفَرْتُ ذُنُوبَ هذا الدَّهْرِ لَمّا
… أَصارَ إِلَيَّ رُؤْيَتَكَ اعْتِذَارا
وَرَدَّ لِيَ الصِّبا بِنَداكَ حَتّى
… خَلَعْتُ لَدَيْهِ في اللَّهْوِ الْعِذارا
সে জানে না আপনার আতিথেয়তার অগ্নি তার নিকট প্রতিভাত হলো
… নাকি আপনার বারিবর্ষণের বিদ্যুৎ তাকে আলোকিত করলো।
হে আবু আল-কিওয়াম, সেই সুউচ্চ প্রশংসা উপভোগ করুন
… যা দ্বারা আমি জগতের ওপর এক আলোকবর্তিকা সমুন্নত করেছি।
এমন স্তুতি যাকে চিন্তাশক্তি যখনই চালিত করেছে
… তা প্রতিটি গন্তব্যে অবস্থান করেছে এবং সর্বত্র পরিভ্রমণ করেছে।
যখন আপনার প্রশংসা করা হয়, তখন লোকজন বলে
… বাগানের অবশ্যই সেই অধিকার রয়েছে যে সে বারিবিন্দুসমূহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।
আমি এই কালের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছি যখন
… আপনার দর্শন লাভই আমার নিকট ওজর বা ক্ষমা প্রার্থনার স্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এবং আপনার দানশীলতা আমার নিকট তারুণ্যকে ফিরিয়ে দিয়েছে যাতে
… আমি এর আমোদ-প্রমোদে লোকলজ্জার সমস্ত আবরণ ছিন্ন করেছি।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
2
وقال أيضاً يمدح الأمير أبا الفوارس محمد بن مالك بحماة:
الوافر
سَقَوْهُ كَأْسَ فُرْقَتِهِمْ دِهَاقا
… وَأَسْكَرَهُ الْوَدَاعُ فَما أَفَاقا
إِذا ما الْكَأْسُ لَمْ تَكُ كَأْسَ بَيْنٍ
… فَلَيْسَتْ بِالْحَمِيمِ وَلا الْغَسَاقا
أَبى إِلَاّ افْتِرَاقا شَمْلُ صَبْرِي
… وَدَمْعِي إِذْ نَأَوْا إِلَاّ افْتِراقا
رِفَاقٌ مَا ارْتَضَوا في السِّيْرِ إِلَاّ
… قُلُوبَ الْعاشِقينَ لَهُمْ رِفَاقا
২
তিনি হামাহর আমির আবু আল-ফাওয়ারিস মুহাম্মদ ইবনে মালিকের প্রশংসায় আরও বলেছেন:
আল-ওয়াফির
তারা তাকে তাদের বিচ্ছেদের কানায় কানায় পূর্ণ পানপাত্র পান করিয়েছে
… আর বিদায় তাকে এমনভাবে মত্ত করেছে যে সে আর সচেতন হতে পারেনি
যদি সেই পেয়ালা বিচ্ছেদের পেয়ালা না হতো
… তবে তা ফুটন্ত উত্তপ্ত পানি কিংবা পুঁজ-রক্তের ন্যায় হতো না
আমার ধৈর্যের সংহতি বিচ্ছেদ ছাড়া আর কিছুই মানতে চাইল না
… আর তারা যখন দূরে সরে গেল, তখন আমার অশ্রুও বিচ্ছেদ (অঝোরে ঝরা) ছাড়া আর কিছুই চাইল না
এমন একদল সঙ্গী যারা পথচলার জন্য সাথী হিসেবে
… প্রেমিকদের হৃদয় ছাড়া আর কাউকেই গ্রহণ করতে তুষ্ট হয়নি
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
أَرائِقَةَ الْجَمَالِ وَلا جَميلٌ
… أَرَاقَكِ أَنْ جَعَلْتِ دَمِي مُرَاقا
وَسِرْتِ فَلِمْ أَسَرْتِ فُؤَادَ حُرٍّ
… حَلَلْتِ وَمَا حَلَلْتِ لَهُ وَثَاقا
تُعَيِّرُنِي بأَحْداثِ الْلَّيالِي
… وَكَيْفَ يُدافِعُ الْبَدْرُ الْمِحاقا
شَبابٌ كانَ مُعْتَلاًّ فَوَلىَّ
… وَصَدْرٌ كانَ مُتَّسِعاً فضَاقا
يُكَلِّفُنِي الزَّمَانُ مَدِيحَ قَوْمٍ
… يَرَوْنَ كَسادَ ذِكْرِهِمُ نَفَاقا
وَمَنْ يَرْجُو مِنَ النَّارِ ارْتِواءً
… كَمَنْ يَخْشى مِنَ الْمآءِ احْتِراقا
وَلَوْ أَنَّ الزَّمانَ أَرادَ حَمْلَ ال
… م ذِي حُمِّلْتُ مِنْهُ مَا أَطَاقا
وَلي عَزْمٌ أَنَالُ بِهِ انْفِتاحاً
… لِبابِ الْمَجْدِ إِنْ خِفْتُ انْغِلاقا
بَعَثْتُ بِهِ النِّياق وَقَدْ يُرَجِّي
… أَنِيقَ الْعَيْشِ مَنْ بَعَثَ النِّياقا
سَريْتُ بِها وَحَظِّي ذُو سُبَاتٍ
… وجئت أبا الفوارس فاستفاقا
سعى وسعى الملوك فكان
… مَدىً وَأَشَدَّ في السَّعْيِ انْطِلاقا
হে সৌন্দর্যের বর্ষণকারিণী, অথচ প্রকৃত সুন্দর আর কেউ নেই
… আমার রক্ত প্রবাহিত করা কি তোমাকে মুগ্ধ করেছে?
তুমি চলে গিয়েছ, তবে কেন এক স্বাধীন হৃদয়ে কয়েদখানা বানালে?
… তুমি সেখানে আশ্রয় নিলে অথচ তার শৃঙ্খল মোচন করলে না।
সে আমাকে কালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তিরস্কার করে
… অথচ পূর্ণিমা চাঁদ কীভাবে তার ক্ষয় হওয়াকে প্রতিরোধ করবে?
যৌবন ছিল রুগ্ন, তাই তা বিদায় নিয়েছে
… আর যে বক্ষ ছিল সুবিস্তৃত, আজ তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে।
মহাকাল আমাকে এমন এক কওমের গুণকীর্তনে বাধ্য করে
… যারা তাদের খ্যাতির মন্দাবস্থাকেই কাটতি হিসেবে মনে করে।
আর যে ব্যক্তি আগুনের কাছে তৃষ্ণা মেটানোর আশা করে
… সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে পানির স্পর্শে দগ্ধ হওয়ার ভয় পায়।
আর যদি মহাকাল সেই শোকের বোঝা বহন করতে চাইত যা আমি বহন করছি
… তবে সে তা সহ্য করার শক্তি পেত না।
আমার এমন এক দৃঢ় সংকল্প রয়েছে যা দিয়ে আমি উন্মুক্ত করি
… গৌরবের দ্বারকে, যখন আমি তা রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা করি।
আমি উষ্ট্রীসমূহকে এর দ্বারা চালিত করেছি; আর যে উষ্ট্রী চালনা করে
… সে তো সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা করতেই পারে।
আমি এগুলো নিয়ে রাত্রিভ্রমণ করেছি যখন আমার ভাগ্য ছিল ঘোর নিদ্রায়
… অতঃপর আমি আবু আল-ফাওয়ারিসের কাছে আসলাম এবং সে জেগে উঠল।
তিনি চেষ্টা করেছেন এবং রাজন্যবর্গও চেষ্টা করেছেন, তবে তিনিই ছিলেন
… গন্তব্য এবং দৌড়ে সবচেয়ে ক্ষিপ্র।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
وَأَطْوَلَهُمْ لَدى الْعلْياءِ باعاً
… وَأَثْبَتَهُمْ لَدى الْهَيْجآءِ سَاقا
يُطَبِّقُ غَيْثُهُ أَرْضَ الأَمَاني
… وَيَسْمو سَعْدُهُ السَّبْعَ الطِّباقا
وَيَسْبِقُ عَزْمُهُ كَلْمَ اللَّيالِي
… فَكَيْفَ يُحاوِلُونَ لَهُ سِباقا
وَمَنْ يطْلُبْ لِلَمْعِ الْبَرْقِ شَأْواً
… يَجِدْهُ أَعزَّ مَطْلُوبٍ لَحاقا
وَمَا بِالْجَدِّ فَاقَ النَّاسَ صِيتاً
… وَلكِنْ بِالنَّدى وَالْبَأْسِ فَاقا
وَمَنْ خَطَبَ الْمَعالِيَ بِالْعوَالِي
… وَبِالْجَدْوى فَقدْ أَرْبى الصِّدَاقا
وإن طرق العدى لم يرض منهم
… سوى هام الملوك له طراقا
وَقَدْ كَرِهَ التَّلاقِيَ كُلُّ صَبٍّ
… كَأَنَّ إِلي الفِراقِ بِهِ اشْتِيَاقا
وَشَدَّد بِالْخِناقِ عَلَى الأَعَادِي
… فَتىً رَاخِى بِنَائِلِهِ الْخِنَاقا
তিনি সুউচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্তিতে তাদের মধ্যে দীর্ঘতম হাতের অধিকারী
… এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সুদৃঢ়তম পায়ের অধিকারী।
তাঁর দানরূপ বৃষ্টি আকাঙ্খার জমিনকে আবৃত করে ফেলে
… এবং তাঁর সৌভাগ্য সপ্তাকাশের ঊর্ধ্বে আরোহণ করে।
তাঁর দৃঢ় সংকল্প রজনীর ঘটনাবলিকেও ছাড়িয়ে যায়
… তবে কীভাবে তারা তাঁর সাথে প্রতিযোগিতার দুঃসাহস করে?
আর যে ব্যক্তি বিদ্যুৎ চমকের ন্যায় দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায়
… সে একে নাগাল পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠিনতম লক্ষ্য হিসেবেই পাবে।
তিনি কেবল উচ্চ ভাগ্যের জোরে খ্যাতিতে মানুষের ঊর্ধ্বে যাননি
… বরং দানশীলতা ও বীরত্বের মাধ্যমেই তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
আর যে ব্যক্তি বল্লম এবং বদান্যতার দ্বারা উচ্চ মর্যাদা অন্বেষণ করে
… সে প্রকৃতপক্ষে (মর্যাদার) মোহরানা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আর যদি শত্রুরা আক্রমণ করে, তবে তিনি রাজাদের মস্তক পদদলিত করা ছাড়া
… অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হন না।
প্রত্যেক অস্থির চিত্ত ব্যক্তিই (রণক্ষেত্রে) শত্রুর মুখোমুখি হওয়া অপছন্দ করে
… যেন বিচ্ছেদের প্রতিই তার বিশেষ অনুরাগ রয়েছে।
তিনি শত্রুদের শ্বাসরোধ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন
… এমন এক যুবক যিনি তাঁর বদান্যতার মাধ্যমে (অভাবীদের) শ্বাসরোধকারী সংকট লাঘব করেন।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
تَلاقَتْ عِنْدَكَ الآمالُ حَتّى
… أَبى إِسْرَافُ جُودِكَ أَنْ يُلاقا
وَأَقْبَلَ بِالْهَنَاءِ عَلَيْكَ عِيدٌ
… حَدَاهُ إِلَيْكَ إِقْبالٌ وَسَاقا
فَسَرَّكَ وَهْوَ منْكَ أَسَرُّ قَلْباً
… وَلا عَجَبٌ إِن الْمُشْتَاقُ شَاقا
وَمِثْلُكَ يَا مُحَّمدُ سَاقَ جَيْشاً
… يُكَلِّفُ نَفْسَ رَائِيهِ السِّيَاقا
إذا الْخَيْلُ الْعِتَاقُ حَملْنَ هَمّاً
… فَهَمُّكَ يَحْملُ الْخَيْلَ الْعِتَاقا
وَمَنْ عَشِقَ الدِّقاقَ السُّمْرَ يَوْماً
… فإِنَّكَ تَعْشَقُ السُّمْرَ الْدَّقَاقا
وَتَخْتَرِمُ الْمُلُوكَ بِها اخْتِرَاماً
… وَتَخْتَرِقُ الْعَجَاجَ بِها اخْتِرَاقا
يَسُرُّكَ أَنْ تُسَاقِي الْجَيْشَ كَأْساً
… مِنَ الْحَرْبِ اصْطِباحاً وَاغْتِبَاقا
وَأَشْجَعُ مَنْ رَأَيْنَاهُ شُجَاعٌ
… يُلاقِيهِ السُّرُورُ بِأَنْ يُلاقِي
وَمَا مَاءٌ لِذِي ظَمَإٍ زُلالٌ
… بِأَعْذَب مِنْ خَلائِقِهِ مَذاقا
حَبَانِي جُودُهُ عَيْشاً كَأَنِّي
… ظَفِرْتُ بِهِ مِنَ الدَّهْرِ استِرَاقا
فَأَيَّامِي بِهِ بِيضٌ يِقَاقٌ
… وَكَانَتْ قَبْلَهُ سُوداً صِفَاقا
আপনার কাছে প্রত্যাশাগুলো এসে মিলিত হয়েছে এমনকি
… আপনার অতিশয় বদান্যতা অন্য কারো সাথে তুলনীয় হতে অস্বীকার করে।
আপনার নিকট কল্যাণ নিয়ে এক ঈদ উপস্থিত হয়েছে
… যাকে সৌভাগ্য এবং সাফল্য আপনার দিকে চালিত করে নিয়ে এসেছে।
এটি আপনাকে আনন্দিত করেছে অথচ এটি আপনার সান্নিধ্য পেয়ে অধিকতর আনন্দিত
… আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে অনুরাগী নিজেই অনুরাগের উদ্রেক করে।
হে মুহাম্মদ! আপনার মতো ব্যক্তিই এমন এক সেনাদলকে পরিচালিত করেন
… যা প্রত্যক্ষকারীর প্রাণকে সেই যাত্রার কষ্টে নিপতিত করে।
যখন অভিজাত ঘোড়াগুলো কোনো গুরুভার বহন করে
… তখন আপনার উচ্চাভিলাষই সেই অভিজাত ঘোড়াগুলোকে বহন করে নিয়ে চলে।
কেউ যদি কোনোদিন লাবণ্যময়ী তন্বীদের প্রেমে পড়ে
… তবে আপনি তো সেই চিকন ও মজবুত বাদামী বর্শাগুলোর প্রেমে মগ্ন।
সেগুলোর মাধ্যমে আপনি রাজাদের সমূলে বিনাশ করেন
… এবং যুদ্ধের ধূলিকণাকে প্রবলভাবে বিদীর্ণ করে সম্মুখে এগিয়ে যান।
আপনি বাহিনীকে যুদ্ধের পেয়ালা পান করাতে আনন্দ বোধ করেন
… সকাল এবং সন্ধ্যায় নিরন্তরভাবে।
আমরা যত বীর দেখেছি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীর তিনিই
… যাকে রণক্ষেত্রের মুখোমুখি হওয়া আনন্দ প্রদান করে।
তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির নিকট সুশীতল নির্মল পানিও
… তাঁর চরিত্রের মাধুর্যের চেয়ে অধিক সুস্বাদু নয়।
তাঁর দানশীলতা আমাকে এমন এক জীবন উপহার দিয়েছে যেন
… আমি তা মহাকালের নিকট থেকে সংগোপনে ছিনিয়ে নিয়েছি।
ফলে তাঁর বদৌলতে আমার দিনগুলো এখন ধবধবে সাদা ও উজ্জ্বল
… অথচ এর আগে সেগুলো ছিল ঘোর অন্ধকার ও ঘন কৃষ্ণবর্ণ।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
وطَوَّقَنِي ابْنُ مَالِكَ طَوْقَ مَنٍّ
… فَصُغْتُ مِنَ الثَّناءِ لَهُ نِطَاقا
أَرَى الأَيَّامَ لا تُعْطِي كَرِيماً
… بُلُوغَ مُرَادِهِ إِلَاّ فَوَاقا
فَلا عَاقَتْكَ عَنْ طَلَبِ الْمَعَالِي
… إِذا الأَيَّامُ كَادَتْ أَنْ تُعَاقا
ইবনে মালিক আমাকে অনুগ্রহের এমন এক অলঙ্কারে বিভূষিত করেছেন
… যার প্রতিদানে আমি তাঁর জন্য স্তুতি ও প্রশংসার এক মেখলা তৈরি করেছি।
আমি দেখছি যে, সময় কোনো মহৎ ব্যক্তিকে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেয় না
… সামান্য ক্ষণ ব্যতীত।
অতএব, সুউচ্চ মর্যাদা অন্বেষণে কোনো প্রতিবন্ধকতা যেন আপনাকে বাধা প্রদান না করে
… যখন সময় নিজেই থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
3
وقال يمدح الأمير سديد الملك أبا الحسن علي بن مقلد بن نصر بن منقذ سنة ست وسبعين وأربع مائة:
الطويل
يَقِيني يَقِيني حَادِثاتِ النَّوائِبِ
… وَحَزْمِيَ حَزْمِي في ظُهُورِ النَّجائِبِ
3
তিনি ৪৭৬ হিজরি সনে আমীর সদীদ আল-মুলক আবুল হাসান আলী বিন মুকাল্লাদ বিন নাসর বিন মুনকিয-এর প্রশংসা করে বলেন:
আত-তাওয়ীল
আমার বিশ্বাসই আমাকে আকস্মিক বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে
… আর আমার দৃঢ় সংকল্পই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ উটের পিঠে আমার আসবাবপত্র।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
سَيُنْجِدُنِي جَيْشٌ مِنَ الْعَزْمِ طَالَما
… غَلَبْتُ بِهِ الْخَطْبَ الَّذِي هُوَ غَالِبي
وَمَنْ كَانَ حَرْبَ الدَّهْرِ عَوَّدَ نَفْسَهُ
… قِرَاعَ اللَّيَالِي لا قِرَاعَ الْكَتَائِبِ
عَلَى أَنَّ لِي في مَذْهَبِ الصَّبْرِ مَذْهَباً
… يَزِيدُ اتِّساعاً عِنْدَ ضِيقِ الْمَذَاهِبِ
وَمَا وَضَعَتْ مِنِّي الْخُطُوبُ بِقَدْرِ مَا
… رَفَعْنَ وَقَدْ هَذَّبْنَنِي بِالتَّجارِبِ
أَخَذْنَ ثَرآءً غَيْرَ بَاقٍ عَلَى النَّدى
… وَأَعْطَيْنَ فَضْلاً في النُّهى غيْرَ ذَاهِبِ
فَمَالِيَ لا رَوْضُ الْمَساعِي بِمُمْرِعٍ
… لَدَيَّ وَلا مَاءُ الأَمَانِي بِسَاكِبِ
كَأَنْ لَمْ يَكُنْ وَعْدي لَدَيْهَا بِحَائِنٍ
… زَمَاناً وَلا دَيْنِي عَلَيْهَا بَوَاجِبِ
وَحَاجَةِ نَفْسٍ تَقْتضِيها مَخَايلِي
… وَتَقْضِي بِها لِي عادلاتٍ مَناصِبي
عَدَدْتُ لَها بَرْقَ الْغَمَامِ هُنَيْدَةً
… وَأُخْرى وَمَا مِنْ قَطْرَةٍ في الْمَذَانِبِ
وَهَلْ نَافِعي شَيْمٌ مِنَ الْعَزْمِ صَادِقٌ
… إِذا كنْتُ ذَا بَرْقٍ مِنَ الْحَظِّ كاذِبِ
দৃঢ় সংকল্পের এক বাহিনী আমাকে দীর্ঘকাল সাহায্য করবে
… যার মাধ্যমে আমি সেই বিপদকে পরাস্ত করেছি যা আমাকে পরাভূত করতে চেয়েছিল
আর যে ব্যক্তি কালের প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, সে নিজেকে রাতের অন্ধকারের সংঘাতের সাথে অভ্যস্ত করে তোলে
… সৈন্যদলের সংঘাতের সাথে নয়
ধৈর্যের আদর্শে আমার এমন এক পথ রয়েছে
… যা অন্যান্য পথের সংকীর্ণতার সময় অধিক প্রশস্ত হয়
বিপদ-আপদ আমার মর্যাদা ততটা ক্ষুণ্ন করেনি যতটা
… তা বৃদ্ধি করেছে এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমাকে পরিশোধিত করেছে
সেগুলো এমন অস্থায়ী সম্পদ কেড়ে নিয়েছে যা দানশীলতার মুখে অবশিষ্ট থাকত না
… এবং বিনিময়ে বুদ্ধিবৃত্তিতে এমন স্থায়ী শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে যা বিলীন হওয়ার নয়
আমার কী হলো যে, প্রচেষ্টার উদ্যান আমার কাছে সজীব হচ্ছে না
… এবং আকাঙ্ক্ষার বারিধারাও বর্ষিত হচ্ছে না
যেন দীর্ঘকাল ধরে তার কাছে আমার কোনো প্রতিশ্রুতি আসন্ন ছিল না
… এবং তার প্রতি আমার কোনো পাওনাও আবশ্যক ছিল না
আর মনের এমন এক প্রয়োজন যা আমার অন্তর্দৃষ্টি দাবি করে
… এবং আমার ইনসাফপূর্ণ পদমর্যাদাগুলো তা আমার অনুকূলে নির্ধারণ করে
আমি তার জন্য মেঘের বিদ্যুৎকে শতবার
… এবং আরও একবার গণনা করেছি, অথচ জলাধারগুলোতে এক ফোঁটা পানিও নেই
দৃঢ় সংকল্পের সত্য পর্যবেক্ষণ আমার কী উপকারে আসবে
… যদি আমি ভাগ্যের কেবল মিথ্যা বিদ্যুতের সম্মুখীন হই
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَإِنِّي لأَغْنى بِالْحدِيثِ عَنِ الْقِرى
… وَبِالْبَرْقِ عَنْ صوْبِ الْغُيُوثِ السَّواكِبِ
قَنَاعَةُ عِزٍّ لا طَمَاعَةُ ذِلَّةٍ
… تُزَهِّدُ في نَيْلِ الْغِنى كُل رَاغِبِ
إِذَا مَا امْتطَى الأَقْوَامُ مَرْكَبَ ثَرْوَةٍ
… خُضُوعاً رَأَيْتُ الْعُدْمَ خَيْرَ مَرَاكِبي
وَلَوْ رَكِبَ النَّاسُ الْغِنى بِبَرَاعَةٍ
… وَفَضْلٍ مُبِينٍ كُنْتُ أَوَّلَ رَاكِبِ
وَقَدْ أَبْلُغُ الْغَايَاتِ لَسْتُ بِسَائِرٍ
… وَأَظْفَرُ بِالْحَاجَاتِ لَسْتُ بِطَالِبِ
وَمَا كُلُّ دَانٍ مِنْ مَرَامٍ بِظَافِرٍ
… وَلا كُلُّ نَآءٍ عَنْ رَجآءٍ بِخَائِبِ
وَإِنَّ الْغِنى مِنِّي لأَدْنى مَسَافَةً
… وَأَقْرَبُ مِمَّا بَيْنَ عَيْنِي وَحَاجِبِي
سَأَصْحَبُ آمَالي إِلى ابْنِ مُقَلَّدٍ
… فَتُنْجِحُ مَا أَلْوَى الزَّمَانُ بِصَاحِبِ
আর আমি আতিথেয়তার চেয়ে কথোপকথনেই অধিক তৃপ্ত
… এবং বর্ষণোন্মুখ মেঘমালার প্রবল বারিপাতের চেয়ে বিদ্যুচ্ছটাতেই অধিক পরিতুষ্ট।
এটি মর্যাদাপূর্ণ অল্পেতুষ্টি, লাঞ্ছনাদায়ক লালসা নয়
… যা ধন-সম্পদ লাভের সকল আগ্রহী ব্যক্তির মনে নির্লোভ ও নিরাসক্ত ভাব সৃষ্টি করে।
যখন জাতিসমূহ বশ্যতা ও হীনতা স্বীকার করে ধন-সম্পদের বাহনে আরোহণ করে
… তখন আমি অভাবগ্রস্ততাকেই আমার সর্বোত্তম বাহন হিসেবে গণ্য করি।
আর যদি মানুষ পারদর্শিতা ও সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্বের সাথে ঐশ্বর্যের ওপর সওয়ার হতো
… তবে আমিই হতাম প্রথম আরোহী।
আমি কোনো পথ না চলেই লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে যেতে পারি
… এবং কোনো প্রার্থনা না করেই আমি আমার প্রয়োজনসমূহ অর্জনে সফল হই।
লক্ষ্যের নিকটবর্তী সকলেই বিজয় লাভ করতে পারে না
… আর আশা থেকে দূরবর্তী প্রত্যেকেই ব্যর্থ ও নিরাশ হয় না।
নিশ্চয়ই সম্পদ আমার থেকে অতি সংক্ষিপ্ত দূরত্বে অবস্থিত
… এবং তা আমার চোখ ও ভ্রুর মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও অধিক নিকটে।
আমি ইবনে মুকাল্লাদের সমীপে আমার আশাসমূহ নিয়ে উপস্থিত হবো
… যেন তিনি সেই সব সফল করেন, যা সময় তার সঙ্গীর থেকে বিমুখ করেছিল।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فَما اشْتَطَّتِ الآمَالُ إِلَاّ أَبَاحَهَا
… سَمَاحُ عَلِيٍّ حُكْمَها فِي الْمَواهِبِ
إِذَا كُنْتَ يَوْماً آمِلاً آمِلاً لَهُ
… فَكُنْ وَاهِباً كُلَّ الْمُنَى كُلَّ وَاهِب
وَإِنَّ امْرأً أَفْضى إِلَيْهِ رَجَاؤُهُ
… فَلَمْ تَرْجُهُ الأَمْلاكُ إِحْدى الْعَجَائِبِ
مِنَ الْقَومِ لَوْ أَنَّ اللَّيالِي تَقَلَّدَتْ
… بِأَحْسَابِهِمْ لَمْ تَحْتَفِلْ بِالْكَوَاكِبِ
إِذا أَظْلَمَتْ سُبْلُ السُّرَاةِ إِلى الْعُلى
… سَرَوْا فَاسْتَضَاءُوا بَيْنَها بِالْمَنَاسِبِ
هُمُ غَادَرُوا بِالْعِزِّ حَصْبَاءَ أَرْضِهِمْ
… أَعَزَّ مَنَالاً مِنْ نُجُومِ الْغَيَاهِبِ
تَرى الدَّهْرَ مَا أَفْضى إِلى مُنْتَوَاهُمُ
… يُنَكِّبُ عَنْهُمْ بِالْخُطُوبِ النَّوَاكِبِ
إِذَا الْمُنْقِذِيُّونَ اعْتَصَمْتَ بِحَبْلِهِمْ
… خَضَبْتَ الْحُسَامَ الْعَضْبَ مِنْ كُلِّ خَاضِبِ
أُولئِكَ لمْ يَرْضَوْا مِنَ الْعِزِّ وَالْغِنى
… سِوى مَا اسْتَبَاحُوا بِالْقَنَا وَالْقَوَاضِبِ
كَأَنْ لَمْ يُحَلِّلْ رِزْقَهُمْ دِينُ مَجْدِهِمْ
… بِغَيْرِ الْعَوَالِي وَالْعِتَاقِ الشَّوَازِبِ
আকাঙ্ক্ষাগুলো যত দূরেই পরিব্যাপ্ত হোক না কেন, দান প্রদানের ক্ষেত্রে আলীর বদান্যতা সেগুলোকে সহজলভ্য করে দিয়েছে
… এবং তাঁর দানসমূহ সেগুলোর ওপর স্বীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।
যদি কোনো দিন তুমি তাঁর প্রতি একান্ত আশাবাদী হও
… তবে তুমি সমস্ত বাসনা পূরণকারী দাতার ন্যায় দাতা হয়ে যাও।
আর যে ব্যক্তির আশা তাকে তাঁর সান্নিধ্যে নিয়ে যায়
… এমতাবস্থায় রাজন্যবর্গ তাঁর কাছে কিছু আশা না করাটা এক আশ্চর্যজনক বিষয়।
তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যদি রাতগুলো তাঁদের বংশমর্যাদাকে অলংকার হিসেবে পরিধান করত
… তবে তারা নক্ষত্ররাজির কোনো পরোয়াই করত না।
যখন উচ্চমর্যাদা পানে ধাবমান অভিযাত্রীদের পথ অন্ধকার হয়ে যায়
… তখন তাঁরা পথ চলেন এবং নিজেদের আভিজাত্যের আলোতে উদ্ভাসিত হন।
তাঁরা স্বীয় সম্মানের দ্বারা তাঁদের ভূমির কঙ্করগুলোকে
… ঘন অন্ধকারের নক্ষত্ররাজির চেয়েও দুর্লভ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেছেন।
আপনি দেখবেন যে কালচক্র যতক্ষণ না তাঁদের গন্তব্যের নাগাল পায়
… ততক্ষণ তা আপদ-বিপদ নিয়ে তাঁদের থেকে বিমুখ হয়ে থাকে।
যখন আপনি মুনকিযি বংশীয়দের রজ্জুকে অবলম্বন করবেন
… তখন আপনি আপনার তীক্ষ্ণ তলোয়ারকে প্রত্যেক আক্রমণকারীর রক্তে রঞ্জিত করবেন।
তারা সম্মান ও ঐশ্বর্যের মধ্যে সেইটুকুর বাইরে কিছুই গ্রহণ করেননি
… যা তারা বর্শা ও ধারালো তলোয়ারের মাধ্যমে নিজেদের জন্য বৈধ করে নিয়েছেন।
যেন তাঁদের গৌরবের আদর্শ উচ্চ বর্শা এবং ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন অভিজাত অশ্বসমূহ ব্যতিরেকে
… তাঁদের জীবিকাকে বৈধ করেনি।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إِذَا قَرَّبُوهَا لِلِّقَاءِ تَبَاعَدَتْ
… مَسَافَةُ مَا بَيْنَ الطُّلى وَالذَّوَائِبِ
إِذَا نَزَلُوا أَرْضاً بِهَا الْمَحْلُ رُوِّضَتْ
… وَمَا سُحِبَتْ فِيهَا ذُيُولُ السَّحَائِبِ
بِأَنْدِيَةٍ خضْرٍ فِسَاحٍ رِبَاعُهَا
… وَأَوْدِيَةٍ غَزْرٍ عِذَابِ الْمَشَارِبِ
أَرَى الدَّهْرَ حَرْباً لِلْمُسَالِمِ بَعْدَمَا
… صَحِبْناهُ دَهْراً وَهْوَ سِلْمُ الْمُحَارِبِ
فَعُذْ بِنَهارِيِّ الْعَدَاوَةِ أَوْحَدٍ
… مِنَ الْقَوْمِ لَيْلِيِّ النَّدَى وَالرَّغَائِبِ
تَنَلْ بِسَدِيدِ الْمُلْكِ ثَرْوَةَ مُعْدِمٍ
… وَفَرْجَةَ مَلْهُوفٍ وَعِصْمَةَ هَارِبِ
سَعى وَارِثُ الْمَجْدِ التَّلِيدِ فَلَمْ يَدَعْ
… بِأَفْعَالِهِ مَجْداً طَرِيفاً لِكَاسِبِ
يُغَطِّي عَلَيْهِ الْحَزْمُ بِالْفِكَرِ الَّتِي
… كَشَفْنَ لَهُ عَمَّا وَرَاءَ الْعَوَاقِبِ
وَرَأْيٍ يُري خَلْفَ الرَّدَى مِنْ أَمَامِهِ
… فَمَا غَيْبُهُ الْمَكْنُونُ عَنْهُ بِغَائِبِ
بَقِيتَ بَقَاءَ النَّيِّرَاتِ وَمِثْلَها
… عُلُوًّا وَصَوْناً عَنْ صُرُوفِ النَّوَائِبِ
যখন তারা তাকে মিলনের জন্য নিকটবর্তী করে, তখন ঘাড় ও অলকগুচ্ছের মধ্যবর্তী দূরত্ব
… আরও বেড়ে যায়।
তারা যখন কোনো দুর্ভিক্ষপীড়িত ভূমিতে অবতরণ করে, তখন তা সুজলা-সুফলা উদ্যানে পরিণত হয়
… অথচ সেখানে মেঘমালার আঁচলও টেনে নেওয়া হয়নি।
সবুজ শ্যামল প্রশস্ত প্রাঙ্গণবিশিষ্ট মজলিসসমূহ
… এবং সুপেয় পানির প্রস্রবণে সমৃদ্ধ উপত্যকাসমূহ।
আমি কালচক্রকে শান্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত দেখছি, অথচ
… সুদীর্ঘ কাল আমরা একে যোদ্ধাদের সাথে শান্তিতে থাকতে দেখেছি।
সুতরাং এমন এক অনন্য ব্যক্তির শরণাপন্ন হও যার শত্রুতা দিনের মতো স্পষ্ট
… আর যার দান ও বদান্যতা রাতের মতো ব্যাপ্ত।
তার সুদৃঢ় শাসনের বদৌলতে তুমি লাভ করবে নিঃস্ব ব্যক্তির সম্পদ
… আর্তের মুক্তি এবং পলায়নকারীর নিরাপত্তা।
সুপ্রাচীন গৌরবের এই উত্তরাধিকারী এমন প্রয়াস চালিয়েছেন যে
… তিনি স্বীয় কার্যাবলীর মাধ্যমে অন্য কোনো অর্জনকারীর জন্য নতুন কোনো গৌরবের অবকাশ রাখেননি।
দৃঢ় সংকল্প তাকে এমন সব চিন্তার আবরণে ঢেকে রাখে যা
… তার নিকট পরিণামের অন্তরালে থাকা বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করে দেয়।
এবং এমন এক দূরদৃষ্টি যা ধ্বংসের সম্মুখভাগ থেকেই তার পশ্চাৎভাগ দেখতে পায়
… ফলে কোনো গুপ্ত রহস্যই তার নিকট অগোচরে থাকে না।
আপনি নক্ষত্ররাজির ন্যায় অক্ষয় হোন এবং তাদের মতোই
… উচ্চমর্যাদা ও আপদ-বিপদের আবর্তন থেকে সুরক্ষিত হোন।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَدامَ بَنُوكَ السِّتَّةُ الزُّهْرُ إِنَّهُمْ
… نُجُومُ الْمَعَالِي فِي سَماءِ الْمَنَاقِبِ
سَلَلْتَ سِهَاماً مِنْ كِنَانَةَ لَمْ تَزَلْ
… يُقَرْطِس مِنْهَا فِي الْمُنى كُلُّ صَائِبِ
فَأَدْرَكْتَ مَا فَاتَ الْملُوكَ بِعَزْمَةٍ
… تَقُومُ مَقَامَ الْحَظِّ عِنْدَ الْمُطَالِبِ
وَمَا فُقْتُهمْ حَتّى تَفَرَّدْتَ دُونَهُمْ
… بِرَأْيِكَ في صَرْفِ الْخُطُوبِ اللَّوَازِبِ
وَمَا شَرُفَتْ عَنْ قِيمَة الزُّبَرِ الظُّبى
… إِذَا لَمْ يُشَرّفْهَا مَضاءُ الْمَضَارِبِ
تَجَانَفْتُ عَنْ قَصْدِ الْمُلُوكِ وَعِنْدَهُمْ
… رَغَائِبُ لَمْ تَجْنَحْ إِلَيْهَا غَرَائِبِي
আপনার ছয়জন উজ্জ্বল পুত্র চিরস্থায়ী হোক, নিশ্চয়ই তারা
… প্রশংসনীয় গুণের আকাশে উচ্চ মর্যাদার নক্ষত্র।
আপনি তূণ থেকে এমন সব তীর নিক্ষেপ করেছেন যা সর্বদা
… আকাঙ্ক্ষিত নিশানায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।
আপনি এমন সংকল্পের মাধ্যমে তা অর্জন করেছেন যা রাজাদের থেকে ছুটে গিয়েছিল,
… যা অন্বেষণকারীর নিকট ভাগ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়।
আপনি তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারেননি যতক্ষণ না আপনি
… কঠিন বিপদসমূহ দূরীকরণের প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্তে অনন্য হয়েছেন।
তরবারির ধার লোহার পিণ্ডের মূল্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয় না,
… যদি না আঘাতের তীক্ষ্ণতা তাকে মহিমান্বিত করে।
আমি রাজাদের সান্নিধ্য লাভের ইচ্ছা পরিহার করেছি, যদিও তাদের নিকট
… এমন সব কাম্য বস্তু রয়েছে যার প্রতি আমার অনন্য প্রবৃত্তি ঝুঁকে পড়েনি।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تَنَاقَلُ بِي أيْدِي الْمَهَارى حَثِيثَةً
… كَمَا اخْتَلَفَتْ فِي الْعَقْدِ أَنْمُلُ حَاسِبِ
إِذَا الشَّوْقُ أَغْرَانِي بِذِكْرِكَ مَادِحاً
… تَرَنَّمْتُ مُرْتَاحاً فَحَنَّتْ رَكَائِبِي
بِمَنْظُومَةٍ مِنْ خَالِصِ الدُّرِّ سِلْكُهَا
… عَرُوضٌ وَلكنْ دُرُّهَا مِنْ مَنَاقِبِ
تُعَمَّرُ عُمْرَ الدَّهْرِ حَتّى إِذَا مَضى
… أقَامَتْ وَمَا أَرْمَتْ علَى سِنِّ كَاعِبِ
شَعَرْتُ وَحَظُّ الشِّعْرِ عِنْدَ ذَوِي الْغِنى
… شَبِيهٌ بِحَظِّ الشِّيْبِ عِنْدَ الْكَواعبِ
وَمَا بِيَ تَقْصِرٌ عَنِ الْمَجْدِ وَالْعُلى
… سِوَى أَنَّنِي صَيَّرْتُهُ مِنْ مَكَاسِبي
يُعَدُّ منَ الأَكْفَآءِ مَنْ كَانَ عَنْهُمُ
… غَنِيًّا وَإِنْ لَمْ يَشْأَهُمْ في الْمَرَاتِبِ
وَلَوْ خَطَرتْ بِي فِي ضَمِيرِكَ خَطْرَةٌ
… لَعَادَتْ بِتَصْدِيقِ الظُّنُونِ الكَواذبِ
وَأَصْبَحَ مُخْضَرّاً بِسَيْبِكَ مُمْرِعاً
… جَنَابِي ومَمْنُوعاً بِسَيْفِكَ جَانِبِي
দ্রুতগামী উষ্ট্রীর পিঠ আমাকে দ্রুত বহন করে নিয়ে চলেছে
… যেমন গণনাকারীর আঙুলগুলো গণনার সময় বারবার পরিবর্তিত হয়।
যখন প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমাকে আপনার প্রশংসার স্মরণে প্রলুব্ধ করে
… তখন আমি প্রশান্তচিত্তে গুঞ্জন করি, আর আমার সওয়ারিগুলোও ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
এক সুশৃঙ্খল পঙক্তিমালা যা খাঁটি মুক্তার সুতায় গাঁথা
… এর ছন্দ হলো ছন্দশাস্ত্রের, কিন্তু এর মুক্তাগুলো আপনার গুণাবলি থেকে সংগৃহীত।
এটি মহাকালের সমান আয়ু লাভ করবে, এমনকি কাল গত হয়ে গেলেও
… এটি টিকে থাকবে এবং কোনো নবযৌবনা তরুণীর বয়সের চেয়েও বেশি পুরনো হবে না।
আমি কাব্য রচনা করেছি, অথচ ধনীদের কাছে কাব্যের ভাগ্য
… ঠিক তেমন, যেমন যুবতীদের কাছে বার্ধক্যের শ্বেত শুভ্র চুলের কদর।
মর্যাদা ও উচ্চতা অর্জনে আমার কোনো ত্রুটি নেই
… তবে আমি সেটাকে আমার উপার্জনের অংশে পরিণত করেছি।
সে-ই সমকক্ষদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয়, যে তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী
… যদিও সে মর্যাদার ক্ষেত্রে তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে না চায়।
যদি আপনার অন্তরে আমার ব্যাপারে কোনো চিন্তার উদ্রেক হতো
… তবে তা মিথ্যা ধারণাগুলোকে সত্যে পরিণত করত।
আপনার বদান্যতায় আমার আঙ্গিনা সবুজ ও সজীব হয়ে উঠত
… এবং আপনার তলোয়ারের মাধ্যমে আমার চতুষ্পার্শ্ব সুরক্ষিত হতো।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
4
وقال يذم الزمان ويستعين بعض إخوانه على استخلاص مال له عند جماعة:
الطويل
لَكَ الْخَيْرُ قَدْ أَنْحى عَلَيَّ زَمَاني
… وَمَالي بِما يَأْتِي الزَّمَانُ يَدَانِ
كَأَنَّ صُروفَ الدَّهْرِ لَيْسَ يَعُدُّهَا
… صُرُوفاً إِذَا مَكْرُوهُهُنَّ عَدَانِي
وَلَوْ أَنَّ غَيْرَ الدَّهْرِ بِالْجَوْرِ قَادَني
… جَمَحْتُ وَلكِنْ في يَدَيْهِ عِنَابِي
مُنِيتُ بِبَيْعِ الشِّعْرِ مِنْ كُلِّ بَاخِلٍ
… بِخُلْفِ مَوَاعِيدٍ وَزُورِ أَمَانِي
৪
তিনি কালের নিন্দা জ্ঞাপন করে এবং একদল লোকের নিকট তাঁর পাওনা অর্থ উদ্ধারের নিমিত্তে তাঁর জনৈক ভাইয়ের সাহায্য প্রার্থনা করে বলেন:
আত-তবিল (ছন্দ)
আপনার কল্যাণ হোক, কাল আমার ওপর চড়াও হয়েছে
… আর কালের আনীত বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে আমার কোনো সাধ্য নেই।
কালের পরিবর্তনসমূহ যেন কোনো পরিবর্তনই নয়
… যতক্ষণ না তাদের অপ্রীতিকর বিষয়গুলো আমাকে আক্রান্ত করে।
যদি কাল ব্যতীত অন্য কেউ আমাকে জুলুমের মাধ্যমে পরিচালিত করত
… তবে আমি অবাধ্য হতাম, কিন্তু কালের হাতেই আমার লাগাম।
আমি প্রত্যেক কৃপণ ব্যক্তির নিকট কবিতা বিক্রয় করার পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছি
… যেখানে রয়েছে কেবলই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং মিথ্যা আশ্বাসের ছলনা।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَمَنْ لِي بِأَنْ يُبْتَاعَ مِنِّي وَإِنَّما
… أُقِيمُ لِماءِ الْوَجْهِ سُوقَ هَوَانِ
إذَا رُمْتُ أَنْ أَلْقى بِهِ الْقَوْمَ لَمْ يَزَلْ
… حَيائِي وَمَسُّ الْعُدْمِ يَقْتَتِلانِ
أَخَافُ سُؤَالَ الْبَاخِلِينَ كَأَنَّنِي
… مُلاقِي الْوَغى كُرْهاً بِقَلْبِ جَبَانِ
قَعَدْتُ بِمَجْرَى الْحَادِثَاتِ مُعَرَّضاً
… لأَسْبَابِها مَا شِئْنَ فِيِّ أَتَانِي
مُصَاحِبَ أَيَّامٍ تُجُرُّ ذُيُولَها
… عَلَيَّ بِأَنْواعٍ مِنَ الْحَدَثانِ
أَرَى الرِّزْقَ أَمَّا الْعَزْمُ مِنِّي فَمُوشِكٌ
… إِلَيْهِ وَأَمَّا الْحَظُّ عَنْهُ فَوانِ
وَهَلْ يَنْفَعَنِّي أَنَّ عَزْمِيَ مُطْلَقٌ
… وَحَظِّي مَتى رُمْتُ الْمَطَالِبَ عَانِ
وَمَا زَالَ شُؤْمُ الْجَدّ مِنْ كُلِّ طَالِبٍ
… كَفِيلاً بِبُعْدِ الْمَطلَبِ الْمُتَدَانِي
وَقَدْ يُحْرَمُ الْجَلْدُ الْحَرِيصُ مَرَامَهُ
… وَيُعْطِى مُنَاهُ الْعَاجِزُ الْمُتَوَانِي
কে আছে যে আমার থেকে (কিছু) ক্রয় করবে? আমি তো কেবল
… আত্মমর্যাদার অবমাননার এক বাজার বসিয়েছি।
যখনই আমি তা নিয়ে মানুষের সাথে সাক্ষাত করতে চাই, তখনই
… আমার লজ্জা এবং অভাবের তাড়না পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করতে থাকে।
কৃপণদের নিকট যাচ্ঞা করতে আমি এমন ভয় পাই, যেন আমি
… ভীরু হৃদয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছি।
আমি ঘটনাবলির প্রবাহপথে নিজেকে সঁপে দিয়ে বসে আছি
… তার কার্যকারণসমূহ আমার ব্যাপারে যা চেয়েছে, তাই আমার নিকট এসেছে।
আমি এমন দিনগুলোর সঙ্গী হয়ে আছি যা তার আঁচল টেনে টেনে
… আমার ওপর নানা প্রকার বিপদাপদ বয়ে আনছে।
আমি রিযিক দেখতে পাচ্ছি; আমার সংকল্প তো তার দিকে
… দ্রুত ধাবমান, কিন্তু আমার ভাগ্য তা থেকে বিমুখ।
আমার সংকল্প সুদৃঢ় হওয়াতে আমার কী লাভ হবে
… যখনই আমি কোনো লক্ষ্যবস্তু অন্বেষণ করি তখনই আমার ভাগ্য বন্দি হয়ে থাকে?
প্রত্যেক অন্বেষণকারীর দুর্ভাগ্যের অশুভ ছায়া সর্বদা
… নিকটবর্তী লক্ষ্যবস্তুকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জামিন হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক সময় সুদৃঢ় ও আগ্রহী ব্যক্তি তার উদ্দেশ্য থেকে বঞ্চিত হয়
… আর অক্ষম ও অলস ব্যক্তিকে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু প্রদান করা হয়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَمِنْ أَنْكَدِ الأَحْدَاثِ عِنْدِيَ أَنَّنِي
… عَلَى نَكَدِ الأَحْدَاثِ غَيْرُ مُعَانِ
فَها أَنَا مَتْرُوكٌ وَكُلَّ عَظِيمَةٍ
… أُقارِعُها شَأْنَ الْخُطُوبِ وَشَانِي
فَعَثْراً لِدَهْرٍ لا تَرى فِيهِ قَائلاً
… لَعَاً لِفَتىً زَلَّتْ بِهِ الْقَدَمَانِ
فَهَلْ أَنْتَ مُولٍ نِعْمةً فَمُبَادِرٌ
… إِلَيَّ وَقَدْ أَلْقَى الرِّدى بِجِرانِ
وَحَطَّ عَليَّ الدَّهْرُ أَثْقالَ لُؤْمِهِ
… وَتِلْكَ الَّتِي يَعْيَا بِها الثَّقَلانِ
وَمُسْتَخْلِصِي مِنْ قَبْضَةِ الْفَقْرِ بَعْدَمَا
… تَمَلَّكَ رِقِّي ذُلُّهُ وَحَوانِي
وَجَاعِلُ حَمْدِي مَا بَقِيتُ مُخَلَّداً
… عَلَيكَ وَمَا أَرْسَتْ هِضَابُ أَبَانِ
إِذاً تَقْتَنِي شُكْرَ امْرِيءٍ غَيْرِ هَادِمٍ
… بِكُفْرِ الأَيَادِي مَا ارْتيَاحُكَ بانِ
আমার কাছে চরম দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এই যে, আমি
… বিপদের প্রতিকূলতায় কোনো সাহায্যকারী পাচ্ছি না
সুতরাং এই আমি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছি, আর প্রতিটি মহাবিপদকে
… আমি মোকাবিলা করছি; এটাই বিপদের স্বভাব আর এটাই আমার অবস্থা
ধিক্কার সেই কালকে, যাতে এমন কোনো কথা বলতে দেখবে না যে
… সেই যুবকের উত্তরণ কামনা করবে যার দুই পা পিছলে গিয়েছে
তবে আপনি কি কোনো অনুগ্রহ দান করবেন এবং দ্রুত এগিয়ে আসবেন
… আমার দিকে, যখন মৃত্যু তার কণ্ঠদেশ আমার ওপর অর্পণ করেছে?
আর কাল আমার ওপর তার হীনতার বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে
… আর এটি এমন বোঝা যার ভারে মানব ও জিন উভয় জাতিই ক্লান্ত হয়ে পড়ে
আর আপনি কি আমাকে দারিদ্র্যের মুষ্ঠি থেকে উদ্ধার করবেন, যখন
… এর লাঞ্ছনা আমার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং আমাকে অবনত করেছে
আর আমি যতদিন বেঁচে থাকব আপনার প্রশংসা অক্ষয় করে রাখব
… আপনার তরে, যতদিন ‘আবান’ পাহাড়ের উচ্চভূমিগুলো অটল থাকবে
তখন আপনি এমন এক ব্যক্তির কৃতজ্ঞতা লাভ করবেন, যে ধ্বংস করবে না
… অকৃতজ্ঞতার মাধ্যমে সেই অনুগ্রহকে যা আপনার বদান্যতা নির্মাণ করেছে
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
فَمِثْلُكَ أُنْسِ الدَّوْلَةِ انْتاشَ هَالِكاً
… أَخَيِذَ مُلِمَّاتٍ أَسِيرَ زَمَانِ
وَغَادَرَ مَنْ يَخْشَى الزَّمَانَ كَأَنَّما
… يُلاقِيهِ مِنْ مَعْرُوفِهِ بِأَمَانِ
5
وقال يمدح القاضي جلال الملك أبا الحسن علي بن محمد بن عمار بطرابلس الشام
الكامل
يَا سَيِّدَ الْحُكِّامِ هَلْ مِنْ وَقْفَةٍ
… يَهْمِي عَلَيَّ بِهَا سَحَابُ نَداكا
أَمْ هَلْ يَعُودُ لِيَ الزَّمَانُ بِعَطْفَةٍ
… يَثْنِي إِلَيَّ بِهَا عِنَانَ رِضَاكا
আপনার মতো ‘উনস উদ-দাওলা’ (রাষ্ট্রের স্বস্তি) একজন মুমূর্ষু ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছেন
… যে ছিল বিপদে পর্যুদস্ত এবং সময়ের বন্দী।
আর তিনি এমন ব্যক্তিকে নিরাপদ করেছেন যে সময়কে ভয় পেত, যেন সে
… তাঁর অনুগ্রহের ছায়ায় নিরাপত্তার সাক্ষাৎ পেয়েছে।
৫
তিনি শামের তরাবলুসে বিচারক জালালুল মুলক আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আম্মারের প্রশংসায় বলেন:
আল-কামিল
হে বিচারকদের অধিপতি! এমন কি কোনো মুহূর্ত আসবে
… যখন আপনার দানশীলতার মেঘ আমার উপর বারিধারা বর্ষণ করবে?
নাকি মহাকাল কোনো করুণা নিয়ে আমার নিকট ফিরে আসবে
… যা আপনার সন্তুষ্টির লাগাম আমার দিকে ফিরিয়ে দেবে?
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هَبْ ذَا الرَّمِيِّ مِنَ الْحَوادِثِ جُنَّةً
… وَلِذَا الأَسِيرِ مِنَ الْخُطُوبِ فِكَاكا
قدْ نَالَ مِنِّي صَرْفُهَا مَا لَمْ تَنَلْ
… يَوْم التُّلَيلِ مِنَ الْعُداةِ ظُبَاكا
آلَيْتُ لا أَبْغِي نَداكَ بِشَافِعٍ
… مَالِي إِلَيْكَ وَسِيلَةٌ إِلَاّكا
غَضَباً لِمَجدِكَ أَنْ تُخَوِّلَ نِعْمَةً
… فَتَكونَ فِيها مِنَّةٌ لِسِواكا
6
وقال أيضاً يمدحه:
الوافر
أُمَنِّي النَّفْسَ وَصْلاً مِنْ سُعَادِ
… وَأَيْنَ مِنَ الْمُنى دَرَكُ الْمُرَادِ
وَكَيْفَ يَصِحُّ وَصْلٌ مِنْ خَليلٍ
… إِذَا مَا كَانَ مُعْتَلَّ الْوِدَادِ
বিপদাপদ দ্বারা আক্রান্ত এই ব্যক্তির জন্য একটি ঢাল দান করুন
… এবং দুর্দশাগ্রস্ত এই বন্দীর জন্য মুক্তির ব্যবস্থা করুন।
কালের বিবর্তন আমার থেকে এমন কিছু কেড়ে নিয়েছে যা
… তুলাইলের যুদ্ধে শত্রুদের থেকে আপনার তরবারির ধারও নিতে পারেনি।
আমি শপথ করেছি যে কোনো সুপারিশকারীর মাধ্যমে আপনার দান প্রার্থনা করব না
… আপনার নিকট পৌঁছাতে আপনি ছাড়া আমার আর কোনো মাধ্যম নেই।
আপনার মর্যাদার খাতিরে আমি অপ্রসন্ন যে আপনি এমন কোনো নেয়ামত দান করবেন
… যাতে আপনার পরিবর্তে অন্য কারো প্রতি কৃতজ্ঞতার সুযোগ থাকে।
৬
এবং তিনি তাঁর প্রশংসা করে আরও বলেন:
আল-ওয়াফির
আমি নফসকে সু'আদের সাথে মিলনের আশা দিই
… কিন্তু নিছক আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন কোথায়?
আর বন্ধুর সাথে মিলন কীভাবে সার্থক হতে পারে
… যখন তার ভালোবাসা অসুস্থ বা ত্রুটিপূর্ণ হয়?
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تَمَادى فِي الْقَطِيعَةِ لا لِجُرمٍ
… وَأَجْفى الْهَاجِرِينَ ذَوُو التَّمادِي
يُفَرِّقُ بَيْنَ قَلْبِي وَالتَّأَسِّي
… وَيَجْمَعُ بَيْنَ طَرْفِي وَالسُّهَادِ
وَلَوْ بَذَلَ الْيسِيرَ لَبَلَّ شَوْقي
… وَقَدْ يَرْوى الظِّمَاءُ مِنَ الثِّمَادِ
أَمَلُّ مَخَافَةَ الإِمْلالِ قُرْبِي
… وَبَعْضُ الْقُربِ أَجْلَبُ لِلْبِعَادِ
وَعِنْدِي لِلأَحِبَّةِ كُلُّ جَفْنٍ
… طَلِيقِ الدِّمْعِ مَأْسُورِ الرُّقَادِ
فَلا تَغْرَ الْحَوَادِثُ بِي فَحَسْبِي
… جَفَاؤُكُمُ مِنَ النُّوَبِ الشِّدَادِ
إِذَا مَا النَّارُ كَانَ لَها اضطِّرَامٌ
… فَما الدَّاعِي إِلى قَدْحِ الزِّنادِ
أَرى الْبِيضَ الْحِدَادَ سَتَقْتَضِينِي
… نُزُوعاً عَنْ هَوى الْبِيضِ الْخِرَادَ
فَمَا دَمْعِي عَلَى الأَطْلال وَقْفٌ
… وَلا قَلْبي مَعَ الظُّعْنِ الْغَوَادِي
وَلا أَبْقى جَلالُ الْمُلْكِ يَوْماً
… لِغَيْرِ هَوَاهُ حُكْماً في فُؤَادِي
তিনি কোনো অপরাধ ছাড়াই বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘায়িত করেছেন
… আর যারা বিচ্ছিন্নতায় অনড় থাকে তারাই সবচেয়ে রূঢ় বিচ্ছেদকারী।
এটি আমার হৃদয় ও ধৈর্যের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়
… এবং আমার আঁখি ও অনিদ্রাকে এক করে দেয়।
যদি তিনি সামান্য কিছুও দিতেন তবে আমার আকাঙ্ক্ষা সিক্ত হতো
… আর পিপাসার্তরা অল্প পানি থেকেও তৃপ্ত হতে পারে।
আমি তাকে বিরক্ত করার ভয়ে আমার নৈকট্য নিয়ে দ্বিধায় থাকি
… অথচ কোনো কোনো নৈকট্যই দূরত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রিয়জনদের জন্য আমার প্রতিটি চোখের পাতা অশ্রু বিসর্জনে মুক্ত
… কিন্তু নিদ্রা হতে বন্দি।
বিপদ-আপদ যেন আমাকে প্রলুব্ধ না করে, কারণ আপনাদের অবহেলাই আমার জন্য যথেষ্ট
… যা চরম বিপদসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
যখন আগুন জ্বলন্ত অবস্থায় থাকে
… তখন চকমকি পাথর ঠোকার কী প্রয়োজন?
আমি দেখছি তীক্ষ্ণ তরবারিগুলো আমাকে বাধ্য করবে
… লাজুক সুন্দরী নারীদের প্রেম থেকে বিমুখ হতে।
আমার অশ্রু কেবল ধ্বংসাবশেষের জন্য সংরক্ষিত নয়
… আর আমার হৃদয়ও প্রাতঃকালে প্রস্থানকারী কাফেলার সাথে নয়।
আর রাজকীয় মহিমা আমার হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ছাড়া
… অন্য কোনো শাসনের জন্য এক দিনের তরেও অবশিষ্ট থাকেনি।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أُحِبُّ مَكَارِمَ الأَخْلاقِ مِنْهُ
… وَأَعْشَقُ دَوْلَةَ الْمَلِكَ الْجَوَادِ
رَجَوْتُ فَما تَجَاوَزَهُ رَجائِي
… وَكَانَ الْماءِ غَايَةَ كُلِّ صَادِ
إذَا مَا رُوِّضَتْ أَرْضِي وَساحَتْ
… فَما مَعْنى انْتِجاعِي وَارْتِيادِي
كَفى بِنَدَى جَلالِ الْمُلْكِ غَيْثاً
… إِذا نَزَحَتْ قَرَارَةُ كُلِّ وَادِ
أَمَلْنا أَيْنُقَ الآمَالِ مِنْهُ
… إِلى كَنَفٍ خَصِيبِ الْمُسْتَرادِ
وَأَغْنَانا نَدَاهُ علَى افْتِقَارٍ
… غَناءَ الْغَيْثِ في السَّنَةِ الْجَمادِ
فَمَنْ ذَا مُبْلِغُ الأَمْلاكِ عَنَّا
… وَسُوِّاسِ الْحَوَاضِرِ وَالْبَوادِي
بِأَنَّا قَدْ سَكَنَّا ظِلَّ مَلْكٍ
… مَخُوفِ الْبَأْسِ مَرْجُوِّ الأَيَادِي
صَحِبْنَا عنْدَهُ الأَيَّامَ بِيضاً
… وَقَدْ عُمَّ الزَّمَانُ مِنَ الْسَّوَادِ
وَأَدْرَكْنَا بِعَدْلٍ مِنْ عَلِيٍّ
… صَلاحَ الْعَيْشِ فِي دَهْرِ الْفسَادِ
فَما نَخْشى مُحَارَبَةَ اللَّيَالِي
… وَلا نَرْجُو مُسَالَمَةَ الأَعَادِي
আমি তাঁর নিকট থেকে মহৎ চরিত্রসমূহকে ভালোবাসি
… এবং আমি দানশীল রাজার রাজত্বকে পরম অনুরাগের সাথে কামনা করি
আমি আশা পোষণ করেছি, অতঃপর আমার আশা তাঁকে অতিক্রম করেনি
… আর পিপাসার্তের জন্য পানিই ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য
যখন আমার ভূমি সিক্ত ও শস্যশ্যামল হয়েছে
… তখন আমার চারণভূমি অন্বেষণ ও ভ্রমণের আর কী অর্থ থাকে?
রাজকীয় মহিমার বদান্যতাই বারিবর্ষণের জন্য যথেষ্ট
… যখন প্রতিটি উপত্যকার তলদেশ শুকিয়ে যায়
আমরা তাঁর পানে আমাদের আশার উষ্ট্রীগুলোকে চালিত করেছি
… এক উর্বর ও কাঙ্ক্ষিত আশ্রয়ের অভিমুখে
আমাদের অভাবের মুহূর্তে তাঁর দান আমাদেরকে অভাবমুক্ত করেছে
… যেমনটি বৃষ্টি অভাবমুক্ত করে কঠিন অনাবৃষ্টির বছরে
আমাদের পক্ষ থেকে কে সেই সংবাদবাহক, যে অন্যান্য সম্রাটদের সংবাদ পৌঁছাবে
… এবং শহর ও মরুর শাসনকর্তাদের নিকট?
যে আমরা এমন এক রাজার ছায়াতলে বসবাস করছি
… যাঁর বিক্রম ভীতিপ্রদ এবং যাঁর অনুগ্রহসমূহ প্রত্যাশিত
তাঁর সান্নিধ্যে আমরা উজ্জ্বল দিন অতিবাহিত করেছি
… যখন সমগ্র কাল অন্ধকারাচ্ছন্নতায় আচ্ছন্ন ছিল
আমরা আলীর ন্যায়বিচারের বরকতে লাভ করেছি
… ফিতনা-ফাসাদের এই যুগে জীবনের সংশোধন
অতএব আমরা যমানার প্রতিকূলতাকে ভয় করি না
… আর না আমরা শত্রুদের সাথে সন্ধি কামনা করি
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فَقُولا لِلْمُعانِدِ وَهْوَ أَشْقَى
… بِمَا تَحْبُوهُ عَاقِبَةُ الْعِنَادِ
رُوَيْدَكَ مِنْ عَدَاوَتِنَا سَتُرْدِي
… نَوَاجِذَ مَاضِغِ الصُّمِّ الصِّلادِ
وَلا تَحْمِلْ عَلَى الأَيَّامِ سَيْفاً
… فَإِنَّ الدِّهْرَ يَقْطَعُ بِالنِّجادِ
فَأَمْنَعُ مِنْكَ جَاراً قَدْ رمَيْنَا
… كَرِيمَتَهُ بِداهِيَةٍ نَآدِ
وَمَنْ يَحْمِي الْوِهَادَ بِكُلِّ أَرْضٍ
… إذا ما السيل طمم على النجاد
هو الراميك عن أمم وعرض
… إِذا مَا الرَّأْيُ قَرْطَسَ في السَّدَادِ
وَمُطْلِعُها عَلَيْكَ مُسَوَّمَاتٍ
… تَضِيقُ بِهَمِّها سَعَةُ الْبِلادِ
إِذَا مَا الطَّعْنُ أَنْحَلَها الْعَوَالِي
… فَدى الأَعْجَازَ مِنْها بِالْهَوَادِي
فِدَآؤُكَ كُلُّ مَكْبُوتٍ مَغِيظٍ
… يخافيك العداوة أو يبادي
فإنك ما بقيت لنا سليماً
… فَما نَنْفَكُّ فِي عِيدٍ مُعَادِ
সুতরাং সেই অবাধ্য ব্যক্তিকে বলো—যে অতিশয় দুর্ভাগা
… জেদ ও হঠকারিতা তাকে যে পরিণতির উপহার দেবে সে সম্পর্কে।
আমাদের সাথে শত্রুতার ব্যাপারে সংযত হও, অন্যথায় তা তোমাকে ধ্বংস করবে
… যেমন কঠিন ও নিরেট পাথর চিবানো ব্যক্তি তার দন্তমূল হারায়।
আর মহাকালের বিরুদ্ধে তরবারি ধারণ করো না
… কেননা সময় তার তরবারির কটিবন্ধ দিয়েই ছেদন করে ফেলে।
আমি তোমার থেকে সেই প্রতিবেশীকে অধিক সুরক্ষা দান করি
… যার সম্মানকে আমরা এক মহাবিপদের মুখোমুখি করেছি।
আর ভূখণ্ডের নিচু ভূমিকে কে রক্ষা করবে
… যখন প্লাবন উঁচু ভূমিকেও প্লাবিত করে দেয়?
তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি নিকট হতে এবং সরাসরি আপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত করেন
… যখন সিদ্ধান্ত লক্ষ্যভেদে অভ্রান্ত হয়।
এবং তিনি আপনার বিরুদ্ধে এমন সুচিহ্নিত বাহিনীকে উপস্থিত করেন
… যাদের প্রতাপে বিস্তীর্ণ জনপদও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
যখন বর্শার আঘাত সম্মুখভাগকে জীর্ণ করে দেয়
… তখন তিনি সম্মুখভাগের সুরক্ষায় পশ্চাৎভাগকে উৎসর্গ করেন।
আপনার চরণে উৎসর্গিত হোক সেই প্রতিটি অবদমিত ও ক্রুদ্ধ ব্যক্তি
… যারা আপনার প্রতি শত্রুতা গোপন রাখে কিংবা তা প্রকাশ করে।
কেননা আপনি যতদিন আমাদের মাঝে নিরাপদ ও সুস্থ থাকবেন
… আমরা নিরন্তর এক আনন্দ-উৎসবের মাঝেই অতিবাহিত করব।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أَبُوكَ تَدَارَكَ الإِسلامَ لَمَّا
… وَهَى أَوْ كَادَ يُؤْذِنُ بِانْهِدَادِ
سَخَا بِالنَّفْسِ شُحّاً بِالْمَعَالِي
… وَجَاهَدَ بِالطَّرِيفِ وَبِالتِّلادِ
كَيَوْمِكَ إِذْ دَمُ الأَعْلاجِ بَحْرٌ
… يُرِيكَ الْبَحْرَ فِي حُلَلٍ وِرَادِ
عَزَائِمُكَ الْعَوَائِدُ سِرْنَ فِيهِمْ
… بِمَا سَنَّتْ عَزَائِمُهُ الْبَوَادِي
وَهذا الْمَجْدُ مِنْ تِلْكَ الْمَسَاعِي
… وَهذا الْغَيْثُ مِنْ تِلْكَ الْغَوَادِي
وَأَنْتُمْ أَهْلُ مَعْدِلَةٍ سَبَقْتُمْ
… إِلى أَمَدِ الْعُلى سَبْقَ الْجِيَادِ
رَعى مِنْكَ الرَّعِيَّةَ خَيْرُ رَاعٍ
… كَرِيمِ الذَّبِّ عَنْهُمْ وَالذِّيَادِ
تَقَيْتَ اللهَ حَقَّ تُقَاهُ فِيهِمْ
… وَتَقْوى اللهِ مِنْ خَيْرِ الْعَتَادِ
كَأَنَّكَ لا تَرى فِعْلاً شَرِيفاً
… سِوى مَا كَان ذُخْراً لِلْمَعادِ
مَكَارِمُ بَعْضُها فِيهِ دَلِيلُ
… عَلَى ما فِيكَ مِنْ كَرَمِ الْوِلادِ
আপনার পিতা ইসলামকে রক্ষা করেছিলেন যখন তা
… শিথিল হয়ে পড়েছিল কিংবা ধ্বংসের উপক্রম হয়েছিল।
তিনি উচ্চমর্যাদা অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় স্বীয় প্রাণের মায়া ত্যাগ করেছিলেন
… এবং নিজের নবলব্ধ ও পৈতৃক—উভয় সম্পদ নিয়ে জিহাদ করেছিলেন।
আপনার সেই যুদ্ধের দিনের মতো, যখন কাফেরদের রক্ত সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল;
… যা আপনাকে রক্তিম আবরণে ঢাকা এক সমুদ্রের রূপ দেখাচ্ছিল।
আপনার চিরাচরিত সংকল্পগুলো তাদের মাঝে কার্যকর হয়েছে
… সেই অনুযায়ী, যা পূর্বতনদের সংকল্পসমূহ নিয়ম হিসেবে প্রবর্তন করেছিল।
আর এই মর্যাদা সেই সব প্রচেষ্টারই ফসল,
… এবং এই করুণার বৃষ্টি সেই সব প্রভাতী মেঘমালারই দান।
আপনারা ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী, আপনারা
… উচ্চতার চরম শিখরে পৌঁছাতে তেজস্বী ঘোড়ার ন্যায় অগ্রগামী হয়েছেন।
আপনার মাধ্যমে প্রজাকুল এক শ্রেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক লাভ করেছে,
… যিনি পরম মর্যাদার সাথে তাদের প্রতিরক্ষা ও হেফাজত করেছেন।
আপনি তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করেছেন;
… আর আল্লাহর তাকওয়াই হলো সর্বোত্তম পাথেয়।
মনে হয় আপনি আখেরাতের পাথেয় হিসেবে সঞ্চিত আমল ব্যতীত
… অন্য কোনো কাজকে মহৎ বলে গণ্য করেন না।
এমন সব মহত্ত্ব ও মহানুভবতা যার কিয়দাংশই
… আপনার মাঝে বিদ্যমান উচ্চবংশীয় আভিজাত্যের প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
هَجَرْتَ لَها شَغَفاً وَوَجْداً
… وَكُلُّ أَخِي هَوىً قَلِقُ الْوِسَادِ
غَنِيتُ بِسَيْبِكَ الْمَرْجُوِّ عَنْهُ
… كَمَا يَغْنى الْخَصِيبُ عَنِ الْعِهَادِ
وَرَوَّانِي سَمَاحُكَ مَا بَدَالِي
… فَمَا أَرْتَاحُ لِلْعَذْبِ الْبُرادِ
إِذَا نَفَقَ الثَّناءُ بِأَرْضِ قَوْمٍ
… فَلَسْتُ بِخَائِفٍ فِيهَا كَسادِي
فَلا تَزَلِ اللَّيَالِي ضَامِنَاتٍ
… بَقَاءَكَ مَا حَدَا الأَظْعَانَ حَادِ
ثَنائِي لا يُكَدِّرُهُ عِتَابي
… وَقَوْلِي لا يَخَالِفُهُ اعْتِقَادِي
তুমি তীব্র অনুরাগ ও প্রেমে তাকে বর্জন করেছ
… আর প্রত্যেক প্রেমিকই নির্ঘুম শয্যার অধিকারী হয়।
আপনার প্রত্যাশিত বদান্যতায় আমি তা হতে অমুখাপেক্ষী হয়েছি
… যেমন উর্বর ভূমি প্রারম্ভিক বৃষ্টি হতে অমুখাপেক্ষী থাকে।
আপনার মহানুভবতা আমাকে তৃপ্ত করেছে যা আমার সম্মুখে প্রতিভাত হয়েছে
… ফলে আমি সুমিষ্ট শীতল পানির প্রত্যাশী হই না।
যদি কোনো জনপদে প্রশংসার সমাদর থাকে
… তবে আমি সেখানে আমার অচল হওয়ার ভয় করি না।
রাত্রিগুলো যেন আপনার স্থায়িত্বের জামিনদার হয়ে থাকে
… যতক্ষণ কোনো চালক উষ্ট্রারোহী কাফেলাকে হাঁকিয়ে নিয়ে যায়।
আমার প্রশংসা আমার অনুযোগ দ্বারা কলুষিত হয় না
… এবং আমার কথা আমার বিশ্বাসের পরিপন্থী হয় না।
(খণ্ড: ১)
দিওয়ানু ইবনিল খাইয়্যাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
7
وقال يرثي جمال الدولة مملوك جلال الملك ويعزيه به، وقد وقع عن فرسه في الميدان فمات في وقته.
الطويل
إِذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ حَادِثِ الدَّهْرِ مَوْئِلُ
… وَلَمْ يُغْنِ عَنْكَ الْحُزْنُ فَالصَّبْرُ أَجْمَلُ
وَأَهْوَنُ مَا لاقَيْتَ مَا عَزَّ دَفْعُهُ
… وَقدْ يَصْعُبُ الأَمْرُ الأَشَدُّ فَيَسْهُلُ
وَمَا هذِهِ الدُّنْيَا بِدَارِ إِقَامَةٍ
… فَيَحْزَنَ فِيهَا الْقَاطِنُ الْمُتَرَحِّلُ
هِيَ الدَّارُ إِلَاّ أَنَّها كَمَفازَةٍ
… أَنَاخَ بِها رَكْبٌ وَرَكْبٌ تَحَمَّلُوا
مُنِينَا بِهَا خَرْقَاءَ لا الْعَذْلُ تَرْعَوِي
… إِلَيْهِ وَلا مَحْضَ النَّصِيحَة تَقْبَلُ
لَنَا وَلَهَا فِي كلِّ يَوْمٍ عَجَائِبٌ
… يَحَارُ لَهَا لُبُّ اللَّبِيبِ وَيَذْهَلُ
يَطُولُ مَدَى الأَفْكَارِ في كُنْهِ أَمْرِها
… فَيَنْكُصُ عَنْ غَايَاتِه الْمُتَوَغِّلُ
7
তিনি জামালুদ দৌলাহ—যিনি জালালুল মুলকের গোলাম ছিলেন—তাঁর মৃত্যুতে শোকগাথা প্রকাশ করে এবং তাঁকে সমবেদনা জানিয়ে এই কবিতাটি বলেছিলেন। জামালুদ দৌলাহ ঘোড়া থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে যান এবং তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করেন।
আত-তাবীল
যদি কালের দুর্ঘটনা থেকে কোনো আশ্রয়স্থল না থাকে
… আর দুঃখ যদি তোমার কোনো উপকারে না আসে, তবে ধৈর্যই অধিকতর সুন্দর।
তুমি যার সম্মুখীন হও তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ হলো সেটি যাকে প্রতিহত করা অসম্ভব
… আর অনেক সময় কঠিনতম বিষয়টিও সহজ হয়ে যায়।
এই দুনিয়া কোনো স্থায়ী আবাস নয়
… যে কারণে এখানে বসবাসকারী প্রস্থানকারী ব্যক্তি দুঃখিত হবে।
এটি একটি গৃহ বটে, তবে তা এক মরুপ্রান্তরের ন্যায়
… যেখানে একদল আরোহী অবতরণ করে এবং অন্য একদল আরোহী যাত্রা শুরু করে।
আমরা এই দুনিয়ায় এমন এক নির্বোধের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি যে কোনো তিরস্কারে নিবৃত্ত হয় না
… এবং কোনো বিশুদ্ধ উপদেশও গ্রহণ করে না।
আমাদের ও তার মাঝে প্রতিদিন এমন সব আশ্চর্য ঘটনা ঘটে
… যার ফলে বুদ্ধিমানের বুদ্ধিও বিভ্রান্ত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে।
এর প্রকৃত রহস্য নিয়ে চিন্তার পরিধি দীর্ঘ হয়
… ফলে অতি গভীরে প্রবেশকারী ব্যক্তিও এর শেষ সীমানা থেকে পিছিয়ে আসে।